(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الأحوذي القسم: شروح الحديث
الكتاب: تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي
المؤلف: أبو العلا محمد عبد الرحمن بن عبد الرحيم المباركفورى (ت 1353 هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
عدد الأجزاء: 10
تنبيه: ترقيم أحاديث الشرح بين [معقوفين] ليس من المطبوع
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল আহওয়াযী বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: তুহফাতুল আহওয়াযী বি-শারহি জামিউত তিরমিযী
লেখক: আবুল উলা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রাহীম আল-মুবারকপুরী (মৃত্যু ১৩৫৩ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
খণ্ড সংখ্যা: ১০
সতর্কীকরণ: ব্যাখ্যার হাদিসসমূহের তৃতীয় বন্ধনী [] যুক্ত ক্রমিক নম্বরগুলো মূল মুদ্রিত কপি হতে নয়
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنُؤْمِنُ بِهِ، وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهِ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مِحُمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. أَمَّا بَعْدُ: فَيَقُولُ اَلْعَبْدُ الْضَّعِيفُ، الرَّاجِي رَحْمَةَ رَبِّهِ الْكَرِيمِ مُحَمَّدُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنُ الْحَافِظِ عَبْدُ الرَّحِيمِ جَعَلَ اللَّهُ مَآلَهُمَا النَّعِيمَ الْمُقِيمَ: إِنِّي قَدْ فَرَغْتُ بِعَوْنِهِ تَعَالَى مِنْ تَحْرِيرِ
الْمُقَدِّمَةِ الَّتِي كُنْتُ أَرَدْتُ إِيْرَادَهَا فِي أَوَّلِ شَرْحِي لِجَامِعِ التِّرْمِذِيِّ، وَالْآنَ قَدْ حَانَ الشُّرُوعُ فِي تَحْرِيرِ الشَّرْحِ، وَفَّقَنِي اللَّهُ تَعَالَى لِإِتْمَامِهِ، وَأَعَانَنِي عَلَيْهِ بِفَضْلِهِ وَكَرَمِهِ وَسَمَّيْتُهُ " تُحْفَةَ الْأَحْوَذِيِّ فِي شَرْحِ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ " رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيِعُ الْعَلِيمُ، وَانْفَعْ بِهِ كُلَّ مَنْ يَرُومُهُ مِنَ الطَّالِبِ الْمُبْتَدِي وَالرَّاغِبِ الْمُنْتَهِي، وَاجْعَلْهُ لَنَا مِنَ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ، وَمِنَ الْأَعْمَالِ الَّتِي لَا تَنْقَطِعُ بَعْدَ الْمَمَاتِ.
اعْلَمْ زَادَكَ اللَّهُ عِلْمًا نَافِعًا أَنِّي رَأَيْتُ أَنَّ أَكْثَرَ شُرَّاحِ كُتُبِ الْحَدِيثِ قَدْ بَدَءُوا شُرُوحَهُمْ بِذِكْرِ أَسَانِيدِهِمْ إِلَى مُصَنِّفِيهَا، وَحَكَى الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي " فَتْحِ الْبَارِي " عَنْ بَعْضِ الْفُضَلَاءِ أَنَّ الْأَسَانِيدَ أَنْسَابُ الْكُتُبِ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَبْدَأَ شَرْحِي بِذِكْرِ إِسْنَادِي إِلَى الْإِمَامِ التِّرْمِذِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى فَأَقُولُ: إِنِّي قَرَأْتُ جَامِعَ التِّرْمِذِيِّ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ عَلَى شَيْخِنَا الْعَلَّامَةِ السَّيِّدِ مُحَمَّد نَذِير حُسَيْن، الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى سَنَةَ سِتٍ بَعْدَ أَلْفٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ مِنَ الْهِجْرَةِ النَّبَوِيَّةِ، فِي دِهْلِي، فَأَجَازَنِي بِهِ، وَبِجَمِيعِ مَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَغَيْرِهَا، وَكَتَبَ لِيَ الْإِجَازَةَ بِخَطِّهِ الشَّرِيفِ، وَهَذِهِ صُورُتُهَا.
الْحَمْدُ لِلَّهِ ربِّ الْعَالَمِينَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
أَمَّا بَعْدُ: فَيَقُولُ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ، طَالِبُ الْحُسْنَيَيْنِ، مُحَمَّد نَذِير حُسَيْن، عَافَاهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الدَّارَيْنِ: إِنَّ الْمَوْلَوِيَّ الذَّكِيَّ أَبَا الْعلى مُحَمَّد عَبْد الرَّحْمَنِ ابْنِ الْحَافِظِ الْحَاجِّ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْأَعْظَمِ كدهي الْمُبَارَكْفُورِيَّ، قَدْ قَرَأَ عَلَيَّ صَحِيحَ الْبُخَارِيِّ وَصَحِيحَ مُسْلِمٍ وَجَامِعَ التِّرْمِذِيِّ وَسُنَنَ أَبِي دَاوُدَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُ بِتَمَامِهِ وَكَمَالِهِ، وَأَوَاخِرَ النَّسَائِيِّ، وَأَوَائِلَ ابْنِ مَاجَهْ، وَمِشْكَاةَ الْمَصَابِيحِ، وَبُلُوغَ الْمَرَامِ، وَتَفْسِيرَ الْجَلَالَيْنِ، وَتَفْسِيرَ الْبَيْضَاوِيِّ، وَأَوَائِلَ الْهِدَايَةِ وَأَكْثَرَ شَرْحِ نُخْبَةِ الْفِكَرِ، وَسَمِعَ تَرْجَمَةَ الْقُرْآنِ الْمَجِيدِ إِلَّا سِتَّةَ أَجْزَاءٍ، فَعَلَيْهِ أَنْ يَشْتَغِلَ بِإِقْرَاءِ الْكُتُبِ الْمَذْكُورَةِ، وَالْمُوَطَّأِ وَسُنَنِ الدَّارِمِيِّ وَالْمُنْتَقَى، وَغَيْرِهَا مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَالتَّفْسِيرِ وَالْفِقْهِ، وَتَدْرِيسِهَا، لِأَنَّهُ أَهْلُهَا بِالشُّرُوطِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর: তাঁর মহান রবের করুণার প্রত্যাশী হীন বান্দা মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে হাফেজ আবদুর রহিম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের পরিণাম চিরস্থায়ী নেয়ামত পূর্ণ জান্নাতে করুন) বলছেন: আমি মহান আল্লাহর তাওফিকে সেই
ভূমিকা রচনার কাজ সমাপ্ত করেছি যা আমি জামে তিরমিযীর শরহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম। এখন মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করার সময় হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এটি পূর্ণ করার তাওফিক ও সাহায্য দান করুন। আমি এই কিতাবের নাম রেখেছি ‘তুহফাতুল আহওয়াযী বি-শারহি জামেয়িত তিরমিযী’। হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। আর এর মাধ্যমে প্রারম্ভিক শিক্ষার্থী ও উচ্চতর জ্ঞানপিপাসু প্রত্যেকের উপকার সাধন করুন এবং আমাদের জন্য একে ‘বাকিয়াতে সালিহাত’ (নেক আমল যা অবশিষ্ট থাকে) এবং মৃত্যুর পর নিরবচ্ছিন্ন সওয়াব লাভের আমল হিসেবে কবুল করুন।
জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার উপকারী জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন, আমি লক্ষ্য করেছি যে অধিকাংশ হাদিস শাস্ত্রের ব্যাখ্যাকারগণ তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে গ্রন্থকারের নিকট পর্যন্ত তাঁদের সনদ বা বর্ণনাপরম্পরা উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে জনৈক গুণী মনীষী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘সনদসমূহ হলো কিতাবসমূহের বংশপরিচয়’। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পর্যন্ত আমার সনদ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করব। সুতরাং আমি বলছি: আমি পূর্ণ জামে তিরমিযী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের উস্তাদ আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ নাযীর হুসাইন মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তেরশ ছয় হিজরি সনে দিল্লিতে পাঠ করেছি। তিনি আমাকে এর জন্য এবং তাঁর নিকট আমি হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রের যেসব কিতাব পাঠ করেছি, সেগুলোর জন্য অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। তিনি নিজ পবিত্র হাতে আমার জন্য ইজাজতনামা লিখে দিয়েছেন, যার অনুলিপি নিম্নরূপ:
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর: পরকালীন সৌভাগ্যের প্রত্যাশী হীন বান্দা মুহাম্মদ নাযীর হুসাইন (আল্লাহ তাআলা তাঁকে উভয় জগতে নিরাপদে রাখুন) বলছেন: অত্যন্ত মেধাবী মৌলভী আবুল উলা মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে হাফেজ আলহাজ্ব আবদুর রহিম আজমগড়ী মোবারকপুরী আমার নিকট সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী এবং সুনানে আবু দাউদ এর প্রত্যেকটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছেন। এ ছাড়াও সুনানে নাসাঈর শেষাংশ, ইবনে মাজাহর প্রথমাংশ, মিশকাতুল মাসাবীহ, বুলুগুল মারাম, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে বায়যাবী, হিদায়ার প্রথমাংশ এবং শারহু নুখবাতিল ফিকার এর অধিকাংশ পাঠ করেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনের তরজমা ছয় পারা ব্যতীত সম্পূর্ণ শ্রবণ করেছেন। সুতরাং তাঁর প্রতি নির্দেশ রইল তিনি যেন উল্লিখিত কিতাবসমূহ এবং মুয়াত্তা, সুনানে দারেমী, আল-মুন্তাকা ও অন্যান্য হাদিস, তাফসীর ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পাঠদান ও শিক্ষাদানের কাজে ব্যাপৃত থাকেন। কারণ তিনি শর্তানুসারে এর উপযুক্ত।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٤)
الْمُعْتَبَرَةِ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ، وَإِنِّي حَصَّلْتُ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنِ الشَّيْخِ الْمُكَرَّمِ الْأَوْرَعِ الْبَارِعِ فِي الْآفَاقِ مُحَمَّد إِسْحَاق الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَهُوَ حَصَّلَ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنِ الشَّيْخِ الْأَجَلِّ مُسْنِدِ الْوَقْتِ الشَّاهِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَهُوَ حَصَّلَ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنِ الشَّيْخِ الْقَرْمِ الْمُعَظَّمِ بَقِيَّةِ السَّلَفِ وَحُجَّةِ الْخَلَفِ الشَّاهِ وَلِيِّ اللَّهِ الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَبَاقِي السَّنَدِ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُ.
وَأُوصِيهِ بِتَقْوَى اللَّهِ تَعَالَى فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَإِشَاعَةِ السُّنَّةِ السَّنِيَّةِ بِلَا خَوْفِ لَوْمَةِ لَائِمٍ حُرِّرَ سَنَةَ 1306 الْهِجْرِيَّةِ الْمُقَدَّسَةِ.
قُلْتُ: بَاقِي السَّنَدِ هَكَذَا: قَالَ الشَّاهُ وَلِيُّ اللَّهِ: قَرَأْتُ طَرَفًا مِنْ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ عَلَى أَبِي الطَّاهِرِ يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الْكُرْدِيَّ الْمَدَنِيَّ، وَأَجَازَ لِسَائِرِهِ عَنْ أَبِيهِ يَعْنِي إِبْرَاهِيمَ الْكُرْدِيِّ الْمَدَنِيِّ، عَنِ الْمِزَاحِيِّ، يَعْنِي السُّلْطَانَ بْنَ أَحْمَدَ، عَنِ الشِّهَابِ أَحْمَدَ بْنِ الْخَلِيلِ السُّبْكِيِّ، عَنِ النَّجْمِ الْغَيْطِيِّ، عَنِ الزَّيْنِ زَكَرِيَّا، عَنِ الْعِزِّ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفُرَاتِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ الْمَرَاغِيِّ، عَنِ الْفَخْرِ بْنِ أَحْمَدَ الْبُخَارِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ طَبْرَزْدَ الْبَغْدَادِيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْكَرُوخِيِّ، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَامِرٍ مَحْمُودُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجَرَّاحِيِّ الْمَرْوَزِيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ الْمَحْبُوبِيُّ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عِيسَى بْنُ سَوْرَةَ بْنِ مُوسَى التِّرْمِذِيُّ.
قُلْتُ: وَإِنِّي قَرَأْتُ أَطْرَافًا مِنْ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ وَغَيْرِهِ مِنَ الْأُمَّهَاتِ السِّتِّ وَغَيْرِهَا عَلَى شَيْخِنَا الْعَلَّامَةِ الشَّيْخِ حُسَيْنِ بْنِ مُحْسِنٍ الْأَنْصَارِيِّ الْخَزْرَجِيِّ الْيَمَانِيِّ، فَأَجَازَنِي لِسَائِرِ مَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ، بَلْ لِجَمِيعِ مَا حَوَاهُ إِتْحَافُ الْأَكَابِرِ فِي إِسْنَادِ الدَّفَاتِرِ مِنَ الْكُتُبِ الْحَدِيثِيَّةِ وَغَيْرِهَا، وَكَتَبَ لِيَ الْإِجَازَةَ وَهَذِهِ صُورَتُهَا:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي تَوَاتَرَ عَلَيْنَا فَضْلُهُ وَإِحْسَانُهُ، الْمَوْصُولُ إِلَيْنَا بِرُّهُ وَامْتِنَانُهُ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنْ صَحَّ سَنَدُ كَمَالَاتِهُ، وَتَسَلْسَلَ إِلَيْنَا مَرْفُوعُ مَا وَصَلَ مِنْ هِبَاتِهِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ، وَنَاصِرِيهِ وَأَحْزَابِهِ.
وَبَعْدُ: فَإِنَّهُ وَقَعَ الِاتِّفَاقُ فِي بَلْدَةِ آرَهْ بِالْمَوْلَوِيِّ مُحَمَّد عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُتَوَطِّنِ مُبَارَكْبُورَ مِنْ تَوَابِعِ أَعْظَمِ كَده، وَقَرَأَ عَلَيَّ أَطْرَافًا مِنَ الْأُمَّهَاتِ السِّتِّ، وَمِنْ مُوَطَّأِ الْإِمَامِ مَالِكٍ وَمِنْ مُسْنَدِ الدَّارِمِيِّ، وَمِنْ مُسْنَدِ الْإِمَامِ الشَّافِعِيِّ، وَالْإِمَامِ أَحْمَدَ، وَمِنَ الْأَدَبِ الْمُفْرَدِ لِلْبُخَارِيِّ، وَمِنْ مُعْجَمِ الطَّبَرَانِيِّ الصَّغِيرِ، وَمِنْ سُنَنِ الدَّارَقُطْنِيِّ، وَطَلَبَ مِنِّي الْإِجَازَةَ بَعْدَ الْقِرَاءَةِ، وَوَصْلِ سَنَدِهِ بِسَنَدِ مُؤَلِّفِيهَا الْأَجِلَّاءِ الْقَادَةِ، فَأَسْعَفْتُهُ بِمَطْلُوبِهِ، تَحْقِيقًا لِظَنِّهِ وَمَرْغُوبِهِ، وَإِنْ كُنْتُ لَسْتُ أَهْلًا لِذَلِكَ، وَلَا مِمَّنْ يَخُوضُ فِي هَذِهِ الْمَسَالِكِ، وَلَكِنْ تَشَبُّهًا بِالْأَئِمَّةِ الْأَعْلَامِ السَّابِقِينَ الْكِرَامِ.
যা হাদিসশাস্ত্রবিশারদদের নিকট নির্ভরযোগ্য; এবং আমি পাঠ, শ্রবণ ও অনুমতি (ইজাজত) লব্ধ করেছি সম্মানিত, পরহেজগার এবং দিগন্তজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন শাইখ মুহাম্মদ ইসহাক মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.)-এর নিকট হতে। তিনি পাঠ, শ্রবণ ও ইজাজত লাভ করেছেন মহান শাইখ, সমকালীন সর্বোচ্চ সনদধারী শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.)-এর নিকট হতে। তিনি পাঠ, শ্রবণ ও ইজাজত লাভ করেছেন মহান নেতা, উত্তরসূরিদের জন্য আদর্শ ও উত্তরকালের প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.)-এর নিকট হতে; আর অবশিষ্ট সনদ তাঁর নিকট লিখিত রয়েছে।
আমি তাঁকে (শিষ্যকে) গোপনে ও প্রকাশ্যে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া না করে মহিমান্বিত সুন্নাহর প্রচার-প্রসারের উপদেশ দিচ্ছি। এটি পবিত্র হিজরি ১৩০৬ সনে লিখিত হয়েছে।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অবশিষ্ট সনদ নিম্নরূপ: শাহ অলিউল্লাহ বলেন: আমি জামিউত তিরমিজির কিয়দাংশ পাঠ করেছি আবু তাহির অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুর্দি আল-মাদানির নিকট, এবং তিনি এর অবশিষ্টাংশের জন্য তাঁর পিতা ইবরাহিম আল-কুর্দি আল-মাদানির পক্ষ হতে আমাকে অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন মিজানহি অর্থাৎ সুলতান ইবনে আহমাদ হতে, তিনি শিহাব আহমাদ ইবনুল খলিল আস-সুবকি হতে, তিনি নাজমুদ দ্বীন আল-গাইতি হতে, তিনি জাইনুদ্দিন জাকারিয়া হতে, তিনি ইজ্জুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত হতে, তিনি ওমর ইবনুল হাসান আল-মারাগি হতে, তিনি ফখর ইবনে আহমাদ আল-বোখারি হতে, তিনি ওমর ইবনে তাবারজাদ আল-বাগদাদি হতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আবদুল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু সাহল আল-কারুখি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু আমির মাহমুদ ইবনুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-আজদি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-জাররাহি আল-মারওয়াজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহবুব আল-মাহবুবি আল-মারওয়াজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা আত-তিরমিজি।
আমি বলছি: আমি জামিউত তিরমিজি এবং অন্যান্য উম্মাহাতে সিত্তা ও অবশিষ্ট প্রধান হাদিস গ্রন্থসমূহের অংশবিশেষ পাঠ করেছি আমাদের শাইখ আল্লামা হুসাইন ইবনে মুহসিন আল-আনসারি আল-খাজরাজি আল-য়ামানি-এর নিকট। তিনি আমাকে হাদিসের সেই সকল গ্রন্থের জন্য ইজাজত দান করেছেন যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি, বরং 'ইতহাফুল আকাবির ফি ইসনাদিদ দাফাতির' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত সকল হাদিসগ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবের জন্যও অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আমার জন্য একটি ইজাজতনামা লিখে দিয়েছিলেন, যার অনুলিপি নিম্নরূপ:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহ ও ইহসান আমাদের ওপর অবিরত বর্ষিত হয় এবং যাঁর দয়া ও করুণা আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর পূর্ণতার সনদ অত্যন্ত সহিহ এবং যাঁর দান-দক্ষিণা আমাদের নিকট মারফু ও মুসালসাল পরম্পরায় পৌঁছেছে; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর: আরাহ শহরে মৌলভি মুহাম্মদ আবদুর রহমান মুবারকপুরী (যিনি আজমগড়ের মুবারকপুরের অধিবাসী) এর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ ঘটে। তিনি আমার নিকট উম্মাহাতে সিত্তা, ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, ইমাম দারিমির মুসনাদ, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমাদের মুসনাদ, ইমাম বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, তাবারানির মুজামুস সাগির এবং সুনানে দারা কুতনির কিয়দাংশ পাঠ করেছেন। পাঠ সমাপ্তির পর তিনি আমার নিকট ইজাজত প্রার্থনা করেন এবং এসকল মহান ইমাম ও নেতৃবৃন্দের সনদের সাথে নিজের সনদকে যুক্ত করার আবেদন জানান। আমি তাঁর ধারণা ও বাসনার সত্যতা নিশ্চিতকল্পে তাঁর সেই প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি, যদিও আমি এই কাজের যোগ্য নই এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা এই পথে বিচরণ করে। তবে আমি পূর্ববর্তী মহান ও সম্মানিত ইমামগণের সাদৃশ্য অবলম্বনে এটি করেছি।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَإِذَا أَجَزْتُ مَعَ الْقُصُورِ فَإِنَّنِي
… أَرْجُو التَّشَبُّهَ بِالَّذِينَ أَجَازُوا
لِلسَّالِكِينَ إِلَى الْحَقِيقَةِ مَنْهَجًا
… سَبَقُوا إِلَى غُرَفِ الْجِنَانِ فَفَازُوا
فَأَقُولُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقِ: إِنِّي قَدْ أَجَزْتُ الْمَوْلَوِيَّ مُحَمَّد عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمَذْكُورَ أَنْ يَرْوِيَ عَنِّي هَذِهِ الْكُتُبَ الْمَذْكُورَةَ بِأَسَانِيدِهَا الْمُتَّصِلَةِ إِلَى مُؤَلِّفِيهَا، الْمَذْكُورَةِ فِي ثَبَتِ شَيْخِ مَشَايِخِنَا الْإِمَامِ الْحَافِظِ الرَّبَّانِيِّ، الْقَاضِي مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الشَّوْكَانِيِّ، الْمُسَمَّى " بِإِتْحَافِ الْأَكَابِرِ فِي إِسْنَادِ الدَّفَاتِرِ " مَعَ بَيَانِ كُلِّ إِسْنَادٍ إِلَى مُؤَلِّفِهِ، بَلْ أَجَزْتُهُ أَنْ يَرْوِيَ عَنِّي جَمِيعَ مَا حَوَاهُ إِتْحَافُ الْأَكَابِرِ مِنَ الْكُتُبِ الْحَدِيثِيَّةِ وَغَيْرِهَا، أَجَازَنِي بِرِوَايَةِ جَمِيعِ مَا فِيهِ شَيْخَايَ: الشَّرِيفُ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ الْحُسْنِيُّ الْحَازِمِيُّ، وَشَيْخُنَا الْقَاضِي الْعَلَّامَةُ أَحْمَدُ ابْنُ الْإِمَامِ الْمُؤَلِّفِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الشَّوْكَانِيُّ كِلَاهُمَا عَنْ مُؤَلِّفِهِ الْإِمَامِ الْحَافِظِ الرَّبَّانِيِّ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الشَّوْكَانِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَأُوصِيهِ بِتَقْوَى اللَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَنِ، وَمُتَابَعَةِ السُّنَنِ، وَأَنْ لَا يَنْسَانِي مِنْ صَالِحِ دَعَوَاتِهِ فِي كُلِّ حَالَاتِهِ، وَمَشَايِخِي وَوَالِدَيَّ وَأَوْلَادِي، وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاهُ لِمَا يَرْضَاهُ، وَسَلَكَ بِنَا وَبِهِ بِطَرِيقِ النَّجَاةِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَوَّلًا وَآخِرًا، وَظَاهِرًا وَبَاطِنًا، وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ. مُؤَرِّخُهُ يَوْمَ الْأَحَدِ لِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ شَعْبَانَ أَحَدِ شُهُورِ أَلْفٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَأَرْبَعَةَ عَشْرَ مِنَ الْهِجْرَةِ النَّبَوِيَّةِ، عَلَى مُشَرِّفِهَا أَفْضَلِ الصَّلَاةِ وَأَزْكَى التَّسْلِيمِ وَالتَّحِيَّةِ. أَمْلَاهُ الْمُجِيزُ بِلِسَانِهِ، الْحَقِيرُ الْفَقِيرُ إِلَى إِحْسَانِ رَبِّهِ الْكَرِيمِ الْبَارِي، حُسَيْنُ بْنُ مُحْسِنِ الْأَنْصَارِيِّ الْخَزْرَجِيِّ الْيَمَانِيِّ، عَفَا اللَّهُ عَنْهُ.
قُلْتُ: ثَبَتُ شَيْخِ شُيُوخِ مَشَايِخِنَا الْقَاضِي الشَّوْكَانِيِّ الْمُسَمَّى بِإِتْحَافِ الْأَكَابِرِ عِنْدِي مَوْجُودٌ نَقَلْتُهُ مِنْ نُسْخَةٍ قَلَمِيَّةٍ صَحِيحَةٍ، مَنْقُولَةٍ مِنْ خَطِّ تِلْمِيذِ الْمُصَنِّفِ وَالْمُجَازُ مِنْهُ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الْحَقِّ الْمُحَمَّدِيُّ، وَالْآنَ قَدْ طُبِعَ هَذَا الثَّبَتُ الْمُبَارَكُ، وَشَاعَ وَقَدْ ذَكَرَ الْقَاضِي الشَّوْكَانِيُّ مُصَنِّفُ هَذَا الثَّبَتِ أَسَانِيدَ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ فِي فَصْلِ السِّينِ، فَقَالَ: سُنَنُ التِّرْمِذِيِّ أَرْوِيهَا بِالسَّمَاعِ لَجَمِيعُهَا مِنْ لَفْظِ شَيْخِنَا السَّيِّدِ الْعَلَّامَةِ عَبْدِ الْقَادِرِ أَحْمَدَ بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ فِي تَفْسِيرِ الثَّعْلَبِيِّ، إِلَى الشِّمَاخِيِّ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّرَجِيِّ الْيَمَنِيِّ، عْنَ زَاهِرِ بْنِ رُسْتُمٍ الْأَصْفَهَانِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْهَرَوِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الْقَاسِمِ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍّ الْمَرْوَزِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ الْمَرْوَزِيِّ عَنِ الْمُؤَلِّفِ.
وَأَرْوِيهَا عَنْ شَيْخِنَا الْمَذْكُورِ بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ فِي أَوَّلِ هَذَا الْمُخْتَصَرِ إِلَى مُحَمَّدٍ الْبَابِلِيِّ، عَنِ النُّورِ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزِّيَادِيِّ، عَنِ الرَّمْلِيِّ، بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ قَرِيبًا إِلَى ابْنِ طَبْرَزْدَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْكَرُوخِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الْقَاسِمِ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْبُوبٍ الْمَرْوَزِيِّ، عَنِ الْمُؤَلِّفِ.
وَأَرْوِيهَا عَنْ شَيْخِنَا الْمَذْكُورِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الطَّيِّبِ الْمَغْرِبِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَرَاغِيِّ،
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যদি আমি ইজাযত প্রদান করি, তবে আমি তাদের সদৃশ হওয়ার আশা রাখি যারা ইজাযত প্রদান করেছেন
… সত্যের পথে বিচরণকারীদের জন্য একটি পথ হিসেবে। যারা জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহের পানে অগ্রগামী হয়ে সফলকাম হয়েছেন।
অতঃপর আমি বলছি এবং আল্লাহর নিকটই তাওফীক কামনা করছি: আমি উল্লেখিত মৌলভী মুহাম্মদ আব্দুর রহমানকে আমার পক্ষ থেকে উল্লেখিত কিতাবসমূহ তাদের অবিচ্ছিন্ন সনদসহ বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম, যা তাদের মূল রচয়িতাগণ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং যা আমাদের শাইখগণের শাইখ, ইমাম, হাফিজ, রব্বানী, কাজী মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শওকানী কর্তৃক সংকলিত "ইতহাফুল আকাবির ফি ইসনাদিদ দাফাতির" নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এতে প্রতিটি গ্রন্থের রচয়িতা পর্যন্ত বিস্তারিত সনদ উল্লিখিত হয়েছে। বরং আমি তাঁকে "ইতহাফুল আকাবির"-এ অন্তর্ভুক্ত হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ের সকল কিতাব আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম। আমাকে এই গ্রন্থে বিদ্যমান সবকিছু বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেছেন আমার দুই শাইখ: শরীফ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-হুসনী আল-হাযিমী এবং আমাদের শাইখ আল্লামা কাজী আহমদ, যিনি মূল লেখক ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শওকানীর পুত্র। তাঁরা উভয়েই এই গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম হাফিজ রব্বানী মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শওকানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁকে (অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে) গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করার এবং সুন্নাহর অনুসরণের উপদেশ দিচ্ছি। আরও অসিয়ত করছি যেন তিনি তাঁর সর্বাবস্থায় তাঁর নেক দোয়াসমূহে আমাকে, আমার শাইখগণকে, আমার পিতামাতাকে এবং আমার সন্তানদের ভুলে না যান। আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের ও তাঁকে নাজাতের পথে পরিচালিত করুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। এটি লিখিত হয়েছে তেরোশ চৌদ্দ হিজরী সনের শাবান মাসের বারো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর রবিবার দিনে। হিজরতের প্রবর্তকের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত, পবিত্রতম তাসলীম ও অভিবাদন। ইজাযত প্রদানকারী নিজ মুখে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর মহান ও দয়ালু প্রতিপালকের অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী অধম ও অভাবী—হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারী আল-খাযরাজী আল-ইয়ামানী, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
আমি (সংকলক) বলছি: আমাদের শাইখগণের শাইখ কাজী আশ-শওকানী সংকলিত সনদ-গ্রন্থ (সাবাত) "ইতহাফুল আকাবির" আমার নিকট সংরক্ষিত আছে। আমি এটি একটি নির্ভুল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি, যা মূল লেখকের ছাত্র এবং তাঁর থেকে ইজাযতপ্রাপ্ত শাইখ আল্লামা আবু আল-ফাদল আব্দুল হক আল-মুহাম্মাদীর স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে সংকলিত। বর্তমানে এই বরকতময় সাবাতটি মুদ্রিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে। এই সাবাতের রচয়িতা কাজী আশ-শওকানী 'সীন' বর্ণমালার পরিচ্ছেদে জামে আত-তিরমিযীর সনদসমূহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: সুনানে তিরমিযী—আমি এটি সম্পূর্ণ শ্রবণ করার মাধ্যমে বর্ণনা করি আমাদের শাইখ সাইয়্যেদ আল্লামা আব্দুল কাদির আহমদের জবান থেকে, যিনি তা পূর্বোল্লিখিত তাফসীরে সা'লাবীর সনদে আশ-শিমাকী পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শারজী আল-ইয়ামানী থেকে, তিনি যহির বিন রুস্তম আল-আসফাহানী থেকে, তিনি কাসিম বিন আবি সাহল আল-হারাভী থেকে, তিনি মাহমুদ বিন কাসিম আল-আযদী থেকে, তিনি আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব আল-মারওয়াযী থেকে এবং তিনি মূল রচয়িতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি এটি আমাদের উক্ত শাইখ থেকে বর্ণনা করি, তাঁর সেই সনদে যা এই সংক্ষিপ্তসারের শুরুতে মুহাম্মদ আল-বাবিলী পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি নূর আলী বিন ইয়াহইয়া আজ-যিয়াদী থেকে, তিনি রামলী থেকে এবং তিনি ইবনে তাবরাযাদ পর্যন্ত নিকটবর্তী একটি সনদে বর্ণনা করেছেন; তিনি আব্দুল মালিক বিন আবি সাহল আল-কারুখী থেকে, তিনি মাহমুদ বিন কাসিম আল-আযদী থেকে, তিনি আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মাহবুব আল-মারওয়াযী থেকে এবং তিনি মূল রচয়িতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি এটি আমাদের উক্ত শাইখ থেকে বর্ণনা করি, তিনি মুহাম্মদ বিন তাইয়্যেব আল-মাগরিবী থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মারায়ী থেকে,
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٦)
عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مُكْرِمٍ الطَّبَرِيِّ، عَنْ جَدِّهِ الْمُحِبِّ الطَّبَرِيِّ عَنِ الزَّيْنِ الْمَرَاغِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الْحَجَّارِ، عَنْ أَبِي النَّجَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ اللَّتِّيِّ، عَنْ أَبِي الْوَقْتِ عَبْدِ الْأَوَّلِ بْنِ عِيسَى السَّجْزِيِّ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْأَزْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الجَرَّاحِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمَحْبُوبِيِّ، عَنِ الْمُؤَلِّفِ.
وَأَرْوِيهَا عَنْ شَيْخِنَا السَّيِّدِ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَامِرٍ بِإِسْنَادِهِ السَّابِقِ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ إِلَى الدَّيْبَعِ، عَنِ السَّخَاوِيِّ، عَنِ ابْنِ حَجَرٍ، عَنِ الْبُرْهَانِ التَّنُّوخِيِّ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ عَسَاكِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ مَحْمُودِ بْنِ الْقَاسِمِ الْأَزْدِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَحْبُوبِيِّ عَنِ الْمُؤَلِّفِ.
وَأَرْوِيهَا عَنْ شَيْخِنَا السَّيِّد عَلِيٍّ الْمَذْكُورِ، وَشَيْخِنَا الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمَغْرِبِيِّ بِالْإِسْنَادِ الْمُتَقَدِّمِ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْمَرْحُومِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الذِّمَارِيِّ، عَنِ الشِّهَابِ الْقَلْيُوبِيِّ، عَنِ النُّورِ الزِّيَادِيِّ، عَنِ الشَّمْسِ الرَّمْلِيِّ، عَنْ زَكَرِيَّا الْأَنْصَارِيِّ، عَنِ الشَّمْسِ الْقَايَاتِيِّ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزَّيْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْعِرَاقِيِّ، عَنْ عُمَرَ الْعِرَاقِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْبُخَارِيِّ، عَنِ ابْنِ طَبْرَزْدَ بِإِسْنَادِهِ السَّابِقِ إِلَى الْمُؤَلِّفِ.
وَأَرْوِيهَا عَنْ شَيْخِنَا يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلَاءِ الدِّينِ الْمزْجَاجِيِّ، عَنْ أَبِيهِ عْنَ جَدِّهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْكُرْدِيِّ بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ إِلَى ابْنِ طَبْرَزْدَ بِإِسْنَادِهِ الْمَذْكُورِ هَاهُنَا إِلَى الْمُؤَلِّفِ. انْتَهَى مَا فِي إِتْحَافِ الْأَكَابِرِ.
قُلْتُ: قَدْ قَالَ الْعَلَّامَةُ الشَّوْكَانِيُّ فِي خُطْبَةِ هَذَا الثَّبَتِ: قَدِ اقْتَصَرْتُ فِي الْغَالِبِ عَلَى ذِكْرِ إِسْنَادٍ وَاحِدٍ، وَأَحَلْتُ فِي أَسَانِيدِ الْبَعْضِ عَلَى الْبَعْضِ طَلَبًا لِلِاخْتِصَارِ. انْتَهَى. فَعَلَيْكَ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى إِتْحَافِ الْأَكَابِرِ لِتَقِفَ عَلَى مَا أَحَالَ عَلَيْهِ فِي أَسَانِيدِ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ بَعْضِهَا عَلَى الْبَعْضِ، وَأَنَا أَذْكُرُ هَاهُنَا إِسْنَادَهُ الْمُتَقَدِّمَ فِي تَفْسِيرِ الثَّعْلَبِيِّ إِلَى الشِّمَاخِيِّ. قَالَ الشَّوْكَانِيُّ: تَفْسِيرُ الْكَشْفِ وَالْبَيَانِ فِي تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ: أَرْوِيهِ عَنْ شَيْخِي السَّيِّدِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ أَحْمَدَ، عَنْ شَيْخِهِ السَّيِّدِ سُلَيْمَانَ بْنِ يَحْيَى الْأَهْدَلِ، عْنِ السَّيِّدِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَهْدَلِ، عَنِ السَّيِّدِ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ الْأَهْدَلَ، عَنِ السَّيِّدِ الْعَلَّامَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَطَّاحِ الْأَهْدَلِ، عْنَ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَطَّاحِ الْأَهْدَلِ، عَنِ السَّيِّدِ طَاهِرِ بْنِ حُسَيْنٍ الْأَهْدَلِ، عَنِ الْحَافِظِ الْدَيْبَعِ، عَنْ زَيْنِ الدِّينِ الشَّرْجِيِّ، عَنْ نَفِيسِ الدِّينِ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْخَيْرِ الشِّمَاخِيِّ إلخ.
