(খণ্ড: ১) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: -)
الجرح والتعديل - ابن أبي حاتم   (ابن أبي حاتم)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الجرح والتعديل

المؤلف: أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم محمد بن إدريس بن المنذر التميمي الحنظلي الرازي (ت 327 هـ)

الناشر: مطبعة مجلس دائرة المعارف العثمانية، بحيدر آباد الدكن - الهند

الطبعة: الأولى، 1371 هـ - 1952 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জারহ ওয়া আত-তাদীল - ইবনে আবি হাতিম   (ইবনে আবি হাতিম)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


গ্রন্থ: আল-জারহ ওয়া আত-তাদীল

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম মুহাম্মদ বিন ইদরিস বিন আল-মুনজির আত-তামিমি আল-হানজালি আর-রাজি (মৃ. ৩২৭ হি.)

প্রকাশক: মাজলিস দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া ছাপাখানা, হায়দ্রাবাদ ডেকান - ভারত

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৭১ হি. - ১৯৫২ খ্রি.

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١)
تقدمة المعرفة لكتاب الجرح والتعديل

تأليف الامام الحافظ شيخ الاسلام ابى محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم محمد بن إدريس بن المنذر التميمي الحنظلي الرازي

(المتوفى 327 هـ رحمه الله

 

عن النسخة المحفوظة في كوپريلى [تحت رقم 278] وعن النسخة لمحفوظة في مكتبة مراد ملا [تحت رقم 1427] وعن النسخة المحفوظة في مكتبة دار الكتب المصرية [تحت رقم 892]

 

الطبعة الاولى

 

بمطبعة مجلس دائرة المعارف العثمانية - بحيدر آباد الدكن - الهند سنة 1271 هـ 1952 م

 

دار إحياء التراث العربي - بيروت

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى الانسان يفتقر في دينه ودنياه إلى معلومات كثيرة لا سبيل له إليها الا بالاخبار، واذ كان يقع في الاخبار الحق والباطل والصدق والكذب والصواب والخطأ فهو مضطر إلى تمييز ذلك.

وقد هيأ الله تبارك وتعالى لنا سلف صدق حفظوا لنا جميع ما نحتاج إليه من الاخبار في تفسير كتاب ربنا عزوجل، وسنة نبينا صلى الله عليه وسلم وآثار اصحابه، وقضايا القضاة، وفتاوى الفقهاء واللغة وآدابها والشعر، والتاريخ، وغير ذلك.

والتزموا وألزموا من بعدهم سوق تلك الاخبار بالاسانيد.

وتتبعوا احوال الرواة التى تساعد على نقد اخبارهم وحفظوها لنا في جملة ما حفظوا.

وتفقدوا احوال الرواة وقضوا على كل راو بما يستحقه، فميزوا من يجب الاحتجاج بخبره ولو انفر، ومن لا يجب الاحتجاج به الا إذا اعتضد، ومن لا يحتج به ولكن يستشهد، ومن يعتمد عليه في حال دون اخرى، وما دون ذلك من متساهل ومغفل وكذاب.

وعمدوا إلى الاخبار فانتقدوها وفحصوها وخلصوا لنا منها ما ضمنوه كتب الصحيح، وتفقدوا الاخبار التى ظاهرها الصحة وقد عرفوا بسعة هلمهم ودقة فهمهم ما يدفعها عن
আল-জারহ ওয়াত তাদিল (الجرح والتعديل) গ্রন্থের পরিচিতি ও জ্ঞানতত্ত্ব

লিখেছেন: ইমাম, হাফিজ (الحافظ), শায়খুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনুল মুনজির আত-তামিমি আল-হানজালি আর-রাজি

(মৃত্যু ৩২৭ হিজরি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)

 

কোপরিলি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি [নং ২৭৮], মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি [নং ১৪২৭] এবং মিশরের দারুল কুতুব লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি [নং ৮৯২] অবলম্বনে।

 

প্রথম সংস্করণ

 

মজলিসে দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া প্রেস - হায়দ্রাবাদ ডেকান - ভারত, ১৩৭১ হিজরি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত

 

দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরবি - বৈরুত

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। মানুষ তার দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে এমন অনেক তথ্যের মুখাপেক্ষী হয় যা সংবাদ (الأخبار) ব্যতীত লাভ করার কোনো উপায় নেই। যেহেতু সংবাদসমূহের (الأخبار) মধ্যে সত্য ও মিথ্যা, সততা ও প্রবঞ্চনা এবং সঠিক ও ভুলের সংমিশ্রণ থাকে, তাই সে এই সবের মধ্যে পার্থক্য করতে বাধ্য।

মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমাদের জন্য এমন এক সত্যনিষ্ঠ পূর্বসূরি দল প্রস্তুত করেছেন যারা আমাদের রবের কিতাবের তাফসির, আমাদের নবী (সা.)-এর সুন্নাহ, সাহাবায়ে কিরামের আছার (الآثار), বিচারকদের রায়, ফকিহদের ফতোয়া, ভাষা ও তার অলঙ্কার, কবিতা, ইতিহাস এবং আরও অন্যান্য বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় সকল সংবাদ (الأخبار) সংরক্ষণ করেছেন।

তারা নিজেরা সেই সংবাদসমূহ (الأخبار) সনদ (الأسانيد) সহযোগে বর্ণনা করার নীতি অনুসরণ করেছেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও এর ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা অনুসন্ধান করেছেন যা তাদের বর্ণিত সংবাদ (الأخبار) যাচাই-বাছাই (نقد) করতে সাহায্য করে এবং তারা সেগুলো আমাদের জন্য তাদের সংরক্ষিত অন্যান্য বিষয়ের সাথে হিফাজত করেছেন।

তারা বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীর (الرواة) ব্যাপারে তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী বিচার করেছেন। ফলে তারা পৃথক করেছেন কার সংবাদ (الأخبار) এককভাবে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা ওয়াজিব, আর কার সংবাদ অন্য কোনো বর্ণনার সমর্থন ব্যতীত দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা যাবে না। এছাড়া কার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা যাবে না কিন্তু সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ (يستشهد) করা যাবে। কার ওপর এক অবস্থায় নির্ভর করা যাবে কিন্তু অন্য অবস্থায় নয়। এ ছাড়াও যারা শিথিলতা প্রদর্শনকারী (متساهل), অসতর্ক (مغفل) এবং চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) তাদেরও তারা চিহ্নিত করেছেন।

তারা সংবাদসমূহকে (الأخبار) গ্রহণ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং আমাদের জন্য সেই বর্ণনাগুলো পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন যা তারা সহিহ কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারা সেই সংবাদসমূহও (الأخبار) অনুসন্ধান করেছেন যেগুলোর বাহ্যিক রূপ সহিহ (الصحيح) মনে হয়, কিন্তু তারা তাদের জ্ঞানের প্রশস্ততা ও সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার মাধ্যমে সেই সব সূক্ষ্ম কারণ চিহ্নিত করেছেন যা সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢)
ب.

الصحة فشرحوا عللها وبينوا خللها وضمنوها كتب العلل، وحاولوا مع ذلك اماتة الاخبار الكاذبة فلم ينقل افاضلهم منها الا ما احتاجوا إلى ذكره للدلالة على كذب رواية أو وهنه، ومن تسامح من متأخريهم فروى كل ما سمع فقد بين ذلك ووكل الناس إلى النقد الذى قد مهدت قواعده ونصبت معالمه.

فبحق قال المستشرق المحقق مر جليوت (ليفتخر المسلمون ما شاءوا بعلم حديثهم) .

علم الجرح والتعديل (هو علم يبحث فيه عن جرح الرواة وتعديلهم بالفاظ مخصوصة وعن مراتب تلك الالفاظ، وهذا العلم من فروع علم رجال الاحاديث ولم يذكره احد من اصحاب الموضوعات مع انه فرع عظيم والكلام في الرجال جرحا وتعديلا ثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم عن كثير من الصحابة والتابعين فمن بعدهم، وجوز ذلك تورعا وصونا للشريعة لا طعنا في الناس، وكما جاز الجرح في الشهود جاز في الرواة، والتثبيت في امر الدين اولى من التثبيت في الحقوق والاموال، فلهذا افترضوا على انفسهم الكلام في ذلك) .

النقد والنقاد ليس نقد الرواة بالامر الهين، فان الناقد لا بد أن يكون واسع الاطلاع على الاخبار المروية، عارفا بأحوال الرواة السابقين وطرق الرواية، خبيرا بعوائد الرواة ومقاصدهم واغراضهم، وبالاسباب الداعية إلى التساهل والكذب، والموقعة في الخطأ والغلط، ثم يحتاج إلى ان يعرف احوال الراوى متى ولد؟ وبأى بل؟ وكيف هو في
ব.

সঠিকতা (الصحة); তারা এর গোপন ত্রুটিসমূহ (علل) ব্যাখ্যা করেছেন, এর মধ্যস্থ বিচ্যুতিসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং এগুলোকে 'ইল্লাল' বিষয়ক গ্রন্থসমূহে সংকলিত করেছেন। এর পাশাপাশি তারা মিথ্যা সংবাদসমূহকে সমূলে বিনাশ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ কেবল ততটুকুই উদ্ধৃত করেছেন যতটুকু কোনো বর্ণনার মিথ্যা হওয়া কিংবা এর দুর্বলতা (وهن) প্রমাণের জন্য প্রয়োজন ছিল। আর পরবর্তী প্রজন্মের যারা শিথিলতা (التساهل) প্রদর্শন করেছেন এবং যা শুনেছেন তাই বর্ণনা করেছেন, তারা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন এবং মানুষকে সেই পর্যালোচনার (النقد) ওপর সোপর্দ করেছেন যার নীতিমালা পূর্বেই সুসংহত করা হয়েছে এবং যার মানদণ্ডসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

যথার্থই গবেষক প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ বলেছেন, "মুসলিমরা তাদের হাদিস বিজ্ঞান নিয়ে যতটা ইচ্ছা গর্ব করতে পারে।"

জেরা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই বিজ্ঞান (علم الجرح والتعديل): (এটি এমন এক বিজ্ঞান যেখানে সুনির্দিষ্ট শব্দমালার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের (الرواة) জেরা (جرح) এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) এবং সেই শব্দমালার স্তরসমূহ (مراتب) নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই বিজ্ঞানটি হাদিসের বর্ণনাকারী বিষয়ক বিজ্ঞানের একটি শাখা। বিষয়ভিত্তিক রচয়িতাদের কেউ এটি উল্লেখ করেননি, যদিও এটি একটি মহান শাখা। বর্ণনাকারীদের বিষয়ে জেরা (جرحا) এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديلا) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, অতঃপর অনেক সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ী (التابعين) এবং তাদের পরবর্তীগণের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত। তাকওয়া (تورع) এবং শরিয়তকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এটি বৈধ করা হয়েছে, মানুষের কুৎসা রটানোর জন্য নয়। যেভাবে সাক্ষীদের ক্ষেত্রে জেরা (الجرح) বৈধ, বর্ণনাকারীদের (الرواة) ক্ষেত্রেও তা বৈধ। আর দ্বীনি বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা অধিকার ও সম্পদের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য। একারণেই তারা এ বিষয়ে আলোচনা করাকে নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছেন।)

পর্যালোচনা ও পর্যালোচকগণ (النقد والنقاد): বর্ণনাকারীদের (الرواة) পর্যালোচনা (نقد) করা কোনো সহজ বিষয় নয়। কেননা পর্যালোচকের (الناقد) জন্য বর্ণিত সংবাদসমূহ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। তাকে পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা ও বর্ণনার পদ্ধতিসমূহ (طرق الرواية) সম্পর্কে অবগত হতে হয়। বর্ণনাকারীদের (الرواة) অভ্যাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং যেসব কারণ তাদের শিথিলতা (التساهل) ও মিথ্যার (الكذب) দিকে ধাবিত করে এবং ভুল (الخطأ) ও ভ্রান্তির (الغلط) মধ্যে ফেলে দেয়, সে সম্পর্কে তাকে অভিজ্ঞ হতে হয়। এরপর তার প্রয়োজন হয় বর্ণনাকারীর (الراوى) অবস্থা জানার: তিনি কখন জন্মগ্রহণ করেছেন? কোন শহরে ছিলেন? এবং তিনি কেমন ছিলেন...
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٣)
ج.

الدين والامانة والعقل والمروءة والتحفظ؟ ومتى شرع في الطلب؟ ومتى سمع؟ وكيف سمع؟ ومع من سمع؟ وكيف كتابه؟: ثم يعرف احوال الشيوخ الذين يحدث عنهم وبلدانهم ووفياتهم واوقات تحديثهم وعادتهم في التحديث، ثم يعرف مرويات الناس عنهم ويعرض عليها مرويات هذا الراوى ويعتبرها بها، إلى غير ذلك مما يطول شرحه، ويكون مع ذلك متيقظا، مرهف الفهم، دقيق الفطنة، مالكا لنفسه، لا يستميله الهوى ولا يستفزه الغضب، ولا يستخفه بادر ظن حتى يستوفى النظر ويبلغ المقر، ثم يحسن التطبيق في حكمه فلا يجاوز ولا يقصر.

وهذه المرتبة

بعيدة المرام عزيزة المنال لم يبلغها الا الافذاذ.

وقد كان من اكابر المحدثين وأجلتهم من يتكلم في الرواة فلا يعول عليه ولا يلتفت إليه.

قال الامام على ابن المدينى وهو من ائمة هذا الشأن (أبو نعيم وعفان صدوقان لا اقبل كلامهما في الرجال، هؤلاء لا يدعون احدا الا وقدعوا فيه) وابو نعيم وعفان من الاجلة، والكلمة المذكورة تدل على كثرة كلامهما.

في الرجال ومع ذلك لا تكاد تجد في كتب الفن نقل شئ من كلامهما.

ائمة النقد اشتهر بالامامة في ذلك جماعة كمالك بن انس وسفيان الثوري وشعبة بن الحجاج وآخرون قد ساق ابن ابى حاتم تراجم غالبهم مستوفاة في كتابه (تقدمة المعرفة لكتاب الجرح والتعديل) وذلك أنه رأى ان مدار الاحكام في كتاب الجرح والتعديل على اولئك الائمة، وأن الواجب ان لا يصل الناظر إلى احكامهم في الرواة حتى يكون قد عرفهم المعرفة التى تثبت في نفسه انهم أهل أن يصيبوا في
জ.

দীনদারী, বিশ্বস্ততা, মেধা, গাম্ভীর্য এবং সংরক্ষণ (التحفظ)? কখন তিনি ইলম অন্বেষণ শুরু করেছেন? কখন তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন? কীভাবে তিনি শ্রবণ করেছেন? কার সাথে শ্রবণ করেছেন? এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি বা কিতাব কেমন? অতঃপর সে সকল শায়খদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হয় যাদের থেকে তিনি হাদিস বর্ণনা করছেন; তাঁদের দেশ, মৃত্যুসাল, তাঁদের হাদিস বর্ণনা করার সময়কাল এবং তাঁদের বর্ণনার পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে হয়। এরপর ওই শায়খদের থেকে অন্য মানুষের বর্ণিত বর্ণনাগুলো (مرويات) জানতে হয় এবং সেগুলোর সাথে এই বর্ণনাকারীর (الراوى) বর্ণনাগুলো মিলিয়ে দেখতে হয় ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এর বাইরেও আরও অনেক বিষয় রয়েছে যার ব্যাখ্যা দীর্ঘ। এর পাশাপাশি তাকে অত্যন্ত সজাগ, প্রখর বোধসম্পন্ন, সূক্ষ্ম মেধাশক্তি সম্পন্ন এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত হতে হয়; কুপ্রবৃত্তি যেন তাকে বিচ্যুত না করে, রাগ যেন তাকে উত্তেজিত না করে এবং কোনো প্রকার ধারণা যেন তাকে বিচ্যুত না করে, যতক্ষণ না সে পুরোপুরি অনুসন্ধান সম্পন্ন করে এবং লক্ষ্যস্থলে পৌঁছায়। এরপর সে তার বিচারে সুন্দর প্রয়োগ করবে, ফলে সে সীমালঙ্ঘনও করবে না এবং অবহেলাও করবে না।

আর এই স্তরটি (المرتبة)

অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন এবং এর লক্ষ্য অনেক দূরে, যা কেবল অনন্য সাধারণ ব্যক্তিগণই অর্জন করতে পেরেছেন।

বড় বড় মুহাদ্দিসদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা বর্ণনাকারীদের (الرواة) ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু তাদের কথার ওপর নির্ভর করা হয় না এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করা হয় না।

ইমাম আলী ইবনে মাদিনী—যিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের একজন—বলেন: (আবু নুআইম এবং আফফান উভয়ই সত্যবাদী (صدوقان), কিন্তু রাবিদের (الرجال) ব্যাপারে আমি তাঁদের মন্তব্য গ্রহণ করি না। তাঁরা কাউকে বাদ দেন না, যাকেই পান তার সমালোচনা করেন)। অথচ আবু নুআইম এবং আফফান ছিলেন বড় মাপের আলেম। উল্লিখিত কথাটি রাবিদের ব্যাপারে তাঁদের অধিক সমালোচনা করার বিষয়টি নির্দেশ করে।

রাবিদের (الرجال) বিষয়ে হওয়া সত্ত্বেও এই শিল্পের কিতাবসমূহে তাঁদের থেকে কোনো কিছু উদ্ধৃত হতে দেখা যায় না।

একদল মনীষী সমালোচক ইমাম (ائمة النقد) হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন, যেমন: মালিক বিন আনাস, সুফিয়ান সাওরি, শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ এবং আরও অনেকে। ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'তাকদিমাতুল মা'রিফাহ লি-কিতাবিল জারহ ওয়াত তা'দিল' গ্রন্থে তাঁদের অধিকাংশের জীবনী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি মনে করতেন যে, জারহ ওয়াত তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের হুকুমগুলো ওই সকল ইমামদের ওপরই আবর্তিত হয়। আর গবেষকের জন্য এটি আবশ্যক যে, বর্ণনাকারীদের (الرواة) ব্যাপারে তাঁদের দেয়া হুকুম বা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে তাঁদের সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখা, যা মনে এই বিশ্বাস স্থাপন করবে যে তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্য।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٤)
د.

قضائهم، ويعدلوا في احكامهم، وان يقبل منهم ويستند إليهم ويعتمد عليهم.

ولنحو هذا المعنى يجدر بنا ان نقدم هنا ترجمة ابن ابى حاتم نفسه.

ابن ابى حاتم اسمه ونسبه هو عبد الرحمن بن محمد بن ادريس بن المنذر بن داود بن مهران أبو محمد بن ابى حاتم الحنظلي الرازي.

