(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
درر الحكام في شرح مجلة الأحكام (علي حيدر)
القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: درر الحكام في شرح مجلة الأحكام
المؤلف: علي حيدر خواجه أمين أفندي (ت 1353هـ)
تعريب: فهمي الحسيني
الناشر: دار الجيل
الطبعة: الأولى، 1411هـ - 1991م
عدد الأجزاء:4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাজাল্লাতুল আহকামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ দুরারুল হুক্কাম (আলী হায়দার)
বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি
কিতাব: মাজাল্লাতুল আহকামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ দুরারুল হুক্কাম
লেখক: আলী হায়দার খাজা আমীন এফেন্দি (মৃত্যু ১৩৫৩ হিজরী)
আরবি অনুবাদ: ফাহমী আল-হুসাইনী
প্রকাশক: দারুল জীল
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরী - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[مُقَدَّمَةُ كِتَابِ دُرَرِ الْحُكَّامِ مُحْتَوِيَةٌ عَلَى مَقَالَتَيْنِ] [الْمَقَالَةُ الْأُولَى فِي تَعْرِيفِ عِلْمِ الْفِقْهِ وَتَقْسِيمِهِ]الْمُقَدَّمَةُ مُحْتَوِيَةٌ عَلَى مَقَالَتَيْنِ: الْمَقَالَةُ الْأُولَى فِي تَعْرِيفِ عِلْمِ الْفِقْهِ وَتَقْسِيمِهِ.(الْمَادَّةُ 1) :الْفِقْهُ: عِلْمٌ بِالْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الْمُكْتَسَبَةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.وَالْمَسَائِلُ الْفِقْهِيَّةُ إمَّا أَنْ تَتَعَلَّقَ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ وَهِيَ الْعِبَادَاتُ، وَإِمَّا أَنْ تَتَعَلَّقَ بِأَمْرِ الدُّنْيَا، وَهِيَ تَنْقَسِمُ إلَى مُنَاكَحَاتٍ وَمُعَامَلَاتٍ وَعُقُوبَاتٍ، فَإِنَّ الْبَارِيَ تَعَالَى أَرَادَ بَقَاءَ هَذَا الْعَالَمِ إلَى وَقْتٍ قَدَّرَهُ، وَهُوَ إنَّمَا يَكُونُ بِبَقَاءِ النَّوْعِ الْإِنْسَانِيِّ، وَذَلِكَ يَتَوَقَّفُ عَلَى ازْدِوَاجِ الذُّكُورِ مَعَ الْإِنَاثِ لِلتَّوَلُّدِ وَالتَّنَاسُلِ، ثُمَّ إنَّ بَقَاءَ نَوْعِ الْإِنْسَانِ إنَّمَا يَكُونُ بِعَدَمِ انْقِطَاعِ الْأَشْخَاصِ.وَالْإِنْسَانُ بِحَسَبِ اعْتِدَالِ مِزَاجِهِ يَحْتَاجُ لِلْبَقَاءِ فِي الْأُمُورِ الصِّنَاعِيَّةِ إلَى الْغِذَاءِ وَاللِّبَاسِ وَالْمَسْكَنِ، وَذَلِكَ أَيْضًا يَتَوَقَّفُ عَلَى التَّعَاوُنِ وَالتَّشَارُكِ بِبَسْطِ بِسَاطِ الْمَدَنِيَّةِ، وَالْحَالُ أَنَّ كُلَّ شَخْصٍ يَطْلُبُ مَا يُلَائِمُهُ وَيَغْضَبُ عَلَى مَنْ يُزَاحِمُهُ، فَلِأَجْلِ بَقَاءِ الْعَدْلِ وَالنِّظَامِ بَيْنَهُمْ مَحْفُوظَيْنِ مِنْ الْخَلَلِ يُحْتَاجُ إلَى قَوَانِينَ مُؤَيَّدَةٍ شَرْعِيَّةٍ فِي أَمْرِ الِازْدِوَاجِ، وَهِيَ قِسْمُ الْمُنَاكَحَاتِ مِنْ عِلْمِ الْفِقْهِ، وَفِيمَا بِهِ التَّمَدُّنُ مِنْ التَّعَاوُنِ وَالتَّشَارُكِ وَهِيَ قِسْمُ الْمُعَامَلَاتِ مِنْهُ، وَلِاسْتِقْرَارِ أَمْرِ التَّمَدُّنِ عَلَى هَذَا الْمِنْوَالِ لَزِمَ تَرْتِيبُ أَحْكَامِ الْجَزَاءِ، وَهِيَ قِسْمُ الْعُقُوبَاتِ مِنْ الْفِقْهِ.وَهَا هُوَ ذَا قَدْ بُوشِرَ تَأْلِيفُ هَذِهِ الْمَجَلَّةِ مِنْ الْمَسَائِلِ الْكَثِيرَةِ الْوُقُوعِ فِي الْمُعَامَلَاتِ غِبَّ اسْتِخْرَاجِهَا وَجَمْعِهَا مِنْ الْكُتُبِ الْمُعْتَبَرَةِ وَتَقْسِيمِهَا إلَى كُتُبٍ وَتَقْسِيمِ الْكُتُبِ إلَى أَبْوَابٍ وَالْأَبْوَابِ إلَى فُصُولٍ، فَالْمَسَائِلُ الْفَرْعِيَّةُ الَّتِي يُعْمَلُ بِهَا فِي الْمَحَاكِمِ هِيَ الْمَسَائِلُ الَّتِي سَتُذْكَرُ فِي الْأَبْوَابِ وَالْفُصُولِ؛ لِأَنَّ الْمُحَقِّقِينَ مِنْ الْفُقَهَاءِ قَدْ أَرْجَعُوا الْمَسَائِلَ الْفِقْهِيَّةَ إلَى قَوَاعِدَ كُلِّيَّةٍ كُلٌّ مِنْهَا ضَابِطٌ وَجَامِعٌ لِمَسَائِلَ كَثِيرَةٍ، وَتِلْكَ الْقَوَاعِدُ مُسَلَّمَةٌ مُعْتَبَرَةٌ فِي الْكُتُبِ الْفِقْهِيَّةِ تُتَّخَذُ أَدِلَّةً لِإِثْبَاتِ الْمَسَائِلِ وَتَفَهُّمِهَا فِي بَادِئِ الْأَمْرِ فَذِكْرُهَا يُوجِبُ الِاسْتِئْنَاسَ بِالْمَسَائِلِ وَيَكُونُ وَسِيلَةً لِتَقَرُّرِهَا فِي الْأَذْهَانِ، فَلِذَا جُمِعَ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ قَاعِدَةً فِقْهِيَّةً وَحُرِّرَتْ مَقَالَةٌ ثَانِيَةٌ فِي الْمُقَدِّمَةِ عَلَى مَا سَيَأْتِي.ثُمَّ إنَّ بَعْضَ هَذِهِ الْقَوَاعِدِ وَإِنْ كَانَ بِحَيْثُ إذَا انْفَرَدَ يُوجَدُ مِنْ مُشْتَمِلَاتِهِ بَعْضُ الْمُسْتَثْنَيَاتِ لَكِنْ لَا تَخْتَلُّ كُلِّيَّتُهَا وَعُمُومُهَا مِنْ حَيْثُ الْمَجْمُوعُ لِمَا أَنَّ بَعْضَهَا يُخَصِّصُ وَيُقَيِّدُ بَعْضًا.
[দুরারুল হুক্কাম কিতাবের ভূমিকা, যা দুটি প্রবন্ধ সংবলিত] [প্রথম প্রবন্ধ: ফিকহ শাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর বিভাজন প্রসঙ্গে]ভূমিকাটি দুটি প্রবন্ধ সংবলিত: প্রথম প্রবন্ধটি ফিকহ শাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর বিভাজন প্রসঙ্গে।(ধারা ১):ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণাদি থেকে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী মাসআলা বা বিধানাবলির জ্ঞান।ফিকহী মাসআলাসমূহ হয় পরকাল সংক্রান্ত হবে, যা ইবাদত; অথবা দুনিয়াবী বিষয় সংক্রান্ত হবে। দুনিয়াবী বিষয়সমূহ বিবাহ (মুনাকাহাত), লেনদেন (মুয়ামালাত) ও দণ্ডবিধি (উকুবাত)-এ বিভক্ত। কেননা মহান স্রষ্টা এই জগতকে তাঁর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন, আর তা কেবল মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। আর মানবজাতির টিকে থাকা নির্ভর করে বংশবৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য নর-নারীর মিলনের ওপর। এরপর মানবজাতির টিকে থাকা সম্ভব ব্যক্তিদের ধারা নিরবচ্ছিন্ন থাকার মাধ্যমে।মানুষ তার স্বভাবজাত ভারসাম্যের কারণে বেঁচে থাকার জন্য শিল্পগত বিষয়ে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মুখাপেক্ষী। আর এটিও সভ্যতা ও নাগরিকতার প্রসারের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব অবস্থা এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই তার নিজের অনুকূল বিষয়গুলো খুঁজে বেড়ায় এবং যে তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার প্রতি রাগান্বিত হয়। সুতরাং তাদের মধ্যে যেন ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা কোনো বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত থাকে, সে জন্য দাম্পত্য বিষয়ে কিছু শরয়ী সমর্থিত আইনের প্রয়োজন হয়, যা ফিকহ শাস্ত্রের 'মুনাকাহাত' (বিবাহ) অংশ। আর সভ্যতা ও নাগরিকতা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে যে আইনের প্রয়োজন, তা হলো ফিকহ শাস্ত্রের 'মুয়ামালাত' (লেনদেন) অংশ। এই পদ্ধতিতে নাগরিক শৃঙ্খলা ও সভ্যতা স্থিতিশীল রাখার জন্য দণ্ডবিধির ব্যবস্থা করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা ফিকহ শাস্ত্রের 'উকুবাত' (দণ্ডবিধি) অংশ।আর এই সেই 'মাজাল্লাহ' (সংকলন), যার রচনা শুরু করা হয়েছে লেনদেনের ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে যাওয়া বহুবিধ মাসআলা নিয়ে, নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে সেগুলো আহরণ ও সংকলন করার পর। একে বিভিন্ন কিতাব (অধ্যায়), কিতাবসমূহকে বিভিন্ন বাব (পরিচ্ছেদ) এবং বাবসমূহকে বিভিন্ন ফাসল (অনুচ্ছেদ)-এ বিভক্ত করা হয়েছে। আদালতে যে সমস্ত শাখা-মাসআলা অনুযায়ী কাজ করা হয়, সেগুলোই বাব ও ফাসলসমূহে উল্লেখ করা হবে। কেননা গবেষক ফকীহগণ ফিকহী মাসআলাসমূহকে কিছু সর্বজনীন মূলনীতির (কাওয়াইদে কুল্লিয়াহ) দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন, যার প্রতিটি অনেক মাসআলার জন্য মানদণ্ড ও সারসংক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এই মূলনীতিগুলো স্বীকৃত ও সমাদৃত, যা প্রাথমিক পর্যায়ে মাসআলাসমূহ প্রমাণ ও অনুধাবনের দলিল হিসেবে গৃহীত হয়। তাই এগুলোর উল্লেখ মাসআলাসমূহের প্রতি অনুরাগী করে তোলে এবং তা মস্তিস্কে বদ্ধমূল হওয়ার মাধ্যম হয়। এ কারণে নিরানব্বইটি ফিকহী মূলনীতি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভূমিকার দ্বিতীয় প্রবন্ধে তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যা সামনে আসবে।অতঃপর, এই মূলনীতিগুলোর কোনো কোনোটি এককভাবে বিচার করলে তার আওতাভুক্ত বিষয়ে কিছু ব্যতিক্রম পাওয়া গেলেও, সামগ্রিক বিচারে সেগুলোর সর্বজনীনতা ও ব্যাপকতা ক্ষুণ্ণ হয় না। কারণ এদের একটি অপরটিকে বিশেষায়িত বা সীমাবদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الْفِقْهُ - عِلْمٌ بِالْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الْمُكْتَسَبَةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ، وَيُقْصَدُ بِلَفْظَةِ الْعِلْمِ بِهَذَا التَّعْرِيفِ الِاعْتِقَادُ الرَّاجِحُ.الْمَسَائِلُ - جَمْعُ مَسْأَلَةٍ - وَهِيَ الْمَطْلُوبُ الَّذِي يَحْتَاجُ إثْبَاتُهُ إلَى بُرْهَانٍ وَدَلِيلٍ.الْحُكْمُ - هُوَ خِطَابُ الشَّارِعِ الْمُتَعَلِّقُ بِفِعْلِ الْمُكَلَّفِ، وَقَدْ عَرَّفَهُ صَدْرُ الشَّرِيعَةِ بِأَنَّهُ الشَّيْءُ الثَّابِتُ بِنَاءً عَلَى خِطَابِ الشَّارِعِ، مِثْلُ الْوُجُوبِ وَالصِّحَّةِ وَالْفَسَادِ.مَوْضُوعُ عِلْمِ الْفِقْهِ - وَإِنَّ مَوْضُوعَ عِلْمِ الْفِقْهِ هُوَ فِعْلُ الْمُكَلَّفِ.الْمُكَلَّفُ فِي اصْطِلَاحِ الْفُقَهَاءِ - هُوَ الْعَاقِلُ، فَالْمَجْنُونُ وَالصَّبِيُّ لَمْ يُعَدَّا مُكَلَّفَيْنِ وَإِنْ تَكُنْ الْمَادَّةُ (916) تَقْضِي بِضَمَانِ مَا أَتْلَفَهُ الصَّبِيُّ إلَّا أَنَّ الْمُخَاطَبَ بِذَلِكَ الْوَلِيُّ، وَالْحُكْمُ إنَّمَا يَتَرَتَّبُ بِحَقِّهِ.الشَّرْعِيَّةُ - أَيْ الْمَوْقُوفَةُ عَلَى خِطَابِ الشَّارِعِ وَلَا تُدْرَكُ بِدُونِهِ وَلَا فَرْقَ بَيْنَ أَنْ يَكُونَ الْخِطَابُ بِنَفْسِ الْحُكْمِ أَوْ بِنَظِيرِهِ، وَحِينَئِذٍ يَكُونُ النَّظِيرُ مَقِيسًا عَلَى نَفْسِ الْحُكْمِ وَيَكُونُ نَفْسُ الْحُكْمِ مَقِيسًا عَلَيْهِ الشَّارِعُ - هُوَ الْحَقُّ جل جلاله، وَبِمَا أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ وَاسِطَةٌ لِتَبْلِيغِ الْأَوَامِرِ الْإِلَهِيَّةِ، فَيُقَالُ لِكُلٍّ مِنْهُمْ: شَارِعٌ، وَالشَّارِعُ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ الْمَقْصُودُ فِي الْمَجَلَّةِ هُوَ النَّبِيُّ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم.الْعَمَلِيَّةُ - أَيْ الْمُتَعَلِّقَةُ بِالْأَفْعَالِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا عِلْمُ الْعَقَائِدِ وَعِلْمُ التَّوْحِيدِ وَعِلْمُ أُصُولِ الْفِقْهِ.قَوْلُهُ مِنْ أَدِلَّتِهَا أَيْ الْعِلْمُ بِتَدْقِيقِ الْأَدِلَّةِ، وَيَخْرُجُ بِهِ عِلْمُ التَّوْحِيدِ، وَعِلْمُ الرُّسُلِ، وَعِلْمُ الْأَشْيَاءِ الضَّرُورِيَّةِ مِنْ الدِّينِ.قَوْلُهُ الْمَسَائِلُ الشَّرْعِيَّةُ - احْتِرَازًا عَنْ الْمَسَائِلِ الْعَقْلِيَّةِ كَقَوْلِكَ (الْعَالَمُ حَادِثٌ) وَالْمَسَائِلُ الْحِسِّيَّةُ (كَالنَّارُ مُحْرِقَةٌ) وَالْمَسَائِلُ الِاصْطِلَاحِيَّةُ كَقَوْلِكَ (الْفَاعِلُ مَرْفُوعٌ) .مَصَادِرُ عِلْمِ الْفِقْهِ - أَرْبَعَةٌ: الْكِتَابُ، وَالسُّنَّةُ، وَالْإِجْمَاعُ، وَالْقِيَاسُ.الْمَسَائِلُ الْفِقْهِيَّةُ - قِسْمَانِ مِنْهَا مَا يَتَعَلَّقُ بِالْآخِرَةِ وَهِيَ الْعِبَادَاتُ، وَالْقِسْمُ الْآخَرُ يَخْتَصُّ بِأَمْرِ الدُّنْيَا وَمُقَسَّمٌ إلَى مُنَاكَحَاتٍ، وَمُعَامَلَاتٍ، وَعُقُوبَاتٍ، كَمَا فِي الْكُتُبِ الْفِقْهِيَّةِ.
ফিকহ — বিস্তারিত দলিল-প্রমাণাদি হতে আহরিত ব্যবহারিক শরয়ী মাসআলাসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান। এই সংজ্ঞায় 'জ্ঞান' শব্দ দ্বারা প্রবল বিশ্বাস উদ্দেশ্য।মাসায়েল — মাসআলার বহুবচন — এটি এমন একটি উদ্দিষ্ট বিষয় যার প্রমাণের জন্য যুক্তি ও দলিলের প্রয়োজন হয়।হুকুম — এটি মুকাল্লাফ বা শরয়ীভাবে দায়বদ্ধ ব্যক্তির কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানদাতার সম্বোধন। সদরুশ শরীয়াহ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, বিধানদাতার সম্বোধনের ওপর ভিত্তি করে স্থিরকৃত বিষয়ই হলো হুকুম, যেমন: ওয়াজিব হওয়া, সঠিক হওয়া এবং বাতিল হওয়া।ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় — ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফের কার্যাবলী।ফকিহগণের পরিভাষায় মুকাল্লাফ — তিনি হলেন সুস্থ বিবেচনাসম্পন্ন ব্যক্তি; তাই পাগল এবং শিশুকে মুকাল্লাফ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যদিও ৯১৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী শিশুর ধ্বংসকৃত জিনিসের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এর মূল সম্বোধিত ব্যক্তি হলেন তার অভিভাবক, আর বিধানটি মূলত অভিভাবকের হকের প্রেক্ষিতেই কার্যকর হয়।শরয়ী — অর্থাৎ যা বিধানদাতার সম্বোধনের ওপর নির্ভরশীল এবং যা ব্যতীত তা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। সম্বোধনটি সরাসরি মূল বিধানের মাধ্যমে হোক কিংবা তার সদৃশ অন্য কিছুর মাধ্যমে হোক—তাতে কোনো পার্থক্য নেই। সেক্ষেত্রে সদৃশ বিষয়টি মূল বিধানের ওপর কিয়াসকৃত হবে এবং মূল বিধানটি হবে কিয়াসের আধার। বিধানদাতা (শারী') — তিনি হলেন মহান আল্লাহ তাআলা। যেহেতু নবীগণ ঐশী নির্দেশাবলী প্রচারের মাধ্যম, তাই তাঁদের প্রত্যেককেও বিধানদাতা বলা হয়। আর 'মাজাল্লাহ' গ্রন্থে নবীগণের মধ্য হতে বিধানদাতা বলতে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে।ব্যবহারিক — অর্থাৎ যা কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট; এর দ্বারা আকিদা শাস্ত্র, তাওহিদ শাস্ত্র এবং উসূলে ফিকহ শাস্ত্র বহির্ভূত হয়ে যায়।তাঁর উক্তি 'এর দলিল-প্রমাণাদি হতে' — অর্থাৎ দলিলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। এর দ্বারা তাওহিদ শাস্ত্র, রাসুলগণের জ্ঞান এবং দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়াদির জ্ঞান বহির্ভূত হয়ে যায়।তাঁর উক্তি 'শরয়ী মাসআলাসমূহ' — এটি যৌক্তিক মাসআলাসমূহ (যেমন: জগৎ নশ্বর), ইন্দ্রিয়জাত মাসআলাসমূহ (যেমন: আগুন দহনকারী) এবং পারিভাষিক মাসআলাসমূহ (যেমন: কর্তা পেশযুক্ত হয়) থেকে পৃথক করার জন্য বলা হয়েছে।ফিকহ শাস্ত্রের উৎসসমূহ — চারটি: কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।ফিকহী মাসআলাসমূহ — দুই প্রকার: এর এক প্রকার আখেরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো ইবাদতসমূহ। অপর প্রকারটি দুনিয়াবী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বিবাহ, লেনদেন এবং দণ্ডবিধি—এই ভাগে বিভক্ত, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[الْمَقَالَةُ الثَّانِيَةُ فِي بَيَانِ الْقَوَاعِدِ الْكُلِّيَّةِ الْفِقْهِيَّةِ] [ (الْمَادَّةُ 2) الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا]الْقَوَاعِدِ الْكُلِّيَّةِ الْمَقَالَةُ الثَّانِيَةُ فِي بَيَانِ الْقَوَاعِدِ الْكُلِّيَّةِ الْفِقْهِيَّةِ (الْمَادَّةُ 2) :الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا يَعْنِي: أَنَّ الْحُكْمَ الَّذِي يَتَرَتَّبُ عَلَى أَمْرٍ يَكُونُ عَلَى مُقْتَضَى مَا هُوَ الْمَقْصُودُ مِنْ ذَلِكَ الْأَمْرِ.الْقَاعِدَةُ: لُغَةً أَسَاسِ الشَّيْءِ وَفِي اصْطِلَاحِ الْفُقَهَاءِ هُوَ الْحُكْمُ الْكُلِّيُّ أَوْ الْأَكْثَرِيُّ الَّذِي يُرَادُ بِهِ مَعْرِفَةُ حُكْمِ الْجُزْئِيَّاتِ.الطَّرِيقَةُ لِمَعْرِفَةِ حُكْمِ الْجُزْئِيَّاتِ - وَالطَّرِيقَةُ لِمَعْرِفَةِ حُكْمِ الْجُزْئِيَّاتِ مِنْ الْقَاعِدَةِ الْكُلِّيَّةِ هِيَ كَمَا يَلِي: قَاعِدَةُ (الْقَدِيمُ عَلَى قِدَمِهِ) الْكُلِّيَّةُ مَثَلًا وَجُزْئِيَّتُهَا (إنَّ طَرِيقَ دَارِ زَيْدٍ قَدِيمَةٌ) فَيُسْتَخْرَجُ مِنْ الْقَاعِدَةِ الْعُمُومِيَّةِ أَنَّهُ مَا دَامَتْ طَرِيقُ دَارِ زَيْدٍ قَدِيمَةً يَجِبُ أَنْ تَبْقَى عَلَى قِدَمِهَا؛ لِأَنَّ الْقَدِيمَ يَبْقَى عَلَى حَالِهِ الْقَدِيمِ وَهَلُمَّ جَرًّا.أُمُورٌ: جَمْعُ أَمْرٍ، مَعْنَاهُ اللُّغَوِيُّ الْفِعْلُ وَالْحَالُ إذْ يُقَالُ أُمُورُ فُلَانٍ مُسْتَقِيمَةٌ أَيْ أَحْوَالُهُ، وَقَدْ وَرَدَ فِي الْآيَةِ الشَّرِيفَةِ {وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ} [هود: 97] يَقْصِدُ بِهِ حَالَ فِرْعَوْنَ.الْأَمْرُ: يَجِيءُ بِمَعْنَى طَلَبِ الْفِعْلِ وَالْقَوْلِ وَيُجْمَعُ عَلَى أَوَامِرَ، وَهُنَا لَا يَقْصِدُ هَذَا الْمَعْنَى بَلْ يَقْصِدُ بِالْأَمْرِ الْفِعْلَ وَيُجْمَعُ عَلَى أُمُورٍ، وَبِمَا أَنَّ الْفِعْلَ هُوَ عَمَلُ الْجَوَارِحِ فَالْقَوْلُ أَيْضًا يُعَدُّ مِنْ جُمْلَةِ الْأَفْعَالِ؛ لِأَنَّهُ يَنْشَأُ مِنْ جَارِحَةِ اللِّسَانِ.وَهُنَا قَدْ قُرِنَ الْفِعْلُ بِالْقَصْدِ فِي قَوْلِهِ: الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا، فَعَلَيْهِ النِّيَّةُ الَّتِي لَا تَقْتَرِنُ بِفِعْلٍ ظَاهِرِيٍّ لَا تَتَرَتَّبُ عَلَيْهَا أَحْكَامٌ شَرْعِيَّةٌ.فَلَوْ طَلَّقَ شَخْصٌ زَوْجَتَهُ فِي قَلْبِهِ أَوْ بَاعَ فَرَسَهُ وَلَمْ يَنْطِقْ بِلِسَانِهِ لَا يَتَرَتَّبُ عَلَى ذَلِكَ الْفِعْلِ الْبَاطِنِيِّ حُكْمٌ؛ لِأَنَّ الْأَحْكَامَ الشَّرْعِيَّةَ تَتَعَلَّقُ بِالظَّوَاهِرِ.وَكَذَا لَوْ اشْتَرَى شَخْصٌ مَالًا بِقَصْدِ أَنْ يُوقِفَهُ وَبَعْدَ أَنْ اشْتَرَاهُ لَمْ يَتَكَلَّمْ بِمَا يَدُلُّ عَلَى وَقْفِهِ ذَلِكَ الْمَالَ فَلَا يَصِيرُ وَقْفًا.كَذَلِكَ لَوْ نَوَى شَخْصٌ غَصْبَ مَالِ شَخْصٍ آخَرَ وَلَمْ يَغْصِبْهُ وَتَلِفَ ذَلِكَ الْمَالُ فِي يَدِ صَاحِبِهِ لَا يَضْمَنُ بِمُجَرَّدِ نِيَّةِ الْغَصْبِ، وَلَوْ أَخَذَ الْمُودِعُ الْمَالَ الْوَدِيعَةَ بِقَصْدِ اسْتِهْلَاكِهَا، ثُمَّ أَرْجَعَهَا إلَى مَوْضِعِهَا وَتَلِفَتْ بِلَا تَعَدٍّ وَلَا تَقْصِيرٍ لَا يَضْمَنُ.الْأَفْعَالُ بِلَا نِيَّةٍ: أَمَّا الْأَفْعَالُ بِلَا نِيَّةٍ فَحُكْمُهَا كَمَا يَأْتِي: أَنَّ الْأَلْفَاظَ الصَّرِيحَةَ لَا تَحْتَاجُ إلَى نِيَّةٍ
[দ্বিতীয় প্রবন্ধ: ফিকহী সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ বর্ণনায়] [ (ধারা ২) কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিচার্য]সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ। দ্বিতীয় প্রবন্ধ: ফিকহী সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ বর্ণনায় (ধারা ২):কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিচার্য অর্থাৎ: কোনো বিষয়ের ওপর যে বিধান (হুকুম) আরোপিত হয়, তা ওই বিষয়ের মূল উদ্দেশ্যের দাবি অনুযায়ী হয়ে থাকে।কায়েদা (মূলনীতি): শাব্দিক অর্থে কোনো কিছুর ভিত্তি। ফকীহগণের পরিভাষায় এটি এমন এক সামগ্রিক বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান, যার মাধ্যমে শাখা-প্রশাখা বা খুটিনাটি বিষয়সমূহের বিধান জানা যায়।খুটিনাটি বিষয়সমূহের বিধান জানার পদ্ধতি - সামগ্রিক মূলনীতি থেকে খুটিনাটি বিষয়ের বিধান জানার পদ্ধতিটি নিম্নরূপ: উদাহরণস্বরূপ (পুরাতন বিষয়টি তার পুরাতন অবস্থার ওপর বহাল থাকবে) - এই সামগ্রিক মূলনীতিটি এবং এর একটি খুটিনাটি বিষয় হলো (জায়েদের বাড়ির রাস্তাটি পুরাতন)। সুতরাং সাধারণ মূলনীতি থেকে এই নির্যাস বের করা হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত জায়েদের বাড়ির রাস্তাটি পুরাতন হিসেবে গণ্য হবে, ততক্ষণ একে তার পুরাতন অবস্থার ওপরই বহাল রাখা আবশ্যক; কারণ পুরাতন বিষয় তার পুরাতন অবস্থাতেই বহাল থাকে। এভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।উমুর (কার্যাবলি): এটি 'আমর' শব্দের বহুবচন। এর শাব্দিক অর্থ হলো কাজ এবং অবস্থা। যেমন বলা হয়: অমুকের 'উমুর' (কাজসমূহ) সঠিক, অর্থাৎ তার অবস্থা সঠিক। পবিত্র কুরআনের আয়াতেও এটি এসেছে: {এবং ফেরাউনের কাজ (অবস্থা) সঠিক ছিল না} [সূরা হুদ: ৯৭], এখানে এর দ্বারা ফেরাউনের অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।আমর: শব্দটি কোনো কাজ বা কথা করার নির্দেশ প্রদানের অর্থেও আসে, সেক্ষেত্রে এর বহুবচন হয় 'আওয়ামির'। তবে এখানে এই অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং এখানে আমর দ্বারা কাজ বোঝানো হয়েছে যার বহুবচন হয় 'উমুর'। যেহেতু কাজ হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম, তাই কথাকেও কাজের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়; কারণ এটি জিহ্বা নামক অঙ্গ থেকে নিঃসৃত হয়।আর এখানে "কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিচার্য" বাণীতে কাজকে উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যে নিয়ত বা সংকল্প কোনো বাহ্যিক কাজের সাথে যুক্ত হয় না, তার ওপর কোনো শরয়ি বিধান কার্যকর হয় না।সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি তার মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেয় অথবা তার ঘোড়াটি বিক্রি করে দেয় কিন্তু মুখে তা উচ্চারণ না করে, তবে এই অভ্যন্তরীণ কাজের ওপর কোনো বিধান কার্যকর হবে না; কারণ শরয়ি বিধানাবলি বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।তদ্রূপ কোনো ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্যে কোনো সম্পদ ক্রয় করে যে সে তা ওয়াকফ করবে, কিন্তু ক্রয়ের পর এমন কোনো কথা না বলে যা সেই সম্পদ ওয়াকফ করার প্রমাণ দেয়, তবে তা ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে না।একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কারও সম্পদ আত্মসাৎ করার নিয়ত করে কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে আত্মসাৎ না করে এবং সম্পদটি মালিকের কাছে থাকাবস্থাতেই নষ্ট হয়ে যায়, তবে কেবল আত্মসাতের নিয়ত করার কারণে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। আবার আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি আমানত রাখা সম্পদটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হাতে নেয়, অতঃপর তা আবার যথাস্থানে রেখে দেয় এবং পরে তা কোনো সীমা লঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই নষ্ট হয়ে যায়, তবে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।নিয়তহীন কার্যাবলি: আর নিয়ত ব্যতীত সম্পাদিত কার্যাবলির বিধান নিম্নরূপ: স্পষ্ট শব্দসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَيَكْفِي حُصُولُ الْفِعْلِ لِتَرَتُّبِ الْحُكْمِ عَلَيْهَا إذْ أَنَّ الْأَفْعَالَ الصَّرِيحَةَ تَكُونُ النِّيَّةُ مُتَمَثِّلَةً بِهَا.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ: بِعْتُك مَالِي هَذَا أَوْ أَوْصَيْتُ لَك بِهِ. يَصِحُّ الْبَيْعُ أَوْ الْوَصِيَّةُ، كَمَا أَنَّ الْإِقْرَارَ، وَالْوَكَالَةَ، وَالْإِيدَاعَ، وَالْإِعَارَةَ، وَالْقَذْفَ، وَالسَّرِقَةَ كُلُّهَا أُمُورٌ لَا تَتَوَقَّفُ عَلَى النِّيَّةِ بَلْ فِعْلُهَا يَكْفِي لِتَرَتُّبِ الْحُكْمِ.الْأَلْفَاظُ غَيْرُ الصَّرِيحَةِ: أَمَّا فِي الْأَلْفَاظِ غَيْرِ الصَّرِيحَةِ فَيَخْتَلِفُ حُكْمُ اللَّفْظِ الْوَاحِدِ بِاخْتِلَافِ مَقْصِدِ الْفَاعِلِ كَالْبَيْعِ مَثَلًا إذَا اُسْتُعْمِلَ بِصِيغَةِ الْمُضَارِعِ كَقَوْلِ الْبَائِعِ أَوْ الْمُشْتَرِي (أَبِيعُ وَأَشْتَرِي) إذَا قَصَدَ بِهِ الْحَالَ يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ وَإِذَا قَصَدَ بِهِ الِاسْتِقْبَالَ لَا يَنْعَقِدُ، وَعَلَى ذَلِكَ فَبِاخْتِلَافِ الْقَصْدِ قَدْ يَخْتَلِفُ الْحُكْمُ، وَأَمَّا صِيغَةُ الْمَاضِي فَيَنْعَقِدُ الْبَيْعُ وَلَا يَتَوَقَّفُ عَلَى النِّيَّةِ بِمَعْنَى الْحَالِ لِكَوْنِهَا مِنْ الصِّيَغِ الْمُسْتَعْمَلَةِ الصَّرِيحَةِ فِي الْعُقُودِ الْمَقْصُودِ بِهَا الْحَالُ.كَذَلِكَ لَوْ أَقَرَّ شَخْصٌ لِآخَرَ بِقَوْلِهِ: لَك عَلَيَّ دِرْهَمٌ فِي دِرْهَمَيْنِ. فَإِذَا كَانَ يَقْصِدُ بِكَلَامِهِ هَذَا مَعَ دِرْهَمَيْنِ أَوْ دِرْهَمَيْنِ فَيُحْكَمُ عَلَيْهِ بِثَلَاثَةِ دَرَاهِمَ وَإِذَا كَانَ الْمَقْصُودُ بِهِ الظَّرْفَ لَا يُحْكَمُ عَلَيْهِ إلَّا بِدِرْهَمٍ وَاحِدٍ.كَذَلِكَ لَوْ تَعَدَّى الْمُودِعُ عَلَى الْوَدِيعَةِ، ثُمَّ أَزَالَ التَّعَدِّي يُنْظَرُ فَإِذَا كَانَ الْمُودِعُ يَنْوِي إعَادَةَ التَّعَدِّي فَهُوَ ضَامِنٌ لَوْ تَلِفَتْ الْوَدِيعَةُ بِلَا تَعَدٍّ وَلَا تَقْصِيرٍ، وَأَمَّا إذَا كَانَ نَاوِيًا عَدَمَ الْعَوْدَةِ إلَى التَّعَدِّي فَلَا يَضْمَنُ.وَكَذَا الشَّخْصُ الَّذِي يُحْرِزُ مَالًا مُبَاحًا إذَا أَحْرَزَهُ بِقَصْدِ تَمَلُّكِهِ يُصْبِحُ مَالِكًا لَهُ وَإِلَّا فَلَا.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ وَضَعَ شَخْصٌ إنَاءً تَحْتَ الْمَطَرِ وَتَجَمَّعَ فِيهِ مَاءٌ فَإِذَا وَضَعَ ذَلِكَ الْإِنَاءَ بِقَصْدِ جَمْعِ الْمَاءِ وَإِحْرَازِهِ يُصْبِحُ مَالِكًا لَهُ، فَوَالْحَالَةُ هَذِهِ لَوْ اغْتَصَبَ الْمَاءَ أَحَدٌ يَضْمَنُهُ، وَأَمَّا إذَا كَانَ قَدْ وَضَعَ الْإِنَاءَ بِقَصْدِ غَسْلِهِ بِمَاءِ الْمَطَرِ لَا بِقَصْدِ جَمْعِ الْمَاءِ وَأَخَذَهَا أَحَدٌ لَا يَضْمَنُ؛ لِأَنَّ صَاحِبَ الْإِنَاءِ لَمْ يَمْلِكُ الْمَاءَ لِعَدَمِ سَبْقِ نِيَّةٍ مِنْهُ لِإِحْرَازِهِ، كَذَلِكَ لَوْ وَضَعَ شَخْصٌ فَخًّا بِمَحَلٍّ وَوَقَعَ فِي الْفَخِّ طَيْرٌ فَإِذَا كَانَ صَاحِبُ الْفَخِّ نَصَبَ فَخَّهُ بِقَصْدِ الصَّيْدِ فَالطَّيْرُ يَكُونُ مِلْكُهُ، وَأَمَّا إذَا كَانَ وَضَعَهُ بِقَصْدِ التَّجْفِيفِ فِي الْهَوَاءِ فَالطَّيْرُ الَّذِي يَقَعُ فِي الْفَخِّ يَكُونُ غَيْرَ مَمْلُوكٍ لِصَاحِبِ الْفَخِّ، فَإِذَا أَخَذَهُ شَخْصٌ مَا لَا يَحِقُّ لِصَاحِبِ الْفَخِّ أَنْ يُطَالِبَهُ بِهِ.كَذَا لَوْ وَجَدَ شَخْصٌ لُقَطَةً - أَيْ مَالًا ضَائِعًا - فَإِنْ أَخَذَهُ بِقَصْدِ تَمَلُّكِهِ يُعَدُّ غَاصِبًا فَوَالْحَالَةُ هَذِهِ لَوْ تَلِفَ بِيَدِهِ بِلَا تَعَدٍّ وَلَا تَقْصِيرٍ ضَمِنَ قِيمَةَ الْمَالِ لِصَاحِبِهِ، أَمَّا إذَا أَخَذَهُ بِقَصْدِ تَسْلِيمِهِ إلَى صَاحِبِهِ وَتَلِفَ الْمَالُ بِلَا تَعَدٍّ وَلَا تَقْصِيرٍ لَا يَضْمَنُ؛ لِأَنَّهُ يَكُونُ فِي حُكْمِ الْأَمِينِ.(الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ الَّتِي لَا تَتَبَدَّلُ أَحْكَامُهَا بِاخْتِلَافِ الْقَصْدِ وَالنِّيَّةِ) هَذَا وَهَهُنَا بَعْضُ أَحْكَامٍ شَرْعِيَّةٍ لَا تَتَبَدَّلُ أَحْكَامُهَا نَظَرًا لِلْقَصْدِ وَالنِّيَّةِ، وَذَلِكَ كَمَا لَوْ أَخَذَ شَخْصٌ مَالَ آخَرَ عَلَى سَبِيلِ الْمِزَاحِ بِدُونِ إذْنِهِ فَبِمُجَرَّدِ وُقُوعِ الْأَخْذِ يَكُونُ الْآخِذُ غَاصِبًا وَلَا يُنْظَرُ إلَى نِيَّتِهِ مِنْ كَوْنِهِ لَا يَقْصِدُ الْغَصْبَ بَلْ يَقْصِدُ الْمُزَاحَ، وَكَذَلِكَ لَوْ أَتَى شَخْصٌ عَمَلًا غَيْرَ مَأْذُونٍ فِيهِ فَإِنَّهُ يَضْمَنُ الْخَسَارَةَ النَّاشِئَةَ عَنْ عَمَلِهِ، وَلَوْ حَصَلَتْ عَنْ غَيْرِ إرَادَةٍ مِنْهُ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ أَنَّ شَخْصًا شَاهَدَ سَكْرَانَ وَأَخَذَ النُّقُودَ الَّتِي يَحْمِلُهَا بِقَصْدِ حِفْظِهَا مِنْ أَنْ تَسْقُطَ مِنْهُ فَحُكْمُهُ حُكْمُ الْغَاصِبِ وَيُصْبِحُ ضَامِنًا فِيمَا لَوْ تَلِفَتْ.
বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য কেবল কাজটি সংঘটিত হওয়াই যথেষ্ট, কেননা সুস্পষ্ট কাজের ক্ষেত্রে নিয়ত তাতে বিদ্যমান থাকে বলে গণ্য হয়।এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি অপর কাউকে বলে: ‘আমি আমার এই সম্পদ তোমার কাছে বিক্রি করলাম’ অথবা ‘তোমার জন্য এর অসিয়ত করলাম’, তবে ক্রয়-বিক্রয় অথবা অসিয়ত সঠিক হয়ে যাবে। তেমনিভাবে স্বীকৃতি, প্রতিনিধিত্ব, গচ্ছিত রাখা, ধার দেওয়া, অপবাদ এবং চুরি—এসব বিষয় নিয়তের ওপর নির্ভর করে না, বরং বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য এর বাস্তবায়নই যথেষ্ট।অস্পষ্ট শব্দাবলি: পক্ষান্তরে অস্পষ্ট শব্দাবলির ক্ষেত্রে কর্তার উদ্দেশ্যের ভিন্নতায় একই শব্দের বিধান ভিন্ন হতে পারে। যেমন ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যদি বর্তমান ও ভবিষ্যৎবাচক ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, যেমন বিক্রেতা বা ক্রেতার উক্তি (আমি বিক্রি করছি ও ক্রয় করছি)—যদি এর দ্বারা বর্তমান সময় উদ্দেশ্য হয়, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে, আর যদি ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য হয় তবে তা সম্পন্ন হবে না। সুতরাং উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে বিধান ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু অতীতবাচক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং তা বর্তমান সময়ের নিয়তের ওপর নির্ভর করবে না; কারণ এটি চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এমন এক সুস্পষ্ট শব্দ যা দ্বারা বর্তমান সময়কেই উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে।অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি অপর কারো পাওনা সম্পর্কে এরূপ স্বীকৃতি দেয় যে: ‘আমার কাছে তোমার পাওনা হলো দুই দিরহামের মধ্যে এক দিরহাম’। এখন সে যদি এর দ্বারা দুই দিরহামের সাথে এক দিরহাম উদ্দেশ্য করে, তবে তার ওপর তিন দিরহামের ফয়সালা হবে। আর যদি পাত্র বা ধারক উদ্দেশ্য হয়, তবে তার ওপর কেবল এক দিরহামেরই ফয়সালা হবে।অনুরূপভাবে কোনো আমানত রক্ষাকারী ব্যক্তি যদি গচ্ছিত সম্পদে সীমালঙ্ঘন করে এবং পরবর্তীতে তা দূর করে ফেলে, তবে দেখা হবে—যদি আমানত রক্ষাকারী পুনরায় সীমালঙ্ঘনের নিয়ত রাখে, তবে কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই যদি আমানত ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সে দায়বদ্ধ হবে। কিন্তু সে যদি পুনরায় সীমালঙ্ঘন না করার নিয়ত করে, তবে সে দায়বদ্ধ হবে না।তদ্রূপ কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বৈধ সম্পদ সংগ্রহ করে এবং তা মালিক হওয়ার নিয়তে সংগ্রহ করে, তবে সে তার মালিক হবে; অন্যথায় নয়।এর উদাহরণ হলো: কোনো ব্যক্তি যদি বৃষ্টির নিচে একটি পাত্র রাখে এবং তাতে পানি জমা হয়, তবে সে যদি পানি সংগ্রহ ও আয়ত্ত করার নিয়তে পাত্রটি রেখে থাকে, তবে সে তার মালিক হবে। এমতাবস্থায় যদি কেউ সেই পানি আত্মসাৎ করে, তবে সে দায়বদ্ধ হবে। কিন্তু যদি সে পানি সংগ্রহের নিয়তে নয় বরং বৃষ্টির পানিতে পাত্রটি ধোয়ার নিয়তে রেখে থাকে এবং কেউ তা নিয়ে যায়, তবে সে দায়বদ্ধ হবে না; কারণ পাত্রের মালিক পানি সংগ্রহের পূর্ববর্তী নিয়ত না থাকায় তার মালিক হতে পারেনি। একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো স্থানে ফাঁদ পাতে এবং তাতে পাখি ধরা পড়ে; যদি ফাঁদের মালিক শিকার করার নিয়তে তা পেতে থাকে, তবে পাখিটি তার মালিকানাধীন হবে। কিন্তু যদি সে রোদে শুকানোর জন্য তা পেতে থাকে, তবে ফাঁদে পড়া পাখিটি তার মালিকানাধীন হবে না। ফলে অন্য কেউ তা নিয়ে নিলে ফাঁদের মালিকের তা দাবি করার অধিকার থাকবে না।অনুরূপভাবে যদি কেউ কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু—অর্থাৎ হারানো সম্পদ—পায় এবং তা নিজের মালিকানায় নেওয়ার নিয়তে গ্রহণ করে, তবে সে আত্মসাৎকারী হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই যদি তা তার হাতে নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে মালিককে সম্পদের মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু যদি সে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে তা গ্রহণ করে এবং কোনো সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই সম্পদটি নষ্ট হয়, তবে সে দায়বদ্ধ হবে না; কারণ সে আমানতদারের পর্যায়ভুক্ত।(ঐসব শরয়ি বিধান যা উদ্দেশ্য ও নিয়তের ভিন্নতায় পরিবর্তিত হয় না) এখানে এমন কিছু শরয়ি বিধান রয়েছে যা উদ্দেশ্য ও নিয়তের কারণে পরিবর্তিত হয় না। যেমন কেউ যদি অনুমতি ছাড়া কৌতুকবশত অন্যের সম্পদ গ্রহণ করে, তবে গ্রহণের সাথে সাথেই সে আত্মসাৎকারী হিসেবে গণ্য হবে; তার নিয়ত এখানে ধর্তব্য হবে না যে সে আত্মসাৎ করার নিয়ত করেনি বরং কৌতুক করতে চেয়েছিল। তদ্রূপ কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কাজ করে যার অনুমতি নেই, তবে সে তার কাজের ফলে উদ্ভূত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধ হবে, যদিও তা তার অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে থাকে।এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মাতাল ব্যক্তিকে দেখে এবং তার সাথে থাকা টাকাগুলো পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার নিয়তে নিয়ে নেয়, তবে তার বিধান হবে আত্মসাৎকারীর মতো এবং টাকাগুলো নষ্ট হলে সে দায়বদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
هَذَا وَبِمَا أَنَّ الْقَوَاعِدَ الْكُلِّيَّةَ هِيَ قَوَاعِدُ أَكْثَرِيَّةٍ وَأَغْلَبِيَّةٍ فَوُجُودُ بَعْضِ أَحْكَامٍ مُنَافِيَةٍ لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَوْ غَيْرِهَا لَا تَأْثِيرَ لَهَا. [ (الْمَادَّةُ 3) الْعِبْرَةُ فِي الْعُقُودِ لِلْمَقَاصِدِ وَالْمَعَانِي لَا لِلْأَلْفَاظِ وَالْمَبَانِي](الْمَادَّةُ 3) :الْعِبْرَةُ فِي الْعُقُودِ لِلْمَقَاصِدِ وَالْمَعَانِي لَا لِلْأَلْفَاظِ وَالْمَبَانِي وَلِذَا يَجْرِي حُكْمُ الرَّهْنِ فِي الْبَيْعِ بِالْوَفَاءِ.الْعَقْدُ: هُوَ ارْتِبَاطُ الْإِيجَابِ بِالْقَبُولِ كَعَقْدِ الْبَيْعِ، وَالْإِجَارَةِ، وَالْإِعَارَةِ إلَخْ.اللَّفْظُ: هُوَ الْكَلَامُ الَّذِي يَنْطِقُ بِهِ الْإِنْسَانُ بِقَصْدِ التَّعْبِيرِ عَنْ ضَمِيرِهِ.يُفْهَمُ مِنْ هَذِهِ الْمَادَّةِ أَنَّهُ عِنْدَ حُصُولِ الْعَقْدِ لَا يُنْظَرُ لِلْأَلْفَاظِ الَّتِي يَسْتَعْمِلُهَا الْعَاقِدَانِ حِينَ الْعَقْدِ بَلْ إنَّمَا يُنْظَرُ إلَى مَقَاصِدِهِمْ الْحَقِيقِيَّةِ مِنْ الْكَلَامِ الَّذِي يُلْفَظُ بِهِ حِينَ الْعَقْدِ؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ الْحَقِيقِيَّ هُوَ الْمَعْنَى وَلَيْسَ اللَّفْظُ وَلَا الصِّيغَةُ الْمُسْتَعْمَلَةُ وَمَا الْأَلْفَاظُ إلَّا قَوَالِبُ لِلْمَعَانِي.وَمَعَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ مَا لَمْ يَتَعَذَّرْ التَّأْلِيفُ بَيْنَ الْأَلْفَاظِ وَالْمَعَانِي الْمَقْصُودَةِ لَا يَجُوزُ إلْغَاءُ الْأَلْفَاظِ.مِثَالُ ذَلِكَ: بَيْعُ الْوَفَاءِ، فَاسْتِعْمَالُ كَلِمَةِ الْبَيْعِ فِيهِ الَّتِي تَتَضَمَّنُ تَمْلِيكَ الْمَبِيعِ لِلْمُشْتَرِي أَثْنَاءَ الْعَقْدِ لَا يُفِيدُ التَّمْلِيكَ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ مَقْصُودًا مِنْ الْفَرِيقَيْنِ بَلْ الْمَقْصُودُ بِهِ إنَّمَا هُوَ تَأْمِينُ دَيْنِ الْمُشْتَرِي الْمُتَرَتِّبِ فِي ذِمَّةِ الْبَائِعِ، وَإِبْقَاءِ الْمَبِيعِ تَحْتَ يَدِ الْمُشْتَرِي لِحِينِ وَفَاءِ الدَّيْنِ، وَلِذَلِكَ لَمْ يَخْرُجْ الْعَقْدُ عَنْ كَوْنِهِ عَقْدَ رَهْنٍ فَيَجْرِي بِهِ حُكْمُ الرَّهْنِ وَلَا يَجْرِي حُكْمُ الْبَيْعِ.فَبِنَاءً عَلَى مَا تَقَدَّمَ يَحِقُّ لِلْبَائِعِ بَيْعًا وَفَائِيًّا أَنْ يُعِيدَ الثَّمَنَ وَيَسْتَرِدَّ الْمَبِيعَ كَمَا أَنَّهُ يَحِقُّ لِلْمُشْتَرِي أَنْ يُعِيدَ الْمَبِيعَ وَيَسْتَرْجِعَ الثَّمَنَ، وَلَوْ كَانَ الْعَقْدُ بَيْعًا حَقِيقِيًّا لَمَا جَازَ إعَادَةُ الْمَبِيعِ وَاسْتِرْدَادُ الثَّمَنِ إلَّا بِاتِّفَاقٍ مِنْ الْفَرِيقَيْنِ عَلَى إقَالَةِ الْبَيْعِ.مِثَالٌ ثَانٍ: لَوْ اشْتَرَى شَخْصٌ مِنْ (بَقَّالٍ) رِطْلَ سُكَّرٍ وَقَالَ لَهُ خُذْ هَذِهِ السَّاعَةَ أَمَانَةً عِنْدَك حَتَّى أُحْضِرَ لَك الثَّمَنَ، فَالسَّاعَةُ لَا تَكُونُ أَمَانَةً عِنْدَ الْبَقَّالِ بَلْ يَكُونُ حُكْمُهَا حُكْمُ الرَّهْنِ وَلِلْبَقَّالِ أَنْ يُبْقِيَهَا عِنْدَهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَ دَيْنَهُ، فَلَوْ كَانَتْ أَمَانَةً كَمَا ذَكَرَ الْمُشْتَرِي لَحَقَّ لَهُ اسْتِرْجَاعُهَا مِنْ الْبَائِعِ بِصِفَتِهَا أَمَانَةً يَجِبُ عَلَى الْأَمِينِ إعَادَتُهَا.مِثَالٌ ثَالِثٌ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ وَهَبْتُكَ هَذِهِ الْفَرَسَ أَوْ الدَّارَ بِمِائَةِ جُنَيْهٍ فَيَكُونُ هَذَا الْعَقْدُ عَقْدَ بَيْعٍ لَا عَقْدَ هِبَةٍ وَتَجْرِي فِيهِ أَحْكَامُ الْبَيْعِ. فَإِذَا كَانَ الْمَبِيعُ عَقَارًا تَجْرِي فِيهِ أَحْكَامُ الشُّفْعَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ أَحْكَامِ الْبَيْعِ.مِثَالٌ رَابِعٌ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ قَدْ أَعَرْتُك هَذَا الْفَرَسَ لِتَرْكَبَهُ إلَى (كوجك شكمجه) بِخَمْسِينَ غرشا فَالْعَقْدُ يَكُونُ عَقْدَ إيجَارٍ لَا عَقْدَ إعَارَةٍ رَغْمًا مِنْ اسْتِعْمَالِ كَلِمَةِ الْإِعَارَةِ فِي الْعَقْدِ؛ لِأَنَّ الْإِعَارَةَ هِيَ تَمْلِيكُ مَنْفَعَةٍ بِلَا عِوَضٍ وَهُنَا يُوجَدُ عِوَضٌ.مِثَالٌ خَامِسٌ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ قَدْ أَحَلْتُكَ بِالدَّيْنِ الْمَطْلُوبِ مِنِّي عَلَى فُلَانٍ عَلَى أَنْ تَبْقَى ذِمَّتِي مَشْغُولَةً حَتَّى يَدْفَعَ الْمُحَالُ عَلَيْهِ لَك الدَّيْنَ.فَالْعَقْدُ هَذَا لَا يَكُونُ عَقْدَ حَوَالَةٍ؛ لِأَنَّ الْحَوَالَةَ هِيَ
যেকোনো সাধারণ নীতিমালাই যেহেতু অধিকাংশ ও ব্যাপকতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাই এই নীতিমালার বা অন্য কোনোটির পরিপন্থী কিছু বিধানের অস্তিত্ব কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলে না। [ (ধারা ৩) চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থই ধর্তব্য, শব্দ ও গঠন নয়](ধারা ৩) :চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থই ধর্তব্য, শব্দ ও গঠন নয়। এ কারণেই ‘বায় আল-ওয়াফা’ (ফেরতযোগ্য বিক্রয়)-তে বন্ধকের বিধান কার্যকর হয়।চুক্তি (আকদ): এটি হলো প্রস্তাব (ঈজাব) ও গ্রহণের (কবুল) এমন সমন্বয় যেমন ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, ভাড়া, ধার প্রদান ইত্যাদি।শব্দ (লফজ): এটি সেই কথা যা মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করে।এই ধারা থেকে বোঝা যায় যে, যখন কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয় তখন চুক্তিকারী পক্ষদ্বয় চুক্তি সম্পাদনের সময় যে শব্দ ব্যবহার করে সেটির প্রতি লক্ষ্য করা হয় না, বরং চুক্তি চলাকালীন সময়ে তাদের উচ্চারিত শব্দের প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য করা হয়। কারণ প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অর্থ, শব্দ কিংবা ব্যবহৃত বাক্যরীতি নয়; আর শব্দসমূহ তো অর্থের কাঠামো মাত্র।তৎসত্ত্বেও, শব্দ এবং উদ্দিষ্ট অর্থের মধ্যে সমন্বয় করা যতক্ষণ অসম্ভব না হবে, ততক্ষণ শব্দকে অগ্রাহ্য করা বৈধ হবে না।এর উদাহরণ হলো: বায় আল-ওয়াফা। এতে ‘বিক্রয়’ শব্দের ব্যবহার যা চুক্তিকালীন সময়ে বিক্রিত বস্তুকে ক্রেতার মালিকানাধীন করা অন্তর্ভুক্ত করে, তা মালিকানা সাব্যস্ত করে না। কারণ উভয় পক্ষের এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য ছিল বিক্রেতার জিম্মায় থাকা ক্রেতার পাওনা ঋণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত বিক্রিত বস্তুটি ক্রেতার হাতে রাখা। এ কারণেই চুক্তিটি বন্ধকী চুক্তির পর্যায় থেকে বের হয়নি; ফলে এতে বন্ধকের বিধান কার্যকর হবে, বিক্রয়ের বিধান নয়।অতএব, পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বায় আল-ওয়াফা-এর ক্ষেত্রে বিক্রেতার অধিকার রয়েছে মূল্য ফেরত দিয়ে বিক্রিত বস্তু পুনরুদ্ধার করার, তেমনি ক্রেতারও অধিকার রয়েছে বিক্রিত বস্তু ফেরত দিয়ে তার মূল্য ফিরে পাওয়ার। যদি চুক্তিটি প্রকৃত বিক্রয় হতো, তবে উভয় পক্ষ চুক্তি রদ (ইকালা) করার ব্যাপারে একমত হওয়া ছাড়া বিক্রিত বস্তু ফেরত দেওয়া ও মূল্য ফেরত নেওয়া বৈধ হতো না।দ্বিতীয় উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মুদির কাছ থেকে এক রতল চিনি ক্রয় করে এবং তাকে বলে, ‘এই ঘড়িটি তোমার কাছে আমানত হিসেবে রাখো যতক্ষণ না আমি মূল্য নিয়ে আসি’, তবে ঘড়িটি মুদির কাছে আমানত হবে না, বরং এর ওপর বন্ধকের বিধান প্রযোজ্য হবে। মুদির অধিকার থাকবে তার পাওনা উসুল না হওয়া পর্যন্ত ঘড়িটি নিজের কাছে আটকে রাখা। যদি ক্রেতার দাবি অনুযায়ী এটি আমানত হতো, তবে আমানত হিসেবে তা বিক্রেতার কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার অধিকার তার থাকতো, যা আমানতদার ফেরত দিতে বাধ্য থাকতো।তৃতীয় উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, ‘আমি তোমাকে এই ঘোড়াটি বা বাড়িটি একশ পাউন্ডের বিনিময়ে হেবা (দান) করলাম’, তবে এই চুক্তিটি বিক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে, দান হিসেবে নয়; এবং এতে বিক্রয়ের বিধানসমূহ কার্যকর হবে। সুতরাং বিক্রিত বস্তু যদি স্থাবর সম্পত্তি হয়, তবে তাতে শুফআ (প্রাক-ক্রয়াধিকার) ও বিক্রয়ের অন্যান্য বিধান কার্যকর হবে।চতুর্থ উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, ‘আমি তোমাকে এই ঘোড়াটি পঞ্চাশ গুরূশের বিনিময়ে কুচুক চ্যাকমেজে পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ধার দিলাম’, তবে চুক্তিতে ‘ধার’ (ইআরত) শব্দ ব্যবহার করা সত্ত্বেও এটি ভাড়া (ইজারা) চুক্তি হবে। কারণ ধার দেওয়া হলো বিনিময় ছাড়া কোনো উপযোগের মালিকানা প্রদান, আর এখানে বিনিময় বিদ্যমান রয়েছে।পঞ্চম উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, ‘আমার কাছে তোমার যে ঋণ পাওনা রয়েছে তা আমি অমুকের ওপর স্থানান্তর (হাওলা) করলাম, তবে শর্ত হলো যে, উক্ত ব্যক্তি তোমাকে ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত আমার জিম্মা দায়বদ্ধ থাকবে’।এই চুক্তিটি হাওলা চুক্তি হবে না; কারণ হাওলা হলো...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
نَقْلُ ذِمَّةٍ إلَى ذِمَّةٍ أُخْرَى وَهُنَا بَقِيَتْ ذِمَّةُ الْمَدِينِ مَشْغُولَةً، وَاَلَّذِي جَرَى إنَّمَا هُوَ ضَمُّ ذِمَّةٍ أُخْرَى فَأَصْبَحَ الْمُحَالُ عَلَيْهِ كَفِيلًا بِالدَّيْنِ وَالْمَدِينُ أَصِيلًا.مِثَالٌ سَادِسٌ: لَوْ أَعْطَى شَخْصٌ آخَرَ عَشْرَ كَيْلَاتٍ حِنْطَةً أَوْ عَشْرَ لِيرَاتٍ، وَقَالَ لَهُ: قَدْ أَعَرْتُك إيَّاهَا فَيَكُونُ قَدْ أَقْرَضَهَا لَهُ، وَيُصْبِحُ لِلْمُسْتَعِيرِ حَقُّ التَّصَرُّفِ بِالْمَالِ أَوْ الْحِنْطَةِ الْمُعَارَةِ لَهُ مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ لِلْمُسْتَعِيرِ التَّصَرُّفُ بِعَيْنِ الْمَالِ الْمُعَارِ، بَلْ لَهُ حَقُّ الِانْتِفَاعِ بِهِ بِدُونِ اسْتِهْلَاكِ الْعَيْنِ.(مُسْتَثْنَيَاتُ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ) لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مُسْتَثْنَيَاتٌ وَهِيَ: لَوْ بَاعَ شَخْصٌ شَيْئًا لِآخَرَ مَعَ نَفْيِ الثَّمَنِ بِقَوْلِهِ قَدْ بِعْتُك هَذَا الْمَالَ بِدُونِ ثَمَنٍ يَكُونُ الْبَيْعُ بَاطِلًا وَلَا يُعْتَبَرُ الْعَقْدُ هِبَةً كَذَلِكَ لَوْ آجَرَ شَخْصٌ آخَرَ فَرَسًا بِدُونِ أُجْرَةٍ تُصْبِحُ الْإِجَارَةُ فَاسِدَةً وَلَا تَكُونُ عَارِيَّةً؛ لِأَنَّ الْإِجَارَةَ تُفِيدُ بَيْعَ الْمَنْفَعَةِ بِعِوَضٍ، وَالْعَارِيَّةُ تُفِيدُ عَدَمَ الْعِوَضِ وَبِمَا أَنَّ بَيْنَ مَعْنَى اللَّفْظَيْنِ تَضَادًّا فَلَا يَجُوزُ اسْتِعَارَةُ لَفْظِ الْإِجَارَةِ فِي الْإِعَارَةِ. [ (الْمَادَّةُ 4) الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ](الْمَادَّةُ 4) :الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ نَعَمْ لِأَنَّ الْيَقِينَ الْقَوِيَّ أَقْوَى مِنْ الشَّكِّ فَلَا يَرْتَفِعُ الْيَقِينُ الْقَوِيُّ بِالشَّكِّ الضَّعِيفِ، أَمَّا الْيَقِينُ فَإِنَّمَا يَزُولُ بِالْيَقِينِ الْآخَرِ.هَذِهِ الْمَادَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ قَاعِدَةِ (مَا ثَبَتَ بِيَقِينٍ لَا يَرْتَفِعُ بِالشَّكِّ وَمَا ثَبَتَ بِيَقِينٍ لَا يَرْتَفِعُ إلَّا بِيَقِينٍ) .الشَّكُّ: لُغَةً مَعْنَاهُ التَّرَدُّدُ، وَاصْطِلَاحًا تَرَدُّدُ الْفِعْلِ بَيْنَ الْوُقُوعِ وَعَدَمِهِ أَيْ لَا يُوجَدُ مُرَجِّحٌ لِأَحَدٍ عَلَى الْآخَرِ وَلَا يُمْكِنُ تَرْجِيحُ أَحَدِ الِاحْتِمَالَيْنِ، أَمَّا إذَا كَانَ التَّرْجِيحُ مُمْكِنًا لِأَحَدِ الِاحْتِمَالَيْنِ، وَالْقَلْبُ غَيْرُ مُطْمَئِنٍّ لِلْجِهَةِ الرَّاجِحَةِ أَيْضًا فَتَكُونُ الْجِهَةُ الرَّاجِحَةُ فِي دَرَجَةِ (الظَّنِّ) وَالْجِهَةُ الْمَرْجُوحَةُ فِي دَرَجَةِ الْوَهْمِ، وَأَمَّا إذَا كَانَ الْقَلْبُ يُطَمْئِنُ لِلْجِهَةِ الرَّاجِحَةِ فَتَكُونُ (ظَنًّا غَالِبًا) وَالظَّنُّ الْغَالِبُ يُنَزَّلُ مَنْزِلَةَ الْيَقِينِ.(الْيَقِينُ) : لُغَةً قَرَارُ الشَّيْءِ يُقَالُ (يَقِنَ الْمَاءُ فِي الْحَوْضِ) بِمَعْنَى اسْتَقَرَّ، وَاصْطِلَاحًا (هُوَ حُصُولُ الْجَزْمِ أَوْ الظَّنِّ الْغَالِبِ بِوُقُوعِ الشَّيْءِ أَوْ عَدَمِ وُقُوعِهِ) وَقَدْ عَرَّفَهُ الْبَعْضُ (هُوَ عِلْمُ الشَّيْءِ الْمُسْتَتِرِ عَنْ نَظَرٍ وَاسْتِدْلَالٍ) وَيُفْهَمُ مِنْ هَذِهِ الْإِيضَاحَاتِ أَنَّهُ لَا يُوجَدُ الشَّكُّ فِي شَيْءٍ عِنْدَ وُجُودِ الْيَقِينِ وَلَا الْيَقِينُ حَيْثُ يُوجَدُ الشَّكُّ.إذْ أَنَّهُمَا نَقِيضَانِ وَلَا يَجُوزُ اجْتِمَاعُ النَّقِيضَيْنِ، فَعَلَى هَذَا قَدْ يُعْتَرَضُ عَلَى وَضْعِ هَذِهِ الْمَادَّةِ إذْ لَا مُوجِبَ لِوَضْعِهَا.وَلَكِنْ بِمَا أَنَّ الْقَصْدَ هُنَا بِالشَّكِّ إنَّمَا هُوَ (الشَّكُّ الطَّارِئُ) بَعْدَ حُصُولِ الْيَقِينِ فِي الْأَمْرِ فَلَا مَحَلَّ لِلِاعْتِرَاضِ بَتَاتًا.هَذَا وَجُمْلَةُ الْقَوْلِ أَنَّ الْيَقِينَ السَّابِقَ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ الطَّارِئِ وَأَنَّهُ لَا يَزُولُ إلَّا بِيَقِينٍ مِثْلِهِ.
এক জিম্মাদারী (দায়বদ্ধতা) থেকে অন্য জিম্মাদারীতে স্থানান্তর; আর এখানে দেনাদারের জিম্মাদারী দায়মুক্ত হয়নি, বরং যা ঘটেছে তা হলো অন্য একটি জিম্মাদারীর সংযুক্তি। ফলে যার ওপর হাওয়ালা করা হয়েছে সে ঋণের জামিনদার হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং মূল দেনাদার আসল দায়বদ্ধ ব্যক্তি হিসেবেই রয়ে গেছে।ষষ্ঠ উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য একজনকে দশ পরিমাপক গম অথবা দশ লিরা প্রদান করে এবং তাকে বলে: "আমি তোমাকে এগুলো ধার (আরিয়াত) দিলাম", তবে তা তাকে ঋণ (করয) দেওয়া হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় ঋণগ্রহীতার জন্য উক্ত সম্পদ বা গম খরচ করার অধিকার সৃষ্টি হবে, যদিও সাধারণ ধারের (আরিয়াত) ক্ষেত্রে গ্রহীতার জন্য মূল বস্তু খরচ করার অধিকার থাকে না, বরং মূল বস্তু অক্ষুণ্ণ রেখে কেবল তা থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার থাকে।(এই মূলনীতির ব্যতিক্রমসমূহ) এই মূলনীতির কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, সেগুলো হলো: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো কাছে কোনো বস্তু বিক্রয় করে এবং মূল্য অস্বীকার করে এই বলে যে, "আমি তোমার কাছে এই সম্পদটি কোনো মূল্য ছাড়াই বিক্রয় করলাম", তবে এই বিক্রয়টি বাতিল হবে এবং এই চুক্তিটি দান হিসেবে গণ্য হবে না। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে কোনো ঘোড়া ভাড়া দেয় কোনো বিনিময় ছাড়া, তবে উক্ত ইজারা ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে এবং তা ধার (আরিয়াত) হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, ইজারা দ্বারা বিনিময়ের মাধ্যমে উপযোগ বিক্রয় করা বোঝায়, আর ধার (আরিয়াত) দ্বারা বিনিময়হীনতা বোঝায়। যেহেতু শব্দ দুটির অর্থের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে, তাই ইজারা শব্দকে ধারের অর্থে ব্যবহার করা বৈধ নয়। [ (ধারা ৪) নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না](ধারা ৪) :নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না। হ্যাঁ, কারণ সুদৃঢ় নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের চেয়ে অধিক শক্তিশালী; সুতরাং দুর্বল সন্দেহের দ্বারা সুদৃঢ় নিশ্চিত বিশ্বাস অপসারিত হয় না। বরং নিশ্চিত বিশ্বাস কেবল অন্য কোনো নিশ্চিত বিশ্বাসের মাধ্যমেই দূরীভূত হয়।এই ধারাটি এই মূলনীতি থেকে গৃহীত: "যা নিশ্চিত বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রমাণিত তা সন্দেহের দ্বারা অপসারিত হয় না এবং যা নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারা প্রমাণিত তা কেবল নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারাই অপসারিত হয়।"সন্দেহ: শাব্দিক অর্থে এর অর্থ হলো দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আর পারিভাষিক অর্থে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বা না হওয়ার মাঝে দোদুল্যমানতা, অর্থাৎ কোনো একটির ওপর অন্যটির কোনো অগ্রাধিকার না থাকা এবং উভয় সম্ভাবনার কোনোটিকে প্রাধান্য দিতে না পারা। আর যদি উভয় সম্ভাবনার কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু অন্তর সেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দিকটির ব্যাপারে আশ্বস্ত না হয়, তবে সেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দিকটি 'ধারণা' (যান্ন) এবং অন্যটি 'অবাস্তব কল্পনা' (ওয়াহম) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি অন্তর সেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দিকের ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়, তবে তাকে 'প্রবল ধারণা' (যান্নে গালিব) বলা হয়; আর প্রবল ধারণাকে নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) স্থলাভিষিক্ত করা হয়।(নিশ্চিত বিশ্বাস): শাব্দিক অর্থে কোনো কিছুর স্থির হওয়া। যেমন বলা হয়: "হাউজে পানি স্থির হয়েছে", যার অর্থ এটি থিতু হয়েছে। আর পারিভাষিক অর্থে "কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয়তা বা প্রবল ধারণা অর্জিত হওয়া"। কেউ কেউ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি এমন বিষয়ের জ্ঞান যা পর্যবেক্ষণ ও দলীল-প্রমাণের অন্তরালে থাকে।" এই ব্যাখ্যাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, যেখানে নিশ্চিত বিশ্বাস বিদ্যমান সেখানে সন্দেহের কোনো স্থান নেই এবং যেখানে সন্দেহ বিদ্যমান সেখানে নিশ্চিত বিশ্বাসের কোনো অবকাশ নেই।কারণ এ দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী এবং দুটি বিপরীতমুখী বিষয় একত্রে মিলিত হওয়া অসম্ভব। এমতাবস্থায় এই ধারাটি প্রবর্তনের ওপর আপত্তি তোলা যেতে পারে যে, এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।কিন্তু যেহেতু এখানে সন্দেহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিষয়টিতে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জিত হওয়ার পর "আকস্মিক উদয় হওয়া সন্দেহ", তাই এই আপত্তির কোনো অবকাশ নেই।সারকথা হলো, পূর্ববর্তী নিশ্চিত বিশ্বাস আকস্মিক সন্দেহের দ্বারা বিলুপ্ত হয় না এবং তা কেবল তার অনুরূপ অন্য একটি নিশ্চিত বিশ্বাসের মাধ্যমেই বিলুপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا سَافَرَ رَجُلٌ إلَى بِلَادٍ بَعِيدَةٍ فَانْقَطَعَتْ أَخْبَارُهُ مُدَّةً طَوِيلَةً، فَانْقِطَاعُ أَخْبَارِهِ يُجْعَلُ شَكًّا فِي حَيَاتِهِ إلَّا أَنَّ ذَلِكَ الشَّكَّ لَا يُزِيلُ الْيَقِينَ، وَهُوَ حَيَاتُهُ الْمُتَيَقَّنَةَ قَبْلًا وَعَلَى ذَلِكَ فَلَا يَجُوزُ الْحُكْمُ بِمَوْتِهِ وَلَيْسَ لِوَرَثَتِهِ اقْتِسَامُ تَرِكَتِهِ مَا لَمْ يَثْبُتْ مَوْتُهُ يَقِينًا، وَبِالْعَكْسِ إذَا سَافَرَ آخَرُ بِسَفِينَةٍ وَثَبَتَ غَرَقُهَا فَيُحْكَمُ بِمَوْتِ الرَّجُلِ؛ لِأَنَّ مَوْتَهُ ظَنٌّ غَالِبٌ وَالظَّنُّ الْغَالِبُ كَمَا تَقَدَّمَ بِمَنْزِلَةِ الْيَقِينِ.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ أَقَرَّ شَخْصٌ بِمَبْلَغٍ لِآخَرَ قَائِلًا أَظُنُّ أَنَّهُ يُوجَدُ لَك بِذِمَّتِي كَذَا مَبْلَغٌ فَإِقْرَارُهُ هَذَا لَا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ حُكْمٌ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ، وَالْأَصْلُ هُوَ الْمُتَيَقَّنُ فَمَا لَمْ يَحْصُلْ يَقِينٌ يَشْغَلُ ذِمَّتَهُ لَا يَثْبُتُ الْمَبْلَغُ عَلَيْهِ لِلْمُقَرِّ لَهُ إذْ أَنَّ إقْرَارَهُ لَمْ يَنْشَأْ مِنْهُ عَنْ يَقِينٍ بَلْ عَنْ شَكٍّ وَظَنٍّ، وَهَذَا لَا يُزِيلُ الْيَقِينَ بِبَرَاءَةِ ذِمَّةِ الْمُقِرِّ كَمَا لَا يَخْفَى. [ (الْمَادَّةُ 5) الْأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ](الْمَادَّةُ 5) :الْأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ. يَعْنِي: يُنْظَرُ لِلشَّيْءِ عَلَى أَيِّ حَالٍ كَانَ فَيُحْكَمُ بِدَوَامِهِ عَلَى ذَلِكَ الْحَالِ مَا لَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ عَلَى خِلَافِهِ.وَهَذِهِ الْقَاعِدَةُ تُدْعَى (الِاسْتِصْحَابُ) وَقَاعِدَةُ الْقَدِيمِ عَلَى قِدَمِهِ فَرْعٌ لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ.الِاسْتِصْحَابُ: هُوَ الْحُكْمُ بِتَحَقُّقِ وَثُبُوتِ شَيْءٍ بِنَاءً عَلَى تَحَقُّقِ وَثُبُوتِ ذَلِكَ الشَّيْءِ فِي وَقْتٍ مِنْ الْأَوْقَاتِ، وَالِاسْتِصْحَابُ حُجَّةٌ دَافِعَةٌ لَا حُجَّةٌ مُثَبِّتَةٌ، وَهُوَ عَلَى قِسْمَيْنِ: (اسْتِصْحَابُ الْمَاضِي بِالْحَالِ) وَ (اسْتِصْحَابُ الْحَالِ بِالْمَاضِي) .اسْتِصْحَابُ الْمَاضِي بِالْحَالِ: هُوَ الْحُكْمُ عَلَى شَيْءٍ بِبَقَائِهِ عَلَى الْحَالِ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ فِي الزَّمَنِ السَّابِقِ مَا لَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ عَلَى خِلَافِهِ وَيُقَالُ لَهُ اسْتِصْحَابُ (الْمَاضِي بِالْحَالِ) . اسْتِصْحَابُ الْحَالِ بِالْمَاضِي: هُوَ اعْتِبَارُ حَالَةِ الشَّيْءِ فِي الزَّمَنِ الْحَاضِرِ أَنَّهَا حَالَةُ ذَلِكَ الشَّيْءِ فِي الْمَاضِي مَا لَمْ يَثْبُتْ خِلَافُ ذَلِكَ بِدَلِيلٍ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ ثَبَتَ تَحَقُّقُ شَيْءٍ فِي الْمَاضِي، ثُمَّ حَصَلَ شَكٌّ فِي زَوَالِ ذَلِكَ الشَّيْءِ فِي الْوَقْتِ الْحَاضِرِ كَالْمَفْقُودِ مَثَلًا، وَهُوَ الَّذِي يَغِيبُ غَيْبَةً مُنْقَطِعَةً إذَا حَصَلَ شَكٌّ فِي الْوَقْتِ الْحَاضِرِ فِي حَيَاتِهِ وَمَوْتِهِ، فَبِاسْتِصْحَابِ الْمَاضِي بِالْحَالِ يُحْكَمُ بِحَيَاةِ الْمَفْقُودِ إذْ أَنَّهَا الشَّيْءُ الْمُتَحَقِّقُ فِي الْمَاضِي فَلَا يَجُوزُ الْحُكْمُ بِمَوْتِهِ وَلَا قِسْمَةِ تَرِكَتِهِ بَيْنَ الْوَرَثَةِ مَا لَمْ يَثْبُتْ مَوْتُهُ أَوْ تَنْقَرِضْ أَمْثَالُهُ بِوُصُولِهِ سِنَّ التِّسْعِينَ.مِثَالٌ ثَانٍ: لَوْ ادَّعَى الْمَدِينُ إيصَالَ الدَّيْنِ لِلدَّائِنِ، وَالدَّائِنُ أَنْكَرَ الْإِيصَالَ، فَالْقَوْلُ مَعَ الْيَمِينِ لِلدَّائِنِ؛ لِأَنَّ الدَّيْنَ تَعَلَّقَ بِذِمَّةِ الْمَدِينِ فِي الْمَاضِي فَيُحْكَمُ تَبَعًا لِقَاعِدَةِ اسْتِصْحَابِ الْمَاضِي بِالْحَالِ عَلَى الْمَدِينِ بِتَأْدِيَةِ الْمَبْلَغِ بَعْدَ حَلِفِ الدَّائِنِ الْيَمِينَ، وَهَذَا إذَا لَمْ يُثْبِتْ الْمَدِينُ وُقُوعَ الْإِيصَالِ.هَذَا وَاسْتِصْحَابُ الْحَالِ بِالْمَاضِي كَمَا ذَكَرْنَا أَنْ يَكُونَ فِيهِ حَالُ الشَّيْءِ فِي الْوَقْتِ الْحَاضِرِ مَعْلُومًا إلَّا أَنَّهُ يُوجَدُ شَكٌّ فِي عَدَمِ ذَلِكَ الشَّيْءِ فِي الْوَقْتِ الْمَاضِي.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ اخْتَلَفَ شَخْصَانِ عَلَى مَاءٍ يَسِيلُ مِنْ دَارِ أَحَدِهِمَا إلَى دَارِ الْآخَرِ فِي كَوْنِهِ قَدِيمًا أَوْ حَدِيثًا وَعَجَزَ الْفَرِيقَانِ كِلَاهُمَا عَنْ إثْبَاتِ دَعْوَاهُمَا
এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি দূর দেশে ভ্রমণ করে এবং দীর্ঘকাল তার কোনো সংবাদ না পাওয়া যায়, তবে তার সংবাদ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে তার জীবনের ব্যাপারে একটি সন্দেহ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে এই সন্দেহ সেই নিশ্চিত অবস্থাকে (ইয়াকিন) দূরীভূত করবে না, যা হলো তার পূর্বেকার নিশ্চিত জীবন। অতএব, তার মৃত্যুর ফায়সালা দেওয়া বৈধ হবে না এবং তার মৃত্যু নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার উত্তরাধিকারীদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা জায়েজ হবে না। পক্ষান্তরে, যদি অন্য কোনো ব্যক্তি জাহাজে ভ্রমণ করে এবং সেই জাহাজ ডুবে যাওয়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ফায়সালা দেওয়া হবে; কারণ তার মৃত্যু তখন প্রবল ধারণা (যান্নে গালিব) হিসেবে গণ্য, আর প্রবল ধারণা পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, নিশ্চিত জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো জন্য কোনো অর্থের স্বীকৃতি দিয়ে বলে যে, "আমার মনে হয় আপনার এত পরিমাণ অর্থ আমার জিম্মায় পাওনা রয়েছে", তবে তার এই স্বীকৃতির ওপর কোনো আইনি সিদ্ধান্ত বর্তাবে না। কারণ মূল নীতি হলো দায়মুক্তি, আর এই মূল নীতিই হলো নিশ্চিত অবস্থা। সুতরাং যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে তার জিম্মায় কারো পাওনা রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বীকৃতিকারীর ওপর সেই অর্থ সাব্যস্ত হবে না। কেননা তার এই স্বীকৃতি নিশ্চিত কোনো অবস্থা থেকে তৈরি হয়নি বরং সন্দেহ ও অনুমানের ভিত্তিতে হয়েছে। আর এটি স্বীকৃতিকারীর দায়মুক্তির ব্যাপারে যে নিশ্চিত অবস্থা রয়েছে, তা দূর করতে পারে না, যেমনটি সুস্পষ্ট। [ (ধারা ৫) মূল নীতি হলো: কোনো বিষয় পূর্বে যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানেও সে অবস্থায় বহাল থাকা](ধারা ৫) :মূল নীতি হলো: কোনো বিষয় পূর্বে যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানেও সে অবস্থায় বহাল থাকা। অর্থাৎ: কোনো বিষয়কে যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, যতক্ষণ না তার বিপরীত কোনো দলিল বা প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই অবস্থা অব্যাহত থাকার হুকুম দেওয়া হবে।এই নীতিটিকে 'ইসতিসহাব' বলা হয় এবং 'প্রাচীন বস্তু তার প্রাচীনত্বের ওপর বহাল থাকবে'—এই নীতিটি বর্তমান নীতিরই একটি শাখা।ইসতিসহাব হলো: কোনো এক সময়ে কোনো বিষয় নিশ্চিত ও সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে বর্তমানেও তা নিশ্চিত ও সাব্যস্ত থাকার হুকুম দেওয়া। ইসতিসহাব হলো একটি প্রতিরোধমূলক প্রমাণ, কোনো কিছু নতুন করে সাব্যস্ত করার প্রমাণ নয়। এটি দুই প্রকার: 'অতীতকে বর্তমানের মাধ্যমে বহাল রাখা' এবং 'বর্তমানকে অতীতের মাধ্যমে বহাল রাখা'।অতীতকে বর্তমানের মাধ্যমে বহাল রাখা: এটি হলো কোনো বিষয়কে পূর্ববর্তী সময়ে যে অবস্থায় ছিল, বিপরীত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত বর্তমান সময়েও সেই অবস্থায় বহাল থাকার হুকুম দেওয়া। একে 'অতীতকে বর্তমানের মাধ্যমে বহাল রাখা' বলা হয়। বর্তমানকে অতীতের মাধ্যমে বহাল রাখা: এটি হলো বর্তমান সময়ে কোনো বিষয়ের যে অবস্থা পরিলক্ষিত হয়, বিপরীত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অতীতেও সেটি সেই অবস্থায় ছিল বলে গণ্য করা।এর উদাহরণ হলো: যদি অতীতে কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় এবং বর্তমানে সেই বিষয়টি বিলীন হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়, যেমন নিখোঁজ ব্যক্তি (মাফকুদ)। নিখোঁজ ব্যক্তি হলো সেই ব্যক্তি যে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছে; তার জীবন বা মৃত্যুর ব্যাপারে যদি বর্তমানে সন্দেহ তৈরি হয়, তবে 'অতীতকে বর্তমানের মাধ্যমে বহাল রাখার' (ইসতিসহাব) ভিত্তিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত গণ্য করা হবে। যেহেতু অতীতে তার জীবিত থাকা নিশ্চিত ছিল, তাই তার মৃত্যু নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা তার সমসাময়িক ব্যক্তিদের মৃত্যু এবং নব্বই বছর বয়সে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার মৃত্যু অনুমিত না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুর ফায়সালা দেওয়া যাবে না এবং তার সম্পদ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না।দ্বিতীয় উদাহরণ: যদি দেনাদার পাওনাদারের কাছে ঋণ পরিশোধের দাবি করে এবং পাওনাদার তা অস্বীকার করে, তবে পাওনাদারের শপথযুক্ত বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ অতীতে দেনাদারের জিম্মায় এই ঋণের দায়বদ্ধতা ছিল। তাই 'অতীতকে বর্তমানের মাধ্যমে বহাল রাখার' নীতি অনুযায়ী পাওনাদারের শপথ গ্রহণের পর দেনাদারকে সেই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হবে। এটি তখনই হবে যখন দেনাদার ঋণ পরিশোধের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারবে না।আর 'বর্তমানকে অতীতের মাধ্যমে বহাল রাখা'—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তাহলো বর্তমান সময়ে কোনো বিষয়ের অবস্থা জানা থাকা, কিন্তু অতীতে সেই বিষয়টি অনুপস্থিত ছিল কি না সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকা।এর উদাহরণ হলো: যদি দুইজন ব্যক্তি এমন একটি ড্রেন বা পানি প্রবাহ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয় যা একজনের বাড়ি থেকে অন্যজনের বাড়ির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, এবং তাদের বিবাদ হলো এটি কি প্রাচীন কাল থেকে ছিল নাকি নতুন তৈরি করা হয়েছে? এমতাবস্থায় যদি উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবি প্রমাণ করতে অক্ষম হয়...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فَيُنْظَرُ إلَى حَالِ الْمَسِيلِ فِي الْوَقْتِ الْحَاضِرِ فَإِذَا ثَبَتَ جَرَيَانُ الْمَاءِ قَبْلَ الْخُصُومَةِ مِنْ ذَلِكَ الْمَسِيلِ يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي وُجِدَ عَلَيْهَا.وَكَذَلِكَ لَوْ اسْتَأْجَرَ رَجُلٌ طَاحُونًا وَادَّعَى بَعْدَ انْقِضَاءِ مُدَّةِ الْإِجَارَةِ انْقِطَاعَ الْمَاءِ عَنْ الطَّاحُونِ مُدَّةً وَطَلَبَ تَنْزِيلَ الْأُجْرَةِ عَنْ الْمُدَّةِ الَّتِي انْقَطَعَ فِيهَا الْمَاءُ وَصَاحِبُ الطَّاحُونِ ادَّعَى عَدَمَ انْقِطَاعِ الْمَاءِ فَتَحْكُمُ الْحَالُ الْحَاضِرَةُ، فَإِذَا كَانَ الْمَاءُ جَارِيًا وَقْتَ الدَّعْوَى وَالْخُصُومَةِ فَيُسْتَصْحَبُ الْحَالُ بِالْمَاضِي وَالْقَوْلُ لِلْمُؤَجِّرِ مَعَ يَمِينِهِ، وَبِالْعَكْسِ لَوْ كَانَ الْمَاءُ مَقْطُوعًا فَالْقَوْلُ لِلْمُسْتَأْجِرِ مَعَ يَمِينِهِ.كَذَا لَوْ أَنْفَقَ الْأَبُ مِنْ مَالِ ابْنِهِ الْغَائِبِ فَادَّعَى الْوَلَدُ أَنَّ وَالِدَهُ كَانَ مُوسِرًا وَقْتَ الْإِنْفَاقِ وَطَلَبَ ضَمَانَةَ الْمَبْلَغِ الَّذِي صَرَفَهُ، فَيُنْظَرُ إلَى الْحَالِ الْمَاضِي فَإِذَا كَانَ الْوَالِدُ وَقْتَ الْخُصُومَةِ مُعْسِرًا فَالْقَوْلُ قَوْلُهُ مَعَ الْيَمِينِ، وَإِذَا كَانَ مُوسِرًا فَالْقَوْلُ قَوْلُ الِابْنِ.وَلِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مُسْتَثْنَى، وَذَلِكَ أَنَّ الْأَمِينَ يُصَدَّقُ يَمِينُهُ فِي بَرَاءَةِ ذِمَّتِهِ، فَلَوْ ادَّعَى الْمُودَعُ أَنَّهُ أَعَادَ الْوَدِيعَةَ أَوْ أَنَّهَا تَلِفَتْ فِي يَدِهِ بِلَا تَعَدٍّ وَلَا تَقْصِيرٍ يُقْبَلُ ادِّعَاؤُهُ مَعَ يَمِينِهِ مَعَ أَنَّهُ كَانَ يَجِبُ بِمُقْتَضَى قَاعِدَةِ الِاسْتِصْحَابِ أَنْ يُعَدَّ الْأَمِينُ مُكَلَّفًا بِإِعَادَةِ الْأَمَانَةِ مَا لَمْ يَثْبُتْ إعَادَتُهَا؛ لِأَنَّ الْحَالَ الْمَاضِيَ هُوَ وُجُودُ الْأَمَانَةِ عِنْدَ الْمُودِعِ.وَالسَّبَبُ فِي ذَلِكَ أَنَّ الْأَمِينَ يَدَّعِي هُنَا بَرَاءَةَ الذِّمَّةِ مِنْ الضَّمَانِ، وَأَمَّا الْمُودِعُ فَهُوَ يَدَّعِي شَغْلَ ذِمَّةِ الْأَمِينِ، وَذَلِكَ خِلَافُ الْأَصْلِ. [ (الْمَادَّةُ 6) الْقَدِيمُ يُتْرَكُ عَلَى قِدَمِهِ](الْمَادَّةُ 6) :الْقَدِيمُ يُتْرَكُ عَلَى قِدَمِهِ. يَعْنِي: أَنَّ الْقَدِيمَ الْمُوَافِقَ لِلشَّرْعِ يَجِبُ أَنْ يُتْرَكَ عَلَى حَالِ الْقَدِيمِ مَا لَمْ يَثْبُتْ خِلَافُهُ؛ لِأَنَّ بَقَاءَ ذَلِكَ الشَّيْءِ مُدَّةً طَوِيلَةً دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ مُسْتَنِدٌ عَلَى حَقٍّ مَشْرُوعٍ فَيُحْكَمُ بِأَحَقِّيَّتِهِ - وَهَذِهِ الْمَادَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ قَاعِدَةِ (مَا كَانَ قَدِيمًا يُتْرَكُ عَلَى حَالٍ وَلَا يَتَغَيَّرُ إلَّا بِحُجَّةٍ) .مَا هُوَ الْقَدِيمُ؟ هُوَ الَّذِي لَا يُعْرَفُ أَوَّلُهُ أَمَّا إذَا كَانَ أَوَّلُهُ مَعْرُوفًا فَلَا يُعَدُّ قَدِيمًا مَثَلًا: لَوْ أَنَّ مِيزَابَ دَارِ شَخْصٍ يَجْرِي مِنْ الْقَدِيمِ عَلَى دَارِ شَخْصٍ آخَرَ فَصَاحِبُ الدَّارِ الثَّانِيَةِ لَا يَحِقُّ لَهُ مَنْعُهُ كَمَا وَأَنَّ بَالُوعَةَ دَارٍ تَمُرُّ مِنْ دَارٍ أُخْرَى فَصَاحِبُ الدَّارِ الثَّانِيَةِ لَا يَحِقُّ لَهُ سَدُّ تِلْكَ الْبَالُوعَةِ وَمَنْعُ مُرُورِهَا مِنْ دَارِهِ؛ لِأَنَّهُ مَا دَامَ ذَلِكَ قَدِيمًا يُعْتَبَرُ أَنَّ مُرُورَ ذَلِكَ الْمَاءِ لَا بُدَّ وَأَنْ يَكُونَ مُسْتَنِدًا عَلَى حَقٍّ شَرْعِيٍّ، كَأَنْ كَانَتْ الدَّارَانِ مُشْتَرِكَتَيْنِ فَجَرَى تَقْسِيمُهُمَا وَكَانَ مِنْ شُرُوطِ التَّقْسِيمِ مُرُورُ مَاءِ إحْدَاهُمَا مِنْ الْأُخْرَى.أَمَّا الْقَدِيمُ الْمُخَالِفُ لِلشَّرْعِ الشَّرِيفِ فَلَا يُتْرَكُ عَلَى قِدَمِهِ مَهْمَا تَقَادَمَ عَهْدُهُ؛ لِأَنَّ الضَّرَرَ لَا يَكُونُ قَدِيمًا.مَثَلًا لَوْ أَنَّ بَالُوعَةَ دَارٍ تَجْرِي مِنْ الْقَدِيمِ فِي الطَّرِيقِ الْعَامِّ لَا يُنْظَرُ إلَى قِدَمِهَا وَتُزَالُ؛ لِأَنَّهُ غَيْرُ مُمْكِنٍ احْتِمَالُ مَشْرُوعِيَّةِ ذَلِكَ. [ (الْمَادَّةُ 7) الضَّرَرُ لَا يَكُونُ قَدِيمًا](الْمَادَّةُ 7) :الضَّرَرُ لَا يَكُونُ قَدِيمًا يَعْنِي: لَا يُعْتَبَرُ قِدَمُهُ وَلَا يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ.هَذِهِ الْمَادَّةُ تُفِيدُ حُكْمَ الْمَادَّةِ الَّتِي قَبْلَهَا النَّاصَّةِ عَلَى أَنَّ
