(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: -)
ذكر شيوخ الشريف أبي الفضل ابن المهدي   (أبو الفضل بن المهدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذكر شيوخ الشريف أبي الفضل ابن المهدي - مخطوط

المؤلف: محمد بن عبد العزيز بن العباس بن محمد بن عبد الله بن أحمد بن محمد بن عبد الله بن المهدي، أبو الفضل الهاشمي (ت 444هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 63

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শরীফ আবুল ফযল ইবনুল মাহদীর উস্তাদগণের আলোচনা   (আবুল ফযল ইবনুল মাহদী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আশ-শরীফ আবুল ফযল ইবনুল মাহদীর উস্তাদগণের আলোচনা - পাণ্ডুলিপি

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয বিন আব্বাস বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী, আবুল ফযল আল-হাশিমী (মৃত্যু ৪৪৪ হি.)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরী

[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب: ذكر شيوخ الشريف أبي الفضل ابن المهدي - مخطوط

المؤلف: أبو الفضل محمد بن عبد العزيز بن العباس بن المهدي

المتوفى: 444 هـ
গ্রন্থ: আশ-শরীফ আবুল ফজল ইবনুল মাহদীর শায়খদের বর্ণনা - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-আব্বাস বিন আল-মাহদী

মৃত্যু: ৪৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١)
[1/ب]

الجزء فيه ذكر‌‌ شيوخ الشريف أبي الفضل

محمد بن العباس بن المهدي وذكر حالهم وتاريخ وفاتهم ومختار حديثهم وغير ذلك.

رواية ولده الشريف الأجل العدل أبي علي محمد بن محمد بن عبد العزيز عنه وعن الشيخ الإمام الحافظ شيخ الإسلام فخر الأئمة جمال الحفاظ، أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني، رضي الله عنه، سماع الشيخ الفقيه أبي عبد الله بن محمد بن المحلى بابن … الجزري.

نفعه الله به.

 

[2/أ]

بسم الله الرحمن الرحيم وبه أستعين.

 

أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ شيخ الإسلام فخر الإئمة جمال الحفاظ بقية السلف عمدة الخلف أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي الأصبهاني، رضي الله عنه، قراءة عليه وأنا أسمع في شعبان سنة خمس وسبعين وخمس مئة بالأسكندرية قال: أخبرني الشريف الفاضل أبو علي العباس محمد بن محمد بن عبد العزيز بن المهدي العدل بقراءتي عليه ببغداد في صفر سنة خمس وتسعين وأربع مئة، أنبأنا والدي أبو الفضل محمد بن عبد العزيز بن العباس بن محمد بن عبد الله بن أحمد بن محمد بن عبد الله بن أمير المؤمنين المهدي وقال:
[১/খ]

এই অংশে শরীফ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-মাহদীর শায়খগণের উল্লেখ এবং তাঁদের অবস্থা, তাঁদের মৃত্যুর তারিখ, তাঁদের নির্বাচিত হাদিসসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে।

এটি তাঁর সন্তান, সুমহান ও ন্যায়নিষ্ঠ শরীফ আবু আলী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ কর্তৃক তাঁর থেকে এবং শায়খ, ইমাম, হাফেজ, শায়খুল ইসলাম, ইমামগণের গৌরব ও হাফেজদের সৌন্দর্য আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। এটি শায়খ, ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহাল্লা ইবনে ... আল-জাযারির শ্রবণকৃত।

আল্লাহ তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন।

 

[২/ক]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

শায়খ, ইমাম, হাফেজ, শায়খুল ইসলাম, ইমামগণের গৌরব, হাফেজদের সৌন্দর্য, সালাফদের অবশিষ্টাংশ ও খালাফদের আশ্রয়স্থল আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ৫ ৭৫ হিজরি সনের শাবান মাসে আলেকজান্দ্রিয়ায় আমি শ্রবণরত থাকাবস্থায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল। তিনি বলেন: গুণী ও ন্যায়নিষ্ঠ শরীফ আবু আলী আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-মাহদী ৪ ৯৫ হিজরি সনের সফর মাসে বাগদাদে তাঁর নিকট আমার পাঠকালে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমার পিতা আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ bin আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমীরুল মুমিনীন আল-মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢)
الحمد لله الذي بحمده يفتتح الكلام وبشكره يستبجح الإنعام، وصلي الله على سيد الأنام محمد النبي وعلى آله الكرام أفضل تحية وسلام أما بعد:

فإني جمعت في هذا ذكرا شيوخي الذين لقيتهم وسمعت العلم منهم وذكرت حالهم وأرخت وفاتهم ورويت عن كل واحد منهم ما تيسر من خبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو حكاية مستحسنة أو أبيات من الشعر ليكون ذلك ذكرا لجماعة منهم وبلاغا عنهم ليترحم عليهم ومن الله اطلب المثوبة على ما قصدته والمنفعة لما أردته في الدنيا والآخرة إن شاء الله، وقد بدأت ببني هاشم لما اخبر به من تقديمهم [2/ب] ثم الشهود المعدلين المجتمع على ثقتهم، ثم الفقهاء أعلام الدين ثم القراء والمقرئين ثم الوعاظ والزهاد وشيوخ الحديث والحفاظ له ثم الفضلاء ممن بينهم ومن سمعت منه حكاية أو شيئا من شعر بعد ذلك لأضيف كل قوم إلى أشكالهم، وبالله التوفيق.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে কথা শুরু হয় এবং যাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে নিয়ামত প্রাপ্তি আনন্দময় হয়। সৃষ্টিজগতের নেতা নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারের ওপর সর্বোত্তম অভিবাদন ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমি এখানে আমার ঐ সকল শায়খদের (শিক্ষকদের) কথা সংকলন করেছি যাদের সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি এবং যাদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছি। আমি তাদের অবস্থা বর্ণনা করেছি, তাদের মৃত্যুর তারিখ লিপিবদ্ধ করেছি এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে প্রাপ্ত কোনো সংবাদ, অথবা কোনো উত্তম ঘটনা, কিংবা কবিতার পঙক্তি বর্ণনা করেছি যা সহজলভ্য হয়েছে; যাতে এটি তাদের একটি দলের স্মৃতিচারণ হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া একটি বার্তা হয় যাতে তাদের প্রতি রহমত বর্ষণের দোয়া করা হয়। আমি আমার এই উদ্দেশ্যের সওয়াব এবং ইহকাল ও পরকালে আমার অভিপ্রায়ের উপকারিতা আল্লাহর নিকট কামনা করি, ইনশাআল্লাহ। আমি বনী হাশেমের আলোচনা দিয়ে শুরু করেছি যেহেতু তাদের অগ্রগণ্য করার বিষয়ে খবর বর্ণিত হয়েছে [২/খ], এরপর ঐ সকল ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীগণ যাদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, এরপর দ্বীনের প্রখ্যাত ফকিহগণ, এরপর ক্বারী ও কুরআন শিক্ষকগণ, এরপর ওয়ায়েজ ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিবর্গ এবং হাদিসের শায়খ ও হাফেজগণ, এরপর তাদের মধ্যবর্তী গুণী ব্যক্তিবর্গ এবং যাদের নিকট থেকে আমি কোনো ঘটনা বা কবিতার অংশ শুনেছি তাদের উল্লেখ করেছি, যেন আমি প্রত্যেক শ্রেণীকে তাদের সমজাতীয়দের সাথে যুক্ত করতে পারি। আর আল্লাহর তৌফিকের মাধ্যমেই সব সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٣)
1- ذكر القاضي الشريف الخطيب المعدل خطيب جامع المنصور بمدينة السلام وكان زاهدا كثير الصلاة أمر الناس نحو أربعين سنة، ولد في سنة ثلاث وأربعين وثلاث مئة ومات في جمادى الأولى سنة ثمان عشرة وأربع مئة، سمعت منه عن النجاد وغيره وهو أبو عبد الله أحمد بن محمد بن عبد الله بن عبد الصمد بن المهتدي بالله بن الواثق بالله وهو خالي.

أخبرنا خالي أبو عبد الله حدثنا أبو القاسم خلف بن طوق المؤدب النصيبي، حدثنا أحمد بن عامر الربعي سنة ثلاث مئة، حدثنا عمر بن حفص الدمشقي، حدثنا معروف الخياط حدثنا واثلة الأسقع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: طوبى لمن رآني ورأى من رآني ورأى من رأى من رآني.

وحكى لي بإسناد ذكره أن رجلا كانت به فاقه فمضى إلى معروف الكرخي يوم جمعة فجلس حتى خرج فقال له: ادع لي فجعل يقول واغوثاه بالله واغوثاه بالله حتى رجع قال: فلما هم أن يدخل [3/أ] إلى داره قلت: ادع لي فقال: إذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم قد قضيت الحاجة فعدت إلى داري وقد فتح لي بشيء كان فيه غنائي وغنا عيلتي.
১- কাযী আশ-শরিফ আল-খতীব আল-মুআদ্দাল-এর আলোচনা, যিনি মদিনাতুস সালামের (বাগদাদ) জামে মানসুরের খতীব ছিলেন। তিনি একজন দুনিয়াবিমুখ ও অধিক সালাত আদায়কারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর যাবত লোকজনকে (নামাজে) ইমামতি করেছেন। তিনি তিনশত তেতাল্লিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত আঠারো হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আমি তাঁর নিকট থেকে আন-নাজ্জাদ ও অন্যদের সূত্রে হাদিস শুনেছি। তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে আল-মুহতাদী বিল্লাহ ইবনে আল-ওয়াসিক বিল্লাহ এবং তিনি আমার মামা।

আমার মামা আবু আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম খালাফ ইবনে তওক আল-মুয়াদ্দিব আন-নাসীবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আমির আর-রিবয়ী তিনশত হিজরি সনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে হাফস আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারুফ আল-খাইয়্যাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াসিলাহ আল-আসকা (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সুসংবাদ তাঁর জন্য যিনি আমাকে দেখেছেন, এবং তাঁর জন্য যিনি তাঁকে দেখেছেন যিনি আমাকে দেখেছেন, এবং তাঁর জন্য যিনি তাঁকে দেখেছেন যিনি তাঁকে দেখেছেন যিনি আমাকে দেখেছেন।"

তিনি একটি সনদের কথা উল্লেখ করে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি চরম অভাবগ্রস্ত ছিল। সে জুমার দিন মারুফ আল-কারখীর নিকট গেল এবং তিনি বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল। অতঃপর সে তাঁকে বলল: 'আমার জন্য দোয়া করুন'। তখন তিনি বলতে শুরু করলেন, "হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য চাই, হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য চাই" এবং তিনি ফিরে যাওয়া পর্যন্ত এভাবেই বলতে থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন: যখন তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করতে চাইলেন [৩/ক], আমি বললাম: 'আমার জন্য দোয়া করুন'। তখন তিনি বললেন: "স্মরণ করো যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছিলেন"। তোমার প্রয়োজন পূরণ হয়েছে। এরপর আমি আমার বাড়িতে ফিরে এলাম এবং আমার জন্য এমন রিযিকের ব্যবস্থা হলো যাতে আমার এবং আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে এল।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٤)
2- ذكر القاضي الشريف أبي بكر أحمد بن محمد بن أبي موسى الهاشمي العبدي المالكي ولي القضاء بمدينة المنصور، وكان يشهد حملني إليه استاذي هبة المقريء وهو عليل فقريء عليه جزءا لم أسمع منه غيره، مات في سنة سبع وثمانين وثلاث مئة، ولي من عمري ثماني سنين.

أخبرنا أبو بكر، حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن عبد الصمد بن موسى الهاشمي، حدثنا أبي، حدثنا عمي إبراهيم بن محمد حدثنا عبد الصمد بن علي بن عبد الله بن عباس عن أبيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أكرموا الشهود فإن الله يستخرج بهم الحقوق ويدفع بهم الظلم.

3- ذكر القاضي الشريف المعدل أبي الحسن علي بن عبد الله بن إبراهيم الهاشمي العيسوي ولي القضاء بمدينة المنصور رحمه الله عليه، خلافة عن ابن أبي الشوارب قاضي القضاة، مات في رجب سنة خمس عشرة وأربع مئة، ودفن بباب حرب.

