القسم: شروح الحديث
الكتاب: إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري
المؤلف: أحمد بن محمد القسطلاني
الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية، بولاق - مصر
الطبعة: السادسة، 1304 - 1305 هـ
عدد الأجزاء: 10
تنبيه: زدنا بهذا الكتاب الإلكتروني (وليس في المطبوع):
• نص الصحيح، موزعا على مواضعه من الشرح، ومشكولا
• ترقيم الكتب والأبواب والأحاديث، بترقيم محمد فؤاد عبد الباقي [ت 1388 هـ]
• أطراف الأحاديث (عند أول ورود للحديث)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1432
বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইরশাদুস সারি লি শারহি সহীহিল বুখারী
লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতালানি
প্রকাশক: আল-মাতবাআতুল কুবরা আল-আমীরিয়্যাহ، বুলাক - মিশর
সংস্করণ: ষষ্ঠ، ১৩০৪ - ১৩০৫ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১০
সতর্কবার্তা: আমরা এই ইলেকট্রনিক গ্রন্থে যুক্ত করেছি (যা মুদ্রিত কপিতে নেই):
• সহীহ-এর মূল পাঠ, যা ব্যাখ্যার যথোপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত এবং হরকতযুক্ত।
• কিতাব, অধ্যায় এবং হাদিসের ক্রমিক নম্বর, মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির [মৃত্যু ১৩৮৮ হি.] বিন্যাস অনুযায়ী।
• হাদিসের অংশবিশেষ বা আতরাফ (হাদিসটি প্রথমবার উল্লেখের সময়)
[গ্রন্থের ক্রমিক নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩২
যদি হাদিসটি সংশ্লিষ্ট রাবির নিকট উভয়ভাবেই বিদ্যমান থাকার কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে গ্রন্থকার (ইমাম বুখারী) কেবল একটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে উভয়টিই উল্লেখ করেছেন। এটি তখন হয় যখন বর্ণনাকারীরা স্মৃতিশক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে সমপর্যায়ের হন। যেমনটি বুখারীর ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়ে ইসরাঈল-এর সূত্রে আমাশ ও মনসুর উভয়ের বর্ণনা থেকে এসেছে, তারা ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে একটি গুহায় ছিলাম, তখন সূরা আল-মুরসালাত নাযিল হলো।" দারাকুতনী বলেন, আলকামা থেকে আমাশের বর্ণনায় ইসরাঈলের কোনো অনুসরণকারী বর্ণনা নেই। তবে মনসুরের বর্ণনায় শায়বান তাকে অনুসরণ করেছেন। অনুরূপভাবে মুগীরাহ এটি ইবরাহিম থেকে তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এখানে মতভেদটি তুলে ধরেছেন এবং এটি এমন এক ত্রুটি অন্বেষণ যা কোনো ক্ষতি করে না। আর যদি সমন্বয় করা অসম্ভব হয়—অর্থাৎ বর্ণনাকারীরা স্মৃতিশক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে সমান না হয়ে বরং কম-বেশি হন—তবে গ্রন্থকার অগ্রগণ্য পথটি গ্রহণ করেন এবং বর্জনীয় পথটি ত্যাগ করেন অথবা সেদিকে ইঙ্গিত করেন। কেবল মতভেদের কারণে এসব ক্ষেত্রে ত্রুটি ধরা অগ্রহণযোগ্য, কারণ কেবল মতভেদ থাকলেই এমন অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয় না যা হাদিসকে দুর্বল করে দেয়। ফলে এ জাতীয় হাদিসের ওপর উত্থাপিত আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বুখারীর 'জানায়েয' অধ্যায়ে এই দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো লাইস-এর হাদিস, যা তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে কা’ব থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদের শহীদদের একত্রিত করতেন এবং তাদের মধ্যে যিনি কুরআন বেশি জানতেন তাকে অগ্রাধিকার দিতেন। দারাকুতনী বলেন, ইবনুল মুবারক এটি আওযাঈ-এর সূত্রে যুহরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার মা’মার এটি যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আবী সাঈর থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। সুলায়মান ইবনে কাসীর এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'যিনি জাবির থেকে শুনেছেন তিনি আমাকে বলেছেন'। দারাকুতনী বলেন এটি একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিস। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, দারাকুতনী একে ঢালাওভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেছেন, অথচ এর অসামঞ্জস্যতা দূর করা সম্ভব। লাইসের বর্ণনায় যা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে তা দিয়ে এর ব্যাখ্যা করা যায়, এবং মা’মারের বর্ণনাকে এভাবে গ্রহণ করা যায় যে যুহরী এটি দুজন শায়খের কাছ থেকে শুনেছেন। আর আওযাঈ-এর মুরসাল বর্ণনায় মধ্যস্থতাকারী বাদ পড়ায় সংক্ষিপ্ততা ঘটেছে। এটি হলো তাদের পদ্ধতি যারা এখান থেকে অসামঞ্জস্যতা দূর করেন। বুখারী এখানে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আওযাঈ-এর বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন কারণ হাদিসটি তার নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক-এর সূত্রে লাইস ও আওযাঈ উভয়ের নিকট থেকে যুহরী মারফত এসেছে। এখানে আওযাঈ আবদুর রহমান ইবনে কা’বকে বাদ দিয়েছেন কিন্তু লাইস তাকে উল্লেখ করেছেন, অথচ যুহরীর ছাত্র হিসেবে তারা উভয়েই সমপর্যায়ের। তারা উভয়েই যুহরী থেকে এটি শোনার ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন। তাই বলা হয় যে, লাইসের অতিরিক্ত অংশটি তার নির্ভরযোগ্যতার কারণে গৃহীত। এরপর তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনে কাসীর এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন এমন ব্যক্তি মারফত যিনি জাবির থেকে শুনেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত যুহরী ও জাবিরের মাঝে সাধারণভাবে একজন মধ্যস্থতাকারীর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এবং লাইসের বর্ণনাকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন। আমরা একে এমন কোনো ত্রুটি মনে করি না যা অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করে। মা’মারের বর্ণনার ক্ষেত্রে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তার সাথে একমত হয়েছেন; তিনি যুহরী থেকে এবং তিনি ইবনে আবী সাঈর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'মা’মার আমাকে এ বিষয়ে দৃঢ় করেছেন', ফলে তার বর্ণনাটি মা’মারের বর্ণনার দিকেই ফিরে গেল।
তৃতীয়ত: কোনো কোনো রাবি এককভাবে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেছেন যা অধিক সংখ্যক বা অধিক নির্ভরযোগ্য রাবিগণ উল্লেখ করেননি। এ ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত অংশটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সেটি মূল বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয় এবং সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি অতিরিক্ত অংশটি সাংঘর্ষিক না হয় এবং একটি স্বতন্ত্র হাদিসের মতো হয়, তবে তা ত্রুটি নয়। হ্যাঁ, যদি দলীল-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সেই অতিরিক্ত অংশটি কোনো রাবির নিজস্ব কথা যা হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে, তবে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে।
চতুর্থত: কোনো দুর্বল রাবির একক বর্ণনা। বুখারীতে এমন মাত্র দুটি হাদিস রয়েছে এবং সেগুলোর অনুসরণকারী বর্ণনা বিদ্যমান। এর একটি হলো উবাই ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে সা’দ-এর হাদিস, যা তিনি তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি ঘোড়া ছিল যার নাম ছিল আল-লাখীফ। দারাকুতনী বলেন, এটি দুর্বল। তিনি হলেন সেই ইবনে সা’দ আস-সাঈদী আল-আনসারী যাকে আহমাদ ও ইবনে মাঈন দুর্বল বলেছেন এবং নাসাঈ বলেছেন তিনি শক্তিশালী নন। তবে তার ভাই আবদুল মুহাইমিন ইবনে আব্বাস এ ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয়টি বুখারীর জিহাদ অধ্যায়ে, 'যদি কোনো জাতি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ করে' অনুচ্ছেদে রয়েছে। এটি ইসমাঈল ইবনে আবী উওয়াইস-এর হাদিস, যা মালেক-এর সূত্রে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর তার হানী নামক এক মুক্তদাসকে সংরক্ষিত চারণভূমির দায়িত্ব দিয়েছিলেন—হাদিসটি দীর্ঘ। দারাকুতনী বলেন, ইসমাঈল দুর্বল। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, আমার ধারণা দারাকুতনী ইসমাঈলের এই নির্দিষ্ট হাদিসটিই উল্লেখ করেছেন এবং বুখারীতে বিদ্যমান তার অনেক হাদিস এড়িয়ে গেছেন, কারণ অন্য রাবিগণ সেসব হাদিসে তার অংশীদার ছিলেন কিন্তু এটিতে তিনি একক হয়ে পড়েছেন। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তিনি একক নন, বরং মা’ন ইবনে ঈসা তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তিনিও মালেকের সূত্রে ইসমাঈলের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