ذكر ابن السمعاني في الانساب 179 ب عن ابن طاهر قال (أبو حاتم الرازي الحنظلي منسوب إلى

درب حنظلة بالرى، وداره ومسجده في هذا الدرب رأيته ودخلته) ثم ساق ابن طاهر بسند له إلى ابن ابى حاتم قال (قال ابى: نحن من موالى بنى تميم بن حنظلة من غطفان) قال ابن طاهر: والاعتماد على هذا اولى والله اعلم) تعقبة ياقوت في معجم البلد ان (حنظلة) فقال (هذا وهم لان حنظلة هو حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم وليس في ولده من اسمه تميم، ولا في ولد غطفان بن سعد بن قيس عيلان من امسه تميم بن حنظلة البتة على ما اجمع عليه النسابون … ) فان صح السند إلى ابن ابى حاتم فهم من موالى بنى حنظلة من تميم، والتخليط ممن بعده.

مولده ونشأته وطلبه العلم ولد سنة 240 قال (ولم يدعنى ابى اطلب الحديث حتى قرأت القرآن على افضل بن شاذان) والفضل بن شاذان هذا من العلماء المقرئين.

ثم شرع في الطلب على ابيه الامام ابى حاتم الرازي والامام ابى زرعة عبيد الله بن عبد الكريم الرازي وغيرهما من محدثي بلده الرى.

ثم حج

তাদের বিচারকার্য এবং তারা যেন তাদের ফয়সালার ক্ষেত্রে ইনসাফ করেন। আর যেন তাদের নিকট থেকে (বর্ণনা) গ্রহণ করা হয় এবং তাদের ওপর নির্ভর ও আস্থা রাখা হয়।

আর এই অর্থের প্রেক্ষিতেই আমাদের জন্য এখানে খোদ ইবনে আবি হাতিম-এর জীবনী (ترجمة) উপস্থাপন করা সমীচীন।

ইবনে আবি হাতিম: তাঁর নাম ও বংশপরিচয় হলো—আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আল-মুনজির বিন দাউদ বিন মিহরান আবু মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম আল-হানজালি আর-রাজি।

ইবনে সামআনি আল-আনসাব গ্রন্থে (১৭৯/খ) ইবনে তাহির থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (আবু হাতিম আর-রাজি আল-হানজালি মূলত রেই শহরের ‘দারবে হানজালা’ (হানজালা গলি)-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সেখানে তাঁর ঘর ও মসজিদ ছিল, আমি তা দেখেছি এবং তাতে প্রবেশ করেছি)। অতঃপর ইবনে তাহির তাঁর একটি সনদের (سند) মাধ্যমে ইবনে আবি হাতিম পর্যন্ত বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (আমার পিতা বলেছেন: আমরা গাতফান গোত্রের বনু তামিম বিন হানজালার মুক্তদাস (موالى) ছিলাম)। ইবনে তাহির বলেন: এর ওপর নির্ভর করাই অধিকতর উত্তম, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ)। ইয়াকুত আল-হামাভি মুজামুল বুলদান গ্রন্থে ‘হানজালা’ শব্দের আলোচনায় এর সমালোচনা করে বলেন: (এটি একটি ভ্রান্তি; কারণ হানজালা হলেন হানজালা বিন মালিক বিন যায়েদ মানাত বিন তামিম। তাঁর সন্তানদের মাঝে ‘তামিম’ নামের কেউ নেই। তদ্রূপ গাতফান বিন সাদ বিন কাইস আয়লানের বংশধরদের মাঝেও ‘তামিম বিন হানজালা’ বলতে আদপে কেউ নেই—একথা সকল নসববিদদের (النسابون) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত … )। সুতরাং ইবনে আবি হাতিম পর্যন্ত যদি এই সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে তাঁরা তামিম গোত্রের বনু হানজালার মুক্তদাস (موالى) ছিলেন, আর সংমিশ্রণ বা বিভ্রান্তিটি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে ঘটেছে।

তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ: তিনি ২৪০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বলেন: (আমার পিতা আমাকে হাদিস অন্বেষণ করতে দেননি যতক্ষণ না আমি ফজল বিন শাযান-এর নিকট কুরআন পাঠ সম্পন্ন করি)। আর এই ফজল বিন শাযান ছিলেন ক্বারী (المقرئين) আলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর তিনি তাঁর পিতা ইমাম আবু হাতিম আর-রাজি এবং ইমাম আবু জুরআ উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল কারিম আর-রাজি এবং রেই শহরের অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের (محدثي) নিকট জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন।

অতঃপর তিনি হজ করেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٥)
هـ.

به ابوه سنة 255 ذكر ذلك في ترجمة ابيه من التقدمة.

وفى تذكرة الحفاظ عنه (رحل بى ابى سنة خمس وخمسين [ومائتين] وما احتملت بعد، فلما بلغنا ذا الحليفة احتلمت، فسر أبى حيث ادركت حجة الاسلام) .

وفى التذكرة ايضا (قال أبو الحسن على بن ابراهيم الرازي الخطيب في ترجمة عملها لعبد الرحمن ( … ، ثم قال أبو الحسن: رحل مع ابيه، وحج مع محمد بن حماد الطهراني، ورحل بنفسه إلى الشام

ومصر سنة 262 ثم رحل إلى اصبهان سنة 264) ولم تورخ سنة حجه مع الطهراني، وفى كتابه في ترجمة الطهراني (سمعت منه مع ابى بالرى، وببغداد واسكندرية) وفى التذكرة عنه (كنا بمصر سبعة اشهر لم نأكل فيها مرقة، نهارنا ندور على الشيوخ، وباليل ننسخ ونقابل: فأتينا يوما انا ورفيق لى شيخا، فقالوا هو عليل، فرأيت سمكة اعجبتنا فاشتر يناها فلما صرنا إلى البيت حضر وقت مجلس بعض الشيوخ فمضينا فلم تزل السمكة ثلاثة ايام وكاد ان ينضى فأكلناه نيئا لم نتفرغ نشويه.

ثم قال: لا يستطاع العلم براحة الجسد) .

مشايخه والرواة عنه ذكر الذهبي في التذكرة جماعة من قدماء شيوخ ابن ابى حاتم الذين ماتوا سنة 256 فما بعدها إلى الستين، منهم عبد الله بن سعيد أبو سعيد الاشج، وعلى بن المنذر الطريفي، والحسن بن عرفة، ومحمد بن حسان الازرق، ومحمد بن عبد الملك بن زنجويه، وحجاج بن الشاعر، ومحمد بن اسماعيل الاحمسي.

ومن ائمة شيوخه ابوهع، وأبو زرعة الرازي، ومحمد بن مسلم ابن وارة، وعلى بن الحسين بن الجنيد، ومسلم بن الحجاج صاحب الصحيح،
হিজরি (هـ).

তাঁর পিতা তাঁকে ২৫৫ হিজরিতে সাথে নিয়ে বের হয়েছিলেন; এ কথা তাঁর পিতার জীবনীতে (ترجمة) 'আত-তাকদিমাহ' অংশে বর্ণিত হয়েছে।

এবং 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: (আমার পিতা আমাকে দুইশত পঞ্চান্ন হিজরিতে সঙ্গে নিয়ে সফর শুরু করেন, তখনো আমি প্রাপ্তবয়স্ক হইনি। যখন আমরা যুল-হুলাইফায় পৌঁছালাম, তখন আমি স্বপ্নদোষের মাধ্যমে সাবালক হলাম। এতে আমার পিতা আনন্দিত হলেন, যেহেতু আমি ইসলামের ফরজ হজ (حجة الإسلام) আদায়ের সময়টি পেয়ে গেলাম)।

এবং 'তাযকিরা' গ্রন্থে আরও রয়েছে (আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহিম আর-রাজি আল-খতিব আব্দুর রহমানের জন্য রচিত জীবনীতে (ترجمة) বলেছেন: … , অতঃপর আবুল হাসান বলেন: তিনি তাঁর পিতার সাথে সফর করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাম্মাদ আত-তিহরানির সাথে হজ করেছেন এবং ২৬২ হিজরিতে নিজে শামে

ও মিশরে সফর করেছেন, অতঃপর ২৬৪ হিজরিতে ইসফাহানে সফর করেছেন)। তিহরানির সাথে তাঁর হজের সালটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাঁর কিতাবে তিহরানির জীবনীতে (ترجمة) বলা হয়েছে: (আমি আমার পিতার সাথে তাঁর নিকট থেকে রয়, বাগদাদ ও আলেকজান্দ্রিয়ায় শুনেছি)। 'তাযকিরা' গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: (আমরা মিশরে সাত মাস অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু এই সময়ে একবারও ঝোল বা তরকারি খাওয়ার সুযোগ পাইনি। সারা দিন আমরা শিক্ষকদের (شيوخ) দ্বারে ঘুরে বেড়াতাম এবং রাতে অনুলিপি (ننسخ) করতাম ও মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে (نقابل) দেখতাম। একদিন আমি ও আমার এক সহপাঠী একজন শিক্ষকের (شيخ) নিকট গেলাম, লোকেরা বলল তিনি অসুস্থ। ফেরার পথে আমরা একটি মাছ দেখে পছন্দ হওয়ায় তা কিনে নিলাম। কিন্তু বাড়ি পৌঁছামাত্রই অন্য কয়েকজন শিক্ষকের মজলিসের সময় হয়ে গেল, তাই আমরা সেখানে চলে গেলাম। এভাবে তিন দিন পর্যন্ত মাছটি পড়ে থাকল এবং নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলো। পরিশেষে আমরা তা কাঁচাই খেয়ে ফেললাম, কারণ মাছটি ঝলসানোর মতো অবসর আমাদের ছিল না।

অতঃপর তিনি বলেন: শারীরিক আরাম-আয়েশের মাধ্যমে ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়)।

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ (رواة): ইমাম যাহাবি 'তাযকিরা' গ্রন্থে ইবনে আবু হাতিমের সেই সকল প্রাচীন শিক্ষকদের (شيوخ) একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন যারা ২৫৬ হিজরি থেকে পরবর্তী ২৬০ হিজরির মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আবু সাঈদ আল-আশাজ, আলী ইবনে আল-মুনযির আত-তারিফি, হাসান ইবনে আরাফাহ, মুহাম্মাদ ইবনে হাসসান আল-আযরাক, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে যানজুয়াহ, হাজ্জাজ ইবনে আশ-শাইর এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আহমাসি।

তাঁর ইমাম পর্যায়ের শিক্ষকদের (شيوخ) মধ্যে রয়েছেন তাঁর পিতা, আবু যুরআহ আর-রাজি, মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারা, আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ এবং 'সহিহ' প্রণেতা মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٦)
و.

وجماعة كثيرة، ومن الرواة عنه الحسين بن على حسينك التميمي الحافظ، وابو الشيخ عبد الله بن محمد بن حيان الاصبهاني الحافظ، وعلى بن عبد العزيز ابن مدرك، وابو احمد الحاكم الكبير، واحمد بن محمد البصير، وعبد الله ابن محمد بن اسد، وحمد الاصبهاني، وابراهيم بن محمد النصراباذى،

واحمد بن محمد بن يزداذ، وعلى بن محمد القصار، وابو حاتم بن حبان الستى صاحب الثقات ذكر ذلك في ترجمة ابى حاتم الرازي من الثقات.

ثناء اهل العلم عليه قال أبو الحسن الرازي (كان رحمه الله قد كساه الله بهاء ونورا يسر من نظر إليه) وقال على بن احمد الفرضى (ما رأيت احدا ممن عرف عبد الرحمن ذكر عنه جهالة قط، ويروى ان اباه كان يتعجب من تعبد عبد الرحمن، ويقول: من يقوى على عبادة عبد الرحمن؟ لا اعرف له ذنبا) وقال أبو عبد الله القزويني (إذا صليت معابن ابى حاتم فسلم نفسك إليه يعمل بها ما شاء) وقال أبو يعلى الخيلى الحافظ (اخذ علم ابيه وابى زرعة وكان بحرا في العلوم ومعرفة الرجال صنف في الفقه واختلاف الصحابة والتابعين وعلماء الامصار..وكان زاهدا يعد من الابدال) وقال الخليلى في ترجمة ابى بكر بن ابى داود (كان يقال: ائمة ثلاثة في زمن واحد، ابن ابى داود، وابن خزيمة، وابن ابى حاتم) اقول قدم ذكر ابن ابى داود لانه في ترجمته والا فابن ابى حاتم اجل.

مع انه عاش مدة طويلة بعد ابن ابى داود وابن خزيمة، تفرد فيها بالامامة.

وفى لسان الميزان (1 / 265) (روى ابن صاعد ببغداد في ايامه حديثا اخطأ في اسناده فأنكره عليه ابن عقدة فخرج عليه اصحاب ابن صاعد وارتفعوا إلى الوزير على بن عيسى فحبس ابن عقدة

এবং এক বিশাল জামাত, আর তাঁর নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে রয়েছেন হাফিজ (حافظ) আল-হুসাইন বিন আলী হুসায়নাক আল-তামিমী, হাফিজ (حافظ) আবু আল-শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ান আল-আসবাহানী, আলী বিন আব্দুল আজিজ ইবনে মুদরিক, আবু আহমদ আল-হাকিম আল-কাবীর, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাসীর, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আসাদ, হামাদ আল-আসবাহানী, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-নাসরাবাদী,

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াজদাদ, আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাসসার এবং কিতাবুত থিকাত-এর রচয়িতা আবু হাতিম বিন হিব্বান আল-বুস্তী; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের তালিকায় আবু হাতিম আল-রাজীর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা: আবুল হাসান আল-রাজী বলেন, (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আল্লাহ তাঁকে এমন সৌন্দর্য ও নূর দ্বারা আবৃত করেছিলেন যা তাঁকে দর্শনকারীর অন্তরকে প্রফুল্ল করত)। আলী বিন আহমদ আল-ফারাজী বলেন, (আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি আব্দুর রহমানকে চিনতেন অথচ তাঁর সম্পর্কে কোনো অজ্ঞতা বা অপরিচিতি (جهالة) উল্লেখ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, তাঁর পিতা আব্দুর রহমানের ইবাদত দেখে বিস্মিত হতেন এবং বলতেন: আব্দুর রহমানের মতো ইবাদত করার শক্তি কার আছে? আমি তাঁর কোনো গুনাহ সম্পর্কে জানি না)। আবু আব্দুল্লাহ আল-কাযভিনী বলেন, (যখন আপনি ইবনে আবু হাতিমের সাথে সালাত আদায় করবেন, তখন নিজেকে তাঁর কাছে সঁপে দিন, তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করবেন)। হাফিজ (حافظ) আবু ইয়ালা আল-খালীলী বলেন, (তিনি তাঁর পিতা এবং আবু যুরআর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং তিনি ইলম ও বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানে (معرفة الرجال) সমুদ্রতুল্য ছিলেন। তিনি ফিকহ এবং সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) ও বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মতভেদ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন... তিনি দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ছিলেন এবং তাঁকে আবদালদের (ابدال) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো)। খালীলী, আবু বকর বিন আবু দাউদের জীবনীতে বলেন, (বলা হতো: একই সময়ে তিনজন ইমাম (ائمة) ছিলেন; ইবনে আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমা এবং ইবনে আবু হাতিম)। আমি বলছি, ইবনে আবু দাউদের নাম আগে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি তাঁর জীবনীতে এসেছে, অন্যথায় ইবনে আবু হাতিম মর্যদায় আরও মহান।

তা সত্ত্বেও তিনি ইবনে আবু দাউদ এবং ইবনে খুযাইমার পর দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন, যে সময়ে তিনি এককভাবে ইমামত (امامة) লাভ করেছিলেন।

লিসানুল মিযান (১/২৬৫)-এ রয়েছে: (ইবনে সাঈদ বাগদাদে তাঁর সময়ে একটি হাদিস বর্ণনা করেন যার সনদ (اسناد)-এ তিনি ভুল করেন, ফলে ইবনে উকদাহ তাঁর প্রতিবাদ করেন। তখন ইবনে সাঈদের অনুসারীরা তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় এবং উজির আলী বিন ঈসার কাছে বিষয়টি নিয়ে যায়, ফলে ইবনে উকদাহকে কারারুদ্ধ করা হয়)।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٧)
ز.

ثم قال الوزير: من يرجع إليه في هذا؟ فقالوا: ابن حاتم، فكتبوا إليه في ذلك فنظر وتأمل فإذا الصواب مع ابن عقدة فكتب

إلى الوزير بذلك فاطلق ابن عقدة وعظم شأنه) وقد كان في ذاك العصر جماعة من كبار الحافظ ببغداد وما قرب منها فلم يقع الاختيار الا على ابن حاتم مع بعد بلده.

وقال مسلمة بن قاسم الاندلسي الحافظ (كان ثقة جليل القدر عظيم الذكر اماما من ائمة خراسان) وقال أبو الوليد الباجى (ابن ابى حاتم ثقة حافظ) وقال ابن السمعاني في الانساب (من كبار الائمة صنف التصانيف الكثيرة منها كتاب الجرح والتعديل وثواب الاعمال وغيرهما سمع جماعة من شيوخ البخاري ومسلم) وقال الذهبي في التذكرة (الامام الحافظ) الناقد شيخ الاسلام … كتابه في الجرح والتعديل يقضى له بالرتبة المتقنة في الحفظ، وكتابه في التفسير عدة مجلدات، وله مصنف كبير في الرد على الجهمية يدل على امامته) وقال في الميزان (الحافظ الثبت ابن الحافظ الثبت..وكان ممن جمع علو الرواية ومعرفة الفن وله الكتب النافعة ككتاب الجرح والتعديل والتفسير الكبير وكتاب العلل.

وما ذكرته لولا ذكر ابى الفضل السليمانى له فبئس ما صنع فانه قال: ذكر اسامى الشيعة من المحدثين الذين يقدمون عليا على عثمان، الاعمش، النعمان بن ثابت، شعبة بن الحجاج، عبيد الله بن موسى، عبد الرحمن بن أبي حاتم) .