أخبرنا عن ابن البختري وغيره [3/ب]
২- মদিনাতুল মনসুরের বিচারপতি (কাজি) শরিফ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু মুসা আল-হাশেমি আল-আবদি আল-মালিকির বিবরণ। তিনি মদিনাতুল মনসুরে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার উস্তাদ হিবাত আল-মুকরি আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর সামনে একটি ‘জুজ’ (হাদিসের সংকলন) পাঠ করা হয়েছিল, আমি সেটি ছাড়া অন্য কিছু তাঁর কাছ থেকে শুনিনি। তিনি তিনশ সাতাশি হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তখন আমার বয়স ছিল আট বছর।

আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আবদুস সামাদ বিন মুসা আল-হাশেমি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার চাচা ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুস সামাদ বিন আলি বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা সাক্ষীদের সম্মান করো, কারণ আল্লাহ তাদের মাধ্যমে মানুষের অধিকার উদ্ধার করেন এবং তাদের মাধ্যমে জুলুম প্রতিহত করেন।

৩- ন্যায়পরায়ণ বিচারপতি (কাজি) শরিফ আবুল হাসান আলি বিন আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-হাশেমি আল-ঈসাভির বিবরণ, যিনি প্রধান বিচারপতি (কাযিল কুজাত) ইবন আবিশ শাওয়ারিবের প্রতিনিধি হিসেবে মদিনাতুল মনসুরের কাজি নিযুক্ত হয়েছিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। তিনি চারশ পনেরো হিজরি সনের রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে ‘বাবুল হারব’-এ দাফন করা হয়।

ইবনুল বাখতারি এবং অন্যদের সূত্রে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে। [৩/খ]
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٥)
4- ذكر القاضي الشريف المعدل الفقيه أبي علي محمد بن أحمد بن محمد بن أبي موسى عيسى بن محمد بن العباس بن محمد بن العباس الأكبر بن عبد الله بن معبد بن العباس بن عبد المطلب الهاشمي العبدي الحنبلي، سمعنا منه كتاب الإرشاد في مذهب أحمد بن حنبل، مات في ربيع الآخر سنة ثمان وعشرين وأربع مئة، دفن بباب حرب.

أنشدنا أبو علي أنشدني أبو الحسن عبد العزيز بن الحارث بن أسد الفقيه الحنبلي التميمي لبعضهم.

قل للذي بصروف الدهر عيرنا = عل عاند الدهر إلا من له خطر

أما ترى البحر يطوف فوقه جيف = ويستقر بأقصى قعره الدرر

وفي السماء نجوم غير ذي عدد = وليس يكسف الا الشمس والقمر

5- ذكر الشريف أبي القاسم عبد الواحد بن علي بن صالح المنصوري من ولد المنصور الفقيه الشافعي درس على الداركي، كان ينزل المدينة، ومات في رمضان سنة خمس عشرة وأربع مئة.

أنشدنا أبو القاسم، أنشدني أبو الحسن البكائي الشافعي، أنشدنا محمد بن طريف، أنشدنا الربيع بن سليمان، أنشدنا الشافعي محمد بن إدريس لنفسه:

لما عفوت ولم أحقد على أحد … أرحت نفسي من هم العداوات

إني أحيي عدوي عند رؤيته … لأدفع الشر عني بالتحيات [4/أ]
৪- বিচারপতি, শরীফ, ন্যায়নিষ্ঠ (আল-মুয়াদ্দাল), ফকিহ আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু মুসা ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-আকবর বিন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী আল-আবদি আল-হাম্বলীর উল্লেখ। আমরা তাঁর নিকট থেকে আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব বিষয়ক 'কিতাবুল ইরশাদ' শ্রবণ করেছি। তিনি চারশ আটাশ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসে ইন্তেকাল করেন এবং 'বাব হারব'-এ সমাহিত হন।

আবু আলী আমাদের নিকট পাঠ করেছেন, তিনি পাঠ করেছেন আবু আল-হাসান আব্দুল আজিজ বিন আল-হারিস বিন আসাদ আল-ফকিহ আল-হাম্বলী আত-তামিমী থেকে কতিপয় কবির পঙ্ক্তি:

বল তাকে, যে কালের আবর্তনে আমাদের দোষারোপ করে = কাল কি উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো বিরোধিতা করে?

তুমি কি দেখ না যে সমুদ্রের উপরিভাগে মৃতদেহ ভেসে বেড়ায় = আর তার অতল গহ্বরে মুক্তাসমূহ স্থির থাকে?

আকাশে অগণিত নক্ষত্ররাজি বিদ্যমান = কিন্তু সূর্য ও চন্দ্র ব্যতিরেকে কারো গ্রহণ হয় না।

৫- শরীফ আবুল কাসিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সালিহ আল-মনসুরীর উল্লেখ, যিনি খলিফা আল-মনসুরের বংশধর এবং শাফেয়ী ফকিহ। তিনি আল-দারিকির নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি মদিনায় অবস্থান করতেন এবং চারশ পনেরো হিজরী সনের রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন।

আবুল কাসিম আমাদের নিকট পাঠ করেছেন, তিনি আবু আল-হাসান আল-বুক্কায়ী আল-শাফেয়ী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন তারিফ থেকে, তিনি আল-রাবি বিন সুলাইমান থেকে এবং তিনি ইমাম শাফেয়ী মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস থেকে তাঁর নিজের রচিত কবিতা পাঠ করেছেন:

যখন আমি ক্ষমা করেছি এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিনি … তখন আমি শত্রুতার দুশ্চিন্তা থেকে নিজ আত্মাকে প্রশান্ত করেছি।

আমি আমার শত্রুকে দেখলেই অভিবাদন জানাই … যাতে সম্ভাষণের মাধ্যমে নিজের থেকে অনিষ্ট দূর করতে পারি। [৪/ক]
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٦)
وأظهر البشر للإنسان أبغضه … كأنما قد ملأ قلبي مسرات

ولست أسلم ممن لست أعرفه … وكيف أسلم من أهل المودات

الناس داء وداء الناس قربهم … وفي اعتزالهم قطع المرؤات

لابد لي منهم تبدوا إلي لهم.... ولي إليهم حياتي خل جاجاتي

وبإسناده عن الربيع قال: كنت مع الشافعي في بعض أسفاره فدخل الحمام فتقدم المزين ليخدمه فاستدعاه بعض أرباب الدنيا فتركه ومضى إلى ذلك الرجل فلما خرج قال: اعط المزين باقي نفقتي فقلت تبقى بلا نفقة وهذا لايعرفك قال: اعطه فأعطيته دنانير لها قدر فاعتذر المزين إليه وقبل يديه ورجليه فقال الشافعي:

علي ثياب لو يقاس جميعها بفلس … لكان الفلس منهن أكثرا

وفيهن نفس لو يقاس ببعضها … نفوس الورى كانت أجل وأخطرا

وما ضم نقل السيف أخلاق جفنة … إذا كان عضبا حيث وجهته بزا

ذكر القاضي الشريف أبي القاسم علي بن محمد الهاشمي مات سنة سبع وعشرين ودفن بباب حرب.
আমি মানুষের নিকট প্রফুল্লতা প্রকাশ করি যাকে আমি অপছন্দ করি … যেন সে আমার অন্তরকে আনন্দে পূর্ণ করে দিয়েছে।

যাকে আমি চিনি না তার থেকে আমি নিরাপদ নই … তবে আমি কীভাবে ভালোবাসার পাত্রদের থেকে নিরাপদ থাকব?

মানুষ হলো একটি ব্যাধি এবং মানুষের ব্যাধি হলো তাদের নৈকট্য … আর তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাঝে রয়েছে মনুষ্যত্বের বিচ্ছেদ।

তাদের সাথে আমার মেলামেশা অনিবার্য, তারা আমার কাছে আসে... আর তাদের কাছে আমার জীবনের সকল প্রয়োজন নিহিত।

এবং তাঁর সনদে রবী’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিয়ীর সাথে তাঁর এক সফরে ছিলাম। তিনি হাম্মামে প্রবেশ করলেন। তখন নাপিত তাঁর সেবা করার জন্য এগিয়ে এলো, এমতাবস্থায় দুনিয়াদারদের কোনো এক ব্যক্তি তাকে ডাকল। ফলে সে ইমামকে ছেড়ে সেই লোকের কাছে চলে গেল। ইমাম যখন বের হলেন, তখন বললেন: আমার খরচের অবশিষ্ট অংশটুকু নাপিতকে দিয়ে দাও। আমি বললাম: আপনি পাথেয়হীন হয়ে পড়বেন, অথচ সে আপনাকে চিনেও না। তিনি বললেন: তাকে দিয়ে দাও। অতঃপর আমি তাকে বেশ কিছু মূল্যবান দিনার প্রদান করলাম। তখন নাপিত তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং তাঁর হাত ও পা চুম্বন করল। অতঃপর শাফিয়ী (রহ.) বললেন:

আমার পরনে এমন কাপড় রয়েছে যার সবটুকু যদি একটি ফালসের (নগণ্য মুদ্রা) সাথে তুলনা করা হয় … তবে সেই ফালস বা তুচ্ছ মুদ্রার মূল্যই কাপড়ের চেয়ে বেশি হতো।

আর সেই জীর্ণ কাপড়ের মাঝে এমন এক আত্মা রয়েছে যার সামান্য অংশের সাথেও যদি … সৃষ্টির সকল আত্মার তুলনা করা হয়, তবে এই আত্মাই হতো অধিক মহান ও মর্যাদাবান।

তলোয়ারের খাপের জরাজীর্ণ অবস্থা তলোয়ারের শ্রেষ্ঠত্বকে কমিয়ে দেয় না … যদি তলোয়ারটি ধারালো হয় এবং যেদিকেই তাকে পরিচালনা করা হয় সেদিকেই সে জয়ী হয়।

শরীফ কাজী আবুল কাসেম আলী বিন মুহাম্মদ আল-হাশিমীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি চারশ সাতাশ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবুল হারবে তাঁকে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٧)
6- ذكر القاضي الشريف قاضي قضاة البصرة وأمير الحاج بها أبي عمر القاسم بن جعفر بن عبد الواحد بن العباس بن عبد الواحد بن جعفر بن سليمان بن علي بن عبد الله بن العباس بن [4/ب] عبد المطلب الهاشمي من ولد سليمان بن علي لهم امارة البصرة، من أول الدولة العباسية وكان يروي كتاب السنن لأبي داود عن اللؤلؤي.

أخبرنا فيما أذن لنا إجازة وكتب إلينا به حدثني أبي وعماي جعفر ومحمد ومحمد بن عبد الواحد بن العباس قالوا: أنبأنا العباس بن عبد الواحد قراءة عليه ونحن حضور حدثني عمي يعقوب بن جعفر بن سليمان حدثني أبي عن أبيه عن عبد الله بن العباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: طلوع الفجر أمان لأمتي من طلوع الشمس من مغربها.

7- ذكر الشريف المرتضى علم الهدى أبي القاسم علي بن الحسين بن علي بن موسى بن علي بن موسى ولي النقابة على الطالبيين ورد إليه المظالم وإمارة الحاج وهو ابن موسى بن جعفر بن محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب عليهم السلام مات سنة ست وثلاثين وأربع مئة حضرت عنده يوما وبين يديه من يقرأ عليه ديوانه فكان فيما قريء عليه هذه الأبيات فسألت الرجل فكتبها لي.