বর্তমান সময়ের জলপথের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করা হবে। যদি বিবাদের পূর্বে সেই জলপথ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে তাকে বর্তমান অবস্থার ওপর বহাল রাখার রায় দেওয়া হবে।অনুরূপভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি একটি যাতা (কল) ভাড়া নেয় এবং ইজারা (ভাড়া) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দাবি করে যে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যাতায় পানি আসা বন্ধ ছিল এবং সেই সময়ের ভাড়া মওকুফ করার আবেদন করে, আর যাতার মালিক পানি বন্ধ না হওয়ার দাবি করে, তবে বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী ফয়সালা হবে। যদি মামলা ও বিবাদের সময় পানি প্রবাহিত থাকে, তবে বর্তমান অবস্থাকে অতীতের সঙ্গে যুক্ত (ইস্তিসহাব) করা হবে এবং কসমসহ মালিকের (মুয়াজ্জির) কথা গ্রহণযোগ্য হবে। এর বিপরীতে যদি পানি বন্ধ থাকে, তবে কসমসহ ভাড়াটিয়ার (মুস্তাজির) কথা গ্রহণযোগ্য হবে।তদ্রূপ, যদি পিতা তার অনুপস্থিত ছেলের সম্পদ থেকে ব্যয় করেন এবং পরবর্তীতে ছেলে দাবি করে যে, ব্যয়ের সময় তার পিতা সচ্ছল ছিলেন এবং ব্যয়কৃত অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করে, তবে বর্তমান অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করা হবে। যদি বিবাদের সময় পিতা অসচ্ছল থাকেন, তবে কসমসহ পিতার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি তিনি সচ্ছল হন, তবে ছেলের কথা গ্রহণযোগ্য হবে।আর এই মূলনীতির কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে; তা হলো, আমানতদারের দায়মুক্তির ক্ষেত্রে তার কসমকে সত্য বলে গণ্য করা হবে। সুতরাং যদি আমানত গ্রহণকারী দাবি করে যে, সে আমানত ফেরত দিয়েছে অথবা তার হাতে কোনো সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই তা নষ্ট হয়ে গেছে, তবে কসমসহ তার দাবি গৃহীত হবে। যদিও 'ইস্তিসহাব' নীতির দাবি ছিল যে, আমানত ফেরত দেওয়া প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমানতদার তা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে; কারণ পূর্ববর্তী অবস্থা ছিল আমানত গ্রহণকারীর নিকট আমানত বিদ্যমান থাকা।এর কারণ হলো, আমানতদার এখানে দায়মুক্তি দাবি করছে, পক্ষান্তরে আমানত প্রদানকারী আমানতদারের জিম্মায় দায়বদ্ধতা থাকার দাবি করছে, যা মূলত মৌলিক অবস্থার (আসল) পরিপন্থী। [ (ধারা ৬) পুরাতনকে তার পুরাতন অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে](ধারা ৬) :পুরাতনকে তার পুরাতন অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, শরীয়তসম্মত কোনো পুরাতন বিষয়কে তার পুরাতন অবস্থার ওপর বহাল রাখা আবশ্যক, যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়। কেননা কোনো জিনিসের দীর্ঘকাল টিকে থাকা এই মর্মে দলিল যে, এটি একটি শরয়ি হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত; সুতরাং একে অগ্রাধিকার দিয়ে রায় প্রদান করা হবে। এই ধারাটি (যা পুরাতন তা তার অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে এবং কোনো দলিল ছাড়া তা পরিবর্তন করা হবে না) নামক মূলনীতি থেকে গৃহীত।'পুরাতন' (কাদীম) কী? পুরাতন হলো তা-ই, যার শুরু সম্পর্কে জানা যায় না। পক্ষান্তরে যার শুরু জানা আছে, তাকে পুরাতন গণ্য করা হবে না। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তির বাড়ির পানিনিষ্কাশনের নালা পুরাতনকাল থেকেই অন্য কোনো ব্যক্তির বাড়ির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে দ্বিতীয় বাড়ির মালিকের তা বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। একইভাবে একটি বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন পথ অন্য বাড়ির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করলে দ্বিতীয় বাড়ির মালিক সেই পথ বন্ধ করার বা তার বাড়ির ওপর দিয়ে প্রবাহে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত তা পুরাতন থাকবে, ততক্ষণ বিবেচনা করা হবে যে, এই পানি প্রবাহ অবশ্যই কোনো শরয়ি হকের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে; যেমন- উভয় বাড়ি হয়তো যৌথ মালিকানাধীন ছিল এবং পরবর্তীতে তা ভাগ করা হয়েছে, আর বণ্টনের শর্ত ছিল একটির পানি অন্যটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া।তবে শরীয়তে মুতাহহারার পরিপন্থী কোনো পুরাতন বিষয়কে তার পুরাতন অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না, তা যতই প্রাচীন হোক না কেন; কেননা ক্ষতি বা অনিষ্ট পুরাতন হতে পারে না।উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন পথ পুরাতনকাল থেকেই জনপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে এর প্রাচীনতার প্রতি লক্ষ্য করা হবে না এবং তা অপসারণ করা হবে; কারণ এর শরয়ি বৈধতার কোনো সম্ভাবনা কল্পনা করা সম্ভব নয়। [ (ধারা ৭) ক্ষতি বা অনিষ্ট পুরাতন হতে পারে না](ধারা ৭) :ক্ষতি বা অনিষ্ট পুরাতন হতে পারে না। অর্থাৎ, এর প্রাচীনতা বিবেচনা করা হবে না এবং এর স্থায়িত্বের রায় দেওয়া হবে না।এই ধারাটি পূর্ববর্তী ধারার বিধানকেই স্পষ্ট করছে, যেখানে বলা হয়েছে যে-
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الْقَدِيمَ يُتْرَكُ عَلَى قِدَمِهِ إلَّا أَنَّ هَذِهِ قَيَّدَتْ تِلْكَ وَبَيَّنَتْ أَنَّ الْقَدِيمَ الَّذِي يُعْتَبَرُ هُوَ الْقَدِيمُ غَيْرُ الْمُضِرِّ.مِثَالُ ذَلِكَ لَوْ أَنَّ أَقْذَارَ دَارِ شَخْصٍ مِنْ الْقَدِيمِ تَسِيلُ إلَى الطَّرِيقِ الْعَامِّ أَوْ أَنَّ بَالُوعَةَ دَارِ شَخْصٍ تَسِيلُ إلَى النَّهْرِ الَّذِي يَشْرَبُ مَاءَهُ أَهْلُ الْبَلَدِ فَتُمْنَعُ وَلَا اعْتِبَارَ لِقَدَمِهَا؛ لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ احْتِمَالُ مَشْرُوعِيَّةِ ذَلِكَ وَلَا يُمْكِنُ لِإِنْسَانٍ أَنْ يُجِيزَ حَقًّا يَكُونُ مِنْهُ ضَرَرٌ عَامٌّ. [ (الْمَادَّةُ 8) الْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ](الْمَادَّةُ 8) :الْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ.يَعْنِي: الْأَصْلُ أَنْ تَكُونَ ذِمَّةُ كُلِّ شَخْصٍ بَرِيئَةً أَيْ غَيْرَ مَشْغُولَةٍ بِحَقٍّ آخَرَ؛ لِأَنَّ كُلَّ شَخْصٍ يُولَدُ وَذِمَّتُهُ بَرِيئَةٌ وَشَغْلُهَا يَحْصُلُ بِالْمُعَامَلَاتِ الَّتِي يُجْرِيهَا فِيمَا بَعْدُ، فَكُلُّ شَخْصٍ يَدَّعِي خِلَافَ هَذَا الْأَصْلِ يُطْلَبُ مِنْهُ أَنْ يُبَرْهِنَ عَلَى ذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ حَسَبَ الْمَادَّةِ (77) تُطْلَبُ الْبَيِّنَةُ مِنْ مُدَّعِي خِلَافَ الظَّاهِرِ وَخِلَافَ الْأَصْلِ. وَهَذِهِ الْقَاعِدَةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ الْأَشْبَاهِ.الذِّمَّةُ تَعْرِيفُهَا: لُغَةً الْعَهْدُ وَالْأَمَانُ إذْ أَنَّ نَقْضَ الْعَهْدِ وَالْأَمَانِ مُوجِبٌ لِلذَّمِّ وَفِي الِاصْطِلَاحِ بِمَعْنَى النَّفْسِ وَالذَّاتِ وَلِهَذَا فَسَرَّتْ الْمَادَّةُ (612) الذِّمَّةَ بِالذَّاتِ. وَالذِّمَّةُ فِي اصْطِلَاحِ عِلْمِ أُصُولِ الْفِقْهِ وَصْفٌ يَصِيرُ بِهِ الْإِنْسَانُ أَهْلًا لِمَا لَهُ وَمَا عَلَيْهِ.مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا اشْتَرَى شَخْصٌ مَالًا كَانَ أَهْلًا لِتَمَلُّكِ مَنْفَعَةِ ذَلِكَ الْمَالِ كَمَا أَنَّهُ يَكُونُ أَيْضًا أَهْلًا لِتَحَمُّلِ مَضَرَّةِ دَفْعِ ثَمَنِهِ الْمُجْبَرِ عَلَى أَدَائِهِ. وَالذِّمَّةُ وَإِنْ لَمْ تَكُ هِيَ نَفْسُ عَقْلِ الْإِنْسَانِ فَلِلْعَقْلِ دَخْلٌ فِيهَا، وَلِذَا فَالْحَيَوَانَاتُ الْعُجْمُ لَا تُوصَفُ بِالذِّمَّةِ.وَإِنَّ الْقَوْلَ بِأَنَّ بَرَاءَةَ الذِّمَّةِ أَصْلٌ يُقْصَدُ بِهِ أَنَّ ذَاتَ الْإِنْسَانِ بِاعْتِبَارِ الْوَصْفِ الْمَذْكُورِ بَرِيءٌ، فَعِنْدَمَا يُقَالُ تَرَتَّبَ فِي الذِّمَّةِ دَيْنٌ يَكُونُ مَعْنَى ذَلِكَ أَنَّهُ تَرَتَّبَ عَلَى نَفْسِ الْإِنْسَانِ دَيْنٌ.وَإِذَا تَعَارَضَتْ هَذِهِ الْقَاعِدَةُ بِقَاعِدَةِ (الْأَصْلُ إضَافَةُ الْحَوَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهَا) فَيَجِبُ الْعَمَلُ بِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ؛ لِأَنَّ هَذِهِ أَقْوَى مِنْ تِلْكَ.مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا أَتْلَفَ رَجُلٌ مَالَ آخَرَ وَاخْتَلَفَ فِي مِقْدَارِهِ يَكُونُ الْقَوْلُ لِلْمُتْلِفِ، وَالْبَيِّنَةُ عَلَى صَاحِبِ الْمَالِ لِإِثْبَاتِ الزِّيَادَةِ.مِثَالٌ آخَرُ: إذَا ادَّعَى شَخْصٌ عَلَى آخَرَ بِقَرْضٍ وَالْمُدَّعَى عَلَيْهِ أَنْكَرَ ذَلِكَ الْقَرْضَ فَالْقَوْلُ لِلْمُدَّعَى عَلَيْهِ مَعَ الْيَمِينِ، وَالْمُدَّعِي مُكَلَّفٌ بِإِثْبَاتِ خِلَافِ الْأَصْلِ أَيْ إثْبَاتِ شَغْلِ ذِمَّةِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ، فَإِذَا أَقَامَ الْمُدَّعِي الْبَيِّنَةَ فَيَكُونُ قَدْ وُجِدَ دَلِيلٌ عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ حُكِمَ حِينَئِذٍ بِالْبَيِّنَةِ، كَذَلِكَ فِي مَوَادِّ الْغَصْبِ، وَالسَّرِقَةِ، الْوَدِيعَةِ الَّتِي يَجُوزُ فِيهَا الْإِقْرَارُ بِالْمَجْهُولِ، كَأَنْ يُقِرَّ شَخْصٌ مَثَلًا بِقَوْلِهِ: إنَّ فُلَانًا لَهُ عِنْدِي أَمَانَةٌ بِدُونِ ذِكْرِ مِقْدَارِهَا فَيُجْبَرُ الْمُقِرُّ عَلَى أَنْ يُبَيِّنَ مَا هِيَ الْأَمَانَةُ وَمَا مِقْدَارُهَا، فَإِذَا بَيَّنَ الْمُقِرُّ أَنَّ تِلْكَ الْأَمَانَةَ فَرَسٌ أَوْ عَشَرَةُ قُرُوشٍ مَثَلًا، وَالْمُقَرُّ لَهُ ادَّعَى أَنَّهَا فَرَسَانِ أَوْ مِائَتَا قِرْشٍ فَالْقَوْلُ لِلْمُقِرِّ مَعَ الْيَمِينِ وَالْبَيِّنَةُ عَلَى الْمُقَرِّ لَهُ لِإِثْبَاتِ الزِّيَادَةِ.وَيُمْكِنُ تَوْجِيهُ اعْتِرَاضٍ عَلَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ، وَهُوَ أَنَّ الْمَدِينَ إذَا ادَّعَى أَنَّ الدَّائِنَ أَبْرَأَهُ أَوْ أَنَّهُ أَوْفَى الدَّيْنَ، فَالْقَوْلُ لِلدَّائِنِ مَعَ الْيَمِينِ مَعَ أَنَّ الدَّائِنَ يَدَّعِي شَغْلَ ذِمَّةِ الْمَدِينِ، وَالْمَدِينُ يَدَّعِي بَرَاءَةَ ذِمَّتِهِ فَكَانَ الْوَاجِبُ حَسَبَ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَنْ يَكُونَ الْقَوْلُ لِلْمَدِينِ.وَالْجَوَابُ عَلَى ذَلِكَ أَنَّ الدَّائِنَ وَالْمَدِينَ هُنَا مُتَّفِقَانِ عَلَى ثُبُوتِ الدَّيْنِ فَبِاتِّفَاقِهِمَا عَلَى ذَلِكَ أَصْبَحَ
প্রাচীন বিষয় তার প্রাচীনত্বের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়; তবে এটি (পরবর্তী নিয়মটি) পূর্ববর্তী বিষয়কে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে, যে প্রাচীন বিষয়টি ধর্তব্য তা হলো সেই প্রাচীন বিষয় যা ক্ষতিকর নয়।এর উদাহরণ হলো, যদি কোনো ব্যক্তির বাড়ির ময়লা-আবর্জনা প্রাচীনকাল থেকেই রাজপথে প্রবাহিত হতে থাকে, অথবা কোনো ব্যক্তির বাড়ির নর্দমা এমন নদীতে প্রবাহিত হয় যেখান থেকে শহরবাসী পানি পান করে, তবে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এর প্রাচীনত্বের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হবে না। কারণ, এর বৈধতার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং কোনো মানুষের পক্ষে এমন কোনো অধিকারকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয় যা থেকে সাধারণের ক্ষতি হয়। [ (ধারা ৮) মৌলিক নীতি হলো দায়মুক্তি](ধারা ৮) :মৌলিক নীতি হলো দায়মুক্তি।অর্থাৎ: মূল বিধান হলো প্রত্যেক ব্যক্তির জিম্মা (দায়) মুক্ত থাকবে, অর্থাৎ অন্য কোনো হকের দ্বারা দায়বদ্ধ থাকবে না; কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি জন্ম নেয় দায়মুক্ত অবস্থায় এবং পরবর্তীতে সম্পাদিত লেনদেনের মাধ্যমেই দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মূল বিধানের বিপরীতে কোনো দাবি করবে, তার নিকট থেকে প্রমাণ চাওয়া হবে; কারণ ৭৭ নং ধারা অনুযায়ী, প্রকাশ্য অবস্থা ও মূল বিধানের বিপরীত দাবিদার ব্যক্তির কাছেই প্রমাণ তলব করা হয়। আর এই মূলনীতিটি ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।জিম্মার সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা, কেননা অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা ভঙ্গ করা নিন্দার কারণ। আর পরিভাষায় এটি ব্যক্তি ও সত্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়, এ কারণেই ৬১২ নং ধারায় জিম্মাকে ‘সত্তা’ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষায় জিম্মা হলো এমন একটি গুণ যার মাধ্যমে মানুষ তার প্রাপ্য ও প্রদেয় অধিকারের যোগ্য হয়।এর উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মাল ক্রয় করে, তবে সে ওই মালের উপকার ভোগ করার মালিক হওয়ার যোগ্য হয়, ঠিক তেমনি সে ওই মালের মূল্য পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহনেরও যোগ্য হয়। আর জিম্মা মানুষের আকল (বিবেক) না হলেও, আকলের এতে প্রভাব রয়েছে; তাই নির্বাক পশুপাখিকে জিম্মার অধিকারী বলা হয় না।আর ‘দায়মুক্তিই হলো মূল নীতি’—এই কথার উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত গুণের বিচারে মানুষের সত্তা দায়মুক্ত। সুতরাং যখন বলা হয় যে ‘জিম্মায় ঋণ সাব্যস্ত হয়েছে’, তার অর্থ হলো মানুষের সত্তার ওপর ঋণ সাব্যস্ত হয়েছে।যদি এই মূলনীতিটি ‘ঘটনাকে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পর্কিত করাই মূল নীতি’—এই মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে এই নীতি (দায়মুক্তি) অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক; কারণ এটি ওই নীতির চেয়ে অধিক শক্তিশালী।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের মাল নষ্ট করে ফেলে এবং এর পরিমাণ নিয়ে মতভেদ হয়, তবে মাল বিনষ্টকারীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে, আর মালের মালিকের দায়িত্ব হলো বর্ধিত পরিমাণের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করা।অন্য একটি উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কারো বিরুদ্ধে ঋণের দাবি করে এবং বিবাদী সেই ঋণ অস্বীকার করে, তবে শপথসহ বিবাদীর কথাই ধর্তব্য হবে। আর বাদী মূল বিধানের বিপরীত বিষয়টি প্রমাণের জন্য আদিষ্ট হবে, অর্থাৎ বিবাদীর দায়বদ্ধতা প্রমাণ করতে হবে। যদি বাদী প্রমাণ পেশ করতে পারে, তবে মূল বিধানের বিপরীতে দলিল পাওয়া গেল বলে গণ্য হবে এবং তখন প্রমাণের ভিত্তিতে ফয়সালা হবে। একইভাবে আত্মসাৎ, চুরি ও আমানতের ক্ষেত্রেও যেখানে অস্পষ্ট স্বীকৃতি প্রদান করা বৈধ; যেমন কোনো ব্যক্তি যদি স্বীকার করে যে: ‘অমুক ব্যক্তির কিছু সম্পদ আমার নিকট গচ্ছিত আছে’ কিন্তু তার পরিমাণ উল্লেখ না করে, তবে স্বীকারকারী ব্যক্তিকে সেই আমানতটি কী এবং তার পরিমাণ কত তা স্পষ্ট করতে বাধ্য করা হবে। এখন স্বীকারকারী যদি স্পষ্ট করে যে সেই আমানতটি একটি ঘোড়া বা দশ দিরহাম, আর যার উদ্দেশ্যে স্বীকার করা হয়েছে সে যদি দাবি করে যে তা দুটি ঘোড়া বা দুইশত দিরহাম, তবে শপথসহ স্বীকারকারীর কথাই ধর্তব্য হবে এবং বর্ধিত পরিমাণের সপক্ষে প্রমাণের দায়ভার অপর পক্ষের ওপর বর্তাবে।এই মূলনীতির ওপর একটি আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে, তা হলো: দেনাদার যদি দাবি করে যে পাওনাদার তাকে দায়মুক্ত করে দিয়েছে অথবা সে ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে, তবে শপথসহ পাওনাদারের কথাই গ্রহণযোগ্য হয়; অথচ পাওনাদার দেনাদারের দায়বদ্ধতা দাবি করছে এবং দেনাদার তার নিজের দায়মুক্তির দাবি করছে। সুতরাং এই মূলনীতি অনুযায়ী দেনাদারের কথাই ধর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।এর উত্তর হলো: পাওনাদার ও দেনাদার এখানে ঋণ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে একমত, তাই তাদের ঐকমত্যের কারণে তা...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
شَغْلُ الذِّمَّةِ أَصْلًا وَالْبَرَاءَةُ خِلَافَ الْأَصْلِ، فَالْمَدِينُ يَدَّعِي الْإِيفَاءَ وَالْإِبْرَاءَ الَّذِي هُوَ خِلَافُ الْأَصْلِ، وَالدَّائِنُ يُنْكِرُ ذَلِكَ فَعَلَى هَذَا أَصْبَحَ الْقَوْلُ لِلدَّائِنِ وَلَا مَجَالَ لِلِاعْتِرَاضِ عَلَى ذَلِكَ رَاجِعْ الْمَادَّةَ (77) . [ (الْمَادَّةُ 9) الْأَصْلُ فِي الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ الْعَدَمُ](الْمَادَّةُ 9) :الْأَصْلُ فِي الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ الْعَدَمُ مَثَلًا: إذَا اخْتَلَفَ شَرِيكَا الْمُضَارَبَةِ فِي حُصُولِ الرِّبْحِ وَعَدَمِهِ فَالْقَوْلُ لِلْمُضَارِبِ، وَالْبَيِّنَةُ عَلَى رَبِّ الْمَالِ لِإِثْبَاتِ الرِّبْحِ.هَذِهِ الْقَاعِدَةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ الْأَشْبَاهِ، وَقَدْ ذُكِرَ فِي الْأَشْبَاهِ (الْأَصْلُ الْعَدَمُ وَلَيْسَ الْعَدَمُ مُطْلَقًا وَإِنَّمَا هُوَ فِي الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ) .يَعْنِي: أَنَّ الْأَصْلَ فِي الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ هُوَ عَدَمُ وُجُودِ تِلْكَ الصِّفَاتِ، - أَمَّا فِي الصِّفَاتِ الْأَصْلِيَّةِ، فَالْأَصْلُ هُوَ وُجُودُ تِلْكَ الصِّفَاتِ، فَعَلَى هَذَا فَالْقَوْلُ لِلَّذِي يَدَّعِي الصِّفَاتِ الْأَصْلِيَّةَ، وَأَمَّا الَّذِي يَدَّعِي الْعَدَمَ فَيَجِبُ عَلَيْهِ الْإِثْبَاتُ، كَمَا لَوْ اشْتَرَى - شَخْصٌ فَرَسًا وَاسْتَلَمَهُ فَادَّعَى أَنَّ فِيهِ عَيْبًا قَدِيمًا وَادَّعَى الْبَائِعُ سَلَامَتَهُ مِنْ الْعُيُوبِ فَالْقَوْلُ لِلْبَائِعِ مَعَ الْيَمِينِ؛ لِأَنَّ الصِّحَّةَ مِنْ الصِّفَاتِ الْأَصْلِيَّةِ، وَالْأَصْلُ فِيهَا الْوُجُودُ.وَالْحَاصِلُ أَنَّ الصِّفَاتِ قِسْمَانِ: صِفَةٌ أَصْلِيَّةٌ وَصِفَةٌ عَارِضَةٌ، فَاَلَّذِي يَدَّعِي الصِّفَةَ الْأَصْلِيَّةَ فَالْقَوْلُ لَهُ، وَاَلَّذِي يَدَّعِي الصِّفَةَ الْعَارِضَةَ يَدَّعِي خِلَافَ الْأَصْلِ فَالْبَيِّنَةُ عَلَيْهِ الصِّفَةُ الْعَارِضَةُ: هِيَ الَّتِي لَمْ تُوجَدْ مَعَ الْمَوْصُوفِ وَلَمْ تَتَّصِفْ بِهَا ذَاتُهُ ابْتِدَاءً الصِّفَةُ الْأَصْلِيَّةُ: هِيَ الَّتِي تُوجَدُ مَعَ الْمَوْصُوفِ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ بَاعَ شَخْصٌ مِنْ آخَرَ بَقَرَةً، ثُمَّ طَلَبَ الْمُشْتَرِي رَدَّهَا لِكَوْنِهَا غَيْرَ حَلُوبٍ، وَالْبَائِعُ أَنْكَرَ وُقُوعَ الْبَيْعِ عَلَى هَذَا الشَّرْطِ، فَالصِّفَةُ الْأَصْلِيَّةُ فِي الْبَقَرَةِ كَوْنُهَا غَيْرَ حَلُوبٍ وَصِفَةُ الْحَلْبِ طَارِئَةٌ، فَالْقَوْلُ هُنَا لِلْبَائِعِ الَّذِي يَدَّعِي عَدَمَ حُصُولِ هَذَا الشَّرْطِ، وَعَلَى الْمُشْتَرِي الَّذِي يَدَّعِي خِلَافَ الْأَصْلِ إثْبَاتُ - مَا يَدَّعِيهِ.مِثَالٌ آخَرُ: إذَا حَصَلَ اخْتِلَافٌ بَيْنَ الْبَائِعِ وَالْمُشْتَرِي أَوْ الْمُؤَجِّرِ وَالْمُسْتَأْجِرِ عَلَى اسْتِلَامِ الْمَبِيعِ أَوْ الْمُسْتَأْجَرِ فَالْقَوْلُ لِمُنْكِرِ - الِاسْتِلَامِ؛ لِأَنَّ الِاسْتِلَامَ أَصْلٌ.(مُسْتَثْنَيَاتٌ مِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ) لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مُسْتَثْنَيَاتٌ - وَهِيَ: (1) إذَا أَرَادَ الْوَاهِبُ الرُّجُوعَ عَنْ الْهِبَةِ وَادَّعَى الْمَوْهُوبُ تَلَفَ الْهِبَةِ فَالْقَوْلُ لَهُ بِلَا يَمِينٍ، وَذَلِكَ حَسَبَ مَنْطُوقِ الْمَادَّةِ (1773) مِنْ أَنَّ تَلَفَ الْهِبَةِ صِفَةٌ عَارِضَةٌ، وَهِيَ خِلَافُ الْأَصْلِ فَكَانَ مِنْ الْوَاجِبِ بِمُقْتَضَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَنْ يَكُونَ الْمَوْهُوبُ مُكَلَّفًا بِإِثْبَاتِ ذَلِكَ، وَلَكِنْ بِمَا أَنَّ الْمَوْهُوبَ يُنْكِرُ هُنَا وُجُوبَ الرَّدِّ عَلَى الْوَاهِبِ فَأَصْبَحَ شَبِيهًا بِالْمُسْتَوْدَعِ.
দায়ের দ্বারা জিম্মাদারি আবিষ্ট হওয়াই মূল বিষয় এবং দায়মুক্তি হলো মূল বিষয়ের পরিপন্থী। অতএব, দেনাদার যখন ঋণ পরিশোধ বা দায়মুক্তির দাবি করে যা মূল বিষয়ের পরিপন্থী, এবং পাওনাদার তা অস্বীকার করে, তখন পাওনাদারের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে এবং এ বিষয়ে আপত্তির কোনো অবকাশ নেই। ধারা (৭৭) দ্রষ্টব্য। [ (ধারা ৯) আগন্তুক গুণাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সেগুলো অনুপস্থিত থাকা](ধারা ৯) :আগন্তুক বা অস্থায়ী গুণাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সেগুলো অনুপস্থিত থাকা। উদাহরণস্বরূপ: যদি মুদারাবা কারবারের দুই অংশীদার লভ্যাংশ অর্জিত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়, তবে মুদারিবের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে এবং লভ্যাংশ প্রমাণের ভার মূলধনের মালিকের ওপর ন্যস্ত হবে।এই মূলনীতিটি 'আল-আশবাহ' থেকে নেওয়া হয়েছে। আল-আশবাহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, (মূল হলো অনুপস্থিতি; তবে এই অনুপস্থিতি নিরঙ্কুশ নয়, বরং তা কেবল আগন্তুক গুণাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।এর অর্থ হলো: আগন্তুক বা অস্থায়ী গুণাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সেই গুণগুলো বিদ্যমান না থাকা। আর মৌলিক গুণাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সেই গুণগুলো বিদ্যমান থাকা। সুতরাং, যে ব্যক্তি মৌলিক গুণাবলি বিদ্যমান থাকার দাবি করবে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে, আর যে ব্যক্তি এর অনুপস্থিতি দাবি করবে তাকে তা প্রমাণ করতে হবে। যেমন: কোনো ব্যক্তি যদি একটি ঘোড়া ক্রয় করে তা গ্রহণ করার পর দাবি করে যে এতে পুরনো কোনো খুঁত রয়েছে, আর বিক্রেতা দাবি করে যে এটি খুঁত বা ত্রুটিমুক্ত ছিল, তবে শপথসহ বিক্রেতার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ সুস্থতা বা ত্রুটিমুক্ত হওয়া একটি মৌলিক গুণ এবং মৌলিক গুণের ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো তা বিদ্যমান থাকা।সারকথা এই যে, গুণাবলি দুই প্রকার: মৌলিক গুণ এবং আগন্তুক গুণ। যে ব্যক্তি মৌলিক গুণের দাবি করে, তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। আর যে ব্যক্তি আগন্তুক গুণের দাবি করে, সে যেহেতু মূল নিয়মের পরিপন্থী দাবি করছে, তাই প্রমাণের ভার তার ওপর ন্যস্ত হবে। আগন্তুক গুণ হলো: যা মাওসূফ বা বিশেষিত বস্তুর সাথে শুরু থেকে বিদ্যমান থাকে না এবং সত্তাগতভাবেও শুরুতে তাতে থাকে না। মৌলিক গুণ হলো: যা মাওসূফ বা বিশেষিত বস্তুর সাথে শুরু থেকেই বিদ্যমান থাকে।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো কাছে একটি গাভী বিক্রি করে এবং এরপর ক্রেতা তা দুধেল নয়—এই অজুহাতে ফেরত দিতে চায়, আর বিক্রেতা এই শর্তে বিক্রয় হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে গাভীর ক্ষেত্রে দুধেল না হওয়া একটি মৌলিক গুণ এবং দুধেল হওয়া একটি আগন্তুক গুণ। সুতরাং এখানে বিক্রেতার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে যিনি এই শর্তটি না হওয়ার দাবি করছেন। আর ক্রেতা যেহেতু মূল বিষয়ের পরিপন্থী দাবি করছেন, তাই তাকে তার দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে।আরেকটি উদাহরণ: যদি বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে অথবা মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিক্রিত বা ভাড়াকৃত বস্তু বুঝে পাওয়ার ব্যাপারে মতভেদ দেখা দেয়, তবে যে ব্যক্তি বুঝে পাওয়া অস্বীকার করছে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ বুঝে পাওয়া একটি মূল বিষয়।(এই মূলনীতির ব্যতিক্রমসমূহ): এই মূলনীতির কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, সেগুলো হলো: (১) দাতা যদি হেবা বা দান থেকে ফিরে আসতে চান এবং গ্রহীতা দাবি করেন যে দানকৃত বস্তুটি নষ্ট হয়ে গেছে, তবে শপথ ছাড়াই গ্রহীতার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। ধারা ১৭৭৩-এর ভাষ্য অনুযায়ী, দানকৃত বস্তু নষ্ট হওয়া একটি আগন্তুক গুণ যা মূল অবস্থার পরিপন্থী। এই মূলনীতি অনুযায়ী গ্রহীতার ওপর তা প্রমাণের দায়িত্ব বর্তানোর কথা ছিল, কিন্তু যেহেতু গ্রহীতা এখানে দাতার কাছে বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার আবশ্যকতাকে অস্বীকার করছেন, তাই তিনি আমানত রক্ষাকারীর ন্যায় গণ্য হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كَذَلِكَ إذَا تَصَرَّفَ الزَّوْجُ فِي مَالِ زَوْجَتِهِ فَأَقْرَضَهُ آخَرُ وَتُوُفِّيَتْ الزَّوْجَةُ وَادَّعَى وَارِثُهَا أَنَّ الزَّوْجَ تَصَرَّفَ فِي الْمَالِ بِدُونِ إذْنٍ وَطَلَبَ الْحُكْمَ بِضَمَانَةِ، وَادَّعَى الزَّوْجُ أَنَّ تَصَرُّفَهُ كَانَ بِإِذْنِهَا، فَالْقَوْلُ لِلزَّوْجِ مَعَ أَنَّ الْإِذْنَ مِنْ الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ، فَكَانَ الْوَاجِبُ أَنْ يَكُونَ الْقَوْلُ لِلْوَارِثِ. [ (الْمَادَّةُ 10) مَا ثَبَتَ بِزَمَانٍ يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ مَا لَمْ يُوجَدْ الْمُزِيلُ](الْمَادَّةُ 10) :مَا ثَبَتَ بِزَمَانٍ يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ مَا لَمْ يُوجَدْ الْمُزِيلُ.هَذِهِ الْقَاعِدَةُ مُطَابِقَةٌ لِقَاعِدَةِ (الْأَصْلُ إبْقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ) وَمُتَمِّمَةٌ لَهَا، وَهِيَ نَفْسُ قَاعِدَةِ الِاسْتِصْحَابِ الَّتِي سَبَقَ شَرْحُهَا، وَتَجْرِي فِيهَا أَيْضًا أَحْكَامُ نَوْعَيْ الِاسْتِصْحَابِ (اسْتِصْحَابُ الْحَالِ بِالْمَاضِي وَاسْتِصْحَابُ الْمَاضِي بِالْحَالِ) .وَمَعْنَى هَذِهِ الْمَادَّةِ: أَنَّ الشَّيْءَ الَّذِي ثَبَتَ حُصُولُهُ فِي الزَّمَنِ الْمَاضِي يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ فِي الْحَالِ مَا لَمْ يُوجَدْ دَلِيلٌ عَلَى خِلَافِهِ وَالشَّيْءُ الثَّابِتُ وُجُودُهُ فِي الْحَالِ يُحْكَمُ أَيْضًا بِاسْتِمْرَارِهِ مِنْ الْمَاضِي مَا لَمْ يُوجَدْ مَا يُزِيلُهُ.أَمَّا عِبَارَةُ (مَا لَمْ يُوجَدْ الْمُزِيلُ) فَهِيَ قَيْدٌ فِي الْمَادَّةِ يُرَادُ بِهِ أَنَّهُ إذَا وُجِدَ الْمُزِيلُ لَا يُحْكَمُ بِبَقَاءِ الشَّيْءِ بَلْ يُزَالُ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ ثَبَتَ مِلْكُ شَيْءٍ أَوْ مَالٌ لِأَحَدٍ مَا، يُحْكَمُ بِبَقَاءِ الْمِلْكِيَّةِ لِذَلِكَ الشَّخْصِ مَا لَمْ يَثْبُتْ بِأَنَّ الْمَالَ انْتَقَلَ مِنْهُ لِآخَرَ بِعَقْدِ بَيْعٍ أَوْ هِبَةٍ أَوْ بِسَبَبٍ آخَرَ مِنْ الْأَسْبَابِ الْمُزِيلَةِ لِلْمِلْكِيَّةِ أَمَّا لَوْ ثَبَتَ زَوَالُ الْمِلْكِيَّةِ بِبَيْعٍ أَوْ هِبَةٍ مَثَلًا، فَلَا يُحْكَمُ بِمِلْكِيَّةِ ذَلِكَ الْمَالِ لِلْمَالِكِ الْأَوَّلِ.الِادِّعَاءُ: - يَقَعُ بِثَلَاثِ صُوَرٍ، وَالْإِثْبَاتُ يَقَعُ بِثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ أَيْضًا:أَوَّلًا: بِأَنْ يَدَّعِي الْمُدَّعِي الْمِلْكَ فِي الْحَالِ وَالشُّهُودُ تَشْهَدُ عَلَى الْمَاضِي كَقَوْلِ الْمُدَّعِي (إنَّ هَذَا الشَّيْءَ مِلْكِي، وَقَوْلِ الشُّهُودِ إنَّ هَذَا الشَّيْءَ كَانَ مِلْكَهُ) فَفِي هَذِهِ الصُّورَةِ بِمَا أَنَّ الشُّهُودَ لَا يُمْكِنُهُمْ مَعْرِفَةُ بَقَاءِ الْمِلْكِ لِلْمَالِكِ إلَّا بِطَرِيقِ الِاسْتِصْحَابِ فَشَهَادَتُهُمْ عَلَى مِلْكِيَّةِ الْمُدَّعِي فِي الْمَاضِي لَا تُثْبِتُ مِلْكِيَّتَهُ فِي الْحَالِ وَمَعَ هَذَا تُقْبَلُ وَيُحْكَمُ بِمُوجَبِهَا.ثَانِيًا: إنَّ الْمُدَّعِيَ يَدَّعِي الْمِلْكَ فِي الْمَاضِي وَالشُّهُودُ تَشْهَدُ عَلَى الْمِلْكِيَّةِ فِي الْحَالِ، فَهَذِهِ الشَّهَادَةُ لَا تُقْبَلُ وَلَا يَجُوزُ تَطْبِيقُهَا عَلَى الِاسْتِصْحَابِ الْمَقْلُوبِ، وَهُوَ اسْتِصْحَابُ الْحَالِ بِالْمَاضِي.ثَالِثًا: إنَّ الْمُدَّعِيَ يَدَّعِي الْمِلْكَ فِي الْمَاضِي وَالشُّهُودُ تَشْهَدُ عَلَى الْمِلْكِ فِي الْمَاضِي، فَلَا تُقْبَلُ شَهَادَتُهُمْ أَيْضًا، وَسَبَبُ عَدَمِ قَبُولِ شَهَادَةِ الشُّهُودِ فِي الْحَالَيْنِ الْأَخِيرَيْنِ هُوَ أَنَّ إسْنَادَ الْمُدَّعِي مِلْكِيَّتَهُ إلَى الْمَاضِي يَتَضَمَّنُ نَفْسَ الْمِلْكِ فِي الْحَالِ؛ لِأَنَّ الْمُدَّعِيَ لَوْ كَانَ مَالِكًا فِي الْحَالِ لَمَا كَانَ لَهُ فَائِدَةٌ مِنْ إسْنَادِ الْمِلْكِيَّةِ إلَى الزَّمَنِ الْمَاضِي، فَلِهَذَا تَكُونُ تِلْكَ الشَّهَادَةُ وَاقِعَةً فِي دَعْوَى غَيْرِ صَحِيحَةٍ، فَلَا تُقْبَلُ.وَالِاسْتِصْحَابُ حُجَّةٌ دَافِعَةٌ لَا حُجَّةٌ مُثْبِتَةٌ، فَلَا يُسْتَحْصَلُ الْحُكْمُ بِحُجَّةِ الِاسْتِصْحَابِ، بَلْ إنَّ الدَّعْوَى
অনুরূপভাবে, যখন স্বামী তার স্ত্রীর সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা অন্যকে ঋণ প্রদান করে এবং স্ত্রীর মৃত্যু হয়, অতঃপর স্ত্রীর ওয়ারিশ দাবি করে যে স্বামী অনুমতি ব্যতিরেকেই সেই সম্পদ ব্যবহার করেছে এবং সেটির ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানায়; আর স্বামী দাবি করে যে তার এই ব্যবহার স্ত্রীর অনুমতি ক্রমেই ছিল; তবে এক্ষেত্রে স্বামীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও 'অনুমতি' একটি আগন্তুক বৈশিষ্ট্য (সিফাতে আরেজাহ), যার ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশের কথাই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত ছিল। [ (ধারা ১০) কোনো সময়ে যা সাব্যস্ত হয়েছে, বিলোপকারী কোনো কারণ পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।](ধারা ১০) :কোনো সময়ে যা সাব্যস্ত হয়েছে, বিলোপকারী কোনো কারণ পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।এই মূলনীতিটি 'আসল হলো যা যেমন ছিল তাকে সেভাবেই রাখা' (আল-আসলো ইবকাউ মা কানা আলা মা কানা) - এই মূলনীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার পরিপূরক। এটি মূলত 'ইস্তিসহাব' (পূর্বাবস্থা বহাল রাখা)-এর সেই মূলনীতি যা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে ইস্তিসহাবের উভয় প্রকারের বিধানই জারি হয় (বর্তমান অবস্থাকে অতীতের ভিত্তিতে বহাল রাখা এবং অতীত অবস্থাকে বর্তমানের ভিত্তিতে বহাল রাখা)।এই ধারার অর্থ হলো: যে বিষয়টি অতীত সময়ে সংঘটিত হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে, বর্তমানেও তা বহাল রয়েছে বলে নির্দেশ দেওয়া হবে—যতক্ষণ না তার বিপরীতে কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর বর্তমানে বিদ্যমান কোনো বিষয়কেও অতীত থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে বলে গণ্য করা হবে—যতক্ষণ না তা বিলোপকারী কোনো কারণ পাওয়া যায়।আর 'যতক্ষণ না বিলোপকারী কারণ পাওয়া যায়' বাক্যাংশটি এই ধারার একটি শর্ত। এর উদ্দেশ্য হলো, যদি কোনো বিলোপকারী কারণ পাওয়া যায়, তবে সেই বিষয়টি আর বহাল থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে না, বরং তা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।এর উদাহরণ হলো: যদি কারো জন্য কোনো বস্তু বা সম্পদের মালিকানা সাব্যস্ত হয়, তবে যতক্ষণ না বিক্রয় চুক্তি, হেবা (দান) বা মালিকানা বিলোপকারী অন্য কোনো কারণে সেই সম্পদ অন্যের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হবে, ততক্ষণ ওই ব্যক্তির মালিকানা বহাল থাকারই ফয়সালা দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে, যদি বিক্রয় বা হেবার মাধ্যমে মালিকানা বিলুপ্ত হওয়া প্রমাণিত হয়, তবে প্রথম ব্যক্তির মালিকানা আর বহাল থাকবে না।দাবি (দাওয়া) তিনটি সূরতে হয়ে থাকে এবং প্রমাণও (ইসবাত) তিনটি উপায়ে হয়ে থাকে:প্রথমত: বাদী বর্তমানে মালিকানা দাবি করে কিন্তু সাক্ষীরা অতীত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়। যেমন বাদীর উক্তি: 'এই বস্তুটি আমার মালিকানাধীন', আর সাক্ষীদের উক্তি: 'এই বস্তুটি তার মালিকানাধীন ছিল'। এই সূরতে যেহেতু সাক্ষীদের পক্ষে ইস্তিসহাবের মাধ্যম ব্যতীত বর্তমানে মালিকানা বহাল থাকার বিষয়টি জানা সম্ভব নয়, তাই অতীতের মালিকানার ওপর তাদের সাক্ষ্য প্রদান সরাসরি বর্তমানে মালিকানা সাব্যস্ত করে না; তা সত্ত্বেও এটি গ্রহণ করা হবে এবং এর ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান করা হবে।দ্বিতীয়ত: বাদী অতীত সময়ের মালিকানা দাবি করে অথচ সাক্ষীরা বর্তমানের মালিকানার সাক্ষ্য দেয়। এই সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না এবং একে 'ইস্তিসহাবে মাকলুব' (বিপরীত ইস্তিসহাব)—অর্থাৎ বর্তমানের মাধ্যমে অতীতের অবস্থাকে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা জায়েজ হবে না।তৃতীয়ত: বাদী অতীতের মালিকানা দাবি করে এবং সাক্ষীরাও অতীতের মালিকানার সাক্ষ্য দেয়; এক্ষেত্রেও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। শেষোক্ত দুই অবস্থায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার কারণ হলো, বাদীর নিজের মালিকানাকে অতীতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার অর্থ হলো বর্তমানে মালিকানা না থাকা; কেননা বাদী যদি বর্তমানে মালিক হতো, তবে মালিকানাকে কেবল অতীতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার কোনো সার্থকতা ছিল না। এই কারণে ওই সাক্ষ্য একটি ত্রুটিপূর্ণ দাবির প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়েছে বিধায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।আর ইস্তিসহাব হলো একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রমাণ (হুজ্জাতুন দাফিয়া), এটি কোনো অধিকার সাব্যস্তকারী প্রমাণ (হুজ্জাতুন মুসবিতা) নয়। অতএব ইস্তিসহাবের দলিলের মাধ্যমে কোনো নতুন ফয়সালা বা অধিকার লাভ করা যায় না, বরং এর দ্বারা কেবল দাবিকৃত বিষয়কে...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تُدْفَعُ بِهَا فَقَطْ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ ادَّعَى وَرَثَةُ الْمَفْقُودِ مَوْتَهُ وَطَلَبُوا تَقْسِيمَ التَّرِكَةِ فَعَلَى قَاعِدَةِ الِاسْتِصْحَابِ أَيْ (اسْتِصْحَابِ الْمَاضِي بِالْحَالِ) يُحْكَمُ بِحَيَاةِ الْمَفْقُودِ وَتُرَدُّ دَعْوَى الْوَرَثَةِ بِطَلَبِ تَقْسِيمِ التَّرِكَةِ.أَمَّا إذَا تُوُفِّيَ مُوَرِّثُ الْمَفْقُودِ، فَلَا يُعْتَبَرُ الْمَفْقُودُ حَيًّا وَلَا يُحْكَمُ بِحِصَّتِهِ الْإِرْثِيَّةِ؛ لِأَنَّ حُجَّةَ الِاسْتِصْحَابِ حُجَّةٌ دَافِعَةٌ، كَمَا قُلْنَا.(مُسْتَثْنَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ) لَوْ نَفَى شَخْصٌ جَمِيعَ مَا نُسِبَ إلَيْهِ مِنْ الْأَمْوَالِ وَأَقَرَّ بِمِلْكِيَّتِهَا لِشَخْصٍ آخَرَ وَادَّعَى ذَلِكَ الشَّخْصُ الْمُقَرُّ لَهُ كَوْنَ الْمَالِ الَّذِي بِيَدِ الْمُقِرِّ الْآنَ كَانَ مَوْجُودًا بِيَدِهِ حِينَ الْإِقْرَارِ فَبِحَسَبِ إقْرَارِهِ هُوَ مِلْكٌ لِي، وَادَّعَى الْمُقِرُّ بِمِلْكِيَّتِهِ لِذَلِكَ الْمَالِ بَعْدَ حُصُولِ الْإِقْرَارِ، فَالْقَوْلُ لِلْمُقِرِّ وَلَا يُحْكَمُ اسْتِصْحَابًا أَنَّ الْمَالَ كَانَ مَوْجُودًا بِيَدِهِ فِي الْمَاضِي؛ لِأَنَّهُ وُجِدَ بِيَدِهِ فِي الْحَالِ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ. [ (الْمَادَّةُ 11) الْأَصْلُ إضَافَةُ الْحَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهِ](الْمَادَّةُ 11) :الْأَصْلُ إضَافَةُ الْحَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهِ الْحَادِثُ: هُوَ الشَّيْءُ الَّذِي كَانَ غَيْرَ مَوْجُودٍ، ثُمَّ وُجِدَ فَإِذَا اُخْتُلِفَ فِي زَمَانِ وُقُوعِهِ وَسَبَبِهِ فَمَا لَمْ تَثْبُتْ نِسْبَتُهُ إلَى الزَّمَانِ الْقَدِيمِ يُنْسَبُ إلَى الزَّمَنِ الْأَقْرَبِ مِنْهُ.مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا ادَّعَتْ الزَّوْجَةُ أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا طَلَاقَ الْفَارِّ أَثْنَاءَ مَرَضِ الْمَوْتِ وَطَلَبَتْ الْإِرْثَ، وَالْوَرَثَةُ ادَّعَوْا طَلَاقَهَا فِي حَالٍ صِحَّتِهِ وَأَنْ لَا حَقَّ لَهَا بِالْإِرْثِ، فَالْقَوْلُ لِلزَّوْجَةِ؛ لِأَنَّ الْأَمْرَ الْحَادِثَ الْمُخْتَلَفَ عَلَى زَمَنِ وُقُوعِهِ هُنَا هُوَ الطَّلَاقُ فَيَجِبُ أَنْ يُضَافَ إلَى الْوَقْتِ الْأَقْرَبِ، وَهُوَ مَرَضُ الْمَوْتِ الَّذِي تَدَّعِيهِ الزَّوْجَةُ مَا لَمْ يُقِمْ الْوَرَثَةُ الْبَيِّنَةَ.كَذَا لَوْ ادَّعَى مَنْ لَهُ الْخِيَارُ فِي الْبَيْعِ بَعْدَ مُرُورِ مُدَّةِ الْخِيَارِ أَنَّهُ فَسَخَ الْعَقْدَ فِي ظَرْفِ مُدَّةِ الْخِيَارِ وَادَّعَى الْفَرِيقُ الْآخَرُ أَنَّ الْفَسْخَ حَصَلَ بَعْدَ مُضِيِّ مُدَّةِ الْخِيَارِ وَأَنَّ الْفَسْخَ غَيْرُ مُعْتَبَرٍ، فَالْأَمْرُ الْحَادِثُ، وَهُوَ الْفَسْخُ يُضَافُ إلَى أَقْرَبِ الْأَوْقَاتِ، وَهُوَ حُصُولُ الْفَسْخِ بَعْدَ مُضِيِّ مُدَّةِ الْخِيَارِ، وَالْقَوْلُ لِمَنْ يُنْكِرُ حُصُولَ الْفَسْخِ بِمُدَّةِ الْخِيَارِ، أَمَّا إذَا أَثْبَتَ صَاحِبُ الْخِيَارِ بِالْبَيِّنَةِ حُصُولَ الْفَسْخِ فِي مُدَّةِ الْخِيَارِ فَيُحْكَمُ بِمُوجَبِ الْبَيِّنَةِ؛ لِأَنَّهُ يَكُونُ قَدْ أَثْبَتَ خِلَافَ الْأَصْلِ.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ بَاعَ الْأَبُ مَالَ وَلَدِهِ وَادَّعَى الْوَلَدُ عَلَى وَالِدِهِ أَنَّهُ بَاعَ مَالَهُ بَعْدَ بُلُوغِهِ وَأَنَّ الْبَيْعَ غَيْرُ صَحِيحٍ لِهَذَا السَّبَبِ، وَالْأَبُ أَنْكَرَ وُقُوعَ الْبَيْعِ مِنْهُ بَعْدَ الْبُلُوغِ وَادَّعَى حُصُولَهُ قَبْلَ الْبُلُوغِ، فَبِمَا أَنَّ الْبُلُوغَ زَمَنًا مِنْ قَبْلِ الْبُلُوغِ، فَالْقَوْلُ لِلِابْنِ وَعَلَى الْأَبِ إثْبَاتُ خِلَافَ الْأَصْلِ.مِثَالٌ آخَرُ: إذَا ادَّعَى الْمَحْجُورُ عَلَيْهِ أَوْ وَصِيُّهُ أَنَّ عَقْدَ الْبَيْعِ الَّذِي أَجْرَاهُ الْمَحْجُورُ قَدْ حَصَلَ بَعْدَ صُدُورِ الْحُكْمِ بِحَجْرِهِ وَطَلَبَ فَسْخَ الْبَيْعِ، وَادَّعَى الْمُشْتَرِي حُصُولَ الْبَيْعِ قَبْلَ تَارِيخِ الْحَجْرِ، فَالْقَوْلُ لِلْمَحْجُورِ أَوْ وَصِيُّهُ؛ لِأَنَّ وُقُوعَ الْبَيْعِ بَعْدَ الْحَجْرِ أَصْلٌ، وَهُوَ أَقْرَبُ زَمَنًا مِمَّا يَدَّعِيهِ الْمُشْتَرِي وَعَلَى الْمُشْتَرِي إثْبَاتُ خِلَافِ الْأَصْلِ، وَهُوَ حُصُولُ الْبَيْعِ لَهُ قَبْلَ صُدُورِ الْحُكْمِ بِالْحَجْرِ.
