(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: -)
الأشباه والنظائر - السيوطي (الجلال السيوطي)
القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الأشباه والنظائر في قواعد وفروع فقه الشافعية
المؤلف: جلال الدين عبد الرحمن السيوطي (ت 911 هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م
عدد الصفحات: 542
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - সুয়ূতী (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)
বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি
কিতাব: শাফেয়ী ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর
লেখক: জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরী - ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪২
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مُقَدِّمَةُ الْكِتَابِ]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ نَسْتَعِينُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ، نَحْمَدُكَ يَا مَنْ تَنَزَّهَ فِي كَمَالِهِ عَنْ الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ، وَتَقَدَّسَ فِي جَلَالِهِ عَنْ أَنْ تُدْرِكَهُ الْأَبْصَارُ، أَوْ تُحِيطَ بِهِ الْأَفْكَارُ، أَوْ تَعْزُبَ عَنْهُ الضَّمَائِرُ، وَتَأَزَّرَ بِالْكِبْرِيَاءِ وَتَرَدَّى بِالْعَظَمَةِ، فَمَنْ نَازَعَهُ وَاحِدًا مِنْهُمَا فَهُوَ الْمَقْصُومُ الْبَائِرُ وَنَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ شَهَادَةً يَلُوحُ عَلَيْهَا لِلْإِخْلَاصِ أَمَايِرُ، وَتُبْهِجُ قَائِلَهَا بِأَعْظَمِ الْبَشَائِرِ، يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِر، وَنَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ أَفْضَلُ مَنْ نَسَلْتَهُ مِنْ ظُهُورِ الْأَمَاثِلِ وَبُطُونِ الْحَرَائِرِ، وَأَرْسَلْتَهُ لِخَيْرِ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ ; فَهَدَيْتَ بِهِ كُلَّ حَائِرِ، وَمَحَيْتَ بِهِ مَظَالِمَ الْجَاهِلِيَّةِ، وَأَحْيَيْتَ بِهِ مَعَالِمَ الْإِسْلَامِ وَالشَّعَائِرِ. وَوَاعَدْتَهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ وَشَفَّعْتُهُ فِي الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ، وَكَمْ بَيَّنَ شَرَائِعَ دِينِكَ الْقَوِيمِ، حَتَّى وَرِثَهَا مِنْ بَعْدِهِ أُولِي الْبَصَائِرِ، صَلَّى اللَّه وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ ذَوِي الْفَضْلِ السَّائِرِ، صَلَاةً وَسَلَامًا نَعُدُّهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَعْظَمِ الذَّخَائِرِ، دَائِمَيْنِ مَا سَارَ الْفُلْكُ الْجَارِي وَدَارَ الْفَلَكُ الدَّائِرُ.أَمَّا بَعْدُ: فَعِلْمُ الْفِقْهِ بُحُورُهُ زَاخِرَةٌ، وَرِيَاضُهُ نَاضِرَةٌ، وَنُجُومُهُ زَاهِرَةٌ، وَأُصُولُهُ ثَابِتَةٌ مُقَرَّرَةٌ، وَفُرُوعُهُ ثَابِتَةٌ مُحَرَّرَةٌ. لَا يَفْنَى بِكَثْرَةِ الْإِنْفَاقِ كَنْزُهُ، وَلَا يَبْلَى عَلَى طُولِ الزَّمَانِ عِزُّهُ. أَهْلُهُ قِوَامُ الدِّينِ وَقُوَّامُهُ، وَبِهِمْ ائْتِلَافُهُ وَانْتِظَامُهُ، هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَبِهِمْ يُسْتَضَاءُ فِي الدَّهْمَاءِ، وَيُسْتَغَاثُ فِي الشِّدَّةِ وَالرَّخَاءِ، وَيُهْتَدَى كَنُجُومِ السَّمَاءِ، وَإِلَيْهِمْ الْمَفْزَعُ فِي الْآخِرَةِ وَالدُّنْيَا، وَالْمَرْجِعُ فِي التَّدْرِيسِ وَالْفُتْيَا، وَلَهُمْ الْمَقَامُ الْمُرْتَفِعُ عَلَى الزَّهْرَةِ الْعُلْيَا، وَهُمْ الْمُلُوكُ، لَا بَلْ الْمُلُوكُ تَحْتَ أَقْدَامِهِمْ، وَفِي تَصَارِيفِ أَقْوَالِهِمْ وَأَقْلَامِهِمْ، وَهُمْ الَّذِينَ إذَا الْتَحَمَتْ الْحَرْبُ أَرَزَ الْإِيمَانُ إلَى أَعْلَامِهِمْ، وَهُمْ الْقَوْمُ كُلُّ الْقَوْمِ إذَا افْتَخَرَ كُلُّ قَبِيل بِأَقْوَامِهِمْ:بِيضُ الْوُجُوهِ، كَرِيمَةٌ أَحْسَابُهُمْ … شُمُّ الْأُنُوفِ، مِنْ الطِّرَازِ الْأَوَّلِ
[গ্রন্থের ভূমিকা]পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমরা আপনার প্রশংসা করি, হে ঐ সত্তা যিনি নিজের পূর্ণতার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য ও সমরূপ হওয়া থেকে পবিত্র, যিনি নিজের মহিমায় চর্মচক্ষুর নাগালের বাইরে, যাকে কোনো চিন্তা পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং কোনো মনের সংকল্প যাঁর অগোচরে থাকে না। তিনি অহংকারকে নিজের লুঙ্গি (পরিধেয় বস্ত্র) হিসেবে এবং মহিমাকে নিজের চাদর হিসেবে গ্রহণ করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটির কোনোটি নিয়ে তাঁর সাথে বিবাদ করবে, সে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধ্বংস হবে। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যাতে ইখলাসের বা একনিষ্ঠতার চিহ্ন প্রকাশ পায় এবং যা তার পাঠকারীকে মহত্তম সুসংবাদের মাধ্যমে আনন্দিত করবে সেই দিনে, যেদিন গোপন রহস্যসমূহ পরীক্ষা করা হবে। আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল, যাকে আপনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের পৃষ্ঠদেশ ও সম্ভ্রান্ত স্বাধীন নারীদের গর্ভ থেকে নির্গত সর্বোত্তম সন্তান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আপনি তাঁকে মানুষের জন্য আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ উম্মতের কাছে প্রেরণ করেছেন; ফলে আপনি তাঁর মাধ্যমে প্রত্যেক বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে পথ দেখিয়েছেন, জাহেলিয়াতের অন্ধকার ও জুলুমকে মিটিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলামের নিদর্শন ও বিধানসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আপনি তাঁকে মাকামে মাহমুদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ছোট ও বড় সকল গুনাহের ক্ষেত্রে তাঁকে শাফায়াত করার অধিকার দান করেছেন। তিনি আপনার সুদৃঢ় দ্বীনের বিধানসমূহ কতই না সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর পরবর্তী প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও ব্যাপক ফযিলতের অধিকারী তাঁর সাহাবীগণের ওপর এমন রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যা আমরা কিয়ামতের দিনে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে গণ্য করব; এই রহমত ও শান্তি ততক্ষণ স্থায়ী হোক যতক্ষণ প্রবহমান নৌকা চলতে থাকে এবং কক্ষপথে নক্ষত্ররাজি আবর্তিত হতে থাকে।অতঃপর: ফিকহ শাস্ত্রের সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল, এর উদ্যানসমূহ সজীব, এর নক্ষত্ররাজি উজ্জ্বল, এর মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ অকাট্যভাবে সংকলিত। এর ধনভাণ্ডার অধিক ব্যয়ে নিঃশেষ হয় না এবং দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলেও এর মর্যাদা ম্লান হয় না। এই শাস্ত্রের ধারকগণই দ্বীনের স্তম্ভ ও পরিচালক, তাঁদের মাধ্যমেই দ্বীনের সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তাঁরাই নবীদের উত্তরাধিকারী, ঘোর অন্ধকারে তাঁদের আলোতেই পথ চলা হয়, বিপদ ও সুখে তাঁদের কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো তাঁদের মাধ্যমেই সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরাই আশ্রয়স্থল, পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরাই মূল উৎস, এবং উচ্চতর নক্ষত্রের চেয়েও তাঁদের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁরাই প্রকৃত রাজা, বরং রাজারাও তাঁদের পদতলে এবং তাঁদের কথা ও কলমের সিদ্ধান্তের অধীন। যখন যুদ্ধ তীব্রতর হয়, তখন ঈমান তাঁদের পতাকাতলে আশ্রয় নেয়। তাঁরাই সেই সম্প্রদায়, যখন প্রত্যেক গোত্র তাদের লোকদের নিয়ে গর্ব করে, তখন তাঁরাই প্রকৃত গর্বের পাত্র:উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, তাঁদের বংশীয় মর্যাদা অত্যন্ত সম্মানিত... তাঁরা উন্নত মর্যাদাবান এবং প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَلَقَدْ نَوَّعُوا هَذَا الْفِقْهَ فُنُونًا وَأَنْوَاعًا، وَتَطَاوَلُوا فِي اسْتِنْبَاطِهِ يَدًا وَبَاعًا، وَكَانَ مِنْ أَجَلِّ أَنْوَاعِهِ: مَعْرِفَة نَظَائِرِ الْفُرُوعِ وَأَشْبَاهِهَا، وَضَمُّ الْمُفْرَدَاتِ إلَى أَخَوَاتِهَا وَأَشْكَالِهَا.وَلَعَمْرِي، إنَّ هَذَا الْفَنَّ لَا يُدْرَكُ بِالتَّمَنِّي، وَلَا يُنَالُ بِسَوْفَ وَلَعَلَّ وَلَوْ أَنِّي، وَلَا يَبْلُغهُ إلَّا مَنْ كَشَفَ عَنْ سَاعِدِ الْجِدِّ وَشَمَّرَ، وَاعْتَزَلَ أَهْلَهُ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ، وَخَاضَ الْبِحَارَ وَخَالَطَ الْعَجَاجَ، وَلَازَمَ التَّرْدَادَ إلَى الْأَبْوَابِ فِي اللَّيْلِ الدَّاجِّ، يَدْأَبُ فِي التَّكْرَارِ وَالْمُطَالَعَةِ بُكْرَةً وَأَصِيلَا، وَيُنَصِّبُ نَفْسَهُ لِلتَّأْلِيفِ وَالتَّحْرِيرِ بَيَاتًا وَمَقِيلَا، لَيْسَ لَهُ هِمَّةٌ إلَّا مُعْضِلَةً يَحُلُّهَا، أَوْ مُسْتَصْعَبَةٌ عَزَّتْ عَلَى الْقَاصِرِينَ فَيَرْتَقِي إلَيْهَا وَيَحُلُّهَا، يُرَدُّ عَلَيْهِ وَيَرُدُّ، وَإِذَا عَذَلَهُ جَاهِلٌ لَا يَصُدُّ، قَدْ ضَرَبَ مَعَ الْأَقْدَمِينَ بِسَهْمٍ وَالْغُمْرُ يَضْرِبُ فِي حَدِيدٍ بَارِدٍ، وَحَلَّقَ عَلَى الْفَضَائِلِ وَاقْتَنَصَ الشَّوَارِدَ:وَلَيْسَ عَلَى اللَّهِ بِمُسْتَنْكَرٍ … أَنْ يَجْمَعَ الْعَالَمَ فِي وَاحِدٍيَقْتَحِمُ الْمَهَامِهَ الْمَهُولَةَ الشَّاقَّةَ، وَيَفْتَحُ الْأَبْوَابَ الْمُرْتَجَةَ، إذَا قَالَ الْغَبِيُّ لَا طَاقَةَ، إنْ بَدَتْ لَهُ شَارِدَةٌ رَدَّهَا إلَى جَوْفِ الْفَرَا، أَوْ شَرَدَتْ عَنْهُ نَادَّةً اقْتَنَصَهَا وَلَوْ أَنَّهَا فِي جَوْفِ السَّمَاءِ. لَهُ نَقْدٌ يُمَيِّزُ بِهِ بَيْن الْهَبَابِ وَالْهَبَاءِ، وَنَظَرٌ يَحْكُمُ إذَا اخْتَلَفَتْ الْآرَاءُ بِفَصْلِ الْقَضَاءِ، وَفِكْر لَا يَأْتِي عَلَيْهِ تَمْوِيهُ الْأَغْبِيَاءِ، وَفَهْمٌ ثَاقِبٌ لَوْ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ مِنْ خَلْفِ جَبَلٍ قَافٍ لَخَرَقَهُ حَتَّى يَصِلَ إلَيْهَا مِنْ وَرَاء، عَلَى أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ مِنْ كَسْبِ الْعَبْد، وَإِنَّمَا هُوَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ.هَذَا، وَطَالَمَا جَمَعْت مِنْ هَذَا النَّوْعِ جُمُوعًا، وَتَتَبَّعْت نَظَائِرَ الْمَسَائِل أُصُولًا وَفُرُوعًا حَتَّى أَوْعَيْتُ مِنْ ذَلِكَ مَجْمُوعًا جَمُوعًا، وَأَبْدَيْت فِيهِ تَأْلِيفًا لَطِيفًا، لَا مَقْطُوعًا فَضْلُهُ وَلَا مَمْنُوعًا. وَرَتَّبْتُهُ عَلَى كُتُبٍ سَبْعَةٍ:الْكِتَابِ الْأَوَّلِ: فِي شَرْحِ الْقَوَاعِدِ الْخَمْسِ الَّتِي ذَكَرَ الْأَصْحَابُ أَنَّ جَمِيعَ مَسَائِلِ الْفِقْهِ تَرْجِعُ إلَيْهَا.الْكِتَابِ الثَّانِي: فِي قَوَاعِدَ كُلِّيَّةٍ يَتَخَرَّجُ عَلَيْهَا مَا لَا يَنْحَصِرُ مِنْ الصُّوَرِ الْجُزْئِيَّةِ، وَهِيَ أَرْبَعُونَ قَاعِدَةً:الْكِتَابِ الثَّالِثِ: فِي الْقَوَاعِدِ الْمُخْتَلَفِ فِيهَا، وَلَا يُطْلَقُ التَّرْجِيحُ لِظُهُورِ دَلِيلِ أَحَدِ الْقَوْلَيْنِ فِي بَعْضِهَا وَمُقَابِلِهِ فِي بَعْضٍ، وَهِيَ عِشْرُونَ قَاعِدَةً.الْكِتَابُ الرَّابِعُ: فِي أَحْكَامٍ يَكْثُرُ دَوْرُهَا، وَيَقْبُحُ بِالْفَقِيهِ جَهْلُهَا: كَأَحْكَامِ النَّاسِي، وَالْجَاهِلِ وَالْمُكْرَهِ وَالنَّائِمِ وَالْمَجْنُون وَالْمُغْمَى عَلَيْهِ وَالسَّكْرَانِ وَالصَّبِيِّ وَالْعَبْدِ وَالْمُبَعَّضِ، وَالْأُنْثَى، وَالْخُنْثَى، وَالْمُتَحَيِّرَةِ، وَالْأَعْمَى، وَالْكَافِرِ، وَالْجَانِّ، وَالْمَحَارِمِ وَالْوَلَدِ، وَالْوَطْءِ، وَالْعُقُودِ، وَالْفُسُوخِ، وَالصَّرِيحِ، وَالْكِنَايَةِ، وَالتَّعْرِيضِ، وَالْكِتَابَةِ وَالْإِشَارَةِ، وَالْمِلْكِ، وَالدَّيْنِ، وَثَمَنِ الْمِثْلِ، وَأُجْرَةِ الْمِثْلِ، وَمَهْرِ الْمِثْلِ، وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ
এবং তাঁরা এই ফিকহ শাস্ত্রকে বহু প্রকার ও শিল্পে বিভক্ত করেছেন এবং এর নিগূঢ় তত্ত্ব উদ্ঘাটনে সুদীর্ঘ প্রচেষ্টা ও দক্ষতা ব্যয় করেছেন। এর শ্রেষ্ঠতম প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: মাসআলার শাখাগুলোর সাদৃশ্য ও উপমা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং একক বিষয়গুলোকে সেগুলোর অনুরূপ ও সমগোত্রীয় বিষয়গুলোর সাথে সংযুক্ত করা।আমার প্রাণের শপথ, এই শিল্প নিছক কামনার দ্বারা লাভ করা যায় না এবং 'হয়তো', 'যদি' বা 'কিন্তু'—এমন দোদুল্যমানতার দ্বারা তা অর্জিত হয় না। বরং এটি কেবল সেই ব্যক্তিই অর্জন করতে পারে, যে প্রচেষ্টার আস্তিন গুটিয়ে নেয় এবং দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়; যে আপনজনদের সংসর্গ ত্যাগ করে কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন করে, জ্ঞানের অতল সাগরে অবগাহন করে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির ধূলিময় পথে বিচরণ করে। যে অন্ধকার রাতে জ্ঞানের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দেয়, সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ পুনরাবৃত্তি ও গভীর অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকে এবং রাত-দিন নিজেকে গ্রন্থ রচনা ও গবেষণায় নিয়োজিত রাখে। কোনো জটিল সমস্যার সমাধান করা ব্যতীত তার অন্য কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, অথবা এমন কোনো দুরূহ বিষয় যা অসমর্থদের জন্য দুঃসাধ্য ছিল, সে তাতে আরোহণ করে তার সমাধান করে। তার ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয় এবং সে-ও তার উত্তর দেয়, আর কোনো মূর্খ তাকে ভর্ৎসনা করলে সে বিচলিত হয় না। সে পূর্বসূরীদের ন্যায় জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজ অংশ নিশ্চিত করেছে, যেখানে অনভিজ্ঞরা শীতল লৌহখণ্ডে বৃথা আঘাত করে চলে। সে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছে এবং দুর্লভ জ্ঞানসমূহ করায়ত্ত করেছে:আর আল্লাহর পক্ষে এটি অসম্ভব নয় যে, … তিনি এক ব্যক্তির মধ্যেই সমগ্র জগতকে সমবেত করবেন।সে ভয়াবহ ও দুঃসাধ্য কণ্টকাকীর্ণ পথে পদার্পণ করে এবং রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে, যখন কোনো স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে ওঠে—'সাধ্যের অতীত'। যদি কোনো দুর্লভ বিষয় তার গোচরীভূত হয়, তবে সে তাকে তার মূলের সাথে যুক্ত করে; আর যদি কোনো মাসআলা তার আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে চায়, তবে সে তাকে শিকার করে আনে—যদিও তা আকাশের গহীনে থাকে। তার রয়েছে এমন সূক্ষ্ম বিচারবোধ যা দিয়ে সে অসার ও সারবস্তুর পার্থক্য করতে পারে, এবং এমন দূরদৃষ্টি যা দিয়ে মতভেদের সময় চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করে। তার চিন্তা এমনই প্রখর যে, তাতে নির্বোধদের ছলাকলা স্থান পায় না; আর তার প্রজ্ঞা এমনই তীক্ষ্ণ যে, কোনো মাসআলা যদি ক্বাফ পাহাড়ের আড়ালেও থাকে, তবে সে তা ভেদ করে তার নিকট পৌঁছে যায়। তবে তা বান্দার নিজস্ব কোনো কৃতিত্ব নয়, বরং এটি কেবল আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।এই প্রেক্ষাপটে, সুদীর্ঘকাল ধরে আমি এই প্রকারের বহু মাসআলা সংগ্রহ করেছি এবং মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো অনুসন্ধান করেছি, অবশেষে আমি এর একটি সমৃদ্ধ সংকলন তৈরি করেছি এবং এতে এক চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছি, যার উপযোগিতা অফুরন্ত এবং যা অবারিত। আমি একে সাতটি গ্রন্থে বিন্যস্ত করেছি:প্রথম গ্রন্থ: সেই পাঁচটি মূলনীতির বর্ণনায়, যেগুলোর ব্যাপারে বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, ফিকহ শাস্ত্রের যাবতীয় মাসআলা এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।দ্বিতীয় গ্রন্থ: এমন কিছু ব্যাপক মূলনীতি প্রসঙ্গে, যেগুলোর অধীনে অগণিত আংশিক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়; আর তা হলো চল্লিশটি মূলনীতি।তৃতীয় গ্রন্থ: মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে; যেখানে কোনো একটি মতের দলিল স্পষ্ট হওয়ার কারণে চূড়ান্ত প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয় না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি মত এবং অন্য ক্ষেত্রে তার বিপরীত মতের প্রাধান্য থাকে। আর তা হলো বিশটি মূলনীতি।চতুর্থ গ্রন্থ: এমন কিছু বিধান প্রসঙ্গে যা অধিক হারে আবর্তিত হয় এবং একজন ফকীহর জন্য সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা শোভনীয় নয়: যেমন বিস্মৃতিপরায়ণ, অজ্ঞ, বাধ্য ব্যক্তি, নিদ্রিত, পাগল, অজ্ঞান, মাতাল, শিশু, দাস, আংশিক মুক্ত দাস, নারী, হিজড়া, সংশয়াক্রান্ত নারী, অন্ধ, কাফির, জিন, মাহরাম, সন্তান, সহবাস, চুক্তি, চুক্তি বাতিল, স্পষ্ট শব্দ, পরোক্ষ শব্দ, ইঙ্গিতপূর্ণ কথা, লিখন, ইশারা, মালিকানা, ঋণ, সমমূল্য, ন্যায্য মজুরি, ন্যায্য মোহর, স্বর্ণ এবং রৌপ্য সংক্রান্ত বিধানাবলী।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَالْمَسْكَنِ وَالْخَادِمِ، وَكُتُبِ الْفَقِيهِ وَسِلَاحِ الْجُنْدِيِّ، وَالرُّطَبِ، وَالْعِنَبِ، وَالشَّرْطِ، وَالتَّعْلِيقِ، وَالِاسْتِثْنَاءِ، وَالدَّوْرِ، وَالْحَصْرِ، وَالْإِشَاعَةِ، وَالْعَدَالَةِ، وَالْأَدَاءِ، وَالْقَضَاءِ، وَالْإِعَادَةِ، وَالْإِدْرَاكِ، وَالتَّحَمُّلِ، وَالتَّعَبُّدِيَّةِ، وَالْمُوَالَاةِ ; وَفُرُوضِ الْكِفَايَةِ، وَسُنَنِهَا وَالسَّفَرِ، وَالْحَرَمِ، وَالْمَسَاجِدِ وَغَيْرِ ذَلِكَ. وَفِي ضِمْنِ ذَلِكَ قَوَاعِدُ وَفَوَائِدُ، وَتَتِمَّاتٌ وَزَوَائِدُ، تُبْهِجُ النَّاظِرَ، وَتَسُرُّ الْخَاطِرَ.الْكِتَابِ الْخَامِسِ: فِي نَظَائِرِ الْأَبْوَابِ، أَعْنِي الَّتِي هِيَ مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ، مُرَتَّبَةً عَلَى، أَبْوَابِ الْفِقْهِ وَالْمُخَاطَبُ بِهَذَا الْبَابِ وَاَلَّذِي يَلِيهِ الْمُبْتَدِئُونَ.الْكِتَابِ السَّادِسِ: فِيمَا افْتَرَقَتْ فِيهِ الْأَبْوَابُ الْمُتَشَابِهَةُ.الْكِتَابِ السَّابِعِ: فِي نَظَائِرَ شَتَّى.وَاعْلَمْ أَنَّ كُلَّ كِتَابٍ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ السَّبْعَةِ لَوْ أُفْرِدَ بِالتَّصْنِيفِ لَكَانَ كِتَابًا كَامِلًا، بَلْ كُلُّ تَرْجَمَةٍ مِنْ تَرَاجِمِهِ تَصْلُحُ أَنْ تَكُونَ مُؤَلَّفًا حَافِلًا.وَقَدْ صَدَّرْتُ كُلَّ قَاعِدَة بِأَصْلِهَا مِنْ الْحَدِيثِ وَالْأَثَرِ، وَحَيْثُ كَانَ فِي إسْنَادِ الْحَدِيثِ ضَعْفٌ أَعْمَلْتُ جَهْدِي فِي تَتَبُّعِ الطُّرُقِ وَالشَّوَاهِدِ لِتَقْوِيَتِهِ عَلَى وَجْهٍ مُخْتَصَرٍ، وَهَذَا أَمْرٌ لَا تَرَى عَيْنَكَ الْآنَ فَقِيهًا يَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَلَا يَلْتَفِتُ بِوَجْهِهِ إلَيْهِ، وَأَنْتَ إذَا تَأَمَّلْتَ كِتَابِي هَذَا عَلِمْتَ أَنَّهُ نُخْبَةُ عُمْرٍ، وَزُبْدَةُ دَهْرٍ، حَوَى مِنْ الْمَبَاحِثِ الْمُهِمَّاتِ، وَأَعَانَ عِنْدَ نُزُولِ الْمُلِمَّاتِ، وَأَنَارَ مُشْكِلَاتِ الْمَسَائِلِ الْمُدْلَهِمَّاتِ، فَإِنِّي عَمَدْتُ فِيهِ إلَى مُقْفَلَاتٍ فَفَتَحْتُهَا، وَمُعْضِلَاتٍ فَنَقَّحْتُهَا، وَمُطَوَّلَاتٍ فَلَخَّصْتُهَا، وَغَرَائِبَ قَلَّ أَنْ تُوجَدَ مَنْصُوصَةً فَنَصَصْتُهَا: وَاعْلَمْ أَنَّ الْحَامِلَ لِي عَلَى إبْدَاءِ هَذَا الْكِتَابِ أَنِّي كُنْتُ كَتَبْتُ مِنْ ذَلِكَ أُنْمُوذَجًا لَطِيفًا فِي كِتَابٍ سَمَّيْتُهُ (شَوَارِدَ الْفَوَائِدِ: فِي الضَّوَابِطِ وَالْقَوَاعِدِ) فَرَأَيْته وَقَعَ مَوْقِعًا حَسَنًا مِنْ الطُّلَّاب، وَابْتَهَجَ بِهِ كَثِير مَنْ أُولَى الْأَلْبَاب، وَهَذَا الْكِتَاب هُوَ بِالنِّسْبَةِ إلَى هَذَا كَقَطْرَةِ مِنْ قَطَرَات بَحْر، وَشَذْرَة مِنْ شَذَرَات نَحْر.وَكَأَنِّي بِالنَّاسِ وَقَدْ افْتَرَقُوا فِيهِ فَرْقًا: فِرْقَة قَدْ انْطَوَى عَلَى الْحَسَد جُنُوبُهُمْ، وَرَامَتْ إطْفَاء نُوره بِأَفْوَاهِهِمْ، وَمَا هُمْ بِبَالِغِيهِ إلَّا أَنْ تَقَطَّعَ قُلُوبُهُمْ ; وَكَيْف يُقَاس مَنْ نَشَأ فِي حِجْر الْعِلْم مُنْذُ كَانَ فِي مَهْده، وَدَأَبَ فِيهِ غُلَامًا وَشَابًّا وَكَهْلًا، حَتَّى وَصَلَ إلَى قَصْده، بِدَخِيلٍ أَقَامَ سَنَوَات فِي لَهْو وَلَعِب، وَقَطَعَ أَوْقَاتًا يَحْتَرِف فِيهَا أَوْ يَكْتَسِب، ثُمَّ لَاحَتْ مِنْهُ الْتِفَاتَة إلَى الْعِلْم، فَنَظَرَ فِيهِ وَمَا احْتَكَمَ، وَقَنِعَ مِنْهُ بِتَحِلَّةِ الْقَسَمِ، وَرَضِيَ بِأَنْ يُقَالَ: عَالِمٌ وَمَا اتَّسَمَ؟أَنَا ابْن دَارَة مَعْرُوفًا بِهَا نَسَبِي … وَهَلْ بِدَارَةَ يَا لَلنَّاسِ مَنْ عَارِعَلَى أَنَّا لَا نَتَّكِلُ عَلَى الْأَحْسَابِ وَالْأَنْسَابِ … وَلَا نَكَلُّ عَنْ طَلَبِ الْمَعَالِي بِالِاكْتِسَابِلَسْنَا وَإِنْ كُنَّا ذَوِي حَسَبٍ … يَوْمًا عَلَى الْأَحْسَابِ نَتَّكِلُ
বাসস্থান ও সেবক, ফকীহ-এর কিতাব ও সৈনিকের অস্ত্র, তাজা খেজুর, আঙুর, শর্ত, স্থগিতকরণ, ব্যতিক্রম, আবর্তন, সীমাবদ্ধকরণ, ব্যাপকতা, ন্যায়পরায়ণতা, আদায়, কাযা, পুনরায় আদায়, উপলব্ধি, (হাদীস) গ্রহণ, ইবাদতগত বিষয়, ধারাবাহিকতা; ফরযে কিফায়া ও এর সুন্নাতসমূহ, সফর, হারাম শরীফ, মাসজিদসমূহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বহু মূলনীতি ও উপকারিতা, পরিশিষ্ট ও অতিরিক্ত সংযোজন, যা পাঠকের দৃষ্টিকে আনন্দিত করবে এবং অন্তরকে প্রফুল্ল করবে।পঞ্চম কিতাব: অধ্যায়সমূহের সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে, অর্থাৎ যা একই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, ফিকহী অধ্যায়সমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো। এই অধ্যায় এবং এর পরবর্তী অধ্যায়ের সম্বোধিত ব্যক্তি হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীগণ।ষষ্ঠ কিতাব: সাদৃশ্যপূর্ণ অধ্যায়সমূহের মধ্যকার পার্থক্যসূচক বিষয়সমূহ সম্পর্কে।সপ্তম কিতাব: বিবিধ সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে।জেনে রাখুন যে, এই সাতটি কিতাবের প্রতিটি যদি স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করা হতো, তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব হতো; বরং এর প্রতিটি শিরোনামই একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ হওয়ার যোগ্য।আমি প্রতিটি মূলনীতির শুরুতে তার ভিত্তি হিসেবে হাদীস ও আছার উল্লেখ করেছি। হাদীসের সনদে কোনো দুর্বলতা থাকলে আমি সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন সূত্র ও সমর্থনমূলক বর্ণনা অনুসরণের মাধ্যমে সেটিকে শক্তিশালী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এটি এমন একটি বিষয় যা বর্তমান যুগে কোনো ফকীহ করতে সক্ষম নন এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেন না। আপনি যদি আমার এই কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে বুঝতে পারবেন যে এটি সারাজীবনের শ্রেষ্ঠ নির্যাস এবং মহাকালের শ্রেষ্ঠ সারবস্তু। এটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহকে ধারণ করেছে এবং কঠিন বিপদাপদ আপতিত হওয়ার সময় সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এটি জটিল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন মাসআলাসমূহকে আলোকিত করেছে। আমি এতে তালাবদ্ধ বিষয়সমূহের প্রতি মনোনিবেশ করেছি এবং সেগুলো উন্মুক্ত করেছি, জটিল বিষয়সমূহকে পরিমার্জিত করেছি, দীর্ঘ বর্ণনাগুলোকে সংক্ষিপ্ত করেছি এবং এমন সব দুর্লভ মাসআলা যা কদাচিৎ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়, সেগুলোকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। জেনে রাখুন যে, এই কিতাবটি রচনার নেপথ্যে প্রেরণা ছিল এই যে, আমি ইতিপূর্বে এর একটি চমৎকার নমুনা লিখেছিলাম যার নাম দিয়েছিলাম (শাওয়ারিদ আল-ফাওয়াইদ: ফি আদ-দাওয়াবিত ওয়াল কাওয়াইদ)। আমি দেখলাম যে এটি ছাত্রদের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে এবং বহু বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে আনন্দিত হয়েছেন। বর্তমান এই কিতাবটির তুলনায় সেই কিতাবটি সমুদ্রের একটি বিন্দুর ন্যায় এবং কন্ঠহারের একটি ক্ষুদ্র দানার ন্যায়।আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে লোকেরা এটি নিয়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: একদল এমন যাদের অন্তরে হিংসা দানা বেঁধেছে, তারা তাদের মুখের ফুৎকারে এর আলো নেভাতে চায়, কিন্তু তাদের অন্তর বিদীর্ণ হওয়া ছাড়া তারা তা করতে সক্ষম হবে না। দোলনা থেকেই যার জ্ঞানের কোলে বেড়ে ওঠা এবং যিনি শৈশব, কৈশোর ও প্রৌঢ়ত্বে জ্ঞান অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, তাঁর সাথে কীভাবে সেই ব্যক্তির তুলনা হতে পারে যে দীর্ঘ সময় খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদে কাটিয়েছে, জীবিকা নির্বাহ বা উপার্জনের পেছনে সময় ব্যয় করেছে, এরপর হঠাৎ জ্ঞানের দিকে মনোনিবেশ করেছে, কিন্তু তাতে গভীরতা অর্জন করতে পারেনি? সে তো কেবল যৎসামান্য জ্ঞান অর্জন করেই সন্তুষ্ট এবং এতেই রাজি যে তাকে 'আলেম' বলা হোক, অথচ সে সেই গুণাবলীতে ভূষিত নয়?আমি সেই দারা-র সন্তান যার মাধ্যমে আমার বংশ পরিচয় সুপরিচিত … ওহে লোকসকল! দারা-র কি কোনো কলঙ্ক আছে?যদিও আমরা বংশমর্যাদা বা বংশ গৌরবের ওপর নির্ভর করি না … এবং প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা অর্জনে ক্লান্ত হই না।যদিও আমরা বংশীয় আভিজাত্যের অধিকারী … কিন্তু আমরা কোনোদিনই কেবল বংশ গৌরবের ওপর নির্ভর করি না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৬)
نَبْنِي كَمَا كَانَتْ أَوَائِلنَا … تَبْنِي وَنَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلُواوَأَكْثَر مَا عِنْد هَذِهِ الْفِرْقَة: أَنْ تَزْدَرِي بِالشَّبَابِ، وَبِالشَّيْخُوخَةِ افْتِخَارهَا، وَتِلْكَ شَكَاةٌ ظَاهِرٌ عَنْك عَارُهَا، وَلَوْ أَنْصَفَتْ لَعَرَفَتْ أَنَّ ذَلِكَ مِنْ سِمَات الْمَدْح، لَا مِنْ وَصَمَات الْقَدْح، وَكَفَى بِالرَّدِّ عَلَيْهَا عِنْد أُولِي الْأَلْبَاب مَا وَرَدَ مَرْفُوعًا وَمَوْقُوفًا «مَا أُوتِيَ عَالِمٌ عِلْمًا إلَّا وَهُوَ شَابٌّ» .وَفِرْقَة: غَلَبَ عَلَيْهَا الْجَهْل الْمُرَكَّب، وَبَعُدَ عَنْهَا طَرِيق الْخَيْر وَتَنَكَّبَ، لَا تَبْرَح جِدَالًا وَلَا تَعِي مَقَالًا، وَلَا تُحْسِن جَوَابًا وَلَا سُؤَالًا، لَيْسَ لَهَا دَأْب إلَّا أَكْل الْحَرَام، وَالْخَوْض فِي أَعْرَاض الْأَنَام، وَغَمْص النَّاس نَهَارَا، وَبِاللَّيْلِ نِيَام، فَهَذِهِ لَا تَصْلُح لِخِطَابٍ وَلَا تَأَهَّلَ إذَا غَابَتْ لَأَنْ تُعَاب وَالسَّلَام.وَفِرْقَة آتَاهَا اللَّه هُدَاهَا، وَأَلْهَمهَا تَقْوَاهَا، وَزَكَّاهَا مَوْلَاهَا، فَرَأَتْ مَحَاسِنه وَسَنَاهَا، وَفَوَائِده الَّتِي لَا تَتَنَاهَى، فَاعْتَرَفَتْ بِشُكْرِهَا وَثَنَاهَا، وَاغْتَرَفَتْ مَنْ بَحْرهَا وَلَمْ يَلْوِهَا عَذْلُ عَاذِلٍ وَلَا ثَنَاهَا، وَارْتَشَفَتْ مِنْ كُؤُوس حُمَّيَاهَا، وَانْتَشَقَتْ مِنْ، شَذَا عَرْفِ رَيَّاهَا، وَهَذِهِ طَائِفَة لَا تَكَاد تَرَاهَا، وَلَا نَسْمَع بِخَبَرِهَا فَوْق الْأَرْض وَثَرَاهَا، فَحَيَّاهَا اللَّه وَبَيَّاهَا، وَأَمْطَرَ عَلَيْنَا سَحَائِب فَضْله وَإِيَّاهَا.فَصْل اعْلَمْ أَنَّ فَنّ الْأَشْبَاه وَالنَّظَائِر فَنّ عَظِيم، بِهِ يُطَّلَع عَلَى حَقَائِق الْفِقْه وَمَدَارِكه، وَمَآخِذه وَأَسْرَاره، وَيُتَمَهَّر فِي فَهْمه وَاسْتِحْضَاره، وَيُقْتَدَر عَلَى الْإِلْحَاق وَالتَّخْرِيج، وَمَعْرِفَة أَحْكَام الْمَسَائِل الَّتِي لَيْسَتْ بِمَسْطُورَةٍ، وَالْحَوَادِث وَالْوَقَائِع الَّتِي لَا تَنْقَضِي عَلَى مَمَرّ الزَّمَان، وَلِهَذَا قَالَ بَعْض أَصْحَابنَا: الْفِقْه مَعْرِفَة النَّظَائِر.وَقَدْ وَجَدْت لِذَلِكَ أَصْلًا مِنْ كَلَام عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَخْبَرَنَا شَيْخنَا الْإِمَام تَقِيُّ الدِّينِ الشُّمُنِّيُّ، أَخْبَرْنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، أَخْبَرْنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ (ح) وَكَتَبَ إلَيَّ عَالِيًا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُقْبِلٍ الْحَلَبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْحِرَّاوِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَافِظ أَبُو مُحَمَّدٍ الدِّمْيَاطِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ بْنُ خَلِيلٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا إسْمَاعِيلُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ (ح) قَالَ الدِّمْيَاطِيُّ:وَأَنْبَأَنَا عَالِيًا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْمُقَيِّرِ، أَخْبَرَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ أَحْمَدَ إجَازَة، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنُ بْنُ الْمُهْتَدِي بِاَللَّهِ قَالَا: أَنْبَأَنَا الْإِمَام أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّعْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ أَبِي خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا، عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ الْهُذَلِيِّ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ: أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ الْقَضَاءَ فَرِيضَةٌ مُحْكَمَةٌ وَسُنَّةٌ مُتَّبَعَةٌ فَافْهَمْ إذَا أُدْلِيَ إلَيْكَ
আমাদের পূর্বসূরিরা যেভাবে নির্মাণ করতেন … আমরাও সেভাবে নির্মাণ করি এবং তাঁরা যা করেছিলেন আমরাও তেমনটি করি।এই দলের অধিকাংশের বৈশিষ্ট্য হলো: যুবকদের তুচ্ছজ্ঞান করা এবং বার্ধক্য নিয়ে গর্ব করা। এটি এমন এক দোষ যার কলঙ্ক আপনার কাছে স্পষ্ট। যদি তারা ন্যায়বিচার করত তবে অবশ্যই জানত যে, তা প্রশংসার বৈশিষ্ট্য, নিন্দার কলঙ্ক নয়। বুদ্ধিমানদের কাছে তাদের এই কথার খণ্ডনে মারফু ও মাওকুফ সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটিই যথেষ্ট যে: "কোনো আলিমকে জ্ঞান দান করা হয়নি যতক্ষণ না তিনি যুবক ছিলেন।"আর এক দল: যাদের ওপর জটিল মূর্খতা জয়ী হয়েছে এবং কল্যাণের পথ তাদের থেকে দূরে সরে গেছে ও বিচ্যুত হয়েছে। তারা সর্বদা বিবাদ করে এবং কোনো কথা বুঝতে চায় না। তারা উত্তর দিতে বা প্রশ্ন করতে—কোনোটিতেই পারদর্শী নয়। হারাম ভক্ষণ করা, মানুষের সম্মানহানি করা, দিনে মানুষকে তুচ্ছ করা এবং রাতে নিদ্রা যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই। এরা কোনো সম্বোধনের যোগ্য নয় এবং এরা অনুপস্থিত থাকলে তাদের সমালোচনা করাও সমীচীন নয়; আর বিদায় (সালাম)।আর এক দল, যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন, তাদের তাকওয়ার ইলহাম করেছেন এবং তাদের প্রতিপালক তাদের পরিশুদ্ধ করেছেন। ফলে তারা এর সৌন্দর্য ও দীপ্তি এবং এর অশেষ উপকারিতা দেখতে পেয়েছে। তারা কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার সাথে তা স্বীকার করেছে এবং এর সমুদ্র হতে জ্ঞান আহরণ করেছে। কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদের নিবৃত্ত বা বিচ্যুত করতে পারেনি। তারা এর তীব্র সুধা আস্বাদন করেছে এবং এর সুগন্ধি ঘ্রাণ গ্রহণ করেছে। এরা এমন এক দল যাদের সচরাচর দেখা যায় না এবং যমিনের ওপর তাদের সংবাদ শোনা যায় না। আল্লাহ তাদের দীর্ঘজীবী করুন এবং আমাদের ও তাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহের মেঘমালা বর্ষণ করুন।পরিচ্ছেদ: জেনে রাখুন যে, 'আল-আশবাহ ওয়া আন-নাজাইর' (সাদৃশ্য ও সমরূপ বিষয়াবলি) একটি মহান শাস্ত্র। এর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের নিগূঢ় রহস্য, এর উপলব্ধিস্থল, উৎস এবং গূঢ় রহস্যসমূহ অবগত হওয়া যায়। এটি অনুধাবন ও স্মরণে রাখায় পারদর্শিতা অর্জিত হয়। এর মাধ্যমে সাদৃশ্য বিধান (ইলহাক), মূলনীতি থেকে মাসআলা উদ্ঘাটন (তাখরিজ), কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই এমন মাসআলাগুলোর বিধান জানা এবং সময়ের আবর্তনে নিরন্তর ঘটে যাওয়া নিত্যনতুন ঘটনাবলি ও সমস্যাবলির সমাধান বের করার সক্ষমতা লাভ করা যায়। এই কারণেই আমাদের কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন: ফিকহ হলো সমরূপ মাসআলাসমূহের জ্ঞান।আমি এর একটি মূল ভিত্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বাণীতে পেয়েছি। আমাদের শায়খ ইমাম তাকিউদ্দীন আশ-শুমুন্নি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের আবুল হাসান বিন আব্দুল কারিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইউসুফ সংবাদ দিয়েছেন (হ), এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুকবিল আল-হালাবি উচ্চ সনদে আমার নিকট লিখেছেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হিরাউয়ি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের হাফিজ আবু মুহাম্মদ আদ-দিমইয়াতি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের হাফিজ আবুল হাজ্জাজ বিন খলিল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের আবুল ফাতহ বিন মুহাম্মদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের ইসমাইল বিন ফজল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আহমদ সংবাদ দিয়েছেন (হ), দিমইয়াতি বলেন:এবং উচ্চ সনদে আবুল হাসান বিন আল-মুকাইয়ির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুবারক বিন আহমদ অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল হাসান বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আন-নুমানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ আব্দুস সামাদ বিন আবি খিদাশ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ঈসা বিন ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন উবাইদুল্লাহ বিন আবি হুমাইদ আবু মালিহ আল-হুজালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবু মুসা আল-াশআরী (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন: অতঃপর, বিচারকার্য একটি সুদৃঢ় ফরজ এবং অনুসরণযোগ্য সুন্নাহ। সুতরাং আপনার কাছে যখন কোনো মামলা পেশ করা হয় তখন তা বোঝার চেষ্টা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৭)
فَإِنَّهُ لَا يَنْفَعُ تَكَلُّمٌ بِحَقٍّ لَا نَفَاذَ لَهُ، لَا يَمْنَعُكَ قَضَاءٌ قَضَيْتَهُ، رَاجَعْتَ فِيهِ نَفْسَكَ، وَهُدِيتَ فِيهِ لِرُشْدِكَ، أَنْ تُرَاجِعَ الْحَقَّ، فَإِنَّ الْحَقَّ قَدِيمٌ، وَمُرَاجَعَةُ الْحَقِّ خَيْرٌ مِنْ التَّمَادِي فِي الْبَاطِلِ، الْفَهْمَ الْفَهْمَ فِيمَا يَخْتَلِجُ فِي صَدْرِكَ، مِمَّا لَمْ يَبْلُغْكَ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، اعْرِفْ الْأَمْثَالَ وَالْأَشْبَاهَ ثُمَّ قِسْ الْأُمُورَ عِنْدَكَ، فَاعْمِدْ إلَى أَحَبِّهَا إلَى اللَّهِ وَأَشْبَهِهَا بِالْحَقِّ، فِيمَا تَرَى ".هَذِهِ قِطْعَة مِنْ كِتَابه، وَهِيَ صَرِيحَة فِي الْأَمْر بِتَتَبُّعِ النَّظَائِر وَحِفْظهَا، لِيُقَاسَ عَلَيْهَا مَا لَيْسَ بِمَنْقُولٍ.وَفِي قَوْله: " فَاعْمِدْ إلَى أَحَبِّهَا إلَى اللَّهِ وَأَشْبَهِهَا بِالْحَقِّ " إشَارَة إلَى أَنَّ مِنْ النَّظَائِر مَا يُخَالِف نَظَائِره فِي الْحُكْم لِمُدْرَكٍ خَاصٍّ بِهِ وَهُوَ الْفَنّ الْمُسَمَّى بِالْفُرُوقِ، الَّذِي يُذْكَر فِيهِ الْفَرْق بَيْن النَّظَائِر الْمُتَّحِدَة تَصْوِيرًا وَمَعْنًى، الْمُخْتَلِفَة حُكْمًا وَعِلَّة.وَفِي قَوْله: " فِيمَا تَرَى " إشَارَة إلَى أَنَّ الْمُجْتَهِد إنَّمَا يُكَلَّف بِمَا ظَنَّهُ صَوَابًا، وَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُدْرِك الْحَقّ فِي نَفْس الْأَمْر، وَلَا أَنْ يَصِلَ إلَى الْيَقِين، وَإِلَى أَنَّ الْمُجْتَهِد لَا يُقَلِّد غَيْره. [الْكِتَاب الْأَوَّل: فِي شَرْح الْقَوَاعِد الْخَمْس الَّتِي تَرْجِع إلَيْهَا جَمِيع مَسَائِل الْفِقْه]الْكِتَاب الْأَوَّلفِي شَرْح الْقَوَاعِد الْخَمْس الَّتِي ذَكَرَ الْأَصْحَاب أَنَّ جَمِيع مَسَائِل الْفِقْه تَرْجِع إلَيْهَا حَكَى الْقَاضِي أَبُو سَعِيدٍ الْهَرَوِيُّ: أَنَّ بَعْض أَئِمَّة الْحَنَفِيَّة بِهَرَاةَ بَلَغَهُ أَنَّ الْإِمَام أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ إمَام الْحَنَفِيَّة بِمَا وَرَاءَ النَّهْرِ، رَدَّ جَمِيع مَذْهَب أَبِي حَنِيفَة إلَى سَبْع عَشْرَة قَاعِدَة، فَسَافَرَ إلَيْهِ. وَكَانَ أَبُو طَاهِرٍ، ضَرِيرًا وَكَانَ يُكَرِّرُ كُلَّ لَيْلَةٍ تِلْكَ الْقَوَاعِدِ بِمَسْجِدِهِ بَعْدَ أَنْ يَخْرُجَ النَّاسُ مِنْهُ فَالْتَفَّ الْهَرَوِيُّ بِحَصِيرٍ، وَخَرَجَ النَّاسُ، وَأَغْلَقَ أَبُو طَاهِرٍ الْمَسْجِدَ وَسَرَدَ مِنْ تِلْكَ الْقَوَاعِدِ سَبْعًا، فَحَصَلَتْ لِلْهَرَوِيِّ سَعْلَةٌ فَأَحَسَّ بِهِ أَبُو طَاهِرٍ فَضَرَبَهُ وَأَخْرَجَهُ مَنْ الْمَسْجِد، ثُمَّ لَمْ يُكَرِّرْهَا فِيهِ بَعْد ذَلِكَ، فَرَجَعَ الْهَرَوِيُّ إلَى أَصْحَابه، وَتَلَا عَلَيْهِمْ تِلْكَ السَّبْع. قَالَ الْقَاضِي أَبُو سَعِيدٍ: فَلَمَّا بَلَغَ الْقَاضِي حُسَيْنًا ذَلِكَ رَدَّ جَمِيع مَذْهَب الشَّافِعِيِّ إلَى أَرْبَع قَوَاعِد:الْأُولَى: الْيَقِين لَا يُزَال بِالشَّكِّ. وَأَصْل ذَلِكَ قَوْله صلى الله عليه وسلم «إنَّ الشَّيْطَانَ لَيَأْتِي أَحَدَكُمْ وَهُوَ فِي صَلَاته، فَيَقُولُ لَهُ: أَحْدَثْتَ فَلَا يَنْصَرِفْ، حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا» .وَالثَّانِيَة: الْمَشَقَّة تَجْلِب التَّيْسِير قَالَ تَعَالَى {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78] وَقَالَ صلى الله عليه وسلم «بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ» .الثَّالِثَة: الضَّرَر يُزَال. وَأَصْلُهَا قَوْله صلى الله عليه وسلم «لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ» .الرَّابِعَة: الْعَادَة مُحَكَّمَةٌ، لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «مَا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ» انْتَهَى.