وفى لسان الميزان (2 / 128) عن الحاكم قال (سمعت ابا على الحافظ يقول دخلت مرو وفاتني حديث … فدخلت في بعض رحلاتي الرى فإذا الحديث عندهم عن جعفر بن منير الرازي عن روح بن عبادة عن شعبة فأتيت ابن ابى حاتم فسألته عنه فقال: ولم

এরপর উজির বললেন: "এই বিষয়ে কার শরণাপন্ন হওয়া যায়?" তারা বললেন: "ইবনে হাতেম।" ফলে তারা এই বিষয়ে তার নিকট পত্র লিখলেন। তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা-গবেষণা করে দেখলেন যে, সঠিক বিষয়টি ইবনে উকদাহ-র পক্ষেই ছিল। তিনি উজিরকে এ ব্যাপারে পত্র লিখলেন, ফলে ইবনে উকদাহ মুক্তি পেলেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। ওই যুগে বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বড় বড় হাফেজ (حافظ)গণের একটি দল বিদ্যমান ছিল, তবুও তার শহর দূরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও ইবনে হাতেমকেই নির্বাচন করা হয়েছিল।

হাফেজ (حافظ) মাসলামাহ ইবনে কাসেম আল-আন্দালুসি বলেছেন, "তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং সুপরিচিত। তিনি খোরাসানের ইমাম (إمام)গণের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম (إمام) ছিলেন।" আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন, "ইবনে আবি হাতেম একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফেজ (حافظ)।" ইবনুল সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি বড় বড় ইমাম (أئمة)গণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে কিতাবুল জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل), সাওয়াবুল আমাল এবং আরও অনেক কিতাব রয়েছে। তিনি বুখারি ও মুসলিমের একদল শিক্ষকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।" আজ-জাহাবি 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি একজন ইমাম (الإمام), হাফেজ (حافظ), সূক্ষ্ম সমালোচক (الناقد) এবং শাইখুল ইসলাম … জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক তার কিতাবটি তার মুখস্থশক্তির (الحفظ) সুনিপুণ স্তরের সাক্ষ্য দেয়। তাফসির বিষয়ে তার কিতাবটি কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত এবং জাহমিয়াদের খণ্ডনে তার একটি বৃহৎ রচনা রয়েছে যা তার ইমামত (إمامة) বা নেতৃত্বের প্রমাণ দেয়।" তিনি 'মিজান' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি ছিলেন হাফেজ (حافظ) ও সুদৃঢ় (الثبت), এবং হাফেজ (حافظ) ও সুদৃঢ় (الثبت) ব্যক্তিরই পুত্র... তিনি ছিলেন সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা উচ্চসনদের বর্ণনা (الرواية) এবং শাস্ত্রের (الفن) জ্ঞানকে একত্রিত করেছিলেন। তার অনেক উপকারী কিতাব রয়েছে, যেমন কিতাবুল জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل), তাফসিরুল কাবির এবং কিতাবুল ইলাল (العلل)।

আমি তার কথা উল্লেখ করতাম না যদি না আবু ফজল আল-সুলাইমানি তার কথা উল্লেখ করতেন। তিনি (সুলাইমানি) যা করেছেন তা অত্যন্ত মন্দ কাজ। তিনি বলেছেন: 'মুহাদ্দিস (المحدثين)দের মধ্যে ওই সকল শিয়া (الشيعة)দের নাম যারা উসমানের ওপর আলীকে প্রাধান্য দেন—আমাশ, নুমান ইবনে সাবিত, শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতেম'।"

এবং 'লিসানুল মিজান' (২/১২৮) গ্রন্থে হাকেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি আবু আলী হাফেজ (حافظ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মার্ভে প্রবেশ করলাম কিন্তু একটি হাদিস … আমার থেকে ছুটে গেল। এরপর আমার এক সফরে আমি রাই শহরে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে জাফর ইবনে মুনির আর-রাজি-এর সূত্রে রাওহ ইবনে উবাদাহ থেকে, তিনি শুবা থেকে সেই হাদিসটি পেলাম। এরপর আমি ইবনে আবি হাতেমের নিকট আসলাম এবং তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: এবং কেন..."
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٨)
ح.

تسأل عن هذا؟ فقلت: هذا حديث تفرد به عثمان بن جبلة عن شعبة وهو في كتب روح بن عبادة عن سعيد..وقد اخطأ فيه شيخكم هذا على روح فلما كان بعد ايام عاودته في السؤال عن هذا الحديث فأخرج إلى كتابه، على الحاشية: قلت انا هذا الحديث كذا وكذا وساق الكلام الذى ذكرته له، فقلتله متى قلت انت هذا؟ وانما سمعته منى وانقبضت عنه) اقول هذه مشاحة من ابى على، ويظهر من قول ابن ابى حاتم أولا (ولم تسأل عن هذا؟) انه قد عرف علة الحديث وانما اراد امتحان ابى على ينظر أتفطن لها ام لا؟ وابن ابى حاتم في طبقة شيوخ ابى على رحمهما الله.

وفى طبقات الشافعية (الامام ابن الامام حافظ الرى وابن حافظها كان بحرا في العلم وله التصانيف المشهورة) .

وقال أبو الحسن الرازي (سمعت علي بن الحسين المصرى ونحن في جنازة ابن ابى حاتم يقول: قلنسوة عبد الرحمن من السماء، وما هو بعجب، رجل من ثمانين سنة لم ينحرف عن الطريق) توفى في شهر المحرم سنة 327 مصنفاته 1 التفسير في اربع مجلدات 2 كتاب علل الحديث (طبع بمصر في مجلدين) 3 المسند في الف جزء 4 الفوائد الكبير 5 فوائد الرازيين 6 الزهد 7 ثواب الاعمال 8 المراسيل 9 الرد على الجهمية 10 الكنى 11 تقدمة المعرفة للجرح والتعديل 12 كتاب الجرح
হ.

আপনি কি এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন? আমি বললাম: এটি এমন একটি হাদিস যা উসমান বিন জাবালা এককভাবে (تفرد) শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ এটি রুহ বিন উবাদাহর কিতাবসমূহে সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে... এবং আপনাদের এই শায়খ এটি রুহ থেকে বর্ণনায় ভুল করেছেন। কয়েকদিন পর আমি যখন তাকে পুনরায় এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি তার কিতাব বের করলেন। সেখানে টীকায় লেখা ছিল: "আমি বলেছি, এই হাদিসটি এমন এমন...", এবং তিনি আমার বলা কথাগুলোই সেখানে উল্লেখ করলেন। আমি তাকে বললাম, আপনি কখন এটি বলেছিলেন? আপনি তো এটি আমার থেকেই শুনেছেন। এরপর আমি তার প্রতি বিমুখ হলাম। আমি বলব, এটি আবু আলীর পক্ষ থেকে এক প্রকার বাগবিতণ্ডা। ইবনে আবি হাতিমের প্রাথমিক কথা (আপনি কেন এটি জিজ্ঞাসা করছেন?) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি হাদিসের ত্রুটি (علة الحديث) সম্পর্কে জানতেন। তিনি কেবল আবু আলীকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন যে তিনি তা ধরতে পারেন কি না। আর ইবনে আবি হাতিম আবু আলীর শায়খদের স্তরের (طبقة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (স্তরসমূহ - طبقات) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (তিনি ছিলেন ইমাম, ইমামের পুত্র, রাই নগরের হাফিজ এবং হাফিজের পুত্র। তিনি ইলমের সমুদ্র ছিলেন এবং তার প্রসিদ্ধ কিছু রচনা রয়েছে)।

আবু আল-হাসান আর-রাজি বলেন: (আমি আলি বিন আল-হুসাইন আল-মিসরিকে ইবনে আবি হাতিমের জানাজায় বলতে শুনেছি: আবদুর রহমানের টুপি আসমান থেকে আসা, আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; আশি বছর ধরে এই ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হননি)। তিনি ৩২৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে ইন্তেকাল করেন। তার রচনাবলি: ১. আত-তাফসির (চার খণ্ডে), ২. কিতাব ইলাল আল-হাদিস (হাদিসের ত্রুটিসমূহ - علل الحديث) [এটি মিশরে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে], ৩. আল-মুসনাদ (এক হাজার অংশে), ৪. আল-ফাওয়াইদ আল-কাবির, ৫. ফাওয়াইদ আর-রাজিয়্যিন, ৬. আজ-জুহদ, ৭. সাওয়াব আল-আমাল, ৮. আল-মারাসিল (বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহ - المراسيل), ৯. আর-রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ, ১০. আল-কুনা, ১১. তাকদিমাতুল মা’রিফাহ লিল জারহি ওয়াত তা'দিল (সমালোচনা ও গুণগান - الجرح والتعديل), ১২. কিতাবুল জারহ (সমালোচনা - الجرح)।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٩)
ط.

والتعديل وقد تقدم عن الخليلى ان له مصنفات في الفقه واختلاف الصحابة والتابعين وعلماء الامصار.

كتاب تقدمة المعرفة للجرح والتعديل ومزيته هو كتاب بمنزلة الاساس أو التمهيد لكتاب الجرح والتعديل افتتحه المؤلف ببيان الاحتياج إلى السنة وانها هي المبينة للقرآن، ثم ببيان الحاجة إلى معرفة الصحيح من السقيم وان ذلك لا يتم الا بمعرفة احوال الرواة، وان معرفة الصحيح والسقيم ومعرفة احوال الرواة انما يتمكن منها الائمة النقاد، ثم اشار إلى طبقات الرواة، وذكر نبذة في تنزيه الصحابة وتثبيت عدالتهم، ثم بالثاني على التابعين، ثم ذكر اتباعهم، وذكر مراتب الرواة، ثم ذكر الائمة وسرد بعض اسمائهم، ثم تخلص إلى مقصود الكتاب وهو شرح احوال مشاهير الائمة كمالك بن أنس وسفيان بن عيينة وسفيان الثوري وشعبة بن الحجاج وغيرهم وساق لك واحد من الائمة ترجمة مبسوطة تشتمل على بيان علمه وفضله ومعرفته ونقده وغير ذلك من احواله، وجاء في ضمن ذلك فوائد عزيزة جدا في النقد والعلل ودقائق الفن لا توجد في كتاب آخر، طبع عن ثلاثة اصول يأتي بيانها فيما بعد.

كتاب الجرح والتعديل ومزيته الف الامام أبو عبد الله محمد بن اسماعى البخاري تاريخه الكبير وكأنه حاول استيعاب الرواة من الصحابة فمن بعدهم إلى طبقة شيوخه، وللبخاري رحمه الله امامته وجلالته وتقدمه، ولتاريخه اهميته
ط.

এবং গুণাগুণ নির্ধারণ (التعديل); আল-খালীলি থেকে ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ফিকহ (الفقه), সাহাবীগণ ও তাবিঈগণের মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে।

‘তাকদিমাতুল মা’রিফাহ লি-কিতাবিল জরাহ ওয়াত তাদিল’ গ্রন্থটি এবং এর বৈশিষ্ট্য: এটি ‘কিতাবুল জরাহ ওয়াত তাদিল’ গ্রন্থের ভিত্তি বা ভূমিকা স্বরূপ। লেখক গ্রন্থটি শুরু করেছেন সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তা এবং এটি যে কুরআনের ব্যাখ্যাকারী তা বর্ণনার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করার আবশ্যকতা বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, রাবি (الرواة)-দের অবস্থা জানা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) চিহ্নিত করা এবং রাবি (الرواة)-দের অবস্থা নির্ণয় করা কেবল পারদর্শী সমালোচক (النقاد) ইমামগণের পক্ষেই সম্ভব। অতঃপর তিনি রাবি (الرواة)-দের স্তর (طبقات) সম্পর্কে ইশারা করেছেন এবং সাহাবীগণের পবিত্রতা ও তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে তাবিঈগণ এবং তারপর তাঁদের অনুসারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি রাবি (الرواة)-দের মর্যাদাক্রম (مراتب) আলোচনা করেছেন এবং ইমামগণের নাম ও তালিকা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, যা হলো ইমাম মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, সুফিয়ান সাওরী, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ইমামগণের অবস্থা ব্যাখ্যা করা। তিনি প্রত্যেক ইমামের একটি বিস্তারিত জীবনী উপস্থাপন করেছেন যার মধ্যে তাঁদের জ্ঞান, মর্যাদা, পাণ্ডিত্য, সমালোচনা (نقد) এবং অন্যান্য বিষয় বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে সমালোচনা (النقد), গোপন ত্রুটি (العلل) এবং এই শিল্পের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য রয়েছে যা অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এটি তিনটি মূল পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে মুদ্রিত হয়েছে যার বিবরণ পরবর্তীতে আসবে।

‘কিতাবুল জরাহ ওয়াত তাদিল’ এবং এর বৈশিষ্ট্য: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী তাঁর ‘তারিখুল কাবির’ রচনা করেছেন এবং মনে হয় তিনি এতে সাহাবীগণ থেকে শুরু করে তাঁর নিজের উস্তাদদের স্তর (طبقة) পর্যন্ত রাবি (الرواة)-দের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। ইমাম বুখারী (রহ.)-এর ইমামত, মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য এবং তাঁর এই ইতিহাস গ্রন্থের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٠)
ى.

الكبرى ومزاياه الفنية، وقد اعظم شيوخه ومن في طبقتهم تاريخه حتى ان شيخه الامام اسحاق بن ابراهيم المعروف بابن راهويه لما رأى التاريخ لاول مرة لم يتمالك أن قام فدخل به على الأمير عبد الله بن طاهر فقال (ايها الامير ألا اريك سحرا؟) .

لكن تاريخ البخاري خال في الغالب من التصريح بالحكم على الرواة بالتعديل أو الجرح، احس الامامان الجليلان أبو حاتم محمد بن ادريس الرازي وأبو زرعة عبيد الله بن عبد الكريم الرازي وهما من اقران البخاري ونظرائه في العلم والمعرفة والامامة، احسا بهذا النقص، فأحبا تكميله.

في تذكرة الحفاظ (3 / 175) عن ابى احمد الحاكم الكبير أنه ورد الرى فسمعهم يقرأون على ابين ابى حاتم كتاب الجرح والتعديل قال (فقلت لابن عبدويه الوراق: هذه ضحكة اركم تقرأون كتاب التاريخ للبخاري على شيخكم وقد نسبتموه إلى ابى زرعة وابى حاتم فقال يا ابا احمد إن ابا زرعة وابا حاتم لما حمل اليهما تاريخ البخاري قالا هذا علم لا يستغنى عنه ولا يحسن بنا ان نذكره عن غيرنا فأقعدا عبد الرحمن يسألهما عن رجل بعد رجل وزاد فيه ونقصا) .

كأن ابا احمد رحمه الله سمعهم يقرأون بعض التراجم القصيرة التى لم يتفق لابن ابى حاتم فيها ذكر الجرح والتعديل ولا زيادة مهمة على مافى التاريخ فاكتفى بتلك النظرة السطحية ولو تصفح الكتاب لما قال ما قال، لاريب ان ابن ابى حاتم حذا في الغالب حذو البخاري في الترتيب وسياق كثير من التراجم وغير ذلك، لكن هذا لا يغض من
(আল-তারিখ) আল-কুবরা এবং এর শৈল্পিক গুণাবলি। তাঁর শিক্ষকগণ এবং তাঁর সমপর্যায়ের (طبقة) মনীষীরা তাঁর এই 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ)-কে এতটাই মহিমান্বিত মনে করতেন যে, তাঁর উস্তাদ ইমাম ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত, যখন প্রথমবার এই 'তারিখ' দেখলেন, তখন তিনি নিজেকে সামলাতে পারলেন না; তিনি এটি নিয়ে আমির আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, "হে আমির! আমি কি আপনাকে একটি জাদু দেখাব না?"

কিন্তু ইমাম বুখারির 'তারিখ' গ্রন্থটি বর্ণনাকারীদের (رواة) ওপর প্রশংসা বা গ্রহণীয়করণ (تعديل) এবং সমালোচনা বা বর্জনীয়করণ (جرح) সংক্রান্ত স্পষ্ট বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় শূন্য ছিল। দুই মহান ইমাম—আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-রাজি এবং আবু জুরআ উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল করিম আল-রাজি, যারা ইলম, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারির সমসাময়িক ও সমকক্ষ ছিলেন—তাঁরা এই অপূর্ণতা অনুভব করলেন এবং এটি পূর্ণ করতে চাইলেন।

'তাজকিরাতুল হুফফাজ' (৩/১৭৫) গ্রন্থে আবু আহমদ আল-হাকিম আল-কাবীর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'রাই' শহরে আগমন করার পর দেখলেন যে তাঁরা ইবনে আবি হাতিমের নিকট কিতাবুল জারহ ওয়াত তাদিল পাঠ করছেন। তিনি বলেন, (আমি ইবনে আবদুওয়াইহ আল-ওয়াররাককে বললাম: "এটি তো একটি হাস্যকর বিষয়! আমি দেখছি আপনারা আপনাদের শায়খের কাছে ইমাম বুখারির 'তারিখ' কিতাবটিই পাঠ করছেন, অথচ আপনারা এটিকে আবু জুরআ এবং আবু হাতিমের সাথে সম্পর্কিত করছেন।" তখন তিনি বললেন, "হে আবু আহমদ! যখন আবু জুরআ এবং আবু হাতিমের নিকট বুখারির 'তারিখ' উপস্থাপন করা হলো, তখন তাঁরা বললেন—এটি এমন এক জ্ঞান যা ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই, আর আমাদের জন্য এটি সমীচীন নয় যে আমরা এটি অন্য কারও পক্ষ থেকে বর্ণনা করব। তাই তাঁরা আব্দুর রহমানকে (জিজ্ঞাসাকারী হিসেবে) বসিয়ে দিলেন, যিনি তাঁদেরকে একেকজন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগলেন এবং তাঁরা তাতে কিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করলেন।")

মনে হচ্ছে আবু আহমদ (রহ.) তাঁদের এমন কিছু সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত (تراجم) পাঠ করতে শুনেছিলেন যেগুলোতে ইবনে আবি হাতিমের পক্ষ থেকে সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ ছিল না, কিংবা 'তারিখ' গ্রন্থের তথ্যের ওপর তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনও ছিল না। ফলে তিনি কেবল সেই অগভীর দৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই এই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি যদি কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে এমন কথা বলতেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে আবি হাতিম বিন্যাস এবং অনেক জীবনবৃত্তান্তের (تراجم) বর্ণনাভঙ্গির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুখারির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; তবে এটি তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে না...
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١١)
يا.

تلك المزية العظمى وهى التصريح بنصوص الجرح والتعديل ومعها زيادة تراجم كثيره، ويادات فوائد في كثير من التراجم بل في اكثرها، وتدارك اوهام وقعت للبخاري وغير ذلك، واما جواب ابن عبدويه الوراق فعلى قد رنفسه لا على قدر ذينك الامامين ابى زرعة وابى حاتم، والتحقيق ان الباعث لهما على اقعاد عبد الرحمن وامرهما اياه بما امراه انما هو الحرص على تسديد ذاك النقص وتكميل ذاك العلم، ولا ادل على ذلك من اسم الكتاب نفسه (كتاب الجرح والتعديل) .

