(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: -)
من عوالي مسند عبد بن حميد   (عبد بن حميد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: من عوالي مسند عبد بن حميد - مخطوط

المؤلف: أبو محمد عبد الحميد بن حميد بن نصر الكَسّي ويقال له: الكَشّي بالفتح والإعجام (ت 249هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 20

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবদ বিন হুমাইদ-এর মুসনাদের উচ্চ সনদসমূহ থেকে   (আবদ বিন হুমাইদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবদ বিন হুমাইদ-এর মুসনাদের উচ্চ সনদসমূহ থেকে - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ বিন হুমাইদ বিন নাসর আল-কাস্সি এবং তাঁকে বলা হয়: আল-কাশশি—ফাতহা ও ই'জাম (বিন্দু) সহকারে (মৃত্যু ২৪৯ হিজরি)

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারি

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: من عوالي مسند عبد بن حميد - مخطوط

المؤلف: عبد بن حميد

المتوفى: 249 هـ
কিতাব: আবদ বিন হুমাইদের মুসনাদের আওয়ালি থেকে - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবদ বিন হুমাইদ

মৃত্যু: ২৪৯ হিজরি
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১)
//1// من عوالي مسند عبد بن حميد

سماعه الجارودي الحجار ، عن ابن اللتي عن ابي الوقت السجزي وبإجازته عن أبي محمد مسعود وبإجازته العامة من أبي الفتوح داود بن معتمر عن أبي الوقت.

//2//عوالي مسند عبد بن حميد

قرأت هذا الجزء على الشيخ زين الدين عمر اللؤلؤي ، بإجازته من عائشة بنت عبد الهادي بسماعها أوإجازتها من الحجار بسماعه من ابن اللتي ، وإجازته من أبي بكر محمد بن مسعود وإجازته العامة من أبي الفتوح داود بن المعتمر ، بسماعهم من اأبي الوقت السجزي وصح ذلك ، وثبت يوم الإثنين أول شهر صفر سنة سبعين وثمان مئة.

وأجاز ، وكتب يوسف بن حسن بن عبد الهادي ، وأجيز لي سماعه من شيوخنا إجازة بإجازة بعضهم من أبي الزعتور

، وآخرين من عائشة بنت عبد الهادي ، بإجازتهم من الحجار.

نحمد الله رب العالمين ، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم 0

سمع هذا الجزء من لفظي ، عن ابن السليمي ، عن أبي الزعتور ، عن الحجار.

وعن الؤلؤي ،عن عائشة ، عن الحجار ، بسماعه من الشيخ يعقوب بن يعقوب بن عليك الورديسي ، وولده بركات ، وأم نهار الزاهدة عائشة ، وولدي عبد الهادي ، والشيخ خضر بن محمد بن خضر الأسطواني ، والحاج علي بن موسى بن علي الحلواني ، والشيخ محمد بن علي بها عن منصور الدوائري ، ومحمد بن أحمد بن علي بن موسى الحلواني ابو عمر ، أملاه من سماعه ، عن أبي بكر الحلواني ، ونسخ ذلك علي في يوم الإثنين أول شهر صفر سنة إحدى وسبعين وثمان مئة.

وأكثر مشايخهم قد رووه عني ، وجميع ما يحوز لي قراءته من بنت يوسف بن عبد الهادي.

// 3 //فيه أحاديث عوالي

من

مسند عبد بن حميد بن نصر
//১// মুসনাদ আবদ ইবনে হুমাইদ-এর উচ্চ সনদসমৃদ্ধ বর্ণনাসমূহ থেকে

আল-জারুদি আল-হাজ্জারের শ্রবণ, ইবনুল লাত্তি থেকে, তিনি আবুল ওয়াক্ত আস-সিজযি থেকে, এবং তাঁর ইজাযাহ সূত্রে আবু মুহাম্মদ মাসউদ থেকে, এবং তাঁর সাধারণ ইজাযাহ সূত্রে আবুল ফুতুহ দাউদ ইবনে মুতামির থেকে, তিনি আবুল ওয়াক্ত থেকে।

//২// মুসনাদ আবদ ইবনে হুমাইদ-এর উচ্চ সনদসমৃদ্ধ বর্ণনাসমূহ

আমি এই অংশটি (জুয) শায়খ যাইনুদ্দিন উমর আল-লুলুয়ি-এর নিকট পাঠ করেছি, তাঁর ইজাযাহ সূত্রে যা তিনি আয়িশা বিনতে আবদিল হাদি থেকে প্রাপ্ত, তাঁর শ্রবণ অথবা ইজাযাহ সূত্রে আল-হাজ্জার থেকে, তাঁর শ্রবণ সূত্রে ইবনুল লাত্তি থেকে, এবং তাঁর ইজাযাহ সূত্রে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ থেকে, এবং তাঁর সাধারণ ইজাযাহ সূত্রে আবুল ফুতুহ দাউদ ইবনে আল-মুতামির থেকে, তাঁদের সকলের শ্রবণ সূত্রে আবুল ওয়াক্ত আস-সিজযি থেকে; এবং এটি সঠিক হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে ৮৭০ হিজরি সনের সফর মাসের প্রথম সোমবার।

এবং অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন ও লিখেছেন ইউসুফ ইবনে হাসান ইবনে আবদিল হাদি। এবং আমাদের শায়খদের থেকে শ্রবণ সূত্রে আমার জন্য ইজাযাহ প্রদান করা হয়েছে, তাঁদের কারো কারো ইজাযাহ সূত্রে আবুয যাতুর থেকে,

এবং অন্যান্যদের সূত্রে আয়িশা বিনতে আবদিল হাদি থেকে, তাঁদের ইজাযাহ সূত্রে আল-হাজ্জার থেকে।

আমরা সকল জগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

এই অংশটি আমার উচ্চারণ থেকে শ্রবণ করা হয়েছে, ইবনুস সুলাইমি থেকে, তিনি আবুয যাতুর থেকে, তিনি আল-হাজ্জার থেকে।

এবং আল-লুলুয়ি থেকে, তিনি আয়িশা থেকে, তিনি আল-হাজ্জার থেকে; তাঁর শ্রবণ সূত্রে শায়খ ইয়াকুব ইবনে ইয়াকুব ইবনে আলাইক আল-ওয়ারদিসি, তাঁর পুত্র বারাকাত, উম্মু নাহার আয-যাহিদা আয়িশা, আমার দুই পুত্র আবদিল হাদি, শায়খ খিজির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খিজির আল-উসতুওয়ানি, হাজি আলি ইবনে মুসা ইবনে আলি আল-হুলওয়ানি, এবং শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আলি তাঁর সূত্রে মনসুর আদ-দাওয়াইরি থেকে, এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলি ইবনে মুসা আল-হুলওয়ানি আবু উমর; তিনি এটি তাঁর শ্রবণ থেকে শ্রুতলিপি করিয়েছেন আবু বকর আল-হুলওয়ানি থেকে; এবং এটি আমার জন্য অনুলিপি করা হয়েছে ৮৭১ হিজরি সনের সফর মাসের প্রথম সোমবার।

এবং তাঁদের অধিকাংশ শায়খ এটি আমার থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ইউসুফ ইবনে আবদিল হাদির কন্যার নিকট থেকে যা কিছু আমার জন্য পাঠ করা বৈধ।

// ৩ // এতে উচ্চ সনদসমৃদ্ধ হাদিসসমূহ রয়েছে

আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে নাসর-এর

মুসনাদ থেকে।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ২)
رواية الثقة أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب ، السجزي ، الصوفي.

عن أبي الحسن عبد الرحمان الداودي.

عن عبد الله بن حمويه.

عن إبراهيم بن خزيم ، عنه.

سماع منه لصاحبه مسعود بن أبي طاهر الثقفي، والله يمتعه بمنه.

وقف الحافظ ضياء الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد ،المقدسي، رحمه الله.

