(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: -)
قواعد ابن رجب - ط الخانجي   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: القواعد لابن رجب

المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (ت 795 هـ)

الناشر: مكتبة الخانجي، مصر (وصورتها دار الكتب العلمية ودار الفكر ودار المعرفة وغيرهم)

عدد الصفحات: 424

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে রজব-এর কাওয়াইদ - আল-খানজি সংস্করণ   (ইবনে রজব আল-হাম্বলি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি


গ্রন্থ: ইবনে রজব-এর আল-কাওয়াইদ

লেখক: জয়নুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আহমাদ বিন রজব বিন হাসান, আস-সালামি, আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দামেশকি, আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি, মিশর (এবং এটির পুনঃমুদ্রণ করেছে দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, দারুল ফিকর, দারুল মা’রিফাহ এবং অন্যান্যরা)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[خِطْبَة المؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم

(رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ) قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلَّامَةُ أَبُو الْفَرَجِ زَيْنُ الدِّينِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ رَجَبٍ الْحَنْبَلِيّ تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ وَأَسْكَنَهُ فَسِيحَ جَنَّتِهِ.

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَهَّدَ قَوَاعِدَ الدِّين بِكِتَابِهِ الْمُحْكَمِ، وَشَيَّدَ مَعَاقِلَ الْعِلْمِ بِخِطَابِهِ وَأَحْكَمَ، وَفَقَّهَ فِي دِينِهِ مَنْ أَرَادَ بِهِ خَيْرًا مِنْ عِبَادِهِ وَفَهَّمَ، وَأَوْقَفَ مَنْ شَاءَ عَلَى مَا شَاءَ مِنْ أَسْرَارِ مُرَادِهِ وَأَلْهَمَ، فَسُبْحَانَ مَنْ حَكَمَ فَأَحْكَمَ، وَحَلَّلَ وَحَرَّمَ، وَعَرَّفَ وَعَلَّمَ، عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً تَهْدِي إلَى الطَّرِيقِ الْأَقْوَمِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمَخْصُوصُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَبَدَائِعِ الْحِكَمِ، وَوَدَائِعِ الْعِلْمِ وَالْحِلْمِ وَالْكَرْمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.

" أَمَّا بَعْدُ " فَهَذِهِ قَوَاعِدُ مُهِمَّةٌ وَفَوَائِدُ جَمَّةٌ، تَضْبِطُ لِلْفَقِيهِ أُصُولَ الْمَذْهَبِ، وَتُطْلِعُهُ مِنْ مَآخِذِ الْفِقْهِ عَلَى مَا كَانَ عَنْهُ قَدْ تَغَيَّبَ.

وَتُنَظِّمُ لَهُ مَنْثُورَ الْمَسَائِلِ فِي سِلْك وَاحِدٍ، وَتُقَيِّدُ لَهُ الشَّوَارِدَ وَتُقَرِّبُ عَلَيْهِ كُلَّ مُتَبَاعِدٍ، فَلْيُمْعِنْ النَّاظِرُ فِيهِ النَّظَرَ، وَلْيُوَسِّعْ الْعُذْرَ إنَّ اللَّبِيبَ مَنْ عَذَرَ.

فَلَقَدْ سَنَحَ بِالْبَالِ عَلَى غَايَةٍ مِنْ الْإِعْجَالِ، كَالِارْتِجَالِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ الِارْتِجَالِ، فِي أَيَّامٍ يَسِيرَةٍ وَلَيَالٍ.

وَيَأْبَى اللَّهُ الْعِصْمَةَ لِكِتَابٍ غَيْرِ كِتَابِهِ، وَالْمُنْصِفُ مَنْ اغْتَفَرَ قَلِيلَ خَطَأِ الْمَرْءِ فِي كَثِيرِ صَوَابِهِ، وَاَللَّهُ الْمَسْئُولُ أَنْ يُوَفِّقَنَا لِصَوَابِ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ، وَأَنْ يَرْزُقَنَا اجْتِنَابَ أَسْبَابِ الزَّيْغِ وَالزَّلَلِ، إنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ لِمَنْ سَأَلَ، لَا يُخَيِّبُ مَنْ إيَّاهُ رَجَا وَعَلَيْهِ تَوَكَّلَ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْأُولَى الْمَاءُ الْجَارِي هَلْ هُوَ كَالرَّاكِدِ]

(الْقَاعِدَةُ الْأُولَى)

الْمَاءُ الْجَارِي هَلْ هُوَ كَالرَّاكِدِ أَوْ كُلُّ جرية مِنْهُ لَهَا حُكْمُ الْمَاءِ الْمُنْفَرِدِ.

فِيهِ خِلَافٌ فِي الْمَذْهَبِ يَنْبَنِي عَلَيْهِ مَسَائِلُ: (أَحَدُهَا) لَوْ وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ فَهَلْ يُعْتَبَرُ مَجْمُوعُهُ، فَإِنْ كَانَ كَثِيرًا لَمْ يَنْجُسْ بِدُونِ تَغَيُّرٍ وَإِلَّا نَجُسَ أَوْ تُعْتَبَرُ كُلُّ جَرْيَةٍ بِانْفِرَادِهَا فَإِنْ بَلَغَتْ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَنْجُسْ وَإِلَّا نَجُسَتْ.

فِيهِ رِوَايَتَانِ
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

(হে আমার পালনকর্তা! সহজ করুন এবং সাহায্য করুন) শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা আবুল ফারাজ জয়নুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে রজব আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দিন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুদৃঢ় কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর অকাট্য বাণীর মাধ্যমে ইলমের দুর্গসমূহকে সুসংহত ও শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁর কল্যাণ চেয়েছেন তাঁকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও বোধ দান করেছেন। আর তিনি যাকে চেয়েছেন তাঁর উদ্দেশ্যের গোপন রহস্যসমূহ অবগত করেছেন এবং ইলহাম করেছেন। অতএব মহিমা সেই সত্তার, যিনি ফয়সালা করেছেন ও তা সুদৃঢ় করেছেন, হালাল ও হারাম নির্ধারণ করেছেন এবং পরিচয় দান করেছেন ও শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা), অভিনব হিকমত, এবং ইলম, ধৈর্য ও মহানুভবতার আমানত দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

"অতঃপর," এগুলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং প্রচুর উপকারী বিষয়, যা একজন ফকীহ বা ফিকহবিদের জন্য মাযহাবের মূল উসুলসমূহকে সুসংবদ্ধ করবে এবং ফিকহের উৎসসমূহ থেকে সেই বিষয়গুলো তাকে অবগত করাবে যা তার নিকট অস্পষ্ট ছিল।

নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মনের কোণে উদিত হয়েছিল, যা অনেকটা তাৎক্ষণিক রচনার মতো, মাত্র স্বল্প কিছু দিন ও রাতের ব্যবধানে।

আল্লাহ তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবকে ভুলত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন। আর ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি তো সেই, যে মানুষের অজস্র সঠিক কাজের ভিড়ে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেয়। আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা যে, তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে সঠিকতা দান করেন এবং বিচ্যুতি ও স্খলনের কারণসমূহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনাকারীর দুআ কবুলকারী। তিনি তাকে নিরাশ করেন না যে তাঁর কাছে আশা রাখে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে।

 

[প্রথম মূলনীতি: প্রবাহমান পানি কি স্থির পানির মতো?]

(প্রথম মূলনীতি)

প্রবাহমান পানি কি স্থির পানির মতো, নাকি এর প্রতিটি স্রোত বা প্রবাহের স্বতন্ত্র পানির বিধান রয়েছে?

এ বিষয়ে মাযহাবে মতভেদ রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়: (এক) যদি তাতে নাপাকি পতিত হয়, তবে কি এর সমষ্টিকে ধর্তব্য ধরা হবে? যদি তা পরিমাণে অধিক হয় তবে বর্ণ বা গন্ধের পরিবর্তন হওয়া ছাড়া তা নাপাক হবে না, অন্যথায় নাপাক হয়ে যাবে। অথবা কি প্রতিটি স্রোতকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে? যদি তা দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছায় তবে নাপাক হবে না, অন্যথায় তা নাপাক হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৪)
حَكَاهُمَا الشِّيرَازِيُّ وَغَيْرُهُ.

 

‌‌[غمس الْإِنَاءُ النَّجِسُ فِي مَاءٍ جَارٍ]

(وَالثَّانِيَةُ) : الْمَذْهَبُ عِنْدَ الْقَاضِي

وَالثَّانِيَةُ: لَوْ غُمِسَ الْإِنَاءُ النَّجِسُ فِي مَاءٍ جَارٍ وَمَرَّتْ عَلَيْهِ سَبْعُ جَرْيَاتٍ فَهَلْ ذَلِكَ غَسْلَةٌ وَاحِدَةٌ أَوْ سَبْعُ غَسَلَاتٍ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ: حَكَاهُمَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْغَازِي تِلْمِيذُ الْآمِدِيِّ،

وَذَكَرَ أَنَّ ظَاهِرَ كَلَامِ الْأَصْحَابِ أَنَّ ذَلِكَ غَسْلَةٌ وَاحِدَةٌ، وَفِي شَرْحِ الْمَذْهَبِ لِلْقَاضِي: أَنَّ كَلَامَ أَحْمَدَ يَدُلُّ عَلَيْهِ، وَكَذَلِكَ لَوْ كَانَ ثَوْبًا وَنَحْوِهِ وَعَصَرَهُ عَقِيبَ كُلِّ جَرْيَةٍ.

 

‌‌[انغمس الْمُحْدِثُ حَدَثًا أَصْغَرَ فِي مَاءٍ جَارٍ لِلْوُضُوءِ]

(وَالثَّالِثَةُ) : لَوْ انْغَمَسَ الْمُحْدِثُ حَدَثًا أَصْغَرَ فِي مَاءٍ جَارٍ لِلْوُضُوءِ وَمَرَّتْ عَلَيْهِ أَرْبَعُ جَرْيَاتٍ مُتَوَالِيَةٍ فَهَلْ يَرْتَفِعُ بِذَلِكَ حَدَثُهُ أَمْ لَا؟

عَلَى وَجْهَيْنِ: أَشْهَرُهُمَا عِنْدَ الْأَصْحَابِ أَنَّهُ يَرْتَفِعُ حَدَثُهُ.

وَقَالَ أَبُو الْخَطَّابِ فِي الِانْتِصَارِ: ظَاهِرُ كَلَامِ أَحْمَدَ أَنَّهُ لَا يَرْتَفِعُ حَدَثُهُ لِأَنَّهُ لَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ الْجَارِي وَالرَّاكِدِ.

قُلْتُ: بَلْ نَصَّ أَحْمَدُ عَلَى التَّسْوِيَةِ بَيْنَهُمَا فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَكَمِ، وَأَنَّهُ إذَا انْغَمَسَ فِي دِجْلَةَ فَإِنَّهُ لَا يَرْتَفِعُ حَدَثُهُ حَتَّى يُخْرِجَ حَدَثَهُ مُرَتَّبًا.

 

‌‌[حَلَفَ لَا يَقِفُ فِي هَذَا الْمَاءِ وَكَانَ جَارِيًا]

(وَالرَّابِعَةُ) لَوْ حَلَفَ لَا يَقِفُ فِي هَذَا الْمَاءِ وَكَانَ جَارِيًا لَمْ يَحْنَثْ عِنْدَ أَبِي الْخَطَّابِ وَغَيْرِهِ ; لِأَنَّ الْجَارِيَ يَتَبَدَّلُ وَيَسْتَخْلِفُ شَيْئًا فَشَيْئًا، فَلَا يُتَصَوَّرُ الْوُقُوفُ فِيهِ.

وَقِيَاسُ الْمَنْصُوصِ أَنَّهُ يَحْنَثُ، لَا سِيَّمَا وَالْعُرْفُ يَشْهَدُ لَهُ وَالْأَيْمَانُ مَرْجِعُهَا إلَى الْعُرْفِ، ثُمَّ وَجَدْت الْقَاضِيَ فِي الْجَامِعِ الْكَبِيرِ ذَكَرَ نَحْوَ هَذَا [وَاَللَّهُ أَعْلَمُ] .

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَةُ شَعْرُ الْحَيَوَانِ فِي حُكْمِ الْمُنْفَصِلِ عَنْهُ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَةُ) : شَعَرُ الْحَيَوَانِ فِي حُكْمِ الْمُنْفَصِلِ عَنْهُ لَا فِي حُكْمِ الْمُتَّصِلِ، وَكَذَلِكَ الظُّفُرُ.

هَذَا هُوَ جَادَّةُ الْمَذْهَبِ وَيَتَفَرَّعُ عَلَى ذَلِكَ مَسَائِلُ: مِنْهَا: إذَا مَسَّ شَعَرَ امْرَأَةٍ بِشَهْوَةٍ لَمْ يَنْتَقِضْ وُضُوءُهُ، وَكَذَلِكَ ظُفْرَهَا أَوْ مَسَّهَا بِظُفْرِهِ أَوْ شَعَرِهِ وَلِهَذِهِ الْمَسْأَلَةِ مَأْخَذٌ آخَرُ: وَهُوَ أَنَّ هَذِهِ الْأَجْزَاءَ لَيْسَتْ بِمَحَلٍّ لِلشَّهْوَةِ الْأَصْلِيَّةِ، وَهِيَ شَرْطٌ لِنَقْضِ الْوُضُوءِ عِنْدَنَا.

 

‌‌[الشعر لَا يَنْجُسُ بِالْمَوْتِ وَلَا بِالِانْفِصَالِ]

(وَمِنْهَا) أَنَّ الشَّعَرَ لَا يَنْجُسُ بِالْمَوْتِ وَلَا بِالِانْفِصَالِ عَلَى الْمَذْهَبِ، وَكَذَا مَا طَالَ مِنْ الظُّفْرِ عَلَى احْتِمَالٍ فِيهِ، أَمَّا عَلَى الْمَشْهُورِ فَإِنْ انْفَصَلَ مِنْ آدَمِيٍّ لَمْ يَنْجُسْ عَلَى الصَّحِيحِ وَمِنْ غَيْرِهِ يَنْجُسُ، لِأَنَّهُ كَانَتْ فِيهِ حَيَاةٌ ثُمَّ فَارَقَتْهُ حَالَ انْفِصَالِهِ فَمَنَعَهُ الِاتِّصَالُ مِنْ التَّنْجِيسِ فَإِذَا انْفَصَلَ زَالَ الْمَانِعُ فَنَجُسَ.

 

‌‌[غَسْلُ الشعر فِي الْجَنَابَةِ وَالْحَدَثِ]

(وَمِنْهَا) غَسْلُهُ فِي الْجَنَابَةِ وَالْحَدَثِ.

فَأَمَّا الْجَنَابَةُ فَفِي وُجُوبِ غَسْلِهِ وَجْهَانِ وَاَلَّذِي رَجَّحَهُ صَاحِبُ الْمُغْنِي وَذَكَرَ أَنَّهُ ظَاهِرُ كَلَامِ الْخِرَقِيِّ عَدَمُ الْوُجُوبِ طَرْدًا لِلْقَاعِدَةِ، وَمَنْ أَوْجَبَهُ فَيَقُولُ: وَجَبَ تَعَبُّدًا.

نَعَمْ إنْ كَانَ وُصُولُ الْمَاءِ إلَى الْبَشَرَةِ لَا يُمْكِنُ بِدُونِ غَسْلِهِ وَجَبَ لِضَرُورَةِ وُجُوبِ إيصَالِ الْمَاءِ إلَى مَا تَحْتَهُ، وَأَمَّا فِي الْحَدَثِ الْأَصْغَرِ يَجِبُ غَسْلُ الْمُسْتَرْسِلِ مِنْهُ عَلَى الصَّحِيحِ، وَأَمَّا الْمُحَاذِي لِمَحَلِّ الْفَرْضِ فَيُجْزِئُ إمْرَارُ الْمَاءِ عَلَى ظَاهِرِهِ إذَا كَانَ كَثِيفًا، لِأَنَّ إيصَالَ الْمَاءِ
আশ-শিরাজি এবং অন্যান্যরা এ দুটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[প্রবাহিত পানিতে অপবিত্র পাত্র ডুবানো]

(দ্বিতীয় মাসআলা): কাজী (আবু ইয়ালা)-র মতে এটিই মাযহাব।

দ্বিতীয়টি হলো: যদি কোনো নাপাক পাত্র প্রবাহিত পানিতে ডুবানো হয় এবং তার ওপর দিয়ে সাতটি স্রোত বয়ে যায়, তবে কি সেটি একবার ধোয়া হিসেবে গণ্য হবে নাকি সাতবার ধোয়া হিসেবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; যা আল-আমিদির ছাত্র আবুল হাসান বিন আল-গাজি বর্ণনা করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আসহাবগণের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো এটি একবার ধোয়া হিসেবে গণ্য হবে। কাজীর 'শারহুল মাযহাব'-এ আছে যে, ইমাম আহমাদের বক্তব্যও এরই নির্দেশ করে। একইভাবে যদি সেটি কাপড় বা অনুরূপ কিছু হয় এবং প্রতিটি স্রোতের পর তা নিংড়ানো হয় (তবে সেটিও একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত)।

 

‌‌[অজু করার উদ্দেশ্যে হাদাসে আসগার অবস্থায় প্রবাহিত পানিতে নিমজ্জিত হওয়া]

(তৃতীয় মাসআলা): যদি ছোট নাপাকিতে থাকা কোনো ব্যক্তি অজুর নিয়তে প্রবাহিত পানিতে ডুব দেয় এবং তার ওপর দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চারটি স্রোত বয়ে যায়, তবে কি এর মাধ্যমে তার অপবিত্রতা দূর হবে কি না?

এ ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে: আসহাবগণের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ হলো যে, তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে।

আবুল খাত্তাব 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আহমাদের বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো তার অপবিত্রতা দূর হবে না, কারণ তিনি প্রবাহিত ও স্থির পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।

আমি বলছি: বরং মুহাম্মদ বিন আল-হাকামের বর্ণনায় ইমাম আহমদ এ দুইয়ের মাঝে সমতার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন যে, যদি সে দজলা নদীতেও ডুব দেয়, তবুও তার অপবিত্রতা দূর হবে না যতক্ষণ না সে ক্রমানুসারে অজু সম্পন্ন করবে।

 

‌‌[এই পানিতে দাঁড়াবেন না বলে শপথ করা এবং পানিটি প্রবাহিত হওয়া]

(চতুর্থ মাসআলা): যদি কেউ শপথ করে যে সে এই পানিতে দাঁড়াবে না, অথচ পানিটি ছিল প্রবাহিত, তবে আবুল খাত্তাব ও অন্যদের মতে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না; কারণ প্রবাহিত পানি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় এবং ধাপে ধাপে স্থলাভিষিক্ত হয়, ফলে তাতে স্থির হয়ে দাঁড়ানো কল্পনা করা যায় না।

আর বর্ণিত নসের কিয়াস হলো যে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে, বিশেষ করে যখন প্রচলিত প্রথা (উরফ) এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং শপথের ক্ষেত্রে উরফই হলো মূল ভিত্তি। অতঃপর আমি দেখলাম যে কাজী 'আল-জামি আল-কাবীর' গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। [আল্লাহই ভালো জানেন]।

 

‌‌[দ্বিতীয় নীতি: প্রাণীর চুল তার থেকে বিচ্ছিন্ন অংশের হুকুমে]

(দ্বিতীয় নীতি): প্রাণীর লোম বা চুল তার শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশের হুকুমে গণ্য হয়, শরীরের সাথে সংযুক্ত অংশের হুকুমে নয়। নখের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

এটিই মাযহাবের মূল ধারা এবং এখান থেকে বেশ কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়: যেমন: কামনাবশত কোনো নারীর চুল স্পর্শ করলে অজু ভাঙবে না, একইভাবে তার নখ স্পর্শ করলে অথবা নিজের নখ বা চুল দিয়ে তাকে স্পর্শ করলে। এই মাসআলাটির আরেকটি ভিত্তি হলো যে, এই অঙ্গগুলো মূল কামনার স্থান নয়, যা আমাদের নিকট অজু ভঙ্গের জন্য শর্ত।

 

‌‌[চুল মৃত্যুর কারণে বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে নাপাক হয় না]

(তন্মধ্যে একটি হলো) মাযহাব অনুযায়ী চুল মৃত্যুর কারণে বা শরীর থেকে আলাদা হওয়ার কারণে নাপাক হয় না। একইভাবে নখের বর্ধিত অংশের ক্ষেত্রেও একটি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সঠিক মত অনুযায়ী তা নাপাক হবে না, কিন্তু অন্য প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন হলে নাপাক হবে; কারণ তাতে প্রাণ ছিল যা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় চলে গেছে, আর সংযুক্ত থাকা অবস্থায় তা নাপাক হওয়া থেকে বাধা দিয়েছিল, যখন তা বিচ্ছিন্ন হলো তখন সেই বাধা দূর হয়ে গেল এবং সেটি নাপাক হয়ে গেল।

 

‌‌[জানাবাত এবং হাদাসের ক্ষেত্রে চুল ধোয়া]

(তন্মধ্যে একটি হলো) জানাবাত এবং হাদাসের ক্ষেত্রে চুল ধোয়া।

জানাবাতের ক্ষেত্রে চুল ধোয়া ওয়াজিব হওয়া নিয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। 'আল-মুগনি'র লেখক যা প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আল-খিরাগির বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা হলো—মূল নীতি অনুযায়ী ধোয়া ওয়াজিব নয়। আর যারা ওয়াজিব বলেন, তারা বলেন যে এটি ইবাদত হিসেবে ওয়াজিব।

হ্যাঁ, যদি চুল না ধুয়ে চামড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে চুলের নিচে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব হওয়ার কারণে চুল ধোয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর ছোট নাপাকির ক্ষেত্রে, ঝুলে থাকা চুল ধোয়া সঠিক মত অনুযায়ী ওয়াজিব। আর যেসব চুল ফরয স্থানের সোজাসুজি থাকে, সেগুলো ঘন হলে তার উপরিভাগে পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট, কারণ পানি পৌঁছানো...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৫)
إلَى الْحَوَائِلِ فِي الْوُضُوءِ كَافٍ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مُتَّصِلَةً بِالْبَدَنِ اتِّصَالَ خِلْقَةٍ كَالْخُفِّ وَالْعِمَامَةِ وَالْجَبِيرَةِ فَالْمُتَّصِلِ خِلْقَةً أَوْلَى.

 

‌‌[أَضَافَ طَلَاقًا أَوْ عَتَاقًا أَوْ ظِهَارًا إلَى الشَّعَرِ أَوْ الظُّفْرِ]

(وَمِنْهَا) لَوْ أَضَافَ طَلَاقًا أَوْ عَتَاقًا أَوْ ظِهَارًا إلَى الشَّعَرِ أَوْ الظُّفْرِ لَمْ يَثْبُتْ بِهِ الطَّلَاقُ وَلَا الْعَتَاقُ وَلَا الظِّهَارُ عَلَى الْأَصَحِّ.

 

‌‌[كَانَ جيبه وَاسِعًا تُرَى مِنْهُ عَوْرَتُهُ فِي الصَّلَاةِ لَكِنْ لَهُ لَحَيَّةٌ كَبِيرَةٌ تَسْتُرُهُ]

(وَمِنْهَا) لَوْ كَانَ جَيْبُهُ وَاسِعًا تُرَى مِنْهُ عَوْرَتُهُ فِي الصَّلَاةِ لَكِنْ لَهُ لِحْيَةٌ كَبِيرَةٌ تَسْتُرُهُ فَالْمَذْهَبُ أَنَّهُ يَكْفِيهِ فِي السِّتْرِ، قَالَ فِي الْمُغْنِي: نَصَّ عَلَيْهِ مَعَ أَنَّهُ قَرَّرَ فِي كِتَابِ الْحَجِّ أَنَّ السِّتْرَ بِالْمُتَّصِلِ كَالْيَدِ وَنَحْوِهَا لَا فِدْيَةَ فِيهِ.

وَخَالَفَهُ صَاحِبُ شَرْحِ الْهِدَايَةِ وَقَالَ: هُوَ سِتْرٌ فِي الْمَوْضِعَيْنِ وَتَرَدَّدَ فِيهِ الْقَاضِي فِي شَرْحِ الْمَذْهَبِ فَجَزَمَ تَارَةً بِأَنَّ السِّتْرَ بِالْمُتَّصِلِ لَيْسَ بِسِتْرٍ فِي الْإِحْرَامِ وَلَا فِي الصَّلَاةِ ثُمَّ ذَكَرَ نَصَّ أَحْمَدَ وَرَجَعَ إلَى أَنَّهُ سِتْرٌ فِي الصَّلَاةِ دُونَ الْإِحْرَامِ ; لِأَنَّ الْقَصْدَ فِي سِتْرِ الصَّلَاةِ تَغْيِيبُ لَوْنِ الْبَشَرَةِ وَفِي الْإِحْرَامِ إنَّمَا يُحَرَّمُ السِّتْرُ بِمَا يُسْتَرُ بِهِ عَادَةً.

فَأَمَّا إيجَابُ الْفِدْيَةِ بِهِ وَضَمَانُهُ مِنْ الصَّيْدِ وَتَحْرِيمُ نَظَرِهِ عَلَى الْأَجْنَبِيِّ، فَلَمَّا يَتَعَلَّقُ بِجُمْلَةِ الْبَدَنِ مِنْ إزَالَةِ جَمَالِهِ وَتَأَذِّي الصَّيْدِ بِتَرْوِيعِهِ وَإِثْبَاتِ الْيَدِ عَلَيْهِ، وَهُوَ مُمْتَنِعٌ، وَالِافْتِتَانِ بِالْمَرْأَةِ وَلِهَذَا لِوَ انْفَصَلَ شَعَرُ الْمَرْأَةِ جَازَ النَّظَرُ إلَيْهِ عَلَى ظَاهِرِ كَلَامِ أَبِي الْخَطَّابِ فِي الِانْتِصَارِ وَحَكَى صَاحِبُ التَّلْخِيصِ فِيهِ وَجْهَيْنِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةُ مَنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ عِبَادَةٌ فَأَتَى بِمَا لَوْ اقْتَصَرَ عَلَى مَا دُونَهُ لَأَجْزَأَهُ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةُ) : مَنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ عِبَادَةٌ فَأَتَى بِمَا لَوْ اقْتَصَرَ عَلَى مَا دُونَهُ لَأَجْزَأَهُ هَلْ يُوصَفُ الْكُلُّ بِالْوُجُوبِ أَوْ قَدْرُ الْإِجْزَاءِ مِنْهُ.

إنْ كَانَتْ الزِّيَادَةُ مُتَمَيِّزَةً مُنْفَصِلَةً فَلَا إشْكَالَ فِي أَنَّهَا نَفْلٌ بِانْفِرَادِهَا كَإِخْرَاجِ صَاعَيْنِ مُنْفَرِدَيْنِ فِي الْفِطْرَةِ وَنَحْوِهَا، وَأَمَّا إنْ لَمْ تَكُنْ مُتَمَيِّزَةً فَفِيهِ وَجْهَانِ مَذْكُورَانِ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ وَيَنْبَنِي عَلَيْهِ مَسَائِلُ: (مِنْهَا) إذَا أَدْرَكَ الْإِمَامَ فِي الرُّكُوعِ بَعْدَ فَوَاتِ قَدْرِ الْإِجْزَاءِ مِنْهُ هَلْ يَكُونُ مُدْرِكًا لَهُ فِي الْفَرِيضَةِ.

ظَاهِرُ كَلَامِ الْقَاضِي وَابْنِ عَقِيلٍ تَخْرِيجُهَا عَلَى الْوَجْهَيْنِ إذَا قُلْنَا لَا يَصِحُّ اقْتِدَاءُ الْمُفْتَرِضِ بِالْمُتَنَفِّلِ قَالَ ابْنُ عَقِيلٍ وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَجْرِيَ الزِّيَادَةُ مَجْرَى الْوَاجِبِ فِي بَابِ الِاتِّبَاعِ خَاصَّةً إذْ الِاتِّبَاعُ قَدْ يُسْقِطُ الْوَاجِبَ كَمَا فِي الْمَسْبُوقِ وَمُصَلِّي الْجُمُعَةِ مِنْ امْرَأَةٍ وَعَبْدٍ مُسَافِرٍ.

 

‌‌[وَجَبَ عَلَيْهِ شَاة فَذَبَحَ بَدَنَةً]

(وَمِنْهَا) إذَا وَجَبَ عَلَيْهِ شَاةٌ فَذَبَحَ بَدَنَةً فَهَلْ كُلُّهَا وَاجِبَةٌ أَوْ سُبُعُهَا؟ .

عَلَى وَجْهَيْنِ (وَمِنْهَا) إذَا أَدَّى عَنْ خَمْسٍ مِنْ الْإِبِلِ بَعِيرًا وَقُلْنَا يَجْزِيهِ فَهَلْ الْوَاجِبُ كُلُّهُ أَوْ خُمُسُهُ الْوَاجِبُ.

وَحَكَى الْقَاضِي أَبُو يَعْلَى الصَّغِيرُ فِيهِ وَجْهَيْنِ: فَعَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّ خُمُسَهُ الْوَاجِبَ يُجْزِئُ عَنْ عِشْرِينَ بَعِيرًا أَيْضًا، وَعَلَى الْآخَرِ لَا يُجْزِئُ عَنْ عِشْرِينَ إلَّا أَرْبَعَةُ أَبْعِرَةٍ.

 

‌‌[مَسَحَ رَأْسَهُ كُلَّهُ دُفْعَةً وَاحِدَة وَقُلْنَا الْفَرْضُ مِنْهُ قَدْرُ النَّاصِيَةِ]

(وَمِنْهَا) إذَا مَسَحَ رَأْسَهُ كُلَّهُ دُفْعَةً وَاحِدَةً وَقُلْنَا الْفَرْضُ مِنْهُ قَدْرُ النَّاصِيَةِ فَهَلْ الْكُلُّ فَرْضٌ أَوْ قَدْرُ النَّاصِيَةِ مِنْهُ.

(وَمِنْهَا) إذَا أَخْرَجَ فِي الزَّكَاةِ سِنًّا أَعْلَى مِنْ
ওযুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকগুলোর প্রতি (ইঙ্গিত বা মাসাহ) যথেষ্ট, যদিও সেগুলো চামড়ার মোজা, পাগড়ি বা পট্টির মতো দেহের সাথে সৃষ্টিগতভাবে যুক্ত না হয়। সুতরাং যা সৃষ্টিগতভাবে যুক্ত, তা (প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে) অধিকতর অগ্রগণ্য।

 

‌‌[চুল বা নখের সাথে তালাক, দাসমুক্তি অথবা যিহারকে সম্পৃক্ত করা]

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ তালাক, দাসমুক্তি অথবা যিহারকে চুল বা নখের সাথে সম্পৃক্ত করে, তবে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী এর মাধ্যমে তালাক, দাসমুক্তি বা যিহার সাব্যস্ত হবে না।

 

‌‌[যদি পরিধেয় বস্ত্রের গলার অংশ প্রশস্ত হয় যার ফলে সালাতে সতর দেখা যায়, কিন্তু তার বড় দাড়ি থাকে যা তা ঢেকে রাখে]

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কারও জামার গলার অংশ প্রশস্ত হয় যার মধ্য দিয়ে সালাতের সময় সতর দেখা যায়, কিন্তু তার এমন বড় দাড়ি থাকে যা সতরকে ঢেকে রাখে, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো এটি সতর ঢাকার জন্য যথেষ্ট। 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম আহমাদ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন, যদিও তিনি হজের অধ্যায়ে এটি স্থির করেছেন যে, হাত বা অনুরূপ শরীরের সাথে যুক্ত অঙ্গ দিয়ে সতর ঢাকা হলে তাতে কোনো ফিদিয়া ওয়াজিব হয় না।

'শারহুল হিদায়া'র লেখক এর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: উভয় ক্ষেত্রেই এটি সতর হিসেবে গণ্য। কাযী (আবু ইয়া’লা) 'শারহুল মাযহাব' গ্রন্থে এ বিষয়ে ইতস্ততবোধ করেছেন; কখনও তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, শরীরের সাথে যুক্ত অঙ্গ দিয়ে সতর ঢাকা ইহরাম এবং সালাত কোনোটিকেই সতর হিসেবে গণ্য হবে না। অতঃপর তিনি ইমাম আহমাদের উক্তি উল্লেখ করেছেন এবং এই মতের দিকে ফিরে এসেছেন যে, এটি সালাতে সতর হিসেবে গণ্য হলেও ইহরামে নয়। কারণ সালাতে সতর ঢাকার উদ্দেশ্য হলো গায়ের চামড়ার রঙ আড়াল করা, আর ইহরামের ক্ষেত্রে সাধারণত যা দিয়ে সতর ঢাকা হয় তা দিয়ে ঢাকা নিষিদ্ধ।

আর ফিদিয়া ওয়াজিব হওয়া, শিকারের জরিমানা এবং পরনারীর দিকে তাকানো হারাম হওয়ার বিষয়টি মূলত দেহের পূর্ণ অবয়বের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন দেহের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া, শিকারকে ভীত করার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া এবং তার ওপর হাত রাখা—যা নিষিদ্ধ। সেই সাথে নারীর প্রতি প্রলুব্ধ হওয়া। এই কারণেই যদি নারীর চুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আবু আল-খাত্তাবের 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থের প্রকাশ্য বর্ণনা অনুযায়ী তার দিকে তাকানো জায়েয। আর 'আত-তালখিস' গ্রন্থের লেখক এ বিষয়ে দুটি অভিমত বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[তৃতীয় নীতি: যার ওপর কোনো ইবাদত ওয়াজিব হয়েছে, অতঃপর সে এমন পরিমাণ আদায় করল যা তার চেয়ে কম করলেও যথেষ্ট হতো]

(তৃতীয় নীতি): যার ওপর কোনো ইবাদত ওয়াজিব হয়েছে, অতঃপর সে এমন পরিমাণ আদায় করল যা তার চেয়ে কম করলেও আদায় হয়ে যেত, তবে কি পুরো বিষয়টিকে ওয়াজিব বলা হবে নাকি যতটুকু করলে আদায় হতো ততটুকুকে ওয়াজিব বলা হবে?

যদি অতিরিক্ত অংশটি পৃথক ও স্বতন্ত্র হয়, তবে তা যে এককভাবে নফল হিসেবে গণ্য হবে তাতে কোনো সংশয় নেই; যেমন সদকাতুল ফিতরে পৃথকভাবে দুই সা’ প্রদান করা বা অনুরূপ কিছু। আর যদি তা স্বতন্ত্র না হয়, তবে এ বিষয়ে উসুলুল ফিকহ-এ দুটি অভিমত বর্ণিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়: (তন্মধ্যে একটি হলো) যখন কেউ ইমামকে রুকুর এমন অবস্থায় পায় যখন রুকুর ন্যূনতম পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে, তখন সে কি ফরয সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে?

কাযী এবং ইবনুল আকীলের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো, যদি আমরা বলি যে নফল আদায়কারীর পেছনে ফরয আদায়কারীর ইকতিদা সহীহ নয়, তবে একে দুটি মতের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করতে হবে। ইবনুল আকীল বলেন, সম্ভবত অনুসরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিবের স্থলাভিষিক্ত হবে। কারণ অনুসরণ কখনো ওয়াজিবকে রহিত করে দেয়, যেমন মাসবূক এবং নারী, দাস বা মুসাফিরের জুমুআ আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

 

‌‌[কারও ওপর বকরি ওয়াজিব হয়েছিল, কিন্তু সে একটি উট যবেহ করল]

(তন্মধ্যে একটি হলো) যখন কারও ওপর একটি বকরি ওয়াজিব হয় এবং সে একটি উট যবেহ করে, তখন কি পুরো উটটিই ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে নাকি তার এক-সপ্তমাংশ? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ পাঁচটি উটের যাকাত হিসেবে একটি উট প্রদান করে এবং আমরা বলি যে তা যথেষ্ট হবে, তবে কি পুরো উটটিই ওয়াজিব নাকি তার এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব?

কাযী আবু ইয়া’লা আস-সগীর এ বিষয়ে দুটি মত বর্ণনা করেছেন: যে মত অনুযায়ী এর এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব, সেই মতে এটি বিশটি উটের জন্যও যথেষ্ট হবে। আর অন্য মত অনুযায়ী, চারটি উট ব্যতীত বিশটির জন্য তা যথেষ্ট হবে না।

 

‌‌[যদি কেউ পুরো মাথা একবারে মাসাহ করে এবং আমাদের মতে ফরয হলো কপালের উপরিভাগের চুল পরিমাণ মাসাহ করা]

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ পুরো মাথা একবারে মাসাহ করে এবং আমরা বলি যে এর ফরয অংশ হলো কেবল কপালের উপরিভাগের চুল (নাসিয়া) পরিমাণ, তবে কি পুরো মাসাহ করাই ফরয হিসেবে গণ্য হবে নাকি শুধু ওই পরিমাণ অংশ?

(তন্মধ্যে একটি হলো) যখন কেউ যাকাত হিসেবে নির্ধারিত বয়সের চেয়ে অধিক বয়সের পশু প্রদান করে...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৬)
الْوَاجِبِ فَهَلْ كُلُّهُ فَرْضٌ أَوْ بَعْضُهُ تَطَوُّعٌ.

وَقَالَ أَبُو الْخَطَّابِ كُلُّهُ فَرْضٌ وَقَالَ الْقَاضِي بَعْضُهُ تَطَوُّعٌ وَهُوَ الصَّوَابُ ; لِأَنَّ الشَّارِعَ أَعْطَاهُ جُبْرَانًا عَنْ الزِّيَادَةِ، فَأَمَّا مَا كَانَ الْأَصْلُ فَرْضِيَّتَهُ وَوُجُوبَهُ ثُمَّ سَقَطَ بَعْضُهُ تَخْفِيفًا فَإِذَا فَعَلَ الْأَصْلَ وُصِفَ الْكُلُّ بِالْوُجُوبِ عَلَى الصَّحِيحِ، فَمِنْ ذَلِكَ إذَا صَلَّى الْمُسَافِرُ أَرْبَعًا فَإِنَّ الْكُلَّ فَرْضٌ فِي حَقِّهِ وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ الرَّكْعَتَيْنِ الْأَخِيرَتَيْنِ تَنَفُّلٌ لَا يَصِحُّ اقْتِدَاءُ الْمُفْتَرِضِ بِهِ فِيهِمَا وَهُوَ مُتَمَشٍّ عَلَى أَصْلِهِ وَهُوَ عَدَمُ اعْتِبَارِ نِيَّةِ الْقَصْرِ، وَالْمَذْهَبُ الْأَوَّلُ وَمِنْهُ إذَا كَفَّرَ الْوَاطِئُ فِي الْحَيْضِ بِدِينَارٍ فَإِنَّ الْكُلَّ وَاجِبٌ وَإِنْ كَانَ لَهُ الِاقْتِصَارُ عَلَى نِصْفِهِ ذَكَرَهُ فِي الْمُغْنِي، وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ وَجْهٌ مِنْ قَوْلِ أَبِي بَكْرٍ فَأَمَّا إنْ غَسَلَ رَأْسَهُ بَدَلًا عَنْ مَسْحِهِ وَقُلْنَا بِالْإِجْزَاءِ فَفِي السَّائِلِ مِنْهُ وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: أَنَّهُ مُسْتَعْمَلٌ فِي رَفْعِ حَدَثٍ لِأَنَّ الْأَصْلَ هُوَ الْغَسْلُ وَإِنَّمَا سَقَطَ تَخْفِيفًا.

وَالثَّانِي: وَهُوَ الصَّحِيحُ أَنَّهُ طَهُورٌ لِأَنَّ الْغَسْلَ مَكْرُوهٌ فَلَا يَكُونُ وَاجِبًا وَقَدْ يُقَالُ وَالْإِتْمَامُ فِي السَّفَرِ مَكْرُوهٌ أَيْضًا.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الرَّابِعَة الْعِبَادَاتُ كُلُّهَا لَا يَجُوز تَقْدِيمُهَا عَلَى سَبَبِ وُجُوبِهَا]

(الْقَاعِدَةُ الرَّابِعَةُ) : الْعِبَادَاتُ كُلُّهَا سَوَاءٌ كَانَتْ بَدَنِيَّةً أَوْ مَالِيَّةً أَوْ مُرَكَّبَةً مِنْهُمَا لَا يَجُوزُ تَقْدِيمُهَا عَلَى سَبَبِ وُجُوبِهَا وَيَجُوزُ تَقْدِيمُهَا بَعْدَ سَبَبِ الْوُجُوبِ وَقَبْلَ الْوُجُوبِ أَوْ قَبْلَ شَرْطِ الْوُجُوبِ وَيَتَفَرَّعُ عَلَى ذَلِكَ مَسَائِلُ كَثِيرَةٌ: (مِنْهَا) الطَّهَارَةُ سَبَبُ وُجُوبِهَا الْحَدَثُ وَشَرْطُ الْوُجُوبِ فِعْلُ الْعِبَادَةِ الْمُشْتَرَطِ لَهَا الطَّهَارَةُ فَيَجُوزُ تَقْدِيمُهَا عَلَى الْعِبَادَةِ وَلَوْ بِالزَّمَنِ الطَّوِيلِ بَعْدَ الْحَدَثِ.

(وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فَيَجُوزُ تَقْدِيمُ صَلَاةِ الْعَصْرِ إلَى وَقْتِ الظُّهْرِ، وَالْعِشَاءِ إلَى وَقْتِ الْمَغْرِبِ لِأَنَّ الشَّارِعَ جَعَلَ الزَّوَالَ سَبَبًا لِوُجُوبِ الصَّلَاتَيْنِ عِنْدَ الْعُذْرِ دُونَ عَدَمِهِ، وَلِهَذَا لَوْ أَدْرَكَ جُزْءًا مِنْ وَقْتِ الزَّوَالِ ثُمَّ طَرَأَ عَلَيْهِ عُذْرٌ لَزِمَهُ قَضَاءُ الصَّلَاتَيْنِ عَلَى إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ، وَلَوْ زَالَ الْعُذْرُ فِي آخِرِ وَقْتِ الْعَصْرِ لَزِمَهُ الصَّلَاتَانِ بِلَا خِلَافٍ عِنْدَنَا فَعُلِمَ أَنَّ الْوَقْتَيْنِ قَدْ صَارَا فِي حَالِ الْعُذْرِ كَالْوَقْتِ الْوَاحِدِ، لَكِنَّهُ وَقْتُ جَوَازٍ بِالنِّسْبَةِ إلَى إحْدَاهُمَا، وَوُجُوبٍ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْأُخْرَى.

(وَمِنْهَا) صَلَاةُ الْجُمُعَةِ فَإِنْ سَبَبهَا الْيَوْمُ لِأَنَّهَا تُضَافُ إلَيْهِ فَيَجُوزُ فِعْلُهَا بَعْدَ زَوَالِ وَقْتِ النَّهْيِ مِنْ أَوَّلِ الْيَوْمِ وَإِنْ كَانَ الزَّوَالُ هُوَ وَقْتَ الْوُجُوبِ.

(وَمِنْهَا) زَكَاةُ الْمَالِ يَجُوزُ تَقْدِيمُهَا مِنْ أَوَّلِ الْحَوْلِ بَعْدَ كَمَالِ النِّصَابِ.

(وَمِنْهَا) كَفَّارَاتُ الْإِحْرَامِ إذَا اُحْتِيجَ إلَيْهَا لِلْعُذْرِ فَإِنَّ الْعُذْرَ سَبَبُهَا فَيَجُوزُ تَقْدِيمُهَا بَعْدَ الْعُذْرِ وَقَبْلَ فِعْلِ الْمَحْظُورِ.

(وَمِنْهَا) صِيَامُ التَّمَتُّعِ وَالْقِرَانِ فَإِنَّ سَبَبَهُ الْعُمْرَةُ السَّابِقَةُ لِلْحَجِّ فِي أَشْهُرِهِ، فَبِالشُّرُوعِ فِي إحْرَامِ الْعُمْرَةِ
ওয়াজিবের ক্ষেত্রে; তবে তা কি পুরোটাই ফরজ, নাকি তার কিছু অংশ নফল?

