(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: -)
من أحاديث محمد بن يحيى الذهلي رواية المعقلي عنه (الذهلي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: من أحاديث أبي عبد الله محمد بن يحيى الذهلي - مخطوط
المؤلف: محمد بن يحيى بن عبد الله الذُّهْلي، مولاهم، النيسابورىّ، أبو عبد الله (ت 258هـ)
رواية: أبو علي محمد بن أحمد بن محمد الميداني المعقلي
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 30
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলীর হাদীসসমূহ হতে আল-মা’কিলীর বর্ণনা (আদ-যুহলী)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলীর হাদীসসমূহ হতে - পাণ্ডুলিপি
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আদ-যুহলী, তাঁদের মুক্ত করা দাস, আন-নায়সাবুরী, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৮ হিজরী)
বর্ণনা: আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মায়দানী আল-মা’কিলী
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরী
[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: من أحاديث أبي عبد الله محمد بن يحيى الذهلي - مخطوطالمتوفى: 258 هـرواية: أبو علي محمد بن أحمد بن محمد الميداني المعقلي
গ্রন্থ: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দুহলী-এর হাদিসসমূহ থেকে - পাণ্ডুলিপিমৃত্যু: ২৫৮ হিজরিবর্ণনায়: আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাইদানি আল-মাকিলি
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১)
-ق1أ-الحمد للهقرأت جميع جزء محمد بن يحيى الذهلي هذا على شيخنا ومولانا الشيخ الإمام العالم الحافظ جمال الدين أحمد بن شاهين سبط شيخ الإسلام ابن حجر (غير واضح بالأصل) وأجاز وصح وثبت ليلة الأحد الموافق لعشرة من شهر صفر سنة ثمان وتسعين (ويحتمل وسبعين) وثمان مائة بعد الملك المنصور (غير واضح بالأصل) وكتب خليل بن عبد القادر بن عمر الجعبري الشافعي (غير واضح بالأصل) .-ق1ب-جزء من أحاديث الإمام أبي عبد الله محمد بن يحيى بن عبد الله بن خالد بن فارس بن ذئب الذهلي النيسابوريرواية أبي علي محمد بن أحمد بن محمد الميداني المعقلي عنه.رواية أبي بكر أحمد بن الحسن بن أحمد الطوسي النيسابوري عنه.رواية السلار أبي الحسن مكي بن منصور بن علان الكرخي عنه.روايى الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني عنه.رواية سبطه أبي القاسم عبد الرحمن بن مكي بن عبد الرحمن بن الحاسب وغيره عنه.رواية أبي بكر محمد بن أحمد بن عمير وزينب بنت يحيى بن عبد السلام عنه إجازة.رواية العماد أبي بكر بن إبراهيم بن العز المقدسي عنهما سماعا.رواية سبط أبي المحاسن يوسف بن شاهين العسقلاني عنه.
-ক১অ-সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।আমি মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী-এর এই সম্পূর্ণ জুয (হাদীসের অংশ) পাঠ করেছি আমাদের শায়খ ও মাওলা, শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফিয জামালুদ্দীন আহমাদ ইবন শাহীন-এর নিকট, যিনি শায়খুল ইসলাম ইবন হাজার-এর দৌহিত্র (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট)। তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন, সহীহ করেছেন ও সাব্যস্ত করেছেন রবিবার দিবাগত রাতে, যা আটশত আটানব্বই (সম্ভবত আটাত্তর) হিজরীর সফর মাসের দশ তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ, বাদশাহ আল-মানসুরের পর (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট)। এবং এটি লিখেছেন খলীল ইবন আব্দুল কাদির ইবন উমর আল-জা'বরী আশ-শাফিঈ (মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট)।-ক১ব-ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন খালিদ ইবন ফারিস ইবন যি'ব আদ-যুহলী আন-নাইসাবুরীর হাদীসসমূহের একটি অংশ (জুয)।তাঁর সূত্রে আবু আলী মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-মায়দানী আল-মা'কিলীর বর্ণনা।তাঁর সূত্রে আবু বকর আহমাদ ইবনুল হাসান ইবন আহমাদ আত-তূসী আন-নাইসাবুরীর বর্ণনা।তাঁর সূত্রে আস-সাল্লার আবুল হাসান মাক্কী ইবন মানসূর ইবন আল্লান আল-কারখীর বর্ণনা।তাঁর সূত্রে হাফিয আবু তাহির আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আস-সিলাফী আল-আসফাহানীর বর্ণনা।তাঁর সূত্রে তাঁর দৌহিত্র আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবন মাক্কী ইবন আব্দুর রহমান ইবনুল হাসিব ও অন্যদের বর্ণনা।তাঁর থেকে ইজাযত (অনুমতি) সূত্রে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন উমাইর এবং যায়নাব বিনতে ইয়াহইয়া ইবন আব্দুস সালামের বর্ণনা।শ্রবণ (সামা) এর সূত্রে তাঁদের থেকে আল-ইমাদ আবু বকর ইবন ইব্রাহীম ইবনুল ইয আল-মাকদিসীর বর্ণনা।তাঁর সূত্রে আবু আল-মাহাসিন-এর দৌহিত্র ইউসুফ ইবন শাহীন আল-আসকালানীর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২)
-ق2أ-بسم الله الرحمن الرحيم، رب أعن ويسر يا كريم.أخبرنا سيدنا ومولانا شيخ الإسلام حافظ العصر قاض المسلمين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن أحمد بن حجر العسقلاني الأصل المصري قرأنا عليه في يوم الأحد ثاني عشر ربيع الآخر 891 أنا العماد أبو بكر بن إبراهيم بن العز المقدسي بقراءتي عليه أنا المشايخ: العلامة أبو محمد عبد الله بن الحسين بن أبي التائب وأبو بكر بن محمد بن أحمد بن عنتر وزينب بنت يحيى بن الشيخ الإمام عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام السلمي ح، قال شيخنا وقرأته (غير واضح) على فاطمة بنت محمد بن عبد الهادي عن أحمد بن إسماعيل بن الحباب وأحمد بن علي القاضي وعبد الرحيم بن عبد المحسن المنشاوي بسماع الأول من يحيى (ويحتمل عثمان) بن علي بن الخطيب بالعراق وبإجازة أبي بكر وزينب، وسماع الثاني من أبي القاسم عبد الرحمن بن مكى الطرابلسي سمعه السلفي بسماعه وإجازة ابن الخطيب من الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني أنا السلار أبو الحسن مكى بن منصور بن محمد بن غلاب الكرجي قدم علينا أصبهان 491 وفيها مات أنا القاضي أبو بكر أحمد بن الحسن بن أحمد الحرشي بنيسابور ثنا أبو علي محمد بن أحمد بن محمد بن معبد الميداني من ميدان زياد بن عبد الرحمن في شهر ربيع الأول سنة 339 ثنا أبو عبد الله محمد بن يحيى الذهلي: 1-…حدثنا عبد الرزاق بن همام الصنعاني أنا معمر عن الزهري عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تَحَاسَدُوا ولا تقاطعوا وَلا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا وَلا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثٍ هـ.
-পৃ২ক-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, সাহায্য করুন এবং সহজ করুন, হে মহান।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের সাইয়্যেদ ও মাওলা, শায়খুল ইসলাম, সমকালীন হাফেজ, মুসলিমদের বিচারপতি আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী আল-মিসরী। আমরা ৮৯১ হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়াল রবিবার তাঁর নিকট পাঠ করেছি। (তিনি বলেন) আমাদের জানিয়েছেন আল-ইমাদ আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন আল-ইজ্জ আল-মাকদিসী, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। (তিনি বলেন) আমাদের জানিয়েছেন শায়খগণ: আল্লামা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবুল তায়িব, আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আনতার এবং জয়নব বিনতে ইয়াহইয়া বিন শায়খ ইমাম ইজ্জুদ্দিন আবদুল আজিজ বিন আব্দুস সালাম আস-সুলামী (হ)। আমাদের শায়খ বলেন: এবং আমি এটি পাঠ করেছি ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী-র নিকট—আহমদ বিন ইসমাইল বিন আল-হাবাব, আহমদ বিন আলী আল-কাজী এবং আবদুর রহিম বিন আব্দুল মুহসিন আল-মিনশাওয়ী-র সূত্রে; প্রথমোক্ত ব্যক্তি এটি ইরাকে ইয়াহইয়া (সম্ভবত উসমান) বিন আলী বিন আল-খতীবের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে এবং আবু বকর ও জয়নবের ইজাজত (অনুমতি) সূত্রে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি এটি আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মাক্কী আত-তরাবুলুসী থেকে শ্রবণ করেছেন, যা আস-সালাফী তাঁর শ্রবণ ও ইবনুল খতীবের ইজাজত সূত্রে হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সালাফী আল-আসবেহানী থেকে শ্রবণ করেছেন। (তিনি বলেন) আমাদের জানিয়েছেন আস-সাল্লার আবু হাসান মক্কী বিন মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন গাল্লাব আল-কারজী; তিনি ৪৯১ হিজরীতে আমাদের নিকট আসবেহানে আগমন করেছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। (তিনি বলেন) আমাদের জানিয়েছেন কাজী আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-হারাশী আন-নাইসাপুরী। (তিনি বলেন) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাবাদ আল-মায়দানী, ৩৩৯ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে যিয়াদ বিন আবদুর রহমানের ময়দান থেকে। (তিনি বলেন) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আজ-জুহলী: ১-…আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনী, আমাদের জানিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন (শত্রুতা) করো না এবং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
-ق2ب-2-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة في عمرة القضاء وعبد الله بن رواحة بَيْنَ يَدَيْهِ يَمْشِي قال محمد قال عبد الرزاق مرة وعبد الله بن رواحة آخذ بغرز النبي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ قَدْ أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ فِي تَنْزِيلِهِ بِأَنَّ خَيْرَ الْقَتْلِ فِي سَبِيلِهِ.3-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن أنس بن مالك قال فرضت على رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسرى به الصلوات خمسين ثُمَّ نُقِصَتْ حَتَّى جُعِلَتْ خَمْسًا ثُمَّ نُودِيَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّهُ لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَىَّ وَإِنَّ لَكَ بِهَذِهِ الْخَمْسِ خَمْسِينَ.هـ.4-…حدثنا محمد ثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن سويد بن سعيد الساعدي أن رجلا اطَّلَعَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ سُتْرَةِ الْحُجْرَةِ وَفِي يَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِدْرَى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْ أَعْلَمُ أَنَّ هذا يَنْظُرُنِي حَتَّى آتِيَهُ لَطَعَنْتُ بِالْمِدْرَى فِي عَيْنِيهِ وَهَلْ جُعِلَ الاسْتِئْذَانُ إِلا مِنْ أَجْلِ النَّظَرِ هـ.5-…حدثنا عبد الرزاق أنا مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا صَلاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَصَاعِدًا هـ.