سمع الجزء كله من الشيخ الثقة عبد الأول ، حرسه الله ، بقراءة الشيخ الإمام الزاهد، أفضل الأئمة ، عماد الدين بن أبي المحامد مسعود بن الإمام الحافظ رفيع الدين بن بديع الزمان أبي طاهر أحمد بن حامد بن أحمد بن محمود الثقة ،عليه رحمة الله ، من الإمام فخر الإسلام عبد الملك بن الإمام الكبيرأبي منصوربن أحمد بن عبد المنعم ، وابن أخيه الإمام الكبير شرف الدين ، فخر الإسلام عبد الله الكنى بأبي إسماعيل ،ومعين الدين عز الإسلام مسعود ، وأبو المفاخر سعيد بن محمد نعمة الله بن حمزة القزويني ، وابناه محمد وأحمد ، حضرا ، والخط له ، وأبو الخير بن أبي الكرم بن أبي الخير الصالحان ،وأبو عامر بن رفيع الدين بن أبي طاهر ، أخو القارىء.

وسمع مع الجماعة أحمد بن محمد بن عبد الواحد إلينا ، وصح لهم ذلك.

سمع الجزء أجمع من الشيخ الثقة أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي الهروي ، بقراءة علي بن أحمد بن محمد بن علي بن أبي سعيد بن الخياط ،وابنته رابعة حضرت ، وبنو إخوته أسعد ، وأبو المحاسن ابنا محمد بن أحمد ، ومحمد بن عمر بن أحمد الحرقي ، والحافظ معمر بن الفاح وعبد الباقي بن عبد الجبار الهروي.

آخر الجزء في شهر رمضان سنة إحدى وخمسين وست مئة بأصبهان ، نفعهم الله به في الدارين ، والمسلمين.

// 4 // بسم الله الرحمان الرحيم
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবন ঈসা ইবন শুআইব আস-সিজজি আস-সূফির বর্ণনা।

আবুল হাসান আব্দুর রহমান আদ-দাউদী থেকে।

আব্দুল্লাহ ইবন হামুয়াহ থেকে।

ইবরাহীম ইবন খুযাইম থেকে, তাঁর সূত্রে।

তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন তাঁর সঙ্গী মাসউদ ইবন আবি তাহের আস-সাকাফী, আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহে তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন।

হাফেজ দিয়াউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওয়াকফকৃত।

নির্ভরযোগ্য শায়খ আব্দুল আউয়াল (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) থেকে এই পূর্ণ খণ্ডটি শ্রবণ করা হয়েছে শায়খ ইমাম যাহিদ, শ্রেষ্ঠ ইমাম, ইমাদ উদ্দিন ইবন আবিল মাহামিদ মাসউদ ইবন ইমাম হাফেজ রাফিউদ্দিন ইবন বদিউজ্জামান আবু তাহের আহমদ ইবন হামিদ ইবন আহমদ ইবন মাহমুদ আস-সিকাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর পাঠের মাধ্যমে। তিনি [শ্রবণ করেছেন] ইমাম ফখরুল ইসলাম আব্দুল মালিক ইবন ইমাম কাবীর আবু মনসুর ইবন আহমদ ইবন আব্দুল মুনইম, তাঁর ভাতিজা ইমাম কাবীর শরফ উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম আব্দুল্লাহ (যিনি আবু ইসমাঈল কুনিয়াতে পরিচিত), মুঈনুদ্দিন ইজ্জুল ইসলাম মাসউদ, আবু আল-মফাখির সাঈদ ইবন মুহাম্মাদ নিমাতুল্লাহ ইবন হামযা আল-কাযভিনী এবং তাঁর দুই পুত্র মুহাম্মাদ ও আহমদ (তাঁরা উপস্থিত ছিলেন এবং হস্তাক্ষরটি তাঁর), আবু আল-খায়ের ইবন আবিল কারাম ইবন আবু আল-খায়ের আস-সলিহানদ্বয়, এবং আবু আমির ইবন রাফিউদ্দিন ইবন আবু তাহের (যিনি পাঠকের ভাই)-এর কাছ থেকে।

এই জামাতের সাথে আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের কাছে শ্রবণ করেছেন এবং তাদের জন্য এটি সহীহ বলে সাব্যস্ত হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য শায়খ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবন ঈসা ইবন শুআইব আস-সিজজি আল-হারাবী থেকে এই পূর্ণ খণ্ডটি শ্রবণ করা হয়েছে আলী ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন আবি সাঈদ ইবনুল খইয়্যাত-এর পাঠের মাধ্যমে। তাঁর কন্যা রাবিআ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আসআদ ও আবু আল-মাহাসিন (মুহাম্মাদ ইবন আহমদের দুই পুত্র), মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন আহমদ আল-হারাকী, হাফেজ মুয়াম্মার ইবন আল-ফাখ এবং আব্দুল বাকি ইবন আব্দুল জাব্বার আল-হারাবী।

খণ্ডটির সমাপ্তি হলো ৬৫১ হিজরীর রমজান মাসে ইসফাহানে। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা উভয় জাহানে তাঁদেরকে এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন।

// ৪ // পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৩)
أخبرنا الشيخ الثقة بقية المشايخ أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي ، قدم علينا أصبهان ، بقراءتي عليه (في) رمضان ، سنة إحدى وخمسين ، أخبرنا الإمام أبو الحسن عبد الرحمان بن محمد بن المظفر الداودي ، بقراءة سمكويه الحافظ ، عليه في داره بقوشنج ، يوم الثلاثاء التاسع من جمادى الأولى من سنة خمس وستين وأربع مئة ، أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه السرخسي ، قراءة عليه من أصله في المسجد الجامع بقوشنج ، سنة إحدى وثمانين وثلاث مئة ، أخبرنا إبراهيم بن خزيم الشاشي ، حدثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عبد بن حميد بن نصر:

مُسْنَدُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ، رضي الله عنه

1 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: إِنَّكُمْ تَقْرَؤُونَ هَذِهِ الآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ، فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ.
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নির্ভরযোগ্য শায়খ, মাশায়েখগণের অবশিষ্টাংশ আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আল-সিজজি, তিনি আমাদের নিকট আসবাহানে এসেছিলেন, আমি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে (পাঁচশত) একান্ন হিজরি সনের রমজান মাসে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুজাফফর আল-দাউদি, হাফেজ সামকুয়াহর পাঠ অনুযায়ী, বুশানজে তাঁর নিজগৃহে, চারশত পঁয়ষট্টি হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের নয় তারিখ মঙ্গলবার; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হামুওয়াহ আল-সারখাসি, বুশানজের জামে মসজিদে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে, তিনশত একাশি হিজরি সনে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে খুজাইম আল-শাশশি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দ ইবনে হুমাইদ ইবনে নাসর:

আবু বকর আল-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, কায়স ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি আবু বকর আল-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করো: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না}। আর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোনো জালেমকে দেখে, অতঃপর তার দুই হাত ধরে (তাকে অন্যায় থেকে) বিরত রাখে না, তখন অতি নিকটেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৪)
2- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، قال أَخْبَرَنِي حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، // 5 // حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، حَدَّثَهُ، قَالَ: نَظَرْتُ إِلَى أَقْدَامِ الْمُشْرِكِينَ وَنَحْنُ فِي الْغَارِ وَهُمْ عَلَى رُؤُوسِنَا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ إِلَى قَدَمَيْهِ أَبْصَرَنَا تَحْتَ قَدَمَيْهِ، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ، مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا.

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَسْلَمَ الْكُوفِيِّ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قال: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل حَرَّمَ عَلَى الْجَنَّةِ جَسَدًا غُذِّيَ بِحَرَامٍ.

