(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: -)
الهلال - مشهور القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الهلال
المؤلف: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
عدد الصفحات: 6
(البحث مُلحق بذيل كتاب «مدينة المسلمين في أسبانيا» لجوزيف ماك كيب، ترجمه من الإنجليزية الدكتور محمد تقي الدين الهلالي، عناية أبي عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان، طبع دار اللؤلؤة: الملحق الرابع بالكتاب ص 263 - 270)
[البحث مرقم آليا غير موافق للكتاب المطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1442
আল-হিলাল - মাশহুর বিভাগ: ফেকহী মাসআলাসমূহ
বই: আল-হিলাল
লেখক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬
(গবেষণাটি জোসেফ ম্যাকক্যাব রচিত «স্পেনের মুসলিম শহর» বইটির পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন ডক্টর মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালি, সম্পাদনায় আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান, দার আল-লুলুয়াহ কর্তৃক মুদ্রিত: বইটির চতুর্থ পরিশিষ্ট, পৃষ্ঠা ২৬৩ - ২৭০)
[গবেষণাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত বইয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১)
الهلال
بقلم أبي عبيدة مشهور آل سلمان
আল-হিলাল
রচনায়: আবু উবাইদাহ মাশহুর আল সালমান
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২)
لا ذِكر للهلال في نصوص الوحيين، إلا الهلال الذي هو مواقيت للناس في الحج والصيام في قوله عز وجل: {يسألونك عن الأهلة قل هي مواقيت للناس والحج} [البقرة:189]، وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا تصوموا الشهر حتى تروا الهلال»
(1) وما ورد في معناه.
ولمَّا كان الهلال هو شعار العثمانيين؛ أصبح الهلال في نظر الكثيرين شعارًا للإسلام، وأما قبل ذلك؛ فلم يكن مشهورًا ولا معلومًا، إلا ما ذكره ابن حجر في «الإصابة»
(2) في ترجمة (أبي الكنود سعد بن مالك بن الأقيصر بن مالك الأزدي)، قال:
«قال ابن يونس
(3): وفد على النبي صلى الله عليه وسلم، وعقد له راية على قومه، سوداء فيها هلال أبيض، وشهد فتح مصر».
قال ابن حجر: «رواه سعيد ابن عفير عن عمرو بن زهير بن أشيم بن أبي الكنود: أنَّ أبا الكنود وفد
… فذكره».
قلت: سعيد بن كثير بن عفير الأنصاري من رجال الشيخين، وهو من شيوخ الإمام البخاري، وهو صدوق، أنكِرت عليه أحاديث تفرَّد بها، وكان علَّامة في الأخبار.
انظر: «الجرح والتعديل» (4/ 56)، «تاريخ ابن يونس» (564)، «الميزان» (2/ 155).
وعمرو بن زهير بن أشيم لم أجد له ترجمة.
ولا يمكن لمن في طبقة ابن عفير إدراك من روى عن طبقة الصحابة.
ولا يعلم حال من دون ابن عفير؛ فالسند مظلم.
--------------------------------------------
ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহর) ভাষ্যসমূহে হিলাল (নতুন চাঁদ) সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই, কেবল সেই হিলাল ব্যতীত যা মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময় নির্ধারণকারী, যা মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল: এগুলো মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময় নির্দেশক} [আল-বাকারা: ১৮৯], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখো না"
(১) এবং এই অর্থের অন্যান্য বর্ণনা।
যেহেতু হিলাল ছিল উসমানীয়দের প্রতীক; তাই অনেকের দৃষ্টিতে হিলাল ইসলামের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আর এর আগে এটি প্রসিদ্ধ বা পরিচিত ছিল না, কেবল ইবনে হাজার 'আল-ইসাবা'
(২) গ্রন্থে (আবু আল-কানুদ সা'দ বিন মালিক বিন আল-আকাইসার বিন মালিক আল-আজদী)-এর জীবনী আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত। তিনি বলেন:
«ইবন ইউনুস