وَهَاأَنَا أَشْرَعُ فِي الْمَقْصُودِ، مُتَوَكِّلًا عَلَى اللَّهِ الْمَلِكِ الْوَدُودِ، وَمَا تَوْفِيقِيَ إِلَّا بِاللَّهِ، وَهُوَ حَسْبِى وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইজলি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মুকরিম আত-তাবারী থেকে, তিনি তাঁর দাদা আল-মুহিব্ব আত-তাবারী থেকে, তিনি আয-যাইন আল-মারাগী থেকে, তিনি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবী তালিব আল-হাজ্জার থেকে, তিনি আবু আন-নাজা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-লাত্তি থেকে, তিনি আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি থেকে, তিনি আবু আমির আল-আযদি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি থেকে, তিনি আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি থেকে, তিনি গ্রন্থকার থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আমি এটি আমাদের শায়খ আস-সাইয়্যিদ আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আমির থেকে তাঁর ইতিপূর্বে বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের সনদে আদ-দাইবা‘ পর্যন্ত বর্ণনা করি, তিনি আস-সাখাভি থেকে, তিনি ইবনে হাজার থেকে, তিনি আল-বুরহান আত-তানুখি থেকে, তিনি আবুল কাসিম ইবনে আসাকির থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবু আমির মাহমুদ ইবনে আল-কাসিম আল-আযদি থেকে, তিনি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাহবুবি থেকে, তিনি গ্রন্থকার থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আমি এটি আমাদের উল্লিখিত শায়খ সাইয়্যিদ আলী এবং আমাদের শায়খ আল-হাসান ইবনে ইসমাইল আল-মাগরিবি থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের সনদে আলী ইবনে আহমদ আল-মারহুমি পর্যন্ত বর্ণনা করি, তিনি ইব্রাহিম আদ-জিমারি থেকে, তিনি আশ-শিহাব আল-কালয়ুবি থেকে, তিনি আন-নূর আজ-জিয়াদি থেকে, তিনি আশ-শামস আর-রামলি থেকে, তিনি জাকারিয়া আল-আনসারি থেকে, তিনি আশ-শামস আল-কায়াতি থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আবী জুরআ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয-যাইন আব্দুর রহিম আল-ইরাকি থেকে, তিনি উমর আল-ইরাকি থেকে, তিনি আলী ইবনে আল-বুখারি থেকে, তিনি ইবনে তাবারজাদ থেকে তাঁর ইতিপূর্বে উল্লিখিত সনদে গ্রন্থকার পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
আর আমি এটি আমাদের শায়খ ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলাউদ্দিন আল-মাজজাজি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি ইব্রাহিম আল-কুর্দি থেকে তাঁর ইতিপূর্বে বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের সনদে ইবনে তাবারজাদ পর্যন্ত এবং তাঁর এখানে উল্লিখিত সনদে গ্রন্থকার পর্যন্ত বর্ণনা করি। ‘ইতহাফুল আকাবির’-এর উদ্ধৃতি এখানেই শেষ হলো।
আমি বলছি: আল্লামা আশ-শাওকানি এই সাবাত (সনদ সংকলন)-এর ভূমিকায় বলেছেন: আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি মাত্র সনদ উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং কিছু সনদের ক্ষেত্রে অন্যটির দিকে ন্যস্ত (রেফার) করেছি। (উদ্ধৃতি শেষ)। অতএব, জামেউত তিরমিযীর যে সনদগুলোকে তিনি একটির ওপর অন্যটির দিকে ন্যস্ত করেছেন, তা জানতে আপনাকে ‘ইতহাফুল আকাবির’-এর শরণাপন্ন হতে হবে। আর আমি এখানে তাফসিরুত সা’লাবিতে বর্ণিত তাঁর পূর্ববর্তী সনদটি আশ-শিমাখি পর্যন্ত উল্লেখ করছি। আশ-শাওকানি বলেছেন: ‘তাফসিরুল কাশফি ওয়াল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন’: আমি এটি বর্ণনা করি আমার শায়খ সাইয়্যিদ আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ থেকে, তিনি তাঁর শায়খ সাইয়্যিদ সুলাইমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আহদাল থেকে, তিনি সাইয়্যিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আহদাল থেকে, তিনি সাইয়্যিদ ইয়াহইয়া ইবনে উমর আল-আহদাল থেকে, তিনি সাইয়্যিদ আল্লামা আবু বকর ইবনে আলী আল-বাত্তাহ আল-আহদাল থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাত্তাহ আল-আহদাল থেকে, তিনি সাইয়্যিদ তাহির ইবনে হুসাইন আল-আহদাল থেকে, তিনি আল-হাফিজ আদ-দাইবা‘ থেকে, তিনি জয়নুদ্দিন আশ-শারজি থেকে, তিনি নাফিসুদ্দিন আল-আলাওয়ি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আবিল খাইর আশ-শিমাখি থেকে—ইত্যাদি।
আর এখন আমি মূল উদ্দেশ্য শুরু করছি, পরম দয়ালু ও প্রেমময় অধিপতি আল্লাহর ওপর ভরসা করে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে; তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
أَمَّا بَعْدُ، فَيَقُولُ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ، مُحَمَّدُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنُ الْحَافِظِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْمُبَارَكْفُورِيِّ، عَفَا اللَّهُ عَنْهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: إِنِّي قَرَأْتُ هَذَا الْكِتَابَ الْمُبَارَكَ - أْعَنِي جَامِعَ التِّرْمِذِيِّ - مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ، عَلَى شَيْخِنَا الْعَلَّامَةَ السَّيِّدِ مُحَمَّدٍ نَذِيرٍ حُسَيْنٍ الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، أَجَازَنِي بِهِ وَقَالَ: إِنِّي حَصَّلْتُ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنِ الشَّيْخِ الْمُكَرَّمِ الْأَوْرَعِ الْبَارِعِ فِي الْآفَاقِ، مُحَمَّدٍ إِسْحَاقَ، الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ، وَهُوَ حَصَّلَ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنِ الشَّيْخِ الْأَجَلِّ مُسْنِدِ الْوَقْتِ الشَّاهِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ، وَهُوَ حَصَّلَ الْقِرَاءَةَ وَالسَّمَاعَةَ وَالْإِجَازَةَ عَنْ أَبِيهِ الشَّيْخِ الْقَرْمِ الْمُعَظَّمِ بَقِيَّةِ السَّلَفِ حُجَّةِ الْخَلَفِ الشَّاهِ وَلِيِّ اللَّهِ بْنِ الشَّاهِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْمُحَدِّثِ الدَّهْلَوِيِّ، وَقَالَ الشَّاهُ وَلِيُّ اللَّهِ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الطَّاهِرِ الْمَدَنِيِّ طَرَفًا مِنْ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ وَأَجَازَ لِسَائِرِهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِزَاحِيِّ، عَنِ الشِّهَابِ أَحْمَدَ السُّبْكِيِّ عَنِ النَّجْمِ الْغَيْطِيِّ، عَنِ الزَّيْنِ زَكَرِيَّا، عَنِ الْعِزِّ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفُرَاتِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ الْمَرَاغِيِّ، عَنِ الْفَخْرِ بْنِ أَحْمَدَ الْبُخَارِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ طَبْرَزْدَ الْبَغْدَادِيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ إلخ. .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, এই অক্ষম বান্দা মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে হাফেজ আবদুর রহিম মুবারকপুরী—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ও তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন—বলছেন: আমি এই বরকতময় কিতাবটি—অর্থাৎ জামেউত তিরমিজি—এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের শাইখ আল্লামা সাইয়্যিদ মুহাম্মদ নাজির হোসেন মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ.)-এর কাছে পাঠ করেছি। তিনি আমাকে এর অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন এবং বলেছেন: আমি জগৎবিখ্যাত, পরম পরহেজগার ও বিজ্ঞ শাইখ মুহাম্মদ ইসহাক মুহাদ্দিস দেহলভির নিকট এটি পাঠ করেছি, শুনেছি এবং তাঁর থেকে ইজাজত লাভ করেছি। তিনি পাঠ করেছেন, শুনেছেন এবং ইজাজত লাভ করেছেন সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ মুসনিদ ও মহান শাইখ শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভির নিকট থেকে। তিনি পাঠ করেছেন, শুনেছেন এবং ইজাজত লাভ করেছেন তাঁর পিতা, পূর্বসূরীদের মহিমান্বিত উত্তরসূরী ও উত্তরসূরীদের জন্য দলিল স্বরূপ মহান শাইখ শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবনে শাহ আবদুর রহিম মুহাদ্দিস দেহলভির নিকট থেকে। শাহ ওয়ালিউল্লাহ বলেন: আমি আবু তাহের আল-মাদানির নিকট জামেউত তিরমিজির কিছু অংশ পাঠ করেছি এবং তিনি অবশিষ্ট অংশের জন্য আমাকে ইজাজত দিয়েছেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি মিজাহি থেকে, তিনি শিহাব আহমদ সুবকি থেকে, তিনি নাজমুদ্দিন গাইতি থেকে, তিনি জাইনুদ্দিন জাকারিয়া থেকে, তিনি ইজ্জুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফুরাত থেকে, তিনি ওমর ইবনে হাসান আল-মারাগি থেকে, তিনি ফখরুদ্দিন ইবনে আহমদ আল-বুখারি থেকে, তিনি ওমর ইবনে তাবরাজাদ আল-বাগদাদি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আবদুল মালিক ইবনে আবুল কাসিম প্রমুখ।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٩)
قَوْلُهُ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) افْتُتِحَ الْكِتَابُ بِالْبَسْمَلَةِ اقْتِدَاءً بِكِتَابِ اللَّهِ الْعَظِيمِ، وَاقْتِفَاءً بِكُتُبِ نَبِيِّهِ الْكَرِيمِ، وَعَمَلًا بِحَدِيثِهِ فِي بَدَاءَةِ كُلِّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَهُوَ مَا أَخْرَجَهُ الْحَافِظُ عَبْدُ الْقَادِرِ الرَّهَاوِيُّ فِي أَرْبَعِينِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَاقْتَصَرَ الْمُصَنِّفُ عَلَى الْبَسْمَلَةِ كَالْإِمَامِ الْبُخَارِيِّ فِي صَحِيحِهِ، وَكَأَكْثَرِ الْمُتَقَدِّمِينَ فِي تَصَانِيفِهِمْ، وَلَمْ يَأْتِ بِالْحَمْدِ وَالشَّهَادَةِ، مَعَ وُرُودِ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَقَوْلُهُ «كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا شَهَادَةٌ فَهِي كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ» وَأَخْرَجَهُمَا أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ، لَمَّا قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي فَتْحِ الْبَارِي: مِنْ أَنَّ الْحَديِثَيْنِ فِي كُلٍّ مِنْهُمَا مَقَالٌ، سَلَّمْنَا صَلَاحِيَتَهُمَا لِلْحُجَّةِ لَكِنْ لَيْسَ فِيهِمَا أَنَّ ذَلِكَ يَتَعَيَّنُ بِالنُّطْقِ وَالْكِتَابَةِ مَعًا، فَلَعَلَّهُ حَمِدَ وَتَشَهَّدَ نُطْقًا عِنْدَ وَضْعِ الْكِتَابِ، وَلَمْ يَكْتُبْ ذَلِكَ اقْتِصَارًا عَلَى الْبَسْمَلَةِ، لِأَنَّ الْقَدْرَ الَّذِي يَجْمَعُ الْأُمُورَ الثَّلَاثَةَ ذِكْرُ اللَّهِ، وَقَدْ حَصَلَ بِهَا، انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظِ. قُلْتُ: قَدْ جَاءَ فِي رِوَايَةٍ لَفْظُ " ذِكْرِ اللَّهِ " فَفِي مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ: حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُفْتَتَحُ بِذِكْرِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ أَوْ أَقْطَعُ» فَبِهَذِهِ الرِّوَايَةِ يُجْمَعُ بَيْنَ الرِّوَايَاتِ الثَّلَاثِ الْمُخْتَلِفَةِ الْمُتَقَدِّمَةِ.
قَالَ تَاجُ الدِّينِ السُّبْكِيِّ فِي أَوَّلِ طَبَقَاتِ الشَّافِعِيَّةِ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ الثَّلَاثِ الْمُخْتَلِفَةِ مَا لَفْظُهُ: وَأَمَّا الْحَمْدُ وَالْبَسْمَلَةُ فَجَائِزَانِ، يَعْنِي بِهِمَا مَا هُوَ الْأَعَمَّ مِنْهُمَا وَهُوَ ذِكْرُ اللَّهِ وَالثَّنَاءُ عَلَيْهِ عَلَى الْجُمْلَةِ، إِمَّا بِصِيغَةِ الْحَمْدِ أَوْ غَيْرِهَا، وَيَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ رِوَايَةُ ذِكْرِ اللَّهِ، وَحِينَئِذٍ فَالْحَمْدُ وَالذِّكْرُ وَالْبَسْمَلَةُ سَوَاءٌ، وَجَائِزٌ أَنْ يَعْنِي خُصُوصَ الْحَمْدِ وَخُصُوصَ الْبَسْمَلَةِ، وَحِينَئِذٍ فَرِوَايَةُ الذِّكْرِ أَعَمُّ، فَيُقَضى لَهَا عَلَى الرِّوَايَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ؛ لِأَنَّ الْمُطْلَقَ إِذَا قُيِّدَ بِقَيْدَيْنِ مُتَنَافِيَيْنِ لَمْ يُحْمَلْ عَلَى وَاحِدٍ مِنْهُمَا، وَيُرْجَعُ إِلَى أَصْلِ الْإِطْلَاقِ، وَإِنَّمَا قُلْنَا إِنَّ خُصُوصَ الْحَمْدِ وَالبَسْمَلَةِ مُتَنَافِيَانِ، لِأَنَّ الْبَدَاءَةَ إِنَّمَا تَكُونُ بِوَاحِدٍ، وَلَوْ وَقَعَ الِابْتِدَاءُ بِالْحَمْدِ لَمَا وَقَعَ بِالْبَسْمَلَةِ وَعَكْسُهُ، وَيَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ الذِّكْرَ، فَتَكُونُ رِوَايَتُهُ هِيَ الْمُعْتَبَرَةُ (و) أَنَّ غَالِبَ الْأَعْمَالِ الشَّرْعِيَّةِ غَيْرُ مُفْتَتَحَةٌ بِالْحَمْدِ كَالصَّلَاةِ فَإِنَّهَا مُفْتَتَحَةٌ بِالتَّكْبِيرِ وَالْحَجِّ وَغَيْرِ ذَلِكَ، فَإِنْ قُلْتَ: لَكِنَّ رِوَايَةَ بِحَمْدِ اللَّهِ أَثْبَتُ مِنْ رِوَايَةِ بِذِكْرِ اللَّهِ، قُلْتُ: صَحِيحٌ وَلَكِنْ لِمَ قُلْتَ إِنَّ الْمَقْصُودَ بِحَمْدِ اللَّهِ خُصُوصُ لَفْظِ الْحَمْدِ، وَلِمَ لَا يَكُونُ الْمُرَادُ مَا هُوَ أَعَمَّ مِنْ لَفْظِ الْحَمْدِ وَالْبَسْمَلَةِ، وَيَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ مَا ذَكَرْتُ لَكَ مِنَ الْأَعْمَالِ الشَّرْعِيَّةِ الَّتِي لَمْ يُشَرِّعِ الشَّارِعُ افْتِتَاحَهَا بِالْحَمْدِ بِخُصُوصِهِ. انْتَهَى كَلَامُ التَّاجِ السُّبْكِيِّ. ثُمَّ قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي تَأْيِيدِ كَلَامِهِ الْمَذْكُورِ: وَيُؤَيِّدُهُ أَنَّ أَوَّلَ شَيْءٍ نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1] فَطَرِيقُ التَّأَسِّي بِهِ
তাঁর উক্তি (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম) - মহান আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ, তাঁর সম্মানিত নবীর পত্রাবলির অনুকরণ এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দ্বারা শুরু করার ব্যাপারে তাঁর হাদীসের ওপর আমল করার লক্ষ্যে কিতাবটি বাসমালাহ দ্বারা শুরু করা হয়েছে। এই হাদীসটি হাফিয আব্দুল কাদির আর-রাহাবী তাঁর ‘আরবাঈন’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, “প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা শুরু হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।” লেখক এখানে ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং অধিকাংশ পূর্ববর্তী আলেমগণ তাঁদের রচনাবলীতে যা করেছেন, তার অনুকরণে কেবল বাসমালাহ’র ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি হামদ ও শাহাদাহ উল্লেখ করেননি, যদিও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস রয়েছে যে, “প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু হয় না, তা বরকতহীন।” এবং তাঁর বাণী: “যে খুতবায় শাহাদাহ নেই, তা কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হাতের ন্যায়।” আবু দাউদ ও অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেছেন: যদিও এই দুটি হাদীসের প্রত্যেকটির সূত্রেই কিছু বক্তব্য রয়েছে, তথাপি আমরা যদি সেগুলোকে দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্যও ধরে নিই, তবুও তাতে এমনটি নেই যে তা উচ্চারণ ও লিখন উভয় মাধ্যমেই নির্দিষ্ট হতে হবে। সম্ভবত তিনি কিতাব রচনার সময় মৌখিকভাবে হামদ ও শাহাদাহ পাঠ করেছেন, কিন্তু কেবল বাসমালাহ’র ওপর সীমাবদ্ধ থাকার কারণে তা লিপিবদ্ধ করেননি। কেননা আল্লাহকে স্মরণ করাই হলো সেই সাধারণ বিষয় যা এই তিনটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা বাসমালাহ দ্বারা অর্জিত হয়েছে। হাফিযের বক্তব্য এখানেই শেষ। আমি বলি: একটি বর্ণনায় ‘আল্লাহর স্মরণ’ শব্দটিও এসেছে। যেমন মুসনাদে ইমাম আহমাদে বর্ণিত হয়েছে: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি কুররা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর স্মরণ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ বা বরকতহীন।” এই বর্ণনার মাধ্যমে পূর্বে উল্লিখিত তিনটি ভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব।
তাজউদ্দীন আস-সুবকী ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’র শুরুতে এই তিনটি ভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় প্রসঙ্গে বলেছেন: হামদ এবং বাসমালাহ উভয়ই জায়েজ, অর্থাৎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন এক সাধারণ বিষয় যা আল্লাহর স্মরণ ও সামগ্রিকভাবে তাঁর প্রশংসা বুঝায়, তা হামদ বা অন্য কোনো শব্দেই হোক না কেন। ‘আল্লাহর স্মরণ’ সম্পর্কিত বর্ণনাটি একথাই প্রমাণ করে। এমতাবস্থায় হামদ, যিকর এবং বাসমালাহ সবই সমান। আবার এটিও সম্ভব যে, এর দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে হামদ অথবা সুনির্দিষ্টভাবে বাসমালাহ উদ্দেশ্য। সেক্ষেত্রে যিকর সম্পর্কিত বর্ণনাটি অধিক ব্যাপক হবে এবং অন্য দুটি বর্ণনার ওপর সেটিরই প্রাধান্য থাকবে। কারণ কোনো সাধারণ বিষয়কে যখন দুটি পরস্পরবিরোধী শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন কোনো একটির ওপর তাকে ন্যস্ত না করে মূল ব্যাপকতার দিকেই ফিরে যাওয়া হয়। আমরা যে বললাম সুনির্দিষ্ট হামদ ও বাসমালাহ পরস্পরবিরোধী, তার কারণ হলো শুরু তো যেকোনো একটির মাধ্যমেই হবে; যদি হামদ দ্বারা শুরু করা হয় তবে বাসমালাহ দ্বারা শুরু হলো না এবং এর বিপরীতটাও তেমনি। এটিও প্রমাণ করে যে উদ্দেশ্য হলো মূলত ‘আল্লাহর স্মরণ’, তাই এই শব্দযুক্ত বর্ণনাটিই নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া অধিকাংশ শরয়ী আমলই হামদ দ্বারা শুরু হয় না, যেমন সালাত তাকবীর দ্বারা শুরু হয় এবং হজ ও অন্যান্য আমলও তেমনি। আপনি যদি বলেন: কিন্তু ‘আল্লাহর প্রশংসা’ সম্বলিত বর্ণনাটি ‘আল্লাহর স্মরণ’ সম্বলিত বর্ণনার চেয়ে অধিক শক্তিশালী, তবে আমি বলব: এটি সত্য। তবে আপনি কেন বলছেন যে আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে ‘হামদ’ শব্দই উদ্দেশ্য? কেন এমনটি হওয়া সম্ভব নয় যে, এর দ্বারা হামদ ও বাসমালাহ’র চেয়েও ব্যাপক কোনো বিষয় উদ্দেশ্য? যার প্রমাণ হলো সেই সব শরয়ী আমল যা আমি আপনাকে উল্লেখ করেছি, যেগুলোতে শরীয়ত প্রণেতা সুনির্দিষ্টভাবে হামদ দ্বারা শুরু করার বিধান দেননি। তাজ আস-সুবকীর বক্তব্য এখানেই শেষ। এরপর হাফিয ইবনে হাজার তাঁর উক্ত বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন: এর সমর্থনে যুক্তি এই যে, কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো {তোমার প্রতিপালকের নামে পাঠ করো} [সূরা আলাক: ১]। সুতরাং তাঁর অনুসরণের পদ্ধতি হলো...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الِافْتِتَاحُ بِالْبَسْمَلَةِ، وَيُؤَيِّدُهُ أَيْضًا وُقُوعُ كُتُبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُلُوكِ وَكُتُبِهِ فِي الْقَضَايَا مُفْتَتَحَةً بِالتَّسْمِيَةِ دُونَ حَمْدَلَةٍ وَغَيْرِهَا، كَمَا فِي حَدِيثِ أَبِي سُفْيَانٍ فِي قِصَّةِ هِرَقْلٍ، وَحَدِيثِ الْبَرَاءِ فِي قِصَّةِ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو فِي صُلْحِ الْحُدَيْبِيَةِ وَغَيْرِذَلِكَ مِنَ الْأَحَادِيثِ. انْتَهَى.
تَنْبِيهٌ: قَالَ الشَّيْخُ بَدْرُ الدِّينِ الْعَيْنِيِّ فِي عُمْدَةِ الْقَارِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ: اعْتَذَرُوا عَنِ الْبُخَارِيِّ - أَيْ عَنِ اقْتِصَارِهِ عَلَى الْبَسْمَلَةِ - بِأَعْذَارٍ هِيَ بِمَعْزِلٍ عَنِ الْقَبُولِ، ثُمَّ ذَكَرَ الْعَيْنِيُّ سَبْعَةَ أَعْذَارٍ، وَاعْتَرَضَ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا ثُمَّ قَالَ: وَالْأَحْسَنُ فِيهِ مَا سَمِعْتُهُ مِنْ بَعْضِ أَسَاتِذَتِي الْكِبَارِ أَنَّهُ ذَكَرَ الْحَمْدَ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ كَمَا هُوَ دَأَبُ الْمُصَنِّفِينَ فِي مُسَوَّدَتِهِ، كَمَا ذَكَرَهُ فِي بَقِيَّةِ مُصَنَّفَاتِهِ، وَإِنَّمَا سَقَطَ ذَلِكَ مِنْ بَعْضِ الْمُبَيِّضِينَ فَاسْتَمَرَّ عَلَى ذَلِكَ. انْتَهَى كَلَامُ الْعَيْنِيِّ، قُلْتُ: هَذَا الِاعْتِذَارُ أَيْضًا بِمَعْزِلٍ عَنِ الْقَبُولِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بِحَسَنٍ فَضْلًا عَنْ أَنْ يَكُونَ أَحْسَنَ، بَلْ هُوَ أَبْعَدُ الْأَعْذَارِ كُلِّهَا، فَإِنَّ قَوْلَهُ: إِنَّهُ ذَكَرَ الْحَمْدَ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ فِي مُسَوَّدَتِهِ إلخ ادِّعَاءٌ مَحْضٌ لَا دَلِيلَ عَلَيْهِ، وَأَمَّا قَوْلُهُ: كَمَا هُوَ دَأَبُ الْمُصَنِّفِينَ، فَيَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَرَ تَصَانِيفَ الْأَئِمَّةِ مِنْ شُيُوخِ الْبُخَارِيِّ وَشُيُوخِ شُيُوخِهِ، وَأَهْلِ عَصْرِهِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ دَأَبُهُمْ فِي ابْتِدَاءِ تَصَانِيفِهِمْ ذِكْرُ الْحَمْدِ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ، بَلْ كَانَ دَأَبُهُمْ الِاقْتِصَارُ عَلَى التَّسْمِيَةِ، كَمَا صَرَّحَ بِهِ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ، وَأَمَّا قَوْلُهُ: كَمَا ذَكَرَهُ فِي بَقِيَّةِ مُصَنَّفَاتِهِ، فَيَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَرَ بَقِيَّةَ مُصَنَّفَاتِ الْبُخَارِيِّ أَيْضًا، فَإِنَّ مِنْ مُصَنَّفَاتِهِ الْأَدَبُ الْمُفْرَدُ وَكِتَابُ خَلْقِ أَفْعَالِ الْعِبَادِ وَالرَّدُ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ وَكِتَابُ الضُّعَفَاءِ وَالتَّارِيخُ الصَّغِيرِ وَجُزْءُ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ وَجُزْءُ رَفْعِ الْيَدَيْنِ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِي ابْتِدَاءِ وَاحِدٍ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ الْحَمْدَ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ، بَلِ اقْتَصَرَ فِي كُلٍّ مِنْهَا عَلَى التَّسْمِيَةِ، قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ: وَأَبْعَدُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ قَوْلُ مَنِ ادَّعَى أَنَّهُ ابْتِدَاءُ الْخُطْبَةُ فِيهَا حَمْدٌ وَشَهَادَةٌ فَحَذَفَهَا بَعْضُ مَنْ حَمَلَ عَنْهُ الْكِتَابَ، وَكَأَنَّ قَائِلَ هَذَا مَا رَأَى تَصَانِيفَ الْأَئِمَّةِ مِنْ شُيُوخِ الْبُخَارِيِّ وَشُيُوخِ شُيُوخِهِ وَأَهْلِ عَصْرِهِ، كَمَالِكٍ فِي الْمُوَطَّأِ وَعَبْدِ الرَّزَّاقِ فِي الْمُصَنَّفِ وَأَحْمَدَ فِي الْمُسْنَدِ وَأَبِي دَاوُدَ فِي السُّنَنِ إِلَى مَا لَا يُحْصَى مِمَّنْ لَمْ يُقَدِّمْ فِي ابْتِدَاءِ تَصْنِيفِهِ خُطْبَةً وَلَمْ يَزِدْ عَلَى التَّسْمِيَةِ وَهُمُ الْأَكْثَرُ، وَالْقَلِيلُ مِنْهُمْ مَنِ افْتَتَحَ كِتَابَهُ بِخُطْبَةٍ، أَفَيُقَالُ فِي كُلِّ هَؤُلَاءِ: إِنَّ الرُّوَاةَ عَنْهُ حَذَفُوا ذَلِكَ؟ كَلَّا بَلْ يُحْمَلُ ذَلِكَ مِنْ صَنِيعِهِمْ عَلَى أَنَّهُمْ حَمَدُوا لَفْظًا، وَيُؤَيِّدُهُ مَا رَوَاهُ الْخَطِيبُ فِي الْجَامِعِ عَنْ أَحْمَدَ: أَنَّهُ كَانَ يَتَلَفَّظُ بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَتَبَ الْحَدِيثَ، وَلَا يَكْتُبُهَا، وَالْحَامِلُ لَهُ عَلَى ذَلِكَ إِسْرَاعٌ أَوْ غَيْرُهُ، أَوْ يُحْمَلُ عَلَى أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَلِكَ مُخْتَصًّا بِالْخُطَبِ دُونَ الْكُتُبِ، وَلِهَذَا مَنِ افْتَتَحَ كِتَابَهُ مِنْهُمْ بِخُطْبَةٍ حَمِدَ وَتَشَهَّدَ كَمَا صَنَعَ مُسْلِمٌ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ. انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظِ.
تَنْبِيهٌ آخَرٌ: قَدِ اخْتَلَفُوا فِي حَدِيثِ الْحَمْدِ الْمَذْكُورِ، فَبَعْضُهُمْ ضَعَّفُوهُ كَالْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ، وَبَعْضُهُمْ حَسَّنُوهُ كَالْحَافِظِ ابْنِ الصَّلَاحِ، وَبَعْضُهُمْ صَحَّحُوهُ كَابْنِ حِبَّانَ. قَالَ الْعَيْنِيُّ فِي عُمْدَةِ
বিসমিল্লাহর মাধ্যমে প্রারম্ভকরণ; এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাজন্যবর্গের নিকট প্রেরিত পত্রাবলি এবং বিচারিক বিষয়ে তাঁর লিখিত নথিপত্রসমূহ দ্বারাও সমর্থিত, যা হামদ (আলহামদুলিল্লাহ) বা অন্য কিছু ছাড়াই কেবল তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) দ্বারা শুরু করা হয়েছিল। যেমন হিরাক্লিয়াসের ঘটনায় আবু সুফিয়ানের বর্ণিত হাদিস এবং হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে সুহাইল ইবনে আমরের ঘটনায় বারা (রা.) বর্ণিত হাদিসসহ অন্যান্য হাদিসে এমনটি দেখা যায়। (সমাপ্ত)।
সতর্কীকরণ: শাইখ বদরুদ্দীন আইনি ‘উমদাতুল কারী শারহে বুখারী’ গ্রন্থে বলেন: ইমাম বুখারীর পক্ষ থেকে—অর্থাৎ কেবল বিসমিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকার ব্যাপারে—অনেকে এমন কিছু ওজর বা কৈফিয়ত পেশ করেছেন যা গ্রহণযোগ্যতা থেকে বহু দূরে। অতঃপর আইনি সাতটি ওজর উল্লেখ করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকটির ওপর আপত্তি জানিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন: “এই বিষয়ে সর্বাপেক্ষা উত্তম কথা হলো যা আমি আমার জনৈক মহান উস্তাদের নিকট শুনেছি যে, তিনি (ইমাম বুখারী) তাঁর পাণ্ডুলিপির খসড়ায় তাসমিয়াহর পর হামদও উল্লেখ করেছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর অন্যান্য কিতাবে করেছেন। কিন্তু অনুলিপিকারীদের কারো মাধ্যমে তা বাদ পড়ে গেছে এবং এভাবেই তা প্রচলিত হয়ে গেছে।” আল-াইনির বক্তব্য সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই ওজরটিও গ্রহণযোগ্যতা থেকে বহু দূরে। এটি তো মোটেও ‘উত্তম’ নয়, বরং সকল ওজরের মধ্যে এটিই বাস্তবতা থেকে সবচেয়ে দূরে। কেননা তাঁর এই দাবি যে, ইমাম বুখারী তাঁর খসড়া পাণ্ডুলিপিতে তাসমিয়াহর পর হামদ উল্লেখ করেছিলেন—এটি নিছক একটি দাবি যার কোনো প্রমাণ নেই। আর তাঁর এই বক্তব্য—‘যেমনটি গ্রন্থকারদের রীতি’—তা প্রমাণ করে যে, তিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদবৃন্দ, তাঁদের উস্তাদবৃন্দ, তাঁর সমসাময়িক এবং পূর্বসূরি ইমামদের কিতাবসমূহ দেখেননি। কেননা গ্রন্থ রচনার শুরুতে তাসমিয়াহর পর হামদ উল্লেখ করা তাঁদের রীতি ছিল না, বরং তাঁদের রীতি ছিল কেবল তাসমিয়াহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, যা হাফেজ ইবনে হাজার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর তাঁর এই বক্তব্য—‘যেমনটি তিনি তাঁর অন্যান্য কিতাবে করেছেন’—তাও প্রমাণ করে যে, তিনি ইমাম বুখারীর অন্যান্য কিতাবও দেখেননি। কারণ তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’, ‘খালকু আফআলিল ইবাদ ও আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’, ‘কিতাবুদ দুয়াফা’, ‘আত-তারিখুস সাগির’, ‘জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম’ এবং ‘জুযউ রাফয়িল ইয়াদাইন’—এর কোনোটির শুরুতেই তিনি তাসমিয়াহর পর হামদ উল্লেখ করেননি, বরং প্রত্যেকটিতেই কেবল তাসমিয়াহর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘ফাতহুল বারী’তে বলেন: এই সবগুলোর চেয়েও অসার হলো সেই ব্যক্তির দাবি, যে মনে করে যে কিতাবটির শুরুতে একটি প্রারম্ভিক খুতবা ছিল যাতে হামদ ও শাহাদাত ছিল এবং কিতাবটি যারা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের কেউ তা বাদ দিয়েছেন। সম্ভবত এই দাবিদার ব্যক্তি ইমাম বুখারীর উস্তাদবৃন্দ, তাঁদের উস্তাদবৃন্দ এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামদের কিতাবসমূহ দেখেননি। যেমন মালেকের ‘মুওয়াত্তা’, আব্দুর রাজ্জাকের ‘মুসান্নাফ’, আহমদের ‘মুসনাদ’, আবু দাউদের ‘সুনান’ এবং এমন অসংখ্য ইমাম রয়েছেন যারা তাদের কিতাবের শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা আনেননি এবং তাসমিয়াহর অতিরিক্ত কিছু বাড়াননি। সংখ্যায় এরাই বেশি। আর তাঁদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই খুতবা বা ভূমিকা দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন। এমতাবস্থায় কি সবার ব্যাপারেই বলা যাবে যে বর্ণনাকারীরা তা বাদ দিয়েছেন? কখনোই নয়! বরং তাঁদের এই কর্মকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হবে যে, তাঁরা মৌখিকভাবে হামদ পাঠ করেছিলেন। খতীব বাগদাদী ‘আল-জামি’ গ্রন্থে ইমাম আহমদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে যে, তিনি যখন হাদিস লিখতেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ মুখে পাঠ করতেন কিন্তু তা লিখতেন না। দ্রুত লেখার কারণে বা অন্য কোনো কারণে তিনি এমনটা করতেন। অথবা একে এভাবেও ব্যাখ্যা করা যায় যে, তাঁরা হামদ ও খুতবাকে কেবল ভাষণের জন্য নির্দিষ্ট মনে করতেন, কিতাব রচনার জন্য নয়। এই কারণেই তাঁদের মধ্যে যারা খুতবা দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন, তাঁরা হামদ ও তাশাহহুদ উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম করেছেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। হাফেজের বক্তব্য সমাপ্ত।
অন্য একটি সতর্কীকরণ: হামদ সংক্রান্ত উল্লেখিত হাদিসটির ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ একে দুর্বল বলেছেন, যেমন হাফেজ ইবনে হাজার; কেউ একে হাসান বলেছেন, যেমন হাফেজ ইবনে সালাহ; আবার কেউ একে সহীহ বলেছেন, যেমন ইবনে হিব্বান। আইনি ‘উমদাহ’ গ্রন্থে বলেছেন...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١١)
الْقَارِي: الْحَدِيثُ صَحِيحٌ صَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَأَبُو عَوَانَةَ، وَقَدْ تَابَعَ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قُرَّةَ كَمَا أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ. انْتَهَى. قُلْتُ: قَدْ وَقَعَ فِي إِسْنَادِهِ وَمَتْنِهِ اخْتِلَافٌ كَثِيرٌ، وَقَدِ اسْتَوْعَبَ طُرُقَهُ وَأَلْفَاظَهُ تَاجُ الدِّينِ السُّبْكِيُّ فِي أَوَّلِ كِتَابِ طَبَقَاتِ الشَّافِعِيَّةِ الْكُبْرَى، وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِي بَيَانِ مَا وَقَعَ إِسْنَادُهُ وَمَتْنُهُ مِنْ الِاخْتِلَافِ، ثُمَّ فِي دَفْعِهِ، وَقَاَلَ فِي آخِرِ كَلَامِهِ مَا لَفْظُهُ: هَذَا مُنْتَهَى الْكَلَامُ عَلَى الْحَدِيثِ، وَلَا رَيْبَ فِي أَنَّهُ بَعْدَ ثُبُوتِ صِحَّتِهِ وَرَفْعِهِ مُسْنَدًا غَيْرُ بَالِغٍ مَبْلَغَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَّفَقِ عَلَى أَنَّهَا مُسْنَدَةٌ، وَلَكِنَّ الصَّحِيحَ مَرَاتِبُ. انْتَهَى كَلَامُ السُّبْكِيُّ، وَقَالَ فِي أَثْنَاءِ كَلَامِهِ: وَقَدْ قَضَى ابْنُ الصَّلَاحِ بَأَنَّ الْحَدِيثَ حَسَنٌ دُونَ الصَّحِيحِ وَفَوْقَ الضَّعِيفِ مُحَتَجًّا بِأَنَّ رِجَالَهُ رِجَالُ الصَّحِيحَيْنِ سِوَى قُرَّةَ، قَالَ: فَإِنَّهُ مِمَّنِ انْفَرَدَ مُسْلِمٌ عَنِ الْبُخَارِيِّ بِالتَّخْرِيجِ لَهُ. انْتَهَى.
فَائِدَةٌ: قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ: اخْتَلَفَ الْقُدَمَاءُ فِيمَا إِذَا كَانَ الْكِتَابُ كُلُّهُ شِعْرًا، فَجَاءَ عَنِ الشَّعْبِيِّ مَنْعُ ذَلِكَ - يَعْنِي كِتَابَةَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِهِ - وَعَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: مَضَتِ السُّنَّةُ أَنْ لَا يُكْتَبَ فِي الشِّعْرِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ جَوَازُ ذَلِكَ، وَتَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجُمْهُورُ، وَقَالَ الْخَطِيبُ: هُوَ الْمُخْتَارُ. انْتَهَى. وَقَالَ الْقَارِيُّ فِي الْمِرْقَاةِ: وَالْأَحْسَنُ التَّفْصِيلُ، بَلْ هُوَ الصَّحِيحُ، فَإِنَّ الشِّعْرَ حَسَنُهُ حَسَنٌ وَقَبِيحُهُ قَبِيحٌ، فَيُصَانُ إِيْرَادُ الْبَسْمَلَةِ فِي الْهَجَوِيَّاتِ وَمَدَائِحِ الظَّلَمَةِ وَنَحْوِهَا. انْتَهَى.
