(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصغير وزيادته القسم: كتب السنة
الكتاب: صحيح وضعيف الجامع الصغير وزيادته
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
مع الكتاب: أحكام محمد ناصر الدين الألباني
هذا الكتاب الإلكتروني، يمثل جميع أحاديث الجامع الصغير وزيادته للسيوطي، مع حكم الشيخ ناصر من صحيح أو ضعيف الجامع الصغير
[الكتاب مرقم آليا، فهو - بهذا الترتيب - إلكتروني فقط، لا يوجد مطبوعا]
عدد الصفحات: 14587
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জামি আস-সাগির ওয়া যিয়াদাতুহু বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সহীহ ও যঈফ আল-জামি আস-সাগির ওয়া যিয়াদাতুহু
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.)
কিতাবের সাথে: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর হুকুমসমূহ
এই ইলেকট্রনিক কিতাবটি সুয়ূতীর 'আল-জামি আস-সাগির ওয়া যিয়াদাতুহু'-এর সমস্ত হাদিস এবং শায়খ নাসিরের 'সহীহ ও যঈফ আল-জামি আস-সাগির' থেকে গৃহীত হুকুমসমূহ উপস্থাপন করে।
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, সুতরাং—এই বিন্যাসে—এটি কেবল ইলেকট্রনিক সংস্করণ, এটি মুদ্রিত আকারে নেই]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৫৮৭
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১)
1 - آتِي بَابَ الجَنَّةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الخَازِنُ: مَنْ أنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحمَّدٌ فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ أنْ لَا أَفْتَحَ لأَحَدٍ قَبْلَكَ
(حم م) عَن أنس.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 1 في صحيح الجامع وفى السلسلة الصحيحة 774. آتى باب الجنة يوم القيامة فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الخَازِنُ: مَنْ أنْتَ؟ فَأَقُولُ مُحمَّدٌ فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ أنْ لَا أَفْتَحَ لأَحَدٍ قبلك أخرجه مسلم فى صحيحه (1 / 30) وأحمد (3 / 136) من طريق هاشم بن القاسم حدثنا سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد صحيح وهو على شرط البخارى ولكنه لم يخرج كل ماكان على شرطه
১ - আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা খোলার অনুমতি চাইব। তখন পাহারাদার বলবে, "আপনি কে?" আমি বলব, "মুহাম্মদ।" তখন সে বলবে, "আপনার ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আপনার আগে কারো জন্য তা না খুলি।"
(আহমাদ ও মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) দেখুন হাদিস নম্বর: ১, সহিহ আল-জামে এবং সিলসিলাহ আস-সহিহাহ ৭৭৪-এ। কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা খোলার অনুমতি চাইব। তখন পাহারাদার বলবে, "আপনি কে?" আমি বলব "মুহাম্মদ", তখন সে বলবে: "আপনার ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আপনার আগে কারো জন্য তা না খুলি।" এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১ / ৩০) এবং আহমদ (৩ / ১৩৬) হাশিম ইবনুল কাসিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনুল মুগীরা বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন। আমি (আলবানী) বলছি: এই সনদটি সহিহ এবং এটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী, তবে তিনি (বুখারী) তাঁর শর্ত অনুযায়ী সকল হাদিস তাঁর গ্রন্থে সংকলন করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২)
2 - آخِرُ مَا أدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الأولى إذا لم تستح فاصنع ما شئت
(ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه) عَن أبي مَسْعُود البدري.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 2 في صحيح الجامع وفى الصحيحة 684: آخِرُ مَا أدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الأولى: إذا لم تستح فاصنع ماشئت أخرجه ابن عساكر فى تاريخ دمشق من حديث أبى مسعود البدرى. قال المناوى فى فيض القدير: وإسناده ضعيف اضعف فتح المصرى لكن يشهد له مارواه البيهقى فى الشعب عن أبى مسعود المذكور بلفظ: إن آخر مابقى من النبوة الأولى. . . والباقى سواء بل رواه البخارى عن أبى مسعود بلفظ: إن مما أدرك الناس. . . إلى آخر ماهنا. قلت: أخرجه البخارى فى الأنبياء (2 / 379) وفى الأدب (4 / 140) والأدب المفرد (597 1316) وكذا أبو داود (4797) وابن ماجه (4183) من طريق منصور قال: سمعت ربعى بن حراش يحدث عن أبى مسعود به. وخالفه فى اسناده أبو مالك الأشجعى فقال: حدثنى ربعى بن حراش عن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره بلفظ: إن آخر ما تعلق به أهل الجاهلية من كلام النبوة إذا لم تستح. . . أخرجه أحمد (5 / 405) : حدثنا يزيد بن هارون أنا أبو مالك به. وأخرجه أبو نعيم فى الحلية (4 / 371) والخطيب فى التاريخ (12 / 13ـ136) من طرق أخرى عن يزيد بن هارون به وزاد أحمد والخطيب فى أوله: المعروف كله صدقة وإن. . . وهذا إسناد صحيح على شرط مسلم وأبو مالك اسمه سعد بن طارق ولايعل برواية منصور المتقدمة لأنه ـ كما قال الحافظ فى الفتح (6 / 280) : ليس ببعيد أن يكون ربعى سمعه من أبى مسعود ومن حذيفة جميعا يعنى فحدث به عن هذا تارة وعن هذا تارة ومثل هذا الجمع لابد منه لأن توهيم الثقة لايجوز بغير حجة كما هو معروف فى علم المصطلح وعلى هذا فحديث حذيفة شاهد قوى لرواية ابن عساكر هذه وبالله التوفيق. ثم رأيت الحديث عند الأخميمى فى حديثه عن شيوخه (2 / 2 / 1) : حدثنا محمد ـ يعنى ابن عبد الله بن سعيد المهرانى ـ ثنا محمد بن بشار ثنا يحيى بن سعيد عن سفيان عن منصور عن ربعى بن حراش مرفوعا بلفظ: آخر ماتعلق به الناس من كلام النبوة. . . الحديث وهذا رجاله ثقات رجال الشيخين غير المهرانى هذا فلم أجد له ترجمة. لكن أخرجه أبو نعيم فى أخبار أصفهان (2 / 78) من طريق الحسن بن عبيد الله عن ربعى بن حراش به نحوه. فهذه متابعات قوية لأبى مالك الأشجعى تدل على أنه قد حفظ
২ - পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা সর্বশেষ প্রাপ্ত হয়েছে তা হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো।
(ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে) আবু মাসউদ আল-বাদরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (সহিহ) দেখুন হাদিস নং: ২, সহিহ আল-জামি এবং আস-সহিহাহ ৬৮৪-তে: পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা সর্বশেষ প্রাপ্ত হয়েছে তা হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো; এটি ইবনে আসাকির আবু মাসউদ আল-বাদরির হাদিস থেকে 'তারিখে দামেশক'-এ উদ্ধৃত করেছেন। মুনাউয়ি 'ফয়জুল কাদির'-এ বলেছেন: এর সনদ দুর্বল, যা ফাতহুল মিসরিকে দুর্বল করে দেয়; তবে বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ উল্লেখিত আবু মাসউদ থেকে যে শব্দে বর্ণনা করেছেন তা এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী নবুওয়াতের যা অবশিষ্ট রয়েছে তার শেষাংশ হলো..." এবং বাকি অংশ একই। বরং বুখারি আবু মাসউদ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ যা প্রাপ্ত হয়েছে..." এখানে যা আছে তার শেষ পর্যন্ত। আমি বলছি: বুখারি এটি 'কিতাবুল আম্বিয়া' (২ / ৩৭৯), 'কিতাবুল আদব' (৪ / ১৪০) এবং 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (৫৯৭, ১৩১৬) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে আবু দাউদ (৪৭৯৭) এবং ইবনে মাজাহ (৪১৮৩) মানসুরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি রিবঈ ইবন হিরাশকে আবু মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি। আর আবু মালিক আল-আশজায়ি এর সনদে তাঁর (মানসুরের) বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: রিবঈ ইবন হিরাশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুযাইফা থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—অতঃপর তিনি এই শব্দে উল্লেখ করেন: "নিশ্চয়ই জাহেলি যুগের মানুষ নবুওয়াতের বাণী থেকে সর্বশেষ যা আঁকড়ে ধরেছিল তা হলো, যদি তোমার লজ্জা না থাকে..." এটি আহমদ (৫ / ৪০৫) উদ্ধৃত করেছেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং আবু নুআইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া' (৪ / ৩৭১) এবং খতিব বাগদাদি 'তারিখ' (১২ / ১৩-১৩৬) গ্রন্থে ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে অন্য সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আহমদ এবং খতিব এর শুরুতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন: "প্রত্যেকটি ভালো কাজই সদকা এবং নিশ্চয়ই..."। এই সনদটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ। আবু মালিকের নাম হলো সাদ ইবনে তারিক। পূর্ববর্তী মানসুরের বর্ণনার কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলা যাবে না, কারণ—হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি' (৬ / ২৮০) গ্রন্থে যেমন বলেছেন: এটি অসম্ভব নয় যে রিবঈ এটি আবু মাসউদ এবং হুযাইফা উভয়ের থেকেই শুনেছেন; অর্থাৎ তিনি কখনও এর থেকে এবং কখনও ওর থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ধরণের সমন্বয় আবশ্যক, কারণ কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে প্রমাণ ছাড়া ভ্রমাত্মক সাব্যস্ত করা জায়েজ নয়, যেমনটি উসুলে হাদিস শাস্ত্রে পরিচিত। সেই হিসেবে হুযাইফার হাদিসটি ইবনে আসাকিরের এই বর্ণনার জন্য একটি শক্তিশালী সমর্থক (শাহেদ)। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি। অতঃপর আমি হাদিসটি আখমিমির 'শায়খদের থেকে বর্ণিত হাদিস' (২ / ২ / ১) গ্রন্থে দেখেছি: মুহাম্মদ—অর্থাৎ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মিহরানি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ ইবন হিরাশ থেকে মারফু সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নবুওয়াতের বাণী থেকে মানুষ সর্বশেষ যা আঁকড়ে ধরেছে..." (সম্পূর্ণ হাদিস)। এর বর্ণনাকারীগণ শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী এবং বিশ্বস্ত, কেবল এই মিহরানি ব্যতীত; আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। তবে আবু নুআইম 'আখবারে আসফাহান' (২ / ৭৮) গ্রন্থে হাসান ইবনে ওবায়দুল্লাহর সূত্রে রিবঈ ইবন হিরাশ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলো আবু মালিক আল-আশজায়ির জন্য শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনা (মুতাবিআত), যা প্রমাণ করে যে তিনি এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
3 - آخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدَانِ المَدِينَةَ يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحُوشاً حَتَّى إِذا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الوَدَاعِ خَرَّا على وُجُوهِهما
(ك) عن أبي هريرة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 3 فى صحيح الجامع الصحيحة 683: يتركون المدينة على خير ماكانت لايغشاها إلا العوافى ـ يريد عوافى السباع والطير ـ وآخِرُ مَنْ يُحْشَرُ راعيانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدانِ المدينة ينعقان بغنمهما فيجدانها وحشا حتى إذا بلغا ثنية الوداع خرا على وجوههما. أخرجه البخارى (4 / 72 فتح) ومسلم (4 / 132) وأحمد (2 / 234) من طرق عن الزهرى قال أخبرنى سعيد بن المسيب أن أبا هريرة رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره. وأخرج الحاكم (4 / 565) الشطر الثانى منه واستدركه على الشيخين ووافقه الذهبى فلم يصيبا
