(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: -)
زاد المعاد في هدي خير العباد - ت الرسالة الثاني القسم: السيرة النبوية
الكتاب: زاد المعاد في هَدي خير العباد
المؤلف: شمس الدين، أبو عبد الله، محمد بن أبي بكر الزرعي الدمشقي، ابن قيم الجوزية (691 - 751 هـ)
حقّق نصوصَه وخرّج أحاديثه وعَلّق عليه: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- عبد القادر الأرنؤوط [ت 1425 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
[الإصدار: الثاني] المنقّح المَزيد
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م [من الإصدار الثاني]
عدد الأجزاء: 6 (5 وفهارس مِن عَمَل محمد أديب الجادر ت 1444 هـ)
[تنبيه]: سَبَق أن أصدرَتْ مؤسسة الرسالة هذا التحقيق الإصدارَ الأول في طبعته الأولى عام 1399 هـ - 1979 م، ثم أعادتْ طبْعه كثيرا بنفْس الحرف وبنفْس ترقيم الصفحات حتى بلغ 30 طبعة عام 1417 هـ- 1997 م، وفي (نفس العام) قامتْ بإخراج هذا (الإصدار الثاني) المنقح المزيد (بصف حروفٍ جديد وترقيم صفحات مختلف)، ثم توالَتْ طباعتُه طبعةً (ثانية) و (ثالثة) … إلخ بنفس الحرف والترقيم
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাদুল মা'আদ ফী হাদী খয়রিল ইবাদ - আর-রিসালাহ দ্বিতীয় প্রকাশনা বিভাগ: সীরাতুন্নবী (সা.)
গ্রন্থ: জাদুল মা'আদ ফী হাদী খয়রিল ইবাদ (সর্বোত্তম বান্দার আদর্শে পরকালের পাথেয়)
লেখক: শামসুদ্দীন، আবু আব্দুল্লাহ، মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আয-যুরায়ী আদ-দিমাশকী، ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)
পাঠ্যতাত্ত্বিক সম্পাদনা, হাদিস বিশ্লেষণ ও টীকা সংযোজন করেছেন: শুয়াইব আল-আরনাউত [মৃ. ১৪৩৮ হিজরি]- আব্দুল কাদির আল-আরনাউত [মৃ. ১৪২৫ হিজরি]
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ، বৈরুত - লেবানন
[সংস্করণ: দ্বিতীয়] পরিমার্জিত ও বর্ধিত
মুদ্রণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ [দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে]
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (৫টি মূল খণ্ড এবং সূচিপত্র মুহাম্মাদ আদীব আল-জাদির কর্তৃক সম্পাদিত, মৃত্যু ১৪৪৪ হিজরি)
[সতর্কবার্তা]: পূর্বে মুআসসাসাতুর রিসালাহ এই সম্পাদনাটির প্রথম সংস্করণটি ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছিল। এরপর তারা একই হরফ এবং একই পৃষ্ঠা নাম্বারিং বজায় রেখে এর অনেকগুলো মুদ্রণ করে, এমনকি ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এর ৩০তম মুদ্রণ সম্পন্ন হয়। অতঃপর (একই বছরে) তারা এই (দ্বিতীয় সংস্করণটি) বের করে যা পরিমার্জিত ও বর্ধিত (নতুন হরফ বিন্যাস এবং ভিন্ন পৃষ্ঠা নাম্বারিং সহ)। পরবর্তীতে এর দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি মুদ্রণগুলো একই হরফ ও পৃষ্ঠা নাম্বারিং অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
[مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ]بسم الله الرحمن الرحيم
حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ، وَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِلَهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، وَقَيُّومُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرَضِينَ وَمَالِكُ يَوْمِ الدِّينِ الَّذِي لَا فَوْزَ إِلَّا فِي طَاعَتِهِ، وَلَا عِزَّ إِلَّا فِي التَّذَلُّلِ لِعَظَمَتِهِ، وَلَا غِنًى إِلَّا فِي الِافْتِقَارِ إِلَى رَحْمَتِهِ، وَلَا هُدًى إِلَّا فِي الِاسْتِهْدَاءِ بِنُورِهِ، وَلَا حَيَاةَ إِلَّا فِي رِضَاهُ، وَلَا نَعِيمَ إِلَّا فِي قُرْبِهِ، وَلَا صَلَاحَ لِلْقَلْبِ وَلَا فَلَاحَ إِلَّا فِي الْإِخْلَاصِ لَهُ وَتَوْحِيدِ حُبِّهِ، الَّذِي إِذَا أُطِيعَ شَكَرَ، وَإِذَا عُصِيَ تَابَ وَغَفَرَ، وَإِذَا دُعِيَ أَجَابَ، وَإِذَا عُومِلَ أَثَابَ.
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي شَهِدَتْ لَهُ بِالرُّبُوبِيَّةِ جَمِيعُ مَخْلُوقَاتِهِ، وَأَقَرَّتْ لَهُ بِالْإِلَهِيَّةِ جَمِيعُ مَصْنُوعَاتِهِ، وَشَهِدَتْ بِأَنَّهُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ بِمَا أَوْدَعَهَا مِنْ عَجَائِبِ صَنْعَتِهِ، وَبَدَائِعِ آيَاتِهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ. وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، لَا شَرِيكَ لَهُ فِي إِلَهِيَّتِهِ، كَمَا لَا شَرِيكَ لَهُ فِي رُبُوبِيَّتِهِ، وَلَا شَبِيهَ لَهُ فِي ذَاتِهِ وَلَا فِي أَفْعَالِهِ وَلَا فِي صِفَاتِهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا، وَسُبْحَانَ مَنْ سَبَّحَتْ لَهُ السَّمَاوَاتُ وَأَمْلَاكُهَا، وَالنُّجُومُ وَأَفْلَاكُهَا، وَالْأَرْضُ وَسُكَّانُهَا، وَالْبِحَارُ وَحِيتَانُهَا، وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَالْآكَامُ وَالرِّمَالُ، وَكُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক
লেখকের ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। জালিমরা ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ, আসমান ও জমিনসমূহের চিরস্থায়ী ধারক এবং বিচার দিবসের অধিপতি। যাঁর আনুগত্য ব্যতীত কোনো সফলতা নেই, যাঁর মহত্ত্বের সামনে বিনম্র হওয়া ব্যতীত কোনো সম্মান নেই, যাঁর রহমতের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া ব্যতীত কোনো অভাবমুক্তি নেই, যাঁর নূরের মাধ্যমে হেদায়াত অন্বেষণ ব্যতীত কোনো পথনির্দেশ নেই, যাঁর সন্তুষ্টি ব্যতীত কোনো জীবন নেই এবং যাঁর নৈকট্য লাভ ব্যতীত কোনো নেয়ামত নেই। কেবল তাঁর প্রতি ইখলাস এবং তাঁর ভালোবাসায় একনিষ্ঠতা অর্জন করার মধ্যেই অন্তরের সংশোধন ও কল্যাণ নিহিত। তিনি এমন সত্তা যে, তাঁর আনুগত্য করা হলে তিনি কদর করেন, তাঁর অবাধ্যতা করা হলে তিনি তাওবা কবুল করেন ও ক্ষমা করেন, তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল করলে তিনি প্রতিদান দান করেন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রভুত্বের সাক্ষ্য দেয় তাঁর সকল সৃষ্টি এবং যাঁর উপাস্য হওয়ার স্বীকৃতি দেয় তাঁর সমস্ত সৃষ্ট বস্তু। তাঁর নিপুণ কারুকার্য এবং অনন্য নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে যা তিনি সৃষ্টির মাঝে নিহিত রেখেছেন, তা সাক্ষ্য দেয় যে, তিনিই আল্লাহ এবং তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর মহিমা প্রকাশক বাণীসমূহের কালির পরিমাণ। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর উপাস্য হওয়ার অধিকারে কোনো শরিক নেই, যেমন তাঁর প্রভুত্বে কোনো শরিক নেই। তাঁর সত্তা, কর্ম কিংবা গুণাবলিতে তাঁর সদৃশ কেউ নেই। আল্লাহ সুমহান, অতীব মহান। আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা। সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে আসমানসমূহ ও তার ফেরেশতারা, নক্ষত্ররাজি ও তাদের কক্ষপথসমূহ, পৃথিবী ও এর অধিবাসীগণ, সমুদ্র ও তার মৎস্যকুল, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষরাজি, চতুষ্পদ প্রাণী, টিলা ও বালুকা রাশি এবং প্রতিটি সজীব ও নির্জীব বস্তু।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
، وَكُلُّ حَيٍّ وَمَيِّتٍ {تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا} [الإسراء: 44] [الْإِسْرَاءِ: 44] .
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، كَلِمَةٌ قَامَتْ بِهَا الْأَرْضُ وَالسَّمَاوَاتُ، وَخُلِقَتْ لِأَجْلِهَا جَمِيعُ الْمَخْلُوقَاتِ، وَبِهَا أَرْسَلَ اللَّهُ تَعَالَى رُسُلَهُ، وَأَنْزَلَ كُتُبَهُ، وَشَرَعَ شَرَائِعَهُ، وَلِأَجْلِهَا نُصِبَتِ الْمَوَازِينُ، وَوُضِعَتِ الدَّوَاوِينُ، وَقَامَ سُوقُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَبِهَا انْقَسَمَتِ الْخَلِيقَةُ إِلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْكُفَّارِ وَالْأَبْرَارِ وَالْفُجَّارِ، فَهِيَ مَنْشَأُ الْخَلْقِ وَالْأَمْرِ وَالثَّوَابِ وَالْعِقَابِ، وَهِيَ الْحَقُّ الَّذِي خُلِقَتْ لَهُ الْخَلِيقَةُ، وَعَنْهَا وَعَنْ حُقُوقِهَا السُّؤَالُ وَالْحِسَابُ، وَعَلَيْهَا يَقَعُ الثَّوَابُ وَالْعِقَابُ، وَعَلَيْهَا نُصِبَتِ الْقِبْلَةُ، وَعَلَيْهَا أُسِّسَتِ الْمِلَّةُ، وَلِأَجْلِهَا جُرِّدَتْ سُيُوفُ الْجِهَادِ، وَهِيَ حَقُّ اللَّهِ عَلَى جَمِيعِ الْعِبَادِ، فَهِيَ كَلِمَةُ الْإِسْلَامِ، وَمِفْتَاحُ دَارِ السَّلَامِ، وَعَنْهَا يُسْأَلُ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ، فَلَا تَزُولُ قَدَمَا الْعَبْدِ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ مَسْأَلَتَيْنِ: مَاذَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ؟ وَمَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ؟ .
فَجَوَابُ الْأُولَى بِتَحْقِيقِ " لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ " مَعْرِفَةً وَإِقْرَارًا وَعَمَلًا.
وَجَوَابُ الثَّانِيَةِ بِتَحْقِيقِ " أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " مَعْرِفَةً وَإِقْرَارًا وَانْقِيَادًا وَطَاعَةً.
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَمِينُهُ عَلَى وَحْيِهِ، وَخِيرَتُهُ مِنْ خَلْقِهِ، وَسَفِيرُهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عِبَادِهِ، الْمَبْعُوثُ بِالدِّينِ الْقَوِيمِ وَالْمَنْهَجِ الْمُسْتَقِيمِ، أَرْسَلَهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وَإِمَامًا لِلْمُتَّقِينَ، وَحُجَّةً عَلَى الْخَلَائِقِ أَجْمَعِينَ. أَرْسَلَهُ عَلَى حِينِ فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ فَهَدَى بِهِ إِلَى أَقْوَمِ الطُّرُقِ وَأَوْضَحِ السُّبُلِ، وَافْتَرَضَ عَلَى الْعِبَادِ طَاعَتَهُ وَتَعْزِيرَهُ وَتَوْقِيرَهُ وَمَحَبَّتَهُ وَالْقِيَامَ بِحُقُوقِهِ، وَسَدَّ دُونَ جَنَّتِهِ الطُّرُقَ، فَلَنْ
...এবং প্রতিটি জীবিত ও মৃত বস্তু {সাত আসমান, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে; এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস মহিমা কীর্তন করে না, কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা অনুধাবন করতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি পরম সহনশীল, অতি ক্ষমাশীল।} [আল-ইসরা: ৪৪]।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এটি এমন এক বাণী যার ওপর ভিত্তি করে আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার নিমিত্তেই সকল মাখলুকাত সৃজিত হয়েছে। এই বাণীর প্রচারার্থেই মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলগণকে প্রেরণ করেছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং শরিয়তসমূহ প্রবর্তন করেছেন। এই বাণীর উদ্দেশ্যেই (কিয়ামতের দিন) মীজান বা আমল মাপার পাল্লাসমূহ স্থাপন করা হবে, আমলনামার দপ্তরসমূহ উন্মোচিত হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমেই সৃষ্টিজগত মুমিন ও কাফির এবং পুণ্যবান ও পাপাচারী—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এটিই সৃষ্টি ও আদেশ এবং পুরস্কার ও শাস্তির মূল উৎস। এটিই সেই পরম সত্য যার জন্য সৃষ্টিজগত সৃজিত হয়েছে এবং এই বাণী ও এর হকসমূহ সম্পর্কেই প্রশ্ন ও হিসাব গ্রহণ করা হবে। এর ওপর ভিত্তি করেই সওয়াব ও আজাব নির্ধারিত হবে। এরই ওপর কিবলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মিল্লাত বা দ্বীনের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। এই কালিমার উদ্দেশ্যেই জিহাদের তলোয়ারসমূহ কোষমুক্ত করা হয়েছে। এটি সমস্ত বান্দার ওপর আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় অধিকার। এটি ইসলামের মূল বাণী এবং দারুস সালাম বা জান্নাতের চাবিকাঠি। এই বাণী সম্পর্কেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল্লাহর সামনে বান্দার পদযুগল এক কদমও নড়তে পারবে না যতক্ষণ না তাকে দুটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়: তোমরা কার ইবাদত করতে? আর তোমরা রাসুলগণের আহ্বানে কী সাড়া দিয়েছিলে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো জ্ঞান, স্বীকৃতি ও আমলের মাধ্যমে "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" এই কালিমার হাকিকত বা বাস্তবতা বাস্তবায়ন করা।
আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো জ্ঞান, স্বীকৃতি, আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" এই বাণীর বাস্তবতা নিশ্চিত করা।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী দূত। তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথসহ প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ, মুত্তাকীদের ইমাম এবং সমস্ত সৃষ্টির জন্য অকাট্য দলিল হিসেবে পাঠিয়েছেন। রাসুলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে সর্বোত্তম ও সুস্পষ্টতম পথের দিকে হেদায়েত দান করেছেন। আল্লাহ বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, সাহায্য, সম্মান প্রদর্শন, ভালোবাসা এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করা ফরজ করেছেন। তিনি জান্নাতের দিকে যাওয়ার অন্য সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন, ফলে কোনো ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
تُفْتَحَ لِأَحَدٍ إِلَّا مِنْ طَرِيقِهِ، فَشَرَحَ لَهُ صَدْرَهُ، وَرَفَعَ لَهُ ذِكْرَهُ، وَوَضَعَ عَنْهُ وِزْرَهُ، وَجَعَلَ الذِّلَّةَ وَالصَّغَارَ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ. فَفِي " الْمُسْنَدِ " مِنْ حَدِيثِ أبي منيب الجرشي، عَنْ عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «بُعِثْتُ بِالسَّيْفِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي، وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي، وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» ) وَكَمَا أَنَّ الذِّلَّةَ مَضْرُوبَةٌ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ، فَالْعِزَّةُ لِأَهْلِ طَاعَتِهِ وَمُتَابَعَتِهِ، قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: {وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [آل عمران: 139] [آلِ عِمْرَانَ: 139] . وَقَالَ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} [المنافقون: 8] [الْمُنَافِقُونَ: 8] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَلَا تَهِنُوا وَتَدْعُوا إِلَى السَّلْمِ وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ وَاللَّهُ مَعَكُمْ} [محمد: 35] [مُحَمَّدٍ: 35] . وَقَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} [الأنفال: 64] [الْأَنْفَالِ: 64] . أَيِ: اللَّهُ وَحْدَهُ كَافِيكَ، وَكَافِي أَتْبَاعَكَ، فَلَا تَحْتَاجُونَ مَعَهُ إِلَى أَحَدٍ.
وَهُنَا تَقْدِيرَانِ، أَحَدُهُمَا: أَنْ تَكُونَ الْوَاوُ عَاطِفَةً لِـ" مَنْ " عَلَى الْكَافِ الْمَجْرُورَةِ، وَيَجُوزُ الْعَطْفُ عَلَى الضَّمِيرِ الْمَجْرُورِ بِدُونِ إِعَادَةِ الْجَارِّ عَلَى الْمَذْهَبِ الْمُخْتَارِ، وَشَوَاهِدُهُ كَثِيرَةٌ وَشُبَهُ الْمَنْعِ مِنْهُ وَاهِيَةٌ.
وَالثَّانِي: أَنْ تَكُونَ الْوَاوُ وَاوَ " مَعَ " وَتَكُونَ " مَنْ " فِي مَحَلِّ نَصْبٍ عَطْفًا عَلَى الْمَوْضِعِ، فَإِنَّ " حَسْبَكَ " فِي مَعْنَى " كَافِيكَ " أَيِ اللَّهُ يَكْفِيكَ وَيَكْفِي مَنِ اتَّبَعَكَ كَمَا تَقُولُ الْعَرَبُ: حَسْبُكَ وَزَيْدًا دِرْهَمٌ، قَالَ الشَّاعِرُ:
إِذَا كَانَتِ الْهَيْجَاءُ وَانْشَقَّتِ الْعَصَا
… فَحَسْبُكَ وَالضَّحَّاكَ سَيْفٌ مُهَنَّدُ
তাঁর পথ ব্যতীত অন্য কারো জন্য (সাফল্যের দ্বার) উন্মোচিত হয় না; অতঃপর তিনি তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর খ্যাতিকে উচ্চ করেছেন এবং তাঁর ওপর হতে বোঝার ভার নামিয়ে দিয়েছেন, আর যে ব্যক্তি তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে তার ওপর লাঞ্ছনা ও অবমাননা চাপিয়ে দিয়েছেন। "আল-মুসনাদ"-এ আবু মুনীব আল-জুরাশী থেকে বর্ণিত হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ( "কিয়ামতের প্রাক্কালে আমি তলোয়ারসহ প্রেরিত হয়েছি যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় যাঁর কোনো শরিক নেই; আর আমার রিযিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে, আর যে ব্যক্তি আমার আদেশের বিরোধিতা করবে তার জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নির্ধারণ করা হয়েছে; আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" ) আর ঠিক যেভাবে তাঁর আদেশের বিরোধিতাকারীদের ওপর লাঞ্ছনা অবধারিত, তেমনি তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণকারীদের জন্য রয়েছে মর্যাদা; মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না; তোমরাই শ্রেষ্ঠ হবে যদি তোমরা মুমিন হও} [আল ইমরান: ১৩৯] [আল ইমরান: ১৩৯]। তিনি আরও বলেছেন: {সম্মান তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদেরই জন্য} [আল-মুনাফিকুন: ৮] [আল-মুনাফিকুন: ৮]। তিনি আরও বলেছেন: {সুতরাং তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করো না যখন তোমরাই প্রবল; আর আল্লাহ তোমাদের সাথেই আছেন} [মুহাম্মদ: ৩৫] [মুহাম্মদ: ৩৫]। এবং তিনি বলেছেন: {হে নবী! আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট} [আল-আনফাল: ৬৪] [আল-আনফাল: ৬৪]। অর্থাৎ: আল্লাহ একাই আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট, সুতরাং তাঁর সাথে আপনাদের আর কারো প্রয়োজন নেই।
এখানে দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে; প্রথমটি হলো: 'ওয়াও' অক্ষরটি 'মান' শব্দটিকে মাজরুর 'কাফ'-এর সাথে সংযুক্ত (আতফ) করেছে। পছন্দনীয় মত অনুযায়ী, অব্যয়টির পুনরাবৃত্তি ছাড়াই মাজরুর সর্বনামের ওপর আতফ করা জায়েয এবং এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, আর এটি নিষিদ্ধ হওয়ার স্বপক্ষের যুক্তিগুলো দুর্বল।
দ্বিতীয়টি হলো: 'ওয়াও' অক্ষরটি 'সাথীত্ববোধক' (ওয়াও আল-মা'ইয়্যাহ) এবং 'মান' শব্দটি 'নসব' অবস্থায় স্থানিক আতফ হিসেবে রয়েছে; কেননা 'হাসবুকা' শব্দটি 'কাফিকা' (আপনার জন্য যথেষ্ট) অর্থে ব্যবহৃত। অর্থাৎ আল্লাহ আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট, যেমন আরবরা বলে থাকে: "তোমার এবং যায়েদের জন্য একটি দিরহাম যথেষ্ট।" জনৈক কবি বলেছেন:
যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং লাঠি খণ্ড-বিখণ্ড হয় (ঐক্য বিনষ্ট হয়)
… তখন তোমার ও যাহহাকের জন্য একটি সুতীক্ষ্ণ ভারতীয় তলোয়ারই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَهَذَا أَصَحُّ التَّقْدِيرَيْنِ.
وَفِيهَا تَقْدِيرٌ ثَالِثٌ: أَنْ تَكُونَ " مَنْ " فِي مَوْضِعِ رَفْعٍ بِالِابْتِدَاءِ، أَيْ: وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَحَسْبُهُمُ اللَّهُ.