قَوْلُهُ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ (أَبُو الْفَتْحِ) قَائِلُهُ عُمَرُ بْنُ طَبْرَزْدَ الْبَغْدَادِيُّ تِلْمِيذُ أَبِي الْفَتْحِ عَبْدِ الْمَلِكِ. (عَبْدِ اللَّةِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ) بِالْجَرِّ هُوَ اسْمُ أَبِي الْقَاسِمِ (الْهَرَوِيِّ) بِالْهَاءِ وَالرَّاءِ الْمُهْمَلَةِ الْمَفْتُوحَتَيْنِ نِسْبَةً إِلَى الْهَرَاةِ مَدِينَةٍ مَشْهُورَةٍ بِخُرَاسَانَ كَذَا فِي الْمُغْنِي لِلْعَلَّامَةِ مُحَمَّد طَاهِر صَاحِبِ مَجْمَعِ الْبِحَارِ.
(الْكُرُوخِيِّ) بِفَتْحِ الْكَافِ وَضَمِّ الرَّاءِ الْخَفِيفَةِ وَبِالْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ مَنْسُوبٌ إِلَى كَرُوخٍ مِنْ بِلَادِ خُرَاسَانَ، وَالْمُرَادُ بِهِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ رَاوِي التِّرْمِذِيِّ، كَذَا فِي الْمُغْنِي، وَقَالَ فِي الْقَامُوسِ: كَرُوخٍ كَصَبُورٍ قَرْيَةٌ بِهَرَاةَ. انْتَهَى.
فَائِدَةٌ: قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ الصَّلَاحِ فِي مُقَدِّمَتِهِ: قَدْ كَانَتِ الْعَرَبُ إِنَّمَا تَنْسِبُ إِلَى قَبَائِلِهَا، فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ وَغَلَبَ عَلَيْهِمْ مَسْكَنُ الْقُرَى وَالْمَدَائِنِ حَدَثَ فِيمَا بَيْنَهُمْ الِانْتِسَابُ إِلَى الْأَوْطَانِ وَأَضَاعَ كَثِيرٌ مِنْهُمْ أَنْسَابَهُمْ، فَلَمْ يَبْقَ لَهُمْ غَيْرُ الِانْتِسَابِ إِلَى الْأَوْطَانِ، قَالَ: وَمَنْ كَانَ مِنَ النَّاقِلَةِ مِنْ بَلَدٍ إِلَى بَلَدٍ وَأَرَادَ الْجَمْعَ بَيْنَهُمَا بِالِانْتِسَابِ فَلْيَبْدَأْ بِالْأَوَّلِ ثُمَّ بِالثَّانِي الْمُنَتْقَلِ إِلَيْهِ. وَحَسَنٌ أَنْ يَدْخُلَ عَلَى الثَّانِي كَلِمَةَ " ثُمَّ "، فَيُقَالُ فِي النَّاقِلَةِ مِنْ مِصْرَ إِلَى دِمَشْقَ مَثَلًا " فُلَانٌ الْمِصْرِيُّ ثُمَّ الدِّمَشْقِيُّ " وَمَنْ كَانَ مِنْ
আল-ক্বারী বলেন: হাদীসটি সহীহ। ইবনে হিব্বান ও আবু আওয়ানাহ একে সহীহ বলেছেন। সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয (বর্ণনার ক্ষেত্রে) কুররাহ-র অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইমাম নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই হাদীসের সনদ ও মূল পাঠে (মাতন) প্রচুর মতভেদ রয়েছে। তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাতিল কুবরা' গ্রন্থের শুরুতে এর সকল সূত্র ও শব্দাবলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর সনদ ও মাতনে বিদ্যমান বৈচিত্র্য এবং সেগুলোর নিরসনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আলোচনার শেষে তিনি যা বলেছেন তার মর্ম হলো: "হাদীসটি নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি এখানেই। হাদীসটি সাব্যস্ত হওয়ার পর এবং এটি মুসনাদ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পর এর বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও এটি ঐসব হাদীসের স্তরে পৌঁছে না যেগুলোর মুসনাদ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। তবে সহীহ হাদীসেরও বিভিন্ন স্তর রয়েছে।" আস-সুবকীর বক্তব্য শেষ হলো। তিনি আলোচনার মাঝে আরও বলেছেন: "ইবনে আস-সালাহ ফয়সালা করেছেন যে হাদীসটি হাসান; এটি সহীহর চেয়ে সামান্য নিচে এবং যয়ীফের উপরে। তাঁর যুক্তি হলো, কুররাহ ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী। কুররাহ সম্পর্কে তিনি বলেন: তিনি ঐসব বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের হাদীস গ্রহণে ইমাম মুসলিম এককভাবে ইমাম বুখারী থেকে পৃথক ছিলেন (অর্থাৎ বুখারী তাঁর হাদীস গ্রহণ করেননি)।" সমাপ্ত।
একটি তাত্ত্বিক আলোচনা: হাফেয (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'তে বলেন: প্রাচীন উলামায়ে কেরাম সেই কিতাব সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যা পুরোটাই কবিতা। ইমাম শাবী থেকে এর শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম' লেখা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী বলেন: সুন্নাত হলো কবিতায় বিসমিল্লাহ না লেখা। অন্যদিকে সাঈদ ইবনে জুবায়ের এটি বৈধ হওয়ার কথা বলেছেন এবং জমহুর (অধিকাংশ) আলেম তাঁর অনুসরণ করেছেন। ইমাম খতীব বাগদাদী বলেন: এটিই পছন্দনীয় মত। সমাপ্ত। আল-ক্বারী 'মিরকাত' গ্রন্থে বলেন: বিস্তারিত বিশ্লেষণ করাই অধিক উত্তম, বরং এটিই সঠিক। কারণ, কবিতার ভালো অংশ ভালো এবং মন্দ অংশ মন্দ। সুতরাং নিন্দামূলক কবিতা, জালিমদের প্রশংসা এবং এই জাতীয় রচনার শুরুতে বিসমিল্লাহর ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। সমাপ্ত।
তাঁর বক্তব্য: 'আমাদেরকে শাইখ (আবু আল-ফাতহ) সংবাদ দিয়েছেন'—এর বক্তা হলেন উমর ইবনে তাবারযাদ আল-বাগদাদী, যিনি আবু আল-ফাতহ আব্দুল মালিকের ছাত্র। 'আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সাহল' এটি যেরসহ আবু আল-কাসিমের নাম। 'আল-হারাভী' শব্দটি 'হা' এবং 'রা' বর্ণদ্বয়ে যবরসহ; এটি খোরাসানের প্রসিদ্ধ শহর 'হিরাত'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। 'মাজমাউল বিহার'-এর লেখক আল্লামা মুহাম্মদ তাহিরের 'মুগনী' গ্রন্থে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে।
'আল-কুরুখী' শব্দটি কাফ বর্ণে যবর এবং রা বর্ণে পেশসহ যা হালকাভাবে উচ্চারিত হবে এবং শেষে খা বর্ণ রয়েছে; এটি খোরাসানের 'কুরুখ' নামক এলাকার সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য তিরমিযী শরীফের বর্ণনাকারী আব্দুল মালিক ইবনে আবিল কাসিম; যেমনটি 'মুগনী' গ্রন্থে এসেছে। 'কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কুরুখ শব্দটি 'সাবূর'-এর ওজনে, এটি হিরাতের একটি গ্রাম। সমাপ্ত।
একটি তাত্ত্বিক আলোচনা: হাফেয ইবনে আস-সালাহ তাঁর 'মুকাদ্দিমাহ' গ্রন্থে বলেন: আরবরা সাধারণত তাদের গোত্রের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ (নিসবত) করত। যখন ইসলামের আগমন ঘটল এবং গ্রাম ও শহরে বসবাস প্রাধান্য পেল, তখন তাদের মধ্যে আবাসস্থলের দিকে সম্বন্ধ করার রীতি চালু হলো এবং তাদের অনেকে বংশ পরিচয় হারিয়ে ফেলল। ফলে তাদের জন্য আবাসস্থলের সাথে সম্বন্ধ করা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট রইল না। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং উভয় স্থানের সম্বন্ধ যুক্ত করতে চায়, সে যেন প্রথমে পূর্বের শহর এবং পরে স্থানান্তরিত শহরের নাম উল্লেখ করে। দ্বিতীয়টির শুরুতে 'সুম্মা' (অতঃপর) শব্দ যুক্ত করা উত্তম। যেমন মিসর থেকে দামেস্কে স্থানান্তরিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হবে 'অমুক আল-মিসরী সুম্মা আদ-দিমাশকী'। আর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أَهْلِ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى بَلْدَةٍ فَجَائِزٌ أَنْ يَنْسِبَ إِلَى الْقَرْيَةِ أَوْ إِلَى الْبَلْدَةِ أَيْضًا وَإِلَى النَّاحِيَةِ الَّتِي تِلْكَ الْبَلْدَةُ مِنْهَا أَيْضًا. انْتَهَى.
(وَأَنَا أَسْمَعُ) جُمْلَةً حَالِيَّةً، أَيْ قَالَ عُمَرُ بْنُ طَبْرَزْدَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ، وَالْحَالُ أَنِّي كُنْتُ سَامِعًا.
(قَالَ أَنَا الْقَاضِي) أَيْ قَالَ الْكَرُوخِيُّ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي، فَقَوْلُهُ " أَنَا " رَمْزُ إِلَى أَخْبَرَنَا، قَالَ النَّوَوِيُّ فِي مُقَدِّمَةِ شَرْحِ مُسْلِمٍ: جَرَتِ الْعَادَةُ بِالِاقْتِصَارِ عَلَى الرَّمْزِ فِي حَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا، وَاسْتَمَرَّ الِاصْطِلَاحُ عَلَيْهِ مِنْ قَدِيمِ الْأَعْصَارِ إِلَى زَمَانِنَا وَاشْتُهِرَ ذَلِكَ بِحَيْثُ لَا يَخْفَى، فَيَكْتُبُونَ مِنْ حَدَّثَنَا " ثَنَا " وَهِيَ الثَّاءُ وَالنُّونُ وَالْأَلِفُ، وَرُبَّمَا حُذِفَ الثَّاءُ، وَيَكْتُبُونَ مِنْ أَخْبَرَنَا " أَنَا " وَلَا تَحْسُنُ زِيَادَةُ الْبَاءِ قَبْلَ نَا. انْتَهَى.
فَائِدَةٌ: قَالَ النَّوَوِيُّ: كَانَ مِنْ مَذْهَبِ مُسْلِمٍ رحمه الله الْفَرْقُ بَيْنَ حَدَّثَنَا وَأْخَبَرَنَا: أَنَّ حَدَّثَنَا لَا يَجُوزُ إِطْلَاقُهُ إِلَّا لِمَا سَمِعَهُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ خَاصَّةً، وَأَخْبَرَنَا لِمَا قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ، وَهَذَا الْفَرْقُ هُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِيُّ وَأَصْحَابُهُ، وَجُمْهُورُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْمَشْرِقِ. قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْجَوْهَرِيُّ الْمِصْرِيُّ: وَهُوَ مَذْهَبُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْحَدِيثِ الَّذِينَ لَا يُحْصِيهُمْ أَحَدٌ، وَرُوِيَ هَذَا الْمَذْهَبَ أَيْضًا عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَالْأَوْزَاعِيِّ وَابْنِ وَهْبٍ، وَقَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ النُّخْبَةِ: وَتَخْصِيصُ التَّحْدِيثُ بِمَا سَمِعَ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ هُوَ الشَّائِعُ بَيْنَ أَهْلِ الْحَدِيثِ اصْطِلَاحًا. انْتَهَى. قُلْتُ: وَكَذَا الْإِخْبَارُ مَخْصُوصٌ بِالْقِرَاءَةِ عَلَى الشَّيْخِ قَالَ الْحَافِظُ: وَلَا فَرْقَ بَيْنَ التَّحْدِيثِ وَالْإِخْبَارِ مِنْ حَيْثُ اللُّغَةِ، وَفِي ادِّعَاءِ الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا تَكَلُّفٌ شَدِيدٌ، لَكِنْ لَمَّا تَقَرَّرَ فِي الِاصْطِلَاحِ صَارَ ذَلِكَ حَقِيقَةً عُرْفِيَّةً، فَتَقَدَّمَ عَلَى الْحَقِيقَةِ اللُّغَوِيَّةِ، مَعَ أَنَّ هَذَا الِاصْطَلَاحَ إِنَّمَا شَاعَ عِنْدَ الْمَشَارِقَةِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ، وَأَمَّا غَالِبُ الْمَغَارِبَةِ فَلَمْ يَسْتَعْمِلُوا هَذَا الِاصْطِلَاحِ، بَلِ الْإِخْبَارُ وَالتَّحْدِيثُ عِنْدَهُمْ بِمَعْنًى وَاحِدٍ. انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظِ. قُلْتُ: وَهُوَ مَذْهَبُ الْإِمَامُ الْبُخَارِيُّ، وَاعْلَمْ أَنَّ هَاهُنَا تَفْصِيلًا آخَرَ، وَهُوَ أَنَّ مَنْ سَمِعَ وَحْدَهُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ قَالَ: حَدَّثَنِي، وَمَنْ سَمِعَ مَعَ غَيْرِهِ جَمَعَ فَقَالَ: حَدَّثَنَا، وَكَذَا الْفَرْقُ بَيْنَ أَخْبَرَنِي وَبَيْنَ أَخْبَرَنَا.
(الْأَزْدِيُّ) مَنْسُوبٌ إِلَى الْأَزْدِ: بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ الْمَفْتُوحَةِ وَسُكُونِ الزَّايِ الْمُعْجَمَةِ، قَبِيلَةٌ (قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ) أَيْ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي حَالَ كَوْنِهِ يُقْرَأُ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَوْ حَالَ كَوْنِهِ قَارِئًا عَلَيْهِ غَيْرِي وَأَنَا أَسْمَعُ، فَقَوْلُهُ قِرَاءَةً مَصْدَرٌ بِمَعْنَى اسْمِ الْمَفْعُولِ أَوْ اسْمِ الْفَاعِلِ، مَنْصُوبٌ عَلَى الْحَالِيَّةِ، قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي تَدْرِيبِ الرَّاوِي: قَوْلُ الرَّاوِي أَخْبَرَنَا سَمَاعًا أَوْ قِرَاءَةً هُوَ مِنْ بَابِ قَوْلِهِمْ " أَتَيْتُهُ سَعْيًا " وَكَلَّمْتُهُ مُشَافَهَةً، وَلِلنُّحَاةِ فِيهِ مَذَاهِبٌ: أَحَدُهَا وَهُوَ رَأْيُ سِيبَوَيْهِ أَنَّهَا مَصْادِرُ وَقَعَتْ مَوْقِعَ فَاعِلَ حَالًا، كَمَا وَقَعَ الْمَصْدَرُ مَوْقِعَهُ نَعْتًا، فِي " زَيْدٌ عَدْلٌ " وَأَنَّهُ لَا يُسْتَعْمَلُ مِنْهَا إِلَّا مَا سُمِعَ وَلَا يُقَاسُ، فَعَلَى هَذَا اسْتِعْمَالُ الصِّيغَةِ الْمَذْكُورَةِ فِي الرِّوَايَةِ مَمْنُوعٌ لِعَدَمِ نُطْقِ الْعَرَبِ بِذَلِكَ، وَالثَّانِي
কোনো নগরের অন্তর্ভুক্ত কোনো গ্রামের অধিবাসী হলে তাকে সেই গ্রামের দিকে, অথবা সেই নগরের দিকে, কিংবা সেই নগরটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত তার দিকেও নিসবত করা (সম্পর্কিত করা) জায়েজ। সমাপ্ত।
"(এবং আমি শ্রবণ করছিলাম)" এটি একটি হালিয়া বা অবস্থাসূচক বাক্য। অর্থাৎ উমর ইবনে তাবরাযাদ বলেছেন: আবুল ফাতহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর এমতাবস্থায় আমি শ্রবণকারী ছিলাম।
"(তিনি বললেন, আনা আল-কাদি)" অর্থাৎ কারুখি বলেছেন: কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এখানে "আনা" শব্দটি "আখবারানা" (তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইমাম নববী শারহে মুসলিমের ভূমিকায় বলেছেন: 'হাদ্দাসানা' এবং 'আখবারানা' শব্দের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত প্রতীক ব্যবহারের রীতি প্রচলিত রয়েছে এবং প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এই পরিভাষা অব্যাহত আছে এবং এটি এমনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে তা কারও নিকট অস্পষ্ট নয়। তারা 'হাদ্দাসানা' এর স্থলে 'সানা' (ছা, নুন এবং আলিফ) লিখে থাকেন, কখনো কখনো 'ছা' অক্ষরটি বাদ দেওয়া হয়। আর 'আখবারানা' এর স্থলে তারা 'আনা' লিখে থাকেন। তবে 'না' এর পূর্বে 'বা' অক্ষর বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। সমাপ্ত।
একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য: ইমাম নববী বলেছেন: ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব বা অভিমত ছিল 'হাদ্দাসানা' এবং 'আখবারানা'-এর মধ্যে পার্থক্য করা। তাঁর মতে, 'হাদ্দাসানা' কেবল তখনই ব্যবহার করা জায়েজ যখন শাইখের মুখনিঃসৃত বাণী সরাসরি শোনা হয়। আর শাইখের সামনে যখন পাঠ করা হয়, তখন 'আখবারানা' ব্যবহার করা হয়। এই পার্থক্য নিরূপণের মতটি ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীগণ এবং প্রাচ্যের অধিকাংশ আলিমের অভিমত। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-জাওহারী আল-মিসরী বলেছেন: এটি অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণের অভিমত যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়। ইবনে জুরাইজ, আওযায়ী এবং ইবনে ওয়াহাব থেকেও এই অভিমত বর্ণিত হয়েছে। হাফিজ ইবনে হাজার 'শারহুন নুখবা'-তে বলেছেন: শাইখের মুখনিঃসৃত বাণী শোনার ক্ষেত্রে 'তাহদীস' (হাদ্দাসানা) শব্দটিকে নির্দিষ্ট করা হাদিস বিশারদগণের পরিভাষায় বহুল প্রচলিত। সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তদ্রূপ 'ইখবার' (আখবারানা) শব্দটিকেও শাইখের নিকট পাঠ করার বিষয়ের সাথে খাস বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'তাহদীস' এবং 'ইখবার'-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং এই দুয়ের মাঝে পার্থক্যের দাবি করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে যখন এটি পারিভাষিক রূপ লাভ করেছে, তখন তা পারিভাষিক সত্য (হাকিকতে উরফি) হিসেবে গণ্য হয়েছে, ফলে এটি আভিধানিক অর্থের ওপর প্রাধান্য পায়। যদিও এই পরিভাষাটি কেবল প্রাচ্যের আলিমগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্যেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। পক্ষান্তরে অধিকাংশ প্রতীচ্যের (মাগরিব) আলিমগণ এই পরিভাষা ব্যবহার করেননি; বরং তাঁদের নিকট 'ইখবার' এবং 'তাহদীস' একই অর্থবোধক। হাফিজের কথা এখানেই সমাপ্ত। আমি বলছি: এটিই ইমাম বুখারীর মাযহাব বা অভিমত। জেনে রাখুন যে, এখানে আরও একটি বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, আর তা হলো—যে ব্যক্তি একা শাইখের মুখ থেকে শ্রবণ করেছে সে বলবে 'হাদ্দাসানি' (তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন), আর যে ব্যক্তি অন্যের সাথে একত্রে শ্রবণ করেছে সে বহুবচন ব্যবহার করে বলবে 'হাদ্দাসানা' (তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন)। তদ্রূপ 'আখবারানি' এবং 'আখবারানা' এর মধ্যেও একই পার্থক্য বিদ্যমান।
(আল-আযদি) এটি 'আযদ' গোত্রের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত: হামযা-তে ফাতহা এবং যা-তে সুকুন সহকারে, এটি একটি গোত্রের নাম। (তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আর আমি শ্রবণ করছিলাম) অর্থাৎ কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল আর আমি শ্রবণ করছিলাম, অথবা আমার ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর নিকট পাঠ করছিল আর আমি শ্রবণ করছিলাম। এখানে "কিরাআতান" শব্দটি মাসদার যা কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমুল মাফউল) বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়েল)-এর অর্থে হাল (অবস্থাসূচক) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী'-তে বলেছেন: বর্ণনাকারীর উক্তি "আখবারানা সামাআন আও কিরাআতান" (তিনি আমাদের শ্রবণ বা পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন) বিষয়টি তাদের সেই বাক্যের মতো যেমন— "আমি তাঁর নিকট দৌড়ে এসেছি" অথবা "আমি তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছি"। এ বিষয়ে বৈয়াকরণদের একাধিক মত রয়েছে: প্রথমটি হলো সিবওয়াইহ-এর অভিমত যে, এগুলো মূলত মাসদার যা 'ফায়েল'-এর স্থলে 'হাল' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি "যাইদুন আদলুন" বাক্যে মাসদার বিশেষণের স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এগুলোর মধ্যে কেবল যা শ্রবণনির্ভর (সামা'য়ী) তা-ই ব্যবহৃত হবে, এর ওপর কিয়াস বা অনুমান করা যাবে না। এই মত অনুযায়ী, হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লিখিত শব্দরূপটির ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ আরবরা এভাবে তা প্রয়োগ করেনি। দ্বিতীয় মতটি হলো...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وَهُوَ لِلْمُبَرِّدِ: لَيْسَتْ أَحْوَالًا بَلْ مَفْعُولَاتٍ لِفِعْلٍ مُضْمَرٍ مِنْ لَفْظِهَا، وَذَلِكَ الْمُضْمَرُ هُوَ الْحَالُ، وَأَنَّهُ يُقَاسُ فِي كُلِّ مَا دَلَّ عَلَيْهِ الْفِعْلُ الْمُتَقَدِّمُ، وَعَلَى هَذَا تَتَخَرَّجُ الصِّيْغَةُ الْمَذْكُورَةُ، بَلْ كَلَامُ ابْنُ حِبَّانَ فِي تَذْكِرَتِهِ يَقْتَضِي أَنَّ أَخْبَرَنَا سَمَاعًا مَسْمُوعٌ، وَأَخْبَرَنَا قِرَاءَةً لَمْ يَسْمَعْ، وَأَنَّهُ يُقَاسُ عَلَى الْأَوَّلِ عَلَى هَذَا، الْقَوْلُ الثَّالِثُ: وَهُوَ لِلزَّجَّاجِ، قَالَ بِقَوْلِ سِيبَوَيْهِ فَلَا يُضْمَرُ لَكِنَّهُ مَقِيسٌ، الرَّابِعُ: وَهُوَ لِلسِّيرَافِيِّ، قَالَ: هُوَ مِنْ بَابِ " جَلَسْتُ قُعُودًا " مَنْصُوبٌ بِالظَّاهِرِ، مَصْدَرًا مْعَنَوِيًّا، انْتَهَى كَلَامُ السُّيُوطِيِّ.
(التِّرْيَاقِيُّ) مَنْسُوبٌ إِلَى التِّرْيَاقِ: بِالْكَسْرِ قَرْيَةٍ بِهَرَاةَ (الْغَوْرَجِيُّ) قَالَ فِي الْمُغْنِي: بِمَضْمُومَةٍ وَسُكُونِ وَاوٍ وَبِرَاءٍ وَجِيمٍ مَنْسُوبٌ كَذَا، وَالْمُرَادُ مِنْهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ أَحَدُ مَشَايِخِ الْكَرُوخِيِّ فِي التِّرْمِذِيِّ. انْتَهَى. قَالَ فِي الْقَامُوسِ فِي بَابِ الْغَوْرِ: الْغَوْرَةُ بِالضَّمِّ قَرْيَةٌ عِنْدَ بَابِ هَرَاةَ وَهُوَ غَوْرَجِيٌّ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ. انْتَهَى.
(قَالُوا) أَيْ الْأَزْدِيُّ وَالتِّرْيَاقِيُّ وَالْغَوْرَجِيُّ، وَهُمْ شُيُوخُ الْكَرُوخِيُّ.
(الْجَرَّاحِيُّ) قَالَ فِي الْمُغْنِي: بِمَفْتُوحَةٍ وَشَدَّةِ رَاءٍ وَبِحَاءٍ مُهْمَلَةٍ مِنْهُ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ. انْتَهَى.
(الْمَرْوَزِيُّ) مْنَسُوبٌ إِلَى مَرْوٍ، قَالَ فِي الْقَامُوسِ: بَلَدٌ بِفَارِسَ، وَالنِّسْبَةُ مَرْوِيُّ وَمَرَوِيٌّ وَمَرْوَزِيٌّ. انْتَهَى. وَقَالَ فِيهِ أَيْضًا: الْمَرْوَزِيُّ نِسْبَةً إِلَى مَرْوٍ بِزِيَادَةِ زَايٍ مَدِينَةٍ بِخُرَاسَانَ. انْتَهَى. وَقَالَ ابْنُ الْهُمَامِ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ: الْمَرْوِيُّ بِسُكُونِ الرَّاءِ نِسْبَةً إِلَى قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى الْكُوفَةِ، وَأَمَّا النِّسْبَةُ إِلَى مَرْوٍ الْمَعْرُوفَةِ بِخُرَاسَانَ فَقَدِ الْتَزَمُوا فِيهَا بِزِيَادَةِ الزَّايِ، كَأَنَّهُ لِلْفَرْقِ بَيْنَ الْقَرْيَتَيْنِ. انْتَهَى.
(الْمَرْزُبَانِيُّ) قَالَ فِي الْمُغْنِي: بِمَفْتُوحَةٍ وَسُكُونِ رَاءٍ وَضَمِّ زَايٍ وَبِمُوَحَّدَةٍ وَبِنُونٍ، مَنْسُوبٌ إِلَى مَرْزَبَانَ: جَدِّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ رَاوِي التِّرْمِذِيِّ. انْتَهَى. وَقُلْتُ فِيهِ أَنَّ الْمَرْزُبَانِيَّ وَقَعَ نَعْتًا لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْجَبَّارِ لَا لِمُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، وَقَالَ فِي الْقَامُوسِ: الْمَرْزَبَةُ كَمَرْحَلَةٍ رِئَاسَةُ الْفُرْسِ، وَهُوَ مَرْزُبَانُهُمْ بِضَمِّ الزَّايِ ج مَرَازِبَةٍ.
(أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبِ بْنِ فُضَيْلٍ الْمَحْبُوبِيُّ الْمَرْوَزِيُّ فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ)، هَكَذَا وَقَعَتْ هَذِهِ الْعِبَارَةُ فِي النُّسَخِ الْمَطْبُوعَةِ فِي الْهِنْدِ بِزِيَادَةِ لَفْظٍ (فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ) بَعْدَ لَفْظِ الْمَرْوَزِيِّ، وَقَدْ وَقَعَتْ هَذِهِ الْعِبَارَةُ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْقَلَمِيَّةِ الصَّحِيحَةِ هَكَذَا: أَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبِ بْنِ فُضَيْلٍ
এটি মুবাররিদের অভিমত: এগুলি ‘হাল’ (অবস্থাসূচক অব্যয়) নয়, বরং এগুলি নিজ শব্দমূল থেকে উদ্ভূত একটি উহ্য ক্রিয়ার ‘মাফউল’ (কর্ম)। আর সেই উহ্য ক্রিয়াটিই মূলত ‘হাল’। পূর্ববর্তী ক্রিয়াটি যা নির্দেশ করে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি কিয়াস বা অনুমান করা যায়। আর এই ভিত্তিতেই উল্লিখিত রূপটি নিষ্পন্ন হয়। বরং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘তাযকিরাহ’ গ্রন্থে যা বলেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘আমাদেরকে শ্রুতির মাধ্যমে জানিয়েছেন’ অর্থ হলো শোনা হয়েছে, আর ‘আমাদেরকে পাঠের মাধ্যমে জানিয়েছেন’ অর্থ হলো শোনা হয়নি; এবং এই ভিত্তিতে এটি প্রথমটির ওপর কিয়াস করা হবে। তৃতীয় অভিমত: এটি যাজ্জাজের; তিনি সীবওয়াইহির মতানুসারী, তাই এখানে কোনো কিছু উহ্য নেই, বরং এটি কিয়াসযোগ্য। চতুর্থ অভিমত: এটি সীরাফীর; তিনি বলেন, এটি ‘আমি উপবেশনের ন্যায় বসলাম’ এর পর্যায়ভুক্ত, যা বাহ্যিক শব্দ দ্বারা ‘মানসুব’ (নসবপ্রাপ্ত) এবং এটি একটি অর্থগত ‘মাসদার’ (ক্রিয়ামূল)। সুয়ূতীর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
(তিরইয়াকী) শব্দটি তিরইয়াক-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: ‘তা’ বর্ণে কাসরাহ (ই-কার) সহ এটি হেরাতের একটি গ্রাম। (গাওরাজী) সম্পর্কে ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘গাইন’ বর্ণে যাম্মাহ (উ-কার), ‘ওয়াও’ বর্ণে সুকুন এবং ‘রা’ ও ‘জীম’ সহ এটি একইভাবে সম্বন্ধযুক্ত। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আহমদ বিন আব্দুস সামাদ বিন আবিল ফযল, যিনি তিরমিযীর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আল-কারূখীর অন্যতম শিক্ষক। সমাপ্ত। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে ‘গাওর’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে: গাওরাহ যাম্মাহ সহকারে হেরাতের প্রবেশদ্বারের নিকটবর্তী একটি গ্রাম, আর তিনি গাওরাজী যা কিয়াস বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী। সমাপ্ত।
(তাঁরা বলেছেন) অর্থাৎ আযদী, তিরইয়াকী ও গাওরাজী; তাঁরা সকলেই কারূখীর শিক্ষক।
(জাররাহী) সম্পর্কে ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘জীম’ বর্ণে ফাতহাহ (আ-কার), ‘রা’ বর্ণে তাশদীদ এবং নুকতাহীন ‘হা’ বর্ণ সহ; তাঁর অন্তর্ভুক্ত হলেন আব্দুল জব্বার বিন মুহাম্মদ। সমাপ্ত।
(মারওয়াযী) শব্দটি মারও-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি পারস্যের একটি শহর; এর সম্বন্ধসূচক রূপ হলো মারভী, মারাভী ও মারওয়াযী। সমাপ্ত। সেখানে আরও বলা হয়েছে: মারওয়াযী শব্দটি অতিরিক্ত ‘যা’ বর্ণ যোগে খোরাসানের একটি শহর মারও-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সমাপ্ত। ইবনুল হুমাম ‘ফাতহুল কাদীর’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘রা’ বর্ণে সুকুন সহ মারভী শব্দটি কুফার একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর খোরাসানের প্রসিদ্ধ মারও শহরের দিকে সম্বন্ধের ক্ষেত্রে তারা অতিরিক্ত ‘যা’ বর্ণ ব্যবহার করা আবশ্যক করে নিয়েছেন, যেন গ্রাম দুটির মধ্যে পার্থক্য করা যায়। সমাপ্ত।
(মারযুবানী) সম্পর্কে ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মীম বর্ণে ফাতহাহ, রা বর্ণে সুকুন, যা বর্ণে যাম্মাহ এবং বা ও নূন বর্ণ সহ; এটি মারযুবানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যিনি তিরমিযীর বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন আহমদের দাদা। সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) এ সম্পর্কে বলছি যে, মারযুবানী শব্দটি আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের বিশেষণ হিসেবে এসেছে, মুহাম্মদ বিন আহমদের জন্য নয়। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মারযাবাহ শব্দটি ‘মারহালাহ’-এর ওযনে পারস্যের নেতৃত্বকে বোঝায়, আর তিনি হলেন তাদের মারযুবান (যা বর্ণে যাম্মাহ সহ), যার বহুবচন হলো মারাবিযাহ।
(আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব বিন ফুযায়ল আল-মাহবুবী আল-মারওয়াযী, অতঃপর নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ এটি অনুমোদন করেছেন), ভারতে মুদ্রিত কপিগুলোতে ‘মারওয়াযী’ শব্দের পরে ‘অতঃপর নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ এটি অনুমোদন করেছেন’ অংশটুকু অতিরিক্ত যুক্ত হয়ে এভাবেই ইবারতটি এসেছে। তবে কিছু বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে এই ইবারতটি এভাবে পাওয়া যায়: আমি নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব বিন ফুযায়ল।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الْمَحْبُوبِيُّ الْمَرْوَزِيُّ، بِحَذْفِ لَفْظٍ فَأَقَرَّ بِهِ، وَوَقُوعِ لَفْظِ الشَّيْخِ الثِّقَةِ الْأَمِينِ بَعْدَ لَفْظِ أَنَا، وَهَكَذَا وَقَعَتْ هَذِهِ الْعِبَارَةِ فِي الْأَثْبَاتِ الصَّحِيحَةِ، كَثَبَتِ الْكُرْدِيِّ وَالْكُزْبَرِيِّ وَالشَّنَوَانِيِّ وَالشَّاهِ وَلِيِّ اللَّهِ، وَهَذَا مِمَّا أَفَادَنِي شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ الْقَاضِي حُسَيْنُ بْنُ مُحْسِنٍ الْأَنْصَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ السَّعْدِيُّ الْيَمَانِيُّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، وَقَدْ وَقَعَتْ هَذِهِ الْعِبَارَةُ فِي نُسْخَةٍ قَلَمِيَّةٍ صَحِيحَةٍ عَتِيقَةٍ هَكَذَا: قَالَ أَنْبَأَ أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبِ بْنِ فُضَيْلٍ الْمَحْبُوبِيُّ الْمَرْوَزِيُّ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ قَالَ أَنْبَأَ أَبُو عِيسَى بْنُ سَوْرَةَ التِّرْمِذِيُّ، بِحَذْفِ لَفْظٍ فَأَقَرَّ بِهِ، وَهَذِهِ النُّسْخَةُ مَوْجُودَةٌ فِي مَكْتَبَةِ خَدَا بخش خَانَ الْعَظيِمْ أَبَادِي.
تَنْبِيهٌ: الْعِبَارَةُ الَّتِي وَقَعَتْ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْقَلَمِيَّةِ وَالْأَثْبَاتِ الصَّحِيحَةِ مَعْنَاهَا ظَاهِرٌ وَاضِحٌ وَكَذَا الْعِبَارَةُ الَّتِي وَقَعَتْ فِي النُّسْخَةِ الْقَلَمِيَّةِ الْعَتِيقَةِ مَعْنَاهَا وَاضِحٌ، وَأَمَّا الْعِبَارَةُ الَّتِي وَقَعَتْ فِي النُّسَخِ الْمَطْبُوعَةِ فَقَدْ جَزَمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِأَنَّ جُمْلَةَ " فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ " فِيهَا غَلَطٌ لَا يَسْتَقِيمُ مَعْنَاهَا.
قُلْتُ: هَذِهِ الْجُمْلَةُ فِيهَا لَيْسَتْ عِنْدِي بِغَلَطٍ بَلْ هِيَ صَحِيحَةٌ مَعْنَاهَا مُسْتَقِيمٌ، فَاعْلَمْ أَنَّ الْمُرَادَ بِالشَّيْخِ الثِّقَةِ الْأَمِينِ فِي هَذِهِ الْجُمْلَةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ، وَالْمَعْنَى، أَنَّ الْقَاضِي الزَّاهِدَ أَبَا عَامِرٍ وَالشَّيْخَ أَبَا نَصْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَالشَّيْخَ أَبَا بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الصَّمَدِ مِنْ تَلَامِذَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْجَبَّارِ أَخَذُوا هَذَا الْكِتَابَ عَنْهُ بِالْعَرْضِ عَلَيْهِ، بِأَنْ كَانَ أَحَدٌ مِنْ تَلَامِذَتِهِ يَقْرَؤُهُ عَلَيْهِ وَالْبَاقُونَ كَانُوا يَسْمَعُونَ، وَالشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ كَانَ مُصْغِيًا فَاهِمًا غَيْرَ مُنْكِرٍ، وَكَانَ قِرَاءَةُ الْقَارِئِ عَلَيْهِ هَكَذَا: قُلْتُ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبِ بْنِ فُضَيْلٍ الْمَحْبُوبِيُّ الْمَرْوَزِيُّ إلخ فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ. أَيْ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ يَعْنِي فَأَقَرَّ بِمَا قُرِئَ عَلَيْهِ، وَلَمْ يُنْكِرْ فَصَحَّ سَمَاعُهُمْ مِنْهُ وَجَازَ لَهُمُ الرِّوَايَةُ عَنْهُ. وَيَنْبَغِي لِكُلِّ مَنْ يَقْرَأُ هَذَا الْكِتَابِ عَلَى شَيْخِهِ وَيَعْرِضُهُ عَلَيْهِ أَنْ يَقُولَ بَعْدَ قَوْلِهِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ: قِيلَ لَهُ قُلْتَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ إلخ.