৩ - সর্বশেষ যাদের হাশর করা হবে তারা হলো মুযাইনা গোত্রের দুইজন মেষপালক। তারা মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং তাদের বকরিগুলোকে উচ্চস্বরে ডাকবে, কিন্তু সেগুলোকে বন্য জন্তু হিসেবে পাবে। অবশেষে যখন তারা সানিয়্যাতুল বিদা নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন তারা তাদের চেহারার উপর উপুড় হয়ে পড়ে যাবে।
(হাকেম) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি'র ৩ নম্বর হাদীস এবং আস-সহীহাহ-এর ৬৮৩ নম্বর হাদীসটি দেখুন: তারা মদিনাকে তার সর্বোত্তম অবস্থায় থাকা অবস্থায় পরিত্যাগ করবে, সেখানে হিংস্র পশু ও পাখি ব্যতীত অন্য কেউ বিচরণ করবে না। আর সর্বশেষ যাদের হাশর করা হবে তারা হলো মুযাইনা গোত্রের দুইজন মেষপালক। তারা মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং তাদের বকরিগুলোকে ডাকবে, কিন্তু সেগুলোকে বন্য জন্তু হিসেবে পাবে। অবশেষে যখন তারা সানিয়্যাতুল বিদা নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন তারা তাদের চেহারার উপর উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৪ / ৭২ ফাতহ), মুসলিম (৪ / ১৩২) এবং আহমাদ (২ / ২৩৪) যুহরীর বিভিন্ন সূত্রে। তিনি বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন)। আর হাকেম (৪ / ৫৬৫) এর শেষ অংশটি বর্ণনা করেছেন এবং একে শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, তবে তারা সঠিক ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
4 - آخِرُ مَنْ يَدْخُلُ الجَنَّةَ رَجُلٌ يَمْشِي على الصِّرَاطِ فَهُوَ يَمْشِي مَرَّةً وَيَكْبُو مَرَّةً وَتَسْفَعُهُ النَّارُ مَرَّةً فَإِذَا جَاوَزَهَا التَفَتَ إلَيْهَا فَقَالَ تَبَارَكَ الَّذِي نَجَّانِي مِنْكِ لَقَدْ أعْطانِي الله شَيْئاً مَا أعْطاهُ أحَداً مِنَ الأوَّلِينَ والآخِرِينَ فَتُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ فَيَقُولُ أيْ رَبّ أدْنِني من هذه الشَّجَرَةِ فَلأَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وَأَشْرَبَ مِنْ مائِهَا فَيَقُولُ الله يَا ابْنَ آدَمَ لَعَلِّي إِنْ أعْطَيْتُكَهَا سَأَلْتَنِي غَيْرَها فَيَقُولَ لَا يَا رَبّ وَيُعاهِدُهُ أن لا يسأله غيرها وربه يعذره لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فيستظل بظلها ويشرب من مائها ثم تُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ أُخْرَى هِيَ أحْسَنُ مِنَ الأولى فيقول أي رب أدنني من هذه لأَشْرَبَ مِنْ مائِها وأسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا لَا أسْأَلُكَ غيرها فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدني ألا تَسْأَلَنِي غَيْرَها فَيَقُولُ لَعَلِّي إِنْ أدْنَيْتُكَ مِنْهَا تَسْأَلنِي غَيْرَهَا فَيُعَاهِدَهُ أنْ لَا يَسْأَلَهُ غَيْرَهَا وربه يعذره لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فيستظل بظلها ويشرب مِنْ مائِهَا ثُمَّ تُرْفَعُ لَهُ شَجَرَةٌ عِنْدَ باب الجنة وهي أحْسَنُ مِنَ الأُولَيَيْنِ فَيَقولُ أيْ رَبّ أدْنِنِي من هذه فَلأَسْتَظِلَّ بِظِلِّهَا وأشْرَبَ مِنْ مائِها لَا أسْأَلُكَ غيرها فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدني أنْ لَا تَسْأَلَنِي غَيْرَهَا قالَ بَلَى يَا رب أدنني من هذه لَا أسْأَلُكَ غَيْرَهَا وَرَبُّهُ يَعْذُرُهُ لأَنَّهُ يَرَى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فَإِذَا أَدْنَاهُ مِنْهَا سَمِعَ أصْوَاتَ أهْلِ الجَنَّةِ فَيَقُولُ: أيْ رَبِّ أدْخِلْنِيها فَيَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ مَا يُعْرِيني مِنْكَ؟ أَيُرْضِيكَ أَنْ أُعْطِيَكَ الدنيا ومثلها معها؟ فيقول: أي رب أتستهزئ مِنِّي وأَنْتَ رَبُّ العالَمِينَ؟ فَيَقُولُ: إِنِّي لَا أستهزئ منك ولكني علَى مَا أَشَاءُ قادِرٌ.
(حم م) عَن ابن مسعود.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 4 فى صحيح الجامع
৪ - জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তি হবে এমন এক লোক, যে সিরাতের উপর দিয়ে হেঁটে যাবে; সে কখনও হাঁটবে, কখনও হোঁচট খেয়ে পড়বে এবং কখনও আগুন তাকে ঝলসে দেবে। যখন সে তা পার হয়ে যাবে, তখন সেটির দিকে তাকিয়ে বলবে, "বরকতময় সেই সত্তা যিনি আমাকে তোমার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু দান করেছেন যা তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্য থেকে কাউকে দান করেননি।" অতঃপর তার সামনে একটি গাছ তুলে ধরা হবে। তখন সে বলবে, "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এই গাছের কাছে নিয়ে যান, যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি।" আল্লাহ বলবেন, "হে আদম সন্তান! সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এটি দিয়ে দেই, তবে তুমি আমার কাছে অন্য কিছু প্রার্থনা করবে।" সে বলবে, "না, হে আমার প্রতিপালক!" এবং সে তাঁর সাথে অঙ্গীকার করবে যে, সে অন্য কিছু চাইবে না। আর তার প্রতিপালক তাকে মার্জনা করবেন (তার ওজর গ্রহণ করবেন), কারণ তিনি দেখছেন যে, এর সামনে ধৈর্য ধারণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি তাকে সেটির কাছে নিয়ে যাবেন এবং সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে ও তার পানি পান করবে। এরপর তার সামনে অন্য একটি গাছ তুলে ধরা হবে যা প্রথমটির চেয়েও সুন্দর। সে বলবে, "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এর কাছে নিয়ে যান যাতে আমি এর পানি পান করতে পারি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি। আমি আপনার কাছে আর অন্য কিছু চাইব না।" তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে, তুমি আমার কাছে আর কিছু চাইবে না?" তিনি বলবেন, "সম্ভবত আমি তোমাকে এর কাছে নিয়ে গেলে তুমি অন্য কিছু চাইবে।" তখন সে তাঁর সাথে অঙ্গীকার করবে যে, সে অন্য কিছু চাইবে না। আর তার প্রতিপালক তাকে মার্জনা করবেন, কারণ তিনি দেখছেন যে, এর সামনে ধৈর্য ধারণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তিনি তাকে সেটির কাছে নিয়ে যাবেন এবং সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে ও তার পানি পান করবে। অতঃপর জান্নাতের দরজার কাছে তার সামনে আরও একটি গাছ তুলে ধরা হবে, যা আগের দুটির চেয়েও সুন্দর। সে বলবে, "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এই গাছটির কাছে নিয়ে যান যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আমি আপনার কাছে আর অন্য কিছু চাইব না।" তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে, তুমি আমার কাছে আর কিছু চাইবে না?" সে বলবে, "হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এর কাছে নিয়ে যান, আমি আর অন্য কিছু চাইব না।" আর তার প্রতিপালক তাকে মার্জনা করবেন, কারণ তিনি দেখছেন যে, এর সামনে ধৈর্য ধারণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি তাকে সেটির কাছে নিয়ে যাবেন। যখন তিনি তাকে সেটির কাছে নিয়ে যাবেন, তখন সে জান্নাতবাসীদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে। সে বলবে, "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এতে প্রবেশ করিয়ে দিন।" তখন তিনি বলবেন, "হে আদম সন্তান! কিসে তোমার চাওয়ার ইতি ঘটাবে? আমি যদি তোমাকে দুনিয়া এবং তার সাথে আরও সমপরিমাণ দান করি, তবে কি তুমি সন্তুষ্ট হবে?" সে বলবে, "হে আমার প্রতিপালক! আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন, অথচ আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক?" তিনি বলবেন, "আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না, বরং আমি যা চাই তা করতে সক্ষম।"
(আহমাদ, মুসলিম) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) দেখুন হাদীস নং: ৪, সহীহুল জামি‘ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
5 - آكِلُ الرِّبَا ومُوكِلُهُ وكاتِبُهُ وشاهِدَاهُ إذَا عَلِمُوا ذَلِكَ والواشِمَةُ والمَوْشُومَةُ للْحُسْنِ ولاوِي الصَّدَقَةِ والمُرْتَدُّ أعْرَابِياً بَعْدَ الهِجْرَةِ مَلْعُونونَ على لِسانِ مُحَمَّدٍ يوم القيامة
(ن) عن ابن مسعود.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم 5 ـ 2 ـ فى صحيح الجامع تخريج الترغيب 3 / 49: ابن خزيمة ك
৫ - সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয়—যখন তারা এ সম্পর্কে অবগত থাকে, এবং সৌন্দর্যের জন্য উলকি অঙ্কনকারিণী ও উলকি গ্রহণকারিণী, সদাকা (যাকাত) প্রদানে বিলম্বকারী এবং হিজরতের পর পুনরায় মরুবাসী বেদুইন জীবনে ফিরে যাওয়া ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদের জবানে অভিশপ্ত।
(নাসাঈ) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (সহীহ) দেখুন হাদীস নম্বর ৫ — ২ — সহীহুল জামি' গ্রন্থে, তাখরীজুত তারগীব ৩ / ৪৯: ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
6 - آكُلُ كَمَا يَأكُلُ العَبْدُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَتِ الدُّنْيا تَزِنُ عِنْدَ الله جَنَاحَ بعوضة ما سقى منها كافرا كأسا
(هناد) الزهد عن عمرو بن مرة مرسلا.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم 6 ـ 3 ـ فى صحيح الجامع الأحاديث الصحيحة 544 و 686. 544 ـ آكل كما يأكل العبد وأجلس كما يجلس العبد رواه البغوى فى شرح السنة (3 / 187 / 2) من طريق أبى الشيخ عن عبيد الله بن الوليد عَن عبد الله بن عبيد بن عُمَيْر عن عائشة قالت: قلت: يارسول الله كل جعلنى الله فداك متكئا فإنه أهون عليك فأحنى رأسه حتى كاد أن تصيب جبهته الأرض وقال: بل آكل كما يأكل العبد. . . قلت: وهذا إسناد ضعيف عبيد الله بن الوليد وهو الوصافى قال الحافظ فى التقريب: ضعيف ; لكنه توبع فأخرجه ابن سعد (1 / 1 / 281) من طريق أبى معشر عن سعيد المقبرى عنها مرفوعا به فى حديث خرجته فى الضعيفة (2045) . وأبو معشر اسمه نجيح وهو ضعيف أيضا والحديث قال الهيثمى (9 / 19) : رواه أبو يعلى وإسناده حسن. وله شاهد معضل أخرجه ابن سعد (1 / 371) عن يحيى بن أبى كثير مرفوعا به. ورجاله ثقات. ورواه البيهقى أيضا كما فى الفيض للمناوى وقال: ورواه هناد عن عمرو بن مرة. . . ولتعدد هذه الطرق رمز المؤلف لحسنه. قلت: بل هو صحيح فإن له شاهدا مرسلا صحيحا أخرجه أحمد فى الزهد صـ (5 6) من طريق جرير بن حازم قال: سمعت الحسن يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتى بطعام أمر به فألقى على الأرض وقال. . . فذكره. وإسناده مرسل صحيح. وأخرج الطرف الأول منه المروزى فى زوائد الزهد (995) من طريق إسماعيل بن مسلم عن الحسن به. وأخرجه أحمد أيضا (صـ 5) من طريق عبدة بن أيمن عن عطاء بن أبى رباح به نحوه مرسلا. ورجاله ثقات غير عبدة بن أيمن فلم أعرفه. وأخرجه البزار ومن طريقه أبو نعيم فى أخبار أصبهان (2 / 273) من حديث عبد الله بن عمر مرفوعا به دون الشطر الثانى. وفى الصحيحة 686: لَوْ كانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ الله جَنَاحَ بعوضة ماسقى كافرا منها شربة ماء روى من حديث سهل بن سعد وأبى هريرة وعبد الله بن عمر وعبد الله بن عباس وجماعة من الصحابة وعمرو بن مرة مرسلا. 