(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مستخرج أبي عوانة - ط المعرفة (أبو عوانة)
القسم: كتب السنة
الكتاب: مستخرج أبي عوانة
المؤلف: أبو عوانة يعقوب بن إسحاق الإسفرائني (ت 316 هـ)
تحقيق: أيمن بن عارف الدمشقي
الناشر: دار المعرفة، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م.
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা - দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ (আবু আওয়ানা)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা
লেখক: আবু আওয়ানা ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-ইসফারায়িনি (মৃত্যু ৩১৬ হিজরি)
তাহকিক: আয়মান বিন আরিফ আদ-দিমাশকি
প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ.
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كِتَابُ الْإِيمَانِ
ঈমান অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بَيَانُ الْأَعْمَالِ وَالْفَرَائِضِ الَّتِي إِذَا أَدَّاهَا بِالْقَوْلِ وَالْعَمَلِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّهُ لَا يَنْفَعُهُ الْإِقْرَارُ حَتَّى يَسْتَيْقِنَ قَلْبُهُ وَيُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ بِمَا يُحَرَّمُ بِهِ عَلَى النَّارِ
সেই সকল আমল ও ফরজসমূহের বিবরণ, যা কথা ও কাজের মাধ্যমে সম্পাদন করলে জান্নাতে প্রবেশ করা যায়; এবং এই বিষয়ের প্রমাণ যে, মৌখিক স্বীকৃতি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তার অন্তর সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে এবং এর দ্বারা আল্লাহর চেহারা কামনা করে, যার মাধ্যমে সে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
1 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ، وَالْفَضْلُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَا: ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجَدِّيُّ ح، وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ ح، وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّائِغُ قَالَ: ثنا عَفَّانُ ح. وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَيَّوَيْهِ قَالَ: ثنا أَبُو سَلَمَةَ قَالُوا: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: ثنا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كُنَّا نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ الْعَاقِلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، وَكَانُوا أَجْرَأَ عَلَى ذَاكَ مِنَّا، قَالَ: فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَقَالَ: " يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَخَلَقَ الْأَرْضَ وَنَصَبَ فِيهَا هَذِهِ الْجِبَالَ وَجَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ ⦗ص: 16⦘: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُ ثُمَّ قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزْدَادُ عَلَيْهِنَّ شَيْئًا وَلَا أَنْتَقِصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا، ثُمَّ وَلَّى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ» مَعْنَى حَدِيثِهِمْ وَاحِدٌ كُلُّهُمْ قَالُوا: قَدْ نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ 2 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ الصَّائِغُ قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، وَسَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَا: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَبْتَدِئَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُعْجِبُنَا. فَذَكَرَ مَعْنَاهُ
১ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন শায়বান আল-রামলি এবং আল-ফাদল বিন আব্দুল জাব্বার আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালিক বিন ইব্রাহিম আল-জাদ্দী বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আমাদের নিকট সুলায়মান বিন সাইফ আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর বিন আসিম বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সায়িগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন (হ)। আর আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন হায়ওয়াইহি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সবাই বলেছেন: আমাদের নিকট সুলায়মান বিন আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাবিত বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি বলেন: আমাদের কুরআনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ফলে মরুভূমির কোনো বুদ্ধিমান লোক এসে তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব—এটা আমাদের কাছে খুব ভালো লাগত। তাঁরা এ বিষয়ে আমাদের চেয়ে বেশি সাহসী ছিলেন। তিনি বলেন: মরুভূমির এক ব্যক্তি এল এবং বলল: "হে মুহাম্মদ! আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের নিকট দাবি করেছেন যে আপনি নাকি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: "তবে পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: "তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন?" তিনি বললেন: "আল্লাহ।" সে বলল: "তবে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তাতে এই পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন এবং তাতে এই সব উপকারসমূহ নিহিত রেখেছেন—সেই সত্তার কসম করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের উপর দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের ধন-সম্পদে জাকাত ফরজ।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার দূত দাবি করেছেন যে বছরে আমাদের উপর এক মাস রোজা রাখা ফরজ।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনার দূত দাবি করেছেন যে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।" তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।" সে বলল: "যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বলেন: এরপর লোকটি ফিরে যাওয়ার সময় বলল: "যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আমি এগুলোর ওপর সামান্যও বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে সামান্যও কমাব না।" এরপর সে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তাঁদের বর্ণিত হাদিসের মর্ম এক; তাঁরা সবাই বলেছেন: "আমাদের কুরআনে নিষেধ করা হয়েছিল।" ২ - আমাদের নিকট জাফর আস-সায়িগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল হামিদ এবং সাঈদ বিন সুলায়মান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট সুলায়মান বিন আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিজে থেকে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং এটি আমাদের কাছে পছন্দনীয় ছিল। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসের মর্ম উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، وَحَدَّثَنَا حَمْدَانُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ح، وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَفَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْبَخْتَرِيِّ قَالَ: ثنا أَبُو أُسَامَةَ كُلُّهُمْ قَالُوا: ثنا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ طَلْحَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا عَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي مَسِيرٍ فَأَخَذَ بِخِطَامِ نَاقَتِهِ فَقَالَ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ - أَوْ يَا مُحَمَّدُ - أَخْبِرْنِي مَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ، قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ» مَعْنَى حَدِيثِهِمْ وَاحِدٌ، قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ وَأَبُو أُسَامَةَ: عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ أَيْضًا: مَوْلَى آلِ ⦗ص: 17⦘ طَلْحَةَ
