(খণ্ড: ১) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: -)
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري - ط بولاق   (القسطلاني)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري

المؤلف: أحمد بن محمد القسطلاني

الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية، بولاق - مصر

الطبعة: السادسة، 1304 - 1305 هـ

عدد الأجزاء: 10

تنبيه: زدنا بهذا الكتاب الإلكتروني (وليس في المطبوع):

• نص الصحيح، موزعا على مواضعه من الشرح، ومشكولا

• ترقيم الكتب والأبواب والأحاديث، بترقيم محمد فؤاد عبد الباقي [ت 1388 هـ]

• أطراف الأحاديث (عند أول ورود للحديث)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1432

ইরশাদুস সারি লি শারহি সহীহিল বুখারী - বুলাক সংস্করণ   (আল-কাসতালানি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ইরশাদুস সারি লি শারহি সহীহিল বুখারী

লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতালানি

প্রকাশক: আল-মাতবাআতুল কুবরা আল-আমীরিয়্যাহ، বুলাক - মিশর

সংস্করণ: ষষ্ঠ، ১৩০৪ - ১৩০৫ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১০

সতর্কবার্তা: আমরা এই ইলেকট্রনিক গ্রন্থে যুক্ত করেছি (যা মুদ্রিত কপিতে নেই):

• সহীহ-এর মূল পাঠ, যা ব্যাখ্যার যথোপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত এবং হরকতযুক্ত।

• কিতাব, অধ্যায় এবং হাদিসের ক্রমিক নম্বর, মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির [মৃত্যু ১৩৮৮ হি.] বিন্যাস অনুযায়ী।

• হাদিসের অংশবিশেষ বা আতরাফ (হাদিসটি প্রথমবার উল্লেখের সময়)

[গ্রন্থের ক্রমিক নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌ترجمة الشيخ القسطلاني

 

هو العلامة أحمد بن محمد بن أبي بكر بن عبد الملك بن أحمد بن محمد بن محمد بن الحسين بن علي القسطلاني القاهري الشافعي

ولد فى اثنين وعشرين من ذى القعدة سنة إحدى وخمسين وثمانمائة بمصر

 

وحفظ عدة من الكتب منها الشاطبية

وأخذ عن جماعة منهم البرهان العجلوني والجلال الكبير والشيخ خالد الأزهري والحافظ السخاوي وشيخ الاسلام زكريا الأنصاري

 

وألف هذا الشرح الحافل ثم اختصره في آخر سماء الإسعاد في مختصر الإرشاد لم يكمل، وشرح صحيح مسلم إلى أثناء الحج

وشرح الشاطبية والبردة

وصنف مسالك الحنفا في الصلاة على المصطفى، وصنف كتاب المواهب اللدنية بالمنح المحمدية

وكتاب لطائف الإشارات في القراآت الأربع عشرة

وله غير ذلك.

 

وكان يصحب الشيخ ابراهيم المتبولى، وجلس للوعظ بالجامع العتيق

 

وتوفى يوم الخميس مستهل المحترم افتتاح سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة بمنزله بالعينية وتعذر الخروج به إلى الصحراء ذلك اليوم لأنه اليوم الذي دخل فيه السلطان سليم مصر، وكانت وفاته بشيء أصابه من الجِنة

ودفن على الإمام العينى شارح البخاري بمدرسته المذكورة بقرب الجامع الأزهر تغمدهما الله تعالى وإيانا برحمته ورضوانه وجمعنا بهما في بحبوحة جنانه آمين يا معين

 

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

 

(الطبعة السادسة)

بالمطبعة الكبرى الاميرية ببولاق مصر المحمية

سنة 1304 هجرية
শায়খ আল-কাসতাল্লানি-র জীবনী

 

তিনি হলেন আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল মালিক বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-কাসতাল্লানি আল-কাহিরি আশ-শাফিয়ি।

তিনি আটশ একান্ন হিজরির যিলকদ মাসের বাইশ তারিখে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন।

 

তিনি আল-শাতিবিয়্যাহ সহ বেশ কিছু কিতাব মুখস্থ করেছিলেন।

তিনি একদল আলিমের নিকট ইলম হাসিল করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বুরহান আল-আজলুনি, জালাল আল-কাবির, শায়খ খালিদ আল-আযহারি, হাফিজ আল-সাখাভি এবং শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারি।

 

তিনি এই পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনা করেন, অতঃপর এর শেষ দিকে 'সামাউল ইসআদ ফি মুখতাসারিল ইরশাদ' নামে এটিকে সংক্ষেপ করতে শুরু করেন যা পূর্ণ হয়নি। তিনি সহীহ মুসলিমের হজ্জ অধ্যায় পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি আল-শাতিবিয়্যাহ ও আল-বুরদাহ-র ব্যাখ্যা লিখেছেন।

তিনি 'মাসালিকুল হুনাফা ফিস সালাতি আলাল মুস্তফা' এবং 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়াহ' কিতাবটি রচনা করেন।

এবং চৌদ্দ কিরাত বিষয়ক কিতাব 'লাতায়েফুল ইশারাত ফিল কিরাআতিল আরবাআ আশরাহ'।

এছাড়া তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে।

 

তিনি শায়খ ইবরাহিম আল-মাতবুলির সান্নিধ্যে থাকতেন এবং জামে আতিক-এ ওয়াজ-নসীহতের মজলিসে বসতেন।

 

তিনি নয়শ তেইশ হিজরির মুহাররাম মাসের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার আল-আইনিয়ায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। সেদিন তাঁকে মরুভূমিতে (জানাজার জন্য) নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারণ সেই দিনই সুলতান সেলিম মিসরে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল জ্বিনের পক্ষ থেকে কিছু একটা ঘটার কারণে।

তাঁকে জামে আল-আযহারের নিকটস্থ মাদরাসায় বুখারির ব্যাখ্যাকার ইমাম আল-াইনির পাশে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে এবং আমাদের তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং আমাদের সকলকে তাঁর জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে তাঁদের সাথে একত্রিত করুন। আমিন, হে সাহায্যকারী।

 

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

(ষষ্ঠ সংস্করণ)

সংরক্ষিত মিসরের বুলাকের আল-মাতবাআহ আল-কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত।

১৩০৪ হিজরি।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

يقول أحمد بن محمد الخطيب القسطلاني غفر الله له آمين:

الحمد لله الذي شرح بمعارف عوارف السنة النبوية صدور أوليائه، وروّح بسماع أحاديثها الطيبة أرواح أهل وداده وأصفيائه، فسرّح سرّ سرائرهم في رياض روضة قدسه وثنائه، أحمده على ما وفق من إرشاده وأسدى من آلائه وأشكره على فضله المتواتر الكامل الوافر، وأسأله المزيد من عطائه وكشف غطائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الفرد المنفرد في صمدانيته بعز كبريائه، واصل من انقطع إليه إلى حضرة قربه وولائه ومدرجه في سلسلة خاصته وأحبائه، وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله المرسل بصحيح القول وحسنه رحمة لأهل أرضه وسمائه، الماحي للمختلق الموضوع بشوارق بوارق لألائه، فأشرقت مشكاة مصابيح الجامع الصحيح من أنوار شريعته وأنبائه صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه وخلفائه آمين.

وبعد فإنّ علم السنة النبوية بعد الكتاب العزيز أعظم العلوم قدرًا وأرقاها شرفًا وفخرًا، إذ عليه مبنى قواعد أحكام الشريعة الإسلامية، وبه تظهر تفاصيل مجملات الآيات القرآنية، وكيف لا ومصدره عمن لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى.

فهو المفسر للكتاب وإنما … نطق النبي لنا به عن ربه

وإن كتاب البخاري الجامع قد أظهر من كنوز مطالبها العالية إبريز البلاغة، وأبرز وحاز قصب السبق في ميدان البراعة وأحرز، وأتى من صحيح الحديث وفقهه بما لم يسبق إليه ولا عرّج أحد عليه، فانفرد بكثرة فرائد فوائده وزوائد عوائده، حتى جزم الراوون بعذوبة موارده، فلذا رجح على غيره من الكتب بعد كتاب الله، وتحرّكت بالثناء عليه الألسن والشفاه، ولطالما خطر في الخاطر المخاطر أن أعلق عليه شرحًا أمزجه فيه مزجًا وأدرجه ضمنه درجًا، أميز فيه الأصل من الشرح بالحمرة والمداد واختلاف الروايات بغيرهما، ليدرك الناظر سريعًا المراد، فيكون باديًا بالصفحة مدركًا باللمحة كاشفًا بعد أسراره لطالبيه، رافع النقاب عن وجوه معانيه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খতিব আল-কাসতালানি (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, আমিন) বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ওলিদের অন্তরসমূহকে নববী সুন্নাহর মারেফাত ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন এবং তাঁর প্রিয়জন ও খাঁটি বান্দাদের রূহসমূহকে সুন্নাহর পবিত্র হাদিসসমূহ শ্রবণের মাধ্যমে প্রশান্তি দান করেছেন। ফলে তিনি তাঁদের গোপন রহস্যসমূহকে তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসার উদ্যানের রিয়াজে বিচরণ করিয়েছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এই জন্য যে, তিনি সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন এবং অজস্র নিআমত দান করেছেন। আমি তাঁর নিরন্তর, পূর্ণাঙ্গ ও প্রচুর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর দান বৃদ্ধি ও আবরণ উন্মোচনের প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর মহান মর্যাদার মাধ্যমে তাঁর অমুখাপেক্ষিতার (সামদানিয়্যাত) গুনে একক ও অনন্য। যারা তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর পুনরায় তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করে, তাদের তিনি তাঁর নৈকট্য ও অভিভাবকত্বের দরবারে পৌঁছে দেন এবং তাঁর বিশেষ ও প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে পৃথিবীর ও আকাশের অধিবাসীদের জন্য রহমত স্বরূপ সহিহ ও উত্তম বচনসহ প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর জ্যোতির্ময় দ্যুতির মাধ্যমে উদ্ভাবিত ও বানোয়াট কথাগুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। ফলে আল-জামি আল-সহিহ-এর প্রদীপসমূহ তাঁর শরীয়ত ও বাণীর নূর দ্বারা উদ্ভাসিত হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী ও খলিফাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমিন।

অতঃপর, মহাগ্রন্থ কুরআনের পরে নববী সুন্নাহর ইলম হলো মর্যাদার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মান ও গৌরবের দিক থেকে সর্বোচ্চ। কারণ, এর ওপরই ইসলামি শরীয়তের বিধিবিধানের ভিত্তি স্থাপিত এবং এর মাধ্যমেই কুরআনের আয়াতসমূহের সারসংক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ পায়। আর কেনই বা হবে না, যেখানে এর উৎস হলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না, বরং তা কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।

তিনিই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী, আর নবি তো আমাদের কাছে … তাঁর রবের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

নিশ্চয়ই বুখারীর জামি কিতাবটি তার সুউচ্চ লক্ষ্যের ভাণ্ডার থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশুদ্ধ স্বর্ণকে প্রকাশ করেছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এটি সহিহ হাদিস এবং এর ফিকহ নিয়ে এমনভাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি এবং কেউ তা স্পর্শও করতে পারেনি। এটি তার অসংখ্য বিরল উপকারিতা ও অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিক থেকে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছে, এমনকি বর্ণনাকারীরা এর উৎসের সুমিষ্টতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। এই কারণেই আল্লাহর কিতাবের পরে এটি অন্য সমস্ত কিতাবের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে এবং জিহ্বা ও ঠোঁট এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত আমার মনে এই আশঙ্কার উদয় হচ্ছিল যে, আমি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করব, যেখানে আমি মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যাকে এমনভাবে মিশিয়ে দেব যে তা একীভূত হয়ে থাকবে। আমি লাল কালি দিয়ে মূল পাঠকে ব্যাখ্যা থেকে আলাদা করব এবং বর্ণনার ভিন্নতাকে অন্য রঙের কালি দিয়ে চিহ্নিত করব, যাতে পাঠক দ্রুত কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি বুঝতে পারে। ফলে এটি পৃষ্ঠায় দৃশ্যমান হবে, এক পলকেই বোধগম্য হবে এবং এর অন্বেষণকারীদের কাছে এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করবে ও এর অর্থের নেকাব উন্মুক্ত করবে।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٣)
لمعانيه، موضحًا مشكله فاتحًا مقفله مقيدًا مهمله، وافيًا بتغليق تعليقه، كافيًا في إرشاد الساري لطريق تحقيقه، محررًا لرواياته معربًا عن غرائبه وخفياته، فأجدني أحجم عن سلوك هذا المسرى، وأبصرنى أقدّم رجلاً وأؤخر أخرى، إذ أنا بمعزل عن هذا المنزل، لا سيما وقد قيل إن أحدًا لم يستصبح سراجه ولا استوضح منهاجه ولا اقتعد صهوته ولا افترع ذروته، ولا تبوّأ خلاله ولا تفيأ ظلاله، فهو درّة لم تثقب ومهرة لم تركب، ولله درّ القائل:

أعيى فحول العلم حل رموز ما … أبداه في الأبواب من أسرار

فازوا من الأوراق منه بما جنوا … منها ولم يصلوا إلى الأثمار

ما زال بكرًا لم يفض ختامه … وعراه ما حلّت عن الأزرار

حجبت معانيه التي أوراقها … ضربت على الأبواب كالأستار

من كل باب حين يفتح بعضه … ينهار منه العلم كالأنهار

لا غرو أن أمسى البخاري للورى … مثل البحار لمنشأ الأمطار

خضعت له الأقران فيه إذ بدا … خرّوا على الأذقان والأكوار

ولم أزل على ذلك مدّة من الزمان، حتى مضى عصر الشباب وبان، فانبعث الباعث إلى ذلك راغبًا، وقام خطيبًا لبنات أبكار الأفكار خاطبًا، فشمرت ذيل العزم عن ساق الحزم، وأتيت بيوت التصنيف من أبوابها، وقمت في جامع جوامع التأليف بين أئمته بمحرابها، وأطلقت لسان القلم في ساحات الحكم بعبارة صريحة واضحة، وإشارة قريبة لائحة، لخصتها من كلام الكبراء الذين رقت في معارج علوم هذا الشأن أفكارهم، وإشارات الألباء الذين أنفقوا على اقتناص شوارده أعمارهم، وبذلت الجهد في تفهم أقاويل الفهماء المثار إليهم بالبنان، وممارسة الدواوين المؤلفة في هذا الشأن، ومراجعة الشيوخ الذين حازوا قصب السبق في مضماره، ومباحثة الحذاق الذين غاصوا على جواهر الفرائد في بحاره، ولم أتحاش عن الإعادة في الإفادة عند الحاجة إلى البيان، ولا في ضبط الواضح عند علماء هذا الشأن، قصدًا لنفع الخاص والعام، راجيًا ثواب ذي الطول والإنعام، فدونك شرحًا قد أشرقت عليه من شرفات هذا الجامع أضواء نوره اللامع، وصدع خطيبه على منبره السامي بالحجج القواطع، القلوب والمسامع، أضاءت بهجته فاختفت منه كواكب الدراري، وكيف لا وقد فاض عليه النور من فتح الباري. على أنني أقول كما قال الحافظ أبو بكر البرقاني:

وما لي فيه سوى أنني … أراه هوى وافق المقصدا

وأرجو الثواب بكتب الصلاة … على السيد المصطفى أحمدا

وبالجملة فإنما أنا من لوامع أنوارهم مقتبس، ومن فواضل فضائلهم ملتمس، وخدمت به الأبواب النبوية والحضرة المصطفوية، راجيًا أن يتوّجني بتاج القبول والإقبال، ويجيزني بجائزة الرضا في الحال والمآل. وسميته (إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري). والله أسال التوفيق والإرشاد إلى سلوك طرق السداد، وأن يعينني على التكميل، فهو حسبي ونعم الوكيل.

وهذه مقدمة، مشتملة على وسائل المقاصد يهتدي بها إلى الإرشاد السالك والقاصد، جامعة لفصول، هي لفروع قواعد هذا الشرح أصول.

 

‌‌الفصل الأوّل

في فضيلة أهل الحديث وشرفهم في القديم والحديث

أقول مستمدًا من الله الإعانة على التوفيق للإيضاح والإبانة: روينا عن ابن مسعود
তার অর্থসমূহের জন্য, এর অস্পষ্টতা স্পষ্টকারী হিসেবে, তার বন্ধ দুয়ার উন্মোচনকারী, তার অবহেলিত বিষয়গুলো সীমাবদ্ধকারী, তার অসম্পূর্ণ মন্তব্যগুলো পূর্ণকারী, এবং সত্য অনুসন্ধানের পথে পথিকদের জন্য যথেষ্ট পথপ্রদর্শক হিসেবে। আমি এর বর্ণনাগুলোকে পরিমার্জিত করেছি এবং এর দুর্লভ ও লুকায়িত বিষয়গুলোকে ব্যক্ত করেছি। তবে আমি নিজেকে এই পথে চলতে দ্বিধাগ্রস্ত পাচ্ছিলাম এবং কখনও এক কদম এগিয়ে আবার এক কদম পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। কারণ আমি নিজেকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্থানের অনুপযুক্ত মনে করছিলাম; বিশেষ করে যখন বলা হয় যে, ইতিপূর্বে কেউ এর প্রদীপ থেকে আলো নেয়নি, এর পথকে স্পষ্ট করেনি, এর পিঠে সওয়ার হয়নি, এর চূড়ায় আরোহণ করেনি, এর অভ্যন্তরে স্থান করে নেয়নি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নেয়নি। এটি যেন এক অখণ্ডিত মুক্তা এবং এক অবাধ্য ঘোটকী যা কেউ আরোহণ করেনি। কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

ইলমের দিকপালগণ সেই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে পরিশ্রান্ত হয়েছেন যা তিনি (ইমাম বুখারী) অধ্যায়গুলোর মাঝে গোপন রেখেছিলেন।

তারা এর পাতাগুলো থেকে যা আহরণ করেছেন তা দিয়েই সফল হয়েছেন, কিন্তু তারা মূল ফলের নাগাল পাননি।

এটি এখনও এক কুমারীর ন্যায় যার মোহর উন্মোচিত হয়নি এবং এর বোতামগুলোও খোলা হয়নি।

এর অর্থগুলো আবৃত ছিল, যার পাতাগুলো দরজায় পর্দার মতো ঝুলে ছিল।

প্রতিটি অধ্যায়ের কিছু অংশ যখন উন্মোচিত হয়, তখন সেখান থেকে জ্ঞান বা ইলম নদীর মতো প্রবাহিত হয়।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে বুখারী সৃষ্টিজগতের কাছে বৃষ্টির উৎসের সমুদ্রের মতো হয়ে উঠেছেন।

সমসাময়িকরা তার সামনে বিনত হয়েছেন যখন তিনি আত্মপ্রকাশ করলেন, তারা তাদের চিবুক ও রেকাবের ওপর লুটিয়ে পড়লেন।

আমি দীর্ঘকাল এভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, যতক্ষণ না যৌবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল। অতঃপর এই কাজের প্রতি একটি প্রবল অনুপ্রেরণা জাগ্রত হলো এবং আমি সংকল্প করলাম। আমি দূরদর্শিতার পায়ে দৃঢ়তার কাপড় গুটিয়ে নিলাম এবং রচনার ঘরে তার প্রধান প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলাম। আমি রচনার সংকলনে ইমামদের মাঝে মেহরাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি প্রজ্ঞার প্রাঙ্গণে স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় কলম চালালাম। আমি এটি সংক্ষেপ করেছি সেই মহান আলেমদের কথা থেকে যাদের চিন্তা এই শাস্ত্রের উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছে এবং সেই প্রাজ্ঞদের ইঙ্গিত থেকে যারা এর দুর্লভ বিষয়গুলো অন্বেষণে জীবন ব্যয় করেছেন। আমি বিজ্ঞজনদের কথা বোঝার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, এই শাস্ত্রে রচিত মূল গ্রন্থগুলো চর্চা করেছি এবং সেই উস্তাদদের শরণাপন্ন হয়েছি যারা এই ময়দানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। আমি প্রয়োজনে কোনো বিষয় পুনরাবৃত্তি করতে বা স্পষ্ট বিষয়গুলো সংজ্ঞায়িত করতে দ্বিধাবোধ করিনি। আমার উদ্দেশ্য বিশেষ ও সাধারণ সবার উপকার করা এবং মহান দাতা ও নেয়ামতদাতার পক্ষ থেকে সওয়াবের আশা করা। আপনার সামনে এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ উপস্থিত যার ওপর এই সংকলনের অলিন্দ থেকে উজ্জ্বল জ্যোতির আলো বিচ্ছুরিত হয়েছে। এর উচ্চ মিম্বর থেকে এর বক্তা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে হৃদয় ও কর্ণকে বিদীর্ণ করে দিয়েছে। এর সৌন্দর্য এমনভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে যে নক্ষত্ররাজিও তাতে ঢাকা পড়ে গেছে। কেনই বা হবে না, অথচ এর ওপর ‘ফাতহুল বারী’র নূর প্রবাহিত হয়েছে। আমি তা-ই বলি যা হাফেজ আবু বকর আল-বারকানী বলেছিলেন:

এই বিষয়ে আমার কোনো কৃতিত্ব নেই, বরং আমি কেবল দেখছি যে এটা এমন এক অনুরাগ যা মূল লক্ষ্যের সাথে মিলে গেছে।

আমি নির্বাচিত নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ লেখার মাধ্যমে সওয়াব প্রত্যাশা করি।

মোদ্দাকথা, আমি কেবল তাদের নূরের বিচ্ছুরণ থেকে আলো গ্রহণকারী এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বের অবশিষ্টাংশ থেকে সন্ধানকারী। আমি এর মাধ্যমে নবুওয়াতের দুয়ার ও রাসূলের সান্নিধ্যের সেবা করেছি। আমি আশা করি এটি আমাকে কবুলিয়তের মুকুট পরিয়ে দেবে এবং পরকালে সন্তুষ্টির পুরস্কার দান করবে। আমি এর নাম রেখেছি 'ইরশাদুল সারী লি শারহিল সহীহিল বুখারী'। আমি আল্লাহর কাছে সঠিক পথে চলার তাওফিক ও নির্দেশনা প্রার্থনা করি এবং তিনি যেন আমাকে এটি পূর্ণ করার সাহায্য করেন, কারণ তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

এটি একটি ভূমিকা, যা মূল উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যমসমূহকে শামিল করে, যার দ্বারা পথচারী ও অন্বেষণকারী সঠিক পথের দিশা পায়। এটি এমন সব পরিচ্ছেদের সমষ্টি, যা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের শাখা-প্রশাখা ও মূলভিত্তি স্বরূপ।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

অতীত ও বর্তমানের হাদীসবিদদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে

আমি আল্লাহর কাছে বিষয়গুলো স্পষ্ট করার তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি: আমরা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছি—
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٤)
رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "نضر الله امرءًا سمع مقالتي فحفظها ووعاها وأداها فربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه ". رواه الشافعيّ والبيهقي وكذا أبو داود والترمذيّ بلفظ: "نضر الله امرءًا سمع منّا شيئًا فبلغه كما سمعه فربّ مبلغ أوعى من سامع". وقال الترمذي: حسن صحيح. وعن أبي سعيد الخدريّ رضي الله عنه عن النبي ّ-صلى الله عليه وسلم أنه قال في حجة الوداع: "نضر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها فربّ حامل فقه ليس بفقيه" الحديث. رواه البزار بإسناد حسن وابن حبان في صحيحه من حديث زيد بن ثابت، وكذا روي من حديث معاذ بن جبل والنعمان بن بشير وجبير بن مطعم وأبي الدرداء وأبي قرصافة وغيرهم من الصحابة رضي الله تعالى عنهم، وبعض أسانيدهم صحيح، كما قاله المنذري، وقوله نضر الله بتشديد الضاد المعجمة وتخفف، والنضرة: الحسن والرونق، والمعنى خصّه الله تعالى بالبهجة والسرور لأنه سعى في نضارة العلم وتجديد السُّنَّة، فجازاه في دعائه له بما يناسب حاله في المعاملة. وأيضًا فإن من حفظ ما سمعه وأدّاه كما سمعه من غير تغيير، كأنه جعل المعنى غضًّا طريًّا، وخصّ الفقه بالذكر دون العلم إيذانًا بأنّ الحامل غير عار عن العلم إذ الفقه علم بدقائق العلوم المستنبطة من الأقيسة. ولو قال غير عالم لزم جهله. وقوله ربّ وضعت للتقليل، فاستعيرت في الحديث للتكثير. وقوله إلى من هو أفقه منه صفة لدخول رب استغنى بها عن جوابها، أي رب حامل فقه أدّاه إلى من هو أفقه منه لا يفقه ما يفقهه المحمول إليه.

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللهَّم ارحم خلفائي" قلنا يا رسول الله ومن خلفاؤك؟ قال: "الذين يروون أحاديثي ويعلمونها الناس". رواه الطبرانّي في الأوسط. ولا ريب أنَّ أداء السنن إلى المسلمين نصيحة لهم من وظائف الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين. فمن قام بذلك كان خليفة لن يبلغ عنه. وكما لا يليق بالأنبياء عليهم السلام أن يهملوا أعاديهم ولا ينصحوهم، كذلك لا يحسن لطالب الحديث وناقل السُّنن أن يمنحها صديقه ويضعها عدوّه، فعلى العالم بالسُّنَّة أن يجعل أكبر همه نشر الحديث، فقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالتبليغ عنه حيث قال: "بلغوا عني ولو آية" الحديث رواه البخاري رحمه الله. قال المظهري أي بلغوا عني أحاديثي ولو كانت قليلة. قال البيضاوي رحمه الله قال: "ولو آية" ولم يقل ولو حديثًا لأن الأمر بتبليغ الحديث يفهم منه بطريق الأولوية، فإن الآيات مع انتشارها وكثرة حملتها تكفل الله تعالى بحفظها وصونها عن الضياع والتحريف اهـ.

وقال إمام الأئمة مالك رحمه الله تعالى: بلغني أن العلماء يسألون يوم القيامة عن تبليغهم العلم كما تسأل الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وقال سفيان الثوري: لا أعلم علمًا أفضل من علم الحديث لمن أراد به وجه الله تعالى، إن الناس يحتاجون إليه حتى في طعامهم وشرابهم، فهو أفضل من التطوّع بالصلاة والصيام لأنه فرض كفاية. وفي حديث أسامة بن زيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين". وهذا الحديث رواه من الصحابة عليّ وابن عمر وابن عمرو وابن مسعود وابن عباس وجابر بن سمرة ومعاذ وأبو هريرة رضي الله عنهم، وأورده ابن عديّ من طرق كثيرة كلها ضعيفة، كما صرّح به الدارقطني وأبو نعيم وابن عبد البرّ، لكن يمكن أن يتقوّى بتعدّد طرقه ويكون حسنًا كما جزم به ابن كيكلدي العلائي، وفيه تخصيص حملة السُّنَّة بهذه المنقبة العلية، وتعظيم لهذه الأمة المحمدية وبيان لجلالة قدر المحدّثين وعلوّ مرتبتهم في العالين، لأنهم يحمون مشارع الشريعة ومتون الروايات من تحريف الغالين وتأويل الجاهلين، بنقل النصوص المحكمة لرد المتشابه إليها.

وقال النووي في أوّل تهذيبه: هذا إخبار منه صلى الله عليه وسلم بصيانة هذا العلم وحفظه وعدالة ناقليه، وأن الله تعالى يوفق له في كل عصر خلفًا من العدول يحملونه وينفون عنه التحريف فلا يضيع، وهذا تصريح بعدالة حامليه في كل عصر. وهكذا وقع
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ করেছে, মনে রেখেছে এবং পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী ব্যক্তি এমন একজনের কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার।" এটি শাফেঈ এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ আবু দাউদ ও তিরমিযী এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কিছু শুনেছে, অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি মূল শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহীহ। আর আবু সাঈদ খুদরী আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা মনে রেখেছে। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ (সমঝদার) নন।" হাদীসটি বাজ্জার হাসান সনদে এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে যায়েদ ইবনে সাবিতের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ মুয়ায ইবনে জাবাল, নুমান ইবনে বশীর, জুবায়ের ইবনে মুতঈম, আবু দারদা, আবু কুরাসফাহ এবং অন্যান্য সাহাবীগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। মুনযিরী যেমনটি বলেছেন, তাঁদের কোনো কোনো সনদ সহীহ। তাঁর বাণী 'নাদ্দারাল্লাহ' (আল্লাহ সতেজ রাখুন) এখানে 'দাদ' বর্ণটি তাশদীদসহ বা তাশদীদ ছাড়াও পড়া যায়। 'নাদরাহ' অর্থ সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা। এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তাকে বিশেষ আনন্দ ও প্রফুল্লতা দান করবেন, কারণ সে ইলমের সজীবতা এবং সুন্নাহর পুনর্জীবনের জন্য চেষ্টা করেছে। তাই আল্লাহ তাঁর দোয়ায় তাকে এমন প্রতিদান দিয়েছেন যা তার আমলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, যে ব্যক্তি যা শুনেছে তা মুখস্থ রাখে এবং কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তা যেভাবে শুনেছে সেভাবে পৌঁছে দেয়, সে যেন সেই অর্থকে সজীব ও সতেজ রাখল। এখানে 'ইলম' এর পরিবর্তে 'ফিকহ' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এটা বোঝাতে যে, বাহক ইলম থেকে শূন্য নয়। কারণ ফিকহ হলো কিয়াস (যুক্তি ও অনুমান) থেকে আহরিত জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর জ্ঞান। যদি 'জ্ঞানী নয়' (গাইরে আলিম) বলা হতো, তবে তা তার মূর্খতা লাজিম করত। তাঁর কথা 'রুব্বা' (হয়তো/অনেক ক্ষেত্রে) শব্দটি স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তবে হাদীসে এটি আধিক্য বোঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর বাণী 'তার চেয়েও অধিক সমঝদার ব্যক্তির কাছে' এটি 'রুব্বা' এর প্রবেশের গুণাগুণ বর্ণনা করছে যা তার উত্তরের প্রয়োজন দূর করে দিয়েছে। অর্থাৎ, অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার, অথচ বহনকারী নিজে তা বোঝে না যা যার কাছে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বোঝে।

ইবনে আব্বাস আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ, আমার খলিফাদের (উত্তরাধিকারীদের) প্রতি দয়া করুন।" আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার খলিফা কারা? তিনি বললেন: "যারা আমার হাদীসসমূহ বর্ণনা করে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেয়।" এটি তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের কাছে সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়া তাদের জন্য কল্যাণকামিতা (নসীহত) এবং এটি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামগণের দায়িত্বসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই কাজ সম্পাদন করবে, সে তাঁরই খলিফা হবে যার পক্ষ থেকে সে পৌঁছে দিচ্ছে। আর যেমনটি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তাঁরা তাঁদের শত্রুদের অবজ্ঞা করবেন কিংবা তাদের নসীহত করবেন না, তেমনি হাদীসের ছাত্র এবং সুন্নাহর বর্ণনাকারীর জন্য এটি শোভন নয় যে সে কেবল তার বন্ধুকে তা প্রদান করবে আর শত্রুর কাছে তা পৌঁছাবে না। বরং সুন্নাহর আলিমের উচিত হাদীস প্রচার করাকেই তার প্রধান লক্ষ্য বানানো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।" হাদীসটি ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। মাযহারী বলেন, অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে আমার হাদীসগুলো পৌঁছে দাও যদিও তা সংখ্যায় কম হয়। বায়যাভী রহিমাহুল্লাহ বলেন: "যদিও একটি আয়াত হয়" কথাটি বলেছেন কিন্তু "যদিও একটি হাদীস হয়" বলেননি, কারণ হাদীস পৌঁছানোর বিষয়টি এর মাধ্যমে অধিকতর গুরুত্বের সাথে বোঝা যায়। কেননা আয়াতসমূহ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হওয়া এবং এর বাহক সংখ্যা অনেক হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এর হিফাযত এবং হারিয়ে যাওয়া ও বিকৃতি থেকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। সমাপ্ত।

ইমামদের ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কিয়ামতের দিন আলিমদের ইলম পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে যেমনটি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামগণকে প্রশ্ন করা হবে। সুফিয়ান সাওরী বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির ইচ্ছা পোষণ করে, তার জন্য ইলমে হাদীসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ইলম আছে বলে আমি জানি না। মানুষের এমনকি তাদের পানাহারেও এর প্রয়োজন রয়েছে। তাই এটি নফল সালাত ও সিয়ামের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি ফরযে কিফায়া। উসামা ইবনে যায়েদ আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাই এই ইলমকে বহন করবে। তারা একে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবে।" এই হাদীসটি সাহাবীগণের মধ্যে আলী, ইবনে উমর, ইবনে আমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে সামুরা, মুয়ায এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদী এটি অনেকগুলো সূত্রে উল্লেখ করেছেন যার সবকটিই দুর্বল, যেমনটি দারাকুতনী, আবু নুআইম এবং ইবনে আব্দুল বার স্পষ্টভাবে বলেছেন। তবে এর সূত্রগুলোর আধিক্যের কারণে এটি শক্তিশালী হয়ে 'হাসান' পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যেমনটি ইবনে কায়কালদী আল-আলাঈ দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। এতে সুন্নাহর বাহকদের জন্য এই উচ্চমর্যাদার বিশেষত্ব রয়েছে এবং এই উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য সম্মান ও মুহাদ্দিসগণের সুমহান মর্যাদা এবং উচ্চাসনে তাদের সুউচ্চ মর্তবার বর্ণনা রয়েছে। কেননা তারা শরীয়তের ঝরনাধারা এবং রেওয়াতসমূহের মূল পাঠকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি ও মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করেন, এবং মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) বিষয়গুলোকে খণ্ডন করার জন্য মুহকাম (সুস্পষ্ট) নসসমূহ বর্ণনা করেন।

ইমাম নববী তাঁর 'তাহযীব' গ্রন্থের শুরুতে বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে এই ইলমের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ এবং এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার সংবাদ। আর আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক যুগে ন্যায়পরায়ণ উত্তরসূরিদের এর জন্য তাওফীক দান করেন যারা এটি বহন করবেন এবং এর থেকে বিকৃতি দূর করবেন, ফলে এটি হারিয়ে যাবে না। এটি প্রত্যেক যুগের বাহকদের ন্যায়পরায়ণতার একটি স্পষ্ট ঘোষণা। আর বাস্তবেও তাই ঘটেছে।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٥)
ولله الحمد، وهو من أعلام النبوّة، ولا يضرّ كون بعض الفسّاق يعرف شيئًا عن علم الحديث، فإن الحديث إنما هو إخبار بأن العدول يحملونه لا أنَّ غيرهم لا يعرف شيئًا منه اهـ.

على أنه قد يقال ما يعرفه الفسّاق من العلم ليس بعلم حقيقة لعدم عملهم، كما أشار إليه المولى سعد الدين التفتازانيّ في تقرير قول التلخيص: وقد ينزل العالم منزلة الجاهل، وصرّح به الإمام الشافعي في قوله: ولا العلم إلا مع التقى ولا العقل إلا مع الأدب. ولعمري إن هذا الشأن من أقوى أركان الدين وأوثق عُرى اليقين. لا يرغب في نشره إلا صادق تقيّ ولا يزهده إلا كل منافق شقيّ. قال ابن القطان: ليس في الدنيا مبتدع إلا وهو يبغض أهل الحديث. وقال الحاكم: لولا كثرة طائفة المحدثين على حفظ الأسانيد لدرس منار الإسلام ولتمكن أهل الإلحاد والبتدعة من وضع الأحاديث وقلب الأسانيد.

وعن عبد الله بن عمرو بن العاصي رضي الله عنه أن رسول الله قال: "العلم ثلاثة آية محكمة أو سُنّة قائمة أو فريضة عادلة وما سوى ذلك فهو فضل". رواه أبو داود وابن ماجة. قال في شرح المشكاة: والتعريف في العلم للعهد وهو ما علم من الشارع وهو العلم النافع في الدين، وحينئذ العلم مطلق فينبغي تقييده بما يفهم منه المقصود، فيقال علم الشريعة معرفة ثلاثة أشياء والتقسيم حاصر، وبيانه أن قوله آية محكمة يشتمل على معرفة كتاب الله تعالى وما يتوقف عليه معرفته، لأن المحكمة هي التي أحكمت عبارتها بأن حفظت من الاحتمال والاشتباه، فكانت أمّ الكتاب، فتحمل المتشابهات عليها وترد إليها، ولا يتم ذلك إلا للماهر الحاذق في علم التفسير والتأويل، الحاوي لمقدّمات يفتقر إليها من الأصلين وأقسام العربية، وقوله سُنّة قائمة، معنى قيامها ثباتها ودوامها بالمحافظة عليها من قامت السوق إذا نفقت، لأنها إذا حوفظ عليها كانت كالشيء النافق الذي تتوجّه إليه الرغبات ويتنافس فيه المخلصون بالطلبات، ودوامها إما أن يكون بحفظ أسانيدها من معرفة أسماء الرجال والجرح والتعديل، ومعرفة الأقسام من الصحيح والحسن والضعيف المتشعب منه أنواع كثيرة، وما يتصل بها من المتممات مما يسمى علم الاصطلاح مما يأتي في الفصل الثالث إن شاء الله تعالى. وإما أن يكون بحفظ متونها من التغيير والتبديل بالإتقان وتفهم معانيها واستنباط العلوم منها كما سيأتي إن شاء الله تعالى في هذا الشرح بعون الله سبحانه، لأن جلّها بل كلها من جوامع كلمه التي خصّ بها لا سيما هذه الكلمة الفاذّة الجامعة مع قصر متنها وقرب طرفيها علوم الأوّلين والآخرين. وقوله أو فريضة عادلة أي مستقيمة مستنبطة من الكتاب والسُّنة والإجماع. وقوله: "وما سوى ذلك فهو فضل" أي لا مدخل له في أصل علوم الدين، بل ربما يستعاذ منه حينًا كقوله: "أعوذ بك من علم لا ينفع" ولله درّ أبي بكر حميد القرطبيّ فلقد أحسن وأجاد حيث قال:

نور الحديث مبين فادن واقتبس … واحد الركاب له نحو الرضا الندس

واطلبه بالصين فهو العلم إن رفعت … أعلامه برباها يا ابن الدلس

فلا تضعْ في سوى تقييد شارده … عمرًا يفوتك بين اللحظ والنفس

وخل سمعك عن بلوى أخي جدل … شغل اللبيب بها ضرب من الهوس

ما إن سمت بأبي بكر ولا عمر … ولا أتت عن أبي هرّ ولا أنس

إلا هوى وخصومات ملفقة … ليست برطب إذا عدت ولا يبس

فلا يغرك من أربابها هذر … أجدى وجدك منها نغمة الجرس

أعرهم أذنًا صمًّا إذا نطقوا … وكن إذا سألوا تعزى إلى خرس

ما العلم إلا كتاب الله أو أثر … يجلو بنور هداه كل ملتبس

نور لمقتبس خير لملتمس … حمى لمحترس نعم لمبتئس
আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আর এটি নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো পাপাচারী হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে কিছু জানলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; কেননা হাদিস দ্বারা কেবল এটিই সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ এটি বহন করবেন, এর অর্থ এটি নয় যে অন্যরা এর কিছুই জানবে না। (ইতি)।

তা সত্ত্বেও বলা যেতে পারে যে, পাপাচারীরা ইলমের যা কিছু জানে তা আমল না করার কারণে প্রকৃতপক্ষে ইলম নয়। যেমনটি মাওলা সা’দ উদ্দিন তাফতাজানি ‘তালখিস’-এর ভাষ্যের আলোচনায় ইঙ্গিত করেছেন: কখনো আলেমকে অজ্ঞের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ইমাম শাফেঈ এটি তাঁর বাণীতে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: “তাকওয়া ছাড়া কোনো ইলম নেই এবং শিষ্টাচার ছাড়া কোনো বুদ্ধি নেই।” আমার জীবনের কসম! নিশ্চয়ই এই বিষয়টি দ্বীনের অন্যতম শক্তিশালী রুকন এবং ইয়াকিনের সবচেয়ে মজবুত হাতল। কোনো সত্যবাদী মুত্তাকী ছাড়া আর কেউ এর প্রসারে আগ্রহী হয় না এবং কোনো হতভাগ্য মুনাফিক ছাড়া কেউ একে অবজ্ঞা করে না। ইবনুল কাত্তান বলেছেন: দুনিয়াতে এমন কোনো বিদআতি নেই যে হাদিসওয়ালাদের ঘৃণা করে না। আর হাকিম বলেছেন: যদি সনদসমূহ সংরক্ষণের জন্য মুহাদ্দিসগণের এই বিশাল জামাত না থাকত, তবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং নাস্তিক ও বিদআতিরা হাদিস জাল করার ও সনদ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়ে যেত।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইলম হলো তিনটি: সুস্পষ্ট আয়াত, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ অথবা ন্যায়সঙ্গত ফরজ বিধান; আর এ ছাড়া যা কিছু আছে তা হলো অতিরিক্ত।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ‘শারহুল মিশকাত’-এ বলা হয়েছে: এখানে ইলম বলতে শরিয়ত প্রবর্তকের কাছ থেকে যা জানা গেছে তাই উদ্দেশ্য, যা দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী ইলম। এমতাবস্থায় ইলম শব্দটি ব্যাপক বিধায় একে উদ্দেশ্য অনুযায়ী সীমাবদ্ধ করা উচিত। তাই বলা হয়, শরিয়তের ইলম হলো তিনটি বিষয়ের জ্ঞান এবং এই বিভাজনটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর বাণী ‘সুস্পষ্ট আয়াত’ আল্লাহর কিতাব ও তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা ‘মুহকামাহ’ (সুস্পষ্ট) হলো সেই আয়াত যার শব্দবিন্যাস সুদৃঢ় হওয়ার কারণে যা সংশয় ও অস্পষ্টতা থেকে সুরক্ষিত, আর এগুলোই কিতাবের মূল। সুতরাং মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) বিষয়গুলোকে এর ওপর ন্যস্ত করা হবে এবং এর মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। আর এটি কেবল তাফসির ও তাবিল শাস্ত্রে দক্ষ পণ্ডিত ছাড়া সম্ভব নয়, যিনি উসুল এবং আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখাসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর তাঁর বাণী ‘প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ’, এর অর্থ হলো একে সংরক্ষণের মাধ্যমে এর স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; যেমনটি বলা হয় ‘বাজার জমে উঠেছে’ যখন তার বেচাকেনা বেড়ে যায়। কারণ যখন সুন্নাহর হেফাজত করা হয়, তখন এটি সেই কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মতো হয় যার প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয় এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা তা অন্বেষণে প্রতিযোগিতা করে। আর এর স্থায়িত্ব হয় এর সনদসমূহ সংরক্ষণের মাধ্যমে, যেমন রাবিদের নাম জানা, জরাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণাগুণ), এবং সহিহ, হাসান ও জয়িফ-এর প্রকারসমূহ জানা যেখান থেকে বহু প্রকারের উদ্ভব ঘটে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি যা পরিভাষা শাস্ত্র নামে পরিচিত, যা ইনশাআল্লাহ তৃতীয় পরিচ্ছেদে আসবে। অথবা এটি হতে পারে সুনিপুণভাবে সুন্নাহর পাঠ্যসমূহকে পরিবর্তন ও রূপান্তর থেকে রক্ষা করা, এর অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং তা থেকে বিভিন্ন ইলম আহরণ করা, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহুর সাহায্যে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। কারণ সুন্নাহর অধিকাংশ বরং এর পুরোটাই ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী) এর অন্তর্ভুক্ত যা কেবল তাঁকেই দান করা হয়েছে; বিশেষ করে এই অনন্য ও ব্যাপক অর্থবোধক বাণীটি, যার পাঠ্য সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান নিহিত রয়েছে। আর তাঁর বাণী ‘ন্যায়সঙ্গত ফরজ বিধান’ এর অর্থ হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে উদ্ভূত সঠিক বিধান। আর তাঁর বাণী: “আর এ ছাড়া যা কিছু আছে তা হলো অতিরিক্ত”, অর্থাৎ দ্বীনি ইলমের মূলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই; বরং কখনো কখনো তা থেকে পানাহও চাওয়া হয়, যেমনটি তাঁর বাণীতে রয়েছে: “আমি আপনার কাছে এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না।” আবু বকর হুমাইদ আল-কুরতুবী কতই না চমৎকার ও নিপুণভাবে বলেছেন:

হাদিসের আলো সুস্পষ্ট, তাই কাছে এসো এবং আলো গ্রহণ করো … আর নেককারদের সন্তুষ্টির পানে নিজের সওয়ারি হাঁকিয়ে চলো।

জ্ঞানের খোঁজে চীন দেশেও যাও, কারণ সেটিই হলো ইলম যখন তার … পতাকাসমূহ উচ্চ শিখরে উত্তোলিত হয়, হে ধোঁকায় নিমজ্জিত ব্যক্তি!

বিক্ষিপ্ত হাদিসসমূহকে লিপিবদ্ধ করা ছাড়া অন্য কাজে … নিজের সেই জীবনকে নষ্ট করো না যা পলক ও নিঃশ্বাসের মাঝে ফুরিয়ে যায়।

তর্কপ্রিয়দের বিপদ থেকে নিজের কানকে মুক্ত রাখো … কেননা বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ নিয়ে ব্যস্ত হওয়া এক ধরণের পাগলামি।

এসব বিতর্ক আবু বকর বা উমরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়নি … আর না তা আবু হুরায়রা কিংবা আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এগুলো কেবল প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং বানোয়াট ঝগড়া-বিবাদ … যা না কোনো সতেজ ফল, আর না কোনো শুষ্ক কাঠ।

এর প্রবক্তাদের প্রলাপ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে … কেননা তোমার সৌভাগ্যের সামনে এটি কেবল ঘণ্টার আওয়াজ মাত্র।

তারা কথা বললে তাদের প্রতি বধির হয়ে থেকো … আর তারা যখন প্রশ্ন করে তখন বোবাদের কাতারে শামিল হও।

আল্লাহর কিতাব অথবা আছার (হাদিস) ছাড়া কোনো ইলম নেই … যা তার হিদায়াতের আলো দিয়ে সমস্ত সংশয় দূর করে দেয়।

আলো অন্বেষণকারীর জন্য এটি আলো, সন্ধানীর জন্য কল্যাণ … সতর্ক ব্যক্তির জন্য ঢাল এবং দুর্ভাগার জন্য পরম নিয়ামত।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٦)
فاعكف ببابهما على طلابهما … تمحو العمى بهما عن كل ملتمس

ورد بقلبك عذبًا من حياضهما … تغسل بماء الهدى ما فيه من دنس

واقف النبيّ وأتباع النبيّ وكن … من هديهم أبدًا تدنو إلى قبس

والزم مجالسهم واحفظ مجالسهم … واندب مدارسهم بالأربع الدرس

واسلك طريقهم واتبع فريقهم … تكن رفيقهم في حضرة القدس

تلك السعادة إن تلمم بساحتها … فحط رحلك قد عوفيت من تعس

ومن شرف أهل الحديث ما رويناه من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أولى الناس بي يوم القيامة أكثرهم عليّ صلاة". قال الترمذي حسن غريب.

