(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد النورانية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القواعد النورانية الفقهية
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
حققه وخرج أحاديثه: د أحمد بن محمد الخليل
الناشر: دار ابن الجوزي
بلد النشر: المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ
عدد الصفحات: 368
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওয়ায়েদ আন-নুরানিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: আল-কাওয়ায়েদ আন-নুরানিয়্যাহ আল-ফিকহিয়্যাহ
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণ: ড. আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খালীল
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী
প্রকাশের দেশ: সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[مقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِهِ ثِقَتِي. وَهُوَ حَسْبِي. (وَنِعْمَ الْوَكِيلُ)
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَامِلُ الْقُدْوَةُ، رَبَّانِيُّ الْأُمَّةِ، وَمُحْيِي السُّنَّةِ، الْعَلَّامَةُ شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام، ابن تيمية الحراني - قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ وَنَوَّرَ ضَرِيحَهُ -:
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَى عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ مُحَمَّدٍ خَاتَمِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُهْتَدِينَ وَعَلَى آلِهِ أَجْمَعِينَ.
[فَصْلٌ في الطَّهَارَةُ]
[الطَّهَارَةُ وَالنَّجَاسَةُ نَوْعَانِ]فَصْلٌ
أَمَّا الْعِبَادَاتُ: فَأَعْظَمُهَا الصَّلَاةُ. وَالنَّاسُ إِمَّا أَنْ يَبْتَدِئُوا مَسَائِلَهَا بِالطُّهُورِ؛ لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ» كَمَا رَتَّبَهُ أَكْثَرُهُمْ، وَإِمَّا بِالْمَوَاقِيتِ الَّتِي تَجِبُ بِهَا الصَّلَاةُ، كَمَا فَعَلَهُ مالك وَغَيْرُهُ.
فَأَمَّا الطَّهَارَةُ وَالنَّجَاسَةُ فَنَوْعَانِ مِنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ - فِي
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। (এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)
শায়খ, ইমাম, বিদগ্ধ পণ্ডিত, ইলম অনুযায়ী আমলকারী, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, উম্মাহর রব্বানী আলেম, সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, আল্লামা শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী —আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন— বলেন:
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যিনি রাসূলগণের সমাপ্তিকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের ইমাম, এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।
[পবিত্রতা বিষয়ক পরিচ্ছেদ][পবিত্রতা ও অপবিত্রতা দুই প্রকার]পরিচ্ছেদ
ইবাদতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সালাত। আর আলিমগণ এর মাসআলাসমূহ হয় পবিত্রতা (তাহারাত) দিয়ে শুরু করেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা", যেভাবে তাঁদের অধিকাংশ বিন্যস্ত করেছেন; নতুবা সালাত ওয়াজিব হওয়ার সময়সূচি দিয়ে শুরু করেন, যেমনটি ইমাম মালিক ও অন্যান্যেরা করেছেন।
আর পবিত্রতা ও অপবিত্রতা হলো হালাল ও হারামের অন্তর্ভুক্ত দুটি প্রকার—যা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
اللِّبَاسِ وَنَحْوِهِ - تَابِعَانِ لِلْحَلَالِ وَالْحَرَامِ فِي الْأَطْعِمَةِ وَالْأَشْرِبَةِ.
وَمَذْهَبُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي هَذَا الْأَصْلِ الْعَظِيمِ الْجَامِعِ وَسَطٌ بَيْنَ مَذْهَبِ الْعِرَاقِيِّينَ وَالْحِجَازِيِّينَ، فَإِنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ - مالكا وَغَيْرَهُ - يُحَرِّمُونَ مِنَ الْأَشْرِبَةِ كُلَّ مُسْكِرٍ، كَمَا صَحَّتْ بِذَلِكَ النُّصُوصُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ وُجُوهٍ مُتَعَدِّدَةٍ، وَلَيْسُوا فِي الْأَطْعِمَةِ كَذَلِكَ، بَلِ الْغَالِبُ عَلَيْهِمْ فِيهَا عَدَمُ التَّحْرِيمِ، فَيُبِيحُونَ [الطُّيُورَ] مُطْلَقًا وَإِنْ كَانَتْ مِنْ ذَاتِ الْمَخَالِبِ، [وَيَكْرَهُونَ] كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَفِي تَحْرِيمِهَا عَنْ مالك رِوَايَتَانِ، وَكَذَلِكَ فِي الْحَشَرَاتِ عَنْهُ -هَلْ هِيَ مُحَرَّمَةٌ، أَوْ مَكْرُوهَةٌ - رِوَايَتَانِ، وَكَذَلِكَ الْبِغَالُ وَالْحَمِيرُ، وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهَا مَكْرُوهَةٌ أَشَدُّ مِنْ كَرَاهَةِ السِّبَاعِ، وَرُوِيَ عَنْهُ: أَنَّهَا مُحَرَّمَةٌ بِالسُّنَّةِ دُونَ تَحْرِيمِ الْحَمِيرِ، وَالْخَيْلُ أَيْضًا يَكْرَهُهَا، لَكِنْ دُونَ كَرَاهَةِ السِّبَاعِ.
وَأَهْلُ الْكُوفَةِ فِي بَابِ الْأَشْرِبَةِ مُخَالِفُونَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَلِسَائِرِ النَّاسِ، لَيْسَتِ الْخَمْرُ عِنْدَهُمْ إِلَّا مِنَ الْعِنَبِ، وَلَا يُحَرِّمُونَ الْقَلِيلَ مِنَ الْمُسْكِرِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ خَمْرًا مِنَ الْعِنَبِ، أَوْ أَنْ يَكُونَ مِنْ نَبِيذِ التَّمْرِ أَوِ الزَّبِيبِ النَّيِّءِ، أَوْ يَكُونَ مِنْ مَطْبُوخِ عَصِيرِ الْعِنَبِ إِذَا لَمْ يَذْهَبْ ثُلُثَاهُ، وَهُمْ فِي الْأَطْعِمَةِ فِي غَايَةِ التَّحْرِيمِ حَتَّى حَرَّمُوا الْخَيْلَ وَالضِّبَابَ، وَقِيلَ: إِنَّ أَبَا حَنِيفَةَ يَكْرَهُ الضَّبَّ وَالضِّبَاعَ وَنَحْوَهَا.
فَأَخَذَ أَهْلُ الْحَدِيثِ فِي الْأَشْرِبَةِ بِقَوْلِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَسَائِرِ
পোশাক-পরিচ্ছদ এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি—খাদ্য ও পানীয়ের হালাল এবং হারামের বিধানের অনুগামী।
আর এই মহান ও ব্যাপক মূলনীতির ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের মাযহাব হলো ইরাকি এবং হিজাজিগণের মাযহাবের মাঝামাঝি একটি অবস্থান। কেননা মদিনাবাসীগণ—ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা—পানীয় দ্রব্যের মধ্যে প্রতিটি নেশা জাতীয় দ্রব্যকেই হারাম মনে করেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সূত্রে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে খাদ্যের ক্ষেত্রে তারা তেমনটি নন, বরং তাদের নিকট অধিকাংশ খাদ্যের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা হারাম না হওয়া। ফলে তারা সকল প্রকার পাখি সাধারণভাবে বৈধ মনে করেন, যদিও তা নখযুক্ত শিকারি পাখি হয়। আর তারা দাঁত বিশিষ্ট সকল হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে মাকরূহ মনে করেন। আর এগুলো হারাম হওয়ার বিষয়ে ইমাম মালিক থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে পোকামাকড় বা পতঙ্গ সম্পর্কেও তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়—তা কি হারাম নাকি মাকরূহ। একইভাবে খচ্চর এবং গাধার ক্ষেত্রেও; তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এগুলো হিংস্র পশুর তুলনায় অধিকতর মাকরূহ। আবার তাঁর থেকে এমন বর্ণনাও রয়েছে যে, এগুলো সুন্নাহর মাধ্যমে হারাম, যদিও তা গাধার হারামের স্তরের নয়। তিনি ঘোড়াকেও মাকরূহ মনে করেন, তবে তা হিংস্র পশুর মাকরুহ হওয়ার তুলনায় কম।
অন্যদিকে পানীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে কুফাবাসীগণ মদিনাবাসী এবং অন্যান্য সকল মানুষের ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের নিকট কেবল আঙ্গুর থেকে তৈরিকৃত পানীয়ই 'খমর' বা মদ হিসেবে গণ্য। তারা নেশা উদ্রেককারী পানীয়ের সামান্য পরিমাণকে হারাম মনে করেন না, যতক্ষণ না তা আঙ্গুরের মদ হয়, অথবা খেজুরের নাবিয কিংবা কাঁচা কিসমিসের নাবিয হয়, অথবা আঙ্গুরের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা এমন পানীয় হয় যার দুই-তৃতীয়াংশ শুকিয়ে যায়নি। অথচ খাদ্যের ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, এমনকি তারা ঘোড়া এবং গুঁইসাপ খাওয়া হারাম করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম আবু হানিফা গুঁইসাপ, হায়েনা এবং এই জাতীয় প্রাণীকে মাকরূহ মনে করতেন।
অতঃপর আহলে হাদিসগণ পানীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে মদিনাবাসী এবং অন্যান্যদের...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[أَهْلِ] الْأَمْصَارِ؛ مُوَافَقَةً لِلسُّنَّةِ الْمُسْتَفِيضَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فِي التَّحْرِيمِ، وَزَادُوا عَلَيْهِمْ فِي مُتَابَعَةِ السُّنَّةِ. وَصَنَّفَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ كِتَابًا كَبِيرًا فِي الْأَشْرِبَةِ، مَا عَلِمْتُ [أَحَدًا] صَنَّفَ أَكْبَرَ مِنْهُ، وَكِتَابًا أَصْغَرَ مِنْهُ. وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ أَظْهَرَ فِي الْعِرَاقِ هَذِهِ السُّنَّةَ، حَتَّى إِنَّهُ دَخَلَ بَعْضُهُمْ بَغْدَادَ فَقَالَ: هَلْ فِيهَا مَنْ يُحَرِّمُ النَّبِيذَ؟ فَقَالُوا: لَا، إِلَّا أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ دُونَ غَيْرِهِ مِنَ الْأَئِمَّةِ، وَأَخَذَ فِيهَا بِعَامَّةِ السُّنَّةِ، حَتَّى إِنَّهُ حَرَّمَ الْعَصِيرَ وَالنَّبِيذَ بَعْدَ ثَلَاثٍ، وَإِنْ لَمْ يَظْهَرْ فِيهِ شِدَّةٌ؛ مُتَابَعَةً لِلسُّنَّةِ الْمَأْثُورَةِ فِي ذَلِكَ؛ لِأَنَّ الثَّلَاثَ مَظِنَّةُ ظُهُورِ الشِّدَّةِ غَالِبًا، وَالْحِكْمَةُ هُنَا مِمَّا تَخْفَى، فَأُقِيمَتِ الْمَظِنَّةُ مَقَامَ الْحِكْمَةِ، حَتَّى إِنَّهُ كَرِهَ الْخَلِيطَيْنِ، إِمَّا كَرَاهَةَ تَنْزِيهٍ أَوْ تَحْرِيمٍ عَلَى اخْتِلَافِ الرِّوَايَتَيْنِ عَنْهُ، وَحَتَّى اخْتَلَفَ قَوْلُهُ فِي الِانْتِبَاذِ فِي الْأَوْعِيَةِ: هَلْ هُوَ مُبَاحٌ أَوْ مُحَرَّمٌ أَوْ مَكْرُوهٌ؟ لِأَنَّ أَحَادِيثَ النَّهْيِ كَثِيرَةٌ جِدًّا وَأَحَادِيثَ النَّسْخِ قَلِيلَةٌ. فَاخْتَلَفَ اجْتِهَادُهُ: هَلْ تُنْسَخُ تِلْكَ الْأَخْبَارُ الْمُسْتَفِيضَةُ بِمِثْلِ هَذِهِ الْأَخْبَارِ الَّتِي لَا تَخْرُجُ عَنْ كَوْنِهَا أَخْبَارَ آحَادٍ، وَلَمْ يُخَرِّجِ الْبُخَارِيُّ مِنْهَا شَيْئًا؟
وَأَخَذُوا فِي الْأَطْعِمَةِ بِقَوْلِ أَهْلِ الْكُوفَةِ لِصِحَّةِ السُّنَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِتَحْرِيمِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَكُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ، وَتَحْرِيمِ
[বিভিন্ন অঞ্চলের] অধিবাসীগণ; যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে হারাম হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত সুপ্রসিদ্ধ (মুস্তাফীয) সুন্নাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তাঁরা সুন্নাহর অনুসরণের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়েও অগ্রসর ছিলেন। ইমাম আহমাদ পানীয় বিষয়ক মাসআলাসমূহের ওপর একটি বৃহৎ গ্রন্থ সংকলন করেছেন, আমার জানামতে [কেউ] এর চেয়ে বড় কোনো গ্রন্থ রচনা করেনি; পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থও রচনা করেছেন। তিনিই সর্বপ্রথম ইরাকে এই সুন্নাহর প্রকাশ ঘটান, এমনকি যখন তাদের কেউ বাগদাদে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করতেন: এখানে কি এমন কেউ আছে যিনি নবীযকে হারাম মনে করেন? তখন তারা বলতেন: না, অন্যান্য ইমামদের পরিবর্তে একমাত্র আহমাদ ইবনে হাম্বল ব্যতীত। তিনি এ বিষয়ে সামগ্রিক সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন, এমনকি তিনি তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ফলের রস ও নবীয পান করাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, যদিও তাতে তীব্রতা (নেশা) প্রকাশ না পায়; এ সংক্রান্ত বর্ণিত সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণের খাতিরেই তিনি তা করেছেন। কারণ সাধারণত তিন দিন অতিবাহিত হওয়া নেশা বা তীব্রতা প্রকাশের প্রবল সম্ভাবনার স্থল, আর এর অন্তর্নিহিত হিকমত বা রহস্য যেহেতু এখানে অস্পষ্ট, তাই এই প্রবল সম্ভাবনাকেই মূল হিকমতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এমনকি তিনি 'খলীতাইন' (দুই প্রকার ফলের মিশ্রণ) অপছন্দ করতেন—তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি ভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী তা অপছন্দনীয় (মাকরূহে তানযীহী) অথবা হারাম। এমনকি নির্দিষ্ট পাত্রে নবীয তৈরির বিষয়েও তাঁর মতের ভিন্নতা রয়েছে: তা কি বৈধ, নাকি হারাম, নাকি মাকরূহ? কেননা এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার হাদীসগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি, আর রহিতকরণের হাদীসগুলো সংখ্যায় অতি নগণ্য। ফলে তাঁর ইজতিহাদ এই দ্বিধায় পড়েছে যে: এই সুপ্রসিদ্ধ (মুস্তাফীয) সংবাদগুলো কি এমন সব বর্ণনার মাধ্যমে রহিত হতে পারে যা একক বর্ণনা (আখবারে আহাদ) পর্যায়ের বেশি কিছু নয় এবং ইমাম বুখারী যার কোনোটিই তাঁর গ্রন্থে উদ্ধৃত করেননি?
আর আহার্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে তাঁরা কূফাবাসীদের অভিমত গ্রহণ করেছেন, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট চতুষ্পদ প্রাণী এবং নখরবিশিষ্ট শিকারি পাখি হারাম হওয়ার বিষয়ে সহীহ সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়েছে এবং হারাম হওয়ার বিষয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لُحُومِ الْحُمُرِ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْكَرَ عَلَى مَنْ تَمَسَّكَ فِي هَذَا الْبَابِ بِعَدَمِ وُجُودِ نَصِّ التَّحْرِيمِ فِي الْقُرْآنِ، حَيْثُ قَالَ: «لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ هَذَا الْقُرْآنُ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ، أَلَا وَإِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى» .
وَهَذَا الْمَعْنَى مَحْفُوظٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ.
গৃহপালিত গাধার গোশত; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তির কঠোর প্রতিবাদ করেছেন যে এই বিষয়ে কুরআনে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার বর্ণনা অনুপস্থিত থাকাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করে। এমতাবস্থায় তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে আর তার নিকট আমার কোনো নির্দেশ পৌঁছেছে—যা আমি আদেশ করেছি অথবা নিষেধ করেছি—তখন সে বলে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে এই কুরআনই (ফয়সালাকারী হিসেবে) বিদ্যমান; সুতরাং আমরা এতে যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং এতে যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গণ্য করব।' সাবধান! নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ আরও কিছু প্রদান করা হয়েছে। আর আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা মহান আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মতোই।"
আর এই মর্মার্থটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিভিন্ন সূত্রে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَعَلِمُوا أَنَّ مَا حَرَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [إِنَّمَا هُوَ] زِيَادَةُ تَحْرِيمٍ لَيْسَ نَسْخًا لِلْقُرْآنِ؛ لِأَنَّ الْقُرْآنَ إِنَّمَا دَلَّ عَلَى أَنَّ اللَّهَ لَمْ يُحَرِّمْ إِلَّا الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ، وَعَدَمُ التَّحْرِيمِ لَيْسَ تَحْلِيلًا، وَإِنَّمَا هُوَ بَقَاءٌ لِلْأَمْرِ عَلَى مَا كَانَ، وَهَذَا قَدْ ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي سُورَةِ الْأَنْعَامِ الَّتِي هِيَ مَكِّيَّةٌ بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاءِ، لَيْسَ كَمَا ظَنَّهُ أَصْحَابُ مالك وَالشَّافِعِيِّ أَنَّهَا مِنْ آخِرِ الْقُرْآنِ نُزُولًا، وَإِنَّمَا سُورَةُ الْمَائِدَةِ هِيَ الْمُتَأَخِّرَةُ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ فِيهَا: {أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ} [المائدة: 4] فَعُلِمَ أَنَّ عَدَمَ التَّحْرِيمِ الْمَذْكُورِ فِي سُورَةِ الْأَنْعَامِ لَيْسَ تَحْلِيلًا، وَإِنَّمَا هُوَ عَفْوٌ، فَتَحْرِيمُ رَسُولِ اللَّهِ رَافِعٌ لِلْعَفْوِ لَيْسَ نَسْخًا لِلْقُرْآنِ.
لَكِنْ لَمْ يُوَافِقْ أَهْلُ الْحَدِيثِ الْكُوفِيِّينَ عَلَى جَمِيعِ مَا حَرَّمُوهُ، بَلْ أَحَلُّوا الْخَيْلَ لِصِحَّةِ السُّنَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِتَحْلِيلِهَا يَوْمَ خَيْبَرَ، وَبِأَنَّهُمْ ذَبَحُوا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَسًا وَأَكَلُوا لَحْمَهُ، وَأَحَلُّوا الضَّبَّ لِصِحَّةِ السُّنَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَنَّهُ قَالَ: لَا أُحَرِّمُهُ وَبِأَنَّهُ أُكِلَ عَلَى مَائِدَتِهِ وَهُوَ يَنْظُرُ وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَى مَنْ أَكَلَهُ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا جَاءَتْ فِيهِ الرُّخْصَةُ.