-পৃ ২খ-২-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরাতুল কাজার সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা তাঁর সামনে পথ চলছিলেন। মুহাম্মদ বলেন, আবদুর রাজ্জাক একবার বলেছেন, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উটের জিনের অগ্রভাগ ধরেছিলেন এবং তিনি বলছিলেন: "হে কাফির-সন্তানরা, তাঁর পথ ছেড়ে দাও। পরম করুণাময় তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে নাযিল করেছেন যে, তাঁর পথেই শ্রেষ্ঠ মৃত্যু নিহিত।"৩-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসরা (ঊর্ধ্বগমন) করানো হয়েছিল, সে রাতে তাঁর ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল। অতঃপর তা হ্রাস করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়। এরপর ঘোষণা করা হলো: "হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আমার নিকট কথার কোনো পরিবর্তন হয় না। আর তোমার জন্য এই পাঁচ ওয়াক্তের বিনিময়ে পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই সওয়াব রয়েছে।" সমাপ্ত।৪-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সুয়াইদ বিন সাঈদ আস-সাঈদী থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কামরার পর্দার আড়াল থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে উঁকি দিল। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে একটি চিরুনি (বা শলাকা) ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি আমি জানতাম যে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তবে আমি এই শলাকা দিয়ে তার চোখে আঘাত করতাম। নিশ্চয়ই দৃষ্টির কারণেই তো অনুমতি গ্রহণের বিধান দেওয়া হয়েছে।" সমাপ্ত।৫-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মাহমুদ বিন রবী’ থেকে, তিনি উবাদাহ বিন সামিত (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) এবং এর অধিক কিছু পাঠ করল না, তার সালাত হবে না।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
6-…حدثنا عبد الرزاق أنا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ صَفِيَّةَ بنت حُيَيٍّ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعْتَكِفًا فَأَتَيْتُهُ لَيْلا فَحَدَّثْتُهُ ثُمَّ قُمْتُ فانقلبت فَقَامَ لِيَقْلِبَنِي وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِي دار أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ فَمَرَّ بِرَجُلَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْرَعَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ قَالا سُبْحَانُ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمْ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَرًّا أَوْ قَالَ شَيْئًا هـ.7-…حدثنا عبد الرزاق أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَجُلٌ يَدْخُلُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُخَنَّثٌ وَكَانُوا يَعُدُّونَهُ مِنْ غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَهُوَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ وَهُوَ يَنْعَتُ امْرَأَةً فَقَالَ إِنَّهَا إِذَا أَقْبَلَتْ أَقْبَلَتْ بِأَرْبَعٍ وَإِذَا أَدْبَرَتْ أَدْبَرَتْ بِثَمَانٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا أَرَى هَذَا يَعْلَمُ مَا هَاهُنَا لَا يَدْخُلن عَلَيْكُنَّ هَذَا فَحَجَبُوهُ هـ.-ق3أ-8-…حدثنا بشر بن عمر قال سمعت مالك بن أنس يحدث يعني مرة عن ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ لم يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَاّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ هـ.
৬-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফে ছিলেন। আমি রাতে তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালে তিনি আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর (সাফিয়্যাহর) আবাসস্থল ছিল উসামা বিন যায়িদের ঘরে। তখন আনসারদের মধ্য হতে দুই ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন, তখন তারা দ্রুত হাঁটতে লাগলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা স্বাভাবিকভাবে চলো, ইনি হলেন সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই।" তারা বললেন: "সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে। আর আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, সে হয়তো তোমাদের অন্তরে কোনো মন্দ বিষয় অথবা কোনো কিছুর উদ্রেক ঘটাবে।"৭-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক হিজড়া ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নিকট যাতায়াত করত। তারা তাকে পুরুষোচিত কামনা-বাসনাহীনদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতেন। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় সে তাঁর কোনো এক স্ত্রীর নিকট ছিল এবং এক মহিলার বর্ণনা দিচ্ছিল। সে বলছিল: "সে যখন সামনে থেকে আসে তখন চার ভাঁজ নিয়ে আসে এবং যখন পেছন ফিরে যায় তখন আট ভাঁজ নিয়ে যায়।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি দেখছি এ তো এখানকার বিষয়গুলো সম্পর্কেও (নারীদের শারীরিক গঠন) অবগত। সে যেন আর তোমাদের নিকট প্রবেশ না করে।" অতঃপর তারা তাকে বর্জন করলেন (বা তাকে নিষিদ্ধ করলেন)।-পৃষ্ঠা ৩ক-৮-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উমর, তিনি বলেন: আমি মালিক বিন আনাসকে বর্ণনা করতে শুনেছি, অর্থাৎ একবার ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফ করতেন, তখন মানবিক প্রয়োজন (শৌচকার্য) ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
9-…حدثنا عبد الرزاق أنا مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ مَالِهِ في سبيل الله دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَللْجَنَّةُ أَبْوَابٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاةِ ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فقَالَ له أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ مِنْ ضَرُورَةٍ مِنْ أَيِّهَا دُعِيَ فَهَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلِّهَا أَحَدٌ قفَالَ نَعَمْ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ هـ.10-…حدثنا بشر بن عمر ثنا مالك بن أنس عن ابن شهاب عن أحمد بن عبد الرحمن عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك مع كل وضوء هـ.11-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله جلا جلاله كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلا الصِّيَامَ الصِّيَام لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وخلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ عِنْدَ اللَّهِ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ هـ.12-…حدثنا محمد بن يوسف الفريابي ثنا الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حدثني سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ حدثني أَبَو هُرَيْرَةَ قال قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَا يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا الماء مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَإِنَّه لَا يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ هـ.
৯-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিজের সম্পদ থেকে এক জোড়া (দুটি জিনিস) ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে। জান্নাতের অনেকগুলো দরজা রয়েছে; অতএব যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি সদকা প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে এবং যে ব্যক্তি রোজা পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে।” তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন, “আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসূল! এসব দরজার যেকোনো একটি থেকে যাকে ডাকা হবে তার তো কোনো অসুবিধা বা আক্ষেপ থাকবে না, কিন্তু এমন কেউ কি আছে যাকে এই সবগুলো দরজা থেকেই ডাকা হবে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদেরই একজন হবে।”১০-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমর, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যদি আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে না করতাম, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক ওজুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”১১-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “মহান আল্লাহ বলেছেন: আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, রোজা ব্যতীত। রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। আর রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।”১২-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবী, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পাত্রের মধ্যে না ঢুকায় যতক্ষণ না সে তার ওপর দুই বা তিনবার পানি ঢালে। কারণ সে জানে না তার হাতটি রাতে কোথায় অতিবাহিত হয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
13-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إذا قال الإمام غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا آمين فإن الملائكة يقولون وإن الإمام يقول آمين فمن وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه هـ.-ق3ب-14-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أقيمت الصلاة فلا تأتوها تَسْعَوْنَ وَلَكِنِ ائِتُوهَا وَأَنْتُمْ تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا هـ.15-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلا تَنَاجَشُوا وَلا يَبِعِ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلا يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَتِهِ وَلا تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاقَ أُخْتِهَا لِتَكْفَأَ به مَا فِي إِنَائِهَا هـ.16-… حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكَلَ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثُّومَ فَلا يُؤْذِينَا فِي مَسْجِدِنَا هـ.17-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن الفأرة تموت في السمن قال إن كان جامدا فألقوه وما حولها وإن كان مائعا فلا تقربوه هـ.18-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كان يؤمن بالله واليوم الأخر فليكرم ضيفه ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذين جاره ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليصمت هـ.
১৩-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন ইমাম ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন’ বলবেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলো। কারণ ফেরেশতারাও ‘আমীন’ বলেন এবং ইমামও ‘আমীন’ বলেন। সুতরাং যার ‘আমীন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আমীন’ বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।-ক৩খ-১৪-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং হেঁটে আসবে এবং তোমাদের ওপর যেন স্থিরতা ও প্রশান্তি বজায় থাকে। এরপর সালাতের যতটুকু তোমরা পাবে তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে।১৫-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে পণ্য বিক্রি না করে, তোমরা দালালি (নিলামে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো) করো না, কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা না করে, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয় এবং কোনো নারী যেন তার (মুসলিম) বোনের তালাক প্রার্থনা না করে—যাতে সে তার পাত্রের বিষয়বস্তু নিজের দিকে উল্টে নিতে পারে।১৬-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি এই গাছ থেকে খাবে—অর্থাৎ রসুন—সে যেন আমাদের মসজিদে এসে আমাদের কষ্ট না দেয়।১৭-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিয়ের মধ্যে মরে যাওয়া ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: যদি ঘি জমাটবদ্ধ হয়, তবে ইঁদুরটি এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও। আর যদি তা তরল হয়, তবে তার নিকটবর্তী হয়ো না।১৮-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা‘মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে; যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়; এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
19-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل أيصلى الرجل في الثوب الواحد فقال أو لكلكم ثوبان هـ.20-…حدثنا بشر بن عمر ثنا مالك بن أنس عن ابن شهاب عن سعيد ين المسيب عن أبي هريرة أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة في الثوب الواحد فقال أو كلكم يجد ثوبين هـ.21-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إني لأستغفر الله عز وجل في اليوم وأتوب إليه سبعين مرة هـ.-ق4أ-22-…حدثنا بشر بن عمر ثنا مالك عن ابن شهاب عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن عائشة قالت سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البتع فقال كل شراب أسكر حرام هـ.23-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن أبي سلمة بن عبد الرحمن قال كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الرُّؤْيَا شدة غير أَنِّي لا أُزَمَّلُ حَتَّى حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ الرُّؤْيَا مِنَ اللَّهِ عز وجل وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا حَلَمَ أَحَدُكُمْ حلما يَكْرَهُهُ فَلْيَبْصُقْ ثَلاثَ بصقاتٍ وَلْيَسْتَعِذْ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ لا يَضُرُّهُ هـ.24-… حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري حدثني أبو سلمة بن عبد الرحمن أَبَا الرَّدَّادِ اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ عز وجل أَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ وشقَقْتُ لَهَا اسْما من اسمي فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلَتهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ هـ.
১৯-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক কাপড়ে কি সালাত আদায় করা যায়? তিনি বললেন, "তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?"২০-…বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক কাপড়ে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই কি দুটি কাপড় পায়?"২১-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি দিনে মহান আল্লাহর নিকট সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি।"-পৃষ্ঠা ৪ক-২২-…বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'বিত' (মধু থেকে প্রস্তুতকৃত পানীয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "প্রত্যেক নেশাজাতীয় পানীয়ই হারাম।"২৩-…আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্ন দেখে অত্যন্ত ক্লেশ অনুভব করতাম, এমনকি আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম; পরিশেষে আবু কাতাদা (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "উত্তম স্বপ্ন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।"২৪-… আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল রাদ্দাদ আল-লাইসি তাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "মহান আল্লাহ বলেন: আমিই রহমান (পরম দয়ালু), আমিই জরায়ু (রহিম) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব, আর যে ব্যক্তি তা ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করে দেব।"
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
25-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس قال سأل سعد بن عبادة رسول الله صلى الله عليه وسلم عَنْ نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَأَمَرَ بِقَضَائِهِ هـ.26-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس قال جئت إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع أو قال يوم الفتح وهو يصلي وَأَنَا وَالْفَضْلُ مُرْتَدِفَانِ على أَتَان فَقَطَعْنَا الصَّفَّ وَنَزَلْنَا عَنْهَا ثُمَّ وَصَلْنَا الصَّفَّ وَالأَتَانُ تَمُرُّ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ فَلَمْ تَقْطَعْ صَلاتَهُمْ هـ.27-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري أنا عبيد الله بن عبد الله بن عتبة أنه سمع ابن عباس يقول سمعت أَبَا طَلْحَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لا تَدْخُلُ الْمَلائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلا صُورَةُ تَمَاثِيلَ هـ.28-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس من الفطرة الاستحداد والختان وقص الشارب ونتف الإبط وتقليم الأظفار هـ.29-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال-ق4ب-سأل رجل النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أي الأعمال أفضل قال الإيمان بالله قال ثم ماذا، قال ثم الجهاد في سبيل الله قال ثم ماذا قال ثم حج مبرور هـ.30-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا حسد إلا على اثنتين رجلا أتاه الله القرآن فهو يقوم به.31-…حدثنا عبد الرحمن بن مهدي عن مالك عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم مر برجل وهو يعظ أخاه في الحياء فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم دعه فإن الحياء من الإيمان هـ.