وَلَا بُدَّ لَنَا مِنْ أَنْ نَذْكُرَ هَاهُنَا بَعْضَ عِبَارَاتِ تَدْرِيبِ الرَّاوِي وَغَيْرِهِ لِيَتَّضِحَ لَكَ مَا قُلْنَا فِي تَصْحِيحِ الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ، قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي التَّدْرِيبِ: الْقِسْمِ الثَّانِي مِنْ وُجُوهِ التَّحَمُّلِ: الْقِرَاءَةُ عَلَى الشَّيْخِ، وَيُسَمِّيهَا أَكْثَرُ الْمُحَدِّثِينَ عَرْضًا، سَوَاءٌ قَرَأْتَ عَلَيْهِ بِنَفْسِكَ أَوْ قَرَأَ عَلَيْهِ غَيْرُكَ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، وَالْأَحْوَطُ فِي الرِّوَايَةِ بِهَا أَنْ يَقُولَ قَرَأْتُ عَلَى فُلَانٍ إِنْ قَرَأَ بِنَفْسِهِ، أَوْ قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ، ثُمَّ يَلِي ذَلِكَ عِبَارَاتُ السَّمَاعِ مُقَيَّدَةٌ بِالْقِرَاءَةِ: كَحَدَّثَنَا بِقِرَاءَتِي أَوْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَوْ أَخْبَرَنَا بِقِرَاءَتِي أَوْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ. انْتَهَى. وَقَالَ فِيهِ: وَإِذَا قَرَأَ عَلَى الشَّيْخِ قَائِلًا أَخْبَرَكَ فُلَانٌ أَوْ نَحْوَهُ كَقُلْتَ أَخْبَرَنَا فُلَانٌ وَالشَّيْخُ مُصْغٍ إِلَيْهِ فَاهِمٌ لَهُ غَيْرُ مُنْكِرٍ وَلَا مُقِرٍّ لَفْظًا صَحَّ السَّمَاعُ وَجَازَتِ الرِّوَايَةُ بِهِ اكْتِفَاءً بِالْقَرَائِنِ الظَّاهِرَةِ، وَلَا يُشْتَرَطُ نُطْقُ الشَّيْخِ بِالْإِقْرَارِ كَقَوْلِهِ نَعَمْ، عَلَى الصَّحِيحِ الَّذِي قَطَعَ بِهِ جَمَاهِيرُ أَصْحَابِ الْفُنُونِ وَشَرَطَ بَعْضُ
আল-মাহবুবি আল-মারওয়াযী, 'অতঃপর তিনি তা স্বীকার করে নিলেন' (ফা-আকাররা বিহি) কথাটি বর্জন করে এবং 'আমি' (আনা) শব্দের পর 'বিশ্বস্ত ও আমানতদার শায়খ' কথাটি উল্লেখ করে। এভাবেই এই বাক্যটি নির্ভরযোগ্য 'আসবাত' (সনদ সংকলন) সমূহে এসেছে, যেমন— আল-কুর্দী, আল-কুযবারী, আশ-শানাওয়ানী এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহর আসবাতসমূহে। এটি সেই সব তাত্ত্বিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের উস্তাদ আল্লামা আল-কাজী হুসাইন ইবনে মুহসিন আল-আনসারী আল-খাযরাজী আস-সা’দী আল-ইয়ামানী—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—আমাকে শিখিয়েছেন। একটি সঠিক ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে এই বাক্যটি এভাবে এসেছে: 'তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব ইবনে ফুুদাইল আল-মাহবুবি আল-মারওয়াযী, যিনি একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার শায়খ; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী'। এখানে 'অতঃপর তিনি তা স্বীকার করে নিলেন' কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি আজিমাবাদের খুদা বখশ খান লাইব্রেরিতে বিদ্যমান রয়েছে।
সতর্কতা: কিছু পাণ্ডুলিপি এবং সহীহ আসবাতসমূহে যে বাক্যটি এসেছে তার অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুবোধ্য। একইভাবে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত বাক্যটির অর্থও স্পষ্ট। তবে মুদ্রিত কপিগুলোতে যে বাক্যটি এসেছে, সে সম্পর্কে কোনো কোনো জ্ঞানতাপস আলেম নিশ্চিতভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে, "অতঃপর বিশ্বস্ত ও আমানতদার শায়খ তা স্বীকার করে নিলেন" বাক্যটিতে ভুল রয়েছে এবং এর অর্থ সুসংগত নয়।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই বাক্যটি আমার নিকট ভুল নয়, বরং এটি সঠিক এবং এর অর্থও সুসংগত। জেনে রাখা উচিত যে, এই বাক্যে 'বিশ্বস্ত ও আমানতদার শায়খ' বলতে আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারকে বোঝানো হয়েছে। এর তাৎপর্য হলো— আল-কাজী আয-যাহিদ আবু আমির, শায়খ আবু নাসর আব্দুল আযীয এবং শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনে আব্দুস সামাদ, যারা আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের ছাত্র ছিলেন, তারা তার নিকট 'আরয' (উপস্থাপনা) করার মাধ্যমে এই কিতাবটি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, ছাত্রদের একজন তার সামনে এটি পাঠ করতেন এবং বাকিরা তা শ্রবণ করতেন। আর শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার পূর্ণ মনোযোগী ও সমঝদার ছিলেন এবং তিনি কোনো অস্বীকৃতি জানাননি। তখন পাঠকের পাঠশৈলী ছিল এরূপ: 'আমি বলছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব ইবনে ফুুদাইল আল-মাহবুবি আল-মারওয়াযী...' ইত্যাদি। এরপর 'অতঃপর বিশ্বস্ত ও আমানতদার শায়খ তা স্বীকার করে নিলেন'। অর্থাৎ আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার তার সামনে যা পাঠ করা হয়েছে তা মেনে নিয়েছেন এবং তাতে কোনো আপত্তি করেননি। ফলে তাদের শ্রবণ (সামা') শুদ্ধ হয়েছে এবং তার পক্ষ থেকে বর্ণনা (রেওয়ায়েত) করা বৈধ হয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তিই তার শায়খের নিকট এই কিতাব পাঠ করবে বা তার সামনে পেশ করবে, তার জন্য সমীচীন হলো 'তার নিকট পঠিত' বলার পর এটুকু বলা— 'তাকে বলা হলো: আপনি কি বলেছেন যে, আবু আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...' ইত্যাদি।
উল্লিখিত বাক্যটির বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য আমাদের এখানে 'তাদরীবুর রাবী' ও অন্যান্য কিতাবের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করা প্রয়োজন, যাতে আমাদের বক্তব্য আপনার নিকট সুস্পষ্ট হয়। ইমাম সুয়ূতী 'তাদরীব' গ্রন্থে হাদীস গ্রহণের দ্বিতীয় পদ্ধতি প্রসঙ্গে বলেছেন: শায়খের নিকট পাঠ করা (আল-কিরাআতু আলাশ-শায়খ), যাকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস 'আরয' (উপস্থাপনা) বলে অভিহিত করেন। চাই আপনি নিজে তার নিকট পাঠ করেন অথবা অন্য কেউ পাঠ করে আর আপনি তা শ্রবণ করেন। এর মাধ্যমে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতামূলক পদ্ধতি হলো— পাঠক নিজে পাঠ করলে বলবেন 'আমি অমুকের নিকট পাঠ করেছি'; আর অন্য কেউ পাঠ করলে এবং তিনি শ্রবণ করলে বলবেন 'তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন'। এরপর শ্রবণের শব্দগুলো পাঠের সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হবে, যেমন: 'তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার পাঠের মাধ্যমে' অথবা 'তার নিকট পাঠের মাধ্যমে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম'; অথবা 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পাঠের মাধ্যমে' অথবা 'তার নিকট পাঠের মাধ্যমে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম'। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। তিনি সেখানে আরও বলেন: যখন কেউ শায়খের নিকট পাঠ করার সময় বলে— 'অমুক কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?' অথবা অনুরূপ শব্দ যেমন 'আপনি কি বলেছেন যে অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন?', এমতাবস্থায় শায়খ যদি পূর্ণ মনোযোগী ও সমঝদার হন এবং মৌখিকভাবে কোনো অস্বীকৃতি না জানান, এমনকি মৌখিক স্বীকৃতিও না দেন, তবুও শ্রবণ শুদ্ধ হবে এবং প্রকাশ্য অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ হবে। এক্ষেত্রে শায়খকে মৌখিকভাবে 'হ্যাঁ' বা এই জাতীয় স্বীকৃতির শব্দ উচ্চারণ করা শর্ত নয়। এটিই সেই সঠিক মত যার ওপর এই শাস্ত্রের অধিকাংশ পণ্ডিতগণ অটল রয়েছেন। তবে কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أَصْحَابِ الشَّافِعِيَّةِ وَالظَّاهِرِيِّينَ نُطْقَهُ بِهِ. انْتَهَى كَلَامُ السُّيُوطِيُّ مُلَخَّصًا.
وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي مُقَدِّمَةِ شَرْحِ مُسْلِمٍ: جَرَتْ عَادَةُ أَهْلِ الْحَدِيثِ بِحَذْفِ قَالَ وَنَحْوِهِ فِيمَا بَيْنَ رِجَالِ الْإِسْنَادِ فِي الْخَطِّ، وَيَنْبَغِي لِلْقَارِئِ أَنْ يَلْفِظَ بِهَا، وَإِذَا كَانَ فِي الْكِتَابِ: قُرِئَ عَلَى فُلَانٍ أَخْبَرَكَ فُلَانٌ فَلْيَقُلِ الْقَارِئُ: قُرِئَ عَلَى فُلَانٍ قِيلَ لَهُ أَخْبَرَكَ فُلَانٌ، وَإِذَا كَانَ فِيهِ قُرِئَ عَلَى فُلَانٍ أَخْبَرَنَا فُلَانٌ فَلْيَقُلْ قُرِئَ عَلَى فُلَانٍ قِيلَ لَهُ قُلْتَ أَخْبَرَنَا فُلَانٌ. انْتَهَى كَلَامُ النَّوَوِيُّ.
فَإِذَا وَقَفْتَ عَلَى هَذِهِ الْعِبَارَاتِ وَعَرَفْتَ مَدْلُولَهَا يَتَّضِحُ لَكَ مَا قُلْنَا فِي تَصْحِيحِ جُمْلَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
تَنْبِيهٌ: قَالَ صَاحِبُ الْعَرْفِ الشَّذِيِّ فِي تَوْجِيهِ الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ مَا لَفْظُهُ: الْمُرَادُ بِالشَّيْخِ هُوَ الْمَحْبُوبِيُّ كَمَا فِي ثَبَتِ ابْنِ عَابِدِينَ، وَهَذِهِ الْعِبَارَةُ يَعْنِي فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ لَيْسَتْ فِي النُّسَخِ الْمُعْتَبَرَةِ، وَأَمَّا عَلَى تَقْدِيرِ وُجُودِهَا فِي الْكِتَابِ فَمُرَادُهَا أَنَّ الشَّيْخَ الْمَحْبُوبِيَّ نَسَخَ الْكِتَابَ، وَكَانَ عِلْمُ مَنْ قَبْلَهُ بِالصُدُورِ، فَإِذَا صَارَ الْعِلْمُ بِالْكِتَابِ فَاحْتَاجَ تَلَامِذَةُ الشَّيْخِ الْمَحْبُوبِيِّ إِلَى أَنْ يُقِرَّ الْمَحْبُوبِيُّ بِكِتَابِهِ وَصِحَّتِهِ، فَلِذَا قَالَ تِلْمِيذُ الْمَحْبُوبِيُّ أَقَرَّ الشَّيْخُ الْمَحْبُوبِيُّ بِهَذَا الْكِتَابِ لِتَوْثِيقِ الْكِتَابِ. انْتَهَى كَلَامُهُ.
قُلْتُ: هَذَا التَّوْجِيهُ بَاطِلٌ جِدًّا، فَإِنَّ مَبْنَاهُ عَلَى أَنَّ عِلْمَ مَنْ قَبْلِ الشَّيْخِ الْمَحْبُوبِيِّ مِنْ أَصْحَابِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ وَغَيْرِهِمْ كَانَ فِي الصُّدُورِ وَلَمْ يَكُنْ فِي الْكِتَابِ، وَهَذَا بَاطِلٌ ظَاهِرُ الْبُطْلَانِ، وَقَدْ عَرَفْتَ فِي الْمُقَدِّمَةِ أَنَّ تَدْوِينَ الْأَحَادِيثِ وَجَمْعِهَا فِي الْكِتَابِ قَدْ حَدَثَ فِي أَوَاخِرِ عُمُرِ التَّابِعِينَ، قَالَ الْحَافِظُ فِي مُقَدِّمَةِ الْفَتْحِ: إِنَّ آثَارَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ تَكُنْ فِي عَصْرِهِ وَعَصْرِ أَصْحَابِهِ وَتَبَعِهِمْ مُدَوَّنَةً فِي الْجَوَامِعِ. إِلَى أَنْ قَالَ: ثُمَّ حَدَثَ فِي أَوَاخِرِ عُمُرِ التَّابِعِينَ تَدْوِينُ الْآثَارِ وَتَبْوِيبُ الْأَخْبَارِ لَمَّا انْتَشَرَ الْعُلَمَاءُ بِالْأَمْصَارِ وَكَثُرَ الِابْتِدَاعُ اهـ.
وَتَنْبِيهٌ آخَرٌ: وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي تَوْجِيهِ الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ: إِنَّ قَوْلَهُ فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ يَحْتَمِلُ وَجْهَيْنِ أَحَدُهُمَا أَنْ يُقَالَ: بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالشَّيْخِ الثِّقَةِ الْأَمِينِ هُوَ أَبُو الْعَبَّاسِ الَّذِي تِلْمِيذُهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ، وَالْمَعْنَى عَلَى هَذَا الْوَجْهِ: أَنَّ الْقَاضِي الزَّاهِدَ أَبَا عَامِرٍ أَوِ الشَّيْخَ أَبَا نَصْرٍ أَوِ الشَّيْخَ أَبَا بَكْرٍ الَّذِينَ هُمْ تَلَامِذَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَدْ سَأَلَ أُسْتَاذَ أُسْتَاذِهِ - أَعْنِي أَبَا الْعَبَّاسِ - عَنْ أَنَّكَ أَخْبَرْتَ تِلْمِيذَكَ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ الْجَبَّارِ بِهَذَا الْكِتَابِ فَأَقَرَّ بِهِ، أَيْ بِالْإِخْبَارِ بِهَذَا الْكِتَابِ أَبُو الْعَبَّاسِ وَأَجَابَ بِإِقْرَارِ الْإِخْبَارِ، وَثَانِيهُمَا: أَنْ يُرَادَ بِالشَّيْخِ الثِّقَةِ الْأَمِينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ، وَيَكُونُ الْمَعْنَى عَلَى هَذَا أَنَّهُ سَأَلَهُ أَحَدُ تَلَامِذَتِهِ وَهُمْ الْقَاضِي الزَّاهِدُ أَبُو عَامِرٍ وَأَبُو نَصْرٍ وَأَبُو بَكْرٍ عَنْ أَنَّكَ أَخْبَرَكَ شَيْخُكَ أَبُو الْعَبَّاسِ فَأَقَرَّ بِهِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بِأَخْذِ هَذَا الْكِتَابِ مِنْ شَيْخِهِ أَبِي الْعَبَّاسِ. هَذَا هُوَ الْوَجْهُ الثَّانِي، فَعَلى كِلَا الْوَجْهَيْنِ الضَّمِيرُ فِي قَوْلِهِ بِهِ رَاجِعٌ إِلَى الْإِخْبَارِ بِهَذَا الْكِتَابِ الَّذِي يُفْهَمُ
শাফেয়ী অনুসারী এবং জাহেরীগণ এটি মুখে উচ্চারণ করার পক্ষপাতী। সুয়ূতী (রহ.)-এর বক্তব্য সংক্ষেপে এখানেই সমাপ্ত।
ইমাম নববী (রহ.) তাঁর ‘শরহে মুসলিম’-এর ভূমিকায় বলেছেন: মুহাদ্দিসগণের রীতি হলো পাণ্ডুলিপিতে সনদের রাবীদের মাঝে ‘কালা’ (তিনি বলেছেন) এবং এই জাতীয় শব্দ উহ্য রাখা। তবে পাঠকারীর উচিত তা মুখে উচ্চারণ করা। আর যদি কিতাবে থাকে: ‘অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে যে, অমুক আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন’, তবে পাঠকারী বলবে: ‘অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, অমুক কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?’ আর যদি তাতে থাকে: ‘অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে যে, অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’, তবে সে বলবে: ‘অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, আপনি কি বলেছেন যে, অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন?’ ইমাম নববী (রহ.)-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
সুতরাং আপনি যখন এই পরিভাষাগুলো সম্পর্কে অবগত হলেন এবং এগুলোর মর্মার্থ বুঝতে পারলেন, তখন ‘অতঃপর নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ এটি স্বীকার করেছেন’ বাক্যটির শুদ্ধি সম্পর্কে আমরা যা বলেছি তা ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে।
সতর্কবার্তা: ‘আল-আরফুশ শাজী’ গ্রন্থের লেখক উল্লিখিত বাক্যটির ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো: শায়খ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল-মাহবুবী, যেমনটি ইবনে আবিদীনের ‘সাবাত’-এ বর্ণিত হয়েছে। আর এই বাক্যটি—অর্থাৎ ‘অতঃপর নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ এটি স্বীকার করেছেন’—নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে নেই। তবে যদি কিতাবে এর অস্তিত্ব ধরে নেওয়া হয়, তবে তার উদ্দেশ্য হলো শায়খ আল-মাহবুবী কিতাবটি অনুলিপি করেছেন। আর তাঁর পূর্ববর্তীদের ইলম ছিল স্মৃতিতে সংরক্ষিত, অতঃপর যখন ইলম কিতাব আকারে সংকলিত হলো, তখন শায়খ আল-মাহবুবীর ছাত্ররা তাঁর নিকট থেকে কিতাবটি এবং এর বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। এই কারণেই মাহবূবীর ছাত্র বলেছেন: ‘শায়খ আল-মাহবুবী এই কিতাবটির স্বীকৃতি দিয়েছেন’ যাতে কিতাবটির প্রামাণ্যতা সুদৃঢ় হয়। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
আমি বলি: এই ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত অসার। কারণ এর ভিত্তি হলো এই ধারণার ওপর যে, শায়খ মাহবূবীর পূর্ববর্তী কুতুবে সিত্তাহর লেখকগণ ও অন্যান্যদের ইলম কেবল স্মৃতিতে সংরক্ষিত ছিল এবং তা কিতাব আকারে ছিল না। এটি স্পষ্টত একটি অসার ধারণা। আপনি ইতিমধ্যেই মুখবন্ধে জেনেছেন যে, হাদীস সংকলন ও তা কিতাব আকারে একত্রিত করার কাজ তাবিঈদের যুগের শেষার্ধেই শুরু হয়েছিল। হাফেজ (ইবনে হাজার আসকালানী) ফাতহুল বারীর ভূমিকায় বলেছেন: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবিঈদের যুগে নবীজীর হাদীসসমূহ ‘জাওয়ামে’ (হাদীস গ্রন্থ) আকারে সংকলিত ছিল না। তিনি আরও বলেন: অতঃপর তাবিঈদের যুগের শেষার্ধে হাদীস সংকলন ও সংবাদসমূহ পরিচ্ছেদ আকারে বিন্যস্ত করার কাজ শুরু হয়, যখন বিভিন্ন জনপদে আলেমগণ ছড়িয়ে পড়লেন এবং বিদআতের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল।
অন্য একটি সতর্কবার্তা: কেউ কেউ উল্লিখিত বাক্যটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: ‘অতঃপর নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ এটি স্বীকার করেছেন’ বাক্যটি দুটি সম্ভাবনার অবকাশ রাখে। প্রথমটি হলো: নির্ভরযোগ্য শায়খ বলতে আবুল আব্বাসকে বোঝানো হয়েছে, যাঁর ছাত্র হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার। এই সম্ভাবনা অনুযায়ী অর্থ হবে: কাযী যাহিদ আবু আমির অথবা শায়খ আবু নসর অথবা শায়খ আবু বকর—যাঁরা আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের ছাত্র—তাঁরা তাঁদের উস্তাদের উস্তাদকে (অর্থাৎ আবুল আব্বাসকে) জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ‘আপনি কি আপনার ছাত্র আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারকে এই কিতাবটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন?’ অতঃপর আবুল আব্বাস এটি অর্থাৎ এই কিতাবের সংবাদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বীকৃতির মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন। দ্বিতীয়টি হলো: নির্ভরযোগ্য শায়খ বলতে আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারকে বোঝানো হয়েছে। এই সম্ভাবনা অনুযায়ী অর্থ হবে: তাঁর কোনো একজন ছাত্র (কাযী যাহিদ আবু আমির, আবু নসর অথবা আবু বকর) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ‘আপনার শায়খ আবুল আব্বাস কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?’ অতঃপর আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার তাঁর শায়খ আবুল আব্বাসের নিকট থেকে এই কিতাবটি গ্রহণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এটিই দ্বিতীয় সম্ভাবনা। উভয় সম্ভাবনা অনুযায়ী ‘বিহি’ (এটি দ্বারা) সর্বনামটি কিতাবটির সংবাদ প্রদানের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে, যা অনুমিত হয়।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ضِمْنًا، وَفَاعِلُ قَوْلِهِ أَقَرَّ الْمُعَبَّرُ عَنْهُ بِالشَّيْخِ الثِّقَةِ الْأَمِينِ إِمَّا أَبُو الْعَبَّاسِ وَإِمَّا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ. انْتَهَى كَلَامُهُ.
قُلْتُ: هَذَا التَّوْجِيهُ أَيْضًا لَيْسَ بِشَيْءٍ، فَإِنَّ فِي كِلَا الْوَجْهَيْنِ مِنْ هَذَا التَّوْجِيهِ نَظَرًا، أَمَّا الْوَجْهُ الْأَوَّلُ: فَلِأَنَّ مَبْنَاهُ عَلَى أَنَّ أَحَدًا مِنْ تَلَامِذَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْمَذْكُورِينَ قَدْ لَقِيَ أُسْتَاذَ أُسْتَاذِهِ أَعْنِي أَبَا الْعَبَّاسِ، وَهَذَا ادِّعَاءٌ مَحْضٌ، فَلَا بُدَّ لِهَذَا الْبَعْضُ أَنْ يَثْبُتَ أَوَّلًا لِقَاءَهُ مِنْهُ ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ يُتَوَجَّهُ إِلَى هَذَا الْوَجْهِ وَدُونَهُ خَرْطُ الْقَتَادِ. وَأَمَّا الْوَجْهُ الثَّانِي: فَفِيهِ أَنَّ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ لَمَّا حَدَّثَ تَلَامِذَتَهُ الْمَذْكُورِينَ بِلَفْظِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ فَبَعْدَ سَمَاعِهِمْ هَذَا اللَّفْظَ مِنْهُ لَا مَعْنَى لِسُؤَالِ أَحَدِ تَلَامِذَتِه عَنْ أَنَّكَ أَخْبَرَكَ شَيْخُكَ أَبُو الْعَبَّاسِ، فَتَفَكَّرَ.
تَنْبِيهٌ آخَرٌ: قَالَ صَاحِبُ (الطِّيبُ الشَّذِيِّ) فِي تَوْجِيهِ الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ مَا لَفْظُهُ: الظَّاهِرُ أَنَّ الْمُرَادَ بِالشَّيْخِ الثِّقَةِ أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَحْبُوبِيُّ، فَقَائِلُ هَذَا الْقَوْلِ هُوَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ الْجَرَّاحِيُّ فَالْمَعْنَى أَنَّ تَلَامِذَةَ أَبِي الْعَبَّاسِ لَمَّا قَرَءُوا الْكِتَابَ عَلَى أُسْتَاذِهِمْ أَبِي الْعَبَّاسِ فَقَالَ لَهُمْ: نَعَمْ هَذَا كُنْتُ قَرَأْتُ عَلَيْكُمْ. انْتَهَى كَلَامُهُ.
قُلْتُ: هَذَا التَّوْجِيهُ أَيْضًا بَاطِلٌ ظَاهِرُ الْبُطْلَانِ، فَإِنَّ تَلَامِذَةَ أَبِي الْعَبَّاسِ إِمَّا كَانُوا قَرَءُوا الْكِتَابَ عَلَى أُسْتَاذِهِمْ أَبِي الْعَبَّاسِ وَكَانَ هُوَ سَاكِتًا مُصْغِيًا لِقِرَاءَتِهِمْ أَوْ كَانَ هُوَ الْقَارِئُ وَهُمْ كَانُوا سَاكِتِينَ مُصْغِينَ لِقِرَاءَتِهِ، فَعَلَى التَّقْدِيرِ الْأَوَّلِ لَا مَعْنَى لِقَوْلِهِ: فَقَالَ لَهُمْ: نَعَمْ هَكَذَا كُنْتُ قَرَأْتُ عَلَيْكُمْ، وَعَلَى التَّقْدِيرِ الثَّانِي لَا مَعْنَى لِقَوْلِهِ لَمَّا قَرَءُوا الْكِتَابَ فَتَفَكَّرَ ثُمَّ قَالَ: وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ مِنَ الثِّقَةِ الْأَمِينِ هُوَ عَبْدُ الْجَبَّارِ، وَقَائِلُ قَوْلِهِ فَأَقَرَّ بِهِ أَيْضًا عَبْدُ الْجَبَّارِ، فَاْلمَعْنَى أَنَّ تَلَامِذَةُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالُوا لَهُ: أَخْبَرَكَ أَبُو الْعَبَّاسِ؟ فَقَالَ: نَعَمْ أَخْبَرَنِي أُسْتَاذِي أَبُو الْعَبَّاسِ. فَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِ فَأَقَرَّ بِهِ الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ. انْتَهَى.
قُلْتُ: قَدْ أَخَذَ هَذَا صَاحِبُ الطِّيبِ الشَّذِيِّ مِنَ الْوَجْهِ الثَّانِي مِنَ الْوَجْهَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ لِبَعْضِهِمْ، وَلَكِنَّهُ قَدْ تَخَبَّطَ فِي قَوْلِهِ، وَقَائِلُ قَوْلِهِ أَقَرَّ بِهِ أَيْضًا عَبْدُ الْجَبَّارِ.
পরোক্ষভাবে, এবং তাঁর উক্তি "স্বীকৃতি দিয়েছেন"-এর কর্তা (ফায়িল) হলেন সেই ব্যক্তি যাঁকে 'নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ' হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে; তিনি হয় আবু আল-আব্বাস অথবা আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
আমি বলি: এই ব্যাখ্যাটিও গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এই ব্যাখ্যার উভয় দিকই প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম দিকটির কারণ হলো, এর ভিত্তি এই ধারণার ওপর যে, উল্লিখিত আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের ছাত্রদের মধ্যে কেউ তাঁর উস্তাদের উস্তাদ অর্থাৎ আবু আল-আব্বাসের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এটি নিছক একটি দাবি মাত্র। উক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে, তারপরই কেবল এই ব্যাখ্যার দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব; আর তা অর্জন করা কণ্টকাকীর্ণ বৃক্ষ হতে খালি হাতে কাঁটা ছাড়ানোর মতোই দুঃসাধ্য। আর দ্বিতীয় দিকটির ব্যাপারে বক্তব্য হলো, আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার যখন তাঁর উল্লিখিত ছাত্রদের কাছে "আবু আল-আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" শব্দযোগে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখন তাঁর কাছ থেকে এই শব্দ শোনার পর তাঁর কোনো ছাত্রের পক্ষ থেকে "আপনার উস্তাদ আবু আল-আব্বাস কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?" বলে প্রশ্ন করার কোনো অর্থ হয় না। অতএব চিন্তা করুন।
অন্য একটি সতর্কতা: 'আত-ত্বীবুশ শাযী' গ্রন্থের লেখক উল্লিখিত বাক্যটির ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "প্রকাশ্যত 'নির্ভরযোগ্য শায়খ' দ্বারা আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাহবুবী উদ্দেশ্য। আর এই উক্তিটির বক্তা হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার আল-জাররাহী। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায় এই যে, আবু আল-আব্বাসের ছাত্ররা যখন তাদের উস্তাদ আবু আল-আব্বাসের নিকট কিতাবটি পাঠ করলেন, তখন তিনি তাঁদের বললেন: 'হ্যাঁ, এটিই আমি তোমাদের নিকট পাঠ করেছিলাম'।" তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
আমি বলি: এই ব্যাখ্যাটিও বাতিল এবং এর অসারতা স্পষ্ট। কারণ আবু আল-আব্বাসের ছাত্ররা হয় কিতাবটি তাদের উস্তাদ আবু আল-আব্বাসের সামনে পাঠ করেছিলেন এবং তিনি চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে তাদের পাঠ শুনছিলেন, অথবা তিনি নিজেই পাঠক ছিলেন এবং তাঁরা চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে তাঁর পাঠ শুনছিলেন। প্রথম সুরত অনুযায়ী তাঁর এই কথার কোনো অর্থ হয় না যে, "তিনি তাঁদের বললেন: হ্যাঁ, এভাবেই আমি তোমাদের নিকট পাঠ করেছিলাম।" আর দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী "যখন তাঁরা কিতাবটি পাঠ করলেন" এই কথার কোনো অর্থ থাকে না। অতএব চিন্তা করুন। এরপর তিনি বলেন: এটিও সম্ভব যে, 'নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার' দ্বারা আব্দুল জব্বার উদ্দেশ্য এবং "তিনি তা স্বীকার করেছেন" এই উক্তিটির বক্তাও আব্দুল জব্বার। ফলে অর্থ দাঁড়াবে এই যে, আব্দুল জব্বারের ছাত্ররা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আবু আল-আব্বাস কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?" তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার উস্তাদ আবু আল-আব্বাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।" এটিই হলো তাঁর "নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ তা স্বীকার করেছেন" উক্তির মর্ম। সমাপ্ত।
আমি বলি: 'আত-ত্বীবুশ শাযী'র লেখক এটি তাদের জন্য উল্লিখিত দুটি সুরতের দ্বিতীয়টি থেকে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর এই কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন যে, "তিনি তা স্বীকার করেছেন" এই উক্তির বক্তাও আব্দুল জব্বার।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
قَوْلُهُ (أَخْبَرَنِي أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنُ سَوْرَةَ) بِفَتْحِ السِّينِ وَسُكُونِ الْوَاوِ (التِّرْمِذِيُّ) بِكَسْرِ التَّاءِ وَالْمِيمِ وَبِضَمِّهِمَا وَبِفَتْحِ التَّاءِ وَكَسْرِ الْمِيمِ مَعَ الذَّالِ الْمُعْجَمَةِ، نِسْبَةً إِلَى مَدِينَةٍ قَدِيمَةٍ عَلَى طُرُقِ جَيْحُونَ: نَهْرُ بَلْخَ، (الْحَافِظُ) تَقَدَّمَ حَدُّ الْحَافِظِ فِي الْمُقَدِّمَةِ، وَتَقَدَّمَ فِيهَا أَيْضًا تَرْجَمَةُ أَبِي عِيَسى التِّرْمِذِيُّ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِكُنْيَتِهِ.