এবং তাঁরা অবগত হয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা মূলত অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা মাত্র, যা কুরআনের কোনো বিধানের রহিতকরণ (নাসখ) নয়। কারণ কুরআন কেবল এ বিষয়ের ওপরই প্রমাণ পেশ করেছে যে, আল্লাহ তাআলা মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শুকরের মাংস ব্যতীত অন্য কিছু হারাম করেননি। আর কোনো কিছুকে হারাম না করার অর্থই তাকে হালাল করে দেওয়া নয়; বরং তা বিষয়টিকে তার পূর্বাবস্থায় বহাল রাখার নামান্তর। এই বিষয়টি আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আনআমে উল্লেখ করেছেন, যা আলেমদের ঐকমত্যে একটি মক্কী সূরা। ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ রহ.-এর অনুসারীরা যেমন ধারণা করেন যে এটি নাজিল হওয়ার দিক থেকে কুরআনের শেষ দিকের সূরা, বিষয়টি তেমন নয়; বরং সূরা আল-মায়িদাহ হলো পরবর্তীকালে অবতীর্ণ সূরা। আর আল্লাহ তাআলা তাতে ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করা হয়েছে" [আল-মায়িদাহ: ৪]। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, সূরা আল-আনআমে উল্লিখিত হারাম না করার বিষয়টি হালালকরণ ছিল না, বরং তা ছিল এক প্রকারের অবকাশ (প্রাথমিক বৈধতা); ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা সেই অবকাশকে উত্তোলন করে মাত্র, যা কুরআনের কোনো বিধানের রহিতকরণ নয়।
তবে আহলে হাদীসগণ কুফী ফকীহদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সকল বিষয়ের সাথে একমত হননি। বরং তাঁরা ঘোড়াকে হালাল গণ্য করেছেন; কারণ খায়বারের যুদ্ধের দিন তা হালাল হওয়ার ব্যাপারে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে এবং এ কারণেও যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ঘোড়া যবাই করেছিলেন এবং তার মাংস ভক্ষণ করেছিলেন। তদ্রূপ তাঁরা গুইসাপকেও (দ্বব্ব) হালাল সাব্যস্ত করেছেন; কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সুন্নাহ প্রমাণিত রয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এটি হারাম করছি না"। এছাড়া তাঁর দস্তরখানে এটি খাওয়া হয়েছে এবং তিনি তা দেখছিলেন অথচ ভক্ষণকারীর প্রতি কোনো আপত্তি করেননি। এর বাইরেও আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে শরীয়তে অনুমতির বর্ণনা এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَنَقَصُوا عَمَّا حَرَّمَهُ أَهْلُ الْكُوفَةِ مِنَ الْأَطْعِمَةِ، كَمَا زَادُوا عَلَى أَهْلِ الْمَدِينَةِ فِي الْأَشْرِبَةِ؛ لِأَنَّ النُّصُوصَ الدَّالَّةَ عَلَى تَحْرِيمِ الْأَشْرِبَةِ الْمُسْكِرَةِ أَكْثَرُ مِنَ النُّصُوصِ الدَّالَّةِ عَلَى تَحْرِيمِ الْأَطْعِمَةِ.
وَلِأَهْلِ الْمَدِينَةِ سَلَفٌ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ فِي اسْتِحْلَالِ مَا أَحَلُّوهُ أَكْثَرُ مِنْ سَلَفِ أَهْلِ الْكُوفَةِ فِي اسْتِحْلَالِ الْمُسْكِرِ، وَالْمَفَاسِدُ النَّاشِئَةُ مِنَ الْمُسْكِرِ أَعْظَمُ مِنْ مَفَاسِدِ خَبَائِثِ الْأَطْعِمَةِ، وَلِهَذَا سُمِّيَتِ الْخَمْرُ " أُمَّ الْخَبَائِثِ " كَمَا سَمَّاهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه وَغَيْرُهُ، وَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِجَلْدِ شَارِبِهَا، وَفَعَلَهُ هُوَ وَخُلَفَاؤُهُ، وَأَجْمَعَ عَلَيْهِ الْعُلَمَاءُ، دُونَ الْمُحَرَّمَاتِ مِنَ الْأَطْعِمَةِ فَإِنَّهُ لَمْ [يَحُدَّ] فِيهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَّا مَا بَلَغَنَا عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، بَلْ قَدْ أَمَرَ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِ شَارِبِ الْخَمْرِ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ، وَإِنْ كَانَ الْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهُ مَنْسُوخٌ. وَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا صَحَّ عَنْهُ - عَنْ تَخْلِيلِ الْخَمْرِ وَأَمَرَ بِشَقِّ ظُرُوفِهَا وَكَسْرِ دِنَانِهَا، وَإِنْ كَانَ قَدِ اخْتَلَفَتِ الرِّوَايَةُ عَنْ أَحْمَدَ: هَلْ هَذَا بَاقٍ أَوْ مَنْسُوخٌ؟
[الوضوء من لحوم الإبل]وَلَمَّا كَانَ اللَّهُ سبحانه وتعالى إِنَّمَا حَرَّمَ الْخَبَائِثَ لِمَا فِيهَا مِنَ
ফলে তাঁরা কুফাবাসীদের হারামকৃত খাদ্যের তালিকা থেকে কিছু অংশ হ্রাস করেছেন, যেমনটি তাঁরা পানীয়ের ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের তুলনায় বৃদ্ধি করেছেন; কারণ নেশাজাতীয় পানীয় হারামের বিষয়ে নির্দেশক দালিলিক প্রমাণসমূহ খাদ্য হারামের দালিলিক প্রমাণের চেয়ে অধিক।
আর মদিনাবাসীদের সপক্ষে সাহাবী ও তাবেয়ীদের মধ্য থেকে এমন পূর্বসূরিগণ রয়েছেন যাঁরা তাঁদের হালালকৃত বিষয়গুলোকে বৈধ গণ্য করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা কুফাবাসীদের মাদকদ্রব্য বৈধকারী পূর্বসূরিদের চেয়ে অধিক। তদুপরি, মাদকদ্রব্য থেকে উদ্ভূত অনিষ্ট অপবিত্র খাদ্যের অনিষ্টের চেয়ে অনেক বড়; এ কারণেই মদকে ‘উম্মুল খাবায়েস’ (সকল অনিষ্টের জননী) বলা হয়, যেমনটি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও অন্যান্যরা নামকরণ করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদপানকারীর জন্য বেত্রাঘাতের দণ্ডাজ্ঞা দিয়েছেন এবং তিনি নিজে ও তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ তা কার্যকর করেছেন। আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যা হারাম খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ হাসান বসরী (রহ.)-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ব্যতীত আলেমদের অন্য কেউ এই ক্ষেত্রে কোনো ‘হদ’ বা নির্ধারিত দণ্ডের কথা উল্লেখ করেননি। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তৃতীয় বা চতুর্থবার মদ পান করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে এই বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মদ থেকে সিরকা প্রস্তুত করতে নিষেধ করেছেন এবং মদের পাত্রগুলো বিদীর্ণ করতে ও মটকাগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন; যদিও ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে, এই নির্দেশটি কি বলবৎ আছে নাকি রহিত হয়ে গেছে?
[উটের গোশত ভক্ষণ করার পর অজুর বিধান]আর যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল অপবিত্র বস্তুসমূহকেই হারাম করেছেন, কারণ সেগুলোর মধ্যে নিহিত রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْفَسَادِ إِمَّا فِي الْعُقُولِ أَوِ الْأَخْلَاقِ أَوْ غَيْرِهَا، ظَهَرَ عَلَى الَّذِينَ اسْتَحَلُّوا بَعْضَ الْمُحْرَمَاتِ مِنَ الْأَطْعِمَةِ أَوِ الْأَشْرِبَةِ مِنَ النَّقْصِ بِقَدْرِ مَا فِيهَا مِنَ الْمَفْسَدَةِ، وَلَوْلَا التَّأْوِيلُ لَاسْتَحَقُّوا الْعُقُوبَةَ.
ثُمَّ إِنَّ الْإِمَامَ أَحْمَدَ وَغَيْرَهُ مِنْ عُلَمَاءِ الْحَدِيثِ زَادُوا فِي مُتَابَعَةِ السُّنَّةِ عَلَى غَيْرِهِمْ بِأَنْ أَمَرُوا بِمَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ وَرَسُولُهُ مِمَّا يُزِيلُ ضَرَرَ بَعْضِ الْمُبَاحَاتِ، مِثْلَ: لُحُومِ الْإِبِلِ فَإِنَّهَا حَلَالٌ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ، وَلَكِنْ فِيهَا مِنَ الْقُوَّةِ الشَّيْطَانِيَّةِ مَا أَشَارَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ: «إِنَّهَا جِنٌّ خُلِقَتْ مِنْ جِنٍّ» ، وَقَدْ قَالَ صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ أبو داود: «الْغَضَبُ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَإِنَّ الشَّيْطَانَ مِنَ النَّارِ، وَإِنَّمَا تُطْفَأُ النَّارُ بِالْمَاءِ، فَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوَضَّأْ» فَأَمَرَ بِالتَّوَضُّؤِ مِنَ الْأَمْرِ الْعَارِضِ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَأَكْلُ لَحْمِهَا يُورِثُ قُوَّةً شَيْطَانِيَّةً تَزُولُ بِمَا أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوُضُوءِ مِنْ لَحْمِهَا، كَمَا صَحَّ ذَلِكَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ مِنْ حَدِيثِ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، وَأُسَيْدِ بْنِ الْحُضَيْرِ، وذي
বুদ্ধি-বিবেক, চরিত্র বা অন্য সব ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় রয়েছে, তা তাদের ওপর প্রকাশ পেয়েছে যারা খাদ্য বা পানীয়ের মধ্য থেকে কিছু নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল মনে করে গ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে সেই পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে যতটা তাতে অনিষ্টতা বিদ্যমান ছিল। আর যদি (ভ্রান্ত) ব্যাখ্যা না থাকত, তবে তারা অবশ্যই শাস্তির উপযুক্ত হতো।
অতঃপর ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহর অনুসরণে অন্যদের তুলনায় অগ্রগামী ছিলেন এই মর্মে যে, তারা সেই সব কাজের নির্দেশ দিয়েছেন যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন, যা কিছু বৈধ (মুবাহ) জিনিসের ক্ষতি দূর করে দেয়। যেমন: উটের গোশত; এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা অনুযায়ী হালাল। কিন্তু এতে এমন শয়তানি শক্তি রয়েছে যার দিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইশারা করেছেন: "নিশ্চয়ই এগুলো জিন, যা জিন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" আর আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "ক্রোধ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, আর শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট। আর আগুন কেবল পানি দ্বারাই নেভানো যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয়, সে যেন অজু করে।" সুতরাং তিনি শয়তানের পক্ষ থেকে আগত আপদকালীন প্রভাবে অজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই উটের গোশত ভক্ষণ মানুষের মধ্যে শয়তানি প্রভাবের উদ্রেক করে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক নির্দেশিত উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করার নির্দেশের মাধ্যমে দূরীভূত হয়। যেমনটি জাবির ইবনে সামুরা, বারা ইবনে আযিব, উসাইদ ইবনুল হুযাইর এবং যী... থেকে বিভিন্ন সূত্রে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الغرة وَغَيْرِهِمْ، فَقَالَ مَرَّةً: «تَوَضَّؤُوا مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ وَلَا تَوَضَّؤُوا مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ، وَصَلُّوا فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَلَا تُصَلُّوا فِي مَعَاطِنِ الْإِبِلِ» ، فَمَنْ تَوَضَّأَ مِنْ لُحُومِهَا انْدَفَعَ عَنْهُ مَا يُصِيبُ الْمُدْمِنِينَ لِأَكْلِهَا مِنْ غَيْرِ وُضُوءٍ - كَالْأَعْرَابِ - مِنَ الْحِقْدِ وَقَسْوَةِ الْقَلْبِ الَّتِي أَشَارَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ الْمُخَرَّجِ عَنْهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ: «إِنَّ الْغِلْظَةَ وَقَسْوَةَ الْقُلُوبِ فِي الْفَدَّادِينَ أَصْحَابِ الْإِبِلِ، وَإِنَّ السَّكِينَةَ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ» .
وَاخْتُلِفَ عَنْ أحمد: هَلْ يُتَوَضَّأُ مِنْ سَائِرِ اللُّحُومِ الْمُحَرَّمَةِ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْحُكْمَ مُخْتَصٌّ بِهَا، أَوْ أَنَّ الْمُحَرَّمَ أَوْلَى بِالتَّوَضُّؤِ مِنْهُ مِنَ الْمُبَاحِ الَّذِي فِيهِ نَوْعُ مَضَرَّةٍ.
وَسَائِرُ الْمُصَنِّفِينَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ وَافَقُوا أحمد عَلَى هَذَا الْأَصْلِ، وَعَلِمُوا أَنَّ مَنِ اعْتَقَدَ أَنَّ هَذَا مَنْسُوخٌ بِتَرْكِ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ فَقَدْ أَبْعَدَ؛ لِأَنَّهُ فَرَّقَ فِي الْحَدِيثِ بَيْنَ اللَّحْمَيْنِ، لِيُتَبَيَّنَ أَنَّ الْعِلَّةَ هِيَ الْفَارِقَةُ بَيْنَهُمَا لَا الْجَامِعُ.
وَكَذَلِكَ قَالُوا بِمَا اقْتَضَاهُ الْحَدِيثُ: مِنْ أَنَّهُ يُتَوَضَّأُ مِنْهُ نَيِّئًا وَمَطْبُوخًا؛ وَلِأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ كَانَ بَعْدَ النَّسْخِ، وَلِهَذَا «قَالَ فِي لَحْمِ الْغَنَمِ: وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَتَوَضَّأْ» ؛ وَلِأَنَّ النَّسْخَ لَمْ يَثْبُتْ إِلَّا بِالتَّرْكِ مِنْ لَحْمِ غَنَمٍ، فَلَا عُمُومَ لَهُ، وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِ جابر: " «كَانَ آخِرُ الْأَمْرَيْنِ
আল-গুররাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, তিনি একদা বলেছিলেন: «তোমরা উটের গোশত ভক্ষণ করলে অযু করো এবং ভেড়া বা বকরির গোশত ভক্ষণে অযু করো না। আর তোমরা ভেড়া-বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করো কিন্তু উটের বিশ্রামস্থলে সালাত আদায় করো না», সুতরাং যে ব্যক্তি উটের গোশত খেয়ে অযু করল, তার থেকে সেই মন্দ প্রভাব দূরীভূত হলো যা অযু ব্যতিরেকে উটের গোশত ভক্ষণে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের—যেমন মরুচারী আরবদের—আক্রান্ত করে; যেমন বিদ্বেষ ও হৃদয়ের কঠোরতা, যার দিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহাইন-এ বর্ণিত তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: «নিশ্চয়ই রুক্ষতা ও হৃদয়ের কঠোরতা উট পালনকারী উচ্চকণ্ঠ ব্যক্তিদের মাঝে বিদ্যমান, আর প্রশান্তি হলো মেষপালকদের মাঝে»।
ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে: অন্যান্য সকল হারাম গোশত ভক্ষণে কি অযু করতে হবে? এ প্রসঙ্গে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার ভিত্তি হলো—এই বিধান কি কেবল উটের গোশতের সাথে নির্দিষ্ট, নাকি যা হারাম তা অযু করার ক্ষেত্রে সেই বৈধ বস্তু অপেক্ষা অধিক অগ্রাধিকার রাখে যাতে এক ধরণের ক্ষতির প্রভাব রয়েছে।
ইমাম শাফেঈর অনুসারী ও অন্যান্য লেখকগণ এই মূলনীতির ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাঁরা অনুধাবন করেছেন যে, যে ব্যক্তি মনে করে 'অগ্নিস্পৃষ্ট বস্তু ভক্ষণে অযু ত্যাগের' বিধানের দ্বারা এই হুকুমটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে, সে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে; কারণ হাদীসে দুই প্রকার গোশতের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যকারী কারণটিই (ইল্লত) মূল বিবেচ্য, তাদের মধ্যকার কোনো সাধারণ যোগসূত্র নয়।
অনুরূপভাবে তাঁরা হাদীসের দাবি অনুযায়ী বলেছেন: উটের গোশত কাঁচা হোক বা রান্না করা—তা থেকে অযু করতে হবে; কারণ এই হাদীসটি ছিল রহিতকরণের পরবর্তী সময়ের। এই কারণেই তিনি বকরির গোশতের ক্ষেত্রে বলেছিলেন: «তুমি চাইলে অযু করো না»; এছাড়া রহিতকরণের বিষয়টি কেবল বকরির গোশত ত্যাগের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে, সুতরাং এতে কোনো ব্যাপকতা নেই। জাবির (রা.)-এর এই উক্তির মর্মার্থও তাই: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শেষ দুটি নির্দেশের মধ্যে সর্বশেষটি ছিল...»
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مِنْهُ: تَرْكَ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ» " فَإِنَّهُ رَآهُ يَتَوَضَّأُ، ثُمَّ رَآهُ أَكَلَ لَحْمَ غَنَمٍ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ، وَلَمْ يُنْقَلْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صِيغَةً عَامَّةً فِي ذَلِكَ، وَلَوْ نَقَلَهَا لَكَانَ فِيهِ نَسْخٌ لِلْخَاصِّ بِالْعَامِّ الَّذِي لَمْ يَثْبُتْ شُمُولُهُ لِذَلِكَ الْخَاصِّ عَيْنًا، وَهُوَ أَصْلٌ لَا يَقُولُ بِهِ أَكْثَرُ الْمَالِكِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنْبَلِيَّةِ.
هَذَا مَعَ أَنَّ أَحَادِيثَ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ لَمْ يَثْبُتْ أَنَّهَا مَنْسُوخَةٌ، بَلْ قَدْ قِيلَ: إِنَّهَا مُتَأَخِّرَةٌ، وَلَكِنَّ أَحَدَ الْوَجْهَيْنِ فِي مَذْهَبِ أحمد: أَنَّ الْوُضُوءَ مِنْهَا مُسْتَحَبٌّ لَيْسَ بِوَاجِبٍ، وَالْوَجْهَ الْآخَرَ: لَا يُسْتَحَبُّ.