আবু আল-খাত্তাব বলেছেন, পুরোটাই ফরজ। আর আল-কাজী বলেছেন, এর কিছু অংশ নফল, আর এটিই সঠিক; কারণ শারী'আত প্রণেতা এটিকে অতিরিক্তের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর যে বিষয়ের মূলটি ছিল ফরজ বা ওয়াজিব, এরপর সহজীকরণের জন্য তার কিছু অংশ বাদ পড়ে গেছে, এমতাবস্থায় যদি কেউ মূল কাজটি পূর্ণরূপে সম্পাদন করে, তবে সঠিক মতানুসারে পুরোটাই ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো, যখন একজন মুসাফির চার রাকাত সালাত আদায় করে, তখন তার ক্ষেত্রে পুরোটাই ফরজ। আর আবু বকর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ দুই রাকাত নফল, তাই ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য ওই দুই রাকাতে তার অনুসরণ (ইকতিদা) করা সঠিক হবে না। আর এটি তার মূলনীতির অনুসারী, যা হলো কসরের নিয়তকে ধর্তব্য না ধরা। আর মাযহাব হলো প্রথমটি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো, যখন ঋতুকালীন সহবাসকারী ব্যক্তি এক দিনার কাফফারা আদায় করে, তখন পুরোটাই ওয়াজিব, যদিও তার জন্য অর্ধেক দিনারে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ ছিল। এটি আল-মুগনি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবু বকরের বক্তব্য থেকে এ বিষয়ে একটি অভিমত নির্গত হয়। তবে যদি কেউ মাথা মাসাহ করার পরিবর্তে ধৌত করে এবং আমরা একে যথেষ্ট বলে গণ্য করি, তবে তা থেকে প্রবাহিত পানির ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: এটি অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানি হিসেবে গণ্য, কারণ মূল বিধান হলো ধৌত করা, যা কেবল সহজীকরণের জন্য রহিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: যা সঠিক, তা হলো এটি পবিত্রকারী পানি; কারণ ধৌত করা মাকরূহ, তাই এটি ওয়াজিব হতে পারে না। আর এটাও বলা হয় যে, সফরে সালাত পূর্ণ করাও মাকরূহ।

 

‌‌[চতুর্থ কায়দা: সকল প্রকার ইবাদত তার ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে আদায় করা জায়েজ নয়]

(চতুর্থ কায়দা): সকল ইবাদত, চাই তা শারীরিক হোক বা আর্থিক কিংবা উভয়টির সমষ্টি হোক, তার ওয়াজিব হওয়ার কারণের (সাবাব) আগে সম্পাদন করা জায়েজ নয়। তবে ওয়াজিব হওয়ার কারণের পরে এবং ওয়াজিব হওয়ার আগে অথবা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূর্ণ হওয়ার আগে তা সম্পাদন করা জায়েজ। আর এ থেকে অনেক মাসআলা নির্গত হয়: (তার মধ্যে একটি হলো) পবিত্রতা (তাহারাত); এটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো অপবিত্রতা (হাদাস), আর ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো সেই ইবাদত সম্পাদন করা যার জন্য পবিত্রতা শর্ত। সুতরাং অপবিত্র হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ইবাদতের পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ।

(আরেকটি হলো) সালাত; আসরের সালাতকে যোহরের ওয়াক্তে এবং এশার সালাতকে মাগরিবের ওয়াক্তে এগিয়ে নিয়ে আসা জায়েজ, কারণ শারী'আত প্রণেতা ওজর বা বিশেষ সমস্যার ক্ষেত্রে সূর্য ঢলে পড়াকে (যাওয়াল) উভয় সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন, ওজর না থাকলে নয়। এই কারণেই, যদি কেউ সূর্য ঢলে পড়ার ওয়াক্তের সামান্য অংশ পায় এবং এরপর তার কোনো ওজর বা সমস্যা দেখা দেয়, তবে দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী তার ওপর উভয় সালাত কাজা করা আবশ্যক হবে। আর যদি আসরের ওয়াক্তের শেষ দিকে ওজর দূর হয়ে যায়, তবে আমাদের মতে কোনো মতভেদ ছাড়াই উভয় সালাত আদায় করা তার ওপর আবশ্যক। ফলে জানা গেল যে, ওজরের অবস্থায় উভয় ওয়াক্ত একটি ওয়াক্তের ন্যায় হয়ে যায়, তবে একটির সাপেক্ষে এটি হলো জায়েজ হওয়ার সময় এবং অন্যটির সাপেক্ষে ওয়াজিব হওয়ার সময়।

(আরেকটি হলো) জুমার সালাত; এর কারণ হলো দিনটি, কেননা জুমাকৈ দিনের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়। সুতরাং দিনের শুরুতে নিষিদ্ধ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এটি আদায় করা জায়েজ, যদিও সূর্য ঢলে পড়ার সময়টিই এর ওয়াজিব হওয়ার ওয়াক্ত।

(আরেকটি হলো) মালের জাকাত; নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর বছরের শুরু থেকেই তা অগ্রিম প্রদান করা জায়েজ।

(আরেকটি হলো) ইহরামের কাফফারা; যখন ওজরের কারণে এর প্রয়োজন হয়, তখন ওজরই হলো এর কারণ। সুতরাং ওজর দেখা দেওয়ার পর এবং নিষিদ্ধ কাজ করার আগেই তা অগ্রিম প্রদান করা জায়েজ।

(আরেকটি হলো) তামাত্তু ও কিরান হজের রোজা; এর কারণ হলো হজের মাসসমূহে হজের পূর্বে সম্পাদিত উমরা। সুতরাং উমরার ইহরাম শুরু করার মাধ্যমেই...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৭)
قَدْ وُجِدَ السَّبَبُ فَيَجُوزُ الصِّيَامُ بَعْدَهُ وَإِنْ كَانَ وُجُوبُهُ مُتَأَخِّرًا عَنْ ذَلِكَ.

وَأَمَّا الْهَدْيُ فَقَدْ الْتَزَمَهُ أَبُو الْخَطَّابِ فِي انْتِصَارِهِ، وَلَنَا رِوَايَةٌ أَنَّهُ يَجُوزُ ذَبْحُهُ لِمَنْ دَخَلَ قَبْلَ الْعَشْرِ لِمَشَقَّةِ حِفْظِهِ عَلَيْهِ إلَى يَوْمِ النَّحْرِ وَعَلَى الْمَشْهُورِ لَا يَجُوزُ فِي غَيْرِ أَيَّامِ النَّحْرِ لِأَنَّ الشَّرْعَ خَصَّهَا بِالذَّبْحِ.

(وَمِنْهَا) كَفَّارَةُ الْيَمِينِ يَجُوزُ تَقْدِيمُهَا عَلَى الْحِنْثِ بَعْدَ عَقْدِ الْيَمِينِ مَالِيَّةً كَانَتْ أَوْ بَدَنِيَّةً.

(وَمِنْهَا) إخْرَاجُ كَفَّارَةِ الْقَتْلِ أَوْ الصَّيْدِ بَعْدَ الْجُرْحِ وَقَبْلَ الزُّهُوقِ.

(وَمِنْهَا) النَّذْرُ الْمُطْلَقُ نَحْوُ إنْ شَفَى اللَّهُ مَرِيضِي فَلِلَّهِ عَلَيَّ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِكَذَا فَلَهُ أَنْ يَتَصَدَّقَ فِي الْحَالِ ذَكَرَهُ ابْنُ عَقِيلٍ فِي فُنُونِهِ.

 

وَيَلْتَحِقُ بِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مَا يَجُوزُ تَقْدِيمُهُ عَلَى شَرْطِ وُجُوبِهِ بَعْدَ وُجُودِ سَبَبِهِ فِي غَيْرِ الْعِبَادَاتِ، كَالْإِبْرَاءِ مِنْ الدِّيَةِ بَيْنَ الْجِنَايَةِ وَالْمَوْتِ وَأَمَّا مِنْ الْقِصَاصِ فَفِيهِ رِوَايَتَانِ وَكَتَوْفِيَةِ الْمَضْمُونِ عَنْهُ لِلضَّامِنِ الدَّيْنَ بَيْنَ الضَّمَانِ وَالْأَدَاءِ وَفِيهِ وَجْهَانِ وَكَعَفْوِ الشَّفِيعِ عَنْ الشُّفْعَةِ قَبْلَ الْبَيْعِ وَفِيهِ رِوَايَتَانِ، فَإِنَّ سَبَبَ الشُّفْعَةِ الْمِلْكُ وَشَرْطَهَا الْبَيْعُ، وَأَمَّا إسْقَاطُ الْوَرَثَةِ حَقَّهُمْ مِنْ وَصِيَّةِ الْمَوْرُوثِ فِي مَرَضِهِ فَالْمَنْصُوصُ عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ لَا يَصِحُّ وَشَبَّهَهُ فِي مَوْضِعٍ بِالْعَفْوِ عَنْ الشُّفْعَةِ، فَخَرَّجَهُ الشَّيْخُ مَجْدُ الدِّينِ فِي تَعْلِيقِهِ عَلَى الْهِدَايَةِ عَلَى رِوَايَتَيْنِ وَكَإِيتَاءِ الْمُكَاتَبِ رُبْعَ الْكِتَابَةِ بَعْدَ عَقْدِهَا وَقَبْلَ كَمَالِ الْأَدَاءِ وَهُوَ جَائِزٌ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْخَامِسَة مَنْ عَجَّلَ عِبَادَةً قَبْلَ وَقْتِ الْوُجُوبِ ثُمَّ جَاءَ وَقْتُ الْوُجُوبِ وَقَدْ تغير الْحَال]

(الْقَاعِدَةُ الْخَامِسَةُ) : مَنْ عَجَّلَ عِبَادَةً قَبْلَ وَقْتِ الْوُجُوبِ ثُمَّ جَاءَ وَقْتُ الْوُجُوبِ وَقَدْ تَغَيَّرَ الْحَالُ بِحَيْثُ لَوْ فَعَلَ الْمُعَجَّلَ فِي وَقْتِ الْوُجُوبِ لَمْ يُجْزِئْهُ فَهَلْ تُجْزِئُهُ أَمْ لَا؟ هَذَا عَلَى قِسْمَيْنِ: (أَحَدِهِمَا) أَنْ يَتَبَيَّنَ الْخَلَلَ فِي نَفْسِ الْعِبَادَةِ بِأَنْ يَظْهَرَ وَقْتَ الْوُجُوبِ أَنَّ الْوَاجِبَ غَيْرُ الْمُعَجَّلِ وَلِذَلِكَ صُوَرٌ:

(مِنْهَا) إذَا كَفَّرَ بِالصَّوْمِ قَبْلَ الْحِنْثِ ثُمَّ حَنِثَ وَهُوَ مُوسِرٌ قَالَ صَاحِبُ الْمُغْنِي لَا يُجْزِئُهُ لِأَنَّا تَبَيَّنَّا أَنَّ الْوَاجِبَ غَيْرُ مَا أَتَى بِهِ وَإِطْلَاقُ الْأَكْثَرِينَ مُخَالِفٌ لِذَلِكَ لِأَنَّهُ كَانَ فَرْضَهُ فِي الظَّاهِرِ فَبَرِئَ بِهِ وَانْحَلَّتْ يَمِينُهُ بِمَعْنَى أَنَّهَا لَمْ تَبْقَ مُنْعَقِدَةً بِالتَّكْفِيرِ فَصَادَفَ فِعْلُ الْمَحْلُوفِ عَلَيْهِ ذِمَّةً بَرِيئَةً مِنْ الْوَاجِبِ فَلَمْ يَحْصُلْ بِهِ الْحِنْثُ ; لِأَنَّ الْكَفَّارَةَ حَلَّتْهُ.

وَقَدْ صَرَّحَ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بِأَنَّ الْكَفَّارَةَ قَبْلَ الْفِعْلِ تَحُلُّ الْيَمِينَ الْمُنْعَقِدَةَ وَبَعْدَهُ تُكَفِّرُ أَثَرَ الْمُخَالَفَةِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا كَفَّرَ الْمُتَمَتِّعُ بِالصَّوْمِ ثُمَّ قَدَرَ عَلَى الْهَدْيِ وَقْتَ وُجُوبِهِ فَصَرَّحَ ابْنُ الزَّاغُونِيِّ فِي الْإِقْنَاعِ بِأَنَّهُ لَا يُجْزِئُهُ الصَّوْمُ وَإِطْلَاقُ الْأَكْثَرِينَ يُخَالِفُهُ، بَلْ وَفِي كَلَامِ بَعْضِهِمْ تَصْرِيحٌ بِهِ وَرُبَّمَا أَشْعَرَ كَلَامُ أَحْمَدَ بِذَلِكَ لِأَنَّ صَوْمَهُ صَحَّ فَبَرِئَتْ ذِمَّتُهُ بِهِ فَصَادَفَ وَقْتُ وُجُوبِ الْهَدْيِ ذِمَّةً بَرِيئَةً مِنْ عُهْدَةِ الْوَاجِبِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا عَجَّلَ عَنْ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الْإِبِلِ أَرْبَعَ شِيَاهٍ ثُمَّ نُتِجَتْ وَاحِدَةٌ
কারণ বিদ্যমান হয়েছে, তাই এরপর রোজা রাখা বৈধ, যদিও এর ওয়াজিব হওয়া পরবর্তী সময়ের বিষয় হয়।

আর হাদই (কুরবানির পশু) সম্পর্কে আবু الخطাব তাঁর 'ইনতিসার' গ্রন্থে এর বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করেছেন। আমাদের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, (জিলহজ মাসের) প্রথম দশ দিনের আগে যে ব্যক্তি (ইহরামে) প্রবেশ করেছে, তার জন্য তা জবেহ করা জায়েজ; কারণ নহরের দিন (কুরবানির দিন) পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করা তার জন্য কষ্টসাধ্য। তবে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, নহরের দিনগুলো ছাড়া অন্য সময়ে তা জবেহ করা জায়েজ নয়, কারণ শরিয়ত এই সময়গুলোকেই জবেহ করার জন্য নির্ধারিত করেছে।

(তন্মধ্যে একটি হলো) কসমের কাফফারা; কসম করার পর কসম ভঙ্গের আগেই তা আগেভাগে আদায় করা জায়েজ, চাই তা আর্থিক হোক বা শারীরিক।

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) হত্যার কাফফারা বা শিকারের কাফফারা প্রদান করা; জখম করার পর কিন্তু প্রাণবায়ু বের হওয়ার আগে।

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) শর্তহীন মানত; যেমন—যদি আল্লাহ আমার অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে দেন তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ওপর এত পরিমাণ সদকা করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে সে তাৎক্ষণিকভাবেই সদকা করতে পারে; ইবনুল আকিল তাঁর 'ফুনুন' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

আর ইবাদত বহির্ভূত বিষয়গুলোর মধ্যে যা কারণ বিদ্যমান হওয়ার পর ওয়াজিব হওয়ার শর্তের আগে অগ্রিম প্রদান করা জায়েজ, তাও এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন—জখম করা ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ে দিয়াত (রক্তপণ) থেকে দায়মুক্তি দান করা। আর কিসাসের (প্রতিশোধ) ক্ষেত্রে এতে দুটি বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে জামিনদারের পক্ষ থেকে মূল দেনাদারের ঋণ পরিশোধ করা, জামিন হওয়া ও আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ে; এতে দুটি মত রয়েছে। বিক্রির আগে শফী’র (অগ্রক্রয়কারী) পক্ষ থেকে শুফআ’র (অগ্রক্রয়াধিকার) অধিকার ত্যাগ করা; এতেও দুটি বর্ণনা রয়েছে। কেননা শুফআ’র কারণ হলো মালিকানা এবং এর শর্ত হলো বিক্রি। আর উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে তাদের মুওয়াররিস (উত্তরাধিকার প্রদানকারী) এর অসুস্থকালীন অসিয়তের অধিকার ত্যাগ করার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ভাষ্য হলো যে, তা সহিহ হবে না; এবং তিনি এক স্থানে একে শুফআ ত্যাগের সাথে তুলনা করেছেন। তাই শাইখ মাজদুদ্দীন 'হিদায়া'র ওপর তাঁর তালীক-এ (টীকা) একে দুটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবন করেছেন। একইভাবে মুকাতাব গোলামকে কিতাবত চুক্তির পর কিন্তু পূর্ণ আদায়ের আগে কিতাবতের এক-চতুর্থাংশ প্রদান করা; এটি জায়েজ।

 

‌‌[পঞ্চম মূলনীতি: যে ব্যক্তি ওয়াজিব হওয়ার সময়ের আগে কোনো ইবাদত অগ্রিম আদায় করল, অতঃপর ওয়াজিব হওয়ার সময় উপস্থিত হলো এমতাবস্থায় যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে]

(পঞ্চম মূলনীতি): যে ব্যক্তি ওয়াজিব হওয়ার সময়ের আগে কোনো ইবাদত অগ্রিম আদায় করল, অতঃপর ওয়াজিব হওয়ার সময় উপস্থিত হলো এমতাবস্থায় যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে, যাতে করে যদি সে ঐ অগ্রিম আদায়কৃত কাজটি ওয়াজিব হওয়ার সময় করত তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হতো না; এমতাবস্থায় তা কি তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে কি না? এটি দুই প্রকার: (প্রথমটি) খোদ ইবাদতের মধ্যেই ত্রুটি প্রকাশ পাওয়া; অর্থাৎ ওয়াজিব হওয়ার সময় এটি স্পষ্ট হওয়া যে, যা ওয়াজিব তা ঐ অগ্রিম আদায়কৃত বিষয় নয়। এর কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে:

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি সে কসম ভঙ্গের আগে রোজার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে, অতঃপর কসম ভঙ্গ করে এমন অবস্থায় যখন সে সচ্ছল। 'মুগনি' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না, কারণ আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যা ওয়াজিব ছিল তা তার সম্পাদিত কাজের বাইরে অন্য কিছু। কিন্তু অধিকাংশ ফকিহর সাধারণ বক্তব্য এর বিপরীত; কারণ বাহ্যত এটিই তার ওপর ফরজ ছিল, ফলে এর দ্বারা সে দায়মুক্ত হয়েছে এবং তার কসমটি মুক্ত হয়েছে—অর্থাৎ কাফফারা আদায়ের কারণে তা আর বলবৎ থাকেনি। ফলে কসমকৃত কাজটি করার সময় তার জিম্মা ওয়াজিব থেকে মুক্ত ছিল, তাই এর দ্বারা কসম ভঙ্গ কার্যকর হয়নি; কারণ কাফফারা তাকে দায়মুক্ত করে দিয়েছে।

আবু বকর আব্দুল আজিজ স্পষ্ট করেছেন যে, কাজ করার আগের কাফফারা কৃত কসমকে মুক্ত করে দেয়, আর কাজ করার পরের কাফফারা বিরুদ্ধাচরণের প্রভাব মোচন করে।

 

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) যদি তামাত্তু হজকারী রোজার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে, অতঃপর ওয়াজিব হওয়ার সময় সে হাদই (পশু জবেহ) করতে সক্ষম হয়। ইবনুয যাগুনী তাঁর 'ইকনা' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে, তার রোজা যথেষ্ট হবে না। তবে অধিকাংশের সাধারণ বক্তব্য এর বিপরীত; বরং তাদের কারো কারো বক্তব্যে এর সপক্ষে স্পষ্ট মত রয়েছে। সম্ভবত ইমাম আহমাদের বক্তব্যও এটিই নির্দেশ করে। কারণ তার রোজা সহিহ হয়েছে এবং এর দ্বারা সে দায়মুক্ত হয়েছে। ফলে হাদই ওয়াজিব হওয়ার সময় তার জিম্মা ওয়াজিবের দায় থেকে মুক্ত ছিল।

 

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) যদি সে চব্বিশটি উটের বিপরীতে (জাকাত হিসেবে) চারটি বকরি অগ্রিম প্রদান করে, অতঃপর একটি উট জন্ম নেয় (ফলে উটের সংখ্যা পঁচিশ হয়ে যায় এবং জাকাত হিসেবে একটি উট আবশ্যক হয়)...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৮)
قَبْلَ الْحَوْلِ فَفِيهِ وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: لَا يُجْزِئُهُ وَيَجِبُ عَلَيْهِ إخْرَاجُ بِنْتِ مَخَاضٍ.

وَالثَّانِي: يُجْزِئُهُ عَنْ الْعِشْرِينَ وَيُخْرِجُ عَنْ الْبَاقِي خُمْسَ بِنْتِ مَخَاضٍ وَلَا يُقَالُ إنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ شَاةٌ عَنْ الْخَمْسِ الزَّائِدَةِ الَّتِي لَمْ يُؤَدِّ عَنْهَا لِئَلَّا يُفْضِيَ إلَى إيجَابِ خَمْسِ شِيَاهٍ عَنْ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا صَلَّى الصَّبِيُّ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ ثُمَّ بَلَغَ فَفِي وُجُوبِ الْإِعَادَةِ وَجْهَانِ الْمَنْصُوصِ أَنَّهُ يَجِبُ وَاخْتَارَ الْقَاضِي فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ خِلَافَهُ لِأَنَّهُ فَعَلَ الْمَأْمُورَ بِهِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ فَصَادَفَهُ وَقْتُ الْوُجُوبِ وَقَدْ فَعَلَ الْمَأْمُورَ فَامْتَنَعَ تَعَلُّقُ الْوُجُوبِ بِهِ لِذَلِكَ، وَهَذَا بِخِلَافِ مَا إذَا حَجَّ ثُمَّ بَلَغَ فَإِنَّ حَجَّهُ لَيْسَ بِمَأْمُورٍ بِهِ وَلَا مُعَاقَبٍ عَلَى تَرْكِهِ بِخِلَافِ الصَّلَاةِ.

 

وَالْقِسْمُ الثَّانِي: أَنْ يَتَبَيَّنَ الْخَلَلَ فِي شَرْطِ الْعِبَادَةِ الْمُعَجَّلَةِ فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يُجْزِئُهُ وَيَتَفَرَّعُ عَلَيْهِ مَسَائِلُ (مِنْهَا) إذَا عَجَّلَ الزَّكَاةَ إلَى فَقِيرٍ مُسْلِمٍ فَحَال الْحَوْلُ وَقَدْ مَاتَ أَوْ ارْتَدَّ أَوْ اسْتَغْنَى مِنْ غَيْرِهَا.

(وَمِنْهَا) إذَا جَمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي وَقْتِ أُولَاهُمَا بِتَيَمُّمٍ ثُمَّ دَخَلَ وَقْتُ الثَّانِيَة وَهُوَ وَاجِدٌ لِلْمَاءِ.

(وَمِنْهَا) إذَا قَصَرَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ فِي وَقْتِ أُولَاهُمَا ثُمَّ قَدِمَ قَبْلَ دُخُولِ وَقْتِ الثَّانِيَة.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ السَّادِسَةُ فَعَلَ عِبَادَةً فِي وَقْتِ وُجُوبِهَا يَظُنُّ أَنَّهَا الْوَاجِبَةُ عَلَيْهِ ثُمَّ تَبَيَّنَ أَنَّ الْوَاجِبَ كَانَ غَيْرَهَا]

(الْقَاعِدَةُ السَّادِسَةُ) : إذَا فَعَلَ عِبَادَةً فِي وَقْتِ وُجُوبِهَا يَظُنُّ أَنَّهَا الْوَاجِبَةُ عَلَيْهِ ثُمَّ تَبَيَّنَ بِآخِرَةٍ أَنَّ الْوَاجِبَ كَانَ غَيْرَهَا فَإِنَّهُ يُجْزِئُهُ وَلِذَلِكَ صُوَرٌ: مِنْهَا إذَا أَحَجَّ الْمَعْضُوبُ عَنْ نَفْسِهِ ثُمَّ بَرِئَ فَإِنَّهُ يُجْزِئُهُ عَلَى الْمَذْهَبِ لِأَنَّهُ فَعَلَ الْوَاجِبَ عَلَيْهِ فِي وَقْتِهِ لَا سِيَّمَا إنْ قِيلَ إنَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ عَلَى الْفَوْرِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا كَفَّرَ الْعَاجِزُ عَنْ الصِّيَامِ بِالْإِطْعَامِ لِلْإِيَاسِ مِنْ بُرْئِهِ ثُمَّ عُوفِيَ فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ قَضَاءُ الصَّوْمِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا ارْتَفَعَ حَيْضُهَا لَا تَدْرِي مَا رَفَعَهُ فَإِنَّهَا تَعْتَدُّ عِنْدَنَا سَنَةً فَإِذَا اعْتَدَّتْ سَنَةً ثُمَّ رَأَتْ الْحَيْضَ لَمْ يَلْزَمْهَا الِاعْتِدَادُ بِهِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا صَلَّى الظُّهْرَ مَنْ لَا جُمُعَةَ عَلَيْهِ لِأَجْلِ الْعُذْرِ ثُمَّ زَالَ الْعُذْرُ قَبْلَ تَجْمِيعِ الْإِمَامِ فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ إعَادَةُ الْجُمُعَةِ مَعَ الْإِمَامِ، وَأَمَّا مَا حُكِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهُ لَا يُجْزِئُهُ فِعْلُ الظُّهْرِ قَبْلَ تَجْمِيعِ الْإِمَامِ فَمِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ بَنَاهُ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ وَأَنَّهُ تَجِبُ الْإِعَادَةُ لِتَبَيُّنِنَا أَنَّ الْوَاجِبَ عَلَيْهِ الْجُمُعَةُ، وَلَيْسَ هَذَا مَأْخَذَ أَبِي بَكْرٍ فَإِنَّهُ صَرَّحَ بِمَأْخَذِهِ وَهُوَ أَنَّ وَقْتَ الظُّهْرِ فِي حَقِّ مَنْ لَا جُمُعَةَ عَلَيْهِ إنَّمَا يَدْخُلُ بِفِعْلِ الْجُمُعَةِ مِنْ الْإِمَامِ كَمَا لَا يَدْخُلُ وَقْتُ الذَّبْحِ فِي الْأَضَاحِيِّ إلَّا بَعْدَ صَلَاةِ الْإِمَامِ.
বছর পূর্ণ হওয়ার আগে, এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না এবং তাকে একটি 'বিনতে মাখায' (এক বছর বয়সী মাদী উট) প্রদান করা ওয়াজিব হবে।

দ্বিতীয়টি: এটি বিশটির জন্য যথেষ্ট হবে এবং অবশিষ্টের জন্য সে এক 'বিনতে মাখায'-এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রদান করবে। আর এমনটি বলা হবে না যে, অতিরিক্ত পাঁচটির জন্য তার ওপর একটি বকরি ওয়াজিব হবে যা সে আদায় করেনি; যাতে করে পঁচিশটির বদলে পাঁচটি বকরি ওয়াজিব হওয়ার পর্যায়ে না পৌঁছায়।

 

(এগুলোর মধ্যে রয়েছে) যদি কোনো শিশু ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করে এবং এরপর সে বালেগ হয়, তবে সালাত পুনরায় আদায়ের আবশ্যকতা সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে। সুস্পষ্ট বর্ণনা (মানসুস) অনুযায়ী তা ওয়াজিব। আল-কাজী 'শারহুল মুহাযযাব'-এ এর বিপরীত মত বেছে নিয়েছেন, কারণ সে ওয়াক্তের শুরুতে যা আদিষ্ট ছিল তা পালন করেছে, আর ওয়াজিব হওয়ার সময় হওয়ার আগেই সে আদিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেছে, ফলে এর দ্বারা তার ওপর পুনরায় ওয়াজিব হওয়া রহিত হয়েছে। এটি সেই মাসআলার বিপরীত যখন কোনো ব্যক্তি হজ করার পর বালেগ হয়, কেননা তখন তার হজ করার বিষয়টি আদিষ্ট ছিল না এবং তা বর্জন করার কারণে সে দণ্ডনীয়ও ছিল না, যা সালাতের বিষয়টি থেকে ভিন্ন।

 

দ্বিতীয় প্রকার: কোনো ইবাদত অগ্রিম করার ক্ষেত্রে তার শর্তের ত্রুটি প্রকাশ পাওয়া। বিশুদ্ধ মত হলো যে এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে। এর ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি মাসআলা উদ্ভূত হয়, (তন্মধ্যে রয়েছে) যদি কেউ কোনো মুসলিম দরিদ্র ব্যক্তিকে অগ্রিম জাকাত প্রদান করে, এরপর বছর পূর্ণ হওয়ার সময় সেই ব্যক্তি মারা যায় অথবা মুরতাদ হয়ে যায় কিংবা অন্য কোনোভাবে সম্পদশালী হয়ে যায়।

(তার মধ্যে রয়েছে) যদি কেউ প্রথম সালাতের ওয়াক্তে তায়াম্মুমের মাধ্যমে দুই সালাত একত্রে আদায় করে এবং এরপর দ্বিতীয় সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সময় সে পানি পেয়ে যায়।

(তার মধ্যে রয়েছে) যদি কেউ সফরকালে প্রথম সালাতের ওয়াক্তে দুই সালাত কসর করে আদায় করে, এরপর দ্বিতীয় ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই নিজ এলাকায় পৌঁছে যায়।

 

‌‌[ষষ্ঠ নীতি: ওয়াজিব হওয়ার সময়ে কোনো ইবাদত এই মনে করে সম্পাদন করা যে এটিই তার ওপর ওয়াজিব, এরপর স্পষ্ট হওয়া যে ওয়াজিবটি অন্য কিছু ছিল]

(ষষ্ঠ নীতি): যদি কেউ ওয়াজিব হওয়ার সময়ে কোনো ইবাদত এই মনে করে সম্পাদন করে যে এটিই তার ওপর ওয়াজিব, এরপর শেষ সময়ে এটি স্পষ্ট হয় যে ওয়াজিবটি অন্য কিছু ছিল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। এর কয়েকটি রূপ রয়েছে: তন্মধ্যে একটি হলো যদি কোনো দীর্ঘস্থায়ী অক্ষম ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে কাউকে দিয়ে হজ করায় এবং পরবর্তীতে সে সুস্থ হয়ে যায়, তবে মাযহাব অনুযায়ী তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। কারণ সে তার ওপর যা ওয়াজিব ছিল তা যথাসময়ে সম্পাদন করেছে, বিশেষ করে যদি বলা হয় যে সেটি তার ওপর অবিলম্বে ওয়াজিব ছিল।

 

(তন্মধ্যে রয়েছে) যদি রোজা পালনে অক্ষম ব্যক্তি তার আরোগ্য লাভের বিষয়ে নিরাশ হয়ে ফিদইয়া স্বরূপ খাদ্য দান করে এবং পরবর্তীতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে তার ওপর উক্ত রোজার কাজা করা আবশ্যক হবে না।

 

(তন্মধ্যে রয়েছে) যদি কোনো মহিলার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং সে জানে না কী কারণে তা বন্ধ হয়েছে, তবে আমাদের মতে সে এক বছর ইদ্দত পালন করবে। যদি সে এক বছর ইদ্দত পালন করার পর পুনরায় ঋতুস্রাব দেখতে পায়, তবে নতুন করে ইদ্দত পালন করা তার ওপর আবশ্যক হবে না।

 

(তন্মধ্যে রয়েছে) ওজরের কারণে যার ওপর জুমার সালাত ওয়াজিব ছিল না, সে যদি জোহরের সালাত আদায় করে নেয় এবং এরপর ইমামের জুমা শেষ করার পূর্বেই তার ওজর দূর হয়ে যায়, তবে ইমামের সাথে পুনরায় জুমা আদায় করা তার ওপর আবশ্যক হবে না। আর আবু বকর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইমামের জুমা শেষ হওয়ার পূর্বে জোহরের সালাত আদায় করা যথেষ্ট হবে না; ফকীহদের মধ্যে কেউ কেউ একে এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে কারণ এটি স্পষ্ট হয়েছে যে তার ওপর জুমাই ওয়াজিব ছিল। তবে এটি আবু বকরের মূল ভিত্তি নয়, কারণ তিনি তার দলিল সুস্পষ্ট করেছেন যে, যার ওপর জুমা ওয়াজিব নয় তার ক্ষেত্রে জোহরের ওয়াক্ত ইমামের জুমা আদায়ের মাধ্যমেই শুরু হয়; যেমন কুরবানির পশুর জবেহ করার সময় ইমামের সালাতের পরেই শুরু হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৯)
وَيَلْتَحِقُ بِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مَا إذَا خَفِيَ الِاطِّلَاعُ عَلَى خَلَلِ الشَّرْطِ ثُمَّ تَبَيَّنَ، فَإِنَّهُ يُغْتَفَرُ فِي الْأَصَحِّ.

(فَمِنْ ذَلِكَ) إذَا أَدَّى الزَّكَاةَ إلَى مَنْ يَظُنُّهُ فَقِيرًا فَبَانَ أَنَّهُ غَنِيٌّ فَإِنَّهَا تَسْقُطُ عَلَى أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا صَلَّى الْمُسَافِرُ بِالِاجْتِهَادِ إلَى الْقِبْلَةِ، ثُمَّ تَبَيَّنَ الْخَطَأَ فَإِنَّهُ لَا إعَادَةَ عَلَى الصَّحِيحِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ بِشَهَادَةِ عَدْلَيْنِ فِي الظَّاهِرِ ثُمَّ تَبَيَّنَ فِسْقُهُمَا فَفِي النَّقْضِ رِوَايَتَانِ، رَجَّحَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي الْفُنُونِ عَدَمَهُ، وَبِهِ جَزَمَ الْقَاضِي فِي كِتَابِ الصَّيْدِ مِنْ خِلَافِهِ، وَالْآمِدِيُّ لِئَلَّا يَنْقُضَ الِاجْتِهَادَ بِالِاجْتِهَادِ وَالْمَشْهُورُ النَّقْضُ لِتَعَلُّقِ حَقِّ الْغَيْرِ بِهِ، وَأَمَّا إذَا اصْطَادَ بِكَلْبٍ عَلَّمَهُ ثُمَّ أَكَلَ مِنْ الصَّيْدِ فَإِنَّهُ لَا تُحَرَّمُ صُيُودِهِ الْمُتَقَدِّمَةُ عَلَى الصَّحِيحِ، لَكِنَّ مَأْخَذَهُ أَنَّا لَمْ نَتَبَيَّنَ فَسَادَ تَعْلِيمِهِ لِجَوَازِ أَنْ يَكُونَ نَسِيَهُ بَعْدَ تَعَلُّمِهِ أَوْ نَسِيَ إرْسَالَهُ، فَأَمَّا الْإِعَادَةُ عَلَى مَنْ نَسِيَ الْمَاءَ فِي رَحْلِهِ وَتَيَمَّمَ ثُمَّ صَلَّى أَوْ عَلَى مَنْ صَلَّى صَلَاةَ شِدَّةِ الْخَوْفِ لِسَوَادٍ ظَنَّهُ عَدُوًّا فَلَمْ يَكُنْ أَوْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ مَا يَمْنَعُ الْعُبُورَ فَإِنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّهُ فَرَّطَ بِتَرْكِ الْبَحْثِ وَالتَّحْقِيقِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ السَّابِعَة مَنْ تَلَبَّسَ بِعِبَادَةٍ ثُمَّ وَجَدَ قَبْلَ فراغها مَا لَوْ كَانَ وَاجِدًا لَهُ قَبْلَ الشُّرُوعِ لَكَانَ هُوَ الْوَاجِبَ]

(الْقَاعِدَةُ السَّابِعَةُ) : مَنْ تَلَبَّسَ بِعِبَادَةٍ ثُمَّ وَجَدَ قَبْلَ فَرَاغِهَا مَا لَوْ كَانَ وَاجِدًا لَهُ قَبْلَ الشُّرُوعِ لَكَانَ هُوَ الْوَاجِبَ دُونَ مَا تَلَبَّسَ بِهِ، هَلْ يَلْزَمُهُ الِانْتِقَالُ إلَيْهِ أَمْ يَمْضِي وَيُجْزِئُهُ.

هَذَا عَلَى ضَرْبَيْنِ: (أَحَدُهُمَا) أَنْ يَكُونَ الْمُتَلَبِّسُ بِهِ رُخْصَةٌ عَامَّةٌ شُرِعَتْ تَيْسِيرًا عَلَى الْمُكَلَّفِ وَتَسْهِيلًا عَلَيْهِ مَعَ إمْكَانِ إتْيَانِهِ بِالْأَصْلِ عَلَى ضَرْبٍ مِنْ الْمَشَقَّةِ وَالتَّكَلُّفِ، فَهَذَا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ الِانْتِقَالُ مِنْهُ بِوُجُودِ الْأَصْلِ كَالْمُتَمَتِّعِ إذَا عَدِمَ الْهَدْيَ فَإِنَّهُ رَخَّصَ لَهُ فِي الصِّيَامِ رُخْصَةً عَامَّةً، حَتَّى لَوْ قَدَرَ عَلَى الشِّرَاءِ بِثَمَنٍ فِي ذِمَّتِهِ وَهُوَ مُوسِرٌ فِي بَلَدِهِ لَمْ يَلْزَمْهُ.

الضَّرْبُ الثَّانِي: أَنْ يَكُونَ الْمُتَلَبِّسُ بِهِ إنَّمَا شُرِعَ ضَرُورَةً لِلْعَجْزِ عَنْ الْأَصْلِ وَتَعَذُّرِهِ بِالْكُلِّيَّةِ فَهَذَا يَلْزَمُهُ الِانْتِقَالُ إلَى الْأَصْلِ عِنْدَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ وَلَوْ فِي أَثْنَاءِ التَّلَبُّسِ بِالْبَدَلِ كَالْعِدَّةِ بِالْأَشْهُرِ فَإِنَّهَا لَا تُعْتَبَرُ بِحَالٍ مَعَ الْقُدْرَةِ عَلَى الِاعْتِدَادِ بِالْحَيْضِ، وَلِهَذَا تُؤْمَرُ مَنْ ارْتَفَعَ حَيْضُهَا لِعَارِضٍ مَعْلُومٍ أَنْ تَنْتَظِرَ زَوَالَهُ وَلَوْ طَالَتْ الْمُدَّةُ، وَإِنَّمَا جُوِّزَ لِمَنْ ارْتَفَعَ حَيْضُهَا لَا تَدْرِي مَا رَفَعَهُ أَنْ تَعْتَدَّ بِالْأَشْهُرِ لِأَنَّ حَيْضَهَا غَيْرُ مَعْلُومٍ وَلَا مَظْنُونٍ عَوْدُهُ.

وَسَوَاءٌ كَانَتْ هَذِهِ الْمُعْتَدَّةُ مُكَلَّفَةً قَبْلَ هَذَا بِالِاعْتِدَادِ بِالْحَيْضِ كَمَنْ ارْتَفَعَ حَيْضُهَا لَا تَدْرِي مَا رَفَعَهُ فَاعْتَدَّتْ بِالْأَشْهُرِ ثُمَّ حَاضَتْ فِي أَثْنَائِهَا، أَوْ لَمْ تَكُنْ مُكَلَّفَةً بِهِ كَالصَّغِيرَةِ إذَا حَاضَتْ فِي أَثْنَاء الْعِدَّةِ بِالْأَشْهُرِ.
এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত সেই বিষয়গুলো যেখানে শর্তের কোনো ত্রুটি শুরুতে অস্পষ্ট থাকে এবং পরে তা প্রকাশ পায়, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তা মার্জনীয় বলে গণ্য হবে।

(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ এমন ব্যক্তিকে জাকাত প্রদান করে যাকে সে দরিদ্র মনে করেছিল, কিন্তু পরে প্রকাশিত হলো যে সে ধনী, তবে দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

 

(আরও একটি উদাহরণ হলো) যদি কোনো মুসাফির কিবলা নির্ধারণে ইজতিহাদ করে সালাত আদায় করে, এরপর ভুল প্রকাশ পায়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তার ওপর সালাত পুনরায় আদায় করার আবশ্যকতা নেই।

 

(অন্যতম হলো) যদি বিচারক বাহ্যিকভাবে ন্যায়পরায়ণ দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান করেন এবং পরে তাদের পাপাচার প্রকাশ পায়, তবে সেই ফয়সালা বাতিলের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে; ইবন আকিল ‘আল-ফুনুন’ গ্রন্থে বাতিল না করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আল-কাজি তাঁর ‘কিতাবুস সাইদ’ নামক গ্রন্থে ও আল-আমিদি এ বিষয়ে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন যাতে এক ইজতিহাদ দ্বারা অন্য ইজতিহাদ বাতিল না হয়ে যায়। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বাতিল হয়ে যাবে যেহেতু এর সাথে অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট। আর যদি কেউ তার প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে শিকার করে এবং পরে কুকুরটি শিকার থেকে ভক্ষণ করে, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তার পূর্ববর্তী শিকারগুলো হারাম হবে না। তবে এর কারণ হলো যে, আমরা তার প্রশিক্ষণের ত্রুটি নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি; কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে সে প্রশিক্ষিত হওয়ার পর তা ভুলে গেছে অথবা তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশটি বিস্মৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজের সরঞ্জামের মধ্যে পানি থাকার কথা ভুলে গিয়ে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল তার পুনরায় সালাত আদায়ের বিষয়টি, অথবা যে ব্যক্তি কোনো কালছায়াকে শত্রু মনে করে ‘সালাতুল খাওফ’ আদায় করল কিন্তু পরে দেখা গেল যে সেটি শত্রু ছিল না অথবা তার ও শত্রুর মাঝে এমন কোনো প্রতিবন্ধক ছিল যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়—এসব বিষয় এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, উক্ত ব্যক্তি খোঁজখবর ও অনুসন্ধান না করে অবহেলা করেছে।

 

‌‌[সপ্তম মূলনীতি: যে ব্যক্তি কোনো ইবাদত শুরু করল, অতঃপর তা শেষ করার আগেই এমন কিছুর সন্ধান পেল যা ইবাদত শুরুর আগে পেলে সেটিই তার ওপর ওয়াজিব হতো]

(সপ্তম মূলনীতি): যে ব্যক্তি কোনো ইবাদত শুরু করল, অতঃপর তা শেষ করার আগেই এমন কিছুর সন্ধান পেল যা ইবাদত শুরুর আগে পেলে সেটিই তার ওপর ওয়াজিব হতো, বর্তমানে সে যা করছে তা নয়; তবে কি তার জন্য সেদিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, নাকি সে তার চলমান ইবাদত পূর্ণ করবে এবং সেটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে?

এটি দুই প্রকারের হতে পারে: (প্রথমত) বর্তমানে যে ইবাদতটি করছে তা যদি এমন কোনো সাধারণ ছাড় (রুখসত) হয় যা মুকাল্লাফের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও কিছুটা কষ্ট ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মূল ইবাদতটি করা সম্ভব ছিল। এমতাবস্থায় মূল ইবাদতের সুযোগ তৈরি হলেও সেদিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক নয়। যেমন হজ্জে তামাচ্ছুকারী ব্যক্তি যখন কোরবানির পশু না পায়, তখন তাকে সিয়াম পালনের সাধারণ অনুমতি দেওয়া হয়; এমনকি যদি সে নিজের জিম্মায় বাকি রেখে পশু কেনার সামর্থ্য রাখে এবং নিজ শহরে সচ্ছলও হয়, তবুও তার ওপর ফিরে আসা আবশ্যক নয়।

দ্বিতীয় প্রকার: বর্তমানে যে ইবাদতটি করছে তা যদি কেবল মূল ইবাদত পালনে অক্ষমতা এবং তা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব হওয়ার কারণে জরুরি ভিত্তিতে বিধিবদ্ধ হয়ে থাকে, তবে এক্ষেত্রে মূল ইবাদতের সক্ষমতা অর্জিত হওয়ামাত্র সেদিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, যদিও তা স্থলাভিষিক্ত ইবাদতটি পালনেরত অবস্থায় হয়। যেমন—মাস গণনার মাধ্যমে ইদ্দত পালন; কেননা ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালনের সক্ষমতা থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই মাস গণনার ইদ্দত ধর্তব্য নয়। এজন্যই যার ঋতুস্রাব কোনো পরিচিত কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, তাকে তা ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। আর কেবল যার ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার কারণ অজ্ঞাত, তাকেই মাস গণনার মাধ্যমে ইদ্দত পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তার ঋতুস্রাব ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত নয় এবং এর কোনো প্রবল সম্ভাবনাও নেই।

এই ইদ্দত পালনকারী নারী আগে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালনে আদিষ্ট থাক কিংবা না থাক—উভয়ই সমান। যেমন যার ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার কারণ অজ্ঞাত এবং সে মাস গণনার মাধ্যমে ইদ্দত পালন শুরু করেছে, অতঃপর মাঝপথে তার ঋতুস্রাব শুরু হলো; অথবা যে পূর্বে ঋতুস্রাবের আদিষ্ট ছিল না যেমন নাবালিকা মেয়ে, যদি মাস গণনার ইদ্দত চলাকালীন তার ঋতুস্রাব শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَهَا هُنَا مَسَائِلُ كَثِيرَةٌ مُتَرَدِّدَةٌ بَيْنَ الضَّرْبَيْنِ: (مِنْهَا) مَنْ شَرَعَ فِي صِيَامِ كَفَّارَةِ ظِهَارٍ أَوْ يَمِينٍ أَوْ غَيْرِهِمَا ثُمَّ وَجَدَ الرَّقَبَةَ، فَالْمَذْهَبُ لَا يَلْزَمُهُ الِانْتِقَالُ لِأَنَّ ذَلِكَ رُخْصَةٌ، فَهُوَ كَصِيَامِ الْمُتَمَتِّعِ.

وَفِيهِ وَجْهٌ يُلْزِمُهُ الِانْتِقَالَ لِأَنَّ الْكَفَّارَاتِ مَشْرُوعَةٌ بِإِرْبَاغِ وَالزَّجْرِ وَفِيهَا مِنْ التَّغْلِيظِ مَا يُنَافِي الرُّخْصَةَ الْمُطْلَقَةَ، وَلِهَذَا يَلْزَمُ شِرَاءُ الرَّقَبَةِ بِثَمَنٍ فِي الذِّمَّةِ إذَا كَانَ مَالُهُ غَائِبًا، وَلَوْ لَمْ يَجِدْ مَنْ يَبِيعُهُ رَقَبَةً بِالدَّيْنِ وَمَالُهُ غَائِبٌ فَهَلْ يَلْزَمُهُ انْتِظَارُهُ أَوْ يَجُوزُ لَهُ الْعُدُولُ إلَى الصِّيَامِ لِلْمَشَقَّةِ أَوْ يُفَرِّقُ بَيْنَ الظِّهَارِ وَغَيْرِهِ عَلَى أَوْجُهٍ مَعْرُوفَةٍ.

(وَمِنْهَا) الْمُتَيَمِّمُ إذَا شَرَعَ فِي الصَّلَاةِ ثُمَّ وَجَدَ الْمَاءَ فَفِي بُطْلَانِهَا رِوَايَتَانِ ; لِأَنَّ التَّيَمُّمَ مِنْ حَيْثُ كَوْنُهُ رُخْصَةً عَامَّةً فَهُوَ كَصِيَامِ الْمُتَمَتِّعِ، وَمِنْ حَيْثُ كَوْنُهُ ضَرُورَةً يُشْبِهُ الْعِدَّةَ بِالْأَشْهُرِ.

وَبَيَانُ الضَّرُورَةِ أَنَّهُ تُسْتَبَاحُ مَعَهُ الصَّلَاةُ بِالْحَدَثِ فَإِنَّهُ غَيْرُ رَافِعٍ لَهُ عَلَى الْمَذْهَبِ فَلَا يَجُوزُ إتْمَامُ الصَّلَاةِ مُحْدِثًا مَعَ وُجُودِ الْمَاءِ الرَّافِعِ لَهُ.

(وَمِنْهَا) إذَا نَكَحَ الْمُعْسِرُ الْخَائِفُ لِلْعَنَتِ أَمَةً ثُمَّ زَالَ أَحَدُ الشَّرْطَيْنِ، فَهَلْ يَنْفَسِخُ نِكَاحُهُ.

عَلَى رِوَايَتَيْنِ وَالنِّكَاحُ فِيهِ شَوْبُ عِبَادَةٍ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّامِنَة مِنْ قَدَرَ عَلَى بَعْضِ الْعِبَادَةِ وَعَجَزَ عَنْ باقيها هَلْ يَلْزَمُهُ الْإِتْيَانُ بِمَا قَدَرَ عَلَيْهِ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّامِنَةُ) : مَنْ قَدَرَ عَلَى بَعْضِ الْعِبَادَةِ وَعَجَزَ عَنْ بَاقِيهَا هَلْ يَلْزَمُهُ الْإِتْيَانُ بِمَا قَدَرَ عَلَيْهِ مِنْهَا أَمْ لَا؟

هَذَا أَقْسَامٌ: (أَحَدُهَا) أَنْ يَكُونَ الْمَقْدُورُ عَلَيْهِ لَيْسَ مَقْصُودً فِي الْعِبَادَةِ بَلْ هُوَ وَسِيلَةٌ مَحْضَةٌ إلَيْهَا كَتَحْرِيكِ اللِّسَانِ فِي الْقِرَاءَةِ وَإِمْرَارِ الْمُوسَى عَلَى الرَّأْسِ فِي الْحَلْقِ وَالْخِتَانِ، فَهَذَا لَيْسَ بِوَاجِبٍ لِأَنَّهُ إنَّمَا وَجَبَ ضَرُورَةُ الْقِرَاءَةِ وَالْحَلْقِ وَالْقَطْعِ، وَقَدْ سَقَطَ الْأَصْلُ فَسَقَطَ مَا هُوَ مِنْ ضَرُورَتِهِ.

وَأَوْجَبَهُ الْقَاضِي فِي تَحْرِيكِ اللِّسَانِ خَاصَّةً وَهُوَ ضَعِيفٌ جِدًّا.