1 ـ أما حديث سهل فيرويه عبد الحميد بن سليمان عن أبى حازم عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أخرجه الترمذى (2 / 52) وابن عدى (249 / 1) وأبونعيم (3 / 253) والعقيلى فى الضعفاء (250) وقال: عبد الحميد بن سليمان أخو فليح قال ابن معين: ليس بشيء وتابعه زكريا بن منظور وهو دونه. قلت: وهما ضعيفان كما فى التقريب. فقول الترمذى عقبه: حديث صحيح غريب من هذا الوجه مما لاوجه له لأن عبد الحميد هذا لم يوثقه أحد بل هو سبه متفق على تضعيفه. نعم لو أنه صححه أو على الأقل حسنه للمتابعة التى أشار إليها العقيلى والشواهد الآتى بيانها لكان صوابا. والمتابعة المذكورة أخرجها ابن ماجه (4110) من طرق عن أبى يحيى زكريا بن منظور ثنا أبو حازم به. وزكريا هذا لم يتهم بالكذب فيمكن الاستشهاد به ولاسيما وقد وثقه بعضهم وقال ابن عدى: يكتب حديثه. 2 ـ وأما حديث أبى هريرة فيرويه محمد بن عمار عن صالح مولى التوأمة عنه. أخرجه ابن عدى فى الكامل (306 / 2) وصالح هذا ضعيف لاختلاطه فهو غير متهم. 3 ـ وأما حديث ابن عمر فيرويه أبو مصعب عن مالك عن نافع عنه مرفوعا. أخرجه القضاعى فى مسند الشهاب (116 / 1) . 4 ـ وأما حديث ابن عباس فيرويه الحسن بن عمارة عن الحكم عن مجاهد عنه به. أخرجه أبو نعيم (3 / 304 و 8 / 290) وقال: غريب من حديث الحكم لم نكتبه إلا من حديث الحكم عنه. قلت: والحسن هذا متروك شديد الضعف فلا يستشهد به. 5 ـ وأما حديث الجماعة من الصحابة فيرويه ابن المبارك فى الزهد (178 / 2 كواكب 575) : أنبأنا إسماعيل بن عياش قال حدثنى عثمان بن عبيد الله بن (أبى) رافع أن رجالا من أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم حدثوه مرفوعا به. وهذا إسناد رجاله ثقات غير عثمان هذا فأورده ابن أبى حاتم (3 / 1 / 156) من رواية ابن أبى ذئب فقط عنه ولم يذكر فيه جرحا ولاتعديلا وذكر أنه مولى سعيد بن العاص المدينى وعليه يكون الحديث من رواية ابن عياش عن أهل المدينة وهى ضعيفة لكن يستشهد بها. 6 ـ وأما رواية الحسن فقال ابن المبارك أيضا: أنبأ حريث بن السائب الأسدى قال حدثنا الحسن مرفوعا به. وهذا مرسل لابأس به فى الشواهد الحريث هذا قال الحافظ: صدوق يخطئ. 7 ـ وأما حديث عمرو بن مرة فقال السيوطي فى الجامع الكبير (1 / 3 / 1) رواه هناد عنه مرسلا. وبالجملة فالحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب. والله أعلم
৬ - আমি আহার করি যেমন একজন দাস আহার করে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার মূল্য একটি মশার ডানার সমানও হতো, তবে তিনি কোনো কাফিরকে তা থেকে এক চুমুক পানিও পান করাতেন না।
(হান্নাদ) আয-জুহদ গ্রন্থে আমর ইবনে মুররাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) দেখুন হাদীস নং ৬ — ৩ — সহীহুল জামি' আল-আহাদীস আস-সহীহাহ ৫৪৪ এবং ৬৮৬। ৫৪৪ — আমি আহার করি যেমন একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেমন একজন দাস বসে। এটি বাগাভী শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৩/১৮৭/২) আবু আশ-শায়খ-এর সূত্রে উবায়দুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবায়ের ইবনে উমাইর থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আপনি হেলান দিয়ে আহার করুন কারণ এটি আপনার জন্য সহজতর। তখন তিনি তাঁর মাথা নিচু করলেন এমনকি তাঁর কপাল প্রায় মাটি স্পর্শ করার উপক্রম হলো এবং বললেন: বরং আমি আহার করি যেমন একজন দাস আহার করে... আমি (আলবানী) বলছি: এই সনদটি দুর্বল। উবায়দুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ আল-ওয়াসসাফী সম্পর্কে হাফিয ইবনে হাজার 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে বলেছেন: সে দুর্বল; তবে এর সমর্থনে অন্য বর্ণনা (মুতাবায়াত) রয়েছে। ইবনে সাদ (১/১/২৮১) আবু মা'শার-এর সূত্রে সাঈদ আল-মাক্বরী থেকে আয়েশা (রা.) এর সূত্রে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন, যা আমি 'আদ-যয়ীফাহ' (২০৪৫) গ্রন্থে বের করেছি। আর আবু মা'শার-এর নাম নাজীহ, তিনিও দুর্বল। হাদীসটি সম্পর্কে হাইসামি (৯/১৯) বলেছেন: আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান। এর একটি 'মুদাল' শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যা ইবনে সাদ (১/৩৭১) ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি মুনাভীর 'আল-ফায়য' গ্রন্থে রয়েছে। তিনি বলেছেন: হান্নাদ এটি আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন... বিভিন্ন সূত্রের কারণে লেখক একে 'হাসান' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমি (আলবানী) বলছি: বরং এটি সহীহ, কারণ এর একটি সহীহ মুরসাল শাহেদ রয়েছে যা ইমাম আহমাদ 'আয-জুহদ' (পৃষ্ঠা ৫, ৬) গ্রন্থে জারীর ইবনে হাযিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন খাবার আনা হতো, তখন তিনি তা ভূমিতে রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। এর সনদটি মুরসাল সহীহ। মারওয়াযী 'যাওয়ায়েদুয জুহদ' (৯৯৫) গ্রন্থে এর প্রথম অংশটি ইসমাইল ইবনে মুসলিমের সূত্রে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদও (পৃষ্ঠা ৫) আবদাহ ইবনে আয়মানের সূত্রে আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে অনুরূপ মুরসাল বর্ণনা করেছেন। আবদাহ ইবনে আয়মান ব্যতীত এর অন্য সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, তবে আমি তাকে চিনতে পারিনি। বাযযার এবং তাঁর সূত্রে আবু নুআইম 'আখবারু আসবাহান' (২/২৭৩) গ্রন্থে দ্বিতীয় অংশ ছাড়া হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর 'আস-সহীহাহ' ৬৮৬ নং হাদীসে রয়েছে: যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার মূল্য একটি মশার ডানার সমপরিমাণ হতো, তবে তিনি কোনো কাফিরকে তা থেকে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না। এটি সাহল ইবনে সাদ, আবু হুরাইরাহ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং আমর ইবনে মুররাহ থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। ১ — সাহল-এর হাদীসটি আবদুল হামীদ ইবনে সুলাইমান আবু হাযিমের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। তিরমিযী (২/৫২), ইবনে আদি (১/২৪৯), আবু নুআইম (৩/২৫৩) এবং উক্বাইলী 'আদ-যুয়াফা' (২৫০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। উক্বাইলী বলেছেন: আবদুল হামীদ ইবনে সুলাইমান হলেন ফুলইহ-এর ভাই। ইবনে মাঈন বলেছেন: সে উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। যাকারিয়া ইবনে মানযুর তাঁর অনুসরণ (মুতাবায়াত) করেছেন, তবে সে তাঁর চেয়েও নিম্নমানের। আমি (আলবানী) বলছি: তারা উভয়ই দুর্বল যেমনটি 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে রয়েছে। সুতরাং এর শেষে তিরমিযীর উক্তি: 'এই সূত্রে হাদীসটি সহীহ গরীব' — এর কোনো ভিত্তি নেই; কারণ এই আবদুল হামীদকে কেউ নির্ভরযোগ্য বলেননি, বরং তিনি প্রায় সর্বসম্মতভাবে দুর্বল। হ্যাঁ, যদি তিনি উক্বাইলী কর্তৃক নির্দেশিত অনুসরণ (মুতাবায়াত) এবং সামনে উল্লেখিত সাক্ষ্যসমূহের (শাওয়াহিদ) ভিত্তিতে একে সহীহ বা অন্তত হাসান বলতেন, তবে তা সঠিক হতো। উল্লেখিত অনুসরণটি (মুতাবায়াত) ইবনে মাজাহ (৪১১০) আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে মানযুর-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আবু হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। এই যাকারিয়া মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নন, তাই তাঁর বর্ণনাকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব, বিশেষ করে কেউ কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর হাদীস লিখে রাখা যায়। ২ — আবু হুরাইরাহ-এর হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনে আম্মার সালিহ মাওলা আত-তাওআমাহ-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি 'আল-কামিল' (২/৩০৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এই সালিহ স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) কারণে দুর্বল, তবে তিনি অভিযুক্ত (মিথ্যাবাদী) নন। ৩ — ইবনে উমর-এর হাদীসটি আবু মুসআব ইমাম মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি তাঁর (ইবনে উমর) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কুযায়ী এটি 'মুসনাদুশ শিহাব' (১/১১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ৪ — ইবনে আব্বাস-এর হাদীসটি হাসান ইবনে আমারা হাকাম-এর সূত্রে মুজাহিদ থেকে তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম এটি (৩/৩০৪ ও ৮/২৯০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাকামের বর্ণনা হিসেবে এটি 'গরীব', আমরা এটি হাকামের সূত্র ছাড়া লিখিনি। আমি (আলবানী) বলছি: এই হাসান পরিত্যক্ত এবং অত্যন্ত দুর্বল, তাই একে সাক্ষী হিসেবেও নেওয়া যাবে না। ৫ — একদল সাহাবীর হাদীসটি ইবনে মুবারক 'আয-জুহদ' (২/১৭৮ কাওয়াকিব ৫৭৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, তিনি বলেন, আমাকে উসমান ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে (আবি) রাফে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী তাঁর কাছে এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল এই উসমান ব্যতীত। ইবনে আবি হাতিম (৩/১/১৫৬) কেবল ইবনে আবি যিব-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে কোনো প্রশংসা বা সমালোচনা (জারহ-ওয়াত তাদীল) উল্লেখ করেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মদিনার সাঈদ ইবনুল আস-এর মুক্তদাস ছিলেন। সেই অনুযায়ী হাদীসটি ইবনে আইয়াশ কর্তৃক মদিনাবাসীদের থেকে বর্ণিত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা দুর্বল; তবে একে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা যায়। ৬ — আর হাসানের বর্ণনা সম্পর্কে ইবনে মুবারক আরও বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুরইত ইবনুস সাইব আল-আসাদী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাসান মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাক্ষ্য বা সমর্থক বর্ণনার ক্ষেত্রে এই মুরসালটি মন্দ নয়। এই হুরইত সম্পর্কে হাফিয বলেছেন: সে সত্যবাদী তবে ভুল করে। ৭ — আর আমর ইবনে মুররাহ-এর হাদীস সম্পর্কে সুয়ূতী 'আল-জামি'উল কাবীর' (১/৩/১) গ্রন্থে বলেছেন: হান্নাদ তাঁর থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সারকথা হলো, এই সকল সূত্রের সমষ্টির কারণে হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
7 - آكل كما يأكل العبد وأجلس كما يجلس العبْدُ
(ابْن سعد ع حب) عَن عَائِشَة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 7 في صحيح الجامع الصحيحة (544) انظر تحقيق الحديث السابق (جص 7)
৭ - আমি আহার করি যেমন একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেমন একজন দাস বসে।
(ইবনে সাদ ও ইবনে হিব্বান) আয়েশা থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (সহিহ) সহিহুল জামে গ্রন্থের ৭ নং হাদিসটি দেখুন, আস-সহিহাহ (৫৪৪), পূর্ববর্তী হাদিসের তাহকিক দেখুন (সহিহুল জামে ৭)
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
8 - آكل كما يأكل العبد وأجلس كما يجلس العَبْدُ فإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ
(ابْن سعد هَب) عن يحيى بن أبي كثير مرسلا.