فَلَمَّا جَاءَتِ السُّنَّةُ بِتَجَنُّبِ الْخَبَائِثِ الْجُسْمَانِيَّةِ وَالتَّطَهُّرِ مِنْهَا كَذَلِكَ جَاءَتْ بِتَجَنُّبِ الْخَبَائِثِ الرُّوحَانِيَّةِ وَالتَّطَهُّرِ مِنْهَا، حَتَّى قَالَ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَسْتَنْشِقْ بِمُنْخَرَيْهِ مِنَ الْمَاءِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ» ، وَقَالَ: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ» . فَعَلَّلَ الْأَمْرَ بِالْغُسْلِ بِمَبِيتِ الشَّيْطَانِ عَلَى خَيْشُومِهِ؛ فَعُلِمَ أَنَّ ذَلِكَ سَبَبٌ لِلطَّهَارَةِ مِنْ غَيْرِ النَّجَاسَةِ الظَّاهِرَةِ، فَلَا يُسْتَبْعَدُ أَنْ يَكُونَ هُوَ السَّبَبُ لِغَسْلِ يَدِ الْقَائِمِ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ.
وَكَذَلِكَ نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ فِي أَعْطَانِ الْإِبِلِ وَقَالَ: «إِنَّهَا جِنٌّ خُلِقَتْ مِنْ جِنٍّ» ، كَمَا ثَبَتَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আগুন স্পর্শ করা খাবার খেয়ে অযু করার বিধান বর্জন করা। কেননা তিনি তাঁকে অযু করতে দেখেছেন, এরপর তিনি ভেড়ার গোশত খেলেন কিন্তু অযু করলেন না। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ বর্ণিত হয়নি। যদি তা বর্ণিত হতো, তবে তাতে বিশেষ বিধানকে সাধারণ বিধান দ্বারা রহিত করার বিষয়টি আসত, যার ব্যাপকতা ওই বিশেষ ক্ষেত্রটিকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আর এটি এমন একটি মূলনীতি যা অধিকাংশ মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি ফকিহগণ গ্রহণ করেন না।
অথচ আগুন স্পর্শ করা খাবার খেয়ে অযু করার হাদিসগুলো যে রহিত হয়েছে তা প্রমাণিত নয়, বরং বলা হয়েছে যে এগুলো পরবর্তী সময়ের। তবে ইমাম আহমদের মাযহাবের দুই অভিমতের একটি হলো: এটি মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়; আর অন্য অভিমতটি হলো: এটি মুস্তাহাবও নয়।
সুতরাং সুন্নাহ যেভাবে শারীরিক অপবিত্রতা পরিহার এবং তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের বিধান নিয়ে এসেছে, তেমনিভাবে আধ্যাত্মিক পঙ্কিলতা পরিহার এবং তা থেকে পবিত্র হওয়ার নির্দেশও প্রদান করেছে। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন রাতে জাগ্রত হয়, সে যেন তার নাসারন্ধ্রে পানি দিয়ে নাক ঝাড়ে, কেননা শয়তান তার নাকের ছিদ্রপথে রাত যাপন করে।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তিনবার ধৌত করার আগে পাত্রে হাত না ডুবায়। কেননা তোমাদের কেউ জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল।" তিনি নাকে শয়তানের রাত যাপন করাকে ধৌত করার নির্দেশের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে জানা যায় যে, দৃশ্যমান অপবিত্রতা ছাড়াও এটি পবিত্রতা অর্জনের একটি কারণ। সুতরাং রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাত ধৌত করার কারণও এটি হওয়া অসম্ভব নয়।
তদ্রূপ তিনি উটের আস্তাবলে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই এগুলো জিন থেকে সৃষ্ট জিন।" যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "পুরো পৃথিবীই সিজদাহগাহ (মসজিদ)..."
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ» ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ: «أَنَّ الْحَمَّامَ بَيْتُ الشَّيْطَانِ» ، وَثَبَتَ عَنْهُ أَنَّهُ «لَمَّا ارْتَحَلَ عَنِ الْمَكَانِ الَّذِي نَامُوا فِيهِ عَنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ قَالَ: إِنَّهُ مَكَانٌ حَضَرَنَا فِيهِ الشَّيْطَانُ» .
فَعَلَّلَ صلى الله عليه وسلم الْأَمَاكِنَ بِالْأَرْوَاحِ الْخَبِيثَةِ كَمَا يُعَلِّلُ بِالْأَجْسَامِ الْخَبِيثَةِ، وَبِهَذَا يَقُولُ أحمد وَغَيْرُهُ مِنْ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ، وَمَذْهَبُهُ الظَّاهِرُ عَنْهُ أَنَّ مَا كَانَ مَأْوًى لِلشَّيَاطِينِ - كَالْمَعَاطِنِ وَالْحَمَّامَاتِ - حُرِّمَتِ
"...ব্যতীত কবরস্থান ও গোসলখানা।" তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই গোসলখানা শয়তানের ঘর।" এবং তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত যে, "তিনি যখন সেই স্থান থেকে প্রস্থান করলেন যেখানে তাঁরা ফজরের সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: নিশ্চয়ই এটি এমন এক স্থান যেখানে শয়তান আমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।"
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপবিত্র আত্মার উপস্থিতির মাধ্যমে স্থানসমূহের (নিষেধাজ্ঞার) কারণ দর্শিয়েছেন, যেমনটি তিনি অপবিত্র বস্তুর মাধ্যমে কারণ দর্শিয়ে থাকেন। ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদ ফকিহগণ এই মতই পোষণ করেন। তাঁর নিকট থেকে প্রসিদ্ধ মাযহাব হলো, যা শয়তানদের আশ্রয়স্থল—যেমন উটের আস্তানা ও গোসলখানা—সেখানে (সালাত) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الصَّلَاةُ فِيهِ، وَمَا عَرَضَ الشَّيْطَانُ فِيهِ - كَالْمَكَانِ الَّذِي نَامُوا فِيهِ عَنِ الصَّلَاةِ - كُرِهَتْ فِيهِ الصَّلَاةُ.
وَالْفُقَهَاءُ الَّذِينَ لَمْ يَنْهَوْا عَنْ ذَلِكَ: إِمَّا لِأَنَّهُمْ لَمْ يَسْمَعُوا هَذِهِ النُّصُوصَ سَمَاعًا تَثْبُتُ بِهِ عِنْدَهُمْ، أَوْ سَمِعُوهَا وَلَمْ يَعْرِفُوا الْعِلَّةَ فَاسْتَبْعَدُوا ذَلِكَ عَنِ الْقِيَاسِ فَتَأَوَّلُوهُ.
وَأَمَّا مَنْ نَقَلَ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ أَوْ جُمْهُورِ الصَّحَابَةِ خِلَافَ هَذِهِ الْمَسَائِلِ، وَأَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَتَوَضَّئُونَ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ: فَقَدْ غَلِطَ عَلَيْهِمْ، وَإِنَّمَا تَوَهَّمَ ذَلِكَ لِمَا نُقِلَ عَنْهُمْ: " أَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَتَوَضَّؤُونَ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ "، وَإِنَّمَا الْمُرَادُ أَنَّ أَكْلَ مَا مَسَّ النَّارَ لَيْسَ هُوَ سَبَبًا عِنْدَهُمْ لِوُجُوبِ الْوُضُوءِ، وَالَّذِي أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ لَيْسَ سَبَبُهُ مَسَّ النَّارِ، كَمَا يُقَالُ: كَانَ فُلَانٌ لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ، وَإِنْ كَانَ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ مَذْيٌ.
[مرور الْكَلْبُ الْأَسْوَدُ وَالْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ بين يدي المصلي]وَمِنْ تَمَامِ هَذَا: أَنَّهُ قَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي صَحِيحِ مسلم وَغَيْرِهِ مِنْ حَدِيثِ أبي ذر وَأَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما، وَجَاءَ مِنْ حَدِيثِ غَيْرِهِمَا: أَنَّهُ «يَقْطَعُ الصَّلَاةَ الْكَلْبُ الْأَسْوَدُ وَالْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ» ، وَفَرَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْكَلْبِ الْأَسْوَدِ وَالْأَحْمَرِ وَالْأَبْيَضِ؛ بِأَنَّ " الْأَسْوَدَ شَيْطَانٌ "، وَصَحَّ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ تَفَلَّتَ عَلَيَّ الْبَارِحَةَ لِيَقْطَعَ صَلَاتِي،
সেখানে নামাজ পড়া, এবং যেখানে শয়তানের প্রাদুর্ভাব ঘটে—যেমন সেই স্থান যেখানে তারা নামাজের সময় ঘুমিয়ে পড়েছিল—সেখানে নামাজ পড়া অপছন্দনীয় (মাকরূহ)।
আর যে সকল ফকিহ এ বিষয়ে নিষেধ করেননি, তার কারণ হয়তো তারা এই দলিলসমূহ এমনভাবে শোনেননি যা তাদের নিকট প্রামাণিক হিসেবে গণ্য হয়, অথবা তারা তা শুনেছেন কিন্তু এর নিগূঢ় কারণ (ইল্লত) বুঝতে পারেননি, ফলে তারা একে কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমানের) বহির্ভূত মনে করে ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন।
আর যারা খুলাফায়ে রাশিদিন বা অধিকাংশ সাহাবী থেকে এসব বিষয়ের বিপরীত বর্ণনা করেন যে, তারা উটের গোশত খেয়ে অজু করতেন না, তারা মূলত তাদের ওপর ভুল আরোপ করেছেন। তারা এটি ভুল বুঝেছেন এ কারণে যে, তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তারা আগুনের স্পর্শ লাগা (রান্না করা) খাবার খেয়ে অজু করতেন না"। এর প্রকৃত অর্থ হলো, আগুনের স্পর্শ লাগা খাবার খাওয়া তাদের কাছে অজু ওয়াজিব হওয়ার কারণ ছিল না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের গোশত খেয়ে অজু করার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার কারণ আগুনের স্পর্শ নয়। এটি ঠিক তেমনি যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে অজু করতেন না, যদিও তার থেকে মজি (উত্তেজনার ফলে নির্গত তরল) বের হলে তিনি অজু করতেন।
[নামাজ আদায়কারীর সামনে দিয়ে কালো কুকুর, নারী ও গাধার অতিক্রম করা]এরই ধারাবাহিকতায় আরও রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু যার এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসে এবং অন্যান্যদের সূত্রেও সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, "কালো কুকুর, নারী এবং গাধা (সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে) নামাজ নষ্ট করে দেয়"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালো কুকুরের সাথে লাল বা সাদা কুকুরের পার্থক্য করেছেন এই বলে যে, "কালো কুকুর হলো শয়তান"। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "গত রাতে একটি শয়তান আমার নামাজের বিঘ্ন ঘটানোর জন্য হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হয়েছিল,"
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَأَخَذْتُهُ فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْبِطَهُ إِلَى سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ» الْحَدِيثَ، فَأَخْبَرَ أَنَّ الشَّيْطَانَ أَرَادَ أَنْ يَقْطَعَ عَلَيْهِ صَلَاتَهُ، فَهَذَا أَيْضًا يَقْتَضِي أَنَّ مُرُورَ الشَّيْطَانِ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ، فَلِذَلِكَ أَخَذَ أحمد بِذَلِكَ فِي الْكَلْبِ الْأَسْوَدِ وَاخْتَلَفَ قَوْلُهُ فِي الْمَرْأَةِ وَالْحِمَارِ؛ لِأَنَّهُ عَارَضَ هَذَا الْحَدِيثَ حَدِيثُ عائشة لَمَّا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهِيَ فِي قِبْلَتِهِ، وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما لَمَّا اجْتَازَ عَلَى أَتَانِهِ بَيْنَ يَدَيْ بَعْضِ الصَّفِّ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ بِمِنًى، مَعَ أَنَّ الْمُتَوَجَّهَ أَنَّ الْجَمِيعَ يَقْطَعُ، وَأَنَّهُ يُفَرَّقُ بَيْنَ الْمَارِّ وَاللَّابِثِ كَمَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا فِي الرَّجُلِ فِي كَرَاهَةِ مُرُورِهِ دُونَ لُبْثِهِ فِي الْقِبْلَةِ إِذَا اسْتَدْبَرَهُ الْمُصَلِّي وَلَمْ يَكُنْ مُتَحَدِّثًا، وَأَنَّ مُرُورَهُ يُنْقِصُ ثَوَابَ الصَّلَاةِ دُونَ اللُّبْثِ.
وَاخْتَلَفَ الْمُتَقَدِّمُونَ مِنْ أَصْحَابِ أحمد فِي الشَّيْطَانِ الْجِنِّيِّ إِذَا عُلِمَ بِمُرُورِهِ: هَلْ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ؟ وَالْأَوْجَهُ: أَنَّهُ يَقْطَعُهَا بِتَعْلِيلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِظَاهِرِ قَوْلِهِ: يَقْطَعُ صَلَاتِي؛ لِأَنَّ الْأَحْكَامَ الَّتِي جَاءَتْ بِهَا السُّنَّةُ فِي الْأَرْوَاحِ الْخَبِيثَةِ مِنَ الْجِنِّ وَشَيَاطِينِ الدَّوَابِّ فِي الطَّهَارَةِ وَالصَّلَاةِ فِي أَمْكِنَتِهِمْ وَمَمَرِّهِمْ وَنَحْوِ ذَلِكَ، قَوِيَّةٌ فِي الدَّلِيلِ نَصًّا وَقِيَاسًا. وَلِذَلِكَ أَخَذَ بِهَا فُقَهَاءُ الْحَدِيثِ، وَلَكِنْ مَدْرَكُ عِلْمِهَا أَثَرًا هُوَ لِأَهْلِ الْحَدِيثِ. وَمَدْرَكُهُ قِيَاسًا هُوَ فِي بَاطِنِ الشَّرِيعَةِ وَظَاهِرِهَا دُونَ التَّفَقُّهِ فِي ظَاهِرِهَا فَقَطْ.
وَلَوْ لَمْ يَكُنْ فِي الْأَئِمَّةِ مَنِ اسْتَعْمَلَ هَذِهِ السُّنَنَ الصَّحِيحَةَ النَّافِعَةَ
"অতঃপর আমি তাকে পাকড়াও করলাম এবং মসজিদের একটি খুঁটির সাথে তাকে বেঁধে রাখতে চাইলাম..." - এই হাদিস। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, শয়তান তাঁর সালাত বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। এটিও দাবি করে যে, শয়তানের যাতায়াত সালাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একারণেই ইমাম আহমাদ কালো কুকুরের ক্ষেত্রে এই মত গ্রহণ করেছেন, তবে নারী ও গাধার ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে; কারণ এই হাদিসের বিপরীতে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি রয়েছে যখন নবী (সা.) সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি তাঁর সামনে কিবলার দিকে ছিলেন। এছাড়া ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসটিও রয়েছে যখন তিনি মিনায় নবী (সা.)-এর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায়ের সময় একটি মাদি গাধার ওপর সওয়ার হয়ে কিছু কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন। যদিও শক্তিশালী অভিমত হলো যে, এই সবই সালাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়; এবং এক্ষেত্রে অতিক্রমকারী ও অবস্থানকারীর মধ্যে পার্থক্য করা হবে, যেমনটি পুরুষের ক্ষেত্রে পার্থক্য করা হয়েছে যে, কিবলার দিকে তার অতিক্রম করা অপছন্দনীয় কিন্তু অবস্থান করা তেমন নয়, যদি মুসল্লি তার পিঠের দিকে থাকে এবং সে কথা না বলে। আর তার অতিক্রম করা সালাতের সওয়াব কমিয়ে দেয়, কিন্তু অবস্থান করা তেমন নয়।
ইমাম আহমাদের পূর্ববর্তী অনুসারীদের মাঝে জীন শয়তান সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, যদি তার অতিক্রম করার কথা জানা যায়, তবে কি তা সালাতকে বিচ্ছিন্ন করবে? অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো: এটি সালাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এবং তাঁর এই বাণীর প্রকাশ্য অর্থের কারণে যে: "সে আমার সালাত বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল"; কেননা জীন ও পশুদের মধ্যকার দুষ্ট আত্মার পবিত্রতা ও সালাত সম্পর্কে এবং তাদের অবস্থানস্থল ও যাতায়াতের পথ ইত্যাদি বিষয়ে সুন্নাহর যে বিধানসমূহ এসেছে, তা দলিল হিসেবে নস ও কিয়াস উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত শক্তিশালী। একারণেই ফুকাহাউল হাদিসগণ এগুলো গ্রহণ করেছেন। তবে বর্ণনার ভিত্তিতে এর জ্ঞান আহলে হাদিসগণের কাছে নিহিত। আর কিয়াসের ভিত্তিতে এর উৎস হলো শরীয়তের গূঢ় ও বাহ্যিক উভয় তত্ত্বের মাঝে, যা কেবল বাহ্যিক বুঝ দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।
যদি ইমামদের মধ্যে এমন কেউ না থাকতেন যিনি এই সহিহ ও উপকারী সুন্নাহগুলো প্রয়োগ করতেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لَكَانَ وَصْمًا عَلَى الْأُمَّةِ تَرْكُ مِثْلِ ذَلِكَ وَالْأَخْذُ بِمَا لَيْسَ بِمِثْلِهِ لَا أَثَرًا وَلَا رَأْيًا.
وَلَقَدْ كَانَ أحمد رحمه الله يَعْجَبُ مِمَّنْ يَدَعُ حَدِيثَ " الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ " مَعَ صِحَّتِهِ الَّتِي لَا شَكَّ فِيهَا وَعَدَمِ الْمُعَارِضِ لَهُ، وَيَتَوَضَّأُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ مَعَ تَعَارُضِ الْأَحَادِيثِ فِيهِ وَأَنَّ أَسَانِيدَهَا لَيْسَتْ كَأَحَادِيثِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ، وَلِذَلِكَ أَعْرَضَ عَنْهَا الشَّيْخَانِ: الْبُخَارِيُّ ومسلم، وَإِنْ كَانَ أحمد عَلَى الْمَشْهُورِ عَنْهُ يُرَجِّحُ أَحَادِيثَ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ، لَكِنَّ غَرَضَهُ: أَنَّ الْوُضُوءَ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ أَقْوَى فِي الْحُجَّةِ مِنَ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ.
وَقَدْ ذَكَرْتُ مَا يُبَيِّنُ أَنَّهُ أَظْهَرُ فِي الْقِيَاسِ مِنْهُ، فَإِنَّ تَأْثِيرَ الْمُخَالَطَةِ أَعْظَمُ مِنْ تَأْثِيرِ الْمُلَامَسَةِ، وَلِهَذَا كَانَ كُلُّ نَجِسٍ مُحَرَّمَ الْأَكْلِ، وَلَيْسَ كُلُّ مُحَرَّمِ الْأَكْلِ نَجِسًا.