4 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ.
2- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাব্বান বিন হিলাল, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া, // ৫ // আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত আল-বুনানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আনাস বিন মালিক: আবু বকর আস-সিদ্দিক তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুশরিকদের পায়ের দিকে তাকালাম যখন আমরা গুহার মধ্যে ছিলাম এবং তারা ছিল আমাদের মাথার উপর, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তাদের কেউ যদি নিজের দুই পায়ের দিকে তাকাত, তবে সে আমাদের তার দুই পায়ের নিচে দেখে ফেলত। তিনি বললেন: হে আবু বকর, সেই দুই জন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ।

3 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান বিন দাউদ, আব্দুল ওয়াহিদ বিন যাইদ থেকে, আসলাম আল-কুফি থেকে, মুররাহ থেকে, যাইদ বিন আরকাম থেকে, আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জান্নাতকে এমন শরীরের জন্য হারাম করেছেন যা হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে।

4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন রাওহ বিন উবাদাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, আবু আত-তায়্যাহ থেকে, মুগীরা বিন সুবাই' থেকে, আমর বিন হুরাইস থেকে, আবু বকর আস-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই দাজ্জাল পূর্বদিকের একটি ভূখণ্ড থেকে বের হবে যাকে খোরাসান বলা হয়, তার অনুসরণ করবে এমন সব জাতি যাদের চেহারা হবে পিটানো ঢালের মতো।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৫)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه // 6 // أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي، فَقَالَ: قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.

6- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْكَلْبِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: احْتَجْنَا؛ فَأَخَذْتُ خَلْخَالَيِ الْمَرْأَةِ، فَخَرَجْتُ بِهِمَا فِي السَّنَةِ الَّتِي اسْتُخْلِفَ فِيهَا أَبُو بَكْرٍرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ: خُلْخَالَي الْمَرْأَةِ، احْتَاجَ الْحَيُّ إِلَى نَفَقَةٍ، قَالَ: فَإِنَّ مَعِيَ وَرِقًا أُرِيدُ بِهَا فِضَّةً، قَالَ: فَدَعَا بِالْمِيزَانِ فَوَضَعَ الْخَلْخَالَيْنِ فِي كِفَّةٍ، وَوَضَعَ الْوَرِقَ فِي الْكِفَّةِ الأُخْرَى فَشَفَّ الْخَلْخَالَانِ نَحْوًا مِنْ دَانَقٍ فَقَرَطَهُ، فَقُلْتُ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللهِ، هُوَ لَكَ حَلَالٌ، فَقَالَ: يَا أَبَا رَافِعٍ إِنَّكَ إِنْ أَحْلَلْتَهُ فَإِنَّ اللَّهَ - تعالى - لَا يُحِلُّهُ؛ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَزْنٌ بِوَزْنٍ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَزْنٌ // 7 // بِوَزْنٍ، الزَّائِدُ وَالْمَزِيدُ فِي النَّارِ.
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে মুসা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, আবুল খায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন // ৬ // যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব। তিনি বললেন: তুমি বল: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি নিজের নফসের ওপর অনেক জুলুম করেছি এবং আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষ ক্ষমা প্রদান করুন এবং আমার ওপর দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়ালা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কালবি, সালামাহ ইবনে সাইব থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস আবু রাফি (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; তাই আমি (আমার) স্ত্রীর দুটি নূপুর নিলাম এবং আমি সেগুলো নিয়ে সেই বছর বের হলাম যে বছর আবু বকর (রাযি.) খলিফা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। অতঃপর আবু বকর (রাযি.)-এর সাথে আমার দেখা হলো, তিনি বললেন: এটি কী? আমি বললাম: স্ত্রীর দুটি নূপুর, পরিবারের সদস্যদের খরচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন: আমার কাছে কিছু রূপার মুদ্রা রয়েছে যার বিনিময়ে আমি রূপা (সংগ্রহ করতে) চাই। তিনি বলেন, এরপর তিনি একটি পাল্লা আনালেন এবং নূপুর দুটি এক পাল্লায় রাখলেন আর রূপার মুদ্রাগুলো অন্য পাল্লায় রাখলেন। তখন নূপুর দুটি প্রায় এক দানাক পরিমাণ ভারী হয়ে গেল, ফলে তিনি তা কেটে সমান করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! এটি আপনার জন্য হালাল। তিনি বললেন: হে আবু রাফি! তুমি একে হালাল করলেও আল্লাহ তাআলা একে হালাল করবেন না; আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ওজনে সমান সমান এবং রূপার বিনিময়ে রূপা ওজনে // ৭ // সমান সমান হতে হবে; যে অতিরিক্ত দিল এবং যাকে অতিরিক্ত দেওয়া হলো, তারা উভয়েই জাহান্নামে যাবে।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৬)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ،حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ الرَّبَذِيُّ، أَخْبَرَنِي مَوْلَى ابْنِ سِبَاعٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلَا أُقْرِئُكَ آيَةً أُنْزِلَتْ عَلَيَّ؟ قَالَ: قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: فَأَقْرَأَنِيهَا، قَالَ: فَلَا أَعْلَمُ إِلَاّ أَنِّي وَجَدْتُ انْفِصَامًا فِي ظَهْرِي حَتَّى تَمَطَّأْتُ لَهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَا شَأْنُكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، بِأَبِي (أَنْتَ) وَأُمِّي، وَأَيُّنَا لَمْ يَعْمَلْ سُوءًا وَإِنَّا لَمَجْزِيُّونَ بِمَا عَمِلْنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَمَّا أَنْتَ يَا أَبَا بَكْرٍ وَأَصْحَابُكَ الْمُؤْمِنُونَ فَتُجْزَونَ بِذَلِكَ فِي الدُّنْيَا حَتَّى تَلْقَوُا اللَّهَ عز وجل وَلَيْسَتْ لَكُمْ ذُنُوبٌ، وَأَمَّا الآخَرُونَ، فَيُجْمَعُ ذَلِكَ لَهُمْ حَتَّى يُجْزَوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

مُسْنَدُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
৭ - আবু মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রাওহ ইবন উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবন উবাইদাহ আর-রাবাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন সিবা-এর আযাদকৃত দাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন উমরকে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: (যে কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আবু বকর, আমি কি তোমাকে এমন একটি আয়াত পাঠ করে শোনাব না যা আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বলেন: আমি বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে তা পাঠ করে শুনালেন। তিনি (আবু বকর) বলেন: তখন আমি আমার পিঠে প্রচণ্ড এক ভাঙন অনুভব করলাম, এমনকি আমি এর ভারে নুয়ে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার কী হয়েছে হে আবু বকর? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে কোনো মন্দ কাজ করেনি? আর আমরা তো অবশ্যই আমাদের কৃতকর্মের প্রতিফল পাব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আবু বকর, তোমার এবং তোমার মুমিন সঙ্গীদের কথা হলো, তোমাদেরকে দুনিয়াতেই তার প্রতিফল দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তোমরা যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তোমাদের আর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট না থাকে। আর অন্যদের ক্ষেত্রে তা জমা করে রাখা হয় যাতে কিয়ামতের দিন তাদের এর পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হয়।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৭)
8- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، حدثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه بَيْنَا هُوَ قَائِمٌ يَخْطُبُ // 8 // يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُ عُمَرُ، أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ قَالَ: إِنِّي شُغِلْتُ الْيَوْمَ فَلَمْ أَنْقَلِبْ إِلَى أَهْلِي حَتَّى سَمِعْتُ النِّدَاءَ فَلَمْ أَزِدْ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ، فَقَالَ عُمَرُ: وَالْوُضُوءُ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ.

مِنْ مُسْنَدِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ

مِنْ مُسْنَدِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، رضي الله عنه

9- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْد بْن حُمَيْدِ بْن نَصْرٍ الكِسِّيّ رحمه الله حدثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَتَسَوَّكُ مِنَ اللَّيْلِ مَرَّتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا كُلَّمَا رَقَدَ وَاسْتَيْقَظَ اسْتَاكَ وَتَوَضَّأَ وَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، أَوْ رَكَعَاتٍ.