(৩) বলেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রতিনিধি হিসেবে আগমন করেন এবং নবীজী তাঁর গোত্রের জন্য একটি কালো পতাকা বেঁধে দেন যাতে একটি সাদা হিলাল ছিল, আর তিনি মিশর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন»।
ইবনে হাজার বলেন: «সাঈদ ইবন উফাইর এটি আমর বিন জুহাইর বিন আশইয়াম বিন আবি আল-কানুদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু আল-কানুদ প্রতিনিধি হিসেবে আগমন করেন
… এরপর তিনি পূর্ণ বর্ণনাটি উল্লেখ করেন»।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সাঈদ বিন কাসির বিন উফাইর আল-আনসারী শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ইমাম বুখারি-র শাইখদের অন্যতম। তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর এককভাবে বর্ণিত (تفرد) কিছু হাদিস অস্বীকার (أنكرت) করা হয়েছে, আর তিনি ইতিহাস ও সংবাদে বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন।
দেখুন: 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (৪/ ৫৬), 'তারিখ ইবন ইউনুস' (৫৬৪), 'আল-মিজান' (২/ ১৫৫)।
আর আমর বিন জুহাইর বিন আশইয়াম-এর কোনো জীবনী আমি পাইনি।
এবং ইবন উফাইরের স্তরের (طبقة) কারো পক্ষে সাহাবীগণের স্তর (طبقة) থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব নয়।
আর ইবন উফাইরের পরবর্তী বর্ণনাকারীদের অবস্থা অজ্ঞাত; ফলে এই সনদ (سند) অন্ধকার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৩)
وأخرج ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (62/ 414) من طريق محمد بن عمرو بن إسحاق بن زبر الحمصي، أخبرنا أبي، حدَّثنا وحشي بن إسحاق بن وحشي بن حرب بن وحشي، حدَّثني أبي إسحاق، عن أبيه وحشي، عن أبيه حرب بن وحشي، عن أبيه وحشي بن حرب: «أنه وفد على رسول الله صلى الله عليه وسلم في اثنين وسبعين رجلًا من الحبشة، وأنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قَوَّدني عليهم، وعقد لي راية صفراء ذراعين في ذراعين، وفيها هلال أبيض وعذبتان سوداوان وبينهما عذبة بيضاء
… » الحديث.
وإسناده مظلم؛ من ابن زبر إلى ابن وحشي بن حرب مجاهيل.
قال عبد الحي الكتاني في «التراتيب الإدارية» (1/ 320) موجِّها اتخاذ الهلال شعارًا للمسلمين من خلال هذا الخبر؛ فقال:
«يُؤخذ من هذا أصل رسم صورة الهلال في الراية الإسلامية، وبذلك تعلم ما وقع لصاحب «وفيات الأسلاف»؛ فإنه قال في (ص 380): أنَّ وضع رسم صورة الهلال على رؤوس منارات المساجد بدعة، وإنَّما يتداول ملوك الدولة العثمانية رسم الهلال علامة رسميَّة أخذًا من القياصرة، وأصله أنَّ قيليش المقدوني والد الإسكندر الأكبر لما هاجم بعسكره على بزنطية -وهي القسطنطينية- في بعض الليالي؛ دافعه أهلها، وغلبوا عليه، وطردوه عن البلد، وصادف ذلك وقت السحر، فتفاءلوا به واتَّخذوا رسم الهلال في عَلَمِهِم الرسمي تذكيرًا للحادثة، وورث ذلك منهم القياصرة ثم العثمانية لما غَلَبوا عليها، ثم حدث ذلك في بلاد قازان».
قال أبو عبيدة: أمَّا (الراية السوداء)؛ فقد وردت فيها عدة أحاديث
(1)، وبعضها في «السنن»، وجاء في كلام بعض الشُّرَّاح أنَّ فيها بياضًا؛ ففي «عون المعبود» (7/ 254): «قال القاضي: أراد بـ (السوداء) ما غالب لونه سواد؛ بحيث يُرى من البعيد أسود، لا ما لونه سواد خالص؛ لأنه قال: (من نمرة) -بفتح فكسر-؛ وهي بردة من صوف يلبسها الأعراب، فيها تخطيط من سواد وبياض، ولذلك سمِّيت (نمرة) تشبيهًا بـ (النمر)».
وقال الدمياطي في «المختصر في سيرة سيد البشر» (1/ 39): «وكانت ألويَتُه بيضاء، وربَّما جعل منها الأسود، وربَّما كانت من خُمر بعض نسائه رضي الله عنهن».
وقال ابن حجر في «فتح الباري» (6/ 127): «وقيل: كانت له راية تسمَّى (الراية البيضاء)، وربَّما جعل فيها شيء أسود».
ولعلَّ هذا يُحمل على المغايرة بين (الراية) و (اللواء)؛ ففي «مصنف ابن أبي شيبة» (5/ 289) رقم (9643) عن رجل من أهل المدينة: «إنَّ راية النبي صلى الله عليه وسلم كانت تكون بيضاء، ولواءه أسود».