وفي سنده موسى بن يعقوب الزمعيّ قال الدارقطني إنه تفرّد به، وقال ابن حبان في صحيحه في هذا الحديث بيان صحيح. على أن أولى الناس برسول الله صلى الله عليه وسلم في القيامة أصحاب الحديث، إذ ليس من هذه الأمة قوم أكثر صلاة عليه منهم. وقال غيره المخصوص بهذا الحديث نقلة الأخبار الذين يكتبون الأحاديث ويذبّون عنها الكذب آناء الليل وأطراف النهار. وقال الخطيب في كتابه شرف أصحاب الحديث قال لنا أبو نعيم: هذه منقبة شريفة يختص بها رواة الآثار ونقلتها لأنه لا يعرف لعصابة من العلماء من الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر ما يعرف لهذه العصابة نسخًا وذكرًا. وقال أبو اليمن بن عساكر: ليهن أهل الحديث كثرهم الله تعالى هذه البشرى، فقد أتم الله تعالى نعمه عليهم بهذه الفضيلة الكبرى، فإنهم أولى الناس بنبيّهم صلى الله عليه وسلم وأقربهم إن شاء الله تعالى وسيلة يوم القيامة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنهم يخلدون ذكره في طروسهم، ويجددون الصلاة والتسليم عليه في معظم الأوقات في مجالس مذاكرتهم وتحديثهم ودروسهم، فهم إن شاء الله تعالى الفرقة الناجية جعلنا الله تعالى منهم وحشرنا في زمرتهم آمين.

 

‌‌الفصل الثاني

في ذكر أوّل مَن دوّن الحديث والسُّنن ومَن تلاه في ذلك سالكًا أحسن السُّنن

اعلم أنه لم يزل الحديث النبويّ والإسلام غض طريّ والدين محكم الأساس قويّ، أشرف العلوم وأجلّها لدى الصحابة والتابعين وأتباعهم خلفًا بعد سلف، لا يشرف بينهم أحد بعد حفظ التنزيل إلا بقدر ما يحفظ منه، ولا يعظم في النفوس إلا بحسب ما سمع من الحديث عنه، فتوفرت الرغبات فيه وانقطعت الهمم على تعلمه، حتى رحلوا المراحل ذوات العدد، وأفنوا الأموال والعدد، وقطعوا الفيافي في طلبه وجابوا البلاد شرقًا وغربًا بسببه، وكان اعتمادهم أوّلاً على الحفظ والضبط في القلوب والخواطر، غير ملتفتين إلى ما يكتبونه، ولا معوّلين على ما يسطرونه، وذلك لسرعة حفظهم وسيلان أذهانهم. فلما انتشر الإسلام واتسعت الأمصار وتفرّقت الصحابة في الأقطار، وكثرت الفتوحات ومات معظم الصحابة وتفرّق أصحابهم وأتباعهم، وقلّ الضبط واتسع الخرق وكاد الباطل أن يلتبس بالحق، احتاج العلماء إلى تدوين الحديث وتقييده بالكتابة، فمارسوا الدفاتر وسايروا المحابر وأجالوا في نظم قلائده أفكارهم، وأنفقوا في تحصيله أعمارهم، واستغرقوا لتقييده ليلهم ونهارهم، فأبرزوا تصانيف كثرت صنوفها، ودوّنوا دواوين ظهرت شفوفها، فاتخذها العالمون قدوة، ونصبها العالمون قبلة، فجزاهم الله سبحانه وتعالى عن سعيهم الحميد أحسن ما جزى به علماء أمّة وأحبار ملّة. وكان أوّل من أمر بتدوين الحديث وجمعه بالكتابة عمر بن عبد العزيز رحمة الله عليه خوف اندراسه، كما في الموطأ رواية محمد بن الحسن "أخبرنا يحيى بن سعيد أن عمر بن عبد العزيز كتب إلى أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم أن انظر ما كان من
অন্বেষণকারীদের সাথে তাদের উভয়ের দ্বারে নিবিষ্ট থাকো … যা দিয়ে তুমি প্রত্যেক সত্যান্বেষীর অন্ধত্ব মোচন করবে।

তোমার অন্তর নিয়ে তাদের নহরসমূহ থেকে সুপেয় পানি পান করো … যা দিয়ে তুমি হেদায়েতের পানিতে অন্তরের যাবতীয় মালিন্য ধৌত করবে।

নবী এবং নবীর অনুসারীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং হও এমন … যে তাদের আদর্শ থেকে সর্বদা আলোর মশাল খুঁজে পায়।

তাদের মজলিসগুলোকে আঁকড়ে ধরো এবং সেই মজলিসগুলোর মর্যাদা রক্ষা করো … এবং জীর্ণ প্রায় তাদের শিক্ষায়তনগুলোর জন্য বিলাপ করো।

তাদের পথে চলো এবং তাদের দলের অনুসরণ করো … তবেই তুমি পবিত্র সান্নিধ্যে তাদের সাথী হতে পারবে।

এটাই প্রকৃত সৌভাগ্য, যদি তুমি এর আঙিনায় উপস্থিত হতে পারো … তবে সেখানেই তোমার বোঝা নামিয়ে রাখো, কারণ তুমি দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পেয়েছ।

হাদিস বিশারদদের অনন্য সম্মানের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে পেয়েছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে।" তিরমিজি বলেছেন এটি হাসান গরিব।

এর সনদে মুসা ইবনে ইয়াকুব আল-জাময়ি রয়েছেন। দারাকুতনি বলেছেন তিনি এটি বর্ণনায় একক। ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে এই হাদিসের বর্ণনায় একটি সঠিক বিশ্লেষণ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হবেন হাদিস বিশারদগণ; কেননা এই উম্মতের মধ্যে তাদের চেয়ে বেশি দরুদ পাঠকারী আর কোনো দল নেই। অন্যেরা বলেছেন, এই হাদিসের বিশেষ উদ্দেশ্য হলো সংবাদের বাহকগণ, যারা হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং দিবা-রাত্রি এর থেকে মিথ্যা অপনোদন করেন। খতিব তার ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থে বলেন, আবু নুআইম আমাদের বলেছেন: এটি একটি মহান মর্যাদা যা কেবল হাদিস ও আছার বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট; কারণ আলেমদের কোনো দলের মধ্যেই হাদিস অনুলিপি করা এবং তা আলোচনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এই দলের চেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করার কথা জানা নেই। আবুল ইয়ামান ইবনে আসাকির বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন—এই সুসংবাদে আনন্দিত হোন। আল্লাহ তাআলা এই মহান ফজিলতের মাধ্যমে তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। কেননা তারা তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মানুষ এবং ইনশাআল্লাহ কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলার দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী। কারণ তারা তাদের পাণ্ডুলিপিতে তার স্মরণকে চিরস্থায়ী করে এবং তাদের পারস্পরিক আলোচনা, হাদিস বর্ণনা ও পাঠদানের মজলিসগুলোতে অধিকাংশ সময় তার ওপর দরুদ ও সালাম পাঠকে পুনর্জীবিত করে। সুতরাং তারা ইনশাআল্লাহ নাজাতপ্রাপ্ত দল; আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাদের দলেই আমাদের হাশর করুন। আমিন।

 

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

সর্বপ্রথম হাদিস ও সুন্নাহ সংকলনকারী এবং যারা সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বন করে তাঁর অনুসরণ করেছেন তাদের বর্ণনায়

জেনে রাখুন যে, যখন ইসলাম ছিল নবীন ও সজীব এবং দ্বীনের ভিত্তি ছিল সুদৃঢ় ও শক্তিশালী, তখন থেকেই নবীর হাদিস ছিল সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী অনুসারীদের কাছে পূর্বসূরিদের পরম্পরায় সবচেয়ে সম্মানিত ও মহান জ্ঞান। পবিত্র কুরআন হিফজ করার পর তাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত সম্মান লাভ করত না যতক্ষণ না সে এর (হাদিসের) হিফজ করত। মানুষের অন্তরে কারো মাহাত্ম্য প্রকাশ পেত না তার শোনা হাদিসের পরিমাণ ব্যতীত। ফলে এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং এটি শেখার জন্য মানুষের সংকল্প দৃঢ় হয়। এমনকি তারা অগণিত পথ পাড়ি দিয়েছেন, প্রচুর সম্পদ ও উপকরণ ব্যয় করেছেন এবং এর তালাশে মরুভূমি অতিক্রম করেছেন এবং এর খাতিরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য চষে বেরিয়েছেন। প্রথম দিকে তাদের নির্ভরতা ছিল অন্তরের হিফজ ও স্মৃতির ওপর; তারা যা লিখতেন তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং যা লিপিবদ্ধ করতেন তার ওপর নির্ভর করতেন না। আর এটি ছিল তাদের দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা এবং প্রখর মেধার কারণে। যখন ইসলাম ছড়িয়ে পড়ল, শহরগুলো বিস্তৃত হলো এবং সাহাবীগণ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে গেলেন, বিজয় অনেক বৃদ্ধি পেল এবং অধিকাংশ সাহাবী ইন্তেকাল করলেন এবং তাদের সাথী ও অনুসারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, তখন মুখস্থ রাখার সক্ষমতা কমে গেল এবং ত্রুটি বিস্তৃত হলো এবং বাতিলের সাথে সত্য মিশে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আলেমগণ হাদিস সংকলন ও তা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। ফলে তারা পাণ্ডুলিপি ও কালির সাথে অভ্যস্ত হলেন এবং এর বিন্যাসে তাদের চিন্তা নিবিষ্ট করলেন। এর অর্জনে তারা তাদের জীবন ব্যয় করলেন এবং এর সংরক্ষণে দিন-রাত মগ্ন থাকলেন। ফলে তারা এমন সংকলনসমূহ প্রকাশ করলেন যার বহু প্রকার রয়েছে এবং এমন কিতাবসমূহ সংকলন করলেন যার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেল। আলেমগণ একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং জ্ঞানীরা একে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য এমন উত্তম প্রতিদান দান করুন যা তিনি কোনো উম্মতের আলেম ও জাতির পণ্ডিতদের দান করেন। সর্বপ্রথম যিনি হাদিস সংকলন ও তা লিখে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), এর বিলুপ্তি ঘটার ভয়ে; যেমনটি মুয়াত্তায় মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় এসেছে: "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের কাছে লিখেছিলেন যে, আপনি দেখুন..."
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٧)
حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أو سنته، فاكتبه فإني خفت دروس العلم وذهاب العلماء".

وأخرج أبو نعيم في تاريخ أصبهان عن عمر بن عبد العزيز أنه كتب إلى أهل الآفاق "انظروا: إلى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجمعوه". وعلّقه البخاريّ في صحيحه. فيستفاد منه كما قال الحافظ ابن حجر ابتداء تدوين الحديث النبويّ. وقال الهرويّ في ذم الكلام: "ولم تكن الصحابة ولا التابعون يكتبون الأحاديث إنما كانوا يؤدونها حفظًا ويأخذونها لفظًا إلا كتاب الصدقات، والشيء اليسير الذي يقف عليه الباحث بعد الاستقصاء، حتى خيف عليه الدروس وأسرع في العلماء الموت، أمر عمر بن عبد العزيز أبا بكر بن محمد فيما كتب إليه أن انظر ما كان من سنّة أو حديث فاكتبه".

وقال في مقدمة الفتح: وأوّل من جمع في ذلك الربيع بن صبيح وسعيد بن أبي عروبة وغيرهما، وكانوا يصنفون كل باب على حده، إلى أن انتهى الأمر إلى كبار الطبقة الثالثة، وصنّف الإمام مالك بن أنس الموطأ بالمدينة، وعبد الملك بن جريح بمكة، وعبد الرحمن الأوزاعيّ بالشام، وسفيان الثوري بالكوفة، وحماد بن سلمة بن دينار بالبصرة، ثم تلاهم كثير من الأئمة في التصنيف كلٌّ على حسب ما سنح له، وانتهى إليه علمه، فمنهم من رتب على المسانيد كالإمام أحمد بن حنبل وإسحق بن راهويه وأبي بكر بن شيبة وأحمد بن منيع وأبي خيثمة والحسن بن سفيان وأبي بكر البزار وغيرهم، ومنهم من رتب على العلل بأن يجمع في كل متن طرقه واختلاف الرواة فيه، بحيث يتضح إرسال ما يكون متصلاً أو وقف ما يكون مرفوعًا أو غير ذلك، ومنهم من رتبه على الأبواب الفقهية وغيرها ونوّعه أنواعًا وجمع ما ورد في كل نوع وفي كل حكم إثباتًا ونفيًا في باب فباب، بحيث يتميز ما يدخل في الصوم مثلاً عما يتعلق بالصلاة، وأهل هذه الطريقة منهم من تقيد بالصحيح كالشيخين وغيرهما، ومنهم من لم يتقيد بذلك كباقي الكتب الستة. وكان أوّل من صنف في الصحيح محمد بن إسماعيل البخاري أسكننا الله تعالى معه في بحبوحة جنانه بفضله الساري، ومنهم المقتصر على الأحاديث المتضمنة للترغيب والترهيب، ومنهم من حذف الإسناد واقتصر على المتن فقط كالبغوي في مصابيحه واللؤلؤي في مشكاته.

وبالجملة فقد كثرت في هذا الشأن التصانيف، وانتشرت في أنواعه وفنونه التآليف، واتسعت دائرة الرواية في المشارق والمغارب، واستنارت مناهج السُّنة لكل طالب.

 

‌‌الفصل الثالث

في نبذة لطيفة جامعة لفرائد فوائد مصطلح الحديث عند أهله وتقسيم أنواعه وكيفية تحمله وأدائه ونقله مما لا بدّ للخائض في هذا الشرح منه لما علم أن لكل أهل فنّ اصطلاحًا يجب استحضاره عند الخوض فيه

وأوّل من صنف في ذلك القاضي أبو محمد الرامهرمزي في كتابه المحدّث الفاضل، والحاكم أبو عبد الله النيسابوري، ثم أبو نعيم الأصبهاني، ثم الحافظ أبو بكر الخطيب البغدادي في كتابه الكفاية في قوانين الرواية، وكتاب الجامع لآداب الشيخ والسامع، ثم القاضي عياض في الإلماع، والحافظ القطب أبو بكر بن أحمد القسطلاني في المنهج المبهج عند الاستماع لمن رغب في علوم الحديث على الاطلاع، وأبو جعفر الميانجي في جزء سمّاه ما لا يسع المحدّث جهله، ثم الحافظ أبو عمرو بن الصلاح، فعكف الناس عليه وساروا بسيره، فمنهم الناظم له والمختصر والمستدرك عليه، والمقتصر والعارض له والمنتصر، فجزاهم الله تعالى خيرًا.

وإذا علم هذا فليعلم أنهم قسموا السنن المضافة له صلى الله عليه وسلم قولاً وفعلاً أو تقريرًا، وكذا وصفًا وخلقًا ككونه ليس بالطويل ولا بالقصير، وأيامًا كاستشهاد حمزة وقتل أبي جهل، إلى متواتر، ومشهور، وصحيح، وحسن، وصالح، ومضعف وضعيف، ومسند، ومرفوع، وموقوف، وموصول، ومرسل، ومقطوع، ومنقطع، ومعضل، ومعنعن، ومؤنن، ومعلق، ومدلس، ومدرج، وعال، ونازل، ومسلسل، وغريب، وعزيز، ومعلل، وفرد، وشاذ، ومنكر،
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বা তাঁর সুন্নাহ, সুতরাং তা লিখে নাও; কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি এবং আলিমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।

আবু নুয়াইম 'তারিখে আসবাহান'-এ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দিগন্তের অধিবাসীদের কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন: "তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের প্রতি লক্ষ্য করো এবং তা সংগ্রহ করো।" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি তালীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার যেমন বলেছেন, এখান থেকেই নববী হাদিস সংকলনের সূচনা অনুভূত হয়। হিরাউই 'যাম্মুল কালাম' গ্রন্থে বলেছেন: "সাহাবী বা তাবিঈগণ হাদিস লিখে রাখতেন না, বরং তাঁরা মুখস্থ করে তা পৌঁছে দিতেন এবং মৌখিকভাবে গ্রহণ করতেন; কেবল সদকা সংক্রান্ত কিতাব এবং অত্যন্ত অল্প কিছু বিষয় ছাড়া যা একজন গবেষক গভীর অনুসন্ধানের পর খুঁজে পান। পরিশেষে যখন ইলম বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিল এবং আলিমদের মৃত্যু ত্বরান্বিত হলো, তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদকে পত্রে নির্দেশ দিলেন যে, সুন্নাহ বা হাদিসের যা কিছু আছে তা দেখ এবং তা লিপিবদ্ধ করো।"

তিনি 'মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ'-এ বলেছেন: এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যারা সংগ্রহ করেছেন তারা হলেন রাবি ইবনে সাবিহ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা এবং আরও অনেকে। তাঁরা প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে বিন্যস্ত করতেন। এরপর বিষয়টি তৃতীয় স্তরের বড় ইমামদের নিকট পৌঁছায়। ইমাম মালিক ইবনে আনাস মদীনায় 'মুয়াত্তা' সংকলন করেন, আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ মক্কায়, আব্দুর রহমান আওযায়ী সিরিয়ায়, সুফিয়ান সাওরি কুফায় এবং হাম্মাদ ইবনে সালামা ইবনে দিনার বসরায়। এরপর অনেক ইমাম গ্রন্থ রচনায় তাঁদের অনুসরণ করেন, প্রত্যেকে তাঁর সামনে যা সহজ হয়েছে এবং তাঁর জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌঁছেছে সে অনুযায়ী। তাঁদের মধ্যে কেউ 'মুসনাদ' অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবু বকর ইবনে শাইবা, আহমাদ ইবনে মানি', আবু খাইসামা, হাসান ইবনে সুফিয়ান, আবু বকর আল-বাযযার এবং আরও অনেকে। আবার কেউ 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এভাবে যে, প্রতিটি মতনের (মূল পাঠ) সমস্ত সূত্র এবং বর্ণনাকারীদের মতপার্থক্য একত্রিত করেছেন, যাতে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনার ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা) কিংবা মারফু (রাসূলের দিকে সম্পৃক্ত) বর্ণনার ওয়াকফ (সাহাবীর বক্তব্য হওয়া) ইত্যাদি স্পষ্ট হয়। কেউ কেউ ফিকহি অধ্যায় এবং অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন এবং একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেছেন; প্রতিটি প্রকার ও প্রতিটি হুকুমের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা বর্ণিত হয়েছে তা অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন, যাতে সওম (রোজা) সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সালাত (নামাজ) সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো থেকে পৃথক হয়ে যায়। এই পদ্ধতির অনুসারীদের মধ্যে কেউ শুধু সহিহ হাদিসের শর্তারোপ করেছেন, যেমন শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং আরও অনেকে। আবার কেউ এই শর্তারোপ করেননি, যেমন সিহাহ সিত্তার বাকি কিতাবগুলো। আর সহিহ হাদিস বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রবহমান অনুগ্রহে আমাদের তাঁর সাথে জান্নাতের মধ্যভাগে স্থান দান করুন। তাঁদের মধ্যে কেউ শুধু তারগিব ও তারহিব (উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন) সম্বলিত হাদিসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আবার কেউ সনদ (সূত্র) বাদ দিয়ে শুধু মতন (মূল পাঠ) উল্লেখ করেছেন, যেমন বাগাভি তাঁর 'মাসাবিহ' গ্রন্থে এবং লুলুয়ি তাঁর 'মিশকাত' গ্রন্থে।

সারকথা হলো, এই বিষয়ে গ্রন্থনা প্রচুর হয়েছে এবং এর বিভিন্ন প্রকার ও বিদ্যায় রচনাবলি ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব ও পশ্চিমে বর্ণনার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং প্রত্যেক অন্বেষণকারীর জন্য সুন্নাহর পথসমূহ আলোকিত হয়েছে।

 

‌‌তৃতীয় অধ্যায়

হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার বিরল ও সারগর্ভ উপকারিতা এবং এর প্রকারভেদ, হাদিস গ্রহণ, প্রদান ও স্থানান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক আলোচনা। এই ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থে প্রবেশকারীর জন্য যা জানা অপরিহার্য, কারণ প্রতিটি শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিজস্ব পরিভাষা থাকে যা সেই শাস্ত্রে প্রবেশকালে স্মরণ রাখা আবশ্যক।

এ বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' গ্রন্থে। এরপর হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি, তারপর আবু নুয়াইম আল-আসবাহানি, তারপর হাফিজ আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'আল-কিফায়া ফি কাওয়ানিনির রিওয়ায়াহ' এবং 'আল-জামি' লি আখলাকিশ শাইখ ওয়াস সামি'' গ্রন্থে। এরপর কাজী ইয়াজ 'আল-ইলমা' গ্রন্থে, এবং হাফিজ কুতুব আবু বকর ইবনে আহমাদ আল-কাসতালানি 'আল-মানহাজুল মুবজিহ ইনদাল ইস্তিমা' লিমান রাগিবা ফি উলুমিল হাদিস আলাল ইত্তিলা' গ্রন্থে। এরপর আবু জাফর আল-মিয়ানজি একটি পুস্তিকায় যা তিনি নামকরণ করেছেন 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু'। এরপর হাফিজ আবু আমর ইবনুস সালাহ (গ্রন্থ রচনা করেন), এরপর মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয় এবং তাঁর পথ অনুসরণ করে। তাঁদের মধ্যে কেউ একে কবিতায় রূপান্তর করেছেন, কেউ সংক্ষেপ করেছেন, কেউ পরিশিষ্ট লিখেছেন, কেউ মূল বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কেউ আপত্তি তুলেছেন আবার কেউ সমর্থন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এই বিষয়টি জানার পর আরও জানা উচিত যে, আলিমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সুন্নাহকে—তা কথা হোক, কাজ হোক বা মৌন সম্মতি হোক; একইভাবে গুণাবলি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য হোক যেমন তিনি খুব দীর্ঘও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না; অথবা দিন বা ঘটনাবলি হোক যেমন হামযা (রা.)-এর শাহাদাত এবং আবু জাহেলের নিহত হওয়া—মুতাওয়াতির, মাশহুর, সহিহ, হাসান, সালিহ, মুদাআফ, যঈফ, মুসনাদ, মারফু, মাওকুফ, মাওসুল, মুরসাল, মাকতু, মুনকাতি, মু'দাল, মুআনআন, মুআন্নান, মুআল্লাক, মুদাল্লাস, মুদরাজ, আলী, নাযিল, মুসালসাল, গারিব, আযিয, মুআল্লাল, ফারদ, শায, মুনকার... এ সব ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٨)
ومضطرب، وموضوع، ومقلوب، ومركب، ومنقلب، ومدبج، ومصحف، وناسخ، ومنسوخ، ومختلف.

فالمتواتر الذي يرويه عدد تحيل العادة تواطؤهم على الكذب من ابتدائه إلى انتهائه، وينضاف لذلك أن يصحب خبرهم إفادة العلم لسامعه، كحديث "من كذب عليّ متعمدًا" فنقل النوويّ أنه جاء عن مائتين من الصحابة رضي الله تعالى عنهم.

والمشهور وهو أوّل أقسام الآحاد ما له طرق محصورة بأكثر من اثنين، كحديث "إنما الأعمال بالنيّة" لكنه إنما طرأت له الشهرة من عند يحيى بن سعيد، وأوّل إسناده فرد، وهو ملحق بالمتواتر عندهم، إلا أنه يفيد العلم النظريّ.

والصحيح ما اتصل سنده بعدول ضابطين بلا شذوذ، بأن لا يكون الثقة خالف أرجح منه حفظًا أو عددًا مخالفة لا يمكن الجمع، ولا علة خفية فادحة مجمع عليها، أي إسناده ضعيف لا أنه مقطوع به في نفس الأمر، لجواز خطأ الضابط الثقة ونسيانه. نعم يقطع به إذا تواتر، فإن لم يتصل بأن حذف من أوّل سنده أو جميعه لا وسطه فمعلق، وهو في صحيح البخاريّ يكون مرفوعًا وموقوفًا، يأتي البحث فيه إن شاء الله تعالى في الفصل التالي، والمختار لا يجزم في سند بأنه أصح الأسانيد مطلقًا غير مقيد بصحابيّ، تلك الترجمة لعسر الإطلاق، إذ يتوقف على وجود درجات القبول في كل فرد فرد من رواة السند المحكوم له، فإن قيد بصاحبها ساغ، فيقال مثلاً أصح أسانيد أهل البيت جعفر بن محمد عن أبيه عن جدّه عن علي رضي الله عنه إذا كان الراوي عن جعفر ثقة، وأصح أسانيد الصدّيق رضي الله عنه إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن أبي بكر، وأصح أسانيد عمر رضي الله عنه الزهريّ عن سالم عن أبيه عن جدّه، وأصح أسانيد أبي هريرة رضي الله عنه الزهريّ عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة، وأصح أسانيد ابن عمر مالك عن نافع عن ابن عمر، وأصح أسانيد عائشة عبيد الله بن عمر عن القاسم عن عائشة رضي الله عنها وعنهم أجمعين. ويحكم بتصحيح نحو جزء نص على صحته من يعتمد عليه من الحفاظ النقاد، أو لم ينص على صحته معتمد، فالظاهر جواز تصحيحه لمن تمكنت معرفته وقوي إدراكه كما ذهب إليه ابن القطان والمنذريّ والدمياطيّ والسبكي وغيرهم، خلافًا لابن الصلاح، حيث منع لضعف أهل هذه الأزمان.

والحسن ما عرف مخرّجه من كونه حجازيًّا شاميًّا عراقيًّا مكيًّا كوفيًّا، كان يكون الحديث عن راوٍ قد اشتهر برواية أهل بلده، كقتادة في البصريين، فإن حديث البصريين إذا جاء عن قتادة ونحوه كان مخرجه معروفًا، بخلافه عن غيره. والمراد به الاتصال، فالمنقطع والمرسل والمعضل لغيبة بعض رجالها لا يعلم مخرج الحديث منها لا يسوغ الحكم بمخرجه، فالمعتبر الاتصال، ولو لم نعرف المخرج، إذ كل معروف المخرج متصل ولا عكس، وشهرة رجاله بالعدالة والضبط المنحط عن الصحيح، ولو قيل هذا حديث حسن الإسناد أو صحيحه فهو دون قولهم حديث حسن صحيح أو حديث حسن، لأنه قد يصح أو يحسن الإسناد لاتصاله وثقة رواته وضببطهم دون المتن، لشذوذ أو علة. وما قيل فيه حسن صحيح أي صح بإسناد وحسن بآخر.

والصالح دون الحسن، قال أبو داود وما كان في كتابي السنن من حديث فيه وهن شديد، فقد بيّنته، وما لم أذكر فيه شيئًا فهو صالح. وبعضها أصح من بعض اهـ. قال الحافظ ابن حجر لفظ صالح في كلامه أعمّ من أن يكون للاحتجاج أو للاعتبار، فما ارتقى إلى الصحة ثم إلى الحسن فهو بالمعنى الأوّل، وما عداهما فهو بالمعنى الثاني، وما قصر عن ذلك فهو الذي فيه وهن شديد.

والمضعف ما لم يجمع على ضعفه بل في متنه أو سنده تضعيف لبعضهم وتقوية للبعض الآخر وهو أعلى من الضعيف وفي البخاري منه.

والضعيف ما قصر عن درجة الحسن وتتفاوت درجاته في الضعف بحسب بعده من شروط الصحة.

والمسند ما اتصل سنده من رواته إلى منتهاه رفعًا ووقفًا.

والمرفوع ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير متصلاً كان أو منقطعًا، ويدخل فيه المرسل ويشمل الضعيف.

والموقوف ما قصر على الصحابيّ قولاً أو فعلاً ولو منقطعًا، وهل يسمى أثرًا؟ نعم. ومنه قول الصحابي: كنا نفعل ما لم يضفه إلى النبي صلى الله عليه وسلم،
এবং মুদতারিব (অস্থির), মাওদু' (জাল), মাকলুব (উল্টানো), মুরাক্কাব (মিশ্রিত), মুনকালিব (পরিবর্তিত), মুদাব্বাজ (পারস্পরিক), মুসাহহাফ (বর্ণবিকৃত), নাসিখ (রহিতকারী), মানসুখ (রহিত), এবং মুখতালিফ (পরস্পরবিরোধী)।

মুতাওয়াতির হলো সেই হাদিস যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে সাধারণ অভ্যাসে তাদের সবার মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। এর সাথে শর্ত হলো যে, তাদের সংবাদটি শ্রোতার মনে নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) তৈরি করবে, যেমন 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে' হাদিসটি; ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন যে এটি দুইশত সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আর মশহুর হলো আহাদ (একক) হাদিসের প্রথম প্রকার, যার বর্ণনার পথ দুইয়ের অধিক কিন্তু তা সীমাবদ্ধ। যেমন 'নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদিসটি। তবে এর প্রসিদ্ধি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে শুরু হয়েছে, আর এর সনদের শুরু ছিল একক (ফারদ)। এটি তাঁদের (মুহাদ্দিসগণের) নিকট মুতাওয়াতির এর সাথে সংযুক্ত, তবে এটি তাত্ত্বিক জ্ঞান (ইলম নাজারি) প্রদান করে।

আর সহীহ হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং বর্ণনাকারীগণ ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী, যাতে কোনো প্রকার 'শুযুয' (অসংগতি) নেই—অর্থাৎ কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক মুখস্থ শক্তিসম্পন্ন বা অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর এমন বিরোধিতা করবেন না যা সমন্বয় করা অসম্ভব। এতে কোনো সূক্ষ্ম ও গুরুতর ত্রুটি (ইল্লাত) নেই যার ওপর ঐকমত্য হয়েছে। অর্থাৎ এর সনদ দুর্বল নয়, তবে এটি বাস্তবে অকাট্য নয়, কারণ নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীরও ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব। হ্যাঁ, এটি যদি মুতাওয়াতির হয় তবে তা অকাট্য হয়। যদি সনদ নিরবচ্ছিন্ন না হয়, অর্থাৎ সনদের শুরু থেকে বা পুরো সনদ থেকে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়ে যায়, তবে তাকে 'মুআল্লাক' বলা হয়। সহীহ বুখারীতে এটি 'মারফু' এবং 'মাওকুফ' উভয়ভাবেই থাকে, ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে আলোচনা আসবে। মনোনীত মত হলো, কোনো একক সাহাবীর সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া সাধারণভাবে কোনো একটি সনদকে নিরঙ্কুশভাবে 'সর্বোত্তম সনদ' (আসাহহুল আসানিদ) বলা যায় না। কারণ এরূপ ঢালাও হুকুম দেওয়া কঠিন, যেহেতু এটি উক্ত সনদের প্রতিটি বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতার স্তরের ওপর নির্ভরশীল। তবে যদি কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীর সাথে সীমাবদ্ধ করা হয় তবে তা জায়েজ। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, আহলে বাইতের সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে; যদি জাফরের থেকে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন। আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, কায়েস ইবনে আবি হাযেম থেকে, তিনি আবু বকর থেকে। উমর (রা.)-এর সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: যুহরী, সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। আবু হুরায়রা (রা.)-এর সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: যুহরী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। ইবনে উমর (রা.)-এর সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: মালিক, নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। আয়িশা (রা.)-এর সবচেয়ে সহীহ সনদ হলো: উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর, কাসিম থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। কোনো একটি জুয বা খণ্ডের ব্যাপারে সহীহ হওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই দেওয়া হবে যখন নির্ভরযোগ্য কোনো হাফিজ ও সমালোচক (নাক্কাদ) তার সহীহ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন। আর যদি কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি স্পষ্ট করে কিছু না বলেন, তবে জাহির বা প্রকাশ্য মত অনুযায়ী যার এ বিষয়ে অগাধ জ্ঞান ও গভীর অনুধাবন ক্ষমতা রয়েছে তাঁর জন্য সেটিকে সহীহ বলা জায়েজ, যেমনটি ইবনে কাত্তান, মুনযিরী, দিমইয়াতি, সুবকী এবং অন্যরা মনে করেন। এটি ইবনে সালাহ এর মতের বিপরীত, কারণ তিনি বর্তমান যুগের লোকদের দুর্বলতার কারণে এটি নিষেধ করেছেন।

আর হাসান হলো যার উৎসস্থল (মাখরাজ) পরিচিত, অর্থাৎ তা হিজাজী, শামী, ইরাকী, মক্কী নাকি কুফী তা জানা যায়। যেমন কোনো হাদিস এমন এক বর্ণনাকারী থেকে আসা যিনি তাঁর দেশের অধিবাসীদের রেওয়ায়েত বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ, যেমন বসরী বর্ণনাকারীদের মধ্যে কাতাদা। বসরীদের হাদিস যদি কাতাদা বা তাঁর সমপর্যায়ের কারও মাধ্যমে আসে তবে এর উৎসস্থল পরিচিত বলে গণ্য হবে। অন্যের মাধ্যমে এলে তা হবে না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল)। সুতরাং মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন), মুরসাল এবং মু'দাল—যেগুলোর কোনো কোনো বর্ণনাকারী অনুপস্থিত—সেগুলোর উৎসস্থল জানা যায় না বিধায় উৎসস্থলের ভিত্তিতে সেগুলোর ব্যাপারে হুকুম দেওয়া বৈধ নয়। তাই ধর্তব্য হলো সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া, যদিও আমরা উৎসস্থল না জানি। কারণ যার উৎসস্থল পরিচিত তার সনদ নিরবচ্ছিন্ন, কিন্তু এর বিপরীতটি সর্বদা সত্য নয়। এর বর্ণনাকারীগণ ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুল বর্ণনায় প্রসিদ্ধ তবে তা সহীহ এর মানের চেয়ে নিচে। যদি বলা হয় 'এটি হাসান সনদের হাদিস' বা 'এটি সহীহ সনদের হাদিস', তবে তা তাঁদের 'এটি হাসান সহীহ হাদিস' বা 'হাসান হাদিস' বলার চেয়ে নিম্নমানের। কারণ অনেক সময় সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রখর স্মৃতির কারণে সনদ সহীহ বা হাসান হতে পারে, কিন্তু 'শুযুয' বা 'ইল্লাত' থাকার কারণে মূল পাঠ (মাতন) তেমনটি না-ও হতে পারে। আর যে হাদিস সম্পর্কে 'হাসান সহীহ' বলা হয়, তার অর্থ হলো এটি এক সনদে সহীহ এবং অন্য সনদে হাসান।

আর সালিহ হলো হাসানের চেয়ে নিম্নমানের। আবু দাউদ বলেছেন, 'আমার সুনান গ্রন্থে যে হাদিসে চরম দুর্বলতা রয়েছে আমি তা বর্ণনা করে দিয়েছি, আর যার ব্যাপারে আমি কিছু উল্লেখ করিনি সেটি সালিহ (যোগ্য)।' আর এর একটি অন্যটির চেয়ে অধিক সহীহ। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন, আবু দাউদের কথায় 'সালিহ' শব্দটি ব্যাপক; তা দলিল হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য (ইহতিজাজ) হতে পারে আবার সমর্থক হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (ইতিবার) হতে পারে। সুতরাং যা সহীহ বা হাসানের স্তরে উন্নীত হয় তা প্রথম অর্থে সালিহ, আর এ দুটি ছাড়া অন্যগুলো দ্বিতীয় অর্থে সালিহ। আর এর চেয়েও নিম্নমানের হলে তা চরম দুর্বল বলে গণ্য।

আর মুদ'আফ (তথা দুর্বল সাব্যস্তকৃত) হলো যার দুর্বলতার ওপর ঐকমত্য হয়নি, বরং এর পাঠ বা সনদের ব্যাপারে একদল দুর্বল বলেছেন আর অন্যদল শক্তিশালী বলেছেন। এটি দয়ীফ (দুর্বল) হাদিসের চেয়ে উচ্চমানের এবং বুখারীতে এ প্রকারের হাদিস রয়েছে।

আর দয়ীফ (দুর্বল) হলো যা হাসানের স্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। সহীহ হওয়ার শর্তাবলি থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে এর দুর্বলতার স্তরেও তারতম্য হয়।

আর মুসনাদ হলো যার সনদ বর্ণনাকারীদের থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে, চাই তা মারফু (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত) হোক বা মাওকুফ (সাহাবী পর্যন্ত)।

আর মারফু হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি হোক; সনদ নিরবচ্ছিন্ন হোক বা বিচ্ছিন্ন। মুরসাল হাদিসও এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি দয়ীফ হাদিসকেও শামিল করে।

আর মাওকুফ হলো যা সাহাবী পর্যন্ত এসে থেমে গেছে—চাই তা কথা হোক বা কাজ, এমনকি সনদ বিচ্ছিন্ন হলেও। একে কি আসার (নিদর্শন) বলা হয়? হ্যাঁ। সাহাবীর এই কথা: 'আমরা এরূপ করতাম', যতক্ষণ তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করেন, তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٩)
فإن أضافه إليه كقول جابر: كنّا نعزل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمن قبيل المرفوع وإن كان لفظه موقوفًا لأن غرض الراوي بيان الشرع. وقيل لا يكون مرفوعًا. وقول الصحابي من السنة كذا أو أمرنا بضم الهمزة، أو كنا نؤمر أو نهينا أو أبيح، فحكمه الرفع أيضًا، كقول الصحابي: أنا أشبهكم صلاة به صلى الله عليه وسلم، كتفسير تعلق بسبب النزول، وحديث المغيرة: "كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرعون بابه بالأظافير" صوّب ابن الصلاح رفعه، وقال الحاكم موقوف، وقول التابعي فمن دونه يرفعه أو رفعه أو مرفوعًا أو يبلغ به أو يرويه أو ينمّيه بفتح أوّله وسكون ثانيه وكسر ثالثه، أو يسنده أو يأثره مرفوع بلا خلاف، والحامل له على ذلك الشك في الصيغة التي سمع بها، أهي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أو النبيّ أو نحو ذلك، كسمعت أو حدّثني، وهو ممّن لا يرى الإبدال أو طلبًا للتخفيف وإيثارًا للاختصار أو للشك في ثبوته أو ورعًا، حيث علم أن المرويّ بالمعنى فيه خلاف، وفي بعض الأحاديث قول الصحابي عن النبي صلى الله عليه وسلم يرفعه، وهو في حكم قوله عن الله تعالى، ولو قال تابعيّ كنّا نفعل، فليس بمرفوع ولا بموقوف إن لم يضفه لزمن الصحابة، بل مقطوع. فإن أضافه لزمنهم احتمل الوقف، لأن الظاهر اطّلاعهم عليه وتقريرهم واحتمل عدمه لأن تقرير الصحابيّ قد لا ينسب إليه بخلاف تقريره صلى الله عليه وسلم، وإذا أتى شيء عن صحابي موقوفًا عليه مما لا مجال للاجتهاد فيه كقول ابن مسعود: من أتى ساحرًا أو عرّافًا فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم، فحكمه الرفع تحسينًا للظن بالصحابة. قاله الحاكم.

والموصول ويسمى المتصل ما اتصل سنده رفعًا ووقفًا لا ما اتصل للتابعي، نعم يسوغ أن يقال متصل إلى سعيد بن المسيب أو إلى الزهري مثلاً.

والمرسل ما رفعه تابعي مطلقًا أو تابعي بكبير إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وهو ضعيف لا يحتج به عند الشافعي والجمهور، واحتج به أبو حنيفة ومالك وأحمد في المشهور عنه، فإن اعتضد بمجيئه من وجه آخر مسندًا أو مرسلاً آخر أخذ مرسله العلم عن غير رجال المرسل الأوّل، احتج به. ومن ثم احتج الشافعي بمراسيل سعيد بن المسيب، لأنها وجدت مسانيد من وجوه. أُخر. قال النووي: إنما اختلف أصحابنا المتقدمون في معنى قول الشافعي إرسال سعيد بن المسيب عندنا حسن على قولين، أحدهما أنه حجة عنده بخلاف غيرها من المراسيل لأنها وجدت مسندة، ثانيهما أنها ليست بحجة عنده بل كغيرها، وإنما رجح الشافعي بمرسله، والترجيح بالمرسل جائز. قال الخطيب: والصواب الثاني.