وَفِيهَا تَقْدِيرٌ رَابِعٌ، وَهُوَ خَطَأٌ مِنْ جِهَةِ الْمَعْنَى: وَهُوَ أَنْ تَكُونَ " مَنْ " فِي مَوْضِعِ رَفْعٍ عَطْفًا عَلَى اسْمِ اللَّهِ، وَيَكُونَ الْمَعْنَى: حَسْبُكَ اللَّهُ وَأَتْبَاعُكَ، وَهَذَا وَإِنْ قَالَهُ بَعْضُ النَّاسِ فَهُوَ خَطَأٌ مَحْضٌ لَا يَجُوزُ حَمْلُ الْآيَةِ عَلَيْهِ، فَإِنَّ " الْحَسْبَ " وَ" الْكِفَايَةَ " لِلَّهِ وَحْدَهُ، كَالتَّوَكُّلِ وَالتَّقْوَى وَالْعِبَادَةِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ} [الأنفال: 62] [الْأَنْفَالِ: 62] . فَفَرَّقَ بَيْنَ الْحَسْبِ وَالتَّأْيِيدِ، فَجَعَلَ الْحَسْبَ لَهُ وَحْدَهُ، وَجَعَلَ التَّأْيِيدَ لَهُ بِنَصْرِهِ وَبِعِبَادِهِ، وَأَثْنَى اللَّهُ سُبْحَانَهُ عَلَى أَهْلِ التَّوْحِيدِ وَالتَّوَكُّلِ مِنْ عِبَادِهِ حَيْثُ أَفْرَدُوهُ بِالْحَسْبِ، فَقَالَ تَعَالَى: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} [آل عمران: 173] [آلِ عِمْرَانَ: 173] . وَلَمْ يَقُولُوا: حَسْبُنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ، فَإِذَا كَانَ هَذَا قَوْلَهُمْ، وَمَدَحَ الرَّبُّ تَعَالَى لَهُمْ بِذَلِكَ، فَكَيْفَ يَقُولُ لِرَسُولِهِ: اللَّهُ وَأَتْبَاعُكَ حَسْبُكَ، وَأَتْبَاعُهُ قَدْ أَفْرَدُوا الرَّبَّ تَعَالَى بِالْحَسْبِ، وَلَمْ يُشْرِكُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِهِ فِيهِ، فَكَيْفَ يُشْرِكُ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ فِي حَسْبِ رَسُولِهِ؟! هَذَا مِنْ أَمْحَلِ الْمُحَالِ وَأَبْطَلِ الْبَاطِلِ، وَنَظِيرُ هَذَا قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ} [التوبة: 59] [التَّوْبَةِ: 59] . فَتَأَمَّلْ كَيْفَ جَعَلَ الْإِيتَاءَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} [الحشر: 7] [الْحَشْرِ: 7] . وَجَعَلَ الْحَسْبَ لَهُ وَحْدَهُ، فَلَمْ يَقُلْ: وَقَالُوا: حَسْبُنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ، بَلْ جَعَلَهُ خَالِصَ حَقِّهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ} [التوبة: 59] [التَّوْبَةِ: 59] . وَلَمْ يَقُلْ: وَإِلَى رَسُولِهِ، بَلْ جَعَلَ الرَّغْبَةَ إِلَيْهِ وَحْدَهُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ - وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ} [الشرح: 7 - 8] [الِانْشِرَاحِ: 7 - 8] . فَالرَّغْبَةُ وَالتَّوَكُّلُ وَالْإِنَابَةُ وَالْحَسْبُ لِلَّهِ وَحْدَهُ، كَمَا أَنَّ الْعِبَادَةَ وَالتَّقْوَى وَالسُّجُودَ لِلَّهِ وَحْدَهُ، وَالنَّذْرُ وَالْحَلِفُ لَا يَكُونُ إِلَّا لِلَّهِ سُبْحَانَهُ
আর এটিই দুই সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ।
এতে তৃতীয় একটি সম্ভাবনাও রয়েছে: তা হলো ‘মান’ (যে বা যারা) শব্দটি ‘মুবতাদা’ (উদ্দেশ্য) হিসেবে ‘রাফ’ এর স্থানে থাকবে; অর্থাৎ: মুমিনদের মধ্য থেকে যারা আপনার অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সকলের জন্যই যথেষ্ট।
এতে চতুর্থ একটি সম্ভাবনাও রয়েছে, যা অর্থের দিক থেকে ভুল: তা হলো ‘মান’ শব্দটি আল্লাহর পবিত্র নামের ওপর ‘আতিফ’ (সংযোজক) হিসেবে ‘রাফ’ এর স্থানে থাকা; এর ফলে অর্থ দাঁড়াবে: আপনার জন্য আল্লাহ এবং আপনার অনুসারীরাই যথেষ্ট। যদিও কিছু লোক এটি বলেছেন, কিন্তু এটি একটি স্পষ্ট ভুল এবং আয়াতের ব্যাখ্যাকে এর ওপর ভিত্তি করা বৈধ নয়। কেননা, ‘হাসব’ (যথেষ্ট হওয়া) এবং ‘কিফায়াহ’ (পর্যাপ্ত হওয়া) একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, যেমনটি তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), তাকওয়া (ভীতি) ও ইবাদতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তারা যদি আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; তিনিই আপনাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন} [আল-আনফাল: ৬২]। এখানে আল্লাহ ‘হাসব’ (যথেষ্ট হওয়া) এবং ‘তায়ীদ’ (শক্তিশালী করা বা সাহায্য)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন; তিনি ‘হাসব’-কে একমাত্র নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং ‘তায়ীদ’-কে তাঁর সাহায্য ও বান্দাদের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাওহিদ ও তাওয়াক্কুলপন্থীদের প্রশংসা করেছেন এই কারণে যে, তারা ‘হাসব’-কে একমাত্র তাঁর জন্যই সাব্যস্ত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, ‘লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো।’ কিন্তু এটি তাদের ঈমান আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’} [আল-ইমরান: ১৭৩]। তারা ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের জন্য যথেষ্ট’—এ কথা বলেননি। যখন এটি ছিল তাদের বক্তব্য এবং এর জন্য মহান রব তাদের প্রশংসা করেছেন, তখন তিনি তাঁর রাসূলকে কীভাবে বলবেন যে: ‘আল্লাহ এবং আপনার অনুসারীরা আপনার জন্য যথেষ্ট’? অথচ তাঁর অনুসারীরা ‘হাসব’-এর ক্ষেত্রে মহান রবকে একক সাব্যস্ত করেছেন এবং এতে তাঁর ও তাঁর রাসূলের মাঝে কাউকে শরিক করেননি। তবে তিনি কীভাবে তাঁর রাসূলের জন্য যথেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল এবং তাঁর অনুসারীদের মাঝে শরিক করবেন?! এটি অসম্ভব বিষয়গুলোর মধ্যে চরম অসম্ভব এবং বাতিল বিষয়গুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম বাতিল। এর সদৃশ হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {আর যদি তারা সন্তুষ্ট হতো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদেরকে দিয়েছেন তাতে এবং বলত, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আল্লাহ আমাদের দেবেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং তাঁর রাসূলও; নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই প্রতি অনুরাগী’} [আত-তাওবাহ: ৫৯]। সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি ‘ইতা’ বা প্রদান করাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো} [আল-হাশর: ৭]। কিন্তু ‘হাসব’ বা যথেষ্ট হওয়াকে তিনি একমাত্র নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের জন্য যথেষ্ট’—এ কথা বলেননি, বরং একে একান্তভাবে নিজের হক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ঠিক যেমন তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই প্রতি অনুরাগী} [আত-তাওবাহ: ৫৯]। এখানে ‘এবং তাঁর রাসূলের প্রতি’ কথাটি বলেননি, বরং অনুরাগী হওয়াকে একমাত্র নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতএব যখনই আপনি অবসর পাবেন, তখনই কঠোর শ্রমে আত্মনিয়োগ করুন এবং আপনার রবের প্রতিই অনুরাগী হোন} [আল-ইনশিরাহ: ৭-৮]। সুতরাং অনুরাগ, তাওয়াক্কুল, ইনাবাত (প্রত্যাবর্তন) এবং হাসব (পর্যাপ্ততা)—এগুলো একমাত্র আল্লাহরই জন্য; ঠিক যেমন ইবাদত, তাকওয়া ও সিজদা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। আর মানত ও শপথও একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার উদ্দেশ্যেই হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَتَعَالَى. وَنَظِيرُ هَذَا قَوْلُهُ تَعَالَى: {أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ} [الزمر: 36] [الزُّمَرِ: 36] . فَالْحَسْبُ: هُوَ الْكَافِي، فَأَخْبَرَ سبحانه وتعالى أَنَّهُ وَحْدَهُ كَافٍ عَبْدَهُ، فَكَيْفَ يَجْعَلُ أَتْبَاعَهُ مَعَ اللَّهِ فِي هَذِهِ الْكِفَايَةِ؟! وَالْأَدِلَّةُ الدَّالَّةُ عَلَى بُطْلَانِ هَذَا التَّأْوِيلِ الْفَاسِدِ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ تُذْكَرَ هَاهُنَا.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ بِحَسَبِ مُتَابَعَةِ الرَّسُولِ تَكُونُ الْعِزَّةُ وَالْكِفَايَةُ وَالنُّصْرَةُ، كَمَا أَنَّ بِحَسَبِ مُتَابَعَتِهِ تَكُونُ الْهِدَايَةُ وَالْفَلَاحُ وَالنَّجَاةُ، فَاللَّهُ سُبْحَانَهُ عَلَّقَ سَعَادَةَ الدَّارَيْنِ بِمُتَابَعَتِهِ، وَجَعَلَ شَقَاوَةَ الدَّارَيْنِ فِي مُخَالَفَتِهِ، فَلِأَتْبَاعِهِ الْهُدَى وَالْأَمْنُ وَالْفَلَاحُ وَالْعِزَّةُ وَالْكِفَايَةُ وَالنُّصْرَةُ وَالْوِلَايَةُ وَالتَّأْيِيدُ وَطِيبُ الْعَيْشِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَلِمُخَالِفِيهِ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ وَالْخَوْفُ وَالضَّلَالُ وَالْخِذْلَانُ وَالشَّقَاءُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. وَقَدْ أَقْسَمَ صلى الله عليه وسلم بِأَنْ ( «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هُوَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَلَدِهِ وَوَالِدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ» ) وَأَقْسَمَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ بِأَنْ لَا يُؤْمِنَ مَنْ لَا يُحَكِّمَهُ فِي كُلِّ مَا تَنَازَعَ فِيهِ هُوَ وَغَيْرُهُ، ثُمَّ يَرْضَى بِحُكْمِهِ، وَلَا يَجِدَ فِي نَفْسِهِ حَرَجًا مِمَّا حَكَمَ بِهِ، ثُمَّ يُسَلِّمَ لَهُ تَسْلِيمًا وَيَنْقَادَ لَهُ انْقِيَادًا. وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36]
মহান ও সমুন্নত। এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?} [সূরা যুমার: ৩৬]। অতএব 'হাসব' অর্থ হলো 'যথেষ্টকারী'। মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একাই তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট। এমতাবস্থায় কীভাবে তাঁর অনুসারীদের এই পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শরীক করা যেতে পারে?! এই ভ্রান্ত ব্যাখ্যার অসারতা প্রমাণকারী দলিলাদি এখানে উল্লেখ করার চেয়েও অনেক বেশি।
মূল উদ্দেশ্য হলো, রাসূলের অনুসরণের মাত্রা অনুযায়ীই সম্মান, পর্যাপ্ততা ও সাহায্য লাভ হয়; ঠিক যেমন তাঁর অনুসরণের মাধ্যমেই হিদায়াত, সাফল্য ও মুক্তি অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ উভয় জাহানের সৌভাগ্যকে তাঁর অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং উভয় জগতের দুর্ভাগ্যকে তাঁর বিরোধিতার মাঝে নিহিত রেখেছেন। সুতরাং তাঁর অনুসারীদের জন্য রয়েছে হিদায়াত, নিরাপত্তা, সফলতা, সম্মান, পর্যাপ্ততা, সাহায্য, অভিভাবকত্ব, সমর্থন এবং ইহকাল ও পরকালে পবিত্র জীবন। আর তাঁর বিরোধীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা, হীনতা, ভয়, পথভ্রষ্টতা, অসহায়ত্ব এবং দুনিয়া ও আখেরাতে চরম দুর্ভাগ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বলেছেন: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার সন্তান, পিতামাতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়েও বেশি প্রিয় হই।” আর মহান আল্লাহ শপথ করেছেন যে, সেই ব্যক্তি মুমিন হতে পারবে না যে তার ও অন্যের মধ্যকার বিবাদমান সকল বিষয়ে তাকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ না করবে, অতঃপর তাঁর ফয়সালাতে সন্তুষ্ট না হবে এবং তাঁর দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বোধ না করবে, বরং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেবে ও পূর্ণ অনুগত হবে। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে অন্য কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না।} [সূরা আহযাব: ৩৬]
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
( [الْأَحْزَابِ: 36] . فَقَطَعَ سبحانه وتعالى التَّخْيِيرَ بَعْدَ أَمْرِهِ وَأَمْرِ رَسُولِهِ، فَلَيْسَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَخْتَارَ شَيْئًا بَعْدَ أَمْرِهِ صلى الله عليه وسلم، بَلْ إِذَا أَمَرَ فَأَمْرُهُ حَتْمٌ، وَإِنَّمَا الْخِيَرَةُ فِي قَوْلِ غَيْرِهِ إِذَا خَفِيَ أَمْرُهُ وَكَانَ ذَلِكَ الْغَيْرُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِهِ وَبِسُنَّتِهِ، فَبِهَذِهِ الشُّرُوطِ يَكُونُ قَوْلُ غَيْرِهِ سَائِغَ الِاتِّبَاعِ، لَا وَاجِبَ الِاتِّبَاعِ، فَلَا يَجِبُ عَلَى أَحَدٍ اتِّبَاعُ قَوْلِ أَحَدٍ سِوَاهُ، بَلْ غَايَتُهُ أَنَّهُ يَسُوغُ لَهُ اتِّبَاعُهُ، وَلَوْ تَرَكَ الْأَخْذَ بِقَوْلِ غَيْرِهِ لَمْ يَكُنْ عَاصِيًا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ. فَأَيْنَ هَذَا مِمَّنْ يَجِبُ عَلَى جَمِيعِ الْمُكَلَّفِينَ اتِّبَاعُهُ، وَيَحْرُمُ عَلَيْهِمْ مُخَالَفَتُهُ، وَيَجِبُ عَلَيْهِمْ تَرْكُ كُلِّ قَوْلٍ لِقَوْلِهِ؟ فَلَا حُكْمَ لِأَحَدٍ مَعَهُ، وَلَا قَوْلَ لِأَحَدٍ مَعَهُ، كَمَا لَا تَشْرِيعَ لِأَحَدٍ مَعَهُ، وَكُلُّ مَنْ سِوَاهُ، فَإِنَّمَا يَجِبُ اتِّبَاعُهُ عَلَى قَوْلِهِ إِذَا أَمَرَ بِمَا أَمَرَ بِهِ، وَنَهَى عَمَّا نَهَى عَنْهُ، فَكَانَ مُبَلِّغًا مَحْضًا وَمُخْبِرًا لَا مُنْشِئًا وَمُؤَسِّسًا، فَمَنْ أَنْشَأَ أَقْوَالًا وَأَسَّسَ قَوَاعِدَ بِحَسَبِ فَهْمِهِ وَتَأْوِيلِهِ لَمْ يَجِبْ عَلَى الْأُمَّةِ اتِّبَاعُهَا، وَلَا التَّحَاكُمُ إِلَيْهَا حَتَّى تُعْرَضَ عَلَى مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، فَإِنْ طَابَقَتْهُ وَوَافَقَتْهُ وَشُهِدَ لَهَا بِالصِّحَّةِ قُبِلَتْ حِينَئِذٍ، وَإِنْ خَالَفَتْهُ وَجَبَ رَدُّهَا وَاطِّرَاحُهَا، فَإِنْ لَمْ يَتَبَيَّنْ فِيهَا أَحَدُ الْأَمْرَيْنِ جُعِلَتْ مَوْقُوفَةً، وَكَانَ أَحْسَنُ أَحْوَالِهَا أَنْ يَجُوزَ الْحُكْمُ وَالْإِفْتَاءُ بِهَا وَتَرْكُهُ، وَأَمَّا أَنَّهُ يَجِبُ وَيَتَعَيَّنُ فَكَلَّا وَلَمَّا.
وَبَعْدُ، فَإِنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى هُوَ الْمُنْفَرِدُ بِالْخَلْقِ وَالِاخْتِيَارِ مِنَ الْمَخْلُوقَاتِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [القصص: 68] [الْقَصَصِ: 68] . وَلَيْسَ الْمُرَادُ هَاهُنَا بِالِاخْتِيَارِ الْإِرَادَةَ الَّتِي يُشِيرُ إِلَيْهَا الْمُتَكَلِّمُونَ بِأَنَّهُ الْفَاعِلُ الْمُخْتَارُ - وَهُوَ سُبْحَانَهُ - كَذَلِكَ، وَلَكِنْ لَيْسَ الْمُرَادُ بِالِاخْتِيَارِ هَاهُنَا هَذَا الْمَعْنَى، وَهَذَا الِاخْتِيَارُ دَاخِلٌ فِي قَوْلِهِ: {يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ} [القصص: 68] فَإِنَّهُ لَا يَخْلُقُ إِلَّا بِاخْتِيَارِهِ، وَدَاخِلٌ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: (مَا يَشَاءُ) فَإِنَّ الْمَشِيئَةَ هِيَ الِاخْتِيَارُ، وَإِنَّمَا الْمُرَادُ بِالِاخْتِيَارِ هَاهُنَا: الِاجْتِبَاءُ وَالِاصْطِفَاءُ، فَهُوَ اخْتِيَارٌ بَعْدَ الْخَلْقِ، وَالِاخْتِيَارُ الْعَامُّ اخْتِيَارٌ قَبْلَ الْخَلْقِ، فَهُوَ أَعَمُّ وَأَسْبَقُ، وَهَذَا أَخَصُّ، وَهُوَ مُتَأَخِّرٌ، فَهُوَ اخْتِيَارٌ مِنَ الْخَلْقِ، وَالْأَوَّلُ اخْتِيَارٌ لِلْخَلْقِ. وَأَصَحُّ الْقَوْلَيْنِ أَنَّ الْوَقْفَ التَّامَّ عَلَى قَوْلِهِ: (وَيَخْتَارُ) .