طلبت على الأيام من لايشوب لي وودي له صاف فلما أصاف
৬- বসরার প্রধান বিচারপতি এবং সেখানকার হজ্জ কাফেলার আমীর আশ-শরীফ আল-ক্বাযী আবু উমর আল-ক্বাসিম ইবন জা'ফর ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আল-আব্বাস ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন জা'ফর ইবন সুলাইমান ইবন আলী ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আল-আব্বাস ইবন [৪/খ] আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমীর আলোচনা, যিনি সুলাইমান ইবন আলীর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত; আব্বাসীয় রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকেই বসরার শাসনভার তাঁদের অধীনে ছিল। তিনি লু'লুয়ীর সূত্রে আবু দাউদের সুনান গ্রন্থ বর্ণনা করতেন।

তিনি আমাদের যা ইজাযত দিয়েছেন এবং আমাদের কাছে যা লিখে পাঠিয়েছেন তাতে আমাদের জানিয়েছেন যে, আমার পিতা এবং আমার দুই চাচা জা'ফর ও মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আল-আব্বাস আমাকে বলেছেন: তাঁরা বলেছেন, আল-আব্বাস ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের উপস্থিতিতে আমাদের সামনে পাঠ করে শুনিয়েছেন যে, আমার চাচা ইয়াকূব ইবন জা'ফর ইবন সুলাইমান আমাকে বলেছেন: আমার পিতা তাঁর পিতার সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ফজরের উদয় হওয়া আমার উম্মতের জন্য পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া হতে একটি নিরাপত্তা।

৭- আশ-শরীফ আল-মুরতাজা আলামুল হুদা আবুল ক্বাসিম আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন মূসা ইবন আলী ইবন মূসার আলোচনা। তিনি তালিবীয়দের অভিভাবকত্ব (নিক্বাবাত) লাভ করেন এবং তাঁর নিকট অভিযোগ প্রতিকার বিভাগ (মাযালিম) ও হজ্জের নেতৃত্ব ন্যস্ত করা হয়। তিনি হলেন মূসা ইবন জা'ফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব (তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধর। তিনি ৪৩৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আমি একদিন তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তাঁর সামনে একজন ব্যক্তি তাঁর কাব্যগ্রন্থ (দীওয়ান) পাঠ করছিল। যা পাঠ করা হচ্ছিল তার মধ্যে এই পঙক্তিগুলোও ছিল, অতঃপর আমি লোকটিকে অনুরোধ করলে তিনি তা আমার জন্য লিখে দেন।

আমি দীর্ঘকাল ধরে এমন কাউকে খুঁজেছি যে আমার সাথে কপটতা করবে না এবং যার প্রতি আমার ভালোবাসা হবে অকৃত্রিম; কিন্তু যখনই আমি সখ্যের স্বচ্ছতা চেয়েছি...
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٨)
وكم بي جرح حين لم أندماله رميت من الإخوان فيه بقارف

عرفتهم بالغدر ثم صحبتهم فيالك من عزم لجزم مخالف

فياليتني أما بهم غير عارف وأما لهم من بعد ذا غير ألف [5/أ]

8- ذكر القاضي المعدل الشريف أبي الحسين علي بن قاضي القضاة أبي الحسن محمد بن صالح بن علي بن يحيى بن عبد الله بنمحمد بن عبيد الله بن عيسى بن موسى بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب بن هاشم الهاشمي العيسوي المعروف بابن أم شيبان مات في شعبان سنة عشرين وأربع مئة ودفن في الرحبة عند المنارة من جامع المنصور مع أبيه، سمعت القاضي أبا الحسين وقد حضر تعزية أبي عبد الله بن المأمون في مسجد القصر فقال: فعلى مثله يناج ويبكي وتشق القلوب دون الجيوب ولئن كان الماضي عظيم الرز فلقد خلف خلفا عظيم القدر فخير الله مصيبته بالصبر وأحسن الخلافة على ولده في كل أمر.
আমার কতই না জখম রয়েছে যা এখনো শুকায়নি, অথচ ভাইদের পক্ষ থেকে আমি তাতে যন্ত্রণাদায়ক আঘাতের শিকার হয়েছি।

আমি তাদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে জানতাম, তবুও তাদের সাহচর্য অবলম্বন করেছি; হায়, দৃঢ় সংকল্পের পরিপন্থী এ কেমন সংকল্প!

হায়, আমি যদি তাদের না চিনতাম অথবা এর পরে তাদের প্রতি অনুরাগী না হতাম! [৫/অ]

৮- কাজী আল-মুয়াদ্দিল আশ-শরীফ আবুল হুসাইন আলী ইবনে কাযিউল কুযাত আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ঈসা ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল-হাশিমী আল-ঈসাভী-এর আলোচনা, যিনি ইবনে উম্মে শায়বান নামে পরিচিত। তিনি চারশত বিশ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং মানসুর জামে মসজিদের মিনারের নিকটবর্তী আর-রাহবায় তাঁর পিতার পাশে দাফন করা হয়। আমি কাজী আবুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, যখন তিনি কাসর মসজিদে আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল মামুনের শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: তাঁর মতো ব্যক্তির জন্যই বিলাপ ও ক্রন্দন করা সাজে এবং জামার পরিবর্তে হৃদয় বিদীর্ণ হওয়া উচিত। যদি প্রয়াত ব্যক্তির চলে যাওয়া এক বিরাট বিয়োগব্যথা হয়, তবে তিনি এক মহান উত্তরসূরি রেখে গেছেন। আল্লাহ যেন ধৈর্যের মাধ্যমে তাঁর বিপদকে কল্যাণমণ্ডিত করেন এবং তাঁর সন্তানের জন্য প্রতিটি বিষয়ে উত্তম স্থলাভিষিক্ততা দান করেন।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٩)
9- ذكر نقيب النقباء الرضى ذي الفخرين نظام الحضرتين نورالهدى أبي الحسن محمد بن أبي تمام علي بن الحسن الزينبي كان إليه نقابة العباسيين والمنابر وسماع البينات والمظالم مات سنة ست وعشرين وأربع مئة قرأ علينا من ظهر كان بيده فيه سماعه عن مود به محمد بن علي، حدثنا أبو العباس إسحاق بن مروان، حدثنا أبي، حدثنا أبو جعفر الأعشى، حدثنا زياد بن المنذر عن الأصبغ بن نباتة قال سمعت علي بن [5/ب] أبي طالب، رضي الله عنه يقول لي خطبته ابن آدم وما ابن آدم تؤلمه بقة وتنتنه عرقه وتقتله شرقه.

أخبرني نقيب النقباء أبو الحسن قال: ما كان لأبي ولد ذكر غيري فحج بي وأنا صغير فلما وصلنا إلى الكعبة أخذ على كتفه وقال: يا بني إذا دعوت الله فقل آمين، فقال: اللهم كثر ولده، اللهم كثر ولده وأنا أقول آمين فلي اليوم من ولدي وأولادهم نيف وأربعون ولدا.

10- ذكر والدي مات في رجب سنة إحدى وتسعين وثلاث مئة دفن بباب حرب، أنشدني أبي قال: أنشدني أبو العباس بن مسلم الشعيري المعدل:

كن للمكاره بالأعزا مقطعا … فلقل يوما لا ترى ما تكره

ولربما استتر الفتى فتنا … فست فيه العيون وإنه لمموه

ولربما خزن الأديب لسانه … جذر الجواب وإنه لمفوه

ولربما ابتسم الحليم من الأذى … وفؤاده من حيرة يتأوه
৯- প্রধান নকীব (নকীবুন নুকাবা), আর-রাযী, দুই গৌরবের অধিকারী, দুই রাজদরবারের শৃঙ্খলা রক্ষাকারী, হিদায়াতের নূর আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবি তাম্মাম আলী ইবনুল হাসান আল-জায়নাবীর উল্লেখ। আব্বাসীয়দের নকীব পদ, মিম্বরসমূহের তদারকি এবং সাক্ষ্য ও অভিযোগ শ্রবণ করার ভার তার ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি চারশত ছাব্বিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আমাদের সামনে এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করেন যা তার নিকট সংরক্ষিত ছিল, যাতে মুহাম্মদ ইবনে আলীর নিকট থেকে তার শ্রবণ লিপিবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল আব্বাস ইসহাক ইবনে মারওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু জাফর আল-আ'শা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যিয়াদ ইবনুল মুনযির আসবাগ ইবনে নুবাতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) তার একটি ভাষণে বলতে শুনেছি: হে আদম সন্তান! আদম সন্তান আবার কী? যাকে একটি মশা কষ্ট দেয়, যার ঘাম তাকে দুর্গন্ধযুক্ত করে এবং যার শ্বাসনালীতে সামান্য কিছু আটকে যাওয়া তাকে হত্যা করে।

প্রধান নকীব আবুল হাসান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতার আমি ছাড়া কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তাই তিনি আমাকে নিয়ে হজ করেন যখন আমি ছোট ছিলাম। যখন আমরা কাবার নিকট পৌঁছালাম, তিনি আমাকে তার কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন: হে বৎস! আমি যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করব, তুমি আমীন বলবে। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি তার সন্তানাদি বাড়িয়ে দিন, হে আল্লাহ! আপনি তার সন্তানাদি বাড়িয়ে দিন। আর আমি আমীন বলছিলাম। আজ আমার এবং আমার সন্তানদের সন্তানদের সংখ্যা চল্লিশের অধিক।

১০- আমার পিতার উল্লেখ; তিনি তিনশত একানব্বই হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে বাবে হারব-এ দাফন করা হয়। আমার পিতা আমাকে কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবুল আব্বাস ইবনে মুসলিম আশ-শুয়াইরি আল-মুআদ্দাল কবিতা শুনিয়েছেন:

দুঃখ-কষ্টের মুখে ধৈর্য ও গাম্ভীর্যের সাথে অটল থেকো … কেননা খুব কম দিনই এমন যায় যখন তুমি তোমার অপছন্দনীয় কিছুর সম্মুখীন হবে না

অনেক সময় কোনো যুবক নিজেকে গোপন রাখে … তবুও মানুষের দৃষ্টি তার ওপর নিবদ্ধ হয় অথচ সে নিজেকে আড়াল করে রেখেছে

অনেক সময় কোনো শিষ্টাচারী ব্যক্তি তার জিহ্বাকে সংযত রাখেন … উত্তরের ভয়ে, যদিও তিনি অত্যন্ত সুবক্তা

অনেক সময় সহনশীল ব্যক্তি কষ্ট পেয়েও মৃদু হাসেন … যদিও তার হৃদয় ব্যাকুলতায় হাহাকার করতে থাকে
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٠)
11- ذكر الشيخ المعدل شيخ زمانه وكان كثير التلاوة لكتاب الله وكثير الصدقة [6/أ] والتعهد للفضلاء من الناس أبي الفرج أحمد بن محمد بن عمر بن الحسن بن المسلمة ومات في ذي القعدة سنة خمس عشرة وأربع مئة ودفن بالخيزرانة.

حدثنا أبو الفرج، حدثنا أبي، حدثنا محمد بن أحمد الكاتب، حدثنا سفيان بن زياد، حدثنا سليمان بن أيوب الواسطي، حدثنا سعيد بن محمد عن عبد الرحمن بن زياد بن أنعم عن مالك بن قيس عن عقبة بن عامر عن أبي بكر الصديق، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال لا إله إلا الله رجع ذلك إلى قلب موقن دخل الجنة.

12- ذكر الشيخ الزاهد المعدل المقريء الحجاج

الكثير الصدقة الحسن القراءة أبي الحسين أحمد بن عبد الله بن الخضر السوسنجردي، مات في رجب سنة اثنتين وأربع مئة ودفن بباب حرب.

13- ذكر الشيخ أبي الحسن محمد بن عبد الله بن إبراهيم المعروف بابن الرازي والصيني المعدل الشاهد رجل صالح حسن الوجه كثير الصلاة من أهل القرآن يتقدم ويؤم بالناس ويقريء مات في جمادى الأولى سنة عشر وأربع مئة حدثنا عن ابي عمرو بن السماك.
১১- শায়খ মুআদ্দালের আলোচনা, যিনি নিজ যুগের শ্রেষ্ঠ শায়খ ছিলেন এবং আল্লাহর কিতাব অধিক তিলাওয়াতকারী, প্রচুর দানশীল [৬/অ] ও গুণী ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নিতেন; তিনি হলেন আবু আল-ফারাজ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-মুসলিমাহ। তিনি চারশ পনেরো হিজরী সনের যিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং আল-খায়যুরানায় সমাহিত হন।

আবু আল-ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কাতিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান ইবনে আইয়ুব আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি মালিক ইবনে কায়স থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে এবং তা সুনিশ্চিত হৃদয়ে প্রোথিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

১২- শায়খ যাহিদ মুআদ্দাল ক্বারী আল-হাজ্জাজের আলোচনা

যিনি অধিক দানশীল ও উত্তম তিলাওয়াতের অধিকারী ছিলেন; তিনি হলেন আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-খদির আস-সুসানজির্দী। তিনি চারশ দুই হিজরী সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাব হারবে সমাহিত হন।

১৩- শায়খ আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম, যিনি ইবনুর রাযী ও আস-সীনী নামে পরিচিত, তার আলোচনা। তিনি ছিলেন মুআদ্দাল ও সাক্ষী, একজন নেককার ব্যক্তি, সুশ্রী চেহারার অধিকারী, প্রচুর সালাত আদায়কারী এবং আহলে কুরআনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মানুষের ইমামতি করতেন এবং তিলাওয়াত শেখাতেন। তিনি চারশ দশ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আমাদের নিকট আবু আমর ইবনে আস-সাম্মাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١١)
14- ذكر الشيخ أبي الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران المعدل السكري كان يبيع السكر [6/ب] قديما قبل الشهادة وكان فاضلا مكثرا في الحديث، ولد في سنة ثمان وعشرين وثلاث مئة ومات في شعبان سنة خمس عشرة وأربع مئة.