وأما الأول فليس بشيء لأن في مراسيل سعيد ما لم يوجد بحال من وجه يصح، وأما مرسل الصحابيّ كابن عباس وغيره من صغار الصحابة عنه صلى الله عليه وسلم مما لم يسمعوه منه فهو حجة، وإذا تعارض الوصل والإرسال بأن تختلف الثقات في حديث فيرويه بعضهم متصلاً وآخر مرسلاً، كحديث "لا نكاح إلا بولي" رواه إسرائيل وجماعة عن أبي إسحق السبيعي عن أبي بردة عن أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم. ورواه الثوري وشعبة عن أبي إسحق عن أبي بردة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فقيل الحكم للمسند إذا كان عدلاً ضابطًا، قال الخطيب وهو الصحيح، وسئل عنه البخاري فحكم لمن وصل، وقال الزيادة من الثقة مقبولة، هذا مع أن المرسل شعبة وسفيان ودرجتهما من الحفظ والإتقان معلومة، وقيل الحكم للأكثر، وقيل للأحفظ، وإذا قلنا به وكان المرسل الأحفظ فلا يقدح في عدالة الواصل وأهليته على الصحيح، وإذا تعارض الرفع والوقف بأن يرفع ثقة حديثًا وقفه ثقة غيره، فالحكم للرافع لأنه مثبت وغيره ساكت، ولو كان نافيًا، فالمثبت مقدّم وتقبل زيادة الثقات مطلقًا على الصحيح، سواء كانت من شخص واحد، بأن رواه مرّة ناقصًا ومرّة أخرى وفيه تلك الزيادة، أو كانت الزيادة من غير من رواه ناقصًا، وقيل بل مردودة مطلقًا، وقيل مردودة منه مقبولة من غيره، وقال الأصوليون إن اتحد المجلس ولم يحتمل غفلته عن تلك الزيادة غالبًا ردّت، وإن احتمل قبلت عند الجمهور، وإن جهل تعدد المجلس، فأولى بالقبول من صورة اتحاده، وإن تعددت يقينًا قبلت اتفافًا.
যদি তিনি একে তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট করেন, যেমন জাবিরের উক্তি: "আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আযল করতাম", তবে তা মারফু হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এর শব্দগত প্রকাশ মাওকুফ; কারণ বর্ণনাকারীর উদ্দেশ্য হলো শরীয়ত বর্ণনা করা। কেউ কেউ বলেছেন এটি মারফু হবে না। সাহাবীর উক্তি— "সুন্নাহ এমন" অথবা "আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" (হামযায় পেশ দিয়ে), অথবা "আমাদের আদেশ করা হতো", অথবা "আমাদের নিষেধ করা হয়েছে" অথবা "অনুমতি দেওয়া হয়েছে"—এগুলোর বিধানও মারফু। যেমন সাহাবীর উক্তি: "আমি তোমাদের মধ্যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ", যেমন শানে নুযূল সংশ্লিষ্ট তাফসীর, এবং মুগীরার হাদীস: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাঁর দরজায় নখ দিয়ে করাঘাত করতেন"। ইবনুস সালাহ একে মারফু হওয়াকে সঠিক বলেছেন, আর হাকীম একে মাওকুফ বলেছেন। তাবিঈ বা তার পরের স্তরের কারো উক্তি— "তিনি একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন" বা "তিনি একে মারফু করেছেন" বা "মারফু হিসেবে" বা "তিনি একে (রাসূল পর্যন্ত) পৌঁছে দেন" বা "তিনি একে বর্ণনা করেন" বা "তিনি একে সম্পৃক্ত করেন" (প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ, দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন এবং তৃতীয় অক্ষরে কাসরাহ সহ), অথবা "তিনি একে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেন" বা "বর্ণনা করেন"—তবে তা কোনো মতভেদ ছাড়াই মারফু। এর কারণ হলো তিনি যে শব্দে শুনেছেন সেই শব্দ নিয়ে সন্দেহ হওয়া, তা কি "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" নাকি "নবী বলেছেন" বা এই জাতীয় কিছু, যেমন "আমি শুনেছি" বা "তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন"। বর্ণনাকারী এমন হতে পারেন যিনি শব্দ পরিবর্তন করা বৈধ মনে করেন না, অথবা সহজ করার জন্য ও সংক্ষেপ করার আকাঙ্ক্ষায়, অথবা এর সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কারণে, অথবা তাকওয়ার কারণে—যেহেতু তিনি জানেন যে অর্থগত বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। কিছু হাদীসে সাহাবীর উক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে "তিনি একে মারফু করছেন", যা মহান আল্লাহ থেকে তাঁর বর্ণনার বিধানভুক্ত। যদি কোনো তাবিঈ বলেন— "আমরা করতাম", তবে তা মারফু নয় এবং মাওকুফও নয় যদি তিনি একে সাহাবীদের যুগের সাথে সংশ্লিষ্ট না করেন, বরং তা মাকতু। যদি তিনি একে তাঁদের যুগের সাথে সংশ্লিষ্ট করেন, তবে মাওকুফ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ বাহ্যত তাঁরা এর ওপর অবগত ছিলেন এবং স্বীকৃতি দিয়েছিলেন; আবার মাওকুফ না হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, কারণ সাহাবীর স্বীকৃতি অনেক সময় তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হয় না, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বীকৃতির বিপরীত। যখন সাহাবী থেকে মাওকুফ হিসেবে এমন কিছু বর্ণিত হয় যাতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই, যেমন ইবনে মাসউদের উক্তি: "যে ব্যক্তি কোনো জাদুকর বা গণকের কাছে গেল, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা নাযিল হয়েছে তা কুফরী করল", তবে সাহাবীদের প্রতি সুধারণাবশত এর বিধান মারফু হিসেবে গণ্য হবে। হাকীম এটি বলেছেন।

মাওসুল—যাকে মুত্তাসিলও বলা হয়—হলো যার সনদ মারফু বা মাওকুফ হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন, তাবিঈ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন হওয়াকে মুত্তাসিল বলা হয় না। তবে হ্যাঁ, উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব পর্যন্ত মুত্তাসিল বা যুহরী পর্যন্ত মুত্তাসিল।

মুরসাল হলো যা কোনো তাবিঈ সাধারণভাবে বা কোনো বড় তাবিঈ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন। ইমাম শাফিঈ ও জমহুরের মতে এটি দুর্বল এবং দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আবু হানীফা, মালিক এবং আহমাদ (তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী) একে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যদি এটি অন্য কোনো সূত্র থেকে মুসনাদ হিসেবে বা অন্য কোনো মুরসাল হিসেবে সমর্থিত হয় যেখানে দ্বিতীয় মুরসাল বর্ণনাকারী প্রথম মুরসাল বর্ণনাকারীর উস্তাদ ব্যতীত অন্য কারো থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তবে তা দলীল হিসেবে গণ্য হবে। এই কারণেই ইমাম শাফিঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মুরসাল হাদীসগুলোকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কারণ সেগুলো অন্য অনেক সূত্রে মুসনাদ হিসেবে পাওয়া গেছে। ইমাম নববী বলেন: ইমাম শাফিঈর উক্তি— "সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মুরসাল আমাদের নিকট হাসান"—এর অর্থ নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথমটি হলো এটি তাঁর নিকট দলীলযোগ্য, অন্যান্য মুরসালের বিপরীতে; কারণ সেগুলো মুসনাদ হিসেবে পাওয়া গেছে। দ্বিতীয়টি হলো এটি তাঁর নিকট দলীল নয় বরং অন্যান্য মুরসালের মতোই, তবে ইমাম শাফিঈ এর মুরসাল দ্বারা প্রাধান্য দিয়েছেন, আর মুরসাল হাদীস দ্বারা প্রাধান্য দেওয়া বৈধ। খতীব বলেছেন: দ্বিতীয় মতটিই সঠিক। আর প্রথম মতটির কোনো ভিত্তি নেই, কারণ সাঈদের মুরসাল বর্ণনার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কোনোভাবেই সহীহ সূত্রে পাওয়া যায়নি। আর সাহাবীদের মুরসাল—যেমন ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য ছোট সাহাবীদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন হাদীস যা তাঁরা তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি—তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। যখন মুত্তাসিল হওয়া এবং মুরসাল হওয়ার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ একটি হাদীসের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন—কেউ একে মুত্তাসিল হিসেবে এবং কেউ মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, যেমন হাদীস: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই"। এটি ইসরাঈল ও একদল বর্ণনাকারী আবু ইসহাক আস-সুবাইঈ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মূসা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার সাওরী ও শু'বাহ একে আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন বলা হয় যে, বিধান মুসনাদ বর্ণনাকারীর পক্ষেই হবে যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী হন। খতীব বলেন, এটিই সঠিক। বুখারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যিনি মুত্তাসিল করেছেন তাঁর পক্ষেই ফয়সালা দেন এবং বলেন যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। এটি সত্ত্বেও যে, যারা মুরসাল বর্ণনা করেছেন তারা হলেন শু'বাহ ও সুফিয়ান, যাদের মুখস্থ শক্তি ও পারদর্শিতার স্তর সর্বজনবিদিত। কেউ কেউ বলেন ফয়সালা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে, আবার কেউ বলেন যিনি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন তাঁর মতানুসারে। আমরা যদি এটি বলি এবং মুরসাল বর্ণনাকারী যদি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হন, তবে সঠিক মত অনুযায়ী তা মুত্তাসিল বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা ও যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। যখন মারফু ও মাওকুফ হওয়ার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়—অর্থাৎ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হাদীসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অন্য একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেন—তখন বিধান মারফু বর্ণনাকারীর পক্ষেই হবে; কারণ তিনি বিষয়টি সাব্যস্ত করছেন আর অন্যজন নীরব। এমনকি যদি অন্যজন অস্বীকারকারীও হন, তবুও সাব্যস্তকারীকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর সঠিক মতানুসারে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য; চাই তা একই ব্যক্তি থেকে হোক—যেমন তিনি একবার অসম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যবার সেই বৃদ্ধিসহ বর্ণনা করেছেন—অথবা সেই বৃদ্ধি অন্য কারো পক্ষ থেকে হোক যিনি একে অসম্পূর্ণ বর্ণনা করেননি। কেউ কেউ বলেন এটি সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যাত, আবার কেউ বলেন এটি তার পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত কিন্তু অন্য কারো পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য। উসূলে ফিকহের আলিমগণ বলেন, যদি বসার মজলিস এক হয় এবং সেই অতিরিক্ত অংশের ব্যাপারে সাধারণত তাঁর অমনোযোগিতার সম্ভাবনা না থাকে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যদি অমনোযোগিতার সম্ভাবনা থাকে, তবে জমহুরের মতে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি মজলিস একাধিক হওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত থাকে, তবে তা এক মজলিস হওয়ার অবস্থার তুলনায় গ্রহণ করার অধিক যোগ্য। আর যদি মজলিস একাধিক হওয়া নিশ্চিত হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٠)
والمقطوع ما جاء عن تابعي من قوله أو فعله موقوفًا عليه وليس بحجة.

والمنقطع ما سقط من رواته واحد قبل الصحابيّ، وكذا من مكانين وأكثر، بحيث لا يزيد كل ما سقط منها على راوٍ واحد.

والمعضل ما سقط من رواته قبل الصحابيّ اثنان فأكثر، مع التوالي، كقول مالك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولعدم التقيد باثنين، قال ابن الصلاح إن قول المصنفين قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبيل المعضل، ومنه أيضًا حذف لفظ النبي والصحاب معًا، ووقف المتن على التابعي، كقول الأعمش عن الشعبي "يقال للرجل يوم القيامة عملت كذا وكذا فيقول ما عملته فتنطق جوارحه" الحديث.

والمعنعن الذي قيل فيه فلان عن فلان، من غير لفظ صريح بالسماع أو التحديث أو الإخبار أتى عن رواة مسمين معروفين موصول عند الجمهور، بشرط ثبوت لقاء المعنعنين بعضهم بعضًا ولو مرة، وعدم التدليس من المعنعن، لكن في شرطية ثبوت اللقاء بينهما. وكذا طول الصحبة ومعرفة الرواية للمعنعن عن المعنعن عنه خلف، صرح باشتراط اللقاء علي بن المديني وعليه البخاري، وجعلاه شرطًا في أصل الصحة، وعزاه النووي للمحققين، وهو مقتضى كلام الشافعي، ولم يشترطه مسلم بل أنكر اشتراطه في مقدمة صحيحه، وادّعى أنه قول مخترع لم يسبق قائله إليه.

والمؤنن قول الراوي حدثنا فلان أن فلانًا قال، وهو كعن في اللقاء والمجالسة والسماع مع السلامة من التدليس.

والمعلق ما حذف من أوّل إسناده لا وسطه، مأخوذ من تعليق الجدار لقطع اتصاله، وسبق ويأتي حكمه إن شاء الله تعالى في الفصل التالي بعون الله سبحانه.

والمدلس بفتح اللام المشددة ثلاثة:

أحدها، أن يسقط اسم شيخه ويرتقي إلى شيخ شيخه أو من فوقه، فيسند عنه ذلك بلفظ لا يقتضي الاتصال، بل بلفظ موهم له، فلا يقول أخبرنا وما في معناها، بل يقول عن فلان أو قال فلان أو أن فلانًا، موهما بذلك أنه سمعه ممّن رواه عنه، وإنما يكون تدليسًا إذا كان المدلس قد عاصر الذي روى عنه أو لقيه ولم يسمع منه أو سمع منه ولم يسمع ذلك الذي دلسه عنه، فلا يقبل ممن عرف بذلك إلا ما صرح فيه بالاتصال، كسمعت. وفي الصحيحين من حديث أهل هذا القسم المصرح فيه بالسمع كثير، كالأعمش والثوري وما فيهما من حديثهم بالعنعنة ونحوها، محمول على ثبوت السماع عند المخرج من وجه آخر، ولو لم نطلع عليه تحسينًا للظن بصاحبي الصحيح.

ثانيها، تدليس التسوية بأن يسقط ضعيفًا بين شيخيهما الثقتين، فيستوي الإسناد كله ثقات، وهو شر التدليس، وكان بقية بن الوليد أفعل الناس له.

ثالثها، تدليس الشيوخ، بأن يسمي شيخه الذي سمع منه بغير اسمه المعروف، أو ينسبه أو يصفه بما لم يشتهر به تعمية، كيلا يعرف، وهو جائز لقصد تيقظ الطالب واختباره ليبحث عن الرواة.

والمدرج كلام يذكر عقب الحديث متصلاً، يوهم أنه منه، أو يكون عنده متنان بإسنادين فيرويهما بأحدهما، كرواية سعيد بن أبي مريم "لا تباغضوا ولا تحاسدوا ولا تدابروا ولا تنافسوا" أدرج ابن أبي مريم ولا تنافسوا من متن آخر. أو يسمع حديثًا من جماعة مختلفين في إسناده أو متنه فيرويه عنهم على الاتفاق، أو يسوق الإسناد فيعرض له عارض فيقول كلامًا من قبل نفسه، فيظن بعض من سمعه أن ذلك الكلام من متن الحديث فيرويه عنه كذلك، ويكون في المتن تارة في أوّله كحديث أبي هريرة "أسبغوا الوضوء فإن أبا القاسم صلى الله عليه وسلم قال ويل للأعقاب من النار" فأسبغوا، من قول أبي هريرة والباقي مرفوع. ويكون أيضًا في أثنائه وفي آخره وهو الأكثر، كحديث ابن مسعود أنه صلى الله عليه وسلم علّمه التشهد في الصلاة، فقال التحيات لله الخ. أدرج فيه أبو خيثمة. زهير بن معاوية أحد رواته عن الحسن بن الحر هنا كلامًا لابن مسعود، وهو فإذا قلت هذا فقد قضيت صلاتك إن شئت أن تقوم فقم وإن شئت أن تقعد فاقعد.

والعالي خمسة: المطلق، وهو القرب من رسول الله صلى الله عليه وسلم بعدد قليل بالنسبة إلى سند آخر يرد بذلك الحديث بعينه بعدد كثير، أو بالنسبة لمطلب الأسانيد والقرب من إمام من أئمة الحديث ذي صفة عالية كالحفظ والضبط كمالك والشافعي، والقرب بالنسبة لرواية الشيخين وأصحاب
মাকতু হলো এমন হাদিস যা কোনো তাবেয়ী থেকে তাঁর কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর ওপরই স্থগিত হয়েছে, আর এটি দলিল হিসেবে গণ্য নয়।

মুনকাতে হলো সেই হাদিস যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবীর আগে যেকোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে; একইভাবে যদি দুই বা ততোধিক স্থান থেকেও বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তবে শর্ত হলো প্রতিটি বিচ্ছিন্ন স্থানে যেন একজনের বেশি বর্ণনাকারী বাদ না যায়।

মু'দাল হলো সেই হাদিস যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবীর আগে ধারাবাহিক ভাবে দুইজন বা তার অধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। যেমন ইমাম মালিকের এই উক্তি: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। বর্ণনাকারী দুইজন হওয়ার সীমাবদ্ধতা না থাকায় ইবনুত সালাহ বলেছেন যে, কিতাব সংকলকদের 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' বলাটাও মু'দাল-এর অন্তর্ভুক্ত। নবী ও সাহাবী উভয়কে একসাথে বাদ দিয়ে মতনের সূত্র তাবেয়ীর ওপর স্থগিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন আমাশের বর্ণনা শা'বী থেকে: "কিয়ামতের দিন মানুষকে বলা হবে, তুমি এই এই কাজ করেছ, তখন সে বলবে আমি তা করিনি, তখন তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলে উঠবে..." (হাদিস)।

মু'আনআন হলো সেই হাদিস যাতে বলা হয়েছে 'অমুক থেকে (আন) অমুক', যেখানে শ্রবণ, সরাসরি বর্ণনা বা সংবাদ প্রদানের কোনো স্পষ্ট শব্দ নেই। এটি যদি সুপরিচিত ও নির্দিষ্ট বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত হয়, তবে জমহুর ওলামাদের মতে তা সংযুক্ত (মাওসুল) হিসেবে গণ্য হবে; তবে শর্ত হলো মু'আনআন বর্ণনাকারীদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ অন্তত একবার প্রমাণিত হতে হবে এবং বর্ণনাকারী তাদলিসকারী হতে পারবেন না। তবে এই সাক্ষাতের শর্তারোপের ক্ষেত্রে দ্বিমত রয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ সাহচর্য এবং বর্ণনাকারী কর্তৃক যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর বর্ণনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকার শর্তের ক্ষেত্রেও মতভেদ আছে। আলী ইবনুল মাদীনী সাক্ষাতের শর্তারোপ করেছেন এবং ইমাম বুখারীও এই মতের ওপর রয়েছেন; তাঁরা একে সহীহ হওয়ার মূল শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। ইমাম নববী একে তাত্ত্বিক গবেষকদের (মুহাক্কিকীন) অভিমত বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যের দাবি। ইমাম মুসলিম একে শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেননি, বরং তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থের ভূমিকায় এই শর্তারোপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি একটি উদ্ভাবিত মত যার প্রবক্তা ইতিপূর্বে কেউ ছিল না।

মু'আন্নান হলো বর্ণনাকারীর এই উক্তি: 'আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন যে (আন্না), অমুক বলেছেন'। এটি সাক্ষাৎ, মজলিসে উপস্থিতি এবং শ্রবণের ক্ষেত্রে 'আন' (থেকে) শব্দের মতোই গণ্য হবে, যদি তা তাদলিস থেকে মুক্ত থাকে।

মু'আল্লাক হলো যার সনদের শুরু থেকে বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে, মাঝখান থেকে নয়। এটি দেয়ালের লটকান (তালিক) থেকে উদ্ভূত, কারণ এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এর বিধান ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে আল্লাহর সাহায্যে বিস্তারিত আসবে।

মুদাল্লাস (লাম বর্ণে জবর ও তাশদীদসহ) তিন প্রকার:

প্রথমত: বর্ণনাকারী তাঁর নিজ শায়খের নাম বাদ দিয়ে তাঁর উপরের স্তরের শায়খের দিকে চলে যান এবং এমন শব্দে বর্ণনা করেন যা সরাসরি শ্রবণের নিশ্চয়তা দেয় না বরং ভ্রম সৃষ্টি করে; অর্থাৎ সে 'আমাদের খবর দিয়েছেন' বা অনুরূপ শব্দ বলে না, বরং বলে 'অমুক থেকে' বা 'অমুক বলেছেন' বা 'নিশ্চয়ই অমুক', যার মাধ্যমে সে শ্রোতাকে এই ধারণা দেয় যে সে সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছে। এটি কেবল তখনই তাদলিস হবে যখন মুদাল্লাসকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সমসাময়িক হবেন অথবা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হবে অথচ তাঁর থেকে শোনেননি, অথবা তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন ঠিকই কিন্তু বিশেষ যে হাদিসটি তাদলিস করেছেন তা শোনেননি। যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে, তার বর্ণনা ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে স্পষ্টভাবে সংযোগ প্রকাশ করে (যেমন 'আমি শুনেছি' বলা)। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ এই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের স্পষ্ট শ্রবণোল্লেখসহ অনেক হাদিস আছে, যেমন আমাশ ও সাওরী। তাঁদের যেসব হাদিস 'আন' বা অনুরূপ শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তা মুসান্নিফদ্বয়ের কাছে অন্য কোনো সূত্রে শ্রবণ প্রমাণিত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও আমরা তা জানতে না পারি; এটি সহীহাইন রচয়িতাদ্বয়ের প্রতি সুধারণা পোষণ করার কারণে।

দ্বিতীয়ত: তাদলিসুত তাসওয়িয়াহ; যা হলো দুই বিশ্বস্ত (সিকাহ) শায়খের মাঝখান থেকে একজন দুর্বল বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া, যাতে পুরো সনদটিই বিশ্বস্ত মনে হয়। এটি তাদলিসের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট; বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ এর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

তৃতীয়ত: তাদলিসুশ শুয়ুখ; যা হলো বর্ণনাকারী তাঁর শায়খ—যাঁর থেকে তিনি শুনেছেন—তাঁকে তাঁর পরিচিত নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকা অথবা এমন বংশপরিচয় বা গুণাবলি উল্লেখ করা যার মাধ্যমে তিনি সুপরিচিত নন, যেন তাঁকে সহজে চেনা না যায়। এটি ছাত্রদের মেধা যাচাই এবং বর্ণনাকারীদের অনুসন্ধানে তাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে জায়েজ।

মুদরাজ হলো এমন কথা যা হাদিসের শেষে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়, যা দেখে ভ্রম হয় যে এটি হাদিসেরই অংশ। অথবা কারো কাছে দুটি ভিন্ন সনদে দুটি মতন আছে, কিন্তু সে একটি মতন অপরটির সনদে বর্ণনা করল। যেমন সাঈদ ইবনে আবী মারইয়ামের বর্ণনা: 'তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না এবং প্রতিযোগিতা করো না'। এখানে ইবনে আবী মারইয়াম অন্য একটি মতন থেকে 'প্রতিযোগিতা করো না' অংশটি যোগ (মুদরাজ) করেছেন। অথবা ভিন্ন ভিন্ন সনদে একদল লোকের কাছ থেকে হাদিস শোনার পর তাদের মতন বা সনদের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মতনটি সবার ক্ষেত্রে অভিন্ন হিসেবে বর্ণনা করা। অথবা সনদ বর্ণনা করার সময় কোনো কারণবশত নিজের পক্ষ থেকে কিছু কথা বলা, তখন কোনো শ্রোতা মনে করে যে সেই কথাটি হাদিসের মতনের অংশ এবং সেভাবেই তা বর্ণনা করে। এটি কখনো মতনের শুরুতে থাকে, যেমন আবু হুরায়রার হাদিস: 'তোমরা পরিপূর্ণভাবে অজু করো, কেননা আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পায়ের গোড়ালির জন্য আগুনের শাস্তি রয়েছে'। এখানে 'পরিপূর্ণভাবে অজু করো' অংশটি আবু হুরায়রার নিজস্ব কথা এবং বাকি অংশ মারফু। এটি মতনের মাঝখানেও হয় এবং শেষেও হয়—আর শেষেই বেশি দেখা যায়। যেমন ইবনে মাসউদের হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নামাজের তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, অতঃপর তিনি 'আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি...' ইত্যাদি বললেন। এখানে আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া (যিনি হাসান ইবনুল হুর থেকে বর্ণনাকারীদের একজন) ইবনে মাসউদের একটি কথা এখানে মুদরাজ করেছেন, তা হলো: 'যখন তুমি এটি বললে তখন তোমার নামাজ সম্পন্ন হলো, এখন চাইলে তুমি উঠে যেতে পারো অথবা চাইলে বসে থাকতে পারো'।

উচ্চ সনদ (আলী) পাঁচ প্রকার: মুতলাক বা নিরঙ্কুশ উচ্চতা, যা হলো কম সংখ্যক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো, সেই একই হাদিসের অন্য একটি সনদের তুলনায় যেখানে বর্ণনাকারী সংখ্যা বেশি। অথবা সনদের লক্ষ্যের বিচারে কোনো উচ্চ গুণসম্পন্ন হাদিস বিশারদ ইমামের—যেমন হেফজ ও নির্ভুলতার বিচারে ইমাম মালিক ও শাফেয়ী—নিকটবর্তী হওয়া। এছাড়া শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য হাদীস সংকলকদের বর্ণনার নিকটবর্তী হওয়া...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١١)
السنن والعلو بتقدم وفاة الراوي، سواء كان سماعه مع متأخر الوفاة في آن واحد أو قبله، والعلوّ بتقدّم السماع، فمن تقدم سماعه من شيخ أعلى ممن سمع من ذلك الشيخ نفسه بعده.

والنازل كالعالي بالنسبة إلى ضد الأقسام العالية.

والمسلسل ما ورد بحالة واحدة في الرواة أو الرواية وأصحها قراءة سورة الصف.

والغريب ما انفرد راوٍ بروايته أو برواية زيادة فيه عمّن يجمع حديثه كالزهري أحد الحفاظ في المتن أو السند، وينقسم إلى غريب صحيح كالأفراد المخرجة في الصحيحين، وإلى غريب ضعيف وهو الغالب على الغرائب، وإلى غريب حسن. وفي جامع الترمذي منه كثير.

والعزيز ما انفرد بروايته اثنان أو ثلاثة دون سائر رواة الحافظ المروي عنه.

والمعلل ولا يقال المعلول، خبر ظاهره السلامة لجمعه شروط الصحة، لكن فيه علة خفية فيها غموض تظهر للنقاد أطباء السنة الحاذقين بعللها عند جمع طرق الحديث والفحص عنها، كمخالفة راوي ذلك الحديث لغيره ممّن هو أحفظ وأضبط وأكثر عددًا وتفرّده وعدم المتابعة عليه، مع قرائن تنبّه على وهمه في وصل مرسل أو رفع موقوف أو إدراج حديث في حديث، أو لفظة أو جملة ليست من الحديث أدرجها فيه، أو وهم بإبدال راوٍ ضعيف بثقة، ويقع في الإسناد والمتن، فالأوّل كحديث يعلى بن عبيد عن الثوري عن عمرو بن دينار "البيعان بالخيار" صرح النقاد بأن يعلى غلط إنما هو عبد الله بن دينار لا عمرو بن دينار، وشذّ بذلك عن سائر أصحاب الثوري، وسبب الاشتباه اتفاقهما في اسم الأب وفي غير واحد من الشيوخ، وتقاربهما في الوفاة. وأما علة المتن فكحديث مسلم من جهة الأوزاعي عن قتادة، أنه كتب إليه يخبره عن أنس أنه حدّثه أنه قال صلّيت خلف النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وعثمان، فكانوا يستفتحون بالحمد لله ربّ العالمين لا يذكرون بسم الله الرحمن الرحيم في أوّل قراءة ولا في آخرها، فقد أعلّ الشافعي رضي الله عنه وغيره هذه الزيادة التي فيها عدم البسملة، بأن سبعة أو ثمانية خالفوا في ذلك واتفقوا على الاستفتاح بالحمد لله رب العالمين، ولم يذكروا البسملة. والمعنى أنهم يبدؤون بقراءة أم القرآن قبل ما يقرأ بعدها، ولا يعني أنهم يتركون البسملة. وحينئذ فكأن بعض رواته فهم من الاستفتاح نفي البسملة، فصرّح بما فهمه وهو مخطئ في ذلك. ويتأيد بما صح عن أنس أنه سئل أكان النبي صلى الله عليه وسلم يستفتح بالحمد لله رب العالمين أو ببسم الله الرحمن الرحيم، فقال للسائل إنك لتسألني عن شيء ما أحفظه وما سألني عنه أحد قبلك، على أن قتادة ولد أكمه وكاتبه لم يعرف، وهذا أهم في التعليل، وهذا من أغمض أنواع علوم الحديث وأدقها ولا يقوم به إلا ذو فهم ثاقب وحفظ واسع ومعرفة تامة بمراتب الرواة، وملكة قوية

بالأسانيد والمتون، وقد تقصر عبارة المعلل عن إقامة الحجة على دعواه كالصيرفيّ في نقد الدينار والدرهم.

والفرد يكون مطلقًا بأن ينفرد الراوي الواحد عن كل واحد من الثقات وغيرهم، ويكون بالنسبة إلى صفة خاصة، وهو أنواع: ما قيد بثقة، كقول القائل في حديث قراءته صلى الله عليه وسلم في الأضحى والفطر بقاف واقتربت، لم يروه ثقة إلا ضمرة بن سعيد، فقد انفرد به عن عبيد الله بن عبد الله عن أبي واقد الليثي صحابيه، أو ببلد معين كمكة والبصرة والكوفة. كقول القائل في حديث أبي سعيد الخدري المروي عند أبي داود في كتابيه السنن، والتفرد، عن أبي الوليد الطيالسي عن همام عن قتادة عن أبي نضرة عنه، أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نقرأ بفاتحة الكتاب وما تيسر. لم يرو هذا الحديث غير أهل البصرة. قال الحاكم إنهم تفردوا بذكر الأمر فيه من أول الإسناد الخ، ولم يشركهم في لفظه سواهم. وكذا قال في حديث عبد الله بن زيد في صفة وضوء النبي صلى الله عليه وسلم أن قوله ومسح رأسه بماء غير فضل يده، سنّة غريبة تفرّد بها أهل مصر لم يشركهم أحد. ولا يقتضي شيء من ذلك ضعفه إلا أن يراد تفرّد واحد من أهل البصرة، فيكون من الفرد المطلق. والثالث ما قيد براوٍ مخصوص حيث لم يروه عن فلان إلا فلان، كقول أبي الفضل بن طاهر عقب الحديث المروي في السنن الأربعة من طريق سفيان
রাবীর মৃত্যু আগে হওয়ার মাধ্যমে উচ্চ সনদ (উলুউ) লাভ করা হয়, চাই তার শ্রবণ পরবর্তীকালে মৃত্যুবরণকারীর সাথে একই সময়ে হোক বা তার আগে। আবার শ্রবণ আগে হওয়ার মাধ্যমেও উচ্চ সনদ লাভ করা হয়; সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট থেকে আগে শুনেছে, সে ওই ব্যক্তির চেয়ে উচ্চ সনদধারী যে ওই একই শাইখের নিকট থেকে পরে শুনেছে।

আর ‘নাযিল’ বা নিম্নমানের সনদ ‘আলি’ বা উচ্চমানের সনদের বিপরীত প্রকারসমূহের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

‘মুসালসাল’ হলো এমন হাদিস যা রাবীদের মাঝে অথবা বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়; আর এর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো সূরা আস-সাফ পাঠের মুসালসালটি।

‘গারীব’ হলো সেই হাদিস যা বর্ণনায় কোনো একজন রাবী একক হয়ে গেছেন, অথবা এমন কোনো রাবীর থেকে বর্ণনায় অতিরিক্ত কোনো অংশ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন যাঁর হাদিসগুলো সংকলিত করা হয় (যেমন হাফেজগণের অন্যতম ইমাম যুহরী), তা মতন (মূল পাঠ) বা সনদ (সূত্র)—যে কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে। এটি ‘গারীব সহীহ’ (যেমন সহীহাইন বা বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত একক হাদিসসমূহ), ‘গারীব যঈফ’ (যা গারীব হাদিসের ক্ষেত্রে অধিক দেখা যায়) এবং ‘গারীব হাসান’—এই তিন ভাগে বিভক্ত। জামে তিরমিযীতে এ ধরণের প্রচুর হাদিস রয়েছে।

‘আযীয’ হলো সেই হাদিস যা বর্ণনায় দুইজন বা তিনজন রাবী একক হয়ে গেছেন, যে হাফেজের নিকট থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তাঁর অন্যান্য রাবীদের বাদ দিয়ে।

‘মুআল্লাল’ (একে ‘মালুল’ বলা হয় না) হলো এমন খবর বা বর্ণনা যার বাহ্যিক রূপ ত্রুটিমুক্ত মনে হয় কারণ এতে সহীহ হওয়ার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এতে এমন এক সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট ত্রুটি (ইল্লাহ) থাকে যা হাদিসের ওই সব নিপুণ সমালোচক ও পারদর্শীদের নিকট ধরা পড়ে যারা সুন্নাহর ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে অবগত। এটি ধরা পড়ে যখন তারা হাদিসের সকল সূত্র একত্রিত করেন এবং তা গভীরভাবে পরীক্ষা করেন। যেমন—কোনো রাবীর তার চেয়েও অধিক মুখস্থকারী, নির্ভরযোগ্য ও সংখ্যায় বেশি রাবীদের বিরোধিতা করা, অথবা তার একাকী বর্ণনা করা ও তার কোনো সমর্থনকারী (মুতাবায়াত) না থাকা; সাথে এমন কিছু আলামত থাকা যা ‘মুরসাল’কে ‘মাওসুল’ করার ক্ষেত্রে, অথবা ‘মাওকুফ’কে ‘মারফু’ করার ক্ষেত্রে, অথবা এক হাদিসকে অন্য হাদিসের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া (ইদরাজ), অথবা হাদিসের অংশ নয় এমন কোনো শব্দ বা বাক্য তাতে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলার ক্ষেত্রে তার ভ্রমের প্রতি নির্দেশ করে। আবার কোনো যঈফ রাবীকে নির্ভরযোগ্য রাবী দ্বারা পরিবর্তন করার ভুলও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এটি সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রেই ঘটে। সনদের উদাহরণের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দ-এর হাদিস যা তিনি সাওরী থেকে এবং তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে ‘ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকে’ মর্মে বর্ণনা করেছেন। সমালোচকগণ স্পষ্ট করেছেন যে ইয়াহইয়া এখানে ভুল করেছেন, মূলত এটি আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার হবে, আমর ইবনে দীনার নয়। তিনি সাওরীর অন্যান্য সকল ছাত্রের বিরোধিতা করে এই ব্যতিক্রমী বর্ণনাটি করেছেন। এই বিভ্রান্তির কারণ হলো উভয়ের পিতার নাম এক হওয়া এবং একাধিক শাইখের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্য থাকা এবং তাদের মৃত্যু কাছাকাছি সময়ে হওয়া। আর মতনের ত্রুটির উদাহরণ হলো ইমাম মুসলিমের একটি হাদিস যা আওযাঈ-এর সূত্রে কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি (কাতাদা) তাঁকে লিখে জানিয়েছিলেন যে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেছেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমর ও উসমানের পেছনে সালাত পড়েছেন, তারা ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দিয়ে কিরাত শুরু করতেন এবং কিরাতের শুরুতে বা শেষে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ উল্লেখ করতেন না। ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যগণ এই অতিরিক্ত অংশটুকুকে (যেখানে বিসমিল্লাহ না পড়ার কথা আছে) ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। কারণ সাত বা আটজন রাবী এর বিরোধিতা করেছেন এবং তারা কেবল ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দিয়ে কিরাত শুরুর ব্যাপারে একমত হয়েছেন, সেখানে তারা বিসমিল্লাহ না পড়ার কথা উল্লেখ করেননি। এর অর্থ হলো তারা পরবর্তী কিরাত পড়ার আগে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ শুরু করতেন, এর মানে এই নয় যে তারা বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিতেন। এমতাবস্থায় মনে হচ্ছে যে বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ ‘ইফতিতাহ’ (শুরু করা) থেকে বিসমিল্লাহ না পড়া বুঝেছেন এবং তিনি যা বুঝেছেন তাই বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি এতে ভুল করেছেন। এটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সহীহ বর্ণনা দ্বারাও সমর্থিত যেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দিয়ে শুরু করতেন নাকি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ দিয়ে? তিনি প্রশ্নকারীকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে এমন বিষয় জিজ্ঞেস করছো যা আমি স্মরণ করতে পারছি না এবং তোমার আগে আমাকে কেউ এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেনি’। এছাড়া কাতাদা জন্মগতভাবে অন্ধ ছিলেন এবং তাঁর লেখকের পরিচয় জানা নেই, যা এই ত্রুটি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইলমে হাদিসের সবচেয়ে জটিল ও সূক্ষ্ম প্রকারসমূহের একটি, যা কেবল তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন, অগাধ মুখস্থশক্তি ও রাবীদের স্তর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং সনদ ও মতন সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক সময় ত্রুটি নির্ণয়কারীর পক্ষে তার দাবির সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে, যেমনটি দিনার ও দিরহামের পারদর্শীদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

‘ফারদ’ কখনো ‘মুতলাক’ বা নিঃশর্ত হয়, যেখানে একজন রাবী সকল নির্ভরযোগ্য বা অনির্ভরযোগ্য রাবীর থেকে বর্ণনায় একক হয়ে যান। আবার কখনো কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে, যা কয়েক প্রকার: কোনো নির্ভরযোগ্য রাবীর সাথে সম্পর্কিত হওয়া, যেমন কারো উক্তি যে— নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে সূরা কাফ এবং সূরা ইকতারাবাত পাঠ করতেন; এই হাদিসটি দামরা ইবনে সাঈদ ব্যতীত অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী বর্ণনা করেননি। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে সাহাবী আবু ওয়াকিদ আল-লাইসী থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। অথবা কোনো নির্দিষ্ট শহরের সাথে সম্পর্কিত হওয়া যেমন মক্কা, বসরা বা কুফা। যেমন আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয় (যা আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’ ও ‘তাফাররুদ’ গ্রন্থে আবু ওয়ালীদ তায়ালিসী—হাম্মাম—কাতাদা—আবু নাযরা সূত্রে বর্ণনা করেছেন): ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সূরা ফাতিহা এবং যা সহজ হয় তা পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন।’ এই হাদিসটি কেবল বসরার অধিবাসীরাই বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকীম বলেন যে তারা সনদের শুরু থেকে এই আদেশের কথাটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং তাদের শব্দপ্রয়োগে অন্য কেউ অংশীদার হয়নি। অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে তাঁর এই উক্তি— ‘এবং তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন হাতের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দ্বারা’, এটি একটি বিরল (গারীব) সুন্নাহ যা কেবল মিসরীয়রা বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং কেউ তাদের সাথে অংশীদার হননি। এর কোনোটিই হাদিস যঈফ হওয়াকে আবশ্যক করে না, যতক্ষণ না বসরার অধিবাসীদের মধ্য হতে কেবল একজনের একক বর্ণনা উদ্দেশ্য হয়, তবে সেটি ‘ফারদ মুতলাক’ এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তৃতীয় প্রকার হলো যা কোনো নির্দিষ্ট রাবীর সাথে সম্পর্কিত হয়, যেখানে অমুকের থেকে অমুক ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, যেমন আবু ফযল ইবনে তাহেরের সেই উক্তি যা সুনানে আরবা’আ-তে সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসের পরপরই এসেছে।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٢)
بن عيينة عن وائل بن داود عن ولده بكر بن وائل عن الزهري عن أنس، أن النبي أولم على صفية بسويق وتمر. لم يروه عن بكر إلا وائل، ولم يروه عن وائل غير ابن عيينة فهو غريب.

 

وكذا قال الترمذي إنه حسن غريب. قال وقد رواه غير واحد عن ابن عيينة عن الزهريّ يعني بدون وائل وولده، قال وكان ابن عيينة ربما دلسهما، والحكم بالتفرّد يكون بعد تتبّع طرق الحديث الذي يظن أنه فرد هل شارك راويه آخر أم لا، فإن وجد بعد كونه فردًا أن راويًا آخر ممن يصلح أن يخرج حديثه للاعتبار والاستشهاد به وافقه، فإن كان التوافق باللفظ سمي متابعًا، وإن كان بالمعنى سمي شاهدًا، وإن لم يوجد من وجه بلفظه أو بمعناه فإنه يتحقق فيه التفرّد المطلق حينئذ. ومظنة معرفة الطرق التي يحصل بها المتابعات والشواهد وتنتفي بها الفردية الكتب المصنفة في الأطراف، وقد مثل ابن حبان لكيفية الاعتبار بأن يروي حماد بن سلمة حديثًا لم يتابع عليه عن أيوب عن ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فينظر هل روى ذلك ثقة غير أيوب عن ابن سيرين، فإن وجد علم به أن للحديث أصلاً يرجع إليه، وإن لم يوجد ذلك فثقة غير ابن سيرين، رواه عن أبي هريرة، وإلا فصحابي غير أبي هريرة رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم، فأي ذلك وجد علم به أن للحديث أصلاً يرجع إليه، وإلا فلا. وكما أنه لا انحصار للمتابعات في الثقة كذلك الشواهد، فيدخل فيهما رواية من لا يحتج بحديثه وحده، بل يكون معدودًا في الضعفاء، وفي البخاري ومسلم جماعة من الضعفاء ذكراهم في المتابعات والشواهد، وليس كل ضعيف يصلح لذلك. وكذا قال الدارقطني فلان يعتبر به وفلان لا يعتبر به. وقال النووي في شرح مسلم "وإنما يدخلون الضعفاء لكون التابع لا اعتماد عليه وإنما الاعتماد على من قبله " اهـ.

قال شيخنا ولا انحصار له في هذا، بل قد يكون كلٌّ من المتابع والمتابع لا اعتماد عليه، فباجتماعهما تحصل القوة، ومثال المتابع والشاهد ما رواه الشافعي في الأم عن مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الشهر تسع وعشرون فلا تصوموا حتى تروا الهلال ولا تفطروا حتى تروه. فإن غمّ عليكم فأكملوا العدة ثلاثين". فإنه في جميع الموطآت عن مالك بهذا السند بلفظ فإن غمّ عليكم فاقدروا له. وأشار البيهقي إلى أن الشافعي تفرد بهذا اللفظ عن مالك فنظرنا فإذا البخاري روى الحديث في صحيحه، فقال حدّثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي حدّثنا مالك به بلفظ الشافعي سواء، فهذه متابعة تامة في غاية الصحة لرواية الشافعي، ودلّ هذا على أن مالكًا رواه عن عبد الله بن دينار باللفظين معًا وقد توبع فيه عبد الله بن دينار من وجهين عن ابن عمر، أحدهما أخرجه مسلم من طريق أبي أسامة عن عبيد الله بن عمر عن نافع، فذكر الحديث، وفي آخره فإن غمّ عليكم فاقدروا ثلاثين. والثاني أخرجه ابن خزيمة في صحيحه من طريق عاصم بن محمد بن زيد عن أبيه عن جدّه ابن عمر بلفظ فإن غمّ عليكم فكملوا ثلاثين. فهذه متابعة لكنها ناقصة، وله شاهدان أحدهما من حديث أبي هريرة رواه البخاري عن آدم عن شعبة عن محمد بن زياد عن أبي هريرة بلفظ فإن غمّ عليكم فأكملوا عدّة شعبان ثلاثين. وثانيهما من حديث ابن عباس، أخرجه النسائي من رواية عمرو بن دينار عن محمد بن حنين عن ابن عباس بلفظ حدّثنا ابن دينار عن ابن عمر سواء. وإنما أطلت الكلام في هذا لكثرة ما في البخاري منه والله سبحانه الموفق والمعين.

والشاذ ما خالف الراوي الثقة فيه جماعة الثقات بزيادة أو نقص فيظن أنه وهم فيه. قال ابن الصلاح الصحيح التفصيل، فما خالف فيه المنفرد من هو أحفظ وأضبط فشاذ مردود، وإن لم يخالف بل روى شيئًا لم يروه غيره وهو عدل فصحيح أو غير ضابط، ولا يبعد عن درجة الضابط فحسن، وإن بعد فشاذ منكر. ويكون الشذوذ في السند كرواية الترمذي والنسائي وابن ماجة من طريق ابن عيينة عن عمرو بن دينار عن عوسجة عن ابن عباس رضي الله عنهما، أن رجلاً توفي على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يدع وارثًا إلى مولى هو أعتقه الحديث. فإن حماد
ইবনে উইয়ায়না থেকে ওয়াইল বিন দাউদ থেকে তাঁর ছেলে বকর বিন ওয়াইল থেকে যুহরী থেকে আনাস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়ার ওয়ালীমায় ছাতু ও খেজুর দিয়ে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। বকর থেকে ওয়াইল ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং ওয়াইল থেকে ইবনে উইয়ায়না ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি, তাই এটি গরিব (একক সূত্রবিশিষ্ট)।

 

অনুরূপভাবে তিরমিযী বলেছেন যে এটি হাসান গরিব। তিনি বলেন, অনেকে ইবনে উইয়ায়না থেকে যুহরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ওয়াইল ও তাঁর ছেলে ছাড়াই। তিনি বলেন, ইবনে উইয়ায়না সম্ভবত তাঁদের নাম বাদ দিয়ে তাদলীস করতেন। একক বর্ণনার (তাফাররুদ) হুকুম তখনই দেওয়া হয় যখন এমন হাদিসের সূত্রগুলো অনুসন্ধান করা হয় যাকে একক মনে করা হয়েছে, যেন দেখা যায় অন্য কোনো বর্ণনাকারী এতে শরিক আছে কি না। যদি একক হওয়ার পরও দেখা যায় যে গ্রহণযোগ্যতা ও সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য অন্য কোনো বর্ণনাকারী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, তবে সেই ঐক্য যদি শব্দগত হয় তাকে 'মুতাবি' (সমর্থনকারী) বলা হয়, আর যদি অর্থগত হয় তবে তাকে 'شاهد' বা 'শাহিদ' (সাক্ষ্য প্রদানকারী) বলা হয়। আর যদি কোনো দিক থেকেই শব্দ বা অর্থের মাধ্যমে মিল না পাওয়া যায়, তবেই নিরঙ্কুশ একক বর্ণনা (তাফাররুদ মুতলাক) সাব্যস্ত হয়। মুতাবিয়াত ও শাওয়াহিদ চেনার এবং একক বর্ণনা নিরসনের মাধ্যম হলো 'আতরাফ' বিষয়ক কিতাবসমূহ। ইবনে হিব্বান যাচাইয়ের (ই’তিবার) পদ্ধতির উদাহরণ দিয়ে বলেছেন: যেমন হাম্মাদ বিন সালামাহ এমন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন যাতে তাঁকে কেউ অনুসরণ করেনি, যা আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন দেখা হবে আইয়ুব ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ইবনে সিরিন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না; যদি পাওয়া যায় তবে জানা যাবে হাদিসটির একটি মূল উৎস রয়েছে। আর যদি না পাওয়া যায়, তবে ইবনে সিরিন ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না; নতুবা আবু হুরায়রা ছাড়া অন্য কোনো সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না। এর মধ্যে যা কিছুই পাওয়া যাবে, তা দ্বারা প্রমাণিত হবে যে হাদিসটির একটি মূল ভিত্তি রয়েছে, অন্যথায় নয়। আর মুতাবিয়াত যেমন কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শাওয়াহিদও তেমনি; ফলে এতে এমন ব্যক্তিদের বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের হাদিস এককভাবে দলিল হয় না বরং তারা দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত। বুখারী ও মুসলিমে এমন একদল দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদেরকে তাঁরা মুতাবিয়াত ও শাওয়াহিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সকল দুর্বল বর্ণনাকারী এর যোগ্য নয়। যেমন দারাকুতনী বলেছেন— অমুক বর্ণনাকারী যাচাইয়ের উপযোগী এবং অমুক যাচাইয়ের অনুপযোগী। নববী মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "তাঁরা দুর্বল বর্ণনাকারীদের কেবল এ কারণেই উল্লেখ করেন যে, মুতাবি (সমর্থনকারী) বর্ণনাকারীর ওপর নির্ভর করা হয় না, বরং নির্ভরতা তার পূর্ববর্তী মূল বর্ণনাকারীর ওপরেই থাকে।" সমাপ্ত।

আমাদের শায়খ বলেছেন, এটি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কখনো এমন হতে পারে যে মুতাবি ও মুতাবা উভয়ের কারোর ওপরই নির্ভর করা যায় না, কিন্তু উভয়ের সমন্বয়ে হাদিসটি শক্তি লাভ করে। মুতাবি ও শাহিদের উদাহরণ হলো যা ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম' গ্রন্থে মালেক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মাস উনত্রিশ দিনে হয়, সুতরাং চাঁদ না দেখে রোজা রেখো না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করো না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে সংখ্যা ত্রিশ পূর্ণ করো।" এটি ইমাম মালেক থেকে বর্ণিত সকল মুয়াত্তায় এই সনদে "যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তার পরিমাণ নির্ধারণ করো" শব্দে এসেছে। বাইহাকী ইঙ্গিত করেছেন যে, শাফেয়ী মালেক থেকে এই শব্দে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। অতঃপর আমরা অনুসন্ধান করে দেখলাম যে বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন— আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কানাবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালেক আমাদের কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন হুবহু শাফেয়ীর শব্দে। এটি ইমাম শাফেয়ীর বর্ণনার জন্য অত্যন্ত বিশুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ মুতাবিয়া (মুতাবিয়া তামা)। এটি প্রমাণ করে যে মালেক আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে উভয় শব্দেই বর্ণনা করেছেন। আবার আবদুল্লাহ বিন দিনারকেও ইবনে উমর থেকে দুটি সূত্রে সমর্থন করা হয়েছে: প্রথমটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু উসামার সূত্রে উবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং শেষে রয়েছে "যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন নির্ধারণ করো"। দ্বিতীয়টি ইবনে খুজাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে আসিম বিন মুহাম্মদ বিন জায়েদের সূত্রে তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইবনে উমর থেকে "যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ পূর্ণ করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি মুতাবিয়া তবে এটি অসম্পূর্ণ (মুতাবিয়া নাকিদাহ)। এর দুটি শাহিদ (সাক্ষ্য) রয়েছে: প্রথমটি আবু হুরায়রার হাদিস যা বুখারী আদমের সূত্রে শু'বা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে "যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে শাবানের সংখ্যা ত্রিশ পূর্ণ করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয়টি ইবনে আব্বাসের হাদিস যা নাসাঈ আমর বিন দিনার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন হুনাইন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যা ইবনে দিনার কর্তৃক ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিসের মতোই। বুখারীতে এই ধরনের বর্ণনার আধিক্যের কারণেই আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।

শাজ (ব্যতিক্রমী) হলো এমন হাদিস যাতে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্যদের একটি দলের বিপরীতে কোনো শব্দ বাড়িয়ে বা কমিয়ে বর্ণনা করে, ফলে ধারণা করা হয় যে সে এতে বিভ্রান্ত হয়েছে। ইবনে সালাহ বলেছেন— সঠিক মত হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা; যে বর্ণনায় একক বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক মুখস্থকারী ও দক্ষ কারো বিরোধিতা করে, তবে তা শাজ এবং প্রত্যাখ্যাত। আর যদি বিরোধিতা না করে বরং এমন কিছু বর্ণনা করে যা অন্য কেউ করেনি, তবে সে যদি ন্যায়পরায়ণ হয় তবে তা সহীহ, আর যদি পুরোপুরি দক্ষ না হয় কিন্তু সেই স্তরের কাছাকাছি হয় তবে তা হাসান। আর যদি মেধা ও দক্ষতার স্তর থেকে দূরে হয় তবে তা শাজ মুনকার। শাজ বা ব্যতিক্রমতা সনদেও হতে পারে, যেমন তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহর বর্ণনা যা ইবনে উইয়ায়না থেকে, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আওসাজা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি তাঁর মুক্ত করা দাস ছাড়া আর কোনো ওয়ারিশ রেখে যাননি... (হাদিস)। তবে হাম্মাদ...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٣)
بن زيد رواه عن عمرو مرسلاً بدون ابن عباس، لكن قد تابع ابن عيينة على وصله ابن جريج وغيره. ويكون في المتن كزيادة يوم عرفة في حديث "أيام التشريق أيام أكل وشرب" فإن الحديث من جميع طرقه بدونها، وإنما جاء بها موسى بن علي (بالتصغير) ابن رباح عن أبيه عن عقبة بن عامر، كما أشار إليه ابن عبد البر. على أنه قد صحح حديث موسى هذا ابنا خزيمة وحبان والحاكم، وقال على شرط مسلم، وقال الترمذي حسن صحيح. وكأن ذلك لأنها زيادة ثقة غير منافية لإمكان حملها على حاضري عرفة.