তাঁর উক্তি (আমাকে আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ সংবাদ দিয়েছেন): এখানে 'সীন' বর্ণে ফাতহাহ এবং 'ওয়াও' বর্ণে সুকুন হবে। (তিরমিযী): এটি 'তা' ও 'মীম' উভয় বর্ণে কাসরাহ যোগে, অথবা উভয় বর্ণে যম্মাহ যোগে, অথবা 'তা' বর্ণে ফাতহাহ ও 'মীম' বর্ণে কাসরাহ যোগে পঠিত হয়; সাথে রয়েছে নুকতাহযুক্ত 'যাল' বর্ণ। এটি জাইহুন অর্থাৎ বল্খ নদীর প্রবাহপথের ওপর অবস্থিত একটি প্রাচীন শহরের নিসবত বা সম্পৃক্ততা। (আল-হাফিয): 'হাফিয' শব্দের সংজ্ঞা ও পরিচয় উপক্রমণিকায় বর্ণিত হয়েছে। সেখানে ইমাম আবু ঈসা তিরমিযীর জীবনী এবং তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম সংক্রান্ত আলোচনাও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
1 - أبواب الطهارةقَوْلُهُ (أَبْوَابُ الطَّهَارَةِ)
عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْوَابُ جَمْعُ بَابٍ وَهُوَ حَقِيقَةٌ لِمَا كَانَ حِسِّيًّا يُدْخَلُ مِنْهُ إِلَى غَيْرِهِ وَمَجَازٌ لِعِنْوَانِ جُمْلَةٍ مِنْ الْمَسَائِلِ الْمُتَنَاسِبَةِ
وَاعْلَمْ أَنَّهُ قَدْ جَرَتْ عَادَةُ أَكْثَرِ الْمُصَنِّفِينَ مِنْ الْفُقَهَاءِ أَنَّهُمْ يَذْكُرُونَ مَقَاصِدَهُمْ بِعِنْوَانِ الْكِتَابِ وَالْبَابِ وَالْفَصْلِ فَالْكِتَابُ عِنْدَهُمْ عِبَارَةٌ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الْمَسَائِلِ اُعْتُبِرَتْ مُسْتَقِلَّةً شَمِلَتْ أَنْوَاعًا أَوْ لَمْ تَشْمَلْ فَإِنْ كَانَ تَحْتَهُ أَنْوَاعٌ فَكُلُّ نَوْعٍ يُسَمَّى بِالْبَابِ وَالْأَشْخَاصُ الْمُنْدَرِجَةُ تَحْتَ النَّوْعِ تُسَمَّى بِالْفُصُولِ وَقَالَ السَّيِّدُ نُورُ الدِّينِ فِي فُرُوقِ اللُّغَاتِ
الْكِتَابُ هُوَ الْجَامِعُ لِمَسَائِلَ مُتَّحِدَةٍ فِي الْجِنْسِ مُخْتَلِفَةٍ فِي النَّوْعِ وَالْفَصْلُ هُوَ الْجَامِعُ لِمَسَائِلَ مُتَّحِدَةٍ فِي النَّوْعِ مُخْتَلِفَةٍ فِي الصِّنْفِ وَالْفَصْلُ هُوَ الْجَامِعُ لِمَسَائِلَ مُتَّحِدَةٍ فِي الصِّنْفِ مُخْتَلِفَةٍ فِي الشَّخْصِ
انْتَهَى
وَهَكَذَا جَرَتْ عَادَةُ أَكْثَرِ الْمُحَدِّثِينَ أَنَّهُمْ يَذْكُرُونَ الْأَحَادِيثَ وَالْآثَارَ فِي كُتُبِهِمْ عَلَى طَرِيقَةِ الْفُقَهَاءِ بِعِنْوَانِ الْكِتَابِ وَالْبَابِ
لَكِنَّ التِّرْمِذِيَّ يَذْكُرُ مَكَانَ الْكِتَابِ لَفْظَ الْأَبْوَابِ
وَلَفْظَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَبْوَابُ الطَّهَارَةِ وَأَبْوَابُ الصَّلَاةِ وَأَبْوَابُ الزَّكَاةِ وَهَكَذَا ثُمَّ يَزِيدُ بَعْدَ الْأَبْوَابِ مَثَلًا يَقُولُ أَبْوَابُ الطَّهَارَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبْوَابُ الصَّلَاةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال بَعْضُ الْعُلَمَاءِ فِي تَوَجُّهِ هَذِهِ الزِّيَادَةِ مَا لفظه فائدة ذكره أي ذُكِرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْإِشَارَةُ إِلَى أَنَّ الْأَحَادِيثَ الْوَارِدَةَ فِيهَا مَرْفُوعَاتٌ لَا مَوْقُوفَاتٌ ذَلِكَ لِأَنَّ قَبْلَ زَمَانِ التِّرْمِذِيِّ وَطَبَقَتِهِ كَانَتْ الْعَادَةُ أَنَّهُمْ كَانُوا يَخْلِطُونَ الأحاديث والآثار كما يفصح عنه مؤطا مَالِكٍ وَمَغَازِي مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ وَغَيْرُهُمَا ثُمَّ جَاءَ الْبُخَارِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَقْرَانُهُمَا فَمَيَّزُوا الْأَحَادِيثَ الْمَرْفُوعَةَ عَنْ الْآثَارِ انْتَهَى وَالْمُرَادُ
১ - পবিত্রতার অধ্যায়সমূহতাঁর উক্তি: (পবিত্রতার অধ্যায়সমূহ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। 'আবওয়াব' শব্দটি 'বাব' (অধ্যায়) শব্দের বহুবচন। আক্ষরিক অর্থে এটি এমন এক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রবেশপথকে বোঝায় যার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবেশ করা যায়; আর রূপক অর্থে এটি সমজাতীয় বা সঙ্গতিপূর্ণ মাসআলা বা বিষয়সমূহের সমষ্টির শিরোনামকে বোঝায়।
জেনে রাখুন যে, ফকিহগণের মধ্যে অধিকাংশ গ্রন্থকারের রীতি হলো তাঁরা তাঁদের আলোচ্য বিষয়সমূহকে 'কিতাব' (প্রধান অনুচ্ছেদ), 'বাব' (অধ্যায়) এবং 'ফাসল' (পরিচ্ছেদ) শিরোনামে উল্লেখ করেন। তাঁদের নিকট কিতাব বলতে এমন একগুচ্ছ মাসআলাকে বোঝায় যেগুলোকে স্বতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, চাই তা বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করুক বা না করুক। যদি এর অধীনে বিভিন্ন প্রকার থাকে, তবে প্রতিটি প্রকারকে 'বাব' বলা হয় এবং ঐ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহকে 'ফাসল' বলা হয়। সাইয়্যেদ নূরুদ্দীন 'ফুরূকুল লুগাত' গ্রন্থে বলেছেন:
'কিতাব' হলো এমন সব বিষয়ের সমষ্টি যা জেনাস বা মূল শ্রেণিতে অভিন্ন কিন্তু প্রকারে ভিন্ন। 'বাব' (অধ্যায়) হলো এমন সব বিষয়ের সমষ্টি যা প্রকারে অভিন্ন কিন্তু উপ-প্রকারে ভিন্ন। 'ফাসল' (পরিচ্ছেদ) হলো এমন সব বিষয়ের সমষ্টি যা উপ-প্রকারে অভিন্ন কিন্তু ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
সমাপ্ত।
একইভাবে অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের রীতিও এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে হাদিস ও আসারসমূহকে ফকিহদের অনুসৃত পদ্ধতিতে কিতাব ও বাব শিরোনামে উল্লেখ করেন।
কিন্তু ইমাম তিরমিযী (রহ.) কিতাব শব্দের পরিবর্তে 'আবওয়াব' (অধ্যায়সমূহ) শব্দটি ব্যবহার করেন।
এবং তিনি 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত' এই বাক্যাংশটি ব্যবহার করেন; তিনি বলেন—পবিত্রতার অধ্যায়সমূহ, সালাতের অধ্যায়সমূহ, যাকাতের অধ্যায়সমূহ এবং এভাবেই তিনি বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি 'আবওয়াব' শব্দের পরে অতিরিক্ত বাক্য যোগ করেন, যেমন তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পবিত্রতার অধ্যায়সমূহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সালাতের অধ্যায়সমূহ। কোনো কোনো আলেম এই অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করার কারণ সম্পর্কে বলেন যে, তাঁর এই উক্তির—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত—ফায়দা বা উপকারিতা হলো এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা যে, এর অধীনে বর্ণিত হাদিসগুলো 'মারফু' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস), 'মাওকুফ' (সাহাবীগণের বক্তব্য) নয়। এর কারণ হলো, ইমাম তিরমিযী ও তাঁর সমসাময়িক স্তরের মুহাদ্দিসদের যুগের আগে প্রচলিত রীতি ছিল যে, তাঁরা হাদিস এবং আসারসমূহকে একত্রে মিশ্রিত করে ফেলতেন, যা ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং মুসা ইবনে উকবার মাগাযী ও অন্যান্য কিতাবে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। অতঃপর ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিযী এবং তাঁদের সমসাময়িকগণ আগমন করেন এবং তাঁরা মারফু হাদিসসমূহকে আসার থেকে পৃথক করেন। সমাপ্ত। আর উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
مِنْ الطَّهَارَةِ الطَّهَارَةُ مِنْ الْحَدَثِ وَالْخَبَثِ وَأَصْلُهَا النَّظَافَةُ وَالنَّزَاهَةُ مِنْ كُلِّ عَيْبٍ حِسِّيٍّ أَوْ مَعْنَوِيٍّ وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ وَالطَّهَارَةُ لَمَّا كَانَتْ مِفْتَاحَ الصَّلَاةِ الَّتِي هِيَ عِمَادُ الدِّينِ اِفْتَتَحَ الْمُؤَلِّفُونَ بِهَا مُؤَلَّفَاتِهِمْ
قَوْلُهُ
((بَابُ مَا جَاءَ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ)) بِضَمِّ الطَّاءِ وَفَتْحِهَا
[1] قَوْلُهُ (حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ) بِضَمِّ الْقَافِ وَفَتْحِ الْمُثَنَّاةِ الْفَوْقَانِيَّةِ (بْنُ سَعِيدٍ) الثَّقَفِيُّ مَوْلَاهُمْ أَبُو رَجَاءٍ الْبَغْلَانِيُّ مُحَدِّثُ خُرَاسَانَ وُلِدَ سَنَةَ 149 تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ وَسَمِعَ مِنْ مالك والليث وبن لهيعة وشريك وطبقتهم وعنه الجماعة سوى بن مَاجَهْ وَكَانَ ثِقَةً عَالِمًا صَاحِبَ حَدِيثٍ وَرِحْلَاتٍ وكان غنيا متمولا قال بن مَعِينٍ ثِقَةٌ وَقَالَ النَّسَائِيُّ ثِقَةٌ مَأْمُونٌ مَاتَ سَنَةَ 240 أَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ عَنْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ سَنَةً
كَذَا فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ (أَبُو عَوَانَةَ) اِسْمُهُ الْوَضَّاحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَشْكُرِيُّ الْوَاسِطِيُّ الْبَزَّازُ أحد الأعلام روى عن قتادة وبن الْمُنْكَدِرِ وَخَلْقٍ وَعَنْهُ قُتَيْبَةُ وَمُسَدَّدٌ وَخَلَائِقُ ثِقَةٌ ثَبْتٌ مَاتَ سَنَةَ 176 سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ
فائدة قَالَ النَّوَوِيُّ جَرَتْ عَادَةُ أَهْلِ الْحَدِيثِ بِحَذْفِ قَالَ وَنَحْوِهِ فِيمَا بَيْنَ رِجَالِ الْإِسْنَادِ فِي الخط وينبغي للقارىء أن يلفظ بها انتهى
قلت فينبغي للقارىء أَنْ يَقْرَأَ هَذَا السَّنَدَ هَكَذَا قَالَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ بِذِكْرِ لَفْظِ قَالَ قَبْلَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ وَقَبْلَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ
(عَنْ سِمَاكِ) بِكَسْرِ السِّينِ المهملة وتخفيف الميم (بن حَرْبِ) بْنِ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ الذُّهْلِيُّ الْبَكْرِيُّ الْكُوفِيِّ صَدُوقٌ وَرِوَايَتُهُ
عَنْ عِكْرِمَةَ خَاصَّةٌ مُضْطَرِبَةٌ وَقَدْ تَغَيَّرَ بِآخِرِهِ فَكَانَ رُبَّمَا يُلَقِّنُ كَذَا في التقريب وقال في الخلاصة أحدالأعلام التَّابِعِينَ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ ثُمَّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ وَمُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ وَغَيْرِهِمْ وَعَنْهُ الْأَعْمَشُ وَشُعْبَةُ وَإِسْرَائِيلُ وزائدة وأبو عوانة وخلق قال بن الْمَدِينِيِّ لَهُ نَحْوُ مِائَتَيْ حَدِيثٍ وَقَالَ أَحْمَدُ أَصَحُّ حَدِيثًا مِنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَمْرٍو وثقه أبو حاتم وبن معين في رواية بن أبي خيثمة وبن أَبِي مَرْيَمَ وَقَالَ أَبُو طَالِبٍ عَنْ أَحْمَدَ مُضْطَرِبُ الْحَدِيثِ
قُلْتُ عَنْ عِكْرِمَةَ فَقَطْ مَاتَ سنة 123 ثلاث وعشرين ومائة انتهى اِعْلَمْ أَنَّهُ إِذَا كَانَ لِلْحَدِيثِ إِسْنَادَانِ أَوْ أَكْثَرُ كَتَبُوا عِنْدَ الِانْتِقَالِ مِنْ إِسْنَادٍ إِلَى إِسْنَادٍ ح وَهِيَ حَاءٌ مُهْمَلَةٌ مُفْرَدَةٌ وَالْمُخْتَارُ أَنَّهَا مَأْخُوذَةٌ مِنْ التَّحَوُّلِ لِتَحَوُّلِهِ مِنْ إِسْنَادٍ إلى إسناد وأنه يقول القاريء إِذَا انْتَهَى إِلَيْهَا ح وَيَسْتَمِرُّ فِي قِرَاءَةِ مَا بَعْدَهَا وَقِيلَ إِنَّهَا مِنْ حَالَ الشَّيْءُ يَحُولُ إِذَا حَجَزَ لِكَوْنِهَا حَالَتْ بَيْنَ الْإِسْنَادَيْنِ وأنه لا
পবিত্রতা (তাহারাত) হলো অপবিত্রতা (হাদাস) এবং নাপাকি (খাবাস) থেকে বিমুক্ত হওয়া। এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা এবং যে কোনো দৃশ্যমান বা অদৃশ্য খুঁত থেকে পবিত্র হওয়া। এ অর্থেই মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা এমন এক জাতি যারা পবিত্রতা অর্জন করে।" যেহেতু পবিত্রতা হলো নামাজের চাবিকাঠি, আর নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ, তাই লেখকগণ তাদের গ্রন্থসমূহ পবিত্রতার আলোচনার মাধ্যমেই শুরু করেছেন।
তার কথা:
((অধ্যায়: পবিত্রতা ব্যতীত কোনো নামাজ কবুল হয় না বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে)) এখানে 'ত' (ত্বা) বর্ণটি পেশ (যম্মাহ) অথবা জবর (ফাতহাহ) উভয় যোগে পড়া যায়।
[১] তার কথা (কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন): এখানে ‘কাফ’ বর্ণে পেশ এবং ‘তা’ বর্ণে জবর হবে। (তিনি হলেন সাঈদ-এর পুত্র) আস-সাকাফী, তাদের আযাদকৃত দাস, আবু রাজা আল-বাঘলানী, খোরাসানের মুহাদ্দিস। তিনি ১৪৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মালিক, লাইস, ইবনে লাহিয়াহ, শারিক এবং তাদের সমপর্যায়ের মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। ইবনে মাজাহ ব্যতীত ‘আল-জামাআহ’ (সিহাহ সিত্তার বাকি পাঁচজন ইমাম) তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), আলিম, হাদিস বিশারদ এবং পর্যটক। তিনি অত্যন্ত ধনবান ও সম্পদশালী ছিলেন। ইবনে মাঈন বলেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য"। ইমাম নাসাঈ বলেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত"। তিনি ২৪০ হিজরি সনে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
‘তাযকিরাতুল হুফফায’ গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে। (আবু আওয়ানাহ): তার নাম আল-ওয়াদদাহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়াশকারী আল-ওয়াসিতী আল-বাযযায, তিনি অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম। তিনি কাতাদাহ, ইবনুল মুনকাদির এবং অসংখ্য রাবীর থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে কুতাইবা, মুসাদ্দাদ এবং আরও বহু সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন। তিনি ১৭৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
একটি জ্ঞাতব্য বিষয়: ইমাম নববী বলেছেন, মুহাদ্দিসগণের রীতি হলো লেখার সময় সনদ বা বর্ণনাকারীদের পরম্পরার মাঝখানে 'তিনি বলেছেন' (ক্বালা) এবং এই জাতীয় শব্দগুলো বাদ দেওয়া, তবে পাঠকের উচিত পড়ার সময় তা মুখে উচ্চারণ করা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বলছি: সুতরাং পাঠকের উচিত এই সনদটি এভাবে পড়া: "তিনি বলেছেন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।" অর্থাৎ 'কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'আবু আওয়ানাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'—এই কথাগুলোর আগে 'তিনি বলেছেন' শব্দটি উচ্চারণ করা উচিত।
(সিমাক থেকে): এখানে ‘সীন’ বর্ণে যের এবং ‘মীম’ বর্ণটি হালকাভাবে (তাজদীদ ছাড়া) উচ্চারিত হবে। (তিনি হারব-এর পুত্র): ইবনে আওস ইবনে খালিদ আদ-দুহলী আল-বাকরী আল-কূফী। তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে বিশেষ করে ইকরিমা থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলো বিভ্রান্তিপূর্ণ (মুতযারিব)। জীবনের শেষ ভাগে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল, ফলে কখনো কখনো তাকে যা শিখিয়ে দেওয়া হতো তিনি তাই বলতেন। ‘তাকরীব’ গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ আছে।
এবং ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি প্রখ্যাত তাবেয়ীদের একজন। তিনি জাবির ইবনে সামুরাহ এবং নুমান ইবনে বাশীর থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আলকামাহ ইবনে ওয়াইল, মুসআব ইবনে সাদ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আমাশ, শুবা, ইসরাঈল, যায়িদাহ, আবু আওয়ানাহ এবং অসংখ্য রাবী বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মাদীনী বলেন, তার প্রায় দুইশত হাদিস রয়েছে। ইমাম আহমদ বলেন, আবদুল মালিক ইবনে আমরের তুলনায় তার হাদিস অধিক বিশুদ্ধ। আবু হাতিম এবং ইবনে মাঈন (ইবনে আবি খায়সামা ও ইবনে আবি মারইয়ামের বর্ণনা অনুযায়ী) তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে আবু তালিব ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তার হাদিস বিভ্রান্তিপূর্ণ (মুতযারিব)।
আমি বলছি: (এই বিভ্রান্তি) কেবল ইকরিমা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি ১২৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। জেনে রাখুন যে, যখন কোনো হাদিসের দুই বা ততোধিক সনদ থাকে, তখন এক সনদ থেকে অন্য সনদে যাওয়ার সময় মুহাদ্দিসগণ ‘হ’ (ح) লিখে থাকেন। এটি একটি একক বর্ণ। পছন্দনীয় মত হলো, এটি ‘তাহাউল’ (রূপান্তর) শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যেহেতু এটি এক সনদ থেকে অন্য সনদে রূপান্তর বা উত্তরণ ঘটায়। পাঠক যখন সেখানে পৌঁছাবেন, তখন তার ‘হ’ বলা উচিত এবং পরবর্তী অংশ পড়া চালিয়ে যাওয়া উচিত। কেউ কেউ বলেন, এটি ‘হালা’ (আড়াল হওয়া) শব্দ থেকে এসেছে, কারণ এটি দুই সনদের মাঝে আড়াল বা প্রতিবন্ধক হিসেবে অবস্থান করে এবং এটি কোনো...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
يَلْفِظُ عِنْدَ الِانْتِهَاءِ إِلَيْهَا بِشَيْءٍ وَلَيْسَتْ مِنْ الرِّوَايَةِ وَقِيلَ إِنَّهَا رَمْزٌ إِلَى قَوْلِهِ الْحَدِيثَ وَإَنَّ أَهْلَ الْمَغْرِبِ كُلَّهُمْ يَقُولُونَ إِذَا وَصَلُوا إِلَيْهَا الْحَدِيثَ قَالَهُ النَّوَوِيُّ (قَالَ ونا هَنَّادٌ) أَيْ قَالَ أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ وهو بن السَّرِيِّ بْنِ مُصْعَبٍ الْحَافِظُ الْقُدْوَةُ الزَّاهِدُ شَيْخُ الْكُوفَةِ أَبُو السَّرِيِّ التَّمِيمِيُّ الدَّارِمِيُّ رَوَى عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ سَلَّامٌ وَشَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ وَطَبَقَتُهُمْ وَعَنْهُ الْجَمَاعَةُ سِوَى الْبُخَارِيِّ وَخَلْقٍ سُئِلَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَمَّنْ يَكْتُبُ بِالْكُوفَةِ قَالَ عَلَيْكُمْ بِهَنَّادٍ قَالَ قُتَيْبَةُ ما رأيت وكيعا يعظم أحدا تعظيمه هناد ثُمَّ يَسْأَلُهُ عَنْ الْأَهْلِ
وَقَالَ النَّسَائِيُّ ثِقَةٌ تُوُفِّيَ سَنَةَ 243 ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ عَنْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ سَنَةً وَمَا تَزَوَّجَ قَطُّ وَلَا تَسَرَّى وَكَانَ يُقَالُ لَهُ رَاهِبُ الْكُوفَةِ وَلَهُ مُصَنَّفٌ كَبِيرٌ فِي الزُّهْدِ
كَذَا فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظ
تَنْبِيهٌ قَالَ صَاحِبُ الْعَرْفِ الشَّذِيِّ مَا لَفْظُهُ رُبَّمَا تَجِدُ فِي كُتُبِ الصِّحَاحِ وَغَيْرِهَا أَنَّهُمْ يَبْدَءُونَ السَّنَدَ مِنْ الْأَوَّلِ أَيْ الْأَعْلَى بِالْعَنْعَنَةِ ثُمَّ فِي الْأَسْفَلِ بِالْإِخْبَارِ وَالتَّحْدِيثِ لِأَنَّ التَّدْلِيسَ لَمْ يَكُنْ فِي السَّلَفِ وَحَدَثَ فِي الْمُتَأَخِّرِينَ فَاحْتَاجَ الْمُحَدِّثُونَ إِلَى التَّصْرِيحِ بِالسَّمَاعِ
انْتَهَى
قُلْتُ قَوْلُهُ التَّدْلِيسُ لَمْ يَكُنْ فِي السَّلَفِ وَحَدَثَ فِي الْمُتَأَخِّرِينَ مَبْنِيٌّ عَلَى غَفْلَتِهِ عَنْ أَسْمَاءِ الرِّجَالِ فَقَدْ كَانَ التَّدْلِيسُ فِي السَّلَفِ وَكَانَ كَثِيرٌ مِنْ التَّابِعِينَ وَأَتْبَاعُهُمْ مُدَلِّسِينَ وَهَذَا أَمْرٌ جلي عند من طالع كتب أَسْمَاءِ الرِّجَالِ وَالْكُتُبَ الْمُؤَلَّفَةَ فِي الْمُدَلِّسِينَ وَمِنْ التَّابِعِينَ الَّذِينَ كَانُوا مَوْصُوفِينَ بِالتَّدْلِيسِ مَعْرُوفِينَ بِهِ قَتَادَةُ وَأَبُو الزُّبَيْرِ الْمَكِّيُّ وَحَمِيد الطَّوِيلُ وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السَّبِيعِيُّ وَالزُّهْرِيُّ وَالْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وحبيب بن أبي ثابت الكوفي وبن جُرَيْجٍ الْمَكِّيُّ وَسُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ وَسُلَيْمَانُ بْنُ مَهْرَانَ الْأَعْمَشُ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ الْمَدَنِيُّ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ الْقِبْطِيُّ الْكُوفِيُّ وَعَطِيَّةُ بْنُ سَعِيدٍ العوفي وغيرهم فهؤلاء كلهم من التابعين موصفون بِالتَّدْلِيسِ
فَقَوْلُ هَذَا الْقَائِلِ التَّدْلِيسُ لَمْ يَكُنْ فِي السَّلَفِ وَحَدَثَ فِي الْمُتَأَخِّرِينَ بَاطِلٌ بِلَا مِرْيَةٍ بَلْ الْأَمْرُ بِالْعَكْسِ قَالَ الْفَاضِلُ اللَّكْنَوِيُّ فِي ظَفْرِ الْأَمَانِي ص 213 قَالَ الْحَلَبِيُّ فِي التَّبْيِينِ التَّدْلِيسُ بَعْدَ سَنَةِ ثَلَاثِمِائَةٍ يَقِلُّ جِدًّا قَالَ الْحَاكِمُ لَا أَعْرِفُ فِي الْمُتَأَخِّرِينَ يُذْكَرُ بِهِ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيَّ انْتَهَى
تنبيه آخر وَقَالَ هَذَا الْقَائِلُ قَالَ شُعْبَةُ إِنَّ التَّدْلِيسَ حَرَامٌ وَالْمُدَلِّسَ سَاقِطُ الْعَدَالَةِ وَمِنْ ثَمَّ قَالُوا السَّنَدُ الَّذِي فِيهِ شُعْبَةُ بَرِيءٌ مِنْ التَّدْلِيسِ وَإِنْ كَانَ بِالْعَنْعَنَةِ انْتَهَى
قُلْتُ لَمْ يَقُلْ أَحَدٌ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ أَنَّ السَّنَدَ الَّذِي فِيهِ شُعْبَةُ بَرِيءٌ مِنْ التَّدْلِيسِ بَلْ قَالُوا إِنَّ شُعْبَةَ لَا يَرْوِي عَنْ شُيُوخِهِ الْمُدَلِّسِينَ إِلَّا مَا هُوَ مَسْمُوعٌ لَهُمْ صَرَّحَ بِهِ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ وَقَالَ الْبَيْهَقِيُّ فِي الْمَعْرِفَةِ رَوَيْنَا عَنْ شُعْبَةَ قَالَ كُنْتُ أَتَفَقَّدُ فَمَ قَتَادَةَ فَإِذَا قَالَ ثَنَا وَسَمِعْتُ حَفِظْته وَإِذَا
সেখানে পৌঁছালে কোনো কিছুই উচ্চারণ করা হবে না এবং এটি মূল বর্ণনার অংশ নয়। বলা হয়েছে যে, এটি 'আল-হাদীস' (অর্থাৎ হাদীসের বাকি অংশ) বলার প্রতি একটি সংকেত। মাগরিব অঞ্চলের অধিবাসীগণ যখন সেখানে পৌঁছান, তখন তারা সকলে 'আল-হাদীস' বলেন; ইমাম নববী এটি উল্লেখ করেছেন। (তিনি বললেন: আমাদের নিকট হান্নাদ বর্ণনা করেছেন) অর্থাৎ আবু ঈসা তিরমিযী বলেছেন: আমাদের নিকট হান্নাদ ইবনুল সারী ইবনে মুসআব বর্ণনা করেছেন, যিনি হাফিজ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, পরম পরহেজগার এবং কূফার শায়খ। তিনি হলেন আবু আস-সারী আত-তামীমী আদ-দারিমী। তিনি আবু আল-আহওয়াস সালাম, শারীক ইবনে আবদুল্লাহ, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ব্যতীত 'জামায়াত' (অন্যান্য প্রধান হাদীস সংকলকগণ) এবং এক বিশাল জনসমষ্টি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কূফায় কার নিকট থেকে হাদীস লিখে রাখা হবে? তিনি বললেন: তোমরা হান্নাদকে আঁকড়ে ধরো। কুতায়বাহ বলেছেন: আমি ওয়াকী'কে হান্নাদের মতো আর কাউকে এতোটা সম্মান করতে দেখিনি; তিনি এমনকি তাঁর পরিবার সম্পর্কেও তাকে জিজ্ঞাসা করতেন।
ইমাম নাসাঈ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। তিনি ২৪৩ হিজরীতে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কখনো বিবাহ করেননি এবং কোনো দাসীও গ্রহণ করেননি। তাঁকে 'কূফার দরবেশ' (রাহিবুল কূফা) বলা হতো। যুহদ বা কৃচ্ছ্রসাধন বিষয়ে তাঁর একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে।
তাজকিরাতুল হুফফায গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
সতর্কতা: 'আল-আরফুশ শাযী' গ্রন্থের লেখক যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো—সম্ভবত আপনি সহীহ ও অন্যান্য গ্রন্থসমূহে দেখতে পাবেন যে, তারা সনদের শুরুতে অর্থাৎ উপরের স্তরে 'আনআনা' (অমুক হতে) দিয়ে শুরু করেন, অতঃপর নিচের স্তরে ইখবার বা তাহদীস (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বা বর্ণনা করেছেন) ব্যবহার করেন। কারণ সালাফদের মধ্যে তাদলীস ছিল না, এটি পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত হয়েছে; ফলে মুহাদ্দিসগণ সরাসরি শ্রবণের (সামা') স্পষ্ট উচ্চারণের মুখাপেক্ষী হয়েছেন।
সমাপ্ত
আমি (গ্রন্থকার) বলি: তাঁর এই বক্তব্য—'সালাফদের মধ্যে তাদলীস ছিল না এবং এটি পরবর্তীদের মধ্যে শুরু হয়েছে'—আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী) সম্পর্কে তাঁর উদাসীনতার ওপর ভিত্তি করে রচিত। কারণ সালাফদের মধ্যেও তাদলীস বিদ্যমান ছিল। অনেক তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী মুদাল্লিস (তাদলীসকারী) ছিলেন। যারা আসমাউর রিজাল এবং মুদাল্লিসদের বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদলীসের গুণে গুণান্বিত এবং এ বিষয়ে পরিচিত তাবেয়ীদের মধ্যে রয়েছেন: কাতাদাহ, আবু যুবায়র আল-মাক্কী, হুমায়দ আত-তবিল, আমর ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাবীয়ী, যুহরী, হাসান বসরী, হাবীব ইবনে আবু সাবিত আল-কূফী, ইবনে জুরায়জ আল-মাক্কী, সুলায়মান আত-তায়ীমী, সুলায়মান ইবনে মাহরান আল-আ'মাশ, মুহাম্মদ ইবনে আজলান আল-মাদানী, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর আল-কিবতী আল-কূফী, আতিয়্যাহ ইবনে সাঈদ আল-আউফী প্রমুখ। এই সকলেই তাবেয়ী এবং তাদলীসের বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত।
সুতরাং এই বক্তার কথা—'সালাফদের মধ্যে তাদলীস ছিল না এবং তা পরবর্তীদের মধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে'—নিঃসন্দেহে একটি বাতিল বা ভিত্তিহীন কথা। বরং বিষয়টি এর ঠিক উল্টো। ফাজেল লাখনৌভী 'জাফরুল আমানী' গ্রন্থের ২১৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: হালাবী 'আত-তাবয়ীন' গ্রন্থে বলেছেন যে, ৩০০ হিজরীর পরে তাদলীস অত্যন্ত কমে গিয়েছে। হাকেম বলেছেন: পরবর্তীদের মধ্যে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-বাগান্দী ব্যতীত আর কাউকে তাদলীসের জন্য উল্লেখ করা হয় বলে আমার জানা নেই। সমাপ্ত।
অন্য একটি সতর্কতা: উক্ত বক্তা বলেছেন যে, ইমাম শু'বাহ বলেছেন: তাদলীস করা হারাম এবং মুদাল্লিসের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ক্ষুন্ন হয়। এ কারণেই তারা বলেন যে, যে সনদে শু'বাহ রয়েছেন তা তাদলীস থেকে মুক্ত, যদিও সেখানে 'আনআনা' ব্যবহৃত হয়। সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলি: হাদীস বিশারদ ইমামদের কেউই একথা বলেননি যে, যে সনদে শু'বাহ রয়েছেন তা তাদলীস থেকে মুক্ত। বরং তারা বলেছেন যে, শু'বাহ তাঁর মুদাল্লিস উস্তাদদের থেকে কেবল সেটুকুই বর্ণনা করেন যা সরাসরি তাঁদের থেকে শুনেছেন। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'তে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর বায়হাকী 'আল-মারিফাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমরা শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন—আমি কাতাদাহর মুখের দিকে লক্ষ্য রাখতাম; যখন তিনি 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'আমি শুনেছি' বলতেন, তখন আমি তা মুখস্থ করতাম; আর যখন তিনি (অন্য শব্দ বলতেন)...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
قَالَ حَدَّثَ فُلَانٌ تَرَكْته وَقَالَ رَوَيْنَا عَنْ شُعْبَةَ أَنَّهُ قَالَ كَفَيْتُكُمْ تَدْلِيسَ ثَلَاثَةٍ الْأَعْمَشِ وَأَبِي إِسْحَاقَ وَقَتَادَةَ قَالَ الْحَافِظُ فِي كِتَابِهِ تَعْرِيفِ أَهْلِ التَّقْدِيسِ بِمَرَاتِبِ الْمَوْصُوفِينَ بِالتَّدْلِيسِ بَعْدَ ذِكْرِ كَلَامِ الْبَيْهَقِيِّ هَذَا مَا لَفْظُهُ فَهَذِهِ قَاعِدَةٌ جَيِّدَةٌ فِي أَحَادِيثِ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةِ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ مِنْ طَرِيقِ شُعْبَةَ دَلَّتْ عَلَى السَّمَاعِ وَلَوْ كَانَتْ مُعَنْعَنَةً انْتَهَى
وَأَمَّا الْقَوْلُ بِأَنَّ السَّنَدَ الَّذِي فِيهِ شُعْبَةُ بَرِيءٌ مِنْ التَّدْلِيسِ فَلَمْ يَقُلْ بِهَذَا الْإِطْلَاقِ أَحَدٌ
فَتَفَكَّرْ (نا وكيع) هو بن الْجَرَّاحِ بْنُ مَلِيحٍ الرَّوَّاسِيُّ الْكُوفِيُّ مُحَدِّثُ الْعِرَاقِ وُلِدَ سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ سَمِعَ هِشَامَ بن عروة والأعمش وبن عون وبن جريح وسفيان وخلائق وعنه بن المبارك مع تقدمه وأحمد وبن الْمَدِينِيِّ وَيَحْيَى وَإِسْحَاقُ وَزُهَيْرٌ وَأُمَمٌ سِوَاهُمْ وَكَانَ أَبُوهُ عَلَى بَيْتِ الْمَالِ وَأَرَادَ الرَّشِيدُ أَنْ يُوَلِّيَ وَكِيعًا قَضَاءَ الْكُوفَةِ فَامْتَنَعَ وَقَالَ أَحْمَدُ مَا رَأَيْتُ أَوْعَى لِلْعِلْمِ وَلَا أَحْفَظَ مِنْ وَكِيعٍ تُوُفِّيَ سَنَةَ 197 سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَذَا فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ وَقَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ ثِقَةٌ حَافِظٌ
تنبيه قَالَ بَعْضُ الْحَنَفِيَّةِ إِنَّ وَكِيعَ بْنَ الْجَرَّاحِ كَانَ يُفْتِي بِقَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَكَانَ قَدْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا كَثِيرًا انْتَهَى
وَزَعَمَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ كَانَ حَنَفِيًّا يُفْتِي بِقَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَيُقَلِّدُهُ
قُلْتُ الْقَوْلُ بِأَنَّ وَكِيعًا كَانَ حَنَفِيًّا يُقَلِّدُ أَبَا حَنِيفَةَ بَاطِلٌ جِدًّا أَلَا تَرَى أَنَّ التِّرْمِذِيَّ قَالَ فِي جَامِعِهِ هَذَا فِي بَابِ إِشْعَارِ الْبُدْنِ سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ عِيسَى يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ حِينَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ (يَعْنِي حديث بن عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَلَّدَ النَّعْلَيْنِ وَأَشْعَرَ الْهَدْيَ) فَقَالَ لَا تَنْظُرُوا إِلَى قَوْلِ أَهْلِ الرَّأْيِ فِي الْإِشْعَارِ فَإِنَّ الْإِشْعَارَ سُنَّةٌ وَقَوْلَهُمْ بِدْعَةٌ وَسَمِعْتُ أَبَا السَّائِبِ يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ وَكِيعٍ فَقَالَ رَجُلٌ مِمَّنْ يَنْظُرُ فِي الرَّأْيِ أَشْعَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيَقُولُ أَبُو حَنِيفَةَ هُوَ مُثْلَةٌ قَالَ الرَّجُلُ فَإِنَّهُ قَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ قَالَ الْإِشْعَارُ مُثْلَةٌ
قَالَ فَرَأَيْتُ وَكِيعًا غَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا وَقَالَ أَقُولُ لَكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَقُولُ قَالَ إِبْرَاهِيمُ مَا أَحَقَّكَ بِأَنْ تُحْبَسَ ثُمَّ لَا تَخْرُجَ حَتَّى تَنْزِعَ عَنْ قَوْلِكَ هَذَا انْتَهَى فَقَوْلُ وَكِيعٍ هَذَا مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ يُنَادِي بِأَعْلَى نِدَاءٍ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ مُقَلِّدًا لِأَبِي حَنِيفَةَ وَلَا لِغَيْرِهِ بَلْ كَانَ مُتَّبِعًا لِلسُّنَّةِ مُنْكِرًا أَشَدَّ الْإِنْكَارِ عَلَى مَنْ يُخَالِفُ السُّنَّةَ وَعَلَى مَنْ يُذْكَرُ عِنْدَهُ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَذْكُرُ هُوَ قَوْلَ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ مُخَالِفًا لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا مَنْ قَالَ إِنَّ وَكِيعًا كَانَ يُفْتِي بِقَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ فَلَيْسَ مُرَادُهُ أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي بِقَوْلِهِ فِي جَمِيعِ الْمَسَائِلِ بَلْ مُرَادُهُ أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي بِقَوْلِهِ فِي بَعْضِ الْمَسَائِلِ ثُمَّ لَمْ يَكُنْ إِفْتَاؤُهُ فِي بَعْضِهَا تَقْلِيدًا لِأَبِي حنفية بَلْ كَانَ اِجْتِهَادًا مِنْهُ فَوَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَهُ فَظُنَّ أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي بِقَوْلِهِ وَالدَّلِيلُ عَلَى هَذَا كُلِّهِ قَوْلُ وَكِيعٍ الْمَذْكُورُ ثُمَّ الظَّاهِرُ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ الَّتِي يُفْتِي فِيهَا وَكِيعٌ بِقَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ هِيَ شُرْبُ نَبِيذِ الْكُوفِيِّينَ قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ فِي تَرْجَمَتِهِ مَا فِيهِ إِلَّا شُرْبُهُ لِنَبِيذِ الْكُوفِيِّينَ وَمُلَازَمَتُهُ لَهُ جَاءَ ذَلِكَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْهُ انتهى
তিনি বললেন: অমুক বর্ণনা করেছেন, আমি তা বর্জন করেছি। তিনি বললেন: আমরা শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে তিনজনের তাদলীস (সনদের দোষ গোপন করা) থেকে রক্ষা করেছি: আল-আ'মাশ, আবু ইসহাক এবং কাতাদাহ।" আল-হাফিয (ইবনে হাজার) তাঁর 'তা'রীফ আহলিত তাকদীস বি মারাতীবিল মাওসূফীনা বিত তাদলীস' গ্রন্থে ইমাম বায়হাকীর উক্তি উল্লেখ করার পর বলেছেন, যার ভাষ্য নিম্নরূপ: "এই তিনজনের হাদীসের ক্ষেত্রে এটি একটি চমৎকার মূলনীতি যে, যখন তাঁদের হাদীস শু'বাহর মাধ্যমে বর্ণিত হয়, তখন তা সরাসরি শ্রবণের (সামা') প্রমাণ দেয়, যদিও তা 'আনআনা' (একজন থেকে অন্যজন সূত্রে) পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়।" সমাপ্ত।
আর এই যে দাবি করা হয়—শু'বাহ যে সনদে আছেন তা তাদলীস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত—এই নিরঙ্কুশ কথাটি কেউ বলেননি।
অতএব চিন্তা করুন। (আমাদের কাছে ওয়াকী' বর্ণনা করেছেন): তিনি হলেন ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ ইবনে মালীহ আর-রাওয়াসী আল-কূফী, ইরাকের মুহাদ্দিস। তিনি ১২৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ, আল-আ'মাশ, ইবনে আওন, ইবনে জুরাইজ, সুফইয়ান এবং বহু সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে ইবনুল মুবারক (তাঁর অগ্রজ হওয়া সত্ত্বেও), আহমাদ, ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া, ইসহাক, যুহায়র এবং অগণিত মানুষ বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতা বাইতুল মালের দায়িত্বে ছিলেন। খলীফা রশীদ ওয়াকী'কে কূফার বিচারক (কাযী) নিযুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন: "আমি ওয়াকী'র চেয়ে বড় ইলমের ভাণ্ডার এবং বড় হাফিয আর কাউকে দেখিনি।" তিনি ১৯৭ হিজরীর আশূরার দিনে ইন্তেকাল করেন। 'তাযকিরাতুল হুফফায' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে। আল-হাফিয 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য এবং মহান হাফিয (সিকাহ হাফিয)।"
সতর্কীকরণ: জনৈক হানাফী আলিম বলেছেন যে, ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ আবু হানীফার মতানুসারে ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর থেকে অনেক কিছু শ্রবণ করেছিলেন। সমাপ্ত।
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে তিনি হানাফী ছিলেন, আবু হানীফার মতে ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর তাকলীদ (অনুসরণ) করতেন।