10 - وَبِهِ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَغْرِبَ وَنَحْنُ نَنْظُرُ إِلَى السَّدَفِ.
8- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। তখন উমর তাকে ডেকে বললেন, এটি কোন সময়? তিনি বললেন: আজ আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই নিজের পরিবারের নিকট ফিরে আসতে পারিনি যতক্ষণ না আজান শুনেছি। ফলে ওজু করা ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু করতে পারিনি। উমর বললেন: কেবল ওজুও! অথচ আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোসল করার নির্দেশ দিতেন।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর মুসনাদ থেকে

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ থেকে

9- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দ বিন হুমাইদ বিন নাসর আল-কিসসি রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়ালা বিন উবাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মাদানি, জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে দুই বা তিনবার মেসওয়াক করতেন। যখনই তিনি ঘুমাতেন এবং জাগ্রত হতেন, মেসওয়াক করতেন, ওজু করতেন এবং দুই রাকাত বা কয়েক রাকাত সালাত আদায় করতেন।

10 - এবং একই সূত্রে জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম এমতাবস্থায় যে আমরা অন্ধকারের দিকে তাকাচ্ছিলাম।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৮)
11- وَبِهِ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْعَوَالِي وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجِبْرِيلُ يُصَلِّيَانِ حَيْثُ يُصَلَّى عَلَى الْجَنَائِزِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ الرَّجُلُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ هَذَا الَّذِي رَأَيْتُ مَعَكَ؟ قَالَ: وَقَدْ رَأَيْتَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: لَقَدْ رَأَيْتَ خَيْرًا كَثِيرًا هَذَا جِبْرِيلُ مَا زَالَ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى رَأَيْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ.

12- وَبِهِ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: الْمَدِينَةُ حَرَامٌ كَحَرَامِ مَكَّةَ وَالَّذِي أَنْزَلَ الْكِتَابَ عَلَى مُحَمَّدٍ إِنَّ عَلَى أَنْقَابِهَا مَلَائِكَةً يَحْرُسُونَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ.

مِنْ مُسْنَدِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رضي الله عنه.

13- أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ،حَدَّثَنِي أَبُو هَارُونَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: خَرَجْتُ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَلَقِيَنِي الشَّيْطَانُ فِي السُّدَّةِ سُدَّةِ الْمَسْجِدِ فَزَحَمَنِي، حَتَّى إِنِّي لأَجِدُ مِنْ شَعْرِهِ، فَاسْتَمْسَكْتُ مِنْهُ فَخَنَقْتُهُ، حَتَّى إِنِّي لأَجِدُ بَرْدَ لِسَانِهِ عَلَى يَدِي فَلَوْلَا دَعْوَةُ أَخِي سُلَيْمَانَ لأَصْبَحَ مَقْتُولاً تَنْظُرُونَ إِلَيْهِ.

14- وَبِهِ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وكَانَ إذَا سَافَرَ فَرْسَخًا يَجُوزُ فِي الصَّلَاة.

15 - وَبِهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ قَالَ: سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
১১- এবং একই সনদে জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আওয়ালি অঞ্চল থেকে এক ব্যক্তি আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং জিবরীল (আ.) জানাজার সালাত আদায়ের স্থানে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন সেই ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে যাকে দেখলাম তিনি কে? তিনি বললেন: তুমি কি তাকে দেখেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি অনেক বড় কল্যাণ দেখেছ; তিনি জিবরীল। তিনি আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে অবিরত অসিয়ত করছিলেন, এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে তিনি তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।

১২- এবং একই সনদে জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মক্কা যেমন পবিত্র, মদিনাও তেমনি পবিত্র। সেই সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, মদিনার প্রবেশপথসমূহে ফেরেশতারা রয়েছেন যারা একে শয়তান থেকে পাহারা দেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর মুসনাদ থেকে।

১৩- আলী ইবনে আসিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু হারুন আল-আবদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি ফজরের সালাতের জন্য বের হলাম, তখন মসজিদের বারান্দায় শয়তান আমার মুখোমুখি হলো এবং আমাকে বাধা প্রদান করল, এমনকি আমি তার শরীরের লোম অনুভব করতে পারলাম। তখন আমি তাকে শক্ত করে ধরলাম এবং তার গলা চেপে ধরলাম, এমনকি আমি আমার হাতের ওপর তার জিহ্বার শীতলতা অনুভব করলাম। যদি আমার ভাই সুলাইমানের দোয়া না থাকত, তবে সে সকালবেলা মানুষের দেখার জন্য মৃত (অথবা বন্দি) অবস্থায় পড়ে থাকত।

১৪- এবং একই সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সফরে বের হলাম; তিনি যখন এক ফরসাখ (একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব) পথ অতিক্রম করতেন, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত (কসর) করা বৈধ মনে করতেন।

১৫ - এবং একই সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাতের সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন: আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের রব।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ৯)
مَا رَوَى حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ ، رضي الله عنه

16- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالْكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَلَامٍ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ، فَقَالَ: إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ لَا يَعْلَمُهَا إِلَاّ نَبِيٌّ قَالَ: سَلْ. قَالَ: مَا أَوَّلُ أَمْرِ السَّاعَةِ، أَوْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ؟ وَمَا أَوَّلُ مَا يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ؟ وَمَا يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيهِ وَالْوَلَدُ إِلَى أُمِّهِ؟ قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهِنَّ جِبْرِيلُ آنِفًا. قَالَ: جِبْرِيلُ؟ قَالَ نَعَمْ. قَالَ: ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُودِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ. قَالَ: أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ، فَنَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْمَشْرِقِ فَتَحْشُرُ النَّاسَ إِلَى الْمَغْرِبِ، وَأَمَّا أَوَّلُ مَا يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ، فَزِيَادَةُ كَبِدِ الْحُوتِ، وَأَمَّا مَا يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيهِ وَيَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أُمِّهِ، فَإِذَا // 9 // سَبَقَ مَاء الْمَرْأَةِ ُ مَاءَ الرَّجُلِ نَزَعَ إِلَى أُمِّهِ ، وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ نَزَعَ إِلَى أَبِيهِ. قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأنَّكَ رَسُولُ اللهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ بُهْتَةٌ ، فَأخْبِئْنِي عَنْهُمْ، ثُمَّ سَلْهُمْ عَنِّي قَبْلَ أَنْ يَعْلَمُوا بِإِسَلَامِي أَيُّ رَجُلٍ أَنَا فِيهِمْ، فَجَاءَ نَفَرٌ مِنْهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ رَجُلٍ عَبْدُ اللهِ فِيكُمْ؟ قَالُوا: خَيْرُنَا وَابْنُ خَيْرِنَا وَسَيِّدُنَا وَابْنُ سَيِّدِنَا
হুমাইদ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণনা করেছেন

১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূ মুহাম্মাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ আত-তবিল আনাস ইবন মালিক থেকে যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন যখন তিনি মদিনায় পদার্পণ করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি আপনাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যা নবী ছাড়া অন্য কেউ জানে না। তিনি বললেন: জিজ্ঞাসা করো। তিনি বললেন: কিয়ামতের প্রথম বিষয় বা কিয়ামতের প্রথম আলামত কী? জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম কী আহার করবে? আর কী কারণে সন্তান তার পিতার সদৃশ হয় এবং সন্তান তার মায়ের সদৃশ হয়? তিনি বললেন: জিবরাঈল এইমাত্র আমাকে এগুলোর সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: জিবরাঈল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ফেরেশতাদের মাঝে তিনি তো ইহুদিদের শত্রু। তিনি বললেন: কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো এমন এক আগুন যা পূর্ব দিক থেকে নির্গত হবে এবং মানুষকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নিয়ে একত্র করবে। আর জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম যা খাবে তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তানের সদৃশ হওয়ার বিষয়টি হলো, যখন নারীর বীর্য পুরুষের বীর্যের আগে নির্গত হয় তখন সে তার মায়ের সদৃশ হয়, আর যখন পুরুষের বীর্য নারীর বীর্যের আগে নির্গত হয় তখন সে তার পিতার সদৃশ হয়। তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদিরা এক অপবাদদানকারী জাতি। অতএব আপনি আমাকে তাদের থেকে আড়াল করে রাখুন, এরপর তারা আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানার আগেই তাদের নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন যে, আমি তাদের মাঝে কেমন লোক। এরপর তাদের একদল লোক আসলো এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: তোমাদের মাঝে আবদুল্লাহ কেমন লোক? তারা বলল: তিনি আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান, এবং আমাদের নেতা ও আমাদের নেতার সন্তান।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَأَعْلَمُنَا وَابْنُ أَعْلَمِنَا. قَالَ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللهِ، قَالُوا: أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ: فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ عَبْدُ اللهِ، فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، فَقَالُوا: شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا، وَنَحْوَ ذَلِكَ قَالَ: يَقُولُ عَبْدُ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا الَّذِي كُنْتُ أَخَافُ.