والمنكر الذي لا يعرف متنه من غير جهة راويه فلا متابع له ولا شاهد، قاله البرديجي. والصواب التفصيل الذي ذكره ابن الصلاح في الشاذ، فمثال ما انفرد به ثقة يحمل تفرّده حديث مالك عن الزهري عن علي بن حسين عن عمر بن عثمان عن أسامة بن زيد رضي الله عنهما رفعه

 

"لا يرث المسلم الكافر" فإن مالكًا خالف في تسمية راويه عمر بضم العين، غيره، حيث هو عندهم عمرو بفتحها. وقطع مسلم وغيره على مالك بالوهم فيه. ومثال ما انفرد به ثقة لا يحمل تفرده حديث أبي ذكير يحيى بن محمد بن قيس عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله تعالى عنها مرفوعًا: كلوا البلح بالتمر. الحديث تفرد به أبو ذكير وهو شيخ صالح أخرج له مسلم في صحيحه، غير أنه لم يبلغ مبلغ من يحمل تفرده، وقد ضعفه ابن معين وابن حبان، وقال ابن عدي أحاديثه مستقيمة سوى أربعة عدّ منها هذا.

والمضطرب ما روي على أوجه مختلفة متدافعة على التساوي في الاختلاف من راوٍ واحد، بأن رواه مرة على وجه وأخرى على آخر مخالف له، أو رواه أكثر بأن يضطرب فيه راويان فأكثر، ويكون في سند رواته ثقات، كحديثًا "شيبتني هود وأخواتها"، فإنه اختلف فيه على أبي إسحق، فقيل عنه عن عكرمة عن أبي بكر، ومنهم من زاد بينهما ابن عباس، وقيل عنه عن أبي جحيفة عن أبي بكر، وقيل عنه عن البراء عن أبي بكر، وقيل عنه عن أبي ميسرة عن أبي بكر، وقيل عنه عن مسروق عن عائشة عن أبي بكر، وقيل عنه عن علقمة عن أبي بكر، وقيل عنه عن عامر بن سعد البجلي عن أبي بكر، وقيل عنه عن عامر بن سعد عن أبيه عن أبي بكر، وقيل عنه عن مصعب بن سعد عن أبيه عن أبي بكر، وقيل عنه عن أبي الأحوص عن ابن مسعود. وقد يكون الاضطراب في المتن، وقل أن يوجد مثال سالم له كحديث نفي البسملة، حيث زال الاضطراب عنه بحمل نفي القراءة على نفي السماع، ونفي السماع على نفي الجهر كما قرر في موضعه من المطوّلات. ثم إن الاضطراب سواء كان في السند أو في المتن موجب للضعف لإشعاره بعدم ضبط الراوي.

والموضوع هو الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويسمى المختلق الموضوع، وتحرم روايته مع العلم به إلا مبينًا، والعمل به مطلقًا وسببه نسيان أو افتراء أو نحوهما، ويعرف بإقرار واضعه أو قرينة في الراوي والروي، فقد وضعت أحاديث يشهد بوضعها ركاكة ألفاظها ومعانيها. وروينا عن الربيع بن خيثم التابعي الجليل أنه قال إن للحديث ضوءًا كضوء النهار يعرف، وظلمة كظلمة الليل تنكر.

والمقلوب كحديث متنه مشهور براو كسالم أبدل بواحد من الرواة نظيره في الطبقة كنافع ليرغب فيه لغرابته، أو قلب سند لمتن آخر مروي بسند آخر بقصد امتحان حفظ المحدث، كقلب أهل بغداد على البخاري رحمه الله تعالى مائة حديث امتحانًا، فردّها على وجوهها كما سيأتي إن شاء الله تعالى في ترجمته.

والمركب كإبدال نحو سالم بنافع كما مر، أو الذي ركب إسناده لمتن آخر ومتنه لإسناد متن آخر.

والمنقلب الذي ينقلب بعض لفظه على الراوي فيتغير معناه، كحديث البخاري في باب أن رحمة الله قريب من المحسنين عن صالح بن كيسان عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه رفعه،

 

"اختصمت الجنة والنار إلى ربّهما" الحديث. وفيه أنه ينشئ للنار خلقًا صوابه كما رواه في موضع آخر من طريق عبد الرزاق عن همام عن أبي هريرة بلفظ، فأما الجنة فينشئ الله لها خلقًا، فسبق لفظ الراوي من الجنة إلى النار، وصار منقلبًا. ولذا جزم ابن القيم بأنه غلط، ومال إليه البلقيني حيث أنكر هذه الرواية، واحتج بقوله ولا يظلم ربك أحدًا.

والمدبج
ইবনে যায়েদ এটি আমরের সূত্রে ইবনে আব্বাসকে বাদ দিয়ে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে উয়ায়না, ইবনে জুরাইজ এবং অন্যান্যরা এটিকে সংযুক্ত বর্ণনায় অনুসরণ করেছেন। এটি মূল পাঠে আরাফার দিনের অতিরিক্ত বর্ণনার মতো, যেমনটি "আইয়ামে তাশরিক হলো পানাহার ও উপভোগের দিন" হাদিসে এসেছে। এই হাদিসটি এর সমস্ত পথ বা সূত্রে ওই অংশটি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে, কেবল মুসা বিন আলী (তাসগির সহ) ইবনে রাবাহ তার পিতার সূত্রে উকবা বিন আমির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনে আবদিল বার ইঙ্গিত করেছেন। যদিও মুসার এই হাদিসটিকে ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম সহিহ বলেছেন; হাকিম একে মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী বলেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান সহিহ বলেছেন। সম্ভবত এর কারণ হলো এটি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা যা আরাফায় উপস্থিতদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সম্ভাবনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

মুনকার হাদিস হলো যার মূল পাঠ তার বর্ণনাকারী ছাড়া অন্য কোনো পক্ষ থেকে পরিচিত নয়, ফলে তার কোনো সমর্থনকারী বর্ণনা বা সাক্ষী নেই; এটি আল-বারদিজি বলেছেন। তবে সঠিক মত হলো ইবনে আস-সালাহ আশ-শাজ (বিচিত্র) হাদিসের ক্ষেত্রে যে বিশ্লেষণ দিয়েছেন তা-ই। একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তার একাকীত্ব গ্রহণীয়—এমন উদাহরণ হলো ইমাম মালেকের হাদিস যা তিনি যুহরি থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি উমর বিন উসমান থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

 

"মুসলিম ব্যক্তি কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না।" এখানে মালেক তার বর্ণনাকারীর নাম "উমর" (আইন অক্ষরে পেশ যোগে) বলার ক্ষেত্রে অন্যদের বিরোধিতা করেছেন, যেখানে অন্যদের নিকট এটি "আমর" (আইন অক্ষরে যবর যোগে)। ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্যরা মালেকের এই ক্ষেত্রে ভ্রম বা বিভ্রান্তিকে নিশ্চিত করেছেন। আর একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তার একাকীত্ব গ্রহণীয় নয়—এমন উদাহরণ হলো আবু জুকাইর ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন কাইসের হাদিস যা হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: "তোমরা শুকনা খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর খাও।" হাদিসটি আবু জুকাইর এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন সৎ শায়খ, মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে তার হাদিস গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি এমন স্তরে পৌঁছাননি যার একাকীত্বকে সহ্য করা যায়। ইবনে মাঈন এবং ইবনে হিব্বান তাকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে আদি বলেছেন তার হাদিসগুলো সঠিক, কেবল চারটি বাদে—যার মধ্যে এটি একটি।

মুদতারিব (বিক্ষিপ্ত) হলো যা একজন বর্ণনাকারী থেকে বিভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী উপায়ে বর্ণিত হয় এবং সবকটি বর্ণনাই শক্তিতে সমান হয়। বর্ণনাকারী কখনো একভাবে বর্ণনা করেন, আবার কখনো তার বিপরীতভাবে; অথবা একাধিক বর্ণনাকারী এর বর্ণনায় বিক্ষিপ্ততা সৃষ্টি করেন। এর বর্ণনাকারীদের সনদে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ থাকেন। যেমন একটি হাদিস: "সূরা হুদ এবং এর সদৃশ সূরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।" এই হাদিসটিতে আবু ইসহাকের সূত্রে মতভেদ হয়েছে। কেউ বলেছেন এটি ইকরিমা থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ এর মাঝে ইবনে আব্বাসকে যোগ করেছেন। আবার কেউ বলেছেন আবু জুহাইফা থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন বারা থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন আবু মাইসারা থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন মাসরুক থেকে আয়েশা হয়ে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন আলকামা থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন আমের বিন সাদ আল-বাজালি থেকে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন আমের বিন সাদ থেকে তার পিতার মাধ্যমে আবু বকরের সূত্রে, কেউ বলেছেন মুসআব বিন সাদ থেকে তার পিতার মাধ্যমে আবু বকরের সূত্রে, আবার কেউ বলেছেন আবু আহওয়াস থেকে ইবনে মাসউদের সূত্রে। কখনো এই বিক্ষিপ্ততা মূল পাঠেও হতে পারে। তবে এর ত্রুটিমুক্ত উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যায়, যেমন বিসমিল্লাহ পাঠ অস্বীকার করার হাদিস। সেখানে কিরাত অস্বীকার করাকে শ্রবণ অস্বীকার করা এবং শ্রবণ অস্বীকার করাকে সশব্দে পাঠ অস্বীকার করার ওপর প্রয়োগ করে বিক্ষিপ্ততা দূর করা হয়েছে, যেমনটি বিস্তারিত গ্রন্থগুলোতে নিজ নিজ স্থানে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর, এই বিক্ষিপ্ততা সনদে হোক বা মূল পাঠে, তা হাদিস দুর্বল হওয়ার কারণ হয়, কারণ এটি বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।

মাউদু (জাল) হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করা। একে মুখতালাক বা মাউদু বলা হয়। জেনে-বুঝে এর বর্ণনা করা হারাম, যদি না তার জাল হওয়ার কথা স্পষ্ট করা হয়। আর এর ওপর আমল করা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো বিস্মৃতি বা মিথ্যা অপবাদ আরোপ বা এই জাতীয় কিছু। এটি বর্ণনাকারীর স্বীকারোক্তি অথবা বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের কোনো লক্ষণ দ্বারা চেনা যায়। অনেক হাদিস এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যার শব্দের দুর্বলতা এবং অর্থের অসারতা তার জাল হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। আমরা প্রখ্যাত তাবেয়ি রাবি বিন খুসাইম থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: "হাদিসের এমন উজ্জ্বলতা রয়েছে যা দিনের আলোর মতো চেনা যায় এবং এমন অন্ধকার রয়েছে যা রাতের অন্ধকারের মতো প্রত্যাখ্যানযোগ্য।"

মাকলুব (উল্টানো) হাদিস হলো এমন—যার মূল পাঠ কোনো একজন বর্ণনাকারীর নামে প্রসিদ্ধ, যেমন সালেম; কিন্তু তার পরিবর্তে একই স্তরের অন্য কাউকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেমন নাফে, যাতে হাদিসটির বিরলতার কারণে মানুষ তাতে আগ্রহী হয়। অথবা কোনো মূল পাঠের সনদকে অন্য মূল পাঠের সাথে বদলে দেওয়া হয় মুহাদ্দিসের হেফজ বা স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। যেমন বাগদাদবাসীরা ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি তাআলার স্মৃতি পরীক্ষার জন্য একশটি হাদিস উল্টেপাল্টে দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলো সব সঠিকভাবে নিজ নিজ স্থানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তার জীবনী আলোচনায় আসবে।

মুরাক্কাব (সংযুক্ত) হলো—সালেমের বদলে নাফেকে ব্যবহার করার মতো পরিবর্তন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে; অথবা এমন যা কোনো একটি মূল পাঠের সনদ অন্য মূল পাঠের জন্য এবং ওই মূল পাঠের সনদ অন্য মূল পাঠের জন্য জোড়া লাগানো হয়েছে।

মুনকালিব হলো—যার কিছু শব্দ বর্ণনাকারীর কাছে উল্টে যায়, ফলে এর অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন বুখারীর 'নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত নেককারদের নিকটবর্তী' অধ্যায়ের একটি হাদিস যা সালেহ বিন কাইসান থেকে আল-আরাজ থেকে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

 

"জান্নাত ও জাহান্নাম তাদের রবের নিকট বিতর্ক করল..."। এই হাদিসে এসেছে যে, তিনি জাহান্নামের জন্য নতুন সৃষ্টি তৈরি করবেন। অথচ সঠিক পাঠ হবে যেমনটি তিনি অন্য স্থানে আব্দুর রাজ্জাক থেকে হাম্মাম থেকে আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "পক্ষান্তরে জান্নাতের জন্য আল্লাহ নতুন সৃষ্টি তৈরি করবেন।" এখানে বর্ণনাকারীর শব্দ জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামের দিকে আগে চলে গেছে এবং এটি ওলটপালট হয়ে গেছে। এই কারণেই ইবনে আল-কাইয়িম এটি ভুল বলে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন এবং আল-বুলকিনিও সেদিকেই ঝুঁকেছেন, যেহেতু তিনি এই বর্ণনাটি অস্বীকার করেছেন এবং দলিল হিসেবে আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: "এবং আপনার রব কারো প্রতি জুলুম করেন না।"

মুদাব্বাজ
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٤)
بالموحدة والجيم رواية القرينين التقاربين في السن والإسناد، أحدهما عن الآخر، كرواية كلٌّ من أبي هريرة وعائشة عن الآخر، وكرواية التابعي عن تابعي مثله كالزهري وعمر بن عبد العزيز وكذا من دونهما.

والمصحف الذي تغير بنقط الحروف أو حركاتها أو سكناتها، كحديث جابر رمي أُبيّ يوم الأحزاب على أكحله، صحفه غندر فقال أبي بالإضافة، وإنما هو أُبيّ بن كعب وأبو جابر استشهد قبل ذلك في أُحُد.

والناسخ والمنسوخ ويعرف النسخ بتنصيص الشارع عليه كحديث بريدة "كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها" أو بجزم الصحابي بالتأخر كقول جابر في السنن، كان آخر الأمرين من النبي صلى الله عليه وسلم ترك الوضوء مما مسّت النار أو بالتاريخ، فإن لم يعرف فإن أمكن ترجيح أحدهما بوجه من وجوه الترجيح متنًا أو إسنادًا لكثرة الرواة وصفاتهم تعين المصير إليه، وإلا فيجمع بينهما، فإن لم يمكن يوقف عن العمل بأحدهما.

والمختلف أن يوجد حديثان متضادان في المعنى بحسب الظاهر، فيجمع بما ينفي التضاد، كحديث "لا عدوى ولا طيرة" مع حديث "فرّ من المجذوم" وقد جمع بينهما بأن هذه الأمراض لا تعدي بطبعها، ولكن جعل الله تعالى مخالطة المريض للصحيح سببًا لإعدائه وقد يتخلف.

 

ومن الأنواع رواية الآباء عن الأبناء، وهو كرواية الأكابر عن الأصاغر، ورواية الأبناء عن الآباء، ويدخل في رواية الابن عن أبيه عن جدّه، وأكثر ما انتهت الآباء فيه إلى أربعة عشر أبًا، والسابق اللاحق وهو من اشترك في الرواية عنه راويان متقدم ومتأخر تباين وقت وفاتيهما تباينًا شديدًا فحصل بينهما أمر بعيد، وإن كان المتأخر غير معدود من معاصري الأوّل ومن طبقته. ومن أمثلة ذلك أن البخاري حدث عن تلميذه أبي العباس السراج بأشياء في التاريخ وغيره، ومات سنة ست وخمسين ومائتين، وآخر مَن حدّث عن السراج بالسماع أبو الحسين الخفات ومات سنة ثلاث وتسعين وثلثمائة، ومنه أن الحافظ السلفي سمع منه أبو عليّ البرداني أحد مشايخه حديثًا رواه عنه ومات على رأس الخمسمائة، ثم كان آخر أصحابه بالسماع سبطه أبو القاسم عبد الرحمن بن مكي، وكانت وفاته سنة خمسين وستمائة.

ومن فوائده تقرير حلاوة الإسناد في القلوب والإخوة والأخوات، فمن أمثلة الاثنين هشام وعمرو ابنا العاصي وزيد ويزيد ابنا ثابت، ومن الثلاثة سهل وعباد وعثمان بنو حنيف بالتصغير،

ومن الأربعة سهيل وعبد الله الذي يقال له عباد ومحمد وصالح بنو أبي صالح ذكوان السمان، وفي الصحابة عائشة وأسماء وعبد الرحمن ومحمد بنو أبي بكر الصديق رضي الله تعالى عنهم، وأربعة ولدوا في بطن وكانوا علماء وهم محمد وعمر وإسماعيل، ومن لم يسمّ بنو أبي إسماعيل السلمي، ومن الخمسة الرواة سفيان وآدم وعمران ومحمد وإبراهيم بنو عيينة، ومن الستة محمد وأنس ويحيى ومعبد وحفصة وكريمة أولاد سيرين وكلهم من التابعين. من لم يرو عنه إلا واحد كرواية الحسن البصري عن عمرو بن تغلب في صحيح البخاري، فإن عمرًا لم يرو عنه غير الحسن قاله مسلم والحاكم، من له أسماء مختلفة ونعوت متعددة وفائدته الأمن من جعل الواحد اثنين، وتوثيق الضعيف وتضعيف الثقة والاطلاع على صنيع المرسلين، ومن أمثلته محمد بن السائب الكلبي المفسّر هو أبو النضر الذي روى عنه ابن إسحق وهو حماد بن السائب الذي روى عنه أبو أسامة، وهو أبو سعيد الذي يروي عنه عطية العوفي موهمًا أنه الخدري، وهو أبو هشام الذي روى عنه القاسم بن الوليد، والمفردات من الأسماء فمن الصحابة سندر بفتح السين والدال المهملتين بينهما نون ساكنة آخره راء، وكلدة بالدال المهملة، وفتحات ابن الحنبل بمهملة مفتوحة بعدها نون ساكنة فموحدة فلام، ووابصة بموحدة مكسورة فمهملة ابن معبد. ومن غير الصحابة تدوم بفوقية مفتوحة ودال مهملة مضمومة ابن صبح، أو بالتصغير الحميري وسعير بالمهملتين مصغرًا ابن الخمس بكسر الخاء المعجمة وسكون الميم بعدها مهملة، والمفردات من الألقاب سفينة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومن غير الصحابة مندل بن علي العنزي واسمه فيما قيل
এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' এবং 'জীম' যোগে গঠিত 'মুদাব্বাজ' হলো সমবয়সী ও সমসাময়িক দুই রাবীর একে অপরের থেকে বর্ণনা করা। যেমন আবু হুরায়রা ও আয়েশা (রা.)-এর একে অপরের থেকে বর্ণনা করা, এবং একজন তাবেয়ীর তার সমমর্যাদার অন্য তাবেয়ী থেকে বর্ণনা করা, যেমন যুহরী ও উমর ইবনে আব্দুল আজিজ অথবা তাঁদের পরবর্তী স্তরের রাবীদের ক্ষেত্রে।

'মুসাহহাফ' হলো এমন হাদিস যার অক্ষরের নুকতা, হরকত বা সুকুন পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল শব্দ বা অর্থ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেমন জাবের (রা.)-এর হাদিসে এসেছে যে, আহযাব যুদ্ধের দিন উবাই-এর হাতের শাহরগে তীর লেগেছিল। গুন্দার একে 'আবি' (আমার পিতা) শব্দে বিকৃত করেছেন। অথচ তিনি হলেন উবাই ইবনে কাব; কারণ জাবেরের পিতা এর পূর্বেই উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।

নাসেখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত)। নাসেখ চেনা যায় বিধানদাতার সরাসরি বক্তব্যের মাধ্যমে, যেমন বুরাইদার হাদিস: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তা করো।" অথবা সাহাবীর নিশ্চিতভাবে পরবর্তী সময়ের ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন সুনান গ্রন্থে জাবেরের উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ আমল ছিল আগুনের স্পর্শে রান্না করা খাবার খেয়ে ওজু না করা।" অথবা ইতিহাসের মাধ্যমে। যদি এসব জানা না যায়, তবে মতন বা সনদের মাধ্যমে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ থাকলে—যেমন রাবীদের আধিক্য বা তাঁদের গুণাবলীর কারণে—সেটিকেই গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। আর যদি সমন্বয় সম্ভব না হয়, তবে আমল স্থগিত রাখতে হবে।

'মুখতালিফুল হাদিস' হলো বাহ্যিকভাবে পরস্পরবিরোধী অর্থ প্রকাশকারী দুটি হাদিসের উপস্থিতি। এমতাবস্থায় উভয়ের মাঝে এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে যাতে বৈপরীত্য দূর হয়। যেমন "সংক্রামক ব্যাধি ও কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই" এই হাদিসের সাথে "কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করো" হাদিসটির সমন্বয়। এদের মধ্যে সমন্বয় এভাবে করা হয়েছে যে, এসব রোগ স্বভাবগতভাবে সংক্রমণ ঘটায় না, বরং আল্লাহ তাআলা অসুস্থ ব্যক্তির সাথে সুস্থ ব্যক্তির মেলামেশাকে রোগ ছড়ানোর একটি কারণ বানিয়েছেন, যা কখনো কার্যকরী হয় আবার কখনো হয় না।

 

হাদিসের প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে সন্তানদের থেকে পিতাদের বর্ণনা করা, যা বড়দের থেকে ছোটদের বর্ণনা করার অন্তর্ভুক্ত। আবার পিতাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দাদার সূত্রে পিতার নিকট থেকে পুত্রের বর্ণনা। এক্ষেত্রে পিতাদের সিলসিলা সর্বোচ্চ চৌদ্দজন পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর 'সাবেকু ওয়াল লাহেক' হলো এমন এক রাবী যার থেকে দুইজন রাবী বর্ণনা করেছেন—যাদের একজন অগ্রবর্তী ও অন্যজন পরবর্তী এবং তাদের মৃত্যুর সময়ের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। ফলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যদিও পরবর্তী রাবী পূর্ববর্তী রাবীর সমসাময়িক বা একই স্তরের না হন। এর উদাহরণ হলো, ইমাম বুখারী তাঁর ছাত্র আবুল আব্বাস আস-সাররাজ থেকে ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়ে কিছু বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারী মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫৬ হিজরিতে। অন্যদিকে আস-সাররাজ থেকে সরাসরি শুনে সর্বশেষ বর্ণনা করেছেন আবু হুসাইন আল-খাফফাত, যিনি ৩৯৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। এর আরেকটি উদাহরণ হলো হাফেজ সালাফি, তাঁর থেকে তাঁর অন্যতম উস্তাদ আবু আলী আল-বারদানী একটি হাদিস শুনে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ৫০০ হিজরির শুরুতে মারা গেছেন। এরপর সালাফির সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন তাঁর নাতি আবু কাসেম আব্দুর রহমান ইবনে মক্কী, যার মৃত্যু হয়েছে ৬৫০ হিজরিতে।

এর অন্যতম উপকারিতা হলো হৃদয়ে সনদের মাধুর্য প্রতিষ্ঠা করা। ভাই ও বোনদের উদাহরণের মধ্যে দুজনের ক্ষেত্রে হিশাম ও আমর—তাঁরা আসীর পুত্র, এবং যায়েদ ও ইয়াজিদ—তাঁরা সাবিতের পুত্র। তিনজনের ক্ষেত্রে সাহল, আব্বাদ ও উসমান—তাঁরা হুনাইফের পুত্র।

চারজনের ক্ষেত্রে সুহাইল, আব্দুল্লাহ (যাঁকে আব্বাদ বলা হয়), মুহাম্মদ ও সালেহ—তাঁরা আবু সালেহ জাকওয়ান সাম্মানের পুত্র। সাহাবীদের মধ্যে আয়েশা, আসমা, আব্দুর রহমান ও মুহাম্মদ—তাঁরা আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর সন্তান। একই গর্ভে জন্ম নেওয়া চারজন যারা আলেম ছিলেন—তাঁরা হলেন মুহাম্মদ, উমর, ইসমাইল এবং নাম না জানা একজন, তাঁরা আবু ইসমাইল আস-সুলামীর পুত্র। পাঁচজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সুফিয়ান, আদম, عمران (ইমরান), মুহাম্মদ ও ইব্রাহিম—তাঁরা উয়াইনার পুত্র। ছয়জনের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ, আনাস, ইয়াহইয়া, মাবাদ, হাফসা ও কারীমা—তাঁরা সীরিনের সন্তান এবং তাঁরা সকলেই তাবেয়ী ছিলেন। এমন রাবী যাঁর থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেছেন—যেমন সহীহ বুখারীতে আমর ইবনে তাগলাব থেকে হাসান বসরীর বর্ণনা। ইমাম মুসলিম ও হাকিম বলেছেন যে, হাসান বসরী ছাড়া আমর থেকে আর কেউ বর্ণনা করেননি। এমন রাবী যাঁর বিভিন্ন নাম ও গুণবাচক উপাধি রয়েছে। এর উপকারিতা হলো এক ব্যক্তিকে দুই ব্যক্তি মনে করা থেকে নিরাপদ থাকা, দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য বা নির্ভরযোগ্যকে দুর্বল মনে করা থেকে বেঁচে থাকা এবং মুরসাল বর্ণনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে অবগত হওয়া। এর উদাহরণ হলো তাফসীরকারক মুহাম্মদ ইবনে সায়েব আল-কালবী, তিনিই হলেন আবু নাযর যাঁর থেকে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, এবং তিনিই হাম্মাদ ইবনে সায়েব যাঁর থেকে আবু উসামা বর্ণনা করেছেন। আবার তিনিই আবু সাঈদ যাঁর থেকে আতিয়্যাহ আল-আওফী বর্ণনা করেন এই ধারণা দিয়ে যে তিনি খুদরী (রা.)। আবার তিনিই আবু হিশাম যাঁর থেকে কাসেম ইবনে ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন। একক নামসমূহের মধ্যে সাহাবীদের মধ্যে রয়েছেন সিন্দার (সীন ও দালের উপর ফাতাহ এবং মাঝে নুন সাকিন ও শেষে রা), কালাদাহ (দাল সহ), ফুতাহাত ইবনে হানবাল (ফা এর উপর ফাতাহ এরপর নুন সাকিন এরপর বা এবং লাম), ওয়াবিসা (বা এর নিচে কাসরা ও সীন সহ) ইবনে মাবাদ। সাহাবী নন এমনদের মধ্যে রয়েছেন তাদুম (তা এর উপর ফাতাহ ও দালের উপর পেশ সহ) ইবনে সুব্হ অথবা তাসগীর সহ আল-হিময়ারী, এবং সুয়াইর (সীন ও আইন সহ তাসগীর) ইবনে খুমুস (খ এর নিচে কাসরা ও মীম সাকিন এরপর সীন)। একক উপাধির মধ্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাস সাফীনা। সাহাবী নন এমনদের মধ্যে মানদাল ইবনে আলী আল-আনাযী, যাঁর নাম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٥)
عمرو، ومشكدانة بضم أوّله وثالثه وبعد الميم شين معجمة وهي وعاء المسك. ومن الكنى أبو العبيد بضم المهملة ثم موحدة مفتوحة تصغير عبد، وأبو العشراء بضم العين المهملة وفتح الشين المعجمة الدارمي، ومن الأنساب اللبقيّ بفتح اللام والموحدة وكسر القاف علي بن سلمة. والكنى تسعة أقسام كنية لصاحب كنية أخرى غيرها ولا اسم له غيرها، أبو بكر بن عبد الرحمن بن الحرث أحد الفقهاء السبعة كنيته أبو عبد الرحمن، أو تكون الكنية اسمه ولا كنية له كأبي بلال الأشعريّ بن شريك، أو تكون الكنية لقبًا وله اسم وتكنية غيرها كأبي تراب لعليّ بن أبي طالب أبي الحسن، وأبي الزناد لعبد الله ين ذكوان أبي عبد الرحمن. أو يكون له كنية أخرى غيرها أو أكثر من غير سبب لذلك. فمن أمثلة ذلك ذو الكنيتين عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج يكنى أبا خالد وأبا الوليد، ومن الثلاثة منصور الفراوي يكنى أبا بكر وأبا الفتح وأبا القاسم، وكان يقال له ذو الكنى، أو تكون كنيته لا خلاف فيها وفي اسمه اختلاف كأبي بصرة الغفاري، قيل في اسمه جميل بفتح الجيم، وقيل بالحاء المهملة المضمومة وفتح الميم وهو الأصح، أو يكون مختلفًا في كنيته دون اسمه كأبيّ بن كعب، قيل في كنيته أبو المنذر وقيل أبو الطفيل، أو يكون في كلٍّ من اسمه وكنيته خلف كسفينة مو رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو لقب، وقيل في اسمه صالح، وقيل عمير، وقيل مهران، وكنيته قيل أبو عبد الرحمن وقيل أبو البحتري، أو اتفقا عليهما معًا كأبي عبد الله مالك بن أنس، أو يكون بكنيته أشهر منه باسمه كأبي إدريس الخولانيّ اسمه عائذ الله.

 

وفائدة هذا النوع البيان، فربما ذكر الراوي مرة بكنيته ومرة باسمه فيتوهم التعدّد مع كونهما واحدًا، والألقاب نوع مهم قد تأتي في سياق الأسانيد مجردة عن الأسماء فيظن أنها أسماء فيجعل ما ذكر باسمه في موضع وبلقبه في موضع آخر شخصين، والذي في البخاري منه: الأحول عامر بن سليمان، الأزرق إسحق بن يوسف، الأعرج عبد الرحمن بن هرمز، الأعمش سليمان بن مهران، الأغر أبو عبد الله سلمان، الباقر محمد بن علي بن حسين أبو جعفر، الحبر عبد الله بن عباس، البطين مسلم بن عمران، بندار محمد بن بشار، البهيّ عبد الله بن بشار، الحذاء خالد بن مهران، ختن المقري بكر بن خلف، دحيم عبد الرحمن بن إبراهيم. ذو البطن أسامة بن زيد، ذو اليدين الخرباق، الرشك يزيد الضبعي، سعدان اللخميّ سعيد بن يحيى بن صالح، سلمويه سليمان بن صالح المروزي، سنيد مصغرًا اسمه الحسين، شاذان الأسود بن عامر، عارم محمد بن الفضل السدوسي، عبدان عبد الله بن عثمان، عبدة بن سليمان اسمه عبد الرحمن، عبيد بن إسماعيل هو عبيد الله، عويمر أبو الدرداء اسمه عامر، غندر محمد بن جعفر، فليح بن سليمان قيل اسمه عبد الملك، قتيبة بن سعيد قيل اسمه يحيى، كاتب المغيرة اسمه وراد، الماجشون أبو سلمة، مسدد اسمه عبد الملك، النبيل أبو عاصم الضحاك بن مخلد أبو الزناد لقب وكنيته أبو عبد الرحمن، ذات النطاقين أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما.

والأنساب معرفتها مهمة فكثيرًا ما يكون نسبه لقبيلة أو بطن أو جدّ أو بلد أو صناعة أو مذهب أو غير ذلك مما أكثره مجهول عند العامة معلوم عند الخاصة، فربما يقع في كثير منه التصحيف ويكثر الغلط والتحريف، والذي في البخاري منها: الأشجعي عبيد الله بن عبد الرحمن، الأويسي عبد العزيز بن عبد الله، الأنصاري شيخ البخاري محمد بن عبد الله بن المثنى، البدري أبو مسعود عقبة بن عمرو، البراء أبو العالية نسب إلى بري السهام، التيمي سليمان، الثقفي عبد الوهاب بن محمد بن عبد المجيد، الزبيدي محمد بن الوليد، الزبيري أبو أحمد محمد بن عبد الله الأسدي، الزهري محمد بن مسلم بن عبيد الله بن عبد الله بن شهاب، السبيعي عمرو بن عبد الله أبو إسحق، السعيدي عمرو بن يحيى بن سعيد، الشعبي عامر بن شراحيل، الشيباني أبو إسحق سليمان بن أبي سليمان، الصنابحي عبد الرحمن بن عسيلة، العدني عبد الله بن الوليد، العقدي عبد الملك بن عمرو أبو عامر، العمري
আমর এবং মুশকিদানা (প্রথম ও তৃতীয় বর্ণে পেশসহ এবং মীমের পরে শীন বর্ণসহ), এর অর্থ কস্তুরীর আধার। উপনামগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুল উবাইদ (আইন বর্ণে পেশ এবং পরবর্তী বর্ণ বা-তে যবরসহ), এটি 'আবদ' শব্দের তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থ)। এবং আবুল আশরা (আইন বর্ণে পেশ এবং শীন বর্ণে যবরসহ) আদ-দারিমি। বংশপরম্পরার মধ্যে রয়েছে আল-লাবাকি (লাম ও বা বর্ণে যবর এবং কাফ বর্ণে যেরসহ), তিনি হলেন আলী ইবনে সালামাহ। উপনাম নয় প্রকার। কোনো ব্যক্তির এমন উপনাম যা অন্য কোনো উপনামের সাথে যুক্ত এবং তার অন্য কোনো নাম নেই, যেমন আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস—যিনি সাত ফকিহর একজন, তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান। অথবা উপনামটিই তার নাম এবং তার অন্য কোনো উপনাম নেই, যেমন আবু বিলাল আল-আশআরী ইবনে শারীক। অথবা উপনামটি উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং তার নাম ও অন্য উপনামও আছে, যেমন আবু তোরাব—যা আলী ইবনে আবি তালিবের উপাধি, অথচ তাঁর উপনাম আবুল হাসান। এবং আবুল যিনাদ—যা আবদুল্লাহ ইবনে যাকওয়ানের উপাধি, অথচ তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান। অথবা কোনো কারণ ছাড়াই তার এক বা একাধিক উপনাম থাকতে পারে। এর উদাহরণ হলো ‘জুল কুনইয়াতাইন’ (দুই উপনামের অধিকারী) আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে জুরাইজ, তাঁকে আবু খালিদ ও আবু ওয়ালিদ উভয় উপনামে ডাকা হতো। তিন উপনামের অধিকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানসুর আল-ফারাওয়ী, তাঁর উপনামগুলো হলো আবু বকর, আবুল ফাতহ এবং আবুল কাসিম; তাঁকে ‘জুল কুনা’ (অনেক উপনামের অধিকারী) বলা হতো। অথবা যার উপনামের ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই কিন্তু নামের ব্যাপারে মতভেদ আছে, যেমন আবু বাসরাহ আল-গিফারী, তাঁর নাম জামীল (জীম বর্ণে যবরসহ) বলা হয়েছে, আবার হুমাইল (হা বর্ণে পেশ এবং মীম বর্ণে যবরসহ) বলা হয়েছে—যা অধিক বিশুদ্ধ। অথবা যার উপনামের ব্যাপারে মতভেদ আছে কিন্তু নামের ব্যাপারে নেই, যেমন উবাই ইবনে কাব, তাঁর উপনাম আবু মুনযির এবং আবু তুফাইল উভয়টিই বলা হয়েছে। অথবা যার নাম এবং উপনাম উভয়টির ক্ষেত্রেই মতভেদ আছে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাফিনাহ, এটি তাঁর উপাধি; তাঁর নাম সালিহ, উমায়ের বা মিহরান বলা হয়েছে এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান বা আবু আল-বাখতারী বলা হয়েছে। অথবা নাম ও উপনাম উভয়টির ব্যাপারে সবাই একমত, যেমন আবু আবদুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস। অথবা তিনি তাঁর নামের চেয়ে উপনামেই অধিক পরিচিত, যেমন আবু ইদ্রিস আল-خাওলানী, তাঁর নাম আইযুল্লাহ।

 

এই বিষয়ের উপযোগিতা হলো অস্পষ্টতা দূর করা। কারণ কখনো বর্ণনাকারীকে তাঁর উপনামে এবং কখনো তাঁর নামে উল্লেখ করা হয়, ফলে তারা এক হওয়া সত্ত্বেও দুই ব্যক্তি বলে ভ্রম হতে পারে। উপাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অনেক সময় সনদের ধারাবাহিকতায় নামের পরিবর্তে কেবল উপাধি আসে, তখন সেটিকে নাম মনে করা হয়। ফলে একই ব্যক্তিকে এক স্থানে নামসহ এবং অন্য স্থানে উপাধিসহ উল্লেখ করার কারণে পৃথক দুইজন ব্যক্তি মনে হতে পারে। ইমাম বুখারীর কিতাবে এমন যাদের নাম এসেছে: আল-আহওয়াল (আমের ইবনে সুলায়মান), আল-আযরাক (ইসহাক ইবনে ইউসুফ), আল-আরাজ (আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয), আল-আমাশ (সুলায়মান ইবনে মিহরান), আল-আগার (আবু আবদুল্লাহ সালমান), আল-বাকির (মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন আবু জাফর), আল-হাবর (আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস), আল-বাতিন (মুসলিম ইবনে ইমরান), বুন্দার (মুহাম্মাদ ইবনে বাশার), আল-বাহী (আবদুল্লাহ ইবনে বাশার), আল-হাদ্দা (খালিদ ইবনে মিহরান), খাতানুল মুকরী (বকর ইবনে খালাফ), দাহিম (আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহীম), জুল বাতন (উসামা ইবনে যায়েদ), জুল ইয়াদাইন (আল-খিরবাক), আর-রিশক (ইয়াযিদ আদ-দুবায়ী), সাদান আল-লাখমী (সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ), সালামওয়াইহ (সুলায়মান ইবনে সালিহ আল-মারওয়াযী), সুনাইদ (তাসগীর রূপে, তাঁর নাম হুসাইন), শাযান (আসওয়াদ ইবনে আমের), আরিম (মুহাম্মাদ ইবনে ফাদল আস-সাদুসী), আবদান (আবদুল্লাহ ইবনে উসমান), আবদাহ ইবনে সুলায়মান (তাঁর নাম আবদুর রহমান), উবাইদ ইবনে ইসমাইল (তিনি হলেন উবায়দুল্লাহ), উওয়াইমির (আবুদ দারদা, তাঁর নাম আমের), গুন্দার (মুহাম্মাদ ইবনে জাফর), ফুলাইহ ইবনে সুলায়মান (বলা হয় তাঁর নাম আবদুল মালিক), কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ (বলা হয় তাঁর নাম ইয়াহইয়া), কাতিবুল মুগীরাহ (তাঁর নাম ওয়াররাদ), আল-মাজিশুন (আবু সালামাহ), মুসাদ্দাদ (তাঁর নাম আবদুল মালিক), আন-নাবীল (আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ), আবুল যিনাদ (এটি উপাধি, তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান), যাতুন নিতাকাইন (আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)।

বংশপরম্পরা (আনসাব) চেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক সময় কারো নিসবত বা সম্বন্ধ করা হয় গোত্র, বংশের শাখা, দাদা, দেশ, পেশা অথবা মাযহাবের দিকে। এগুলোর অধিকাংশ সাধারণ মানুষের কাছে অজানা হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছে সুপরিচিত। অনেক সময় এ ক্ষেত্রে শব্দগত পরিবর্তন (তাসহিফ) এবং ভুল ও বিকৃতি ঘটে থাকে। ইমাম বুখারীর কিতাবে এই শ্রেণির যারা রয়েছেন: আল-আশজায়ী (উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান), আল-উওয়াইসী (আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ), আল-আনসারী (ইমাম বুখারীর উস্তাদ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মুসান্না), আল-বাদরী (আবু মাসউদ উকবাহ ইবনে আমর), আল-বাররা (আবু আল-আলিয়া, তীরের ফলা তৈরির সাথে সম্বন্ধযুক্ত), আত-তাইমী (সুলায়মান), আস-সাকাফী (আবদুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল মাজীদ), আয-যুবাইদী (মুহাম্মাদ ইবনে ওয়ালিদ), আয-যুবাইরী (আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসাদী), আয-যুহরী (মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিহাব), আস-সাবিয়ী (আমর ইবনে আবদুল্লাহ আবু ইসহাক), আস-সাঈদী (আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ), আশ-শাবী (আমের ইবনে শারাহীল), আশ-শায়বানী (আবু ইসহাক সুলায়মান ইবনে আবি সুলায়মান), আস-সুনাবিহী (আবদুর রহমান ইবনে উসাইলাহ), আল-আদানী (আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ), আল-আকাদী (আবদুল মালিক ইবনে আমর আবু আমের), আল-উমারী।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٦)
عبيد الله بن عمر بن حفص، الفروي إسحق بن محمد، الفريابي محمد بن يوسف، الفزاري أبو إسحق إبراهيم بن محمد الدمشقي، القمي هو يعقوب بن عبد الله له موضع واحد في الطب، المجمر نعيم بن عبد الله، المحاربي عبد الله بن محمد، المسعودي اسمه عبد الرحمن بن عبد الله، المعمري أبو سفيان محمد بن حميد، المقبري أبو سعيد كيسان وابنه سعيد، المقدمي محمد بن أبي بكر، المقري أبو عبد الرحمن عبد الله بن يزيد، الملائي أبو نعيم الفضل بن دكين.

ومن الرواة من نسب إلى غير أبيه كيعلى ابن مية نسب إلى جدّته واسم أبيه أمية، ومعاذ ومعوذ

 

وعوذ بنو عفراء هي أمهم وأبوهم الحرث بن رفاعة، وعبد الله ابن بحينة هي أمه وأبوه مالك، وعبد الله بن أُبي ابن سلول هي أم أُبيّ، ومنهم من نسب إلى زوج أمه كالمقداد بن الأسود. وقد ينسب الراوي إلى نسبة يكون الصواب خلاف ظاهرها كأبي مسعود عقبة بن عمرو البدري، إذ إنه لم ينسب لشهوده بدرًا في قول الجمهور وإن عدّه البخاري فيمن شهدها، بل كان ساكنًا بها، وكسليمان بن طرخان التيمي ليس من تيم بل نزل بها.

وأما المبهمات في الحديث وتكون في الإسناد والمتن من الرجال والنساء، ويتوصل لمعرفتها بجمع طرق الحديث غالبًا. مثاله في السند إبراهيم بن أبي عبلة عن رجل عن واثلة، فالرجل هو الغريق بفتح الغين المعجمة، وفي المتن حديث أبي سعيد الخدري في ناس من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرّوا بحيّ فلم يضيفوهم فلدغ سيدهم فرقاه رجل منهم، الراقي هو أبو سعيد الراوي المذكور. وما في البخاري من هذا النوع يأتي مفسرًا في مواضعه من هذا الشرح إن شاء الله تعالى بعون الله تعالى.