الْقِسْمُ الثَّانِي: مَا وَجَبَ تَبَعًا لِغَيْرِهِ وَهُوَ نَوْعَانِ.

أَحَدُهُمَا: مَا كَانَ وُجُوبُهُ احْتِيَاطًا لِلْعِبَادَةِ لِيَتَحَقَّقَ حُصُولُهَا كَغَسْلِ الْمِرْفَقَيْنِ فِي الْوُضُوءِ فَإِذَا قُطِعَتْ الْيَدُ مِنْ الْمِرْفَقِ هَلْ يَجِبُ غَسْلُ رَأْسِ الْمِرْفَقِ الْآخَرِ أَمْ لَا؟ عَلَى وَجْهَيْنِ: أَشْهَرُهُمَا عِنْدَ الْأَصْحَابِ الْوُجُوبُ، وَهُوَ ظَاهِرُ كَلَامِ أَحْمَدَ.

وَاخْتِيَارُ الْقَاضِي فِي كِتَابِ الْحَجِّ مِنْ خِلَافِهِ أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ وَحُمِلَ كَلَامُ أَحْمَدَ عَلَى الِاسْتِحْبَابِ.

هَذَا إذَا بَقِيَ شَيْءٌ مِنْ الْعِبَادَةِ كَمَا فِي وُضُوءِ الْأَقْطَعِ، أَمَّا إذَا لَمْ يَبْقَ شَيْءٌ بِالْكُلِّيَّةِ سَقَطَ التَّبَعُ كَإِمْسَاكِ جُزْءٍ مِنْ اللَّيْلِ فِي الصَّوْمِ فَلَا يَلْزَمُ مَنْ أُبِيحَ لَهُ الْفِطْرُ بِالِاتِّفَاقِ.

(وَالثَّانِي) مَا وَجَبَ تَبَعًا لِغَيْرِهِ عَلَى وَجْهِ التَّكْمِيلِ وَاللَّوَاحِقَ مِثْلُ رَمْيِ الْجِمَارِ وَالْمَبِيتِ بِمِنًى لِمَنْ لَمْ يُدْرِكْ
এখানে অনেকগুলো মাসআলা রয়েছে যা এই দুই প্রকারের মধ্যে দোলায়মান: (তন্মধ্যে একটি হলো) যে ব্যক্তি যিহার বা শপথ অথবা অন্য কোনো কিছুর কাফফারার রোযা পালন শুরু করেছে, অতঃপর সে দাস মুক্ত করার সামর্থ্য পেল। মাযহাব অনুযায়ী, তার জন্য (দাস মুক্ত করার দিকে) ফিরে যাওয়া আবশ্যক নয়; কারণ এটি একটি ছাড় বা রুখসত। আর এটি মুতামাত্তি‘ হাজীর রোযার মতো।

এতে আরও একটি অভিমত রয়েছে যে, তার জন্য ফিরে যাওয়া আবশ্যক। কারণ কাফফারাগুলো মূলত অবদমন ও শাস্তির উদ্দেশ্যে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে এমন কঠোরতা রয়েছে যা নিরঙ্কুশ ছাড়ের পরিপন্থী। এ কারণেই যার সম্পদ অনুপস্থিত, তার জন্য ঋণের বিনিময়ে দাস ক্রয় করা আবশ্যক। আর যদি এমন কাউকে না পাওয়া যায় যে অনুপস্থিত সম্পদের বিপরীতে বাকিতে দাস বিক্রয় করবে, তবে তার সম্পদ আসা পর্যন্ত কি অপেক্ষা করা আবশ্যক, নাকি কষ্টের কারণে রোযার দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ? অথবা যিহার ও অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হবে? এ সম্পর্কে সুপ্রসিদ্ধ বিভিন্ন অভিমত রয়েছে।

(অন্যতম হলো) তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি যখন সালাত শুরু করে দেয় এবং এরপর পানি পায়; তবে সালাত বাতিল হওয়া সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। কেননা তায়াম্মুম একটি সাধারণ ছাড় হওয়ার দিক থেকে মুতামাত্তি‘ হাজীর রোযার মতো, আবার আবশ্যকতার দিক থেকে মাসের হিসেবে ইদ্দত পালনের সদৃশ।

আর আবশ্যকতার ব্যাখ্যা হলো, এর মাধ্যমে অপবিত্র থাকা সত্ত্বেও সালাত বৈধ করা হয়। কেননা মাযহাব অনুযায়ী তায়াম্মুম অপবিত্রতা দূর করে না। সুতরাং অপবিত্রতা দূরকারী পানির উপস্থিতিতে অপবিত্র অবস্থায় সালাত পূর্ণ করা বৈধ নয়।

(অন্যতম হলো) ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে ভীত কোনো অভাবী ব্যক্তি যদি কোনো দাসীকে বিবাহ করে এবং পরবর্তীতে এই দুই শর্তের কোনো একটি বিলুপ্ত হয়, তবে কি তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে?

এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আর বিবাহের মধ্যে ইবাদতের সংমিশ্রণও রয়েছে।

 

‌‌[অষ্টম নীতি: যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতের একাংশ পালনে সক্ষম এবং বাকি অংশে অক্ষম, তার জন্য কি সক্ষমতা অনুযায়ী অংশটুকু পালন করা আবশ্যক?]

(অষ্টম নীতি): যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতের একাংশ পালনে সক্ষম এবং বাকি অংশে অক্ষম, তার জন্য কি সক্ষমতা অনুযায়ী অংশটুকু আদায় করা আবশ্যক নাকি নয়?

এটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত: (প্রথমটি হলো) যা পালনে সক্ষম সেটি ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য নয় বরং কেবল একটি মাধ্যম। যেমন তিলাওয়াতের সময় জিহ্বা নাড়ানো, মাথা মুণ্ডনের সময় মাথায় ক্ষুর চালানো এবং খতনার সময় ক্ষুর চালানো। এটি ওয়াজিব নয়; কেননা তা কিরাত, মুণ্ডন বা কর্তনের প্রয়োজনেই কেবল আবশ্যক হয়েছিল। যেহেতু মূলটি রহিত হয়ে গেছে, তাই তার প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গটিও রহিত হয়ে যাবে।

আল-কাজী বিশেষভাবে জিহ্বা নাড়ানোকে ওয়াজিব বলেছেন, যা অত্যন্ত দুর্বল মত।

দ্বিতীয় ভাগ: যা অন্যের অনুগামী হিসেবে ওয়াজিব হয়। এটি দুই প্রকার।

প্রথম প্রকার: যা ইবাদতের সুরক্ষার জন্য ওয়াজিব হয় যাতে ইবাদতটি সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করা যায়। যেমন ওযুর সময় দুই কনুই ধৌত করা। যদি হাত কনুই থেকে কেটে ফেলা হয়, তবে কি অবশিষ্ট কনুইয়ের অংশ ধৌত করা ওয়াজিব হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: আমাদের ইমামগণের নিকট এর মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো এটি ওয়াজিব হওয়া, যা ইমাম আহমদের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ।

আর ‘কিতাবুল হজ’-এ আল-কাজী মতভেদপূর্ণ মাসআলা থেকে একে মুস্তাহাব বলে গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম আহমদের বক্তব্যকে মুস্তাহাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এটি তখন প্রযোজ্য যখন ইবাদতের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে, যেমন হাতকাটা ব্যক্তির ওযুর ক্ষেত্রে। কিন্তু যখন পুরোপুরি কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, তখন তার অনুগামী বিষয়টিও রহিত হয়ে যায়। যেমন রোযার ক্ষেত্রে রাতের কিছু অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা; সুতরাং যার জন্য রোযা ভঙ্গ করা বৈধ করা হয়েছে, তার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে এটি আবশ্যক নয়।

(দ্বিতীয় প্রকার): যা পূর্ণতা প্রদান ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের অংশ হিসেবে অন্য কিছুর অনুগামী হয়ে ওয়াজিব হয়। যেমন কঙ্কর নিক্ষেপ এবং মিনায় রাত্রিযাপন এমন ব্যক্তির জন্য যে তা পায়নি...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১১)
الْحَجَّ، فَالْمَشْهُورُ أَنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ لِأَنَّ ذَلِكَ كُلَّهُ مِنْ تَوَابِعِ الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ، فَلَا يَلْزَمُ مَنْ لَمْ يَقِفْ بِهَا.

وَحَكَى ابْنُ أَبِي مُوسَى رِوَايَةً أُخْرَى بِلُزُومِهَا ; لِأَنَّهَا عِبَادَاتٌ فِي نَفْسِهَا مُسْتَقِلَّةٌ، وَمِنْ أَمْثِلَةِ ذَلِكَ: الْمَرِيضُ إذَا عَجَزَ فِي الصَّلَاةِ عَنْ وَضْعِ وَجْهِهِ عَلَى الْأَرْضِ وَقَدَرَ عَلَى وَضْعِ بَقِيَّةِ أَعْضَاءِ السُّجُودِ، فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ ذَلِكَ عَلَى الصَّحِيحِ، لِأَنَّ السُّجُودَ عَلَى بَقِيَّةِ الْأَعْضَاءِ إنَّمَا وَجَبَ تَبَعًا لِلسُّجُودِ عَلَى الْوَجْهِ وَتَكْمِيلًا لَهُ.

وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ: مَا هُوَ جُزْءٌ مِنْ الْعِبَادَةِ وَلَيْسَ بِعِبَادَةٍ فِي نَفْسِهِ بِانْفِرَادِهِ، أَوْ هُوَ غَيْرُ مَأْمُورٍ بِهِ لِضَرُورَةٍ (فَالْأَوَّلُ) كَصَوْمِ بَعْضِ الْيَوْمِ لِمَنْ قَدَرَ عَلَيْهِ وَعَجَزَ عَنْ إتْمَامِهِ فَلَا يَلْزَمُهُ بِغَيْرِ خِلَافٍ.

(وَالثَّانِي) كَعِتْقِ بَعْضِ الرَّقَبَةِ فِي الْكَفَّارَةِ فَلَا يَلْزَمُ الْقَادِرَ عَلَيْهِ إذَا عَجَزَ عَنْ التَّكْمِيلِ لِأَنَّ الشَّارِعَ قَصْدُهُ تَكْمِيلُ الْعِتْقِ مَهْمَا أَمْكَنَ، وَلِهَذَا شَرَعَ السِّرَايَةَ وَالسِّعَايَةَ وَقَالَ «لَيْسَ لِلَّهِ شَرِيكٌ» فَلَا يَشْرَع عِتْقُ بَعْضِ الرَّقَبَةِ.

الْقِسْمُ الرَّابِعُ: مَا هُوَ جُزْءٌ مِنْ الْعِبَادَةِ وَهُوَ عِبَادَةٌ مَشْرُوعَةٌ فِي نَفْسِهِ فَيَجِبُ فِعْلُهُ عِنْدَ تَعَذُّرِ فِعْلِ الْجَمِيعِ بِغَيْرِ خِلَافٍ، بِرَابِهَا عَلَيْهِ مَسَائِلُ كَثِيرَةٌ: (مِنْهَا) الْعَاجِزُ عَنْ الْقِرَاءَةِ يَلْزَمُهُ الْقِيَامُ لِأَنَّهُ وَإِنْ كَانَ مَقْصُودُهُ الْأَعْظَمُ الْقِرَاءَةَ لَكِنَّهُ أَيْضًا مَقْصُودٌ فِي نَفْسِهِ وَهُوَ عِبَادَةٌ مُنْفَرِدَةٌ.

(وَمِنْهَا) مَنْ عَجَزَ عَنْ بَعْضِ الْفَاتِحَةِ لَزِمَهُ الْإِتْيَانُ بِالْبَاقِي.

(وَمِنْهَا) مَنْ عَجَزَ عَنْ بَعْضِ غُسْلِ الْجَنَابَةِ لَزِمَهُ الْإِتْيَانُ بِمَا قَدَرَ مِنْهُ لِأَنَّ تَخْفِيفَ الْجَنَابَةِ مَشْرُوعٌ وَلَوْ بِغَسْلِ أَعْضَاءِ الْوُضُوءِ كَمَا يُشْرَعُ لِلْجُنُبِ إذَا أَرَادَ النَّوْمَ أَوْ الْوَطْءَ أَوْ الْأَكْلَ وَيَسْتَبِيحُ بِهِ اللُّبْثَ فِي الْمَسْجِدِ عِنْدَنَا وَوَقَعَ التَّرَدُّدَ فِي مَسَائِلَ أُخَرَ.

مِنْهَا: الْمُحْدِثُ إذَا وَجَدَ مَا يَكْفِي بَعْضَ أَعْضَائِهِ فَفِي وُجُوبِ اسْتِعْمَالِهِ وَجْهَانِ، وَمَأْخَذُ مَنْ لَا يَرَاهُ وَاجِبًا إمَّا أَنَّ الْحَدَثَ الْأَصْغَرَ لَا يَتَبَعَّضُ رَفْعُهُ فَلَا يَحْصُلُ بِهِ مَقْصُودٌ، أَوْ أَنَّهُ يَتَبَعَّضُ لَكِنَّهُ يَبْطُلُ بِالْإِخْلَالِ بِالْمُوَالَاةِ فَلَا يَبْقَى لَهُ فَائِدَةٌ، أَوْ أَنَّ غَسْلَ بَعْضِ أَعْضَاءِ الْمُحْدِثِ غَيْرُ مَشْرُوعٍ بِخِلَافِ غَسْلِ بَعْضِ أَعْضَاءِ الْجُنُبِ كَمَا تَقَدَّمَ.

(وَمِنْهَا) إذَا قَدَرَ عَلَى بَعْضِ صَاعٍ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ فَهَلْ يَلْزَمُهُ إخْرَاجُهُ عَلَى رِوَايَتَيْنِ، وَمَأْخَذُ عَدَمِ الْوُجُوبِ أَنَّهُ كَفَّارَةٌ بِالْمَالِ فَلَا يَتَبَعَّضُ كَمَا لَوْ قَدَرَ عَلَى التَّكْفِيرِ بِإِطْعَامِ بَعْضِ الْمَسَاكِينِ وَالصَّحِيحُ الْوُجُوبُ، وَالْفَرْقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَفَّارَةِ مِنْ وَجْهَيْنِ:

(أَحَدُهُمَا) : أَنَّ الْكَفَّارَةَ بِالْمَالِ تَسْقُطُ إلَى بَدَلٍ هُوَ الصَّوْمُ بِخِلَافِ الْفِطْرَةِ.

(وَالثَّانِي) أَنَّ الْكَفَّارَةَ لَا بُدَّ مِنْ تَكْمِيلِهَا، وَالْمَقْصُودُ مِنْ التَّكْفِيرِ بِالْمَالِ تَحْصِيلُ إحْدَى الْمَصَالِحِ الثَّلَاثِ عَلَى
হজ্জের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মত এই যে, তা তার জন্য আবশ্যক নয়। কারণ এই সব কাজ আরাফায় অবস্থানের অনুগামী; সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করেনি, তার জন্য এগুলো আবশ্যক নয়।

ইবনে আবি মুসা অন্য একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে তা আবশ্যক; কারণ এগুলো স্বতন্ত্র ইবাদত। এর উদাহরণ হলো: কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি সালাতে যমীনে মুখ রাখতে (সেজদা করতে) অক্ষম হয়, কিন্তু সেজদার বাকি অঙ্গগুলো রাখতে সক্ষম হয়, তবে সহীহ মত অনুযায়ী তা তার ওপর আবশ্যক নয়। কারণ অন্যান্য অঙ্গের ওপর সেজদা করা কেবল মুখের সেজদার অনুগামী হিসেবে এবং তার পরিপূরক হিসেবে ওয়াজিব হয়েছে।

তৃতীয় প্রকার: যা ইবাদতের অংশ মাত্র এবং এককভাবে নিজে কোনো ইবাদত নয়, অথবা যা কোনো বিশেষ প্রয়োজনের কারণে আদিষ্ট নয়। (প্রথমটির উদাহরণ হলো) দিনের কিছু অংশ রোযা রাখা সেই ব্যক্তির জন্য যে তাতে সক্ষম কিন্তু পূর্ণ করতে অক্ষম; তার জন্য কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি আবশ্যক নয়।

(দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো) কাফফারায় দাসের কিছু অংশ মুক্ত করা। যে ব্যক্তি এতে সক্ষম কিন্তু পূর্ণাঙ্গ মুক্ত করতে অক্ষম, তার ওপর তা আবশ্যক নয়। কারণ শারিয়াতদাতার উদ্দেশ্য হলো সম্ভব হলে পূর্ণ দাসমুক্তি। এজন্যই তিনি 'সিরায়াহ' ও 'সিআয়াহ' বিধিবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, "আল্লাহর কোনো অংশীদার নেই"। সুতরাং দাসের আংশিক মুক্তি অনুমোদিত নয়।

চতুর্থ প্রকার: যা ইবাদতের অংশ এবং নিজে একটি বিধিবদ্ধ ইবাদত। সুতরাং পুরো ইবাদত পালনে অক্ষম হলে এ অংশটি পালন করা সর্বসম্মতভাবে ওয়াজিব। এর ওপর অনেক মাসআলা ভিত্তি করে: (তন্মধ্যে একটি হলো) কিরাআত পাঠে অক্ষম ব্যক্তির জন্য দণ্ডায়মান থাকা (কিয়াম) আবশ্যক। কারণ যদিও কিয়ামের প্রধান উদ্দেশ্য কিরাআত, তবুও তা নিজেও একটি উদ্দেশ্য এবং একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।

(অন্যটি হলো) যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহার কিছু অংশ পাঠে অক্ষম, তার জন্য অবশিষ্টাংশ পাঠ করা আবশ্যক।

(অন্যটি হলো) যে ব্যক্তি জানাবাতের (অপবিত্রতা) গোসলের কিছু অংশে অক্ষম, তার যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু আদায় করা আবশ্যক। কারণ জানাবাতের ভার লাঘব করা বিধিবদ্ধ, এমনকি তা কেবল ওযুর অঙ্গগুলো ধোয়ার মাধ্যমে হলেও। যেমন জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তি ঘুমানো, স্ত্রী সহবাস বা আহার করতে চাইলে (ওযু করা) বিধিবদ্ধ এবং আমাদের মতে এর মাধ্যমে মসজিদে অবস্থানও বৈধ হয়। তবে অন্য কিছু মাসআলায় সংশয় রয়েছে।

তন্মধ্যে একটি হলো: বে-ওযু ব্যক্তি যদি তার কিছু অঙ্গ ধোয়ার মতো পানি পায়, তবে তা ব্যবহারের আবশ্যকতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে। যারা একে ওয়াজিব মনে করেন না তাদের যুক্তি হলো: হয় ছোট অপবিত্রতা (হাদাস) আংশিকভাবে দূর করা যায় না, তাই এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না; অথবা তা আংশিকভাবে দূর হয় বটে কিন্তু বিরতিহীনতা (মুওয়ালাত) লঙ্ঘিত হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়, ফলে এর কোনো ফায়দা থাকে না; অথবা বে-ওযু ব্যক্তির কিছু অঙ্গ ধোয়া বিধিবদ্ধ নয়, যা জুনুবী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(অন্যটি হলো) যদি কেউ সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে এক সা'-এর কিছু অংশে সক্ষম হয়, তবে তা প্রদান করা কি তার জন্য আবশ্যক? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে যুক্তি হলো এটি সম্পদের মাধ্যমে একটি কাফফারা, যা আংশিকভাবে আদায় হয় না; যেমন কেউ যদি কেবল কিছু মিসকিনকে খাওয়ানোর মাধ্যমে কাফফারা দিতে সক্ষম হয় (পূর্ণ সংখ্যায় নয়)। তবে সঠিক মত হলো ওয়াজিব হওয়া। ফিতরা ও কাফফারার মধ্যে পার্থক্যের দুটি দিক রয়েছে:

(এক) সম্পদের মাধ্যমে কাফফারা আদায়ের বাধ্যবাধকতা তার বিকল্প হিসেবে রোযার দিকে স্থানান্তরিত হয়, কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে তা হয় না।

(দুই) কাফফারা অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ হতে হয়। আর সম্পদের মাধ্যমে কাফফারা আদায়ের উদ্দেশ্য হলো তিনটি কল্যাণের কোনো একটি হাসিল করা...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَجْهِهَا وَهِيَ الْعِتْقُ وَالْإِطْعَامُ وَالْكِسْوَةُ، وَبِالتَّلْفِيقِ يُفَوِّتُ ذَلِكَ فَلَا تَبْرَأُ الذِّمَّةُ مِنْ الْوُجُوبِ إلَّا بِالْإِتْيَانِ بِإِحْدَى الْخِصَالِ بِكَمَالِهَا أَوْ بِالصِّيَامِ وَفِي الْفِطْرَةِ لَا تَبْرَأُ الذِّمَّةُ مِنْهَا بِدُونِ إخْرَاجِ الْمَوْجُودِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ التَّاسِعَة الْعِبَادَات الْوَاقِعَةِ عَلَى وَجْهٍ مُحَرَّمٍ إنْ كَانَ التَّحْرِيمُ عَائِدًا إلَى ذَاتِ الْعِبَادَةِ]

(الْقَاعِدَةُ التَّاسِعَةُ) : فِي الْعِبَادَاتِ الْوَاقِعَةِ عَلَى وَجْهٍ مُحَرَّمٍ، إنْ كَانَ التَّحْرِيمُ عَائِدًا إلَى ذَاتِ الْعِبَادَةِ عَلَى وَجْهٍ يَخْتَصُّ بِهَا لَمْ يَصِحَّ، وَإِنْ كَانَ عَائِدًا إلَى شَرْطِهَا فَإِنْ كَانَ عَلَى وَجْهٍ يَخْتَصُّ بِهَا فَكَذَلِكَ أَيْضًا، وَإِنْ كَانَ لَا يَخْتَصُّ بِهَا فَفِي الصِّحَّةِ رِوَايَتَانِ أَشْهَرُهُمَا عَدَمُهَا، وَإِنْ عَادَ إلَى مَا لَيْسَ بِشَرْطٍ فِيهَا فَفِي الصِّحَّةِ وَجْهَانِ وَاخْتَارَ أَبُو بَكْرٍ عَدَمَ الصِّحَّةِ وَخَالَفَهُ الْأَكْثَرُونَ فَلِلْأَوَّلِ أَمْثِلَةٌ كَثِيرَةٌ: (مِنْهَا) صَوْمُ يَوْمِ الْعِيدِ فَلَا يَصِحُّ بِحَالٍ عَلَى الْمَذْهَبِ (وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فِي أَوْقَاتِ النَّهْيِ.

(وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فِي مَوَاضِعِ النَّهْيِ فَلَا يَصِحُّ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّ النَّهْيَ لِلتَّحْرِيمِ وَإِنَّمَا يَصِحُّ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّ النَّهْيَ لِلتَّنْزِيهِ.

هَذِهِ طَرِيقَةُ الْمُحَقِّقِينَ وَإِنْ كَانَ مِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ يَحْكِي الْخِلَافَ فِي الصِّحَّةِ مَعَ الْقَوْلِ بِالتَّحْرِيمِ (وَمِنْهَا) صِيَامُ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَلَا يَصِحُّ تَطَوُّعًا بِحَالٍ، وَالْخِلَافُ فِي صِحَّةِ صَوْمِهَا فَرْضًا مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ النَّهْيَ هَلْ يَشْمَلُ الْفَرْضَ أَمْ يَخْتَصُّ التَّطَوُّعَ وَلِلثَّانِي أَمْثِلَةٌ كَثِيرَةٌ: (مِنْهَا) الصَّلَاةُ بِالنَّجَاسَةِ وَبِغَيْرِ سُتْرَةٍ وَأَشْبَاهِ ذَلِكَ وَلِلثَّالِثِ أَمْثِلَةٌ كَثِيرَةٌ: (مِنْهَا) الْوُضُوءُ بِالْمَاءِ الْمَغْصُوبِ (وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فِي الثَّوْبِ الْمَغْصُوبِ وَالْحَرِيرِ وَفِي الصِّحَّةِ رِوَايَتَانِ، وَعَلَى رِوَايَةِ عَدَمِ الصِّحَّةِ فَهَلْ الْمُبْطِلُ ارْتِكَابُ النَّهْيِ فِي شَرْطِ الْعِبَادَةِ، أَمْ تَرْكُ الْإِتْيَانِ بِالشَّرْطِ الْمَأْمُورِ بِهِ.

لِلْأَصْحَابِ فِيهِ مَأْخَذَانِ يَنْبَنِي عَلَيْهِمَا لَوْ لَمْ يَجِدْ إلَّا ثَوْبًا مَغْصُوبًا فَصَلَّى فِيهِ فَإِنْ عَلَّلْنَا بِارْتِكَابِ النَّهْيِ لَمْ تَصِحَّ صَلَاتُهُ، وَإِنْ عَلَّلْنَا بِتَرْكِ الْمَأْمُورِ صَحَّتْ لِأَنَّهُ غَيْرُ وَاجِدٍ لِسُتْرَةٍ يُؤْمَرُ بِهَا، وَأَمَّا مَنْ لَمْ يَجِدْ إلَّا ثَوْبَ حَرِيرٍ فَتَصِحُّ صَلَاتُهُ فِيهِ بِغَيْرِ خِلَافٍ عَلَى أَصَحِّ الطَّرِيقَيْنِ لِإِبَاحَةِ لُبْسِهِ فِي هَذِهِ الْحَالِ.

(وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فِي الْبُقْعَةِ الْمَغْصُوبَةِ وَفِيهَا الْخِلَافُ وَلِلْبُطْلَانِ مَأْخَذَانِ أَيْضًا:

أَحَدُهُمَا أَنَّ الْبُقْعَةَ شَرْطٌ لِلصَّلَاةِ وَلِهَذَا لَا تَصِحُّ الصَّلَاةُ فِي الْأُرْجُوحَةِ وَلَا عَلَى بِسَاطٍ فِي الْهَوَاءِ.

وَالثَّانِي: أَنَّ حَرَكَاتِ الْمُصَلِّي وَسَكَنَاتِهِ فِي الدَّارِ الْمَغْصُوبَةِ هُوَ نَفْسُ الْمُحَرَّمِ فَالتَّحْرِيمُ عَائِدٌ إلَى نَفْسِ الصَّلَاةِ وَإِنْ كَانَ غَيْرَ مُخْتَصٍّ بِهَا فَهُوَ كَإِخْرَاجِ الزَّكَاةِ وَالْهَدْيِ مِنْ الْمَالِ الْمَغْصُوبِ وَلِلرَّابِعِ أَمْثِلَةٌ: (مِنْهَا) الْوُضُوءُ مِنْ الْإِنَاءِ الْمُحَرَّمِ.

(وَمِنْهَا) صَلَاةُ مَنْ عَلَيْهِ عِمَامَةُ غَصْبٍ أَوْ حَرِيرٍ أَوْ فِي يَدِهِ خَاتَمُ ذَهَبٍ وَفِي ذَلِكَ كُلِّهِ وَجْهَانِ وَاخْتِيَارُ أَبِي بَكْرٍ عَدَمُ الصِّحَّةِ، وَأَمَّا مَنْ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ

أَحَدُهُمَا
...এর ধরন অনুযায়ী, আর তা হলো (দাস) মুক্তি, আহার করানো এবং পরিধেয় বস্ত্র দান। সংমিশ্রণের ফলে এটি ব্যাহত হয়, তাই অপরিহার্য দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না যতক্ষণ না এই গুণাবলির কোনো একটি পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করা হয় অথবা রোজা রাখা হয়। আর সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বস্তু প্রদান না করা পর্যন্ত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।

 

‌‌[নবম নিয়ম: নিষিদ্ধ পন্থায় সম্পাদিত ইবাদতসমূহ, যদি সেই নিষেধাজ্ঞা ইবাদতের মূল সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়]

(নবম নিয়ম): নিষিদ্ধ পন্থায় সম্পাদিত ইবাদতের ক্ষেত্রে, যদি নিষেধাজ্ঞাটি সরাসরি ইবাদতের সত্তার সাথে এমনভাবে সংশ্লিষ্ট হয় যা কেবল তার জন্যই নির্দিষ্ট, তবে তা সহিহ হবে না। আর যদি এটি তার শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং তা যদি কেবল ইবাদতের জন্যই নির্দিষ্ট হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও তা সহিহ হবে না। কিন্তু যদি তা কেবল ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট না হয়, তবে এর বৈধতা সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধটি হলো এটি সহিহ না হওয়া। আর যদি নিষেধাজ্ঞা এমন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যা ইবাদতের শর্ত নয়, তবে সে ক্ষেত্রে বৈধতার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; আবু বকর একে সহিহ নয় বলে পছন্দ করেছেন, তবে অধিকাংশ ফকিহ তার বিরোধিতা করেছেন। প্রথম প্রকারের অনেক উদাহরণ রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) ঈদের দিনে রোজা রাখা, যা মাযহাব অনুযায়ী কোনোভাবেই সহিহ নয়। (অন্যটি হলো) নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ আদায় করা।

(তার মধ্যে আরও একটি হলো) নিষিদ্ধ স্থানসমূহে নামাজ আদায় করা; এটি সেই মতানুসারে সহিহ হবে না যারা মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞা হারামের জন্য, তবে যারা মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মাকরূহে তানযিহির জন্য, তাদের মতে এটি সহিহ হবে।

এটিই গবেষক আলেমদের পদ্ধতি, যদিও মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ হারামের পাশাপাশি বৈধতার বিষয়েও মতভেদ বর্ণনা করেছেন। (আরেকটি উদাহরণ হলো) তাশরিকের দিনগুলোতে রোজা রাখা; নফল হিসেবে এটি কোনোভাবেই সহিহ নয়। আর ফরজ হিসেবে তা সহিহ হওয়ার বিষয়ের মতভেদটি এই ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল যে, নিষেধাজ্ঞা কি ফরজকেও অন্তর্ভুক্ত করে নাকি কেবল নফলের জন্য নির্দিষ্ট? দ্বিতীয় প্রকারের অনেক উদাহরণ রয়েছে: (যেমন) নাপাকি অবস্থায় নামাজ পড়া, আবরু না ঢেকে নামাজ পড়া এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। তৃতীয় প্রকারের অনেক উদাহরণ রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) আত্মসাৎকৃত পানি দিয়ে ওজু করা। (অন্যটি হলো) আত্মসাৎকৃত পোশাকে বা রেশমি পোশাকে নামাজ পড়া; এক্ষেত্রে বৈধতার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আর সহিহ না হওয়ার বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, ইবাদতটি কি শর্ত পালনে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে বাতিল হবে, নাকি নির্দেশিত শর্তটি পালন না করার কারণে?

মাযহাবের ফকিহদের এ বিষয়ে দুটি নীতিগত ভিত্তি রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই এই মাসআলাটি দাঁড়ায় যে, যদি কেউ আত্মসাৎকৃত পোশাক ছাড়া অন্য কোনো পোশাক না পায় এবং তাতে নামাজ পড়ে, তবে আমরা যদি 'নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন'-কে কারণ হিসেবে ধরি, তাহলে তার নামাজ সহিহ হবে না। আর যদি 'নির্দেশিত বিষয় ত্যাগ করা'-কে কারণ হিসেবে ধরি, তবে নামাজ সহিহ হবে; কারণ সে এমন কোনো আবরণ পায়নি যা পরিধানের জন্য তাকে আদেশ করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি রেশমি পোশাক ছাড়া অন্য কিছু পায় না, তার নামাজ তাতে কোনো মতভেদ ছাড়াই সহিহ হবে—উভয় পদ্ধতির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী; কারণ এমতাবস্থায় তা পরিধান করা তার জন্য বৈধ।

(তার মধ্যে আরও একটি হলো) আত্মসাৎকৃত ভূমিতে নামাজ পড়া। এ বিষয়েও মতভেদ রয়েছে এবং বাতিল হওয়ার পেছনেও দুটি কারণ রয়েছে:

একটি হলো: স্থান নামাজের জন্য একটি শর্ত, আর এ কারণেই দোলনায় বা শূন্যে ঝুলন্ত কার্পেটের ওপর নামাজ সহিহ হয় না।

দ্বিতীয়টি হলো: আত্মসাৎকৃত বাড়িতে নামাজির প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থির থাকা স্বয়ং নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত। ফলে নিষেধাজ্ঞাটি সরাসরি নামাজের সত্তার সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়, যদিও তা কেবল নামাজের জন্য নির্দিষ্ট নয়। এটি আত্মসাৎকৃত সম্পদ থেকে জাকাত বা কুরবানির পশু প্রদানের মতো। চতুর্থ প্রকারের উদাহরণগুলো হলো: (তার মধ্যে একটি) নিষিদ্ধ পাত্র থেকে ওজু করা।

(আরেকটি উদাহরণ হলো) এমন ব্যক্তির নামাজ যার মাথায় আত্মসাৎকৃত বা রেশমি পাগড়ি রয়েছে অথবা যার হাতে স্বর্ণের আংটি রয়েছে। এই সবগুলোর ক্ষেত্রেই দুটি অভিমত রয়েছে এবং আবু বকর সহিহ না হওয়াকে পছন্দ করেছেন। আর যার গায়ে দুটি কাপড় রয়েছে, তার মধ্যে একটি

একটি হলো
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৩)
غَصْبٌ فَقِيلَ هُوَ مُخَرَّجٌ عَلَى هَذَيْنِ الْوَجْهَيْنِ، وَقِيلَ بَلْ هُوَ كَمَنْ لَيْسَ عَلَيْهِ سِوَى الثَّوْبِ الْمَغْصُوبِ لِأَنَّ الْمُبَاحَ لَمْ يَتَعَيَّنْ لِلسِّتْرِ بَلْ السِّتْرُ حَصَلَ بِوَاحِدٍ غَيْرِ مُعَيَّنٍ.

وَأَمَّا الْحَجُّ بِالْمَالِ الْمَغْصُوبِ فَفِي صِحَّتِهِ رِوَايَتَانِ فَقِيلَ لِأَنَّ الْمَالَ شَرْطٌ لِوُجُوبِهِ وَشَرْطُ الْوُجُوبِ كَشَرْطِ الصِّحَّةِ وَرَجَّحَ ابْنُ عَقِيلٍ الصِّحَّةَ وَجَعَلَهُ مِنْ الْقِسْمِ الرَّابِعِ وَمَنَعَ كَوْنَ الْمَالِ شَرْطًا لِوُجُوبِهِ لِأَنَّهُ يَجِبُ عَلَى الْقَرِيبِ بِغَيْرِ مَالٍ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ شَرْطٌ فِي حَقِّ الْبَعِيدِ خَاصَّةً، كَمَا أَنَّ الْمَحْرَمَ شَرْطٌ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ دُونَ الرَّجُلِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْعَاشِرَةُ الْأَلْفَاظُ الْمُعْتَبَرَةُ فِي الْعِبَادَاتِ وَالْمُعَامَلَاتِ]

(الْقَاعِدَةُ الْعَاشِرَةُ) : الْأَلْفَاظُ الْمُعْتَبَرَةُ فِي الْعِبَادَاتِ وَالْمُعَامَلَاتِ (مِنْهَا) مَا يُعْتَبَرُ لَفْظُهُ وَمَعْنَاهُ وَهُوَ الْقُرْآنُ لِإِعْجَازِهِ بِلَفْظِهِ وَمَعْنَاهُ، فَلَا تَجُوزُ التَّرْجَمَةُ عَنْهُ بِلُغَةٍ أُخْرَى.

(وَمِنْهَا) مَا يُعْتَبَرُ مَعْنَاهُ دُونَ لَفْظِهِ كَأَلْفَاظِ عَقْدِ الْبَيْعِ وَغَيْرِهِ مِنْ الْعُقُودِ وَأَلْفَاظِ الطَّلَاقِ.

(وَمِنْهَا) مَا يُعْتَبَرُ لَفْظُهُ مَعَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ دُونَ الْعَجْزِ عَنْهُ وَيَدْخُلُ تَحْتَ ذَلِكَ صُوَرٌ: (مِنْهَا) التَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالدُّعَاءُ فِي الصَّلَاةِ لَا تَجُوزُ التَّرْجَمَةُ عَنْهُ مَعَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ، وَمَعَ الْعَجْزِ عَنْهُ هَلْ يَلْحَقُ بِالْقِسْمِ الْأَوَّلِ فَيَسْقُطُ أَوْ بِالثَّانِي فَيَأْتِي بِهِ بِلُغَتِهِ،؟ عَلَى وَجْهَيْنِ.

(وَمِنْهَا) خُطْبَةُ الْجُمُعَةِ لَا تَصِحُّ مَعَ الْقُدْرَةِ بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ عَلَى الصَّحِيحِ وَتَصِحُّ مَعَ الْعَجْزِ.

(وَمِنْهَا) لَفْظُ النِّكَاحِ يَنْعَقِدُ مَعَ الْعَجْزِ بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ وَمَعَ الْقُدْرَةِ عَلَى التَّعَلُّمِ فِيهِ وَجْهَانِ.

(وَمِنْهَا) لَفْظُ اللِّعَانِ وَحُكْمُهُ حُكْمُ لَفْظِ النِّكَاحِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْحَادِيَة عَشْرَة مِنْ عَلَيْهِ فَرْضٌ هَلْ لَهُ أَنْ يَتَنَفَّلَ قَبْلَ أَدَائِهِ بِجِنْسِهِ]

(الْقَاعِدَةُ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ) : مَنْ عَلَيْهِ فَرْضٌ هَلْ لَهُ أَنْ يَتَنَفَّلَ قَبْلَ أَدَائِهِ بِجِنْسِهِ أَمْ لَا.

هَذَا نَوْعَانِ:

(أَحَدُهُمَا) : الْعِبَادَاتُ الْمَحْضَةُ فَإِنْ كَانَتْ مُوَسَّعَةً جَازَ التَّنَفُّلُ قَبْلَ أَدَائِهَا كَالصَّلَاةِ بِالِاتِّفَاقِ وَقَبْلَ قَضَائِهَا أَيْضًا كَقَضَاءِ رَمَضَانَ عَلَى الْأَصَحِّ وَإِنْ كَانَتْ مُضَيَّقَةً لَمْ تَصِحَّ عَلَى الصَّحِيحِ وَلِذَلِكَ صُوَرٌ: (مِنْهَا) إذَا تَضَايَقَ وَقْتُ الْمَكْتُوبَةِ هَلْ يَنْعَقِدُ التَّنَفُّلُ [الْمُطْلَقُ] حِينَئِذٍ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ.

(وَمِنْهَا) مَنْ عَلَيْهِ صَلَاةٌ فَائِتَةٌ هَلْ يَصِحُّ التَّنَفُّلُ الْمُطْلَقُ قَبْلِ قَضَائِهَا؟ .

عَلَى وَجْهَيْنِ لِأَنَّ قَضَاءَ الْفَوَائِتِ عَلَى الْفَوْرِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا شَرَعَ فِي التَّنَفُّلِ بَعْدَ إقَامَةِ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَهَلْ تَصِحُّ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ لِأَنَّ الْجَمَاعَةَ وَاجِبَةٌ.

 

(وَمِنْهَا) صَوْمُ رَمَضَانَ لَا يَصِحُّ أَنْ يَصُومَ فِيهِ عَنْ غَيْرِهِ فَإِنْ فَعَلَ لَمْ يَصِحَّ عَنْ نَفْلِهِ، وَهَلْ يَنْقَلِبُ عَنْ فَرْضِهِ يَنْبَنِي عَلَى وُجُوبِ نِيَّةِ التَّعْيِينِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا حَجَّ تَطَوُّعًا قَبْلَ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ لَمْ يَقَعْ عَنْ
আত্মসাৎকৃত অর্থ বা সম্পদ। বলা হয়েছে যে, এটি এই দুটি মতের ভিত্তিতে বর্ণিত। আবার কেউ বলেছেন, বরং সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কাছে আত্মসাৎকৃত পোশাক ছাড়া আর কিছু নেই; কারণ বৈধ পোশাকটি সতর ঢাকার জন্য নির্ধারিত হয়নি, বরং অনির্ধারিত একটি উপায়ে সতর ঢাকা সম্পন্ন হয়েছে।

আর আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে হজ্জ করার ক্ষেত্রে এর শুদ্ধতা নিয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে, যেহেতু সম্পদ হজ্জ ওয়াজিব হওয়ার শর্ত, আর ওয়াজিব হওয়ার শর্ত শুদ্ধ হওয়ার শর্তের মতোই। ইবনে আকীল একে শুদ্ধ বলে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং একে চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি সম্পদকে হজ্জ ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হওয়াকে অস্বীকার করেছেন; কারণ নিকটবর্তী ব্যক্তির ওপর সম্পদ ছাড়াই হজ্জ ওয়াজিব হয়—তবে এটি গ্রহণযোগ্য কোনো কথা নয়। কেননা এটি কেবল দূরবর্তী ব্যক্তির ক্ষেত্রে শর্ত, যেমন মাহরাম থাকা কেবল নারীর জন্য শর্ত, পুরুষের জন্য নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[দশম মূলনীতি: ইবাদত ও মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে ধর্তব্য শব্দাবলি]

(দশম মূলনীতি): ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ধর্তব্য শব্দাবলি। (তার মধ্যে) এমন কিছু রয়েছে যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই ধর্তব্য, আর তা হলো কুরআন; কারণ এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই অলৌকিক। তাই অন্য ভাষায় এর অনুবাদ করা (কুরআনের বিকল্প হিসেবে) জায়েজ নয়।

(এবং তার মধ্যে) এমন কিছু রয়েছে যার কেবল অর্থ ধর্তব্য, শব্দ নয়; যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য চুক্তির শব্দাবলি এবং তালাকের শব্দাবলি।

(এবং তার মধ্যে) এমন কিছু রয়েছে যার সামর্থ্য থাকা অবস্থায় শব্দ ধর্তব্য, কিন্তু অক্ষম অবস্থায় নয়। এর অধীনে কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: (তার মধ্যে) সালাতের তাকবীর, তাসবীহ ও দুআ; সামর্থ্য থাকা অবস্থায় এগুলো অন্য ভাষায় অনুবাদ করা জায়েজ নয়। আর অক্ষম অবস্থায় এগুলো কি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রহিত হয়ে যাবে, নাকি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজ ভাষায় আদায় করবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

(এবং তার মধ্যে) জুমার খুতবা; বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সামর্থ্য থাকা অবস্থায় আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় এটি শুদ্ধ হবে না, তবে অক্ষম অবস্থায় শুদ্ধ হবে।

(এবং তার মধ্যে) নিকাহ বা বিয়ের শব্দাবলি; অক্ষমতার ক্ষেত্রে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় বিয়ে সম্পন্ন হবে। আর শেখার সামর্থ্য থাকা অবস্থায় (অন্য ভাষায় হবে কি না) সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

(এবং তার মধ্যে) লিআনের শব্দাবলি; এর বিধান বিয়ের শব্দাবলির বিধানের মতোই।

 

‌‌[একাদশ মূলনীতি: যার ওপর কোনো ফরজ রয়েছে, সে কি তা আদায়ের আগে একই জাতীয় নফল কাজ করতে পারবে?]

(একাদশ মূলনীতি): যার ওপর কোনো ফরজ দায়িত্ব রয়েছে, সে কি তা আদায়ের আগে একই জাতীয় নফল কাজ করতে পারবে কি না?

এটি দুই প্রকার:

(প্রথমটি): নিছক ইবাদত। যদি তা প্রশস্ত সময়ের হয়, তবে তা আদায়ের আগে নফল পড়া জায়েজ, যেমন ঐকমত্যের ভিত্তিতে সালাত। অনুরূপভাবে তা কাজা করার আগেও নফল জায়েজ, যেমন বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী রমজানের কাজা। আর যদি সময় সংকীর্ণ হয়, তবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী নফল শুদ্ধ হবে না। এর কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: (তার মধ্যে) যখন ফরজ সালাতের সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে, তখন কি সাধারণ নফল আদায় হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

(এবং তার মধ্যে) যার জিম্মায় কাজা সালাত রয়েছে, সে কি তা কাজা করার আগে সাধারণ নফল পড়তে পারবে?

এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, কারণ কাজা সালাত অবিলম্বে আদায় করা জরুরি।

 

(এবং তার মধ্যে) যদি ফরজ সালাতের ইকামত হওয়ার পর নফল শুরু করা হয়, তবে কি তা শুদ্ধ হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, কারণ জামাত ওয়াজিব।

 

(এবং তার মধ্যে) রমজানের রোজা; রমজান মাসে অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখা শুদ্ধ নয়। যদি সে তা করে, তবে তা নফল হিসেবেও শুদ্ধ হবে না। তবে কি তা ফরজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে? এটি নির্দিষ্ট নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার মাসআলার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।

 

(এবং তার মধ্যে) যদি কেউ ইসলামের ফরজ হজ্জ করার আগে নফল হজ্জ করে, তবে তা আদায় হবে না...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৪)
التَّطَوُّعِ وَانْقَلَبَتْ عَنْ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ عَلَى الْمَذْهَبِ الصَّحِيحِ.

(وَمِنْهَا) لَوْ حَجَّ عَنْ نَذْرِهِ أَوْ عَنْ نَفْلٍ وَعَلَيْهِ قَضَاءُ حَجَّةٍ فَاسِدَةٍ وَقَعَتْ عَنْ الْقَضَاءِ دُونَ مَا نَوَاهُ عَلَى الْمَذْهَبِ أَيْضًا، فَأَمَّا إنْ تَنَفَّلَ بِالْحَجِّ بَعْدَ قَضَاءِ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ وَقَبْلَ الِاعْتِمَارِ أَوْ بِالْعَكْسِ فَهَلْ يَجُوزُ أَمْ لَا.

قَالَ فِي التَّلْخِيصِ يَنْبَنِي عَلَى أَنَّ النُّسُكَ هَلْ هُوَ عَلَى الْفَوْرِ أَمْ لَا، فَإِنْ قُلْنَا عَلَى الْفَوْرِ لَمْ يَجُزْ وَإِلَّا جَازَ وَفِيهِ نَظَرٌ.

 

وَأَمَّا الزَّكَاةُ فَقَالَ الْأَصْحَابُ يَصِحُّ أَنْ يَتَنَفَّلَ بِالصَّدَقَةِ قَبْلَ أَدَائِهَا وَإِنْ كَانَتْ عَلَى الْفَوْرِ وَكَذَلِكَ نَصَّ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ مُهَنَّا فِيمَنْ عَلَيْهِ زَكَاةٌ وَنَذْرٌ لَا يُبَالِي بِأَيِّهِمَا يَبْدَأُ، وَهَذَا إذَا كَانَ مَالُهُ يَتَّسِعُ لَهُمَا فَأَمَّا إنْ لَمْ يَتَّسِعْ فَسَنَذْكُرُهُ.