15- ذكر الشيخ المعدل الواعظ الزاهد أبي القاسم عبد الملك بن محمد بن عبد الله بن محمد بن بشران مات سنة ثلاثين وأربع مئة في ربيع الأول ودفن بالمالكية من الجانب الشرقي، سمعت أبا القاسم يقول أنقد ابن عمصير إلى أحمد الجلاء الزاهد بمال فرده عليه وأنا حاضر ثم قال قولا يامن يطلب الدنيا ليبر تركك للدنيا إبر قل له عافاك الله من غفلة الستر ووقاك فتنة البشر.

16- ذكر أبي العباس أحمد بن سعيد الشيحي الشامي المعدل قدم إلى مدينة السلام وشهد فيها وخلف القاضي في ربع باب الشام مات في ذي القعدة سنة أربه مئة ودفن بباب حرب.

أخبرنا أبو العباس، حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن حاتم التستري، قراءة عليه في بيت لهيا، حدثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن محمد الرحبي، حدثنا يحيى بن إبراهيم بن أدهم عن كرز بن وبرة عن فرقد السبخي عن الحسن بن أبي الحسن البصري قال قيل يا رسول الله.
14- শেখ আবুল হোসেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দিল আস-সুক্কারীর আলোচনা। তিনি সাক্ষ্য প্রদানের পেশা গ্রহণের পূর্বে অতীতে চিনি বিক্রি করতেন [৬/খ]। তিনি অত্যন্ত গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশত আটাশ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত পনেরো হিজরি সালের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

15- শেখ মুয়াদ্দিল, ধর্মোপদেশক ও দরবেশ আবুল কাসেম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন বিশরানের আলোচনা। তিনি চারশত ত্রিশ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং পূর্ব দিকের মালিকিয়াহ কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমি আবুল কাসেমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে উমাইর দরবেশ আহমদ আল-জাল্লা-র নিকট কিছু সম্পদ পাঠিয়েছিলেন, আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তা ফেরত দিলেন এবং বললেন: ওহে দুনিয়া অন্বেষণকারী, পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে তোমার দুনিয়া ত্যাগ করাই হলো প্রকৃত পুণ্য। তাঁকে বলো, আল্লাহ যেন তোমাকে পর্দার অন্তরালের উদাসীনতা থেকে মুক্তি দেন এবং মানুষের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।

16- আবুল আব্বাস আহমদ বিন সাঈদ আশ-শিহি আশ-শামি আল-মুয়াদ্দিলের আলোচনা। তিনি মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) আগমন করেন এবং সেখানে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি বাবুল শাম এলাকায় কাজির স্থলাভিষিক্ত ছিলেন। তিনি চারশত হিজরি সালের জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবে হারবে দাফন করা হয়।

আবুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন হাতিম আত-তুস্তারি বায়তুল লাহিয়ায় তাঁর নিকট পাঠের মজলিসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আর-রাহবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম বিন আদহাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুরয বিন ওবারাহ থেকে, তিনি ফারকাদ আস-সাবখি থেকে, তিনি হাসান বিন আবুল হাসান আল-বসরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٢)
أخبرنا بالأعمال التي يمقت الله العبد عليها فقال من نام بالنهار من غير أن يكون [7/أ] قام بالليل مصليا مقته الله ومن ضحك من غير عجب ومن اغتاب الناس ومن سعى بين المرأة وزوجها حتى يفرق بينهما وذكر الخبر بطوله.

أخبرنا أبو العباس، حدثنا أبو الطيب عبد المنعم بن غلبول المقريء قال: قال الحسين بن خالويه كنت عند سيف الدولة وعنده

ابن بنت حامد فناظر لي علي خلق القرآن فلما كان تلك الليلة نمت

فأتاني آت فقال: لم لم يحتج عليه بأول القصص طسم تلك آيات الكتاب المبين فالواعد والتلاوة لا تون إلا بالكلام.

أخبرنا أبو العباس، حدثنا ابن غلبون عن بعض أشياخه قال قال لقمان لابنه إياك والكسل فإنك إن كسلت لم تؤد الحقوق وإياك والضجر فإنك إن ضجرت لم تصبر على أداء الحق.

أخبرنا أبو العباس، حدثنا ابن غلبون، حدثنا بعض أشياخي بإسناد ذكره قال: أوحى الله عز وجل إلى داود عليه السلام يا داود عظ نفسك فإن أبغضت فعظ الناس وإن لم تتعظ فاستحى مني.
আমাদেরকে এমন সকল আমল সম্পর্কে জানানো হয়েছে যার কারণে আল্লাহ বান্দাকে ঘৃণা করেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি রাতে সালাত আদায় না করে দিনে ঘুমায় [৭/ক], আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন। আর যে ব্যক্তি কোনো বিস্ময় ছাড়াই হাসে, যে মানুষের গীবত করে এবং যে নারী ও তার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করে। তিনি এই সংবাদটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

আবুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তৈয়ব আব্দুল মুনইম ইবনে গালবুন আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে খালওয়াইহ বলেছেন, আমি সাইফুদ দাওলার নিকটে ছিলাম এবং তার নিকট ইবনে বিনতে হামিদও উপস্থিত ছিলেন।

অতঃপর তিনি কুরআনের মাখলুক হওয়া (সৃষ্টি হওয়া) বিষয়ে আমার সাথে মুনাজারা (বিতর্ক) করলেন। যখন সেই রাত এল, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

তখন এক আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন: কেন তার বিরুদ্ধে সূরা আল-কাসাসের শুরু দিয়ে দলিল পেশ করা হলো না? "ত-সীন-মীম, এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহ।" কারণ প্রতিশ্রুতি এবং তিলাওয়াত কালাম (কথা) ছাড়া হয় না।

আবুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে গালবুন তার জনৈক শিক্ষকের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লোকমান তার পুত্রকে বলেছিলেন, তুমি অলসতা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তুমি যদি অলস হও তবে হকসমূহ (অধিকার) আদায় করতে পারবে না। আর বিরক্তি ও অস্থিরতা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তুমি যদি বিরক্ত হও তবে হক আদায়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না।

আবুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে গালবুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার জনৈক শিক্ষক তাঁর উল্লিখিত একটি সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহ দাউদ আলাইহিস সালাম-এর প্রতি ওহী পাঠালেন, হে দাউদ! তুমি নিজের নফসকে নসিহত করো। যদি সে নসিহত গ্রহণ করে তবে মানুষকে নসিহত করো। আর যদি তুমি নিজে নসিহত গ্রহণ না করো, তবে আমাকে লজ্জা করো।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٣)
17- ذكر القاضي أبي الحسن محمد بن صالح بن جعفر المعدل وكان يعرف بابن الداري مات سنة ست عشرة ودفن بباب حرب، أنشدني أبو الحسن قال: أنشدني [7/ب] أبو بكر الحسن بن علي بن بشار المعروف بابن العلاف لنفسه غفلت وليس الموت في غفلة عني وأما أجد نجني علي كما راجني ركنت إلى الدنيا كأني مخلد وسوف تهد الحادثات بها ركبي ومالي لا أمسي وأصبح خائفا كأني حططت الرجل في منزل الأمن وفي هذه الدنيا فنون كثيرة لميت وقد وطنت نفسي على فنيولو طرقت ما استأذنت من يجتبي كما أفقدني من هويت بلا اذني فتأخذني منه على رغم أنفه كما أرغمت أنفي بمن أخذت مني وأنشدني لابن العلاف أيضا.

سكني على رغم سلوتك … وأيست منك كما رجوتك

وجفوت قبرك جفوة … لو كنت حيا لاستحيتك

18- ذكر القاضي أبي القاسم إسماعيل بن الحسن بن عبد الله بن الهيثم بن هشام الصرصري قاضي صرصر وكان معدلا مات في سنة ثلاث وأربع مئة، حدثنا عن المحاملي وغيره.
১৭- বিচারক আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে জাফর আল-মুয়াদ্দিল-এর উল্লেখ, তিনি ইবনুদ দারি নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তিনশ ষোল হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে বাবু হারবে দাফন করা হয়। আবুল হাসান আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর হাসান ইবনে আলী ইবনে বাশশার, যিনি ইবনুল আল্লাফ নামে পরিচিত, তিনি নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছেন: [৭/খ] আমি গাফেল হয়েছি কিন্তু মৃত্যু আমার ব্যাপারে গাফেল নয়; আর আমি আমার অর্জনকে নিজের বিরুদ্ধে তেমনভাবেই পাচ্ছি যেমনটা আমাকে আনন্দ দিত। আমি দুনিয়ার প্রতি এমনভাবে ঝুঁকে পড়েছি যেন আমি এখানে চিরস্থায়ী থাকব, অথচ অচিরেই বিপদসমূহ আমার যাত্রাকে বিধ্বস্ত করে দেবে। আমার কী হলো যে আমি সকাল-সন্ধ্যায় শঙ্কিত হই না? যেন আমি নিরাপত্তার আবাসে পা রেখেছি। এই দুনিয়ায় মৃত্যুর বহু প্রকার পথ রয়েছে, আর আমি নিজের প্রাণের জন্য আমার নির্দিষ্ট পথটি চিনে নিয়েছি। আর মৃত্যু যখন উপস্থিত হয় তখন সে তার মনোনীত ব্যক্তির কাছে কোনো অনুমতি প্রার্থনা করে না, যেমন সে আমার অনুমতি ছাড়াই আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিয়েছে। অতঃপর সে আমাকেও তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাকড়াও করবে, যেভাবে সে আমার প্রিয়জনকে কেড়ে নিয়ে আমাকে শোকাতুর ও লাঞ্ছিত করেছে। তিনি আমাকে ইবনুল আল্লাফের আরও কিছু কবিতা শুনিয়েছেন।

তোমার ভুলে থাকা সত্ত্বেও আমার স্থিরতা … আর আমি তোমার থেকে তেমনই নিরাশ হয়েছি যেমনটা তোমার কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম।

আমি তোমার কবরের প্রতি এমন রূঢ়তা প্রদর্শন করেছি যে … তুমি জীবিত থাকলে আমি অবশ্যই তোমার কাছে লজ্জিত হতাম।

১৮- বিচারক আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাইসাম ইবনে হিশাম আস-সরসারী-এর উল্লেখ, তিনি সরসরের বিচারক ছিলেন এবং একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি চারশ তিন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আমাদের নিকট আল-মাহামিলি এবং অন্যান্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٤)
19- ذكر القاضي أبي القاسم الحسن بن الحسن بن علي بن المنذر وكان إليه القضايا مزوما فارقين وديار بكر وكان فاضلا جند الحفظ للحديث مات في رمضان سنة إحدى عشرة وأربع مئة قدم إلينا ثم عاد إلى تلك البلاد فمات هناك وحدثنا عن إسماعيل الخطبي وغيره.

الفقهاء والمفتون

[8/أ]

20- ذكر الشيخ أبي حامد أحمد بن أبي طاهر الإسفرايني الشافعي إمام عصره في مذهب الشافعي اجتمع في مجلسه في قطيعة الربيع ثلاث مئة وعشرون فقيها يعلقون عنه حسن الوجه والدين مسجده في صدر القطيعة درست عليه أربع سنين ومات في شوال سنة ست وأربع مئة ودفن بباب حرب.