৩ - আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং হামদান ইবনে আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং হাসান ইবনে আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামাহ এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং আবুল বাখতারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তারা সকলেই বলেছেন: আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুসা ইবনে তালহাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু আইয়ুব আল-আনসারি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ আগলে দাঁড়াল যখন তিনি সফরে ছিলেন। অতঃপর সে তাঁর উটনীর লাগাম ধরল এবং বলল: "হে আল্লাহর রাসুল - অথবা হে মুহাম্মদ - আমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।" তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে।" তাদের বর্ণিত হাদিসের মর্ম এক। আবু নুআইম এবং আবু উসামাহ বলেছেন: আমর ইবনে উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব। আবু উসামাহ আরও বলেছেন: তিনি ছিলেন আল-ই- ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ তালহার মুক্তদাস।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، أنبا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: ثنا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا أَنَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ» . الْحَدِيثَ، قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا»
৪ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাইব ইবনে খালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু যুরআহ থেকে—যিনি ইবনে আমর ইবনে জারীর—তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক বেদুইন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের পথ দেখিয়ে দিন, যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।" তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে।" —হাদীসটি— তিনি বললেন: "সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করব না।" যখন তিনি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যাকে কোনো জান্নাতী মানুষকে দেখা আনন্দিত করে, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়।"
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
5 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِشْكَابَ، وَعَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ قَالَا: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ قَوْقَلٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ صَلَّيْتُ الْمَكْتُوبَاتِ وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
৫ - আলী ইবনে ইশকাব এবং আলী ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু মুআবিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নুমান ইবনে কাওকাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন, যদি আমি ফরজ সালাতসমূহ আদায় করি, হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি এবং হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করি এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু না করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، وَأَبُو أُمَيَّةَ، وَعَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ قَالُوا: ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ: ثنا شَيْبَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَأَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ النُّعْمَانُ بْنُ قَوْقَلٍ " يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ صَلَّيْتُ الْمَكْتُوبَاتِ وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا أَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
6 - মুহাম্মদ বিন আউফ, আবু উমাইয়াহ এবং আলী বিন হারব আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শায়বান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ ও আবু সুফিয়ান থেকে, আর তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নুমান বিন কাওকাল বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি মনে করেন যে যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, হারামকে হারাম সাব্যস্ত করি এবং হালালকে হালাল সাব্যস্ত করি এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু না করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ: ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: ثنا شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو عَمَّارٍ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ أَبُو أُمَامَةَ: يَا عَمْرُو بْنَ عَبَسَةَ بِأَيِّ شَيْءٍ تَدَّعِي أَنَّكَ رُبْعُ الْإِسْلَامِ؟ فَقَالَ: إِنِّي كُنْتُ أَرَى النَّاسَ عَلَى ضَلَالَةٍ وَلَا أَرَى الْأَوْثَانَ بِشَيْءٍ، ثُمَّ سَمِعْتُ عَنْ رَجُلٍ يُخْبِرُ أَخْبَارًا ⦗ص: 18⦘ بِمَكَّةَ وَيُحَدِّثُ أَحَادِيثَ، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتِي حَتَّى أَقْدَمَ مَكَّةَ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْخَفِيًا وَإِذَا قَوْمُهُ عَلَيْهِ جُرَءَاءُ فَتَلَطَّفْتُ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: " مَا أَنْتَ؟ قَالَ: «أَنَا نَبِيٌّ» ، قُلْتُ: وَمَا نَبِيٌّ؟ قَالَ: «رَسُولُ اللَّهِ» ، فَقُلْتُ: آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قُلْتُ: فَبِأَيِّ شَيْءٍ؟ قَالَ: «بِأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ وَلَا يُشْرَكَ بِهِ شَيْئًا وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ وَصِلَةِ الْأَرْحَامِ» ، فَقُلْتُ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ» ، وَإِذَا مَعَهُ بِلَالٌ وَأَبُو بَكْرٍ، - الْحَدِيثُ - فَقُلْتُ لَهُ: إِنِّي مُتَّبِعُكَ، قَالَ: «إِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ، فَإِذَا سَمِعْتَ بِي قَدْ ظَهَرْتُ فَالْحَقْ» وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ
৭ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাদ্দাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আবু আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন—তিনি বলেন: আবু উমামা বললেন: হে আমর ইবনে আবাসা! আপনি কিসের ভিত্তিতে দাবি করেন যে আপনি ইসলামের এক-চতুর্থাংশ? তিনি বললেন: আমি মানুষকে পথভ্রষ্টতার ওপর দেখতাম এবং মূর্তিসমূহকে কোনো কিছুই মনে করতাম না। এরপর আমি মক্কায় এক ব্যক্তির সংবাদ পেলাম যিনি নানাবিধ খবর প্রদান করেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ এবং নানা কথা বর্ণনা করেন। তখন আমি আমার সওয়ারিতে আরোহণ করে মক্কায় পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আত্মগোপনকারী অবস্থায় পেলাম এবং দেখলাম যে তাঁর কওম তাঁর ওপর অত্যন্ত চড়াও। তখন আমি বিনম্রভাবে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: "আপনি কে?" তিনি বললেন: «আমি একজন নবী», আমি বললাম: নবী বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন: «আল্লাহর রাসূল», আমি বললাম: আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», আমি বললাম: কী বার্তা দিয়ে? তিনি বললেন: «যাতে কেবল আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক না করা হয়, আর প্রতিমাগুলো চূর্ণ করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার নির্দেশ দিয়ে», আমি বললাম: আপনার সাথে আর কে আছেন? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন মানুষ এবং একজন দাস», আর তখন তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর ও বিলাল। —হাদীস— অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: আমি আপনার অনুসারী হব। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি বর্তমান দিনে তা করতে পারবে না, বরং তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও; যখন শুনবে যে আমি বিজয়ী ও প্রকাশিত হয়েছি, তখন আমার সাথে এসে মিলিত হইও» এবং তিনি দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