আমি বলি: ওয়াকী' হানাফী ছিলেন এবং আবু হানীফার তাকলীদ করতেন—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনি কি দেখেননি যে, ইমাম তিরমিযী তাঁর 'জামি' গ্রন্থে 'কুরবানীর পশুর চিহ্ন প্রদান' (ইশআরুল বুদন) অধ্যায়ে বলেছেন: "আমি ইউসুফ ইবনে ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ওয়াকী'কে এই হাদীসটি বর্ণনা করার সময় বলতে শুনেছি (অর্থাৎ ইবনে আব্বাসের হাদীস যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুতা ঝুলিয়েছিলেন এবং কুরবানীর পশুর শরীরে চিহ্ন দিয়েছিলেন): 'তোমরা ইশআর বা চিহ্ন দেওয়ার বিষয়ে আহলুর রায়ের (যুক্তিপন্থীদের) কথার দিকে তাকাবে না; কারণ ইশআর হলো সুন্নাত, আর তাদের কথা হলো বিদ'আত'।" এবং আমি আবু সাইবকে বলতে শুনেছি যে, আমরা ওয়াকী'র কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় আহলুর রায়ের সমর্থকদের একজন ব্যক্তি বলল, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইশআর করেছেন, অথচ আবু হানীফা বলেন এটি অঙ্গহানি (মুসলাহ)।' লোকটি আরও বলল, 'ইবরাহীম নাখঈ থেকেও তো বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ইশআরকে অঙ্গহানি বা মুসলাহ বলেছেন'।
বর্ণনাকারী বলেন: "আমি দেখলাম ওয়াকী' প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, 'আমি তোমাকে বলছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছো যে ইবরাহীম বলেছেন! তুমি কারারুদ্ধ হওয়ার কতই না যোগ্য, এরপর যতক্ষণ না তুমি তোমার এই উক্তি থেকে তওবা করো ততক্ষণ তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে না'।" সমাপ্ত। ওয়াকী'র এই উক্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করছে যে, তিনি আবু হানীফা বা অন্য কারো মুকাল্লিদ ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন সুন্নাতের অনুসারী এবং সুন্নাতের বিরুদ্ধাচরণকারীদের প্রতি কঠোর প্রতিবাদী। বিশেষ করে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর সামনে মানুষের কোনো মত পেশ করে তাঁর বিরোধিতা করে, তিনি তাদের তীব্র নিন্দা জানাতেন। আর যারা বলেছেন যে ওয়াকী' আবু হানীফার মতে ফতোয়া দিতেন, তাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে তিনি সকল মাসআলায় তাঁর মতে ফতোয়া দিতেন। বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো যে তিনি কিছু মাসআলায় তাঁর মত অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। এরপর সেই ফতোয়া প্রদানও আবু হানীফার তাকলীদ হিসেবে ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ; ফলে তাঁর মতটি আবু হানীফার মতের সাথে মিলে গিয়েছিল। তাই ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি বুঝি তাঁর মতেই ফতোয়া দিতেন। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো ওয়াকী'র পূর্বোল্লিখিত উক্তি। তাছাড়া স্পষ্টত যে মাসআলায় ওয়াকী' আবু হানীফার মতানুসারে ফতোয়া দিতেন, তা ছিল কূফাবাসীদের বিশেষ পানীয় 'নাবীয' পান করা সংক্রান্ত। আল-হাফিয আয-যাহাবী 'তাযকিরাতুল হুফফায' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "তাঁর মধ্যে কূফাবাসীদের নাবীয পান করা এবং তাতে অভ্যস্ত হওয়া ছাড়া (আপত্তিকর) আর কিছু নেই। এটি তাঁর থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
(عن إسرائيل هو بْنُ) يُونُسَ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ الْكُوفِيُّ قَالَ أَحْمَدُ ثَبْتٌ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ صَدُوقٌ مِنْ أَتْقَنِ أَصْحَابِ إِسْحَاقَ قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ ثِقَةٌ تُكُلِّمَ فِيهِ بِلَا حُجَّةٍ (عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ) بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ الزُّهْرِيِّ الْمَدَنِيِّ ثِقَةٌ مِنْ أَوْسَاطِ التَّابِعِينَ أَرْسَلَ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ مَاتَ سَنَةَ 301 ثَلَاثٍ وَمِائَةٍ (عن بن عُمَرَ) هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنُ الْخَطَّابِ الْعَدَوِيُّ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وُلِدَ بَعْدَ المبعث بيسير واستصغر يوم أحد وهو بن أربع عشرة سنةوهو أَحَدُ الْمُكْثِرِينَ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالْعَبَادِلَةِ وَكَانَ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ اِتِّبَاعًا لِلْأَثَرِ مَاتَ سَنَةَ 37 ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِي آخِرِهَا أَوْ أَوَّلِ الَّتِي تَلِيَهَا
كَذَا فِي التَّقْرِيبِ
قَوْلُهُ (لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ) بِضَمِّ الطَّاءِ وَالْمُرَادُ بِهِ مَا هُوَ أَعَمُّ مِنْ الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ قَالَ النَّوَوِيُّ قَالَ جُمْهُورُ أَهْلِ اللُّغَةِ يُقَالُ الطُّهُورُ وَالْوُضُوءُ بِضَمِّ أَوَّلِهِمَا إِذَا أُرِيدَ بِهِ الْفِعْلُ الَّذِي هُوَ الْمَصْدَرُ وَيُقَالُ الطَّهُورُ وَالْوَضُوءُ بِفَتْحِ أَوَّلِهِمَا إِذَا أُرِيدَ بِهِ الْمَاءُ الَّذِي يُتَطَهَّرُ بِهِ هكذا نقله بن الْأَنْبَارِيِّ وَجَمَاعَاتٌ مِنْ أَهْلِ اللُّغَةِ وَغَيْرُهُمْ عَنْ أَكْثَرِ أَهْلِ اللُّغَةِ وَذَهَبَ الْخَلِيلُ وَالْأَصْمَعِيُّ وَأَبُو حَاتِمٍ السِّجِسْتَانِيُّ وَجَمَاعَةٌ إِلَى أَنَّهُ بِالْفَتْحِ فِيهِمَا
انْتَهَى
وَالْمُرَادُ بِالْقَبُولِ هُنَا مَا يُرَادِفُ الصِّحَّةَ وَهُوَ الْإِجْزَاءُ وَحَقِيقَةُ الْقَبُولِ ثَمَرَةُ وُقُوعِ الطَّاعَةِ مُجْزِئَةً رَافِعَةً لِمَا فِي الذِّمَّةِ وَلَمَّا كَانَ الْإِتْيَانُ بِشُرُوطِهَا مَظِنَّةَ الْإِجْزَاءِ الَّذِي الْقَبُولُ ثَمَرَتُهُ عَبَّرَ عَنْهُ بِالْقَبُولِ مَجَازًا وَأَمَّا الْقَبُولُ الْمَنْفِيُّ فِي مِثْلِ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَتَى عَرَّافًا لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ
فَهُوَ الْحَقِيقِيُّ لِأَنَّهُ قَدْ يَصِحُّ الْعَمَلُ وَيَتَخَلَّفُ الْقَبُولُ لِمَانِعٍ وَلِهَذَا كَانَ بَعْضُ السَّلَفِ يَقُولُ لَأَنْ تُقْبَلَ لِي صَلَاةٌ وَاحِدَةٌ أَحَبُّ إِلَيَّ من جميع الدنيا قاله بن عُمَرَ قَالَ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ إِنَّمَا يتقبل الله من المتقين كَذَا فِي فَتْحِ الْبَارِي
وَالْحَدِيثُ نَصٌّ فِي وُجُوبِ الطَّهَارَةِ لِلصَّلَاةِ وَقَدْ أَجْمَعَتْ الْأُمَّةُ عَلَى أَنَّ الطَّهَارَةَ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ الصَّلَاةِ وَأَجْمَعَتْ عَلَى تَحْرِيمِ الصَّلَاةِ بِغَيْرِ طَهَارَةٍ مِنْ مَاءٍ أَوْ تُرَابٍ وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ الْمَفْرُوضَةِ وَالنَّافِلَةِ وَالْحَدِيثُ دَلِيلٌ عَلَى وُجُوبِ الطَّهَارَةِ لِصَلَاةِ الْجِنَازَةِ أَيْضًا لِأَنَّهَا صَلَاةٌ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَلَّى عَلَى الْجِنَازَةِ وَقَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ وَقَالَ صَلُّوا عَلَى النَّجَاشِيِّ قَالَ الْإِمَامُ الْبُخَارِيُّ سَمَّاهَا صَلَاةً وَلَيْسَ فِيهَا رُكُوعٌ وَلَا سُجُودٌ وَلَا يُتَكَلَّمُ فِيهَا وفيها تكبير وتسليم وكان بن عُمَرَ لَا يُصَلِّي عَلَيْهَا إِلَّا طَاهِرًا انْتَهَى
قال الحافظ ونقل بن عَبْدِ الْبَرِّ الِاتِّفَاقَ عَلَى اِشْتِرَاطِ الطَّهَارَةِ لَهَا يَعْنِي لِصَلَاةِ الْجِنَازَةِ إِلَّا عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ وَوَافَقَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُلَيَّةَ وَنَقَلَ غَيْرُهُ أَنَّ بن جَرِيرٍ الطَّبَرِيَّ وَافَقَهُمَا عَلَى ذَلِكَ وَهُوَ مَذْهَبٌ شَاذٌّ
انْتَهَى كَلَامُ الْحَافِظِ
(ইসরাঈল থেকে বর্ণিত, তিনি হলেন) ইউনুস বিন আবি ইসহাক আস-সাবিঈ আল-কুফি। ইমাম আহমাদ বলেন, তিনি সুদৃঢ়। আবু হাতিম বলেন, তিনি সত্যবাদী এবং ইসহাকের সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের অন্যতম। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য, তাঁর ব্যাপারে কোনো দলিল ছাড়াই সমালোচনা করা হয়েছে। (মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণিত) তিনি হলেন ইবনে আবি ওয়াক্কাস আজ-জুহরি আল-মাদানি; তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তাবেয়ীদের মধ্যম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ইকরামা বিন আবি জাহল থেকে মুরসাল বর্ণনা করেছেন। তিনি ১০৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ইবনে উমর থেকে বর্ণিত) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব আল-আদাউয়ি, আবু আব্দুর রহমান। তাঁর জন্ম নবুওয়াতের অল্পকাল পরে। উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁকে অল্পবয়স্ক গণ্য করা হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং 'আবাদিলা' (চার আব্দুল্লাহ)-দের অন্যতম। তিনি সুন্নাহ বা আসার অনুসরণে মানুষের মধ্যে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি ৭৩ হিজরি সালের শেষের দিকে অথবা তার পরবর্তী বছরের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।
তাকরীব গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর বাণী: (পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না)- এখানে 'তুহুর' শব্দটি প্রথম বর্ণে পেশ (যম্মাহ) যোগে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অযু ও গোসলের চেয়েও ব্যাপকতর পবিত্রতা। ইমাম নববী বলেন, অধিকাংশ ভাষাবিদ বলেছেন, যখন কাজ বা ক্রিয়া (মাসদার) উদ্দেশ্য হয়, তখন 'তুহুর' ও 'উজু' শব্দদ্বয় প্রথম বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হয়। আর যখন পবিত্রতা অর্জনের পানি উদ্দেশ্য হয়, তখন 'তাহুর' ও 'ওয়াজু' শব্দদ্বয় প্রথম বর্ণে জবর (ফাতহা) দিয়ে পড়তে হয়। ইবনুল আনবারি এবং একদল ভাষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ অধিকাংশ ভাষাবিদ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তবে খলিল, আসমায়ি, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি এবং একটি দলের মতে, উভয় ক্ষেত্রেই শব্দটি জবর (ফাতহা) দিয়ে পড়তে হবে।
(উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আর এখানে 'কবুল' বা গ্রহণযোগ্যতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'সিহহাত' বা শুদ্ধতার সমার্থক শব্দ, যা দ্বারা দায়িত্ব পালন সম্পন্ন হওয়া (ইজজা) বুঝায়। কবুলিয়তের প্রকৃত অর্থ হলো ইবাদতটি পর্যাপ্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার ফলশ্রুতিতে ব্যক্তির জিম্মা বা দায়মুক্তি ঘটা। যেহেতু ইবাদতের শর্তসমূহ পূরণ করা হলো কবুলিয়তের ফলস্বরূপ অর্জিত দায়মুক্তির লক্ষণ, তাই একে রূপক অর্থে কবুল বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসবে, তার সালাত কবুল হবে না" —এই জাতীয় ক্ষেত্রে যে কবুলিয়তকে নাকচ করা হয়েছে, তা হলো প্রকৃত কবুলিয়ত।
কারণ অনেক সময় আমল শুদ্ধ হলেও কোনো বাধার কারণে তার প্রকৃত কবুলিয়ত বা সওয়াব অর্জিত হয় না। এজন্যই সালাফদের কেউ কেউ বলতেন, "আমার একটি সালাতও যদি কবুল হতো, তবে তা আমার কাছে গোটা দুনিয়ার চেয়েও বেশি প্রিয় হতো।" ইবনে উমর (রা.) এটি বলতেন এবং তিনি এর কারণ হিসেবে বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন।" ফাতহুল বারি গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিসটি সালাতের জন্য পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল। উম্মতের আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য পবিত্রতা একটি শর্ত। তারা পানি অথবা মাটি (তায়াম্মুম) দ্বারা অর্জিত পবিত্রতা ব্যতীত সালাত আদায় করা হারাম হওয়ার ব্যাপারেও ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এক্ষেত্রে ফরজ সালাত এবং নফল সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই হাদিসটি জানাজার সালাতের জন্যও পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার দলিল, কারণ এটিও একটি সালাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করবে...", আবার বলেছেন, "তোমরা তোমাদের সাথীর ওপর সালাত আদায় করো", এবং বলেছেন "তোমরা নাজ্জাশীর ওপর সালাত আদায় করো"। ইমাম বুখারি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে 'সালাত' হিসেবে অভিহিত করেছেন অথচ এতে রুকু বা সিজদা নেই এবং এতে কোনো কথা বলা যায় না, বরং এতে তাকবির ও সালাম রয়েছে। আর ইবনে উমর (রা.) পবিত্রতা ব্যতীত জানাজার সালাত আদায় করতেন না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন, ইবনে আব্দুল বার জানাজার সালাতের জন্য পবিত্রতা শর্ত হওয়ার ওপর ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন, কেবল আশ-শা'বি ব্যতীত। তিনি (হাফিজ) আরও বলেন, ইব্রাহিম বিন উলাইয়াহ তাঁর (শা'বি) সাথে একমত হয়েছেন। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, ইবনে জারির আত-তবারি তাঁদের উভয়ের সাথে একমত হয়েছেন; তবে এটি একটি বিচ্ছিন্ন (শায) মত।
হাফিজের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قُلْتُ وَالْحَقُّ أَنَّ الطَّهَارَةَ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ صَلَاةِ الْجِنَازَةِ وَلَا اِلْتِفَاتَ إِلَى مَا نُقِلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ وَغَيْرِهِ
فائدة قَالَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ إِذَا أَحْدَثَ يَوْمَ الْعِيدِ أَوْ عِنْدَ الْجِنَازَةِ يَطْلُبُ الْمَاءَ وَلَا يَتَيَمَّمُ انْتَهَى
قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ وَقَدْ ذَهَبَ جَمْعٌ مِنْ السلف إلى أنه يجزيء لَهَا التَّيَمُّمُ لِمَنْ خَافَ فَوَاتَهَا يَعْنِي فَوَاتَ صلاة الجنازة لو تشاغل بالوضوء وحكاه بن الْمُنْذِرِ عَنْ عَطَاءٍ وَسَالِمٍ وَالزُّهْرِيِّ وَالنَّخَعِيِّ وَرَبِيعَةَ وَاللَّيْثِ وَالْكُوفِيِّينَ وَهِيَ رِوَايَةٌ عَنْ أَحْمَدَ وَفِيهِ حديث مرفوع عن بن عباس رواه بن عَدِيٍّ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ انْتَهَى (وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ) بِضَمِّ الْغَيْنِ وَالْغُلُولُ الْخِيَانَةُ وَأَصْلُهُ السَّرِقَةُ مِنْ مَالِ الْغَنِيمَةِ قَبْلَ الْقِسْمَةِ قَالَهُ النَّوَوِيُّ وقال القاضي أبو بكر بن العربي الغلول الخيانة خفيفة فَالصَّدَقَةُ مِنْ مَالٍ حَرَامٍ فِي عَدَمِ الْقَبُولِ وَاسْتِحْقَاقِ الْعِقَابِ كَالصَّلَاةِ بِغَيْرِ طُهُورٍ فِي ذَلِكَ انْتَهَى
قَوْلُهُ (قَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ إِلَّا بِطُهُورٍ) أَيْ مَكَانٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَمَقْصُودُ التِّرْمِذِيِّ بِهَذَا إِظْهَارُ الْفَرْقِ بَيْنَ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ وَحَدِيثِ هناد فيقال قُتَيْبَةُ فِي حَدِيثِهِ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَقَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ إِلَّا بِطُهُورٍ
قَوْلُهُ (هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شيء في هذا الباب وأحسن) والحديث وأخرجه الْجَمَاعَةُ إِلَّا الْبُخَارِيَّ كَذَا فِي الْمُنْتَقَى وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ بِلَفْظِ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا طُهُورَ لَهُ (وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ) أَمَّا حَدِيثُ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ فَأَخْرَجَهُ أَبُو داود والنسائي وبن مَاجَهْ وَلَفْظُهُ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ وَلَا صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ وَالْحَدِيثُ سَكَتَ عند أَبُو دَاوُدَ ثُمَّ الْمُنْذِرِيُّ وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فَأَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ بِلَفْظِ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ الْحَدِيثُ وأما حديث أنس فأخرجه بن مَاجَهْ بِلَفْظِ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ
قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّلْخِيصِ وَفِي الْبَابِ عَنْ وَالِدِ أَبِي الْمَلِيحِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقَ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَغَيْرِهِمْ
وَقَدْ أَوْضَحْتُ طُرُقَهُ وَأَلْفَاظَهُ فِي الْكَلَامِ عَلَى أَوَائِلِ التِّرْمِذِيِّ انْتَهَى
قُلْتُ وَفِي الْبَابِ
أَيْضًا عَنْ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ وَأَبِي سَبْرَةَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَرَبَاحِ بْنِ حُوَيْطِبٍ عَنْ جَدَّتِهِ وَسَعْدِ بْنِ عِمَارَةَ ذَكَرَ حَدِيثَ هَؤُلَاءِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم الْحَافِظُ الْهَيْثَمِيُّ فِي مَجْمَعِ الزَّوَائِدِ فِي بَابِ فَرْضِ الْوُضُوءِ مَعَ الْكَلَامِ عَلَيْهَا فَمَنْ شَاءَ الْوُقُوفَ عَلَيْهَا فَلْيَرْجِعْ إِلَيْهِ
আমি বলি, সত্য এই যে জানাজার সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য পবিত্রতা একটি শর্ত এবং ইমাম শাবী ও অন্যান্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার অবকাশ নেই।
জ্ঞাতব্য: ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন যে, যদি ঈদের দিনে কিংবা জানাজার নিকটবর্তী সময়ে কারও অজু ভঙ্গ হয়, তবে সে পানি অনুসন্ধান করবে এবং তায়াম্মুম করবে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে বলেছেন, পূর্বসূরিদের একটি দল এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি কেউ অজু করতে গেলে জানাজা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তবে তার জন্য তায়াম্মুম করা যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ অজু করতে গিয়ে যদি জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ইবনুল মুনজির এটি আতা, সালিম, জুহরি, নাখায়ি, রাবিয়াহ, লাইস এবং কুফাবাসীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনা এরূপ রয়েছে। এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস থেকে একটি মারফু হাদিস রয়েছে যা ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদ দুর্বল। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) (এবং আত্মসাতকৃত মালের সদকা কবুল হয় না)। 'গুলুল' শব্দটি গাইন বর্ণে পেশ সহযোগে উচ্চারিত। গুলুল অর্থ হলো খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা, আর এর মূল উৎস হলো বণ্টনের পূর্বে গনিমতের মাল থেকে চুরি করা; ইমাম নববি এরূপ বলেছেন। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন, গুলুল হলো গোপন খিয়ানত। সুতরাং হারাম মালের সদকা কবুল না হওয়া এবং শাস্তির যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে অজুবিহীন সালাতের মতোই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
তাঁর উক্তি (হান্নাদ তাঁর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, 'পবিত্রতা ব্যতীত নয়') অর্থাৎ 'পবিত্রতা ব্যতীত' এর পরিবর্তে। ইমাম তিরমিজির উদ্দেশ্য হলো কুতাইবা এবং হান্নাদ বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করা। বলা হয়ে থাকে যে, কুতাইবা তাঁর বর্ণিত হাদিসে 'পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল হয় না' শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং হান্নাদ তাঁর বর্ণিত হাদিসে 'কেবল পবিত্রতা লাভ করলেই সালাত কবুল হয়' শব্দ ব্যবহার করেছেন।
তাঁর উক্তি (এই হাদিসটি এই অধ্যায়ে সর্বাধিক সহিহ এবং উত্তম)। এই হাদিসটি ইমাম বুখারি ব্যতীত জামায়াত (অন্যান্য প্রধান হাদিস বিশারদগণ) সংকলন করেছেন, যেমনটি আল-মুন্তাকা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তাবরানি তাঁর আল-আউসাত গ্রন্থে 'যার পবিত্রতা নেই তার সালাত নেই' শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। (এই অধ্যায়ে আবু মালিহ তাঁর পিতা থেকে, আবু হুরায়রা এবং আনাস থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে)। আবু মালিহ তাঁর পিতা থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তা আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ সংকলন করেছেন; যার শব্দ হলো 'আল্লাহ আত্মসাতের মালের সদকা এবং পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না'। আবু দাউদ এবং পরবর্তীতে মুনজিরি এই হাদিসটির ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। আবু হুরায়রার হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: 'তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়ে পড়ে, আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে অজু করে' (পুরো হাদিস)। আর আনাস বর্ণিত হাদিসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: 'পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাতের মাল থেকে সদকাও গ্রহণ করেন না'।
হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তালখিস গ্রন্থে বলেছেন, এই অধ্যায়ে আবু মালিহ-এর পিতা, আবু হুরায়রা, আনাস, আবু বাকরাহ, আবু বকর সিদ্দিক, জুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবু সাঈদ খুদরি এবং অন্যান্যদের থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
আমি তিরমিজির শুরু ভাগের আলোচনায় এর সনদ ও শব্দসমূহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আমি বলি, এই অধ্যায়ে
ইমরান ইবনে হুসাইন, আবু সাবরাহ, আবু দারদা, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, রাবাহ ইবনে হুয়াইতিব তাঁর দাদি থেকে এবং সাদ ইবনে ইমারা থেকেও বর্ণনা রয়েছে। এই সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হাদিসসমূহ হাফেজ হাইসামি 'মাজমাউজ জাওয়ায়েদ' গ্রন্থের অজুর ফরজ অধ্যায়ে সেগুলোর ওপর পর্যালোচনাসহ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন উক্ত কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
تَنْبِيهَانِ الْأَوَّلُ أَنَّ قَوْلَ التِّرْمِذِيِّ هَذَا الْحَدِيثَ يعني حديث بن عُمَرَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ فِيهِ نَظَرٌ بَلْ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ هُوَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ التِّرْمِذِيُّ وَذَكَرْنَا لَفْظَهُ فَإِنَّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْه
الثَّانِي قَدْ جَرَتْ عَادَةُ التِّرْمِذِيِّ فِي هَذَا الْجَامِعِ أَنَّهُ يَقُولُ بَعْدَ ذِكْرِ أَحَادِيثِ الْأَبْوَابِ وَفِي الْبَابِ عَنْ فُلَانٍ وَفُلَانٍ فَإِنَّهُ لَا يُرِيدُ ذَلِكَ الْحَدِيثَ بِعَيْنِهِ بَلْ يُرِيدُ أَحَادِيثَ أُخَرَ يَصِحُّ أَنْ تُكْتَبَ فِي الْبَابِ قَالَ الْحَافِظُ الْعِرَاقِيُّ وَهُوَ عَمَلٌ صَحِيحٌ إِلَّا أَنَّ كَثِيرًا مِنْ النَّاسِ يَفْهَمُونَ مِنْ ذَلِكَ أَنَّ مَنْ سُمِّيَ مِنْ الصَّحَابَةِ يَرْوُونَ ذَلِكَ الْحَدِيثَ بِعَيْنِهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ بَلْ قَدْ يَكُونُ كَذَلِكَ وَقَدْ يَكُونُ حَدِيثًا آخَرَ يَصِحُّ إِيرَادُهُ فِي ذَلِكَ الْبَابِ وَقَدْ تَقَدَّمَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ فِي الْمُقَدِّمَةِ فَتَذَكَّرْ
قَوْلُهُ (وَأَبُو الْمَلِيحِ) بِفَتْحِ الْمِيمِ وَكَسْرِ اللَّامِ (بْنُ أُسَامَةَ اِسْمُهُ عَامِرٌ) قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ أَبُو الْمَلِيحِ بْنُ أُسَامَةَ بْنُ عُمَيْرٍ أَوْ عَامِرِ بْنِ حُنَيْفِ بْنِ نَاجِيَةَ الْهُذَلِيُّ اِسْمُهُ عَامِرٌ وَقِيلَ زَيْدٌ وَقِيلَ زِيَادٌ ثِقَةٌ مِنَ الثَّالِثَةِ
قَوْلُهُ
(بَابُ مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ)بِضَمِّ الطَّاءِ وَقَدْ تَقَدَّمَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ اللُّغَةِ أَنَّهُ يُقَالُ الطُّهُورُ بِالضَّمِّ إِذَا أُرِيدَ بِهِ الْفِعْلُ وَيُقَالُ بِالْفَتْحِ إِذَا أُرِيدَ بِهِ الْمَاءُ وَالْمُرَادُ هُنَا الْفِعْل
[2] قَوْلُهُ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ) الْخَطْمِيُّ الْمَدِينِيُّ الْفَقِيهُ الْحَافِظُ الثَّبَتُ أَبُو مُوسَى قَاضِي نَيْسَابُورَ سَمِعَ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ وَعَبْدَ السَّلَامِ بْنَ حَرْبٍ وَمَعْنَ بْنَ عِيسَى وَكَانَ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ صَاحِبَ سُنَّةٍ ذَكَرَهُ أَبُو حَاتِمٍ فَأَطْنَبَ فِي الثَّنَاءِ عَلَيْهِ وَقَالَ النَّسَائِيُّ ثِقَةٌ حَدَّثَ عَنْهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَآخَرُونَ قِيلَ إِنَّهُ تُوُفِّيَ بِجُوسِيَّةَ بُلَيْدَةٍ مِنْ أَعْمَالِ حِمْصَ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ
كَذَا فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ
وَقَالَ فِي التَّقْرِيبِ ثِقَةٌ مُتْقِنٌ
فَائِدَةٌ قَالَ الْحَافِظُ الذهبي في الميزان إذا قال الترمذي بن الأنصاري فيعني به إسحاق بن موسى الأنصاري
انْتَهَى
قُلْتُ الْأَمْرُ كَمَا قَالَ الذَّهَبِيُّ لَكِنْ يقول الترمذي
الأنصاري لا بن الْأَنْصَارِيِّ كَمَا قَالَ فِي بَابِ مَاءِ الْبَحْرِ أَنَّهُ طَهُورٌ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ عَنْ مَالِكٍ ح وَحَدَّثَنَا الْأَنْصَارِيُّ قَالَ
দুটি সতর্কবার্তা: প্রথমত, ইমাম তিরমিযীর এই বক্তব্য—অর্থাৎ ইবনে উমরের এই হাদীসটি ‘এই অধ্যায়ের সবচেয়ে সহীহ হাদীস’—এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। বরং এই অধ্যায়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস হলো আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সেই হাদীসটি, যেটির দিকে ইমাম তিরমিযী ইঙ্গিত করেছেন এবং আমরা যার পাঠ উল্লেখ করেছি; কেননা সেটি মুত্তাফাকুন আলাইহ (বুখারী ও মুসলিম উভয় কর্তৃক সমর্থিত)।
দ্বিতীয়ত: এই জামে' গ্রন্থে ইমাম তিরমিযীর রীতি হলো, তিনি অধ্যায়ের হাদীসসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন, ‘এই অধ্যায়ে অমুক অমুক সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।’ এর দ্বারা তিনি সেই হাদীসটিকেই হুবহু উদ্দেশ্য করেন না, বরং অন্যান্য হাদীস উদ্দেশ্য করেন যা এই অধ্যায়ে যুক্ত করা সঠিক হতে পারে। হাফিয ইরাকী বলেন, ‘এটি একটি সঠিক পদ্ধতি, তবে অনেক মানুষ এটি থেকে বোঝেন যে, যে সকল সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হুবহু ঐ হাদীসটিই বর্ণনা করেছেন; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং কখনও তেমন হতে পারে, আবার কখনও সেটি অন্য কোনো হাদীস হতে পারে যা এই অধ্যায়ে উপস্থাপনের উপযোগী। এ সংক্রান্ত আলোচনা ভূমিকার মধ্যে গত হয়েছে, তাই তা স্মরণ রাখা প্রয়োজন।’
তাঁর উক্তি (আর আবুল মালিহ)—মীম বর্ণে ফাতহা এবং লাম বর্ণে কাসরা সহ—(উসামার পুত্র, তাঁর নাম আমির)। হাফিয (ইবনে হাজার) ‘তাকরীব’ গ্রন্থে বলেন: আবুল মালিহ ইবনে উসামা ইবনে উমায়ের, অথবা আমির ইবনে হুনাইফ ইবনে নাজিয়া আল-হুযালী; তাঁর নাম আমির, কেউ বলেছেন যায়েদ, আবার কেউ বলেছেন যিয়াদ। তিনি তৃতীয় স্তরের একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী।
তাঁর উক্তি
(পবিত্রতার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়)‘ত্ব’ বর্ণে পেশ (যম্মাহ) সহকারে। অধিকাংশ ভাষাবিদের বক্তব্য ইতঃপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, যখন পবিত্রতা অর্জনের কাজ উদ্দেশ্য হয় তখন ‘তুহুর’ (পেশ দিয়ে) বলা হয়, আর যখন পবিত্রতার পানি উদ্দেশ্য হয় তখন ‘তাহুর’ (যবর দিয়ে) বলা হয়। এখানে কাজ বা ক্রিয়াটিই উদ্দেশ্য।
[২] তাঁর উক্তি (আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারী হাদীস বর্ণনা করেছেন): তিনি আল-খাতমী আল-মাদিনী, ফকীহ, হাফিয ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, আবু মুসা, নিশাপুরের কাযী। তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আবদুস সালাম ইবনে হারব এবং মা’ন ইবনে ঈসা থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। আবু হাতিম তাঁর উল্লেখ করে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। নাসায়ী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। তাঁর থেকে মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী এবং অন্যান্যরা হাদীস বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ২৪৪ হিজরীতে হিমস প্রদেশের ছোট শহর জুসিয়াহ-তে মৃত্যুবরণ করেন।
‘তাজকিরাতুল হুফফায’-এ এরূপই বর্ণিত হয়েছে।
আর ‘তাকরীব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুনিপুণ।
শিক্ষণীয় বিষয়: হাফিয আয-যাহাবী ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে বলেন—ইমাম তিরমিযী যখন ‘ইবনুল আনসারী’ বলেন, তখন তার দ্বারা ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারীকে উদ্দেশ্য করেন।
সমাপ্ত।
আমি বলি: বিষয়টি হাফিয যাহাবী যেমনটি বলেছেন তেমনই, তবে ইমাম তিরমিযী ‘আল-আনসারী’ বলেন, ‘ইবনুল আনসারী’ নয়; যেমনটি তিনি সমুদ্রের পানি পবিত্র হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়ে বলেছেন: ‘আমাদের নিকট কুতাইবা মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন (হা), এবং আমাদের নিকট আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:’
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
حَدَّثَنَا مَعْنٌ إِلَخْ
وَكَمَا قَالَ فِي بَابِ التَّغْلِيسِ بِالْفَجْرِ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ح قَالَ ونا الْأَنْصَارِيُّ نَا مَعْنٌ إِلَخْ ثُمَّ قَالَ قَالَ الْأَنْصَارِيُّ فَمَرَّ النِّسَاءُ مُتَلَفِّفَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ إِلَخْ فَالْحَاصِلُ أَنَّ التِّرْمِذِيَّ إِذَا قَالَ فِي شُيُوخِهِ الْأَنْصَارِيَّ فَيَعْنِي بِهِ إِسْحَاقَ بْنَ مُوسَى الْأَنْصَارِيَّ لَا غَيْرُ فَاحْفَظْ هَذَا فَإِنَّهُ نَافِعٌ
تَنْبِيهٌ قَدْ غَفَلَ صَاحِبُ الطِّيبِ الشَّذِيِّ عَمَّا ذَكَرْنَا آنِفًا مِنْ أَنَّ التِّرْمِذِيَّ إذا يقول الأنصاري فيعني به إسحاق بن موسى الأنصاري فَلِذَلِكَ قَدْ وَقَعَ فِي مَغْلَطَةٍ عَظِيمَةٍ وَهِيَ أَنَّهُ قَالَ فِي بَابِ مَاءِ الْبَحْرِ أَنَّهُ طَهُورٌ مَا لَفْظُهُ قَوْلُهُ الْأَنْصَارِيَّ هُوَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ كَمَا يَظْهَرُ مِنْ تَصْرِيحِ الْحَافِظِ فِي التَّلْخِيصِ كَمَا سَيَأْتِي فِي تَصْحِيحِ الْحَدِيثِ انْتَهَى
قُلْتُ الْعَجَبَ أَنَّهُ مِنْ هَذِهِ الْغَفْلَةِ الشَّدِيدَةِ كَيْفَ جَوَّزَ أَنَّ الْأَنْصَارِيَّ هَذَا هُوَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ وَالْأَنْصَارِيُّ هَذَا هُوَ شَيْخُ التِّرْمِذِيِّ فَإِنَّهُ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَنْصَارِيُّ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ مِنْ صِغَارِ التَّابِعِينَ فَبَيْنَ التِّرْمِذِيِّ وَبَيْنَهُ مَفَاوِزُ تَنْقَطِعُ فِيهَا أَعْنَاقُ الْمَطَايَا فَهَلْ يُمْكِنُ أَنْ يَقُولَ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ كَلَّا ثُمَّ كَلَّا ثُمَّ الْعَجَبَ عَلَى الْعَجَبِ أَنَّهُ قَالَ كَمَا يَظْهَرُ مِنْ تَصْرِيحِ الْحَافِظِ فِي التَّلْخِيصِ وَلَمْ يُصَرِّحْ الْحَافِظُ فِي التَّلْخِيصِ أَنَّ الْأَنْصَارِيَّ هَذَا هُوَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ وَلَا يَظْهَرُ هَذَا مِنْ كَلَامِهِ البتة وَقَدْ وَقَعَ هُوَ فِي هَذَا فِي مَغْلَطَةٍ أُخْرَى وَالْأَصْلُ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا تَكَلَّمَ فِي غَيْرِ فَنِّهِ يَأْتِي بِمِثْلِ هَذِهِ الْعَجَائِبِ
(نَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى) أَبُو يَحْيَى الْمَدَنِيُّ الْقَزَّازُ الْأَشْجَعِيُّ مَوْلَاهُمْ أَخَذَ عن بن أَبِي ذِئْبٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ وَمَالِكٍ وَطَبَقَتِهِمْ روى عنه بن أَبِي خَيْثَمَةَ وَهَارُونُ الْجَمَّالُ وَخَلْقٌ قَالَ أَبُو حاتم هو أحب إلى من بن وَهْبٍ وَهُوَ أَثْبَتُ أَصْحَابِ مَالِكٍ تُوُفِّيَ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ 198 ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ كَذَا فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ وَقَالَ فِي التَّقْرِيبِ ثِقَةٌ ثَبْتٌ (نَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ) هُوَ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الْأَصْبَحِيُّ الْمَدَنِيُّ إِمَامُ دَارِ الْهِجْرَةِ رَأْسُ الْمُتْقِنِينَ وَكَبِيرُ الْمُثْبِتِينَ تَقَدَّمَ تَرْجَمَتُهُ فِي الْمُقَدِّمَةِ (عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ) المدني صدوق تغير حفظه بآخره روى لهالبخاري مَقْرُونًا وَتَعْلِيقًا مِنْ السَّادِسَةِ مَاتَ فِي خِلَافَةِ الْمَنْصُورِ كَذَا فِي التَّقْرِيبِ قُلْتُ قَالَ الذَّهَبِيُّ في الميزان وقال غيره أي غير بن مَعِينٍ إِنَّمَا أَخَذَ عَنْهُ مَالِكٌ قَبْلَ التَّغَيُّرِ وَقَالَ الْحَاكِمُ رَوَى لَهُ مُسْلِمٌ الْكَثِيرَ وَأَكْثَرُهَا فِي الشَّوَاهِدِ انْتَهَى (عَنْ أَبِيهِ) أَيْ أَبِي صَالِحٍ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ كَمَا صَرَّحَ بِهِ التِّرْمِذِيُّ فِي هَذَا الْبَابِ قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ ذَكْوَانُ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ الزَّيَّاتُ الْمَدَنِيُّ ثِقَةٌ ثَبْتٌ وَكَانَ يَجْلِبُ الزَّيْتَ إِلَى الْكُوفَةِ مِنْ الثَّالِثَةِ مَاتَ سَنَةَ 101 إِحْدَى وَمِائَةٍ
تَنْبِيهٌ اعْلَمْ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ وَالِدَ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ وَهَذَا ظَاهِرٌ لِمَنْ
আমাদের নিকট মান প্রমুখ বর্ণনা করেছেন
যেমনটি তিনি (ইমাম তিরমিযী) ফজর অতি প্রত্যুষে আদায় করা সংক্রান্ত অধ্যায়ে বলেছেন: কুতাইবা আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন (হ)। তিনি বলেন, আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—প্রমুখ। অতঃপর তিনি বলেন, আল-আনসারী বলেছেন: মহিলারা তাদের চাদর জড়িয়ে পথ চলতেন—প্রভৃতি। সারকথা হলো, ইমাম তিরমিযী যখন তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে 'আল-আনসারী' বলেন, তখন এর দ্বারা তিনি ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারীকেই উদ্দেশ্য করেন, অন্য কেউ নন। সুতরাং এটি মনে রাখুন, কারণ এটি অত্যন্ত উপকারী জ্ঞান।