পঞ্চমত: যেখানে কোনো কোনো রাবির বর্ণনায় ভ্রম থাকার হুকুম দেওয়া হয়েছে। এর কিছু অংশ প্রভাব ফেলে এবং কিছু অংশ ফেলে না।
ষষ্ঠত: যেখানে মূল পাঠের কিছু শব্দ পরিবর্তনের কারণে মতভেদ হয়েছে। এটি হাদিসের নির্ভরযোগ্যতায় কোনো আঘাত হানে না, কারণ এ জাতীয় মতভেদের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা অথবা কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব। যেমন জাবিরের উটের ঘটনা সংক্রান্ত হাদিস, তার পিতার ঋণ পরিশোধের হাদিস এবং যুল ইয়াদাইনের ঘটনা সংক্রান্ত আবু হুরায়রার হাদিস। এই বিভাগগুলোর কোনো কোনোটির ওপর হয়তো বিশেষ সতর্কবার্তা আসতে পারে।
"আমরা চাষাবাদের সাথে যুক্ত নই" হাদিসটি 'কিতাবুল হারস' (চাষাবাদ অধ্যায়) এবং 'কিতাবুত তাওহিদ'-এ ফেরেশতাদের সাথে রবের কথোপকথন অংশে রয়েছে। উমরের হাদিস "বনু নাযিরের সম্পদ ছিল" জিহাদের 'ঢাল' অনুচ্ছেদে এবং তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস "আইয়ুব যখন নগ্ন অবস্থায় গোসল করছিলেন" আম্বিয়াদের হাদিসসমূহ এবং তাওহিদ অধ্যায়ে রয়েছে। "আমার উত্তরাধিকারীরা বণ্টন করবে না" হাদিসটি খুমুস অধ্যায়ে এবং এর আগে জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণিত হাদিস "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করল" জিজিয়া অধ্যায়ে এবং 'যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করে' অনুচ্ছেদে, এবং দিয়াত অধ্যায়ের 'যে ব্যক্তি কোনো জিম্মিকে হত্যা করে' অনুচ্ছেদে রয়েছে। আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস "যখন তোমাদের কেউ তাকে আড়াল করে এমন কিছুর দিকে ফিরে সালাত আদায় করে" সালাত অধ্যায়ে এবং ইবলিসের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় রয়েছে। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস "তিনি আমাকে রমজানের জাকাত রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন" ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) এবং কুরআনের ফজিলত অধ্যায়ে রয়েছে। আদি ইবনে হাতিম বর্ণিত হাদিস "দুই ব্যক্তি আসল, যাদের একজন অভাবের অভিযোগ করছিল" সদকা এবং নবুওয়তের আলামত অধ্যায়ে রয়েছে। আনাস বর্ণিত হাদিস "উহুদের দিন লোকজন পরাজিত হয়েছিল" উহুদ যুদ্ধ, জিহাদ এবং তালহার ফজিলত অধ্যায়ে রয়েছে। আবু মুসা বর্ণিত হাদিস "আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মক্কা থেকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি ভূমির দিকে হিজরত করছি" হাদিসটি নবুওয়তের আলামত, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং তাফসির অধ্যায়ে রয়েছে। ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিস "ইনি জিবরাইল" বদর যুদ্ধ এবং উহুদ যুদ্ধ অধ্যায়ে রয়েছে। জাবির বর্ণিত হাদিস "তিনি আলীকে তার ইহরামের ওপর অটল থাকার নির্দেশ দিলেন" হজ অধ্যায়ে এবং মাগাজির অন্তর্গত আলীকে প্রেরণের বর্ণনায় রয়েছে। আয়েশা বর্ণিত হাদিস "আমার কাছে পানির পাত্র রাখা হতো" পবিত্রতা এবং ইতিসাম (আঁকড়ে ধরা) অধ্যায়ে রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার-এর হাতের লেখায় আমি এ পর্যন্তই পেয়েছি। আমি বুখারিতে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটিও দেখেছি: "আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করত এবং মুসলিমদের জন্য আরবিতে তা ব্যাখ্যা করত", যা ইতিসাম কিতাবের 'আহলে কিতাবদের কিছু জিজ্ঞেস করো না' অনুচ্ছেদে, সূরা বাকারার তাফসিরে এবং তাওহিদ কিতাবের 'তাওরাতের তাফসিরের যা জায়েজ' অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