কেননা এমন হকের কথা বলা কোনো উপকারে আসে না যা কার্যকর হয় না। আপনি যদি কোনো ফয়সালা করে থাকেন এবং পরবর্তীতে নিজের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভেবে থাকেন আর সঠিক পথ লাভ করেন, তবে সেই সত্যের দিকে ফিরে যেতে আপনাকে যেন কোনো কিছুই বাধা না দেয়। কারণ সত্য চিরন্তন, আর মিথ্যার ওপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম। কিতাব এবং সুন্নাহর মাধ্যমে যা আপনার কাছে পৌঁছায়নি অথচ আপনার অন্তরে সংশয় তৈরি করে, সে সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জন করুন। সাদৃশ্যপূর্ণ ও সমজাতীয় বিষয়গুলোকে জানুন, অতঃপর আপনার সামনে উপস্থিত বিষয়গুলোর মধ্যে তুলনা করুন। এরপর আপনার দৃষ্টিতে যা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় এবং সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি, সেটিকেই গ্রহণ করুন।এটি তাঁর পত্রের একটি অংশ, যা সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো অনুসন্ধান ও তা মনে রাখার নির্দেশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, যাতে যে বিষয়গুলো সরাসরি বর্ণনা বা উদ্ধৃতি হিসেবে আসেনি, সেগুলোকে এগুলোর ওপর কিয়াস বা তুলনা করা যায়।এবং তাঁর এই উক্তি: "আল্লাহর কাছে যা অধিক প্রিয় এবং সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি, সেটিকেই গ্রহণ করুন"—এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে এমন কিছুও থাকে যা বিশেষ কোনো কারণবশত নিজ সমজাতীয় বিষয়ের বিধান থেকে ভিন্ন হয়। আর এটিই হলো 'আল-ফুরূক' (পার্থক্য নিরূপণ) নামক শাস্ত্র, যেখানে এমন সমজাতীয় বিষয়গুলোর পার্থক্য আলোচনা করা হয় যা রূপ ও অর্থের দিক থেকে এক হওয়া সত্ত্বেও বিধান ও কারণের দিক থেকে ভিন্ন।এবং তাঁর এই উক্তি: "আপনার দৃষ্টিতে"—এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, একজন মুজতাহিদ কেবল তা পালন করতে আদিষ্ট যা তিনি সঠিক বলে মনে করেন। প্রকৃত সত্য বা বিষয়টি বাস্তবে হুবহু যেমন তা উদ্ঘাটন করা কিংবা নিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছানো তাঁর জন্য অপরিহার্য নয়। এছাড়া এর মাধ্যমে এও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মুজতাহিদ অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ করবেন না। [প্রথম গ্রন্থ: ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের সেই পাঁচটি মূলনীতির ব্যাখ্যায়, যার দিকে ফিকহের সকল মাসয়ালা বা বিষয়াবলি প্রত্যাবর্তন করে]প্রথম গ্রন্থসেই পাঁচটি মূলনীতির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে, যেগুলোর ব্যাপারে বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে ফিকহের যাবতীয় মাসয়ালা সেগুলোর দিকেই ফিরে যায়। কাজী আবু সাঈদ আল-হারাভী বর্ণনা করেছেন: হেরাতের জনৈক হানাফী ইমামের কাছে খবর পৌঁছাল যে, মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের হানাফী ইমাম আবু তাহির আদ-দাব্বাস ইমাম আবু হানিফার সমগ্র মাযহাবকে সতেরোটি মূলনীতিতে নিয়ে এসেছেন। তখন তিনি তাঁর কাছে সফর করলেন। আবু তাহির ছিলেন দৃষ্টিহীন এবং তিনি প্রতিদিন রাতে মানুষ মসজিদ থেকে চলে যাওয়ার পর সেই মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। আল-হারাভী একটি চাটাইয়ের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে লুকিয়ে থাকলেন। মানুষ চলে গেলে আবু তাহির মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং সেই মূলনীতিগুলোর মধ্য থেকে সাতটি বর্ণনা করলেন। তখন আল-হারাভী কাশলেন, ফলে আবু তাহির তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে প্রহার করলেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। এরপর তিনি আর কখনো সেখানে সেগুলো পুনরাবৃত্তি করেননি। অতঃপর আল-হারাভী তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাদের কাছে সেই সাতটি মূলনীতি পাঠ করলেন। কাজী আবু সাঈদ বলেন: এই সংবাদ যখন কাজী হুসায়নের কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি ইমাম শাফেয়ীর সমগ্র মাযহাবকে চারটি মূলনীতিতে নিয়ে আসলেন:প্রথম: নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না। এর মূল ভিত্তি হলো মহানবী (সা.)-এর বাণী: "শয়তান তোমাদের কারো কাছে আসে যখন সে সালাতরত থাকে, অতঃপর তাকে বলে: তোমার ওযু নষ্ট হয়ে গেছে। তখন সে যেন সালাত ছেড়ে না যায় যতক্ষণ না সে কোনো আওয়াজ শোনে অথবা কোনো গন্ধ পায়।"দ্বিতীয়: কষ্ট সহজসাধ্যতাকে টেনে আনে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি।" [হজ: ৭৮] এবং মহানবী (সা.) বলেছেন: "আমি সহজ-সরল ও একনিষ্ঠ দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি।"তৃতীয়: ক্ষতি দূরীভূত করতে হবে। এর মূল ভিত্তি হলো মহানবী (সা.)-এর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না।"চতুর্থ: লোকরীতি ফয়সালাকারী হিসেবে বিবেচিত। মহানবী (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী: "মুসলিমরা যাকে উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর কাছেও উত্তম।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৮)
قَالَ بَعْض الْمُتَأَخِّرِينَ: فِي كَوْن هَذِهِ الْأَرْبَع دَعَائِم الْفِقْه كُلّه نَظَر، فَإِنَّ غَالِبه لَا يَرْجِع إلَيْهَا إلَّا بِوَاسِطَةِ وَتَكَلُّف، وَضَمّ بَعْض الْفُضَلَاء إلَى هَذِهِ قَاعِدَة خَامِسَة وَهِيَ: الْأُمُور بِمَقَاصِدِهَا، لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» وَقَالَ «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ» وَالْفِقْه عَلَى خَمْس.قَالَ الْعَلَائِيُّ: وَهُوَ حَسَن جِدًّا، فَقَدْ قَالَ الْإِمَام الشَّافِعِيُّ يَدْخُل فِي هَذَا الْحَدِيث ثُلُث الْعِلْم وَقَالَ الشَّيْخُ تَاجُ الدِّينِ السُّبْكِيُّ: التَّحْقِيقُ عِنْدِي أَنَّهُ إنْ أُرِيدَ رُجُوعُ الْفِقْهِ إلَى خَمْسٍ بِتَعَسُّفٍ وَتَكَلُّف وَقَوْلٍ جملي، فَالْخَامِسَة دَاخِلَة فِي الْأُولَى، بَلْ رَجَّعَ الشَّيْخ عِزُّ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ الْفِقْه كُلّه إلَى اعْتِبَار الْمَصَالِح وَدَرْء الْمَفَاسِد، بَلْ قَدْ يَرْجِع الْكُلّ إلَى اعْتِبَار الْمَصَالِح، فَإِنَّ دَرْء الْمَفَاسِد مِنْ جُمْلَتهَا. وَيُقَال عَلَى هَذَا: وَاحِدَة مِنْ هَؤُلَاءِ الْخَمْس كَافِيَة، وَالْأَشْبَه أَنَّهَا الثَّالِثَة، وَإِنْ أُرِيد الرُّجُوع بِوُضُوحِ، فَإِنَّهَا تَرْبُو عَلَى الْخَمْسِينَ، بَلْ عَلَى الْمِئِينَ اهـ.وَهَا أَنَا أَشْرَح هَذِهِ الْقَوَاعِد، وَأُبَيِّن مَا فِيهَا مِنْ النَّظَائِر. [الْقَاعِدَةُ الْأُولَى: الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا][الْمَبْحَث الْأَوَّلُ: الْأَصْل فِي قَاعِدَةِ الْأُمُورِ بِمَقَاصِدِهَا]الْقَاعِدَةُ الْأُولَى: الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَافِيهَا مَبَاحِث: (الْأَوَّلُ)الْأَصْل فِي هَذِهِ الْقَاعِدَة قَوْله صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» وَهَذَا حَدِيث صَحِيح مَشْهُور أَخْرَجَهُ الْأَئِمَّة السِّتَّة وَغَيْرُهُمْ مِنْ حَدِيث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَالْعَجَب أَنَّ مَالِكًا لَمْ يُخْرِجهُ فِي الْمُوَطَّإِ، وَأَخْرَجَهُ ابْنُ الْأَشْعَثِ فِي سُنَنه مِنْ حَدِيث عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي غَرَائِبِ مَالِك، وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ مِنْ حَدِيث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَابْنِ عَسَاكِرَ فِي أَمَالِيهِ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ، كُلُّهُمْ بِلَفْظٍ وَاحِدٍ وَعَنْ الْبَيْهَقِيّ فِي سُنَنِهِ مِنْ حَدِيث أَنَسٍ «لَا عَمَلَ لِمَنْ لَا نِيَّةَ لَهُ» وَفِي مُسْنَدِ الشِّهَابِ مِنْ حَدِيثه «نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ» وَهُوَ بِهَذَا اللَّفْظ فِي مُعْجَمِ الطَّبَرَانِيِّ الْكَبِيرِ مِنْ حَدِيث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَالنَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، وَفِي مُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ لِلدَّيْلَمِيِّ مِنْ حَدِيث أَبِي مُوسَى.وَفِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ «إنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إلَّا أُجِرْتَ فِيهَا حَتَّى مَا تَجْعَلَ فِي فِي امْرَأَتِكَ،» وَمِنْ حَدِيث ابْنِ عَبَّاسٍ «وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ» ، وَفِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ مِنْ حَدِيث ابْنِ مَسْعُودٍ «رُبَّ قَتِيلٍ بَيْنَ الصَّفَّيْنِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِنِيَّتِهِ» .وَعِنْد ابْنِ مَاجَهْ مِنْ حَدِيث أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ «يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ» ، وَفِي السُّنَنِ الْأَرْبَعَةِ مِنْ حَدِيث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ «إنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ ثَلَاثَةً الْجَنَّةَ، وَفِيهِ: وَصَانِعُهُ يَحْتَسِبُ فِي صَنْعَتِهِ الْأَجْرَ» ، وَعِنْد النَّسَائِيّ مِنْ حَدِيث أَبِي ذَرٍّ، «مَنْ أَتَى فِرَاشَهُ وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يَقُومَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ حَتَّى يُصْبِحَ كُتِبَ لَهُ مَا نَوَى» .وَفِي مُعْجَمِ الطَّبَرَانِيِّ مِنْ حَدِيث صُهَيْبٍ
পরবর্তী যুগের কেউ কেউ বলেছেন: এই চারটি বিষয় সমগ্র ফিকহের মূলভিত্তি হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। কেননা ফিকহের অধিকাংশ মাসআলাই কোনো মাধ্যম বা কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা ছাড়া এগুলোর দিকে ফিরে আসে না। জনৈক গুণী ব্যক্তি এগুলোর সাথে একটি পঞ্চম মূলনীতি যুক্ত করেছেন, তা হলো: 'কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়'। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" তিনি আরও বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত," আর ফিকহও পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।আলাইয়ী বলেছেন: এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয়। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, এই হাদিসের মধ্যে ইলমের এক-তৃতীয়াংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শেখ তাজউদ্দীন সুবকী বলেছেন: আমার নিকট সঠিক বিশ্লেষণ হলো, যদি কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা ও ভাসাভাসা কথার মাধ্যমে ফিকহকে পাঁচটিতে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হয়, তবে পঞ্চমটি প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। বরং শেখ ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম সমগ্র ফিকহকে 'কল্যাণ অর্জন' এবং 'অকল্যাণ প্রতিহত করার' দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি পুরো বিষয়টিকে কেবল 'কল্যাণ অর্জনের' দিকেই ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব, কারণ অকল্যাণ প্রতিহত করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই হিসেবে বলা হয়: এই পাঁচটির মধ্যে একটিই যথেষ্ট এবং সম্ভবত সেটি হলো তৃতীয়টি। আর যদি স্পষ্টভাবে মূলনীতিতে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি পঞ্চাশেরও বেশি, বরং কয়েক শতে গিয়ে পৌঁছাবে। (সমাপ্ত)এখন আমি এই মূলনীতিগুলো ব্যাখ্যা করছি এবং এগুলোর অনুরূপ মাসআলাসমূহ বর্ণনা করছি। [প্রথম মূলনীতি: কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়][প্রথম পরিচ্ছেদ: 'কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়' মূলনীতির ভিত্তি]প্রথম মূলনীতি: কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: (প্রথম)এই মূলনীতির ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" এটি একটি সহিহ ও প্রসিদ্ধ হাদিস, যা উমর ইবনুল খাত্তাবের বর্ণনা থেকে ছয় জন ইমাম ও অন্যান্যরা সংকলন করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ইমাম মালিক এটি মুওয়াত্তায় উল্লেখ করেননি। ইবনুল আশ'আস তাঁর সুনানে এটি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, দারা কুতনী 'গারাইবে মালিক'-এ, আবু নুআইম 'হিলয়া'-তে আবু সাঈদ খুদরী থেকে এবং ইবনে আসাকির তাঁর 'আমালি'-তে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সবাই অভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী তাঁর সুনানে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "যার নিয়ত নেই তার কোনো আমল নেই।" শিহাবের মুসনাদে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "মুমিনের নিয়ত তার আমল অপেক্ষা উত্তম।" তাবারানীর 'মু'জামুল কাবির'-এ সহল ইবনে সা'দ এবং নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং দাইলামীর 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ আবু মুসা থেকে বর্ণিত হয়েছে।সহিহ গ্রন্থে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দাও তাতেও।" ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে: "বরং জিহাদ ও নিয়ত (বাকি রয়েছে)।" মুসনাদে আহমাদে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "রণক্ষেত্রে নিহত এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যাদের নিয়ত সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।"ইবনে মাজাহ-তে আবু হুরায়রা ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে।" চার সুনান গ্রন্থে উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের মাধ্যমে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" তাতে রয়েছে: "আর তীরের নির্মাতা যে এটি তৈরির সময় সওয়াবের আশা রাখে।" নাসাঈতে আবু যার থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি তার বিছানায় গেল এবং এই নিয়ত করল যে সে রাতে উঠে সালাত আদায় করবে, কিন্তু ঘুম তাকে ভোর পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখল, তবে সে যা নিয়ত করেছিল তার সওয়াব তার জন্য লিখে দেওয়া হবে।"তাবারানীর মু'জাম গ্রন্থে সুহাইব থেকে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৯)
«أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَنَوَى أَنْ لَا يُعْطِيَهَا مِنْ صَدَاقِهَا شَيْئًا مَاتَ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ زَانٍ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ اشْتَرَى مِنْ رَجُلٍ بَيْعًا فَنَوَى أَنْ لَا يُعْطِيَهُ مِنْ ثَمَنِهِ شَيْئًا مَاتَ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ خَائِنٌ» ، وَفِيهِ أَيْضًا مِنْ حَدِيث أَبِي أُمَامَةَ «مَنْ ادَّانَ دَيْنًا وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يُؤَدِّيَهُ أَدَّاهُ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ ادَّانَ دَيْنًا وَهُوَ يَنْوِي أَنْ لَا يُؤَدِّيَهُ فَمَاتَ قَالَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: ظَنَنْتَ أَنِّي لَا آخُذُ لِعَبْدِي بِحَقِّهِ؟ فَيُؤْخَذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ فَتُجْعَلُ فِي حَسَنَاتِ الْآخَرِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ الْآخَرِ، فَجُعِلَتْ عَلَيْهِ» . [الْمَبْحَث الثَّانِي: فِيمَا يَرْجِع إلَى هَذِهِ الْقَاعِدَة مِنْ أَبْوَاب الْفِقْه]اعْلَمْ أَنَّهُ قَدْ تَوَاتَرَ النَّقْل عَنْ الْأَئِمَّة فِي تَعْظِيم قَدْر حَدِيث النِّيَّة.قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: لَيْسَ فِي أَخْبَارِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْء أَجْمَعَ وَأَغْنَى وَأَكْثَرَ فَائِدَةً مِنْهُ، وَاتَّفَقَ الْإِمَام الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَابْنُ مَهْدِيٍّ، وَابْنُ الْمَدِينِيِّ، وَأَبُو دَاوُد، وَالدَّارَقُطْنِيّ وَغَيْرُهُمْ عَلَى أَنَّهُ ثُلُث الْعِلْم، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: رُبْعه، وَوَجَّهَ الْبَيْهَقِيُّ كَوْنه ثُلُث الْعِلْم: بِأَنَّ كَسْب الْعَبْد يَقَع بِقَلْبِهِ وَلِسَانه وَجَوَارِحه، فَالنِّيَّة أَحَد أَقْسَامهَا الثَّلَاثَة وَأَرْجَحُهَا ; لِأَنَّهَا قَدْ تَكُون عِبَادَة مُسْتَقِلَّة، وَغَيْرهَا يَحْتَاج إلَيْهَا وَمِنْ ثَمَّ وَرَدَ «نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ.»وَكَلَام الْإِمَام أَحْمَدَ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ أَرَادَ بِكَوْنِهِ ثُلُث الْعِلْم، أَنَّهُ أَحَد الْقَوَاعِد الثَّلَاث الَّتِي تُرَدّ إلَيْهَا جَمِيع الْأَحْكَام عِنْده فَإِنَّهُ قَالَ: أُصُول الْإِسْلَام عَلَى ثَلَاثَة أَحَادِيث: حَدِيث «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ»وَحَدِيث «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»وَحَدِيث «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ» .وَقَالَ أَبُو دَاوُد: مَدَار السُّنَّة عَلَى أَرْبَعَة أَحَادِيث: حَدِيث «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» ، وَحَدِيث «مِنْ حُسْنِ إسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» ، وَحَدِيث " «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ» ، وَحَدِيث «إنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إلَّا طَيِّبًا» ، وَفِي لَفْظ عَنْهُ: يَكْفِي الْإِنْسَان لِدِينِهِ أَرْبَعَة أَحَادِيث، فَذَكَرهَا، وَذَكَرَ بَدَل الْأَخِير: حَدِيث «لَا يَكُونُ الْمُؤْمِنُ مُؤْمِنًا حَتَّى يَرْضَى لِأَخِيهِ مَا يَرْضَى لِنَفْسِهِ» .وَعَنْهُ أَيْضًا: الْفِقْه يَدُور عَلَى خَمْسَة أَحَادِيث: «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» ، «وَالْحَلَالَ بَيِّنٌ» ، «وَلَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ» ، «وَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَمَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ» .وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: أُصُولُ الْأَحَادِيثِ أَرْبَعَةٌ «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» ، «وَمِنْ حُسْنِ إسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» ، «وَالْحَلَالُ بَيِّنٌ» ، «وَازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبُّك اللَّهُ» .وَحَكَى الْخَفَّافُ مِنْ أَصْحَابنَا فِي كِتَاب الْخِصَالِ عَنْ ابْنِ مَهْدِيٍّ وَابْنِ الْمَدِينِيِّ: أَنَّ مَدَار الْأَحَادِيث عَلَى أَرْبَعَة: «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» ، وَ «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ» ، وَ «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ» ، وَ «الْبَيِّنَةُ عَلَى الْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ» ، وَقَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ أَيْضًا: حَدِيث النِّيَّة يَدْخُل فِي ثَلَاثِينَ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ.وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: يَدْخُل فِي سَبْعِينَ بَابَا.قُلْت: وَهَذَا ذِكْر مَا يَرْجِعُ إلَيْهِ مِنْ الْأَبْوَاب إجْمَالًا:مِنْ ذَلِكَ: رُبْع الْعِبَادَات بِكَمَالِهِ، كَالْوُضُوءِ، وَالْغُسْل فَرْضًا وَنَفْلًا، وَمَسْح الْخُفّ فِي مَسْأَلَةِ
«যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করল এবং তাকে তার মোহরের কোনো অংশ না দেওয়ার নিয়ত করল, সে যেদিন মৃত্যুবরণ করবে একজন ব্যভিচারী হিসেবেই মারা যাবে। আর যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করল এবং তার মূল্য পরিশোধ না করার নিয়ত করল, সে যেদিন মৃত্যুবরণ করবে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই মারা যাবে।» একই গ্রন্থে আবু উমামাহ এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি পরিশোধ করার নিয়তে ঋণ গ্রহণ করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি পরিশোধ না করার নিয়তে ঋণ গ্রহণ করল এবং মৃত্যুবরণ করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: 'তুমি কি মনে করেছিলে যে আমি আমার বান্দার পাওনা তাকে আদায় করে দেব না?' অতঃপর তার নেক আমলসমূহ থেকে নিয়ে অন্যজনের নেক আমলের সাথে যোগ করা হবে। আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে, তবে অন্যজনের গুনাহসমূহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।» [দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহের যেসব অধ্যায় এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত]জেনে রাখুন যে, নিয়ত সংক্রান্ত হাদিসের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনায় ইমামগণের পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা বিদ্যমান।আবু উবাইদাহ বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের মধ্যে এর চেয়ে বেশি ব্যাপক, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অধিক ফায়দাপূর্ণ আর কোনো কিছু নেই। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইবনে মাহদী, ইবনে আল-মাদিনী, আবু দাউদ, আদ-দারা কুতনী এবং অন্যান্যগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এটি ইলম বা জ্ঞানের এক-তৃতীয়াংশ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এটাকে এক-চতুর্থাংশও বলেছেন। বাইহাকী এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে: বান্দার আমল বা উপার্জন তার অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়; আর নিয়ত হলো এর তিনটি প্রকারের একটি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ নিয়ত স্বতন্ত্র ইবাদত হতে পারে, যেখানে অন্য আমলগুলো নিয়তের মুখাপেক্ষী। আর এখান থেকেই বর্ণিত হয়েছে: «মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম।»ইমাম আহমাদের বক্তব্য নির্দেশ করে যে, এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো— এটি সেই তিনটি মূলনীতির একটি যার দিকে তাঁর মতে সমস্ত বিধান প্রত্যাবর্তন করে। কেননা তিনি বলেছেন: ইসলামের মূল ভিত্তি তিনটি হাদিসের ওপর: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল» শীর্ষক হাদিসটি,«যে আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছুর উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য» শীর্ষক হাদিসটি,এবং «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট» শীর্ষক হাদিসটি।আবু দাউদ বলেছেন: সুন্নাহর আবর্তন চারটি হাদিসের ওপর: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল» হাদিসটি, «ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অহেতুক বিষয় বর্জন করা» হাদিসটি, «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট» হাদিসটি এবং «নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না» হাদিসটি। তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: মানুষের দ্বীন পালনের জন্য চারটি হাদিসই যথেষ্ট— অতঃপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেন, তবে শেষেরটির পরিবর্তে: «কোনো মুমিন ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে» হাদিসটি উল্লেখ করেন। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে: ফিকহ পাঁচটি হাদিসের ওপর আবর্তিত হয়: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল», «হালাল স্পষ্ট», «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না», এবং «আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো এবং যা নির্দেশ দিয়েছি তা সাধ্যমতো পালন করো»।আদ-দারা কুতনী বলেছেন: হাদিসের মূল ভিত্তি চারটি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল», «ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অহেতুক বিষয় বর্জন করা», «হালাল স্পষ্ট» এবং «দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন»।আমাদের মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে আল-খাফফাফ তাঁর 'কিতাবুল খিসাল' গ্রন্থে ইবনে মাহদী ও ইবনে আল-মাদিনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: হাদিসসমূহের আবর্তন চারটি বিষয়ের ওপর: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল», «কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (হত্যা করা) বৈধ নয় তিনটি কারণের একটি ছাড়া», «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর», এবং «প্রমাণ উপস্থাপন করা দাবিদারের দায়িত্ব আর অস্বীকারকারীর ওপর শপথ»। ইবনে মাহদী আরও বলেছেন: নিয়ত সংক্রান্ত হাদিসটি ইলমের ত্রিশটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে।ইমাম শাফেঈ বলেছেন: এটি সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে।আমি বলছি: এটি যেসব অধ্যায়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো:এর মধ্যে রয়েছে: ইবাদতের পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ; যেমন অজু, গোসলের ফরয ও নফলসমূহ এবং মোজার ওপর মাসেহ করার মাসআলা—
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১০)
الْجُرْمُوقِ إذَا مَسَحَ الْأَعْلَى، وَهُوَ ضَعِيف، فَيَنْزِل الْبَلَل إلَى الْأَسْفَل، وَالتَّيَمُّم، وَإِزَالَة النَّجَاسَة عَلَى رَأْيٍ، وَغُسْل الْمَيِّت عَلَى رَأْي، وَالْأَوَانِي فِي مَسْأَلَة الضَّبَّة بِقَصْدِ الزِّينَة أَوْ غَيْرهَا، وَالصَّلَاة بِأَنْوَاعِهَا: فَرْض عَيْن وَكِفَايَة، وَرَاتِبَة وَسُنَّة، وَنَفْلًا مُطْلَقًا، وَالْقَصْر، وَالْجَمْع، وَالْإِمَامَة وَالِاقْتِدَاء وَسُجُود التِّلَاوَة وَالشُّكْر، وَخُطْبَة الْجُمُعَةِ عَلَى أَحَد الْوَجْهَيْنِ، وَالْأَذَان، عَلَى رَأْي، وَأَدَاء الزَّكَاة، وَاسْتِعْمَال الْحُلِيِّ أَوْ كَنْزه، وَالتِّجَارَة، وَالْقِنْيَة، وَالْخِلْطَة عَلَى رَأْي، وَبَيْع الْمَال الزَّكَوِيِّ، وَصَدَقَة التَّطَوُّع، وَالصَّوْم فَرْضًا وَنَفْلًا، وَالِاعْتِكَاف، وَالْحَجّ وَالْعُمْرَة كَذَلِكَ، وَالطَّوَاف فَرْضًا وَاجِبًا وَسُنَّةً، وَالتَّحَلُّل لِلْمُحْصَرِ، وَالتَّمَتُّعِ عَلَى رَأْي، وَمُجَاوَزَةِ الْمِيقَاتِ، وَالسَّعْيِ، وَالْوُقُوفِ عَلَى رَأْي، وَالْفِدَاء، وَالْهَدَايَا، وَالضَّحَايَا فَرْضًا وَنَفْلًا، وَالنُّذُور، وَالْكَفَّارَات، وَالْجِهَاد وَالْعِتْق وَالتَّدْبِير، وَالْكِتَابَة، وَالْوَصِيَّة، وَالنِّكَاح، وَالْوَقْف، وَسَائِر الْقُرَب، بِمَعْنَى تَوَقُّف حُصُول الثَّوَاب عَلَى قَصْد التَّقَرُّب بِهَا إلَى اللَّه تَعَالَى، وَكَذَلِكَ نَشْر الْعِلْم تَعْلِيمًا وَإِفْتَاءً وَتَصْنِيفًا، وَالْحُكْم بَيْن النَّاس وَإِقَامَة الْحُدُود، وَكُلّ مَا يَتَعَاطَاهُ الْحُكَّام وَالْوُلَاة، وَتَحَمُّل الشَّهَادَات وَأَدَاؤُهَا.بَلْ يَسْرِي ذَلِكَ إلَى سَائِر الْمُبَاحَات إذَا قُصِدَ بِهَا التَّقَوِّي عَلَى الْعِبَادَة أَوْ التَّوَصُّل إلَيْهَا، كَالْأَكْلِ، وَالنَّوْم، وَاكْتِسَاب الْمَال وَغَيْر ذَلِكَ، وَكَذَلِكَ النِّكَاح وَالْوَطْء إذَا قُصِدَ بِهِ إقَامَة السُّنَّةِ أَوْ الْإِعْفَاف أَوْ تَحْصِيل الْوَلَد الصَّالِح، وَتَكْثِير الْأُمَّة، وَيَنْدَرِج فِي ذَلِكَ مَا لَا يُحْصَى مِنْ الْمَسَائِل.وَمِمَّا تَدْخُل فِيهِ مِنْ الْعُقُود وَنَحْوهَا: كِنَايَات الْبَيْع وَالْهِبَة، وَالْوَقْف، وَالْقَرْض، وَالضَّمَان، وَالْإِبْرَاء، وَالْحَوَالَة، وَالْإِقَالَة، وَالْوَكَالَة، وَتَفْوِيض الْقَضَاء، وَالْإِقْرَار، وَالْإِجَارَة وَالْوَصِيَّة، وَالْعِتْق، وَالتَّدْبِير، وَالْكِتَابَة، وَالطَّلَاق، وَالْخُلْع، وَالرَّجْعَة، وَالْإِيلَاء، وَالظِّهَار، وَالْأَيْمَان، وَالْقَذْف، وَالْأَمَان.وَيَدْخُل أَيْضًا فِيهَا فِي غَيْر الْكِنَايَات فِي مَسَائِل شَتَّى: كَقَصْدِ لَفْظ الصَّرِيح لِمَعْنَاهُ، وَنِيَّة الْمَعْقُود عَلَيْهِ فِي الْمَبِيع وَالثَّمَن، وَعِوَض الْخُلْع، وَالْمَنْكُوحَة، وَيَدْخُل فِي بَيْع الْمَال الرِّبَوِيّ وَنَحْوه وَفِي النِّكَاحِ إذَا نَوَى مَا لَوْ صَرَّحَ بِهِ بَطَلَ.وَفِي الْقِصَاص فِي مَسَائِل كَثِيرَة مِنْهَا تَمْيِيز الْعَمْد وَشِبْهِهِ مِنْ الْخَطَأ، وَمِنْهَا إذَا قَتَلَ الْوَكِيل فِي الْقِصَاص، إنْ قَصَدَ قَتْله عَنْ الْمُوَكِّل، أَوْ قَتَلَهُ بِشَهْوَةِ نَفْسه. وَفِي الرِّدَّة، وَفِي السَّرِقَة فِيمَا إذَا أَخَذَ آلَات الْمَلَاهِي بِقَصْدِ كَسْرهَا وَإِشْهَارهَا أَوْ بِقَصْدِ سَرِقَتهَا، وَفِيمَا إذَا أَخَذَ الدَّائِن مَال الْمَدِينِ بِقَصْدِ الِاسْتِيفَاء، أَوْ السَّرِقَة، فَلَا يُقْطَع فِي الْأَوَّل، وَيُقْطَع فِي الثَّانِي وَفِي أَدَاء الدَّيْن، فَلَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنَانِ لِرَجُلٍ، بِأَحَدِهِمَا رَهْن، فَأَدَّى أَحَدهمَا وَنَوَى بِهِ دَيْن الرَّهْن، انْصَرَفَ إلَيْهِ وَالْقَوْل قَوْله فِي نِيَّته.وَفِي اللُّقَطَة بِقَصْدِ الْحِفْظ أَوْ التَّمْلِيك، وَفِيمَا لَوْ أَسْلَمَ عَلَى أَكْثَر مِنْ أَرْبَع، فَقَالَ: فَسَخْت نِكَاح هَذِهِ، فَإِنْ نَوَى بِهِ الطَّلَاق كَانَ تَعْيِينًا لِاخْتِيَارِ النِّكَاح، وَإِنْ نَوَى الْفِرَاق أَوْ أَطْلَقَ حُمِلَ عَلَى اخْتِيَار الْفِرَاق، وَفِيمَا لَوْ وَطِئَ أَمَة بِشُبْهَةٍ، وَهُوَ يَظُنّهَا زَوْجَته الْحُرَّة، فَإِنَّ الْوَلَد يَنْعَقِد حُرَّا وَفِيمَا لَوْ تَعَاطَى فِعْل شَيْء مُبَاح لَهُ، وَهُوَ يَعْتَقِد عَدَم حِلّه، كَمَنْ وَطِئَ امْرَأَة يَعْتَقِد أَنَّهَا
জুরমুক (চামড়ার মোজার ওপর পরিহিত বড় মোজা) পরিধানকারী যখন উপরের মোজাটি মাসেহ করে এবং সেই আর্দ্রতা নিচের মোজায় পৌঁছে যায় (এটি একটি দুর্বল মত), তায়াম্মুম, অপবিত্রতা দূর করা (একটি মতানুসারে), মৃতদেহ গোসল করানো (একটি মতানুসারে), অলঙ্করণ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পাত্রে রূপার জোড়া লাগানো (ধাব্বা)-এর মাসআলা, এবং বিভিন্ন প্রকারের নামাজ: ফরজে আইন, ফরজে কিফায়া, রাতিবা সুন্নাত ও সাধারণ নফল নামাজ, কসর ও জমা (দুই নামাজ একত্র করা), ইমামতি ও ইক্তিদা (অনুসরণ), তিলাওয়াত ও শুকরিয়ার সিজদাহ, জুমার খুতবা (দুই মতের একটি অনুযায়ী), আযান (একটি মতানুসারে), জাকাত প্রদান, অলঙ্কার ব্যবহার বা তা সঞ্চয় করে রাখা, ব্যবসা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা, (সম্পদ) মিশ্রিত করা (একটি মতানুসারে), জাকাতযোগ্য সম্পদ বিক্রয় করা, সাধারণ দান-সদকা, ফরজ ও নফল রোজা, ইতিকাফ, তদ্রূপ হজ ও ওমরাহ, ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত তাওয়াফ, ইহরাম থেকে অবরুদ্ধ ব্যক্তির হালাল হওয়া (তাহাল্লুল), তামান্নু হজ (একটি মতানুসারে), মীকাত অতিক্রম করা, সাঈ, আরাফায় অবস্থান (একটি মতানুসারে), ফিদিয়া, হাদিয়া, ফরজ ও নফল কোরবানি, মানত, কাফফারা, জিহাদ, দাসমুক্তি, মৃত্যুর পর মুক্তির প্রতিশ্রুতি (তদবীর), চুক্তিভিত্তিক মুক্তি (কিতাবাত), অসিয়ত, বিবাহ, ওয়াকফ এবং অন্যান্য ইবাদতসমূহ; এ অর্থে যে, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তের ওপরই এগুলোর সওয়াব পাওয়া নির্ভর করে। তদ্রূপ শিক্ষা দান, ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ইলম বা জ্ঞান প্রচার করা, মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করা, হুদুদ (শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি) কায়েম করা এবং শাসক ও দায়িত্বশীলগণ যা কিছু সম্পাদন করেন, এবং সাক্ষ্য গ্রহণ ও তা প্রদান করা।বরং এটি অন্যান্য সাধারণ বৈধ (মুবাহ) কাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় যখন এর মাধ্যমে ইবাদতের শক্তি অর্জন বা ইবাদত পর্যন্ত পৌঁছানোর নিয়ত করা হয়। যেমন: আহার করা, ঘুমানো, সম্পদ উপার্জন করা ইত্যাদি। তদ্রূপ বিবাহ ও সহবাসের ক্ষেত্রেও যদি সুন্নাত পালন, চরিত্র রক্ষা, নেক সন্তান লাভ অথবা উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির নিয়ত করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত এমন অসংখ্য মাসআলা রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয়।এই নিয়তের বিষয়টি বিভিন্ন চুক্তি ও অনুরূপ বিষয়ের ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্ত হয়: যেমন ক্রয়-বিক্রয়, হিবা (দান), ওয়াকফ, করজ (ঋণ), জামানত (জামিনদার হওয়া), দায়মুক্তি (ইবরা), হাওয়ালা (ঋণ স্থানান্তর), ইকালা (চুক্তি বাতিল), ওকালতি (প্রতিনিধিত্ব), বিচারকের দায়িত্ব অর্পণ, স্বীকৃতি প্রদান (ইকরার), ইজারা (ভাড়া), অসিয়ত, দাসমুক্তি, তদবীর, কিতাবাত, তালাক, খুলা, রাজআত (তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা), ঈলা (সহবাস না করার কসম), জিহার, কসম, অপবাদ (কাযফ) এবং নিরাপত্তা (আমান) প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রূপক বা পরোক্ষ শব্দসমূহ।তদ্রূপ রূপক শব্দ ছাড়াও বিভিন্ন মাসআলায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়: যেমন স্পষ্ট শব্দের দ্বারা তার প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করা, বিক্রিত পণ্য ও মূল্যের ক্ষেত্রে চুক্তিকৃত বস্তুর নিয়ত করা, খোলার বিনিময় এবং বিবাহিতা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নিয়ত। এছাড়া রিবাবী (সুদভিত্তিক) পণ্য বিক্রয় ও অনুরূপ বিষয়ে এবং বিবাহের ক্ষেত্রে এটি অন্তর্ভুক্ত হয় যখন এমন নিয়ত করা হয় যা মুখে প্রকাশ করলে চুক্তি বাতিল হয়ে যেত।কিসাসের (প্রতিশোধ) ক্ষেত্রেও অনেক মাসআলায় এটি প্রযোজ্য, যার মধ্যে রয়েছে: ইচ্ছাকৃত হত্যা, شبه عمد (ইচ্ছাকৃত সদৃশ হত্যা) এবং ভুলবশত হত্যার মধ্যে পার্থক্য করা। আবার কিসাস কার্যকর করার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি যদি এই নিয়তে হত্যা করে যে সে তার মক্কেলের পক্ষ থেকে হত্যা করছে, অথবা সে তার ব্যক্তিগত আক্রোশে হত্যা করছে (তবে বিচার ভিন্ন হবে)। তদ্রূপ ধর্মত্যাগ (রিদদাহ), এবং চুরির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যখন কেউ বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলার বা তা জনসম্মুখে প্রকাশের উদ্দেশ্যে হস্তগত করে অথবা চুরি করার উদ্দেশ্যে নেয়। আবার পাওনাদার যদি তার পাওনা উসুলের নিয়তে দেনাদারের সম্পদ গ্রহণ করে অথবা চুরির নিয়তে নেয়; তবে প্রথম ক্ষেত্রে তার হাত কাটা যাবে না কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কাটা যাবে। ঋণের দায়মুক্তির ক্ষেত্রেও যদি কারো কাছে জনৈক ব্যক্তির দুটি ঋণ থাকে যার একটির বিপরীতে বন্ধক রয়েছে, অতঃপর সে একটি ঋণ পরিশোধ করে এবং এর দ্বারা বন্ধকি ঋণের নিয়ত করে, তবে সেটিই গণ্য হবে এবং নিয়তের ব্যাপারে তার দাবিই গ্রহণ করা হবে।তদ্রূপ কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (লুকতাহ) হিফাজত করার বা মালিক হওয়ার নিয়তে উঠানো। আবার কেউ যদি চারের অধিক স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করে এবং বলে: "আমি এই স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ করলাম", তবে সে যদি এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করে তবে তা বিবাহের নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণ বলে গণ্য হবে। আর যদি বিচ্ছেদের নিয়ত করে বা কোনো নিয়ত ছাড়াই বলে তবে তা বিচ্ছেদ নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কেউ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো দাসীর সাথে সহবাস করে এবং তাকে নিজের স্বাধীন স্ত্রী মনে করে, তবে সন্তান স্বাধীন হিসেবে জন্মগ্রহণ করবে। তদ্রূপ কেউ যদি নিজের জন্য বৈধ এমন কোনো কাজ করে যা সে অবৈধ মনে করে, যেমন এমন কোনো মহিলার সাথে সহবাস করা যাকে সে মনে করেছিল যে...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أَجْنَبِيَّة، وَأَنَّهُ زَانٍ بِهَا، فَإِذَا هِيَ حَلِيلَته أَوْ قَتَلَ مَنْ يَعْتَقِدهُ مَعْصُومَا، فَبَانَ أَنَّهُ يَسْتَحِقُّ دَمَهُ، أَوْ أَتْلَفَ مَالًا لِغَيْرِهِ، فَبَانَ مِلْكَهُ.قَالَ الشَّيْخ عِزُّ الدِّينِ: يَجْرِي عَلَيْهِ حُكْم الْفَاسِق لِجُرْأَتِهِ عَلَى اللَّه ; لِأَنَّ الْعَدَالَة إنَّمَا شُرِطَتْ لِتَحْصُلَ الثِّقَةُ بِصِدْقِهِ، وَأَدَاء الْأَمَانَة، وَقَدْ انْخَرَمَتْ الثِّقَةُ بِذَلِكَ، لِجُرْأَتِهِ بِارْتِكَابِ مَا يَعْتَقِدُهُ كَبِيرَة.قَالَ: وَأَمَّا مَفَاسِد الْآخِرَة فَلَا يُعَذَّبُ تَعْذِيب زَانٍ وَلَا قَاتِل، وَلَا آكِلٍ مَالًا حَرَامًا لِأَنَّ عَذَاب الْآخِرَة مُرَتَّب عَلَى تَرَتُّب الْمَفَاسِد فِي الْغَالِب، كَمَا أَنَّ ثَوَابهَا مُرَتَّب عَلَى تَرَتُّب الْمَصَالِح فِي الْغَالِب.قَالَ: وَالظَّاهِر أَنَّهُ لَا يُعَذَّب تَعْذِيبَ مَنْ ارْتَكَبَ صَغِيرَةً ; لِأَجْلِ جُرْأَته وَانْتِهَاك الْحُرْمَة ; بَلْ عَذَابَا مُتَوَسِّطًا بَيْن الصَّغِيرَة وَالْكَبِيرَة.وَعَكْس هَذَا: مَنْ وَطِئَ أَجْنَبِيَّة وَهُوَ يَظُنّهَا حَلِيلَة لَهُ لَا يَتَرَتَّب عَلَيْهِ شَيْء مِنْ الْعُقُوبَات الْمُؤَاخَذَات الْمُتَرَتِّبَة عَلَى الزَّانِي اعْتِبَارًا بِنِيَّتِهِ وَمَقْصِده.وَتَدْخُل النِّيَّة أَيْضًا: فِي عَصِير الْعِنَب بِقَصْدِ الْخَلِّيَّةِ وَالْخَمْرِيَّة، وَفِي الْهَجْر فَوْق ثَلَاثَة أَيَّام فَإِنَّهُ حَرَام، إنْ قَصَدَ الْهَجْر وَإِلَّا فَلَا.وَنَظِيره أَيْضًا: تَرْك الطِّيب وَالزِّينَة فَوْق ثَلَاثَة أَيَّام لِمَوْتِ غَيْر الزَّوْج، فَإِنَّهُ إنْ كَانَ بِقَصْدِ الْإِحْدَاد حُرِّمَ وَإِلَّا فَلَا وَتَدْخُل أَيْضًا فِي نِيَّة قَطْع السَّفَر، وَقَطْع الْقِرَاءَة فِي الصَّلَاة، وَقِرَاءَة الْقُرْآن جُنُبَا بِقَصْدِهِ، أَوْ بِقَصْدِ الذِّكْر. وَفِي الصَّلَاة بِقَصْدِ الْإِفْهَام، وَفِي غَيْر ذَلِكَ وَفِي الْجَعَالَةِ إذَا الْتَزَمَ جُعْلًا لِمُعَيَّنٍ، فَشَارَكَهُ غَيْره فِي الْعَمَل إنْ قَصَدَ إعَانَته، فَلَهُ كُلّ الْجُعْل، وَإِنْ قَصَدَ الْعَمَل لِلْمَالِكِ فَلَهُ قِسْطه، وَلَا شَيْء لِلْمُشَارِكِ، وَفِي الذَّبَائِح.فَهَذِهِ سَبْعُونَ بَابًا، أَوْ أَكْثَر، دَخَلَتْ فِيهَا النِّيَّة كَمَا تَرَى.فَعُلِمَ مِنْ ذَلِكَ فَسَادُ قَوْلِ مَنْ قَالَ إنَّ مُرَادَ الشَّافِعِيِّ بِقَوْلِهِ " تَدْخُلُ فِي سَبْعِينَ بَابًا مِنْ الْعِلْم " الْمُبَالَغَة وَإِذَا عَدَدْت مَسَائِل هَذِهِ الْأَبْوَاب الَّتِي لِلنِّيَّةِ فِيهَا مَدْخَل لَمْ تَقْصُر عَنْ أَنْ تَكُون ثُلُث الْفِقْه أَوْ رُبْعه.وَقَدْ قِيلَ فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم: «نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ» : أَنَّ الْمُؤْمِن يُخَلَّد فِي الْجَنَّة وَإِنْ أَطَاعَ اللَّه مُدَّة حَيَاته فَقَطْ ; لِأَنَّ نِيَّته أَنَّهُ لَوْ بَقِيَ أَبَد الْآبَاد لَاسْتَمَرَّ عَلَى الْإِيمَانِ، فَجُوزِيَ عَلَى ذَلِكَ بِالْخُلُودِ فِي الْجَنَّة، كَمَا أَنَّ الْكَافِر يُخَلَّد فِي النَّار، وَإِنْ لَمْ يَعْصِ اللَّه إلَّا مُدَّة حَيَاته فَقَطْ ; لِأَنَّ نِيَّته الْكُفْر مَا عَاشَ.