কেবলমাত্র এর মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা হয়।এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা তার মৃত্যুর দাবি করে এবং ত্যাজ্য সম্পত্তি বণ্টনের আবেদন করে, তবে ইস্তিসহাবের নীতি অনুযায়ী অর্থাৎ (অতীতের অবস্থাকে বর্তমান পর্যন্ত বহাল রাখার ভিত্তিতে) নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি বণ্টনের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে।তবে যদি নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ দাতা (মুওয়াররিস) মৃত্যুবরণ করেন, তবে সেক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত গণ্য করা হবে না এবং তার উত্তরাধিকারী অংশের ফয়সালাও দেওয়া হবে না; কারণ ইস্তিসহাবের দলিল হলো একটি প্রতিরোধমূলক দলিল, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।(এই নিয়মের ব্যতিক্রম) যদি কোনো ব্যক্তি তার প্রতি আরোপিত সকল সম্পদ অস্বীকার করে এবং অন্য কোনো ব্যক্তির মালিকানা স্বীকার করে নেয়, আর সেই ব্যক্তি (যার পক্ষে স্বীকার করা হয়েছে) দাবি করে যে বর্তমানে স্বীকারকারীর কাছে থাকা সম্পদটি স্বীকারোক্তির সময়েও তার হাতে বিদ্যমান ছিল, তাই তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এটি আমার মালিকানাধীন; পক্ষান্তরে স্বীকারকারী ব্যক্তি স্বীকারোক্তির পরে সেই সম্পদের মালিকানা অর্জনের দাবি করে, তবে সেক্ষেত্রে স্বীকারকারীর কথা গ্রহণ করা হবে। ইস্তিসহাবের ভিত্তিতে এমন ফয়সালা দেওয়া হবে না যে সম্পদটি অতীতেও তার কাছে বিদ্যমান ছিল; কারণ এটি বর্তমানে তার হাতে পাওয়া গেছে এবং মূলনীতি হলো দায়মুক্তি। [ (ধারা ১১) মূলনীতি হলো কোনো নতুন ঘটনাকে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা](ধারা ১১) :মূলনীতি হলো কোনো নতুন ঘটনাকে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা। 'নতুন ঘটনা' হলো এমন বিষয় যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না, অতঃপর অস্তিত্ব লাভ করেছে। সুতরাং যদি এর ঘটার সময় বা কারণ সম্পর্কে মতভেদ দেখা দেয়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাচীন সময়ের সাথে এর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত একে নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো স্ত্রী দাবি করেন যে তার স্বামী মৃত্যু-শয্যায় থাকা অবস্থায় তাকে 'পলাতক তালাক' দিয়েছেন এবং উত্তরাধিকার দাবি করেন, আর উত্তরাধিকারীরা দাবি করে যে সুস্থ অবস্থায় তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে তার কোনো অধিকার নেই, তবে স্ত্রীর কথা গ্রহণ করা হবে; কারণ এখানে নতুন ঘটনাটি হলো তালাক যার ঘটার সময় নিয়ে মতভেদ হয়েছে, সুতরাং একে নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা ওয়াজিব, আর তা হলো স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী মৃত্যু-শয্যার সময়, যতক্ষণ না উত্তরাধিকারীরা প্রমাণ পেশ করতে পারে।অনুরূপভাবে, যদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এখতিয়ার থাকা ব্যক্তি এখতিয়ারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দাবি করে যে সে মেয়াদের মধ্যেই চুক্তি বাতিল করেছে, আর অপর পক্ষ দাবি করে যে বাতিল করার ঘটনাটি মেয়াদের পরে ঘটেছে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়, তবে এই নতুন ঘটনা অর্থাৎ চুক্তি বাতিল হওয়াকে নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে, আর তা হলো এখতিয়ারের মেয়াদ পার হওয়ার পর বাতিল হওয়া। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি এখতিয়ারের মেয়াদে বাতিল হওয়াকে অস্বীকার করছে তার কথা গ্রহণ করা হবে। তবে যদি এখতিয়ারের অধিকারী ব্যক্তি প্রমাণের মাধ্যমে মেয়াদের মধ্যে বাতিল হওয়া নিশ্চিত করতে পারে, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে ফয়সালা দেওয়া হবে; কারণ সে মূলনীতির বিপরীত বিষয়টি প্রমাণ করেছে।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো পিতা তার সন্তানের সম্পদ বিক্রি করে দেন এবং সন্তান তার পিতার বিরুদ্ধে দাবি করে যে সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিতা তার সম্পদ বিক্রি করেছেন এবং এই কারণে বিক্রিটি সঠিক হয়নি, আর পিতা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিক্রি করার কথা অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে, তবে যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময়টি এর পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় নিকটবর্তী, তাই পুত্রের কথা গ্রহণ করা হবে এবং পিতার ওপর মূলনীতির বিপরীত বিষয়টি প্রমাণের ভার থাকবে।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো আইনিভাবে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি বা তার অভিভাবক দাবি করে যে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত বিক্রয় চুক্তিটি তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর সংঘটিত হয়েছে এবং চুক্তি বাতিলের আবেদন করে, আর ক্রেতা দাবি করে যে নিষেধাজ্ঞা জারির পূর্বেই বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি বা তার অভিভাবকের কথা গ্রহণ করা হবে; কারণ নিষেধাজ্ঞার পরে বিক্রয় হওয়া একটি মূল অবস্থা এবং এটি ক্রেতার দাবির চেয়ে সময়ের দিক থেকে নিকটতর। ক্রেতার ওপর মূলনীতির বিপরীত বিষয়টি প্রমাণের ভার থাকবে, অর্থাৎ তাকে প্রমাণ করতে হবে যে নিষেধাজ্ঞা জারির পূর্বেই তার কাছে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ شَهِدَتْ الشُّهُودُ بِالطَّلَاقِ فَسُئِلُوا عَنْ تَارِيخِ وُقُوعِهِ هَلْ كَانَ زَمَنُ الصِّحَّةِ أَوْ فِي مَرَضِ الْمَوْتِ وَأَجَابُوا أَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ذَلِكَ فَيُحْمَلُ حِينَئِذٍ وُقُوعُهُ عَلَى زَمَنِ مَرَضِ الْمَوْتِ.مِثَالٌ آخَرُ: إذَا ادَّعَتْ زَوْجَةُ الْمُسْلِمِ الْمَسِيحِيَّةُ أَنَّهَا أَسْلَمَتْ قَبْلَ مَوْتِ زَوْجِهَا وَطَلَبَتْ حِصَّتَهَا الْإِرْثِيَّةَ مِنْ تَرِكَتِهِ، وَادَّعَى الْوَرَثَةُ أَنَّهَا أَسْلَمَتْ بَعْدَ مَوْتِهِ، فَالْقَوْلُ لِلْوَرَثَةِ؛ لِأَنَّ وُقُوعَ إسْلَامِهَا بَعْدَ مَوْتِ زَوْجِهَا أَقْرَبُ تَارِيخًا، وَهُوَ الْأَصْلُ مَا لَمْ تَثْبُتْ.(مُسْتَثْنَيَاتُ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ) (1) لَوْ ادَّعَى شَخْصٌ عَلَى حَاكِمٍ مَعْزُولٍ أَنَّهُ أَخَذَ مِنْهُ بَعْدَ عَزْلِهِ مَبْلَغًا قَدْرُهُ كَذَا جَبْرًا، وَالْمُدَّعَى عَلَيْهِ ادَّعَى أَنَّهُ قَدْ أَخَذَ مِنْهُ ذَلِكَ الْمَبْلَغَ أَثْنَاءَ مَا كَانَ حَاكِمًا بَعْدَ أَنْ أَجْرَى مُحَاكَمَتَهُ وَأَنَّهُ أَعْطَى الْمَبْلَغَ لِلْمَحْكُومِ لَهُ فُلَانٍ، فَإِذَا كَانَ الْمَبْلَغُ الْمَدْفُوعُ تَلِفَ فِي يَدِ الْمَدْفُوعِ إلَيْهِ، فَالْقَوْلُ لِلْحَاكِمِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ يُضِيفُ فِعْلَهُ لِزَمَنٍ مُنَافٍ لِلضَّمَانِ وَيَدَّعِي بَرَاءَةَ ذِمَّتِهِ مَعَ أَنَّهُ بِحَسَبِ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ لَمَّا كَانَ وُقُوعُ الْأَخْذِ بَعْدَ الْعَزْلِ هُوَ أَقْرَبُ كَانَ الْوَاجِبُ أَنْ يُعَدَّ ذَلِكَ أَصْلًا، وَعَلَى الْحَاكِمِ الْمُدَّعِي أَنْ يُثْبِتَ خِلَافَ الْأَصْلِ أَيْ حُصُولَ الْأَخْذِ قَبْلَ الْعَزْلِ.(2) إذَا ادَّعَتْ زَوْجَةُ مَسِيحِيٍّ أَنَّ إسْلَامَهَا وَقَعَ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا وَأَنَّ لَهَا الْحَقَّ فِي أَنْ تَرِثَهُ لِكَوْنِهَا حِينَ وَفَاتِهِ كَانَتْ عَلَى دِينِهِ، وَادَّعَى الْوَرَثَةُ أَنَّهَا أَسْلَمَتْ قَبْلَ مَوْتِ الْمُوَرِّثِ، فَالْقَوْلُ لِلْوَرَثَةِ مَعَ أَنَّهُ حَسَبَ الْقَاعِدَةِ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ الْقَوْلُ لِلزَّوْجَةِ؛ لِأَنَّ اعْتِنَاقَهَا الدِّينَ الْإِسْلَامِيَّ أَمْرٌ حَادِثٌ، وَالزَّوْجَةُ تَدَّعِي حُدُوثَهُ فِي الْوَقْتِ الْأَقْرَبِ، وَعَلَى الْوَرَثَةِ أَنْ يُثْبِتُوا خِلَافَ الْأَصْلِ، وَالسَّبَبُ فِي عَدَمِ جَرَيَانِ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ فِي مِثْلِ هَذِهِ الدَّعْوَى هُوَ الْعَمَلُ بِقَاعِدَةِ الِاسْتِصْحَابِ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ، وَأَنَّ اخْتِلَافَ الدِّينِ أَيْ سَبَبَ الْحِرْمَانِ مِنْ الْإِرْثِ هُوَ مَوْجُودٌ بِالْحَالِ، وَبِالِاسْتِصْحَابِ الْمَقْلُوبِ تُعْتَبَرُ فِي الزَّمَنِ السَّابِقِ مُسْلِمَةٌ أَيْضًا.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ اسْتَأْجَرَ شَخْصٌ آخَرَ لَأَنْ يَحْفَظَ مَالَهُ مُدَّةً سَنَةً بِأُجْرَةٍ مَعْلُومَةٍ وَتَلِفَ الْمَالُ، وَادَّعَى الْأَجِيرُ اسْتِحْقَاقَهُ جَمِيعَ الْأُجْرَةِ لِتَلَفِ الْمَالِ بَعْدَ مُضِيِّ سَنَةٍ، وَادَّعَى صَاحِبُ الْمَالِ أَنَّ تَلَفَ الْمَالِ تَلِفَ لِمُرُورِ شَهْرٍ مِنْ تَسَلُّمِ الْأَجِيرِ لَهُ وَأَنَّ الْأَجِيرَ لَا يَسْتَحِقُّ مِنْ الْأَجْرِ سِوَى أُجْرَةِ شَهْرٍ وَاحِدٍ، فَالْقَوْلُ لِلْمُسْتَأْجِرِ خِلَافًا لِلْقَاعِدَةِ؛ لِأَنَّ الْمُسْتَأْجِرَ يَدَّعِي بَرَاءَةَ الذِّمَّةِ، وَقَدْ بَيَّنَتْ الْكُتُبُ الْفِقْهِيَّةُ هَذَا الْحُكْمَ بِقَوْلِهَا (فَإِنْ قِيلَ الْأَصْلُ أَنْ يُضَافَ الْحَادِثُ إلَى أَقْرَبِ الْأَوْقَاتِ فَيَنْبَغِي أَنْ يُصَدَّقَ الْأَجِيرُ، يُقَالُ الْأَصْلُ الْمَذْكُورُ ظَاهِرٌ يَصِحُّ لِلدَّفْعِ لَا لِلِاسْتِحْقَاقِ، فَغَرَضُ الْأَجِيرِ أَخْذُ الْأَجْرِ، فَلَا يَصِحُّ بِهِ) .مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ ادَّعَى شَخْصٌ أَنَّ إقْرَارَهُ وَقَعَ حَالٍ طُفُولِيَّتِهِ، وَادَّعَى الْمُقَرُّ لَهُ أَنَّ إقْرَارَ الْمُقِرِّ حَصَلَ بَعْدَ الْبُلُوغِ، فَالْقَوْلُ لِلْمُقِرِّ مَعَ الْيَمِينِ مَعَ أَنَّهُ يَجِبُ - تَوْفِيقًا لِقَاعِدَةِ إضَافَةِ الْحَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهِ - أَنْ يَكُونَ الْقَوْلُ لِلْمُقَرِّ لَهُ؛ لِأَنَّهُ يَدَّعِي الزَّمَنَ الْأَقْرَبَ.وَالْحَاصِلُ أَنَّ طَلَبَ الْأَجْرِ وَطَلَبَ الْحُكْمِ بِنَاءً عَلَى الْإِقْرَارِ أَصْبَحَا خَارِجَيْنِ عَنْ قَاعِدَةِ (الْأَصْلُ إضَافَةُ الْحَوَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهَا) لِمُعَارَضَةِ قَاعِدَةِ (الْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ) لَهُمَا فِي هَذِهِ الْمَسَائِلِ.
অন্য একটি উদাহরণ: যদি সাক্ষীরা তালাকের সাক্ষ্য দেয় এবং তাদের তালাক হওয়ার তারিখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তা কি সুস্থতার সময় ঘটেছিল নাকি মৃত্যুশয্যায় (মরজুল মউত), আর তারা যদি উত্তর দেয় যে তারা তা জানে না, তবে সেক্ষেত্রে তালাকটি মৃত্যুশয্যায় ঘটেছে বলে গণ্য করা হবে।অন্য একটি উদাহরণ: কোনো মুসলিম ব্যক্তির খ্রিস্টান স্ত্রী যদি দাবি করে যে সে তার স্বামীর মৃত্যুর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তার মিরাসি অংশ দাবি করে, আর ওয়ারিশরা যদি দাবি করে যে সে তার মৃত্যুর পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তবে ওয়ারিশদের কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ তার ইসলাম গ্রহণ স্বামীর মৃত্যুর পরের নিকটতম সময়ে ঘটা অধিকতর সম্ভাব্য, আর এটিই মূল নীতি যতক্ষণ না পর্যন্ত এর বিপরীত প্রমাণিত হয়।(এই মূলনীতির ব্যতিক্রমসমূহ) (১) যদি কোনো ব্যক্তি একজন অপসারিত বিচারকের বিরুদ্ধে দাবি করে যে, বিচারক তার পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর জোরপূর্বক তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন, আর বিবাদী (বিচারক) দাবি করেন যে তিনি বিচারক থাকাকালীন বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং তা ডিক্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দিয়ে দিয়েছেন, এমতাবস্থায় যদি সেই অর্থ যাকে দেওয়া হয়েছে তার হাতে নষ্ট হয়ে যায়, তবে বিবাদী বিচারকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ তিনি তার কাজটিকে এমন সময়ের সাথে সম্পর্কিত করছেন যা ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরিপন্থী এবং তিনি দায়মুক্তির দাবি করছেন। যদিও এই মূলনীতি অনুযায়ী যেহেতু অপসারিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে অর্থ গ্রহণ অধিক নিকটবর্তী, তাই সেটিকে মূল ধরা আবশ্যক ছিল এবং দাবিদার ব্যক্তির ওপরই মূলনীতির বিপরীতে অর্থাৎ অপসারণের পূর্বেই অর্থ গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণ করার দায়ভার ছিল।(২) যদি কোনো খ্রিস্টান ব্যক্তির স্ত্রী দাবি করে যে তার ইসলাম গ্রহণ তার স্বামীর মৃত্যুর পরে হয়েছে এবং স্বামীর মৃত্যুর সময় সে তার স্বামীর ধর্মেই ছিল বলে তার উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, আর ওয়ারিশরা যদি দাবি করে যে সে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তবে ওয়ারিশদের কথা গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও মূলনীতি অনুযায়ী স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হওয়া আবশ্যক ছিল; কারণ তার ইসলাম গ্রহণ একটি নতুন ঘটনা এবং স্ত্রী তা নিকটবর্তী সময়ে ঘটার দাবি করছে, আর ওয়ারিশদের জন্য মূলনীতির বিপরীত বিষয়টি প্রমাণ করা আবশ্যক ছিল। এই ধরণের দাবিতে এই মূলনীতি কার্যকর না হওয়ার কারণ হলো এই মাসআলায় ইসতিসহাব (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা) নীতির ওপর আমল করা। আর তা হলো ধর্মের ভিন্নতা অর্থাৎ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণটি বর্তমানে বিদ্যমান আছে, তাই ইসতিসহাবে মাকলুব অনুযায়ী তাকে পূর্ববর্তী সময়েও মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ এক বছর হেফাজত করার জন্য নির্দিষ্ট মজুরিতে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয় এবং সম্পদটি নষ্ট হয়ে যায়, আর শ্রমিক দাবি করে যে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর সম্পদটি নষ্ট হয়েছে বিধায় সে পুরো মজুরি পাওয়ার অধিকারী, পক্ষান্তরে সম্পদের মালিক দাবি করে যে শ্রমিকের হস্তগত হওয়ার এক মাস পরেই তা নষ্ট হয়েছে এবং শ্রমিক এক মাসের মজুরি ছাড়া আর কিছুর অধিকারী নয়, তবে মূলনীতির বিপরীতে নিয়োগকর্তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ নিয়োগকর্তা দায়মুক্তির দাবি করছে। ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এই বিধানটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে (যদি বলা হয় যে, মূল নীতি হলো নতুন ঘটনাকে নিকটতম সময়ের সাথে সম্পর্কিত করা, অতএব শ্রমিকের কথা সত্য বলে গণ্য হওয়া উচিত, তবে এর উত্তরে বলা হবে: উল্লিখিত মূলনীতিটি একটি প্রকাশ্য বিষয় যা আত্মপক্ষ সমর্থনের ক্ষেত্রে সঠিক হলেও পাওনা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নয়। শ্রমিকের উদ্দেশ্য হলো মজুরি গ্রহণ করা, তাই এর মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া সঠিক নয়)।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি দাবি করে যে তার স্বীকৃতি শৈশবে সংঘটিত হয়েছিল, আর যার অনুকূলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সে দাবি করে যে তার এই স্বীকৃতি সাবালক হওয়ার পর হয়েছে, তবে শপথসহ স্বীকৃতি প্রদানকারীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও নতুন ঘটনাকে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পর্কিত করার মূলনীতি অনুযায়ী যার অনুকূলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার কথা গ্রহণযোগ্য হওয়া আবশ্যক ছিল; কারণ সে নিকটতম সময়ের দাবি করছে।সারকথা হলো, মজুরি দাবি করা এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে আদালতের রায় দাবি করা এই মাসআলা দুটি "মূলত নতুন ঘটনাসমূহকে নিকটতম সময়ের দিকে সম্পর্কিত করতে হয়" এই মূলনীতির বাইরে চলে গেছে। কারণ এই মাসআলাগুলোতে "মূলত দায়মুক্ত থাকা" এই মূলনীতিটি উক্ত নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[ (الْمَادَّةُ 12) الْأَصْلُ فِي الْكَلَامِ الْحَقِيقَةُ](الْمَادَّةُ 12) :الْأَصْلُ فِي الْكَلَامِ الْحَقِيقَةُ فَالْمَعْنَى الْمَجَازِيُّ يَكُونُ خِلَافَ الْأَصْلِ وَالْمَقْصُودُ هُنَا بِالْأَصْلِ الرَّاجِحُ.الْمَعْنَى: هُوَ الشَّيْءُ الْمَقْصُودُ مِنْ الْكَلَامِ، وَطُرُقُ أَدَاءِ الْمَقْصُودِ بِالْكَلَامِ عِنْدَ أَهْلِ الْبَلَاغَةِ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ: (الْحَقِيقَةُ) (2) الْمَجَازُ (3) الْكِنَايَةُ، وَأَمَّا عِنْدَ أَهْلِ أُصُولِ الْفِقْهِ فَطُرُقُ أَدَاءِ الْمَقْصُودِ قِسْمَانِ: (حَقِيقَةٌ وَمَجَازٌ) وَالْكِنَايَةُ عِنْدَهُمْ تَارَةً تَكُونُ حَقِيقَةً وَأُخْرَى تَكُونُ مَجَازًا، فَمُخَاطَبَةُ الشَّخْصِ بِالْقَوْلِ لَهُ (أَبُو إبْرَاهِيمَ) (كِنَايَةٌ) وَلَكِنَّهُ مَعَ ذَلِكَ لَفْظٌ حَقِيقِيٌّ، وَالْقَوْلُ لِلضَّرِيرِ (أَبُو الْعَيْنَاءِ) كِنَايَةٌ جَاءَتْ عَنْ مَجَازٍ.الْحَقِيقَةُ: هُوَ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ فِي الْمَعْنَى الَّذِي وَضَعَهُ الْوَاضِعُ أَيْ وَاضِعُ اللُّغَةِ كَقَوْلِكَ (أَسَدٌ) لِلْوَحْشِ الْمَعْرُوفِ وَفَرَسٌ (لِلدَّابَّةِ الْمَعْلُومَةِ) .الْمَجَازُ: هُوَ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ فِي غَيْرِ مَا وُضِعَ لَهُ بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيِّ وَالْمَعْنَى الْمَجَازِيِّ عَلَاقَةٌ وَمُنَاسَبَةٌ، فَكَمَا أَنَّ الْعَلَاقَةَ الَّتِي هِيَ الْمُنَاسَبَةُ بَيْنَ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيِّ وَالْمَعْنَى الْمُسْتَعْمَلِ فِيهِ ذَلِكَ اللَّفْظُ مَجَازًا هِيَ مِنْ مُقْتَضَيَاتِ الْمَجَازِ فَالْقَرِينَةُ الْمَانِعَةُ مِنْ إرَادَةِ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيِّ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ الْمَجَازِ أَيْضًا.مَثَلًا: لَوْ قَالَ شَخْصٌ رَأَيْت أَسَدًا فِي الْحَمَّامِ يَغْتَسِلُ يُفْهَمُ مِنْهُ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا شُجَاعًا فِي الْحَمَّامِ يَغْتَسِلُ لَا أَنَّهُ رَأَى الْأَسَدَ الْحَقِيقِيَّ، وَهُوَ الْوَحْشُ الْمَعْرُوفُ؛ لِأَنَّ الْحَمَّامَ قَرِينَةٌ مَانِعَةٌ مِنْ وُجُودِ الْأَسَدِ الْحَقِيقِيِّ فِيهِ يَغْتَسِلُ، وَبَيْنَ الْأَسَدِ وَالرَّجُلِ الشُّجَاعِ عَلَاقَةٌ وَمُنَاسَبَةٌ، وَهِيَ الْجُرْأَةُ وَالشَّجَاعَةُ، وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيَّ هُوَ الرَّاجِحُ فَمَتَى أَمْكَنَ حَمْلُ اللَّفْظِ عَلَيْهِ لَا يُعْدَلُ عَنْهُ إلَى الْمَعْنَى الْمَجَازِيِّ؛ لِأَنَّ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيَّ أَصْلٌ وَالْمَجَازِيَّ بَدَلٌ وَالْبَدَلُ لَا يُعَارِضُ الْأَصْلَ.مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا وَقَفَ شَخْصٌ مَالَهُ قَائِلًا إنِّي وَقَفْتُ مَالِي عَلَى أَوْلَادِي وَكَانَ لَهُ أَوْلَادٌ وَأَوْلَادُ أَوْلَادٍ فَيُصْرَفُ قَوْلُهُ عَلَى أَوْلَادِهِ لِصُلْبِهِ، وَلَا تَسْتَفِيدُ أَوْلَادُ أَوْلَادِهِ مِنْ غَلَّةِ الْوَقْفِ، فَلَوْ انْقَرَضَ أَوْلَادُهُ لِصُلْبِهِ، فَلَا تُصْرَفُ غَلَّةُ الْوَقْفِ عَلَى أَحْفَادِهِ، بَلْ تُصْرَفُ إلَى الْفُقَرَاءِ إلَّا إذَا كَانَ يُوجَدُ لِلْوَاقِفِ أَوْلَادٌ حِينَ الْوَقْفِ، بَلْ كَانَ لَهُ أَحْفَادٌ فَبِطَرِيقِ الْمَجَازِ يُعَدُّ الْمَالُ مَوْقُوفًا عَلَى أَحْفَادِهِ، أَمَّا إذَا وُلِدَ لِلْوَاقِفِ مَوْلُودٌ بَعْدَ إنْشَاءِ الْوَقْفِ فَيَرْجِعُ الْوَقْفُ إلَى وَلَدِهِ لِصُلْبِهِ؛ لِأَنَّ اسْمَ الْوَلَدِ مَأْخُوذٌ مِنْ الْوِلَادَةِ وَلَفْظُ الْوَلَدِ حَقِيقَةٌ فِي الْوَلَدِ الصُّلْبِيِّ ذَكَرًا أَوْ أُنْثَى، وَلِأَنَّ لَفْظَةَ الْوَلَدِ حَقِيقَةٌ فِي الْوَلَدِ الصُّلْبِيِّ فَعِنْدَ عَدَمِ وُجُودِ أَوْلَادٍ لِلْوَاقِفِ لِصُلْبِهِ مَثَلًا يُصْرَفُ الْوَقْفُ إلَى الْأَحْفَادِ الَّذِينَ تُسْتَعْمَلُ فِيهِمْ كَلِمَةُ (الْأَوْلَادِ) مَجَازًا؛ لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ اسْتِعْمَالُ مَعْنَى الْمَجَازِ وَالْحَقِيقَةِ فِي لَفْظٍ وَاحِدٍ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ مَعًا.مَثَلًا: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ: لَا تَقْتُلْ الْأَسَدَ، فَلَا يُرَادُ بِهَذَا الْكَلَامِ مَعْنَى لَا تَقْتُلْ الْأَسَدَ الْحَقِيقِيَّ وَالشَّخْصَ الشُّجَاعَ مَعًا.أَمَّا إذَا وَرَدَتْ قَرِينَةٌ تَدُلُّ عَلَى شُمُولِ اللَّفْظِ لِمَعْنَيَيْهِ الْحَقِيقِيِّ وَالْمَجَازِيِّ فَيَكُونُ هَذَا مِنْ بَابِ (عُمُومِ الْمَجَازِ) وَلَا يَكُونُ جَمْعًا بَيْنَ الْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ.
(ধারা ১২) কথার মূল হলো তার প্রকৃত অর্থ।(ধারা ১২) :কথার মূল হলো তার প্রকৃত অর্থ। সুতরাং রূপক অর্থ মূলের পরিপন্থী। আর এখানে 'মূল' বলতে অগ্রগণ্য অর্থ বোঝানো হয়েছে।অর্থ: এটি হলো কথা থেকে কাঙ্ক্ষিত বস্তু। অলংকারশাস্ত্রবিদদের মতে কথা দিয়ে উদ্দেশ্য প্রকাশের পথ তিনটি: (১) প্রকৃত অর্থ (২) রূপক অর্থ (৩) ইঙ্গিত। তবে উসুলুল ফিকহবিদদের মতে উদ্দেশ্য প্রকাশের পথ দুটি: (প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থ)। তাদের নিকট ইঙ্গিত কখনও প্রকৃত অর্থ হিসেবে গণ্য হয়, আবার কখনও রূপক অর্থ হিসেবে। কোনো ব্যক্তিকে 'আবু ইব্রাহিম' বলে সম্বোধন করা একটি 'ইঙ্গিত', কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি একটি প্রকৃত শব্দ। অন্যদিকে, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিকে 'আবুল আয়না' বলা এমন এক ইঙ্গিত যা রূপক অর্থ থেকে এসেছে।প্রকৃত অর্থ: এটি হলো কোনো শব্দকে সেই অর্থে ব্যবহার করা, যে অর্থের জন্য ভাষা প্রণেতা তা নির্ধারণ করেছেন। যেমন পরিচিত বন্য হিংস্র প্রাণীর জন্য 'সিংহ' বলা এবং নির্দিষ্ট চতুষ্পদ পশুর জন্য 'ঘোড়া' বলা।রূপক অর্থ: এটি হলো কোনো শব্দকে তার নির্ধারিত অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহার করা, তবে শর্ত হলো প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক ও সামঞ্জস্য থাকতে হবে। যেমন প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থের মধ্যবর্তী সম্পর্ক বা সামঞ্জস্য রূপক অর্থ হওয়ার জন্য আবশ্যিক, তেমনি প্রকৃত অর্থ গ্রহণের পথে বাধা প্রদানকারী একটি লক্ষণ থাকাও রূপক অর্থ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।উদাহরণস্বরূপ: যদি কেউ বলে 'আমি গোসলখানায় একটি সিংহকে গোসল করতে দেখেছি', তবে এর দ্বারা বোঝা যাবে যে সে গোসলখানায় একজন সাহসী ব্যক্তিকে গোসল করতে দেখেছে, প্রকৃত সিংহ বা পরিচিত বন্য প্রাণী দেখেনি। কারণ 'গোসলখানা' এখানে প্রকৃত সিংহের উপস্থিত থেকে গোসল করার ক্ষেত্রে বাধা প্রদানকারী একটি লক্ষণ। আর সিংহ ও সাহসী ব্যক্তির মধ্যে একটি সম্পর্ক ও সামঞ্জস্য রয়েছে, যা হলো বীরত্ব ও সাহসিকতা। সারকথা হলো, প্রকৃত অর্থই অগ্রগণ্য; তাই যতক্ষণ পর্যন্ত শব্দকে তার প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হবে, ততক্ষণ রূপক অর্থের দিকে যাওয়া যাবে না। কারণ প্রকৃত অর্থ হলো মূল এবং রূপক অর্থ হলো তার বিকল্প; আর বিকল্প কখনও মূলের বিরোধী হতে পারে না।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ ওয়াকফ করে এই বলে যে, 'আমি আমার সম্পদ আমার সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করলাম', আর তার সন্তান এবং নাতি-পুতি (সন্তানের সন্তান) থাকে, তবে তার এই বক্তব্য তার ঔরসজাত সন্তানদের ওপর প্রযোজ্য হবে। তার নাতি-পুতিরা ওয়াকফকৃত সম্পদের আয় থেকে কোনো অংশ পাবে না। যদি তার ঔরসজাত সন্তানরা মারা যায়, তবে ওয়াকফের আয় তার নাতি-পুতিদের দেওয়া হবে না, বরং তা দরিদ্রদের প্রদান করা হবে। তবে ওয়াকফ করার সময় যদি ওয়াকফকারীর কোনো সন্তান না থাকে, বরং শুধু নাতি-পুতি থাকে, তবে রূপক হিসেবে সেই সম্পদ তার নাতি-পুতিদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু ওয়াকফ সম্পন্ন করার পর যদি ওয়াকফকারীর কোনো সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে ওয়াকফ পুনরায় তার ঔরসজাত সন্তানের দিকে ফিরে যাবে। কারণ 'সন্তান' শব্দটি জন্মদান থেকে উৎসারিত এবং 'সন্তান' শব্দটি প্রকৃত অর্থে ঔরসজাত পুত্র বা কন্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু 'সন্তান' শব্দটি প্রকৃত অর্থে ঔরসজাত সন্তানের জন্য নির্ধারিত, তাই ওয়াকফকারীর কোনো ঔরসজাত সন্তান না থাকলে রূপক হিসেবে নাতি-পুতিদের ক্ষেত্রে 'সন্তান' শব্দ ব্যবহার করে ওয়াকফের অর্থ সেখানে ব্যয় করা হবে। কারণ একই সময়ে একই শব্দের মাধ্যমে রূপক ও প্রকৃত অর্থ—উভয়টি একত্রে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, 'সিংহকে হত্যা করো না', তবে এই কথার দ্বারা একই সাথে প্রকৃত সিংহ এবং সাহসী ব্যক্তি—উভয়কেই হত্যা না করার কথা বোঝানো সম্ভব নয়।তবে যদি এমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় যা শব্দটির মাধ্যমে প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়, তবে তা 'ব্যাপক রূপক'-এর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং একে প্রকৃত ও রূপক অর্থের একত্রীকরণ বলা হবে না।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(عُمُومُ الْمَجَازِ) تَعْرِيفُهُ: هُوَ عِبَارَةٌ عَنْ اسْتِعْمَالِ اللَّفْظِ فِي مَعْنًى كُلِّيٍّ شَامِلٍ لِلْمَعْنَى الْحَقِيقِيِّ وَالْمَعْنَى الْمَجَازِيِّ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ قَالَ الْوَاقِفُ قَدْ وَقَفْتُ مَالِي هَذَا عَلَى أَوْلَادِي نَسْلًا بَعْدَ نَسْلٍ فَقَرِينَةُ (نَسْلًا بَعْدَ نَسْلٍ) تَدُلُّ عَلَى شُمُولِ لَفْظِ الْأَوْلَادِ لِكُلِّ وَلَدٍ سَوَاءٌ أَكَانَ وَلَدًا لَهُ حَقِيقَةً أَمْ وَلَدًا لَهُ مَجَازًا مِنْ أَبْنَاءِ أَوْلَادِهِ وَأَبْنَائِهِمْ.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ أَوْصَى شَخْصٌ لِآخَرَ بِثَمَرِ بُسْتَانِهِ فَتُحْمَلُ وَصِيَّتُهُ عَلَى الثَّمَرِ الْمَوْجُودِ أَثْنَاءَ وَفَاةِ الْمُوصِي، وَلَا تُحْمَلُ عَلَى الثَّمَرِ الَّذِي سَيَحْصُلُ فِي السِّنِينَ الْمُقْبِلَةِ؛ لِأَنَّ الثَّمَرَ يُحْمَلُ حَقِيقَةً عَلَى الثَّمَرِ الْمَوْجُودِ وَلَا يُحْمَلُ عَلَى ثَمَرِ الْمُسْتَقْبَلِ إلَّا بِطَرِيقِ الْمَجَازِ وَبِمَا أَنَّهُ مِنْ الْمُمْكِنِ حَمْلُ هَذَا اللَّفْظِ عَلَى مَعْنَاهُ الْحَقِيقِيِّ، فَلَا يُحْمَلُ عَلَى الْبَدَلِ، وَهُوَ الْمَجَازُ وَبِمَا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الْجَمْعُ بَيْنَ الْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ بِلَفْظٍ وَاحِدٍ، فَلَا يُعْتَبَرُ مُتَنَاوِلًا لِلثَّمَرِ الْمَوْجُودِ وَاَلَّذِي سَيُوجَدُ كَذَلِكَ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ.أَمَّا ذِكْرُ الْمُوصِي كَلِمَةَ أَبَدًا وَدَائِمًا حِينَمَا ذَكَرَ الثَّمَرَ فَيَكُونُ مِنْ عُمُومِ الْمَجَازِ فَتُحْمَلُ وَصِيَّتُهُ عَلَى الثَّمَرِ الْحَاصِلِ أَثْنَاءَ وَفَاةِ الْمُوصِي، وَالثَّمَرُ الَّذِي سَيَحْصُلُ فِي الْمُسْتَقْبَلِ.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ إنَّ هَذِهِ الدَّارَ لِزَيْدٍ فَمَضْمُونُ هَذَا الْكَلَامِ الْحَقِيقِيِّ أَنَّهَا مِلْكُ زَيْدٍ وَيَكُونُ بِقَوْلِهِ هَذَا قَدْ اعْتَرَفَ بِأَنَّ تِلْكَ الدَّارَ هِيَ مِلْكُ زَيْدٍ الْمَذْكُورِ، فَلَوْ قَالَ الْمُقِرُّ بَعْدَ ذَلِكَ: إنَّنِي لَا أَقْصِدُ بِكَلَامِي أَنَّ الدَّارَ مِلْكٌ لِزَيْدٍ، بَلْ كُنْت أَقْصِدُ أَنَّهَا مَسْكَنٌ لَهُ بِطَرِيقِ الْإِجَارَةِ أَوْ عَلَى سَبِيلِ الْعَارِيَّةِ وَأَنَّ الدَّارَ هِيَ مِلْكِي، فَلَا يُلْتَفَتُ لِكَلَامِهِ هَذَا إذْ أَنَّ (اللَّامَ) فِي كَلِمَةِ (لِزَيْدٍ) بِمَعْنَى الِاخْتِصَاصِ، وَالِاخْتِصَاصُ وَإِنْ يَكُنْ عَامًّا لِلتَّمَلُّكِ وَالسَّكَنِ فَالْمَعْنَى الْكَامِلُ فِي هَذَا الْكَلَامِ هُوَ اخْتِصَاصُ الْمِلْكِ، وَلِهَذَا يُحْكَمُ بِمِلْكِيَّةِ زَيْدٍ لِتِلْكَ الدَّارِ بِنَاءً عَلَى الْإِقْرَارِ. [ (الْمَادَّةُ 13) لَا عِبْرَة لِلدَّلَالَة فِي مُقَابَلَةِ التَّصْرِيحِ](الْمَادَّةُ 13) :(لَا عِبْرَةَ لِلدَّلَالَةِ فِي مُقَابَلَةِ التَّصْرِيحِ) لِأَنَّ دَلَالَةَ الْحَالِ فِي مُقَابَلَةِ التَّصْرِيحِ ضَعِيفَةٌ، فَلَا تُعْتَبَرُ مُقَابِلَةً لِلتَّصْرِيحِ الْقَوِيِّ.إنَّ اللَّفْظَ الَّذِي يَكُونُ بِهِ التَّصْرِيحُ يُسَمَّى لَفْظًا صَرِيحًا.تَعْرِيفُ الصَّرِيحِ عِنْدَ عُلَمَاءِ أُصُولِ الْفِقْهِ: هُوَ الَّذِي يَكُونُ الْمُرَادُ مِنْهُ ظَاهِرًا ظُهُورًا بَيِّنًا وَتَامًّا وَمُعْتَادًا، فَعَلَيْهِ لَوْ أَنَّ شَخْصًا كَانَ مَأْذُونًا بِدَلَالَةِ الْحَالِ بِعَمَلِ شَيْءٍ فَمُنِعَ صَرَاحَةً عَنْ عَمَلِ ذَلِكَ الشَّيْءِ، فَلَا يَبْقَى اعْتِبَارٌ وَحُكِمَ لِذَلِكَ الْإِذْنِ النَّاشِئِ عَنْ الدَّلَالَةِ.مِثَالُهُ: لَوْ دَخَلَ إنْسَانٌ دَارَ شَخْصٍ فَوَجَدَ عَلَى الْمَائِدَةِ كَأْسًا فَشَرِبَ مِنْهَا وَوَقَعَتْ الْكَأْسُ أَثْنَاءَ شُرْبِهِ وَانْكَسَرَتْ، فَلَا يَضْمَنُ؛ لِأَنَّهُ بِدَلَالَةِ الْحَالِ مَأْذُونٌ بِالشُّرْبِ مِنْهَا، بِخِلَافِ مَا لَوْ نَهَاهُ صَاحِبُ الْبَيْتِ عَنْ الشُّرْبِ مِنْهَا وَانْكَسَرَتْ فَإِنَّهُ يَضْمَنُ؛ لِأَنَّ التَّصْرِيحَ أَبْطَلَ حُكْمَ الْإِذْنِ الْمُسْتَنِدِ عَلَى دَلَالَةِ الْحَالِ.مِثَالٌ ثَانٍ: لَوْ وَهَبَ شَخْصٌ مَالًا لِآخَرَ وَقَبِلَهُ، فَحُصُولُ عَقْدِ الْهِبَةِ إذْنٌ بِقَبْضِ الْمَالِ دَلَالَةٌ، فَإِنْ
(রূপকের ব্যাপকতা) এর সংজ্ঞা: এটি হলো কোনো শব্দকে এমন এক সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করা যা প্রকৃত অর্থ এবং রূপক অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।এর উদাহরণ: যদি কোনো ওয়াকিফ (দানকারী) বলেন, "আমি আমার এই সম্পদ আমার সন্তানদের জন্য বংশপরম্পরায় ওয়াকফ করলাম", তবে "বংশপরম্পরায়" এই সূত্রটি "সন্তান" শব্দটির ব্যাপকতা নির্দেশ করে। এটি প্রকৃত সন্তান এবং রূপক সন্তান—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করবে, অর্থাৎ তার নিজের সন্তান এবং তাদের পরবর্তী বংশধরদের সন্তানাদিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো জন্য তার বাগানের ফলের অছিয়ত করেন, তবে তার এই অছিয়ত সেই ফলের ওপর প্রযোজ্য হবে যা অছিয়তকারীর মৃত্যুর সময় বিদ্যমান ছিল। এটি ভবিষ্যতের বছরগুলোতে উৎপাদিত ফলের ওপর প্রযোজ্য হবে না; কারণ "ফল" শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো বিদ্যমান ফল, আর ভবিষ্যতের ফলকে কেবল রূপক অর্থেই বুঝানো যায়। যেহেতু শব্দটিকে তার প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করা সম্ভব, তাই একে বিকল্প বা রূপক অর্থে গ্রহণ করা হবে না। আর যেহেতু একই শব্দে প্রকৃত ও রূপক অর্থ একত্রিত করা বৈধ নয়, তাই এটি একই সাথে বিদ্যমান ও ভবিষ্যতে উৎপন্ন হতে যাওয়া ফল—উভয়কে বুঝাচ্ছে বলে গণ্য হবে না।তবে অছিয়তকারী যদি ফলের কথা উল্লেখ করার সময় "সর্বদা" ও "চিরকাল" শব্দগুলো ব্যবহার করেন, তবে তা "রূপকের ব্যাপকতা" হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার অছিয়ত মৃত্যুর সময় বিদ্যমান ফল এবং ভবিষ্যতে উৎপন্ন হতে যাওয়া ফল—উভয়টির ওপরই কার্যকর হবে।আরও একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি বলেন, "এই বাড়িটি যায়েদের", তবে এই কথার প্রকৃত বিষয়বস্তু হলো বাড়িটি যায়েদের মালিকানা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিলেন যে উক্ত বাড়িটি উল্লেখিত যায়েদের মালিকানাধীন। এরপর যদি স্বীকারোক্তি প্রদানকারী বলেন, "আমার কথার উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে বাড়িটি যায়েদের মালিকানা, বরং আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম যে এটি ভাড়া হিসেবে বা ধারের ভিত্তিতে তার বাসস্থান এবং বাড়িটি আমারই মালিকানাধীন", তবে তার এই কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। কারণ "যায়েদের জন্য" বাক্যে "জন্য" শব্দটি বিশেষত্ব বুঝায়। আর যদিও বিশেষত্ব শব্দটি মালিকানা ও বসবাস—উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক হতে পারে, তবুও এই বাক্যে পূর্ণাঙ্গ অর্থ হলো মালিকানার বিশেষত্ব। এই কারণেই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়িটির মালিকানা যায়েদের বলে ফয়সালা করা হবে। [ (ধারা ১৩) স্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে ইঙ্গিতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই](ধারা ১৩) :(স্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে ইঙ্গিতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই) কারণ স্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে অবস্থার ইঙ্গিত অত্যন্ত দুর্বল, তাই এটি শক্তিশালী স্পষ্ট বক্তব্যের সমকক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে না।যে শব্দের মাধ্যমে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করা হয় তাকে স্পষ্ট (সারিহ) শব্দ বলা হয়।উসূলে ফিকহবিদদের নিকট স্পষ্ট (সারিহ) এর সংজ্ঞা: যার উদ্দেশ্য অত্যন্ত পরিষ্কার, পূর্ণাঙ্গ এবং স্বভাবজাতভাবে প্রকাশিত হয়। সুতরাং, যদি কোনো ব্যক্তিকে অবস্থার প্রেক্ষিতে কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে তাকে স্পষ্টভাবে সেই কাজ করতে নিষেধ করা হয়, তবে ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রাপ্ত সেই অনুমতির আর কোনো কার্যকারিতা বা হুকুম অবশিষ্ট থাকবে না।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি কারো বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং দস্তরখানে একটি গ্লাস দেখতে পেয়ে তা থেকে পান করেন, আর পান করার সময় গ্লাসটি পড়ে ভেঙে যায়, তবে তাকে জরিমানা দিতে হবে না; কারণ অবস্থার ইঙ্গিতে তার জন্য তা থেকে পান করার অনুমতি ছিল। এর বিপরীতে, যদি বাড়ির মালিক তাকে তা থেকে পান করতে নিষেধ করেন এবং এরপর গ্লাসটি ভেঙে যায়, তবে তাকে জরিমানা দিতে হবে; কারণ স্পষ্ট বক্তব্য (নিষেধ) অবস্থার ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া অনুমতির হুকুমকে বাতিল করে দিয়েছে।দ্বিতীয় উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে কোনো সম্পদ দান করেন এবং সে তা গ্রহণ করে, তবে এই দান চুক্তির ফলে সম্পদটি হস্তগত করার অনুমতি ইঙ্গিতে বিদ্যমান থাকে। অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حَصَلَ الْقَبْضُ تَمَّتْ الْهِبَةُ وَإِنْ نَهَاهُ الْوَاهِبُ صَرَاحَةً قَبْلَ الْقَبْضِ سَقَطَ حُكْمُ الدَّلَالَةِ وَبَطَلَتْ الْهِبَةُ، فَلَوْ قَبَضَهُ كَانَ غَاصِبًا وَتَجْرِي عَلَيْهِ أَحْكَامُ الْغَاصِبِ.(رُجْحَانُ الصَّرَاحَةِ) وَرُجْحَانُ الصَّرَاحَةِ عَلَى الدَّلَالَةِ إنَّمَا يَكُونُ عِنْدَ حُصُولِ مُعَارَضَةٍ بَيْنَ الصَّرَاحَةِ وَالدَّلَالَةِ قَبْلَ تَرَتُّبِ حُكْمٍ مُسْتَنِدٍ عَلَى الدَّلَالَةِ، أَمَّا بَعْدَ الْعَمَلِ بِالدَّلَالَةِ أَيْ بَعْدَ تَرَتُّبِ الْحُكْمِ وَجَرَيَانِهِ اسْتِنَادًا عَلَيْهَا، فَلَا اعْتِبَارَ لِلصَّرَاحَةِ.مِثَالٌ: لَوْ قَالَ شَخْصٌ لِآخَرَ بِعْتُك هَذَا الْفَرَسَ فَعَلَى الثَّانِي أَنْ يَقْبَلَ فِي الْحَالِ، وَيَقُولُ: قَدْ اشْتَرَيْتُ بِدُونِ وُقُوعِ إعْرَاضٍ مِنْهُ حَتَّى يَصِحَّ الْعَقْدُ، وَعَلَى الْبَائِعِ أَوْ الْمُشْتَرِي بَعْدَ حُصُولِ الْإِيجَابِ أَنْ يَقُولَ: بِعْتُ أَوْ اشْتَرَيْتُ قَبْلَ أَنْ يَشْتَغِلَ بِشُغْلٍ آخَرَ، فَإِذَا لَمْ يَقُلْ أَحَدُهُمَا ذَلِكَ بَعْدَ الْإِيجَابِ وَاشْتَغَلَ بِأَمْرٍ يَدُلُّ عَلَى الْإِعْرَاضِ فَيُصْبِحُ الْإِيجَابُ بَاطِلًا، فَلَوْ قَبِلَ الثَّانِي بَعْدَ الْإِعْرَاضِ عَنْ الْبَيْعِ لَا يَنْعَقِدُ مَعَ أَنَّ الْقَوْلَ وَقَعَ صَرَاحَةً، فَكَانَ مِنْ الْوَاجِبِ أَنْ يَنْعَقِدَ الْبَيْعُ، لَكِنَّ الْإِعْرَاضَ الدَّالَّ عَلَى عَدَمِ الرَّغْبَةِ حُكْمٌ أَبْطَلَ الْإِيجَابَ السَّابِقَ، فَالْقَبُولُ اللَّاحِقُ وَإِنْ كَانَ صَرِيحًا لَكِنَّهُ لَمْ يَجِدْ إيجَابًا صَحِيحًا، وَلِهَذَا فَقَدْ بَطَلَ أَيْضًا وَرُجْحَانُ الصَّرِيحِ عَلَى الدَّلَالَةِ يَكُونُ فِيمَا لَوْ تَعَارَضَا فَقَطْ.كَذَلِكَ لَوْ بَاعَ شَخْصٌ مَالًا مِنْ آخَرَ فُضُولًا فَإِذَا طَالَبَ صَاحِبُ الْمَالِ الْمُشْتَرِيَ بِالثَّمَنِ يَكُونُ قَدْ أَجَازَ الْبَيْعَ دَلَالَةً، وَإِذَا صَرَّحَ صَاحِبُ الْمَالِ بَعْدَ ذَلِكَ بِعَدَمِ إجَازَةِ الْبَيْعِ لَا يُعْتَبَرُ تَصْرِيحُهُ وَيَكُونُ الْبَيْعُ صَحِيحًا، وَكَمَا أَنَّ الصَّرَاحَةَ تَكُونُ رَاجِحَةً عَلَى الدَّلَالَةِ كَمَا اتَّضَحَ تَكُونُ رَاجِحَةً عَلَى الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْعُرْفَ وَالْعَادَةَ مِنْ قَبِيلِ الدَّلَالَةِ.مِثَالُ ذَلِكَ: إنَّ اللِّيرَةَ الْمَعْرُوفَةَ فِي فِلَسْطِينَ الْآنَ هِيَ الْجُنَيْهُ الْمِصْرِيُّ، فَلَوْ جَرَى عَقْدُ الْبَيْعِ بَيْنَ الْبَائِعِ وَالْمُشْتَرِي عَلَى لِيرَاتٍ فَرَنْسَاوِيَّةٍ مَثَلًا فَالْبَيْعُ يَنْعَقِدُ عَلَى لِيرَاتٍ فَرَنْسَاوِيَّةٍ، وَلَا تُحْمَلُ اللِّيرَةُ الَّتِي جَرَى الِاتِّفَاقُ عَلَيْهَا عَلَى اللِّيرَةِ الْمِصْرِيَّةِ، وَأَمَّا إذَا عُقِدَ الْبَيْعُ عَلَى لِيرَاتٍ بِلَا تَعْيِينِ نَوْعِهَا، فَيَنْصَرِفُ إلَى الْمُتَعَارَفِ، وَهُوَ اللِّيرَةُ الْمِصْرِيَّةُ [ (الْمَادَّةُ 14) لَا مَسَاغَ لِلِاجْتِهَادِ فِي مَوْرِدِ النَّصِّ](الْمَادَّةُ 14) :لَا مَسَاغَ لِلِاجْتِهَادِ فِي مَوْرِدِ النَّصِّ يَعْنِي: أَنَّ كُلَّ مَسْأَلَةٍ وَرَدَ فِيهَا نَصٌّ مِنْ الشَّارِعِ لَا يَجُوزُ لِلْمُجْتَهِدِينَ أَنْ يَجْتَهِدُوا فِيهَا؛ لِأَنَّ جَوَازَ الِاجْتِهَادِ أَوْ الْقِيَاسِ فِي الْفُرُوعِ مِنْ الْأَحْكَامِ مَشْرُوطٌ بِعَدَمِ وُجُودِ نَصٍّ مِنْ الشَّارِعِ.الِاجْتِهَادُ: لُغَةً هُوَ التَّكَلُّفُ بِبَذْلِ الْوُسْعِ، وَفِي اصْطِلَاحِ الْفُقَهَاءِ هُوَ صَرْفُ وَبَذْلُ الطَّاقَةِ وَالْقُدْرَةِ أَيْ إجْهَادِ النَّفْسِ لِأَجْلِ الِاسْتِحْصَالِ عَلَى الْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ الْفَرْعِيِّ مِنْ دَلِيلِهِ الشَّرْعِيِّ بِحَيْثُ لَا يُسْتَطَاعُ بَذْلُ وُسْعٍ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ.وَلِذَلِكَ قِيلَ إذَا صَحَّ حَدِيثٌ وَكَانَ حُكْمُ ذَلِكَ الْحَدِيثِ مُخَالِفًا لِمَذْهَبِ الْمُجْتَهِدِ يَجِبُ الْعَمَلُ بِذَلِكَ الْحَدِيثِ. وَإِنَّ الْمُقَلِّدَ لِأَحَدِ الْمَذَاهِبِ إذَا اتَّبَعَ حُكْمَ الْحَدِيثِ، فَلَا يَكُونُ خَالَفَ وَخَرَجَ عَنْ الْمَذْهَبِ الَّذِي يُقَلِّدُهُ.