২৫-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সা’দ ইবনে উবাদাহ (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মায়ের একটি মানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা পূরণ করার নির্দেশ দেন।২৬-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বিদায় হজের সময়—অথবা তিনি বলেছেন মক্কা বিজয়ের দিন—আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আমি এবং ফজল একটি মাদী গাধার পিঠে সওয়ার ছিলাম। আমরা কাতারের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধা থেকে নেমে পড়লাম। এরপর আমরা কাতারে শামিল হলাম, আর মাদী গাধাটি তাদের সামনে দিয়ে চলে গেল, কিন্তু তা তাদের সালাত নষ্ট করেনি।২৭-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমি আবু তালহা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ফিরিশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর বা কোনো প্রতিকৃতি বা মূর্তির ছবি থাকে।২৮-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের (স্বভাবজাত প্রকৃতির) অন্তর্ভুক্ত: নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, খতনা করা, গোঁফ ছাঁটা, বগলের পশম উপড়ানো এবং নখ কাটা।২৯-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:-পৃ ৪খ-এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: এরপর মকবুল হজ।৩০-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কেবল দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে ঈর্ষা করা যায় না: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে তা নিয়ে রাত-দিন ইবাদতে লিপ্ত থাকে।৩১-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, তিনি মালিক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে তার ভাইকে লজ্জাশীলতার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ওকে ছেড়ে দাও, কারণ লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
32-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من أعتق شركا له في عبد أقيم ما بقي في ماله هـ.33-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أَعْجَلَ فِي السَّيْرِ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ.34-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن عمر سأل النبي صلى الله عليه وسلم أأنام وأنا جنب قال نعم وتوضأ وضوءك للصلاة هـ.35-…حدثنا بشر بن عمر ثنا مالك بن أنس عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله بن عمر عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا افتتح الصلاة رفع يديه حذو مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا أراد أن يركع فعل مثل ذلك، وإذا رفع رأسه من الركوع فعلها كذَلِكَ وَقال سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد وكان لا يفعل ذلك في السجود قال أبو علي قال أبو عبد الله قال لنا بشر حين قرأ هذا الحديث احفظوا أي اسمعوا هـ.36-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال صلاة الليل مَثْنَى فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ هـ.37-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تتركوا النار فِي بُيُوتِكُمْ حِينَ تَنَامُونَ هـ.38-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس يَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ رَدُّ السَّلامِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ هـ.-ق5أ-
৩২-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো দাসের মধ্যে তার অংশ মুক্ত করে দেয়, তবে তার অবশিষ্ট সম্পদের ওপর ভিত্তি করে সেটির পূর্ণ মূল্য নির্ধারণ করা হবে।৩৩-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে দ্রুত পথ চলতেন তখন মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করতেন।৩৪-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় ঘুমাতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং নামাযের ওযুর মতো ওযু করে নাও।৩৫-…বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন তার দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, আর যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখনো তদ্রূপ করতেন, এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনো তদ্রূপ করতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শুনেছেন যে তাঁর প্রশংসা করেছে, হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনারই’। তিনি সাজদাহ করার সময় এমনটি করতেন না। আবু আলী বলেন, আবু আবদুল্লাহ আমাদের বলেছেন: বিশর যখন আমাদের নিকট এই হাদীসটি পাঠ করেন তখন তিনি বলেছিলেন ‘সংরক্ষণ করো’ অর্থাৎ ‘মনোযোগ দিয়ে শোনো’।৩৬-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: রাতের নামায দুই দুই (রাকাত) করে, অতঃপর যখন তোমার সুবহে সাদিকের আশঙ্কা হবে তখন এক রাকাত বিতর পড়ে নাও।৩৭-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা যখন ঘুমাতে যাও তখন তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখো না।৩৮-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: একজন মুসলিমের ওপর তার ভাইয়ের পাঁচটি হক রয়েছে: সালামের উত্তর দেওয়া, হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, জানাযার অনুগমন করা এবং দাওয়াত কবুল করা।-পৃষ্ঠা ৫ক-
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
39-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن أيوب عن ابن سيرين عن عبد الرحمن بن أبي بكرة عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم حسبته قال في حجة الوداع فقال لَا أُلْفِيَنَّكُمْ تَرْجِعُونَ بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ ومَنْ أَخْفَرَ اللَّهَ في ذمته أَكَبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ لِيُبَلِّغِ شاهدكم غائبكم فرب مبلغ أحفظ من سامع هـ.40-…حدثنا عبد الله بن رجاء أنا إسرائيل عن أبي حصن عن يحيى بن وثاب عن مسروق عن عبد الله وأتاه رَجُلٌ فقال قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ فَقَالَ هَذًّا كَهَذِّا الشِّعْرِ لَكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ النَّظَائِرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ وآل حم هـ.41-…حدثنا عبد الله بن رجاء ثنا سعيد بن سلمة المديني مولى آل عمر بن الخطاب عن مسلم بن أبي مريم عن عبد الله بن سرجس أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوما وعليه نمرة له فَقَالَ لِرَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِهِ: أَعْطِنِي نَمِرَتَكَ، وَخُذْ نَمِرَتِي، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، نَمِرَتُكَ أَجْوَدُ مِنْ نَمِرَتِي، قَالَ: أَجَلْ، وَلَكِنْ فِيهَا خَيْطٌ أَحْمَرُ، فَخَشِيتُ أَنْ أَنْظُرَ إِلَيْهَا، فَتَفْتِنَنِي في صلاتي أو تلفتني.هـ.42-…حدثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنا شَرِيكٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَجَدَ وضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ هـ.43-…حدثنا أزهر السمان عن ابن عون عن محمد عن عبيدة عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال جاءت فاطمة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم تشتكي مجل يديها فأمرها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتسبيح والتكبير والتهليل هـ.
39-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা‘মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - আমার ধারণা তিনি বিদায় হজ্জে বলেছিলেন: “আমি যেন তোমাদের এমন না পাই যে তোমরা আমার পরে কাফির হয়ে ফিরে গেছ, একে অপরের ঘাড়ে আঘাত করছ। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মাদারী ভঙ্গ করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। তোমাদের মধ্যে উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়, কারণ অনেক সময় যার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।” সমাপ্ত।40-…আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসরাইল থেকে, তিনি আবু হাসীন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: “আমি এক রাকাআতে মুফাসসাল (সূরাসমূহ) পড়েছি।” তিনি বললেন: “এ তো কবিতা পাঠের মতো দ্রুত পাঠ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘নাযাইর’ (সমধর্মী) মুফাসসালের বিশটি সূরা এবং হা-মীম বিশিষ্ট সূরাগুলো পাঠ করতেন।” সমাপ্ত।41-…আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সালামাহ আল-মাদীনী (আলে উমর ইবনুল খাত্তাবের মুক্তদাস) থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সালাত আদায় করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর গায়ে একটি পশমী চাদর (নামিরাহ) ছিল। এরপর তিনি তাঁর এক সাহাবীকে বললেন: “তোমার চাদরটি আমাকে দাও এবং আমারটি তুমি নাও।” সে বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চাদরটি তো আমারটির চেয়ে অনেক উত্তম।” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, কিন্তু এতে লাল নকশা (সুতো) আছে, আমি আশঙ্কা করছিলাম যে আমি সেটির দিকে তাকিয়ে ফেলব, যা আমাকে আমার সালাতে বিঘ্ন ঘটাবে অথবা আমার মনোযোগ সরিয়ে দেবে।” সমাপ্ত।42-…ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শারীক থেকে, তিনি আসেম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল ইবনে হুজর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, যখন তিনি সাজদাহ করতেন তখন হাতের আগে হাঁটু রাখতেন এবং যখন উঠতেন তখন হাঁটুর আগে হাত তুলতেন।” সমাপ্ত।43-…আযহার আস-সাম্মান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আওন থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ফাতিমা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাঁর হাতে কড়া পড়ার (কষ্টের) অভিযোগ নিয়ে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করার নির্দেশ দিলেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
44-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عروة أن أسامة بن يزيد أخبره أن النبي صلى الله عليه وسلم ركب حمارا عَلَيه إِكَافٍ تَحْتَهُ قَطِيفَةٌ فَدَكِيَّةٌ وَأَرْدَفَ وَرَاءَهُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَهُوَ يَعُودُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ-ق5ب-فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ وَذَلِكَ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ حَتَّى مَرَّ بِمَجلس فِيهِ أخْلَاطٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ عَبْدَةِ الأَوْثَانِ وَالْيَهُودِ وَفِيهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ وَفِي الْمَجْلِسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلَمَّا غَشِيَتِ الْمَجْلِسَ عَجَاجَةُ الدَّابَّةِ خَمَّرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ أَنْفَهُ بِرِدَائِهِ ثُمَّ قَالَ لا تُغَبِّرُوا عَلَيْنَا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ وَقَفَ فَنَزَلَ فَدَعَاهُمْ إِلَى اللَّهِ عز وجل وَقَرَأَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ أَيُّهَا الْمَرْءُ لا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا إِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَلا تُؤْذِنَا فِي مَجْلِسِنَا وَارْجِعْ إِلَى رَحْلِكَ فَمَنْ جَاءَكَ مِنَّا فَاقْصُصْ عَلَيْهِ فَقَالَ عبد الله بْنُ رَوَاحَةَ اغْشَنَا فِي مَجَالِسِنَا فَإِنَّا نُحِبُّ ذَلِكَ فَاسْتَبَّ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْيَهُودُ حَتَّى هَمُّوا أَنْ يَتَوَاثَبُوا فَلَمْ يَزَلْ النبي صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ ثُمَّ رَكِبَ دَابَّتَهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ أَيْ سَعْدُ أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قالُ أَبُو حُبَابٍ يُرِيدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ قَالَ كَذَا وَكَذَا قَالَ اعْفُ عَنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاصْفَحْ فَوَاللَّهِ لَقَدْ أَعْطَاكَ اللَّهُ الَّذِي أَعْطَاكَ وَلَقَدِ اصبحَ أَهْلُ هَذِهِ الْبَحْرَةِ أَنْ يُتَوِّجُوهُ فَيُعَصِّبُوهُ
৪৪-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উসামা বিন যায়েদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলেন যার ওপর জিন লাগানো ছিল এবং তার নিচে ফাদাকি মখমলের চাদর ছিল। তিনি উসামা বিন যায়েদকে তার পেছনে বসিয়ে নিলেন। তিনি সাদ বিন উবাদাহকে দেখতে যাচ্ছিলেন-পৃষ্ঠা ৫বি-বনু হারিস বিন খাযরাজ গোত্রে। এটি ছিল বদরের যুদ্ধের আগের ঘটনা। পথে তিনি একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে মুসলিম, মূর্তিপূজক মুশরিক এবং ইহুদিদের এক মিশ্র জনতা ছিল। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন উবাই ছিল এবং সেই মজলিসে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাও ছিলেন। যখন জন্তুটির পায়ের ধুলো মজলিসকে আচ্ছন্ন করল, তখন আব্দুল্লাহ বিন উবাই তার চাদর দিয়ে নিজের নাক ঢেকে নিল এবং বলল, "আমাদের ওপর ধুলো ওড়াবেন না।" এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম দিলেন, অতঃপর থামলেন এবং বাহন থেকে নামলেন। তিনি তাদের মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন এবং তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন উবাই তাকে বলল, "হে লোক! তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে এর চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। তবুও তুমি আমাদের মজলিসে এসে আমাদের কষ্ট দিও না; বরং তোমার নিজের ডেরায় ফিরে যাও। আমাদের মধ্য থেকে যে তোমার কাছে যাবে, তাকেই তুমি এসব শোনাবে।" তখন আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা বললেন, "আপনি অবশ্যই আমাদের মজলিসগুলোতে আসবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি।" এতে মুসলিম, মুশরিক এবং ইহুদিরা পরস্পর গালাগালিতে লিপ্ত হলো, এমনকি তারা একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার উপক্রম করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত তাদের শান্ত করতে থাকলেন। এরপর তিনি তার বাহনে আরোহণ করলেন এবং সাদ বিন উবাদাহর কাছে পৌঁছালেন। তিনি বললেন, "হে সাদ! আবু হুবাব (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন উবাই) কী বলেছে তুমি কি তা শোনোনি? সে এমন এমন কথা বলেছে।" সাদ বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে যা দান করার তা দান করেছেন। অথচ এই জনপদের মানুষ তাকে মুকুট পরিয়ে এবং নেতৃত্বের পাগড়ি পরিয়ে রাজা বানানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছিল।"
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
بِالْعِصَابَةِ فَلَمَّا رَدَّ اللَّهُ ذَلِكَ بِالْحَقِّ الَّذِي أَعْطَاكَهُ شَرِقَ بِذَلِكَ فَلِذَلِكَ فَعَلَ بِه مَا رَأَيْتَ فَعَفَى عَنْهُ النبي صلى الله عليه وسلم هـ.45-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عروة عن حكيم بن حزام قال قلت يا رسول الله أرأيت أمورا كُنْتُ أَتَحَنَّثُ بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ عَتَاقَةٍ وَصِلَةِ رَحِمٍ هَلْ لِي فِيهَا أَجْرٍ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَسْلَمْتَ عَلَى مَا سَلَفَ لَكَ مِنْ خَيْرٍ هـ.46-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عروة عن أسامة بن زيد قال أَشْرَفَ النبي صلى الله عليه وسلم عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ، فَقَالَ: هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى إِنِّي قالوا لا قال إني لأَرَى الْفِتَنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ هـ.47-…حدثنا عثمان بن عمر أنا يونس عن الزهري عن عروة عن عائشة رضي الله عنها أَنَّ الْحَوْلَاءَ مَرَّتْ بها وَعِنْدَهَا النبي صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَقُلْتُ هَذِهِ قد زَعَمُوا أَنَّهَا لَا تَنَامُ اللَّيْلَ قَالَ خُذُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَالله لَا يَسْأَمُ حَتَّى تَسْأَمُوا هـ.48-…حدثنا أبو عاصم النبيل عن شبيب عن عكرمة عن ابن عباس لمن كان لهقلب أو ألقى السمع وهو شهيد قال كان المنافقون يجلسون عند رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرجون فيقولون ماذا قال آنفا قال ليس معهم قلوب هـ.-ق6أ-49-…حدثنا أبو المغيرة عن الأوزاعي عن عطاء عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم تزوج ميمونة وهو محرم هـ.50-…حدثنا عبد الله بن رجاء المسعودي عن حبيب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال أتى رجل النبي صلى الله عليه وسلم فقال إني نذرت بوانة فقال هل في نفسك من أمر الجاهلية قال لا قال أوف نذرك هـ.