[حكم الألباني] (صحيح) الصحيحة 441
৮ - আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে, কারণ আমি কেবল একজন দাস।
(ইবনে সাদ, বাইহাক্বী) ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) আস-সহীহাহ ৪৪১
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
9 - الفَقْرَ تَخَافُونَ؟ والَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُصَبَّنَّ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا صَبّاً حَتَّى لَا يُزيغَ قَلْبَ أَحَدِكُمْ إِنْ أَزَاغَهُ إِلَاّ هِيَ وايْمُ الله لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ على مِثْلِ البَيْضَاءِ لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ
(هـ) عن أبي الدرداء.
[حكم الألباني] (حسن) انظر حديث رقم: 9 في صحيح الجامع. وفى الصحيحة 688: الفَقْرَ تَخَافُونَ؟ والَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُصَبَّنَّ عَلَيْكُمُ الدنيا صبا حتى لايزيغ قلب أحدكم إزاغة إلا هيه وايْمُ الله لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ على مِثْلِ البَيْضَاءِ ليلها ونهارها سواء أخرجه ابن ماجه (رقم 5) حدثنا هشام بن عمار الدمشقى ثنا محمد بن عيسى بن سميع حدثنا إبراهيم بن سليمان الأفطس عن الوليد بن عبد الرحمن الجرشى عن جبير بن نفير عن أبى الدرداء قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نذكر الفقر ونتخوفه فقال (فذكره) قال أبو الدرداء: صدق ـ والله ـ رسول الله صلى الله عليه وسلم تركنا ـ والله على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء. قلت: وهذا إسناد حسن رجاله كلهم ثقات وفى هشام بن عمار وإبراهيم الأفطس كلام لاينزل عما ذكرنا وقد بيض له البوصيرى فى زوائد ابن ماجه (1 / 2)
9 - তোমরা কি দারিদ্র্যকে ভয় পাচ্ছো? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর দুনিয়াকে প্রচুর পরিমাণে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তর যদি সত্য বিচ্যুত হয় তবে তা কেবল এই দুনিয়ার কারণেই বিচ্যুত হবে। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে গিয়েছি যার রাত এবং দিন সমান (সুস্পষ্ট)।
(ইবনে মাজাহ) আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (হাসান) সহীহুল জামি‘-এর ৯ নম্বর হাদিসটি দেখুন। এবং আস-সহীহাহ ৬৮৮-এ রয়েছে: তোমরা কি দারিদ্র্যকে ভয় পাচ্ছো? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর দুনিয়াকে প্রচুর পরিমাণে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তরকে এই দুনিয়া ছাড়া অন্য কিছু বিচ্যুত করবে না। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গিয়েছি যার রাত এবং দিন সমান। এটি ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৫) বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট হিশাম বিন আম্মার আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সামী‘ হতে, তিনি ইবরাহীম বিন সুলাইমান আল-আফতাস হতে, তিনি ওয়ালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাশী হতে, তিনি জুবায়ের বিন নুফাইর হতে, তিনি আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে ভীত ছিলাম। তখন তিনি বললেন (অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন)। আবু দারদা বলেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গিয়েছেন যার রাত এবং দিন সমান। আমি (আলবানী) বলছি: এই সনদটি হাসান, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। তবে হিশাম বিন আম্মার এবং ইবরাহীম আল-আফতাস সম্পর্কে কিছু সমালোচনা রয়েছে যা আমাদের উল্লিখিত মানের নিচে নামিয়ে দেয় না। আর আল-বুসিরি ‘যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ’ (১/২)-এ এর জন্য স্থান রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
10 - آمُرُكُمْ بأرْبَعٍ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ آمُرُكُمْ بالإيمانِ بِاللَّه وَحْدَهُ أتَدْرُونَ مَا الإِيمانُ بِاللَّه وَحْدَهُ؟ شَهادَةُ أنْ لَا إِلَه إلاّ الله وأنّ محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وَصِيَام رَمَضَانَ وأنْ تُؤدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ وأنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ والنَّقِيرِ والحَنْتَمِ والمُزَفَّتِ احْفَظُوهُنَّ وأخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ
(ق 3) عَن ابْن عباس.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 10 في صحيح الجامع
১০ - আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তা হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; আর নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমরা যুদ্ধলব্ধ যে সম্পদ (গণিমত) লাভ করবে তার এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) প্রদান করা। আর আমি তোমাদেরকে দুব্বা, নাকীর, হানতাম ও মুজাফফাত (মদ তৈরির বিভিন্ন পাত্র) থেকে নিষেধ করছি। তোমরা এগুলো মুখস্থ করে নাও এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এগুলো জানিয়ে দাও।
(বুখারি ও মুসলিম) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) সহিহুল জামি'-এর ১০ নম্বর হাদিস দেখুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
11 - آمُرُكُمْ بأرْبَعٍ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ اعْبُدُوا الله وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وآتُوا الزَّكاةَ وصُومُوا رَمَضَانَ وأعْطُوا الخُمْسَ مِنَ الغَنائِمِ وأنْهاكُمْ عَنْ أرْبَعٍ: عَن الدُّبَّاء والحَنْتَمِ والمُزَفَّتِ والنقير
(حم م) عن أبي سعيد.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 11 في صحيح الجامع
১১ - আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো, রমজানের রোজা রাখো এবং গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের) এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করো। আর আমি তোমাদের চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: দুব্বা, হানতাম, মুজাফফাত এবং নাকির (নামক পাত্রসমূহ ব্যবহার করা) থেকে।
(আহমাদ ও মুসলিম) আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) দেখুন হাদিস নম্বর: ১১, সহিহুল জামি' গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
12 - آمُرُكُمْ بِثَلَاثٍ وأنْهاكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ أُمُرُكُمْ أنْ تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وأن تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ الله جَمِيعاً ولَا تَفَرَّقُوا وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا لِمَنْ وَلَاّهُ الله آمُرَكُمْ وأنْهاكُمْ عَنْ قِيلٍ وقَال وَكَثْرَةِ السُّؤالِ وإضَاعَةِ المَالِ
(حل) عن أبى هريرة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 12 فى صحيح الجامع. وفى الصحيحة 685: آمُرُكُمْ بِثَلَاثٍ وأنْهاكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ أُمُرُكُمْ أنْ تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وتعتصموا بحبل الله جميعا ولاتفرقوا وتطيعوا لمن ولاه الله عليكم آمُرَكُمْ. وأنْهاكُمْ عَنْ قِيلٍ وقَال وَكَثْرَةِ السُّؤالِ وإضاعة المال. أخرجه ابن حبان (1543) من طريق عمرو بن الحارث أن بكيرا حدثه أن سهيل بن ذكوان حدثه أن أباه حدثه عن أبى هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: فذكره. قلت وهذا صحيح إسناد على شرط مسلم وقد (5 / 130) وكذا أحمد (2 / 327 360 367) من طرق أخرى عن سهيل به نحوه والحديث عزاه فى الجامع الكبير (1 / 3 / 2) لأبى نعيم أيضا فى الحلية ولم أره فى فهرسها. والله أعلم ولم يذكره فى الجامع الصغير من نسخة المناوى وأورده فى الفتح الكبير من رواية الحلية فقط! دون قوله فى أوله آمركم بثلاث وأنهاكم عن ثلاث ولم يرمز له بحرف (ز) إشارة إلى أنه من زوائد الجامع الصغير فلعله سقط من الطابع. والله أعلم
১২ - আমি তোমাদের তিনটি কাজের আদেশ দিচ্ছি এবং তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করছি; আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না, আর যাকে আল্লাহ কর্তৃত্ব দান করেছেন তার কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করবে। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি বৃথা আলাপ (বলাবলি করা), অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা থেকে।
(হিলয়াহ) আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) সহিহুল জামে’র ১২ নম্বর হাদিসটি দেখুন। এবং সহিহাহ ৬৮৫-তে রয়েছে: আমি তোমাদের তিনটি কাজের আদেশ দিচ্ছি এবং তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করছি; আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাকে তোমাদের উপর কর্তৃত্ব দান করেছেন তোমরা তার আনুগত্য করবে। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি বৃথা আলাপ, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা থেকে। এটি ইবনে হিব্বান (১৫৪৩) আমর ইবনুল হারিস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, বুকাইর তাকে হাদিস শুনিয়েছেন, সুহাইল বিন জাকওয়ান তাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁর পিতা তাকে হাদিস শুনিয়েছেন আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটি বলেছেন... (অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন)। আমি (আলবানী) বলছি, এই সনদটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ (৫/১৩০) এবং (২/৩২৭, ৩৬০, ৩৬৭) গ্রন্থে সুহাইলের সূত্রে অন্যান্য পথেও এটি বর্ণিত হয়েছে। জামেউল কাবিরে (১/৩/২) হাদিসটিকে আবু নুয়াইমের ‘হিলয়াহ’ গ্রন্থের দিকেও সম্বন্ধ করা হয়েছে, তবে আমি তা এর সূচিপত্রে দেখিনি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। মুনাউয়ীর জামেউস সগীরের কপিতে এটি উল্লেখ নেই, তবে এটি ফাতহুল কাবিরে শুধুমাত্র হিলয়াহ-এর বর্ণনা হিসেবে এসেছে! সেখানে শুরুতে "আমি তোমাদের তিনটি কাজের আদেশ দিচ্ছি এবং তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করছি" অংশটি নেই এবং একে ‘যায়’ (ز) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়নি, যা জামেউস সগীরের অতিরিক্ত অংশের ইঙ্গিত বহন করে। সম্ভবত এটি মুদ্রণজনিত কারণে বাদ পড়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
13 - آمِرُوا النِّسَاءَ فِي أنْفُسِهِنَّ فإِنَّ الثَّيِّبَ تُعْرِبُ عَنْ نَفْسِهَا وإذْنُ البِكْرِ صَمْتُها