8 - حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، وَعِيسَى بْنُ أَحْمَدَ الْعَسْقَلَانِيُّ قَالُوا: ثنا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ قَالَ: ثنا ابْنُ جَابِرٍ يَعْنِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ ح، وَأَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ كِلَيْهِمَا، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ قَالَ: حَدَّثَنِي جُنَادَةُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَابْنُ أَمَتِهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ، وَأَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ، وَأَنَّ النَّارَ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ شَاءَ «وَفِي حَدِيثِ الْأَوْزَاعِيِّ» أَدْخَلَهُ الْجَنَّةُ عَلَى مَا كَانَ مِنْ عَمَلٍ " 9 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ قَالَ: ثنا دُحَيْمٌ قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ: ثنا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ كِلَاهُمَا، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عُمَيْرٍ بِمِثْلِهِ
৮ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সুলায়মান, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম এবং ঈসা ইবনে আহমাদ আল-আসকালানী; তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে বকর; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে জাবির অর্থাৎ আব্দুর রহমান (হ); এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-আব্বাস ইবনে আল-ওয়ালীদ, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল-আওযায়ী থেকে, তাঁরা উভয়ে উমায়র ইবনে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন জুনাদাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ, তিনি বলেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাদাহ ইবনে আস-সামিত; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর দাসীর পুত্র এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করাবেন।" আর আওযায়ীর হাদীসে রয়েছে: "তার আমল যা-ই হোক না কেন, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" ৯ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে সিনান; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন দুহাইম; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম (হ); এবং আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আল-হাররানী; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল ইবনে আল-ফাযল; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মিসকীন ইবনে বুকাইর; তাঁরা উভয়ে আল-আওযায়ী থেকে, তিনি উমায়র থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَيَّوَيْهِ قَالَ: أنبا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ ⦗ص: 19⦘ الْمُفَضَّلِ قَالَ: ثنا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنِ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ ح، وَحَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُسَدَّدٌ قَالَا: ثنا بِشْرٌ قَالَ: ثنا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنِ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ ح، وَحَدَّثَنَا الصَّاغَانِيُّ قَالَ: ثنا الْمُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ حُمْرَانَ، عَنْ عُثْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» 11 - حَدَّثَنَا الصَّاغَانِيُّ قَالَ: ثنا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ، عَنْ عُثْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ
মুহাম্মদ ইবনে হাইয়াহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ মুফায্যাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ আল-হায্ঝা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ আবু বিশর থেকে (হ)। এবং মাহদী ইবনুল হারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: বিশর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ আল-হায্ঝা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ আবু বিশর থেকে (হ)। এবং সাগানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআল্লা ইবনে মানসুর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি বলেন: আমি হুমরানকে বলতে শুনেছি, তিনি উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» ১১ - সাগানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উকবা ইবনে মাকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ থেকে, তিনি আবু বিশর আল-আনবারী থেকে, তিনি হুমরান থেকে, তিনি উসমান (রা.) থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ، عَنْ عُثْمَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ حَقٌّ دَخَلَ الْجَنَّةَ» . وَقَالَ مَرَّةً: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
১২ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ ইবনুল আব্দুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবু বিশর আল-আনবারী থেকে, তিনি হুমরান থেকে, তিনি উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে সে জানে আল্লাহ সত্য, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি অন্যবার বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
13 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ قَالَ: ثنا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَا: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ - الشَّكُّ مِنَ الْأَعْمَشِ - قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ غَزْوَةِ تَبُوكَ " أَصَابَ النَّاسَ مَجَاعَةٌ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَذِنْتَ لَنَا فَنَحَرْنَا نَوَاضِحَنَا فَأَكَلْنَا وَادَّهَنَّا، فَقَالَ: «افْعَلُوا» ، فَجَاءَ عُمَرُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ إِنْ فَعَلْتَ قَلَّ الظَّهْرُ وَلَكِنِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، ثُمَّ ادْعُ اللَّهَ عز وجل لَهُمْ عَلَيْهَا بِالْبَرَكَةِ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ»
১৩ - মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহল ইবনে উসমান এবং আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন - এই সন্দেহ আল-আ’মাশের পক্ষ থেকে - তিনি বলেন: যখন তাবুক যুদ্ধের দিন উপস্থিত হল, তখন মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ল। অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের অনুমতি দিতেন তবে আমরা আমাদের পানি বহনকারী উটগুলো জবাই করতাম, অতঃপর তা আহার করতাম এবং তার চর্বি ব্যবহার করতাম। তিনি বললেন: «তোমরা তা করো।» তখন উমর এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি করেন তবে সওয়ারির সংখ্যা কমে যাবে। বরং আপনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয়সহ ডাকুন, অতঃপর সেগুলোর উপর বরকতের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দুআ করুন; সম্ভবত আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «হ্যাঁ (ঠিক আছে)»।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
14 - حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ الْقَطَّانُ ⦗ص: 20⦘ قَالَ: ثنا قَتَادَةُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَتَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ الْأَعْمَشَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ فَنَزَلْنَا مَنْزِلًا فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ ذَبَحْنَا بَعْضَ الظَّهْرِ، فَأَصَبْنَا مِنْهُ فَيَرَى الْمُشْرِكُونَ حُسْنَ حَالِنَا، فَقَالَ: «مَا شِئْتُمْ» ، فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ: لَا، وَلَكِنِ اجْمَعْ أَزْوَادَنَا فَادْعُ عَلَيْهِ، فَجَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَادَنَا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِشَيْءٍ مِنَ السَّوِيقِ وَبِالشَّيْءِ مِنَ التَّمْرِ، قَالَ: فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِأَوْعِيَتِكُمْ» ، قَالَ: فَمَلَأُوهَا وَفَضَلَ فَضْلًا كَثِيرًا فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَأَنَا رَسُولُهُ مَنْ جَاءَ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَمْ يُحْجَبْ عَنِ الْجَنَّةِ» 15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ كِيلَجَةُ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ زُنْبُورٍ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: كُنَّا مَعَهُ فَنَفِدَتْ أَزْوَادُنَا فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْحَرَ بَعْضَ ظُهُورِنَا وَذَكَرَ الْحَدِيثَ