 

المؤتلف والمختلف وهو ما تتفق صورته خطأ وتختلف صفته لفظًا وهو مما يقبح جهله بأهل الحديث، ومنه في البخاري الأحنف بالحاء المهملة والنون، وبالخاء المعجمة والمثناة التحتية، مكرز بن حفص بن الأحنف، له ذكر في الحديث الطويل في قصة الحديبية. وبشار بالموحدة والمعجمة المشدّدة والد بندار شيخ البخاري والجماعة، وبقية من فيه بهذه الصورة بالتحتية والسين المهملة المخففة وبتقديم السين وتثقيل التحتية أبو المنهال سيار بن سلامة التابعي، إلى غير ذلك مما لا نطيل بسرده لا سيما مع الاستغناء بذكره في هذا الشرح إن شاء الله تعالى بعونه. وإذا علم هذا فليعلم أن شرط الراوي للحديث أن يكون مكلفًا عدلاً متقنًا ويعرف إتقانه بموافقة الثقات، ولا تضرّ مخالفته النادرة، ويقبل الجرح إن بان سببه للاختلاف فيما يوجب الجرح بخلاف التعديل فلا يشترط، ورواية العدل عمن سماه لا تكون تعديلاً، وقيل إن كانت عادته أن لا يروي إلا عن عدل كالشيخين فتعديل وإلا فلا، ولا يقبل مجهول العدالة وكذا مجهول العين الذي لم تعرفه العلماء، وترفع الجهالة عنه رواية اثنين مشهورين بالعلم. والصحابة كلهم عدول، وقبل المستور قوم ورجحه ابن الصلاح. ولا يقبل حديث مبهم ما لم يسمّ إذ شرط قبول الخبر عدالة ناقله، ومن أبهم اسمه لا تعرف عينه فكيف تعرف عدالته ولا يقبل من به بدعة كفر، أو يدعو إلى بدعة، وإلا قبل لاحتجاج البخاري وغيره بكثير من المبتدعين غير الدعاة، ويقبل التائب. وينبغي أن يعرف من اختلط من الثقات في آخر عمره لفساد عقله وخرفه ليتميز من سمع منه قبل ذلك فيقبل حديثه أو بعده فيرد، ومن روى عنه منهم في الصحيحين محمول على السلامة، وقد أعرضوا عن اعتبار هذه الشروط في زماننا لإبقاء سلسلة الإسناد فيعتبر البلوغ والعقل والستر والإتقان ونحوه. ولألفاظ التعديل مراتب أعلاها ثقة أو متقن أو ضابط أو حجة، ثانيها خير صدوق مأمون لا بأس به وهؤلاء يكتب حديثهم، ثالثها شيخ وهذا يكتب حديثه للاعتبار، رابعها صالح الحديث فيكتب وينظر فيه. ولألفاظ التجريح مراتب أيضًا أدناها لين الحديث يكتب وينظر اعتبارًا، ثانيها ليس بقوي وليس بذاك، ثالثها مقارب الحديث أي

رديئه، رابعها متروك الحديث وكذاب ووضاع ودجال وواهٍ وواه بمرّة بموحدة مكسورة فميم مفتوحة وراء مشددة أي قولاً واحدًا لا تردّد فيه، وهؤلاء ساقطون لا يكتب
উবায়দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে হাফস, আল-ফারওয়ী ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ, আল-ফারইয়াবী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আল-ফাযারী আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকী, আল-কুম্মী হলেন ইয়াকুব ইবনে আবদুল্লাহ—চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর একটি স্থান রয়েছে, আল-মুজমির নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ, আল-মুহারিবী আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, আল-মাসউদী তাঁর নাম হলো আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ, আল-মামারি আবু সুফিয়ান মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ, আল-মাকবুরি আবু সাঈদ কায়সান এবং তাঁর পুত্র সাঈদ, আল-মুকাদ্দামী মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, আল-মুকরি আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ, আল-মুলায়ী আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন।

এবং রাবীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যারা তাদের পিতা ব্যতীত অন্যের নামে পরিচিতি লাভ করেছেন, যেমন ইয়ালা ইবনে মুনইয়াহ; তিনি তাঁর দাদীর দিকে সম্বন্ধিত হয়েছেন এবং তাঁর পিতার নাম হলো উমাইয়া। এবং মুয়ায ও মুআউওয়ায

 

ও আউয তারা আফরার সন্তান; আফরা হলেন তাঁদের মা এবং তাঁদের পিতা হলেন আল-হারিস ইবনে রিফাআ। এবং আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনা; বুহাইনা তাঁর মা এবং তাঁর পিতা হলেন মালিক। এবং আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল; সালুল হলো উবাই-এর মা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর মায়ের স্বামীর দিকে সম্বন্ধিত হয়েছেন, যেমন মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ। কখনো কখনো রাবীকে এমন পরিচয়ে সম্বন্ধিত করা হয় যার সঠিক রূপটি বাহ্যিক রূপের বিপরীত হয়ে থাকে, যেমন আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমর আল-বাদরী; কেননা জমহুর বা অধিকাংশের মতে তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত থাকার কারণে এই সম্বন্ধ লাভ করেননি, যদিও ইমাম বুখারী তাঁকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণনা করেছেন; বরং তিনি সেখানে বসবাসকারী ছিলেন। এবং সুলাইমান ইবনে তারখান আত-তাইমী; তিনি তাইম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি সেখানে অবতরণ করেছিলেন (বসবাস করেছিলেন)।

আর হাদিসের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ (মুবহামাত), যা সনদ ও মতনের মধ্যে পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের বিভিন্ন সূত্র বা পথ একত্রিত করার মাধ্যমে জানা যায়। সনদের মধ্যে এর উদাহরণ হলো ইবরাহিম ইবনে আবি আবলা জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেছেন; এখানে সেই 'ব্যক্তি' হলেন আল-গরিক (গাইন বর্ণের উপর ফাতহা সহকারে)। আর মতনের মধ্যে উদাহরণ হলো আবু সাঈদ আল-খুদরীর হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একদল সাহাবী একটি গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করেনি, এরপর তাদের নেতা দংশিত হলো এবং তাদের একজন তাকে ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) করলেন; এখানে ঝাড়ফুঁককারী ব্যক্তি হলেন উল্লিখিত রাবী আবু সাঈদ নিজেই। বুখারীতে এই প্রকারের যা কিছু আছে, তা এই শরহে (ব্যাখ্যাগ্রন্থে) ইনশাআল্লাহ আল্লাহর সাহায্যে যথাস্থানে ব্যাখ্যা করা হবে।

 

আল-মু'তালিফ ও আল-মুখতালিফ: এটি হলো তা-ই যার লেখার আকৃতি এক কিন্তু উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। এটি সম্পর্কে হাদিসবিশারদদের অজ্ঞ থাকা দোষণীয়। বুখারীতে এর উদাহরণ হলো আল-আহনাফ (নুকতাহীন হা এবং নূন যোগে), আর আল-আখনাফ (নুকতাহযুক্ত খা এবং ইয়া যোগে), মিকরায ইবনে হাফস ইবনে আল-আহনাফ; হুদাইবিয়ার কাহিনীর দীর্ঘ হাদিসে তাঁর উল্লেখ রয়েছে। এবং বাশশার (বা এবং তাশদীদযুক্ত শীন যোগে), তিনি হলেন বুন্দার—বুখারী ও জামাতের শিক্ষক। আর এই একই আকৃতিতে অবশিষ্ট যারা রয়েছেন তারা ইয়াকার ও সাকিন সীন যোগে এবং সীনকে আগে এনে ইয়াকারে তাশদীদ দিয়ে সাইয়্যার ইবনে সালামা তাবিঈ; এ ছাড়াও আরও অনেক রয়েছে যা বিস্তারিত উল্লেখ করে আমরা দীর্ঘ করব না, বিশেষত এই শরহে এর উল্লেখের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় ইনশাআল্লাহ তাঁরই সাহায্যে। আর যখন এটি জানা গেল, তখন এও জেনে রাখা উচিত যে, হাদিসের রাবীর শর্ত হলো তাকে মুকাল্লাফ (দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন), আদিল (ন্যায়পরায়ণ) ও মুতকিন (নির্ভুল বর্ণনাকারী) হতে হবে। নির্ভরযোগ্য রাবীদের সাথে তাঁর মিল থাকার মাধ্যমে তাঁর নির্ভুলতা জানা যায় এবং তাঁর কদাচিৎ ভুল বা বিরোধিতা কোনো ক্ষতি করে না। জারহ (সমালোচনা) গ্রহণ করা হবে যদি এর কারণ সুস্পষ্ট হয়, কারণ জারহ হওয়ার কারণসমূহ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; পক্ষান্তরে তাদিল (প্রশংসা)-এর ক্ষেত্রে কারণ স্পষ্ট করা শর্ত নয়। একজন আদিল রাবী যার নাম উল্লেখ করে বর্ণনা করেছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদিল বলে গণ্য হবে না; তবে বলা হয়েছে যে, যদি তাঁর অভ্যাস এমন হয় যে তিনি আদিল ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও থেকে বর্ণনা করেন না—যেমন শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)—তবে তা তাদিল হবে, অন্যথায় নয়। যার ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (মাজহুল আল-আদালাহ) তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না, একইভাবে মাজহুল আল-আইন (যার ব্যক্তিসত্তা অজ্ঞাত) যাকে উলামাগণ চেনেন না; তাঁর এই অজ্ঞাত অবস্থা দূরীভূত হবে যদি ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ দুইজন ব্যক্তি তাঁর থেকে বর্ণনা করেন। সাহাবীগণ সকলেই আদিল বা ন্যায়পরায়ণ। মাসতূর (যার বাহ্যিক অবস্থা ভালো কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত) ব্যক্তির বর্ণনা একদল গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে আস-সালাহ এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অস্পষ্ট বা নামহীন (মুবহাম) ব্যক্তির হাদিস গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না তার নাম উল্লেখ করা হয়, কারণ সংবাদ গ্রহণের শর্ত হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা; আর যার নামই অস্পষ্ট তার সত্তাই জানা যায় না, তাহলে তার ন্যায়পরায়ণতা কীভাবে জানা যাবে? এমন কোনো ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না যার মধ্যে কুফরী বিদআত আছে অথবা যে বিদআতের দিকে আহ্বান করে; অন্যথায় বর্ণনা গ্রহণ করা হবে, কারণ ইমাম বুখারী ও অন্যগণ দাওয়াত প্রদানকারী নন এমন অনেক বিদআতপন্থীর বর্ণনা দিয়ে দলিল গ্রহণ করেছেন। তওবাকারীর বর্ণনা গ্রহণ করা হবে। নির্ভরযোগ্য রাবীদের মধ্যে শেষ বয়সে এসে যাদের মস্তিষ্ক বিকৃতি বা বার্ধক্যজনিত কারণে সংমিশ্রণ (ইখতিলাত) ঘটেছিল, তাদের চিনে রাখা প্রয়োজন, যাতে যারা তার পূর্বে শুনেছেন তাদের হাদিস গ্রহণ করা যায় এবং যারা পরে শুনেছেন তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা যায়। তাদের মধ্যে যাদের থেকে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণনা করা হয়েছে, তা বিপদমুক্ত বলে গণ্য হবে। আমাদের যুগে সনদের ধারা বজায় রাখার জন্য তারা এই শর্তগুলো বিবেচনার বাইরে রেখেছেন, তাই সাবালকত্ব, বুদ্ধি, সতর (দোষ গোপন থাকা) এবং নিপুণতা ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। তাদিল বা প্রশংসার শব্দসমূহের স্তর রয়েছে: সর্বোচ্চ হলো সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), মুতকিন (সুনিপুণ), দ্বাবিত (সংরক্ষণকারী) বা হুজ্জাহ (প্রমাণ)। দ্বিতীয় স্তর হলো খাইর (উত্তম), সাদুক (সত্যবাদী), মামুন (আমানতদার), লা বাসা বিহি (তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই)—এদের হাদিস লিখে রাখা হয়। তৃতীয় স্তর হলো শাইখ—এর হাদিস বিবেচনার (এতেবার) জন্য লিখে রাখা হয়। চতুর্থ স্তর হলো সলিহ আল-হাদিস—এটি লিখে রাখা হয় এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাজরীহ বা সমালোচনার শব্দসমূহেরও স্তর রয়েছে: সর্বনিম্ন হলো লাইয়্যিনুল হাদিস (হাদিসে শিথিল)—বিবেচনার জন্য লিখে রাখা হয় এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়। দ্বিতীয় স্তর হলো লাইসা বি-কাউয়ি (শক্তিশালী নয়) এবং লাইসা বি-যাকা (ততটা তেমন নয়)। তৃতীয় স্তর হলো মুকারিবুল হাদিস অর্থাৎ

দুর্বল বা মন্দ হাদিস সম্পন্ন। চতুর্থ স্তর হলো মাত্রুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস), কায্যাব (মিথ্যাবাদী), ওয়াদ্দা (জালকারী), দাজ্জাল, ওয়াহিন (অসার) এবং ওয়াহিন বি-মাররাতিন (একান্তই অসার)—যাতে কোনো দ্বিমত নেই এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা পরিত্যাজ্য বলে গণ্য হয়; তারা অধঃপতিত এবং তাদের হাদিস লেখা হয় না।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٧)
عنهم، وفي رواية من أخذ على الحديث (يعني أجرة) تردّد. وفي المتساهل في سماعه وإسماعه كمن لا يبالي بالنوم فيه، أو يحدّث لا من أصل مصحح، أو كثير السهو في روايته إن حدّث من غير أصل، أو أكثر الشواذ والمناكير في حديثه، ومن غلط في حديثه فبيّن له وأصرّ عنادًا ونحوه سقطت روايته، ويستحب الاعتناء بضبط الحديث وتحقيقه نقطًا وشكلاً وإيضاحًا من غير مشق ولا تعليق بحيث يؤمن معه اللبس أو إنما يشكل المشكل ولا يشتغل بتقييد الواضح. وصوَّب عياض شكل الكل للمبتدئ وغير المعرب، ورأى بعض مشايخنا الاقتصار في ضبط البخاري على رواية واحدة لا كما يفعله من ينسخ البخاري من نسخة الحافظ شرف الدين اليونينيّ، لما يقع في ذلك من الخلط الفاحش بسبب عدم التمييز ويتأكد ضبط الملبس من الأسماء، لأنه نقل محض لا مدخل للإفهام فيه، كبريد بضم الموحدة، فإنه يشتبه بيزيد بالتحتية فضبط ذلك أولى لأنه ليس قبله ولا بعده شيء يدل عليه، ولا مدخل للقياس فيه، وليقابل ما يكتبه بأصل شيخه أو بأصل أصل شيخه المقابل به أصل شيخه أو فرع مقابل بأصل السماع، وليعن بالتصحيح بأن يكتب صح على كلام صح رواية، ومعنى لكونه عرضة للشك أو الخلاف. وكذا بالتضبيب ويسمى التمريض بأن يمدّ خطًّا أوّله كرأس الصاد ولا يلصقه بالممدود عليه على ثابت نقلاً فاسد لفظًا أو معنىً أو ضعيف أو ناقص، ومن الناقص موضع الإرسال. وإذا كان للحديث إسنادان فأكثر كتب عند الانتقال من إسناد إلى إسناد ح مفردة مهملة إشارة إلى التحويل من أحدهما إلى الآخر، ويأتي مبحثها إن شاء الله تعالى في أوائل الشرح. وإذا قرأ إسناد شيخه المحدّث أوّل الشروع وانتهى عطف عليه بقوله في أوّل الذي يليه، وبه قال حدثنا ليكون كأنه أسنده إلى صاحبه في كل حديث.

 

وأنواع التحمل أعلاها السماع من لفظ الشيخ سواء قرأ بنفسه أو قرأ غيره على الشيخ، وهو يسمع ويقول فيه عند الأداء أخبرنا، والأحوط الإفصاح. فإن قرأ بنفسه قال قرأت على فلان، وإلا قال قرئ على فلان وأنا أسمع. ثم الإجازة المقرونة بالمناولة بأن يدفع إليه الشيخ أصل سماعه أو فرعًا مقابلاً عليه، ويقول هذا سماعي أو روايتي عن فلان فاروه عني وأجزت لك روايته. ثم الإجازة وهي أنواع أعلاها لمعين كأجزتك البخاري مثلاًَ أو أجزت فلانًا الفلاني جميع فهرستي ونحوه، أو أجزته بجميع مسموعاتي أو مروياتي، أو أجزت للمسلمين أو لمن أدرك حياتي أو لأهل الإقليم الفلاني. ويقول المحدث بها أنبأنا أو أنبأني، ثم المكاتبة بأن يكتب مسموعه أو مقروءه جميعه أو بعضه لغائب أو حاضر بخطه أو بإذنه مقرونًا ذلك بالإجازة أولاً، ثم الإعلام بأن يقول له هذا الكتاب رويته أو سمعته مقتصرًا على ذلك من غير إذن، وهذه جوّزها كثير من الفقهاء والأصوليين منهم ابن جريج وابن الصباغ. ثم الوصية بأن يوصي الراوي عند موته أو سفره لشخص بكتاب يرويه، فجوّزه محمد بن سيرين وعلّله عياض بأنه نوع من الإذن، والصحيح عدم الجواز إلا إن كان

 

له من الموصي إجازة فتكون روايته بها لا بالوصية. ثم الوجادة بأن يقف على كتاب بخط يعرفه لشخص عاصره أولاً فيه أحاديث يرويها ذلك الشخص ولم يسمعها ذلك الواجد ولا له منه إجازة، فيقول وجدت أو قرأت بخط فلان كذا ثم يسوق الإسناد والمتن.

(تنبيه): وشرط صحة الإجازة أن تكون من عالم بالمجاز، والمجاز له من أهل العلم المجاز به صناعة، وعن ابن عبد البر الصحيح أن الإجازة لا تقبل إلا لماهر بالصناعة حاذق فيها يعرف كيف يتناولها، وما لا يشكل إسناده لكونه معروفًا معينًا وإن لم يكن كذلك لم يؤمن أن يحدث المجاز عن الشيخ بما ليس من حديثه أو ينقص من إسناده الرجل والرجلين، وقال ابن سيد الناس أقل مراتب المجيز أن يكون عالمًا بمعنى الإجازة العلم الإجمالي من أنه روى شيئًا، وأن معنى إجازته لذلك الغير في رواية ذلك الشيء عنه بطريق الإجازة المعهودة لا العلم التفصيليّ بما روى، وبما يتعلق بأحكام الإجازة. وهذا العلم الإجمالي حاصل فيما رأيناه من عوّام الرواة، فإن انحط راوٍ في الفهم عن هذه الدرجة، ولا إخال
তাদের থেকে বর্ণিত, আর এক বর্ণনায় এসেছে যারা হাদিসের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করে (অর্থাৎ পারিশ্রমিক), সে বিষয়ে সংশয় বা দ্বিমত রয়েছে। আর যারা হাদিস শোনা ও শোনানোর ক্ষেত্রে শিথিল, যেমন যারা পাঠ চলাকালীন ঘুমানোর ব্যাপারে পরোয়া করে না, অথবা এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করে যা কোনো সংশোধিত মূল কপির ভিত্তিতে নয়, অথবা তার বর্ণনায় অনেক ভুল থাকে যদি সে মূল পাণ্ডুলিপি ছাড়াই বর্ণনা করে, অথবা তার হাদিসে যদি শায (বিচ্ছিন্ন) ও মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনার আধিক্য থাকে, আর যে ব্যক্তি তার বর্ণনায় ভুল করেছে এবং তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও সে একগুঁয়েমি করে তার ওপর অটল থাকে—তাদের বর্ণনা বাতিল হয়ে যাবে। হাদিসের নুকতা, হরকত ও স্পষ্টকরণের মাধ্যমে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করার প্রতি যত্নশীল হওয়া মুস্তাহাব। এটি হতে হবে কোনো অহেতুক কষ্ট বা তালীক (ঝুলন্ত লিখন) ছাড়াই, যাতে সংশয় দূর হয়। কেবলমাত্র যা অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করতে হবে, আর যা পরিষ্কার তা নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজী আয়াজ সকল শব্দে হরকত দেওয়াকে নতুন শিক্ষার্থী ও যারা ব্যাকরণ জানে না তাদের জন্য সঠিক বলেছেন। আমাদের কোনো কোনো শাইখ সহিহ বুখারির ক্ষেত্রে কেবল একটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ضبط (যথাযথ নিয়ন্ত্রণ) করার মত দিয়েছেন, যা হাফেজ শরফুদ্দীন ইউনিনির কপি থেকে যারা বুখারি নকল করেন তাদের মতো নয়; কারণ এতে তমিজ (পার্থক্য) না থাকার দরুন মারাত্মক মিশ্রণ ঘটে যায়। যেসব নাম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো যথাযথভাবে লিখে রাখা জরুরি, কারণ এটি বিশুদ্ধ নকলের বিষয় যেখানে বুদ্ধির কোনো দখল নেই; যেমন বুরাইদ (ব-এ পেশ দিয়ে), যা ইয়াজিদ (নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ দিয়ে) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে। এটি লিখে রাখা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে বা পরে এমন কিছু নেই যা একে নির্দেশ করবে এবং এতে কিয়াসের (অনুমান) কোনো স্থান নেই। লিখনকারী যা লিখবে তা যেন তার শাইখের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অথবা শাইখের শাইখের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নেয়, যার সাথে শাইখের মূল পাণ্ডুলিপি মেলানো হয়েছিল অথবা এমন কোনো শাখার সাথে যা মূল শ্রুত পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানো হয়েছে। কোনো বর্ণনার শব্দ বা অর্থের ব্যাপারে সন্দেহ বা মতভেদ থাকলে তার ওপর 'সহ' লিখে সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে 'তাদবিব' (تضبيب), যাকে 'তামরিজ'ও বলা হয়—অর্থাৎ শব্দের শুরুতে 'সদ' (ص) এর মাথার মতো একটি দীর্ঘ রেখা টেনে দেওয়া (তবে শব্দের সাথে তা মিলিয়ে দেওয়া যাবে না)—এটি করতে হবে এমন শব্দের ওপর যা বর্ণনায় সাব্যস্ত হলেও শব্দ বা অর্থের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ, দুর্বল বা অসম্পূর্ণ। মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্র) হওয়াও অসম্পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। যদি কোনো হাদিসের দুই বা ততোধিক সনদ থাকে, তবে এক সনদ থেকে অন্য সনদে যাওয়ার সময় একটি পৃথক 'হ' (ح) বর্ণ লিখতে হয় যা রূপান্তর (তাহউইল) নির্দেশ করে। এর আলোচনা ইনশাআল্লাহ তায়ালা শারাহর শুরুতে আসবে। শাইখ যখন হাদিস বর্ণনা শুরু করবেন এবং তার সনদ পড়া শেষ হবে, তখন তার পরবর্তী অংশে 'তিনি বলেছেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' কথাটি যুক্ত করতে হবে, যাতে মনে হয় তিনি প্রতিটি হাদিসকেই তার শাইখের দিকে সম্বন্ধ করছেন।

 

হাদিস গ্রহণের প্রকারভেদের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো শাইখের মুখ থেকে শোনা, চাই সে নিজে পাঠ করুক বা অন্য কেউ শাইখের সামনে পাঠ করুক। বর্ণনার সময় সে 'আখবারানা' (আমাদের খবর দিয়েছেন) বলবে, তবে বিষয়টি স্পষ্ট করা অধিক সতর্কতা। নিজে পাঠ করলে বলবে 'আমি অমুকের কাছে পাঠ করেছি', অন্যথায় বলবে 'অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম'। এরপর হলো মুনাওয়ালাহ যুক্ত ইজাজত; শাইখ তার শোনা বা যাচাইকৃত মূল পাণ্ডুলিপি শিক্ষার্থীকে দিয়ে বলবেন 'এটি আমার অমুকের নিকট থেকে শোনা বা প্রাপ্ত বর্ণনা, তুমি এটি আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো এবং আমি তোমাকে এর অনুমতি দিলাম'। এরপর কেবল ইজাজত। এরও বিভিন্ন স্তর আছে। সর্বোচ্চ স্তর হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ের অনুমতি, যেমন: 'আমি তোমাকে সহিহ বুখারির অনুমতি দিলাম'। অথবা 'আমি অমুককে আমার সংকলিত সকল তালিকার অনুমতি দিলাম'। অথবা 'আমার শোনা বা প্রাপ্ত সকল বর্ণনার অনুমতি দিলাম'। অথবা 'সকল মুসলিমের জন্য', অথবা 'আমার সমসাময়িকদের জন্য', অথবা 'অমুক অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য'। এক্ষেত্রে মুহাদ্দিস 'আনবাআনা' বা 'আনবাআনী' বলবেন। এরপর মুকাতাবাহ; অর্থাৎ শাইখ অনুপস্থিত বা উপস্থিত ব্যক্তির জন্য তার শোনা বা পাঠ করা বর্ণনার পূর্ণ বা অংশবিশেষ নিজ হাতে বা তার নির্দেশে লিখে দেবেন, যা আগে ইজাজতের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। এরপর ই'লাম (অবহিতকরণ); শাইখ বলবেন 'এই কিতাবটি আমি অমুকের কাছে শুনেছি বা বর্ণনা করেছি'—এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা, কোনো অনুমতি প্রদান ছাড়া। ইবনে জুরাইজ ও ইবনে সাব্বাগসহ অনেক ফকিহ ও উসুলবিদ একে জায়েয বলেছেন। এরপর অসিয়ত; বর্ণনাকারী তার মৃত্যু বা সফরের সময় কোনো ব্যক্তিকে তার বর্ণিত কিতাবের অসিয়ত করে যাওয়া। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন একে জায়েয বলেছেন এবং কাজী আয়াজ এর কারণ হিসেবে বলেছেন এটি এক ধরণের অনুমতি। তবে সঠিক মত হলো এটি জায়েয নয়, যদি না অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে কোনো ইজাজত (অনুমতি) থাকে;

 

সেক্ষেত্রে বর্ণনাটি হবে ইজাজতের ভিত্তিতে, অসিয়তের ভিত্তিতে নয়। এরপর হলো উইজাদাহ (প্রাপ্তি); কোনো ব্যক্তি তার সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী কারো পরিচিত হাতের লেখায় কোনো কিতাব পেল যাতে কিছু হাদিস রয়েছে যা ওই ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, অথচ তা প্রাপ্ত ব্যক্তি শাইখ থেকে শোনেনি এবং তার কোনো ইজাজতও নেই। সেক্ষেত্রে সে বলবে 'আমি অমুকের হাতের লেখায় এমন পেয়েছি বা পড়েছি', এরপর সে সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উল্লেখ করবে।

(সতর্কীকরণ): ইজাজত সহিহ হওয়ার শর্ত হলো এটি এমন আলেম থেকে হতে হবে যিনি ইজাজত সম্পর্কে জ্ঞাত, এবং যাকে ইজাজত দেওয়া হচ্ছে তাকেও শাস্ত্রীয় ইলমের অধিকারী হতে হবে। ইবনে আব্দুল বার বলেন, সঠিক কথা হলো ইজাজত কেবল এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তি ছাড়া গ্রহণ করা হবে না, যিনি জানেন কীভাবে এটি গ্রহণ করতে হয় এবং যার সনদ অস্পষ্ট নয়। যদি এমন না হয়, তবে ইজাজতপ্রাপ্ত ব্যক্তি শাইখের হাদিস নয় এমন কিছু বর্ণনা করা থেকে কিংবা সনদে একজন বা দুইজন বর্ণনাকারী বাদ দেওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে না। ইবনে সাইয়্যেদুন নাস বলেন, ইজাজতদাতার সর্বনিম্ন স্তর হলো ইজাজত সম্পর্কে তার অন্তত এইটুকু সামগ্রিক জ্ঞান থাকতে হবে যে সে কিছু বর্ণনা করছে এবং কাউকে অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো প্রচলিত পদ্ধতিতে তার পক্ষ থেকে সেটি বর্ণনা করার অনুমতি দেওয়া; বর্ণনাকৃত বিষয়ের বিস্তারিত জ্ঞান বা ইজাজতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিধান জানা জরুরি নয়। আমাদের দেখা সাধারণ বর্ণনাকারীদের মধ্যেও এই সামগ্রিক জ্ঞান বিদ্যমান থাকে। তবে বর্ণনাকারী যদি বুদ্ধিমত্তার এই স্তরের নিচে অবস্থান করে, তবে আমি মনে করি না...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٨)
أحدًا ينحط عن إدراك هذا إذا عرف به فلا أحسبه أهلاً لأن يتحمل عنه بإجازة ولا سماع، قال وهذا الذي أشبرت إليه من التوسع في الإجازة هو طريق الجمهور، قال شيخنا: وما عداه من التشديد فهو منافٍ لما جوّزت الإجازة له من بقاء السلسلة، نعم لا يشترط التأهل حين التحمل ولم يقل أحد بالأداء بدون شرط الرواية، وعليه يحمل قولهم أجزت له رواية كذا بشرطه، ومنه ثبوت المرويّ من حديث المجيز، وقال أبو مروان الطبنيّ أنها لا تحتاج لغير مقابلة نسخة بأصول الشيخ، وقال عياض: تصح بعد تصحيح روايات الشيخ ومسموعاته وتحقيقها وصحة مطابقة كتب الراوي لها والاعتماد على الأصول المصححة، وكتب بعضهم لمن علم منه التأهيل أجزت له الرواية عني، وهو لما علم من إتقانه وضبطه غنيّ عن تقييدي ذلك بشرطه انتهى. وليصلح النيّة في التحديث بحيث يكون مخلصًا لا يريد بذلك عرضًا دنيويًّا بعيدًا عن حب الرياسة ورعوناتها، وليقرأ الحديث بصوت حسن فصيح مرتل، ولا يسرطه سردًا لئلا يلتبس أو يمنع السامع من إدراك بعضه، وقد تسامح بعض الناس في ذلك وصار يعجل استعجالاً يمنع السامع من إدراك حروف كثيرة بل كلمات، والله تعالى بمنه وكرمه يهدينا سواء السبيل.

(لطيفة): أنبأني الحافظ نجم الدين ابن الحافظ تقيّ الدين وقاضي القضاة أبو المعالي محب الدين المكيان بها، والمحدّث العلامة ناصر الدين أبو الفرج المدني بها، قالوا: أخبرنا الإمام زين الدين بن الحسين وآخرون عن قاضي القضاة أبي عمر عبد العزيز عن قاضي القضاة بدر الدين الكنانيّ، قال: قرأت على الأستاذ أبي حيان محمد بن يوسف بن عليّ، قال حدّثنا الأستاذ أبو جعفر أحمد بن إبراهيم بن الزبير، قال أبو عمرو منه إجازة، قال حدثنا القاضي أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أحمد الأزدي، قال حدثنا أبو عبد الله محمد بن حسن بن عطية ح، قال أبو حيان وأنبأنا الأصولي أبو الحسين ابن القاضي أبي عامر بن ربيع عن أبي الحسن أحمد بن عليّ الغافقي، قال أخبرنا عياض ح، قال أبو حيان وكتب لنا الخطيب أبو الحجاج يوسف بن أبي ركانة عن القاضي أبي القاسم

 

أحمد بن عبد الودود بن سمجون، قال وعياض أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الله بن العربي المعافري، قال أخبرنا أبو محمد هبة الله بن أحمد الأكفاني، قال حدّثنا الحافظ عبد العزيز بن أحمد بن محمد الكناني الدمشقي، حدّثنا أبو عصمة نوح بن الفرغاني، قال: سمعت أبا المظفر عبد الله بن محمد بن عبد الله بن قتّ الخزرجي وأبا بكر محمد بن عيسى البخاري، قال سمعنا أبا ذر عمار بن محمد بن مخلد التميمي يقول: سمعت أبا المظفر محمد بن أحمد بن حامد بن الفضل البخاري يقول: "لما عزل أبو العباس الوليد بن إبراهيم بن زيد الهمداني عن قضاء الريّ ورد بخارى سنة ثمان عشرة وثلاثمائة لتجديد مودة كانت بينه وبين أبي الفضل البلعمي فنزل في جوارنا، فحملني معلمي أبر إبراهيم إسحق بن إبراهيم الختلي إليه فقال له أسالك أن تحدث هذا الصبي عن مشايخك، فقال ما لي سماع، قال فكيف وأنت فقيه فما هذا، قال لأني لما بلغت مبلغ الرجال تاقت نفسي إلى معرفة الحديث ورواية الأخبار وسماعها، فقصدت محمد بن إسماعيل البخاري ببخارى صاحب التاريخ والمنظور إليه في علم الحديث، وأعلمته مرادي وسألته الإقبال على ذلك، فقال لي يا بني لا تدخل في أمر إلا بعد معرفة حدوده والوقوف على مقاديره، فقلت عرّفني رحمك الله حدود ما قصدتك له ومقادير ما سألتك عنه، فقال لي: اعلم أن الرجل لا يصير محدّثًا كاملاً في حديثه إلاّ بعد أن يكتب أربعًا مع أربع، كأربع مثل أربع، في أربع عند أربع، بأربع على أربع، عن أربع لأربع، وكل هذه الرباعيات لا تتم إلا بأربع مع أربع، فإذا تمت له كلها كان عليه أربع، وابتلي بأربع، فإذا صبر على ذلك أكرمه الله تعالى في الدنيا بأربع، وأثابه في الآخرة بأربع. قلت له فسّر لي رحمك الله ما ذكرت من أحوال هذه الرباعيات من قلب صافٍ بشرح كافٍ وبيان شافٍ طلبًا للأجر الوافي، فقال: نعم، الأربعة التي يحتاج إلى كتبها هي أخبار الرسول صلى الله عليه وسلم وشرائعه والصحابة رضي الله عنهم ومقاديرهم
যদি কেউ এটি অবহিত হওয়ার পর তা অনুধাবন করতে অক্ষম হয়, তবে আমি তাকে ইজাযাহ (অনুমতি) বা সামা' (শ্রবণ) এর মাধ্যমে ইলম গ্রহণের যোগ্য মনে করি না। তিনি বলেছেন, ইজাযাহর ক্ষেত্রে এই যে প্রশস্ততার কথা আমি উল্লেখ করেছি, তা-ই জুমহুর বা অধিকাংশ আলিমের অনুসৃত পথ। আমাদের শায়খ বলেছেন: এর বিপরীতে যে কঠোরতা রয়েছে, তা ইজাযাহর অনুমোদিত উদ্দেশ্যের (অর্থাৎ সনদ পরম্পরা বজায় রাখা) পরিপন্থী। হ্যাঁ, ইলম গ্রহণের সময় পূর্ণ যোগ্যতা অর্জিত হওয়া শর্ত নয়, তবে বর্ণনার শর্ত ব্যতিরেকে তা প্রচার বা বর্ণনা করার কথা কেউ বলেননি। আর এরই ওপর ভিত্তি করে তাঁদের এই উক্তিটি প্রযোজ্য হয়: 'আমি তাকে অমুক বিষয়টি বর্ণনা করার অনুমতি দিলাম তার যথাযথ শর্তসাপেক্ষে'। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বর্ণনাকারীর হাদীস থেকে বর্ণিত বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া। আবু মারওয়ান আত-তুবনী বলেছেন যে, শায়খের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অনুলিপি মিলিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুর প্রয়োজন নেই। ইয়ায বলেছেন: শায়খের বর্ণনা ও শ্রুত বিষয়সমূহ সংশোধন ও যাচাই করার পর, এবং রাবীর কিতাবের সাথে তার সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এবং সংশোধিত মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে তা শুদ্ধ হবে। কেউ কেউ যাদের মাঝে যোগ্যতা লক্ষ্য করেছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন: 'আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিলাম'। এটি তাঁর পারদর্শিতা ও নিখুঁতকরণের কারণে আমার পক্ষ থেকে শর্তযুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থেকে তাকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। সমাপ্ত। আর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নিয়তকে সংশোধন করে নিতে হবে যেন তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় এবং এর দ্বারা পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য, নেতৃত্বের লালসা বা অহংকার যেন স্থান না পায়। হাদীস স্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও ধীরস্থির কণ্ঠে পাঠ করা উচিত। দ্রুততার সাথে গড়গড় করে পড়া উচিত নয়, যাতে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি না হয় অথবা শ্রোতা কোনো অংশ অনুধাবন করা থেকে বঞ্চিত না হয়। কিছু লোক এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং এমন দ্রুততা অবলম্বন করেন যা শ্রোতাকে অনেক অক্ষর এমনকি শব্দ অনুধাবনেও বাধা দেয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন।

(লতিফাহ): হাফেয নাজমুদ্দিন ইবনে হাফেয তাকিউদ্দিন এবং কাযিউল কুযাত আবু আল-মাআলি মুহিব্বুদ্দিন—উভয় মক্কী, এবং মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দিন আবু আল-ফারাজ মাদানী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: ইমাম যাইনুদ্দিন বিন হুসাইন ও অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযিউল কুযাত আবু উমর আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি কাযিউল কুযাত বদরুদ্দিন আল-কিনানি থেকে, তিনি বলেছেন: আমি উস্তাদ আবু হাইয়ান মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলীর কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: উস্তাদ আবু জাফর আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আয-যুবাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আমর থেকে এটি ইজাযাহ (অনুমতি), তিনি বলেন: কাযি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আযদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আতিয়্যাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (হা), আবু হাইয়ান বলেন: উসুলি আবু আল-হুসাইন ইবনুল কাযি আবু আমির বিন রবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আলী আল-গাফেকি থেকে, তিনি বলেন: ইয়ায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হা), আবু হাইয়ান বলেন: খতিব আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আবি রুকানাহ আমাদের কাছে কাযি আবু আল-কাসিম...

 

আহমাদ বিন আব্দুল ওদুদ বিন সামজুন থেকে লিখেছেন, তিনি বলেন এবং ইয়ায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল আরাবি আল-মাআফিরি থেকে, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আকফানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেয আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-কিনানি আদ-দিমাশকি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ইসমা নুহ বিন আল-ফারগানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আল-মুজাফফর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কাত্ত আল-খাযরাজি এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলেন: আমরা আবু যার আম্মার বিন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আত-তামিমিকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামিদ বিন আল-ফাযল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি: "যখন আবু আল-আব্বাস আল-ওয়ালিদ বিন ইবরাহিম বিন যাইদ আল-হামদানিকে রাই শহরের বিচারকের পদ থেকে অপসারিত করা হলো, তখন তিনি ৩১৮ হিজরিতে আবু আল-ফাযল আল-বালআমির সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্ব নবায়নের উদ্দেশ্যে বুখারায় আগমন করেন এবং আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান করেন। তখন আমার শিক্ষক আবু ইবরাহিম ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-খাতালি আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে বললেন: আমি আপনাকে অনুরোধ করছি এই বালকটিকে আপনার শায়খদের পক্ষ থেকে হাদীস শোনানোর জন্য। তিনি বললেন: আমার তো কোনো সামা' (সরাসরি শ্রবণ) নেই। শিক্ষক বললেন: তা কী করে হয়! আপনি একজন ফকিহ হওয়া সত্ত্বেও এটি কেমন কথা? তিনি বললেন: কারণ আমি যখন যৌবনে পদার্পণ করি, তখন আমার মনে হাদীস চেনা, বর্ণনা করা ও শোনার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। তখন আমি বুখারায় মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির নিকট উপস্থিত হলাম, যিনি 'তারিখ' গ্রন্থের প্রণেতা এবং হাদীসশাস্ত্রে প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। আমি তাঁকে আমার উদ্দেশ্যের কথা জানালাম এবং এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস! কোনো বিষয়ে এর সীমারেখা ও পরিমাণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন না করে তাতে প্রবেশ করো না। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আমি যে উদ্দেশ্যে আপনার কাছে এসেছি তার সীমারেখা ও পরিমাণ সম্পর্কে আমাকে অবগত করুন। তিনি আমাকে বললেন: জেনে রেখো, কোনো ব্যক্তি তার হাদীসশাস্ত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুহাদ্দিস হতে পারে না, যতক্ষণ না সে চারের সাথে চার লিখে, চারের মতো চার, চারের মধ্যে চার, চারের নিকট চার, চারের দ্বারা চারের ওপর, চার থেকে চারের জন্য; আর এই সমস্ত চতুষ্টয় সম্পন্ন হয় না চারের সাথে চারের সমন্বয় ছাড়া। যখন এই সব তার জন্য পূর্ণ হবে, তখন তার ওপর বর্তাবে চার, সে পরীক্ষিত হবে চারের দ্বারা; অতঃপর যদি সে তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়াতে চারটি বিষয়ের মাধ্যমে সম্মানিত করবেন এবং আখিরাতে চারটি বিষয়ের মাধ্যমে পুরস্কৃত করবেন। আমি তাঁকে বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি এই চতুষ্টয়গুলোর যে অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, তা আমার কাছে একটি স্বচ্ছ হৃদয়ের জন্য পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ও নিরাময়দানকারী বর্ণনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করুন যেন আমি পূর্ণ সওয়াব লাভ করতে পারি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, যে চারটি বিষয় লেখা প্রয়োজন তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহ ও তাঁর প্রবর্তিত শরীয়াহসমূহ, এবং সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও তাঁদের মর্যাদাবলি..."
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ١٩)
والتابعين وأحوالهم وسائر العلماء وتواريخهم مع أسماء رجالهم وكناهم وأمكنتهم وأزمنتهم، كالتحميد مع الخطب، والدعاء مع التوسّل، والبسملة مع السورة، والتكبير مع الصلوات. مثل المسندات والمرسلات والموقوفات والمقطوعات، في صغره وفي إدراكه وفي شبابه وفي كهولته، عند فراغه وعند شغله وعند فقره وعند غناه، بالجبال والبحار والبلدان والبراري، على الأحجار والأخزاف والجلود والأكتاف، إلى الوقت الذي يمكنه نقلها إلى الأوراق، عمن هو فوقه وعمّن هو مثله وعمّن هو دونه. وعن كتاب أبيه يتيقن أنه بخط أبيه دون غيره لوجه الله تعالى طلبًا لمرضاته، والعمل بما وافق كتاب الله عز وجل منها، ونشرها بين طالبيها ومحبّيها، والتأليف في إحياء ذكره بعده، ثم لا تتم له هذه الأشياء إلا بأربع هي من كسب العبد أعني معرفة الكتابة واللغة والصرف والنحو، مع أربع هي من إعطاء الله تعالى، أعني القدرة والصحة والحرص والحفظ، فإذا تمت له هذه الأشياء كلها هان عليه أربع: الأهل والمال والولد والوطن، وابتلي بأربع: بشماتة الأعداء وملامة الأصدقاء وطعن الجهلاء وحسد العلماء. فإذا صبر على هذه المحن أكرمه الله عز وجل في الدنيا بأربع: بعز القناعة وبهيبة النفس وبلذة العلم وبحياة الأبد. وأثابه في الآخرة بأربع: بالشفاعة لمن أراد من إخوانه، وبظل العرش يوم لا ظل إلا ظله، وبسقي من أراد من حوض نبيه صلى الله عليه وسلم،

وبمجاورة النبيين في أعلى علييّن في الجنة، فقد أعلمتك يا بني مجملاً لجميع ما سمعت من مشايخي متفرقًا في هذا الباب، فأقبل الآن إلى ما قصدت إليه أو دع. فهالني قوله فسكت متفكرًا وأطرقت متأدبًا فلما رأى ذلك مني قال: وإن لم تطق حمل هذه المشاق كلها فعليك بالفقه يمكنك تعلمه وأنت في بيتك قارّ ساكن لا تحتاج إلى بُعد الأسفار ووطء الديار وركوب البحار، وهو مع ذا ثمرة الحديث، وليس ثواب الفقيه دون ثواب المحدّث في الآخرة، ولا عزه بأقل من عز المحدّث. فلما سمعت ذلك نقص عزمي في طلب الحديث وأقبلت على دراسة الفقه وتعلمه إلى أن صرت فيه متقدّمًا، ووقفت منه على معرفة ما أمكنني من تعلمه بتوفيق الله تعالى ومنّته، فلذلك لم يكن عندي ما أمليه على هذا الصبيّ يا أبا إبراهيم. فقال له أبو إبراهيم إن هذا الحديث الواحد الذي لا يوجد عند غيرك خير للصبي من ألف حديث نجده عند غيرك. انتهى".