[আল-আহযাব: ৩৬]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশের পর কোনো প্রকার পছন্দের অবকাশ বা স্বাধীনতা নাকচ করে দিয়েছেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের পর কোনো মুমিনের জন্য অন্য কিছু বেছে নেওয়ার অবকাশ নেই। বরং তিনি যখন নির্দেশ দেন, তখন তাঁর নির্দেশ পালন করা অবধারিত। অন্য কারোর বক্তব্যের ক্ষেত্রে পছন্দের সুযোগ তখনই থাকে, যখন রাসূলুল্লাহর নির্দেশ অস্পষ্ট থাকে এবং সেই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হন। এই শর্তসাপেক্ষে অন্যের বক্তব্য অনুসরণ করা জায়েজ হতে পারে, তবে তা অনুসরণ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর কথা অনুসরণ করা কারোর ওপর ওয়াজিব নয়; বরং বড়জোর তা অনুসরণ করা তার জন্য বৈধ হতে পারে। যদি কেউ অন্যের কথা গ্রহণ করা বর্জন করে, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য বলে গণ্য হবে না। তাহলে এর সাথে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) কী তুলনা হতে পারে—যাঁর অনুসরণ করা সমস্ত শরীয়তবদ্ধ ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, যাঁর বিরোধিতা করা তাদের জন্য হারাম এবং যাঁর বাণীর সামনে অন্য সকল বাণী বর্জন করা তাদের জন্য আবশ্যক? তাঁর উপস্থিতিতে অন্য কারোর কোনো ফয়সালা চলে না, তাঁর কথার বিপরীতে অন্য কারোর কথা চলে না, ঠিক যেমন তাঁর উপস্থিতিতে অন্য কারোর আইন প্রণয়নের অধিকার নেই। তিনি ব্যতীত অন্য যাদের কথা অনুসরণ করা ওয়াজিব হয়, তা কেবল তখনই হয় যখন তারা সেই বিষয়ের আদেশ দেন যার আদেশ রাসূলুল্লাহ দিয়েছেন, অথবা সেই বিষয়ের নিষেধ করেন যা তিনি নিষেধ করেছেন। সেক্ষেত্রে তারা হবেন নিছক বার্তাবাহক ও সংবাদদাতা, নতুন বিধান প্রবর্তক বা প্রতিষ্ঠাতা নন। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের বুঝ ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী নতুন কথা উদ্ভাবন করে এবং নতুন মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করে, উম্মতের ওপর তা অনুসরণ করা ওয়াজিব নয় এবং রাসূলুল্লাহর আনীত বিধানের সাথে তুলনা না করা পর্যন্ত সেসবের ভিত্তিতে বিচার-ফয়সালা করাও আবশ্যক নয়। যদি সেগুলো রাসূলুল্লাহর আনীত বিধানের সাথে মিলে যায় এবং সংগতিপূর্ণ হয় এবং তার বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়, তবেই তা গ্রহণ করা হবে। আর যদি তা তাঁর বিধানের পরিপন্থী হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং বর্জন করা ওয়াজিব। আর যদি এ দুটির কোনটিই স্পষ্ট না হয়, তবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে; এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায় হলো যে, সে অনুযায়ী ফয়সালা করা বা ফতোয়া দেওয়া জায়েজ হতে পারে এবং তা বর্জন করাও জায়েজ হতে পারে। কিন্তু তা পালন করা ওয়াজিব বা সুনির্ধারিত হবে—এমনটি কখনোই নয়।
অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টি করা এবং সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত করার বিষয়ে একচ্ছত্র অধিপতি। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন।" [আল-কাসাস: ৬৮]। এখানে 'মনোনয়ন' (ইখতিয়ার) দ্বারা সেই 'ইচ্ছাশক্তি' উদ্দেশ্য নয়, যার দিকে কালামশাস্ত্রবিদগণ ইঙ্গিত করে থাকেন যে, আল্লাহ হলেন 'ইচ্ছাপূর্ণ কর্তা' (ফায়িলুল মুখতার)—যদিও তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবশ্যই সেইরূপ। কিন্তু এখানে 'মনোনয়ন' শব্দটি সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। সেই সাধারণ ইচ্ছা বা ইখতিয়ার মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন"-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা তিনি স্বীয় ইচ্ছা বা ইখতিয়ার ব্যতিরেকে কোনো কিছু সৃষ্টি করেন না। আবার তা মহান আল্লাহর বাণী "যা ইচ্ছা" (মা ইয়াশা)-এর অন্তর্ভুক্তও বটে; কারণ মাশিআত বা ইচ্ছাই হলো ইখতিয়ার। বরং এখানে 'মনোনয়ন' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পছন্দ করা এবং নির্বাচিত করা (ইজতিবা ও ইছতিফা)। সুতরাং এটি হলো সৃষ্টির পরবর্তী একটি নির্বাচন। আর সাধারণ ইখতিয়ার বা ইচ্ছা হলো সৃষ্টির পূর্ববর্তী বিষয়। অতএব প্রথমটি অধিকতর ব্যাপক ও অগ্রবর্তী, আর দ্বিতীয়টি বিশেষ এবং পরবর্তী বিষয়। সুতরাং এটি হলো সৃষ্টির মধ্য হতে বেছে নেওয়া, আর প্রথমটি হলো সৃষ্টির জন্য ইচ্ছা করা। আর এ বিষয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এই যে, মহান আল্লাহর বাণী "এবং মনোনীত করেন"-এর ওপর পূর্ণ বিরতি (ওয়াকফ তাম) হবে।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَيَكُونُ {مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ} [القصص: 68] نَفْيًا، أَيْ: لَيْسَ هَذَا الِاخْتِيَارُ إِلَيْهِمْ، بَلْ هُوَ إِلَى الْخَالِقِ وَحْدَهُ، فَكَمَا أَنَّهُ الْمُنْفَرِدُ بِالْخَلْقِ فَهُوَ الْمُنْفَرِدُ بِالِاخْتِيَارِ مِنْهُ، فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَخْلُقَ وَلَا أَنْ يَخْتَارَ سِوَاهُ، فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ أَعْلَمُ بِمَوَاقِعِ اخْتِيَارِهِ، وَمَحَالِّ رِضَاهُ، وَمَا يَصْلُحُ لِلِاخْتِيَارِ مِمَّا لَا يَصْلُحُ لَهُ، وَغَيْرُهُ لَا يُشَارِكُهُ فِي ذَلِكَ بِوَجْهٍ.
وَذَهَبَ بَعْضُ مَنْ لَا تَحْقِيقَ عِنْدَهُ وَلَا تَحْصِيلَ إِلَى أَنَّ " مَا " فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ} [القصص: 68] مَوْصُولَةٌ، وَهِيَ مَفْعُولٌ " وَيَخْتَارُ " أَيْ: وَيَخْتَارُ الَّذِي لَهُمُ الْخِيَرَةُ، وَهَذَا بَاطِلٌ مِنْ وُجُوهٍ.
أَحَدُهَا: أَنَّ الصِّلَةَ حِينَئِذٍ تَخْلُو مِنَ الْعَائِدِ؛ لِأَنَّ " الْخِيرَةَ " مَرْفُوعٌ بِأَنَّهُ اسْمُ " كَانَ " وَالْخَبَرُ " لَهُمْ "، فَيَصِيرُ الْمَعْنَى: وَيَخْتَارُ الْأَمْرَ الَّذِي كَانَ الْخِيَرَةَ لَهُمْ، وَهَذَا التَّرْكِيبُ مُحَالٌ مِنَ الْقَوْلِ.
فَإِنْ قِيلَ: يُمْكِنُ تَصْحِيحُهُ بِأَنْ يَكُونَ الْعَائِدُ مَحْذُوفًا، وَيَكُونَ التَّقْدِيرُ: وَيَخْتَارُ الَّذِي كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ فِيهِ، أَيْ وَيَخْتَارُ الْأَمْرَ الَّذِي كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ فِي اخْتِيَارِهِ.
قِيلَ: هَذَا يَفْسُدُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، وَهُوَ أَنَّ هَذَا لَيْسَ مِنَ الْمَوَاضِعِ الَّتِي يَجُوزُ فِيهَا حَذْفُ الْعَائِدِ، فَإِنَّهُ إِنَّمَا يُحْذَفُ مَجْرُورًا إِذَا جُرَّ بِحَرْفٍ جُرَّ الْمَوْصُولُ بِمِثْلِهِ مَعَ اتِّحَادِ الْمَعْنَى، نَحْوُ قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ} [المؤمنون: 33] [الْمُؤْمِنُونَ: 33] وَنَظَائِرِهِ، وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُقَالَ: جَاءَنِي الَّذِي مَرَرْتُ، وَرَأَيْتُ الَّذِي رَغِبْتُ، وَنَحْوُهُ.
الثَّانِي: أَنَّهُ لَوْ أُرِيدَ هَذَا الْمَعْنَى لَنَصَبَ " الْخِيَرَةَ " وَشُغِلَ فِعْلُ الصِّلَةِ بِضَمِيرٍ يَعُودُ عَلَى الْمَوْصُولِ، فَكَأَنَّهُ يَقُولُ: وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةَ، أَيِ: الَّذِي كَانَ هُوَ عَيْنَ الْخِيَرَةِ لَهُمْ، وَهَذَا لَمْ يَقْرَأْ بِهِ أَحَدٌ الْبَتَّةَ، مَعَ أَنَّهُ كَانَ وَجْهُ الْكَلَامِ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ.
الثَّالِثُ: أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ يَحْكِي عَنِ الْكُفَّارِ اقْتِرَاحَهُمْ فِي الِاخْتِيَارِ، وَإِرَادَتَهُمْ
এবং {তাদের কোনো পছন্দ করার অধিকার নেই} [কাসাস: ৬৮] এখানে 'মা' শব্দটি না-বোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, এই নির্বাচনের অধিকার তাদের নেই, বরং তা একমাত্র স্রষ্টার। যেভাবে তিনি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়, তেমনি তিনি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অদ্বিতীয়। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কোনো কিছু সৃষ্টি করার বা নির্বাচন করার অধিকার নেই। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনি তাঁর নির্বাচনের ক্ষেত্রসমূহ এবং তাঁর সন্তুষ্টির স্থানসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর কোন বিষয়টি নির্বাচনের যোগ্য এবং কোনটি অযোগ্য, তাও তিনি ভালো জানেন। এ বিষয়ে অন্য কেউ কোনোভাবেই তাঁর অংশীদার নয়।
যাদের মাঝে গভীর পাণ্ডিত্য ও শাস্ত্রীয় ব্যুৎপত্তি নেই, এমন কিছু লোক মনে করেন যে, মহান আল্লাহর বাণী {তাদের যা পছন্দ তা তিনি নির্বাচন করেন} [কাসাস: ৬৮]-এ 'মা' শব্দটি একটি সম্বন্ধবাচক অব্যয়, এবং এটি 'নির্বাচন করেন' ক্রিয়ার কর্ম। অর্থাৎ, তিনি তা-ই নির্বাচন করেন যা তাদের জন্য পছন্দ। কিন্তু এই দাবিটি কয়েকটি কারণে অসার।
প্রথমত: এমতাবস্থায় সম্বন্ধযুক্ত বাক্যটি প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম থেকে শূন্য হয়ে পড়ে। কারণ 'পছন্দ' শব্দটি এখানে 'ছিল' (কানা) ক্রিয়ার বিশেষ্য হিসেবে পেশযুক্ত, আর 'তাদের জন্য' অংশটি হলো তার খবর। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: 'তিনি সেই বিষয়টিকে নির্বাচন করেন যা তাদের পছন্দ ছিল'। আর এমন বাক্য গঠন ব্যাকরণগতভাবে অসম্ভব।
যদি বলা হয়: প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটিকে উহ্য ধরে নিয়ে বাক্যটি শুদ্ধ করা সম্ভব, যার প্রাক্কলিত রূপ হবে: 'তিনি সেই বিষয়টিকে নির্বাচন করেন যাতে তাদের পছন্দ রয়েছে', অর্থাৎ তিনি সেই বিষয়টি নির্বাচন করেন যার নির্বাচনে তাদের পছন্দ ছিল।
উত্তরে বলা হবে: এটি অন্য আরেকটি কারণে ত্রুটিযুক্ত। কারণ এটি এমন কোনো স্থান নয় যেখানে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম বিলুপ্ত করা বৈধ। কেননা অব্যয় দ্বারা জেরযুক্ত হওয়া সর্বনাম তখনই বিলুপ্ত করা যায়, যখন সম্বন্ধবাচক অব্যয়টিও একই অর্থবোধক অনুরূপ অব্যয় দ্বারা জেরযুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তা থেকেই আহার করেন যা থেকে তোমরা আহার করো এবং তিনি তা থেকেই পান করেন যা থেকে তোমরা পান করো} [আল-মুমিনুন: ৩৩] এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। কিন্তু 'যে ব্যক্তির পাশ দিয়ে আমি অতিক্রম করেছি সে এসেছে' কিংবা 'যা আমি পছন্দ করেছি তা দেখেছি'—এই অর্থে সর্বনাম উহ্য রেখে বাক্য বলা বৈধ নয়।
দ্বিতীয়ত: যদি এই অর্থই উদ্দেশ্য হতো, তবে 'পছন্দ' শব্দটি জবরযুক্ত হতো এবং সম্বন্ধযুক্ত বাক্যের ক্রিয়াটি সম্বন্ধবাচক অব্যয়ের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনামের সাথে যুক্ত হতো। যেন বাক্যটি এমন হতো: 'তিনি তা-ই নির্বাচন করেন যা তাদের জন্য পছন্দ ছিল', অর্থাৎ যা ছিল তাদের জন্য মূল পছন্দনীয় বিষয়। অথচ এভাবে কেউই পাঠ করেননি, যদিও উক্ত ব্যাখ্যার নিরিখে এটিই ছিল আরবী ভাষারীতি অনুযায়ী সঠিক রূপ।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ কাফিরদের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের যে প্রস্তাবনা এবং আকাঙ্ক্ষা, তা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
أَنْ تَكُونَ الْخِيَرَةُ لَهُمْ، ثُمَّ يَنْفِي هَذَا سُبْحَانَهُ عَنْهُمْ، وَيُبَيِّنُ تَفَرُّدَهُ هُوَ بِالِاخْتِيَارِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ - أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [الزخرف: 31 - 32] [الزُّخْرُفِ: 31 - 32] ، فَأَنْكَرَ عَلَيْهِمْ سُبْحَانَهُ تَخَيُّرَهُمْ عَلَيْهِ، وَأَخْبَرَ أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ إِلَيْهِمْ، بَلْ إِلَى الَّذِي قَسَمَ بَيْنَهُمْ مَعَايِشَهُمُ الْمُتَضَمِّنَةَ لِأَرْزَاقِهِمْ وَمُدَدِ آجَالِهِمْ، وَكَذَلِكَ هُوَ الَّذِي يَقْسِمُ فَضْلَهُ بَيْنَ أَهْلِ الْفَضْلِ عَلَى حَسَبِ عِلْمِهِ بِمَوَاقِعِ الِاخْتِيَارِ، وَمَنْ يَصْلُحُ لَهُ مِمَّنْ لَا يَصْلُحُ، وَهُوَ الَّذِي رَفَعَ بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ، وَقَسَمَ بَيْنَهُمْ مَعَايِشَهُمْ وَدَرَجَاتِ التَّفْضِيلِ، فَهُوَ الْقَاسِمُ ذَلِكَ وَحْدَهُ لَا غَيْرُهُ، وَهَكَذَا هَذِهِ الْآيَةُ بَيَّنَ فِيهَا انْفِرَادَهُ بِالْخَلْقِ وَالِاخْتِيَارِ، وَأَنَّهُ سُبْحَانَهُ أَعْلَمُ بِمَوَاقِعِ اخْتِيَارِهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَإِذَا جَاءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124] [الْأَنْعَامِ: 124] ، أَيِ: اللَّهُ أَعْلَمُ بِالْمَحَلِّ الَّذِي يَصْلُحُ لِاصْطِفَائِهِ وَكَرَامَتِهِ وَتَخْصِيصِهِ بِالرِّسَالَةِ وَالنُّبُوَّةِ دُونَ غَيْرِهِ.
الرَّابِعُ: أَنَّهُ نَزَّهَ نَفْسَهُ سُبْحَانَهُ عَمَّا اقْتَضَاهُ شِرْكُهُمْ مِنَ اقْتِرَاحِهِمْ وَاخْتِيَارِهِمْ فَقَالَ: {مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [القصص: 68] [الْقَصَصِ: 68] وَلَمْ يَكُنْ شِرْكُهُمْ مُقْتَضِيًا لِإِثْبَاتِ خَالِقٍ سِوَاهُ حَتَّى نَزَّهَ نَفْسَهُ عَنْهُ، فَتَأَمَّلْهُ فَإِنَّهُ فِي غَايَةِ اللُّطْفِ.
الْخَامِسُ: أَنَّ هَذَا نَظِيرُ قَوْلِهِ تَعَالَى فِي [الْحَجِّ: 73 - 76] : {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ - مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} [الحج: 73 - 74] ثُمَّ قَالَ: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ - يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ} [الحج: 75 - 76] وَهَذَا نَظِيرُ قَوْلِهِ فِي [الْقَصَصِ: 69] {وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ} [القصص: 69] وَنَظِيرُ قَوْلِهِ فِي [الْأَنْعَامِ: 124] {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124] فَأَخْبَرَ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ عَنْ عِلْمِهِ
(তাদের ধারণা ছিল) যে নির্বাচন করার অধিকার তাদেরই হবে, অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের থেকে এই ধারণাকে নাকচ করে দেন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর একক বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “আর তারা বলে, এই কুরআন কেন দুই জনপদের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না? তারা কি আপনার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই ইহকালীন জীবনে তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং তাদের এককে অপরের ওপর বিভিন্ন মর্যাদায় উন্নীত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে; আর আপনার রবের রহমত তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে উত্তম।” [আয-যুখরুফ: ৩১-৩২], সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর ওপর তাদের নির্বাচনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, এই বিষয়টি তাদের এখতিয়ারাধীন নয়; বরং এটি তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন যিনি তাদের মধ্যে তাদের জীবনোপকরণ বণ্টন করেছেন, যা তাদের রিজিক এবং নির্ধারিত আয়ুষ্কালকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে তিনিই তাঁর অনুগ্রহ বিতরণ করেন মর্যাদাবান ব্যক্তিদের মাঝে, তাঁর সেই জ্ঞান অনুযায়ী যে নির্বাচনের উপযুক্ত ক্ষেত্র কোনটি এবং কে এর যোগ্য আর কে অযোগ্য। তিনিই তাদের এককে অপরের ওপর বিভিন্ন স্তরে উন্নীত করেছেন এবং তাদের মাঝে জীবিকা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্তরসমূহ বণ্টন করেছেন। সুতরাং তিনিই এর একমাত্র বণ্টনকারী, অন্য কেউ নয়। একইভাবে এই আয়াতেও তিনি সৃষ্টি এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর একক কর্তৃত্বের কথা বর্ণনা করেছেন, এবং এটিও যে মহান আল্লাহ তাঁর নির্বাচনের ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “আর যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তখন তারা বলে, আমরা কখনোই ঈমান আনব না যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূলগণকে যা প্রদান করা হয়েছে আমাদেরকেও তা প্রদান করা হয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।” [আল-আন‘আম: ১২৪]। অর্থাৎ: আল্লাহই সেই স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন, যিনি তাঁর মনোনীত হওয়ার, সম্মান লাভ করার এবং অন্য সবার পরিবর্তে বিশেষ রিসালাত ও নবুওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার যোগ্য।
চতুর্থত: মহান আল্লাহ তাদের শিরকপ্রসূত প্রস্তাবনা ও নির্বাচনের আবশ্যকতা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন: “তাদের কোনো নির্বাচনের অধিকার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।” [আল-কাসাস: ৬৮]। তাদের এই শিরক তাঁর ব্যতীত অন্য কোনো স্রষ্টা সাব্যস্ত করার দাবি রাখত না যে তিনি নিজেকে তা থেকে পবিত্র করবেন (বরং এটি ছিল নির্বাচন ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে শিরক), সুতরাং এই বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন, কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গূঢ় তত্ত্ব।
পঞ্চমত: এটি [আল-হাজ্জ: ৭৩-৭৬] আয়াতে মহান আল্লাহর বাণীর অনুরূপ: “হে লোকসকল, একটি উপমা পেশ করা হলো, মনোযোগ দিয়ে তা শোনো। নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সবাই একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধারও করতে পারবে না। অন্বেষণকারী এবং যার কাছে অন্বেষণ করা হচ্ছে—উভয়েই কতই না দুর্বল! তারা আল্লাহকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা দেয়নি; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।” [আল-হাজ্জ: ৭৩-৭৪]। এরপর তিনি বলেন: “আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকেও রাসূল মনোনীত করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে এবং তাদের পেছনে যা আছে; আর যাবতীয় বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।” [আল-হাজ্জ: ৭৫-৭৬]। আর এটি [আল-কাসাস: ৬৯] আয়াতে তাঁর বাণীর অনুরূপ: “এবং আপনার রব জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে।” [আল-কাসাস: ৬৯]। এবং এটি [আল-আন‘আম: ১২৪] আয়াতে তাঁর বাণীর অনুরূপ: “আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।” [আল-আন‘আম: ১২৪]। এই সবকিছুর মাধ্যমেই তিনি তাঁর ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْمُتَضَمِّنِ لِتَخْصِيصِهِ مَحَالَّ اخْتِيَارِهِ بِمَا خَصَّصَهَا بِهِ، لِعِلْمِهِ بِأَنَّهَا تَصْلُحُ لَهُ دُونَ غَيْرِهَا، فَتَدَبَّرِ السِّيَاقَ فِي هَذِهِ الْآيَاتِ تَجِدْهُ مُتَضَمِّنًا لِهَذَا الْمَعْنَى، زَائِدًا عَلَيْهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
السَّادِسُ: أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ مَذْكُورَةٌ عُقَيْبَ قَوْلِهِ: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ - فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ - فَأَمَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ - وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [القصص: 65 - 68] [الْقَصَصِ: 65 - 68] فَكَمَا خَلَقَهُمْ وَحْدَهُ سُبْحَانَهُ، اخْتَارَ مِنْهُمْ مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا، فَكَانُوا صَفْوَتَهُ مِنْ عِبَادِهِ، وَخِيرَتَهُ مِنْ خَلْقِهِ، وَكَانَ هَذَا الِاخْتِيَارُ رَاجِعًا إِلَى حِكْمَتِهِ وَعِلْمِهِ سُبْحَانَهُ لِمَنْ هُوَ أَهْلٌ لَهُ، لَا إِلَى اخْتِيَارِ هَؤُلَاءِ الْمُشْرِكِينَ وَاقْتِرَاحِهِمْ، فَسُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ.
[فَصْلٌ في ذكر ما اختار الله من مخلوقاته]
[الِاخْتِيَارُ دَالٌّ عَلَى رُبُوبِيَّتِهِ سُبْحَانَهُ]فَصْلٌ
وَإِذَا تَأَمَّلْتَ أَحْوَالَ هَذَا الْخَلْقِ، رَأَيْتَ هَذَا الِاخْتِيَارَ وَالتَّخْصِيصَ فِيهِ دَالًّا عَلَى رُبُوبِيَّتِهِ تَعَالَى وَوَحْدَانِيَّتِهِ وَكَمَالِ حِكْمَتِهِ وَعِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ، وَأَنَّهُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَلَا شَرِيكَ لَهُ يَخْلُقُ كَخَلْقِهِ، وَيَخْتَارُ كَاخْتِيَارِهِ، وَيُدَبِّرُ كَتَدْبِيرِهِ، فَهَذَا الِاخْتِيَارُ وَالتَّدْبِيرُ وَالتَّخْصِيصُ الْمَشْهُودُ أَثَرُهُ فِي هَذَا الْعَالَمِ مِنْ أَعْظَمِ آيَاتِ رُبُوبِيَّتِهِ، وَأَكْبَرِ شَوَاهِدِ وَحْدَانِيَّتِهِ، وَصِفَاتِ كَمَالِهِ، وَصِدْقِ رُسُلِهِ، فَنُشِيرُ مِنْهُ إِلَى يَسِيرٍ يَكُونُ مُنَبِّهًا عَلَى مَا وَرَاءَهُ دَالًّا عَلَى مَا سِوَاهُ.
فَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ سَبْعًا فَاخْتَارَ الْعُلْيَا مِنْهَا فَجَعَلَهَا مُسْتَقَرَّ الْمُقَرَّبِينَ مِنْ مَلَائِكَتِهِ، وَاخْتَصَّهَا بِالْقُرْبِ مِنْ كُرْسِيِّهِ وَمِنْ عَرْشِهِ، وَأَسْكَنَهَا مَنْ شَاءَ مِنْ خَلْقِهِ، فَلَهَا مَزِيَّةٌ وَفَضْلٌ عَلَى سَائِرِ السَّمَاوَاتِ، وَلَوْ لَمْ يَكُنْ إِلَّا قُرْبُهَا مِنْهُ تبارك وتعالى.
وَهَذَا التَّفْضِيلُ وَالتَّخْصِيصُ مَعَ تَسَاوِي مَادَّةِ السَّمَاوَاتِ مِنْ أَبْيَنِ الْأَدِلَّةِ عَلَى كَمَالِ قُدْرَتِهِ وَحِكْمَتِهِ، وَأَنَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ.
যা তাঁর মনোনীত স্থানগুলোকে সেই বিশেষত্ব প্রদানের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি নির্ধারণ করেছেন, কারণ তিনি জানেন যে সেগুলোই এর জন্য উপযুক্ত, অন্য কিছু নয়। সুতরাং এই আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট নিয়ে চিন্তা করলে আপনি একে এই অর্থের ধারক হিসেবে পাবেন, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ষষ্ঠত: এই আয়াতটি আল্লাহর এই বাণীর পরপরই উল্লেখিত হয়েছে: "আর সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন, 'তোমরা রাসূলগণকে কী জবাব দিয়েছিলে?' অতঃপর সেদিন সকল সংবাদ তাদের কাছে অন্ধকার হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আশা করা যায় সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন।" [আল-কাসাস: ৬৫-৬৮]। সুতরাং যেভাবে তিনি একাই তাদের সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরকেই মনোনীত করেছেন যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে। ফলে তারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। আর এই নির্বাচন ছিল তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের ফলশ্রুতি যে, কে এর যোগ্য; এটি এই মুশরিকদের নির্বাচন বা প্রস্তাব অনুযায়ী নয়। সুতরাং তারা যা শরিক করে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহান।
[পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা কিছু মনোনীত করেছেন তার বর্ণনা]
[মনোনয়ন মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রমাণ]পরিচ্ছেদ
আপনি যখন এই সৃষ্টির অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তখন দেখতে পাবেন যে এই নির্বাচন এবং বিশেষত্ব প্রদান মহান আল্লাহর প্রভুত্ব, একত্ববাদ এবং তাঁর প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও ক্ষমতার পূর্ণতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই যে তাঁর মতো সৃষ্টি করবে, তাঁর মতো মনোনীত করবে কিংবা তাঁর মতো পরিচালনা করবে। এই জগতে পরিলক্ষিত নির্বাচন, পরিচালনা এবং বিশেষত্ব প্রদানের এই প্রভাব তাঁর প্রভুত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং তাঁর একত্ববাদ, পূর্ণতার গুণাবলি ও রাসূলগণের সত্যতার সবচাইতে বড় প্রমাণ। অতএব আমি এর মধ্য থেকে সামান্য কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করব যা পরবর্তী বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করবে এবং অন্য সবকিছুর ওপর প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে সর্বোচ্চটিকে বেছে নিয়েছেন। অতঃপর সেটিকে তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের আবাসস্থল বানিয়েছেন এবং একে তাঁর কুরসি ও আরশের নিকটবর্তী হওয়ার বিশেষত্ব দান করেছেন। আর তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা সেখানে বসবাস করতে দিয়েছেন। ফলে অন্যান্য আসমানের তুলনায় এর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে; যদি কেবল মহান আল্লাহর নৈকট্যটুকুই এর বৈশিষ্ট্য হতো তবুও তা যথেষ্ট ছিল।
আসমানসমূহের মূল উপাদান অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এই শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব প্রদান তাঁর পূর্ণ ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার এক সুস্পষ্ট দলিল এবং এই কথারই প্রমাণ যে, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَمِنْ هَذَا تَفْضِيلُهُ سُبْحَانَهُ جَنَّةَ الْفِرْدَوْسِ عَلَى سَائِرِ الْجِنَانِ، وَتَخْصِيصُهَا بِأَنْ جَعَلَ عَرْشَهُ سَقْفَهَا، وَفِي بَعْضِ الْآثَارِ: " إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ غَرَسَهَا بِيَدِهِ وَاخْتَارَهَا لِخِيرَتِهِ مِنْ خَلْقِهِ ".
وَمِنْ هَذَا اخْتِيَارُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ الْمُصْطَفَيْنَ مِنْهُمْ عَلَى سَائِرِهِمْ، كَجِبْرِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ( «اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» ) .
فَذَكَرَ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ لِكَمَالِ اخْتِصَاصِهِمْ، وَاصْطِفَائِهِمْ، وَقُرْبِهِمْ مِنَ اللَّهِ، وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ غَيْرِهِمْ فِي السَّمَاوَاتِ، فَلَمْ يُسَمِّ إِلَّا هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ. فَجِبْرِيلُ: صَاحِبُ الْوَحْيِ الَّذِي بِهِ حَيَاةُ الْقُلُوبِ وَالْأَرْوَاحِ، وَمِيكَائِيلُ: صَاحِبُ الْقَطْرِ الَّذِي بِهِ حَيَاةُ الْأَرْضِ وَالْحَيَوَانِ وَالنَّبَاتِ، وَإِسْرَافِيلُ: صَاحِبُ الصُّورِ الَّذِي إِذَا نَفَخَ فِيهِ أَحْيَتْ نَفْخَتُهُ بِإِذْنِ اللَّهِ الْأَمْوَاتَ، وَأَخْرَجَتْهُمْ مِنْ قُبُورِهِمْ.
، وَكَذَلِكَ اخْتِيَارُهُ سُبْحَانَهُ لِلْأَنْبِيَاءِ مِنْ وَلَدِ آدَمَ عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ
এই বিষয়টির অন্তর্ভুক্ত হলো অন্যান্য জান্নাতের ওপর জান্নাতুল ফিরদাউসকে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং একে এই বিশেষত্ব দান করা যে, তিনি নিজের আরশকে এর ছাদ বানিয়েছেন। কিছু বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নিজ হাতে তা রোপণ করেছেন এবং একে তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীতদের জন্য নির্বাচন করেছেন।"
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ফেরেশতাদের মধ্য হতে অন্যান্যদের তুলনায় তাঁর মনোনীত ফেরেশতাদের নির্বাচন করা, যেমন জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফীল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: ( "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত! বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত আপনিই তাদের মধ্যে সেটির ফয়সালা করে দেন। সত্যের যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই পথে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে চান সরল পথে পরিচালিত করেন" ) ।
তিনি এই তিনজন ফেরেশতার উল্লেখ করেছেন তাঁদের বিশেষ মর্যাদা, পরম মনোনয়ন এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের কারণে। আসমানে তাঁদের ব্যতিত আরও কত ফেরেশতা রয়েছেন, অথচ তিনি এই তিনজন ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করেননি। জিবরাঈল হলেন ওহীর দায়িত্বশীল, যার মাধ্যমে অন্তর ও আত্মার জীবন লাভ হয়; মিকাঈল হলেন বৃষ্টির দায়িত্বশীল, যার মাধ্যমে যমীন, প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন রক্ষা পায়; এবং ইসরাফীল হলেন সূরের (শিংগার) দায়িত্বশীল, যখন তিনি তাতে ফুঁ দেবেন তখন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর সেই ফুঁ মৃতদের পুনর্জীবিত করবে এবং তাঁদেরকে কবর থেকে বের করে আনবে।
তেমনিভাবে আদম আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্য হতে নবীগণকে মহান আল্লাহর নির্বাচন করাও এরই অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَالسَّلَامُ، وَهُمْ مِائَةُ أَلْفٍ وَأَرْبَعَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا، وَاخْتِيَارُهُ الرُّسُلَ مِنْهُمْ، وَهُمْ ثَلَاثُمِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ، عَلَى مَا فِي حَدِيثِ أبي ذر الَّذِي رَوَاهُ أحمد، وَابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ "، وَاخْتِيَارُهُ أُولِي الْعَزْمِ مِنْهُمْ، وَهُمْ خَمْسَةٌ الْمَذْكُورُونَ فِي سُورَةِ (الْأَحْزَابِ) وَ (الشُّورَى) فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} [الأحزاب: 7] [الْأَحْزَابِ: 7] ، وَقَالَ تَعَالَى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] [الشُّورَى: 13] ، وَاخْتَارَ مِنْهُمُ الْخَلِيلَيْنِ إِبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا وَآلِهِمَا وَسَلَّمَ.
وَمِنْ هَذَا اخْتِيَارُهُ سُبْحَانَهُ وَلَدَ إِسْمَاعِيلَ مِنْ أَجْنَاسِ بَنِي آدَمَ، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْهُمْ بَنِي كِنَانَةَ مِنْ خُزَيْمَةَ، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ وَلَدِ كِنَانَةَ قُرَيْشًا، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، ثُمَّ اخْتَارَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ سَيِّدَ وَلَدِ آدَمَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم.
এবং তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; তাঁরা সংখ্যায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। আর তাঁদের মধ্য থেকে তিনি রাসূলগণকে মনোনীত করেছেন, যাঁদের সংখ্যা হলো তিনশ তের জন; যেমনটি আবু যর (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসে এসেছে যা ইমাম আহমাদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে ‘উলুল আযম’ (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) রসূলগণকে মনোনীত করেছেন, যাঁদের সংখ্যা পাঁচজন এবং তাঁরা সূরা আল-আহযাব ও সূরা আশ-শূরায় উল্লিখিত হয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী: “স্মরণ করো, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার কাছ থেকে এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারয়াম-তনয় ঈসার কাছ থেকে।” [আল-আহযাব: ৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে, আর যা আমি ওহি করেছি তোমার প্রতি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে—এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।” [আশ-শূরা: ১৩]। আর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে দুই ‘খলীল’ (অন্তরঙ্গ বন্ধু) ইবরাহীম ও মুহাম্মদকে মনোনীত করেছেন—তাঁদের উভয়ের ওপর এবং তাঁদের পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান পবিত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আদম সন্তানদের বিভিন্ন বংশের মধ্য থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর সন্তানদের মনোনীত করা। অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে খুযায়মাহর বংশধরদের থেকে বনু কিনানাহকে মনোনীত করেন। এরপর তিনি কিনানাহর বংশধরদের থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেন। এরপর তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেন। পরিশেষে তিনি বনু হাশিম থেকে আদম সন্তানদের সরদার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেন।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَكَذَلِكَ اخْتَارَ أَصْحَابَهُ مِنْ جُمْلَةِ الْعَالَمِينَ، وَاخْتَارَ مِنْهُمُ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ، وَاخْتَارَ مِنْهُمْ أَهْلَ بَدْرٍ، وَأَهْلَ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ، وَاخْتَارَ لَهُمْ مِنَ الدِّينِ أَكْمَلَهُ، وَمِنَ الشَّرَائِعِ أَفْضَلَهَا، وَمِنَ الْأَخْلَاقِ أَزْكَاهَا وَأَطْيَبَهَا وَأَطْهَرَهَا.
وَاخْتَارَ أُمَّتَهُ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَائِرِ الْأُمَمِ، كَمَا فِي " مُسْنَدِ الْإِمَامِ أحمد " وَغَيْرِهِ مِنْ حَدِيثِ بَهْزِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ حَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «أَنْتُمْ مُوفُونَ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ» ) . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وأحمد: حَدِيثُ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ صَحِيحٌ.
وَظَهَرَ أَثَرُ هَذَا الِاخْتِيَارِ فِي أَعْمَالِهِمْ، وَأَخْلَاقِهِمْ، وَتَوْحِيدِهِمْ، وَمَنَازِلِهِمْ فِي الْجَنَّةِ، وَمَقَامَاتِهِمْ فِي الْمَوْقِفِ، فَإِنَّهُمْ أَعْلَى مِنَ النَّاسِ عَلَى تَلٍّ فَوْقَهُمْ يُشْرِفُونَ عَلَيْهِمْ، وَفِي الترمذي مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ بْنِ الْحُصَيْبِ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ، ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الْأُمَمِ» ) قَالَ الترمذي: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَالَّذِي فِي " الصَّحِيحِ " مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثِ بَعْثِ النَّارِ « (وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَطْمَعُ أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ)
তেমনই তিনি তাঁর সাহাবীগণকে সমগ্র বিশ্বজগত থেকে নির্বাচিত করেছেন। তাঁদের মধ্য হতে অগ্রগামী প্রথম দল, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁদের জন্য দ্বীনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, বিধানের মধ্যে সর্বোত্তম বিধান এবং স্বভাব-চরিত্রের মধ্যে পবিত্রতম, উত্তম ও নির্মলতম চরিত্র বেছে নিয়েছেন।
আর তিনি তাঁর উম্মতকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যান্য সমস্ত উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে 'মুসনাদে ইমাম আহমাদ' ও অন্যান্য গ্রন্থে বাহয ইবনে হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ-এর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমরা সত্তরটি উম্মতের সংখ্যা পূর্ণকারী, আল্লাহর কাছে তোমরাই তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সম্মানিত।” আলী ইবনে আল-মাদীনী ও আহমাদ বলেন: বাহয ইবনে হাকিম কর্তৃক তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ।
এবং এই নির্বাচনের প্রভাব তাঁদের আমল, চরিত্র, তাওহীদ এবং জান্নাতে তাঁদের সুউচ্চ মাকাম ও হাশরের ময়দানে তাঁদের অবস্থানের মাঝে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁরা তখন অন্য মানুষদের তুলনায় ওপরের এক টিলার ওপর থাকবেন যেখান থেকে তাঁরা সবাইকে পর্যবেক্ষণ করবেন। আর তিরমিযী শরীফে বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব আল-আসলামী (রা.) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “জান্নাতবাসীদের সারি হবে একশ বিশটি, যার আশিটি হবে এই উম্মতের আর বাকি চল্লিশটি হবে অন্যান্য সমস্ত উম্মত থেকে।” ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি হাসান হাদীস। আর 'সহীহ' গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জাহান্নামের দল পাঠানো সম্পর্কিত হাদীসে রয়েছে: “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই আশা করি যে তোমরাই হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক...”
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
(الْجَنَّةِ) » ، وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذَلِكَ. فَإِمَّا أَنْ يُقَالَ: هَذَا أَصَحُّ، وَإِمَّا أَنْ يُقَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم طَمِعَ أَنْ تَكُونَ أُمَّتُهُ شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَأَعْلَمَهُ رَبُّهُ فَقَالَ: ( «إِنَّهُمْ ثَمَانُونَ صَفًّا مِنْ مِائَةٍ وَعِشْرِينَ صَفًّا» ) ، فَلَا تَنَافِيَ بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَمِنْ تَفْضِيلِ اللَّهِ لِأُمَّتِهِ وَاخْتِيَارِهِ لَهَا أَنَّهُ وَهَبَهَا مِنَ الْعِلْمِ وَالْحِلْمِ مَا لَمْ يَهَبْهُ لِأُمَّةٍ سِوَاهَا، وَفِي " مُسْنَدِ البزار " وَغَيْرِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ( «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ: إِنِّي بَاعِثٌ مِنْ بَعْدِكَ أُمَّةً إِنْ أَصَابَهُمْ مَا يُحِبُّونَ حَمِدُوا وَشَكَرُوا، وَإِنْ أَصَابَهُمْ مَا يَكْرَهُونَ احْتَسَبُوا وَصَبَرُوا، وَلَا حِلْمَ وَلَا عِلْمَ، قَالَ: يَا رَبِّ، كَيْفَ هَذَا وَلَا حِلْمَ وَلَا عِلْمَ؟ قَالَ: أُعْطِيهِمْ مِنْ حِلْمِي وَعِلْمِي» ) .
[اخْتِيَارُهُ سبحانه وتعالى مِنَ الْأَمَاكِنِ وَالْبِلَادِ خَيْرَهَا وَأَشْرَفَهَا]وَمِنْ هَذَا اخْتِيَارُهُ سبحانه وتعالى مِنَ الْأَمَاكِنِ وَالْبِلَادِ خَيْرَهَا وَأَشْرَفَهَا، وَهِيَ الْبَلَدُ الْحَرَامُ، فَإِنَّهُ سبحانه وتعالى اخْتَارَهُ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَجَعَلَهُ مَنَاسِكَ لِعِبَادِهِ، وَأَوْجَبَ عَلَيْهِمُ الْإِتْيَانَ إِلَيْهِ مِنَ الْقُرْبِ وَالْبُعْدِ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ، فَلَا يَدْخُلُونَهُ إِلَّا مُتَوَاضِعِينَ مُتَخَشِّعِينَ مُتَذَلِّلِينَ كَاشِفِي رُءُوسِهِمْ مُتَجَرِّدِينَ عَنْ لِبَاسِ أَهْلِ الدُّنْيَا، وَجَعَلَهُ حَرَمًا آمِنًا لَا يُسْفَكُ فِيهِ دَمٌ، وَلَا تُعْضَدُ بِهِ شَجَرَةٌ،
(জান্নাতের)”, এর অতিরিক্ত তিনি বলেননি। এমতাবস্থায় হয় তো বলা যেতে পারে এটি অধিক বিশুদ্ধ, নতুবা বলা যায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশা পোষণ করেছিলেন যেন তাঁর উম্মত জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হয়, অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে অবহিত করে বললেন: “নিশ্চয়ই তারা একশ বিশটি কাতারের মধ্যে আশিটি কাতার হবে।” সুতরাং এই দুই হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান ও নির্বাচনের একটি দিক হলো, তিনি একে এমন জ্ঞান ও সহনশীলতা দান করেছেন যা অন্য কোনো উম্মতকে দান করেননি। ‘মুসনাদে বাজ্জার’ ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনে মারিয়ামকে বললেন: আমি তোমার পরে এমন এক উম্মতকে পাঠাব, যারা তাদের প্রিয় কোনো কিছু লাভ করলে আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে, আর যদি অপছন্দনীয় কোনো কষ্টের সম্মুখীন হয়, তবে তারা সওয়াবের প্রত্যাশা করবে ও ধৈর্য ধারণ করবে, অথচ তাদের মাঝে তেমন কোনো সহনশীলতা বা জ্ঞান থাকবে না। তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! বিশেষ কোনো সহনশীলতা ও জ্ঞান ব্যতিরেকে এটি কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে সহনশীলতা ও জ্ঞান দান করব।”
[স্থান ও জনপদসমূহের মধ্য থেকে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ স্থান নির্বাচন]এরই অন্তর্ভুক্ত হলো স্থান ও জনপদসমূহের মধ্য থেকে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ স্থান নির্বাচন, আর তা হলো পবিত্র শহর (মক্কা)। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁর ইবাদতকারীদের জন্য হজের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে সেখানে উপস্থিত হওয়া তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন। তারা সেখানে প্রবেশ করে বিনম্র, বিনীত ও বিগলিত চিত্তে, মস্তক নগ্ন রেখে এবং দুনিয়াদারদের পোশাক বর্জন করে। তিনি একে এক নিরাপদ হারাম (পবিত্র এলাকা) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যেখানে কোনো রক্তপাত ঘটানো যাবে না এবং কোনো গাছ কাটা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَلَا يُنَفَّرُ لَهُ صَيْدٌ، وَلَا يُخْتَلَى خَلَاهُ، وَلَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهُ لِلتَّمْلِيكِ بَلْ لِلتَّعْرِيفِ لَيْسَ إِلَّا، وَجَعَلَ قَصْدَهُ مُكَفِّرًا لِمَا سَلَفَ مِنَ الذُّنُوبِ، مَاحِيًا لِلْأَوْزَارِ، حَاطًّا لِلْخَطَايَا، كَمَا فِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «مَنْ أَتَى هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» ) ، وَلَمْ يَرْضَ لِقَاصِدِهِ مِنَ الثَّوَابِ دُونَ الْجَنَّةِ، فَفِي " السُّنَنِ " مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ دُونَ الْجَنَّةِ» ) . وَفِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ( «الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةَ» ) ، فَلَوْ لَمْ يَكُنِ الْبَلَدُ الْأَمِينُ خَيْرَ بِلَادِهِ، وَأَحَبَّهَا إِلَيْهِ، وَمُخْتَارَهُ مِنَ الْبِلَادِ؛ لَمَا جَعَلَ عَرَصَاتِهَا مَنَاسِكَ لِعِبَادِهِ فَرَضَ عَلَيْهِمْ قَصْدَهَا، وَجَعَلَ ذَلِكَ مِنْ آكَدِ فُرُوضِ الْإِسْلَامِ، وَأَقْسَمَ بِهِ فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ فِي مَوْضِعَيْنِ مِنْهُ فَقَالَ تَعَالَى: {وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ} [التين: 3] [التِّينِ: 3] ، وَقَالَ تَعَالَى: (لَا أُقْسِمُ)
সেখানে কোনো শিকারকে আতঙ্কিত করে তাড়ানো যাবে না, সেখানকার তৃণলতা উপড়ানো যাবে না এবং মালিক হওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানকার পড়ে থাকা বস্তু কুড়ানো যাবে না; বরং কেবল মালিকের সন্ধানে ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তা করা যাবে। আর তিনি এই গৃহের সংকল্প করাকে পূর্ববর্তী গুনাহের কাফফারা, পাপরাশির মোচনকারী এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির বিলোপকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যেমনটি ‘সহীহাইন’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি এই ঘরে (হজ করতে) আসল এবং কোনো প্রকার অশ্লীল আচরণ বা পাপাচার করল না, সে সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে গেল যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।” আর তিনি এর উদ্দেশ্যে সফরকারীর জন্য জান্নাত ব্যতীত অন্য কোনো পুরস্কারে সন্তুষ্ট হননি। ‘সুনান’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তোমরা হজ ও উমরার মাঝে অনুগমন করো (একটি করলে অন্যটি করো), কারণ এই দুটি দারিদ্র্য ও পাপরাশিকে সেভাবেই দূর করে দেয় যেমনভাবে হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” ‘সহীহাইন’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “এক উমরা থেকে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য তা কাফফারা স্বরূপ, আর মাবরুর (কবুল) হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন আর কিছুই নয়।” এই নিরাপদ জনপদটি যদি আল্লাহর নিকট তাঁর সর্বোত্তম ভূমি, সর্বাধিক প্রিয় এবং তাঁর মনোনীত ভূখণ্ড না হতো, তবে তিনি এর প্রান্তরসমূহকে তাঁর বান্দাদের জন্য ইবাদতের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করতেন না, যার সংকল্প করা তিনি তাদের ওপর ফরজ করেছেন এবং একে ইসলামের অন্যতম সুদৃঢ় আবশ্যিক বিধান হিসেবে গণ্য করেছেন। আর তিনি তাঁর পবিত্র গ্রন্থে দুই স্থানে এর শপথ করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: “শপথ এই নিরাপদ জনপদের” [আত-তীন: ৩]। তিনি আরও বলেন: “আমি শপথ করছি...”