সতর্কবার্তা: 'আত-ত্বীবুশ শাযী' গ্রন্থের লেখক আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে অসতর্ক ছিলেন যে, ইমাম তিরমিযী যখন 'আল-আনসারী' বলেন তখন এর দ্বারা তিনি ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারীকেই বুঝিয়ে থাকেন। এ কারণে তিনি এক বিশাল ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন; আর তা হলো তিনি সমুদ্রের পানির পবিত্রতা অধ্যায়ে বলেছেন: "তাঁর উক্তি 'আল-আনসারী' হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, যেমনটি হাফিয ইবনে হাজারের 'আত-তালখীস' গ্রন্থের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, যা হাদীসের বিশুদ্ধতা বর্ণনায় সামনে আসবে"—তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।
আমি বলছি, আশ্চর্য হওয়ার বিষয় হলো যে, এমন চরম অসতর্কতার কারণে তিনি কীভাবে ধারণা করলেন যে এই 'আল-আনসারী' হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী? অথচ এই 'আল-আনসারী' হলেন ইমাম তিরমিযীর সরাসরি উস্তাদ, কেননা তিনি বলেছেন 'আমাদের নিকট আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন'। অন্যদিকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী হলেন ছোট স্তরের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম তিরমিযী এবং তাঁর মধ্যবর্তী সময়গত ব্যবধান এতটাই যে তাতে সওয়ারী পশুর ঘাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হবে (অর্থাৎ বিশাল দূরত্ব)। সুতরাং ইমাম তিরমিযী কি বলতে পারেন যে 'আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন'? কক্ষনো না, কক্ষনো না! আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হলো তাঁর এই উক্তি: 'যেমনটি হাফিযের আত-তালখীস গ্রন্থের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়'। অথচ হাফিয ইবনে হাজার 'আত-তালখীস' গ্রন্থে মোটেই স্পষ্ট করে বলেননি যে এই আল-আনসারী হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, বরং তাঁর বক্তব্য থেকে এটি আদতেই প্রতীয়মান হয় না। তিনি (আত-ত্বীবুশ শাযীর লেখক) এখানে অন্য এক বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন। মূলত কোনো ব্যক্তি যখন তার নিজের বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্র বহির্ভূত বিষয়ে কথা বলেন, তখন তিনি এই জাতীয় অদ্ভুত কথাবার্তাই বলে থাকেন।
(আমাদের নিকট মান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন) তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-মাদানী আল-কায্যায আল-আশজায়ী। তিনি ইবনে আবি যিব, মুআবিয়া ইবনে সালিহ, মালিক এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে আবি খাইসামা, হারুন আল-জাম্মাল এবং বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতেম বলেন, তিনি আমার নিকট ইবনে ওয়াহাব অপেক্ষা অধিক প্রিয় এবং তিনি ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। তিনি ১৯৮ হিজরীর শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন; 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত আছে। 'তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী। (আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন) তিনি হলেন মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক আল-আসবাহী আল-মাদানী, দারুল হিজরতের (মদীনা) ইমাম, দক্ষ মুহাদ্দিসগণের শীর্ষস্থানীয় এবং সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের প্রধান। তাঁর জীবনী মুকাদ্দিমায় (উপক্রমণিকায়) আলোচিত হয়েছে। (সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে বর্ণিত) তিনি মদীনার অধিবাসী এবং সত্যবাদী ছিলেন, তবে শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিশক্তি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিল। ইমাম বুখারী তাঁর থেকে ষষ্ঠ স্তরের রাবী হিসেবে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে মিলিয়ে এবং তালীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি খলীফা মানসুরের শাসনামলে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি 'তাকরীব' গ্রন্থে উল্লিখিত আছে। আমি বলছি, ইমাম আয-যাহাবী 'আল-মীযান' গ্রন্থে বলেছেন এবং ইবনে মাইন ব্যতীত অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের পূর্বেই তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। আল-হাকিম বলেন, ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন যার অধিকাংশই 'শাওয়াহিদ' (সমর্থক বর্ণনা) হিসেবে গণ্য—তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। (তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত) অর্থাৎ আবু সালিহ থেকে, তাঁর নাম হলো যাকওয়ান, যেমনটি ইমাম তিরমিযী এই অধ্যায়ে স্পষ্ট করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেন, যাকওয়ান আবু সালিহ আস-সাম্মান আয-যায়্যাত আল-মাদানী, তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী। তিনি কুফায় জয়তুনের তেল সরবরাহ করতেন। তিনি তৃতীয় স্তরের বর্ণনাকারী এবং ১০১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
সতর্কবার্তা: জেনে রাখুন যে, সুহাইলের পিতা আবু সালিহ হলেন সেই আবু সালিহ আস-সাম্মান এবং তাঁর নাম যাকওয়ান। এটি তাঁর নিকট স্পষ্ট যিনি...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
لَهُ أَدْنَى مُنَاسَبَةٍ بِفَنِّ الْحَدِيثِ وَقَدْ صَرَّحَ بِهِ التِّرْمِذِيُّ فِي هَذَا الْبَابِ وَقَدْ وَقَعَ صاحب الطيب الشذى ها هنا فِي مَغْلَطَةٍ عَظِيمَةٍ فَظَنَّ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ وَالِدَ سُهَيْلٍ هَذَا هُوَ أَبُو صَالِحٍ الَّذِي اسمه ميناء حَيْثُ قَالَ قَوْلُهُ عَنْ أَبِيهِ مَوْلَى ضُبَاعَةَ لين الحديث من الثالثة واسمه ميناء بِكَسْرِ الْمِيمِ انْتَهَى
وَالْعَجَبُ كُلَّ الْعَجَبِ أَنَّهُ كَيْفَ وَقَعَ فِي هَذِهِ الْمَغْلَطَةِ مَعَ أَنَّ التِّرْمِذِيَّ قَدْ صَرَّحَ فِي هَذَا الْبَابِ بِأَنَّ أَبَا صَالِحٍ وَالِدَ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السمان واسمه ذكوان
ثم قد حَكَمَ التِّرْمِذِيُّ بِأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ حَسَنٌ صَحِيحٌ فَكَيْفَ ظَنَّ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ وَالِدَ سُهَيْلٍ هو أبو صالح الذي اسمه ميناء وَهُوَ لَيِّنُ الْحَدِيثِ
قَوْلُهُ (إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوْ الْمُؤْمِنُ) هَذَا شَكٌّ مِنْ الرَّاوِي وَكَذَا قَوْلُهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ قَطْرِ الْمَاءِ قَالَهُ النَّوَوِيُّ وَغَيْرُهُ (فَغَسَلَ وَجْهَهُ) عُطِفَ عَلَى تَوَضَّأَ عَطْفَ تَفْسِيرٍ أَوْ الْمُرَادُ إِذَا أَرَادَ الْوُضُوءَ وَهُوَ الْأَوْجَهُ (خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ) جَوَابُ إِذَا (كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا) أَيْ إِلَى الْخَطِيئَةِ يَعْنِي إِلَى سَبَبِهَا إِطْلَاقًا لِاسْمِ الْمُسَبَّبِ عَلَى السَّبَبِ مُبَالَغَةً (بِعَيْنَيْهِ) قَالَ الطِّيبِيُّ تَأْكِيدٌ (مَعَ الْمَاءِ) أَيْ مَعَ اِنْفِصَالِهِ (أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ أَوْ نَحْوَ هَذَا) قِيلَ أَوْ لِشَكِّ الرَّاوِي وَقِيلَ لِأَحَدِ الْأَمْرَيْنِ وَالْقَطْرُ إِجْرَاءُ الْمَاءِ وَإِنْزَالُ قَطْرِهِ كَذَا فِي المرقاة قلت أو ها هنا لِلشَّكِّ لَا لِأَحَدِ الْأَمْرَيْنِ يَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ أَوْ نَحْوَ هَذَا قَالَ الْقَاضِي الْمُرَادُ بِخُرُوجِهَا مَعَ الْمَاءِ الْمَجَازُ وَالِاسْتِعَارَةُ فِي غُفْرَانِهَا لِأَنَّهَا ليست بأجسام فتخرج حقيقة وقال بن الْعَرَبِيِّ فِي عَارِضَةِ الْأَحْوَذِيِّ قَوْلُهُ خَرَجَتْ الْخَطَايَا يَعْنِي غُفِرَتْ لِأَنَّ الْخَطَايَا هِيَ أَفْعَالٌ وَأَعْرَاضٌ لَا تَبْقَى فَكَيْفَ تُوصَفُ بِدُخُولٍ أَوْ بِخُرُوجٍ ولكن الباريء لَمَّا أَوْقَفَ الْمَغْفِرَةَ عَلَى الطَّهَارَةِ الْكَامِلَةِ فِي الْعُضْوِ ضَرَبَ لِذَلِكَ مَثَلًا بِالْخُرُوجِ انْتَهَى قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي قُوتِ الْمُغْتَذِي بَعْدَ نَقْلِ كَلَامِ بن الْعَرَبِيِّ هَذَا مَا لَفْظُهُ بَلْ الظَّاهِرُ حَمْلُهُ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَذَلِكَ أَنَّ الْخَطَايَا تُورِثُ فِي الْبَاطِنِ وَالظَّاهِرِ سَوَادًا يَطَّلِعُ عَلَيْهِ أَرْبَابُ الْأَحْوَالِ وَالْمُكَاشَفَاتِ وَالطَّهَارَةُ تُزِيلُهُ وَشَاهِدُ ذَلِكَ مَا أَخْرَجَهُ المصنف والنسائي وبن مَاجَهْ وَالْحَاكِمُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ عَادَ زَادَتْ حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي الْقُرْآنِ كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يكسبون وأخرج أحمد وبن خزيمة عن بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ يَاقُوتَةٌ بَيْضَاءُ مِنْ الْجَنَّةِ وَكَانَ أَشَدَّ بَيَاضًا مِنْ الثَّلْجِ وإنما خَطَايَا الْمُشْرِكِينَ قَالَ السُّيُوطِيُّ فَإِذَا أَثَّرَتْ الْخَطَايَا فِي الْحَجَرِ فَفِي جَسَدِ فَاعِلِهَا أَوْلَى فَإِمَّا أَنْ يُقَدَّرَ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ أَثَرُ خَطِيئَتِهِ أَوْ السَّوَادُ الَّذِي أَحْدَثَتْهُ
وَإِمَّا أَنْ يُقَالَ إن الخطيئة
হাদিস শাস্ত্রের সাথে যার সামান্যতম সম্পর্ক আছে, ইমাম তিরমিজি এই অধ্যায়ে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। 'আত-তীবুশ শাযি' গ্রন্থের লেখক এখানে একটি বড় ধরনের ভুল করেছেন; তিনি মনে করেছেন যে সুহাইলের পিতা এই আবু সলিহ হলেন সেই আবু সলিহ যার নাম মীনা। তিনি (গ্রন্থকার) সেখানে বলেছেন: 'তার পিতার সূত্রে, যিনি দুবাআর আযাদকৃত দাস, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (লাইয়্যিন), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং তার নাম মিম অক্ষরে কাসরাসহ মীনা।' (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি কীভাবে এই ভুলের মধ্যে পতিত হলেন, অথচ ইমাম তিরমিজি এই অধ্যায়েই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সুহাইলের পিতা আবু সলিহ হলেন মূলত আবু সলিহ আস-সাম্মান, যার নাম যাকওয়ান।
অতঃপর ইমাম তিরমিজি এই হাদিসটিকে 'হাসান সহিহ' বলে হুকুম দিয়েছেন; সুতরাং তিনি কীভাবে ধারণা করলেন যে সুহাইলের পিতা আবু সলিহ হলেন সেই আবু সলিহ যার নাম মীনা, অথচ সে তো হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (লাইয়্যিনুল হাদিস)?
তাঁর বাণী (যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে): এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি সন্দেহ। অনুরূপভাবে তাঁর কথা: 'পানির সাথে অথবা পানির শেষ ফোঁটার সাথে'—এটি ইমাম নববী ও অন্যান্যরা বলেছেন। (অতঃপর সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে): এটি 'অজু করে' শব্দের ওপর তাফসিরি আতফ (ব্যাখ্যামূলক সংযোগ) হিসেবে এসেছে, অথবা এর অর্থ হলো যখন সে অজু করার ইচ্ছা করে; আর এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত। (তার মুখমণ্ডল থেকে বের হয়ে যায়): এটি 'ইযা' (যখন)-এর জবাব। (প্রত্যেকটি পাপ যার দিকে সে তাকিয়েছিল): অর্থাৎ পাপের দিকে, মানে পাপের কারণের দিকে; এখানে অতিরঞ্জনের জন্য কারণের ওপর ফলাফলের নাম প্রয়োগ করা হয়েছে। (তার দুই চোখ দিয়ে): আল্লামা তীবী বলেন, এটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য। (পানির সাথে): অর্থাৎ পানি বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে। (অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে, অথবা এই জাতীয় কিছু): বলা হয়েছে যে, 'অথবা' শব্দটি বর্ণনাকারীর সন্দেহের কারণে এসেছে, আবার কেউ বলেছেন এটি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির জন্য। আর 'কাতর' অর্থ হলো পানি প্রবাহিত করা এবং পানির ফোঁটা ঝরানো; 'মিরকাত' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। আমি বলছি, এখানে 'অথবা' শব্দটি সন্দেহের জন্য, দুটি বিষয়ের একটির জন্য নয়; এর প্রমাণ হলো তাঁর কথা—'অথবা এই জাতীয় কিছু'। কাজী আইয়ায বলেন, পানির সাথে পাপ বের হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো রূপক বা অলঙ্কারিক অর্থে ক্ষমা করে দেওয়া; কারণ পাপ কোনো স্থূল বস্তু নয় যে তা প্রকৃতপক্ষে বের হয়ে আসবে। ইবনুল আরাবি 'আরিদাতুল আহওয়াযি' গ্রন্থে বলেন: তাঁর বাণী 'পাপসমূহ বের হয়ে যায়' মানে হলো তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়; কারণ পাপ হলো কর্ম ও আপতিক গুণ যা স্থায়ী থাকে না, সুতরাং প্রবেশ করা বা বের হওয়া দিয়ে সেটির বর্ণনা কীভাবে সম্ভব? কিন্তু মহান স্রষ্টা যখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার ওপর ক্ষমা লাভকে নির্ভরশীল করেছেন, তখন তিনি বের হয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইমাম সুয়ূতি 'কুতুল মুগতাযী' গ্রন্থে ইবনুল আরাবির বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: বরং প্রকাশ্য অর্থ হলো এটিকে প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা; আর তা হলো এই যে, পাপসমূহ মানুষের অন্তরে ও অবয়বে এক প্রকার কালো দাগ বা অন্ধকারের সৃষ্টি করে, যা আধ্যাত্মিক সাধক ও কাশফ সম্পন্ন ব্যক্তিগণ দেখতে পান, আর পবিত্রতা তা দূর করে দেয়। এর প্রমাণ হলো যা গ্রন্থকার (তিরমিজি), নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও হাকিম আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তওবা করে, গুনাহ ছেড়ে দেয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর সে যদি পুনরায় গুনাহ করে, তবে সেই দাগ বাড়তে থাকে এবং তার পুরো অন্তরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এটিই সেই জং (রান) যার কথা আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন: 'কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে।' ইমাম আহমদ ও ইবনে খুযাইমা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'হাজরে আসওয়াদ জান্নাতের একটি সাদা ইয়াকুত পাথর ছিল, যা বরফের চেয়েও বেশি সাদা ছিল; মুশরিকদের পাপরাশি একে কালো করে দিয়েছে।' সুয়ূতি বলেন: যদি পাপ পাথরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তবে পাপকারীর দেহের ওপর প্রভাব ফেলা আরও স্বাভাবিক। অতএব, এখানে হয়তো ধরে নিতে হবে যে, তার চেহারা থেকে তার পাপের প্রভাব অথবা পাপের কারণে সৃষ্ট কালিমা বের হয়ে গেছে।
অথবা বলা যেতে পারে যে, পাপ...
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
نَفْسَهَا تَتَعَلَّقُ بِالْبَدَنِ عَلَى أَنَّهَا جِسْمٌ لَا عَرَضٌ بِنَاءً عَلَى إِثْبَاتِ عَالَمِ الْمِثَالِ وَأَنَّ كُلَّ مَا هُوَ فِي هَذَا الْعَالَمِ عَرَضٌ لَهُ صُورَةٌ فِي عَالَمِ الْمِثَالِ وَلِهَذَا صَحَّ عَرْضُ الْأَعْرَاضِ عَلَى آدَمَ عليه السلام ثُمَّ الملائكة وقيل لهم أنبئوني بأسماء هؤلاء وَإِلَّا فَكَيْفَ يُتَصَوَّرُ عَرْضُ الْأَعْرَاضِ لَوْ لَمْ يَكُنْ لَهَا صُورَةٌ تُشَخَّصُ بِهَا قَالَ وَقَدْ حَقَّقْتُ ذَلِكَ فِي تَأْلِيفٍ مُسْتَقِلٍّ وَأَشَرْتُ إِلَيْهِ فِي حَاشِيَتِي الَّتِي عَلَّقْتهَا عَلَى تَفْسِيرِ الْبَيْضَاوِيِّ وَمِنْ شَوَاهِدِهِ فِي الْخَطَايَا مَا أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ في سننه عن بن عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ يُصَلِّي أُتِيَ بِذُنُوبِهِ فَجُعِلَتْ عَلَى رَأْسِهِ وَعَاتِقِهِ فَكُلَّمَا رَكَعَ وَسَجَدَ تَسَاقَطَتْ عَنْهُ وَأَخْرَجَ الْبَزَّارُ وَالطَّبَرَانِيُّ عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمُ يُصَلِّي وَخَطَايَاهُ مَرْفُوعَةٌ عَلَى رَأْسِهِ كُلَّمَا سَجَدَ تَحَاتَّتْ عَنْهُ انْتَهَى كَلَامُ السُّيُوطِيِّ
قُلْتُ لَا شَكَّ فِي أَنَّ الظَّاهِرَ هُوَ حَمْلُهُ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَأَمَّا إِثْبَاتُ عَالَمِ الْمِثَالِ فَعِنْدِي فِيهِ نَظَرٌ فَتَفَكَّرْ
قَوْلُهُ (بَطَشَتْهَا) أَيْ أَخَذَتْهَا (حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا من الذنوب) قال بن الملك أي حتى يفرغ المتوضيء مِنْ وُضُوئِهِ طَاهِرًا مِنْ الذُّنُوبِ أَيْ الَّتِي اِكْتَسَبَهَا بِهَذِهِ الْأَعْضَاءِ أَوْ مِنْ جَمِيعِ الذُّنُوبِ من الصغائر وقيل حتى يخرج المتوضىء إِلَى الصَّلَاةِ طَاهِرًا مِنْ الذُّنُوبِ قَالَ أَبُو الطَّيِّبِ السِّنْدِيُّ فِي شَرْحِ التِّرْمِذِيِّ قَوْلُهُ حَتَّى يَخْرُجَ مُتَرَتِّبٌ عَلَى تَمَامِ الْوُضُوءِ لِأَنَّ تَقْدِيرَهُ وَهَكَذَا بَاقِي أَعْضَاءِ الْوُضُوءِ كَمَا يُفِيدُهُ رِوَايَةُ مُسْلِمٍ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ الْحَدِيثَ وَرِوَايَاتٌ غَيْرُه انْتَهَى
قُلْتُ الْأَمْرُ كَمَا قَالَ السِّنْدِيُّ فَرَوَى مَالِكٌ وَالنَّسَائِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ مَرْفُوعًا إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَمَضْمَضَ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اِسْتَنْثَرَ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ وَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مسح برأسه خرجت الخطايا من رأسه حتى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ كَذَا فِي الْمِشْكَاةِ قَالَ الطِّيبِيُّ فَإِنْ قِيلَ ذَكَرَ لِكُلِّ عُضْوٍ مَا يُخَصُّ بِهِ مِنْ الذُّنُوبِ وَمَا يُزِيلُهَا عَنْ ذَلِكَ وَالْوَجْهُ مُشْتَمِلٌ عَلَى الْعَيْنِ وَالْأَنْفِ وَالْأُذُنِ فَلِمَ خُصَّتْ الْعَيْنُ بِالذِّكْرِ أُجِيبُ بِأَنَّ الْعَيْنَ طَلِيعَةُ الْقَلْبِ وَرَائِدُهُ فَإِذَا ذُكِرَتْ أَغْنَتْ عَنْ سَائِرِهَا انتهى
قال بن حَجَرٍ الْمَكِّيُّ مُعْتَرِضًا عَلَى الطِّيبِيِّ كَوْنُ الْعَيْنِ طَلِيعَةً كَمَا ذَكَرَهُ لَا يُنْتِجُ الْجَوَابَ عَنْ تَخْصِيصِ خَطِيئَتِهَا بِالْمَغْفِرَةِ كَمَا هُوَ جَلِيٌّ
নিজে শরীরের সাথে সম্পৃক্ত হয় দেহ হিসেবে, কোনো গুণ হিসেবে নয়; আর এটি 'আলমে মিসাল' (উপমা জগত) সাব্যস্ত করার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা এই জগতে যা কিছু গুণ (আরায) হিসেবে বিদ্যমান, আলমে মিসালে তার একটি রূপ বা আকৃতি রয়েছে। এ কারণেই আদম আলাইহিস সালাম-এর সামনে গুণাবলি পেশ করা সম্ভব হয়েছিল, অতঃপর ফেরেশতাদের সামনেও এবং তাদের বলা হয়েছিল 'তোমরা আমাকে এসবের নাম বলে দাও'। অন্যথায় যদি গুণাবলির কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ না থাকত যার মাধ্যমে তা চিহ্নিত হয়, তবে কীভাবে তা পেশ করার বিষয়টি কল্পনা করা যেত? তিনি (সুয়ূতী) বলেন: আমি একটি স্বতন্ত্র রচনায় বিষয়টি তাহকীক করেছি এবং বায়যাবীর তাফসীরের ওপর আমার লিখিত পাদটীকায় এর দিকে ইঙ্গিত করেছি। পাপরাশির ক্ষেত্রে এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো ইমাম বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি— বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন তার গুনাহগুলো আনা হয় এবং তা তার মাথায় ও কাঁধে রাখা হয়। অতঃপর সে যখনই রুকু বা সেজদা করে, তখন তার থেকে সেগুলো ঝরে পড়তে থাকে। বাযযার এবং তাবারানী সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলিম ব্যক্তি নামাজ আদায় করে অথচ তার গুনাহগুলো তার মাথার ওপর উঠিয়ে রাখা হয়, সে যখনই সেজদা করে তখনই তা ঝরঝর করে ঝরে পড়ে। সুয়ূতীর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলি, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বাহ্যত একে প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা উচিত। তবে আলমে মিসাল সাব্যস্ত করার বিষয়ে আমার নিকট কিছুটা আপত্তি বা পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখো।
তাঁর উক্তি (বাতাশাত-হা) অর্থাৎ যা সে হাত দিয়ে পাকড়াও করেছে। (যাতে সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়) ইবনে আল-মালাক বলেন, অর্থাৎ ওজুকারী ব্যক্তি যেন তার ওজু সম্পন্ন করে গুনাহ থেকে পবিত্র অবস্থায় ফারেগ হয়; অর্থাৎ সেসব গুনাহ যা সে এই অঙ্গগুলোর মাধ্যমে অর্জন করেছিল, অথবা সগীরা গুনাহসহ সকল গুনাহ থেকে। বলা হয়েছে, যাতে ওজুকারী ব্যক্তি নামাজের জন্য বের হওয়ার সময় গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়। আবু তাইয়্যেব সিন্ধী তিরমিযীর শরহে বলেন, তাঁর উক্তি 'যাতে সে বের হয়' এটি ওজু সম্পন্ন করার ওপর নির্ভর করে। কারণ এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো— ওজুর বাকি অঙ্গগুলোর অবস্থাও তদ্রূপ, যেমনটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, 'অতঃপর যখন সে তার দুই পা ধৌত করে...' এবং অন্যান্য বর্ণনাও তা-ই নির্দেশ করে। সমাপ্ত।
আমি বলি, বিষয়টি সিন্ধী যেমনটি বলেছেন তেমনই। ইমাম মালিক এবং নাসাঈ আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যখন কোনো মুমিন বান্দা ওজু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়ে, তখন তার নাক থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায় এমনকি তার চোখের পলকের নিচ থেকেও। যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন তার হাত থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায় এমনকি তার হাতের নখের নিচ থেকেও। যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায় এমনকি তার দুই কান থেকেও। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন তার দুই পা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায় এমনকি তার পায়ের নখের নিচ থেকেও। অতঃপর তার মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া এবং নামাজ আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত সওয়াব হিসেবে গণ্য হয়। মিশকাত গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। তীবী বলেন, যদি প্রশ্ন করা হয় যে— এখানে প্রত্যেক অঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট গুনাহ এবং তা দূর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আর মুখমণ্ডল চোখ, নাক ও কানকে অন্তর্ভুক্ত করে; তবে চোখকে কেন আলাদাভাবে উল্লেখ করা হলো? উত্তরে বলা হয়েছে যে, চোখ হলো অন্তরের অগ্রদূত ও পথপ্রদর্শক। তাই চোখের কথা উল্লেখ করা অন্য সবগুলোর উল্লেখ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। সমাপ্ত।
ইবনে হাজার মাক্কী তীবীর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেন— চোখের অগ্রদূত হওয়া যা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা চোখের গুনাহকে ক্ষমার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করার যথাযথ উত্তর প্রদান করে না, যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بَلْ الَّذِي يُتَّجَهُ فِي الْجَوَابِ عَنْ ذَلِكَ أَنَّ سَبَبَ التَّخْصِيصِ هُوَ أَنَّ كُلًّا مِنْ الْفَمِ وَالْأَنْفِ وَالْأُذُنِ لَهُ طَهَارَةٌ مَخْصُوصَةٌ خَارِجَةٌ عَنْ طَهَارَةِ الْوَجْهِ فَكَانَتْ مُتَكَفِّلَةً بِإِخْرَاجِ خَطَايَاهُ بِخِلَافِ الْعَيْنِ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَهَا طَهَارَةٌ إِلَّا فِي غَسْلِ الْوَجْهِ فَخُصَّتْ خَطِيئَتُهَا بِالْخُرُوجِ عِنْدَ غسله دون غيرها مما ذكر
ذكره القارىء فِي الْمِرْقَاةِ ص 64 ج 2 انْتَهَى
قُلْتُ الْأَمْرُ كما قال بن حَجَر يَدُلُّ عَلَيْهِ رِوَايَةُ مَالِكٍ وَالنَّسَائِيِّ الْمَذْكُورَةُ قال بن الْعَرَبِيِّ فِي الْعَارِضَةِ الْخَطَايَا الْمَحْكُومُ بِمَغْفِرَتِهَا هِيَ الصَّغَائِرُ دُونَ الْكَبَائِرِ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا اُجْتُنِبَتْ الْكَبَائِرُ فَإِذَا كَانَتْ الصَّلَاةُ مَقْرُونَةً بِالْوُضُوءِ لَا تُكَفِّرُ الْكَبَائِرَ فَانْفِرَادُ الْوُضُوءِ بِالتَّقْصِيرِ عَنْ ذَلِكَ أَحْرَى قَالَ وَهَذَا التَّكْفِيرُ إِنَّمَا هُوَ لِلذُّنُوبِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِحُقُوقِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَأَمَّا الْمُتَعَلِّقَةُ بِحُقُوقِ الْآدَمِيِّينَ فَإِنَّمَا يَقَعُ النَّظَرُ فِيهَا بِالْمُقَاصَّةِ مَعَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ قَوْلُهُ (وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ) وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَتَقَدَّمَ فِي الْمُقَدِّمَةِ حَدُّ الْحَسَنِ وَالصَّحِيحِ مُفَصَّلًا قَوْلُهُ
(وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ) بِشَدَّةِ الْمِيمِ أَيْ بَائِعُ السَّمْنِ وَكَانَ يَجْلِبُ الزَّيْتَ وَالسَّمْنَ إِلَى الْكُوفَةِ (وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ) الْمَدَنِيُّ مَوْلَى جُوَيْرِيَةَ الْغَطَفَانِيَّةِ شَهِدَ الدَّارَ وَحِصَارَ عُثْمَانَ وَسَأَلَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ وَسَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَعِدَّةً من الصحابة وعند ابْنُهُ سُهَيْلٌ وَالْأَعْمَشُ وَطَائِفَةٌ ذَكَرَهُ أَحْمَدُ فَقَالَ ثِقَةٌ مِنْ أَجَلِّ النَّاسِ وَأَوْثَقِهِمْ قَالَ الْأَعْمَشُ سَمِعْتُ مِنْ أَبِي صَالِحٍ أَلْفَ حَدِيثٍ تُوُفِّيَ سَنَةَ إِحْدَى وَمِائَةٍ
قَوْلُهُ (وَأَبُو هُرَيْرَةَ اِخْتَلَفُوا فِي اِسْمِهِ فَقَالُوا عَبْدَ شَمْسٍ وَقَالُوا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إسماعيل وهذا الأصح) قال الحافظ بن حَجَرٍ فِي التَّقْرِيبِ أَبُو هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيُّ الصَّحَابِيُّ الْجَلِيلُ حَافِظُ الصَّحَابَةِ اُخْتُلِفَ فِي اِسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ قِيلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَخْرٍ وَقِيلَ بن غُنْمٍ إِلَى أَنْ ذَكَرَ تِسْعَةَ عَشَرَ قَوْلًا ثُمَّ قَالَ هَذَا الَّذِي وَقَفْنَا عَلَيْهِ مِنْ الِاخْتِلَافِ وَاخْتُلِفَ فِي أَيِّهَا أَرْجَحُ فَذَهَبَ الْأَكْثَرُونَ إِلَى الْأَوَّلِ أَيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَخْرٍ وَذَهَبَ جَمْعٌ مِنْ النَّسَّابِينَ إِلَى عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ انْتَهَى وَفِي الْمِرْقَاةِ شَرْحِ الْمِشْكَاةِ قَالَ الْحَاكِمُ أَبُو أَحْمَدَ
أَصَحُّ شَيْءٍ عِنْدَنَا فِي اِسْمِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَخْرٍ وَغَلَبَتْ عَلَيْهِ كُنْيَتُهُ فَهُوَ كَمَنْ لَا اِسْمَ لَهُ أَسْلَمَ عَامَ خَيْبَرَ وَشَهِدَهَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
বরং এর উত্তর হিসেবে যা অভিমতযোগ্য তা হলো, এই বিশেষীকরণের কারণ হলো মুখগহ্বর, নাক এবং কান—প্রত্যেকটির জন্য চেহারার পবিত্রতার (অজুর) অতিরিক্ত স্বতন্ত্র পবিত্রতা অর্জনের বিধান রয়েছে। ফলে এই অঙ্গগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের গুনাহসমূহ দূর করার জিম্মাদার হয়। পক্ষান্তরে চোখের অবস্থা ভিন্ন, কারণ চেহারা ধৌত করা ব্যতীত চোখের জন্য স্বতন্ত্র কোনো পবিত্রতার বিধান নেই। তাই চোখের গুনাহসমূহ বিশেষভাবে চেহারা ধৌত করার সময়ই নির্গত হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা উল্লিখিত অন্যান্য অঙ্গগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আল-ক্বারি এটি 'মিরকাত' এর ২য় খণ্ডের ৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। (সমাপ্ত)
আমি (গ্রন্থকার) বলছি, বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি ইবনে হাজার বলেছেন; মালেক ও নাসাঈ বর্ণিত উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে। ইবনুল আরাবী 'আল-عارضة' (আল-আরিজাহ) গ্রন্থে বলেছেন: যে গুনাহসমূহ ক্ষমা হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে তা হলো সগীরা (ছোট) গুনাহ, কবীরা (বড়) গুনাহ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমুআ থেকে অন্য জুমুআ—এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।" সুতরাং যখন অজু সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও নামাজ কবীরা গুনাহসমূহ মোচন করে না, তখন একা অজু যে এ ক্ষেত্রে আরও বেশি অক্ষম হবে তা বলাই বাহুল্য। তিনি আরও বলেন: এই গুনাহ মোচন কেবল মহান আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট গুনাহের ক্ষেত্রে সওয়াব ও গুনাহের পারস্পরিক বিনিময়ের (মুকাসসাহ) ভিত্তিতে বিচার করা হবে। তাঁর বক্তব্য (এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস): ইমাম মুসলিম এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাসান ও সহীহ হাদিসের সংজ্ঞা ও সীমা সম্পর্কে ভূমিকার আলোচনায় বিস্তারিত অতিবাহিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য:
(সোহাইলের পিতা আবু সালিহ হলেন আবু সালিহ আস-সাম্মান): 'মীম' বর্ণে তাশদীদসহ, যার অর্থ ঘি বিক্রেতা। তিনি কুফায় জাইতুন তেল ও ঘি আমদানি করতেন। (তাঁর নাম যাকওয়ান) আল-মাদানি, জুওয়াইরিয়াহ আল-গাতাফানিয়্যাহ-এর মুক্তদাস। তিনি 'আদ-দার' এর ঘটনা এবং উসমান (রাযি.)-এর অবরুদ্ধ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে প্রশ্ন করেছেন এবং আবু হুরায়রা, আয়েশা ও একদল সাহাবী থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তাঁর পুত্র সোহাইল, আমাশ এবং একদল রাবী হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আমাশ বলেন: আমি আবু সালিহ থেকে এক হাজার হাদিস শুনেছি। তিনি ১০১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর বক্তব্য (আবু হুরায়রার নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন আবদু শামস, কেউ বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল অর্থাৎ বুখারি একেই অধিক সঠিক বলেছেন): হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: আবু হুরায়রা আদ-দাওসি হলেন একজন সুমহান সাহাবী, যিনি সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাদিস সংরক্ষণকারী। তাঁর ও তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে আবদুর রহমান ইবনে সাখর, আবার বলা হয়েছে ইবনে গুনম—এভাবে তিনি ১৯টি মত উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: এটিই সেই মতভেদ যা আমরা অবগত হয়েছি এবং এগুলোর মধ্যে কোনটি অধিক প্রাধান্যযোগ্য তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ প্রথম মতটি অর্থাৎ আবদুর রহমান ইবনে সাখর-এর দিকে গিয়েছেন। আবার বংশবিদদের একটি দল আমর ইবনে আমের নামের মতটি গ্রহণ করেছেন। (সমাপ্ত)। 'মিশকাত'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'মিরকাত'-এ রয়েছে, হাকেম আবু আহমদ বলেছেন:
আমাদের নিকট আবু হুরায়রার নামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো আবদুর রহমান ইবনে সাখর। তাঁর উপনামটিই তাঁর ওপর এতোটা প্রভাব বিস্তার করেছে যে, তিনি যেন নামহীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন (অর্থাৎ নামের চেয়ে উপনামেই অধিক পরিচিত)। তিনি খায়বর যুদ্ধের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثُمَّ لَزِمَهُ وَوَاظَبَ عَلَيْهِ رَاغِبًا فِي الْعِلْمِ رَاضِيًا بِشِبَعِ بَطْنِهِ وَكَانَ يَدُورُ مَعَهُ حَيْثُ مَا دَارَ وَقَالَ الْبُخَارِيُّ رَوَى عَنْهُ أَكْثَرُ من ثمانمائة رجل فمنهم بن عباس وبن عَمْرٍو وَجَابِرٌ وَأَنَسٌ قِيلَ سَبَبُ تَلْقِيبِهِ بِذَلِكَ ما رواه بن عَبْدِ الْبَرِّ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَحْمِلُ يَوْمًا هِرَّةً فِي كُمِّي فَرَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا هَذِهِ فَقُلْتُ هِرَّةٌ فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ
انْتَهَى مَا فِي الْمِرْقَاةِ وَذَكَرَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ أَنَّهُ قَالَ كَنَّانِي أَبِي بِأَبِي هُرَيْرَةَ لِأَنِّي كُنْتُ أَرْعَى غَنَمًا فَوَجَدْتُ أَوْلَادَ هِرَّةٍ وَحْشِيَّةٍ فَلَمَّا أَبْصَرَهُنَّ وَسَمِعَ أَصْوَاتَهُنَّ أَخْبَرْته فَقَالَ أَنْتَ أَبُو هِرٍّ وَكَانَ اِسْمِي عَبْدَ شَمْسٍ
انْتَهَى
قُلْتُ رَوَى التِّرْمِذِيُّ فِي هَذَا الْكِتَابِ فِي مَنَاقِبِ أَبِي هُرَيْرَةَ بِسَنَدِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي هُرَيْرَةَ لِمَ كُنِّيتَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَا تَفْرَقُ مِنِّي قُلْتُ بَلَى وَاللَّهِ إِنِّي لَأَهَابُكَ قَالَ كُنْتُ أَرْعَى غَنَمَ أَهْلِي وَكَانَتْ لِي هُرَيْرَةٌ صَغِيرَةٌ فَكُنْتُ أَضَعُهَا بِاللَّيْلِ فِي شَجَرَةٍ فَإِذَا كَانَ النَّهَارُ ذَهَبْتُ بِهَا مَعِي فَلَعِبْتُ بِهَا فَكَنَّوْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
فَائِدَةٌ اُخْتُلِفَ فِي صَرْفِ أَبِي هريرة ومنعه قال القارىء فِي الْمِرْقَاةِ
جَرُّ هُرَيْرَةَ هُوَ الْأَصْلُ وَصَوَّبَهُ جَمَاعَةٌ لِأَنَّهُ جُزْءُ عَلَمٍ وَاخْتَارَ آخَرُونَ مَنْعَ صَرْفِهِ كَمَا هُوَ الشَّائِعُ عَلَى أَلْسِنَةِ الْعُلَمَاءِ مِنْ الْمُحَدِّثِينَ وَغَيْرِهِمْ لِأَنَّ الْكُلَّ صَارَ كَالْكَلِمَةِ الْوَاحِدَةِ انْتَهَى قُلْتُ وَقَدْ صَرَّحَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ مَنْعَهُ مِنْ الصَّرْفِ هُوَ الْجَارِي عَلَى أَلْسِنَةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ فَالرَّاجِحُ هُوَ مَنْعُهُ مِنْ الصَّرْفِ وَكَانَ هُوَ الْجَارِيَ عَلَى أَلْسِنَةِ جَمِيعِ شُيُوخِنَا غَفَرَ اللَّهُ لَهُمْ وَأَدْخَلَهُمْ جَنَّةَ الْفِرْدَوْسِ الْأَعْلَى وَيُؤَيِّدُ مَنْعَ صَرْفِهِ منع صرف بن دَايَةَ عَلَمًا لِلْغُرَابِ قَالَ قَيْسُ بْنُ مُلَوَّحٍ المجنون
أقول وقد صاح بن دَايَةَ غَدْوَةً بِبُعْدِ النَّوَى لَا أَخْطَأَتْكَ الشَّبَائِكُ قَالَ الْقَاضِي الْبَيْضَاوِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ الْمُسَمَّى بِأَنْوَارِ التَّنْزِيلِ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى شَهْرُ رَمَضَانَ الذي أنزل فيه القرآن رَمَضَانُ مَصْدَرُ رَمَضَ إِذَا اِحْتَرَقَ فَأُضِيفَ إِلَيْهِ الشَّهْرُ وَجُعِلَ عَلَمًا وَمُنِعَ مِنْ الصَّرْفِ لِلْعَلَمِيَّةِ والألف والنون كما منع داية في بن دَايَةَ عَلَمًا لِلْغُرَابِ لِلْعَلَمِيَّةِ وَالتَّأْنِيثِ انْتَهَى