وكيفما وجِّهت الأحاديث؛ فإنه
لم يرِد في رايات النبي صلى الله عليه وسلم وألويته ذِكرٌ للهلال، إلا ما عقَدَه لسعد بن مالك فيما تقدَّم.
ইবনে আসাকির ‘তারিখ দিমাশক’ (৬২/৪১৪) গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন আমর বিন ইসহাক বিন জাবর আল-হিমসি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ওয়াহশি বিন ইসহাক বিন ওয়াহশি বিন হারব বিন ওয়াহশি, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইসহাক, তিনি তাঁর পিতা ওয়াহশি থেকে, তিনি তাঁর পিতা হারব বিন ওয়াহশি থেকে, তিনি তাঁর পিতা ওয়াহশি বিন হারব থেকে বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই তিনি বাহাত্তর জন আবিসিনীয় লোকের একটি প্রতিনিধিদলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তাদের ওপর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন এবং আমার জন্য দুই হাত দৈর্ঘ্য ও দুই হাত প্রস্থ বিশিষ্ট একটি হলুদ পতাকা বেঁধে দিয়েছিলেন, যাতে একটি সাদা অর্ধচন্দ্র এবং দুটি কালো ঝালর ছিল এবং তাদের মাঝখানে একটি সাদা ঝালর ছিল
… » — হাদিস।
এটির সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন (مظلم); ইবনে জাবর থেকে ইবনে ওয়াহশি বিন হারব পর্যন্ত বর্ণনাকারীরা অজ্ঞাত (مجاهيل)।
আবদুল হাই আল-কাত্তানি ‘আত-তারাতিব আল-ইদারিয়্যাহ’ (১/৩২০) গ্রন্থে এই খবরের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতীক হিসেবে অর্ধচন্দ্র গ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন:
«এ থেকে ইসলামি পতাকায় অর্ধচন্দ্রের চিত্র অঙ্কনের মূল ভিত্তি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ‘ওয়াফিয়াতুল আসলাফ’ লেখকের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে; কেননা তিনি (৩৮০ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: মসজিদের মিনারের চূড়ায় অর্ধচন্দ্রের চিত্র স্থাপন করা একটি বিদআত, এবং মূলত উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতানরা অর্ধচন্দ্রের চিত্রটিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেন যা কায়সারদের থেকে গৃহীত হয়েছে। এর মূল ইতিহাস হলো—মাকদুনিয়ার ফিলিপ, যিনি সিকান্দার আল-মাকদুনির পিতা, যখন তিনি তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে কোনো এক রাতে বাইজান্টিয়াম—যা কনস্টান্টিনোপল—আক্রমণ করেন; তখন সেখানকার অধিবাসীরা তাকে প্রতিহত করে এবং তার ওপর বিজয়ী হয়ে তাকে শহর থেকে বিতাড়িত করে। এই ঘটনাটি সাহরির সময়ে ঘটেছিল, তাই তারা একে শুভলক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক পতাকায় অর্ধচন্দ্রের চিত্র ব্যবহার শুরু করে সেই ঘটনার স্মারক হিসেবে। পরবর্তীতে কায়সাররা তাদের থেকে এটি লাভ করেন এবং এরপর উসমানীয়রা যখন তাদের ওপর বিজয়ী হয়, তখন তারাও এটি গ্রহণ করে। এরপর এটি কাজান শহরেও প্রচলিত হয়।»
আবু উবাইদাহ বলেন: আর (কালো পতাকা)-এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু হাদিস