নেতৃত্বের পাগড়ির মাধ্যমে। অতঃপর আল্লাহ যখন আপনার কাছে আসা সত্যের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দিলেন, তখন সে এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ল। এই কারণেই সে তা-ই করেছে যা আপনি দেখেছেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ক্ষমা করে দিলেন।৪৫-…আমাদের কাছে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি হাকিম ইবন হিযাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেই সব কাজের ব্যাপারে ভেবে দেখেছেন, যা আমি জাহেলি যুগে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধি হিসেবে করতাম? যেমন—দাস মুক্ত করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। এতে কি আমার জন্য কোনো প্রতিদান রয়েছে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, "তুমি ইতিপূর্বে যে সব নেক আমল করেছ, তার সওয়াবসহই তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।"৪৬-…আমাদের কাছে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি উসামাহ ইবন যাইদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনার দুর্গগুলোর মধ্য হতে একটি দুর্গের ওপর আরোহণ করলেন এবং বললেন, "আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ?" তারা বললেন, না। তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ঘরগুলোর ফাঁকে ফাঁকে ফিতনা পতিত হতে দেখছি, যেমন বৃষ্টির ফোঁটা পতিত হয়।"৪৭-…আমাদের কাছে উসমান ইবন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, হাওলা বিনতে তুওয়াইত তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা ছিলেন। আয়িশা বললেন, আমি বললাম, এই সেই নারী যার সম্পর্কে লোকে বলে যে সে রাতে ঘুমায় না। তিনি বললেন, "তোমরা আমলের ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু করার সামর্থ্য তোমাদের আছে। কারণ আল্লাহ প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা আমল করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ো।"৪৮-…আমাদের কাছে আবু আসিম আন-নাবীল বর্ণনা করেছেন, তিনি শাবীব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে ‘যার হৃদয় আছে অথবা যে উপস্থিত হয়ে কান পেতে শোনে’—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মুনাফিকরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসে বসত, অতঃপর যখন তারা বের হয়ে যেত তখন তারা (পরস্পরকে) বলত, "তিনি এইমাত্র কী বললেন?" তিনি বললেন, আসলে তাদের মাঝে (অনুধাবন করার মতো) কোনো হৃদয় নেই।-পৃষ্ঠা ৬ ক-৪৯-…আমাদের কাছে আবুল মুগীরা বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিবাহ করেছিলেন।৫০-…আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন রাজা আল-মাসউদী বর্ণনা করেছেন, তিনি হাবীব থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, আমি বুওয়ানা নামক স্থানে (কুরবানি করার) মানত করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার অন্তরে কি জাহেলি যুগের কোনো বিষয়ের প্রতি অনুরাগ আছে?" সে বলল, না। তিনি বললেন, "তবে তোমার মানত পূর্ণ করো।"
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
51-…حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد بن أبي بكر بن إسحاق قال ذكر محمد بن مسلم ابن عبيد الله بن شهاب الزهري عن عروة عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال تعني النبي صلى الله عليه وسلم فضل الصلاة بالسواك على الصلاة بغير السواك سبعون ضعفا هـ.52-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن السائب بن يزيد عَن المطلب بن أبي وداعة السهمي عَن حفصة قالت لم أر رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي قاعدا حتى كان قبل موته بعام أو اثنين فكان يصلي في سبحته جالسا ويرتل السورة حتى يكون في قراءة أطول منها هـ.53-…حدثنا عثمان بن عمر ثنا يونس عن الزهري عن محمود بن الربيع عن عتبان بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى في بيته سبحة الضحى فقاموا وراءه فصلوا هـ.54-…حدثنا أبو عاصم النبيل عن جعفر بن يحيى بن ثوبان عن عمه عمارة عن أبي الطفيل قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم لحما بالجعرانة وأنا غلام شاب فأقبلت إمرأة حتى رآها النبي صلى الله عليه وسلم بسط لها رداءه فقعدت عليه فقلت من هذه قالوا أمه التي أرضعته هـ.55-…حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث ثنا شعبة عن يحيى بن أبي إسحاق قال سمعت عقبة بن عبد الغافر يحدث عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الزبيب والتمر هـ.56-…حدثنا عبد الرزاق عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مَثَلُ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ أَنْ يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ يُرْجِعَهُ سَالِمًا بِمَا أَصَابَ-ق6ب-مِنْ أَجْرِ أَوْ غَنِيمَةٍ هـ.57-…وبإسناده أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعتكف العشر الأواخر من رمضان حتى توفاه الله عز وجل هـ.
৫১-…ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি উরওয়াহ হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মিসওয়াকসহ সালাতের মর্যাদা মিসওয়াকবিহীন সালাতের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি। সমাপ্ত।৫২-…আব্দুর রাজ্জাক মা'মার হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ হতে, তিনি মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদা'আ আস-সাহমি হতে এবং তিনি হাফসা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের এক বা দুই বছর আগে পর্যন্ত বসে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তিনি তাঁর নফল সালাত বসে আদায় করতেন এবং সূরা এমনভাবে তারতিলের সাথে পাঠ করতেন যে, তা দীর্ঘতর সূরার চেয়েও দীর্ঘ মনে হতো। সমাপ্ত।৫৩-…উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস জুহরি হতে, তিনি মাহমুদ ইবনে রাবি' হতে এবং তিনি ইতবান ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে চাশতের সালাত আদায় করেছিলেন, তখন তাঁরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। সমাপ্ত।৫৪-…আবু আসিম আন-নাবিল জাফর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাওবান হতে, তিনি তাঁর চাচা আম্মারা হতে এবং তিনি আবু তুফায়েল হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জি'রানা নামক স্থানে গোশত বণ্টন করতে দেখেছি এবং আমি তখন একজন কিশোর বালক ছিলাম। এমন সময় একজন নারী এগিয়ে এলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখা মাত্রই নিজের চাদর বিছিয়ে দিলেন এবং তিনি তার ওপর বসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তাঁরা বললেন: ইনি তাঁর সেই মা যিনি তাঁকে দুগ্ধপান করিয়েছিলেন। সমাপ্ত।৫৫-…আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ ইয়াহইয়া ইবনে আবি ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উকবা ইবনে আব্দুল গাফিরকে আবু সাঈদ আল-খুদরি হতে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিশমিশ ও খেজুর (একত্রে ভিজিয়ে রাখা) থেকে নিষেধ করেছেন। সমাপ্ত।৫৬-…আব্দুর রাজ্জাক মা'মার হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর পথে জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করে—এই যে, আল্লাহ তাকে ওফাত দান করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা তাকে যা সে লাভ করেছে সেই-পৃষ্ঠা ৬খ-সওয়াব বা গণিমতসহ সহিহ-সালামতে ফিরিয়ে দেবেন। সমাপ্ত।৫৭-…এবং তাঁর বর্ণিত সনদে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর ওফাত দান করেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
58-…حدثنا أبو قتيبة مسلم بن قتيبة عن يونس يعنيى بن أبي إسحاق عن الشعبي عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الرجل من أهل الجنة ليشرف على أهل الجنة كأنه كوكب درى وإن أبا بكر وعمر منهم وأنعما هـ.59-…حدثنا أبو قتيبة ثنا الفضل بن مرزوق ومالك بن معول عن عطية العوفي عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله هـ.60-…حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد ثنا أَبِي عَنْ صَالِحٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أخبرني أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: بَيْنَما أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَي وعليهم قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثَّدْيَ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذَلِكَ وَمَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ قَالُوا مَاذا أَوَّلْتَ ذلك يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الدِّينُ هـ.61-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الحُسَيْنٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ تَنْزِلً غَدًا وذَلِكَ فِي حَجَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ شيئا ثُمَّ قَالَ لا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ ولا الْكَافِرُ الْمَسْلِمَ ثُمَّ قَالَ نَحْنُ نَازِلُونَ غَدًا بَخَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ حَيْثُ قَاسَمَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْكُفْرِ يَعْنِي بخيف الأَبْطَحَ قَالَ الزُّهْرِيُّ والْخَيْفُ الْوَادِي قَالَ وذَلِكَ أَنَّ قُرَيْشًا حَالَفُوا بَنِي بَكْرٍ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ أَنْ لا يُجَالِسُوهُمْ ولا يُنَاكِحُوهُمْ ولا يُبَايِعُوهُمْ ولا يُؤْوُوهُمْ هـ.
৫৮-…আবু কুতায়বা মুসলিম ইবনে কুতায়বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস অর্থাৎ ইবনে আবি ইসহাক থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জান্নাতবাসীদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের ওপর এমনভাবে উঁকি দেবেন যেন তিনি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। আবু বকর ও উমর তাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কতই না সৌভাগ্যবান!৫৯-…আবু কুতায়বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ফজল ইবনে মারজুক ও মালিক ইবনে মিওয়াল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ আল-আউফি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।৬০-…ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব বলেছেন যে আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন দেখলাম যে মানুষকে আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের গায়ে জামা ছিল। কোনোটি বুক পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল, আবার কোনোটি তার চেয়েও ছোট। আমার সামনে দিয়ে উমর ইবনে আল-খাত্তাব অতিক্রম করলেন এবং তার গায়ে ছিল একটি দীর্ঘ জামা যা তিনি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।" তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন?" তিনি বললেন, "দীন।"৬১-…আব্দুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান থেকে, তিনি উসামাহ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আগামীকাল কোথায় অবস্থান করবেন?" এটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজ্জের সময়। তিনি বললেন, "আকিল ইবনে আবি তালিব কি আমাদের জন্য কিছু অবশিষ্ট রেখেছেন?" অতঃপর তিনি বললেন, "মুসলমান কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফির মুসলমানের উত্তরাধিকারী হয় না।" তারপর তিনি বললেন, "আগামীকাল আমরা বনু কিনানার খায়েফ নামক স্থানে অবস্থান করব, যেখানে কুরাইশরা কুফরির ওপর শপথ করেছিল," অর্থাৎ খায়েফে আবতাহ। যুহরি বলেন: খায়েফ হলো উপত্যকা। তিনি বলেন: এটি এ কারণে যে, কুরাইশরা বনু বকরের সাথে বনু হাশিমের বিরুদ্ধে এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা তাদের সাথে বসবে না, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের কাছে কেনাবেচা করবে না এবং তাদের আশ্রয় দেবে না।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
62-…حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد ثنا أبي عن صالح عن ابن شهاب أخبرني علي بن حسين أن أباه حسين بن علي أخبره أن علي بن أبي طالب أخبره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم طَرَقَهُ هُوَ وَفَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَلا تُصَلُّونَ؟ فَقُلْتُ: يَا رَسُولِ اللهِ، إِنَّمَا أَنْفُسُنَا بِيَدِ اللهِ عز وجل فَإِذَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَنَا بَعَثَنَا، فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللهِ-ق7أ-صلى الله عليه وسلم حِينَ قُلْتُ له ذَلِكَ وَلَمْ يَرْجِعْ شَيْئًا، فسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَضْرِبُ عَلَى فَخِذِهِ وَيَقُولُ: {وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلا} هـ.63-…حدثنا سعيد بن عامر عن محمد بن عمرو عن الزهري عن تَمَّامِ بْنِ الْعَبَّاسِ قَالَ سَمِعَتْ مِنِّي أُمُّ الْفَضْلِ وَأَنَا أَقَرَأُ {وَالْمُرْسَلاتِ} فَقَالَتْ هَذِهِ آخِرُ سُورَةٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهَا فِي صَلاةِ الْمَغْرِبِ هـ.64-…حدثنا عبد الرزاق أنا ابن جريج ومَالِكٍ عَنِ ابْنِِ شِهَابٍ عَنِ ابْنِِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ هـ.65-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة في مسجدي هذا خير من ألف صلاة في غيره من المساحد إلا المسجد الحرام هـ.66-…حدثنا عثمان بن عمر ثنا يونس عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أجود الناس وأجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه في كل ليلة في رمضان يدارسه القرآن وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لقيه جبريل أجود من الريح المرسلة هـ.