وقد قال الخطيب البغدادي الحافظ إن علم الحديث لا يعلق إلاّ بمن قصر نفسه عليه ولم يضم غيره من الفنون إليه. وقال إمامنا الشافعي رحمه الله تعالى أتريد أن تجمع بين الفقه والحديث، هيهات. والله سبحانه وتعالى وليّ التوفيق والعصمة وله الحمد على كل حال وصلّى الله على سيّدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

 

‌‌الفصل الرابع

فيما يتعلق بالبخاري في صحيحه من تقرير شرطه وتحريره وضبطه وترجيحه على غيره كصحيح مسلم ومن سار كسيره والجواب عما انتقده عليه النقاد من الأحاديث ورجال الإسناد وبيان موضوعه، وتفرده بمجموعه، وتراجمه البديعة المثال، المنيعة المنال وسبب تقطيعه
للحديث واختصاره وإعادته له في الأبواب وتكراره وعدة أحاديثه الأصول والمكرّرة حسبما ضبطه الحافظ ابن حجر وحرره

وهذا الفصل أعزّك الله تعالى لخصته من مقدّمة فتح الباري، مستمدًّا من سيح فضله الجاري، أنبأتني المسندة أُم حبيبة زينب بنت الشوبكي المكية، أخبرنا البرهان بن صديق الرسام، أخبرنا أبو النون يونس بن إبراهيم عن أبي الحسن بن المقير عن أبي المعمر المبارك بن أحمد الأنصاري، قال أخبرنا أبو الفضل محمد بن طاهر المقدسي، قال في جزء شروط الأئمة له: اعلم أن البخاري ومسلمًا ومن ذكرنا بعدهما لم ينقل عن واحد منهم أنه قال شرطت أن أخرّج في كتابي مما يكون على الشرط الفلاني، وإنما يعرف ذلك من سير كتبهم فيعلم بذلك شرط كل رجل منهم، واعلم أن شرط البخاري
এবং তাবেয়ীগণ ও তাঁদের অবস্থা, অন্যান্য আলেমগণ ও তাঁদের ইতিহাস, সেই সাথে তাঁদের বর্ণনাকারীদের নাম, উপনাম, স্থান ও কাল; যেমন খুতবার সাথে আল্লাহর প্রশংসা, উসিলার সাথে দুআ, সূরার সাথে বিসমিল্লাহ এবং সালাতের সাথে তাকবীর। যেমন মুসনাদ, মুরসাল, মাওকুফ ও মাকতু হাদিসসমূহ; যা অর্জিত হয়েছে তাঁর শৈশবে, উপলব্ধির বয়সে, যৌবনে ও প্রৌঢ়ত্বে; তাঁর অবসরে ও ব্যস্ততায়, তাঁর অভাব ও সচ্ছলতায়; পাহাড়ে, সাগরে, জনপদে ও মরুভূমিতে; পাথর, মাটির পাত্রের টুকরো, চামড়া ও পশুর কাঁধের হাড়ের ওপর—যতক্ষণ না তিনি তা কাগজে স্থানান্তর করতে সক্ষম হন। তাঁর ঊর্ধ্বতন, সমপর্যায়ভুক্ত এবং তাঁর নিম্নস্থ ব্যক্তিদের থেকে (শিক্ষা গ্রহণ)। তাঁর পিতার কিতাব থেকে যা তিনি নিশ্চিত যে এটি অন্য কারো নয় বরং তাঁর পিতারই হাতের লেখা, যা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণে তাঁরই জন্য এবং সেগুলোর মধ্য থেকে আল্লাহর কিতাবের সাথে যা মিলে যায় তা আমল করার জন্য, জ্ঞানান্বেষী ও জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে তা প্রচারের জন্য এবং তাঁর পরে তাঁর স্মরণকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য গ্রন্থ রচনা করা। এরপর বান্দার উপার্জিত চারটি গুণ ব্যতীত এই বিষয়গুলো তাঁর জন্য পূর্ণ হয় না: লিখনশৈলী, ভাষা, শব্দতত্ত্ব ও ব্যাকরণ জ্ঞান; সেই সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত চারটি গুণ: সামর্থ্য, সুস্থতা, একাগ্রতা ও মুখস্থ শক্তি। যখন তাঁর জন্য এই সব বিষয় পূর্ণ হবে, তখন চারটি জিনিস তাঁর কাছে তুচ্ছ হয়ে যাবে: পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও স্বদেশ। আর তিনি চারটি বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষিত হবেন: শত্রুদের বিদ্রূপ, বন্ধুদের তিরস্কার, মূর্খদের কটূক্তি এবং আলেমদের হিংসা। তিনি যদি এই সকল পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করেন, তবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তাঁকে চারটি বিষয়ে সম্মানিত করবেন: অল্পে তুষ্টির মর্যাদা, আত্মার গাম্ভীর্য, জ্ঞানের স্বাদ এবং চিরন্তন জীবন। আর পরকালে তাঁকে চারটি প্রতিদান দেবেন: তাঁর ভাইদের মধ্যে যাঁর জন্য ইচ্ছা সুপারিশ করার অধিকার, আল্লাহর আরশের ছায়া যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাউজ থেকে যাকে ইচ্ছা পান করানোর সুযোগ,

এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে নবীদের সান্নিধ্য। হে বৎস! আমি তোমাকে এই অধ্যায়ে আমার শায়খদের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে যা কিছু শুনেছি তার সারসংক্ষেপ জানিয়ে দিলাম। এখন তুমি যা ইচ্ছা গ্রহণ করো বা বর্জন করো। তাঁর কথা আমাকে ভীত করল, তাই আমি চিন্তামগ্ন হয়ে চুপ রইলাম এবং আদবের সাথে মাথা নিচু করে রাখলাম। যখন তিনি আমার মধ্যে এই অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি বললেন: তুমি যদি এই সব কষ্ট সহ্য করতে না পারো, তবে তুমি ফিকহ চর্চা করো; তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করেই তা শিখতে পারবে, তোমাকে দীর্ঘ সফর করতে হবে না, দেশ-দেশান্তরে ঘুরতে হবে না এবং সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে না। অথচ ফিকহ হলো হাদিসেরই নির্যাস। পরকালে ফকীহ বা ফিকহবিদের সওয়াব মুহাদ্দিসের সওয়াবের চেয়ে কম নয় এবং তাঁর মর্যাদা মুহাদ্দিসের মর্যাদার চেয়ে কম নয়। যখন আমি এই কথা শুনলাম, তখন হাদিস অন্বেষণের সংকল্প আমার হ্রাস পেল এবং আমি ফিকহ পাঠ ও তা শিখতে মনোনিবেশ করলাম, এমনকি আমি তাতে অগ্রগণ্য হলাম। আল্লাহর তৌফিক ও অনুগ্রহে আমি যা শিখতে পেরেছি তার মাধ্যমে ফিকহের জ্ঞানে ব্যুৎপত্তি লাভ করলাম। হে আবু ইবরাহিম! এই কারণেই এই বালকের কাছে বর্ণনা করার মতো আমার কাছে কিছু ছিল না। তখন আবু ইবরাহিম তাঁকে বললেন: এই একটি হাদিস যা অন্য কারো কাছে নেই, তা এই বালকের জন্য অন্য কারো কাছে পাওয়া হাজার হাদিসের চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত।

হাফেজ খতিব বাগদাদী বলেছেন যে, হাদিস শাস্ত্র কেবল তাঁর সাথেই লেগে থাকে যে নিজেকে এর জন্য উৎসর্গ করে এবং এর সাথে অন্য কোনো শাস্ত্রকে যুক্ত করে না। আমাদের ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: তুমি কি ফিকহ ও হাদিসকে একত্রে মেলাতে চাও? অসম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তৌফিক ও হিফাজত দানকারী এবং সকল অবস্থায় তাঁরই প্রশংসা। আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

ইমাম বুখারী ও তাঁর সহীহ গ্রন্থের শর্তাবলি নির্ধারণ, সংশোধন, যাচাই এবং মুসলিমের সহীহ ও তাঁর পথে যারা চলেছেন তাদের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান প্রসঙ্গে। সেই সাথে সমালোচকগণ তাঁর হাদিস ও সনদের বর্ণনাকারীদের ওপর যে সমালোচনা করেছেন তার উত্তর, গ্রন্থের বিষয়বস্তু বর্ণনা, এর অনন্য সংকলন, তাঁর চমৎকার শিরোনামসমূহ—যা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন, হাদিস বিচ্ছিন্নকরণ ও সংক্ষেপ করার কারণ, বিভিন্ন অনুচ্ছেদে হাদিস পুনরাবৃত্তি করা এবং হাফেজ ইবনে হাজার কর্তৃক নির্ধারিত মূল ও পুনরাবৃত্ত হাদিসের সংখ্যা।

আল্লাহ তাআলা তোমাকে সম্মানিত করুন, এই অধ্যায়টি আমি ফাতহুল বারীর ভূমিকা থেকে সারসংক্ষেপ করেছি, তাঁর প্রবাহমান অনুগ্রহের সাগর থেকে সাহায্য নিয়ে। মুসনিদাহ উম্মে হাবিবা জয়নাব বিনতে শুবাকী মাক্কিয়া আমাকে জানিয়েছেন, বুরহান ইবনে সিদ্দিক আর-রাসসাম আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু নুন ইউনুস বিন ইবরাহিম আবু হাসান ইবনুল মুকাইর থেকে, তিনি আবুল মুয়াম্মার মুবারক বিন আহমদ আনসারী থেকে, তিনি বলেন, আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির মাকদিসি আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি তাঁর ইমামদের শর্তাবলি নামক পুস্তিকায় বলেছেন: জেনে রাখো, বুখারী, মুসলিম এবং তাঁদের পরে আমরা যাঁদের কথা উল্লেখ করেছি, তাঁদের কারো কাছ থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি বলেছেন—আমি শর্তারোপ করছি যে আমি আমার কিতাবে এমন হাদিস বের করব যা অমুক শর্তে হবে। বরং তাঁদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমেই তা জানা যায় এবং এর মাধ্যমেই তাঁদের প্রত্যেকের শর্ত সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। আর জেনে রাখো যে, বুখারীর শর্ত হলো...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ومسلم أن يخرجا الحديث المتفق على ثقة نقلته إلى الصحابي المشهور من غير اختلاف بين الثقات الأثبات، ويكون إسناده متصلاً غير مقطوع، وإن كان للصحاب راويان فصاعدًا فحسن، وإن لم يكن له إلاّ راوٍ واحد إذا صح الطريق إلى ذلك الراوي أخرجاه.

ثم قال أخبرنا أبو بكر أحمد بن عليّ الأديب الشيرازي بنيسابور، قال: قال أبو عبد الله محمد بن عبد الله يعني الحاكم في كتابه المدخل إلى الإكليل القسم الأوّل: من المتفق عليه اختيار البخاري ومسلم وهو الدرجة الأولى من الصحيح. ومثاله الحديث الذي يرويه الصحابيّ المشهور عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وله راويان ثقتان ثم يرويه عنه من أتباع التابعين الحافظ المتقن المشهور، وله رواة من الطبقة الرابعة. ثم يكون شيخ البخاري ومسلم حافظًا متقنًا مشهورًا بالعدالة، فهذه الدرجة من الصحيح اهـ. وتعقب ذلك الحافظ ابن طاهر فقال: إن الشيخين لم يشترطا هذا الشرط ولا نقل عن واحد منهما أنه قال ذلك، والحاكم قدّر هذا التقدير وشرط لهما هذا الشرط على ما ظن، ولعمري إنه لشرط حسن لو كان موجودًا في كتابيهما، إلا أنّا وجدنا هذه القاعدة التي أسّسها الحاكم منتقضة في الكتابين جميعًا، فمن ذلك في الصحابيّ أن البخاري أخرج حديث قيس بن أبي حازم عن مرداس

 

الأسلميّ، يذهب الصالحون أوّلاً فأوّلاً، وليس لمرداس راوٍ غير قيس. وأخرج مسلم حديث المسيب بن حزن في وفاة أبي طالب، ولم يرو عنه غير ابنه سعيد. وأخرج البخاري حديث الحسن البصريّ عن عمرو بن تغلب "إني لأعطي الرجل والذي أدع أحبّ إليّ" الحديث. ولم يرو عن عمرو غير الحسن في أشياء عند البخاري على هذا النحو. وأما مسلم فإنه أخرج حديث الأغر المزني "إنه ليغان على قلبي" ولم يرو عنه غير أبي بردة في أشياء كثيرة اقتصرنا منها على هذا القدر، ليعلم أن القاعدة التي أسّسها الحاكم لا أصل لها. ولو اشتغلنا بنقض هذا الفصل الواحد في التابعين وأتباعهم وبمن روى عنهم إلى عصر الشيخين لأربى على كتابه المدخل، إلا أن الاشتغال بنقض كلام الحاكم لا يفيد فائدة اهـ.

وقال الحافظ أبو بكر الحازمي: هذا الذي قاله الحاكم قول من لم يمعن الغوص في خبايا الصحيح، ولو استقرأ الكتاب حق استقرائه لوجد جملة من الكتاب ناقضة لدعواه، وقد اتفق الأمة على تلقي الصحيحين بالقبول، واختلف في أيّهما أرجح. وصرّح الجمهور بتقديم صحيح البخاري، ولم يوجد عن أحد التصريح بنقضه. وأما ما نقل عن أبي عليّ النيسابوري أنه قال ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم، فلم يصرح بكونه أصح من صحيح البخاري، لأنه إنما نفى وجود كتاب أصح من كتاب مسلم، إذ المنفي إنما هو ما تقتضيه صيغة أفعل من زيادة صحة في كتاب شارك كتاب مسلم في الصحة، يمتاز بتلك الزيادة عليه ولم ينفِ المساواة. كذلك ما نقل عن بعض المغاربة أنه فضل صحيح مسلم على صحيح البخاري، فذلك فيما يرجع إلى حسن السياق وجودة الوضع والترتيب. ولم يفصح أحد بأن ذلك راجع إلى الأصحّيّة، ولو صرّحوا به لرد عليهم شاهد الوجود، فالصفات التي تدور عليها الصحة في كتاب مسلم أتمّ منها في كتاب البخاري وأشد، وشرطه فيها أقوى وأسد. أما رجحانه من حيث الاتصال فلاشتراطه أن يكون الراوي قد ثبت له لقاء من روى عنه ولو مرة، واكتفى مسلم بمطلق المعاصرة، وألزم البخاري بأنه يحتاج أن لا يقبل المعنعن أصلاً، وما ألزمه به ليس بلازم، لأن الراوي إذا ثبت له اللقاء مرة لا يجري في روايته احتمال أن لا يكون سمع، لأنه يلزم من جريانه أن يكون مدلسه، والمسألة مفروضة في غير المدلس. وأما رجحانه من حيث العدالة والضبط، فلأن الرجال الذين تكلم فيهم من رجال مسلم أكثر عددًا من الرجال الذين تكلم فيهم من رجال البخاري، مع أن البخاري لم يكثر من إخراج حديثهم، بل غالبهم من شيوخه الذين أخذ عنهم ومارس حديثهم وميز جيدها من موهومها، بخلاف مسلم، فإن أكثر من تفرّد بتخريج حديثه ممن تكلم فيه ممن تقدّم عصره من التابعين ومن بعدهم، ولا ريب أن المحدث أعرف بحديث شيوخه ممن تقدّم عنهم. وأما رجحانه من حيث عدم الشذوذ والإعلال
এবং মুসলিমের শর্ত হলো এমন হাদীস বর্ণনা করা যার বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সাহাবী পর্যন্ত ঐকমত্য রয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। এর সনদ হবে নিরবচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন নয়। যদি সাহাবীর দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী থাকে তবে তা উত্তম; আর যদি কেবল একজন বর্ণনাকারী থাকে এবং সেই বর্ণনাকারী পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ বা সূত্র বিশুদ্ধ হয়, তবে তাঁরা উভয়েই সেটি গ্রহণ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-আদীব আশ-শিরাজী নিশাপুরে, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আল-হাকিম তাঁর 'আল-মাদখাল ইলাল ইকলীল' গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদে বলেছেন: বুখারী ও মুসলিমের ঐকমত্যপূর্ণ চয়ন হচ্ছে সহীহ হাদীসের প্রথম স্তর। এর উদাহরণ হলো সেই হাদীস যা একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাঁর থেকে তাবে-তাবেয়ীদের মধ্য থেকে কোনো একজন প্রসিদ্ধ ও সুদক্ষ হাফেজ বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে চতুর্থ স্তরের বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেন। এরপর বুখারী ও মুসলিমের উস্তাদ হবেন একজন ন্যায়পরায়ণ হিসেবে প্রসিদ্ধ ও সুদক্ষ হাফেজ; এটিই হলো সহীহ হাদীসের এই স্তর। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে তাহির এর সমালোচনা করে বলেন: শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এই শর্তারোপ করেননি এবং তাঁদের কারোর পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে তিনি এটি বলেছেন। আল-হাকিম নিজের ধারণা অনুযায়ী এটি অনুমান করেছেন এবং তাঁদের জন্য এই শর্তারোপ করেছেন। আমার জীবনের শপথ! এটি একটি উত্তম শর্ত হতো যদি তাঁদের কিতাবদ্বয়ে এর অস্তিত্ব থাকত। কিন্তু আমরা আল-হাকিম প্রতিষ্ঠিত এই মূলনীতিটি উভয় কিতাবই লঙ্ঘিত হতে দেখেছি। যেমন সাহাবীদের ক্ষেত্রে, ইমাম বুখারী মিরদাস

 

আল-আসলামী থেকে কায়েস বিন আবি হাযিমের হাদীস বর্ণনা করেছেন: "নেককার লোকেরা একের পর এক চলে যাবে", অথচ কায়েস ছাড়া মিরদাসের অন্য কোনো বর্ণনাকারী নেই। ইমাম মুসলিম আবু তালিবের মৃত্যু সংক্রান্ত আল-মুসায়্যিব বিন হাযনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁর ছেলে সাঈদ ছাড়া অন্য কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। ইমাম বুখারী আমর বিন তাগলিব থেকে হাসান বসরীর হাদীস বর্ণনা করেছেন: "আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ যাকে প্রদান করি না সে-ই আমার কাছে বেশি প্রিয়"। এই হাদীসে আমর থেকে হাসান ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি এবং ইমাম বুখারীর নিকট এরূপ আরও কিছু বর্ণনা রয়েছে। আর ইমাম মুসলিম আল-আগার আল-মুযানী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমার অন্তরে আবরণ পড়ে যায়", অথচ তাঁর থেকে আবু বুরদাহ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যার মধ্য থেকে আমরা কেবল এটুকুই উল্লেখ করেছি যেন এটি জানা যায় যে, আল-হাকিম যে মূলনীতিটি তৈরি করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা যদি তাবেয়ী ও তাঁদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা শায়খাইনের যুগ পর্যন্ত তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই একটি পরিচ্ছেদেরই ত্রুটি উদ্ঘাটনে লিপ্ত হতাম, তবে তা তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থের চেয়েও বড় হয়ে যেত। তবে আল-হাকিমের বক্তব্যের ভুল ধরায় কোনো বিশেষ ফায়দা নেই। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

হাফেজ আবু বকর আল-হাযিমী বলেন: আল-হাকিম যা বলেছেন তা এমন ব্যক্তির কথা যিনি সহীহ গ্রন্থের রহস্যগুলোর গভীরে অবগাহন করেননি। যদি তিনি গ্রন্থটি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করতেন, তবে তিনি এমন অনেক বিষয় পেতেন যা তাঁর দাবিকে খণ্ডন করে। উম্মত বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থকে গ্রহণ করে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে, তবে কোনটির মর্যাদা বেশি সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ সহীহ বুখারীকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন এবং কেউ এটি খণ্ডন করেছেন বলে জানা যায় না। আর আবু আলী আন-নিশাপুরী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: "আকাশের নিচে মুসলিমের কিতাবের চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই", সেখানে তিনি এটি সহীহ বুখারীর চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ হওয়ার কথা স্পষ্ট করেননি। কারণ তিনি কেবল মুসলিমের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। এখানে 'অধিকতর' (আফ'আলু) রূপটি যে অতিরিক্ত বিশুদ্ধতা দাবি করে, সেখানে মুসলিমের কিতাবের সমপর্যায়ের বিশুদ্ধ অন্য কোনো কিতাবে সেই অতিরিক্ত গুণের অস্তিত্বই কেবল অস্বীকার করা হয়েছে, যা দ্বারা সেটি মুসলিমের কিতাব থেকে শ্রেষ্ঠত্ব পেতে পারত; এটি সমতা অস্বীকার করে না। তেমনিভাবে মাগরেবের কিছু আলেম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তারা সহীহ মুসলিমকে সহীহ বুখারীর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন, তা কেবল বর্ণনাশৈলীর চমৎকারিত্ব এবং বিন্যাস ও সাজসজ্জার সৌন্দর্যের কারণে। কেউ এটি স্পষ্ট করেননি যে এই প্রাধান্য অধিক বিশুদ্ধতার কারণে। যদি তারা তা স্পষ্ট করতেন, তবে বাস্তব প্রমাণ তাদের সে দাবিকে প্রত্যাখ্যান করত। কারণ সহীহ মুসলিমের যেসব গুণের ওপর বিশুদ্ধতা আবর্তিত হয়, বুখারীর কিতাবে সেগুলো আরও পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ় এবং তাতে বুখারীর শর্ত আরও শক্তিশালী ও সঠিক। নিরবচ্ছিন্নতার দিক থেকে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, তিনি শর্তারোপ করেছেন যে বর্ণনাকারীর সাথে তাঁর উস্তাদের অন্তত একবার সাক্ষাৎ প্রমাণিত হতে হবে; অন্যদিকে মুসলিম কেবল সমসাময়িক হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। তিনি বুখারীর ওপর এই আপত্তি তুলেছেন যে, তবে তো 'আন' (মু'আন'আন) যুক্ত বর্ণনা মোটেও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়; অথচ তাঁর এই আপত্তিটি যৌক্তিক নয়। কারণ বর্ণনাকারীর সাথে একবার সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়ে গেলে তাঁর বর্ণনায় না শোনার সম্ভাবনা আর থাকে না, কেননা তেমন সম্ভাবনা থাকলে তিনি মুদাল্লিস হতেন, আর এখানে আলোচনা করা হচ্ছে অ-মুদাল্লিস বর্ণনাকারীদের নিয়ে। ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতার দিক থেকে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, বুখারীর বর্ণনাকারীদের তুলনায় মুসলিমের সেসব বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি যাদের নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বুখারী তাঁদের থেকে খুব বেশি হাদীস বর্ণনা করেননি, বরং তাঁদের অধিকাংশ হলেন তাঁর সেসব উস্তাদ যাঁদের থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন, যাঁদের হাদীস নিয়ে দীর্ঘ চর্চা করেছেন এবং যাঁদের সঠিক ও ভ্রমাত্মক বর্ণনার পার্থক্য নিরুপণ করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিমের অবস্থা ভিন্ন; কারণ যাদের নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে যাঁরা ইমাম মুসলিমের পূর্ববর্তী যুগের তাবেয়ী বা তাঁদের পরবর্তী ছিলেন, মুসলিম তাঁদের বর্ণিত হাদীস এককভাবে সংকলনের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন মুহাদ্দিস তাঁর উস্তাদদের হাদীস সম্পর্কে পূর্ববর্তীদের তুলনায় বেশি অবগত থাকেন। আর শায ও ত্রুটিযুক্ত না হওয়ার দিক থেকে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো—
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢١)
فلأن ما انتقد على البخاري من الأحاديث أقل عددًا مما انتقد على مسلم. وأما الجواب عما انتقد عليه، فاعلم أنه لا يقدح في الشيخين كونهما أخرجا لمن طعن فيه، لأن تخريج صاحب الصحيح لأي راوٍ كان مقتضٍ لعدالته عنده وصحة ضبطه وعدم غفلته، لا سيما وقد انضاف إلى

 

ذلك إطباق الأمة على تسميتهما بالصحيحين، وهذا إذا خرج له في الأصول، فإن خرج له في المتابعات والشواهد والتعاليق فتتفاوت درجات من أخرج له في الضبط وغيره مع حصول اسم الصدق لهم، فإذا وجدنا مطعونًا فيه فذلك الطعن مقابل لتعديل هذا الإمام، فلا يقبل التجريح إلا مفسّرًا بقادح يقدح فيه، أو في ضبطه مطلقًا أو في ضبطه بخبر بعينه، لأن الأسباب الحاملة للأئمة على الجرح متفاوتة، منها ما يقدح ومنها ما لا يقدح.

وقد كان أبو الحسن المقدسي يقول في الرجل الذي يخرج عنه في الصحيح هذا جاز القنطرة، يعني لا يلتفت إلى ما قيل فيه. وأما الأحاديث التي انتقدت عليهما فأكثرها لا يقدح في أصل موضوع الصحيح، فإن جميعها واردة من جهة أخرى، وقد علم أن الإجماع واقع على تلقي كتابيهما بالقبول والتسليم، إلا ما انتقد عليهما فيه. والجواب عن ذلك على سبيل الإجمال أنه لا ريب في تقديم الشيخين على أئمة عصرهما، ومن بعده في معرفة الصحيح والمعلل، وقد روى الفربريّ عن البخاري أنه قال: ما أدخلت في الصحيح حديثًا إلا بعد أن استخرت الله تعالى وثبتت صحته.

وقال مكّي بن عبدان: كان مسلم يقول عرضت كتابي على أبي زرعة، فكل ما أشار إليّ أن له علة تركته.

فإذا علم هذا وتقرر أنهما لا يخرجان من الحديث إلا ما لا علة له أو له علة، إلا أنها غير مؤثرة، وعلى تقدير توجيه كلام من انتقد عليهما يكون كلامه معارضًا لتصحيحهما، ولا ريب في تقديمهما في ذلك على غيرهما، فيندفع الاعتراض من حيث الجملة.

وأما من حيث التفصيل فالأحاديث التي انتقدت عليهما تنقسم إلى ستة أقسام:

 

أوّلها: ما تختلف الرواية فيه بالزيادة والنقص من رجال الإسناد، فإن أخرج صاحب الحديث الصحيح الطريق المزيدة وعلّله الناقد بالطريق الناقصة فهو تعليل مردود، لأن الراوي إن كان سمعه في الطريق الناقصة فهو منقطع، والمنقطع من قسم الضعيف والضعيف لا يعلّ الصحيح، وإن أخرج صاحب الصحيح الطريق الناقصة وعلله الناقد بالطريق المزيدة تضمن اعتراضه دعوى انقطاع فيما صحّحه المصنف، فينظر إن كان مدلسًا من طريق أخرى، فإن وجد ذلك اندفع الاعتراض به، وإن لم يوجد وكان الانقطاع فيه ظاهرًا، فمحصل الجواب عن صاحب الصحيح أنه إنما أخرج مثل ذلك في باب ما له متابع وعاضد، وما حفته قرينة في الجملة تقويه، ويكون التصحيح وقع من حيث المجموع. وفي البخاري ومسلم من ذلك حديث الأعمش عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس في قصة القبرين، وأن أحدهما كان لا يستبرئ من بوله، قال الدارقطني: خالف منصور فقال عن مجاهد عن ابن عباس، وأخرج البخاري حديث منصور على إسقاطه طاوسًا انتهى. وهذا الحديث أخرجه البخاري في الطهارة عن عثمان بن أبي شيبة عن جرير، في الأدب عن محمد بن سلام عن عبيدة بن حميد كلاهما عن منصور به، ورواه من طرق أخرى عن حديث الأعمش، وأخرجه باقي

الأئمة الستة من حديث الأعمش أيضًا، وأخرجه أبو داود أيضًا والنسائي وابن خزيمة في صحيحه من حديث منصور أيضًا، وقال الترمذي بعد أن أخرجه: رواه منصور عن مجاهد عن ابن عباس، وحديث الأعمش أصح يعني المتضمن للزيادة، قال الحافظ ابن حجر: وهذا في التحقيق ليس بعلّة، لأن مجاهدًا لم يوصف بالتدليس وسماعه من ابن عباس صحيح في جملة الأحاديث، ومنصور عندهم أتقن من الأعمش مع أن الأعمش أيضًا من الحفاظ، فالحديث كيفما دار دار على ثقة، والإسناد كيفما دار كان متصلاً. فمثل هذا لا يقدح في صحة الحديث إذا لم يكن راويه مدلسًا، وقد أكثر الشيخان من تخريج مثل هذا ولم يستوعب الدارقطني انتقاده.

ثانيها: ما تختلف الرواة فيه بتغيير بعض الإسناد،
কারণ বুখারীর ওপর সমালোচিত হাদীসের সংখ্যা মুসলিমের ওপর সমালোচিত হাদীসের সংখ্যার চেয়ে কম। আর যা কিছু সমালোচিত হয়েছে তার উত্তর হলো, আপনি জেনে রাখুন যে, শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রহণ করা তাঁদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না। কেননা সহীহ গ্রন্থের সংকলক কোনো রাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করার অর্থই হলো তাঁর নিকট ঐ রাবীর ন্যায়পরায়ণতা, মুখস্থ শক্তির প্রখরতা ও নির্ভুলতা এবং অমনোযোগিতার অনুপস্থিতি প্রমাণিত হওয়া। বিশেষ করে এর সাথে যুক্ত হয়েছে

 

উম্মতের এই ঐকমত্য যে, তাঁরা এই দুই গ্রন্থকে 'সহীহাইন' (দুটি বিশুদ্ধতম গ্রন্থ) নামে অভিহিত করেছেন। এটি তখন প্রযোজ্য যখন মূল (উসুল) পর্বে ঐ রাবীর হাদীস বর্ণনা করা হয়। কিন্তু যদি মুতাবাআত (সমর্থক বর্ণনা), শাওয়াহিদ (সাক্ষ্য বর্ণনা) এবং তা’লীক (ঝুলন্ত বর্ণনা) এর ক্ষেত্রে বর্ণনা করা হয়, তবে তাদের সত্যবাদিতা বজায় থাকা সত্ত্বেও মুখস্থ শক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের মর্যাদার স্তর ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং আমরা যখন কাউকে সমালোচিত হিসেবে পাই, তখন সেই সমালোচনা এই ইমামের (বুখারী বা মুসলিমের) সত্যায়নের বিপরীতে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় কোনো সমালোচনা ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তা এমন কোনো সুস্পষ্ট কারণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয় যা ঐ রাবীর নির্ভরযোগ্যতাকে অথবা সাধারণভাবে তার নির্ভুলতাকে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রে তার নির্ভুলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কারণ ইমামদের জারহ বা সমালোচনার কারণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; যার কিছু হাদীসের ক্ষতি করে আবার কিছু করে না।

আবু হাসান আল-মাকদিসি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলতেন যার হাদীস সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে— "তিনি সেতু পার হয়ে গেছেন", অর্থাৎ তার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে সেদিকে আর ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। আর যে হাদীসগুলোর ওপর সমালোচনা করা হয়েছে, তার অধিকাংশ সহীহ গ্রন্থের মূল বিষয়ের কোনো ক্ষতি করে না, কারণ সেগুলোর সবকটিই অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এটি সর্বজনবিদিত যে, সমালোচনা করা হয়েছে এমন সামান্য কিছু অংশ বাদে এই দুই কিতাবকে গ্রহণ ও মেনে নেওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এর উত্তর হলো— সহীহ এবং ত্রুটিযুক্ত (মু’আল্লাল) হাদীস চেনার ক্ষেত্রে শায়খাইন তাঁদের সমসাময়িক এবং পরবর্তী ইমামদের চেয়ে যে অগ্রগণ্য ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফিরবরী ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা না করে এবং হাদীসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সহীহ বুখারীতে কোনো হাদীস অন্তর্ভুক্ত করিনি।"

মক্কী ইবনে আবদান বলেন: ইমাম মুসলিম বলতেন, "আমি আমার কিতাবটি আবু যুর’আহকে দেখিয়েছি; তিনি যে হাদীসটির ব্যাপারে ইশারা করেছেন যে এতে ত্রুটি আছে, আমি তা বর্জন করেছি।"

যখন এটি জানা গেল এবং প্রতিষ্ঠিত হলো যে, তাঁরা এমন হাদীস ছাড়া বর্ণনা করেন না যাতে কোনো ত্রুটি (ইল্লত) নেই, অথবা এমন ত্রুটি থাকে যা হাদীসের বিশুদ্ধতায় প্রভাব ফেলে না। আর যারা তাঁদের ওপর সমালোচনা করেছেন তাদের বক্তব্যকে যদি সঠিক ধরেও নেওয়া হয়, তবে সেটি তাঁদের (বুখারী ও মুসলিমের) সত্যায়নের বিরোধী হবে। আর হাদীস বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় তাঁদের অগ্রাধিকারের বিষয়টি প্রশ্নাতীত। ফলে সামগ্রিকভাবে এই আপত্তি নিরস্ত হয়ে যায়।

আর বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে, তাঁদের উপর সমালোচিত হাদীসগুলো ছয়টি ভাগে বিভক্ত:

 

প্রথমত: সনদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির (যিয়াদাহ ও নাকস) কারণে বর্ণনায় যে ভিন্নতা দেখা দেয়। যদি সহীহ গ্রন্থের সংকলক অতিরিক্ত রাবীসহ (মুকাম্মাল) সনদটি বর্ণনা করেন আর সমালোচক কম রাবীওয়ালা সনদটিকে ত্রুটি হিসেবে দেখান, তবে সেই সমালোচনা প্রত্যাখ্যাত। কারণ রাবী যদি কম রাবীওয়ালা সূত্রে শুনে থাকেন তবে সেটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘), আর মুনকাতি‘ হলো যঈফ বা দুর্বল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত; আর যঈফ হাদীস কখনও সহীহ হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত করতে পারে না। আর যদি সহীহ গ্রন্থের সংকলক কম রাবীওয়ালা সনদটি বর্ণনা করেন এবং সমালোচক অতিরিক্ত রাবীওয়ালা সনদের মাধ্যমে সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেন, তবে তার এই আপত্তিতে সেই হাদীসের সনদে বিচ্ছেদের দাবি অন্তর্ভুক্ত হয় যা লেখক সহীহ বলে গণ্য করেছেন। এমতাবস্থায় দেখতে হবে যে অন্য কোনো সূত্রে সেখানে 'মুদাল্লিস' রাবী আছে কি না। যদি তা পাওয়া যায় তবে আপত্তি দূর হয়ে যাবে। আর যদি তা না পাওয়া যায় এবং বিচ্ছেদ স্পষ্ট হয়, তবে সহীহ গ্রন্থের সংকলকের পক্ষ থেকে এর উত্তর হলো— তিনি এই জাতীয় হাদীস কেবল সেই অধ্যায়ে এনেছেন যেখানে তার সমর্থক (মুতাবি‘) ও শক্তিশালীকারী বর্ণনা রয়েছে, যা তাকে শক্তিশালী করে; অর্থাৎ সামগ্রিক বিচারে তার বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এর উদাহরণ হলো দুই কবরের কাহিনীতে ইবনে আব্বাস থেকে তাউস, তার থেকে মুজাহিদ এবং তার থেকে আমাশের বর্ণিত হাদীস, যেখানে বলা হয়েছে যে তাদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না। দারাকুতনী বলেন: মনসুর এখানে আমাশের বিরোধিতা করেছেন, তিনি মুজাহিদ থেকে সরাসরি ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। বুখারী এখানে মনসুরের হাদীসটি তাউসকে বাদ দিয়েই বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি ইমাম বুখারী পবিত্রতা অধ্যায়ে উসমান ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি জারীর থেকে; এবং আদব অধ্যায়ে মুহাম্মদ ইবনে সালাম থেকে, তিনি উবায়দা ইবনে হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন—উভয়েই মনসুর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি আমাশের হাদীস থেকে অন্যান্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। বাকি চার

ইমামও আমাশের হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে খুজাইমাও তাঁদের সহীহ গ্রন্থে মনসুরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করার পর বলেন: "মনসুর এটি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমাশের হাদীসটিই বেশি সহীহ," অর্থাৎ যেটিতে অতিরিক্ত রাবী (তাউস) রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো ত্রুটি নয়, কারণ মুজাহিদকে ‘তাদলীস’ করার গুণে অভিযুক্ত করা হয়নি এবং সামগ্রিকভাবে ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর শ্রবণ প্রমাণিত ও বিশুদ্ধ। আর তাঁদের নিকট আমাশের তুলনায় মনসুর অধিকতর দক্ষ, যদিও আমাশও হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং হাদীসটি যেভাবে ঘুরুক না কেন, তা একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর ওপরই আবর্তিত হয়েছে এবং সনদ যেভাবেই আসুক তা নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল)। সুতরাং এ জাতীয় বিষয় হাদীসের বিশুদ্ধতায় কোনো আঁচড় কাটে না যদি তার বর্ণনাকারী মুদাল্লিস না হন। শায়খাইন এই জাতীয় বর্ণনার প্রচুর ব্যবহার করেছেন এবং দারাকুতনী তাঁর সমালোচনায় এসবের সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করেননি।

দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীরা সনদের কোনো অংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে ভিন্নতা তৈরি করেন,
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فإن أمكن الجمع بأن يكون الحديث عند ذلك الراوي على الوجهين جميعًا فأخرجهما المصنف ولم يقتصر على أحدهما، حيث يكون المختلفون متعادلين في الحفظ والعدد كما في البخاري في بدء الخلق من حديث إسرائيل عن الأعمش ومنصور جميعًا عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله، قال: "كنّا مع النبي صلى الله عليه وسلم في غار فنزلت والمرسلات" قال الدارقطني لم يتابع إسرائيل عن الأعمش عن علقمة، أما عن منصور فتابعه شيبان عنه، وكذا رواه مغيرة عن إبراهيم عنه انتهى. وقد حكى البخاري الخلاف فيه وهو تعليل لا يضر، وإن امتنع الجمع بأن يكون المختلفون غير متعادلين بل متفاوتين في الحفظ والعدد، فيخرج المصنف الطريق الراجحة ويعرض عن الطريق المرجوحة أو يشير إليها، والتعليل بجميع ذلك من أجل مجرد الاختلاف غير قادح، إذ لا يلزم من مجرد الاختلاف اضطراب يوجب الضعف، وحينئذ فينتفي الاعتراض عما هذا سبيله، وفي البخاري في الجنائز من هذا الثاني حديث الليث عن الزهري عن عبد الرحمن بن كعب عن جابر: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين قتلى أُحُد ويقدم أقرأهم. قال الدارقطني رواه ابن المبارك عن الأوزاعي عن الزهري مرسلاً، ورواه معمر عن الزهري عن ابن أبي صعير عن جابر، ورواه سليمان بن كثير عن الزهري حدّثني من سمع جابرًا وهو حديث مضطرب انتهى، قال الحافظ ابن حجر: أطلق الدارقطني القول بأنه مضطرب مع إمكان نفي الاضطراب عنه بأن يفسر المبهم بالذي في رواية الليث، وتحمل رواية معمر على أن الزهري سمعه من شيخين. وأما رواية الأوزاعي المرسلة فقصر فيها بحذف الواسطة، فهذه طريقة من ينفي الاضطراب عنه، وقد ساق البخاري ذكر الخلاف فيه، وإنما أخرج رواية الأوزاعي مع انقطاعها لأن الحديث عنده عن عبد الله بن المبارك عن الليث والأوزاعي جميعًا عن الزهري، فأسقط الأوزاعي عبد الرحمن بن كعب وأثبته الليث وهما في الزهري سواء، وقد صرّحا بسماعهما له منه، فقيل زيادة الليث لثقته، ثم قال بعد ذلك ورواه سليمان بن كثير عن الزهري عمن سمع جابرًا، وأراد بذلك إثبات الواسطة بين الزهري وبين جابر فيه في الجملة، وتأكيد رواية الليث بذلك، ولم نرها علة توجب اضطرابًا. وأما رواية معمر فقد وافقه عليها سفيان بن عيينة فرواه عن الزهري عن ابن أبي صعير، وقال ثبتني فيه معمر فرجعت روايته إلى رواية معمر.

 

ثالثها: ما تفرد بعض الرواة بزيادة فيه دون من هو أكثر عددًا أو أضبط ممن لم يذكرها، فهذا لا يؤثر التعليل به إلا إن كانت الزيادة منافية بحيث يتعذر الجمع، أما إذا كانت الزيادة لا منافاة فيها بحيث تكون كالحديث المستقل فلا نعم إن صح بالدلائل أن تلك الزيادة مدرجة من كلام بعض رواته فيؤثر ذلك.

 

رابعها: ما تفرّد به بعض الرواة ممن ضعف منهم، وليس في البخاري من ذلك غير حديثين، وقد توبعا أحدهما حديث أُبي بن عباس بن سهل بن سعد عن أبيه عن جدّه قال: كان للنبي صلى الله عليه وسلم فرس يقال له اللخيف. قال الدارقطني هذا ضعيف انتهى. وهو ابن سعد الساعدي الأنصاري الذي ضعفه أحمد وابن معين، وقال النسائي ليس بالقوي، لكن تابعه عليه أخوه عبد المهيمن بن عباس وروى له الترمذي وابن ماجة، وثانيهما في الجهاد من البخاري في باب: إذا أسلم قوم في دار الحرب. حديث إسماعيل بن أبي أويس عن مالك عن زيد بن أسلم عن أبيه، أن عمر استعمل مولى له يسمى هنيًا على الحمى الحديث بطوله، قال الدارقطني إسماعيل ضعيف. قال الحافظ ابن حجر أظن أن الدارقطني إنما ذكر هذا الموضع من حديث إسماعيل خاصة وأعرض عن الكثير من حديثه عند البخاري، لكون غيره شاركه في تلك الأحاديث وتفرد بهذا، فإن كان كذلك فلم ينفرد بل تابعه عليه معن بن عيسى فرواه عن مالك كرواية إسماعيل سواء.

خامسها: ما حكم فيه بالوهم على بعض رواته فمنه ما يؤثر ومنه ما لا يؤثر.

سادسها: ما اختلف فيه بتغيير بعض ألفاظ المتن، فهذا لا يترتب عليه قدح لإمكان الجمع في المختلف من ذلك أو الترجيح، كحديث جابر في قصة الجمل وحديثه في وفاء دين أبيه، وحديث أبي هريرة في قصة ذي اليدين. وربما يقع التنبيه على شيء من هذه الأقسام

যদি হাদিসটি সংশ্লিষ্ট রাবির নিকট উভয়ভাবেই বিদ্যমান থাকার কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে গ্রন্থকার (ইমাম বুখারী) কেবল একটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে উভয়টিই উল্লেখ করেছেন। এটি তখন হয় যখন বর্ণনাকারীরা স্মৃতিশক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে সমপর্যায়ের হন। যেমনটি বুখারীর ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়ে ইসরাঈল-এর সূত্রে আমাশ ও মনসুর উভয়ের বর্ণনা থেকে এসেছে, তারা ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে একটি গুহায় ছিলাম, তখন সূরা আল-মুরসালাত নাযিল হলো।" দারাকুতনী বলেন, আলকামা থেকে আমাশের বর্ণনায় ইসরাঈলের কোনো অনুসরণকারী বর্ণনা নেই। তবে মনসুরের বর্ণনায় শায়বান তাকে অনুসরণ করেছেন। অনুরূপভাবে মুগীরাহ এটি ইবরাহিম থেকে তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এখানে মতভেদটি তুলে ধরেছেন এবং এটি এমন এক ত্রুটি অন্বেষণ যা কোনো ক্ষতি করে না। আর যদি সমন্বয় করা অসম্ভব হয়—অর্থাৎ বর্ণনাকারীরা স্মৃতিশক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে সমান না হয়ে বরং কম-বেশি হন—তবে গ্রন্থকার অগ্রগণ্য পথটি গ্রহণ করেন এবং বর্জনীয় পথটি ত্যাগ করেন অথবা সেদিকে ইঙ্গিত করেন। কেবল মতভেদের কারণে এসব ক্ষেত্রে ত্রুটি ধরা অগ্রহণযোগ্য, কারণ কেবল মতভেদ থাকলেই এমন অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয় না যা হাদিসকে দুর্বল করে দেয়। ফলে এ জাতীয় হাদিসের ওপর উত্থাপিত আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বুখারীর 'জানায়েয' অধ্যায়ে এই দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো লাইস-এর হাদিস, যা তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে কা’ব থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদের শহীদদের একত্রিত করতেন এবং তাদের মধ্যে যিনি কুরআন বেশি জানতেন তাকে অগ্রাধিকার দিতেন। দারাকুতনী বলেন, ইবনুল মুবারক এটি আওযাঈ-এর সূত্রে যুহরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার মা’মার এটি যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আবী সাঈর থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। সুলায়মান ইবনে কাসীর এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'যিনি জাবির থেকে শুনেছেন তিনি আমাকে বলেছেন'। দারাকুতনী বলেন এটি একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিস। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, দারাকুতনী একে ঢালাওভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেছেন, অথচ এর অসামঞ্জস্যতা দূর করা সম্ভব। লাইসের বর্ণনায় যা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে তা দিয়ে এর ব্যাখ্যা করা যায়, এবং মা’মারের বর্ণনাকে এভাবে গ্রহণ করা যায় যে যুহরী এটি দুজন শায়খের কাছ থেকে শুনেছেন। আর আওযাঈ-এর মুরসাল বর্ণনায় মধ্যস্থতাকারী বাদ পড়ায় সংক্ষিপ্ততা ঘটেছে। এটি হলো তাদের পদ্ধতি যারা এখান থেকে অসামঞ্জস্যতা দূর করেন। বুখারী এখানে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আওযাঈ-এর বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন কারণ হাদিসটি তার নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক-এর সূত্রে লাইস ও আওযাঈ উভয়ের নিকট থেকে যুহরী মারফত এসেছে। এখানে আওযাঈ আবদুর রহমান ইবনে কা’বকে বাদ দিয়েছেন কিন্তু লাইস তাকে উল্লেখ করেছেন, অথচ যুহরীর ছাত্র হিসেবে তারা উভয়েই সমপর্যায়ের। তারা উভয়েই যুহরী থেকে এটি শোনার ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন। তাই বলা হয় যে, লাইসের অতিরিক্ত অংশটি তার নির্ভরযোগ্যতার কারণে গৃহীত। এরপর তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনে কাসীর এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন এমন ব্যক্তি মারফত যিনি জাবির থেকে শুনেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত যুহরী ও জাবিরের মাঝে সাধারণভাবে একজন মধ্যস্থতাকারীর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এবং লাইসের বর্ণনাকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন। আমরা একে এমন কোনো ত্রুটি মনে করি না যা অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করে। মা’মারের বর্ণনার ক্ষেত্রে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তার সাথে একমত হয়েছেন; তিনি যুহরী থেকে এবং তিনি ইবনে আবী সাঈর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'মা’মার আমাকে এ বিষয়ে দৃঢ় করেছেন', ফলে তার বর্ণনাটি মা’মারের বর্ণনার দিকেই ফিরে গেল।

 

তৃতীয়ত: কোনো কোনো রাবি এককভাবে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেছেন যা অধিক সংখ্যক বা অধিক নির্ভরযোগ্য রাবিগণ উল্লেখ করেননি। এ ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত অংশটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সেটি মূল বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয় এবং সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি অতিরিক্ত অংশটি সাংঘর্ষিক না হয় এবং একটি স্বতন্ত্র হাদিসের মতো হয়, তবে তা ত্রুটি নয়। হ্যাঁ, যদি দলীল-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সেই অতিরিক্ত অংশটি কোনো রাবির নিজস্ব কথা যা হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে, তবে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে।

 

চতুর্থত: কোনো দুর্বল রাবির একক বর্ণনা। বুখারীতে এমন মাত্র দুটি হাদিস রয়েছে এবং সেগুলোর অনুসরণকারী বর্ণনা বিদ্যমান। এর একটি হলো উবাই ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে সা’দ-এর হাদিস, যা তিনি তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি ঘোড়া ছিল যার নাম ছিল আল-লাখীফ। দারাকুতনী বলেন, এটি দুর্বল। তিনি হলেন সেই ইবনে সা’দ আস-সাঈদী আল-আনসারী যাকে আহমাদ ও ইবনে মাঈন দুর্বল বলেছেন এবং নাসাঈ বলেছেন তিনি শক্তিশালী নন। তবে তার ভাই আবদুল মুহাইমিন ইবনে আব্বাস এ ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয়টি বুখারীর জিহাদ অধ্যায়ে, 'যদি কোনো জাতি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ করে' অনুচ্ছেদে রয়েছে। এটি ইসমাঈল ইবনে আবী উওয়াইস-এর হাদিস, যা মালেক-এর সূত্রে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর তার হানী নামক এক মুক্তদাসকে সংরক্ষিত চারণভূমির দায়িত্ব দিয়েছিলেন—হাদিসটি দীর্ঘ। দারাকুতনী বলেন, ইসমাঈল দুর্বল। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, আমার ধারণা দারাকুতনী ইসমাঈলের এই নির্দিষ্ট হাদিসটিই উল্লেখ করেছেন এবং বুখারীতে বিদ্যমান তার অনেক হাদিস এড়িয়ে গেছেন, কারণ অন্য রাবিগণ সেসব হাদিসে তার অংশীদার ছিলেন কিন্তু এটিতে তিনি একক হয়ে পড়েছেন। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তিনি একক নন, বরং মা’ন ইবনে ঈসা তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তিনিও মালেকের সূত্রে ইসমাঈলের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

পঞ্চমত: যেখানে কোনো কোনো রাবির বর্ণনায় ভ্রম থাকার হুকুম দেওয়া হয়েছে। এর কিছু অংশ প্রভাব ফেলে এবং কিছু অংশ ফেলে না।

ষষ্ঠত: যেখানে মূল পাঠের কিছু শব্দ পরিবর্তনের কারণে মতভেদ হয়েছে। এটি হাদিসের নির্ভরযোগ্যতায় কোনো আঘাত হানে না, কারণ এ জাতীয় মতভেদের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা অথবা কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব। যেমন জাবিরের উটের ঘটনা সংক্রান্ত হাদিস, তার পিতার ঋণ পরিশোধের হাদিস এবং যুল ইয়াদাইনের ঘটনা সংক্রান্ত আবু হুরায়রার হাদিস। এই বিভাগগুলোর কোনো কোনোটির ওপর হয়তো বিশেষ সতর্কবার্তা আসতে পারে।

(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٣)
في موضعه من هذا الشرح بتوفيق الله تعالى ومعونته. والذي في البخاري من هذه الأقسام مائة حديث وعشرة أحاديث شاركه في كثير منها مسلم لا نطيل بسردها، وأما الجواب عمن طعن فيه من رجال البخاري فليعلم أن تخريج صاحب الصحيح لأيّ راوٍ كان مقتضٍ لعدالته عنده وصحة ضبطه وعدم غفلته مع ما انضاف لذلك من إطباق جمهور الأمة على تسمية الكتابين بالصحيحين، وهذا معنى لم يحصل لغير من خرج عنه في الصحيحين، فهو بمثابة إطباق الجمهور على تعديل من ذكر فيهما، ولا يقبل الطعن في أحد من رواتهما إلا بقادح واضح، لأن أسباب القدح كما مرّ مختلفة، ومداره هنا على خمسة: البدعة أو المخالفة أو الغلط أو جهالة الحال أو دعوى الانقطاع بالسند بأن يدعي في راويه أنه كان يدلس ويرسل.