১৪ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে বাহর ইবনে বাররি আল-কাত্তান ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ ইবনুল ফাদল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাতাদাহ, তিনি বলেন: আমি আল-আ'মাশকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি যুদ্ধে বের হলাম এবং এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলাম। তখন কাফেলার কিছু লোক বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, যদি আমরা আমাদের কিছু বাহন জবেহ করতাম এবং তা থেকে আহার করতাম, তবে মুশরিকরা আমাদের সুঠাম অবস্থা দেখতে পেত।" তিনি বললেন: "তোমরা যা চাও (তা-ই করো)।" এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব আসলেন এবং বললেন: "না, বরং আপনি আমাদের সকল পাথেয় একত্র করুন এবং তার ওপর বরকতের দুআ করুন।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পাথেয়গুলো একত্র করলেন। তখন কোনো লোক সামান্য ছাতু নিয়ে আসছিল, আবার কেউ সামান্য খেজুর নিয়ে আসছিল। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করলেন, তারপর বললেন: "তোমরা তোমাদের পাত্রগুলো নিয়ে আসো।" বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তারা সেগুলো পূর্ণ করল এবং আরও অনেক অতিরিক্ত রয়ে গেল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এই দুটি সাক্ষ্য নিয়ে উপস্থিত হবে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না।" ১৫ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ কিলাজাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জুনবুর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবি হাযিম, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা তাঁর সাথে ছিলাম এবং আমাদের পাথেয় ফুরিয়ে গিয়েছিল, তখন আমরা আমাদের কিছু বাহন জবেহ করতে চাইলাম... এরপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
16 - حَدَّثَنِي ابْنُ نَاجِيَةَ، وَقَاسِمٌ الْمُطَرِّزُ، وَالْمَعْمَرِيُّ قَالُوا: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي النَّضْرِ قَالَ: ثنا أَبُو النَّضْرِ قَالَ: ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّمَيْكِ قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْفَضْلِ الزَّيْدِيُّ قَالَ: ثنا الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ ح، وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ عُتْبَةَ الْكُوفِيُّ قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ حَمَّادٍ اللُّؤْلُؤِيُّ وَكَانَ مِنَ الْبَكَّائِينَ ثِقَةٌ فَقِيهٌ لَا يُفْتِي بِالرَّأْيِ قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ قَالَ: ثنا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ ح، وَحَدَّثَنَا الْمَعْمَرِيُّ أَوْ إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ قَالَ: ثنا مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ قَالَ: ثنا أَبِي، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ كُلُّهُمْ قَالُوا: عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ⦗ص: 21⦘ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ فَنَفِدَتْ أَزْوَادُ الْقَوْمِ، قَالَ: حَتَّى هَمَّ بِنَحْرِ بَعْضِ جِمَالِهِمْ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ جَمَعْتَ مَا بَقِيَ مِنْ أَزْوَادِ الْقَوْمِ فَدَعَوْتَ اللَّهَ عَلَيْهَا فَفَعَلَ فَجَاءَ ذُو الْبُرِّ بِبُرِّهِ، وَذُو التَّمْرِ بِتَمْرِهِ، وَذُو النَّوَى بِالنَّوَاةِ، قُلْتُ: وَمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ بِالنَّوَى؟ قَالَ: يَمُصُّونَهُ فَيَشْرَبُونَ عَلَيْهِ الْمَاءَ فَدَعَا عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَلَأَ الْقَوْمُ أَزْوِدَتَهُمْ، قَالَ: فَقَالَ عِنْدَ ذَلِكَ: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرُ شَاكٍ فِيهِمَا إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ» هَذَا لَفْظُ أَبِي النَّضْرِ وَحَدِيثُ اللُّؤْلُؤِيِّ أَنْ يُنْحَرَ بَعْضُ إِبِلِنَا، قَالَ طَلْحَةُ: وَذُو النَّوَاةِ بِنَوَاهُ بِمِثْلِهِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ غَيْرَ شَاكٍ فِيهِ وَلَا فِي رَسُولِهِ لَمْ يُحْجَبْ عَنِ الْجَنَّةِ»
১৬ - ইবনে নাজিয়াহ, কাসিম আল-মুতাররিজ এবং আল-মা’মারী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু বকর বিন আবীন নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আন-নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-আশজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন মিগওয়াল থেকে। এবং ইবনে আবীদ দুমাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন ফজল আজ-জাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আশজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন মিগওয়াল থেকে (হ)। এবং মুহাম্মদ বিন উবায়েদ বিন উতবাহ আল-কুফী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন হাম্মাদ আল-লুলুঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি অত্যধিক ক্রন্দনকারীদের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য ফকিহ ছিলেন এবং নিজস্ব মতের ভিত্তিতে ফতোয়া দিতেন না—তিনি বলেন: আল-হাসান বিন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন মিগওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং আল-মা’মারী অথবা ইব্রাহিম আল-হারবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাসরূক বিন মারযুবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন মিগওয়াল থেকে। তাঁরা সকলেই তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় লোকজনের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: এমনকি তিনি (নবীজি) কিছু উট জবাই করার ইচ্ছা করলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, লোকজনের কাছে অবশিষ্ট পাথেয় যদি আপনি একত্রিত করতেন এবং তার ওপর আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করতেন (তবে কল্যাণকর হতো)। তিনি তাই করলেন। তখন গমের মালিক তার গম নিয়ে এল, খেজুরের মালিক তার খেজুর নিয়ে এল এবং খেজুরের আঁটির মালিক তার আঁটি নিয়ে এল। আমি (তাবেঈ) জিজ্ঞাসা করলাম: তারা আঁটি দিয়ে কী করত? তিনি বললেন: তারা তা চুষত এবং তার ওপর পানি পান করত। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলোর ওপর দোয়া করলেন, ফলে উপস্থিত সবাই তাদের খাদ্যপাত্রসমূহ পূর্ণ করে নিল। তিনি বলেন: তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল; কোনো বান্দা এই দুই বিষয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেই।» এটি আবু আন-নাদরের শব্দ। আর লুলুঈর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে—যেন আমাদের কিছু উট জবাই করা হয়। তালহা বলেন: আঁটির মালিক তার আঁটি নিয়ে এল—অনুরূপ বর্ণনায়। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসুলের প্রতি কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাত থেকে বাধাগ্রস্ত হবে না।»