দখল অর্জিত হয়েছে, দান পূর্ণ হয়েছে। আর যদি দাতা দখলের পূর্বে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেন, তবে ইঙ্গিতের হুকুম বাতিল হয়ে যায় এবং দানটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় যদি সে সেটি দখল করে, তবে সে জবরদখলকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর জবরদখলকারীর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।(স্পষ্টতার প্রাধান্য) আর ইঙ্গিতের ওপর স্পষ্টতার প্রাধান্য তখনই হয় যখন ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান কার্যকর হওয়ার পূর্বে স্পষ্টতা ও ইঙ্গিতের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়। তবে ইঙ্গিতের ওপর আমল করার পর, অর্থাৎ ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান সাব্যস্ত ও কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর স্পষ্টতার আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য একজনকে বলে, 'আমি তোমার কাছে এই ঘোড়াটি বিক্রি করলাম', তবে ক্রেতাকে তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো বিমুখতা প্রকাশ না করে বলতে হবে: 'আমি ক্রয় করলাম', যাতে চুক্তিটি সহীহ হয়। বিক্রয় প্রস্তাবের পর বিক্রেতা বা ক্রেতাকে অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার আগেই বলতে হবে: 'আমি বিক্রি করলাম' বা 'আমি ক্রয় করলাম'। যদি প্রস্তাবের পর তাদের কেউ তা না বলে এবং এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয় যা বিমুখতা নির্দেশ করে, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং বিক্রয় থেকে বিমুখ হওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ যদি গ্রহণও করে, তবে চুক্তি সম্পন্ন হবে না; যদিও কথাটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল এবং যুক্তি অনুযায়ী চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অনাগ্রহ প্রকাশকারী বিমুখতা পূর্ববর্তী প্রস্তাবকে বাতিল করে দিয়েছে। তাই পরবর্তী গ্রহণ স্পষ্ট হলেও তা কোনো সহীহ প্রস্তাব পায়নি। এ কারণেই এটি বাতিল হয়ে গেছে। আর ইঙ্গিতের ওপর স্পষ্টতার প্রাধান্য কেবল তখনই হবে যখন তাদের মধ্যে বৈপরীত্য ঘটবে।একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই অন্যের সম্পদ বিক্রি করে দেয়, আর সম্পদের মালিক যদি ক্রেতার কাছে মূল্য দাবি করে, তবে সে ইঙ্গিতে বিক্রয়টি অনুমোদন করল বলে গণ্য হবে। এরপর যদি সম্পদের মালিক স্পষ্টভাবে বিক্রয়টি অনুমোদন না করার কথা জানায়, তবে তার সেই স্পষ্ট বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না এবং বিক্রয়টি সহীহ হিসেবে গণ্য হবে। আর যেভাবে স্পষ্টতা ইঙ্গিতের ওপর প্রাধান্য পায়, ঠিক সেভাবেই তা প্রথা ও রীতির ওপরও প্রাধান্য পায়; কারণ প্রথা ও রীতিও এক প্রকার ইঙ্গিতের অন্তর্ভুক্ত।এর উদাহরণ হলো: বর্তমানে ফিলিস্তিনে প্রচলিত 'লিরা' বলতে মূলত মিসরীয় পাউন্ডকে বোঝায়। এখন যদি বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে চুক্তিটি উদাহরণস্বরূপ ফরাসি লিরার ওপর সম্পন্ন হয়, তবে চুক্তিটি ফরাসি লিরার ওপরই কার্যকর হবে। এক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ লিরার অর্থ মিসরীয় লিরা হিসেবে নেওয়া হবে না। কিন্তু যদি কোনো প্রকার নির্ধারণ ছাড়াই শুধু 'লিরা'র ওপর চুক্তি হয়, তবে তা প্রচলিত অর্থের দিকেই ধাবিত হবে, আর তা হলো মিসরীয় লিরা। [ (ধারা ১৪) অকাট্য দলিলের (নস) উপস্থিতিতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই](ধারা ১৪):অকাট্য দলিলের (নস) উপস্থিতিতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই। অর্থাৎ: শারীয়াহ দাতা কর্তৃক যে বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল বর্ণিত হয়েছে, সে বিষয়ে মুজতাহিদগণের পক্ষে ইজতিহাদ করা জায়েজ নয়; কারণ বিধানের শাখা-প্রশাখায় ইজতিহাদ বা কিয়াস জায়েজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো শারীয়াহ দাতার পক্ষ থেকে কোনো নস বা অকাট্য দলিল না থাকা।ইজতিহাদ: শাব্দিক অর্থ হলো সামর্থ্য ব্যয়ের মাধ্যমে কষ্ট স্বীকার করা। ফকীহগণের পরিভাষায় এর অর্থ হলো শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করা অর্থাৎ দলিল থেকে শাখা-প্রশাখার শরয়ী বিধান আহরণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করা, যেন এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য ব্যয় করা আর সম্ভব না হয়।এজন্যই বলা হয়েছে, যখন কোনো হাদিস সহীহ প্রমাণিত হবে এবং সেই হাদিসের বিধান মুজতাহিদের মাযহাবের পরিপন্থী হবে, তখন সেই হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব। কোনো মাযহাবের অনুসারী যদি হাদিসের বিধান অনুসরণ করে, তবে সে তার অনুসরণকৃত মাযহাবের বিরুদ্ধাচরণ করেছে বা মাযহাব থেকে বের হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَالْمُرَادُ مِنْ النَّصِّ هُنَا (الْكِتَابُ الْكَرِيمُ وَالسُّنَّةُ أَيْ الْأَحَادِيثُ الشَّرِيفَةُ) .مِثَالُ ذَلِكَ: قَدْ نَصَّ الْحَدِيثُ الشَّرِيفُ أَنَّ «الْبَيِّنَةَ عَلَى مَنْ ادَّعَى وَالْيَمِينَ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ» فَبَعْدَ وُجُودِ هَذَا النَّصِّ الصَّرِيحِ لَا يَجُوزُ لِأَحَدِ الْمُجْتَهِدِينَ أَنْ يَجْتَهِدَ بِخِلَافِهِ وَيَقُولَ بِحُكْمٍ يُنَاقِضُهُ، كَأَنْ يَقُولَ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ (يَجُوزُ سَمَاعُ الْبَيِّنَةِ مِنْ الْمُنْكِرِ) أَوْ (أَنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعِي) كَمَا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لِلْمُجْتَهِدِ أَنْ يَجْتَهِدَ فِي (هَلْ الْبَيْعُ حَلَالٌ أَمْ حَرَامٌ) بَعْدَ وُرُودِ النَّصِّ الصَّرِيحِ فِي ذَلِكَ الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ، وَهُوَ قَوْلُهُ {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} [البقرة: 275] الْآيَةَ. [ (الْمَادَّةُ 15) مَا ثَبَتَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ فَغَيْرُهُ لَا يُقَاسُ عَلَيْهِ](الْمَادَّةُ 15) :مَا ثَبَتَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ فَغَيْرُهُ لَا يُقَاسُ عَلَيْهِ يُعَبَّرُ عَنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ بِعِبَارَةٍ أُخْرَى، وَهِيَ (النَّصُّ الْوَارِدُ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ يَقْتَصِرُ عَلَى مَوْرِدِهِ، وَيُقَالُ لِذَلِكَ الشَّيْءِ أَيْ الْوَارِدِ بِهِ نَصٌّ) أَصْلٌ، أَوْ مَقِيسٌ عَلَيْهِ، أَوْ مُشَبَّهٌ بِهِ، وَلِغَيْرِهِ (فَرْعٌ، وَمَقِيسٌ، وَمُشَبَّهٌ) .الْقِيَاسُ تَعْرِيفُهُ: إثْبَاتُ حُكْمٍ لِلْفَرْعِ كَحُكْمِ الْأَصْلِ بِنَاءً عَلَى وُجُودِ مُمَاثَلَةٍ فِي الْعِلَّةِ بَيْنَ الْمَقِيسِ وَالْمَقِيسِ عَلَيْهِ أَوْ بِعِبَارَةٍ أُخْرَى بَيْنَ الْمُشَبَّهِ وَالْمُشَبَّهِ بِهِ.كَيْفِيَّةُ الْقِيَاسِ: الْقُرْآنُ الْكَرِيمُ يَقُولُ: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] فَلَوْ انْتَشَلَ أَحَدٌ مَالًا مِنْ آخَرَ.وَآخَرُ نَبَشَ قَبْرًا وَسَرَقَ الْكَفَنَ مِنْهُ.فَالنَّشَّالُ قَدْ أَخَذَ مَالًا مُحْرَزًا خِفْيَةً، فَعِلَّةُ وُجُوبِ قَطْعِ الْيَدِ مَوْجُودَةٌ فِي عَمَلِهِ فَحُكْمُهُ حُكْمُ السَّارِقِ قِيَاسًا، وَأَمَّا (النَّبَّاشُ) فَلَمْ تُوجَدْ الْعِلَّةُ فَأَجَازَ الْبَيْعَ دَلَالَةً، وَإِذَا صَرَّحَ صَاحِبُ الْمَالِ بَعْدَ ذَلِكَ بِعَدَمِ إجَازَةِ الْبَيْعِ لَا يُعْتَبَرُ تَصْرِيحُهُ وَيَكُونُ الْبَيْعُ صَحِيحًا، وَكَمَا أَنَّ الصَّرَاحَةَ تَكُونُ رَاجِحَةً عَلَى الدَّلَالَةِ كَمَا اتَّضَحَ تَكُونُ رَاجِحَةً عَلَى الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْعُرْفَ وَالْعَادَةَ مِنْ قَبِيلِ الدَّلَالَةِ.مِثَالُ ذَلِكَ: إنَّ اللِّيرَةَ الْمَعْرُوفَةَ فِي فِلَسْطِينَ الْآنَ هِيَ الْجُنَيْهُ الْمِصْرِيُّ، فَلَوْ جَرَى أَمْرِ الزَّوَاجِ لَهُ قِيَاسًا عَلَى عَدَمِ تَرْكِ التَّصَرُّفِ لَهُ فِي مَالِهِ لِمُمَاثَلَةِ الْعِلَّتَيْنِ فِي التَّصَرُّفِ وَالزَّوَاجِ، وَهُوَ عَدَمُ مَعْرِفَتِهِ الصَّالِحَ لِنَفْسِهِ مِنْ الضَّارِّ عَلَى أَنَّ تَرْكَ أَمْرِ الزَّوَاجِ لِلصَّغِيرِ نَفْسِهِ أَبْلَغُ ضَرَرًا مِنْ تَرْكِ التَّصَرُّفِ لَهُ فِي الْمَالِ.وَفِي الْمَثَلِ الْعَامِّيِّ يُقَالُ (الْبِنْتُ الصَّغِيرَةُ لَوْ تُرِكَتْ وَشَأْنَهَا فِي أَمْرِ زَوَاجِهَا تَتَزَوَّجُ بِالطَّبَّالِ، أَوْ الزَّمَّارِ) أَمَّا الْحُكْمُ الَّذِي يَتَرَتَّبُ بِصُورَةٍ مُخَالِفَةٍ لِلْقِيَاسِ، فَلَا يَجُوزُ قِيَاسُ غَيْرِهِ عَلَيْهِ.مِثَالُ ذَلِكَ: إنَّ بَيْعَ الِاسْتِصْنَاعِ جُوِّزَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ؛ لِأَنَّ بَيْعَ الْمَعْدُومِ بَاطِلٌ وَقِيَاسًا كَانَ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ بَيْعُ الِاسْتِصْنَاعِ غَيْرَ جَائِزٍ، وَلَكِنْ جُوِّزَ اسْتِثْنَاءً عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ، فَلَا يَجُوزُ قِيَاسُ عَقْدٍ آخَرَ عَلَيْهِ، كَمَا أَنَّ بَيْعَ السَّلَمِ أَيْضًا جُوِّزَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ، فَلَا يَجُوزُ اعْتِبَارُ أَنَّ بَيْعَ ثَمَرِ الشَّجَرِ الَّذِي لَمْ يَظْهَرْ ثَمَرُهُ جَائِزًا اسْتِنَادًا عَلَى جَوَازِ بَيْعِ الِاسْتِصْنَاعِ أَوْ بَيْعِ السَّلَمِ؛ لِأَنَّ النَّصَّ بِجَوَازِ الِاسْتِصْنَاعِ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ.مِثَالٌ آخَرُ: لَوْ بَاعَ شَخْصٌ مَالَ قَرِيبِهِ لِآخَرَ بِحُضُورِهِ وَسَكَتَ، أَوْ بَاعَتْ زَوْجَةٌ مَا بِحُضُورِ زَوْجِهَا مَالًا عَلَى أَنَّهُ لَهَا، وَسَكَتَ الزَّوْجُ فَالْبَيْعُ يَكُون نَافِذًا، فَلَوْ ادَّعَى الْقَرِيبُ صَاحِبُ الْمَالِ أَوْ الزَّوْجُ أَنَّ الْمَالَ الْمَبِيعَ هُوَ مَالُهُ لَا تُسْمَعُ دَعْوَاهُ، فَعَدَمُ سَمَاعِ الدَّعْوَى مِنْهُ كَانَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ؛ لِأَنَّ الْقَاعِدَةَ
এখানে নস (সুস্পষ্ট বিধান) বলতে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ অর্থাৎ হাদিস শরিফকে বোঝানো হয়েছে।এর উদাহরণ হলো: হাদিস শরিফে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, "প্রমাণ উপস্থাপন করা দাবিদারের দায়িত্ব এবং অস্বীকারকারীর দায়িত্ব হলো শপথ করা।" সুতরাং এই সুস্পষ্ট বিধান বিদ্যমান থাকার পর কোনো মুজতাহিদের পক্ষে এর বিপরীতে ইজতিহাদ করা এবং এর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো হুকুম প্রদান করা বৈধ নয়। যেমন এই মাসআলার ক্ষেত্রে এমন কথা বলা যে, "অস্বীকারকারীর পক্ষ থেকে প্রমাণ গ্রহণ করা বৈধ" অথবা "শপথ করা দাবিদারের দায়িত্ব"। একইভাবে কোনো মুজতাহিদের পক্ষে "ক্রয়-বিক্রয় হালাল নাকি হারাম" এ বিষয়ে ইজতিহাদ করা বৈধ নয়, কারণ পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান এসেছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন" [সূরা আল-বাকারা: ২৭৫] আয়াতাংশ। [ (ধারা ১৫) যা কিয়াসের বিপরীতে সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর অন্য কিছুকে কিয়াস করা যাবে না](ধারা ১৫) :যা কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) বিপরীতে সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর অন্য কিছুকে কিয়াস করা যাবে না। এই মূলনীতিকে ভিন্ন শব্দেও প্রকাশ করা হয়, যা হলো: "কিয়াসের বিপরীতে বর্ণিত নস বা বিধান কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।" এই বিধানটি যে বিষয়ের ক্ষেত্রে এসেছে তাকে "আসল" (মূল), "মাকিস আলাইহি" (যার ওপর কিয়াস করা হয়) বা "মুশাব্বাহ বিহি" (যার সাথে তুলনা করা হয়) বলা হয়। আর অন্য বিষয়টিকে "ফার" (শাখা), "মাকিস" (যাকে কিয়াস করা হয়) বা "মুশাব্বাহ" (যাকে তুলনা করা হয়) বলা হয়।কিয়াসের সংজ্ঞা: "মাকিস" (শাখা) এবং "মাকিস আলাইহি" (মূল) এর মধ্যবর্তী ইল্লত বা কারণের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মূলের বিধানকে শাখার জন্য সাব্যস্ত করা। অন্য কথায়, "মুশাব্বাহ" এবং "মুশাব্বাহ বিহি" এর মধ্যকার সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিধান সাব্যস্ত করা।কিয়াসের পদ্ধতি: পবিত্র কুরআন বলে: "চোর পুরুষ এবং চোর নারী, উভয়ের হাত কেটে দাও" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৮]। এখন যদি কেউ অন্যের কাছ থেকে গোপনে সম্পদ ছিনতাই করে।আবার অন্য কেউ কবর খুঁড়ে সেখান থেকে কাফন চুরি করল।ছিনতাইকারী বা পকেটমার গোপনে সংরক্ষিত সম্পদ গ্রহণ করেছে, তাই হাত কাটার আবশ্যকতা বা কারণ (ইল্লত) তার কাজের মধ্যে বিদ্যমান। ফলে কিয়াস অনুযায়ী তার বিধান চোরের বিধানের মতোই হবে। কিন্তু কবর চোরের (নাব্বাশ) ক্ষেত্রে সেই কারণটি পাওয়া যায়নি, ফলে ইংগিতের মাধ্যমে (দালালাতান) বিক্রয়কে বৈধ করা হয়েছে। যদি সম্পদের মালিক এরপর স্পষ্টভাবে বিক্রয়টি অনুমোদন না করার কথা ব্যক্ত করে, তবে তার সেই স্পষ্ট বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না এবং বিক্রয়টি সহিহ বা সঠিক বলে গণ্য হবে। যেভাবে ইংগিতের (দালালাত) ওপর স্পষ্ট বক্তব্য (সারাহাত) প্রাধান্য পায়, তেমনি এটি প্রথা ও অভ্যাসের (উরফ ও আদত) ওপরও প্রাধান্য পায়; কারণ প্রথা ও অভ্যাসও এক প্রকার ইংগিত বা দালালাতের অন্তর্ভুক্ত।এর উদাহরণ হলো: বর্তমানে ফিলিস্তিনে লিরা হিসেবে পরিচিত মুদ্রাটি হলো মিশরীয় পাউন্ড। যদি বিবাহের বিষয়টি নাবালকের ওপর ছেড়ে না দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার না থাকার ওপর কিয়াস করা হয়—কেননা উভয় ক্ষেত্রে (সম্পদ ও বিবাহ) হস্তক্ষেপের কারণ বা ইল্লত অভিন্ন, আর তা হলো নিজের জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি ক্ষতিকর তা বুঝতে না পারা—বরং নাবালকের বিবাহের বিষয়টি নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া তার সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার দেওয়ার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।প্রচলিত প্রবাদে বলা হয়, "ছোট মেয়েকে যদি তার বিয়ের ব্যাপারে নিজের ইচ্ছামতো ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সে কোনো ঢোলবাদক বা বংশীবাদককে বিয়ে করে বসবে।" তবে কিয়াসের বিপরীতে যে বিধানটি সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর অন্য কিছুকে কিয়াস করা বৈধ নয়।এর উদাহরণ হলো: বায়ুল ইসতিসনা (অস্তিত্বহীন পণ্য তৈরির চুক্তি) কিয়াসের বিপরীতে বৈধ করা হয়েছে; কারণ অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রয় মূলত বাতিল। কিয়াস অনুযায়ী ইসতিসনা বিক্রয় বৈধ না হওয়া আবশ্যক ছিল, কিন্তু একে কিয়াসের বিপরীতে ব্যতিক্রম হিসেবে বৈধ করা হয়েছে। সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে অন্য কোনো চুক্তিকে কিয়াস করা যাবে না। একইভাবে বায়ুস সালাম-কেও (অগ্রিম মূল্যে বাকিতে পণ্য ক্রয়) কিয়াসের বিপরীতে বৈধ করা হয়েছে। এখন যে গাছের ফল এখনো প্রকাশ পায়নি, সেই ফল বিক্রয় করাকে বায়ুল ইসতিসনা বা বায়ুস সালামের ওপর ভিত্তি করে বৈধ মনে করা যাবে না; কারণ ইসতিসনা কিয়াসের বিপরীতে নসের মাধ্যমে বৈধ হয়েছে।অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি তার কোনো আত্মীয়র সামনেই তার (আত্মীয়র) সম্পদ অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং সেই আত্মীয় তা দেখে চুপ থাকে, অথবা কোনো স্ত্রী তার স্বামীর উপস্থিতিতে কোনো সম্পদকে নিজের দাবি করে বিক্রি করে দেয় এবং স্বামী চুপ থাকে, তবে সেই বিক্রয় কার্যকর হয়ে যাবে। এখন সেই সম্পদের মালিক আত্মীয় বা স্বামী যদি দাবি করে যে বিক্রিত সম্পদটি তারই ছিল, তবে তার সেই দাবি শোনা হবে না। তার এই দাবি অগ্রাহ্য করা কিয়াসের বিপরীত ছিল; কারণ মূলনীতি হলো...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
لَا يُنْسَبُ إلَى سَاكِتٍ قَوْلٌ) فَهَذَا الْحُكْمُ لَا يُقَاسُ غَيْرُهُ عَلَيْهِ، كَمَا لَوْ كَانَ الْعَقْدُ الَّذِي جَرَى غَيْرَ الْبَيْعِ وَكَانَ إجَارَةً أَوْ إعَارَةً، فَلَوْ أَقَامَ الدَّعْوَى ذَلِكَ الشَّخْصُ الَّذِي حَضَرَ الْإِجَارَةَ أَوْ الْإِعَارَةَ، وَادَّعَى بِأَنَّ الْمَالَ مَالُهُ فَالدَّعْوَى تُسْمَعُ مِنْهُ، كَذَلِكَ لَوْ اخْتَلَفَ الْبَائِعُ وَالْمُشْتَرِي عَلَى ثَمَنِ الْمَبِيعِ قَبْلَ الْقَبْضِ وَعَجَزَ الطَّرَفَانِ كِلَاهُمَا عَنْ إثْبَاتِ مُدَّعَاهُمَا، فَبِمَا أَنَّ الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ كِلَاهُمَا مُنْكِرٌ دَعْوَى الْآخَرِ يَجْرِي التَّحَالُفُ بَيْنَهُمَا، وَهَذَا يَكُونُ مُوَافِقًا لِلْقِيَاسِ.أَمَّا إذَا كَانَ الِاخْتِلَافُ وَقَعَ بَعْدَ الْقَبْضِ فَتَكُونُ دَعْوَى الْمُدَّعِي هِيَ طَلَبُهُ الزِّيَادَةَ فِي الثَّمَنِ، وَالْوَاجِبُ كَانَ الِاكْتِفَاءَ بِتَحْلِيفِ الْمُشْتَرِي الْمُنْكِرِ زِيَادَةَ الثَّمَنِ مَعَ أَنَّ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ تَجْرِي خِلَافًا لِلْقَاعِدَةِ.وَيَجْرِي التَّحَالُفُ بَيْنَ الْمُتَدَاعِيَيْنِ اسْتِنَادًا عَلَى الْحَدِيثِ الشَّرِيفِ الْقَائِلِ «إذَا اخْتَلَفَ الْمُتَبَايِعَانِ وَالسِّلْعَةُ قَائِمَةٌ بَيْنَهُمَا تَحَالَفَا وَتَرَادَّا» فَعَلَى ذَلِكَ يَجْرِي التَّحَالُفُ بَيْنَهُمَا، وَلَوْ بَعْدَ الْقَبْضِ خِلَافًا لِلْقِيَاسِ، وَهَذَا لِأَنَّ الْحُكْمَ الثَّابِتَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ لَا يُقَاسُ عَلَيْهِ أَحْكَامٌ أُخْرَى مَثَلًا: لَوْ اخْتَلَفَ الْمُسْتَأْجِرُ وَالْمُؤَجِّرُ عَلَى بَدَلِ الْإِجَارَةِ لَا يَجْرِي التَّحَالُفُ بَيْنَهُمَا تَوْفِيقًا لِلْحُكْمِ بِالْبَيْعِ، بَلْ الْقَوْلُ مَعَ الْيَمِينِ لِلْمُسْتَأْجِرِ. [ (الْمَادَّةُ 16) الِاجْتِهَادُ لَا يُنْقَضُ بِمِثْلِهِ](الْمَادَّةُ 16) :الِاجْتِهَادُ لَا يُنْقَضُ بِمِثْلِهِ يَعْنِي لَوْ اجْتَهَدَ فِي مَسْأَلَةٍ مَا مِنْ الْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ وَعَمِلَ بِاجْتِهَادِهِ أَيْ حَكَمَ بِمُوجَبِ ذَلِكَ الِاجْتِهَادِ، ثُمَّ بَدَا لَهُ رَأْيٌ آخَرُ فَعَدَلَ عَنْ الْأَوَّلِ فِي مَسْأَلَةٍ أُخْرَى، فَلَا يَنْقُضُ اجْتِهَادُهُ الثَّانِي حُكْمَهُ النَّاشِئَ عَنْ اجْتِهَادِهِ الْأَوَّلِ.كَذَا لَوْ حَكَمَ مُجْتَهِدٌ فِي مَسْأَلَةٍ بِمُوجِبِ اجْتِهَادِهِ، ثُمَّ حَكَمَ مُجْتَهِدٌ ثَانٍ فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ عَيْنِهَا وَكَانَ رَأْيُ الثَّانِي مُخَالِفًا لِرَأْيِ وَاجْتِهَادِ الْمُجْتَهِدِ الْأَوَّلِ، فَلَا يُنْقَضُ الْحُكْمُ الْمُسْتَنِدُ عَلَى اجْتِهَادِ الْأَوَّلِ.إنَّ لِلْمُجْتَهِدِ شُرُوطًا وَصِفَاتٍ مُعَيَّنَةً فِي كُتُبِ أُصُولِ الْفِقْهِ، فَلَا يُقَالُ لِلْعَالِمِ مُجْتَهِدٌ مَا لَمْ يَكُنْ حَائِزًا عَلَى تِلْكَ الصِّفَاتِ.وَمَعَ ذَلِكَ فَالْمُتَأَخِّرُونَ مِنْ الْفُقَهَاءِ قَدْ أَجْمَعُوا عَلَى سَدِّ بَابِ الِاجْتِهَادِ خَوْفًا مِنْ تَشَتُّتِ الْأَحْكَامِ، وَلِأَنَّ الْمَذَاهِبَ الْمَوْجُودَةَ، وَهِيَ (الْمَذَاهِبُ الْأَرْبَعَةُ) قَدْ وَرَدَ فِيهَا مَا فِيهِ الْكِفَايَةُ إلَّا أَنَّ فَرِيقًا مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَهُمْ الشِّيعِيُّونَ لَمْ يَزَلْ بَابُ الِاجْتِهَادِ مَفْتُوحًا عِنْدَهُمْ لِلْآنِ، وَفِيهِمْ الْمُجْتَهِدُونَ فِي الْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ، كَمَا هُوَ الْحَالُ فِي بِلَادِ الْعَجَمِ وَبِلَادِ عَامِلٍ وَالْعِرَاقِ.وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمُجْتَهِدَ لَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَنْقُضَ حُكْمًا مَبْنِيًّا عَلَى اجْتِهَادِهِ السَّابِقِ، كَمَا أَنَّهُ لَيْسَ لِمُجْتَهِدٍ ثَانٍ أَنْ يَنْقُضَ حُكْمًا مَبْنِيًّا عَلَى اجْتِهَادٍ لِمُجْتَهِدٍ سَابِقٍ، وَالسَّبَبُ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ لَا يُوجَدُ مَا يُرَجِّحُ اجْتِهَادًا عَلَى آخَرَ، وَلَا يُمْكِنُ الْقَوْلُ أَوْ الْحُكْمُ بِأَنَّ الِاجْتِهَادَ الثَّانِي هُوَ أَصْوَبُ مِنْ الِاجْتِهَادِ الْأَوَّلِ؛ لِأَنَّ الِاجْتِهَادَ إنَّمَا هُوَ حُصُولُ غَلَبَةِ الظَّنِّ عَلَى إصَابَةِ الْمَرْمَى مَعَ احْتِمَالِ الْخَطَأِ فَكُلٌّ اجْتِهَادٌ، كَمَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ صَوَابًا يَجُوزُ أَيْضًا أَنْ يَكُونَ خَطَأً.فَأَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ (رضي الله عنه) كَانَ يُصْدِرُ بَعْضَ الْأَحْكَامِ بِنَاءً عَلَى اجْتِهَادِهِ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ (رضي الله عنه) يَحْضُرُ جِلْسَاتِ الْحُكْمِ وَمَعَ أَنَّ رَأْيَهُ غَيْرُ رَأْيِ أَبِي بَكْرٍ فِي بَعْضِهَا، فَلَمْ يَنْقُضْ شَيْئًا مِنْهَا بَعْدَمَا عَهِدَ إلَيْهِ بِمَنْصِبِ الْخِلَافَةِ.فَعَلَيْهِ اسْتِنَادًا عَلَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ لَا يَجُوزُ إلْغَاءُ الْأَحْكَامِ الَّتِي يُصْدِرُهَا حَاكِمٌ مِنْ حَاكِمٍ آخَرَ، كَمَا
(মৌন ব্যক্তির প্রতি কোনো বক্তব্য আরোপ করা যাবে না) সুতরাং এই বিধানটির ওপর অন্য কোনো বিষয়কে কিয়াস (অনুমান) করা যাবে না; যেমন সম্পাদিত চুক্তিটি যদি ক্রয়-বিক্রয় না হয়ে ইজারা (ভাড়া) বা ইআরাহ (ধার দেওয়া) হতো। এমতাবস্থায় ইজারা বা ইআরাহ-এর সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিটি যদি মামলা দায়ের করে দাবি করে যে এই মালটি তার, তবে তার দাবি শোনা হবে। অনুরূপভাবে, যদি বিক্রেতা এবং ক্রেতা পণ্য হস্তান্তরের পূর্বে পণ্যের মূল্য নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে এবং উভয় পক্ষই তাদের দাবির সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে অক্ষম হয়, তবে যেহেতু বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়েই একে অপরের দাবি অস্বীকার করছে, তাই তাদের উভয়ের মধ্যে তাহালুফ (পরস্পর শপথ গ্রহণ) অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি কিয়াসের অনুকূল হবে।কিন্তু যদি মতভেদটি পণ্য হস্তান্তরের পরে ঘটে, তবে বাদীর দাবি হবে মূল্যের অতিরিক্ত অংশটি প্রাপ্তি। আর এক্ষেত্রে বিধান হওয়া উচিত ছিল কেবল অতিরিক্ত মূল্য অস্বীকারকারী ক্রেতার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা, যদিও এই মাসআলাটি সাধারণ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পরিচালিত হয়।বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে তাহালুফ বা পারস্পরিক শপথ অনুষ্ঠিত হয় এই হাদিস শরিফের ওপর ভিত্তি করে যে: "যখন ক্রেতা-বিক্রেতা কোনো বিষয়ে মতভেদ করে এবং পণ্যটি উভয়ের মাঝে বর্তমান থাকে, তখন তারা উভয়ে শপথ করবে এবং লেনদেন বাতিল করবে।" সেই অনুযায়ী তাদের মধ্যে তাহালুফ অনুষ্ঠিত হবে, এমনকি হস্তান্তরের পরে হলেও, যা কিয়াসের পরিপন্থী। এর কারণ হলো, কিয়াসের বিপরীতে সাব্যস্ত বিধানের ওপর অন্য কোনো বিধানকে কিয়াস করা যায় না। যেমন: যদি ইজারাদার ও ইজারাদাতা ইজারার বিনিময়ের পরিমাণের ওপর দ্বিমত পোষণ করে, তবে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মধ্যে তাহালুফ অনুষ্ঠিত হবে না, বরং শপথসহ ইজারাদারের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। [ (ধারা ১৬) ইজতিহাদ অনুরূপ ইজতিহাদ দ্বারা রদ হয় না](ধারা ১৬) :ইজতিহাদ অনুরূপ ইজতিহাদ দ্বারা রদ হয় না; অর্থাৎ যদি কোনো ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত মাসআলায় ইজতিহাদ করে এবং সেই ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করে তথা সেই ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফয়সালা দেয়, পরবর্তীতে যদি তার ভিন্ন কোনো মত উৎপন্ন হয় এবং সে অন্য একটি মাসআলায় পূর্বের মত থেকে ফিরে আসে, তবে তার দ্বিতীয় ইজতিহাদটি প্রথম ইজতিহাদ থেকে উদ্ভূত ফয়সালাকে বাতিল করবে না।অনুরূপভাবে, যদি কোনো মুজতাহিদ কোনো মাসআলায় নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী ফয়সালা দেন, অতঃপর দ্বিতীয় কোনো মুজতাহিদ সেই একই মাসআলায় ফয়সালা দিতে গিয়ে দ্বিতীয় মুজতাহিদের মত যদি প্রথম মুজতাহিদের ইজতিহাদের বিরোধী হয়, তবুও প্রথম জনের ইজতিহাদের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া ফয়সালাটি রদ করা হবে না।উসুলে ফিকহ-এর কিতাবসমূহে মুজতাহিদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও গুণাবলি রয়েছে; যতক্ষণ কোনো আলেম সেই গুণাবলির অধিকারী না হবেন, ততক্ষণ তাকে মুজতাহিদ বলা যাবে না।তা সত্ত্বেও, পরবর্তীকালের ফকিহগণ বিধানসমূহের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কেননা বিদ্যমান মাজহাবসমূহ (চার মাজহাব)-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। তবে মুসলিমদের একটি দল অর্থাৎ শিয়াদের নিকট ইজতিহাদের দরজা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে শরিয়তসম্মত মাসআলাসমূহে মুজতাহিদগণ বিদ্যমান রয়েছেন, যেমনটি আজম (পারস্য), জাবালে আমিল ও ইরাকের ক্ষেত্রে দেখা যায়।সারকথা হলো, কোনো মুজতাহিদ তার পূর্ববর্তী ইজতিহাদের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া ফয়সালাকে রদ করতে পারেন না, ঠিক তেমনি দ্বিতীয় কোনো মুজতাহিদও পূর্ববর্তী মুজতাহিদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে দেওয়া কোনো ফয়সালা বাতিল করতে পারেন না। এর কারণ হলো, এক ইজতিহাদকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো ভিত্তি নেই। আর দ্বিতীয় ইজতিহাদটি প্রথমটির চেয়ে অধিক সঠিক—এরূপ ফয়সালা দেওয়া সম্ভব নয়; কেননা ইজতিহাদ হলো ভুল হওয়ার সম্ভাবনাসহ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ব্যাপারে প্রবল ধারণা (গালিবুজ জান) লাভ করা। সুতরাং প্রতিটি ইজতিহাদ যেমন সঠিক হতে পারে, তেমনি ভুল হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে।আমিরুল মুমিনিন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার ইজতিহাদের ভিত্তিতে কিছু ফয়সালা জারি করতেন এবং ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেসব বিচারিক অধিবেশনে উপস্থিত থাকতেন। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তার মত আবু বকরের মতের চেয়ে ভিন্ন হতো, তবুও তিনি খিলাফতের দায়িত্ব লাভের পর তার কোনো একটি ফয়সালাকেও রদ করেননি।সুতরাং এই নীতির ওপর ভিত্তি করে, একজন বিচারকের দেওয়া ফয়সালা অন্য বিচারকের পক্ষে বাতিল করা বৈধ নয়, যেমন...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَنَّهُ لَيْسَ لِلْحَاكِمِ الْوَاحِدِ أَنْ يَرْجِعَ عَنْ الْحُكْمِ الَّذِي أَصْدَرَهُ إلَّا أَنَّهُ يَجُوزُ لِلْحَاكِمِ، كَمَا يَجُوزُ لِلْمُجْتَهِدِ أَنْ يَجْتَهِدَ فِي الْمَسْأَلَةِ الثَّانِيَةِ اجْتِهَادًا مُخَالِفًا لِاجْتِهَادِهِ الْأَوَّلِ فِي الْمَسْأَلَةِ الْأُولَى، وَأَنْ يُعْطِيَ أَحْكَامًا وَآرَاءً مُخَالِفَةً لِرَأْيٍ أَوْ حُكْمٍ لَهُ سَابِقٍ.(مُسْتَثْنًى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ) إذَا وُجِدَتْ مَصْلَحَةٌ عَامَّةٌ تَقْتَضِي نَقْضَ اجْتِهَادِ مَا يَجُوزُ نَقْضُهُ بِاجْتِهَادٍ لَاحِقٍ [ (الْمَادَّةُ 17) الْمَشَقَّةُ تَجْلِبُ التَّيْسِيرَ](الْمَادَّةُ 17) :الْمَشَقَّةُ تَجْلِبُ التَّيْسِيرَ. يَعْنِي: أَنَّ الصُّعُوبَةَ الَّتِي تُصَادِفُ فِي شَيْءٍ تَكُونُ سَبَبًا بَاعِثًا عَلَى تَسْهِيلِ وَتَهْوِينِ ذَلِكَ الشَّيْءِ، وَبِعِبَارَةٍ أُخْرَى يَجِبُ التَّوْسِيعُ وَقْتَ الضِّيقِ، وَإِنَّ التَّسْهِيلَاتِ الشَّرْعِيَّةَ بِتَجْوِيزِ عُقُودِ الْقَرْضِ، وَالْحَوَالَةِ، وَالْحَجْزِ، وَالْوَصِيَّةِ، وَالسَّلَمِ، وَإِقَالَةِ الْبَيْعِ، وَالرَّهْنِ، وَالْإِبْرَاءِ، وَالشَّرِكَةِ، وَالصُّلْحِ، وَالْوَكَالَةِ، وَالْإِجَارَةِ، وَالْمُزَارَعَةِ، وَالْمُسَاقَاةِ، وَشَرِكَةِ الْمُضَارَبَةِ، وَالْعَارِيَّةِ، الْوَدِيعَةِ كُلُّهَا مُسْتَنِدَةٌ عَلَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ، وَقَدْ صَارَ تَجْوِيزُهَا دَفْعًا لِلْمَشَقَّةِ وَجَلْبًا لِلتَّيْسِيرِ وَتُسَمَّى (رُخَصًا) . (الرُّخْصَةُ) تَعْرِيفُهَا: الرُّخْصَةُ لُغَةً التَّوَسُّعُ، وَالْيُسْرُ، وَالسُّهُولَةُ، وَفِي اصْطِلَاحِ الْفُقَهَاءِ: هِيَ الْأَحْكَامُ الَّتِي ثَبَتَتْ مَشْرُوعِيَّتُهَا بِنَاءً عَلَى الْأَعْذَارِ مَعَ قِيَامِ الدَّلِيلِ الْمُحَرِّمِ تَوَسُّعًا فِي الضِّيقِ.مِثَالٌ: إنَّ بَيْعَ السَّلَمِ بَيْعُ مَعْدُومٍ، وَبِمَا أَنَّ بَيْعَ الْمَعْدُومِ بَاطِلٌ، كَمَا جَاءَ فِي الْمَادَّةِ (205) فَكَانَ مِنْ الْوَاجِبِ عَدَمُ تَجْوِيزِ هَذَا الْبَيْعِ.إلَّا أَنَّ احْتِيَاجَ النَّاسِ قَبْلَ الْحُصُولِ عَلَى مَحْصُولَاتِهِمْ لِلنُّقُودِ قَدْ جَوَّزَ هَذَا الْعَقْدَ تَيْسِيرًا وَتَسْهِيلًا لَهُمْ كَذَلِكَ لِلتَّيْسِيرِ وَالتَّسْهِيلِ قَدْ مُنِحَ لِلْمُشْتَرِي خِيَارُ الْغَبْنِ وَالتَّغْرِيرِ وَجُوِّزَ سَمَاعُ شَهَادَةِ النِّسَاءِ فِي الْأَشْيَاءِ الَّتِي لَا يُمْكِنُ اطِّلَاعُ الرِّجَالِ عَلَيْهَا.وَجُعِلَ الْعَقْدُ الَّذِي يَحْصُلُ فِي الْبَيْعِ وَالْإِجَارَةِ وَالْهِبَةِ وَالصُّلْحِ عَلَى الْمَالِ وَالْإِقْرَارِ وَالْإِبْرَاءِ وَتَأْجِيلِ الدَّيْنِ وَإِسْقَاطِ الشُّفْعَةِ النَّاشِئِ عَنْ إجْبَارٍ وَإِكْرَاهٍ غَيْرَ مُعْتَبَرٍ.وَكَذَلِكَ اُكْتُفِيَ بِأَنْ يُشَاهِدَ الْمُشْتَرِي كَوْمَةَ الْقَمْحِ أَوْ الشَّعِيرِ بَدَلًا مِنْ أَنْ يُشَاهِدَ كُلَّ قَمْحَةٍ أَوْ شَعِيرَةٍ يَشْتَرِيهَا حَتَّى يَزُولَ حَقُّ خِيَارِ الرُّؤْيَةِ؛ لِأَنَّهُ لَوْ لَزِمَ أَنْ يَرَى الْمُشْتَرِي كُلَّ حَبَّةٍ مِنْ الْكَوْمَةِ لَاسْتَوْجَبَ ذَلِكَ صُعُوبَةً فِي الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ.كَذَلِكَ اُكْتُفِيَ فِي الثِّيَابِ بِرُؤْيَةِ الثَّوْبِ مِنْ طَرَفِهِ دُونَ أَنْ يَرَاهُ الْمُشْتَرِي جَمِيعَهُ، وَكَذَلِكَ جُوِّزَ بَيْعُ الْوَفَاءِ دَفْعًا لِمُمَاطَلَةِ الْمَدِينِ وَتَسْهِيلًا لِلدَّائِنِ لَأَنْ يَسْتَوْفِيَ دَيْنَهُ.وَجُوِّزَ أَيْضًا خِيَارُ الشَّرْطِ فِي الْبَيْعِ لِمَنْ لَهُ الْخِيَارُ دَفْعًا لِلْغُرْمِ الَّذِي قَدْ يَحْصُلُ لِلْبَائِعِ وَالْمُشْتَرِي بَعْدَ حُصُولِ الْبَيْعِ، وَجُوِّزَ زَوَاجُ الْمَرْأَةِ بِدُونِ النَّظَرِ إلَيْهَا؛ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَجُزْ ذَلِكَ لَامْتَنَعَ الْكَثِيرُونَ عَنْ تَزْوِيجِ بَنَاتِهِمْ غَيْرَةً عَلَيْهِنَّ مِنْ رُؤْيَةِ الْخَاطِبِينَ، وَجُوِّزَ وَشُرِعَ الطَّلَاقُ لِلتَّسْهِيلِ وَالتَّوْسِيعِ عَلَى النَّاسِ؛ لِأَنَّ بَقَاءَ الزَّوْجِيَّةِ حَالَ وُجُودِ النُّفُورِ وَالْكَرَاهِيَةِ بَيْنَ الزَّوْجَيْنِ مَشَقَّةٌ عُظْمَى وَبَلِيَّةٌ كُبْرَى عَلَيْهِمَا مَعًا.وَجُوِّزَتْ الْوَصِيَّةُ لِيَتَمَكَّنَ الَّذِي لَمْ يُوَفَّقْ لِعَمَلِ الْخَيْرِ فِي حَيَاتِهِ مِنْ إجْرَائِهِ بَعْدَ وَفَاتِهِ.