৬২-…ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন যে আলি ইবনে হুসাইন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা হুসাইন ইবনে আলি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আলি ইবনে আবি তালিব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার নিকট রাতে আগমন করলেন এবং বললেন: তোমরা কি সালাত আদায় করবে না? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের প্রাণ তো আল্লাহর হাতে, তিনি যখন আমাদের জাগাতে চান, জাগিয়ে দেন। আমি তাঁকে এ কথা বললে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্থান করলেন এবং কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর আমি তাঁকে নিজের উরুতে আঘাত করতে করতে বলতে শুনলাম: {আর মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়}।-পৃ৭ক-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমি তাঁকে এ কথা বললাম তখন প্রস্থান করলেন এবং কোনো কিছু ফিরিয়ে বললেন না। অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর উরুতে আঘাত করতে করতে বলতে শুনলাম: {মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়}।৬৩-…সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি তাম্মাম ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মুল ফজল আমার নিকট থেকে শুনলেন যখন আমি {ওয়াল মুরসালাত} পাঠ করছিলাম। তিনি বললেন: এটিই শেষ সূরা যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের সালাতে পাঠ করতে শুনেছি।৬৪-…আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ ও মালিক আমাদের নিকট ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ইমাম যখন খুতবা দান করেন তখন যদি তুমি তোমার সাথীকে বলো "চুপ করো", তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।৬৫-…আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট মা’মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার এই মসজিদে এক সালাত আদায় করা অন্য সকল মসজিদে হাজার সালাত আদায়ের চেয়েও উত্তম, তবে মসজিদুল হারাম ব্যতীত।৬৬-…উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাদের নিকট যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর রমজান মাসে যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরীল রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। জিবরীলের সাথে সাক্ষাতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
67-…حدثنا أبو عاصم عن الأوزاعي أخبرني الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شرب لبنا فدعا بماء فتمضمض وقال إن له دسما هـ.68-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عبيد الله عن عبد الله عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أَقْرَأَنِي جِبْرِيلُ فَرَاجَعْتُهُ فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيدُهُ وَيَزِيدُنِي فانْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَإِنَّمَا هَذِهِ فِي الأَمْرِ الْوَاحِدِ الَّذِي لَيْسَ عندك فِيهِ حَلالٌ وَلا حَرَامٌ هـ.69-…حدثنا محاضر بن المورع ثنا هشام هو ابن عروة عن أبيه عن عبد الله بن جعفر سمعت عليا بالعراق يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه-ق7ب-عليه وسلم يقول خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ هـ.70-…حدثنا محمد بن عبيد أنا الأعمش عن سعيد بن عبيدةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا لَكَ تَنَوَّقُ فِي قُرَيْشٍ، وَلَا تتَزَوَّجُ إِلَيْنَا ثم قَالَ وَعِنْدَكَ قَالَ قُلْتُ نَعَمِ بنت حَمْزَةَ قَالَ تِلْكَ ابْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ هـ.71-…حدثنا عبيد الله بن موسى أنا الأعمش عن عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ سمعت عَلِيا يقول والذي فلق الحبة وبرأ النسمة إن لعَهِد النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَىَّ إِنَّهُ لَا يُحِبُّكَ إِلَاّ مُؤْمِنٌ وَلَا يَبْغَضُكَ إِلَاّ مُنَافِقٌ هـ.
৬৭-…আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন, তারপর পানি চাইলেন এবং কুলি করলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এতে স্নিগ্ধতা (তৈলাক্ততা) রয়েছে।"৬৮-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জিবরাঈল আমাকে (কুরআন) পাঠ করিয়েছেন, আমি তাকে আরও বাড়ানোর জন্য বারবার অনুরোধ জানালাম। এভাবে আমি তার কাছে বৃদ্ধি প্রার্থনা করতে থাকলাম আর তিনিও আমাকে বাড়িয়ে দিতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত সাত (পদ্ধতি) পর্যন্ত পৌঁছাল।" যুহরী বলেন: "এটি কেবল এমন একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে যাতে তোমাদের নিকট হালাল বা হারামের কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই।"৬৯-…মুহাদির বিন আল-মুওয়াররা' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম (যিনি ইবনে উরওয়াহ) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন জাফর থেকে যে, আমি আলীকে ইরাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:-পৃষ্ঠা ৭খ-"নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন মারইয়াম এবং নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন খাদিজা।"৭০-…মুহাম্মদ বিন উবায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি সাঈদ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কী হলো যে আপনি কুরাইশদের মধ্য থেকে পছন্দ করে বিবাহ করছেন, অথচ আমাদের এখানে বিবাহ করছেন না? তিনি বললেন: "তোমাদের নিকট কি কেউ আছে?" আমি বললাম: হ্যাঁ, হামযার কন্যা। তিনি বললেন: "সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা।"৭১-…উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আদী বিন সাবিত থেকে, তিনি যির বিন হুবায়শ থেকে যে, তিনি আলীকে বলতে শুনেছেন: "যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রতি অঙ্গীকার করেছেন যে, মুমিন ব্যতীত কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ তোমাকে ঘৃণা করবে না।"
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
72-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن عبد الْقَارِيِّ أَنَّهُما سَمِعا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ ممررت بهِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وهو يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فَكِدْتُ أَنْ أَساوره في الصلاة فنظرت حتى سلم، فلما سلم لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَقلت من أقرأك هذه السورة التي أسمعك تقرأها قال أقرأنيها رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قال قُلْتُ له كذبت فوالله إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لهو أقرأني هذه السورة التي تقرأها قال فانطلقت أقوده إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يَا رَسُولَ الله إنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى حروف لم تقرأنيها وأنت أقرأتني سورة الفرقان فقال النبي صلى الله عليه وسلم اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ عليه الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ فَقَالَ النبي صلى الله عليه وسلم هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ لِي اقْرَأْ يا عمر فَقَرَأْتُ القراءة التي أقرأني النبي صلى الله عليه وسلم ثم قَالَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ هـ.73-…حدثنا جعفر بن عون أنا هشام بن عروة عن أمه عن عمر بن أبي سلمة قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في بيت أم سلمة في ثوب واحد واضعا طرفيه على منكبيه هـ.-ق8أ-74-…حدثنا يزيد بن هارون أنا محمد بن إسحاق عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنة شجرة يسير الراكب في ظلها مائة سنة لا يقطعها هـ.75-…وبإسناده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا هـ.
৭২-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহরী থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ এবং আবদুর রহমান বিন আবদ আল-কারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা উভয়ই উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিযামকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সূরা আল-ফুরকান পাঠ করতে শুনলাম। সালাতরত অবস্থায় আমি প্রায় তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলাম, কিন্তু আমি তার সালাম ফেরানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। যখন সে সালাম ফেরাল, আমি তার চাদর দিয়ে তাকে পেঁচিয়ে ধরলাম এবং বললাম, তোমাকে এই সূরাটি কে পাঠ করিয়েছে যা আমি তোমাকে পাঠ করতে শুনলাম? সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এটি পাঠ করিয়েছেন। উমর বলেন, আমি তাকে বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই সূরাটি পাঠ করিয়েছেন যা তুমি পাঠ করছিলে (তা থেকে এটি ভিন্ন)। এরপর আমি তাকে টেনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একে এমন কতগুলো হরফে (পদ্ধতিতে) সূরা আল-ফুরকান পাঠ করতে শুনেছি যা আপনি আমাকে পড়াননি, অথচ আপনি আমাকে সূরা আল-ফুরকান পড়িয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হিশাম, পাঠ করো। সে সেই পাঠটিই পাঠ করল যা আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে উমর, পাঠ করো। আমি সেই পাঠটি পাঠ করলাম যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি হরফে (পদ্ধতিতে) অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং এর মধ্য থেকে যা সহজ হয় তাই পাঠ করো। সমাপ্ত।৭৩-…জা’ফর বিন আউন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন উরওয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর মা থেকে, তিনি উমর বিন আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উম্মে সালামার ঘরে এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কাপড়টির উভয় প্রান্ত তিনি তাঁর দুই কাঁধের ওপর রেখেছিলেন। সমাপ্ত।-পৃষ্ঠা ৮ ক-৭৪-…ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর পথ চললেও তা শেষ করতে পারবে না। সমাপ্ত।৭৫-…এবং উক্ত সনদেই তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
76-…حدثنا يزيد بن هارون أنا محمد بن إسحاق عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قضى الله الخلق كتب كتابا فهو تحت العرش أن رحمتي سبقت غضبي هـ.77-…حدثنا يزيد بن هارون أنا محمد عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لله عز وجل تسعة وتسعين اسما مائة إلا واحد من أحصاها كلها دخل الجنة إنه وتر يحب الوتر هـ.78-…حدثنا يزيد بن هارون أنا محمد بن إسحاق عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نظر أحدكم إلى من فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخُلُقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ دونه مِمَّنْ فُضِّلَ هو عَلَيْهِ هـ.79-…حدثنا محمد بن عبيد ثنا عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن الذي يجر ثوبه من الخيلاء لا ينظر الله إليه يوم القيامة هـ.80-…حدثنا محمد بن عبيد ثنا عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدخل مكة من الثنية العليا ويخرج من الثنية السفلى هـ.81-…حدثنا محمد ثنا عبيد الله عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على كل عبد أو حر صغير أو كبير هـ.-ق8ب-82-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري أخبرني عبد الله بن عامر بن ربيعة عن أبيه رأى النبي صلى الله عليه وسلم يصلى على ناقته أو قال على بعيره النوافل في كل جهة هـ.83-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري أخيرني محمد بن النعمان بن بشير وحميد بن عبد الرحمن بن عوف عن النعمان بن بشير قال ذهب بي أبي بشير إلى النبي صلى الله عليه وسلم لِيُشْهِدَهُ عَلَى نُحْلٍ نحلته فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكُلَّ بَنِيكِ نَحَلْتَ مِثْلَ هَذَا فَقَالَ لا قَالَ فَارْجِعْهَا هـ.