21- ذكر الشيخ أبي أحمد عبيد الله بن محمد بن أحمد بن أبي مسلم الفقيه المقريء الفرضي انتهاء إليه علم الفرائض وكان يدعى أستاذ الأستاذين لأن أئمة الفقه في عصره درسوا عليه وما رأيت مثل سمته وزهده وورعه مات في شوال سنة ست وأربع مئة ودفن في رحبة جامع المنصور رحمه الله.

أخبرنا أبو أحمد، حدثنا أبو بكر محمد بن القاسم الأنباري، أنشدنا أحمد بن يحيى النحوي:

والله ما نظرت عيني إذا نظرت....إلا ترقرق فيها دمعها دررا

ولا تنفست إلا ذاكرا لكم … ولا تبسمت إلا كاظما عبرا
১৯- কাযী আবুল কাসিম হাসান ইবন হাসান ইবন আলী ইবনুল মুনযিরের আলোচনা। তিনি মায়াফারিকীন ও দিয়ার বকর অঞ্চলের বিচার বিভাগীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী এবং হাদীস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে পারদর্শী। তিনি ৪১১ হিজরীর রমযান মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি আমাদের এখানে এসেছিলেন, অতঃপর সেই দেশগুলোতে ফিরে যান এবং সেখানেই মারা যান। তিনি আমাদের কাছে ইসমাঈল আল-খাতীবি ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ফকীহ ও মুফতীগণ

[৮/ক]

২০- শায়খ আবু হামিদ আহমদ ইবন আবু তাহির আল-ইসফারায়িনী আশ-শাফিঈর আলোচনা। তিনি শাফিঈ মাযহাবে তার যুগের ইমাম ছিলেন। কাতিআতুর রাবী-এ তার মজলিশে তিনশত বিশজন ফকীহ একত্রিত হতেন যারা তার থেকে পাঠ লিখে নিতেন। তিনি ছিলেন সুন্দর চেহারা ও দ্বীনদারীর অধিকারী। তার মসজিদটি কাতিআহ-এর সম্মুখভাগে অবস্থিত ছিল। আমি তার কাছে চার বছর অধ্যয়ন করেছি। তিনি ৪০৬ হিজরীর শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং বাবুল হারবে তাকে দাফন করা হয়।

২১- শায়খ আবু আহমদ উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবু মুসলিম ফকীহ, ক্বারী ও ফারায়েয বিশারদের আলোচনা। উত্তরাধিকার আইন বা ইলমুল ফারায়েযের জ্ঞান তার ব্যক্তিত্বে এসে সমাপ্ত হয়েছিল। তাকে 'শিক্ষকদের শিক্ষক' বলা হতো, কারণ তার যুগের ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণ তার কাছে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। আমি তার মতো গাম্ভীর্য, দুনিয়াবিমুখতা ও তাকওয়া আর কারো মাঝে দেখিনি। তিনি ৪০৬ হিজরীর শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং জামে মানসুরের চত্বরে তাকে দাফন করা হয়, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।

আবু আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আনবারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবন ইয়াহইয়া আন-নাহবী আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন:

আল্লাহর কসম, আমার চোখ যখনই দৃষ্টিপাত করে.... তখনই তাতে অশ্রু মুক্তার মতো টলমল করে ওঠে।

আপনাদের স্মরণ করা ব্যতীত আমি নিশ্বাস গ্রহণ করি না … আর রুদ্ধ কান্না চেপে রাখা ব্যতীত আমি মুচকি হাসি না।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٥)
أخبرنا أبو أحمد، حدثنا أبو بكر قال: قال اللغويين: كنده من كندا ذا كفر وقال بعض الأئمة كندر أباه أي كفره نعمته قال الله تعالى: إن الإنسان لربه لكنود أي كفور.

أخبرنا أبو أحمد، حدثنا أبو بكر، حدثنا أبو شبل عبيد الله بن [8/ب] عبد الرحمن واقد، حدثنا أبي، حدثنا العباس بن الفضل قال: سمعت الأشهب العقيلي يقرأ من البقعة المباركة بفتح الباء.

أخبرنا أبو أحمد، حدثنا أبو بكر قال: قال قطوب الدغفل الموضع الواسع ويقال لولد الفيل دغفل والفيل يقال له كلثوم.

أخبرنا أبو أحمد، حدثنا أبو بكر محمد بن جعفر بن أحمد بن يزيد المعروف بالمطيري، حدثنا عبيد الله بن حماد بن الحسن، حدثنا سيار، حدثنا جعفر بن سليمان، حدثنا طارق عن الحسن عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أخذ عني هؤلاء فيعمل بهن ويعلمهن من يعمل بهن قال: قلت: أما قال فأخذ بيدي فعقد فيها خمسا فقال: اتق المحارم تكن من أعبد الناس وارض بقسم الله لك تكن أغنى الناس وأحسن إلى جارك تكن مؤمنا وأحب الناس ما تحت لنفسك تكن مسلما وأقل الضحك فإن كثرة الضحك تميت القلب.

22- ذكر الشيخ الفقيه الشافعي المفتي بجامع المنصور أبي علي الحسن بن الحسين بن جمكان.
আবু আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন: ‘কানাদা’ থেকে ‘কানাদাহ্’ শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা। কিছু ইমাম বলেছেন, ‘সে তার পিতার প্রতি কানাদাহ্ প্রদর্শন করেছে’ অর্থাৎ তার নেয়ামতকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।" অর্থাৎ অস্বীকারকারী।

আবু আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শিবল উবাইদুল্লাহ বিন [৮/খ] আবদুর রহমান ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বিন ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আশহাব আল-উকাইলিকে 'আল-বুকআহ আল-মুবারাকাহ' শব্দে 'বা' বর্ণে ফাতহাহ দিয়ে পড়তে শুনেছি।

আবু আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কাতুব বলেছেন: 'দাগফাল' অর্থ প্রশস্ত স্থান। হাতির শাবককে 'দাগফাল' বলা হয়, আর হাতিকে বলা হয় 'কালসুম'।

আবু আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুতাইরি নামে পরিচিত আবু বকর মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন হাম্মাদ বিন হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারিক হাসান থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কে আমার নিকট থেকে এই কথাগুলো গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করবে অথবা এমন কাউকে শিখিয়ে দেবে যে সেই অনুযায়ী আমল করবে?" আবু হুরায়রা বলেন: আমি বললাম: "আমি।" তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং তাতে পাঁচটি বিষয় গণনা করলেন। অতঃপর বললেন: "হারাম বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, তবেই তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হতে পারবে। আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হতে পারবে। তোমার প্রতিবেশীর প্রতি ইহসান করো, তবেই তুমি মুমিন হতে পারবে। মানুষের জন্য তাই পছন্দ করো যা নিজের জন্য পছন্দ করো, তবেই তুমি মুসলিম হতে পারবে। আর কম হাসো, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।"

২২- শায়খ, ফকিহ, শাফেয়ী, মানসুর মসজিদের মুফতি আবু আলী হাসান বিন হুসাইন বিন জামকানের আলোচনা।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٦)
أخبرنا قال: حدثنا العباس الكندي بهمدان، حدثنا أحمد بن عبد الله، حدثنا عبد الرحمن بن عفان، حدثنا يوسف بن أسباط قال: قال سفيان الثوري: إذا رأيت القاريء يأتي السلطان فإنما هو طراز.

23- ذكر القاضي أبي بكر محمد بن الطيب المعروف بابن الباقلاني الأشعري المالكي وكان صاحب مقالة [9/أ] الأشعرية مات في سنة ثلاث وأربع مئة وفي هذه السنة مات أبو بكر محمد بن موسى الخوارزمي الحنيفي، سمعت أبا بكر قال يوما وقد قيل له النبي صلى الله عليه وسلم عهد إلى علي، رضي الله عنه، في يوم غدير خم فقال هذا الخليفة بعدي فقال: واعجباه يقول: عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، يوم طعن الشوري بعدي في ستة ولايدخل معهم سابع ولاتؤخر البيعة بعد ثلاث ولايصلى على غير صهيب فلا يخالف في ذلك ويخالف النبي صلى الله عليه وسلم هذا الخلاف ولا يقبل منه هذا مستحيل.

24- ذكر الشيخ أبي طالب أحمد بن عبد الله بن سهل الفقيه الحنبلي اللغوي مات متأخرا وإنما ذلك عنه لملاحة الحكاية مات سنة نيف وثلاثين وأربع مئة ودفن بباب حرب.
আমাদের জানানো হয়েছে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামাদানের আব্বাস আল-কিন্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে আসবাত, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: যখন তুমি কোনো ক্বারী (আলিম)-কে সুলতানের কাছে যাতায়াত করতে দেখবে, তখন সে কেবল একজন প্রদর্শনীকারী।

২৩- কাযী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আত-তাইয়িবের আলোচনা, যিনি ইবনুল বাকিল্লানী আল-আশআরী আল-মালিকী নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন আশআরী মতবাদের [৯/ক] প্রবক্তা। তিনি চারশত তিন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। এই একই বছরে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি আল-হানাফী মৃত্যুবরণ করেন। আমি আবু বকরকে একদিন বলতে শুনেছি, যখন তাকে বলা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাদীরে খুমের দিনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুকূলে অঙ্গীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, 'তিনি আমার পরের খলিফা'। তখন তিনি (বাকিল্লানী) বললেন: আশ্চর্যের বিষয়! উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ছুরিকাহত হলেন, তখন তিনি বললেন, 'আমার পরে পরামর্শ সভা (শুরা) হবে ছয় জনের মধ্যে, সেখানে সপ্তম কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করবে না, তিন দিনের বেশি বায়আত বিলম্বিত করা হবে না এবং সুহাইব ব্যতীত অন্য কেউ নামায পড়াবে না'। এমতাবস্থায় উমরের নির্দেশের কোনো বিরোধিতা করা হলো না, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের এমন বিরোধিতা করা হবে এবং তা তাঁর পক্ষ থেকে গৃহীত হবে না—এটা অসম্ভব।

২৪- শায়খ আবু তালিব আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল আল-ফকিহ আল-হাম্বলী আল-লুগাভী (ভাষাবিদ)-এর আলোচনা। তিনি পরবর্তী যুগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কেবল বর্ণনার চমৎকারিত্বের কারণেই তাঁর এ কথাটি উল্লেখ করা হলো। তিনি চারশত ত্রিশের কিছু বেশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাব হারব-এ তাঁকে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٧)
أخبرنا أبو طالب، حدثنا عبد العزيز غلام الرجاج، حدثنا أبو الفضل وأبو الفرج الهندياي قالا: حدثنا الفتح بن لينخرف الزاهد قال رأيت في المنام أمير المؤمنين علي بن أبي طالب كرم الله وجهه فقلت له أطال الله بقلك فقال يا فتح كلمة لا تضر ولا تنفع فقلت جعلني الله فداك فقال هذه أخت لتلك فقلت غفر الله لك فقال يافتح هذه كلمة تنفع فألزمها فقلت افدني يا أمير المؤمنين شيئا احكه عنك فقال: [9/ب]

تواضع الغنى الفقير من أجل الله قلت زدني فقال تيه الفقير على الغني ثقة بالله قلت عظني فبسط كفه في وجهي وقال: اقرأ ما عليه فتأملته وقرأته فإذا فيه مكتوب:

قد كنت ميتا فصرت حيا وعن قليل تصير ميتا

ليس بدار الفناء بيت فابن بدار البقاء بيت

قال أبو طالب الفناء مقصور وإنما مد لضرورة الشعر إليه وقيل هذا خطأ الفناء ممدود من الذهاب والفناء مقصور هو عنب الثعلب

25- ذكر الشيخ أبي الفرج الدارمي الفقيه الشافعي وكان من المجودين خرج إلى الشام ومات هناك بعد العشرين أنشدني لنفسه