حرص ابن ابى حاتم بارشاد ذينك الامامين، على استيعاب نصوص ائمة الفن في الحكم على الرواة بتعديل أو جرح، وقد حصل في يده ابتداء نصوص ثلاثة من الائمة وهم ابوه وابو زرعة والبخاري، اما ابوه وابو زرعة فكان يسائهما في غالب التراجم التى اثبتها في كتابه ويكتب جوابهما، واما نصوص البخاري فانه استغنى عنها بموافقة ابيه للبخاري في غالب تلك الاحكام، ومعنى ذلك ان ابا حاتم كان يقف على ما حكم به البخاري فيراه صوابا في الغالب فيوافقه عليه فينقل عبد الرحمن كلام ابيه، وكان محمد بن يحيى الذهلى قد كتب إليهم فيما جرى للبخاري في مسألة القرآن على حسب ما تقوله الناس على البخاري كما ذكره ابن ابى حاتم في ترجمة البخاري من كتابه، فكأن هذا هو المانع لابن ابى حاتم من نسبة احكام البخاري إليه.

وعلى كل حال فالمقصود حاصل.

ثم تتبع ابن ابى حاتم نصوص الائمة فأخذ عن ابيه ومحمد بن ابراهيم بن شعيب ما روياه عن عمرو بن على الفلاس مما قاله

باجتهاده، ومما يرويه عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ ويحيى بن سعيد القطان
হে।

সেই মহান বৈশিষ্ট্য হলো 'জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)' (সমালোচনা ও মূল্যায়ন) সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং এর সাথে বহু জীবনী বৃদ্ধি করা। এছাড়া অনেকগুলো জীবনীর ক্ষেত্রে - বরং অধিকাংশের ক্ষেত্রেই - অতিরিক্ত অনেক ফায়দা বা উপকারিতা সংযোজন করা এবং ইমাম বুখারীর যেসব ভুলভ্রান্তি ঘটেছিল সেগুলো সংশোধন করা ইত্যাদি। আর ইবনে আবদুওয়াইহ আল-ওয়াররাকের জবাব ছিল তার নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে, সেই দুই ইমাম আবু জুরআহ ও আবু হাতিমের মর্যাদার ভিত্তিতে নয়। প্রকৃত সত্য হলো, আবদুর রহমানকে বসানো এবং তারা তাকে যা যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তার মূল কারণ ছিল সেই ঘাটতি পূরণ করা এবং এই ইলমকে পূর্ণতা দান করার একাগ্রতা। এর চেয়ে বড় প্রমাণ খোদ কিতাবটির নাম ‘কিতাবুল জারহ ওয়াত তাদিল’।

সেই দুই ইমামের নির্দেশনায় ইবনে আবি হাতিম এই শাস্ত্রের ইমামদের থেকে 'তাদিল (تعديل)' (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান) অথবা 'জারহ (جرح)' (ত্রুটি নির্দেশ) সংক্রান্ত বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো সবিস্তারে সংগ্রহ করতে সচেষ্ট ছিলেন। শুরুতে তার হাতে তিনজন ইমামের বক্তব্য ছিল—তার পিতা, আবু জুরআহ এবং বুখারী। তার পিতা এবং আবু জুরআহের ব্যাপারে অবস্থা ছিল এমন যে, তিনি তার কিতাবে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ জীবনীর ক্ষেত্রেই তাঁদের প্রশ্ন করতেন এবং তাঁদের উত্তর লিখে রাখতেন। আর ইমাম বুখারীর বক্তব্যের ব্যাপারে তিনি অমুখাপেক্ষী ছিলেন, কারণ অধিকাংশ হুকুম বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার পিতা বুখারীর সাথে একমত পোষণ করতেন। এর অর্থ হলো, আবু হাতিম ইমাম বুখারী প্রদত্ত সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো সঠিক মনে করে একমত হতেন, ফলে আবদুর রহমান তার পিতার বক্তব্যই উদ্ধৃত করতেন। এদিকে মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী ইমাম বুখারীর ব্যাপারে ‘কুরআন সৃষ্টি’ সংক্রান্ত মাসআলায় মানুষ যা বলছিল সে বিষয়ে তাঁদের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে আবি হাতিম তার কিতাবে বুখারীর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এটিই ইবনে আবি হাতিমের জন্য বুখারীর সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি তাঁর নামে ব্যক্ত করার পথে অন্তরায় ছিল।

যেকোনো অবস্থাতেই মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।

এরপর ইবনে আবি হাতিম ইমামদের বক্তব্যগুলো অনুসন্ধান করেন। তিনি তার পিতা এবং মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন শুআইব থেকে সেই বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেন যা তাঁরা আমর বিন আলী আল-ফাললাস থেকে তার নিজস্ব 'গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد)' এবং আবদুর রহমান বিন মাহদী ও ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান থেকে করা বর্ণনার ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٢)
يب.

مما يقولانه باجتهادهما، ومما يرويانه عن سفيان الثوري وشعبة، وأخذ عن صالح بن أحمد بن حنبل ما يرويه عن ابيه، واخذ عن صالح ايضا وعن محمد بن أحمد بن البراء ما يرويانه عن على ابن المدينى مما يقوله باجتهاده ومما يرويه عن سفيان بن عيينة وعن عبد الرحمن بن مهدى وعن يحيى بن سعيد القطان.

وحرص على الاتصال بجميع اصحاب الامام احمد ويحيى بن معين فروى عن ابيه عنهما، وعن ابيه عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين، وروى عن جماعة من اصحاب احمد وابن معين منهم صالح بن أحمد بن حنبل وعلى بن الحسن الهسنجانى والحسين بن الحسن أبو معين الرازي واسماعيل بن ابى الحارث اسد البغدادي وعبد الله بن محمد بن الفضل الو بكر الاسدي ووصفه في ترجمة زياد بن ايوب بانه (كان من جلة اصحاب احمد بن حنبل) ، وأخذ عن عباس الدوري تاريخه، ويروى منه بلفظ (قرئ على عباس الدوري وانا اسمع) ونحو ذلك.

وكاتب عبد الله بن أحمد بن حنبل وقال في ترجمته (كتب إليَّ بمسائل أبيه وبعلل الحديث وكان صدوقا ثقة) ، وكاتب حرب بن اسماعيل الكرماني فكتب إليه بما عنده عن احمد، وكاتب ابا بكر بن ابى خيثمة فكتب إليه بما عنده عن ابن معين وغيره ويمكن ان يكون كتب إليه بتاريخه كله.

وروى عن محمد بن حمويه بن الحسن ما عنده عن ابى طالب احمد بن حميد صاحب أحمد بن حنبل عن أحمد، وروى عن عبد الله

ابن بشر البكري الطالقاني ما عنده عن الميمونى صاحب احمد عن احمد، وكاتب علي بن أبي طاهر القزويني فكتب إليه بما عنده عن الاثرم صاحب احمد عن احمد، وكاتب يعقوب بن اسحاق الهروي فكتب إليه
يب।

তারা দুজনেই তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে যা বলতেন এবং সুফিয়ান আল-সাওরি ও শু’বাহ থেকে যা বর্ণনা করতেন তা থেকে (তিনি গ্রহণ করেছেন)। তিনি সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল থেকে তা গ্রহণ করেছেন যা তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি সালিহ এবং মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-বাররা থেকেও তা গ্রহণ করেছেন যা তারা আলি ইবনুল মাদিনি থেকে তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রসূত বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেন এবং যা তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আবদুর রহমান বিন মাহদি ও ইয়াকুব বিন সাইদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেন।

তিনি ইমাম আহমাদ ও ইয়াহইয়া বিন মঈন-এর সকল সঙ্গীর সাথে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর পিতার সূত্রে ইসহাক বিন মানসুর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মঈন থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আহমাদ ও ইবনে মঈন-এর একদল সঙ্গীর থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, আলি বিন আল-হাসান আল-হাসানজানি, আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আবু মঈন আর-রাজি, ইসমাইল বিন আবি আল-হারিস আসাদ আল-বাগদাদি এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আবু বকর আল-আসাদি। যিয়াদ বিন আইয়ুব-এর জীবনীতে (ترجمة) তিনি তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি আহমাদ বিন হাম্বল-এর বিশিষ্ট সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)। তিনি আব্বাস আদ-দুরি থেকে তাঁর 'তারিখ' গ্রহণ করেছেন এবং সেখান থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: (আব্বাস আদ-দুরি-এর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম) এবং এই জাতীয় শব্দাবলি।

তিনি আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল-এর কাছে পত্র লিখেছিলেন এবং তাঁর জীবনীতে (ترجمة) বলেছেন: (তিনি আমার নিকট তাঁর পিতার মাসআলাসমূহ ও হাদিসের গোপন ত্রুটি (علل) লিখে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন সত্যবাদী (صدوق) নির্ভরযোগ্য (ثقة))। তিনি হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি-এর কাছেও পত্র লিখেছিলেন, যিনি আহমাদ থেকে তাঁর নিকট যা ছিল তা লিখে পাঠিয়েছিলেন। তিনি আবু বকর বিন আবি খাইসামাহ-এর কাছেও পত্র লিখেছিলেন, যিনি ইবনে মঈন ও অন্যদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ তাঁর কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন এবং হতে পারে তিনি তাঁর পূর্ণ 'তারিখ' গ্রন্থটিই তাঁর কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন।

তিনি মুহাম্মদ বিন হামুয়াহ বিন আল-হাসান থেকে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর সঙ্গী আবু তালিব আহমাদ বিন হুমাইদ-এর সূত্রে আহমাদ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ

বিন বিশর আল-বাকরি আত-তালকানি থেকে ইমাম আহমাদের সঙ্গী আল-মাইমুনি-এর সূত্রে আহমাদ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি আলি বিন আবি তাহির আল-কাজুইনি-এর সাথে পত্রালাপ করেছিলেন এবং তিনি ইমাম আহমাদের সঙ্গী আল-আসরাম-এর সূত্রে আহমাদ থেকে যা তাঁর নিকট ছিল তা লিখে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হারাউই-এর কাছেও পত্র লিখেছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٣)
يج.

بما عنده عن عثمان بن سعيد الدارمي عن ابن معين.

وأخذ عن على ابن الحسين بن الجنيد ما عنده عن محمد بن عبد الله بن نمير.

وبالجملة فقد سعى ابلغ سعى في استيعاب جميع احكام ائمة الجرح والتعديل في الرواة إلى عصره ينقل كل ذلك بالاسانيد الصحيحة المتصلة بالسماع أو القراءة أو المكاتبة.

وفى آخر ترجمة طاوس من الكتاب قول الراوى عنه (سألنا أبا محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم فقلنا: هذا الذي تقول: سئل أبو زرعة سأله غيرك وأنت تسمعه أو سأله انت لا تسمع؟ فقال: كلما أقول: سئل أبو زرعة فإني قد سمعته منه إلا أنه سأله غيري بحضرتي، فلذلك لا أقول: سألته، وأنا فلا أدلس بوجه ولا سبب أو نحو ما قال) وقال في آخر مقدمة الكتاب (1 / 1 / 38) (قصدنا بحكايتنا الجرح والتعديل إلى العارفين به العالمين له متأخرا بعد متقدم إلى أن انتهت بنا الحكاية إلى أبي وأبي زرعة رحمهما الله.

ولم نحك عن قوم قد تكلموا في ذلك لقلة معرفتهم به، ونسبنا كل حكاية إلى حاكيها والجواب إلى صاحبه، ونظرنا في اختلاف أقوال الأئمة في المسئولين عنهم فحذفنا تناقض قول كل واحد منهم وألحقنا بكل مسئول عنه مالاق به وأشبهه من جوابهم على أنا قد ذكرنا أسامي كثيرة مهملة من الجرح والتعديل كتبناها ليشتمل الكتاب على كل من روى عنه العلم

رجاء وجود الجرح والتعديل فيهم فنحن ملحقوها بهم ان شاء الله تعالى) وقد يحكى في الجرح والتعديل عن شيوخه غير ابيه وابى زرعة كمحمد ابن مسلم بن وراة وعلى بن الحسين بن الجنيد وقد يتكلم باجتهاده.

فهذا الكتاب هو بحق أم كتب هذا الفن ومنه يستمد جميع من بعده ولذلك قال المزى في خطبة تهذيبه (واعلم ان ما كان في هذا
يج.

উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমি থেকে ইবনে মাঈন-এর সূত্রে যা তাঁর নিকট ছিল।

এবং তিনি আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ থেকে সেই বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন যা তাঁর নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর থেকে ছিল।

সারকথা, তিনি তাঁর যুগ পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামদের সকল সিদ্ধান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংকলন করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি এ সব কিছুই শ্রবণ (سماع), পাঠ (القراءة) কিংবা পত্র বিনিময়ের (المكاتبة) মাধ্যমে প্রাপ্ত সহিহ (صحيحة) ও অবিচ্ছিন্ন (المتصلة) সনদের মাধ্যমে উদ্ধৃত করেছেন।

উক্ত কিতাবে তাউস-এর জীবনীর শেষে বর্ণনাকারীর একটি উক্তি রয়েছে (আমরা আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিমকে জিজ্ঞেস করলাম এবং বললাম: আপনি যে বলেন, ‘আবু জুরআহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে’—এটি কি অন্য কেউ জিজ্ঞেস করেছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন, নাকি আপনিই তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যা আপনি নিজে শোনেননি? তিনি বললেন: যখনই আমি বলি, ‘আবু জুরআহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে’, তখন নিশ্চয়ই আমি তা তাঁর থেকে শ্রবণ করেছি, তবে আমার উপস্থিতিতে অন্য কেউ তাঁকে সেটি জিজ্ঞেস করেছিল। এ কারণেই আমি বলি না যে, ‘আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি’। আর আমি কোনোভাবেই বা কোনো কারণে তাদলিস (أدلس) করি না—অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন)। তিনি কিতাবটির মুখবন্ধের শেষে (১/১/৩৮) বলেছেন: (আমরা সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বর্ণনার মাধ্যমে এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের অনুসরণ করার সংকল্প করেছি, যারা পূর্ববর্তী থেকে পরবর্তী যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত, যতক্ষণ না আমাদের এই বর্ণনা আমার পিতা ও আবু জুরআহ (রহিমাহুমাল্লাহ) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমরা এমন কোনো সম্প্রদায়ের উদ্ধৃতি দিইনি যারা এই বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার দরুন কথা বলেছেন। আমরা প্রতিটি বর্ণনাকে তার বর্ণনাকারীর দিকে এবং উত্তরকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। যাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্যের মতভেদ আমরা পর্যালোচনা করেছি; অতঃপর আমরা তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্যের বৈপরীত্যগুলো বাদ দিয়েছি এবং প্রত্যেক জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁদের উত্তরের মধ্য থেকে যা সবচেয়ে উপযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তা যুক্ত করেছি। এছাড়া আমরা এমন অনেক নাম উল্লেখ করেছি যাদের সম্পর্কে সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) উল্লেখ করা হয়নি; আমরা সেগুলো লিখেছি যাতে ইলম যাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন সকলের নামই এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে,

এই প্রত্যাশায় যে ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কে সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) পাওয়া যেতে পারে, তখন আমরা ইনশাআল্লাহ তা তাদের সাথে যুক্ত করে দেব)। কখনো কখনো তিনি সমালোচনা ও প্রশংসা (الجرح والتعديل) বিষয়ে তাঁর পিতা ও আবু জুরআহ ছাড়া অন্যান্য শায়খদের থেকেও বর্ণনা করেন, যেমন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাহ এবং আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ। আবার কখনো তিনি নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاده)-এর ভিত্তিতেও কথা বলেন।

সুতরাং এই কিতাবটি প্রকৃতপক্ষে এই শাস্ত্রের মূল উৎস এবং পরবর্তীকালের সকল পণ্ডিত এখান থেকেই জ্ঞান আহরণ করেন। এই কারণেই আল-মিযযি তাঁর তাহজিব-এর ভূমিকায় বলেছেন (জেনে রাখো যে, এই কিতাবে যা কিছু আছে...
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٤)
يد.

الكتاب من اقوال ائمة الجرح والتعديل ونحو ذلك فعامته منقول من كتاب الجرح والتعديل لابي محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي الحافظ ابن الحافظ … ) .

ترتيب الكتاب افتتحه بمدمة نفيسة في بضع وثلاثين صفحة من المطبوع في تثبيت السنن واحكام الجرح والتعديل وقوانين الرواية كما ترى بيانه في الفهرست، ثم شرع في التراجم مبوبا مرتبا على ترتيب حروف المعجم بالنظر إلى الحرف الاول من الاسم فقط ففى باب الالف (باب احمد باب ابرهيم باب اسماعيل باب اسحاق باب ايوب باب آدم باب أشعث باب اياس باب اسامة باب انس باب أبى باب الاسود باب ابان الخ.

فأنت تراه اعتبر الحرف الاول فقط وهو الالف ولم ينظر إلى الحرف الثاني فضلا عما بعده وانما يراعى في التقديم والتأخير شرف بعض المسمين بذاك الاسم كما قدم احمد ثم ابراهيم، أو كثرة التراجم في الباب، أو غير ذلك من المناسبات، أو كما اتفق، وإذا كثرت التراجم في الباب رتبها على ابواب ذيلية بحسب اول اسماء الآباء فقدم في الاحمدين

من اول اسم ابيه الف، ثم من اول اسم ابيه باء، وهكذا وربما توسع في الترتيب كما فعل فيمن اسمه محمد واسم ابيه عبد الله رتبهم على ابواب باعتبار اول اسم الجد (من اسمه محمد واسم ابيه عبد الله واول اسم جده الف) ثم (من اسمه محمد واسم ابيه عبد الله واول اسم جده باء) وهكذا.