فأما البدعة فالموصوف بها إن كان غير داعية قبل وإلاّ فلا، وقال ابن دقيق العيد إن وافق غير الداعية غيره فلا يلتفت إليه إخمادًا لبدعته وإطفاء لناره، وإن لم يوافقه أحد، ولم يوجد ذلك الحديث إلا عنده مع كونه صادقًا متحررًا عن الكذب مشهورًا بالتدين، وعدم تعلق ذلك الحديث ببدعته، فينبغي أن تقدم مصلحة تحصيل ذلك الحديث ونشر تلك السنة على مصلحة إهانته.

 

وأما المخالفة وينشأ عنها الشذوذ والنكارة، فإذا روى الضابط والصدوق شيئًا فرواه من هو أحفظ منه أو أكثر عددًا بخلاف ما روى، بحيث يتعذر الجمع على قواعد المحدثين فهذا شاذ، وقد تشتد المخالفة أو يضعف الحفظ فيحكم على ما يخالف فيه بكونه منكرًا وهذا ليس في الصحيح منه سوى نزر يسير.

وأما الغلط فتارة يكثر من الراوي وتارة يقل، فحيث يوصف بكونه كثير الغلط ينظر فيما أخرج له إن وجد مرويًّا عنده أو عند غيره من رواية غير هذا الموصوف علم أن المعتمد أصل الحديث لا خصوص هذه الطريق، وإن لم يوجد إلاّ من طريقه فهو قادح يوجب التوقف عن الحكم بصحة ما هذا سبيله وليس في الصحيح بحمد الله من ذلك شيء.

وأما الجهالة فمندفعة عن جميع من أخرج لهم في الصحيح، لأن شرط الصحيح أن يكون راويه معروفًا بالعدالة، فمن زعم أن أحدًا منهم مجهول فكأنه نازع المصنف في دعواه أنه معروف، ولا ريب أن المدعي لمعرفته مقدّم على من يدعي عدم معرفته لما مع الثبت من زيادة العلم، ومع ذلك فلا نجد في رجال الصحيح ممن يسوغ إطلاق اسم الجهالة عليه أصلاً.

وأما دعوى الانقطاع فمدفوعة عمن أخرج لهم البخاري لما علم من شرطه، ولا نطيل بسرد أسمائهم ورد ما قيل فيهم.

 

وأما بيان موضوعه وتفرّده بمجموعه وتراجمه البديعة المثال النيعة المنال، فاعلم أنه رحمه الله تعالى قد التزم مع صحة الأحاديث استنباط الفوائد الفقهية والنكت الحكمية، فاستخرج بفهمه الثاقب من المتون معاني كثيرة فرقها في أبوابه بحسب المناسبة، واعتنى فيها بآيات الأحكام وانتزع منها الدلالات البديعة وسلك في الإشارات إلى تفسيرها السبل الوسيعة، ومن ثم أخلى كثيرًا من الأبواب عن ذكره إسناد الحديث، واقتصر فيه على قوله فلان عن النبي صلى الله عليه وسلم ونحو ذلك، وقد يذكر المتن بغير إسناد وقد يورده معلقًا لقصد الاحتجاج لما ترجم له وأشار للحديث لكونه معلومًا أو سبق قريبًا، ويقع في كثير من أبوابه أحاديث كثيرة وفي بعضها حديث واحد وفي بعضها آية من القرآن فقط وبعضها لا شيء فيه البتّة. وقد وقع في بعض نسخ الكتاب ضم باب لم يذكر فيه حديث، إلى حديث لم يذكر فيه باب، فاستشكله بعضهم، لكن أزال الإشكال الحافظ أبو ذر الهروي بما رواه عن الحافظ أبي إسحق المستملي، مما ذكره أبو الوليد الباجي بالموحدة والجيم في كتابه أسماء رجال البخاري، قال: استنسخت كتاب البخاري من أصله الذي كان عند الفربري فرأيت أشياء لم تتم وأشياء مبيضة، منها تراجم لم يثبت بعدها شيئًا وأحاديث لم يترجم لها، فأضفنا بعض ذلك إلى بعض. قال الباجي: ومما يدل على صحة ذلك أن رواية المستملي والسرخسي والكشميهني وأبي زيد المروزي مختلفة بالتقديم والتأخير، مع أنهم استنسخوها من أصل واحد، وإنما ذلك بحسب ما قد رأى كل واحد منهم فيما كان
আল্লাহ তাআলার তাওফিক ও তাঁর সাহায্যে এই ব্যাখ্যার যথাস্থানে তা আলোচিত হবে। বুখারীতে এই প্রকারের একশত দশটি হাদীস রয়েছে, যার অনেকগুলোতেই মুসলিম তাঁর সাথে শরীক রয়েছেন; সেগুলোর বর্ণনায় আমরা দীর্ঘ করছি না। আর বুখারীর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে যারা সমালোচনা করেছেন তাদের জবাব হলো, এটি জেনে রাখা উচিত যে, সহীহ গ্রন্থের সংকলক কোনো বর্ণনাকারীর হাদীস গ্রহণ করার অর্থই হলো তাঁর নিকট সেই বর্ণনাকারী ন্যায়নিষ্ঠ, তাঁর স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা সুদৃঢ় এবং তিনি উদাসীন নন। এর সাথে যোগ হয়েছে এই কিতাবদ্বয়কে 'সহীহাইন' নামে অভিহিত করার ব্যাপারে উম্মতের সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা এই দুই কিতাবের বাইরে অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটেনি। সুতরাং এটি সহীহাইন বর্ণিত বর্ণনাকারীদের ন্যায়নিষ্ঠতার ব্যাপারে জমহুরের ঐকমত্যের সমতুল্য। অতএব, স্পষ্ট কোনো দোষ ছাড়া তাদের কোনো বর্ণনাকারীর সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ সমালোচনার কারণসমূহ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যা বিভিন্ন প্রকারের। এখানে মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সমালোচনা করা হয়: বিদআত, বিরোধিতা, ভুল, পরিচয়হীনতা বা সনদে বিচ্ছিন্নতার দাবি—যেমন বর্ণনাকারী সম্পর্কে এটি দাবি করা যে তিনি 'তাদলিস' বা 'ইরসাল' করতেন।

বিদআতের বিষয়টি হলো, বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তি যদি এর দিকে আহ্বানকারী না হন তবে তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় নয়। ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন, যদি বিদআতের দিকে আহ্বানকারী নন এমন ব্যক্তি অন্যদের সাথে একমত হন, তবে তাঁর বিদআতকে দমন ও নির্বাপিত করার জন্য তাঁর দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। কিন্তু যদি তাঁর সাথে কেউ একমত না হন এবং সেই হাদীসটি কেবল তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত হয়, অথচ তিনি সত্যবাদী, মিথ্যা থেকে মুক্ত এবং দ্বীনদার হিসেবে প্রসিদ্ধ হন, আর সেই হাদীসটি তাঁর বিদআতের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তাঁর অবমাননার তুলনায় সেই হাদীস অর্জন এবং সুন্নাহ প্রচারের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

 

বিরোধিতার কারণে 'শায' ও 'মুনকার' পর্যায়ের বর্ণনার সৃষ্টি হয়। যখন কোনো সুদৃঢ় স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও সত্যবাদী বর্ণনাকারী কিছু বর্ণনা করেন এবং তাঁর চেয়ে অধিকতর হাফিয বা অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী তার বিপরীত বর্ণনা করেন, যার ফলে মুহাদ্দিসগণের নীতিমালা অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়, তখন তাকে 'শায' বলা হয়। কখনো এই বিরোধিতা তীব্র হয় অথবা স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, তখন সেই বিপরীত বর্ণনাকে 'মুনকার' বলা হয়। সহীহ বুখারীতে এ জাতীয় বর্ণনা অতি সামান্যই রয়েছে।

ভুলের বিষয়টি কখনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে বেশি হয় আবার কখনো কম। যখন কাউকে 'অধিক ভুলকারী' হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তাঁর বর্ণিত হাদীসটি পর্যবেক্ষণ করা হয়; যদি তা তাঁর কাছে বা অন্য কারো কাছে এই গুণসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য সূত্রে বর্ণিত পাওয়া যায়, তবে বোঝা যাবে যে হাদীসের মূল অংশটি নির্ভরযোগ্য, এই বিশেষ সূত্রটি নয়। আর যদি তা কেবল তাঁর সূত্রেই পাওয়া যায়, তবে তা দোষযুক্ত যা সেই হাদীসটিকে সহীহ বলার ক্ষেত্রে বিরত থাকতে বাধ্য করে। আলহামদুলিল্লাহ, সহীহ বুখারীতে এমন কিছু নেই।

পরিচয়হীনতার বিষয়টি সহীহ বুখারীর সকল বর্ণনাকারী থেকে দূরীভূত। কারণ সহীহ গ্রন্থের শর্তই হলো এর বর্ণনাকারী ন্যায়নিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হতে হবে। সুতরাং কেউ যদি তাদের কাউকে অজ্ঞাত দাবি করেন, তবে তিনি যেন সংকলকের সেই দাবির সাথেই দ্বিমত পোষণ করলেন যেখানে তিনি তাদের পরিচিত হিসেবে গণ্য করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি পরিচিত হওয়ার দাবি করছেন তিনি অজ্ঞাত হওয়ার দাবিদারের চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ প্রমাণের সাথে থাকা অতিরিক্ত জ্ঞান অগ্রগণ্য হয়। তদুপরি, সহীহ বুখারীর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কাউকে আমরা পাই না যাকে মূলত অজ্ঞাত বলা সংগত হবে।

বিচ্ছিন্নতার দাবিও বুখারীতে বর্ণিত ব্যক্তিদের থেকে প্রত্যাখ্যাত, কারণ ইমাম বুখারীর শর্ত সম্পর্কে তা সুবিদিত। তাদের নামসমূহ উল্লেখ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে তার জবাব দিয়ে আমরা দীর্ঘ করছি না।

 

এর বিষয়বস্তু, সামগ্রিক স্বতন্ত্রতা এবং এর চমৎকার ও দুর্লভ অনুচ্ছেদসমূহের বর্ণনার ব্যাপারে জেনে রাখুন যে, তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতার পাশাপাশি ফিকহী মাসআলা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ফলে তিনি তাঁর প্রখর মেধার মাধ্যমে হাদীসের মূল পাঠ থেকে অনেক অর্থ বের করেছেন এবং প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায়ে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তিনি আহকামের আয়তসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং তা থেকে চমৎকার ইঙ্গিতসমূহ বের করেছেন এবং সেগুলোর তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রশস্ত পথ অবলম্বন করেছেন। এ কারণেই তিনি অনেক অধ্যায়ে হাদীসের সনদ উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং কেবল 'অমুক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন' এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কখনো তিনি সনদ ছাড়াই মূল পাঠ উল্লেখ করেছেন, কখনো বা অধ্যায়ের শিরোনামের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে হাদীসটিকে ঝুলন্ত হিসেবে এনেছেন; কারণ হাদীসটি হয়ত সুপরিচিত অথবা নিকটেই তা গত হয়েছে। অনেক অধ্যায়ে অনেকগুলো হাদীস রয়েছে, আবার কোনোটিতে কেবল একটি হাদীস, কোনোটিতে কেবল কুরআনের একটি আয়াত এবং কোনো কোনোটিতে কিছুই নেই। গ্রন্থের কিছু কপিতে এমনও ঘটেছে যে, যেখানে কোনো হাদীস নেই এমন একটি অধ্যায়কে এমন একটি হাদীসের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে যার কোনো শিরোনাম ছিল না। এতে কেউ কেউ সংশয়ে পড়েছেন। তবে হাফিয আবু যার আল-হারাবী এই সংশয় দূর করেছেন হাফিয আবু ইসহাক আল-মুস্তামলী থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতের মাধ্যমে, যা আবু ওয়ালিদ আল-বাজি তাঁর 'আসমাউ রিজালিল বুখারী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি বুখারীর কিতাবটি সেই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি যা ফিরবারীর নিকট ছিল। সেখানে আমি কিছু অসম্পূর্ণ বিষয় এবং কিছু খালি জায়গা দেখেছি; যার মধ্যে এমন কিছু শিরোনাম ছিল যার পরে কিছুই লেখা হয়নি এবং এমন কিছু হাদীস ছিল যার শিরোনাম দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা এগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করেছি। বাজি বলেন: এর সত্যতার প্রমাণ হলো মুস্তামলী, সারাখসী, কুশমিহানী এবং আবু যায়েদ আল-মারওয়াযীর বর্ণনাগুলো আগে-পিছে হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন, যদিও তারা সবাই একই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছেন। এটি কেবল প্রত্যেকের দেখার ভিন্নতার কারণেই হয়েছে।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٤)
في طرة أو رقعة مضافة أنه من موضع، فأضافها إليه: ويبيّن ذلك أنك تجد ترجمتين وأكثر من ذلك متصلة ليس بينها أحاديث. قال الحافظ ابن حجر: وهذه قاعدة

حسنة يفزع إليها بحيث يتعسر الجمع بين الترجمة والحديث وهي مواضع قليلة اهـ. وهذا الذي قاله الباجي فيه نظر من حيث أن الكتاب قرئ على مؤلفه، ولا ريب أنه لم يقرأ عليه إلا مرتبًا مبوّبًا، فالعبرة بالرواية لا بالمسودّة التي ذكر صفتها، ثم إن التراجم الواقعة فيه تكون ظاهرة وخفية، فالظاهرة أن تكون الترجمة دالّة بالمطابقة لما يورده فى مضمنها، وإنما فائدتها الإعلام بما ورد في ذلك الباب من غير اعتبار لمقدار تلك الفائدة، كأنه يقول هذا الباب الذي فيه كيت وكيت. وقد تكون الترجمة بلفظ المترجم له أو ببعضه أو بمعناه، وقد يأتي من ذلك ما يكون في لفظ الترجمة احتمال لأكثر من معنى واحد فيعين أحد الاحتمالين بما يذكره تحتها من الحديث، وقد يوجد فيه عكس ذلك بأن يكون الاحتمال في الحديث والتعيين في الترجمة، والترجمة هنا بيان لتأويل ذلك الحديث نائبة مناب قول الفقيه، مثلاً المراد بهذا الحديث العام الخصوص أو بهذا الحديث الخاص العموم إشعارًا بالقياس لوجود العلة الجامعة، أو أن ذلك الخاص المراد به ما هو أعم مما يدل عليه ظاهره بطريق الأعلى أو الأدنى، ويأتي في المطلق والمقيد نظير ما ذكر في العام والخاص، وكذا في شرح المشكل وتفسير الغامض وتأويل الظاهر وتفصيل المجمل، وهذا الموضع هو معظم ما يشكل من تراجم البخاري، ولذا اشتهر من قول جمع من الفضلاء: فقه البخاري في تراجمه، وأكثر ما يفعل ذلك إذا لم يجد حديثًا على شرطه في الباب ظاهر المعنى في المقصد الذي يترجم به ويستنبط الفقه منه، وقد يفعل ذلك لغرض شحذ الأذهان في إظهار مضمره واستخراج خبيئه، وكثيرًا ما يفعل ذلك أي هذا الأخير حيث يذكر الحديث المفسر لذلك في موضع آخر متقدمًا أو متأخرًا، فكأنه يحيل عليه ويومئ بالرمز والإشارة إليه، وكثيرًا ما يترجم بلفظ الاستفهام كقوله: باب هل يكون كذا، أو من قال كذا ونحو ذلك. وذلك حيث لا يتجه له الجزم بأحد الاحتمالين، وغرضه بيان هل ثبت ذلك الحكم أو لم يثبت، فيترجم على الحكم ومراده ما يفسر بعد من إثباته أو نفيه، أو أنه محتمل لهما، وربما كان أحد المحتملين أظهر، وغرضه أن يبقي للناظر مجالاً وينبّه على أن هناك مجالاً أو تعارضًا يوجب التوقف حيث يعتقد أن فيه إجمالاً أو يكون المدرك مختلفًا في الاستدلال به، وكثيرًا ما يترجم بأمر ظاهر قليل الجدوى، لكنه إذا حقّقه المتأمل أجدى كقوله: باب قول الرجل ما صلينا. فإنه أشار به إلى الرد على من كره ذلك. وكثيرًا ما يترجم بأمر يختص ببعض الوقائع لا يظهر في بادئ الرأي كقوله: باب استياك الإمام بحضرة رعيته. فإنه لما كان الاستياك قد يظن أنه من أفعال المهنة، فلعل أن يظن أن إخفاءه أولى مراعاة للمروءة، فلما وقع في الحديث أنه صلى الله عليه وسلم استاك بحضرة الناس دل على أنه من باب التطيب لا من الباب الآخر، نبّه على ذلك ابن دقيق العيد، قال الحافظ ابن حجر: ولم أرَ هذا في البخاري، فكأنه ذكره على سبيل المثال. وكثيرًا ما يترجم بلفظ يومئ إلى معنى حديث لم يصح على شرطه أو يأتي بلفظ الحديث الذي لم يصح على شرطه صريحًا في الترجمة، ويورد في الباب ما يؤدي معناه بأمر ظاهر وتارة بأمر خفيّ، من ذلك قوله: باب الأمراء من قريش. وهذا لفظ حديث يروى عن عليّ وليس على شرط البخاري، وأورد فيه حديث لا يزال والٍ من قريش. وربما اكتفى أحيانًا بلفظ الترجمة التي هي لفظ حديث لم يصح على شرطه وأورد معها أثرًا أو آية، فكأنه يقول لم يصح

 

في الباب شيء على شرطي، وللغفلة عن هذه المقاصد الدقيقة، اعتد مَن لم يمعن النظر أنه ترك الكتاب بلا تبييض. وبالجملة فتراجمه حيّرت الأفكار وأدهشت العقول والأبصار ولقد أجاد القائل:

أعيا فحول العلم حلّ رموز ما … أبداه في الأبواب من أسرار

وإنما بلغت هذه المرتبة وفازت بهذه المنقبة لما روي أنه بيضها بين قبر النبي صلى الله عليه وسلم
কোনো প্রান্তটীকা বা যুক্ত চিরকুটে কোনো বিষয়ের উল্লেখ ছিল, ফলে কেউ সেটিকে মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো আপনি এমন দুটি বা ততোধিক অনুচ্ছেদ শিরোনাম পরস্পর যুক্ত অবস্থায় পাবেন যার মধ্যে কোনো হাদিস নেই। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এটি একটি উত্তম মূলনীতি যার আশ্রয় নেওয়া হয় যখন শিরোনাম ও হাদিসের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে, আর এমন স্থান খুব কমই রয়েছে। আল-বাজি যা বলেছেন তা পর্যালোচনার দাবি রাখে, কেননা কিতাবটি তার লেখকের নিকট পাঠ করা হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তা বিন্যস্ত ও অধ্যায় বিন্যাস করা অবস্থাতেই তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। সুতরাং বিবেচ্য বিষয় হলো বর্ণনা, সেই খসড়া নয় যার বিবরণ তিনি দিয়েছেন। এরপর এতে যে অনুচ্ছেদ শিরোনামগুলো রয়েছে সেগুলো কখনো প্রকাশ্য হয় আবার কখনো অস্পষ্ট হয়। প্রকাশ্য হলো এমন শিরোনাম যা তার বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর উদ্দেশ্য হলো সেই অধ্যায়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা কেবল অবহিত করা, এর অতিরিক্ত অন্য কোনো উপকারিতা বিবেচনা না করে; যেন তিনি বলছেন এটি এমন একটি অধ্যায় যাতে অমুক অমুক বিষয় রয়েছে। কখনো অনুচ্ছেদ শিরোনামটি সেই হাদিসের শব্দের মাধ্যমে হয় যার জন্য শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, অথবা তার কোনো অংশের মাধ্যমে বা তার অর্থের মাধ্যমে। আবার কখনো এমন হতে পারে যে, শিরোনামের শব্দে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে, তখন তিনি তার অধীনে যে হাদিসটি উল্লেখ করেন তা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণ করে দেন। কখনো এর উল্টোটাও ঘটে; অর্থাৎ হাদিসে অস্পষ্টতা থাকে আর শিরোনামে তা নির্দিষ্ট করা হয়। এখানে শিরোনাম হলো সেই হাদিসের ব্যাখ্যার বয়ান যা ফকিহগণের বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, এই ব্যাপক হাদিসটি দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য, কিংবা এই বিশেষ হাদিসটি দ্বারা ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য, যা কারণের অভিন্নতার কারণে কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করে। অথবা সেই বিশেষ বিষয়টি দ্বারা এমন ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য যা তার বাহ্যিক শব্দ থেকে উচ্চতর বা নিম্নতর পন্থায় প্রমাণিত হয়। মুতলাক (অনির্ধারিত) ও মুকাইয়্যাদ (নির্ধারিত) এর ক্ষেত্রেও ব্যাপক ও বিশেষ এর মতো অনুরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়। একইভাবে কঠিন বিষয়ের ব্যাখ্যা, অস্পষ্ট বিষয়ের তাফসির, প্রকাশ্য বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রেও এটি ঘটে। ইমাম বুখারীর শিরোনামগুলোর মধ্যে এই স্থানগুলোই সবচেয়ে বেশি সমস্যাসংকুল। এই কারণেই একদল বিদগ্ধ পণ্ডিতের এই উক্তিটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে: বুখারীর ফিকহ তাঁর অনুচ্ছেদ শিরোনামসমূহে নিহিত। তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটি তখন করেন যখন সেই অধ্যায়ে তাঁর নির্ধারিত শর্তানুযায়ী এমন কোনো হাদিস পান না যার অর্থ সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যার জন্য তিনি শিরোনাম দিয়েছেন এবং যেখান থেকে ফিকহী মাসআলা উদ্ভাবন করা হয়। কখনো কখনো তিনি মেধাকে শাণিত করার উদ্দেশ্যেও এমনটি করেন যাতে এর মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ও গোপন বিষয়গুলো উন্মোচন করা যায়। এই শেষোক্ত বিষয়টি তিনি প্রায়ই এমন ক্ষেত্রে করেন যেখানে তিনি এর ব্যাখ্যাস্বরূপ অন্য কোনো হাদিস পূর্বে বা পরে উল্লেখ করে থাকেন। ফলে তিনি যেন সেই দিকেই ইঙ্গিত প্রদান করছেন। অনেক সময় তিনি প্রশ্নবোধক শব্দের মাধ্যমে শিরোনাম প্রদান করেন, যেমন তাঁর উক্তি: অধ্যায়: অমুক বিষয়টি কি হবে? অথবা যে ব্যক্তি এমন কথা বলেছে ইত্যাদি। এটি তিনি তখনই করেন যখন দুটি সম্ভাবনার কোনো একটিকে নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করার সুযোগ থাকে না। তাঁর উদ্দেশ্য থাকে সেই হুকুমটি সাব্যস্ত কি না তা স্পষ্ট করা। সুতরাং তিনি সেই হুকুমের উপর শিরোনাম দেন আর তাঁর উদ্দেশ্য থাকে পরবর্তীতে সেটির প্রমাণ বা অস্বীকৃতি কিংবা এটি উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে তা বর্ণনা করা। কখনো কখনো দুটি সম্ভাবনার একটি অধিক স্পষ্ট হয়, তবুও তাঁর উদ্দেশ্য থাকে চিন্তাশীলদের জন্য গবেষণার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখা এবং সতর্ক করা যে এখানে ভিন্নমত বা বৈপরীত্যের অবকাশ রয়েছে যার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা আবশ্যক; যখন তিনি মনে করেন যে তাতে অস্পষ্টতা আছে অথবা দলিলের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রায়ই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও বাহ্যিক কোনো বিষয়ে শিরোনাম দেন যা বাহ্যত কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি যখন তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন, তখন সেটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়। যেমন তাঁর উক্তি: অধ্যায়: ব্যক্তির এই কথা বলা যে, আমরা সালাত আদায় করিনি। এর মাধ্যমে তিনি সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যারা একে অপছন্দনীয় মনে করেন। অনেক সময় তিনি এমন বিষয়ে শিরোনাম দেন যা কোনো বিশেষ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রথম দৃষ্টিতে তা স্পষ্ট হয় না। যেমন তাঁর উক্তি: অধ্যায়: ইমামের স্বীয় প্রজাদের সামনে মেসওয়াক করা। কেননা কেউ মনে করতে পারে যে মেসওয়াক করা প্রাত্যহিক ব্যক্তিগত কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই শিষ্টাচার রক্ষার খাতিরে এটি গোপনে করাই হয়তো উত্তম। কিন্তু যখন হাদিসে পাওয়া গেল যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সামনে মেসওয়াক করেছেন, তখন এটি প্রমাণিত হলো যে এটি সুগন্ধি ব্যবহারের মতো একটি বিষয়, অন্য কিছু নয়। ইবনু দাকিকিল ঈদ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: আমি বুখারীতে এই শব্দে শিরোনাম দেখিনি, সম্ভবত তিনি এটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেক সময় তিনি এমন শব্দে শিরোনাম দেন যা এমন একটি হাদিসের অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে যা তাঁর শর্ত অনুযায়ী সহিহ নয়। অথবা শিরোনামে সরাসরি সেই হাদিসের শব্দ নিয়ে আসেন যা তাঁর শর্ত অনুযায়ী সহিহ নয়, আর অধ্যায়ের ভেতরে এমন কিছু উল্লেখ করেন যা স্পষ্টভাবে বা প্রচ্ছন্নভাবে তার অর্থ প্রকাশ করে। এর একটি উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: অধ্যায়: নেতৃবৃন্দ কুরাইশ বংশ থেকে হবে। এটি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের শব্দ যা বুখারীর শর্ত অনুযায়ী নয়, অথচ তিনি এর অধীনে ‘কুরাইশ বংশ থেকে শাসক বিদ্যমান থাকবে’ বিষয়ক হাদিস উল্লেখ করেছেন। কখনো কখনো তিনি এমন শিরোনামের ওপরই তুষ্ট থাকেন যা এমন একটি হাদিসের শব্দ যা তাঁর শর্ত অনুযায়ী সহিহ নয় এবং তার সাথে কোনো সাহাবীর উক্তি বা কুরআন মজীদের আয়াত উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে তিনি যেন বলতে চান যে,

 

এই অধ্যায়ে আমার শর্ত অনুযায়ী কোনো হাদিস সহিহ নেই। এই সূক্ষ্ম উদ্দেশ্যগুলো সম্পর্কে গাফিলতির কারণে একদল ব্যক্তি যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি তারা মনে করেছেন যে, তিনি কিতাবটিকে চূড়ান্ত রূপ না দিয়েই রেখে গেছেন। মোদ্দা কথা হলো, তাঁর অনুচ্ছেদ শিরোনামসমূহ চিন্তাকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং বুদ্ধি ও দৃষ্টিকে হতবাক করে দেয়। এক কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

অব্যক্ত রহস্যের পাঠোদ্ধারে বিজ্ঞজনেরাও অপারগ হয়েছে, … অধ্যায়সমূহে তিনি যা কিছু গূঢ় রহস্য ব্যক্ত করেছেন।

এই গ্রন্থ এই সুউচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে এই কারণে যে, বর্ণিত আছে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের পাশে এটি চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومنبره، وأنه كان يصلي لكل ترجمة ركعتين.

وأما تقطيعه للحديث واختصاره وإعادته له في الأبواب وتكراره فقال الحافظ أبو الفضل بن طاهر في جواب المتعنت: اعلم أن البخاري رحمه الله تعالى كان يذكر الحديث في كتابه في مواضع ويستدل به في كل باب بإسناد آخر ويستخرج منه معنى يقتضيه الباب الذي أخرجه فيه، وقلما يورد حديثًا في موضعين بإسناد واحد ولفظ واحد، وإنما يورده من طريق أخرى لمعانٍ يذكرها، فمنها أنه يخرج الحديث عن صحابيّ ثم يورده عن صحابيّ آخر، والمقصود منه أن يخرج الحديث من حدّ الغرابة، وكذا يفعل في أهل الطبقة الثانية والثالثة وهلمّ جرًّا إلى مشايخه، فيعتقد من يرى ذلك من غير أهل الصنعة أنه تكرار وليس كذلك، لاشتماله على فائدة زائدة، ومنها أنه صحح أحاديث على هذه القاعدة يشتمل كل حديث منها على معانٍ متغايرة، فيورده في كل باب من طريق غير الطريق الأوّل، ومنها أحاديث يرويها بعض الرواة تامة وبعضهم مختصرة فيرويها كما جاءت ليُزيل الشبهة عن ناقلها، ومنها أن الرواة ربما اختلفت عباراتهم فحدث راوٍ بحديث فيه كلمة تحتمل معنى آخر، فيورده بطرقه إذا صحّت على شرطه، ويفرد لكل لفظة بابًا مفردًا، ومنها أحاديث تعارض فيها الوصل والإرسال ورجح عنده الوصل فاعتمده، وأورد الإرسال منبهًا على أنه لا تأثير له عنده في الموصول، ومنها أحاديث تعارض فيها الوقف والرفع والحكم فيها كذلك، ومنها أحاديث زاد فيها بعض الرواة رجلاً فى الإسناد ونقصه بعضهم، فيوردها على الوجهين، حيث يصح عنده أن الراوي سمعه من شيخ حدّثه به عن آخر، ثم لقي آخر فحدّثه به، فكان يرويه على الوجهين. ومنها أنه ربما أورد حديثًا عنعنه راويه فيورده من طريق أخرى مصرّحًا فيها بالسماع على ما عرف من طريقه في اشتراط ثبوت اللقاء من المعنعن.

وأما تقطيعه للحديث في الأبواب تارة واقتصاره على بعضه أخرى، فلأنه إن كان المتن قصيرًا ومرتبطًا بعضه ببعض وقد اشتمل على حكمين فصاعدًا، فإنه يعيده بحسب ذلك مراعيًا عدم إخلائه من فائدة حديثية وهي إيراده له عن شيخ سوى الشيخ الذي أخرجه عنه قبل ذلك، فيستفاد بذلك كثرة الطرق، لذلك الحديث، وربما ضاق عليه مخرج الحديث حيث لا يكون له إلا طريق واحد، فيتصرَّف حينئذ فيه فيورده في موضع موصولاً وفي آخر معلقًا وتارة تامًّا وأخرى مقتصرًا على طرفه الذي يحتاج إليه في ذلك الباب، فإن كان المتن مشتملاً على جمل متعددة لا تعلّق لإحداها بالأخرى، فإنه يخرّج كل جملة منها في باب مستقل فرارًا من التطويل، وربما نشط فساقه بتمامه. وقد ذكر أنه

 

وقع في بعض نسخ البخاري في أثناء الحج بعد باب قصر الخطبة بعرفة باب التعجيل إلى الموقف، قال أبو عبد الله: يزاد في هذا الباب حديث مالك عن ابن شهاب، ولكني لا أريد أن أدخل فيه معادًا، وهذا كما قال في مقدمة الفتح يقتضي أنه لا يتعمد أن يخرّج في كتابه حديثًا معادًا بجميع إسناده ومتنه، وإن كان قد وقع له من ذلك شيء فعن غير قصد وهو قليل جدًّا اهـ.

 

قلت وقد رأيت ورقة بخط الحافظ ابن حجر تعليقًا أحضرها إليّ صاحبنا الشيخ العلامة المحدّث البدر المشهدي نصها: نبذة من الأحاديث التي ذكرها البخاري في موضعين مسندًا ومتنًا، حديث عبد الله بن مغفل "رمى إنسان بجراب فيه شحم" في آخر الخمس وفي الصيد والذبائح، حديث "في نحر البدن في الحج" عن سهل بن بكار عن وهب ذكره في موضعين متقاربين، حديث أنس "أصيب حارثة فقالت أمه في غزوة بدر وفي الرقاق" حديث "أن رجلين خرجا ومعهما مثل المصباحين" في باب المساجد وفي باب انشقاق القمر، حديث أنس "أن عمر استسقى بالعباس" في الاستسقاء ومناقب العباس: حديث أبي بكرة "إذا التقى المسلمان" في باب وإن طائفتان في كتاب الإيمان وفي كتاب الديات، حديث أبي جحيفة "سألت عليًّا هل عندكم شيء" في باب المقاتلة وفي باب لا يقتل مسلم بكافر. حديث حذيفة حدثنا حديثين أحدهما في باب رفع الأمانة من الرقاق وفي باب إذا بقي حثالة من الفتن. حديث أبي هريرة "في قول رجل من أهل البادية
এবং তাঁর মিম্বর; আর তিনি প্রতিটি শিরোনামের জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।

আর তাঁর হাদিস ছিন্ন করা, সংক্ষেপ করা, বিভিন্ন অধ্যায়ে পুনরায় উল্লেখ করা এবং পুনরাবৃত্তি করার বিষয়ে হাফেজ আবু আল-ফজল বিন তাহের জনৈক প্রশ্নকারীর জবাবে বলেন: জেনে রাখুন যে, ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর কিতাবে এক হাদিস একাধিক স্থানে উল্লেখ করতেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ে ভিন্ন সনদের মাধ্যমে তা দিয়ে দলিল পেশ করতেন। যে অধ্যায়ে তিনি হাদিসটি আনতেন, সেখান থেকে তিনি সেই অধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী একটি অর্থ আহরণ করতেন। তিনি খুব কমই একটি হাদিস একই সনদ ও একই শব্দে দুই স্থানে উল্লেখ করেছেন। বরং তিনি অন্য সূত্র থেকে বিভিন্ন অর্থের কারণে তা উল্লেখ করতেন। এর মধ্যে একটি হলো—তিনি হাদিসটি এক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর অন্য সাহাবী থেকে তা বর্ণনা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো হাদিসটিকে 'গারাবাত' বা একাকীত্বের সীমা থেকে বের করা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও এবং তাঁর উস্তাদদের পর্যন্ত তিনি অনুরূপ করেন। যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন, তারা এটি দেখে মনে করেন যে এটি কেবলই পুনরাবৃত্তি, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ এতে অতিরিক্ত কিছু ফায়দা থাকে। এর মধ্যে আরেকটি হলো—তিনি এই নিয়মের ভিত্তিতে এমন কিছু হাদিসকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন যার প্রতিটি হাদিসে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ রয়েছে। তাই তিনি প্রথম সূত্রের পরিবর্তে অন্য সূত্রের মাধ্যমে প্রতিটি অধ্যায়ে তা উল্লেখ করেন। আবার কিছু হাদিস রয়েছে যা কোনো বর্ণনাকারী পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং কেউ সংক্ষেপ করেছেন; ফলে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সন্দেহ দূর করার জন্য তিনি তা যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বর্ণনা করেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের শব্দের ভিন্নতা থাকে, যেমন কোনো বর্ণনাকারী এমন একটি শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যা অন্য কোনো অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। তখন তিনি তাঁর শর্ত অনুযায়ী সহীহ হলে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে সেটি উল্লেখ করেন এবং প্রতিটি শব্দের জন্য আলাদা অধ্যায় নির্ধারণ করেন। আবার এমন কিছু হাদিস আছে যেখানে 'ওয়াসল' (সংযুক্ততা) ও 'ইরসাল' (বিচ্ছিন্নতা)-এর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং তাঁর নিকট 'ওয়াসল' অগ্রগণ্য হওয়ার কারণে তিনি সেটিই গ্রহণ করেন; তবে 'ইরসাল'ও উল্লেখ করেন এটি বোঝানোর জন্য যে এটি তাঁর নিকট সংযুক্ত বর্ণনার ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে না। আবার কিছু হাদিসে 'ওয়াকফ' (সাহাবীর বক্তব্য) ও 'রাফ' (রাসূলের বক্তব্য)-এর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, সেখানেও পদ্ধতি একই। আবার কিছু হাদিসে কোনো বর্ণনাকারী সনদে একজন ব্যক্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অন্য কেউ তাকে বাদ দিয়েছেন; এমতাবস্থায় তিনি উভয়ভাবেই তা উল্লেখ করেন, যখন তাঁর নিকট এটি প্রমাণিত হয় যে বর্ণনাকারী জনৈক শায়খের নিকট তা শুনেছেন যিনি অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি পরে সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকেও সরাসরি শুনেছেন। ফলে তিনি উভয়ভাবেই তা বর্ণনা করতেন। আবার এমনও হতে পারে যে তিনি কোনো হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে বর্ণনাকারী 'আন' (হতে) শব্দ ব্যবহার করেছেন, তখন তিনি অন্য সূত্রের মাধ্যমে এটি উল্লেখ করেন যেখানে স্পষ্টভাবে শোনার কথা (সামা') উল্লেখ থাকে, কারণ বর্ণনাকারীদের পরস্পরের মধ্যে সাক্ষাতের প্রমাণ থাকা শর্ত হওয়ার বিষয়ে তাঁর পদ্ধতি অত্যন্ত সুপরিচিত।

আর অধ্যায়সমূহে তাঁর হাদিস কখনো ছিন্ন করা এবং কখনো কোনো অংশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা প্রসঙ্গে বলা যায় যে, যদি মূল পাঠ (মতন) ছোট হয় এবং একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে এবং তাতে দুই বা ততোধিক বিধান থাকে, তবে তিনি সেখানে হাদিসের নতুন কোনো ফায়দা নিশ্চিত করে তা পুনরায় উল্লেখ করেন। আর সেই ফায়দাটি হলো—যে শায়খের থেকে তিনি আগে বর্ণনা করেছিলেন, তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো শায়খের থেকে তা বর্ণনা করা। এর মাধ্যমে ওই হাদিসের অধিক সংখ্যক সূত্র জানা যায়। কখনো কখনো হাদিসের সূত্র অত্যন্ত সীমিত হয়ে যায় যেখানে কেবল একটিই পথ থাকে; তখন তিনি সেখানে কিছুটা পরিবর্তন আনেন। কখনো তিনি সেটি সংযুক্ত (মাওসুল) হিসেবে এবং কখনো ঝুলন্ত (মুয়াল্লাক) হিসেবে উল্লেখ করেন। কখনো পূর্ণাঙ্গভাবে এবং কখনো কেবল সেই অংশটুকু উল্লেখ করেন যা ওই অধ্যায়ের জন্য প্রয়োজন। আর যদি মূল পাঠটি এমন হয় যাতে একাধিক বাক্য রয়েছে এবং একটির সাথে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই, তবে দীর্ঘায়ন এড়ানোর জন্য তিনি প্রতিটি বাক্য আলাদা অধ্যায়ে উল্লেখ করেন। আবার কখনো তিনি উৎসাহী হয়ে পূর্ণাঙ্গ হাদিসটিই উল্লেখ করেন। বর্ণিত আছে যে

 

সহীহ বুখারীর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে হজ্জ অধ্যায়ে 'আরাফায় খুতবা সংক্ষেপ করা'র অধ্যায়ের পরে 'অবস্থানস্থলের দিকে দ্রুত গমন' সংক্রান্ত একটি অধ্যায় পাওয়া যায়। আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন: এই অধ্যায়ে ইবনে শিহাব থেকে মালিকের হাদিসটি যুক্ত করা হবে, কিন্তু আমি চাই না এতে কোনো পুনরাবৃত্তি প্রবেশ করুক। 'ফাতহুল বারী'র ভূমিকায় যেমন বলা হয়েছে, এটি একথারই দাবি রাখে যে তিনি সচেতনভাবে তাঁর কিতাবে একই সনদ ও একই মতন সহ কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি করেন না। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে তা অনিচ্ছাকৃত এবং এর পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। সমাপ্ত।

 

আমি বলছি, আমি হাফেজ ইবনে হাজারের হস্তাক্ষরে একটি টীকা দেখেছি যা আমাদের সাথী শেখ আল্লামা মুহাদ্দিস বদর আল-মাশহাদী আমার নিকট এনেছিলেন। তার পাঠ নিম্নরূপ: ইমাম বুখারী সনদ ও মতনসহ দুই স্থানে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন এমন কিছু হাদিস হলো—আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফালের হাদিস "এক ব্যক্তি চর্বিভর্তি একটি চামড়ার থলে নিক্ষেপ করল", যা 'খুমুস' অধ্যায়ের শেষে এবং 'শিকার ও যবেহ' অধ্যায়ে রয়েছে। হজ্জে উট কুরবানি সংক্রান্ত হাদিস, যা সাহল বিন বাক্কার থেকে ওহাবের সূত্রে বর্ণিত, তিনি এটি কাছাকাছি দুটি স্থানে উল্লেখ করেছেন। আনাস-এর হাদিস "হারিসা শহীদ হলেন এবং তাঁর মা বললেন", এটি বদর যুদ্ধ ও রিকাক অধ্যায়ে আছে। হাদিস: "দুই ব্যক্তি বের হলেন এবং তাঁদের সাথে প্রদীপের মতো দুটি বস্তু ছিল", এটি মসজিদ ও চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া অধ্যায়ে আছে। আনাস-এর হাদিস: "উমর আব্বাসের অসিলায় বৃষ্টির দোয়া চাইলেন", এটি বৃষ্টির দোয়া ও আব্বাসের মর্যাদা অধ্যায়ে আছে। আবু বকরাহ-এর হাদিস: "যখন দুই মুসলিম তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়", এটি ঈমান অধ্যায়ের 'যদি মুমিনদের দুই দল' অনুচ্ছেদে এবং রক্তপণ অধ্যায়ে আছে। আবু জুহাইফার হাদিস: "আমি আলীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের নিকট কি কিছু আছে?", এটি যুদ্ধ অধ্যায়ে এবং 'কাফিরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না' অধ্যায়ে আছে। হুজাইফার হাদিস: "আমাদের নিকট দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন", যার একটি রিকাক অধ্যায়ে আমানত উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে এবং অন্যটি ফিতনা অবশিষ্ট থাকা সংক্রান্ত অধ্যায়ে। আবু হুরায়রা-এর হাদিস: "জনৈক পল্লীবাসীর উক্তিতে..."
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٦)
لسنا أصحاب زرع" في كتاب الحرث وفي التوحيد في كلام الرب مع الملائكة. حديث عمر "كانت أموال بني النضير" في باب المجنّ من الجهاد وفي التفسير. حديث أبي هريرة "بينا أيوب يغتسل عريانًا" في أحاديث الأنبياء وفي التوحيد. حديث "لا تقسم ورثتي" في الخمس وقبله في الجهاد. حديث عبد الله بن عمرو "من قتل معاهدًا" في الجزية وباب من قتل معاهدًا، وفي الديات باب "من قتل ذميًّا". حديث أبي سعيد "إذا صلى أحدكم إلى شيء يستره" في الصلاة وفي صفة إبليس. حديث أبي هريرة "وكّلني بحفظ زكاة رمضان" في الوكالة وفي فضائل القرآن. حديث عدي بن حاتم "جاء رجلان أحدهما يشكو العيلة" في الصدقة قبل الردّ وفي علامات النبوّة. حديث أنس "انهزم الناس يوم أُحُد" في غزوة أُحُد وفي الجهاد ومناقب طلحة. حديث أبي موسى "رأيت في المنام أني أهاجر من مكة إلى أرض ذات نخل" الحديث في علامات النبوّة وفي المغازي وفي التفسير. حديث ابن عباس "هذا جبريل" في غزوة بدر وفي غزوة أُحُد. حديث جابر "أمر عليًّا أن يقيم على إحرامه" في الحج وفي بعث عليّ من المغازي، حديث عائشة "كان يوضع إليّ المركن" في الطهارة وفي الاعتصام. وهذا آخر ما وجدته بخط الحافظ ابن حجر من ذلك، ورأيت في البخاري أيضًا حديث أبي هريرة: "كان أهل الكتاب يقرؤون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لأهل الإسلام" في باب لا تسألوا أهل الكتاب عن شيء، من كتاب الاعتصام وفي تفسير سورة البقرة وفي باب ما يجوز من تفسير التوراة في كتاب التوحيد.

وأما اقتصاره أي البخاري على بعض المتن من غير أن يذكر الباقي في موضع آخر، فإنه لا يقع

 

له ذلك في الغالب إلا حيث يكون المحذوف موقوفًا على الصحابي وفيه شيء قد يحكم برفعه فيقتصر على الجملة التي يحكم لها بالرفع ويحذف الباقي، لأنه لا تعلق له بموضوع كتابه، كما وقع له في حديث هذيل بن شرحبيل عن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه قال: "إن أهل الإسلام لا يسيبون وإن أهل الجاهلية كانوا يسيبون". هكذا أورده وهو مختصر من حديث موقوف أوّله "جاء رجل إلى عبد الله بن مسعود فقال: إني أعتقت عبدًا لي سائبة فمات وترك مالاً ولم يدع وارثًا فقال عبد الله: إن أهل الإسلام لا يسيبون وإن أهل الجاهلية كانوا يسيبون فأنت وليّ نعمته فلك ميراثه فإن تأثمت وتحرجت في شيء فنحن نقبله منك ونجعله في بيت المال" فاقتصر البخاري على ما يعطى حكم الرفع من هذا الموقوف وهو قوله إن أهل الإسلام لا يسيبون، لأنه يستدعي بعمومه النقل عن صاحب الشرع لذلك الحكم، واختصر الباقي لأنه ليس من موضوع كتابه، وهذا من أخفى المواضع التي وقعت له من هذا الجنس. فقد اتضح أنه لا يعيد إلا لفائدة حتى لو لم يظهر لإعادته فائدة من جهة الإسناد ولا من جهة المتن، لكان ذلك لإعادته لأجل مغايرة الحكم الذي تشتمل عليه الترجمة الثانية موجبًا لئلا يعدّ تكرارًا بلا فائدة. كيف وهو لا يخليه مع ذلك من فائدة إسنادية وهي إخراجه للإسناد عن شيخ غير الشيخ الماضي أو غير ذلك.