কোনো পরনারী, এবং সে মনে করে যে সে তার সাথে ব্যভিচার করছে, অথচ পরে দেখা গেল সে তার স্ত্রী। অথবা এমন কাউকে হত্যা করল যাকে সে নিরাপদ (রক্তপাত নিষিদ্ধ) মনে করেছিল, কিন্তু পরে স্পষ্ট হলো যে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ছিল। অথবা অন্যের সম্পদ নষ্ট করল, কিন্তু পরে দেখা গেল সেটি তার নিজেরই মালিকানাধীন।শায়খ ইযযুদ্দীন বলেন: আল্লাহর প্রতি তার এই ধৃষ্টতার কারণে তার উপর ফাসিকের হুকুম প্রযোজ্য হবে; কারণ নির্ভরযোগ্যতার (আদালত) শর্তারোপ করা হয়েছে তার সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য, আর তার এই কাজের মাধ্যমে সেই আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, যেহেতু সে যাকে কবীরা গুনাহ মনে করে তা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।তিনি বলেন: পরকালের ক্ষতিকর পরিণতির ক্ষেত্রে তাকে ব্যভিচারী, খুনি বা হারাম মাল ভক্ষণকারীর মতো শাস্তি দেওয়া হবে না; কারণ পরকালের আজাব সাধারণত ক্ষতির হারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যেমনটি পরকালের সওয়াব সাধারণত উপকারের হারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।তিনি বলেন: বাহ্যত তাকে সগীরা গুনাহগার ব্যক্তির মতোও আজাব দেওয়া হবে না তার ধৃষ্টতা ও পবিত্রতা লঙ্ঘনের কারণে; বরং সগীরা ও কবীরা গুনাহের মাঝামাঝি কোনো শাস্তি দেওয়া হবে।এর বিপরীত অবস্থা হলো: যে ব্যক্তি কোনো পরনারীর সাথে সহবাস করল এই মনে করে যে সে তার স্ত্রী, তার উপর ব্যভিচারীর জন্য নির্ধারিত কোনো দণ্ড বা পাকড়াও প্রযোজ্য হবে না, তার নিয়ত ও উদ্দেশ্যের বিচারে।নিয়তের প্রভাব আরও রয়েছে: আঙুরের রসকে সিরকা বানানোর উদ্দেশ্যে রাখা বা মদ বানানোর উদ্দেশ্যে রাখা এবং তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে; কেননা যদি বিচ্ছেদের নিয়ত থাকে তবে তা হারাম, অন্যথায় নয়।এর অনুরূপ আরও হলো: স্বামী ছাড়া অন্য কারও মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি সুগন্ধি ও সাজগোজ ত্যাগ করা; যদি তা শোক পালনের (ইহদাদ) উদ্দেশ্যে হয় তবে তা হারাম, অন্যথায় নয়। এছাড়া সফর সংক্ষিপ্ত করার নিয়ত, নামাজে কিরাত বন্ধ করা, নাপাক অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ত করা কিংবা যিকিরের নিয়ত করা, এবং নামাজে কাউকে কিছু বোঝানোর নিয়ত করার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আরও রয়েছে 'জাআলাহ' বা পুরস্কারের চুক্তিতে, যখন কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য বিনিময় নির্ধারণ করে এবং অন্য কেউ তার সাথে কাজে শরিক হয়; যদি সে তাকে সাহায্যের নিয়ত করে তবে ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তিই পুরো বিনিময় পাবে। আর যদি সে মালিকের হয়ে কাজ করার নিয়ত করে তবে সে তার প্রাপ্য অংশ পাবে এবং অংশীদার কিছুই পাবে না। জবেহ করার ক্ষেত্রেও নিয়ত কার্যকর।এগুলো সত্তরটি বা তারও বেশি অধ্যায় যাতে নিয়ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।এ থেকে সেই ব্যক্তির কথার অসারতা প্রমাণিত হয় যে বলেছিল, ইমাম শাফিঈ-এর বাণী—"এটি ইলমের সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে"—দ্বারা আধিক্য বোঝানো হয়েছে (অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়)। আপনি যদি এই অধ্যায়গুলোর মাসআলাগুলো গণনা করেন যেখানে নিয়তের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তবে তা ফিকহ শাস্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশের চেয়ে কম হবে না।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম"—এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে: মুমিন জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে যদিও সে কেবল তার জীবনকাল পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্য করেছে; কারণ তার নিয়ত ছিল এই যে, সে যদি অনন্তকাল বেঁচে থাকত তবে ঈমানের ওপরই অটল থাকত। তাই তাকে জান্নাতে চিরস্থায়ী হওয়ার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কাফির জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে যদিও সে কেবল তার জীবনকাল পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানি করেছে; কারণ তার নিয়ত ছিল যতদিন সে বেঁচে থাকবে কুফরির ওপরই থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১২)
[الْمَبْحَث الثَّالِث: فِيمَا شرعت النِّيَّة لِأَجْلِهِ] [الْأَمْرُ الْأَوَّلُ: عَدَم اشْتِرَاط النِّيَّة فِي عِبَادَة لَا تَكُون عَادَة]الْمَقْصُودُ الْأَهَمّ مِنْهَا: تَمْيِيز الْعِبَادَات مِنْ الْعَادَات، وَتَمْيِيز رُتَب الْعِبَادَات بَعْضهَا مِنْ بَعْض، كَالْوُضُوءِ وَالْغُسْل، يَتَرَدَّد بَيْن التَّنَظُّف وَالتَّبَرُّد، وَالْعِبَادَة، وَالْإِمْسَاك عَنْ الْمُفْطِرَات قَدْ يَكُون لِلْحُمِّيَّةِ وَالتَّدَاوِي، أَوْ لِعَدَمِ الْحَاجَة إلَيْهِ، وَالْجُلُوس فِي الْمَسْجِد، قَدْ يَكُون لِلِاسْتِرَاحَةِ، وَدَفْعُ الْمَال لِلْغَيْرِ، قَدْ يَكُون هِبَة أَوْ وَصْلَة لِغَرَضٍ دُنْيَوِيّ، وَقَدْ يَكُون قُرْبَة كَالزَّكَاةِ، وَالصَّدَقَة، وَالْكَفَّارَة، وَالذَّبْح قَدْ يَكُون بِقَصْدِ الْأَكْل، وَقَدْ يَكُون لِلتَّقَرُّبِ بِإِرَاقَةِ الدِّمَاء، فَشُرِعَتْ النِّيَّة لِتَمْيِيزِ الْقُرَبِ مِنْ غَيْرهَا، وَكُلٌّ مِنْ الْوُضُوء وَالْغُسْل وَالصَّلَاة وَالصَّوْم وَنَحْوهَا قَدْ يَكُون فَرْضَا وَنَذْرًا وَنَفْلًا، وَالتَّيَمُّم قَدْ يَكُون عَنْ الْحَدَث أَوْ الْجَنَابَة وَصُورَته وَاحِدَة، فَشُرِعَتْ لِتَمْيِيزِ رُتَب الْعِبَادَات بَعْضهَا مِنْ بَعْض.وَمِنْ ثَمَّ تَرَتَّبَ عَلَى ذَلِكَ أُمُورٌ:أَحَدهَا: عَدَم اشْتِرَاط النِّيَّة فِي عِبَادَة لَا تَكُون عَادَة أَوْ لَا تَلْتَبِس بِغَيْرِهَا، كَالْإِيمَانِ بِاَللَّهِ تَعَالَى، وَالْمَعْرِفَة وَالْخَوْف وَالرَّجَاء، وَالنِّيَّة، وَقِرَاءَة الْقُرْآن، وَالْأَذْكَار ; لِأَنَّهَا مُتَمَيِّزَة بِصُورَتِهَا، نَعَمْ يَجِب فِي الْقِرَاءَة إذَا كَانَتْ مَنْذُورَة، لِتَمْيِيزِ الْفَرْض مِنْ غَيْره، نَقَلَهُ الْقَمُولِيُّ فِي الْجَوَاهِرِ عَنْ الرُّويَانِيِّ، وَأَقَرَّهُ.وَقِيَاسه: إنْ نَذَرَ الذِّكْر وَالصَّلَاة عَلَى النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم كَذَلِكَ، نَعَمْ إنْ نَذَرَ الصَّلَاة عَلَيْهِ كُلَّمَا ذُكِرَ، فَاَلَّذِي يَظْهَر لِي أَنَّ ذَلِكَ لَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة لِتَمَيُّزِهِ بِسَبَبِهِ، وَأَمَّا الْأَذَان: فَالْمَشْهُور أَنَّهُ لَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة. وَفِيهِ وَجْه فِي الْبَحْرِ، وَكَأَنَّهُ رَأَى أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ لِغَيْرِ الصَّلَاة، كَمَا سَيَأْتِي، فَأَوْجَبَ فِيهِ النِّيَّة لِلتَّمْيِيزِ.وَأَمَّا خُطْبَة الْجُمُعَة: فَفِي اشْتِرَاط نِيَّتهَا وَالتَّعَرُّض لِلْفَرْضِيَّةِ فِيهَا خِلَاف فِي الشَّرْحِ وَالرَّوْضَةِ بِلَا تَرْجِيح، وَفِي الْكِفَايَةِ: أَنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّهَا بِمَثَابَةِ رَكْعَتَيْنِ. وَمُقْتَضَاهُ تَرْجِيح أَنَّهَا شَرْط، وَجَزَمَ بِهِ الْأَذْرَعِيُّ فِي التَّوَسُّطِ، وَعِنْدِي خِلَافه، بَلْ يَجِب أَنْ لَا يَقْصِد غَيْرهَا.وَأَمَّا التُّرُوكُ: كَتَرْكِ الزِّنَا وَغَيْره، فَلَمْ يَحْتَجْ إلَى نِيَّةٍ لِحُصُولِ الْمَقْصُود مِنْهَا وَهُوَ اجْتِنَاب الْمَنْهِيِّ بِكَوْنِهِ لَمْ يُوجَد، وَإِنْ يَكُنْ نِيَّة، نَعَمْ يُحْتَاج إلَيْهَا فِي حُصُول الثَّوَاب الْمُتَرَتِّب عَلَى التَّرْك. وَلَمَّا تَرَدَّدَتْ إزَالَة النَّجَاسَة بَيْن أَصْلَيْنِ: الْأَفْعَال مِنْ حَيْثُ إنَّهَا فِعْل، وَالتُّرُوكُ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا قَرِيبَةٌ مِنْهَا جَرَى فِي اشْتِرَاطِ النِّيَّةِ خِلَافٌ، وَرَجَّحَ الْأَكْثَرُونَ عَدَمَهُ تَغْلِيبًا لِمُشَابَهَةِ التُّرُوكِ.وَنَظِير ذَلِكَ أَيْضًا: غُسْل الْمَيِّت، وَالْأَصَحُّ فِيهِ أَيْضًا عَدَمُ الِاشْتِرَاطِ ; لِأَنَّ الْقَصْد مِنْهُ التَّنْظِيف كَإِزَالَةِ النَّجَاسَة.وَنَظِيره أَيْضًا نِيَّةِ الْخُرُوج مِنْ الصَّلَاة ; هَلْ تُشْتَرَط؟ وَالْأَصَحّ لَا قَالَ الْإِمَامُ: لِأَنَّ النِّيَّة إنَّمَا تَلِيق بِالْإِقْدَامِ، لَا بِالتَّرْكِ.
[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যে উদ্দেশ্যে নিয়ত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে] [প্রথম বিষয়: যা সাধারণত অভ্যাসগত কাজ নয় এমন ইবাদতে নিয়তের শর্ত না থাকা]এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো: অভ্যাসগত কার্যাবলি থেকে ইবাদতকে পৃথক করা এবং এক ইবাদত থেকে অন্য ইবাদতের স্তরকে একে অপর থেকে পৃথক করা। যেমন ওজু ও গোসল; এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা শরীর শীতল করার জন্য হতে পারে, আবার ইবাদতও হতে পারে। রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা কখনো রোগমুক্তির জন্য বা চিকিৎসার জন্য হতে পারে, অথবা খাদ্যের প্রয়োজন না থাকার কারণে হতে পারে। মসজিদে বসা কখনো বিশ্রামের জন্য হতে পারে। অন্যকে অর্থ প্রদান করা কখনো উপহার হতে পারে বা দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হতে পারে, আবার কখনো তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় হিসেবে জাকাত, সাদাকা বা কাফফারা হতে পারে। আর পশু জবাই করা কখনো আহারের উদ্দেশ্যে হতে পারে, আবার কখনো রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হতে পারে। সুতরাং অন্যান্য কাজ থেকে নৈকট্যমূলক কাজগুলোকে পৃথক করার জন্য নিয়ত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। আর ওজু, গোসল, নামাজ, রোজা এবং এই জাতীয় প্রতিটি কাজই কখনো ফরজ, কখনো মানত আবার কখনো নফল হতে পারে। তায়াম্মুম কখনো অজু ভঙ্গের কারণে হতে পারে আবার কখনো জানাবাত বা অপবিত্রতার কারণে হতে পারে, যদিও এর বাহ্যিক রূপ একই। তাই এক ইবাদতের স্তর থেকে অন্য ইবাদতকে পৃথক করার জন্য নিয়ত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।এর ফলে কিছু বিষয় উদ্ভূত হয়:প্রথমত: এমন ইবাদতে নিয়তের শর্ত নেই যা সাধারণত অভ্যাসগত কাজের অন্তর্ভুক্ত নয় অথবা যা অন্য কোনো কাজের সাথে সংশয় তৈরি করে না। যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর পরিচয় লাভ করা (মারেফত), ভয়, আশা, নিয়ত স্বয়ং, কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকির-আজকার; কারণ এগুলো নিজ স্বরূপেই স্বতন্ত্র। তবে কুরআন তিলাওয়াত যদি মানত করা হয় তবে তাতে নিয়ত করা ওয়াজিব হবে, যাতে ফরজকে নফল থেকে পৃথক করা যায়। আল-কামুলি তাঁর 'জাওয়াহির' গ্রন্থে আর-রুয়ানি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সমর্থন করেছেন।এর সাদৃশ্যপূর্ণ বিধান হলো: যদি কেউ জিকির এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মানত করে, তবে সেখানেও একই নিয়ম হবে। তবে যদি কেউ এমন মানত করে যে, যখনই তাঁর নাম উল্লেখ করা হবে তখনই দরুদ পাঠ করবে, তবে আমার কাছে যা স্পষ্ট তা হলো এতে নিয়তের প্রয়োজন নেই, কারণ কারণের (নাম উল্লেখ হওয়া) মাধ্যমে এটি স্বতন্ত্র হয়ে যাচ্ছে। আর আজানের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো এতে নিয়তের প্রয়োজন নেই। তবে 'আল-বাহর' গ্রন্থে একটি ভিন্ন মত আছে; যেন তিনি মনে করেছেন যে নামাজ ব্যতীত অন্য কারণেও আজান দেওয়া মোস্তাহাব, যেমনটি সামনে আসবে, তাই তিনি পার্থক্যের জন্য এতে নিয়ত ওয়াজিব করেছেন।আর জুমার খুতবার ক্ষেত্রে নিয়তের শর্ত হওয়া এবং এতে ফরজিয়ত নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে 'শারহ' ও 'রাওদাহ' গ্রন্থে কোনো প্রাধান্য প্রদান ছাড়াই মতভেদ রয়েছে। 'কিফায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি এই ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল যে খুতবা দুই রাকাত নামাজের স্থলাভিষিক্ত। এর দাবি হলো খুতবায় নিয়ত শর্ত হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া এবং আল-আজরয়ি 'আত-তাওয়াসসুত' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে বলেছেন। তবে আমার নিকট মতটি এর ভিন্ন; বরং ওয়াজিব হলো খুতবা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য না রাখা।আর বর্জনীয় বিষয়গুলো: যেমন জিনা ও অন্যান্য গুনাহ বর্জন করার ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই। কারণ বর্জনীয় কাজের উদ্দেশ্য হলো নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা, যা কাজটির অস্তিত্ব না থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হয়ে যায়, যদিও সেখানে কোনো নিয়ত না থাকে। তবে বর্জনের ফলে সওয়াব লাভের জন্য নিয়তের প্রয়োজন রয়েছে। নাপাকি দূর করার বিষয়টি যখন দুটি মূল নীতির মাঝে দোদুল্যমান হলো: একটি হলো কর্ম হিসেবে এটি 'কাজ', অন্যটি হলো ত্যাগের দিক থেকে এটি 'বর্জনীয় কাজের' নিকটবর্তী, তখন এতে নিয়তের শর্ত হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ ফকিহ বর্জনীয় কাজের সাদৃশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এতে নিয়তের শর্ত না থাকাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।এর অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো। এর ক্ষেত্রেও বিশুদ্ধতম মত হলো নিয়তের শর্ত নেই; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো পরিষ্কার করা, যেমনটি নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে করা হয়।অনুরূপ আরেকটি মাসআলা হলো নামাজ থেকে বের হওয়ার নিয়ত; এটি কি শর্ত? বিশুদ্ধতম মত হলো 'না'। ইমাম বলেছেন: কারণ নিয়ত কেবল কোনো কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত, কাজ বর্জন বা ত্যাগ করার ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَنَظِيره أَيْضًا: صَوْم التَّمَتُّع وَالْقِرَانِ، هَلْ يُشْتَرَط فِيهِ نِيَّةُ التَّفْرِقَةِ؟ وَالْأَصَحّ: لَا ; لِأَنَّهَا حَاصِلَة بِدُونِهَا.وَنَظِيره أَيْضًا: نِيَّة التَّمَتُّع هَلْ تُشْتَرَط فِي وُجُوب الدَّم؟ وَالْأَصَحّ: لَا ; لِأَنَّهُ مُتَعَلِّق بِتَرْكِ الْإِحْرَام لِلْحَجِّ مِنْ الْمِيقَات، وَذَلِكَ مَوْجُود بِدُونِهَا.وَنَظِيره أَيْضًا: نِيَّة الْخِلْطَة، هَلْ تُشْتَرَط؟ وَالْأَصَحّ: لَا ; لِأَنَّهَا إنَّمَا أَثَّرَتْ فِي الزَّكَاة لِلِاقْتِصَارِ عَلَى مُؤْنَة وَاحِدَة وَذَلِكَ حَاصِل بِدُونِهَا. وَمُقَابِل الْأَصَحّ فِي الْكُلّ رَاعَى جَانِب الْعِبَادَات، فَقَاسَ غُسْل الْمَيِّت عَلَى غُسْلَ الْجَنَابَة، وَالتَّمَتُّعَ عَلَى الْجَمْع بَيْن الصَّلَاتَيْنِ، فَإِنَّهُ جَمَعَ بَيْن نُسُكَيْنِ، وَلِهَذَا جَرَى فِي وَقْت نِيَّته الْخِلَاف فِي وَقْت نِيَّة الْجَمْع، وَفِي الْجَمْع وَجْه أَنَّهُ لَا يُشْتَرَط فِيهِ النِّيَّة، وَاخْتَارَهُ الْبُلْقِينِيُّ، قَالَ: لِأَنَّهُ لَيْسَ بِعَمَلٍ، وَإِنَّمَا الْعَمَل الصَّلَاة، وَصُورَة الْجَمْع حَاصِلَة بِدُونِ نِيَّة وَلِهَذَا لَا تَجِب فِي جَمْع التَّأْخِير، نَعَمْ يَجِب فِيهِ أَنْ يَكُون التَّأْخِير بِنِيَّةِ الْجَمْع.` وَيُشْتَرَط كَوْن هَذِهِ النِّيَّة فِي وَقْت الْأُولَى بِحَيْثُ يَبْقَى مِنْ وَقْتهَا بِقَدْرِ مَا يَسَعهَا، فَإِنْ أَخَّرَ بِغَيْرِ نِيَّة الْجَمْع حَتَّى خَرَجَ الْوَقْتُ أَوْ ضَاقَ بِحَيْثُ لَا يَسَعُ الْفَرْضَ عَصَى وَصَارَتْ الْأُولَى قَضَاءً. جَزَمَ بِهِ الْأَصْحَاب، وَيَقْرُب مِنْهُ مَا ذَكَرَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ.وَالتَّحْقِيقُ أَنَّ الْأَصَحَّ فِي الصَّلَاة وَفِي كُلّ وَاجِب مُوَسَّع إذَا لَمْ يُفْعَل فِي أَوَّل الْوَقْت أَنَّهُ لَا بُدَّ عِنْد التَّأْخِير مِنْ الْعَزْم عَلَى فِعْله فِي أَثْنَاء الْوَقْت وَالْمَعْرُوف فِي الْأُصُول خِلَاف ذَلِكَ، وَقَدْ جَزَمَ ابْنُ السُّبْكِيّ فِي جَمْع الْجَوَامِعِ بِأَنَّهُ لَا يَجِب الْعَزْم عَلَى الْمُؤَخِّر.وَأُورِدَ عَلَيْهِ مَا ذَكَرَهُ النَّوَوِيُّ فِيمَا تَقَدَّمَ فَأَجَابَ فِي مَنْعِ الْمَوَانِعِ: بِأَنَّ مِثْل هَذَا لَا يُؤْخَذ مِنْ التَّحْقِيقِ ; وَلَا مِنْ شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَأَنَّ الْقَوْل بِالْوُجُوبِ لَا يُعْرَف إلَّا عَنْ الْقَاضِي وَمَنْ تَبِعَهُ.قَالَ: وَلَوْلَا جَلَالَة الْقَاضِي لَقُلْت: إنَّ هَذَا مِنْ أَفْحَش الْأَقْوَال، وَلَوْلَا أَنِّي وَجَدْته مَنْصُوصًا فِي كَلَامه، مَنْقُولَا فِي كَلَام الْأَثْبَاتِ عَنْهُ، لَجَوَّزْت الزَّلَل عَلَى النَّاقِل لِسَفَاهَةِ هَذَا الْقَوْلِ فِي نَفْسه، وَهُوَ قَوْل مَهْجُور فِي هَذِهِ الْمِلَّة الْإِسْلَامِيَّة، أَعْتَقِد أَنَّهُ خَارِق لِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ، لَيْسَ لِقَائِلِهِ شُبْهَة يَرْتَضِيهَا مُحَقِّق، وَهُوَ مَعْدُود مِنْ هَفَوَات الْقَاضِي، وَمِنْ الْعَظَائِم فِي الدِّين، فَإِنَّهُ إيجَاب بِلَا دَلِيلٍ. انْتَهَى.ضَابِط:قَالَ بَعْضهمْ: لَيْسَ لَنَا عِبَادَةَ يَجِب الْعَزْمُ عَلَيْهَا وَلَا يَجِب فِعْلهَا سِوَى الْفَارِّ مِنْ الزَّحْف لَا يَجُوز إلَّا بِقَصْدِ التَّحَيُّز إلَيَّ فِئَة، وَإِذَا تَحَيَّزَ إلَيْهَا لَا يَجِب الْقِتَال مَعَهَا فِي الْأَصَحّ ; لِأَنَّ الْعَزْم مُرَخَّص لَهُ فِي الِانْصِرَاف لَا مُوجِب لِلرُّجُوعِ.