৭৬-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ সৃষ্টির ফয়সালা করলেন, তখন তিনি একটি কিতাব লিখলেন, যা আরশের নিচে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের ওপর অগ্রগামী হয়েছে।"৭৭-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—একশ থেকে একটি কম। যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে (সংরক্ষণ করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই তিনি বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।৭৮-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন এমন ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে সম্পদ ও চরিত্রে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন তার চেয়ে নিচের স্তরের ব্যক্তির দিকে তাকায়, যার ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে।৭৯-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় টেনে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।৮০-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করতেন ওপরের গিরিপথ দিয়ে এবং বের হতেন নিচের গিরিপথ দিয়ে।৮১-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক দাসের ওপর অথবা স্বাধীন, ছোট বা বড় ব্যক্তির ওপর সদকাতুল ফিতর এক সা' খেজুর অথবা এক সা' যব ফরজ করেছেন।-পৃষ্ঠা ৮খ-৮২-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবি'য়াহ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তার উটনীর ওপর অথবা তিনি বলেছেন তার উটের ওপর সওয়ার হয়ে সব দিকে ফিরে নফল নামাজ পড়তে দেখেছেন।৮৩-…আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন নু'মান ইবন বাশির এবং হুমাইদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ থেকে এবং তারা নু'মান ইবন বাশির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বাশির আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে গেলেন যেন তাকে একটি দানের ব্যাপারে সাক্ষী রাখতে পারেন যা তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, "না।" তিনি বললেন: তবে এটি ফিরিয়ে নাও।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
84-…حدثنا عثمان بن عمر أنا موسى عن الزهري عن ابن خزيمة بن ثابت عن عَمِّهِ أَن خُزَيْمَةَ رَأَى فِيمَا يَرَى النَّائِمُ أَنَّهُ يَسْجُدُ عَلَى جَبْهَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فأخبره فَاضْطَجَعَ لَهُ وَقَالَ صَدِّقْ رُؤْيَاكَ فَسَجَدَ عَلَى جَبْهَتِهِ هـ.85-…حدثنا محمد بن عبد الله بن المثنى الأنصاري أخبرني أشعث عن محمد بن سيرين عن خالد الحذاء عن أبي قلابة عن المهلب عن عمران بن حصين أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بهم فسهى في صلاته فسجد سجدتي السهو ثم يشهد ثم سلم هـ.86-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر ومالك بن أنس عن الزهري عن عطاء بن يزيد الليثي عن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سمعتم النداء فقولوا مثل ما يقول المنادي هـ.87-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عطاء بن يزيد الليثي عن عبيد الله بن عدي بن الْخِيَارِ عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِ اخْتَلَفْتُ أَنَا وَرَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ضَرْبَتَيْنِ فَقَطَعَ يَدِي فَلَمَّا أَهْوَيْتُ إِلَيْهِ لأَضْرِبَهُ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ أَقْتُلُهُ أَمْ أَدَعُهُ قَالَ لا بَلْ دَعهُ قال قُلْتُ فَإِنْ قَطَعَ يَدِي قَالَ وَإِنْ فَعَلَ فَرَاجَعْتَهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنْ قَتَلْتَهُ بَعْدَ أَنْ يقول لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فَأَنْتَ-ق9أ-88-…حدثنا عبد الله بن رجاء أنا همام عن أبي جمرة أن أبا بكر بن عبد الله بن قيس حدثه عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من صلى البردين دخل الجنة هـ.
৮৪-…উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি ইবনে খুযাইমা ইবনে সাবিত থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, খুযাইমা স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কপালে সিজদা করছেন। তিনি তাঁকে এ সংবাদ জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য শুয়ে পড়লেন এবং বললেন: তোমার স্বপ্ন সত্য করো। অতঃপর তিনি তাঁর কপালে সিজদা করলেন। সমাপ্ত।৮৫-…মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আশআস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি খালিদ আল-হাদ্দা থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আল-মুহাল্লাব থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি তাঁর সালাতে ভুল করলেন। অতঃপর তিনি ভুলের জন্য দুটি সিজদা (সহু সিজদা) করলেন, এরপর তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর সালাম ফিরালেন। সমাপ্ত।৮৬-…আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার ও মালিক ইবনে আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াযিদ আল-লাইসী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও অনুরূপ বলো। সমাপ্ত।৮৭-…আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াযিদ আল-লাইসী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে আল-খিয়ার থেকে, তিনি মিকদাদ ইবনে আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমার ও মুশরিকদের মধ্য হতে একজন ব্যক্তির সাথে লড়াই হয় এবং সে আমার হাত কেটে ফেলে, অতঃপর যখন আমি তাকে আঘাত করার জন্য উদ্যত হই তখন সে বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', তবে কি আমি তাকে হত্যা করব নাকি ছেড়ে দেব? তিনি বললেন: না, বরং তাকে ছেড়ে দাও। তিনি (মিকদাদ) বলেন, আমি বললাম: সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। তিনি বললেন: যদিও সে তা করেছে। আমি দুই বা তিনবার তাঁর কাছে এ কথার পুনরাবৃত্তি করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি তুমি তাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পর হত্যা করো, তবে তুমি...-পৃষ্ঠা ৯ক-৮৮-…আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জামরা থেকে যে, আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি দুই শীতল সময়ের সালাত (ফজর ও আসর) আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
89-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن أبي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ بَايَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَفَرًا وأَنَا فِيهِمْ فَتَلا عَلَيْنا آيَةَ النِّسَاءِ ألا تشركوا بالله شيئا الآية ثم قَالَ من وفى فأجره على الله ومن أصاب من ذلك شيئا فعوقب به في الدنيا فهو طهرة له أو قَالَ كفارة ومن أصاب من ذلك شيئا فستره الله عليه فأمره إلى الله عز وجل إن شاء غفر له وإن شاء عذبه هـ.90-…حدثنا عثمان بن عمر ثنا يونس عن الزهري عن أبي إدريس أن أبا الدرداء قال ألا أخبركم بخير لكم من الصيام والصدقة صلاح ذات البين وإياكم والبغضة فإنها هي الحالقة هـ.
৮৯-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনুন সামিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোকের নিকট থেকে বায়আত গ্রহণ করেন এবং আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি আমাদের নিকট নারীদের (আনুগত্যের) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন যে, 'তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না'—আয়াতাংশ। এরপর তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি এটি পূর্ণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে তার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে, তবে তা তার জন্য পবিত্রতা স্বরূপ (অথবা তিনি বললেন: কাফফারা)। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা তার ওপর গোপন রাখবেন, তবে তার বিষয়টি মহান আল্লাহর নিকট; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন।" সমাপ্ত।৯০-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু ইদরীস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু আদ-দারদা বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের রোজা ও সদকার চেয়েও উত্তম বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হলো পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন। আর তোমরা পারস্পরিক বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা হলো (দ্বীনকে) মুণ্ডনকারী।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
91-…حدثنا بشر بن عمر ثنا مالك عن ابن شهاب عن عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خَرَشَةَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا مَا لَكِ فِي كِتَابِ الله عز وجل شَيْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ؟ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه ثُمَّ جَاءَتِ الْجَدَّةُ الأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا مَا لَكِ فِي كِتَابِ الله عز وجل شَيْءٌ وَمَا الْقَضَاءُ الَّذِي بلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قُضِيَ بِهِ إِلَاّ لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ وَلَكِن هو ذَلِكَ السُّدُسُ فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فيه فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا هـ.92-…حدثنا أبو داود الطيالسي ثنا أبو عامر الخزاز عن ثابت عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم جاءه رجل فقال يا رسول الله إن أخي مات فقم فصل عليه فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلى على أخيه هـ.93-…حدثنا أبو داود عن شعبة عن أبي إسحاق عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال توفي النبي صلى الله عليه وسلم وأنا ابن خمس عشرة-ق9ب-مختونا هـ.
৯১-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উমর, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উসমান বিন ইসহাক বিন খারাশাহ থেকে, তিনি কাবিদাহ বিন যুআইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক দাদী আবু বকর সিদ্দিকের নিকট এসে তার মিরাস (উত্তরাধিকার) প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে বললেন: মহান আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাতেও তোমার জন্য কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। সুতরাং তুমি ফিরে যাও, যতক্ষণ না আমি লোকদের নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। অতঃপর তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করলে মুগীরাহ বিন শুবা বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন। আবু বকর বললেন: তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরা যা বলেছিলেন অনুরূপ বললেন। ফলে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তা তার জন্য কার্যকর করলেন। অতঃপর অপর এক দাদী উমর বিন খাত্তাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিকট এসে তার মিরাস প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে বললেন: মহান আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ফয়সালা দিয়েছিলেন বলে আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা তোমার অন্যজনের জন্য ছিল। আমি ফারায়েযের (উত্তরাধিকারের নির্ধারিত অংশ) মধ্যে কোনো বৃদ্ধি করব না; তবে তা সেই এক-ষষ্ঠাংশই। যদি তোমরা উভয়ই একত্রে থাকো তবে তা তোমাদের উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে, আর তোমাদের মধ্যে যে একা থাকবে তা তারই হবে।৯২-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসি, তিনি আবু আমির আল-খাযযায থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই মারা গেছে, আপনি উঠে তার জানাযার সালাত আদায় করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ভাইয়ের জানাযার সালাত আদায়ের জন্য উঠলেন।৯৩-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি শুবা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন যখন আমার বয়স ছিল পনের বছর-পৃষ্ঠা ৯খ-এবং আমি খতনা করা ছিলাম।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
94-…حدثنا عثمان بن عمر عن يونس عن الزهري عن عروة أن عائشة قالت إِنْ كُنْتُ لآتِي الْبَيْتَ وَفِيهِ الْمَرِيضُ فَمَا أَسْأَلُ عَنْهُ إِلا وَأَنَا مَارَّةٌ وَهِيَ مُعْتَكِفَةٌ وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِيُدْخِلُ عَلَيَّ رَأْسَهُ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَأُرَجِّلُهُ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ وَكَانَ لا يَأْتِي الْبَيْتَ لِحَاجَةٍ إِلا إِذَا أَرَادَ الْوُضُوءَ هـ.95-…حدثنا أبو داود الطيالسي ثنا شعبة عن ورقاء فلقيت ورقاء فحدثني عن سعد بن سعيد عن عمر بن ثابت عن أبي أيوب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من صام رمضان ثم أتبعه بست من شوال كان لم صام السنة هـ.96-…حدثنا الحسن بن بشر البجلي ثنا زهير بن معاوية عن أبي الزبير عن جابر بن عبد الله أن النبي صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَدْخُلَ الرَّجُلُ الْمَاءَ إِلَاَّ بِمِئْزَرٍ هـ.97-…حدثنا سعيد بن كثير بن عفير ثنا يحيى بن أيوب عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن عن عائشة قالت كان رسول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في الركعتين اللتين يوتر بعدهما بسبح اسم ربك الأعلى وقل يا أيها الكافرون، وفي الوتر بقل هو الله أحد، وقل أعوذ برب الفلق، وقل أعوذ برب الناس هـ.98-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن طاوس عن أبيه في قوله عز وجل غير أولي الإربة من الرجال قال هو الأحمق الذي ليست له النساء حاجة هـ.99-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن طاوس عن أبيه قال من السنة أن توقر أربعة العالم وذو الشيبة والسلطان والوالد هـ.100-…حدثنا عفان بن مسلم ثنا حماد بن سلمة عن أبي عذرة وكان قد أدرك النبي صلى الله عليه وسلم عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى الرجال والنساء عن دخول الحمامات ثم رخص للرجال أن يدخلوها بالمآزر هـ.