ويختم كل اسم من الاسماء التى تكثر التراجم فيها بباب لمن يسمى ذاك الاسم ولم ينسب، ويختم كل حرف بباب للافراد وهم الذين لا يوجد في الرواة من يسمى ذاك الاسم الا واحد، ثم ختم الكتاب بستة ابواب،
...।

গ্রন্থটি মূলত জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণের উক্তি এবং এ জাতীয় বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত। এর অধিকাংশ বর্ণনা হাফেজ ইবনুল হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির রচিত 'কিতাবুল জরাহ ওয়াত তাদিল' থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে … ) ।

গ্রন্থটির বিন্যাস নিম্নরূপ: লেখক এটি একটি চমৎকার ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন যা মুদ্রিত সংস্করণে প্রায় ত্রিশ পৃষ্ঠা ব্যাপী। এতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা, জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর বিধানাবলি এবং বর্ণনার নীতিমালা (قوانين الرواية) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ আপনি সূচিপত্রে দেখতে পাবেন। এরপর তিনি জীবনীগুলো (التراجم) অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস শুরু করেছেন, যা নামের কেবল প্রথম অক্ষরের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। যেমন আলিফ (أ) বর্ণের অধ্যায়ে: আহমদ অধ্যায়, ইবরাহিম অধ্যায়, ইসমাইল অধ্যায়, ইসহাক অধ্যায়, আইয়ুব অধ্যায়, আদম অধ্যায়, আশআছ অধ্যায়, ইয়াস অধ্যায়, উসামা অধ্যায়, আনাস অধ্যায়, উবাই অধ্যায়, আসওয়াদ অধ্যায়, আবান অধ্যায় ইত্যাদি।

আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তিনি কেবল নামের প্রথম অক্ষর অর্থাৎ 'আলিফ'-কে বিবেচনা করেছেন এবং দ্বিতীয় অক্ষর বা তার পরের অক্ষরগুলোর প্রতি লক্ষ্য করেননি। তবে নামের অগ্র-পশ্চাৎ করার ক্ষেত্রে তিনি সেই নামের অধিকারীদের মর্যাদার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছেন; যেমন তিনি ইবরাহিমের আগে আহমদকে স্থান দিয়েছেন। অথবা কোনো অধ্যায়ে জীবনী (التراجم) সংখ্যা অনেক বেশি হওয়া বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ কিংবা সাধারণ বিন্যাস অনুযায়ী তা করেছেন। যখন কোনো অধ্যায়ে জীবনী (التراجم) সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, তখন তিনি সেগুলোকে পিতার নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী উপ-অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। যেমন 'আহমদ' নামের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—

প্রথমে তাদের উল্লেখ করেছেন যাদের পিতার নামের শুরুতে আলিফ রয়েছে, এরপর যাদের পিতার নামের শুরুতে বা (ب) রয়েছে। এভাবে তিনি বিন্যাস করেছেন। কখনো কখনো তিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃতি এনেছেন; যেমন 'মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ' নামের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিনি তাদের দাদার নামের প্রথম অক্ষরের ভিত্তিতে বিভিন্ন অধ্যায়ে সাজিয়েছেন (যাদের নাম মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং দাদার নামের শুরুতে আলিফ), এরপর (যাদের নাম মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং দাদার নামের শুরুতে বা) ইত্যাদি।

যেসব নামে জীবনী (التراجم) সংখ্যা অনেক বেশি, প্রতিটি নামের শেষে তিনি এমন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন যেখানে কেবল ওই নাম উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু বংশপরিচয় দেওয়া হয়নি। প্রতিটি বর্ণের শেষে তিনি একক বর্ণনাকারী (الافراد)-দের জন্য একটি অধ্যায় রেখেছেন; এরা হলেন সেই সকল বর্ণনাকারী (الرواة) যাদের নামে অন্য কোনো বর্ণনাকারী পাওয়া যায় না। অতঃপর তিনি গ্রন্থটি ছয়টি অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
يه.

الاول للذين لم يعرفوا الا بابن فلان، ورتبهم على ابواب ذيلية باعتبار اسماء الآباء، الباب الثاني من يقال له (اخو فلان) فيه ترجمة واحدة، الباب الثالث للمبهمات فيه ترجمتان فقط (رجل عن ابيه) (مولى سباع) ، الباب الرابع لمن عرف ابنه ولم يعرف هو فيه ترجمة واحدة (رشيد الهجرى عن ابيه) ، الباب الخامس لمن لم يعرف الا بكنيته ورتبها على ابواب ذيلية بحسب الحروف، الباب السادس لمن تعرف بكنيتها من النساء - ورتبها على الحروف ايضا.

وهذا الترتيب شبيه بترتيب تاريخ البخاري الا ان البخاري قدم المحمدين اول الكتاب لانه صدر الكتاب بنبذة من الترجمة النبوية فاستحسن ان يقدم المحمدين ثم رتب الباقي على حروف المعجم بالنظر إلى الحرف الاول فقط، ويتحرى البخاري تقديم تراجم الصحابة ففى الابواب التى تكثر تراجمها يقدم اسماء الصحابة بدون نظر إلى اسماء آبائهم ثم يرتب تراجم غيرهم على ابواب ذيلية بحسب حروف الآباء ففى المحمدين بدأ بالترجمة النبوية، ثم بتراجم المحمدين

من الصحابة، ثم رتب تراجم غيرهم على ابواب ذيلية على حسب حروف الهجاء: من اسمه محمد واول اسم ابيه الف، ثم من اسمه محمد والول اسم ابيه باء الخ والمؤلف حيث يبوب الابواب الذيلية يراعى تقديم اسماء الصحابة الا أنه يتبع كل اسم بمن يوافقه في الاسم واسم الاب من غير الصحابة يبدأ مثلا بباب من اسمه محمد واول اسم ابيه الف فيذذكر صحابيا ثم من يوافقه في اسمه واسمه ابيه ثم صحابيا آخر ثم من يوافقه وهكذا فيقع اسم كل صحابي في بابه باعتبار اسمه واعتبار اسم ابيه ايضا.

فاما الاسماء التى لا تكثر التراجم فيها جدا فلا يرتبها البخاري
পদ্ধতি।

প্রথম [পরিচ্ছেদ] তাদের জন্য যাদের কেবল অমুকের পুত্র হিসেবে চেনা যায়; তিনি তাদের পিতার নামের ভিত্তিতে বিভিন্ন উপ-পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ তাদের জন্য যাদের 'অমুকের ভাই' বলা হয়, এতে কেবল একটি জীবনী (ترجمة) রয়েছে। তৃতীয় পরিচ্ছেদ অস্পষ্ট বর্ণনাকারীদের (المبهمات) জন্য, এতে মাত্র দুটি জীবনী (ترجمة) রয়েছে— (এক ব্যক্তি তার পিতা থেকে) এবং (সিবা-এর মুক্তদাস)। চতুর্থ পরিচ্ছেদ এমন ব্যক্তির জন্য যার পুত্র পরিচিত কিন্তু তিনি নিজে পরিচিত নন, এতে একটি জীবনী (ترجمة) রয়েছে (রশিদ আল-হাজরি তার পিতা থেকে)। পঞ্চম পরিচ্ছেদ তাদের জন্য যারা কেবল তাদের উপনামের (كنية) মাধ্যমে পরিচিত, তিনি সেগুলোকে বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী বিভিন্ন উপ-পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ সেই নারীদের জন্য যারা তাদের উপনামের (كنية) মাধ্যমে পরিচিত—তিনি সেগুলোকেও বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছেন।

আর এই বিন্যাস পদ্ধতি তারিখুল বুখারীর বিন্যাসের অনুরূপ। তবে ইমাম বুখারী গ্রন্থের শুরুতে 'মুহাম্মদ' নামধারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ তিনি নবীজির সংক্ষিপ্ত জীবনীর (ترجمة) মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করেছেন। তাই তিনি 'মুহাম্মদ' নামধারীদের প্রথমে নিয়ে আসা সমীচীন মনে করেছেন। অতঃপর তিনি অবশিষ্টদের কেবল প্রথম বর্ণের প্রতি লক্ষ্য রেখে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। ইমাম বুখারী সাহাবীদের (صحابة) জীবনী (تراجم) আগে উপস্থাপন করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন। সুতরাং যে অধ্যায়গুলোতে জীবনীর (تراجم) সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে তিনি তাদের পিতার নামের প্রতি লক্ষ্য না করেই সাহাবীদের (صحابة) নাম আগে উল্লেখ করেন। এরপর অন্যদের জীবনী (تراجم) পিতার নামের আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে উপ-পরিচ্ছেদে সাজান। 'মুহাম্মদ' নামধারীদের ক্ষেত্রে তিনি নবীজির জীবনী (ترجمة) দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর মুহাম্মদ নামধারী সাহাবীদের (صحابة) জীবনবৃত্তান্ত (تراجم) উল্লেখ করেছেন

অতঃপর তিনি অন্যদের জীবনী (تراجم) বর্ণমালার ক্রমানুসারে উপ-পরিচ্ছেদে সাজিয়েছেন: যাদের নাম মুহাম্মদ এবং পিতার নামের প্রথম অক্ষর আলিফ, এরপর যাদের নাম মুহাম্মদ এবং পিতার নামের প্রথম অক্ষর বা, ইত্যাদি। লেখক যখন উপ-পরিচ্ছেদগুলো বিন্যস্ত করেন, তখন সাহাবীদের (صحابة) নাম আগে রাখার বিষয়টি লক্ষ্য রাখেন। তবে তিনি প্রত্যেক সাহাবীর নামের পর এমন ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেন যারা সাহাবী (صحابة) নন কিন্তু নাম ও পিতার নামে তার সাথে মিল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি এমন ব্যক্তির অধ্যায় দিয়ে শুরু করেন যার নাম মুহাম্মদ এবং পিতার নামের প্রথম বর্ণ আলিফ; সেখানে তিনি একজন সাহাবীর (صحابي) কথা উল্লেখ করেন, তারপর তার নাম ও পিতার নামের সাথে মিল রয়েছে এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, এরপর অন্য একজন সাহাবীর (صحাবি) কথা উল্লেখ করেন এবং তারপর তার সাথে মিল রয়েছে এমন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। এভাবে প্রত্যেক সাহাবীর (صحابي) নাম তার নিজস্ব অধ্যায়ে তার নিজ নাম এবং পিতার নামের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তবে যে নামগুলোর ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তের (تراجم) সংখ্যা খুব বেশি নয়, সেগুলোকে ইমাম বুখারী [অতিরিক্ত] বিন্যস্ত করেন না।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
يو.

ولا المؤلف.

مما ذكر يتبين الن الكتابين مرتبان ترتيبا ينفع في سهولة المراجعة إلى حد كبير الا انه غير مستقصى، فإذا اريد الترتيب المستقصى فلا غنى بالكتابين عن فهارس مطولة مرتبة الترتيب المستقصى.

البياضات قد يذكر المؤلف الرجل ولا يستحضر عمن روى ولا من روى عنه أو يستحضر احدهما دون الآخر فيدع لما لا يستحضره بياضا (روى عن … روى عنه … ) ويكثر ذلك في الاسماء التى ذكرها البخاري ولم ينص، وعادة ابن حبان في الثقات ان لا يدع بياضا ولكن يقول (يروى المراسيل روى عنه اهل بلده) كأنه اطلع على ذلك لو بنى على أن البخاري انما لم يذكر عمن يروى الرجل لانه لم يروى عن رجل معين

وانما ارسل، وان الغالب انه إذا كان الرجل ممن يروى عنه فلا بد أن يروى عنه بعض اهل بلده، وطريقة المؤلف احوط كما لا يخفى، وقد حاولت فيما حققته من الكتاب التنبيه في الحاشية على ما عثرت عليه مما يسد البياض.

الاوهام الكتاب كبير لعله يحتوى على قريب من عشرين الف ترجمة ومعظم التراجم مأخوذ من اسانيد الاخبار المتفرقة، والرواة قد يصحف بعضهم بعض اسماء رجال الاسناد، أو يحرفها، وقد ينسب الرجل إلى جده أو جد ابيه، وقد ينسب تارة إلى قبيلة وتارة إلى اخرى، إلى غير ذلك مما يوقع المحدث في الوهم وقد وقع للبخاري من ذلك اشياء تعقبها المؤلف في كتاب على حدة ذكره ابن حجر في لسان الميزان (3 / 233)
ইউ।

এবং লেখকও নন।

উল্লেখিত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থ দুটি এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা বহুলাংশে সহজ রেফারেন্সের ক্ষেত্রে সহায়ক, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। সুতরাং যদি কোনো পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস প্রত্যাশা করা হয়, তবে বিস্তারিতভাবে বিন্যস্ত দীর্ঘ নির্ঘণ্ট ছাড়া গ্রন্থ দুটির কোনো বিকল্প নেই।

শূন্যস্থানসমূহ: লেখক হয়তো কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর থেকে কে বর্ণনা করেছেন তা স্মরণ করতে পারছেন না, অথবা কোনো একটি স্মরণ করতে পারছেন কিন্তু অন্যটি পারছেন না; ফলে যা তিনি স্মরণ করতে পারছেন না তার জন্য তিনি শূন্যস্থান রেখে দেন (বর্ণনা করেছেন … থেকে, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন …)। ইমাম বুখারি যে নামগুলো উল্লেখ করেছেন কিন্তু কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এটি অধিক দেখা যায়। আস-সিকাত গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের সাধারণ নিয়ম হলো তিনি কোনো শূন্যস্থান রাখেন না, বরং তিনি বলেন (তিনি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (المراسيل) বর্ণনা করেন, তাঁর এলাকার অধিবাসীরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন)। মনে হয় তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছিলেন অথবা তিনি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেছেন যে, ইমাম বুখারি যে উক্ত ব্যক্তি কার থেকে বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেননি তার কারণ হলো তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেননি

বরং তিনি বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন (أرسل)। সাধারণত যদি কোনো ব্যক্তি এমন হন যার থেকে বর্ণনা করা হয়, তবে অবশ্যই তাঁর এলাকার কিছু লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করবেন। আর লেখকের পদ্ধতিটি যে অধিকতর সতর্কতামূলক তা প্রকাশ্য। আমি এই গ্রন্থটির সম্পাদনা করতে গিয়ে পাদটীকাতে এমন সব বিষয় নির্দেশ করার চেষ্টা করেছি যা আমি খুঁজে পেয়েছি এবং যা উক্ত শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে সহায়ক।

ভ্রান্তিসমূহ (الأوهام): গ্রন্থটি বিশাল, সম্ভবত এতে প্রায় বিশ হাজার জীবনী (ترجمة) রয়েছে এবং অধিকাংশ জীবনী (ترجمة) বিভিন্ন সংবাদের বিচ্ছিন্ন সনদসমূহ (أسانيد) থেকে নেওয়া হয়েছে। বর্ণনাকারীগণ (رواة) অনেক সময় সনদের (إسناد) ব্যক্তিদের নাম ভুলভাবে পড়তে পারেন অথবা বিকৃত করতে পারেন। আবার কখনো কোনো ব্যক্তিকে তাঁর দাদা বা পরদাদার দিকে সম্বন্ধ করা হয়, কখনো এক গোত্রের দিকে আবার কখনো অন্য গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। এই ধরনের বিষয়গুলো একজন হাদিস বিশারদকে (محدث) ভ্রান্তির (وهم) মধ্যে ফেলে দেয়। ইমাম বুখারি থেকেও এই ধরনের কিছু বিষয় ঘটেছিল যা লেখক একটি পৃথক গ্রন্থে চিহ্নিত করেছেন এবং ইবনে হাজার লিসানুল মিজান (৩/২৩৩) গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
يز.

وكذلك للخطيب (كتاب اوهام الجمع والتفريق) يعنى ان يجعل الرجل اثنين فاكثر أو يجعل الاثنان فاكثر واحدا، وقد وقع في كتاب الجرح والتعديل اوهام من هذا الضرب وغيره ليست بالكثيرة، منها ما قد نبه عليه اهل العلم ممن جاء بعد المؤلف كجعله ترجمة لجعفي بن سعد العشير على انه صحابي، وانما هي قبيلة سميت بجد جاهلي قديم، وكذكره ترجمة لدقرة على انها رجل وانما هي امرأة، ومنها ما تبعوه عليه كذكره ترجمة (حارثة بن عمرو من بني ساعدة قتل يوم احد) وانما هذا اسم جاهلي قديم وقع في نسب بعض شهداء احد: ومنها ما لم ينبهوا عليه كذكره ترجمة لشميسة على انه اسم رجل وانما هي امرأة، وقع له عن

ابن معين انه قال (شميسة ثقة) فظن انه اسم رجل، وفى التهذيب ترجمة لشميسة في النساء ولم يذكر توثيق ابن معين لها كأنهم لم يعثروا على هذه الترجمة لانها في غير مظنتها، وأكثر ما وقع الوهم في عد الرجل واحدا واثنين، ذكر لجنيد بن العلاء بن أبي دهرة ترجمة في بابه وذكر له ترجمتين في باب حميد احداهما (حميد بن ابى دهرة، والاخرى (حميد بن العلاء) فجعل الواحد ثلاثة، وذكر ترجمة لحفص بن سلم ثم اعاده باسم حفص ابن مسلم إلى غير ذلك وقد نبهت في حواشى ما حققته من الكتاب على ما ظهر لى من ذلك.

الاصول المطبوع عنها الاصل الاول نسخة محفوظة في مكتبة مراد ملا باستانبول تحت رقم (1427) وهى شاملة للتقدمة والكتاب ولكن لا كتفائنا ببقية النسخ لم نحصل منها الا التقدمة بتصوير مختصر وتاريخ كتابتها سلخ شهر ربيع الاول سنة سبع وستمائة (607) وهى نسخة جيدة
অনুরূপভাবে খতিব (আল-বাগদাদী)-এর 'কিতাব আওহামুল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' রয়েছে, যার অর্থ হলো একজন ব্যক্তিকে দুই বা ততোধিক হিসেবে গণ্য করা অথবা দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে এক হিসেবে গণ্য করা। আল-জারহ ওয়াত তা'দিল গ্রন্থে এ ধরনের এবং অন্যান্য কিছু ভুল ঘটেছে যা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। এর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা লেখকের পরবর্তী আলেমগণ সতর্ক করেছেন; যেমন তিনি 'জু'ফি বিন সাদ আল-আশির'-এর জীবনী উল্লেখ করে তাকে সাহাবী (صحابي) হিসেবে গণ্য করেছেন, অথচ এটি মূলত একটি গোত্রের নাম যা একজন প্রাচীন জাহেলি পূর্বপুরুষের নামে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন তিনি 'দাকরা'-এর জীবনী উল্লেখ করে তাকে পুরুষ হিসেবে গণ্য করেছেন, অথচ তিনি একজন নারী। আবার কিছু বিষয়ে তারা তাকে অনুসরণ করেছেন, যেমন তিনি জীবনীতে উল্লেখ করেছেন (হারিসাহ বিন আমর, বনু সায়েদা গোত্রীয়, যিনি উহুদের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন), অথচ এটি মূলত একটি প্রাচীন জাহেলি নাম যা উহুদের যুদ্ধের কোনো কোনো শহীদের বংশলতিকায় এসেছে। আবার কিছু এমন রয়েছে যা তারা সতর্ক করেননি; যেমন তিনি 'শুমাইসাহ'-এর জীবনীতে তাকে পুরুষের নাম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি একজন নারী। ইবনে মাঈন থেকে তার কাছে পৌঁছেছিল যে

ইবনে মাঈন বলেছেন, "শুমাইসাহ নির্ভরযোগ্য (ثقة)"; ফলে তিনি মনে করেছিলেন এটি কোনো পুরুষের নাম। অথচ আত-তাহজিব গ্রন্থে শুমাইসাহ-এর জীবনী নারীদের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে তার ব্যাপারে ইবনে মাঈনের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق)-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি, যেন তারা এই জীবনীটি খুঁজে পাননি কারণ এটি যথাস্থানে ছিল না। আর অধিকাংশ ভুল সংঘটিত হয়েছে একজন ব্যক্তিকে এক বা দুইজন হিসেবে গণনার ক্ষেত্রে। তিনি জুনাইদ বিন আলা বিন আবি দাহরার জীবনী তার নিজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, আবার হুমাইদ অধ্যায়ে তার জন্য আরও দুটি জীবনী উল্লেখ করেছেন—একটি হলো (হুমাইদ বিন আবি দাহরা) এবং অন্যটি (হুমাইদ বিন আলা); ফলে তিনি একজন ব্যক্তিকে তিনজনে পরিণত করেছেন। আবার তিনি হাফস বিন সালামের একটি জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীতে হাফস বিন মুসলিম নামে পুনরায় তা উল্লেখ করেছেন—এরূপ আরও অনেক। আমি এই গ্রন্থের যা কিছু সম্পাদনা করেছি তার পাদটীকায় আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছি।

যেসব পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি মুদ্রিত হয়েছে: প্রথম মূল পাণ্ডুলিপিটি ইস্তাম্বুলের মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে ১৪২৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি ভূমিকা এবং মূল গ্রন্থ উভয়টিই অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু আমাদের কাছে অন্যান্য পাণ্ডুলিপি পর্যাপ্ত থাকায় আমরা এটি থেকে কেবল ভূমিকার সংক্ষিপ্ত প্রতিলিপি সংগ্রহ করেছি। এটি রবিউল আউয়াল মাসের শেষে ৬০৭ হিজরি সনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং এটি একটি উৎকৃষ্ট পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
يح.