এর অনুরূপ আরও হলো: তামাত্তু ও কিরান হজ্জের রোজা; এতে কি পৃথক করার নিয়ত শর্ত? অধিকতর সঠিক মত হলো: না; কারণ এটি তা ছাড়াই অর্জিত হয়।এর অনুরূপ আরও হলো: তামাত্তু-এর নিয়ত কি দম (কুরবানি) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত? অধিকতর সঠিক মত হলো: না; কারণ এটি মীকাত থেকে হজ্জের ইহরাম ত্যাগ করার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা নিয়ত ছাড়াও বিদ্যমান।এর অনুরূপ আরও হলো: খিলতাহ বা যৌথ মালিকানার নিয়ত; এটি কি শর্ত? অধিকতর সঠিক মত হলো: না; কারণ এটি যাকাতের ক্ষেত্রে কেবল একীভূত ব্যয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রভাব ফেলে, যা নিয়ত ছাড়াই অর্জিত হয়। আর সবগুলোর ক্ষেত্রেই অধিকতর সঠিক মতের বিপরীত পক্ষ ইবাদতের দিকটি বিবেচনা করেছে। ফলে তারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোকে জানাবাতের গোসলের সাথে এবং তামাত্তু-কে দুই নামাজ একত্রে পড়ার সাথে তুলনা করেছে; কেননা এটি দুটি ইবাদতকে একত্র করা। একারণেই এর নিয়তের সময়ের ব্যাপারে সেই মতভেদ দেখা দিয়েছে যা দুই নামাজ একত্রে পড়ার নিয়তের সময়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একত্রে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে একটি অভিমত হলো যে, এতে নিয়ত শর্ত নয় এবং ইমাম বুলকিনী এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: কারণ এটি স্বতন্ত্র কোনো কাজ নয়, বরং মূল কাজ হলো নামাজ। আর একত্রে পড়ার সুরত নিয়ত ছাড়াই অর্জিত হয়, একারণেই বিলম্বে একত্রীকরণে (জামউত তা'খীর) নিয়ত ওয়াজিব নয়। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে বিলম্ব করাটি একত্রে পড়ার নিয়তের সাথে হওয়া আবশ্যক।আর শর্ত হলো এই নিয়ত প্রথম নামাজের ওয়াক্ত থাকাকালে হতে হবে, যাতে সেই ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে যা নামাজটির জন্য যথেষ্ট। সুতরাং যদি কেউ একত্রে পড়ার নিয়ত ছাড়াই বিলম্ব করে এবং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় অথবা এত সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যে ফরজ নামাজের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে সে গুনাহগার হবে এবং প্রথম নামাজটি কাজা হিসেবে গণ্য হবে। ফকীহগণ এ বিষয়ে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন এবং ইমাম নববী 'শারহুল মুহাযযাব'-এ যা উল্লেখ করেছেন তা এর কাছাকাছি।সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো, নামাজ এবং প্রতিটি প্রশস্ত ওয়াজিবের (ওয়াজিব মুওয়াসসা) ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো, যদি তা ওয়াক্তের শুরুতে আদায় না করা হয়, তবে বিলম্ব করার সময় তা ওয়াক্তের মধ্যেই আদায় করার সংকল্প করা অপরিহার্য। কিন্তু উসূল শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ মত এর বিপরীত। ইবনে সুবকী 'জামউল জাওয়ামে'-এ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, বিলম্বকারীর জন্য সংকল্প করা ওয়াজিব নয়।তার উপর ইমাম নববী পূর্বে যা উল্লেখ করেছেন তা আপত্তি হিসেবে পেশ করা হলে তিনি 'মানউল মাওয়ানি'-এ উত্তর দিয়েছেন যে: এই ধরনের বিষয় 'তাহকীক' কিংবা 'শারহুল মুহাযযাব' থেকে গ্রহণ করা হয় না; আর এটি ওয়াজিব হওয়ার কথা কেবল কাজী এবং তার অনুসারীদের থেকেই জানা যায়।তিনি বলেন: কাজীর মর্যাদা যদি বাধা না হতো, তবে আমি বলতাম যে এটি অত্যন্ত জঘন্যতম উক্তিগুলোর একটি। আর যদি আমি তার বক্তব্যে এটি সরাসরি না পেতাম এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনায় তার থেকে এটি বর্ণিত না হতো, তবে এই বক্তব্যের অন্তঃসারশূন্যতার কারণে আমি বর্ণনাকারীর ভুল হয়েছে বলে ধরে নিতাম। এটি ইসলামী শরীয়তে একটি পরিত্যক্ত বক্তব্য; আমার বিশ্বাস এটি মুসলমানদের ঐকমত্যের (ইজমা) পরিপন্থী। এর প্রবক্তার কাছে এমন কোনো যুক্তি নেই যা একজন গবেষক গ্রহণ করতে পারেন, বরং এটি কাজীর পদস্খলনসমূহের একটি এবং দ্বীনের মধ্যে একটি গুরুতর বিষয়, কেননা এটি দলিল ছাড়াই কোনো কিছুকে ওয়াজিব করা। সমাপ্ত।মূলনীতি:তাদের কেউ কেউ বলেছেন: আমাদের এমন কোনো ইবাদত নেই যার সংকল্প করা ওয়াজিব কিন্তু তা পালন করা ওয়াজিব নয়, কেবল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী ব্যতীত; তার জন্য অন্য কোনো দলের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া পলায়ন বৈধ নয়। আর যখন সে তাদের সাথে মিলিত হয়, তখন অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তাদের সাথে যুদ্ধ করা তার জন্য ওয়াজিব নয়; কারণ এই সংকল্পটি তার সরে যাওয়ার জন্য একটি অনুমতি মাত্র, পুনরায় ফিরে আসার জন্য অপরিহার্য কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[الْأَمْر الثَّانِي: اشْتِرَاطُ التَّعْيِين فِيمَا يَلْتَبِس دُون غَيْره]قَالَ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ: وَدَلِيل ذَلِكَ قَوْله صلى الله عليه وسلم «. وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى» فَهَذَا ظَاهِر فِي اشْتِرَاط التَّعْيِين، لِأَنَّ أَصْل النِّيَّة فُهِمَ مِنْ أَوَّل الْحَدِيث «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» .فَمِنْ الْأَوَّل: الصَّلَاة، فَيُشْتَرَط التَّعْيِين فِي الْفَرَائِض، لِتَسَاوِي الظُّهْر وَالْعَصْر فِعْلًا وَصُورَة، فَلَا يُمَيِّز بَيْنهمَا إلَّا التَّعْيِينُ، وَفِي النَّوَافِل غَيْر الْمُطْلَقَة، كَالرَّوَاتِبِ، فَيُعَيِّنهَا بِإِضَافَتِهَا إلَى الظُّهْر مَثَلًا، وَكَوْنهَا الَّتِي قَبْلهَا أَوْ الَّتِي بَعْدهَا، كَمَا جَزَمَ بِهِ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَالْعِيدَيْنِ، فَيُعَيِّنهُمَا بِالْفِطْرِ وَالنَّحْر.وَقَالَ الشَّيْخُ عِزُّ الدِّينِ: يَنْبَغِي أَنْ لَا يَجِب التَّعَرُّض لِذَلِكَ ; لِأَنَّهُمَا يَسْتَوِيَانِ فِي جَمِيع الصِّفَات ; فَيُلْحَق بِالْكَفَّارَاتِ وَالتَّرَاوِيح، وَالضُّحَى، وَالْوِتْر، وَالْكُسُوف، وَالِاسْتِسْقَاء، فَيُعَيِّنهَا بِمَا اُشْتُهِرَتْ بِهِ هَذَا مَا ذَكَرَ فِي الرَّوْضَةِ، وَأَصْلِهَا وَشَرْحِ الْمُهَذَّبِ، فِي بَاب صِفَة الصَّلَاة، وَبَقِيَ نَوَافِل أُخَر مِنْهَا رَكْعَتَا الْإِحْرَام، وَالطَّوَاف.قَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: وَقَدْ نَقَلَ فِي الْكِفَايَةِ عَنْ الْأَصْحَاب: اشْتِرَاط التَّعْيِين فِيهِمَا، وَصَرَّحَ بِرَكْعَتَيْ الطَّوَاف النَّوَوِيُّ فِي تَصْحِيحِ التَّنْبِيهِ، وَعَدَّهَا فِيمَا يَجِب فِيهِ التَّعْيِين بِلَا خِلَاف.قُلْت: وَصَرَّحَ بِرَكْعَتَيْ الْإِحْرَام فِي الْمَنَاسِك.وَمِنْهَا: التَّحِيَّة، فَنَقَلَ فِي الْمُهِمَّاتِ عَنْ الْكِفَايَةِ أَنَّهَا تَحْصُل بِمُطْلَقِ الصَّلَاة، وَلَا يُشْتَرَط فِيهَا التَّعْيِينُ بِلَا شَكٍّ، وَقَالَ فِي شَرْحِ الْمِنْهَاجِ: فِيهِ نَظَرٌ لِأَنَّ أَقَلَّهَا رَكْعَتَانِ وَلَمْ يَنْوِهِمَا إلَّا أَنْ يُرِيدَ الْإِطْلَاقَ مَعَ التَّقْيِيدِ بِرَكْعَتَيْنِ.وَمِنْهَا: سَنَةُ الْوُضُوءِ، قَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: وَيَتَّجِه إلْحَاقهَا بِالتَّحِيَّةِ، وَقَدْ صَرَّحَ بِذَلِكَ الْغَزَالِيُّ فِي الْإِحْيَاءِ.قُلْت: الْمَجْزُوم بِهِ فِي الرَّوْضَةِ فِي آخِر بَاب الْوُضُوء خِلَاف ذَلِكَ وَأَمَّا الْغَزَالِيُّ فَإِنَّهُ أَنْكَرَ فِي الْإِحْيَاءِ سُنَّة الْوُضُوء، أَصْلًا وَرَأْسًا.وَمِنْهَا: صَلَاة الِاسْتِخَارَةِ وَالْحَاجَة، وَلَا شَكَّ فِي اشْتِرَاط التَّعْيِين فِيهِمَا وَلَمْ أَرَ مَنْ تَعَرَّضَ لِذَلِكَ، لَكِنْ قَالَ النَّوَوِيُّ فِي الْأَذْكَارِ: الظَّاهِر أَنَّ الِاسْتِخَارَة تَحْصُل بِرَكْعَتَيْنِ مِنْ السُّنَن الرَّوَاتِب، وَبِتَحِيَّةِ الْمَسْجِد، وَبِغَيْرِهَا مِنْ النَّوَافِل.قُلْت: فَعَلَى هَذَا يَتَّجِه إلْحَاقهَا بِالتَّحِيَّةِ فِي عَدَم اشْتِرَاط التَّعْيِين، وَمِثْلهَا صَلَاةُ الْحَاجَةِ وَمِنْهَا: سَنَةُ الزَّوَالِ، وَهِيَ أَرْبَع رَكَعَات: تُصَلَّى بَعْده لِحَدِيثٍ وَرَدَ بِهَا، وَذَكَرَهَا الْمَحَامِلِيُّ فِي الْكِتَابِ وَغَيْره، وَالْمُتَّجَه أَنَّهَا كَسُنَّةِ الْوُضُوء فَإِنْ قُلْنَا: بِاشْتِرَاطِ التَّعْيِين فِيهَا، فَكَذَا هُنَا وَإِلَّا فَلَا ; لِأَنَّ الْمَقْصُود إشْغَال ذَلِكَ الْوَقْت بِالْعِبَادَةِ. كَمَا أَشَارَ إلَيْهِ النَّبِيُّ
[দ্বিতীয় বিষয়: যে ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে সেখানে নির্দিষ্ট করা (তায়ীন) শর্ত হওয়া, অন্য ক্ষেত্রে নয়]'শারহুল মুহাযযাব'-এ বলা হয়েছে: এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" সুতরাং এটি নির্দিষ্ট করার (তায়ীন) শর্ত হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট, কারণ নিয়তের মূল বিষয়টি হাদিসের প্রথম অংশ "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল" থেকেই বোঝা যায়।প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত হলো: নামাজ; সুতরাং ফরজ নামাজসমূহে নির্দিষ্ট করা (তায়ীন) শর্ত, কারণ জোহর ও আসর নামাজ ক্রিয়া ও পদ্ধতির দিক থেকে সমান, তাই তায়ীন বা নির্দিষ্ট করা ব্যতীত এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। আর সাধারণ নফল ব্যতীত অন্যান্য সুন্নতে রাতেবা নামাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করা শর্ত, যেমন সেটিকে জোহরের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা; যেমন সেটি জোহরের পূর্বের সুন্নত নাকি পরের সুন্নত, যেমনটি 'শারহুল মুহাযযাব'-এ দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে। আর দুই ঈদের ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা হিসেবে নির্দিষ্ট করতে হবে।শায়খ ইযযুদ্দীন বলেছেন: এটি (পূর্বের না পরের সুন্নত) উল্লেখ করা আবশ্যক না হওয়া উচিত; কারণ উভয়টি সমস্ত বৈশিষ্ট্যে সমান; ফলে একে কাফফারা, তারাবিহ, চাশত (দুহা), বিতর, সূর্যগ্রহণ (কুসুফ) ও ইস্তিসকার নামাজের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এগুলো যে নামে প্রসিদ্ধ তা দিয়েই নির্দিষ্ট করতে হবে। এটিই 'রাওদাহ', এর মূল গ্রন্থ এবং 'শারহুল মুহাযযাব'-এর নামাজের বিবরণ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু নফল নামাজ অবশিষ্ট রয়েছে, যার মধ্যে ইহরামের দুই রাকাত এবং তাওয়াফের দুই রাকাত অন্যতম।'আল-মুহিম্মাত'-এ বলা হয়েছে: 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থে আছহাবদের (সাথীদের) থেকে এ দুটিতে তায়ীন বা নির্দিষ্ট করার শর্তের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম নববী 'তাসহিহুত তানবিহ' গ্রন্থে তাওয়াফের দুই রাকাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং মতভেদহীনভাবে একে এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেখানে তায়ীন ওয়াজিব।আমি (লেখক) বলছি: তিনি 'আল-মানাসিক' গ্রন্থে ইহরামের দুই রাকাতের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাহিয়্যাতুল মাসজিদ; 'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থে 'আল-কিফায়াহ' থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাধারণ নামাজের মাধ্যমেই এটি অর্জিত হয় এবং এতে তায়ীন বা নির্দিষ্ট করা যে শর্ত নয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 'শারহুল মিনহাজ'-এ বলা হয়েছে: এতে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে, কারণ এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো দুই রাকাত, অথচ সে এর নিয়ত করেনি; তবে সে যদি দুই রাকাতের সীমাবদ্ধতাসহ সাধারণ নামাজের ইচ্ছা পোষণ করে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ওজুর সুন্নত; 'আল-মুহিম্মাত'-এ বলা হয়েছে: একে তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সাথে সংযুক্ত করাই যুক্তিযুক্ত, এবং ইমাম গাজালী 'ইহয়া'-তে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।আমি (লেখক) বলছি: 'রাওদাহ' গ্রন্থের ওজু অধ্যায়ের শেষে যা নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে তা এর বিপরীত। আর ইমাম গাজালীর কথা হলো, তিনি 'ইহয়া' গ্রন্থে ওজুর সুন্নতকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ইস্তিখারা ও হাজতের নামাজ; এ দুটিতে তায়ীন বা নির্দিষ্ট করার শর্ত থাকার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও আমি কাউকে এটি বিশেষভাবে আলোচনা করতে দেখিনি। তবে ইমাম নববী 'আল-আযকার' গ্রন্থে বলেছেন: প্রতীয়মান হয় যে, সুন্নতে রাতেবার দুই রাকাত, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ অথবা অন্য কোনো নফল নামাজের মাধ্যমেই ইস্তিখারা অর্জিত হয়ে যায়।আমি (লেখক) বলছি: এই ভিত্তিতে তায়ীন বা নির্দিষ্ট করার শর্ত না থাকার ক্ষেত্রে একে তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সাথে সংযুক্ত করাই যুক্তিযুক্ত, এবং হাজতের নামাজও অনুরূপ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সূর্য ঢলে পড়ার পরের (জাওয়াল) সুন্নত; যা সূর্য ঢলে পড়ার পরে বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে চার রাকাত পড়তে হয়; মাহামিলি একে 'আল-কিতাব' ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। যুক্তিযুক্ত বিষয় হলো এটি ওজুর সুন্নতের মতো; যদি আমরা তাতে তায়ীন বা নির্দিষ্ট করা শর্ত বলি, তবে এখানেও হবে, নতুবা নয়; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো উক্ত সময়টিকে ইবাদতের মাধ্যমে ব্যস্ত রাখা, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ قَالَ: «إنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءُ فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ.»وَمِنْهَا: صَلَاةُ التَّسْبِيحِ وَالْقَتْل، وَلَا شَكَّ فِي اشْتِرَاط التَّعْيِين فِي الْأُولَى وَإِنْ كَانَتْ لَيْسَتْ ذَات وَقْتٍ وَلَا سَبَب، وَأَمَّا الثَّانِيَة فَلَهَا سَبَب مُتَأَخِّر كَالْإِحْرَامِ، فَيُحْتَمَل اشْتِرَاط التَّعْيِينِ فِيهَا، وَيُحْتَمَلُ خِلَافُهُ.وَمِنْهَا: صَلَاة الْغَفْلَة، بَيْن الْمَغْرِب وَالْعِشَاء، وَالصَّلَاة فِي بَيْته، إذَا أَرَادَ الْخُرُوج لِسَفَرٍ، وَالْمُسَافِر إذَا نَزَلَ مَنْزِلًا وَأَرَادَ مُفَارَقَته، يُسْتَحَبّ أَنْ يُوَدِّعهُ بِرَكْعَتَيْنِ، وَالظَّاهِر فِي الْكُلِّ عَدَم اشْتِرَاط التَّعْيِين ; لِأَنَّ الْمَقْصُود إشْغَال الْوَقْت أَوْ الْمَكَان بِالصَّلَاةِ، كَالتَّحِيَّةِ وَلَمْ أَرَ مَنْ تَعَرَّضَ لِذَلِكَ كُلّه.وَمِنْ ذَلِكَ: الصَّوْم، وَالْمَذْهَب الْمَنْصُوص الَّذِي قَطَعَ بِهِ الْأَصْحَابُ اشْتِرَاط التَّعْيِين فِيهِ، لِتَمْيِيزِ رَمَضَان مِنْ الْقَضَاء وَالنَّذْر، وَالْكَفَّارَة، وَالْفِدْيَة، وَعَنْ الْحَلِيمِيِّ، وَجْه أَنَّهُ لَا يُشْتَرَط فِي رَمَضَان، قَالَهُ النَّوَوِيُّ، وَهُوَ شَاذٌّ مَرْدُود، نَعَمْ لَا يُشْتَرَط تَعْيِين السَّنَة عَلَى الْمَذْهَب، وَنَظِيره فِي الصَّلَاة أَنَّهُ لَا يُشْتَرَط تَعْيِين الْيَوْم، لَا فِي الْأَدَاء وَلَا فِي الْقَضَاء، فَيَكْفِي فِيهِ فَائِتَة الظُّهْر، وَلَا يُشْتَرَط أَنْ يَقُولَ يَوْم الْخَمِيس، وَقِيَاسُ مَا تَقَدَّمَ فِي النَّوَافِل الْمُرَتَّبَة اشْتِرَاطُ التَّعْيِين فِي رَوَاتِب الصَّوْم، كَصَوْمِ عَرَفَةَ، وَعَاشُورَاءَ، وَأَيَّامِ الْبِيضِ، وَقَدْ ذَكَرَهُ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ بَحْثًا وَلَمْ يَقِف عَلَى نَقْلٍ فِيهِ، وَهُوَ ظَاهِر، إذَا لَمْ نَقُلْ بِحُصُولِهَا بِأَيِّ صَوْمٍ كَانَ كَالتَّحِيَّةِ كَمَا سَيَأْتِي عَنْ الْبَارِزِيِّ.وَمَثَلُ الرَّوَاتِب فِي ذَلِكَ: الصَّوْم ذُو السَّبَب، وَهُوَ الْأَيَّام الْمَأْمُور بِهَا فِي الِاسْتِسْقَاء وَمِنْ الثَّانِي: أَعْنِي مَا لَا يُشْتَرَطُ فِيهِ التَّعْيِين: الطَّهَارَاتُ، وَالْحَجّ وَالْعُمْرَة ; لِأَنَّهُ لَوْ عُيِّنَ غَيْرُهَا انْصَرَفَ إلَيْهَا، وَكَذَا الزَّكَاةُ وَالْكَفَّارَاتُ.ضَابِط:قَالَ الشَّيْخُ فِي الْمُهَذَّبِ: كُلّ مَوْضِع افْتَقَرَ إلَى نِيَّة الْفَرِيضَة افْتَقَرَ إلَى تَعْيِينهَا إلَّا التَّيَمُّم لِلْفَرْضِ فِي الْأَصَحّ. [قَاعِدَةٌ: الْخَطَأ فِي تعيين مَا لَا يُشْتَرَط تُعَيِّيَنه]قَاعِدَة:وَمَا لَا يُشْتَرَط التَّعَرُّض لَهُ جُمْلَة وَتَفْصِيلًا إذَا عَيَّنَهُ وَأَخْطَأَ لَمْ يَضُرّ، كَتَعْيِينِ مَكَانِ الصَّلَاةِ وَزَمَانهَا، وَكَمَا إذَا عَيَّنَ الْإِمَام مَنْ يُصَلِّي خَلْفه، أَوْ صَلَّى فِي الْغَيْم، أَوْ صَامَ الْأَسِير، وَنَوَى الْأَدَاء وَالْقَضَاء فَبَانَ خِلَافه، وَمَا يُشْتَرَط فِيهِ التَّعْيِين، فَالْخَطَأ فِيهِ مُبْطِل، كَالْخَطَأِ مِنْ الصَّوْم إلَى الصَّلَاة وَعَكْسه، وَمِنْ صَلَاةِ الظُّهْر إلَى الْعَصْرِ.وَمَا يَجِب التَّعَرُّضُ لَهُ جُمْلَة لَا يُشْتَرَط تَعْيِينُهُ تَفْصِيلًا إذَا عَيَّنَهُ وَأَخْطَأَ ضَرَّ. وَفِي ذَلِكَ فُرُوع:
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, তিনি যখন বলেছিলেন: "নিশ্চয় এটি এমন এক সময় যখন আসমানের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়, তাই আমি পছন্দ করি যে আমার কোনো নেক আমল সেই সময়ে উপরে উঠুক।"এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাসবীহ নামাজ এবং হত্যার (আগের) নামাজ। প্রথমটির ক্ষেত্রে নিয়ত নির্দিষ্ট করা শর্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও এর কোনো নির্দিষ্ট সময় বা কারণ নেই। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে একটি পরবর্তী কারণ থাকে যেমন ইহরাম; সুতরাং এতে নির্দিষ্টকরণ শর্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে।এর মধ্যে আরও রয়েছে: মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ের গাফলত নামাজ, সফরে বের হওয়ার সময় নিজ ঘরে আদায়কৃত নামাজ, এবং মুসাফির যখন কোনো স্থানে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে বিদায় নিতে চায়, তখন দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে বিদায় জানানো মুস্তাহাব। এসব ক্ষেত্রে বাহ্যিক সিদ্ধান্ত হলো নির্দিষ্টকরণ শর্ত নয়; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো নামাজের মাধ্যমে সময় বা স্থানকে মাশগুল রাখা, যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আমি এই সবগুলোর ব্যাপারে কাউকে আলোচনা করতে দেখিনি।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: রোজা। মাযহাবের স্পষ্ট মত—যা ফকিহগণ নিশ্চিত করেছেন—তা হলো রোজার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণ শর্ত, যাতে রমজানকে কাজা, মান্নত, কাফফারা এবং ফিদয়া থেকে পৃথক করা যায়। আল-হালীমি থেকে একটি মত বর্ণিত আছে যে রমজানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণ শর্ত নয়, ইমাম নববী তা উল্লেখ করেছেন, তবে এটি শায (বিচ্ছিন্ন) এবং প্রত্যাখ্যাত। হ্যাঁ, মাযহাব অনুযায়ী বছরের উল্লেখ করা শর্ত নয়। নামাজের ক্ষেত্রে এর সদৃশ বিষয় হলো যে দিনের নাম উল্লেখ করা শর্ত নয়, আদায় বা কাজা কোনোটির ক্ষেত্রেই নয়। সুতরাং যোহরের ফউত হওয়া নামাজ বলাই যথেষ্ট, 'বৃহস্পতিবার' বলা শর্ত নয়। আর সুন্নতে মুয়াক্কাদার ক্ষেত্রে আগে যা আলোচনা করা হয়েছে, সেই কিয়াস অনুযায়ী রোজার ক্ষেত্রেও নিয়মিত রোজা যেমন আরাফা, আশুরা এবং আইয়ামে বীজের রোজায় নির্দিষ্টকরণ শর্ত হওয়া উচিত। তিনি (ইমাম নববী) এটি শরহুল মুহাযযাবে আলোচনার খাতিরে উল্লেখ করেছেন কিন্তু এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পাননি। এটিই সুস্পষ্ট, যদি না আমরা বলি যে কোনো রোজার মাধ্যমেই তা আদায় হয়ে যাবে যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদের ক্ষেত্রে হয়, যা সামনে বারিজী থেকে বর্ণিত হবে।নিয়মিত নফল রোজার মতোই হলো কারণ-সংশ্লিষ্ট রোজা, আর তা হলো ইস্তিসকার (বৃষ্টি কামনার) সময় নির্দেশিত দিনগুলো। দ্বিতীয় প্রকার থেকে বলছি—অর্থাৎ যেসবে নির্দিষ্টকরণ শর্ত নয়: পবিত্রতা অর্জনসমূহ, হজ ও ওমরাহ; কারণ যদি এগুলো ছাড়া অন্য কিছুর নিয়তও করা হয় তবুও তা এগুলোর দিকেই ফিরে আসে। যাকাত ও কাফফারার ক্ষেত্রেও অনুরূপ।মূলনীতি:শায়খ 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থে বলেছেন: প্রতিটি ক্ষেত্র যেখানে ফরজের নিয়ত করা আবশ্যক, সেখানে নির্দিষ্ট করাও আবশ্যক; কেবল বিশুদ্ধ মতানুসারে ফরজের জন্য তায়াম্মুম করা ব্যতিরেকে। [মূলনীতি: যা নির্দিষ্ট করা শর্ত নয় তা নির্দিষ্ট করতে গিয়ে ভুল করা]মূলনীতি:যে বিষয়টি সমষ্টিগত বা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা শর্ত নয়, সেটি নির্দিষ্ট করতে গিয়ে ভুল করলে কোনো ক্ষতি হবে না। যেমন—নামাজের স্থান ও সময় নির্ধারণে ভুল করা, ইমাম তার পেছনে কে নামাজ পড়ছে তা নির্ধারণে ভুল করা, মেঘাচ্ছন্ন দিনে নামাজ পড়া, অথবা বন্দি ব্যক্তির রোজা রাখা এবং আদায় বা কাজার নিয়ত করা অথচ পরে বিপরীতটি প্রকাশ পাওয়া। আর যেসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণ শর্ত, সেখানে ভুল করা আমলকে বাতিল করে দেয়। যেমন—রোজার পরিবর্তে নামাজের নিয়ত করা বা এর বিপরীত করা, অথবা যোহরের নামাজের পরিবর্তে আসরের নিয়ত করা।এবং যে বিষয়টি সমষ্টিগতভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক কিন্তু বিস্তারিতভাবে নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, সেটি যদি কেউ বিস্তারিতভাবে নির্দিষ্ট করতে গিয়ে ভুল করে, তবে তা ক্ষতির কারণ হবে। এর অধীনে অনেকগুলো শাখা মাসআলা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَحَدهَا: نَوَى الِاقْتِدَاء بِزَيْدٍ، فَبَانَ عَمْرًا لَمْ يَصِحّ.الثَّانِي: نَوَى الصَّلَاة عَلَى زَيْدٍ فَبَانَ عَمْرًا، أَوْ عَلَى رَجُل فَكَانَ امْرَأَة أَوْ عَكْسه لَمْ تَصِحّ، وَمَحِلّه فِي الصُّورَتَيْنِ: مَا لَمْ يُشِرْ، كَمَا سَيَأْتِي فِي مَبْحَث الْإِشَارَة، وَقَالَ السُّبْكِيُّ فِي الصُّورَة الْأُولَى: يَنْبَغِي بُطْلَان نِيَّة الِاقْتِدَاءِ لَا نِيَّة الصَّلَاة، ثُمَّ إذَا تَابَعَهُ خَرَجَ عَلَى مُتَابَعَة مَنْ لَيْسَ بِإِمَامٍ، بَلْ يَنْبَغِي هُنَا الصِّحَّة وَجُعِلَ ظَنّه عُذْرًا، وَتَابَعَهُ فِي الْمُهِمَّاتِ عَلَى هَذَا الْبَحْث، وَأُجِيب بِأَنَّهُ قَدْ يُقَال: فَرْض الْمَسْأَلَة حُصُول الْمُتَابَعَة، فَإِنَّ ذَلِكَ شَأْن مَنْ يَنْوِي الِاقْتِدَاءَ، وَالْأَصَحّ فِي مُتَابَعَة مَنْ لَيْسَ بِإِمَامِ الْبُطْلَانِ.الثَّالِثُ لَا يُشْتَرَطُ تَعْيِينُ عَدَدِ الرَّكَعَاتِ، فَلَوْ نَوَى الظُّهْرَ خَمْسًا أَوْ ثَلَاثًا، لَمْ يَصِحَّ لَكِنْ قَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: إنَّمَا فَرَضَ الرَّافِعِيُّ فِي الْمَسْأَلَةِ فِي الْعِلْم، فَيُؤْخَذ مِنْهُ أَنَّهُ لَا يُؤَثِّر عِنْد الْغَلَط.قُلْت: ذَكَرَ النَّوَوِيُّ الْمَسْأَلَة فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ فِي بَاب الْوُضُوء، وَفَرَضَهَا فِي الْغَلَط فَقَالَ: وَلَوْ غَلِطَ فِي عَدَد الرَّكَعَات، فَنَوَى الظُّهْر ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا، قَالَ أَصْحَابنَا: لَا يَصِحُّ ظُهْره، هَذِهِ عِبَارَته، وَيُؤَيِّدهُ تَعْلِيله الْبُطْلَان فِي بَاب الصَّلَاة بِتَقْصِيرِهِ.وَنَظِير هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ: مَنْ صَلَّى عَلَى مَوْتَى، لَا يَجِب تَعْيِين عَدَدهمْ وَلَا مَعْرِفَته، فَلَوْ اعْتَقَدَهُمْ عَشَرَةً فَبَانُوا أَكْثَر، أَعَادَ الصَّلَاة عَلَى الْجَمِيع لِأَنَّ فِيهِمْ مَنْ لَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ، وَهُوَ غَيْرُ مُعَيَّن، قَالَهُ فِي الْبَحْرِ. قَالَ: وَإِنْ بَانُوا أَقَلّ، فَالْأَظْهَر الصِّحَّة، وَيُحْتَمَل خِلَافه لِأَنَّ النِّيَّة قَدْ بَطُلَتْ فِي الزَّائِد لِكَوْنِهِ مَعْدُومًا، فَتَبْطُلُ فِي الْبَاقِي.الرَّابِع: نَوَى قَضَاء ظُهْر يَوْم الِاثْنَيْنِ، وَكَانَ عَلَيْهِ ظُهْر يَوْم الثُّلَاثَاء، لَمْ يُجْزِئْهُ.الْخَامِس: نَوَى لَيْلَة الِاثْنَيْنِ صَوْم يَوْم الثُّلَاثَاء، أَوْ فِي سَنَة أَرْبَع صَوْم رَمَضَان سَنَة ثَلَاث، لَمْ يَصِحّ بِلَا خِلَاف.السَّادِس: عَلَيْهِ قَضَاء يَوْم الْأَوَّل مِنْ رَمَضَان، فَنَوَى قَضَاء الْيَوْم الثَّانِي، لَمْ يُجْزِئْهُ عَلَى الْأَصَحّ.السَّابِع: عَيَّنَ زَكَاة مَالِهِ الْغَائِب، فَكَانَ تَالِفًا لَمْ يُجْزِئْهُ عَنْ الْحَاضِر.الثَّامِن: نَوَى كَفَّارَة الظِّهَار فَكَانَ عَلَيْهِ كَفَّارَة قَتْل لَمْ يُجْزِئهُ.التَّاسِع: نَوَى دَيْنًا، وَبَانَ أَنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ، لَمْ يَقَع عَنْ غَيْرِهِ، ذَكَرَهُ السُّبْكِيُّ، وَخَرَجَ عَنْ ذَلِكَ صُوَرٌ:مِنْهَا: لَوْ نَوَى رَفْعَ حَدَث النَّوْم، مَثَلًا، وَكَانَ حَدَثه غَيْره، أَوْ رَفَعَ جَنَابَة الْجِمَاع وَجَنَابَته بِاحْتِلَامِ، أَوْ عَكْسه، أَوْ رَفَعَ حَدَث الْحَيْض وَحَدَثهَا الْجَنَابَة، أَوْ عَكْسه، خَطَأ لَمْ يَضُرّ وَصَحَّ الْوُضُوء وَالْغُسْل فِي الْأَصَحّ.وَاعْتُذِرَ عَنْ خُرُوج ذَلِكَ عَنْ الْقَاعِدَة بِأَنَّ النِّيَّة فِي الْوُضُوء وَالْغُسْل لَيْسَتْ لِلْقُرْبَةِ، بَلْ
প্রথমটি: কেউ জায়েদকে অনুসরণ করার নিয়ত করল, কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে সে আমর ছিল, তবে তা সহীহ হবে না।দ্বিতীয়টি: কেউ জায়েদের জানাজা পড়ার নিয়ত করল কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে সে আমর ছিল, অথবা কোনো পুরুষের নিয়ত করল কিন্তু সে নারী ছিল কিংবা এর বিপরীত, তবে তা সহীহ হবে না। আর উভয় সুরতেই এটি ঐ সময়ের জন্য প্রযোজ্য যখন ইশারা করা না হয়, যেমনটি ইশারার পরিচ্ছেদে সামনে আসবে। আর সুবকী প্রথম সুরতে বলেছেন: ইক্তিদার (অনুসরণের) নিয়ত বাতিল হওয়া উচিত, নামাযের নিয়ত নয়। অতঃপর যদি সে তাকে অনুসরণ করে তবে তা এমন ব্যক্তিকে অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে হবে যে ইমাম নয়। বরং এখানে সহীহ হওয়া এবং তার ধারণাকে ওজর হিসেবে গণ্য করা উচিত। 'মুহিম্মাত' গ্রন্থে এই পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করা হয়েছে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, কখনও বলা হতে পারে: মাসআলাটির ভিত্তি হলো অনুসরণের বাস্তবতা পাওয়া যাওয়া, কারণ যারা ইক্তিদার নিয়ত করে তাদের অবস্থা এমনই হয়। আর ইমাম নয় এমন ব্যক্তিকে অনুসরণের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম মত হলো বাতিল হওয়া।তৃতীয়টি: রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়। সুতরাং কেউ যদি যোহরের পাঁচ বা তিন রাকাতের নিয়ত করে, তবে তা সহীহ হবে না। তবে 'মুহিম্মাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: রাফেয়ী এই মাসআলাটি জানার ক্ষেত্রে আরোপ করেছেন। সুতরাং এখান থেকে বোঝা যায় যে, ভুলের ক্ষেত্রে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না।আমি বলছি: ইমাম নববী এই মাসআলাটি শরহুল মুহাযযাবের উযুর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং একে ভুলের ওপর আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন: যদি রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে ভুল করে যোহরের তিন বা পাঁচ রাকাতের নিয়ত করে, তবে আমাদের আসহাবগণ (শাফেয়ী ফকীহগণ) বলেছেন: তার যোহর সহীহ হবে না। এটিই তার ভাষ্য। আর নামাযের অধ্যায়ে তার অবহেলার কারণে বাতিল হওয়ার কারণ দর্শানো একে সমর্থন করে।আর এই মাসআলার সদৃশ হলো: যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিদের জানাজা পড়ল, তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা বা জানা ওয়াজিব নয়। সুতরাং যদি সে তাদের দশজন মনে করে কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে তারা বেশি ছিল, তবে সে সকলের ওপর পুনরায় নামায পড়বে। কারণ তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ওপর জানাজা পড়া হয়নি এবং সে অনির্দিষ্ট। এটি 'বাহর' গ্রন্থে বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন: আর যদি তারা সংখ্যায় কম হয়, তবে প্রকাশ্য মত (আযহার) হলো তা সহীহ হবে। এর বিপরীত সম্ভাবনাও আছে, কারণ অতিরিক্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে নিয়তটি বাতিল হয়ে গেছে যেহেতু তা অস্তিত্বহীন ছিল, তাই অবশিষ্টাংশেও তা বাতিল হয়ে যাবে।চতুর্থ: সোমবারের যোহর কাজার নিয়ত করল অথচ তার ওপর মঙ্গলবারের যোহর কাজা ছিল, তবে তা যথেষ্ট হবে না।পঞ্চম: সোমবার রাতে মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত করল, অথবা চতুর্থ বছরের রমজানের রোজার নিয়ত করতে গিয়ে তৃতীয় বছরের নিয়ত করল, তবে কোনো দ্বিমত ছাড়াই তা সহীহ হবে না।ষষ্ঠ: তার ওপর রমজানের প্রথম দিনের কাজা অবশিষ্ট ছিল, সে দ্বিতীয় দিনের কাজার নিয়ত করল, অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না।সপ্তম: তার অনুপস্থিত মালের যাকাত নির্দিষ্ট করল, কিন্তু তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তবে তা উপস্থিত মালের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না।অষ্টম: জিহারের কাফফারার নিয়ত করল অথচ তার ওপর হত্যার কাফফারা ছিল, তবে তা যথেষ্ট হবে না।নবম: কোনো ঋণের নিয়ত করল কিন্তু প্রকাশ পেল যে তার ওপর কোনো ঋণ নেই, তবে তা অন্য কোনো ঋণের পক্ষ থেকে আদায় হবে না। এটি সুবকী উল্লেখ করেছেন। আর এর থেকে কিছু সুরত ব্যতিক্রম হয়েছে:তার মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ ঘুমের কারণে হওয়া হদস (অজুহীনতা) দূর করার নিয়ত করে, উদাহরণস্বরূপ, কিন্তু তার হদস অন্য কিছুর কারণে হয়েছিল; অথবা সহবাসজনিত জানাবত (অপবিত্রতা) দূর করার নিয়ত করল অথচ তার জানাবত ছিল স্বপ্নদোষের কারণে, কিংবা এর বিপরীত; অথবা হায়যের হদস দূর করার নিয়ত করল অথচ তার হদস ছিল জানাবত, কিংবা এর বিপরীত; তবে ভুলবশত এমনটি করলে তা কোনো ক্ষতি করবে না এবং অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী উজু ও গোসল সহীহ হবে।আর মূলনীতি থেকে এর ব্যতিক্রম হওয়ার ওজর হিসেবে বলা হয়েছে যে, উজু ও গোসলের নিয়ত কেবল আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নয়, বরং...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لِلتَّمْيِيزِ، بِخِلَافِ تَعْيِين الْإِمَام وَالْمَيِّت مَثَلًا، وَبِأَنَّ الْأَحْدَاث وَإِنْ تَعَدَّدَتْ أَسْبَابهَا فَالْمَقْصُود مِنْهَا وَاحِد وَهُوَ الْمَنْع مِنْ الصَّلَاة، وَلَا أَثَر لِأَسْبَابِهَا مِنْ نَوْمٍ أَوْ غَيْره. وَمِنْهَا: مَا لَوْ نَوَى الْمُحْدِث رَفْع الْأَكْبَر غَالِطًا فَإِنَّهُ يَصِحّ كَمَا ذَكَرَهُ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَلَمْ يَسْتَحْضِرهُ الْإِسْنَوِيُّ وَمَنْ تَابَعَهُ فَنَقَلُوهُ عَنْ الْمُحِبِّ الطَّبَرِيِّ وَعِبَارَة شَرْحِ الْمُهَذَّبِ لَوْ نَوَى الْمُحْدِث غَسْل أَعْضَائِهِ الْأَرْبَعَة عَنْ الْجَنَابَة غَلَطًا ظَانًّا أَنَّهُ جُنُبٌ صَحَّ وُضُوءُهُ، وَأَمَّا عَكْسه، وَهُوَ أَنْ يَنْوِي الْجُنُب رَفْع الْأَصْغَر غَلَطًا فَالْأَصَحّ أَنَّهُ يَرْتَفِع عَنْ الْوَجْه وَالْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ فَقَطْ دُون الرَّأْس ; لِأَنَّ فَرْضهَا فِي الْأَصْغَر الْمَسْح فَيَكُون هُوَ الْمَنْوِيّ دُون الْغَسْل، وَالْمَسْح لَا يُغْنِي عَنْ الْغُسْل.وَمِنْهَا: إذَا قُلْنَا بِاشْتِرَاطِ نِيَّة الْخُرُوج مِنْ الصَّلَاة، لَا يُشْتَرَط تَعْيِين الصَّلَاة الَّتِي يَخْرُج مِنْهَا، فَلَوْ عَيَّنَ غَيْر الَّتِي هُوَ فِيهَا خَطَأً، لَمْ يَضُرّ، بَلْ يَسْجُد لِلسَّهْوِ وَيُسَلِّم ثَانِيًا، أَوْ عَمْدًا بَطَلَتْ صَلَاته. وَإِنْ قُلْنَا بِعَدَمِ وُجُوبهَا، لَمْ يَضُرّ الْخَطَأ فِي التَّعْيِين مُطْلَقًا.تَنْبِيهٌ:أَمَّا لَوْ وَقَعَ الْخَطَأُ فِي الِاعْتِقَادِ دُونَ التَّعْيِينِ فَإِنَّهُ لَا يَضُرُّ، كَأَنْ يَنْوِي لَيْلَةَ الِاثْنَيْنِ صَوْم غَدٍ، وَهُوَ يَعْتَقِدهُ الثُّلَاثَاء، أَوْ يَنْوِي صَوْم غَدٍ مِنْ رَمَضَان هَذِهِ السَّنَة وَهُوَ يَعْتَقِدهَا سَنَة ثَلَاث. فَكَانَتْ سَنَة أَرْبَع، فَإِنَّهُ يَصِحّ صَوْمه.وَنَظِيره فِي الِاقْتِدَاء: أَنْ يَنْوِي الِاقْتِدَاءَ بِالْحَاضِرِ مَعَ اعْتِقَاد أَنَّهُ زَيْدٌ، وَهُوَ عَمْرو فَإِنَّهُ يَصِحّ قَطْعًا، صَرَّحَ بِهِ الرُّويَانِيُّ فِي الْبَحْرِ. وَفِي الصَّلَاة: لَوْ أَدَّى الظُّهْر فِي وَقْتهَا، مُعْتَقِدًا أَنَّهُ يَوْم الِاثْنَيْنِ فَكَانَ الثُّلَاثَاء صَحَّ، نَقَلَهُ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ عَنْ الْبَغَوِيِّ قَالَ: وَلَوْ غَلِطَ فِي الْأَذَان، فَظَنَّ أَنَّهُ يُؤَذِّن لِلظُّهْرِ، وَكَانَتْ الْعَصْر فَلَا أَعْلَم فِيهِ نَقْلًا، وَيَنْبَغِي أَنْ يَصِحّ ; لِأَنَّ الْمَقْصُود الْإِعْلَام مِمَّنْ هُوَ أَهْله، وَقَدْ حَصَلَ.وَلَوْ تَيَمَّمَ مُعْتَقِدًا أَنَّ حَدَثه أَصْغَر، فَبَانَ أَكْبَر، أَوْ عَكْسه يَصِحّ، وَلَوْ طَافَ الْحَاجّ مُعْتَقِدًا أَنَّهُ مُحْرِم بِعُمْرَةٍ، أَوْ عَكْسه أَجْزَأَهُ.تَنْبِيهٌ:مِنْ الْمُشْكِل عَلَى مَا قَرَّرْنَاهُ مَا صَحَّحُوهُ مِنْ أَنَّ الَّذِي أَدْرَكَ الْإِمَام فِي الْجُمُعَةِ بَعْد رُكُوع الثَّانِيَة يَنْوِي الْجُمُعَة مَعَ أَنَّهُ إنَّمَا يُصَلِّي الظُّهْر، وَعَلَّلَهُ الرَّافِعِيُّ بِمُوَافَقَةِ الْإِمَام، قَالَ الْإِسْنَوِيُّ: وَلَا يَخْفَى ضَعْف هَذَا التَّعْلِيل، بَلْ الصَّوَاب مَا ذَكَرُوهُ فِيمَنْ لَا عُذْر لَهُ، إذَا تَرَكَ الْإِحْرَامَ بِالْجُمُعَةِ، حَتَّى رَفَعَ الْإِمَام مِنْ الرَّكْعَة الثَّانِيَة، ثُمَّ أَرَادَ الْإِحْرَام بِالظُّهْرِ قَبْل السَّلَام، فَإِنَّهُمْ قَالُوا: إنَّ الْأَصَحّ عَدَم انْعِقَادهَا، وَعَلَّلُوهُ بِأَنَّا تَيَقَّنَا انْعِقَاد الْجُمُعَة وَشَكَكْنَا فِي فَوَاتِهَا ; إذْ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْإِمَامُ قَدْ تَرَكَ رُكْنًا مِنْ الرَّكْعَةِ الْأُولَى وَيَتَذَكَّرهُ قَبْل السَّلَام، فَيَأْتِي بِهِ، وَعَلَى هَذَا فَلَيْسَ لَنَا مَنْ يَنْوِي غَيْر مَا يُؤَدِّي إلَّا فِي هَذِهِ الصُّورَة.