একজন বিচারকের জন্য তার জারিকৃত রায় থেকে ফিরে আসা বৈধ নয়, তবে একজন মুজতাহিদের মতো একজন বিচারকের জন্যও এটি জায়েজ যে, তিনি দ্বিতীয় কোনো মাসআলায় তার প্রথম মাসআলার ইজতিহাদের বিপরীত ইজতিহাদ করতে পারেন এবং তার পূর্ববর্তী রায় বা মতামতের বিপরীত রায় ও মতামত প্রদান করতে পারেন।(এই নিয়মের ব্যতিক্রম) যখন এমন কোনো জনকল্যাণ বিদ্যমান থাকে যা এমন ইজতিহাদ বাতিল করার দাবি রাখে, যা পরবর্তী কোনো ইজতিহাদের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। [ (ধারা ১৭) কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে](ধারা ১৭) :কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে। অর্থাৎ: কোনো বিষয়ে যে কাঠিন্য পরিলক্ষিত হয়, তা সেই বিষয়টিকে সহজ ও লঘু করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্য কথায়, সংকীর্ণতার সময় প্রশস্ততা অবলম্বন করা ওয়াজিব। আর ঋণ, ঋণ স্থানান্তর (হাওয়ালা), আইনি সীমাবদ্ধতা (হাজর), অসিয়ত, অগ্রিম ক্রয় (সালাম), চুক্তি রদ (ইকালা), বন্ধক (রাহন), দায়মুক্তি (ইবরা), অংশীদারিত্ব (শিরকাত), আপস (সুলহ), প্রতিনিধিত্ব (ওয়াকালা), ভাড়া (ইজারা), বর্গা চাষ (মুজারাআ), সেচভিত্তিক চাষ (মুসাকাত), ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব (মুদারাবাহ), ধার (আরিয়্যাহ) এবং আমানত (ওয়াদিয়াহ)—এই সকল চুক্তির বৈধতা প্রদানের মাধ্যমে যে শরয়ী সহজীকরণ করা হয়েছে, তা মূলত এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। কষ্ট দূর করার জন্য এবং সহজতা আনয়নের জন্য এগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং একে 'রুখসত' (শিথিলতা) বলা হয়। (রুখসত) এর সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে রুখসত হলো প্রশস্ততা, সাবলীলতা ও সহজতা। আর ফকিহগণের পরিভাষায়: সংকীর্ণতার সময় প্রশস্ততা আনয়নের লক্ষ্যে হারামকারী দলিল বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ওজরের ভিত্তিতে যে বিধানগুলোর বৈধতা সাব্যস্ত হয়েছে, তাকেই রুখসত বলা হয়।উদাহরণ: বাইয়ে সালাম (অগ্রিম ক্রয়) হলো অস্তিত্বহীন জিনিসের বিক্রয়। যেহেতু অস্তিত্বহীন জিনিসের বিক্রয় বাতিল, যেমনটি ২০৫ নম্বর ধারায় এসেছে, তাই এই বিক্রয় বৈধ না হওয়া ওয়াজিব ছিল।কিন্তু ফসল হাতে পাওয়ার আগে মানুষের নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তার কারণে তাদের সহজতা ও সুবিধার জন্য এই চুক্তিকে বৈধ করা হয়েছে। একইভাবে সহজতা ও সুবিধার জন্য ক্রেতাকে অত্যাধিক ঠকানো (গাবনে ফাহিশ) ও প্রতারণার (তাগরির) ক্ষেত্রে ক্রয়ের অধিকার বা ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে এবং এমন সব বিষয়ে নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ বৈধ করা হয়েছে যা পুরুষদের পক্ষে অবলোকন করা সম্ভব নয়।এবং ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া, দান (হেবা), মালের ওপর আপস, স্বীকৃতি, দায়মুক্তি, ঋণ পরিশোধে সময় প্রদান এবং শাফআ-র অধিকার বাতিলের ক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের ফলে সম্পাদিত চুক্তিকে অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে।তদ্রূপ, ক্রেতা কর্তৃক গমের বা যবের স্তূপ দেখাকেই যথেষ্ট গণ্য করা হয়েছে, প্রতিটি গমের দানা বা যবের দানা দেখার পরিবর্তে, যাতে পণ্য দেখার অধিকার বা খিয়ারে রুইয়াত সমাপ্ত হয়; কারণ ক্রেতার জন্য স্তূপের প্রতিটি দানা দেখা আবশ্যক হলে ক্রয়-বিক্রয়ে কাঠিন্যের সৃষ্টি হতো।একইভাবে কাপড়ের ক্ষেত্রে পুরো কাপড় দেখার পরিবর্তে তার এক পাশ দেখাই যথেষ্ট গণ্য করা হয়েছে। তদ্রূপ, দেনাদারের টালবাহানা রোধে এবং পাওনাদারের জন্য তার পাওনা উসুল করা সহজ করতে 'বাইয়ে ওয়াফা' (শর্তযুক্ত বিক্রয়) বৈধ করা হয়েছে।তদ্রূপ, ক্রয়-বিক্রয়ের পর বিক্রেতা বা ক্রেতার যে ক্ষতি হতে পারে তা রোধ করার জন্য ইখতিয়ারপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য 'খিয়ারে শর্ত' বৈধ করা হয়েছে। নারীকে না দেখেই বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে; কারণ এটি বৈধ না হলে অনেকে তাদের মেয়েদের বিয়ের পয়গামদাতাদের দেখানোর ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদাবোধের কারণে বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন। মানুষের জন্য সহজতা ও প্রশস্ততা আনয়নের লক্ষ্যে তালাককে বৈধ ও বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘৃণা ও বিরাগ থাকা অবস্থায় দাম্পত্য জীবন স্থায়ী রাখা উভয়ের জন্য চরম কষ্ট ও মহা বিপদের কারণ।আর অসিয়তকে বৈধ করা হয়েছে যাতে যে ব্যক্তি তার জীবনে নেক কাজ করার সুযোগ পায়নি, সে তার মৃত্যুর পর তা আঞ্জাম দিতে পারে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَأَخِيرًا يَجِبُ أَنْ يُعْلَمَ أَنَّ الْمَشَقَّةَ تَجْلِبُ التَّيْسِيرَ إذَا لَمْ يُوجَدْ نَصٌّ، وَأَمَّا إذَا وُجِدَ النَّصُّ، فَلَا يَجُوزُ الْعَمَلُ خِلَافَ ذَلِكَ النَّصِّ بِدَاعِي جَلْبِ التَّيْسِيرِ وَإِزَالَةِ الْمَشَقَّةِ. [ (الْمَادَّةُ 18) الْأَمْرُ إذَا ضَاقَ اتَّسَعَ](الْمَادَّةُ 18) :الْأَمْرُ إذَا ضَاقَ اتَّسَعَ.هَذِهِ الْمَادَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ الْقَاعِدَةِ الشَّرْعِيَّةِ الْمَوْجُودَةِ فِي كِتَابِ الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ، وَقَدْ ذَكَرَ الْحَمَوِيُّ أَنَّ الْإِمَامَ الشَّافِعِيَّ هُوَ وَاضِعُهَا.الِاتِّسَاعُ: مَأْخُوذٌ مِنْ الْوُسْعِ، وَالتَّوْسِيعُ ضِدُّ التَّضْيِيقِ.وَالْمَفْهُومُ مِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَنَّهُ إذَا شُوهِدَ ضِيقٌ وَمَشَقَّةٌ فِي فِعْلٍ أَوْ أَمْرٍ يَجِبُ إيجَادُ رُخْصَةٍ وَتَوْسِعَةٍ لِذَلِكَ الضَّيْقِ فَلَا زَالَتْ الْمَشَقَّةُ تُجَوِّزُ الْأَشْيَاءَ غَيْرَ الْجَائِزَةِ قِيَاسًا وَالْمُغَايَرَةَ لِلْقَوَاعِدِ، وَقَدْ ذَكَرَ الْحَمَوِيُّ أَنَّ هَذِهِ الْقَاعِدَةَ بِمَعْنَى الْقَاعِدَةِ الَّتِي سَبَقَ شَرْحُهَا، وَهِيَ (الْمَادَّةُ 17) [ (الْمَادَّةُ 19) لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ](الْمَادَّةُ 19) :لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ.يَجِبُ أَنْ لَا يُفْهَمَ مِنْ كَلِمَةِ (لَا ضَرَرَ) أَنَّهُ لَا يُوجَدُ ضَرَرٌ، بَلْ الضَّرَرُ فِي كُلِّ وَقْتٍ مَوْجُودٌ وَالنَّاسُ لَا يَزَالُونَ يَفْعَلُونَهُ، وَإِنَّمَا الْمَقْصُودُ هُنَا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الضَّرَرُ أَيْ الْإِضْرَارُ ابْتِدَاءً، كَمَا لَا يَجُوزُ الضِّرَارُ أَيْ إيقَاعُ الضَّرَرِ مُقَابَلَةً لِضَرَرٍ.هَذِهِ الْقَاعِدَةُ وَإِنْ كَانَتْ عَامَّةً فَهِيَ مِنْ نَوْعِ الْعَامِّ الْمَخْصُوصِ لَا تَصْدُقُ إلَّا عَلَى قِسْمٍ مَخْصُوصٍ مِمَّا تَشْمَلُهُ؛ لِأَنَّ التَّعَازِيرَ الشَّرْعِيَّةَ ضَرَرٌ، وَلَكِنَّ إجْرَاءَهَا جَائِزٌ، كَذَلِكَ الدُّخَانُ الَّذِي يَنْتَشِرُ مِنْ مَطْبَخِ دَارِ شَخْصٍ إلَى دَارِ جَارِهِ يُعَدُّ ضَرَرًا؛ لِأَنَّهُ قَدْ يَضُرُّ بِالْجِيرَانِ مُبَاشَرَةً أَوْ يُسَبِّبُ اشْتِهَاءَ الْأَطْعِمَةِ لِلْفُقَرَاءِ مِنْهُمْ، فَيَنْشَأُ عَنْ ذَلِكَ ضَرَرٌ لَهُمْ، كَذَا لَوْ وُجِدَ فِي دَارِ شَخْصٍ شَجَرَةٌ كَانَتْ سَبَبًا لَأَنْ يَسْتَفِيدَ مِنْهَا الْجَارُ كَالِاسْتِظْلَالِ بِهَا فَقَطْعُهَا مُوجِبٌ لِضَرَرِ الْجَارِ أَيْضًا.، فَهَذِهِ الْأَضْرَارُ وَمَا مَاثَلَهَا يَجُوزُ إجْرَاؤُهَا وَلَا تَدْخُلُ تَحْتَ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ؛ لِأَنَّهَا كَمَا ذَكَرْنَا هِيَ مِنْ قِسْمِ الْعَامِّ الْمَخْصُوصِ.وَتَشْتَمِلُ هَذِهِ الْقَاعِدَةُ عَلَى حُكْمَيْنِ:الْأَوَّلُ: أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الْإِضْرَارُ ابْتِدَاءً أَيْ لَا يَجُوزُ لِلْإِنْسَانِ أَنْ يَضُرَّ شَخْصًا آخَرَ فِي نَفْسِهِ وَمَالِهِ؛ لِأَنَّ الضَّرَرَ هُوَ ظُلْمٌ وَالظُّلْمُ مَمْنُوعٌ فِي كُلِّ دِينٍ، وَجَمِيعُ الْكُتُبِ السَّمَاوِيَّةِ قَدْ مَنَعَتْ الظُّلْمَ.مِثَالٌ: لَوْ كَانَ لِشَخْصٍ حَقُّ الْمُرُورِ مِنْ طَرِيقِ شَخْصٍ آخَرَ، فَلَا يَجُوزُ مَنْعُ ذَلِكَ الشَّخْصِ عَنْ الْمُرُورِ فِي تِلْكَ الطَّرِيقِ.، كَمَا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لِشَخْصٍ أَنْ يَبِيعَ مَالًا مَعِيبًا لِشَخْصٍ آخَرَ بِدُونِ أَنْ يَذْكُرَ الْعَيْبَ الْمَوْجُودَ فِي الْمَالِ وَأَنَّ إخْفَاءَ عَيْبِ الْمَبِيعِ عَنْ الْمُشْتَرِي إضْرَارٌ بِهِ، وَهُوَ حَرَامٌ وَمَمْنُوعٌ شَرْعًا.كَذَا لَا يَجُوزُ لِأَهْلِ قَرْيَةٍ أَنْ يَمْنَعُوا شَخْصًا مِنْ أَنْ يَسْكُنَ فِي قَرْيَتِهِمْ بِدَاعِي أَنَّهُمْ لَا يُرِيدُونَ أَنْ يُسَاكِنُوهُ؛ لِأَنَّ عَمَلَهُمْ هَذَا ضَرَرٌ وَإِجْرَاءُ الضَّرَرِ مَمْنُوعٌ، كَمَا قُلْنَا.هَذَا وَأَنَّ جَوَازَ إجْرَاءِ الْأَفْعَالِ الْمُبَاحَةِ مَشْرُوطٌ بِعَدَمِ تَرَتُّبِ ضَرَرٍ لِأَحَدٍ بِإِجْرَائِهَا.مَثَلًا: أَنَّ الصَّيْدَ هُوَ مِنْ الْأَفْعَالِ الْمُبَاحَةِ وَجَائِزٌ، إلَّا أَنَّ كَيْفِيَّةَ الصَّيْدِ إذَا كَانَتْ مُوجِبَةً لِنُفُورِ الْحَيَوَانَاتِ أَوْ مُسَبِّبَةً لِخَوْفِ وَاضْطِرَابِ الْأَهْلِينَ
পরিশেষে এটি জানা আবশ্যক যে, যদি কোনো নস (অকাট্য দলিল) বিদ্যমান না থাকে, তবে কষ্ট সহজতা বয়ে আনে। কিন্তু যদি নস বিদ্যমান থাকে, তবে সহজতা আনয়ন এবং কষ্ট দূর করার অজুহাতে সেই নসের বিপরীতে আমল করা বৈধ নয়। [ (ধারা ১৮) কোনো বিষয় যখন সংকীর্ণ হয়, তখন তা প্রশস্ত হয়](ধারা ১৮) :কোনো বিষয় যখন সংকীর্ণ হয়, তখন তা প্রশস্ত হয়।এই ধারাটি ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ কিতাবে বর্ণিত শরয়ি মূলনীতি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। আল-হামাভী উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ (রহ.) হলেন এই মূলনীতির প্রবর্তক।আল-ইত্তিসা’ (প্রশস্ততা): এটি ‘উস’ (প্রশস্ততা বা সক্ষমতা) শব্দ থেকে গৃহীত, আর প্রশস্ত করা হলো সংকীর্ণ করার বিপরীত।এই মূলনীতি থেকে যা বুঝা যায় তা হলো, যখন কোনো কাজ বা বিষয়ে সংকীর্ণতা ও কষ্ট পরিলক্ষিত হয়, তখন সেই সংকীর্ণতার জন্য রুখসত (অনুমতি) ও প্রশস্ততা প্রদান করা আবশ্যক। সুতরাং কষ্ট সর্বদা এমন সব বিষয়কে বৈধতা দান করে যা কিয়াস বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী এবং যা সাধারণত বৈধ নয়। আল-হামাভী উল্লেখ করেছেন যে, এই মূলনীতিটি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যাত মূলনীতির সমার্থবোধক, আর তা হলো (ধারা ১৭)। [ (ধারা ১৯) ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না](ধারা ১৯) :ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না।‘ক্ষতি নেই’ (লা দরারা) কথাটি থেকে এটি বুঝা ঠিক হবে না যে, বাস্তবে কোনো ক্ষতি বিদ্যমান নেই; বরং ক্ষতি সব সময়ই বিদ্যমান থাকে এবং মানুষ তা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। এখানে মূলত উদ্দেশ্য হলো এই যে, প্রাথমিকভাবে ক্ষতি করা বৈধ নয়, তেমনিভাবে ক্ষতির বিনিময়ে পাল্টা ক্ষতি করাও বৈধ নয়।এই মূলনীতিটি যদিও ব্যাপক অর্থবোধক, তবুও এটি ‘আম-মাখসুস’ (বিশেষায়িত সাধারণ) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ এটি তার আওতাভুক্ত কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কারণ শরয়ি তা’যীরসমূহ (দণ্ড) এক প্রকার ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো কার্যকর করা বৈধ। অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তির রান্নাঘর থেকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে তাও ক্ষতি হিসেবে গণ্য; কারণ তা সরাসরি প্রতিবেশীর ক্ষতি করতে পারে অথবা তাদের অভাবী লোকদের মনে খাবারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে পারে, যার ফলে তাদের মানসিক ক্ষতি হয়। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তির বাড়িতে এমন কোনো গাছ থাকে যা থেকে প্রতিবেশী কেবল ছায়া গ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হতো, তবে সেই গাছ কেটে ফেলাও প্রতিবেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়।সুতরাং এই ধরণের ক্ষতি এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো কার্যকর করা বৈধ এবং সেগুলো এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, এটি ‘আম-মাখসুস’ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।এই মূলনীতিটি দুটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে:প্রথমত: প্রাথমিকভাবে ক্ষতি সাধন করা বৈধ নয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির জন্য অন্য কোনো ব্যক্তির জান ও মালের ক্ষতি করা বৈধ নয়; কারণ ক্ষতি করা এক প্রকার জুলুম, আর জুলুম প্রতিটি ধর্মেই নিষিদ্ধ এবং সমস্ত আসমানি কিতাব জুলুমকে নিষিদ্ধ করেছে।উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কারো রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের অধিকার থাকে, তবে সেই ব্যক্তিকে ওই রাস্তায় চলাচলে বাধা দেওয়া বৈধ নয়।তেমনিভাবে কোনো ব্যক্তির জন্য ত্রুটিযুক্ত পণ্য অন্য কারো কাছে সেই পণ্যের ত্রুটি উল্লেখ না করে বিক্রি করা বৈধ নয়। কেননা ক্রেতার কাছে বিক্রিত পণ্যের ত্রুটি গোপন করা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার শামিল, যা হারাম এবং শরীয়তসম্মতভাবে নিষিদ্ধ।একইভাবে, কোনো গ্রামবাসীর জন্য এটি বৈধ নয় যে তারা কাউকে তাদের গ্রামে বসবাস করতে বাধা দেবে এই অজুহাতে যে তারা তার প্রতিবেশী হতে চায় না; কারণ তাদের এই কাজ একটি ক্ষতি এবং ক্ষতি সাধন করা নিষিদ্ধ, যেমনটি আমরা বলেছি।উল্লেখ্য যে, মুবাহ বা বৈধ কাজসমূহ করার অনুমতি এই শর্তের সাথে যুক্ত যে, সেগুলো করার মাধ্যমে যেন কারো কোনো ক্ষতি সাধিত না হয়।উদাহরণস্বরূপ: শিকার করা একটি মুবাহ বা বৈধ কাজ। তবে শিকারের পদ্ধতি যদি বন্যপ্রাণীদের ভীত-সন্ত্রস্ত করার কারণ হয় অথবা স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ হয়...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
يُمْنَعُ الصَّيَّادُ مِنْ الصَّيْدِ. كَذَلِكَ تَصَرُّفُ الْإِنْسَانِ فِي مِلْكِهِ مُقَيَّدٌ بِعَدَمِ حُصُولِ ضَرَرٍ بَلِيغٍ لِجِيرَانِهِ. مِثَالٌ: يَجُوزُ لِصَاحِبِ الْأَرْضِ أَنْ يُنْشِئَ دَارًا وَيَفْتَحَ نَوَافِذَ، وَلَكِنْ إذَا كَانَتْ النَّوَافِذُ الْمُرَادُ فَتْحُهَا تَكْشِفُ مَقَرَّ نِسَاءِ الْجِيرَانِ، يُمْنَعُ صَاحِبُ الْمِلْكِ مِنْ فَتْحِ تِلْكَ النَّوَافِذِ. أَمَّا حُكْمُ الْفِقْرَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ هَذِهِ الْمَادَّةِ، وَهُوَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ مُقَابَلَةُ الضَّرَرِ بِمِثْلِهِ، وَهُوَ الضِّرَارُ، كَمَا لَوْ أَضَرَّ شَخْصٌ آخَرَ فِي ذَاتِهِ أَوْ مَالِهِ لَا يَجُوزُ لِلشَّخْصِ الْمُتَضَرِّرِ أَنْ يُقَابِلَ ذَلِكَ الشَّخْصَ بِضَرَرٍ، بَلْ يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يُرَاجِعَ الْحَاكِمَ وَيَطْلُبَ إزَالَةَ ضَرَرِهِ بِالصُّورَةِ الْمَشْرُوعَةِ. كَذَلِكَ لَوْ أَتْلَفَ شَخْصٌ " كَرْمًا " لِآخَرَ مَثَلًا فَلَيْسَ لِلْمُتَضَرِّرِ أَنْ يُقَابِلَ الشَّخْصَ الَّذِي أَضَرَّهُ بِإِتْلَافِ كَرْمِهِ، بَلْ عَلَيْهِ، كَمَا ذَكَرْنَا مُرَاجَعَةُ الْمَحْكَمَةِ، وَإِذَا لَمْ يَعْمَلْ عَلَى مُرَاجَعَتِهَا وَأَتْلَفَ كَرْمَ الْمُتْلِفِ لِكَرْمِهِ فَكَمَا يُحْكَمُ عَلَى الْمُتْلِفِ الْأَوَّلِ يُحْكَمُ عَلَى الْمُتْلِفِ الثَّانِي، وَيَكُونَانِ ضَامِنَيْنِ بِمَا أَتْلَفَا. كَذَلِكَ لَوْ أَخَذَ شَخْصٌ نُقُودًا مُزَيَّفَةً مِنْ شَخْصٍ آخَرَ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُعْطِيَهَا لِغَيْرِهِ. [ (الْمَادَّةُ 20) الضَّرَرُ يُزَالُ](الْمَادَّةُ 20) :الضَّرَرُ يُزَالُ.لِأَنَّ الضَّرَرَ هُوَ ظُلْمٌ وَغَدْرٌ وَالْوَاجِبُ عَدَمُ إيقَاعِهِ. وَإِقْرَارُ الظَّالِمِ عَلَى ظُلْمِهِ حَرَامٌ وَمَمْنُوعٌ أَيْضًا فَيَجِبُ إزَالَتُهُ، فَتَجْوِيزُ خِيَارِ التَّعْيِينِ، وَخِيَارِ الرُّؤْيَةِ، وَخِيَارِ النَّقْدِ، وَخِيَارِ الْغَبْنِ، وَالتَّغْرِيرِ، وَرَدِّ الْمَبِيعِ بِخِيَارِ الشَّرْطِ، وَالْحَجْرِ، وَالشُّفْعَةِ، وَتَضْمِينِ الْمَالِ الْمُتْلَفِ لِلْمُتْلِفِ، وَالْإِجْبَارِ عَلَى قِسْمَةِ الْأَمْوَالِ الْمُشْتَرَكَةِ، إنَّمَا هُوَ بِقَصْدِ إزَالَةِ الضَّرَرِ، فَخِيَارُ الْعَيْبِ شُرِعَ لِإِزَالَةِ ضَرَرِ الْمُشْتَرِي الَّذِي يَأْخُذُ مَالًا مَعِيبًا مَعَ ظَنِّهِ أَنَّهُ مَالٌ سَالِمٌ مِنْ الْعَيْبِ، وَحَقُّ الشُّفْعَةِ جُوِّزَ لِمَنْعِ الضَّرَرِ الَّذِي يَحْصُلُ مِنْ سُوءِ الْجِوَارِ؛ لِأَنَّ الْمَسَاكِنَ، كَمَا لَا يَخْفَى تَغْلُو وَتَرْخُصُ بِجِيرَانِهَا، كَذَلِكَ لَوْ أَنَّ شَجَرَةً فِي بُسْتَانِ شَخْصٍ كَبُرَتْ وَتَدَلَّتْ أَغْصَانُهَا عَلَى دَارِ جَارِهِ، وَكَانَ مِنْ جَرَّاءِ ذَلِكَ ضَرَرٌ لِلْجَارِ، فَيَجِبُ إزَالَةُ الضَّرَرِ بِقَطْعِ الْأَغْصَانِ أَوْ بِرَبْطِهَا وَسَحْبِهَا لِلدَّاخِلِ. كَذَا لَوْ أَحْدَثَ شَخْصٌ بِنَاءً فِي مِلْكِهِ وَتَسَبَّبَ عَنْ ذَلِكَ حُصُولُ الظَّلَّامِ فِي غَرْفَةِ جَارِهِ بِصُورَةٍ لَا تُسْتَطَاعُ مَعَهَا الْقِرَاءَةُ وَالْكِتَابَةُ، وَبِمَا أَنَّ ذَلِكَ ضَرَرٌ فَاحِشٌ يُزَالُ تَوْفِيقًا لِلْمَادَّةِ (1201) مِنْ الْمَجَلَّةِ، كَذَلِكَ يُمْنَعُ الْأَشْخَاصُ الَّذِينَ يُزَيِّفُونَ النُّقُودَ عَنْ إجْرَاءِ صِنَاعَتِهِمْ أَيْضًا، وَإِذَا وُجِدَ لِشَخْصٍ نَحْلٌ عَسَلٍ وَالنَّحْلُ يَأْكُلُ أَثْمَارَ جَارِهِ الْمَوْجُودَةَ فِي بُسْتَانِهِ يُحْكَمُ بِإِبْعَادِ النَّحْلِ مِنْ ذَلِكَ الْمَكَانِ دَفْعًا لِلضَّرَرِ. [ (الْمَادَّةُ 21) الضَّرُورَاتُ تُبِيحُ الْمَحْظُورَاتِ](الْمَادَّةُ 21) :الضَّرُورَاتُ تُبِيحُ الْمَحْظُورَاتِ.الضَّرُورَةُ هِيَ الْعُذْرُ الَّذِي يَجُوزُ بِسَبَبِهِ إجْرَاءُ الشَّيْءِ الْمَمْنُوعِ. الْمُبَاحُ: وَالْمُبَاحُ شَرْعًا هُوَ الشَّيْءُ الَّذِي يَجُوزُ تَرْكُهُ وَفِعْلُهُ فِي نَظَرِ الشَّرْعِ، وَالْمَقْصُودُ مِنْ الْمُبَاحِ هُنَا مَا لَيْسَ بِهِ مُؤَاخَذَةٌ، وَأَنَّ إبَاحَةَ الضَّرُورَةِ لِلْمَحْظُورَاتِ تُسَمَّى فِي عِلْمِ أُصُولِ الْفِقْهِ رُخْصَةً، وَقَدْ اتَّضَحَ ذَلِكَ فِي الْمَادَّةِ (17) وَالرُّخْصَةُ هِيَ الشَّيْءُ الَّذِي يُشْرَعُ ثَابِتًا بِنَاءً عَلَى الْإِعْذَارِ، وَهِيَ الشَّيْءُ
শিকারিকে শিকার করা থেকে বিরত রাখা হয়। অনুরূপভাবে, নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ তার প্রতিবেশীর মারাত্মক ক্ষতি না হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ: ভূমির মালিকের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা এবং জানালা খোলা জায়েজ, কিন্তু যদি সেই জানালা খোলার ইচ্ছা প্রতিবেশীর অন্তঃপুরের মহিলাদের পর্দা লঙ্ঘন করে, তবে মালিককে উক্ত জানালা খোলা থেকে বিরত রাখা হবে। আর এই ধারার দ্বিতীয় অংশের হুকুম হলো, ক্ষতির বিপরীতে তদ্রূপ ক্ষতি করা জায়েজ নয়—যাকে ক্ষতি সাধন বা 'দিরার' বলা হয়। যেমন কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তির জান বা মালের ক্ষতি করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয় যে সে-ও ওই ব্যক্তির ক্ষতি করবে; বরং তার উচিত বিচারকের শরণাপন্ন হওয়া এবং শরয়ি পদ্ধতিতে ক্ষতি নিরসনের আবেদন জানানো। অনুরূপভাবে, কেউ যদি অন্য কারোর "আঙ্গুর বাগান" নষ্ট করে ফেলে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য এটা জায়েজ নয় যে সেও অপর ব্যক্তির আঙ্গুর বাগান নষ্ট করে এর প্রতিশোধ নেবে। বরং তার উচিত, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। আর যদি সে আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে ক্ষতিসাধনকারীর আঙ্গুর বাগান নষ্ট করে ফেলে, তবে প্রথম ক্ষতিসাধনকারীর ওপর যেমন হুকুম হবে, দ্বিতীয় ক্ষতিসাধনকারীর ওপরও তেমন হুকুম হবে এবং তারা উভয়ে যা নষ্ট করেছে তার জন্য দায়ী বা জামিন হবে। তদ্রূপ, কেউ যদি অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে জাল মুদ্রা গ্রহণ করে, তবে তার জন্য তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া জায়েজ নয়। [ (ধারা ২০) ক্ষতি দূর করা হবে](ধারা ২০) :ক্ষতি দূর করা হবে।কেননা ক্ষতি হলো জুলুম ও বিশ্বাসঘাতকতা, আর তা সংঘটিত না করা ওয়াজিব। জালিমকে তার জুলুমের ওপর বহাল রাখা হারাম ও নিষিদ্ধ, তাই তা দূর করা আবশ্যক। সুতরাং পণ্য বাছাই করার ইখতিয়ার (খিইয়ারুত তায়িন), দেখার ইখতিয়ার (খিইয়ারুর রুইয়াত), নগদ প্রদানের ইখতিয়ার (খিইয়ারুন নকদ), মূল্যে প্রবঞ্চনার ইখতিয়ার (খিইয়ারুল গাবান), ধোঁকাবাজি (তাগরির), শর্তাধীন ইখতিয়ারের (খিইয়ারুশ শারত) ভিত্তিতে বিক্রিত পণ্য ফেরত দেওয়া, আইনি নিষেধাজ্ঞা (হাজর), অগ্রক্রয়াধিকার (শুফআ), বিনষ্টকারী কর্তৃক বিনষ্ট মালের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং যৌথ সম্পদ বণ্টনে বাধ্য করা—এসবই মূলত ক্ষতি নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। সুতরাং ত্রুটিজনিত ইখতিয়ার (খিইয়ারুল আইব) শরয়ি বিধান করা হয়েছে ক্রেতার ক্ষতি দূর করার জন্য, যে ব্যক্তি পণ্যটি ত্রুটিমুক্ত মনে করে ত্রুটিযুক্ত মাল গ্রহণ করেছে। আর শুফআর (অগ্রক্রয়াধিকার) অধিকার বৈধ করা হয়েছে প্রতিবেশীর মন্দ আচরণের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি রোধ করার জন্য; কারণ বসতবাড়ি প্রতিবেশীদের কারণেই মূল্যবান বা সস্তা হয়ে থাকে। তদ্রূপ, যদি কারো বাগানের কোনো গাছ বড় হয়ে তার ডালপালা প্রতিবেশীর ঘরের ওপর ঝুলে পড়ে এবং এর ফলে প্রতিবেশীর ক্ষতি হয়, তবে ডালগুলো কেটে ফেলে অথবা বেঁধে ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে সেই ক্ষতি দূর করা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে, কেউ যদি নিজের মালিকানাধীন জায়গায় ইমারত নির্মাণ করে এবং এর ফলে প্রতিবেশীর ঘরে এমন অন্ধকার সৃষ্টি হয় যে সেখানে পড়ালেখা করা সম্ভব হয় না, যেহেতু এটি একটি ফাহিশ (অসহনীয়) ক্ষতি, তাই মাজাল্লাহর ১২০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তা দূর করা হবে। একইভাবে, যারা জাল মুদ্রা তৈরি করে তাদেরও এই কাজ থেকে বিরত রাখা হবে। আর যদি কারো মৌমাছি থাকে এবং সেই মৌমাছি প্রতিবেশীর বাগানের ফল খেয়ে নষ্ট করে, তবে ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য সেই স্থান থেকে মৌমাছি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। [ (ধারা ২১) প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে](ধারা ২১) :প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে।প্রয়োজনীয়তা (জরুরত) হলো এমন ওজর যার কারণে নিষিদ্ধ কাজ সম্পাদন করা জায়েজ হয়। মুবাহ: শরয়ি পরিভাষায় মুবাহ হলো এমন বিষয় যা করা বা ছেড়ে দেওয়া উভয়ই শরয়ি দৃষ্টিতে জায়েজ। আর এখানে মুবাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাতে কোনো পাকড়াও বা জবাবদিহিতা নেই। প্রয়োজনীয়তার কারণে নিষিদ্ধ বিষয় বৈধ হওয়াকে ইলমে উসুলে ফিকহে 'রুখসত' (ছাড়) বলা হয়, যা ধারা ১৭-তে স্পষ্ট করা হয়েছে। রুখসত হলো এমন বিষয় যা ওজরের ওপর ভিত্তি করে সুসাব্যস্ত বিধান হিসেবে প্রণীত হয়েছে, আর এটি হলো এমন বিষয় যা-
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْمُبَاحُ مَعَ بَقَاءِ الْمُحَرِّمِ وَالْحُرْمَةِ، أَيْ كَمَا أَنَّهُ لَا يُؤَاخَذُ فَاعِلُ الشَّيْءِ الْمُبَاحِ لَا يُؤَاخَذُ فَاعِلُ الشَّيْءِ الْمُرَخَّصِ أَيْضًا. مِثَالٌ: لَوْ أَنَّ شَخْصًا أَكْرَهَ آخَرَ عَلَى إتْلَافِ مَالِ الْغَيْرِ فَبِوُقُوعِ الْإِكْرَاهِ أَيْ الضَّرُورَةِ لَا تَزُولُ الْحُرْمَةُ النَّاشِئَةُ عَنْ إتْلَافِ مَالِ الْغَيْرِ، إلَّا أَنَّ الْمُكْرَهَ لَا يُؤَاخَذُ لِلْإِتْلَافِ الَّذِي حَصَلَ مِنْهُ؛ لِأَنَّ الْعَمَلَ بِالرُّخْصَةِ ثَابِتٌ بِإِجْمَاعِ الْأَئِمَّةِ، وَتَفْصِيلُ ذَلِكَ عَائِدٌ لِأُصُولِ عِلْمِ الْفِقْهِ وَوَرَدَ هُنَا بَعْضُ الْأَمْثِلَةِ تَوْضِيحًا لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ. مِثَالٌ: إنَّ التَّعَرُّضَ لِمَالِ الْغَيْرِ وَإِتْلَافَهُ مَمْنُوعٌ، كَمَا سَيَجِيءُ فِي الْمَادَّتَيْنِ (96 وَ 97) إلَّا أَنَّهُ لَوْ أَصْبَحَ شَخْصٌ فِي حَالٍ الْهَلَاكِ مِنْ الْجُوعِ فَلَهُ أَخْذُ مَالِ الْغَيْرِ، وَلَوْ بِالْجَبْرِ عَلَى شَرْطِ أَدَاءِ ثَمَنِهِ فِيمَا بَعْدُ أَوْ اسْتِحْصَالُ رِضَاءِ صَاحِبِ الْمَالِ، كَمَا أَنَّهُ يَجُوزُ لِلشَّخْصِ أَنْ يَقْتُلَ الْجَمَلَ الَّذِي يَصُولُ عَلَيْهِ تَخْلِيصًا لِحَيَاتِهِ، فَفِي هَذَيْنِ الْمِثَالَيْنِ أَصْبَحَ مِنْ الْجَائِزِ إتْلَافُ وَأَخْذُ مَالِ الْغَيْرِ بِصُورَةِ الْجَبْرِ. مِثَالٌ آخَرُ: إذَا أَكْرَهَ شَخْصٌ آخَرَ عَلَى إتْلَافِ مَالِ الْغَيْرِ بِقَوْلِهِ: أَقْتُلُكَ أَوْ اقْطَعْ عُضْوًا مِنْ أَعْضَائِك، فَيُصْبِحُ إتْلَافُ الْمَالِ مُبَاحًا لِذَلِكَ الشَّخْصِ، وَالضَّمَانُ يَلْزَمُ الْمُجْبِرَ. إنَّ الضَّرُورَاتِ لَا تُبِيحُ كُلَّ الْمَحْظُورَاتِ، بَلْ يَجِبُ أَنْ تَكُونَ الْمَحْظُورَاتُ دُونَ الضَّرُورَاتِ.أَمَّا إذَا كَانَتْ الْمَمْنُوعَاتُ أَوْ الْمَحْظُورَاتُ أَكْثَرُ مِنْ الضَّرُورَاتِ، فَلَا يَجُوزُ إجْرَاؤُهَا وَلَا تُصْبِحُ مُبَاحَةً. مِثَالٌ: لَوْ أَنَّ شَخْصًا هَدَّدَ آخَرَ بِالْقَتْلِ أَوْ بِقَطْعِ الْعُضْوِ وَأَجْبَرَهُ عَلَى قَتْلِ شَخْصٍ، فَلَا يَحِقُّ لِلْمُكْرَهِ أَنْ يُوقِعَ الْقَتْلَ؛ لِأَنَّ الضَّرُورَةَ هُنَا مُسَاوِيَةٌ لِلْمَحْظُورِ، بَلْ إنَّ قَتْلَ الْمُكْرَهِ أَخَفُّ ضَرَرًا مِنْ أَنْ يَقْتُلَ شَخْصًا آخَرَ، فَوَالْحَالَةُ هَذِهِ إذَا أَوْقَعَ ذَلِكَ الْمُكْرَهُ الْقَتْلَ يَكُونُ حُكْمُهُ حُكْمَ الْقَاتِلِ بِلَا إكْرَاهٍ، أَمَّا مِنْ جِهَةِ الْقِصَاصِ فَيَنْفُذُ فِي حَقِّ كُلٍّ مَنْ الْمُجْبِرِ وَالْمُكْرَهِ. [ (الْمَادَّةُ 22) مَا أُبِيحَ لِلضَّرُورَةِ يَتَقَدَّرُ بِقَدْرِهَا](الْمَادَّةُ 22) :مَا أُبِيحَ لِلضَّرُورَةِ يَتَقَدَّرُ بِقَدْرِهَا.أَيْ أَنَّ الشَّيْءَ الَّذِي يَجُوزُ بِنَاءً عَلَى الضَّرُورَةِ يَجُوزُ إجْرَاؤُهُ بِالْقَدْرِ الْكَافِي لِإِزَالَةِ تِلْكَ الضَّرُورَةِ فَقَطْ، وَلَا يَجُوزُ اسْتِبَاحَتُهُ أَكْثَرَ مِمَّا تَزُولُ بِهِ الضَّرُورَةُ. مَثَلًا: لَوْ أَنَّ شَخْصًا كَانَ فِي حَالَةِ الْهَلَاكِ مِنْ الْجُوعِ يَحِقُّ لَهُ اغْتِصَابُ مَا يَدْفَعُ جُوعَهُ مِنْ مَالِ الْغَيْرِ لَا أَنْ يَغْتَصِبَ كُلَّ شَيْءٍ وَجَدَهُ مَعَ ذَلِكَ الْغَيْرِ، كَذَلِكَ جُوِّزَ الْبَيْعُ بِخِيَارِ التَّعْيِينِ فِي شَيْئَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ لَا أَزْيَدَ كَأَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ أَوْ خَمْسَةٍ، إذْ لَا ضَرُورَةَ تَدْعُو لِلزِّيَادَةِ؛ لِأَنَّ مَا أُبِيحَ لِلضَّرُورَةِ إنَّمَا يَتَقَدَّرُ بِقَدْرِهَا، كَذَلِكَ لَوْ أَحْدَثَ شَخْصٌ نَافِذَةً تُشْرِفُ عَلَى مَقَرِّ نِسَاءِ الْجِيرَانِ فَيُؤْمَرُ بِإِزَالَةِ الضَّرَرِ عَنْ الْجَارِ بِصُورَةٍ تَمْنَعُ الضَّرَرَ فَقَطْ، وَلَا يُجْبَرُ صَاحِبُ النَّافِذَةِ عَلَى سَدِّهَا بِالْكُلِّيَّةِ. الضَّرُورَةُ: هِيَ الْحَالَةُ الْمُلْجِئَةُ لِتَنَاوُلِ الْمَمْنُوعِ شَرْعًا. الْحَاجَةُ: أَمَّا الْحَاجَةُ فَإِنَّهَا وَإِنْ كَانَتْ حَالَةَ جَهْدٍ وَمَشَقَّةٍ فَهِيَ دُونَ الضَّرُورَةِ، وَلَا يَتَأَتَّى مَعَهَا الْهَلَاكُ فَلِذَا لَا يُسْتَبَاحُ بِهَا الْمَمْنُوعُ شَرْعًا.مِثَالُ ذَلِكَ: الصَّائِمُ الْمُسَافِرُ بَقَاؤُهُ صَائِمًا يُحَمِّلُهُ جَهْدًا وَمَشَقَّةً فَيُرَخَّصُ لَهُ الْإِفْطَارُ لِحَاجَتِهِ لِلْقُوَّةِ عَلَى السَّفَرِ.