فَائِدَةٌ قَدْ تَفَوَّهَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ الْحَنَفِيَّةِ بِأَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَمْ يَكُنْ فَقِيهًا وَقَوْلُهُمْ هَذَا بَاطِلٌ مَرْدُودٌ عَلَيْهِمْ وَقَدْ صَرَّحَ أَجِلَّةُ الْعُلَمَاءِ الْحَنَفِيَّةِ بِأَنَّهُ رضي الله عنه كَانَ فَقِيهًا قَالَ صَاحِبُ السِّعَايَةِ شَرْحِ شَرْحِ الْوِقَايَةِ وَهُوَ مِنْ الْعُلَمَاءِ الْحَنَفِيَّةِ رَدًّا عَلَى مَنْ قَالَ مِنْهُمْ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ غَيْرَ فَقِيهٍ مَا لَفْظُهُ كَوْنُ أَبِي هُرَيْرَةَ غَيْرَ فَقِيهٍ غَيْرُ صَحِيحٍ بَلْ الصَّحِيحُ أَنَّهُ مِنْ الْفُقَهَاءِ الَّذِينَ كَانُوا يُفْتُونَ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كما صرح به بن الهمام في تحرير الأصول وبن حَجَرٍ فِي الْإِصَابَةِ فِي أَحْوَالِ الصَّحَابَةِ انْتَهَى
وَفِي بَعْضِ حَوَاشِي نُورِ الْأَنْوَارِ أَنَّ أَبَا هريرة كان فقيها صرح به بن الْهُمَامِ فِي التَّحْرِيرِ
অতঃপর তিনি তাঁর সংশ্রব ও সান্নিধ্য অপরিহার্য করে নেন এবং জ্ঞান অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ও নিছক উদরপূর্তিতে তুষ্ট থেকে তাঁর সেবায় একনিষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) সাথেই থাকতেন যেখানেই তিনি যেতেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, তাঁর নিকট থেকে আটশতেরও বেশি ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস, ইবনে আমর, জাবির ও আনাস রাযিআল্লাহু আনহুম অন্যতম। বর্ণিত আছে যে, তাঁর এই উপনামের কারণ সম্পর্কে ইবনে আবদিল বার রহ. তাঁর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আবু হুরায়রা রাযি.) বলেন: "একদিন আমি আমার আস্তিনের মধ্যে একটি বিড়ালছানা বহন করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, 'এটি কী?' আমি বললাম, 'এটি একটি বিড়ালছানা'। তিনি বললেন, 'হে আবু হুরায়রা (বিড়ালছানার পিতা)'।"
'মিরকাত' গ্রন্থের আলোচনা এখানেই শেষ। হাফেজ যাহাবী রহ. 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আবু হুরায়রা রাযি.) বলেছেন: "আমার পিতা আমাকে আবু হুরায়রা উপনামে ভূষিত করেছিলেন। কারণ আমি বকরী চরাতাম এবং একবার একটি বন্য বিড়ালের কয়েকটি বাচ্চা পেয়েছিলাম। তিনি যখন সেগুলো দেখলেন এবং সেগুলোর শব্দ শুনলেন, আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, 'তুমি তো আবু হির (বিড়ালের পিতা)'। আর আমার (আসল) নাম ছিল আবদু শামস।"
সমাপ্ত। আমি বলি: ইমাম তিরমিযী রহ. এই কিতাবে আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহুর মর্যাদা অধ্যায়ে তাঁর নিজস্ব সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আবু রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবু হুরায়রা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলাম, কেন আপনার উপনাম আবু হুরায়রা রাখা হলো? তিনি বললেন, 'তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছ?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করি।' তিনি বললেন, 'আমি আমার পরিবারের বকরী চরাতাম এবং আমার একটি ছোট বিড়ালছানা ছিল। রাতে আমি সেটিকে একটি গাছের ওপর রাখতাম এবং দিন হলে সেটিকে সাথে নিয়ে যেতাম ও খেলা করতাম। একারণে লোকেরা আমাকে আবু হুরায়রা উপনামে ডাকতে শুরু করে'। এটি একটি হাসান গরীব হাদীস।"
বিশেষ জ্ঞাতব্য: 'আবু হুরায়রা' শব্দটির নমনীয়তা (তানভীন গ্রহণ) এবং অনমনীয়তা (তানভীন বর্জন) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মোল্লা আলী কারী রহ. 'মিরকাত' গ্রন্থে বলেন:
"হুরায়রাহ শব্দটিকে যের প্রদান করাই মূল নিয়ম এবং একদল আলেম একেই সঠিক বলেছেন, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট নামের অংশ। আবার অন্যেরা এটিকে অনমনীয় (গায়রে মুনসারিফ) হিসেবে গণ্য করাকে পছন্দ করেছেন, যেমনটি মুহাদ্দিস ও অন্যান্য আলেমদের নিকট বহুল প্রচলিত; কারণ পুরো পদটি একটি একক শব্দের ন্যায় হয়ে গেছে।" সমাপ্ত। আমি বলি: একাধিক আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একে অনমনীয় হিসেবে গণ্য করাই ইলমে হাদীসের পণ্ডিতদের মাঝে প্রচলিত রীতি। সুতরাং শক্তিশালী মত হলো একে অনমনীয় রাখা এবং আমাদের সকল উস্তাদগণের মুখেও এটিই প্রচলিত ছিল—আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। এই মতের সমর্থনে কাকের নাম হিসেবে 'ইবনে দায়াহ' শব্দটির অনমনীয়তার দৃষ্টান্ত পেশ করা যায়। কায়স ইবনে মুলাউওয়াহ (মজনু) বলেন:
"আমি বলছি, যখন বিরহের প্রভাতে কাক উচ্চস্বরে ডাকল, তখন (আমি বললাম) শিকারীর জাল যেন তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট না করে।" কাজী বায়যাবী রহ. তাঁর 'আনোয়ারুত তানযীল' নামক তাফসীর গ্রন্থে আল্লাহ তাআলার বাণী—'রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে'—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "রমজান শব্দটি 'রামাদ' থেকে উৎপন্ন মাসদার, যার অর্থ দহন। এর সাথে 'মাস' শব্দটিকে যুক্ত করে একে একটি নাম (আলম) হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং আলম (নাম) ও শেষে অতিরিক্ত আলিফ-নুন হওয়ার কারণে একে অনমনীয় করা হয়েছে; যেমনটি কাকের নাম হিসেবে 'ইবনে দায়াহ' এর ক্ষেত্রে 'দায়াহ' শব্দটি আলম ও স্ত্রীবাচক হওয়ার কারণে অনমনীয় হয়েছে।" সমাপ্ত।
বিশেষ জ্ঞাতব্য: কোনো কোনো হানাফী ফকীহ মন্তব্য করেছেন যে, আবু হুরায়রা রাযি. ফকীহ ছিলেন না। তাঁদের এই উক্তি অসার এবং এটি প্রত্যাখ্যাত। হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (রাযি.) একজন ফকীহ ছিলেন। 'আল-সিয়াহ শারহু শারহিল বিকায়াহ' এর লেখক—যিনি একজন হানাফী আলেম—তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন: "আবু হুরায়রা ফকীহ ছিলেন না—এই কথাটি সঠিক নয়; বরং সঠিক কথা হলো তিনি সেই সকল ফকীহ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা স্বয়ং নবী করীম ﷺ-এর জীবদ্দশায় ফতোয়া দিতেন। যেমনটি ইবনুল হুমাম 'তাহরীরুল উসূল' গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে সাহাবীদের অবস্থা বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।" সমাপ্ত।
'নুরুল আনওয়ার' এর কোনো কোনো টীকাগ্রন্থেও বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রা রাযি. ফকীহ ছিলেন, যা ইবনুল হুমাম 'তাহরীর' গ্রন্থে পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كَيْفَ وَهُوَ لَا يَعْمَلُ بِفَتْوَى غَيْرِهِ وَكَانَ يُفْتِي بِزَمَنِ الصَّحَابَةِ رِضْوَانُ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِمْ وَكَانَ يُعَارِضُ أَجِلَّةَ الصَّحَابَةِ كَابْنِ عَبَّاسٍ فَإِنَّهُ قَالَ إِنَّ عِدَّةَ الْحَامِلِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا أَبْعَدُ الْأَجَلَيْنِ فَرَدَّهُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأَفْتَى بِأَنَّ عِدَّتَهَا وَضْعُ الْحَمْلِ كَذَا قِيلَ
انْتَهَى
قُلْتُ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه مِنْ فُقَهَاءِ الصَّحَابَةِ وَمِنْ كِبَارِ أَئِمَّةِ الْفَتْوَى قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ أَبُو هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيُّ الْيَمَانِيُّ الْحَافِظُ الْفَقِيهُ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ مِنْ أَوْعِيَةِ الْعِلْمِ وَمِنْ كِبَارِ أَئِمَّةِ الْفَتْوَى
مَعَ الْجَلَالَةِ والعبادة والتواضع
انتهى وقال الحافظ بن الْقَيِّمِ فِي إِعْلَامِ الْمُوَقِّعِينَ ثُمَّ قَامَ بِالْفَتْوَى بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرْكُ الْإِسْلَامِ وَعِصَابَةُ الْإِيمَانِ وَعَسْكَرُ الْقُرْآنِ وَجُنْدُ الرَّحْمَنِ أُولَئِكَ أَصْحَابُهُ صلى الله عليه وسلم وَكَانُوا بَيْنَ مُكْثِرٍ مِنْهَا وَمُقِلٍّ وَمُتَوَسِّطٍ وَكَانَ الْمُكْثِرُونَ مِنْهُمْ سَبْعَةً عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَعَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَالْمُتَوَسِّطُونَ مِنْهُمْ فِيمَا رُوِيَ عَنْهُمْ مِنْ الْفُتْيَا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ وَأُمُّ سَلَمَةَ وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ وَأَبُو هُرَيْرَةَ
إِلَخْ فَلَا شَكَّ فِي أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه كَانَ فَقِيهًا مِنْ فُقَهَاءِ الصَّحَابَةِ وَمِنْ كِبَارِ أَئِمَّةِ الْفَتْوَى
فَإِنْ قِيلَ قَدْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ أَيْضًا إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَمْ يَكُنْ فَقِيهًا وَالنَّخَعِيُّ مِنْ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ
قُلْتُ قَدْ نُقِمَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ لِقَوْلِهِ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَمْ يَكُنْ فَقِيهًا قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي الْمِيزَانِ فِي تَرْجَمَتِهِ وَكَانَ لَا يُحْكِمُ الْعَرَبِيَّةَ رُبَّمَا لَحَنَ وَنَقَمُوا عَلَيْهِ قَوْلَهُ لَمْ يَكُنْ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقِيهًا
انْتَهَى
عِبْرَةٌ قَالَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ بْنُ الْعَرَبِيِّ فِي عَارِضَةِ الْأَحْوَذِيِّ فِي بَحْثِ حَدِيثِ الْمُصَرَّاةِ المروي عن أبي هريرة وبن عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثُ لَا يُقْبَلُ لِأَنَّهُ يَرْوِيهِ أَبُو هُرَيْرَةَ وبن عُمَرَ وَلَمْ يَكُونَا فَقِيهَيْنِ وَإِنَّمَا كَانَا صَالِحَيْنِ فَرِوَايَتُهُمَا إِنَّمَا تُقْبَلُ فِي الْمَوَاعِظِ لَا فِي الْأَحْكَامِ وَهَذِهِ جُرْأَةٌ عَلَى اللَّهِ وَاسْتِهْزَاءٌ فِي الدِّينِ عِنْدَ ذَهَابِ حَمَلَتِهِ وَفَقْدِ نَصَرَتِهِ وَمَنْ أفقه من أبي هريرة وبن عُمَرَ وَمَنْ أَحْفَظُ مِنْهُمَا خُصُوصًا مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَدْ بَسَطَ رِدَاءَهُ وَجَمَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَضَمَّهُ إِلَى صَدْرِهِ فَمَا نَسِيَ شَيْئًا أَبَدًا وَنَسْأَلُ اللَّهَ الْمُعَافَاةَ مِنْ مَذْهَبٍ لَا يَثْبُتُ إِلَّا بِالطَّعْنِ عَلَى الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم وَلَقَدْ كُنْتُ فِي جَامِعِ الْمَنْصُورِ مِنْ مَدِينَةِ السَّلَامِ فِي مَجْلِسِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّامَغَانِيِّ قَاضِي الْقُضَاةِ فَأَخْبَرَنِي بِهِ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَقَدْ جَرَى ذِكْرُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ أَنَّهُ تَكَلَّمَ فِيهَا بَعْضُهُمْ يَوْمًا وَذَكَرَ هَذَا الطعن في أبي هريرة فسقط مِنْ السَّقْفِ حَيَّةٌ عَظِيمَةٌ فِي وَسَطِ الْمَسْجِدِ فَأَخَذَتْ فِي سَمْتِ الْمُتَكَلِّمِ بِالطَّعْنِ وَنَفَرَ النَّاسُ وَارْتَفَعُوا وَأَخَذَتْ الْحَيَّةُ تَحْتَ السَّوَارِي فَلَمْ يَدْرِ أَيْنَ ذَهَبَتْ فَارْعَوى مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ مِنْ التَّرَسُّلِ فِي هَذَا الْقَدْحِ
انْتَهَى
তা কী করে হতে পারে? অথচ তিনি অন্য কারো ফতোয়া অনুযায়ী আমল করতেন না। তিনি সাহাবীদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যুগে ফতোয়া দিতেন এবং বিশিষ্ট সাহাবীদের বিরোধিতা করতেন, যেমন ইবনে আব্বাস। কেননা ইবনে আব্বাস বলেছিলেন যে, গর্ভবতী বিধবা নারীর ইদ্দত হলো সম্ভাব্য দুই সময়ের মধ্যে দীর্ঘতরটি; কিন্তু আবু হুরায়রা তাঁর প্রতিবাদ করেন এবং ফতোয়া দেন যে, তাঁর ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব করা। এমনটিই বলা হয়েছে।
সমাপ্ত।
আমি বলি, আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাহাবীদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় ফকিহ এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাফেজ আজ-জাহাবি 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে বলেন: আবু হুরায়রা আদ-দাওসি আল-ইয়ামানি, হাফেজ, ফকিহ এবং রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবী ছিলেন। তিনি ইলমের এক বিশাল আধার এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে প্রখ্যাত ইমামদের একজন ছিলেন।
তাঁর এই অবস্থান ছিল মহত্ত্ব, ইবাদত ও বিনয়ের সাথে।
সমাপ্ত। হাফেজ ইবনুল কাইয়িম 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে ইসলামের স্তম্ভ, ঈমানের কাফেলা, কুরআনের বাহিনী এবং রহমানের লস্করগণ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা হলেন নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ। তাঁদের মধ্যে কেউ অধিক ফতোয়া দিতেন, কেউ কম এবং কেউ মধ্যম। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক ফতোয়া প্রদানকারী ছিলেন সাতজন: উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা, জায়েদ ইবনে সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর। আর যাঁদের থেকে বর্ণিত ফতোয়ার পরিমাণ মধ্যম স্তরের, তাঁরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, উম্মে সালামা, আনাস ইবনে মালিক, আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা।
ইত্যাদি। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন ফকিহ এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথিতযশা ইমামদের একজন ছিলেন।
যদি বলা হয় যে, ইব্রাহিম নাখয়িও বলেছেন যে আবু হুরায়রা ফকিহ ছিলেন না, অথচ নাখয়ি ছিলেন তাবেঈদের মধ্যে অন্যতম ফকিহ।
আমি বলি, আবু হুরায়রা ফকিহ ছিলেন না—এই মন্তব্যের কারণে ইব্রাহিম নাখয়ির সমালোচনা করা হয়েছে। হাফেজ আজ-জাহাবি 'মিজান' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বলেন: তিনি (ইব্রাহিম নাখয়ি) আরবি ব্যাকরণে খুব একটা দক্ষ ছিলেন না, সম্ভবত ভাষাগত ভুল করতেন; আর আবু হুরায়রা ফকিহ ছিলেন না—তাঁর এই মন্তব্যের জন্য আলেমগণ তাঁর সমালোচনা করেছেন।
সমাপ্ত।
একটি শিক্ষা: কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি 'আরিজাতুল আহওয়াযি' গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত 'মুসাররাত' (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ওলানে দুধ আটকানো পশু) সংক্রান্ত হাদিসের আলোচনায় বলেন: কেউ কেউ বলেছেন, এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁরা ফকিহ ছিলেন না; বরং তাঁরা কেবল নেককার ব্যক্তি ছিলেন। সুতরাং তাঁদের বর্ণনা কেবল উপদেশমূলক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, আইনি বিধানের ক্ষেত্রে নয়। (ইবনুল আরাবি বলেন) এটি আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা এবং দ্বীনের বাহক ও সাহায্যকারীদের অবর্তমানে দ্বীন নিয়ে উপহাস করার শামিল। আবু হুরায়রা ও ইবনে উমরের চেয়ে বড় ফকিহ আর কে হতে পারে? বিশেষ করে আবু হুরায়রার চেয়ে অধিক হাফেজ আর কে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলেন এবং তা গুছিয়ে তাঁর (আবু হুরায়রার) বুকের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি আর কখনো কিছু ভোলেননি। আমরা আল্লাহর কাছে এমন মতবাদ থেকে আশ্রয় চাই যা সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি অপবাদ আরোপ করা ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় না। আমি বাগদাদের জামে মানসুরে প্রধান বিচারপতি আলী ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামাগানির মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। আমাদের জনৈক সাথী আমাকে জানালেন যে, একদা এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল এবং কেউ একজন আবু হুরায়রা সম্পর্কে এই অপবাদ উচ্চারণ করছিল—ঠিক তখনই মসজিদের মাঝখানে ছাদ থেকে এক বিশাল সাপ পতিত হলো। সাপটি সরাসরি সেই অপবাদকারীর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করল। মানুষ ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাল। সাপটি মসজিদের খুঁটির নিচে চলে গেল এবং কেউ জানল না সেটি কোথায় অদৃশ্য হলো। এরপর থেকে সেই ব্যক্তি এ ধরনের সমালোচনা থেকে তওবা করলেন।
সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قَوْلُهُ (وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَثَوْبَانَ وَالصُّنَابِحِيِّ وعمر وبن عَبَسَةَ وَسَلْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو) أَمَّا حَدِيثُ عُثْمَانَ فَأَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ بِلَفْظِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ
وَأَمَّا حَدِيثُ ثوبان فأخرجه مالك وأحمد وبن مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ
وَأَمَّا حَدِيثُ الصُّنَابِحِيِّ فَأَخْرَجَهُ مَالِكٌ والنسائي وبن مَاجَهْ وَالْحَاكِمُ وَقَالَ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِهِمَا وَلَا عِلَّةَ لَهُ وَالصُّنَابِحِيُّ صَحَابِيٌّ مَشْهُورٌ كَذَا فِي التَّرْغِيبِ لِلْمُنْذِرِيِّ
وَأَمَّا حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ فَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَأَمَّا حَدِيثُ سَلْمَانَ فَأَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ بِلَفْظِ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ تَحَاتَّتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحَاتَّ وَرَقُ هَذِهِ الشَّجَرَةِ
وَأَمَّا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَلَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ وَفِي الْبَابِ عَنْ عِدَّةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سِوَى الْمَذْكُورِينَ ذَكَرَ أَحَادِيثَهُمْ الْمُنْذِرِيُّ فِي التَّرْغِيبِ وَالْهَيْثَمِيُّ فِي مَجْمَعِ الزَّوَائِدِ
قَوْلُهُ (وَالصُّنَابِحِيُّ هَذَا الَّذِي رَوَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي فَضْلِ الطُّهُورِ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ) هَذِهِ الْعِبَارَةُ لَيْسَتْ فِي النُّسَخِ الْمَطْبُوعَةِ إِنَّمَا هِيَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْقَلَمِيَّةِ الصَّحِيحَةِ وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ هَذَا أَخْرَجَهُ مَالِكٌ فِي الْمُوَطَّأِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَمَضْمَضَ خَرَجَتْ خطاياه من فيه الحديث
قال الحافظ بن عَبْدِ الْبَرِّ قَدْ اُخْتُلِفَ عَلَى عَطَاءٍ فِيهِ قَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ وَهُوَ الصَّحِيحُ كَذَا فِي الْمُحَلَّى وَقَالَ الْبُخَارِيُّ وَهَمَ مَالِكٌ فِي قَوْلِهِ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ وَإِنَّمَا هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ كَذَا فِي إِسْعَافِ الْمُبْطَأِ (وَالصُّنَابِحِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَيُكَنَّى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ) قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ بِمُهْمَلَةٍ مُصَغَّرًا الْمُرَادِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ ثِقَةٌ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ بَعْدَ مَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسَةِ أَيَّامٍ
مَاتَ فِي خِلَافَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ انْتَهَى (رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ) رَوَى الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ الصُّنَابِحِيِّ أَنَّهُ قَالَ مَتَى هَاجَرْتُ قَالَ خَرَجْنَا مِنْ الْيَمَنِ مُهَاجِرِينَ فَقَدِمْنَا الْجُحْفَةَ فَأَقْبَلَ رَاكِبٌ فَقُلْتُ لَهُ الْخَبَرَ الْخَبَرَ
তাঁর বাণী: (এবং এই অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, আস-সুনাবিহি, আমর ইবনে আবাসা, সালমান এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে)। উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু করে, তার শরীর থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়।"
আর সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি ইমাম মালিক, আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও দারিমি বর্ণনা করেছেন।
আস-সুনাবিহি রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি ইমাম মালিক, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন, এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই। মুনযিরির 'আত-তারগিব' গ্রন্থে এভাবেই উল্লিখিত হয়েছে যে, সুনাবিহি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী।
আমর ইবনে আবাসা রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর সালমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি ইমাম বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যখন কোনো বান্দা ওজু করে, তখন তার গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরে পড়ে যেভাবে এই গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ে।"
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি আমি খুঁজে পাইনি। তবে উল্লিখিত সাহাবীগণ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরও কয়েকজন সাহাবী থেকে এই অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মুনযিরি 'আত-তারগিব' গ্রন্থে এবং হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে তাঁদের হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বাণী: (পবিত্রতার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন, সেই আস-সুনাবিহি হলেন আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি)। এই বাক্যটি মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে নেই, তবে এটি কিছু বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে। আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহির এই হাদিসটি ইমাম মালিক তাঁর 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো মুমিন বান্দা ওজু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়..." (পুরো হাদিসটি)।
হাফেজ ইবনে আব্দুল বার বলেছেন, এ বিষয়ে আতার বর্ণনায় মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন 'আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি' থেকে, আবার কেউ কেউ বলেছেন 'আবু আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি' থেকে; আর এটিই সঠিক। ইবনে হাজমের 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে এভাবেই আছে। ইমাম বুখারি বলেছেন, ইমাম মালিক 'আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি' নাম উল্লেখ করে ভ্রম করেছেন, আসলে সেটি হবে 'আবু আবদুল্লাহ'। সুয়ুতির 'ইসআফুল মুবাত্তাহ' গ্রন্থে এভাবেই উল্লিখিত হয়েছে। (আর আস-সুনাবিহি যিনি আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর সরাসরি হাদিস শোনার প্রমাণ নেই। তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে উসাইলা এবং তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন, আবদুর রহমান ইবনে উসাইলা আল-মুরাদি, আবু আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য এবং প্রথম সারির তাবেয়ি। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পাঁচ দিন পর মদিনায় পৌঁছেছিলেন।
তিনি আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। (তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যেই নবীজির ইন্তেকাল হয়)। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবুল খায়ের থেকে এবং তিনি আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আস-সুনাবিহি বলেছিলেন: "আমি কখন হিজরত করেছিলাম?" এরপর তিনি বললেন, "আমরা ইয়েমেন থেকে হিজরতকারী হিসেবে বের হলাম এবং জুহফায় পৌঁছলাম। তখন এক আরোহী সামনে থেকে আসছিলেন, আমি তাঁকে বললাম, খবর কী? খবর কী?"
(খণ্ড: ١)
তুহফাতুল আহওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
فَقَالَ دَفَنَّا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ خَمْسٍ قُلْتُ هَلْ سَمِعْتَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ شَيْئًا قَالَ أَخْبَرَنِي بِلَالٌ مُؤَذِّنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ فِي السَّبْعِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ (وَالصُّنَابِحُ بْنُ الْأَعْسَرِ الْأَحْمَسِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا) قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ الصُّنَابِحُ بِضَمِّ أَوَّلِهِ ثُمَّ نُونٍ وَمُوَحَّدَةٍ وَمُهْمَلَةٍ بن الْأَعْسَرِ الْأَحْمَسِيُّ صَحَابِيٌّ سَكَنَ الْكُوفَةَ وَمَنْ قَالَ فِيهِ الصُّنَابِحِيَّ فَقَدْ وَهَمَ
انْتَهَى (وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمْ الْأُمَمَ) قَالَ فِي مَجْمَعِ الْبِحَارِ كَاثَرْتُهُ أَيْ غَلَبْته وَكُنْتُ أَكْثَرَ مِنْهُ يَعْنِي إِنِّي أُبَاهِي بِأَكْثَرِيَّةِ أُمَّتِي عَلَى الْأُمَمِ السَّالِفَةِ فَلَا تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي بِصِيغَةِ النَّهْيِ الْمُؤَكَّدِ بِنُونِ التَّأْكِيدِ مِنْ الِاقْتِتَالِ قَالَ أَبُو الطَّيِّبِ السِّنْدِيُّ فِي شَرْحِ التِّرْمِذِيِّ فَإِنْ قُلْتَ ما وجه تترتب قَوْلِهِ لَا تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي عَلَى الْمُكَاثَرَةِ قُلْتُ وَجْهُهُ أَنَّ الِاقْتِتَالَ مُوجِبٌ لِقَطْعِ النَّسْلِ إِذْ لَا تَنَاسُلَ مِنْ الْأَمْوَاتِ فَيُؤَدِّي إِلَى قِلَّةِ الْأُمَّةِ فَيُنَافِي الْمَطْلُوبَ فَلِذَلِكَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ فَإِنْ قُلْتَ الْمَقْتُولُ مَيِّتٌ بِأَجَلِهِ فَلَا وَجْهَ لِقَطْعِ النَّسْلِ بِسَبَبِ الِاقْتِتَالِ قُلْتُ إِمَّا أَنْ يُقَالَ إِنَّ الْإِقْدَامَ عَلَى الِاقْتِتَالِ مُفْضٍ بِقَطْعِ النَّسْلِ فَالنَّسْلُ بِاعْتِبَارِ فِعْلِهِمْ الِاخْتِيَارِيِّ أَوْ يُقَالُ يَكُونُ لَهُمْ أَجَلَانِ أَجَلٌ عَلَى تَقْدِيرِ الِاقْتِتَالِ وَأَجَلٌ بِدُونِهِ وَيَكُونُ الثَّانِي أَطْوَلَ مِنْ الْأَوَّلِ وَبِالِاقْتِتَالِ يَقْصُرُ الْأَجَلُ فَتَقِلُّ الْأُمَّةُ وَهَذَا يَرُدُّ عَلَيْهِ أَنَّ عِنْدَ اللَّهِ لَا يَكُونُ إِلَّا أَجَلٌ وَاحِدٌ انْتَهَى كَلَامُ أَبِي الطَّيِّبِ
وَحَدِيثُ الصُّنَابِحِيِّ هَذَا أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ ص 153 ج 4 بِأَلْفَاظٍ
تَنْبِيهٌ اِعْلَمْ أَنَّهُ يُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ التِّرْمِذِيِّ الْمَذْكُورِ أَمْرَانِ أَحَدُهُمَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ الصُّنَابِحِيَّ الَّذِي رَوَى فِي فَضْلِ الطُّهُورِ صَحَابِيٌّ وَالثَّانِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ الصُّنَابِحِيَّ هَذَا غَيْرُ الصُّنَابِحِيِّ الَّذِي اِسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَكُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ لَكِنَّهُ لَيْسَ هَذَانِ الْأَمْرَانِ مُتَّفَقًا عَلَيْهِمَا بَلْ فِي كُلٍّ مِنْهُمَا اِخْتِلَافٌ قَالَ الْحَافِظُ فِي التَّقْرِيبِ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ مُخْتَلَفٌ فِي وُجُودِهِ فَقِيلَ صَحَابِيٌّ مَدَنِيٌّ وَقِيلَ هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عسيلة وقال بن أَبِي حَاتِمٍ فِي مَرَاسِيلِهِ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ هُمْ ثَلَاثَةٌ فَاَلَّذِي يَرْوِي عَنْهُ عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ وَلَمْ تَصِحَّ صُحْبَتُهُ انْتَهَى وَقَالَ السُّيُوطِيُّ فِي إِسْعَافِ الْمُبْطَأِ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ وَيُقَالُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُخْتَلَفٌ فِي صُحْبَتِهِ رَوَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَعَنْهُ عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ وَقَالَ البخاري وهم مالك في قوله عبد الله الصُّنَابِحِيِّ وَإِنَّمَا هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَا قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ عَبْدُ اللَّهِ الصُّنَابِحِيُّ يَرْوِي عَنْهُ الْمَدَنِيُّونَ يُشْبِهُ أَنْ تكون له صحبة
انتهى
قَوْلُهُ بَابٌ مَا جَاءَ أَنَّ مِفْتَاحَ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ بِضَمِّ الطَّاءِ الْمُهْمَلَةِ
তিনি বললেন, "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঁচ দিন আগে দাফন করেছি।" আমি বললাম, "আপনি কি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে কিছু শুনেছেন?" তিনি বললেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াজ্জিন বিলাল আমাকে জানিয়েছেন যে, এটি রমজানের শেষ দশকের সাত (দিন বা রাতের) মধ্যে।" (আর সুনাবিহ ইবনুল আসরার আল-আহমাসি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী, তাকেও আস-সুনাবিহি বলা হয়)। হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাক্বরিব' গ্রন্থে বলেছেন, সুনাবিহ—প্রথম অক্ষরে পেশ, এরপর নুন, তারপর বা এবং সিন—ইবনুল আসরার আল-আহমাসি একজন সাহাবী, তিনি কুফায় বসবাস করতেন। আর যিনি তাকে 'আস-সুনাবিহি' বলেছেন, তিনি ভ্রান্তিতে পড়েছেন।
এখানেই উক্তির সমাপ্তি। (বস্তুত তার বর্ণিত হাদিস হলো: তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।") 'মাজমাউল বিহার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আমি তার ওপর সংখ্যায় বিজয়ী হয়েছি'—অর্থাৎ আমি পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর আমার উম্মতের আধিক্য নিয়ে গৌরব প্রকাশ করব। "সুতরাং তোমরা আমার পর পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না।" এখানে 'নূনে তাকিদ' দ্বারা দৃঢ় নিষেধবাচক রূপ ব্যবহৃত হয়েছে। তিরমিযীর ভাষ্য গ্রন্থে আবু তাইয়্যেব সিন্ধি বলেছেন, যদি প্রশ্ন করা হয়, "পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না" এই উক্তিটি সংখ্যার আধিক্যের বর্ণনার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? উত্তরে আমি বলব, এর কারণ হলো পারস্পরিক যুদ্ধ বংশধারা বিচ্ছিন্ন করে দেয়; যেহেতু মৃতদের থেকে কোনো বংশবৃদ্ধি হয় না, ফলে এটি উম্মতের সংখ্যা কমিয়ে দেয় যা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়, নিহত ব্যক্তি তো তার নির্দিষ্ট সময়েই মারা যায়, তবে যুদ্ধের কারণে বংশধারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো অবকাশ থাকে না। উত্তরে আমি বলব, হয় এটি বলা হবে যে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া বংশধারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার একটি কারণ মাত্র, সুতরাং বংশধারা তাদের স্বেচ্ছামূলক কর্মের ওপর ভিত্তি করে। অথবা বলা হবে যে, তাদের জন্য দুটি সময়সীমা নির্ধারিত থাকে: একটি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং অন্যটি যুদ্ধ ছাড়া। দ্বিতীয়টি প্রথমটির চেয়ে দীর্ঘতর হতে পারে। যুদ্ধের ফলে নির্ধারিত সময় সংকীর্ণ হয় এবং উম্মতের সংখ্যা হ্রাস পায়। তবে এর ওপর আপত্তি এই যে, আল্লাহর নিকট তো নির্ধারিত সময় কেবল একটিই। আবু তাইয়্যেবের বক্তব্য এখানেই শেষ।
আস-সুনাবিহির এই হাদিসটি ইমাম আহমদ তার 'মুসনাদ' গ্রন্থের ৪ নম্বর খণ্ডের ১৫৩ পৃষ্ঠায় বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন।
সতর্কতা: জেনে রাখুন যে, ইমাম তিরমিযীর উল্লিখিত বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় অনুধাবন করা যায়—প্রথমটি হলো, পবিত্রতার ফজিলত বর্ণনা করা আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি একজন সাহাবী। দ্বিতীয়টি হলো, এই আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি সেই সুনাবিহি নন যার নাম আব্দুর রহমান ইবনে উসাইলা এবং যার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। কিন্তু এই দুটি বিষয়ে ঐকমত্য নেই, বরং উভয় ক্ষেত্রেই মতভেদ রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাক্বরিব' গ্রন্থে বলেছেন, আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহির অস্তিত্ব নিয়েই মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন তিনি একজন মদিনাবাসী সাহাবী, আবার কেউ বলেছেন তিনি আবু আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি আব্দুর রহমান ইবনে উসাইলা। ইবনে আবি হাতেম তার 'মারাসিল' গ্রন্থে বলেছেন, আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি নামে তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন। আতা ইবনে ইয়াসার যার থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি, কিন্তু তার সাহাবী হওয়া প্রমাণিত নয়। সুয়ূতী 'ইসআফুল মুবাত্তি' গ্রন্থে বলেছেন, আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি—যাকে আবু আব্দুল্লাহও বলা হয়—তার সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উবাদা ইবনে সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর থেকে আতা ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন, ইমাম মালেক 'আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি' বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; বরং তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ, যার নাম আব্দুর রহমান ইবনে উসাইলা এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি কিছু শোনেননি। অনেকে এরূপই বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি, যাঁর থেকে মদিনাবাসীরা বর্ণনা করেছেন, সম্ভবত তিনি সাহাবী ছিলেন।
সমাপ্ত।
তাঁর উক্তি: 'অনুচ্ছেদ: নামাযের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা'—এখানে 'তুহুর' শব্দটি ত-এর ওপর পেশ যোগে পঠিত হবে।