(১) বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ‘সুনান’ গ্রন্থে রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্যে এসেছে যে, তাতে শুভ্রতা ছিল। ‘আউনুল মাবুদ’ (৭/২৫৪) গ্রন্থে বলা হয়েছে: «কাজী বলেছেন: তিনি (কালো) বলতে এমন রঙ বুঝিয়েছেন যার প্রধান রঙ কালো; যাতে দূর থেকে কালো দেখা যায়, এটি বিশুদ্ধ কালো ছিল না। কারণ তিনি বলেছেন: (নামিরাহ থেকে); এটি পশমি চাদর যা আরবরা পরিধান করত, যাতে কালো ও সাদা রেখা থাকত। এ কারণেই চিতাবাঘের সাথে সাদৃশ্য রেখে একে ‘নামিরাহ’ বলা হতো।»
আর আদ-দিময়াতি ‘আল-মুখতাসার ফি সিরাতে সাইয়্যিদিল বাশার’ (১/৩৯) গ্রন্থে বলেন: «তাঁর ঝান্ডাসমূহ ছিল সাদা, কখনো কখনো তা কালো রঙেরও হতো। কখনো কখনো তা তাঁর কোনো কোনো স্ত্রীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না) ওড়না থেকে তৈরি হতো।»
এবং ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ (৬/১২৭) গ্রন্থে বলেন: «বলা হয়েছে: তাঁর একটি পতাকা ছিল যা ‘সাদা পতাকা’ নামে পরিচিত ছিল, কখনো কখনো তাতে কালো কিছু যুক্ত থাকত।»
সম্ভবত এটি ‘পতাকা’ এবং ‘ঝান্ডা’-এর মধ্যকার ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। ‘মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ’ (৫/২৮৯), নম্বর (৯৬৪৩)-এ মদিনার এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পতাকা ছিল সাদা এবং তাঁর ঝান্ডা ছিল কালো।»
হাদিসগুলোকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন;
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পতাকা ও ঝান্ডাসমূহে অর্ধচন্দ্রের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না, কেবল সাদ বিন মালিকের জন্য তিনি যা বেঁধে দিয়েছিলেন সেটি ছাড়া যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৪)
نعم؛
كان الهلال يُرفع فوق بعض قصور الملوك قبل العثمانيين، ففي «مسالك الأبصار» (3/ 128) ما يدل على رفعه في (القرن السادس الهجري)، ونص عبارته:
«وحدثني الفاضل شجاع الدين عبدالرحمن الخوارزمي التُّرجُمان: أنَّ مدينة السراي بناها بركة قان على نهر توران؛ وهي في أرض سبخة بغير سور، ودار الملك بها قصر عظيم على عليائه هلال من ذهب، زِنَتُه قنطاران بالمصري، ويحيط بالقصر سور به أبراج مساكن لأمرائه، وبهذا القصر مَشتَاهُم.
قال: وهذا النهر يكون قدر النيل ثلاث مرات أو أكثر، وتجري به السفن الكِبار إلى الروس والصَّقلب، وأصل هذا النهر -أيضًا- من بلاد صَقلَب.
قال: وهي -يعني: السراي- مدينة كبيرة ذات أسواق وحمامات ووجوه برٍّ، مقصودة بالأجلاب، في وسطها بركة، ماؤها من هذا النهر يستعمل ماؤها للاستعمال، وأمَّا شُربهم فمن النهر يُستقى لهم في جرار فُخَّار، وتُصفُّ على العجلات، وتُجرُّ إلى المدينة وتباع بها، وبُعْدها عن خوارزم نحو شهر ونصف، وبينها وبين السراي مدينة وحق ومدينة قطلوكنت».
فالهلال معروف قديمًا، ولاسيَّما عند الأعاجم! وشَهَرَته الدولة العثمانية، ولم يثبت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
হ্যাঁ;
উসমানীয়দের পূর্বেই কিছু রাজপ্রাসাদের উপরে হিলাল (চাঁদ) উত্তোলন করা হতো, 'মাসালিকুল আবসার' (৩/১২৮)-এ এমন বর্ণনা রয়েছে যা (ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে) এটি উত্তোলনের প্রমাণ বহন করে, এবং এর পাঠ নিম্নরূপ:
«বিদ্বান শুজাউদ্দীন আবদুর রহমান আল-খাওয়ারিজমি আত-তুরজুমান আমাকে বর্ণনা করেছেন যে: সারাই শহরটি বরকাহ খান তুরান নদীর তীরে নির্মাণ করেছিলেন; এটি প্রাচীরবিহীন লোনা মাটির ওপর অবস্থিত এবং সেখানে রাজপ্রাসাদটি একটি বিশাল অট্টালিকা, যার চূড়ায় স্বর্ণের একটি হিলাল (চাঁদ) রয়েছে, যার ওজন মিসরীয় পরিমাপে দুই কুইন্টাল। প্রাসাদটিকে ঘিরে একটি প্রাচীর রয়েছে যাতে আমীরদের বসবাসের জন্য বুরুজ (মিনার) রয়েছে এবং এই প্রাসাদেই তাদের শীতকালীন আবাস।