ظلوم يكلفني خطة … أرى أنها أنكر المنكر

ويذكرني تفقع سبابة … واعقد في عقده خنصري

وامنحه من ودادي الصفا … فيجزي على ذاك بالأكدر

وقال ودادي كذا شرطه … فقلت ودادك مني بري

طلاقا ثلاثا بلا رجعة … إلى الحشر والبعث والمنشر

فلا خير فيمن له منظر … إذا لم يصح على المخبر
আবু তালিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ গুলামুর রাজজাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল এবং আবুল ফরাজ আল-হিন্দিয়াই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়েই বলেন: আল-ফাতহ বিন লিনখরাফ আজ-জাহিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন)-কে দেখেছি। আমি তাঁকে বললাম, "আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন।" তিনি বললেন, "হে ফাতহ! এটি এমন একটি কথা যা ক্ষতিও করে না, উপকারও করে না।" আমি বললাম, "আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।" তিনি বললেন, "এটিও আগেরটির বোন (অনুরূপ কথা)।" আমি বললাম, "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।" তিনি বললেন, "হে ফাতহ! এটি এমন একটি শব্দ যা উপকারে আসে, তাই একে আঁকড়ে ধরো।" আমি বললাম, "হে আমীরুল মুমিনীন! আমাকে এমন কিছু দিয়ে ধন্য করুন যা আমি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে পারি।" তখন তিনি বললেন: [৯/খ]

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দরিদ্রের প্রতি ধনীর বিনয় প্রদর্শন (কতই না চমৎকার!)। আমি বললাম, "আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন।" তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি আস্থার কারণে ধনীর বিপরীতে দরিদ্রের আত্মমর্যাদাবোধ (কতই না উত্তম!)।" আমি বললাম, "আমাকে উপদেশ দিন।" তখন তিনি আমার চেহারার সামনে নিজের হাতের তালু প্রসারিত করলেন এবং বললেন: "এতে যা লেখা আছে তা পাঠ করো।" আমি নিবিড়ভাবে তা লক্ষ্য করলাম এবং পাঠ করলাম; সেখানে লেখা ছিল:

তুমি মৃত ছিলে, অতঃপর জীবিত হয়েছ, আর অচিরেই তুমি পুনরায় মৃত হয়ে যাবে।

এই ধ্বংসশীল আবাসে কোনো ঘর নেই, সুতরাং চিরস্থায়ী আবাসে নিজের ঘর নির্মাণ করো।

আবু তালিব বলেন, (প্রথম কবিতায়) 'ফানা' শব্দটি 'মাকসুর' (হ্রস্ব), তবে কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে একে 'মামদুদ' (দীর্ঘ) করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে এটি ভুল; কারণ নিঃশেষ হওয়া বা প্রস্থান অর্থে 'আল-ফানা' শব্দটি 'মামদুদ' (দীর্ঘস্বর বিশিষ্ট), আর 'মাকসুর' (হ্রস্বস্বর বিশিষ্ট) 'আল-ফানা' বলতে 'আনাবুত সা'লাব' (এক প্রকার উদ্ভিদ) বোঝায়।

২৫- শায়খ আবুল ফরাজ আদ-দারিমী আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ীর কথা উল্লেখিত হয়েছে, তিনি সুনিপুণ পারদর্শীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সিরিয়ায় গমন করেছিলেন এবং (হিজরি ৪)২০ সালের পর সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিজের রচিত একটি কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

এক জালিম আমাকে এমন এক বিষয়ের দায়িত্ব দিচ্ছে... যা আমি চরম অন্যায় হিসেবে দেখি।

সে আমাকে শাহাদাত আঙুল মটকানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়... অথচ আমি আমার কনিষ্ঠা আঙুলটি তার সেই গিঁটে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করে রেখেছি।

আমি তাকে আমার স্বচ্ছ ও নিস্কলুষ ভালোবাসা দান করি... কিন্তু বিনিময়ে সে আমাকে পঙ্কিলতা ও মলিনতা ফিরিয়ে দেয়।

সে বলল, "আমার ভালোবাসার শর্ত এমনই।" আমি বললাম, "তোমার ভালোবাসা থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত।"

একদম তিন তালাক যার কোনো ফেরার সুযোগ নেই... হাশর, পুনরুত্থান ও মহাসমাবেশের দিন পর্যন্ত।

সেই ব্যক্তির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যার বাহ্যিক রূপটি চাকচিক্যময়... যদি তার অভ্যন্তরীণ হাকিকত বা সত্যতা সঠিক না হয়।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٨)
26- ذكر الشيخ أبي الفضل عبد الواحد بن عبد العزيز بن الحارث بن أسد التميمي الفقيه الحنبلي وكان يفتي في جامع المنصور ويتكلم على الناس مات سنة [10/أ] عشر وأربع مئة ودفن بباب حرب لقي أحمد بن حنبل،رحمه الله.

27- ذكر الشيخ أبي بكر عبد الغفار بن عبد الرحمن الدينوري الفقيه على مذهب سفيان الثوري كان أخرس كان يفتي على مذهب الثوري بمدينة السلام في جامع المنصور، رحمة الله عليه، وكان إليه النظر في الجامع والقيام بأمره مات في شوال سنة خمس وأربع مئة ودفن في المقبرة خلف الجامع.

أخبرنا أبوعبد الله الحسين بن الحسن المالكي، حدثنا إبراهيم بن محمد بن يعقوب الهمذاني، حدثنا إسماعيل القاضي، حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الذي تفوته صلاة العصر فكأنما وترأهله وماله.

ذكر القراء

28-ذكر الشيخ أبي القاسم عبيد الله بن أحمد بن علي بن الحسين المعروف بابن الصيدناني قال كنت أجوز على مسجد ابن مجاهد وأنا غلام فكنت أهابه أن أقرأ عليه كان يسكن باب الشام ودفن بباب حرب.
২৬- শেখ আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-হারিস বিন আসাদ আত-তামিমী আল-ফকিহ আল-হাম্বলী-এর আলোচনা। তিনি জামে আল-মানসুরে ফতোয়া প্রদান করতেন এবং মানুষের উদ্দেশ্যে আলোচনা পেশ করতেন। তিনি চারশত দশ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবু হারব নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন।

২৭- সুফিয়ান আস-সাওরীর মাযহাব অনুযায়ী ফকিহ শেখ আবু বকর আব্দুল গাফফার বিন আব্দুর রহমান আদ-দাইনুরীর আলোচনা। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি মদিনাতুস সালামের জামে আল-মানসুরে সাওরী মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। জামে মসজিদের তদারকি এবং এর কার্যাবলী পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি চারশত পাঁচ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং জামে মসজিদের পেছনের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মালিকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হামাদানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাইল আল-কাজী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা আমাদের মালেক থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার আসরের নামাজ ছুটে গেল, তার অবস্থা যেন এমন যে তার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।"

ক্বারিগণের আলোচনা

২৮- শেখ আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন-এর আলোচনা, যিনি ইবনুল সাইদানানী নামে পরিচিত। তিনি বলেন, আমি কিশোর বয়সে ইবনে মুজাহিদের মসজিদের পাশ দিয়ে যেতাম, কিন্তু তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করতে আমি তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সমীহ করতাম। তিনি বাবুশ শাম এলাকায় বসবাস করতেন এবং তাঁকে বাবু হারব-এ দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ١٩)
قريء عليه وأنا حاضر أسمع، حدثنا أبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد سنة ثماني عشرة وثلاث مئة، حدثنا الحسن بن عيسى [10/ب] النيسابوري في شوال سنة تسع وثلاثين ومئتين في الرحبة، إملاء، حدثنا عبد الله بن المبارك، حدثنا أسامة بن زيد، حدثنا سعيد بن أبي هند عن أبي مرة مولى عقيل عن أبي موسى الأشعري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من لعب بالنرد فقد عصا الله ورسوله قال: حدثنا يحيى بن صاعد، حدثنا لوين، حدثنا أبو إسماعيل القناد إبراهيم بن عبد الملك عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا آجل صاعي تمر بصاع ولادرهمين بدرهم.

قال: حدثنا يحيى بن صاعد، حدثنا سعيد بن عبد الرحمن أبوعبيد الله المخزومي، حدثنا سفيان بن عيينة عن أيوب السختياني عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن الملائكة تلعن أحدكم إذا أشار إلى أخيه بحديدة وإن كان أخاه لأبيه وأمه.
তাঁর সামনে (হাদিসগুলো) পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে শুনছিলাম; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়েদ তিনশত আঠারো হিজরি সালে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে ঈসা [১০/খ] আন-নিসাবুরি দুইশত ঊনচল্লিশ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে রাহবাহ নামক স্থানে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসামা ইবনে যায়েদ; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ; তিনি আকিলের মুক্তদাস আবু মুররাহ থেকে এবং তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাশা খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো।" তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সায়েদ; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লুওয়াইন; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাইল আল-কান্নাদ ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল মালিক; তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি এক সা খেজুরের বিনিময়ে দুই সা খেজুর এবং এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বাকিতে গ্রহণ করি না।"

তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সায়েদ; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আবু উবাইদুল্লাহ আল-মাখযুমি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ; তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা তোমাদের কাউকে লানত (অভিশাপ) দেয় যখন সে তার ভাইয়ের দিকে কোনো লোহার অস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত করে, যদিও সে তার আপন সহোদর ভাই হয়।"
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ذكر الشيخ أبي الحسن علي بن أحمد بن عمر بن حفص الحمامي المقريء أمام عصره في الإقراء، قرأت عليه برواية حفص عن عاصم وسمعت منه حديثا وذكر أنه ولد سنة ثمان وعشرين وثلاث مئة، ومات في شعبان سنة سبع عشرة وأربع مئة ودفن بباب حرب عند قبر ابن السوسنجردي والسمعوني رحمهم الله حديثا عن أحمد بن سلمان وابن دحيم الكوفي وغيرهما

29-ذكر الشيخ أبي علي الحسن بن محمد المخزومي [11/أ] المقريء المؤدب كان يسكن بباب الشام عند باب الذهب مودبي، مات في سنة ثلاث وتسعين وثلاث مئة وصلي عليه بباب الشام وحضر ابن أخيه السلامي الشاعر ودفن بباب حرب، قريء عليه وأنا حاضر، حدثنا أبو بكر أحمد بن موسى بن مجاهد المقريء، حدثنا إسماعيل القاضي بن إسحاق أنشدنا أحمد بن المعدل:

أحب من الإخوان كل مواتي … وكل غضيض الطرف عن عثراتي

يوافقني في كل أمر أريده … ويحفظي حيا وبعد مماتي

فمن لي بهذا؟ ليتني قد عرفته … لقاسمته مالي ومن حسناتي

قال: وأخبرنا أبو بكر بن مجاهد أنشدنا محمد بن الجهم السمري لنفسه في عياده:

لاتضجرن عليلا أنت عايده … إن العيادة يوم أثر يومين
কিরাআতের ক্ষেত্রে নিজ যুগের ইমাম শাইখ আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন উমর বিন হাফস আল-হামামি আল-মুকরি-এর আলোচনা। আমি তাঁর কাছে আসেম-এর সূত্রে হাফস-এর বর্ণনা অনুযায়ী কিরাআত পড়েছি এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তিনশত আটাশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং চারশত সতেরো হিজরি সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁকে ইবনুল সুসানজির্দি ও আস-সামউনী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) এর কবরের নিকটে বাব হারব নামক স্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি আহমাদ বিন সালমান, ইবনু দুহাইম আল-কুফি ও অন্যান্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

২৯-শাইখ আবু আলী হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাখযুমি আল-মুকরি আল-মুয়াদ্দিব-এর আলোচনা। তিনি বাব আশ-শাম এলাকায় বাব আয-যাহাব এর নিকটে বসবাস করতেন। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি তিনশত তিরানব্বই হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। বাব আশ-শাম এলাকায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁর ভাতিজা কবি সালামি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে বাব হারব-এ দাফন করা হয়। আমি উপস্থিত থাকাকালীন তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল। আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন মুজাহিদ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল কাজি বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-মুয়াদ্দাল আমাদের নিকট এই কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

আমি বন্ধুদের মধ্যে তাকেই ভালোবাসি যে সব বিষয়ে সহমত পোষণ করে … এবং যে আমার ভুল-ত্রুটি থেকে দৃষ্টি অবনত রাখে।

সে আমার প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত কাজে আমার অনুগামী হয় … এবং আমার জীবনে ও মরণোত্তর সময়ে আমার সম্মান রক্ষা করে।

কে আছে আমার জন্য এমন? হায়! যদি আমি তাকে চিনতাম … তবে আমি তার সাথে আমার সম্পদ এবং আমার পুণ্যসমূহ ভাগ করে নিতাম।