مقابلة روعى فيها الاعراب فيما وقع التسامح فيه في النسخ الاخرى ووقع فيها اختصار في بعض المواضع لما هو في معنى التكرار ومن غرائبها اختصار كلمة (حدثنا) على (حنا) وهو اختصار غريب لم يذكره اهل المصطلح وعلامة هذه النسخة في المطبوع (د) .

الاصل الثاني نسخة محفوظة في دار الكتب المصرية، التقدمة منها تحت رقم، (892، والكتاب تحت رقم (891) ، التقدمة منها ناقصة من اولها، الموجود منها من اثناء رسالة الثوري إلى عباد بن عباد: راجع

ص (87) من المطبوع، والكتاب في ستة مجلدات، في آخر السادس ما لفظه (ثم السفر السادس وهو آخر كتاب الجرح والتعديل … ووافق الفراغ منه في شهر ذى الحجة سنة ست واربعين وسبعمائة 746 وكتبه محمد بن رسلان عرف بابن السكرى عفا الله عنه) ووقع في آخر المجلد الاول ذكر التاريخ بكتابة معلقة غير واضحة ربما تقرأ هكذا (سنة اربع وخمسمائة) كذا والظاهر (سنة اربعين وسبعمائة) وهى نسخة واضحة الكتابة مقابلة يقل فيها السقط ولكن يكثر فيها التريف حصلت منها نسخة مأخوذة بالتصوير تشمل ما عدا ما يقابل المجلد الثالث من الكتاب الذى طبع قديما في الدائرة سنة 1361 وعلامة هذه النسخة في المطبوع (م) .

الاصل الثالث نسخة محفوظة في مكتبة كوپريلى باستانبول تحت رقم (278) وهى نسخة كاملة للتقدمة والكتاب، وهى مسوقة مساقا واحدا، من اول التقدمة إلى آخر الكتاب بلا فصل ولا تجزئة كأنها كلها مجلد واحد، وفى آخر الكتاب (تم الكتاب بحمد الله وحسن توفيقه على يدى اضعف العباد واحوجهم إلى عفو ربه الغفار ابراهيم
يح.

এটি একটি তুলনামূলক পাঠ (مقابلة), যাতে অন্যান্য অনুলিপিতে ব্যাকরণগত যেসব শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, এখানে তা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য কিছু স্থানে সংক্ষেপন করা হয়েছে। এর একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো 'হাদ্দাসানা' (حدثنا) শব্দটিকে সংক্ষেপে 'হান্না' (حنا) লেখা হয়েছে, যা পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের (أهل المصطلح) নিকট অপরিচিত এক অদ্ভুত সংক্ষেপন। মুদ্রিত সংস্করণে এই পাণ্ডুলিপির চিহ্ন হলো (দাল)।

দ্বিতীয় মূল কপিটি মিসরের দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত রয়েছে। এর ভূমিকাংশ (التقدمة) ৮৯২ নম্বর এবং মূল গ্রন্থটি ৮৯১ নম্বরে সংরক্ষিত। এই ভূমিকাংশটি শুরুর দিকে অপূর্ণ (ناقصة); এর বিদ্যমান অংশটি আস-সাওরি থেকে আব্বাদ ইবনে আব্বাদের কাছে প্রেরিত পত্রের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়েছে: দ্রষ্টব্য—

মুদ্রিত কপির ৮৭ পৃষ্ঠা। গ্রন্থটি ছয়টি খণ্ডে বিভক্ত। ষষ্ঠ খণ্ডের শেষে নিম্নোক্ত কথাটি লেখা আছে: (অতঃপর ষষ্ঠ খণ্ড, যা আল-জারহ ওয়াত-তাদিল কিতাবের শেষ অংশ... এবং এটি সমাপ্ত হয়েছে সাতশ ছেচল্লিশ (৭৪৬) হিজরি সনের জিলহজ মাসে। এটি লিখেছেন মুহাম্মদ ইবনে রাসলান, যিনি ইবনুল সুক্কারি নামে পরিচিত, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন)। প্রথম খণ্ডের শেষে অস্পষ্ট হস্তাক্ষরে একটি তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা সম্ভবত 'পাঁচশ চার হিজরি' হিসেবে পড়া যায়, তবে বাহ্যত এটি 'সাতশ চল্লিশ হিজরি' হবে। এটি স্পষ্ট অক্ষরে লিখিত একটি তুলনামূলক পাঠ (مقابلة), যাতে মূল পাঠ বাদ পড়ার (السقط) হার কম হলেও এতে প্রচুর বর্ণ বিকৃতি (التصحيف) লক্ষ্য করা যায়। এই কপি থেকে একটি ছায়ালিপি সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে দাইরাতুল মাআরিফে ১৩৬১ সালে প্রাচীন পদ্ধতিতে মুদ্রিত কিতাবটির তৃতীয় খণ্ডের অংশটুকু ব্যতীত বাকি সব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মুদ্রিত সংস্করণে এই পাণ্ডুলিপির চিহ্ন হলো (মিম)।

তৃতীয় মূল কপিটি ইস্তাম্বুলের কোপরুলু লাইব্রেরিতে ২৭৮ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত। এটি ভূমিকাংশ (التقدمة) ও মূল কিতাবসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি। এটি ভূমিকাংশের শুরু থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত, কোনো ধরনের বিভাজন বা খণ্ড ছাড়াই, যেন এটি একটি অখণ্ড খণ্ড। কিতাবটির শেষে লেখা রয়েছে: (আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সুন্দর তাওফিকে কিতাবটি সমাপ্ত হলো তাঁর ক্ষমা প্রত্যাশী অত্যন্ত দুর্বল ও অভাবী বান্দা ইব্রাহিমের হাতে...)।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
يط.

العطار في العشر الاول من شهر ذى القعدة سنة ثلاث وتسعين وسبعمائة الهلالية (793) وهى نسخة جيدة لا يكثر فيها التحريف الا انه يظهر أنها لم تقابل على اصلها فوقع فيها سقط في مواضع غير قليلة، حصلت للدائرة قديما نسخة منها مأخوذة بالتصوير بتوسط المستشرق الاجل الدكتور كرنكو معلون الدائرة المقيم في كيمبرج واعتنى بنقل المسودة فنقل بخطه

من أول التقدمة إلى آخر ترجمة (شيبة بن النعمان بن شروس الصنعاني) مع شى من الاصلاح قد نبهنا على ما يحسن التنبيه عليه منه في مواضعه ثم ارسل إلى الدائرة النسخة المصورة كاملة مع نقله وكانت الدائرة قد عثرت في المكتبة السعيدية بحيدر آباد الدكن على مجلد من الكتاب من اثناء باب عبيد إلى آخر باب من يسمى محمدا واسم ابيه عبد الرحمن، مكتوب عليه (المجلد الثالث..) فبادرت الدائرة في سنة 1361 هـ إلى طبعه عن هذه النسخة الناقصة وعن نسخة كوپريلى طبعته في قسمين وتأخر طبع بقية الكتاب انتظارا لنسخة اخرى حتى سر الله تعالى ذلك بعد عشر سنين كاملة وذلك بفضل جهود ناظم الدائرة حضرة الدكتور محمد نظام الدين فانه قام في العام الماضي برحلته بمناسبة الاشتراك في مؤتمر المستشرقين المنعقد باستانبول فكان في جملة ما اعتنى بتحصيله من النسخ نسخة ملا مراد للتقدمة ونسخة دار الكتب المصرية، وعلامة نسخة كوپريلى في المطبوع اخيرا (ك) .

تجزئة الكتاب لاجل الطبع الكتاب غير مجزأ في نسخة كوپريلى كما تقدم وهو مجزأ في نسخة دار الكتب تجزئة غير مناسبة ولا متناسبة ولما طبعت الدائرة في سنة 1361 المجلد الثالث تبعت فهيا ما وقع في المجلد المحفوظ في المكتبة السعيدية
ইত।

আল-আত্তার এটি হিজরি সাতশ তিরানব্বই (৭৯৩) সনের জিলকদ মাসের প্রথম দশকে সম্পন্ন করেন। এটি একটি উন্নত মানের পাণ্ডুলিপি যাতে বিকৃতি (تحريف) খুব একটা নেই; তবে প্রতীয়মান হয় যে এটি মূল কপির সাথে পাঠ-পরখ (مقابلة) করা হয়নি, যার ফলে এতে বেশ কিছু স্থানে পাঠচ্যুতি (سقط) ঘটেছে। পূর্বে 'দাইরা' (প্রতিষ্ঠান) কেমব্রিজে বসবাসরত দাইরার সহযোগী প্রথিতযশা প্রাচ্যবিদ ডক্টর ক্রেনকোর মাধ্যমে এর একটি আলোকচিত্র কপি সংগ্রহ করেছিল। তিনি এর খসড়া (مسودة) অনুলিখনের বিশেষ যত্ন নেন এবং নিজ হাতে তা অনুলিখন করেন

উপক্রমণিকা (تقدمة) এর শুরু থেকে 'শায়বা ইবনে নুমান ইবনে শারুস আস-সানআনি'-এর জীবনী (ترجمة) এর শেষ পর্যন্ত তিনি কিছুটা সংশোধনসহ লিখেছিলেন। সেখানে যে সকল বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন ছিল, আমরা যথাস্থানে সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। অতঃপর তিনি দাইরার নিকট তাঁর অনুলিখনের সাথে পূর্ণাঙ্গ আলোকচিত্র পাণ্ডুলিপিটি পাঠিয়ে দেন। দাইরা হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের সাঈদীয়া লাইব্রেরিতে গ্রন্থটির একটি খণ্ড খুঁজে পেয়েছিল, যা 'বাবু উবাইদ' (উবাইদ অধ্যায়) এর মাঝামাঝি থেকে 'মুহাম্মাদ' নামীয় ব্যক্তিদের অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত যাদের পিতার নাম ছিল 'আবদুর রহমান'। এর ওপর 'তৃতীয় খণ্ড' লেখা ছিল। অতঃপর দাইরা ১৩৬১ হিজরি সালে এই অসম্পূর্ণ (ناقص) পাণ্ডুলিপি এবং কোপরুলু পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি দুই খণ্ডে মুদ্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্য একটি পাণ্ডুলিপির অপেক্ষায় বইটির বাকি অংশের মুদ্রণ বিলম্বিত হয়, অবশেষে দীর্ঘ দশ বছর পর মহান আল্লাহ তা সহজ করে দেন। এটি দাইরার পরিচালক ডক্টর মুহাম্মদ নিজামুদ্দিনের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। তিনি গত বছর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রাচ্যবিদদের সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন। তাঁর সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে উপক্রমণিকার (تقدمة) জন্য 'মোল্লা মুরাদ' পাণ্ডুলিপি এবং 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ' এর পাণ্ডুলিপি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে মুদ্রিত সংস্করণে কোপরুলু পাণ্ডুলিপির প্রতীক হিসেবে (ক) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে।

মুদ্রণের জন্য গ্রন্থটির খণ্ডবিন্যাস: কোপরুলু পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থটি খণ্ড অনুযায়ী বিন্যস্ত (مجزأ) ছিল না, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপিতে এটি খণ্ড বিন্যাস (مجزأ) করা ছিল যা যথাযথ বা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। দাইরা যখন ১৩৬১ হিজরি সালে তৃতীয় খণ্ড মুদ্রণ করে, তখন তারা সাঈদীয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত খণ্ডটির বিন্যাস অনুসরণ করেছিল।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ك.

بحيدر آباد الدكن فانه كتب عليه (المجلد الثالث) وابتداؤه وانتهاؤه غير مناسب كما يعلم مما تقدم وقسمته الدائرة إلى قسمين، فلما اردنا اخيرا طبع بقية الكتاب وجدنا انفسنا مقيدين بمراعاة ما تقدم، فجعلنا التقدمة في مجلد

على حدة وعدد صفحاته (375) وعدد صفحات الفهرست (14) .

ثم المجلد الاول من اول الكتاب إلى آخر باب الزاى

وقسمناه إلى قسمين الاقسم الاول يشتمل على (اب ت ث ج) أي من اول باب الالف إلى آخر باب الجيم

وعدد صفحاته (552) وعدد صفحات فهرسته (13) والقسم الثاني يشتمل على (ح خ د ذ ر ز) أي من اول باب الحاء

إلى اخر باب الزاى

وعدد صفحاته (625) وصفحات فهرسته (16) .

ثم المجلد الثاني وقسمناه إلى قسمين الاول يشتمل على (س ش ص ض ط ظ) أي من اول باب السين

إلى آخر باب الظاء

، والقسم الثاني من اول باب عبد الله إلى آخر ترجمة (عبيد بن كرب أبو يحيى) إلى ان يلاقى المجلد الثالث المطبوع قديما في باب عبيد وهو ايضا قسمان، الاول من (عبيد بن مهران المكتب) إلى (عياض بن بكر بن وائل) وعدد صفحاته 409 والثانى من (عدى بن حاتم الطائى) إلى (محمد بن عبد الرحمن أبو الجماهر الحمصى) وعدد صفحاته 327 ثم المجلد الرابع وهو من اول من اسمه محمد واسم ابيه عبيد الله إلى آخر الكتاب وقسمناه ايضا إلى قسمين: الاول يشتمل على بقية باب الميم

وباب النون

، من (محمد بن عبيد الله) إلى (ندى المعروف بابى سعيد بن عباد الموصلي) والثانى من اول باب حرف الواو (الوليد بن اعين) إلى (ام هانئ) ، آخر الكتاب، وبه ختم وهذان المجلدان الثاني والرابع تحت
ক.

হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যে (হায়দ্রাবাদ ডেকান), এতে (তৃতীয় খণ্ড) লেখা ছিল এবং এর শুরু ও শেষ পূর্বের আলোচনার প্রেক্ষিতে উপযুক্ত ছিল না। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। অতঃপর যখন আমরা পরিশেষে কিতাবটির বাকি অংশ ছাপানোর ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন নিজেদের পূর্ববর্তী ব্যবস্থার অনুসরণে সীমাবদ্ধ পেলাম। তাই আমরা ভূমিকার জন্য একটি পৃথক খণ্ড

নির্ধারণ করলাম, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা (৩৭৫) এবং সূচিপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা (১৪)।

অতঃপর কিতাবের শুরু থেকে 'যাই' অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত প্রথম খণ্ড।

আমরা একে দুই ভাগে ভাগ করেছি। প্রথম ভাগ (আলিফ, বা, তা, ছা, জিম) বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ আলিফ অধ্যায়ের শুরু থেকে জিম অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৫৫২) এবং এর সূচিপত্র (১৩) পৃষ্ঠা। দ্বিতীয় ভাগে (হা, খা, দাল, যাল, রা, যা) বর্ণমালা অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ হা অধ্যায়ের শুরু থেকে

'যাই' অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত।

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৬২৫) এবং সূচিপত্র (১৬) পৃষ্ঠা।

অতঃপর দ্বিতীয় খণ্ড, একে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। প্রথম ভাগে (সিন, শিন, সদ, দদ, ত্বা, যা) বর্ণমালা অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ সিন অধ্যায়ের শুরু থেকে

'যা' অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত।

, এবং দ্বিতীয় ভাগ 'আবদুল্লাহ' অধ্যায়ের শুরু থেকে 'উবাইদ ইবনে কারাব আবু ইয়াহইয়া'-এর জীবনী (ترجمة)-এর শেষ পর্যন্ত। যা পূর্বে মুদ্রিত তৃতীয় খণ্ডের 'উবাইদ' অধ্যায়ের সাথে মিলিত হয়। এটিও আবার দুই ভাগে বিভক্ত; প্রথম ভাগ 'উবাইদ ইবনে মিহরান আল-মুকাত্তিব' থেকে 'আইয়াদ ইবনে বাকর ইবনে ওয়ায়েল' পর্যন্ত যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪০৯। এবং দ্বিতীয় ভাগ 'আদী ইবনে হাতিম আত-তাঈ' থেকে 'মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আবু আল-জামাহির আল-হিমসি' পর্যন্ত যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২৭। অতঃপর চতুর্থ খণ্ড, যা 'মুহাম্মদ' নামধারী এবং যার পিতার নাম 'উবাইদুল্লাহ' তাদের আলোচনা থেকে শুরু করে কিতাবের শেষ পর্যন্ত। একেও আমরা দুই ভাগে ভাগ করেছি: প্রথম ভাগে 'মিম' অধ্যায়ের

বাকি অংশ এবং 'নুন' অধ্যায়

অন্তর্ভুক্ত, যা 'মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ' থেকে শুরু করে 'নাদা', যিনি আবু সাঈদ ইবনে আব্বাদ আল-মুসিলি নামে পরিচিত, তাঁর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ভাগ 'ওয়াও' বর্ণের অধ্যায়ের শুরু (আল-ওয়ালিদ ইবনে আইয়ুন) থেকে কিতাবের শেষ 'উম্মে হানি' পর্যন্ত। এর মাধ্যমেই কিতাবটি সমাপ্ত হয়েছে। এই দ্বিতীয় ও চতুর্থ খণ্ড দুটি বর্তমানে...
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
كا.