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ قَالَ: ثنا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو كَثِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: كُنَّا مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذِ افْتَقَدْنَاهُ فَلَمْ نَدْرِ أَيْنَ هُوَ وَخَشِينَا أَنْ يُقْتَطَعَ دُونَنَا، قَالَ: فَقُمْنَا وَقُمْتُ فِي أَوَّلِ النَّاسِ أَتْبَعُ أَثَرَهُ وَأَسْأَلُ عَنْهُ حَتَّى آتِيَ حَائِطًا هُوَ فِيهِ، فَجَعَلْتُ أَبْتَغِي طَرِيقًا إِلَيْهِ وَلَا أَجِدُ وَأَبْتَغِي ثُلْمَةً فَلَا أَجِدُ وَأَتْبَعُ الْمَاءَ إِلَى الْحَائِطِ مِنْ بِئْرٍ وَرَاءَهُ - يَعْنِي جَدْوَلَ - قَالَ: فَحَفَرْتُ مِثْلَ مَا يَحْفِرُ الثَّعْلَبُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: «أَبُو هُرَيْرَةَ؟» فَقُلْتُ: نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، قَالَ: «مَا جَاءَ بِكَ؟» قُلْتُ: تَخَوَّفْنَا عَلَيْكَ أَنْ تُقْتَطَعَ وَلَمْ نَدْرِ أَيْنَ أَنْتَ وَهَذَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَالنَّاسُ عَلَى أَثَرِي، قَالَ: فَأَعْطَانِي نَعْلَيْهِ فَقَالَ: «اذْهَبْ بِنَعْلَيَّ هَذَيْنِ فَمَنْ لَقِيتَ مِنْ وَرَاءِ الْحَائِطِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» ، قَالَ: فَخَرَجْتُ بِالنَّعْلَيْنِ فَكَانَ أَوَّلَ مَنْ لَقِيَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ: مَا هَاتَانِ النَّعْلَانِ؟ فَقُلْتُ: أَعْطَانِيهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَنِي بِكَذَا وَكَذَا، قَالَ: فَلَكَمَ صَدْرِي فَقَعَدْتُ عَلَى اسْتِي وَقَالَ: ارْجِعْ، فَرَجَعْتُ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ، وَجَاءَ عُمَرُ فَقَالَ: «يَا عُمَرُ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا؟» قَالَ: نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، قَالَ: «لِمَهْ؟» قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَتَّكِلُ النَّاسُ وَلَكِنِ اتْرُكْهُمْ فَيَعْمَلُونَ، قَالَ: «فَنِعْمَ إِذًا» ⦗ص: 22⦘ قَالَ أَبُو عَوَانَةَ: يُقَالُ: إِنَّ هَذَا لِأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُوقِنِينَ وَلَمْ يَعُمَّ بِهِ وَإِنَّمَا قَالَ: مَنْ لَقِيتَ مِنْ وَرَاءِ الْحَائِطِ، فَلَمْ يَلْقَ إِلَّا عُمَرَ قَدْ بَشَّرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ
১৭ - আহমদ বিন ইউসুফ আস-সুলামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাজর বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমাহ বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, হঠাৎ আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা জানতাম না তিনি কোথায় আছেন এবং আমরা আশঙ্কা করলাম যে তিনি আমাদের অনুপস্থিতিতে কোনো বিপদে পড়বেন। তিনি বলেন: ফলে আমরা উঠে দাঁড়ালাম এবং আমি লোকদের মধ্যে সবার আগে তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করতে শুরু করলাম এবং তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম, অবশেষে আমি একটি বাগানে এসে পৌঁছলাম যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন। আমি সেখানে প্রবেশের পথ খুঁজতে লাগলাম কিন্তু পেলাম না, কোনো ফাটল খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। অতঃপর আমি বাগানের বাইরে থাকা একটি কূয়া থেকে বাগানের দিকে প্রবাহিত পানির নালা অনুসরণ করলাম। তিনি বলেন: আমি শেয়ালের গর্ত করার মতো মাটি খুঁড়লাম এবং ভেতরে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: "আবু হুরায়রাহ?" আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী। তিনি বললেন: "তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে?" আমি বললাম: আপনার কোনো ক্ষতি হওয়ার ব্যাপারে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম এবং আপনি কোথায় আছেন তা আমরা জানতাম না। এই তো আবু বকর, উমর এবং অন্যান্য লোকও আমার পিছু পিছু আসছে। তিনি বলেন: এরপর তিনি আমাকে তাঁর জুতোজোড়া দিলেন এবং বললেন: "আমার এই জুতোজোড়া নিয়ে যাও; এই বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার দেখা হবে এবং সে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" তিনি বলেন: আমি জুতোজোড়া নিয়ে বের হলাম এবং প্রথমেই আমার সাথে উমর ইবনুল খাত্তাবের দেখা হলো। তিনি বললেন: এই জুতোজোড়া কিসের? আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো আমাকে দিয়েছেন এবং আমাকে এই এই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার বুকে এক ধাক্কা দিলেন, ফলে আমি আমার পাছার ওপর পড়ে গেলাম। তিনি বললেন: ফিরে যাও। আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। ইতিমধ্যে উমরও চলে আসলেন। তিনি বললেন: "হে উমর! তুমি কি এমন এমন করেছ?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী। তিনি বললেন: "কেন?" উমর বললেন: আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, (এমন সুসংবাদ পেলে) মানুষ এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে; বরং আপনি তাদের ছেড়ে দিন যাতে তারা আমল করতে থাকে। তিনি বললেন: "ঠিক আছে, তবে তাই হোক।" ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ আবু আওয়ানাহ বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সকল সাহাবীদের জন্য যারা দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন, এটি সবার জন্য সাধারণ ছিল না। তিনি কেবল বলেছিলেন: 'বাগানের বাইরে যার সাথে তোমার দেখা হবে', আর তিনি কেবল উমরের সাথেই দেখা করেছিলেন যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَزِيزِ الْأَيْلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي سَلَامَةُ بْنُ رَوْحٍ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ الْفَارِسِيُّ قَالَ: ثنا ابْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ كِلَاهُمَا، عَنْ عَقِيلٍ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ قَالَ: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ كِلَيْهِمَا، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ عَقَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَقَلَ مَجَّةً مَجَّهَا مِنْ دَلْوٍ مِنْ بِئْرٍ كَانَتْ فِي دَارِهِمْ فِي وَجْهِهِ، فَزَعَمَ مَحْمُودٌ أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَكَانَ - مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: إِنِّي أَنْكَرْتُ مِنْ بَصَرِي، وَإِنَّ السَّيْلَ يَأْتِي فَيَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَسْجِدِ قَوْمِي وَيَشُقُّ عَلَيَّ اجْتِيَازُهُ، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْتِيَ فَتُصَلِّي فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذُهُ مُصَلًّى فَافْعَلْ فَقَالَ: «أَفْعَلُ» . فَغَدَا عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ بَعْدَمَا اشْتَدَّ النَّهَارُ، فَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى قَالَ: «أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ؟» فَأَشَرْتُ لَهُ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي أُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ وَصَفَفْنَا خَلْفَهُ فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ احْتَبَسْتُهُ عَلَى خَزِيرٍ يُصْنَعُ لَهُمْ وَسَمِعَ بِهِ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ فَثَابُوا حَتَّى كَثُرَ الرِّجَالُ فِي الْبَيْتِ. فَقَالَ رَجُلٌ: فَأَيْنَ مَالِكُ بْنُ الْأَخْنَسِ أَوِ ابْنُ الدُّخْشُمِ - شَكَّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَأَمَّا عَقِيلٌ فَقَالَ: مَالِكُ بْنُ دُخْشُمٍ - فَقَالَ: ذَلِكَ رَجُلٌ مُنَافِقٌ لَا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَمَا يُدْرِيكَ؟» فَقَالَ: أَمَّا نَحْنُ فَوَاللَّهِ مَا نَرَى وُدَّهُ وَلَا حَدِيثَهُ إِلَّا لِلْمُنَافِقِينَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَمَا تَرَاهُ قَالَ مَرَّةً وَاحِدَةً: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الْآخِرَةِ؟ " فَقَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: " فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ " قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: أَدْرَكْنَا الْفُقَهَاءَ وَهُمْ يَرَوْنَ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ مُوجِبَاتُ الْفَرَائِضِ فِي الْقُرْآنِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ قَدْ أَنْزَلَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْكَلِمَةِ الَّتِي ⦗ص: 23⦘ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجَاةَ بِهَا فَرَائِضَ فِي كِتَابِهِ نَحْنُ نَخْشَى أَنْ يَكُونَ الْأَمْرُ قَدْ صَارَ إِلَيْهِنَّ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَغْتَرَّ فَلَا يَغْتَرَّ. قَالَ مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ: فَخَرَجْنَا فِي غَزَاةٍ مَعَ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَعَنَا أَبُو أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيُّ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ، فَقَالَ: مَا أَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هَذَا فَكَبُرَ ذَلِكَ عَلَيَّ فَرَجَعْتُ فَأَتَيْتُ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ فِي مَسْجِدِ قَوْمِهِ يَؤُمُّهُمْ وَقَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَتَعَرَّفْتُ إِلَيْهِ فَعَرَفَنِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَحَدَّثَنِي بِهِ كَمَا حَدَّثَنِي بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ. وَهَذَا لَفْظُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ وَهُوَ أَتَمُّهُمَا حَدِيثًا. وَأَمَّا عَقِيلٌ فَقَالَ: مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُمِ بِلَا شَكٍّ، وَانْتَهَى حَدِيثُهُ إِلَى قَوْلِهِ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ
১৮ - মুহাম্মদ ইবনে আজীজ আল-আইলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে রউহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। (হাদিসটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে) আবু ইউসুফ আল-ফারিসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আকীল থেকে বর্ণনা করেছেন। (হাদিসটি তৃতীয় সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে) আবু উমাইয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহীম ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মাহমুদ ইবনে রবী' আল-আনসারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনে রেখেছেন এবং তাঁর সেই কুলি করাকেও মনে রেখেছেন যা তিনি তাদের বাড়ির একটি কূপের বালতি থেকে নিয়ে তাঁর চেহারার ওপর করেছিলেন। মাহমুদ বর্ণনা করেন যে, ইত্ববান ইবনে মালিক — যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন — তিনি বলতেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম: 'আমি আমার দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা অনুভব করছি, আর যখন প্রবল বৃষ্টিপাত হয় তখন প্লাবন আমার ও আমার গোত্রের মসজিদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যার ফলে সেটি অতিক্রম করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। যদি আপনি অনুগ্রহ করে আমার বাড়িতে আসতেন এবং কোনো এক স্থানে সালাত আদায় করতেন, তবে আমি সেটিকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম।' তিনি বললেন: «আমি তা করব»। পরদিন রোদ প্রখর হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর আমার কাছে আসলেন। তিনি প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি বসার আগেই বললেন: «তোমার বাড়ির কোথায় তুমি পছন্দ করো যে আমি সালাত আদায় করি?» আমি তাঁকে সেই স্থানের দিকে ইশারা করলাম যেখানে আমি সালাত আদায় করতে পছন্দ করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং তাকবীর দিলেন, আর আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তাঁদের জন্য তৈরি করা 'খাজীর' নামক খাবারের জন্য আমি তাঁকে বসিয়ে রাখলাম। ইতিমধ্যে মহল্লার একদল লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের খবর শুনে সেখানে আসলেন, ফলে বাড়িতে লোকের সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন এক ব্যক্তি বলল: 'মালিক ইবনুল আখ্ নাস বা ইবনুদ্ দুখশুম কোথায়?' (বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ইবনে সাদ সন্দেহ পোষণ করেছেন, তবে আকীল বলেছেন: মালিক ইবনে দুখশুম)। জনৈক ব্যক্তি বলল: 'সে তো মুনাফিক, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে না।' তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি এ কথা কীভাবে জানলে?» সে বলল: 'আমরা তো আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তার ভালোবাসা ও কথাবার্তা কেবল মুনাফিকদের সাথেই দেখতে পাই।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি কি দেখনি যে সে একবার বলেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), এর মাধ্যমে সে কেবল আল্লাহর চেহারা কামনা করেছে?» সে বলল: 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের আগুনের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর চেহারা কামনায় বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ»। ইবনে শিহাব বলেন: আমরা ফকীহগণের কাছে পেয়েছি যে, তাঁরা মনে করতেন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সময়কার কথা যখন কুরআনে ফরজ বিধানসমূহ অবতীর্ণ হয়নি। তবে আল্লাহ এই কালিমার অধিকারীদের ওপর — যে কালিমার মাধ্যমে মুক্তির কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ উল্লেখ করেছেন — তাঁর কিতাবে বিভিন্ন ফরজ বিধান অবতীর্ণ করেছেন। আমরা আশঙ্কা করি যে বিষয়টি এখন সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোঁকায় না পড়ার সামর্থ্য রাখে, সে যেন ধোঁকায় না পড়ে। মাহমুদ ইবনে রবী' বলেন: আমরা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সাথে এক যুদ্ধে বের হলাম এবং আমাদের সাথে আবু আইয়ুব আল-আনসারীও ছিলেন। আমি তাঁর নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কথা বলেছেন বলে আমি মনে করি না।' তাঁর এই কথা আমার নিকট অত্যন্ত গুরুতর মনে হলো। এরপর যখন আমি ফিরে আসলাম, তখন ইত্ববান ইবনে মালিকের নিকট গেলাম; তিনি তখন তাঁর গোত্রের মসজিদে ইমামতি করতেন এবং তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম, তিনি আমাকে চিনতে পারলেন। এরপর আমি তাঁকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমার কাছে এটি ঠিক তেমনই বর্ণনা করলেন যেমনটি প্রথমবার করেছিলেন। এটি ইব্রাহীম ইবনে সাদের শব্দে বর্ণিত এবং তাঁর বর্ণনাটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। আর আকীল কোনো সন্দেহ ছাড়াই 'মালিক ইবনে দুখশুম' বলেছেন এবং তাঁর বর্ণনাটি 'এর মাধ্যমে সে কেবল আল্লাহর চেহারা কামনা করেছে' কথাটি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
19 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ قَالَ: أنبا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أنبا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: " أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: إِنِّي أَنْكَرْتُ بَصَرِي وَإِنَّ السُّيُولَ تَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَسْجِدِ قَوْمِي وَلَوَدِدْتُ أَنَّكَ جِئْتَ فَصَلَّيْتَ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذُهُ مَسْجِدًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» قَالَ: فَمَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَاسْتَتْبَعَهُ فَانْطَلَقَ مَعَهُ فَاسْتَأْذَنَ فَدَخَلَ، فَقَالَ وَهُوَ قَائِمٌ: «أَيْنَ تُرِيدُ أَنْ أُصَلِّيَ؟» قَالَ: فَأَشَرْتُ لَهُ حَيْثُ أُرِيدُ، وَذَكَرَ الْحَدِيثَ. وَقَالَ فِيهِ: فَقَالَ رَجُلٌ: أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُمِ؟
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আদ-দাবারী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরী থেকে। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মাহমুদ ইবনুর রাবী’, ইতবান ইবনে মালিক থেকে। তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং বললাম: আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে এবং বন্যার পানি আমার ও আমার কওমের মসজিদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমি মনে-প্রাণে কামনা করি যে, আপনি এসে আমার ঘরে কোনো এক স্থানে সালাত আদায় করবেন, যাকে আমি সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইনশাআল্লাহ, আমি তা করব।» বর্ণনাকারী বলেন: এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সাথে নিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে চললেন। অতঃপর তিনি অনুমতি চাইলেন এবং প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বললেন: «তুমি কোথায় চাও যে আমি সালাত আদায় করি?» তিনি বলেন: আমি তাঁর জন্য আমার কাঙ্ক্ষিত স্থানটির দিকে ইশারা করলাম। এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তাতে আরও রয়েছে: জনৈক ব্যক্তি বলল, মালিক ইবনুদ দুখশুম কোথায়?