তিনি বলেন: এই নদীটি নীল নদের তুলনায় তিনগুণ বা তার চেয়েও বড়, এবং এতে রুস (রাশিয়া) ও সাকলাব (স্লাভ) পর্যন্ত বড় বড় জাহাজ চলাচল করে। এই নদীর উৎসও সাকলাব ভূমি থেকে।
তিনি বলেন: এটি—অর্থাৎ সারাই—একটি বড় শহর, যাতে বাজার, হাম্মামখানা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে পণ্যদ্রব্য নিয়ে মানুষ আগমন করে। এর মাঝে একটি জলাশয় রয়েছে যার পানি এই নদী থেকে আসে এবং তা গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়। আর তাদের পানীয় জল নদী থেকে মাটির কলসিতে ভরে আনা হয়, যা গাড়িতে সাজিয়ে শহরে নিয়ে এসে বিক্রি করা হয়। খাওয়ারিজম থেকে এর দূরত্ব প্রায় দেড় মাস এবং এর ও সারাইয়ের মাঝে 'ওয়াহাক' ও 'কাতলুকান্ত' নামক শহর রয়েছে।»
সুতরাং হিলাল (চাঁদ) প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত, বিশেষ করে অনারবদের নিকট! আর উসমানীয় সালতানাত একে প্রসিদ্ধি দান করেছে। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقد أحسن العلامة أحمد تيمور باشا
(1) لما كشف النِّقاب عن سِرِّ اعتقاد العامَّة في الهلال، وأنَّه شعار الإسلام؛ فقد ذكر اللِّواء الذي سمَّوه بمصر (البَيرَق
(2) النَّبوي):
«وهو عَلَم كبير من الأعلام التي كانت بالقلعة، أخرجه السيد عمر مكرم نقيب الأشراف للعامَّة عند قيامهم لدفع الفرنسيس عن القاهرة، فسمَّوه بـ (البيرق النبوي)، والظاهر أنَّ بعض قادتهم اختلق لهم ذلك ليزيد في تحمُّسهم فاعتقدوه، وملخَّص خبر هذه الواقعة: أنَّ الفرنسيس لما قصدوا الاستيلاء على مصر سنة 1213 هـ؛ كان عليها والٍ عثماني ليس له من الأمر شيء على عادة وُلاتهم بها، وكان يحكمها كبيران من الجراكسة مشاركة؛ وهما: إبراهيم بك الكبير ومراد بك، والتصرُّف في أغلب الأمور لمراد بك، وكان أخرق رَهَقًا، من شرِّ أمرائهم وأضرِّهم بظلم الرعيَّة وأجبنهم عند اللقاء، فمن مساويه في ذلك: أنَّه خرج قبل مجيء الفرنسيس للتنزُّه في الريف -أي: الوجه البحري- فعاث فيه، وأفحش في القتل والنهب وإحراق القرى وتشتيت سكَّانها، ثم عاد إلى القاهرة ظافرًا مملوء الوِفَاض بالغنائم بعد أن غادر أكثر قراه يبابًا، فلم يلبث أن بلغه نبأ احتلال الفرنسيس للإسكندرية في المُحرَّم من تلك السنة، وشروعهم في الزَّحف على القاهرة، فخرج إليهم بجنوده من الجراكسة وغيرهم والتقى بهم جهة الرحمانية بالبحيرة، فلم تكن غير مناوشات هيِّنة؛ نكص فيها على عقبيه إلى جهة إمبابة بالشاطئ الغربي للنيل تجاه القاهرة وأخذ يتحصن بها، فلحقه الفرنسيس فلم يَقوَ على لقائهم، وانهزم هو وجنده في أقلِّ من ساعة وفرَّ إلى الصعيد، وفرَّ الوالي العثماني وإبراهيم بك إلى جهة الشام، وتشتَّت بقيَّة الأمراء وتركوا الشِّيَاه للذِّئاب، وكان أهالي القاهرة قاموا قيامًا محمودًا أبانوا فيه عن نخوَة وحميَّة وسخاء بالنفوس والأموال، وساروا إلى بولاق بالشاطئ الشرقي لمساعدة الجنود، فلمَّا وقعت الهزيمة؛ حوَّل الفرنسيس الرَّميَ إلى هذا الشاطئ فشتَّتوهم ودخلوا القاهرة يوم الثلاثاء العاشر من صفر.