 

(النَّوْعُ الثَّانِي) : التَّصَرُّفَاتُ الْمَالِيَّةُ كَالْعِتْقِ وَالْوَقْفِ وَالصَّدَقَةِ وَالْهِبَةِ إذَا تَصَرَّفَ بِهَا وَعَلَيْهِ دَيْنٌ وَلَمْ يَكُنْ حُجِرَ عَلَيْهِ فَالْمَذْهَبُ صِحَّةُ تَصَرُّفِهِ وَإِنْ اُسْتُغْرِقَ مَالُهُ فِي ذَلِكَ وَاخْتَارَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ رحمه الله أَنَّهُ لَا يَنْفُذُ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ مَعَ مُطَالَبَةِ الْغُرَمَاءِ، الْعَيْهَمَ قَوْلًا فِي الْمَذْهَبِ وَيُمْكِنُ تَخْرِيجُهُ فِي الْمَذْهَبِ مِنْ أَصْلَيْنِ:

(أَحَدُهُمَا) : مَا نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ رحمه الله فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ فِيمَنْ تَبَرَّعَ بِمَالِهِ بِوَقْفٍ أَوْ صَدَقَةٍ وَأَبَوَاهُ مُحْتَاجَانِ أَنَّ لَهُمَا رَدَّهُ وَاحْتَجَّ بِالْحَدِيثِ الْمَرْوِيِّ فِي ذَلِكَ.

(وَالثَّانِي) : أَنَّهُ نَصَّ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى عَلَى مَنْ أَوْصَى لِأَجَانِبَ وَلَهُ أَقَارِبُ مُحْتَاجُونَ أَنَّ الْوَصِيَّةَ تُرَدُّ عَلَيْهِمْ فَتَخَرَّجَ مِنْ ذَلِكَ أَنَّ مَنْ تَبَرَّعَ وَعَلَيْهِ نَفَقَةٌ وَاجِبَةٌ لِوَارِثٍ أَوْ دَيْنٌ لَيْسَ لَهُ وَفَاءٌ أَنَّهُ يُرَدُّ وَلِهَذَا يُبَاعُ الْمُدَبَّرُ فِي الدَّيْنِ خَاصَّةً عَلَى رِوَايَةٍ، وَنَقَلَ ابْنُ مَنْصُورٍ عَنْ أَحْمَدَ فِيمَنْ تَصَدَّقَ عِنْدَ مَوْتِهِ بِمَالِهِ كُلِّهِ قَالَ هَذَا مَرْدُودٌ لَوْ كَانَ فِي حَيَاتِهِ لَمْ أُجَوِّزْ لَهُ إذَا كَانَ لَهُ وَلَدٌ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَة عَشَرَة الْعِبَادَاتِ الْوَارِدَةَ عَلَى وُجُوهٍ مُتَعَدِّدَةٍ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَةَ عَشْرَةَ) : الْمَذْهَبُ أَنَّ الْعِبَادَاتِ الْوَارِدَةَ عَلَى وُجُوهٍ مُتَعَدِّدَةٍ يَجُوزُ فِعْلُهَا عَلَى جَمِيعِ تِلْكَ الْوُجُوهِ الْوَارِدَةِ فِيهَا مِنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ لِبَعْضِهَا وَإِنْ كَانَ بَعْضُهَا أَفْضَلَ مِنْ بَعْضٍ، لَكِنْ هَلْ الْأَفْضَلُ الْمُدَاوَمَةُ عَلَى نَوْعٍ مِنْهَا أَوْ فِعْلُ جَمِيعِ الْأَنْوَاعِ فِي أَوْقَاتٍ شَتَّى، ظَاهِرُ كَلَامِ الْأَصْحَابِ الْأَوَّلُ، وَاخْتَارَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ رحمه الله.

الثَّانِي: لِأَنَّ فِيهِ اقْتِدَاءً بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي تَنَوُّعِهِ وَقَالَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ إنَّهَا تَنَوَّعَتْ بِحَسَبِ الْمَصَالِحِ فَتُصَلَّى فِي كُلِّ وَقْتٍ عَلَى صِفَةٍ تَكُونُ مُنَاسِبَةً لَهُ وَهَلْ الْأَفْضَلُ الْجَمْعُ بَيْنَ مَا أَمْكَنَ جَمْعُهُ مِنْ تِلْكَ الْأَنْوَاعِ أَوْ الِاقْتِصَارُ عَلَى وَاحِدٍ مِنْهَا.

هَذَا فِيهِ نِزَاعٌ فِي الْمَذْهَبِ
নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং বিশুদ্ধ মাযহাব অনুযায়ী তা হজ্বতুল ইসলাম (আবশ্যিক হজ্ব) এর স্থলাভিষিক্ত হবে।

(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ মানত বা নফল হজ্ব আদায় করে অথচ তার ওপর কোনো নষ্ট হওয়া হজ্বের কাযা বাকি থাকে, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা তার কাযা হিসেবেই গণ্য হবে, সে যা নিয়ত করেছে তা হিসেবে নয়। তবে যদি কেউ হজ্বতুল ইসলাম আদায়ের পর এবং উমরাহ করার আগে নফল হজ্ব করে অথবা এর বিপরীত করে, তবে তা কি জায়েয হবে কি হবে না?

‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটি ইবাদত অবিলম্বে পালন করা ওয়াজিব কি না তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। যদি আমরা বলি যে এটি অবিলম্বে পালন করা ওয়াজিব, তবে (নফলটি) জায়েয হবে না, অন্যথায় জায়েয হবে; তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

 

আর যাকাতের ক্ষেত্রে মাযহাবের অনুসারী আলেমগণ বলেছেন: যাকাত আদায়ের আগে নফল সদকা করা শুদ্ধ হবে, যদিও যাকাত অবিলম্বে প্রদান করা ওয়াজিব হয়। অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ মুহান্নার বর্ণনা অনুযায়ী এমন ব্যক্তি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যার ওপর যাকাত ও মানত উভয়ই রয়েছে যে, সে যে কোনটি দিয়েই শুরু করুক না কেন তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ বা অসুবিধা নেই। এটি তখন প্রযোজ্য যখন তার সম্পদ উভয়টি আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত হয়। আর যদি পর্যাপ্ত না হয়, তবে সে সম্পর্কে আমরা পরে আলোচনা করব।

 

(দ্বিতীয় প্রকার): আর্থিক লেনদেনসমূহ যেমন- দাসমুক্তি, ওয়াকফ, সদকা এবং দান; যদি কেউ এগুলো সম্পাদন করে এমতাবস্থায় যে তার ওপর ঋণ রয়েছে এবং তার ওপর লেনদেনে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা (হাজর) নেই, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার এই কাজগুলো সহীহ হবে, যদিও এতে তার সমস্ত সম্পদ ব্যয় হয়ে যায়। শায়খ তাকীউদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটি পছন্দ করেছেন যে, পাওনাদারদের দাবির মুখে এগুলোর কোনোটিই কার্যকর হবে না; তিনি মাযহাবের ভেতর এটি একটি মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মাযহাবের দুটি মূলনীতি থেকে এটি বের করা সম্ভব:

(প্রথমটি): ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) হাম্বালের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে ওয়াকফ বা সদকা হিসেবে তার সম্পদ দান করে দেয় অথচ তার পিতা-মাতা অভাবী; তাদের অধিকার রয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়ার। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসকে তিনি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন।

(দ্বিতীয়টি): তিনি অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি অনাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করে অথচ তার অভাবী নিকটাত্মীয় রয়েছে, তবে সেই অসিয়ত তাদের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিপন্ন হয় যে, যে ব্যক্তি দান করে অথচ তার কোনো ওয়ারিশের জন্য ওয়াজিব ভরণপোষণ বাকি থাকে অথবা এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধের সামর্থ্য নেই, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই কারণেই বিশেষভাবে ঋণের দায়ে মুদাব্বার দাসকে বিক্রি করা হয় একটি বর্ণনা অনুযায়ী। ইবনে মানসুর ইমাম আহমাদ থেকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে মৃত্যুর সময় তার সমস্ত সম্পদ সদকা করে দেয়, তিনি বলেছেন: এটি প্রত্যাখ্যাত হবে; যদি সে তার জীবিতাবস্থায় থাকাকালীন এমন করত তবে আমি তা অনুমোদন করতাম না যদি তার সন্তান থাকত।

 

‌‌[দ্বাদশ নিয়ম: বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত ইবাদতসমূহ]

(দ্বাদশ নিয়ম): মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো, যেসব ইবাদত একাধিক পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটি পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করা জায়েয, কোনোটিকেই অপছন্দনীয় বলা যাবে না, যদিও কোনো পদ্ধতি অন্য পদ্ধতির চেয়ে উত্তম হতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো, কোনো একটি পদ্ধতির ওপর স্থায়ী হওয়া উত্তম নাকি বিভিন্ন সময়ে সব ধরনের পদ্ধতি পালন করা উত্তম? মাযহাবের অনুসারী আলেমদের কথা থেকে প্রথমটিই স্পষ্ট হয়। তবে শায়খ তাকীউদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) পছন্দ করেছেন:

দ্বিতীয়টি: কারণ এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈচিত্র্যময় সুন্নাতের অনুসরণ রয়েছে। ইবনে আকীল সালাতুল খাওফ (ভীতি অবস্থার নামায) সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি উপযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পদ্ধতির হয়েছে, তাই প্রতিটি সময়ে সেই সময়ের উপযোগী পদ্ধতিতে তা আদায় করা হবে। আর সেই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে যা যা সম্ভব তা কি একত্র করা উত্তম হবে নাকি কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম হবে?

এ বিষয়ে মাযহাবের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَيَنْدَرِجُ تَحْتَ ذَلِكَ صُوَرٌ: (مِنْهَا) مَسْحُ الْأُذُنَيْنِ الْمَذْهَبُ أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ مَسْحُهُمَا مَرَّةً وَاحِدَةً إمَّا مَعَ الرَّأْسِ أَوْ بِمَاءٍ جَدِيدٍ وَلَا يُسَنُّ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا وَحُكِيَ عَنْ الْقَاضِي عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ جَلَبَةَ قَاضِي حَرَّانَ أَنَّ الْأَفْضَلَ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا عَمَلًا بِالْحَدِيثَيْنِ

 

(وَمِنْهَا) الِاسْتِفْتَاحُ فَالْمَذْهَبُ أَنَّ الْأَفْضَلَ الِاسْتِفْتَاحُ بِسُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ مُقْتَصِرًا عَلَيْهِ وَاخْتَارَ ابْنُ هُبَيْرَةَ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الِاسْتِفْتَاحِ الْغَيْهَمِ وَجْهِي أَفْضَلُ، وَذَكَرَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ رحمه الله أَنَّهُ يَسْتَفْتِحُ كَذَلِكَ، وَلَكِنْ وَرَدَ فِي الْجَمْعِ أَحَادِيث مُتَعَدِّدَةٌ وَفِيهَا ضَعْفٌ وَبِتَقْدِيرِ ثُبُوتِهَا فَلَا تَكُونُ الْمَسْأَلَةُ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ.

 

(وَمِنْهَا) إجَابَةُ الْمُؤَذِّنِ هَلْ يُشْرَعُ فِيهَا الْجَمْعُ بَيْنَ الْحَيْعَلَةِ وَالْحَوْقَلَةِ أَمْ لَا وَكَذَا فِي التَّثْوِيبِ فِي الْفَجْرِ فِيهِ وَجْهَانِ.

 

(وَمِنْهَا) سُنَّةُ الْجُمُعَةِ بَعْدَهَا نَقَلَ إبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ عَنْ أَحْمَدَ رحمه الله أَنَّهُ قَالَ: أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ وَصَلَّى هُوَ رَكْعَتَيْنِ فَأَيَّهُمَا فَعَلْتَ فَحَسَنٌ وَإِنْ أَرَدْتَ أَنْ تَحْتَاطَ صَلَّيْتَ رَكْعَتَيْنِ وَأَرْبَعًا جَمَعْت فِعْلَهُ وَأَمْرَهُ وَهَذَا مَأْخَذٌ غَرِيبٌ لِاسْتِحْبَابِ السِّتِّ، وَأَمَّا الْأَصْحَابُ فَلَمْ يَسْتَنِدُوا إلَّا إلَى مَا نُقِلَ عَنْ بَعْضِ الصَّحَابَةِ مِنْ صَلَاتِهِ سِتَّ رَكَعَاتٍ

 

(وَمِنْهَا) أَلْفَاظُ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّشَهُّدِ فَإِنَّهُ قَدْ وَرَدَ فِيهَا كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ وَوَرَدَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إبْرَاهِيمَ فَهَلْ يُقَالُ الْأَفْضَلُ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا فَإِنَّ مِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ اخْتَارَ الْجَمْعَ بَيْنَهُمَا وَقَدْ يَكُونُ مُسْتَنَدُهُ جَمْعَ الرِّوَايَتَيْنِ وَأَنْكَرَ الشَّيْخُ رحمه الله ذَلِكَ وَقَالَ لَمْ يَبْلُغْنِي فِيهِ حَدِيثٌ مُسْنَدٌ ثَابِتٌ بِالْجَمْعِ بَيْنَهُمَا وَلَا يَصِحُّ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الرِّوَايَتَيْنِ لِأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ هَذَا تَارَةً وَهَذَا تَارَةً فَأَحَدُ اللَّفْظَيْنِ بَدَلٌ عَنْ الْآخَرِ وَلَا يَصِحُّ الْجَمْعُ بَيْنَ الْبَدَلِ وَالْمُبْدَلِ كَذَا قَالَ، وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيّ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا مِنْ حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيّ مِنْ حَدِيث كَعْبٍ أَيْضًا وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي طَلْحَةَ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةَ عَشْرَةَ وَجَدْنَا أَثَرًا مَعْلُولًا لِعِلَّةٍ وَوَجَدْنَا فِي مَحَلِّهِ عِلَّةً صَالِحَةً لَهُ، وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْأَثَرُ مَعْلُولًا لِغَيْرِهَا]

(الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةَ عَشْرَةَ) إذَا وَجَدْنَا أَثَرًا مَعْلُولًا لِعِلَّةٍ وَوَجَدْنَا فِي مَحَلِّهِ عِلَّةً صَالِحَةً لَهُ، وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْأَثَرُ مَعْلُولًا لِغَيْرِهَا لَكِنْ لَا يَتَحَقَّقُ وُجُودُ غَيْرِهَا، فَهَلْ يُحَالُ ذَلِكَ الْأَثَرُ عَلَى تِلْكَ الْعِلَّةِ الْمَعْلُومَةِ أَمْ لَا؟ فِي الْمَسْأَلَةِ خِلَافٌ وَلَهَا صُوَرٌ كَثِيرَةٌ قَدْ يَقْوَى فِي بَعْضِهَا الْإِحَالَةُ وَفِي بَعْضِهَا الْعَدَمُ ; لِأَنَّ الْأَصْلَ أَنْ لَا عِلَّةَ سِوَى هَذِهِ الْمُتَحَقِّقَةِ وَقَدْ يَظْهَرُ فِي بَعْضِ الْمَسَائِلِ الْإِحَالَةُ عَلَيْهَا فَيَتَوَافَقُ الْأَصْلُ الظَّاهِرُ، وَقَدْ تَظْهَرُ الْإِحَالَةُ عَلَى غَيْرِهَا فَيَخْتَلِفَانِ.
এর অধীনে বেশ কিছু অবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (তার মধ্যে একটি হলো) কান মাসাহ করা। মাযহাবের মত হলো, উভয় কান একবার মাসাহ করা মুস্তাহাব; হয় মাথার সাথে অথবা নতুন পানি দিয়ে। তবে এই দুই পদ্ধতির সমন্বয় করা সুন্নাহ নয়। হাররানের বিচারক কাযী আব্দুল ওয়াহহাব বিন জালাবাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উভয় হাদীসের ওপর আমল করার লক্ষ্যে উভয়ের সমন্বয় করাই উত্তম।

 

(আরও একটি হলো) সানা (নামাজের প্রারম্ভিক দুআ)। মাযহাব হলো, 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা' পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম। তবে ইবনে হুবাইরাহ পছন্দ করেছেন যে, এর সাথে 'ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া' সানার সমন্বয় করা অধিকতর উত্তম। শায়খ তাকিউদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, তিনিও এভাবেই সানা পাঠ করতেন। তবে সমন্বয়ের ব্যাপারে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে। আর যদি সেগুলো সাব্যস্ত বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও বিষয়টি এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হবে না।

 

(আরও একটি হলো) মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া। এতে কি 'হাইআলাহ' (হাইয়া আলাস সালাহ/ফালাহ) এবং 'হাওকালাহ' (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) এর মধ্যে সমন্বয় করা শরীয়তসম্মত হবে কি হবে না? অনুরূপভাবে ফজরের 'তাসউইব' (আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম) এর জবাবেও দুটি অভিমত রয়েছে।

 

(আরও একটি হলো) জুমার পরবর্তী সুন্নাত নামাজ। ইব্রাহীম আল-হারবী ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি নিজে দুই রাকাত পড়েছেন। সুতরাং তুমি এর যেকোনোটি করলে তা উত্তম। আর যদি তুমি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাও, তবে দুই এবং চার (মোট ছয়) রাকাত পড়বে যাতে তাঁর কর্ম এবং নির্দেশ উভয়টির সমন্বয় হয়। ছয় রাকাত মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে এটি একটি বিরল যুক্তি। আর সহচরগণ (মাযহাবের ইমামগণ) মূলত কিছু সাহাবী থেকে বর্ণিত ছয় রাকাত পড়ার বর্ণনার ওপরেই নির্ভর করেছেন।

 

(আরও একটি হলো) তাশাহহুদে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দরূদের শব্দাবলি। কেননা এতে 'কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীম' এবং 'কামা সাল্লাইتا আলা ইব্রাহীম' উভয়টি বর্ণিত হয়েছে। তাহলে কি বলা যাবে যে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই উত্তম? সহচরগণের মধ্যে কেউ কেউ উভয়ের সমন্বয়কে পছন্দ করেছেন এবং তাদের দলীল হতে পারে দুটি বর্ণনার সমন্বয়। কিন্তু শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: আমার কাছে উভয়ের সমন্বয় সম্পর্কে কোনো সাব্যস্ত মুসনাদ হাদীস পৌঁছায়নি। আর দুটি বর্ণনার সমন্বয় করা সঠিক হবে না, কারণ তিনি কখনও এটি বলতেন আবার কখনও ওটি বলতেন। ফলে একটি শব্দ অন্যটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর বিকল্প ও মূলের মধ্যে সমন্বয় করা সঠিক নয়—তিনি এমনই বলেছেন। অথচ সহীহ বুখারীতে কাব বিন উজরাহ এর হাদীসে উভয়ের সমন্বয় সাব্যস্ত হয়েছে। ইমাম নাসায়ীও এটি কাব এবং আবু তালহা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[ত্রয়োদশ নীতি: আমরা যদি এমন কোনো প্রভাব বা ফলাফল খুঁজে পাই যা একটি কারণ দ্বারা সাব্যস্ত এবং সেই স্থানেই সেই ফলাফলের জন্য উপযোগী অন্য একটি কারণও পাই, অথচ সেই ফলাফলটি অন্য কোনো কারণেও ঘটার সম্ভাবনা থাকে]

(ত্রয়োদশ নীতি) যখন আমরা এমন কোনো প্রভাব বা ফলাফল পাই যা একটি নির্দিষ্ট কারণের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সেই স্থানেই সেই ফলাফলের জন্য উপযোগী একটি কারণ বিদ্যমান পাই, আবার সেই ফলাফলটি অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণ থেকেও ঘটার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু সেই অন্য কারণটির অস্তিত্ব নিশ্চিত নয়, এমতাবস্থায় সেই ফলাফলটিকে কি সেই জ্ঞাত কারণটির দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে নাকি হবে না? এই মাসআলায় মতভেদ রয়েছে এবং এর অনেকগুলো প্রয়োগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণের দিকে সম্বন্ধ করা শক্তিশালী হয় আবার কোনোটিতে হয় না; কারণ মূলনীতি হলো এই সুনিশ্চিত কারণটি ছাড়া আর কোনো কারণ নেই। কিছু মাসআলায় এর দিকে সম্বন্ধ করা প্রকাশ্য হয়ে যায় ফলে তা প্রকাশ্য মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, আবার কখনো কখনো অন্য কারণের দিকে সম্বন্ধ করা প্রকাশ্য হয়ে পড়ে তখন উভয়ের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৬)
فَمِنْ صُوَرِ الْمَسْأَلَةِ) مَا إذَا وَقَعَ فِي الْمَاءِ نَجَاسَةٌ ثُمَّ غَابَ عَنْهُ ثُمَّ وَجَدَهُ مُتَغَيِّرًا فَإِنَّهُ يُحْكَمُ بِنَجَاسَتِهِ عِنْدَ الْأَصْحَابِ إحَالَةً لِلتَّغْيِيرِ عَلَى النَّجَاسَةِ الْمَعْلُومِ طِرْمِسَاءِ فِيهِ، وَالْأَصْلُ عَدَمُ وُجُودِ مُغَيِّرٍ غَيْرِهَا وَخَرَّجَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ فِيهِ وَجْهًا آخَرَ أَنَّهُ طَاهِرٌ مِنْ مَسْأَلَةِ الصَّيْدِ الْآتِيَةِ وَالْأُولَى أَوْلَى لِأَنَّ الْأَصْلَ طَهَارَةُ الْمَاءِ فَلَا يُزَالُ عَنْهَا بِالشَّكِّ.

 

(وَمِنْهَا) مَا إذَا وُجِدَ مِنْ النَّائِمِ قَبْلَ نَوْمِهِ سَبَبٌ يَقْتَضِي خُرُوجَ الْمَذْيِ مِنْهُ مِنْ تَفَكُّرٍ أَوْ مُلَاعَبَةٍ وَنَحْوِهِمَا ثُمَّ نَامَ وَاسْتَيْقَظَ وَوَجَدَ بَلَلًا لَمْ يَتَيَقَّنْهُ مَنِيًّا وَلَمْ يَذْكُرْ حُلْمًا فَإِنَّ الْمَنْصُوصَ عَنْ أَحْمَدَ رحمه الله أَنَّهُ لَا غُسْلَ عَلَيْهِ إحَالَةً لِلْخَارِجِ عَلَى السَّبَبِ الْمُتَيَقَّنِ وَهُوَ الْمُقْتَضِي لِخُرُوجِ الْمَذْيِ لِأَنَّ الْأَصْلَ عَدَمُ وُجُودِ غَيْرِهِ وَقَدْ تَيَقَّنَ وُجُودَهُ وَحُكِيَ عَنْ أَحْمَدَ رحمه الله رِوَايَةً أُخْرَى بِوُجُوبِ الْغُسْلِ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ جَرَحَ صَيْدًا جُرْحًا غَيْرَ مُوَحٍّ ثُمَّ غَابَ عَنْهُ وَوَجَدَهُ مَيْتًا وَلَا أَثَرَ فِيهِ غَيْرُ سَهْمِهِ فَهَلْ يَحِلُّ أَكْلُهُ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ أَصَحُّهُمَا أَنَّهُ يَحِلُّ لِحَدِيثِ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ.

وَالثَّانِيَة: لَا يَحِلُّ لِقَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما كُلْ مَا أَصْمَيْتَ وَدَعْ مَا أَنْمَيْتَ وَلِذَلِكَ تُسَمَّى مَسْأَلَةَ الْإِصْمَاءِ وَالْإِنْمَاءِ، وَفِيهِ رِوَايَةٌ ثَالِثَةٌ إنْ غَابَ عَنْهُ لَيْلَةً لَمْ يَحِلَّ وَإِلَّا حَلَّ وَفِيهِ حَدِيثٌ مَرْفُوعٌ وَفِيهِ ضَعْفٌ، وَعُلِّلَ بِأَنَّ هَوَامَّ اللَّيْلِ كَثِيرَةٌ فَكَأَنَّ الظَّاهِرَ هُنَا وَهُوَ وُجُودُ سَبَبٍ آخَرَ حَصَلَ مِنْهُ الزُّهُوقُ قَوِيٌّ عَلَى الْأَصْلِ وَهُوَ عَدَمُ إصَابَةِ غَيْرِ السَّهْمِ لَهُ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ جَرَحَ الْمُحْرِمُ صَيْدًا جُرْحًا غَيْرَ مُوَحٍّ ثُمَّ غَابَ عَنْهُ ثُمَّ وَجَدَهُ مَيْتًا فَهَلْ يَضْمَنُهُ كُلَّهُ أَوْ أَرْشَ الْجُرْحِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ وَجَزَمَ بَعْضُ الْأَصْحَابِ بِضَمَانِ أَرْشِ الْجُرْحِ فَقَطْ لِأَنَّهُ الْمُتَيَقَّنُ وَالْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ جَرَحَ آدَمِيًّا مَعْصُومًا جُرْحًا غَيْرَ مُوحٍ ثُمَّ مَاتَ وَادَّعَى أَنَّهُ مَاتَ بِسَبَبٍ غَيْرِ سِرَايَةِ جُرْحِهِ وَأَنْكَرَ الْوَلِيُّ فَالْقَوْلُ قَوْلُ الْوَلِيِّ مَعَ يَمِينِهِ وَلَمْ يَحْكِ أَكْثَرُ الْأَصْحَابِ فِي ذَلِكَ خِلَافًا إحَالَةً لِلزُّهُوقِ عَلَى الْجُرْحِ الْمَعْلُومِ، وَفِي الْمُجَرَّدِ أَنَّهُ إنْ مَاتَ عَقِيبَ الْجُرْحِ فَالْقَوْلُ قَوْلُ الْوَلِيِّ وَإِنْ مَاتَ بَعْدَ مُدَّةٍ يَنْدَمِلُ الْجُرْحُ فِي مِثْلِهَا.

فَإِنْ قَامَتْ بَيِّنَةٌ بِأَنَّهُ لَمْ يَزَلْ ضِمْنًا مِنْ الْجُرْحِ حَتَّى مَاتَ فَكَذَلِكَ وَإِلَّا فَالْقَوْلُ قَوْلُ الْجَانِي وَفِيهِ وَجْهٌ آخَرَ أَنَّ الْقَوْلَ قَوْلُ الْوَلِيِّ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ قَالَ لِأَمَتِهِ وَلَهَا وَلَدٌ هَذَا الْوَلَدُ مِنِّي، فَهَلْ يَثْبُتُ بِذَلِكَ اسْتِيلَادُ الْأَمَةِ عَلَى وَجْهَيْنِ:

(أَحَدُهُمَا) : نَعَمْ لِأَنَّا لَا نَعْلَمُ سَبَبًا يَتَحَقَّقُ بِهِ لُحُوقُ النَّسَبِ [هُنَا] غَيْرَ مِلْكِ الْيَمِينِ فَيُحَالُ اللُّحُوقُ عَلَيْهِ فَيَسْتَلْزِمُ ذَلِكَ ثُبُوتَ الِاسْتِيلَادِ فِي الْأَمَةِ.

(وَالثَّانِي) لَا لِاحْتِمَالِ اسْتِيلَادِهِ قَبْلَ ذَلِكَ فِي نِكَاحٍ أَوْ وَطْءِ شُبْهَةٍ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ ادَّعَى رِقَّ مَجْهُولِ النَّسَبَ فَشَهِدَتْ لَهُ بَيِّنَةٌ أَنَّ أَمَتَهُ وَلَدَتْهُ وَلَمْ تَقُلْ فِي مِلْكِهِ فَهَلْ يُحْكَمُ لَهُ بِهِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ
(এ বিষয়ের মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি পানিতে কোনো অপবিত্র বস্তু পড়ে, অতঃপর সেটি আড়ালে চলে যায় এবং পরবর্তীতে সেটিকে পরিবর্তিত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে সঙ্গীদের (মাযহাবের ইমামগণের) মতে পানিটি অপবিত্র হওয়ার ফয়সালা করা হবে। কারণ, এই পরিবর্তনকে পানিতে পতিত হওয়া সেই নিশ্চিত অপবিত্র বস্তুর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে, আর মূল নীতি হলো সেটি ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তনকারী সেখানে উপস্থিত নেই। তবে পরবর্তী যুগের কোনো কোনো ফকিহ এ বিষয়ে ভিন্ন একটি মত ব্যক্ত করেছেন যে, পানিটি পবিত্র থাকবে। তারা এটি শিকারের পরবর্তী মাসআলা থেকে গ্রহণ করেছেন। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর উত্তম; কারণ মূল বিষয় হলো পানির পবিত্রতা, যা কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে দূরীভূত হয় না।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি নিদ্রালু ব্যক্তির মাঝে ঘুমের আগে এমন কোনো কারণ পাওয়া যায় যা মযী (উত্তেজনার শুরুতে নির্গত পাতলা বীর্য) নির্গত হওয়ার দাবি রাখে—যেমন চিন্তা করা বা স্ত্রী-সহবাসের প্রাথমিক কার্যাদি ইত্যাদি—অতঃপর সে ঘুমাল এবং জাগ্রত হয়ে সিক্ততা দেখতে পেল কিন্তু তা মনি (বীর্য) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারল না এবং কোনো স্বপ্নও তার মনে নেই। এমতাবস্থায় ইমাম আহমাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত সুষ্পষ্ট বক্তব্য (নস) হলো, তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না। কারণ, নির্গত বস্তুকে সেই নিশ্চিত কারণের দিকে সম্বন্ধ করা হবে যা মযী নির্গত হওয়ার দাবি রাখে। কেননা মূল নীতি হলো সেটি ছাড়া অন্য কিছুর অস্তিত্ব না থাকা এবং তার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া। তবে ইমাম আহমাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে গোসল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে অন্য একটি বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ কোনো শিকারি প্রাণীকে এমনভাবে আঘাত করে যা তাৎক্ষণিক প্রাণনাশক নয়, অতঃপর প্রাণীটি তার চোখের আড়ালে চলে যায় এবং পরে সেটিকে মৃত অবস্থায় পায় আর সেখানে তার তির ছাড়া অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকে; তবে কি তা খাওয়া হালাল হবে? এ ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধটি হলো তা হালাল। এটি আদী বিন হাতিমের হাদীসের ভিত্তিতে।

দ্বিতীয় বর্ণনা হলো: তা হালাল নয়। কারণ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "যা তোমার চোখের সামনে প্রাণ হারিয়েছে তা খাও, আর যা তোমার চোখের আড়ালে গিয়ে মরেছে তা বর্জন করো।" একারণেই একে ‘ইসমা’ (তৎক্ষণাৎ শিকার) ও ‘ইনমা’র (আড়ালে গিয়ে মৃত্যু) মাসআলা বলা হয়। এ বিষয়ে তৃতীয় একটি বর্ণনাও রয়েছে: যদি প্রাণীটি এক রাত আড়ালে থাকে তবে তা হালাল হবে না, অন্যথায় হালাল হবে। এ ব্যাপারে একটি মারফু হাদীস রয়েছে যাতে দুর্বলতা আছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, রাতের বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ ও হিংস্র প্রাণী অনেক, ফলে এখানে বাহ্যিক অবস্থা (জাহির)—যা হলো অন্য কোনো কারণ বিদ্যমান থাকা যার ফলে প্রাণহানি ঘটেছে—তা মূলনীতির ওপর প্রবল হয়; আর মূলনীতিটি হলো তির ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হওয়া।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কোনো মুহরিম ব্যক্তি শিকারি প্রাণীকে এমনভাবে আঘাত করে যা তাৎক্ষণিক প্রাণনাশক নয়, অতঃপর তা তার চোখের আড়ালে চলে যায় এবং পরে সেটিকে মৃত অবস্থায় পায়; তবে সে কি পূর্ণ দণ্ড প্রদান করবে নাকি কেবল যখমের জরিমানা (আরশ) দেবে? এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে। জনৈক সঙ্গী কেবল যখমের জরিমানার ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন। কারণ এটিই নিশ্চিত বিষয় আর মূল হলো দায়মুক্তি।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ কোনো সংরক্ষিত (রক্ত সুরক্ষিত) মানুষকে এমনভাবে আঘাত করে যা তাৎক্ষণিক প্রাণনাশক নয়, অতঃপর সে মারা যায় এবং আঘাতকারী দাবি করে যে সে তার আঘাতের সংক্রমণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে মারা গেছে, আর অভিভাবক তা অস্বীকার করে; তবে কসমসহ অভিভাবকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে। অধিকাংশ সঙ্গী এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ বর্ণনা করেননি, কারণ প্রাণহানিকে সেই জ্ঞাত আঘাতের দিকেই সম্বন্ধ করা হবে। আর ‘আল-মুজাররাদ’ কিতাবে আছে যে, যদি সে আঘাতের পরপরই মারা যায় তবে অভিভাবকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে, আর যদি এমন সময় পরে মারা যায় যখন সচরাচর এই ধরনের আঘাত শুকিয়ে যায় (তবে ভিন্ন কথা)।

যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই আঘাতের কারণে রুগ্নাবস্থায় ছিল তবে পূর্বের হুকুমই বহাল থাকবে, নতুবা অপরাধীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। এ বিষয়ে অন্য একটি অভিমত হলো যে, (সর্বাবস্থায়) অভিভাবকের কথাই গ্রহণযোগ্য হবে।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ তার দাসীকে—যার একটি সন্তান রয়েছে—উদ্দেশ্য করে বলে যে, "এই সন্তানটি আমার পক্ষ থেকে", তবে এর দ্বারা কি দাসীটির ‘ইসতিলাদ’ (সন্তান প্রসবের কারণে আযাদ হওয়ার অধিকার) সাব্যস্ত হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

(প্রথমটি হলো): হ্যাঁ, হবে। কারণ আমরা এখানে মালিকানা ছাড়া বংশপরম্পরা (নাসাব) সাব্যস্ত হওয়ার অন্য কোনো সুনিশ্চিত কারণ জানি না। সুতরাং এই বংশপরম্পরাকে মালিকানার দিকেই সম্বন্ধ করা হবে, যা দাসীর ক্ষেত্রে ‘ইসতিলাদ’ সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে।

(দ্বিতীয়টি হলো): না, হবে না। কারণ এর আগে বিবাহ বা সন্দেহযুক্ত সহবাসের (ওয়াতইয়ে শুভহা) মাধ্যমে তার গর্ভধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

(তার অন্তর্ভুক্ত হলো) যদি কেউ অজ্ঞাত বংশপরিচয়ের কোনো ব্যক্তির দাসত্বের দাবি করে এবং সাক্ষীরা এই সাক্ষ্য দেয় যে, তার দাসী তাকে জন্ম দিয়েছে, কিন্তু তারা এ কথা বলেনি যে তা তার মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় হয়েছে; তবে কি তার অনুকূলে ফয়সালা দেওয়া হবে? এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৭)
رَجَّحَ الشَّيْخُ مَجْدُ الدِّينِ أَنَّهَا إنْ شَهِدَتْ أَنَّ أَمَتَهُ وَلَدَتْهُ وَنَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا فِيهِ إضَافَةُ الْوَلَدِ إلَى الْأَمَة الْمُضَافَةِ إلَيْهِ حُكِمَ لَهُ بِالْوَلَدِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ بِأَنْ شَهِدَتْ أَنَّ هَذَا وَلَدُ هَذِهِ الْأَمَةِ وَأَنَّ أُمَّهُ مِلْكٌ لَهُ لَمْ يُحْكَمْ لَهُ بِالْوَلَدِ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ قَالَ رَجُلٌ: هَذَا ابْنِي مِنْ زَوْجَتِي وَادَّعَتْ زَوْجَتُهُ ذَلِكَ وَادَّعَتْهُ امْرَأَةٌ أُخْرَى فَهُوَ ابْنُ الرَّجُلِ وَهَلْ تُرَجَّحُ زَوْجَتُهُ عَلَى الْأُخْرَى؟ عَلَى وَجْهَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: تُرَجَّحُ لِأَنَّ زَوْجَهَا أَبُوهُ فَالظَّاهِرُ أَنَّهَا أُمُّهُ.

وَالثَّانِي: يَتَسَاوَيَانِ لِأَنَّ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا لَوْ انْفَرَدَتْ لَأُلْحِقَ بِهَا فَإِذَا اجْتَمَعَتَا تَسَاوَتَا [ذَكَرَهُ فِي الْمُغْنِي] .

 

(وَمِنْهَا) لَوْ بَاعَ أَمَةً لَهُ مِنْ رَجُلٍ فَوَلَدَتْ عِنْدَ الْمُشْتَرِي فَادَّعَى الْبَائِعُ أَنَّهُ وَلَدُهُ فَصَدَّقَهُ الْمُشْتَرِي أَنَّهَا تَصِيرُ أُمَّ وَلَدٍ لِلْبَائِعِ وَيَنْفَسِخُ الْبَيْعُ نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ رحمه الله فِي رِوَايَةِ مُهَنَّا وَذَكَره أَبُو بَكْرٍ وَذَكَرَ ذَلِكَ الْقَاضِي فِي خِلَافِهِ وَتَأَوَّلَهُ عَلَى أَنَّهُ ادَّعَى أَنَّهَا وَلَدَتْ فِي مِلْكِهِ وَصَدَّقَهُ الْمُشْتَرِي عَلَى ذَلِكَ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ وَلَدَتْ الْمُطَلَّقَةُ الرَّجْعِيَّةُ وَلَدًا لَا يُمْكِنُ إلْحَاقُهُ بِالْمُطَلِّقِ إلَّا بِتَقْدِيرِ وَطْءٍ حَاصِلٍ مِنْهُ فِي زَمَنِ الْعِدَّةِ، فَهَلْ يَلْحَقُ بِهِ الْوَلَدُ فِي هَذِهِ الْحَالِ أَمْ لَا؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ أَصَحُّهُمَا لُحُوقُهُ لِأَنَّ الْفِرَاشَ لَمْ يَزُلْ بِالْكُلِّيَّةِ فَإِحَالَةُ الْحَمْلِ عَلَيْهِ أَوْلَى كَحَالَةِ صُلْبِ النِّكَاحِ وَعَلَى هَذَا فَهَلْ يُحْكَمُ بِارْتِجَاعِهَا بِلُحُوقِ النَّسَبِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ: أَصَحُّهُمَا وَهُوَ الْمَنْصُوصُ أَنَّهَا [تَصِيرُ] مُرْتَجَعَةً بِذَلِكَ وَيَنْبَنِي عَلَى ذَلِكَ مَسْأَلَةٌ مُشْكِلَةٌ فِي تَعْلِيقِ الطَّلَاقِ بِالْوِلَادَةِ ذَكَرَهَا صَاحِبُ الْمُحَرَّرِ فِيهِ وَأَمَّا شَكْلُ تَوْجِيهِهَا عَلَى الْأَصْحَابِ فَقَدْ أَفْرَدْنَا لَهَا جُزْءًا.

 

(وَمِنْهَا) أَنَّهُ يَجُوزُ اسْتِيفَاءُ الْحَقِّ مِنْ مَالِ الْغَرِيمِ إذَا كَانَ ثُمَّ سَبَبٌ ظَاهِرٌ يُحَالُ الْأَخْذُ عَلَيْهِ وَلَا يَجُوزُ إذَا كَانَ السَّبَبُ خَفِيًّا، هَذَا هُوَ ظَاهِرُ الْمَذْهَبِ فَيُبَاحُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَأْخُذَ مِنْ مَالِ زَوْجِهَا نَفَقَتَهَا وَنَفَقَةَ وَلَدِهَا بِالْمَعْرُوفِ وَلِلضَّيْفِ إذَا نَزَلَ بِالْقَوْمِ فَلَمْ يُقْرُوهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ بِقَدْرِ قِرَاهُ بِالْمَعْرُوفِ لِأَنَّ السَّبَبَ إذَا ظَهَرَ لَمْ يُنْسَبْ أَخْذُهُ إلَى خِيَانَةٍ بَلْ يُحَالُ أَخْذُهُ عَلَى السَّبَبِ الظَّاهِرِ بِخِلَافِ مَا إذَا خَفِيَ فَإِنَّهُ يُنْسَبُ بِالْأَخْذِ إلَى الْخِيَانَةِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ قَالَ فِي مَرَضِهِ أَنْ مِتُّ مِنْ مَرَضِي هَذَا فَسَالِمٌ حُرّ وَإِنْ بَرِئْت مِنْهُ فَغَانِمٌ حُرٌّ ثُمَّ مَاتَ وَلَمْ يُعْلَمْ هَلْ مَاتَ مِنْ الْمَرَضِ أَوْ بَرِئَ مِنْهُ فَفِيهِ ثَلَاثَةُ أَوْجُهٍ (أَحَدُهَا) يُعْتَقُ سَالِمٌ لِأَنَّ الْأَصْلَ دَوَامُ الْمَرَضِ وَعَدَمُ الْبُرْءِ وَلِأَنَّنَا قَدْ تَحَقَّقْنَا انْعِقَادَ سَبَبِ الْمَوْتِ بِمَرَضِهِ وَشَكَكْنَا فِي حُدُوثِ سَبَبٍ آخَرَ غَيْرِهِ فَيُحَالُ الْمَوْتُ عَلَى سَبَبِهِ الْمَعْلُومِ.

(وَالثَّانِي) : يُعْتَقُ أَحَدُهُمَا بِالْقُرْعَةِ لِأَنَّ أَحَدَ الشَّرْطَيْنِ وُجِدَ ظَاهِرًا وَجُهِلَ عَيْنُهُ.

(وَالثَّالِثُ) لَا يُعْتَقُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا لِاحْتِمَالِ أَنْ يَكُونَ مَاتَ فِي مَرَضِهِ ذَلِكَ بِسَبَبِ حَادِثٍ فِيهِ مِنْ قَتْلٍ أَوْ غَيْرِهِ فَلَمْ يَمُتْ مِنْ مَرَضِهِ وَلَمْ يَبْرَأْ مِنْهُ فَلَمْ يَتَحَقَّقْ وُجُودُ وَاحِدٍ مِنْ الشَّرْطَيْنِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ أَصْدَقَهَا تَعْلِيمَ سُورَةٍ مِنْ الْقُرْآنِ ثُمَّ طَلَّقَهَا وَوُجِدَتْ حَافِظَةً لَهَا وَتَنَازَعَا هَلْ عَلَّمَهَا الزَّوْجُ فَبَرِئَ مِنْ الصَّدَاقِ أَمْ لَا فَأَيُّهُمَا
শায়খ মাজদুদ্দীন এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, যদি সে (সাক্ষী) সাক্ষ্য দেয় যে মালিকের দাসী তাকে প্রসব করেছে অথবা এই জাতীয় কোনো কথা যাতে সন্তানকে মালিকের সাথে সম্পর্কিত দাসীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তবে মালিকের জন্য সন্তানের বংশীয় সম্পর্ক সাব্যস্ত করার বিধান দেওয়া হবে। কিন্তু যদি বিষয়টি এমন না হয়, যেমন সে সাক্ষ্য দিল যে এটি এই দাসীর সন্তান এবং তার মা ওই ব্যক্তির মালিকানাধীন, তবে তার জন্য সন্তানের বংশীয় সম্পর্ক সাব্যস্ত করার বিধান দেওয়া হবে না।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো ব্যক্তি বলে: "এটি আমার স্ত্রীর গর্ভজাত আমার পুত্র" এবং তার স্ত্রীও তা দাবি করে, আবার অন্য এক নারীও ওই সন্তানকে নিজের বলে দাবি করে, তবে সে ওই ব্যক্তির পুত্র হিসেবেই গণ্য হবে। কিন্তু অন্য নারীর তুলনায় তার স্ত্রীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে কি না? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে:

প্রথমটি: স্ত্রীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, কারণ তার স্বামীই হলো শিশুটির পিতা, তাই দৃশ্যত সে-ই তার মা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

দ্বিতীয়টি: তারা উভয়েই সমান বিবেচিত হবে; কারণ তাদের প্রত্যেকেই যদি একা দাবিদার হতো তবে সন্তানকে তার সাথে যুক্ত করা হতো, সুতরাং যখন তারা উভয়ে একত্র হয়েছে তখন তারা সমান। [আল-মুগনী গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে]।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো ব্যক্তি তার কোনো দাসীকে অন্য ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে এবং ক্রেতার নিকট থাকা অবস্থায় সে সন্তান প্রসব করে, অতঃপর বিক্রেতা দাবি করে যে এটি তার সন্তান এবং ক্রেতা তাকে সত্যায়ন করে, তবে সে (দাসী) বিক্রেতার জন্য 'উম্মু ওয়ালাদ' (সন্তানের মা) হয়ে যাবে এবং বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। ইমাম আহমদ (রহ.) মুহান্নার বর্ণনায় এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আবু বকরও এটি উল্লেখ করেছেন। আর কাজী তার 'খিলাফ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, বিক্রেতা দাবি করেছে যে দাসীটি তার মালিকানায় থাকাকালে সন্তান প্রসব করেছে এবং ক্রেতা তাকে সে বিষয়ে সত্যায়ন করেছে।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো রাজ'ঈ তালাকপ্রাপ্তা নারী (যাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে) এমন সন্তান প্রসব করে যাকে তালাকদাতার সাথে সম্পর্কিত করা সম্ভব নয় ইদ্দতকালীন সময়ে তার মাধ্যমে সহবাস হয়েছে এমন অনুমান করা ব্যতিরেকে, তবে এই অবস্থায় সন্তানটি কি তার সাথে সম্পর্কিত হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ হলো সন্তানটি তার সাথে সম্পর্কিত হবে; কারণ দাম্পত্য শয্যার অধিকার পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি, তাই গর্ভকে বৈবাহিক সম্পর্কের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করাই শ্রেয় যেমনটি নিকাহ চলাকালীন মূল অবস্থার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর ভিত্তিতে, বংশীয় সম্পর্ক সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে কি তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রুজু) বিধান দেওয়া হবে? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে: অধিকতর বিশুদ্ধ এবং স্পষ্টভাবে বর্ণিত মতটি হলো এর মাধ্যমে সে স্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল (রুজু) হবে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই সন্তান প্রসবের সাথে তালাককে ঝুলিয়ে রাখা (তা'লীক) সংক্রান্ত একটি জটিল মাসআলা উদ্ভূত হয়, যা 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের লেখক সেখানে উল্লেখ করেছেন। আর আমাদের মাযহাবের ইমামদের কাছে এর ব্যাখ্যা প্রদানের ধরন সম্পর্কে আমরা একটি স্বতন্ত্র অংশ রচনা করেছি।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) দেনাদারের সম্পদ থেকে পাওনাদারের নিজ পাওনা আদায় করে নেওয়া বৈধ যখন সেখানে কোনো স্পষ্ট কারণ বিদ্যমান থাকে যার ভিত্তিতে এই গ্রহণ করাকে ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু কারণটি গোপন থাকলে তা বৈধ নয়। এটিই মাযহাবের স্পষ্ট অভিমত। অতএব, নারীর জন্য বৈধ যে সে তার স্বামীর সম্পদ থেকে নিজের এবং তার সন্তানের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী (মারুফ পদ্ধতিতে) ভরণপোষণ গ্রহণ করবে। এবং মেহমান যখন কোনো কওমের নিকট উপস্থিত হয় এবং তারা তার মেহমানদারি না করে, তখন মেহমানের জন্য বৈধ যে সে তাদের সম্পদ থেকে মেহমানদারির সমপরিমাণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করবে। কারণ কারণটি যখন প্রকাশ্য থাকে, তখন তা গ্রহণ করাকে খেয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং তার এই গ্রহণকে প্রকাশ্য কারণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; পক্ষান্তরে কারণটি গোপন থাকলে সম্পদ গ্রহণ করার কারণে তাকে খেয়ানতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ তার অসুস্থ অবস্থায় বলে যে: "যদি আমি আমার এই অসুস্থতায় মারা যাই তবে সালিম স্বাধীন, আর যদি আমি এ থেকে সুস্থ হয়ে যাই তবে গানিম স্বাধীন।" অতঃপর সে মারা গেল কিন্তু জানা গেল না যে সে কি ওই অসুস্থতাতেই মারা গেছে নাকি সুস্থ হওয়ার পর মারা গেছে, তবে এ ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে: (প্রথমটি) সালিম স্বাধীন হয়ে যাবে, কারণ মূল নীতি হলো অসুস্থতা অব্যাহত থাকা এবং সুস্থতা অর্জিত না হওয়া; এবং যেহেতু আমরা তার অসুস্থতার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ কার্যকর হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত এবং অন্য কোনো কারণ ঘটার ব্যাপারে সন্দিহান, তাই মৃত্যুকে তার জানা কারণের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে।

(দ্বিতীয়টি): লটারির মাধ্যমে তাদের যে কোনো একজনকে মুক্ত করা হবে, কারণ দৃশ্যত দুটি শর্তের একটি পাওয়া গেছে কিন্তু সেটি নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

(তৃতীয়টি): তাদের কেউই মুক্ত হবে না, কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে সে ওই অসুস্থতাকালীন সময়ে অন্য কোনো আকস্মিক কারণে মারা গেছে যেমন হত্যা বা অন্য কিছু, ফলে সে তার ওই অসুস্থতাতেও মারা যায়নি আবার তা থেকে সুস্থও হয়নি; সুতরাং দুটি শর্তের কোনোটিই নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো ব্যক্তি মোহরানা হিসেবে স্ত্রীকে কুরআনের কোনো একটি সূরা শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে, অতঃপর তাকে তালাক দিয়ে দেয় এবং দেখা যায় যে স্ত্রী সেটি মুখস্থ জানে, এমতাবস্থায় তারা যদি বিবাদে লিপ্ত হয় যে স্বামী কি তাকে তা শিক্ষা দিয়েছে যার ফলে সে মোহরানা থেকে দায়মুক্ত হয়েছে কি না, তখন তাদের মধ্যে কোন জন...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৮)
يُقْبَلُ قَوْلُهُ.