৯৪-…উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আমি ঘরে প্রবেশ করতাম যেখানে অসুস্থ ব্যক্তি থাকত, আমি কেবল পথিমধ্যে তার খোঁজ নিতাম যখন আমি ইতিকাফ অবস্থায় থাকতাম। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে থাকা অবস্থায় তাঁর মাথা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি তাঁর চুল আঁচড়ে দিতাম যখন তিনি ইতিকাফে থাকতেন। তিনি প্রয়োজনের জন্য ঘরে প্রবেশ করতেন না, কেবল যখন ওযুর ইচ্ছা করতেন তখন ছাড়া।"৯৫-…আবু দাউদ আল-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি ওয়ারকা থেকে, অতঃপর আমি ওয়ারকার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সা'দ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উমর ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা এর অনুগামী করল, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার সমান।"৯৬-…হাসান ইবনে বিশর আল-বাজালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষকে লুঙ্গি (তহবন্দ) ব্যতীত পানিতে নামতে নিষেধ করেছেন।৯৭-…সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিতরের পূর্ববর্তী দুই রাকাতে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা' এবং 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন' পাঠ করতেন, এবং বিতর নামাজে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ', 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক' এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস' পাঠ করতেন।"৯৮-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে মহান আল্লাহর বাণী "পুরুষদের মধ্যে কামনাহীন ব্যক্তি" সম্পর্কে বলেন: "সে হলো এমন নির্বোধ ব্যক্তি যার নারীদের প্রতি কোনো প্রয়োজন নেই।"৯৯-…আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বলেন: "চার ব্যক্তিকে সম্মান করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত: আলেম, বৃদ্ধ, শাসক এবং পিতা।"১০০-…আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আবু উযরাহ থেকে—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন—তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষ ও নারীদের গোসলখানায় (হামমাম) প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর পুরুষদের জন্য লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
101-…حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري عن عوق بن الْحَارِثِ وَهُوَ ابْنُ أَخِي عَائِشَةَ لأُمِّهِا أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ قَالَ فِي بَيْعٍ أَوْ عَطَاءٍ أَعْطَتْهُ وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ عَائِشَةُ أَوْ لأَحْجُرَنَّ عَلَيْهَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ هُوَ لِلَّهِ عَلَيَّ نَذَرٌ أَنْ لا أُكَلِّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ كَلِمَةٍ أَبَدًا قَالَ فَاسْتَشْفَعَ-ق10أ-عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ إِلَيْهَا حِينَ طَالَتْ هِجْرَتُهَا إِيَّاهُ فَقَالَتْ وَاللَّهِ لا أُشَفِّعُ فِيهِ أَحَدًا أبدا ولا أحنث في نذري الذي نذرت فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ كَلَّمَ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ وَهُمَا مِنْ بَنِي زُهْرَةَ فَقَالَ لَهُمَا أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ إِلا أَدْخَلْتُمَانِي عَلَى عَائِشَةَ فَإِنَّهُ لا يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَنْذِرَ قَطِيعَتِي فَأَقْبَلَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بن الأسود بن عبد يغوث بابْنُ الزُّبَيْرِ قد اشتملا عليه بِأَرْدِيَتِهِمَا حَتَّى اسْتَأْذَنَّا عَلَى عَائِشَةَ فَقَالا السَّلامُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ أَنَدْخُلُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ ادْخُلُوا فقَالا أَكُلَّنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ نَعَمْ ادْخُلُوا كُلُّكُمْ وَلا تَعْلَمْ عَائِشَةُ أَنَّ مَعَهُمُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَلَمَّا دَخَلُوا اقْتَحَمَ ابْنُ الزُّبَيْرِ الْحِجَابَ فأدخل إلى عائشة فَاعْتَنَقَها وَطَفِقَ يُنَاشِدُهَا وَيَبْكِي وَطَفِقَ الْمِسْوَرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ يُنَاشِدَانِ عَائِشَةَ رضي الله عنها إِلا كَلَّمْتُهُ وَقَبِلَتْ مِنْهُ وَيَقُولانِ لَهَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى كما عَلمت مِنَ الْهِجْرَةِ أنَّهُ لا يَحِلُّ
১০১-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আওফ বিন আল-হারিস থেকে—যিনি আয়েশার মায়ের দিক থেকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র—যে আয়েশা তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁর কোনো বিক্রয় বা দানের বিষয়ে বলেছিলেন, "আল্লাহর কসম, হয় আয়েশা অবশ্যই এটি থেকে বিরত হবেন, না হয় আমি অবশ্যই তাঁকে (সম্পত্তি ব্যবহারে) অবরুদ্ধ করব।" তখন আয়েশা বললেন, "আল্লাহর নামে আমার ওপর মানত রইল যে, আমি কখনো ইবনুল জুবাইরের সাথে একটি কথাও বলব না।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁর নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করলেন-পৃষ্ঠা ১০ক-যখন আয়েশা কর্তৃক তাঁর সাথে কথাবার্তা বন্ধের বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলো। তখন আয়েশা বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি এ বিষয়ে কখনো কারো সুপারিশ কবুল করব না এবং আমি যে মানত করেছি তা কখনো ভঙ্গ করব না।" যখন বিষয়টি ইবনুল জুবাইরের নিকট দীর্ঘ অনুভূত হলো, তখন তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ এবং আব্দুর রহমান বিন আল-আসওয়াদ বিন আব্দ ইয়াগুস-এর সাথে কথা বললেন—তাঁরা উভয়ে বনু জুহরা গোত্রের ছিলেন। তিনি তাঁদের দুজনকে বললেন, "আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, আপনারা আমাকে আয়েশার কাছে নিয়ে যাবেন; কেননা তাঁর জন্য আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানত করা বৈধ নয়।" অতঃপর মিসওয়ার বিন মাখরামাহ এবং আব্দুর রহমান বিন আল-আসওয়াদ ইবনুল জুবাইরকে নিয়ে আসলেন এবং তাঁকে তাঁদের চাদর দিয়ে ঢেকে নিলেন, অবশেষে তাঁরা আয়েশার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা বললেন, "নবীর ওপর সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আমরা কি প্রবেশ করব?" আয়েশা বললেন, "প্রবেশ করুন।" তাঁরা বললেন, "হে মুমিন জননী, আমরা সবাই কি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আপনারা সবাই প্রবেশ করুন।" আয়েশা জানতেন না যে তাঁদের সাথে ইবনুল জুবাইর আছেন। যখন তাঁরা প্রবেশ করলেন, ইবনুল জুবাইর পর্দার ভেতরে ঢুকে পড়লেন এবং আয়েশার নিকট গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং অনুনয়-বিনয় করতে ও কাঁদতে লাগলেন। মিসওয়ার এবং আব্দুর রহমানও আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে অনুনয় করতে লাগলেন যেন তিনি তাঁর সাথে কথা বলেন এবং তাঁর ওজর কবুল করেন। তাঁরা তাঁকে বলছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে নিষেধ করেছেন যেমনটি আপনি জানেন যে, এটি বৈধ নয় যে...
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثِ لَيَالٍ فَلَمَّا أَكْثَرُوا عَلَى عَائِشَةَ مِنَ التَّذْكِرَةِ وَالتَّجْرِيحِ طَفِقَتْ تُذَكِّرُهُمْ وَتَبْكِي وَتَقُولُ إِنِّي قَدْ نَذَرْتُ وَالنَّذْرُ شَدِيدٌ فَلَمْ يَزَالا بِهَا حَتَّى كَلَّمَتِ ابْنَ الزُّبَيْرِ ثُمَّ أَعْتَقَتْ فِي نَذْرِهَا ذَلِكَ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً ثُمَّ كَانَتْ تَذْكُرُ نَذْرَهَا ذَلِكَ بَعْدَمَا أَعْتَقَتْ أَرْبَعِينَ رقبة فتَبْكِي حَتَّى تَبِلَّ دُمُوعُهَا خِمَارَهَا هـ.102-…حدثنا محمد بن عبد الله الأنصاري ثنا محمد بن عمرو عن أبي سلمة أن ابن عباس قام إلى زيد بن ثابت فأخذ له بركابه، فقال له: تنح يا ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم! فقال: إنا هكذا نفعل بكبرائنا وعلمائنا هـ.103-…حدثنا علي بن عباس ثنا شعيب بن أبي جمرة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا حمى إلاولرسوله هـ.104-…حدثنا سعيد بن منصور ثنا فرج بن فضالة عن أسد بن وداعة عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليبعثن الله أقواما على منابر من نور يغبطهم الناس ليسوا بأنبياء ولا شهداء فقام أعرابي-ق10ب-فجثى على ركبتيه فقال يا رسول الله انعتهم لنا نعرفهم قال هم المتحابون في الله عز وجل من قبائل شتى هـ.105-…حدثنا بشر بن عمر حدثني إسماعيل بن إبراهيم بن عبد الله بن أبي ربيعة عن أبيه عن جده قال استقرض مني رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعين ألفا فأتى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بمال فقال ادعوا لي بن أبي ربيعة فقال هذا مالك فبارك الله لك في مالك إنما جزاء السلف الوفاء والحمد هـ.
...একজন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। যখন আয়েশা (রা.)-কে এ বিষয়ে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া ও ভর্ৎসনা করা হতে লাগল, তখন তিনি সেই মানতের কথা স্মরণ করে কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, "আমি মানত করেছিলাম, আর মানত পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।" অতঃপর তারা তাঁর সাথে কথা বলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি ইবনুর যুবাইরের সাথে কথা বললেন। এরপর তিনি তাঁর সেই মানত ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে চল্লিশজন দাস মুক্ত করলেন। পরবর্তীতে চল্লিশজন দাস মুক্ত করার পরও যখনই তিনি তাঁর সেই মানতের কথা স্মরণ করতেন, তখনই কাঁদতেন, এমনকি তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত।১০২-…আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন আব্বাস (রা.) যায়দ ইবন সাবিত (রা.)-এর সওয়ারির রেকাব ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন যায়দ (রা.) তাঁকে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূলের ভ্রাতুষ্পুত্র, আপনি সরে দাঁড়ান!" তিনি বললেন: "আমাদের বড়দের এবং আলিমদের সাথে আমরা এভাবেই আচরণ করে থাকি।"১০৩-…আমাদের নিকট আলী ইবন আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি শুআইব ইবন আবী হামযা থেকে, তিনি আবুল যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত আর কারও জন্য কোনো চারণভূমি সংরক্ষিত (হিমা) করা যাবে না।"১০৪-…আমাদের নিকট সাঈদ ইবন মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি ফারাজ ইবন ফাদালাহ থেকে, তিনি আসাদ ইবন ওয়াদাআহ থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ অবশ্যই কিয়ামতের দিন কিছু সম্প্রদায়কে নূরের মিম্বরসমূহের ওপর উত্থিত করবেন, যাদের দেখে মানুষ ঈর্ষা করবে, অথচ তারা নবী বা শহীদ নন।" তখন একজন গ্রাম্য ব্যক্তি-পৃ ১০খ-হাঁটু গেড়ে বসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন যাতে আমরা তাদের চিনতে পারি।" তিনি বললেন: "তারা হলো সেই সব লোক যারা বিভিন্ন গোত্রভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেবলমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসত।"১০৫-…আমাদের নিকট বিশর ইবন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবী রাবিআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার ঋণ নিয়েছিলেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সম্পদ এলো, তখন তিনি বললেন: "ইবন আবী রাবিআহকে আমার কাছে ডেকে আনো।" এরপর তিনি বললেন: "এই নাও তোমার সম্পদ। আল্লাহ তোমার ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রতিদান হলো তা যথাযথভাবে পরিশোধ করা এবং প্রশংসা করা।"
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
106-…حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسِ قَالَ خَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يُرِيدُ الشَّامَ حَتَّى إِذَا كَانَ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ لَقِيَهُ أَبُو عُبَيْدَةَ وَأَصْحَابُهُ فأَخْبَرَوهُ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ قَالَ فَاسْتَشَارَ النَّاسَ فَأَشَارَ عَلَيْهِ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ أَنْ يَمْضِيَ فقَالُوا خَرَجْنَا لأَمْرٍ وَلا نرى أَنْ نَرْجِعَ عَنْهُ وَقَالَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا يَوْمَ الْفَتْحِ مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ نَرَى هَذَا الرَّأْيَ أَنْ نَخْتَارَ دَارَ الْبَلاءِ عَلَى دَارِ الْعَافِيَةِ قال وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ غَائِبًا فَجَاءَ فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي عِلْمًا مِنْ هَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ فِي أَرْضٍ فَلا تَقْدَمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلا تَخْرُجُوا فُرَّارًا مِنْهُ قَالَ فَنَادَى عُمَرُ فِي النَّاسِ فَقَالَ إِنِّي مُصْبِحٌ عَلَى ظَهْرٍ فَأَصْبِحُوا عَلَيْهِ فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَفِرَارًا مِنْ قَدَرِ اللَّهِ عز وجل فَقَالَ عُمَرُ لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيْدَةَ نَعَمْ نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ إِلَى قَدَرِ اللَّهِ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَتْ لَكَ إِبِلٌ فَهَبَطَتْ وَادِيًا لَهُ عُدْوَتَانِ إِحْدَاهُمَا خَصِبَةٌ وَالأُخْرَى جَدْبَةٌ أَلَيْسَ إِنْ رَعَيْتَ الْخَصِبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ وَإِنْ رَعَيْتَ الْجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَقَالَ لَهُ أَرَأَيْتَ لَوْ رَعَى الْجَدْبَةَ
১০৬-…আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবদুল হামিদ ইবন আবদুর রহমান ইবন যাইদ ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবন নাওফাল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। পথিমধ্যে কোনো এক স্থানে আবু উবাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর সঙ্গীগণ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা তাঁকে অবহিত করলেন যে, সিরিয়ায় মহামারী দেখা দিয়েছে। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন, এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লোকজনের সাথে পরামর্শ করলেন। মুহাজির ও আনসারগণ তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। তাঁরা বললেন, "আমরা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বের হয়েছি এবং আমরা মনে করি না যে এ থেকে ফিরে যাওয়া উচিত।" আর মক্কা বিজয়ের দিন যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা বললেন, "আল্লাহর পানাহ! আমরা এই মত সমর্থন করি না যে আমরা সুস্থতার আবাসের পরিবর্তে বিপদসংকুল আবাসকে বেছে নেব।" তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন, আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আসলেন এবং বললেন, "এ বিষয়ে আমার নিকট জ্ঞান রয়েছে। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর (মহামারীর) কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো ভূখণ্ডে থাকাকালীন মহামারী দেখা দেয়, তবে তা থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বের হয়ো না'।" ইবনে আব্বাস বলেন, তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লোকজনের মাঝে ঘোষণা দিলেন, "আমি ভোরে সওয়ারির পিঠে থাকব (প্রস্থান করব), তোমরাও ভোরে সওয়ার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থেকো।" তখন আবু উবাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি আল্লাহর (মহামহিম ও মহিমান্বিত) তাকদীর থেকে পলায়ন করছেন?" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আবু উবাইদাহ! তুমি ছাড়া অন্য কেউ যদি এ কথা বলত! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর এক তাকদীর থেকে আল্লাহর অন্য এক তাকদীরের দিকেই পলায়ন করছি। তুমি কি মনে করো, তোমার যদি কিছু উট থাকে আর তুমি এমন এক উপত্যকায় অবতরণ করো যার দুটি পাশ রয়েছে—একটি শ্যামল-তাজা এবং অন্যটি শুষ্ক-অনুর্বর? এখন তুমি যদি শ্যামল অংশে চরাও, তবে কি তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরাবে না? আর যদি শুষ্ক অংশে চরাও, তবে তাও কি আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরাবে না?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, "বলো দেখি, যদি সে শুষ্ক অংশে চরাত..."