وهذا نصُّ ما ذكره الجبرتي عن قيام الأهالي ومسيرهم بهذا العَلَم إلى بولاق قبل ذلك بأسبوع -أي: في يوم الثلاثاء 3 صفر سنة 1213 هـ-:
«وفي يوم الثلاثاء نادَوا بالنفير العام وخروج الناس للمتاريس، وكرَّروا المناداة بذلك كلَّ يوم، فأغلق الناس الدكاكين والأسواق، وخرج الجميع لبرِّ بولاق، فكانت كلُّ طائفة من طوائف أهل الصِّناعات يجمعون الدراهم من بعضهم، وينصبون لهم خيامًا أو يجلسون في مكان خَرِب أو مسجد، ويرتِّبون لهم قَيِّمًا يصرف عليهم ما يحتاجون له من الدراهم التي جمعوها من بعضهم، وبعض الناس يتطوَّع بالإنفاق على البعض الآخر، ومنهم من يجهِّز جماعة من المغاربة أو الشَّوامِّ بالسلاح والأكل وغير ذلك، بحيث إنَّ جميع الناس بذلوا وُسعَهم وفعلوا ما في قوَّتهم وطاقتهم، وسمحت نفوسهم بإنفاق أموالهم فلم يَشِحَّ في ذلك الوقت أحد بشيء يملكه، ولكن لم يسعفهم الدَّهر، وخرجت الفقراء وأرباب الأشائر بالطبول والزُّمور والأعلام والكاسات وهم يَضِجُّون ويصيحون ويذكرون بأذكار مختلفة، وصعد السيد عمر أفندي نقيب الأشراف إلى القلعة فأنزل منها بَيرقًا كبيرًا سمَّته العامَّة (البيرق النبوي)؛ فنشره بين يديه من القلعة إلى بولاق، وأمامه وحوله أُلوف من العامَّة بالنبابيت والعِصِيِّ يهلِّلون ويكبِّرون ويُكثِرون من الصِّيَاح، ومعهم الطُّبول والزُّمور وغير ذلك» اهـ.
قلنا: وما زال في عوامِّ المصريين من يعتقد بأن العَلَم العثماني ذا الهلال والنجم مُتَّخذ على مثال العَلَم النبوي، ولهذا تضاعف تألُّمهم لمَّا غُيِّر في مصر بالعَلَم ذي الأهلة والأنجم الثلاثة بعد إعلان انفصالها من الدولة العثمانية إبَّان الحرب الكبرى الواقعة أواخر سنة 1332 هـ، ولعلَّ منشأ هذا الاعتقاد: ظنُّهم أنَّ شارات دولة الخلافة تُقتبس عادة من شارات نبويَّة، على أنَّهم في ذلك ليسوا بأَوغَل في الوَهم من كثير من خاصَّة المسلمين وعامَّتهم في عدِّهم الهلال رمزًا دينيًّا، له عند المسلمين ما للصليب عند النصارى، وما كان -قَطُّ- كذلك، وإنَّما حُبِّب إلى مسلمي العُصور الأخيرة وعَظُم لديهم؛ لكونه شارة للعَلَم في آخر دولة أدركوها من دولة الخلافة».
--------------------------------------------
প্রাজ্ঞ আল্লামা (العلامة) আহমদ তৈমুর পাশা যথার্থই করেছেন যখন তিনি হিলাল বা অর্ধচন্দ্র সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের রহস্য উন্মোচন করেছেন যে, তারা এটিকে ইসলামের প্রতীক মনে করে। তিনি সেই পতাকার কথা উল্লেখ করেছেন যাকে মিশরে 'নবীজীর নিশান (البيرق النبوي)' বলা হতো:
«এটি দুর্গের বিশালাকার পতাকাগুলোর মধ্যে এমন একটি নিশান ছিল, যা আশরাফদের নেতা সৈয়দ ওমর মাকরাম কায়রো থেকে ফরাসীদের বিতাড়িত করার জন্য সাধারণ মানুষের আন্দোলনের সময় বের করে এনেছিলেন। ফলে তারা একে 'নবীজীর নিশান (البيرق النبوي)' বলে নামকরণ করে। বাহ্যত মনে হয়, তাদের কোনো কোনো নেতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য এই নামটি উদ্ভাবন করেছিলেন, আর তারাও তা বিশ্বাস করে নিয়েছিল। এই ঘটনার সংক্ষেপ হলো: যখন ১২১৩ হিজরি সালে ফরাসীরা মিশর দখলের ইচ্ছা করল, তখন সেখানে একজন উসমানীয় গভর্নর ছিলেন, কিন্তু সেখানে তাদের প্রথা অনুযায়ী শাসনকার্যে তাঁর কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। তখন এটি দুই জন জারকাসি নেতা যৌথভাবে শাসন করতেন: বড় ইব্রাহিম বে ও মুরাদ বে। অধিকাংশ বিষয়ে মুরাদ বে-ই কর্তৃত্ব করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অবিবেচক ও উদ্ধত, তাদের আমীরদের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ প্রকৃতির এবং প্রজাদের ওপর জুলুম করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর। লড়াকুদের মোকাবিলায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত কাপুরুষ। তাঁর মন্দ গুণাবলীর মধ্যে একটি হলো: ফরাসীদের আগমনের