তিনি বলেন: আবু বকর বিন মুজাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন জাহম আস-সামারি নিজের অসুস্থতার বিষয়ে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

তুমি যে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছ তার প্রতি বিরক্ত হয়ো না … কেননা একদিনের পর একদিন সেবা করা (ধৈর্যের পরীক্ষা)।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وقد روى مندل عن عامر خبرا أن لا تطيل جلوسه فعل ذي الدين بل سله عن حاله وادع الإله له، واجلس بقدر فواق بين حلبين

من زار عياء أخا دامت مودته وكان ذاك صلاحا للفريقين

30- ذكر الشيخ أبي عبد الله الحسين بن أحمد بن جعفر المعروف بابن البغدادي الزاهد المقريء كان يسكن في رحبة الجامع بالمدينة وكان يقريء في صحته عند داره مات في شعبان سنة أربع وأربع مئة ودفن بباب حرب، قريء عليه قال: حدثنا أبو عبد الله أحمد بن قالع بن مرزوق [11/ب] حدثنا محمد بن إبراهيم الطيالسي حمويه بالبصرة، حدثنا عبيد الله بن محمد بن عائشة، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا ثابت بن أسلم البناني عن أنس أن رسول صلى الله عليه وسلم لما خرج مهاجرًا إلى المدينة، كان أبو بكر معه، وكان أبو بكر رديف رسول الله وكان أبو بكر أعرف بالطريق، وكان لا يزال يأتي أبا بكر رجل يعرفه فيقول يا أبا بكر من ذا الغلام بين يديك؟ فيقول: يهديني السبيل.
মানদাল আমির থেকে একটি সংবাদ বর্ণনা করেছেন যে, তুমি (অসুস্থ ব্যক্তির কাছে) বসা দীর্ঘ করো না কোনো দেনাদারের মতো; বরং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করো, আর দুইবার দুধ দোয়ানোর মধ্যবর্তী বিরতি সমপরিমাণ সময় বসো।

যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ভাইকে দেখতে যায়, তাদের মধ্যকার ভালোবাসা স্থায়ী হয় এবং তা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর হয়।

৩০- শেখ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন জাফর, যিনি ইবনুল বাগদাদি আল-জাহিদ আল-মুকরি নামে পরিচিত, তাঁর আলোচনা। তিনি মদিনার জামে মসজিদের প্রশস্ত চত্বরে বসবাস করতেন এবং সুস্থ থাকাকালীন তাঁর গৃহের সন্নিকটে পাঠ দান করতেন। তিনি চারশত চার হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাব হারব-এ দাফন করা হয়। তাঁর নিকট পাঠ করা হলে তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন কালি’ বিন মারযুক বর্ণনা করেছেন [১১/খ], আমাদের নিকট বসরায় মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তায়ালিসি হামাউইহি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আইশা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাবিত বিন আসলাম আল-বুনানি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হিজরতকারী হিসেবে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হলেন, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথে ছিলেন। আবু বকর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে একই সওয়ারিতে আরোহী ছিলেন। আবু বকর পথ সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো পরিচিত ব্যক্তি আবু বকরের কাছে আসত এবং বলত, "হে আবু বকর, আপনার সামনের এই যুবকটি কে?" তখন তিনি বলতেন, "তিনি আমাকে পথ দেখাচ্ছেন।"
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
31- ذكر أبي عمرو عثمان بن الباقلاني الزاهد وكان كثير العمل لا يفتر ما رأينا في معناه داره خيال جامع المنصور مضيت إليه يوما في صحبة خالي فلقيناه خارجا من المسجد إلى داره وهو يسبح فقال له خالي ادع لي فقال لي يا أبا عبد الله شغلتني انظر ما تظنه بي وافعله وادع أنت لي فقلت له أنا بالله ادع لي فقال لي رفق الله بك فاستزده فقال: الزمان يذهب والصحائف يختم ودخل ورد الباب.

32- ذكر الشيخ أبي بكر أحمد بن محمد بن الصقر المعروف بابن النمط وكان يعرف بابن المؤدب المقريء الزاهد كان من أهل البصرة ثم سكن شارع الدجيل من مدينة السلام مات في سنة ثمان وعشرين وأربع مئة ودفن بباب حرب.

33- ذكر الشيخ أبي عبد الله الحسين بن عبد الواحد بن الحسين المعروف بالحذاء المقريء بجامع الرصافة وكان [12/أ] ينزل في درب سليم من الجانب الشرقي مات سنة خمس عشرة في المحرم.
31- আবু আমর উসমান বিন আল-বাকিলানি আল-জাহিদের আলোচনা। তিনি অত্যধিক আমলকারী ছিলেন এবং কখনো ইবাদতে ক্লান্ত হতেন না। তাঁর গুণাবলীতে তাঁর সমপর্যায়ের কাউকে আমরা দেখিনি। তাঁর ঘরটি ছিল জামে মানসুরের পার্শ্ববর্তী। একদিন আমি আমার মামার সাথে তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। আমরা তাঁকে মসজিদ থেকে বের হয়ে তাঁর ঘরের দিকে যেতে দেখলাম, তখন তিনি তাসবিহ পাঠ করছিলেন। আমার মামা তাঁকে বললেন, "আমার জন্য দোয়া করুন।" তিনি আমাকে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, তুমি আমাকে ব্যস্ত করে দিলে। তুমি আমার ব্যাপারে যে উচ্চ ধারণা পোষণ করো সেটির দিকে তাকাও এবং তদানুযায়ী আমল করো, বরং তুমিই আমার জন্য দোয়া করো।" আমি তাঁকে বললাম, "আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনিই আমার জন্য দোয়া করুন।" তখন তিনি বললেন, "আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন এবং তা আরও বৃদ্ধি করুন।" অতঃপর তিনি বললেন: "সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং আমলনামা মোহরবদ্ধ করা হচ্ছে।" এই বলে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন।

32- শাইখ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাকর-এর আলোচনা, যিনি ইবনুন নামাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইবনুল মুয়াদ্দিব আল-মুকরি আল-জাহিদ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন, পরবর্তীতে মদিনাতুস সালামের (বাগদাদ) দুজাইল সড়কে বসবাস করেন। তিনি চারশত আঠাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাব-এ হারবে তাঁকে দাফন করা হয়।

33- শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন-এর আলোচনা, যিনি রুসাফা জামে মসজিদের মুকরি আল-হাজ্জা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি [12/আ] পূর্বাঞ্চলের দারবে সালিম নামক স্থানে বসবাস করতেন। তিনি চারশত পনেরো হিজরির মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
أخبرنا أنبأنا أبو بكر الحنبلي، حدثنا عبد الله بن الحسين، حدثنا إبراهيم بن مهدي الأبلي قال: سمعت بشر بن آدم قال: كنت عند أبي عاصم الضحاك بن مخلد فجاء بعض أصحابنا فاستأذن عليه فقال: اطلع فانظر من هو فنظرت فاخبرته فألقى الوسادة وألقى رأسه عليها وقال: قل للجارية تقول الساعة وضع رأسه على المخدة ثم أنشأ أبو عاصم يقول:

فقدت ثقال الناس في كل بلدة … فيا رب لا تغفر لكل ثقيل

إذا ما بقتل زارنا في رحالنا … فأف له من زائر ودخيل.

34- ذكر الشيخ أبي بكر إدريس بن علي المقريء المؤدب مات سنة سبع أو ثمان وتسعين وثلاث مئة قيل إنه ناهز المئة، كان ينزل شارع العباس من مدينة السلام أقمت في مكتبة مدة قريء عليه، حدثنا محمد بن هارون، حدثنا إسحاق بن أبي إسرائيل، حدثنا كثير بن عبد الله الأبلي، حدثنا أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار.
আবু বকর আল-হানবালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনু মাহদি আল-আবালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনু আদমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনু মাখলাদ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় আমাদের কিছু সঙ্গী এসে তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "বাইরে গিয়ে দেখ সে কে।" আমি তাকালাম এবং তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাকিয়াটি বিছিয়ে দিলেন এবং তার ওপর মাথা রাখলেন এবং বললেন: "দাসীটিকে বলো সে যেন বলে যে, এই মুহূর্তে তিনি বালিশে মাথা রেখেছেন (শুয়ে পড়েছেন)।" অতঃপর আবু আসিম আবৃত্তি করতে লাগলেন:

আমি প্রতিটি জনপদে বিরক্তিকর লোকদের হারিয়েছি … হে আমার প্রতিপালক! কোনো বিরক্তিকর ব্যক্তিকে আপনি ক্ষমা করবেন না

যখন সে বিরক্তি নিয়ে আমাদের আবাসে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে … তবে ধিক্কার এমন সাক্ষাৎকারী ও আগন্তুকের প্রতি।

৩৪- শায়খ আবু বকর ইদরিস ইবনু আলি আল-মুকরি আল-মুয়াদ্দিব-এর আলোচনা, যিনি তিনশ সাতানব্বই বা আটানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয় যে, তিনি প্রায় একশ বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন। তিনি মদিনাতুস সালামের আব্বাস স্ট্রিটে বসবাস করতেন। আমি দীর্ঘ সময় তাঁর মক্তবে অবস্থান করেছি এবং সেখানে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনু আবি ইসরাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসির ইবনু আবদুল্লাহ আল-আবালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
35- ذكر الشيخ أبي الحسن علي بن أحمد بن محمد البزاز المقريء السرمراي الذي كان يروي عن مالك بن أنس عن إبراهيم [12/ب] ابن عبد الصمد عن أبي مصعب مات في سنة خمس وأربع مئة، أخبرنا إجازة وكتب إلينا بها على يد عطية الأندلسي الحافظ رحمهما الله قال: أنبأنا أبو الفضل محمد بن هاشم بن القاسم صاحب الصلاة، حدثنا محمد بن هارون حدثني أبو الحسن محمد بن أحمد بن الهيثم بن صالح التميمي، حدثنا هارون بن محمد الحرمازي عن أبيه قال: قال المهدي محمد بن عبد الله أمير المؤمنين رحمه الله عليه حدثني أبي عن أبيه عن جده عن عبد الله بن العباس رضي الله عنهم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن إياك ودعوة المظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب.
৩৫- শাইখ আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাজ্জাজ আল-মুকরি আস-সারমারায়ি-এর উল্লেখ, যিনি মালিক বিন আনাস থেকে, ইব্রাহিম [১২/খ] বিন আবদুস সামাদ থেকে এবং আবু মুসআব থেকে বর্ণনা করতেন; তিনি চারশত পাঁচ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি আমাদের ইজাযতস্বরূপ সংবাদ দিয়েছেন এবং হাফেজ আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন)-এর মাধ্যমে আমাদের কাছে তা লিখে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালাতের ইমাম আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন হাশিম বিন আল-কাসিম; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হারুন; আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাইসাম বিন সালিহ আত-তামিমি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হারুন বিন মুহাম্মদ আল-হুরমাযি, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমীরুল মুমিনীন আল-মাহদী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: আমার কাছে আমার পিতা, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মুয়ায বিন জাবালকে যখন ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন তখন বলেছিলেন: "তুমি মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তার এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো অন্তরাল নেই।"
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
قال: حدثنا أبو الفضل محمد بن هاشم حدثنا هارون، حدثنا محمد بن عبيد الله الكوسج، حدثنا أبو الفضل موسى بن عيسى الجحفي، حدثنا محمد بن إسحاق الكندي حدثنا جدي شريك عن المهدي أمير المؤمنين عن أبيه عبد الله المنصور عن أبيه محمد بن علي عن أبيه علي بن عبد الله عن أبيه عبد الله بن العباس رضي الله عنهم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما يقدم على الله يوم القيامة أكرم عليه من أمتي ولا أهل بيت أكرم عليه من أهل بيتي ألا فاتقوا الله ولا تخزوني فيهم.

36-ذكر الشيخ أبي عبد الله الحسين بن محمد بن خلف المقريء بباب الشام قرأت عليه مات في سنة أربع مئة سمعته يقول سمعت أبا الفضل الزهري يقول: استيقظ أبي [13/أ] ليلة من الليالي فقال: يا بني من مات الليلة قلت وكيف حتى سألت عن هذا قال: رأيت في منامي قائلا يقول: يا فلان قد مات الليلة مقوم وحي الله منذ خمسين سنة فلما أصبحوا وإذا قد مات أبو بكر أحمد بن موسى بن مجاهد المقريء.