فِيهِ وَجْهَانِ وَخَرَّجَ عَلَيْهِمَا الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ رحمه الله مَسْأَلَةَ اخْتِلَافِهِمَا فِي النَّفَقَةِ وَالْكِسْوَةِ مُدَّةَ مُقَامِهَا عِنْدَ الزَّوْجِ هَلْ كَانَتْ مِنْ الزَّوْجِ أَوْ مِنْهَا.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ ادَّعَى صَاحِبُ الزَّرْعِ أَنَّ غَنَمَ فُلَانٍ نَفَشَتْ فِيهِ لَيْلًا وَوُجِدَ فِي الزَّرْعِ أَثَرُ غَنَمِهِ.

قَضَى بِالضَّمَانِ عَلَى صَاحِبِ الْغَنَمِ نَصَّ عَلَيْهِ فِي رِوَايَةِ ابْنِ مَنْصُورٍ وَجَعَلَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ هَذَا وَأَشْبَاهَهُ مِنْ الْقِيَافَةِ فِي الْأَمْوَالِ وَجَعَلَهَا مُعْتَبَرَةً كَالْقِيَافَةِ فِي الْأَنْسَابِ وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ وَجْه آخَرُ أَنَّهُ لَا يُكْتَفَى بِذَلِكَ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ تَزَوَّجَ بِكْرًا فَادَّعَتْ أَنَّهُ عِنِّينٌ فَكَذَّبَهَا وَادَّعَى أَنَّهُ أَصَابَهَا وَظَهَرَتْ ثَيِّبًا فَادَّعَتْ أَنَّ ثُيُوبَتَهَا بِسَبَبٍ آخَرَ فَالْقَوْلُ قَوْلُ الزَّوْجِ، ذَكَرَهُ الْأَصْحَابُ وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ وَجْهٌ آخَرُ مِنْ الْمَسَائِلِ الْمُتَقَدِّمَةِ.

(وَمِنْهَا) اللَّوَثُ فِي الْقَسَامَةِ وَمَسَائِلُهُ مَعْرُوفَةٌ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الرَّابِعَة عَشَرَ وُجِدَ سَبَبُ إيجَابٍ أَوْ تَحْرِيمٍ مِنْ أَحَدِ رَجُلَيْنِ لَا يُعْلَمُ عَيْنُهُ]

(الْقَاعِدَةُ الرَّابِعَةَ عَشَرَ) : إذَا وُجِدَ سَبَبُ إيجَابٍ أَوْ تَحْرِيمٍ مِنْ أَحَدِ رَجُلَيْنِ لَا يُعْلَمُ عَيْنُهُ مِنْهُمَا، فَهَلْ يَلْحَقُ الْحُكْمُ بِكُلٍّ مِنْهُمَا أَوْ لَا يَلْحَقُ بِوَاحِدٍ مِنْهُمَا شَيْءٌ فِي الْمَسْأَلَةِ خِلَافٌ وَلَهَا صُوَرٌ: (إحْدَاهَا) إذَا وَجَدَ اثْنَانِ مَنِيًّا فِي ثَوْبٍ يَنَامَانِ فِيهِ أَوْ سَمِعَا صَوْتًا خَارِجًا وَلَمْ يُعْلَمْ مِنْ أَيِّهِمَا هُوَ فَفِي الْمَسْأَلَةِ رِوَايَتَانِ (إحْدَاهُمَا) لَا يَلْزَمُ وَاحِدًا مِنْهُمَا غُسْلٌ وَلَا وُضُوءٌ نَظَرًا إلَى أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مُتَيَقِّنٌ لِلطَّهَارَةِ شَاكّ فِي الْحَدَثِ.

(وَالثَّانِيَةُ) : يَلْزَمُهُمَا الْغُسْلُ وَالْوُضُوءُ لِأَنَّ الْأَصْلَ زَالَ يَقِينًا فِي أَحَدِهِمَا فَتَعَذَّرَ الْبَقَاءُ عَلَيْهِ وَتَعَيَّنَ الِاحْتِيَاطُ وَلَمْ يُلْتَفَتْ إلَى النَّظَرِ فِي كُلِّ وَاحِدٍ بِمُفْرَدِهِ كَثَوْبَيْنِ أَوْ إنَاءَيْنِ نَجِسَ أَحَدُهُمَا.

 

(الصُّورَةُ الثَّانِيَةُ) قَالَ أَحَدُ الرَّجُلَيْنِ إنْ كَانَ هَذَا الطَّائِرُ غُرَابًا فَامْرَأَتِي طَالِقٌ، وَقَالَ الْآخَرُ إنْ لَمْ يَكُنْ غُرَابًا فَامْرَأَتِي طَالِقٌ وَغَابَ وَلَمْ يُعْلَمْ مَا هُوَ.

فَفِيهَا وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: مَا قَالَ الْقَاضِي فِي الْمُجَرَّدِ وَأَبُو الْخَطَّابِ وَغَيْرُهُمَا يَبْنِي كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى يَقِينٍ نِكَاحَهُ.

وَالثَّانِي: وَهُوَ اخْتِيَارُ الشِّيرَازِيِّ فِي الْإِيضَاحِ وَابْنِ عَقِيلٍ أَنَّهُ تَخْرُجُ الْمُطَلَّقَةُ مِنْهُمَا بِالْقُرْعَةِ.

وَقَالَ الْقَاضِي فِي الْجَامِعِ هُوَ قِيَاسُ الْمَذْهَبِ لِأَنَّ وَاحِدَةً مِنْهُمَا طَلُقَتْ يَقِينًا فَأُخْرِجَتْ بِالْقُرْعَةِ كَمَا لَوْ كَانَتْ الزَّوْجَتَانِ لِرَجُلٍ وَاحِدٍ وَذَكَرَ بَعْضُ الْأَصْحَابِ احْتِمَالًا يَقْتَضِي وُقُوعَ الطَّلَاقِ بِهِمَا حُكْمًا كَمَا تَجِبُ الطَّهَارَةُ عَلَيْهِمَا فِي الْمَسْأَلَةِ الْأُولَى وَقَدْ أَوْمَأَ إلَيْهِ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ
তার কথা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে দুটি মত (ওয়াজহ) রয়েছে। শাইখ তাকিউদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) এ দুটির ওপর ভিত্তি করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একটি বিরোধের মাসআলা উদ্ভাবন (তাখরিজ) করেছেন; যা হলো—স্ত্রীর স্বামীর কাছে অবস্থানকালীন সময়ের ভরণপোষণ ও পোশাকের খরচ কি স্বামী দিয়েছিল নাকি স্ত্রী নিজে বহন করেছিল।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি ফসলের মালিক দাবি করে যে, অমুকের ছাগল রাতে তার ফসলের খেতে ঢুকে নষ্ট করেছে এবং সেই খেতে তার ছাগলের চিহ্ন পাওয়া যায়।

তবে ছাগলের মালিকের ওপর ক্ষতিপূরণের ফয়সালা দেওয়া হবে। ইবনে মানসুরের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। শাইখ তাকিউদ্দীন একে এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোকে সম্পদের ক্ষেত্রে 'কিয়াফাহ' (চিহ্ন দেখে শনাক্তকরণ) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে বংশপরিচয় নির্ধারণে কিয়াফাহ-র মতোই গ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে অন্য একটি মতও (ওয়াজহ) বেরিয়ে আসে যে, কেবল এর ওপর ভিত্তি করাই যথেষ্ট নয়।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো ব্যক্তি একজন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করে, অতঃপর স্ত্রী দাবি করে যে স্বামী পুরুষত্বহীন (ইন্নীন), আর স্বামী তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে দাবি করে যে সে তার সাথে সহবাস করেছে এবং দেখা যায় যে সে কুমারী নয়; এমতাবস্থায় স্ত্রী দাবি করে যে তার কুমারীত্ব অন্য কোনো কারণে নষ্ট হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে স্বামীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। হাম্বলী মাযহাবের ফকিহগণ (আসহাব) এটি উল্লেখ করেছেন। তবে পূর্বোক্ত মাসআলাগুলো থেকে এক্ষেত্রে অন্য একটি মতও (ওয়াজহ) বের করা সম্ভব।

(তন্মধ্যে একটি হলো) কাসামাহ-এর ক্ষেত্রে 'লাউস' (হত্যাকাণ্ডের অস্পষ্ট আলামত) এবং এর মাসআলাগুলো সুপরিচিত।

 

‌‌[চতুর্দশ কায়দা: যদি এমন কোনো ওয়াজিব হওয়ার বা হারাম হওয়ার কারণ পাওয়া যায় যা দুই ব্যক্তির কোনো একজনের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কাকে তা জানা নেই]

(চতুর্দশ কায়দা): যখন দুই ব্যক্তির মধ্যে এমন একজনের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হওয়ার বা হারাম হওয়ার কারণ পাওয়া যায় যার পরিচয় নির্দিষ্টভাবে জানা নেই, তখন কি সেই হুকুম তাদের উভয়ের ওপর বর্তাবে নাকি তাদের কারো ওপরই কোনো কিছু বর্তাবে না? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং এর কয়েকটি রূপ রয়েছে: (প্রথমটি) যদি দুই ব্যক্তি এমন একটি কাপড়ে বীর্য দেখতে পায় যাতে তারা উভয়েই ঘুমিয়েছিল, অথবা তারা নির্গত কোনো শব্দ (বায়ু নিঃসরণের) শুনতে পায় কিন্তু জানা নেই যে সেটি কার থেকে নির্গত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (রিওয়ায়াত) রয়েছে। (প্রথম রিওয়ায়াতটি হলো) তাদের কারোর ওপরই গোসল বা অযু ওয়াজিব হবে না। এর কারণ হলো—তাদের প্রত্যেকেই নিজের পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত এবং অপবিপবিত্রতা (হাদাস) অর্জনের ব্যাপারে সন্দিহান।

(দ্বিতীয় রিওয়ায়াতটি হলো): তাদের উভয়ের ওপরই গোসল ও অযু করা আবশ্যক হবে। কেননা তাদের কোনো একজনের ক্ষেত্রে মূল অবস্থা (পবিত্রতা) নিশ্চিতভাবে দূরীভূত হয়েছে, ফলে সেই অবস্থার ওপর বহাল থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং সতর্কতা অবলম্বন করা অবধারিত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেককে এককভাবে বিবেচনা করা হবে না; যেমন দুটি কাপড় বা দুটি পাত্রের কোনো একটি অপবিত্র হয়ে যাওয়ার মাসআলার মতো।

 

(দ্বিতীয় রূপ) এক ব্যক্তি বলল, "যদি এই পাখিটি কাক হয় তবে আমার স্ত্রী তালাক," এবং অন্যজন বলল, "যদি এটি কাক না হয় তবে আমার স্ত্রী তালাক।" অতঃপর পাখিটি উড়ে চলে গেল এবং সেটি আসলে কী ছিল তা জানা সম্ভব হলো না।

এক্ষেত্রে দুটি মত (ওয়াজহ) রয়েছে:

প্রথমটি: যা আল-কাদি আবু ইয়ালা 'আল-মুজাররাদ' গ্রন্থে, আবুল খাত্তাব এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ বিবাহের নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে।

দ্বিতীয়টি: এটি শিরাজী 'আল-ঈজাহ' গ্রন্থে এবং ইবনে আকিল পছন্দ (ইখতিয়ার) করেছেন যে, লটারির (কুরআহ) মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে তালাকপ্রাপ্তাকে নির্ধারণ করা হবে।

আল-কাদি 'আল-জামি' গ্রন্থে বলেছেন যে, এটিই মাযহাবের কিয়াস (যৌক্তিক দাবি); কারণ তাদের একজনের স্ত্রী নিশ্চিতভাবে তালাকপ্রাপ্ত হয়েছে, তাই লটারির মাধ্যমে তাকে বের করা হবে, যেমনটি এক ব্যক্তির দুই স্ত্রীর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। আর কিছু ফকিহ (আসহাব) এমন একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আইনগতভাবে (হুকমান) উভয়ের ওপরই তালাক পতিত হবে, যেমনটি প্রথম মাসআলায় উভয়ের ওপর পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব হয়েছিল। ইমাম আহমাদ একটি বর্ণনায় এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
صَالِحٍ، وَحَكَى لَهُ قَوْلَ الشَّعْبِيِّ فِي رَجُلٍ قَالَ لِآخَرَ إنَّك لَحَسُودٌ فَقَالَ لَهُ الْآخَرُ أَحَسَدَنَا امْرَأَتُهُ طَالِقٌ ثَلَاثًا فَقَالَ الْآخَرُ نَعَمْ، قَالَ الشَّعْبِيُّ حَنِثْتُمَا وَخَسِرْتُمَا وَبَانَتْ مِنْكُمَا امْرَأَتَاكُمَا جَمِيعًا وَحَكَى لَهُ قَوْلَ الْحَارِثِ أَدَيِّنُهُمَا وَآمُرُهُمَا بِتَقْوَى اللَّهِ عز وجل وَأَقُولُ أَنْتُمَا أَعْلَمُ بِمَا حَلَفْتُمَا عَلَيْهِ، فَقَالَ أَحْمَدُ هَذَا شَيْءٌ لَا يُدْرَكُ أَلْقَاهُمَا فِي التَّهْلُكَةِ فَإِنْكَارُهُ لِقَوْلِ الْحَارِثِ يَدُلُّ عَلَى مُوَافَقَتِهِ لِقَوْلِ الشَّعْبِيِّ بِوُقُوعِ الطَّلَاقِ فِيهِمَا.

هَذَا هُوَ الظَّاهِرُ ذَكَرَهُ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ وَقَالَ هُوَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ حَلَفَ عَلَى مَا لَمْ يَعْلَمْ صِحَّتَهُ أَوْ مَا لَا تُدْرَكُ صِحَّتُهُ فَيَحْنَثُ كَقَوْلِ مَالِكٍ.

وَيَدُلُّ عَلَيْهِ تَعْلِيلُ أَحْمَدَ وُقُوعُ الطَّلَاقِ عَلَى مَنْ قَالَ أَنْتِ طَالِقٌ إنْ شَاءَ اللَّهُ بِأَنَّ مَشِيئَةَ اللَّهِ لَا تُدْرَكُ وَهَذَا الْقَوْلُ فِيهِ بُعْدٌ لِأَنَّ إيقَاعَ طَلَاقِهِمَا يُفْضِي إلَى أَنْ يُبَاحَ لِلْأَزْوَاجِ مَنْ هِيَ فِي زَوْجِيَّةِ الْغَيْرِ بَاطِنًا، وَفِي إجْبَارِهِمَا عَلَى تَجْدِيدِ الطَّلَاقِ إجْبَارُ الْإِنْسَانِ عَلَى قَطْعِ مِلْكِهِ بِغَيْرِ حَقٍّ وَهُوَ ضَرَرٌ بِخِلَافِ إيجَابِ الطَّهَارَةِ عَلَيْهِمَا فَإِنَّهُ لَا ضَرَرَ فِيهِ وَلَنَا وَجْهٌ آخَرُ بِوُجُوبِ اعْتِزَالِ كُلٍّ مِنْهُمَا زَوْجَتَهُ حَتَّى يَتَيَقَّنَ الْأَمْرَ وَنَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ رحمه الله فِي رِوَايَةِ عَبْدِ اللَّهِ وَنَقَلَ حَرْبٌ عَنْ أَحْمَدَ رحمه الله أَنَّهُ ذَكَرَ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ فَتَوَقَّفَ فِيهَا وَقَالَ أَحَبُّ إلَيَّ أَنْ لَا أَقُولَ فِيهَا شَيْئًا وَتَوَقَّفَ عَنْهَا

 

(الصُّورَةُ الثَّالِثَةُ) قَالَ أَحَدُهُمَا إنْ كَانَ غُرَابًا فَأَمَتِي حُرَّةٌ وَقَالَ الْآخَرُ إنْ لَمْ يَكُنْ غُرَابًا فَأَمَتِي حُرَّةٌ وَفِيهَا الْوَجْهَانِ الْمَذْكُورَانِ فِي الطَّلَاقِ، وَقِيَاسُ الْمَنْصُوصِ هَهُنَا أَنْ يَكُفَّ كُلُّ وَاحِدٍ عَنْ وَطْءِ أَمَتِهِ حَتَّى يَتَيَقَّنَ فَإِنْ اشْتَرَى أَحَدُهُمَا أَمَةَ الْآخَرِ عَيَّنَ الْمُعْتَقَةَ مِنْهُمَا بِالْقُرْعَةِ عَلَى أَصَحِّ الْوَجْهَيْنِ لِاجْتِمَاعِهِمَا فِي مِلْكِهِ وَإِحْدَاهُمَا عَتِيقَةٌ كَمَا قُلْنَا لَا يَصِحُّ أَنْ يَأْتَمَّ أَحَدَهُمَا بِالْآخَرِ فِي الصُّورَةِ الْأُولَى لِأَنَّ أَحَدَهُمَا مُحْدِثٌ يَقِينًا فَيُنْظَرُ إلَيْهِمَا مُجْتَمِعَيْنِ فِي حُكْمٍ يَتَعَلَّقُ بِاجْتِمَاعِهِمَا.

وَلَيْسَ مِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ إذَا وَطِئَ اثْنَانِ امْرَأَةً بِشُبْهَةٍ فِي طُهْرٍ وَأَتَتْ بِوَلَدٍ وَضَاعَ نَسَبُهُ لِفَقْدِ الْقَافَةِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ وَأَرْضَعَتْ أُمُّهُ بِلَبَنِهِ وَلَدًا آخَرَ فَإِنَّهُ يَصِيرُ حُكْمُ كُلٍّ مِنْ الصَّغِيرَيْنِ حُكْمَ وَلَدٍ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الرَّجُلَيْنِ عَلَى الصَّحِيحِ لِأَنَّهُ لَمْ يَتَعَيَّنْ أَنْ يَكُونَ الْوَلَدُ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا بَلْ يَجُوزُ عِنْدَنَا أَنْ يَكُونَ لَهُمَا فَلَيْسَ مِمَّا نَحْنُ فِيهِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَة الْخَامِسَة عَشَر اسْتَصْحَبْنَا أَصْلًا وأعملنا ظَاهِرًا فِي طَهَارَةِ شَيْء أَوْ حِلِّهِ أَوْ حُرْمَتِهِ وَكَانَ لَازِمُ ذَلِكَ تَغَيُّرَ أَصْلٍ آخَرَ يَجِبُ اسْتِصْحَابُهُ]

(الْقَاعِدَةُ الْخَامِسَةَ عَشَر) : إذَا اسْتَصْحَبْنَا أَصْلًا وَأَعْمَلْنَا ظَاهِرًا فِي طَهَارَةِ شَيْءٍ أَوْ حِلِّهِ أَوْ حُرْمَتِهِ وَكَانَ لَازِمُ ذَلِكَ تَغَيُّرَ أَصْلٍ آخَرَ يَجِبُ اسْتِصْحَابُهُ أَوْ تَرْكُ الْعَمَلِ بِظَاهِرٍ آخَرَ يَجِب إعْمَالِهِ لَمْ يُلْتَفَتْ إلَى ذَلِكَ اللَّازِمِ عَلَى الصَّحِيحِ، وَلِذَلِكَ صُوَرٌ:
সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাকে (ইমাম আহমাদকে) আশ-শা'বীর একটি বক্তব্য শোনালেন। জনৈক ব্যক্তি অন্য একজনকে বলল, "তুমি অবশ্যই হিংসুক।" তখন অন্যজন তাকে বলল, "যদি আমরা হিংসুক হই তবে আমার স্ত্রী তিন তালাক।" অপরজন বলল, "হ্যাঁ (তুমি হিংসুক)।" আশ-শা'বী বলেন, "তোমরা উভয়েই শপথ ভঙ্গ করেছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ, আর তোমাদের উভয়ের স্ত্রীই তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।" তিনি তাকে আল-হারিসের বক্তব্যও শোনালেন যে, "আমি তাদের উভয়ের বিষয়টি তাদের দ্বীনদারীর ওপর ছেড়ে দেব এবং তাদের আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেব, আর বলব যে তোমরা যে বিষয়ে শপথ করেছ তা তোমরাই ভালো জানো।" ইমাম আহমাদ বললেন, "এটি এমন একটি বিষয় যা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তিনি তাদের ধ্বংসে নিপতিত করেছেন।" আল-হারিসের বক্তব্যের প্রতি তার এই অস্বীকৃতি আশ-শা'বীর মতের সাথে তার ঐকমত্য নির্দেশ করে যে, উভয়ের ক্ষেত্রেই তালাক কার্যকর হবে।

এটিই প্রকাশ্য মত, যা শায়খ তাকিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি এই ভিত্তির ওপর যে, সে এমন বিষয়ের ওপর শপথ করেছে যার সঠিকতা সে জানে না অথবা যার সঠিকতা নির্ণয় করা সম্ভব নয়, ফলে মালিকী মাযহাবের মতানুসারে সে শপথ ভঙ্গকারী সাব্যস্ত হবে।

ইমাম আহমাদের সেই যুক্তিও এর সপক্ষে যায় যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে "ইনশাআল্লাহ তুমি তালাক", তার তালাক কার্যকর হবে; কারণ আল্লাহর ইচ্ছা উপলব্ধি করা যায় না। তবে এই বক্তব্যের মধ্যে দুর্বলতা আছে, কেননা তাদের তালাক কার্যকর করা এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে অন্যদের জন্য এমন নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ হয়ে যায় যারা বাস্তবে অন্যের স্ত্রী হিসেবে বিদ্যমান। আর তাদের পুনরায় তালাক দিতে বাধ্য করার অর্থ হলো একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে তার মালিকানা ছিন্ন করতে বাধ্য করা, যা একটি ক্ষতি। এটি তাদের ওপর পবিত্রতা ওয়াজিব করার মতো নয়, কারণ তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আমাদের (মাযহাবের) আরেকটি মত হলো, বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ স্ত্রী থেকে দূরে থাকে। ইমাম আহমাদ (রহ.) আবদুল্লাহর বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর হারব ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এই মাসআলাটি আলোচনা করে থমকে গেছেন (তাওয়াক্কুফ করেছেন) এবং বলেছেন, "এই বিষয়ে কিছু না বলাই আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়" এবং তিনি এ থেকে বিরত থাকেন।

 

(তৃতীয় অবস্থা) তাদের একজন বলল, "যদি এটি দাঁড়কাক হয় তবে আমার দাসী মুক্ত।" অন্যজন বলল, "যদি এটি দাঁড়কাক না হয় তবে আমার দাসী মুক্ত।" এতে তালাকের ক্ষেত্রে বর্ণিত দুটি মতই প্রযোজ্য হবে। এখানে বর্ণিত কিয়াস হলো, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকেই নিজ দাসীর সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকবে। যদি তাদের একজন অন্যজনের দাসীকে কিনে নেয়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে মুক্ত দাসীকে নির্দিষ্ট করবে। কারণ তারা এখন একজনের মালিকানায় একত্রিত হয়েছে এবং তাদের একজন নিশ্চিতভাবেই মুক্ত। যেমনটি আমরা বলেছি, প্রথম অবস্থায় একজনের পেছনে অন্যজনের ইক্তিদা করা সহীহ হবে না, কারণ তাদের একজন নিশ্চিতভাবেই অপবিত্র (হাদাসগ্রস্ত)। অতএব, তাদের উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো বিধানের ক্ষেত্রে তাদের একত্রে বিবেচনা করা হবে।

যদি দুইজন ব্যক্তি ভুলবশত (শুবহাহ) একই মহিলার সাথে এক পবিত্রতা পিরিয়ডের মধ্যে সহবাস করে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, আর বংশধারা নির্ণয়কারী বিশেষজ্ঞের অভাব বা অন্য কারণে তার বংশ পরিচয় হারিয়ে যায় এবং তার মা সেই সন্তানের দুধের মাধ্যমে অন্য একটি শিশুকে দুধ পান করায়, তবে সেই দুই শিশুর প্রত্যেকের হুকুম দুই ব্যক্তির প্রত্যেকের সন্তানের হুকুমের মতোই হবে। এটি বিশুদ্ধ মত। কারণ এখানে সন্তানটি তাদের একজনেরই হবে তা নির্দিষ্ট হয়নি, বরং আমাদের মতে উভয়ের হওয়া সম্ভব। সুতরাং এটি আমাদের আলোচিত নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

‌‌[পঞ্চদশ নীতি: যখন আমরা কোনো কিছুর পবিত্রতা, বৈধতা বা অবৈধতার ক্ষেত্রে মূল অবস্থার ধারাবাহিকতা (ইসতিসহাব) বজায় রাখি এবং প্রকাশ্য অবস্থার ওপর আমল করি, আর তার আবশ্যিক ফল হিসেবে অন্য একটি মূল অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায় যা বজায় রাখা ওয়াজিব ছিল।]

(পঞ্চদশ নীতি): যখন আমরা কোনো কিছুর পবিত্রতা, বৈধতা বা অবৈধতার ক্ষেত্রে মূল অবস্থার ধারাবাহিকতা (ইসতিসহাব) বজায় রাখি এবং প্রকাশ্য অবস্থার (জাহির) ওপর আমল করি, আর তার ফলে অন্য একটি মূল অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায় যা বজায় রাখা ওয়াজিব ছিল, অথবা অন্য একটি প্রকাশ্য অবস্থার ওপর আমল করা ছেড়ে দিতে হয় যার ওপর আমল করা ওয়াজিব ছিল; তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে সেই আবশ্যিক ফলাফলের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। এর কয়েকটি রূপ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২০)
مِنْهَا) إذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهِ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ بَلَلًا وَقُلْنَا لَا يَلْزَمُهُ الْغُسْلُ عَلَى مَا سَبَقَ فِيمَا إذَا تَقَدَّمَ مِنْهُ سَبَبُ الْمَذْي فَلَا يَلْزَمُهُ أَيْضًا غَسْلُ ثَوْبِهِ بِحَيْثُ نَقُولُ إنَّمَا سَقَطَ عَنْهُ الْغُسْلُ لِحُكْمِنَا بِأَنَّ الْبَلَلَ مَذْيٌ بَلْ نَقُولُ فِي ثَوْبِهِ الْأَصْلُ طَهَارَتُهُ فَلَا يَنْجُسُ بِالشَّكِّ، وَالْأَصْلُ طَهَارَةُ بَدَنِهِ فَلَا يَلْزَمُهُ الْغُسْلُ بِالشَّكِّ فَيَبْقَى فِي كُلٍّ مِنْهُمَا عَلَى أَصْلِهِ، ذَكَرَهُ ابْنُ عَقِيلٍ فِي فُنُونِهِ عَنْ الشَّرِيفِ أَبِي جَعْفَرٍ وَيَنْبَغِي عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ أَنْ لَا تَجُوزَ لَهُ الصَّلَاةُ قَبْلَ الِاغْتِسَالِ فِي ذَلِكَ الثَّوْبِ قَبْلَ غَسْلِهِ لِأَنَّا نَتَيَقَّنُ وُجُودَ الْمُفْسِدِ لِلصَّلَاةِ لَا مَحَالَةَ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا لَبِسَ خُفًّا ثُمَّ أَحْدَثَ ثُمَّ صَلَّى وَشَكَّ هَلْ مَسَحَ عَلَى الْخُفِّ قَبْلَ الصَّلَاةِ أَوْ بَعْدَهَا وَقُلْنَا ابْتِدَاءُ الْمُدَّةِ مِنْ الْمَسْحِ جَعَلْنَا ابْتِدَاءَهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ وَأَوْجَبْنَا إعَادَةَ الصَّلَاةِ لِأَنَّ الْأَصْلَ وُجُوبُ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ وَالْأَصْلُ بَقَاءُ الصَّلَاةِ فِي الذِّمَّةِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا رَمَى حَيَوَانًا مَأْكُولًا بِسَهْمٍ وَلَمْ يُوَحِّهِ فَوَقَعَ فِي مَاءٍ يَسِيرٍ فَوَجَدَهُ مَيْتًا فِيهِ فَإِنَّ الْحَيَوَانَ لَا يُبَاحُ خَشْيَةَ أَنْ يَكُونَ الْمَاءُ أَعَانَ عَلَى قَتْلِهِ وَالْأَصْلُ تَحْرِيمُهُ حَتَّى يَتَيَقَّنَ وُجُودَ السَّبَبِ الْمُبِيحِ لَهُ وَلَا يَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ نَجَاسَةُ الْمَاءِ أَيْضًا لِحُكْمِنَا عَلَى الصَّيْدِ بِأَنَّهُ مَيْتَةِ، بَلْ يُسْتَصْحَبُ فِي الْمَاءِ أَصْلُ الطَّهَارَةِ فَلَا يُنَجِّسُهُ بِالشَّكِّ ذَكَرَهُ ابْنُ عَقِيلٍ فِي فُصُولِهِ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ فِي غَضَبٍ اعْتَدِّي وَظَهَرَتْ مِنْهُ قَرَائِنُ تَدُلُّ عَلَى إرَادَتِهِ التَّعْرِيضَ بِالْقَذْفِ أَوْ فَسَّرَهُ بِالْقَذْفِ فَإِنَّهُ يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ لِأَنَّهُ كِنَايَةٌ اقْتَرَنَ بِهَا غَضَبٌ وَهَلْ يُحَدُّ مَعَهَا ذَكَرَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي الْمُفْرَدَاتِ احْتِمَالَيْنِ:

(أَحَدُهُمَا) : وَبِهِ جَزَمَ فِي عُمَدِ الْأَدِلَّةِ أَنَّهُ يُحَدُّ ; لِأَنَّهُمَا حَقَّانِ عَلَيْهِ فَلَا يُصَدَّقُ فِيمَا الطِّبْرِسِ حدا مِنْهُمَا.

(وَالثَّانِي) : لَا يُحَدُّ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ قَذْفًا لَمْ يَكُنْ طَلَاقًا لِتَنَافِيهِمَا وَمِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ الْأَحْكَامُ الَّتِي يَثْبُتُ بَعْضُهَا دُونَ بَعْضٍ كَإِرْثِ الَّذِي أَقَرَّ بِنَسَبِهِ مَنْ لَا يَثْبُتُ النَّسَبُ بِقَوْلِهِ وَالْحُكْمُ بِلُحُوقِ النَّسَبِ فِي مَوَاضِعَ كَثِيرَةٍ لَا يَثْبُتُ فِيهَا لَوَازِمُهُ الْمَشْكُوكُ فِيهَا مِنْ بُلُوغِ أَحَدِ أَبَوَيْهِ وَاسْتِقْرَارِ الْمَهْرِ أَوْ ثُبُوتِ الْعِدَّةِ وَالرَّجْعَةِ أَوْ الْحَدِّ أَوْ ثُبُوتِ الْوَصِيَّةِ لَهُ أَوْ الْمِيرَاثِ وَهِيَ مَسَائِلُ كَثِيرَةٌ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ السَّادِسَة عَشْر إذَا كَانَ الْوَاجِبُ بَدَلًا فَتَعَذَّرَ الْوُصُول إلَى الْأَصْلِ حَالَةَ الْوُجُوبِ]

(الْقَاعِدَةُ السَّادِسَةَ عَشَرَ) : إذَا كَانَ الْوَاجِبُ بَدَلًا فَتَعَذَّرَ الْوُصُولُ إلَى الْأَصْلِ حَالَةَ الْوُجُوبِ، فَهَلْ يَتَعَلَّقُ الْوُجُوبُ بِالْبَدَلِ تَعَلُّقًا مُسْتَقِرًّا بِحَيْثُ لَا يَعُودُ إلَى الْأَصْلِ عِنْدَ وُجُودِهِ لِلْمَسْأَلَةِ صُوَرٌ عَدِيدَةٌ: (مِنْهَا) هَدْيُ الْمُتْعَةِ إذَا عَدِمَهُ وَوَجَبَ الصِّيَامُ عَلَيْهِ ثُمَّ وَجَدَ الْهَدْيَ قَبْلَ الشُّرُوعِ فِيهِ، فَهَلْ يَجِبُ
(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ ঘুম থেকে জেগে তার পোশাকে সিক্ততা লক্ষ্য করে এবং আমরা যদি বলি যে—পূর্বে যেমন আলোচনা হয়েছে—যদি মযী নির্গত হওয়ার কারণ উপস্থিত থাকে তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না, তবে সেক্ষেত্রে তার পোশাক ধৌত করাও আবশ্যক হবে না। বিষয়টি এমন নয় যে, সিক্ততাকে মযী হিসেবে ফয়সালা করার কারণে তার ওপর থেকে গোসল রহিত হয়েছে; বরং আমরা বলব যে, তার পোশাকের মৌলিক অবস্থা হলো পবিত্রতা, সুতরাং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তা অপবিত্র হবে না। অনুরূপভাবে তার শরীরের মৌলিক অবস্থা হলো পবিত্রতা, তাই সন্দেহের কারণে গোসল ওয়াজিব হবে না। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই তা নিজ নিজ মৌলিক অবস্থার ওপর বহাল থাকবে। ইবনে আকীল তার 'ফুনুন' গ্রন্থে শরীফ আবু জাফর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। এই হিসাব অনুযায়ী, গোসল করার আগে এবং উক্ত পোশাক ধৌত করার আগে তাতে সালাত আদায় করা বৈধ হওয়া উচিত নয়, কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে এখানে সালাত নষ্টকারী কোনো একটি উপাদানের উপস্থিতি অবশ্যই রয়েছে।

 

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) যখন কেউ মোজা পরিধান করে অতঃপর ওযু ভঙ্গ করে, এরপর সালাত আদায় করে এবং এই সন্দেহ পোষণ করে যে, সে সালাতের আগে মোজার ওপর মাসাহ করেছে নাকি পরে; আর আমরা যদি বলি যে মেয়াদের গণনা মাসাহ করার সময় থেকে শুরু হয়, তবে আমরা মেয়াদের সূচনা সালাতের পূর্ব থেকেই ধরব এবং সালাত পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব করব। কারণ মূল বিধান হলো দুই পা ধৌত করা এবং মূল অবস্থা হলো জিম্মায় সালাতের দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকা।

 

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) যদি কেউ কোনো ভক্ষণযোগ্য প্রাণীকে তীর নিক্ষেপ করে এবং তা তৎক্ষণাৎ না মরে বরং অল্প পানিতে গিয়ে পড়ে এবং সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে সেই প্রাণীটি খাওয়া বৈধ হবে না এই আশঙ্কায় যে, পানি হয়তো তাকে হত্যা করতে সাহায্য করেছে। আর মূল বিধান হলো সেটি হারাম হওয়া যতক্ষণ না তাকে হালালকারী কারণের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে জানা যায়। এর দ্বারা পানির নাপাক হওয়াও আবশ্যক হয় না যদিও আমরা শিকারটিকে মৃত প্রাণী হিসেবে গণ্য করি। বরং পানির ক্ষেত্রে তার মৌলিক অবস্থা অর্থাৎ পবিত্রতা বজায় থাকবে এবং সন্দেহের কারণে তা অপবিত্র হবে না। ইবনে আকীল এটি তার 'ফুসুল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) যদি কেউ রাগের মাথায় তার স্ত্রীকে বলে "তুমি ইদ্দত পালন করো" এবং এমন কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় যা দ্বারা অপবাদ দেওয়ার (কাযফ) উদ্দেশ্য বোঝা যায় অথবা সে নিজেই এর ব্যাখ্যা অপবাদ হিসেবে দেয়, তবে এর দ্বারা তালাক পতিত হবে। কারণ এটি এমন একটি পরোক্ষ শব্দ (কিনায়া) যার সাথে রাগ যুক্ত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এর সাথে কি তার ওপর দণ্ড (হদ্দ) কার্যকর হবে? ইবনে আকীল 'মুফরাদাত' গ্রন্থে দুটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন:

(প্রথমটি) : এবং 'উমাদুল আদিল্লাহ' গ্রন্থে তিনি এই মতটিকেই সুনিশ্চিত করেছেন যে, তার ওপর দণ্ড কার্যকর হবে; কারণ এটি তার ওপর দুটি পাওনা হক, তাই যে বিষয়ে দণ্ড সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সে বিষয়ে তাকে সত্যায়ন করা হবে না।

(দ্বিতীয়টি) : তার ওপর দণ্ড কার্যকর হবে না; কারণ যদি এটি অপবাদই হতো তবে তা তালাক হতো না, কারণ এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী। এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত সেই সমস্ত বিধান যা আংশিকভাবে সাব্যস্ত হয় কিন্তু অন্য অংশ হয় না, যেমন এমন ব্যক্তির উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হওয়া যার বংশ পরিচয় কেউ স্বীকার করেছে কিন্তু যার স্বীকারোক্তিতে বংশ পরিচয় সাব্যস্ত হয় না। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে বংশ পরিচয় সাব্যস্ত হওয়ার হুকুম দেওয়া হয় কিন্তু তার সাথে জড়িত সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো সাব্যস্ত হয় না, যেমন পিতা-মাতার একজনের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, মোহরানা সুনিশ্চিত হওয়া, ইদ্দত ও রাজআত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া) সাব্যস্ত হওয়া, দণ্ড কার্যকর হওয়া, তার জন্য অসিয়ত সাব্যস্ত হওয়া অথবা উত্তরাধিকার লাভ। এ জাতীয় মাসআলা অনেক রয়েছে।

 

‌‌[ষোড়শ মূলনীতি: যখন ওয়াজিবটি স্থলাভিষিক্ত বা বদল হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং ওয়াজিব হওয়ার সময় মূল বিষয়ের নাগাল পাওয়া অসম্ভব হয়]

(ষোড়শ মূলনীতি) : যখন ওয়াজিবটি স্থলাভিষিক্ত বা বদল হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং ওয়াজিব হওয়ার সময় মূল বিষয়ের নাগাল পাওয়া অসম্ভব হয়, তবে কি সেই ওয়াজিবটি স্থলাভিষিক্ত বিষয়ের সাথে এমন স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে যাবে যে মূল বিষয় পাওয়া গেলেও আর সেদিকে ফিরে আসা যাবে না? এই মাসআলার অনেকগুলো ধরণ রয়েছে: (তন্মধ্যে একটি হলো) মুতআ হজ্জের কুরবানি (হাদি) যদি কেউ না পায় এবং তার ওপর রোযা রাখা ওয়াজিব হয়, অতঃপর রোযা শুরু করার আগেই সে পশুর নাগাল পায়, তবে কি তার ওপর ওয়াজিব হবে...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২১)
عَلَيْهِ الِانْتِقَالُ أَمْ لَا يَنْبَنِي عَلَى الِاعْتِبَارِ فِي الْكَفَّارَاتِ بِحَالِ الْوُجُوبِ أَوْ بِحَالِ الْفِعْلِ فِيهِ رِوَايَتَانِ فَإِنْ قُلْنَا بِحَالِ الْوُجُوبِ صَارَ الصَّوْمُ أَصْلًا لَا بَدَلًا وَعَلَى هَذَا فَهَلْ يُجْزِئُهُ فِعْلُ الْأَصْلِ وَهُوَ الْهَدْيُ؟ الْمَشْهُورُ أَنَّهُ يُجْزِئُهُ لِأَنَّهُ الْأَصْلُ فِي الْجُمْلَةِ وَإِنَّمَا سَقَطَ رُخْصَةً، وَحَكَى الْقَاضِي فِي شَرْحِ الْمَذْهَبِ عَنْ ابْنِ حَامِدٍ أَنَّهُ لَا يُجْزِئُهُ.

(وَمِنْهَا) كَفَّارَةُ الظِّهَارِ وَالْيَمِينِ وَنَحْوِهِمَا وَالْحُكْمُ فِيهِمَا كَهَدْيِ الْمُتْعَةِ.

 

(وَمِنْهَا) إذَا أَتْلَفَ شَيْئًا لَهُ مِثْلٌ وَتَعَذَّرَ وُجُودُ الْمِثْلِ وَحَكَمَ الْحَاكِمُ بِأَدَاءِ الْقِيمَةِ ثُمَّ وَجَدَ الْمِثْلَ قَبْلَ الْأَدَاءِ وَجَبَ أَدَاءُ الْمِثْلِ ذَكَرَهُ الْأَصْحَابُ لِأَنَّهُ قَدَرَ عَلَى الْأَصْلِ قَبْلَ أَدَاءِ الْبَدَلِ فَيَلْزَمُهُ كَمَا إذَا وَجَدَ الْمَاءَ قَبْلَ الصَّلَاةِ، وَيَنْبَغِي أَنْ يُحْمَلَ كَلَامُهُمْ عَلَى مَا إذَا قَدَرَ عَلَى الْمِثْلِ عِنْدَ الْإِتْلَافِ ثُمَّ عَدِمَهُ إمَّا إنْ عَدِمَهُ ابْتِدَاءً فَلَا يَبْعُد أَنْ يَخْرُجَ فِي وُجُوبِ أَدَاءِ الْمِثْلِ خِلَافٌ، وَأَمَّا التَّيَمُّمُ فَلَا يُشْبِهُ مَا نَحْنُ فِيهِ لِأَنَّهُ لَوْ وَجَدَ الْمَاءَ بَعْدَ فَرَاغِهِ مِنْهُ لَبَطَلَ وَوَجَبَ اسْتِعْمَالُ الْمَاءِ بِنَصِّ الشَّارِعِ وَهَاهُنَا لَوْ أَدَّى الْقِيمَةَ لَبَرِئَ وَلَمْ يَلْزَمْهُ أَدَاءُ الْمِثْلِ بَعْدَ وُجُودِهِ.

وَقَالَ فِي التَّلْخِيصِ عَلَى الْأَظْهَرِ وَهُوَ يَشْعُرُ بِخِلَافٍ فِيهِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ جَعَلَ الْإِمَامُ لِمَنْ دَلَّهُ عَلَى حِصْنٍ جَارِيَةً مِنْ أَهْلِهِ فَأَسْلَمَتْ بَعْدَ الْفَتْحِ أَوْ قَبْلَهُ وَكَانَتْ أَمَةً فَإِنَّهُ يَجِبُ لَهُ قِيمَتُهَا إذَا كَانَ كَافِرًا لِأَنَّهُ تَعَذَّرَ تَسْلِيمُ عَيْنِهَا إلَيْهِ فَوَجَبَ لَهُ الْبَدَلُ فَإِنْ أَسْلَمَ بَعْدَ إسْلَامِهَا، فَهَلْ يَعُودُ حَقُّهُ إلَى عَيْنِهَا فِيهِ؟ لِأَصْحَابِنَا وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: لَا يَعُودُ لِأَنَّ حَقَّهُ اسْتَقَرَّ فِي الْقِيمَةِ فَلَا يَنْتَقِلُ إلَى غَيْرِهَا.

وَالثَّانِي: بَلَى لِأَنَّهُ إنَّمَا اُنْتُقِلَ إلَى الْقِيمَةِ لِمَانِعٍ وَقَدْ زَالَ فَيَعُودُ حَقُّهُ إلَيْهَا.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ أَصْدَقَهَا شَجَرًا فَأَثْمَرَتْ ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ الدُّخُولِ وَامْتَنَعَتْ مِنْ دَفْعِ نِصْفِ الثَّمَرَةِ مَعَ الْأَصْلِ تَعَيَّنَتْ لَهُ الْقِيمَةُ فَإِنْ قَالَ أَنَا أَرْجِعُ فِي نِصْفِ الشَّجَرَةِ وَأَتْرُكُ الثَّمَرَةَ عَلَيْهَا أَوْ أَتْرُكُ الرُّجُوعَ حَتَّى تَجُدِّي ثَمَرَتَك ثُمَّ أَرْجِعُ فِيهِ فَفِيهِ وَجْهَانِ حَكَاهُمَا الْقَاضِي وَغَيْرُهُ

(أَحَدُهُمَا) : لَا يُجْبَرُ عَلَى قَبُولِ ذَلِكَ وَهُوَ الَّذِي ذَكَرَهُ ابْنُ عَقِيلٍ لِأَنَّ الْحَقَّ قَدْ انْتَقَلَ مِنْ الْعَيْنِ فَلَمْ يَعُدْ إلَيْهَا إلَّا بِتَرَاضِيهِمَا.