আর ইমাম বুখারি কর্তৃক কোনো হাদিসের মূল পাঠের অংশবিশেষ উল্লেখ করা এবং বাকি অংশ অন্য কোথাও উল্লেখ না করা প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এটি সাধারণত তখনই ঘটে যখন বর্জিত অংশটি সাহাবীর ওপর স্থগিত (মাওকুফ) থাকে এবং সেখানে এমন কিছু থাকে যা রাসুলের হাদিস (মারফু) হিসেবে গণ্য হওয়ার হুকুম রাখে। সেক্ষেত্রে তিনি কেবল সেই বাক্যটুকুই উল্লেখ করেন যা মারফু হওয়ার উপযোগী এবং বাকিটুকু বাদ দেন। কারণ বর্জিত অংশের সাথে তার কিতাবের আলোচ্য বিষয়ের কোনো সম্পর্ক থাকে না। যেমনটি তিনি করেছেন ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হুযাইল বিন শুরাহবিলের হাদিসের ক্ষেত্রে, যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না, আর জাহেলি যুগের লোকেরা তা করত।" তিনি এভাবেই সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, অথচ এটি ছিল একটি মাওকুফ হাদিসের অংশ যার শুরুতে ছিল: "এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট এসে বলল: আমি আমার একটি গোলামকে কোনো উত্তরাধিকার দাবি না রাখার শর্তে স্বাধীন করেছি, এরপর সে মারা গেছে এবং কিছু সম্পদ রেখে গেছে কিন্তু কোনো ওয়ারিশ রেখে যায়নি। তখন আবদুল্লাহ বললেন: নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না, বরং জাহেলি যুগের লোকেরা তা করত। তুমিই তার অভিভাবক, তাই তার উত্তরাধিকার তোমারই প্রাপ্য। তবে তুমি যদি এতে কোনো গুনাহ মনে করো বা দ্বিধাবোধ করো, তবে আমরা তা তোমার থেকে গ্রহণ করব এবং বায়তুল মালে জমা দেব।" ইমাম বুখারি এই মাওকুফ হাদিস থেকে কেবল সেই অংশটুকু গ্রহণ করেছেন যা মারফু হওয়ার হুকুম রাখে, আর তা হলো—"নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না।" কারণ এর ব্যাপকতা শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে এই বিধানটি বর্ণিত হওয়ার দাবি রাখে। আর বাকি অংশ তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন কারণ তা তার কিতাবের মূল বিষয়বস্তুভুক্ত ছিল না। এই ধরণের বিষয়গুলো ইমাম বুখারির কিতাবের সূক্ষ্মতম স্থানগুলোর অন্যতম। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, তিনি কোনো উপকারিতা ছাড়া পুনরাবৃত্তি করেন না। এমনকি যদি হাদিসের সনদ বা মতনের দিক থেকে পুনরাবৃত্তির কোনো উপকারিতা পরিলক্ষিত নাও হয়, তবুও দ্বিতীয় শিরোনামের অধীনে সংশ্লিষ্ট বিধানের ভিন্নতার কারণে তাকে পুনরাবৃত্তি বলা চলে না। বিশেষ করে যখন তিনি একে কোনো না কোনো সনদগত উপকারিতা থেকেও মুক্ত রাখেন না, যেমন পূর্ববর্তী শায়খ ছাড়া অন্য কোনো শায়খের মাধ্যমে হাদিসটি বর্ণনা করা ইত্যাদি।
আর ঝুলন্ত (মুয়াল্লাক) হাদিসগুলো—তা মারফু হোক বা মাওকুফ—বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কখনো দৃঢ়তার সাথে যেমন 'তিনি বলেছেন' বা 'তিনি করেছেন' শব্দে উল্লেখ করেন, তখন তার হুকুম হয় সহিহ। আবার কখনো দৃঢ়তা ছাড়া যেমন 'বর্ণিত হয়েছে' বা 'উল্লেখ করা হয়' শব্দে উল্লেখ করেন। মারফু মুয়াল্লাক হাদিসগুলো কখনো কিতাবের অন্য স্থানে সংযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, আবার কখনো কেবল মুয়াল্লাক হিসেবেই থাকে। প্রথম প্রকার অর্থাৎ যা সংযুক্ত অবস্থায় আছে, সেটি তিনি কেবল তখনই মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেন যখন হাদিসের সূত্র সংখ্যা কম হয়। কারণ তিনি বিনা প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করেন না। সুতরাং যখন মূল সূত্র কম হয় অথচ হাদিসের মূল পাঠের মধ্যে একাধিক বিধান থাকে এবং তা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে, তখন দৈর্ঘ্য কমানোর উদ্দেশ্যে তিনি সনদে সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেন। দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ যা কেবল মুয়াল্লাক হিসেবেই রয়েছে, তা যদি তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, তবে যার দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তবে সনদে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। তাদের কেউ কেউ বুখারির শর্ত অনুযায়ী হন, আবার কেউ হন না। প্রথম ক্ষেত্রে অর্থাৎ শর্ত অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও সনদ সংযুক্ত না করার কারণ হলো—হয় তিনি এর স্থলাভিষিক্ত কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা পূর্ণ বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে, তাই সংক্ষেপ করার জন্য তিনি মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন; অথবা তিনি সেটি সরাসরি শ্রবণ করেননি; অথবা শ্রবণ করেছেন কিন্তু শায়খের থেকে শ্রবণ করার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন; অথবা তিনি আলোচনার মাধ্যমে তা শুনেছেন তাই প্রথাগত সনদের আদলে তা বর্ণনা করেননি। এই ধরণের ঘটনাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার নিজস্ব শায়খদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি কিতাবে বলেন যে...
প্রতিনিধিত্ব: উসমান ইবনে হাইসাম বলেন: আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমজানের জাকাত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন" - হাদিসটি দীর্ঘ। তিনি এটি অন্যান্য স্থানেও উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে কুরআনের ফজিলত এবং ইবলিসের বর্ণনার অধ্যায় রয়েছে। তবে তিনি কোনো স্থানেই 'আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন' বলেননি। তাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি সরাসরি তার থেকে শোনেননি। বুখারি বেশ কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তার উস্তাদদের থেকে যা সরাসরি শোনেননি, সেখানে এই শব্দরীতি (বলেন) ব্যবহার করেছেন; তিনি তাদের পক্ষ থেকে 'অমুক বলেছেন' শব্দরীতিতে তা বর্ণনা করেন। এরপর অন্য স্থানে তাঁর ও তাঁদের মধ্যবর্তী মাধ্যমসহ তা উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে এর অনেক উদাহরণ আসবে। যেমন তিনি ইতিহাসে বলেছেন: ইবরাহিম ইবনে মুসা বলেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন এবং বলেন: তারা আমার কাছে ইবরাহিমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই শব্দরীতিতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সবক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু এই সম্ভাবনার কারণে, এই শব্দরীতিতে বর্ণিত তার সকল বর্ণনাকে
এমনটি ধরা ঠিক হবে না যে তিনি তা সরাসরি তাঁর উস্তাদদের থেকে শুনেছেন। আবার এর দ্বারা এমনটিও আবশ্যক হয় না যে তিনি তাঁদের থেকে 'মুদাল্লিস' (তথ্য গোপনকারী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেননা খতিব ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, 'বলেন' (ক্বালা) শব্দটি সরাসরি শোনার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োগ করা হবে না, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তির অভ্যাস সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি সরাসরি শোনা ব্যতীত এই শব্দ ব্যবহার করেন না। সুতরাং এটি দাবি করে যে, যার অভ্যাস সম্পর্কে এমনটি জানা নেই, তার ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্ভাবনার ওপরই থাকবে।আর যা তাঁর (বুখারির) শর্তানুযায়ী নয়, তা অন্যদের শর্তানুযায়ী সহিহ হতে পারে। যেমন পবিত্রতা অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনের সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন। এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, যা তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবার কোনোটি হাসান পর্যায়ের হতে পারে যা দলিল হিসেবে যোগ্য। যেমন সেখানে তাঁর উক্তি: বাহজ ইবনে হাকিম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: মানুষের চেয়ে আল্লাহই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে। এটি বাহজ থেকে বর্ণিত একটি সুপ্রসিদ্ধ হাসান হাদিস যা সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আবার কোনোটি দুর্বল হতে পারে, তবে তা বর্ণনাকারীদের ওপর আপত্তির কারণে নয় বরং সনদে সামান্য বিচ্ছিন্নতার কারণে। যেমন জাকাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি:তাউস বলেন: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেনবাসীদের বলেছিলেন: তোমরা বার্লি (যব) ও ভুট্টার পরিবর্তে আমাকে সদকা হিসেবে পরিধেয় বস্ত্র বা কাপড় নিয়ে আসো; এটি তোমাদের জন্য সহজ এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য উত্তম। তাউস পর্যন্ত এর সনদ সহিহ, তবে তাউস মুয়াজ (রা.) থেকে সরাসরি শোনেননি।