17 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالْكٍ: أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، هَاجَرَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَآخَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ، فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ: يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ، // 10 // إِنِّي مِنْ أَكْثَرِ الأَنْصَارِ مَالاً وَإِنِّي مُقَاسِمُكَ مَالِي، وَلِي امْرَأَتَانِ وَأَنَا مُطَلِّقٌ إِحْدَيْهُمَا، فَإِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهَا فَتَزَوَّجْهَا، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، وَلَكِنْ دُلَّنِي عَلَى السُّوقِ، فَدَلَّهُ فَلَمْ يَرْجِعْ يَوْمَئِذٍ حَتَّى أَصَابَ شَيْئًا مِنْ سَمْنٍ وَأَقِطٍ رَبَحَهُ فَمَكَثَ أَيَّامًا، ثُمَّ مَرَّ بِالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى عَلَيْهِ وَضَرُ صُفْرَةٍ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَهْيَمْ؟ قَالَ: تَزَوَّجْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: مَنْ؟ قَالَ: امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ: مَا أَصْدَقْتَ؟ قَالَ: نَوَاةً، أَوْ وَزْنَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ: أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ.
"...এবং আমাদের সবচেয়ে বড় আলেম ও আমাদের সবচেয়ে বড় আলেমের পুত্র।" তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন, "তোমাদের কী মত যদি আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করে?" তারা বলল, "আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করুন!" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবদুল্লাহ তাদের সামনে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" তখন তারা বলতে লাগল, "এ আমাদের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং আমাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তির পুত্র" এবং অনুরূপ আরও কথা বলতে লাগল। আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, এটিই ছিল সেই বিষয় যা আমি ভয় করছিলাম।"

১৭ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আত-তাবীল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হিজরত করে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং সা’দ ইবনে রবী’ (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। সা’দ তাঁকে বললেন, "হে আবদুর রহমান, // ১০ // আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী এবং আমি আমার সম্পদ আপনার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। আমার দুইজন স্ত্রী আছে, আমি তাদের একজনকে তালাক দিয়ে দেব; অতঃপর যখন তার ইদ্দত শেষ হবে, তখন আপনি তাকে বিবাহ করে নেবেন।" আবদুর রহমান (রা.) তাঁকে বললেন, "আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। বরং আপনি আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন।" অতঃপর তিনি তাঁকে পথ দেখিয়ে দিলেন। সেদিন তিনি কিছু ঘি ও পনির মুনাফা হিসেবে লাভ না করা পর্যন্ত ফিরে আসলেন না। এভাবে কিছু দিন অতিবাহিত হলো, তারপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর গায়ে হলদে রঙের সুগন্ধির চিহ্ন দেখতে পেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, "এ কী অবস্থা?" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি বিবাহ করেছি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কাকে?" তিনি বললেন, "আনসারদের একজন নারীকে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কী মোহরানা দিয়েছ?" তিনি বললেন, "একটি খেজুরের আঁটি সমপরিমাণ বা খেজুরের আঁটির ওজনের স্বর্ণ।" তিনি বললেন, "ওয়ালিমা করো, যদিও তা একটি বকরী দিয়ে হয়।"
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১১)
18- أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالْكٍ، أَنَّ أَبَا مُوسَى اسْتَحْمَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَوَافَقَ مِنْهُ شُغُلاً، فَحَلَفَ أَنْ لَا يَحْمِلَهُ، ثُمَّ حَمَلَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّكَ حَلَفْتَ أَنْ لَا تَحْمِلَنِي قَالَ: وَأَنَا أَحْلِفُ لأَحْمِلَنَّكَ فَحَمَلَهُ. // 11 //

19- أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي قَدِمْتُ عَلَيْكُمْ وَلَكُمْ يَوْمَانِ تَلْعَبُونَ فِيهِمَا، وَقَدْ أَبْدَلَكُمُ اللَّهُ تبارك وتعالى بِهِمَا يَوْمَيْنِ خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ الأَضْحَى. 20 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَعْجَبُوا عَلَى أَحَدٍ، حَتَّى تَنْظُرُوا بِمَ يُخْتَمُ لَهُ، فَإِنَّ الْعَامِلَ يَعْمَلُ زَمَانًا مِنْ عُمْرِهِ، أَوْ بُرْهَةٍ مِنْ دَهْرِهِ بِعَمَلٍ صَالِحٍ، لَوْ مَاتَ عَلَيْهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلٍ سَيِّئٍ، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيَعْمَلُ زَمَانًا مِنْ عُمْرِهِ بِعَمَلٍ سَيِّئٍ لَوْ مَاتَ عَلَيْهِ لَدَخَلَ النَّارَ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلٍ صَالِحٍ، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ؟ قَالَ: يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ، ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ.
১৮- ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, আবু মুসা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বাহন চাইলেন। তখন তিনি তাকে কর্মব্যস্ত অবস্থায় পেলেন, ফলে তিনি শপথ করলেন যে তাকে বাহন দেবেন না। অতঃপর তিনি তাকে বাহন দিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি তো শপথ করেছিলেন যে আমাকে বাহন দেবেন না। তিনি বললেন: আর আমি শপথ করছি যে অবশ্যই তোমাকে বাহন দেব, অতঃপর তিনি তাকে বাহন দিলেন। // ১১ //

১৯- ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দুটি দিন ছিল যাতে তারা খেলাধুলা করত। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি তোমাদের নিকট এসেছি এমতাবস্থায় যে তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা করতে। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তোমাদের জন্য ওই দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ২০ - এবং একই সূত্রে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা কারো বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত বিস্মিত হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা দেখ তার সমাপ্তি কিসের ওপর হয়। কেননা আমলকারী তার জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কিংবা যুগের একটি মুহূর্ত নেক আমল করে, যদি সে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করত তবে জান্নাতে প্রবেশ করত। অতঃপর সে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং মন্দ কাজ শুরু করে। আবার কোনো বান্দা তার জীবনের একটি দীর্ঘ সময় মন্দ কাজ করে, যদি সে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করত তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত। অতঃপর সে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং নেক আমল করতে থাকে। আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে লাগান। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, তিনি তাকে কীভাবে কাজে লাগান? তিনি বললেন: তিনি তাকে নেক আমলের তাওফিক দান করেন, অতঃপর সেই অবস্থায় তাঁর প্রাণ হরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১২)
21 - وَبِهِ قَالَ: مَا كُنَّا نَشَاءُ أَنْ نَرَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلَاّ رَأَيْنَاهُ، وَمَا نَشَاءُ أَنْ نَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ نَائِمًا إِلَاّ رَأَيْنَاهُ نَائِمًا.

22 - وَبِهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَقُولَ: لَا يُفْطِرُ مِنْهُ شَيْئًا، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يَصُومُ مِنْهُ شَيْئًا.