الطبع فقد راعينا المناسبة والتناسب ما امكن وانما انخرم علينا ذلك فيما

يتصل بالمجلد الثالث الذى طبع قديما.

الاختلافات بين نسختي كوپريلى ودار الكتب المصرية يقع بين النسختين اختلاف كثير فاما ما كان بالزيادة والنقص واختلاف الالفاظ والعبارات فقد نبه عليه في الحواشى، وأهم الاختلافات التقديم والتأخير فربما وقع بباب كامل وذلك قليل وقد نبه عليه في الحواشى ايضا، ويقع اكثر منه في ترتيب التراجم وقد نبه عليه ايضا، واكثر منهما في ترتيب النصوص في التراجم الكبيرة فان المؤلف يسوق في الترجمة عدة نصوص كل نص منها تسند فيقع بين النسختين اختلاف كثير في ترتيب تلك النصوص، واقرب ما يتبادر إلى الظن توجيه التقديم والتأخير في التراجم والنصوص بافتراض ان يكون المؤلف بيض الكتاب مرتين، لكن لو كان الواقع هكذا لما غير في المرة الثانية شيئا من الترتيب الاول الا لمناسبة، وانعام النظر في مواقع ذلك الاختلاف لا يطابق هذا، بل تارة يكون المناسب ما في هذه النسخة، وتارة ما في الاخرى، فلا بد من افتراض سبب آخر والذى يظهر أن المؤلف قيد في اصله اولا ما تحصل لديه من التراجم والنصوص وترك بياضا واسعا في جوانب كل صفحة ليضيف ما يجده بعد ذلك ثم كان يضيف في الجوانب إلى ان اجتمع ما رضيه فأذن لاصحابه ان ينتسخوا من ذلك الاصل فكان الناسخ يضع تلك الالحاق التى في الجوانب في المواضع الصالحة لها من المتن فاختلف الناسخان، فمن هنا جاء الاختلاف، ويشهد لهذا انه في بعض المواضع
কা.

প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমরা যথাসম্ভব সামঞ্জস্য ও সুসংগতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছি, তবে আমাদের এই শৃঙ্খলা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে ওই অংশের ক্ষেত্রে যা

পূর্বে মুদ্রিত হওয়া তৃতীয় খণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত।

কোপরিলু এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ: উভয় পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান। শব্দ ও বাক্যের আধিক্য, স্বল্পতা এবং শাব্দিক পার্থক্যের বিষয়গুলো টীকাসমূহে (حواشى) উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো হলো অগ্রবর্তী ও পরবর্তী হওয়া (التقديم والتأخير)। কখনও কখনও এটি পুরো একটি অধ্যায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তবে তা সংখ্যায় নগণ্য এবং টীকাসমূহে তা নির্দেশ করা হয়েছে। জীবনীসমূহের (التراجم) বিন্যাসে এর চেয়েও বেশি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে এবং তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুটির চেয়েও বেশি পার্থক্য দেখা যায় বৃহৎ জীবনীগুলোর মূল পাঠসমূহের (النصوص) বিন্যাসের ক্ষেত্রে। কেননা লেখক একটি জীবনীর বর্ণনায় একাধিক পাঠ উল্লেখ করেন, যার প্রতিটিই সনদযুক্ত (تسند)। ফলে ওই পাঠগুলোর বিন্যাসে উভয় পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রচুর পার্থক্য দেখা যায়। জীবনী এবং পাঠসমূহের এই আগে-পিছে হওয়ার কারণ হিসেবে সবচেয়ে নিকটবর্তী ধারণাটি হলো—লেখক সম্ভবত কিতাবটির দুটি পরিচ্ছন্ন পাণ্ডুলিপি (بيض الكتاب) তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা যদি এমন হতো, তবে লেখক দ্বিতীয়বার পাণ্ডুলিপি তৈরির সময় কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া পূর্ববর্তী বিন্যাসে কোনো পরিবর্তন করতেন না। আর এই পার্থক্যের স্থানগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে উপরোক্ত ধারণার সাথে মেলে না; বরং দেখা যায় যে কখনও এই পাণ্ডুলিপির বিন্যাসটি সঠিক মনে হয়, আবার কখনও অন্যটির বিন্যাসটি। তাই এর জন্য অন্য একটি কারণ অনুসন্ধান করা আবশ্যক। যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, লেখক প্রথমে তার মূল পাণ্ডুলিপিতে জীবনী ও পাঠসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং প্রতি পৃষ্ঠার পাশে প্রশস্ত খালি জায়গা রেখেছিলেন যাতে পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সেখানে যোগ করা যায়। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী জায়গায় সংযোজন করতে থাকেন যতক্ষণ না তা তার পছন্দ অনুযায়ী পূর্ণতা পায়। অতঃপর তিনি তার সাথীদের সেই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি (ينتسخوا) করার অনুমতি প্রদান করেন। তখন অনুলিপিকারক (الناسخ) পার্শ্ববর্তী সেই সংযোজনসমূহকে (الالحاق) মূল পাঠের (المتن) যথোপযুক্ত স্থানে বসাতে গিয়ে ভিন্নতা তৈরি করেছেন। মূলত এখান থেকেই পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রমাণ হলো কিছু স্থানে
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
كب.

يقع بعض النصوص في احدى النسختين في ترجمة غير الترجمة التى يتعلق بها لكنها قريب منها، وقد يكون مع هذا سبب آخر كأن يكون اصحابه اخذوا الكتاب عنه اولا ثم كان إذا وجد زيادة اخبرهم بها ليضيفها كل منهم في نسخته في الموضع المناسب فيختلفون، وعلى كل حال فان الترتيب في المطبوع هو ترتيب نسخة كوپريلى، اللهم الا في مواضع يسيرة عدلنا عنها إلى ترتيب المصرية لموجب ونبهنا على ذلك في الحاشية وكذلك نبهنا على ترتيب تراجم المصرية حيث يخالف، فاما ترتيب النصوص فانما التزمنا التنبيه حيث يكون للاختلاف مساس بالمعنى فاما ما عدا ذلك فاكثر من ان يمكن التنبيه عليه.

ولهذا الاختلاف اهمية كبرى وهو أنه يدل انه لا جامع بين هاتين النسختين الا اصل المؤلف فليست احداهما منقولة من الاخرى ولا ترجعان إلى اصل واحد من الاصول التى بعد المؤلف، وبهذا يعظم الوثوق بما اتفقنتا عليه.

ومن الاختلاف ايضا انه يقع في نسخة كوپريلى ذكر اسم المؤلف في اوائل الاسانيد وترك ذلك في النسخة المصرية وكذلك ترك في نسخة ملا مراد.

ومنها انه كثيرا ما يقع في عبارات المؤلف في الاسانيد (ذكره ابى) وفى نسخة ملا مراد من التقدمة (ذكر ابى) .

النقل عن الكتاب عامة الكتب المؤلفة بعد المؤلف من كتب الفن وما يتصل به تنقل عن هذا الكتاب كتاريخ بغداد وتاريخ دمشق وتذكرة الحفاظ والتهذيب والميزان وفروعهما وتعجيل المنفعة وطبقات القراء لابن الجزرى والانساب لابن السمعاني وغيرها، وقد قابلت كثيرا من تلك النقول بما في الكتاب فوجدته مطابقا لكلا الاصلين أو لاحدهما

الا ان يقع هناك اختصار أو تحريف، واشكل على موضع واحد هو

পাণ্ডুলিপি দুটির কোনো একটিতে কিছু পাঠ এমন কোনো জীবনী (ترجمة) এর অধীনে পাওয়া যায় যা সেই পাঠের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট জীবনীর নিকটবর্তী। এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে, যেমন—হয়তো তাঁর ছাত্ররা প্রথমে তাঁর কাছ থেকে কিতাবটি গ্রহণ করেছিলেন, এরপর যখন তিনি কোনো অতিরিক্ত (زيادة) তথ্য পেতেন, তখন তাদের তা জানিয়ে দিতেন যাতে তারা নিজ নিজ পাণ্ডুলিপির উপযুক্ত স্থানে তা যুক্ত করে নিতে পারে; ফলে তাদের পাণ্ডুলিপিগুলোতে পার্থক্য তৈরি হয়। যা-ই হোক, মুদ্রিত সংস্করণের বিন্যাস মূলত কোপরুলি পাণ্ডুলিপির বিন্যাস অনুযায়ী করা হয়েছে; তবে সামান্য কিছু স্থানে বিশেষ কারণে আমরা তা পরিবর্তন করে মিশরীয় পাণ্ডুলিপির বিন্যাস অনুসরণ করেছি এবং টীকায় সে বিষয়ে অবহিত করেছি। একইভাবে যেখানে মিশরীয় পাণ্ডুলিপির জীবনীসমূহের (تراجم) বিন্যাস ভিন্ন হয়েছে, সেখানেও আমরা তা উল্লেখ করেছি। পাঠের বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমরা কেবল তখনই টীকা প্রদান করেছি যেখানে পার্থক্যের কারণে অর্থের পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যথায় পার্থক্যের পরিমাণ এত বেশি যে সব ক্ষেত্রে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

এই পার্থক্যের একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে, আর তা হলো—এটি প্রমাণ করে যে এই দুটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ উৎস নেই। অর্থাৎ একটি পাণ্ডুলিপি অন্যটি থেকে নকল করা হয়নি এবং লেখকের পরবর্তী সময়ের কোনো একক মূল পাণ্ডুলিপি থেকেও এগুলো সংগৃহীত হয়নি। এর মাধ্যমে উভয় পাণ্ডুলিপি যে বিষয়ে একমত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্যতা (وثوق) বৃদ্ধি পায়।

পার্থক্যসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো—কোপরুলি পাণ্ডুলিপিতে সনদসমূহের (اسانيد) শুরুতে লেখকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু মিশরীয় পাণ্ডুলিপিতে তা করা হয়নি। একইভাবে মোল্লা মুরাদ পাণ্ডুলিপিতেও তা বর্জন করা হয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো—সনদসমূহের (اسانيد) মধ্যে লেখকের উক্তিতে প্রায়শই ‘আমার পিতা এটি উল্লেখ করেছেন’ (ذكره ابى) শব্দবন্ধটি আসে, যেখানে উপক্রমণিকার মোল্লা মুরাদ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে ‘আমার পিতার উল্লেখ’ (ذكر ابى)।

গ্রন্থটি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ: লেখকের পরবর্তী সময়ে এই শিল্পের ওপর রচিত সাধারণ গ্রন্থসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কিতাবগুলো এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করে। যেমন: তারিখ বাগদাদ, তারিখ দামেস্ক, তাযকিরাতুল হুফফাজ, তাহযীব, মীযান ও এগুলোর শাখাগ্রন্থসমূহ, তা’জীলুল মানফা’আহ, ইবনুল জাযারীর তাবাকাতুল কুররা, ইবনুস সাম’ানীর আল-আনসাব ইত্যাদি। আমি এই উদ্ধৃতিগুলোর একটি বড় অংশ কিতাবে বিদ্যমান পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং সেগুলোকে উভয় মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অথবা যেকোনো একটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেয়েছি।

তবে সেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংক্ষেপণ বা বিকৃতি (تحريف) ঘটেছে। কেবল একটি স্থানে আমার কাছে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা হলো—
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
كج.

ما وقع في ترجمة داود بن خلف وهى في المطبوع ج 1 قسم 2 ص 410 وقد شرحت ذلك في التعليق عليها.

تصحيح الكتاب والتعليق عليه قد بذلت الوسع في تحقيق ما حققته من الكتاب اولا بتصفح الكتاب نفسه فان اوثق التصحيح تصحيح بعض الكتاب ببعضه، ثانيا بعرض ما وقع فيه على ما في الكتب الاخرى فراجعت لتراجم كثير من الصحابة طبقات ابن سعد وسيرة ابن هشام والاستيعاب والتجريد والاصابة واستقصيت أو كدت في غالب الكتاب معارضة تراجم الصحابة وغيرها بتاريخ البخاري وثقات ابن حبان واستكثرت من المعارضة على تهذيب المزى وتهذيبه لابن حجر والميزان للذهبي ولسانه لابن حجر وتعجيل المنفعة له وطبقات القراء لابن الجزرى، ومن مراجعة تاريخ بغداد والمطبوع من تهذيب تاريخ دمشق والانساب لابن السمعاني واللباب لابن الاثير والمؤتلف ومشتبه النسبة لعبد الغنى والاكمال لابن ما كولا والمشتبه للذهبي والتبصير لابن حجر، وتوخيت ان اثبت في المتن ما هو الصواب أو الاصوب وان اتفقت الاصول على الخطأ اللهم الا حيث لا يبعد أن يكون الخطأ من اصل المؤلف ونبهت في التعليقات على سائر التصرفات، ونبهت ايضا على ما يسد بعض البياضات وما ظهر لى من الاوهام إلى تحقيقات اخرى تشتبك بالتصحيح ولا تبعد عنه، ولا ادعى اننى قد وفيت بالواجب ولكني

بلغت مبلغا أكل تقديره إلى اهل العلم الذين لهم معرفة بالفن وبالنسخ الخطية القديمة، وهذه الاشارات التى عملت في التصحيح:
কজ।

দাউদ ইবনে খালাফ-এর জীবনীতে (ترجمة) যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির ১ম খণ্ড, ২য় অংশ, ৪১০ পৃষ্ঠায় রয়েছে; আমি এর টীকা-ভাষ্যে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।

গ্রন্থটির সংশোধন (تصحيح) এবং এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। প্রথমত, আমি গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব তা যাচাই (تحقيق) করেছি; কারণ সংশোধনের (تصحيح) সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق) পদ্ধতি হলো গ্রন্থের এক অংশ দিয়ে অপর অংশকে সংশোধন করা। দ্বিতীয়ত, গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা অন্যান্য গ্রন্থের তথ্যের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে; আমি অনেক সাহাবীর জীবনীর (تراجم) তথ্যের জন্য ইবনে সা'দ-এর তাবাকাত, ইবনে হিশাম-এর সিরাত, আল-ইস্তিআব, আত-তাজরিদ এবং আল-ইসাবা গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি গ্রন্থের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাহাবীদের জীবনী ও অন্যান্য বিষয়গুলো বুখারীর তারিখ এবং ইবনে হিব্বানের সিকাত-এর সাথে মিলিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি। এছাড়া মিজ্জির তাহজিব ও ইবনে হাজারের তাহজিব, যাহাবীর মিজান ও ইবনে হাজারের লিসান, তা'জিলুল মানফাআ এবং ইবনুল জাজারীর তাবাকাতুল কুররা-এর সাথে ব্যাপকভাবে তুলনা করেছি। পাশাপাশি তারিখ বাগদাদ, তাহজিবে তারিখ দামেস্ক-এর মুদ্রিত কপি, ইবনুস সামআনীর আল-আনসাব, ইবনুল আসিরের আল-লুবাব, আব্দুল গানীর আল-মু'তালিফ ওয়া মুশতাবিহুন নিসবাহ, ইবনে মাকুলার আল-ইকমাল, যাহাবীর আল-মুশতাবিহ এবং ইবনে হাজারের আত-তাবসির গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করেছি। আমি মূল পাঠে (متن) যা সঠিক বা অধিকতর সঠিক তা-ই সংকলন করার সংকল্প করেছি, যদিও মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে কোনো ভুলের ওপর ঐক্যমত্য হয়। তবে যদি সেই ভুল খোদ লেখকের থেকে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে আমি টীকায় সেই সকল পরিবর্তনের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছি। আমি পাণ্ডুলিপির শূন্যস্থান পূরণে যা প্রয়োজন এবং আমার নিকট প্রকাশিত ভুলগুলোর (أوهام) ব্যাপারেও অন্যান্য গবেষণার আলোকে সতর্ক করেছি যা মূল সংশোধনের (تصحيح) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আমি দাবি করি না যে আমি আমার দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করেছি, তবে আমি

এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যার মূল্যায়নের ভার আমি সেই সকল আলেমদের ওপর অর্পণ করছি যাদের এই শাস্ত্র (فن) এবং প্রাচীন হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخ خطية) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে। আর সংশোধনের (تصحيح) ক্ষেত্রে আমি যে সকল সংকেত ব্যবহার করেছি তা হলো:
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
كد.

الارقام اثناء المتن التى تكون بين قوسين هكذا () ارقام صفحات النسخ وبعد كل رقم علامة نسخته وبعد علامة النسخة المصرية من اثناء ص 351 من القسم الاول من المجلد الاول فما بعدها رقم المجلد منها، وما وضع من المتن بين حاجزين هكذا [] فهو زيادة في بعض النسخ وفى آخر الزيادة رقم يشير إلى الحاشية التى تتعلق به واقتصرت في تلك الحواشى على قولى مثلا (من م) اعني انها زيادة من المصرية، وربما اقول مثلا (ليس في م) أو (سقط من م) اعني انها زيادة من النسخة الاخرى أو النسختين من التقدمة وإذا علقت على بعض الكلمات نحو (م..) فالواقع في المتن هو ما في النسخة الاخرى أو النسختين من التقدمة.
কদ (كد)।

মূল পাঠের (متن) অভ্যন্তরে বন্ধনীর () মধ্যে থাকা সংখ্যাগুলো হলো পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বর। প্রতিটি সংখ্যার পর সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপির সংক্ষিপ্ত চিহ্ন রয়েছে এবং প্রথম খণ্ডের প্রথম অংশের ৩৫১ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে পরবর্তী মিশরীয় পাণ্ডুলিপির চিহ্নের পর সংশ্লিষ্ট খণ্ড নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। মূল পাঠের (متن) মধ্যে যা কিছু দুই পার্শ্ববন্ধনীতে [] রাখা হয়েছে, তা হলো কোনো কোনো পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত (زيادة) অংশ এবং অতিরিক্ত (زيادة) অংশের শেষে একটি সংখ্যা রয়েছে যা সংশ্লিষ্ট টীকাকে (حاشية) নির্দেশ করে। আমি এই টীকাগুলোতে (حاشية) সংক্ষেপে যেমন বলেছি '(মিম থেকে)' (من م), যার অর্থ হলো এটি মিশরীয় পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত (زيادة) অংশ। আবার কখনো আমি বলেছি যেমন '(মিম-এ নেই)' (ليس في م) অথবা '(মিম থেকে বাদ পড়েছে)' (سقط من م), যার অর্থ হলো এটি অন্য পাণ্ডুলিপিতে বা ভূমিকাভাগের অন্য দুই পাণ্ডুলিপিতে থাকা অতিরিক্ত (زيادة) অংশ। আর যখন আমি কোনো শব্দের ওপর '(মিম..)' (م..) এর মতো মন্তব্য করেছি, তখন মূল পাঠে (متن) যা আছে তা মূলত অন্য পাণ্ডুলিপি বা ভূমিকাভাগের অন্য দুই পাণ্ডুলিপির ভাষ্য।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
شكر.