নিষিদ্ধকারী বিষয় ও নিষিদ্ধতা বহাল থাকা অবস্থায় বৈধতা; অর্থাৎ, মুবাহ বা বৈধ কাজ সম্পাদনকারীকে যেমন পাকড়াও করা হয় না, তেমনি রুকসাত বা বিশেষ অনুমোদিত কাজ সম্পাদনকারীকেও পাকড়াও করা হয় না। উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করতে বাধ্য করে, তবে এই বাধ্যবাধকতা তথা প্রয়োজনের কারণে অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করার ফলে সৃষ্ট নিষিদ্ধতা দূর হয় না, তবে যার ওপর জোর খাটানো হয়েছে তাকে ওই বিনষ্টকরণের জন্য দায়ী করা হবে না; কারণ রুকসাত বা বিশেষ অনুমতির ওপর আমল করা ইমামগণের ঐকমত্য দ্বারা সাব্যস্ত। এর বিস্তারিত আলোচনা উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে এই মূলনীতির স্পষ্টীকরণের জন্য কিছু উদাহরণ প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণ: অন্যের সম্পদের হস্তক্ষেপ করা ও তা বিনষ্ট করা নিষিদ্ধ, যা সামনে ৯৬ ও ৯৭ নং ধারায় আসবে; কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি ক্ষুধার তাড়নায় ধ্বংসোন্মুখ হয়, তবে তার জন্য অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ, এমনকি প্রয়োজনে জোরপূর্বক হলেও—এই শর্তে যে পরবর্তীতে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে অথবা মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। ঠিক যেমন কোনো ব্যক্তি নিজের জীবন বাঁচাতে তাকে আক্রমণকারী উটকে হত্যা করতে পারে। এই দুটি উদাহরণে অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করা ও জোরপূর্বক গ্রহণ করা বৈধ হয়ে গিয়েছে। অন্য একটি উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অপর কাউকে অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করতে এই বলে বাধ্য করে যে, "আমি তোমাকে হত্যা করব" অথবা "তোমার অঙ্গহানি করব", তবে সেই ব্যক্তির জন্য উক্ত সম্পদ বিনষ্ট করা বৈধ হয়ে যায় এবং এর ক্ষতিপূরণ বাধ্যকারীর ওপর বর্তাবে। নিশ্চয়ই সকল জরুরত (বিশেষ প্রয়োজন) সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে না, বরং নিষিদ্ধ বিষয়টি জরুরতের তুলনায় লঘু হতে হবে।কিন্তু যদি নিষিদ্ধ বা বারণকৃত বিষয়গুলো জরুরতের চেয়েও গুরুতর হয়, তবে তা সম্পাদন করা বৈধ নয় এবং তা মুবাহ বা অনুমোদিত হবে না। উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে হত্যার হুমকি দিয়ে বা অঙ্গহানির ভয় দেখিয়ে কাউকে হত্যা করতে বাধ্য করে, তবে বাধ্যকৃত ব্যক্তির জন্য সেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো বৈধ হবে না; কারণ এখানে জরুরত ও নিষিদ্ধ বিষয় সমপর্যায়ের। বরং বাধ্যকৃত ব্যক্তির নিজের নিহত হওয়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার চেয়ে কম ক্ষতিকর। এমতাবস্থায় যদি ওই বাধ্যকৃত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে তার বিধান জবরদস্তিহীন হত্যাকারীর বিধানের অনুরূপ হবে। আর কিসাসের ক্ষেত্রে বাধ্যকারী ও বাধ্যকৃত ব্যক্তি উভয়ের ওপরই তা কার্যকর হবে। [ (ধারা ২২) জরুরতের কারণে যা বৈধ করা হয়েছে, তা জরুরতের পরিমাণ অনুসারেই নির্ধারিত হবে](ধারা ২২):জরুরতের কারণে যা বৈধ করা হয়েছে, তা জরুরতের পরিমাণ অনুসারেই নির্ধারিত হবে।অর্থাৎ, জরুরত বা বিশেষ প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে যে বিষয়টি জায়েজ করা হয়েছে, তা কেবল সেই জরুরত দূর করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই সম্পাদন করা বৈধ হবে; জরুরত দূর হওয়ার অতিরিক্ত বিষয়টি বৈধ হবে না। যেমন: যদি কোনো ব্যক্তি ক্ষুধার তাড়নায় মৃতপ্রায় হয়, তবে তার জন্য অন্যের সম্পদ থেকে কেবল ক্ষুধা নিবারণকারী অংশটুকু গ্রহণ করা বৈধ, ওই ব্যক্তির নিকট পাওয়া সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। তদ্রূপ, খিয়ারে তায়ীন (পছন্দ করার অধিকার) দুই বা তিনটি বস্তুর ক্ষেত্রে জায়েজ করা হয়েছে, চার বা পাঁচটি বস্তুর মতো এর চেয়ে বেশিতে নয়; কারণ এর চেয়ে বেশি করার কোনো জরুরত নেই। কেননা জরুরতের কারণে যা বৈধ করা হয়েছে, তা জরুরতের পরিমাণ অনুসারেই নির্ধারিত হয়। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো জানালা তৈরি করে যা প্রতিবেশীদের অন্দরমহলের নারীদের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তবে প্রতিবেশীর ক্ষতি দূর করার জন্য কেবল ততটুকুই ব্যবস্থা নিতে বলা হবে যাতে ক্ষতি বন্ধ হয়; জানালাটির মালিককে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য করা হবে না। জরুরত: এটি এমন এক নিরুপায় অবস্থা যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় গ্রহণে বাধ্য করে। হাজত (প্রয়োজন): হাজত বা প্রয়োজন যদিও কষ্ট ও ক্লেশদায়ক অবস্থা, তবুও তা জরুরত বা বিশেষ প্রয়োজনের চেয়ে নিম্নতর এবং এর ফলে ধ্বংস বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে না; বিধায় এর মাধ্যমে শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় বৈধ হয় না।এর উদাহরণ হলো: মুসাফির রোজাদার; তার রোজা রাখা কষ্ট ও ক্লেশদায়ক হওয়ার কারণে সফরের শক্তি সঞ্চয়ের হাজত বা প্রয়োজনে তাকে রোজা ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
[ (الْمَادَّةُ 23) مَا جَازَ لِعُذْرٍ بَطَلَ بِزَوَالِهِ](الْمَادَّةُ 23) :مَا جَازَ لِعُذْرٍ بَطَلَ بِزَوَالِهِ.يَعْنِي: أَنَّ الْأَشْيَاءَ الَّتِي تَجُوزُ بِنَاءً عَلَى الْأَعْذَارِ وَالضَّرُورَاتِ إذَا زَالَتْ تِلْكَ الْأَعْذَارُ وَالضَّرُورَاتُ بَطَلَ الْجَوَازُ فِيهَا.مِثَالُ ذَلِكَ: الشَّهَادَةُ عَلَى الشَّهَادَةِ إنَّمَا جُوِّزَتْ بِنَاءً عَلَى عَدَمِ تَمَكُّنِ الشَّاهِدِ الْأَصِيلِ مِنْ حُضُورِ مَجْلِسِ الْحُكْمِ لِمَرَضٍ مُقْعِدٍ أَوْ غَيْبَةٍ بَعِيدَةٍ. مَثَلًا: فَإِذَا أَبَلَّ الشَّاهِدُ الْأَصِيلُ مِنْ مَرَضِهِ أَوْ حَضَرَ الْغَائِبُ مِنْ غَيْبَتِهِ لَا تَجُوزُ الشَّهَادَةُ عَلَى الشَّهَادَةِ، كَذَلِكَ يَحِقُّ لِلْمُسْتَأْجِرِ فَسْخُ الْإِيجَارِ إذَا حَصَلَ عَيْبٌ حَادِثٌ فِي الْمَأْجُورِ، وَلَكِنْ إذَا كَانَ الْمُؤَجِّرُ قَبْلَ فَسْخِ الْإِيجَارِ أَزَالَ ذَلِكَ الْعَيْبَ، فَلَا يَبْقَى مَحَلٌّ لِفَسْخِ الْإِيجَارِ، كَذَلِكَ لَوْ أَنَّ شَخْصًا اسْتَأْجَرَ دَارًا مِنْ آخَرَ، وَالْمُؤَجِّرُ أَبْقَى أَمْتِعَتَهُ فِي إحْدَى الْغُرَفِ وَلَمْ يُسَلِّمْ تِلْكَ الْغُرْفَةَ، فَالْمُسْتَأْجِرُ هُنَا مُخَيَّرٌ فِي فَسْخِ الْإِجَارَةِ أَوْ الدَّوَامِ عَلَيْهَا، فَإِذَا أَخْلَى الْمُؤَجِّرُ تِلْكَ الْغُرْفَةَ قَبْلَ أَنْ يَفْسَخَ الْمُسْتَأْجِرُ الْإِجَارَةَ، فَلَا يَحِقُّ لَهُ حِينَئِذٍ فَسْخُهَا؛ لِأَنَّ الْعُذْرَ الَّذِي كَانَ يَحِقُّ لِلْمُسْتَأْجِرِ أَنْ يَفْسَخَ الْإِجَارَةَ اسْتِنَادًا عَلَيْهِ قَدْ زَالَ. [ (الْمَادَّةُ 24) إذَا زَالَ الْمَانِعُ عَادَ الْمَمْنُوعُ](الْمَادَّةُ 24) :إذَا زَالَ الْمَانِعُ عَادَ الْمَمْنُوعُ.يَعْنِي: إذَا كَانَ شَيْءٌ جَائِزًا وَمَشْرُوعًا، ثُمَّ امْتَنَعَ حُكْمُ مَشْرُوعِيَّتِهِ بِمَانِعٍ عَارِضٍ، فَإِذَا زَالَ ذَلِكَ الْمَانِعُ يَعُودُ حُكْمُ مَشْرُوعِيَّتِهِ. مِثَالٌ: إذَا اشْتَرَى شَخْصٌ شَيْئًا وَبَعْدَ حُصُولِ عَيْبٍ حَادِثٍ فِي ذَلِكَ الشَّيْءِ اطَّلَعَ عَلَى عَيْبٍ قَدِيمٍ فِيهِ فَحِينَئِذٍ لَا يَجُوزُ لِلْمُشْتَرِي رَدُّ الْمَبِيعِ، بَلْ لَهُ الرُّجُوعُ عَلَى الْبَائِعِ بِنُقْصَانِ الثَّمَنِ أَيْ فَرْقِ الثَّمَنِ فَقَطْ. فَإِذَا زَالَ ذَلِكَ الْعَيْبُ الْحَادِثُ الْمَانِعُ مِنْ رَدِّ الْمَبِيعِ فَلِلْمُشْتَرِي بَعْدَ أَنْ يُعِيدَ لِلْبَائِعِ نُقْصَانَ الثَّمَنِ رَدُّ الْمَبِيعِ بِالْعَيْبِ الْقَدِيمِ، كَذَلِكَ إذَا شَهِدَ صَبِيٌّ أَوْ أَعْمَى بِقَضِيَّةٍ وَرُدَّتْ شَهَادَتُهُ بِسَبَبِ الصِّغَرِ وَالْعَمَى، فَبَعْدَ بُلُوغِ الشَّاهِدِ أَوْ زَوَالِ الْعَمَى تُقْبَلُ شَهَادَتُهُ؛ لِأَنَّ الْمَانِعَ مِنْ قَبُولِ الشَّهَادَةِ كَانَ الْعَمَى وَصِغَرُ السِّنِّ. كَذَلِكَ إذَا اشْتَرَى شَخْصٌ فَرَسًا مِنْ آخَرَ بِخِيَارِ الرُّؤْيَةِ. وَبَعْدَ قَبْضِ الْمَبِيعِ وَلَدَتْ عِنْدَهُ فَلَيْسَ لِلْمُشْتَرِي رَدُّ الْمَبِيعِ بِخِيَارِ الرُّؤْيَةِ. أَمَّا إذَا مَاتَ الْمُهْرُ الْمَوْلُودُ فَيَكُونُ قَدْ زَالَ الْمَانِعُ فَيَعُودُ لِلْمُشْتَرِي حَقُّ الْخِيَارِ. كَذَلِكَ الْمُشْتَرِي إذَا غَرَسَ أَشْجَارًا فِي الْأَرْضِ الْمُشْتَرَاةِ أَوْ أَنْشَأَ فِيهَا بِنَاءً، فَلَا يَحِقُّ لِلْبَائِعِ طَلَبُ فَسْخِ الْبَيْعِ بِدَعْوَى وُجُودِ فَسَادٍ فِي الْعَقْدِ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ مُوجِبٌ لِضَرَرِ الْمُشْتَرِي. إذْ إنَّهُ يَقْتَضِي أَنْ يَقْلَعَ أَشْجَارَهُ أَوْ يَهْدِمَ بِنَاءَهُ.أَمَّا إذَا خُلِعَتْ الْأَشْجَارُ أَوْ هُدِمَ الْبِنَاءُ بِآفَةٍ أَوْ مِنْ الْمُشْتَرِي نَفْسِهِ يَحِقُّ لِلْبَائِعِ أَنْ يَدَّعِيَ بِفَسَادِ الْبَيْعِ، وَيَطْلُبَ فَسْخَ الْعَقْدِ لِزَوَالِ الْمَانِعِ. كَذَلِكَ بَيْعُ الْمُكْرَهِ لَا يَكُونُ نَافِذًا، وَالسَّبَبُ فِي ذَلِكَ الْمُحَافَظَةُ عَلَى مَالِ الْمُكْرَهِ، إذْ لَا يَجُوزُ إخْرَاجُهُ مِنْ حَوْزَةِ صَاحِبِهِ إلَّا بِرِضَاءٍ مِنْهُ، أَمَّا إذَا أَجَازَهُ الْمُكْرَهُ بِرِضَائِهِ بَعْدَ زَوَالِ الْإِكْرَاهِ يُصْبِحُ الْبَيْعُ نَافِذًا. كَذَلِكَ التَّنَاقُضُ مَانِعٌ مِنْ سَمَاعِ الدَّعْوَى، فَإِذَا تَنَاقَضَ شَخْصٌ فِي دَعْوَاهُ لَا تُسْمَعُ مِنْهُ الدَّعْوَى الثَّانِيَةُ إلَّا أَنَّهُ بِتَصْدِيقِ الْخَصْمِ أَوْ تَكْذِيبِ الْحَاكِمِ يَزُولُ التَّنَاقُضُ وَتُصْبِحُ الدَّعْوَى الثَّانِيَةُ مَسْمُوعَةً لِزَوَالِ الْمَانِعِ.
[ (ধারা ২৩) ওজরের কারণে যা বৈধ হয়, তা ওজর দূর হলে বাতিল হয়ে যায়।]
(ধারা ২৩) :
ওজরের (অজুহাত বা কারণ) ভিত্তিতে যা বৈধ হয়, সেই ওজর দূরীভূত হলে তার বৈধতা বাতিল হয়ে যায়।
অর্থাৎ: যেসব বিষয় ওজর ও প্রয়োজনের (জরুরত) ওপর ভিত্তি করে বৈধ করা হয়, সেই ওজর ও প্রয়োজনগুলো যখন দূর হয়ে যায়, তখন সেগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈধতাও বাতিল হয়ে যায়।
এর উদাহরণ হলো: সাক্ষীর সাক্ষ্য (শাহাদাত আলাশ শাহাদাহ) কেবল তখনই বৈধ করা হয়েছে যখন মূল সাক্ষী কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা দূরবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে বিচারিক মজলিসে উপস্থিত হতে সক্ষম হন না। উদাহরণস্বরূপ: যদি মূল সাক্ষী তার অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করেন অথবা অনুপস্থিত ব্যক্তি সফর থেকে ফিরে আসেন, তবে সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে অন্য কারো সাক্ষ্য দেওয়া আর বৈধ থাকবে না। তদ্রূপ, ভাড়া করা বস্তুতে কোনো নতুন ত্রুটি দেখা দিলে ভাড়াটিয়ার ইজারা (ভাড়া চুক্তি) বাতিলের অধিকার রয়েছে; কিন্তু যদি ইজারা বাতিলের পূর্বেই মালিক সেই ত্রুটি দূর করে দেয়, তবে ইজারা বাতিলের আর কোনো অবকাশ থাকে না। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে ঘর ভাড়া নেয় এবং মালিক একটি কক্ষে তার মালামাল রেখে দেয় ও কক্ষটি হস্তান্তর না করে, তবে এক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার ইজারা বাতিল করার বা তা বহাল রাখার ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) থাকে। কিন্তু ভাড়াটিয়া ইজারা বাতিল করার পূর্বেই যদি মালিক কক্ষটি খালি করে দেয়, তবে ভাড়াটিয়ার আর তা বাতিলের অধিকার থাকবে না; কারণ যে ওজরের ওপর ভিত্তি করে ভাড়াটিয়ার ইজারা বাতিলের অধিকার জন্মেছিল, তা দূর হয়ে গেছে।
[ (ধারা ২৪) বাধা দূরীভূত হলে নিষিদ্ধ বিষয়টি পুনরায় ফিরে আসে।]
(ধারা ২৪) :
বাধা দূরীভূত হলে নিষিদ্ধ বিষয়টি পুনরায় ফিরে আসে।
অর্থাৎ: যদি কোনো বিষয় বৈধ ও শরয়িভাবে সিদ্ধ হয়, অতঃপর কোনো আপতিক বাধার কারণে তার বৈধতার বিধান রহিত হয়ে যায়, তবে সেই বাধা দূর হয়ে গেলে তার বৈধতার বিধান পুনরায় ফিরে আসে। উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো জিনিস ক্রয় করে এবং তাতে নতুন কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হওয়ার পর সে জিনিসটির আগের কোনো পুরাতন ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারে, তবে এক্ষেত্রে ক্রেতার জন্য বিক্রীত পণ্যটি ফেরত দেওয়া বৈধ নয়; বরং সে বিক্রেতার নিকট থেকে কেবল মূল্যের ঘাটতি বা মূল্যের পার্থক্য দাবি করতে পারে। কিন্তু যদি পণ্যটি ফেরত দেওয়ার পথে প্রতিবন্ধক সেই নতুন ত্রুটিটি দূর হয়ে যায়, তবে ক্রেতা বিক্রেতাকে সেই মূল্যের ঘাটতি ফেরত দেওয়ার পর পুরাতন ত্রুটির কারণে পণ্যটি ফেরত দিতে পারবে। অনুরূপভাবে, যদি কোনো নাবালক বা অন্ধ ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় এবং তার শৈশব বা অন্ধত্বের কারণে সাক্ষ্যটি প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে সাক্ষী সাবালক হওয়ার পর বা অন্ধত্ব দূর হওয়ার পর তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে; কারণ সাক্ষ্য গ্রহণের বাধা ছিল অন্ধত্ব ও শৈশব। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি দেখার শর্তে (খিয়ারুর রুইয়াত) কারো কাছ থেকে একটি ঘোড়া ক্রয় করে এবং তা হস্তগত করার পর সেটি বাচ্চা প্রসব করে, তবে ক্রেতার জন্য খিয়ারুর রুইয়াতের ভিত্তিতে ঘোড়াটি ফেরত দেওয়ার অধিকার থাকবে না। কিন্তু যদি সেই নবজাতক বাচ্চাটি মারা যায়, তবে বাধা দূর হয়ে গেল এবং ক্রেতার পুনরায় খিয়ার বা পছন্দের অধিকার ফিরে আসবে। তদ্রূপ, ক্রেতা যদি ক্রয়কৃত জমিতে বৃক্ষরোপণ করে বা দালান নির্মাণ করে, তবে চুক্তিতে কোনো ত্রুটি (ফাসাদ) থাকার অজুহাতে বিক্রেতার জন্য বিক্রয় চুক্তি বাতিলের দাবি করার অধিকার থাকে না; কারণ এতে ক্রেতার ক্ষতি সাধিত হবে। যেহেতু এর জন্য তার গাছ উপড়ে ফেলা বা দালান ভেঙে ফেলার প্রয়োজন পড়বে।
কিন্তু যদি কোনো দুর্যোগের কারণে বা ক্রেতার নিজের মাধ্যমে গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয় অথবা দালানটি ভেঙে ফেলা হয়, তবে বাধা দূর হওয়ার কারণে বিক্রেতার জন্য বিক্রয় চুক্তি ফাসাদ হওয়ার দাবি করা এবং চুক্তি বাতিলের আবেদন করার অধিকার ফিরে আসবে। অনুরূপভাবে, জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির (মুকরাহ) বিক্রয় কার্যকর হয় না। এর কারণ হলো জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির সম্পদ রক্ষা করা; কেননা মালিকের সন্তুষ্টি ছাড়া তার মালিকানা থেকে কোনো কিছু বের করে নেওয়া বৈধ নয়। তবে যদি জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগ দূর হওয়ার পর সে স্বেচ্ছায় তা অনুমোদন করে, তবে সেই বিক্রয় কার্যকর হয়ে যাবে। একইভাবে, বক্তব্যের স্ববিরোধিতা (তানা কুজ) মামলা শ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। তাই যদি কোনো ব্যক্তি তার দাবিতে স্ববিরোধী কথা বলে, তবে তার দ্বিতীয় দাবিটি শোনা হবে না। কিন্তু যদি বিবাদী তা স্বীকার করে নেয় অথবা বিচারক কর্তৃক স্ববিরোধিতা নিরসন করা হয়, তবে বাধা দূর হওয়ার কারণে দ্বিতীয় দাবিটি শ্রবণযোগ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪০)
[ (الْمَادَّةُ 25) الضَّرَرُ لَا يُزَالُ بِمِثْلِهِ](الْمَادَّةُ 25) :الضَّرَرُ لَا يُزَالُ بِمِثْلِهِ.وَلَا بِأَكْثَرَ مِنْهُ بِالْأَوْلَى إذًا يُشْتَرَطُ بِأَنْ يُزَالُ الضَّرَرُ بِلَا إضْرَارٍ بِالْغَيْرِ إنْ أَمْكَنَ وَإِلَّا فَبِأَخَفَّ مِنْهُ. مِثَالٌ: لَوْ أَنَّ شَخْصًا فَتَحَ حَانُوتًا فِي سُوقٍ وَجَلَبَ أَكْثَرَ الْمُشْتَرِينَ لِجَانِبِهِ بِصُورَةٍ أَوْجَبَتْ الْكَسَادَ عَلَى بَاقِي التُّجَّارِ، فَلَا يَحِقُّ لِلتُّجَّارِ أَنْ يُطَالِبُوا بِمَنْعِ ذَلِكَ التَّاجِرِ عَنْ الْمُتَاجَرَةِ بِدَاعِي أَنَّهُ يَضُرُّ بِمَكَاسِبِهِمْ؛ لِأَنَّ مَنْعَ ذَلِكَ التَّاجِرِ عَنْ التِّجَارَةِ هُوَ ضَرَرٌ بِقَدْرِ الضَّرَرِ الْحَاصِلِ لِلتُّجَّارِ الْآخَرِينَ. كَذَلِكَ الشَّرِكَةُ بِالْأَمْوَالِ هِيَ ضَرَرٌ وَلِذَلِكَ قَدْ جُوِّزَتْ الْقِسْمَةُ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ إزَالَةً لِلضَّرَرِ، وَالْحَاكِمُ عِنْدَ الْإِيجَابِ يَحْكُمُ بِالْمُقَاسَمَةِ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ جَبْرًا. أَمَّا إذَا كَانَ الْمَالُ الْمُشْتَرَكُ طَاحُونًا وَطَلَبَ أَحَدُ الشُّرَكَاءِ تَقْسِيمَهُ، فَلِأَنَّ تَقْسِيمَ الطَّاحُونِ يُوجِبُ ضَرَرَ الشُّرَكَاءِ الْآخَرِينَ الَّذِينَ يَرْفُضُونَ الْمُقَاسَمَةَ، فَالْحَاكِمُ لَا يُجِيزُ الشُّرَكَاءَ عَلَى الْمُقَاسَمَةِ حَيْثُ يَكُونُ قَدْ أَزَالَ الضَّرَرَ بِمِثْلِهِ أَوْ بِأَكْثَرَ مِنْهُ. كَذَلِكَ يَجُوزُ لِمَنْ تَحَقَّقَ الْهَلَاكَ جُوعًا أَنْ يَأْخُذَ مِنْ غَيْرِهِ مَا يَدْفَعُ بِهِ الْهَلَاكَ عَنْ نَفْسِهِ غَصْبًا. لَكِنْ لَوْ كَانَ صَاحِبُ الْمَالِ مُحْتَاجًا إلَيْهِ كَاحْتِيَاجِهِ لَهُ وَبِأَخْذِهِ مِنْهُ يُصْبِحُ مَعْرَضًا لِلْهَلَاكِ أَيْضًا لَا يَحِقُّ لَهُ أَنْ يَأْخُذَهُ مِنْهُ، إذْ إنَّهُ بِدَفْعِ ضَرَرِهِ يَجْلِبُ ضَرَرًا لِغَيْرِهِ مُسَاوِيًا لِضَرَرِهِ. كَذَلِكَ إذَا ظَهَرَ فِي الْمَبِيعِ عَيْبٌ عِنْدَ الْمُشْتَرِي لَا يَحِقُّ لَهُ رَدُّ الْمَبِيعِ لِوُجُودِ عَيْبٍ قَدِيمٍ فِيهِ، إلَّا أَنَّهُ يَحِقُّ لِلْمُشْتَرِي أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الْبَائِعِ بِنُقْصَانِ الثَّمَنِ أَيْ بِالْفَرْقِ بَيْنَ قِيمَةِ الْمَبِيعِ مَعِيبًا، وَقِيمَتِهِ سَالِمًا. [ (الْمَادَّةُ 26) يُتَحَمَّلُ الضَّرَرُ الْخَاصُّ لِدَفْعِ ضَرَرٍ عَامٍّ](الْمَادَّةُ 26) :يُتَحَمَّلُ الضَّرَرُ الْخَاصُّ لِدَفْعِ ضَرَرٍ عَامٍّ.بِمَا أَنَّ الضَّرَرَ الْخَاصَّ لَا يَكُونُ مِثْلَ الضَّرَرِ الْعَامِّ، بَلْ دُونَهُ فَيُدْفَعُ الضَّرَرُ الْعَامُّ بِهِ، فَمَنْعُ الطَّبِيبِ الْجَاهِلِ وَالْمُفْتِي الْمَاجِنِ وَالْمُكَارِي الْمُفْلِسِ مِنْ مُزَاوَلَةِ صِنَاعَتِهِمْ ضَرَرٌ لَهُمْ إلَّا أَنَّهُ خَاصٌّ بِهِمْ، وَلَكِنْ لَوْ تُرِكُوا وَشَأْنَهُمْ يَحْصُلُ مِنْ مُزَاوَلَتِهِمْ صِنَاعَتَهُمْ ضَرَرٌ عَامٌّ كَإِهْلَاكِ كَثِيرٍ مِنْ النَّاسِ بِجَهْلِ الطَّبِيبِ، وَتَضْلِيلِ الْعِبَادِ مَعَ تَشْوِيشٍ كَثِيرٍ فِي الدِّينِ بِمُجُونِ الْمُفْتِي، وَغِشِّ النَّاسِ مِنْ الْمُكَارِي، وَكَذَلِكَ جَوَازُ هَدْمِ الْبَيْتِ الَّذِي يَكُونُ أَمَامَ الْحَرِيقِ مَنْعًا لِسِرَايَةِ النَّارِ. كَذَلِكَ إذَا كَانَتْ أَبْنِيَةٌ آيِلَةٌ لِلسُّقُوطِ وَالِانْهِدَامِ يُجْبَرُ صَاحِبُهَا عَلَى هَدْمِهَا خَوْفًا مِنْ وُقُوعِهَا عَلَى الْمَارَّةِ. كَمَا أَنَّهُ يَجُوزُ تَحْدِيدُ أَسْعَارِ الْمَأْكُولَاتِ عِنْدَ طَمَعِ التُّجَّارِ فِي زِيَادَةِ الْأَرْبَاحِ زِيَادَةً تَضُرُّ بِمَصَالِحِ الْعَامَّةِ، وَكَذَلِكَ يُمْنَعُ إخْرَاجُ بَعْضِ الذَّخَائِرِ وَالْغِلَالِ مِنْ بَلْدَةٍ لِأُخْرَى، إذَا كَانَ فِي إخْرَاجِهَا ارْتِفَاعُ الْأَسْعَارِ فِي الْبَلْدَةِ. وَكَذَلِكَ يُمْنَعُ الطَّبَّاخُ مِنْ فَتْحِ دُكَّانِهِ فِي سُوقِ التُّجَّارِ خَوْفًا مِنْ لُحُوقِ التَّلَفِ بِبَضَائِعِ التُّجَّارِ مِنْ دُخَانِ طَعَامِهِ [ (الْمَادَّةُ 27) الضَّرَرُ الْأَشَدُّ يُزَالُ بِالضَّرَرِ الْأَخَفِّ](الْمَادَّةُ 27) :الضَّرَرُ الْأَشَدُّ يُزَالُ بِالضَّرَرِ الْأَخَفِّ.يَعْنِي أَنَّ الضَّرَرَ تَجُوزُ إزَالَتُهُ بِضَرَرٍ يَكُونُ أَخَفَّ مِنْهُ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُزَالَ بِمِثْلِهِ أَوْ بِأَشَدَّ مِنْهُ حَسْبَ مَا وَضَّحْنَا بِالْمَوَادِّ السَّابِقَةِ. مِثَالٌ: إذَا أَحْدَثَ الْمُشْتَرِي فِي الْعَقَارِ الْمَشْفُوعِ أَبْنِيَةً، فَلَوْ أُجْبِرَ الْمُشْتَرِي وَالْحَالَةُ هَذِهِ عَلَى قَلْعِهَا وَتَسْلِيمِ الْعَقَارِ الْمَشْفُوعِ لِلشَّفِيعِ يَتَضَرَّرُ الْمُشْتَرِي، كَمَا أَنَّهُ إذَا أُجْبِرَ الشَّفِيعُ عَلَى أَخْذِ الْمَشْفُوعِ مَعَ دَفْعِ قِيمَةِ الْبِنَاءِ الَّذِي أَحْدَثَهُ الْمُشْتَرِي يَتَضَرَّرُ أَيْضًا بِإِجْبَارِهِ عَلَى دَفْعِ نُقُودٍ ثَمَنًا
[ (ধারা ২৫) ক্ষতিকে তার অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না।]
(ধারা ২৫) :ক্ষতিকে তার অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না।এমনকি এর চেয়ে বড় ক্ষতি দ্বারা দূর করা তো আরও অনুচিত। সুতরাং শর্ত হলো, সম্ভব হলে অন্য কারোর ক্ষতি না করে ক্ষতি দূর করতে হবে, অন্যথায় তুলনামূলক লঘুতর ক্ষতির মাধ্যমে তা দূর করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি বাজারে একটি দোকান খোলে এবং অধিকাংশ ক্রেতাকে নিজের দিকে এমনভাবে আকৃষ্ট করে যার ফলে অন্য ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়, তবে অন্য ব্যবসায়ীদের সেই ব্যক্তির ব্যবসা বন্ধ করার দাবি করার অধিকার নেই এই অজুহাতে যে, সে তাদের উপার্জনে ক্ষতি করছে; কারণ ঐ ব্যবসায়ীকে ব্যবসা থেকে বিরত রাখা হলো অন্য ব্যবসায়ীদের হওয়া ক্ষতির সমপরিমাণ একটি ক্ষতি। একইভাবে সম্পদের অংশীদারিত্ব একটি ক্ষতি, তাই ক্ষতি দূর করার জন্য অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন ব্যবস্থা বৈধ করা হয়েছে এবং বিচারক প্রয়োজনে অংশীদারদের মধ্যে বাধ্যতামূলক বণ্টনের রায় দেন। তবে অংশীদারী সম্পদটি যদি একটি যাতা (আটা পিষার কল) হয় এবং এক অংশীদার তা বণ্টনের দাবি করে, যেহেতু যাতা বণ্টন করলে অন্য অংশীদারদের ক্ষতি হবে যারা বণ্টন করতে অসম্মত, তাই বিচারক এক্ষেত্রে অংশীদারদের বণ্টনের অনুমতি দেবেন না; কারণ এতে ক্ষতিকে তার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বড় ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা হবে। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি ক্ষুধার কারণে নিশ্চিত ধ্বংস বা মৃত্যুর সম্মুখীন, সে নিজের প্রাণ বাঁচাতে অন্যের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য জোরপূর্বক গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যদি সম্পদের মালিকের নিজেরও সেই খাদ্যের তেমনি প্রয়োজন থাকে এবং তা নিয়ে নিলে সেও ধ্বংসের সম্মুখীন হয়, তবে ঐ ব্যক্তির জন্য মালিকের কাছ থেকে তা নেয়া জায়েজ হবে না; কারণ এক্ষেত্রে সে নিজের ক্ষতি দূর করতে গিয়ে অন্যের ওপর নিজের সমপরিমাণ ক্ষতি বয়ে আনছে। একইভাবে, যদি ক্রেতার নিকট থাকাকালীন বিক্রিত বস্তুতে কোনো দোষ প্রকাশ পায়, তবে পূর্বতন দোষের কারণে বস্তুটিকে ফেরত দেওয়ার অধিকার তার থাকবে না; তবে ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে মূল্যের ঘাটতি তথা দোষযুক্ত বস্তুর মূল্য এবং ত্রুটিমুক্ত বস্তুর মূল্যের পার্থক্য দাবি করার অধিকার রাখবে। [ (ধারা ২৬) সাধারণ ক্ষতি দূর করার জন্য বিশেষ ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে।]
(ধারা ২৬) :সাধারণ ক্ষতি দূর করার জন্য বিশেষ ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে।যেহেতু বিশেষ বা ব্যক্তিগত ক্ষতি সাধারণ ক্ষতির সমতুল্য নয় বরং তার চেয়ে কম, তাই এর মাধ্যমে সাধারণ ক্ষতি দূর করা হয়। যেমন: মূর্খ ডাক্তার, দায়িত্বজ্ঞানহীন পাপাচারী মুফতি এবং প্রতারক বা দেউলিয়া ভাড়াটে পরিবহনকারীকে তাদের পেশা পরিচালনা থেকে বিরত রাখা তাদের জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতি হলেও, তাদের যদি নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তাদের পেশার কারণে সাধারণ ক্ষতি সাধিত হবে। যেমন ডাক্তারের অজ্ঞতায় বহু মানুষের প্রাণহানি, পাপাচারী মুফতির মাধ্যমে দ্বীনি বিষয়ে বিশৃঙ্খলা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং পরিবহনকারীর মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা। একইভাবে, আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আগুনের সামনে অবস্থিত বাড়ি ভেঙে ফেলা বৈধ। তদ্রূপ কোনো দালান যদি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তবে পথচারীদের ওপর পড়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় মালিককে তা ভেঙে ফেলতে বাধ্য করা হবে। যেমন ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থীভাবে বেড়ে গেলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া বৈধ। একইভাবে কোনো শহর থেকে খাদ্যশস্য বা রসদ অন্য শহরে পাঠানো নিষিদ্ধ করা যাবে, যদি তা পাঠানোর ফলে ঐ শহরে দাম অত্যধিক বেড়ে যায়। তদ্রূপ কোনো বাবুর্চিকে ব্যবসায়ীদের বাজারে দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হবে এই আশঙ্কায় যে, তার রান্নার ধোঁয়ায় ব্যবসায়ীদের পণ্যের ক্ষতি হতে পারে। [ (ধারা ২৭) অধিকতর গুরুতর ক্ষতিকে লঘুতর ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা হবে।]
(ধারা ২৭) :অধিকতর গুরুতর ক্ষতিকে লঘুতর ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা হবে।অর্থাৎ, ক্ষতিকে তার চেয়ে হালকা বা লঘু ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা বৈধ, কিন্তু তার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে কঠিন ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা বৈধ নয়, যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী ধারাগুলোতে স্পষ্ট করেছি। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ক্রেতা অগ্রক্রয়ের (শুফআ) অধিকারভুক্ত স্থাবর সম্পত্তিতে কোনো দালান নির্মাণ করে, এমতাবস্থায় ক্রেতাকে সেই স্থাপনা উপড়ে ফেলতে এবং অগ্রক্রয়কারীকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করা হলে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার অগ্রক্রয়কারীকে ক্রেতার নির্মিত দালানের মূল্য পরিশোধ করে সম্পত্তি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হলে সেও অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪১)
لِلْبِنَاءِ الْمُحْدَثِ زِيَادَةً عَنْ قِيمَةِ الْمَشْفُوعِ، إلَّا أَنَّ هَذَا الضَّرَرَ أَخَفُّ مِنْ ضَرَرِ الْمُشْتَرِي فِيمَا لَوْ أَجْبَرْنَاهُ عَلَى قَلْعِ الْبِنَاءِ، إذْ يَضِيعُ مَا أَنْفَقَهُ عَلَى الْبِنَاءِ بِلَا مُقَابِلٍ بِخِلَافِ الشَّفِيعِ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ مُقَابِلَ الثَّمَنِ الَّذِي يَدْفَعُهُ الْبِنَاءَ أَوْ الشَّجَرَ. إذًا فَضَرَرُ الشَّفِيعِ أَخَفُّ مِنْ ضَرَرِ الْمُشْتَرِي فَيُخْتَارُ وَيُكَلَّفُ ذَلِكَ الشَّفِيعُ بِأَخْذِ الْأَبْنِيَةِ وَدَفْعِ الْقِيمَةِ لِلْمُشْتَرِي. كَذَلِكَ إذَا دَخَّلَ فَرَسٌ " تُسَاوِي قِيمَتُهٌ ثَلَاثِينَ جُنَيْهًا " رَأْسَهُ فِي إنَاءِ شَخْصٍ تُسَاوِي قِيمَتُهُ ثَلَاثَ جُنَيْهَاتٍ مَثَلًا وَلَا يُمْكِنُ إخْرَاجُ رَأْسِ الْفَرَسِ مِنْ الْإِنَاءِ إلَّا بِكَسْرِهِ فَخَوْفًا مِنْ مَوْتِ الْفَرَسِ يَدْفَعُ صَاحِبُهُ قِيمَةَ الْإِنَاءِ لِصَاحِبِهِ وَيَكْسِرُهُ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ أَخَفُّ ضَرَرًا مِنْ مَوْتِ الْفَرَسِ كَمَا لَا يَخْفَى، كَذَلِكَ لَوْ كَانَ لِشَخْصٍ (رِيشَةُ) قَلَمٍ تُسَاوِي جُنَيْهَيْنِ وَسَقَطَتْ فِي دَوَاةٍ لِشَخْصٍ آخَرَ تُسَاوِي عَشَرَةَ قُرُوشٍ وَكَانَ غَيْرَ مُمْكِنٍ إخْرَاجُ الرِّيشَةِ بِدُونِ كَسْرِ الدَّوَاةِ، فَدَفْعًا لِلضَّرَرِ الْأَشَدِّ يُكَلَّفُ صَاحِبُ الرِّيشَةِ أَنْ يَدْفَعَ الْعَشَرَةَ الْقُرُوشَ لِيَكْسِرَ الدَّوَاةَ وَيَسْتَخْرِجَ رِيشَتَهُ. كَذَلِكَ لَوْ أَنَّ دَجَاجَةً اخْتَطَفَتْ لُؤْلُؤَةً لِأَحَدِ النَّاسِ تُسَاوِي مَبْلَغًا فَدَفْعًا لِلضَّرَرِ الْأَشَدِّ يَدْفَعُ صَاحِبُ اللُّؤْلُؤَةِ قِيمَةَ الدَّجَاجَةِ لِيَذْبَحَهَا وَيَسْتَخْلِصَ لُؤْلُؤَتَهُ. [ (الْمَادَّةُ 28) إذَا تَعَارَضَ مَفْسَدَتَانِ رُوعِيَ أَعْظَمُهُمَا ضَرَرًا بِارْتِكَابِ أَخَفِّهِمَا](الْمَادَّةُ 28) :إذَا تَعَارَضَ مَفْسَدَتَانِ رُوعِي أَعْظَمُهُمَا ضَرَرًا بِارْتِكَابِ أَخَفِّهِمَا.لِأَنَّ الضَّرُورَاتِ تُبِيحُ الْمَحْظُورَاتِ، كَمَا وَضَّحْنَا فِي الْمَادَّةِ 21، فَإِذَا وُجِدَ مَحْظُورَاتٌ وَكَانَ مِنْ الْوَاجِبِ أَوْ مِنْ الضَّرُورِيِّ ارْتِكَابُ أَحَدِ الضَّرَرَيْنِ فَيَلْزَمُ ارْتِكَابُ أَخَفِّهِمَا وَأَهْوَنِهِمَا، أَمَّا إذَا كَانَا مُتَسَاوِيَيْنِ فَيُرْتَكَبُ أَحَدُهُمَا لَا عَلَى التَّعْيِينِ، كَمَا لَوْ رَكِبَ رَجُلٌ فِي سَفِينَةٍ فَاحْتَرَقَتْ تِلْكَ السَّفِينَةُ فَهُوَ مُخَيَّرٌ بَيْنَ أَنْ يَبْقَى فِي السَّفِينَةِ وَبَيْنَ أَنْ يُلْقِيَ بِنَفْسِهِ إلَى الْبَحْرِ لِتَسَاوِي الْمَحْظُورَيْنِ عَلَى أَنَّهُ لَا يُعَدُّ فِي كِلَا الْحَالَيْنِ مُنْتَحِرًا وَلَا يَكُونُ آثِمًا. [ (الْمَادَّةُ 29) يُخْتَارُ أَهْوَنُ الشَّرَّيْنِ](الْمَادَّةُ 29) :يُخْتَارُ أَهْوَنُ الشَّرَّيْنِ.هَذِهِ الْمَادَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ قَاعِدَةِ (إنَّ مَنْ اُبْتُلِيَ بِبَلِيَّتَيْنِ يَأْخُذُ بِأَيَّتِهِمَا شَاءَ فَإِنْ اخْتَلَفَتَا يَخْتَارُ أَهْوَنَهُمَا؛ لِأَنَّ مُبَاشَرَةَ الْحَرَامِ لَا تَجُوزُ إلَّا لِلضَّرُورَةِ وَلَا ضَرُورَةَ فِي ارْتِكَابِ الزِّيَادَةِ) وَحَيْثُ إنَّ هَذِهِ الْمَادَّةَ عَيْنُ الْمَادَّةِ 28، فَلَا حَاجَةَ لِشَرْحِهَا. [ (الْمَادَّةُ 30) دَرْءُ الْمفَاسد أُولَى مِنْ جَلْبِ الْمَنَافِعِ](الْمَادَّةُ 30) :دَرْءُ الْمَفَاسِدِ أَوْلَى مِنْ جَلْبِ الْمَنَافِعِ.أَيْ: إذَا تَعَارَضَتْ مَفْسَدَةٌ وَمَصْلَحَةٌ يُقَدَّمُ دَفْعُ الْمَفْسَدَةِ عَلَى جَلْبِ الْمَصْلَحَةِ، فَإِذَا أَرَادَ شَخْصٌ مُبَاشَرَةَ عَمَلٍ يُنْتِجُ مَنْفَعَةً لَهُ، وَلَكِنَّهُ مِنْ الْجِهَةِ الْأُخْرَى يَسْتَلْزِمُ ضَرَرًا مُسَاوِيًا لِتِلْكَ الْمَنْفَعَةِ أَوْ أَكْبَرَ مِنْهَا يَلْحَقُ بِالْآخَرِينَ، فَيَجِبُ أَنْ يُقْلِعَ عَنْ إجْرَاءِ ذَلِكَ الْعَمَلِ دَرْءًا لِلْمَفْسَدَةِ الْمُقَدَّمِ دَفْعُهَا عَلَى جَلْبِ الْمَنْفَعَةِ؛ لِأَنَّ الشَّرْعَ اعْتَنَى بِالْمَنْهِيَّاتِ أَكْثَرَ مِنْ اعْتِنَائِهِ بِالْمَأْمُورِ بِهَا. مِثَالٌ: يُمْنَعُ الْمَالِكُ مِنْ التَّصَرُّفِ فِي مِلْكِهِ فِيمَا إذَا كَانَ تَصَرُّفُهُ يُورِثُ الْجَارَ ضَرَرًا فَاحِشًا أَوْ كَمَا سَيَجِيءُ فِي الْمَوَادِّ 192، 207، 1208 إلَّا
নব্য নির্মিত ইমারতের জন্য প্রাক-ক্রয়কৃত (শুফআহকৃত) সম্পদের মূল্যের অতিরিক্ত ব্যয় রয়েছে। তবে এই ক্ষতি ক্রেতাকে ভবনটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য করার ক্ষতির চেয়ে লঘুতর। কারণ এতে ভবন নির্মাণে তার ব্যয়কৃত অর্থ কোনো বিনিময় ছাড়াই বিনষ্ট হয়ে যাবে; পক্ষান্তরে অগ্রক্রয়কারী (শফী) ভবন বা বৃক্ষের জন্য যে মূল্য পরিশোধ করছে, তার বিনিময়ে সে সেগুলো লাভ করছে। সুতরাং শফীর ক্ষতি ক্রেতার ক্ষতির তুলনায় কম, তাই তা-ই গ্রহণ করা হবে এবং শফীকে ইমারতগুলো গ্রহণ করতে এবং ক্রেতাকে তার মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করা হবে। একইভাবে যদি কোনো ঘোড়া (যার মূল্য ত্রিশ পাউন্ড) তার মাথা এমন কোনো ব্যক্তির পাত্রে ঢুকিয়ে দেয় যার মূল্য ধরা যাক তিন পাউন্ড, এবং পাত্রটি না ভেঙে ঘোড়ার মাথা বের করা সম্ভব না হয়, তবে ঘোড়াটি মারা যাওয়ার ভয়ে তার মালিক পাত্রের মালিককে পাত্রের মূল্য পরিশোধ করবে এবং সেটি ভেঙে ফেলবে; কারণ ঘোড়াটি মারা যাওয়ার চেয়ে এটি লঘুতর ক্ষতি, যা সুস্পষ্ট। একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তির একটি কলমের নিব থাকে যার মূল্য দুই পাউন্ড এবং তা অন্য কোনো ব্যক্তির দোয়াতদানিতে পড়ে যায় যার মূল্য দশ পেনি, আর দোয়াতদানি না ভেঙে সেই নিবটি বের করা সম্ভব না হয়, তবে অধিকতর ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য নিবের মালিককে দশ পেনি পরিশোধ করতে বাধ্য করা হবে যাতে সে দোয়াতদানিটি ভেঙে তার নিবটি উদ্ধার করতে পারে। একইভাবে যদি কোনো মুরগি কারো একটি মূল্যবান মুক্তো গিলে ফেলে, তবে অধিকতর ক্ষতি এড়ানোর জন্য মুক্তোর মালিক মুরগির মূল্য পরিশোধ করবে যাতে সেটিকে জবাই করে তার মুক্তোটি উদ্ধার করতে পারে। [ (ধারা ২৮) যখন দুটি অনিষ্ট পরস্পর বিরোধী হয়, তখন তাদের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত লঘুতরটি করার মাধ্যমে বৃহত্তর ক্ষতিটি বিবেচনা (প্রতিহত) করা হবে](ধারা ২৮) :যখন দুটি অনিষ্ট বা ফাসাদ পরস্পর বিরোধী হয়, তখন লঘুতরটি করার মাধ্যমে বৃহত্তর ক্ষতিটি প্রতিহত করা হবে।কারণ প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে, যেমনটি আমরা ২১ নং ধারায় ব্যাখ্যা করেছি। সুতরাং যদি নিষিদ্ধ বিষয়াবলি বিদ্যমান থাকে এবং দুটির মধ্যে যেকোনো একটি ক্ষতি করা অপরিহার্য বা জরুরি হয়ে পড়ে, তবে লঘুতর এবং সহজতর ক্ষতিটি করা আবশ্যক। তবে যদি উভয়টি সমান হয়, তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি নয় বরং যেকোনো একটি করা যাবে। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি জাহাজে আরোহণ করে এবং সেই জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়, তবে সে জাহাজে অবস্থান করা অথবা সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার মধ্যে যেকোনোটি বেছে নিতে পারে; কারণ উভয় বিপদই সমান। এমতাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই তাকে আত্মহত্যাকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং সে গুনাহগারও হবে না। [ (ধারা ২৯) দুটি মন্দের মধ্যে লঘুতরটি বেছে নেওয়া হবে](ধারা ২৯) :দুটি মন্দের মধ্যে যেটি সহজতর, সেটিই বেছে নেওয়া হবে।এই ধারাটি নিম্নোক্ত নীতি থেকে গৃহীত: (নিশ্চয় যে ব্যক্তি দুটি বিপদে আক্রান্ত হয়, সে তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো একটি গ্রহণ করবে; আর যদি সেগুলো ভিন্নতর হয় তবে সে লঘুতরটি বেছে নেবে; কারণ হারামে লিপ্ত হওয়া কেবল প্রয়োজনের খাতিরেই বৈধ এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত হারামে লিপ্ত হওয়া কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়)। যেহেতু এই ধারাটি হুবহু ২৮ নং ধারার অনুরূপ, তাই এটি পুনরায় ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। [ (ধারা ৩০) অনিষ্ট দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য](ধারা ৩০) :অনিষ্ট দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অধিক উত্তম।অর্থাৎ: যখন কোনো অনিষ্ট এবং কোনো কল্যাণ পরস্পর বিরোধী হবে, তখন কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অনিষ্ট দূর করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কাজ করতে চায় যা তার জন্য লাভজনক কিন্তু অন্যদিকে তা অন্যের জন্য সমান বা তার চেয়ে বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয়, তবে অনিষ্ট দূর করার খাতিরে তাকে সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে; কারণ অনিষ্ট দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য। কেননা শরীয়ত আদেশ পালন করার চেয়ে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছে। উদাহরণস্বরূপ: মালিককে তার সম্পদের এমন ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হবে যা প্রতিবেশীর জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়, যেমনটি পরবর্তীতে ১৯২, ২০৭ এবং ১২০৮ নং ধারায় আসবে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪২)