23 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ عَمَّهُ، غَابَ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ، فَقَالَ: غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ، قَاتَلَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُشْرِكِينَ ، لَئِنِ اللَّهُ تَعَالَى أَشْهَدَنِي قِتَالاً لَيَرَيَنَّ اللَّهُ كَيْفَ أَصْنَعُ؟ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ انْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ هَؤُلَاءِ يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ، وَأَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلَاءِ يَعْنِي أَصْحَابَهُ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَلَقِيَهُ سَعْدٌ بِأُخْرَاهَا دُونَ أُحُدٍ، قُلْتُ: أَنَا مَعَكَ قَالَ: فَلَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أَصْنَعَ مَا صَنَعَ فُوجِدَ فِيهِ بِضْعٌ، وَثَمَانُونَ ضَرْبَةً بِسَيْفٍ وَطَعْنَةً بِرُمْحٍ، وَرَمْيَةً بِسَهْمٍ قَالَ: وَكُنَّا نَقُولُ فِيهِ وَفِي أَصْحَابِهِ نَزَلَتْ: {فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا ُ} قَالَ: يُرِيدُ، يَعْنِي الآيَةَ.
21 - এবং উক্ত সনদে তিনি বলেন: আমরা রাতে যখনই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতরত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তখনই তাঁকে সালাতরত দেখেছি। আর যখনই আমরা তাঁকে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চেয়েছি, তখনই তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখেছি।

22 - এবং উক্ত সনদে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসের কোনো এক সময় এমনভাবে রোজা রাখতেন যে আমরা বলতাম, তিনি এর কোনো অংশই বাদ দেবেন না। আবার এমনভাবে রোজা রাখা ছেড়ে দিতেন যে আমরা বলতাম, তিনি এর কোনো অংশেই রোজা রাখবেন না।

23 - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আত-ত্বউইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে, তাঁর চাচা বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে প্রথম যে যুদ্ধ করেছেন আমি তা থেকে অনুপস্থিত ছিলাম। যদি মহান আল্লাহ আমাকে কোনো যুদ্ধে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দান করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন আমি কী করি! এরপর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন আসল এবং মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা নিয়ে এসেছে আমি আপনার কাছে তা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি, আর ওরা অর্থাৎ তাঁর সঙ্গীরা যা করেছে তার জন্য আপনার কাছে ওজর পেশ করছি। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং সা'দ তাঁর সাথে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে দেখা করলেন। আমি বললাম: আমি আপনার সাথে আছি। তিনি (সা'দ) বলেন: কিন্তু তিনি যা করেছেন আমি তা করতে সক্ষম হইনি। অতঃপর তাঁর শরীরে তলোয়ারের আঘাত, বর্শার খোঁচা এবং তিরের জখম মিলিয়ে আশিরও বেশি চিহ্ন পাওয়া গেল। তিনি (আনাস) বলেন: আমরা তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের ব্যাপারে বলতাম যে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে: {তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার মানত পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে এবং তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি।} তিনি বলেন: অর্থাৎ তিনি এই আয়াতটিই বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
24 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ // 12 // صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ، وَالْحَزَنِ، وَالْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَالْعَجْزِ.

25 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ، أَوْ يَنْزِلُ بِهِ، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي.

25 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَادَ رَجُلاً قَدْ صَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ الْمَنْتوفِ، فَقَالَ: هَلْ كُنْتَ تَدْعُو بِشَيْءٍ، أَوْ تَسْألُهُ قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي فِي الآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: سُبْحَانَ اللهِ إِذًا لَا تُطِيقُ ذَلِكَ وَلَنْ تَسْتَطِيعَهُ فَهَلَاّ قُلْتَ: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
২৪ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) // ১২ // এই দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করতেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, অলসতা, অতি বার্ধক্য এবং অক্ষমতা থেকে।

২৫ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত বা আগত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। বরং সে যেন বলে: হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততক্ষণ আমাকে জীবিত রাখুন এবং যখন আপনি জানবেন যে মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর, তখন আমাকে মৃত্যু দান করুন।

২৫ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন যে (অসুস্থতায়) পালকহীন পাখির ছানার মতো হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: তুমি কি আল্লাহর কাছে কোনো প্রার্থনা করতে বা তাঁর নিকট কিছু চাইতে? সে বলল: আমি বলতাম, হে আল্লাহ! পরকালে আপনি আমাকে যে শাস্তি দিতেন, তা দুনিয়াতেই দ্রুত দিয়ে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না এবং তোমার সেই সামর্থ্যও নেই। তুমি কেন এমন বললে না: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
26 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، (وَيَحْيَى الصَّوَّافُ) ،جَمِيعًا، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم // 13 //: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ دُورِ الأَنْصَارِ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: دُورُ بَنِي النَّجَّارِ، ثُمَّ دُورُ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ، ثُمَّ دُورُ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ، ثُمَّ دُورُ بَنِي سَاعِدَةَ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيرٌ قَالَ: أَحَدُهُمَا وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ.

27 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، وَحُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا، أَوْ مَظْلُومًا قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا نَنْصُرُهُ مَظْلُومًا، فَكَيْفَ نَنْصُرُهُ ظَالِمًا؟ قَالَ: تَمْنَعُهُ مِنَ الظُّلْمِ.

28 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَدَنَا مِنَ الْمَدِينَةِ قَالَ: إِنَّ بِالْمَدِينَةِ لأَقْوَامًا مَا سِرْتُمْ مِنْ مَسِيرٍ، وَلَا قَطَعْتُمْ مِنْ وَادٍ، إِلَاّ كَانُوا مَعَكُمْ فِيهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ؟ قَالَ: نَعَمْ، حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ.
২৬ - ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ এবং ইয়াহইয়া আস-সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা সকলে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন // ১৩ //: "আমি কি তোমাদের আনসারদের শ্রেষ্ঠ ঘরবাড়িগুলো সম্পর্কে সংবাদ দেব না?" তারা বললেন: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "বনু নাজ্জারের ঘরবাড়ি, তারপর বনু আবদিল আশহালের ঘরবাড়ি, তারপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজের ঘরবাড়ি, তারপর বনু সায়েদাহর ঘরবাড়ি।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আর আনসারদের সকল ঘরবাড়িতেই কল্যাণ রয়েছে।" বর্ণনাকারীদের একজন বলেছেন—আর তিনি এর মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর উচ্চ করেছেন।

২৭ - ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান আত-তাইমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ও হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তারা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক কিংবা মজলুম।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, মজলুম হলে তো তাকে সাহায্য করব, কিন্তু জালিম হলে কীভাবে তাকে সাহায্য করব?" তিনি বললেন: "তাকে জুলুম করা থেকে বিরত রাখবে।"

২৮ - ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন: "মদীনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যে পথেই চলেছ এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা তাতে তোমাদের সাথেই ছিল।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি মদীনায় থাকা সত্ত্বেও (আমাদের সাথে ছিল)?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সংগত কারণ (অপারগতা) তাদেরকে আটকে রেখেছিল।"
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
29 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، // 14 // أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: حَجَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ، وَكَلَّمَ لَهُ مَوَالِيهِ، فَخَفَّفُوا عَنْهُ مِنْ ضَرِيبَتِهِ، وَقَالَ: إِنَّ خَيْرَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ وَالْقُسْطُ الْبَحْرِيُّ، وَلَا تُعَذِّبُوا صِبْيَانَكُمْ بِالْغَمْزِ مِنَ الْعُذْرَةِ.

30 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَرَأَى حَبْلاً مَمْدُودًا بَيْنَ سَارِيَتَيْنِ، فَقَالَ: مَا هَذَا الْحَبْلُ؟ قَالُوا: لِفُلَانَةَ تُصَلِّي، فَإِذَا غُلِبَتْ تَعَلَّقَتْ بِهِ، فَقَالَ: لَتُصَلِّ مَا عَقَلَتْ، فَإِذَا خَشِيتْ أَنْ تُغْلَبَ فَلْتَنَمْ.