وَكَانَ أحمد يَعْجَبُ أَيْضًا مِمَّنْ لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ وَيَتَوَضَّأُ مِنَ الضَّحِكِ فِي الصَّلَاةِ، مَعَ أَنَّهُ أَبْعَدُ عَنِ الْقِيَاسِ وَالْأَثَرِ، وَالْأَثَرُ فِيهِ مُرْسَلٌ قَدْ ضَعَّفَهُ أَكْثَرُ النَّاسِ، وَقَدْ صَحَّ عَنِ الصَّحَابَةِ مَا يُخَالِفُهُ.
وَالَّذِينَ خَالَفُوا أَحَادِيثَ الْقَطْعِ لِلصَّلَاةِ لَمْ يُعَارِضُوهَا إِلَّا بِتَضْعِيفِ بَعْضِهِمْ، وَهُوَ تَضْعِيفُ مَنْ لَمْ يَعْرِفِ الْحَدِيثَ كَمَا ذَكَرَ أَصْحَابُهُ، أَوْ بِأَنْ عَارَضُوهَا بِرِوَايَاتٍ ضَعِيفَةٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «لَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ شَيْءٌ» ، أَوْ بِمَا رُوِيَ فِي ذَلِكَ عَنِ الصَّحَابَةِ.
উম্মাহর জন্য এটি একটি কলঙ্কজনক বিষয় হতো যদি তারা এমন দলিল বর্জন করত এবং এমন কিছু গ্রহণ করত যা বর্ণনা (আসার) বা যুক্তি (রায়) কোনো দিক থেকেই এর সমতুল্য নয়।
ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) ঐ সমস্ত লোকদের দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন যারা ‘উটের গোশত ভক্ষণে অজু’ সংক্রান্ত হাদিসটি বর্জন করে, অথচ এর বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং এর কোনো বিপরীত দলিলও নেই; অথচ তারা লিঙ্গ স্পর্শ করলে অজু করার পক্ষপাতি, যদিও এই বিষয়ে হাদিসগুলোর মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা রয়েছে এবং এগুলোর সনদ উটের গোশতের হাদিসের মতো শক্তিশালী নয়। আর এই কারণেই শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এই হাদিসগুলো থেকে বিমুখ থেকেছেন। যদিও আহমদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তিনি লিঙ্গ স্পর্শে অজু ভঙ্গের হাদিসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল এটিই যে, লিঙ্গ স্পর্শের তুলনায় উটের গোশত ভক্ষণে অজু করার দলিল অধিক শক্তিশালী।
আমি এমন বিষয় উল্লেখ করেছি যা স্পষ্ট করে যে, এটি কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) দিক থেকেও অধিকতর স্পষ্ট; কেননা দেহে প্রবেশের (মুখালাতাহ) প্রভাব স্পর্শের (মুলামাসাহ) প্রভাবের চেয়ে অনেক বেশি। এই কারণেই প্রতিটি নাপাক বস্তুই ভক্ষণ করা হারাম, কিন্তু প্রতিটি হারাম বস্তু নাপাক নয়।
ইমাম আহমদ আরও বিস্ময় প্রকাশ করতেন ঐ সমস্ত লোকদের ব্যাপারে যারা উটের গোশত ভক্ষণে অজু করে না অথচ নামাজে অট্টহাসির কারণে অজু করে থাকে; যদিও তা কিয়াস এবং আসার (বর্ণনা) উভয় দিক থেকেই অধিক দূরবর্তী। এই বিষয়ের বর্ণনাটি মুরসাল এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিস একে দুর্বল বলেছেন, আর সাহাবীগণ থেকে এর বিপরীতে বিশুদ্ধ বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।
আর যারা নামাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার হাদিসগুলোর বিরোধিতা করেছেন, তারা তা করেছেন হয় সেগুলোর কোনো কোনোটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার মাধ্যমে—যা এমন ব্যক্তির দুর্বলকরণ যিনি এই হাদিস সম্পর্কে তেমন অবগত নন যেমনটি এর পারদর্শীগণ উল্লেখ করেছেন—অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত এই দুর্বল বর্ণনার মাধ্যমে বিরোধিতা করেছেন যে, ‘কোনো কিছুই নামাজকে বিচ্ছিন্ন করে না’, অথবা এই মর্মে সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত কোনো বর্ণনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَقَدْ كَانَ الصَّحَابَةُ مُخْتَلِفِينَ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ، أَوْ بِرَأْيٍ ضَعِيفٍ لَوْ صَحَّ لَمْ يُقَاوِمْ هَذِهِ الْحُجَّةَ، خُصُوصًا مَذْهَبَ أَحْمَدَ.
فَهَذَا أَصْلٌ فِي الْخَبَائِثِ الْجُسْمَانِيَّةِ وَالرُّوحَانِيَّةِ.
[بيان مقدار ما يعفى من النجاسة]وَأَصْلٌ آخَرُ: وَهُوَ أَنَّ الْكُوفِيِّينَ قَدْ عُرِفَ تَخْفِيفُهُمْ فِي الْعَفْوِ عَنِ النَّجَاسَةِ، فَيَعْفُونَ مِنَ الْمُغَلَّظَةِ عَنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ الْبَغْلِيِّ، وَمِنَ الْمُخَفَّفَةِ عَنْ رُبْعِ الْمَحَلِّ الْمُتَنَجِّسِ، وَالشَّافِعِيُّ بِإِزَائِهِمْ فِي ذَلِكَ، فَلَا يَعْفُو عَنِ النَّجَاسَاتِ إِلَّا عَنْ أَثَرِ الِاسْتِنْجَاءِ وَوَنِيمِ الذُّبَابِ وَنَحْوِهِ، وَلَا يَعْفُو عَنْ دَمٍ وَلَا عَنْ غَيْرِهِ إِلَّا عَنْ دَمِ الْبَرَاغِيثِ وَنَحْوِهِ، مَعَ أَنَّهُ يُنَجِّسُ أَرْوَاثَ الْبَهَائِمِ وَأَبْوَالَهَا وَغَيْرَ ذَلِكَ، فَقَوْلُهُ فِي النَّجَاسَاتِ نَوْعًا وَقَدْرًا أَشَدُّ أَقْوَالِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ.
ومالك مُتَوَسِّطٌ فِي نَوْعِ النَّجَاسَةِ وَفِي قَدْرِهَا، فَإِنَّهُ لَا يَقُولُ بِنَجَاسَةِ الْأَرْوَاثِ وَالْأَبْوَالِ مِمَّا يُؤَكَلُ لَحْمُهُ، وَيَعْفُو عَنْ يَسِيرِ الدَّمِ وَغَيْرِهِ.
وأحمد كَذَلِكَ، فَإِنَّهُ مُتَوَسِّطٌ فِي النَّجَاسَاتِ، فَلَا يُنَجِّسُ الْأَرْوَاثَ وَالْأَبْوَالَ، وَيَعْفُو عَنِ الْيَسِيرِ مِنَ النَّجَاسَاتِ الَّتِي يَشُقُّ الِاحْتِرَازُ عَنْهَا، حَتَّى إِنَّهُ فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْهُ يَعْفُو عَنْ يَسِيرِ رَوْثِ الْبَغْلِ وَالْحِمَارِ وَبَوْلِ الْخُفَّاشِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَشُقُّ الِاحْتِرَازُ عَنْهُ، بَلْ يَعْفُو فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنِ الْيَسِيرِ مِنَ الرَّوْثِ وَالْبَوْلِ مِنْ كُلِّ حَيَوَانٍ طَاهِرٍ، كَمَا ذَكَرَ ذَلِكَ الْقَاضِي أَبُو يُعْلَى فِي شَرْحِ الْمَذْهَبِ، وَهُوَ مَعَ ذَلِكَ يُوجِبُ اجْتِنَابَ النَّجَاسَةِ فِي الصَّلَاةِ فِي الْجُمْلَةِ مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ عَنْهُ، لَمْ
এই বিষয়ে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন, অথবা এটি এমন একটি দুর্বল মতের ভিত্তিতে যা সঠিক প্রমাণিত হলেও এই দলীলের মোকাবিলা করতে পারত না, বিশেষত ইমাম আহমাদের মাযহাবে।
সুতরাং এটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক অপবিত্রতার ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি।
[ক্ষমার যোগ্য নাপাকির পরিমাণের বর্ণনা]অন্য একটি মূলনীতি হলো: কুফাবাসীদের (হানাফী) নাপাকির ক্ষমার ক্ষেত্রে শিথিলতা সুবিদিত। তারা 'মুগাল্লাজাহ' (কঠোর) নাপাকির ক্ষেত্রে দিরহাম বাগলী পরিমাণ পর্যন্ত ক্ষমা করেন এবং 'মুখাফফাফাহ' (লঘু) নাপাকির ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত ক্ষমা করেন। এর বিপরীতে ইমাম শাফিঈ এই বিষয়ে কোনো নাপাকিই ক্ষমা করেন না—শুধুমাত্র ইস্তিঞ্জার অবশিষ্ট চিহ্ন, মাছির বিষ্ঠা ও এই জাতীয় কিছু ব্যতীত। তিনি রক্ত বা অন্য কোনো কিছু ক্ষমা করেন না, শুধু মাছির রক্ত বা এর ন্যায় কিছু ব্যতীত। উপরন্তু, তিনি গবাদি পশুর গোবর ও মূত্র এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়কেও নাপাক মনে করেন। সুতরাং নাপাকির ধরন ও পরিমাণের ক্ষেত্রে তাঁর মত চার ইমামের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর।
ইমাম মালিক নাপাকির ধরন ও পরিমাণের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থী। কেননা তিনি হালাল প্রাণীর গোবর ও মূত্রকে নাপাক বলেন না এবং অল্প পরিমাণ রক্ত ও অন্যান্য বিষয় ক্ষমা করেন।
ইমাম আহমাদও অনুরূপ; তিনিও নাপাকির ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থী। তিনি গোবর ও মূত্রকে নাপাক মনে করেন না এবং এমন সব নাপাকির সামান্য অংশ ক্ষমা করেন যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন। এমনকি তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী, তিনি খচ্চর ও গাধার সামান্য গোবর, বাদুড়ের মূত্র এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা থেকে বেঁচে থাকা দুষ্কর, তা ক্ষমা করেন। বরং এক বর্ণনা মতে তিনি প্রতিটি পবিত্র প্রাণীর সামান্য গোবর ও মূত্রও ক্ষমা করেন, যেমনটি কাযী আবু ইয়া'লা 'শারহুল মাযহাব'-এ উল্লেখ করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি সাধারণভাবে সালাতের মধ্যে নাপাকি পরিহার করাকে আবশ্যক মনে করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো দ্বিমত নেই, যা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يَخْتَلِفْ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ كَمَا اخْتَلَفَ أَصْحَابُ مالك، وَلَوْ صَلَّى بِهَا جَاهِلًا أَوْ نَاسِيًا لَمْ تَجِبْ عَلَيْهِ الْإِعَادَةُ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ، كَقَوْلِ مالك كَمَا دَلَّ عَلَيْهِ حَدِيثُ «النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا خَلَعَ نَعْلَيْهِ فِي أَثْنَاءِ الصَّلَاةِ لِأَجْلِ الْأَذَى الَّذِي فِيهِمَا، وَلَمْ يَسْتَقْبِلِ الصَّلَاةَ» ، وَلَمَّا صَلَّى الْفَجْرَ فَوَجَدَ فِي ثَوْبِهِ نَجَاسَةً أَمَرَ بِغَسْلِهَا وَلَمْ يُعِدِ الصَّلَاةَ، وَالرِّوَايَةُ الْأُخْرَى: تَجِبُ الْإِعَادَةُ، كَقَوْلِ أبي حنيفة وَالشَّافِعِيِّ.
وَأَصْلٌ آخَرُ فِي إِزَالَتِهَا، فَمَذْهَبُ أبي حنيفة: تُزَالُ بِكُلِّ مُزِيلٍ مِنَ الْمَائِعَاتِ وَالْجَامِدَاتِ، وَالشَّافِعِيُّ لَا يَرَى إِزَالَتَهَا إِلَّا بِالْمَاءِ حَتَّى مَا يُصِيبُ أَسْفَلَ الْخُفِّ وَالْحِذَاءِ وَالذَّيْلِ: لَا يُجْزِئُ فِيهِ إِلَّا الْغَسْلُ بِالْمَاءِ، وَحَتَّى نَجَاسَةِ الْأَرْضِ.
وَمَذْهَبُ أحمد فِيهِ مُتَوَسِّطٌ، فَكُلُّ مَا جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ قَالَ بِهِ، يَجُوزُ فِي الصَّحِيحِ عَنْهُ: مَسْحُهَا بِالتُّرَابِ وَنَحْوِهِ مِنَ النَّعْلِ وَنَحْوِهِ كَمَا جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ، كَمَا يَجُوزُ مَسْحُهَا مِنَ السَّبِيلَيْنِ فَإِنَّ السَّبِيلَيْنِ بِالنِّسْبَةِ إِلَى سَائِرِ الْأَعْضَاءِ كَأَسْفَلِ الْخُفِّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى سَائِرِ الثِّيَابِ فِي تَكَرُّرِ النَّجَاسَةِ عَلَى كُلٍّ مِنْهَا.
وَاخْتَلَفَ أَصْحَابُهُ فِي أَسْفَلِ الذَّيْلِ: هَلْ هُوَ كَأَسْفَلِ الْخُفِّ؟ كَمَا جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ وَاسْتِوَائِهَا لِلْأَثَرِ فِي ذَلِكَ، وَالْقِيَاسُ: إِزَالَتُهَا عَنِ الْأَرْضِ بِالشَّمْسِ وَالرِّيحِ يَجِبُ التَّوَسُّطُ فِيهِ.
মালিকের অনুসারীদের মতভেদের ন্যায় এ বিষয়ে তাঁর (ইমাম আহমাদ) বক্তব্যও ভিন্ন ভিন্ন। যদি কেউ অজ্ঞতা বা বিস্মৃতিবশত নাপাকি সাথে নিয়ে সালাত আদায় করে, তবে দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাঁর ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব নয়। এটি ইমাম মালিকের মতের অনুরূপ, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত—যখন তিনি সালাত রত অবস্থায় জুতোর মধ্যে থাকা ময়লার কারণে তা খুলে ফেলেছিলেন এবং নতুন করে সালাত শুরু করেননি। আর যখন তিনি ফজরের সালাত আদায়ের পর কাপড়ে নাপাকি দেখতে পেলেন, তখন তিনি তা ধোয়ার নির্দেশ দিলেন কিন্তু সালাত পুনরায় আদায় করেননি। অন্য বর্ণনা মতে: সালাত পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব, যা ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম শাফেঈর মতের অনুরূপ।
নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে অন্য একটি মূলনীতি হলো: ইমাম আবু হানীফার মাযহাব অনুযায়ী, প্রতিটি নাপাকি দূরকারক তরল ও কঠিন বস্তু দ্বারা নাপাকি দূরীভূত হয়। অন্যদিকে ইমাম শাফেঈ পানি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে নাপাকি দূর করা বৈধ মনে করেন না; এমনকি চামড়ার মোজা, জুতো কিংবা কাপড়ের নিচের অংশে লেগে থাকা নাপাকি এবং ভূমির নাপাকির ক্ষেত্রেও পানি দিয়ে ধোয়া ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না।
এ বিষয়ে ইমাম আহমদের মাযহাব হলো মধ্যপন্থা। সুন্নাহ যে বিষয়ের অবতারণা করেছে, তিনি সেটিই গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ মতানুসারে: জুতো বা তদ্রূপ বস্তু থেকে মাটি বা সমজাতীয় কিছু দিয়ে মুছে নাপাকি দূর করা জায়েয, যেমনটি সুন্নাহর বর্ণনায় এসেছে। যেমনভাবে মলমূত্র ত্যাগের দুই রাস্তা থেকে মুছে পরিষ্কার করা জায়েয; কেননা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় এই দুই নির্গমন পথ এবং সাধারণ পোশাকের তুলনায় জুতোর তলা—উভয় ক্ষেত্রেই বারবার নাপাকি স্পর্শ করার বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাপড়ের নিচের অংশ কি জুতোর তলার ন্যায় কি না—এ বিষয়ে তাঁর অনুসারীরা মতভেদ করেছেন; যেমনটি সুন্নাহর বর্ণনায় এসেছে এবং এ সংক্রান্ত দলিলের সামঞ্জস্যের দাবি রাখে। আর কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান হলো: রোদ ও বাতাসের মাধ্যমে ভূমি থেকে নাপাকি দূরীভূত হওয়ার বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَإِنَّ التَّشْدِيدَ فِي النَّجَاسَاتِ جِنْسًا وَقَدْرًا هُوَ دِينُ الْيَهُودِ، وَالتَّسَاهُلَ هُوَ دِينُ النَّصَارَى، وَدِينُ الْإِسْلَامِ هُوَ الْوَسَطُ، فَكُلُّ قَوْلٍ يَكُونُ فِيهِ شَيْءٌ مِنْ هَذَا الْبَابِ يَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى دِينِ الْإِسْلَامِ.
[اخْتِلَاطُ الْحَلَالِ بِالْحَرَامِ كَاخْتِلَاطِ الْمَائِعِ الطَّاهِرِ بِالنَّجِسِ]وَأَصْلٌ آخَرُ: وَهُوَ اخْتِلَاطُ الْحَلَالِ بِالْحَرَامِ كَاخْتِلَاطِ الْمَائِعِ الطَّاهِرِ بِالنَّجِسِ، فَقَوْلُ الْكُوفِيِّينَ فِيهِ مِنَ الشِّدَّةِ مَا لَا خَفَاءَ بِهِ.
وَسِرُّ قَوْلِهِمْ: إِلْحَاقُ الْمَاءِ بِسَائِرِ الْمَائِعَاتِ، وَأَنَّ النَّجَاسَةَ إِذَا وَقَعَتْ فِي مَائِعٍ لَمْ يُمْكِنِ اسْتِعْمَالُهُ إِلَّا بِاسْتِعْمَالِ [الْخَبِيثِ] ، فَيَحْرُمُ الْجَمِيعُ [مَعَ أَنَّ تَنْجِيسَ] الْمَائِعِ غَيْرِ الْمَاءِ الْآثَارُ فِيهِ قَلِيلَةٌ.
وَبِإِزَائِهِمْ مالك وَغَيْرُهُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَإِنَّهُمْ - فِي الْمَشْهُورِ - لَا يُنَجِّسُونَ الْمَاءَ إِلَّا بِالتَّغَيُّرِ، وَلَا يَمْنَعُونَ مِنَ الْمُسْتَعْمَلِ وَلَا غَيْرِهِ؛ مُبَالَغَةً فِي طَهُورِيَّةِ الْمَاءِ، مَعَ فَرْقِهِمْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ غَيْرِهِ مِنَ الْمَائِعَاتِ.
ولأحمد قَوْلٌ كَمَذْهَبِهِمْ، لَكِنَّ الْمَشْهُورَ عَنْهُ التَّوَسُّطُ بِالْفَرْقِ بَيْنَ قَلِيلِهِ وَكَثِيرِهِ كَقَوْلِ الشَّافِعِيِّ.
وَاخْتَلَفَ قَوْلُهُ فِي الْمَائِعَاتِ غَيْرِ الْمَاءِ، هَلْ يَلْحَقُ بِالْمَاءِ، أَوْ لَا يَلْحَقُ بِهِ كَقَوْلِ مالك وَالشَّافِعِيِّ؟ أَوْ يُفَرَّقُ بَيْنَ الْمَاءِ وَغَيْرِ الْمَاءِ كَخَلِّ الْعِنَبِ؟ عَلَى ثَلَاثِ رِوَايَاتٍ.
وَفِي هَذِهِ الْأَقْوَالِ مِنَ التَّوَسُّطِ أَثَرًا وَنَظَرًا مَا لَا خَفَاءَ بِهِ، مَعَ أَنَّ قَوْلَ أحمد الْمُوَافِقَ لِقَوْلِ مالك رَاجِحٌ فِي الدَّلِيلِ.
[أَجْزَاءِ الْمَيْتَةِ الَّتِي لَا رُطُوبَةَ فِيهَا كَالشَّعَرِ وَالظُّفْرِ وَالرِّيشِ]وَأَصْلٌ آخَرُ: وَهُوَ أَنَّ لِلنَّاسِ فِي أَجْزَاءِ الْمَيْتَةِ الَّتِي لَا رُطُوبَةَ فِيهَا - كَالشَّعَرِ وَالظُّفْرِ وَالرِّيشِ - مَذَاهِبَ، هَلْ هُوَ طَاهِرٌ أَوْ نَجِسٌ؟ ثَلَاثَةُ أَقْوَالٍ.
নিশ্চয়ই অপবিত্রতার ধরন ও পরিমাণের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা ইহুদিদের ধর্মাদর্শ, আর শিথিলতা প্রদর্শন করা নাসারাদের ধর্মাদর্শ; পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্ম হলো মধ্যমপন্থা। সুতরাং যে মতামতে এই বিষয়ের কোনো প্রতিফলন থাকে, তা ইসলাম ধর্মের অধিকতর নিকটবর্তী।
[হারামের সাথে হালালের মিশ্রণ; যেমন পবিত্র তরলের সাথে অপবিত্র তরলের মিশ্রণ]অপর একটি মূলনীতি: এটি হলো হারামের সাথে হালালের মিশ্রণ, যেমন পবিত্র তরলের সাথে অপবিত্র বস্তুর মিশ্রণ। এই বিষয়ে কুফাবাসীদের অভিমতে এমন কঠোরতা রয়েছে যা অত্যন্ত স্পষ্ট।
তাঁদের বক্তব্যের রহস্য হলো: পানিকে অন্যান্য তরল পদার্থের অন্তর্ভুক্ত করা এবং এই ধারণা পোষণ করা যে, যখন কোনো তরল পদার্থে অপবিত্রতা পতিত হয়, তখন সেই অপবিত্র অংশটুকু ব্যবহার না করে পুরোটা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না; ফলে সবটুকুই হারাম হয়ে যায়। অথচ পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত আসার (বিবরণ) খুবই কম।
তাঁদের বিপরীতে রয়েছেন ইমাম মালিক ও মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে অন্যান্য ইমামগণ। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তাঁরা পরিবর্তন ব্যতীত পানিকে অপবিত্র বলেন না এবং ব্যবহৃত বা অন্য কোনো পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেন না; এটি পানির পবিত্রতা গুণের আধিক্যের কারণে। তবে তাঁরা পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থের মধ্যে পার্থক্য করেন।
ইমাম আহমাদেরও একটি মত রয়েছে যা তাঁদের মাযহাবের অনুরূপ; তবে তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ মতটি হলো পানির অল্প ও বেশির মধ্যে পার্থক্য করার মাধ্যমে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যেমনটি ইমাম শাফি'ঈর অভিমত।
পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থের বিষয়ে তাঁর অভিমত ভিন্ন ভিন্ন: সেগুলো কি পানির হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে, নাকি ইমাম মালিক ও শাফি'ঈর মতানুসারে অন্তর্ভুক্ত হবে না? অথবা পানি এবং আঙুরের সিরকার মতো অন্যান্য তরলের মধ্যে পার্থক্য করা হবে? এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা রয়েছে।
এসব মতামতের মধ্যে দলিল ও যুক্তির বিচারে যে মধ্যপন্থা বিদ্যমান তা সুস্পষ্ট, যদিও ইমাম মালিকের সাথে ঐকমত্য পোষণকারী ইমাম আহমাদের অভিমতটি দলিলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী।
[মৃত প্রাণীর সেই অংশসমূহ যাতে কোনো সজলতা নেই; যেমন চুল, নখ ও পালক]অপর একটি মূলনীতি: মৃত প্রাণীর যেসব অঙ্গে কোনো সজলতা বা আর্দ্রতা নেই—যেমন চুল, নখ ও পালক—সেগুলোর ব্যাপারে আলেমগণের বিভিন্ন মত রয়েছে যে, সেগুলো কি পবিত্র নাকি অপবিত্র? এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَحَدُهَا: نَجَاسَتُهَا مُطْلَقًا، كَقَوْلِ الشَّافِعِيِّ وَرِوَايَةٍ عَنْ أحمد بِنَاءً عَلَى أَنَّهَا جُزْءٌ مِنَ الْمَيْتَةِ.
وَالثَّانِي: طَهَارَتُهَا مُطْلَقًا، كَقَوْلِ أبي حنيفة وَقَوْلٍ فِي مَذْهَبِ أحمد، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْمُوجِبَ لِلنَّجَاسَةِ هُوَ الرُّطُوبَاتُ، وَهِيَ إِنَّمَا تَكُونُ فِيمَا يَجْرِي فِيهِ الدَّمُ، وَلِهَذَا حُكِمَ بِطِهَارَةِ مَا لَا نَفْسٌ لَهُ سَائِلَةٌ، فَمَا لَا رُطُوبَةَ فِيهِ مِنَ الْأَجْزَاءِ بِمَنْزِلَةِ مَا لَا نَفْسٌ لَهُ سَائِلَةٌ.
وَالثَّالِثُ: نَجَاسَةُ مَا كَانَ فِيهِ حِسٌّ، كَالْعَظْمِ إِلْحَاقًا لَهُ بِاللَّحْمِ الْيَابِسِ، وَعَدَمُ نَجَاسَةِ مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ إِلَّا النَّمَاءُ كَالشَّعَرِ إِلْحَاقًا لَهُ بِالنَّبَاتِ.
[طَهَارَةُ الْأَحْدَاثِ الَّتِي هِيَ الْوُضُوءُ وَالْغُسْلُ]وَأَصْلٌ آخَرُ: وَهُوَ طَهَارَةُ الْأَحْدَاثِ الَّتِي هِيَ الْوُضُوءُ وَالْغُسْلُ، فَإِنَّ مَذْهَبَ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ: اسْتَعْمَلُوا فِيهَا مِنَ السُّنَنِ مَا لَا يُوجَدُ لِغَيْرِهِمْ وَيَكْفِي الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَغَيْرِهَا مِنَ اللِّبَاسِ وَالْحَوَائِلِ، فَقَدْ صَنَّفَ الْإِمَامُ أَحْمَدَ كِتَابَ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، وَذَكَرَ فِيهِ مِنَ النُّصُوصِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْجَوْرَبَيْنِ وَعَلَى الْعِمَامَةِ، بَلْ عَلَى خُمُرِ النِّسَاءِ كَمَا كَانَتْ أم سلمة زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرُهَا تَفْعَلُهُ، وَعَلَى الْقَلَانِسِ كَمَا كَانَ أبو موسى وأنس يَفْعَلَانِهِ، مَا إِذَا تَأَمَّلَهُ الْعَالِمُ عَلِمَ فَضْلَ عِلْمِ أَهْلِ الْحَدِيثِ عَلَى غَيْرِهِمْ، مَعَ أَنَّ الْقِيَاسَ يَقْتَضِي ذَلِكَ اقْتِضَاءً ظَاهِرًا، وَإِنَّمَا تَوَقَّفَ عَنْهُ مَنْ تَوَقَّفَ مِنَ الْفُقَهَاءِ؛ لِأَنَّهُمْ قَالُوا بِمَا بَلَغَهُمْ مِنَ الْأَثَرِ وَجَبُنُوا عَنِ الْقِيَاسِ وَرَعًا.
وَلَمْ يَخْتَلِفْ قَوْلُ أحمد فِيمَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كَأَحَادِيثِ الْمَسْحِ عَلَى الْعَمَائِمِ وَالْجَوْرَبَيْنِ، وَالتَّوْقِيتِ فِي الْمَسْحِ، وَإِنَّمَا اخْتَلَفَ
প্রথমটি হলো: এগুলো সামগ্রিকভাবে অপবিত্র, যেমনটি ইমাম শাফেয়ীর অভিমত এবং ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত; এর ভিত্তি হলো এগুলো মৃতদেহের অংশ।
দ্বিতীয়টি হলো: এগুলো সামগ্রিকভাবে পবিত্র, যেমনটি ইমাম আবু হানিফার অভিমত এবং ইমাম আহমদের মাজহাবের একটি বক্তব্য; এর ভিত্তি হলো অপবিত্রতার কারণ হলো আর্দ্রতা বা তরল পদার্থ, আর এটি কেবল সেই অঙ্গেই থাকে যাতে রক্ত প্রবাহিত হয়। এজন্যই প্রবাহমান রক্তহীন প্রাণীর পবিত্রতার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যেসব অংশে কোনো আর্দ্রতা নেই, সেগুলো প্রবাহমান রক্তহীন প্রাণীর পর্যায়ভুক্ত।
তৃতীয়টি হলো: যে অংশে সংবেদনশীলতা বিদ্যমান তা অপবিত্র, যেমন হাড়—একে শুষ্ক গোশতের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে; আর যাতে কেবল বৃদ্ধি বিদ্যমান তা অপবিত্র নয়, যেমন চুল—একে উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে।
[হাদাস থেকে পবিত্রতা অর্জন যা ওজু ও গোসলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়]অপর একটি মূলনীতি: আর তা হলো হাদাস বা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন, যা ওজু ও গোসলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফুকাহায়ে মুহাদ্দিসীনগণের মাজহাব হলো—তাঁরা এক্ষেত্রে এমন সব সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন যা অন্যদের কাছে পাওয়া যায় না। চামড়ার মোজা ও অন্যান্য পোশাক এবং আবরণের ওপর মাসাহ করাই যথেষ্ট। ইমাম আহমদ 'কিতাবুল মাসহি আলাল খুফফাইন' রচনা করেছেন এবং সেখানে তিনি নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে চামড়ার মোজা, কাপড়ের মোজা ও পাগড়ির ওপর মাসাহ করার বিষয়ে অনেক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এমনকি তিনি নারীদের ওড়নার ওপর মাসাহ করার কথাও উল্লেখ করেছেন যেমনটি নবী (সা.)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ ও অন্যান্যরা করতেন। অনুরূপভাবে টুপির ওপর মাসাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন যেমনটি আবু মুসা ও আনাস করতেন। কোনো আলেম যখন এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন তিনি অন্যদের তুলনায় আহলে হাদিসদের ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝতে পারবেন। অথচ কিয়াস বা যুক্তিও স্পষ্টভাবে একথাই দাবি করে। তবে যেসকল ফকিহ এ ব্যাপারে বিরত থেকেছেন, তারা কেবল তাদের কাছে যতটুকু বর্ণনা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী কথা বলেছেন এবং তাকওয়ার খাতিরে কিয়াস করতে দ্বিধাবোধ করেছেন।
নবী (সা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে ইমাম আহমদের বক্তব্যে কোনো মতভেদ নেই, যেমন পাগড়ির ওপর মাসাহ, মোজার ওপর মাসাহ এবং মাসাহের সময়সীমা নির্ধারণের হাদিসসমূহ। তবে তিনি মতভেদ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَوْلُهُ فِيمَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ كَخُمُرِ النِّسَاءِ وَكَالْقَلَانِسِ الدَّنِيَّاتِ.
وَمَعْلُومٌ أَنَّ فِي هَذَا الْبَابِ مِنَ الرُّخْصَةِ الَّتِي تُشْبِهُ أُصُولَ الشَّرِيعَةِ وَتُوَافِقُ الْآثَارَ الثَّابِتَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَاعْلَمْ أَنَّ كُلَّ مَنْ تَأَوَّلَ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ تَأْوِيلًا - مِثْلَ كَوْنِ الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ مَعَ بَعْضِ الرَّأْسِ هُوَ الْمُجْزِئُ وَنَحْوِ ذَلِكَ - لَمْ يَقِفْ عَلَى مَجْمُوعِ الْأَخْبَارِ، وَإِلَّا فَمَنْ وَقَفَ عَلَى مَجْمُوعِهَا أَفَادَتْهُ عِلْمًا يَقِينًا بِخِلَافِ ذَلِكَ.
[التيمم]وَأَصْلٌ آخَرُ فِي التَّيَمُّمِ: فَإِنَّ أَصَحَّ حَدِيثٍ فِيهِ حَدِيثُ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رضي الله عنه، الْمُصَرِّحُ بِأَنَّهُ يُجْزِئُ ضَرْبَةٌ وَاحِدَةٌ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ، وَلَيْسَ فِي الْبَابِ حَدِيثٌ يُعَارِضُهُ مِنْ جِنْسِهِ، وَقَدْ أَخَذَ بِهِ فُقَهَاءُ الْحَدِيثِ أحمد وَغَيْرُهُ، وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ قَوْلِ مَنْ قَالَ: يَجِبُ ضَرْبَتَانِ وَإِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، كَقَوْلِ أبي حنيفة وَالشَّافِعِيِّ فِي الْجَدِيدِ، أَوْ ضَرْبَتَانِ إِلَى الْكُوعَيْنِ.
[الْحَيْضِ وَالِاسْتِحَاضَةِ]وَأَصْلٌ آخَرُ: فِي الْحَيْضِ وَالِاسْتِحَاضَةِ فَإِنَّ مَسَائِلَ الِاسْتِحَاضَةِ مِنْ أَشْكَلِ أَبْوَابِ الطَّهَارَةِ، وَفِي الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثُ سُنَنٍ: سُنَّةٌ فِي الْمُعْتَادَةِ أَنَّهَا تَرْجِعُ إِلَى عَادَتِهَا، وَسُنَّةٌ فِي الْمُمَيِّزَةِ أَنَّهَا تَعْمَلُ بِالتَّمْيِيزِ، وَسُنَّةٌ فِي الْمُتَحَيِّرَةِ الَّتِي لَيْسَتْ لَهَا عَادَةٌ وَلَا تَتَمَيَّزٌ
সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো সম্পর্কে তাঁর উক্তি, যেমন নারীদের মস্তকাবরণী এবং নিচু টুপিসমূহ সংক্রান্ত বর্ণনা।
এটা সুবিদিত যে, এ পরিচ্ছেদে এমন কিছু অবকাশ বা রুখসত বিদ্যমান যা শরীয়তের মূলনীতিসমূহের সদৃশ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত আসার বা বর্ণনাগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ।
জেনে রাখুন, যারা এই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন—যেমন পাগড়ির সাথে মাথার কিছু অংশ মাসেহ করা যথেষ্ট হওয়া এবং এই জাতীয় মত—তারা মূলত বর্ণনাসমষ্টির ওপর অবগত হতে পারেননি। অন্যথায়, যে ব্যক্তি বর্ণনাসমষ্টির ওপর অবগত হয়েছেন, তা তাকে এর বিপরীত বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান বা ইলমে ইয়াকীন প্রদান করত।
[তায়াম্মুম]তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে আরেকটি মূলনীতি হলো: এ বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস হলো আম্মার বিন ইয়াসির রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, যাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জির জন্য একবার মাটিতে আঘাত করাই যথেষ্ট। এ অধ্যায়ে এর সমপর্যায়ের এমন কোনো হাদীস নেই যা এর পরিপন্থী। ফুকাহায়ে মুহাদ্দিসীন, যেমন ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা এটি গ্রহণ করেছেন। আর এটি ওই ব্যক্তির মতের চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ যে বলে: দুইবার আঘাত করা এবং কনুই পর্যন্ত মাসেহ করা ওয়াজিব—যেমন ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম শাফিয়ীর নতুন মত (কাওলে জাদীদ)—অথবা কব্জি পর্যন্ত দুইবার আঘাত করা।
[ঋতুস্রাব ও ইস্তিহাযা]আরেকটি মূলনীতি: ঋতুস্রাব (হায়েয) ও রক্তপ্রদর (ইস্তিহাযা) সম্পর্কে। নিশ্চয়ই ইস্তিহাযার মাসআলাসমূহ পবিত্রতা অধ্যায়ের সবচেয়ে জটিল পরিচ্ছেদগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনটি সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে: একটি সুন্নাহ হলো নির্দিষ্ট অভ্যাসের অধিকারী (মু'তাদা) নারীর ক্ষেত্রে যে সে তার অভ্যাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে; দ্বিতীয় সুন্নাহ হলো রক্ত পার্থক্য করার ক্ষমতার অধিকারী (মুমাইয়িযাহ) নারীর ক্ষেত্রে যে সে পার্থক্যের ভিত্তিতে আমল করবে; এবং তৃতীয় সুন্নাহ হলো ওই নারীর জন্য যে বিভ্রান্ত বা দ্বিধান্বিত (মুতাহাইয়িরা), যার কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস নেই এবং রক্তও পার্থক্য করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بِأَنَّهَا تَتَحَيَّضُ غَالِبَ عَادَاتِ النِّسَاءِ سِتًّا أَوْ سَبْعًا، وَأَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ إِنْ شَاءَتْ.
فَأَمَّا السُّنَّتَانِ الْأُولَتَانِ فَفِي الصَّحِيحِ، وَأَمَّا الثَّالِثَةُ: فَحَدِيثُ حمنة بنت جحش، رَوَاهُ أَهْلُ السُّنَنِ وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَكَذَلِكَ قَدْ رَوَى أبو داود وَغَيْرُهُ فِي سهلة بنت سهيل بَعْضَ مَعْنَاهُ.
وَقَدِ اسْتَعْمَلَ أحمد هَذِهِ السُّنَنَ الثَّلَاثَ فِي الْمُعْتَادَةِ الْمُمَيِّزَةِ وَالْمُتَحَيِّرَةِ، فَإِنِ اجْتَمَعَتِ الْعَادَةُ وَالتَّمْيِيزُ قَدَّمَ الْعَادَةَ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ، كَمَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْأَحَادِيثِ.