(طب هق) عن العرس بن عميرة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 13 فى صحيح الجامع. وفى الإرواء 1836: الثيب تعرب عن نفسها والبكر رضاها صماتها صحيح المعنى. أخرجه أحمد (4 / 192) وابن أبى شيبة فى مسنده أيضا (2 / 44 / 1) وابن ماجه (1872) والبيهقى (7 / 123) من طريق الليث بن سعد حدثنى عبد الله بن عبد الرحمن بن أبى حسين المكى عن عدى بن عدى الكندى عن أبيه مرفوعا به. وعند البيهقى فى أوله زيادة وكذا أحمد فى روايته: شاوروا النساء فى أنفسهن فقيل يا رسول الله إن البكر تستحى؟ قال. . . فذكره. قلت: وهذا إسناد رجاله ثقات رجال مسلم لكنه منقطع لأن عدى بن عدى لم يسمع من أبيه عدى بن عميرة كما قال أبو حاتم. وقد خالفه فى إسناده يحيى بن أيوب فقال عن: ابن أبى حسين عن عن عدى بن عدى عن أبيه عن العرس بن عمير مرفوعا به. أخرجه الحربى فى غريب الحديث (5 / 17 / 2) والبهيقى وابن عساكر فى تاريخ دمشق (11 / 253 / 2) . قلت: والليث بن سعد أحفظ من يحيى بن أيوب فروايته أرجح. والحديث صحيح بما له من شواهد فى معناه
১৩ - তোমরা নারীদেরকে তাদের নিজেদের (বিয়ের) ব্যাপারে পরামর্শ করো; কেননা বিগত-বিবাহিতা (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) নারী তার নিজের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে সম্মতি প্রকাশ করে এবং কুমারীর সম্মতি হচ্ছে তার নীরবতা।
(তাবারানি, বায়হাকি) উরস ইবনে আমিরা থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) সহিহুল জামে-এর ১৩ নম্বর হাদিসটি দেখুন। এবং ইরওয়াউল গালিল-এর ১৮৩৬ নম্বর হাদিসে রয়েছে: "বিগত-বিবাহিতা নারী তার নিজের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে মতামত প্রকাশ করবে এবং কুমারীর সন্তুষ্টি হলো তার নীরবতা" - এটি অর্থগতভাবে সহিহ। এটি আহমাদ (৪/১৯২), ইবনে আবি শায়বাহও তার মুসনাদে (২/৪৪/১), ইবনে মাজাহ (১৮৭২) এবং বায়হাকি (৭/১২৩) লাইস ইবনে সা'দ-এর সূত্রে সংকলন করেছেন; তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন আল-মাক্কি হাদিস বর্ণনা করেছেন আদী ইবনে আদী আল-কিন্দি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকির বর্ণনার শুরুতে একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে এবং আহমাদের বর্ণনায়ও অনুরূপ এসেছে: "তোমরা নারীদের সাথে তাদের নিজেদের ব্যাপারে পরামর্শ করো।" তখন জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, কুমারী তো লজ্জা পায়? তিনি বললেন... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আমি (আলবানী) বলছি: এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী স্তরের, কিন্তু এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি'), কারণ আদী ইবনে আদী তার পিতা আদী ইবনে আমিরা থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি, যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব এই সনদের ক্ষেত্রে লাইস ইবনে সা'দ-এর বিরোধিতা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি আদী ইবনে আদী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উরস ইবনে উমাইর থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আল-হারবি 'গারিবুল হাদিস' (৫/১৭/২) গ্রন্থে এবং বায়হাকি ও ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (১১/২৫৩/২) গ্রন্থে সংকলন করেছেন। আমি বলছি: লাইস ইবনে সা'দ ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুবের তুলনায় অধিক স্মৃতিধর (হাফিজ), তাই তার বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য। আর হাদিসটি এর সমার্থবোধক অন্যান্য সাক্ষ্যমূলক বর্ণনার ভিত্তিতে সহিহ।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
14 - آمرُوا اليَتِيمَةَ فِي نَفْسِهَا وإذْنُهَا صِمَاتُهَا
(طب) عن أبي موسى.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 14 فى صحيح الجامع وفى الصحيحة 656: آمروا اليتيمة فى نفسها وإذنها صماتها هكذا أورده السيوطي فى الجامع الكبير (1 / 3 / 2) من رواية الطبرانى فى المعجم الكبير عن أبى موسى الأشعرى وتبعه صاحب الفتح الكبير فى ضم الزيادة إلى الجامع الصغير ولكنه لم يرمز له بأنه من (الزيادة) فلعله سقط ذلك من الناسخ أو الطابع فإنى لم أره فى الجامع الصغير الذى عليه شرح المناوى ولميذكره الهيثمى بهذا اللفظ وإنما بلفظ: تستأمر اليتيمة فى نفسها فإن سكتت فقد أذنت وإذا أبت لم تكره وقال: رواه أحمد وأبو يعلى والطبرانى ورجال أحمد رجال الصحيح. قلت: وهو فى المسند (4 / 394 / 408) وكذا سنن الدارمى (2 / 138) من طريقين عن أبى بردة بن أبى موسى عن أبى موسى به. قلت: وهذا سند صحيح على شرطهما وله شواهد مخرجة فى الإرواء (1828)
১৪ - অনাথ কুমারীর ব্যাপারে তার সাথে পরামর্শ করো, আর তার নীরবতাই হলো তার সম্মতি।
(তাবারানি) আবু মুসা থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) হাদিস নম্বর ১৪ দেখুন সহিহুল জামে’ এবং আস-সহিহাহ ৬৫৬-তে: "অনাথ কুমারীর ব্যাপারে তার সাথে পরামর্শ করো, আর তার নীরবতাই হলো তার সম্মতি"—এভাবেই সুয়ূতী এটি আল-জামিউল কাবীর (১ / ৩ / ২) গ্রন্থে তাবারানি-র আল-মু'জামুল কাবীর থেকে আবু মুসা আল-আশআরির বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল-ফাতহুল কাবীর-এর লেখক আল-জামিউস সাগির-এর সাথে সংযোজনী (যিয়াদাত) যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন, কিন্তু তিনি এটিকে 'যিয়াদাত' হিসেবে চিহ্নিত করেননি। সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপি লেখক বা মুদ্রকের অসাবধানতায় বাদ পড়েছে, কারণ আমি এটি সেই আল-জামিউস সাগির-এ দেখিনি যেটির ওপর আল-মুনাবির ব্যাখ্যা রয়েছে। আর হাইসামি এটি এই শব্দে উল্লেখ করেননি, বরং এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: "অনাথ কুমারীর নিকট তার নিজের ব্যাপারে অনুমতি চাওয়া হবে, যদি সে চুপ থাকে তবে তা-ই তার অনুমতি, আর যদি সে অস্বীকার করে তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না।" তিনি বলেছেন: এটি আহমাদ, আবু ইয়ালা ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী। আমি বলছি: এটি মুসনাদ (৪ / ৩৯৪ / ৪০৮) এবং একইভাবে সুনানে দারিমি (২ / ১৩৮) গ্রন্থে আবু মুসার পুত্র আবু বুরদাহ-এর সূত্রে আবু মুসা থেকে দুটি পথে বর্ণিত হয়েছে। আমি বলছি: এই সনদটি তাদের (বুখারি ও মুসলিমের) শর্ত অনুযায়ী সহিহ এবং এর স্বপক্ষে অনেক শাহেদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী হাদিস) রয়েছে যা ইরওয়াউল গালিল (১৮২৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
15 - آيَةُ الإيمانِ حُبُّ الأَنْصَارِ وآيَةُ النِّفاقِ بُغْضُ الأنصار
(حم ق ن) عن أنس.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 15 فى صحيح الجامع وفى الصحيحة 668: آية الإيمان حب الأنصار وآية المنافق بغض الأنصار أخرجه البخارى (1 / 10 / 4 / 223) ومسلم (1 / 60) والنسائى (2 / 271) والطيالسى (صـ 281 رقم 1101) وأحمد (3 / 130 / 134 / 249) من حديث أنس رضى الله عنه مرفوعا. ولفظه عند مسلم والنسائى على القلب: حُبُّ الأنْصارِ آيَةُ الإِيمانِ وبُغْضُ الأَنْصارِ آيَةُ النفاق
১৫ - ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং নিফাকের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ।
(আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী) আনাস থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) দেখুন হাদীস নং: ১৫ 'সহীহ আল-জামি' গ্রন্থে এবং 'আস-সহীহাহ' ৬৬৮-এ: ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফিকের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (১ / ১০ / ৪ / ২২৩), মুসলিম (১ / ৬০), নাসায়ী (২ / ২৭১), তায়ালিসী (পৃ. ২৮১, নং ১১০১) এবং আহমাদ (৩ / ১৩০ / ১৩৪ / ২৪৯), যা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফূ' হাদীস। আর মুসলিম ও নাসায়ীর নিকট শব্দবিন্যাসটি উল্টোভাবে বর্ণিত হয়েছে: আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন এবং আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ নিফাকের নিদর্শন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
16 - آيَةُ المُنافِقِ ثَلَاثٌ: إذَا حَدَّثَ كَذَبَ وإذَا وعَدَ أخْلَفَ وإذَا ائْتُمِنَ خانَ
(ق ت ن) عن أبى هريرة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 16 في صحيح الجامع
১৬ - মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে।
(বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ) আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি'-এর ১৬ নম্বর হাদীসটি দেখুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
17 - ائْتِ حَرْثَكَ أنَّى شِئْتَ وأطْعِمْها إِذا طَعِمْتَ واكْسُها إِذا اكْتَسَيْتَ ولَا تُقَبِّحِ الوَجْهَ ولَا تَضْرِبْ
(د) عَن بَهْزِ بن حَكِيمٍ عَنْ أبيه عن جده.
[حكم الألباني] (حسن) انظر حديث رقم: 17 فى صحيح الجامع وفى الصحيحة 687: ائْتِ حَرْثَكَ أنَّى شِئْتَ وأطْعِمْها إِذا طَعِمْتَ واكسها إذا اكتسيت ولاتقبح الوجه ولاتضرب أخرجه أبو داود (1 / 334) وأحمد (5 / 3 4) عن بهز بن حكيم حدثنى أبى عن جدى قال: قلت يا رسول الله نساؤنا ما نأتى منها وما نذر؟ قال. . . فذكره. قلت: وهذا إسناد حسن للخلاف المعروف فى بهز بن حكيم وهو صدوق كما فى التقريب وأما أبوه حكيم وهو ابن حيدة فروى عنه جمع من الثقات ووثقه ابن حبان
১৭ - তোমার শস্যক্ষেত্রে আসো যেভাবে তুমি চাও, তাকে আহার দাও যখন তুমি আহার করো, তাকে পরিধেয় দাও যখন তুমি পরিধান করো, চেহারায় কটু কথা বলো না এবং প্রহার করো না।
(আবু দাউদ) বাহজ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।
[আলবানীর হুকুম] (হাসান) সহীহুল জামি‘-এর ১৭ নং হাদিস এবং আস-সহীহাহ-এর ৬৮৭ নং হাদিস দেখুন: তোমার শস্যক্ষেত্রে আসো যেভাবে তুমি চাও, তাকে আহার দাও যখন তুমি আহার করো, তাকে পরিধেয় দাও যখন তুমি পরিধান করো, চেহারায় কটু কথা বলো না এবং প্রহার করো না। এটি আবু দাউদ (১ / ৩৩৪) এবং আহমাদ (৫ / ৩ ৪) বর্ণনা করেছেন বাহজ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের স্ত্রীগণ, তাদের কাছে আমরা কীভাবে আসব এবং কী বর্জন করব? তিনি বললেন... এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আমি বলছি: বাহজ ইবনে হাকিম সম্পর্কে সুপরিচিত মতভেদের কারণে এই সনদটি হাসান, এবং তিনি ‘সাদুক’ (সত্যবাদী) যেমনটি আত-তাকরীব গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তার পিতা হাকিম—যিনি ইবনে হাইদাহ—তার থেকে একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
18 - ائْتَدِمُوا بالزَّيْتِ وادَّهِنُوا بِهِ فَإنَّهُ يَخْرُجُ منْ شَجَرَةٍ مُبارَكَةٍ
(هـ ك هَب) عَن ابْن عمر.