ومما يجدر ذكره هنا انه في هذا الدور الجديد لحيدر آباد الدكن وفى هذه الخمس السنوات الاخيرة انتشر صيت دائرة المعارف وطابت سمعتها وحصل لها القبول العام في الاوصاط العالمية شرقية وغربية بما قامت به من الاعمال العلمية الخالصة في نشر الكتب الجليلة النادرة وبذلك ازدادت الروابط الحسنة الادبية والثقافية بين الشرق والغرب وبين الهند والمعاهد العلمية في اوربا ونحن ممنونون جدا من جميع

العلماء والاكابر الذين شجعونا باستحسان اعمالنا وتقديرها ونرجو من العلماء والمستشرقين في اقطار العالم والمراكز العربية أن يتعاهدونا بملاحظاتهم القيمة وآرائهم السديدة فيما يساعد على توسيع اعمال الدائرة والزيادة في اتقانها.

وانا لنتقدم بالشكر الجزيل لمن قامت الدائرة باعمالها الجليلة
কৃতজ্ঞতা।

এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের এই নতুন যুগে এবং গত পাঁচ বছরে 'দাইরাতুল মাআরিফ'-এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরল ও মহান গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। এর ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে এবং ভারত ও ইউরোপের উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চমৎকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। আমরা সেই সকল

আলেম ও মহৎ ব্যক্তিদের নিকট অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যারা আমাদের কাজকে পছন্দ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে উৎসাহিত করেছেন। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আলেম ও প্রাচ্যবিদ এবং আরবীয় কেন্দ্রগুলোর নিকট এই প্রত্যাশা রাখি যে, তারা যেন তাদের মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও সঠিক মতামতের মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করেন, যা এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি বিস্তারে এবং এর উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

আর এই প্রতিষ্ঠান যাদের মাধ্যমে তার মহান কার্যাবলি সম্পাদন করেছে, আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
كه.

في عهد رياسته، وشملها حسن عنايته صاحب السمو والفخامة هز اگزالتد هائنس دى نظام النواب مير عثمان على خان راج پرمكهه آف حيد آباد وكذلك نشكر لحكومة حيد آباد وارباب الجامعة العثمانية خصوصا منهم صاحب المعالى رئيس الوزراء وامير الجامعة بى رام كشن راو فانه بابقائه للدائرة امدادها سهل عليها القيام باعمالها ولولاه لتعسر عليها الاستمرار في اجراء في اجراء الاعمال العلمية ونشر الكتب العربية.

ومن الحق أن نهدى عنا وعن اهل العلم الشكر الجميل لجناب النواب الجليل على ياورجنگك معين امير الجامعة ورئيس دائرة المعارف سابقا الذى بدأ العمل في تصحيح هذا الكتاب وطبعه في عهد رياسته للدائرة ثم لخلفه الفاضل الجليل الدكتور السيد حسين معين امير الجامعة ورئيس دائرة المعارف حالا، ثم لجناب ناظم الدائرة الساعي في ترقية شؤنها الدكتور الحاج محمد نظام الدين، وبفضل مساعيه حصلت النسخة المصرية ونسخة مراد ملا للتقدمة وذلك في رحلته في العام الماضي للاشتراك في مؤتمر المستشرقين المنعقد في استانبول وبتلك الرحلة

مد رحلته إلى اوربا وتجول في اقاطرها لزيارة اكابر العلماء والمستشرقين ولمشاهدة المكاتب الشهيرة وتحصيل النسخ القلمية لكتب عديدة وكذلك اغتنم وجوده في استانبول فاطلع على مكاتبها وحصل منها نسخا عديدة من الكتب القلمية المهمة وعطف على مكاتب مصر والشام والحجاز وقد سعد بالحج والزيارة في تلك الرحلة ولا ننسى ما للعالم الجليل والفاضل النبيل المستشرق الشهير معاون الدائرة الدكتور ايف كرنكو من المساعى الجميلة في مساعدة الدائرة ومعاضدتها على توسيع اعمالها وبذل جهده

তাঁর সভাপতিত্বের আমলে এবং তাঁর সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে, মহামান্য হিজ এক্সালটেড হাইনেস দি নিজাম নওয়াব মীর ওসমান আলী খান, হায়দ্রাবাদের রাজপ্রমুখ। অনুরূপভাবে আমরা হায়দ্রাবাদ সরকার এবং ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে মহামান্য প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির (চ্যান্সেলর) বি. রামকৃষ্ণ রাও-এর প্রতি। কেননা, দাইরাতুল মাআরিফ (প্রতিষ্ঠানটি)-এর জন্য তিনি অনুদান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর করেছেন। তিনি না থাকলে ইলমি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং আরবি কিতাবসমূহ প্রকাশ করা দুরুহ হয়ে পড়ত।

আমাদের পক্ষ থেকে এবং জ্ঞানপিপাসুদের পক্ষ থেকে মহান নওয়াব আলী ইয়াওয়ার জং-এর প্রতি সুন্দর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আমাদের কর্তব্য, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন আমির (ভাইস-চ্যান্সেলর) এবং দাইরাতুল মাআরিফের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন; যাঁর সভাপতিত্বের আমলে এই কিতাবটির সংশোধন ও মুদ্রণ কাজ শুরু হয়েছিল। অতঃপর তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি শ্রদ্ধেয় ডক্টর সৈয়দ হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির (ভাইস-চ্যান্সেলর) এবং দাইরাতুল মাআরিফের সভাপতি। এরপর দাইরার পরিচালক (নাজেম) ডক্টর আলহাজ্ব মুহাম্মদ নিজামুদ্দিনের প্রতি, যিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সদাসচেষ্ট। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত বছর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রাচ্যবিদদের সম্মেলনে যোগদানের প্রাক্কালে মিসরীয় পাণ্ডুলিপি এবং মুরাদ মোল্লা পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সেই সফরের মাধ্যমেই তিনি

ইউরোপ পর্যন্ত তাঁর সফর বিস্তৃত করেন এবং সেখানকার বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন প্রখ্যাত আলেম ও প্রাচ্যবিদদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এবং বিখ্যাত গ্রন্থাগারসমূহ পরিদর্শন ও অনেক কিতাবের হস্তলিপি সংগ্রহের নিমিত্তে। একইভাবে তিনি ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে সেখানকার গ্রন্থাগারগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের অনেক হস্তলিপি সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি মিসর, শাম (সিরিয়া) ও হিজাজের গ্রন্থাগারগুলো পরিদর্শন করেন। সেই সফরেই তিনি হজ ও জিয়ারতের সৌভাগ্য লাভ করেন। আমরা মহান আলেম ও প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ দাইরাতুল মাআরিফের সহযোগী ডক্টর এফ. ক্রেনকো-র চমৎকার প্রচেষ্টার কথা বিস্মৃত হতে পারি না, যিনি দাইরার কাজের পরিধি বিস্তারে এবং তাঁর সাধ্যানুযায়ী দাইরাকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে নিরলস শ্রম দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
كو.

في استنساخ وتصحيح هذا الكتاب وقد كان لفضيلة العلامة الكبير الاستاذ محمد زاهد الكوثري مد الله في ايامه فضل كبير بتنبيهه على وجود نسخة التقدمة في مكتبة مراد ملا وارشاده إلى نسخ كثير من الكتب هذا مع حسن عنايته بمطبوعات الدائرة شكر الله سعيه ووفق الجميع للاستمرار على خدمة العلم ونشره وارجو أن يتمم بقية الكتاب على النحو الذى جرى عليه العمل من اوله واسأل الله تعالى ان لا تزال دائرة المعارف ينبوعا متبجسا بامثال هذه النفائس لا ينضب ماؤه ولا يتكدر صفاؤه آمين والحمد لله رب العالمين وصلى الله على خاتم انبيائه محمد وآله وصحبه.

23 شوال سنة 1371 هـ كتبه راجى عفو ربه عبد الرحمن بن يحيى المعلمى اليماني

এই গ্রন্থের অনুলিপি প্রস্তুতকরণ (استنساخ) এবং সংশোধনের (تصحيح) কাজে বিজ্ঞ আল্লামা (العلامة) ও মহান উস্তাদ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী (আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন)—এর বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে 'তাকদিমাহ' (التقدمة) নামক পাণ্ডুলিপির (نسخة) অস্তিত্বের সংবাদ দিয়ে এবং আরও অনেক গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির (نسخ) সন্ধান দিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের (দাইরাতুল মাআরিফ) প্রকাশনাগুলোর প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ প্রশংসার দাবি রাখে। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং ইলমের সেবা ও তা প্রসারে অবিচল থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তাওফিক দান করুন। আমি আশা করি, গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশটিও ঠিক সেই পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হবে যেভাবে শুরু থেকে এর কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, দাইরাতুল মাআরিফ যেন সর্বদা এই জাতীয় অমূল্য জ্ঞান-ভাণ্ডারের একটি প্রবহমান প্রস্রবণ হয়ে থাকে, যার বারিধারা কখনো শুষ্ক হবে না এবং যার স্বচ্ছতা কখনো ঘোলাটে হবে না। আমিন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

২৩ শাওয়াল, ১৩৭১ হিজরি। এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার প্রত্যাশী—আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী।
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ١)
كتاب الجرح والتعديل

تأليف الامام الحافظ شيخ الاسلام ابي محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم محمد بن إدريس بن المنذر التميمي الحنظلي الرازي

(المتوفى (327 هـ رح)

بسم الله الرحمن الرحيم (2 ك) (2 د) [وبه نستعين - 2] [رب يسر وأتمم وبه ثقتى وعليه اعتمادي وتكلائى، يا كريم، يا رحيم الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا الله، الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى.

قال الشيخ الإمام الحافظ أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن إدريس الحنظلي التميمي رحمة الله تعالى عليه. - 2] .

الحمد لله رب العالمين بجميع محامده كلها على جميع نعمه علينا وعلى جميع خلقه حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، وصلى الله على نبيه محمد نبي الرحمة، وخاتم النبيين، وعلى آله [وصحبه - 2] أجمعين.

[مرتبة النبي صلى الله عليه وسلم 4] أما بعد فان الله عزوجل ابتعث محمدا رسوله صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة.

وأنزل عليه الكتاب تبيانا لكل شئ.

وجعله موضع الإبانة عنه: فقال (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نزل إليهم 5 -) وقال عزوجل (وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلا لِتُبَيِّنَ (6) لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ - 7) .

--------------------------------------------

(1) جعلنا العلامة لنسخة كوپريلو " ك " ولنسخة ملا مراد " د " ولنسخة دار الكتب المصرية " م " (2) من ك (3) من د

(4) هذا العنوان الذى بين الحاجزين من زيادتنا وكذلك العناوين الآتية على هذا الشكل [] (5) النحل 44 (6) زاد في الاضلين ك ودهنا للناس ما نزل إليهم وقال عزوجل وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلا لتبين لهم، وهو تكرار (7) النحل - 64.

(*)
কিতাবুল জারহ ওয়াত তা'দীল (الجرح والتعديل)

ইমাম, হাফিজ (الحافظ), শায়খুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনুল মুনযির আত-তামিমি আল-হানজালি আর-রাজি-এর রচনা

(মৃত্যু ৩২৭ হিজরি, রহ.)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য চাই। হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং পূর্ণতা দান করুন। তাঁর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁর ওপরই আমার নির্ভরতা ও নির্ভরস্থল। হে দয়ালু! হে অতি দয়াবান! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম।

শায়খ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ) আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আল-হানজালি আত-তামিমি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তাঁর সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে যা তিনি আমাদের এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর বর্ষণ করেছেন। এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহের বৃদ্ধির উপযোগী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদের ওপর, যিনি রহমতের নবী এবং সর্বশেষ নবী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ৪] অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমস্ত মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন।

এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।

এবং তাঁকে (নবীকে) সেই কিতাবের বর্ণনাকারী নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যিকির (কুরআন), যাতে আপনি মানুষের কাছে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।" এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার ওপর কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি তাদের জন্য সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যেগুলোতে তারা মতভেদ করছে।"

--------------------------------------------

(১) আমরা কুপরিলু পাণ্ডুলিপির জন্য 'কাফ', মোল্লা মুরাদ পাণ্ডুলিপির জন্য 'দাল' এবং মিশরের দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির জন্য 'মিম' চিহ্ন ব্যবহার করেছি। (২) কুপরিলু পাণ্ডুলিপি থেকে। (৩) মোল্লা মুরাদ পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৪) ব্র্যাকেটের ভেতরের এই শিরোনামটি আমাদের পক্ষ থেকে সংযোজিত, একইভাবে এই চিহ্নের [] মধ্যে থাকা পরবর্তী শিরোনামগুলোও। (৫) আন-নাহল: ৪৪। (৬) মূল পাণ্ডুলিপি 'কাফ' এবং 'দাল'-এ "মানুষের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা বর্ণনা করতে এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি আপনার ওপর কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন" বাক্যটি অতিরিক্ত এসেছে, যা একটি পুনরাবৃত্তি। (৭) আন-নাহল: ৬৪।

(*)
(খণ্ড: ١) আল জারহু ওয়াত তাদীল - ইবনু আবী হাতিম (পৃষ্ঠা: ٢)
فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المبين عن الله عزوجل أمره، وعن كتابه معاني ما خوطب به الناس، وما أراد الله عزوجل به وعني فيه، وما شرع من معاني دينه وأحكامه وفرائضه وموجباته وآدابه ومندوبه (1) وسننه التي سنها، وأحكامه التي حكم بها (2) وآثاره التي بثها.

فلبث صلى الله عليه وسلم بمكة والمدينة ثلاثا وعشرين سنة، يقيم للناس معالم الدين، يفرض الفرائض، ويسن السنن، ويمضي الأحكام ويحرم الحرام ويحل الحلال، ويقيم الناس على منهاج الحق بالقول والفعل.

فلم يزل على ذلك حتى توفاه الله عزوجل وقبضه إليه صلى الله عليه وسلم وعلى آله أفضل صلاة وأزكاها، وأكملها وأذكاها، وأتمها وأوفاها (3) فثبت عليه السلام حجة الله عزوجل على خلقه بما أدى عنه وبين، [وما دل عليه - 4] من محكم كتابه ومتشابهه، وخاصه وعامه، وناسخه ومنسوخه، وما بشر وأنذر.

قال الله عزوجل (رُسُلا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرسل - 5) .

‌‌[معرفة السنة وأئمتها]

فإن قيل كيف السبيل إلى معرفة ما ذكرت من معاني كتاب الله عزوجل ومعالم دينه؟ قيل: بالآثار الصحيحة عن

رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه النجباء الألباء (6) الذين شهدوا التنزيل، وعرفوا التأويل، رضي الله تعالى عنهم.

فإن قيل فبماذا تعرف الآثار الصحيحة والسقيمة؟ قيل: بنقد (7) العلماء الجهابذة الذين خصهم الله عزوجل بهذه الفضيلة، ورقهم هذه المعرفة، في كل دهر وزمان.

--------------------------------------------

(1) ك " وندوبه " (2) ك " التى ذكرها " (3) ك " وانماها " (4) من ك (5) النساء - 165 (6) د " الاولياء " (7) د " ينفل ".

(*)
সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশের বর্ণনাকারী এবং তাঁর কিতাবের সেই সকল অর্থের ব্যাখ্যাকারী যার মাধ্যমে মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে, এবং যা মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে ইচ্ছা করেছেন ও উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি তাঁর দ্বীনের অর্থসমূহ, বিধিবিধান, ফরজসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, শিষ্টাচার, মুস্তাহাব (مندوب) এবং তাঁর প্রবর্তিত সুন্নাহসমূহ, তাঁর প্রদত্ত ফয়সালাসমূহ এবং তাঁর প্রচারিত আছার বা বর্ণনাগুলোর বর্ণনাকারী ছিলেন।

অতঃপর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদিনায় তেইশ বছর অবস্থান করেন, মানুষের জন্য দ্বীনের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন, ফরজসমূহ নির্ধারণ করেন, সুন্নাহসমূহ প্রবর্তন করেন, বিধিবিধানসমূহ জারি করেন, হারামকে নিষিদ্ধ ও হালালকে বৈধ করেন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষকে সত্য পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি এভাবেই অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁর ওফাত দান করেন এবং তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে তুলে নেন; তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সর্বোত্তম, পবিত্রতম, পূর্ণাঙ্গতম, সুগন্ধিময় ও পরিপূর্ণ রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর হুজ্জাত বা দলীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন ঐসব বার্তার মাধ্যমে যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দিয়েছেন ও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কিতাবের মুহকাম (محكم) ও মুতাশাবিহ (متشابه), খাস (خاص) ও আম (عام), নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) থেকে যা কিছুর দিকে তিনি নির্দেশ করেছেন এবং যে বিষয়ে তিনি সুসংবাদ ও সতর্কতা প্রদান করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: (সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে)।

‌‌[সুন্নাহ এবং এর ইমামগণের পরিচিতি]

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থসমূহ এবং তাঁর দ্বীনের যে নিদর্শনগুলোর কথা আপনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলো জানার উপায় কী? উত্তরে বলা হবে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সেই সকল শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান সাহাবীগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত সহীহ (صحيح) আছার বা বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে, যাঁরা ওহী নাজিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা (তাবীল) জানতেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, সহীহ (صحيح) এবং দুর্বল (سقيم) বর্ণনাগুলো কিসের মাধ্যমে চেনা যাবে? উত্তরে বলা হবে: সেই সকল সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞ আলেমদের পর্যালোচনার (نقد) মাধ্যমে, যাঁদেরকে মহান আল্লাহ এই বিশেষ মর্যাদার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং প্রতিটি যুগে ও সময়ে এই জ্ঞান দান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ‘ক’ পাণ্ডুলিপিতে "ওয়ান্দুবিহি" (২) ‘ক’ পাণ্ডুলিপিতে "যা তিনি উল্লেখ করেছেন" (৩) ‘ক’ পাণ্ডুলিপিতে "এবং তা বৃদ্ধি করেন" (৪) ‘ক’ পাণ্ডুলিপি থেকে (৫) আন-নিসা - ১৬৫ (৬) ‘দ’ পাণ্ডুলিপিতে "আল-আউলিয়া" (৭) ‘দ’ পাণ্ডুলিপিতে "ইনফাল"

(*)