পার্থক্য করার জন্য, যেমন ইমাম বা মৃত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি এর বিপরীত। এছাড়া অজু ভঙ্গের কারণসমূহ বহুবিধ হলেও সেগুলোর উদ্দেশ্য একই, আর তা হলো সালাত আদায়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করা। ঘুম বা অন্য কোনো কারণ এতে কোনো প্রভাব ফেলে না। এগুলোর মধ্যে একটি হলো: যদি কোনো ব্যক্তি অজু ভঙ্গের অবস্থায় ভুলবশত বড় অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তবে তা সহিহ হবে, যেমনটি শারহুল মুহাযযাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসনাভি এবং তাঁর অনুসারীরা বিষয়টি স্মরণে রাখেননি, তাই তাঁরা এটি মুহিব্বুত তাবারির বরাতে উল্লেখ করেছেন। শারহুল মুহাযযাবের বক্তব্য হলো: যদি কোনো ব্যক্তি ভুলবশত নিজেকে অপবিত্র মনে করে জানাবাত থেকে তার চারটি অঙ্গ ধৌত করার নিয়ত করে অথচ সে কেবল অজুহীন ছিল, তবে তার অজু সহিহ হবে। তবে এর বিপরীতটি অর্থাৎ জুনুব ব্যক্তি যদি ভুলবশত ছোট অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী কেবল তার মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা থেকে অপবিত্রতা দূর হবে, মাথা থেকে নয়; কারণ ছোট অপবিত্রতায় মাথার বিধান হলো মাসেহ করা, ফলে কেবল মাসেহ-ই তার নিয়তে অন্তর্ভুক্ত হবে, ধৌত করা নয়। আর মাসেহ করা গোসলের জন্য যথেষ্ট নয়।এর আরেকটি হলো: আমরা যদি সালাত থেকে বের হওয়ার নিয়ত শর্ত হিসেবে গণ্য করি, তবে যে সালাত থেকে বের হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়। সুতরাং যদি ভুলবশত সে যে সালাতে আছে তা ছাড়া অন্যটির নিয়ত করে, তবে তা কোনো ক্ষতি করবে না, বরং সাহু সিজদা দিয়ে দ্বিতীয়বার সালাম ফেরাবে। আর যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি আমরা সালাত থেকে বের হওয়ার নিয়তকে ওয়াজিব না বলি, তবে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া মোটেও ক্ষতিকর হবে না।সতর্কীকরণ:যদি ভুলটি কেবল বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হয় কিন্তু নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে না হয়, তবে তা কোনো ক্ষতি করবে না। যেমন কেউ সোমবার রাতে আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করল অথচ সে ভাবছে যে আগামীকাল মঙ্গলবার। অথবা কেউ চলতি বছরের রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করল অথচ সে ভাবছে এটি তিন হিজরি সন, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল চার হিজরি সন; তবে তার রোজা সহিহ হবে।ইমামের অনুসরণের ক্ষেত্রে এর সদৃশ উদাহরণ হলো: উপস্থিত ইমামের অনুসরণের নিয়ত করা অথচ মনে করা যে তিনি যায়েদ, কিন্তু বাস্তবে তিনি আমর; তবে এটি নিশ্চিতভাবেই সহিহ হবে, রুইয়ানি 'আল-বাহর' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সালাতের ক্ষেত্রে: কেউ যদি সময়মতো যোহরের সালাত আদায় করে এই বিশ্বাসে যে আজ সোমবার, কিন্তু বাস্তবে তা মঙ্গলবার হয়, তবে তা সহিহ হবে। শারহুল মুহাযযাবে বাগাভির বরাতে এটি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন: যদি কেউ আজানে ভুল করে এই ধারণা করে যে সে যোহরের আজান দিচ্ছে অথচ তা আসরের সময় ছিল, তবে এ ব্যাপারে আমার কোনো উদ্ধৃতি জানা নেই; তবে তা সহিহ হওয়া উচিত, কারণ এর উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে সময় জানানো, যা অর্জিত হয়েছে।যদি কেউ তায়াম্মুম করে এই বিশ্বাসে যে তার ছোট অপবিত্রতা রয়েছে, এরপর প্রকাশ পায় যে তার বড় অপবিত্রতা ছিল, অথবা এর বিপরীত হয়, তবে তা সহিহ হবে। যদি কোনো হাজি ব্যক্তি ওমরার ইহরামে আছেন মনে করে তাওয়াফ করেন অথচ তিনি হজের ইহরামে ছিলেন বা এর বিপরীত হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে।সতর্কীকরণ:আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি তার ওপর একটি জটিলতা হলো ফুকাহাগণ যে বিষয়টিকে সহিহ বলেছেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমার দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর পরে ইমামকে পেল, সে জুমার নিয়ত করবে অথচ সে মূলত যোহরের সালাত আদায় করছে। রাফেয়ি এর কারণ হিসেবে ইমামের সাথে একমত হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। ইসনাভি বলেন: এই কারণটির দুর্বলতা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। বরং সঠিক হলো যা তারা ওজরহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন; যখন সে জুমার ইহরাম বাঁধা বর্জন করে যতক্ষণ না ইমাম দ্বিতীয় রাকাত থেকে মাথা উঠান, এরপর সে সালামের আগে যোহরের ইহরাম বাঁধতে চায়, তখন ফুকাহাগণ বলেছেন: বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী তার সালাত শুরু হবে না। তাঁরা এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, জুমার সালাত শুরু হওয়া সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত এবং তা ছুটে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা সন্দিহান; কারণ সম্ভাবনা আছে যে ইমাম প্রথম রাকাতের কোনো রুকন ছেড়ে দিয়েছেন এবং সালামের আগে তা তাঁর মনে পড়েছে, ফলে তিনি তা আদায় করবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সামনে এমন কেউ নেই যে যা আদায় করছে তা ভিন্ন অন্য কিছুর নিয়ত করে, কেবল এই ক্ষেত্রটি ছাড়া।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[الْأَمْر الثَّالِث: مِمَّا يَتَرَتَّب عَلَى مَا شُرِعَتْ النِّيَّة لِأَجْلِهِ التَّمْيِيز]الْأَمْر الثَّالِث: مِمَّا يَتَرَتَّب عَلَى مَا شُرِعَتْ النِّيَّة لِأَجْلِهِ.وَهُوَ التَّمْيِيز اشْتِرَاطُ التَّعَرُّض لِلْفَرْضِيَّةِ وَفِي وُجُوبهَا فِي الْوُضُوء، وَالْغُسْل، وَالصَّلَاة، وَالزَّكَاة، وَالصَّوْم، وَالْخُطْبَة، وَجْهَانِ، وَالْأَصَحّ اشْتِرَاطهَا فِي الْغُسْل دُون الْوُضُوء ; لِأَنَّ الْغُسْل قَدْ يَكُون عَادَة، وَالْوُضُوء لَا يَكُون إلَّا عِبَادَة.وَوَجْه اشْتِرَاطهَا فِي الْوُضُوء أَنَّهُ قَدْ يَكُون تَجْدِيدًا، فَلَا يَكُونُ فَرْضًا، وَهُوَ قَوِيٌّ وَفِي الصَّلَاة دُون الصَّوْم ; لِأَنَّ الظُّهْر تَقَع مَثَلًا نَفْلًا كَالْمُعَادَةِ، وَصَلَاة الصَّبِيِّ، وَرَمَضَان، لَا يَكُون مِنْ الْبَالِغ إلَّا فَرْضًا فَلَمْ يُحْتَجْ إلَى التَّقْيِيد بِهِ.وَأَمَّا الزَّكَاة، فَالْأَصَحّ الِاشْتِرَاط فِيهَا إنْ أَتَى بِلَفْظِ الصَّدَقَة، وَعَدَمه إنْ أَتَى بِلَفْظِ الزَّكَاة ; لِأَنَّ الصَّدَقَة قَدْ تَكُون فَرْضًا وَقَدْ تَكُون نَفْلًا فَلَا يَكْفِي مُجَرَّدهَا، وَالزَّكَاة لَا تَكُون إلَّا فَرْضًا لِأَنَّهَا اسْم لِلْفَرْضِ الْمُتَعَلِّق بِالْمَالِ، فَلَا حَاجَة إلَى تَقْيِيدهَا بِهِ. وَأَمَّا الْحَجّ وَالْعُمْرَة فَلَا يُشْتَرَط فِيهِمَا بِلَا خِلَاف لِأَنَّهُ لَوْ نَوَى النَّفَل انْصَرَفَ إلَى الْفَرْض، وَيُشْتَرَط فِي الْكَفَّارَات بِلَا خِلَاف لِأَنَّ الْعِتْق أَوْ الصَّوْم أَوْ الْإِطْعَام يَكُون فَرْضًا وَنَفْلًا.إذَا عَرَفْت ذَلِكَ ; فَقَوْل ابْنِ الْقَاصِّ فِي التَّلْخِيصِ: لَا يَجْزِي فَرْض بِغَيْرِ نِيَّة فَرْض إلَّا فِي ثَلَاثَةٍ: الْحَجِّ، وَالْعُمْرَةِ، وَالزَّكَاةِ. يُزَادُ عَلَيْهِ: وَالْوُضُوءِ وَالصَّوْمِ فَتَصِيرُ خَمْسَة، وَسَادِس: وَهُوَ الْجَمَاعَة فَإِنَّهَا فَرْض، وَلَا يُشْتَرَط فِي نِيَّتهَا الْفَرْضِيَّة. وَسَابِع وَهُوَ الْخُطْبَة إنْ قُلْنَا بِاشْتِرَاطِ نِيَّتهَا وَبِعَدَمِ فَرْضِيَّتهَا. وَإِنْ شِئْت قُلْت: الْعِبَادَات فِي التَّعَرُّض لِلْفَرْضِيَّةِ عَلَى أَرْبَعَة أَقْسَام: مَا يُشْتَرَط فِيهِ بِلَا خِلَاف، وَهُوَ الْكَفَّارَات: مَا لَا يُشْتَرَط فِيهِ بِلَا خِلَاف، وَهُوَ الْحَجّ وَالْعُمْرَة وَالْجَمَاعَة. وَمَا يُشْتَرَط فِيهِ عَلَى الْأَصَحِّ، وَهُوَ الْغُسْل وَالصَّلَاة وَالزَّكَاة بِلَفْظِ الصَّدَقَة. وَمَا لَا يَشْتَرِط فِيهِ عَلَى الْأَصَحّ، وَهُوَ الْوُضُوء وَالصَّوْم وَالزَّكَاة بِلَفْظِهَا وَالْخُطْبَة.تَنْبِيهَات الْأَوَّل:لَا خِلَاف أَنَّ التَّعَرُّض لِنِيَّةِ الْفَرْضِيَّة فِي الْوُضُوء أَكْمَل، إذَا لَمْ نُوجِبهُ، وَفِيهِ إشْكَال إذَا وَقَعَ قَبْل الْوَقْت، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْوُضُوء لَا يَجِب بِالْحَدَثِ.وَجَوَابه: أَنَّ الْمُرَاد بِهَا فِعْل طَهَارَة الْحَدَث الْمَشْرُوطَة فِي صِحَّة الصَّلَاة، وَشَرْط الشَّيْء يُسَمَّى فَرْضًا مِنْ حَيْثُ إنَّهُ لَا يَصِحّ إلَّا بِهِ، وَلَوْ كَانَ الْمُرَاد حَقِيقَة الْفَرْضِيَّة، لَمَا صَحَّ وُضُوء الصَّبِيّ بِهَذِهِ النِّيَّة.الثَّانِي: يَخْتَصّ وُجُوب نِيَّة الْفَرْضِيَّة فِي الصَّلَاة بِالْبَالِغِ، أَمَّا الصَّبِيّ فَنَقَلَ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ عَنْ الرَّافِعِيّ أَنَّهُ كَالْبَالِغِ، ثُمَّ قَالَ إنَّهُ ضَعِيف وَالصَّوَاب أَنَّهُ لَا يُشْتَرَط
[তৃতীয় বিষয়: যে উদ্দেশ্যে নিয়তের বিধান করা হয়েছে, তারই একটি আনুষঙ্গিক ফলাফল হলো স্বতন্ত্রকরণ (তাময়িয)]তৃতীয় বিষয়: যে উদ্দেশ্যে নিয়তের বিধান করা হয়েছে, তারই একটি আনুষঙ্গিক ফলাফল।আর তা হলো ‘তাময়িয’ বা স্বতন্ত্রকরণ—অর্থাৎ (ইবাদতটি যে) ফরজ—একথা উল্লেখ করার শর্তারোপ। ওজু, গোসল, নামাজ, জাকাত, রোজা এবং খুতবার ক্ষেত্রে এটি ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে দুটি অভিমত রয়েছে। অধিকতর সহিহ (অসহ) মত হলো, গোসলের ক্ষেত্রে এটি শর্ত, কিন্তু ওজুর ক্ষেত্রে নয়; কারণ গোসল অনেক সময় অভ্যাসগত হতে পারে, কিন্তু ওজু ইবাদত ছাড়া আর কিছুই হয় না।ওজুতে এটি শর্ত হওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি হলো, ওজু কখনো নবায়ন (তাজদিদ) হতে পারে, সেক্ষেত্রে তা ফরজ নয়; আর এই যুক্তিটি বেশ শক্তিশালী। নামাজের ক্ষেত্রেও (এটি শর্ত), কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে নয়; কারণ জোহরের নামাজ যেমন কখনো নফল হিসেবে সংঘটিত হতে পারে—যেমন পুনঃআদায়ী নামাজ (মুয়াদা) এবং শিশুর নামাজ। পক্ষান্তরে বালেগ ব্যক্তির রমজানের রোজা কেবল ফরজই হয়ে থাকে, তাই এতে ‘ফরজ’ হিসেবে নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন নেই।আর জাকাতের ক্ষেত্রে অধিকতর সহিহ মত হলো—যদি ‘সাদকা’ শব্দ ব্যবহার করা হয় তবে (ফরজ হওয়ার নিয়ত) শর্ত, আর যদি ‘জাকাত’ শব্দ ব্যবহার করা হয় তবে তা শর্ত নয়। কারণ সাদকা কখনো ফরজ হতে পারে আবার কখনো নফল হতে পারে, তাই কেবল সাদকা বলা যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে ‘জাকাত’ কেবল ফরজ হিসেবেই হয়, কারণ এটি মালের সাথে সম্পৃক্ত ফরজ বিধানের নাম, তাই এতে ফরজ হওয়ার কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি শর্ত নয়; কারণ যদি কেউ নফলের নিয়তেও ইহরাম বাঁধে তবে তা ফরজের দিকেই ফিরে যায়। আর কাফফারার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি শর্ত; কারণ দাস মুক্তি, রোজা রাখা বা খাদ্য দান করা ফরজও হতে পারে আবার নফলও হতে পারে।আপনি যখন এটি জানলেন, তখন ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে ইবনুল কাস-এর এই উক্তি—‘তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো ফরজ ইবাদতই ফরজের নিয়তে ছাড়া আদায় হবে না: হজ, ওমরাহ এবং জাকাত’—এর সাথে আরও যুক্ত হবে: ওজু এবং রোজা, ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচ। ষষ্ঠটি হলো জামাত; কেননা জামাত (আমাদের মতে) ফরজ হলেও এর নিয়তে ফরজ হওয়ার শর্ত রাখা হয় না। সপ্তমটি হলো খুতবা—যদি আমরা এর জন্য নিয়তের শর্ত বলি এবং এতে ফরজ হওয়ার উল্লেখ করা শর্ত না বলি। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: ফরজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ইবাদতসমূহ চার ভাগে বিভক্ত: ১. যাতে কোনো দ্বিমত ছাড়াই শর্ত; যথা: কাফফারা। ২. যাতে কোনো দ্বিমত ছাড়াই শর্ত নয়; যথা: হজ, ওমরাহ এবং জামাত। ৩. যাতে অধিকতর সহিহ মত অনুযায়ী শর্ত; যথা: গোসল, নামাজ এবং ‘সাদকা’ শব্দ দ্বারা জাকাত প্রদান। ৪. যাতে অধিকতর সহিহ মত অনুযায়ী শর্ত নয়; যথা: ওজু, রোজা, ‘জাকাত’ শব্দ দ্বারা জাকাত প্রদান এবং খুতবা।সতর্কীকরণসমূহ—প্রথম:এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, ওজুতে ফরজ হওয়ার নিয়ত করা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, যদিও আমরা তা ওয়াজিব মনে না করি। তবে ওয়াক্ত হওয়ার আগে ওজু করলে এতে একটি জটিলতা দেখা দেয়, যদি এ কথা মেনে নেওয়া হয় যে হদস (অপবিত্রতা) দ্বারা ওজু ওয়াজিব হয় না।এর উত্তর হলো: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামাজের শুদ্ধতার জন্য শর্তকৃত হদস থেকে পবিত্রতা অর্জন করা। আর কোনো জিনিসের শর্তকে ‘ফরজ’ বলা হয় এই দিক থেকে যে, তা ছাড়া ওই জিনিসটি শুদ্ধ হয় না। আর যদি এখানে ফরজিয়াতের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য হতো, তবে শিশুর ওজু এই নিয়তে সহিহ হতো না।দ্বিতীয়: নামাজের ক্ষেত্রে ফরজ হওয়ার নিয়তের আবশ্যকতা কেবল বালেগ ব্যক্তির জন্য। তবে শিশুর ক্ষেত্রে ‘শারহুল মুহাযযাব’ গ্রন্থে ইমাম রাফেয়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শিশু বালেগ ব্যক্তির মতোই; অতঃপর তিনি বলেছেন যে এটি দুর্বল এবং সঠিক হলো তা শর্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فِي حَقّه نِيَّة الْفَرْضِيَّة وَكَيْف يَنْوِيهَا وَصَلَاته لَا تَقَع فَرْضًا؟الثَّالِث: مِنْ الْمُشْكِل مَا صَحَّحَهُ الْأَكْثَرُونَ فِي الصَّلَاة الْمُعَادَة أَنْ يَنْوِيَ بِهَا الْفَرْضَ مَعَ قَوْلِهِمْ بِأَنَّ الْفَرْضَ أَوْلَى، وَلِذَلِكَ اخْتَارَ فِي زَوَائِدِ الرَّوْضَةِ وَشَرْحِ الْمُهَذَّبِ قَوْلَ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ: إنَّهُ يَنْوِي لِلظُّهْرِ أَوْ الْعَصْر مَثَلًا وَلَا يَتَعَرَّض لِلْفَرْضِ. قَالَ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ: وَهُوَ الَّذِي تَقْتَضِيهِ الْقَوَاعِد وَالْأَدِلَّة. وَقَالَ السُّبْكِيُّ: لَعَلَّ مُرَاد الْأَكْثَرِينَ أَنَّهُ يَنْوِي إعَادَة الصَّلَاة الْمَفْرُوضَة، حَتَّى لَا يَكُون نَفْلًا مُبْتَدَأً.الرَّابِع: لَا يَكْفِي فِي التَّيَمُّم نِيَّة الْفَرْضِيَّة فِي الْأَصَحّ: فَلَوْ نَوَى فَرْض التَّيَمُّم أَوْ التَّيَمُّم الْمَفْرُوض أَوْ فَرْض الطَّهَارَة لَمْ يَصِحّ، وَفِي وَجْه يَصِحّ كَالْوُضُوءِ، قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ: وَالْفَرْق أَنَّ الْوُضُوء مَقْصُود فِي نَفْسه وَلِهَذَا اُسْتُحِبَّ تَجْدِيدُهُ، بِخِلَافِ التَّيَمُّم.قُلْت: وَالْأَوْلَى أَنْ يُقَال: إنَّ التَّمْيِيزَ لَا يَحْصُل بِذَلِكَ ; لِأَنَّ التَّيَمُّم عَنْ الْحَدَث وَالْجَنَابَة فَرْض، وَصُورَته وَاحِدَة، بِخِلَافِ الْوُضُوء وَالْغُسْل، فَإِنَّهُمَا يَتَمَيَّزَانِ بِالصُّورَةِ.وَإِنَّمَا قُلْت هَذَا لِيَتَخَرَّج عَلَى قَاعِدَة التَّمْيِيز، كَمَا قَالَ الشَّيْخ عَزَّ الدِّينِ: إنَّمَا شُرِعَتْ النِّيَّة فِي التَّيَمُّم، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مُتَلَبِّسًا بِالْعَادَةِ، لِتَمْيِيزِ رُتْبَته، فَإِنَّ التَّيَمُّمَ عَنْ الْحَدَث الْأَصْغَر عَيْنُ التَّيَمُّم عَنْ الْأَكْبَر، وَهُمَا مُخْتَلِفَانِ.الْخَامِس: لَا يُشْتَرَط فِي الْفَرَائِض تَعْيِين فَرْض الْعَيْن بِلَا خِلَاف وَكَذَا صَلَاة الْجِنَازَة لَا يُشْتَرَطُ فِيهَا نِيَّة فَرْض الْكِفَايَة عَلَى الْأَصَحّ، وَالثَّانِي يُشْتَرَط، لِتَتَمَيَّز عَنْ فَرْض الْعَيْن. [الْأَمْر الرَّابِع: اشْتِرَاط الْأَدَاء وَالْقَضَاء]اشْتِرَاط الْأَدَاء وَالْقَضَاء. وَفِيهِمَا فِي الصَّلَاة أَوْجُه:أَحَدُهَا: الِاشْتِرَاط، وَاخْتَارَهُ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ، طَرْدًا لِقَاعِدَةِ الْحِكْمَةِ الَّتِي شُرِعَتْ لَهَا النِّيَّةُ ; لِأَنَّ رُتْبَة إقَامَة الْفَرْض فِي وَقْته تُخَالِف رُتْبَة تَدَارُك الْفَائِت، فَلَا بُدَّ مِنْ التَّعَرُّض فِي كُلٍّ مِنْهُمَا لِلتَّمْيِيزِ.وَالثَّانِي: تُشْتَرَط نِيَّة الْقَضَاء دُون الْأَدَاء ; لِأَنَّ الْأَدَاء يَتَمَيَّز بِالْوَقْتِ، بِخِلَافِ الْقَضَاء.وَالثَّالِث: إنْ كَانَ عَلَيْهِ فَائِتَة اشْتَرَطَ فِي الْمُؤَدَّاة نِيَّة الْأَدَاء، وَإِلَّا فَلَا، وَبِهِ قَطَعَ الْمَاوَرْدِيُّ.وَالرَّابِعُ: وَهُوَ الْأَصَحّ لَا يُشْتَرَطَانِ مُطْلَقًا، لِنَصِّ الشَّافِعِيِّ عَلَى صِحَّة صَلَاة الْمُجْتَهِد فِي يَوْم الْغَيْم، وَصَوْم الْأَسِير إذَا نَوَى الْأَدَاء، فَبَانَا بَعْد الْوَقْت. وَلِلْأَوَّلَيْنِ أَنْ يُجِيبُوا بِأَنَّهُمَا مَعْذُورَانِ، وَأَمَّا غَيْرُ الصَّلَاةِ فَقَلَّ مَنْ تَعَرَّضَ لَهُ.وَقَدْ بَسَطَ الْعَلَائِيُّ الْكَلَام فِي ذَلِكَ فِي كِتَابه (فَصْل الْقَضَاء فِي الْأَدَاء وَالْقَضَاء) فَقَالَ: مَا لَا يُوصَف مِنْ الْعِبَادَات بِأَدَاءٍ وَلَا قَضَاء، فَلَا رَيْب فِي أَنَّهُ لَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة أَدَاء وَلَا قَضَاء وَيَلْحَق بِذَلِكَ مَاله وَقْت مَحْدُود، وَلَكِنَّهُ لَا يَقْبَل الْقَضَاء كَالْجُمُعَةِ فَلَا يُحْتَاج فِيهَا إلَى نِيَّة الْأَدَاء إذْ لَا يَلْتَبِس بِهَا قَضَاء فَتَحْتَاج إلَى نِيَّة مُمَيِّزَة، وَأَمَّا سَائِر النَّوَافِل الَّتِي تُقْضَى، فَهِيَ كَبَقِيَّةِ الصَّلَوَات فِي جَرَيَان الْخِلَاف. وَأَمَّا الصَّوْم فَاَلَّذِي يَظْهَر تَرْجِيحه أَنَّ نِيَّة الْقَضَاء لَا بُدَّ مِنْهَا. وَقَدْ صَرَّحَ بِهِ
তার ক্ষেত্রে কি ফরজিয়্যাতের নিয়ত করা আবশ্যক এবং সে কীভাবে তা নিয়ত করবে যখন তার সালাত ফরজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে না?তৃতীয়ত: জটিল মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যা পুনরায় আদায়কৃত সালাতের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেম বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন। আর তা হলো এই যে, তাতে ফরজের নিয়ত করতে হবে, যদিও তারা বলেন যে (প্রথমবার আদায়কৃত) ফরজটিই অধিক অগ্রগণ্য। একারণেই 'জাওয়াইদুর রওদা' এবং 'শারহুল মুহাযযাব'-এ ইমামুল হারামাইনের মতটি গ্রহণ করা হয়েছে যে, মুসল্লি জোহর বা আসরের নিয়ত করবে কিন্তু ফরজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করবে না। 'শারহুল মুহাযযাব'-এ বলা হয়েছে: এটাই সেই মত যার দাবি করে বিভিন্ন মূলনীতি ও দলিলসমূহ। আল্লামা সুবকী বলেন: সম্ভবত অধিকাংশের উদ্দেশ্য হলো এই যে, সে ফরজ সালাতটি পুনরায় আদায়ের নিয়ত করবে, যাতে এটি প্রাথমিক নফল হিসেবে গণ্য না হয়।চতুর্থত: অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে ফরজিয়্যাতের নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। সুতরাং কেউ যদি তায়াম্মুমের ফরজ আদায়ের বা ফরজ তায়াম্মুমের অথবা পবিত্রতার ফরজের নিয়ত করে তবে তা সহিহ হবে না। একটি মতানুযায়ী ওযুর মতো এটিও সহিহ হবে। ইমামুল হারামাইন বলেন: পার্থক্য হলো, ওযু স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি উদ্দেশ্যমূলক ইবাদত এবং একারণেই তা নবায়ন করা মুস্তাহাব; কিন্তু তায়াম্মুমের বিষয়টি তেমন নয়।আমি বলি: এ কথা বলাই উত্তম যে, এর দ্বারা পার্থক্য সূচিত হয় না; কারণ হাদাস (ছোট অপবিত্রতা) ও জানাবাত (বড় অপবিত্রতা) থেকে তায়াম্মুম করা ফরজ এবং উভয়ের বাহ্যিক রূপ একই। কিন্তু ওযু ও গোসলের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এদের বাহ্যিক রূপের মাধ্যমেই পার্থক্য করা যায়।আমি এটি একারণেই বলেছি যাতে তা 'পার্থক্যকরণ' (তাময়িজ) সংক্রান্ত মূলনীতির আলোকে উদ্ভাবন করা যায়, যেমনটি শায়খ ইযযুদ্দিন বলেছেন: তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে নিয়ত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে—যদিও তাতে অভ্যাস বা ইবাদতের মিশ্রণের সম্ভাবনা নেই—এর মর্যাদাগত পার্থক্য করার জন্য। কেননা ছোট অপবিত্রতার তায়াম্মুম এবং বড় অপবিত্রতার তায়াম্মুম দেখতে হুবহু এক, অথচ উভয়ের মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন।পঞ্চমত: ফরজে আইন ইবাদতসমূহে এটি যে ফরজে আইন তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা সর্বসম্মতিক্রমে শর্ত নয়। অনুরূপভাবে জানাজার সালাতে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী 'ফরজে কিফায়া'র নিয়ত করা শর্ত নয়। দ্বিতীয় মতানুযায়ী এটি শর্ত, যাতে তা ফরজে আইন থেকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করা যায়। [চতুর্থ বিষয়: আদায় এবং কাজা শর্ত হওয়া প্রসঙ্গে]আদায় এবং কাজা শর্ত হওয়া প্রসঙ্গে। সালাতের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কয়েকটি মত রয়েছে:প্রথমত: শর্ত হওয়া। ইমামুল হারামাইন হিকমতের সেই মূলনীতি অনুসারে এটি বেছে নিয়েছেন যার জন্য নিয়ত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; কেননা যথাসময়ে ফরজ আদায়ের মর্যাদা এবং ছুটে যাওয়া সালাত পুনরুদ্ধারের (কাজা) মর্যাদা ভিন্ন। তাই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক।দ্বিতীয়ত: কাজার নিয়ত শর্ত হবে কিন্তু আদায়ের নিয়ত শর্ত নয়; কারণ আদায় ওয়াক্তের উপস্থিতির মাধ্যমেই স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত হয়, কিন্তু কাজার বিষয়টি তেমন নয়।তৃতীয়ত: যদি কারো জিম্মায় কাজা সালাত পাওনা থাকে, তবে বর্তমানে আদায়কৃত সালাতে 'আদায়'-এর নিয়ত করা শর্ত, অন্যথায় নয়। ইমাম মাওয়ার্দী এই মতটি নিশ্চিতভাবে প্রদান করেছেন।চতুর্থত: আর এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ মত যে, কোনোটিই (আদায় বা কাজা উল্লেখ করা) শর্ত নয়। কেননা ইমাম শাফিঈ মেঘাচ্ছন্ন দিনে কোনো ইজতিহাদকারীর সালাত এবং কোনো বন্দীর রোজা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট অভিমত দিয়েছেন, যখন তারা আদায়ের নিয়ত করে এবং পরে প্রকাশ পায় যে তারা ওয়াক্তের পরে তা আদায় করেছে। প্রথম দুটি মতের প্রবক্তারা এর উত্তরে বলতে পারেন যে, তারা ওজরগ্রস্ত বা অপারগ ছিলেন। তবে সালাত ব্যতীত অন্যান্য ইবাদত সম্পর্কে খুব কম আলেমই এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।আল্লামা আলাইয়্যী তার 'ফসলুল কাদা ফীল আদা ওয়াল কাদা' নামক কিতাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: যেসব ইবাদতকে আদায় বা কাজা দ্বারা বিশেষায়িত করা যায় না, সেগুলোতে আদায় বা কাজার নিয়ত প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর সাথে সেই সব ইবাদতও যুক্ত হবে যেগুলোর নির্দিষ্ট সময় রয়েছে কিন্তু তা কাজা করার সুযোগ নেই, যেমন জুমার সালাত। সুতরাং এতে আদায়ের নিয়ত করার প্রয়োজন নেই, কারণ এতে কাজার সাথে সংশয় হওয়ার অবকাশ নেই যে পার্থক্যকারী কোনো নিয়তের প্রয়োজন পড়বে। আর যেসব নফল সালাত কাজা করা হয়, সেগুলো এই মতভেদের ক্ষেত্রে অন্যান্য সালাতের মতোই। আর রোজার ক্ষেত্রে যা অগ্রাধিকারযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয় তা হলো কাজার নিয়ত অবশ্যই করতে হবে। বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فِي التَّتِمَّةِ، فَجَزَمَ بِاشْتِرَاطِ التَّعَرُّض فِيهِ لِنِيَّةِ الْقَضَاء دُون الْأَدَاء، لِتَمْيِيزِهِ بِالْوَقْتِ. انْتَهَى.قُلْت: وَقَدْ ذَكَرَ الشَّيْخَانِ فِي الصَّوْم الْخِلَاف فِي نِيَّة الْأَدَاءِ، وَبَقِيَ الْحَجّ وَالْعُمْرَة وَلَا شَكَّ أَنَّهُمَا لَا يُشْتَرَطَانِ فِيهِمَا ; إذْ لَوْ نَوَى بِالْقَضَاءِ الْأَدَاءَ لَمْ يَضُرُّهُ وَانْصَرَفَ إلَى الْقَضَاءِ، وَلَوْ كَانَ عَلَيْهِ قَضَاء حَجّ أَفْسَدَهُ فِي صِبَاهُ أَوْ رِقِّهِ، ثُمَّ بَلَغَ أَوْ عَتَقَ فَنَوَى الْقَضَاء، انْصَرَفَ إلَى حَجَّة الْإِسْلَام وَهِيَ الْأَدَاء.وَأَمَّا صَلَاة الْجِنَازَة: فَاَلَّذِي يَظْهَر أَنَّهُ يُتَصَوَّر فِيهَا الْأَدَاء وَالْقَضَاء لِأَنَّ وَقْتهَا مَحْدُود بِالدَّفْنِ، فَإِنْ صَحَّ أَنَّهَا بَعْده قَضَاء فَلَا يَبْعُد جَرَيَان الْخِلَاف فِيهِمَا.وَأَمَّا الْكَفَّارَة: فَنَصَّ الشَّافِعِيُّ فِي كَفَّارَة الظِّهَار عَلَى أَنَّهَا تَصِير قَضَاء إذَا جَامَعَ قَبْل أَدَائِهَا وَلَا شَكَّ فِي عَدَم الِاشْتِرَاط فِيهَا.وَأَمَّا الزَّكَاة: فَيُتَصَوَّر الْقَضَاء فِيهَا فِي زَكَاة الْفِطْر، وَالظَّاهِر أَيْضًا عَدَم الِاشْتِرَاط، وَإِذَا تَرَكَ رَمْيَ يَوْم النَّحْر أَوْ يَوْمًا آخَر تَدَارَكَهُ فِي بَاقِي الْأَيَّام، وَلَا دَمَ، وَهَلْ هُوَ أَدَاء أَوْ قَضَاء؟ سَيَأْتِي الْكَلَام فِيهِ فِي مَبْحَثه. [الْأَمْر الْخَامِس: مِمَّا يَتَرَتَّب عَلَى التَّمْيِيز الْإِخْلَاصُ]مِمَّا يَتَرَتَّب عَلَى التَّمْيِيز: الْإِخْلَاصُ وَمِنْ ثَمَّ لَمْ تُقْبَل النِّيَابَة ; لِأَنَّ الْمَقْصُود اخْتِبَار سِرّ الْعِبَادَة، قَالَ ابْنُ الْقَاصِّ وَغَيْرُهُ: لَا يَجُوز التَّوْكِيل فِي النِّيَّة إلَّا فِيمَا اقْتَرَنَتْ بِفِعْلٍ، كَتَفْرِقَةِ زَكَاة، وَذَبْح أُضْحِيَّة، وَصَوْم عَنْ الْمَيِّت وَحَجّ وَقَالَ بَعْض الْمُتَأَخِّرِينَ: الْإِخْلَاص أَمْر زَائِد عَلَى النِّيَّة لَا يَحْصُل بِدُونِهَا وَقَدْ تَحْصُل بِدُونِهِ، وَنَظَرُ الْفُقَهَاء قَاصِر عَلَى النِّيَّة، وَأَحْكَامهمْ إنَّمَا تَجْرِي عَلَيْهَا، وَأَمَّا الْإِخْلَاص فَأَمْره إلَى اللَّه، وَمِنْ ثَمَّ صَحَّحُوا عَدَم وُجُوبِ الْإِضَافَة إلَى اللَّه فِي جَمِيع الْعِبَادَات.ثُمَّ لِلتَّشْرِيكِ فِي النِّيَّة نَظَائِر ; وَضَابِطهَا أَقْسَامٌ: الْأَوَّلُ أَنْ يُنْوَى مَعَ الْعِبَادَةِ مَا لَيْسَ بِعِبَادَةٍ فَقَدْ يُبْطِلُهَا، وَيَحْضُرُنِي مِنْهُ صُورَةٌ وَهِيَ مَا إذَا ذَبَحَ الْأُضْحِيَّة لِلَّهِ وَلِغَيْرِهِ ; فَانْضِمَام غَيْره يُوجِب حُرْمَة الذَّبِيحَة ; وَيَقْرُب مِنْ ذَلِكَ مَا لَوْ كَبَّرَ لِلْإِحْرَامِ مَرَّات وَنَوَى بِكُلِّ تَكْبِيرَة افْتِتَاح الصَّلَاة، فَإِنَّهُ يَدْخُل فِي الصَّلَاة بِالْأَوْتَارِ ; وَيَخْرُج بِالْأَشْفَاعِ ; لِأَنَّ مَنْ افْتَتَحَ صَلَاةً ثُمَّ افْتَتَحَ أُخْرَى بَطَلَتْ صَلَاتُهُ ; لِأَنَّهُ يَتَضَمَّن قَطْع الْأُولَى، فَلَوْ نَوَى الْخُرُوج بَيْن التَّكْبِيرَتَيْنِ خَرَجَ بِالنِّيَّةِ وَدَخَلَ بِالتَّكْبِيرَةِ، وَلَوْ لَمْ يَنْوِ بِالتَّكْبِيرَاتِ شَيْئًا ; لَا دُخُولًا وَلَا خُرُوجًا: صَحَّ دُخُوله بِالْأُولَى ; وَالْبَوَاقِي ذِكْرٌ، وَقَدْ لَا يُبْطِلهَا، وَفِيهِ صُوَر:مِنْهَا: مَا لَوْ نَوَى الْوُضُوء أَوْ الْغُسْل وَالتَّبَرُّد، فَفِي وَجْه لَا يَصِحّ لِلتَّشْرِيكِ ; وَالْأَصَحّ الصِّحَّة ; لِأَنَّ التَّبَرُّد حَاصِل: قَصَدَهُ أَمْ لَا، فَلَمْ يَجْعَل قَصْده تَشْرِيكًا وَتَرْكًا لِلْإِخْلَاصِ
'তাতিম্মাহ' গ্রন্থে তিনি এতে কাযা নিয়তের শর্ত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় মত দিয়েছেন, তবে আদা-এর ক্ষেত্রে নয়; কারণ সময়ের মাধ্যমেই এটি পৃথক হয়ে যায়। সমাপ্ত।আমি বলি: দুই শায়খ (ইমাম নববী ও রাফেয়ী) রোজা পালনের ক্ষেত্রে আদা নিয়তের ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। আর হজ্জ ও উমরার বিষয়টি বাকি রয়ে যায়; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুটিতে (আদা বা কাযা নির্দিষ্ট করা) শর্ত নয়। কেননা, যদি কেউ কাযা করার সময় আদা-এর নিয়ত করে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না এবং তা কাযা হিসেবেই গণ্য হবে। আর যদি কারো ওপর এমন কোনো হজ্জের কাযা থাকে যা সে শৈশবে বা দাসত্বাবস্থায় নষ্ট করেছিল, অতঃপর সে প্রাপ্তবয়স্ক হলো বা মুক্ত হলো এবং কাযার নিয়তে হজ্জ করল, তবে তা ফরয হজ্জ (হাজ্জাতুল ইসলাম) তথা আদা হিসেবে গণ্য হবে।আর জানাযার নামাজের ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এতে আদা ও কাযা কল্পনা করা যায়; কারণ এর সময় দাফন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সুতরাং যদি এটি সঠিক হয় যে দাফনের পরের জানাযা কাযা, তবে এই দুই ক্ষেত্রেও (আদা ও কাযা নির্দিষ্ট করার) মতভেদ চলা সুদূরপরাহত নয়।আর কাফফারার বিষয়ে ইমাম শাফেয়ী 'জিহার'-এর কাফফারার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তা আদায় করার আগেই যদি সে সহবাস করে ফেলে তবে তা কাযা হয়ে যায়; আর এতে (আদা বা কাযা নির্দিষ্ট করার) শর্ত না থাকার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।আর যাকাতের ক্ষেত্রে যাকাতুল ফিতরে কাযা কল্পনা করা যায়, এবং এক্ষেত্রেও বাহ্যত (আদা বা কাযা নির্দিষ্ট করার) শর্ত না থাকাটাই স্পষ্ট। আর যদি কেউ কোরবানির দিন বা অন্য কোনো দিন (জামারায়) পাথর নিক্ষেপ ছেড়ে দেয়, তবে সে বাকি দিনগুলোতে তা পূরণ করে নেবে এবং এতে কোনো 'দম' (পশু কোরবানি) লাগবে না। তবে এটি আদা নাকি কাযা? এ বিষয়ে আলোচনা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আসবে। [পঞ্চম বিষয়: পার্থক্যকরণের ওপর যা বর্তায় তা হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা]নিয়ত পৃথকীকরণের ওপর যা বর্তায় তা হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা; আর এ কারণেই প্রতিনিধিত্ব (অন্যের মাধ্যমে ইবাদত করানো) গৃহীত হয় না; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের অভ্যন্তরীণ নিগূঢ় রহস্যের পরীক্ষা নেওয়া। ইবনুল কাস এবং অন্যরা বলেছেন: নিয়তের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ নয়, তবে তা যদি কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যেমন—যাকাত বণ্টন, কুরবানি করা, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা এবং হজ্জ। পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ইখলাস হলো নিয়তের অতিরিক্ত একটি বিষয়, যা নিয়ত ছাড়া অর্জিত হয় না, তবে কখনো কখনো ইখলাস ছাড়াও নিয়ত হতে পারে। ফকীহগণের দৃষ্টি কেবল নিয়তের ওপর সীমাবদ্ধ এবং তাঁদের হুকুম-আহকাম কেবল এর ওপরই কার্যকর হয়। আর ইখলাসের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। এই কারণেই তাঁরা সমস্ত ইবাদতে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা (অর্থাৎ 'লিল্লাহি তাআলা' বলা) ওয়াজিব না হওয়াকে সঠিক বলেছেন।অতঃপর নিয়তের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের (একাধিক নিয়ত একত্রে করা) কিছু সদৃশ উদাহরণ রয়েছে; এবং এর মূলনীতি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো ইবাদতের সাথে এমন কিছুর নিয়ত করা যা ইবাদত নয়; এটি কখনো ইবাদতকে বাতিল করে দেয়। এ সংক্রান্ত একটি দৃষ্টান্ত আমার মনে পড়ছে, তা হলো যদি কেউ কুরবানি আল্লাহ এবং অন্য কারো জন্য করে; তবে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা জবেহকৃত পশুকে হারাম করে দেয়। এর কাছাকাছি বিষয় হলো যদি কেউ ইহরামের (নামাজ শুরুর) জন্য বারবার তাকবীর বলে এবং প্রতি তাকবীরের সাথে নামাজ শুরু করার নিয়ত করে, তবে সে বিজোড় সংখ্যক তাকবীরের মাধ্যমে নামাজে প্রবেশ করবে এবং জোড় সংখ্যক তাকবীরের মাধ্যমে নামাজ থেকে বেরিয়ে যাবে। কারণ যে ব্যক্তি নামাজ শুরু করার পর পুনরায় অন্য নামাজ শুরু করে, তার নামাজ বাতিল হয়ে যায়; কেননা এটি প্রথম নামাজটি ছিন্ন করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে যদি সে দুই তাকবীরের মাঝে নামাজ থেকে বের হওয়ার নিয়ত করে, তবে সে নিয়তের মাধ্যমে বের হবে এবং তাকবীরের মাধ্যমে (নতুন নামাজে) প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাকবীরগুলোর মাধ্যমে কিছুই নিয়ত না করে—প্রবেশও না, বের হওয়াও না—তবে প্রথম তাকবীরের মাধ্যমে তার নামাজে প্রবেশ সঠিক হবে এবং বাকিগুলো যিকির হিসেবে গণ্য হবে। আবার এটি কখনো ইবাদতকে বাতিল করে না, যার বেশ কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে:তার মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ ওজু বা গোসলের সাথে শরীর শীতল করার নিয়ত করে। এক্ষেত্রে একটি অভিমত অনুযায়ী অংশীদারিত্বের কারণে এটি শুদ্ধ হবে না; তবে অধিকতর সঠিক অভিমত (আসাহ) হলো এটি শুদ্ধ হবে। কারণ শীতলতা এমনিতেই অর্জিত হয়, চাই সে নিয়ত করুক বা না করুক; তাই তার এই ইচ্ছাকে ইবাদতের সাথে অংশীদারিত্ব বা ইখলাস বর্জন হিসেবে গণ্য করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بَلْ هُوَ قَصْد لِلْعِبَادَةِ عَلَى حَسَب وُقُوعهَا ; لِأَنَّ مِنْ ضَرُورَتهَا حُصُول التَّبَرُّد.وَمِنْهَا: مَا لَوْ نَوَى الصَّوْم، أَوْ الْحَمِيَّة أَوْ التَّدَاوِي، وَفِيهِ الْخِلَاف الْمَذْكُور.وَمِنْهَا: مَا لَوْ نَوَى الصَّلَاة وَدَفْعَ غَرِيمه صَحَّتْ صَلَاته لِأَنَّ اشْتِغَاله عَنْ الْغَرِيم لَا يَفْتَقِر إلَى قَصْد، وَفِيهِ وَجْه خَرَّجَهُ ابْنُ أَخِي صَاحِبِ الشَّامِلِ مِنْ مَسْأَلَة التَّبَرُّد.وَمِنْهَا: لَوْ نَوَى الطَّوَافَ وَمُلَازَمَة غَرِيمه، أَوْ السَّعْي خَلْفه، وَالْأَصَحّ الصِّحَّة، لِمَا ذُكِرَ، فَلَوْ لَمْ يُفْرِد الطَّوَاف بِنِيَّةٍ لَمْ يَصِحّ ; لِأَنَّهُ إنَّمَا يَصِحّ بِدُونِهَا، لِانْسِحَابِ حُكْم النِّيَّة فِي أَصْلِ النُّسُكِ عَلَيْهِ. فَإِذَا قَصَدَ مُلَازَمَةَ الْغَرِيمِ كَانَ ذَلِكَ صَارِفًا لَهُ وَلَمْ يَبْقَ لِلِانْدِرَاجِ أَثَرٌ كَمَا سَيَأْتِي.وَنَظِير ذَلِكَ فِي الْوُضُوء: أَنْ تَعْزُب نِيَّة رَفْع الْحَدَث ثُمَّ يَنْوِي التَّبَرُّد أَوْ التَّنْظِيف، وَالْأَصَحّ أَنَّهُ لَا يُحْسَب الْمَغْسُول حِينَئِذٍ مِنْ الْوُضُوء.وَمِنْهَا: مَاحَكَاهُ النَّوَوِيُّ عَنْ جَمَاعَة مِنْ الْأَصْحَاب فِيمَنْ قَالَ لَهُ إنْسَان: صَلِّ الظُّهْر وَلَك دِينَار، فَصَلَّى بِهَذِهِ النِّيَّة أَنَّهُ تُجْزِئُهُ صَلَاته، وَلَا يَسْتَحِقّ الدِّينَار، وَلَمْ يَحْكِ فِيهَا خِلَافه.وَمِنْهَا: مَا إذَا قَرَأَ فِي الصَّلَاة آيَة وَقَصَدَ بِهَا الْقِرَاءَة وَالْإِفْهَام، فَإِنَّهَا لَا تَبْطُل.وَمِنْهَا (1) : تَنْبِيهٌ:مَا صَحَّحُوهُ مِنْ الصِّحَّة فِي هَذِهِ الصُّوَر هُوَ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْإِجْزَاء، وَأَمَّا الثَّوَاب فَصَرَّحَ ابْنُ الصَّبَّاغِ بِعَدَمِ حُصُوله فِي مَسْأَلَةِ التَّبَرُّد، نَقَلَهُ فِي الْخَادِمِ وَلَا شَكَّ أَنَّ مَسْأَلَةَ الصَّلَاة وَالطَّوَاف أَوْلَى بِذَلِكَ.وَمِنْ نَظَائِر ذَلِكَ: مَسْأَلَة السَّفَر لِلْحَجِّ وَالتِّجَارَة، وَاَلَّذِي اخْتَارَهُ ابْنُ عَبْدِ السَّلَامِ أَنَّهُ لَا أَجْر لَهُ مُطْلَقًا، تَسَاوَى الْقَصْدَانِ أَمْ لَا، وَاخْتَارَ الْغَزَالِيُّ اعْتِبَار الْبَاعِث عَلَى الْعَمَل، فَإِنْ كَانَ الْقَصْد الدُّنْيَوِيّ هُوَ الْأَغْلَب لَمْ يَكُنْ فِيهِ أَجْر، وَإِنْ كَانَ الدِّينِيّ أَغْلَب كَانَ لَهُ الْأَجْر بِقَدْرِهِ، وَإِنْ تَسَاوِيَا تَسَاقَطَا.قُلْت: الْمُخْتَار قَوْل الْغَزَالِيِّ ; فَفِي الصَّحِيحِ وَغَيْره " أَنَّ الصَّحَابَةَ تَأَثَّمُوا أَنْ يَتَّجِرُوا فِي الْمَوْسِم بِمِنًى فَنَزَلَتْ {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} [البقرة: 198] فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ "الْقِسْم الثَّانِي: أَنْ يُنْوَى مَعَ الْعِبَادَة الْمَفْرُوضَة عِبَادَة أُخْرَى مَنْدُوبَة.وَفِيهِ صُوَر:مِنْهَا مَا لَا يَقْتَضِي الْبُطْلَانَ وَيَحْصُلَانِ مَعًا، وَمِنْهَا مَا يَحْصُلُ الْفَرْضُ فَقَطْ، وَمِنْهَا مَا يَحْصُل النَّفَل فَقَطْ وَمِنْهَا: مَا يَقْتَضِي الْبُطْلَان فِي الْكُلّ.فَمِنْ الْأَوَّل: أَحْرَمَ بِصَلَاةٍ وَنَوَى بِهَا الْفَرْض وَالتَّحِيَّة ; صَحَّتْ، وَحَصَلَا مَعًا، قَالَ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ: اتَّفَقَ عَلَيْهِ أَصْحَابنَا، وَلَمْ أَرَ فِيهِ خِلَافًا بَعْد الْبَحْث الشَّدِيد سِنِينَ. وَقَالَ الرَّافِعِيُّ وَابْنُ الصَّلَاحِ: لَا بُدّ مِنْ جَرَيَان خِلَاف فِيهِ كَمَسْأَلَةِ التَّبَرُّد، قَالَ النَّوَوِيُّ: وَالْفَرْق