فَأَمَّا أبو حنيفة فَيَعْتَبِرُ الْعَادَةَ إِنْ كَانَتْ، وَلَا يَعْتَبِرُ التَّمْيِيزَ وَلَا الْغَالِبَ، بَلْ إِنْ لَمْ تَكُنْ عَادَةٌ إِنْ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً حَيَّضَهَا حَيْضَةَ الْأَكْثَرِ، وَإِلَّا حَيْضَةَ الْأَقَلِّ.
ومالك يَعْتَبِرُ التَّمْيِيزَ وَلَا يَعْتَبِرُ الْعَادَةَ وَلَا الْأَغْلَبَ، فَإِنْ [لَمْ يَكُنْ تَمْيِيزٌ] لَمْ يَعْتَبِرِ الْعَادَةَ وَلَا الْأَغْلَبَ فَلَا يُحَيِّضُهَا، بَلْ تُصَلِّي أَبَدًا إِلَّا فِي الشَّهْرِ الْأَوَّلِ، فَهَلْ تَحِيضُ أَكْثَرَ الْحَيْضِ، أَوْ عَادَتَهَا وَتَسْتَظْهِرُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ عَلَى رِوَايَتَيْنِ.
وَالشَّافِعِيُّ يَسْتَعْمِلُ التَّمْيِيزَ وَالْعَادَةَ دُونَ الْأَغْلَبِ، فَإِنِ اجْتَمَعَ قَدَّمَ التَّمْيِيزَ، وَإِنْ عُدِمَ صَلَّتْ أَبَدًا، وَاسْتَعْمَلَ مِنَ الِاحْتِيَاطِ فِي الْإِيجَابِ وَالتَّحْرِيمِ وَالْإِبَاحَةِ مَا فِيهِ مَشَقَّةٌ عَظِيمَةٌ عِلْمًا وَعَمَلًا.
فَالسُّنَنُ الثَّلَاثُ الَّتِي جَاءَتْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذِهِ الْحَالَاتِ الْفِقْهِيَّةِ اسْتَعْمَلَهَا فُقَهَاءُ الْحَدِيثِ وَوَافَقَهُمْ فِي كُلٍّ مِنْهَا طَائِفَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ.
যে তিনি নারীদের সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী ছয় বা সাত দিন ঋতুবতী গণ্য হবেন এবং চাইলে দুই সালাত একত্রে আদায় করবেন।
প্রথম দুটি সুন্নাহ সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর তৃতীয়টি হলো হামনাহ বিনতে জাহাশ-এর বর্ণিত হাদীস, যা সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। একইভাবে আবু দাউদ ও অন্যান্যরা সাহলা বিনতে সুহাইল-এর বর্ণনায় এর কিছু অর্থ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ এই তিনটি সুন্নাহকে নিয়মিত অভ্যাসসম্পন্ন, রক্তের পার্থক্য নিরূপণে সক্ষম এবং বিভ্রান্ত (যার রক্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হয়) নারীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। যদি অভ্যাস এবং রক্তের পার্থক্য (তাময়ীয) উভয়টি বিদ্যমান থাকে, তবে দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি অভ্যাসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যেমনটি অধিকাংশ হাদীসে এসেছে।
ইমাম আবু হানিফার মতে, অভ্যাস (আদাহ) বিদ্যমান থাকলে তিনি সেটিকে বিবেচনা করেন; তিনি রক্তের পার্থক্য কিংবা সাধারণ গড় সময়কে বিবেচনা করেন না। বরং অভ্যাস না থাকলে, যদি নারী নতুন ঋতুবতী হন, তবে তিনি তাকে ঋতুর সর্বোচ্চ মেয়াদের ঋতুবতী গণ্য করেন; অন্যথায় সর্বনিম্ন মেয়াদের ঋতুবতী ধরেন।
ইমাম মালিক রক্তের পার্থক্যকে বিবেচনা করেন এবং অভ্যাস বা সাধারণ গড় সময়কে বিবেচনা করেন না। যদি রক্তের পার্থক্য না থাকে, তবে তিনি অভ্যাস বা গড় সময় কোনোটিকেই ধরেন না, ফলে তাকে ঋতুবতী গণ্য করেন না। বরং তিনি সর্বদা সালাত আদায় করবেন, তবে প্রথম মাসের কথা ভিন্ন। এমতাবস্থায় তিনি কি ঋতুর সর্বোচ্চ মেয়াদ পালন করবেন, নাকি তার নিয়মিত অভ্যাস পালন করে অতিরিক্ত তিন দিন অপেক্ষা করবেন? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম শাফিঈ রক্তের পার্থক্য এবং অভ্যাসকে গ্রহণ করেন কিন্তু সাধারণ গড় সময়কে নয়। যদি উভয়টি পাওয়া যায়, তবে তিনি রক্তের পার্থক্যকে অগ্রাধিকার দেন। আর যদি কোনোটিই না থাকে, তবে তিনি সর্বদা সালাত আদায় করবেন। তিনি ওয়াজিব, হারাম ও মুবাহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই তিনটি সুন্নাহকে এই ফিকহী মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে ফুকাহাউল হাদীস (মুহাদ্দিস ফকীহগণ) প্রয়োগ করেছেন এবং তাদের সাথে প্রতিটি ক্ষেত্রে ফকীহদের একটি দল একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
[فَصْلٌ في الصلاة]
[فَصْلٌ في مواقيت الصَّلَاةَ]فَصْلٌ
وَأَمَّا إِذَا ابْتَدَؤُوا الصَّلَاةَ بِالْمَوَاقِيتِ، فَفُقَهَاءُ الْحَدِيثِ قَدِ اسْتَعْمَلُوا فِي هَذَا الْبَابِ جَمِيعَ النُّصُوصِ الْوَارِدَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَوْقَاتِ الْجَوَازِ وَأَوْقَاتِ الِاخْتِيَارِ.
فَوَقْتُ الْفَجْرِ: مَا بَيْنَ طُلُوعِ الْفَجْرِ الصَّادِقِ إِلَى طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَوَقْتُ الظُّهْرِ: مِنَ الزَّوَالِ إِلَى مَصِيرِ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهِ، سِوَى فَيْءِ الزَّوَالِ، وَوَقْتُ الْعَصْرِ: إِلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ عَلَى ظَاهِرِ مَذْهَبِ أَحْمَدَ، وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ: إِلَى مَغِيبِ الشَّفَقِ، وَوَقْتُ الْعِشَاءِ: إِلَى مُنْتَصَفِ اللَّيْلِ عَلَى ظَاهِرِ مَذْهَبِ أحمد.
هَذَا بِعَيْنِهِ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ مسلم فِي صَحِيحِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَرُوِيَ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، وَلَيْسَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ مِنْ قَوْلِهِ فِي الْمَوَاقِيتِ الْخَمْسِ أَصَحَّ مِنْهُ، وَكَذَلِكَ صَحَّ مَعْنَاهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَدِينَةِ مِنْ حَدِيثِ أبي موسى وبريدة رضي الله عنهما، وَجَاءَ مُفَرَّقًا فِي عِدَّةِ أَحَادِيثَ، وَغَالِبُ الْفُقَهَاءِ إِنَّمَا اسْتَعْمَلُوا غَالِبَ ذَلِكَ.
فَأَهْلُ الْعِرَاقِ الْمَشْهُورُ عَنْهُمْ: أَنَّ الْعَصْرَ لَا يَدْخُلُ وَقْتُهَا حَتَّى يَصِيرَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ، وَأَهْلُ الْحِجَازِ - مالك وَغَيْرُهُ - لَيْسَ لِلْمَغْرِبِ عِنْدَهُمْ إِلَّا وَقْتٌ وَاحِدٌ.
[সালাত বিষয়ক পরিচ্ছেদ][সালাতের ওয়াক্তসমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
আর যখন তাঁরা সালাতের ওয়াক্তসমূহের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন, তখন হাদিস বিশারদ ফকিহগণ এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বৈধ সময় (ওয়াক্তে জাওয়াজ) এবং ঐচ্ছিক সময় (ওয়াক্তে এখতিয়ার) সম্পর্কিত সকল নস বা পাঠ্যপ্রমাণ ব্যবহার করেছেন।
ফজরের ওয়াক্ত হলো: সুবহে সাদিক উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। জোহরের ওয়াক্ত হলো: সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে কোনো বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত, জাওয়ালের সময়ের মূল ছায়া ব্যতীত। আসরের ওয়াক্ত হলো: সূর্য হলদেটে হওয়া পর্যন্ত, যা ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতানুসারে। মাগরিবের ওয়াক্ত হলো: পশ্চিমাকাশের লালিমা (শাফাক) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত। এশার ওয়াক্ত হলো: মধ্যরাত পর্যন্ত, যা ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতানুসারে।
এটিই হুবহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণী যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্তের সময়সীমা বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্যে এর চেয়ে বিশুদ্ধতর কোনো হাদিস নেই। একইভাবে মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম থেকে আবু মুসা ও বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসেও এর মর্মার্থ বিভিন্নভাবে বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু হাদিসে এটি বিক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ ফকিহ সাধারণত এর অধিকাংশ দলিলই আমলযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
ইরাকবাসীদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো: কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ না হওয়া পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় না। আর হিজাজবাসীদের নিকট—যাদের মধ্যে ইমাম মালিক ও অন্যরা রয়েছেন—মাগরিবের জন্য কেবল একটিই ওয়াক্ত নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
[فَصْلٌ في الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ وَالْمَطَرِ وَالْمَرَضِ]فَصْلٌ
وَكَذَلِكَ نَقُولُ بِمَا جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ وَالْآثَارُ مِنَ الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ وَالْمَطَرِ وَالْمَرَضِ، كَمَا فِي حَدِيثِ الْمُسْتَحَاضَةِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْأَعْذَارِ.
وَنَقُولُ بِمَا دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْآثَارُ مِنْ أَنَّ الْوَقْتَ وَقْتَانِ: وَقْتُ اخْتِيَارٍ وَهُوَ خَمْسُ مَوَاقِيتَ، وَوَقْتُ اضْطِرَارٍ وَهُوَ ثَلَاثُ مَوَاقِيتَ، وَلِهَذَا أَمَرَتِ الصَّحَابَةُ - كَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِمَا - الْحَائِضَ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ الْغُرُوبِ أَنْ تُصَلِّيَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ، وَإِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ الْفَجْرِ أَنْ تُصَلِّيَ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ. وأحمد مُوَافِقٌ فِي هَذِهِ الْمَسَائِلِ لمالك رحمه الله، وَزَائِدٌ عَلَيْهِ بِمَا جَاءَتْ بِهِ الْآثَارُ، وَالشَّافِعِيُّ رحمه الله هُوَ دُونَ مالك فِي ذَلِكَ، وأبو حنيفة أَصْلُهُ فِي الْجَمْعِ مَعْرُوفٌ.
وَكَذَلِكَ أَوْقَاتُ الِاسْتِحْبَابِ، فَإِنَّ أَهْلَ الْحَدِيثِ يَسْتَحِبُّونَ الصَّلَاةَ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ فِي الْجُمْلَةِ، إِلَّا حَيْثُ يَكُونُ فِي التَّأْخِيرِ مَصْلَحَةٌ رَاجِحَةٌ كَمَا جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ، فَيَسْتَحِبُّونَ تَأْخِيرَ الظُّهْرَ فِي الْحَرِّ مُطْلَقًا، سَوَاءٌ كَانُوا مُجْتَمِعِينَ أَوْ مُتَفَرِّقِينَ، وَيَسْتَحِبُّونَ تَأْخِيرَ الْعِشَاءِ مَا لَمْ يَشُقَّ.
وَبِكُلِّ ذَلِكَ جَاءَتِ السُّنَنُ الصَّحِيحَةُ الَّتِي لَا دَافِعَ لَهَا، وَكُلٌّ مِنَ الْفُقَهَاءِ يُوَافِقُهُمْ فِي الْبَعْضِ أَوِ الْأَغْلَبِ.
فأبو حنيفة: يَسْتَحِبُّ التَّأْخِيرَ إِلَّا فِي الْمَغْرِبِ، وَالشَّافِعِيُّ:
[সফর, বৃষ্টি ও অসুস্থতার কারণে দুই সালাত একত্রে পড়ার পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
অনুরূপভাবে আমরা সুন্নাহ ও আসার (সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণনা) দ্বারা প্রমাণিত সফর, বৃষ্টি ও অসুস্থতার কারণে দুই সালাত একত্রে আদায়ের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করি, যেমনটি ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর হাদীসে এবং অন্যান্য ওজরের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আমরা কিতাব, সুন্নাহ ও আসার দ্বারা নির্দেশিত এই মতটি পোষণ করি যে, সালাতের সময় দুই প্রকার: ঐচ্ছিক সময়—যা পাঁচটি সালাতের ওয়াক্তকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং জরুরি সময়—যা তিনটি সালাতের ওয়াক্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একারণেই আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রমুখ সাহাবীগণ ঋতুমতী নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সে যদি সূর্যাস্তের পূর্বে পবিত্র হয় তবে যেন যোহর ও আসর উভয় সালাত আদায় করে নেয়, আর যদি ফজরের পূর্বে পবিত্র হয় তবে যেন মাগরিব ও এশা উভয় সালাত পড়ে নেয়। এই মাসআলাগুলোতে ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম মালিকের (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে একমত, বরং আসার-এ বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি তাঁর চেয়েও অগ্রগামী। এই বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম মালিকের তুলনায় কিছুটা সীমিত মত পোষণ করেন এবং দুই সালাত একত্রে পড়ার ক্ষেত্রে আবু হানীফার (রাহিমাহুল্লাহ) মূলনীতি সুবিদিত।
একইভাবে সালাতের মুস্তাহাব সময়ের ক্ষেত্রে আহলে হাদীসগণ সাধারণভাবে ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করাকে পছন্দ করেন, তবে সুন্নাহ অনুযায়ী যদি দেরি করে পড়ার মধ্যে কোনো অগ্রগণ্য কল্যাণ থাকে তবে তা ভিন্ন। তাই তারা প্রচণ্ড গরমে যোহর সালাত দেরি করে আদায় করাকে সাধারণভাবে মুস্তাহাব মনে করেন, চাই তারা জামাতে থাকুক কিংবা একাকী; এবং তারা এশার সালাত দেরি করে আদায় করাকে মুস্তাহাব মনে করেন যতক্ষণ না তা কষ্টের কারণ হয়।
এই সবকিছুর পক্ষেই সহীহ সুন্নাহ বিদ্যমান রয়েছে যা প্রত্যাখ্যান করার কোনো অবকাশ নেই। ফকীহগণের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের (আহলে হাদীসদের) সাথে একমত পোষণ করেছেন।
যেমন আবু হানীফা মাগরিব ব্যতীত অন্যান্য সালাত বিলম্ব করাকে মুস্তাহাব মনে করেন, আর শাফিঈ:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
يَسْتَحِبُّ التَّقْدِيمَ مُطْلَقًا حَتَّى فِي الْعِشَاءِ، عَلَى أَحَدِ الْقَوْلَيْنِ، وَحَتَّى فِي الْحَرِّ إِذَا كَانُوا مُجْتَمِعِينَ، وَحَدِيثُ أبي ذر الصَّحِيحُ فِيهِ أَمْرُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ بِالْإِبْرَادِ، وَكَانُوا مُجْتَمِعِينَ.
[فَصْلٌ في الْأَذَانُ]فَصْلٌ
وَأَمَّا الْأَذَانُ، الَّذِي هُوَ شِعَارُ الْإِسْلَامِ: فَقَدِ اسْتَعْمَلَ فُقَهَاءُ الْحَدِيثِ - كأحمد - فِيهِ جَمِيعَ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَحْسَنَ أَذَانَ بلال وَإِقَامَتَهُ، وَأَذَانَ أَبِي مَحْذُورَةَ وَإِقَامَتَهُ، وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ مسلم وَغَيْرِهِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «عَلَّمَ أبا محذورة الْأَذَانَ مُرَجَّعًا» . وَفِي صَحِيحِ مسلم: الْإِقَامَةُ مَشْفُوعَةٌ، وَثَبَتَ فِي الصَّحِيحَيْنِ: " «أَنَّ بلالا أُمِرَ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَيُوتِرَ الْإِقَامَةَ» "، وَفِي السُّنَنِ: " أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُرَجِّعُ ".
فَرَجَّحَ أحمد أَذَانَ بلال؛ لِأَنَّهُ الَّذِي كَانَ يُفْعَلُ بِحَضْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَائِمًا، قَبْلَ أَذَانِ أَبِي مَحْذُورَةَ وَبَعْدَهُ إِلَى أَنْ مَاتَ، وَاسْتَحْسَنَ أَذَانَ أَبِي مَحْذُورَةَ وَلَمْ يَكْرَهْهُ، وَهَذَا أَصْلٌ مُسْتَمِرٌّ لَهُ فِي جَمِيعِ صِفَاتِ الْعِبَادَاتِ: أَقْوَالِهَا وَأَفْعَالِهَا، يَسْتَحْسِنُ كُلَّ مَا ثَبَتَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ لِشَيْءٍ مِنْهُ، مَعَ عِلْمِهِ بِذَلِكَ، وَاخْتِيَارِهِ لِلْبَعْضِ، أَوْ تَسْوِيَتِهِ بَيْنَ الْجَمِيعِ، كَمَا جَوَّزَ الْقِرَاءَةَ بِكُلِّ قِرَاءَةٍ ثَابِتَةٍ، وَإِنْ كَانَ قَدِ اخْتَارَ
দুই মতের একটি অনুযায়ী এশার সালাতসহ সব সালাতই সাধারণভাবে ওয়াক্তের শুরুতে আদায় করা মুস্তাহাব, এমনকি প্রচণ্ড গরমের সময়ও যদি মুসল্লিরা একত্রিত থাকেন। অথচ আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে গরম কমার পর (ইবরাদ) সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ তারা তখন একত্রিতই ছিলেন।
[আজান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
আর আজান, যা ইসলামের অন্যতম নিদর্শন: ফুকাহায়ে মুহাদ্দিসগণ—যেমন ইমাম আহমাদ—এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত সকল সুন্নাহর প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তিনি বিলাল (রা.)-এর আজান ও ইকামত এবং আবু মাহজুরা (রা.)-এর আজান ও ইকামত উভয়কেই উত্তম বলেছেন। সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি প্রমাণিত যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু মাহজুরা (রা.)-কে ‘তারজি’ (শাহাদাতাইন নিচু স্বরে বলার পর পুনরায় উচ্চস্বরে বলা) সহ আজান শিক্ষা দিয়েছিলেন। সহিহ মুসলিমে এসেছে: ইকামত হবে জোড়ায় জোড়ায়। আবার বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে: "বিলাল (রা.)-কে আজানের শব্দগুলো জোড়ায় জোড়ায় এবং ইকামতের শব্দগুলো বেজোড়ভাবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।" আর সুনান গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ‘তারজি’ করতেন না।
ইমাম আহমাদ বিলাল (রা.)-এর আজানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কারণ এটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে সর্বদা প্রচলিত ছিল—আবু মাহজুরা (রা.)-এর আজান প্রবর্তনের আগে থেকে শুরু করে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত। তবে তিনি আবু মাহজুরা (রা.)-এর আজানকেও উত্তম মনে করতেন এবং একে অপছন্দ করতেন না। এটি ইবাদতের সমস্ত পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য—তা কথা হোক বা কাজ—সবক্ষেত্রে তাঁর একটি স্থায়ী মূলনীতি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তার কোনোটিকেই অপছন্দ না করে তিনি তার সবগুলিকেই উত্তম মনে করেন; যদিও তিনি সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং কোনো কোনোটিকে তিনি বেছে নিয়েছেন অথবা সবগুলোকে সমমর্যাদা দিয়েছেন। যেমন তিনি প্রতিটি প্রমাণিত কিরাআতের মাধ্যমেই কুরআন পাঠ করা বৈধ রেখেছেন, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কিরাআত পছন্দ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بَعْضَ الْقِرَاءَةِ، مِثْلَ أَنْوَاعِ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ، وَأَنْوَاعِ التَّشَهُّدَاتِ الثَّابِتَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كَتَشَهُّدِ ابْنِ مَسْعُودٍ وأبي موسى وَابْنِ عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِمْ، وَأَحَبُّهَا إِلَيْهِ: تَشَهُّدُ ابْنِ مَسْعُودٍ، لِأَسْبَابٍ مُتَعَدِّدَةٍ:
مِنْهَا: كَوْنُهُ أَصَحَّهَا وَأَشْهَرَهَا.