 

وأما إيراده للأحاديث المعلقة مرفوعة وموقوفة فيوردها تارة مجزومًا بها كقال وفعل فلها حكم الصحيح، وغير مجزوم بها كيروى ويذكر. فالمرفوع تارة يوجد في موضع آخر منه موصولاً وتارة معلقًا، فالأوّل وهو الموصول إنما يورده معلقًا حيث يضيق مخرج الحديث إذ إنه لا يكرر إلا لفائدة، فمتى ضاق المخرج واشتمل المتن على أحكام واحتاج إلى تكريره يتصرف في الإسناد بالاختصار خوف التطويل، والثاني وهو ما لا يوجد فيه إلا معلقًا، فأما أن يذكره بصيغة الجزم فيستفاد منه الصحة عن المضاف إلى من علق عنه وجوبًا لكن يبقى النظر فيمن أبرز من رجال ذلك الحديث، فمنه ما يلحق بشرطه ومنه ما لا يلحق، فأما الأوّل فالسبب في كونه لم يوصل إسناده لكونه أخرج ما يقوم مقامه فاستغنى عن إيراده مستوفيًا ولم يهمله بل أورده معلقًا اختصارًا، أو لكونه لم يحصل عنده مسموعًا، أو سمعه وشك في سماعه له من شيخه، أو سمعه مذاكرة فلم يسقه مساق الأصل، وغالب هذا فيما أورده عن مشايخه، فمن ذلك أنه قال في كتاب

"আমরা চাষাবাদের সাথে যুক্ত নই" হাদিসটি 'কিতাবুল হারস' (চাষাবাদ অধ্যায়) এবং 'কিতাবুত তাওহিদ'-এ ফেরেশতাদের সাথে রবের কথোপকথন অংশে রয়েছে। উমরের হাদিস "বনু নাযিরের সম্পদ ছিল" জিহাদের 'ঢাল' অনুচ্ছেদে এবং তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস "আইয়ুব যখন নগ্ন অবস্থায় গোসল করছিলেন" আম্বিয়াদের হাদিসসমূহ এবং তাওহিদ অধ্যায়ে রয়েছে। "আমার উত্তরাধিকারীরা বণ্টন করবে না" হাদিসটি খুমুস অধ্যায়ে এবং এর আগে জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণিত হাদিস "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করল" জিজিয়া অধ্যায়ে এবং 'যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করে' অনুচ্ছেদে, এবং দিয়াত অধ্যায়ের 'যে ব্যক্তি কোনো জিম্মিকে হত্যা করে' অনুচ্ছেদে রয়েছে। আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস "যখন তোমাদের কেউ তাকে আড়াল করে এমন কিছুর দিকে ফিরে সালাত আদায় করে" সালাত অধ্যায়ে এবং ইবলিসের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় রয়েছে। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস "তিনি আমাকে রমজানের জাকাত রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন" ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) এবং কুরআনের ফজিলত অধ্যায়ে রয়েছে। আদি ইবনে হাতিম বর্ণিত হাদিস "দুই ব্যক্তি আসল, যাদের একজন অভাবের অভিযোগ করছিল" সদকা এবং নবুওয়তের আলামত অধ্যায়ে রয়েছে। আনাস বর্ণিত হাদিস "উহুদের দিন লোকজন পরাজিত হয়েছিল" উহুদ যুদ্ধ, জিহাদ এবং তালহার ফজিলত অধ্যায়ে রয়েছে। আবু মুসা বর্ণিত হাদিস "আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মক্কা থেকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি ভূমির দিকে হিজরত করছি" হাদিসটি নবুওয়তের আলামত, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং তাফসির অধ্যায়ে রয়েছে। ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিস "ইনি জিবরাইল" বদর যুদ্ধ এবং উহুদ যুদ্ধ অধ্যায়ে রয়েছে। জাবির বর্ণিত হাদিস "তিনি আলীকে তার ইহরামের ওপর অটল থাকার নির্দেশ দিলেন" হজ অধ্যায়ে এবং মাগাজির অন্তর্গত আলীকে প্রেরণের বর্ণনায় রয়েছে। আয়েশা বর্ণিত হাদিস "আমার কাছে পানির পাত্র রাখা হতো" পবিত্রতা এবং ইতিসাম (আঁকড়ে ধরা) অধ্যায়ে রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার-এর হাতের লেখায় আমি এ পর্যন্তই পেয়েছি। আমি বুখারিতে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটিও দেখেছি: "আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করত এবং মুসলিমদের জন্য আরবিতে তা ব্যাখ্যা করত", যা ইতিসাম কিতাবের 'আহলে কিতাবদের কিছু জিজ্ঞেস করো না' অনুচ্ছেদে, সূরা বাকারার তাফসিরে এবং তাওহিদ কিতাবের 'তাওরাতের তাফসিরের যা জায়েজ' অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

আর ইমাম বুখারি কর্তৃক কোনো হাদিসের মূল পাঠের অংশবিশেষ উল্লেখ করা এবং বাকি অংশ অন্য কোথাও উল্লেখ না করা প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এটি সাধারণত তখনই ঘটে যখন বর্জিত অংশটি সাহাবীর ওপর স্থগিত (মাওকুফ) থাকে এবং সেখানে এমন কিছু থাকে যা রাসুলের হাদিস (মারফু) হিসেবে গণ্য হওয়ার হুকুম রাখে। সেক্ষেত্রে তিনি কেবল সেই বাক্যটুকুই উল্লেখ করেন যা মারফু হওয়ার উপযোগী এবং বাকিটুকু বাদ দেন। কারণ বর্জিত অংশের সাথে তার কিতাবের আলোচ্য বিষয়ের কোনো সম্পর্ক থাকে না। যেমনটি তিনি করেছেন ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হুযাইল বিন শুরাহবিলের হাদিসের ক্ষেত্রে, যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না, আর জাহেলি যুগের লোকেরা তা করত।" তিনি এভাবেই সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, অথচ এটি ছিল একটি মাওকুফ হাদিসের অংশ যার শুরুতে ছিল: "এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট এসে বলল: আমি আমার একটি গোলামকে কোনো উত্তরাধিকার দাবি না রাখার শর্তে স্বাধীন করেছি, এরপর সে মারা গেছে এবং কিছু সম্পদ রেখে গেছে কিন্তু কোনো ওয়ারিশ রেখে যায়নি। তখন আবদুল্লাহ বললেন: নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না, বরং জাহেলি যুগের লোকেরা তা করত। তুমিই তার অভিভাবক, তাই তার উত্তরাধিকার তোমারই প্রাপ্য। তবে তুমি যদি এতে কোনো গুনাহ মনে করো বা দ্বিধাবোধ করো, তবে আমরা তা তোমার থেকে গ্রহণ করব এবং বায়তুল মালে জমা দেব।" ইমাম বুখারি এই মাওকুফ হাদিস থেকে কেবল সেই অংশটুকু গ্রহণ করেছেন যা মারফু হওয়ার হুকুম রাখে, আর তা হলো—"নিশ্চয়ই ইসলামের অনুসারীরা উত্তরাধিকারহীনভাবে দাস মুক্ত করে না।" কারণ এর ব্যাপকতা শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে এই বিধানটি বর্ণিত হওয়ার দাবি রাখে। আর বাকি অংশ তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন কারণ তা তার কিতাবের মূল বিষয়বস্তুভুক্ত ছিল না। এই ধরণের বিষয়গুলো ইমাম বুখারির কিতাবের সূক্ষ্মতম স্থানগুলোর অন্যতম। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, তিনি কোনো উপকারিতা ছাড়া পুনরাবৃত্তি করেন না। এমনকি যদি হাদিসের সনদ বা মতনের দিক থেকে পুনরাবৃত্তির কোনো উপকারিতা পরিলক্ষিত নাও হয়, তবুও দ্বিতীয় শিরোনামের অধীনে সংশ্লিষ্ট বিধানের ভিন্নতার কারণে তাকে পুনরাবৃত্তি বলা চলে না। বিশেষ করে যখন তিনি একে কোনো না কোনো সনদগত উপকারিতা থেকেও মুক্ত রাখেন না, যেমন পূর্ববর্তী শায়খ ছাড়া অন্য কোনো শায়খের মাধ্যমে হাদিসটি বর্ণনা করা ইত্যাদি।

 

আর ঝুলন্ত (মুয়াল্লাক) হাদিসগুলো—তা মারফু হোক বা মাওকুফ—বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কখনো দৃঢ়তার সাথে যেমন 'তিনি বলেছেন' বা 'তিনি করেছেন' শব্দে উল্লেখ করেন, তখন তার হুকুম হয় সহিহ। আবার কখনো দৃঢ়তা ছাড়া যেমন 'বর্ণিত হয়েছে' বা 'উল্লেখ করা হয়' শব্দে উল্লেখ করেন। মারফু মুয়াল্লাক হাদিসগুলো কখনো কিতাবের অন্য স্থানে সংযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, আবার কখনো কেবল মুয়াল্লাক হিসেবেই থাকে। প্রথম প্রকার অর্থাৎ যা সংযুক্ত অবস্থায় আছে, সেটি তিনি কেবল তখনই মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেন যখন হাদিসের সূত্র সংখ্যা কম হয়। কারণ তিনি বিনা প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করেন না। সুতরাং যখন মূল সূত্র কম হয় অথচ হাদিসের মূল পাঠের মধ্যে একাধিক বিধান থাকে এবং তা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে, তখন দৈর্ঘ্য কমানোর উদ্দেশ্যে তিনি সনদে সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করেন। দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ যা কেবল মুয়াল্লাক হিসেবেই রয়েছে, তা যদি তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, তবে যার দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তবে সনদে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। তাদের কেউ কেউ বুখারির শর্ত অনুযায়ী হন, আবার কেউ হন না। প্রথম ক্ষেত্রে অর্থাৎ শর্ত অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও সনদ সংযুক্ত না করার কারণ হলো—হয় তিনি এর স্থলাভিষিক্ত কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা পূর্ণ বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে, তাই সংক্ষেপ করার জন্য তিনি মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন; অথবা তিনি সেটি সরাসরি শ্রবণ করেননি; অথবা শ্রবণ করেছেন কিন্তু শায়খের থেকে শ্রবণ করার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন; অথবা তিনি আলোচনার মাধ্যমে তা শুনেছেন তাই প্রথাগত সনদের আদলে তা বর্ণনা করেননি। এই ধরণের ঘটনাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার নিজস্ব শায়খদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি কিতাবে বলেন যে...

(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الوكالة: قال عثمان بن الهيثم: حدّثنا عوف حدّثنا محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: "وكّلني رسول الله صلى الله عليه وسلم بزكاة رمضان" الحديث بطوله، وأورده في مواضع أُخَر منها في فضائل القرآن وفي ذكر إبليس، ولم يقل في موضع منها حدثنا عثمان، فالظاهر أنه لم يسمعه منه. وقد استعمل البخاري هذه الصيغة فيما لم يسمعه من مشايخه في عدة أحاديث، فيوردها عنهم بصيغة قال فلان، ثم يوردها في موضع آخر بواسطة بينه وبينهم، ويأتي لذلك أمثلة كثيرة في مواضعها. فقال في التاريخ: قال إبراهيم بن موسى حدّثنا هشام بن يوسف، فذكر حديثًا، ثم قال: حدّثوني بهذا عن إبراهيم. ولكن ليس ذلك مطّردًا في كل ما أورده بهذه الصيغة. لكن مع هذا الاحتمال لا يجمل حمل جميع ما أورده بهذه الصيغة على

 

أنه سمع ذلك من شيوخه، ولا يلزم من ذلك أن يكون مدلسًا عنهم. فقد صرّح الخطيب وغيره بأن لفظ قال: لا يحمل على السماع إلا ممن عرف من عادته أنه لا يطلق ذلك إلا فيما سمع، فاقتضى ذلك أن من لم يعرف ذلك من عادته كان الأمر فيه على الاحتمال.

وأما ما لا يلتحق بشرطه، فقد يكون صحيحًا على شرط غيره، كقوله في الطهارة. وقالت عائشة: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر الله على كل أحيانه، فإنه حديث صحيح على شرط مسلم أخرجه في صحيحه. وقد يكون حسنًا صالحًا للحجة كقوله فيها: وقال بهز بن حكيم عن أبيه عن جدّه الله أحق أن يستحيا منه من الناس. فإنه حديث حسن مشهور عن بهز أخرجه أصحاب السنن. وقد يكون ضعيفًا لا من جهة قدح في رجاله بل من جهة انقطاع يسير في إسناده كقوله في كتاب الزكاة.

وقال طاوس: قال معاذ بن جبل لأهل اليمن: ائتوني بعرض ثياب خميص أو لبسِ في الصدقة مكان الشعير والذرة أهون عليكم وخير لأصحاب محمد صلى الله عليه وسلم. فإن إسناده إلى طاوس صحيح إلا أن طاوسًا لم يسمع من معاذ.

وأما ما يذكره بصيغة التمريض فلا يستفاد منه الصحة عن المضاف إليه لكن فيه ما هو صحيح وفيه ما ليس بصحيح، فالأوّل لم يوجد فيه ما هو على شرطه إلا في مواضع يسيرة جدًّا ولا يذكرها إلاّ حيث يذكر ذلك الحديث المعلق بالمعنى، ولم يجزم ذلك كقوله في الطب: ويذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرقى بفاتحة الكتاب فإنه أسنده في موضع آخر من طريق عبيد الله بن الأخنس عن ابن أبي مليكة عن ابن عباس أن نفرًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرّوا بحي فيه لديغ. فذكر الحديث في رقيتهم للرجل بفاتحة الكتاب. وفيه قوله صلى الله عليه وسلم لما أخبروه بذلك أن أحق ما أخذتم عليه أجرًا كتاب الله. فهذا لما أورده بالمعنى لم يجزم به إذ ليس في الموصول أنه صلى الله عليه وسلم ذكر الرقية بفاتحة الكتاب، إنما فيه أنه لم ينههم عن فعله، فاستفيد ذلك من تقريره.

وأما ما لم يورده في موضع آخر مما أورده بهذه الصيغة فمنه ما هو صحيح إلا أنه ليس على شرطه كقوله في الصلاة ويذكر عن عبد الله بن السائب قال: قرأ النبي صلى الله عليه وسلم المؤمنون في صلاة الصبح حتى إذا جاء ذكر موسى وهارون أو ذكر عيسى أخذته سعلة فركع، وهو حديث صحيح على شرط مسلم في صحيحه. ومنه ما هو حسن كقوله في البيوع: ويذكر عن عثمان بن عفان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا بعت فاكتل". وهذا الحديث قد رواه الدارقطني من طريق عبيد الله بن المغيرة وهو صدوق عن منقذ مولى عثمان وقد وثق عن عثمان وتابعه عليه سعيد بن المسيب. ومن طريقه أخرجه أحمد في المسند إلا أن في إسناده ابن لهيعة، ورواه ابن أبي شيبة في مصنفه من حديث عطاء عن عثمان وفيه انقطاع، فالحديث حسن لما عضده من ذلك. ومنه ما هو ضعيف فرد، إلا أن العمل على موافقته كقوله في الوصايا عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قضى بالدين قبل الوصية، وقد رواه الترمذيّ موصولاً من حديث أبي إسحق السبيعي عن الحرث الأعور عن عليّ والحرث ضعيف، وقد استغربه الترمذي ثم حكى إجماع أهل المدينة على القول به. ومنه ما هو ضعيف فرد لا جابر له وهو في

 

البخاري قليل جدًا،

প্রতিনিধিত্ব: উসমান ইবনে হাইসাম বলেন: আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমজানের জাকাত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন" - হাদিসটি দীর্ঘ। তিনি এটি অন্যান্য স্থানেও উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে কুরআনের ফজিলত এবং ইবলিসের বর্ণনার অধ্যায় রয়েছে। তবে তিনি কোনো স্থানেই 'আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন' বলেননি। তাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি সরাসরি তার থেকে শোনেননি। বুখারি বেশ কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তার উস্তাদদের থেকে যা সরাসরি শোনেননি, সেখানে এই শব্দরীতি (বলেন) ব্যবহার করেছেন; তিনি তাদের পক্ষ থেকে 'অমুক বলেছেন' শব্দরীতিতে তা বর্ণনা করেন। এরপর অন্য স্থানে তাঁর ও তাঁদের মধ্যবর্তী মাধ্যমসহ তা উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে এর অনেক উদাহরণ আসবে। যেমন তিনি ইতিহাসে বলেছেন: ইবরাহিম ইবনে মুসা বলেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন এবং বলেন: তারা আমার কাছে ইবরাহিমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই শব্দরীতিতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সবক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু এই সম্ভাবনার কারণে, এই শব্দরীতিতে বর্ণিত তার সকল বর্ণনাকে

 

এমনটি ধরা ঠিক হবে না যে তিনি তা সরাসরি তাঁর উস্তাদদের থেকে শুনেছেন। আবার এর দ্বারা এমনটিও আবশ্যক হয় না যে তিনি তাঁদের থেকে 'মুদাল্লিস' (তথ্য গোপনকারী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেননা খতিব ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, 'বলেন' (ক্বালা) শব্দটি সরাসরি শোনার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োগ করা হবে না, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তির অভ্যাস সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি সরাসরি শোনা ব্যতীত এই শব্দ ব্যবহার করেন না। সুতরাং এটি দাবি করে যে, যার অভ্যাস সম্পর্কে এমনটি জানা নেই, তার ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্ভাবনার ওপরই থাকবে।

আর যা তাঁর (বুখারির) শর্তানুযায়ী নয়, তা অন্যদের শর্তানুযায়ী সহিহ হতে পারে। যেমন পবিত্রতা অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনের সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন। এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, যা তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবার কোনোটি হাসান পর্যায়ের হতে পারে যা দলিল হিসেবে যোগ্য। যেমন সেখানে তাঁর উক্তি: বাহজ ইবনে হাকিম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: মানুষের চেয়ে আল্লাহই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে। এটি বাহজ থেকে বর্ণিত একটি সুপ্রসিদ্ধ হাসান হাদিস যা সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আবার কোনোটি দুর্বল হতে পারে, তবে তা বর্ণনাকারীদের ওপর আপত্তির কারণে নয় বরং সনদে সামান্য বিচ্ছিন্নতার কারণে। যেমন জাকাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি:

তাউস বলেন: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেনবাসীদের বলেছিলেন: তোমরা বার্লি (যব) ও ভুট্টার পরিবর্তে আমাকে সদকা হিসেবে পরিধেয় বস্ত্র বা কাপড় নিয়ে আসো; এটি তোমাদের জন্য সহজ এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য উত্তম। তাউস পর্যন্ত এর সনদ সহিহ, তবে তাউস মুয়াজ (রা.) থেকে সরাসরি শোনেননি।

আর যা তিনি সংশয়বাচক শব্দরীতিতে (তামরিজ) উল্লেখ করেন, তা থেকে ওই ব্যক্তির পক্ষ হতে হাদিসটি সহিহ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে এর মধ্যে কোনটি সহিহ এবং কোনটি সহিহ নয় - এমন উভয় প্রকারই রয়েছে। প্রথম প্রকারের (সহিহ) মধ্যে তাঁর শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস পাওয়া যায় না, খুব সামান্য কয়েকটি স্থান ব্যতীত। আর তিনি সেগুলো কেবল তখনই উল্লেখ করেন যখন ওই হাদিসটি অর্থের ভিত্তিতে 'মুয়াল্লাক' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তা দৃঢ়তার সাথে (জাযম) বলেন না। যেমন চিকিৎসা অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। অথচ তিনি এটি অন্য স্থানে ওবায়দুল্লাহ ইবনে আখরাস-এর সূত্রে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী এমন এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একজনকে দংশন করা হয়েছিল। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার হাদিসটি উল্লেখ করেন। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি রয়েছে যখন তাঁরা তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন: "তোমরা যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো তার মধ্যে আল্লাহর কিতাবই সবচেয়ে বেশি হকদার।" সুতরাং যখন তিনি এটি অর্থের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন তখন দৃঢ়তার সাথে (জাযম) বলেননি, কারণ পূর্ণ সনদে বর্ণিত হাদিসে এমনটি নেই যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার কথা (নিজে) উল্লেখ করেছেন, বরং এতে কেবল এটুকু আছে যে তিনি তাঁদের কাজে বাধা দেননি। ফলে তাঁর মৌন সম্মতি থেকে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

আর যে সব হাদিস তিনি এই শব্দরীতিতে (তামরিজ) উল্লেখ করেছেন কিন্তু অন্য কোনো স্থানে উল্লেখ করেননি, তার মধ্যে কিছু সহিহ হলেও তা তাঁর (বুখারির) শর্তানুযায়ী নয়। যেমন সালাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব থেকে উল্লেখ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাতে সূরা আল-মুমিনুন পাঠ করেছিলেন, এমনকি যখন মুসা ও হারুন অথবা ঈসা (আ.)-এর আলোচনা এলো তখন তাঁর কাশি শুরু হয় এবং তিনি রুকুতে চলে যান। এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী তাঁর সহিহ গ্রন্থের একটি সহিহ হাদিস। আবার কোনোটি হাসান পর্যায়ের। যেমন ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে উল্লেখ করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি বিক্রি করবে তখন মেপে দেবে।" এই হাদিসটি দারাকুতনি ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুগীরা (যিনি সত্যবাদী) সূত্রে মুনকিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি উসমানের মুক্তদাস এবং নির্ভরযোগ্য। সাঈদ ইবনে মুসায়্যিবও এর সমর্থন করেছেন। তাঁর সূত্র থেকে আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন। ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে আতা-এর সূত্রে উসমান (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে এই সমর্থক বর্ণনার কারণে হাদিসটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত। আবার কোনোটি এককভাবে দুর্বল হলেও এর ওপর আমল প্রচলিত রয়েছে। যেমন ওসিয়ত অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওসিয়ত কার্যকর করার আগে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা দিয়েছেন। তিরমিজি এটি আবু ইসহাক আল-সাবি'ঈ-এর সূত্রে আল-হারিস আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে পূর্ণ সনদে বর্ণনা করেছেন। হারিস দুর্বল বর্ণনাকারী এবং তিরমিজি একে বিরল (গারিব) বলেছেন। এরপর তিনি এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার কোনোটি এককভাবে দুর্বল এবং এর কোনো সমর্থক নেই, যা

 

বুখারিতে অত্যন্ত কম।
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وحيث يقع ذلك فيه يتعقبه المصنف بالتضعيف بخلاف ما قبله. ومن أمثلته قوله في كتاب الصلاة: ويذكر عن أبي هريرة رفعه لا يتطوّع الإمام في مكانه. ولم يصح وهو حديث أخرجه أبو داود من طريق ليث بن أبي سليم عن الحجاج بن عبيد عن إبراهيم بن إسماعيل عن أبي هريرة، وليث بن أبي سليم ضعيف، وشيخ شيخه لا يعرف، وقد اختلف عليه فيه، فهذا حكم جميع ما في البخاري من التعاليق المرفوعة بصيغتي الجزم والتمريض.

وأما الموقوفات فإنه يجزم فيها بما صح عنده ولو لم يكن على شرطه، ولا يجزم بما كان في إسناده ضعف أو انقطاع إلا حيث يكون منجبرًا إما بمجيئه من وجه آخر وإما بشهرته عمّن قاله، وإنما يورد ما يورد من الموقوفات من فتاوى الصحابة رضي الله عنهم والتابعين، وكتفاسيرهم لكثير من الآيات على طريق الاستئناس والتقوية لما يختاره من المذاهب في المسائل التي فيها الخلاف بين الأئمة، فحينئذ ينبغي أن يقال جميع ما يورده فيه إما أن يكون مما ترجم به أو مما ترجم له، فالمقصود في هذا التأليف بالذات هو الأحاديث الصحيحة وهي التي ترجم لها. والمذكور بالعرض والتبع الآثار الموقوفة والآثار المعلقة، نعم والآيات المكرّمة. فجميع ذلك مترجم به، إلا أنه إذا اعتبر بعضها مع بعض واعتبرت أيضًا بالنسبة إلى الحديث يكون بعضها مع بعض منها مفسر ومفسر، ويكون بعضها كالمترجم له باعتبار، ولكن المقصود بالذات هو الأصل. فقد ظهر أن موضوعه إنما هو للمسندات والمعلق ليس بمسند، ولذا لم يتعرّض الدارقطني فيما تتبعه على الصحيحين إلى الأحاديث والمعلقات، لعلمه بأنها ليست من موضوع الكتاب، وإنما ذكرت استئناسًا واستشهادًا اهـ. من مقدّمة فتح الباري بحروفه وبالله تعالى التوفيق والمستعان.

وأما عدد أحاديث الجامع فقال ابن الصلاح سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون بتأخير الموحدة عن السين فيهما بالأحاديث المكررة، وتبعه النووي وذكرها مفصلة، وساقها ناقلاً لها من كتاب جواب المتعنت لأبي الفضل بن طاهر، وتعقب ذلك الحافظ أبو الفضل بن حجر رحمه الله تعالى بابًا بابًا محرّرًا ذلك، وحاصله أنه قال جميع أحاديثه بالمكرر سوى المعلقات والمتابعات على ما حرّرته وأتقنته سبعة آلاف بالموحدة بعد السين وثلثمائة وسبعة وتسعون حديثًا، فقد زاد على ما ذكروه مائة حديث واثنين وعشرين حديثًا. والخالص من ذلك بلا تكرار ألفا حديث وستمائة وحديثان. وإذا ضم له المتون المعلقة المرفوعة التي لم يوصلها في موضع آخر منه وهي مائة وتسعة وخمسون صار مجموع الخالص ألفي حديث وسبعمائة وإحدى وستين حديثًا. وجملة ما فيه من التعاليق ألف وثلثمائة وأحد وأربعون حديثًا وأكثرها مكرر مخرج في الكتاب أصول متونه، وليس فيه من المتون التي لم تخرج في الكتاب، ولو من طريق أخرى إلا مائة وستون حديثًا. وجملة ما فيه من المتابعات والتنبيه على اختلاف الروايات ثلثمائة وأربعة وأربعون حديثًا. فجملة ما في الكتاب على هذا بالمكرر تسعة آلاف واثنان وثمانون حديثًا خارجًا عن الموقوفات على الصحابة والمقطوعات على التابعين فمن بعدهم.

 

وأما عدد كتبه فقال في الكواكب إنها مائة وشيء وأبوابه ثلاثة آلاف وأربعمائة وخمسون بابًا مع اختلاف قليل في نسخ الأصول.

وعدد مشايخه الذين صرح عنهم فيه مائتان وتسعة وثمانون. وعدد من تفرّد بالرواية عنهم دون مسلم مائة وأربعة وثلاثون. وتفرّد أيضًا بمشايخ لم تقع الرواية عنهم لبقية أصحاب الكتب الخمسة إلا بالواسطة. ووقع له اثنان وعشرون حديثًا ثلاثيات الإسناد والله سبحانه الموفّق والمعين.

وأما فضيلة الجامع الصحيح فهو كما سبق أصح الكتب المؤلفة في هذا الشأن، والمتلقى بالقبول من العلماء في كل أوان، قد فاق أمثاله في جميع الفنون والأقسام، وخصّ بمزايا من بين دواوين الإسلام، شهد له بالبراعة والتقدّم الصناديد العظام والأفاضل الكرام، ففوائده أكثر من أن تحصى وأعز من أن تستقصى، وقد أنبأني غير واحد عن المسندة الكبيرة عائشة بنت محمد بن عبد الهادي أن أحمد بن أبي طالب أخبرهم عن
যেখানে এটি ঘটে, গ্রন্থকার তার পরে দুর্বলতা উল্লেখ করেন, যা আগেরটির বিপরীত। এর একটি উদাহরণ হলো সালাত অধ্যায়ে তার উক্তি: আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম তার নিজ স্থানে (নফল) সালাত আদায় করবেন না। এটি সহীহ নয়। হাদীসটি আবু দাউদ লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। লাইস ইবনে আবি সুলাইম দুর্বল এবং তার শায়েখের শায়েখ অপরিচিত। আর এ বিষয়ে তার ওপর মতভেদ রয়েছে। বুখারীতে ‘জাযম’ (দৃঢ়তা) এবং ‘তামরীদ’ (অনিশ্চয়তা) সূচক শব্দে বর্ণিত সকল ‘মুআল্লাক মারফু’ বর্ণনার হুকুম বা বিধান এটাই।

আর ‘মাওকুফ’ বর্ণনাসমূহের ক্ষেত্রে, তিনি সেগুলোর ব্যাপারে দৃঢ়তার সাথে (জাযম সূচক শব্দে) উল্লেখ করেন যা তার নিকট সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে, যদিও তা তার (সহীহ বুখারীর মূল) শর্তানুযায়ী না হয়। আর যাতে সনদের দুর্বলতা বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন না, তবে যদি তা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে সমর্থিত হয় অথবা যার থেকে বর্ণিত হয়েছে তার প্রসিদ্ধির কারণে তা গ্রহণযোগ্য হয়। সাহাবী ও তাবিঈদের ফাতাওয়া এবং অনেক আয়াতের তাফসির হিসেবে তিনি যা কিছু ‘মাওকুফ’ বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেন, তা মূলত ইমামগণের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে তার চয়নকৃত মাযহাবের সপক্ষে প্রমাণ বা সমর্থন হিসেবে নিয়ে আসেন। এমতাবস্থায় বলা উচিত যে, তিনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা হয় ‘তারজামা’ (শিরোনাম) হিসেবে, অথবা যার জন্য ‘তারজামা’ করা হয়েছে (মূল হাদীস) হিসেবে। এই সংকলনের মূল উদ্দেশ্য মূলত ‘সহীহ হাদীস’সমূহ, যেগুলোর জন্য শিরোনাম করা হয়েছে। আর প্রাসঙ্গিক ও অনুগামী হিসেবে যা উল্লেখিত হয়েছে তা হলো ‘মাওকুফ আসার’ (সাহাবীদের বাণী), ‘মুআল্লাক আসার’ এবং সম্মানিত আয়াতসমূহ। এগুলোর সবই মূলত শিরোনামের অংশ। তবে যখন এগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে এবং হাদীসের সাথে তুলনা করা হয়, তখন কোনোটি ব্যাখ্যাকারী এবং কোনোটি ব্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য হয়। আবার কোনোটি এক বিচারে ‘তারজামা’র মূল বিষয় হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু প্রধান উদ্দেশ্য হলো মূল (সহীহ হাদীস)। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, এই কিতাবের মূল বিষয়বস্তু হলো ‘মুসনাদ’ (সংযুক্ত সনদযুক্ত হাদীস), আর ‘মুআল্লাক’ বর্ণনা ‘মুসনাদ’ নয়। এজন্যই ইমাম দারাকুতনী সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর ওপর তার পর্যালোচনামূলক কাজে এই হাদীস ও মুআল্লাকগুলোর সমালোচনা করেননি, কারণ তিনি জানতেন যে এগুলো কিতাবটির মূল বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এগুলো কেবল সমর্থন ও সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (ফতহুল বারীর ভূমিকা থেকে হুবহু উদ্ধৃত)। আল্লাহর তাওফীকেই সব এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আর ‘আল-জামে’ (সহীহ বুখারী)-এর হাদীস সংখ্যার ব্যাপারে ইবনুস সালাহ বলেন, পুনরাবৃত্তিসহ সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি। ইমাম নববীও তাকে অনুসরণ করেছেন এবং বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু ফজল ইবনে তাহিরের ‘জাওয়াবুল মুতান্ত’ কিতাব থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। হাফেজ আবু ফজল ইবনে হাজার (রহ.) এই গণনাকে অধ্যায় ভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এর সারকথা হলো, তিনি বলেছেন: আমার সুক্ষ্ম তাহকীক ও যাচাই অনুযায়ী পুনরাবৃত্তিসহ এই কিতাবের মোট হাদীস সংখ্যা (মুআল্লাক ও মুতাবাআত বাদে) সাত হাজার তিনশত সাতানব্বইটি। সুতরাং তারা যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়ে একশত বাইশটি হাদীস বেশি। আর পুনরাবৃত্তি ছাড়া নিরেট হাদীস সংখ্যা হলো দুই হাজার ছয়শত দুইটি। এর সাথে যদি সেই সকল মুআল্লাক মারফু বর্ণনা যোগ করা হয় যা কিতাবের অন্য কোথাও সংযুক্ত সনদে আনা হয়নি (যার সংখ্যা একশত উনষাটটি), তবে মোট নিরেট হাদীসের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার সাতশত একষট্টিটি। কিতাবটিতে মোট মুআল্লাক বর্ণনার সংখ্যা এক হাজার তিনশত একচল্লিশটি, যার অধিকাংশই পুনরাবৃত্তি এবং কিতাবের মূল অংশে সেগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিতাবটিতে এমন কোনো মূল পাঠ (মতন) নেই যা অন্য কোনো মাধ্যমেও আসেনি—এমন হাদীসের সংখ্যা মাত্র একশত ষাটটি। আর ‘মুতাবাআত’ (সমর্থক বর্ণনা) এবং বর্ণনার বিভিন্নতা নির্দেশকারী হাদীসের সংখ্যা তিনশত চুয়াল্লিশটি। এই হিসেবে কিতাবে পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদীস সংখ্যা নয় হাজার বিরাশিটি, যা সাহাবীদের ওপর মাওকুফ এবং তাবিঈ বা তাদের পরবর্তীদের ওপর মাকতু বর্ণনা ব্যতীত।

 

আর এর কিতাব বা অধ্যায়-সমষ্টির সংখ্যা সম্পর্কে ‘আল-কাওয়াকিব’-এ বলা হয়েছে যে, তা একশতের কিছু বেশি এবং এর পরিচ্ছেদ বা বাবুসমূহের সংখ্যা তিন হাজার চারশত পঞ্চাশটি, মূল পাণ্ডুলিপিভেদে এতে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।

কিতাবটিতে ইমাম বুখারী যে সকল শায়েখ বা শিক্ষকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাদের সংখ্যা দুইশত উননব্বই জন। তাদের মধ্যে ইমাম মুসলিম ব্যতীত কেবল তিনি একাই যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন শায়েখের সংখ্যা একশত চৌত্রিশ জন। এছাড়াও তিনি এমন কিছু শায়েখের থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের থেকে কুতুবে সিত্তার বাকি ইমামগণ কেবল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তার কিতাবে বাইশটি সুলাসি (তিন স্তরবিশিষ্ট) সনদযুক্ত হাদীস রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী।

আর ‘আল-জামে আস-সহীহ’-এর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে বলা যায়, এটি ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে—এই শাস্ত্রের সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সহীহ কিতাব। এটি সর্বযুগের উলামায়ে কিরামের নিকট গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদা পেয়েছে। এটি সকল শাখা ও বিভাগে তার সমগোত্রীয় গ্রন্থসমূহের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে। ইসলামের ইতিহাস ও জ্ঞানভাণ্ডারে একে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করা হয়েছে। বড় বড় ইমাম ও সম্মানিত ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এর পারদর্শিতা ও অগ্রগামিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর উপকারিতা গণনা করা অসম্ভব এবং এর গভীরতা পরিমাপ করা দুষ্কর। একাধিক ব্যক্তি আমাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী থেকে জানিয়েছেন যে, আহমাদ ইবনে আবি তালিব তাদেরকে জানিয়েছেন...
(খণ্ড: ١) ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী - ত্ব বূলাক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
عبد الله بن عمر بن علي، أن أبا الوقت أخبرهم عنه سماعًا قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن إسماعيل الهرويّ شيخ الإسلام، سمعت خالد بن عبد الله المروزي يقول: سمعت أبا سهل محمد بن أحمد المروزي يقول: سمعت أبا زيد المروزي يقول: "كنت نائمًا بين الركن والمقام فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقال لي يا أبا زيد إلى متى تدرس كتاب الشافعيّ وما تدرس كتابي، فقلت يا رسول الله وما كتابك، قال: جامع محمد بن إسماعيل".

وقال الذهبي في تاريخ الإسلام: وأما جامع البخاري الصحيح فأجلّ كتب الإسلام وأفضلها بعد كتاب الله تعالى. قال وهو أعلى في وقتنا هذا إسنادًا للناس ومن ثلاثين سنة يفرحون بعلوّ سماعه، فكيف اليوم، فلو رحل الشخص لسماعه من ألف فرسخ لما ضاعت رحلته اهـ. وهذا ما قاله الذهبيّ رحمه الله في سنة ثلاث عشرة وسبعمائة. وروى بالإسناد الثابت عن البخاري أنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وكأنني واقف بين يديه وبيدي مروحة أذبّ بها عنه فسألت بعض المعبرين فقال لي: أنت تذبّ عنه الكذب فهو الذي حملني على إخراج الجامع الصحيح. وقال ما كتبت في كتاب الصحيح حديثًا إلا اغتسلت قبل ذلك وصلّيت ركعتين. وقال خرّجته من نحو ستمائة ألف حديث وصنّفته في ست عشرة سنة وجعلته حجة فيما بيني وبين الله تعالى، وقال: ما أدخلت فيه إلا صحيحًا وما تركت من الصحيح أكثر حتى لا يطول. وقال: صنّفت كتابي الجامع في المسجد الحرام وما أدخلت فيه حديثًا حتى استخرت الله تعالى وصلّيت ركعتين وتيقنت صحته.

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى: والجمع بين هذا وبين ما روى أنه كان يصنفه في البلاد أنه ابتدأ تصنيفه وترتيب أبوابه في المسجد الحرام، ثم كان يخرج الأحاديث بعد ذلك في بلده وغيرها، ويدل عليه قوله أنه أقام فيه ست عشرة سنة، فإنه لم يجاور بمكة هذه المدة كلها.

 

وقد روى ابن عدي عن جماعة من المشايخ أن البخاري حوّل تراجم جامعه بين قبر النبي صلى الله عليه وسلم ومنبره كان يصلي لكل ترجمة ركعتين، ولا ينافي هذا أيضًا ما تقدم لأنه يحمل على أنه في الأوّل كتبه في المسودّة، وهنا حوّله من المسودّة إلى المبيضّة.

وقال الفربري: قال لي محمد بن إسماعيل: ما وضعت في الصحيح حديثًا إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين، وأرجو أن يبارك الله تعالى في هذه المصنفات.

وقال الشيخ أبو محمد عبد الله بن أبي جمرة: قال لي مَن لقيت من العارفين عمّن لقيه من السادة المقرّ لهم بالفضل إن صحيح البخاري ما قرئ في شدة إلاّ فرجت، ولا ركب به في مركب فغرقت. قال وكان مُجاب الدعوة وقد دعا لقارئه رحمه الله تعالى.

وقال الحافظ عماد الدين بن كثير: وكتاب البخاري الصحيح يستسقى بقراءته الغمام، وأجمع على قبوله وصحة ما فيه أهل الإسلام. وما أحسن قول البرهان القيراطي رحمه الله:

حدّث وشنف بالحديث مسامعي … فحديث من أهوى حليّ مسامعي

لله ما أحلى مكرره الذي … يحلو ويعذب في مذاق السامع

بسماعه نلت الذي أملته … وبغلت كل مطالبي ومطامعي

وطلعت في أفق السعادة صاعدًا … في خير أوقات وأسعد طالع

ولقد هديت لغاية القصد التي … صحّت أدلته بغير ممانع

وسمعت نصًّا للحديث معرفًا … مما تضمنه كتاب الجامع

وهو الذي يتلى إذا خطب عرا … فتراه للمحذور أعظم دافع

كم من يد بيضا حواها طرسه … تومي إلى طرق العلا بأصابع

وإذا بدا بالليل أسود نقشه … يجلو علينا كل بدر ساطع

ملك القلوب به حديث نافع … مما رواه مالك عن نافع

في سادة ما إن سمعت بمثلهم … من مسمع عالي السماع وسامع
আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আলী বর্ণনা করেছেন যে, আবু আল-ওয়াক্ত তাকে শ্রুতির মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-হারাবী, আমি খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি: আমি আবু সাহল মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি: আমি আবু যায়েদ আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি রুকন ও মাকামের মাঝে ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'হে আবু যায়েদ, কতদিন তুমি শাফিঈর কিতাব পড়বে আর আমার কিতাব পড়বে না?' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কিতাব কোনটি?' তিনি বললেন: 'মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের জামি (সংকলন)'।"

যাহাবী ‘তারীখুল ইসলাম’-এ বলেছেন: আর বুখারীর জামি সহীহ হলো আল্লাহর কিতাবের পর ইসলামের সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি বলেন, এটি বর্তমান সময়ে মানুষের জন্য উচ্চতর সনদের অধিকারী এবং ত্রিশ বছর আগে থেকে মানুষ এর উচ্চতর সনদে শ্রুতির কারণে আনন্দিত হতো, তাহলে আজকের দিনে কেমন হবে? যদি কোনো ব্যক্তি এক হাজার ফারসাখ দূর থেকে এটি শোনার জন্য সফর করে, তবে তার সফর বৃথা যাবে না। ইমাম যাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এটি ৭১৩ হিজরী সনে বলেছিলেন। বুখারী থেকে সাব্যস্ত সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার হাতে একটি পাখা যা দিয়ে আমি তাঁর থেকে মাছি তাড়াচ্ছি। আমি কতিপয় স্বপ্নবিশারদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন: আপনি তাঁর থেকে মিথ্যাকে বিতাড়িত করবেন। এটিই আমাকে জামি সহীহ সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন: আমি সহীহ গ্রন্থে কোনো হাদীস লিখিনি যতক্ষণ না তার পূর্বে গোসল করেছি এবং দুই রাকাত নামায পড়েছি। তিনি বলেন: আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদীস থেকে এটি চয়ন করেছি এবং ষোলো বছর ধরে এটি সংকলন করেছি এবং একে আমার ও মহান আল্লাহর মাঝে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি। তিনি আরও বলেন: আমি এতে কেবল সহীহ হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং অনেক সহীহ হাদীস বাদ দিয়েছি যাতে এটি দীর্ঘ না হয়। তিনি বলেন: আমি আমার জামি গ্রন্থটি মাসজিদুল হারামে বসে সংকলন করেছি এবং মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা না করে ও দুই রাকাত নামায না পড়ে এবং এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে এতে কোনো হাদীস অন্তর্ভুক্ত করিনি।

হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই বর্ণনা এবং তিনি বিভিন্ন শহরে এটি সংকলন করেছেন মর্মে বর্ণিত বর্ণনার মাঝে সমন্বয় হলো—তিনি মাসজিদুল হারামে এর সংকলন ও অধ্যায়বিন্যাস শুরু করেছিলেন, অতঃপর তার নিজ শহরে ও অন্যান্য স্থানে হাদীসগুলো চয়ন করেছেন। তাঁর এই উক্তি যে তিনি সেখানে ১৬ বছর অতিবাহিত করেছেন তা একথারই প্রমাণ দেয়, কারণ তিনি মক্কায় এই পুরো সময়টুকু অবস্থান করেননি।

 

ইবনে আদী একদল শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বুখারী তাঁর জামি গ্রন্থের শিরোনামগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে স্থানান্তর করেছিলেন। তিনি প্রতিটি শিরোনামের জন্য দুই রাকাত নামায পড়তেন। এটিও আগের বর্ণনার বিরোধী নয়, কারণ ধরে নেওয়া হবে যে তিনি প্রথমে খসড়া লিখেছিলেন এবং এখানে খসড়া থেকে চূড়ান্ত কপিতে স্থানান্তর করেছিলেন।

ফারাবরী বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাকে বলেছেন: আমি সহীহ গ্রন্থে কোনো হাদীস রাখিনি তার পূর্বে গোসল করা ও দুই রাকাত নামায পড়া ছাড়া। আমি আশা করি মহান আল্লাহ এই সংকলনগুলোতে বরকত দান করবেন।

শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবি জামরা বলেন: আমি যাঁদের সাথে সাক্ষাত করেছি এমন মারেফাত অর্জনকারীদের নিকট থেকে তাদের সূত্রে শুনেছি যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত যে, সহীহ বুখারী কোনো বিপদে পড়া অবস্থায় পাঠ করা হলে তা থেকে মুক্তি মিলেছে এবং কোনো নৌযানে নিয়ে আরোহণ করা হলে তা নিমজ্জিত হয়নি। তিনি বলেন: ইমাম বুখারী মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) ছিলেন এবং তিনি এর পাঠকারীর জন্য দোয়া করেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর বলেন: বুখারীর সহীহ গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয় এবং ইসলামপন্থীরা এর গ্রহণযোগ্যতা ও এতে যা রয়েছে তার বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন। বুরহান আল-কীরাতী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বাণী কতই না সুন্দর:

বর্ণনা করুন এবং হাদীস দ্বারা আমার কর্ণকুহরকে তৃপ্ত করুন … কেননা আমার প্রিয়তমের হাদীস আমার কর্ণের অলঙ্কার।

আল্লাহর শপথ, এর পুনরাবৃত্তি কতই না মধুর যা … শ্রবণকারীর স্বাদে অত্যন্ত সুমিষ্ট ও সুন্দর লাগে।

তা শ্রবণের মাধ্যমে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করেছি … এবং আমার সকল চাওয়া ও প্রত্যাশায় পৌঁছেছি।

আমি সৌভাগ্যের দিগন্তে আরোহণ করেছি … সর্বোত্তম সময়ে ও অত্যন্ত শুভ লগ্নে।

আমি চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে হেদায়েত পেয়েছি … যার প্রমাণাদি কোনো বাধা ছাড়াই বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে।

আমি হাদীসের সুষ্পষ্ট পাঠ শুনেছি যা পরিচয় করিয়ে দেয় … সেই সব বিষয় যা জামি কিতাব অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বিপদ ঘনীভূত হলে এটিই পাঠ করা হয় … আপনি একেই দেখবেন বিপদের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক।

এর পাতাসমূহ কতই না সাদা অবদান ধারণ করে আছে … যা আঙ্গুলের ইশারায় উচ্চ মর্যাদার পথ দেখায়।

যখন রাতের আঁধারে এর কালো লিপি উদ্ভাসিত হয় … তখন তা আমাদের সামনে প্রতিটি উজ্জ্বল পূর্ণিমাকে ফুটিয়ে তোলে।

এর মাধ্যমে উপকারী হাদীসসমূহ হৃদয় জয় করে নিয়েছে … যা মালিক বর্ণনা করেছেন নাফে থেকে।

এমন সব মহান ব্যক্তিদের মাধ্যমে যাদের সমতুল্য কাউকে আমি শুনিনি … উচ্চতর শ্রুতিসম্পন্ন কোনো বক্তা বা শ্রোতার কাছ থেকে।