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
(بِهَذَا الْبَلَدِ) [الْبَلَدِ: 1] ، وَلَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ بُقْعَةٌ يَجِبُ عَلَى كُلِّ قَادِرٍ السَّعْيُ إِلَيْهَا وَالطَّوَافُ بِالْبَيْتِ الَّذِي فِيهَا غَيْرَهَا، وَلَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَوْضِعٌ يُشْرَعُ تَقْبِيلُهُ وَاسْتِلَامُهُ، وَتُحَطُّ الْخَطَايَا وَالْأَوْزَارُ فِيهِ غَيْرَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ، وَالرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ. وَثَبَتَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الصَّلَاةَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ بِمِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ، فَفِي " سُنَنِ النَّسَائِيِّ " وَ" الْمُسْنَدِ " بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنْ عبد الله بن الزبير، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ( «صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ، وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةٍ فِي مَسْجِدِي هَذَا بِمِائَةِ صَلَاةٍ» ) وَرَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ " وَهَذَا صَرِيحٌ فِي أَنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ أَفْضَلُ بِقَاعِ الْأَرْضِ عَلَى الْإِطْلَاقِ، وَلِذَلِكَ كَانَ شَدُّ الرِّحَالِ إِلَيْهِ فَرْضًا، وَلِغَيْرِهِ مِمَّا يُسْتَحَبُّ وَلَا يَجِبُ، وَفِي " الْمُسْنَدِ " وَالتِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيِّ عَنْ عبد الله بن عدي بن الحمراء، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِالْحَزْوَرَةِ مِنْ مَكَّةَ يَقُولُ: ( «وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ، وَلَوْلَا أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ» ) قَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
(এই নগরের) [আল-বালাদ: ১], আর পৃথিবীর বুকে এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যেখানে আসা এবং তার অভ্যন্তরে অবস্থিত গৃহের তাওয়াফ করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর আবশ্যক, এটি ছাড়া। আর পৃথিবীর বুকে এমন কোনো স্থান নেই যা চুম্বন করা ও স্পর্শ করা শরীয়তসম্মত এবং যার মাধ্যমে গুনাহ ও পাপরাশি মোচন করা হয়, হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানি ব্যতীত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত এক লক্ষ সালাতের সমান। 'সুনানে নাসাঈ' এবং 'মুসনাদ'-এ সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবনুন যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: («আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য সব মসজিদে এক হাজার সালাত অপেক্ষা উত্তম। আর মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত আমার এই মসজিদের এক শত সালাত অপেক্ষা উত্তম।») ইবনু হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মসজিদে হারাম নিরঙ্কুশভাবে পৃথিবীর সর্বোত্তম ভূখণ্ড। আর এ কারণেই এর উদ্দেশ্যে সফর করা ফরজ, আর অন্য সব স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। 'মুসনাদ', তিরমিযী এবং নাসাঈতে আবদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে হামরা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কার হাজওয়ারাহ নামক স্থানে তাঁর সওয়ারির ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: («আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর কাছে তাঁর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। আমাকে যদি তোমা থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি কখনোই বের হতাম না।») ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
بَلْ وَمِنْ خَصَائِصِهَا كَوْنُهَا قِبْلَةً لِأَهْلِ الْأَرْضِ كُلِّهِمْ، فَلَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ قِبْلَةٌ غَيْرُهَا.
وَمِنْ خَوَاصِّهَا أَيْضًا أَنَّهُ يَحْرُمُ اسْتِقْبَالُهَا وَاسْتِدْبَارُهَا عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ دُونَ سَائِرِ بِقَاعِ الْأَرْضِ.
وَأَصَحُّ الْمَذَاهِبِ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ: أَنَّهُ لَا فَرْقَ فِي ذَلِكَ بَيْنَ الْفَضَاءِ وَالْبُنْيَانِ لِبِضْعَةَ عَشَرَ دَلِيلًا قَدْ ذُكِرَتْ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ، وَلَيْسَ مَعَ الْمُفَرِّقِ مَا يُقَاوِمُهَا الْبَتَّةَ مَعَ تَنَاقُضِهِمْ فِي مِقْدَارِ الْفَضَاءِ وَالْبُنْيَانِ، وَلَيْسَ هَذَا مَوْضِعَ اسْتِيفَاءِ الْحِجَاجِ مِنَ الطَّرَفَيْنِ.
وَمِنْ خَوَاصِّهَا أَيْضًا أَنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ أَوَّلُ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الْأَرْضِ، كَمَا فِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنْ أبي ذر قَالَ: ( «سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَوَّلِ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الْأَرْضِ؟ فَقَالَ: الْمَسْجِدُ الْحَرَامُ، قُلْتُ: ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ الْمَسْجِدُ الْأَقْصَى، قُلْتُ: كَمْ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ أَرْبَعُونَ عَامًا» ) وَقَدْ أَشْكَلَ هَذَا الْحَدِيثُ عَلَى مَنْ لَمْ يَعْرِفِ الْمُرَادَ بِهِ فَقَالَ: مَعْلُومٌ أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ دَاوُدَ هُوَ الَّذِي بَنَى الْمَسْجِدَ الْأَقْصَى، وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ إِبْرَاهِيمَ أَكْثَرُ مِنْ أَلْفِ عَامٍ، وَهَذَا مِنْ جَهْلِ هَذَا الْقَائِلِ، فَإِنَّ سُلَيْمَانَ إِنَّمَا كَانَ لَهُ مِنَ الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى تَجْدِيدُهُ لَا تَأْسِيسُهُ، وَالَّذِي أَسَّسَهُ هُوَ يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا وَآلِهِمَا وَسَلَّمَ بَعْدَ بِنَاءِ إِبْرَاهِيمَ الْكَعْبَةَ بِهَذَا الْمِقْدَارِ.
বস্তুত এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমগ্র পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য কিবলা; ভূপৃষ্ঠে এটি ব্যতীত অন্য কোনো কিবলা নেই।
এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো, পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের বিপরীতে, মল-মূত্র ত্যাগের সময় এর দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা হারাম।
এই মাসআলায় বিশুদ্ধতম মত হলো: এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রান্তর এবং দালানকোঠার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর সপক্ষে দশটিরও অধিক দলীল রয়েছে যা অন্য কোনো স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যারা এ দুটির মাঝে পার্থক্য করেন, তাদের নিকট এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই যা এই দলীলগুলোর মোকাবিলা করতে পারে; তদুপরি উন্মুক্ত প্রান্তর ও দালানকোঠার সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে তাদের বক্তব্যে বৈপরীত্য রয়েছে। তবে এটি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক বিস্তারিত পর্যালোচনার স্থান নয়।
এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো, মসজিদুল হারাম পৃথিবীর বুকে স্থাপিত সর্বপ্রথম মসজিদ। যেমনটি ‘সহীহাইন’-এ আবু যার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “আমি আল্লাহর রাসূলকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) জিজ্ঞেস করলাম, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মিত হয়েছে? তিনি বললেন: মসজিদুল হারাম। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: মসজিদুল আকসা। আমি বললাম: এ দুটির মধ্যবর্তী ব্যবধান কত? তিনি বললেন: চল্লিশ বছর।” এই হাদীসের মর্ম যারা উপলব্ধি করতে পারেনি, তারা সংশয় প্রকাশ করে বলেছে: ‘এটা তো সবার জানা যে, দাউদ-পুত্র সুলাইমানই মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেছিলেন, অথচ তাঁর এবং ইবরাহীমের মধ্যে এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধান।’ এটি মূলত প্রবক্তার অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ; কেননা সুলাইমান কেবল মসজিদুল আকসার সংস্কার করেছিলেন, সেটির ভিত্তি স্থাপন করেননি। বরং এর মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন ইসহাক-পুত্র ইয়াকুব (তাঁদের ও তাঁদের পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), যিনি ইবরাহীম কর্তৃক কাবা গৃহ নির্মাণের উল্লিখিত সময়কাল পরেই এটি নির্মাণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى تَفْضِيلِهَا أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَخْبَرَ أَنَّهَا أُمُّ الْقُرَى، فَالْقُرَى كُلُّهَا تَبَعٌ لَهَا وَفَرْعٌ عَلَيْهَا، وَهِيَ أَصْلُ الْقُرَى، فَيَجِبُ أَلَّا يَكُونَ لَهَا فِي الْقُرَى عَدِيلٌ، فَهِيَ كَمَا أَخْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ (الْفَاتِحَةِ) أَنَّهَا أُمُّ الْقُرْآنِ، وَلِهَذَا لَمْ يَكُنْ لَهَا فِي الْكُتُبِ الْإِلَهِيَّةِ عَدِيلٌ.
وَمِنْ خَصَائِصِهَا أَنَّهَا لَا يَجُوزُ دُخُولُهَا لِغَيْرِ أَصْحَابِ الْحَوَائِجِ الْمُتَكَرِّرَةِ إِلَّا بِإِحْرَامٍ، وَهَذِهِ خَاصِّيَّةٌ لَا يُشَارِكُهَا فِيهَا شَيْءٌ مِنَ الْبِلَادِ، وَهَذِهِ الْمَسْأَلَةُ تَلَقَّاهَا النَّاسُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ بِإِسْنَادٍ لَا يُحْتَجُّ بِهِ مَرْفُوعًا ( «لَا يَدْخُلُ أَحَدٌ مَكَّةَ إِلَّا بِإِحْرَامٍ، مِنْ أَهْلِهَا وَمِنْ غَيْرِ أَهْلِهَا» ) ذَكَرَهُ أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ، وَلَكِنَّ الْحَجَّاجَ بْنَ أَرْطَاةَ فِي الطَّرِيقِ، وَآخَرَ قَبْلَهُ مِنَ الضُّعَفَاءِ.
وَلِلْفُقَهَاءِ فِي الْمَسْأَلَةِ ثَلَاثَةُ أَقْوَالٍ: النَّفْيُ، وَالْإِثْبَاتُ، وَالْفَرْقُ بَيْنَ مَنْ هُوَ دَاخِلُ الْمَوَاقِيتِ وَمَنْ هُوَ قَبْلَهَا، فَمَنْ قَبْلَهَا لَا يُجَاوِزُهَا إِلَّا بِإِحْرَامٍ، وَمَنْ هُوَ دَاخِلُهَا فَحُكْمُهُ حُكْمُ أَهْلِ مَكَّةَ، وَهُوَ قَوْلُ أبي حنيفة، وَالْقَوْلَانِ الْأَوَّلَانِ لِلشَّافِعِيِّ وأحمد.
وَمِنْ خَوَاصِّهِ أَنَّهُ يُعَاقَبُ فِيهِ عَلَى الْهَمِّ بِالسَّيِّئَاتِ وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْهَا، قَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} [الحج: 25] [الْحَجِّ: 25] فَتَأَمَّلْ
এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণসমূহের মধ্যে একটি হলো, আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে এটি হলো 'উম্মুল কুরা' (জনপদসমূহের জননী)। সুতরাং সমস্ত জনপদ এর অনুবর্তী এবং এর শাখা হিসেবে গণ্য, আর এটি হলো সকল জনপদের মূল। অতএব, জনপদসমূহের মধ্যে এর কোনো সমকক্ষ থাকা উচিত নয়। এটি ঠিক তেমনি, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা ফাতিহা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে এটি হলো 'উম্মুল কুরআন' (কুরআনের জননী); আর এই কারণেই ঐশী গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর কোনো সমকক্ষ নেই।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হলো, যাদের নিয়মিত যাতায়াতের প্রয়োজন হয় তারা ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইহরাম ছাড়া এতে প্রবেশ করা বৈধ নয়। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যাতে অন্য কোনো শহর এর অংশীদার নয়। মানুষ এই মাসআলাটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে গ্রহণ করেছে। ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে একটি বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে যার সনদটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী নয়: ("নিবাসী হোক বা অনিবাসী, ইহরাম ছাড়া কেউ মক্কায় প্রবেশ করবে না")। এটি আবু আহমাদ ইবনে আদি উল্লেখ করেছেন, তবে এর বর্ণনাসূত্রে হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ রয়েছেন এবং তার আগে অন্য একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন।
এই মাসআলায় ফকীহগণের তিনটি অভিমত রয়েছে: অস্বীকৃতি, স্বীকৃতি এবং যারা মীকাতের ভেতরে থাকে ও যারা মীকাতের বাইরে থাকে তাদের মধ্যে পার্থক্য করা। সুতরাং যারা মীকাতের বাইরে থাকে তারা ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করবে না, আর যারা মীকাতের ভেতরে থাকে তাদের বিধান মক্কাবাসীদের বিধানের মতোই। এটি ইমাম আবু হানিফার মত, আর প্রথম দুটি মত ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদের।
এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে, সেখানে মন্দ কাজের সংকল্প করলেই শাস্তি পেতে হয়, যদিও তা সম্পাদন করা না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যে কেউ সেখানে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘনের সংকল্প করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো" [আল-হাজ্জ: ২৫]। অতএব, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
كَيْفَ عَدَّى فِعْلَ الْإِرَادَةِ هَاهُنَا بِالْبَاءِ، وَلَا يُقَالُ: أَرَدْتُ بِكَذَا إِلَّا لِمَا ضُمِّنَ مَعْنَى فِعْلِ " هَمَّ " فَإِنَّهُ يُقَالُ: هَمَمْتُ بِكَذَا، فَتَوَعَّدَ مَنْ هَمَّ بِأَنْ يَظْلِمَ فِيهِ بِأَنْ يُذِيقَهُ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ.
وَمِنْ هَذَا تَضَاعُفُ مَقَادِيرِ السَّيِّئَاتِ فِيهِ لَا كَمِّيَّاتِهَا، فَإِنَّ السَّيِّئَةَ جَزَاؤُهَا سَيِّئَةٌ، لَكِنْ سَيِّئَةٌ كَبِيرَةٌ جَزَاؤُهَا مِثْلُهَا، وَصَغِيرَةٌ جَزَاؤُهَا مِثْلُهَا، فَالسَّيِّئَةُ فِي حَرَمِ اللَّهِ وَبَلَدِهِ وَعَلَى بِسَاطِهِ آكَدُ وَأَعْظَمُ مِنْهَا فِي طَرَفٍ مِنْ أَطْرَافِ الْأَرْضِ، وَلِهَذَا لَيْسَ مَنْ عَصَى الْمَلِكَ عَلَى بِسَاطِ مُلْكِهِ كَمَنْ عَصَاهُ فِي الْمَوْضِعِ الْبَعِيدِ مِنْ دَارِهِ وَبِسَاطِهِ، فَهَذَا فَصْلُ النِّزَاعِ فِي تَضْعِيفِ السَّيِّئَاتِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَدْ ظَهَرَ سِرُّ هَذَا التَّفْضِيلِ وَالِاخْتِصَاصِ فِي انْجِذَابِ الْأَفْئِدَةِ وَهَوَى الْقُلُوبِ وَانْعِطَافِهَا وَمَحَبَّتِهَا لِهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ، فَجَذْبُهُ لِلْقُلُوبِ أَعْظَمُ مِنْ جَذْبِ الْمِغْنَاطِيسِ لِلْحَدِيدِ، فَهُوَ الْأَوْلَى بِقَوْلِ الْقَائِلِ:
محَاسِنُهُ هَيُولَى كُلِّ حُسْنٍ
… وَمِغْنَاطِيسُ أَفْئِدَةِ الرِّجَالِ
وَلِهَذَا أَخْبَرَ سُبْحَانَهُ أَنَّهُ مَثَابَةٌ لِلنَّاسِ، أَيْ: يَثُوبُونَ إِلَيْهِ عَلَى تَعَاقُبِ الْأَعْوَامِ مِنْ جَمِيعِ الْأَقْطَارِ، وَلَا يَقْضُونَ مِنْهُ وَطَرًا، بَلْ كُلَّمَا ازْدَادُوا لَهُ زِيَارَةً ازْدَادُوا لَهُ اشْتِيَاقًا.
لَا يَرْجِعُ الطَّرْفُ عَنْهَا حِينَ يَنْظُرُهَا
… حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهَا الطَّرْفُ مُشْتَاقًا
فَلَلَّهِ كَمْ لَهَا مِنْ قَتِيلٍ وَسَلِيبٍ وَجَرِيحٍ، وَكَمْ أُنْفِقَ فِي حُبِّهَا مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَرْوَاحِ، وَرَضِيَ الْمُحِبُّ بِمُفَارَقَةِ فِلَذِ الْأَكْبَادِ، وَالْأَهْلِ وَالْأَحْبَابِ وَالْأَوْطَانِ، مُقَدِّمًا بَيْنَ يَدَيْهِ أَنْوَاعَ الْمَخَاوِفِ وَالْمَتَالِفِ وَالْمَعَاطِفِ وَالْمَشَاقِّ، وَهُوَ يَسْتَلِذُّ ذَلِكَ كُلَّهُ وَيَسْتَطِيبُهُ وَيَرَاهُ -لَوْ ظَهَرَ سُلْطَانُ الْمَحَبَّةِ فِي قَلْبِهِ- أَطْيَبَ مِنْ نِعَمِ الْمُتَحَلِّيَةِ وَتَرَفِهِمْ وَلَذَّاتِهِمْ.
وَلَيْسَ مُحِبًّا مَنْ يَعُدُّ شَقَاءَهُ
… عَذَابًا إِذَا مَا كَانَ يَرْضَى حَبِيبُهُ
وَهَذَا كُلُّهُ سِرُّ إِضَافَتِهِ إِلَيْهِ سبحانه وتعالى بِقَوْلِهِ: {وَطَهِّرْ بَيْتِيَ} [الحج: 26] [الْحَجِّ: 26] فَاقْتَضَتْ هَذِهِ الْإِضَافَةُ الْخَاصَّةُ مِنْ هَذَا الْإِجْلَالِ وَالتَّعْظِيمِ وَالْمَحَبَّةِ مَا
এখানে 'ইরাদা' (ইচ্ছা) ক্রিয়াটিকে 'বা' (ب) অব্যয় দ্বারা কেন উহ্য বা সকর্মক করা হয়েছে? অথচ 'আরাদ্দতু বি-কাযা' (আমি অমুক বিষয়ে ইচ্ছা করেছি) কথাটি কেবল তখনই বলা হয় যখন তা 'হাম্মা' (সংকল্প করা) ক্রিয়ার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা 'হামামতু বি-কাযা' (আমি অমুক বিষয়ে সংকল্প করেছি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং তিনি সেই ব্যক্তিকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন, যে সেখানে (হারাম শরিফে) জুলুম করার সংকল্প করবে।
এর মাধ্যমেই সেখানে পাপের পরিণাম বা গুরুত্ব বহুগুণ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়, তার সংখ্যার দিক থেকে নয়। কেননা প্রতিটি পাপের বিনিময় একটি পাপই; তবে বড় পাপের বিনিময় সেই পর্যায়েরই বড় পাপ এবং ছোট পাপের বিনিময় তদ্রূপ ছোট পাপ। সুতরাং আল্লাহর হারাম শরিফে, তাঁর নগরে এবং তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে সংঘটিত পাপ পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে সংঘটিত পাপের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর ও ভয়াবহ। এই কারণেই বাদশাহর সিংহাসনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর অবাধ্য হওয়া আর তাঁর প্রাসাদ ও দরবার থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে অবাধ্য হওয়া এক কথা নয়। গুনাহ বা পাপ বহুগুণ হওয়ার বিষয়ে এটিই চূড়ান্ত মীমাংসা। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এই শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্বের রহস্য এই নিরাপদ নগরীর প্রতি মানুষের অন্তরের টান, হৃদয়ের ব্যাকুলতা, অনুরাগময় ঝোঁক এবং ভালোবাসার মাঝে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। হৃদয়ের ওপর এর আকর্ষণ লোহার ওপর চুম্বকের আকর্ষণের চেয়েও অধিক শক্তিশালী। কবির এই পঙ্ক্তিটি এর ক্ষেত্রেই সর্বাধিক প্রযোজ্য:
এর সৌন্দর্যরাজি সকল সৌন্দর্যের আধার
… আর তা মানুষের অন্তরের জন্য এক মহাচুম্বক
এই কারণেই মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি মানুষের জন্য এক আবর্তনস্থল; অর্থাৎ তারা পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে বছরের পর বছর সেখানে ফিরে আসে। তারা সেখান থেকে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা মিটিয়ে শেষ করতে পারে না, বরং যত বেশি তারা সেখানে জিয়ারত বা পরিদর্শনে আসে, তাদের ব্যাকুলতা ততই বৃদ্ধি পায়।
তাকালে সেখান থেকে দৃষ্টি ফিরে আসে না
… যতক্ষণ না সেই দৃষ্টি পুনরায় সেখানে ব্যাকুল হয়ে ফিরে যায়
আশ্চর্যের বিষয়! এর প্রেমে কতই না মানুষ জীবন দিয়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে কিংবা আহত হয়েছে। এর ভালোবাসায় কতই না সম্পদ আর প্রাণ ব্যয় করা হয়েছে। প্রেমাসক্ত ব্যক্তি নিজ কলিজার টুকরো সন্তান, পরিবার-পরিজন, প্রিয়জন এবং স্বদেশ ত্যাগ করতে সানন্দে রাজি হয়ে যায়; সে নিজের সামনে নানা প্রকার ভয়ভীতি, বিপদ-আপদ এবং সীমাহীন কষ্টকে বরণ করে নেয়। সে এই সবকিছুতেই এক অপূর্ব স্বাদ ও মাধুর্য খুঁজে পায়। তার হৃদয়ে যদি এই ভালোবাসার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সে বিলাসীদের নেয়ামত, আরাম-আয়েশ ও ভোগবিলাসের চেয়ে এই কষ্টগুলোকেই অধিক তৃপ্তিদায়ক মনে করে।
সে তো প্রেমিক নয় যে নিজের দুঃখ-কষ্টকে
… আযাব মনে করে, যদি তাতে তার প্রিয়তম সন্তুষ্ট থাকেন
এই সবকিছুর মূলে রয়েছে মহান আল্লাহ তাআলার এই পবিত্র বাণীর রহস্য: "আর তুমি আমার ঘরকে পবিত্র করো" (সূরা হজ: ২৬)। এই বিশেষ সম্বন্ধ এমন এক মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও ভালোবাসার দাবি রাখে যা...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
اقْتَضَتْهُ، كَمَا اقْتَضَتْ إِضَافَتُهُ لِعَبْدِهِ وَرَسُولِهِ إِلَى نَفْسِهِ مَا اقْتَضَتْهُ مِنْ ذَلِكَ، وَكَذَلِكَ إِضَافَتُهُ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ إِلَيْهِ كَسَتْهُمْ مِنَ الْجَلَالِ وَالْمَحَبَّةِ وَالْوَقَارِ مَا كَسَتْهُمْ، فَكُلُّ مَا أَضَافَهُ الرَّبُّ تَعَالَى إِلَى نَفْسِهِ فَلَهُ مِنَ الْمَزِيَّةِ وَالِاخْتِصَاصِ عَلَى غَيْرِهِ مَا أَوْجَبَ لَهُ الِاصْطِفَاءَ وَالِاجْتِبَاءَ، ثُمَّ يَكْسُوهُ بِهَذِهِ الْإِضَافَةِ تَفْضِيلًا آخَرَ، وَتَخْصِيصًا وَجَلَالَةً زَائِدًا عَلَى مَا كَانَ لَهُ قَبْلَ الْإِضَافَةِ، وَلَمْ يُوَفَّقْ لِفَهْمِ هَذَا الْمَعْنَى مَنْ سَوَّى بَيْنَ الْأَعْيَانِ وَالْأَفْعَالِ وَالْأَزْمَانِ وَالْأَمَاكِنِ، وَزَعَمَ أَنَّهُ لَا مَزِيَّةَ لِشَيْءٍ مِنْهَا عَلَى شَيْءٍ، وَإِنَّمَا هُوَ مُجَرَّدُ التَّرْجِيحِ بِلَا مُرَجِّحٍ، وَهَذَا الْقَوْلُ بَاطِلٌ بِأَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ وَجْهًا قَدْ ذُكِرَتْ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ، وَيَكْفِي تَصَوُّرُ هَذَا الْمَذْهَبِ الْبَاطِلِ فِي فَسَادِهِ، فَإِنَّ مَذْهَبَنَا يَقْتَضِي أَنْ تَكُونَ ذَوَاتُ الرُّسُلِ كَذَوَاتِ أَعْدَائِهِمْ فِي الْحَقِيقَةِ، وَإِنَّمَا التَّفْضِيلُ بِأَمْرٍ لَا يَرْجِعُ إِلَى اخْتِصَاصِ الذَّوَاتِ بِصِفَاتٍ وَمَزَايَا لَا تَكُونُ لِغَيْرِهَا، وَكَذَلِكَ نَفْسُ الْبِقَاعِ وَاحِدَةٌ بِالذَّاتِ لَيْسَ لِبُقْعَةٍ عَلَى بُقْعَةٍ مَزِيَّةٌ الْبَتَّةَ، وَإِنَّمَا هُوَ لِمَا يَقَعُ فِيهَا مِنَ الْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ، فَلَا مَزِيَّةَ لِبُقْعَةِ الْبَيْتِ، وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمِنًى، وَعَرَفَةَ، وَالْمَشَاعِرِ عَلَى أَيِّ بُقْعَةٍ سَمَّيْتُهَا مِنَ الْأَرْضِ، وَإِنَّمَا التَّفْضِيلُ بِاعْتِبَارِ أَمْرٍ خَارِجٍ عَنِ الْبُقْعَةِ لَا يَعُودُ إِلَيْهَا وَلَا إِلَى وَصْفٍ قَائِمٍ بِهَا، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى قَدْ رَدَّ هَذَا الْقَوْلَ الْبَاطِلَ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذَا جَاءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ} [الأنعام: 124] ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124] [الْأَنْعَامِ: 124] أَيْ: لَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ أَهْلًا وَلَا صَالِحًا لِتَحَمُّلِ رِسَالَتِهِ، بَلْ لَهَا مَحَالُّ مَخْصُوصَةٌ لَا تَلِيقُ إِلَّا بِهَا، وَلَا تَصْلُحُ إِلَّا لَهَا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِهَذِهِ الْمَحَالِّ مِنْكُمْ. وَلَوْ كَانَتِ الذَّوَاتُ مُتَسَاوِيَةً كَمَا قَالَ هَؤُلَاءِ لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ رَدٌّ عَلَيْهِمْ، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُوا أَهَؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} [الأنعام: 53] [الْأَنْعَامِ: 53] أَيْ: هُوَ سُبْحَانَهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يَشْكُرُهُ عَلَى نِعْمَتِهِ، فَيَخْتَصُّهُ بِفَضْلِهِ وَيَمُنُّ عَلَيْهِ مِمَّنْ لَا يَشْكُرُهُ، فَلَيْسَ كُلُّ مَحَلٍّ يَصْلُحُ لِشُكْرِهِ، وَاحْتِمَالِ مِنَّتِهِ، وَالتَّخْصِيصِ بِكَرَامَتِهِ.
فَذَوَاتُ مَا اخْتَارَهُ وَاصْطَفَاهُ مِنَ الْأَعْيَانِ وَالْأَمَاكِنِ وَالْأَشْخَاصِ وَغَيْرِهَا
এটি তা-ই দাবি করে, যেমনটি তাঁর বান্দা ও রাসূলকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সেই দাবিই করেছিল যা তা করেছিল। একইভাবে, তাঁর মুমিন বান্দাদের নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা তাঁদেরকে এমন মহিমা, মহব্বত ও গাম্ভীর্যের ভূষণে ভূষিত করেছে যা করার ছিল। বস্তুত মহান প্রতিপালক যা কিছু নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, তার জন্য অন্য সবকিছুর তুলনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য রয়েছে যা তার জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত হওয়াকে আবশ্যক করেছে। অতঃপর এই সম্বন্ধের কারণে তিনি তাকে আরও এক স্তর শ্রেষ্ঠত্ব এবং অতিরিক্ত বিশেষত্ব ও মহিমা দান করেন, যা সেই সম্বন্ধের পূর্বে তার ছিল না। আর সেই ব্যক্তি এই অর্থ অনুধাবনে সমর্থ হয়নি যে ব্যক্তি সত্তা, কর্ম, কাল ও স্থানের মাঝে সমতা আরোপ করেছে এবং দাবি করেছে যে, এগুলোর একটির ওপর অন্যটির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; বরং এটি কোনো কারণ ছাড়াই নিছক প্রাধান্য দান মাত্র। এই মতবাদটি চল্লিশটিরও বেশি দিক থেকে বাতিল, যা এই স্থান ব্যতীত অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে। এই বাতিল মতবাদের অসারতা বোঝার জন্য এর কল্পনাটুকুই যথেষ্ট। কারণ, আমাদের মতবাদ (তাদের দাবির প্রেক্ষিতে) এটিই দাবি করে যে, রাসূলগণের সত্তা এবং তাঁদের শত্রুদের সত্তা প্রকৃত অর্থে একই; এবং শ্রেষ্ঠত্ব কেবল এমন কোনো বিষয়ের কারণে যা সত্তার বিশেষ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে না যা অন্য কারো নেই। একইভাবে, ভূখণ্ডের প্রতিটি অংশই সত্তাগতভাবে অভিন্ন; এক খণ্ডের ওপর অন্য খণ্ডের বিন্দুমাত্র কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, বরং তা সেখানে সম্পাদিত নেক আমলের কারণে। সুতরাং বাইতুল্লাহর ভূখণ্ড, মসজিদে হারাম, মিনা, আরাফাত এবং অন্যান্য পবিত্র নিদর্শনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে না যমিনের অন্য যেকোনো স্থানের ওপর যা তুমি নামকরণ করো। বরং শ্রেষ্ঠত্ব হলো ভূখণ্ডের বহির্ভূত এমন এক বিষয়ের বিবেচনায় যা না সেই ভূখণ্ডের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর না তার মাঝে বিদ্যমান কোনো গুণের দিকে। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই বাতিল উক্তিকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন: "আর যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তখন তারা বলে: আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূলগণকে যা প্রদান করা হয়েছে আমাদেরকেও তা প্রদান করা হয়" [আল-আনআম: ১২৪]। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে" [আল-আনআম: ১২৪]। অর্থাৎ: প্রতিটি ব্যক্তি তাঁর রিসালাতের ভার বহন করার যোগ্য বা উপযোগী নয়; বরং এর জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে যা কেবল এরই উপযুক্ত এবং এটিও কেবল তারই উপযোগী। আর তোমাদের চেয়ে আল্লাহ এই ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। যদি সত্তাসমূহ সমান হতো যেমনটি তারা বলেছে, তবে এই আয়াতে তাদের কোনো খণ্ডন থাকত না। একইভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর এভাবেই আমি তাদের একদলকে অন্য দল দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি, যাতে তারা বলে: আমাদের মধ্য থেকে কি আল্লাহ এদের ওপরই অনুগ্রহ করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?" [আল-আনআম: ৫৩]। অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভালো জানেন কে তাঁর নিআমতের শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তিনি তাকে নিজ অনুগ্রহে বিশিষ্ট করেন এবং অকৃতজ্ঞদের বিপরীতে তার ওপর কৃপা করেন। কারণ, প্রতিটি ক্ষেত্র তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাঁর অনুগ্রহ ধারণ এবং তাঁর বিশেষ সম্মান লাভের উপযোগী হয় না।
সুতরাং তিনি বস্তুনিচয়, স্থান, ব্যক্তি এবং অন্যান্য যা কিছু মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন সেগুলোর সত্তা...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
مُشْتَمِلَةٌ عَلَى صِفَاتٍ وَأُمُورٍ قَائِمَةٍ بِهَا لَيْسَتْ لِغَيْرِهَا، وَلِأَجْلِهَا اصْطَفَاهَا اللَّهُ، وَهُوَ سُبْحَانَهُ الَّذِي فَضَّلَهَا بِتِلْكَ الصِّفَاتِ، وَخَصَّهَا بِالِاخْتِيَارِ، فَهَذَا خَلْقُهُ، وَهَذَا اخْتِيَارُهُ {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [القصص: 68] [الْقَصَصِ: 67] ، وَمَا أَبْيَنَ بُطْلَانِ رَأْيٍ يَقْضِي بِأَنَّ مَكَانَ الْبَيْتِ الْحَرَامِ مُسَاوٍ لِسَائِرِ الْأَمْكِنَةِ، وَذَاتَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ مُسَاوِيَةٌ لِسَائِرِ حِجَارَةِ الْأَرْضِ، وَذَاتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسَاوِيَةٌ لِذَاتِ غَيْرِهِ، وَإِنَّمَا التَّفْضِيلُ فِي ذَلِكَ بِأُمُورٍ خَارِجَةٍ عَنِ الذَّاتِ وَالصِّفَاتِ الْقَائِمَةِ بِهَا، وَهَذِهِ الْأَقَاوِيلُ وَأَمْثَالُهَا مِنَ الْجِنَايَاتِ الَّتِي جَنَاهَا الْمُتَكَلِّمُونَ عَلَى الشَّرِيعَةِ وَنَسَبُوهَا إِلَيْهَا وَهِيَ بَرِيئَةٌ مِنْهَا، وَلَيْسَ مَعَهُمْ أَكْثَرُ مِنَ اشْتِرَاكِ الذَّوَاتِ فِي أَمْرٍ عَامٍّ، وَذَلِكَ لَا يُوجِبُ تَسَاوِيهَا فِي الْحَقِيقَةِ؛ لِأَنَّ الْمُخْتَلِفَاتِ قَدْ تَشْتَرِكُ فِي أَمْرٍ عَامٍّ مَعَ اخْتِلَافِهَا فِي صِفَاتِهَا النَّفْسِيَّةِ، وَمَا سَوَّى اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ ذَاتِ الْمِسْكِ وَذَاتِ الْبَوْلِ أَبَدًا، وَلَا بَيْنَ ذَاتِ الْمَاءِ وَذَاتِ النَّارِ أَبَدًا، وَالتَّفَاوُتُ الْبَيِّنُ بَيْنَ الْأَمْكِنَةِ الشَّرِيفَةِ وَأَضْدَادِهَا وَالذَّوَاتِ الْفَاضِلَةِ وَأَضْدَادِهَا أَعْظَمُ مِنْ هَذَا التَّفَاوُتِ بِكَثِيرٍ، فَبَيْنَ ذَاتِ مُوسَى عليه السلام وَذَاتِ فرعون مِنَ التَّفَاوُتِ أَعْظَمُ مِمَّا بَيْنَ الْمِسْكِ وَالرَّجِيعِ، وَكَذَلِكَ التَّفَاوُتُ بَيْنَ نَفْسِ الْكَعْبَةِ وَبَيْنَ بَيْتِ السُّلْطَانِ أَعْظَمُ مِنْ هَذَا التَّفَاوُتِ أَيْضًا بِكَثِيرٍ، فَكَيْفَ تُجْعَلُ الْبُقْعَتَانِ سَوَاءً فِي الْحَقِيقَةِ وَالتَّفْضِيلُ بِاعْتِبَارِ مَا يَقَعُ هُنَاكَ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَالْأَذْكَارِ وَالدَّعَوَاتِ؟! .
وَلَمْ نَقْصِدِ اسْتِيفَاءَ الرَّدِّ عَلَى هَذَا الْمَذْهَبِ الْمَرْدُودِ الْمَرْذُولِ، وَإِنَّمَا قَصَدْنَا تَصْوِيرَهُ، وَإِلَى اللَّبِيبِ الْعَادِلِ الْعَاقِلِ التَّحَاكُمُ وَلَا يَعْبَأُ اللَّهُ وَعِبَادُهُ بِغَيْرِهِ شَيْئًا، وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ لَا يُخَصِّصُ شَيْئًا، وَلَا يُفَضِّلُهُ وَيُرَجِّحُهُ إِلَّا لِمَعْنًى يَقْتَضِي تَخْصِيصَهُ وَتَفْضِيلَهُ، نَعَمْ هُوَ مُعْطِي ذَلِكَ الْمُرَجِّحَ وَوَاهِبُهُ، فَهُوَ الَّذِي خَلَقَهُ، ثُمَّ اخْتَارَهُ بَعْدَ خَلْقِهِ، {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} [القصص: 68] .
[تَفْضِيلُ بَعْضَ الْأَيَّامِ وَالشُّهُورِ عَلَى بَعْضٍ]وَمِنْ هَذَا تَفْضِيلُهُ بَعْضَ الْأَيَّامِ وَالشُّهُورِ عَلَى بَعْضٍ، فَخَيْرُ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمُ النَّحْرِ، وَهُوَ يَوْمُ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ، كَمَا فِي " السُّنَنِ " عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ( «أَفْضَلُ
এটি এমন কিছু গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য সংবলিত যা এর সত্তার সাথেই বিদ্যমান এবং অন্য কারও মাঝে তা নেই; আর এ কারণেই আল্লাহ সেটিকে মনোনীত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সেটিকে ওই সকল গুণাবলি দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন। এটিই তাঁর সৃষ্টি এবং এটিই তাঁর নির্বাচন; {আর আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন} [আল-কাসাস: ৬৮] [আল-কাসাস: ৬৭]। সেই মতামতের অসারতা কতই না স্পষ্ট যা ফয়সালা দেয় যে, বায়তুল হারামের স্থান অন্য সাধারণ স্থানসমূহের সমতুল্য, হাজরে আসওয়াদের সত্তা পৃথিবীর অন্যান্য পাথরের সমতুল্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তা অন্য সবার সত্তার সমতুল্য! তাদের মতে শ্রেষ্ঠত্ব কেবল সত্তা ও এর অভ্যন্তরীণ গুণাবলির বহির্ভূত কিছু বিষয়ের কারণে হয়ে থাকে। এই ধরনের বক্তব্য ও অনুরূপ বিষয়গুলো হলো সেই সকল অপরাধের অন্তর্ভুক্ত যা মুতাকাল্লিমগণ (কালামশাস্ত্রবিদরা) শরীয়তের ওপর আরোপ করেছেন এবং শরীয়তের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, অথচ শরীয়ত এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের কাছে সত্তাসমূহের কেবল একটি সাধারণ বিষয়ে অংশীদারিত্ব ছাড়া আর কোনো যুক্তি নেই, আর তা বাস্তবে তাদের সমতা অপরিহার্য করে না। কারণ ভিন্ন ভিন্ন বস্তুসমূহ তাদের সত্তাগত গুণাবলির পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কোনো একটি সাধারণ বিষয়ে অংশীদার হতে পারে। আল্লাহ তাআলা কস্তুরীর সত্তা ও প্রস্রাবের সত্তাকে কখনোই সমান করেননি এবং পানি ও আগুনের সত্তাকে কখনোই সমান করেননি। সম্মানিত স্থানসমূহ ও তাদের বিপরীত স্থানগুলোর মধ্যে এবং ফযীলতপূর্ণ সত্তাসমূহ ও তাদের বিপরীতগুলোর মধ্যে যে সুস্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে, তা এই পার্থক্যের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। মূসা আলাইহিস সালামের সত্তা এবং ফেরাউনের সত্তার মধ্যে ব্যবধান কস্তুরী ও বিষ্ঠার ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি। অনুরূপভাবে স্বয়ং কাবা ঘর এবং বাদশাহর প্রাসাদের মধ্যে ব্যবধানও এই ব্যবধানের চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং কীভাবে দুটি স্থানকে বাস্তবে সমান গণ্য করা যায় এবং শ্রেষ্ঠত্বকে কেবল সেখানে সম্পাদিত ইবাদত, যিকর ও দোয়ার প্রেক্ষিতে বিবেচনা করা যায়?!
আমাদের উদ্দেশ্য এই প্রত্যাখ্যাত ও নিন্দনীয় মতবাদের পূর্ণাঙ্গ খণ্ডন করা নয়, বরং আমরা কেবল এর একটি চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। বুদ্ধিমান, ন্যায়নিষ্ঠ ও বিবেকবান ব্যক্তির কাছেই এর বিচারের ভার। আল্লাহ এবং তাঁর বান্দারা এ ছাড়া অন্য কিছুকে গ্রাহ্য করেন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো কিছুকে বিশেষিত করেন না এবং সেটিকে শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দান করেন না এমন কোনো গূঢ় অর্থ ছাড়া যা তাকে বিশেষিত করা ও শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার দাবি রাখে। হ্যাঁ, তিনিই সেই শ্রেষ্ঠত্বের হেতু দানকারী ও দাতা; তিনিই তা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সৃষ্টির পর সেটিকে মনোনীত করেছেন; {আর আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন} [আল-কাসাস: ৬৮]।
[কিছু দিন ও মাসের ওপর অন্য দিন ও মাসের শ্রেষ্ঠত্ব]
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কিছু দিন ও মাসকে অন্যগুলোর ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব দান। আল্লাহর কাছে দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানির দিন, আর এটিই হলো হজ্জে আকবরের দিন; যেমনটি 'সুনান' গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ( "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمُ النَّحْرِ، ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ» ) . وَقِيلَ: يَوْمُ عَرَفَةَ أَفْضَلُ مِنْهُ، وَهَذَا هُوَ الْمَعْرُوفُ عِنْدَ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ، قَالُوا: لِأَنَّهُ يَوْمُ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ، وَصِيَامُهُ يُكَفِّرُ سَنَتَيْنِ، وَمَا مِنْ يَوْمٍ يُعْتِقُ اللَّهُ فِيهِ الرِّقَابَ أَكْثَرَ مِنْهُ فِي يَوْمِ عَرَفَةَ؛ وَلِأَنَّهُ سبحانه وتعالى يَدْنُو فِيهِ مِنْ عِبَادِهِ، ثُمَّ يُبَاهِي مَلَائِكَتَهُ بِأَهْلِ الْمَوْقِفِ. وَالصَّوَابُ الْقَوْلُ الْأَوَّلُ؛ لِأَنَّ الْحَدِيثَ الدَّالَّ عَلَى ذَلِكَ لَا يُعَارِضُهُ شَيْءٌ يُقَاوِمُهُ، وَالصَّوَابُ أَنَّ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ هُوَ يَوْمُ النَّحْرِ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ} [التوبة: 3] [التَّوْبَةِ: 3] ، وَثَبَتَ فِي " الصَّحِيحَيْنِ " أَنَّ أبا بكر وعليا رضي الله عنهما أَذَّنَا بِذَلِكَ يَوْمَ النَّحْرِ، لَا يَوْمَ عَرَفَةَ. وَفِي " سُنَنِ أبي داود " بِأَصَحِّ إِسْنَادٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ( «يَوْمُ
...দিনসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট (শ্রেষ্ঠ) দিন হলো কোরবানির দিন, অতঃপর স্থিরতার দিন (কোরবানির পরবর্তী দিন)» )। এবং বলা হয়েছে যে: আরাফাহর দিন এর থেকে অধিক শ্রেষ্ঠ, আর শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ অভিমত। তাঁরা বলেছেন: কেননা এটিই হজ্জে আকবরের দিন, এর রোজা দুই বছরের গুনাহ মোচন করে, এবং এমন কোনো দিন নেই যাতে আল্লাহ তাআলা আরাফাহর দিনের চেয়ে অধিক সংখ্যক মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দান করেন; এবং এজন্য যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এতে তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন, অতঃপর তিনি ফেরেশতাদের সামনে (আরাফাহর ময়দানে) অবস্থানকারীদের নিয়ে গর্ব করেন। তবে সঠিক হলো প্রথম অভিমতটি; কারণ উক্ত বিষয়ের নির্দেশক হাদিসের বিপরীতে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো দলিল নেই। আর সঠিক কথা হলো হজ্জে আকবরের দিন হলো কোরবানির দিন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং হজ্জে আকবরের দিনে মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এক ঘোষণা...} [তওবা: ৩] [তওবা: ৩], এবং 'সহিহাইন'-এ এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, আবু বকর ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কোরবানির দিনেই এই ঘোষণা দিয়েছিলেন, আরাফাহর দিনে নয়। আর 'সুনানে আবু দাউদ'-এ বিশুদ্ধতম সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ( «দিন...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْحَجِّ الْأَكْبَرِ يَوْمُ النَّحْرِ» ) ، وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَجَمَاعَةٌ مِنَ الصَّحَابَةِ، وَيَوْمُ عَرَفَةَ مُقَدِّمَةٌ لِيَوْمِ النَّحْرِ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإِنَّ فِيهِ يَكُونُ الْوُقُوفُ وَالتَّضَرُّعُ وَالتَّوْبَةُ وَالِابْتِهَالُ وَالِاسْتِقَالَةُ، ثُمَّ يَوْمُ النَّحْرِ تَكُونُ الْوِفَادَةُ وَالزِّيَارَةُ، وَلِهَذَا سُمِّيَ طَوَافُهُ طَوَافَ الزِّيَارَةِ؛ لِأَنَّهُمْ قَدْ طَهُرُوا مِنْ ذُنُوبِهِمْ يَوْمَ عَرَفَةَ، ثُمَّ أَذِنَ لَهُمْ رَبُّهُمْ يَوْمَ النَّحْرِ فِي زِيَارَتِهِ، وَالدُّخُولِ عَلَيْهِ إِلَى بَيْتِهِ، وَلِهَذَا كَانَ فِيهِ ذَبْحُ الْقَرَابِينِ، وَحَلْقُ الرُّءُوسِ، وَرَمْيُ الْجِمَارِ، وَمُعْظَمُ أَفْعَالِ الْحَجِّ، وَعَمَلُ يَوْمِ عَرَفَةَ كَالطُّهُورِ وَالِاغْتِسَالِ بَيْنَ يَدَيْ هَذَا الْيَوْمِ. وَكَذَلِكَ تَفْضِيلُ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ عَلَى غَيْرِهِ مِنَ الْأَيَّامِ، فَإِنَّ أَيَّامَهُ أَفْضَلُ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ، وَقَدْ ثَبَتَ فِي " صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ " عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، قَالُوا: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ» ) ، وَهِيَ الْأَيَّامُ الْعَشْرُ الَّتِي أَقْسَمَ اللَّهُ بِهَا فِي كِتَابِهِ بِقَوْلِهِ: {وَالْفَجْرِ - وَلَيَالٍ عَشْرٍ} [الفجر: 1 - 2] [الْفَجْرِ: 1 - 2] وَلِهَذَا يُسْتَحَبُّ فِيهَا الْإِكْثَارُ مِنَ التَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّحْمِيدِ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ( «فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ
হজ্জে আকবর হলো কুরবানির দিন।) তেমনিভাবে আবু হুরায়রা এবং সাহাবীদের একটি জামাতও অনুরূপ বলেছেন। আর আরাফার দিন হলো কুরবানির দিনের প্রাক্কালে তার একটি ভূমিকা বা প্রস্তুতি স্বরূপ; কেননা এতে উকুফ (অবস্থান), কাকুতি-মিনতি, তওবা, অনুনয়-বিনয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। অতঃপর কুরবানির দিনে আল্লাহর মেহমান হিসেবে উপস্থিতি এবং সাক্ষাতের মহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়। আর এই কারণেই সেই তাওয়াফকে ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ (সাক্ষাতের তাওয়াফ) বলা হয়; কারণ হাজীরা আরাফার দিনে তাঁদের পাপ থেকে পবিত্র হয়েছেন, অতঃপর তাঁদের রব কুরবানির দিনে তাঁদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাতের এবং তাঁর পবিত্র ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেছেন। এজন্যই এই দিনে পশু কুরবানি করা, মাথা মুণ্ডন করা, কঙ্কর নিক্ষেপ করা এবং হজ্জের অধিকাংশ কার্যাদি পালিত হয়। আর আরাফার দিনের আমলসমূহ হলো এই দিবসের প্রাক্কালে পবিত্রতা অর্জন এবং গোসলের ন্যায়। অনুরূপভাবে যিলহজ্জের দশ দিনের ফযিলত অন্যান্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে; কারণ এর দিনগুলো আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন। সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (‘এমন কোনো দিন নেই যাতে নেক আমল আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।’ তাঁরা বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন: ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে ঐ ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়েছে, অতঃপর এগুলোর কিছুই আর নিয়ে ফিরে আসেনি।’) এগুলোই সেই দশ দিন যেগুলোর শপথ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে করেছেন এই বলে: {শপথ ঊষার এবং দশ রাত্রির} [আল-ফজর: ১-২]। এজন্যই এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাকবীর, তাহলীল এবং তাহমীদ পাঠ করা মুস্তাহাব, যেমনটি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (‘অতএব তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পাঠ করো...’)
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
التَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّحْمِيدِ» ) ، وَنِسْبَتُهَا إِلَى الْأَيَّامِ كَنِسْبَةِ مَوَاضِعِ الْمَنَاسِكِ فِي سَائِرِ الْبِقَاعِ.
وَمِنْ ذَلِكَ تَفْضِيلُ شَهْرِ رَمَضَانَ عَلَى سَائِرِ الشُّهُورِ، وَتَفْضِيلُ عَشْرِهِ الْأَخِيرِ عَلَى سَائِرِ اللَّيَالِي، وَتَفْضِيلُ لَيْلَةِ الْقَدْرِ عَلَى أَلْفِ شَهْرٍ.
فَإِنْ قُلْتَ: أَيُّ الْعَشْرَيْنِ أَفْضَلُ؟ عَشْرُ ذِي الْحِجَّةِ، أَوِ الْعَشْرُ الْأَخِيرُ مِنْ رَمَضَانَ؟ وَأَيُّ اللَّيْلَتَيْنِ أَفْضَلُ؟ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، أَوْ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ؟ .
قُلْتُ: أَمَّا السُّؤَالُ الْأَوَّلُ فَالصَّوَابُ فِيهِ أَنْ يُقَالَ: لَيَالِي الْعَشْرِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ أَفْضَلُ مِنْ لَيَالِي عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَيَّامُ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ أَفْضَلُ مِنْ أَيَّامِ عَشْرِ رَمَضَانَ، وَبِهَذَا التَّفْصِيلِ يَزُولُ الِاشْتِبَاهُ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ أَنَّ لَيَالِيَ الْعَشْرِ مِنْ رَمَضَانَ إِنَّمَا فُضِّلَتْ بِاعْتِبَارِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَهِيَ مِنَ اللَّيَالِي، وَعَشْرُ ذِي الْحِجَّةِ إِنَّمَا فُضِّلَ بِاعْتِبَارِ أَيَّامِهِ، إِذْ فِيهِ يَوْمُ النَّحْرِ وَيَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ التَّرْوِيَةِ.
وَأَمَّا السُّؤَالُ الثَّانِي، فَقَدْ سُئِلَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ رحمه الله عَنْ رَجُلٍ قَالَ: لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَقَالَ آخَرُ: بَلْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ أَفْضَلُ فَأَيُّهُمَا الْمُصِيبُ؟ .
فَأَجَابَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، أَمَّا الْقَائِلُ بِأَنَّ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَإِنْ أَرَادَ بِهِ أَنْ تَكُونَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أُسْرِيَ فِيهَا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَظَائِرُهَا مِنْ كُلِّ عَامٍ أَفْضَلَ لِأُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ بِحَيْثُ يَكُونُ قِيَامُهَا وَالدُّعَاءُ فِيهَا أَفْضَلَ
তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ» ) ; আর দিনসমূহের সাথে এগুলোর সম্বন্ধ ঠিক তেমন, যেমন সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে মানাসিক বা হজ পালনের স্থানসমূহের সম্বন্ধ।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য সকল মাসের ওপর রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব, অন্য সকল রাতের ওপর রমজানের শেষ দশকের শ্রেষ্ঠত্ব এবং হাজার মাসের ওপর লাইলাতুল কদরের শ্রেষ্ঠত্ব।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: এই দুই দশকের মধ্যে কোনটি অধিক শ্রেষ্ঠ? জিলহজের দশ দিন, নাকি রমজানের শেষ দশ দিন? আর এই দুই রাতের মধ্যে কোনটি অধিক শ্রেষ্ঠ? লাইলাতুল কদর, নাকি লাইলাতুল ইসরা (মেরাজের রাত)?
আমি বলব: প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর হলো—রমজানের শেষ দশ রাতের মর্যাদা জিলহজের দশ রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর জিলহজের দশ দিনের মর্যাদা রমজানের শেষ দশ দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর হয়। এর প্রমাণ হলো—রমজানের শেষ দশ রাতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত লাইলাতুল কদরের কারণে, যা রাতের অন্তর্ভুক্ত। আর জিলহজের দশ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত এর দিনগুলোর কারণে, কারণ তাতে রয়েছে কুরবানির দিন, আরাফাতের দিন এবং তারবিয়ার দিন।
আর দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে বলেছিল: 'লাইলাতুল ইসরা লাইলাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ'। অন্য একজন বলেছিল: 'বরং লাইলাতুল কদরই শ্রেষ্ঠ'। তাদের মধ্যে কে সঠিক?
তিনি জবাবে বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি বলেছেন যে লাইলাতুল ইসরা লাইলাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তিনি যদি এর দ্বারা বোঝাতে চান যে, যে রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইসরা করানো হয়েছিল সেই নির্দিষ্ট রাত এবং প্রতি বছর তার সমগোত্রীয় রাতগুলো উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য লাইলাতুল কদরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ—এভাবে যে তাতে কিয়াম (ইবাদত) ও দুআ করা অধিক উত্তম—
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
مِنْهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَهَذَا بَاطِلٌ لَمْ يَقُلْهُ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَهُوَ مَعْلُومُ الْفَسَادِ بِالِاطِّرَادِ مِنْ دِينِ الْإِسْلَامِ. هَذَا إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ تُعْرَفُ عَيْنُهَا، فَكَيْفَ وَلَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ مَعْلُومٌ لَا عَلَى شَهْرِهَا وَلَا عَلَى عَشْرِهَا وَلَا عَلَى عَيْنِهَا، بَلِ النُّقُولُ فِي ذَلِكَ مُنْقَطِعَةٌ مُخْتَلِفَةٌ لَيْسَ فِيهَا مَا يُقْطَعُ بِهِ، وَلَا شُرِعَ لِلْمُسْلِمِينَ تَخْصِيصُ اللَّيْلَةِ الَّتِي يُظَنُّ أَنَّهَا لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ بِقِيَامٍ وَلَا غَيْرِهِ، بِخِلَافِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ فِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ( «تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ» ) وَفِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ( «مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» ) ، وَقَدْ أَخْبَرَ سُبْحَانَهُ أَنَّهَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، وَأَنَّهُ أَنْزَلَ فِيهَا الْقُرْآنَ.
وَإِنْ أَرَادَ أَنَّ اللَّيْلَةَ الْمُعَيَّنَةَ الَّتِي أُسْرِيَ فِيهَا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَصَلَ لَهُ فِيهَا مَا لَمْ يَحْصُلْ لَهُ فِي غَيْرِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يُشْرَعَ تَخْصِيصُهَا بِقِيَامٍ وَلَا عِبَادَةٍ، فَهَذَا صَحِيحٌ، وَلَيْسَ إِذَا أَعْطَى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَضِيلَةً فِي مَكَانٍ أَوْ زَمَانٍ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الزَّمَانُ وَالْمَكَانُ أَفْضَلَ مِنْ جَمِيعِ الْأَمْكِنَةِ وَالْأَزْمِنَةِ. هَذَا إِذَا قُدِّرَ أَنَّهُ قَامَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ إِنْعَامَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى نَبِيِّهِ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ كَانَ أَعْظَمَ مِنْ إِنْعَامِهِ عَلَيْهِ بِإِنْزَالِ الْقُرْآنِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنَ النِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمَ عَلَيْهِ بِهَا.
وَالْكَلَامُ فِي مِثْلِ هَذَا يَحْتَاجُ إِلَى عِلْمٍ بِحَقَائِقِ الْأُمُورِ، وَمَقَادِيرِ النِّعَمِ الَّتِي لَا تُعْرَفُ إِلَّا بِوَحْيٍ، وَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَتَكَلَّمَ فِيهَا بِلَا عِلْمٍ، وَلَا يُعْرَفُ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُ جَعَلَ لِلَيْلَةِ الْإِسْرَاءِ فَضِيلَةً عَلَى غَيْرِهَا، لَا سِيَّمَا
...এর চেয়ে (মর্যাদাপূর্ণ) লাইলাতুল কদরের চেয়ে; তবে এটি বাতিল, যা কোনো মুসলমান বলেননি। ইসলামের দ্বীনের অকাট্য দলিলাদি দ্বারা এর অসারতা সুবিদিত। এটি তখনও (বলা যেত) যদি ইসরা-এর রজনীটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা থাকত। তবে বাস্তবতা হলো, এর মাস, দশক বা সুনির্দিষ্ট রজনী সম্পর্কে কোনো অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বিচ্ছিন্ন ও মতভেদপূর্ণ, যার মধ্যে অকাট্যভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কিছু নেই। তদুপরি মুসলমানদের জন্য ইসরার রজনী বলে ধারণা করা হয় এমন কোনো রাতকে কিয়াম (রাত্রি জাগরণ) বা অন্য কোনো ইবাদতের জন্য বিশেষায়িত করা শরয়িভাবে বিধিবদ্ধ নয়; যা লাইলাতুল কদরের বিপরীত। কেননা সহীহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" এবং সহীহাইন-এ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, এই রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এবং তিনি এতে কুরআন নাজিল করেছেন।
আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, নির্দিষ্ট সেই রাত যে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসরা করানো হয়েছিল এবং এতে তাঁর জন্য এমন কিছু অর্জিত হয়েছিল যা অন্য কোনো রাতে হয়নি—একে কিয়াম বা ইবাদতের জন্য বিশেষায়িত করার বিধান দেওয়া ব্যতিরেকেই—তবে তা সঠিক। আল্লাহ যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো স্থান বা কালে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন, তখন তার অর্থ এই নয় যে, সেই কাল বা স্থানটি অনিবার্যভাবে অন্য সকল স্থান ও কালের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে। এটি তখনও প্রযোজ্য যখন ধরে নেওয়া হয় যে এমন কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যাতে প্রমাণিত হয় যে, ইসরার রজনীতে নবীজিকে দেওয়া আল্লাহর অনুগ্রহ লাইলাতুল কদরে কুরআন নাজিলের অনুগ্রহ কিংবা তাঁর প্রতি বর্ষিত অন্যান্য নেয়ামতের চেয়ে মহান ছিল।
এই জাতীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য বিষয়ের হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা এবং নেয়ামতের পরিমাণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যা ওহি ব্যতিরেকে জানা সম্ভব নয়। সুতরাং কারো জন্য ইলম ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা জায়েজ নয়। আর কোনো মুসলমানের পক্ষ থেকে এমন কথা জানা যায় না যে তিনি ইসরার রজনীকে অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, বিশেষ করে...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
عَلَى لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَلَا كَانَ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ يَقْصِدُونَ تَخْصِيصَ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ بِأَمْرٍ مِنَ الْأُمُورِ وَلَا يَذْكُرُونَهَا، وَلِهَذَا لَا يُعْرَفُ أَيَّ لَيْلَةٍ كَانَتْ، وَإِنْ كَانَ الْإِسْرَاءُ مِنْ أَعْظَمِ فَضَائِلِهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَعَ هَذَا فَلَمْ يُشْرَعْ تَخْصِيصُ ذَلِكَ الزَّمَانِ وَلَا ذَلِكَ الْمَكَانِ بِعِبَادَةٍ شَرْعِيَّةٍ، بَلْ غَارُ حِرَاءٍ الَّذِي ابْتُدِئَ فِيهِ بِنُزُولِ الْوَحْيِ وَكَانَ يَتَحَرَّاهُ قَبْلَ النُّبُوَّةِ لَمْ يَقْصِدْهُ هُوَ وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ بَعْدَ النُّبُوَّةِ مُدَّةَ مُقَامِهِ بِمَكَّةَ، وَلَا خُصَّ الْيَوْمُ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْوَحْيُ بِعِبَادَةٍ وَلَا غَيْرِهَا، وَلَا خُصَّ الْمَكَانُ الَّذِي ابْتُدِئَ فِيهِ بِالْوَحْيِ وَلَا الزَّمَانُ بِشَيْءٍ، وَمَنْ خَصَّ الْأَمْكِنَةَ وَالْأَزْمِنَةَ مِنْ عِنْدِهِ بِعِبَادَاتٍ لِأَجْلِ هَذَا وَأَمْثَالِهِ كَانَ مِنْ جِنْسِ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ جَعَلُوا زَمَانَ أَحْوَالِ الْمَسِيحِ مَوَاسِمَ وَعِبَادَاتٍ، كَيَوْمِ الْمِيلَادِ، وَيَوْمِ التَّعْمِيدِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَحْوَالِهِ. وَقَدْ ( «رَأَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه جَمَاعَةً يَتَبَادَرُونَ مَكَانًا يُصَلُّونَ فِيهِ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ ، قَالُوا: مَكَانٌ صَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَتُرِيدُونَ أَنْ تَتَّخِذُوا آثَارَ أَنْبِيَائِكُمْ مَسَاجِدَ؟! إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهَذَا، فَمَنْ أَدْرَكَتْهُ فِيهِ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ، وَإِلَّا فَلْيَمْضِ» ) .
وَقَدْ قَالَ بَعْضُ النَّاسِ: إِنَّ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ فِي حَقِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَلَيْلَةُ الْقَدْرِ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْأُمَّةِ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْإِسْرَاءِ، فَهَذِهِ اللَّيْلَةُ فِي حَقِّ الْأُمَّةِ أَفْضَلُ لَهُمْ، وَلَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ فِي حَقِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ لَهُ.
فَإِنْ قِيلَ: فَأَيُّهُمَا أَفْضَلُ: يَوْمُ الْجُمُعَةِ، أَوْ يَوْمُ عَرَفَةَ؟ فَقَدْ رَوَى ابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ " مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ( «لَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ وَلَا تَغْرُبُ عَلَى يَوْمٍ أَفْضَلَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ» ) وَفِيهِ أَيْضًا حَدِيثُ أوس بن أوس ( «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ» ) .
লাইলাতুল কদরের ওপর (পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের রেশ ধরে), আর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ ইসরা (মেরাজ)-এর রাতকে কোনো বিশেষ বিষয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার সংকল্প করতেন না এবং তাঁরা একে (বিশেষভাবে) স্মরণও করতেন না। এ কারণেই সেটি কোন রাত ছিল তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, যদিও ইসরা ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা। তা সত্ত্বেও সেই সময় বা সেই স্থানকে কোনো শরয়ি ইবাদতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা বিধিবদ্ধ হয়নি। বরং হেরা গুহা, যেখানে প্রথম ওহী অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল এবং নবুওয়াত লাভের পূর্বে তিনি যেখানে নির্জনে ইবাদত করতেন, নবুওয়াত পরবর্তী মক্কায় অবস্থানের সুদীর্ঘ সময়ে তিনি কিংবা তাঁর সাহাবীগণের কেউই সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য পোষণ করেননি। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার দিনটিকে কোনো ইবাদত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়নি, এবং ওহী শুরুর স্থান বা সময়কেও কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত করা হয়নি। আর যে ব্যক্তি এই জাতীয় কারণ বা অনুরূপ বিষয়ের ভিত্তিতে নিজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থান ও সময়কে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়, সে মূলত আহলে কিতাবদের পর্যায়ভুক্ত হবে, যারা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের বিভিন্ন অবস্থাকে উৎসব ও ইবাদতের মৌসুমে পরিণত করেছে; যেমন—তাঁর জন্ম দিবস, বাপ্তিস্ম দিবস এবং তাঁর জীবনের অন্যান্য ঘটনাবলী। বর্ণিত আছে যে, ( «উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) একদল লোককে একটি স্থানের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে দেখলেন যেখানে তারা সালাত আদায় করতে চেয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কী?" তারা বলল: "এটি এমন একটি স্থান যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করেছিলেন।" তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি তোমাদের নবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলোকে মাসজিদে পরিণত করতে চাও?! তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো তো এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং সেখানে অবস্থানকালে যার সালাতের সময় হয়ে যাবে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়, অন্যথায় সে যেন তার পথে এগিয়ে যায়।"» ) ।
কোনো কোনো আলিম বলেছেন: লাইলাতুল ইসরা (মেরাজের রাত) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে লাইলাতুল কদর অপেক্ষা উত্তম, আর উম্মতের ক্ষেত্রে লাইলাতুল কদর লাইলাতুল ইসরা অপেক্ষা উত্তম। সুতরাং এই রাতটি উম্মতের জন্য অধিক কল্যাণকর, আর লাইলাতুল ইসরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য অধিক মর্যাদা সম্পন্ন ছিল।
যদি প্রশ্ন করা হয়: জুমুআর দিন নাকি আরাফার দিন—কোনটি অধিক উত্তম? তবে ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ( «জুমুআর দিন অপেক্ষা উত্তম কোনো দিনে সূর্য উদিত হয় না এবং অস্তও যায় না» ) । এতে আউস ইবনে আউস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বর্ণিত হাদীসও রয়েছে: ( «সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বোত্তম» ) ।
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
[مَزِيَّةُ وَقْفَةِ الْجُمُعَةِ يَوْمَ عَرَفَةَ]قِيلَ: قَدْ ذَهَبَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ إِلَى تَفْضِيلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى يَوْمِ عَرَفَةَ مُحْتَجًّا بِهَذَا الْحَدِيثِ، وَحَكَى الْقَاضِي أبو يعلى رِوَايَةً عَنْ أحمد أَنَّ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ أَفْضَلُ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَالصَّوَابُ أَنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَفْضَلُ أَيَّامِ الْأُسْبُوعِ، وَيَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ أَفْضَلُ أَيَّامِ الْعَامِ، وَكَذَلِكَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ، وَلَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَلِهَذَا كَانَ لِوَقْفَةِ الْجُمُعَةِ يَوْمَ عَرَفَةَ مَزِيَّةٌ عَلَى سَائِرِ الْأَيَّامِ مِنْ وُجُوهٍ مُتَعَدِّدَةٍ.
أَحَدُهَا: اجْتِمَاعُ الْيَوْمَيْنِ اللَّذَيْنِ هُمَا أَفْضَلُ الْأَيَّامِ.
الثَّانِي: أَنَّهُ الْيَوْمُ الَّذِي فِيهِ سَاعَةٌ مُحَقَّقَةُ الْإِجَابَةِ، وَأَكْثَرُ الْأَقْوَالِ أَنَّهَا آخِرُ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ، وَأَهْلُ الْمَوْقِفِ كُلُّهُمْ إِذْ ذَاكَ وَاقِفُونَ لِلدُّعَاءِ وَالتَّضَرُّعِ.
الثَّالِثُ: مُوَافَقَتُهُ لِيَوْمِ وَقْفَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
الرَّابِعُ: أَنَّ فِيهِ اجْتِمَاعَ الْخَلَائِقِ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ لِلْخُطْبَةِ وَصَلَاةِ الْجُمُعَةِ، وَيُوَافِقُ ذَلِكَ اجْتِمَاعَ أَهْلِ عَرَفَةَ يَوْمَ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ، فَيَحْصُلُ مِنَ اجْتِمَاعِ الْمُسْلِمِينَ فِي
[আরাফাতের দিন জুমুআ হওয়ার বিশেষ মর্যাদা]বলা হয়ে থাকে যে, এই হাদীসটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে কোনো কোনো আলিম জুমুআর দিনকে আরাফাতের দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। কাযী আবু ইয়ালা ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, জুমুআর রাত লাইলাতুল কদরের চেয়েও উত্তম। তবে সঠিক অভিমত হলো, জুমুআর দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং আরাফাতের দিন ও কুরবানীর দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। লাইলাতুল কদর ও জুমুআর রাতের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টিও তদ্রূপ। আর এই কারণেই আরাফাতের দিন যখন জুমুআর দিনে পড়ে, তখন বহুমুখী কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা তৈরি হয়।
প্রথমত: এতে বছরের শ্রেষ্ঠ দুটি দিনের মিলন ঘটে।
দ্বিতীয়ত: এটি এমন একটি দিন যাতে দোয়া কবুল হওয়ার একটি নিশ্চিত মুহূর্ত রয়েছে। অধিকাংশ মতানুসারে সেই মুহূর্তটি হলো আসরের পরের শেষ সময়টুকু; আর আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী সকলে তখন দোয়া ও রোনাজারিতে নিবিষ্ট থাকেন।
তৃতীয়ত: এই দিনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরাফাতে অবস্থানের দিনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
চতুর্থত: এই দিনে জুমুআর খুতবা ও সালাতের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিশাল সমাবেশ ঘটে, যা আরাফাতের দিনে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হাজীদের সমাবেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। ফলে মুসলিমদের এই সমাবেশের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
مَسَاجِدِهِمْ وَمَوْقِفِهِمْ مِنَ الدُّعَاءِ وَالتَّضَرُّعِ مَا لَا يَحْصُلُ فِي يَوْمٍ سِوَاهُ.
الْخَامِسُ: أَنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَوْمُ عِيدٍ، وَيَوْمَ عَرَفَةَ يَوْمُ عِيدٍ لِأَهْلِ عَرَفَةَ؛ وَلِذَلِكَ كُرِهَ لِمَنْ بِعَرَفَةَ صَوْمُهُ، وَفِي النَّسَائِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: ( «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ» ) ، وَفِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ، فَإِنَّ مهدي بن حرب العبدي لَيْسَ بِمَعْرُوفٍ، وَمَدَارُهُ عَلَيْهِ، وَلَكِنْ ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ أم الفضل " «أَنَّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ، فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَهُ» .
وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي حِكْمَةِ اسْتِحْبَابِ فِطْرِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ، فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: لِيَتَقَوَّى عَلَى الدُّعَاءِ، وَهَذَا هُوَ قَوْلُ الخرقي وَغَيْرِهِ، وَقَالَ غَيْرُهُمْ - مِنْهُمْ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابن تيمية -: الْحِكْمَةُ فِيهِ أَنَّهُ عِيدٌ لِأَهْلِ عَرَفَةَ، فَلَا يُسْتَحَبُّ صَوْمُهُ لَهُمْ، قَالَ: وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ الْحَدِيثُ الَّذِي فِي " السُّنَنِ " عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ( «يَوْمُ عَرَفَةَ، وَيَوْمُ النَّحْرِ، وَأَيَّامُ مِنًى، عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ» ) .
তাদের মসজিদসমূহে এবং তাদের দোয়া ও রোনাজারির যে মহিমা প্রকাশ পায়, তা অন্য কোনো দিনে সম্ভব হয় না।
পঞ্চম: জুমার দিন হলো ঈদের দিন, আর আরাফাতের দিন হলো আরাফাতে অবস্থানকারীদের জন্য ঈদের দিন; এই কারণেই আরাফাতে অবস্থানকারীদের জন্য সেদিন রোজা রাখা অপছন্দনীয় বা মাকরূহ করা হয়েছে। নাসায়ি শরিফে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালে আরাফাহর দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।" তবে এর সনদে পর্যালোচনা বা তাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে, কারণ মাহদি বিন হারব আল-আবদি নামক বর্ণনাকারী সুপরিচিত নন এবং হাদিসটি তাঁর ওপরই আবর্তিত। তবে সহিহ গ্রন্থে উম্মুল ফজল (রা.)-এর হাদিসে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, "আরাফাহর দিনে একদল লোক তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রোজা রাখা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হন। কেউ বলেন, তিনি রোজা রেখেছেন; আবার কেউ বলেন, তিনি রোজা রাখেননি। তখন তিনি (উম্মুল ফজল) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলেন, তখন তিনি আরাফাতে তাঁর উটের ওপর অবস্থান করছিলেন। অতপর তিনি তা পান করলেন।"
আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারীদের জন্য আরাফাহর দিনে রোজা না রাখা মুস্তাহাব হওয়ার হিকমত বা অন্তর্নিহিত রহস্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম বলেছেন, যেন দোয়ার জন্য শারীরিক শক্তি সঞ্চয় করা যায়; এটি খিরাকি ও অন্যদের অভিমত। আবার শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহসহ অন্যান্যরা বলেছেন, এর হিকমত হলো এটি আরাফাতে অবস্থানকারীদের জন্য ঈদের দিন, তাই তাদের জন্য সেদিন রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। তিনি বলেন, এর দলিল হলো 'সুনান' গ্রন্থসমূহে বর্ণিত নবি করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: "আরাফাহর দিন, কোরবানির দিন এবং মিনার দিনসমূহ আমাদের অর্থাৎ ইসলাম অনুসারীদের জন্য ঈদের দিন।"
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
قَالَ شَيْخُنَا: وَإِنَّمَا يَكُونُ يَوْمُ عَرَفَةَ عِيدًا فِي حَقِّ أَهْلِ عَرَفَةَ لِاجْتِمَاعِهِمْ فِيهِ، بِخِلَافِ أَهْلِ الْأَمْصَارِ فَإِنَّهُمْ إِنَّمَا يَجْتَمِعُونَ يَوْمَ النَّحْرِ، فَكَانَ هُوَ الْعِيدَ فِي حَقِّهِمْ، وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ إِذَا اتَّفَقَ يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ جُمُعَةٍ، فَقَدِ اتَّفَقَ عِيدَانِ مَعًا.
السَّادِسُ: أَنَّهُ مُوَافِقٌ لِيَوْمِ إِكْمَالِ اللَّهِ تَعَالَى دِينَهُ لِعِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ، وَإِتْمَامِ نِعْمَتِهِ عَلَيْهِمْ، كَمَا ثَبَتَ فِي " صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ " عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: ( «جَاءَ يَهُودِيٌّ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ آيَةٌ تَقْرَءُونَهَا فِي كِتَابِكُمْ لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ نَزَلَتْ وَنَعْلَمُ ذَلِكَ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ لَاتَّخَذْنَاهُ عِيدًا، قَالَ: أَيُّ آيَةٍ؟ قَالَ: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] [الْمَائِدَةِ: 3] فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: إِنِّي لَأَعْلَمُ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ، وَالْمَكَانَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ، نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَفَةَ يَوْمَ جُمُعَةٍ، وَنَحْنُ وَاقِفُونَ مَعَهُ بِعَرَفَةَ» ) .
السَّابِعُ: أَنَّهُ مُوَافِقٌ لِيَوْمِ الْجَمْعِ الْأَكْبَرِ، وَالْمَوْقِفِ الْأَعْظَمِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَإِنَّ الْقِيَامَةَ تَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ( «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ» ) وَلِهَذَا شَرَعَ اللَّهُ
আমাদের শায়খ বলেন: আরাফাত দিবস মূলত আরাফাতবাসীদের জন্যই ঈদ, কারণ সেদিন সেখানে তাদের মহাসমাবেশ ঘটে। পক্ষান্তরে বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের অবস্থা ভিন্ন, কারণ তারা কেবল কোরবানির দিনেই একত্রিত হয়, তাই সেটিই তাদের ক্ষেত্রে ঈদ হিসেবে গণ্য হয়। উদ্দেশ্য হলো, যখন আরাফাত দিবস ও জুমুয়াবার একই দিনে পড়ে, তখন দুটি ঈদ একত্রে মিলিত হয়।
ষষ্ঠ: এটি সেই দিনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেদিন মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। যেমনটি 'সহীহ বুখারী'-তে তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ( «এক ইহুদি উমর ইবনুল খাত্তাব-এর নিকট এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা আপনারা পাঠ করেন; সেটি যদি আমাদের ইহুদি জাতির ওপর অবতীর্ণ হতো এবং আমরা জানতে পারতাম যে তা কোন দিনে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে আমরা অবশ্যই সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: সেটি কোন আয়াত? সে বলল: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩] [আল-মায়িদাহ: ৩]। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: আমি অবশ্যই জানি তা কোন দিনে অবতীর্ণ হয়েছে এবং কোন স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর আরাফাতের ময়দানে জুমুয়াবারে অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন আমরা তাঁর সাথে আরাফাতে অবস্থান করছিলাম।» ) ।
সপ্তম: এটি কিয়ামতের দিনের সর্ববৃহৎ সমাবেশ ও মহাস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা কিয়ামত জুমুয়াবারে সংঘটিত হবে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ( «সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুয়াবার। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই মুহূর্তটি পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।» ) আর একারণেই আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেছেন
(খণ্ড: ১)
জাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়িরিল ইবাদ - আর রিসালাহ সানী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى لِعِبَادِهِ يَوْمًا يَجْتَمِعُونَ فِيهِ، فَيَذْكُرُونَ الْمَبْدَأَ وَالْمَعَادَ، وَالْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَادَّخَرَ اللَّهُ تَعَالَى لِهَذِهِ الْأُمَّةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، إِذْ فِيهِ كَانَ الْمَبْدَأُ وَفِيهِ الْمَعَادُ، وَلِهَذَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي فَجْرِهِ سُورَتَيِ (السَّجْدَةِ) وَ (هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ) لِاشْتِمَالِهِمَا عَلَى مَا كَانَ وَمَا يَكُونُ فِي هَذَا الْيَوْمِ، مِنْ خَلْقِ آدَمَ، وَذِكْرِ الْمَبْدَأِ وَالْمَعَادِ، وَدُخُولِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَكَانَ يُذَكِّرُ الْأُمَّةَ فِي هَذَا الْيَوْمِ بِمَا كَانَ فِيهِ وَمَا يَكُونُ، فَهَكَذَا يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ بِأَعْظَمِ مَوَاقِفِ الدُّنْيَا - وَهُوَ يَوْمُ عَرَفَةَ - الْمَوْقِفَ الْأَعْظَمَ بَيْنَ يَدَيِ الرَّبِّ سُبْحَانَهُ فِي هَذَا الْيَوْمِ بِعَيْنِهِ، وَلَا يَتَنَصَّفُ حَتَّى يَسْتَقِرَّ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِي مَنَازِلِهِمْ، وَأَهْلُ النَّارِ فِي مَنَازِلِهِمْ.
الثَّامِنُ: أَنَّ الطَّاعَةَ الْوَاقِعَةَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، أَكْثَرُ مِنْهَا فِي سَائِرِ الْأَيَّامِ حَتَّى إِنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ الْفُجُورِ يَحْتَرِمُونَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَتَهُ، وَيَرَوْنَ أَنَّ مَنْ تَجَرَّأَ فِيهِ عَلَى مَعَاصِي اللَّهِ عز وجل عَجَّلَ اللَّهُ عُقُوبَتَهُ وَلَمْ يُمْهِلْهُ، وَهَذَا أَمْرٌ قَدِ اسْتَقَرَّ عِنْدَهُمْ وَعَلِمُوهُ بِالتَّجَارِبِ، وَذَلِكَ لِعِظَمِ الْيَوْمِ وَشَرَفِهِ عِنْدَ اللَّهِ، وَاخْتِيَارِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ لَهُ مِنْ بَيْنِ سَائِرِ الْأَيَّامِ، وَلَا رَيْبَ أَنَّ لِلْوَقْفَةِ فِيهِ مَزِيَّةً عَلَى غَيْرِهِ.
التَّاسِعُ: أَنَّهُ مُوَافِقٌ لِيَوْمِ الْمَزِيدِ فِي الْجَنَّةِ، وَهُوَ الْيَوْمُ الَّذِي يُجْمَعُ فِيهِ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِي وَادٍ أَفْيَحَ، وَيُنْصَبُ لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ لُؤْلُؤٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ زَبَرْجَدٍ وَيَاقُوتٍ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ، فَيَنْظُرُونَ إِلَى رَبِّهِمْ تبارك وتعالى، وَيَتَجَلَّى لَهُمْ فَيَرَوْنَهُ عِيَانًا، وَيَكُونُ أَسْرَعُهُمْ مُوَافَاةً أَعْجَلَهُمْ رَوَاحًا
পবিত্র ও মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এমন একটি দিন নির্দিষ্ট করেছেন যে দিনে তারা সমবেত হবে এবং সৃষ্টির সূচনা ও অন্তিমকাল তথা জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করবে। আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য জুমার দিনটিকেই গচ্ছিত রেখেছিলেন; কেননা এ দিনেই সৃষ্টির সূচনা হয়েছিল এবং এ দিনেই কিয়ামত বা পুনরুত্থান সংঘটিত হবে। এই কারণেই নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জুমার দিনের ফজরের সালাতে সুরা আস-সাজদাহ এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। কারণ এই সুরা দুটিতে এই দিনে যা কিছু অতীতে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে—অর্থাৎ আদমের সৃষ্টি, সৃষ্টির আদি ও অন্তের আলোচনা এবং জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশ—সেসব বিষয়ের সমাবেশ রয়েছে। ফলে তিনি এই দিনে উম্মতকে ওই সব বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতেন যা এই দিনে অতীতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে। ঠিক এভাবেই মানুষ দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সমাবেশ—অর্থাৎ আরাফার দিনের মাধ্যমে—মহান রবের সামনে সেই মহাপ্রলয়ের দিনের উপস্থিতির কথা স্মরণ করে, যা ঠিক এই দিনেই ঘটবে। আর দিনটি অর্ধেক পার হওয়ার আগেই জান্নাতবাসীরা তাদের আবাসে এবং জাহান্নামবাসীরা তাদের আবাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেবে।
অষ্টম: জুমার দিন ও জুমার রাতে মুসলিমদের পক্ষ থেকে সম্পাদিত ইবাদত ও আনুগত্য অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। এমনকি অধিকাংশ পাপাচারী ব্যক্তিও জুমার দিন ও রাতকে সম্মান করে থাকে। তারা বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তি এই দিনে মহান আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অবকাশ না দিয়ে দ্রুত শাস্তি প্রদান করবেন। এটি তাদের নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তারা তা জেনেছে। আর এটি মূলত আল্লাহর নিকট এই দিনটির মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এবং অন্যান্য দিনের মধ্য থেকে আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে বিশেষভাবে মনোনীত করার কারণেই হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দিনে (জুমার দিন) আরাফায় অবস্থানের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
নবম: এটি জান্নাতের ‘ইয়াওমুল মাজীদ’ বা অতিরিক্ত পুরস্কারের দিনের সাথে সংগতিপূর্ণ। এটি সেই দিন, যেদিন জান্নাতবাসীদের এক সুবিস্তৃত উপত্যকায় একত্রিত করা হবে এবং তাদের জন্য কস্তুরীর টিলার ওপর মুক্তা, সোনা, পান্না ও ইয়াকুত পাথরের মিম্বর বা আসন স্থাপন করা হবে। অতঃপর তারা তাদের বরকতময় ও মহান রবের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন এবং তিনি তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন, ফলে তারা তাঁকে সরাসরি চাক্ষুষ দেখতে পাবেন। আর তাদের মধ্যে যারা জুমার দিনের জন্য আগেভাগে দ্রুত প্রস্তুতি নিতো, তারাই সেখানে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে অগ্রগামী হবে।