[حكم الألباني] (حسن) انظر حديث رقم: 18 فى صحيح الجامع وفى الصحيحة 379: كُلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مباركة روى من حديث عمر وأبى أسيد وأبى هريرة وعبد الله بن عباس. 1 ـ حديث عمر له طريقان:
--------------------------------------------
১৮ - তোমরা যয়তুনের তেল সালন হিসেবে গ্রহণ করো এবং তা শরীরে মাখো, কারণ এটি এক বরকতময় বৃক্ষ থেকে নির্গত হয়।
(ইবনে মাজাহ, হাকেম, বায়হাকী) ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (হাসান) সহীহুল জামি'-এর ১৮ নম্বর হাদীস এবং আস-সহীহাহ ৩৭৯ নম্বর হাদীস দেখুন: "তোমরা যয়তুন খাও এবং এর তেল ব্যবহার করো, কেননা এটি বরকতময় বৃক্ষ থেকে।" এটি ওমর, আবু আসীদ, আবু হুরায়রা এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে। ১ - ওমরের হাদীসের দুটি সূত্র রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
19 - ائتدموا من هذه الشَّجَرَةِ - يَعْنِي الزَّيْتَ - وَمَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ طَيّبٌ فليصب منه
(طس) عن ابن عباس.
[حكم الألباني] (حسن) انظر حديث رقم: 19 في صحيح الجامع والصحيحة 379. راجع جص 19
১৯ - তোমরা এই বৃক্ষ থেকে ব্যঞ্জন হিসেবে গ্রহণ করো - অর্থাৎ জয়তূনের তেল - আর যাকে সুগন্ধি পেশ করা হয় সে যেন তা গ্রহণ করে।
(ত্বাবরানি - আউসাত) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (হাসান) দেখুন হাদীস নং: ১৯, সহীহুল জামি এবং আস-সহীহাহ ৩৭৯। দেখুন জামি আস-সাগীর ১৯।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
20 - ائْتُوا الدَّعْوَةَ إِذا دُعِيتُمْ
(م) عَن ابْن عمر.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 20 فى صحيح الجامع
20 - যখন তোমাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমন্ত্রণে উপস্থিত হও।
(মুসলিম) ইবনে উমর হতে বর্ণিত।
[আলবানীর মূল্যায়ন] (সহিহ) সহিহুল জামে গ্রন্থের ২০ নং হাদিসটি দেখুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
21 - ائْذَنُوا للنِّسَاءِ أنْ يُصَلِّينَ باللَّيْلِ فِي المَسْجِدِ
(الطيالسى) عن ابن عمر.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 21 فى صحيح الجامع وصحيح سنن أبى داود 577
21 - তোমরা নারীদেরকে রাতে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করার অনুমতি দাও।
(আত-তায়ালিসি) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর সিদ্ধান্ত] (সহীহ) দেখুন হাদীস নম্বর: ২১, সহীহুল জামি' এবং সহীহ সুনানে আবু দাউদ ৫৭৭
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
22 - ائْذَنُوا لِلنِساءِ باللَّيْلِ إِلَى المَساجِدِ
(حم م د ت) عن ابن عمر.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 22 فى صحيح الجامع صحيح السنن: خ
২২ - তোমরা নারীদের রাতে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও।
(আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।
[আল-আলবানীর সিদ্ধান্ত] (সহীহ) সহীহ আল-জামি'-এর ২২ নম্বর হাদীসটি দেখুন, সহীহ আস-সুনান: বুখারী
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
23 - أَبى الله أنْ يَجْعَلَ لِقَاتِلِ المُؤمِنِ تَوْبَةً
(طب الضياء فى المختارة) عن أنس.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 23 فى صحيح الجامع وفى الصحيحة 689: أَبى الله أنْ يَجْعَلَ لِقَاتِلِ المُؤمِنِ تَوْبَةً أخرجه محمد بن حمزة الفقيه فى أحاديثه (ق215 / 2) والواحدى فى الوسيط (1 / 180 / 2) والضياء فى المختارة (127 / 1) من طريقين عن سويد بن نصر ثنا ابن المبارك عن سليمان التيمى (زاد الأولان: عن حميد) عن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد صحيح وسليمان التيمى سمع من أنس فهو متصل سواء ثبتت الزيادة أو لم تثبت ورجاله كلهم ثقات رجال مسلم. والحديث عزاه فى الجامعين للطبرانى أيضا فى المعجم الكبير ولم أره فى ترجمة أنس منه فالله أعلم. وفى الفيض: قال فى الفردوس: صحيح. ورواه جمع عن عقبة بن مالك الليثى وسببه أن النبى صلى الله عليه وسلم بعث سرية فأغاروا على قوم فشذ رجل منهم فاتبعه رجل من السرية شاهرا سيفه فقال إنى مسلم فقتله فنهى إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال قولا شديدا ثم ذكره. قلت: حديث عقبة أخرجه النسائى فى السير (1 / 39 / 1) وأحمد (4 / 110 5 / 288 ـ 289) من طريق حميد بن هلال عن بشر بن عاصم عنه ولفظه: إن الله عز وجل أبى على من قتل مؤمنا قالها ثلاث مرات ورجاله ثقات غير بشر هذا وهو الليثى أورده ابن أبى حاتم (1 / 1 / 360) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. وأخرجه ابن سعد فى الطبقات (7 / 48 ـ 49) والحاكم (1 / 18 ـ 19) من هذا الوجه إلا أنهما قالا: نصر بن عاصم الليثى وقال الحاكم: صحيح على شرط مسلم ووافقه الذهبى. قلت: وهو كما قالا إن كان قوله نصر محفوظا والله أعلم
২৩ - আল্লাহ কোনো মুমিনের হত্যাকারীর জন্য তওবা কবুল করতে অস্বীকার করেছেন।(তাবারানি ও আল-মুখতারাহ গ্রন্থে দিয়া আল-মাকদিসি) আনাস (রা.) হতে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি'-এর ২৩ নম্বর হাদীস এবং আস-সহীহাহ-এর ৬৮৯ নম্বর হাদীসটি দেখুন: আল্লাহ কোনো মুমিনের হত্যাকারীর জন্য তওবা নির্ধারণ করতে অস্বীকার করেছেন। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হামজা আল-ফাকিহ তাঁর আহাদিস গ্রন্থে (পৃ. ২১৫/২), আল-ওয়াহিদি আল-ওয়াসিত গ্রন্থে (১/১৮০/২) এবং দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারাহ গ্রন্থে (১২৭/১)। দুটি সূত্রে সুইদ ইবনে নাসর হতে, তিনি ইবনে মুবারক হতে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমি হতে (প্রথম দুজন বর্ণনাকারী হুমাইদ হতে বর্ণনা করার কথা অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন), তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন)। আমি বলছি: এই সনদটি সহীহ এবং সুলাইমান আত-তাইমি আনাস (রা.) থেকে শ্রবণ করেছেন, তাই সনদটি সংযুক্ত, চাই অতিরিক্ত অংশটি সাব্যস্ত হোক বা না হোক; আর এর বর্ণনাকারীগণ সকলে বিশ্বস্ত এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। হাদীসটি উভয় জামি' গ্রন্থে তাবারানির মু'জামুল কাবীরের দিকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তবে আমি আনাস (রা.)-এর জীবনীতে এটি খুঁজে পাইনি, আল্লাহই ভালো জানেন। আল-ফায়দ গ্রন্থে রয়েছে: আল-ফিরদাউস গ্রন্থে একে সহীহ বলা হয়েছে। একদল বর্ণনাকারী এটি উকবাহ ইবনে মালিক আল-লাইসি হতে বর্ণনা করেছেন। এর প্রেক্ষাপট হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র বাহিনী প্রেরণ করেন, তারা এক কওমের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বাহিনীর এক লোক উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে তার পিছু নেয়। তখন লোকটি বলল: 'আমি মুসলিম', কিন্তু তিনি তাকে হত্যা করে ফেললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি অত্যন্ত কঠোর কথা বললেন, অতঃপর এটি (হাদীসটি) উল্লেখ করেন। আমি বলছি: উকবাহর হাদীসটি ইমাম নাসাঈ তাঁর সিয়ার গ্রন্থে (১/৩৯/১) এবং ইমাম আহমদ (৪/১১০, ৫/২৮৮-২৮৯) হুমায়দ ইবনে হিলাল-এর সূত্রে বিশর ইবনে আসিম হতে, তিনি তাঁর (উকবাহ) হতে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: 'নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুমিন হত্যাকারীর তওবা কবুল করতে অস্বীকার করেছেন'—তিনি এটি তিনবার বলেছেন। এই বিশর নামক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত, তিনি আল-লাইসি। ইবনে আবি হাতিম (১/১/৩৬০) তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কোনো জরাহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। আর ইবনে সাদ আত-তাবাকাত গ্রন্থে (৭/৪৮-৪৯) এবং হাকেম (১/১৮-১৯) এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা 'নাসর ইবনে আসিম আল-লাইসি' বলেছেন। হাকেম বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমি বলছি: যদি 'নাসর' নামটি সংরক্ষিত বা সঠিক হয়ে থাকে তবে বিষয়টি তাঁরা যেমন বলেছেন তেমনই। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
24 - أبَى الله والمُؤمِنُونَ أَن يُخْتَلَفَ عَلَيْكَ يَا أبا بكر
(حم) عن عائشة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 24 فى صحيح الجامع * - * وفي الصحيحة 690: أبَى الله والمُؤمِنُونَ أَن يُخْتَلَفَ عَلَيْكَ يَا أبا بكر أخرجه أحمد (6 / 47) والحسن بن عرفة فى جزئه (2 / 2) ومن طريقه ابن بلبان فى تحفة الصديق فى فضائل أبى بكر الصديق (50 / 1) من طريق عبد الرحمن بن أبى بكر القرشى عن ابن أبى مليكة عن عائشة قالت: لما ثقل رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعبد الرحمن بن أبى بكر: إئتنى بكتف أو لوح حتى أكتب لأبى بكر كتابا لايختلف عليه فلما ذهب عبد الرحمن ليقوم قال. . . فذكره وقال ابن بلبان: تفرد به ابن أبى مليكة أبو محمد ويقال له: أبو بكر القرشى. قلت: وهو ضعيف لكنه لم يتفرد به فقال أحمد (6 / 106) : ثنا مؤمل قال ثنا نافع يعنى ابن عمر ثنا ابن أبى مليكة به نحوه. وهذا إسناد جيد فى المتابعات نافع هذا ثقة ثبت ومؤمل هو ابن إسماعيل وهو صدوق سىء الحفظ كما فى التقريب. وله طريق أخرى من رواية عروة عن عائشة قالت: قال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى مرضه: ادعى لى أَبَا بكرٍ أباكِ وأخاكِ حَتَّى أكْتُبَ كِتاباً فإنِّي أخافُ أنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنَ وَيَقُولَ قائِلٌ: أَنا أوْلَى ويأبَى الله والمُؤمِنُونَ إلَاّ أَبَا بكر أخرجه مسلم (7 / 110) وأحمد (6 / 144) وله طريق ثالث يرويه القاسم بن محمد عنها نحوه ولفظه: لقد هممت أو أردت أن أرسل إلى أبى بكر وابنه وأعهده أَنْ يَقُولَ الْقَائِلُونَ أَوْ يَتَمَنَّى المُتَمَنُّونَ ثُمَّ قلت: يأبى الله ويدفع المؤمنون أو يدفع الله ويأبى المؤمنون أخرجه البخارى (4 / 46 ـ 47 405 ـ 406) . طريق رابع يرويه عبيد الله بن عبد الله عنها قالت: لما مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم فى بيت ميمونة. . . فقال ـ وهو فى بيت ميمونة لعبد الله بن زمعة: مر الناس فليصلوا فلقى عمر بن الخطاب فقال: ياعمر صل بالناس. فصلى بهم فسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوته فعرفه وكان جهير الصوت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أليس هذا صوت عمر؟ قالوا بلى قال: يأبى الله جل وعز ذلك والمؤمنون مروا أبا بكر فليصل بالناس قالت عائشة: يارسول الله إن أبا بكر رجل رقيق لا يملك دمعه. . . الحديث. أخرجه أحمد (6 / 34) من طريق معمر عن الزهرى عنه. وهذا سند صحيح على شرط الشيخين. وخالفه عبد الرحمن بن إسحاق فقال: عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة أن عبد الله بن زمعة أخبره بهذا الخبر. أخرجه أبو داود (4661) . فجعله من مسند ابن زمعة ولعله الصواب فقد قال ابن إسحاق: حدثنى الزهرى حدثنى عبد الملك بن أبى بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام عن أبيه عن عبد الله بن زمعة قال: فذكر نحوه وزاد بعد قوله: يأبى الله ذلك والمسلمون: فبعث إلى أبى بكر فجاء بعد أن صلى عمر تلك الصلاة فصلى بالناس. أخرجه أبو داود (4660) والسياق له وأحمد (4 / 322) . وهذا سند جيد