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَالَ فِيهِ أَيْضًا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَلَنْ يُوَافِيَ عَبْدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ "
এবং তিনি এতে আরও বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন এমন কোনো বান্দা উপস্থিত হবে না যে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহর চেহারা কামনা করে, তবে অবশ্যই তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ قَالَ: ثنا عَفَّانُ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: أنبا ثَابِثٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ: إِنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ كَانَ قَدْ عَمِيَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَعَالَى فَخُطَّ لِي فِي دَارِي حَتَّى أَتَّخِذَ مُصَلًّى وَمَسْجِدًا، فَجَاءَ فَاجْتَمَعَ إِلَيْهِ قَوْمُهُ وَتَغَيَّبَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُمِ فَوَقَعُوا فِيهِ، فَقَالُوا: هُوَ مُنَافِقٌ، فَقَالَ: «أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟» قَالُوا: بَلَى، يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِي ⦗ص: 24⦘ قَلْبِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَشْهَدُ أَحَدٌ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَتُطْعَمُهُ النَّارُ» . قَالَ حَمَّادٌ: وَلَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ: لَقِيَ عِتْبَانَ فَحَدَّثَهُ. 21 - حَدَّثَنَا الصَّاغَانِيُّ، وَجَعْفَرٌ الصَّائِغُ، قَالَا: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ، وَذَكَرَ الْحَدِيثَ. قَالَ أَنَسٌ: فَلَقِيتُ عِتْبَانَ فَحَدَّثَنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ فَأَعْجَبَنِي فَكَتَبْتُهُ. حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ بِمِثْلِهِ
২০ - আবু উমাইয়াহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি মাহমুদ বিন রাবি' থেকে বর্ণনা করেন: ইতবান বিন মালিক অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আসুন এবং আমার ঘরে আমার জন্য একটি স্থান চিহ্নিত করে দিন যাতে আমি সেটাকে সালাত আদায়ের স্থান ও মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর তিনি (রাসূল) আসলেন এবং তাঁর কাছে তাঁর গোত্রের লোকেরা সমবেত হলো। কিন্তু মালিক বিন দুখশুম অনুপস্থিত ছিলেন। তারা তার সম্পর্কে সমালোচনা করতে লাগল এবং বলল: সে একজন মুনাফিক। তখন তিনি (রাসূল) বললেন: «সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল?» তারা বলল: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, কিন্তু তা ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ তার অন্তরে নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর জাহান্নামের আগুন তাকে ভক্ষণ করবে (তা হতে পারে না)»। হাম্মাদ বলেন: আমি যতটুকু জানি তিনি বলেছেন: তিনি ইতবানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি তাঁকে এটি বর্ণনা করেছেন। ২১ - আস-সাগানি এবং জাফর আস-সায়িগ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আলী বিন আব্দুল হামিদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন মুগীরাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মাহমুদ বিন রাবি' আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইতবান বিন মালিক থেকে, এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আনাস বলেন: অতঃপর আমি ইতবানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তিনি আমার কাছে এই হাদীসটি বর্ণনা করলেন, যা আমাকে মুগ্ধ করল এবং আমি তা লিখে নিলাম। আবু দাউদ আল-হাররানি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন আসিম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন মুগীরাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: ثنا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْجُمَاهِرِ الْحِمْصِيُّ، وَأَبُو أُمَيَّةَ قَالَا: ثنا أَبُو الْيَمَانِ ح، وَحَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ الْكَلَاعِيُّ الْحِمْصِيُّ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ سَعِيدٍ كِلَاهُمَا، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ كِلَاهُمَا، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَبِي طَالِبٍ: «يَا عَمُّ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ» ، قَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ: يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ؟ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعْرِضًا عَلَيْهِ وَيُعِيدَانِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ حَتَّى " قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ بِهِ: هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَبَى أَنْ يَقُولَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا وَاللَّهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ» ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي ⦗ص: 25⦘ قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [التوبة: 113] ، وَأَنْزَلَ اللَّهُ فِي أَبِي طَالِبٍ قَوْلَهُ عز وجل {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} حَدِيثُهُمُ الْمَعْنَى وَاحِدٌ وَهَذَا لَفْظُ شُعَيْبٍ 23 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ: ثنا زَيْدُ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِيهِ بِمِثْلِهِ
২২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ইবনে সা'দ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, সালেহ থেকে; (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল জুমাহির আল-হিমসী এবং আবু উমাইয়াহ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান; (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে বাক্কার আল-কালাঈ আল-হিমসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে সাঈদ; তাঁরা উভয়েই শুআইব ইবনে আবু হামযাহ থেকে, তাঁরা উভয়েই যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে আবু জাহল ও আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়াহ ইবনুল মুগীরাহকে দেখতে পেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালিবকে বললেন: «হে চাচা! আপনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলুন, এটি এমন একটি বাক্য যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নিকট আপনার স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করব।» আবু জাহল ও আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়াহ বলল: হে আবু তালিব! আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মাদর্শ থেকে বিমুখ হচ্ছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রমাগত তাঁর নিকট তা পেশ করতে থাকলেন এবং তাঁরাও তাঁদের সেই উক্তির পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আবু তালিব তাঁদের সাথে শেষ যে কথাটি বললেন তা হলো: সে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মাদর্শের ওপরই আছে, এবং তিনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।» তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামী।} [আত-তাওবাহ: ১১৩], এবং আল্লাহ আবু তালিব সম্পর্কে তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন।} তাঁদের বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের অর্থ এক, আর এটি শুআইবের শব্দাবলী। ২৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মুবারক আস-সানআনী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাওর, মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ أَبُو سَعِيدٍ الْبَصْرِيُّ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْجُنَيْدِ الدَّقَّاقُ قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالُوا: ثنا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عَمُّ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ لَكَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، قَالَ: لَوْلَا أَنْ تُعَيِّرَنِي قُرَيْشٌ لَأَقْرَرْتُ عَيْنَكَ بِهَا، قَالَ: فَنَزَلَتْ {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} [القصص: 56] إِلَى قَوْلِهِ {وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} [القصص: 56] مَعْنَى حَدِيثِهِمْ وَاحِدٌ وَبَعْضُهُمْ لَمْ يَذْكُرْ أَبَا طَالِبٍ وَإِنَّمَا قَالَ: قَالَ لِعَمِّهِ. 25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ قَالَ: ثنا يَزِيدُ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ. زَادَ ابْنُ كَثِيرٍ يَعْنِي أَبَا طَالِبٍ
২৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আবু সাঈদ আল-বাসরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান (হ), এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল জুনায়েদ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন আল-কাসিম (হ), এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদ; তাঁরা সকলে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন কায়সান, আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «হে চাচা! আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন, আমি কিয়ামতের দিন আপনার পক্ষে এর মাধ্যমে সাক্ষ্য দেব», তিনি বললেন: «কুরাইশরা আমাকে লজ্জা দেবে—এই ভয় যদি না থাকত, তবে আমি এ দ্বারা আপনার চক্ষু শীতল করতাম», তিনি বলেন: তখন অবতীর্ণ হলো {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারেন না} [আল-কাসাস: ৫৬] আল্লাহর বাণী {এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে অধিক অবগত} [আল-কাসাস: ৫৬] পর্যন্ত। তাঁদের বর্ণিত হাদীসের অর্থ অভিন্ন, তবে তাঁদের কেউ কেউ আবু তালিবের নাম উল্লেখ করেননি, বরং বলেছেন: তিনি তাঁর চাচাকে বললেন। ২৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসীর আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুয়াম্মাল বিন আল-ফাযল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ তাঁর সনদে অনুরূপ হাদীস। ইবনে কাসীর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: অর্থাৎ আবু তালিব।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
26 - حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: ثنا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ ح، وَحَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: ثنا دَاوُدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَا: ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنِ الصُّنَابِحِيّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ: مَا لَكَ تَبْكِي فَوَاللَّهِ لَوِ ⦗ص: 26⦘ اسْتُشْهِدْتُ لَأَشْهَدَنَّ لَكَ، وَلَئِنْ شُفِّعْتُ لَأَشْفَعَنَّ لَكَ، وَلَئِنِ اسْتَطَعْتُ لَأَنْفَعَنَّكَ، ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ مَا مِنْ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَكُمْ فِيهِ خَيْرٌ إِلَّا حَدَّثْتُكُمُوهُ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا، وَسَوْفَ أُحَدِّثَكُمُوهُ الْيَوْمَ وَقَدْ أُحِيطَ بِنَفْسِي، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ» حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْحَرَّانِيُّ قَالَ: ثنا أَبُو الْمُعَافَى قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
২৬ - আমাদের কাছে রাবী' বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে শুআইব বিন আল-লাইস বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আমাদের কাছে ইউসুফ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে দাউদ বিন মানসুর বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে আল-লাইস বিন সা'দ বর্ণনা করেছেন, ইবনে আজলান থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে মুহাইরিজ থেকে, তিনি সুনাবেহী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি উবাদা বিন আস-সামিতের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন: তোমার কী হয়েছে যে তুমি কাঁদছ? আল্লাহর কসম, যদি ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আমাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয় তবে আমি অবশ্যই তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেব, আর যদি আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হয় তবে আমি অবশ্যই তোমার জন্য সুপারিশ করব, আর যদি আমি সক্ষম হই তবে অবশ্যই তোমার উপকার করব। তারপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো হাদীস শুনিনি যাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে যা আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করিনি, কেবল একটি হাদীস ব্যতীত। আর আজ আমি তোমাদের নিকট সেটি বর্ণনা করব যখন আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছে। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন» আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন কাসীর আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবু আল-মু'আফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুর রাহীম থেকে, তিনি যাইদ থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে তার সনদসহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
27 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، وَسَلَّامٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الْأَوْدِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: «تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ» ، قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقُّهُمْ عَلَيْهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ» 28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبِرْتِيُّ قَالَ: ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ قَالَ: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَقِيلٍ قَالَ: ثنا حَفْصُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: ثنا الْفِرْيَابِيُّ ح، وَحَدَّثَنَا الصَّاغَانِيُّ قَالَ: أنبا قَبِيصَةُ، عَنْ سُفْيَانَ ح، وَحَدَّثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ تَدْرِي» . فَذَكَرَ مِثْلَهُ «لَا يُعَذِّبُهُمْ أَوْ لَا يُدْخِلُهُمُ النَّارَ» . حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ قَالَ: ثنا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ ⦗ص: 27⦘ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
২৭ - আমাদের নিকট ইউনুস ইবন হাবীব আল-আসবাহানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ ও সাল্লাম বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন আল-আওদী থেকে, তিনি মু'আয ইবন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন: «তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী?» তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না। আর তাদের হক আল্লাহর ওপর হলো, যখন তারা তা করবে তখন তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না» ২৮ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-বির্তী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুযাইফাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবন তাহমান বর্ণনা করেছেন আশ-শাইবানী থেকে, তিনি আবু হাসীন থেকে (হ); এবং আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন আকীল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাফস ইবন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইবরাহীম ইবন তাহমান সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান থেকে, তিনি আবু হাসীন থেকে (হ); এবং আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ফিরয়াবী বর্ণনা করেছেন (হ); এবং আমাদের নিকট আস-সাগানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুবাইসাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান থেকে (হ); এবং আমাদের নিকট উসাইদ ইবন আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন কাসীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ ইবন খলিফাহ বর্ণনা করেছেন আবু হাসীন থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবন হিলাল থেকে, তিনি মু'আয ইবন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে একই সওয়ারিতে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «হে মু'আয, তুমি কি জানো...»। এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন: «তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না অথবা তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন না»। আমাদের নিকট আব্বাস আদ-দুরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন আল-জু'ফী বর্ণনা করেছেন যায়িদাহ থেকে, তিনি আবু হাসীন থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
29 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَارِسِيُّ قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ قَالَ: ثنا هَمَّامٌ قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ: كُنْتُ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ إِلَّا آخِرَةُ الرَّحْلِ فَقَالَ لِي: «يَا مُعَاذُ» ، قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: ثُمَّ سَارَ سَاعَةً، ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا مُعَاذُ» ، حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ لِي: «هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» ، ثُمَّ سَارَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ» ، قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ»
২৯ - ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান আল-ফারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, মুয়াজ ইবন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে আরোহী ছিলাম, আমার এবং তাঁর মাঝে সাওয়ারির পাদানীর পিছনের অংশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন: «হে মুয়াজ!», আমি আরজ করলাম: আমি আপনার সেবায় উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল এবং আপনার অনুগত। তিনি কিছুক্ষণ পথ চললেন, এরপর পুনরায় আমাকে ডাকলেন: «হে মুয়াজ!», এভাবে তিনি তিনবার করলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন: «তুমি কি জান বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী?» আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।’ এরপর কিছুক্ষণ পথ চলার পর পুনরায় তিনি বললেন: «হে মুয়াজ!», আমি বললাম: আমি আপনার সেবায় উপস্থিত এবং আপনার অনুগত হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «তারা যদি তা পালন করে, তবে আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী, তা কি তুমি জান?» আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো তিনি তাদের শাস্তি প্রদান করবেন না।»
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
30 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: ثنا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» وَقُلْتُ أَنَا: مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ - هَذَا لَفْظُ أَبِي مُعَاوِيَةَ -
৩০ - আমাদের নিকট আলী ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াকি এবং আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» আর আমি বললাম: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে —এটি আবু মুয়াবিয়ার শব্দ—
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
31 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ قَالَا: ثنا الْأَعْمَشُ قَالَ: أنبا سَخْتَوَيْهِ بْنُ مَازِيَارَ أَبُو عَلِيٍّ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ: ثنا مَالِكُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَا الْمُوجِبَتَانِ؟ قَالَ: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ» 32 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ السَّرِيِّ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 28⦘ مِثْلَهُ، وَعَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ
31 - আমাদের কাছে আলী ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু মুয়াবিয়া এবং মুহাম্মদ ইবনুল ফুদাইল বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনি হাশিমের মুক্তদাস আবু আলী সাখতাওয়াইহ ইবনে মাজিয়ার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মালিক ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একজন বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: দুটি আবশ্যককারী বিষয় কী কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" 32 - আমাদের কাছে আব্বাস আদ-দুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল আজিজ ইবনুস সারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বিশর ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু আল-জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
33 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْأَزْهَرِ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي الْحَجَّاجِ قَالَ: ثنا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ النَّارَ»
33 - ইয়াজিদ ইবন সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আল-আকাদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (হ); এবং আবুল আজহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন আবুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুররাহ ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শরিক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
34 - حَدَّثَنَا الدَّنْدَانِيُّ وَاسْمُهُ مُوسَى قَالَ: ثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: ثنا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا أَدْخَلَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ أَدْخَلَهُ النَّارَ»
৩৪ - আদ-দান্দানী—যাঁর নাম মূসা—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শরিক করা অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।»
(খণ্ড: ১)
মুস্তাখরাজু আবী আওয়ানাহ - ত-মা’রিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
35 - حَدَّثَنِي أَبُو الْمُثَنَّى مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الْأَحْدَبِ، سَمِعَ الْمَعْرُورَ بْنَ سُوَيْدٍ قَالَ: سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ يُحَدِّثُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ يَعْنِي مِثْلَ: «جَاءَ جِبْرِيلُ يُبَشِّرُنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
৩৫ - আবু আল-মুসান্না মুআয ইবনে আল-মুসান্না আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াসিল আল-আহদাব থেকে, তিনি মা'রুর ইবনে সুওয়াইদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু যারকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন, অর্থাৎ: "জিবরাঈল আমার নিকট এসে সুসংবাদ প্রদান করলেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"