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَتَرَكَ الْخَصِبَةَ أَكانتَ مُعَجِّزَهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَسِرْ إِذًا فَسَارَ حَتَّى أَتَى الْمَدِينَةَ فَقَالَ هَذَا الْمَحَلُّ أوَ قال هَذَا الْمَنْزِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ هـ.107-… حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري أخبرني سعيد بن المسيب أن عمر-ق11أ-رَجَعَ بِالنَّاسِ يَوْمَئِذٍ مِنْ سَرْغٍ أو أسرغ من سرغ إليك من محمد بن يحيى هـ.108-…حدثنا روح بن عبادة عن أسامة بن زيد عن محمد بن منكدر عن ابن خزيمة بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا أُقِيمَ الحَدُّ في ذَلِكَ فَهُوَ كَفَّارَة هـ.
এবং তিনি উর্বর ভূমি ত্যাগ করলেন। তিনি কি তাকে অক্ষম করে দিয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে এখন চলুন। অতঃপর তিনি পথ চললেন যতক্ষণ না মদীনায় পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি বললেন, এটিই গন্তব্যস্থল, অথবা তিনি বললেন, এটিই অবতরণস্থল, ইনশাআল্লাহ। হ।১০৭-… আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে যে, উমর-পৃষ্ঠা ১১ক-সেদিন মানুষদের নিয়ে সারগ থেকে ফিরে এসেছিলেন, অথবা সারগ থেকে আপনার প্রতি। মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত। হ।১০৮-…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রূহ বিন উবাদাহ, তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুনকাদির থেকে, তিনি ইবনে খুজাইমাহ বিন সাবিত থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো পাপ করে এবং তার উপর তার দণ্ডবিধি কার্যকর করা হয়, তবে তা-ই তার জন্য কাফফারা। হ।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
109-…حدثنا أبو اليمان أنا شعيب عن الزهري حدثني عمارة بن خزيمة الأنصاري: أن عمه حدثه وهو من صحابة النبي صلى الله عليه وسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم ابتاع فرساً من أعرابي فاستتبعه النبي صلى الله عليه وسلم ليقبض ثمن فرسه، فأسرع النبي صلى الله عليه وسلم المشي فأبطأ الأعرابي، فطفق رجال يعترضون الأعرابي فيساومونه بالفرس ولا يشعرون أن النبي صلى الله عليه وسلم ابتاعه، حتى زاد بعضهم الأعرابي في السوم على ثمن الفرس الذي ابتاعه به النبي صلى الله عليه وسلم، فنادى الأعرابي النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن كنت مبتاعاً هذا الفرس فابتعه وإلا بعته فقام النبي صلى الله عليه وسلم حين سمع الأعرابي فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أولست قد ابتعته منك؟ قال الأعرابي: لا والله ما بعتكه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " بلى قد ابتعته منك " فطفق الناس يلوذون بالنبي صلى الله عليه وسلم وبالأعرابي وهما يتراجعان، وطفق الأعرابي يقول: هلم شهيداً يشهد أني بايعتك فمن جاء من المسلمين قال للأعرابي ويلك! إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن ليقول إلا حقاً حتى جاء خزيمة بن ثابت فاستمع تراجع النبي صلى الله عليه وسلم وتراجعه الأعرابي، فطفق الأعرابي يقول: هلم شهيداً يشهد أني قد بايعتك! قال خزيمة بن ثابت: أنا أشهد أنك قد بايعته فأقبل النبي صلى الله عليه وسلم على خزيمة وقال: " بم تشهد " فقال بتصديقك يا رسول الله فجعل النبي صلى الله-ق11ب-عليه وسلم شهادة خزيمة بن ثابت شهادة رجلين فرضي الله عنه وعن جميع الصحابة والتابعين هـ.
১০৯-…আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শুআইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন, উমারা ইবনে খুযাইমা আল-আনসারী আমাকে বর্ণনা করেছেন: তাঁর চাচা (যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী ছিলেন) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মরুবাসীর নিকট থেকে একটি ঘোড়া ক্রয় করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাথে নিয়ে চলতে লাগলেন যেন তিনি ঘোড়াটির মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত হাঁটছিলেন এবং মরুবাসীটি ধীরগতিতে হাঁটছিল। এমতাবস্থায় কিছু লোক মরুবাসীটির গতিরোধ করে ঘোড়াটি নিয়ে দরদাম করতে শুরু করল। তারা জানত না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়াটি কিনে নিয়েছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ মরুবাসীটিকে সেই মূল্যের চেয়েও বেশি দাম দিতে চাইল যে মূল্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি কিনেছিলেন। তখন মরুবাসীটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডেকে বলল, "আপনি যদি এই ঘোড়াটি কিনতে চান তবে কিনুন, নতুবা আমি এটি বিক্রি করে দেব।" মরুবাসীর কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, "আমি কি ইতিপূর্বেই তোমার নিকট থেকে এটি ক্রয় করিনি?" মরুবাসী বলল, "না, আল্লাহর শপথ, আমি এটি আপনার কাছে বিক্রি করিনি।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "অবশ্যই, আমি এটি তোমার নিকট থেকে কিনেছি।" তখন লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মরুবাসীকে ঘিরে ধরল এবং তারা উভয়ে একে অপরের কথার প্রত্যুত্তর দিচ্ছিলেন। মরুবাসীটি বলতে লাগল, "একজন সাক্ষী নিয়ে আসুন যে সাক্ষ্য দেবে যে আমি আপনার কাছে এটি বিক্রি করেছি।" তখন উপস্থিত মুসলিমগণ মরুবাসীকে বলতে লাগল, "তোমার ধ্বংস হোক! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য ব্যতীত কিছু বলেন না।" এমতাবস্থায় খুযাইমা ইবনে সাবিত আসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মরুবাসীর বাদানুবাদ শুনলেন। মরুবাসীটি তখন বলছিল, "একজন সাক্ষী নিয়ে আসুন যে সাক্ষ্য দেবে যে আমি আপনার কাছে এটি বিক্রি করেছি।" তখন খুযাইমা ইবনে সাবিত বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর নিকট এটি বিক্রি করেছেন।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমার দিকে মুখ ফিরে বললেন, "তুমি কিসের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিচ্ছ?" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সত্যবাদিতার উপর বিশ্বাস রেখে।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু-পৃ-১১-খ-আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমা ইবনে সাবিতের সাক্ষ্যকে দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমতুল্য নির্ধারণ করলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং সকল সাহাবী ও তাবেয়ীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
মিন আহাদীছি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহলী রিওয়ায়াতুল মা’ক্বিলী আনহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
110-…حدثنا أحمد بن شبيب بن سعيد الحبطي ثنا أبي عن يونس قال قال ابن شهاب عن خالد بن أسلم قال خرجنا مع عبد الله بن عمر نمشي فلحقنا أعرابي فقال أنت عبد الله بن عمر قال نعم قال سألت عنك فدللت عليك فأخبرني أترث العمة قال ابن عمر لا أدري قال أنت ابن عمر ولا تدري، قال نعم اذهب إلى العلماء بالمدينة فسلهم فلما أدبر قبل بن عمر يديه ثم قال نعم ما قال أبو عبد الرحمن يسئل عما لا يدري فقال لا أدري فقال الأعرابي قول الله عز وجل الذين يكنزون الذهب والفضة قال ابن عمر من كنزهما ولم يؤد زكاتهما فويل له إنما كان هذا قبل أن تنزل الزكاة فلما نزلت جعلها الله طهرة للأموال ثم التفت إلي فقال ما أبالي لو كان لي مثل أحد ذهبا أعلم عدده أزكيه وأعمل فيه بطاعة الله عز وجل هـ.111-…حدثنا أبو المغيرة ثنا عبدة عن أبيها قال إن المطر يجري من تحت العرش فينزل من سماء إلى سماء حتى ينتهي إلى سماء الدنيا هـ.112-…حدثنا عبد الرزاق عن إبراهيم بن عقيل بن معقل عن وهب بن منبه عن جابر بن عبد الله قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن النشرة قال من الشيطان هـ.آخر الجزء والحمد لله وحدهوصلي الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلمحسبنا الله ونعم الوكيل-ق12أ-
১১০-…আহমাদ বিন শাবিব বিন সাঈদ আল-হাবতি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা ইউনুসের সূত্রে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে শিহাব খালিদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ বিন উমরের সাথে হাঁটতে বের হলাম। তখন এক বেদুঈন আমাদের সাথে যোগ দিল এবং বলল, আপনি কি আবদুল্লাহ বিন উমর? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আমি আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং আমাকে আপনার খোঁজ দেওয়া হয়েছে; এখন আমাকে বলুন, ফুফু কি উত্তরাধিকার পায়? ইবনে উমর বললেন, আমি জানি না। সে বলল, আপনি ইবনে উমর হয়েও জানেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মদিনার আলেমদের কাছে যান এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। যখন সে ফিরে গেল, তখন ইবনে উমর নিজের দুই হাতে চুম্বন করলেন এবং বললেন, আবু আবদুর রহমান (ইবনে উমর) কতই না চমৎকার বলেছেন; যা তিনি জানেন না সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আর তিনি বলেছেন, আমি জানি না। এরপর সেই বেদুঈন মহান আল্লাহর বাণী "যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে" (সম্পর্কে জানতে চাইল)। ইবনে উমর বললেন, যে ব্যক্তি তা জমা করে রাখে অথচ তার জাকাত আদায় করে না, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। এটি জাকাতের বিধান নাজিল হওয়ার আগের বিষয় ছিল। যখন জাকাতের বিধান নাজিল হলো, আল্লাহ একে সম্পদের পবিত্রকারী হিসেবে নির্ধারণ করলেন। এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন, ওহুদ পাহাড়ের সমান সোনাও যদি আমার থাকে এবং আমি তার সংখ্যা জানি, তবে তার জাকাত প্রদান করতে এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যে তা ব্যয় করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। সমাপ্ত।১১১-…আবুল মুগিরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদাহ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আরশের নিচ থেকে বৃষ্টি প্রবাহিত হয়, অতঃপর তা এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে নামতে থাকে যতক্ষণ না তা দুনিয়ার আকাশে এসে পৌঁছায়। সমাপ্ত।১১২-…আবদুর রাজ্জাক ইব্রাহিম বিন আকিল বিন মাকিল থেকে, তিনি ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নুশরাহ (জাদুটোনার মাধ্যমে চিকিৎসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: এটি শয়তানের পক্ষ থেকে। সমাপ্ত।অংশের সমাপ্তি এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্যআমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোকআল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক-পত্র ১২ক-