31 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُول َصَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم وَهُوَ بِبَدْرٍ سَمِعَهُ الْمُسْلِمُونَ وَهُوَ يُنَادِي: يَا أَبَا جَهُلِ بْنَ هِشَامٍ، وَيَا عُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَيَا شَيْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَيَا أُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ أَلَا هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمْ رَبُّكُمْ حَقًّا، فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي // 15 // رَبِّي حَقًّا، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، تُنَادِي قَوْمًا قَدْ جُيِّفُوا، فَقَالَ: مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ وَلَكِنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يُجِيبُوا.
২৯ - ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, // ১৪ // হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আবু তায়বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। তখন তিনি তার জন্য দুই সা পরিমাণ খাদ্য প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তার মালিকদের সাথে কথা বললেন, ফলে তারা তার ওপর ধার্যকৃত করের বোঝা কমিয়ে দিল। আর তিনি বললেন: "তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করো তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক কুস্ত (এক প্রকার ঔষধি শিকড়); আর তোমরা গলা টিপে তোমাদের সন্তানদের কষ্ট দিও না।"

৩০ - ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন দুটি খুঁটির মাঝে একটি রশি টানানো রয়েছে। তিনি বললেন: "এই রশিটি কীসের?" তারা বলল: "এটি অমুক মহিলার জন্য, তিনি যখন সালাত আদায় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এটি ধরে ঝুলে থাকেন।" তখন তিনি বললেন: "যতক্ষণ পর্যন্ত উদ্যম ও সচেতনতা থাকে ততক্ষণ সালাত আদায় করা উচিত; আর যখন সে পরিশ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করবে তখন যেন সে ঘুমিয়ে নেয়।"

৩১ - ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বদরে ছিলেন, তখন মুসলিমরা তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকতে শুনলেন: "হে আবু জাহল বিন হিশাম, হে উতবা বিন রাবিয়া, হে শায়বা বিন রাবিয়া এবং হে উমাইয়া বিন খালাফ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সাথে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তা কি তোমরা সত্য হিসেবে পেয়েছ? নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা আমি সত্য হিসেবে পেয়েছি।" // ১৫ // তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছেন যারা পচে গলে মৃতদেহে পরিণত হয়েছে?" তিনি বললেন: "আমি যা বলছি তা তোমরা তাদের চেয়ে বেশি শুনতে পাচ্ছ না, কিন্তু তারা কোনো উত্তর দিতে সক্ষম নয়।"
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
32 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالْكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ، أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي، فَلَقَدْ كُنْتُ أَرَى الرَّجُلَ مِنَّا يَلْزَقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ أَخِيهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ ، وَرُكْبَتِهِ بِرُكْبَتِهِ فِي الصَّلَاةِ.

33 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحِبُّ أَنْ يَلِيَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ فِي الصَّلاةِ لِيَأْخُذُوا عَنْهُ.

34 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ بِالْبَقِيعِ فَنَادَى رَجُلٌ رَجُلاً: يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَالْتَفَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَمْ أَعْنِكَ إِنَّمَا عَنَيْتُ فُلَانًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: سَمُّوا بِاسْمِي، وَلَا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي.
32 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের ইকামত হওয়ার পর এবং তাকবীর বলার পূর্বে মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: “তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং পরস্পরের সাথে মিলে দাঁড়াও, কেননা আমি তোমাদেরকে আমার পিঠের পেছন থেকেও দেখতে পাই।” (আনাস বলেন,) আমি আমাদের মধ্যকার লোকেদের দেখেছি যে, তারা সালাতে তাদের কাঁধের সাথে কাঁধ, পায়ের সাথে পা এবং হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলিয়ে দাঁড়াত।

33 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, আনাস থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করতেন যেন মুহাজির ও আনসারগণ সালাতে তাঁর নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ান যাতে তারা তাঁর থেকে (দ্বীন) গ্রহণ করতে পারেন।

34 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, আনাস থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী' নামক স্থানে ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে ডেকে বলল: হে আবুল কাসিম! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকালেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি, বরং অমুক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করো না।”
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
35 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي حُجْرَتِهِ، فَأَتَاهُ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ // 16 //، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ فَخَفَّفَ، ثُمَّ دَخَلَ الْبَيْتَ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَنَعَ ذَلِكَ مِرَارًا كُلُّ ذَلِكَ، يُصَلِّي وَيَدْخُلُ فَلَمَّا أَصْبَحُوا، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، صَلَّيْنَا مَعَكَ وَنَحْنُ نُحِبُّ أَنَّ تَمُدَّ فِي صَلَاتِكَ، فَقَالَ: قَدْ عَلِمْتُ بِمَكَانِكُمْ وَعَمْدًا فَعَلْتُ ذَلِكَ.

36 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَقْدَمُ قَوْمٌ هُمْ أَرَقُّ مِنْكُمْ أَفْئِدَةً فَقَدِمَ الأَشْعَرِيُّونَ، فِيهِمْ أَبُو مُوسَى فَجَعَلُوا يَرْتَجِزُونَ وَيَقُولُونَ:

غَدًّا نَلْقَى الأَحِبَّهْ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهْ

37 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ: ارْكَبْهَا قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ: ارْكَبْهَا.

39 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ: اللَّهُ اللهُ فِي الأَرْضِ.
৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে তাঁর হুজরায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক আসলেন // ১৬ // এবং তাঁর অনুসরণ করে সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করলেন, অতঃপর ঘরে প্রবেশ করলেন। পুনরায় তিনি বের হলেন এবং বেশ কয়েকবার এমনটি করলেন; তিনি সালাত আদায় করছিলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করছিলেন। যখন ভোর হলো, তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার সাথে সালাত আদায় করেছি এবং আমরা চেয়েছিলাম আপনি আপনার সালাত দীর্ঘ করুন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের উপস্থিতির কথা জানতাম এবং আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তা করেছি।

৩৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এমন একদল লোক আসবে যাদের অন্তর তোমাদের চেয়েও কোমল। অতঃপর আশআরী গোত্রের লোকেরা আসলেন, যাদের মধ্যে আবু মুসা (রা.) ছিলেন। তারা পদ্য পাঠ করতে শুরু করলেন এবং বলছিলেন:

আগামীকাল আমরা প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব, মুহাম্মদ ও তাঁর দলের সাথে

৩৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি একটি কোরবানির উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: এর ওপর আরোহণ করো। সে বলল: এটি তো কোরবানির উট। তিনি বললেন: এর ওপর আরোহণ করো।

৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না জমিনে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলা বন্ধ হয়।
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
40 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {لَنْ تَنَالْوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} ، أَوْ {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا} قَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَيْ رَسُولَ اللهِ، حَائِطِي الَّذِي بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا لِلَّهِ عز وجل وَلَوِ اسْتَطَعْتُ أَنْ أُسِرَّهُ لَمْ أُعْلِنْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: اجْعَلْهُ فِي قَرَابَتِكَ، أَوْ أَقْرُبَائِكَ.

40 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ: أَخَضَبَ // 17 // رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: لَمْ يَشِنْهُ الشَّيْبُ، قِيلَ: أَوَشَيْنٌ هُوَ؟ قَالَ: كُلُّكُمْ يَكْرَهُهُ إِنَّمَا كَانَتْ شَعَرَاتٌ فِي مُقَدَّمِ لِحْيَتِهِ وَأَشَارَ حُمَيدٌ إِلَى (مُقَدَّمِ) لِحْيَتِهِ.

41 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ ابْنًا لِأُمِّ سُلَيْمِ كَانَ يُقَالَ لَهُ: أَبُو عُمَيْرٍ وَكَانَ لَهُ نُغَيْرٌ، فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا يُضَاحِكُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهَا فَرَآهُ حَزِينًا، فَقَالَ: مَا لِأَبِي عُمَيْرٍ؟ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَاتَ نُغَيْرُهُ قَالَ: فَجَعَلَ يَقُولُ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ.
৪০ - ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো {তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো}, অথবা {কে সেই যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে}, তখন আবু তালহা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, অমুক অমুক স্থানে অবস্থিত আমার বাগানটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করলাম। আমি যদি এটি গোপন রাখতে সক্ষম হতাম, তবে তা প্রকাশ করতাম না। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: এটি তোমার নিকটাত্মীয়দের বা আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বণ্টন করে দাও।

৪০ - ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আনাসকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি খিযাব (চুলের রঙ) ব্যবহার করতেন? // ১৭ // তখন তিনি বললেন: বার্ধক্যের শুভ্রতা তাঁকে অসুন্দর করেনি। জিজ্ঞেস করা হলো: বার্ধক্যের শুভ্রতা কি কোনো অসুন্দর বিষয়? তিনি বললেন: তোমাদের প্রত্যেকেই তো এটি অপছন্দ করো। আসলে তাঁর দাড়ির অগ্রভাগে মাত্র কয়েকটি শুভ্র চুল ছিল। আর হুমায়দ তাঁর দাড়ির অগ্রভাগের দিকে ইশারা করলেন।