أَنَّ الْمَنْفَعَةَ إذَا كَانَتْ فَائِدَتُهَا أَزْيَدَ بِكَثِيرٍ مِمَّا يَتَرَتَّبُ عَلَى الْمَفْسَدَةِ مِنْ الْأَضْرَارِ فَتُقَدَّمُ الْمَنْفَعَةُ، وَلَا يُنْظَرُ إلَى الْمَفْسَدَةِ الْقَلِيلَةِ مِثَالٌ: إنَّ التَّكَلُّمَ بِالْكَذِبِ مَفْسَدَةٌ، وَلَكِنْ إذَا أُرِيدَ بِهِ إصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ يَجُوزُ عَلَى قَدْرِ الْحَاجَةِ إلَيْهِ. كَذَلِكَ لَوْ أَرَادَ مُتَغَلِّبٌ ظَالِمٌ أَخْذَ الْوَدِيعَةِ مِنْ الْمُسْتَوْدَعِ غَصْبًا عَنْهُ فَلِلْمُسْتَوْدَعِ أَنْ يَكْذِبَ وَيُنْكِرَ وُجُودَ وَدِيعَةٍ عِنْدَهُ مُحَافَظَةً عَلَيْهَا [ (الْمَادَّةُ 31) الضَّرَرُ يُدْفَعُ بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ](الْمَادَّةُ 31) :الضَّرَرُ يُدْفَعُ بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ.يَعْنِي لَوْ دَخَلَ عَلَيْكَ سَارِقٌ مَثَلًا فَادْفَعْهُ عَنْكَ بِقَدْرِ إمْكَانِكَ، فَإِذَا كَانَ مِمَّنْ يَنْدَفِعُ بِالْعَصَا، فَلَا تَدْفَعْهُ بِالسَّيْفِ، كَذَا إذَا اغْتَصَبَ شَخْصٌ مَالَ آخَرَ وَاسْتَهْلَكَهُ فَلِأَنَّ إرْجَاعَ الْمَالِ الْمَغْصُوبِ الْمُسْتَهْلَكِ بِعَيْنِهِ غَيْرُ مُمْكِنٍ يَضْمَنُ الْغَاصِبُ مِثْلَ ذَلِكَ الْمَالِ إذَا كَانَ مِنْ الْمِثْلِيَّاتِ وَقِيمَتَهُ إنْ كَانَتْ مِنْ الْقِيَمِيَّاتِ. كَذَلِكَ إذَا حَصَلَ عَيْبٌ حَادِثٌ فِي الْمَبِيعِ عِنْدَ الْمُشْتَرِي، ثُمَّ ظَهَرَ عَيْبٌ لَهُ قَدِيمٌ فَلِأَنَّ الْعَيْبَ الْحَادِثَ مَانِعٌ لِلْمُشْتَرِي مِنْ أَنْ يَرُدَّ الْمَبِيعَ بِالْعَيْبِ الْقَدِيمِ فَيُزَالُ الضَّرَرُ بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ، وَذَلِكَ بِأَنْ يَرْجِعَ الْمُشْتَرِي عَلَى الْبَائِعِ بِنُقْصَانِ الثَّمَنِ. [ (الْمَادَّةُ 32) الْحَاجَةُ تُنَزَّلُ مَنْزِلَةَ الضَّرُورَةِ عَامَّةً أَوْخَاصَّةً](الْمَادَّةُ 32) :الْحَاجَةُ تُنَزَّلُ مَنْزِلَةَ الضَّرُورَةِ عَامَّةً أَوْ خَاصَّةً، وَمِنْ هَذَا الْقَبِيلِ تَجْوِيزُ الْبَيْعِ بِالْوَفَاءِ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا كَثُرَتْ الدُّيُونُ عَلَى أَهْلِ بُخَارَى مَسَّتْ الْحَاجَةُ إلَى ذَلِكَ وَصَارَ مَرْعِيًّا. هَذِهِ الْمَادَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنْ الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ. وَيُفْهَمُ مِنْهَا أَنَّ بَيْعَ الْوَفَاءِ كَانَ مَمْنُوعًا، وَقَدْ جُوِّزَ بِنَاءً عَلَى الضَّرُورَةِ؛ لِأَنَّ اسْتِفَادَةَ الْمُقْرِضِ زِيَادَةً عَنْ بَدَلِ الْقَرْضِ رِبًا وَمَمْنُوعٌ شَرْعًا، وَبَيْعُ الْوَفَاءِ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ غَيْرُ جَائِزٍ أَصْلًا، وَلَكِنْ حَسْبَ مَا هُوَ مَذْكُورٌ فِي هَذِهِ الْقَاعِدَةِ قَدْ اجْتَهَدَتْ الْفُقَهَاءُ بِنَاءً عَلَى احْتِيَاجِ أَهَالِي بُخَارَى فِي ذَلِكَ الزَّمَنِ تَجْوِيزَهُ. إنَّ تَجْوِيزَ بَيْعِ السَّلَمِ وَبَيْعِ الِاسْتِصْنَاعِ مُسْتَنِدٌ عَلَى هَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَيْضًا؛ لِأَنَّ بَيْعَ السَّلَمِ هُوَ بَيْعُ مَعْدُومٍ وَقِيَاسًا يَجِبُ أَنْ يَكُونَ بَيْعًا بَاطِلًا، وَلَكِنْ قَدْ جُوِّزَ بَيْعُ السَّلَمِ وَبَيْعُ الِاسْتِصْنَاعِ لِلِاحْتِيَاجِ وَالضَّرُورَةِ الْعُمُومِيَّةِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَخْفَى أَنَّ أَكْثَرَ الْفَلَّاحِينَ فِي غَالِبِ السِّنِينَ يُصْبِحُونَ بِاحْتِيَاجٍ شَدِيدٍ لِلنُّقُودِ قَبْلَ إدْرَاكِ مَحْصُولِهِمْ، فَدَفْعًا لِاحْتِيَاجِهِمْ هَذَا قَدْ جُوِّزَ بَيْعُ السَّلَمِ وَكَذَلِكَ جُوِّزَتْ أَيْضًا إجَارَةُ الِاغْتِسَالِ فِي الْحَمَّامِ مَعَ أَنَّهَا قِيَاسًا غَيْرُ جَائِزَةٍ؛ لِأَنَّ الْمَنْفَعَةَ فِيهَا مَجْهُولَةٌ وَغَيْرُ مُعَيَّنَةٍ؛ لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ تَعْيِينُ الْمُدَّةِ الَّتِي يَقْضِيهَا الْمُغْتَسِلُ فِي الْحَمَّامِ وَمِقْدَارِ الْمَاءِ الَّذِي يَصْرِفُهُ إلَّا أَنَّهُ لِلضَّرُورَةِ الْعُمُومِيَّةِ قَدْ جُوِّزَتْ، وَكَذَلِكَ وُجُودُ خِيَارِ التَّعْيِينِ بِالْمَبِيعِ يَجْعَلُ الْمَبِيعَ مَجْهُولًا، وَلَكِنْ قَدْ جُوِّزَ هَذَا الْمَبِيعُ بِنَاءً عَلَى الِاحْتِيَاجِ إلَيْهِ؛ لِأَنَّ بَعْضَ النَّاسِ لَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَشْتَرِيَ شَيْئًا بِدُونِ سُؤَالِ وَاسْتِشَارَةِ الْعَارِفِينَ [ (الْمَادَّةُ 33) الِاضْطِرَارُ لَا يُبْطِلُ حَقَّ الْغَيْرِ](الْمَادَّةُ 33) :الِاضْطِرَارُ لَا يُبْطِلُ حَقَّ الْغَيْرِ.مَعْنَى الِاضْطِرَارِ هُنَا الْإِجْبَارُ عَلَى فِعْلِ الْمَمْنُوعِ، وَالِاضْطِرَارُ عَلَى قِسْمَيْنِ: أَحَدُهُمَا يَنْشَأُ عَنْ سَبَبٍ
যদি কোনো উপকারের সুফল মফাসাদ বা অপকার থেকে উদ্ভূত ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি হয়, তবে সেই উপকারকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং সামান্য অপকারের দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে না। উদাহরণস্বরূপ: মিথ্যা বলা একটি অপকার, কিন্তু যদি এর মাধ্যমে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করার উদ্দেশ্য থাকে, তবে প্রয়োজনানুসারে তা বৈধ। একইভাবে, যদি কোনো জালিম ও জবরদখলকারী আমানত রক্ষাকারীর নিকট থেকে আমানতকৃত বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতে চায়, তবে তা রক্ষার জন্য আমানত রক্ষাকারীর জন্য মিথ্যা বলা এবং তার কাছে কোনো আমানত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা বৈধ। [ (ধারা ৩১) ক্ষতি যথাসম্ভব প্রতিহত করতে হবে](ধারা ৩১) :ক্ষতি যথাসম্ভব প্রতিহত করতে হবে।অর্থাৎ, উদাহরণস্বরূপ যদি কোনো চোর আপনার ঘরে প্রবেশ করে, তবে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে প্রতিহত করুন। যদি সে লাঠির মাধ্যমেই দমে যায়, তবে তাকে তলোয়ার দিয়ে প্রতিহত করবেন না। অনুরূপভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারও সম্পদ জবরদখল করে তা বিনাশ করে ফেলে, তবে যেহেতু সেই জবরদখলকৃত বিনষ্ট হওয়া মূল বস্তুটি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই জবরদখলকারী সেই সম্পদের সমজাতীয় হলে তার অনুরূপ বস্তু এবং মূল্যভিত্তিক হলে তার মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। একইভাবে, যদি ক্রেতার নিকট বিক্রিত বস্তুতে নতুন কোনো ত্রুটি দেখা দেয় এবং এরপর তাতে পুরাতন কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়, তবে যেহেতু নতুন ত্রুটির কারণে ক্রেতার পক্ষে পুরাতন ত্রুটির ভিত্তিতে বস্তুটি ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়, তাই যথাসম্ভব সেই ক্ষতি দূর করা হবে; আর তা হলো, ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে মূল্যের ঘাটতি বা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত নেবে। [ (ধারা ৩২) প্রয়োজনকে জরুরত বা আবশ্যকতা হিসেবে গণ্য করা হয়, চাই তা সাধারণ হোক বা বিশেষ](ধারা ৩২) :প্রয়োজনকে জরুরত বা আবশ্যকতা হিসেবে গণ্য করা হয়, চাই তা সাধারণ হোক বা বিশেষ। এই নীতির অন্তর্ভুক্ত হলো 'বাইউল ওয়াফা' (শর্তযুক্ত বিক্রয়) বৈধ হওয়া; কেননা বুখারা অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর যখন ঋণের বোঝা বেড়ে গিয়েছিল, তখন এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং এটি প্রচলিত হয়ে যায়। এই ধারাটি 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, বাইউল ওয়াফা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু জরুরতের ভিত্তিতে একে বৈধতা দেওয়া হয়েছে; কারণ ঋণদাতার ঋণের বিনিময়ের অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা হলো সুদ, যা শরীয়তে নিষিদ্ধ। মূলত বাইউল ওয়াফা এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা আদতে জায়েয নয়, কিন্তু এই মূলনীতির আলোকে তৎকালীন বুখারার অধিবাসীদের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে ফকীহগণ ইজতিহাদ করে একে বৈধতা দিয়েছেন। 'বাইউস সালাম' (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) এবং 'বাইউল ইসতিসনা' (অর্ডার দিয়ে পণ্য তৈরি) বৈধ হওয়াও এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে; কারণ বাইউস সালাম হলো অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রয়, যা কিয়াস বা যুক্তি অনুযায়ী বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সাধারণ প্রয়োজন ও জরুরতের তাগিদে বাইউস সালাম ও বাইউল ইসতিসনাকে বৈধ করা হয়েছে। কারণ এটি অস্পষ্ট নয় যে, অধিকাংশ কৃষক প্রায় প্রতি বছরই তাদের ফসল কাটার আগে অর্থের তীব্র সংকটে ভোগেন, তাই তাদের এই প্রয়োজন দূর করার জন্য বাইউস সালামকে বৈধ করা হয়েছে। একইভাবে হাম্মামে (গণগোসলখানায়) গোসল করার জন্য ভাড়া নির্ধারণ করাও বৈধ করা হয়েছে, যদিও কিয়াস অনুযায়ী তা জায়েয নয়; কারণ এখানে উপযোগ বা উপকারিতা অজ্ঞাত ও অনির্ধারিত। গোসলকারী কতক্ষণ সময় হাম্মামে ব্যয় করবে এবং কতটুকু পানি ব্যবহার করবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে সাধারণ জরুরতের কারণে একে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিক্রিত বস্তুতে 'খিয়ারুত তায়ীন' (পছন্দ করার অধিকার) থাকার ফলে বিক্রিত বস্তুটি অজ্ঞাত থেকে যায়, কিন্তু প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই বিক্রয়কেও বৈধ করা হয়েছে; কারণ কিছু মানুষের পক্ষে অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও জিজ্ঞাসা ছাড়া কোনো কিছু কেনা সম্ভব হয় না। [ (ধারা ৩৩) চরম নিরুপায় অবস্থা অন্যের অধিকার বাতিল করে দেয় না](ধারা ৩৩) :চরম নিরুপায় অবস্থা (ইজতিরার) অন্যের অধিকার বাতিল করে দেয় না।এখানে নিরুপায় অবস্থা বা ইজতিরার অর্থ হলো নিষিদ্ধ কাজ করতে বাধ্য হওয়া। ইজতিরার দুই প্রকার: একটি হলো কোনো কারণ থেকে উদ্ভূত...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
دَاخِلِيٍّ، يُقَالُ: لَهُ (سَمَاوِيٌّ) كَالْجُوعِ مَثَلًا.أَمَّا الْقِسْمُ الثَّانِي هُوَ الِاضْطِرَارُ النَّاشِئُ عَنْ سَبَبٍ خَارِجِيٍّ وَيُقَالُ لَهُ (اضْطِرَارِيٌّ غَيْرُ سَمَاوِيٍّ) وَهُوَ نَوْعَانِ الْإِكْرَاهُ الْمُلْجِئُ وَالْإِكْرَاهُ غَيْرُ الْمُلْجِئِ. وَاَلَّذِي يُفْهَمُ مِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ أَنَّهُ لَوْ أَصَابَ إنْسَانٌ مَالَ الْغَيْرِ بِنَاءً عَلَى الِاضْطِرَارِ الَّذِي يُجَوِّزُ لَهُ التَّصَرُّفَ بِمَالِ الْغَيْرِ، فَلَا تَكُونُ الْإِصَابَةُ النَّاشِئَةُ عَنْ الِاضْطِرَارِ سَبَبًا لَأَنْ يَكُونَ الْمُتْلِفُ غَيْرَ ضَامِنٍ، بَلْ يَجِبُ عَلَى الْمُسْتَهْلِكِ أَوْ الْمُتْلِفِ أَنْ يَضْمَنَ قِيمَةَ الْمَالِ الْمُتْلَفِ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ أَنَّ شَخْصًا جَاعَ جُوعًا شَدِيدًا وَأَصْبَحَ عُرْضَةً لِلتَّلَفِ أَيْ لِلْمَوْتِ فَلَهُ الْحَقُّ وَفْقًا لِلْمَادَّةِ 21، بِأَنْ يَأْخُذَ مِنْ طَعَامِ الْغَيْرِ مَا يَدْفَعُ بِهِ جُوعَهُ بِدُونِ إذْنِ صَاحِبِ الْمَالِ إلَّا أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ مِنْ الْجِهَةِ الْأُخْرَى أَنْ يَضْمَنَ قِيمَةَ الْمَالِ الْمُتْلَفِ، إذَا كَانَ مِنْ الْقِيَمِيَّاتِ، وَمِثْلَهُ إذَا كَانَ مِنْ الْمِثْلِيَّاتِ، وَلَا يَكُونُ الِاضْطِرَارُ عَلَى اسْتِهْلَاكِ ذَلِكَ الْمَالِ سَبَبًا لِلتَّخَلُّصِ مِنْ دَفْعِ قِيمَتِهِ، وَالْحَاصِلُ أَنَّ الِاضْطِرَارَ وَإِنْ أَبَاحَ لِلْمُضْطَرِّ تَنَاوَلَ وَإِتْلَافَ مَالِ الْغَيْرِ دُونَ أَنْ يَتَرَتَّبَ عَلَيْهِ عِقَابٌ لَا يَكُونُ سَبَبًا لِلْخَلَاصِ مِنْ الضَّمَانِ.وَكَذَا لَوْ هَجَمَ جَمَلٌ صَائِلٌ عَلَى شَخْصٍ وَأَصْبَحَتْ حَيَاتُهُ مُهَدَّدَةٌ فَلَهُ إتْلَافُ الْجَمَلِ تَخْلِيصًا لِحَيَاتِهِ مِنْ يَدِ الْهَلَاكِ، إلَّا أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَدْفَعَ قِيمَةَ الْجَمَلِ لِصَاحِبِهِ، وَهُنَا إذَا اُعْتُرِضَ بِقَاعِدَةِ أَنَّ الضَّرُورَاتِ مَا دَامَتْ تُبِيحُ الْمَحْظُورَاتِ فَيَجِبُ عَدَمُ الضَّمَانِ. فَرَدًّا عَلَى ذَلِكَ نَقُولُ الْقَصْدُ مِنْ الْإِبَاحَةِ هَذِهِ إنَّمَا هُوَ تَجْوِيزُ إتْلَافِ الْمَالِ بِدُونِ رِضَا صَاحِبِهِ، وَأَنْ لَا يُعَدَّ الْفَاعِلُ غَاصِبًا إلَّا أَنَّهُ مِنْ الْجِهَةِ الْأُخْرَى يَجِبُ الضَّمَانُ؛ لِأَنَّ الْإِبَاحَةَ لَا تَكُونُ سَبَبًا لِضَيَاعِ الْحُقُوقِ عَلَى ذَوِيهَا. وَكَذَلِكَ إذَا اسْتَأْجَرَ شَخْصٌ قَارِبًا سَاعَةً مِنْ الزَّمَنِ وَبَعْدَ أَنْ وَصَلَ إلَى عَرْضِ الْبَحْرِ انْقَضَتْ مُدَّةُ الْإِجَارَةِ، فَمُقْتَضَى الْقَاعِدَةِ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى الرَّاكِبِ أَنْ يُبَارِحَ الْقَارِبَ فِي الْحَالِ إلَّا إذَا رَضِيَ الْمُؤَجِّرُ أَنْ يُؤَجِّرَهُ ثَانِيَةً، وَلَكِنْ بِمَا أَنَّهُ يُوجَدُ هُنَا اضْطِرَارٌ فَصَاحِبُ السَّفِينَةِ مُجْبَرٌ عَلَى أَنْ يَبْقَى الْمُسْتَأْجِرُ فِي الْقَارِبِ حَتَّى يَخْرُجَ بِهِ إلَى الْبَرِّ، وَلَكِنَّ هَذَا الْإِجْبَارَ لَا يَمْنَعُ الْمُؤَجِّرَ مِنْ أَنْ يُطَالِبَ الْمُسْتَأْجِرَ بِدَفْعِ أُجْرَةِ الْمِثْلِ عَنْ الْمُدَّةِ الزَّائِدَةِ وَفْقًا لِلْمَادَّةِ (1007) النَّاصَّةِ عَلَى أَنَّ الضَّمَانَ فِي الْإِكْرَاهِ الْمُلْجِئِ عَلَى الْمُجْبِرِ وَفِي غَيْرِ الْمُلْجِئِ عَلَى الْمُكْرَهِ، وَوُجُودُ الْإِكْرَاهِ عَلَى إتْلَافِ الْمَالِ لَا يُضَيِّعُ حَقَّ صَاحِبِ الْمَالِ فِي تَضْمِينِ قِيمَةِ مَالِهِ الْمُتْلَفِ. [ (الْمَادَّةُ 34) مَا حَرُمَ أَخْذُهُ حَرُمَ إعْطَاؤُهُ](الْمَادَّةُ 34) :مَا حَرُمَ أَخْذُهُ حَرُمَ إعْطَاؤُهُ.يَعْنِي أَنَّ إعْطَاءَ الْحَرَامِ وَأَخْذَهُ سَوَاءٌ فِي الْحُرْمَةِ، كَمَا أَنَّ الْمَكْرُوهَ أَخْذُهُ وَإِعْطَاؤُهُ مَكْرُوهٌ فَالرِّشْوَةُ مَثَلًا، كَمَا حَرُمَ أَخْذُهَا حَرُمَ إعْطَاؤُهَا مِنْ الرَّاشِي حَتَّى لَوْ دَفَعَ الْوَصِيُّ فِي دَعْوَةِ الْقَاصِرِ رِشْوَةً لِلْحَاكِمِ مِنْ مَالِ الْقَاصِرِ يَضْمَنُ، وَكَذَلِكَ أَخْذُ الدَّجَّالِ الَّذِي يَفْتَحُ الْبَخْتَ وَالْأَشْخَاصِ الْمُشَعْوِذِينَ دَرَاهِمَ مِنْ النَّاسِ مَمْنُوعٌ وَحَرَامٌ، كَمَا أَنَّ إعْطَاءَ النَّاسِ لَهُمْ مَمْنُوعٌ وَحَرَامٌ أَيْضًا، وَكَذَا النَّائِحَةُ أَخْذُهَا وَإِعْطَاؤُهَا الْأُجْرَةَ حَرَامٌ وَمَمْنُوعٌ. " مُسْتَثْنَيَاتٌ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ " إنَّ لِهَذِهِ الْقَاعِدَةِ مُسْتَثْنَيَاتٍ، وَهِيَ: لَوْ اغْتَصَبَ غَاصِبٌ مَالَ قَاصِرٍ فَيَحِقُّ لِلْوَصِيِّ أَنْ يُعْطِيَ
অভ্যন্তরীণ, একে বলা হয় (আসমানী) যেমন উদাহরণস্বরূপ ক্ষুধা।আর দ্বিতীয় প্রকার হলো বাহ্যিক কারণ থেকে উদ্ভূত নিরুপায় অবস্থা এবং একে বলা হয় (অ-আসমানী নিরুপায় অবস্থা), যা দুই প্রকার: নিরঙ্কুশ জবরদস্তি এবং আংশিক জবরদস্তি। এই নীতি থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এমন নিরুপায় অবস্থার প্রেক্ষিতে অন্যের সম্পদের ক্ষতি করে যা তাকে অন্যের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে নিরুপায় অবস্থার কারণে সৃষ্ট সেই ক্ষতি বিনাশকারীর দায়মুক্তি ঘটাবে না। বরং ব্যবহারকারী বা বিনাশকারীর ওপর ধ্বংসকৃত মালের মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব।এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধার্ত হয় এবং ধ্বংস অর্থাৎ মৃত্যুর সম্মুখীন হয়, তবে ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার জন্য অন্যের খাবার থেকে নিজের ক্ষুধা নিবারণের পরিমাণ গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে, যদিও তা মালের মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে হয়। তবে অন্যদিকে তার ওপর ধ্বংসকৃত মালের মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব হবে যদি তা মূল্যভিত্তিক বস্তু হয়, আর সমজাতীয় বস্তু হলে তার অনুরূপ দিতে হবে। সেই মাল ব্যবহারের জন্য নিরুপায় হওয়া তার মূল্য পরিশোধ থেকে রেহাই পাওয়ার কারণ হবে না। সারকথা হলো, নিরুপায় অবস্থা যদিও নিরুপায় ব্যক্তিকে শাস্তি ভোগ করা ব্যতিরেকে অন্যের মাল গ্রহণ ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়, কিন্তু তা ক্ষতিপূরণ বা দায় থেকে মুক্তির কারণ হয় না।অনুরূপভাবে, যদি কোনো আক্রমণাত্মক উট কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করে এবং তার জীবন বিপন্ন হয়, তবে ধ্বংসের হাত থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে তার জন্য উটটি ধ্বংস করা বৈধ। তবে উটের মালিককে তার মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব। এখানে যদি এই আপত্তি তোলা হয় যে, 'জরুরি অবস্থা যেহেতু নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে', তাই ক্ষতিপূরণ থাকা উচিত নয়; তবে এর উত্তরে আমরা বলব, এই বৈধতার উদ্দেশ্য হলো মালিকের সন্তুষ্টি ছাড়াই মাল ধ্বংস করাকে জায়েজ করা এবং যেন কর্তাকে অন্যায়ভাবে দখলকারী গণ্য করা না হয়। কিন্তু অন্যদিকে ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হবে; কারণ বৈধতা হকদারদের অধিকার নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে না। তদ্রূপ কোনো ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টার জন্য একটি নৌকা ভাড়া করে এবং মাঝ সমুদ্রে পৌঁছানোর পর ভাড়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে সাধারণ নিয়মানুযায়ী আরোহীর জন্য তৎক্ষণাৎ নৌকা ত্যাগ করা ওয়াজিব, যদি না ইজারাদাতা পুনরায় ভাড়া দিতে রাজি হন। কিন্তু যেহেতু এখানে নিরুপায় অবস্থা বিদ্যমান, তাই নৌকার মালিক বাধ্য যে ইজারাগ্রহীতাকে তীরে পৌঁছানো পর্যন্ত নৌকায় থাকতে দেবে। তবে এই বাধ্যবাধকতা ইজারাদাতাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রচলিত ভাড়া দাবি করা থেকে বিরত রাখবে না। এটি ১০০৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যা বর্ণনা করে যে, নিরঙ্কুশ জবরদস্তির ক্ষেত্রে দায় জবরদস্তিকারীর ওপর এবং আংশিক জবরদস্তির ক্ষেত্রে বাধ্যকৃত ব্যক্তির ওপর বর্তায়। আর মাল ধ্বংসের ক্ষেত্রে জবরদস্তির উপস্থিতি মালের মালিকের ধ্বংসকৃত মালের মূল্য বুঝে পাওয়ার অধিকারকে নষ্ট করে না। [ (৩৪ নম্বর ধারা) যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম](৩৪ নম্বর ধারা) :যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম।অর্থাৎ হারাম বস্তু প্রদান করা এবং গ্রহণ করা হারামের ক্ষেত্রে সমান। তেমনি যা গ্রহণ করা মাকরুহ, তা প্রদান করাও মাকরুহ। উদাহরণস্বরূপ ঘুষ; যেমন তা গ্রহণ করা হারাম, তেমনি ঘুষদাতার পক্ষ থেকে তা প্রদান করাও হারাম। এমনকি যদি কোনো অভিভাবক নাবালকের মামলার ক্ষেত্রে নাবালকের সম্পদ থেকে বিচারককে ঘুষ প্রদান করে, তবে তাকে সেই মালের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইভাবে ভাগ্য গণনাকারী জ্যোতিষী এবং জাদুকরদের মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ও হারাম, ঠিক তেমনি মানুষকে তাদের তা প্রদান করাও নিষিদ্ধ ও হারাম। তদ্রূপ বিলাপকারিণীর পারিশ্রমিক গ্রহণ ও প্রদান হারাম ও নিষিদ্ধ। "এই নীতির ব্যতিক্রমসমূহ" এই নীতির কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যথা: যদি কোনো দখলদার নাবালকের সম্পদ আত্মসাৎ করে, তবে অভিভাবকের জন্য এটি প্রদান করা বৈধ হবে...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْغَاصِبَ قِسْمًا مِنْ الْمَالِ الْمَغْصُوبِ كَيْ يَسْتَرِدَّهُ فَهُنَا أَخْذُ الْغَاصِبِ ذَلِكَ الْمَالَ حَرَامٌ وَمَمْنُوعٌ، إلَّا أَنَّ إعْطَاءَهُ مِنْ الْوَصِيِّ لِاسْتِرْدَادِ الْمَالِ جَائِزٌ [ (الْمَادَّةُ 35) مَا حَرُمَ فِعْلُهُ حَرُمَ طَلَبُهُ](الْمَادَّةُ 35) :مَا حَرُمَ فِعْلُهُ حَرُمَ طَلَبُهُ. كَالسَّرِقَةِ لَا تَطْلُبْ مِنْ أَحَدٍ يَسْرِقَ.يَعْنِي أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ يَكُونُ إجْرَاؤُهُ حَرَامًا فَطَلَبُ إيقَاعِهِ حَرَامٌ أَيْضًا، وَهَذِهِ الْمَادَّةُ تَقْرُبُ مِنْ الْمَادَّةِ 34 الَّتِي سَبَقَ شَرْحُهَا.مِثَالُ ذَلِكَ: إنَّ أَخْذَ الرِّشْوَةِ وَالشَّهَادَةَ الْكَاذِبَةَ وَظُلْمَ النَّاسِ أَوْ سَرِقَةَ مَالِ النَّاسِ مِنْ الْأَفْعَالِ الْمَمْنُوعَةِ، فَطَلَبُ إجْرَاءَ ذَلِكَ مِنْ شَخْصٍ آخَرَ كَأَنْ يُقَالَ لَهُ: ادْفَعْ رِشْوَةً، أَوْ اشْهَدْ بِكَذَا زُورًا، أَوْ أَنْ يُغْرِيَ بِالظُّلْمِ، أَوْ ارْتِكَابِ السَّرِقَةِ حَرَامٌ وَمَمْنُوعٌ أَيْضًا إلَّا أَنَّ تَحْلِيفَ الْيَمِينِ مُسْتَثْنًى مِنْ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ، وَتَفْصِيلُ ذَلِكَ أَنَّ حَلِفَ الْيَمِينِ كَذِبًا حَرَامٌ، لَكِنَّ تَحْلِيفَ ذَلِكَ الشَّخْصِ الْمُسْتَعِدِّ لِحَلِفِ الْيَمِينِ الْكَاذِبِ لَيْسَ بِحَرَامٍ؛ لِأَنَّهُ إذَا لَمْ يُجَوَّزْ تَحْلِيفُ الْيَمِينِ لِلشَّخْصِ الْمُنْكِرِ تَضِيعُ الْفَائِدَةُ الْمُتَرَتِّبَةُ عَلَيْهِ، وَهِيَ رَجَاءُ النُّكُولِ الَّذِي بِسَبَبِهِ يَتَبَيَّنُ حَقُّ الْمُدَّعِي. [ (الْمَادَّةُ 36) الْعَادَةُ مُحَكَّمَةٌ](الْمَادَّةُ 36) :الْعَادَةُ مُحَكَّمَةٌ.يَعْنِي أَنَّ الْعَادَةَ عَامَّةً كَانَتْ أَوْ خَاصَّةً تُجْعَلُ حَكَمًا لِإِثْبَاتِ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ. هَذِهِ الْمَادَّةُ هِيَ نَفْسُ الْقَاعِدَةِ الْمَذْكُورَةِ فِي كِتَابِ الْأَشْبَاهِ وَكِتَابِ الْمَجَامِعِ، وَمَعْنَى مُحَكَّمَةٌ أَيْ هِيَ الْمَرْجِعُ عِنْدَ النِّزَاعِ؛ لِأَنَّهَا دَلِيلٌ يُبْنَى عَلَيْهِ الْحُكْمُ، وَهِيَ مَأْخُوذَةٌ مِنْ الْحَدِيثِ الشَّرِيفِ الْقَائِلِ «مَا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ» تَعْرِيفُ الْعَادَةِ: هِيَ الْأَمْرُ الَّذِي يَتَقَرَّرُ بِالنُّفُوسِ وَيَكُونُ مَقْبُولًا عِنْدَ ذَوِي الطِّبَاعِ السَّلِيمَةِ بِتَكْرَارِهِ الْمَرَّةَ بَعْدَ الْمَرَّةِ، عَلَى أَنَّ لَفْظَةَ الْعَادَةِ يُفْهَمُ مِنْهَا تَكَرُّرُ الشَّيْءِ وَمُعَاوَدَتُهُ بِخِلَافِ الْأَمْرِ الْجَارِي صُدْقَةً مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ، وَلَمْ يَعْتَدْهُ النَّاسُ، فَلَا يُعَدُّ عَادَةً وَلَا يُبْنَى عَلَيْهِ حُكْمٌ. وَالْعُرْفُ بِمَعْنَى الْعَادَةِ أَيْضًا.وَقَدْ أَوْضَحَتْ الْمَجَلَّةُ هَذِهِ الْمَادَّةَ بِقَوْلِهَا: إنَّ الْعَادَةَ عَامَّةً أَوْ خَاصَّةً تُجْعَلُ حَكَمًا لِإِثْبَاتِ (حُكْمٍ شَرْعِيٍّ) وَالْعُرْفُ وَالْعَادَةُ إنَّمَا تُجْعَلُ حَكَمًا لِإِثْبَاتِ الْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ إذَا لَمْ يَرِدْ نَصٌّ فِي ذَلِكَ الْحُكْمِ الْمُرَادِ إثْبَاتُهُ، فَإِذَا وَرَدَ النَّصُّ عُمِلَ بِمُوجِبِهِ وَلَا يَجُوزُ تَرْكُ النَّصِّ وَالْعَمَلُ بِالْعَادَةِ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ لِلْعِبَادِ حَقُّ تَغْيِيرِ النُّصُوصِ، وَالنَّصُّ أَقْوَى مِنْ الْعُرْفِ؛ لِأَنَّ الْعُرْفَ قَدْ يَكُونُ مُسْتَنِدًا عَلَى بَاطِلٍ، كَمَا سَيَأْتِي فِي شَرْحِ الْمَادَّةِ (37) .أَمَّا نَصُّ الشَّارِعِ، فَلَا يَجُوزُ مُطْلَقًا أَنْ يَكُونَ مَبْنِيًّا عَلَى بَاطِلٍ، فَلِذَلِكَ لَا يُتْرَكُ الْقَوِيُّ لِأَجْلِ الْعَمَلِ بِالضَّعِيفِ، عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ أَبَا يُوسُفَ يَقُولُ: إذَا تَعَارَضَ النَّصُّ وَالْعُرْفُ يُنْظَرُ فِيمَا إذَا كَانَ النَّصُّ مَبْنِيًّا عَلَى الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ أَمْ لَا؟ فَإِذَا كَانَ النَّصُّ مَبْنِيًّا عَلَى الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ تُرَجَّحُ الْعَادَةُ وَيُتْرَكُ النَّصُّ. وَاذَا كَانَ النَّصُّ غَيْرَ مُسْتَنِدٍ إلَى عُرْفٍ وَعَادَةٍ يُعْمَلُ بِالنَّصِّ وَلَا عِبْرَةَ بِالْعَادَةِ، وَمَعَ ذَلِكَ يَجِبُ أَنْ لَا يُفْهَمَ أَنَّ حَضْرَةَ الْإِمَامِ أَبِي يُوسُفَ يَذْهَبُ فِي رَأْيِهِ إلَى تَرْكِ النَّصِّ وَالْعَمَلِ بِالْعُرْفِ وَالْعَادَةِ، فَالنَّصُّ أَقْوَى مِنْ الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ مِنْ غَيْرِ شُبْهَةٍ حَتَّى النَّصُّ الَّذِي يَصْدُرُ مِنْ النَّاسِ، وَإِنَّمَا رَأْيُهُ بِمَثَابَةِ
আত্মসাৎকারীকে আত্মসাৎকৃত মালের কিছু অংশ প্রদান করা যাতে সে তা ফেরত দেয়, এখানে আত্মসাৎকারীর সেই মাল গ্রহণ করা হারাম ও নিষিদ্ধ; তবে মালের মালিকের পক্ষ থেকে ওসীর জন্য মালটি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তা প্রদান করা বৈধ। [ (ধারা ৩৫) যা করা হারাম, তা চাওয়াও হারাম](ধারা ৩৫) :যা করা হারাম, তা চাওয়াও হারাম। যেমন চুরি; কারো কাছে চুরি করার আবেদন করো না।অর্থাৎ, যে জিনিসের সম্পাদন হারাম, তা সংঘটিত করার আবেদন করাও হারাম। এই ধারাটি পূর্ব ব্যাখ্যাত ৩৪ নং ধারার কাছাকাছি।এর উদাহরণ হলো: ঘুষ গ্রহণ, মিথ্যা সাক্ষ্য দান, মানুষের ওপর জুলুম করা বা মানুষের সম্পদ চুরি করা নিষিদ্ধ কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং অন্য কাউকে এগুলো সম্পাদন করতে বলা, যেমন তাকে বলা: "ঘুষ দাও", বা "অমুক বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দাও", অথবা জুলুমে প্ররোচিত করা কিংবা চুরিতে লিপ্ত হতে বলাও হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে শপথ করানো এই মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম। এর বিস্তারিত বিবরণ হলো, মিথ্যা শপথ করা হারাম, কিন্তু যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করতে প্রস্তুত, তাকে শপথ করানো হারাম নয়। কারণ, যদি অস্বীকারকারীর ওপর শপথ করানো বৈধ না হয়, তবে এর দ্বারা অর্জিত সুফল নষ্ট হয়ে যাবে, যা হলো শপথ থেকে বিরত থাকার (নুকুল) প্রত্যাশা, যার মাধ্যমে বাদীর হক বা অধিকার স্পষ্ট হয়। [ (ধারা ৩৬) প্রথা বিচারক হিসেবে গণ্য](ধারা ৩৬) :প্রথা বিচারক হিসেবে গণ্য।অর্থাৎ প্রথা সাধারণ হোক বা বিশেষ, তাকে শরয়ি বিধান প্রমাণের জন্য ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এই ধারাটি 'আল-আশবাহ' এবং 'আল-মাজামি' কিতাবে উল্লিখিত হুবহু একই মূলনীতি। 'মুহাক্কামাহ' (বিচারক হিসেবে গণ্য) শব্দের অর্থ হলো বিবাদের সময় এটিই হবে প্রত্যাবর্তনের স্থল; কেননা এটি একটি দলিল যার ওপর ভিত্তি করে বিধান রচিত হয়। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকে গৃহীত, যেখানে বলা হয়েছে: "মুসলিমরা যা উত্তম হিসেবে দেখে, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম।" প্রথার সংজ্ঞা: প্রথা হলো এমন বিষয় যা মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং সুস্থ স্বভাবের মানুষের নিকট বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়ার মাধ্যমে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়। 'আদাহ' বা প্রথা শব্দ থেকে কোনো বিষয়ের পুনরাবৃত্তি হওয়া এবং বারবার ফিরে আসা বোঝা যায়, যা কোনো বিষয়ের হঠাৎ একবার বা দুবার ঘটে যাওয়ার বিপরীত। যা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়নি, তা প্রথা হিসেবে গণ্য হবে না এবং তার ওপর কোনো বিধানও রচিত হবে না। আর 'উরফ' শব্দটিও 'আদাহ' বা প্রথার অর্থেই ব্যবহৃত হয়।মাজাল্লাহ এই ধারাটিকে এভাবে স্পষ্ট করেছে যে: সাধারণ বা বিশেষ প্রথা শরয়ি বিধান প্রমাণের জন্য বিচারক সাব্যস্ত হবে। উরফ ও প্রথা কেবল তখনই শরয়ি বিধান প্রমাণের জন্য বিচারক সাব্যস্ত হয় যখন সংশ্লিষ্ট বিধানে কোনো 'নস' (সুস্পষ্ট দলিল) বিদ্যমান না থাকে। যদি কোনো নস পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে; নস বর্জন করে প্রথার ওপর আমল করা জায়েজ নেই। কারণ বান্দার নস পরিবর্তনের কোনো অধিকার নেই। আর নস উরফের চেয়ে শক্তিশালী; কারণ উরফ কখনো বাতিলের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে, যেমনটি ৩৭ নং ধারার ব্যাখ্যায় আসবে।পক্ষান্তরে শরিয়ত প্রবর্তকের নস কখনোই বাতিলের ওপর ভিত্তি করে হওয়া সম্ভব নয়। তাই দুর্বলের ওপর আমল করার জন্য শক্তিশালীকে বর্জন করা যাবে না। তবে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন: যখন নস ও উরফের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন দেখতে হবে নসটি উরফ ও প্রথার ওপর ভিত্তি করে কি না। যদি নসটি উরফ ও প্রথার ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে প্রথাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং নস বর্জন করা হবে। আর যদি নস কোনো উরফ বা প্রথার ওপর ভিত্তি করে না হয়, তবে নস অনুযায়ী আমল করতে হবে এবং প্রথার কোনো গুরুত্ব থাকবে না। তা সত্ত্বেও এটি বোঝা উচিত নয় যে, ইমাম আবু ইউসুফ রহ. নস বর্জন করে উরফ ও প্রথা অনুযায়ী আমল করার মত পোষণ করেন; কেননা কোনো সন্দেহ ছাড়াই নস উরফ ও প্রথার চেয়ে শক্তিশালী, এমনকি মানুষের পক্ষ থেকে উচ্চারিত নসও (স্পষ্ট ভাষ্য)। বরং তাঁর মতটি হলো...
(খণ্ড: ১)
দুরারুল হুক্কাম ফী শারহি মাজাল্লাতিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
تَأْوِيلٍ لِلنَّصِّ.مِثَالُ ذَلِكَ إنَّ وَضْعَ الطَّعَامِ أَمَامَ الضَّيْفِ بِحُكْمِ الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ، إذْنٌ لَهُ بِأَنْ يَتَنَاوَلَ مِنْ ذَلِكَ الطَّعَامِ إلَّا أَنَّ صَاحِبَ الْبَيْتِ إذَا مَنَعَ الضَّيْفَ مِنْ تَنَاوُلِ الطَّعَامِ فَقَدْ صَدَرَ مِنْهُ نَصٌّ بِخِلَافِ الْعُرْفِ وَالْعَادَةِ، فَعَلَى الضَّيْفِ أَنْ يَعْمَلَ بِحُكْمِ النَّصِّ وَيَمْتَنِعَ عَنْ الطَّعَامِ، وَلَا يَعْمَلُ بِالْعُرْفِ وَالْعَادَةِ، فَإِذَا أَكَلَ يَكُونُ مُخَالِفًا لِلنَّصِّ فَيَضْمَنُ وَالْعُرْفُ وَالْعَادَةُ يَكُونَانِ عَلَى وَجْهَيْنِ:الْأَوَّلُ يُقَسَّمُ إلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ:1 - الْعُرْفُ الْعَامُّ. تَعْرِيفُ الْعُرْفِ الْعَامِّ: هُوَ عُرْفُ هَيْئَةٍ غَيْرُ مَخْصُوصٍ بِطَبَقَةٍ مِنْ طَبَقَاتِهَا، وَوَاضِعُهُ غَيْرُ مُتَعَيِّنٍ، وَالْعُرْفُ الْعَامُّ عِنْدَنَا هُوَ الْعُرْفُ الْجَارِي مُنْذُ عَهْدِ الصَّحَابَةِ حَتَّى زَمَانِنَا وَاَلَّذِي قَبِلَهُ الْمُجْتَهِدُونَ وَعَمِلُوا بِهِ، وَلَوْ كَانَ مُخَالِفًا لِلْقِيَاسِ.مِثَالُ ذَلِكَ: إذَا حَلَفَ شَخْصٌ قَائِلًا " وَاَللَّهِ لَا أَضَعُ قَدَمِي فِي دَارِ فُلَانٍ " يَحْنَثُ سَوَاءٌ دَخَلَ تِلْكَ الدَّارَ مَاشِيًا أَوْ رَاكِبًا، أَمَّا لَوْ وَضَعَ قَدَمَهُ فِي الدَّارِ دُونَ أَنْ يَدْخُلَهَا لَا يَحْنَثُ؛ لِأَنَّ وَضْعَ الْقَدَمِ فِي الْعُرْفِ الْعَامِّ بِمَعْنَى الدُّخُولِ.2 - الْعُرْفُ الْخَاصُّ تَعْرِيفُهُ: هُوَ اصْطِلَاحُ طَائِفَةٍ مَخْصُوصَةٍ عَلَى شَيْءٍ كَاسْتِعْمَالِ عُلَمَاءِ النَّحْوِ " لَفْظَةَ الرَّفْعِ " وَعُلَمَاءِ الْأَدَبِ كَلِمَةَ " النَّقْدِ ".3 - الْعُرْفُ الشَّرْعِيُّ هُوَ عِبَارَةٌ عَنْ الِاصْطِلَاحَاتِ الشَّرْعِيَّةِ " كَالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالْحَجِّ، فَبِاسْتِعْمَالِهَا فِي الْمَعْنَى الشَّرْعِيِّ أُهْمِلَ مَعْنَاهَا اللُّغَوِيُّ. هَذَا، وَفِي الْحُكْمِ بِالْعُرْفِ الْعَامِّ وَالْعُرْفِ الْخَاصِّ فَرْقٌ وَإِلَيْكَ التَّفْصِيلُ: يَثْبُتُ بِالْعُرْفِ الْعَامِّ حُكْمٌ عَامٌّ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ حَلَفَ شَخْصٌ فَقَالَ " لَا أَضَعُ قَدَمِي فِي دَارِ فُلَانٍ، فَبِمَا أَنَّ مَعْنَى ذَلِكَ فِي اللُّغَةِ (لَا أَضَعُ رِجْلِي) وَفِي الْعُرْفِ الْعَامِّ (لَا أَدْخُلُ) يَثْبُتُ ذَلِكَ فِي حَقِّ الْعُمُومِ. أَمَّا الْعُرْفُ الْخَاصُّ فَإِنَّهُ يَثْبُتُ بِهِ حُكْمٌ خَاصٌّ فَقَطْمِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ تُعُورِفَ فِي بَلْدَةٍ وَقْفُ الْمَنْقُولِ غَيْرِ الْمُتَعَارَفِ وَقْفُهُ فِي غَيْرِهَا يُحْكَمُ بِصِحَّةِ وَقْفِ ذَلِكَ الْمَنْقُولِ فِيهَا فَقَطْ. وَكَذَا إذَا كَانَ إعْطَاءُ أَجْزَاءِ النُّقُودِ بَدَلًا عَنْ أَصْلِ النُّقُودِ جَائِزًا عُرْفًا فِي بَلْدَةٍ يُحْكَمُ بِصِحَّةِ إعْطَاءِ الْأَجْزَاءِ فِي تِلْكَ الْبَلْدَةِ فَقَطْ، وَلَا يَجُوزُ فِي غَيْرِهَا.وَالْوَجْهُ الثَّانِي يُقْسَمُ أَيْضًا إلَى قِسْمَيْنِ:(1) الْعُرْفُ الْعَمَلِيُّ.(2) وَالْعُرْفُ الْقَوْلِيُّ.الْعُرْفُ الْعَمَلِيِّ:كَتَعَوُّدِ أَهْلِ، بَلْدَةٍ مَثَلًا أَكْلَ لَحْمِ الضَّأْنِ أَوْ خُبْزَ الْقَمْحِ، فَلَوْ وَكَّلَ شَخْصٌ مِنْ تِلْكَ الْبَلْدَةِ آخَرَ بِأَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ خُبْزًا أَوْ لَحْمًا فَلَيْسَ لِلْوَكِيلِ أَنْ يَشْتَرِيَ لِلْمُوَكِّلِ لَحْمَ جَمَلٍ أَوْ خُبْزَ ذُرَةٍ أَوْ شَعِيرٍ اسْتِنَادًا عَلَى هَذَا الْإِطْلَاقِ، وَهَذَا الْعُرْفُ عِنْدَ الْحَنَفِيَّةِ يُسَمَّى عُرْفًا عَامًّا مُخَصَّصًا أَيْ عُرْفٌ مُقَيَّدٌ.الْعُرْفُ الْقَوْلِيُّ: وَهُوَ اصْطِلَاحُ جَمَاعَةٍ عَلَى لَفْظٍ يَسْتَعْمِلُونَهُ فِي مَعْنًى مَخْصُوصٍ حَتَّى يَتَبَادَرَ مَعْنَاهُ
পাঠ্যের ব্যাখ্যা।এর উদাহরণ হলো, প্রথা ও অভ্যাসের বিধান অনুযায়ী মেহমানের সামনে খাবার রাখা তাকে সেই খাবার গ্রহণের অনুমতি প্রদানের শামিল। তবে গৃহকর্তা যদি মেহমানকে খাবার গ্রহণে বাধা দেন, তবে তার পক্ষ থেকে প্রথা ও অভ্যাসের পরিপন্থী একটি নস (পাঠ্য) প্রকাশ পেল। এমতাবস্থায় মেহমানের কর্তব্য হলো নসের বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং আহার থেকে বিরত থাকা; সে প্রথা ও অভ্যাসের ওপর আমল করবে না। যদি সে আহার করে, তবে সে নসের লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর প্রথা ও অভ্যাস দুই প্রকারের হয়ে থাকে:প্রথম প্রকারটি তিন ভাগে বিভক্ত:১ - সাধারণ প্রথা। সাধারণ প্রথার সংজ্ঞা: এটি কোনো বিশেষ স্তরের জন্য নির্দিষ্ট নয় এমন এক জনসমষ্টির প্রথা, যার প্রবর্তক সুনির্দিষ্ট নয়। আমাদের নিকট সাধারণ প্রথা হলো সেই প্রথা যা সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত প্রচলিত এবং যা মুজতাহিদগণ গ্রহণ করেছেন ও সে অনুযায়ী আমল করেছেন, যদিও তা কিয়াসের বিপরীত হয়।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি এই বলে শপথ করে যে, "আল্লাহর কসম, আমি অমুকের বাড়িতে আমার পা রাখব না", তবে সে ওই বাড়িতে পায়ে হেঁটে বা সওয়ার হয়ে প্রবেশ করলেই শপথ ভঙ্গকারী হবে। পক্ষান্তরে, যদি সে বাড়িতে প্রবেশ না করে কেবল পা রাখে, তবে শপথ ভঙ্গ হবে না; কারণ সাধারণ প্রথা অনুযায়ী পা রাখার অর্থ হলো প্রবেশ করা।২ - বিশেষ প্রথা। এর সংজ্ঞা: এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো বিষয়ে পরিভাষা নির্ধারণ করা, যেমন নাহু শাস্ত্রবিদদের "রফা" শব্দের ব্যবহার এবং সাহিত্যিকদের "নাকদ" (সমালোচনা) শব্দের ব্যবহার।৩ - শরয়ি প্রথা। এটি মূলত শরয়ি পরিভাষাগুলোর সমষ্টি, যেমন সালাত, জাকাত ও হজ। এগুলোকে শরয়ি অর্থে ব্যবহারের ফলে এদের আভিধানিক অর্থ পরিত্যক্ত হয়েছে। সাধারণ প্রথা ও বিশেষ প্রথার মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে এবং নিচে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো: সাধারণ প্রথার মাধ্যমে একটি সাধারণ বিধান সাব্যস্ত হয়।এর উদাহরণ: যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে বলে, "আমি অমুকের বাড়িতে আমার পা রাখব না", যেহেতু এর আভিধানিক অর্থ হলো "আমি আমার পা রাখব না" এবং সাধারণ প্রথায় এর অর্থ "আমি প্রবেশ করব না", তাই এটি সর্বসাধারণের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হবে। পক্ষান্তরে বিশেষ প্রথার মাধ্যমে কেবল একটি বিশেষ বিধান সাব্যস্ত হয়।এর উদাহরণ: যদি কোনো জনপদে এমন কোনো অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করার প্রথা থাকে যা অন্য কোথাও নেই, তবে কেবল সেই জনপদেই সেই অস্থাবর সম্পত্তির ওয়াকফ বৈধ হওয়ার ফায়সালা দেওয়া হবে। তদ্রূপ, কোনো জনপদে যদি মূল মুদ্রার পরিবর্তে মুদ্রার ভগ্নাংশ প্রদান করা প্রথাগতভাবে বৈধ হয়, তবে কেবল সেই জনপদেই তা বৈধ হবে, অন্য কোথাও নয়।দ্বিতীয় প্রকারটিও দুই ভাগে বিভক্ত:(১) কর্মগত প্রথা।(২) ভাষাগত প্রথা।কর্মগত প্রথা:যেমন কোনো জনপদের অধিবাসীদের ভেড়ার মাংস বা গমের রুটি খাওয়ার অভ্যাস। এমতাবস্থায় যদি সেই জনপদের কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে রুটি বা মাংস কেনার জন্য উকিল (প্রতিনিধি) নিয়োগ করে, তবে সেই উকিল এই ব্যাপক নির্দেশের ভিত্তিতে উটের মাংস কিংবা ভুট্টা বা যব-এর রুটি কিনতে পারবে না। হানাফিদের নিকট এই প্রথাকে 'সাধারণ বিশেষায়িত প্রথা' বা 'সীমাবদ্ধ প্রথা' বলা হয়।ভাষাগত প্রথা: এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একটি শব্দের ওপর পরিভাষা নির্ধারণ করা যা তারা কোনো বিশেষ অর্থে ব্যবহার করে, যাতে শব্দটি শোনামাত্র সেই অর্থটিই স্মৃতিপটে উদিত হয়।