وَمِنْهَا: كَوْنُهُ مَحْفُوظَ الْأَلْفَاظِ، لَمْ يُخْتَلَفْ فِي حَرْفٍ مِنْهُ.
وَمِنْهَا: كَوْنُ غَالِبِهَا يُوَافِقُ أَلْفَاظَهُ، فَيَقْتَضِي أَنَّهُ هُوَ الَّذِي كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِهِ غَالِبًا.
وَكَذَلِكَ أَنْوَاعُ الِاسْتِفْتَاحِ وَالِاسْتِعَاذَةِ الْمَأْثُورَةِ، وَإِنِ اخْتَارَ بَعْضَهَا.
وَكَذَلِكَ مَوَاضِعُ رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ، وَمَحِلُّ وَضْعِهِمَا بَعْدَ الرَّفْعِ، وَصِفَاتُ التَّحْمِيدِ الْمَشْرُوعِ بَعْدَ التَّسْمِيعِ.
وَمِنْهَا: صِفَاتُ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَإِنِ اخْتَارَ بَعْضَهَا.
وَمِنْهَا: أَنْوَاعُ صَلَاةِ الْخَوْفِ، يُجَوِّزُ كُلَّ مَا فَعَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ.
وَمِنْهَا: أَنْوَاعُ تَكْبِيرَاتِ الْعِيدَيْنِ، يُجَوِّزُ كُلَّ مَأْثُورٍ، وَإِنِ اسْتَحَبَّ بَعْضَهُ.
কিরাতের কিছু বিষয়, যেমন আজান ও ইকামতের পদ্ধতিসমূহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিভিন্ন প্রকারের তাশাহহুদ, যেমন ইবনে মাসউদ, আবু মুসা ও ইবনে আব্বাসের (রা.) তাশাহহুদ। তবে বিভিন্ন কারণে ইবনে মাসউদের (রা.) তাশাহহুদটিই তাঁর নিকট অধিক প্রিয় ছিল:
তন্মধ্যে রয়েছে: এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ হওয়া।
আরও রয়েছে: এর শব্দাবলি সুসংরক্ষিত হওয়া, যার একটি হরফ নিয়েও কোনো মতভেদ নেই।
আরও রয়েছে: অধিকাংশ বর্ণনা এর শব্দাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, যা একথাই প্রমাণ করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত এরই নির্দেশ দিতেন।
অনুরূপভাবে হাদীসে বর্ণিত সানা (ইস্তিফতাহ) ও আউযুবিল্লাহ (ইস্তিআযাহ)-এর প্রকারভেদসমূহ, যদিও তিনি এর মধ্য হতে কোনো কোনোটিকে বেছে নিয়েছেন।
তেমনিভাবে নামাজে রফউল ইয়াদাইনের (হাত তোলা) স্থানসমূহ, হাত তোলার পর তা রাখার স্থান এবং তাসমি'র পর বিধিবদ্ধ তাহমিদের পদ্ধতিসমূহ।
তন্মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের পদ্ধতিসমূহ, যদিও তিনি এর কোনো কোনোটিকে নির্বাচন করেছেন।
আরও রয়েছে: সালাতুল খাওফের প্রকারভেদসমূহ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু করেছেন তার প্রতিটিই তিনি কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা ছাড়াই বৈধ সাব্যস্ত করেন।
আরও রয়েছে: দুই ঈদের তাকবিরের বিভিন্ন পদ্ধতি; হাদীসে বর্ণিত এমন প্রত্যেকটি পদ্ধতিই তিনি জায়েজ মনে করেন, যদিও তিনি কোনো কোনোটিকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় জ্ঞান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَمِنْهَا التَّكْبِيرُ عَلَى الْجَنَائِزِ، يُجَوِّزُ - عَلَى الْمَشْهُورِ - التَّرْبِيعَ وَالتَّخْمِيسَ وَالتَّسْبِيعَ، وَإِنِ اخْتَارَ التَّرْبِيعَ.
وَأَمَّا بَقِيَّةُ الْفُقَهَاءِ فَيَخْتَارُونَ بَعْضَ ذَلِكَ وَيَكْرَهُونَ بَعْضَهُ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَكْرَهُ التَّرْجِيعَ فِي الْأَذَانِ، كأبي حنيفة. وَمِنْهُمْ مَنْ يَكْرَهُ تَرْكَهُ كَالشَّافِعِيِّ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَكْرَهُ شَفْعَ الْإِقَامَةِ، كَالشَّافِعِيِّ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَكْرَهُ إِفْرَادَهَا، حَتَّى صَارَ الْأَمْرُ بِأَتْبَاعِهِمْ إِلَى نَوْعِ جَاهِلِيَّةٍ، فَصَارُوا يَقْتَتِلُونَ فِي بَعْضِ بِلَادِ الْمَشْرِقِ عَلَى ذَلِكَ حَمِيَّةً جَاهِلِيَّةً. مَعَ أَنَّ الْجَمِيعَ حَسَنٌ قَدْ أَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَمَرَ بلالا بِإِفْرَادِ الْإِقَامَةِ، وَأَمَرَ أبا محذورة بِشَفْعِهَا، وَإِنَّمَا الضَّلَالَةُ حَقُّ الضَّلَالَةِ أَنْ يَنْهَى أَحَدٌ عَمَّا أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.
[فَصْلٌ في كَوْنِ الْبَسْمَلَةِ آيَةً مِنَ الْقُرْآنِ وَفِي قِرَاءَتِهَا في الصَّلَاةِ]فَصْلٌ
فَأَمَّا صِفَةُ الصَّلَاةِ: فَمِنْ شَعَائِرِهَا: مَسْأَلَةُ الْبَسْمَلَةِ.
فَإِنَّ النَّاسَ اضْطَرَبُوا فِيهَا نَفْيًا وَإِثْبَاتًا: فِي كَوْنِهَا آيَةً مِنَ الْقُرْآنِ وَفِي قِرَاءَتِهَا، وَصُنِّفَتْ مِنَ الطَّرَفَيْنِ مُصَنَّفَاتٌ، يَظْهَرُ فِي بَعْضِ كَلَامِهَا نَوْعٌ مِنْ جَهْلٍ وَظُلْمٍ، مَعَ أَنَّ الْخَطْبَ فِيهَا يَسِيرٌ. وَأَمَّا التَّعَصُّبُ لِهَذِهِ الْمَسَائِلِ وَنَحْوِهَا فَمِنْ شَعَائِرِ الْفُرْقَةِ وَالِاخْتِلَافِ الَّذِي نُهِينَا عَنْهُ، إِذِ الدَّاعِي لِذَلِكَ هُوَ تَرْجِيحُ الشَّعَائِرِ الْمُفَرِّقَةِ بَيْنَ الْأُمَّةِ، وَإِلَّا فَهَذِهِ الْمَسَائِلُ مِنْ أَخَفِّ مَسَائِلِ الْخِلَافِ جَدًّا، لَوْلَا مَا يَدْعُو إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ مِنْ إِظْهَارِ شِعَارِ الْفُرْقَةِ.
فَأَمَّا كَوْنُهَا آيَةً مِنَ الْقُرْآنِ: فَقَالَتْ طَائِفَةٌ، كَمَالِكٍ: لَيْسَتْ مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا فِي سُورَةِ النَّمْلِ، وَالْتَزَمُوا أَنَّ الصَّحَابَةَ أَوْدَعَتِ الْمُصْحَفَ مَا لَيْسَ مِنْ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَبِيلِ التَّبَرُّكِ.
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জানাযার তাকবীর; প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি চার, পাঁচ এবং সাতটি তাকবীর প্রদানকে বৈধ মনে করেন, যদিও তিনি চার তাকবীরকেই পছন্দ করেছেন।
আর অবশিষ্ট ফকিহগণ এগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে গ্রহণ করেন এবং কোনোটিকে অপছন্দ করেন। যেমন—তাদের মধ্যে কেউ আযানে 'তারজী' (শাহাদাতাইন দুইবার করে বলা) করাকে অপছন্দ করেন, যেমন আবু হানিফা। আবার কেউ এটি বর্জন করাকে অপছন্দ করেন, যেমন শাফিয়ী। আবার তাদের মধ্যে কেউ ইকামত জোড়ায় জোড়ায় প্রদান করা অপছন্দ করেন, যেমন শাফিয়ী। আবার কেউ তা একবার করে (বেজোড়) প্রদান করা অপছন্দ করেন। এমনকি তাদের অনুসারীদের অবস্থা এমন এক জাহিলিয়াতে পর্যবসিত হয়েছে যে, প্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে তারা জাহেলি গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে এ নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। অথচ এ সবগুলিই উত্তম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন: তিনি বিলালকে একবার করে ইকামত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আবু মাহজুরাকে তা জোড়ায় জোড়ায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে চূড়ান্ত বিভ্রান্তি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন তা থেকে কাউকে নিষেধ করা।
[পরিচ্ছেদ: বাসমালাহ কুরআনের আয়াত হওয়া এবং সালাতে তা পাঠ করা প্রসঙ্গে]পরিচ্ছেদ
সালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে এর অন্যতম নিদর্শন বা মাসআলা হলো বাসমালাহ সংক্রান্ত বিষয়টি।
নিশ্চয়ই মানুষ এ বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক থেকে তথা এটি কুরআনের আয়াত হওয়া এবং এর পাঠ করা নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার কোনো কোনো আলোচনায় এক ধরণের অজ্ঞতা ও অবিচার প্রকাশ পেয়েছে, যদিও বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ছিল। মূলত এসব মাসআলা ও এর অনুরূপ বিষয়গুলোতে গোঁড়ামি করা হলো সেই বিভেদ ও অনৈক্যের পরিচায়ক যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এর পেছনে মূল প্রেরণা হলো উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী নিদর্শনসমূহকে প্রাধান্য দেওয়া। অন্যথায়, শয়তান বিভেদের চিহ্ন প্রকাশ করার প্ররোচনা না দিলে এই মাসআলাগুলো মতভেদের অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হিসেবে গণ্য হতো।
এটি কুরআনের আয়াত হওয়া প্রসঙ্গে একদল ফকিহ, যেমন ইমাম মালিক বলেছেন: এটি সূরা আন-নামল ব্যতীত অন্য কোথাও কুরআনের অংশ নয়। তারা এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, সাহাবায়ে কিরাম বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর কালাম নয় এমন বিষয়কেও মাসহাফে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَحَكَى طَائِفَةٌ مِنْ أَصْحَابِ أحمد هَذَا رِوَايَةً عَنْهُ، وَرُبَّمَا اعْتَقَدَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ مَذْهَبُهُ.
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ، مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ: مَا كَتَبُوهَا فِي الْمُصْحَفِ بِقَلَمِ الْمُصْحَفِ - مَعَ تَجْرِيدِهِمْ لِلْمُصْحَفِ عَمَّا لَيْسَ مِنَ الْقُرْآنِ - إِلَّا وَهِيَ مِنَ السُّورَةِ، مَعَ أَدِلَّةٍ أُخْرَى.
وَتَوَسَّطَ أَكْثَرُ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ - كأحمد - وَمُحَقِّقِي أَصْحَابِ أبي حنيفة، فَقَالُوا: كِتَابَتُهَا فِي الْمُصْحَفِ تَقْتَضِي أَنَّهَا مِنَ الْقُرْآنِ؛ لِلْعِلْمِ بِأَنَّهُمْ لَمْ يَكْتُبُوا فِيهِ مَا لَيْسَ بِقُرْآنٍ، لَكِنْ لَا يَقْتَضِي ذَلِكَ أَنَّهَا مِنَ السُّورَةِ، بَلْ تَكُونُ آيَةً مُفْرَدَةً أُنْزِلَتْ فِي أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ، كَمَا كَتَبَهَا الصَّحَابَةُ سَطْرًا مَفْصُولًا. كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: " كَانَ لَا يُعْرَفُ فَصْلُ السُّورَةِ حَتَّى يَنْزِلَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ".
فَعِنْدَ هَؤُلَاءِ: هِيَ آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فِي أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ كُتِبَتْ فِي أَوَّلِهَا، وَلَيْسَتْ مِنَ السُّورَةِ. وَهَذَا هُوَ الْمَنْصُوصُ عَنْ أحمد فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ. وَلَمْ يُوجَدْ عَنْهُ نَقْلٌ صَرِيحٌ بِخِلَافِ ذَلِكَ. وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَغَيْرِهِ. وَهُوَ أَوْسَطُ الْأَقْوَالِ وَأَعْدَلُهَا.
وَكَذَلِكَ الْأَمْرُ فِي تِلَاوَتِهَا فِي الصَّلَاةِ: طَائِفَةٌ لَا تَقْرَؤُهَا لَا سِرًّا وَلَا جَهْرًا، كمالك وَالْأَوْزَاعِيِّ. وَطَائِفَةٌ: تَقْرَؤُهَا جَهْرًا، كَأَصْحَابِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَالشَّافِعِيِّ. وَالطَّائِفَةُ الثَّالِثَةُ الْمُتَوَسِّطَةُ: جَمَاهِيرُ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ مَعَ فُقَهَاءِ أَهْلِ الرَّأْيِ، يَقْرَؤُونَهَا سِرًّا، كَمَا نُقِلَ عَنْ جَمَاهِيرِ الصَّحَابَةِ، مَعَ أَنَّ أحمد يَسْتَعْمِلُ مَا رُوِيَ عَنِ الصَّحَابَةِ فِي هَذَا الْبَابِ. فَيَسْتَحِبُّ
ইমাম আহমদের একদল অনুসারী তাঁর থেকে এটি একটি বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সম্ভবত মনে করেছেন যে এটিই তাঁর মাযহাব।
ইমাম শাফিয়ীসহ অন্য একটি দল বলেছেন: তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) কুরআন নয় এমন বিষয়সমূহ থেকে মুসহাফকে মুক্ত রাখা সত্ত্বেও এটি মুসহাফের লিপিতে মুসহাফের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেননি কেবল একারণেই যে, এটি সূরার অংশ। এর সাথে অন্যান্য দলিলও রয়েছে।
অধিকাংশ হাদীসবেত্তা ফকীহ — যেমন আহমদ — এবং আবু হানিফার অনুসারীদের মধ্যে যাঁরা মুহাক্কিক (গবেষক), তাঁরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা বলেছেন: মুসহাফে এটি লিপিবদ্ধ হওয়া দাবি করে যে এটি কুরআনের অংশ; কেননা এটি সর্বজনবিদিত যে তাঁরা কুরআনের অংশ নয় এমন কিছু তাতে লেখেননি। তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি সূরার অংশ; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা প্রতিটি সূরার শুরুতে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি সাহাবায়ে কেরাম একটি পৃথক পঙ্ক্তি হিসেবে লিখেছেন। যেমন ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সূরার সমাপ্তি ও পৃথকীকরণ জানা যেত না।"
তদনুসারে তাঁদের নিকট এটি প্রতিটি সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি আয়াত যা সূরার শুরুতে লিখিত হয়েছে, কিন্তু এটি সূরার অংশ নয়। এটিই একাধিক স্থানে ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর বিপরীতে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। এটিই আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও অন্যদের অভিমত। আর এটিই অভিমতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সংগত।
নামাযে এটি তিলাওয়াতের বিষয়টিও তদ্রূপ: একদল এটি উচ্চস্বরে বা নিম্নস্বরে কোনোভাবেই পাঠ করেন না, যেমন মালিক ও আওযাঈ। অন্য একদল এটি উচ্চস্বরে পাঠ করেন, যেমন ইবনে জুরাইজের অনুসারীগণ এবং শাফিয়ী। তৃতীয় যে মধ্যপন্থী দলটি রয়েছে — তাঁরা হলেন হাদীসবেত্তা ফকীহগণের অধিকাংশ এবং আহলে রায়ের ফকীহগণ — তাঁরা এটি নিম্নস্বরে পাঠ করেন, যেমনটি অধিকাংশ সাহাবা থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর ইমাম আহমদ এই অধ্যায়ে সাহাবীদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোই অনুসরণ করেন। তাই তিনি মুস্তাহাব মনে করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْجَهْرَ بِهَا لِمَصْلَحَةٍ رَاجِحَةٍ، حَتَّى إِنَّهُ نَصَّ عَلَى أَنَّ مَنْ صَلَّى بِالْمَدِينَةِ [يَجْهَرُ بِهَا] ، قَالَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ: لِأَنَّهُمْ كَانُوا يُنْكِرُونَ عَلَى مَنْ يَجْهَرُ بِهَا، وَيُسْتَحَبُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَقْصِدَ إِلَى تَأْلِيفِ هَذِهِ الْقُلُوبِ بِتَرْكِ هَذِهِ الْمُسْتَحَبَّاتِ؛ لِأَنَّ مَصْلَحَةَ التَّأْلِيفِ فِي الدِّينِ أَعْظَمُ مِنْ مَصْلَحَةِ فِعْلِ مِثْلِ هَذَا، كَمَا تَرَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَغْيِيرَ بِنَاءِ الْبَيْتِ لِمَا رَأَى فِي إِبْقَائِهِ مِنْ تَأْلِيفِ الْقُلُوبِ، وَكَمَا أَنْكَرَ ابْنُ مَسْعُودٍ عَلَى عثمان إِتْمَامَ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ ثُمَّ صَلَّى خَلْفَهُ مُتِمًّا، وَقَالَ: " الْخِلَافُ شَرٌّ ".