ذكر أبي عبد الله محمد بن أحمد المقريء بالجانب الشرقي، مات سنة أربع مئة.
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে হাশিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-কাওসাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফজল মুসা ইবনে ঈসা আল-জাহাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা শারিক, তিনি আমিরুল মুমিনীন আল-মাহদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ আল-মানসুর থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা আলী ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট এমন কেউ উপস্থিত হবে না যে আমার উম্মতের চেয়ে অধিক সম্মানিত, এবং এমন কোনো পরিবার নেই যারা আল্লাহর নিকট আমার পরিবারের চেয়ে অধিক সম্মানিত। সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার পরিবারের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না।”

৩৬-বাব আশ-শামের শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-মুকরির আলোচনা; আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি, তিনি চারশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-ফজল আল-জুহরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক রাতে আমার পিতা [১৩/ক] জাগ্রত হয়ে বললেন: হে বৎস! আজ রাতে কে মৃত্যুবরণ করেছেন? আমি বললাম: আপনি কেন এ কথা জিজ্ঞেস করছেন? তিনি বললেন: আমি স্বপ্নে এক ঘোষণাকারীকে বলতে শুনেছি: হে অমুক! আজ রাতে এমন এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন যিনি গত পঞ্চাশ বছর যাবত আল্লাহর ওহীর সংশোধনকারী ছিলেন। অতঃপর যখন সকাল হলো, দেখা গেল যে আবু বকর আহমদ ইবনে মুসা ইবনে মুজাহিদ আল-মুকরি মৃত্যুবরণ করেছেন।

পূর্ব প্রান্তের অধিবাসী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুকরির আলোচনা; তিনি চারশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حدثنا قال: حدثنا عبيد الله بن محمد الفقيه، حدثنا أبو الحسن أحمد بن عبد الله الآدمي بالبصرة، حدثنا أبي قال: سمعت سهل بن عبد الله يقول: إذا دخل الخوف على الجاهل دعاه إلى العلم وعلى العالم دعاه إلى العمل وعلى العامل دعاه إلى الإخلاص وعلى المخلص دعاه إلى الشكر دعاه إلى المزيد.

তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-ফকীহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বসরার আবুল হাসান আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করে বলেছেন: আমি সাহল বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: যখন কোনো অজ্ঞ ব্যক্তির অন্তরে ভীতি প্রবেশ করে, তখন তা তাকে ইলমের দিকে আহ্বান করে; কোনো আলিমের অন্তরে প্রবেশ করলে তা তাকে আমলের দিকে আহ্বান করে; কোনো আমলকারীর অন্তরে প্রবেশ করলে তা তাকে ইখলাসের দিকে আহ্বান করে; আর কোনো মুখলিস বা একনিষ্ঠ ব্যক্তির অন্তরে প্রবেশ করলে তা তাকে শোকরের দিকে আহ্বান করে, যা তাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধির দিকে আহ্বান জানায়।

(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
37- ذكر منصور مقريء بن مقريء مات متأخرا بعد الثلاثين حكى لي عن أبيه منصور وقد رأيت منصورا عليه وأظن أني سمعت هذه الحكايات منه قال: ضاقت يدي مع كثرة عيالي وعدمت القوت فخرجت من داري كالهارب وقصدت أبا سعيد يعني الصائغ لأطلب منه شيئا استعين به فلم أصادفه وحمى الحر علي فدخلت إلى درب من دروب الكرخ وإذا بباب تحت ساباط عليه دكانان عليهما حصير [13/ب] وقد رش الباب وبرد الموضع فلما صرت جبال الباب شممت رائحة شواء جاز وحنيش وريحان وطيب فلم أقدر على أن اجتاز فطرحت نفسي على الباب وقلت في نفسي صاحب هذه الدار رجل جندي لا يعرف كتاب الله وقد أعطى هذا وأنا جائع وصبياني فنمت فرأيت آت آتاني فقال تبيعني سورة البقرة بألفى درهم قلت لا قال: قال عمران: قلت لا فلم يزل يعد علي سورة بعد سورة وأنا أقول لا فلما أكثر علي صرخت لالا فانتبهت فعلمت إني قد وعظت فقلت في قلبي بل أجوع وتبقى على القرآن فلما توصلت إلى داري قالت لي بناتي يا أبه أين كنت قد أنفذ إليك أبو سعيد الصائغ بثلاث مئة درهم فحمدت الله وأخذتها وخرجت في الحال إلى السوق فاشتريت جملا وتقدمت حي بشواء ةخبرزا وحلوا وحبشا وطيبا فلم تمض ساعة أو ساعتان حتى رأيت في داري مثل الذي رأيت في
৩৭- মনসুর মুকরি বিন মুকরির বর্ণনা, যিনি তিনশ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আমাকে তাঁর পিতা মনসুর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আমি মনসুরকে দেখেছি এবং আমার ধারণা আমি এই ঘটনাগুলো তাঁর কাছ থেকেই শুনেছি। তিনি বলেন: আমার পরিবার বড় হওয়ায় আমি আর্থিক অনটনে পড়ে গেলাম এবং আমার ঘরে খাবারের অভাব দেখা দিল। আমি অনেকটা পলায়নপর অবস্থায় ঘর থেকে বের হলাম এবং সাহায্য চাওয়ার উদ্দেশ্যে আবু সাঈদ অর্থাৎ স্বর্ণকার আস-সায়েগের খোঁজে গেলাম। তাকে খুঁজে পেলাম না। প্রচণ্ড রোদ ও গরম পড়লে আমি কারখের একটি গলিতে প্রবেশ করলাম। সেখানে একটি ছাদযুক্ত বারান্দার নিচে একটি দরজা দেখলাম, যার পাশে দুটি দোকান ছিল এবং তাতে চাটাই বিছানো ছিল [১৩/খ]। দরজার সামনে পানি ছিটিয়ে জায়গাটি শীতল করা হয়েছিল। যখন আমি দরজার সামনে পৌঁছলাম, তখন আমি রোস্ট করা মাংস, মাছ, সুগন্ধি লতা ও সুবাস আঘ্রাণ করলাম। আমি সেখান দিয়ে চলে যেতে পারলাম না, তাই নিজেকে দরজার পাশে এলিয়ে দিলাম। মনে মনে বললাম, এই বাড়ির মালিক নিশ্চয়ই কোনো সৈনিক যে আল্লাহর কিতাব জানে না, অথচ তাকে এত কিছু দেওয়া হয়েছে; আর আমি ও আমার সন্তানরা ক্ষুধার্ত। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম এক আগন্তুক আমার কাছে এসে বলল: তুমি কি সূরা বাকারা দুই হাজার দিরহামের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম: না। সে বলল: সূরা আলে ইমরান? আমি বললাম: না। এভাবে সে একে একে সূরার নাম বলতে লাগল আর আমি 'না' বলতে থাকলাম। সে যখন অনেক বেশি পিড়াপিড়ি করতে লাগল, তখন আমি চিৎকার করে 'না না' বলে উঠলাম এবং জেগে গেলাম। আমি বুঝতে পারলাম যে আমাকে নসিহত করা হয়েছে। আমি মনে মনে বললাম, বরং আমি ক্ষুধার্ত থাকব তবুও আমার কাছে কুরআন অবশিষ্ট থাকুক। যখন আমি বাড়ি পৌঁছলাম, আমার কন্যারা বলল, হে আব্বা! আপনি কোথায় ছিলেন? আবু সাঈদ আস-সায়েগ আপনার জন্য তিনশ দিরহাম পাঠিয়েছেন। আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং টাকাগুলো গ্রহণ করলাম। তৎক্ষণাৎ বাজারে গেলাম এবং একটি উট কিনলাম। এরপর রোস্ট করা মাংস, রুটি, মিষ্টি ও সুগন্ধি নিয়ে আসলাম। এক বা দুই ঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যেই আমি আমার বাড়িতে তেমন সব জিনিস দেখতে পেলাম যা আমি সেই বাড়িতে দেখেছিলাম...
(খণ্ড: ১) যিকরু শুয়ুখিশ শারিফ আবিল ফাদল ইবনুল মাহদী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
دار ذلك الرجل.

- وذكر لي أبو القاسم قال: كان أبي يقترض مني طول الأسبوع فتحصل عليه المئة والأكثر فأطلبه فيحلف بالله إنه يوم السبت يقضيني ففعل ذلك دفعات فسألته من أين لك فبكى وقال: يا بني اجمع ختماتي واختمها ليلة الجمعة واجعل ثوابها لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأقول يا رسول الله [14/أ] ديني فيجيئني من حيث لا أحتسب يوم السبت ما أقضي به ديني.

38- ذكر الشيخ أبي الحسن علي بن مقدحة المقريء بدار القز من مدينة السلام كان زاهدا قرأت عليه القرآن وكان يصوم دائما وله غنيمات يقتات منها وكانت حاله صالحة خرج يوما وقد تجرح ظهره فقيل له في ذلك فقال: حملت اللبن عن باب الدار إلى الدار فقلنا له لو استدعيت زرجاريا يحمله، فبكى ثم قال: لي نفس لو جررتها على … لكان ذلك قليلا لها.

وكان من حرصه على الإقراء يفطر في مسجده ويأكل رطل كامخ فقيل له في ذلك فقال: أجد له لذاذة كل شيء هو أدمي وفاكهتي وحلواي.

39- ذكر من لقيت من الحفاظ للحديث.
সেই ব্যক্তির ঘর।

- আবু আল-কাসিম আমার নিকট উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা সারা সপ্তাহ ধরে আমার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতেন, ফলে তাঁর কাছে ঋণের পরিমাণ একশ বা তার বেশি হয়ে যেত। আমি যখন তাঁর কাছে পাওনা চাইতাম, তখন তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বলতেন যে শনিবার তিনি তা পরিশোধ করবেন। তিনি বেশ কয়েকবার এমনটি করেছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি এ অর্থ কোথা থেকে পান? তখন তিনি ক্রন্দন করলেন এবং বললেন: হে বৎস, আমি আমার পঠিত খতমসমূহ একত্রিত করি এবং জুমার রাতে তা সমাপ্ত করি এবং এর সওয়াব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্যে নিবেদন করি এবং বলি, হে আল্লাহর রাসূল [১৪/আ] আমার ঋণ! অতঃপর শনিবার আমার নিকট এমন উৎস থেকে রিযিক আসে যা আমি কল্পনাও করি না, যা দিয়ে আমি আমার ঋণ পরিশোধ করি।

৩৮- মদিনাতুস সালামের দারুল কায নামক স্থানের শায়খ আবুল হাসান আলী বিন মিকদাহাহ আল-মুকারি—যিনি অত্যন্ত সংযমী (যাহেদ) ছিলেন এবং আমি তাঁর নিকট কুরআন পাঠ করেছি। তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং তাঁর কিছু ক্ষুদ্র ছাগলের পাল ছিল যা থেকে তিনি আহার সংস্থান করতেন। তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত পুণ্যময়। একদিন তিনি বের হলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর পিঠ জখম ছিল। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি ঘরের দরজা থেকে ঘরের ভেতর পর্যন্ত কাঁচা ইট বহন করেছি। আমরা তাঁকে বললাম, আপনি যদি তা বহন করার জন্য কোনো মজুর ডাকতেন! তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: আমার এমন এক প্রবৃত্তি রয়েছে যে, তাকে যদি আমি ... এর ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতাম, তবে সেটিও তার জন্য নগণ্য হতো।

কুরআন শিক্ষাদানের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগের কারণে তিনি তাঁর মসজিদেই ইফতার করতেন এবং এক রতল পরিমাণ ‘কামিখ’ (এক প্রকার চাটনি বা আচার বিশেষ) আহার করতেন। এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলতেন: আমি এতেই সবকিছুর স্বাদ পাই; এটিই আমার ব্যঞ্জন, আমার ফল এবং আমার মিষ্টান্ন।

৩৯- হাদীসের হাফেজগণের মধ্যে যাঁদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁদের আলোচনা।