২৪ - হে আবু বকর! আল্লাহ এবং মুমিনগণ আপনার ব্যাপারে মতবিরোধ করাকে অস্বীকার করেন।
(আহমাদ) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি‘-এর ২৪ নম্বর হাদীসটি দেখুন। * - * এবং আস-সহীহাহ ৬৯০-এ রয়েছে: হে আবু বকর! আল্লাহ এবং মুমিনগণ আপনার ব্যাপারে মতবিরোধ করাকে অস্বীকার করেন। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/৪৭) এবং হাসান ইবনে আরাফাহ তাঁর ‘জুয’ (২/২) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবনে বিলবান ‘তুহফাতুস সিদ্দিক ফি ফাদায়িলি আবি বকর আস-সিদ্দিক’ (৫০/১) গ্রন্থে। এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আল-কুরাশী থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলায়কা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোগ প্রবল হলো, তখন তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকরকে বললেন: ‘আমার কাছে একটি পশুর কাঁধের হাড় বা একটি ফলক নিয়ে এসো, যাতে আমি আবু বকরের জন্য এমন একটি পত্র লিখে দিই যার ব্যাপারে কেউ মতবিরোধ না করে।’ যখন আব্দুর রহমান দাঁড়ানোর জন্য গেলেন, তখন তিনি বললেন... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। ইবনে বিলবান বলেন: আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি মুলায়কা এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন, তাকে আবু বকর আল-কুরাশীও বলা হয়। আমি (আলবানী) বলছি: তিনি দুর্বল, তবে তিনি এটি বর্ণনায় একক হননি। কারণ আহমাদ (৬/১০৬) বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াম্মিল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নাফে’ অর্থাৎ ইবনে উমর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মুলায়কা এর অনুরূপ। সমর্থক বর্ণনার (মুতাবিয়াত) ক্ষেত্রে এই সনদটি উত্তম। এই নাফে’ নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় রাবী, আর মুয়াম্মিল হলেন ইবনে ইসমাইল, তিনি সত্যবাদী তবে তাঁর স্মরণশক্তি দুর্বল ছিল, যেমনটি ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আরেকটি সূত্র উরওয়াহ থেকে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় আমাকে বললেন: ‘তোমার পিতা আবু বকর এবং তোমার ভাইকে আমার কাছে ডাকো, যাতে আমি একটি পত্র লিখে দিতে পারি। কেননা আমি আশঙ্কা করছি যে কোনো প্রত্যাশী প্রত্যাশা করবে এবং কোনো বক্তা বলবে: আমিই (খিলাফতের জন্য) অধিক যোগ্য। অথচ আল্লাহ এবং মুমিনগণ আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে অস্বীকার করেন।’ এটি মুসলিম (৭/১১০) এবং আহমাদ (৬/১৪৪) বর্ণনা করেছেন। এর তৃতীয় একটি সূত্র কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আয়েশা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: ‘আমি সংকল্প করেছিলাম বা ইচ্ছা করেছিলাম যে আমি আবু বকর ও তাঁর পুত্রের কাছে লোক পাঠাবো এবং তাঁকে ওসীয়ত করে যাবো, পাছে কোনো বক্তা কিছু বলে বা কোনো প্রত্যাশী প্রত্যাশা করে। অতঃপর আমি বললাম: আল্লাহ অস্বীকার করবেন এবং মুমিনগণ প্রতিরোধ করবেন, অথবা আল্লাহ প্রতিরোধ করবেন এবং মুমিনগণ অস্বীকার করবেন।’ এটি বুখারী (৪/৪৬-৪৭, ৪০৫-৪০৬) বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ একটি সূত্র উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনা (রা.)-এর ঘরে অসুস্থ ছিলেন... তখন তিনি মাইমুনার ঘরে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহ ইবনে জামআহকে বললেন: ‘লোকদের নির্দেশ দাও তারা যেন সালাত আদায় করে।’ তখন তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: ‘হে উমর! লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুন।’ তখন তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং তাঁকে চিনে ফেললেন, কারণ তিনি উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘এটি কি উমরের কণ্ঠস্বর নয়?’ তারা বললেন: ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং মুমিনগণ তা অস্বীকার করেন। আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে।’ আয়েশা (রা.) বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, তিনি নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না...’ (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। এটি আহমাদ (৬/৩৪) মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি তাঁর (উবাইদুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই সনদটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। আর আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক তাঁর (মা'মার) বিরোধিতা করে বলেছেন: ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জামআহ তাঁকে এই সংবাদটি দিয়েছেন। এটি আবু দাউদ (৪৬৬১) বর্ণনা করেছেন। ফলে তিনি একে ইবনে জামআহ-এর মুসনাদ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং সম্ভবত এটিই সঠিক। কেননা ইবনে ইসহাক বলেছেন: যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার কাছে আব্দুল মালিক ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জামআহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং ‘আল্লাহ ও মুসলিমগণ তা অস্বীকার করেন’ বলার পর এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন: ‘অতঃপর তিনি আবু বকরের কাছে লোক পাঠালেন, তিনি উমরের সেই সালাত আদায় করার পর আসলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।’ এটি আবু দাউদ (৪৬৬০) বর্ণনা করেছেন এবং এই শব্দবিন্যাস তাঁরই, আর আহমাদ (৪/৩২২) এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি একটি উত্তম সনদ।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
25 - أبايِعُكَ على أنْ تَعْبُدَ الله لَا تُشْرِكُ به شيئا وتقيم الصلاة المكتوبة وتؤتي الزكاة وتَنْصَحُ لِكُلِّ مُسْلِم وتَبْرَأُ مِنَ الشِّرْكِ
(حم ن) عن جرير.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 25 فى صحيح الجامع * - * وفى الإرواء 1207: روى أبو وائل عن أبى نخيلة البجلى عن جرير قال: أتيت النبى صلى الله عليه وسلم وهو يبايع فقلت: يا رسول الله ابسط يدك حتى أبايعك واشترط على فأنت أعلم قال: أبايعك على أن تعبد الله وتقيم الصلاة وتؤتى الزكاة وتناصح المسلمين وتفارق المشرك. أخرجه النسائى (2 / 183) والبيهقى (9 / 13) وأحمد (4 / 365) عن منصور عن أبى وائل به. وتابعه الأعمش عن أبى وائل به. أخرجه النسائى من طريق أبى الأحوص عنه. وخالفه شعبة فقال: عنه عن أبى وائل عن جرير: أسقط منه أبا نخيلة. أخرجه النسائى. وتابع شعبة أبو شهاب وأبو ربعى فقالا: عن الأعمش عن أبى وائل عن جرير. أخرجه الطبرانى فى المعجم الكبير (1 / 1111 / 1) . ولعل رواية أبى الأحوص عنه أرجح لموافقتها لرواية منصور التى لم يختلف عليه فيها. وإسناده صحيح وأبو نخيلة بالخاء المعجمة مصغرا وقيل بالمهلمة وبه جزم إبراهيم الحربى وقال: هو رجل صالح. وجزم غير واحد بصحبته كما بينه الحافظ ابن حجر فى الأصابة. وله شاهد عن أعرابى معه كتاب كتبه له رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه: إنكم إن شهدتم أن لا إله إلا الله وأقمتم الصلاة وآتيتم الزكاة وفارقتم المشركين وأعطيتم من الغنائم الخمس وسهم النبى صلى الله عليه وسلم والصفى وربما قال: وصفيه ـ فأنتم آمنون بأمان الله وأمان رسوله. أخرجه البيهقى (6 / 303 9 / 13) وأحمد (5 / 78) بسند صحيح عنه وجهالة الصحابى لا تضر. وشاهد آخر من رواية بهز بن حكيم عن أبيه عن جده مرفوعا بلفظ: كل مسلم على مسلم محرم أخوان نصيران لا يقبل الله عز وجل من مشرك بعد ما أسلم عملا أو يفارق المشركين إلى المسلمين. أخرجه النسائى (1 / 358) وابن ماجه (2536) شطره الثانى. قال الألباني: وإسناده حسن. وفى الباب عن سمرة بن جندب مرفوعا بلفظ: من جامع المشرك وسكن معه فإنه مثله. أخرجه أبو داود (2787) . قال الألباني: وسنده ضعيف. وله عنه طريق أخرى أشد ضعفا منها أخرجه الحاكم (2 / 141 ـ 141) وقال صحيح على شرط البخارى! ووافقه الذهبى فى التلخيص لكن وقع فيه صحيح على شرط البخارى ومسلم! وذلك من أوهامها فإن فيه إسحاق بن إدريس وهو متهم بالكذب وقد ترجمه الذهبى فى نفسه فى الميزان أسوأ ترجمة. ووجدت له شاهدا آخر من حديث كعب بن عمرو وقال: أتيت النبى صلى الله عليه وسلم وهو يبايع الناس فقلت: يا رسول الله: أبسط يدك على أبايعك واشترط على فأنت أعلم بالشرط قال: أبايعك على أن تعبد الله. . . . الحديث بلفظ أبى نخيلة المتقدم. أخرجه الحاكم (3 / 505) وفيه بريدة بن سفيان الأسلمى وليس بالقوى
২৫ - আমি তোমার থেকে এই শর্তে বায়আত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকবে।