৪১ - ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: উম্মে সুলাইমের এক পুত্র ছিল যাকে আবু উমায়ের বলে ডাকা হতো। তার একটি ছোট পাখি (নুগাইর) ছিল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই তার নিকট আসতেন, তখন তার সাথে হাসি-কৌতুক করতেন। একবার তিনি তার নিকট এসে তাকে বিষণ্ন দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আবু উমায়েরের কী হয়েছে? উম্মে সুলাইম বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তার ছোট পাখিটি মারা গেছে। এরপর তিনি (ছন্দে ছন্দে) বলতে লাগলেন: হে আবু উমায়ের, কী করেছে তোমার সেই নুগাইর?
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
42 - أَخْبَرَنَا أَبُو (وَهْبٍ) عَبْدُ اللهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالْكٍ قَالَ: كَانَ ابْنٌ لِأَبِي طَلْحَةَ يُقَالَ لَهُ: أَبُو عُمَيْرٍ وَكَانَ لَهُ نُغَيْرٌ يَلْعَبُ بِهِ، وَكَانَ يُنَاغِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ فَجَاءَ، وَقَدْ مَاتَ نُغَيْرُهُ فَرَآهُ حَزِينًا، فَقَالَ: (مَا بَالُ أَبِي عُمَيْرٍ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، مَاتَ نُغَيْرُهُ) ، فَقَالَ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ.

43 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا دَعَا؟ قَالَ: نَعَمْ، ذَاكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَحَطَ الْمَطَرُ، وَأجْدَبَتِ الأَرْضُ، وَهَلَكَ الْمَالُ، فَرَفَعَ يَدَيْهُ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهُ، وَمَا أَرَى فِي السَّمَاءِ سَحَابَةً، (فَاسْتَسْقَى) فَمَا قَضَى الصَّلَاةَ حَتَّى إِنَّ الشَّابَ الْقَرِيبَ الدَّارِ لَيَهُمُّهُ الرُّجُوعُ إِلَى أَهُلِهِ، فَدَامَتْ جُمُعَةً فَلَمَّا جَاءَتِ الْجُمُعَةُ الَّتِي تَلِيهَا، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، تَهَدَّمَتِ الدُّورُ وَاحْتُبِسَ الرُّكْبَانِ وَهَلَكَ الْمَالُ قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ بِيَدَيْهِ: اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلَا عَلَيْنَا قَالَ: فَكَشَطَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ.

آخر الجزء

والحمد لله

عورض

عارضت من أحاديث حميدإلى هذا القدر قوبل سماعه من أعلاه //18 //
৪২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু (ওয়াহাব) আবদুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুমাইদ, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু তালহার এক পুত্র ছিল যাকে আবু উমায়ের বলা হতো। তার একটি ছোট পাখি (নুগায়র) ছিল যা নিয়ে সে খেলা করত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই আসতেন তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতেন। একবার তার পাখিটি মারা গেল এবং তিনি তাকে বিষণ্ণ দেখলেন। তখন তিনি বললেন: (আবু উমায়েরের কী হয়েছে? তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তার পাখিটি মারা গেছে), তখন তিনি বললেন: হে আবু উমায়ের, কী করল নুগায়র (পাখিটি)?

৪৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, তিনি বলেন: আনাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি দোয়ার সময় তাঁর দুই হাত তুলতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সেটি ছিল জুমুআর দিন, যখন অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছিল, ভূমি শুষ্ক হয়ে গিয়েছিল এবং গবাদি পশু ধ্বংস হতে লাগল। তখন তিনি তাঁর দুই হাত তুললেন এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম, অথচ আকাশে আমি কোনো মেঘ দেখছিলাম না। (তিনি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেন), ফলে নামাজ শেষ হওয়ার আগেই অবস্থা এমন হলো যে, নিকটবর্তী বাড়ির যুবকরাও তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য চিন্তিত হয়ে পড়ল। এভাবে এক সপ্তাহ বৃষ্টি চলল। যখন পরবর্তী জুমুআ এল, তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, কাফেলাগুলো আটকে পড়েছে এবং গবাদি পশু ধ্বংস হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন এবং তাঁর দুই হাত ইশারায় বললেন: হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে (বর্ষণ করুন), আমাদের উপরে নয়। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে মদিনার উপর থেকে মেঘ সরে গেল।

অংশের সমাপ্তি

এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য

যাচাইকৃত

হুমাইদের হাদিসসমূহ থেকে এই পর্যন্ত মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং উপর থেকে এর শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছে //১৮ //
(খণ্ড: ১) মিন আওয়ালী মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ (পৃষ্ঠা: ২০)
قرأت الثلاثيات لعبد بن حميد ، وكان فيها الحديث الأول من هذا الجزء ، ومن حديث جابر ، المكتوب بخطي إلى آخر هذا الجزء وفيها أحاديث ليست في هذا الجزء أكتبها على الشيخ الكبير أبي روح عبد المعز بن محمد الهروي ، بروايته عن أبي الفتح المختار بن أبي المعالي عبد الحميد بن المنتصر البوشنجي ، والشيخ أبي الوقت عبد الأول بن عيسى ، والشيخ أسعد بن أبي القاسم علي بن الموفق بن محمد الحنفي الزيادي ، والشيخ الإمام أبو محمد الفضل (بن) بن محمد بن إسماعيل الفضيلي أربعتهم عن الإمام الزاهد أبي الحسن عبد الرحمان بن محمد بن المظفر الداودي ، عن أبي محمد الحموي ، عن إبراهيم بن خزيم ، عن عبد بن حميد. وسمع ذلك الشيخ أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن همام الأندلسي ، ومن سمعه.

قرأت وكان عليها منقولا سماع الشيخ من الفضيلي حسب في سنة إحدى وثلاثين وخمس مئة.

وكان سماعنا في شهر ربيع الأول سنة عشرون وست مئة.

تم ولله والمنة ، والصلاة والسلام على محمد وآله.

تم بحمد الله
আমি আবদ বিন হুমাইদের সুলাসিয়াত পাঠ করেছি। এতে এই খণ্ডের প্রথম হাদিস এবং জাবিরের বর্ণিত হাদিস ছিল, যা আমার নিজ হস্তাক্ষরে এই খণ্ডের শেষ পর্যন্ত লিখিত। এতে এমন কিছু হাদিসও আছে যা এই খণ্ডে নেই। আমি এগুলো মহান শাইখ আবু রুহ আবদ আল-মুইজ বিন মুহাম্মদ আল-হারাবীর নিকট পাঠ করেছি; তিনি আবু আল-ফাতহ আল-মুখতার বিন আবি আল-মাআলি আবদ আল-হামিদ বিন আল-মুনতাসির আল-বুশাঞ্জি, শাইখ আবু আল-ওয়াক্ত আবদ আল-আউয়াল বিন ঈসা, শাইখ আসাদ বিন আবি আল-কাসিম আলি বিন আল-মুয়াফ্ফাক বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি আজ-জিয়াদি এবং শাইখ ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-ফাদল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ফুদাইলি—এই চারজনের সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে ইমাম যাহেদ আবু আল-হাসান আবদ আল-রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফর আদ-দাউদি হতে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-হামাভি হতে, তিনি ইব্রাহিম বিন খুজাইম হতে এবং তিনি আবদ বিন হুমাইদ হতে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হাম্মাম আল-আন্দালুসি এবং উপস্থিত অন্যান্যরা এটি শ্রবণ করেছেন।

আমি পাঠ করেছি এবং এতে ইতিপূর্বে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী শাইখ ৫৩১ হিজরি সনে ফুদাইলির নিকট এটি শ্রবণ করেছেন।

আমাদের শ্রবণকাল ছিল ৬২০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাস।

সমাপ্ত হলো, সকল কৃতজ্ঞতা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।

আল্লাহর প্রশংসার সাথে সমাপ্ত হলো।