(وَالثَّانِي) : يُجْبَرُ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لَا ضَرَرَ عَلَيْهَا فَلَزِمَهَا كَمَا لَوْ وَجَدَهَا نَاقِصَةً فَرَضِيَ بِهَا فَعَلَى هَذَا الْحَقُّ بَاقٍ فِي الْعَيْنِ وَالطِّمْرِسُ فِي مِلْكِهَا وَكَذَلِكَ ذَكَرَ الْقَاضِي فِي مَوْضِعٍ مِنْ الْمُجَرَّدِ أَنَّهُ إذَا لَمْ يَأْخُذْ الْقِيمَةَ حَتَّى قُطِعَ الطَّلْعُ وَعَادَ النَّخْلُ كَمَا كَانَ أَنَّ لِلزَّوْجِ الرُّجُوعَ فِي نِصْفِهِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ طَلَّقَهَا قَبْلَ الدُّخُولِ وَقَدْ بَاعَتْ الصَّدَاقَ فَلَمْ يَأْخُذْ نِصْفَ قِيمَتِهِ حَتَّى فُسِخَ الْبَيْعُ لِعَيْبٍ.

قَالَ الْأَصْحَابُ: لَيْسَ لَهُ أَخْذُ نِصْفِهِ لِأَنَّ حَقَّهُ وَجَبَ فِي الْقِيمَةِ وَلَمْ تَكُنْ الْعَيْنُ [حِينَئِذٍ] فِي مِلْكِهِمَا وَلَا يَبْعُدُ أَنْ يَخْرُجَ فِيهِ وَجْهٌ آخَرُ بِالرُّجُوعِ كَالَّتِي قَبْلَهَا وَهَذَا إذَا لَمْ نَقُلْ إنَّهُ يَدْخُلُ فِي مِلْكِهِ قَهْرًا كَالْمِيرَاثِ فَإِنْ قُلْنَا يَدْخُلُ قَهْرًا عَادَ حَقُّهُ إلَى الْعَيْنِ بِعَوْدِهَا إلَيْهَا وَلَا يُقَالُ هَذَا عَادَ إلَيْهَا مِلْكًا جَدِيدًا فَلَا يَسْتَحِقُّ الرُّجُوعَ فِيهِ كَمَا لَا يَسْتَحِقُّ الْأَبُ الرُّجُوعَ فِيمَا خَرَجَ عَنْ مِلْكِ الِابْنِ ثُمَّ عَادَ، لِأَنَّهُمْ
তার ওপর স্থানান্তরের বিষয়টি কি কাফফারার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়ার সময়ের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হবে, নাকি আদায়ের সময়ের অবস্থার ওপর? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আমরা যদি ওয়াজিব হওয়ার সময়ের অবস্থার কথা বলি, তবে রোজা 'আসল' বা মূল সাব্যস্ত হবে, বিনিময় (বদল) হিসেবে নয়। এমতাবস্থায় মূল কাজ অর্থাৎ হাদী (কুরবানির পশু) কি যথেষ্ট হবে? প্রসিদ্ধ মত হলো এটি যথেষ্ট হবে, কারণ সামগ্রিকভাবে এটিই মূল। এটি কেবল সহজীকরণের (রুখসাত) কারণে বাদ পড়েছিল। তবে আল-কাযী 'শারহুল মাযহাব'-এ ইবনে হামিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি যথেষ্ট হবে না।

(এর অন্তর্ভুক্ত) যিহার ও শপথের কাফফারা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। এ দুটির বিধান হাজ্জে তামাত্তু’র হাদীর বিধানের মতোই।

 

(এর অন্তর্ভুক্ত) যখন কেউ এমন কোনো বস্তু নষ্ট করে যার অনুরূপ (মিসল) বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু সেই অনুরূপ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় বিচারক তার মূল্য পরিশোধের রায় দেন, অতঃপর মূল্য পরিশোধের আগেই অনুরূপ বস্তুটি পাওয়া যায়; তবে এক্ষেত্রে অনুরূপ বস্তুটি প্রদান করা ওয়াজিব হবে। ফকীহগণ এটি উল্লেখ করেছেন, কারণ বিনিময়ের পূর্বেই তিনি মূলের ওপর সক্ষমতা লাভ করেছেন। ফলে এটি তার ওপর অবধারিত হবে, যেমন সালাতের আগে পানি পাওয়ার বিষয়টি। তাঁদের বক্তব্যকে সেই পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন যেখানে নষ্ট করার সময় অনুরূপ বস্তুর ওপর সক্ষমতা ছিল কিন্তু পরে তা হারিয়ে ফেলে। তবে যদি শুরু থেকেই তা না থাকে, তবে অনুরূপ বস্তু প্রদানের আবশ্যকতা নিয়ে দ্বিমত হওয়া বিচিত্র নয়। আর তায়াম্মুমের বিষয়টি বর্তমান আলোচনার সদৃশ নয়; কেননা তায়াম্মুম শেষ করার পর পানি পাওয়া গেলে তা বাতিল হয়ে যায় এবং শারী'আতের বিধান অনুযায়ী পানি ব্যবহার করা ওয়াজিব হয়। কিন্তু এখানে যদি তিনি মূল্য পরিশোধ করে দেন, তবে তিনি দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং অনুরূপটি পাওয়ার পর পুনরায় তা প্রদান করা তাঁর ওপর আবশ্যক হবে না।

আর 'আত-তালখীস' গ্রন্থে 'সবচেয়ে স্পষ্ট মতানুসারে' বলা হয়েছে, যা এ বিষয়ে মতভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করে।

 

(এর অন্তর্ভুক্ত) ইমাম যদি কোনো দুর্গের সন্ধানদাতার জন্য সেই দুর্গের অধিবাসীদের মধ্য থেকে কোনো দাসীকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দেন, অতঃপর বিজয়ের আগে বা পরে সেই দাসী ইসলাম গ্রহণ করে এবং সে যদি দাসী হয়ে থাকে; তবে সন্ধানদাতা যদি কাফির হয় তবে তাকে উক্ত দাসী হস্তান্তর করা অসম্ভব বিধায় তাকে দাসীটির মূল্য দিতে হবে। যদি দাসী ইসলাম গ্রহণের পর উক্ত ব্যক্তিও ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কি সেই দাসীর ওপর তার অধিকার ফিরে আসবে? এ বিষয়ে আমাদের মাযহাবের ফকীহগণের দুটি মত রয়েছে:

প্রথমত: ফিরে আসবে না; কেননা তার অধিকার মূল্যের ওপর স্থির হয়ে গেছে, তাই তা অন্য কিছুতে স্থানান্তরিত হবে না।

দ্বিতীয়ত: হ্যাঁ, ফিরে আসবে; কেননা বাধার কারণে অধিকারটি মূল্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল, এখন যেহেতু বাধা দূর হয়েছে, তাই তার অধিকার মূল বস্তুর দিকেই ফিরে যাবে।

 

(এর অন্তর্ভুক্ত) যদি মোহর হিসেবে কিছু গাছ প্রদান করা হয় এবং তাতে ফল আসে, অতঃপর মিলনের পূর্বেই স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং স্ত্রী গাছের অর্ধেক ফলের অংশ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে স্বামীর জন্য মূল্য নির্ধারিত হবে। কিন্তু স্বামী যদি বলে, "আমি অর্ধেক গাছ ফেরত নেব এবং ফল তার ওপর ছেড়ে দেব" অথবা "আমি ফল পাড়া পর্যন্ত আমার ফিরে পাওয়ার অধিকার স্থগিত রাখব এবং তারপর ফেরত নেব", এ বিষয়ে আল-কাযী ও অন্যান্যরা দুটি মত বর্ণনা করেছেন।

(এক): স্ত্রীকে এটি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না; এটি ইবনে আকীল উল্লেখ করেছেন। কারণ অধিকারটি মূল বস্তু থেকে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তাই উভয়ের সম্মতি ব্যতীত তা ফিরে আসবে না।

(দুই): তাকে বাধ্য করা হবে; কারণ এতে তার কোনো ক্ষতি নেই। এটি সেই অবস্থার মতো যেখানে কেউ কোনো ত্রুটিযুক্ত বস্তু পেয়ে তাতে সন্তুষ্ট থাকে। এই মতানুসারে অধিকারটি মূল বস্তুর মধ্যেই অবশিষ্ট থাকে এবং ফল তার মালিকানায় থাকে। অনুরূপভাবে আল-কাযী 'আল-মুজাররাদ'-এর এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, স্বামী যদি মূল্য গ্রহণ না করে যতক্ষণ না ফল পেড়ে ফেলা হয় এবং খেজুর গাছ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে, তবে স্বামীর জন্য সেই অর্ধেক গাছ ফেরত নেওয়ার অধিকার থাকবে।

 

(এর অন্তর্ভুক্ত) যদি মিলনের পূর্বেই তালাক দেওয়া হয় এবং স্ত্রী মোহর বিক্রি করে ফেলে থাকে, অতঃপর ত্রুটির কারণে সেই বিক্রয় চুক্তি বাতিল হওয়া পর্যন্ত স্বামী অর্ধেক মূল্য গ্রহণ না করে থাকে।

ফকীহগণ বলেছেন: তার জন্য অর্ধেক বস্তু গ্রহণ করার অধিকার নেই; কারণ তার অধিকার মূল্যের ওপর অবধারিত হয়েছিল এবং তখন সেই বস্তুটি তাদের মালিকানায় ছিল না। তবে পূর্ববর্তী মাসআলার ন্যায় এখানেও ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অন্য একটি মত থাকা বিচিত্র নয়। এটি তখনই হবে যখন আমরা এটিকে মিরাসের মতো বাধ্যতামূলকভাবে মালিকানায় প্রবেশের পর্যায়ভুক্ত না বলব। যদি আমরা বলি এটি বাধ্যতামূলকভাবে প্রবেশ করে, তবে বস্তুটি ফিরে আসার সাথে সাথে তার অধিকারও ফিরে আসবে। এক্ষেত্রে এমনটি বলা যাবে না যে, এটি নতুন মালিকানা হিসেবে ফিরে এসেছে, তাই ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকবে না; যেমনটি পিতার ক্ষেত্রে হয় যখন কোনো বস্তু সন্তানের মালিকানা থেকে বেরিয়ে পুনরায় ফিরে আসে। কারণ তারা...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২২)
قَالُوا لَوْ عَادَ إلَيْهَا قَبْلَ الطَّلَاقِ لَرَجَعَ فِيهِ بِغَيْرِ خِلَافٍ لِأَنَّ حَقَّهُ فِيهِ ثَابِتٌ بِالْقُرْآنِ.

وَفِي شَرْحِ الْهِدَايَةِ لِأَبِي الْبَرَكَاتِ مَا يَدُلُّ عَلَى عَكْسِ مَا ذَكَرْنَا وَهُوَ أَنَّا إنْ قُلْنَا يَدْخُلُ نِصْفُ الْمَهْرِ فِي مِلْكِ الزَّوْجِ قَهْرًا فَلَيْسَ لَهُ الْعَوْدُ إلَى عَيْنِهِ بِحَالٍ نَظَرًا إلَى أَنَّ الْقِيمَةَ تَقُومُ مَقَامَ الْعَيْنِ عِنْدَ امْتِنَاعِ الرُّجُوعِ فِي الْعَيْنِ فَيَمْلِكُ نِصْفَ الْقِيمَةِ قَهْرًا حِينَئِذٍ، وَلَا يَنْتَقِلُ حَقُّهُ عَنْهَا بَعْدَ ذَلِكَ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ اشْتَرَى عَيْنًا وَرَهَنَهَا أَوْ تَعَلَّقَ بِهَا حَقُّ شُفْعَةٍ أَوْ جِنَايَةٍ ثُمَّ أَفْلَسَ ثُمَّ أَسْقَطَ الْمُرْتَهِنُ أَوْ الشَّفِيعُ أَوْ الْمَجْنِيُّ عَلَيْهِ حَقَّهُ فَالْبَائِعُ أَحَقُّ بِهَا مِنْ الْغُرَمَاءِ لِزَوَالِ الْمُزَاحَمَةِ عَلَى ظَاهِرِ كَلَامِ الْقَاضِي وَابْنِ عَقِيلٍ، ذَكَرَهُ أَبُو الْبَرَكَاتِ فِي شَرْحِهِ، وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ وَجْهٌ خُرَّ أَنَّهُ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ السَّابِعَةَ عَشْر تَقَابَلَ عَمَلَانِ ذُو شَرَفٍ فِي نَفْسِهِ وَرِفْعَةٍ وَهُوَ وَاحِدٌ وَالْآخَرُ ذُو تَعَدُّدٍ فِي نَفْسِهِ وَكَثْرَةٍ]

(الْقَاعِدَةُ السَّابِعَةَ عَشَرَ) : إذَا تَقَابَلَ عَمَلَانِ أَحَدُهُمَا ذُو شَرَفٍ فِي نَفْسِهِ وَرِفْعَةٍ وَهُوَ وَاحِدٌ، وَالْآخَرُ ذُو تَعَدُّدٍ فِي نَفْسِهِ وَكَثْرَةٍ، فَأَيُّهُمَا يُرَجَّحُ.

ظَاهِرُ كَلَامِ أَحْمَدَ تَرْجِيحُ الْكَثْرَةِ وَلِذَلِكَ صُوَرٌ.

(أَحَدُهَا) إذَا تَعَارَضَ صَلَاةُ رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ وَصَلَاةُ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فِي زَمَنٍ وَاحِدٍ فَالْمَشْهُورُ أَنَّ الْكَثْرَةَ أَفْضَلُ، وَحُكِيَ عَنْ أَحْمَدَ رِوَايَةٌ أُخْرَى بِالْعَكْسِ وَحُكِيَ عَنْهُ رِوَايَةٌ ثَالِثَةٌ بِالتَّسْوِيَةِ.

 

(وَالثَّانِيَة) أَهْدَى بَدَنَةً سَمِينَةً بِعَشَرَةٍ وَبَدَنَتَيْنِ بِعَشَرَةٍ أَوْ بِأَقَلَّ قَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ قُلْت لِأَحْمَدَ بَدَنَتَانِ سَمِينَتَانِ بِتِسْعَةٍ وَبَدَنَةٌ بِعَشَرَةٍ قَالَ ثِنْتَانِ أَعْجَبُ إلَيَّ.

وَرَجَّحَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ تَفْضِيلَ الْبَدَنَةِ السَّمِينَةِ، وَفِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد حَدِيثٌ يَدُلُّ عَلَيْهِ.

 

(وَالثَّالِثَةُ) رَجُلٌ قَرَأَ بِتَدَبُّرٍ وَتَفَكُّرٍ سُورَةً وَآخَرُ قَرَأَ فِي تِلْكَ الْمُدَّةِ سُوَرًا عَدِيدَةً سَرْدًا.

قَالَ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي قيماز وَسُئِلَ أَيُّمَا أَحَبُّ إلَيْكَ التَّرَسُّلُ أَوْ الْإِسْرَاعُ، قَالَ: أَلَيْسَ قَدْ جَاءَ بِكُلِّ حَرْفٍ كَذَا وَكَذَا حَسَنَةً؟ قَالُوا لَهُ: فِي السُّرْعَةِ؟ قَالَ: إذَا صَوَّرَ الْحَرْفَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يُسْقِطْ مِنْ الْهِجَاءِ، وَهَذَا ظَاهِرٌ فِي تَرْجِيحِ الْكَثْرَةِ عَلَى التَّدَبُّرِ، وَنَقَلَ عَنْهُ حَرْبٌ أَنَّهُ كَرِهَ السُّرْعَةَ إلَّا أَنْ يَكُونَ لِسَانُهُ كَذَلِكَ لَا يَقْدِرُ أَنْ يَتَرَسَّلَ، وَحَمَلَ الْقَاضِي الْكَرَاهَةَ عَلَى مَا إذَا لَمْ يُبَيِّنْ الْحُرُوفَ، نَقَلَ عَنْهُ مُثَنَّى بْنُ جَامِعٍ فِي رَجُلٍ أَكَلَ فَشَبِعَ وَأَكْثَرَ الصَّلَاةَ وَالصِّيَامَ وَرَجُلٍ أَقَلَّ الْأَكْلَ فَقَلَّتْ نَوَافِلُهُ وَكَانَ أَكَثَرَ فِكْرَةً أَيُّهُمَا أَفْضَلُ فَذَكَرَ مَا جَاءَ فِي الْفِكْرِ: تَفَكُّرُ سَاعَةٍ خَيْرٌ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةٍ قَالَ فَرَأَيْت هَذَا عِنْدَهُ أَكْثَرَ يَعْنِي الْفِكْرَ، وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى تَفْضِيلِ قِرَاءَةِ التَّفَكُّر عَلَى السُّرْعَةِ، وَهُوَ اخْتِيَارُ الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ وَهُوَ الْمَنْصُوصُ صَرِيحًا عَنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ.

 

(وَالرَّابِعَةُ) رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا ارْتَاضَتْ نَفْسُهُ عَلَى الطَّاعَةِ وَانْشَرَحَتْ
তারা বলেছেন, যদি তিনি তালাকের আগে তার (মালের) কাছে ফিরে আসেন, তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিনি এতে ফিরে যেতে পারবেন, কারণ এতে তার অধিকার কুরআনের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত।

আর আবুল বারাকাতের শারহুল হিদায়াহ-তে এমন কিছু রয়েছে যা আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের বিপরীত নির্দেশ করে। আর তা হলো, যদি আমরা বলি যে মোহরের অর্ধেক বাধ্যতামূলকভাবে স্বামীর মালিকানায় প্রবেশ করে, তবে কোনোভাবেই তার পক্ষে মূল বস্তুতে (আইন) ফিরে আসার সুযোগ নেই। এর কারণ হলো, মূল বস্তুতে ফিরে আসা যখন অসম্ভব হয়, তখন মূল্যই মূল বস্তুর স্থলাভিষিক্ত হয়; ফলে সেক্ষেত্রে তিনি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্যের অর্ধেক মালিক হবেন এবং এরপর সেখান থেকে তার অধিকার স্থানান্তরিত হবে না।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ কোনো বস্তু ক্রয় করে তা বন্ধক রাখে অথবা তার সাথে শাফআ (অগ্রক্রয়াধিকার) বা অপরাধজনিত কোনো অধিকার সংশ্লিষ্ট হয়, এরপর সে দেউলিয়া হয়ে যায়, অতঃপর বন্ধকগ্রহীতা বা শাফআ’র দাবিদার অথবা যার প্রতি অপরাধ করা হয়েছে সে তার অধিকার ত্যাগ করে; তবে কাজী এবং ইবনে আকীলের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী বিক্রেতাই পাওনাদারদের তুলনায় ওই বস্তুর অধিক হকদার, যেহেতু প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গেছে। আবু বারাকাত তার শারহ-এ এটি উল্লেখ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে অন্য একটি অভিমতও বের হয়ে আসে যে, সে অন্যান্য পাওনাদারদের মতোই গণ্য হবে।

 

‌‌[সপ্তদশ নীতি: যখন এমন দুটি আমল পরস্পর মুখোমুখি হয় যার একটি সয়ং মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চস্তরের কিন্তু তা সংখ্যায় এক, আর অন্যটি সয়ং বহুমাত্রিক ও সংখ্যায় অধিক]

(সপ্তদশ নীতি): যখন দুটি আমল পরস্পর মুখোমুখি হয় যার একটি সয়ং মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চস্তরের কিন্তু তা সংখ্যায় এক, আর অন্যটি সয়ং বহুমাত্রিক ও সংখ্যায় অধিক; তবে এ দুটির মধ্যে কোনটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে?

ইমাম আহমাদ-এর বক্তব্যের প্রকাশ্য দিক হলো আধিক্যকে প্রাধান্য দেওয়া, আর এর কয়েকটি রূপ রয়েছে।

(প্রথমটি) যদি একই সময়ের মধ্যে দীর্ঘ কেরাতসহ দুই রাকাত সালাত এবং চার রাকাত সালাত পড়ার বিষয়টি সামনে আসে, তবে প্রসিদ্ধ মত হলো সংখ্যায় অধিক হওয়াটাই উত্তম। ইমাম আহমাদ থেকে এর বিপরীত একটি বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে সমতার তৃতীয় একটি বর্ণনাও পাওয়া যায়।

 

(দ্বিতীয়টি) কেউ দশ দিরহাম দিয়ে একটি মোটাতাজা উট হাদিয়া দিল, আবার কেউ দশ দিরহাম বা তার চেয়ে কমে দুটি উট হাদিয়া দিল। ইবনে মনসুর বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে বললাম, নয় দিরহাম মূল্যের দুটি মোটাতাজা উট নাকি দশ দিরহাম মূল্যের একটি উট? তিনি বললেন: দুটি উটই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।

আর শাইখ তাকিউদ্দীন একটি মোটাতাজা উটকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সুনানে আবু দাউদে এর স্বপক্ষে একটি হাদিস রয়েছে।

 

(তৃতীয়টি) এক ব্যক্তি চিন্তা ও গবেষণার সাথে একটি সূরা পাঠ করল, আর অন্য ব্যক্তি ওই একই সময়ে দ্রুততার সাথে অনেকগুলো সূরা পাঠ করল।

জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে আবি কাইমাজের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেন—তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আপনার কাছে কোনটি বেশি প্রিয়, ধীরে ধীরে পড়া নাকি দ্রুত পড়া? তিনি বললেন: প্রতিটি হরফের বিনিময়ে কি এত এত নেকি আসার কথা বর্ণিত হয়নি? তারা তাঁকে বলল: দ্রুত পড়ার ক্ষেত্রেও কি তা হবে? তিনি বললেন: যদি সে জিহবা দিয়ে হরফগুলো যথাযথভাবে উচ্চারণ করে এবং কোনো বর্ণ বাদ না দেয়। এটি গবেষণার চেয়ে আধিক্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট। আর হারব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দ্রুত পড়াকে অপছন্দ করতেন, যদি না কারও জিহবা এমন হয় যে সে ধীরে পড়তে সক্ষম নয়। কাজী এই অপছন্দনীয়তাকে ওই অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন যখন হরফগুলো স্পষ্ট করে উচ্চারণ করা হয় না। মুসান্না ইবনে জামি’ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—এমন এক ব্যক্তি যে পেটভরে খাবার খেল এবং অধিক সালাত ও সিয়াম পালন করল, আর অন্য এক ব্যক্তি যে কম আহার করল যার ফলে তার নফল ইবাদত কমে গেল কিন্তু তার চিন্তা ও গবেষণা অধিক ছিল; এ দুজনের মধ্যে কে উত্তম? তখন তিনি ফিকির সম্পর্কে বর্ণিত কথাটি উল্লেখ করলেন: "এক মুহূর্তের চিন্তা এক রাতের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম তাঁর নিকট এটিই (অর্থাৎ ফিকির) অধিক গুরুত্বের ছিল। এটি দ্রুত পড়ার চেয়ে চিন্তা ও গবেষণার সাথে পাঠ করার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। আর এটিই শাইখ তাকিউদ্দীনের পছন্দ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত।

 

(চতুর্থটি) দুই ব্যক্তি, যাদের একজনের আত্মা আনুগত্যের ওপর অভ্যস্ত হয়েছে এবং প্রশস্ত হয়েছে
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
بِهَا وَتَنَعَّمَتْ وَبَادَرْت إلَيْهَا طَوَاعِيَةً وَمَحَبَّةً، وَالْآخَرُ يُجَاهِدُ نَفْسَهُ عَلَى تِلْكَ الطَّاعَاتِ وَيُكْرِهُهَا عَلَيْهَا أَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ الْخَلَّالُ كَتَبَ إلَيَّ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْإِسْكَافِيُّ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الرَّجُلِ يُشْرَعُ لَهُ وَجْهُ بِرٍّ فَيَحْمِلُ نَفْسَهُ عَلَى الْكَرَاهَةِ وَآخَرَ يُشْرَعُ لَهُ فَيُسَرُّ بِذَلِكَ، فَأَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ أَلَمْ تَسْمَعْ «النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَهُوَ كَبِيرٌ يَشُقُّ عَلَيْهِ فَلَهُ أَجْرَانِ» ، وَهَذَا ظَاهِرٌ فِي تَرْجِيحِ الْمُكْرِهِ نَفْسَهُ لِأَنَّ لَهُ عَمَلَيْنِ جِهَادًا وَطَاعَةً أُخْرَى، وَلِذَلِكَ كَانَ لَهُ أَجْرَانِ، وَهَذَا قَوْلُ ابْنِ عَطَاءٍ وَطَائِفَةٍ مِنْ الصُّوفِيَّةِ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي سُلَيْمَانَ وَالنُّخَامَ، وَعِنْدَ الْجُنَيْدِ وَجَمَاعَةٍ مِنْ عُبَّادِ الْبَصْرَةِ أَنَّ الْبَاذِلَ لِذَلِكَ طَوْعًا وَمَحَبَّةً أَفْضَلُ وَهُوَ اخْتِيَارُ الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ لِأَنَّ مُقَامَهُ فِي طُمَأْنِينَةِ النَّفْسِ أَفْضَلُ مِنْ أَعْمَالٍ مُتَعَدِّدَةٍ وَلِأَنَّهُ مِنْ أَرْبَابِ الْمَنَازِلِ وَالْمَقَامَاتِ وَالْآخَرُ مِنْ أَرْبَابِ الصِّلْهَامِ وَالْبِدَايَاتِ، فَمَثَلُهُمَا كَمَثَلِ رَجُلٍ مُقِيمٍ بِمَكَّةَ يَشْتَغِلُ بِالطَّوَافِ وَالْآخَرُ يَقْطَعُ الْمَفَاوِزَ وَالْقِفَارَ فِي السَّيْرِ إلَى مَكَّةَ فَعَمَلُهُ أَشُقُّ وَالْأَوَّلُ أَفْضَلُ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ

 

(وَالْخَامِسَةُ) تَعَارُضُ عِتْقِ رَقَبَةٍ نَفِيسَةٍ بِمَالٍ وَعِتْقِ رِقَابٍ مُتَعَدِّدَةٍ بِذَلِكَ الْمَالِ، قَالَ الْقَاضِي وَابْنُ عَقِيلٍ الرِّقَابُ أَفْضَلُ وَفِيهِ أَيْضًا نَظَرٌ وَقَدْ كَانَ طَائِفَةٌ مِنْ السَّلَفِ كَابْنِ عُمَرَ وَالرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمِ يَسْتَحِبُّونَ الصَّدَقَةَ بِمَا يَشْتَهُونَ مِنْ الْأَطْعِمَةِ.

وَإِنْ كَانَ الْمِسْكِينُ يَنْتَفِعُ بِقِيمَتِهِ أَكْثَرَ، عَمَلًا بِقَوْلِهِ ( {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] وَهَذَا فِي الْعِتْقِ أَوْلَى مَعَ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «خَيْرُ الرِّقَابِ أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا وَأَغْلَاهَا ثَمَنًا» وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّامِنَةَ عَشْر اجتمعت عِبَادَتَانِ مِنْ جِنْسٍ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ لَيْسَتْ إحْدَاهُمَا مَفْعُولَةً عَلَى جِهَةِ الْقَضَاءِ وَلَا عَلَى طَرِيقِ التَّبَعِيَّةِ لِلْأُخْرَى فِي الْوَقْتِ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّامِنَةَ عَشَرَ) : إذَا اجْتَمَعَتْ عِبَادَتَانِ مِنْ جِنْسٍ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ لَيْسَتْ إحْدَاهُمَا مَفْعُولَةً عَلَى جِهَةِ الْقَضَاءِ وَلَا عَلَى طَرِيقِ التَّبَعِيَّةِ لِلْأُخْرَى فِي الْوَقْتِ تَدَاخَلَتْ أَفْعَالُهُمَا، وَاكْتَفَى فِيهِمَا بِفِعْلٍ وَاحِدٍ وَهُوَ عَلَى ضَرْبَيْنِ:

(أَحَدُهُمَا) : أَنْ يَحْصُلَ لَهُ بِالْفِعْلِ الْوَاحِدِ الْعِبَادَتَانِ [جَمِيعًا] يُشْتَرَطُ أَنْ يَنْوِيَهُمَا جَمِيعًا عَلَى الْمَشْهُورِ وَمِنْ أَمْثِلَةِ ذَلِكَ مَنْ عَلَيْهِ حَدَثَانِ أَصْغَرُ وَأَكْبَرُ فَالْمَذْهَبُ أَنَّهُ يَكْفِيه أَفْعَالُ الطَّهَارَةِ الْكُبْرَى إذَا نَوَى الطَّهَارَتَيْنِ [جَمِيعًا] بِهَا وَعَنْهُ لَا يُجْزِئُهُ عَنْ الْأَصْغَرِ حَتَّى يَأْتِيَ بِالْوُضُوءِ وَاخْتَارَ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ يُجْزِئُهُ عَنْهُمَا إذَا أَتَى بِخَصَائِصِ الْوُضُوءِ مِنْ التَّرْتِيبِ وَالْمُوَالَاةِ وَإِلَّا فَلَا، وَجَزَمَ بِهِ صَاحِبُ الْمُبْهِجِ وَلَوْ كَانَ عَادِمًا لِلْمَاءِ فَتَيَمَّمَ تَيَمُّمًا وَاحِدًا يَنْوِي بِهِ الْحَدَثَيْنِ أَجْزَأَهُ عَنْهُمَا بِغَيْرِ خِلَافٍ
তার মাধ্যমে এবং নিআমত লাভ করে এবং আনুগত্য ও ভালোবাসার সাথে সেদিকে অগ্রসর হয়, আর অপরজন সেই আনুগত্যের কাজে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে এবং তাকে এর ওপর বাধ্য করে; এই দুইজনের মধ্যে কে উত্তম? খাল্লাল বলেন, ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইস্কাফি আমার কাছে লিখেছেন, হাসান ইবনে আলী ইবনুল হাসান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, তিনি আবু আবদুল্লাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যার জন্য কোনো নেক আমলের পথ উন্মুক্ত করা হয়, কিন্তু সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে তাতে লিপ্ত করে, আর অপর একজন যার জন্য তা উন্মুক্ত করা হয় এবং সে তাতে আনন্দিত হয়; তবে তাদের মধ্যে কে উত্তম? তিনি বললেন: আপনি কি শোনেননি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বয়স্ক অবস্থায় কুরআন শিখে এবং তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।" আর এটি বাহ্যত সেই ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেয় যে নিজের নফসকে বাধ্য করে, কারণ তার জন্য দুটি আমল রয়েছে: জিহাদ এবং অপরটি আনুগত্য। এই কারণেই তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। এটি ইবনে আতা এবং আবু সুলাইমান ও নুখামের অনুসারী একদল সূফীর অভিমত। তবে জুনায়েদ এবং বসরার একদল ইবাদতগুজারের নিকট, যে ব্যক্তি তা আনুগত্য ও ভালোবাসার সাথে স্বেচ্ছায় সম্পাদন করে সে-ই উত্তম। আর এটিই শাইখ তাকিউদ্দীন-এর পছন্দিত মত। কারণ নফসের প্রশান্তির মাকামে অবস্থান করা একাধিক আমলের চেয়ে উত্তম, আর সে হলো উচ্চতর মনজিল ও মাকামসমূহের অধিকারী, অন্যদিকে অপরজন হলো কঠোর পরিশ্রম ও সূচনাকালের স্তরের। তাদের উভয়ের উদাহরণ হলো মক্কায় অবস্থানকারী এমন এক ব্যক্তির মতো যে তওয়াফে মশগুল থাকে, আর অপরজন মক্কার পথে মরুভূমি ও প্রান্তর অতিক্রম করে পথ চলে; তার আমলটি অধিক কষ্টসাধ্য হলেও প্রথমজনই উত্তম। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(পঞ্চম মাসআলা) নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি মূল্যবান গোলাম মুক্ত করা এবং একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে অনেকগুলো গোলাম মুক্ত করার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেওয়া। কাজী এবং ইবনে আকীল বলেছেন, অনেকগুলো গোলাম মুক্ত করাই উত্তম। তবে এতেও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সালফে সালেহীনের একটি দল যেমন ইবনে উমর এবং রাবী ইবনে খুসাইম তাঁদের পছন্দনীয় খাবার সদকা করা মুস্তাহাব মনে করতেন।

যদিও মিসকীন তার মূল্যের মাধ্যমে বেশি উপকৃত হতো, এই আয়াতের ওপর আমল করতে গিয়ে যে: {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করবে না যতক্ষণ না তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে ব্যয় করো} [আলে ইমরান: ৯২]। আর গোলাম মুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি অধিক প্রযোজ্য, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সবচেয়ে উত্তম গোলাম হলো সেই ব্যক্তি যে তার মালিকের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান এবং যার দাম সবচেয়ে বেশি।" আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[অষ্টাদশ কায়েদা: যদি একই জাতীয় দুটি ইবাদত একই সময়ে একত্রিত হয়, যার কোনটিই কাযা হিসেবে আদায় করা হচ্ছে না এবং একটি অন্যটির অনুগামীও নয়]

(অষ্টাদশ কায়েদা): যদি একই জাতীয় দুটি ইবাদত একই সময়ে একত্রিত হয়, যেখানে কোনটিই কাযা হিসেবে আদায় করা হচ্ছে না এবং একটি অন্যটির অনুগামী হিসেবেও সময় নির্ধারিত নয়, তবে তাদের কার্যাবলি একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং উভয়ের ক্ষেত্রে একটি কাজ করাই যথেষ্ট হয়। এটি দুই প্রকার:

(প্রথমটি): একটি কাজের মাধ্যমেই তার উভয় ইবাদত অর্জিত হয়ে যাওয়া। প্রসিদ্ধ মতানুসারে শর্ত হলো যে, সে উভয়ের জন্য একত্রে নিয়ত করবে। এর একটি উদাহরণ হলো যার ওপর ছোট এবং বড় উভয় অপবিত্রতা রয়েছে। মাযহাবের মত হলো, বড় পবিত্রতার কার্যাবলিই তার জন্য যথেষ্ট হবে যদি সে তার মাধ্যমে উভয় পবিত্রতার নিয়ত করে। তাঁর থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে যে, ওযু না করা পর্যন্ত এটি ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করবে না। আবু বকর পছন্দ করেছেন যে, এটি উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে যদি ওযুর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা হয়, অন্যথায় নয়। 'আল-মুবহিজ' গ্রন্থের লেখক এটি নিশ্চিত করেছেন। আর যদি পানি না থাকে এবং সে একটি তায়াম্মুম করে যার মাধ্যমে উভয় অপবিত্রতার নিয়ত করে, তবে কোনো দ্বিমত ছাড়াই তা উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَنَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ مُهَنَّا.

(وَمِنْهَا) الْقَارِنُ إذَا نَوَى الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ كَفَّاهُ لَهُمَا طَوَافٌ وَاحِدٌ وَسَعْيٌ وَاحِدٌ عَلَى الْمَذْهَبِ الصَّحِيحِ وَعَنْهُ لَا بُدَّ مِنْ طَوَافَيْنِ وَسَعْيَيْنِ كَالْمُفْرِدِ، وَالْقَاضِي وَأَبُو الْخَطَّابِ فِي خِلَافَيْهِمَا حَكَيَا هَذِهِ الرِّوَايَةَ عَلَى وَجْهٍ آخَرَ، وَهُوَ أَنَّهُ لَا تُجْزِئُهُ الْعُمْرَةُ الدَّاخِلَةُ فِي ضِمْنِ الْحَجِّ عَنْ عُمْرَةِ الْإِسْلَامِ بَلْ عَلَيْهِ أَنْ يَأْتِيَ بِعُمْرَةٍ مُفْرَدَةٍ بِإِحْرَامٍ مُفْرَدٍ لَهَا.

(وَمِنْهَا) إذَا نَذَرَ الْحَجَّ مَنْ عَلَيْهِ حَجُّ الْفَرْضِ ثُمَّ حَجَّ حَجَّةَ الْإِسْلَامِ فَهَلْ يُجْزِئُهُ عَنْ فَرْضِهِ وَنَذْرِهِ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ.

(إحْدَاهُمَا) يُجْزِئُهُ عَنْهُمَا نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ أَبِي طَالِبٍ وَنَقَلَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهِيَ اخْتِيَارُ أَبِي حَفْصٍ.

(وَالثَّانِيَة) : لَا يُجْزِئُهُ، نَقَلَهَا ابْنُ مَنْصُورٍ وَعَبْدُ اللَّهِ وَهِيَ الْمَشْهُورَةُ.

وَقَدْ حَمَلَ بَعْضُ الْأَصْحَابِ كَأَبِي الْحُسَيْنِ فِي التَّمَامِ الرِّوَايَةَ الْأُولَى عَلَى صِحَّةِ وُقُوعِ النَّذْرِ قَبْلَ الْفَرْضِ وَفَرْضُهُمَا فِيمَا إذَا نَوَى النَّذْرَ أَنَّهُ يُجْزِئُهُ عَنْهُ وَتَبْقَى عَلَيْهِ حَجَّةُ الْإِسْلَامِ وَلَا يَصِحُّ ذَلِكَ.

(وَمِنْهَا) إذَا نَذَرَ صَوْمَ شَهْرٍ يَقْدَمُ فِيهِ فُلَانٌ فَقَدِمَ فِي أَوَّلِ رَمَضَانَ، هَلْ يُجْزِئُهُ رَمَضَانُ عَنْ فَرْضِهِ وَنَذْرِهِ عَلَى رِوَايَتَيْنِ أَشْهَرُهُمَا عِنْدَ الْأَصْحَابِ لَا يُجْزِئُهُ عَنْهُمَا وَالثَّانِيَة يُجْزِئُهُ عَنْهُمَا نَقَلَهَا الْمَرُّوذِيّ وَصَرَّحَ بِهَا الْخِرَقِيِّ فِي كِتَابِهِ وَحَمَلَهَا الْمُتَأَخِّرُونَ عَلَى أَنَّ نَذْرَهُ لَمْ يَنْعَقِدْ لِمُصَادَفَتِهِ رَمَضَانَ وَلَا يَخْفَى فَسَادُ هَذَا التَّأْوِيلِ وَعَلَى رِوَايَةِ الْإِجْزَاءِ فَقَالَ صَاحِبُ الْمُغْنِي لَا بُدَّ أَنْ يَنْوِيَهُ عَنْ فَرْضِهِ وَنَذْرِهِ وَقَالَ الشَّيْخُ مَجْدُ الدِّينِ لَا يَحْتَاجُ إلَى نِيَّةِ النَّذْرِ، قَالَ وَهُوَ ظَاهِرُ كَلَامِ الْخِرَقِيِّ وَأَحْمَدَ لِأَنَّا نُقَدِّرهُ كَأَنَّهُ نَذَرَ هَذَا الْقَدْرَ مُنْجِزًا عِنْدَ الْقُدُومِ فَجَعَلَهُ كَالنَّاذِرِ لِصَوْمِ رَمَضَانَ لِجِهَةِ الْفَرْضِيَّةِ وَفِيهِ بُعْدٌ، وَلَوْ نَذَرَ صَوْمَ شَهْرٍ مُطْلَقٍ فَصَامَ رَمَضَانَ يَنْوِيَهُ عَنْهُمَا فَإِنَّهُ يُخَرَّجُ عَلَى مَسْأَلَةِ الْحَجِّ، ذَكَرَهُ ابْنُ الزاغوني وَغَيْرُهُ.

(وَمِنْهَا) لَوْ نَذَرَ الصَّدَقَةَ بِنِصَابٍ مِنْ الْمَالِ وَقْتَ حُلُولِ الْحَوْلِ، فَهَلْ تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ، وَعَلَى الْقَوْلِ بِالْوُجُوبِ فَهَلْ تُجْزِيه الصَّدَقَةُ عَنْ النَّذْرِ وَالزَّكَاةِ إذَا نَوَاهُمَا؟ عَلَى وَجْهَيْنِ وَاخْتِيَارُ صَاحِبُ الْمُغْنِي الْإِجْزَاءَ وَخَالَفَهُ صَاحِبُ شَرْحِ الْهِدَايَةِ.

(وَمِنْهَا) لَوْ طَافَ عِنْدَ خُرُوجِهِ مِنْ مَكَّةَ طَوَافًا يَنْوِي بِهِ الزِّيَارَةَ وَالْوَدَاعَ، فَقَالَ الْخِرَقِيِّ فِي شَرْحِ الْمُخْتَصَرِ وَصَاحِبُ الْمُغْنِي فِي كِتَابِ الصَّلَاةِ يُجْزِئُهُ عَنْهُمَا وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ خِلَافٌ مِنْ الْمَسْأَلَةِ الَّتِي بَعْدَهَا.

(وَمِنْهَا) لَوْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ رَاكِعًا فَكَبَّرَ [تَكْبِيرَةً يَنْوِي بِهَا] تَكْبِيرَةَ الْإِحْرَامِ وَالرُّكُوعِ فَهَلْ يُجْزِئُهُ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ حَكَاهُمَا أَبُو الْخَطَّابِ وَغَيْرُهُ وَاخْتَارَ [الْقَاضِي] عَدَمَ الْإِجْزَاءِ لِلتَّشْرِيكِ بَيْنَ الرُّكْنِ وَغَيْرِهِ وَأَخَذَهُ مِنْ نَصِّ أَحْمَدَ رحمه الله فِيمَنْ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وَعَطَسَ فَقَالَ [الْحَمْدُ لِلَّهِ] رَبَّنَا وَلَك الْحَمْدُ يَنْوِي بِهِ الْوَاجِبَ وَسُنَّةَ الْحَمْدِ لِلْعَاطِسِ أَنْ لَا يُجْزِئَهُ، وَاخْتَارَ ابْنُ شَاقِلَا الْإِجْزَاءَ وَشَبَّهَهُ بِمَنْ أَخْرَجَ فِي الْفُطْرَةِ أَكْثَرَ مِنْ صَاعٍ
মুহান্নার বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(তন্মধ্যে একটি হলো) ক্বিরান হজ পালনকারী যদি হজ ও উমরার নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধ মাযহাব অনুযায়ী উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফ ও একটি সা’ঈ যথেষ্ট হবে। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, মুফরিদ (একক হজ পালনকারী) এর ন্যায় তাকে অবশ্যই দুটি তাওয়াফ ও দুটি সা’ঈ করতে হবে। আল-ক্বাযী এবং আবু আল-খাত্তাব তাদের ইখতিলাফ বিষয়ক গ্রন্থে এই বর্ণনাটি অন্যভাবে উল্লেখ করেছেন; আর তা হলো হজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উমরাটি উমরাতুল ইসলাম (ফরজ উমরা) হিসেবে যথেষ্ট হবে না, বরং তাকে পৃথক ইহরামের মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে উমরা পালন করতে হবে।

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) যার ওপর হজ ফরজ, সে যদি হজের মানত করে এবং পরবর্তীতে হজ্জাতুল ইসলাম (ফরজ হজ) পালন করে, তবে কি তা তার ফরজ ও মানত উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

(প্রথমটি হলো) উভয়ের পক্ষ থেকে এটি যথেষ্ট হবে। আবু তালিবের বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে; আর এটি আবু হাফসের পছন্দকৃত মত।

(দ্বিতীয়টি হলো) এটি যথেষ্ট হবে না। ইবনে মানসুর ও আবদুল্লাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই প্রসিদ্ধ মত।

কোনো কোনো অনুসারী, যেমন 'আত-তামাম' গ্রন্থে আবুল হুসাইন প্রথম বর্ণনাটিকে ফরজের আগে মানত শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। আর তাদের উভয়ের মতে, যদি সে মানতের নিয়ত করে তবে তা মানতের পক্ষ থেকেই আদায় হবে এবং হজ্জাতুল ইসলাম তার জিম্মায় থেকে যাবে; কিন্তু এটি সঠিক নয়।

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি আসার মাসে রোজা রাখার মানত করে, আর সেই ব্যক্তি রমজানের শুরুতে আসে, তবে রমজানের রোজা কি তার ফরজ ও মানত উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা আছে; অনুসারীদের নিকট যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো—উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে না। দ্বিতীয় বর্ণনা অনুযায়ী—উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে; আল-মাররুযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-খিরাক্বী তাঁর কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই বর্ণনাকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, রমজানের সাথে মিলে যাওয়ার কারণে তার মানতটি কার্যকরই হয়নি; তবে এই ব্যাখ্যার অসারতা গোপন নয়। যথেষ্ট হওয়ার বর্ণনার ভিত্তিতে আল-মুগনি লেখক বলেন, ফরজ এবং মানত উভয়ের নিয়ত করা আবশ্যক। আর শাইখ মাজদুদ্দীন বলেন, মানতের নিয়তের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এটিই আল-খিরাক্বী ও আহমাদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক; কারণ আমরা বিষয়টিকে এমনভাবে গণ্য করি যেন সে ওই ব্যক্তি আসার সাথে সাথেই নির্দিষ্ট পরিমাণ রোজা রাখার মানত করেছে, ফলে একে ফরজের দিক থেকে রমজানের রোজা মানতকারীর মতোই গণ্য করা হয়েছে—তবে এতে কিছুটা দূরবর্তিতা আছে। আর যদি কেউ সাধারণভাবে এক মাস রোজা রাখার মানত করে এবং রমজানে উভয়ের নিয়তে রোজা রাখে, তবে এটি হজের মাসআলার ওপর ভিত্তি করে সমাধান করা হবে; ইবনুল যাগুনী এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) যদি কেউ বর্ষপূর্তির সময় এক নিসাব পরিমাণ মাল সদকা করার মানত করে, তবে তাতে কি জাকাত ওয়াজিব হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আর ওয়াজিব হওয়ার মতানুসারে, যদি সে মানত ও জাকাত উভয়ের নিয়ত করে তবে সেই সদকা কি উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে? এ বিষয়েও দুটি অভিমত রয়েছে; আল-মুগনি লেখক যথেষ্ট হওয়ার মতটি পছন্দ করেছেন, তবে শরহে হিদায়ার লেখক তাঁর বিরোধিতা করেছেন।

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) মক্কা থেকে বের হওয়ার সময় যদি কেউ তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা উভয়ের নিয়তে তাওয়াফ করে, তবে আল-খিরাক্বী 'শারহুল মুখতাসার' গ্রন্থে এবং আল-মুগনি লেখক 'কিতাবুস সালাত'-এ বলেছেন যে, এটি উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে। আর পরবর্তী মাসআলা থেকে এ বিষয়ে মতপার্থক্য উদ্ভূত হয়।

(তন্মধ্যে আরেকটি হলো) যদি কেউ ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় এবং এমনভাবে তাকবির দেয় যার দ্বারা সে তাকবিরে তাহরিমা ও রুকুর তাকবির উভয়ের নিয়ত করে, তবে কি তা তার জন্য যথেষ্ট হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে যা আবু আল-খাত্তাব ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আল-ক্বাযী যথেষ্ট না হওয়ার মতটি পছন্দ করেছেন, কারণ এতে রুকন ও রুকন বহির্ভূত বিষয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব ঘটে। তিনি এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেই বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছেন যা রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে হাঁচি দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে ব্যক্তি 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলার সময় ওয়াজিব এবং হাঁচিদাতার জন্য সুন্নাত হামদ—উভয়টির নিয়ত করে; ইমাম আহমাদ বলেছিলেন যে এটি যথেষ্ট হবে না। অন্যদিকে ইবনে শাক্বিলা যথেষ্ট হওয়ার মতটি পছন্দ করেছেন এবং একে ফিতরার ক্ষেত্রে এক সা' এর বেশি দেওয়ার সাথে তুলনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَا يَصِحُّ هَذَا التَّشْبِيهُ وَمِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ قَالَ إنْ قُلْنَا تَكْبِيرَةُ الرُّكُوعِ سُنَّةٌ أَجْزَأَتْهُ وَحَصَلَتْ السُّنَّةُ بِالنِّيَّةِ تَبَعًا لِلْوَاجِبِ، وَإِنْ قُلْنَا وَاجِبَةٌ لَمْ يَصِحَّ التَّشْرِيكُ وَفِيهِ ضَعْفٌ.