বরং এটি ইবাদতের উদ্দেশ্য হিসেবেই সাব্যস্ত হবে তার সংঘটিত হওয়ার ধরণ অনুযায়ী; কেননা ইবাদতটি পালনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবেই শীতলতা অর্জিত হয়েছে।এর মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ রোজা রাখার পাশাপাশি ডায়েট করা বা চিকিৎসার নিয়ত করে, তবে এক্ষেত্রেও উল্লিখিত মতভেদ প্রযোজ্য হবে।এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ সালাত আদায়ের সাথে সাথে পাওনাদারকে এড়ানোর নিয়ত করে, তবে তার সালাত শুদ্ধ হবে। কারণ পাওনাদারের দিক থেকে নিজেকে ব্যাপৃত রাখার জন্য আলাদা নিয়তের প্রয়োজন নেই। আর এক্ষেত্রে ‘শামিল’ গ্রন্থকারের ভাতিজা কর্তৃক বর্ণিত একটি অভিমত রয়েছে যা শীতলতা অর্জনের মাসআলা থেকে চয়ন করা হয়েছে।এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো: যদি কেউ তওয়াফের সাথে সাথে পাওনাদারের পিছু লেগে থাকা অথবা তার পেছনে সাঈ করার নিয়ত করে, তবে বর্ণিত কারণে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী এটি শুদ্ধ হবে। তবে যদি সে পৃথকভাবে তওয়াফের নিয়ত না করে তবে তা শুদ্ধ হবে না; কারণ তওয়াফ মূলত নিয়ত ছাড়াই শুদ্ধ হয়ে থাকে মূল হজের নিয়তের অন্তর্ভুক্তির কারণে। কিন্তু যখন সে পাওনাদারের সাথে লেগে থাকার সংকল্প করে, তখন এটি তাকে মূল ইবাদত থেকে বিমুখ করে দেয় এবং এক্ষেত্রে মূল ইবাদতের অন্তর্ভুক্তির আর কোনো প্রভাব অবশিষ্ট থাকে না, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।ওযুর ক্ষেত্রে এর দৃষ্টান্ত হলো: অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত হারিয়ে যাওয়ার পর যদি কেউ শীতলতা বা পরিষ্কার হওয়ার নিয়ত করে, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী ধৌত করা ঐ অঙ্গটি ওযুর অংশ হিসেবে গণ্য হবে না।এর মধ্যে ইমাম নববী একদল ফকীহ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে বলে, ‘তুমি যোহরের সালাত আদায় করো, তোমাকে এক দিনার দেওয়া হবে’, আর সে এই নিয়তেই সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত আদায় হয়ে যাবে কিন্তু সে ঐ দিনার পাওয়ার যোগ্য হবে না; আর ইমাম নববী এক্ষেত্রে কোনো ভিন্ন মত উল্লেখ করেননি।এর মধ্যে এটিও রয়েছে যে: যদি কেউ সালাতের মধ্যে কোনো আয়াত পাঠ করে তিলাওয়াত এবং কাউকে কিছু বোঝানোর নিয়তে, তবে তার সালাত বাতিল হবে না।এর মধ্যে (১) সতর্কবার্তা:ফকীহগণ এই সকল ক্ষেত্রে যে শুদ্ধ হওয়ার রায় দিয়েছেন তা মূলত দায়িত্ব পালিত হওয়ার (ইজযা) প্রেক্ষাপটে। পক্ষান্তরে সওয়াবের বিষয়ে ইবনে সাব্বাগ শীতলতা অর্জনের মাসআলায় সওয়াব না হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যা ‘আল-খাদিম’ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। আর নিঃসন্দেহে সালাত ও তওয়াফের মাসআলাটি এক্ষেত্রে সওয়াব না হওয়ার বিষয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য।এর সদৃশ মাসআলা হলো: হজ ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সফরের বিষয়টি। ইবনে আবদুস সালাম যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো, সে কোনো সওয়াবই পাবে না, চাই উভয় উদ্দেশ্য সমান হোক বা না হোক। আর ইমাম গাযালী আমলের পেছনে মূল চালিকাশক্তির গুরুত্বকে গ্রহণ করেছেন; সুতরাং যদি পার্থিব উদ্দেশ্য প্রবল হয় তবে কোনো সওয়াব থাকবে না, আর যদি ধর্মীয় উদ্দেশ্য প্রবল হয় তবে সেই অনুপাতে সওয়াব পাবে, আর যদি উভয়টি সমান হয় তবে একটি অপরটিকে বাতিল করে দেবে।আমি বলছি: ইমাম গাযালীর অভিমতটিই অধিক পছন্দনীয়; কারণ সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, "সাহাবীগণ হজের মৌসুমে মিনায় ব্যবসা করাকে গুনাহ মনে করতেন, তখন নাযিল হলো: {তোমাদের ওপর কোনো পাপাচার নেই যে তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ সন্ধান করো} [বাকারা: ১৯৮], যা হজের মৌসুমসমূহ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।"দ্বিতীয় প্রকার: ফরয ইবাদতের সাথে অন্য একটি মুস্তাহাব ইবাদতের নিয়ত করা।এর বেশ কিছু অবস্থা রয়েছে:তার মধ্যে কিছু এমন যা ইবাদত বাতিল হওয়াকে আবশ্যক করে না এবং উভয়টি একসাথে অর্জিত হয়। আবার কিছু এমন যেখানে শুধু ফরয আদায় হয়, কিছুতে শুধু নফল আদায় হয় এবং কিছু এমন যা সবটুকুই বাতিল করে দেয়।প্রথম অবস্থার উদাহরণ হলো: সালাতের ইহরাম বাঁধার সময় ফরয এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদের নিয়ত করা; এতে সালাত শুদ্ধ হবে এবং উভয়টিই আদায় হয়ে যাবে। ‘শারহুল মুহাযযাব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমাদের ফকীহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং আমি দীর্ঘ বছর কঠোর অনুসন্ধানের পরও এতে কোনো দ্বিমত দেখিনি। তবে ইমাম রাফেঈ এবং ইবনুস সালাহ বলেছেন: এতেও শীতলতা অর্জনের মাসআলার মতো মতভেদ থাকা আবশ্যক। ইমাম নববী বলেন: আর পার্থক্য হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ظَاهِر، فَإِنَّ الَّذِي اعْتَمَدَهُ الْأَصْحَاب فِي تَعْلِيل الْبُطْلَان فِي مَسْأَلَة التَّبَرُّد هُوَ التَّشْرِيك بَيْن الْقُرْبَة وَغَيْرهَا وَهَذَا مَفْقُود فِي مَسْأَلَة التَّحِيَّة، فَإِنَّ الْفَرْض وَالتَّحِيَّةَ قُرْبَتَانِ. إحْدَاهُمَا: تَحْصُل بِلَا قَصْد، فَلَا يَضُرّ فِيهَا الْقَصْد، كَمَا لَوْ رَفَعَ الْإِمَام صَوْته بِالتَّكْبِيرِ لَيُسْمِع الْمَأْمُومِينَ، فَإِنَّ صَلَاته صَحِيحَة بِالْإِجْمَاعِ، وَإِنْ كَانَ قَصَدَ أَمْرَيْنِ، لَكِنَّهُمَا قُرْبَتَانِ. انْتَهَى.نَوَى بِغُسْلِهِ غُسْل الْجَنَابَة وَالْجُمُعَة، حَصَلَا جَمِيعًا عَلَى الصَّحِيح، وَفِيهِ وَجْه. وَالْفَرْق بَيْنه وَبَيْن التَّحِيَّة حَيْثُ لَمْ يَجْرِ فِيهَا أَنَّهَا تَحْصُل ضِمْنًا وَلَوْ لَمْ يَنْوِهَا، وَهَذَا بِخِلَافِهَا نَوَى بِسَلَامِهِ الْخُرُوج مِنْ الصَّلَاة وَالسَّلَام عَلَى الْحَاضِرِينَ حَصَلَا.نَوَى حَجّ الْفَرْض وَقَرَنَهُ بِعُمْرَةِ تَطَوُّع أَوْ عَكْسه حَصَلَا.وَلَوْ نَوَى بِصَلَاتِهِ الْفَرْض وَتَعْلِيم النَّاس جَازَ لِلْحَدِيثِ. ذَكَرَهُ السِّنْجِيُّ فِي شَرْحِ التَّلْخِيصِ. صَامَ فِي يَوْمِ عَرَفَة مَثَلًا قَضَاء أَوْ نَذْرًا، أَوْ كَفَّارَة ; وَنَوَى مَعَهُ الصَّوْم عَنْ عَرَفَة، فَأَفْتَى الْبَارِزِيُّ بِالصِّحَّةِ، وَالْحُصُولِ عَنْهُمَا، قَالَ: وَكَذَا إنْ أَطْلَقَ فَأَلْحَقَهُ بِمَسْأَلَةِ التَّحِيَّةِ، قَالَ الْإِسْنَوِيُّ: وَهُوَ مَرْدُودٌ وَالْقِيَاسُ أَنْ لَا يَصْلُحَ فِي صُورَةِ التَّشْرِيك وَاحِد مِنْهُمَا، وَأَنْ يَحْصُلَ الْفَرْضُ فَقَطْ فِي صُورَةِ الْإِطْلَاقِ.وَمِنْ الثَّانِي: نَوَى بِحَجِّهِ الْفَرْض وَالتَّطَوُّع، وَقَعَ فَرْضًا ; لِأَنَّهُ لَوْ نَوَى التَّطَوُّعَ انْصَرَفَ إلَى الْفَرْض.صَلَّى الْفَائِتَة فِي لَيَالِي رَمَضَان، وَنَوَى مَعَهَا التَّرَاوِيح فَفِي فَتَاوَى ابْنِ الصَّلَاحِ حَصَلَتْ الْفَائِتَة دُون التَّرَاوِيح. قَالَ الْإِسْنَوِيُّ: وَفِيهِ نَظَرٌ ; لِأَنَّ التَّشْرِيك مُقْتَضٍ لِلْإِبْطَالِ.وَمِنْ الثَّالِث: أَخْرَجَ خَمْسَة دَرَاهِم، وَنَوَى بِهَا الزَّكَاة وَصَدَقَة التَّطَوُّع، لَمْ تَقَع زَكَاة وَوَقَعَتْ صَدَقَة تَطَوُّع بِلَا خِلَاف.عَجَزَ عَنْ الْقِرَاءَة فَانْتَقَلَ إلَى الذِّكْر، فَأَتَى بِالتَّعَوُّذِ وَدُعَاء الِاسْتِفْتَاح، قَاصِدًا بِهِ السُّنَّة وَالْبَدَلِيَّة لَمْ يُحْسَب عَنْ الْفَرْض، جَزَمَ بِهِ الرَّافِعِيُّ.خَطَبَ بِقَصْدِ الْجُمُعَة وَالْكُسُوف لَمْ يَصِحّ لِلْجُمُعَةِ ; لِأَنَّهُ تَشْرِيك بَيْن فَرْض وَنَفْل، جَزَمَ بِهِ الرَّافِعِيُّ.وَمِنْ الرَّابِع: كَبَّرَ الْمَسْبُوق وَالْإِمَام رَاكِع تَكْبِيرَة وَاحِدَة، وَنَوَى بِهَا التَّحْرِيم وَالْهُوِيَّ إلَى الرُّكُوعِ، لَمْ تَنْعَقِد الصَّلَاة أَصْلًا، لِلتَّشْرِيكِ. وَفِي وَجْه: تَنْعَقِد نَفْلًا، كَمَسْأَلَةِ الزَّكَاة، وَفُرِّقَ بِأَنَّ الدَّرَاهِم لَمْ تُجْزِئهُ عَنْ الزَّكَاة، فَبَقِيَتْ تَبَرُّعًا وَهَذَا مَعْنَى صَدَقَة التَّطَوُّع، وَأَمَّا تَكْبِيرَة الْإِحْرَام فَهِيَ رُكْن لِصَلَاةِ الْفَرْض وَالنَّفَل مَعًا، وَلَمْ يَتَمَحَّضْ هَذَا التَّكْبِير لِلْإِحْرَامِ فَلَمْ يَنْعَقِد فَرْضًا، وَكَذَا نَفْلًا ; إذْ لَا فَرْق بَيْنهمَا فِي اعْتِبَار تَكْبِيرَة الْإِحْرَام.نَوَى بِصَلَاتِهِ الْفَرْضَ وَالرَّاتِبَةَ لَمْ تَنْعَقِدْ أَصْلًا
এটি স্পষ্ট, কেননা শীতলতা অর্জনের মাসআলায় ইবাদত বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে ফকীহগণ যা গ্রহণ করেছেন তা হলো ইবাদত ও ইবাদত বহির্ভূত অন্য উদ্দেশ্যের মধ্যে অংশীদারিত্ব। কিন্তু তাহিয়্যাতুল মাসজিদের মাসআলায় এটি অনুপস্থিত; কারণ এখানে ফরয ও তাহিয়্যা উভয়টিই ইবাদত। এদের একটি (তাহিয়্যা) নিয়ত ছাড়াও অর্জিত হয়, তাই এতে নিয়ত করা ক্ষতিকর নয়। যেমন কোনো ইমাম যদি মুক্তাদীদের শোনানোর জন্য উচ্চস্বরে তাকবীর দেন, তবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁর সালাত সহীহ হবে, যদিও তিনি দুটি বিষয়ের নিয়ত করেছেন, কিন্তু উভয়টিই ইবাদত। সমাপ্ত।যদি কেউ তার গোসলের মাধ্যমে জানাবাত ও জুমার গোসলের নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী উভয়টিই সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। এর এবং তাহিয়্যার মধ্যকার পার্থক্য হলো—তাহিয়্যা নিয়ত না করলেও আনুষঙ্গিকভাবে সম্পন্ন হয়ে যায়, কিন্তু এটি তেমন নয়। কেউ যদি তার সালামের মাধ্যমে সালাত থেকে বের হওয়া এবং উপস্থিতদের সালাম দেওয়ার নিয়ত করে, তবে উভয়টিই সম্পন্ন হবে।কেউ যদি ফরয হজের নিয়ত করে এবং তার সাথে নফল উমরাহ যুক্ত করে, অথবা এর বিপরীত করে, তবে উভয়টিই আদায় হবে।যদি কেউ তার সালাতের মাধ্যমে ফরয আদায় এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার নিয়ত করে, তবে হাদীসের কারণে তা বৈধ। সিনজি 'শারহুত তালখিস'-এ এটি উল্লেখ করেছেন। কেউ যদি আরাফার দিনে কাযা, মানত বা কাফফারা রোজা রাখে এবং সেই সাথে আরাফার দিনের রোজারও নিয়ত করে, তবে বারযী তা সহীহ হওয়া এবং উভয়টি অর্জিত হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন: এমনকি যদি সাধারণভাবে নিয়ত করে, তবে তিনি একে তাহিয়্যার মাসআলার সাথে যুক্ত করেছেন। ইসনাভী বলেন: এটি প্রত্যাখ্যাত এবং যুক্তি হলো—অংশীদারিত্বের সুরতে কোনোটিই শুদ্ধ হবে না, আর সাধারণ নিয়তের ক্ষেত্রে কেবল ফরয অর্জিত হবে।দ্বিতীয় প্রকার থেকে: কেউ যদি হজের মাধ্যমে ফরয ও নফলের নিয়ত করে, তবে তা ফরয হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সে যদি নফলেরও নিয়ত করত তবে তা ফরযের দিকেই ফিরে যেত।রমজানের রাতে কেউ যদি ছুটে যাওয়া সালাত আদায় করে এবং তার সাথে তারাবীহর নিয়ত করে, তবে ইবনে সালাহ-এর ফতোয়া অনুযায়ী কাযা আদায় হবে কিন্তু তারাবীহ হবে না। ইসনাভী বলেন: এটি বিবেচনার বিষয়; কারণ অংশীদারিত্ব বাতিল হওয়ার দাবি রাখে।তৃতীয় প্রকার থেকে: কেউ যদি পাঁচটি দিরহাম বের করে এবং তা দিয়ে যাকাত ও নফল সদকার নিয়ত করে, তবে মতভেদ ছাড়াই তা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না বরং নফল সদকা হিসেবে গণ্য হবে।কিরাত পাঠে অক্ষম হয়ে যদি কেউ জিকিরের দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং আউযুবিল্লাহ ও সানা পাঠ করে সুন্নাত এবং কিরাতের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার উভয় নিয়তে, তবে তা ফরয হিসেবে গণ্য হবে না। রাফেয়ী এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন।জুমা এবং কুসূফের উভয়ের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলে তা জুমার জন্য সহীহ হবে না; কারণ এটি ফরয ও নফলের মধ্যে অংশীদারিত্ব। রাফেয়ী এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন।চতুর্থ প্রকার থেকে: ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়ে মাসবূক যদি একটি মাত্র তাকবীর দেয় এবং তার মাধ্যমে তাহরীমাহ ও রুকুতে যাওয়ার নিয়ত করে, তবে অংশীদারিত্বের কারণে সালাত আদৌ শুরু হবে না। এক মতে: যাকাতের মাসআলার মতো এটি নফল হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে এভাবে যে, দিরহামগুলো যাকাতের জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় তা সাধারণ দান হিসেবে রয়ে গিয়েছিল এবং এটিই নফল সদকার অর্থ। পক্ষান্তরে তাকবীরে তাহরীমাহ ফরয ও নফল উভয় সালাতের জন্য রুকন, আর এই তাকবীরটি কেবল তাহরীমাহর জন্য নির্ধারিত না হওয়ায় তা ফরয হিসেবে কার্যকর হয়নি, তেমনি নফল হিসেবেও নয়; কারণ তাকবীরে তাহরীমাহ বিবেচনার ক্ষেত্রে ফরয ও নফলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।যদি কেউ তার সালাতের মাধ্যমে ফরয এবং সুন্নাত রাতিবার নিয়ত করে, তবে তা আদৌ শুরু হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْقِسْم الثَّالِث: أَنْ يَنْوِي مَعَ الْمَفْرُوضَة فَرْضًا آخَر.قَالَ ابْنُ السُّبْكِيّ: وَلَا يُجْزِئ ذَلِكَ إلَّا فِي الْحَجّ وَالْعُمْرَة.قُلْت: بَلْ لَهُمَا نَظِير آخَر وَهُوَ أَنْ يُنْوَى الْغُسْل وَالْوُضُوء مَعًا، فَإِنَّهُمَا يَحْصُلَانِ عَلَى الْأَصَحّ، وَفِي قَوْل نَصَّ عَلَيْهِ فِي الْأَمَالِي لَا يَحْصُلَانِ ; لِأَنَّهُمَا وَاجِبَانِ مُخْتَلِفَانِ، فَلَا يَتَدَاخَلَانِ، كَالصَّلَاتَيْنِ.وَلَوْ طَافَ بِنِيَّةِ الْفَرْض وَالْوَدَاعِ صَحَّ لِلْفَرْضِ وَهَلْ يَكْفِي لِلْوَدَاعِ؟ حَتَّى لَوْ خَرَجَ عَقِبه أَجْزَأَهُ وَلَا يَلْزَمهُ دَم؟ لَمْ أَرَ فِيهِ نَقْلًا صَرِيحًا، وَهُوَ مُحْتَمَل، وَرُبَّمَا يُفْهَم مِنْ كَلَامهمْ أَنَّهُ لَا يَكْفِي.وَمَا عَدَا ذَلِكَ إذَا نَوَى فَرْضَيْنِ بَطَلَا، إلَّا إذَا أَحْرَمَ بِحَجَّتَيْنِ أَوْ عُمْرَتَيْنِ، فَإِنَّهُ يَنْعَقِد وَاحِدَة، وَإِذَا تَيَمَّمَ لِفَرْضَيْنِ، صَحَّ لِوَاحِدٍ عَلَى الْأَصَحِّ.(تَذْنِيبٌ) :يُشْبِه ذَلِكَ مَا قِيلَ: هَلْ يُتَصَوَّر وُقُوع حَجَّتَيْنِ فِي عَام؟ وَقَدْ قَالَ الْإِسْنَوِيُّ: إنَّهُ مَمْنُوع، وَمَا قِيلَ فِي طَرِيقه مِنْ أَنَّهُ يَدْفَع بَعْد نِصْف اللَّيْل فَيَرْمِي وَيَحْلِق وَيَطُوف، ثُمَّ يُحْرِم مِنْ مَكَّةَ وَيَعُود قَبْل الْفَجْر إلَى عَرَفَاتٍ، مَرْدُود بِأَنَّهُمْ قَالُوا: إنَّ الْمُقِيم بِمِنًى لِلرَّمْيِ لَا تَنْعَقِد عُمْرَته، لِاشْتِغَالِهِ بِالرَّمْيِ، وَالْحَاجّ بَقِيَ عَلَيْهِ رَمْي أَيَّام مِنًى قَالَ: وَقَدْ صَرَّحَ بِاسْتِحَالَةِ وُقُوع حَجَّتَيْنِ فِي عَام جَمَاعَة مِنْهُمْ الْمَاوَرْدِيُّ، وَكَذَلِكَ أَبُو الطَّيِّبِ وَحَكَى فِيهِ الْإِجْمَاع، وَنَصَّ عَلَيْهِ الشَّافِعِيُّ فِي الْأُمِّ الرَّابِعُ: أَنْ يَنْوِي مَعَ النَّفْلِ نَفْلًا آخَر:فَلَا يَحْصُلَانِ. قَالَهُ الْقَفَّالُ وَنُقِضَ عَلَيْهِ بِنِيَّتِهِ الْغُسْل لِلْجُمُعَةِ وَالْعِيد، فَإِنَّهُمَا يَحْصُلَانِ.قُلْت: وَكَذَا لَوْ اجْتَمَعَ عِيد وَكُسُوف، خَطَبَ لَهُمَا خُطْبَتَيْنِ، بِقَصْدِهِمَا جَمِيعًا ذَكَرَهُ فِي أَصْلِ الرَّوْضَةِ، وَعَلَّلَهُ بِأَنَّهُمَا سُنَّتَانِ، بِخِلَافِ الْجُمُعَة وَالْكُسُوف، وَيَنْبَغِي أَنْ يُلْحَق بِهَا مَا لَوْ نَوَى صَوْم يَوْم عَرَفَة وَالِاثْنَيْنِ مَثَلًا، فَيَصِحّ، وَإِنْ لَمْ نَقُلْ بِمَا تَقَدَّمَ عَنْ الْبَارِزِيِّ فِيمَا لَوْ نَوَى فِيهِ فَرْضًا لِأَنَّهُمَا سُنَّتَانِ، لَكِنْ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ فِي مَسْأَلَة اجْتِمَاع الْعِيد وَالْكُسُوف أَنَّ فِيمَا قَالُوهُ نَظَرًا، قَالَ: لِأَنَّ السَّنَتَيْنِ إذَا لَمْ تَدْخُل إحْدَاهُمَا فِي الْأُخْرَى لَا يَنْعَقِد عِنْد التَّشْرِيك بَيْنهمَا، كَسُنَّةِ الضُّحَى وَقَضَاء سُنَّة الْفَجْر، بِخِلَافِ تَحِيَّة الْمَسْجِد وَسُنَّة الظُّهْر مَثَلًا ; لِأَنَّ التَّحِيَّة تَحْصُل ضِمْنًا.الْخَامِس: أَنْ يَنْوِي مَعَ غَيْر الْعِبَادَة شَيْئًا آخَر غَيْرهَا، وَهُمَا مُخْتَلِفَانِ فِي الْحُكْم.وَمِنْ فُرُوعه: أَنْ يَقُول لِزَوْجَتِهِ: أَنْتِ عَلَيَّ حَرَام، وَيَنْوِي الطَّلَاق وَالظِّهَار، فَالْأَصَحّ أَنَّهُ يُخَيَّرُ بَيْنهمَا، فَمَا اخْتَارَهُ ثَبَتَ وَقِيلَ: يَثْبُت. الطَّلَاق لِقُوَّتِهِ. وَقِيلَ: الظِّهَار ; لِأَنَّ الْأَصْل بَقَاء النِّكَاح.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফরয ইবাদতের সাথে অন্য একটি ফরযের নিয়াত করা।ইবনে আস-সুবকী বলেন: হজ ও উমরা ব্যতিরেকে অন্য কোনো ইবাদতে এটি যথেষ্ট হবে না।আমি (লেখক) বলি: বরং এ দুটির আরেকটি অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে, আর তা হলো—একই সাথে গোসল ও ওযুর নিয়াত করা। কেননা অধিকতর সঠিক মতানুযায়ী উভয়টিই সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে ‘আল-আমালী’ গ্রন্থে বর্ণিত ইমাম শাফেয়ীর একটি বক্তব্য অনুযায়ী উভয়টি সম্পন্ন হবে না; কারণ এগুলো ভিন্ন ভিন্ন দুটি ওয়াজিব বিধান, তাই নামাজের মতো একটির ভেতর অন্যটি প্রবেশ করবে না।যদি কেউ ফরয তওয়াফ ও বিদায়ী তওয়াফের নিয়াত করে তওয়াফ করে, তবে ফরযের জন্য তা শুদ্ধ হবে। কিন্তু তা কি বিদায়ী তওয়াফের জন্য যথেষ্ট হবে? এমনকি সে যদি তওয়াফের পরপরই মক্কা থেকে বের হয়ে যায়, তবে কি তা যথেষ্ট হবে এবং তাকে কি কোনো দণ্ড (দম) দিতে হবে না? এ বিষয়ে আমি কোনো স্পষ্ট উদ্ধৃতি পাইনি, তবে এর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ফকীহগণের বক্তব্য থেকে সম্ভবত এটিই বুঝা যায় যে, তা যথেষ্ট হবে না।এটি ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রে যখনই কেউ দুটি ফরযের নিয়াত করবে, উভয়টিই বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি কেউ দুই হজ বা দুই উমরার ইহরাম বাঁধে, তবে তা একটি হিসেবেই গণ্য হবে। আর যদি কেউ দুটি ফরযের জন্য তায়াম্মুম করে, তবে অধিকতর সঠিক মতানুযায়ী একটির জন্য তা শুদ্ধ হবে।(পরিশিষ্ট) :এটি সেই বিষয়ের সদৃশ যা বলা হয়ে থাকে: এক বছরে কি দুটি হজ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব? আল-ইসনাবী বলেছেন: এটি অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে যে—ব্যক্তি মধ্যরাতের পর (মিনা থেকে) প্রস্থান করে পাথর নিক্ষেপ করবে, মাথা মুণ্ডন করবে ও তওয়াফ করবে, অতঃপর মক্কা থেকে পুনরায় ইহরাম বেঁধে ফজর হওয়ার আগেই আরাফাতের ময়দানে ফিরে আসবে—তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ ফকীহগণ বলেছেন: পাথর নিক্ষেপের জন্য মিনায় অবস্থানকারীর উমরার ইহরাম শুদ্ধ হবে না, যেহেতু সে পাথর নিক্ষেপের কাজে ব্যস্ত। আর হাজীর ওপর তখনো মিনার দিনগুলোর পাথর নিক্ষেপ অবশিষ্ট থাকে। তিনি (ইসনাবী) আরও বলেন: এক বছরে দুটি হজ হওয়া অসম্ভব হওয়ার বিষয়টি আল-মাওয়ার্দীসহ একদল ফকীহ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে আবু তাইয়্যেবও এটি উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নফল ইবাদতের সাথে অন্য একটি নফলের নিয়াত করা:এক্ষেত্রে উভয়টি অর্জিত হবে না। আল-কাফফাল এটি বলেছেন। তবে জুমুআ ও ঈদের গোসলের নিয়াত করার মাসআলা দ্বারা তাঁর এই মতটি খণ্ডন করা হয়েছে, কারণ এক্ষেত্রে উভয়টিই অর্জিত হয়।আমি বলি: তদ্রূপ যদি ঈদ ও সূর্যগ্রহণ (কুসূফ) একত্রিত হয়, তবে উভয়টির উদ্দেশ্যে দুটি খুতবা প্রদান করা হবে; এটি ‘আসলুর রওদাহ’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, এ দুটিই সুন্নাত। এর বিপরীত হলো জুমুআ ও সূর্যগ্রহণ। এর সাথে ঐ মাসআলাটিও যুক্ত করা উচিত যে, যদি কেউ যেমন আরাফাতের দিন ও সোমবারের রোজার নিয়াত করে, তবে তা শুদ্ধ হবে—যদিও বারিজী বর্ণিত ফরযের নিয়াত সংক্রান্ত পূর্বোক্ত মতটি আমরা গ্রহণ না করি। কারণ এ দুটিই সুন্নাত। তবে ‘শারহুল মুহাযযাব’ গ্রন্থে ঈদ ও সূর্যগ্রহণ একত্রিত হওয়ার মাসআলায় বলা হয়েছে যে, ফকীহগণের এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ আছে। তিনি বলেন: কারণ দুটি সুন্নাত যখন একটি অন্যটির অন্তর্ভুক্ত হয় না, তখন সেগুলোর মধ্যে একত্রীকরণের নিয়াত করলে তা শুদ্ধ হয় না; যেমন—চাশতের (দুহা) সুন্নাত ও ফজরের সুন্নাতের কাযা। এর ব্যতিক্রম হলো যেমন তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ও যোহরের সুন্নাত; কারণ এখানে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ মূল সালাতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে অর্জিত হয়ে যায়।পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইবাদত নয় এমন বিষয়ের সাথে ইবাদত বহির্ভূত অন্য কিছুর নিয়াত করা, অথচ উভয়টির হুকুম ভিন্ন।এর অন্যতম একটি শাখা হলো: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: "তুমি আমার জন্য হারাম", এবং সে এর দ্বারা তালাক ও যিহার—উভয়টির নিয়াত করল। এক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো—তাকে এ দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সে যেটি পছন্দ করবে সেটিই কার্যকর হবে। কেউ কেউ বলেছেন: তালাকের গুরুত্বের কারণে তালাকই কার্যকর হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: যিহার কার্যকর হবে; কারণ মূল বিধান হলো বিবাহ বহাল থাকা।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[الْمَبْحَث الرَّابِع: فِي وَقْت النِّيَّة]فِي وَقْت النِّيَّة.الْأَصْل أَنَّ وَقْتهَا أَوَّل الْعِبَادَات وَنَحْوهَا. وَخَرَجَ عَنْ ذَلِكَ الصَّوْم، فَجُوِّزَ تَقْدِيم نِيَّته عَلَى أَوَّل الْوَقْت، لِعُسْرِ مُرَاقَبَته ثُمَّ سَرَى ذَلِكَ إلَى أَنْ وَجَبَ. فَلَوْ نَوَى مَعَ الْفَجْر لَمْ يَصِحّ فِي الْأَصَحِّ.قُلْت: وَعَلَى حَدّه جَوَاز تَأْخِير نِيَّة صَوْم النَّفَل عَنْ أَوَّله. وَبَقِيَ نَظَائِر يَجُوز فِيهَا تَقْدِيم النِّيَّة عَلَى أَوَّل الْعِبَادَة.مِنْهَا: الزَّكَاة، فَالْأَصَحّ فِيهَا جَوَاز التَّقْدِيم لِلنِّيَّةِ عَلَى الدَّفْع لِلْعُسْرِ، قِيَاسًا عَلَى الصَّوْم، وَفِي وَجْه: لَا يَجُوز، بَلْ يَجِب حَالَة الدَّفْع إلَى الْأَصْنَاف، أَوْ الْإِمَام، كَالصَّلَاةِ.وَمِنْهَا: الْكَفَّارَة، وَفِيهَا الْوَجْهَانِ فِي الزَّكَاة. وَذُكِرَ فِي الْفَرْق بَيْن الزَّكَاة وَالْكَفَّارَة وَبَيْن الصَّلَاة أَنَّهُمَا يَجُوز تَقْدِيمهمَا عَلَى وُجُوبهمَا فَجَازَ تَقْدِيم نِيَّتهمَا، بِخِلَافِ الصَّلَاة، وَأَنَّهُمَا تَقْبَلَانِ النِّيَابَة، بِخِلَافِهَا.قُلْت: الْأَوَّل يَنْتَقِض بِالصَّوْمِ، وَالثَّانِي بِالْحَجِّ.وَمِنْهَا: الْجَمْع، فَإِنْ نِيَّته فِي الصَّلَاة الْأُولَى، وَلَوْ كَانَ فِي أَوَّل الْعِبَادَة لَكَانَ فِي أَوَّل الصَّلَاة الثَّانِيَة ; لِأَنَّهَا الْمَجْمُوعَة. وَإِنْ جُعِلَتْ الْأُولَى أَوَّل الْعِبَادَة فَهُوَ مِمَّا جَازَ فِيهِ التَّأْخِير عَنْ أَوَّلهَا ; لِأَنَّ الْأَظْهَر جَوَاز النِّيَّة فِي أَثْنَائِهَا، وَمَعَ التَّحَلُّل مِنْهَا، وَفِي قَوْل: لَا يَجُوز إلَّا فِي أَوَّل الْأُولَى، وَفِي وَجْه: لَا يَجُوز مَعَ التَّحَلُّل، وَفِي آخَر: يَجُوز بَعْده قَبْل الْإِحْرَام بِالثَّانِيَةِ قَالَ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ: وَهُوَ قَوِيٌّ.وَمِنْهَا: نِيَّة التَّمَتُّع عَلَى الْوَجْه الْقَائِل بِهِ، وَفِيهِ الْأَوْجُه فِي الْجَمْع، فَالْأَصَحّ أَنَّ وَقْتهَا مَا لَمْ يَفْرَغ مِنْ الْعُمْرَة، وَالثَّانِي: حَالَة الْإِحْرَام بِهَا، وَالثَّالِث: بَعْد التَّحَلُّل مِنْهَا، مَا لَمْ يَشْرَعْ فِي الْحَجِّ.وَمِنْهَا: نِيَّة الْأُضْحِيَّة، يَجُوز تَقْدِيمهَا عَلَى الذَّبْح وَلَا يَجِب اقْتِرَانهَا فِي الْأَصَحّ، وَيَجُوز عِنْد الدَّفْع إلَى الْوَكِيل فِي الْأَصَحّ.وَمِنْهَا: فِي غَيْر الْعِبَادَات نِيَّة الِاسْتِثْنَاء فِي الْيَمِين، فَإِنَّهَا تَجِب قَبْل فَرَاغ الْيَمِين مَعَ وُجُوبهَا فِي الِاسْتِثْنَاء أَيْضًا.فَرْعٌ:مِمَّا جَرَى عَلَى هَذَا الْأَصْل مِنْ اعْتِبَار النِّيَّة أَوَّل الْفِعْل: مَا نَقَلَهُ فِي الرَّوْضَةِ وَأَصْلهَا عَنْ فَتَاوَى الْبَغَوِيِّ، وَأَقَرَّهُ: أَنَّهُ لَوْ ضَرَبَ زَوْجَته بِالسَّوْطِ عَشْر ضَرَبَات، فَصَاعِدًا مُتَوَالِيَة فَمَاتَتْ ; فَإِنْ قَصَدَ فِي الِابْتِدَاء الْعَدَد الْمُهْلِك وَجَبَ الْقِصَاص، وَإِنْ قَصَدَ تَأْدِيبهَا بِسَوْطَيْنِ أَوْ ثَلَاثَة، ثُمَّ بَدَا لَهُ فَجَاوَزَ فَلَا ; لِأَنَّهُ اخْتَلَطَ الْعَمْد بِشَبَهِ الْعَمْد.
[চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নিয়তের সময় প্রসঙ্গে]নিয়তের সময় প্রসঙ্গে।মূলনীতি হলো, ইবাদত ও তদ্রূপ কার্যাবলীর শুরুতে নিয়ত করা। রোজা এই নিয়মের বহির্ভূত, কেননা সময়ের শুরুর আগে এর নিয়ত করা জায়েজ করা হয়েছে, যেহেতু সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা কষ্টসাধ্য। পরবর্তীতে এই বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা আবশ্যক (ওয়াজিব) হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব, অধিকতর সঠিক মতানুসারে (আসাহ), যদি কেউ ফজরের সাথে নিয়ত করে, তবে তা সহীহ হবে না।আমি বলি: এরই সমান্তরালে নফল রোজার নিয়ত শুরু থেকে বিলম্বিত করা জায়েজ। এছাড়া এমন কিছু অনুরূপ ক্ষেত্র অবশিষ্ট রয়েছে যেখানে ইবাদত শুরুর আগে নিয়ত করা জায়েজ।তার মধ্যে একটি হলো: জাকাত। এক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো, রোজার সাথে কিয়াস করে প্রদানের কষ্টসাধ্যতার কারণে প্রদানের আগে নিয়ত করা জায়েজ। একটি মতে (ওয়াজহ): এটি জায়েজ নয়, বরং নামাজের মতো হকদারদের নিকট অথবা ইমামের কাছে প্রদানের সময় নিয়ত করা ওয়াজিব।আরেকটি হলো: কাফফারা। এতেও জাকাতের অনুরূপ দুটি মত রয়েছে। জাকাত ও কাফফারা এবং নামাজের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথম দুটি ওয়াজিব হওয়ার আগেই প্রদান করা জায়েজ, তাই এগুলোর নিয়ত আগে করা জায়েজ হয়েছে; নামাজের বিষয়টি এর বিপরীত। তদুপরি, প্রথম দুটি প্রতিনিধি গ্রহণ করে, কিন্তু নামাজ তা করে না।আমি বলি: প্রথম কারণটি রোজার দ্বারা খণ্ডিত হয়, আর দ্বিতীয়টি হজের দ্বারা।আরেকটি হলো: দুই নামাজ একত্রে পড়া (জম)। এর নিয়ত করতে হয় প্রথম নামাজে। যদি ইবাদতের শুরু থেকে ধরা হতো তবে তা দ্বিতীয় নামাজের শুরুতে হতো, কারণ সেটিই মূলত একত্রে মিলিয়ে পড়া হচ্ছে। আর যদি প্রথম নামাজকে ইবাদতের শুরু ধরা হয়, তবে এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে ইবাদত শুরুর পর নিয়ত করা জায়েজ হয়েছে; কারণ প্রসিদ্ধ মতানুসারে নামাজের মাঝে এবং নামাজ থেকে হালাল হওয়ার (সালাম ফেরানোর) সময় নিয়ত করা জায়েজ। একটি মতে: প্রথম নামাজের শুরু ছাড়া নিয়ত করা জায়েজ নয়। অন্য এক মতে: হালাল হওয়ার সময় জায়েজ নয়। আরেকটি মতে: সালাম ফেরানোর পর দ্বিতীয় নামাজের ইহরাম বাঁধার আগে জায়েজ। 'শরহুল মুহাজ্জাব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি শক্তিশালী মত।আরেকটি হলো: তামাত্তু হজের নিয়ত—যারা এটি বৈধ বলেন তাদের মতে। এক্ষেত্রেও নামাজ একত্রে পড়ার মতো অভিমতগুলো রয়েছে। অধিকতর সঠিক মত হলো, এর সময় যতক্ষণ উমরা থেকে ফারেগ না হওয়া যায়। দ্বিতীয় মত: উমরার ইহরাম বাঁধার সময়। তৃতীয় মত: উমরা শেষ করার পর যতক্ষণ হজের কাজ শুরু না করে।আরেকটি হলো: কোরবানির নিয়ত। পশু জবেহ করার আগে নিয়ত করা জায়েজ এবং অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী জবেহের সময়ের সাথে তা যুক্ত থাকা ওয়াজিব নয়। আর উকিল বা প্রতিনিধির কাছে পশু হস্তান্তরের সময় নিয়ত করা অধিকতর সঠিক মতানুসারে জায়েজ।আরেকটি হলো—ইবাদত বহির্ভূত বিষয়ে—শপথের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের (ইনশাআল্লাহ বলার) নিয়ত। এটি শপথ শেষ হওয়ার আগে করা ওয়াজিব, যদিও ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রেও নিয়ত করা জরুরি।একটি তাত্ত্বিক শাখা:কাজের শুরুতেই নিয়ত ধর্তব্য হওয়ার এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে যা 'রওজাহ' ও তার মূলে ইমাম বাগাউয়ীর ফতোয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং যা স্বীকৃত হয়েছে: যদি কেউ তার স্ত্রীকে চাবুক দিয়ে টানা দশবার বা তার বেশি আঘাত করে এবং সে মারা যায়; তবে শুরুতে যদি সে প্রাণঘাতী সংখ্যার ইচ্ছা করে থাকে, তবে কিসাস ওয়াজিব হবে। আর যদি সে দুই বা তিন চাবুক মেরে শাসন করার নিয়ত করে, এরপর তার মনে নতুন চিন্তা আসে এবং সে সীমা অতিক্রম করে ফেলে, তবে কিসাস হবে না; কারণ এক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত হত্যা (আমদ) এবং ইচ্ছাকৃত সদৃশ হত্যার (শুবহুল আমদ) সংমিশ্রণ ঘটেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تَنْبِيهَات الْأَوَّل:مَا أَوَّله مِنْ الْعِبَادَات ذِكْرٌ، وَجَبَ اقْتِرَانهَا بِكُلِّ اللَّفْظ. وَقِيلَ: يَكْفِي بِأَوَّلِهِ، فَمِنْ ذَلِكَ الصَّلَاة. وَمَعْنَى اقْتِرَانهَا بِكُلِّ التَّكْبِير: أَنْ يُوجَد جَمِيع النِّيَّة الْمُعْتَبَرَة عِنْد كُلّ حَرْف مِنْهُ، وَمَعْنَى الِاكْتِفَاء بِأَوَّلِهِ: أَنَّهُ لَا يَجِب اسْتِصْحَابهَا إلَى آخِره، وَاخْتَارَهُ الْإِمَامُ وَالْغَزَالِيُّ.وَنَظِير ذَلِكَ: نِيَّة كِنَايَة الطَّلَاق. وَفِيهَا الْوَجْهَانِ، قَالَ فِي الْمِنْهَاجِ: وَشَرْط نِيَّة الْكِنَايَة اقْتِرَانهَا بِكُلِّ اللَّفْظ، وَقِيلَ: يَكْفِي بِأَوَّلِهِ، وَرَجَّحَ فِي أَصْل الرَّوْضَةِ خِلَافهمَا فَقَالَ: وَلَوْ اقْتَرَنَتْ بِأَوَّلِ اللَّفْظ دُون آخِره، أَوْ عَكْسه طَلُقَتْ فِي الْأَصَحّ. وَاَلَّذِي فِي الشَّرْحِ: نَقَلَ تَرْجِيح الْوُقُوعِ فِي اقْتِرَانِهَا بِأَوَّلِهِ عَنْ الْإِمَامِ وَالْغَزَالِيِّ. قَالَ: وَسَكَتَا عَنْ التَّرْجِيحِ فِي اقْتِرَانِهَا بِآخِرِهِ خَاصَّة. وَهُوَ يُشْعِر بِأَنَّهُمَا رَأَيَا فِيهِ الْبُطْلَان.وَفِي الشَّرْحِ الصَّغِيرِ: فِي الْأُولَى الْأَظْهَر الْوُقُوع، وَمَيْل الْإِمَامِ فِي الثَّانِيَةِ إلَى تَرْجِيح عَدَمه، ثُمَّ حَكَى الرَّافِعِيُّ عَنْ الْمُتَوَلِّي: أَنَّهُ قَرَّبَ الْخِلَاف فِي الْأُولَى مِنْ الْخِلَاف فِيمَا إذَا اقْتَرَنَتْ نِيَّة الصَّلَاة بِأَوَّلِ التَّكْبِير، دُون آخِره، وَالْخِلَاف فِي الثَّانِيَة مِنْ الْخِلَاف فِي نِيَّة الْجَمْع فِي أَثْنَاء الصَّلَاة.قَالَ الرَّافِعِيُّ: وَقَضِيَّتُهُ أَنَّهُ إذَا كَانَ الْوُقُوع فِي الْأُولَى أَظْهَر فَفِي الثَّانِيَة أَوْلَى ; لِأَنَّ الْأَظْهَر فِي اقْتِرَان النِّيَّة بِأَوَّلِ التَّكْبِير عَدَم الِانْعِقَاد، وَفِي الْجَمْع الصِّحَّة. وَهَذَا هُوَ الَّذِي حَمَلَ النَّوَوِيَّ عَلَى تَصْحِيح الْوُقُوع فِيهِمَا.وَهُنَا دَقِيقَة: وَهُوَ أَنَّ الرَّافِعِيَّ مَثَّلَ اقْتِرَانهَا بِأَوَّلِهِ دُون آخِره: بِأَنْ تُوجَد عِنْد قَوْله " أَنْتِ "، وَقَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: الْمُعْتَبَر اقْتِرَانهَا بِلَفْظِ الْكِنَايَة: إمَّا كُلّه وَإِمَّا بَعْضه، لِأَنَّ الْقَصْد مِنْهَا تَفْسِير إرَادَة الطَّلَاق بِهِ، فَلَا عِبْرَة بِاقْتِرَانِهَا بِلَفْظِ " أَنْتِ "، قَالَ: وَقَدْ صَرَّحَ بِهَذَا الْبَنْدَنِيجِيُّ وَالْمَاوَرْدِيُّ وَغَيْرهمَا.قُلْت: وَنَظِير ذَلِكَ فِي الصَّلَاة أَنْ يُقَال: الْمُعْتَبَر اقْتِرَانهَا بِاللَّفْظِ الَّذِي يَتَوَقَّف الِانْعِقَاد عَلَيْهِ، وَهُوَ " اللَّه أَكْبَر "، فَلَوْ قَالَ: اللَّه الْجَلِيل أَكْبَر، فَهَلْ يَجِب اقْتِرَانهَا بِالْجَلِيلِ؟ مَحِلّ نَظَر، وَلَمْ أَرَ مَنْ ذَكَره، وَفِي الْكَوَاكِبِ لِلْإِسْنَوِيِّ: إذَا كَتَبَ: زَوْجَتِي طَالِق، وَنَوَى وَقَعَ الطَّلَاقُ فِي الْأَصَحِّ. قَالَ: وَالْقِيَاسُ اشْتِرَاطُ النِّيَّةِ فِي جَمِيعِ اللَّفْظِ الَّذِي لَا بُدَّ مِنْهُ، لَا فِي لَفْظ الطَّلَاق خَاصَّة ; لِأَنَّا إنَّمَا اشْتَرَطْنَا النِّيَّة فِيهِ لِكَوْنِهِ غَيْر مَلْفُوظ بِهِ، لَا لِانْتِفَاءِ الصَّرَاحَة فِيهِ. وَهَذَا الْمَعْنَى مَوْجُود فِي الْجَمِيع، وَحِينَئِذٍ فَيَنْوِي الزَّوْجَةَ حِين يَكْتُب " زَوْجَتِي "، وَالطَّلَاقَ حِينَ يَكْتُبُ " طَالِقٌ " انْتَهَى.وَنَظِير ذَلِكَ أَيْضًا: كِنَايَات الْبَيْع وَسَائِرِ الْعُقُود، قَالَ فِي الْخَادِمِ: سَكَتُوا عَنْ وَقْتهَا، وَيُحْتَمَل أَنْ يَأْتِي فِيهَا مَا فِي الطَّلَاق، وَيُحْتَمَل الْمَنْع، وَاشْتِرَاط وُجُودهَا فِي جَمِيع اللَّفْظ.