পূর্বে তিনি গ্রামাঞ্চলে—অর্থাৎ নিম্ন মিশরে—ভ্রমণে বের হন এবং সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করেন। তিনি ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, লুণ্ঠন ও গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে জনপদ বিরান করে দেন। এরপর তিনি গনিমতের মালে নিজের থলে পূর্ণ করে বিজয়ী বেশে কায়রোতে ফিরে আসেন, অথচ এর আগে তিনি অধিকাংশ গ্রামকেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিলেন। বেশিদিন অতিবাহিত হয়নি, সেই বছরের মহররম মাসে তাঁর কাছে ফরাসীদের আলেকজান্দ্রিয়া দখলের সংবাদ পৌঁছাল এবং তারা কায়রোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানতে পারলেন। তখন তিনি জারকাসি ও অন্যান্য সৈন্যদের নিয়ে তাদের মোকাবিলায় বেরিয়ে পড়লেন এবং বুহাইরার রাহমানিয়া নামক স্থানে তাদের মুখোমুখি হলেন। সেখানে সামান্য কিছু সংঘর্ষ ছাড়া আর কিছুই হয়নি; তিনি পিছু হটে নীল নদের পশ্চিম তীরে কায়রোর বিপরীতে ইম্বাবা নামক স্থানে অবস্থান নিলেন এবং সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলেন। এরপর ফরাসীরা সেখানে পৌঁছে গেলে তিনি তাদের মোকাবিলা করার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি ও তাঁর সৈন্যরা পরাজিত হন এবং তিনি সাঈদের দিকে পালিয়ে যান। উসমানীয় গভর্নর ও ইব্রাহিম বে সিরিয়ার দিকে পালিয়ে গেলেন। বাকি আমীররা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন এবং নেকড়দের পালের সামনে ভেড়াদের অসহায় অবস্থায় ফেলে গেলেন। কায়রোর অধিবাসীরা তখন প্রশংসনীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলল, যেখানে তারা নিজেদের আত্মমর্যাদা, বীরত্ব এবং জান-মালের কোরবানি প্রকাশ করল। তারা সৈন্যদের সহায়তার জন্য পূর্ব তীরের বুলাক অভিমুখে যাত্রা করল। যখন পরাজয় নিশ্চিত হলো, তখন ফরাসীরা এই তীরে গোলাবর্ষণ শুরু করল এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিল। অবশেষে ১০ সফর মঙ্গলবার তারা কায়রোতে প্রবেশ করল।
জনগণ কর্তৃক এই নিশান নিয়ে এক সপ্তাহ আগে—অর্থাৎ ৩ সফর ১২১৩ হিজরি মঙ্গলবার—বুলাক অভিমুখে যাত্রার ব্যাপারে আল-জাবারতি যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো:
«মঙ্গলবার তারা সাধারণ যুদ্ধযাত্রার (نفير عام) ডাক দিল এবং মানুষকে প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরির জন্য বের হওয়ার আহ্বান জানাল। প্রতিদিন তারা এই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করতে লাগল। ফলে মানুষ দোকানপাট ও বাজার বন্ধ করে দিল এবং সবাই বুলাক অভিমুখে বেরিয়ে পড়ল। পেশাজীবীদের প্রতিটি দল নিজেদের মধ্যে টাকা সংগ্রহ করতে লাগল। তারা তাদের জন্য তাবু খাটাল অথবা কোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান বা মসজিদে অবস্থান নিল। তারা তাদের জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করল, যিনি তাদের সংগৃহীত টাকা থেকে প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহ করতেন। কিছু মানুষ অন্যদের খরচের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করল। কেউ কেউ মরক্কো বা সিরিয়া থেকে আগতদের অস্ত্র, খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সজ্জিত করল। এভাবে সমস্ত মানুষ তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করল এবং তাদের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করল। তারা উদার মনে অর্থ ব্যয় করল এবং সেই সময়ে কেউ নিজের সম্পদের ব্যাপারে কৃপণতা করেনি। কিন্তু সময় তাদের অনুকূলে ছিল না। দরিদ্র ও বিভিন্ন গোত্র প্রধানরা ঢোল, বাঁশি, নিশান ও কাঁসা নিয়ে উচ্চস্বরে জিকির করতে করতে বেরিয়ে পড়ল। আশরাফদের নেতা সৈয়দ ওমর আফন্দি দুর্গে আরোহণ করে সেখান থেকে একটি বড় নিশান (بَيرق) নামিয়ে আনলেন, যাকে সাধারণ মানুষ 'নবীজীর নিশান (البيرق النبوي)' বলে ডাকত। তিনি এটি তাঁর সামনে মেলে ধরে দুর্গ থেকে বুলাক পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তাঁর সামনে ও চারপাশে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ লাঠি ও যষ্ঠি হাতে নিয়ে তাহলিল (تهليل), তাকবির (تكبير) ও উচ্চস্বরে শোরগোল করতে করতে অগ্রসর হলো। তাদের সাথে ঢোল, বাঁশি ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রও ছিল» সমাপ্ত।