وَهَذِهِ الْمَسْأَلَةُ تَدُلُّ عَلَى أَنَّ تَكْبِيرَةَ الرُّكُوعِ تُجْزِئُ فِي حَالِ الْقِيَامِ خِلَافَ مَا يَقُولُهُ الْمُتَأَخِّرُونَ.

(وَالضَّرْبُ الثَّانِي) أَنْ يَحْصُلَ لَهُ أَحَدُ الْعِبَادَتَيْنِ بِنِيَّتِهَا، وَتَسْقُطُ عَنْهُ الْأُخْرَى وَلِذَلِكَ أَمْثِلَةٌ:

(مِنْهَا) إذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَصَلَّى مَعَهُمْ، سَقَطَتْ عَنْهُ التَّحِيَّةُ.

(وَمِنْهَا) لَوْ سَمِعَ سَجْدَتَيْنِ مَعًا، فَهَلْ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ أَمْ يَكْتَفِي بِوَاحِدَةٍ؟ الْمَنْصُوصُ فِي رِوَايَةِ البرزاطي أَنَّهُ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ، وَيَتَخَرَّجُ أَنَّهُ يَكْتَفِي بِوَاحِدَةٍ، وَقَدْ خَرَّجَ الْأَصْحَابُ بِالِاكْتِفَاءِ بِسَجْدَةِ الصَّلَاةِ عَنْ سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ وَجْهًا فَهُنَا أَوْلَى.

(وَمِنْهَا) إذَا قَدِمَ الْمُعْتَمِرُ مَكَّةَ فَإِنَّهُ يَبْدَأُ بِطَوَافِ الْعُمْرَةِ وَيَسْقُطُ عَنْهُ طَوَافُ الْقُدُومِ، وَقِيَاسُهُ إذَا أَحْرَمَ بِالْحَجِّ مِنْ مَكَّةَ ثُمَّ قَدِمَ [يَوْمَ] النَّحْرِ أَنَّهُ يُجْزِئُهُ طَوَافُ الزِّيَارَةِ عَنْهُ وَالْمَنْصُوصُ هَاهُنَا أَنَّهُ يَطُوفُ قَبْلَهُ لِلْقُدُومِ، وَخَالَفَ فِيهِ صَاحِبُ الْمُغْنِي وَهُوَ الْأَصَحُّ.

(وَمِنْهَا) إذَا صَلَّى عَقِيبَ الطَّوَافِ مَكْتُوبَةً فَهَلْ يَسْقُطُ عَنْهُ رَكْعَتَا الطَّوَافِ عَلَى رِوَايَتَيْنِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْأَقْيَسُ أَنَّهَا لَا تَسْقُطُ، وَنَقَلَ أَبُو طَالِبٍ عَنْ أَحْمَدَ رحمه الله يُجْزِئُهُ لَيْسَ هُمَا وَاجِبَتَيْنِ، وَنَقَلَ الْأَثْرَمُ عَنْهُ أَرْجُو أَنْ يُجْزِئَهُ وَهَذَا قَدْ يُشْعِرُ بِأَنَّهُ يَحْصُلُ لَهُ بِذَلِكَ الْفَرْضِ رَكْعَتَا الطَّوَافِ فَيَكُونُ مِنْ الضَّرْبِ الْأَوَّلِ.

لَكِنْ لَا يُعْتَبَرُ هُنَا نِيَّةُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ.

وَيُشْبِهُ هَذِهِ الرِّوَايَةَ الَّتِي حَكَاهَا أَبُو حَفْصٍ الْبَرْمَكِيُّ عَنْ أَحْمَدَ فِي الْجُنُبِ إذَا اغْتَسَلَ يَنْوِي الْجَنَابَةَ وَحْدَهَا أَنَّهُ يَرْتَفِعُ حَدَثُهُ الْأَصْغَرُ تَبَعًا وَهِيَ اخْتِيَارُ الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ.

وَقَدْ يُقَالُ الْمَقْصُودُ أَنْ يَقَعَ عَقِيبَ الطَّوَافِ صَلَاةٌ كَمَا أَنَّ الْمَقْصُودَ أَنْ يَقَعَ قَبْلَ الْإِحْرَامِ صَلَاةٌ فَأَيُّ صَلَاةٍ وُجِدَتْ حَصَّلَتْ الْمَقْصُودَ.

(وَمِنْهَا) لَوْ أَخَّرَ طَوَافَ الزِّيَارَةِ إلَى وَقْتِ خُرُوجِهِ فَطَافَ فَهَلْ يَسْقُطُ عَنْهُ طَوَافُ الْوَدَاعِ أَمْ لَا؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ [وَنَصَّ فِي رِوَايَةِ ابْنِ الْقَاسِمِ عَلَى سُقُوطِهِ.

(وَمِنْهَا) إذَا أَدْرَكَ الْإِمَامَ رَاكِعًا فَكَبَّرَ لِلْإِحْرَامِ فَهَلْ تَسْقُطُ عَنْهُ تَكْبِيرَةُ الرُّكُوعِ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ] أَيْضًا وَالْمَنْصُوصُ عَنْهُ الْإِجْزَاءُ.

وَهَلْ يُشْتَرَطُ أَنْ يَنْوِيَ بِهَا تَكْبِيرَةَ الِافْتِتَاحِ أَمْ لَا؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ نَقَلَهُمَا عَنْهُ ابْنُ مَنْصُورٍ إحْدَاهُمَا لَا يُشْتَرَطُ بَلْ يَكْفِيه أَنْ يُكَبِّرَ بِنِيَّةِ الصَّلَاةِ وَإِنْ لَمْ يَسْتَحْضِرْ بِقَلْبِهِ أَنَّهَا تَكْبِيرَةُ الْإِحْرَامِ كَمَا لَوْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ فِي الْقِيَامِ.

وَالثَّانِيَةُ: لَا بُدَّ أَنْ يَنْوِيَ بِهَا الِافْتِتَاحَ لِأَنَّهُ قَدْ اجْتَمَعَ هَهُنَا تَكْبِيرَتَانِ فَوَقَعَ الِاشْتِرَاكُ فَاحْتَاجَتْ تَكْبِيرَةُ الْإِحْرَامِ إلَى نِيَّةٍ تُمَيِّزُهَا بِخِلَافِ حَالِ الْقِيَامِ فَإِنَّهُ لَمْ يَقَعْ فِيهِ اشْتِرَاكٌ.

(وَمِنْهَا) إذَا اجْتَمَعَ فِي يَوْمِ عِيدٍ وَجُمُعَةٍ فَأَيُّهُمَا قُدِّمَ أَوَّلًا فِي الْفِعْلِ سَقَطَ بِهِ الثَّانِي وَلَمْ يَجِبْ حُضُورُهُ مَعَ الْإِمَامِ.

وَفِي سُقُوطِهِ عَنْ الْإِمَامِ رِوَايَتَانِ.

وَعَلَى رِوَايَةِ عَدَمِ السُّقُوطِ فَيَجِبُ أَنْ يَحْضُرَ مَعَهُ مَنْ تَنْعَقِدُ بِهِ تِلْكَ
এই সাদৃশ্য প্রদান সঠিক নয়। আর আছহাবগণের (সাথীদের) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যদি আমরা বলি যে রুকু’র তাকবীর সুন্নাত, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং ওয়াজিবের অনুগামী হিসেবে নিয়তের মাধ্যমে সুন্নাতটি অর্জিত হবে। আর যদি আমরা বলি যে এটি ওয়াজিব, তবে তাতে অংশীদারিত্ব সঠিক হবে না; তবে এই মতটি দুর্বল।

এই মাসআলাটি প্রমাণ করে যে, রুকু’র তাকবীর কিয়াম (দাঁড়ানো) অবস্থায় আদায় করা যথেষ্ট হবে, যা পরবর্তী উলামাগণের বক্তব্যের বিপরীত।

(দ্বিতীয় প্রকার) হলো এই যে, নিয়তের মাধ্যমে তার জন্য দুই ইবাদতের একটি অর্জিত হবে এবং অন্যটি তার থেকে রহিত হয়ে যাবে। এর উদাহরণসমূহ নিম্নরূপ:

(তন্মধ্যে একটি হলো) যখন কেউ মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে জামাত শুরু হয়ে গেছে, অতঃপর সে তাদের সাথে সালাত আদায় করল, তবে তার পক্ষ থেকে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ রহিত হয়ে যাবে।

(আরেকটি হলো) যদি কেউ একসাথে দুটি সিজদার আয়াত শোনে, তবে সে কি দুটি সিজদা করবে নাকি একটিই যথেষ্ট হবে? বারযাতি-র বর্ণনায় বর্ণিত পাঠ (মানসূস) অনুযায়ী সে দুটি সিজদা করবে। তবে একটি যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টিও বের করা (তাখরীজ) সম্ভব। আছহাবগণ সালাতের সিজদার মাধ্যমে তিলাওয়াতের সিজদা যথেষ্ট হওয়ার একটি অভিমত বের করেছেন, সুতরাং এখানে (একটির যথেষ্ট হওয়া) অধিক যুক্তিযুক্ত।

(আরেকটি হলো) উমরাকারী যখন মক্কায় পৌঁছায়, তখন সে উমরার তাওয়াফ দিয়ে শুরু করবে এবং তার থেকে তাওয়াফে কুদুম রহিত হয়ে যাবে। এর সাথে তুলনা করা যায় যখন কেউ মক্কা থেকে হজের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর নহরের দিন (কুরবানির দিন) উপস্থিত হয়, তখন তার পক্ষ থেকে তাওয়াফে যিয়ারত যথেষ্ট হবে (অন্য তাওয়াফ হতে)। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মানসূস হলো যে, সে এর আগে তাওয়াফে কুদুম করবে। তবে ‘আল-মুগনী’র লেখক এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং সেটিই অধিক বিশুদ্ধ।

(আরেকটি হলো) যদি কেউ তাওয়াফের পরপরই ফরজ সালাত আদায় করে, তবে কি তার থেকে তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত রহিত হবে? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আবু বকর বলেন, অধিকতর যুক্তিযুক্ত হলো তা রহিত হবে না। আবু তালিব ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে, কারণ সেই দুই রাকাত ওয়াজিব নয়। আর আল-আছরাম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি আশা করি যে তা যথেষ্ট হবে।" এটি ইঙ্গিত দেয় যে সেই ফরজ সালাতের মাধ্যমে তাওয়াফের দুই রাকাত অর্জিত হয়ে যাবে, ফলে এটি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তবে এখানে তাওয়াফের দুই রাকাতের নিয়ত করা শর্ত নয়।

এই বর্ণনাটি আবু হাফস আল-বারমাকী কর্তৃক ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত সেই মাসআলার সদৃশ যে, অপবিত্র ব্যক্তি (জুনুবি) যদি শুধুমাত্র জানাবাতের নিয়তে গোসল করে, তবে আনুষঙ্গিকভাবে তার ছোট অপবিত্রতাও দূর হয়ে যাবে। এটিই শায়খ তাকীউদ্দীনের পসন্দকৃত মত।

এটিও বলা যেতে পারে যে, মূল উদ্দেশ্য হলো তাওয়াফের পর কোনো একটি সালাত আদায় হওয়া, যেমন ইহরামের পূর্বে কোনো সালাত আদায় হওয়া উদ্দেশ্য। সুতরাং যে কোনো সালাত আদায় হলেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যাবে।

(আরেকটি হলো) যদি কেউ তাওয়াফে যিয়ারতকে তার প্রস্থান পর্যন্ত বিলম্বিত করে এবং তখন তাওয়াফ করে, তবে কি তার থেকে তাওয়াফে বিদা রহিত হবে কি না? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে। [ইবনুল কাসিমের বর্ণনায় এটি রহিত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

(আরেকটি হলো) যখন কেউ ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং ইহরামের তাকবীর দিল, তবে কি তার থেকে রুকু’র তাকবীর রহিত হয়ে যাবে? এ ক্ষেত্রেও দুটি বর্ণনা রয়েছে] এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত পাঠ হলো যে তা যথেষ্ট হবে।

আর এতে কি তাকবীরে ইফতিতাহ (শুরু করার তাকবীর) এর নিয়ত করা শর্ত কি না? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা ইবনে মানসূর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। একটি হলো এটি শর্ত নয়, বরং সালাতের নিয়তে তাকবীর দিলেই যথেষ্ট হবে, যদিও মনে মনে এটি ইহরামের তাকবীর বলে উপস্থিত না থাকে, যেমনটা ইমামকে কিয়াম অবস্থায় পেলে হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়টি হলো: অবশ্যই ইফতিতাহ বা সালাত শুরু করার নিয়ত করতে হবে। কারণ এখানে দুটি তাকবীর একত্রিত হয়েছে এবং তাতে অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে, তাই ইহরামের তাকবীরকে পৃথক করার জন্য নিয়তের প্রয়োজন হবে। কিয়াম অবস্থার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ সেখানে কোনো অংশীদারিত্ব তৈরি হয়নি।

(আরেকটি হলো) যদি একই দিনে ঈদ ও জুমুআ একত্রিত হয়, তবে কর্মের দিক থেকে যেটি প্রথমে আদায় করা হবে তার দ্বারা দ্বিতীয়টি রহিত হয়ে যাবে এবং ইমামের সাথে তাতে উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব থাকবে না।

আর ইমামের পক্ষ থেকে এটি রহিত হওয়া সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। রহিত না হওয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, ইমামের সাথে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব যাদের দ্বারা সেই সালাত সংঘটিত হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৬)
الصَّلَاةُ ذَكَرَ صَاحِبُ التَّلْخِيصِ وَغَيْرُهُ فَتَصِيرُ الْجُمُعَةُ هَهُنَا فَرْضَ كِفَايَةٍ تَسْقُطُ بِحُضُورِ أَرْبَعِينَ.

(وَمِنْهَا) إذَا اجْتَمَعَ عَقِيقَةٌ وَأُضْحِيَّةٌ فَهَلْ تُجْزِئُ الْأُضْحِيَّةُ عَنْ الْعَقِيقَةِ أَمْ لَا؟ .

عَلَى رِوَايَتَيْنِ مَنْصُوصَتَيْنِ.

وَفِي مَعْنَاهُ لَوْ اجْتَمَعَ هَدْيٌ وَأُضْحِيَّةٌ وَاخْتَارَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ أَنَّهُ لَا تَضْحِيَةَ بِمَكَّةَ وَإِنَّمَا هُوَ الْهَدْيُ.

(وَمِنْهَا) اجْتِمَاعُ الْأَسْبَابِ الَّتِي يَجِبُ بِهَا الْكَفَّارَاتُ وَتَتَدَاخَلُ فِي الْإِيمَانِ وَالْحَجِّ وَالصِّيَامِ وَالظِّهَارِ وَغَيْرِهَا.

فَإِذَا أَخْرَجَ كَفَّارَةً وَاحِدَةً عَنْ وَاحِدٍ مِنْهَا مُعَيَّنٍ أَجْزَأَهُ وَسَقَطَتْ سَائِرُ الْكَفَّارَاتِ وَإِنْ كَانَ مُبْهَمًا.

فَإِنْ كَانَتْ مِنْ جِنْسٍ وَاحِدٍ أَجْزَأَهُ أَيْضًا وَجْهًا وَاحِدًا عِنْدَ صَاحِبِ الْمُحَرَّرِ.

وَعِنْدَ صَاحِبِ التَّرْغِيبِ أَنَّ فِيهِ وَجْهَيْنِ.

وَإِنْ كَانَتْ مِنْ جِنْسَيْنِ فَوَجْهَانِ فِي اعْتِبَارِ نِيَّةِ التَّعْيِينِ وَأَمَّا الْأَحْدَاثُ الْمُوجِبَةُ لِلطَّهَارَةِ مِنْ جِنْسٍ أَوْ جِنْسَيْنِ مُوجِبُهُمَا وَاحِدٌ فَيَتَدَاخَلُ مُوجِبُهُمَا بِالنِّيَّةِ أَيْضًا بِغَيْرِ إشْكَالٍ وَإِنْ نَوَى أَحَدَهُمَا فَالْمَشْهُورُ أَنَّهُ يَرْتَفِعُ الْجَمِيعُ وَيَتَنَزَّلُ ذَلِكَ عَلَى التَّدَاخُلِ كَمَا قُلْنَا فِي الْكَفَّارَاتِ أَوْ عَلَى أَنَّ الْحُكْمَ الْوَاحِدَ يُعَلَّلُ بِعِلَلٍ مُسْتَقِلَّةٍ، وَإِذَا نَوَى رَفْعَ حَدَثِ الْبَعْضِ فَقَدْ نَوَى وَاجِبَهُ وَهُوَ وَاحِدٌ لَا تَعَدُّدَ فِيهِ.

وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ لَا يَرْتَفِعُ إلَّا مَا نَوَاهُ قَالَ فِي كِتَابِ الْمُقْنِعِ إذَا أَجْنَبَتْ الْمَرْأَةُ ثُمَّ حَاضَتْ يَكُونُ الْغُسْلُ الْوَاحِدُ لَهُمَا جَمِيعًا إذَا نَوَتْهُمَا بِهِ.

وَيَتَنَزَّلُ هَذَا عَلَى أَنَّهُ لَا يُعَلَّلُ الْحُكْمُ الْوَاحِدُ بِعِلَّتَيْنِ مُسْتَقِلَّتَيْنِ بَلْ إذَا اجْتَمَعَتْ أَسْبَابٌ مُوجِبَةٌ تَعَدَّدَتْ الْأَحْكَامُ الْوَاجِبَةُ بِتَعَدُّدِ أَسْبَابِهَا وَلَمْ تَتَدَاخَلْ وَإِنْ كَانَتْ جِنْسًا وَاحِدًا وَرَجَّحَ صَاحِبُ الْمُحَرَّرِ قَوْلَ أَبِي بَكْرٍ فِي غُسْلِ الْجَنَابَةِ وَالْحَيْضِ لِأَنَّهُمَا مُخْتَلِفَا الْأَحْكَامِ إذْ الْمَنْعُ الْمُرَتَّبُ عَلَى الْحَيْضِ يَزِيدُ عَلَى الْمَنْعِ الْمُرَتَّبِ عَلَى الْجَنَابَةِ لِأَنَّهُمَا مُخْتَلِفَا الْأَجْنَاسِ بِخِلَافِ غَيْرِهِمَا فَهُمَا كَالْجِنْسَيْنِ وَغَيْرُهُمَا كَالْجِنْسِ الْوَاحِدِ.

وَمِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ قَالَ إنْ نَوَتْ رَفْعَ حَدَثِ الْحَيْضِ ارْتَفَعَتْ الْجَنَابَةُ لِدُخُولِ مَوَانِعِهَا فِيهِ وَلَا عَكْسَ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ التَّاسِعَة عَشَرَ إمْكَانُ الْأَدَاءِ لَيْسَ بِشَرْطٍ فِي اسْتِقْرَار الْوَاجِبَاتِ بِالشَّرْعِ فِي الذِّمَّةِ]

(الْقَاعِدَةُ التَّاسِعَةَ عَشَرَ) : إمْكَانُ الْأَدَاءِ لَيْسَ بِشَرْطٍ فِي اسْتِقْرَارِ الْوَاجِبَاتِ بِالشَّرْعِ فِي الذِّمَّةِ عَلَى ظَاهِرِ الْمَذْهَبِ وَيَنْدَرِجُ تَحْتَ ذَلِكَ صُوَرٌ:

(مِنْهَا) الطَّهَارَةُ فَإِذَا وَصَلَ عَادِمُ الْمَاءِ إلَى الْمَاءِ وَقَدْ ضَاقَ الْوَقْتُ فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَطَهَّرَ وَيُصَلِّيَ بَعْدَ الْوَقْتِ ذَكَرَهُ صَاحِبُ الْمُغْنِي.

وَخَالَفَهُ صَاحِبُ الْمُحَرَّرِ وَقَالَ يُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ وَهُوَ ظَاهِرُ كَلَامِ أَحْمَدَ فِي رِوَايَةِ صَالِحٍ.

 

(وَمِنْهَا) الصَّلَاةُ فَإِذَا طَرَأَ عَلَى الْمُكَلَّفِ مَا يُسْقِطُ تَكْلِيفَهُ بَعْدَ الْوَقْتِ وَقَبْلَ التَّمَكُّنِ مِنْ الْفِعْلِ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ فِي الْمَشْهُورِ.

وَقَالَ ابْنُ بَطَّةَ وَابْنُ أَبِي مُوسَى لَا قَضَاءَ [عَلَيْهِ] .

 

(وَمِنْهَا) الزَّكَاةُ فَإِذَا
সালাত সম্পর্কে 'আত-তালখিস' প্রণেতা ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, এমতাবস্থায় জুমুআ এখানে ফরজে কিফায়া হয়ে যায়, যা চল্লিশ জনের উপস্থিতিতে (অন্যদের পক্ষ থেকে) রহিত হয়।

(এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো) যখন আকিকা এবং কুরবানি একত্রিত হয়, তখন কুরবানি কি আকিকার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে কি না?

এ বিষয়ে বর্ণিত দুটি সুনির্দিষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

অনুরূপ অর্থ বহন করে যদি হাদি (হজের পশু) এবং কুরবানি একত্রিত হয়। শায়খ তাকিউদ্দীন এই মত পছন্দ করেছেন যে, মক্কায় কোনো কুরবানি নেই, বরং তা কেবল হাদি।

(এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো) কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ একত্রিত হওয়া এবং শপথ, হজ, রোজা, যিহার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে একে অপরের মধ্যে প্রবিষ্ট হওয়া।

সুতরাং যদি কেউ এগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো একটির পক্ষ থেকে একটি কাফফারা আদায় করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং বাকি কাফফারাগুলো রহিত হয়ে যাবে, যদিও তা অস্পষ্ট হয়।

আর যদি সেগুলো একই জাতীয় হয়, তবে 'আল-মুহাররার' প্রণেতার মতে এটিও একমুখীভাবে (সর্বসম্মতভাবে) যথেষ্ট হবে।

আর 'আত-তারগীব' প্রণেতার মতে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।

যদি সেগুলো ভিন্ন দুই জাতীয় হয়, তবে নির্দিষ্ট করার নিয়তের আবশ্যিকতার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আর পবিত্রতা ওয়াজিবকারী অপবিত্রতা (হাদাস) যা একই জাতীয় বা ভিন্ন দুই জাতীয় হলেও উভয়ের মূল আবশ্যকতা এক, তবে নিয়তের মাধ্যমে সেগুলো একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে—এতে কোনো সংশয় নেই। আর যদি কেউ দুটির একটির নিয়ত করে, তবে প্রসিদ্ধ মত হলো সবগুলোই দূর হয়ে যাবে এবং এটি একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে, যেমনটি আমরা কাফফারার ক্ষেত্রে বলেছি; অথবা এই ভিত্তির ওপর যে, একটি বিধান একাধিক স্বতন্ত্র কারণের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে। আর যদি কেউ আংশিক হাদাস দূর করার নিয়ত করে, তবে সে তার ওয়াজিবের নিয়ত করল এবং তা একটিই, তাতে কোনো বহুত্ব নেই।

আবু বকর থেকে বর্ণিত যে, যা সে নিয়ত করেছে তা ব্যতীত অন্য কিছু দূর হবে না। 'আল-মুকনি' কিতাবে বলা হয়েছে: যদি কোনো নারী জানাবাতগ্রস্ত হয় এবং তারপর ঋতুবতী হয়, তবে যদি সে উভয়ের নিয়ত করে তবে একটি গোসলই উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে।

এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, একটি বিধান দুটি স্বতন্ত্র কারণের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না; বরং যখন একাধিক ওয়াজিব হওয়ার কারণ একত্রিত হয়, তখন কারণের ভিন্নতার কারণে ওয়াজিব বিধানও ভিন্ন হয় এবং তা একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয় না, যদিও তা একই জাতীয় হয়। 'আল-মুহাররার' প্রণেতা জানাবাত ও হায়যের গোসলের ক্ষেত্রে আবু বকরের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ এ দুটির বিধান ভিন্ন, যেহেতু হায়যের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা জানাবাতের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বেশি। কারণ এ দুটি ভিন্ন জাতীয়, পক্ষান্তরে অন্যগুলো এমন নয়। সুতরাং এ দুটি ভিন্ন জাতীয় এবং অন্যগুলো এক জাতীয়।

মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, যদি সে হায়যের হাদাস দূর করার নিয়ত করে তবে জানাবাতও দূর হয়ে যাবে, কারণ জানাবাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো হায়যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে, কিন্তু এর বিপরীতটি নয়।

 

‌‌[ঊনবিংশতম নীতি: শারিয়াত কর্তৃক জিম্মায় ওয়াজিবসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তা আদায় করতে সক্ষম হওয়া শর্ত নয়]

(ঊনবিংশতম নীতি) : মাযহাবের প্রকাশ্য মত অনুযায়ী, শারিয়াত কর্তৃক জিম্মায় ওয়াজিবসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তা আদায় করতে সক্ষম হওয়া শর্ত নয়। এর অধীনে কয়েকটি রূপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

(তার মধ্যে একটি হলো) পবিত্রতা: যদি পানিহীন ব্যক্তি পানির কাছে এমন সময় পৌঁছায় যখন ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয়ে গেছে, তবে তার ওপর ওয়াজিব হলো পবিত্রতা অর্জন করা এবং ওয়াক্তের পরে সালাত আদায় করা। 'আল-মুগনি' প্রণেতা এটি উল্লেখ করেছেন।

'আল-মুহাররার' প্রণেতা তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। সালিহ বর্ণিত রেওয়ায়েতে ইমাম আহমদের বক্তব্যের প্রকাশ্য দিক এটিই।

 

(তার মধ্যে আরেকটি হলো) সালাত: যদি মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর এমন কিছু আপতিত হয় যা তার দায়িত্বকে রহিত করে দেয়, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর কিন্তু তা আদায় করতে সক্ষম হওয়ার পূর্বে, তবে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব।

ইবনে বাত্তাহ এবং ইবনে আবি মুসা বলেছেন, তার ওপর কোনো কাজা নেই।

 

(তার মধ্যে আরেকটি হলো) জাকাত: সুতরাং যখন...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৭)
تَلِفَ النِّصَابُ قَبْلَ التَّمَكُّنِ مِنْ الْأَدَاء فَعَلَيْهِ أَدَاءُ زَكَاتِهِ عَلَى الْمَشْهُورِ إلَّا الْمُعَشَّرَاتِ إذَا تَلِفَتْ بِآفَةٍ سَمَاوِيَّةٍ لِكَوْنِهَا لَمْ تَدْخُلْ تَحْتَ يَدِهِ فَهِيَ كَالدَّيْنِ التَّاوِي قَبْلَ قَبْضِهِ وَخَرَّجَ الشِّيرَازِيُّ وَغَيْرُهُ وَجْهًا بِالسُّقُوطِ مُطْلَقًا.

 

(وَمِنْهَا) الصِّيَامُ فَإِذَا بَلَغَ الصَّبِيُّ مُفْطِرًا فِي أَثْنَاءِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ أَوْ أَسْلَمَ فِيهِ كَافِرٌ أَوْ طَهُرَتْ حَائِضٌ لَزِمَهُمْ الْقَضَاءُ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ.

(وَمِنْهَا) الْحَجُّ فَلَا يُشْتَرَطُ لِثُبُوتِهِ فِي الذِّمَّةِ التَّمَكُّنُ مِنْ الْأَدَاءِ عَلَى أَظْهَرِ الرِّوَايَتَيْنِ وَإِنَّمَا يُشْتَرَطُ لِلُزُومِ أَدَائِهِ بِنَفْسِهِ.

 

وَأَمَّا قَضَاءُ الْعِبَادَاتِ فَاعْتَبَرَ الْأَصْحَابُ لَهُ إمْكَانَ الْأَدَاءِ فَقَالُوا فِيمَنْ أَخَّرَ قَضَاءَ رَمَضَانَ لِعُذْرٍ ثُمَّ مَاتَ قَبْلَ زَوَالِهِ إنَّهُ لَا يُطْعَم عَنْهُ وَإِنْ مَاتَ بَعْدَ زَوَالِهِ وَالتَّمَكُّنِ مِنْ الْقَضَاءِ أُطْعِمْ عَنْهُ. .

 

وَأَمَّا [قَضَاءُ] الْمَنْذُورَاتِ فَفِي اشْتِرَاطِ الْأَدَاءِ وَجْهَانِ فَلَوْ نَذَرَ صِيَامًا أَوْ حَجًّا ثُمَّ مَاتَ قَبْلَ التَّمَكُّنِ مِنْهُ فَهَلْ يُقْضَى [عَنْهُ] ؟ عَلَى الْوَجْهَيْنِ وَعَلَى الْقَوْلِ بِالْقَضَاءِ فَهَلْ يُقْضَى الصِّيَامُ الْفَائِتُ بِالْمَرَضِ خَاصَّةً أَوْ الْفَائِتُ بِالْمَرَضِ وَالْمَوْتِ أَيْضًا؟ عَلَى وَجْهَيْنِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْعُشْرُونَ النَّمَاء الْمُتَوَلِّدُ مِنْ الْعَيْنِ حُكْمُهُ حُكْمُ الْجُزْءِ]

(الْقَاعِدَةُ الْعِشْرُونَ) : النَّمَاءُ الْمُتَوَلِّدُ مِنْ الْعَيْنِ حُكْمُهُ حُكْمُ الْجُزْءِ، وَالْمُتَوَلِّدُ مِنْ الْكَسْبِ بِخِلَافِهِ عَلَى الصَّحِيحِ.

وَيَظْهَرُ أَثَرُ ذَلِكَ فِي مَسَائِلَ: (مِنْهَا) لَوْ كَانَ عِنْدَهُ دُونَ نِصَاب فَكَمُلَ نِصَابًا بِنِتَاجِهِ فَهَلْ يَحْسُبُ حَوْلَهُ مِنْ حِينِ كَمُلَ كَمَا لَوْ كَانَ النِّتَاجُ مِنْ غَيْرِهِ أَوْ مِنْ حِينِ مَلَكَ الْأُمَّهَاتِ لِأَنَّ النِّتَاجَ جُزْءٌ مِنْ الْأُمَّهَاتِ فَهُوَ مَوْجُودٌ فِيهَا بِالْقُوَّةِ مِنْ أَوَّلِ الْحَوْلِ؟ .

فِي الْمَسْأَلَةِ رِوَايَتَانِ وَلَوْ كَانَ لَهُ مِائَةٌ وَخَمْسُونَ دِرْهَمًا فَاتَّجَرَ بِهَا حَتَّى صَارَتْ مِائَتَيْنِ فَحَوْلُهَا مِنْ حِينِ كَمُلَ بِغَيْرِ خِلَافٍ لِأَنَّ الْكَسْبَ يَتَوَلَّدُ مِنْ الْخَارِجِ وَهُوَ رَغَبَاتُ النَّاسِ لَا مِنْ نَفْسِ الْعَيْنِ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ عَجَّلَ الزَّكَاةَ عَنْ نَمَاءِ النِّصَابِ قَبْلَ وُجُودِهِ فَهَلْ يُجْزِئُهُ؟ فِي ثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ ثَالِثُهَا يُفَرِّقُ بَيْنَ أَنْ يَكُونَ النَّمَاءُ نِصَابًا فَلَا يَجُوزُ لِاسْتِقْلَالِهِ بِنَفْسِهِ فِي الْوُجُوبِ وَبَيْنَ أَنْ يَكُونَ دُونَ نِصَابٍ فَيَجُوزُ لِتَبَعِيَّتِهِ لِلنِّصَابِ فِي الْوُجُوبِ، وَيَتَخَرَّجُ فِيهِ وَجْهٌ رَابِعٌ بِالْفَرْقِ بَيْنَ أَنْ يَكُونَ النَّمَاءُ نِتَاجَ مَاشِيَةٍ أَوْ رِبْحَ تِجَارَةٍ فَيَجُوزُ فِي الْأَوَّلِ دُونَ الثَّانِي مِنْ الْمَسْأَلَةِ الَّتِي قَبْلَهَا.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ اشْتَرَى شَيْئًا فَاسْتَغَلَّهُ وَنَمَا عِنْدَهُ ثُمَّ رَدَّهُ بِعَيْبٍ فَإِنْ كَانَ نَمَاؤُهُ كَسْبًا لَمْ يَرُدَّهُ مَعَهُ قَالَ كَثِيرٌ مِنْ الْأَصْحَابِ بِغَيْرِ خِلَافٍ وَإِنْ كَانَ مُتَوَلِّدًا مِنْ عَيْنِهِ كَالْوَلَدِ وَاللَّبَنِ وَالصُّوفِ الْحَادِثِ وَثَمَرَةِ الشَّجَرِ فَهَلْ يَرُدُّهُ مَعَهُ؟ فِيهِ رِوَايَتَانِ مَعْرُوفَتَانِ

 

(وَمِنْهَا) لَوْ قَارَضَ الْمَرِيضُ فِي مَرَضِ الْمَوْتِ
আদায় করার সক্ষমতা অর্জনের পূর্বেই যদি নিসাব পরিমাণ মাল নষ্ট হয়ে যায়, তবে প্রসিদ্ধ মতানুসারে তার যাকাত আদায় করা ওয়াজিব; তবে উশরযোগ্য ফসলের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, যদি তা আসমানি বিপদে নষ্ট হয়। কারণ তা তার হস্তগত হয়নি, তাই এটি উসুল না হওয়া ঋণের মতো যা হস্তগত হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। আর শিরাজি ও অন্যান্যরা যাকাত সম্পূর্ণরূপে রহিত হওয়ার একটি মত বর্ণনা করেছেন।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) রোজা। যদি কোনো বালক রমজানের দিনের বেলায় পানাহার করা অবস্থায় বালেগ হয়, অথবা কোনো কাফির ইসলাম গ্রহণ করে, কিংবা কোনো ঋতুবতী নারী পবিত্র হয়, তবে দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তাদের ওপর কাজা করা আবশ্যক।

(তার মধ্যে একটি হলো) হজ। জিম্মায় হজ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য আদায় করার সক্ষমতা থাকা শর্ত নয়—দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী। বরং এটি কেবল নিজে আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত।

 

আর ইবাদতসমূহের কাজার ক্ষেত্রে ফকিহগণ আদায়ের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ওজরের কারণে রমজানের কাজা বিলম্বিত করেছে এবং তা আদায়ের সুযোগ পাওয়ার আগেই মারা গেছে, তার পক্ষ থেকে ফিদিয়া প্রদান করা হবে না। কিন্তু যদি ওজর দূর হওয়ার পর কাজা করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে মারা যায়, তবে তার পক্ষ থেকে ফিদিয়া প্রদান করা হবে।

 

আর মানতকৃত ইবাদতের কাজার ক্ষেত্রে সক্ষমতার শর্তারোপে দুটি মত রয়েছে। যদি কেউ রোজা বা হজের মানত করে এবং সক্ষম হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে কি তার পক্ষ থেকে তা কাজা করা হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। আর কাজা করার মতানুসারে, কেবল অসুস্থতার কারণে ছুটে যাওয়া রোজা কাজা করা হবে, নাকি অসুস্থতা ও মৃত্যু উভয়ের কারণে ছুটে যাওয়া রোজা কাজা করা হবে? এ বিষয়েও দুটি মত রয়েছে।

 

‌‌[বিংশতম মূলনীতি: মূল বস্তু থেকে উৎপন্ন বৃদ্ধি মূল বস্তুর অংশের পর্যায়ভুক্ত]

(বিংশতম মূলনীতি): মূল বস্তু থেকে উৎপন্ন বৃদ্ধির বিধান হলো তা মূল অংশের বিধানভুক্ত হবে। আর উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত বৃদ্ধি এর বিপরীত হবে—এটিই সঠিক মত।

এর প্রভাব বিভিন্ন মাসয়ালায় প্রকাশ পায়: (তার মধ্যে একটি হলো) যদি কারো কাছে নিসাবের কম সম্পদ থাকে এবং তার উৎপাদনের মাধ্যমে তা নিসাব পূর্ণ হয়, তবে কি নিসাব পূর্ণ হওয়ার সময় থেকে বছর গণনা শুরু হবে—যেমনটা হতো যদি উৎপাদন অন্য উৎস থেকে হতো? নাকি মূল সম্পদের মালিক হওয়ার সময় থেকেই বছর গণনা হবে? কারণ উৎপাদন মূল সম্পদেরই অংশ, যা বছরের শুরু থেকেই সুপ্তভাবে তাতে বিদ্যমান ছিল।

এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আর যদি কারো কাছে ১৫০ দিরহাম থাকে এবং সে তা দিয়ে ব্যবসা করে ২০০ দিরহাম করে ফেলে, তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই নিসাব পূর্ণ হওয়ার সময় থেকেই বছর গণনা শুরু হবে। কারণ এই উপার্জন বাহ্যিক উৎস থেকে অর্জিত হয়েছে, যা হলো মানুষের চাহিদা; এটি স্বয়ং মূল বস্তু থেকে উৎপন্ন হয়নি।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ নিসাবের বৃদ্ধির ওপর তা অর্জিত হওয়ার আগেই অগ্রিম যাকাত প্রদান করে, তবে কি তা যথেষ্ট হবে? এক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে। তৃতীয়টি হলো এই যে, যদি বৃদ্ধিটি নিজেই একটি পূর্ণ নিসাব হয় তবে তা জায়েজ নয়, কারণ তা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। আর যদি বৃদ্ধিটি নিসাবের কম হয় তবে তা জায়েজ, কারণ ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে তা মূল নিসাবের অনুগামী। এ বিষয়ে চতুর্থ একটি মতও বের করা হয়েছে যেখানে গবাদি পশুর উৎপাদন এবং ব্যবসার মুনাফার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে; পূর্ববর্তী মাসয়ালার ভিত্তিতে প্রথমটিতে জায়েজ হবে এবং দ্বিতীয়টিতে হবে না।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ কোনো বস্তু ক্রয় করে এবং তা থেকে সুবিধা গ্রহণ করে ও তার কাছে তার বৃদ্ধি ঘটে, অতঃপর ত্রুটির কারণে তা ফেরত দেয়; এমতাবস্থায় যদি সেই বৃদ্ধি উপার্জিত হয়, তবে সে তা মালের সাথে ফেরত দেবে না—অনেক ফকিহ এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই বলে উল্লেখ করেছেন। আর যদি বৃদ্ধিটি মূল বস্তু থেকে উৎপন্ন হয়, যেমন বাচ্চা, দুধ, নতুন উৎপন্ন পশম এবং গাছের ফল, তবে কি সে তা মালের সাথে ফেরত দেবে? এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা রয়েছে।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন মুদারাবা চুক্তিতে লিপ্ত হয়...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَسَمَّى لِلْعَامِلِ أَكْثَرَ مِنْ تَسْمِيَةِ مِثْلِهِ صَحَّ وَلَمْ يُحْتَسَبْ مِنْ الثُّلُثِ وَلَوْ سَاقَى وَسَمَّى لِلْعَامِلِ أَكْثَرَ مِنْ تَسْمِيَةِ الْمِثْلِ فَوَجْهَانِ أَشْهَرُهُمَا أَنَّهُ يُعْتَبَرُ مِنْ الثُّلُثِ لِحُدُوثِ الثَّمَرِ مِنْ عَيْنِ مِلْكِهِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ فَسَخَ الْعَامِلُ الْمُضَارَبَةَ قَبْلَ ظُهُورِ الرِّبْحِ لَمْ يَسْتَحِقَّ الْمُضَارِبُ شَيْئًا، وَلَوْ فَسَخَ الْمُسَاقَاةَ قَبْلَ ظُهُورِ الثَّمَرَةِ اسْتَحَقَّ الْعَامِلُ أُجْرَةَ الْمِثْلِ لِأَنَّ الرِّبْحَ لَا يَتَوَلَّدُ مِنْ الْمَالِ بِنَفْسِهِ وَإِنَّمَا يَتَوَلَّدُ مِنْ الْعَمَلِ وَلَمْ يَحْصُلْ بِعَمَلِهِ رِبْحٌ وَالثَّمَرُ مُتَوَلِّدٌ مِنْ عَيْنِ الشَّجَرِ وَقَدْ عَمِلَ عَلَى الشَّجَرِ عَمَلًا مُؤَثِّرًا فِي الثَّمَرِ فَكَانَ لِعَمَلِهِ تَأْثِيرٌ فِي حُصُولِ الثَّمَرِ وَظُهُورِهِ بَعْدَ الْفَسْخِ.

 

(وَمِنْهَا) أَنَّ الْمُشَارَكَةَ بَيْنَ اثْنَيْنِ بِمَالِ أَحَدِهِمَا وَعَمَلِ الْآخَرِ إنْ كَانَ الْمُشَارَكَةُ فِيمَا يَنْمُو مِنْ الْعَمَلِ كَالرِّبْحِ جَازَ كَالْمُضَارَبَةِ، وَكَمَنْ دَفَعَ دَابَّتَهُ أَوْ عَبْدَهُ إلَى مَنْ يَعْمَلُ عَلَيْهِ بِشَيْءٍ مِنْ كَسْبِهِ فَإِنَّهُ يَجُوزُ عَلَى الْأَصَحِّ وَإِنْ كَانَتْ الْمُشَارَكَةُ فِيمَا يُحْدِثُ عَيْنُ الْمَالِ كَدَرِّ الْحَيَوَانِ وَنَسْلِهِ فَفِيهِ رِوَايَتَانِ.

وَكَثِيرٌ مِنْ الْأَصْحَابِ يَخْتَارُ فِيهِ الْمَنْعَ لِأَنَّ الْعَامِلَ لَا يَثْبُتُ حَقُّهُ فِي أَصْلِ عَيْنِ الْمَالِ وَالْمُتَوَلِّدُ مِنْ الْعَيْنِ حُكْمُهُ حُكْمُهَا وَلَكِنَّ هَذَا مَمْنُوعٌ عِنْدَ مَنْ أَجَازَ الِاسْتِئْجَارَ عَلَى حَصَادِ الزَّرْعِ بِجُزْءٍ مِنْهُ أَوْ عَلَى نَسْجِ الثَّوْبِ بِبَعْضِهِ.

وَذَلِكَ مَنْصُوصٌ عِنْدَ أَحْمَدَ أَيْضًا وَاسْتَثْنَى مِنْ ذَلِكَ أَبُو الْخَطَّاب فِي انْتِصَارِهِ ثَمَرَ الشَّجَرِ فَإِذَا عَمِلَ الشَّرِيكَانِ فِي شَجَرٍ بَيْنَهُمَا نِصْفَيْنِ وَشَرَطَا التَّفَاضُلَ فِي ثَمَرِهِ جَازَ [عِنْدَهُ] وَفَرَّقَ بَيْنَ الثَّمَرِ وَغَيْرِهِ مِمَّا يَتَوَلَّدُ مِنْ عَيْنِ الْمَالِ بِأَنَّ لِلْعَمَلِ تَأْثِيرًا فِي حُصُولِ الثَّمَرِ بِخِلَافِ غَيْرِهِ.

وَلِهَذَا الْمَعْنَى جَازَتْ الْمُسَاقَاةُ فَأَمَّا الْإِجَارَةُ الْمَحْضَةُ فَيَجُوزُ فِيمَا يُنْتَفَعُ بِاسْتِغْلَالِهِ وَإِجَارَتِهِ مِنْ الْعَقَارِ وَغَيْرِهِ.

وَلَا يَجُوزُ فِيمَا يُنْتَفَعُ بِأَعْيَانِهِ إلَّا فِيمَا اُسْتُثْنِيَ مِنْ ذَلِكَ لِلْحَاجَةِ كَالظِّئْرِ وَنَحْوِهَا.

وَعِنْدَ تَقِيِّ الدِّينِ رحمه الله أَنَّ الْأَعْيَانَ الَّتِي تَسْتَخْلِفُ شَيْئًا فَشَيْئًا حُكْمُهُ حُكْمُ الْمَنَافِعِ فَيَجُوزُ اسْتِيفَاؤُهَا بِعَقْدِ الْإِجَارَةِ كَمَا يُسْتَوْفَى بِالْوَقْفِ وَالْوَصِيَّةِ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الْحَادِيَة وَالْعِشْرُونَ يَخْتَصُّ الْوَلَدُ مِنْ بَيْنِ سَائِرِ النَّمَاءِ الْمُتَوَلِّدِ مِنْ الْعَيْنِ بِأَحْكَامٍ]

(الْقَاعِدَةُ الْحَادِيَةُ وَالْعِشْرُونَ) : وَقَدْ يَخْتَصُّ الْوَلَدُ مِنْ بَيْنِ سَائِرِ النَّمَاءِ الْمُتَوَلِّدِ مِنْ الْعَيْنِ بِأَحْكَامٍ وَيُعَبَّرُ عَنْ ذَلِكَ بِأَنَّ الْوَلَدَ هَلْ هُوَ كَالْجُزْءِ أَوْ كَالْكَسْبِ؟ وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ جُزْءٌ فَمِنْ ذَلِكَ لَوْ وَلَدَتْ الْأَمَةُ الْمَوْقُوفَةُ وَلَدًا فَهَلْ يَكُونُ مِلْكًا لِلْمَوْقُوفِ عَلَيْهِ كَثَمَرِ الشَّجَرَةِ أَوْ يَكُونُ وَقْفًا مَعَهَا عَلَى وَجْهَيْنِ أَشْهَرُهُمَا أَنَّهُ وَقْفٌ مَعَهَا لِأَنَّهُ جُزْءٌ مِنْهَا وَلِهَذَا يَصِحُّ وَقْفُهُ ابْتِدَاءَ بِخِلَافِ الثَّمَرَةِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ وَلَدَتْ الْمُوصَى بِمَنَافِعِهَا فَإِنْ قُلْنَا الْوَلَدُ كَسْبٌ فَكُلُّهُ لِصَاحِبِ الْمَنْفَعَةِ وَإِنْ قُلْنَا هُوَ جُزْءٌ فَفِيهِ وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: أَنَّهُ بِمَنْزِلَتِهَا.

وَالثَّانِي: أَنَّهُ لِلْوَرَثَةِ لِأَنَّ الْأَجْزَاءَ لَهُمْ دُونَ الْمَنَافِعِ.