প্রথম সতর্কীকরণ: ইবাদতসমূহের মধ্যে যেগুলোর শুরুতে যিকর রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ণ উচ্চারণের সাথে নিয়ত সংশ্লিষ্ট থাকা ওয়াজিব। কেউ কেউ বলেছেন: এর শুরুর অংশের সাথে থাকাই যথেষ্ট। এর একটি উদাহরণ হলো সালাত। আর পুরো তাকবীরের সাথে নিয়ত সংশ্লিষ্ট থাকার অর্থ হলো: তাকবীরের প্রতিটি অক্ষরের সময় ধর্তব্য নিয়তটি পুরোপুরি উপস্থিত থাকা। আর শুরুর অংশের সাথে থাকাকে যথেষ্ট মনে করার অর্থ হলো: শেষ পর্যন্ত নিয়তকে স্থায়ী রাখা ওয়াজিব নয়। ইমাম এবং গাযালি এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন। এর সদৃশ বিষয় হলো তালাকের কিনায়ার (অস্পষ্ট শব্দের) নিয়ত। এতে দুটি অভিমত রয়েছে। মিনহাজ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কিনায়ার নিয়তের শর্ত হলো তা পূর্ণ উচ্চারণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা, আর কেউ কেউ বলেছেন: শুরুর সাথে থাকাই যথেষ্ট। রওদাহ-এর মূল গ্রন্থে এ দুটির বিপরীত মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তিনি বলেছেন: যদি নিয়ত শব্দের শুরুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে কিন্তু শেষের সাথে না থাকে, অথবা এর উল্টোটা হয়, তবে বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী তালাক পতিত হবে। আর শারহ গ্রন্থে যা রয়েছে তা হলো: নিয়ত শুরুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে তালাক পতিত হওয়ার মতটিকে ইমাম এবং গাযালি থেকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন: তারা কেবল শেষের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার ক্ষেত্রে কোনো প্রাধান্য উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তারা এতে বিষয়টি বাতিল গণ্য করার পক্ষপাতি ছিলেন। শারহে সাগির-এ বলা হয়েছে: প্রথম সুরতে তালাক পতিত হওয়া স্পষ্টতর অভিমত, আর দ্বিতীয় সুরতে ইমামের ঝোঁক হলো তালাক না হওয়ার মতকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে। এরপর রাফেয়ি মুতাওয়াল্লি থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি প্রথম সুরতের মতপার্থক্যকে সালাতের নিয়ত তাকবীরের শুরুতে থাকা কিন্তু শেষে না থাকার মতপার্থক্যের কাছাকাছি গণ্য করেছেন। আর দ্বিতীয় সুরতের মতপার্থক্যকে সালাতের মাঝখানে জামআ’র নিয়ত করার মতপার্থক্যের সাথে তুলনা করেছেন। রাফেয়ি বলেন: এর দাবি হলো, যদি প্রথম সুরতে তালাক হওয়া অধিক স্পষ্ট হয়, তবে দ্বিতীয় সুরতে তা হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত; কারণ তাকবীরের শুরুতে নিয়ত থাকার ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট মত হলো সালাত সংঘটিত না হওয়া, আর জামআ’র ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ হওয়া। আর এটিই নববীকে উভয় সুরতে তালাক পতিত হওয়ার মতকে বিশুদ্ধ বলার দিকে ধাবিত করেছে। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে: তা হলো রাফেয়ি নিয়ত শুরুর দিকে থাকা কিন্তু শেষে না থাকার উদাহরণ দিয়েছেন "তুমি" বলার সময় নিয়ত উপস্থিত থাকা দ্বারা। মুহিম্মাত গ্রন্থে বলা হয়েছে: ধর্তব্য বিষয় হলো কিনায়া বা অস্পষ্ট শব্দের সাথে নিয়ত থাকা, চাই তার পুরোটার সাথে হোক বা অংশের সাথে। কারণ নিয়তের উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে তালাকের ইচ্ছার ব্যাখ্যা করা। সুতরাং "তুমি" শব্দের সাথে নিয়ত সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো ধর্তব্য নেই। তিনি বলেন: বানদানিজি, মাওয়ার্দি এবং অন্যান্যরা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আমি বলি: সালাতের ক্ষেত্রে এর সদৃশ কথা হলো: ধর্তব্য হলো নিয়ত সেই শব্দের সাথে থাকা যার ওপর সালাত শুরু হওয়া নির্ভরশীল, আর তা হলো "আল্লাহু আকবার"। এখন যদি কেউ বলে "আল্লাহুল জালীলু আকবার", তবে কি "আল-জালীল" শব্দের সাথেও নিয়ত সংশ্লিষ্ট থাকা ওয়াজিব? এটি পর্যালোচনার বিষয়, এবং আমি কাউকে এটি উল্লেখ করতে দেখিনি। ইসনাবীর কাওয়াকিব গ্রন্থে আছে: যদি কেউ লেখে "আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা" এবং নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী তালাক পতিত হবে। তিনি বলেন: কিয়াস বা যুক্তি দাবি করে যে, নিয়ত পুরো প্রয়োজনীয় বাক্যাংশের সাথেই থাকা শর্ত, কেবল তালাক শব্দের সাথে নয়। কেননা আমরা এতে নিয়তকে শর্ত করেছি এটি অলিখিত হওয়ার কারণে, এতে স্পষ্টতার অভাব থাকার কারণে নয়। আর এই অর্থ পুরো বাক্যেই বিদ্যমান। অতএব, যখন সে "আমার স্ত্রী" লিখবে তখন স্ত্রীর নিয়ত করবে এবং যখন "তালাকপ্রাপ্তা" লিখবে তখন তালাকের নিয়ত করবে। সমাপ্ত। এর সদৃশ আরও বিষয় হলো: ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য চুক্তির কিনায়া বা অস্পষ্ট শব্দ। খাদিম গ্রন্থে বলা হয়েছে: তারা এর সময় সম্পর্কে নীরব থেকেছেন। সম্ভাবনা রয়েছে যে এতে তালাকের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে তাই প্রযোজ্য হবে, আবার এটি নিষিদ্ধ হওয়া এবং পূর্ণ শব্দের সাথে নিয়ত থাকার শর্তারোপেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَيُفَرَّق بِأَنَّ الطَّلَاق مُسْتَقِلّ بِنَفْسِهِ، بِخِلَافِ الْبَيْع وَنَحْوه.وَمِنْ ذَلِكَ الْوُضُوء وَالْغُسْل، فَيُسْتَحَبّ اقْتِرَان النِّيَّة فِيهِمَا بِالتَّسْمِيَةِ، كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ. وَعِبَارَته فِي بَاب الْغُسْل: وَيُسْتَحَبّ أَنْ يَبْتَدِئَ بِالنِّيَّةِ مَعَ التَّسْمِيَة، وَلَمْ يَسْتَحْضِرهُ الْإِسْنَوِيُّ فَنَقَلَهُ عَنْ الْمُحِبِّ الطَّبَرِيِّ، وَعِبَارَته: وَالْأَوْلَى أَنْ تُقَارِنَهَا النِّيَّةُ ; لِأَنَّ تَقْدِيم النِّيَّة عَلَيْهَا يُؤَدِّي إلَى خُلُوّ بَعْض الْفَرَائِض عَنْ التَّسْمِيَة، وَالْعَكْس يُؤَدِّي إلَى خُلُوّ بَعْض السُّنَن عَنْ النِّيَّة.وَمِنْ ذَلِكَ: الْإِحْرَام، فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ بِمُقَارَنَةِ النِّيَّةِ التَّلْبِيَةَ وَهُوَ ظَاهِر، كَمَا يُفْهَم مِنْ كَلَامهمْ وَإِنْ لَمْ يُصَرِّحُوا بِهِ.وَمِنْ ذَلِكَ: الطَّوَاف، وَيَنْبَغِي اقْتِرَان نِيَّته بِقَوْلِهِ " بِسْمِ اللَّه وَاَللَّه أَكْبَر ".وَمِنْ ذَلِكَ: الْخُطْبَة، إنْ أَوْجَبْنَا نِيَّتهَا، وَالظَّاهِر وُجُوب اقْتِرَانهَا بِقَوْلِهِ " الْحَمْد لِلَّهِ " لِأَنَّهُ أَوَّلُ الْأَرْكَانِ.التَّنْبِيه الثَّانِي: قَدْ يَكُون لِلْعِبَادَةِ أَوَّل حَقِيقِيّ، وَأَوَّل نِسْبِيّ، فَيَجِب اقْتِرَان النِّيَّة بِهِمَا.مِنْ ذَلِكَ: التَّيَمُّم، فَيَجِب اقْتِرَان نِيَّته بِالنَّقْلِ ; لِأَنَّهُ أَوَّل الْمَفْعُول مِنْ أَرْكَانه، وَبِمَسْحِ الْوَجْه ; لِأَنَّهُ أَوَّل الْأَرْكَان الْمَقْصُودَة، وَالنَّقْل وَسِيلَة إلَيْهِ.وَمِنْ ذَلِكَ: الْوُضُوء وَالْغُسْل، فَيَجِب لِلصِّحَّةِ اقْتِرَان نِيَّتهمَا بِأَوَّلِ مَغْسُول مِنْ الْوَجْه وَالْبَدَنِ، وَيَجِب لِلثَّوَابِ اقْتِرَانهمَا بِأَوَّلِ السُّنَن السَّابِقَة، لِيُثَابَ عَلَيْهَا، فَلَوْ لَمْ يَفْعَل لَمْ يُثَبْ عَلَيْهَا فِي الْأَصَحّ لِأَنَّهُ لَمْ يَنْوِهَا.وَفِي نَظِيره مِنْ الصَّوْم: لَوْ نَوَى أَثْنَاء النَّهَار حَصَلَ لَهُ ثَوَابُ الصَّوْم مِنْ أَوَّله، وَخَرَجَ مِنْهُ وَجْه فِي الْوُضُوء ; لِأَنَّهُ مِنْ جُمْلَةِ طَهَارَةٍ مَنْوِيَّةٍ، وَلَكِنْ فُرِّقَ بِأَنَّ الصَّوْم خَصْلَة وَاحِدَة فَإِذَا صَحَّ بَعْضهَا صَحَّ كُلّهَا، وَالْوُضُوء أَفْعَال مُتَغَايِرَة، فَالِانْعِطَاف فِيهَا بَعِيدٌ، وَبِأَنَّهُ لَا ارْتِبَاط لِصِحَّةِ الْوُضُوء بِمَا قَبْله، بِخِلَافِ إمْسَاك أَوَّل النَّهَار.وَالْوَجْهَانِ جَارِيَانِ فِيمَنْ أَكَلَ بَعْض الْأُضْحِيَّة وَتَصَدَّقَ بِبَعْضِهَا، هَلْ يُثَاب عَلَى الْكُلِّ أَوْ عَلَى مَا تَصَدَّقَ بِهِ؟ قَالَ الرَّافِعِيُّ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُقَال: لَهُ ثَوَابُ التَّضْحِيَةِ بِالْكُلِّ وَالتَّصَدُّق بِالْبَعْضِ.وَمِنْ نَظَائِر ذَلِكَ: نِيَّة الْجَمَاعَة فِي الْأَثْنَاء، أَمَّا فِي أَثْنَاء صَلَاة الْإِمَام وَفِي أَوَّل صَلَاة الْمَأْمُوم فَلَا شَكَّ فِي حُصُول الْفَضِيلَة، لَكِنْ هَلْ هِيَ فَضِيلَة الْجَمَاعَة الْكَامِلَة أَوْ لَا؟ سَيَأْتِي تَحْرِيرُ الْقَوْلِ فِي ذَلِكَ، فَإِنْ قُلْنَا بِالْأَوَّلِ فَقَدْ عَادَتْ النِّيَّةُ بِالِانْعِطَافِ، وَبِهِ صَرَّحَ بَعْضُ شُرَّاح الْحَدِيث. وَأَمَّا فِي أَثْنَاء صَلَاة الْمَأْمُوم، فَإِنَّ الصَّلَاة تَصِحّ فِي الْأَظْهَر، لَكِنْ تُكْرَه
এবং এর মধ্যে পার্থক্য করা হয় এই যে, তালাক নিজেই স্বতন্ত্র, কেনা-বেচা এবং এই জাতীয় বিষয়ের বিপরীতে।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো ওজু এবং গোসল; এই উভয় ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ পাঠের সাথে নিয়তের সংযোগ ঘটানো মুস্তাহাব, যেমনটি 'শারহুল মুহাযযাব' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গোসল অধ্যায়ে এর পাঠ হলো: বিসমিল্লাহর সাথে নিয়ত দ্বারা শুরু করা মুস্তাহাব। আল-ইসনাভি এটি স্মরণ করতে পারেননি, তাই তিনি এটি আল-মুহিব আল-তাবারী থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এর পাঠ হলো: উত্তম হলো নিয়তকে এর (বিসমিল্লাহর) সাথে যুক্ত করা; কেননা বিসমিল্লাহর আগে নিয়ত করলে কিছু ফরজ কাজ বিসমিল্লাহ বিহীন হয়ে পড়ে, আর এর বিপরীত করলে কিছু সুন্নত কাজ নিয়ত বিহীন হয়ে পড়ে।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ইহরাম; সুতরাং বলা উচিত যে নিয়তের সাথে তালবিয়ার সংযোগ থাকা প্রয়োজন এবং এটিই স্পষ্ট, যেমনটি তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যদিও তারা তা স্পষ্টভাবে বলেননি।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাওয়াফ; আর তার নিয়তের সংযোগ থাকা উচিত তার এই বাণীর সাথে— "বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার"।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: খুতবা; যদি আমরা এর নিয়তকে আবশ্যক মনে করি, তবে স্পষ্ট কথা হলো এর নিয়তের সংযোগ থাকা উচিত তার এই বাণীর সাথে— "আলহামদুলিল্লাহ", কারণ এটি রোকনসমূহের প্রথমটি।দ্বিতীয় সতর্কতা: ইবাদতের একটি প্রকৃত শুরু এবং একটি আপেক্ষিক শুরু থাকতে পারে; ফলে উভয়ের সাথেই নিয়তের সংযোগ থাকা ওয়াজিব।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তায়াম্মুম; সুতরাং তার নিয়তের সংযোগ থাকা ওয়াজিব মাটি স্থানান্তরের সাথে; কারণ এটি এর রোকনগুলোর মধ্যে কৃত প্রথম কাজ। এবং মুখমণ্ডল মাসাহ করার সাথেও (নিয়ত থাকা ওয়াজিব); কারণ এটি উদ্দেশ্যমূলক রোকনসমূহের মধ্যে প্রথম, আর মাটি স্থানান্তর হলো এর একটি মাধ্যম।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ওজু এবং গোসল; সুতরাং বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য মুখমণ্ডল ও শরীরের ধৌতকৃত প্রথম অংশের সাথে এদের নিয়তের সংযোগ থাকা ওয়াজিব। আর সওয়াব অর্জনের জন্য পূর্ববর্তী সুন্নতসমূহের প্রথমটির সাথে নিয়তের সংযোগ থাকা ওয়াজিব, যাতে সেগুলোর সওয়াব পাওয়া যায়। যদি সে এটি না করে, তবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সেগুলোর জন্য সওয়াব পাবে না, যেহেতু সে এগুলোর নিয়ত করেনি।এবং রোজার ক্ষেত্রে এর অনুরূপ মাসআলা হলো: যদি কেউ দিনের মধ্যভাগে নিয়ত করে, তবে সে শুরু থেকেই রোজার সওয়াব লাভ করবে। ওজুর ক্ষেত্রেও একটি মত এরূপ বর্ণিত হয়েছে; কারণ এটি নিয়তকৃত পবিত্রতারই অংশ। কিন্তু এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে এই যে, রোজা হলো একটি একক আমল, তাই এর কিছু অংশ সঠিক হলে পুরোটিই সঠিক হয়ে যায়। আর ওজু হলো ভিন্ন ভিন্ন কিছু কাজ, তাই এতে পরবর্তী নিয়ত পূর্বের কাজে কার্যকর হওয়া সুদূরপরাহত। আর তাছাড়া ওজুর বিশুদ্ধতার সাথে তার পূর্ববর্তী কাজের কোনো সম্পর্ক নেই, দিনের শুরুতে পানাহার থেকে বিরত থাকার বিপরীত।আর এই দুটি মত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যে কুরবানির পশুর কিছু অংশ নিজে খেল এবং কিছু অংশ সদকা করল। সে কি পুরোটার সওয়াব পাবে নাকি যতটুকু সদকা করেছে তার সওয়াব পাবে? ইমাম রাফেয়ী বলেছেন: এটি বলা উচিত যে, সে পুরোটি কুরবানি করার এবং আংশিক সদকা করার সওয়াব পাবে।এবং এর সদৃশ মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: নামাজের মাঝখানে জামাতের নিয়ত করা। ইমামের নামাজের মাঝখানে এবং মুক্তাদির নামাজের শুরুতে জামাতের সওয়াব অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তা কি পূর্ণ জামাতের সওয়াব নাকি নয়? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। যদি আমরা প্রথম মতটি গ্রহণ করি, তবে নিয়তটি পেছনের দিকে কার্যকর হবে, আর কিছু হাদিস ব্যাখ্যাকারক এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর মুক্তাদির নামাজের মাঝখানে জামাতের নিয়ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট মত অনুযায়ী নামাজ সহিহ হবে, তবে তা মাকরূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كَمَا فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ. وَأَخَذَ مِنْ ذَلِكَ بَعْض الْمُحَقَّقِينَ عَدَم حُصُول الْفَضِيلَة بِالْكُلِّيَّةِ، لَا أَصْلًا وَلَا انْعِطَافَا، وَسَيَأْتِي.وَمِنْ النَّظَائِر الْمُهِمَّة: وَقْت نِيَّة الْإِمَامَة، وَلَمْ يَتَعَرَّض الشَّيْخَانِ لِهَذِهِ الْمَسْأَلَة، وَفِيهَا اخْتِلَاف. قَالَ صَاحِبُ الْبَيَانِ: عِنْد حُضُور مَنْ يُرِيد الِاقْتِدَاء بِهِ ; لِأَنَّهُ قَبْل ذَلِكَ لَيْسَ بِإِمَامِ. وَارْتَضَاهُ ابْنُ الْفِرْكَاحِ، فَعَلَى هَذَا: يَأْتِي الِانْعِطَاف وَقَالَ الْجُوَيْنِيُّ: عِنْد التَّحَرُّم. قَالَ الْأَذْرَعِيُّ وَهُوَ: الصَّوَاب، وَمُقْتَضَى كَلَام الْأَصْحَاب.قُلْت: صَدَقَ وَبَرَّ، فَإِنَّ الْأَصْحَاب صَحَّحُوا اشْتِرَاطهَا فِي الْجُمُعَة، فَلَوْ لَمْ يَأْتِ بِهَا فِي التَّحَرُّم لَمْ تَنْعَقِد جُمُعَته.وَمِنْهَا: وَقْت نِيَّة الِاغْتِرَاف، هَلْ هُوَ عِنْد وَضْع يَده فِي الْمَاء، أَوْ عِنْد انْفِصَاله؟ قَالَ فِي الْخَادِمِ: يَنْبَغِي أَنْ يَتَخَرَّج عَلَى الْوَجْهَيْنِ الْمَحْكِيَّيْنِ عَنْ الْقَاضِي حُسَيْنٍ: أَنَّ الْمَاء هَلْ يُحْكَمُ بِاسْتِعْمَالِهِ إذَا لَمْ يَنْوِهَا مِنْ إدْخَال الْيَد، أَوْ مِنْ انْفِصَالهَا عَنْ الْمَاء؟ قَالَ: وَالْأَشْبَه الثَّانِي.التَّنْبِيه الثَّالِث: الْعِبَادَات ذَات الْأَفْعَال يُكْتَفَى بِالنِّيَّةِ فِي أَوَّلهَا، وَلَا يُحْتَاج إلَيْهَا فِي كُلّ فِعْل، اكْتِفَاءً بِانْسِحَابِهَا عَلَيْهَا كَالْوُضُوءِ وَالصَّلَاة، وَكَذَا الْحَجّ، فَلَا يُحْتَاج إلَى إفْرَاد الطَّوَافِ وَالسَّعْي وَالْوُقُوفِ بِنِيَّةٍ عَلَى الْأَصَحِّ.ثُمَّ مِنْهَا مَا يُمْنَع فِيهِ ذَلِكَ، وَمِنْهَا مَا لَا يُمْنَع، وَمِنْهَا مَا يُشْتَرَط أَنْ لَا يُقْصَد غَيْره، وَمِنْهَا مَا لَا يُشْتَرَط.مِنْ الْأَوَّل الصَّلَاة، فَلَا يَجُوز تَفْرِيق النِّيَّة عَلَى أَرْكَانهَا.وَمِنْ الثَّانِي: الْحَجّ فَيَجُوز نِيَّة الطَّوَاف وَالسَّعْيِ وَالْوُقُوف، بَلْ هُوَ الْأَكْمَلُ، وَفِي الْوُضُوء وَجْهَانِ:أَحَدهمَا: لَا يَجُوز كَالصَّلَاةِ، وَالْأَصَحّ الْجَوَاز. وَالْفَرْق أَنَّ الْوُضُوء يَجُوز تَفْرِيق أَفْعَاله، فَجَازَ تَفْرِيق نِيَّته بِخِلَافِ الصَّلَاة.وَلِتَفْرِيقِ النِّيَّة فِيهِ صُوَر: الْأَوْلَى أَنْ يَنْوِي عِنْد كُلّ عُضْو رَفْع حَدَثه.الثَّانِيَة: أَنْ يَنْوِي رَفْع حَدَث الْمَغْسُول دُون غَيْره.الثَّالِثَة: أَنْ يَنْوِي رَفْع الْحَدَث عِنْد كُلّ عُضْو وَيُطْلِق، صَرَّحَ بِهَا ابْنُ الصَّلَاحِ.وَمِنْ الثَّالِث: الْوُضُوء وَالصَّلَاة وَالطَّوَاف وَالسَّعْيُ، فَلَوْ عَزَبَتْ نِيَّته ثُمَّ نَوَى التَّبَرُّد لَمْ يُحْسَب الْمَفْعُول حَتَّى يُجَدِّد النِّيَّة، أَوْ هَوَى لِسُجُودِ تِلَاوَة فَجَعَلَهُ رُكُوعًا، أَوْ رَكَعَ فَفَزِعَ مِنْ شَيْءٍ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، أَوْ سَجَدَ فَشَاكَتْهُ شَوْكَة فَرَفَعَ رَأْسَهُ، لَمْ يُجْزِهِ فَعَلَيْهِ الْعَوْد وَاسْتِئْنَاف الرُّكُوع وَالرَّفْع، وَلَوْ طَافَ لِلْحَجِّ بِلَا نِيَّة وَقَصَدَ مُلَازَمَة غَرِيمه لَمْ يُحْسَب عَنْ الطَّوَاف.وَمِنْ ذَلِكَ: مَسْأَلَة الْحَامِل فَإِذَا حَمَلَ مُحْرِمٌ عَلَيْهِ طَوَاف مُحْرِمًا وَطَافَ بِهِ وَقَصَدَ الْحَامِل الطَّوَاف عَنْ الْمَحْمُول فَقَطْ دُون نَفْسه، وَقَعَ لِلْمَحْمُولِ فَقَطْ عَلَى الْأَصَحّ ; لِأَنَّهُ
যেমনটি শারহুল মুহাজ্জাবে রয়েছে। আর এ থেকে কয়েকজন মুহাক্কিক (গবেষক) ফজিলত মোটেও অর্জিত না হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন, মূলগতভাবেও নয় এবং অনুবর্তী হিসেবেও নয়, যা সামনে আসবে।গুরুত্বপূর্ণ সদৃশ মাসআলাসমূহের মধ্যে একটি হলো: ইমামতের নিয়ত করার সময়। শাইখাইন (ইমাম রাফেয়ী ও নববী) এই মাসআলাটি আলোচনা করেননি এবং এতে মতভেদ রয়েছে। 'আল-বায়ান' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: যখন তার সাথে ইক্তিদা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি উপস্থিত হয় তখন; কারণ এর আগে তিনি ইমাম নন। ইবনুল ফিরকাহ একে পছন্দ করেছেন। এই মতানুসারে ‘ইনয়িতাফ’ বা অনুবর্তিতা সাব্যস্ত হবে। আল-জুওয়াইনি বলেছেন: তাহরিমার (তাকবীরে তাহরিমা) সময়। আল-আজরয়ী বলেছেন: আর এটাই সঠিক এবং আসহাবগণের (মাযহাবের ইমামগণের অনুসারীগণ) বক্তব্যের দাবিও এটাই।আমি বলি: তিনি সত্য বলেছেন এবং সঠিক কথা বলেছেন। কেননা আসহাবগণ জুমার ক্ষেত্রে ইমামতের নিয়ত শর্ত হওয়াকে বিশুদ্ধ বলেছেন। সুতরাং যদি তিনি তাহরিমার সময় তা না করেন, তবে তার জুমা সংঘটিত হবে না।এর মধ্যে আরও রয়েছে: ‘ইগতিরাফ’ বা পাত্র থেকে পানি তুলে নেওয়ার নিয়তের সময়। এটা কি পানিতে হাত রাখার সময়, নাকি পানি থেকে হাত আলাদা করার সময়? 'আল-খাদিম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাজী হুসাইন থেকে বর্ণিত দুটি মতের উপর ভিত্তি করে এর সমাধান হওয়া উচিত: নিয়ত না করলে পানি ‘মুস্তা’মাল’ (ব্যবহৃত) হওয়ার হুকুম কি হাত প্রবেশ করানোর সময় থেকে হবে, নাকি পানি থেকে হাত আলাদা করার সময় থেকে হবে? তিনি বলেছেন: দ্বিতীয়টিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।তৃতীয় সতর্কবার্তা: যেসব ইবাদতে একাধিক আমল রয়েছে, সেগুলোর শুরুতে নিয়ত করাই যথেষ্ট। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা নিয়তের প্রয়োজন নেই, কারণ শুরুর নিয়তটিই সবগুলোর ওপর প্রসারিত বলে গণ্য হয়, যেমন অজু এবং নামাজ। অনুরূপভাবে হজও; সুতরাং বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী তাওয়াফ, সায়ী এবং উকুফ (অবস্থান)-এর জন্য পৃথক নিয়তের প্রয়োজন নেই।এরপর এর মধ্যে এমন কিছু আছে যাতে তা (পৃথক নিয়ত) নিষিদ্ধ, আবার এমন কিছু আছে যাতে নিষিদ্ধ নয়। আবার এমন কিছু আছে যেখানে অন্য কোনো কিছুর উদ্দেশ্য না থাকা শর্ত করা হয়, আবার কোনোটিতে তা শর্ত নয়।প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো নামাজ। সুতরাং এর রুকনগুলোর ওপর নিয়তকে বিচ্ছিন্ন করা বা ভাগ করা জায়েজ নয়।দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো হজ। সুতরাং তাওয়াফ, সায়ী এবং উকুফের জন্য নিয়ত করা জায়েজ, বরং এটাই অধিক পূর্ণাঙ্গ। আর অজুর ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে:তার একটি হলো: নামাজের মতো এটি জায়েজ নয়। তবে বিশুদ্ধতম মত হলো জায়েজ। পার্থক্য হলো, অজুর কাজগুলো বিচ্ছিন্নভাবে করা জায়েজ, তাই এর নিয়ত বিচ্ছিন্ন করাও জায়েজ হয়েছে, যা নামাজের বিপরীত।আর অজুর নিয়ত বিচ্ছিন্ন করার কয়েকটি সুরত বা পদ্ধতি রয়েছে: প্রথমটি হলো প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় সেই অঙ্গের অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার নিয়ত করা।দ্বিতীয় পদ্ধতি: ধৌত করা হচ্ছে এমন অঙ্গের অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা, অন্য অঙ্গের নয়।তৃতীয় পদ্ধতি: প্রতিটি অঙ্গের সময় সাধারণভাবে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা। ইবনুস সালাহ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।তৃতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো: অজু, নামাজ, তাওয়াফ এবং সায়ী। সুতরাং যদি নিয়ত চলে যায় এবং এরপর শরীর ঠান্ডা করার নিয়ত করে, তবে নতুন করে নিয়ত না করা পর্যন্ত কৃত আমল গণ্য হবে না। অথবা যদি কেউ তিলাওয়াতের সিজদার জন্য অবনত হয় কিন্তু তাকে রুকু বানিয়ে ফেলে, অথবা রুকু করল কিন্তু কোনো কিছুতে আতঙ্কিত হয়ে মাথা তুলে ফেলল, অথবা সিজদা করল কিন্তু কাঁটা বিঁধলে মাথা তুলে ফেলল, তবে তা যথেষ্ট হবে না। তাকে পুনরায় রুকু এবং মাথা তোলার কাজগুলো করতে হবে। আর যদি কেউ হজের তাওয়াফ করার সময় কোনো নিয়ত না করে বরং কেবল পাওনাদারের সাথে সাথে থাকার উদ্দেশ্য করে, তবে তা তাওয়াফ হিসেবে গণ্য হবে না।এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বহনকারীর মাসআলা। যখন কোনো ইহরামকারী ব্যক্তি অন্য একজন ইহরামকারীকে—যার ওপর তাওয়াফ ওয়াজিব—বহন করে তাওয়াফ করায় এবং বহনকারী ব্যক্তি নিজের পরিবর্তে কেবল যাকে বহন করছে তার পক্ষ থেকে তাওয়াফের নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী তা কেবল বহনকৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকেই আদায় হবে; কারণ সে...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صَرَفَ الطَّوَافَ لِغَرَضٍ آخَر، وَلَوْ قَصَدَ نَفْسَهُ أَوْ كِلَيْهِمَا وَقَعَ لِلْحَامِلِ فَقَطْ، وَكَذَا لَوْ لَمْ يَقْصِد شَيْئًا، كَمَا فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَلَوْ نَامَ فِي الطَّوَاف عَلَى هَيْئَة لَا تَنْقُضُ الْوُضُوء قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ: هَذَا يَقْرُب مِنْ صَرْف النِّيَّة إلَى طَلَب الْغَرِيم. قَالَ: وَيَجُوز أَنْ يُقْطَع بِصِحَّةِ الطَّوَاف، لِأَنَّهُ لَمْ يَصْرِف الطَّوَاف إلَى غَيْر النُّسُك، وَلَا يَضُرّ كَوْنه غَيْرَ ذَاكِرِهَا.قَالَ النَّوَوِيُّ: وَهَذَا أَصَحّ.قُلْت: وَنَظِيره فِي الْوُضُوء، لَوْ نَامَ قَاعِدًا، ثُمَّ انْتَبَهَ فِي مُدَّة يَسِيرَة، لَمْ يَجِب تَجْدِيد النِّيَّة فِي الْأَصَحِّ، كَمَا فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَلَوْ أَمَرَ بِصَبِّ الْمَاء فِي وُضُوئِهِ، فَصَبَّ عَلَيْهِ نَاسِيًا بَعْد مَا غَسَلَ بَعْض أَعْضَائِهِ بِنَفْسِهِ فَإِنَّهُ يَصِحّ، ذَكَرَهُ فِيهِ أَيْضًا.وَمِنْ الرَّابِع: الْوُقُوف، فَالْأَصَحّ أَنَّهُ لَا يَضُرّ صَرْفه إلَى غَيْره، فَلَوْ مَرَّ بِعَرَفَاتٍ فِي طَلَب آبِق أَوْ ضَالَّة، وَلَا يَدْرِي أَنَّهَا عَرَفَاتٌ صَحَّ وُقُوفه. قَالَ الْإِمَامُ: وَالْفَرْق بَيْنه وَبَيْن مَسْأَلَة صَرْف الطَّوَاف أَنَّ الطَّوَاف قَدْ يَقَع قُرْبَةً مُسْتَقِلَّة، بِخِلَافِ الْوُقُوف، وَلِهَذَا لَوْ حَمَلَهُ فِي الْوُقُوفِ أَجْزَأَ عَنْهُمَا مُطْلَقًا ; بِخِلَافِ الطَّوَاف.(تَنْبِيهٌ)مِنْ مُشْكِلَات هَذَا الْأَصْل: مَا سَمِعْته مِنْ بَعْض مَشَايِخِي، أَنَّ الْأَصَحّ إيجَاب نِيَّة سُجُود السَّهْو دُون نِيَّة سُجُود التِّلَاوَة فِي الصَّلَاة، وَعُلِّلَ الْأَخِير بِأَنَّ نِيَّة الصَّلَاة تَشْمَلهُ، وَعِنْدِي: أَنَّ الْعَكْس كَانَ أَوْلَى ; لِأَنَّ سُجُود السَّهْو أَعْلَق بِالصَّلَاةِ مِنْ سُجُود التِّلَاوَة ; لِأَنَّهُ آكَدُ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ يُشْرَعُ لِلْمَأْمُومِ إذَا سَهَا الْإِمَام وَلَمْ يَسْجُد ; بِخِلَافِ مَا إذَا تَلَا الْإِمَام وَلَمْ يَسْجُدْ، وَاَلَّذِي يَظْهَرُ لِي فِي تَوْجِيهِ ذَلِكَ، إنْ صَحَّ أَنْ يُقَالَ: التِّلَاوَةُ مِنْ لَوَازِمِ الصَّلَاةِ، فَكَأَنَّ النَّاوِي عِنْد نِيَّتهَا مُسْتَحْضِر لَهَا، وَفِي ذِكْرِهِ تَعَرُّضٌ لَهَا، وَلَيْسَ السَّهْو نَفْسه مِنْ لَوَازِم الصَّلَاة، بَلْ وُقُوعه فِيهَا خِلَاف الْغَالِب، فَلَمْ يَكُنْ فِي النِّيَّة إيمَاء إلَيْهِ وَلَا ادِّكَارٌ.وَنَظِير ذَلِكَ: فِدْيَةُ الْمَحْظُورَات فِي الْحَجّ وَالْعُمْرَة، فَإِنَّهُ لَا بُدَّ لَهَا مِنْ النِّيَّة. وَلَا يُقَال: يُكْتَفَى بِنِيَّةِ الْإِحْرَام ; لِأَنَّهَا لَيْسَتْ مِنْ لَوَازِم الْإِحْرَام، وَلَا مِنْ ضَرُورِيَّاته. بِخِلَافِ طَوَاف الْقُدُوم مَثَلًا، فَإِنَّهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ مَاهِيَّة الْحَجّ، وَلَا أَبْعَاضه، وَلَا هَيْئَاته، بَلْ هُوَ أَجْنَبِيّ مِنْهُ مَحْض، لَكِنَّهُ مِنْ لَوَازِمه فَلِذَلِكَ لَا يُشْتَرَط لَهُ نِيَّة، كَمَا صَرَّحَ بِهِ الشَّيْخُ أَبُو حَامِدٍ.وَنَقَلَهُ عَنْهُ ابْنُ الرِّفْعَةِ: اكْتِفَاءً بِنِيَّةِ الْحَجّ فَهُوَ نَظِير سُجُود التِّلَاوَة فِي الصَّلَاة، ثُمَّ إنِّي تَتَبَّعْت كَلَام الشَّيْخَيْنِ وَغَيْرهمَا فَلَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَ وُجُوب النِّيَّة فِي سُجُود السَّهْو إلَّا عَلَى الْقَوْل الْقَدِيم أَنَّ مَحِلّه بَعْد السَّلَام. أَمَّا عَلَى الْجَدِيد الْأَظْهَر فَلَمْ يَذْكُرُوا ذَلِكَ أَصْلًا، بَلْ صَرَّحُوا بِخِلَافِهِ، فَقَالُوا فِيمَا إذَا سَلَّمَ نَاسِيًا ثُمَّ عَادَ لِلسُّجُودِ هَلْ يَكُون عَائِدًا إلَى الصَّلَاة؟ وَجْهَانِ: أَصَحّهمَا: نَعَمْ، وَالثَّانِي: لَا. فَإِنْ قُلْنَا: نَعَمْ، لَمْ يَحْتَجْ إلَى تَحَرٍّ، وَإِلَّا احْتَاجَ إلَيْهِ، وَهَذَا كَلَام لَا غُبَار عَلَيْهِ، وَالتَّقْلِيد آفَة كَبِيرَة.وَمِنْ ذَلِكَ: الْوُضُوء الْمَسْنُون فِي الْغُسْل. قَالَ الرَّافِعِيُّ: وَإِنَّمَا يُعَدّ الْوُضُوء مِنْ مَنْدُوبَات