আমরা বলি: মিশরের সাধারণ মানুষের মধ্যে আজও এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বিশ্বাস করে যে, চাঁদ ও তারা খচিত উসমানীয় পতাকাটি নবীজীর পতাকার আদলে তৈরি। এই কারণে তাদের দুঃখ ও যন্ত্রণা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল যখন ১৩৩২ হিজরির শেষের দিকে মহাযুদ্ধের সময় উসমানীয় সালতানাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মিশরে তিনটি চাঁদ ও তিনটি তারা খচিত পতাকা দ্বারা এটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। সম্ভবত এই বিশ্বাসের মূলে রয়েছে তাদের এই ধারণা যে, খেলাফত রাষ্ট্রের প্রতীকগুলো সাধারণত নবীজীর নিদর্শনাবলী থেকে গ্রহণ করা হয়। অথচ তারা এই ভ্রান্ত ধারণায় এতটাই নিমগ্ন যে, অনেক বিশিষ্ট ও সাধারণ মুসলিম অর্ধচন্দ্রকে একটি ধর্মীয় প্রতীক মনে করে থাকে; মুসলিমদের কাছে এর গুরুত্ব তেমনই যেমন খ্রিস্টানদের কাছে ক্রুশের গুরুত্ব। অথচ এটি কখনই তেমন ছিল না। বরং শেষ যুগের মুসলিমদের কাছে এটি প্রিয় হয়েছে এবং তাদের কাছে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ এটি তাদের দেখা খেলাফত রাষ্ট্রের সর্বশেষ পতাকার চিহ্ন ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিলাল - মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال أبو عبيدة: ذاع هذا الاعتقاد لسائر الناس هذه الأيام، ولم يَعُد مُقتصرًا على المصريِّين، ويظهر آثار ذلك في (الأهلة) التي تُنصب على البيوت وفي الأماكن العامة في المناسبات الدينية، وأراها -إبَّان تدوين هذه السطور- على أسطِحَة البيوت والشبابيك بمناسبة دخول شهر رمضان
(1).
و
خُلاصة الأمر وزُبدَتُه: أنَّ الهلال لم يكن شعارًا للمسلمين في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين، ولا في عصر الأمويين، ولا العباسيين، وإنَّما عرف بعد ذلك، ولم يقتصر المسلمون على معرفته؛ وإنَّما كان يعرفه البيزنطيون.
مستلٌّ من (الملحق الرابع) الذي وضعته آخر تحقيقي لترجمة العلَّامة تقي الدين الهلالي لكتاب «مدنية المسلمين في إسبانيا» (ص 263 - 270) لجوزيف ماك كيب.
--------------------------------------------
আবু উবাইদাহ বলেন: এই বিশ্বাস বর্তমানকালে সকল মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি এখন আর কেবল মিশরীয়দের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব (অর্ধচন্দ্রসমূহ)-এর মাঝে পরিলক্ষিত হয় যা ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঘরবাড়ির উপরে এবং জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হয়। এই পঙক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করার সময়—রমজান মাসের আগমন উপলক্ষে—আমি ঘরবাড়ির ছাদে এবং জানালায় এগুলো দেখতে পাচ্ছি
(১).
ও
বিষয়টির সারকথা ও মূল নির্যাস হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে, কিংবা উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগেও অর্ধচন্দ্র মুসলমানদের প্রতীক ছিল না; বরং এটি কেবল পরবর্তীকালে পরিচিতি লাভ করেছে। কেবল মুসলমানরাই এটি জানত তা নয়, বরং বাইজেন্টাইনরাও এটি সম্পর্কে অবগত ছিল।
জোসেফ ম্যাককেব রচিত «স্পেনে মুসলিম সভ্যতা» গ্রন্থের আল্লামা তাকিউদ্দীন আল-হিলালি-কৃত অনুবাদের শেষে আমার করা সম্পাদনার (চতুর্থ পরিশিষ্ট) থেকে এটি সংগৃহীত (পৃষ্ঠা ২৬৩ - ২৭০)।
--------------------------------------------