আর যা তিনি সংশয়বাচক শব্দরীতিতে (তামরিজ) উল্লেখ করেন, তা থেকে ওই ব্যক্তির পক্ষ হতে হাদিসটি সহিহ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে এর মধ্যে কোনটি সহিহ এবং কোনটি সহিহ নয় - এমন উভয় প্রকারই রয়েছে। প্রথম প্রকারের (সহিহ) মধ্যে তাঁর শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস পাওয়া যায় না, খুব সামান্য কয়েকটি স্থান ব্যতীত। আর তিনি সেগুলো কেবল তখনই উল্লেখ করেন যখন ওই হাদিসটি অর্থের ভিত্তিতে 'মুয়াল্লাক' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তা দৃঢ়তার সাথে (জাযম) বলেন না। যেমন চিকিৎসা অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। অথচ তিনি এটি অন্য স্থানে ওবায়দুল্লাহ ইবনে আখরাস-এর সূত্রে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী এমন এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একজনকে দংশন করা হয়েছিল। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার হাদিসটি উল্লেখ করেন। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি রয়েছে যখন তাঁরা তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন: "তোমরা যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো তার মধ্যে আল্লাহর কিতাবই সবচেয়ে বেশি হকদার।" সুতরাং যখন তিনি এটি অর্থের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন তখন দৃঢ়তার সাথে (জাযম) বলেননি, কারণ পূর্ণ সনদে বর্ণিত হাদিসে এমনটি নেই যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার কথা (নিজে) উল্লেখ করেছেন, বরং এতে কেবল এটুকু আছে যে তিনি তাঁদের কাজে বাধা দেননি। ফলে তাঁর মৌন সম্মতি থেকে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।আর যে সব হাদিস তিনি এই শব্দরীতিতে (তামরিজ) উল্লেখ করেছেন কিন্তু অন্য কোনো স্থানে উল্লেখ করেননি, তার মধ্যে কিছু সহিহ হলেও তা তাঁর (বুখারির) শর্তানুযায়ী নয়। যেমন সালাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব থেকে উল্লেখ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাতে সূরা আল-মুমিনুন পাঠ করেছিলেন, এমনকি যখন মুসা ও হারুন অথবা ঈসা (আ.)-এর আলোচনা এলো তখন তাঁর কাশি শুরু হয় এবং তিনি রুকুতে চলে যান। এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী তাঁর সহিহ গ্রন্থের একটি সহিহ হাদিস। আবার কোনোটি হাসান পর্যায়ের। যেমন ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে উল্লেখ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি বিক্রি করবে তখন মেপে দেবে।" এই হাদিসটি দারাকুতনি ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুগীরা (যিনি সত্যবাদী) সূত্রে মুনকিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি উসমানের মুক্তদাস এবং নির্ভরযোগ্য। সাঈদ ইবনে মুসায়্যিবও এর সমর্থন করেছেন। তাঁর সূত্র থেকে আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন। ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে আতা-এর সূত্রে উসমান (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে এই সমর্থক বর্ণনার কারণে হাদিসটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত। আবার কোনোটি এককভাবে দুর্বল হলেও এর ওপর আমল প্রচলিত রয়েছে। যেমন ওসিয়ত অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওসিয়ত কার্যকর করার আগে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা দিয়েছেন। তিরমিজি এটি আবু ইসহাক আল-সাবি'ঈ-এর সূত্রে আল-হারিস আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করেছেন। হারিস দুর্বল বর্ণনাকারী এবং তিরমিজি একে বিরল (গারিব) বলেছেন। এরপর তিনি এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কোনোটি এককভাবে দুর্বল এবং এর কোনো সমর্থক নেই, যা বুখারিতে অত্যন্ত কম।