তওয়াফকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরিয়ে নিলে, এবং যদি সে নিজের জন্য অথবা উভয়ের (নিজ ও বহনকৃত ব্যক্তি) জন্য নিয়ত করে, তবে তা কেবল বহনকারীর পক্ষেই সম্পন্ন হবে। অনুরূপভাবে যদি সে কোনো কিছুই নিয়ত না করে, যেমনটি শারহুল মুহাযযাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি কেউ তওয়াফের মধ্যে এমন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে যা অজু ভঙ্গ করে না, ইমামুল হারামাইন বলেন: এটি নিয়তকে পাওনাদার খোঁজার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কাছাকাছি বিষয়। তিনি বলেন: তওয়াফ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব, কারণ সে তওয়াফকে ইবাদত ব্যতীত অন্য কিছুতে সরিয়ে নেয়নি, আর তা স্মরণ না থাকা কোনো ক্ষতি করে না।ইমাম নববী বলেন: এটিই অধিকতর সঠিক।আমি বলি: অজুর ক্ষেত্রে এর সদৃশ দৃষ্টান্ত হলো, যদি কেউ বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, তারপর অল্প সময়ের মধ্যে জাগ্রত হয়, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী নিয়ত নবায়ন করা ওয়াজিব নয়, যেমনটি শারহুল মুহাযযাবে রয়েছে। আর যদি সে তার অজুর জন্য পানি ঢেলে দেওয়ার আদেশ দেয়, আর সে (সাহায্যকারী) বিস্মৃত অবস্থায় তার ওপর পানি ঢেলে দেয় যখন সে নিজে কিছু অঙ্গ ধুয়ে নিয়েছে, তবে তা সহীহ হবে; তিনি সেখানে এটিও উল্লেখ করেছেন।চতুর্থ প্রকারের মধ্য হতে: উকূফ (আরাফায় অবস্থান)। অধিকতর সঠিক মত হলো, একে অন্য কিছুর দিকে সরিয়ে নেওয়া কোনো ক্ষতি করে না। সুতরাং যদি কেউ পলাতক গোলাম বা হারানো বস্তু খুঁজতে গিয়ে আরাফাতের ময়দান অতিক্রম করে এবং সে না জানে যে এটি আরাফাত, তবে তার উকূফ সহীহ হবে। ইমাম বলেন: তওয়াফের মাসআলার সাথে এর পার্থক্য হলো, তওয়াফ কখনও স্বতন্ত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, যা উকূফের ক্ষেত্রে হয় না। এই কারণেই, উকূফের সময় কেউ কাউকে বহন করলে তা উভয়ের পক্ষ থেকে সাধারণভাবে যথেষ্ট হয়ে যায়; যা তওয়াফের ক্ষেত্রে ভিন্ন।(সতর্কীকরণ)এই মূলনীতির জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, যা আমি আমার কোনো কোনো উস্তাদের নিকট শুনেছি যে, নামাযের মধ্যে সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত ছাড়াই সিজদায়ে সাহুর নিয়ত ওয়াজিব হওয়া অধিকতর সঠিক। দ্বিতীয়টির (সিজদায়ে তিলাওয়াত) কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, নামাযের নিয়ত একে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু আমার মতে, এর বিপরীতটি হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল; কারণ সিজদায়ে সাহু নামাযের সাথে সিজদায়ে তিলাওয়াতের চেয়ে বেশি সংশ্লিষ্ট; কারণ এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রমাণ হলো, ইমাম ভুল করলে এবং সিজদা না দিলে মুক্তাদীর জন্য এটি বিধিবদ্ধ হয়; কিন্তু ইমাম তিলাওয়াত করে সিজদা না দিলে তা ভিন্ন। এ বিষয়ের ব্যাখ্যায় আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়—যদি এমনটি বলা সঠিক হয়—তাহলো: তিলাওয়াত নামাযের অবিচ্ছেদ্য অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই নামাযের নিয়তকারী যেন তার অন্তরে একে উপস্থিত রাখে এবং তার স্মরণে এর উল্লেখ থাকে। কিন্তু সাহু (ভুল) স্বয়ং নামাযের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, বরং নামাযে এটি ঘটা স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী, তাই নিয়তের মধ্যে এর প্রতি কোনো ইঙ্গিত বা স্মরণ থাকে না।এর সদৃশ দৃষ্টান্ত হলো: হজ ও ওমরায় নিষিদ্ধ কাজের ফিদইয়া; এর জন্য অবশ্যই নিয়ত প্রয়োজন। এটি বলা যাবে না যে, ইহরামের নিয়তই যথেষ্ট; কারণ এসব কাজ ইহরামের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা আবশ্যকীয় বিষয় নয়। পক্ষান্তরে তওয়াফে কুদুমের বিষয়টি ভিন্ন, যেমন এটি যদিও হজের মূল সত্তা, তার অংশ বা পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক, তবুও এটি হজের অবিচ্ছেদ্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাই এর জন্য নিয়ত শর্ত নয়, যেমনটি শাইখ আবু হামিদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।ইবনুর রিফআহ তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যে, হজের নিয়তই যথেষ্ট হবে, সুতরাং এটি নামাযে সিজদায়ে তিলাওয়াতের সদৃশ। এরপর আমি শাইখাইন (নববী ও রাফিয়ী) এবং অন্যদের বক্তব্য অনুসন্ধান করলাম এবং সিজদায়ে সাহুর জন্য নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার কথা কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি, কেবল পুরানো মত (কওল কাদীম) ব্যতীত যেখানে এর স্থান সালামের পরে বলা হয়েছে। তবে নতুন ও অধিকতর সুস্পষ্ট মত (কওল জাদীদ) অনুযায়ী তারা এটি মোটেও উল্লেখ করেননি, বরং এর বিপরীতটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। সালাম ফিরিয়ে দেওয়ার পর ভুলবশত কেউ যদি পুনরায় সিজদার জন্য ফিরে আসে, তবে সে কি নামাযে ফিরে এল বলে গণ্য হবে?—এ বিষয়ে তারা দুটি অভিমত দিয়েছেন: অধিকতর সঠিক হলো 'হ্যাঁ', আর দ্বিতীয়টি হলো 'না'। যদি আমরা 'হ্যাঁ' বলি, তবে নিয়তের প্রয়োজন নেই, অন্যথায় প্রয়োজন হবে। এটি এমন এক বক্তব্য যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই, আর অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) একটি বড় ব্যাধি।এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: গোসলের মধ্যে মাসনুন অজু। ইমাম রাফিয়ী বলেন: অজুকে কেবল মুস্তাহাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْغُسْل إذَا كَانَ جُنُبًا غَيْر مُحْدِث، أَوْ قُلْنَا بِالِانْدِرَاجِ، وَإِلَّا فَلَا، وَعَلَى هَذَا يَحْتَاج إلَى إفْرَاده بِنِيَّةٍ ; لِأَنَّهُ عِبَادَة مُسْتَقِلَّة. وَعَلَى الْأَصَحِّ: لَا. قَالَ الْإِسْنَوِيُّ: وَمُقْتَضَاهُ أَنَّ نِيَّة الْغُسْل تَكْفِي فِيهِ، كَمَا تَكْفِي نِيَّة الْوُضُوء فِي حُصُول الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق، وَبِهِ صَرَّحَ ابْنُ الرِّفْعَةِ فِي الْكِفَايَةِ. وَرَأَيْته فِي شَرْحِ الْمِفْتَاحِ لِأَبِي خَلَفٍ الطَّبَرِيِّ، قَالَ: وَهُوَ عَجِيب، فَإِنَّ نِيَّة الْغُسْل عَلَى هَذَا التَّقْدِير لَا بُدَّ أَنْ تُقَارِن أَوَّل هَذَا الْوُضُوء ; إذْ لَوْ تَأَخَّرَتْ عَنْهُ لَمْ يَكُنْ الْمَأْتِيُّ بِهِ وُضُوءًا، بَلْ وَلَا عِبَادَة.وَنِيَّة الْغُسْل فَقَطْ لَا تَكْفِي، بَلْ لَا بُدّ أَنْ يَنْوِيَ الْغُسْل مِنْ الْجَنَابَة أَوْ نَحْوه. وَإِذَا أَتَى بِذَلِكَ ارْتَفَعَتْ الْجَنَابَة عَنْ الْمَغْسُول مِنْ أَعْضَاء الْوُضُوء بِلَا نِزَاعٍ، لِوُجُودِ الشَّرَائِط، فَيَكُون الْمَأْتِيُّ بِهِ غُسْلًا لَا وُضُوءًا، وَلَيْسَ ذَلِكَ كَالْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ فَإِنَّ مَحِلّهمَا غَيْر مَحِلّ الْوَاجِب، فَظَهَرَ انْدِفَاع مَا قَالُوهُ. قَالَ: فَالصَّوَاب مَا ذَكَرَهُ النَّوَوِيُّ فِي الرَّوْضَةِ وَغَيْرهَا: أَنَّهُ إنْ تَجَرَّدَتْ الْجَنَابَة عَنْ الْحَدَث نَوَى بِوُضُوئِهِ سُنَّة الْغُسْل، وَإِنْ اجْتَمَعَا نَوَى بِهِ رَفْع الْحَدَث الْأَصْغَر، لِيَخْرُج مِنْ الْخِلَاف ; وَسَبَقَهُ إلَيْهِ ابْنُ الصَّلَاحِ.وَمِنْ ذَلِكَ: الْأَغْسَال الْمَسْنُونَة فِي الْحَجّ. أَمَّا الْغُسْل لِدُخُولِ مَكَّةَ، فَصَرَّحَ فِي التَّتِمَّةِ بِأَنَّهُ لَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة ; لِأَنَّ نِيَّة الْحَجّ تَشْمَلهُ، وَقِيَاسه أَنْ يَكُون غُسْل الْوُقُوف وَمَا بَعْده كَذَلِكَ. وَأَمَّا غُسْلُ الْإِحْرَامِ فَجَزَمَ الْإِمَامُ بِعَدَمِ احْتِيَاجِهِ إلَى النِّيَّةِ أَيْضًا، ثُمَّ قَالَ: وَفِيهِ أَدْنَى نَظَر.وَفِي الذَّخَائِرِ: فِي صِحَّة غُسْل الْإِحْرَام مِنْ الْحَائِض دَلِيل أَنَّهُ لَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة. قَالَ: وَيُفَرَّق بَيْنه وَبَيْن غُسْل الْجُمُعَة بِأَنَّ الْإِحْرَام مِنْ سُنَنه، وَنِيَّة الْحَجّ مُشْتَمِلَة عَلَى جَمِيع أَفْعَاله فَرْضًا وَسُنَّة فَلَا يَحْتَاج إلَى نِيَّة، بِخِلَافِ غُسْل الْجُمُعَة فَإِنَّهُ سُنَّة مُسْتَقِلَّة وَلَيْسَ جُزْءًا مِنْ الصَّلَاة.وَرُدَّ هَذَا بِأَنَّهُ إنَّمَا يَصِحّ لَوْ نَوَى الْإِحْرَام أَوَّلًا وَالسُّنَّةُ تَقْدِيمُ الْغُسْل، فَلَا تَنْعَطِف عَلَيْهِ النِّيَّة.وَلِهَذَا صَحَّحَ فِي الرَّوْضَةِ وَأَصْلهَا احْتِيَاجه إلَى النِّيَّة، وَإِنْ كَانَ فَرْض الْمَسْأَلَة فِي الْحَائِض فَقَطْ.وَقَالَ ابْنُ الرِّفْعَةِ: يَنْبَغِي أَنْ يُبْنَى ذَلِكَ عَلَى انْعِطَاف النِّيَّة فِي الْوُضُوء، فَإِنْ قُلْنَا بِهِ فَكَذَلِكَ هُنَا، فَلَا يَحْتَاج إلَى النِّيَّة وَإِلَّا فَلَا.وَمِنْ ذَلِكَ: رَكْعَتَا الطَّوَاف يُشْتَرَط فِيهِمَا النِّيَّة قَطْعًا، وَلَا يَنْسَحِب عَلَيْهِمَا نِيَّة الْإِحْرَام لِأَنَّهَا مَحْض صَلَاة، فَافْتَقَرَتْ إلَيْهَا بِخِلَافِ الطَّوَاف، فَإِنَّهُ بِالْوُقُوفِ أَشْبَه، وَلِأَنَّهَا تَابِعَة لِلطَّوَّافِ وَهُوَ تَابِع لِلْإِحْرَامِ فَلَا تَنْسَحِب نِيَّته عَلَى تَابِع التَّابِع، وَهَذَا تَعْلِيل حَسَن ظَرِيف، لَهُ نَظِير فِي الْعَرَبِيَّة.وَمِنْ ذَلِكَ: طَوَاف الْوَدَاع، وَقَدْ حَكَى السِّنْجِيُّ فِي شَرْحِ التَّلْخِيصِ عَنْ الْقَفَّالِ أَنَّهُ
জানাবাত অবস্থায় যদি কেউ ছোট অপবিত্রতায় (হাদাছ) আক্রান্ত না থাকে, অথবা যদি আমরা উযুকে গোসলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করি, তবে ভিন্ন কথা; নতুবা নয়। এমতাবস্থায় এটি স্বতন্ত্র নিয়তের মুখাপেক্ষী হবে; কেননা এটি একটি স্বাধীন ইবাদত। বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী: প্রয়োজন নেই। ইসনাভী বলেন: এর দাবি হলো গোসলের নিয়তই এর জন্য যথেষ্ট হবে, যেমন উযুর নিয়ত কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়। ইবনুর রিফআহ 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আমি আবু খালাফ আত-তাবারির 'শারহুল মিফতাহ'-এ এটি দেখেছি। তিনি বলেন: এটি আশ্চর্যজনক; কেননা এই হিসাব অনুযায়ী গোসলের নিয়ত অবশ্যই এই উযুর শুরুর সাথে যুক্ত হতে হবে। কারণ যদি নিয়ত উযুর পরে করা হয়, তবে কৃত কর্মটি উযু হবে না, এমনকি ইবাদত হিসেবেও গণ্য হবে না।আর শুধু গোসলের নিয়ত যথেষ্ট নয়, বরং জানাবাত বা অনুরূপ কিছু থেকে গোসলের নিয়ত করা আবশ্যক। যখন কেউ এটি করবে, তখন উযুর অঙ্গগুলোর মধ্যে যা ধৌত করা হয়েছে তা থেকে জানাবাত দূর হয়ে যাবে—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই—শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকার কারণে। সুতরাং কৃত কর্মটি গোসল হিসেবে গণ্য হবে, উযু হিসেবে নয়। আর এটি কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার মতো নয়; কারণ এ দুটির স্থান ফরযের স্থান থেকে ভিন্ন। ফলে তারা যা বলেছেন তার অসারতা প্রকাশ পেল। তিনি বলেন: সঠিক সেটিই যা ইমাম নববী 'আর-রাওদাহ' ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করেছেন: যদি জানাবাতের সাথে হাদাছ না থাকে, তবে সে তার উযুর মাধ্যমে গোসলের সুন্নতের নিয়ত করবে। আর যদি উভয়টি একত্রে থাকে, তবে মতভেদ থেকে বাঁচতে সে ছোট হাদাছ দূর করার নিয়ত করবে। ইবনুস সালাহ এ বিষয়ে তাঁর অগ্রগামী ছিলেন।এর অন্তর্ভুক্ত হলো হজ্জের সুন্নাত গোসলসমূহ। মক্কায় প্রবেশের গোসলের ব্যাপারে 'আত-তাতিনম্মাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এর জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই; কেননা হজ্জের নিয়ত একে শামিল করে। এর কিয়াস হলো আরাফায় অবস্থানের গোসল এবং তৎপরবর্তী গোসলগুলোও অনুরূপ হবে। আর ইহরামের গোসলের ব্যাপারে ইমাম নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, এর জন্যও নিয়তের প্রয়োজন নেই। অতপর তিনি বলেছেন: এতে কিছুটা পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।'আয-যাখাইর' গ্রন্থে রয়েছে: ঋতুবতী নারীর ইহরামের গোসল সহীহ হওয়ার মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, এটি নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়। তিনি বলেন: এর এবং জুমার গোসলের মধ্যে পার্থক্য এই যে, ইহরাম তার সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং হজ্জের নিয়ত এর ফরয ও সুন্নাত সকল কাজকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এটি নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়। পক্ষান্তরে জুমার গোসল হলো একটি স্বতন্ত্র সুন্নাত এবং এটি সালাতের কোনো অংশ নয়।এটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, কথাটি তখনই সঠিক হতো যদি সে আগে ইহরামের নিয়ত করত; অথচ সুন্নত হলো গোসল আগে করা, ফলে ইহরামের নিয়ত তার ওপর কার্যকর হয় না।একারণেই 'আর-রাওদাহ' ও এর মূলে একে নিয়তের মুখাপেক্ষী হওয়াকে সঠিক বলা হয়েছে, যদিও মাসআলাটির ভিত্তি কেবল ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে ছিল।ইবনুর রিফআহ বলেন: বিষয়টি উযুর ক্ষেত্রে নিয়তের প্রতিফলনের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত; যদি আমরা উযুতে এটি স্বীকার করি তবে এখানেও তাই হবে এবং নিয়তের প্রয়োজন হবে না, অন্যথায় হবে।এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত, যাতে নিশ্চিতভাবে নিয়ত শর্ত। ইহরামের নিয়ত এ দুটির ওপর কার্যকর হয় না, কারণ এটি নিছক একটি সালাত, তাই এতে নিয়তের প্রয়োজন। এটি তাওয়াফের মতো নয়; কেননা তাওয়াফ অবস্থানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। অধিকন্তু, এই দুই রাকাত হলো তাওয়াফের অনুগামী, আর তাওয়াফ হলো ইহরামের অনুগামী; সুতরাং অনুগামীর অনুগামীর ওপর নিয়ত কার্যকর হয় না। এটি একটি চমৎকার ও সূক্ষ্ম যুক্তি, যার নজির আরবী ভাষাতেও রয়েছে।এর অন্তর্ভুক্ত হলো বিদায়ী তাওয়াফ; সিনজী 'শারহুত তালখীস'-এ কাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لَا يَحْتَاج إلَى النِّيَّة، كَسَائِرِ الْأَرْكَان. وَجَزَمَ ابْنُ الرِّفْعَة بِأَنَّهُ يَحْتَاجُ إلَيْهَا، لِأَنَّهُ يَقَع بَعْد التَّحَلُّل التَّامّ.قَالَ فِي الْخَادِمِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَتَخَرَّج عَلَى الْخِلَاف فِي أَنَّهُ مِنْ الْمَنَاسِك أَمْ لَا؟تَنْبِيهٌ:تُشْتَرَطُ النِّيَّةُ فِي طَوَافِ النَّذْرِ وَالتَّطَوُّعِ، بِلَا خِلَافٍ لِانْتِفَاءِ الْعِلَّةِ وَهِيَ الِانْدِرَاج. وَعَلَى هَذَا يُقَال: لَنَا عِبَادَة تَجِب النِّيَّة فِي نَفْلهَا دُون فَرْضهَا، وَهُوَ الطَّوَاف وَلَا نَظِير لِذَلِكَ.خَاتِمَة:مِنْ نَظَائِر هَذَا الْأَصْل: أَنَّ نِيَّة التِّجَارَة إذَا اقْتَرَنَتْ بِالشِّرَاءِ صَارَ الْمُشْتَرَى مَال تِجَارَة، وَلَا تَحْتَاج كُلّ مُعَامَلَة إلَى نِيَّة جَدِيدَة ; لِانْسِحَابِ حُكْم النِّيَّة أَوَّلًا عَلَيْهِ. [الْمَبْحَثُ الْخَامِس: فِي مَحِلّ النِّيَّةِ]ِ مَحِلّهَا الْقَلْب فِي كُلّ مَوْضِع ; لِأَنَّ حَقِيقَتهَا الْقَصْد مُطْلَقًا، وَقِيلَ: الْمُقَارَن لِلْفِعْلِ، وَذَلِكَ عِبَارَة عَنْ فِعْل الْقَلْب. قَالَ الْبَيْضَاوِيُّ: النِّيَّة عِبَارَة عَنْ انْبِعَاث الْقَلْب نَحْو مَا يَرَاهُ مُوَافِقًا مِنْ جَلْب نَفْع أَوْ دَفْع ضُرّ، حَالًا أَوْ مَآلًا، وَالشَّرْعُ خَصَّصَهُ بِالْإِرَادَةِ الْمُتَوَجِّهَة نَحْو الْفِعْل لِابْتِغَاءِ رِضَا اللَّه تَعَالَى، وَامْتِثَال حُكْمه.وَالْحَاصِل أَنَّ هُنَا أَصْلَيْنِ: الْأَوَّل: أَنَّهُ لَا يَكْفِي التَّلَفُّظ بِاللِّسَانِ دُونه.وَالثَّانِي: أَنَّهُ لَا يُشْتَرَط مَعَ الْقَلْب التَّلَفُّظ.أَمَّا الْأَوَّل فَمِنْ فُرُوعه: لَوْ اخْتَلَفَ اللِّسَان وَالْقَلْب، فَالْعِبْرَة بِمَا فِي الْقَلْب، فَلَوْ نَوَى بِقَلْبِهِ الْوُضُوء وَبِلِسَانِهِ التَّبَرُّد، صَحَّ الْوُضُوء، أَوْ عَكْسه فَلَا، وَكَذَا لَوْ نَوَى بِقَلْبِهِ الظُّهْر وَبِلِسَانِهِ الْعَصْر، أَوْ بِقَلْبِهِ الْحَجّ وَبِلِسَانِهِ الْعُمْرَة، أَوْ عَكْسه صَحَّ لَهُ مَا فِي الْقَلْب.وَمِنْهَا: إنْ سَبَقَ لِسَانه إلَى لَفْظ الْيَمِين بِلَا قَصْد فَلَا تَنْعَقِد، وَلَا يَتَعَلَّق بِهِ كَفَّارَة، أَوْ قَصَدَ الْحَلِف عَلَى شَيْء فَسَبَقَ لِسَانه إلَى غَيْره، هَذَا فِي الْحَلِف بِاَللَّهِ، فَلَوْ جَرَى مِثْل ذَلِكَ فِي الْإِيلَاءِ أَوْ الطَّلَاقِ أَوْ الْعَتَاقِ، لَمْ يَتَعَلَّقَ بِهِ شَيْءٌ بَاطِنًا، وَيُدَيَّنُ، وَلَا يُقْبَلُ فِي الظَّاهِرِ لِتَعَلُّقِ حَقّ الْغَيْر بِهِ.وَذَكَر الْإِمَامُ فِي الْفَرْقِ: أَنَّ الْعَادَة جَرَتْ بِإِجْرَاءِ أَلْفَاظ الْيَمِين بِلَا قَصْد، بِخِلَافِ الطَّلَاق وَالْعَتَاق، فَدَعْوَاهُ فِيهِمَا تُخَالِف الظَّاهِر فَلَا يُقْبَل.قَالَ: وَكَذَا لَوْ اقْتَرَنَ بِالْيَمِينِ مَا يَدُلّ عَلَى الْقَصْد.وَفِي الْبَحْرِ: أَنَّ الشَّافِعِيَّ نَصَّ فِي الْبُوَيْطِيِّ عَلَى أَنَّ مَنْ صَرَّحَ بِالطَّلَاقِ أَوْ الظِّهَار أَوْ الْعَتَاق، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ نِيَّة، لَا يَلْزَمهُ فِيمَا بَيْنه وَبَيْن اللَّه تَعَالَى طَلَاق وَلَا ظِهَار وَلَا عِتْق.وَمِنْهَا: أَنْ يَقْصِد لَفْظ الطَّلَاق وَالْعِتْق دُون مَعْنَاهُ الشَّرْعِيِّ، بَلْ يَقْصِد مَعْنًى لَهُ آخَر، أَوْ يَقْصِد ضَمَّ شَيْء إلَيْهِ بِرَفْعِ حُكْمه، وَفِيهِ فُرُوع بَعْضهَا يُقْبَل فِيهِ، وَبَعْضهَا لَا، وَكُلّهَا لَا تَقْتَضِي الْوُقُوع فِي نَفْس الْأَمْر ; لِفَقْدِ الْقَصْد الْقَلْبِيّ.قَالَ الْفُورَانِيُّ فِي الْإِبَانَةِ: الْأَصْل أَنَّ كُلّ مَنْ أَفْصَحَ بِشَيْءٍ وَقُبِلَ مِنْهُ، فَإِذَا نَوَاهُ قُبِلَ
অন্যান্য রুকনসমূহের মতোই এতে নিয়ত করার প্রয়োজন নেই। তবে ইবনুর রিফআহ্ দৃঢ়ভাবে মত দিয়েছেন যে, এতে নিয়ত করার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এটি পূর্ণ হালাল হওয়ার (তাহাল্লুলে তাম) পর সংঘটিত হয়।‘আল-খাদিম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি কি মানাসিকের (হজের কার্যাবলীর) অন্তর্ভুক্ত কি না—এই মতপার্থক্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারিত হওয়া উচিত।সতর্কীকরণ:মানত ও নফল তাওয়াফের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই নিয়ত শর্তযুক্ত করা হয়েছে। কারণ এখানে অন্যটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণটি অনুপস্থিত। এর ভিত্তিতে বলা হয়: আমাদের এমন একটি ইবাদত রয়েছে যার নফলের জন্য নিয়ত ওয়াজিব কিন্তু ফরজের ক্ষেত্রে নয়, আর তা হলো তাওয়াফ; এর কোনো নজির নেই।উপসংহার:এই মূলনীতির অনুরূপ উদাহরণ হলো: ব্যবসার নিয়ত যখন ক্রয়ের সাথে যুক্ত হয়, তখন ক্রীত পণ্যটি ব্যবসার মালে পরিণত হয় এবং প্রতিটি লেনদেনের জন্য নতুন করে নিয়তের প্রয়োজন হয় না; কারণ শুরুর নিয়তের হুকুম তার ওপর অব্যাহত থাকে। [পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নিয়তের স্থান প্রসঙ্গে]প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়তের স্থান হলো অন্তর; কারণ নিয়তের হাকীকত হলো নিঃশর্ত সংকল্প, কারো মতে, যা কাজের সাথে যুক্ত থাকে তা-ই নিয়ত, আর এটি অন্তরের কার্যের একটি অভিব্যক্তি। বায়যাভী বলেন: নিয়ত হলো উপকার লাভ বা ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে যা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়, তার দিকে তাত্ক্ষণিক বা পরবর্তীতে অন্তরের ধাবিত হওয়া। আর শরিয়ত একে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর হুকুম পালনের লক্ষ্যে কাজের দিকে ধাবিত ইচ্ছার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছে।সারকথা হলো এখানে দুটি মূলনীতি রয়েছে: প্রথমত, অন্তর ব্যতিরেকে শুধু মুখে উচ্চারণ করা যথেষ্ট নয়।দ্বিতীয়ত, অন্তরের সাথে মুখে উচ্চারণ করা শর্ত নয়।প্রথম নীতির শাখা-প্রশাখা হলো: যদি মুখ ও অন্তরের মাঝে ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে অন্তরে যা আছে তাই ধর্তব্য হবে। সুতরাং যদি কেউ অন্তরে ওজুর নিয়ত করে এবং মুখে শীতল হওয়ার কথা বলে, তবে ওজু শুদ্ধ হবে। কিন্তু এর বিপরীত হলে হবে না। অনুরূপভাবে যদি অন্তরে জোহর এবং মুখে আসরের নিয়ত করে, কিংবা অন্তরে হজের এবং মুখে উমরার নিয়ত করে, অথবা এর বিপরীত করে, তবে অন্তরে যা আছে তাই তার জন্য শুদ্ধ হবে।এর মধ্যে রয়েছে: যদি সংকল্প ছাড়াই অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে শপথের শব্দ উচ্চারিত হয়, তবে তা কার্যকর হবে না এবং এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব হবে না। অথবা কোনো বিষয়ে শপথ করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু মুখে অন্য কিছু চলে এসেছে; এটি আল্লাহর নামে শপথ করার ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি ঈলা, তালাক কিংবা দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে, তবে অভ্যন্তরীণভাবে কোনো কিছু সাব্যস্ত হবে না এবং তার বিষয়টি তার দ্বীনদারির ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু বাহ্যিকভাবে বিচারিক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হবে না, কারণ এর সাথে অন্যের হক জড়িত।ইমাম আল-হারামাইন ‘আল-ফারক’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: শপথের শব্দসমূহ সংকল্প ছাড়াই উচ্চারণ করা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, কিন্তু তালাক ও দাসমুক্তির বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। তাই এই দুটির ক্ষেত্রে তার দাবি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয় না।তিনি বলেন: অনুরূপভাবে যদি শপথের সাথে এমন কিছু যুক্ত থাকে যা সংকল্পের প্রমাণ দেয়, তবেও তা কার্যকর হবে।‘আল-বাহর’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম শাফিঈ (রহ.) ‘আল-বুওয়াইতি’ গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তালাক, যিহার কিংবা দাসমুক্তির শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছে কিন্তু তার কোনো নিয়ত ছিল না, তবে তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো তালাক, যিহার কিংবা দাসমুক্তি সাব্যস্ত হবে না।এর মধ্যে আরও রয়েছে: তালাক বা দাসমুক্তির শব্দ উচ্চারণ করা কিন্তু তার শরয়ী অর্থ উদ্দেশ্য না নিয়ে অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া, অথবা এর হুকুম রহিত করার জন্য এর সাথে অন্য কিছু যুক্ত করার ইচ্ছা করা। এ বিষয়ে বেশ কিছু শাখা-মাসআলা রয়েছে যার কোনোটি গ্রহণ করা হয় আবার কোনোটি হয় না। তবে এগুলোর কোনোটিই প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হওয়াকে অনিবার্য করে না; যেহেতু অন্তরের সংকল্প অনুপস্থিত।আল-ফুরানী ‘আল-ইবানাহ’ গ্রন্থে বলেন: মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে স্পষ্টভাবে বক্তব্য দেয় এবং তা গ্রহণ করা হয়, তবে যখন সে তার নিয়ত করবে তখন তাও গ্রহণ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর - আস-সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فِيمَا بَيْنه وَبَيْن اللَّه تَعَالَى دُون الْحُكْم، وَقَالَ نَحْوه الْقَاضِي حُسَيْنٌ وَالْبَغَوِيُّ، وَالْإِمَامُ فِي النِّهَايَةِ وَغَيْرهمْ.وَهَذِهِ أَمْثِلَته: قَالَ: أَنْتِ طَالِق: ثُمَّ قَالَ: أَرَدْت مِنْ وَثَاق، وَلَا قَرِينَة، لَمْ يُقْبَل فِي الْحُكْم وَيُدَيَّنُ، فَإِنْ كَانَ قَرِينَة، كَأَنْ كَانَتْ مَرْبُوطَة فَحَلَّهَا، وَقَالَ ذَلِكَ، قُبِلَ ظَاهِرًا. مَرَّ بِعَبْدٍ لَهُ عَلَى مَكَّاسٍ، فَطَالَبَهُ بِمَكْسِهِ، فَقَالَ: إنَّهُ حُرّ وَلَيْسَ بِعَبْدِ، وَقَصَدَ التَّخْلِيص لَا الْعِتْق لَمْ يُعْتَق فِيمَا بَيْنه وَبَيْن اللَّه تَعَالَى، كَذَا فِي فَتَاوَى الْغَزَالِيِّ، قَالَ الرَّافِعِيُّ: وَهُوَ يُشِيرُ إلَى أَنَّهُ لَا يُقْبَلُ ظَاهِرًا.قَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: وَقِيَاسُ مَسْأَلَةِ الْوَثَاقِ أَنْ يُقْبَلَ ; لِأَنَّ مُطَالَبَةَ الْمَكَّاسِ قَرِينَة ظَاهِرَة فِي إرَادَة صَرْف اللَّفْظ عَنْ ظَاهِره، وَرُدَّ بِأَنَّهُ لَيْسَ قَرِينَة دَالَّة عَلَى ذَلِكَ، وَإِنَّمَا نَظِير مَسْأَلَة الْوَثَاق، أَنْ يُقَالُ لَهُ: أَمَتك بَغِيٌّ، فَيَقُول: بَلْ حُرَّة، فَهُوَ قَرِينَة ظَاهِرَة عَلَى إرَادَة الْعِفَّة لَا الْعِتْق. انْتَهَى.زَاحَمَتْهُ امْرَأَة، فَقَالَ تَأَخَّرِي يَا حُرَّة، وَكَانَتْ أَمَته وَهُوَ لَا يَشْعُر، أُفْتَى الْغَزَالِيُّ بِأَنَّهَا لَا تُعْتَق. قَالَ الرَّافِعِيُّ: فَإِنْ أَرَادَهُ فِي الظَّاهِر فَيُمْكِن أَنْ يُفَرَّق بِأَنَّهُ لَا يَدْرِي مَنْ يُخَاطِب هَاهُنَا، وَعِنْده أَنَّهُ يُخَاطِب غَيْر أَمَته وَهُنَاكَ خَاطَبَ الْعَبْد بِاللَّفْظِ الصَّرِيحِ.وَفِي الْبَسِيطِ أَنَّ بَعْض الْوُعَّاظ طَلَب مِنْ الْحَاضِرِينَ شَيْئًا، فَلَمْ يُعْطُوهُ، فَقَالَ مُتَضَجِّرًا مِنْهُمْ: طَلَّقْتُكُمْ ثَلَاثًا، وَكَانَتْ زَوْجَته فِيهِمْ، وَهُوَ لَا يَعْلَم. فَأَفْتَى إمَامُ الْحَرَمَيْنِ بِوُقُوعِ الطَّلَاق، قَالَ الْغَزَالِيُّ وَفِي الْقَلْب مِنْهُ شَيْء.قَالَ الرَّافِعِيُّ: وَلَك أَنْ تَقُول: يَنْبَغِي أَنْ لَا تَطْلُق ; لِأَنَّ قَوْله " طَلَّقْتُكُمْ " لَفْظ عَامّ، وَهُوَ يَقْبَل الِاسْتِثْنَاء بِالنِّيَّةِ، كَمَا لَوْ حَلَفَ لَا يُسَلِّم عَلَى زَيْدٍ، فَسَلَّمَ عَلَى قَوْم هُوَ فِيهِمْ، وَاسْتَثْنَاهُ بِقَلْبِهِ لَمْ يَحْنَث، وَإِذَا لَمْ يَعْلَم أَنَّ زَوْجَته فِي الْقَوْم كَانَ مَقْصُوده غَيْرهَا.وَقَالَ النَّوَوِيُّ: مَا قَالَهُ الْإِمَامُ وَالرَّافِعِيُّ عَجِيب، أَمَّا الْعَجَب مِنْ الرَّافِعِيِّ فَلِأَنَّ هَذِهِ الْمَسْأَلَة لَيْسَتْ كَمَسْأَلَةِ السَّلَام عَلَى زَيْدٍ ; لِأَنَّهُ هُنَاكَ عَلِمَ بِهِ وَاسْتَثْنَاهُ، وَهُنَا لَمْ يَعْلَم بِهَا وَلَمْ يَسْتَثْنِهَا، وَاللَّفْظُ يَقْتَضِي الْجَمِيعَ، إلَّا مَا أَخْرَجَهُ وَلَمْ يُخْرِجْهَا. وَأَمَّا الْعَجَبُ مِنْ الْإِمَامِ فَلِأَنَّ الشَّرْط قَصْد لَفْظ الطَّلَاق بِمَعْنَى الطَّلَاق، وَلَا يَكْفِي قَصْد لَفْظ مِنْ غَيْر قَصْد مَعْنَاهُ، وَمَعْلُوم أَنَّ الْوَاعِظ لَمْ يَقْصِد مَعْنَى الطَّلَاق، فَيَنْبَغِي أَنْ لَا تَطْلُق لِذَلِكَ لِمَا ذَكَرَهُ الرَّافِعِيُّ.وَقَالَ فِي الْمُهِمَّاتِ: وَنَظِير ذَلِكَ مَا حَكَيْنَاهُ، عَنْ الْغَزَالِيِّ فِي مَسْأَلَة " تَأَخَّرِي يَا حُرَّة " أَنَّهَا لَا تُعْتَق، وَقَالَ الْبُلْقِينِيُّ فَتَحَ اللَّه بِتَخْرِيجَيْنِ آخَرَيْنِ، يَقْتَضِيَانِ عَدَم وُقُوع الطَّلَاق: أَحَدُهُمَا: أَنْ يُخَرَّج ذَلِكَ عَلَى مَنْ حَلَفَ لَا يُسَلِّم عَلَى زَيْدٍ فَسَلَّمَ عَلَى قَوْم هُوَ فِيهِمْ وَهُوَ لَا يَعْلَم أَنَّهُ فِيهِمْ، وَالْمَذْهَب أَنَّهُ لَا يَحْنَث، وَهَذَا غَيْر مَسْأَلَة الرَّافِعِيِّ الَّتِي قَاسَ عَلَيْهَا، فَإِنَّهُ هُنَاكَ عَلِمَ وَاسْتَثْنَى وَهُنَا لَمْ يَعْلَم أَصْلًا.الثَّانِي: أَنَّ الطَّلَاق لُغَة: الْهَجْر، وَشَرْعًا: حَلّ قَيْد النِّكَاح بِوَجْهٍ مَخْصُوص، وَلَا يُمْكِن حَمْل كَلَام الْوَاعِظ عَلَى الْمُشْتَرَك ; لِأَنَّهُ هُنَا مُتَعَذِّر ; لِأَنَّ شَرْط حَمْل الْمُشْتَرَك عَلَى مَعْنَيَيْهِ أَنْ
আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর মধ্যকার সম্পর্কের বিচারে (দিয়ানাতান), বিচারিক সিদ্ধান্তের (হুকুম) বাইরে। কাজী হুসাইন, বাগাভী, নিহায়া গ্রন্থে ইমাম (জুওয়াইনি) এবং অন্যান্যরা অনুরূপ কথা বলেছেন।এর উদাহরণগুলো হলো: কেউ বলল: "তুমি তালাক (মুক্ত)", এরপর সে দাবি করল: "আমি বন্ধন থেকে মুক্ত করা বুঝিয়েছি", এবং সেখানে কোনো পারিপার্শ্বিক আলামত (কারিনাহ) নেই; তবে বিচারিক ক্ষেত্রে তার এই দাবি গ্রহণ করা হবে না, কিন্তু দিয়ানাতান (আল্লাহর কাছে) তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি কোনো আলামত থাকে, যেমন সে নারীটি রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং সে তাকে মুক্ত করে এ কথাটি বলল, তবে বাহ্যিকভাবেও তা গ্রহণ করা হবে। জনৈক ব্যক্তি তার এক গোলামকে নিয়ে কর আদায়কারীর (মাক্কাস) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কর আদায়কারী তার কাছে কর দাবি করলে তিনি বললেন: "সে স্বাধীন, সে গোলাম নয়।" আর তার উদ্দেশ্য ছিল কর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া, দাসমুক্তি নয়; তবে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর মধ্যকার সম্পর্কের বিচারে গোলামটি স্বাধীন হবে না। ফাতাওয়া আল-গাজ্জালিতে এমনই রয়েছে। রাফেয়ি বলেন: এটি ইঙ্গিত করে যে, বাহ্যিকভাবেও তার এই দাবি গৃহীত হবে না।'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বন্ধন (ওয়াসাক) সংক্রান্ত মাসআলার কিয়াস অনুযায়ী এটি গ্রহণ করা উচিত; কারণ কর আদায়কারীর কর দাবি করাটা শব্দের বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে ব্যবহারের একটি প্রকাশ্য আলামত। তবে এই মতটি খণ্ডন করে বলা হয়েছে যে, এটি এমন কোনো আলামত নয় যা নির্দিষ্টভাবে সেই অর্থ প্রকাশ করে। বরং বন্ধন সংক্রান্ত মাসআলার যথার্থ উদাহরণ হলো—যদি কাউকে বলা হয়: "তোমার দাসীটি তো ব্যভিচারিণী," আর সে উত্তরে বলে: "বরং সে স্বাধীন (বা সচ্চরিত্রা)," তবে এটি তার সচ্চরিত্রতা বুঝানোর জন্য একটি প্রকাশ্য আলামত হবে, দাসমুক্তি নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।এক নারী জনৈক ব্যক্তির সাথে ভিড় করল, তখন সে ব্যক্তি বলল, "হে মুক্ত নারী, পিছে সরে দাঁড়াও।" অথচ নারীটি ছিল তার নিজেরই দাসী, যা সে জানত না। ইমাম গাজ্জালি ফতোয়া দিয়েছেন যে, এতে সে দাসী মুক্ত হবে না। রাফেয়ি বলেন: যদি সে বাহ্যিকভাবেও এটিই চেয়ে থাকে, তবে পার্থক্য এভাবে করা সম্ভব যে, এখানে সে জানে না সে কাকে সম্বোধন করছে; তার ধারণায় সে তার দাসী ছাড়া অন্য কাউকে সম্বোধন করছিল। অথচ আগের মাসআলায় সে গোলামকে সুষ্পষ্ট শব্দে সম্বোধন করেছিল।'আল-বাসিত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) উপস্থিত লোকজনের কাছে কিছু চাইলেন, কিন্তু তারা তাকে কিছুই দিল না। এতে তিনি বিরক্ত হয়ে তাদের বললেন: "আমি তোমাদের তিন তালাক দিলাম।" আর তার স্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা তিনি জানতেন না। এমতাবস্থায় ইমামুল হারামাইন তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। গাজ্জালি বলেন: এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা সংশয় আছে।রাফেয়ি বলেন: আপনি বলতে পারেন—তালাক না হওয়াটাই সমীচীন; কারণ তার "আমি তোমাদের তালাক দিলাম" কথাটি একটি ব্যাপক শব্দ (লাফজে আম), যা নিয়তের মাধ্যমে সাধারণ নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম করার সুযোগ রাখে। যেমন কেউ যদি কসম করে যে সে জায়েদকে সালাম দেবে না, অতঃপর সে এমন একদল লোককে সালাম দিল যাদের মধ্যে জায়েদও ছিল, কিন্তু মনে মনে সে জায়েদকে এর বাইরে রাখল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না। আর সে যেহেতু জানত না যে তার স্ত্রী সেই দলের মধ্যে আছে, তাই তার উদ্দেশ্য ছিল অন্য কেউ।নববী বলেন: ইমাম (জুওয়াইনি) এবং রাফেয়ি যা বলেছেন তা বিস্ময়কর। রাফেয়ির ব্যাপারে বিস্ময় এই কারণে যে, এই মাসআলাটি জায়েদকে সালাম দেওয়ার মাসআলার মতো নয়; কারণ সেখানে সে জায়েদ সম্পর্কে জানত এবং তাকে বাদ দিয়েছিল, কিন্তু এখানে সে স্ত্রী সম্পর্কে জানত না এবং তাকে বাদও দেয়নি। আর শব্দটি সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে যতক্ষণ না কাউকে বাদ দেওয়া হয়, অথচ সে তাকে বাদ দেয়নি। আর ইমামের ব্যাপারে বিস্ময় এই কারণে যে, তালাকের শর্ত হলো তালাকের অর্থেই তালাকের শব্দ উচ্চারণ করার সংকল্প করা; অর্থ উদ্দেশ্য না করে কেবল শব্দ উচ্চারণের ইচ্ছা করাই যথেষ্ট নয়। আর এটা স্পষ্ট যে, ওয়ায়েজ তালাকের অর্থ উদ্দেশ্য করেননি, তাই রাফেয়ি যা উল্লেখ করেছেন সেই কারণে তালাক না হওয়াটাই উচিত।'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সদৃশ হলো গাজ্জালির বর্ণিত সেই মাসআলা— "হে মুক্ত নারী, পিছে সরে দাঁড়াও", যেখানে দাসীটি মুক্ত হয়নি। বুলকিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা আরও দুটি তখরিজ (বিশ্লেষণ) উন্মুক্ত করে দিয়েছেন যা তালাক না হওয়াকে সাব্যস্ত করে। প্রথমটি হলো: একে সেই ব্যক্তির মাসআলার ওপর ভিত্তি করে বের করা যেতে পারে যে কসম করেছে সে জায়েদকে সালাম দেবে না, অতঃপর এমন একদল লোককে সালাম দিল যাদের মধ্যে জায়েদও ছিল, কিন্তু সে জানত না যে জায়েদ সেখানে আছে। মাযহাব অনুযায়ী এতে কসম ভঙ্গ হবে না। আর এটি রাফেয়ির বর্ণিত সেই মাসআলা থেকে ভিন্ন যার ওপর তিনি কিয়াস করেছিলেন; কারণ সেখানে সে জানত এবং বাদ দিয়েছিল, আর এখানে সে মোটেও জানত না।দ্বিতীয়ত: শাব্দিক অর্থে তালাক মানে হলো বর্জন বা ত্যাগ করা, আর শরিয়তের পরিভাষায় এটি হলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিকাহের বন্ধন ছিন্ন করা। ওয়ায়েজের কথাকে এখানে 'মুশতারাক' (একাধিক অর্থবোধক শব্দ) হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়; কারণ এখানে তা অসম্ভব। কেননা মুশতারাক শব্দকে তার উভয় অর্থে প্রয়োগ করার শর্ত হলো যে—