وَهَذَا وَإِنْ كَانَ وَجْهًا حَسَنًا فَمَقْصُودُ أحمد أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ كَانُوا لَا يَقْرَؤُونَهَا فَيَجْهَرُ بِهَا لِيُبَيِّنَ أَنَّ قِرَاءَتَهَا سُنَّةٌ، كَمَا جَهَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِقِرَاءَةِ أُمِّ الْكِتَابِ عَلَى الْجِنَازَةِ، وَقَالَ: " لِتَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ "، وَكَمَا جَهَرَ عمر بِالِاسْتِفْتَاحِ غَيْرَ مَرَّةٍ، وَكَمَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجْهَرُ بِالْآيَةِ أَحْيَانًا فِي صَلَاةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، وَلِهَذَا نُقِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَنْ رُوِيَ عَنْهُ الْجَهْرُ بِهَا مِنَ الصَّحَابَةِ الْمُخَافَتَةُ، فَكَأَنَّهُمْ جَهَرُوا لِإِظْهَارِ أَنَّهُمْ يَقْرَؤُونَهَا كَمَا جَهَرَ بَعْضُهُمْ بِالِاسْتِعَاذَةِ أَيْضًا.
وَالِاعْتِدَالُ فِي كُلِّ شَيْءٍ اسْتِعْمَالُ الْآثَارِ عَلَى وَجْهِهَا، فَإِنَّ
কোনো প্রবল জনকল্যাণের স্বার্থে তা উচ্চস্বরে পাঠ করা; এমনকি তিনি (ইমাম আহমাদ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যিনি মদিনায় সালাত আদায় করবেন তিনি [তা উচ্চস্বরে পাঠ করবেন]। তাঁর কিছু অনুসারী বলেছেন: এর কারণ হলো তাঁরা (মদিনাবাসী) উচ্চস্বরে পাঠকারীর প্রতিবাদ করতেন। আর এই মুস্তাহাব বিষয়গুলো বর্জন করার মাধ্যমে মানুষের অন্তরসমূহের মধ্যে প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনের সংকল্প করা কোনো ব্যক্তির জন্য পছন্দনীয়; কারণ দ্বীনের স্বার্থে অন্তরসমূহের মেলবন্ধন ও প্রীতি স্থাপনের কল্যাণ এ ধরণের আমল করার কল্যাণের চেয়ে মহান। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা’বা গৃহের কাঠামো পরিবর্তন করা পরিত্যাগ করেছিলেন, কারণ তিনি তা অপরিবর্তিত রাখার মাঝে মানুষের অন্তর জয়ের কল্যাণ দেখেছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে ইবনে মাসউদ (রা.) সফরে সালাত পূর্ণ করার কারণে উসমানের (রা.) সমালোচনা করলেও পরে তাঁর পেছনে পূর্ণ সালাত আদায় করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "মতপার্থক্য অমঙ্গলজনক।"
যদিও এটি একটি উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি, তবে আহমাদ (রহ.)-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এই যে, মদিনাবাসী তা পাঠ করত না, তাই এটি পাঠ করা যে সুন্নাহ—তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি উচ্চস্বরে পাঠ করার কথা বলেছেন। যেমন ইবনে আব্বাস (রা.) জানাজার সালাতে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) উচ্চস্বরে পাঠ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "যাতে তোমরা জানতে পারো যে এটি সুন্নাহ।" আবার উমর (রা.) একাধিকবার উচ্চস্বরে ছানা (ইস্তিফতাহ) পাঠ করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো কখনো জোহর ও আসরের সালাতেও কোনো আয়াত উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। এই কারণেই যে সকল সাহাবী থেকে উচ্চস্বরে পাঠের বর্ণনা পাওয়া যায়, তাঁদের অধিকাংশ থেকেই আবার অনুচ্চস্বরে পাঠের বর্ণনাও পাওয়া গিয়েছে। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা এটি প্রকাশ করার জন্যই উচ্চস্বরে পাঠ করেছিলেন যে তাঁরা তা পাঠ করছেন, যেমন তাঁদের কেউ কেউ কখনো কখনো 'আউযুবিল্লাহ'ও উচ্চস্বরে পাঠ করেছিলেন।
আর প্রতিটি বিষয়ে ভারসাম্য বা মধ্যপন্থা হলো বর্ণিত দলিলসমূহকে তার যথাযোগ্য স্থানে ব্যবহার করা; কেননা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
كَوْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْهَرُ بِهَا دَائِمًا، وَأَكْثَرُ الصَّحَابَةِ لَمْ يَنْقُلُوا ذَلِكَ وَلَمْ يَفْعَلُوهُ: مُمْتَنِعٌ قَطْعًا، [لَا سِيَّمَا] وَقَدْ ثَبَتَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْهُمْ نَفْيُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُعَارِضْ ذَلِكَ خَبَرٌ ثَابِتٌ إِلَّا وَهُوَ مُحْتَمَلٌ، وَكَوْنُ الْجَهْرِ بِهَا لَا يُشْرَعُ بِحَالٍ - مَعَ أَنَّهُ قَدْ ثَبَتَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنَ الصَّحَابَةِ - نِسْبَةٌ لِلصَّحَابَةِ إِلَى فِعْلِ الْمَكْرُوهِ وَإِقْرَارِهِ، مَعَ أَنَّ الْجَهْرَ فِي صَلَاةِ الْمُخَافَتَةِ يُشْرَعُ لِعَارِضٍ كَمَا تَقَدَّمَ، وَكَرَاهَةُ قِرَاءَتِهِمْ مَعَ مَا فِي قِرَاءَتِهَا مِنَ الْآثَارِ الثَّابِتَةِ عَنِ الصَّحَابَةِ الْمَرْفُوعِ بَعْضُهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَكَوْنُ الصَّحَابَةِ كَتَبُوهَا فِي الْمُصْحَفِ، وَأَنَّهَا كَانَتْ تَنْزِلُ مَعَ السُّورَةِ: فِيهِ مَا فِيهِ، مَعَ أَنَّهَا إِذَا قُرِئَتْ فِي أَوَّلِ كِتَابِ سُلَيْمَانَ، فَقِرَاءَتُهَا فِي أَوَّلِ كِتَابِ اللَّهِ فِي غَايَةِ الْمُنَاسَبَةِ.
فَمُتَابَعَةُ الْآثَارِ فِيهَا الِاعْتِدَالُ وَالِائْتِلَافُ وَالتَّوَسُّطُ الَّذِي هُوَ أَفْضَلُ الْأُمُورِ.
ثُمَّ مِقْدَارُ الصَّلَاةِ: يَخْتَارُ فِيهِ فُقَهَاءُ الْحَدِيثِ صَلَاةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّتِي كَانَ يَفْعَلُهَا غَالِبًا، وَهِيَ الصَّلَاةُ الْمُعْتَدِلَةُ الْمُتَقَارِبَةُ الَّتِي يُخَفِّفُ فِيهَا الْقِيَامَ وَالْقُعُودَ وَيُطِيلُ فِيهَا الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ وَيُسَوِّي بَيْنَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَبَيْنَ الِاعْتِدَالِ مِنْهُمَا، كَمَا ثَبَتَ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مَعَ كَوْنِ قِرَاءَتِهِ فِي الْفَجْرِ بِمَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ آيَةً، وَفِي الظُّهْرِ بِنَحْوِ الثَّلَاثِينَ آيَةً، وَفِي الْعَصْرِ وَالْعِشَاءِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ مَعَ أَنَّهُ قَدْ كَانَ يُخَفِّفُ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ لِعَارِضٍ، كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَأَدْخُلُ فِي الصَّلَاةِ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُطِيلَهَا فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَأُخَفِّفُ لِمَا
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা এটি উচ্চস্বরে পাঠ করতেন এবং অধিকাংশ সাহাবী তা বর্ণনা করেননি বা তা করেননি—এমন দাবি নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব; [বিশেষত] যখন তাঁদের অনেকের পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা (উচ্চস্বরে পড়া) নাকচ করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং এর বিপরীতে এমন কোনো সুদৃঢ় বর্ণনা নেই যা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। আর এটি উচ্চস্বরে পাঠ করা কোনো অবস্থাতেই বিধিবদ্ধ নয় বলা—অথচ একাধিক সাহাবী থেকে তা প্রমাণিত—সাহাবীগণ মাকরূহ (অপছন্দনীয়) কর্ম করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন বলে তাঁদের প্রতি ইঙ্গিত করার নামান্তর। অথচ বিশেষ কারণে নিঃশব্দে পাঠ করার সালাতেও উচ্চস্বরে পাঠ করা বিধিবদ্ধ, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। সাহাবীগণ থেকে এটি পাঠ করার ব্যাপারে সুদৃঢ় বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও এটি পাঠ করাকে অপছন্দ করা এবং সাহাবীগণ মুসহাফে এটি লিপিবদ্ধ করা ও এটি সূরার সাথে অবতীর্ণ হওয়া—এসবে আপত্তির অবকাশ আছে। অথচ এটি যদি সুলাইমানের পত্রের শুরুতে পাঠ করা হয়, তবে আল্লাহর কিতাবের শুরুতে তা পাঠ করা অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং এসব বর্ণনার অনুসরণেই রয়েছে পরিমিতিবোধ, ঐক্য ও মধ্যপন্থা, যা সর্বোত্তম পন্থা।
অতঃপর সালাতের দৈর্ঘ্যের ব্যাপারে: ফুকাহায়ে মুহাদ্দিসীনগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই সালাতকেই বেছে নেন যা তিনি সাধারণত আদায় করতেন। আর তা হলো পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ সালাত, যাতে তিনি কিয়াম (দাঁড়ানো) ও কুয়ুদ (বসা) সংক্ষিপ্ত করতেন এবং রুকু ও সাজদাহ দীর্ঘ করতেন; আর রুকু ও সাজদাহ এবং এই উভয়টির পরবর্তী স্থিরতা বা ভারসাম্যের মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ফজরের সালাতে তাঁর কিরাত ছিল ষাট থেকে একশ আয়াতের মধ্যে, জোহরে প্রায় ত্রিশ আয়াত এবং আসর ও এশায় এর অর্ধেক পরিমাণ। অবশ্য বিশেষ কোনো কারণে তিনি এই সালাতকে সংক্ষেপ করতেন, যেমন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আমি সালাত শুরু করি এবং তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা পোষণ করি, অতঃপর কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি তা সংক্ষেপ করি কারণ...”
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أَعْلَمُ مِنْ وَجْدِ أُمِّهِ بِهِ» ، كَمَا أَنَّهُ قَدْ يُطِيلُهَا [عَلَى] ذَلِكَ لِعَارِضٍ، كَمَا قَرَأَ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَغْرِبِ بِطُولَى الطُّولَيَيْنِ، وَهِيَ الْأَعْرَافُ.
وَيُسْتَحَبُّ إِطَالَةُ الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنْ كُلِّ صَلَاةٍ عَلَى الثَّانِيَةِ، وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَمُدَّ فِي الْأُولَيَيْنِ وَيَحْذِفَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ، كَمَا رَوَاهُ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَعَامَّةُ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ عَلَى هَذَا.
وَمِنَ الْفُقَهَاءِ مَنْ لَا يَسْتَحِبُّ أَنْ يُطِيلَ الِاعْتِدَالَ مِنَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَرَاهُ رُكْنًا خَفِيفًا؛ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ يُشْرَعُ تَابِعًا لِأَجْلِ الْفَصْلِ، لَا أَنَّهُ مَقْصُودٌ.
وَمِنْهُمْ مَنْ يُسَوِّي بَيْنَ الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَحِبُّ أَلَّا يَزِيدَ الْإِمَامُ فِي تَسْبِيحِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ عَلَى ثَلَاثِ تَسْبِيحَاتٍ، إِلَى أَقْوَالٍ أُخَرَ قَالُوهَا.
[فَصْلٌ فِي بَيَانِ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ وَرَسُولُهُ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ وَإِتْمَامِهَا وَالطُّمَأْنِينَةِ فِيهَا]فَصْلٌ
فِي بَيَانِ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ وَرَسُولُهُ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ وَإِتْمَامِهَا وَالطُّمَأْنِينَةِ فِيهَا.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كِتَابِهِ: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43]
«আমি তার মায়ের ব্যাকুলতা সম্পর্কে অবগত,» যেমন তিনি কোনো বিশেষ কারণে সালাত দীর্ঘও করতেন, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সালাতে দুটি দীর্ঘ সূরার মধ্যে দীর্ঘতমটি অর্থাৎ সূরা আল-আরাফ পাঠ করেছিলেন।
প্রতিটি সালাতের প্রথম রাকাআত দ্বিতীয় রাকাআতের চেয়ে দীর্ঘ করা মুস্তাহাব। আর প্রথম দুই রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘ করা এবং শেষ দুই রাকাআতে তা সংক্ষিপ্ত করা মুস্তাহাব, যেমনটি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ ফকিহ মুহাদ্দিসগণ এই মতের ওপর রয়েছেন।
ফকিহগণের মধ্যে কেউ কেউ রুকু থেকে উঠে সোজা হওয়া এবং দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠক দীর্ঘ করা মুস্তাহাব মনে করেন না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সংক্ষিপ্ত রুকন মনে করেন; এই ভিত্তিতে যে, এটি কেবল দুটি রুকনের মধ্যে পার্থক্যের জন্য অনুবর্তী হিসেবে বিধিবদ্ধ হয়েছে, এটি স্বয়ং মূল উদ্দেশ্য নয়।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথম দুই রাকাআত সমান রাখার পক্ষপাতী।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুস্তাহাব মনে করেন যে, ইমাম রুকু ও সিজদার তাসবিহ তিনবারের অধিক বৃদ্ধি করবেন না। এছাড়াও তারা অন্যান্য আরও অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
[সালাত কায়েম করা, তা পূর্ণাঙ্গ করা এবং তাতে স্থিরতা বজায় রাখা সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
সালাত কায়েম করা, তা পূর্ণাঙ্গ করা এবং তাতে স্থিরতা বজায় রাখা সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন তার বর্ণনায়।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে বলেছেন: "তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।" [সূরা আল-বাকারা: ৪৩]
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
[الْبَقَرَةِ: 43، 83، 110، وَالنِّسَاءِ: 76، وَيُونُسَ: 87، وَالْحَجِّ: 78، وَالنُّورِ: 56، وَالرُّومِ: 31، وَالْمُجَادَلَةِ: 13، وَالْمُزَّمِّلِ: 31] .
وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا - إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا - وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا - إِلَّا الْمُصَلِّينَ} [المعارج: 19 - 22] [الْمَعَارِجِ] ، وَقَالَ تَعَالَى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ - فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [المؤمنون: 1 - 9] [الْمُؤْمِنُونَ] .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ} [البقرة: 45] [الْبَقَرَةِ] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59] [مَرْيَمَ] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] [النِّسَاءِ: 103] ، وَقَالَ تَعَالَى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238] [الْبَقَرَةِ] ، وَسَيَأْتِي بَيَانُ الدَّلَالَةِ فِي هَذِهِ الْآيَاتِ.
وَقَدْ أَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ ومسلم فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَأَخْرَجَ أَصْحَابُ السُّنَنِ - أبو داود وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ - وَأَصْحَابُ الْمَسَانِيدِ كَمُسْنَدِ أحمد وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أُصُولِ الْإِسْلَامِ، عَنْ أَبَى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَدَخَلَ رَجُلٌ ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ، فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى كَمَا كَانَ صَلَّى ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَعَلَيْكَ السَّلَامُ، ثُمَّ قَالَ: ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ، حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَالَ الرَّجُلُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا، فَعَلِّمْنِي، قَالَ: إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ
[আল-বাকারাহ: ৪৩, ৮৩, ১১০, এবং আন-নিসা: ৭৬, এবং ইউনুস: ৮৭, এবং আল-হজ্জ: ৭৮, এবং আন-নূর: ৫৬, এবং আর-রুম: ৩১, এবং আল-মুজাদালাহ: ১৩, এবং আল-মুজ্জাম্মিল: ৩১] ।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্ত হিসেবে - যখন তাকে মন্দ স্পর্শ করে তখন সে হয় হা-হুতাশকারী - আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে তখন সে হয় অতি কৃপণ - তবে তারা ব্যতীত যারা সালাত আদায়কারী} [আল-মাআরিজ: ১৯ - ২২] [আল-মাআরিজ], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে - যারা নিজেদের সালাতে বিনয়ী - এবং যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে - এবং যারা জাকাত প্রদানে সক্রিয় - এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে - তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্র ছাড়া, এতে তারা নিন্দিত হবে না - সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করবে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী - এবং যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে - এবং যারা নিজেদের সালাতসমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে} [আল-মুমিনুন: ১ - ৯] [আল-মুমিনুন] ।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের জন্য কঠিন} [আল-বাকারাহ: ৪৫] [আল-বাকারাহ], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তাদের পরে এল এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; সুতরাং তারা শীঘ্রই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯] [মারইয়াম], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন সালাত কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে} [আন-নিসা: ১০৩] [আন-নিসা: ১০৩], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা সালাতসমূহের এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করো এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও} [আল-বাকারাহ: ২৩৮] [আল-বাকারাহ], এবং অচিরেই এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে দলিলের স্পষ্ট বর্ণনা আসবে।
এবং বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন, এবং সুনান গ্রন্থকারগণ - আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ - এবং মুসনাদ গ্রন্থকারগণ যেমন মুসনাদে আহমদ এবং ইসলামের অন্যান্য মৌলিক উৎসসমূহে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন এক ব্যক্তি প্রবেশ করল এবং সালাত আদায় করল। অতঃপর সে এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সালাম দিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই সালাত আদায় করল, তারপর এসে তাকে সালাম দিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর বললেন: ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি। এভাবে তিনি তিনবার করলেন। তখন লোকটি বলল: যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম! আমি এর চেয়ে উত্তম সালাত আদায় করতে জানি না, সুতরাং আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: যখন তুমি সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে»