(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري - ط عطاءات العلم القسم: شروح الحديث
الكتاب: إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري
المؤلف: أبو العباس أحمد بن محمد القسطلاني الشافعي (851 - 923 هـ)
تحقيق: المكتب العلمي بدار الكمال المتحدة
الناشر: دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
تنبيه: نص هذه النسخة الإلكترونية، أهداه للشاملة «عطاءات العلم» عن موسوعة (صحيح البخاري) المنشورة عام 1437 هـ. أما المطبوع، فقد زيد في تحقيقه وحواشيه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1446
ইরশাদুস সারি লি শারহি সহীহিল বুখারী - আতাআত আল-ইলম সংস্করণ বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইরশাদুস সারি লি শারহি সহীহিল বুখারী
লেখক: আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতাল্লানি আশ-শাফিঈ (৮৫১ - ৯২৩ হিজরি)
সম্পাদনা: আল-মাকতাব আল-ইলমি বি দারে আল-কামাল আল-মুত্তাহিদা
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাজম
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সতর্কীকরণ: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের পাঠ্যটি ১৪৩৭ হিজরিতে প্রকাশিত বিশ্বকোষ (সহীহ আল-বুখারী) হতে «আতাআত আল-ইলম» শামেলার জন্য উপহারস্বরূপ প্রদান করেছে। তবে মুদ্রিত সংস্করণে এর সম্পাদনা ও টীকা আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৪৬
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٤)
عمل المعتني بالكتاب (عن موسوعة صحيح البخاري)[*]:
قابلنا الكتاب على ثلاثة أصول خطية مع المقارنة بطبعة بولاق الأولى وطبعة بولاق السادسة، وسجلنا الفروق، وخرَّجنا مواضع العزو.
وصف الأصول الخطية المعتمدة:
1 - النسخة الأولى: نسخة العلامة المحدث إسماعيل بن محمد العجلوني (ت: 1162) محدث الشام في عصره، قرأها وقابلها على نسخ عديدة تحت قبة الجامع الأموي سنة 1135 هـ، وقُرئت على الشيخ محمد سليم العطار أيضًا سنة 1290 هـ، وهي نسخة متينة مصححة عليها هوامش وحواشي موضحة، كتبت 1094 - 1097، وتقع في مجلدات سبع، مصدرها دار الكتب الظاهرية، وهي النسخة المرموز لها بالرمز (د).
2 - النسخة الثانية نسخة منقولة من نسخة الحافظ أبي العز العجمي محدث مصر في عصره المشهورة بمقابلتها على أصول عديدة منها نسخة المؤلف، وعليها هوامش شارحة أيضًا، تاريخ نسخها يعود للقرن الحادي عشر، وتقع في مجلدات ست، مصدرها مكتبة حاجي سليم آغا بتركيا، وهي المرموز لها بالرمز (ص).
3 - نسخة من دار الكتب الظاهرية تقع في مجلدات ثمان، وهي نسخة ملفقة كتب نصفها الأول ما بين عامي 964 - 965 إلى أثناء الجهاد، وتمم بخط علامة بعلبك يحيى بن عبد الرحمن التاجي سنة 1140 هـ، والنسخة مصححة عليها هوامش شارحة، وهذه النسخة هي المرموز لها بالرمز (م). بالإضافة إلى قطع متفرقة من نسخ نفيسة، وطبعتي البولاقية الأولى المرموز لها بالرمز (ب)، والسادسة المرموز لها بالرمز (س).
قام بمقابلة هذا الكتاب فريقان بإشراف الشيخ محمد طاهر شعبان، والشيخ توفيق تكله، وتمت قراءته ومراجعته من قبل فريق بإشراف الدكتور محمد عيد منصور ومشاركته، وشارك فيه الدكتور عدنان خضر والشيخ محمود الدالاتي وغيرهم.
--------------------------------------------
কিতাবটির যত্নকারীর কাজ (সহীহ বুখারী বিশ্বকোষ হতে)[*]:
আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপি মূলের সাথে কিতাবটির তুলনা করেছি, পাশাপাশি বুলাকের প্রথম ও ষষ্ঠ মুদ্রণের সাথেও তুলনা করা হয়েছে। আমরা পাঠভেদগুলো লিপিবদ্ধ করেছি এবং তথ্যসূত্রসমূহ নির্ঘণ্ট করেছি।
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি মূলসমূহের বিবরণ:
১ - প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি আল্লামা মুহাদ্দিস ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আল-আজলুনীর (ওফাত: ১১৬২ হি.) অনুলিপি, যিনি তাঁর সময়ের শামের মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি ১১৩৫ হিজরীতে উমাইয়া জামে মসজিদের গম্বুজের নিচে এটি পাঠ করেছেন এবং বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করেছেন। ১২৯০ হিজরীতে শেখ মুহাম্মদ সেলিম আল-আত্তারের কাছেও এটি পাঠ করা হয়েছে। এটি একটি মজবুত ও সংশোধিত অনুলিপি যাতে ব্যাখ্যামূলক টীকা ও পার্শ্বটীকা রয়েছে। এটি ১০৯৪ - ১০৯৭ হিজরীতে লিখিত এবং সাতটি খণ্ডে সমাপ্ত। এর উৎস হলো দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ। এই অনুলিপিটিকে (দাল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
২ - দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি হাফেজ আবুল ইজ আল-আজামির পাণ্ডুলিপি থেকে নকলকৃত, যিনি তাঁর সময়ের মিসরের মুহাদ্দিস ছিলেন। এই অনুলিপিটি লেখকের পাণ্ডুলিপিসহ বিভিন্ন মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনার জন্য প্রসিদ্ধ। এতে ব্যাখ্যামূলক পার্শ্বটীকাও রয়েছে। এর অনুলিপি করার সময়কাল একাদশ হিজরী শতাব্দী। এটি ছয়টি খণ্ডে সমাপ্ত। এর উৎস তুরস্কের হাজী সেলিম আগা লাইব্রেরি। একে (সাদ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
৩ - দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ থেকে প্রাপ্ত একটি পাণ্ডুলিপি যা আটটি খণ্ডে সমাপ্ত। এটি একটি সংকলিত পাণ্ডুলিপি যার প্রথমার্ধ ৯৬৪ - ৯৬৫ হিজরীর মধ্যে জিহাদের সময় পর্যন্ত লেখা হয়েছে এবং বালবাকের আল্লামা ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান আত-তাজি ১১৪০ হিজরীতে এটি সম্পন্ন করেন। পাণ্ডুলিপিটি সংশোধিত এবং এতে ব্যাখ্যামূলক টীকা রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটিকে (মীম) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু মূল্যবান পাণ্ডুলিপির বিক্ষিপ্ত অংশ এবং বুলাক প্রথম সংস্করণকে (বা) ও ষষ্ঠ সংস্করণকে (সীন) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
শেখ মুহাম্মদ তাহের শাবান এবং শেখ তাওফিক তিকলার তত্ত্বাবধানে দুটি দল এই কিতাবটির তুলনার কাজ সম্পন্ন করেছে। ডক্টর মুহাম্মদ ঈদ মানসুরের তত্ত্বাবধানে ও অংশগ্রহণে একটি দল এটি পাঠ ও পর্যালোচনা করেছে। এতে ডক্টর আদনান খিজর, শেখ মাহমুদ আদ-দালাতি এবং আরও অনেকে অংশগ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
(1)يقولُ أحمد بن محمَّدٍ الخطيبُ القسطلانيُّ غفر الله تعالى
(2) له ولوالديه ولجميع المسلمين:
الحمد لله الذي شرح بمعارف عوارف السُّنَّة النَّبويَّة صدور أوليائه، وروَّح بسماع أحاديثها الطَّيِّبة أرواح أهل وداده وأصفيائه، فسرَّح سِرَّ سرائرهم في رياض روضة قُدسه وثنائه، أحمده على ما وفَّق من إرشاده وأسدى من آلائه، وأشكره على فضله المتواتر الكامل الوافر، وأسأله المزيد
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(১)আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাতিব আল-কাসতাল্লানি—মহান আল্লাহ তাঁকে
(২), তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—বলেন:
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি নববী সুন্নাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ জ্ঞানরাজি দ্বারা তাঁর বন্ধুদের অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করেছেন এবং এর পবিত্র হাদিসসমূহ শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর প্রিয়পাত্র ও মনোনীত বান্দাদের আত্মাকে প্রশান্ত করেছেন; অতঃপর তিনি তাদের অন্তঃস্থ গূঢ় রহস্যসমূহকে তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসার উদ্যানে বিচরণ করিয়েছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি এজন্য যে তিনি তাঁর নির্দেশনার তাওফিক দিয়েছেন এবং স্বীয় নেয়ামতরাজি দান করেছেন। আমি তাঁর অবিরাম, পূর্ণাঙ্গ ও প্রচুর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং তাঁর নিকট অধিকতর বৃদ্ধির প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٨)
من عطائه وكشف غطائه، وأشهد أنْ لا إله إِلَّا اللهُ وحدَه لا شريك له، الفرد المنفرد في صمدانيَّته بعزِّ كبريائه، واصلُ من انقطع إليه إلى حضرة قربه وولائه، ومدرجُه في سلسلة خاصَّته وأحبابه
(1)، وأشهد أنَّ سيِّدنا محمَّدًا عبدُه ورسولُه، المُرسَلَُ بصحيح القول وحَسَنِهِ؛ رحمةً لأهل أرضه وسمائه، الماحي للمختلَق الموضوع بشوارق بوارق لألائه، فأشرقت مشكاة مصابيح «الجامع الصَّحيح» من أنوار شريعته وأنبائه، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه وخلفائه
(2)، آمين
(3).
وبعدُ:
فإنَّ علم السُّنَّة النَّبويَّة بعد الكتاب العزيز أعظم العلوم قدرًا، وأرقاها شرفًا وفخرًا؛ إذ عليه مبنى قواعد أحكام الشَّريعة الإسلاميَّة، وبه تظهر تفاصيل مُجمَلات الآيات القرآنيَّة، وكيف لا ومصدره عمَّن لا ينطق عن الهوى، إن هو إلَّا وحيٌ يُوحَى.
فهو المفسِّر للكتاب، وإنَّما نطق النَّبيُّ لنا به عن ربِّه، وإنَّ كتاب البخاريِّ «الجامع» قد
--------------------------------------------
তাঁর দান হতে এবং তাঁর আবরণ উন্মোচন হতে; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর মহান গৌরবের সাথে তাঁর অমুখাপেক্ষীতায় অনন্য একক। যিনি তাঁর প্রতি একাগ্রচিত্ত ব্যক্তিকে তাঁর নৈকট্য ও অভিভাবকত্বের সান্নিধ্যে পৌঁছে দেন এবং তাকে তাঁর বিশিষ্ট ও প্রিয়জনদের অন্তর্ভুক্ত করেন
(১)। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে সহিহ ও উত্তম বাণীর সাথে প্রেরণ করা হয়েছে; তিনি যমীন ও আসমানবাসীদের জন্য রহমত স্বরূপ। তিনি তাঁর জ্যোতির উজ্জ্বল বিচ্ছুরণের মাধ্যমে বানোয়াট ও জাল বিষয়সমূহকে মিটিয়ে দেন, ফলে তাঁর শরিয়ত ও সংবাদসমূহের নূর হতে ‘আল-জামে আস-সহিহ’-এর প্রদীপাধার প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও খলিফাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক
(২), আমিন
(৩)।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান কিতাবের (কুরআনের) পর সুন্নাতে নববীর ইলম মর্যদার দিক থেকে মহানতম এবং সম্মান ও গৌরবের দিক থেকে সর্বোচ্চ; কেননা এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানের মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত এবং এর মাধ্যমেই কুরআনের আয়াতের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এর উৎস এমন এক সত্তা যিনি নিজ খেয়ালখুশি থেকে কথা বলেন না, তা তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।
সুতরাং তা হলো কিতাবের ব্যাখ্যাকারী, আর নবী আমাদের নিকট তাঁর রবের পক্ষ থেকেই তা ব্যক্ত করেছেন। আর বুখারির কিতাব ‘আল-জামে’ হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٩)
أظهر من كنوز مطالبها العالية إبريز البلاغة وأبرز، وحاز قَصَبَ السَّبق في ميدان البراعة وأحرز
(1)، وأتى من صحيح الحديث وفقهه بما لم يُسبَق إليه، ولا عرَّج أحدٌ عليه، فانفرد بكثرة فرائد فوائده، وزوائد عوائده، حتَّى جزم الرَّاوون بعذوبة موارده؛ فلذا رَجَحَ على غيره من الكتب بعد كتاب الله، وتحرَّكت بالثَّناء عليه الألسن والشِّفاه، ولطالما خطر في الخاطر المخاطر أنْ أُعلِّق عليه شرحًا أَمزجه فيه مزجًا، وأدرجه ضمنه درجًا، أُميِّز فيه الأصل من الشَّرح بالحمرة والمداد، واختلاف الرِّوايات بغيرهما، ليدرِك النَّاظر سريعًا المراد، فيكون باديًا بالصَّفحة، مدركًا باللَّمحة، كاشفًا بعض أسراره لطالبيه، رافع النِّقاب عن وجوه معانيه لمعانيه، موضِّحًا مُشكِلَه، فاتحًا مُقفَلَه، مقيِّدًا مهملَه، وافيًا بتغليق
(2) تعليقه، كافيًا في إرشاد السَّاري لطريق تحقيقه، محرِّرًا لرواياته، مُعْرِبًا عن غرائبه وخفيَّاته، فأَجِدُني أُحجم عن سلوك هذا المسرى، وأُبصِرُني أقدِّم رجلًا وأؤخِّر أخرى؛ إذ أنا بمَعْزِلٍ عن هذا المنزل، لا سيَّما وقد قِيلَ: إنَّ أحدًا لم يستصبح سراجَه، ولا استوضح منهاجَه، ولا اقتعد صهوتَه، ولا
--------------------------------------------
তিনি এর উচ্চতর লক্ষ্যসমূহের ধনভাণ্ডার থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের খাঁটি সোনা প্রকাশ ও বিকশিত করেছেন এবং নিপুণতার ময়দানে অগ্রগামিতার গৌরব অর্জন ও আয়ত্ত করেছেন
(১)। তিনি সহীহ হাদীস ও এর তত্ত্বজ্ঞান থেকে এমন কিছু আনয়ন করেছেন যাতে তাঁর পূর্বে কেউ অগ্রগামী হতে পারেনি এবং কেউ সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি। ফলে এটি এর অগণিত অনন্য উপকারিতা ও অতিরিক্ত প্রাপ্তিসমূহের কারণে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, এমনকি বর্ণনাকারীগণ এর উৎসসমূহের মাধুর্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। এই কারণেই আল্লাহর কিতাবের পর অন্যান্য গ্রন্থের ওপর এটি প্রাধান্য লাভ করেছে এবং রসনা ও ওষ্ঠাধরসমূহ এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমার মনে এই সংকল্প উদিত হচ্ছিল যে, আমি এর ওপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখব যেখানে মূল পাঠের সাথে ব্যাখ্যাকে ওতপ্রোতভাবে মিশিয়ে দেব এবং এর অন্তর্ভুক্ত করে দেব। সেখানে লাল কালি দিয়ে মূল পাঠ ও কালো কালি দিয়ে ব্যাখ্যাকে পৃথক করব এবং বর্ণনার ভিন্নতাকে অন্য রঙের কালির মাধ্যমে আলাদা করব, যাতে পাঠক দ্রুত কাঙ্ক্ষিত অর্থ বুঝতে পারে। ফলে তা পৃষ্ঠায় সুপ্রকাশিত হবে, পলকেই বোধগম্য হবে, এর অনুসন্ধানীদের জন্য এর কিছু রহস্য উন্মোচন করবে এবং এর গভীর অর্থ অন্বেষণকারীদের জন্য অর্থের চেহারার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেবে। এটি এর জটিল বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করবে, রুদ্ধ দ্বারগুলো উন্মুক্ত করবে, অসংজ্ঞায়িত বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট করবে, এর টীকাগুলো পূর্ণতায় পৌঁছে দিতে
(২) সক্ষম হবে এবং সত্যানুসন্ধানী পথিকের জন্য গবেষণার সঠিক পথের দিশা দিতে যথেষ্ট হবে। এটি এর বর্ণনাগুলোকে পরিমার্জিত করবে এবং এর বিরল ও লুক্কায়িত বিষয়সমূহ ব্যক্ত করবে। তথাপি আমি এই পথে চলতে নিজেকে কুণ্ঠিত বোধ করছি এবং আমাকে একবার এগিয়ে যেতে আবার পিছিয়ে আসতে দেখছি; কারণ আমি এই সুউচ্চ মর্যাদা থেকে দূরে অবস্থান করছি, বিশেষ করে যখন বলা হয়েছে যে: কেউ এর প্রদীপ থেকে আলো গ্রহণ করতে পারেনি, এর কর্মপন্থাকে স্পষ্ট করতে পারেনি এবং এর উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারেনি, আর না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
افترع ذروتَه، ولا تبوَّأ خلالَه، ولا تفيَّأ ظلالَه، فهو دُرَّةٌ لم تُثْقَب، ومُهرةٌ لم تُركَب، وللَّه درُّ القائل:
أعيا فحولَ العلم حَلُّ رموز ما
… أبداه في الأبوابِ من أسرارِ
فازوا من الأوراقِ منه بما جَنَوا
… منها، ولم يَصِلوا إلى الأثمار
ما زال بِكرًا لم يُفَضَّ خِتامُه
… وعُراه ما حُلَّت عنِ
(1) الأزرارِ
حُجِبَت معانيه التي أوراقُها
… ضُرِبَت على الأبواب كالأستار
مِن كلِّ بابٍ حين يُفتَح بعضُه
… يَنْهار منه العلمُ كالأنهارِ
لا غَرْوَ أن أمسى البخاريْ للورى
… مثلَ البحارِ لمنشأ الأمطارِ
خضعتْ له الأقرانُ فيه إذ بدا
… خرُّوا على الأذقان والأكوارِ
ولم أَزَلْ على ذلك مدَّةً من الزَّمان، حتَّى مضى عصر الشَّباب وبان، فانبعث الباعث إلى ذلك راغبًا، وقام خطيبًا لبنات أبكار الأفكار خاطبًا، فشمَّرتُ ذيل العزم عن ساق الحزم، وأتيتُ بيوت التَّصنيف من أبوابها، وقمتُ في جامع جوامع التَّأليف بين أئمَّته بمحرابها، وأطلقتُ لسان القلم في ساحات الحِكَم بعبارةٍ صريحةٍ واضحةٍ، وإشارةٍ قريبةٍ لائحةٍ، لخَّصتُها من كلامِ الكُبَرَاء، الذين رَقَتْ في معارج علوم هذا الشَّأن أفكارُهم، وإشاراتِ الألبَّاء الذين أنفقوا
--------------------------------------------
কেউ এর শিখর স্পর্শ করতে পারেনি, এর অভ্যন্তরে স্থান গ্রহণ করতে পারেনি, এর ছায়াতলে বিশ্রাম নিতে পারেনি। এটি এমন এক মুক্তা যা ছিদ্র করা হয়নি, এমন এক অশ্বশাবক যার পিঠে কেউ আরোহণ করেনি। আর চমৎকার বলেছেন সেই কবি:
জ্ঞানের দিকপালদের ক্লান্ত করে দিয়েছে সেই রহস্যসমূহের সমাধান, যা
… তিনি এর পরিচ্ছেদগুলোতে প্রকাশ করেছেন।
তারা এর পাতাগুলো থেকে যা আহরণ করার তা পেয়ে ধন্য হয়েছে,
… কিন্তু পৌঁছাতে পারেনি এর ফলমূল পর্যন্ত।
এটি অদ্যাবধি কুমারীই রয়ে গেছে যার সীলমোহর ভাঙা হয়নি,
… আর এর বোতামের ঘর থেকে বোতামসমূহ খোলা হয়নি।
এর অর্থসমূহ আবৃত রয়ে গেছে, যার পাতাগুলো
… পরিচ্ছেদসমূহের ওপর পর্দার মতো ঝোলানো রয়েছে।
প্রত্যেকটি পরিচ্ছেদের কিয়দাংশ যখন উন্মোচিত হয়,
… তখন সেখান থেকে জ্ঞান প্রবাহিত হয় নদীর মতো।
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, বুখারী সৃষ্টিজগতের নিকট
… বৃষ্টিদায়ক সমুদ্রের ন্যায় হয়ে গেছেন।
সমসাময়িকরা তার কাছে নতি স্বীকার করেছে যখন তিনি প্রকাশিত হলেন;
… তারা থুতনি ও পাগড়ির ওপর লুটিয়ে পড়ল।
আমি দীর্ঘকাল এভাবেই ছিলাম, এমনকি যৌবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল এবং বিদায় নিল। অতঃপর এর প্রতি আগ্রহী হয়ে এক প্রেরণা জাগ্রত হলো, এবং চিন্তার কুমারী কন্যাদের পাণিপ্রার্থনায় এক বাগ্মী দণ্ডায়মান হলো। তখন আমি বিজ্ঞতার পায়ের ওপর সংকল্পের আঁচল গুটিয়ে নিলাম এবং রচনার ঘরে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম। আমি রচনার সংকলনসমূহের জামে মসজিদের ইমামদের মাঝে এর মেহরাবে দাঁড়ালাম। আমি হিকমতের ময়দানে কলমের জিহ্বাকে উন্মুক্ত করলাম সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায়, এবং নিকটবর্তী ও দেদীপ্যমান ইঙ্গিতের মাধ্যমে। আমি একে বড় বড় মনীষীদের কথা থেকে সারসংক্ষেপ করেছি, যাঁদের চিন্তা এই বিষয়ের জ্ঞানের সোপানগুলোতে আরোহণ করেছে, এবং ঐসব বুদ্ধিমানদের ইশারা থেকে যারা ব্যয় করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١١)
على اقتناص شوارده أعمارَهم، وبذلتُ الجهد في تفهُّم أقاويل الفهماء
(1) المشار إليهم بالبنان، وممارسة الدَّواوين المؤلَّفة في هذا الشَّان، ومراجعة الشُّيوخ الذين حازوا قَصَبَ السَّبق في مضماره، ومباحثة الحذَّاق الذين غاصوا على جواهر الفرائد
(2) في بحاره، ولم أتحاشَ عن الإعادة في الإفادة عند الحاجة إلى البيان، ولا في ضبط الواضح عند علماء هذا الشأن، قصدًا لنفع الخاصِّ والعامِّ، راجيًا ثواب ذي الطَّوْل والإنعام.
فدونَك شرحًا قد أشرقت عليه من شرفات هذا الجامع أضواء نوره اللَّامع، وصدع خطيبه على منبره السَّامي بالحجج القواطع القلوب والمسامع، أضاءت بهجته، فاختفت منه كواكب الدَّراري، وكيف لا وقد فاض عليه النُّور من فتح الباري! على أنَّني أقول كما قال الحافظ أبو بكرٍ البَرقانيُّ:
وما ليَ فيهِ سوى أنَّني
… أَُراه هوًى وافق المقصدا
وأرجو الثَّواب بكتب الصَّلاةِ
… على السَّيِّد المُصطفَى أحمدا
وبالجملة: فإنَّما أنا من لوامع أنوارهم مقتبِسٌ، ومن فواضل فضائلهم ملتمِسٌ، وخدمت
--------------------------------------------
তারা তাদের জীবন ব্যয় করেছেন এর দুর্লভ বিষয়গুলো আহরণ করতে; আর আমি সেই প্রথিতযশা সমঝদারদের কথাগুলো অনুধাবনে শ্রম ব্যয় করেছি যাদের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়
(১), এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলি অনুশীলন করেছি, আর সেই সকল শায়খদের শরণাপন্ন হয়েছি যারা এই ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছেন, এবং সেই সকল পারদর্শীদের সাথে আলোচনা করেছি যারা এই শাস্ত্রের সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়ে অনন্য মণি-মুক্তা আহরণ করেছেন। স্পষ্ট করার প্রয়োজনে উপকারার্থে কোনো বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করতে আমি দ্বিধাবোধ করিনি, আর এই শাস্ত্রের আলিমদের নিকট যা স্পষ্ট তা লিপিবদ্ধ করতেও সংকোচ করিনি; আর তা করেছি বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলের উপকারের উদ্দেশ্যে, মহান করুণাময় ও অনুগ্রহদাতার নিকট সওয়াবের আশায়।
সুতরাং গ্রহণ করুন এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার উপর এই সংকলনের উচ্চশিখর থেকে এর উজ্জ্বল নূরের আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হয়েছে এবং এর খতিব তার উচ্চ মিম্বর থেকে হৃদয় ও কর্ণের নিকট অকাট্য দলিলের মাধ্যমে সত্য ঘোষণা করেছেন। এর দীপ্তি এমনভাবে বিকশিত হয়েছে যে তা উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজীকেও ম্লান করে দিয়েছে। আর কেনই বা তা হবে না, যখন এর উপর ‘ফাতহুল বারী’ থেকে নূর উপচে পড়েছে! তবে আমি তা-ই বলছি যা হাফিয আবু বকর আল-বারকানী বলেছিলেন:
এতে আমার বিশেষ কিছু নেই কেবল এটুকু ছাড়া যে
… আমি একে এমন এক অনুরাগ হিসেবে দেখছি যা উদ্দেশের সাথে মিলে গেছে।
আর আমি সওয়াব আশা করছি দরুদ লেখার মাধ্যমে
… সাইয়্যিদ আল-মুস্তফা আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর।
সারকথা: আমি তো কেবল তাঁদের উজ্জ্বল নূরের ছটা থেকে আলো গ্রহণকারী এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের উদ্বৃত্ত অংশ থেকে অন্বেষণকারী। আর আমি খিদমত করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
به الأبواب النَّبويَّة، والحضرة المُصطَفويَّة، راجيًا أن يُتوِّجني بتاج القبول والإقبال، ويجيزني بجائزة الرِّضا في الحال والمآل، وسمَّيته:
«إرشاد السَّاري لشرح صحيح البخاري»
واللهَ أسأل التَّوفيق والإرشاد إلى سلوك طريق السَّداد، وأن يعينَني على التَّكميل، فهو حسبي ونِعْمَ الوكيل.
وهذه مقدِّمةٌ مشتملةٌ على وسائل المقاصد، يهتدي بها إلى الإرشاد السَّالك والقاصد، جامعةٌ لفصولٍ، هي لفروعِ قواعد هذا الشَّرح أصولٌ.
এর মাধ্যমে নব্যুয়তের দুয়ারসমূহ এবং মুস্তফাউয়ি দরবারের সান্নিধ্য প্রত্যাশা করছি, এই আশায় যে তিনি আমাকে কবুলিয়ত ও অনুগ্রহের মুকুটে ভূষিত করবেন এবং বর্তমানে ও ভবিষ্যতে সন্তুষ্টির পুরস্কারে ভূষিত করবেন। আর আমি এর নামকরণ করেছি:
«ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী»
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক এবং সঠিক পথে চলার দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করছি, আর এটি সম্পন্ন করার জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করছি। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
এটি একটি ভূমিকা যা মূল লক্ষ্যসমূহ অর্জনের উপায়গুলো ধারণ করে, যার মাধ্যমে পথিক ও অভীষ্ট ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা লাভ করবে। এতে এমন কিছু অধ্যায় সন্নিবেশিত হয়েছে যা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নিয়মাবলীর শাখা-প্রশাখার জন্য মূলনীতিস্বরূপ।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الفصل الأوّلفي فضيلة أهل الحديث وشرفهم في القديم والحديث
أقول مستمدًّا من الله تعالى الإعانة على التَّوفيق للإيضاح والإبانة:
প্রথম পরিচ্ছেদআহলে হাদিসের ফযিলত ও তাদের মর্যাদার বর্ণনায় প্রাচীন ও আধুনিক কালে
আমি বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার তাওফিকের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
رُوِّينا عن ابن مسعودٍ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع مقالتي، فحفظها ووعاها وأدَّاها، فَرُبَّ حامل فقهٍ إلى مَنْ هو أفقه منه» رواه الشَّافعيُّ والبيهقيُّ،
আমরা ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েত লাভ করেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ করেছে, হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে; কেননা অনেক ইলমের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়, যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার» ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وكذا أبو داود والتِّرمذيُّ بلفظ: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع منَّا شيئًا فبلَّغه كما سمعه، فَرُبَّ مُبلَّغٍ أوعى من سامعٍ»، وقال التِّرمذيُّ: حسنٌ صحيحٌ، وعن أبي سعيدٍ الخدريِّ رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال في حجَّة الوداع: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع مقالتي فوعاها، فَرُبَّ حامل فقهٍ ليس بفقيهٍ … » الحديثَ، رواه البزَّار بإسنادٍ حسنٍ، وابن حبَّان في «صحيحه» من حديث زيد بن ثابتٍ رضي الله عنه، وكذا رُوِي من حديث معاذ بن جبلٍ والنُّعمان بن بشيرٍ وجُبير بن مُطعمٍ وأبي الدَّرداء وأبي قِرصافة، وغيرهم من الصَّحابة رضي الله عنهم، وبعض أسانيدهم صحيحٌ، كما قاله المنذريُّ، وقوله: «نضَّر الله» بتشديد الضَّاد المُعجمَة وتُخفَّف، والنُّضْرة: الحُسْن والرَّونق.
তেমনিভাবে আবু দাউদ এবং তিরমিযী এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কিছু শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা যাকে পৌঁছে দেওয়া হয় এমন অনেকে সরাসরি শ্রবণকারীর তুলনায় বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা স্মরণ রেখেছে। কেননা ফিকহের (জ্ঞানের) বাহক অনেক সময় নিজে ফকীহ হয় না … " পূর্ণ হাদীস। আল-বাযযার এটি একটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে যায়েদ বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে এটি মুয়ায বিন জাবাল, নুমান বিন বশীর, জুবাইর বিন মুতঈম, আবু দারদা এবং আবু কিরসাফাহ ও অন্যান্য সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আল-মুনযিরী যেমনটি বলেছেন, তাঁদের কোনো কোনো সনদ সহীহ। আর তাঁর কথা "আল্লাহ সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন" বাক্যে 'দ্বদ' বর্ণটি তাশদীদযুক্ত এবং তাশদীদহীন উভয়ভাবেই পড়া যায়। আর 'নুযরাহ' শব্দের অর্থ হলো সৌন্দর্য ও সজীবতা।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
والمعنى: خصَّه الله تعالى بالبهجة والسُّرور؛ لأنَّه سعى في نَضارة العلم وتجديد السُّنَّة، فجازاه في دعائه له بما يُناسب حالَه في المُعامَلة. وأيضًا: فإنَّ مَنْ حفظ ما سمعه وأدَّاه كما سمعه من غير تغييرٍ كأنَّه جعل المعنى غضًّا طريًّا، وخُصَّ الفقه بالذِّكر دون العلم؛ إيذانًا بأنَّ الحامل غيرُ عارٍ عن العلم، إذ الفقه علمٌ بدقائق العلوم المُستنبَطة من الأقيسة، ولو قال: غير عالم لَزِم جهله،
আর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা তাকে আনন্দ ও প্রফুল্লতার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন; কারণ তিনি ইলমের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি ও সুন্নাহর পুনর্জীবনে সচেষ্ট ছিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর জন্য (রাসূলের) দুআর মাধ্যমে তাকে তার কর্মের অনুরূপ প্রতিদান দান করেছেন। তদুপরি, যে ব্যক্তি যা শ্রবণ করেছে তা তদ্রূপ সংরক্ষণ করল এবং কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু তা পৌঁছে দিল, সে যেন অর্থটিকে সতেজ ও নবীন রাখল। আর ইলমের পরিবর্তে ফিকহকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এটি অবগত করার জন্য যে, (ইলম) বহনকারী ব্যক্তি ইলম থেকে রিক্ত নয়; কেননা ফিকহ হলো কিয়াসসমূহ থেকে উদ্ভাবিত ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি সংক্রান্ত জ্ঞান। আর তিনি যদি ‘আলেম নয়’ বলতেন, তবে তা তার অজ্ঞতাকেই সাব্যস্ত করত।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وقوله: «رُبَّ» وُضِعَت للتَّقليل، فاستُعيرَت في الحديث للتَّكثير، وقوله: «إلى من هو أفقه منه»
এবং তাঁর বাণী: ‘রুব্বা’ শব্দটি স্বল্পতা বুঝানোর জন্য নির্ধারিত, তবে হাদিসে তা আধিক্য বুঝানোর জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর তাঁর বাণী: ‘এমন ব্যক্তির নিকট যে তাঁর চেয়েও অধিক প্রজ্ঞাবান’।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
صفةٌ لمدخول «رُبَّ» استُغنِي بها عن جوابها، أي: رُبَّ حامل فقهٍ أدَّاه إلى مَنْ هو أفقه منه
এটি ‘রুব্বা’-এর পরবর্তী পদের একটি বিশেষণ যা এর জওয়াবের প্রয়োজনীয়তা নিরসন করেছে। অর্থাৎ: অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছেন যিনি তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক সমঝদার।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
لا يفقه ما يفقهه المحمول إليه، وعن ابن عبَّاس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهمَّ ارحم خلفائي»، قلنا: يا رسول الله، ومَنْ خلفاؤك؟ قال: «الذين يروون أحاديثي ويعلِّمونها النَّاس»، رواه الطَّبرانيُّ في «الأوسط»، ولا ريبَ أنَّ أداء السُّنن إلى المسلمين نصيحةً لهم مِن وظائف الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين، فمَنْ قام بذلك كان خليفةً لمن يبلِّغ عنه، وكما لا يليق بالأنبياء عليهم السلام أن يهملوا أعاديهم ولا ينصحوهم، كذلك لا يحسن بطالب الحديث وناقل السُّنن أن يمنحها صديقه ويمنعها عدوَّه، فعلى العالم بالسُّنَّة أن يجعل أكبرَ همِّه نشرَ الحديث، فقد أمر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم بالتَّبليغ عنه، حيث قال: «بلِّغوا عنِّي ولو آيةً» الحديثَ، رواه البخاريُّ رحمه الله، قال المُظْهِريُّ: أي: بلِّغوا عنِّي أحاديثي ولو كانت قليلةً. قال البيضاويُّ رحمه الله: قال: «ولو آيةً» ولم يقل: ولو حديثًا؛ لأنَّ الأمر بتبليغِ الحديثِ يُفهَم منه بطريق الأولويَّة، فإنَّ الآياتِ مع انتشارها وكثرةِ حَمَلَتِها، تكفَّل الله تعالى بحفظها وصونها عن الضَّياع والتَّحريف. انتهىَ.
وقال إمام الأئمَّة مالكٌ رحمه الله تعالى: بلغني أنَّ العلماء يُسأَلون يوم القيامة عن تبليغهم العلم كما يُسألُ الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وقال سفيان الثَّوريُّ: لا أعلم عملًا أفضل من علم
(1) الحديث لمن
--------------------------------------------
তিনি যা বোঝেন তা সেই ব্যক্তি বুঝতে পারে না যার কাছে এটি বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের প্রতি রহম করুন», আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উত্তরসূরি কারা? তিনি বললেন: «যারা আমার হাদিসসমূহ বর্ণনা করে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেয়», তাবারানি এটি «আল-আওসাত» গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের নসিহত হিসেবে সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়া নবীদের অন্যতম দায়িত্ব, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পালন করল, সে যাঁর পক্ষ থেকে তা প্রচার করছে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য হবে। আর নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) জন্য যেমন এটা শোভনীয় নয় যে তাঁরা তাঁদের শত্রুদের অবজ্ঞা করবেন কিংবা তাদের নসিহত করবেন না, তেমনি হাদিসের ছাত্র ও সুন্নাহর বর্ণনাকারীর জন্যও এটি সমীচীন নয় যে সে তার বন্ধুকে তা প্রদান করবে আর শত্রুকে তা থেকে বঞ্চিত করবে। অতএব সুন্নাহর আলেমের উচিত তার প্রধানতম লক্ষ্য করা হাদিস প্রচার করাকে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়», ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। মাজহারি বলেন: অর্থাৎ: আমার পক্ষ থেকে আমার হাদিসসমূহ পৌঁছে দাও যদিও তা সংখ্যায় অল্প হয়। বায়জাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি বলেছেন: «যদিও একটি আয়াত হয়» আর বলেননি: «যদিও একটি হাদিস হয়»; কারণ হাদিস পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশটি এখান থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বোঝা যায়। কেননা আয়াতসমূহ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকা এবং এর বাহক অধিক হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তা সংরক্ষণ এবং হারিয়ে যাওয়া ও বিকৃতি থেকে হিফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন। সমাপ্ত।
ইমামুল আইম্মাহ মালিক (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কিয়ামতের দিন আলেমদের ইলম প্রচারের বিষয়ে সেভাবেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যেভাবে নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জিজ্ঞাসা করা হবে। সুফিয়ান সাওরি বলেন: আমি হাদিসের ইলমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো আমল জানি না সেই ব্যক্তির জন্য যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أراد به وجه الله تعالى، إنَّ النَّاس يحتاجون إليه حتَّى في طعامهم وشرابهم، فهو أفضل من التَّطوُّع بالصَّلاة والصِّيام؛ لأنَّه فرض كفايةٍ، وفي حديث أسامة بن زيدٍ رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: «يَحملُ هذا العلمَ من كلِّ خَلَفٍ عُدُولُه، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين»
(1)--------------------------------------------
এর দ্বারা তিনি আল্লাহ তাআলার চেহারা উদ্দেশ্য করেছেন; নিশ্চয়ই মানুষের এমনকি তাদের আহার ও পানীয়র ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজন রয়েছে, সুতরাং এটি নফল সালাত ও সিয়ামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কেননা এটি ফরজে কিফায়া। উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা এই ইলম বহন করবেন; তারা এ থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।»
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وهذا الحديث رواه من الصَّحابة عليٌّ وابن عمر وابن عمرٍو وابن مسعودٍ وابن عبَّاسٍ وجابر بن سَمُرة ومعاذٌ وأبو أُمامة وأبو هريرة رضي الله عنهم، وأورده ابن عديٍّ من طرقٍ كثيرةٍ كلُّها ضعيفةٌ، كما صرَّح به الدَّارقطنيُّ وأبو نُعيمٍ وابن عبد البرِّ، لكن يمكن أن يتقوَّى بتعدُّد طرقه، ويكون حسنًا كما جزم به ابن كيكلدي العلائيُّ، وفيه تخصيص حملة السُّنَّة بهذه المَنْقَبَة العليَّة، وتعظيمٌ لهذه الأمَّة المحمَّديَّة، وبيانٌ لجلالة قدر المحدِّثين، وعلوِّ مرتبتهم في العالَمين؛ لأنَّهم يحمون مشارع الشَّريعة ومتون الرِّوايات من تحريف الغالين وتأويل الجاهلين؛ بنقل النُّصوص المُحكَمة لردِّ المتشابه إليها.
وقال النَّوويُّ في أوَّل «تهذيبه»: هذا إخبارٌ منه صلى الله عليه وسلم بصيانة هذا العلم وحفظه وعدالة ناقليه، وأنَّ الله تعالى يوفِّق له في كلِّ عصرٍ خَلَفًا من العُدُول يحملونه، وينفون عنه التَّحريف فلا يضيع، وهذا تصريحٌ بعدالة حامليه في كلِّ عصرٍ. وهكذا وقع ولله الحمد، وهو من أعلام النُّبوَّة، ولا يضرُّ كون
এই হাদিসটি সাহাবীদের মধ্যে আলী, ইবনে উমর, ইবনে আমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির বিন সামুরা, মুয়াজ, আবু উমামা এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি এটি অনেকগুলো সূত্রে উল্লেখ করেছেন যেগুলোর সবগুলোই দুর্বল, যেমনটি দারাকুতনি, আবু নুয়াইম এবং ইবনে আব্দুল বার স্পষ্ট করেছেন। তবে সূত্রের আধিক্যের কারণে এটি শক্তিশালী হতে পারে এবং 'হাসান' স্তরে পৌঁছাতে পারে, যেমনটি ইবনে কাইকালদি আল-আলাঈ নিশ্চিত করেছেন। এতে সুন্নাহর বাহকদের এই সুউচ্চ মর্যাদার বিশেষত্ব নিহিত রয়েছে, এই উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার সম্মান বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং মুহাদ্দিসগণের মর্যাদার মাহাত্ম্য ও বিশ্বজাহানে তাঁদের উচ্চ মর্তবার বর্ণনা রয়েছে; কারণ তাঁরা শরীয়তের উৎসসমূহ এবং বর্ণনার মূল পাঠগুলোকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি ও মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করেন; আর তা করেন অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট দলীলসমূহের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত নসসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে।
ইমাম নববী তাঁর ‘তাহজিব’ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এই ইলমের সুরক্ষা, এর সংরক্ষণ এবং এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। আর মহান আল্লাহ প্রত্যেক যুগে এই ইলমের জন্য একদল ন্যায়পরায়ণ উত্তরসূরিকে তাওফিক দান করবেন যারা একে বহন করবেন এবং এর থেকে বিকৃতি দূর করবেন, ফলে এটি বিলুপ্ত হবে না। এটি প্রত্যেক যুগে ইলমের বাহকদের ন্যায়পরায়ণতার একটি স্পষ্ট ঘোষণা। আল্লাহর প্রশংসায় বাস্তবেও এমনটিই ঘটেছে, এবং এটি নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর কোনো কিছুর অস্তিত্ব এতে কোনো ক্ষতি করবে না...
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
بعض الفسَّاق يعرف شيئًا من علم الحديث؛ فإنَّ الحديث إنَّما هو إخبارٌ بأنَّ العدول يحملونه، لا أنَّ غيرهم لا يعرف شيئًا منه. انتهىَ.
على أنَّه قد يُقال: ما يعرفه الفسَّاق من العلم ليس بعلمٍ حقيقةً؛ لعدم عملهم، كما أشار إليه المولى سعد الدِّين التَّفتازانيُّ في تقرير قول «التَّلخيص»: وقد يُنزَّل العالم منزلة الجاهل، وصرَّح به الإمام الشَّافعيُّ في قوله: ولا العلم إلَّا مع التُّقى، ولا العقل إلَّا مع الأدب.
ولَعَمْري
কিছু পাপাচারী হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে কিছুটা অবগত থাকে; কারণ হাদিস শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই একে বহন করবেন, এর অর্থ এই নয় যে তারা ব্যতীত অন্য কেউ এ সম্পর্কে কিছুই জানবে না। সমাপ্ত।
তদুপরি, এটি বলা যেতে পারে যে: পাপাচারীরা ইলমের যা কিছু জানে তা প্রকৃতপক্ষে ইলম নয়; তাদের আমল না থাকার কারণে। যেমনটি আল্লামা সাদ উদ্দীন তাফতাজানি 'আত-তালখীস' এর ভাষ্যের ব্যাখ্যায় ইঙ্গিত করেছেন: কখনও কখনও একজন আলিমকে মূর্খের স্তরে গণ্য করা হয়। ইমাম শাফেঈ তাঁর এই বাণীতে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: তাকওয়া ব্যতিরেকে কোনো ইলম নেই, আর শিষ্টাচার ব্যতিরেকে কোনো বুদ্ধি নেই।
আমার জীবনের শপথ
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
إنَّ هذا الشَّأن من أقوى أركان الدِّين، وأوثق عُرى اليقين، لا يَرْغَبُ في نشره إلَّا صادقٌ تقيٌّ، ولا يَزْهَدُه إلَّا كلُّ منافقٍ شقيٍّ، قال ابن القطَّان: ليس في الدُّنيا مبتدعٌ إلَّا وهو يُبغض أهل الحديث، وقال الحاكم: لولا كثرة طائفة المحدِّثين على حفظ الأسانيد لَدرس منار الإسلام، ولتمكَّن أهل الإلحاد والمبتدعة من وضع الأحاديث وقلب الأسانيد.
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: «العلم ثلاثةٌ: آيةٌ مُحكمَةٌ أو سُنَّةٌ قائمةٌ، أو فريضةٌ عادلةٌ، وما سوى ذلك فهو فضلٌ» رواه أبو داود وابن ماجه، قال في «شرح المشكاة»: والتَّعريف في «العلم» للعهد، وهو ما عُلِمَ من الشَّارع، وهو العلم النَّافع في الدِّين، وحينئذٍ العلم مطلقٌ، فينبغي تقييده بما يُفهَم منه المقصود، فيُقال: علم الشَّريعة معرفة ثلاثة أشياء، والتَّقسيم حاصرٌ، وبيانه: أن قوله: «آيةٌ محكمةٌ» يشتمل على معرفة كتاب الله تعالى وما يتوقَّف عليه معرفته؛ لأنَّ المُحكَمة هي التي أُحكِمت عبارتُها،
নিশ্চয়ই এই বিষয়টি দ্বীনের অন্যতম শক্তিশালী রুকন এবং ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) সবচেয়ে মজবুত হাতল। কোনো সত্যবাদী মুত্তাকী ব্যক্তি ছাড়া কেউ এর প্রসারে আগ্রহী হয় না, আর হতভাগা মুনাফিক ছাড়া কেউ এ থেকে বিমুখ হয় না। ইবনুল কাত্তান বলেন: পৃথিবীতে এমন কোনো বিদআতী নেই যে আহলে হাদীসদের ঘৃণা করে না। আল-হাকিম বলেন: যদি সনদ সংরক্ষণের জন্য মুহাদ্দিসদের এক বিশাল দল না থাকত, তবে ইসলামের মিনার বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং নাস্তিক ও বিদআতীরা হাদীস জাল করার ও সনদ ওলটপালট করার সুযোগ পেয়ে যেত।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «ইলম (জ্ঞান) হলো তিন প্রকার: সুস্পষ্ট আয়াত, সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ অথবা সুষম ফরয বিধান। এছাড়া বাকি যা কিছু আছে তা অতিরিক্ত জ্ঞান হিসেবে গণ্য»। এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ‘শরহে মিশকাত’-এ বলা হয়েছে: ‘আল-ইলম’ শব্দে আলিফ-লাম ব্যবহৃত হয়েছে সুনির্দিষ্ট ইলম বোঝাতে, যা শরীয়ত প্রবর্তকের নিকট থেকে প্রাপ্ত। আর তা হলো দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী জ্ঞান। এমতাবস্থায় ‘ইলম’ শব্দটি অনাপেক্ষিক হলেও একে উদ্দিষ্ট অর্থ অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা উচিত। সুতরাং বলা হয়: শরীয়তের ইলম হলো তিনটি বিষয় অনুধাবন করা। এই বিভাজনটি অত্যন্ত নিবিড়। এর ব্যাখ্যা হলো: তাঁর বাণী «সুস্পষ্ট আয়াত» আল্লাহর কিতাব এবং যার ওপর এই কিতাবের জ্ঞান অর্জন নির্ভর করে—সেই সংক্রান্ত জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ মুহকাম হলো সেই আয়াত যার শব্দ বিন্যাস সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
بأن حُفِظت من الاحتمال والاشتباه، فكانت أمَّ الكتاب، فتُحمَل المتشابهات عليها وتُردُّ إليها، ولا يتمُّ ذلك إلَّا للماهر الحاذق في علم التَّفسير والتَّأويل، الحاوي لمقدِّماتٍ يُفتقَر إليها من الأصلين وأقسام العربيَّة، وقوله: «سُنَّةٌ قائمةٌ» معنى قيامها: ثَباتُها ودوامُها بالمُحافَظَة عليها، مِنْ «قامت السُّوق» إذا نَفَقَت؛ لأنَّها إذا حُوفِظ عليها كانت كالشَّيء النَّافق الذي تتوجَّه إليه الرَّغبات، ويتنافس فيه المحصِّلون بالطَّلِبات، ودوامُها: إمَّا أن يكون بحفظ أسانيدها من معرفة أسماء الرِّجال والجرح والتعديل، ومعرفة الأقسام مِنَ الصَّحيح والحسن والضَّعيف المتشعِّب منه أنواعٌ كثيرةٌ، وما يتَّصل بها من المتمِّمات ممَّا يُسمَّى علمَ الاصطلاح، ممَّا يأتي في الفصل الثَّالث إن شاء الله تعالى، وإما أن يكون بحفظ متونها من التَّغيير والتَّبديل؛ بالإتقان وتفهُّم معانيها واستنباط العلوم منها، كما سيأتي إن شاء الله تعالى
(1) في هذا الشَّرح بعون الله سبحانه؛ لأنَّ جُلَّها بل كلَّها من جوامع كَلِمِهِ التي اختُصَّ بها، لا سيَّما هذه الكلمة الفاذَّة الجامعة -مع قِصَر متنها وقُرْب طرقها- علومَ الأوَّلين والآخرين، وقوله: «أو فريضةٌ عادلةٌ» أي: مستقيمةٌ مُستَنبَطَةٌ من الكتاب والسُّنَّة والإجماع، وقوله: «وما سوى ذلك فهو فضلٌ» أي: لا مدخل له في أصل علوم الدِّين، بل ربَّما يُستعاذ منه حينًا، كقوله: «أعوذ بك من علمٍ لا ينفع»، ولله دَرُّ أبي بكرٍ حميدٍ القرطبيِّ، فلقد أحسن وأجاد حيث قال رحمه الله:
--------------------------------------------
কেননা এগুলোকে বহুবিধ সম্ভাবনা ও অস্পষ্টতা থেকে হেফাযত করা হয়েছে, ফলে এগুলো কিতাবের মূল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে; তাই অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে এগুলোর ওপর বিন্যস্ত করা হয় এবং এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করানো হয়। আর এটি কেবল তাফসীর ও তায়িল শাস্ত্রে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব, যিনি উসূলদ্বয় (দ্বীনের মূলনীতি ও ফিকহের মূলনীতি) এবং আরবী ভাষার বিভিন্ন শাখা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিষয়সমূহে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। এবং তাঁর বাণী: «সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাত» - এর অর্থ হলো: সংরক্ষণের মাধ্যমে এর স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা; এটি «বাজার জমে ওঠা» কথাটি থেকে গৃহীত যখন তা সচল হয়। কারণ যখন সুন্নাতকে সংরক্ষণ করা হয়, তখন এটি এমন এক সচল ও চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের মতো হয় যার প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয় এবং অর্জনকারীরা তা লাভের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আর এর স্থায়িত্ব দুইভাবে হতে পারে: হয় এর সনদসমূহ সংরক্ষণের মাধ্যমে—যা বর্ণনাকারীদের নাম জানা, জারহ ও তা'দীল (ত্রুটি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) এবং সহীহ, হাসান ও যয়ীফ (যা থেকে বহু প্রকারের উদ্ভব হয়) সম্পর্কে জ্ঞান রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়; সেই সাথে এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিপূরক বিষয়সমূহ যা ইলমুল ইসতিলাহ (পরিভাষা শাস্ত্র) নামে পরিচিত, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা তৃতীয় পরিচ্ছেদে আসবে। অথবা এর মতন বা পাঠসমূহকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষণের মাধ্যমে; যা গভীর মনোযোগ, অর্থ উপলব্ধি এবং তা থেকে বিভিন্ন ইলম উদ্ঘাটনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইনশাআল্লাহ তাআলা আসবে
(১)। কেননা এর অধিকাংশ—বরং এর পুরোটাই—হলো তাঁর ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ বাণী)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা কেবল তাঁকেই দান করা হয়েছে। বিশেষ করে এই অনন্য ও সারগর্ভ বাণীটি—যার পাঠ সংক্ষিপ্ত এবং সূত্রসমূহ নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও—তা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞানকে ধারণ করে আছে। এবং তাঁর বাণী: «অথবা সুষম ফরজ বিধান» অর্থাৎ: কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে উদ্ভূত সঠিক বিধান। এবং তাঁর বাণী: «যা এর অতিরিক্ত, তা হলো ফযল (উদ্বৃত্ত)» অর্থাৎ: দ্বীনের মৌলিক ইলমের সাথে এর কোনো প্রবেশাধিকার নেই, বরং কখনো কখনো তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়; যেমন তাঁর বাণী: «আমি আপনার কাছে এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা উপকারে আসে না»। আবু বকর হুমাইদ আল-কুরতুবী কতই না চমৎকার বলেছেন! তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও নিপুণভাবে বলেছেন (রাহিমাহুল্লাহ):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
نور الحديث مُبينٌ فَادْنُ واقتبسِ
… واحْدُ الرِّكابَ له نحو الرِّضى النَّدِسِ
واطلُبْهُ بالصِّين فهْو العلم إن رُفِعَتْ
… أعلامُه بِرُباها يا بن أندلسِ
فلا تُضِعْ في سوى تقييد شارِدِه
… عُمْرًا يفوتك بين اللَّحْظ والنَّفَسِ
হাদিসের নূর সুস্পষ্ট, অতএব নিকটবর্তী হও এবং আলো আহরণ করো
… আর প্রাজ্ঞ সন্তুষ্টির অভিমুখে এর তরে সওয়ারি পরিচালনা করো।
একে সুদূর চীনে গিয়ে হলেও অন্বেষণ করো, কেননা এটিই সেই ইলম যার নিশানসমূহ যদি
… তার উচ্চভূমিতে উড্ডীন হয়, হে আন্দালুস-তনয়!
অতএব এর বিক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করা ব্যতিরেকে এমন আয়ু নষ্ট করো না
… যা পলক ও নিঃশ্বাসের মাঝে তোমার হাত থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَخَلِّ سمْعَك عن بلوى أخي جَدِلٍ
… شُغْلُ اللَّبيبِ بها ضَرْبٌ من الهَوَسِ
ما إنْ سَمَتْ بأبي بكرٍ ولا عمرٍ
… ولا أتتْ عن أبي هِرٍّ ولا أَنَسِ
إلَّا هوًى وخصوماتٍ ملفَّقةٍ
… ليست برطْبٍ إذا عُدَّتْ ولا يَبَسِ
فلا يغرَّك من أربابها هَذَرٌ
… أجْدى وجدِّك منها نَغْمة الجَرَسِ
তুমি তোমার কর্ণকে বিতর্করত ব্যক্তির মুসিবত থেকে বিমুখ রাখো
… বুদ্ধিমান ব্যক্তির এতে নিমগ্ন হওয়া এক প্রকারের উম্মাদনা মাত্র।
এগুলো আবু বকর কিংবা উমরের নিকট শ্রুত হয়নি
… আর না এগুলো আবু হুরায়রা বা আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
এগুলো নিছক প্রবৃত্তি এবং বানোয়াট ঝগড়া-বিবাদ বৈ কিছু নয়
… যা বিচার করলে তার কোনো সারবস্তুই অবশিষ্ট থাকে না।
সুতরাং এর হোতাদের প্রলাপ যেন তোমাকে প্রলুব্ধ না করে
… তোমার কসম, তাদের এই কথার চেয়ে ঘণ্টার ধ্বনিও অধিক ফলপ্রসূ।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَعِرْهُمُ أُذُنًا صُمًّا إذا نطقوا
… وكُنْ إذا سألوا تُعزَى إلى خَرَسِ
(1)ما العلم إلَّا كتاب الله أو أَثَرٌ
… يَجْلُو بنور هُدَاه كلَّ ملتبِسِ
نورٌ لُمقتبِسٍ، خيرٌ لُملتمِسٍ
… حِمًى لمُحترِسٍ، نُعْمَى لمُبْتَئِسِ
فاعكُف ببابِهما على طِلابِهما
… تَمْحُ العَمَى بهما عن كلِّ ملتمِسِ
(2)--------------------------------------------
তারা কথা বললে তাদের প্রতি বধির কান পাতো
… আর তারা প্রশ্ন করলে এমন হও যেন তোমার প্রতি মূকতা বা বোবা হওয়ার সম্বন্ধ করা হয়।
(১)ইলম তো কেবল আল্লাহর কিতাব অথবা আছার (রাসূল ও সাহাবীদের বর্ণনা)
… যা এর হিদায়াতের আলো দিয়ে সকল অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করে দেয়।
আলো সন্ধানীর জন্য এটি এক নূর, কল্যাণ কামনাকারীর জন্য এক পরম কল্যাণ
… সতর্ক ব্যক্তির জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়, আর দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য এক মহান নেয়ামত।
সুতরাং এই দুটির অন্বেষণে এগুলোর দ্বারে পড়ে থাকো
… এই দুটির মাধ্যমেই তুমি প্রত্যেক সত্যান্বেষীর অন্ধত্ব দূর করবে।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَرِدْ بقلبك عَذْبًا من حياضه
… ماتَغْسِل بماء الهدى ما فيه من دنَسِ
واقْفُ النَّبيَّ وأتباع النَّبيِّ وكُنْ
… من هديهم أبدًا تدنو إلى قَبَسِ
والزم مَجالسَهم واحفظ محاسنهم
… واندُب مدارسَهم بالأربُع الدُّرُسِ
واسلك طريقهمُ واتْبعْ فريقهمُ
… تكن رفيقهمُ في حَضْرةِ القُدُسِ
تِلكَ السَّعادةُ إن تُلْمِم بساحتها
… فَحُطَّ رَحْلكَ قد عُوفِيت من تَعَسِ
তোমার অন্তর নিয়ে তাঁর হাউজের সুমিষ্ট প্রস্রবণে উপস্থিত হও
… যাতে তুমি হিদায়াতের পানি দিয়ে অন্তরের অপবিত্রতা ধুয়ে ফেলতে পারো।
নবী ও নবীর অনুসারীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং সর্বদা
… তাঁদের হিদায়াত থেকে আলোকবর্তিকার নিকটবর্তী হও।
তাঁদের মজলিসগুলোকে আঁকড়ে ধরো এবং তাঁদের গুণাবলি স্মরণ রাখো
… আর তাঁদের বিলীন হয়ে যাওয়া শিক্ষা নিকেতনগুলোর জন্য বিলাপ করো।
তাঁদের পথে চলো এবং তাঁদের দলের অনুসারী হও
… তবেই তুমি পবিত্রতম সান্নিধ্যে তাঁদের সঙ্গী হতে পারবে।
এটাই প্রকৃত সৌভাগ্য যদি তুমি তার আঙিনায় উপনীত হতে পারো
… তবে তোমার যাত্রার সরঞ্জাম নামিয়ে রাখো, কেননা তুমি দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পেয়েছ।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ومن شرف أهل الحديث ما رويناه من حديث عبد الله بن مسعودٍ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ أولى النَّاس بي يوم القيامة أكثرُهم عليَّ صلاةً»، قال التِّرمذيُّ: حديثٌ
(1) حسنٌ غريبٌ، وفي سنده موسى بن يعقوب الزَّمعيُّ، قال الدَّارقطنيُّ: إنَّه تفرَّد به، وقال ابن حِبَّان في «صحيحه»: في هذا الحديث بيانٌ صحيحٌ على أنَّ أولى النَّاس برسول الله صلى الله عليه وسلم في القيامة أصحابُ الحديث؛ إذ ليس من هذه الأمَّة قومٌ أكثر صلاةً عليه منهم. وقال غيره: المخصوص بهذا الحديث نَقَلَة الأخبار الذين يكتبون الأحاديث، ويذبُّون عنها الكذب آناء اللَّيل وأطراف النَّهار، وقال الخطيب في كتابه «شرف أصحاب الحديث»: قال لنا أبو نُعيمٍ: هذه مَنقَبةٌ شريفةٌ يختصّ بها رواة الآثار ونَقَلتُها؛ لأنَّه لا يُعرَف لِعصابةٍ من العلماء من الصَّلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر ما يُعرَف لهذه العِصابة نسخًا وذكرًا، وقال أبو اليُمْن بن عساكرَ:
--------------------------------------------
আহলে হাদিস বা হাদিসবেত্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমাদের বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যারা আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে»। ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি একটি হাদিস
(১) যা হাসান গরীব। এর সনদে মুসা ইবনে ইয়াকুব আল-জাময়ি রয়েছেন। দারা কুতনী বলেন: তিনি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে বলেন: «এই হাদিসে এই মর্মে একটি সঠিক বর্ণনা রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হবেন আসহাবুল হাদিস বা হাদিসবেত্তাগণ; কারণ এই উম্মতের মধ্যে তাদের চেয়ে বেশি দরুদ পাঠকারী আর কোনো দল নেই»। অন্য একজন বলেছেন: «এই হাদিসের বিশেষ উদ্দেশ্য হলো সেই সব হাদিস বাহক যারা হাদিসসমূহ লিখে রাখেন এবং দিবা-রাত্রি তা থেকে মিথ্যা প্রতিহত করেন»। আল-খতিব তার ‘শরাফু আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থে বলেন: আবু নুআইম আমাদের বলেছেন: «এটি একটি মহান মর্যাদা যা কেবল হাদিস ও আসার বর্ণনাকারী ও বাহকদের জন্যই নির্দিষ্ট; কারণ আলেমদের কোনো দলের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এত অধিক দরুদ পাঠের কথা জানা যায় না, যা এই দলের ক্ষেত্রে অনুলিপি তৈরি ও আলোচনার মাধ্যমে জানা যায়»। এবং আবুল ইয়ামন ইবনে আসাকির বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
لِيُهْنَ أهل الحديث كثَّرهم الله تعالى هذه البشرى، فقد أتمَّ الله تعالى نِعَمَه عليهم بهذه الفضيلة الكبرى، فإنَّهم أولى النَّاس بنبيِّهم صلى الله عليه وسلم، وأقربهم -إن شاء الله تعالى- وسيلةً يوم القيامة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنَّهم يخلِّدون ذكره في طروسهم
(1)، ويجدِّدون الصَّلاة والتَّسليم عليه في معظم الأوقات في مجالس مذاكرتهم وتحديثهم ودروسهم، فهم إن شاء الله تعالى الفِرقةُ النَّاجية، جعلنا الله تعالى منهم، وحشرنا في زمرتهم، آمين.