(আহমাদ, নাসাঈ) জারীর থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) দেখুন হাদীস নং ২৫, সহীহুল জামি'; এবং ইরওয়াউল গালীল ১২০৭: আবু ওয়াইল আবু নাখিলা আল-বাজালী থেকে এবং তিনি জারীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম যখন তিনি বায়আত নিচ্ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার কাছে বায়আত হতে পারি এবং আমার ওপর শর্তারোপ করুন কারণ আপনিই অধিক অবগত। তিনি বললেন: আমি তোমার থেকে এই শর্তে বায়আত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করবে এবং মুশরিকদের থেকে পৃথক হবে। এটি নাসাঈ (২/১৮৩), বায়হাকী (৯/১৩) এবং আহমাদ (৪/৩৬৫) মানসূর থেকে এবং তিনি আবু ওয়াইল থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আ'মাশও আবু ওয়াইল থেকে এর অনুসরণ করেছেন। নাসাঈ এটি আবু আহওয়াস থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বা এর বিরোধিতা করে আবু ওয়াইল থেকে জারীরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি আবু নাখিলাকে বাদ দিয়েছেন। এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। আর শু'বাকে অনুসরণ করেছেন আবু শিহাব ও আবু রাবয়ী; তাঁরা আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাবারানী এটি আল-মু'জামুল কাবীরে (১/১১১১/১) বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত আবু আহওয়াসের বর্ণনাটিই অধিক অগ্রগণ্য কারণ এটি মানসূরের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। এর সনদ সহীহ। আর আবু নাখিলা শব্দটি 'খা' বর্ণে নুকতাযুক্ত এবং তা তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থক) হিসেবে ব্যবহৃত, কেউ কেউ একে নুকতাহীন 'হা' দিয়েও পড়েছেন এবং ইবরাহীম হারবী এটিই নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন: তিনি একজন সৎ ব্যক্তি। একাধিক মুহাদ্দিস তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার 'আল-ইসাবা' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর সপক্ষে একজন গ্রাম্য ব্যক্তির থেকে একটি শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) রয়েছে যার সাথে একটি পত্র ছিল যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লিখে দিয়েছিলেন, যাতে ছিল: তোমরা যদি সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, মুশরিকদের থেকে পৃথক হও এবং গণীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ ও নবীর অংশ ও সাফী (নির্বাচিত অংশ) প্রদান করো - তিনি হয়তো বলেছিলেন: এবং তাঁর সাফী - তবে তোমরা আল্লাহর নিরাপত্তা ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় নিরাপদ থাকবে। বায়হাকী (৬/৩০৩, ৯/১৩) এবং আহমাদ (৫/৭৮) এটি সহীহ সনদে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা কোনো ক্ষতিকর নয়। অন্য একটি শাহেদ বর্ণিত হয়েছে বাহয বিন হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেন: প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের সবকিছু হারাম, তারা পরস্পর ভাই ও সহযোগী। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কোনো মুশরিক ইসলাম গ্রহণ করার পর তার কোনো আমল কবুল করেন না যতক্ষণ না সে মুশরিকদের ছেড়ে মুসলিমদের কাছে ফিরে আসে। নাসাঈ (১/৩৫৮) এবং ইবনু মাজাহ (২৫৩৬) এর দ্বিতীয় অংশটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী বলেন: এর সনদ হাসান। এই বিষয়ে সামুরা বিন জুনদুব থেকে মারফূ সূত্রে আরও বর্ণিত আছে: যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে একত্রিত হয় এবং তাদের সাথে বসবাস করে, সে তাদেরই মতো। এটি আবু দাউদ (২৭৮৭) বর্ণনা করেছেন। আলবানী বলেন: এর সনদ যয়ীফ। তাঁর থেকে এর আরেকটি সূত্র আছে যা আরও বেশি দুর্বল, যা হাকেম (২/১৪১-১৪১) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ! আয-যাহাবী তালখীসে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, তবে সেখানে 'বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ' কথাটি এসেছে। এটি তাঁর ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত কারণ এতে ইসহাক বিন ইদরীস রয়েছে যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। স্বয়ং যাহাবী তাঁর 'মিযানুল ইতিদাল' গ্রন্থে তার অত্যন্ত মন্দ জীবনী উল্লেখ করেছেন। আমি কা'ব বিন আমর থেকে বর্ণিত হাদীসে এর অন্য একটি শাহেদ পেয়েছি, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলাম যখন তিনি লোকদের থেকে বায়আত নিচ্ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার নিকট বায়আত হতে পারি এবং আপনি আমার ওপর শর্তারোপ করুন কারণ আপনি শর্ত সম্পর্কে অধিক অবগত। তিনি বললেন: আমি তোমার থেকে এই শর্তে বায়আত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে... হাদীসটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত আবু নাখিলার শব্দের অনুরূপ। হাকেম (৩/৫০৫) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে বুরাইদাহ বিন সুফিয়ান আল-আসলামী রয়েছেন যিনি শক্তিশালী রাবী নন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
26 - أبايِعُكمْ على أَن لَا تُشْرِكُوا بِاللَّه شَيْئاً ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين أيديكم وأرجلكم ولا تعصوني في معروف فمن وفى منكم فأجْرُهُ على الله ومَنْ أصابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئاً فَأُخِذَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ لَهُ كَفَّارةٌ وَطَهُورٌ ومَنْ سَتَرَهُ الله فَذَلِكَ إِلَى الله عز وجل إِن شاءَ عَذَّبَهُ وإنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ
(حم ق ت ن) عن عبادة بن الصامت.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 26 فى صحيح الجامع
২৬ - আমি তোমাদের নিকট থেকে এই মর্মে বায়াত গ্রহণ করছি যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, নিজেদের হাত ও পায়ের সামনে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না এবং কোনো সৎ কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (এই অঙ্গীকার) পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে তার শাস্তি প্রদান করা হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা ও পবিত্রতাস্বরূপ। আর যাকে আল্লাহ গোপন রাখবেন, তবে তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
(আহমাদ, বুখারি, তিরমিজি, নাসায়ি) উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহিহ) দেখুন হাদিস নম্বর: ২৬, সহিহুল জামে গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
27 - ابْدَأ بِمَنْ تعُولُ
(طب) عَن حَكِيم بن حزام.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 27 فى صحيح الجامع خ: زكاة
২৭ - তোমার ওপর যারা নির্ভরশীল, তাদের থেকে শুরু করো।
(তাবারানি) হাকিম ইবনে হিজাম থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি’-এর ২৭ নম্বর হাদিসটি দেখুন; বুখারি: জাকাত।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
28 - ابدأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فإنْ فَضَلَ شَيْءٌ فَلأهْلِكَ فَإنْ فَضَلَ شَيْءٌ عَنْ أهْلِكَ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَيْءٌ فهكذا وهكذا
(ن) عن جابر.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 28 فى صحيح الجامع * - * وفى الإرواء 833: حديث: ابدأ بنفسك قال الألباني فى إرواء الغليل 3 / 315: * صحيح * رواه مسلم (3 / 78 ـ 79 5 / 97) وكذا النسائى (1 / 353 2 / 230) والبيهقى (4 / 178) من طريق الليث عن أبى الزبير عن جابر قال: أعتق رجل من بنى عذرة عبدا له عن دبر فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ألك مال غيره؟ فقال: لا فقال: من يشتريه منى فاشتراه نعيم ابن عبد الله العدوى بثمانمائة درهم فجاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فدفعها إليه ثم قال: ابدأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فإنْ فَضَلَ شَيْءٌ فلأهلك فإن فضل عن أهلك شىء فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شىء فهكذا وهكذا. يقول: فبين يديك وعن يمينك وعن شمالك. وتابعه أيوب عن أبى الزبير به نحوه. ولفظه: إِذا كانَ أحدُكُمْ فَقِيراً فلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ فإِنْ كان فيها فضل فعلى عياله. . . . أخرجه مسلم ولم يسق لفظه وأبو داود (3957) وأحمد (3 / 305 369) . والنصف الأول منه أخرجه البخارى وغيره من طريق أخرى عن جابر وقد خرجته فى أحاديث بيوع الموسوعة الفقهية
২৮ - তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের ওপর তা ব্যয় (সদকা) করো। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য। আর যদি তোমার পরিবারের প্রয়োজনের পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার আত্মীয়-স্বজনের জন্য। আর যদি তোমার আত্মীয়-স্বজনের প্রয়োজনের পরেও কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা এভাবে ও এভাবে (অর্থাৎ ডানে-বামে ও সামনে বিলিয়ে দাও)।
(নাসাঈ) জাবির থেকে বর্ণিত।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) সহীহুল জামি’-এর ২৮ নম্বর হাদীস দেখুন। * - * এবং ইরওয়াউল গালীল ৮৩৩-এ: হাদীস: 'তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো'। আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৩/৩১৫-তে বলেছেন: * সহীহ * এটি মুসলিম (৩/৭৮-৭৯, ৫/৯৭), অনুরূপভাবে নাসাঈ (১/৩৫৩, ২/২৩০) এবং বায়হাকী (৪/১৭৮) বর্ণনা করেছেন লাইস-এর সূত্রে আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু উজরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত করে দেওয়ার (মুদাব্বার) ঘোষণা দিল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কি এ ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে? সে বলল: না। তখন তিনি বললেন: কে আমার কাছ থেকে এটি ক্রয় করবে? তখন নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আদাবী এটি আটশ দিরহাম দিয়ে ক্রয় করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে দিরহামগুলো নিয়ে এলেন এবং তিনি তা ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দিলেন। এরপর বললেন: তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের ওপর তা ব্যয় করো। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য। আর যদি তোমার পরিবারের প্রয়োজনের পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার আত্মীয়-স্বজনের জন্য। আর যদি তোমার আত্মীয়-স্বজনের প্রয়োজনের পরেও কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা এভাবে ও এভাবে। তিনি বললেন: অর্থাৎ তোমার সামনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে। আইয়ুব আবু যুবাইর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করে তাকে অনুসরণ করেছেন। এবং শব্দগুলো হলো: যখন তোমাদের কেউ অভাবী হয়, তখন সে যেন নিজেকে দিয়ে শুরু করে। যদি তাতে অতিরিক্ত কিছু থাকে তবে তা যেন তার পরিবারের ওপর ব্যয় করে। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন তবে এর শব্দ উল্লেখ করেননি এবং আবু দাউদ (৩৯৫৭) ও আহমাদ (৩/৩০৫, ৩৬৯) এটি বর্ণনা করেছেন। এর প্রথমাংশ বুখারী ও অন্যরা অন্য সূত্রে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আমি এটি 'মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ'-এর ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের হাদীসসমূহে উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
29 - أبْرِدُوا بالظُّهْرِ
(هـ) عَن ابْن عمر (طب) عن عبد الرحمن بن حارثة.
[حكم الألباني] (صحيح) انظر حديث رقم: 29 فى صحيح الجامع صحيح ابن ماجه (555)
২৯ - যোহরের সালাত ঠান্ডা অবস্থায় (বিলম্ব করে) আদায় করো।
(ইবনে মাজাহ) ইবনে উমর হতে; (তাবারানি) আবদুর রহমান ইবনে হারিসা হতে।
[আলবানীর হুকুম] (সহীহ) দেখুন হাদীস নম্বর: ২৯, সহীহুল জামে‘; সহীহ ইবনে মাজাহ (৫৫৫)