 

(وَمِنْهَا) هَلْ يَتْبَعُ الْوَلَدُ أُمَّهُ فِي الْكِتَابَةِ الْفَاسِدَةِ كَالصَّحِيحَةِ؟ فَإِنْ قُلْنَا
এবং যদি শ্রমিকের জন্য প্রচলিত পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হয়, তবে তা সঠিক হবে এবং তা মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে গণ্য করা হবে না। আর যদি মুসাকাত (বর্গাচাষ) করা হয় এবং শ্রমিকের জন্য প্রচলিত হারের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে; যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো এটি এক-তৃতীয়াংশের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, কারণ ফল উৎপন্ন হয় তার মালিকানাধীন মূল সত্তা থেকে।

 

(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি মুদারাবাহর ক্ষেত্রে লাভ প্রকাশ পাওয়ার আগেই শ্রমিক চুক্তি বাতিল করে দেয়, তবে মুদারিব (শ্রমিক) কিছুই পাবে না। কিন্তু যদি মুসাকাতের ক্ষেত্রে ফল আসার আগেই চুক্তি বাতিল করা হয়, তবে শ্রমিক ‘উজরাতে মিসল’ বা যথাযোগ্য পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী হবে। কেননা মুনাফা কেবল সম্পদ থেকে নিজে নিজে তৈরি হয় না, বরং তা শ্রমের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, আর তার শ্রমের মাধ্যমে কোনো মুনাফা অর্জিত হয়নি। পক্ষান্তরে ফল উৎপন্ন হয় গাছের মূল সত্তা থেকে এবং সে গাছের ওপর এমন কাজ করেছে যা ফল উৎপাদনে প্রভাব রাখে, ফলে চুক্তি বাতিলের পরেও ফল প্রাপ্তি ও তা প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে তার শ্রমের একটি প্রভাব বিদ্যমান থাকে।

 

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) একজনের সম্পদ এবং অন্যজনের শ্রমের ভিত্তিতে যদি দুজনের মধ্যে অংশীদারিত্ব হয়—যদি সেই অংশীদারিত্ব শ্রমের ফলে বর্ধিত বিষয়ের মধ্যে হয় যেমন মুনাফা, তবে তা মুদারাবাহর ন্যায় বৈধ। যেমন কেউ তার পশু বা দাসকে এমন কারো কাছে হস্তান্তর করল যে তার ওপর কাজ করবে এই শর্তে যে তার উপার্জনের একটি অংশ সে পাবে; এটি বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী বৈধ। আর যদি অংশীদারিত্ব এমন বিষয়ে হয় যা সম্পদের মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন হয়, যেমন প্রাণীর দুধ এবং তার শাবক, তবে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

অধিকাংশ ফকীহ এখানে নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ শ্রমিকের হক সম্পদের মূল সত্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় না, আর যা মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন হয় তার বিধান মূল সত্তার বিধানের মতোই। তবে যারা ফসলের একটি অংশের বিনিময়ে তা কাটার জন্য কিংবা কাপড়ের একটি অংশের বিনিময়ে তা বুননের জন্য ভাড়া করা বৈধ মনে করেন, তাদের নিকট এটি নিষিদ্ধ নয়।

এটি ইমাম আহমাদের নিকট থেকেও স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। আর আবু আল-খাত্তাব তার ‘ইনতিসার’ গ্রন্থে ফলের বিষয়টিকে এর ব্যতিক্রম ধরেছেন। সুতরাং যদি দুই অংশীদার তাদের মালিকানাধীন কোনো গাছে আধাআধি ভিত্তিতে কাজ করে এবং তাদের ফলের ক্ষেত্রে কম-বেশি হওয়ার শর্ত আরোপ করে, তবে [তার মতে] তা বৈধ হবে। তিনি ফল এবং সম্পদের মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন অন্যান্য জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই যুক্তিতে যে, ফল উৎপাদনে শ্রমের প্রভাব থাকে, যা অন্যান্য ক্ষেত্রে থাকে না।

আর এই কারণেই মুসাকাত বৈধ হয়েছে। আর সাধারণ ইজারা (ভাড়া) সেই সব ক্ষেত্রে বৈধ যেখানে তার উপযোগ বা ভাড়া থেকে উপকার গ্রহণ করা হয়, যেমন স্থাবর সম্পত্তি ইত্যাদি।

তবে যে জিনিসের মূল সত্তা ভোগ করার মাধ্যমে উপকার লাভ করা হয়, সে ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়; কেবল প্রয়োজনের খাতিরে যা ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা ব্যতীত, যেমন ধাত্রী (দুধ মা) এবং অনুরূপ বিষয়।

তাকিউদ্দীন (রহ.)-এর মতে, যে সকল মূল সত্তা পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি জিনিস তৈরি করে, সেগুলোর বিধান উপযোগ বা মুনাফার (মানাফি) বিধানের মতোই। সুতরাং ইজারা চুক্তির মাধ্যমে সেগুলো ভোগ করা বৈধ, যেভাবে ওয়াকফ ও ওসিয়তের মাধ্যমে তা লাভ করা যায়।

 

‌‌[একুশতম নীতি: মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন অন্যান্য সকল বৃদ্ধির মধ্যে সন্তান বা শাবক বিশেষ কিছু বিধানের অন্তর্ভুক্ত]

(একুশতম নীতি): মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন অন্যান্য সকল বৃদ্ধির মধ্যে সন্তান বা শাবক বিশেষ কিছু বিধানের অধিকারী হতে পারে। বিষয়টিকে এভাবে ব্যক্ত করা হয় যে: সন্তান কি মূল সত্তার অংশ নাকি উপার্জনের মতো? অধিক স্পষ্ট মত হলো এটি একটি অংশ। এর উদাহরণ হলো, যদি ওয়াকফকৃত কোনো দাসী সন্তান প্রসব করে, তবে সেই সন্তান কি গাছের ফলের মতো ওয়াকফকৃত ব্যক্তির মালিকানা হবে, নাকি মায়ের সাথে সেও ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে? এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো এটি মায়ের সাথে ওয়াকফ হবে, কারণ সে তার মায়ের অংশ। আর এই কারণেই শুরু থেকেই তার ওয়াকফ হওয়া সহীহ, যা ফলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

 

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) যার উপযোগ বা মুনাফা (মানাফি) ওসিয়ত করা হয়েছে এমন দাসী যদি সন্তান প্রসব করে—যদি আমরা বলি সন্তান একটি উপার্জন, তবে তার পুরোটাই উপযোগের মালিক পাবে। আর যদি বলি এটি একটি অংশ, তবে এ ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: এটি তার মায়ের মর্যাদায় থাকবে।

দ্বিতীয়টি: এটি ওয়ারিশদের প্রাপ্য হবে, কারণ তারা মূল অংশগুলোর মালিক, উপযোগের নয়।

 

(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) ফাসেদ বা ত্রুটিপূর্ণ কিতাবাত চুক্তির ক্ষেত্রে সন্তান কি সহীহ চুক্তির মতো তার মায়ের অনুগামী হবে? যদি আমরা বলি...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ২৯)
هُوَ جُزْءٌ مِنْهَا تَبِعَهَا.

وَإِنْ قُلْنَا هُوَ كَسْبٌ فَفِيهِ وَجْهَانِ بِنَاءً عَلَى سَلَامَةِ الِاكْتِسَابِ فِي الْكِتَابَةِ الْفَاسِدَةِ

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَة وَالْعِشْرُونَ الْعَيْنُ الْمُنْغَمِرَة فِي غَيْرِهَا إذَا لَمْ يَظْهَرْ أَثَرُهَا]

(الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَةُ وَالْعِشْرُونَ) : الْعَيْنُ الْمُنْغَمِرَةُ فِي غَيْرِهَا إذَا لَمْ يَظْهَرْ أَثَرُهَا فَهَلْ هِيَ كَالْمَعْدُومَةِ حُكْمًا أَوْ لَا؟ .

فِيهِ خِلَافٌ وَيَنْبَنِي عَلَيْهِ مَسَائِلُ: (وَمِنْهَا) الْمَاءُ الَّذِي اُسْتُهْلِكَتْ فِيهِ النَّجَاسَةُ فَإِنْ كَانَ كَثِيرًا سَقَطَ حُكْمُهَا بِغَيْرِ خِلَافٍ، وَإِنْ كَانَ يَسِيرًا فَرِوَايَتَانِ ثُمَّ مِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ يَقُولُ إنَّمَا سَقَطَ حُكْمُهَا وَإِلَّا فَهِيَ مَوْجُودَةٌ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ بَلْ الْمَاءُ أَحَالَهَا لِأَنَّ لَهُ قُوَّةَ الْإِحَالَةِ فَلَمْ يَبْقَ لَهَا وُجُودٌ بَلْ الْمَوْجُودُ غَيْرُهَا فَهُوَ عَيْنٌ طَاهِرَةٌ وَهِيَ طَرِيقَةُ أَبِي الْخَطَّابِ.

 

(وَمِنْهَا) اللَّبَنُ الْمَشُوبُ بِالْمَاءِ الْمُنْغَمِرِ فِيهِ هَلْ يَثْبُتُ بِهِ تَحْرِيمُ الرَّضَاعِ؟ فِيهِ وَجْهَانِ:

أَحَدُهُمَا: وَهُوَ الْمَحْكِيُّ عَنْ الْقَاضِي أَنَّهُ يَثْبُتُ.

وَالثَّانِي: لَا وَاخْتَارَهُ صَاحِبُ الْمُغْنِي وَعَلَى الْأَوَّلِ فَإِنَّمَا يُحَرَّمُ إذَا شَرِبَ الْمَاءَ كُلَّهُ وَلَوْ فِي دَفْعَاتٍ وَيَكُونُ رَضْعَةً وَاحِدَةً ذَكَرَهُ الْقَاضِي فِي خِلَافِهِ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ خَلَطَ خَمْرًا بِمَاءٍ وَاسْتُهْلِكَ فِيهِ ثُمَّ شَرِبَهُ لَمْ يُحَدَّ هَذَا هُوَ الْمَشْهُورُ، وَسَوَاءٌ قِيلَ بِنَجَاسَةِ الْمَاءِ أَوْ لَا.

وَفِي التَّنْبِيهِ لِأَبِي بَكْرٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ مَنْ لَتَّ بِالْخَمْرِ سَوِيقًا أَوْ صَبَّهَا فِي لَبَنٍ أَوْ مَاءٍ جَارٍ ثُمَّ شَرِبَهَا فَعَلَيْهِ الْحَدُّ، وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ أَنْ يُسْتَهْلَكَ أَوْ لَا يُسْتَهْلَكُ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ خَلَطَ زَيْتَهُ بِزَيْتِ غَيْرِهِ عَلَى وَجْهٍ لَا يَتَمَيَّزُ فَهَلْ هُوَ اسْتِهْلَاكٌ بِحَيْثُ يَجِبُ لِصَاحِبِهِ عِوَضُهُ مِنْ أَيِّ مَوْضِعٍ كَانَ أَوْ هُوَ اشْتِرَاكٌ.

فِي الْمَسْأَلَةِ رِوَايَتَانِ الْمَنْصُوصُ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي الْحَارِثِ أَنَّهُ اشْتِرَاكٌ وَاخْتَارَهُ ابْنُ حَامِدٍ وَالْقَاضِي فِي خِلَافِهِ وَاخْتَارَ فِي الْمُجَرَّدِ أَنَّهُ اسْتِهْلَاكٌ.

وَأَمَّا إنْ كَانَ الْمُخْتَلَطُ غَصْبًا فَقَالَ فِي رِوَايَةِ أَبِي طَالِبٍ هَذَا قَدْ اخْتَلَطَ أَوَّلُهُ وَآخِرُهُ أَعْجَبُ إلَيَّ أَنْ يَتَنَزَّهَ عَنْهُ كُلَّهُ يَتَصَدَّقُ بِهِ وَأَنْكَرَ قَوْلَ مَنْ قَالَ يُخْرِجُ مِنْهُ قَدْرَ مَا خَالَطَهُ.

وَاخْتَارَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي فُنُونِهِ التَّحْرِيمَ لِامْتِزَاجِ الْحَلَالِ بِالْحَرَامِ وَاسْتِحَالَةِ انْفِرَادِ أَحَدِهِمَا عَنْ الْآخَرِ وَعَلَى هَذَا فَلَيْسَ لَهُ إخْرَاجُ قَدْرِ الْحَرَامِ مِنْهُ بِدُونِ إذْنِ الْمَغْصُوبِ مِنْهُ لِأَنَّهَا قِسْمَةٌ فَلَا يَجُوزُ بِدُونِ رِضَا الشَّرِيكَيْنِ، لَكِنْ لِأَصْحَابِنَا وَجْهٌ فِي الْمَكِيلِ وَالْمَوْزُونِ الْمُشْتَرَكِ أَنَّ لِأَحَدِ الشَّرِيكَيْنِ الِانْفِرَادَ بِالْقِسْمَةِ دُونَ الْآخَرِ وَهُوَ اخْتِيَارُ أَبِي الْخَطَّابِ وَنَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ فِي الدَّرَاهِمِ، وَمَنَعَهُ الْقَاضِي لَكِنَّهُ قَالَ فِي خِلَافِهِ إنْ كَانَ الْحَقُّ فِي الْقَدْرِ الْمُخْتَلَطِ لِآدَمِيٍّ مُعَيَّنٍ لَمْ تَجُزْ الْقِسْمَةُ بِدُونِ إذْنِهِ وَإِنْ كَانَ لِغَيْرِ مُعَيَّنٍ كَاَلَّذِي انْقَطَعَ خَبَرُ مَالِكِهِ وَوَجَبَ التَّصَدُّقُ بِهِ، فَلِلْمَالِكِ الِاسْتِبْدَادُ بِالْقِسْمَةِ لِأَنَّ لَهُ وِلَايَةَ التَّصَرُّفِ فِيهِ بِالصَّدَقَةِ، وَهَذَا كُلُّهُ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ اشْتِرَاكٌ.

وَعَنْ أَحْمَدَ رحمه الله رِوَايَةٌ أُخْرَى أَنَّهُ اسْتِهْلَاكٌ قَالَ فِي رِوَايَةِ الْمَرُّوذِيّ يُخْرِجُ الْعِوَضَ مِنْهُ وَهَذَا يَحْتَمِلُ أَنَّهُ أَرَادَ [أَنْ] يُخْرِجَ بَدَلَهُ عِوَضًا مِنْهُ وَكَذَا سَاقَهُ
এটি তারই অংশ যা তাকে অনুসরণ করে।

আর যদি আমরা বলি যে এটি একটি উপার্জন, তবে ত্রুটিপূর্ণ কিতাবাতের ক্ষেত্রে উপার্জনের বৈধতার ভিত্তিতে এখানে দুটি অভিমত রয়েছে।

 

‌‌[দ্বাবিংশ নিয়ম: কোনো বস্তু অন্য কিছুর মধ্যে এমনভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া যার কোনো প্রভাব প্রকাশ পায় না]

(দ্বাবিংশ নিয়ম): কোনো বস্তু অন্য কিছুর মধ্যে এমনভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া যার কোনো প্রভাব প্রকাশ পায় না, তবে বিধানগতভাবে সেটি কি অবিদ্যমান বলে গণ্য হবে নাকি হবে না? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে কতগুলো মাসয়ালা উদ্ভূত হয়: (তার মধ্যে একটি হলো) এমন পানি যার মধ্যে নাপাকি বিলীন হয়ে গেছে; যদি পানির পরিমাণ বেশি হয় তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই নাপাকির বিধান রহিত হয়ে যাবে। আর যদি পানির পরিমাণ সামান্য হয় তবে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এরপর আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, কেবল নাপাকির বিধান রহিত হয়েছে কিন্তু বস্তুত সেটি বিদ্যমান রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন বরং পানি একে রূপান্তরিত করে ফেলেছে, কারণ পানির রূপান্তরের ক্ষমতা রয়েছে, ফলে নাপাকির আর কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকেনি বরং বর্তমানে যা বিদ্যমান তা অন্য কিছু; সুতরাং তা একটি পবিত্র বস্তু। এটি আবু আল-খাত্তাবের মত।

 

(আরেকটি হলো) দুধের সাথে পানি মিশ্রিত করা যা তাতে বিলীন হয়ে গেছে, এর মাধ্যমে কি দুগ্ধপানের কারণে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: যা কাজী থেকে বর্ণিত যে, এটি সাব্যস্ত হবে।

দ্বিতীয়টি: সাব্যস্ত হবে না, আর এটিই 'আল-মুগনি' প্রণেতা পছন্দ করেছেন। প্রথম অভিমত অনুযায়ী, তখনই হারাম সাব্যস্ত হবে যদি সে সমস্ত পানি পান করে ফেলে, এমনকি কয়েকবারে পান করলেও; এবং এটি একটি দুগ্ধপান হিসেবে গণ্য হবে। কাজী তার 'খিলাফ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

(আরেকটি হলো) কেউ যদি পানির সাথে মদ মিশিয়ে দেয় এবং তা তাতে বিলীন হয়ে যায়, অতঃপর সে তা পান করে, তবে তার ওপর হদ কার্যকর হবে না—এটিই প্রসিদ্ধ মত; চাই পানি নাপাক বলা হোক বা না হোক।

আর আবু বকর আব্দুল আজিজের 'আত-তানবিহ' গ্রন্থে আছে যে, কেউ যদি মদ দিয়ে ছাতু মাখায় অথবা দুধ বা প্রবাহিত পানির মধ্যে মদ ঢালে অতঃপর তা পান করে, তবে তার ওপর হদ কার্যকর হবে; তিনি মদ বিলীন হওয়া বা না হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।

 

(আরেকটি হলো) যদি কেউ নিজের তেল অন্যের তেলের সাথে এমনভাবে মিশিয়ে ফেলে যে তা আর পৃথক করা সম্ভব না হয়, তবে এটি কি বিলীন হওয়া হিসেবে গণ্য হবে যাতে মালিককে যেকোনো উৎস থেকে এর বিনিময় প্রদান করা ওয়াজিব হবে, নাকি এটি অংশীদারিত্ব হিসেবে গণ্য হবে।

এ মাসয়ালায় দুটি বর্ণনা রয়েছে। আব্দুল্লাহ ও আবু আল-হারিসের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এটি অংশীদারিত্ব এবং ইবনে হামিদ ও কাজী তার 'খিলাফ' গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন। আর 'আল-মুজাররাদ' গ্রন্থে এটিকে বিলীন হওয়া হিসেবে পছন্দ করা হয়েছে।

কিন্তু যদি মিশ্রিত অংশটি জবরদখলকৃত হয়, তবে আবু তালিবের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, এর শুরু থেকে শেষ সবটাই মিশে গেছে, তাই আমার নিকট পছন্দনীয় হলো সে যেন পুরোটা থেকেই বেঁচে থাকে এবং তা সদকা করে দেয়। আর যে ব্যক্তি বলে যে যতটুকু মিশেছে কেবল ততটুকু বের করে দেবে, তিনি তার সেই উক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইবনে আকীল তার 'ফুনুন' গ্রন্থে হারাম হওয়ার অভিমত গ্রহণ করেছেন, কারণ হালাল হারামের সাথে মিশে গেছে এবং একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করা অসম্ভব। এই ভিত্তিতে, যার সম্পদ জবরদখল করা হয়েছে তার অনুমতি ছাড়া হারাম পরিমাণ অংশ বের করা তার জন্য বৈধ নয়; কারণ এটি একটি বণ্টন আর দুই অংশীদারের সম্মতি ছাড়া তা জায়েজ নয়। তবে পরিমাপযোগ্য এবং ওজনযোগ্য যৌথ সম্পদের ক্ষেত্রে আমাদের মাযহাবের আলেমদের একটি অভিমত হলো যে, এক অংশীদার অন্যজন ছাড়াই এককভাবে বণ্টন করতে পারে; এটি আবু আল-খাত্তাবের পছন্দ এবং ইমাম আহমাদ দিরহামের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। কাজী এটি নিষেধ করেছেন, তবে তিনি তার 'খিলাফ' গ্রন্থে বলেছেন যে, যদি মিশ্রিত পরিমাণে নির্দিষ্ট কোনো মানুষের হক থাকে তবে তার অনুমতি ছাড়া বণ্টন জায়েজ নয়; আর যদি তা নির্দিষ্ট কারও জন্য না হয়, যেমন এমন সম্পদ যার মালিকের কোনো খোঁজ নেই এবং তা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব, তবে মালিক এককভাবে বণ্টন করতে পারবে, কারণ সদকার মাধ্যমে তাতে তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর এই সবই অংশীদারিত্ব হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে।

আর ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) থেকে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে এটি বিলীন হওয়া; মাররুযীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন, সে তা থেকে বিনিময় প্রদান করবে। এর সম্ভাব্য অর্থ হতে পারে যে, তিনি তা থেকে বিনিময়স্বরূপ এর বদল প্রদান করার ইচ্ছা করেছেন, আর তিনি এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الْمَرُّوذِيّ فِي كِتَابِ الْوَرَعِ لَهُ أَنَّ أَحْمَدَ قَالَ يُعْطَى الْعِوَضَ وَلَمْ يَقُلْ مِنْهُ وَإِنْ كَانَ أَرَادَ أَنَّهُ يُخْرِجُ الْعِوَضَ مِنْ نَفْسِ الْمُخْتَلَطِ فَهُوَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ شَرِكَةٌ وَأَنَّ لَهُ الِاسْتِبْدَادَ بِقِسْمَةِ ذَلِكَ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ وَصَّى لَهُ بِرِطْلٍ مِنْ زَيْتٍ مُعَيَّنٍ ثُمَّ خَلَطَهُ بِزَيْتٍ [آخَرَ] فَإِنْ قُلْنَا هُوَ اشْتِرَاكٌ لَمْ تَبْطُلْ الْوَصِيَّةُ وَإِنْ قُلْنَا هُوَ اسْتِهْلَاكٌ بَطَلَتْ.

 

(وَمِنْهَا) لَوْ حَلَفَ لَا يَأْكُلُ شَيْئًا فَاسْتَهْلَكَ فِي غَيْرِهِ ثُمَّ أَكَلَهُ قَالَ الْأَصْحَابُ لَا يَحْنَثُ وَلَمْ يُخَرِّجُوا فِيهِ خِلَافًا لِأَنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى الْعُرْفِ وَلَمْ يَقْصِدْ الِامْتِنَاعَ مِنْ مِثْلِ ذَلِكَ وَقَدْ يُخَرَّجُ فِيهِ وَجْهٌ بِالْحِنْثِ وَقَدْ أَشَارَ إلَيْهِ أَبُو الْخَطَّابِ كَمَا سَنَذْكُرُهُ، وَهَذَا كُلُّهُ فِي الْمَائِعَاتِ وَالْأَدِقَّةِ وَنَحْوِهَا مِمَّا يَخْتَلِطُ بَعْضُ أَجْزَائِهِ بِبَعْضٍ، فَأَمَّا الْحُبُوبُ وَالدَّرَاهِمُ وَنَحْوُهَا فَمِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ قَالَ حُكْمُهَا حُكْمُ الْمَائِعَاتِ فِيمَا سَبَقَ وَفَرَّعُوا عَلَى ذَلِكَ مَسَائِلَ: [مِنْهَا] لَوْ اشْتَرَى ثَمَرَةً فَلَمْ يَقْبِضْهَا حَتَّى اخْتَلَطَتْ بِغَيْرِهَا وَلَمْ تَتَمَيَّزْ فَهَلْ يَنْفَسِخُ الْبَيْعُ عَلَى وَجْهَيْنِ اخْتَارَ الْقَاضِي فِي خِلَافِهِ الِانْفِسَاخَ وَفِي الْمُجَرَّدِ عَدَمَهُ.

(وَمِنْهَا) لَوْ حَلَفَ لَا يَأْكُلُ حِنْطَةً فَأَكَلَ شَعِيرًا فِيهِ حَبَّاتِ حِنْطَةٍ فَفِي حِنْثِهِ وَجْهَانِ ذَكَرَهُمَا أَبُو الْخَطَّابِ وَغَلَّطَهُ صَاحِبُ التَّرْغِيبِ وَقَالَ يَحْنَثُ بِلَا خِلَافٍ لِأَنَّ الْحَبَّ مُتَمَيِّزٌ لَمْ يُسْتَهْلَكْ بِخِلَافِ مَا لَوْ طُحِنَتْ الْحِنْطَةُ بِمَا فِيهَا فَاسْتُهْلِكَتْ فَإِنَّهُ لَا يَحْنَثُ.

(وَمِنْهَا) لَوْ اخْتَلَطَتْ دَرَاهِمُهُ بِدَرَاهِمَ مَغْصُوبَةٍ فَالْمَنْصُوصُ عَنْ أَحْمَدَ فِي رِوَايَةِ الْمَرُّوذِيّ إنْ كَانَتْ الدَّرَاهِمُ قَلِيلَةً كَثَلَاثَةٍ فِيهَا دِرْهَمٌ حَرَامٌ وَجَبَ التَّوَقُّفُ عَنْهَا حَتَّى يَعْلَمَ وَإِنْ كَانَتْ كَثِيرَةً كَثَلَاثِينَ فِيهَا دِرْهَمٌ حَرَامٌ فَإِنَّهُ يُخْرِجُ مِنْهَا دِرْهَمًا [وَاحِدًا] وَيَتَصَرَّفُ فِي الْبَاقِي وَلَهُ نُصُوصٌ كَثِيرَةٌ فِي هَذَا الْمَعْنَى وَعَلَّلَ بِأَنَّ الْكَثِيرَ يُجْحِفُ بِمَالِهِ إخْرَاجَهُ وَأَنْكَرَ عَلَى مَنْ قَالَ يُخْرِجُ هَذَا قَدْرَ الْحَرَام مِنْ الْقَلِيلِ كَالثَّلَاثَةِ إنْكَارًا [شَدِيدًا] وَأَمَّا الْقَاضِي فَتَأَوَّلَ كَلَامَهُ عَلَى الِاسْتِحْبَابِ لِأَنَّهُ كُلَّمَا كَثُرَ الْحَلَالُ بَعْدَ تَنَاوُلِ الْحَرَام وَشَقَّ التَّوَرُّعُ عَنْ الْجَمِيعِ بِخِلَافِ الْقَلِيلِ.

قَالَ وَالْوَاجِبُ فِي الْجَمِيعِ إخْرَاجُ قَدْرِ الْحَرَام، وَكَذَلِكَ ذَكَرَ ابْنُ عَقِيلٍ فِي فُصُولِهِ وَخَالَفَ فِي الْفُنُونِ وَقَالَ يُحَرَّمُ الْجَمِيعَ.

(وَمِنْهَا) لَوْ خَلَطَ الْوَدِيعَةَ وَهِيَ دَرَاهِمُ بِمَالِهِ وَلَمْ تَتَمَيَّزْ فَالْمَشْهُورُ الضَّمَانُ لِعُدْوَانِهِ حَيْثُ فَوَّتَ تَحْصِيلَهَا وَعَنْهُ رِوَايَةٌ أُخْرَى لَا ضَمَانَ عَلَيْهِ لِأَنَّ النُّقُودَ لَا يَتَعَلَّقُ الْغَرَضُ بِأَعْيَانِهَا بَلْ بِمِقْدَارِهَا وَرُبَمَا كَانَ خَلْطُهَا [مَعَ مَالِهِ] أَحْفَظَ لَهَا وَعَلَى هَذِهِ الرِّوَايَةِ فَإِذَا تَلِفَ بَعْضُ الْمُخْتَلَطِ بِغَيْرِ عُدْوَانٍ جَعَلَ التَّالِفَ كُلَّهُ مِنْ مَالِهِ وَجَعَلَ الْبَاقِيَ مِنْ الْوَدِيعَةِ نَصَّ عَلَيْهِ لِأَنَّ هَذِهِ الْأَصْلَ أَمَانَةٌ بَقَاؤُهَا وَوُجُوبُ تَسْلِيمِهَا وَلَمْ يَتَيَقَّنْ زَوَالَ ذَلِكَ وَلِهَذَا قُلْنَا لَوْ مَاتَ وَعِنْدَهُ وَدِيعَةٌ وَجُهِلَ بَقَاؤُهَا إنَّهَا تَكُونُ دَيْنًا عَلَى التَّرِكَةِ
আল-মাররূযী তাঁর 'কিতাবুল ওয়ারা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ বলেছেন, এর বিনিময় প্রদান করা হবে; তিনি 'তা থেকে' বলেননি। যদি তিনি উদ্দেশ্য করে থাকেন যে, বিনিময়টি মিশ্রিত বস্তু থেকেই বের করা হবে, তবে তা এই ভিত্তিতে যে এটি একটি অংশীদারিত্ব এবং তা বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ নির্দিষ্ট এক রতল তেলের অসিয়ত করে, অতঃপর তা [অন্য] তেলের সাথে মিশ্রিত করে; এমতাবস্থায় আমরা যদি একে অংশীদারিত্ব বলি তবে অসিয়ত বাতিল হবে না, আর যদি একে নিঃশেষ হওয়া বলি তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।

 

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ শপথ করে যে সে কোনো একটি বস্তু খাবে না, অতঃপর সেই বস্তুটি অন্য কিছুর মাঝে মিশে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং এরপর সে তা খায়; তবে আলেমগণ বলেছেন যে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। তারা এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি কারণ এটি প্রথার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, আর সে ব্যক্তি এ জাতীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্য করেনি। তবে এ বিষয়ে শপথ ভঙ্গের একটি সম্ভাবনা বের করা যেতে পারে, যার দিকে আবু আল-খাত্তাব ইঙ্গিত করেছেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করব। এই সব কিছুই তরল পদার্থ, আটা এবং এই জাতীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেগুলোর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায়। কিন্তু শস্যদানা, দিরহাম ও এই জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এগুলোর বিধানও পূর্বোক্ত তরল পদার্থের মতো। তারা এর ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা বের করেছেন: [তার মধ্যে একটি] যদি কেউ ফল ক্রয় করে কিন্তু তা হস্তগত করার আগেই তা অন্য ফলের সাথে মিশে যায় এবং পৃথক করা না যায়, তবে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হবে কি না—এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আল-কাদী তাঁর 'খিলাফ' গ্রন্থে চুক্তি বাতিলের পক্ষাবলম্বন করেছেন এবং 'মুজাররাদ' গ্রন্থে তা বাতিল না হওয়ার কথা বলেছেন।

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ শপথ করে যে সে গম খাবে না, অতঃপর সে এমন বার্লি খেলো যাতে গমের কয়েকটি দানা ছিল; এক্ষেত্রে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে কি না—এ বিষয়ে আবু আল-খাত্তাব দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। তবে 'আত-তারগীব' গ্রন্থের লেখক তাকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, সে নিঃসন্দেহে শপথ ভঙ্গকারী হবে। কারণ দানাটি স্বতন্ত্র এবং তা নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এর বিপরীত হলো যদি গমের দানাটি অন্য কিছুর সাথে পিষে ফেলা হতো এবং তা নিঃশেষ হয়ে যেত, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হতো না।

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কারো দিরহাম আত্মসাৎকৃত দিরহামের সাথে মিশে যায়, তবে আল-মাররূযীর বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ভাষ্য হলো—যদি দিরহামের পরিমাণ কম হয়, যেমন তিনটির মধ্যে একটি দিরহাম হারাম হয়, তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। আর যদি পরিমাণ বেশি হয়, যেমন ত্রিশটির মধ্যে একটি দিরহাম হারাম হয়, তবে সে তা থেকে [একটি] দিরহাম বের করে দেবে এবং অবশিষ্টগুলো ব্যবহার করবে। এ প্রসঙ্গে তাঁর অনেক বর্ণনা রয়েছে। তিনি কারণ হিসেবে বলেছেন যে, অধিক পরিমাণ মাল থেকে সবটুকু বর্জন করা তার সম্পদের জন্য ক্ষতিকর হবে। আর যারা তিনটির মতো স্বল্প পরিমাণ থেকে হারামের সমপরিমাণ বের করে নেওয়ার কথা বলেছেন, তিনি তাদের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তবে আল-কাদী তাঁর এই বক্তব্যকে মুস্তাহাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; কারণ হারামের উপস্থিতির পর যখন হারালের পরিমাণ অনেক বেশি হয়, তখন সবটুকু থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, যা অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই হারামের সমপরিমাণ অংশ বের করে দেওয়া ওয়াজিব। ইবনে আকীলও তাঁর 'ফুসুল' গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি 'ফুনুন' গ্রন্থে এর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে সম্পূর্ণ সম্পদই হারাম হয়ে যাবে।

(তার মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ আমানতকৃত দিরহাম তার নিজের মালের সাথে মিশিয়ে ফেলে এবং তা পৃথক করা না যায়, তবে প্রসিদ্ধ মত হলো তাকে এর দায়ভার বহন করতে হবে। কারণ সে এটি পৃথক রাখার সুযোগ নষ্ট করে সীমালঙ্ঘন করেছে। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা মতে, তাকে কোনো দায়ভার বহন করতে হবে না। কারণ মুদ্রার ক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্য এর সত্তা নয়, বরং এর পরিমাণ; আর সম্ভবত নিজের মালের সাথে মিশিয়ে রাখাটি এর সংরক্ষণের জন্য অধিকতর উপযোগী ছিল। এই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি মিশ্রিত মালের একাংশ কোনো সীমালঙ্ঘন ছাড়াই নষ্ট হয়ে যায়, তবে নষ্ট হওয়া অংশটুকুকে তার নিজস্ব মাল থেকে গণ্য করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ আমানত হিসেবে গণ্য হবে। তিনি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন কারণ মূল নীতি হলো আমানতটি অবশিষ্ট থাকা এবং তা ফেরত দেওয়া ওয়াজিব, আর এর বিলুপ্তি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। এই কারণেই আমরা বলেছি যে, কেউ যদি মারা যায় এবং তার নিকট কোনো আমানত থাকে যা অবশিষ্ট আছে কি না তা অজ্ঞাত, তবে সেটি তার রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদু ইবনি রজব - ত্ব খানজী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَتَأَوَّلَ الْقَاضِي وَابْنُ عَقِيلٍ كَلَامَ أَحْمَدَ رحمه الله فِي الضَّمَانِ هُنَا عَلَى أَنَّ الْخَلْطَ كَانَ عُدْوَانًا وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَا ضَمَانَ عِنْدَهُمَا إلَّا مَعَ التَّعَدِّي وَلَوْ اخْتَلَطَتْ الْوَدِيعَةُ بِغَيْرِ فِعْلِهِ ثُمَّ ضَاعَ الْبَعْضُ جُعِلَ مِنْ مَالِ الْمُودَعِ فِي ظَاهِرِ كَلَامِ أَحْمَدَ ذَكَرَهُ أَبُو الْبَرَكَاتِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ فِي شَرْحِ الْهِدَايَةِ وَقَدْ تَقَدَّمَ أَنَّ الْقَاضِيَ ذَكَرَ فِي الْخِلَافِ أَنَّهُمَا يَصِيرَانِ شَرِيكَيْنِ قَالَ أَبُو الْبَرَكَاتِ وَلَا يَبْعُدُ عَلَى هَذَا أَنْ يَكُونَ الْهَالِكُ مِنْهُمَا وَذَكَرَ الْقَاضِي أَيْضًا فِي بَعْضِ تَعَالِيقِهِ فِيمَنْ مَعَهُ دِينَارٌ أَمَانَةٌ لِغَيْرِهِ فَسَقَطَ مِنْهُ مَعَ دِينَارٍ لَهُ فِي رَحَى فَدَارَتْ عَلَيْهِمَا حَتَّى نَقَصَا وَكَانَ نَقْصُ أَحَدِهِمَا أَكْثَرُ مِنْ نَقْصِ الْآخَرِ وَلَمْ يَدْرِ أَيُّهُمَا لَهُ أَنَّهُ يُحْتَاطُ فَيَدْفَعُ إلَى صَاحِبِ الْأَمَانَةِ مَا يَغْلِبُ عَلَى ظَنِّهِ أَنَّهُ قَدْرُ حَقِّهِ فَإِنْ ادَّعَى أَنَّ الثَّقِيلَ لَهُ فَالْقَوْلُ قَوْلُهُ فِي الظَّاهِرِ لِأَنَّ يَدَهُ عَلَيْهِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةُ وَالْعُشْرُونَ مِنْ حُرِّمَ عَلَيْهِ الِامْتِنَاعُ مِنْ بَدَلِ شَيْء سُئِلَهُ فَامْتَنَعَ]

(الْقَاعِدَةُ الثَّالِثَةُ وَالْعِشْرُونَ) : مَنْ حُرِّمَ عَلَيْهِ الِامْتِنَاعُ مِنْ بَدَلِ شَيْءٍ سُئِلَهُ فَامْتَنَعَ فَهَلْ يَسْقُطُ إذْنُهُ بِالْكُلِّيَّةِ أَوْ يُعْتَبَرُ وَيُجْبِرُهُ الْحَاكِمُ عَلَيْهِ هَذَا نَوْعَانِ:

(أَحَدُهُمَا) : أَنْ يَكُونَ الْمَطْلُوبُ مِنْهُ إذْنًا مُجَرَّدًا وَيَنْدَرِجُ تَحْتَهُ صُوَرٌ: (مِنْهَا) وَضْعُ الْخَشَبِ عَلَى جِدَارِ جَاره إذَا لَمْ يَضُرَّ بِهِ وَقَدْ نَصَّ أَحْمَدُ عَلَى عَدَمِ اعْتِبَارِ إذْنِهِ فِي ذَلِكَ وَفِي التَّلْخِيصِ أَنَّهُ يُجْبَرُ عَلَيْهِ إنْ أَبَاهُ.

(وَمِنْهَا) حَجُّ الزَّوْجَةِ الْفَرْضَ وَنَصَّ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ صَالِحٍ عَلَى أَنَّهَا لَا تَحُجُّ إلَّا بِإِذْنِهِ وَأَنَّهُ لَيْسَ لَهُ مَنْعُهَا فَعَلَى هَذَا يُجْبَرُ عَلَى الْإِذْنِ لَهَا وَنَقَلَ ابْنُ أَبِي مُوسَى عَنْ أَحْمَدَ أَنَّ اسْتِئْذَانَهَا لَهُ مُسْتَحَبٌّ لَيْسَ بِوَاجِبٍ.

(وَمِنْهَا) إذَا قُلْنَا بِوُجُوبِ الْجُمُعَةِ عَلَى الْعَبْدِ فَهَلْ يَتَوَقَّفُ عَلَى إذْنِ السَّيِّدِ؟ حَكَى الْأَصْحَابُ فِيهِ رِوَايَتَيْنِ:

إحْدَاهُمَا لَا تَجِبُ عَلَى الْعَبْدِ حَتَّى يَأْذَنَ لَهُ السَّيِّدُ.

وَالثَّانِيَةُ تَجِبُ بِدُونِ إذْنِهِ وَيُسْتَحَبُّ لَهُ اسْتِئْذَانُهُ فَإِنْ أَذِنَ لَهُ وَإِلَّا خَالَفَهُ وَذَهَبَ.

(وَمِنْهَا) أَخْذُ فَاضِلِ الْكَلَأِ وَالْمَاءِ مِنْ أَرْضِهِ هَلْ يَقِفُ جَوَازُ الدُّخُولِ إلَى الْأَرْضِ عَلَى إذْنِهِ أَمْ يَجُوزُ بِدُونِ إذْنِهِ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ وَنَصَّ أَحْمَدُ عَلَى جَوَازِ الرَّعْيِ فِي الْأَرْضِ الْمَغْصُوبَةِ يَدُلُّ عَلَى عَدَمِ اعْتِبَارِ الْإِذْنِ فِي ذَلِكَ وَمِنْ الْأَصْحَابِ مَنْ قَالَ الْخِلَافُ فِي غَيْرِ الْمَحُوطِ [فَأَمَّا الْمَحُوطُ] فَلَا يَجُوزُ دُخُولُهُ بِغَيْرِ إذْنٍ بِغَيْرِ خِلَافٍ. قَالَ وَمَتَى تَعَذَّرَ الِاسْتِئْذَانُ لِغَيْبَةِ الْمَالِكِ أَوْ غَيْرِهَا أَوْ اسْتَأْذَنَ فَلَمْ يَأْذَنْ سَقَطَ إذْنُهُ كَمَا فِي الْوَلِيِّ فِي النِّكَاحِ وَنَقَلَ مُثَنَّى الْأَنْبَارِيُّ عَنْ أَحْمَدَ مَا يُشْعِرُ بِالْفَرْقِ بَيْنَ الدُّخُولِ لِلْمَاءِ وَالْكَلَأِ فَيَتَعَيَّنُ الِاسْتِئْذَانُ لِلدُّخُولِ لِلْكَلَأِ دُونَ الْمَاءِ.

(وَمِنْهَا) بَذْلُ الضِّيَافَةِ الْوَاجِبَةِ إذَا امْتَنَعَ مِنْهَا جَازَ الْأَخْذُ مِنْ مَالِهِ وَلَا يُعْتَبَرُ إذْنُهُ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ نَقَلَهَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَحْمَدَ وَنَقَلَ عَنْهُ حَنْبَلٌ لَا يَأْخُذُ إلَّا بِعِلْمِهِمْ وَيُطَالِبُهُمْ
আল-কাজি এবং ইবন আকীল এখানে দায়বদ্ধতা (জমান) সংক্রান্ত ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, মিশ্রণটি অন্যায়ভাবে করা হয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, তাদের দুজনের মতে সীমালঙ্ঘন (তা'আদ্দি) ব্যতীত কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যদি গচ্ছিত আমানতটি (ওয়াদিআহ) গ্রহীতার কোনো কাজ ছাড়াই অন্য কিছুর সাথে মিশে যায় এবং অতঃপর তার কিছু অংশ হারিয়ে যায়, তবে ইমাম আহমাদের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম অনুযায়ী তা আমানত প্রদানকারীর (মুদা') মাল থেকে হিসেবে গণ্য হবে; আবু আল-বারাকাত ইবন তাইমিয়্যাহ 'শারহুল হিদায়াহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, আল-কাজি 'আল-খিলাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তারা দুজন এতে অংশীদার হয়ে যাবেন। আবু আল-বারাকাত বলেন, এই মতানুসারে এটি অসম্ভব নয় যে, বিনষ্ট হওয়া অংশটি উভয়ের মালিকানা থেকেই হবে। আল-কাজি তাঁর কোনো এক পাণ্ডুলিপিতে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, যার কাছে অন্য কারো একটি দিনার আমানত হিসেবে ছিল, অতঃপর সেটি তার নিজের একটি দিনারের সাথে ঘানিতে পড়ে গেল এবং সেগুলো উভয়ের ওপর দিয়ে ঘুরতে থাকল যতক্ষণ না দিনার দুটির ওজন হ্রাস পেল। এখন দিনার দুটির একটির ওজন অন্যটির চেয়ে বেশি কমে গেল এবং সে জানে না কোনটি কার দিনার; এমতাবস্থায় সে সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং আমানতকারীকে এমন পরিমাণ প্রদান করবে যা তার প্রবল ধারণা অনুযায়ী তার পাওনা। আর যদি সে দাবি করে যে ভারী দিনারটি তারই, তবে বাহ্যিকভাবে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ সেটি তার নিয়ন্ত্রণাধীন (হস্তগত)। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[তেইশতম নীতি: যার জন্য কোনো কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করা হারাম যা তার কাছে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু সে অস্বীকার করল]

(তেইশতম নীতি) : যার জন্য কোনো কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করা হারাম যা তার কাছে চাওয়া হয়েছে, তবুও সে তা দিতে অস্বীকার করল, তবে কি তার অনুমতির আবশ্যকতা পুরোপুরি রহিত হয়ে যাবে, নাকি তা বিবেচনায় রাখা হবে এবং বিচারক তাকে তা করতে বাধ্য করবেন? এটি দুই প্রকার:

(এক) যা চাওয়া হয়েছে তা কেবলই একটি সাধারণ অনুমতি; এর অধীনে কয়েকটি রূপ রয়েছে: (তন্মধ্যে একটি হলো) প্রতিবেশীর দেয়ালে কড়িকাঠ বা কাঠ রাখা যদি তাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়। ইমাম আহমাদ এ বিষয়ে তার অনুমতির আবশ্যকতা না থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট উক্তি করেছেন। আর 'আত-তালখিস' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, সে যদি তা দিতে অস্বীকার করে তবে তাকে বাধ্য করা হবে।

(অন্যটি হলো) স্ত্রীর ফরজ হজ পালন করা। সালিহ-এর বর্ণনায় ইমাম আহমাদ স্পষ্ট করেছেন যে, সে তার (স্বামীর) অনুমতি ব্যতীত হজে যাবে না, তবে স্বামীর জন্য তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। সুতরাং এই মতানুসারে, স্বামী তাকে অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবে। আর ইবন আবি মুসা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, স্বামীর কাছে অনুমতি চাওয়া মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।

(অন্যটি হলো) আমরা যদি দাসের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তা হই, তবে তা কি মনিবের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে? এ বিষয়ে মাযহাবের ফকিহগণ দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি হলো: মনিব অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত দাসের ওপর তা ওয়াজিব হবে না।

দ্বিতীয়টি হলো: মনিবের অনুমতি ছাড়াই তা ওয়াজিব হবে এবং তার কাছে অনুমতি চাওয়া মুস্তাহাব। যদি সে অনুমতি দেয় তবে ভালো, অন্যথায় সে তার অবজ্ঞা করেই চলে যাবে।

(অন্যটি হলো) কারো ভূমি থেকে অতিরিক্ত ঘাস ও পানি গ্রহণ করা। ভূমিতে প্রবেশের বৈধতা কি মালিকের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল, নাকি অনুমতি ছাড়াই তা বৈধ? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। জবরদখলকৃত ভূমিতে পশু চরানোর বৈধতা নিয়ে ইমাম আহমাদের বক্তব্য নির্দেশ করে যে, এক্ষেত্রে অনুমতির আবশ্যকতা নেই। আমাদের একদল আলিম বলেছেন, এই মতভেদ কেবল বেষ্টনীহীন ভূমির ক্ষেত্রে; কিন্তু বেষ্টনীযুক্ত ভূমিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ। তিনি আরও বলেন, যখন মালিকের অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি নেওয়া অসম্ভব হয়, অথবা অনুমতি চাওয়া সত্ত্বেও সে অনুমতি না দেয়, তখন তার অনুমতির আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়, যেমনটি বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের বেলায় ঘটে থাকে। মুসান্না আল-আনবারি ইমাম আহমাদ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা পানি ও ঘাসের জন্য প্রবেশের মধ্যে পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়; অর্থাৎ ঘাসের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক, পানির জন্য নয়।

(অন্যটি হলো) ওয়াজিব মেহমানদারি করা। মালিক যদি এতে অস্বীকৃতি জানায় তবে তার সম্পদ থেকে তা গ্রহণ করা জায়েজ। দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী এক্ষেত্রে তার অনুমতির প্রয়োজন নেই—এটি আলী ইবন সাঈদ ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হানবাল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মালিকদের অবগতি ছাড়া তা গ্রহণ করা যাবে না, বরং তাদের কাছে তা দাবি করতে হবে।