--------------------------------------------
আহলে হাদিসগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন—এই সুসংবাদে আনন্দিত হোন; কেননা আল্লাহ তাআলা এই মহা শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁরা তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ এবং কিয়ামতের দিন তাঁরাই—আল্লাহ তাআলা চাইলে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী হবেন। কেননা তাঁরা তাঁদের পাণ্ডুলিপিগুলোতে
(১) তাঁর আলোচনাকে চিরস্থায়ী করেন এবং তাঁদের আলোচনা, হাদিস বর্ণনা ও পাঠদানের মজলিসসমূহে অধিকাংশ সময় তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার বিষয়টিকে নবায়ন করেন। সুতরাং তাঁরাই—আল্লাহ তাআলা চাইলে—মুক্তিপ্রাপ্ত দল; আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাঁদের দলেই আমাদের হাশর করুন। আমীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الفصل الثَّانيفي ذكر أوَّل مَن دوَّن الحديث والسُّنن ومَن تلاه في ذلك سالكًا أَحْسَنَ السُّنن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদহাদিস ও সুন্নাহ সর্বপ্রথম সংকলনকারীদের বর্ণনায় এবং যারা সেই বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বন করেছেন তাঁদের বর্ণনায়
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
اعلم أنَّه لم يَزَلِ الحديث النَّبويُّ -والإسلامُ غضٌّ طريٌّ، والدِّين مُحكَمُ الأساسِ قويٌّ- أشرفَ العلوم وأجلَّها لدى الصَّحابة والتَّابعين وأتباعهم خلفًا بعد سلفٍ، لا يشرُف بينهم أحدٌ بعد حفظ التَّنزيل إلَّا بقدر ما يحفظ منه، ولا يعظم في النُّفوس إلَّا بحسب ما سُمِعَ من الحديث عنه، فتوفَّرت الرَّغبات فيه، وانقطعت الهمم على تعلُّمه، حتَّى رحلوا المراحل ذوات العدد، وأفنَوا الأموال والعُدَد، وقطعوا الفيافي في طلبه، وجابوا البلاد شرقًا وغربًا بسببه،
জেনে রাখুন যে, নবিজির হাদিস সর্বদা—যখন ইসলাম ছিল সজীব ও সতেজ এবং দ্বীনের ভিত্তি ছিল সুদৃঢ় ও শক্তিশালী—সাহাবি, তাবিঈ এবং ধারাবাহিকভাবে তাদের পরবর্তী অনুসারীদের নিকট ইলমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও মহান হিসেবে গণ্য ছিল। তাদের মাঝে কুরআন হিফজ করার পর কেউ ততটুকু ব্যতীত মর্যাদা লাভ করতেন না যতটুকু তিনি হাদিস হিফজ করেছেন। আর মানুষের অন্তরে কারও মহিমা ততটুকুই বৃদ্ধি পেত যতটুকু তার থেকে হাদিস শ্রবণ করা হতো। ফলে এর প্রতি আগ্রহের আধিক্য দেখা দিল এবং তা শিখতে সকল সংকল্প নিবিষ্ট হলো; এমনকি তারা অসংখ্য মঞ্জিল সফর করলেন, অঢেল সম্পদ ও পাথেয় নিঃশেষ করলেন, এর সন্ধানে জনমানবহীন মরুপ্রান্তর পাড়ি দিলেন এবং এর কারণে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশসমূহ চষে বেড়ালেন।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وكان اعتمادُهم أوَّلًا على الحفظ والضَّبط في القلوب والخواطر، غير مُلْتفتين إلى ما يكتبونه، ولا معوِّلين على ما يَسْطُرونه، وذلك لسرعة حفظهم وسيلان أذهانهم، فلمَّا انتشر الإسلام واتَّسعت الأمصار، وتفرَّقت الصَّحابة في الأقطار، وكثُرت الفتوحات، ومات معظم الصَّحابة، وتفرّق أصحابهم وأتباعهم، وقلَّ الضَّبط واتَّسع الخَرْق، وكاد الباطل أن يلتبس بالحقِّ؛ احتاج العلماء إلى تدوين الحديث وتقييده بالكتابة، فمارسوا الدَّفاتر،
এবং প্রাথমিকভাবে তাদের নির্ভরতা ছিল অন্তর ও চিন্তাশক্তিতে মুখস্থ রাখা এবং সংরক্ষণের ওপর; তারা যা লিখতেন তার প্রতি তারা ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং যা লিপিবদ্ধ করতেন তার ওপর নির্ভর করতেন না। আর তা ছিল তাদের মুখস্থ করার দ্রুতগতি ও মেধার প্রখরতার কারণে। অতঃপর যখন ইসলাম প্রসারিত হলো এবং শহর-নগর বিস্তৃত হলো, আর সাহাবীগণ দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়লেন এবং বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পেল; যখন অধিকাংশ সাহাবী মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁদের সঙ্গী ও অনুসারীগণ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন; যখন মুখস্থর নির্ভুলতা কমে গেল এবং সমস্যার পরিধি বিস্তৃত হলো, এমনকি বাতিল সত্যের সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম হলো; তখন বিদ্বানগণ হাদীস সংকলন এবং তা লেখার মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন, ফলে তাঁরা খাতা বা পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করতে শুরু করলেন।
(খণ্ড: ١)
ইরশাদুস সারী লি-শারহি সহীহিল বুখারী - ত্বা আত্বাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وسامروا المحابر، وأجالوا في نظم قلائده أفكارَهم، وأنفقوا في تحصيله أعمارَهم، واستغرقوا لتقييده ليلَهم ونهارَهم، فأبرزوا تصانيفَ كَثُرَت صنوفُها، ودوَّنوا دواوين ظهرت شفوفها، فاتَّخذها العالَمُون قدوةً،
তারা দোয়াতের সান্নিধ্যে রাত্রি অতিবাহিত করেছেন, এর মণিহারসম রচনা বিন্যাসের কাজে নিজেদের চিন্তাশক্তিকে নিয়োজিত করেছেন, তা অর্জনে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করার নিমিত্তে দিন ও রজনীকে উৎসর্গ করেছেন। ফলে তারা এমন সব গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন যার প্রকার ছিল বহু এবং এমন সব সংকলন লিপিবদ্ধ করেছেন যার উৎকর্ষ প্রকাশিত হয়েছে, অতঃপর বিশ্ববাসী সেগুলোকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে।