(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: -)
حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: حاشية رد المحتار على الدر المختار
المؤلف: محمد أمين، الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
ومعه بأعلى الصفحات: «الدر المختار شرح تنوير الأبصار» في فقه مذهب الإمام أبي حنيفة، للحصكفي [ت 1088 هـ]
وبآخر الكتاب: «تكملة حاشية ابن عابدين» لنجل ابن عابدين [ت 1306 هـ، وهي منشورة بالشاملة على حدة، عن طبعة مغايرة]
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1386 هـ - 1966 م [وصَوّرَتْها دار الفكر - بيروت، وانتشرت في النسخ الإلكترونية منسوبة إلى دار الفكر]
عدد الأجزاء: 6 (وتكملته 7 - 8)
[تنبيهات]:
1 - وُضع «الدر المختار» للحصكفي بأعلى الصفحات، يليه مفصولا بفاصل «حاشية ابن عابدين» عليه
2 - لدار الفكر بيروت طبعةٌ لاحقة أعادوا فيها صف الكتاب بحرف جديد وتوزيع صفحات مختلف
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাশিয়া ইবনে আবিদীন = রদ্দুল মুহতার - আল-হালাবী সংস্করণ বিভাগ: হানাফী ফিকহ
বই: আদ-দুররুল মুখতারের ওপর হাশিয়া রদ্দুল মুহতার
লেখক: মুহাম্মদ আমীন, যিনি ইবনে আবিদীন নামে পরিচিত [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
এবং এর সাথে পৃষ্ঠার উপরিভাগে রয়েছে: ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের ফিকহ বিষয়ক হাসকাফী [মৃত্যু ১০৮৮ হিজরি] রচিত «আদ-দুররুল মুখতার শারহু তানবীরিল আবসার»
বইয়ের শেষে রয়েছে: ইবনে আবিদীনের পুত্রের «তাকমিলাতু হাশিয়া ইবনে আবিদীন» [মৃত্যু ১৩০৬ হিজরি, যা একটি ভিন্ন সংস্করণ থেকে মাকতাবাতুশ শামেলায় স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে]
প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী এন্ড সন্স লাইব্রেরি এন্ড প্রিন্টিং কোম্পানি, মিসর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ [এবং দারুল ফিকর - বৈরুত এটি পুনঃমুদ্রণ করেছে, যা ইলেকট্রনিক কপিগুলোতে দারুল ফিকরের নামে প্রচারিত হয়েছে]
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (এবং এর পরিশিষ্ট ৭ - ৮)
[সতর্কবার্তা]:
১ - পৃষ্ঠার উপরের অংশে হাসকাফী রহ.-এর «আদ-দুররুল মুখতার» রাখা হয়েছে, এরপর একটি বিভাজকের মাধ্যমে এর ওপর «হাশিয়া ইবনে আবিদীন» যুক্ত করা হয়েছে
২ - দারুল ফিকর বৈরুতের একটি পরবর্তী সংস্করণ রয়েছে যাতে তারা নতুন হরফ এবং ভিন্ন পৃষ্ঠা বিন্যাসে বইটি পুনরায় বিন্যস্ত করেছে
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
[مُقَدِّمَة]بسم الله الرحمن الرحيم
ــ
[رد المحتار] قَوْلُهُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) أَبْتَدِئُ بِهَا عَمَلًا بِالْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ فِي ذَلِكَ وَالْإِشْكَالُ فِي تَعَارُضِ رِوَايَاتِ الِابْتِدَاءِ بِالْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ مَشْهُورٌ وَكَذَا التَّوْفِيقُ بَيْنَهَا بِحَمْلِ الِابْتِدَاءِ عَلَى الْعُرْفِيِّ أَوْ الْإِضَافِيِّ وَكَذَا مَا أَوْرَدَ مِنْ الْأَذَانِ وَنَحْوِهِ مِمَّا لَمْ يَبْدَأْ بِهِمَا فِيهِ. وَالْجَوَابُ عَنْهُ بِأَنَّ الْمُرَادَ فِي الرِّوَايَاتِ كُلِّهَا الِابْتِدَاءُ بِإِحْدَاهُمَا أَوْ بِمَا يَقُومُ مَقَامَهُ، أَوْ يُحْمَلُ الْمُقَيَّدُ عَلَى الْمُطْلَقِ، وَهُوَ رِوَايَةُ " بِذِكْرِ اللَّهِ " عِنْدَ مَنْ جَوَّزَ ذَلِكَ، ثُمَّ الْبَاءُ لَفْظٌ خَاصٌّ حَقِيقَةٌ فِي الْإِلْصَاقِ مَجَازٌ فِي غَيْرِهِ مِنْ الْمَعَانِي لَا مُشْتَرَكَ بَيْنَهَا لِتَرَجُّحِ الْمَجَازِ عَلَى الِاشْتِرَاكِ مَوْضُوعٌ بِالْوَضْعِ الْعَامِّ لِلْمَوْضُوعِ لَهُ الْخَاصِّ عِنْدَ الْعَضُدِ وَغَيْرِهِ: أَيْ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الْمُشَخَّصَاتِ الْجُزْئِيَّةِ الْمَلْحُوظَةِ بِأَمْرٍ كُلِّيٍّ، وَهُوَ مُطْلَقُ الْإِلْصَاقِ بِحَيْثُ لَا يُفْهَمُ مِنْهُ إلَّا وَاحِدٌ بِخُصُوصِهِ. وَالْإِلْصَاقُ تَعْلِيقُ شَيْءٍ بِشَيْءٍ وَإِيصَالُهُ بِهِ، فَيَصْدُقُ بِالِاسْتِعَانَةِ وَالسَّبَبِيَّةِ لِإِلْصَاقِك الْكِتَابَةَ بِالْقَلَمِ وَبِسَبَبِهِ كَمَا فِي التَّحْرِيرِ. وَلَمَّا كَانَ مَدْلُولُ الْحَرْفِ مَعْنًى حَاصِلًا فِي غَيْرِهِ لَا يَتَعَقَّلُ ذِهْنًا وَلَا خَارِجًا إلَّا بِمُتَعَلِّقِهِ اُشْتُرِطَ لَهُ الْمُتَعَلِّقُ الْمَعْنَوِيُّ وَهُوَ الْإِلْصَاقُ؛ وَالنَّحْوِيُّ وَهُوَ هُنَا مَا جُعِلَتْ التَّسْمِيَةُ مَبْدَأً لَهُ، فَيُفِيدُ تَلَبُّسَ الْفَاعِلِ بِالْفِعْلِ حَالَ الْإِلْصَاقِ، وَالْمُرَادُ الْإِلْصَاقُ عَلَى سَبِيلِ التَّبَرُّكِ وَالِاسْتِعَانَةِ. وَالْأَوْلَى تَقْدِيرُ الْمُتَعَلِّقِ مُؤَخَّرًا لِيُفِيدَ قَصْدَ الِاهْتِمَامِ بِاسْمِهِ تَعَالَى، رَدًّا عَلَى الْمُشْرِكِ الْمُبْتَدِئِ بِاسْمِ آلِهَتِهِ اهْتِمَامًا بِهَا لَا لِلِاخْتِصَاصِ، لِأَنَّ الْمُشْرِكَ لَا يَنْفِي التَّبَرُّكَ بِاسْمِهِ تَعَالَى، وَلِيُفِيدَ اخْتِصَاصَ ذَلِكَ بِاسْمِهِ تَعَالَى رَدًّا عَلَى الْمُشْرِكِ أَيْضًا وَإِظْهَارًا لِلتَّوْحِيدِ، فَيَكُونُ قَصْرَ إفْرَادٍ؛ وَإِنَّمَا قُدِّمَ فِي قَوْله تَعَالَى - {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1]- لِأَنَّ الْعِنَايَةَ بِالْقِرَاءَةِ أَوْلَى بِالِاعْتِبَارِ، لِيَحْصُلَ مَا هُوَ الْمَقْصُودُ مِنْ طَلَبِ أَصْلِ الْقِرَاءَةِ، إذْ لَوْ أَخَّرَ لَأَفَادَ أَنَّ الْمَطْلُوبَ كَوْنُ الْقِرَاءَةِ مُفْتَتَحَةً بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى لَا بِاسْمِ غَيْرِهِ، ثُمَّ هَذِهِ الْجُمْلَةُ خَبَرِيَّةٌ لَفْظًا وَهَلْ هِيَ كَذَلِكَ مَعْنًى أَوْ إنْشَائِيَّةٌ مَعْنًى؟ ظَاهِرُ كَلَامِ السَّيِّدِ الثَّانِي، وَالْمَقْصُودُ إظْهَارُ إنْشَاءِ التَّبَرُّكِ بِاسْمِهِ تَعَالَى وَحْدَهُ رَدًّا عَلَى الْمُخَالِفِ إمَّا عَلَى طَرِيقِ النَّقْلِ الشَّرْعِيِّ كَبِعْتُ وَاشْتَرَيْتُ، أَوْ عَلَى إرَادَةِ اللَّازِمِ كَ {رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَى} [آل عمران: 36] فَإِنَّ الْمَقْصُودَ بِهَا إظْهَارُ التَّحَسُّرِ لَا الْإِخْبَارُ بِمَضْمُونِهَا، وَهَلْ تَخْرُجُ بِذَلِكَ الْجُمْلَةُ الْخَبَرِيَّةُ عَنْ الْإِخْبَارِ أَوْ لَا؟ ذَهَبَ الزَّمَخْشَرِيّ إلَى الْأَوَّلِ وَعَبْدُ الْقَاهِرِ إلَى الثَّانِي وَسَيَأْتِي فِي الْحَمْدَلَةِ لِذَلِكَ مَزِيدُ بَيَانٍ. وَأَوْرَدَ أَنَّهَا لَوْ كَانَتْ إنْشَائِيَّةً لَمَا تَحَقَّقَ مَدْلُولُهَا خَارِجًا بِدُونِهَا، وَالتَّالِي بَاطِلٌ فَالْمُقَدَّمُ مِثْلُهُ، إذْ السَّفَرُ وَالْأَكْلُ وَنَحْوُهُمَا مِمَّا لَيْسَ بِقَوْلٍ لَا يَحْصُلُ بِالْبَسْمَلَةِ. وَأُجِيبَ بِأَنَّهَا إذَا كَانَتْ لِإِنْشَاءِ إظْهَارِ التَّبَرُّكِ أَوْ الِاسْتِعَانَةِ بِاسْمِهِ تَعَالَى وَحْدَهُ عَلَى مَا قُلْنَا فَلَا شَكَّ أَنَّهُ إنَّمَا تَحَقَّقَ بِهَا؛ كَمَا أَنَّ إظْهَارَ التَّحَزُّنِ وَالتَّحَسُّرِ إنَّمَا تَحَقَّقَ بِذَلِكَ اللَّفْظِ، فَإِنَّ الْإِنْشَاءَ قِسْمَانِ: مِنْهُ مَا لَا يَتَحَقَّقُ مَدْلُولُهُ الْوَضْعِيُّ بِدُونِ لَفْظِهِ، وَمِنْهُ مَا لَا يَتَحَقَّقُ مَدْلُولُهُ الِالْتِزَامِيُّ بِدُونِهِ، وَمَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ قَبِيلِ الثَّانِي. ثُمَّ إنَّ الْمُرَادَ بِالِاسْمِ هُنَا مَا قَابَلَ الْكُنْيَةَ وَاللَّقَبَ فَيَشْمَلُ الصِّفَاتِ حَقِيقِيَّةً، أَوْ إضَافِيَّةً أَوْ سَلْبِيَّةً فَيَدُلُّ عَلَى أَنَّ التَّبَرُّكَ وَالِاسْتِعَانَةَ بِجَمِيعِ أَسْمَائِهِ تَعَالَى. وَاَللَّهُ عَلَمٌ عَلَى الذَّاتِ الْعَلِيَّةِ الْمُسْتَجْمِعَةِ لِلصِّفَاتِ الْحَمِيدَةِ كَمَا قَالَهُ السَّعْدُ وَغَيْرُهُ، أَوْ الْمَخْصُوصَةِ: أَيْ بِلَا اعْتِبَارِ صِفَةٍ أَصْلًا كَمَا قَالَهُ الْعِصَامُ. قَالَ السَّيِّدُ الشَّرِيفُ: كَمَا تَاهَتْ الْعُقُولُ فِي ذَاتِهِ وَصِفَاتِهِ لِاحْتِجَابِهَا بِنُورِ الْعَظَمَةِ تَحَيَّرَتْ أَيْضًا فِي اللَّفْظَةِ الدَّالَّةِ عَلَى الذَّاتِ، كَأَنَّهُ انْعَكَسَ إلَيْهَا مِنْ تِلْكَ الْأَنْوَارِ أَشِعَّةٌ فَبَهَرَتْ أَعْيُنَ الْمُسْتَبْصِرِينَ،
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
--
[রাদ্দুল মুহতার] লেখকের উক্তি: (বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম) আমি এর মাধ্যমে শুরু করছি এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের ওপর আমল করার লক্ষ্যে। বিসমিল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা প্রারম্ভ করার বর্ণনাসমূহের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ আপত্তির বিষয়টি সুবিদিত; অনুরূপভাবে সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টিও প্রসিদ্ধ, যা প্রারম্ভকে প্রথাগত বা আপেক্ষিক অর্থে গ্রহণ করার মাধ্যমে করা হয়। তেমনিভাবে আযান এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয় যেখানে এই দুটি দ্বারা শুরু করা হয়নি, সেই আপত্তিও সুপরিচিত। এর উত্তর হলো, সকল বর্ণনাতেই উদ্দেশ্য হলো এই দুটির কোনো একটি অথবা এর স্থলাভিষিক্ত কোনো কিছু দিয়ে শুরু করা। অথবা 'মুকাইয়াদ' (শর্তযুক্ত)-কে 'মুতলাক' (শর্তহীন)-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর তা হলো "আল্লাহর যিকির"-এর বর্ণনা, তাদের মতে যারা এটি বৈধ মনে করেন। এরপর [বিসমিল্লাহর] 'বা' (ب) বর্ণটি একটি বিশেষ শব্দ যা আভিধানিকভাবে 'সংলগ্ন করা' (ইলসাক) অর্থে প্রকৃত এবং অন্যান্য অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এই অর্থগুলোর মাঝে কোনো সমার্থকতা নেই, কারণ সমার্থকতার চেয়ে রূপক হওয়া প্রাধান্যযোগ্য। এটি আল-আদুদ এবং অন্যান্যদের মতে 'ওয়াযে আম' (সাধারণ প্রয়োগ) কিন্তু 'মাওযু লাহু খাস' (বিশেষ অর্থ)-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, একটি সামগ্রিক বিষয়ের মাধ্যমে লক্ষ্য করা প্রতিটি আংশিক ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য এটি নির্ধারিত, যা হলো নিরঙ্কুশ সংলগ্নতা, যার ফলে সুনির্দিষ্ট একটি বিষয় ছাড়া আর কিছুই বোঝা যায় না। আর 'ইলসাক' হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করা বা এর সাথে মিলিয়ে দেওয়া; সুতরাং সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিয়ানা) এবং কারণ (সাবাবিয়্যাত) হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হয়, যেমন আপনার লেখাকে কলমের সাথে এবং কলমের মাধ্যমে সংলগ্ন করা, যা 'আত-তাহরীর' গ্রন্থে রয়েছে। আর যেহেতু হরফ বা অব্যয়ের অর্থ অন্য কিছুর মধ্যে অর্জিত হয় এবং এটি তার সম্পৃক্ত শব্দ (মুতাআল্লাক) ছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বা বাহ্যিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়, তাই এর জন্য একটি অর্থগত সম্পৃক্ততা শর্ত করা হয়েছে—যা হলো সংলগ্নতা—এবং একটি ব্যাকরণগত সম্পৃক্ততা, যা এখানে হলো সেই বিষয় যার জন্য 'তাসমিয়া' বা বিসমিল্লাহ পাঠকে প্রারম্ভ বানানো হয়েছে। এটি সংলগ্ন থাকাকালীন ক্রিয়ার সাথে কর্তার সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ প্রদান করে। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো বরকত অর্জন এবং সাহায্য প্রার্থনার উদ্দেশ্যে সংলগ্ন হওয়া। আল্লাহ তাআলার নামের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে 'মুতাআল্লাক' (ক্রিয়াটি)-কে উহ্য এবং শেষে ধরা উত্তম, যাতে মুশরিকদের প্রতিবাদ হয় যারা তাদের উপাস্যদের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের জন্য তাদের উপাস্যদের নাম দিয়ে শুরু করত—একান্ত নির্দিষ্টকরণের জন্য নয়, কারণ মুশরিকরা আল্লাহ তাআলার নামের বরকতকে অস্বীকার করে না। তদুপরি এটি আল্লাহ তাআলার নামের সাথে বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করার অর্থ প্রদান করে, যা মুশরিকদের প্রতিবাদ এবং তাওহীদ প্রকাশের উদ্দেশ্যে হয়; ফলে এটি হবে 'কাসরে ইফরাদ' (একক নির্দিষ্টকরণ)। আর আল্লাহ তাআলার বাণী—{পাঠ করুন আপনার রবের নামে} [আলাক: ১]—এ শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ সেখানে পাঠ করার প্রতি মনোনিবেশ করাই অধিকতর বিবেচ্য, যাতে মূল পাঠের আবেদনের উদ্দেশ্য হাসিল হয়। কেননা যদি শব্দটিকে পরে আনা হতো, তবে অর্থ হতো যে উদ্দেশ্য হলো পাঠের শুরুটা আল্লাহর নামে হওয়া, অন্যের নামে নয়। এরপর, এই বাক্যটি শব্দগতভাবে বর্ণনামূলক, কিন্তু এটি কি অর্থগতভাবেও বর্ণনামূলক নাকি অনুষ্ঠানবাচক? সাইয়্যিদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে দ্বিতীয়টিই প্রতীয়মান হয়। উদ্দেশ্য হলো বিরোধীদের প্রতিবাদে কেবল আল্লাহ তাআলার নামেই বরকত অর্জনের বিষয়টি অনুষ্ঠানবাচকভাবে প্রকাশ করা; হয় শরয়ী স্থানান্তরের পদ্ধতিতে যেমন 'আমি বিক্রি করলাম' এবং 'আমি ক্রয় করলাম' শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে হয়, অথবা অনিবার্য অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে যেমন—{হে আমার রব! আমি একে কন্যা সন্তান হিসেবে প্রসব করেছি} [আল-ইমরান: ৩৬]। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো আক্ষেপ প্রকাশ করা, এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া নয়। আর এর মাধ্যমে কি বর্ণনামূলক বাক্যটি বর্ণনা থেকে বেরিয়ে যায় কি না? যামাখশারী প্রথম মতের দিকে এবং আব্দুল কাহের দ্বিতীয় মতের দিকে গিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহর আলোচনায় এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে। আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এটি যদি অনুষ্ঠানবাচক হতো তবে এটি ছাড়া বাহ্যিকভাবে এর অর্থ বাস্তবায়িত হতো না, কিন্তু এর পরবর্তী বিষয়টি তো বাতিল, সুতরাং মূল দাবিটিও তদ্রূপ; কারণ সফর, আহার এবং তদ্রূপ কাজ যা কথা নয়, তা তো বিসমিল্লাহর মাধ্যমে অর্জিত হয় না। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, যদি এটি আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার নামের মাধ্যমে কেবল বরকত বা সাহায্য প্রার্থনা প্রকাশের জন্য অনুষ্ঠানবাচক হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে; যেমনটি শোক বা আক্ষেপ প্রকাশ সেই বিশেষ শব্দের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। কেননা অনুষ্ঠানবাচক বাক্য দুই প্রকার: যার আভিধানিক অর্থ তার শব্দ ছাড়া অর্জিত হয় না এবং যার অনিবার্য (ইলতিযামী) অর্থ তা ছাড়া অর্জিত হয় না। আমরা এখানে যা আলোচনা করছি তা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এরপর, এখানে 'নাম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা উপনাম এবং উপাধির বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি আল্লাহর সত্তাগত, আপেক্ষিক বা নেতিবাচক সকল গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি প্রমাণ করে যে বরকত অর্জন এবং সাহায্য প্রার্থনা আল্লাহ তাআলার সকল নামের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর 'আল্লাহ' শব্দটি সেই মহান সত্তার নাম যা সমস্ত প্রশংসিত গুণের আধার, যেমনটি আস-সাদ এবং অন্যরা বলেছেন; অথবা সেই নির্দিষ্ট সত্তার নাম যেখানে কোনো গুণের বিবেচনা ছাড়াই কেবল সত্তাকে বোঝানো হয়, যেমনটি আল-ইসাম বলেছেন। সাইয়্যিদ শরীফ বলেন: "আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের নূরের কারণে তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর বিষয়ে মানুষের বুদ্ধি যেমন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তেমনি সত্তার নির্দেশক এই শব্দটির ক্ষেত্রেও তারা বিস্ময়াভিভূত হয়; মনে হয় যেন সেই নূরসমূহ থেকে বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটা এই শব্দের ওপর প্রতিফলিত হয়েছে, যা জ্ঞানান্বেষীদের দৃষ্টিকে ধাঁধিয়ে দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
حَمْدًا
ــ
[رد المحتار] فَاخْتَلَفُوا أَسُرْيَانِيٌّ هُوَ أَمْ عَرَبِيٌّ؟ اسْمٌ أَوْ صِفَةٌ؟ مُشْتَقٌّ؟ أَوْ عَلَمٌ أَوْ غَيْرُ عَلَمٍ؟ . وَالْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهُ عَرَبِيٌّ عَلَمٌ مُرْتَجَلٌ مِنْ غَيْرِ اعْتِبَارِ أَصْلٍ مِنْهُ، وَمِنْهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ وَالشَّافِعِيُّ وَالْخَلِيلُ. وَرَوَى هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ، وَبِهِ قَالَ الطَّحَاوِيُّ وَكَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَأَكْثَرُ الْعَارِفِينَ حَتَّى أَنَّهُ لَا ذِكْرَ عِنْدَهُمْ لِصَاحِبِ مَقَامٍ فَوْقَ الذِّكْرِ بِهِ كَمَا فِي شَرْحِ التَّحْرِيرِ لِابْنِ أَمِيرِ حَاجٍّ. وَالرَّحْمَنُ لَفْظٌ عَرَبِيٌّ، وَقِيلَ مُعَرَّبٌ عَنْ (رَخْمَانِ) بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ لِإِنْكَارِ الْعَرَبِ حِينَ سَمِعُوهُ. وَرُدَّ بِأَنَّ إنْكَارَهُمْ لَهُ لِتَوَهُّمِهِمْ أَنَّهُ غَيْرُهُ تَعَالَى فِي قَوْله تَعَالَى - {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ} [الإسراء: 110]- وَذَهَبَ الْأَعْلَمُ إلَى أَنَّهُ عَلَمٌ كَالْجَلَالَةِ لِاخْتِصَاصِهِ بِهِ تَعَالَى وَعَدَمِ إطْلَاقِهِ عَلَى غَيْرِهِ تَعَالَى مُعَرَّفًا وَمُنَكَّرًا، وَأَمَّا قَوْلُهُ: فِي مُسَيْلِمَةَ.
وَأَنْتَ غَيْثُ الْوَرَى لَا زِلْتَ رَحْمَانَا
… فَمِنْ تَعَنُّتِهِ وَغُلُوِّهِ فِي الْكُفْرِ
وَاخْتَارَهُ فِي الْمُغْنِي. قَالَ السُّبْكِيُّ: وَالْحَقُّ أَنَّ الْمَنْعَ شَرْعِيٌّ لَا لُغَوِيٌّ، وَأَنَّ الْمَخْصُوصَ بِهِ تَعَالَى الْمُعَرَّفُ. وَالْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهُ صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ، وَقِيلَ صِيغَةُ مُبَالَغَةٍ، لِأَنَّ الزِّيَادَةَ فِي اللَّفْظِ لَا تَكُونُ إلَّا لِزِيَادَةِ الْمَعْنَى وَإِلَّا كَانَتْ عَبَثًا، وَقَدْ زِيدَ فِيهِ حَرْفٌ عَلَى الرَّحِيمِ وَهُوَ يُفِيدُ الْمُبَالَغَةَ بِصِيغَتِهِ، فَدَلَّتْ زِيَادَتُهُ عَلَى زِيَادَتِهِ عَلَيْهِ فِي الْمَعْنَى كَمًّا، لِأَنَّ الرَّحْمَانِيَّةَ تَعُمُّ الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ، وَالرَّحِيمِيَّةَ تَخُصُّ الْمُؤْمِنَ، أَوْ كَيْفًا لِأَنَّ الرَّحْمَنَ الْمُنْعِمُ بِجَلَائِل النِّعَمِ، وَالرَّحِيمَ الْمُنْعِمُ بِدَقَائِقِهَا. وَالظَّاهِرُ أَنَّ الْوَصْفَ بِهِمَا لِلْمَدْحِ، فِيهِ إشَارَةٌ إلَى لَمِّيَّةِ الْحُكْمِ أَيْ إنَّمَا افْتَتَحَ كِتَابَهُ بِاسْمِهِ تَعَالَى مُتَبَرِّكًا مُسْتَعِينًا بِهِ لِأَنَّهُ الْمُفِيضُ لِلنِّعَمِ كُلِّهَا، وَكُلُّ مَنْ شَأْنُهُ ذَلِكَ لَا يُفْتَتَحُ إلَّا بِاسْمِهِ وَهَلْ وَصْفُهُ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ حَقِيقَةً أَوْ مَجَازًا عَنْ الْإِنْعَامِ أَوْ عَنْ إرَادَتِهِ لِأَنَّهَا مِنْ الْأَعْرَاضِ النَّفْسَانِيَّةِ الْمُسْتَحِيلَةِ عَلَيْهِ تَعَالَى فَيُرَادُ غَايَتُهَا؟ الْمَشْهُورُ الثَّانِي. وَالتَّحْقِيقُ الْأَوَّلُ، لِأَنَّ الرَّحْمَةَ الَّتِي هِيَ مِنْ الْأَعْرَاضِ هِيَ الْقَائِمَةُ بِنَا، وَلَا يَلْزَمُ كَوْنُهَا فِي حَقِّهِ تَعَالَى كَذَلِكَ حَتَّى تَكُونَ مَجَازًا كَالْعِلْمِ وَالْقُدْرَةِ وَالْإِرَادَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ الصِّفَاتِ مَعَانِيهَا الْقَائِمَةُ بِنَا مِنْ الْأَعْرَاضِ، وَلَمْ يَقُلْ أَحَدٌ إنَّهَا فِي حَقِّهِ تَعَالَى مَجَازٌ، وَتَمَامُ تَحْقِيقِهِ مَعَ فَوَائِدَ أُخَرَ فِي حَوَاشِينَا عَلَى شَرْحِ الْمَنَارِ لِلشَّارِحِ (قَوْلُهُ: حَمْدًا) مَفْعُولٌ مُطْلَقٌ لِعَامِلٍ مَحْذُوفٍ وُجُوبًا. وَالْحَمْدُ لُغَةً الْوَصْفُ بِالْجَمِيلِ عَلَى الْجَمِيلِ الِاخْتِيَارِيِّ عَلَى جِهَةِ التَّعْظِيمِ وَالتَّبْجِيلِ. وَعُرْفًا فِعْلٌ يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ بِسَبَبِ إنْعَامِهِ، فَالْأَوَّلُ أَخَصُّ مَوْرِدًا إذْ الْوَصْفُ لَا يَكُونُ إلَّا بِاللِّسَانِ، وَأَعَمُّ مُتَعَلِّقًا لِأَنَّهُ قَدْ يَكُونُ لَا بِمُقَابَلَةِ نِعْمَةٍ وَالثَّانِي بِعَكْسِهِ، فَبَيْنَهَا عُمُومٌ وَجْهِيٌّ وَالشُّكْرُ لُغَةً يُرَادِفُ الْحَمْدَ عُرْفًا. وَعُرْفًا صَرْفُ الْعَبْدِ جَمِيعَ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ إلَى مَا خُلِقَ لِأَجْلِهِ، وَخَرَجَ بِالِاخْتِيَارِ الْمَدْحُ فَإِنَّهُ أَعَمُّ مِنْ الْحَمْدِ لِانْفِرَادِهِ فِي مَدَحْت زَيْدًا عَلَى رَشَاقَةِ قَدِّهِ، وَاللُّؤْلُؤَةَ عَلَى صَفَائِهَا فَبَيْنَهَا عُمُومٌ مُطْلَقٌ. وَذَهَبَ الزَّمَخْشَرِيّ إلَى تَرَادُفِهِمَا لِاشْتِرَاطِهِ فِي الْمَمْدُوحِ عَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ اخْتِيَارِيًّا كَالْمَحْمُودِ عَلَيْهِ، وَنَقَضَ التَّعْرِيفَ جَمْعًا بِخُرُوجِ حَمْدِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى صِفَاتِهِ. وَأُجِيبَ بِأَنَّ الذَّاتَ لَمَّا كَانَتْ كَافِيَةً فِي اقْتِضَاءِ تِلْكَ الصِّفَاتِ جُعِلَتْ بِمَنْزِلَةِ الْأَفْعَالِ الِاخْتِيَارِيَّةِ، وَبِأَنَّهُ لَمَّا كَانَتْ تِلْكَ الصِّفَاتُ مَبْدَأً لِأَفْعَالٍ اخْتِيَارِيَّةٍ كَانَ الْحَمْدُ عَلَيْهَا بِاعْتِبَارِ تِلْكَ الْأَفْعَالِ، فَالْمَحْمُودُ عَلَيْهِ اخْتِيَارِيٌّ بِاعْتِبَارِ الْمَآلِ، أَوْ أَنَّ الْحَمْدَ عَلَيْهَا مَجَازٌ عَنْ الْمَدْحِ.
প্রশংসা
—
[রাদ্দ আল-মুহতার] অতঃপর তারা (ওলামায়ে কেরাম) মতবিরোধ করেছেন যে, এটি কি সুরিয়ানি নাকি আরবি? এটি কি নাম নাকি গুণ? এটি কি অন্য শব্দ থেকে নিষ্পন্ন নাকি মৌলিক কোনো সংজ্ঞা? জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের অভিমত হলো, এটি একটি আরবি শব্দ এবং এর কোনো মূল বিবেচনা ছাড়াই এটি একটি মৌলিক সংজ্ঞা। ইমাম আবু হানিফা, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, শাফেয়ী এবং খলীল (রহ.) এই মত পোষণ করেছেন। হিশাম ইমাম মুহাম্মদ থেকে এবং তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটিই আল্লাহর ইসমে আজম। ইমাম তহাবীসহ অনেক আলেম এবং অধিকাংশ আরিফগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন। এমনকি ইবনে আমির হাজ্জের ‘শারহুত তাহরীর’-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের কাছে এই নামের জিকিরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো জিকির নেই। আর ‘আর-রাহমান’ একটি আরবি শব্দ। তবে কেউ কেউ বলেছেন এটি ‘রাখমান’ (বিন্দুযুক্ত খা সহ) শব্দ থেকে আরবিতে রূপান্তরিত হয়েছে, কারণ আরবরা যখন এটি শুনেছিল তখন তারা এটি অস্বীকার করেছিল। কিন্তু এই দাবিটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, তাদের অস্বীকার করার কারণ ছিল তাদের এই ভুল ধারণা যে এটি আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোনো সত্তা। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী— "বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো" (সূরা বনী ইসরাইল: ১১০)। আল-আলাম (ইমাম শানতামারী) মনে করেন এটি ‘আল্লাহ’ শব্দের ন্যায় একটি সংজ্ঞা, কারণ এটি আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট এবং এটি নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কোনোভাবেই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না। আর মুসায়লিমা (কাজ্জাব) সম্পর্কে যে উক্তি করা হয়েছে— "আপনি সৃষ্টির জন্য বৃষ্টিস্বরূপ, আপনি সর্বদা আমাদের রহমান হয়ে থাকুন"— তা ছিল তার চরম ঔদ্ধত্য এবং কুফরের বাড়াবাড়ির বহিঃপ্রকাশ।
এবং এটি ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে পছন্দ করা হয়েছে। ইমাম সুবকী বলেন, সত্য কথা হলো যে, (অন্যের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার) নিষিদ্ধ হওয়াটা শরয়ী কারণে, ভাষাগত কারণে নয়। আর নির্দিষ্টভাবে আল্লাহ তাআলার জন্যই এটি ব্যবহৃত হয় যখন তা নির্দিষ্ট আকারে থাকে। জমহুর ওলামাদের মতে এটি ‘সিফাতে মুশাব্বাহা’। কেউ কেউ বলেছেন এটি আতিশয্যবোধক শব্দ (সিগায়ে মুবালাগা), কারণ শব্দের বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যই বুঝিয়ে থাকে, অন্যথায় তা নিরর্থক হত। ‘আর-রাহিম’ শব্দের তুলনায় এতে একটি অক্ষর বেশি রয়েছে, যা এর গাঠনিক দিক থেকে আধিক্য প্রদান করে। সুতরাং এর শব্দের আধিক্য অর্থের পরিমাণের আধিক্য প্রমাণ করে, কারণ ‘রাহমানিয়াত’ মুমিন ও কাফের উভয়কে শামিল করে, আর ‘রাহিমিয়াত’ শুধুমাত্র মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট। অথবা এটি গুণের আধিক্য বুঝায়, কেননা ‘রাহমান’ হলেন সেই সত্তা যিনি বড় বড় নেয়ামত দান করেন এবং ‘রাহিম’ হলেন সেই সত্তা যিনি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম নেয়ামত দান করেন। বাহ্যত এই দুই গুণের দ্বারা প্রশংসা উদ্দেশ্য। এতে হুকুমের কারণের (লাম্মিয়াত) প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ, তিনি তাঁর কিতাব আল্লাহ তাআলার নাম দিয়ে শুরু করেছেন বরকত লাভের জন্য এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনার উদ্দেশ্যে। কারণ তিনিই সকল নেয়ামতের প্রবাহ দানকারী। আর যাঁর শান এমন হয়, তাঁর নাম ছাড়া তো শুরু করা যায় না। আল্লাহ তাআলার ‘রহমত’ গুণটি কি প্রকৃত নাকি নেয়ামত দান করা বা তার ইচ্ছা পোষণ করা অর্থে রূপক? কারণ রহমত হলো এক প্রকার মানসিক অবস্থা যা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব, তাই এর ফলাফল উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি প্রসিদ্ধ। তবে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো প্রথমটিই (অর্থাৎ এটি প্রকৃত গুণ)। কারণ যে রহমত একটি মানসিক অবস্থা, তা কেবল আমাদের ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এটি তেমন হওয়া আবশ্যক নয় যে একে রূপক হতে হবে। যেমন ইলম, কুদরত, ইরাদা এবং অন্যান্য গুণসমূহ আমাদের ক্ষেত্রে একেকটি বিশেষ অবস্থা, কিন্তু কেউ বলেনি যে আল্লাহর ক্ষেত্রে এগুলো রূপক। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং আরও কিছু ফায়দা ‘শারহুল মানার’-এর ওপর আমাদের টীকায় রয়েছে। (তাঁর উক্তি: প্রশংসাপূর্বক) এটি একটি আবশ্যকীয় উহ্য আমিলের মাফউলে মুতলাক। শাব্দিক অর্থে ‘হামদ’ হলো মহানুভবতা ও সম্মানের সাথে কারও ঐচ্ছিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি এমন কাজ যা দাতার নেয়ামত প্রদানের কারণে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। প্রথমটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ, কারণ প্রশংসা কেবল জিহ্বার মাধ্যমেই হয়, তবে প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যাপক কারণ তা নেয়ামতের বিনিময়ে বা বিনিময় ছাড়াও হতে পারে। দ্বিতীয়টি এর উল্টো। সুতরাং এই দুটির মধ্যে ‘উমুম খুসুস ওয়াজহি’ সম্পর্ক বিদ্যমান। শাব্দিক অর্থে ‘শুকর’ হলো পারিভাষিক ‘হামদ’-এর সমার্থক। আর পারিভাষিক অর্থে ‘শুকর’ হলো বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতকে সেই কাজে ব্যয় করা যার জন্য তা সৃষ্টি করা হয়েছে। ‘হামদ’-এর সংজ্ঞায় ‘ঐচ্ছিক’ শব্দটির মাধ্যমে ‘মাদহ’ (স্তুতি) পৃথক হয়ে গেছে। কারণ ‘মাদহ’ ‘হামদ’-এর চেয়ে ব্যাপক। যেমন জায়েদের শরীরের কাঠামোর জন্য তার ‘মাদহ’ করা হয় কিংবা মুক্তার স্বচ্ছতার জন্য তার ‘মাদহ’ করা হয়। সুতরাং এদের মধ্যে ‘উমুম খুসুস মুতলাক’ সম্পর্ক। ইমাম জামাখশারি উভয়কে সমার্থক মনে করেন, কারণ তিনি প্রশংসিত বিষয়ের ক্ষেত্রেও ঐচ্ছিক হওয়ার শর্তারোপ করেছেন যেমনটি ‘হামদ’-এর ক্ষেত্রে করা হয়। আর আল্লাহর গুণাবলির ওপর তাঁর প্রশংসাকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সার্বিক সংজ্ঞাকে খণ্ডন করেছেন। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর সত্তাই যেহেতু সেই গুণাবলির দাবিদার হওয়ার জন্য যথেষ্ট, তাই সেগুলোকে ঐচ্ছিক কাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। অথবা যেহেতু সেই গুণাবলিই ঐচ্ছিক কার্যাবলির মূল উৎস, তাই সেই কার্যাবলির বিবেচনায় সেগুলোর ওপর হামদ করা হয়। ফলে চূড়ান্ত বিচারে প্রশংসিত বিষয়টি ঐচ্ছিক হয়ে দাঁড়ায়। অথবা সেগুলোর ওপর হামদ করাটা ‘মাদহ’ অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[رد المحتار] ثُمَّ إنَّ الْمَحْمُودَ عَلَيْهِ وَبِهِ قَدْ يَتَغَايَرَانِ ذَاتًا كَمَا هُنَا، أَوْ اعْتِبَارًا كَمَا إذَا وُصِفَ الشُّجَاعُ بِشَجَاعَتِهِ، فَهِيَ مَحْمُودٌ بِهِ مِنْ حَيْثُ إنَّ الْوَصْفَ كَانَ بِهَا، وَمَحْمُودٌ عَلَيْهِ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا كَانَتْ بَاعِثَةً عَلَى الْحَمْدِ. وَالْحَمْدُ حَيْثُ أُطْلِقَ يَنْصَرِفُ إلَى الْعُرْفِيِّ لِمَا قَالَهُ السَّيِّدُ فِي حَوَاشِي الْمَطَالِعِ: اللَّفْظُ عِنْدَ أَهْلِ الْعُرْفِ حَقِيقَةٌ فِي مَعْنَاهُ الْعُرْفِيِّ، مَجَازٌ فِي غَيْرِهِ. وَعِنْدَ مُحَقِّقِي الصُّوفِيَّةِ حَقِيقَةُ الْحَمْدِ إظْهَارُ صِفَاتِ الْكَمَالِ، وَهُوَ بِالْفِعْلِ أَقْوَى مِنْهُ بِالْقَوْلِ، لِأَنَّ دَلَالَةَ الْأَفْعَالِ عَقْلِيَّةٌ لَا يُتَصَوَّرُ فِيهَا التَّخَلُّفُ، وَدَلَالَةَ الْأَقْوَالِ وَضْعِيَّةٌ يُتَصَوَّرُ فِيهَا ذَلِكَ، وَمِنْ هَذَا الْقَبِيلِ حَمْدُ اللَّهِ تَعَالَى وَثَنَاؤُهُ عَلَى ذَاتِهِ فَإِنَّهُ بَسَطَ بِسَاطَ الْوُجُودِ عَلَى مُمْكِنَاتٍ لَا تُحْصَى، وَوَضَعَ عَلَيْهِ مَوَائِدَ كَرَمِهِ الَّتِي لَا تَتَنَاهَى، فَإِنَّ كُلَّ ذَرَّةٍ مِنْ ذَرَّاتِ الْوُجُودِ تَدُلُّ عَلَيْهَا، وَلَا يُتَصَوَّرُ فِي الْعِبَارَاتِ مِثْلُ هَذِهِ الدَّلَالَاتِ، وَمِنْ ثَمَّ قَالَ عليه الصلاة والسلام «لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْك أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْت عَلَى نَفْسِك» ثُمَّ إنَّ الْحَمْدَ مَصْدَرٌ يَصِحُّ أَنْ يُرَادَ بِهِ مَعْنَى الْمَبْنِيِّ لِلْفَاعِلِ: أَيْ الْحَامِدِيَّةُ، أَوْ الْمَبْنِيَّ لِلْمَفْعُولِ: أَيْ الْمَحْمُودِيَّةُ، أَوْ الْمَعْنَى الْمَصْدَرِيَّ أَوْ الْحَاصِلَ بِالْمَصْدَرِ، وَعَلَى كُلٍّ فَأَلْ فِي قَوْلِنَا الْحَمْدُ لِلَّهِ إمَّا لِلْجِنْسِ أَوْ لِلِاسْتِغْرَاقِ أَوْ لِلْعَهْدِ الذِّهْنِيِّ: أَيْ الْفَرْدُ الْكَامِلُ الْمَعْهُودُ ذِهْنًا، وَهُوَ الْحَمْدُ الْقَدِيمُ، فَهِيَ اثْنَتَا عَشْرَةَ صُورَةً. وَاخْتَارَ فِي الْكَشَّافِ الْجِنْسَ لِأَنَّ الصِّيغَةَ بِجَوْهَرِهَا تَدُلُّ عَلَى اخْتِصَاصِ جِنْسِ الْمَحَامِدِ بِهِ تَعَالَى، وَيَلْزَمُ مِنْهُ اخْتِصَاصُ كُلِّ فَرْدٍ، إذْ لَوْ خَرَجَ فَرْدٌ مِنْهَا لَخَرَجَ الْجِنْسُ تَبَعًا لَهُ لِتَحَقُّقِهِ فِي كُلِّ فَرْدٍ، فَيَكُونُ اخْتِصَاصُ جَمِيعِ الْأَفْرَادِ ثَابِتًا بِطَرِيقٍ بُرْهَانِيٍّ وَهُوَ أَقْوَى مِنْ إثْبَاتِهِ ابْتِدَاءً فَلَا حَاجَةَ فِي تَأْدِيَةِ الْمَقْصُودِ وَهُوَ ثُبُوتُ الْحَمْدِ لَهُ تَعَالَى وَانْتِفَاؤُهُ عَنْ غَيْرِهِ إلَى أَنْ يُلَاحِظَ الشُّمُولَ وَالْإِحَاطَةَ. وَاخْتَارَ غَيْرُهُ الِاسْتِغْرَاقَ، لِأَنَّ الْحُكْمَ عَلَى الْحَقِيقَةِ بِدُونِ اعْتِبَارِ الْأَفْرَادِ قَلِيلٌ فِي الشَّرْعِ؛ وَعَلَى كُلٍّ فَالْحَصْرُ ادِّعَائِيٌّ مَحْمُولٌ عَلَى الْمُبَالَغَةِ تَنْزِيلًا لِحَمْدِ غَيْرِهِ تَعَالَى مَنْزِلَةَ الْعَدَمِ، أَوْ حَقِيقِيٌّ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ رَاجِعٌ إلَيْهِ لِتَمْكِينِهِ تَعَالَى وَإِقْدَارِ الْعَبْدِ عَلَيْهِ. وَقَدْ يُقَالُ: إنَّهُ جَعَلَ الْجِنْسَ فِي الْمَقَامِ الْخَطَّابِيِّ مُنْصَرِفًا إلَى الْكَامِلِ كَأَنَّهُ كُلُّ الْحَقِيقَةِ، فَيَكُونُ مِنْ بَابِ - {ذَلِكَ الْكِتَابُ} [البقرة: 2]- وَالْحَاتِمُ الْجَوَادُ، وَهَلْ الْحَصْرُ بِطَرِيقِ الْمَفْهُومِ أَوْ الْمَنْطُوقِ؟ قِيلَ بِالْمَنْطُوقِ. وَرُدَّ بِأَنَّ أَلْ تَدُلُّ عَلَى الْعُمُومِ وَالشُّمُولِ فَلَيْسَ النَّفْيُ جُزْءَ مَفْهُومِهَا وَإِنْ كَانَ لَازِمًا، وَقِيلَ بِالْمَفْهُومِ لِمَا ذُكِرَ، وَقِيلَ لَا تُفِيدُ الْحَصْرَ وَنُسِبَ لِلْحَنَفِيَّةِ، وَضَعَّفَهُ فِي التَّحْرِيرِ بِأَنَّ كَلَامَهُمْ مَشْحُونٌ بِاعْتِبَارِهِ، وَقَدْ تَكَرَّرَ الِاسْتِدْلَال مِنْهُمْ فِي نَفْيِ الْيَمِينِ عَنْ الْمُدَّعِي بِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «وَالْيَمِينُ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ» قَالَ فِي الْهِدَايَةِ: جَعَلَ جِنْسَ الْأَيْمَانِ عَلَى الْمُنْكِرِينَ وَلَيْسَ وَرَاءَ الْجِنْسِ شَيْءٌ. وَعَلَى كُلٍّ مِنْ الصُّوَرِ الِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ فَلَامُ لِلَّهِ إمَّا لِلْمِلْكِ أَوْ لِلِاسْتِحْقَاقِ أَوْ لِلِاخْتِصَاصِ فَهِيَ سِتٌّ وَثَلَاثُونَ، وَعَلَى الْأَخِيرِ فَهِيَ لِتَأْكِيدِ الِاخْتِصَاصِ الْمُسْتَفَادِ مِنْ أَلْ كَمَا قَالَهُ السَّيِّدُ مِنْ أَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا يَدُلُّ عَلَى اخْتِصَاصِ الْمَحَامِدِ بِهِ تَعَالَى، وَقِيلَ إنَّ الِاخْتِصَاصَ الْمُسْتَفَادَ مِنْ اللَّامِ هُوَ اخْتِصَاصُ الْحَمْدِ بِمَدْخُولِهَا وَأَلْ لِاخْتِصَاصِ ذَلِكَ الِاخْتِصَاصِ بِهِ تَعَالَى، وَتَمَامُهُ فِي شَرْحِ آدَابِ الْبَحْثِ. أَقُولُ: يَظْهَرُ لِي أَنَّ أَلْ لَا تُفِيدُ الِاخْتِصَاصَ أَصْلًا كَمَا مَرَّ مَنْسُوبًا لِلْحَنَفِيَّةِ، وَإِنَّمَا هُوَ مُسْتَفَادٌ مِنْ النِّسْبَةِ أَوْ مِنْ اللَّامِ، لِمَا صَرَّحَ بِهِ فِي التَّلْوِيحِ مِنْ أَنَّ أَلْ لِلتَّعْرِيفِ وَمَعْنَاهُ الْإِشَارَةُ وَالتَّعْيِينُ وَالتَّمْيِيزُ، وَالْإِشَارَةُ إمَّا إلَى حِصَّةٍ مُعَيَّنَةٍ مِنْ الْحَقِيقَةِ وَهُوَ تَعْرِيفُ الْعَهْدِ أَيْ الْخَارِجِيِّ كَجَاءَنِي رَجُلٌ فَأَكْرَمْت الرَّجُلَ، وَإِمَّا إلَى نَفْسِ الْحَقِيقَةِ، وَذَلِكَ قَدْ يَكُونُ بِحَيْثُ لَا يَفْتَقِرُ إلَى اعْتِبَارِ الْأَفْرَادِ، وَهُوَ تَعْرِيفُ الْحَقِيقَةِ وَالْمَاهِيَّةِ، كَ الرَّجُلُ خَيْرٌ مِنْ الْمَرْأَةِ، وَقَدْ يَكُونُ بِحَيْثُ يَفْتَقِرُ إلَيْهِ، وَحِينَئِذٍ إمَّا أَنْ تُوجَدَ قَرِينَةُ الْبَعْضِيَّةِ كَمَا فِي اُدْخُلْ السُّوقَ وَهُوَ الْعَهْدُ الذِّهْنِيُّ،
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[রাদ্দ আল-মুহতার] তারপর, যার কারণে প্রশংসা করা হয় (মাহমুদ আলাইহি) এবং যার মাধ্যমে প্রশংসা করা হয় (মাহমুদ বিহি) তা কখনও সত্তাগতভাবে ভিন্ন হতে পারে যেমনটি এখানে ঘটেছে, অথবা দৃষ্টিভঙ্গিগতভাবে ভিন্ন হতে পারে যেমন যখন একজন সাহসী ব্যক্তিকে তার সাহসিকতার দ্বারা গুণান্বিত করা হয়। সুতরাং এখানে সাহসিকতা হলো 'মাহমুদ বিহি' (যার মাধ্যমে প্রশংসা করা হচ্ছে) এই দিক থেকে যে এটি দিয়ে গুণান্বিত করা হয়েছে, আর এটি 'মাহমুদ আলাইহি' (যার কারণে প্রশংসা করা হচ্ছে) এই দিক থেকে যে এটি প্রশংসার উদ্রেককারী হয়েছে। প্রশংসা (হামদ) যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তখন তা প্রথাগত বা পারিভাষিক (উরফি) অর্থের দিকেই ধাবিত হয়। যেমনটি সাইয়্যেদ 'হাওয়াশি আল-মাতালি' গ্রন্থে বলেছেন: শব্দ প্রথাগত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট তার প্রথাগত অর্থেই প্রকৃত (হাকিকাত), আর অন্য অর্থে রূপক (মাজায)। সূফী গবেষকদের মতে, প্রশংসার প্রকৃত স্বরূপ হলো পূর্ণতার গুণাবলি প্রকাশ করা। আর কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করা বাচনিক প্রকাশের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। কারণ কর্মের প্রমাণ যৌক্তিক (আকলি), যেখানে কোনো বিচ্যুতি কল্পনা করা যায় না, পক্ষান্তরে বাচনিক প্রমাণ পারিভাষিক (ওয়াদয়ি), যেখানে বিচ্যুতির কল্পনা করা সম্ভব। আর এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং তাঁর নিজের সত্তার ওপর তাঁর গুণগান। কারণ তিনি অসংখ্য সম্ভবপর বস্তুর (মুমকিনাত) ওপর অস্তিত্বের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছেন এবং তার ওপর তাঁর অসীম করুণার দস্তরখান স্থাপন করেছেন। কেননা অস্তিত্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু এর ওপর প্রমাণ বহন করে, আর ভাষার অভিব্যক্তিতে এ ধরনের প্রমাণ কল্পনা করা যায় না। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।" অতঃপর, হামদ (প্রশংসা) হলো একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার), যা দ্বারা কর্তৃবাচ্যের অর্থ (প্রশংসাকারিত্ব) অথবা কর্মবাচ্যের অর্থ (প্রশংসিত হওয়া) কিংবা মূল ক্রিয়ামূলের অর্থ অথবা ক্রিয়ামূল থেকে অর্জিত ফল উদ্দেশ্য হওয়া সঠিক। যাই হোক না কেন, আমাদের বাক্য 'আলহামদুলিল্লাহ'-তে 'আলিফ-লাম' (আল) হয় তো 'জিনস' (শ্রেণি), অথবা 'ইসতিগরাক' (সমষ্টি), অথবা 'আহদে যিহনি' (মানসিকভাবে নির্ধারিত)-এর জন্য হতে পারে। যার অর্থ হলো মানসিকভাবে পরিচিত পূর্ণ একক সত্তা, আর তা হলো অনাদি প্রশংসা। এভাবে মোট বারোটি রূপ (সুরত) দাঁড়ায়। কাশশাফ প্রণেতা 'জিনস' বা শ্রেণিকে গ্রহণ করেছেন, কারণ এই শব্দরূপটি মৌলিকভাবে সমস্ত প্রশংসার শ্রেণি আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। আর এটি থেকে প্রশংসার প্রতিটি একক অংশ নির্দিষ্ট হওয়াও অনিবার্য হয়ে যায়। কারণ যদি কোনো একটি একক তা থেকে বেরিয়ে যায়, তবে তার অনুগামী হিসেবে পুরো শ্রেণিটিই বেরিয়ে যাবে, কারণ শ্রেণিটি প্রতিটি এককের মধ্যেই বিদ্যমান। সুতরাং সমস্ত এককের বিশিষ্টতা এখানে অকাট্য দালিলিক পদ্ধতিতে সাব্যস্ত হয়, যা শুরুতেই তা সাব্যস্ত করার চেয়েও শক্তিশালী। অতএব কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার জন্য প্রশংসা সাব্যস্ত হওয়া এবং অন্য কারো থেকে তা নাকচ হওয়া—আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা ও পরিবেষ্টনের (শুমুল ও ইহাতা) প্রতি লক্ষ করার প্রয়োজন পড়ে না। অন্য গবেষকরা 'ইসতিগরাক' বা ব্যাপকতা পছন্দ করেছেন, কারণ এককসমূহ বিবেচনা না করে মূল হাকিকতের ওপর বিধান প্রয়োগ শরিয়তে বিরল। আর যাই হোক, এখানে সীমাবদ্ধতা (হাসর) হয় তো দাবিগত (ইদ্দিয়াঈ), যা আতিশয্য প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত—অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্যের প্রশংসাকে না থাকার সমতুল্য গণ্য করা। অথবা এটি প্রকৃত (হাকিকি), এই বিবেচনায় যে সকল প্রশংসা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়, কারণ তিনিই বান্দাকে সেই সামর্থ্য ও শক্তি দান করেছেন। আরও বলা হয়ে থাকে যে, বক্তৃতার প্রেক্ষাপটে তিনি 'জিনস' বা শ্রেণিকে পূর্ণতার দিকে ধাবিত করেছেন, যেন সেটিই পুরো হাকিকত। ফলে এটি 'সেই কিতাব' (আল-বাকারা: ২) এবং 'হাতেমই হলো দাতা'—এই জাতীয় ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হবে। এখন এই সীমাবদ্ধতা কি মাফহুম (ভাবার্থ) দ্বারা সাব্যস্ত নাকি মানতুক (সুস্পষ্ট শব্দ) দ্বারা? বলা হয়েছে, মানতুক দ্বারা। তবে তা খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, 'আলিফ-লাম' ব্যাপকতা ও শামিল হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়, সুতরাং নেতিবাচকতা (নফি) তার অর্থের অংশ নয় যদিও তা অনিবার্য (লাযেম)। আবার বলা হয়েছে, পূর্বোক্ত কারণে এটি মাফহুম দ্বারা সাব্যস্ত। কেউ কেউ বলেছেন এটি সীমাবদ্ধতা (হাসর) বোঝায় না, আর এটি হানাফী মাযহাবের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু 'আত-তাহরির' গ্রন্থে এই মতটিকে দুর্বল বলা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, হানাফীদের বক্তব্য এটি বিবেচনার ভিত্তিতেই পরিপূর্ণ। দাবিদারের ওপর শপথ না থাকার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "শপথ তার ওপর যে অস্বীকার করে"—এটি দ্বারা তারা বারবার দলিল পেশ করেছেন। হেদায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি সকল প্রকার শপথকে অস্বীকারকারীদের ওপর ন্যস্ত করেছেন, আর এই শ্রেণির বাইরে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর পূর্বোক্ত বারোটি সুরতের প্রত্যেকটিতে 'লিল্লাহ'-এর 'লাম' হয় তো মালিকানা (মিলক), অথবা যোগ্যতা (ইসতিহকাক), অথবা বিশিষ্টতা (ইখতিসাস)-এর জন্য। এভাবে মোট ছত্রিশটি সুরত হয়। শেষের সুরত অনুযায়ী এটি 'আলিফ-লাম' থেকে প্রাপ্ত বিশিষ্টতাকে আরও তাকিদ বা জোরদার করার জন্য, যেমনটি সাইয়্যেদ বলেছেন যে, তাদের উভয়টিই প্রশংসার সমস্ত ধরন আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। আবার কেউ বলেছেন, 'লাম' থেকে প্রাপ্ত বিশিষ্টতা হলো প্রশংসাকে তার পরবর্তী শব্দের জন্য নির্দিষ্ট করা, আর 'আলিফ-লাম' হলো সেই নির্দিষ্টকরণকে আল্লাহ তাআলার জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করার জন্য। এর বিস্তারিত আলোচনা 'শরহু আদাবিল বাহাস' গ্রন্থে রয়েছে। আমি বলি: আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, 'আলিফ-লাম' আসলে কোনো বিশিষ্টতা (ইখতিসাস) প্রদান করে না, যেমনটি হানাফীদের দিকে সম্পৃক্ত করে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং এটি সম্পর্ক (নিসবত) অথবা 'লাম' থেকে বোঝা যায়। কারণ 'তাতবিহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, 'আলিফ-লাম' হলো পরিচয় প্রদানের (তারিফ) জন্য, আর এর অর্থ হলো ইঙ্গিত করা, নির্ধারণ করা এবং পার্থক্য করা। এই ইঙ্গিত হয় তো হাকিকতের কোনো নির্দিষ্ট অংশের দিকে, যাকে 'আহদে খারিজি' বা বাহ্যিক পরিচিতি বলা হয় (যেমন: 'আমার কাছে একজন লোক এলো, অতঃপর আমি লোকটিকে সম্মান করলাম')। অথবা তা স্বয়ং হাকিকতের দিকে, যা কখনও এককগুলোর বিবেচনার মুখাপেক্ষী হয় না, একে হাকিকত বা মাহিয়াতের পরিচয় বলা হয় (যেমন: 'পুরুষ নারীর চেয়ে উত্তম')। আবার কখনও এটি এককের বিবেচনার মুখাপেক্ষী হয়, এমতাবস্থায় যদি আংশিকতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় তবে তাকে 'আহদে যিহনি' বা মানসিক পরিচিতি বলা হয় (যেমন: 'বাজারে প্রবেশ করো')।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[رد المحتار] أَوْ لَا وَهُوَ الِاسْتِغْرَاقُ كَ {إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ} [العصر: 2] احْتِرَازًا عَنْ تَرْجِيحِ بَعْضِ الْمُتَسَاوِيَاتِ بِلَا مُرَجِّحٍ. فَالْعَهْدُ الذِّهْنِيُّ وَالِاسْتِغْرَاقُ مِنْ فُرُوعِ الْحَقِيقَةِ، وَلِهَذَا ذَهَبَ الْمُحَقِّقُونَ إلَى أَنَّ اللَّامَ لِتَعْرِيفِ الْعَهْدِ أَوْ الْحَقِيقَةِ لَا غَيْرُ إلَّا أَنَّ الْقَوْمَ أَخَذُوا بِالْحَاصِلِ وَجَعَلُوهُ أَرْبَعَةَ أَقْسَامٍ اهـ مُوَضَّحًا فَهَذِهِ مَعَانِي أَلْ؛ فَإِذَا كَانَ مَدْخُولُهَا مَوْضُوعًا وَحُمِلَ عَلَيْهِ مَقْرُونٌ بِاللَّامِ الَّتِي هِيَ لِلِاخْتِصَاصِ أَفَادَتْ اللَّامُ أَنَّ الْجِنْسَ أَوْ الْمَعْهُودَ مُخْتَصٌّ بِمَدْخُولِهَا وَإِنْ كَانَ الْمَحْمُولُ غَيْرَ مَقْرُونٍ بِهَا، فَإِنْ كَانَ فِي الْجُمْلَةِ مَا يُفِيدُ الِاخْتِصَاصَ كَتَعْرِيفِ الطَّرَفَيْنِ وَنَحْوِهِ فِيهَا. وَإِلَّا فَإِنْ كَانَتْ أَلْ لِلْجِنْسِ وَالْمَاهِيَّةِ فَنَفْسُ النِّسْبَةِ تُفِيدُ الِاخْتِصَاصَ، إذْ لَوْ خَرَجَ فَرْدٌ مِنْ أَفْرَادِ الْمَوْضُوعِ لَمْ تَصْدُقْ النِّسْبَةُ لِخُرُوجِ الْجِنْسِ مَعَهُ كَمَا مَرَّ فِي كَلَامِ الْكَشَّافِ، وَلِذَا قَالَ فِي الْهِدَايَةِ وَلَيْسَ وَرَاءَ الْجِنْسِ شَيْءٌ. وَالْحَاصِلُ أَنَّ الِاخْتِصَاصَ مُسْتَفَادٌ مِنْ اللَّامِ الْمَوْضُوعَةِ لَهُ أَوْ مِنْ النِّسْبَةِ، لَكِنْ إذَا كَانَتْ أَلْ لِلْجِنْسِ وَالْمَاهِيَّةِ كَمَا فِي حَدِيثِ «وَالْيَمِينُ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ» أَمَّا إذَا كَانَتْ أَلْ لِلِاسْتِغْرَاقِ وَلَمْ يَقْتَرِنْ الْمَحْمُولُ فَاللَّامُ الِاخْتِصَاصِ وَنَحْوِهَا، كَقَوْلِك الرَّجُلُ يَأْكُلُ الرَّغِيفَ فَلَا اخْتِصَاصَ أَصْلًا، هَذَا مَا ظَهَرَ لِفَهْمِي الْقَاصِرِ فَتَدَبَّرْهُ، وَبِهِ انْدَفَعَ مَا فِي التَّحْرِيرِ مِنْ التَّضْعِيفِ، وَإِذَا جُعِلَتْ اللَّامُ لِلْمِلْكِ أَوْ الِاسْتِحْقَاقِ فَلَا اخْتِصَاصَ وَإِنْ قُلْنَا إنَّ أَلْ تُفِيدُهُ، لِأَنَّ اخْتِصَاصَ مِلْكِ الْحَمْدِ أَوْ اسْتِحْقَاقَهُ بِمَدْخُولِ اللَّامِ لَا يُنَافِي ثُبُوتَ الْحَمْدِ لِآخَرَ لَا بِطَرِيقِ الْمِلْكِ أَوْ الِاسْتِحْقَاقِ تَأَمَّلْ. ثُمَّ هَذِهِ الْجُمْلَةُ تَحْتَمِلُ الْخَبَرِيَّةَ وَيَصْدُقُ عَلَيْهَا التَّعْرِيفُ لِأَنَّ الْإِخْبَارَ بِالْحَمْدِ وَصْفٌ بِالْجَمِيلِ إلَخْ أَوْ فِعْلٌ يُنْبِئُ إلَخْ، وَإِذَا كَانَتْ أَلْ فِيهَا لِلْجِنْسِ فَالْقَضِيَّةُ مُهْمَلَةٌ أَوْ لِلِاسْتِغْرَاقِ فَكُلِّيَّةٌ أَوْ لِلْعَهْدِ الذِّهْنِيِّ فَجُزْئِيَّةٌ؛ وَلَوْ صَحَّ جَعْلُهَا لِلْعَهْدِ الْخَارِجِيِّ فَشَخْصِيَّةٌ. وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَ مَنْقُولَةً إلَى الْإِنْشَاءِ شَرْعًا أَوْ مَجَازًا عَنْ لَازِمِ مَعْنَاهَا فَالْمَقْصُودُ إيجَادُ الْحَمْدِ بِنَفْسِ الصِّيغَةِ: أَيْ إنْشَاءُ تَعْظِيمِهِ تَعَالَى. وَاخْتَلَفُوا فِي الْجُمْلَةِ الْإِخْبَارِيَّةِ إذَا اُسْتُعْمِلَتْ فِي لَازِمِ مَعْنَاهَا كَالْمَدْحِ وَالثَّنَاءِ وَالْهِجَاءِ، هَلْ تَصِيرُ إنْشَائِيَّةً أَمْ لَا؟ ذَهَبَ الشَّيْخُ عَبْدُ الْقَاهِرِ إلَى الثَّانِي، قَالَ لِئَلَّا يَلْزَمَ إخْلَاءُ الْجُمْلَةِ عَنْ نَوْعِ مَعْنَاهَا، قِيلَ وَلِأَنَّهُ يَلْزَمُ عَلَيْهِ هُنَا انْتِفَاءُ الِاتِّصَافِ بِالْجَمِيلِ قَبْلَ حَمْدِ الْحَامِدِ ضَرُورَةَ أَنَّ الْإِنْشَاءَ يُقَارِنُ لَفْظُهُ مَعْنَاهُ فِي الْوُجُودِ. وَرُدَّ بِأَنَّ اللَّازِمَ انْتِفَاءُ الْوَصْفِ بِالْجَمِيلِ لَا الِاتِّصَافُ، وَالْكَلَامُ فِيهِ
1 -[تَتِمَّةٌ] تَأْتِي الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ فِي كُلٍّ مِنْ الْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ؛ أَمَّا الْبَسْمَلَةُ فَتَجِبُ فِي ابْتِدَاءِ الذَّبْحِ وَرَمْيِ الصَّيْدِ وَالْإِرْسَالِ إلَيْهِ، لَكِنْ يَقُومُ مَقَامَهَا كُلُّ ذِكْرٍ خَالِصٍ. وَفِي بَعْضِ الْكُتُبِ أَنَّهُ لَا يَأْتِي بِالرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لِأَنَّ الذَّبْحَ لَيْسَ بِمُلَائِمٍ لِلرَّحْمَةِ، لَكِنْ فِي الْجَوْهَرَةِ أَنَّهُ لَوْ قَالَ " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنْ الرَّحِيمْ " فَهُوَ حَسَنٌ وَفِي ابْتِدَاءِ الْفَاتِحَةِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ. قِيلَ وَهُوَ قَوْلُ الْأَكْثَرِ، لَكِنَّ الْأَصَحَّ أَنَّهَا سُنَّةٌ، وَتُسَنُّ أَيْضًا فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ وَالْأَكْلِ، وَفِي ابْتِدَاءِ كُلِّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ، وَتَجُوزُ أَوْ تُسْتَحَبُّ فِيمَا بَيْنَ الْفَاتِحَةِ وَالسُّورَةِ عَلَى الْخِلَافِ الْآتِي فِي مَحَلِّهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَتُبَاحُ أَيْضًا فِي ابْتِدَاءِ الْمَشْيِ وَالْقِيَامِ وَالْقُعُودِ. وَتُكْرَهُ عِنْدَ كَشْفِ الْعَوْرَةِ أَوْ مَحَلِّ النَّجَاسَاتِ، وَفِي أَوَّلِ سُورَةِ بَرَاءَةٍ إذَا وَصَلَ قِرَاءَتَهَا بِالْأَنْفَالِ كَمَا قَيَّدَهُ بَعْضُ الْمَشَايِخِ، قِيلَ وَعِنْدَ شُرْبِ الدُّخَانِ أَيْ وَنَحْوِهِ مِنْ كُلِّ ذِي رَائِحَةٍ كَرِيهَةٍ كَأَكْلِ ثُومٍ وَبَصَلٍ. وَتَحْرُمُ عِنْدَ اسْتِعْمَالِ مُحَرَّمٍ، بَلْ فِي الْبَزَّازِيَّةِ وَغَيْرِهَا يَكْفُرُ مَنْ بَسْمَلَ عِنْدَ مُبَاشَرَةِ كُلِّ حَرَامٍ قَطْعِيِّ الْحُرْمَةِ، وَكَذَا تَحْرُمُ عَلَى الْجُنُبِ إنْ لَمْ يَقْصِدْ بِهَا الذِّكْرَ. اهـ. ط مُلَخَّصًا مَعَ بَعْضِ زِيَادَاتٍ. وَأَمَّا الْحَمْدَلَةُ فَتَجِبُ فِي الصَّلَاةِ، وَتُسَنُّ فِي الْخُطَبِ، وَقَبْلَ الدُّعَاءِ وَبَعْدَ الْأَكْلِ، وَتُبَاحُ بِلَا سَبَبٍ، وَتُكْرَهُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[রাদ্দ আল-মুহতার] অথবা না, আর তা হলো ইস্তিগরাক (পরিপূর্ণ ব্যাপ্তি), যেমন {নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে নিমজ্জিত} [সূরা আল-আসর: ২], যা কোনো অগ্রাধিকার দানকারী কারণ ছাড়াই সমান বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য। সুতরাং মানসিক পূর্বোল্লেখ (আহদ যিহনি) এবং ইস্তিগরাক হলো হাকিকত বা প্রকৃত অর্থের শাখা। এই কারণেই গবেষকগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, 'লাম' বর্ণটি কেবল আহদ (পূর্বোল্লেখ) অথবা হাকিকত (প্রকৃত সত্তা) বুঝানোর জন্যই আসে। তবে একদল আলিম ফলাফল বিবেচনা করে একে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন। এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো 'আলিফ-লাম' এর অর্থসমূহ। সুতরাং যখন এর পরবর্তী শব্দটি (মাদখুল) উদ্দেশ্য (মাওজু) হয় এবং তার ওপর এমন 'লাম' যুক্ত শব্দ দ্বারা বিধান দেওয়া হয় যা বৈশিষ্ট্যায়নের (ইখতিসাস) জন্য আসে, তখন সেই 'লাম' এই অর্থ প্রদান করে যে, সেই জাতি (জিনস) বা পরিচিত বিষয়টি তার পরবর্তী শব্দের সাথে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট। যদিও বিধেয় অংশটি (মাহমুল) 'লাম' যুক্ত না হয়। আর যদি বাক্যের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা বৈশিষ্ট্যায়ন বুঝায়, যেমন বাক্যের উভয় অংশকে নির্দিষ্ট (মারিফা) করা বা অনুরূপ কিছু। অন্যথায়, যদি 'আলিফ-লাম' জাতি বা প্রকৃত সত্তা (মাহিয়াত) বুঝানোর জন্য হয়, তবে সেই সম্পর্কটিই (নিসবত) বৈশিষ্ট্যায়ন বা নির্দিষ্টকরণ বুঝাবে। কারণ যদি উদ্দেশ্য বা বিষয়ের (মাওজু) কোনো একটি ব্যক্তি বা একক সেই বিধান থেকে বের হয়ে যায়, তবে সেই সম্পর্কটি আর সঠিক থাকবে না, কারণ তার সাথে সেই জাতিটিও বের হয়ে যাবে, যেমনটি 'কাশশাফ' গ্রন্থের আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে। এই কারণেই 'হিদায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, জাতির বাইরে আর কিছু নেই। সারকথা হলো, বৈশিষ্ট্যায়ন বা বিশেষত্ব সেই 'লাম' থেকে গৃহীত হয় যা এর জন্যই গঠিত, অথবা সেই সম্পর্ক থেকে গৃহীত হয়। তবে এটি তখনই হবে যখন 'আলিফ-লাম' জাতি বা প্রকৃত সত্তা বুঝানোর জন্য হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "আর শপথ তার ওপর বর্তায় যে (দাবি) অস্বীকার করে"। কিন্তু যদি 'আলিফ-লাম' ইস্তিগরাক বা ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য হয় এবং বিধেয় অংশটি (মাহমুল) 'লামে ইখতিসাস' বা অনুরূপ কিছুর সাথে যুক্ত না থাকে, যেমন আপনার কথা: "পুরুষটি রুটি খাচ্ছে", তবে এখানে কোনো বৈশিষ্ট্যায়ন বা নির্দিষ্টকরণ থাকবে না। এটিই আমার স্বল্প বুদ্ধিতে প্রতীয়মান হয়েছে, অতএব আপনি এটি নিয়ে চিন্তা করুন। এর মাধ্যমে 'তাহরির' গ্রন্থে উল্লিখিত দুর্বল মতটি খন্ডিত হয়ে যায়। আর যদি 'লাম' বর্ণটিকে মালিকানা বা প্রাপ্যতার অর্থে ধরা হয়, তবে কোনো নির্দিষ্টকরণ থাকবে না, যদিও আমরা বলি যে 'আলিফ-লাম' নির্দিষ্টকরণ বুঝায়। কারণ প্রশংসার মালিকানা বা এর প্রাপ্যতা 'লাম' এর পরবর্তী সত্তার (আল্লাহর) সাথে নির্দিষ্ট হওয়া অন্য কারো জন্য প্রশংসা সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী নয়, তবে তা মালিকানা বা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নয়। এটি চিন্তা করে দেখুন। এরপর, এই বাক্যটি সংবাদমূলক (খাবারিয়া) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং এর ওপর প্রশংসার সংজ্ঞাও প্রযোজ্য হয়, কারণ প্রশংসার সংবাদ দেওয়া মানেই সুন্দর গুণের বর্ণনা দেওয়া ইত্যাদি, অথবা এমন কাজ যা মহত্ত্ব প্রকাশ করে ইত্যাদি। আর যদি এতে 'আলিফ-লাম' জাতি বা প্রকৃতির (জিনস) জন্য হয়, তবে বিষয়টি অনির্ধারিত (মুহমালাহ); যদি ইস্তিগরাকের জন্য হয় তবে তা সার্বিক (কুল্লিয়্যাহ); আর যদি মানসিক পূর্বোল্লেখের (আহদ যিহনি) জন্য হয় তবে তা আংশিক (জুযইয়্যাহ)। আর যদি বাহ্যিক পূর্বোল্লেখের (আহদ খারিজি) জন্য হওয়া সঠিক হয়, তবে তা ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট (শাখসিয়্যাহ) হবে। আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি শরয়ি পরিভাষায় বা এর অর্থের আবশ্যিকতা অনুযায়ী রূপকভাবে 'ইনশা' বা কোনো কিছু শুরু করার অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে। তখন উদ্দেশ্য হবে এই বাক্য গঠনের মাধ্যমেই প্রশংসা নিবেদন করা: অর্থাৎ মহান আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করা। আলিমগণ সংবাদমূলক বাক্য সম্পর্কে মতভেদ করেছেন, যখন তা তার অর্থের আবশ্যিক বিষয় যেমন প্রশংসা, গুণগান বা নিন্দা জ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়—তা কি 'ইনশা' (সৃজনমূলক) হবে কি না? শায়খ আব্দুল কাহির দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, যেন বাক্যটি তার মূল অর্থ থেকে খালি হয়ে না যায়। আরও বলা হয়েছে যে, এর কারণ হলো অন্যথায় প্রশংসাকারীর প্রশংসার আগে প্রশংসিত সত্তার সুন্দরের গুণাবলীতে গুণান্বিত হওয়া বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, কারণ 'ইনশা' বা সূচনামূলক বাক্যের শব্দ ও অর্থ অস্তিত্বের দিক থেকে সমসাময়িক হয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা গুণের বর্ণনা (ওয়াসফ) বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক হয়, কিন্তু গুণান্বিত হওয়া (ইত্তিসাফ) বিলুপ্ত হয় না। আর এখানে আলোচনা গুণের বর্ণনা নিয়েই।
১ -[পরিশিষ্ট] বিসমিল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ—উভয়টির ক্ষেত্রেই শরয়ি বিধান প্রযোজ্য হয়। বিসমিল্লাহর ক্ষেত্রে বিধান হলো: যবেহ করার শুরুতে, শিকারের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ বা শিকারি পশু ছাড়ার সময় এটি বলা ওয়াজিব। তবে বিসমিল্লাহর পরিবর্তে আল্লাহর অন্য কোনো যিকির করলেও তা যথেষ্ট হবে। কোনো কোনো কিতাবে উল্লেখ আছে যে, যবেহ করার সময় 'আর-রাহমানির রাহীম' বলবে না, কারণ যবেহ করা দয়া ও করুণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিন্তু 'আল-জাওহারা' কিতাবে আছে যে, যদি কেউ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলে, তবে তা উত্তম। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া ওয়াজিব। বলা হয়েছে যে, এটিই অধিকাংশের মত, কিন্তু অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এটি সুন্নাত। ওযু এবং খাওয়ার শুরুতে, এবং গুরুত্ববহ প্রতিটি কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত। সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরার মাঝখানে বিসমিল্লাহ পড়া বৈধ অথবা মুস্তাহাব, এ ব্যাপারে মতভেদ সামনে তার নিজ স্থানে আসবে ইনশাআল্লাহ। পথ চলা, দাঁড়ানো এবং বসার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা মুবাহ বা বৈধ। সতর উন্মোচনের সময় বা নাপাকির স্থানে বিসমিল্লাহ বলা মাকরুহ। অনুরূপভাবে সূরা বারাআতের শুরুতে যদি তার আগের সূরা আনফালের সাথে মিলিয়ে পড়া হয়, তবে মাকরুহ—যেমনটি কোনো কোনো মাশায়েখ সীমাবদ্ধ করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে, ধূমপান করার সময় এবং অনুরূপ দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু যেমন রসুন ও পেঁয়াজ খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা মাকরুহ। কোনো হারাম কাজ করার সময় বিসমিল্লাহ বলা হারাম। এমনকি 'বাযযাযিয়া' ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ আছে যে, যদি কেউ এমন কোনো কাজ করার সময় বিসমিল্লাহ পড়ে যার হারাম হওয়া অকাট্য বা নিশ্চিত, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে জুনুবি বা অপবিত্র ব্যক্তির ওপর বিসমিল্লাহ পড়া হারাম যদি সে যিকিরের নিয়ত না করে। আল্লামা তাহতাওয়ি সংক্ষেপে কিছু সংযোজনীসহ এটি বর্ণনা করেছেন। আর আলহামদুলিল্লাহর বিধান হলো: সালাতের মধ্যে এটি পাঠ করা ওয়াজিব, খুতবা সমূহে পাঠ করা সুন্নাত, দুআর আগে এবং খাওয়ার পরে পাঠ করা সুন্নাত। কোনো কারণ ছাড়াই এটি পাঠ করা মুবাহ বা বৈধ। এবং এটি পাঠ করা মাকরুহ...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
لَك يَا مَنْ شَرَحْت صُدُورَنَا بِأَنْوَاعِ الْهِدَايَةِ سَابِقًا، وَنَوَّرْت بَصَائِرَنَا
ــ
[رد المحتار] فِي الْأَمَاكِنِ الْمُسْتَقْذَرَةِ، وَتَحْرُمُ بَعْدَ أَكْلِ الْحَرَامِ، بَلْ فِي الْبَزَّازِيَّةِ أَنَّهُ اُخْتُلِفَ فِي كُفْرِهِ
(قَوْلُهُ: لَك) آثَرَ الْخِطَابَ عَلَى اسْمِ اللَّهِ تَعَالَى الدَّالَّ عَلَى اسْتِجْمَاعِهِ لِجَمِيعِ صِفَاتِ الْكَمَالِ إشَارَةً إلَى أَنَّ هَذَا الِاسْتِجْمَاعَ مِنْ الظُّهُورِ بِحَيْثُ لَا يَحْتَاجُ إلَى دَلَالَةٍ عَلَيْهِ فِي الْكَلَامِ، بَلْ رُبَّمَا يَدَّعِي أَنَّ تَرْكَ ذِكْرِ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ أَوْفَقُ لِمُقْتَضَى الْمَقَامِ، بَلْ الْمُهِمُّ الدَّلَالَةُ عَلَى أَنْ قَوِيَ لِلْحَامِدِ مُحَرِّكُ الْإِقْبَالِ وَدَاعِي التَّوَجُّهِ إلَى جَنَابِهِ عَلَى الْكَمَالِ، حَتَّى خَاطَبَهُ مُشْعِرًا بِأَنَّهُ تَعَالَى كَأَنَّهُ مُشَاهَدٌ لَهُ حَالَةَ الْحَمْدِ لِرِعَايَةِ مَرْتَبَةِ الْإِحْسَانِ، وَهُوَ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّك تَرَاهُ، أَوْ بِأَنَّهُ تَعَالَى قَرِيبٌ مِنْ الْحَامِدِ كَمَا قَالَ تَعَالَى - {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} [ق: 16]- وَإِنْ كَانَ الْحَامِدُ لِنُقْصَانِهِ فِي كَمَالِ الْبُعْدِ كَمَا تَدُلُّ عَلَيْهِ كَلِمَةُ يَا الْمَوْضُوعَةُ لِنِدَاءِ الْبَعِيدِ عَلَى مَا قِيلَ، فَفِي الْإِتْيَانِ بِهَا هَضْمٌ لِنَفْسِهِ وَاسْتِبْعَادٌ لَهَا عَنْ مَظَانِّ الزُّلْفَى كَمَا أَفَادَهُ الْخَطَّابِيُّ وَالْبَزْدَوِيُّ (قَوْلُهُ: يَا مَنْ شَرَحْت) الْأَوْلَى شَرَحَ كَمَا عَبَّرَ فِي مُخْتَصَرِ الْمَعَانِي، لِأَنَّ الْأَسْمَاءَ الظَّاهِرَةَ كُلَّهَا غَيْبٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مَوْصُولَةً أَوْ مَوْصُوفَةً كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي شَرْحِ الْمِفْتَاحِ، لَكِنْ بِمُرَاعَاةِ جَانِبِ النِّدَاءِ الْمَوْضُوعَةِ لِلْمُخَاطَبِ يَسُوغُ الْخِطَابُ نَظَرًا إلَى الْمَعْنَى. وَذَكَرَ فِي الْمُطَوَّلِ أَنَّ قَوْلَ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ. أَنَا الَّذِي سَمَّتْنِي أُمِّي حَيْدَرَهْ. قَبِيحٌ عِنْدَ النَّحْوِيِّينَ. وَاعْتَرَضَهُ حَسَنٌ جَلَبِي بِأَنَّ الِالْتِفَاتَ مِنْ أَتَمِّ وُجُوهِ تَحْسِينِ الْكَلَامِ فَلَا وَجْهَ لِلتَّقْبِيحِ، لِأَنَّهُ الْتِفَاتٌ مِنْ الْغَيْبَةِ إلَى التَّكَلُّمِ، وَفِيهِ تَغْلِيبُ جَانِبِ الْمَعْنَى عَلَى جَانِبِ اللَّفْظِ، عَلَى أَنَّهُ يَرُدُّ عَلَى النَّحْوِيِّينَ - {بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} [النمل: 55]- فَلَوْ كَانَ فِيهِ قَبَاحَةٌ لَمَا وَقَعَ فِي كَلَامٍ هُوَ فِي أَعْلَى طَبَقَاتِ الْبَلَاغَةِ. اهـ. أَقُولُ: وَلَا يَخْفَى مَا فِي قَوْلِهِ عَلَى أَنَّهُ يَرُدُّ إلَخْ مِنْ اللَّطَافَةِ عِنْدَ أَهْلِ الظَّرَافَةِ، وَفِي مُغْنِي اللَّبِيبِ فِي بَحْثِ الْأَشْيَاءِ الَّتِي تَحْتَاجُ إلَى رَابِطٍ أَنَّ نَحْوَ: أَنْتَ الَّذِي فَعَلْت مَقِيسٌ لَكِنَّهُ قَلِيلٌ، وَإِذَا تَمَّ الْمَوْصُولُ بِصِلَتِهِ انْسَحَبَ عَلَيْهِ حُكْمُ الْخِطَابِ، وَلِهَذَا قِيلَ قُمْتُمْ. وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ مِنْ بَابِ الِالْتِفَاتِ لِأَنَّ آمَنُوا مُغَايَبَةً قُمْتُمْ مُوَاجَهَةً فَقَدَّمُوهَا. اهـ. وَلَا يَخْفَى أَنَّهُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ لَمْ يَتِمَّ الْمَوْصُولُ بِصِلَتِهِ: أَيْ لَمْ يَأْتِ الضَّمِيرُ بَعْدَ تَمَامِ الصِّلَةِ، فَدَعْوَى الِالْتِفَاتِ فِيهِ صَحِيحَةٌ (قَوْلُهُ: شَرَحْت صُدُورَنَا) أَصْلُ الشَّرْحِ بَسْطُ اللَّحْمِ وَنَحْوِهِ وَمِنْهُ شَرْحُ الصَّدْرِ: أَيْ بَسْطُهُ بِنُورٍ إلَهِيٍّ. وَقِيلَ مَعْنَاهُ التَّوْسِعَةُ مُطْلَقًا، وَيُقَابِلُهُ الضِّيقُ - {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ} [الأنعام: 125]- الْآيَةُ، وَفُسِّرَ فِي آيَةِ - {أَلَمْ نَشْرَحْ} [الشرح: 1]- بِتَوْسِعَتِهِ بِمَا أَوْدَعَ فِيهِ مِنْ الْعِلْمِ وَالْحِكْمَةِ، وَخَصَّ الصُّدُورَ لِأَنَّهَا ظُرُوفُ الْقُلُوبِ الْمُلُوكِ عَلَى سَائِرِ الْجَوَارِحِ، لِأَنَّهَا مَحَلُّ الْعَقْلِ كَمَا يَأْتِي فِي بَابِ خِيَارِ الْعَيْبِ؛ أَوْ الْمُرَادُ بِهَا الْقُلُوبُ، وَاتِّسَاعُهَا كِنَايَةٌ عَنْ كَثْرَةِ مَا يَدْخُلُ فِيهَا مِنْ الْحِكَمِ الْإِلَهِيَّةِ وَالْمَعَارِفِ الرَّبَّانِيَّةِ (قَوْلُهُ: بِأَنْوَاعِ: الْهِدَايَةِ) قَالَ الْبَيْضَاوِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ: الْهِدَايَةُ دَلَالَةٌ بِلُطْفٍ وَلِذَا تُسْتَعْمَلُ فِي الْخَيْرِ وقَوْله تَعَالَى - {فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ} [الصافات: 23]- عَلَى التَّهَكُّمِ وَهِدَايَةُ اللَّهِ تَعَالَى تَتَنَوَّعُ أَنْوَاعًا لَا يُحْصِيهَا عَدَدٌ لَكِنَّهَا تَنْحَصِرُ فِي أَجْنَاسٍ مُتَرَتِّبَةٍ: الْأَوَّلُ إفَاضَةُ الْقُوَى الَّتِي بِهَا يَتَمَكَّنُ الْمَرْءُ مِنْ الِاهْتِدَاءِ إلَى مَصَالِحِهِ كَالْقُوَّةِ الْعَاقِلَةِ وَالْحَوَاسِّ الْبَاطِنَةِ وَالْمَشَاعِرِ الظَّاهِرَةِ. وَالثَّانِي نَصْبُ الدَّلَائِلِ الْفَارِقَةِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَالصَّلَاحِ وَالْفَسَادِ. وَالثَّالِثُ الْهِدَايَةُ بِإِرْسَالِ الرُّسُلِ وَإِنْزَالِ الْكُتُبِ. وَالرَّابِعُ أَنْ يَكْشِفَ عَلَى قُلُوبِهِمْ السَّرَائِرَ وَيُرِيَهُمْ الْأَشْيَاءَ كَمَا هِيَ بِالْوَحْيِ أَوْ الْإِلْهَامِ أَوْ الْمَنَامَاتِ الصَّادِقَةِ وَهَذَا مُخْتَصٌّ بِالْأَنْبِيَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ اهـ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: سَابِقًا) حَالٌ مِنْ مَصْدَرِ شَرَحْتَ: أَيْ جَعَلْتَ صُدُورَنَا قَابِلَةً لِلْخَيْرَاتِ حَالَ كَوْنِ الشَّرْحِ سَابِقًا أَوْ صِفَةٌ لِذَلِكَ الْمَصْدَرِ. اهـ. ط. أَقُولُ: أَوْ صِفَةٌ لِزَمَانٍ أَيْ زَمَانًا سَابِقًا فَهُوَ مَنْصُوبٌ عَلَى الظَّرْفِيَّةِ: أَيْ حِينَ أَخَذَ الْمِيثَاقَ أَوْ حِينَ وُلِدْنَا عَلَى الْفِطْرَةِ أَوْ عَقَلْنَا الدِّينَ الْحَقَّ وَاخْتَرْنَا الْبَقَاءَ عَلَيْهِ (قَوْلُهُ: وَنَوَّرْتَ بَصَائِرَنَا) النُّورُ كَيْفِيَّةٌ ظَاهِرَةٌ بِنَفْسِهَا مُظْهِرَةٌ لِغَيْرِهَا
আপনারই জন্য, হে আপনি যিনি পূর্বে আমাদের অন্তরসমূহকে বিভিন্ন প্রকার হিদায়াতের মাধ্যমে প্রশস্ত করেছেন এবং আমাদের দূরদৃষ্টিসমূহকে
--
[রদ্দুল মুহতার] অপবিত্র স্থানসমূহে, এবং হারাম ভক্ষণের পর তা হারাম হয়, বরং আল-বাযযাযিয়াহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তার কুফরির বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
(তাঁর বক্তব্য: আপনারই জন্য) তিনি আল্লাহ তাআলার নামের পরিবর্তে সম্বোধনকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা তাঁর সকল পূর্ণতাগুণে গুণান্বিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে। এটি ইঙ্গিত করে যে, এই গুণান্বিত হওয়া এতটাই স্পষ্ট যে বর্ণনায় তার প্রমাণের প্রয়োজন নেই। বরং কেউ দাবি করতে পারেন যে, তার প্রমাণবাহী শব্দের উল্লেখ বর্জন করাই এই স্থানের চাহিদার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি প্রমাণ করা যে, প্রশংসাকারীর নিকট তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা এবং তাঁর সুমহান দরবারে পূর্ণাঙ্গভাবে মনোনিবেশ করার আহ্বান শক্তিশালী হয়েছে; এমনকি তিনি তাঁকে এমনভাবে সম্বোধন করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে, আল্লাহ তাআলা যেন প্রশংসা করার অবস্থায় তাঁর সামনে দৃশ্যমান—যাতে ইহসানের মর্তবা রক্ষা হয়, আর তা হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছ। অথবা এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলা প্রশংসাকারীর অত্যন্ত নিকটে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন—{এবং আমি তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও বেশি নিকটে} [ক্বাফ: ১৬]। যদিও প্রশংসাকারী তার নিজের অপূর্ণতার কারণে চরম দূরত্বের অবস্থায় রয়েছেন, যেমনটি দূরবর্তীকে ডাকার জন্য ব্যবহৃত 'ইয়া' (হে) শব্দ দ্বারা বোঝা যায়। সুতরাং এই শব্দের ব্যবহারে নিজের নফসকে তুচ্ছ করা এবং নিজেকে নৈকট্যের স্থান থেকে দূরে ভাবার প্রকাশ রয়েছে, যেমনটি আল-খাত্তাবী এবং আল-বাযদাবী উল্লেখ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: হে আপনি যিনি প্রশস্ত করেছেন) অধিক উত্তম হতো 'প্রশস্ত করেছেন' (নাম পুরুষে) বলা, যেমনটি 'মুখতাসারুল মাআনি' গ্রন্থে ব্যক্ত করা হয়েছে। কারণ প্রকাশ্য নামসমূহ সবই অনুপস্থিত (নাম পুরুষ), চাই তা সম্বন্ধবাচক (মাওসুল) হোক বা গুণবাচক (মাওসুফ), যেমনটি 'শারহুল মিফতাহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু সম্বোধনের দিকটি বিবেচনা করে, যা সরাসরি কথা বলার জন্য নির্ধারিত, অর্থের দিকে তাকিয়ে সরাসরি সম্বোধন করা বৈধ। 'আল-মুতাউওয়াল' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা: "আমিই সে যাকে আমার মা হায়দারা (সিংহ) নামকরণ করেছেন"—এটি বৈয়াকরণদের নিকট অশোভন। হাসান জালাবি এর প্রতিবাদ করে বলেছেন যে, ইলতিফাত (এক পুরুষ থেকে অন্য পুরুষে পরিবর্তন) হলো বাক্যকে সুন্দর করার অন্যতম পূর্ণাঙ্গ মাধ্যম, তাই একে অশোভন বলার কোনো অবকাশ নেই। কারণ এটি নাম পুরুষ থেকে উত্তম পুরুষে পরিবর্তন, এবং এতে শব্দের চেয়ে অর্থের দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অধিকন্তু বৈয়াকরণদের ওপর এই আয়াতটি আপত্তি হিসেবে আসে—{বরং তোমরা এমন এক কওম যারা মূর্খতা প্রদর্শন করো} [আন-নামল: ৫৫]। যদি এতে কোনো অশোভনতা থাকত, তবে এটি এমন কালামে আসত না যা অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত। (সমাপ্ত)। আমি বলি: 'অধিকন্তু এই আয়াতটি আপত্তি হিসেবে আসে'—তাঁর এই কথার মধ্যে রসিক ব্যক্তিদের নিকট যে সূক্ষ্মতা রয়েছে তা গোপন নয়। 'মুগনিউল লাবিব' গ্রন্থে যেসব বিষয়ের জন্য সংযোগকারী প্রয়োজন সেই আলোচনায় বলা হয়েছে যে, 'আপনিই সে ব্যক্তি যিনি করেছেন'—এই জাতীয় বাক্য ব্যাকরণসিদ্ধ তবে এর ব্যবহার কম। আর যখন সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (মাওসুল) তার বাক্যখণ্ড (সিলাহ) দ্বারা পূর্ণ হয়, তখন তার ওপর সম্বোধনের হুকুম জারি হয়, আর এই কারণেই বলা হয়েছে: 'তোমরা দাঁড়িয়েছ'। আর যারা দাবি করেন যে এটি 'ইলতিফাত'-এর অন্তর্ভুক্ত—কারণ 'তারা ঈমান এনেছে' হলো নাম পুরুষ এবং 'তোমরা দাঁড়িয়েছ' হলো মধ্যম পুরুষ—তাই তারা একে আগে এনেছেন। (সমাপ্ত)। এটি স্পষ্ট যে, আমাদের আলোচ্য বিষয়ে সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যটি তার বাক্যখণ্ড দ্বারা পূর্ণ হয়নি: অর্থাৎ সিলাহ পূর্ণ হওয়ার পর সর্বনাম আসেনি, তাই এতে 'ইলতিফাত'-এর দাবি সঠিক। (তাঁর বক্তব্য: আমাদের অন্তরসমূহকে প্রশস্ত করেছেন) 'শারহ' শব্দের মূল অর্থ হলো গোশত বা এই জাতীয় কিছু প্রসারিত করা। এখান থেকেই 'শারহুস সাদর' (বক্ষ প্রশস্ত করা) এসেছে: অর্থাৎ ঐশী নূরের মাধ্যমে বক্ষকে প্রসারিত করা। কেউ বলেছেন এর অর্থ সাধারণভাবে প্রশস্ত করা, এর বিপরীত হলো সংকীর্ণতা—{অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিতে চান...} [আল-আনআম: ১২৫] আয়াত দ্রষ্টব্য। আর {আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি} [আশ-শারহ: ১] আয়াতে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে তাতে অর্পিত ইলম ও হিকমতের মাধ্যমে প্রশস্ত করা দ্বারা। আর বক্ষকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ তা হলো হৃদপিণ্ডের আধার যা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর বাদশাহ স্বরূপ। কারণ এটিই হলো আকলের (বুদ্ধি) স্থান, যেমনটি 'খিয়ারুল আইব' অধ্যায়ে আসবে; অথবা এখানে বক্ষ দ্বারা হৃদয় উদ্দেশ্য, আর তার প্রশস্ততা হলো তাতে যে পরিমাণ ঐশী প্রজ্ঞা ও রব্বানী জ্ঞান প্রবেশ করে তার আধিক্যের রূপক। (তাঁর বক্তব্য: হিদায়াতের বিভিন্ন প্রকারের মাধ্যমে) আল-বায়দ্বাবী তাঁর তাফসীরে বলেছেন: হিদায়াত হলো কোমলতার সাথে পথপ্রদর্শন করা, এজন্যই এটি কল্যাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর আল্লাহ তাআলার বাণী—{অতঃপর তোমরা তাদেরকে জাহান্নামের পথের হিদায়াত করো (পথ দেখাও)} [আস-সাফফাত: ২৩]—এটি বিদ্রূপাত্মকভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার হিদায়াত এমন অসংখ্য প্রকারে বিভক্ত যা গণনা করা সম্ভব নয়, তবে তা ক্রমানুসারে কয়েকটি শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ: প্রথমত, এমন শক্তি দান করা যার মাধ্যমে মানুষ তার কল্যাণের পথে চলতে সক্ষম হয়, যেমন বুদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অনুভূতিসমূহ। দ্বিতীয়ত, সত্য-মিথ্যা এবং সংশোধন-বিপর্যয়ের মাঝে পার্থক্যকারী প্রমাণসমূহ স্থাপন করা। তৃতীয়ত, রাসূল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে হিদায়াত দান। চতুর্থত, তাদের অন্তরে গোপন রহস্য উন্মোচন করা এবং ওহী, ইলহাম বা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে বিষয়বস্তুগুলোকে প্রকৃতরূপে দেখানো; আর এটি নবী ও ওলীদের জন্য খাস। (সংক্ষেপিত)। (তাঁর বক্তব্য: পূর্বে) এটি 'শারাখতা' ক্রিয়ার মূল ধাতু (মাসদার) থেকে হাল বা অবস্থা হিসেবে এসেছে: অর্থাৎ আপনি আমাদের অন্তরকে কল্যাণের উপযোগী করেছেন এমতাবস্থায় যে সেই প্রশস্তকরণ পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে, অথবা এটি সেই মাসদারের বিশেষণ। (সমাপ্ত)। আত-তাতাউয়ী বলেন: আমি বলি, অথবা এটি সময়ের বিশেষণ অর্থাৎ 'পূর্ববর্তী সময়ে', সেক্ষেত্রে এটি সময়ের আধেয় (যরফ) হিসেবে জবরযুক্ত হবে: অর্থাৎ যখন অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল, অথবা যখন আমরা ফিতরাতের (সহজাত স্বভাব) ওপর জন্মগ্রহণ করেছি অথবা যখন আমরা সত্য দ্বীন বুঝতে পেরেছি এবং এর ওপর অটল থাকাকে বেছে নিয়েছি। (তাঁর বক্তব্য: এবং আমাদের দূরদৃষ্টিসমূহকে আলোকিত করেছেন) নূর বা আলো হলো এমন এক অবস্থা যা স্বয়ং প্রকাশমান এবং অন্যকে প্রকাশকারী।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِتَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ لَاحِقًا، وَأَفَضْت عَلَيْنَا مِنْ أَشِعَّةِ شَرِيعَتِك الْمُطَهَّرَةِ بَحْرًا رَائِقًا، وَأَغْدَقْتَ لَدَيْنَا مِنْ بِحَارِ
ــ
[رد المحتار] وَالضِّيَاءُ أَقْوَى مِنْهُ وَأَتَمُّ، وَلِذَلِكَ أُضِيفَ إلَى الشَّمْسِ فِي قَوْله تَعَالَى - {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا} [يونس: 5]- وَقَدْ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا بِأَنَّ الضِّيَاءَ ضَوْءٌ ذَاتِيٌّ وَالنُّورَ ضَوْءٌ عَارِضٌ. وَقَدْ يُقَالُ: يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ النُّورُ أَقْوَى عَلَى الْإِطْلَاقِ، - {اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} [النور: 35]- وَإِنَّمَا يَتَّجِهُ إذَا لَمْ يَكُنْ مَعْنَاهُ فِي الْآيَةِ الْمُنَوِّرَ، وَقَدْ حَمَلَهُ أَهْلُ التَّفْسِيرِ عَلَى ذَلِكَ اهـ حَسَنٌ جَلَبِي عَلَى الْمُطَوَّلِ. وَالْبَصَائِرُ: جَمْعُ بَصِيرَةٍ، وَهِيَ قُوَّةٌ لِلْقَلْبِ الْمُنَوَّرِ بِنُورِ الْقُدُسِ يَرَى بِهَا حَقَائِقَ الْأَشْيَاءِ بِمَثَابَةِ الْبَصَرِ لِلنَّفْسِ كَمَا فِي تَعْرِيفَاتِ السَّيِّدِ (قَوْلُهُ: بِتَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ) الْبَاءُ لِلسَّبَبِيَّةِ، فَإِنَّ الْإِنْسَانَ بِنُورِ بَصَرِهِ يَنْظُرُ إلَى عَجَائِبِ الْمَصْنُوعَاتِ لِلَّهِ تَعَالَى وَإِلَى الْكُتُبِ النَّافِعَةِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَكُونُ سَبَبًا فِي الْعَادَةِ لِتَنْوِيرِ الْبَصِيرَةِ بِاكْتِسَابِ الْمَعَارِفِ (قَوْلُهُ: لَاحِقًا) الْكَلَامُ فِيهِ كَالْكَلَامِ فِي سَابِقًا؛ وَإِنَّمَا كَانَ تَنْوِيرُ الْبَصَائِرِ لَاحِقًا: أَيْ مُتَأَخِّرًا عَنْ شَرْحِ الصُّدُورِ، لِأَنَّ شَرْحَهَا الِاهْتِدَاءُ إلَى الْإِسْلَامِ كَمَا يُشِيرُ إلَيْهِ قَوْله تَعَالَى - {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ} [الأنعام: 125]- الْآيَةُ، وَهَذَا سَابِقٌ عَادَةً عَلَى تَنْوِيرِ الْبَصَائِرِ بِمَا ذَكَرْنَا. وَقَالَ الْخَطَّابِيُّ فِي حَاشِيَةِ الْمُخْتَصَرِ: قَدَّمَ شَرْحَ الصَّدْرِ عَلَى تَنْوِيرِ الْقَلْبِ، لِأَنَّ الصَّدْرَ وِعَاءُ الْقَلْبِ وَشَرْحُهُ مُقَدَّمٌ لِدُخُولِ النُّورِ فِي الْقَلْبِ (قَوْلُهُ: وَأَفَضْت) يُقَالُ أَفَاضَ الْمَاءَ عَلَى نَفْسِهِ: أَيْ أَفْرَغَهُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: مِنْ أَشِعَّةِ) جَمْعُ شُعَاعٍ بِالضَّمِّ: وَهُوَ مَا تَرَاهُ مِنْ الشَّمْسِ كَأَنَّهُ الْحِبَالُ مُقْبِلَةً عَلَيْك إذَا نَظَرْت إلَيْهَا، أَوْ مَا يَنْتَشِرُ مِنْ ضَوْئِهَا قَامُوسٌ. وَالشَّرِيعَةُ: فَعِيلَةٌ بِمَعْنَى مَفْعُولَةٍ أَيْ مَشْرُوعَةٌ، فَقَدْ شَرَعَهَا اللَّهُ حَقِيقَةً وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَجَازًا، وَالشَّرِيعَةُ وَالْمِلَّةُ وَالدِّينُ شَيْءٌ وَاحِدٌ. فَهِيَ شَرِيعَةٌ لِكَوْنِ اللَّهِ تَعَالَى قَدْ شَرَعَهَا. وَالشَّرِيعَةُ فِي الْأَصْلِ الطَّرِيقُ يُورَدُ لِلِاسْتِقَاءِ، فَأُطْلِقَتْ عَلَى الْأَحْكَامِ الْمَشْرُوعَةِ لِبَيَانِهَا وَوُضُوحِهَا، وَلِلتَّوَصُّلِ بِهَا إلَى مَا بِهِ الْحَيَاةُ الْأَبَدِيَّةُ، وَمِلَّةٌ لِكَوْنِهَا أُمْلِيَتْ عَلَيْنَا مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ، وَدِينٌ لِلتَّدَيُّنِ بِأَحْكَامِهَا: أَيْ لِلتَّعَبُّدِ بِهَا. اهـ. ط، وَكُلٌّ مِنْ الدِّينِ وَالشَّرِيعَةِ يُضَافُ إلَى اللَّهِ تَعَالَى وَالنَّبِيِّ وَالْأُمَّةِ. بِخِلَافِ الْمِلَّةِ فَإِنَّهَا لَا تُضَافُ إلَّا إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيُقَالُ مِلَّةُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَلَا يُقَالُ مِلَّةُ اللَّهِ تَعَالَى وَلَا مِلَّةُ زَيْدٍ كَمَا قَالَهُ الْمُظْهِرُ وَالرَّاغِبُ وَغَيْرُهُمَا. فَيُشْكِلُ مَا قَالَهُ التَّفْتَازَانِيُّ إنَّهَا تُضَافُ إلَى آحَادِ الْأُمَّةِ قُهُسْتَانِيٌّ فِي شَرْحِهِ عَلَى الْكَيْدَانِيَّةِ. هَذَا، وَقَالَ ح: الْأَنْسَبُ بِالْإِضَافَةِ وَالْبَحْرِ أَنْ يَقُولَ مِنْ شَآبِيبَ مَثَلًا، وَهُوَ جَمْعُ شُؤْبُوبٍ: الدُّفْعَةُ مِنْ الْمَطَرِ كَمَا فِي الْقَامُوسِ. اهـ. أَيْ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ شَبَّهَ الشَّرِيعَةَ بِالشَّمْسِ بِجَامِعِ الِاهْتِدَاءِ، فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ وَالْأَشِعَّةُ تَخْيِيلٌ، وَكُلٌّ مِنْ الْإِفَاضَةِ وَالْبَحْرِ لَا يُلَائِمُ ادِّعَاءَ أَنَّ الشَّرِيعَةَ مِنْ أَفْرَادِ الشَّمْسِ الَّذِي هُوَ مَبْنَى الِاسْتِعَارَةِ، وَلَا يَخْفَى أَنَّ هَذَا غَيْرُ مُتَعَيَّنٍ لِجَوَازِ أَنْ تُشَبَّهَ أَحْكَامُ الشَّرِيعَةِ بِالْأَشِعَّةِ مِنْ حَيْثُ الِاهْتِدَاءُ فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ وَالْقَرِينَةُ إضَافَةُ الْأَشِعَّةِ إلَى الشَّرِيعَةِ ثُمَّ تُشَبَّهُ الْأَحْكَامُ الْمُعَبَّرُ عَنْهَا بِالْأَشِعَّةِ مِنْ حَيْثُ الِارْتِفَاعُ أَوْ الْكَثْرَةُ بِالسَّحَابِ فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ. وَالْإِضَافَةُ اسْتِعَارَةٌ تَخْيِيلِيَّةٌ، وَالْبَحْرُ تَرْشِيحٌ، فَقَدْ اجْتَمَعَ فِيهِ ثَلَاثُ اسْتِعَارَاتٍ عَلَى حَدِّ قَوْله تَعَالَى - {فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ} [النحل: 112]- وَيَجُوزُ أَنْ يُقَالَ إضَافَةُ الْأَشِعَّةِ إلَى الشَّرِيعَةِ مِنْ إضَافَةِ الْمُشَبَّهِ بِهِ إلَى الْمُشَبَّهِ، وَشَبَّهَ الْمَسَائِلَ الشَّرْعِيَّةَ بِالْبَحْرِ بِجَامِعِ الْكَثْرَةِ أَوْ النَّفْعِ فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ وَالْإِفَاضَةُ تَرْشِيحٌ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: وَأَغْدَقْت) أَيْ أَكْثَرْت، فِي التَّنْزِيلِ - {لأَسْقَيْنَاهُمْ مَاءً غَدَقًا} [الجن: 16]- أَيْ كَثِيرًا مِصْبَاحٌ (قَوْلُهُ: لَدَيْنَا) أَيْ عِنْدَنَا، وَقِيلَ إنَّ لَدَى تَقْتَضِي الْحَضْرَةَ بِخِلَافِ عِنْدَ، تَقُولُ: عِنْدِي فَرَسٌ إذَا كُنْت تَمْلِكُهَا وَإِنْ لَمْ تَكُنْ حَاضِرَةً فِي مَكَانِ التَّكَلُّمِ، وَلَا تَقُولُ لَدَيَّ
পরবর্তীতে দৃষ্টিসমূহকে আলোকিত করার মাধ্যমে, এবং আপনি আমাদের ওপর আপনার পবিত্র শরীয়তের রশ্মি হতে এক স্বচ্ছ সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, এবং আমাদের নিকট সমুদ্রসমূহ হতে প্রচুর পরিমাণে দান করেছেন...
—
[রদ্দুল মুহতার] উজ্জ্বলতা (দীয়া) নূর অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ। এই কারণেই আল্লাহ তাআলার বাণী— {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে উজ্জ্বল প্রদীপ (দীয়া) এবং চন্দ্রকে আলো (নূর) হিসেবে তৈরি করেছেন} [ইউনূস: ৫]—এ সূর্যকে উজ্জ্বলতার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কখনও এই দুইয়ের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করা হয় যে, উজ্জ্বলতা (দীয়া) হলো স্বকীয় আলো এবং নূর হলো আগন্তুক আলো। আবার কখনও বলা হয় যে, নূর শব্দটিকে নিরঙ্কুশভাবে শক্তিশালী হওয়া উচিত, যেমন— {আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের নূর (জ্যোতি)} [আন-নূর: ৩৫]। এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন আয়াতে এর অর্থ 'নূরদাতা' না হবে; অথচ তাফসিরবিদগণ আয়াতটির অর্থ তাই করেছেন— হাসান জালাবি 'আল-মুতাউওয়াল'-এর টিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। আর 'বাসায়ির' হলো 'বাসীরাত'-এর বহুবচন; এটি পবিত্র আলোতে উদ্ভাসিত হৃদয়ের এমন এক শক্তি যার মাধ্যমে ব্যক্তি বস্তুর প্রকৃত রূপ দেখতে পায়, যেমনটি প্রাণের জন্য চোখের দৃষ্টি। যেমনটি সায়্যিদের 'তারিফাত'-এ বর্ণিত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: দৃষ্টিসমূহকে আলোকিত করার মাধ্যমে): এখানে 'বা' অক্ষরটি কারণ নির্দেশক। কেননা মানুষ তার চোখের আলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিপুণ সৃষ্টিরাজি, উপকারী কিতাবসমূহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য জিনিসের দিকে দৃষ্টিপাত করে যা সাধারণত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হওয়ার কারণ হয়ে থাকে। (তাঁর উক্তি: পরবর্তীতে): এখানে আলোচনার বিষয়টি 'পূর্বে' শব্দের আলোচনার মতোই। অন্তর্দৃষ্টির আলোকায়ন 'পরবর্তীতে' হওয়া অর্থাৎ 'বক্ষ উন্মোচনের' পরে হওয়া যুক্তিযুক্ত; কেননা বক্ষ উন্মোচন হলো ইসলামের প্রতি হেদায়েত প্রাপ্তি, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী ইঙ্গিত করে— {অতঃপর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান} [আল-আন'আম: ১২৫]—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর এটি সাধারণত আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পূর্বে ঘটে থাকে। খাত্তাবি 'আল-মুখতাসার'-এর হাশিয়ায় বলেছেন: তিনি বক্ষ উন্মোচনকে হৃদয়ের আলোকায়নের পূর্বে এনেছেন, কারণ বক্ষ হলো হৃদয়ের পাত্র, আর হৃদয়ে আলো প্রবেশের জন্য পাত্র উন্মুক্ত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আপনি প্রবাহিত করেছেন): কামূসে বলা হয়েছে, কেউ নিজের ওপর পানি প্রবাহিত করেছে এর অর্থ হলো তা ঢেলেছে। (তাঁর উক্তি: রশ্মি হতে): এটি 'শুআ'-এর বহুবচন। কামূস অনুযায়ী, এটি হলো সূর্যের সেই আলোকচ্ছটা যা তুমি দেখতে পাও যেন তা তোমার দিকে এগিয়ে আসা রশি, অথবা যা এর উজ্জ্বলতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে। শরীয়ত শব্দটি এমন এক পথ যা প্রবর্তন করা হয়েছে; প্রকৃত অর্থে আল্লাহ এটি প্রবর্তন করেছেন এবং রূপক অর্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেছেন। শরীয়ত, মিল্লাত এবং দ্বীন মূলত একই জিনিস। আল্লাহ তাআলা এটি প্রবর্তন করেছেন বিধায় একে শরীয়ত বলা হয়। মূলত শরীয়ত অর্থ হলো পানি সংগ্রহের জন্য যাওয়ার পথ। সুষ্পষ্ট ও উজ্জ্বল হওয়ার কারণে এবং এর মাধ্যমে অনন্ত জীবন লাভ করা যায় বিধায় একে শরীয়ত বলা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন বিধায় একে মিল্লাত বলা হয়। আর এর বিধানসমূহ পালনের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় বিধায় একে দ্বীন বলা হয়। দ্বীন এবং শরীয়ত উভয়েই আল্লাহ তাআলা, নবী এবং উম্মতের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। কিন্তু মিল্লাত কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই সম্পৃক্ত করা হয়। যেমন বলা হয় মুহাম্মদের মিল্লাত, কিন্তু আল্লাহর মিল্লাত বা জায়েদের মিল্লাত বলা হয় না, যেমনটি মুযহির, রাগেব এবং অন্যান্যরা বলেছেন। তবে তাফতাজানি যে বলেছেন এটি উম্মতের সাধারণ ব্যক্তিদের দিকেও সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে— কুহুস্তানি তাঁর 'কাইদানিয়া'র ব্যাখ্যায় এটি বলেছেন। হামাউই বলেছেন: এখানে সম্পৃক্তকরণ এবং সমুদ্র শব্দের সাথে সঙ্গতি রেখে তাঁর বলা উচিত ছিল বৃষ্টির প্রবল ধারা। এটি 'শু'বূব'-এর বহুবচন, যার অর্থ বৃষ্টির ধারা, যেমনটি কামূসে আছে। অর্থাৎ এর ভিত্তি হলো শরীয়তকে হেদায়েতের ক্ষেত্রে সূর্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে; এটি একটি ইস্তিয়ারা বিল কিনায়া এবং রশ্মি হলো তার কল্পনাপ্রসূত অনুসঙ্গ। এখানে প্রবাহিত করা এবং সমুদ্র—উভয়ের কোনটিই শরীয়তকে সূর্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবির সাথে খাপ খায় না, যা এই রূপকের ভিত্তি। তবে এটি স্পষ্ট যে বিষয়টি সুনির্ধারিত নয়; কেননা শরীয়তের বিধানসমূহকে হেদায়েতের দিক থেকে রশ্মির সাথে তুলনা করা সম্ভব, সেক্ষেত্রে এটি হবে ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়্যাহ। আর এর সপক্ষে যুক্তি হলো রশ্মিকে শরীয়তের দিকে সম্পৃক্ত করা। এরপর সেই বিধানসমূহকে, যাদেরকে রশ্মি হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে, আধিক্য ও উচ্চতার দিক থেকে মেঘমালার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা হবে ইস্তিয়ারা বিল কিনায়া। আর সম্পৃক্তকরণটি হলো ইস্তিয়ারা তাখয়িলিয়্যাহ, এবং সমুদ্র হলো তার পরিপুষ্টতা দানকারী। এখানে তিনটি রূপক একত্রিত হয়েছে যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে— {অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন} [আন-নাহল: ১১২]। এটিও বলা সম্ভব যে, শরীয়তের দিকে রশ্মির সম্পৃক্তকরণটি হলো 'মুশাব্বাহ বিহি'-কে 'মুশাব্বাহ'-র দিকে সম্পৃক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। আর শরীয়তের মাসআলাসমূহকে আধিক্য ও উপকারের কারণে সমুদ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা একটি ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়্যাহ এবং প্রবাহিত করা হলো তার পরিপুষ্টতা দানকারী। বিষয়টি অনুধাবন করুন। (তাঁর উক্তি: আপনি প্রচুর পরিমাণে দান করেছেন): অর্থাৎ আপনি অধিক দিয়েছেন। কোরআনে রয়েছে— {আমি তাদের প্রচুর পানি পান করাতাম} [আল-জিন: ১৬]। মিসবাহ গ্রন্থে এর অর্থ অধিক বলা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আমাদের নিকট): অর্থাৎ আমাদের কাছে। বলা হয়ে থাকে যে, 'লাদা' শব্দটি উপস্থিত থাকা অপরিহার্য করে, যা 'ইন্দা'র ক্ষেত্রে হয় না। যেমন আপনি বলেন: আমার কাছে একটি ঘোড়া আছে যদি আপনি তার মালিক হন যদিও তা কথা বলার স্থানে উপস্থিত না থাকে। কিন্তু এমতাবস্থায় আপনি 'লাদাইয়া' (আমার নিকট) বলতে পারবেন না।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
مِنَحِك الْمُوَفَّرَةِ نَهْرًا فَائِقًا، وَأَتْمَمْت نِعْمَتَك عَلَيْنَا حَيْثُ يَسَّرْت ابْتِدَاءَ تَبْيِيضِ هَذَا الشَّرْحِ الْمُخْتَصَرِ تُجَاهَ وَجْهِ مَنْبَعِ الشَّرِيعَةِ وَالدُّرَرِ، وَضَجِيعَيْهِ الْجَلِيلَيْنِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ، بَعْدَ الْإِذْنِ مِنْهُ صلى الله عليه وسلم
ــ
[رد المحتار] إلَّا إذَا كَانَتْ حَاضِرَةً (قَوْلُهُ: مِنَحِك) جَمْعُ مِنْحَةٍ: وَهِيَ الْعَطِيَّةُ (قَوْلُهُ: الْمُوَفَّرَةِ) أَيْ الْكَثِيرَةِ (قَوْلُهُ: نَهْرًا فَائِقًا) الْفَائِقُ: الْخِيَارُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ قَامُوسٌ، وَفِيهِ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ أَيْضًا نَظِيرَ مَا مَرَّ، وَلَا يَخْفَى مَا فِي الْجَمْعِ بَيْنَ أَسَامِي الْكُتُبِ مِنْ الْهِدَايَةِ وَالتَّنْوِيرِ وَالْبَحْرِ وَالنَّهْرِ مِنْ اللَّطَافَةِ وَحُسْنِ الْإِيهَامِ، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِهَا نَفْسَ الْكُتُبِ لِمَا فِيهِ مِنْ التَّكَلُّفِ وَفَوَاتِ النِّكَاتِ الْبَدِيعِيَّةِ فِي لَطِيفِ الْكَلَامِ، وَلِأَنَّهُ غَيْرُ الْمَأْلُوفِ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَقَامِ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ الْأَعْلَامِ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: أَتْمَمْت) أَيْ أَكْمَلْت نِعْمَتَك: أَيْ إنْعَامَك، أَوْ مَا أَنْعَمْت بِهِ ط (قَوْلُهُ: عَلَيْنَا) الضَّمِيرُ لِلْمُؤَلِّفِ وَحْدَهُ نَظَرًا إلَى عَوْدِ ثَوَابِ الِانْتِفَاعِ بِهِ إلَيْهِ فَقَطْ، وَأَتَى بِضَمِيرِ الْعَظَمَةِ لِلتَّحْدِيثِ بِالنِّعْمَةِ، وَهُوَ جَائِزٌ عِنْدَ الْفُقَهَاءِ وَالْمُحَدِّثِينَ، أَوْ الضَّمِيرُ لِمَعَاشِرِ الْحَنَفِيَّةِ بِاعْتِبَارِ الِانْتِفَاعِ بِهِ وَهَذَا حُسْنُ ظَنٍّ مِنْ الشَّيْخِ، وَيَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْخُطْبَةَ أُلِّفَتْ بَعْدَ ابْتِدَائِهِ هَذَا الْكِتَابَ بَلْ عَلَى أَنَّهَا مُتَأَخِّرَةٌ عَنْهُ ط (قَوْلُهُ: حَيْثُ) الْحَيْثِيَّةُ لِلتَّعْلِيلِ: أَيْ لِأَنَّك يَسَّرْت: أَيْ سَهَّلْت، أَوْ لِلتَّقْيِيدِ: أَيْ أَتْمَمْت وَقْتَ تَيْسِيرِ ابْتِدَاءِ إلَخْ، وَالْأَوَّلُ أَوْلَى ط (قَوْلُهُ: تَبْيِيضِ) هُوَ فِي اصْطِلَاحِ الْمُصَنِّفِينَ عِبَارَةٌ عَنْ كِتَابَةِ الشَّيْءِ عَلَى وَجْهِ الضَّبْطِ وَالتَّحْرِيرِ مِنْ غَيْرِ شَطْبٍ بَعْدَ كِتَابَتِهِ كَيْفَمَا اتَّفَقَ. اهـ. حَمَوِيٌّ (قَوْلُهُ: هَذَا الشَّرْحِ) الْإِشَارَةُ إلَى مَا فِي الذِّهْنِ مِنْ الْأَلْفَاظِ الْمُتَخَيَّلَةِ الدَّالَّةِ عَلَى الْمَعَانِي، وَهَذَا هُوَ الْأَوْلَى مِنْ الْأَوْجُهِ السَّبْعَةِ الْمَشْهُورَةِ ط، وَهِيَ كَوْنُ الْإِشَارَةِ إلَى وَاحِدٍ فَقَطْ مِنْ الْأَلْفَاظِ أَوْ النُّقُوشِ أَوْ الْمَعَانِي أَوْ إلَى اثْنَيْنِ مِنْهَا أَوْ إلَى ثَلَاثَةٍ، وَعَلَى كُلٍّ فَالْإِشَارَةُ مَجَازِيَّةٌ هُنَا. وَالشَّرْحُ بِمَعْنَى الشَّارِحِ: أَيْ الْمُبَيِّنُ وَالْكَاشِفُ، أَوْ جَعَلَ الْأَلْفَاظَ شَرْحًا مُبَالَغَةً (قَوْلُهُ: الْمُخْتَصَرِ) الِاخْتِصَارُ: تَقْلِيلُ اللَّفْظِ وَتَكْثِيرُ الْمَعْنَى، وَهُوَ الْإِيجَازُ كَمَا فِي الْمِفْتَاحِ (قَوْلُهُ: تُجَاهَ) فِي الْقَامُوسِ: وَجَاهَك وَتُجَاهَك مُثَلَّثَيْنِ تِلْقَاءَ وَجْهِك (قَوْلُهُ: مَنْبَعِ الشَّرِيعَةِ) أَيْ مَحَلِّ نَبْعِهَا وَظُهُورِهَا، شَبَّهَ الظُّهُورَ بِالنَّبْعِ ثُمَّ اشْتَقَّ مِنْ النَّبْعِ بِمَعْنَى الظُّهُورِ مَنْبَعَ بِمَعْنَى مُظْهِرٍ، فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ، أَوْ شَبَّهَ الشَّرِيعَةَ بِالْمَاءِ وَالْمَنْبَعُ تَخْيِيلٌ، فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ، وَالْمَعْنَى وَجْهِ صَاحِبِ مَنْبَعِ الشَّرِيعَةِ (قَوْلُهُ: وَالدُّرَرِ) أَيْ الْفَوَائِدِ الدُّنْيَوِيَّةِ وَالْأُخْرَوِيَّةِ الشَّبِيهَةِ بِالدُّرَرِ فِي النَّفَاسَةِ وَالِانْتِفَاعِ، فَهُوَ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ وَعَطْفُهُ عَلَى الشَّرِيعَةِ مِنْ عَطْفِ الْعَامِّ عَلَى الْخَاصِّ، وَفِيهِ إيهَامٌ لَطِيفٌ بِكِتَابِ الدُّرَرِ (قَوْلُهُ: وَضَجِيعَيْهِ) عَطْفٌ عَلَى مَنْبَعٍ تَثْنِيَةُ ضَجِيعٍ بِمَعْنَى مُضَاجِعٍ: وَهُوَ مَنْ يَضْطَجِعُ بِحِذَاءِ آخَرَ بِلَا فَاصِلٍ، وَأَطْلَقَ عَلَيْهِمَا ضَجِيعَيْنِ لِقُرْبِهِمَا مِنْهُ صلى الله عليه وسلم (قَوْلُهُ: الْجَلِيلَيْنِ) أَيْ الْعَظِيمَيْنِ (قَوْلُهُ: بَعْدَ الْإِذْنِ) مُتَعَلِّقٌ بِقَوْلِهِ يَسَّرْت أَوْ ابْتِدَاءَ، وَكَأَنَّ الْإِذْنَ لِلشَّارِحِ حَصَلَ مِنْهُ صلى الله عليه وسلم صَرِيحًا بِرُؤْيَةِ مَنَامٍ أَوْ بِإِلْهَامٍ، وَبِبَرَكَتِهِ صلى الله عليه وسلم فَاقَ هَذَا الشَّرْحُ عَلَى غَيْرِهِ كَمَا فَاقَ مَتْنُهُ حَيْثُ رَأَى الْمُصَنِّفُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ لَهُ مُسْتَقْبِلًا وَاعْتَنَقَهُ عَجِلًا؛ وَأَلْقَمَهُ عليه الصلاة والسلام لِسَانَهُ الشَّرِيفَ كَمَا حَكَاهُ فِي الْمِنَحِ، فَكُلٌّ مِنْ الْمَتْنِ وَالشَّرْحِ مِنْ آثَارِ بَرَكَتِهِ صلى الله عليه وسلم فَلَا غَرْوَ أَنْ شَاعَ ذِكْرُهُمَا، وَفَاقَ وَعَمَّ نَفْعُهُمَا فِي الْآفَاقِ (قَوْلُهُ: صلى الله عليه وسلم) فِعْلٌ مَاضٍ قِيَاسُ مَصْدَرِهِ التَّصْلِيَةُ، وَهُوَ مَهْجُورٌ لَمْ يُسْمَعْ هَكَذَا قَالَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ، وَيُؤَيِّدُهُ قَوْلُ الْقَامُوسِ صَلَّى صَلَاةً لَا تَصْلِيَةً دَعَا اهـ وَيَرُدُّهُ مَا أَنْشَدَهُ ثَعْلَبٌ:
تَرَكْت الْقِيَانَ وَعَزْفَ الْقِيَانِ
… وَأَدْمَنْت تَصْلِيَةً وَابْتِهَالًا
الْقِيَانُ جَمْعُ قَيْنَةٍ: وَهِيَ الْأَمَةُ، وَعَزْفُهَا: أَصْوَاتُهَا. قَالَ: وَالتَّصْلِيَةُ مِنْ الصَّلَاةِ، وَابْتِهَالًا مِنْ الدُّعَاءِ اهـ وَقَدْ ذَكَرَهُ الزَّوْزَنِيُّ فِي مَصَادِرِهِ. وَفِي الْقُهُسْتَانِيِّ: الصَّلَاةُ اسْمٌ مِنْ التَّصْلِيَةِ وَكِلَاهُمَا مُسْتَعْمَلٌ، بِخِلَافِ الصَّلَاةِ بِمَعْنَى أَدَاءِ الْأَرْكَانِ فَإِنَّ مَصْدَرَهُ لَمْ يُسْتَعْمَلْ كَمَا ذَكَرَهُ الْجَوْهَرِيُّ. وَالْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهَا حَقِيقَةٌ لُغَوِيَّةٌ فِي الدُّعَاءِ مَجَازٌ
আপনার প্রচুর দানকে একটি শ্রেষ্ঠ নহর হিসেবে দান করেছেন, এবং আমাদের ওপর আপনার নেয়ামত পূর্ণ করেছেন যখন আপনি শরিয়ত ও মুক্তাসমূহের উৎসের পবিত্র চেহারার সামনে এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু করা সহজ করে দিয়েছেন, এবং তাঁর দুই মহান শয্যাসঙ্গী আবু বকর ও উমরের সামনে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমতির পর।
—
[রাদ্দুল মুহতার] তবে যদি তা উপস্থিত থাকে (তাঁর উক্তি: আপনার দানসমূহ) এটি 'মিনহাহ' এর বহুবচন: আর তা হলো উপহার। (তাঁর উক্তি: প্রচুর) অর্থাৎ অনেক। (তাঁর উক্তি: একটি শ্রেষ্ঠ নহর) 'ফায়িক' মানে হলো প্রতিটি জিনিসের মধ্যে পছন্দনীয় বা উৎকৃষ্ট, যেমনটি কামুস গ্রন্থে রয়েছে। এতে একটি 'ইস্তিআরাহ তাসরিহিয়্যাহ' (সুস্পষ্ট রূপক) রয়েছে যা আগে অতিক্রান্ত বিষয়ের অনুরূপ। আর হেদায়াহ, তানউইর, বাহর এবং নহর কিতাবগুলোর নামের একত্রীকরণের মধ্যে যে লতিফাহ (সূক্ষ্মতা) এবং হুসনে ইহহাম (সুন্দর দ্ব্যর্থবোধকতা) রয়েছে তা গোপন নয়। এখানে কিতাবগুলো স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, কারণ তাতে কালামের সূক্ষ্ম অলংকারিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়; এছাড়া এটি প্রথিতযশা আলেমদের নিকট এ জাতীয় স্থানে অপরিচিত। তাই এটি বুঝে নিন। (তাঁর উক্তি: পূর্ণ করেছেন) অর্থাৎ আপনি আপনার নেয়ামত বা অনুগ্রহ সম্পন্ন করেছেন। (তাঁর উক্তি: আমাদের ওপর) এখানে সর্বনামটি কেবল লেখকের জন্য হতে পারে, এই বিবেচনায় যে এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার সওয়াব কেবল তাঁর দিকেই ফিরবে; আর তিনি নেয়ামতের প্রচার স্বরূপ বহুবচন ব্যবহার করেছেন যা ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের নিকট জায়েয। অথবা সর্বনামটি হানাফি জামাতের জন্য হতে পারে এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হওয়ার বিবেচনায়, যা শায়খের পক্ষ থেকে একটি সুধারণা। এটি প্রমাণ করে যে খুতবাটি কিতাব শুরু করার পর বা কিতাব রচনারও পরে রচিত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: যেহেতু) এখানে এটি কারণ দর্শানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে: অর্থাৎ যেহেতু আপনি সহজ করেছেন; অথবা এটি সময় নির্ধারণের জন্য: অর্থাৎ আমি সেই সময় পূর্ণ করেছি যখন এই কাজ শুরু করা সহজ হয়েছে। তবে প্রথমটিই অধিকতর উত্তম। (তাঁর উক্তি: চূড়ান্তকরণ) গ্রন্থকারদের পরিভাষায় এটি হলো কোনো বিষয়কে কাটাকাটি ছাড়া সুশৃঙ্খল ও পরিমার্জিতভাবে লেখা। (তাঁর উক্তি: এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি) এটি দ্বারা মনের মধ্যে থাকা সেই কাল্পনিক শব্দগুলোর প্রতি ইশারা করা হয়েছে যা অর্থের ওপর দলালত করে। সাতটি প্রসিদ্ধ মতের মধ্যে এটিই অধিকতর উত্তম। সেই সাতটি মত হলো—ইশারা কেবল শব্দ, নকশা বা অর্থের কোনো একটির দিকে হওয়া, অথবা এগুলোর দুইটির দিকে হওয়া, অথবা তিনটির দিকেই হওয়া। আর প্রত্যেক সুরতেই এখানে ইশারাটি রূপক হিসেবে গণ্য। আর 'শারহ' শব্দটি 'শারীহ' (ব্যাখ্যাকারী) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: অর্থাৎ যা স্পষ্টকারী ও উন্মোচনকারী; অথবা অতিশয়োক্তি স্বরূপ শব্দগুলোকেই ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: সংক্ষিপ্ত) সংক্ষিপ্তকরণ হলো শব্দ কমিয়ে অর্থ বাড়িয়ে দেওয়া, আর এটিই হলো 'ইজায' (সংক্ষিপ্ততা) যেমনটি মিফতাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: সামনে) কামুস গ্রন্থে রয়েছে: 'ওয়াজাহাকা' এবং 'তুজাহাকা'—উভয় শব্দের অর্থ হলো তোমার চেহারার সামনে। (তাঁর উক্তি: শরিয়তের উৎস) অর্থাৎ শরিয়ত উৎসারিত হওয়া ও প্রকাশ পাওয়ার স্থান। এখানে প্রকাশ পাওয়াকে উৎসারিত হওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং প্রকাশ পাওয়া অর্থে 'নাবউন' থেকে 'মানবাউন' (প্রকাশকারী) শব্দ উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা একটি 'ইস্তিআরাহ তাসরিহিয়্যাহ'। অথবা শরিয়তকে পানির সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং উৎসকে রূপক হিসেবে আনা হয়েছে, যা 'ইস্তিআরাহ বিল কিনায়াহ'। এর মূল অর্থ হলো শরিয়তের উৎসের অধিকারী (রাসূলুল্লাহ ﷺ) এর পবিত্র চেহারার সামনে। (তাঁর উক্তি: এবং মুক্তাসমূহ) অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতের সেই ফায়দাহসমূহ যা মূল্যবান ও উপকারী হওয়ার দিক থেকে মুক্তার সদৃশ। এটি একটি 'ইস্তিআরাহ তাসরিহিয়্যাহ'। 'শরিয়ত' এর পর এটি উল্লেখ করা 'সাধারণ' বস্তুকে 'বিশেষ' বস্তুর ওপর সংযুক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। এতে 'দুরার' কিতাবের প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও রয়েছে। (তাঁর উক্তি: এবং তাঁর দুই শয্যাসঙ্গী) এটি 'মানবা' শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত)। 'দাজি' অর্থ শয্যাসঙ্গী: অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো ব্যবধান ছাড়াই অন্য একজনের পাশে শয়ন করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে তাঁদের দুজনকে (আবু বকর ও উমর) 'দাজি' বলা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: দুই মহান) অর্থাৎ দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। (তাঁর উক্তি: অনুমতির পর) এটি 'সহজ করেছেন' অথবা 'শুরু করা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। সম্ভবত ব্যাখ্যাকারকের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পক্ষ থেকে স্বপ্নের মাধ্যমে বা ইলহামের মাধ্যমে সুস্পষ্ট অনুমতি অর্জিত হয়েছিল। আর তাঁর (ﷺ) বরকতেই এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, যেমনটি এর মূল গ্রন্থটিও শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিল। মূল গ্রন্থের রচয়িতা যখন নবী ﷺ কে স্বপ্নে দেখেছিলেন, তখন তিনি তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে দ্রুত তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলেন এবং নবী ﷺ তাঁর পবিত্র জিহ্বা মোবারক রচয়িতার মুখে দিয়েছিলেন, যেমনটি 'মিনাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং মূল ও ব্যাখ্যা—উভয়টিই তাঁর (ﷺ) বরকতের নিদর্শন। তাই এগুলোর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়া এবং দিগ দিগন্তে এগুলোর উপকারিতা ব্যাপক হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। (তাঁর উক্তি: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া। এর মাসদার (মূল শব্দ) হওয়ার কথা ছিল 'তাসলিয়াহ', তবে তা বর্জিত এবং ব্যবহৃত হয় না—এমনটিই অনেকে বলেছেন। কামুস গ্রন্থের বক্তব্য একে সমর্থন করে যে, 'সাল্লা-সালাতান' হয়, 'তাসলিয়াতান' নয়। তবে সালাব যা বর্ণনা করেছেন তা একে খণ্ডন করে:
আমি গায়িকা ও তাদের বাদ্যযন্ত্র ছেড়ে দিয়েছি
... এবং সালাত (তাসলিয়াহ) ও কান্নাকাটিতে মনোনিবেশ করেছি।
'কিয়ান' হলো 'কাইনাহ' (দাসী গায়িকা) এর বহুবচন, আর 'আযফ' হলো তাদের সুর। তিনি বলেন: 'তাসলিয়াহ' এসেছে 'সালাত' থেকে আর 'ইবতিহাল' এসেছে 'দোয়া' থেকে। যাওযানিও তাঁর মাসদার বিষয়ক গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। কুহুস্তানি-তে আছে: 'সালাত' হলো 'তাসলিয়াহ' থেকে নির্গত একটি নাম এবং উভয়টিই ব্যবহৃত। তবে ইবাদত হিসেবে যে সালাত (নামাজ) পড়া হয়, তার মাসদার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয় না, যেমনটি জওহারি উল্লেখ করেছেন। জমহুর উলামাদের মতে, আভিধানিক অর্থে এটি দোয়ার জন্য হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) এবং অন্য ক্ষেত্রে রূপক।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ
ــ
[رد المحتار] فِي الْعِبَادَةِ الْمَخْصُوصَةِ كَمَا حَقَّقَهُ السَّعْدُ فِي حَوَاشِي الْكَشَّافِ، وَتَمَامُهُ فِي حَاشِيَةِ الْأَشْبَاهِ لِلْحَمَوِيِّ. وَفِي التَّحْرِيرِ: هِيَ مَوْضُوعَةٌ لِلِاعْتِنَاءِ بِإِظْهَارِ الشَّرَفِ، وَيَتَحَقَّقُ مِنْهُ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ عَلَيْهِ وَمِنْ غَيْرِهِ بِالدُّعَاءِ، فَهِيَ مِنْ قَبِيلِ الْمُشْتَرَكِ الْمَعْنَوِيِّ، وَهُوَ أَرْجَحُ مِنْ الْمُشْتَرَكِ اللَّفْظِيِّ، أَوْ هِيَ مَجَازٌ فِي الِاعْتِنَاءِ الْمَذْكُورِ. اهـ. وَبِهِ انْدَفَعَ الِاسْتِدْلَال بِقَوْلِهِ تَعَالَى - {إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} [الأحزاب: 56]- الْآيَةُ عَلَى جَوَازِ الْجَمْعِ بَيْنَ مَعْنَى الْمُشْتَرَكِ اللَّفْظِيِّ، وَلِمَا فِيهَا مِنْ مَعْنَى الْعَطْفِ عُدِّيَتْ بِعَلَى لِلْمَنْفَعَةِ وَإِنْ كَانَ الْمُتَعَدِّي بِهَا لِلْمَضَرَّةِ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْمُتَرَادِفَيْنِ لَا بُدَّ مِنْ جَرَيَانِ أَحَدِهِمَا مَجْرَى الْآخَرِ، وَفِيهِ خِلَافٌ عِنْدَ الْأُصُولِيِّينَ، وَالْجُمْلَةُ خَبَرِيَّةٌ لَفْظًا مَنْقُولَةٌ إلَى الْإِنْشَاءِ، أَوْ مَجَازٌ فِيهِ بِمَعْنَى اللَّهُمَّ صَلِّ، إذْ الْمَقْصُودُ إيجَادُ الصَّلَاةِ امْتِثَالًا لِلْأَمْرِ. قَالَ الْقُهُسْتَانِيُّ: وَمَعْنَاهَا الثَّنَاءُ الْكَامِلُ إلَّا أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ فِي وُسْعِنَا فَأُمِرْنَا أَنْ نَكِلَ ذَلِكَ إلَيْهِ تَعَالَى كَمَا فِي شَرْحِ التَّأْوِيلَاتِ
1 -مَطْلَبٌ (أَفْضَلُ صِيَغِ الصَّلَاةِ) وَأَفْضَلُ الْعِبَارَاتِ عَلَى مَا قَالَ السُّيُوطِيّ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، وَقِيلَ هُوَ التَّعْظِيمُ؛ فَالْمَعْنَى اللَّهُمَّ عَظِّمْهُ فِي الدُّنْيَا بِإِعْلَاءِ ذِكْرِهِ وَإِنْفَاذِ شَرِيعَتِهِ، وَفِي الْآخِرَةِ بِتَضْعِيفِ أَجْرِهِ وَتَشْفِيعِهِ فِي أُمَّتِهِ كَمَا قَالَهُ ابْنُ الْأَثِيرِ اهـ وَعَطَفَ قَوْلَهُ وَسَلَّمَ بِصِيغَةِ الْمَاضِي، وَيُحْتَمَلُ صِيغَةُ الْأَمْرِ مِنْ عَطْفِ الْإِنْشَاءِ عَلَى الْإِنْشَاءِ لَفْظًا أَوْ مَعْنًى وَحُذِفَ مَعْمُولُهُ لِدَلَالَةِ مَا قَبْلَهُ عَلَيْهِ: أَيْ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَمَصْدَرُهُ التَّسْلِيمُ وَاسْمُ مَصْدَرِهِ السَّلَامَةُ، وَمَعْنَاهُ السَّلَامَةُ مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ. قَالَ الْحَمَوِيُّ وَجَمَعَ بَيْنَهُمَا خُرُوجًا مِنْ خِلَافِ مَنْ كَرِهَ إفْرَادَ أَحَدِهِمَا عَنْ الْآخَرِ وَإِنْ كَانَ عِنْدَنَا لَا يُكْرَهُ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي مُنْيَةِ الْمُفْتِي، وَهَذَا الْخِلَافُ فِي حَقِّ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا غَيْرُهُ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ فَلَا خِلَافَ فِيهِ، وَمَنْ ادَّعَاهُ فَعَلَيْهِ أَنْ يُورِدَ نَقْلًا صَرِيحًا وَلَا يَجِدُ إلَيْهِ سَبِيلًا كَذَا فِي شَرْحِ الْعَلَّامَةِ ميرك عَلَى الشَّمَائِلِ. اهـ. أَقُولُ: وَجَزَمَ الْعَلَّامَةُ ابْنُ أَمِيرِ حَاجٍّ فِي شَرْحِهِ عَلَى التَّحْرِيرِ بِعَدَمِ صِحَّةِ الْقَوْلِ بِكَرَاهَةِ الْإِفْرَادِ، وَاسْتَدَلَّ عَلَيْهِ فِي شَرْحِهِ الْمُسَمَّى [حِلْيَةُ الْمُجَلِّي فِي شَرْحِ مُنْيَةِ الْمُصَلِّي] بِمَا فِي سُنَنِ النَّسَائِيّ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ فِي حَدِيثِ الْقُنُوتِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ " ثُمَّ قَالَ: مَعَ أَنَّ فِي قَوْله تَعَالَى - {وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ} [الصافات: 181]- {وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى} [النمل: 59]- إلَى غَيْرِ ذَلِكَ أُسْوَةً حَسَنَةً. اهـ. وَمِمَّنْ رَدَّ الْقَوْلَ بِالْكَرَاهَةِ الْعَلَّامَةُ مُنْلَا عَلِيٌّ الْقَارِي فِي شَرْحِ الْجَزْرِيَّةِ فَرَاجِعْهُ
(قَوْلُهُ: وَعَلَى آلِهِ) اُخْتُلِفَ فِي الْمُرَادِ بِهِمْ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْضِعِ؛ فَالْأَكْثَرُونَ أَنَّهُمْ قَرَابَتُهُ صلى الله عليه وسلم الَّذِينَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الصَّدَقَةُ عَلَى الِاخْتِلَافِ فِيهِمْ، وَقِيلَ جَمِيعُ أُمَّةِ الْإِجَابَةِ وَإِلَيْهِ مَالَ مَالِكٌ وَاخْتَارَهُ الْأَزْهَرِيُّ وَالنَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ، وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ شَرْحُ التَّحْرِيرِ.
وَذَكَرَ الْقُهُسْتَانِيُّ أَنَّ الثَّانِيَ مُخْتَارُ الْمُحَقِّقِينَ (قَوْلُهُ: وَصَحْبِهِ) جَمْعُ صَاحِبٍ، وَقِيلَ اسْمُ جَمْعٍ لَهُ. قَالَ فِي شَرْحِ التَّحْرِيرِ: وَالصَّحَابِيُّ عِنْدَ الْمُحَدِّثِينَ وَبَعْضِ الْأُصُولِيِّينَ مَنْ لَقِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُسْلِمًا وَمَاتَ عَلَى الْإِسْلَامِ، أَوْ قَبْلَ النُّبُوَّةِ وَمَاتَ قَبْلَهَا عَلَى الْحَنِيفِيَّةِ كَزَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، أَوْ ارْتَدَّ وَعَادَ فِي حَيَاتِهِ. وَعِنْدَ جُمْهُورِ الْأُصُولِيِّينَ مَنْ طَالَتْ صُحْبَتُهُ مُتَّبِعًا لَهُ مُدَّةً يَثْبُتُ مَعَهَا إطْلَاقُ صَاحِبِ فُلَانٍ عُرْفًا بِلَا تَحْدِيدٍ فِي الْأَصَحِّ. اهـ.
وَظَاهِرُهُ أَنَّ مَنْ ارْتَدَّ ثُمَّ أَسْلَمَ تَعُودُ صُحْبَتُهُ وَإِنْ لَمْ يَلْقَهُ بَعْدَ الْإِسْلَامِ، وَهَذَا ظَاهِرٌ عَلَى مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ مِنْ أَنَّ الْمُرْتَدَّ لَا يُحْبَطُ عَمَلُهُ مَا لَمْ يَمُتْ عَلَى الرِّدَّةِ: أَمَّا عِنْدَنَا فَبِمُجَرَّدِ الرِّدَّةِ يُحْبَطُ الْعَمَلُ، وَالصُّحْبَةُ مِنْ أَشْرَفِ الْأَعْمَالِ، لَكِنَّهُمْ قَالُوا إنَّهُ بِالْإِسْلَامِ تَعُودُ أَعْمَالُهُ مُجَرَّدَةً عَنْ الثَّوَابِ، وَلِذَا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ قَضَاؤُهُ سِوَى عِبَادَةٍ بَقِيَ سَبَبُهَا كَالْحَجِّ وَكَصَلَاةٍ صَلَّاهَا فَارْتَدَّ فَأَسْلَمَ فِي وَقْتِهَا. وَعَلَى هَذَا فَقَدْ يُقَالُ تَعُودُ صُحْبَتُهُ مُجَرَّدَةً عَنْ الثَّوَابِ،
এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর।
—
[রাদ্দ আল-মুহতার] বিশেষ ইবাদতের ক্ষেত্রে, যেমনটি আল্লামা সাদ (তাফতাজানি) কাশশাফের হাশিয়া বা টীকাগুলোতে সুস্পষ্ট করেছেন, এবং এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হামাভির 'আল-আশবাহ'-এর হাশিয়াতে রয়েছে। আর 'আত-তাহরির' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি (সালাত) সম্মান প্রদর্শনের প্রতি গুরুত্বারোপের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি তাঁর (নবীর) ওপর রহমতের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, আর অন্যদের পক্ষ থেকে দোয়ার মাধ্যমে। সুতরাং এটি 'মুশতারাক মানাভি' (অর্থগতভাবে সাধারণ শব্দ)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা 'মুশতারাক লাফজি' (শব্দগতভাবে একাধিক অর্থবোধক শব্দ) অপেক্ষা অধিকতর অগ্রগণ্য। অথবা এটি উল্লিখিত গুরুত্বারোপের অর্থে রূপক বা মাজায হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানেই কথা শেষ। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার বাণী— {নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন} [সূরা আহজাব: ৫৬]—পুরো আয়াতটি দ্বারা মুশতারাক লাফজির একাধিক অর্থকে একত্রে গ্রহণ করার বৈধতার যে দলিল দেওয়া হয়, তা নিরসন হয়ে গেল। আর যেহেতু এতে অনুকম্পা বা অনুরাগের অর্থ রয়েছে, তাই এটি 'আলা' অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে উপকার বুঝাতে, যদিও সাধারণত এটি ক্ষতি বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর ভিত্তি হলো—দুটি সমার্থক শব্দের একটির বিধান অন্যটির ওপর প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক। এ বিষয়ে উসুলবিদদের (মূলনীতিবিদদের) নিকট মতভেদ রয়েছে। বাক্যটি গঠনগতভাবে বর্ণনামূলক হলেও তা প্রার্থনামূলক অর্থে রূপান্তরিত হয়েছে, অথবা এটি 'হে আল্লাহ! আপনি সালাত বর্ষণ করুন' অর্থে প্রার্থনার মাজায বা রূপক; কেননা উদ্দেশ্য হলো আদেশ পালনার্থে সালাত বা দোয়া সম্পাদন করা। কুহুস্তানি বলেন: এর অর্থ হলো পূর্ণাঙ্গ প্রশংসা, তবে তা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে, তাই আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা বিষয়টি আল্লাহ তাআলার ওপর সোপর্দ করি, যেমনটি 'শারহুত তাউইলাত' গ্রন্থে রয়েছে।
১ -অনুচ্ছেদ (সালাত পাঠের সর্বোত্তম শব্দাবলি) এবং সুয়ুতীর বর্ণনা অনুযায়ী সর্বোত্তম শব্দাবলি হলো: 'হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন'। কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো সম্মান প্রদর্শন; তখন অর্থ দাঁড়াবে: 'হে আল্লাহ! দুনিয়াতে তাঁর নামকে সমুন্নত করে এবং তাঁর শরিয়তকে কার্যকর করে তাঁকে সম্মানিত করুন, আর আখেরাতে তাঁর সওয়াবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং তাঁর উম্মতের বিষয়ে তাঁর সুপারিশ কবুল করে তাঁকে সম্মানিত করুন', যেমনটি ইবনুল আসির বলেছেন। আর লেখক 'ওয়াসাল্লামা' (শান্তি বর্ষণ করুন) শব্দটি অতীতকালের ক্রিয়া দ্বারা আতফ বা যুক্ত করেছেন। এটি আদেশসূচক ক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা গঠনগতভাবে বা অর্থগতভাবে প্রার্থনামূলক বাক্যের ওপর প্রার্থনামূলক বাক্যের সংযুক্তি। এর কর্মপদ (অবজেক্ট) উহ্য রাখা হয়েছে কারণ পূর্ববর্তী অংশ তা নির্দেশ করছে; অর্থাৎ: 'এবং তাঁর ওপর শান্তি বর্ষণ করুন'। এর মূলধাতু (মাসদার) হলো 'তাসলিম', আর ইসমে মাসদার হলো 'সালামাহ', যার অর্থ হলো সকল অপ্রীতিকর বিষয় থেকে নিরাপত্তা। হামাভি বলেন: লেখক সালাত ও সালাম দুটিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন যাতে তাদের বিরোধিতা থেকে বেঁচে থাকা যায় যারা একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করে পাঠ করাকে অপছন্দ করেছেন, যদিও আমাদের (হানাফিদের) নিকট তা অপছন্দনীয় নয়, যেমনটি 'মুনিয়াতুল মুফতি' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই মতভেদ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে; কিন্তু অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে মতভেদের দাবি করবে, তাকে সুস্পষ্ট কোনো বর্ণনা পেশ করতে হবে, কিন্তু সে এর কোনো পথ পাবে না। আল্লামা মীরক তাঁর 'শামায়েল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমনই বলেছেন। আমি (ইবনে আবিদিন) বলছি: আল্লামা ইবনে আমির হাজ্জ তাঁর 'তাহরির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই একা পাঠ করার অপছন্দনীয়তা সম্পর্কিত মতটি সঠিক নয় বলে দৃঢ়ভাবে মত দিয়েছেন। তিনি 'মুনিয়াতুল মুসল্লি'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'হিলইয়াতুল মুজাল্লি'-তে এর সপক্ষে নাসায়ী শরিফে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত কুনুতের হাদিস—"এবং নবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক"—দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: তদুপরি আল্লাহ তাআলার বাণী— {এবং রাসুলদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক} [সূরা সাফফাত: ১৮১] এবং {শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাদের তিনি মনোনীত করেছেন} [সূরা নামল: ৫৯]—প্রভৃতি আয়াতের মাঝে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর যারা একা পাঠ করার অপছন্দনীয়তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদের মধ্যে আল্লামা মোল্লা আলী কারীও রয়েছেন, যা তিনি তাঁর 'শারহুল জাজারিয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সুতরাং সেখানে দেখে নিন।
(লেখকের উক্তি: এবং তাঁর পরিবারের ওপর) এই স্থানে 'পরিবার' (আল) বলতে কাদের বুঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে তাঁরা হলেন নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটাত্মীয় যাদের ওপর সদকা গ্রহণ হারাম করা হয়েছে, যদিও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো উম্মতের সকল মুমিন ব্যক্তি; ইমাম মালেক এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন এবং আজহারি ও নববী মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি পছন্দ করেছেন। এর বাইরেও আরও মত রয়েছে, যা শারহুত তাহরির-এ বর্ণিত।
কুহুস্তানি উল্লেখ করেছেন যে, দ্বিতীয় মতটিই গবেষক আলেমদের নিকট পছন্দনীয়। (লেখকের উক্তি: এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর) এটি 'সাহিব' শব্দের বহুবচন, কেউ কেউ একে ইসম-ই-জাম (সমষ্টিবাচক বিশেষ্য) বলেছেন। শারহুত তাহরির-এ আছে: মুহাদ্দিসগণ এবং কিছু উসুলবিদের নিকট সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। অথবা নবুওয়াতের পূর্বে সাক্ষাত করেছেন এবং হানাফী ধর্মের (একত্ববাদের) ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন যেমন যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল। অথবা মুরতাদ হওয়ার পর নবীর জীবদ্দশাতেই আবার ইসলামে ফিরে এসেছেন। আর জমহুর উসুলবিদের মতে সাহাবী হলেন তিনি যার সাহচর্য দীর্ঘ ছিল এবং যিনি দীর্ঘ সময় তাঁর অনুসারী ছিলেন, যার ভিত্তিতে প্রথা অনুযায়ী তাকে 'অমুকের সঙ্গী' বলা যায়, অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
এর বাহ্যিক অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি মুরতাদ হওয়ার পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার সাহাবী হওয়ার মর্যাদা ফিরে আসবে, যদিও ইসলামের পর পুনরায় নবীর সাথে তার সাক্ষাত না হয়ে থাকে। ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী এটি স্পষ্ট, কারণ মুরতাদ ব্যক্তির আমল ধ্বংস হয় না যদি না সে মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমাদের (হানাফিদের) মতে, কেবল মুরতাদ হওয়ার দ্বারাই আমল ধ্বংস হয়ে যায়, আর সাহচর্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল। তবে তাঁরা (হানাফি ওলামাগণ) বলেছেন যে, ইসলামের মাধ্যমে তার আমলসমূহ সওয়াববিহীন অবস্থায় ফিরে আসে। একারণেই তার ওপর সেই ইবাদতগুলো কাজা করা ওয়াজিব হয় না যার কারণ অবশিষ্ট রয়েছে, যেমন হজ, এবং এমন নামাজ যা সে আদায়ের পর মুরতাদ হয়েছিল এবং পুনরায় ওয়াক্ত থাকতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। এর ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে, তার সাহাবী হওয়ার মর্যাদা সওয়াববিহীন অবস্থায় ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الَّذِينَ حَازُوا مِنْ مِنَحِ فَتْحِ كَشْفِ فَيْضِ فَضْلِك الْوَافِي حَقَائِقًا. وَبَعْدُ: فَيَقُولُ فَقِيرُ ذِي اللُّطْفِ الْخَفِيِّ.
ــ
[رد المحتار] وَقَدْ يُقَالُ إنْ أَسْلَمَ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا تَعُودُ صُحْبَتُهُ مَا لَمْ يَلْقَهُ لِبَقَاءِ سَبَبِهَا فَتَأَمَّلْ (قَوْلُهُ: الَّذِينَ حَازُوا) أَيْ جَمَعُوا (قَوْلُهُ: مِنْ مِنَحِ إلَخْ) فِيهِ صِنَاعَةُ التَّوْجِيهِ حَيْثُ ذَكَرَ أَسْمَاءَ الْكُتُبِ وَهِيَ الْمِنَحُ لِلْمُصَنِّفِ وَالْفَتْحُ شَرْحُ الْهِدَايَةِ لِلْمُحَقِّقِ ابْنِ الْهُمَامِ وَالْكَشْفُ شَرْحُ الْمَنَارِ لِلنَّسَفِيِّ وَالْفَيْضُ لِلْكُرْكِيِّ وَالْوَافِي مَتْنُ الْكَافِي لِلنَّسَفِيِّ وَالْحَقَائِقُ شَرْحُ مَنْظُومَةِ النَّسَفِيِّ، وَفِيهِ حُسْنُ الْإِبْهَامِ بِذِكْرِ مَا لَهُ مَعْنًى قَرِيبٌ وَمَعْنًى بَعِيدٌ. وَأَرَادَ الْمَعْنَى الْبَعِيدَ وَهُوَ الْمَعَانِي اللُّغَوِيَّةُ هُنَا دُونَ الِاصْطِلَاحِيَّةِ لِأَهْلِ الْمَذْهَبِ: أَيْ حَازُوا عَنْ عَطَايَا فَتْحِ بَابِ كَشْفٍ: أَيْ إظْهَارِ فَيْضٍ أَيْ كَثِيرِ فَضْلِك أَيْ إنْعَامِك الْوَافِي أَيْ التَّامِّ حَقَائِقًا أَيْ أُمُورًا مُحَقَّقَةً.
وَبِهَذِهِ اللَّطَافَةِ يُغْتَفَرُ مَا فِيهِ مِنْ تَتَابُعِ الْإِضَافَاتِ الَّذِي عُدَّ مُخِلًّا بِالْفَصَاحَةِ إلَّا إذَا لَمْ يَثْقُلْ عَلَى اللِّسَانِ فَإِنَّهُ يَزِيدُ الْكَلَامَ مِلَاحَةً وَلَطَافَةً. فَيَكُونُ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَدِيعِ. وَيُسَمَّى الِاطِّرَادُ كَقَوْلِهِ تَعَالَى - {ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ} [مريم: 2]- وقَوْله تَعَالَى - {كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ} [الأنفال: 52]-.
[تَنْبِيهٌ] حَقَائِقًا بِالْأَلِفِ لِلسَّجْعِ مَعَ أَنَّهُ مَمْنُوعٌ مِنْ الصَّرْفِ عَلَى اللُّغَةِ الْمَشْهُورَةِ. فَصَرَفَهُ هُنَا عَلَى حَدِّ قَوْله تَعَالَى - {سَلاسِلَ وَأَغْلالا} [الإنسان: 4]- وقَوْله تَعَالَى - قَوَارِيرًا - فِي قِرَاءَةِ مَنْ نَوَّنَهُمَا. وَذَكَرُوا لِذَلِكَ أَوْجُهًا مِنْهَا التَّنَاسُبُ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَرَأَ " سَلَاسِلَا " بِالْأَلِفِ دُونَ تَنْوِينٍ (قَوْلُهُ: وَبَعْدُ) يُؤْتَى بِهَا لِلِانْتِقَالِ مِنْ أُسْلُوبٍ إلَى أُسْلُوبٍ آخَرَ لَا يَكُونُ بَيْنَهُمَا مُنَاسَبَةٌ. فَهِيَ مِنْ الِاقْتِضَابِ الْمَشُوبِ بِالتَّخَلُّصِ.
وَاخْتُلِفَ فِي أَوَّلِ مَنْ تَكَلَّمَ بِهَا. وَدَاوُد أَقْرَبُ. وَهِيَ فَصْلُ الْخِطَابِ الَّذِي أُوتِيَهُ، وَهِيَ مِنْ الظُّرُوفِ الزَّمَانِيَّةِ أَوْ الْمَكَانِيَّةِ الْمُنْقَطِعَةِ عَنْ الْإِضَافَةِ مَبْنِيَّةٌ عَلَى الضَّمِّ لِنِيَّةِ مَعْنَى الْمُضَافِ إلَيْهِ أَوْ مَنْصُوبَةٌ غَيْرَ مُنَوَّنَةٍ لِنِيَّةِ لَفْظِهِ أَوْ مُنَوَّنَةٌ إنْ لَمْ يَنْوِ لَفْظَهُ وَلَا مَعْنَاهُ. وَالثَّالِثُ لَا يُحْتَمَلُ هُنَا لِعَدَمِ مُسَاعَدَةِ الْخَطِّ إلَّا عَلَى لُغَةِ مَنْ لَا يَكْتُبُ الْأَلْفَ الْمُبْدَلَةَ عَنْ التَّنْوِينِ حَالَ النَّصْبِ، وَعَلَى كُلٍّ لَا بُدَّ لَهَا مِنْ مُتَعَلِّقٍ. فَإِنْ كَانَتْ الْوَاوُ هُنَا نَائِبَةً عَنْ أَمَّا كَمَا هُوَ الْمَشْهُورُ فَمُتَعَلِّقُهَا إمَّا الشَّرْطُ أَوْ الْجَزَاءُ، وَالثَّانِي أَوْلَى لِيُفِيدَ تَأْكِيدَ الْوُقُوعِ. لِأَنَّ التَّعْلِيقَ عَلَى أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْ وُقُوعِهِ يُفِيدُ وُقُوعَ الْمُعَلَّقِ أَلْبَتَّةَ.
وَالتَّقْدِيرُ مَهْمَا يَكُنْ مِنْ شَيْءٍ فَيَقُولُ بَعْدَ الْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ وَالتَّصْلِيَةِ وَإِنْ كَانَتْ الْوَاوُ لِلْعَطْفِ وَهُوَ مِنْ عَطْفِ الْقِصَّةِ عَلَى الْقِصَّةِ. أَوْ لِلِاسْتِئْنَافِ فَالْعَامِلُ فِيهَا يَقُولُ. وَزِيدَتْ فِيهِ الْفَاءُ لِتَوَهُّمِ أَمَّا إجْرَاءً لِلْمُتَوَهَّمِ مَجْرَى الْمُحَقَّقِ كَمَا فِي: وَلَا سَابِقَ بِالْجَرِّ. وَالتَّقْدِيرُ وَيَقُولُ بَعْدَ الْبَسْمَلَةِ.
وَعَلَى الْأَوَّلِ فَهِيَ فِي جَوَابِ الشَّرْطِ لِنِيَابَةِ الْوَاوِ عَنْ أَدَاتِهِ. وَاعْتَرَضَهُ حَسَنٌ جَلَبِي فِي حَوَاشِي التَّلْوِيحِ بِأَنَّ النِّيَابَةَ تَقْتَضِي مُنَاسَبَةً بَيْنَ النَّائِبِ وَالْمَنُوبِ عَنْهُ، وَلَا مُنَاسَبَةَ بَيْنَ الْوَاوِ وَأَمَّا اهـ وَلَا يَصِحُّ تَقْدِيرُ أَمَّا بَعْدَ الْوَاوِ لِأَنَّ أَمَّا لَا تُحْذَفُ إلَّا إذَا كَانَ الْجَزَاءُ أَمْرًا أَوْ نَهْيًا نَاصِبًا لِمَا قَبْلَهُ أَوْ مُفَسِّرًا لَهُ كَمَا فِي الرَّضِي وَمَا هُنَا لَيْسَ كَذَلِكَ (قَوْلُهُ: فَقِيرُ ذِي اللُّطْفِ) أَيْ كَثِيرُ الْفَقْرِ: أَيْ الِاحْتِيَاجِ لِلَّهِ تَعَالَى. ذِي اللُّطْفِ: أَيْ الرِّفْقِ وَالْبِرِّ بِعِبَادِهِ وَالْإِحْسَانِ إلَيْهِمْ (قَوْلُهُ: الْخَفِيِّ) أَيْ الظَّاهِرِ فَإِنَّهُ مِنْ أَسْمَاءِ الْأَضْدَادِ. فَإِنَّ لُطْفَهُ تَعَالَى لَا يَخْفَى عَلَى شَخْصٍ فِي كُلِّ شَخْصٍ، أَوْ الْمُرَادُ الْخَفِيُّ عَنْ الْعَبْدِ. بِأَنْ يُدَبِّرَ لَهُ الْأَمْرَ مِنْ غَيْرِ تَعَانٍ مِنْهُ وَمَشَقَّةٍ. وَيُهَيِّئَ لَهُ أُمُورَ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ، وَاَللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ط
(قَوْلُهُ: مُحَمَّدٌ) بَدَلٌ مِنْ فَقِيرٍ أَوْ عَطْفُ بَيَانٍ. وَعَلَاءُ الدِّينِ لَقَبُهُ: أَيْ مُعْلِيهِ وَرَافِعُهُ بِالْعَمَلِ بِهِ وَبَيَانِ أَحْكَامِهِ.
যারা আপনার পরিপূর্ণ অনুগ্রহের প্রবাহের উন্মোচন ও বিজয়ের উপহারসমূহ থেকে প্রকৃত তত্ত্বসমূহ অর্জন করেছেন। অতঃপর, সূক্ষ্ম অনুগ্রহের অধিকারীর মুখাপেক্ষী (ফকির) বলছেন...
—
[রাদ্দুল মুহতার] এবং বলা হয়ে থাকে যে, যদি কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত সাহাবিত্ব ফিরে আসবে না, কারণ সাহাবিত্বের কারণটি বিদ্যমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। (তাঁর বক্তব্য: যারা অর্জন করেছেন) অর্থাৎ যারা একত্রিত করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: উপহারসমূহ থেকে...) এখানে 'তৌজিহ' নামক অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে কিতাবসমূহের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—গ্রন্থকারের 'আল-মিনাহ', মুহাক্কিক ইবনে হুমামের হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ফাতহ', নাসাফীর মানারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-কাশফ', কুরকীর 'আল-ফায়জ', নাসাফীর কাফীর মূলপাঠ 'আল-ওয়াফি' এবং নাসাফীর মানজুমার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-হাকাইক'। এতে 'হুসনে ইবহাম' অলঙ্কারও রয়েছে, যেখানে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যার একটি নিকটবর্তী এবং একটি দূরবর্তী অর্থ রয়েছে। এখানে তিনি দূরবর্তী অর্থ তথা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছেন, মাযহাবের ইমামদের পারিভাষিক অর্থ নয়। অর্থাৎ: তারা 'ফাতহ' (বিজয়/উন্মোচন) এর উপহারসমূহ থেকে 'কাশফ' (প্রকাশ) এর দরজা লাভ করেছেন; তথা আপনার 'ফায়জ' (প্রবাহ) এর বহিঃপ্রকাশ অর্থাৎ আপনার 'ফজল' (অনুগ্রহ) এর প্রাচুর্য থেকে, যা আপনার 'ওয়াফি' (পরিপূর্ণ) অর্থাৎ অঢেল নিয়ামত, এবং 'হাকাইক' অর্থাৎ সুনিশ্চিত বিষয়সমূহ।
এই মাধুর্যের কারণে এখানে উপর্যুপরি 'ইজাফাত' বা সম্বন্ধ পদ ব্যবহারের বিষয়টি ক্ষমাযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণত বাগ্মিতার পরিপন্থী মনে করা হয়। তবে যদি তা জিহ্বার ওপর ভারী না হয়, তবে তা বাণীর সৌন্দর্য ও মাধুর্য বৃদ্ধি করে। ফলে এটি 'বাদি' অলঙ্কারের অন্তর্ভুক্ত হয়। একে 'ইত্তিরদ' বলা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার রবের অনুগ্রহের উল্লেখ" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "ফেরাউনের বংশধরদের অভ্যাসের ন্যায়"।
[সতর্কীকরণ] 'হাকাইকান' শব্দটি অন্ত্যমিলের (সাজাউ) জন্য আলিফসহ এসেছে, যদিও প্রসিদ্ধ ভাষাশৈলী অনুযায়ী এটি 'মানসুরাফ' বা তানভীন গ্রহণকারী নয়। এখানে একে 'মানসুরাফ' করা হয়েছে মহান আল্লাহর বাণীর আদলে: "শিকল ও বেড়ি" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "স্ফটিকের ন্যায়" — সেই ক্বারীদের পাঠ অনুযায়ী যারা এই শব্দ দুটিতে তানভীন পাঠ করেছেন। এ ব্যাপারে তারা বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো শ্রুতিমাধুর্য বা সামঞ্জস্য রক্ষা করা। আবার কেউ কেউ 'সালাসিলা' শব্দটি আলিফসহ কিন্তু তানভীন ছাড়াই পাঠ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: অতঃপর) এটি এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় যার মাঝে কোনো সরাসরি মিল নেই। এটি 'ইকতিজাব' বা আকস্মিক পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত যা 'তাখাল্লুস' বা মূল বিষয়ে গমনের সাথে মিশ্রিত।
এই শব্দটি সর্বপ্রথম কে বলেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে। দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। এটিই সেই 'ফাসলুল খিতাব' বা চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বাণী যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল। এটি একটি কালবাচক বা স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (জরফ), যা ইজাফাত বা সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন। এটি 'দম্মা' বা পেশ-বিশিষ্ট অবস্থায় 'মাবনি' বা অপরিবর্তনীয় হয় যখন মুদাফ ইলাইহির অর্থের নিয়ত করা হয়। অথবা এটি তানভীনহীন জবর-বিশিষ্ট হয় যখন তার শব্দের নিয়ত করা হয়। অথবা এটি তানভীনযুক্ত হয় যখন শব্দ বা অর্থ কোনোটিরই নিয়ত করা হয় না। এখানে তৃতীয় সুরতটি অসম্ভব, কারণ পাণ্ডুলিপির লিখনপদ্ধতি কেবল সেই ভাষার অনুসারী ছাড়া এটি সমর্থন করে না যারা নসরের হালতে তানভীনের বদলে আলিফ লেখে না। তবে সকল ক্ষেত্রেই এর জন্য একটি আমেল বা সংশ্লিষ্ট শব্দ প্রয়োজন। এখানে যদি 'ওয়াও' বর্ণটি 'আম্মা' (অতঃপর) এর স্থলাভিষিক্ত হয়—যেমনটি প্রসিদ্ধ—তবে এর আমেল হবে শর্ত অথবা জাযা (প্রতিদান)। দ্বিতীয়টি উত্তম, যাতে বিষয়টির সংঘটন নিশ্চিত হওয়া বুঝায়। কারণ এমন কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করা যা অবশ্যই ঘটবে, তা নির্ভরশীল বিষয়টিও নিশ্চিতভাবে ঘটার ফায়দা দেয়।
এর মূল কাঠামো হলো: "যাই ঘটুক না কেন, বিসমিল্লাহ, হামদ এবং দরুদের পর বলা হচ্ছে..."। আর যদি 'ওয়াও' হরফটি আতফ বা সংযোজক হিসেবে হয়, তবে এটি এক কাহিনীর সাথে অন্য কাহিনীর সংযোজন হবে। অথবা যদি এটি প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফ) হয়, তবে এর আমেল হবে 'বলছেন' (ইয়াকুলু) শব্দটি। আর এখানে 'ফা' বর্ণটি অতিরিক্ত এসেছে 'আম্মা' শব্দটির কাল্পনিক উপস্থিতির কারণে, যাতে কাল্পনিক বিষয়টি নিশ্চিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমনটি হয়ে থাকে জবর-বিশিষ্ট অবস্থায় 'ওয়া লা সাবিকা' এর ক্ষেত্রে। এর মূল অর্থ হবে: "বিসমিল্লাহর পরে বলছেন..."।
প্রথম সুরত অনুযায়ী, এটি 'ওয়াও' বর্ণটি শর্তের অব্যয়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে শর্তের উত্তর বা জাযা হিসেবে এসেছে। হাসান চালাবী তাঁর 'তাশিল' এর টীকাগ্রন্থে এর ওপর আপত্তি তুলে বলেছেন যে, স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য স্থলাভিষিক্ত এবং মূলের মধ্যে সাদৃশ্য থাকা প্রয়োজন, অথচ 'ওয়াও' এবং 'আম্মা' এর মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। আর 'ওয়াও' এর পর 'আম্মা' শব্দটির উহ্য থাকা সঠিক নয়, কারণ 'আম্মা' তখনই উহ্য হয় যখন জাযাটি আদেশসূচক বা নিষেধসূচক হয় যা পূর্ববর্তী শব্দকে নসব প্রদান করে অথবা তার ব্যাখ্যা দেয়, যেমনটি 'রাজি' কিতাবে বর্ণিত আছে। কিন্তু এখানকার বিষয়টি তেমন নয়। (তাঁর বক্তব্য: করুণাময়ের মুখাপেক্ষী) অর্থাৎ পরম অভাবী; তথা আল্লাহর প্রতি চরম মুখাপেক্ষী। 'যিল লুতফ' অর্থ তাঁর বান্দাদের প্রতি স্নেহশীল, দয়ালু ও অনুগ্রহকারী। (তাঁর বক্তব্য: সূক্ষ্ম/গুপ্ত) অর্থাৎ প্রকাশ্য, কারণ এটি বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহর অনুগ্রহ প্রতিটি মানুষের মধ্যে কোনো মানুষের কাছে গোপন থাকে না। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা বান্দার কাছে গোপন; অর্থাৎ আল্লাহ তার জন্য এমনভাবে সবকিছুর ব্যবস্থা করেন যাতে বান্দাকে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট পোহাতে হয় না। তিনি তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কাজসমূহ এমনভাবে প্রস্তুত করে দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
(তাঁর বক্তব্য: মুহাম্মদ) এটি 'ফাকির' শব্দ থেকে 'বদল' অথবা 'আতফে বয়ান'। আর 'আলাউদ্দিন' হলো তাঁর উপাধি; অর্থাৎ যিনি দ্বীনের ওপর আমল করে এবং এর বিধানাবলী বর্ণনা করে একে সুউচ্চ ও সমুন্নতকারী।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مُحَمَّدُ عَلَاءُ الدِّينِ الْحَصْكَفِيُّ ابْنُ الشَّيْخِ عَلِيٍّ الْإِمَامِ بِجَامِعِ بَنِي أُمَيَّةَ
ــ
[رد المحتار] وَمَنَعَ بَعْضُهُمْ مِنْ التَّسَمِّي بِمِثْلِ ذَلِكَ مِمَّا فِيهِ تَزْكِيَةُ نَفْسٍ وَيَأْتِي تَمَامُ الْكَلَامِ عَلَى ذَلِكَ فِي كِتَابِ الْحَظْرِ وَالْإِبَاحَةِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَهُوَ رَحْمَةُ اللَّهِ تَعَالَى كَمَا فِي شَرْحِ ابْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَلَى هَذَا الشَّرْحِ: مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَمَالِ الدِّينِ بْنِ حَسَنِ بْنِ زَيْنِ الْعَابِدِينَ الْحِصْنِيُّ الْأَثَرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالْحَصْكَفِيُّ صَاحِبُ التَّصَانِيفِ فِي الْفِقْهِ وَغَيْرِهِ، مِنْهَا هَذَا الشَّرْحُ وَشَرْحُ الْمُلْتَقَى وَشَرْحُ الْمَنَارِ فِي الْأُصُولِ وَشَرْحُ الْقَطْرِ فِي النَّحْوِ وَمُخْتَصَرُ الْفَتَاوَى الصُّوفِيَّةِ وَالْجَمْعُ بَيْنَ فَتَاوَى ابْنِ نُجَيْمٍ جَمْعُ التُّمُرْتَاشِيِّ وَجَمْعُ ابْنِ صَاحِبِهَا، وَلَهُ تَعْلِيقَةٌ عَلَى صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ تَبْلُغُ نَحْوَ ثَلَاثِينَ كُرَّاسًا وَعَلَى تَفْسِيرِ الْبَيْضَاوِيِّ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ إلَى سُورَةِ الْإِسْرَاءِ، وَحَوَاشٍ عَلَى الدُّرَرِ وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ الرَّسَائِلِ وَالتَّحْرِيرَاتِ، وَقَدْ أَقَرَّ لَهُ بِالْفَضْلِ وَالتَّحْقِيقِ مَشَايِخُهُ وَأَهْلُ عَصْرِهِ حَتَّى قَالَ شَيْخُهُ الشَّيْخُ خَيْرُ الدِّينِ الرَّمْلِيُّ فِي إجَازَتِهِ لَهُ: وَقَدْ بَدَأَنِي بِلَطَائِفِ أَسْئِلَةٍ وَقَفْت بِهَا عَلَى كَمَالِ رِوَايَتِهِ وَسَعَةِ مَلَكَتِهِ، فَأَجَبْته غَيْرَ مُوَسِّعٍ عَلَيْهِ، فَكَرَّرَ عَلَى مَا هُوَ أَعْلَى فَزِدْته فَزَادَ فَرَأَيْت جَوَادَ رِهَانِهِ فِي غَايَةِ الْمُكْنَةِ وَالسَّبْقِ، فَبَعُدَتْ لَهُ الْغَايَةُ فَأَتَاهَا مُسْتَرِيحًا لَا يَخْفِقُ، مُسْتَبْصِرًا لَا يَطْرُقُ، فَلَمَّا تَبَيَّنَ لِي أَنَّهُ الرَّجُلُ الَّذِي حُدِّثْت عَنْهُ وَصَلْت بِهِ إلَى حَالَةٍ يَأْخُذُ مِنِّي وَآخُذُ مِنْهُ إلَى أَنْ قَالَ فِي شَأْنِهِ: فَيَا مَنْ لَهُ شَكٌّ فَدُونَك فَاسْأَلْ تَجِدْ جَبَلًا فِي الْعِلْمِ غَيْرَ مُخَلْخَلِ يُبَارِي فُحُولَ الْفِقْهِ فِيمَا يَرَوْنَهُ وَيَبْرُزُ لِلْمَيْدَانِ غَيْرَ مُزَلْزَلِ يَقْشُرُ عَنْ لُبٍّ مَعْلُومٍ قُشُورُهُ وَيَأْتِي بِمَا يَخْتَارُهُ مِنْ مُفَصَّلِ وَيَقْوَى عَلَى التَّرْجِيحِ فِيهِ بِثَاقِبٍ مِنْ الْفَهْمِ وَالْإِدْرَاكِ غَيْرَ مُحَوَّلِ وَفِكْرٍ إذَا مَا حَاوَلَ الصَّخْرَ قَلَّهُ وَإِنْ رُمْت حَلَّ الصَّعْبِ فِي الْحَالِ يَنْجَلِي وَمَا قُلْت هَذَا الْقَوْلَ إلَّا بُعَيْدَ مَا سَبَرْت خَبَايَاهُ بِأَفْحَم مِقْوَلِ وَقَالَ شَيْخُهُ الْعَلَّامَةُ مُحَمَّدُ أَفَنْدِي الْمَحَاسِنِيُّ فِي إجَازَتِهِ لَهُ أَيْضًا: وَإِنَّهُ مِمَّنْ نَشَأَ وَالْفَضَائِلُ تَعُلُّهُ وَتَنْهَلُهُ، وَالرَّغْبَةُ فِي الْعِلْمِ تُقَرِّبُ لَهُ مَا يُحَاوِلُهُ مِنْ ذَلِكَ وَتُسَهِّلُهُ، حَتَّى نَالَ مِنْ قِدَاحِ الْكَمَالِ الْقَدَحَ الْمُعَلَّى، وَفَازَ بِمَا وَشَّحَ بِهِ صَدْرَ النَّبَاهَةِ وَحَلَّى، وَكَانَ لِي عَلَى الْغَوْصِ عَلَى غُرَرِ الْفَوَائِدِ أَعْظَمَ مُعِينٍ، فَأَفَادَ وَاسْتَفَادَ، وَفَهِمَ وَأَجَادَ،. اهـ.
وَتَرْجَمَهُ تِلْمِيذُهُ خَاتِمَةُ الْبُلَغَاءِ الْمُحِبِّيُّ فِي تَارِيخِهِ فَقَالَ مَا مُلَخَّصُهُ: إنَّهُ كَانَ عَالِمًا مُحَدِّثًا فَقِيهًا نَحْوِيًّا، كَثِيرَ الْحِفْظِ وَالْمَرْوِيَّاتِ طَلْقَ اللِّسَانِ، فَصِيحَ الْعِبَارَةِ، جَيِّدَ التَّقْرِيرِ وَالتَّحْرِيرِ، وَتُوُفِّيَ عَاشِرَ شَوَّالٍ سَنَةَ (1088) عَنْ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً، وَدُفِنَ بِمَقْبَرَةِ بَابِ الصَّغِيرِ (قَوْلُهُ: الْحَصْكَفِيُّ) كَذَا يُوجَدُ فِي بَعْضِ النُّسَخِ، وَهُوَ بِفَتْحِ الْحَاءِ وَسُكُونِ الصَّادِ الْمُهْمَلَتَيْنِ وَفَتْحِ الْكَافِ وَفِي آخِرِهِ فَاءٌ وَيَاءُ النِّسْبَةِ إلَى حِصْنِ كِيفَا، وَهُوَ مِنْ دِيَارِ بَكْرٍ. قَالَ فِي الْمُشْتَرَكِ: وَحِصْنُ كِيفَا عَلَى دِجْلَةَ بَيْنَ جَزِيرَةِ ابْنِ عُمَرَ ومَيَّافَارِقِينِ، وَكَانَ الْقِيَاسُ أَنْ يَنْسُبُوا إلَيْهِ الْحِصْنِيَّ وَقَدْ نَسَبُوا إلَيْهِ أَيْضًا كَذَلِكَ، لَكِنْ إذَا نَسَبُوا إلَى اسْمَيْنِ أُضِيفَ أَحَدُهُمَا إلَى الْآخَرِ رَكَّبُوا مِنْ مَجْمُوعِ الِاسْمَيْنِ اسْمًا وَاحِدًا وَنَسَبُوا إلَيْهِ كَمَا فَعَلُوا هُنَا، وَكَذَلِكَ نَسَبُوا إلَى رَأْسِ عَيْنٍ رَاسَعَيْنِيٌّ وَإِلَى عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدِ شَمْسٍ وَعَبْدِ الدَّارِ عَبْدَلِيٌّ وَعَبْشَمِيٌّ وَعَبْدَرِيٌّ، وَكَذَلِكَ مَا كَانَ نَظِيرَ هَذَا ذَكَرَهُ الْمُحِبِّيُّ فِي تَارِيخِهِ فِي تَرْجَمَةِ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْلَا
(قَوْلُهُ: بِجَامِعِ بَنِي أُمَيَّةَ) مُتَعَلِّقٌ بِالْإِمَامِ وَالْبَاءُ بِمَعْنَى فِي ط، وَقَدْ بَنَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْأُمَوِيُّ، نُقِلَ أَنَّهُ أَنْفَقَ عَلَيْهِ أَلْفَ أَلْفِ دِينَارٍ وَمِائَتَيْ أَلْفِ دِينَارٍ، وَفِيهِ رَأْسُ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا عليهما السلام، وَفِي حَائِطِهِ الْقِبْلِيِّ مَقَامُ هُودٍ عليه السلام، وَيُقَالُ إنَّهُ أَوَّلُ مَنْ بَنَى جُدْرَانَهُ الْأَرْبَعَ.
মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আল-হাসকাফি, যিনি বনু উমাইয়া জামে মসজিদের ইমাম শায়খ আলীর পুত্র।
—
[রাদ্দুল মুহতার] তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই জাতীয় নাম রাখা নিষিদ্ধ করেছেন যাতে নিজের প্রশংসা করা হয় এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ ও বৈধতা অধ্যায়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর তিনি হলেন আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত ব্যক্তি, যেমনটি ইবনে আবদুর রাজ্জাকের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ব্যাখ্যায় এসেছে: মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন জামালুদ্দীন বিন হাসান বিন যাইনুল আবিদীন আল-হিসনি আল-আসারী, যিনি আল-হাসকাফি নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ের বহু কিতাবের রচয়িতা। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ (আদ-দুররুল মুখতার), মুলতাকাল আবহুর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, উসূলের কিতাব মানারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, নাহু বা ব্যাকরণের কিতাব কাতরুন্ নাদা-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ফাতাওয়া সুফিয়্যাহ-র সংক্ষিপ্তসার, ইবনে নুজাইমের ফাতাওয়া এবং তুমুরতাশির সংগ্রহের সংকলন এবং ইবনে সাহিবিহার সংকলন। তাঁর সহীহ বুখারীর ওপর প্রায় ত্রিশ খণ্ডের একটি টীকা এবং তাফসীরে বায়যাবীর সূরা আল-বাকারাহ থেকে সূরা আল-ইসরা পর্যন্ত ব্যাখ্যা রয়েছে। এছাড়াও আদ-দুরার-এর ওপর হাশিয়া এবং অন্যান্য রিসালা ও গবেষণাপত্র রয়েছে। তাঁর উস্তাদগণ এবং সমসাময়িক আলিমগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও গবেষণার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি তাঁর উস্তাদ শায়খ খাইরুদ্দীন আর-রামলি তাঁর অনুমতিপত্রে বলেছেন: তিনি সূক্ষ্ম কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে আমার সাথে আলোচনা শুরু করেন, যার মাধ্যমে আমি তাঁর বর্ণনার পূর্ণতা ও জ্ঞানের প্রশস্ততা সম্পর্কে অবগত হই। আমি তাঁকে বিস্তারিত না বলে উত্তর দিলাম, তখন তিনি আরও উচ্চতর বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। আমি আরও বাড়িয়ে বললাম, তিনিও আরও গভীরে গেলেন। তখন আমি দেখলাম যে তাঁর মেধার ঘোড়া অত্যন্ত সক্ষম ও অগ্রগামী। তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছাতে শান্তভাবে সফল হলেন, কোনো হোঁচট বা বিচ্যুতি ছাড়াই। যখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে তিনিই সেই ব্যক্তি যার কথা আমাকে বলা হয়েছিল, তখন আমি এমন এক অবস্থায় পৌঁছালাম যেখানে তিনি আমার থেকে গ্রহণ করেন এবং আমিও তাঁর থেকে গ্রহণ করি। এমনকি তিনি তাঁর শানে আরও বলেছেন: হে সন্দেহ পোষণকারী! তুমি তাঁর কাছে এসে প্রশ্ন করো, তবেই দেখবে যে তিনি ইলমের এমন এক সুদৃঢ় পাহাড় যা টলানো সম্ভব নয়। ফকীহদের মধ্যে যা আলোচিত হয় তাতে তিনি সমকক্ষ এবং ময়দানে অবিচলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি চেনা মজ্জা থেকে উপরের খোসা সরিয়ে ফেলেন এবং বিস্তারিত বিষয়ের মধ্য থেকে বাছাইকৃত অংশ নিয়ে আসেন। তিনি সঠিক বুঝ ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সক্ষম যা কখনো বিভ্রান্ত হয় না। তাঁর চিন্তা যদি পাথরকেও ভেদ করতে চায় তবে তা অনায়াসেই করতে পারে, আর যদি কঠিন কোনো জট খুলতে চাও তবে তা তৎক্ষণাৎ প্রকাশ পায়। আমি তাঁর ভেতরের রহস্যগুলো বাগ্মিতার সাথে পরীক্ষা না করে এ কথাগুলো বলিনি। তাঁর উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ আফিন্দি আল-মাহাসিনিও তাঁর অনুমতিপত্রে বলেছেন: তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা বেড়ে উঠেছেন শ্রেষ্ঠত্বের সুধা পান করে, এবং ইলমের প্রতি অনুরাগ তাঁর লক্ষ্যগুলোকে সহজ ও নিকটবর্তী করে দিয়েছে। অবশেষে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করেছেন এবং প্রজ্ঞার ভূষণে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দুর্লভ উপকারিতা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমার জন্য বড় সাহায্যকারী ছিলেন। তিনি জ্ঞান দান করেছেন এবং জ্ঞান অর্জন করেছেন, এবং তিনি বুঝেছেন ও চমৎকারভাবে তা উপস্থাপন করেছেন। সমাপ্ত।
তাঁর ছাত্র অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ আল-মুহিব্বী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে সংক্ষেপে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, ফকীহ ও ব্যাকরণবিদ আলিম। তিনি প্রচুর হিফজ এবং বর্ণনার অধিকারী ছিলেন, তাঁর ভাষা ছিল সাবলীল ও স্পষ্ট, এবং তাঁর পাঠদান ও লিখনশৈলী ছিল চমৎকার। তিনি ১০৮৮ হিজরি সনের ১০ই শাওয়াল তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাবুস সাগীর গোরস্থানে দাফন করা হয়। (তাঁর কথা: আল-হাসকাফি) কিছু পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই পাওয়া যায়। এটি হা-তে জবর এবং সোয়াদ সাকিন, এরপর কাফ-এ জবর এবং শেষে ফা ও ইয়ায়ে নিসবতি যোগে গঠিত। এটি হিসন কাইফা-র সাথে সম্বন্ধযুক্ত, যা দিয়ার বকর অঞ্চলে অবস্থিত। আল-মুশতারাক গ্রন্থে বলা হয়েছে: হিসন কাইফা দজলা নদীর তীরে জাজিরা ইবনে উমর এবং মায়াফারিকিনের মাঝামাঝি অবস্থিত। নিয়ম অনুযায়ী একে আল-হিসনি বলা উচিত ছিল এবং সেভাবেও সম্বন্ধ করা হয়। তবে যখন দুটি নামের সমন্বয়ে একটি নাম গঠিত হয়, তখন তারা উভয় নাম থেকে শব্দ নিয়ে একটি নতুন নাম গঠন করে তার দিকে সম্বন্ধ করে, যেমনটি এখানে করা হয়েছে। একইভাবে তারা রাসুল আইন থেকে রাসআইনি, আবদুল্লাহ থেকে আবদালি, আবদু শামস থেকে আবশামি এবং আবদুদ দার থেকে আবদারি নামকরণ করেছে। আল-মুহিব্বী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন মুনলার জীবনীতে একই জাতীয় বিষয় উল্লেখ করেছেন।
(তাঁর কথা: বনু উমাইয়া জামে মসজিদে) এটি ইমাম শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, এখানে 'বা' অক্ষরটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক নির্মাণ করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে তিনি এতে বারো লক্ষ দিনার ব্যয় করেছিলেন। সেখানে হযরত ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম-এর মস্তক মোবারক রয়েছে এবং এর কিবলা দিকের দেয়ালে হযরত হূদ আলাইহিস সালাম-এর মাকাম রয়েছে। বলা হয় যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এর চারপাশের দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثُمَّ الْمُفْتِي بِدِمَشْقَ الْمَحْمِيَّةِ الْحَنَفِيُّ: لَمَّا بَيَّضْت الْجُزْءَ الْأَوَّلَ مِنْ خَزَائِنِ الْأَسْرَارِ، وَبَدَائِعِ الْأَفْكَارِ، فِي شَرْحِ
ــ
[رد المحتار] وَذَكَرَ الْقُرْطُبِيُّ فِي تَفْسِيرِ قَوْله تَعَالَى - {وَالتِّينِ} [التين: 1]- أَنَّهُ مَسْجِدُ دِمَشْقَ، وَكَانَ بُسْتَانًا لِنَبِيِّ اللَّهِ هُودٍ عليه السلام، وَأَنَّهُ كَانَ فِيهِ شَجَرُ التِّينِ قَبْلَ أَنْ يَبْنِيَهُ الْوَلِيدُ اهـ فَهُوَ الْمَعْبَدُ الْقَدِيمُ الَّذِي تَشَرَّفَ بِالْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام، وَصَلَّى فِيهِ الصَّحَابَةُ الْكِرَامُ. وَقَدْ صَرَّحَ الْفُقَهَاءُ بِأَنَّ الْأَفْضَلَ بَعْدَ الْمَسَاجِدِ الثَّلَاثَةِ مَا كَانَ أَقْدَمَ، بَلْ ذَكَرَ فِي كِتَابِ أَخْبَارِ الدُّوَلِ بِالسَّنَدِ إلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ أَنَّ الصَّلَاةَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ بِثَلَاثِينَ أَلْفِ صَلَاةٍ، وَهُوَ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ إلَى وَقْتِنَا هَذَا مَعْمُورٌ بِالْعِبَادَةِ وَمَجْمَعُ الْعِلْمِ وَالْإِفَادَةِ.
وَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى إلَى أَنْ يَهْبِطَ عَلَى مَنَارَتِهِ الشَّرْقِيَّةِ الْبَيْضَاءِ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عليه السلام، إلَى أَنْ يَرِثَ اللَّهُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا مِنْ الْأَنَامِ (قَوْلُهُ: ثُمَّ الْمُفْتِي إلَخْ) أَفَادَ أَنَّ الْإِفْتَاءَ لَمْ يَجْتَمِعْ لَهُ مَعَ الْإِمَامَةِ وَإِنَّمَا تَأَخَّرَ عَنْهَا ط وَفِي تَارِيخِ الْمُحِبِّيِّ أَنَّهُ تَوَلَّى الْإِفْتَاءَ خَمْسَ سِنِينَ. وَكَانَ مُتَحَرِّيًا فِي أَمْرِ الْفَتْوَى غَايَةَ التَّحَرِّي، وَلَمْ يُضْبَطْ عَلَيْهِ شَيْءٌ خَالَفَ فِيهِ الْقَوْلَ الْمُصَحَّحَ (قَوْلُهُ: بِدِمَشْقَ) بِفَتْحِ الْمِيمِ وَقَدْ تُكْسَرُ: قَاعِدَةُ الشَّامِ، سُمِّيَتْ بِبَانِيهَا دِمْشَاقُ بْنُ كَنْعَانَ قَامُوسٌ. وَقِيلَ بَانِيهَا غُلَامُ الْإِسْكَنْدَرِ وَاسْمُهُ دِمَشْقُ أَوْ دِمَشْقَشُ. وَهِيَ أَنْزَهُ بِلَادِ اللَّهِ تَعَالَى. قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْخُوَارِزْمِيَّ: جَنَّاتُ الدُّنْيَا أَرْبَعٌ: غُوطَةُ دِمَشْقَ وَصُغْدُ سَمَرْقَنْدَ وَشِعْبُ بَوَّانَ وَجَزِيرَةُ نَهْرِ الْأُبُلَّةِ. وَفَضْلُ غُوطَةِ دِمَشْقَ عَلَى الثَّلَاثَةِ كَفَضْلِ الثَّلَاثَةِ عَلَى سَائِرِ الدُّنْيَا، وَنَاهِيك مَا وَرَدَ فِيهَا خُصُوصًا وَفِي الشَّامِ عُمُومًا مِنْ الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ (قَوْلُهُ: الْحَنَفِيُّ) ذَكَرَ الْعِرَاقِيُّ فِي آخِرِ شَرْحِ أَلْفِيَّةِ الْحَدِيثِ: أَنَّ النِّسْبَةَ إلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ وَإِلَى الْقَبِيلَةِ وَهُمْ بَنُو حَنِيفَةَ بِلَفْظٍ وَاحِدٍ.
وَأَنْ جَمَاعَةً مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ مِنْهُمْ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرٍ الْمَقْدِسِيَّ يُفَرِّقُونَ بَيْنَهُمَا بِزِيَادَةِ يَاءٍ فِي النِّسْبَةِ لِلْمَذْهَبِ وَيَقُولُونَ حَنِيفِيٌّ، وَأَنَّهُ قَالَ ابْنُ الصَّلَاحِ لَمْ أَجِدْ ذَلِكَ عَنْ أَحَدٍ مِنْ النَّحْوِيِّينَ إلَّا عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْأَنْبَارِيِّ (قَوْلُهُ: لَمَّا بَيَّضْت) الْجُمْلَةُ إلَى آخِرِ الْكِتَابِ فِي مَحَلِّ نَصْبٍ مَقُولُ الْقَوْلِ أَوْ كُلُّ جُمْلَةٍ مِنْ الْكِتَابِ مَحَلُّهَا نَصْبٌ بِنَاءً عَلَى أَنَّ جُزْءَ الْمَقُولِ لَهُ مَحَلٌّ، أَوْ لَيْسَ لَهُ مَحَلٌّ وَهُمَا قَوْلَانِ ط (قَوْلُهُ: مِنْ خَزَائِنِ الْأَسْرَارِ) الْخَزَائِنُ جَمْعُ خِزَانَةٍ أَلِفُهَا زَائِدَةٌ تُقْلَبُ فِي الْجَمْعِ هَمْزَةً كَقَلَائِدَ فِي الْأَلْفِيَّةِ:
وَالْمُدُّ زِيدَ ثَالِثًا فِي الْوَاحِدِ
… هَمْزًا يُرَى فِي مِثْلِ كَالْقَلَائِدِ
فَتُكْتَبُ بِهَمْزَةٍ لَا بِيَاءٍ بِنُقْطَتَيْنِ مِنْ تَحْتٍ بِخِلَافِ نَحْوَ مَعَايِشَ فَإِنَّ الْيَاءَ فِي الْمُفْرَدِ أَصْلِيَّةٌ فَتُكْتَبُ بِهَا ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ. [فَائِدَةٌ] مِنْ لَطَائِفِ الْمُفْتِي أَبِي السُّعُودِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الْخِزَانَةِ وَالْقَصْعَةِ أَيُقْرَآنِ بِالْفَتْحِ أَوْ بِالْكَسْرِ؟ فَأَجَابَ بِقَوْلِهِ: لَا تُفْتَحُ الْخِزَانَةُ، وَلَا تُكْسَرُ الْقَصْعَةُ، (قَوْلُهُ: وَبَدَائِعِ) جَمْعُ بَدِيعَةٍ. مِنْ ابْتَدَعَ الشَّيْءَ: ابْتَدَأَهُ (قَوْلُهُ: الْأَفْكَارِ) جَمْعُ فِكْرٍ بِالْكَسْرِ وَيُفْتَحُ: إعْمَالُ النَّظَرِ فِي الشَّيْءِ كَالْفِكْرَةِ وَالْفِكْرَى قَامُوسٌ. وَالْمُرَادُ مَا ابْتَدَعَهُ بِفِكْرِهِ مِنْ الْأَبْحَاثِ وَحُسْنِ التَّرْكِيبِ وَالْوَضْعِ، أَوْ مَا ابْتَدَعَهُ الْمُجْتَهِدُ وَاسْتَنْبَطَهُ مِنْ الْأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ، وَهَذَا بَيَانٌ لِمَعَانِي أَجْزَاءِ الْعَلَمِ قَبْلَ الْعَلَمِيَّةِ. أَمَّا بَعْدَهَا فَالْمَجْمُوعُ اسْمُ الْكِتَابِ
(قَوْلُهُ: فِي شَرْحِ) إنْ كَانَ مِنْ جُزْءِ الْعَلَمِ فَلَا يُبْحَثُ عَنْ الظَّرْفِيَّةِ وَإِلَّا فَالْأَوْلَى حَذْفُ " فِي " لِأَنَّ خَزَائِنَ الْأَسْرَارِ هُوَ نَفْسُ الشَّرْحِ. وَظَاهِرُ الظَّرْفِيَّةِ يَقْتَضِي الْمُغَايَرَةَ أَفَادَهُ ط. أَقُولُ: وَقَدْ تُزَادُ فِي، وَحُمِلَ عَلَى بَعْضِهِمْ قَوْله تَعَالَى - {وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا} [هود: 41]- وَيُمْكِنُ أَنْ تَتَعَلَّقَ بِمَحْذُوفٍ حَالًا وَالظَّرْفِيَّةُ فِيهَا مَجَازِيَّةٌ مِثْلُ - {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ} [البقرة: 179]- وَيُمْكِنُ تَعَلُّقُهُ بِمَذْكُورٍ نَظَرًا إلَى الْمَعْنَى الْأَصْلِيِّ قَبْلَ الْعَلَمِيَّةِ، فَإِنَّ الْأَعْلَامَ وَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ بِهَا اللَّفْظَ قَدْ يُلَاحَظُ مَعَهَا الْمَعَانِي الْأَصْلِيَّةُ بِالتَّبَعِيَّةِ، وَلِهَذَا نَادَى بَعْضُ الْكَفَرَةِ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه بِأَبِي الْفَصِيلِ أَفَادَهُ حَسَنٌ جَلَبِي فِي حَاشِيَةِ التَّلْوِيحِ عِنْدَ قَوْلِهِ الْمَوْسُومِ بِالتَّلْوِيحِ إلَى
অতঃপর সংরক্ষিত দামেস্কের হানাফি মুফতি বলেন: যখন আমি [রদ্দুল মুহতার]-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে
—
[রদ্দুল মুহতার] 'খাযাইনুল আসরার ওয়া বাদায়িউল আফকার'-এর প্রথম খণ্ডটির পরিচ্ছন্ন লিপি প্রস্তুত করলাম। ইমাম কুরতুবী মহান আল্লাহর বাণী— {ডুমুর ফলের কসম} [সূরা আত-তীন: ১]—এর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, এর দ্বারা দামেস্কের মসজিদ উদ্দেশ্য। এটি আল্লাহর নবী হূদ আলাইহিস সালামের একটি বাগান ছিল এবং ওয়ালিদ এটি নির্মাণের পূর্বে সেখানে ডুমুর গাছ ছিল। সুতরাং এটি একটি প্রাচীন ইবাদতখানা যা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের উপস্থিতিতে ধন্য হয়েছে এবং যেখানে সম্মানিত সাহাবীগণ সালাত আদায় করেছেন। ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিন মসজিদের (মসজিদুল হারাম, নববী ও আকসা) পর সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদই সর্বোত্তম। বরং 'আখবারুদ দুওয়াল' কিতাবে সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত সনদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দামেস্কের মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ত্রিশ হাজার সালাতের সমান। আল্লাহর প্রশংসায় এটি আমাদের সময় পর্যন্ত ইবাদতের মাধ্যমে আবাদ রয়েছে এবং ইলম ও ফায়দা অর্জনের কেন্দ্রস্থল হয়ে আছে।
আল্লাহ তাআলা চাইলে এটি এভাবেই বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ না এর সাদা পূর্ব মিনারে ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করেন এবং যতক্ষণ না আল্লাহ জমিন ও এর ওপর বিচরণকারী মাখলুকাতের উত্তরাধিকারী হন। (তাঁর উক্তি: অতঃপর মুফতি ইত্যাদি): এটি একথার ফায়দা দিচ্ছে যে, ইমামত ও ইফতার দায়িত্ব তাঁর ক্ষেত্রে একসাথে ঘটেনি, বরং ইফতার দায়িত্ব ইমামতের পরে এসেছিল। 'মুহিব্বি'-এর ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, তিনি পাঁচ বছর ইফতার (ফতোয়া প্রদানের) দায়িত্ব পালন করেছেন। ফতোয়ার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ও অনুসন্ধানকারী ছিলেন এবং ফতোয়ার ক্ষেত্রে সহিহ ও বিশুদ্ধ মতের খেলাফ কোনো কিছু তাঁর থেকে ধরা পড়েনি। (তাঁর উক্তি: দামেস্কে): মিম বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে, কখনো কাসরা (জের) দিয়েও পড়া হয়। এটি শামের রাজধানী। 'কামুস' অভিধান অনুযায়ী, এর নির্মাতা দিমশাক বিন কানআনের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। কারো মতে এর নির্মাতা হলেন সিকান্দারের এক গোলাম, যার নাম ছিল দিমশাক বা দিমশাকাস। এটি মহান আল্লাহর জমিনের সবচেয়ে মনোরম শহরগুলোর একটি। আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি বলেছেন: পৃথিবীর জান্নাত চারটি: দামেস্কের গুতাহ, সমরকন্দের সগদ, বাওয়ানের গিরিপথ এবং উবুল্লাহ নদীর দ্বীপ। অন্য তিনটির ওপর দামেস্কের গুতাহর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন সারা দুনিয়ার ওপর ওই তিনটির শ্রেষ্ঠত্ব। দামেস্কের বিশেষ ফজিলত এবং শামের সাধারণ ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহ আপনার জন্য যথেষ্ট। (তাঁর উক্তি: হানাফি): আল্লামা ইরাকি 'শারহু আলফিয়াতিল হাদিস'-এর শেষে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের দিকে সম্পৃক্ততা এবং 'বনু হানিফা' গোত্রের দিকে সম্পৃক্ততা—উভয়ই একই শব্দে প্রকাশ করা হয়।
মুহাদ্দিসদের একটি দল, যাদের মধ্যে আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি রয়েছেন, তাঁরা মাযহাবের নিসবতের ক্ষেত্রে একটি 'ইয়া' বৃদ্ধি করে পার্থক্য করেন এবং 'হানিফি' বলেন। ইবনুস সালাহ বলেছেন, আবু বকর ইবনুল আম্বারি ছাড়া অন্য কোনো ব্যাকরণবিদের নিকট আমি এমনটি পাইনি। (তাঁর উক্তি: যখন আমি পরিচ্ছন্ন লিপি প্রস্তুত করলাম): এই বাক্যটি কিতাবের শেষ পর্যন্ত 'মাকুলুল কাওল' হিসেবে নসবের অবস্থায় রয়েছে, অথবা কিতাবের প্রতিটি বাক্যই নসবের অবস্থায়, এই ভিত্তির ওপর যে মাকুলুল কাওলের অংশের কোনো স্থান আছে কি নেই—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। (তাঁর উক্তি: খাযাইনুল আসরার থেকে): 'খাযাইন' হলো 'খিজানাহ' শব্দের বহুবচন। এর আলিফটি অতিরিক্ত, যা বহুবচনের ক্ষেত্রে হামযা দ্বারা পরিবর্তিত হয়, যেমন আলফিয়াতে আছে:
একবচনে তৃতীয় বর্ণটি যদি অতিরিক্ত মদ্দ হয়
… তবে বহুবচনে তা হামযা হিসেবে দেখা যায় যেমন 'কালাইদ' শব্দে।
তাই এটি হামযা দিয়ে লেখা হবে, নিচের দুই নুক্তাওয়ালা 'ইয়া' দিয়ে নয়। এর বিপরীতে 'মাআয়িশ' শব্দে 'ইয়া' মূলবর্ণ হওয়ায় সেটি ইয়া দিয়েই লেখা হয়—এটি ইবনে আব্দুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। [ফায়দা] মুফতি আবুস সুউদের একটি সূক্ষ্ম কৌতুক হলো যে, তাঁকে 'খিজানাহ' (ভাণ্ডার) এবং 'কাসআহ' (পেয়ালা) শব্দ দুটির উচ্চারণ ফাতহা না কাসরা দিয়ে হবে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দিলেন: 'খিজানাহ খোলা যাবে না (অর্থাৎ খ-এ ফাতহা বা জবর হবে না), এবং কাসআহ ভাঙা যাবে না (অর্থাৎ ক-এ কাসরা বা জের হবে না)'। (তাঁর উক্তি: এবং বাদায়ি): এটি 'বাদিআহ' শব্দের বহুবচন। এটি 'ইবতাদাআ' থেকে এসেছে, যার অর্থ কোনো কিছু নতুনভাবে শুরু করা। (তাঁর উক্তি: চিন্তা): এটি 'ফিকর' শব্দের বহুবচন, যা ফা-এ কাসরা বা ফাতহা উভয়ভাবে পড়া যায়। এর অর্থ কোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা—কামুস। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর চিন্তাপ্রসূত নতুন গবেষণা, সুন্দর বিন্যাস ও উপস্থাপনা; অথবা মুজতাহিদ কর্তৃক শরয়ী দলিল থেকে উদ্ভাবিত বিষয়াবলি। এটি নাম হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগের অর্থ। নাম হিসেবে গণ্য হওয়ার পর পুরো সমষ্টিটি হলো কিতাবের নাম।
(তাঁর উক্তি: ব্যাখ্যার মধ্যে): যদি এটি কিতাবের নামের অংশ হয় তবে এখানে আধেয়তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। অন্যথায় 'ফি' (মধ্যে) শব্দটি বাদ দেওয়াই উত্তম ছিল, কারণ 'খাযাইনুল আসরার' নিজেই তো সেই শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আর 'ফি' বর্ণটি আক্ষরিকভাবে ভিন্নতা দাবি করে—এটি আল্লামা তহতাবি উল্লেখ করেছেন। আমি বলি: কখনো কখনো 'ফি' অতিরিক্ত হিসেবে আসে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী— {এতে আরোহণ করো} [সূরা হূদ: ৪১]-এর ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেছেন। অথবা এটি একটি উহ্য 'হাল' এর সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং এখানে আধেয়তা রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে} [সূরা বাকারা: ১৭৯]। অথবা নাম হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়ার আগের মূল অর্থ বিবেচনায় এটি উল্লিখিত শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। কারণ নামসমূহ দ্বারা যদিও শব্দই উদ্দেশ্য হয়, তবুও অনুগামী হিসেবে মূল অর্থটিও খেয়াল রাখা হয়। এই কারণেই জনৈক কাফির আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে 'আবু ফাসিল' (উটের বাচ্চার পিতা) বলে ডেকেছিল—এটি হাসান জালাবি 'আত-তালবিহ'-এর হাশিয়ায় আত-তালবিহ নামকরণের আলোচনার নিকট উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ وَجَامِعِ الْبِحَارِ، قَدَّرْتُهُ فِي عَشْرِ مُجَلَّدَاتٍ كِبَارٍ، فَصَرَفْت عِنَانَ الْعِنَايَةِ نَحْوَ الِاخْتِصَارِ، وَسَمَّيْتُهُ بِالدُّرِّ الْمُخْتَارِ، فِي شَرْحِ تَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ، الَّذِي فَاقَ كُتُبَ هَذَا الْفَنِّ فِي الضَّبْطِ وَالتَّصْحِيحِ وَالِاخْتِصَارِ، وَلَعَمْرِي لَقَدْ
ــ
[رد المحتار] كَشْفِ حَقَائِقِ التَّنْقِيحِ (قَوْلُهُ: قَدَّرْته فِي عَشْرِ مُجَلَّدَاتٍ كِبَارٍ) مُجَلَّدَاتٌ جَمْعُ مُجَلَّدٍ، وَاسْمُ الْمَفْعُولِ مِنْ غَيْرِ الْعَاقِلِ إذَا جُمِعَ يُجْمَعُ جَمْعَ تَأْنِيثٍ كَمَخْفُوضَاتٍ وَمَرْفُوعَاتٍ وَمَنْصُوبَاتٍ، وَالْمُرَادُ أَجْزَاءٌ، لِأَنَّ الْعَادَةَ أَنَّ الْجُزْءَ يُوضَعُ فِي جِلْدٍ عَلَى حِدَةٍ ط أَيْ أَنَّهُ لَمَّا بَيَّضَ الْجُزْءَ الْأَوَّلَ مِنْهُ قَدَّرَ أَنَّ تَمَامَ الْكِتَابِ عَلَى مِنْوَالِ مَا بَيَّضَ مِنْهُ يَبْلُغُ عَشْرَ مُجَلَّدَاتٍ كِبَارٍ. وَذَكَرَ الْمُحِبِّيُّ وَغَيْرُهُ أَنَّهُ وَصَلَ فِي هَذَا الْكِتَابِ إلَى بَابِ الْوِتْرِ؛ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ لَمْ يُكْمِلْهُ فِي الْمُسْوَدَّةِ أَيْضًا وَإِنَّمَا أَلَّفَ مِنْهُ هَذَا الْجُزْءَ الَّذِي بَيَّضَهُ فَقَطْ، وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ (قَوْلُهُ: فَصَرَفْت عِنَانَ الْعِنَايَةِ) الْعِنَانُ بِالْكَسْرِ: مَا وُصِلَ بِلِجَامِ الْفَرَسِ، وَالْعِنَايَةُ الْقَصْدُ. وَفِي نِهَايَةِ الْحَدِيثِ: يُقَالُ عَنَيْت فُلَانًا عَنْيًا إذَا قَصَدْته، وَتَشْبِيهُ الْعِنَايَةِ بِصُورَةِ الْفَرَسِ فِي الْإِيصَالِ إلَى الْمَطْلُوبِ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ وَإِثْبَاتُ الْعِنَانِ اسْتِعَارَةٌ تَخْيِيلِيَّةٌ، وَذِكْرُ الصَّرْفِ تَرْشِيحٌ، وَفِيهِ الْإِيهَامُ بِكِتَابِ الْعِنَايَةِ. اهـ.
ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ (قَوْلُهُ: نَحْوَ الِاخْتِصَارِ) أَيْ جِهَةَ اخْتِصَارِ مَا فِي خَزَائِنِ الْأَسْرَارِ (قَوْلُهُ: وَسَمَّيْته بِالدُّرِّ الْمُخْتَارِ) أَيْ سَمَّيْت هَذَا الْمُخْتَصَرَ الْمَأْخُوذَ مِنْ الِاخْتِصَارِ أَوْ الشَّرْحَ الْمُتَقَدِّمَ فِي قَوْلِهِ تَبْيِيضِ هَذَا الشَّرْحِ، وَسَمَّى يَتَعَدَّى إلَى مَفْعُولَيْنِ الْأَوَّلُ بِنَفْسِهِ وَالثَّانِي بِحَرْفِ الْجَرِّ كَمَا هُنَا أَوْ بِنَفْسِهِ كَمَا فِي سَمَّيْت ابْنِي مُحَمَّدًا. قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَمَا اُشْتُهِرَ مِنْ أَنَّ أَسْمَاءَ الْكُتُبِ عَلَمُ جِنْسٍ وَأَسْمَاءَ الْعُلُومِ عَلَمُ شَخْصٍ نُوقِشَ فِيهِ بِأَنَّهُ إنْ نُظِرَ لِتَعَدُّدِ الشَّيْءِ بِتَعَدُّدِ مَحَلِّهِ فَكِلَاهُمَا عَلَمُ جِنْسٍ، وَإِنْ نَظَرَ لِلِاتِّحَادِ الْعُرْفِيِّ فَعَلَمُ شَخْصٍ. وَأَمَّا التَّفْرِقَةُ فَهِيَ تَحَكُّمٌ وَتَرْجِيحٌ بِلَا مُرَجِّحٍ. اهـ.
وَالدُّرُّ: الْجَوْهَرُ، وَهُوَ اسْمُ جِنْسٍ يَصْدُقُ عَلَى الْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ. وَالْمُخْتَارُ: الَّذِي يُؤْثَرُ عَلَى غَيْرِهِ أَفَادَهُ ط (قَوْلُهُ: الَّذِي فَاقَ) نَعْتٌ لِتَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ لَا لِلدُّرِّ الْمُخْتَارِ. اهـ. ح، وَهَذَا بِنَاءٌ عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ فِي شَرْحِ تَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفٍ حَالٌ مِنْ الدُّرِّ الْمُخْتَارِ لَيْسَ جُزْءَ عَلَمٍ، فَلَا يَرِدُ أَنَّ جُزْءَ الْعِلْمِ لَا يُوصَفُ، عَلَى أَنَّهُ قَدْ يُنْظَرُ فِيهِ إلَى مَا قَبْلَ الْعَلَمِيَّةِ كَمَا قَدَّمْنَاهُ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: هَذَا الْفَنِّ) فِي الْقَامُوسِ: الْفَنُّ الْحَالُ وَالضَّرْبُ مِنْ الشَّيْءِ كَالْأُفْنُونِ جَمْعُهُ أَفْنَانٌ وَفُنُونٌ. اهـ. وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا عَلَمٌ لِأَنَّهُ نَوْعٌ مِنْ الْعُلُومِ (قَوْلُهُ: فِي الضَّبْطِ) هُوَ الْحِفْظُ بِالْحَزْمِ قَامُوسٌ، وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا حُسْنُ التَّحْرِيرِ وَمَتَانَةُ التَّعْبِيرِ فَهُوَ مَضْبُوطٌ كَالْحِمْلِ الْمَحْزُومِ (قَوْلُهُ: وَالتَّصْحِيحِ) أَيْ ذِكْرِ الْأَقْوَالِ الْمُصَحَّحَةِ إلَّا مَا نَدَرَ (قَوْلُهُ: وَالِاخْتِصَارِ) تَقَدَّمَ مَعْنَاهُ، فَهُوَ مَعَ حُسْنِ التَّحْرِيرِ وَالتَّصْحِيحِ خَالٍ عَنْ التَّطْوِيلِ
(قَوْلُهُ: وَلَعَمْرِي) قَالَ فِي الْمُغْرِبِ: الْعُمُرُ بِالضَّمِّ وَالْفَتْحِ الْبَقَاءُ إلَّا أَنَّ الْفَتْحَ غَلَبَ فِي الْقَسَمِ حَتَّى لَا يَجُوزَ فِيهِ الضَّمُّ، يُقَال لَعَمْرُكَ وَلَعَمْرُ اللَّهِ لَأَفْعَلَنَّ، وَارْتِفَاعُهُ عَلَى الِابْتِدَاءِ وَخَبَرُهُ مَحْذُوفٌ اهـ: أَيْ قَسَمِي أَوْ يَمِينِي، وَالْوَاوُ فِيهِ لِلِاسْتِئْنَافِ وَاللَّامُ لِلِابْتِدَاءِ. قَالَ فِي الْقَامُوسِ: وَإِذَا سَقَطَتْ اللَّامُ نُصِبَ انْتِصَابَ الْمَصَادِرِ، وَجَاءَ فِي الْحَدِيثِ النَّهْيُ عَنْ قَوْلِ لَعَمْرُ اللَّهِ. اهـ. قَالَ الْحَمَوِيُّ فِي حَاشِيَةِ الْأَشْبَاهِ: فَعَلَى هَذَا مَا كَانَ يَنْبَغِي لِلْمُصَنِّفِ أَنْ يَأْتِيَ بِهَذَا الْقَسَمِ الْجَاهِلِيِّ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ. اهـ.
وَفِي شَرْحِ النُّقَايَةِ لِلْقُهُسْتَانِيِّ: لَا يَجُوزُ أَنْ يَحْلِفَ بِغَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى، وَيُقَالُ لَعَمْرِ فُلَانٍ، وَإِذَا حَلَفَ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَبَرَّ، بَلْ يَجِبُ أَنْ يَحْنَثَ، فَإِنَّ الْبِرَّ فِيهِ كُفْرٌ عِنْدَ بَعْضِهِمْ كَمَا فِي كِفَايَةِ الشَّعْبِيِّ اهـ. أَقُولُ: لَكِنْ قَالَ فَاضِلُ الرُّومِ حَسَنٌ جَلَبِي فِي حَاشِيَةِ الْمُطَوَّلِ: قَوْلُهُ: لَعَمْرِي يُمْكِنُ أَنْ يُحْمَلَ عَلَى حَذْفِ الْمُضَافِ: أَيْ لِوَاهِبِ عُمْرِي وَكَذَا أَمْثَالُهُ مِمَّا أُقْسِمَ فِيهِ بِغَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى كَقَوْلِهِ تَعَالَى - {وَالشَّمْسِ} [الشمس: 1]- وَاللَّيْلِ - وَالْقَمَرِ - وَنَظَائِرِهِ أَيْ وَرَبِّ الشَّمْسِ إلَخْ. وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِقَوْلِهِمْ لَعَمْرِي وَأَمْثَالِهِ ذِكْرَ صُورَةِ الْقَسَمِ لِتَأْكِيدِ مَضْمُونِ الْكَلَامِ وَتَرْوِيجِهِ فَقَطْ لِأَنَّهُ أَقْوَى مِنْ سَائِرِ الْمُؤَكَّدَاتِ، وَأَسْلَمُ مِنْ التَّأْكِيدِ بِالْقَسَمِ بِاَللَّهِ تَعَالَى لِوُجُوبِ الْبِرِّ بِهِ، وَلَيْسَ الْغَرَضُ الْيَمِينَ الشَّرْعِيَّ وَتَشْبِيهَ غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى بِهِ فِي التَّعْظِيمِ حَتَّى يَرِدَ عَلَيْهِ أَنَّ الْحَلِفَ بِغَيْرِ اسْمِهِ تَعَالَى وَصِفَاتِهِ
তানভীরুল আবসার ওয়া জামিউল বিহার, আমি এটি দশটি বড় খণ্ডে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলাম, অতঃপর আমি সংক্ষেপণের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করলাম এবং এর নাম রাখলাম আদ-দুররুল মুখতার ফী শারহি তানভীরিল আবসার, যা নির্ভুলতা, সঠিকতা এবং সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে, এবং আমার জীবনের শপথ, নিশ্চয়ই...
—
[রাদ্দুল মুহতার] হাকাইকুত তানকীহ-এর উন্মোচন। (তাঁর কথা: আমি এটি দশটি বড় খণ্ডে হওয়ার অনুমান করেছিলাম) "মুজাল্লাদাত" হলো "মুজাল্লাদ"-এর বহুবচন; আর অচেতন বস্তুর ইসম মাফউল যখন বহুবচন করা হয়, তখন তা নারীবাচক বহুবচন হিসেবে আসে, যেমন মাখফুজাত, মারফুআত এবং মানসুবাত। এখানে উদ্দেশ্য হলো অংশসমূহ, কারণ সাধারণত প্রতিটি অংশকে পৃথকভাবে চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা হয়। অর্থাৎ, যখন তিনি এর প্রথম অংশ পাণ্ডুলিপি থেকে পরিষ্কার করে লিখলেন, তখন তিনি অনুমান করেছিলেন যে পুরো গ্রন্থটি যদি প্রথম অংশের ধারায় সম্পন্ন হয় তবে তা দশটি বড় খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাবে। মুহিব্বী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি এই গ্রন্থে বিতর অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন; তবে স্পষ্ট বিষয় হলো তিনি খসড়াও সম্পন্ন করতে পারেননি, বরং তিনি শুধুমাত্র এই অংশটিই রচনা করেছেন যা তিনি পরিষ্কার করে লিখেছিলেন। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (তাঁর কথা: আমি মনোযোগের লাগাম ঘুরিয়ে দিলাম) "ইনান" অর্থ: যা ঘোড়ার লাগামের সাথে যুক্ত থাকে। আর "ইনায়াত" অর্থ: সংকল্প বা উদ্দেশ্য। নিহায়াতুল হাদিস গ্রন্থে আছে: যখন আমি কারো প্রতি মনোনিবেশ করি তখন বলা হয় "আনাইতু ফুলানান"। লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মনোযোগকে ঘোড়ার অবয়বের সাথে তুলনা করা এখানে "ইস্তিআরায়ে কিনায়া" বা পরোক্ষ রূপক, আর লাগাম এর উল্লেখ হলো "ইস্তিআরায়ে তাখয়ীলিয়্যাহ" বা কাল্পনিক রূপক, এবং ঘুরিয়ে দেয়া শব্দটির উল্লেখ এর পূর্ণতা দানকারী অনুষঙ্গ। আর এতে "কিতাবুল ইনায়াহ"-এর দিকে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও রয়েছে। ইবনে আব্দুর রাজ্জাক। (তাঁর কথা: সংক্ষেপণের দিকে) অর্থাৎ খাজাইনুল আসরার গ্রন্থে যা রয়েছে তা সংক্ষেপ করার দিকে। (তাঁর কথা: এবং আমি এর নাম রেখেছি আদ-দুররুল মুখতার) অর্থাৎ আমি এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি—যা সংক্ষেপণ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে—অথবা পূর্বে উল্লিখিত সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম রেখেছি। "সাম্মা" ক্রিয়াটি দুটি কর্মপদ গ্রহণ করে, প্রথমটি সরাসরি এবং দ্বিতীয়টি হরফে জার-এর মাধ্যমে, যেমনটি এখানে হয়েছে, অথবা সরাসরিও হতে পারে যেমন "আমি আমার ছেলের নাম রেখেছি মুহাম্মদ"। ইবনে হাজার বলেন: গ্রন্থসমূহের নাম শ্রেণিবাচক নাম এবং শাস্ত্রসমূহের নাম ব্যক্তিবাচক নাম হিসেবে যা প্রসিদ্ধ, তা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে এই মর্মে যে, যদি আধারের আধিক্য বিবেচনায় বিষয়ের আধিক্য দেখা হয় তবে উভয়ই শ্রেণিবাচক নাম। আর যদি প্রচলিত ঐক্যের বিচারে দেখা হয় তবে তা ব্যক্তিবাচক নাম। আর এদের মাঝে পার্থক্য করা হলো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত এবং কোনো জোরালো কারণ ছাড়াই অগ্রাধিকার প্রদান।
আর "দুরর" অর্থ হলো মুক্তা, এটি একটি শ্রেণিবাচক নাম যা অল্প এবং অনেক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর "মুখতার" হলো যা অন্য কিছুর ওপর প্রাধান্য পায়—এটি তাহতাবি উল্লেখ করেছেন। (তাঁর কথা: যা ছাড়িয়ে গেছে) এটি "তানভীরুল আবসার"-এর বিশেষণ, "আদ-দুররুল মুখতার"-এর নয়। এটি এই ধারণার ভিত্তিতে যে, "ফী শারহি তানভীরিল আবসার" কথাটি একটি উহ্য অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট যা আদ-দুররুল মুখতার থেকে এসেছে এবং এটি নামের কোনো অংশ নয়। ফলে নামের অংশকে বিশেষিত করা যায় না—এমন আপত্তি উত্থাপিত হবে না। তাছাড়া এটিও বিবেচনা করা যেতে পারে যে, নাম হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার পূর্বের অর্থের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, সুতরাং বিষয়টি বুঝে নিন। (তাঁর কথা: এই শাস্ত্রের) কামুস গ্রন্থে আছে: "ফান" অর্থ অবস্থা এবং কোনো বস্তুর প্রকার, যেমন উফনুন, এর বহুবচন আফনান এবং ফুনুন। এখানে এর দ্বারা শাস্ত্র বা বিদ্যা উদ্দেশ্য, কারণ এটি বিভিন্ন বিদ্যারই একটি প্রকার। (তাঁর কথা: নির্ভুলতার ক্ষেত্রে) কামুস অনুযায়ী এর অর্থ হলো দৃঢ়তার সাথে সংরক্ষণ করা। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লেখনীর চমৎকারিত্ব এবং অভিব্যক্তির দৃঢ়তা। সুতরাং এটি একটি শক্তভাবে বাঁধা বোঝার মতো সুরক্ষিত। (তাঁর কথা: এবং সঠিকতার ক্ষেত্রে) অর্থাৎ বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত নির্ভরযোগ্য ও সঠিক মতগুলো উল্লেখ করা। (তাঁর কথা: এবং সংক্ষেপণের ক্ষেত্রে) এর অর্থ আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এটি লেখনীর সৌন্দর্য এবং সঠিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত।
(তাঁর কথা: আমার জীবনের শপথ) মুগরিব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "উমুর" শব্দটি পেশ বা জবর উভয় ভাবেই পড়া যায় যার অর্থ স্থায়িত্ব। তবে শপথের ক্ষেত্রে জবর দিয়ে পড়াটাই প্রচলিত, এমনকি সেখানে পেশ দিয়ে পড়া জায়েজ নেই। বলা হয় "তোমার জীবনের শপথ" বা "আল্লাহর শপথ" আমি অবশ্যই এটি করব। ব্যাকরণগতভাবে এটি মুবতাদা হিসেবে রফ-যুক্ত এবং এর খবর উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ "এটি আমার শপথ"। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি বাক্যারম্ভের জন্য এবং 'লাম' বর্ণটি প্রারম্ভিক জোর প্রদানের জন্য। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: যখন 'লাম' বিলুপ্ত হয় তখন এটি মাসদার হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়। হাদিসে "আল্লাহর জীবনের শপথ" (লা-আমরুল্লাহ) বলতে নিষেধ করা হয়েছে। হাশিয়ায়ে আশবাহ-তে হামাভী বলেন: এই বর্ণনা অনুযায়ী গ্রন্থকারের জন্য এই জাহেলী শপথ যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা ব্যবহার করা সমীচীন হয়নি।
কুহুস্তানির শারহুন নুকায়াতে আছে: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর শপথ করা জায়েজ নয়। বলা হয় অমুকের জীবনের শপথ, আর কেউ যদি এমন শপথ করে ফেলে তবে তা রক্ষা করা তার জন্য সঠিক নয় বরং তা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। কেননা কারো কারো মতে সেই শপথ রক্ষা করা কুফরি, যেমন কিফায়াতুশ শা'বি গ্রন্থে রয়েছে। আমি বলি: তবে রুমি পণ্ডিত হাসান জালাবি মুতাওওয়াল-এর হাশিয়ায় বলেছেন: তাঁর উক্তি "আমার জীবনের শপথ" একে উহ্য সম্বন্ধপদ হিসেবে ধরে নেওয়া সম্ভব, অর্থাৎ "আমার জীবন দানকারীর শপথ"। একইভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে যেসব শপথ করা হয়েছে যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী—{সূর্যের শপথ}, রাতের শপথ, চাঁদের শপথ এবং এর সদৃশ আয়াতগুলো, অর্থাৎ "সূর্যের রবের শপথ" ইত্যাদি। আবার এটিও হতে পারে যে, "আমার জীবনের শপথ" এবং এই জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল বক্তব্যের বিষয়বস্তুকে জোরালো করা এবং এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। কারণ এটি অন্যান্য তাকিদ বা জোর প্রদানের পদ্ধতির চেয়ে শক্তিশালী। আর এটি আল্লাহর নামে শপথ করার চেয়েও নিরাপদ কারণ আল্লাহর নামে শপথ করলে তা রক্ষা করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এখানে উদ্দেশ্য শরয়ি শপথ নয় বা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সম্মানে তাঁর সমকক্ষ করাও নয়, যার ফলে আল্লাহ তাআলার নাম ও সিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর শপথ করার নিষেধাজ্ঞাটি এখানে কার্যকর হবে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أَضْحَتْ رَوْضَةُ هَذَا الْعِلْمِ بِهِ مُفَتَّحَةَ الْأَزْهَارِ، مُسَلْسَلَةَ الْأَنْهَارِ، مِنْ عَجَائِبِهِ ثَمَرَاتُ التَّحْقِيقِ تُخْتَارُ، وَمِنْ غَرَائِبِهِ ذَخَائِرُ تَدْقِيقٍ تُحَيِّرُ الْأَفْكَارَ، لِشَيْخِ شَيْخِنَا شَيْخِ الْإِسْلَامِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التُّمُرْتَاشِيِّ الْحَنَفِيِّ الْغَزِّيِّ
ــ
[رد المحتار] عز وجل مَكْرُوهٌ كَمَا صَرَّحَ بِهِ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ، بَلْ الظَّاهِرُ مِنْ كَلَامِ مَشَايِخِنَا أَنَّهُ كُفْرٌ إنْ كَانَ بِاعْتِقَادِهِ أَنَّهُ حَلَفَ يَجِبُ الْبِرُّ بِهِ، وَحَرَامٌ إنْ كَانَ بِدُونِهِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ، وَذِكْرُ صُورَةِ الْقَسَمِ عَلَى الْوَجْهِ الْمَذْكُورِ لَا بَأْسَ بِهِ، وَلِهَذَا شَاعَ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ، كَيْفَ وَقَدْ «قَالَ عليه الصلاة والسلام قَدْ أَفْلَحَ وَأَبِيهِ» وَقَالَ عَزَّ مَنْ قَائِلٌ - {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الحجر: 72]- فَهَذَا جَرَى عَلَى رَسْمِ اللُّغَةِ وَكَذَا إطْلَاقُ الْقَسَمِ عَلَى أَمْثَالِهِ اهـ
(قَوْلُهُ: أَضْحَتْ) أَيْ صَارَتْ، وَتُسْتَعْمَلُ أَضْحَى بِمَعْنَى صَارَ كَثِيرًا كَمَا ذَكَرَهُ الْأُشْمُونِيُّ (قَوْلُهُ: رَوْضَةُ هَذَا الْعِلْمِ) الرَّوْضَةُ مِنْ الْعُشْبِ: مُسْتَنْقَعُ الْمَاءِ لِاسْتِرَاضَةِ الْمَاءِ فِيهَا، وَهَذَا مَعْنَاهَا فِي أَصْلِ الْوَضْعِ، وَلِذَا قَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ: الرَّوْضَةُ أَرْضٌ ذَاتُ مِيَاهٍ وَأَشْجَارٍ وَأَزْهَارٍ، شَبَّهَ الْفِقْهَ بِبُسْتَانٍ عَلَى سَبِيلِ الِاسْتِعَارَةِ بِالْكِنَايَةِ وَإِثْبَاتُ الرَّوْضَةِ تَخْيِيلٌ، وَمَا بَعْدَهُ تَرْشِيحٌ لِلْمَكْنِيَّةِ أَوْ لِلتَّخْيِيلِيَّة بَاقِيًا عَلَى مَعْنَاهُ مَقْصُودًا بِهِ تَقْوِيَةَ الِاسْتِعَارَةِ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مُسْتَعَارُ الْمُلَائِمِ الْمُشَبَّهَ كَمَا قُرِّرَ فِي مَحَلِّهِ، بِأَنَّ تَشْبِيهَ الْمَسَائِلِ بِالْأَزْهَارِ وَالْأَنْهَارِ عَلَى سَبِيلِ الِاسْتِعَارَةِ الْمَكْنِيَّةِ أَيْضًا وَإِثْبَاتُ التَّفْتِيحِ وَالتَّسَلْسُلِ تَخْيِيلٌ (قَوْلُهُ: مُفَتَّحَةَ الْأَزْهَارِ) أَصْلُهُ مُفَتَّحَةَ الْأَزْهَارِ مِنْهَا أَوْ أَزْهَارُهَا عَلَى جَعْلِ أَلْ عِوَضًا عَنْ الْمُضَافِ إلَيْهِ، وَالْأَزْهَارُ مَرْفُوعٌ بِالنِّيَابَةِ عَنْ الْفَاعِلِ فَحُوِّلَ الْإِسْنَادُ إلَى ضَمِيرِ الْمَوْصُوفِ ثُمَّ أُضِيفَ اسْمُ الْمَفْعُولِ إلَى مَرْفُوعِهِ مَعْنًى، فَهُوَ حِينَئِذٍ جَارٍ مَجْرَى الصِّفَةِ الْمُشَبَّهَةِ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: مُسَلْسَلَةَ الْأَنْهَارِ) الْكَلَامُ فِيهِ كَاَلَّذِي قَبْلَهُ. وَفِي الْقَامُوسِ: تَسَلْسَلَ الْمَاءُ جَرَى فِي حُدُورٍ
(قَوْلُهُ: مِنْ عَجَائِبِهِ) جَمْعُ عَجِيبٍ وَالِاسْمُ الْعَجِيبَةُ وَالْأُعْجُوبَةُ قَامُوسٌ، وَالْمُرَادُ بِهَا مَسَائِلُهُ الْعَجِيبَةُ، وَمِنْ صِلَةٌ لِقَوْلِهِ تُخْتَارُ وَثَمَرَاتُ مُبْتَدَأٌ وَالتَّحْقِيقُ مُضَافٌ إلَيْهِ، وَيُطْلَقُ عَلَى ذِكْرِ الشَّيْءِ عَلَى الْوَجْهِ الْحَقِّ وَعَلَى إثْبَاتِ الشَّيْءِ بِدَلِيلِهِ وَجُمْلَةُ تُخْتَارُ خَبَرُ الْمُبْتَدَأِ، وَفِي الْكَلَامِ اسْتِعَارَةٌ مَكِنِيَّةٌ حَيْثُ شَبَّهَ التَّحْقِيقَ بِشَجَرَةٍ وَإِثْبَاتُ الثَّمَرَاتِ لَهَا تَخْيِيلٌ. وَلَا يَخْفَى أَنَّ مَسَائِلَ هَذَا الْكِتَابِ مَذْكُورَةٌ عَلَى الْوَجْهِ الْحَقِّ وَثَابِتَةٌ بِدَلَائِلِهَا عِنْدَ الْمُجْتَهِدِ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ إثْبَاتِ الشَّيْءِ بِدَلِيلِهِ أَنْ يُكْتَبَ دَلِيلُهُ مَعَهُ حَتَّى يَرِدَ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ فِي الْمَتْنِ الْأَدِلَّةَ، وَكَذَا لَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِ مَسَائِلِهِ مَذْكُورَةً عَلَى الْوَجْهِ الْحَقِّ أَنْ يَكُونَ غَيْرُهُ مِنْ الْمُتُونِ لَيْسَ كَذَلِكَ فَافْهَمْ، وَيَجُوزُ أَنْ يُرَادَ بِالثَّمَرَةِ الْفَائِدَةُ وَالنَّتِيجَةُ؛ وَالْمَعْنَى أَنَّ مَا يُسْتَفَادُ بِالتَّحْقِيقِ وَيُسْتَنْتَجُ بِهِ مِنْ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ يُخْتَارُ مِنْ مَسَائِلِهِ الْمُعْجِبَةِ (قَوْلُهُ: وَمِنْ غَرَائِبِهِ) جَمْعُ غَرِيبَةٍ أَيْ مَسَائِلِهِ الْغَرِيبَةِ الْعَزِيزَةِ الْوُجُودِ الَّتِي زَادَهَا عَلَى الْمُتُونِ الْمُتَدَاوَلَةِ فَهِيَ كَالرَّجُلِ الْغَرِيبِ، أَوْ الْمُرَادُ تَرَاكِيبُهُ وَإِشَارَاتُهُ الْفَائِقَةُ عَلَى غَيْرِهَا حَتَّى صَارَتْ غَرِيبَةً فِي بَابِهَا. وَالذَّخَائِرُ: جَمْعُ ذَخِيرَةٍ بِمَعْنَى مَذْخُورَةٍ مَا يُذْخَرُ أَيْ يُخْتَارُ وَيُحْفَظُ. وَالتَّدْقِيقُ إثْبَاتُ الْمَسْأَلَةِ بِدَلِيلٍ دَقَّ طَرِيقُهُ لِنَاظِرِيهِ كَمَا فِي تَعْرِيفَاتِ السَّيِّدِ، وَقِيلَ إثْبَاتُ دَلِيلِ الْمَسْأَلَةِ بِدَلِيلٍ آخَرَ، وَجُمْلَةُ تُحَيِّرُ الْأَفْكَارَ صِفَةُ ذَخَائِرَ الْوَاقِعِ مُبْتَدَأً مُؤَخَّرًا مُخْبَرًا عَنْهُ بِالظَّرْفِ قَبْلَهُ. وَلَمَّا كَانَ التَّدْقِيقُ مَأْخُوذًا مِنْ الدِّقَّةِ وَهِيَ الْغُمُوضُ وَالْخَفَاءُ ذَكَرَ مَعَهُ الذَّخَائِرَ الَّتِي تُحْفَظُ عَادَةً وَتُخَبَّأُ، وَذَكَرَ مَعَهُ أَيْضًا تُحَيِّرُ الْأَفْكَارَ: وَهُوَ عَدَمُ اهْتِدَائِهَا، وَالْمُرَادُ بِهَا أَصْحَابُهَا، بِخِلَافِ التَّحْقِيقِ فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ فِيهِ دِقَّةٌ، وَالْحَقُّ ظَاهِرٌ لَا يَخْفَى فَلِذَا ذَكَرَ مَعَهُ الثَّمَرَاتِ الَّتِي تَظْهَرُ عَادَةً (قَوْلُهُ: لِشَيْخِ شَيْخِنَا) مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفِ نَعْتٌ لِتَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ أَوْ حَالٌ مِنْهُ: أَيْ الْكَائِنَ أَوْ كَائِنًا. اهـ. ح
(قَوْلُهُ: شَيْخِ الْإِسْلَامِ) أَيْ شَيْخِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ، وَهَذَا الْوَصْفُ غَلَبَ عَلَى مَنْ كَانَ فِي مَنْصِبِ الْإِفْتَاءِ أَوْ الْقَضَاءِ (قَوْلُهُ: مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ) بْنِ أَحْمَدَ الْخَطِيبِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَطِيبِ بْنِ إبْرَاهِيمَ الْخَطِيبِ. اهـ. ح. وَرَأَيْت فِي رِسَالَةٍ لِحَفِيدِ الْمُصَنِّفِ: وَهُوَ الشَّيْخُ مُحَمَّدُ ابْنُ الشَّيْخِ صَالِحٍ ابْنِ الْمُصَنِّفِ،
এই ইলমের বাগান তাঁর মাধ্যমে প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি ও প্রবহমান নদীমালায় সুশোভিত হয়েছে। এর বিস্ময়কর বিষয়াবলির মধ্য থেকে গবেষণালব্ধ ফলসমূহ বাছাই করা হয় এবং এর বিরল বিষয়াবলির মধ্য থেকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের এমন সব ভাণ্ডার রয়েছে যা চিন্তাশক্তিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। (এই গ্রন্থটি) আমাদের শাইখের শাইখ, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুমুরতাশি আল-হানাফি আল-গাজ্জি-র রচিত।
—
[রাদ্দ আল-মুহতার]মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা মাকরূহ, যেমনটি ইমাম নববী 'শরহে মুসলিম'-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। বরং আমাদের মাশাইখগণের বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এটি কুফর যদি তার বিশ্বাস এমন হয় যে এই শপথটি পূর্ণ করা ওয়াজিব। আর যদি তেমন বিশ্বাস না থাকে তবে এটি হারাম, যেমনটি কোনো কোনো বিদ্বান স্পষ্ট করেছেন। তবে উল্লিখিত পদ্ধতিতে শপথের রূপ উল্লেখ করায় কোনো অসুবিধা নেই, এ কারণেই এটি উলামাদের মাঝে প্রচলিত হয়েছে। আর এটি কেনই বা হবে না, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'সে সফল হয়েছে, তার পিতার কসম'। আর মহান আল্লাহ বলেছেন—{আপনার জীবনের কসম! নিশ্চয় তারা তাদের নেশায় বিভোর হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল} [হিজর: ৭২]—সুতরাং এটি ভাষারীতির অনুসরণে হয়েছে এবং এই জাতীয় শব্দে শপথের ব্যবহারও অনুরূপ। সমাপ্ত।
(তাঁর বক্তব্য: 'আদহাত') অর্থাৎ হয়েছে বা পরিণত হয়েছে। 'আদহা' শব্দটি 'সারা' (হওয়া) অর্থে প্রচুর ব্যবহৃত হয়, যেমনটি আশমুনি উল্লেখ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: 'এই ইলমের বাগান') ঘাসযুক্ত 'রাওদাহ' হলো পানির আধার যেখানে পানি জমে থাকে। এটিই শব্দটির মূল আভিধানিক অর্থ। এজন্য কোনো কোনো আলেম বলেছেন: রাওদাহ হলো এমন ভূমি যা পানি, বৃক্ষরাজি ও পুষ্পশোভিত। এখানে ফিকহ শাস্ত্রকে বাগানের সাথে তুলনা করা হয়েছে রূপক অর্থে (ইস্তিয়ারা মাকনিয়্যাহ হিসেবে), এবং বাগানের উপস্থিতি কাল্পনিক (তাখয়িল)। এর পরবর্তী অংশগুলো এই রূপককে শক্তিশালী করার অনুষঙ্গ (তারশিহ), যা স্বীয় অর্থেই বহাল থেকে রূপককে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এটিও সম্ভব যে, এখানে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের রূপক বর্ণনা করা হয়েছে যেমনটি স্বস্থানে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ মাসআলাগুলোকে পুষ্পরাজি ও নদীমালার সাথে তুলনা করা হয়েছে ইস্তিয়ারা মাকনিয়্যাহ হিসেবে, এবং পুষ্প প্রস্ফুটিত হওয়া ও নদীর প্রবহমানতা সাব্যস্ত করা হয়েছে কাল্পনিকভাবে (তাখয়িল)। (তাঁর বক্তব্য: প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি) এর মূল রূপ ছিল 'যার ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়েছে'। এখানে 'আল' যুক্ত শব্দটি মুদাফ ইলাইহির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। 'ফুলগুলো' শব্দটি নায়েবে ফায়েল হিসেবে মারফু হয়েছে; এরপর সম্পর্কের ভিত্তি বর্ণনাকৃত বিষয়ের সর্বনামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অতপর ইসমুল মাফউলকে তার অর্থের মারফুর সাথে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এটি সিফাত মুসাব্বাহর ন্যায় অর্থ প্রদান করে। বিষয়টি বুঝে নিন। (তাঁর বক্তব্য: প্রবহমান নদীমালা) এর ব্যাখ্যাও পূর্বের ন্যায়। 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে: পানির ধারাবাহিক প্রবাহ বা ঢালু স্থানে গড়িয়ে চলা।
(তাঁর বক্তব্য: এর বিস্ময়কর বিষয়াবলির মধ্য হতে) এটি 'আজিব' শব্দের বহুবচন, আর এর বিশেষ্য হলো 'আজিবাহ' ও 'উজুবাহ' (কামুস)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর বিস্ময়কর মাসআলাসমূহ। 'মিন' অব্যয়টি 'তুখতারু' (বাছাই করা হয়) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। 'থামারাাত' হলো মুবতাদা এবং 'তহকিক' মুদাফ ইলাইহি। 'তহকিক' বলতে কোনো বিষয়কে তার সঠিক রূপে উল্লেখ করা অথবা দলিলসহ প্রমাণ করাকে বুঝায়। 'তুখতারু' বাক্যটি মুবতাদার খবর। এখানে একটি ইস্তিয়ারা মাকনিয়্যাহ রয়েছে যেখানে গবেষণাকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং ফলসমূহকে কাল্পনিকভাবে তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এটি গোপন নয় যে, এই কিতাবের মাসআলাগুলো সঠিক রূপেই বর্ণিত হয়েছে এবং মুজতাহিদের নিকট সেগুলো নিজ নিজ দলিলের ভিত্তিতে প্রমাণিত। তবে কোনো বিষয়কে তার দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করার অর্থ এই নয় যে, তার সাথে দলিলও লিখে দিতে হবে; সুতরাং মতনে দলিল উল্লেখ করা হয়নি বলে যে আপত্তি করা হয় তা ধোপে টিকে না। অনুরূপভাবে, এর মাসআলাগুলো সঠিক রূপে বর্ণিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, অন্যান্য মতন বা মূলগ্রন্থগুলো তেমন নয়। বিষয়টি বুঝে নিন। আর এটিও সম্ভব যে, 'ফল' (থামারাাহ) দ্বারা এর উপকারিতা ও ফলাফল উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ গবেষণার মাধ্যমে যা অর্জিত হয় এবং এর দ্বারা শরয়ী আহকাম থেকে যে ফলাফল নিঃসৃত হয়, তা-ই এর বিস্ময়কর মাসআলাগুলো থেকে চয়ন করা হয়। (তাঁর বক্তব্য: এবং এর বিরল বিষয়াবলি হতে) এটি 'গারিবাহ' শব্দের বহুবচন, অর্থাৎ এর বিরল ও দুর্লভ মাসআলাসমূহ যা প্রচলিত গ্রন্থসমূহের অতিরিক্ত হিসেবে এতে রয়েছে। ফলে সেগুলো যেন এক আগন্তুক বা অপরিচিত ব্যক্তির ন্যায়। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর বাক্য গঠন ও ইঙ্গিতসমূহ যা অন্যগুলোর তুলনায় শ্রেষ্ঠ ও অনন্য, এমনকি তা নিজ ক্ষেত্রে অনন্য হয়ে উঠেছে। 'দাখাইর' হলো 'দাখিরাহ' এর বহুবচন যার অর্থ সঞ্চিত বস্তু যা সংরক্ষণ করা হয়। 'তাদিক' (সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ) হলো কোনো মাসআলাকে এমন দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করা যা পর্যবেক্ষণকারীর কাছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যেমনটি সাইয়্যেদ (শরীফ জুরজানি) তাঁর 'তারিফাত' গ্রন্থে বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন, দলিলের মাসআলাকে অন্য আরেকটি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করা। 'তুহাইয়্যিরুল আফকার' বাক্যটি 'দাখাইর' শব্দের বিশেষণ, যা এখানে মুবতাদায়ে মুয়াখখার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর পূর্বে থাকা জার-মাজরুর তার খবর। যেহেতু 'তাদিক' শব্দটি 'দিক্কাত' (সূক্ষ্মতা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অস্পষ্টতা ও লুকায়িত হওয়া, তাই এর সাথে 'দাখাইর' বা ভাণ্ডার শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে যা সাধারণত সংরক্ষণ ও লুকিয়ে রাখা হয়। এর সাথে 'চিন্তাশক্তিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়' কথাটিও উল্লেখ করা হয়েছে যার অর্থ চিন্তাশক্তির দিশেহারা হওয়া (উদ্দেশ্য হলো চিন্তাশক্তির অধিকারী ব্যক্তিবর্গ)। পক্ষান্তরে 'তহকিক' এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তাতে সূক্ষ্মতা থাকা জরুরি নয়; বরং সত্য সুষ্পষ্ট ও প্রকাশ্য। একারণেই এর সাথে 'ফলসমূহ' উল্লেখ করা হয়েছে যা সাধারণত প্রকাশ্য হয়ে থাকে। (তাঁর বক্তব্য: আমাদের শাইখের শাইখের) এটি 'তানওয়িরুল আবসার' গ্রন্থের বিশেষণ (নাত) অথবা হাল হিসেবে উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ, যা তাঁর দ্বারা রচিত। সমাপ্ত। হাশিয়া।
(তাঁর বক্তব্য: শাইখুল ইসলাম) অর্থাৎ আহলে ইসলামের শাইখ। এই উপাধিটি সাধারণত যারা ইফতা (ফতওয়া প্রদান) বা কাজা (বিচারক) পদে আসীন থাকেন তাদের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হয়। (তাঁর বক্তব্য: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ) ইবনে আহমাদ আল-খতিব ইবনে মুহাম্মাদ আল-খতিব ইবনে ইবরাহিম আল-খতিব। সমাপ্ত। হাশিয়া। গ্রন্থকারের নাতির একটি পত্রে আমি দেখেছি—যিনি হলেন মুসান্নিফের পুত্র শাইখ সালিহ-এর পুত্র শাইখ মুহাম্মাদ...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عُمْدَةِ الْمُتَأَخِّرِينَ الْأَخْيَارِ،
فَإِنِّي أَرْوِيهِ عَنْ شَيْخِنَا الشَّيْخِ عَبْدِ النَّبِيِّ الْخَلِيلِيِّ، عَنْ الْمُصَنِّفِ عَنْ ابْنِ نُجَيْمٍ الْمِصْرِيِّ
ــ
[رد المحتار] زَادَ بَعْدَ إبْرَاهِيمَ الْمَذْكُورِ ابْنَ خَلِيلِ بْنِ تُمُرْتَاشِيٍّ. قَالَ الْمُحِبِّيُّ: كَانَ إمَامًا كَبِيرًا حَسَنَ السَّمْتِ قَوِيَّ الْحَافِظَةِ كَثِيرَ الِاطِّلَاعِ، وَبِالْجُمْلَةِ فَلَمْ يَبْقَ مَنْ يُسَاوِيهِ فِي الرُّتْبَةِ، وَقَدْ أَلَّفَ التَّآلِيفَ الْعَجِيبَةَ الْمُتْقَنَةَ، مِنْهَا التَّنْوِيرُ وَهُوَ فِي الْفِقْهِ جَلِيلُ الْمِقْدَارِ جَمُّ الْفَائِدَةِ، دَقَّقَ فِي الْمَسَائِلِ كُلَّ التَّدْقِيقِ وَرُزِقَ فِيهِ السَّعْدُ، فَاشْتُهِرَ فِي الْآفَاقِ، وَهُوَ مِنْ أَنْفَعِ كُتُبِهِ، وَشَرَحَهُ هُوَ، وَاعْتَنَى بِشَرْحِهِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ الْعَلَّامَةُ الْحَصْكَفِيُّ مُفْتِي الشَّامِ وَالْمُنْلَا حُسَيْنُ بْنُ إسْكَنْدَرَ الرُّومِيُّ نَزِيلُ دِمَشْقَ.
وَالشَّيْخُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مُدَرِّسُ النَّاصِرِيَّةِ، وَكَتَبَ عَلَيْهِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ مُحَمَّدٌ الْأَنْكُورِيُّ كِتَابَاتٍ فِي غَايَةِ التَّحْرِيرِ وَالنَّفْعِ، وَكَتَبَ عَنْ شَرْحِ مُؤَلِّفِهِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ خَيْرِ الدِّينِ الرَّمْلِيِّ حَوَاشِيَ مُفِيدَةً. وَلَهُ تَآلِيفُ لَا تُحْصَى، تُوُفِّيَ سَنَةَ (1004) عَنْ خَمْسٍ وَسِتِّينَ سَنَةً (156) اهـ. قُلْت: وَمِنْ تَأْلِيفِ الْمُصَنِّفِ كِتَابُ مُعِينُ الْمُفْتِي وَالْمَنْظُومَةُ الْفِقْهِيَّةُ الْمُسَمَّاةُ تُحْفَةُ الْأَقْرَانِ وَشَرْحُهَا مَوَاهِبُ الرَّحْمَنِ وَالْفَتَاوَى الْمَشْهُورَةُ. وَشَرْحُ زَادِ الْفَقِيرِ لِابْنِ الْهُمَامِ وَشَرْحُ الْوِقَايَةِ، وَشَرْحُ الْوَهْبَانِيَّةِ، وَشَرْحُ يَقُولُ الْعَبْدُ، وَشَرْحُ الْمَنَارِ وَشَرْحُ مُخْتَصَرِ الْمَنَارِ، وَشَرْحُ الْكَنْزِ إلَى كِتَابِ الْإِيمَانِ، وَحَاشِيَةٌ عَلَى الدُّرَرِ لَمْ تَتِمَّ، وَرَسَائِلُ كَثِيرَةٌ مِنْهَا رِسَالَةٌ فِي الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ، وَفِي عِصْمَةِ الْأَنْبِيَاءِ وَفِي دُخُولِ الْحَمَّامِ، وَفِي لَفْظِ جَوَّزْتُك بِتَقْدِيمِ الْجِيمِ. وَفِي الْقَضَاءِ، وَفِي الْكَنَائِسِ، وَفِي الْمُزَارَعَةِ، وَفِي الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ، وَفِي الْكَرَاهِيَةِ، وَفِي حُرْمَةِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ. وَفِي جَوَازِ الِاسْتِنَابَةِ فِي الْخُطْبَةِ.
وَفِي أَحْكَامِ الدُّرُوزِ وَالْأَرْفَاضِ، وَفِي مُشْكِلَاتِ مَسَائِلَ وَشَرْحِهَا، وَلَهُ رِسَالَةٌ فِي التَّصَوُّفِ وَشَرْحُهَا، وَمَنْظُومَةٌ فِيهِ، وَرِسَالَةٌ فِي عِلْمِ الصَّرْفِ. وَشَرْحِ الْقَطْرِ وَغَيْرُ ذَلِكَ ذَكَرَهُ بَعْضُهُمْ (قَوْلُهُ: التُّمُرْتَاشِيِّ) نِسْبَةً إلَى تُمُرْتَاشَ. نَقَلَ صَاحِبُ مَرَاصِدِ الِاطِّلَاعِ فِي أَسْمَاءِ الْأَمَاكِنِ وَالْبِقَاعِ أَنَّ تُمُرْتَاشَ بِضَمَّتَيْنِ وَسُكُونِ الرَّاءِ وَتَاءٍ وَأَلِفٍ وَشِينٍ مُعْجَمَةٍ: قَرْيَةٌ مِنْ قُرَى خُوَارِزْمَ. اهـ. ط. قُلْت. وَالْأَقْرَبُ أَنَّهُ نِسْبَةٌ إلَى جَدِّهِ تُمُرْتَاشِيٍّ كَمَا قَدَّمْنَاهُ (قَوْلُهُ: الْغَزِّيِّ) نِسْبَةً إلَى غَزَّةِ هَاشِمٍ، وَهِيَ كَمَا فِي الْقَامُوسِ: بَلَدٌ بِفِلَسْطِينَ، وُلِدَ بِهَا الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -. وَمَاتَ بِهَا هَاشِمُ بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ (قَوْلُهُ: عُمْدَةِ الْمُتَأَخِّرِينَ) أَيْ مُعْتَمَدِهِمْ فِي الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ (قَوْلُهُ: الْأَخْيَارِ) جَمْعُ خَيِّرٍ بِالتَّشْدِيدِ: كَثِيرُ الْخَيْرِ
(قَوْلُهُ: فَإِنِّي أَرْوِيهِ) تَفْرِيعٌ عَلَى قَوْلِهِ لِشَيْخِ شَيْخِنَا إلَخْ. فَإِنَّهُ لَمَّا جَزَمَ بِنِسْبَتِهِ إلَيْهِ أَفَادَ أَنَّ ذَلِكَ وَاصِلٌ إلَيْهِ بِالسَّنَدِ. وَالضَّمِيرُ لِتَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ، وَلَكِنَّ رِوَايَتَهُ عَنْ ابْنِ نُجَيْمٍ بِاعْتِبَارِ الْمَسَائِلِ الَّتِي فِيهِ مَعَ قَطْعِ النَّظَرِ عَنْ صُورَتِهِ الْمُشَخَّصَةِ كَمَا أَفَادَهُ ح، أَوْ الضَّمِيرُ لِلْعِلْمِ الْمَذْكُورِ فِي قَوْلِهِ لَقَدْ أَضْحَتْ رَوْضَةُ هَذَا الْعِلْمِ كَمَا أَفَادَهُ ط (قَوْلُهُ: عَنْ ابْنِ نُجَيْمٍ) هُوَ الشَّيْخُ زَيْنُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ نُجَيْمٍ وَزَيْنٌ اسْمُهُ الْعَلَمِيُّ. تَرْجَمَهُ النَّجْمُ الْغَزِّيِّ فِي الْكَوَاكِبِ السَّائِرَةِ فَقَالَ: هُوَ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ الْمُدَقِّقُ الْفَهَّامَةُ زَيْنُ الْعَابِدِينَ الْحَنَفِيُّ. أَخَذَ الْعُلُومَ عَنْ جَمَاعَةٍ، مِنْهُمْ الشَّيْخُ شَرَفُ الدِّينِ الْبُلْقِينِيُّ وَالشَّيْخُ شِهَابُ الدِّينِ الشَّلَبِيُّ وَالشَّيْخُ أَمِينُ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ الْعَالِ وَأَبُو الْفَيْضِ السُّلَمِيُّ. وَأَجَازَهُ بِالْإِفْتَاءِ وَالتَّدْرِيسِ فَأَفْتَى وَدَرَّسَ فِي حَيَاةِ أَشْيَاخِهِ وَانْتَفَعَ بِهِ خَلَائِقُ. وَلَهُ عِدَّةُ مُصَنَّفَاتٍ: مِنْهَا شَرْحُ الْكَنْزِ وَالْأَشْبَاهُ وَالنَّظَائِرُ. وَصَارَ كِتَابُهُ عُمْدَةَ الْحَنَفِيَّةِ وَمَرْجِعَهُمْ. وَأَخَذَ الطَّرِيقَ عَنْ الشَّيْخِ الْعَارِفِ بِاَللَّهِ تَعَالَى سُلَيْمَانَ الْخُضَيْرِيِّ، وَكَانَ لَهُ ذَوْقٌ فِي حَلِّ مُشْكِلَاتِ الْقَوْمِ. قَالَ الْعَارِفُ الشَّعْرَانِيُّ: صَحِبْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ. فَمَا رَأَيْت عَلَيْهِ شَيْئًا يَشِينُهُ، وَحَجَجْت مَعَهُ فِي سَنَةِ (953) فَرَأَيْته عَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ مَعَ جِيرَانِهِ وَغِلْمَانِهِ ذَهَابًا وَإِيَابًا مَعَ أَنَّ السَّفَرَ يُسْفِرُ عَنْ أَخْلَاقِ الرِّجَالِ. وَكَانَتْ وَفَاتُهُ سَنَةَ (969) كَمَا أَخْبَرَنِي بِذَلِكَ تِلْمِيذُهُ الشَّيْخُ مُحَمَّدُ الْعَلَمِيُّ. اهـ.
পরবর্তী যুগের নেককার আলেমদের প্রধান আশ্রয়স্থল,
নিশ্চয়ই আমি এটি আমাদের শাইখ, শাইখ আব্দুল নবী আল-খলিলী থেকে বর্ণনা করছি, তিনি মূল গ্রন্থকার থেকে এবং তিনি ইবনে নুজাইম আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
—
[রাদ্দ আল-মুহতার]উল্লিখিত ইবরাহিমের পর ইবনে খলিল বিন তিমুরতাশি নামটি যোগ করেছেন। আল-মুহিব্বি বলেন: তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, সুন্দর আচরণের অধিকারী, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সেই সময়ে মর্যাদায় তাঁর সমকক্ষ আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। তিনি চমৎকার ও সুনিপুণ সব গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো ‘আত-তানবীর’ (তানবীরুল আবসার)। ফিকহশাস্ত্রে এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ এবং প্রচুর কল্যাণময় একটি গ্রন্থ। তিনি এতে মাসআলাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি সৌভাগ্য লাভ করেছেন, যার ফলে এটি দিগ্বিদিকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এটি তাঁর অন্যতম উপকারী কিতাব এবং তিনি নিজেই এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। একদল আলেম এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শাম বা সিরিয়ার মুফতি আল্লামা হাসকাফি এবং দামেস্কে বসবাসকারী মোল্লা হুসাইন বিন ইসকান্দার আর-রুমি।
এবং শাইখ আব্দুর রাজ্জাক, যিনি নাসারিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ আল-আনকুরি এর ওপর অত্যন্ত সুসংহত ও উপকারী টীকা লিখেছেন। এবং শাইখুল ইসলাম খাইরুদ্দিন আর-রামলি এর মূল গ্রন্থকারের ব্যাখ্যার ওপর উপকারী হাশিয়া বা টীকা লিখেছেন। তাঁর অগণিত রচনা রয়েছে। তিনি ১০০৪ হিজরি সনে পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আমি বলছি: গ্রন্থকারের রচনার মধ্যে রয়েছে ‘মুইনুল মুফতি’, ‘তুহফাতুল আকরান’ নামক ফিকহী পদ্য ও তার ব্যাখ্যা ‘মাওয়াহিবুর রহমান’, এবং প্রসিদ্ধ ফাতাওয়াসমূহ। এছাড়া ইবনে হুমামের ‘জাদুল ফাকির’-এর ব্যাখ্যা, ‘উইকায়াহ’-এর ব্যাখ্যা, ‘ওয়াহবানিয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যা, ‘ইয়াকুলুল আবদ’-এর ব্যাখ্যা, ‘মানার’ ও ‘মুখতাসারুল মানার’-এর ব্যাখ্যা এবং ‘কিতাবুল ঈমান’ পর্যন্ত ‘কানজ’-এর ব্যাখ্যা। এছাড়া ‘দুরার’-এর ওপর একটি অসম্পূর্ণ হাশিয়া এবং প্রচুর পুস্তিকা (রাসায়িল) রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী বিষয়ক রিসালাহ, নবীদের মাসুম হওয়া বা নিষ্পাপ থাকা বিষয়ক রিসালাহ, গোসলখানায় প্রবেশ বিষয়ক রিসালাহ, জিম বর্ণকে আগে দিয়ে ‘জাওওয়াজতুকা’ শব্দ বলা বিষয়ক রিসালাহ, বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রিসালাহ, গির্জা সংক্রান্ত রিসালাহ, বর্গাচাষ সংক্রান্ত রিসালাহ, আরাফায় অবস্থান সংক্রান্ত রিসালাহ, মাকরূহাত সংক্রান্ত রিসালাহ এবং ইমামের পেছনে কিরাত পড়ার নিষিদ্ধতা বিষয়ক রিসালাহ। এবং খুতবায় প্রতিনিধি নিয়োগের বৈধতা সংক্রান্ত রিসালাহ।
এছাড়া দ্রুজ ও রাফেজিদের বিধান সংক্রান্ত রিসালাহ, জটিল মাসআলা ও তার ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রিসালাহ। তাসাউউফ বিষয়ে তাঁর একটি রিসালাহ ও তার ব্যাখ্যা এবং একটি পদ্য রয়েছে। সরফ বা শব্দতত্ত্ব বিদ্যা বিষয়ক একটি রিসালাহ, ‘কাতর’-এর ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে যা কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। (তাঁর উক্তি: আত-তিমুরতাশি) এটি তিমুরতাশ-এর দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত। স্থান ও অঞ্চলের নামের বর্ণনায় ‘মারাসিদ আল-ইত্তিলা’ কিতাবের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিমুরতাশ (তা ও মিম-এ পেশ, রা-এ সাকিন এবং তা, আলিফ ও শিন বর্ণযোগে গঠিত) খাওয়ারিজমের একটি গ্রাম। আমি বলছি: অধিকতর সঠিক হলো এটি তাঁর দাদা তিমুরতাশি-এর দিকে নিসবত, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। (তাঁর উক্তি: আল-গাজ্জি) এটি গাজ্জাতু হাশিম (গাজা)-এর দিকে নিসবত। কামুস গ্রন্থে যেমনটি বলা হয়েছে: এটি ফিলিস্তিনের একটি শহর, যেখানে ইমাম শাফেয়ি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে হাশিম বিন আব্দে মানাফ মৃত্যুবরণ করেন। (তাঁর উক্তি: পরবর্তী যুগের উমদাহ) অর্থাৎ শরয়ী আহকামের ক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। (তাঁর উক্তি: আল-আখইয়ার) এটি ‘খাইয়ির’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ অত্যন্ত কল্যাণময় বা নেককার ব্যক্তি।
(তাঁর উক্তি: কারণ আমি এটি বর্ণনা করছি) এটি তাঁর ‘আমাদের শাইখের শাইখ...’ উক্তির প্রাসঙ্গিক আলোচনা। কেননা যখন তিনি তাঁর দিকে এর সম্পর্ক নিশ্চিত করেছেন, তখন এটি বুঝিয়েছেন যে এটি সনদের মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছেছে। এখানে সর্বনামটি ‘তানবীরুল আবসার’ কিতাবের দিকে ফিরেছে। তবে ইবনে নুজাইম থেকে তাঁর এই বর্ণনা কিতাবের সুনির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপির পরিবর্তে এর অন্তর্ভুক্ত মাসআলাসমূহের বিবেচনায় হয়েছে, যেমনটি আল্লামা হামাভি উল্লেখ করেছেন। অথবা এই সর্বনামটি সেই ইলম বা জ্ঞানের দিকে ফিরেছে যা তাঁর এই উক্তিতে বর্ণিত হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই এই ইলমের বাগান প্রস্ফুটিত হয়েছে’, যেমনটি আল্লামা তাহতাভি উল্লেখ করেছেন। (তাঁর উক্তি: ইবনে নুজাইম থেকে) তিনি হলেন শাইখ জাইন বিন ইবরাহিম বিন নুজাইম, এবং ‘জাইন’ হলো তাঁর নাম। নাজমুদ্দিন আল-গাজ্জি ‘আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরাহ’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি হলেন মহান আল্লামা, গবেষক, সূক্ষ্মদর্শী ও প্রাজ্ঞ শাইখ জাইনুল আবেদিন আল-হানাফি। তিনি একদল আলেমের নিকট জ্ঞানার্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ শরফুদ্দিন আল-বুলকিনি, শাইখ শিহাবুদ্দিন আশ-শালাবি, শাইখ আমিনুদ্দিন বিন আব্দুল আল এবং আবু ফায়েজ আস-সুলামি। তাঁরা তাঁকে ফতোয়া ও পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন। ফলে তিনি তাঁর উস্তাদদের জীবদ্দশাতেই ফতোয়া ও পাঠদান শুরু করেন এবং বহু মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে: যার মধ্যে ‘কানজ’-এর ব্যাখ্যা এবং ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির’ অন্যতম। তাঁর কিতাব হানাফিদের প্রধান অবলম্বন ও রেফারেন্সে পরিণত হয়েছে। তিনি মারেফাতপ্রাপ্ত শাইখ সুলাইমান আল-খুদাইরির নিকট তাসাউউফের দীক্ষা নেন। সূফীগণের জটিল বিষয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ রুচিবোধ ছিল। আরেফ বিল্লাহ শাইখ শারানি বলেন: আমি দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি তাঁর মধ্যে নিন্দনীয় কিছু দেখিনি। ৯৫৩ হিজরি সনে আমি তাঁর সাথে হজ করেছি। আমি তাঁকে যাওয়া ও আসার পথে তাঁর প্রতিবেশী ও সেবকদের সাথে অত্যন্ত উত্তম চরিত্রের অধিকারী দেখেছি, যদিও সফর মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে দেয়। ৯৬৯ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু হয়, যেমনটি তাঁর ছাত্র শাইখ মুহাম্মদ আল-আলামি আমাকে অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بِسَنَدِهِ إلَى صَاحِبِ الْمَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ، بِسَنَدِهِ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمُصْطَفَى الْمُخْتَارِ، عَنْ جِبْرِيلَ، عَنْ اللَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ، كَمَا هُوَ مَبْسُوطٌ فِي إجَازَاتِنَا بِطُرُقٍ عَدِيدَةٍ، عَنْ الْمَشَايِخِ الْمُتَبَحِّرِينَ الْكِبَارِ.
وَمَا كَانَ فِي الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ لَمْ أَعْزُهُ إلَّا مَا نَدَرَ، وَمَا زَادَ وَعَزَّ نَقْلُهُ عَزَوْتُهُ لِقَائِلِهِ وَمَا لِلِاخْتِصَارِ، وَمَأْمُولِي مِنْ النَّاظِرِ فِيهِ أَنْ يَنْظُرَ بِعَيْنِ الرِّضَا وَالِاسْتِبْصَارِ، وَأَنْ يَتَلَافَى تَلَافَهُ
ــ
[رد المحتار] قُلْت: وَمِنْ تَآلِيفِهِ شَرْحٌ عَلَى الْمَنَارِ وَمُخْتَصَرُ التَّحْرِيرِ لِابْنِ الْهُمَامِ وَتَعْلِيقَةٌ عَلَى الْهِدَايَةِ مِنْ الْبُيُوعِ وَحَاشِيَةٌ عَلَى جَامِعِ الْفُصُولَيْنِ. وَلَهُ الْفَوَائِدُ وَالْفَتَاوَى وَالرَّسَائِلُ الزَّيْنِيَّةُ. وَمِنْ تَلَامِذَتِهِ أَخُوهُ الْمُحَقِّقُ الشَّيْخُ عُمَرُ بْنُ نُجَيْمٍ صَاحِبُ النَّهْرِ (قَوْلُهُ: بِسَنَدِهِ) أَيْ حَالَ كَوْنِهِ رَاوِيًا ذَلِكَ بِسَنَدِهِ، وَقَدَّمْنَا تَمَامَ السَّنَدِ (قَوْلُهُ: الْمُصْطَفَى) مِنْ الصَّفْوَةِ: وَهُوَ الْخُلُوصُ. وَالِاصْطِفَاءُ: الِاخْتِيَارُ، لِأَنَّ الْإِنْسَانَ لَا يُصْطَفَى إلَّا إذَا كَانَ خَالِصًا طَيِّبًا، وَقَوْلُهُ: الْمُخْتَارِ بِمَعْنَاهُ وَهَذَانِ اسْمَانِ مِنْ أَسْمَائِهِ صلى الله عليه وسلم (قَوْلُهُ: كَمَا هُوَ) حَالٌ مِنْ قَوْلِهِ بِسَنَدِهِ (قَوْلُهُ: عَنْ الْمَشَايِخِ) مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفٍ حَالٌ مِنْ إجَازَتِنَا: أَيْ الْمَرْوِيَّةِ عَنْهُمْ أَوْ بِإِجَازَاتِنَا لِتَضَمُّنِهِ مَعْنَى رِوَايَاتِنَا. وَمِنْ جُمْلَةِ مَشَايِخِهِ الْقُطْبُ الْكَبِيرُ وَالْعَالِمُ الشَّهِيرُ سَيِّدِي الشَّيْخُ أَيُّوبُ الْخَلْوَتِيُّ الْحَنَفِيُّ
(قَوْلُهُ: فِي الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ) كِلَاهُمَا لِمُنْلَا خُسْرو وَالدُّرَرُ هُوَ شَرْحُ الْغُرَرِ (قَوْلُهُ: لَمْ أَعْزُهُ) أَيْ لَمْ أَنْسُبْهُ، مِنْ عَزَا يَعْزُو وَاسْمُ الْمَفْعُولِ مِنْهُ مَعْزُوٌّ كَمَدْعُوٍّ بِالتَّصْحِيحِ أَرْجَحُ مِنْ مَعْزِيٍّ بِالْإِعْلَالِ. قَالَ فِي الْأَلْفِيَّةِ:
وَصَحِّحْ الْمَفْعُولَ مِنْ نَحْوِ عَدَا
… وَاعْلُلْهُ إنْ لَمْ تَتَحَرَّ الْأَجْوَدَا
وَيُرْوَى بِالْوَجْهَيْنِ قَوْلُ الشَّاعِرِ
أَنَا اللَّيْثُ مَعْدِيًّا عَلَيْهِ وَعَادِيًا
وَالثَّانِي هُوَ الْجَارِي عَلَى أَلْسِنَةِ الْفُقَهَاءِ (قَوْلُهُ: مَا زَادَ وَعَزَّ نَقْلُهُ) أَيْ وَمَا زَادَ عَلَى مَا فِي الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ وَعَزَّ نَقْلُهُ فِي الْكُتُبِ الْمُتَدَاوَلَةِ عَزَوْته لِقَائِلِهِ. وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ: وَمَا زَادَ عَنْ نَقْلِهِ، أَيْ وَمَا زَادَ عَنْ الْمَنْقُولِ فِي الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ، فَعَنْ بِمَعْنَى عَلَى وَالْمَصْدَرُ بِمَعْنَى اسْمِ الْمَفْعُولِ (قَوْلُهُ: وَمَا) أَيْ قَصْدًا لِلِاخْتِصَارِ عِلَّةٌ لِقَوْلِهِ لَمْ أَعْزُهُ، وَفِيهِ إشَارَةٌ إلَى كَثْرَةِ نَقْلِهِ عَنْ الدُّرَرِ وَمُتَابَعَتِهِ لَهُ كَعَادَةِ الْمُصَنِّفِ فِي مَتْنِهِ وَشَرْحِهِ، وَهُوَ بِذَلِكَ حَقِيقٌ فَإِنَّهُ كِتَابٌ مَبْنِيٌّ عَلَى غَايَةِ التَّحْقِيقِ (قَوْلُهُ: وَمَأْمُولِي) مِنْ الْأَمَلِ وَهُوَ الرَّجَاءُ (قَوْلُهُ: مِنْ النَّاظِرِ) أَيْ الْمُتَأَمِّلِ. قَالَ الرَّاغِبُ: النَّظَرُ قَدْ يُرَادُ بِهِ التَّأَمُّلُ وَالتَّفَحُّصُ، وَقَدْ يُرَادُ بِهِ الْمَعْرِفَةُ الْحَاصِلَةُ بَعْدَ الْفَحْصِ، وَاسْتِعْمَالُ النَّظَرِ فِي الْبَصِيرَةِ أَكْثَرُ عِنْدَ الْخَاصَّةِ وَالْعَامَّةِ بِالْعَكْسِ اهـ وَتَمَامُهُ فِي حَاشِيَةِ الْحَمَوِيِّ (قَوْلُهُ: فِيهِ) أَيْ فِي شَرْحِي هَذَا (قَوْلُهُ: بِعَيْنِ الرِّضَا) أَيْ بِالْعَيْنِ الدَّالَّةِ عَلَى الرِّضَا، وَلَا يَنْظُرُ بِعَيْنِ الْمَقْتِ، فَإِنَّ مَنْ نَظَرَ بِهَا تَبَيَّنَ لَهُ الْحَقُّ بَاطِلًا، كَمَا قَالَ الشَّاعِرُ:
وَعَيْنُ الرِّضَا عَنْ كُلِّ عَيْبٍ كَلِيلَةٌ
… كَمَا أَنَّ عَيْنَ السُّخْطِ تُبْدِي الْمَسَاوِيَا
أَوْ أَنَّهُ شَبَّهَ الرِّضَا بِإِنْسَانٍ لَهُ عَيْنٌ تَشْبِيهًا مُضْمَرًا فِي النَّفْسِ وَذِكْرُ الْعَيْنِ تَخْيِيلٌ ط (قَوْلُهُ: وَالِاسْتِبْصَارِ) السِّينُ وَالتَّاءُ زَائِدَتَانِ: أَيْ وَالْإِبْصَارِ، وَالْمُرَادُ بِهِ التَّبَصُّرُ وَالتَّأَمُّلُ ط (قَوْلُهُ: وَأَنْ يَتَلَافَى) أَيْ يَتَدَارَكَ. فِي الْقَامُوسِ: تَلَافَاهُ تَدَارَكَهُ (قَوْلُهُ: تَلَافَهُ) الَّذِي فِي الْقَامُوسِ وَجَامِعِ اللُّغَةِ وَلِسَانِ الْعَرَبِ: التَّلَفُ الْهَلَاكُ، وَلَمْ يَذْكُرُوا التَّلَافَ فَلْيُرَاجَعْ. اهـ. ح. وَوَقَعَ التَّعْبِيرُ بِهِ لِغَيْرِ الشَّارِحِ كَالْإِمَامِ عُمَرَ بْنِ الْفَارِضِ قَدَّسَ سِرَّهُ فِي قَصِيدَتِهِ الْكَافِيَةِ بِقَوْلِهِ:
وَتَلَافِي إنْ كَانَ فِيهِ
… ائْتِلَافِي بِك عَجِّلْ بِهِ جُعِلْت فِدَاكَا
وَيُحْتَمَلُ أَنَّ الْأَلْفَ إشْبَاعٌ وَهُوَ لُغَةُ قَوْمٍ ط. وَفَسَّرَ الْعَلَّامَةُ الْبُورِينِيُّ فِي شَرْحِهِ عَلَى دِيوَانِ ابْنِ الْفَارِضِ التَّلَافَ
মাযহাবের ইমাম আবু হানিফার সাথে তাঁর সনদের মাধ্যমে এবং মনোনীত ও নির্বাচিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর সনদের মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত, যিনি জিবরাইল থেকে এবং তিনি এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন; যেমনটি আমাদের ইজাজতসমূহে বহু তরিকায় বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে, যা মহান প্রাজ্ঞ শায়খদের নিকট থেকে প্রাপ্ত।
আর যা কিছু 'আদ-দুরার' ও 'আল-গুরার'-এ আছে, আমি খুব সামান্য ক্ষেত্র ব্যতীত তা অন্য কোথাও নিসবত করিনি। আর যা অতিরিক্ত এবং যার বর্ণনা দুষ্প্রাপ্য, তা আমি সংক্ষেপ করার নিমিত্তে তার প্রবক্তার দিকে নিসবত করেছি। এই গ্রন্থের পাঠকের কাছে আমার প্রত্যাশা এই যে, তিনি সন্তুষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে এটি দেখবেন এবং এর ত্রুটিগুলো সংশোধন করবেন।
--
[রদ্দুল মুহতার] আমি বলছি: তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'আল-মানার'-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ), ইবনুল হুমামের 'আত-তাহরির'-এর মুখতাসার (সংক্ষিপ্ত রূপ), 'আল-হিদায়া'র ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের ওপর তালীকা (টীকা) এবং 'জামি’ আল-ফুসুলাইন'-এর ওপর হাশিয়া। তাঁর আরও আছে 'আল-ফাওয়াইদ', 'আল-ফাতাওয়া' এবং 'আর-রাসাইল আয-যাইনিয়্যাহ'। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ভাই গবেষক শায়খ উমর ইবনে নুজাইম, যিনি 'আন-নাহর' গ্রন্থের রচয়িতা। (তাঁর উক্তি: তাঁর সনদের মাধ্যমে) অর্থাৎ তিনি তাঁর সনদের মাধ্যমে তা বর্ণনাকারী হওয়া অবস্থায়। আমরা সনদের পূর্ণ বিবরণ পূর্বে প্রদান করেছি। (তাঁর উক্তি: আল-মুস্তাফা) এটি 'সাফওয়া' শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ হলো বিশুদ্ধতা। আর 'আল-ইসতিফা' মানে হলো নির্বাচন করা। কারণ কোনো মানুষকে তখনই নির্বাচিত করা হয় যখন সে বিশুদ্ধ ও উত্তম হয়। তাঁর উক্তি: 'আল-মুখতার' একই অর্থবোধক। এই দুটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (তাঁর উক্তি: যেমনটি তা) এটি 'তাঁর সনদের মাধ্যমে' উক্তির হাল (অবস্থা)। (তাঁর উক্তি: শায়খদের থেকে) এটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যা 'আমাদের ইজাজত' থেকে হাল হয়েছে: অর্থাৎ যা তাঁদের থেকে বর্ণিত, অথবা এটি 'আমাদের ইজাজত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট কারণ এটি আমাদের বর্ণনার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর শায়খদের অন্যতম হলেন মহান কুতুব ও প্রখ্যাত আলিম সায়্যিদী শায়খ আইয়ুব আল-খালওয়াতী আল-হানাফী।
(তাঁর উক্তি: আদ-দুরার ও আল-গুরার-এ) এ দুটি গ্রন্থই মোল্লা খসরুর রচনা। 'আদ-দুরার' হলো 'আল-গুরার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। (তাঁর উক্তি: আমি তা নিসবত করিনি) অর্থাৎ আমি তা কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করিনি। এটি 'আযা-ইয়া’যু' থেকে এসেছে। এর ইসম মাফউল হলো 'মা’যুউন', যা 'মা’যিয়্যুন'-এর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। 'আলফিয়্যাহ'-তে বলা হয়েছে:
'আদা' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে মাফউলকে সহীহ (অপরিবর্তিত) রাখো... এবং একে ই’লাল করো যদি তুমি সর্বোত্তম রূপটি অনুসন্ধান না করো।
কবির উক্তিতে এটি দুই ভাবেই বর্ণিত হয়েছে:
আমি সেই সিংহ যার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং যে আক্রমণকারী।
আর দ্বিতীয় রূপটিই ফকীহদের মুখে প্রচলিত। (তাঁর উক্তি: যা অতিরিক্ত হয়েছে এবং যার বর্ণনা দুষ্প্রাপ্য) অর্থাৎ 'আদ-দুরার' ও 'আল-গুরার'-এর অতিরিক্ত যা কিছু এবং প্রচলিত বইপুস্তকে যার বর্ণনা বিরল, তা আমি তার প্রবক্তার দিকে নিসবত করেছি। কোনো কোনো কপিতে আছে: 'যা এর বর্ণনা থেকে অতিরিক্ত হয়েছে', অর্থাৎ যা 'আদ-দুরার' ও 'আল-গুরার'-এ বর্ণিত বিষয়ের অতিরিক্ত। এখানে 'আন' শব্দটি 'আলা' অর্থে ব্যবহৃত এবং মাসদারটি ইসম মাফউলের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: এবং যা) অর্থাৎ সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে, এটি তাঁর 'আমি নিসবত করিনি' উক্তির কারণ। এতে 'আদ-দুরার' থেকে তাঁর অধিক মাত্রায় উদ্ধৃতি গ্রহণ এবং এর অনুসরণের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যেমনটি গ্রন্থকারের তাঁর মতন (মূল পাঠ) ও শারহ-এর ক্ষেত্রে অভ্যাস। আর এটিই যথার্থ, কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম গবেষণার ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি কিতাব। (তাঁর উক্তি: আর আমার প্রত্যাশা) এটি 'আল-আমাল' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো আশা। (তাঁর উক্তি: পাঠকের নিকট থেকে) অর্থাৎ চিন্তাশীল ব্যক্তির নিকট থেকে। ইমাম রাগিব বলেছেন: 'নজর' দ্বারা কখনো চিন্তাগবেষণা ও অনুসন্ধান উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো অনুসন্ধানের পর অর্জিত জ্ঞান উদ্দেশ্য হয়। বিজ্ঞদের নিকট 'নজর' শব্দটি অন্তর্দৃষ্টির ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়, আর সাধারণ মানুষের নিকট এর উল্টো। এর পূর্ণ বিবরণ 'হাশিয়া আল-হামাউয়ী'-তে রয়েছে। (তাঁর উক্তি: তাতে) অর্থাৎ আমার এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে। (তাঁর উক্তি: সন্তুষ্টির চোখে) অর্থাৎ এমন চোখ যা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। তিনি যেন ঘৃণার চোখে না দেখেন, কারণ যে ব্যক্তি ঘৃণার চোখে দেখে তার কাছে সত্যও মিথ্যা মনে হয়। যেমন কবি বলেছেন:
সন্তুষ্টির চোখ সকল দোষের ক্ষেত্রে অন্ধ থাকে, যেমনভাবে ক্রোধের চোখ দোষত্রুটি প্রকাশ করে দেয়।
অথবা তিনি সন্তুষ্টিকে এমন এক মানুষের সাথে তুলনা করেছেন যার চোখ আছে—যা মনে মনে কল্পনা করা হয়েছে এবং চোখের উল্লেখ করা হয়েছে রূপক হিসেবে। (তাঁর উক্তি: এবং অন্তর্দৃষ্টির সাথে) এখানে 'সীন' ও 'তা' অক্ষর দুটি অতিরিক্ত, অর্থাৎ দেখার সাথে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনুধাবন ও চিন্তা করা। (তাঁর উক্তি: এবং তিনি যেন সংশোধন করেন) অর্থাৎ পূর্ণ করেন। কামুস গ্রন্থে আছে: 'তালাফাহু' মানে 'তাদারাকাহু' (একে সংশোধন করা)। (তাঁর উক্তি: এর ত্রুটিসমূহ/ক্ষতিসমূহ) 'কামুস', 'জামি’ আল-লুগাহ' এবং 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে 'আত-তালাফ' শব্দের অর্থ করা হয়েছে ধ্বংস হওয়া। তাঁরা 'তালিফ' শব্দটি উল্লেখ করেননি, তাই এটি পুনরায় দেখা উচিত। তবে শারহকার (ব্যাখ্যাকার) ছাড়া অন্যান্যের উক্তিতে এর প্রয়োগ দেখা যায়, যেমন ইমাম উমর ইবনুল ফারিদ (রহ.) তাঁর 'কাফিয়া' কাসিদায় বলেছেন:
যদি তাতে আমার সংশোধন থাকে তবে আপনার মাধ্যমে আমার মিলন ত্বরান্বিত করুন, আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই।
হতে পারে এখানে 'আলিফ' বর্ণটি আধিক্য বা লহজার কারণে এসেছে। আল্লামা বুরিনী ইবনুল ফারিদের দীওয়ানের শারহ-এ 'আত-তালাফ' শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ، أَوْ يَصْفَحَ لِيَصْفَحَ عَنْهُ عَالِمُ الْإِسْرَارِ وَالْإِضْمَارِ، وَلَعَمْرِي إنَّ السَّلَامَةَ مِنْ هَذَا الْخَطَرِ لَأَمْرٌ يَعِزُّ عَلَى الْبَشَرِ.
وَلَا غَرْوَ فَإِنَّ النِّسْيَانَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِنْسَانِيَّةِ، وَالْخَطَأَ وَالزَّلَلَ مِنْ شَعَائِرِ الْآدَمِيَّةِ،
ــ
[رد المحتار] بِالتَّلَفِ، وَكَذَا قَالَ سَيِّدِي عَبْدُ الْغَنِيِّ النَّابْلُسِيُّ فِي شَرْحِهِ عَلَيْهِ، وَتَلَافِي مَصْدَرٌ مُضَافٌ إلَى الْمُتَكَلِّمِ، وَوَقَعَ فِي كَلَامِ الشُّعَرَاءِ كَثِيرًا، وَمِنْهُ قَوْلُ ابْنِ عُنَيْنٍ يُخَاطِبُ بَعْضَ الْمُلُوكِ وَكَانَ مَرِيضًا:
اُنْظُرْ إلَيَّ بِعَيْنِ مَوْلًى لَمْ يَزَلْ
… يُولِي النَّدَى وَتَلَافَ قَبْلَ تَلَافِ
أَنَا كَاَلَّذِي أَحْتَاجُ مَا يَحْتَاجُهُ
… فَاغْنَمْ دُعَائِي وَالثَّنَاءَ الْوَافِي
فَجَاءَهُ الْمَلِكُ بِأَلْفِ دِينَارٍ وَقَالَ لَهُ: أَنْتَ الَّذِي، وَهَذِهِ الصِّلَةُ، وَأَنَا الْعَائِدُ (قَوْلُهُ: بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ) مُتَعَلِّقٌ بِقَوْلِهِ يَتَلَافَى وَالْإِضَافَةُ بَيَانِيَّةٌ: أَيْ إذَا رَأَى فِيهِ عَيْبًا يَتَدَارَكُهُ بِإِمْكَانِهِ، بِأَنْ يَحْمِلَهُ عَلَى مَحْمَلٍ حَسَنٍ حَيْثُ أَمْكَنَ، أَوْ يُصْلِحَهُ بِتَغْيِيرِ لَفْظِهِ إنْ لَمْ يُمْكِنْ تَأْوِيلُهُ (قَوْلُهُ: أَوْ يَصْغَى) فِي بَعْضِ النُّسَخِ بِالْوَاوِ: أَيْ يَسْمَحَ وَلَا يَفْضَحَ. وَالصَّفْحُ فِي الْأَصْلِ: الْمَيْلُ بِصَفْحَةِ الْعُنُقِ ثُمَّ أُرِيدَ بِهِ مُطْلَقُ الْإِعْرَاضِ (قَوْلُهُ: لِيَصْفَحَ عَنْهُ إلَخْ) لِأَنَّ الْجَزَاءَ مِنْ جِنْسِ الْعَمَلِ (قَوْلُهُ: الْإِسْرَارِ) بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ مَصْدَرُ أَسَرَّ لِيُنَاسِبَ الْإِضْمَارَ وَإِنْ احْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ بِفَتْحِهَا جَمْعُ سِرٍّ. اهـ. ح، وَعَلَى الْأَوَّلِ فَعَطْفُ الْإِضْمَارِ عَلَيْهِ عَطْفٌ مُرَادِفٌ، وَعَلَى الثَّانِي عَطْفٌ مُغَايِرٌ. قَالَ ط: وَالْأَوْلَى أَنْ يَقُولَ بَدَلَ الْإِضْمَارِ الْإِظْهَارَ لِيَكُونَ فِي كَلَامِهِ صَنْعَةُ الطِّبَاقِ، وَهِيَ الْجَمْعُ بَيْنَ لَفْظَيْنِ مُتَقَابِلَيْ الْمَعْنَى (قَوْلُهُ: وَلَعَمَرِي) تَقَدَّمَ الْكَلَامُ عَلَيْهِ، وَهَذِهِ الْفِقْرَةُ وَقَعَتْ فِي خُطْبَةِ النَّهْرِ (قَوْلُهُ: الْخَطَرِ) هُوَ الْإِشْرَافُ عَلَى الْهَلَاكِ، وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا الشَّيْءُ الشَّاقُّ، وَهُوَ الْخَطَأُ وَالسَّهْوُ الْمُعَبَّرُ عَنْهُ بِالتَّلَافِ (قَوْلُهُ: يَعِزُّ) عَلَى وَزْنِ يَقِلُّ أَوْ يَمَلُّ كَمَا فِي الْقَامُوسِ، وَالْمَادَّةُ تَأْتِي بِمَعْنَى الْعُسْرِ وَبِمَعْنَى الْقِلَّةِ وَبِمَعْنَى الضِّيقِ وَبِمَعْنَى الْعَظَمَةِ كَمَا أَفَادَهُ فِي الْقَامُوسِ، وَكُلٌّ صَحِيحٌ أَفَادَهُ ط (قَوْلُهُ: الْبَشَرِ) اسْمُ جِنْسٍ. وَالْبَشَرُ: ظَاهِرُ الْبَشَرَةِ، وَهُوَ مَا ظَهَرَ مِنْ الْجَسَدِ. وَالْجِنُّ: مَا اخْتَفَى مِنْ الِاجْتِنَانِ، وَهُوَ الِاسْتِتَارُ ط
(قَوْلُهُ: وَلَا غَرْوَ) بِفَتْحِ الْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ الرَّاءِ الْمُهْمَلَةِ مَصْدَرُ غَرَا مِنْ بَابِ عَدَا، بِمَعْنَى عَجِبَ بِوَزْنِ فَرِحَ: أَيْ لَا عَجَبَ. اهـ. ح: أَيْ مِنْ عَزَّةِ السَّلَامَةِ مِمَّا ذُكِرَ (قَوْلُهُ: فَإِنَّ النِّسْيَانَ) الْفَاءُ تَعْلِيلِيَّةٌ: أَيْ لِأَنَّ النِّسْيَانَ الَّذِي هُوَ سَبَبُ التَّلَافِ الْمُتَقَدِّمِ ط. وَعَرَّفَهُ فِي التَّحْرِيرِ بِأَنَّهُ عَدَمُ الِاسْتِحْضَارِ فِي وَقْتِ الْحَاجَةِ، قَالَ: فَشَمَلَ السَّهْوَ لِأَنَّ اللُّغَةَ لَا تُفَرِّقُ بَيْنَهُمَا. اهـ. (قَوْلُهُ: مِنْ خَصَائِصِ الْإِنْسَانِيَّةِ) أَيْ مِنْ الْأُمُورِ الْخَاصَّةِ، بِالْحَقِيقَةِ الْإِنْسَانِيَّةِ: أَيْ بِأَفْرَادِهَا وَالْيَاءُ لِلنِّسْبَةِ إلَى الْمُجَرَّدِ عَنْهَا. رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: سُمِّيَ إنْسَانًا لِأَنَّهُ عُهِدَ إلَيْهِ فَنَسِيَ، وَقَالَ الشَّاعِرُ:
لَا تَنْسَيَنَّ تِلْكَ الْعُهُودَ فَإِنَّمَا
… سُمِّيت إنْسَانًا لِأَنَّك نَاسِي
وَقَالَ آخَرُ:
نَسِيتَ وَعْدَك وَالنِّسْيَانُ مُغْتَفَرٌ
… فَاغْفِرْ فَأَوَّلُ نَاسٍ أَوَّلُ النَّاسِ
وَقِيلَ لِأُنْسِهِ بِأَمْثَالِهِ أَوْ بِرَبِّهِ تَعَالَى، قَالَ الشَّاعِرُ:
وَمَا سُمِّيَ الْإِنْسَانُ إلَّا لِأُنْسِهِ
… وَلَا الْقَلْبُ إلَّا أَنَّهُ يَتَقَلَّبُ
(قَوْلُهُ: وَالْخَطَأَ) هُوَ أَنْ يَقْصِدَ بِالْفِعْلِ غَيْرَ الْمَحَلِّ الَّذِي يَقْصِدُ بِهِ الْجِنَايَةَ كَالرَّمْيِ إلَى الصَّيْدِ فَأَصَابَ آدَمِيًّا تَحْرِيرٌ. وَفِي الْقَامُوسِ: الْخَطَأُ ضِدُّ الصَّوَابِ، ثُمَّ قَالَ: وَالْخَطَأُ مَا لَمْ يُتَعَمَّدْ (قَوْلُهُ: مِنْ شَعَائِرِ الْآدَمِيَّةِ) الشَّعَائِرُ: الْعَلَامَاتُ كَمَا فِي الْقَامُوسِ ح. قَالَ فِي مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ: وَشَرْعًا مَا يُؤَدَّى مِنْ الْعِبَادَاتِ عَلَى سَبِيلِ الِاشْتِهَارِ كَالْأَذَانِ
সাধ্যানুসারে, অথবা সে যেন ক্ষমা করে দেয় যাতে করে গোপন রহস্য ও অন্তঃকরণের অবস্থা সম্পর্কে অবগত সত্তা তাকে ক্ষমা করেন। আমার জীবনের কসম, এই বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা মানুষের জন্য এক দুষ্কর বিষয়।
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কেননা বিস্মৃতি হলো মানবিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, আর ভুল ও বিচ্যুতি হলো আদম-সন্তানের নিদর্শন।
ــ
[রাদ্দুল মুহতার] ধ্বংস বা বিনাশের মাধ্যমে; অনুরূপ কথা আমার সায়্যিদ আব্দুল গনি আন-নাবুলুসি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন। 'তালাফি' শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। কবিদের কালামে এর প্রয়োগ প্রচুর দেখা যায়। তন্মধ্যে ইবনে উনাইনের সেই কবিতাটি অন্যতম, যা তিনি জনৈক অসুস্থ রাজাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন:
হে আমার মনিব, আমার দিকে আপনার অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকান, যিনি সর্বদা দানশীলতা প্রকাশ করেন; আর বিনাশের পূর্বে আপনি তার প্রতিবিধান করুন।
আমি এমন এক ব্যক্তির মতো যে তার প্রয়োজনীয় জিনিসের মুখাপেক্ষী; সুতরাং আপনি আমার দোয়া ও পূর্ণাঙ্গ প্রশংসাকে গনিমত মনে করুন।
অতঃপর রাজা তাঁকে এক হাজার দিনার প্রদান করলেন এবং বললেন: 'আপনিই সেই ব্যক্তি' (এটি হলো বাক্যর অংশ), আর আমি হলাম তার প্রতিদানকারী। (তাঁর বক্তব্য: সাধ্যানুসারে) এটি তাঁর 'প্রতিবিধান করবে' কথাটির সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে সম্বন্ধটি ব্যাখ্যামূলক: অর্থাৎ, যখন সে এতে কোনো ত্রুটি দেখবে, তখন সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী তার প্রতিকার করবে; সম্ভব হলে সেটিকে একটি উত্তম অর্থে গ্রহণ করার মাধ্যমে, আর যদি ব্যাখ্যা করা সম্ভব না হয়, তবে তার শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে তা সংশোধন করবে। (তাঁর বক্তব্য: অথবা সে ক্ষমা করবে) কোনো কোনো কপিতে এটি 'ওয়াও' যোগে এসেছে: অর্থাৎ, সে উদারতা প্রদর্শন করবে এবং দোষ প্রকাশ করবে না। ক্ষমা শব্দের মূল অর্থ হলো ঘাড়ের পার্শ্বদেশ ফিরিয়ে নেওয়া, অতঃপর এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে কোনো কিছু থেকে বিমুখ হওয়া। (তাঁর বক্তব্য: যাতে তাকে ক্ষমা করা হয় ইত্যাদি) কেননা প্রতিদান কর্মের ধরন অনুযায়ীই হয়ে থাকে। (তাঁর বক্তব্য: গোপন রহস্য) হামজার যের সহযোগে এটি গোপন করার মাসদার, যাতে 'অন্তঃকরণ' শব্দের সাথে মিল থাকে। যদিও এটি জবর সহযোগে 'গোপন বিষয়' শব্দের বহুবচন হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে। হামাউয়ি। প্রথম সুরত অনুযায়ী, এর সাথে 'অন্তঃকরণ' শব্দের সংযোগ হবে সমার্থক শব্দের সংযোগ, আর দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী ভিন্ন অর্থের শব্দের সংযোগ হবে। তাতাউয়ি বলেছেন: 'অন্তঃকরণ'-এর পরিবর্তে 'প্রকাশ করা' বলাই উত্তম ছিল, যাতে তাঁর বক্তব্যে বৈপরীত্যের অলঙ্কার ফুটে ওঠে, আর তা হলো পরস্পর বিরোধী অর্থবোধক দুটি শব্দ একত্রিত করা। (তাঁর বক্তব্য: আমার জীবনের কসম) এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বাক্যটি 'নাহর' কিতাবের খুতবায় এসেছে। (তাঁর বক্তব্য: বিপদ) এর অর্থ হলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হওয়া। এখানে এর দ্বারা কষ্টসাধ্য বিষয় উদ্দেশ্য, যা হলো ভুল ও বিস্মৃতি, যা 'প্রতিবিধান' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। (তাঁর বক্তব্য: দুষ্কর হওয়া) এটি 'অল্প হওয়া' বা 'ক্লান্ত হওয়া' এর ওজনে, যেমনটি কামুস গ্রন্থে রয়েছে। এই মূল ধাতুটি কঠিন হওয়া, অল্প হওয়া, সংকীর্ণ হওয়া এবং মহান হওয়া—এই সকল অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন কামুস-এ বর্ণিত হয়েছে; আর এগুলোর প্রতিটিই সঠিক, যা তাতাউয়ি বর্ণনা করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: মানুষ) এটি একটি জাতিবাচক বিশেষ্য। 'বাশার' হলো চামড়ার বহিরাবরণ, যা শরীর থেকে প্রকাশ পায়। আর 'জ্বিন' হলো যা অদৃশ্য থাকে—তাতাউয়ি।
(তাঁর বক্তব্য: আশ্চর্যের কিছু নেই) 'গায়ন' বর্ণে জবর এবং 'রা' বর্ণে সুকুন সহযোগে; এটি আশ্চর্য হওয়া অর্থে ব্যবহৃত একটি ক্রিয়ামূল। অর্থাৎ, উল্লিখিত বিষয়গুলো থেকে নিরাপদ থাকার বিরলতার কারণে আশ্চর্যের কিছু নেই। (তাঁর বক্তব্য: কেননা বিস্মৃতি) এখানে 'ফা' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য এসেছে: অর্থাৎ, কেননা বিস্মৃতিই হলো পূর্বে বর্ণিত প্রতিবিধানের কারণ। তাতাউয়ি। 'তাহরির' গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজনের সময় কোনো বিষয় স্মরণে না থাকা। তিনি বলেন, এটি 'ভুল' শব্দটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ ভাষাগতভাবে এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (তাঁর বক্তব্য: মানবিকতার বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে) অর্থাৎ মানুষের হাকিকত বা সত্তার সাথে সুনির্দিষ্ট বিষয়সমূহ থেকে: অর্থাৎ এর ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: মানুষকে 'ইনসান' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তার থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল অতঃপর সে তা ভুলে গিয়েছিল। জনৈক কবি বলেছেন:
সেই সকল প্রতিশ্রুতি কক্ষনো ভুলে যেও না, কেননা তোমাকে 'ইনসান' বা মানুষ নামকরণ করা হয়েছে এই কারণে যে তুমি বিস্মৃতিপরায়ণ।
অন্য এক কবি বলেছেন:
তুমি তোমার ওয়াদা ভুলে গেছ, আর বিস্মৃতি মার্জনীয়; সুতরাং ক্ষমা করো, কেননা প্রথম বিস্মৃতিপরায়ণ ব্যক্তিটিই ছিলেন প্রথম মানুষ।
আবার বলা হয়েছে যে, তার সমজাতীয়দের সাথে অথবা তার প্রতিপালক তাআলার সাথে সখ্যতার কারণে এই নামকরণ হয়েছে। কবি বলেছেন:
মানুষকে মানুষ বলা হয় কেবল তার সখ্যতার কারণে, আর অন্তরকে 'কালব' বলা হয় কেবল এই কারণে যে তা দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
(তাঁর বক্তব্য: এবং ভুল) এটি হলো কর্মের মাধ্যমে এমন কোনো লক্ষ্যবস্তু উদ্দেশ্য করা যা অপরাধের স্থল নয়; যেমন শিকারের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ করা কিন্তু তা কোনো মানুষের গায়ে লাগা—তাহরির। কামুস-এ রয়েছে: 'ভুল' হলো 'সঠিকের' বিপরীত। অতঃপর তিনি বলেন: অনিচ্ছাকৃতভাবে যা ঘটে তাই ভুল। (তাঁর বক্তব্য: আদম-সন্তানের নিদর্শনসমূহ থেকে) 'নিদর্শনসমূহ' অর্থ হলো চিহ্নসমূহ, যেমনটি কামুস-এ আছে। 'মিরাজুদ দিরাইয়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: শরিয়তের পরিভাষায় যা প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত হিসেবে পালন করা হয়, যেমন আযান।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ مُسْتَعِيذًا بِهِ مِنْ حَسَدٍ يَسُدُّ بَابَ الْإِنْصَافِ، وَيَرُدُّ عَنْ جَمِيلِ الْأَوْصَافِ. أَلَا وَإِنَّ الْحَسَدَ حَسَكٌ مَنْ تَعَلَّقَ بِهِ هَلَكَ، وَكَفَى لِلْحَاسِدِ ذَمًّا آخِرُ سُورَةِ الْفَلَقِ،
ــ
[رد المحتار] وَالْجَمَاعَةِ وَالْجُمُعَةِ وَصَلَاةِ الْعِيدِ وَالْأُضْحِيَّةِ. وَقِيلَ هِيَ مَا جُعِلَ عَلَمًا عَلَى طَاعَةِ اللَّهِ تَعَالَى. اهـ. . قَالَ ط: وَإِنَّمَا عَبَّرَ بِهَا هُنَا وَفِيمَا تَقَدَّمَ بِخَصَائِصَ لِأَنَّ النِّسْيَانَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِنْسَانِ، وَالْخَطَأَ وَالزَّلَلَ يَكُونُ مِنْهُ وَمِنْ غَيْرِهِ حَتَّى مِنْ الْمَلَائِكَةِ كَمَا وَقَعَ لِإِبْلِيسَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ مِنْهُمْ وَلِهَارُوتَ وَمَارُوتَ عَلَى مَا قِيلَ، كَقَوْلِهِمْ - {أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا} [البقرة: 30]- وَكَنَظَرِ بَعْضِ الْمَلَائِكَةِ إلَى مَقَامِهِ فِي الْعِبَادَةِ. وَأَمَّا الْجِنُّ فَذَلِكَ أَكْثَرُ حَالِهِمْ (قَوْلُهُ: وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ) أَيْ أَطْلُبُ مِنْهُ سَتْرَ ذَنْبِي، وَكَأَنَّهُ أَتَى بِهِ لِأَنَّ مَا ذَكَرَهُ قَبْلَهُ فِيهِ نَوْعُ تَبْرِئَةٍ لِلنَّفْسِ وَهُوَ مِمَّا لَا يَنْبَغِي، بَلْ الْأَوْلَى هَضْمُ النَّفْسِ بِالْخَطَأِ وَالنِّسْيَانِ وَإِنْ كَانَا مِنْ لَوَازِمِ الْإِنْسَانِ (قَوْلُهُ: مُسْتَعِيذًا) حَالٌ مِنْ فَاعِلِ أَسْتَغْفِرُ. وَالْعَوْذُ: الِالْتِجَاءُ كَالْعِيَاذِ وَالْمُعَاذَةِ وَالتَّعَوُّذِ وَالِاسْتِعَاذَةِ. وَالْعَوَذُ: بِالتَّحْرِيكِ الْمَلْجَأُ كَالْمَعَاذِ وَالْعِيَاذِ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: مِنْ حَسَدٍ) هُوَ تَمَنِّي زَوَالَ نِعْمَةِ الْمَحْسُودِ سَوَاءٌ تَمَنَّى انْتِقَالَهَا إلَيْهِ أَمْ لَا. وَيُطْلَقُ عَلَى الْغِبْطَةِ مَجَازًا، وَهِيَ تَمَنِّي مِثْلَ تِلْكَ النِّعْمَةِ مِنْ غَيْرِ إرَادَةِ زَوَالِهَا عَنْ صَاحِبِهَا وَهُوَ غَيْرُ مَذْمُومٍ، بِخِلَافِ الْأَوَّلِ لِأَنَّهُ يُؤَدِّي إلَى الِاعْتِرَاضِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَلِذَا قَالَ عليه الصلاة والسلام «إيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ» وَسَمَّاهُ عليه الصلاة والسلام حَالِقَةَ الدِّينِ لَا حَالِقَةَ الشَّعْرِ. وَقَالَ تَعَالَى - {وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ} [الفلق: 5]- وَالْحَاسِدُ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ، حَيْثُ أَتْعَبَ نَفْسَهُ وَأَحْزَنَهَا وَأَوْقَعَهَا فِي الْإِثْمِ، وَلِغَيْرِهِ حَيْثُ لَمْ يُحِبَّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ، وَلِذَا قَالَ أَبُو الطَّيِّبِ: وَأَظْلَمُ أَهْلِ الْأَرْضِ مَنْ كَانَ حَاسِدًا لِمَنْ بَاتَ فِي نَعْمَائِهِ يَتَقَلَّبُ (قَوْلُهُ: يَسُدُّ بَابَ الْإِنْصَافِ) صِفَةٌ تَأْكِيدِيَّةٌ، لِأَنَّ حَقِيقَةَ الْحَسَدِ مُشْعِرَةٌ بِهَا، إذْ الْإِنْصَافُ هُوَ الْجَرْيُ عَلَى سُنَنِ الِاعْتِدَالِ، وَالِاسْتِقَامَةُ عَلَى طَرِيقِ الْحَقِّ، وَهَذَا الْوَصْفُ لَا يَتَأَتَّى وُجُودُهُ مَعَ الْحَسَدِ، وَالْغَرَضُ مِنْ الْإِتْيَانِ بِهَذَا الْوَصْفِ التَّأْكِيدِيِّ النِّدَاءُ عَلَى كَمَالِ بَشَاعَةِ الْحَسَدِ وَتَقْرِيرِ ذَمِّهِ وَالتَّنْفِيرِ عَنْهُ، وَلَا يَخْفَى مَا فِيهِ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ الْمَكْنِيَّةِ والتخييلية وَالتَّرْشِيحِ (قَوْلُهُ: وَيَرُدُّ) أَيْ يَصْرِفُ صَاحِبَهُ عَنْ جَمِيلِ الْأَوْصَافِ: أَيْ عَنْ الِاتِّصَافِ بِالْأَوْصَافِ الْجَمِيلَةِ أَوْ عَنْ رُؤْيَتِهَا فِي الْمَحْسُودِ فَلَا يَرَى الْحَاسِدُ لَهُ جَمِيلًا، لِمَا أَنَّ عَيْنَ السُّخْطِ تُبْدِي الْمَسَاوِيَا، وَرَدَّ يَتَعَدَّى بِنَفْسِهِ وَيَتَعَدَّى بِعَنْ إلَى مَفْعُولٍ ثَانٍ وَإِنْ لَمْ يَذْكُرْهُ فِي الْقَامُوسِ، فَمِنْ شَوَاهِدِ النُّحَاةِ قَوْلُ الشَّاعِرِ:
أَكُفْرًا بَعْدَ رَدِّ الْمَوْتِ عَنِّي
… وَبَعْدَ عَطَائِك الْمِائَةَ الرِّتَاعَا فَافْهَمْ
وَهَذِهِ الْفِقْرَةُ بِمَعْنَى الَّتِي قَبْلَهَا، وَفِي الْفِقْرَتَيْنِ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَدِيعِ التَّرْصِيعُ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ مَا فِي إحْدَاهُمَا مِنْ الْأَلْفَاظِ أَوْ أَكْثَرِهِ مِثْلَ مَا يُقَابِلُهُ مِنْ الْأُخْرَى فِي الْوَزْنِ وَالتَّقْفِيَةِ. وَالْجِنَاسُ اللَّاحِقُ وَهُوَ اخْتِلَافُ اللَّفْظَيْنِ الْمُتَجَانِسَيْنِ فِي حَرْفَيْنِ، غَيْرِ مُتَقَارِبَيْنِ. وَلُزُومُ مَا لَا يَلْزَمُ، وَهُوَ هُنَا الْإِتْيَانُ بِالصَّادِ قَبْلَ الْأَلْفِ فِي الْإِنْصَافِ وَالْأَوْصَافِ، وَقَدْ أَتَى بِهَاتَيْنِ الْفِقْرَتَيْنِ الْمُصَنِّفُ فِي الْمِنَحِ وَابْنُ الشِّحْنَةِ فِي شَرْحِ الْوَهْبَانِيَّةِ، وَسَبَقَهُمَا إلَى ذَلِكَ ابْنُ مَالِكٍ فِي التَّسْهِيلِ (قَوْلُهُ: أَلَا) أَدَاةُ اسْتِفْتَاحٍ يُسْتَفْتَحُ بِهَا الْكَلَامُ (قَوْلُ حَسَكٌ) بِفَتْحَتَيْنِ: شَوْكُ السَّعْدَانِ. وَالسَّعْدَانُ: نَبْتٌ مِنْ أَفْضَلِ مَرَاعِي الْإِبِلِ كَمَا فِي الْقَامُوسِ. ح: وَهَذَا مِنْ التَّشْبِيهِ الْبَلِيغِ، فَهُوَ عَلَى حَذْفِ الْأَدَاةِ، أَوْ تَجْرِي فِيهِ اسْتِعَارَةٌ عَلَى طَرِيقَةِ السَّعْدِ ط: وَبَيْنَ الْحَسَدِ وَحَسَكِ الْجِنَاسُ اللَّاحِقُ أَيْضًا (قَوْلُهُ: مَنْ تَعَلَّقَ بِهِ هَلَكَ) يُشِيرُ إلَى وَجْهِ الشَّبَهِ فَإِنَّ الْحَسَدَ إذَا تَعَلَّقَ بِإِنْسَانٍ أَهْلَكَهُ لِأَنَّهُ يَأْكُلُ حَسَنَاتِهِ ط. وَظَاهِرُهُ أَنَّ الضَّمِيرَ فِي تَعَلَّقَ لِلْحَسَدِ لَا لِمَنْ، وَالْأَنْسَبُ إرْجَاعُهُ لِمَنْ (قَوْلُهُ: وَكَفَى لِلْحَاسِدِ إلَخْ) كَفَى فِعْلٌ مَاضٍ، وَاللَّامُ فِي لِلْحَاسِدِ زَائِدَةٌ فِي الْمَفْعُولِ بِهِ عَلَى غَيْرِ قِيَاسٍ وَذَمًّا تَمْيِيزٌ، وَتَمْيِيزُ كَفَى غَيْرُ مُحَوَّلٍ عَنْ شَيْءٍ كَمَا ذَكَرَهُ الدَّمَامِينِيُّ فِي شَرْحِ التَّسْهِيلِ،
আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তাঁরই মাধ্যমে এমন হিংসা থেকে আশ্রয় চেয়ে যা ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয় এবং সুন্দর গুণাবলী থেকে ফিরিয়ে রাখে। জেনে রেখো, হিংসা তো কাঁটাযুক্ত লতা সদৃশ; যে তাতে জড়িয়ে পড়ে সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর হিংসুকের নিন্দার জন্য সূরা ফালাকের শেষ আয়াতই যথেষ্ট।
--
[রাদ্দুল মুহতার] এবং জামাত, জুমুআ, ঈদের সালাত ও কুরবানী। বলা হয়েছে, যা মহান আল্লাহর আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে তাকেই শিআর (নিদর্শন) বলা হয়। সমাপ্ত। তাহতাভী বলেন: এখানে এবং ইতিপূর্বে 'বৈশিষ্ট্য' (خصائص) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করার কারণ হলো বিস্মৃতি মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর ভুল ও পদস্খলন মানুষ ও মানুষ ব্যতীত অন্য সবার থেকেই হতে পারে, এমনকি ফেরেশতাদের থেকেও হতে পারে; যেমনটি ইবলিসের ক্ষেত্রে ঘটেছিল—এই ভিত্তিতে যে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল—এবং হারুত ও মারুতের ক্ষেত্রেও যেমনটি বলা হয়ে থাকে। যেমন ফেরেশতাদের উক্তি— "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে?" [বাকারা: ৩০]—এবং কতিপয় ফেরেশতার স্বীয় ইবাদতের মর্তবার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার মতো। আর জিনদের ক্ষেত্রে তো এটিই তাদের অধিকাংশ সময়কার অবস্থা। (তাঁর বাণী: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) অর্থাৎ আমি তাঁর নিকট আমার পাপ গোপন করার (ক্ষমার) আবেদন করছি। লেখক এটি উল্লেখ করেছেন কারণ তিনি এর আগে যা উল্লেখ করেছেন তাতে এক প্রকার আত্মশুদ্ধির প্রকাশ ঘটেছিল, যা অনুচিত। বরং ভুল ও বিস্মৃতি মানুষের অবিচ্ছেদ্য গুণ হওয়া সত্ত্বেও এর মাধ্যমে নিজেকে বিনয়ী করা বা তুচ্ছ জ্ঞান করাই উত্তম। (তাঁর বাণী: আশ্রয় প্রার্থনা করে) এটি 'আস্তাগফিরু' ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা বা হাল। 'আওয' অর্থ আশ্রয় গ্রহণ করা, যেমন ইয়াজ, মুআযাহ, তাআউউয এবং ইস্তিআযা। আর হরকতসহ 'আওয়ায' অর্থ আশ্রয়স্থল, যেমন মাআয ও ইয়াজ; কামুস গ্রন্থে এমনই রয়েছে। (তাঁর বাণী: হিংসা হতে) হিংসা হলো অন্যের নেয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা, চাই সে নেয়ামত নিজের কাছে আসার আকাঙ্ক্ষা করুক বা না করুক। রূপকভাবে একে 'গিবতাহ' (ঈর্ষা)-ও বলা হয়। গিবতাহ হলো নেয়ামত অধিকারীর থেকে তা বিলুপ্ত হওয়ার ইচ্ছা না করে নিজের জন্য অনুরূপ নেয়ামত কামনা করা; এটি নিন্দনীয় নয়। প্রথমটি (হিংসা) নিন্দনীয় কারণ এটি মহান আল্লাহর বণ্টনের ওপর আপত্তির দিকে নিয়ে যায়। এজন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হিংসা নেক আমলগুলোকে গ্রাস করে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে।" নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে দ্বীন মুণ্ডনকারী বলেছেন, চুল মুণ্ডনকারী নয়। মহান আল্লাহ বলেন— "এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।" [ফালাক: ৫]। হিংসুক নিজের প্রতি যালিম, কারণ সে নিজেকে ক্লান্ত করে, নিজেকে ব্যথিত করে এবং নিজেকে পাপে নিমজ্জিত করে। আবার অন্যের প্রতিও যালিম কারণ সে অন্যের জন্য তা পছন্দ করে না যা নিজের জন্য পছন্দ করে। এজন্য আবু তায়্যিব বলেন: "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যালিম সেই ব্যক্তি, যে এমন ব্যক্তির প্রতি হিংসা করে যে সুখে-শান্তিতে রাত্রি যাপন করছে।" (তাঁর বাণী: যা ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়) এটি একটি তাকীদী (দৃঢ়তাসূচক) সিফাত বা গুণ। কারণ হিংসার প্রকৃত অর্থই এটি ইঙ্গিত করে। কেননা ইনসাফ বা ন্যায়বিচার হলো ভারসাম্যপূর্ণ পথে চলা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা। হিংসার উপস্থিতিতে এই গুণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। এই তাকীদী সিফাত উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো হিংসার জঘন্যতা ঘোষণা করা, এর নিন্দাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং এ থেকে মানুষকে দূরে রাখা। এতে যে ইস্তিয়ারা মাকনিয়া, তাখয়্যিলিয়া এবং তারশীহ রয়েছে তা গোপন নয়। (তাঁর বাণী: এবং ফিরিয়ে রাখে) অর্থাৎ তার অধিকারীকে সুন্দর গুণাবলী অর্জন করা থেকে ফিরিয়ে রাখে অথবা অন্যের সুন্দর গুণাবলী দেখা থেকে তাকে বিরত রাখে; ফলে হিংসুক ব্যক্তি অন্যের কোনো সৌন্দর্য দেখতে পায় না। কারণ বিদ্বেষপূর্ণ চোখ কেবল ত্রুটিই খুঁজে পায়। 'রাদ্দা' শব্দটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে আবার কখনো 'আন' অব্যয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় কর্ম গ্রহণ করে, যদিও কামুস গ্রন্থে এটি উল্লেখ নেই। ব্যাকরণবিদদের নিকট এর একটি প্রমাণ হলো কবির উক্তি:
আমার থেকে মৃত্যুকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবং চরে বেড়ানো একশ উট আমাকে দান করার পর আমি কি অকৃতজ্ঞ হবো? বিষয়টি বুঝে নিন।
এই বাক্যটি আগের বাক্যেরই সমার্থবোধক। এই দুটি বাক্যের মধ্যে বাদি' অলংকারের প্রকারসমূহের মধ্যে 'তারসী' বিদ্যমান। তারসী হলো এক বাক্যের শব্দগুলো বা অধিকাংশ শব্দ অপর বাক্যের শব্দগুলোর সাথে ওজন (ছন্দ) এবং অন্ত্যমিলে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া। এতে 'জিনাসে লাহিক'ও রয়েছে, যা হলো দুটি সমগোত্রীয় শব্দের মধ্যে নিকটবর্তী নয় এমন দুটি বর্ণের পার্থক্য থাকা। আরও রয়েছে 'লুযূমু মা লা ইয়ালযাম', আর তা হলো এখানে 'ইনসাফ' ও 'আওসাফ' শব্দের আলিফের পূর্বে সোয়াদ (ص) অক্ষরের ব্যবহার। গ্রন্থকার 'আল-মিনাহ' গ্রন্থে এবং ইবনে শিহনা 'শারহুল ওয়াহবানিয়্যাহ' গ্রন্থে এই দুটি বাক্য ব্যবহার করেছেন। তাদের পূর্বে ইবনে মালিক 'আত-তাসহীল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। (তাঁর বাণী: আলা) এটি আলোচনার প্রারম্ভিক অব্যয় যা দিয়ে কথা শুরু করা হয়। (বাণী: হাসাক) দুই জবর সহকারে; এটি সা'দান গাছের কাঁটা। সা'দান হলো উটের চারণভূমির শ্রেষ্ঠ উদ্ভিদ, যেমনটি কামুস গ্রন্থে রয়েছে। হাসাভি বলেন: এটি একটি তাসবিহে বালিগ (উচ্চাঙ্গের রূপক)। এখানে উপমাবাচক অব্যয়টি উহ্য রয়েছে অথবা সা'দের পদ্ধতিতে এখানে ইস্তিয়ারা ব্যবহৃত হয়েছে। তাহতাভি বলেন: হাসাদ (হিংসা) এবং হাসাক শব্দের মধ্যে জিনাসে লাহিক অলংকারও বিদ্যমান। (তাঁর বাণী: যে এতে জড়িয়ে যায় সে ধ্বংস হয়) এটি উপমার কারণ বা ওয়াজহুশ শিবহ-এর দিকে ইঙ্গিত করে। কেননা হিংসা যখন কোনো মানুষকে পেয়ে বসে, তখন তা তাকে ধ্বংস করে দেয় কারণ এটি তার নেক আমলগুলোকে গ্রাস করে ফেলে। তাহতাভি এমনটি বলেছেন। বাহ্যত দেখা যাচ্ছে যে, 'তাআল্লাকা' (জড়িয়ে যাওয়া) ক্রিয়ার সর্বনামটি হিংসার দিকে ফিরেছে, 'মান' (যে ব্যক্তি) এর দিকে নয়। তবে একে 'মান' এর দিকে ফেরানোই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। (তাঁর বাণী: আর হিংসুকের জন্য... ইত্যাদি) এখানে 'কাফা' একটি অতীতকালীন ক্রিয়া। 'লিল হাসিদি'র 'লাম' অক্ষরটি নিয়মের বাইরে কর্মপদে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। আর 'যাম্মান' শব্দটি তামীয (পার্থক্যকারী)। দামামিনী 'শারহুত তাসহীল' গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, 'কাফা' এর তামীয অন্য কোনো পদ থেকে রূপান্তরিত হয়ে আসে না।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي اضْطِرَامِهِ بِالْقَلَقِ، لِلَّهِ دَرُّ الْحَسَدِ مَا أَعْدَلَهْ، بَدَأَ بِصَاحِبِهِ فَقَتَلَهْ.
وَمَا أَنَا مِنْ كَيْدِ الْحَسُودِ بِآمِنٍ
… وَلَا جَاهِلٍ يَزْرِي وَلَا يَتَدَبَّرُ
وَلِلَّهِ دَرُّ الْقَائِلِ:
هُمْ يَحْسُدُونِي وَشَرُّ النَّاسِ كُلِّهِمْ
… مَنْ عَاشَ فِي النَّاسِ يَوْمًا غَيْرَ مَحْسُودِ
ــ
[رد المحتار] وَمِثْلُهُ: امْتَلَأَ الْكُوزُ مَاءً، وَآخَرُ بِالرَّفْعِ فَاعِلُ كَفَى، وَلَمْ يَزِدْ الْبَاءَ فِي فَاعِلِهَا لِأَنَّهُ غَيْرُ لَازِمٍ بَلْ غَالِبٌ، بِخِلَافِ زِيَادَتِهَا فِي فَاعِلِ أَفْعَلَ فِي التَّعَجُّبِ فَإِنَّهَا لَازِمَةٌ؛ لَكِنْ قَالَ الدَّمَامِينِيُّ: إنْ كَانَ كَفَى بِمَعْنَى أَجْزَأَ وَأَغْنَى أَوْ بِمَعْنَى وَقَى لَمْ تَزِدْ الْبَاءُ فِي فَاعِلِهَا هَكَذَا قِيلَ، وَلَمْ أَرَ مَنْ أَفْصَحَ عَنْ مَعْنَى كَفَى الَّتِي تَغْلِبُ زِيَادَةُ الْبَاءِ فِي فَاعِلِهَا. وَفِي كَلَامِ بَعْضِهِمْ مَا يُشِيرُ إلَى أَنَّهَا قَاصِرَةٌ لَا مُتَعَدِّيَةٌ، وَفِي كَلَامِ بَعْضِهِمْ خِلَافُ ذَلِكَ اهـ فَافْهَمْ. وَوَجْهُ الذَّمِّ أَنَّهُ تَعَالَى أَسْنَدَ إلَيْهِ الشَّرَّ وَأَمَرَ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم بِالِاسْتِعَاذَةِ مِنْهُ، وَأَيُّ ذَمٍّ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ (قَوْلُهُ: فِي اضْطِرَامِهِ) مُتَعَلِّقٌ بِكَفَى أَوْ بِمَحْذُوفٍ حَالٌ مِنْ الْحَاسِدِ، أَوْ فِي لِلتَّعْلِيلِ كَمَا فِي حَدِيثِ «إنَّ امْرَأَةً دَخَلَتْ النَّارَ فِي هِرَّةٍ حَبَسَتْهَا» أَوْ بِمَعْنَى مَعَ كَمَا فِي - {ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ} [الأعراف: 38]- وَالِاضْطِرَامُ كَمَا قَالَ ح عَنْ جَامِعِ اللُّغَةِ: اشْتِعَالُ النَّارِ فِيمَا يُسْرِعُ اشْتِعَالَهَا فِيهِ. قَالَ ط: شَبَّهَ شِدَّةَ تَحَسُّرِهِ لِفَوَاتِ غَرَضِهِ بِالِاشْتِعَالِ (قَوْلُهُ: بِالْقَلَقِ) هُوَ بِالتَّحْرِيكِ: الِانْزِعَاجُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: لِلَّهِ دَرُّ الْحَسَدِ) فِي الرَّضِي: الدَّرُّ فِي الْأَصْلِ مَا يُدَرُّ: أَيْ مَا يَنْزِلُ مِنْ الضَّرْعِ مِنْ اللَّبَنِ وَمِنْ الْغَيْمِ مِنْ الْمَطَرِ، وَهُوَ هُنَا كِنَايَةٌ عَنْ فِعْلِ الْمَمْدُوحِ الصَّادِرِ عَنْهُ؛ وَإِنَّمَا نُسِبَ فِعْلُهُ لِلَّهِ تَعَالَى قَصْدًا لِلتَّعَجُّبِ مِنْهُ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى مُنْشِئُ الْعَجَائِبِ، وَكُلُّ شَيْءٍ عَظِيمٍ يُرِيدُونَ التَّعَجُّبَ مِنْهُ يَنْسُبُونَهُ إلَيْهِ تَعَالَى وَيُضِيفُونَهُ إلَيْهِ؛ فَمَعْنَى لِلَّهِ دَرُّهُ مَا أَعْجَبَ فِعْلَهُ، وَفِي الْقَامُوسِ: وَقَوْلُهُمْ وَلِلَّهِ دَرُّهُ: أَيْ عَمَلُهُ كَذَا فِي حَوَاشِي الْجَامِيِّ لِلْمَوْلَى عِصَامٍ، ثُمَّ قَالَ: فَقَوْلُ الشَّرْحِ يَعْنِي الْجَامِيَّ لِلَّهِ خَيْرُهُ بِجَعْلِ الدَّرِّ كِنَايَةً عَنْ الْخَيْرِ لَا يُوَافِقُ تَحْقِيقَ اللُّغَةِ. اهـ. ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ (قَوْلُهُ: مَا أَعْدَلَهْ إلَخْ) تَعَجُّبٌ ثَانٍ مُتَضَمِّنٌ لِبَيَانِ مَنْشَإِ التَّعَجُّبِ. وَفِي الرِّسَالَةِ الْقُشَيْرِيَّةِ قَالَ مُعَاوِيَةُ رضي الله عنه: لَيْسَ فِي خِلَالِ الشَّرِّ خَلَّةٌ أَعْدَلَ مِنْ الْحَسَدِ تَقْتُلُ الْحَاسِدَ غَمًّا قَبْلَ الْمَحْسُودِ اهـ لَكِنَّ شَرْطَهُ مَا قَالَ الشَّاعِرُ:
دَعْ الْحَسُودَ وَمَا يَلْقَاهُ مِنْ كَمَدِهِ
… كَفَّاك مِنْهُ لَهَيْبُ النَّارِ فِي كَبِدِهِ
إنْ لُمْتَ ذَا حَسَدٍ نَفَّسْت كُرْبَتَهُ
… وَإِنْ سَكَتَّ فَقَدْ عَذَّبْتَهُ بِيَدِهِ
وَقَالَ آخَرُ وَقَدْ أَجَادَ:
اصْبِرْ عَلَى كَيْدِ الْحَسُودِ
… فَإِنَّ صَبْرَك يَقْتُلُهُ
النَّارُ تَأْكُلُ بَعْضَهَا
… إنْ لَمْ تَجِدْ مَا تَأْكُلُهُ
(قَوْلُهُ: وَمَا أَنَا إلَخْ) الْبَيْتُ مِنْ الْمَنْظُومَةِ الْوَهْبَانِيَّةِ، قَالَ شَارِحُهَا الْعَلَّامَةُ عَبْدُ الْبَرِّ بْنُ الشِّحْنَةِ: الْكَيْدُ الْخَدِيعَةُ وَالْمَكْرُ، وَالْحَسُودُ فَعُولٌ مِنْ الْحَسَدِ فِيهِ مُبَالَغَةٌ فِي مَعْنَى الْحَاسِدِ. وَالْآمِنُ: الْمُطْمَئِنُّ، وَلَا جَاهِلٍ عَطْفٌ عَلَى الْحَسُودِ، يَعْنِي وَلَا مِنْ كَيَدِ جَاهِلٍ وَيَزْرِي بِفَتْحِ التَّحْتِيَّةِ مِنْ زَرَى عَلَيْهِ: إذَا عَابَهُ وَاسْتَهْزَأَ بِهِ، وَأَنْكَرَ عَلَيْهِ وَلَمْ يَعُدَّهُ شَيْئًا أَوْ تَهَاوَنَ بِهِ، وَيَجُوزُ ضَمُّهَا مِنْ أَزَرَى. قَالَ فِي الْقَامُوسِ: لَكِنَّهُ قِيلَ وَتُزْرِي وَأَزْرَى بِأَخِيهِ: أَدْخَلَ عَلَيْهِ عَيْبًا أَوْ أَمْرًا يُرِيدُ أَنْ يُلْبِسَ عَلَيْهِ وَلَا يَتَدَبَّرُ عَطْفٌ عَلَيْهِ: أَيْ لَا يَتَفَكَّرُ فِي عَوَاقِبِ الْأُمُورِ. وَسَبَبُ هَذَا الْبَيْتِ أَنَّهُ اُبْتُلِيَ بِمَا اُبْتُلِيتُ بِهِ مِنْ حَسَدِ الْحَاسِدِينَ وَكَيْدِ الْمُعَانِدِينَ، وَاَللَّهُ الْمَسْئُولُ أَنْ يَجْعَلَ كَيْدَهُمْ فِي نَحْرِهِمْ، فَبَعْضُهُمْ اسْتَكْثَرَهُ عَلَيْهِ وَالْبَعْضُ قَالَ إنَّهُ مَسْبُوقٌ إلَيْهِ اهـ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: هُمْ يَحْسُدُونِي) أَصْلُهُ يَحْسُدُونَنِي حُذِفَتْ إحْدَى
অস্থিরতার দহনে; হিংসার কি চমৎকার মহিমা, কতই না ইনসাফপূর্ণ সে! সে তার নিজের সঙ্গীকে দিয়েই শুরু করে এবং তাকেই হত্যা করে।
আর আমি হিংসুকের ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ নই
… এবং এমন কোনো মূর্খ থেকেও নয় যে দোষারোপ করে কিন্তু চিন্তা-ভাবনা করে না।
আর বক্তার কি চমৎকার উক্তি:
তারা আমাকে হিংসা করে, অথচ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই
… যে মানুষের মাঝে এমনভাবে একটি দিন অতিবাহিত করে যে তাকে কেউ হিংসা করে না।
--
[রাদ্দুল মুহতার]এর উদাহরণ: 'পাত্রটি পানিতে পূর্ণ হলো'। অন্যটি 'কর্তা' হিসেবে 'পেশ' যোগে 'কাফা' ক্রিয়ার জন্য। এর কর্তার সাথে 'বা' বর্ণটি অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়নি কারণ এটি অপরিহার্য নয় বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়। বিপরীতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার অর্থে 'আফ্'আল' এর কর্তায় 'বা' যুক্ত করা অপরিহার্য। তবে দামামিনী বলেছেন: যদি 'কাফা' শব্দটি পর্যাপ্ত হওয়া বা অভাব পূরণ করা অথবা রক্ষা করার অর্থে আসে, তবে এর কর্তার সাথে 'বা' যুক্ত হবে না—এমনটিই বলা হয়েছে। আর 'কাফা' এর যে অর্থে এর কর্তার সাথে 'বা' এর আধিক্য পাওয়া যায়, সেটির অর্থ কেউ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি। কারো কারো বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এটি অকর্মক ক্রিয়া, সকর্মক নয়; আবার অন্যদের বক্তব্যে এর বিপরীতটি পাওয়া যায়। ইতি—অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন। আর নিন্দার কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা এর সাথে মন্দকে সম্বন্ধ করেছেন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর চেয়ে বড় নিন্দা আর কী হতে পারে? (তাঁর উক্তি: তার দহনে) এটি 'কাফা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা এটি কোনো উহ্য শব্দ থেকে 'অবস্থা' যা হিংসুককে বুঝাচ্ছে। অথবা এখানে 'ফি' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য এসেছে, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "এক নারী একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে যাকে সে আটকে রেখেছিল।" অথবা 'ফি' এখানে 'সাথে' অর্থে এসেছে, যেমন— {তোমরা উম্মতদের সাথে প্রবেশ করো} [আ'রাফ: ৩৮]। আর 'ইদতিরাম' সম্পর্কে যেমনটি 'হা' (হালবি), 'জামেউল লুগাহ' থেকে বর্ণনা করেছেন: সেই বস্তুতে আগুন জ্বলে ওঠা যাতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 'তা' (তহতাবি) বলেন: নিজের উদ্দেশ্য লাভে ব্যর্থ হওয়ার তীব্র আক্ষেপকে তিনি দহনের সাথে তুলনা করেছেন। (তাঁর উক্তি: অস্থিরতায়) এটি যবর যোগে: বিচলিত হওয়া—কামূস। (তাঁর উক্তি: হিংসার কি চমৎকার মহিমা) 'রাযি' গ্রন্থে আছে: 'দার' শব্দের মূল অর্থ হলো যা প্রবাহিত হয়: অর্থাৎ ওলান থেকে যে দুধ ঝরে এবং মেঘ থেকে যে বৃষ্টি পড়ে। এখানে এটি প্রশংসিত ব্যক্তির কাজকে বুঝাতে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর তার কাজকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে বিস্ময় প্রকাশের উদ্দেশ্যে, কারণ আল্লাহ তাআলা আশ্চর্যজনক বিষয়াদির স্রষ্টা। তারা কোনো মহান বিষয় দেখে যখন বিস্মিত হতে চায়, তখন তাকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ ও নিসবত করে। সুতরাং 'লিল্লাহি দাররুহু' এর অর্থ হলো—তার কাজ কতই না আশ্চর্যজনক! কামূস গ্রন্থে আছে: তাদের কথা 'লিল্লাহি দাররুহু' এর অর্থ হলো—তার আমল। মাওলানা ইসাম কর্তৃক জামি-র টীকাগ্রন্থে এমনই রয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: ব্যাখ্যাকার অর্থাৎ জামি-র কথা 'লিল্লাহি খাইরুহু' (তার কল্যাণ আল্লাহর জন্য) এখানে 'দার' শব্দটিকে কল্যাণের রূপক হিসেবে গ্রহণ করা আভিধানিক গবেষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইতি—ইবনে আব্দুর রাজ্জাক। (তাঁর উক্তি: কতই না ইনসাফপূর্ণ সে ইত্যাদি) এটি দ্বিতীয় একটি বিস্ময়সূচক বাক্য যা বিস্ময়ের উৎস বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। 'রিসালা ক্বুশাইরিয়া' গ্রন্থে আছে, মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: মন্দ স্বভাবগুলোর মধ্যে হিংসার চেয়ে ন্যায়পরায়ণ আর কোনো স্বভাব নেই; সে যাকে হিংসা করা হয় তার আগে হিংসুককেই বিষাদে মেরে ফেলে। ইতি—তবে এর শর্ত হলো যা কবি বলেছেন:
হিংসুককে তার নিজের মনস্তাপের সাথে ছেড়ে দাও
… তোমার পক্ষ থেকে তার কলিজায় আগুনের শিখাই যথেষ্ট।
যদি তুমি হিংসুককে তিরস্কার করো, তবে তুমি তার কষ্ট লাঘব করলে
… আর যদি তুমি নীরব থাকো, তবে তুমি তাকে তার নিজের হাত দ্বারাই শাস্তি দিলে।
অন্য একজন কবি অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন:
হিংসুকের ষড়যন্ত্রের ওপর ধৈর্য ধারণ করো
… কারণ তোমার ধৈর্যই তাকে হত্যা করবে।
আগুন নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে
… যদি সে খাওয়ার মতো আর কিছু খুঁজে না পায়।
(তাঁর উক্তি: আর আমি নই ইত্যাদি) এই পঙ্ক্তিটি 'মানযুমাহ ওহবানিয়া' থেকে নেওয়া। এর ব্যাখ্যাকার আল্লামা আব্দুল বার বিন শিহনাহ বলেন: 'কাইদ' মানে হলো প্রতারণা ও চক্রান্ত। 'হাসুদ' শব্দটি 'হাসাদ' থেকে আধিক্যবাচক রূপ, যা চরম হিংসুক বুঝায়। 'আমীন' মানে নিশ্চিন্ত। 'লা জাহিল' শব্দটি 'হাসুদ' এর ওপর সংযোজন, অর্থাৎ 'কোনো মূর্খের ষড়যন্ত্র থেকেও (নিরাপদ নই)'। 'ইয়াযরি' শব্দটি যবর যোগে—এর অর্থ হলো দোষারোপ করা, উপহাস করা, কারো সমালোচনা করা, তাকে নগণ্য মনে করা বা তাকে অবজ্ঞা করা। এটি পেশ যোগে 'আযরা' হিসেবেও পড়া বৈধ। কামূস গ্রন্থে আছে: তবে বলা হয়েছে, 'তুযরি' এবং 'আযরা বি-আখিহি' মানে হলো তার ভাইয়ের প্রতি এমন কোনো দোষ বা বিষয় আরোপ করা যা দিয়ে সে তাকে বিভ্রান্ত করতে চায়। 'লা ইয়াতাদাব্বারু' এর ওপর সংযোজিত: অর্থাৎ সে পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে না। এই পঙ্ক্তির প্রেক্ষাপট হলো, তিনি সেই পরীক্ষায় পতিত হয়েছিলেন যে পরীক্ষায় আমিও হয়েছি—হিংসুকদের হিংসা এবং বিরোধীদের ষড়যন্ত্র। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন তাদের ষড়যন্ত্র তাদের নিজেদের ধ্বংসের কারণ করে দেন। তাদের কেউ কেউ একে তার জন্য অনেক বেশি মনে করেছে, আবার কেউ বলেছে যে অন্য কেউ তার আগেই এটি লিখেছে। ইতি—সংক্ষেপিত। (তাঁর উক্তি: তারা আমাকে হিংসা করে) এর মূল রূপ হলো 'ইয়াহসুদুনানি', যার একটি নুন বিলুপ্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إذْ لَا يَسُودُ سَيِّدٌ بِدُونِ وَدُودٍ يَمْدَحُ، وَحَسُودٍ يَقْدَحُ، لِأَنَّ مَنْ زَرَعَ الْإِحَنَ، حَصَدَ الْمِحَنَ؛ فَاللَّئِيمُ يَفْضَحُ، وَالْكَرِيمُ يُصْلِحُ
لَكِنْ يَا أَخِي بَعْدَ الْوُقُوفِ
ــ
[رد المحتار] النُّونَيْنِ تَخْفِيفًا. اهـ. ح. وَشَرُّ أَفْعَلُ تَفْضِيلٍ حُذِفَتْ هَمْزَتُهُ لِكَثْرَةِ الِاسْتِعْمَالِ كَمَا حُذِفَتْ مِنْ خَيْرٍ وَإِثْبَاتُهَا لُغَةٌ قَلِيلَةٌ أَوْ رَدِيئَةٌ كَمَا فِي الْقَامُوسِ، وَكُلِّهِمْ بِالْجَرِّ تَأْكِيدٌ لِلنَّاسِ لِإِفَادَةِ الشُّمُولِ. وَلَا يُقَالُ الْكَافِرُ شَرٌّ مِمَّنْ لَمْ يَحْسُدْ فَكَيْفَ يَكُونُ مَنْ لَمْ يَحْسُدْ شَرًّا مِنْهُ؟ لِأَنَّا نَقُولُ هُوَ مِنْ جُمْلَةِ مَنْ لَمْ يَحْسُدْ، بَلْ لَيْسَ لَهُ مَا يُحْسَدُ عَلَيْهِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى - {أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ} [المؤمنون: 55]- الْآيَةَ فَافْهَمْ، فَافْهَمْ. وَفِي النَّاسِ بِمَعْنَى مَعَهُمْ، وَيَوْمًا ظَرْفٌ لَعَاشَ، وَغَيْرَهُ بِالنَّصْبِ حَالٌ، وَقَدْ أَتَى الشَّارِحُ بِهَذَا الْبَيْتِ تَبَعًا لِابْنِ الشِّحْنَةِ تَسْلِيَةً لِلنَّفْسِ، فَإِنَّ الْحَسَدَ لَا يَكُونُ إلَّا لِذَوِي الْكَمَالِ الْمُتَّصِفِينَ بِأَكْمَلِ الْخِصَالِ، وَفِي مَعْنَاهُ مَا يُنْسَبُ إلَى عَلِيٍّ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ:
إنْ يَحْسُدُونِي فَإِنِّي غَيْرُ لَائِمِهِمْ
… قَبْلِي مِنْ النَّاسِ أَهْلُ الْفَضْلِ قَدْ حُسِدُوا
فَدَامَ بِي وَبِهِمْ مَا بِي وَمَا بِهِمْ
… وَمَاتَ أَكْثَرُنَا غَيْظًا بِمَا يَجِدُ
(قَوْلُهُ: إذْ لَا يَسُودُ) أَيْ لَا يَصِيرُ ذَا سُؤْدُدٍ وَفَخَارٍ، وَأَصْلُهُ يَسُودُ كَيَنْصُرُ نُقِلَتْ حَرَكَةُ الْوَاوِ إلَى السَّاكِنِ قَبْلَهَا فَسَكَنَتْ الْوَاوُ، وَهَذَا عِلَّةٌ لِمَفْهُومِ وَشَرُّ النَّاسِ، لِأَنَّهُ إذَا كَانَ شَرُّ النَّاسِ مَنْ لَمْ يُحْسَدْ نَتَجَ أَنَّ خَيْرَهُمْ مَنْ يُحْسَدُ، وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ سَبَبًا فِي سِيَادَتِهِ، لِأَنَّ الْمَدْحَ يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ الرِّيَاسَةُ وَالسُّؤْدُدُ، وَالْقَدْحُ فِيهِ يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ الْحِلْمُ وَالتَّحَمُّلُ وَالصَّفْحُ وَذَلِكَ فِي السِّيَادَةِ أَيْضًا. اهـ. ط. قُلْت: وَالْحَسُودُ أَيْضًا سَبَبٌ فِي السِّيَادَةِ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ سَبَبٌ لِنَشْرِ مَا انْطَوَى مِنْ الْفَضَائِلِ كَمَا قَالَ الْقَائِلُ:
وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ نَشْرَ فَضِيلَةٍ
… طُوِيَتْ أَتَاحَ لَهَا لِسَانَ حَسُودِ
(قَوْلُهُ: سَيِّدٌ) أَصْلُهُ سَيْوِدٌ اجْتَمَعَتْ الْوَاوُ وَالْيَاءُ وَسُبِقَتْ إحْدَاهُمَا بِالسُّكُونِ فَقُلِبَتْ الْوَاوُ يَاءً وَأُدْغِمَتْ فِي الْيَاءِ، قِيلَ إنَّهُ لَا يُطْلَقُ إلَّا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، لِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام لَمَّا قَالُوا لَهُ يَا سَيِّدَنَا، قَالَ: إنَّمَا السَّيِّدُ اللَّهُ» وَفِيهِ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام قَالَ «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ» وَقَالَ تَعَالَى - {وَسَيِّدًا وَحَصُورًا} [آل عمران: 39]- وَقِيلَ لَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ تَعَالَى وَعُزِيَ إلَى مَالِكٍ؛ وَقِيلَ يُطْلَقُ عَلَيْهِ تَعَالَى مُعَرَّفًا وَعَلَى غَيْرِهِ مُنَكَّرًا. وَالصَّحِيحُ جَوَازُهُ مُطْلَقًا، وَهُوَ فِي حَقِّهِ تَعَالَى بِمَعْنَى الْعَظِيمِ الْمُحْتَاجِ إلَيْهِ، وَفِي غَيْرِهِ بِمَعْنَى الشَّرِيفِ الْفَاضِلِ الرَّئِيسِ وَتَمَامُهُ فِي حَاشِيَةِ الْحَمَوِيِّ (قَوْلُهُ: بِدُونِ) أَيْ بِغَيْرِ، وَهُوَ أَحَدُ إطْلَاقَاتٍ لَهَا، وَتَأْتِي بِمَعْنَى الْمَكَانِ الْأَدْنَى وَهُوَ الْأَصْلُ فِيهَا ط (قَوْلُهُ: وَدُودٍ) هُوَ كَثِيرُ الْحُبِّ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: وَحَسُودٍ يَقْدَحُ) أَيْ يَطْعَنُ، وَلَا يَخْفَى مَا بَيْنَ وَدُودٍ وَحَسُودٍ مِنْ الطِّبَاقِ، وَبَيْنَ يَمْدَحُ وَيَقْدَحُ مِنْ الْجِنَاسِ اللَّاحِقِ وَلُزُومِ مَا لَا يَلْزَمُ وَمَا فِي ذَلِكَ مِنْ التَّرْصِيعِ (قَوْلُهُ: لِأَنَّ مَنْ زَرَعَ) تَعْلِيلٌ لِمَا اسْتَلْزَمَهُ الْكَلَامُ السَّابِقُ، لِأَنَّ قَدْحَ الْحَسُودِ إذَا كَانَ سَبَبًا فِي زِيَادَةِ الْمَحْسُودِ الْمُوجِبَةِ لِكَمَدِهِ كَانَ زَرْعُهُ الْحَسَدَ مُنْتِجًا لَهُ الْمِحَنَ وَالْبَلَايَا. وَالْإِحَنَ: جَمْعُ إحْنَةٍ بِالْكَسْرِ فِيهِمَا، وَهِيَ الْحِقْدُ كَمَا فِي الْقَامُوسِ. اهـ. ح، وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ تَعْلِيلٌ لِقَوْلِهِ سَابِقًا أَلَا وَإِنَّ الْحَسَدَ حَسَكٌ، مَنْ تَعَلَّقَ بِهِ هَلَكَ، فَالْمَحْصُودُ الْهَلَاكُ الْمَوْجُودُ عِنْدَ التَّعَلُّقِ ط وَتَشْبِيهُ الْحِقْدِ بِمَا يُزْرَعُ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ وَإِثْبَاتُ الزَّرْعِ تَخْيِيلٌ، وَذِكْرُ الْحَصْدِ تَرْشِيحٌ (قَوْلُهُ: فَاللَّئِيمُ يَفْضَحُ) مِنْ اللُّؤْمِ بِالضَّمِّ ضِدُّ الْكَرَمِ، يُقَالُ لَؤُمَ كَكَرُمَ لُؤْمًا فَهُوَ لَئِيمٌ جَمْعُهُ لِئَامٌ وَلُؤَمَاءُ، وَيُقَالُ فَضَحَهُ كَمَنَعَهُ: كَشَفَ مَسَاوِيهِ، وَالْإِصْلَاحُ ضِدُّ الْإِفْسَادِ قَامُوسٌ، وَهَذَا مُرْتَبِطٌ بِقَوْلِهِ إذْ لَا يَسُودُ سَيِّدٌ إلَخْ؛ فَاللَّئِيمُ هُوَ الْحَسُودُ وَالْكَرِيمُ هُوَ الْوَدُودُ، وَفِيهِ لَفٌّ وَنَشْرٌ مُشَوَّشٌ أَوْ بِقَوْلِهِ وَمَأْمُولِي مِنْ النَّاظِرِ فِيهِ إلَخْ، وَلَوْ قَالَ وَالْكَرِيمُ يَصْفَحُ أَوْ يَسْمَحُ لَكَانَ أَوْضَحَ
(قَوْلُهُ: لَكِنْ يَا أَخِي إلَخْ) لَمَّا كَانَ الْإِذْنُ بِالْإِصْلَاحِ مُطْلَقًا اسْتَدْرَكَ عَلَيْهِ بِقَوْلِهِ بَعْدَ الْوُقُوفِ وَهُوَ ظَرْفٌ لِيُصْلَحَ كَمَا أَفَادَهُ ح: أَيْ يُصْلِحُ بَعْدَ
যেহেতু একজন নেতা প্রশংসাকারী বন্ধু এবং নিন্দাকারী হিংসুক ব্যতীত নেতৃত্ব লাভ করতে পারেন না; কারণ যে ব্যক্তি বিদ্বেষের বীজ বপন করে, সে বিপদের ফসল সংগ্রহ করে। সুতরাং নীচ ব্যক্তি গোপন দোষ প্রকাশ করে দেয় এবং মহৎ ব্যক্তি সংশোধন করে।
কিন্তু হে আমার ভাই, অবগতির পর
—
[রাদ্দুর মুহতার] সহজ করার জন্য দুটি ‘নুন’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। সমাপ্ত। ‘হাশিয়া’। আর ‘শাররুন’ (সবচেয়ে মন্দ) শব্দটি মূলত আধিক্যবোধক বা তুলনামূলক বিশেষ্য, যার হামজাটি অধিক ব্যবহারের কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেমনটি ‘খাইরুন’ (সবচেয়ে ভালো) শব্দের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে। তবে হামজা সহকারে একে ব্যবহার করা একটি বিরল অথবা নিম্নমানের ভাষা শৈলী, যেমনটি ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে। আর ‘কুল্লুহুম’ শব্দটি ‘জার’ (জের) সহকারে পড়ার কারণ হলো এটি ‘নাস’ (মানুষ) শব্দের তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য, যা ব্যাপকতা বুঝায়। এমনটি বলা যাবে না যে, কাফের সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি মন্দ যে হিংসা করে না, তাহলে হিংসা না করা ব্যক্তি তার চেয়ে মন্দ হয় কীভাবে? কারণ আমরা বলি যে, সেও এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যে হিংসা করে না, বরং তার এমন কিছুই নেই যার জন্য তাকে হিংসা করা হবে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী- {তারা কি মনে করে যে আমি তাদেরকে যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করছি} [আল-মু’মিনুন: ৫৫] - এই আয়াতটি। বিষয়টি অনুধাবন করুন। আর ‘নাস’ শব্দের সাথে ‘ফি’ অব্যয়টি ‘সাথে’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ইয়াওমান’ শব্দটি ‘আশা’ (বেঁচে থাকা) ক্রিয়ার জন্য সময়ের নির্দেশক। ‘গাইরাহু’ শব্দটি ‘নসব’ (জবর) অবস্থায় হওয়ার কারণ এটি ‘হাল’ বা অবস্থা প্রকাশ করছে। ব্যাখ্যাকার এই কবিতাটি ইবনে শিহনার অনুসরণে আত্মার প্রশান্তির জন্য নিয়ে এসেছেন, কারণ হিংসা কেবল সেই পূর্ণতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিই করা হয় যারা সর্বোত্তম গুণের অধিকারী। আলীর (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কবিতাও একই অর্থ বহন করে:
যদি তারা আমাকে হিংসা করে, তবে আমি তাদের তিরস্কার করি না
… আমার পূর্বেও মানুষের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ গুণাবলির অধিকারীদের প্রতি হিংসা করা হয়েছে
সুতরাং আমার মাঝে এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে তা অবশিষ্ট রইল
… আর আমাদের অধিকাংশ মানুষ যা পেয়েছে তার ক্ষোভ ও যন্ত্রনা নিয়ে মারা গেল
(তাঁর উক্তি: যেহেতু তিনি নেতৃত্ব লাভ করেন না) অর্থাৎ তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের অধিকারী হন না। এর মূল রূপ হলো ‘ইয়াসউদু’ যেমন ‘ইয়ানসুরু’। ‘ওয়াও’ এর হরকত তার পূর্ববর্তী সাকিন বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে ‘ওয়াও’ সাকিন হয়ে গেছে। এটি ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ’ এই ধারণার কারণ বর্ণনা করছে। কারণ যদি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই হয় যাকে হিংসা করা হয় না, তবে এর ফলাফল দাঁড়ায় যে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই যাকে হিংসা করা হয়। আর এটিই তাঁর নেতৃত্বের কারণ হয়, কারণ প্রশংসার ফলে নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় এবং সমালোচনার ফলে ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা তৈরি হয়, যা নেতৃত্বের অন্যতম গুণ। সমাপ্ত। ‘তাহতাভি’। আমি বলি: হিংসুক ব্যক্তিও নেতৃত্বের একটি কারণ এই দিক থেকে যে, সে লুকায়িত গুণাবলি প্রচারের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের কথা ছড়িয়ে দিতে চান
… তখন তিনি তার জন্য একজন হিংসুকের জিহ্বাকে সুযোগ করে দেন
(তাঁর উক্তি: নেতা) এর মূল রূপ ছিল ‘সাইউয়িদুন’। এখানে ‘ওয়াও’ এবং ‘ইয়া’ একত্রিত হয়েছে এবং তাদের একটি সাকিন হওয়ার কারণে ‘ওয়াও’ কে ‘ইয়া’ তে রূপান্তরিত করে ইদগাম করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এই শব্দটি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কারো জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বর্ণিত আছে যে, যখন সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘হে আমাদের নেতা’ বলে সম্বোধন করলেন, তখন তিনি বললেন: ‘প্রকৃত নেতা তো আল্লাহ’। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেছেন, ‘আমি আদম সন্তানদের নেতা’। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন- {এবং তিনি হবেন নেতা ও নারীবিমুখ} [আল-ইমরান: ৩৯]। আবার বলা হয়েছে যে, এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না এবং এটি ইমাম মালিকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। কারো মতে, এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টাবস্থায় এবং অন্যদের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে। তবে সঠিক মত হলো এটি সাধারণভাবে বৈধ। আর আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো মহান সত্তা যাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া হয় এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো সম্মানিত, গুণী ও প্রধান ব্যক্তি। এর পূর্ণ বিবরণ হামাভী’র হাশিয়াতে রয়েছে। (তাঁর উক্তি: বিদূনি) অর্থাৎ ‘ব্যতীত’। এটি শব্দটির অন্যতম ব্যবহার। এটি নিম্নবর্তী স্থান অর্থেও আসে এবং এটিই এর মূল অর্থ। ‘তাহতাভি’। (তাঁর উক্তি: ওয়াদুদ) অর্থাৎ অত্যন্ত ভালোবাসাকারী। ‘আল-কামুস’। (তাঁর উক্তি: ও হিংসুক ব্যক্তি যে নিন্দা করে) অর্থাৎ অপবাদ দেয়। এখানে ‘ওয়াদুদ’ ও ‘হাসুদ’ এর মধ্যে বিপরীতমুখিতা এবং ‘ইয়ামদাহু’ ও ‘ইয়াকদাহু’ এর মধ্যে অন্তমিল এবং অনুপ্রাস যে অস্পষ্ট নয় তা স্পষ্ট। (তাঁর উক্তি: কারণ যে রোপণ করে) এটি পূর্ববর্তী কথার কারণ নির্দেশ করছে। কারণ হিংসুকের নিন্দা যখন মহৎ ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধির কারণ হয় এবং হিংসুকের মনে যন্ত্রনা সৃষ্টি করে, তখন তার হিংসা রোপণ করা বিপদ ও মুসিবত বয়ে আনে। আর ‘আল-ইহান’ হলো ‘ইহনা’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো বিদ্বেষ, যেমনটি ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে এসেছে। সমাপ্ত। ‘হাশিয়া’। সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি তাঁর পূর্ববর্তী উক্তির কারণ- ‘জেনে রাখো হিংসা হলো কাঁটা, যে এর সাথে জড়াবে সে ধ্বংস হবে’। সুতরাং হিংসার সাথে জড়িয়ে পড়ার সময় যে ধ্বংস অর্জিত হয় তা-ই হলো ফসল। ‘তাহতাভি’। বিদ্বেষকে রোপণকৃত বস্তুর সাথে তুলনা করা একটি পরোক্ষ রূপক এবং রোপণ করাকে সাব্যস্ত করা একটি কাল্পনিক রূপক, আর ফসল কাটার কথা উল্লেখ করা এর পরিপূরক। (তাঁর উক্তি: সুতরাং নীচ ব্যক্তি অপমান করে) ‘লুম’ থেকে উদ্ভূত যা আভিজাত্যের বিপরীত। বলা হয় ‘লাউমা’ যেমন ‘কারুমা’, এর অর্থ হলো নীচ হওয়া, এর বহুবচন হলো ‘লিআম’ বা ‘লুয়ামা’। আর ‘ফাদাহাহু’ বলতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করা বোঝায়। ‘ইসলাহ’ হলো ‘ইফাসাদ’ বা নষ্ট করার বিপরীত। ‘আল-কামুস’। এটি তাঁর ‘যেহেতু নেতা নেতৃত্ব লাভ করেন না...’ উক্তির সাথে সম্পৃক্ত। এখানে নীচ ব্যক্তি বলতে হিংসুককে এবং মহৎ ব্যক্তি বলতে স্নেহশীল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এখানে অগোছালো বর্ণনাভঙ্গি রয়েছে। অথবা এটি তাঁর ‘আমি পাঠকের নিকট আশা রাখি...’ উক্তির সাথে সম্পৃক্ত। যদি তিনি বলতেন, ‘মহৎ ব্যক্তি মার্জনা করে বা ক্ষমা করে’ তবে তা আরও স্পষ্ট হতো।
(তাঁর উক্তি: কিন্তু হে আমার ভাই... ইত্যাদি) যেহেতু সংশোধনের অনুমতি সাধারণভাবে দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি ‘অবগতির পর’ কথাটি দিয়ে এর সীমাবদ্ধতা টেনেছেন। এটি ‘সংশোধন করবে’ এর সময় নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যেমনটি ‘হাশিয়া’য় বর্ণিত হয়েছে: অর্থাৎ অবগতির পর সংশোধন করবে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عَلَى حَقِيقَةِ الْحَالِ، وَالِاطِّلَاعِ عَلَى مَا حَرَّرَهُ الْمُتَأَخِّرُونَ كَصَاحِبِ الْبَحْرِ وَالنَّهْرِ وَالْفَيْضِ وَالْمُصَنِّفِ وَجَدِّنَا الْمَرْحُومِ وَعَزْمِي زَادَهْ وَأَخِي زَادَهْ وَسَعْدِي أَفَنْدِي وَالزَّيْلَعِيِّ وَالْأَكْمَلَ
ــ
[رد المحتار] وُقُوفِهِ وَاطِّلَاعِهِ عَلَى هَذِهِ الْكُتُبِ لَا بِمُجَرَّدِ الْخُطُورِ بِالْبَالِ. وَيَصِحُّ تَعَلُّقُهُ بِقَوْلِهِ وَأَنْ يَتَلَافَى تَلَافَهُ. وَيُحْتَمَلُ تَعَلُّقُهُ بِقَوْلِهِ فَصَرَفْت عِنَانَ الْعِنَايَةِ نَحْوَ الِاخْتِصَارِ: أَيْ إنَّمَا اخْتَصَرْته بَعْدَ الْوُقُوفِ عَلَى حَقِيقَةِ الْحَالِ: أَيْ حَالِ الْمَسَائِلِ وَمَعْرِفَةِ ضَعِيفِهَا مِنْ قَوِيِّهَا، وَيَدُلُّ لَهُ قَوْلُهُ: مَعَ تَحْقِيقَاتٍ سَنَحَ إلَخْ، وَيَدُلُّ لِلْأَوَّلِ قَوْلُهُ: وَيَأْبَى اللَّهُ إلَخْ أَفَادَهُ ط (قَوْلُهُ: عَلَى حَقِيقَةِ الْحَالِ) حَقِيقَةُ الشَّيْءِ: مَا بِهِ الشَّيْءُ هُوَ هُوَ كَالْحَيَوَانِ النَّاطِقِ لِلْإِنْسَانِ، بِخِلَافِ مِثْلِ الضَّاحِكِ وَالْكَاتِبِ مِمَّا يُمْكِنُ تَصَوُّرُ الْإِنْسَانِ بِدُونِهِ تَعْرِيفَاتُ السَّيِّدِ (قَوْلُهُ: كَصَاحِبِ الْبَحْرِ) هُوَ الْعَلَّامَةُ الشَّيْخُ زَيْنُ بْنُ نُجَيْمٍ وَتَقَدَّمَتْ تَرْجَمَتُهُ (قَوْلُهُ: وَالنَّهْرِ) أَيْ وَكَصَاحِبِ النَّهْرِ، وَهُوَ الْعَلَّامَةُ الشَّيْخُ عُمَرُ سِرَاجُ الدِّينِ الشَّهِيرُ بِابْنِ نُجَيْمٍ، الْفَقِيهُ الْمُحَقِّقُ، الرَّشِيقُ الْعِبَارَةِ الْكَامِلُ الِاطِّلَاعِ، كَانَ مُتَبَحِّرًا فِي الْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ، غَوَّاصًا عَلَى الْمَسَائِلِ الْغَرِيبَةِ، مُحَقِّقًا إلَى الْغَايَةِ، وَجِيهًا عِنْدَ الْحُكَّامِ، مُعَظَّمًا عِنْدَ الْخَاصِّ وَالْعَامِّ، تُوُفِّيَ سَنَةَ خَمْسٍ بَعْدَ الْأَلْفِ، وَدُفِنَ عِنْدَ شَيْخِهِ وَأَخِيهِ الشَّيْخِ زَيْنِ مُحِبِّيٍّ مُلَخَّصًا، وَلَهُ كِتَابُ إجَابَةُ السَّائِلِ فِي اخْتِصَارِ أَنْفَعِ الْوَسَائِلِ وَغَيْرُ ذَلِكَ (قَوْلُهُ: وَالْفَيْضِ) أَيْ وَكَصَاحِبِ الْفَيْضِ وَهُوَ الْكَرْكِيُّ قَالَ التَّمِيمِيُّ فِي طَبَقَاتِ الْحَنَفِيَّةِ: إبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إسْمَاعِيلَ الْكَرْكِيُّ الْأَصْلِ، الْقَاهِرِيُّ الْمَوْلِدِ وَالْوَفَاةِ، لَازَمَ التَّقِيَّ الْحِصْنِيَّ وَالتَّقِيَّ الشُّمُنِّيَّ، وَحَضَرَ دُرُوسَ الْكَافِيجِيِّ، وَأَخَذَ عَنْ ابْنِ الْهُمَامِ، وَتَرْجَمَهُ السَّخَاوِيُّ فِي الضَّوْءِ بِتَرْجَمَةٍ حَافِلَةٍ، وَذَكَرَ أَنَّهُ جَمَعَ فِي الْفِقْهِ فَتَاوَى فِي مُجَلَّدَيْنِ، وَأَنَّ لَهُ حَاشِيَةً عَلَى تَوْضِيحِ ابْنِ هِشَامٍ اهـ مُلَخَّصًا، وَتُوُفِّيَ سَنَةَ (923) وَأَرَادَ بِالْفَتَاوَى الْفَيْضَ الْمَذْكُورَ الْمُسَمَّى فَيْضُ الْمَوْلَى الْكَرِيمِ عَلَى عَبْدِهِ إبْرَاهِيمَ، وَقَدْ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ: وَضَعْت فِي كِتَابِي هَذَا مَا هُوَ الرَّاجِحُ وَالْمُعْتَمَدُ، لِيَقْطَعَ بِصِحَّةِ مَا يُوجَدُ فِيهِ أَوْ مِنْهُ يُسْتَمَدُّ (قَوْلُهُ: وَالْمُصَنِّفُ) تَقَدَّمَتْ تَرْجَمَتُهُ (قَوْلُهُ: وَجَدْنَا الْمَرْحُومَ) هُوَ الشَّيْخُ مُحَمَّدُ شَارِحُ الْوِقَايَةِ. اهـ. ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، وَلَمْ أَقِفْ لَهُ عَلَى تَرْجَمَةٍ (قَوْلُهُ: وَعَزْمِي زَادَهْ) هُوَ الْعَلَّامَةُ مُصْطَفَى بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّهِيرُ بِعَزْمِي زَادَهْ، أَشْهَرُ مُتَأَخِّرِي الْعُلَمَاءِ بِالرُّومِ، وَأَغْزَرُهُمْ مَادَّةً فِي الْمَنْطُوقِ وَالْمَفْهُومِ، ذُو التَّآلِيفِ الشَّهِيرَةِ، مِنْهَا حَاشِيَةٌ عَلَى الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ وَحَاشِيَةٌ عَلَى شَرْحِ الْمَنَارِ لِابْنِ مَلَكٍ، تُوُفِّيَ فِي حُدُودِ سَنَةِ أَرْبَعِينَ بَعْدَ الْأَلْفِ مُحِبِّيٌّ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: وَأَخِي زَادَهْ) قَالَ الْمُحِبِّيُّ فِي تَارِيخِهِ: هُوَ عَبْدُ الْحَلِيمِ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّهِيرُ الْمَعْرُوفُ بِأَخِي زَادَهْ أَحَدُ أَفْرَادِ الدَّوْلَةِ الْعُثْمَانِيَّةِ وَسَرَاةِ عُلَمَائِهَا، كَانَ نَسِيجًا وَحْدَهُ فِي ثُقُوبِ الذِّهْنِ وَصِحَّةِ الْإِدْرَاكِ وَالتَّضَلُّعِ مِنْ الْعُلُومِ. وَلَهُ تَآلِيفُ كَثِيرَةٌ مِنْهَا شَرْحٌ عَلَى الْهِدَايَةِ؛ وَتَعْلِيقَاتٌ عَلَى شَرْحِ الْمِفْتَاحِ؛ وَجَامِعِ الْفُصُولَيْنِ وَالدُّرَرِ وَالْغُرَرِ وَالْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ وَتُوُفِّيَ سَنَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ بَعْدَ الْأَلْفِ اهـ مُلَخَّصًا. وَذَكَرَ ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ أَنَّ الَّذِي فِي الْخَزَائِنِ أَخِي جَلَبِي بَدَلَ أَخِي زَادَهْ، وَهُوَ صَاحِبُ حَاشِيَةِ صَدْرِ الشَّرِيعَةِ الْمُسَمَّاةِ بِذَخِيرَةِ الْعَقَبِيِّ وَاسْمُهُ يُوسُفُ بْنُ جُنَيْدٍ، وَهُوَ تِلْمِيذُ مُنْلَا خُسْرو. اهـ. (قَوْلُهُ: وَسَعْدِي أَفَنْدِي) اسْمُهُ سَعْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى بْنِ أَمِيرِ خَانْ الشَّهِيرُ بِسَعْدِي جَلَبِي مُفْتِي الدِّيَارِ الرُّومِيَّةِ، لَهُ حَاشِيَةٌ عَلَى تَفْسِيرِ الْبَيْضَاوِيِّ وَحَاشِيَةٌ عَلَى الْعِنَايَةِ شَرْحِ الْهِدَايَةِ، وَرَسَائِلُ وَتَحْرِيرَاتٌ مُعْتَبَرَةٌ، ذَكَرَهُ حَافِظُ الشَّامِ الْبَدْرُ الْغَزِّيِّ الْعَامِرِيُّ فِي رِحْلَتِهِ، وَبَالَغَ فِي الثَّنَاءِ عَلَيْهِ وَالتَّمِيمِيُّ فِي الطَّبَقَاتِ. وَنَقَلَ عَنْ الشَّقَائِقِ النُّعْمَانِيَّةِ أَنَّهُ تُوُفِّيَ سَنَةَ (945) (قَوْلُهُ: وَالزَّيْلَعِيِّ) هُوَ الْإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عُثْمَانُ بْنُ عَلِيٍّ صَاحِبُ تَبْيِينِ الْحَقَائِقِ شَرْحِ كَنْزِ الدَّقَائِقِ، قَدِمَ الْقَاهِرَةَ سَنَةَ (705) وَأَفْتَى وَدَرَّسَ وَصَنَّفَ وَانْتَفَعَ النَّاسُ بِهِ كَثِيرًا وَنَشَرَ الْفِقْهَ، وَمَاتَ بِهَا سَنَةَ (743) (قَوْلُهُ: وَالْأَكْمَلَ) هُوَ الْإِمَامُ الْمُحَقِّقُ الشَّيْخُ أَكْمَلُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَابَرْتِيُّ. وُلِدَ فِي بِضْعِ عَشَرَةَ وَسَبْعِمِائَةٍ. وَأَخَذَ عَنْ أَبِي حَيَّانَ وَالْأَصْفَهَانِيِّ، وَسَمِعَ الْحَدِيثَ مِنْ الدَّلَاصِيِّ وَابْنِ عَبْدِ الْهَادِي، وَكَانَ عَلَّامَةً ذَا فُنُونٍ، وَافِرَ
প্রকৃত অবস্থার ওপর এবং পরবর্তী আলেমগণ যা সংকলন করেছেন সে বিষয়ে অবগতির সাথে; যেমন: বাহর, নাহর, ফয়য-এর রচয়িতাগণ, মূল গ্রন্থকার, আমাদের মরহুম দাদা, আজমি জাদাহ, আখি জাদাহ, সাদি এফেন্দি, যায়লায়ি এবং আকমাল...
—
[রাদ্দুর মুহতার] এই কিতাবগুলোর ওপর তাঁর অভিজ্ঞতা ও অবগতি কেবল মনে উদিত হওয়ার ভিত্তিতে নয়। তাঁর এই উক্তিটি (পূর্ববর্তী) "যাতে তার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়" বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া শুদ্ধ। আবার তাঁর "আমি মনোযোগের লাগাম সংক্ষেপণের দিকে ঘুরিয়েছি" বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থাৎ: বিষয়সমূহের প্রকৃত অবস্থা জানার পর এবং সবল ও দুর্বল বর্ণনার মাঝে পার্থক্য অনুধাবনের পরই কেবল আমি তা সংক্ষেপ করেছি। তাঁর বক্তব্য: "কিছু গবেষণার সাথে যা মনে উদিত হয়েছে..." এটিই প্রমাণ করে। আর প্রথম সম্ভাবনাটি (শাইখ তহতাবি) "আল্লাহ অস্বীকার করেন..." উক্তিটি থেকে গ্রহণ করেছেন। (তাঁর উক্তি: প্রকৃত অবস্থার ওপর) কোনো বস্তুর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ হলো তা-ই যার মাধ্যমে বস্তুটি অস্তিত্ব লাভ করে; যেমন মানুষের জন্য "বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী"। এটি "হাস্যরত" বা "লেখক" হওয়ার মতো নয়, কারণ এগুলো ছাড়াও মানুষকে কল্পনা করা সম্ভব। (সায়্যিদ শরীফ জুরজানির তারীফাত বা সংজ্ঞামালা)। (তাঁর উক্তি: যেমন বাহর-এর রচয়িতা) তিনি হলেন আল্লামা শাইখ যয়ন ইবনে নুজাইম, যাঁর জীবনী পূর্বে গত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: নাহর) অর্থাৎ নাহর-এর রচয়িতা; তিনি হলেন আল্লামা শাইখ উমর সিরাজুদ্দীন, যিনি ইবনে নুজাইম নামে প্রসিদ্ধ। তিনি ছিলেন একজন গবেষক ফকীহ, পরিশীলিত ভাষার অধিকারী এবং পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী। তিনি শরীয়তি জ্ঞানসমূহে পারদর্শী ছিলেন, সূক্ষ্ম ও দুর্লভ মাসআলাসমূহ উদ্ভাবনকারী এবং অত্যন্ত উঁচু স্তরের গবেষক ছিলেন। শাসকদের কাছে তিনি ছিলেন মর্যাদাবান এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট সবার কাছেই ছিলেন সম্মানিত। তিনি ১০০৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর উস্তাদ ও ভাই শাইখ যয়নের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয় (মুহিব্বির আলোচনা থেকে সংক্ষেপিত)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মাঝে 'ইজাবাতুস সায়িল ফী ইখতিসার আনফাউল ওয়াসায়িল' অন্যতম। (তাঁর উক্তি: ফয়য) অর্থাৎ ফয়য-এর রচয়িতা; তিনি হলেন কারখী। তামীমী তাঁর 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-কারখী। তাঁর মূল নিবাস কারখ, জন্ম ও মৃত্যু কায়রোতে। তিনি তাকি আল-হিসনি এবং তাকি আশ-শুমুন্নির সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি কাফীজির দরসে উপস্থিত হয়েছেন এবং ইবনে হুমাম থেকে ইলম অর্জন করেছেন। সাখাবী তাঁর 'আদ-দউ' গ্রন্থে তাঁর দীর্ঘ জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তিনি ফিকহ শাস্ত্রে দুই খণ্ডে ফতোয়া সংকলন করেছেন এবং ইবনে হিশামের 'তাওদীহ' গ্রন্থের ওপর তাঁর একটি হাশিয়া বা টীকা রয়েছে। তিনি ৯২৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। 'ফাতাওয়া' বলতে এখানে উক্ত 'ফয়য' নামক গ্রন্থকেই বোঝানো হয়েছে, যার নাম হলো 'ফয়যুল মাওলাল কারীম আলা আবদিহি ইবরাহিম'। তিনি তাঁর ভূমিকার বলেছেন: আমি আমার এই কিতাবে কেবল অগ্রগণ্য এবং নির্ভরযোগ্য বিষয়গুলোই স্থান দিয়েছি, যাতে এতে যা পাওয়া যায় তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এখান থেকেই ইলম গ্রহণ করা যায়। (তাঁর উক্তি: মূল গ্রন্থকার) তাঁর জীবনী পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: এবং আমাদের মরহুম দাদা) তিনি হলেন শাইখ মুহাম্মাদ, যিনি 'উইকায়া'-এর ব্যাখ্যাকার। ইবনে আব্দুর রাজ্জাক এ কথা বলেছেন। আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। (তাঁর উক্তি: আজমি জাদাহ) তিনি হলেন আল্লামা মুস্তফা ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি আজমি জাদাহ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রুমের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং জ্ঞানের শাখা-প্রশাখায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁর বেশ কিছু প্রসিদ্ধ রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'দুরার ও গুরার'-এর ওপর হাশিয়া এবং ইবনে মালাক রচিত 'মানার'-এর ব্যাখ্যার ওপর হাশিয়া অন্যতম। তিনি ১০৪০ হিজরির দিকে ইন্তেকাল করেন (মুহিব্বির আলোচনা থেকে সংক্ষেপিত)। (তাঁর উক্তি: আখি জাদাহ) মুহিব্বি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন আব্দুল হালীম ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি আখি জাদাহ নামে সুপরিচিত। তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁদের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একজন ছিলেন। মেধার তীক্ষ্ণতা, সঠিক উপলব্ধিবোধ এবং জ্ঞানের গভীরতায় তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'হিদায়া'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'শারহুল মিফতাহ'-এর ওপর টীকা, জামিউল ফুসুলাইন, দুরার ও গুরার এবং আশবাহ ও নাযাইর-এর ওপর টীকা রয়েছে। তিনি ১০১৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইবনে আব্দুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন যে, 'খাজাইন' কিতাবে আখি জাদাহ-এর পরিবর্তে 'আখি জালাবি' রয়েছে, যিনি সাদরুশ শারীয়াহ-এর ওপর 'যাখিরাতুল আকাবি' নামক টীকার লেখক এবং তাঁর নাম ইউসুফ ইবনে জুনাইদ। তিনি মোল্লা খুসরু-এর ছাত্র ছিলেন। (তাঁর উক্তি: সাদি এফেন্দি) তাঁর নাম সাদুল্লাহ ইবনে ঈসা ইবনে আমীর খান, যিনি সাদি জালাবি নামে প্রসিদ্ধ। তিনি দিয়ারে রুমের মুফতি ছিলেন। তাঁর রচনার মধ্যে বায়যাভী তাফসীরের ওপর হাশিয়া, হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইনায়া'-এর ওপর হাশিয়া এবং বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ ও গবেষণা রয়েছে। শামের হাফেজ বদর গাজ্জি আমেরি তাঁর সফরনামায় এবং তামীমী তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 'শাকাইকুন নুমানিয়া' থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ৯৪৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (তাঁর উক্তি: যায়লায়ি) তিনি হলেন ইমাম ফখরুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ উসমান ইবনে আলী, যিনি কানযুদ দাকাইকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাবয়ীনুল হাকাইক'-এর রচয়িতা। তিনি ৭০৫ হিজরিতে কায়রোতে আগমন করেন এবং ফতোয়া প্রদান, পাঠদান ও গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। মানুষ তাঁর দ্বারা অনেক উপকৃত হয়েছে এবং তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রসার ঘটিয়েছেন। তিনি ৭৪৩ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। (তাঁর উক্তি: এবং আকমাল) তিনি হলেন ইমাম মুহাক্কিক শাইখ আকমালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ আল-বাবারতী। তিনি ৭১০ হিজরির কিছুকাল পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু হাইয়ান এবং আসফাহানি থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি দালাসি এবং ইবনে আব্দুল হাদী থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী এক মহান আলেম ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَالْكَمَالِ وَابْنِ الْكَمَالِ، مَعَ تَحْقِيقَاتٍ سَنَحَ بِهَا الْبَالُ، وَتَلَقَّيْتهَا عَنْ فُحُولِ الرِّجَالِ
ــ
[رد المحتار] الْعَقْلِ، قَوِيَّ النَّفْسِ، عَظِيمَ الْهَيْبَةِ، أَخَذَ عَنْهُ الْعَلَّامَةُ السَّيِّدُ الشَّرِيفُ وَالْعَلَّامَةُ الْفَنَرِيُّ، وَعُرِضَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ فَامْتَنَعَ. لَهُ التَّفْسِيرُ وَشَرْحُ الْمَشَارِقِ وَشَرْحُ مُخْتَصَرِ ابْنِ الْحَاجِبِ. وَشَرْحُ عَقِيدَةِ الطُّوسِيِّ وَالْعِنَايَةُ شَرْحُ الْهِدَايَةِ وَشَرْحُ السِّرَاجِيَّةِ، وَشَرْحُ أَلْفِيَّةِ ابْنِ مُعْطِي، وَشَرْحُ الْمَنَارِ وَشَرْحُ تَلْخِيصِ الْمَعَانِي، وَالتَّقْرِيرُ شَرْحُ أُصُولِ الْبَزْدَوِيِّ، تُوُفِّيَ سَنَةَ (786) وَحَضَرَ جِنَازَتَهُ السُّلْطَانُ فَمَنْ دُونَهُ، وَدُفِنَ بالشَّيْخُونِيَّةِ فِي مِصْرَ (قَوْلُهُ: وَالْكَمَالِ) هُوَ الْإِمَامُ الْمُحَقِّقُ حَيْثُ أُطْلِقَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ السِّيوَاسِيُّ ثُمَّ السَّكَنْدَرِيُّ كَمَالُ الدِّينِ بْنُ الْهُمَامِ وُلِدَ تَقْرِيبًا سَنَةَ (790) وَتَفَقَّهَ بِالسَّرَّاجِ قَارِئِ الْهِدَايَةِ وَبِالْقَاضِي مُحِبِّ الدِّينِ بْنِ الشِّحْنَةِ، لَمْ يُوجَدْ مِثْلُهُ فِي التَّحْقِيقِ، وَكَانَ يَقُولُ أَنَا لَا أُقَلِّدُ فِي الْمَعْقُولَاتِ أَحَدًا. وَقَالَ الْبُرْهَانُ الْأَبْنَاسِيُّ وَكَأَنَّهُ مِنْ أَقْرَانِهِ لَوْ طَلَبْت حُجَجَ الدِّينِ مَا كَانَ فِي بَلَدِنَا مَنْ يَقُومُ بِهَا غَيْرَهُ، وَكَانَ لَهُ نَصِيبٌ وَافِرٌ مِمَّا لِأَصْحَابِ الْأَحْوَالِ مِنْ الْكَشْفِ وَالْكَرَامَاتِ، وَكَانَ تَجَرَّدَ أَوَّلًا بِالْكُلِّيَّةِ، فَقَالَ لَهُ أَهْلُ الطَّرِيقِ ارْجِعْ، فَإِنَّ لِلنَّاسِ حَاجَةً بِعِلْمِك، وَكَانَ يَأْتِيهِ الْوَارِدُ كَمَا يَأْتِي السَّادَةَ الصُّوفِيَّةَ لَكِنَّهُ يُقْلِعُ عَنْهُ بِسُرْعَةِ لِمُخَالَطَتِهِ لِلنَّاسِ، وَشَرَحَ الْهِدَايَةَ شَرْحًا لَا نَظِيرَ لَهُ سَمَّاهُ فَتْحَ الْقَدِيرِ، وَصَلَ فِيهِ إلَى أَثْنَاءِ كِتَابِ الْوِكَالَةِ، وَلَهُ كِتَابُ التَّحْرِيرِ فِي الْأُصُولِ الَّذِي لَمْ يُؤَلَّفْ مِثْلُهُ وَشَرَحَهُ تِلْمِيذُهُ ابْنُ أَمِيرِ حَاجٍّ، وَلَهُ الْمُسَايَرَةُ فِي الْعَقَائِدِ، وَزَادُ الْفَقِيرِ فِي الْعِبَادَاتِ. تُوُفِّيَ بِالْقَاهِرَةِ سَنَةَ (861) وَحَضَرَ جِنَازَتَهُ السُّلْطَانُ فَمَنْ دُونَهُ كَمَا فِي طَبَقَاتِ التَّمِيمِيِّ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: وَابْنِ الْكَمَالِ) هُوَ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ كَمَالِ بَاشَا، الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلَّامَةُ الرُّحْلَةُ الْفَهَّامَةُ. كَانَ بَارِعًا فِي الْعُلُومِ، وَقَلَّمَا أَنْ يُوجَدَ فَنٌّ إلَّا وَلَهُ فِيهِ مُصَنَّفٌ أَوْ مُصَنَّفَاتٌ دَخَلَ إلَى الْقَاهِرَةِ صُحْبَةً لِلسُّلْطَانِ سَلِيمٍ لَمَّا أَخَذَهَا مِنْ يَدِ الْجَرَاكِسَةِ، وَشَهِدَ لَهُ أَهْلُهَا بِالْفَضْلِ وَالْإِتْقَانِ، وَلَهُ تَفْسِيرُ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ، وَحَوَاشٍ عَلَى الْكَشَّافِ وَحَوَاشٍ عَلَى أَوَائِلِ الْبَيْضَاوِيِّ وَشَرْحِ الْهِدَايَةِ لَمْ يَكْمُلْ وَالْإِصْلَاحُ وَالْإِيضَاحُ فِي الْفِقْهِ وَتَغْيِيرُ التَّنْقِيحِ فِي الْأُصُولِ وَشَرْحُهُ. وَتَغْيِيرُ السِّرَاجِيَّةِ فِي الْفَرَائِضِ وَشَرْحُهُ وَتَغْيِيرُ الْمِفْتَاحِ وَشَرْحُهُ وَحَوَاشِي التَّلْوِيحِ وَشَرْحُ الْمِفْتَاحِ، وَرَسَائِلُ كَثِيرَةٌ فِي فُنُونٍ عَدِيدَةٍ لَعَلَّهَا تَزِيدُ عَلَى ثَلَثِمِائَةِ رِسَالَةٍ، وَتَصَانِيفُ فِي الْفَارِسِيَّةِ وَتَارِيخُ آلِ عُثْمَانَ بِالتُّرْكِيَّةِ وَغَيْرُ ذَلِكَ، وَكَانَ فِي كَثْرَةِ التَّآلِيفِ وَالسُّرْعَةِ بِهَا وَسَعَةِ الِاطِّلَاعِ فِي الدِّيَارِ الرُّومِيَّةِ كَالْجَلَالِ السُّيُوطِيّ فِي الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ. وَعِنْدِي أَنَّهُ أَدَقُّ نَظَرًا مِنْ السُّيُوطِيّ وَأَحْسَنُ فَهْمًا، عَلَى أَنَّهُمَا كَانَا جَمَالَ ذَلِكَ الْعَصْرِ، وَلَمْ يَزَلْ مُفْتِيًا فِي دَارِ السَّلْطَنَةِ إلَى أَنْ تُوُفِّيَ سَنَةَ (940) . اهـ. تَمِيمِيٌّ مُلَخَّصًا (قَوْلهُ: مَعَ تَحْقِيقَاتٍ) حَالٌ مِنْ مَا حَرَّرَهُ: أَيْ مُصَاحِبًا مَا حَرَّرَهُ هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّةُ لِتَحْقِيقَاتٍ اهـ ح، وَالْمُرَادُ بِهَا حَلُّ الْمَعَانِي الْعَوِيصَةِ، وَدَفْعُ الْإِشْكَالَاتِ الْمُورَدَةِ عَلَى بَعْضِ الْمَسَائِلِ أَوْ عَلَى بَعْضِ الْعُلَمَاءِ، وَتَعْيِينُ الْمُرَادِ مِنْ الْعِبَارَاتِ الْمُحْتَمَلَةِ وَنَحْوُ ذَلِكَ وَإِلَّا فَذَاتُ الْفُرُوعِ الْفِقْهِيَّةِ لَا بُدَّ فِيهَا مِنْ النَّقْلِ عَنْ أَهْلِهَا. (قَوْلُهُ: سَنَحَ بِهَا الْبَالُ) فِي الْقَامُوسِ: سَنَحَ لِي رَأْيٌ كَمَنَعَ سُنُوحًا وَسَنْحًا وَسُنْحًا: عَرَضَ وَبِكَذَا عَرَّضَ وَلَمْ يُصَرِّحْ اهـ فَعَلَى الْأَوَّلِ هُوَ مِنْ بَابِ الْقَلْبِ مِثْلُ أَدْخَلْت الْقَلَنْسُوَةَ فِي رَأْسِي وَالْأَصْلُ سَنَحَتْ: أَيْ عَرَضَتْ بِالْبَالِ أَيْ فِي خَاطِرِي وَقَلْبِي، وَعَلَى الثَّانِي لَا قَلْبَ؛ وَالْمَعْنَى عَلَيْهِ أَنَّ قَلْبِي وَخَاطِرِي عَرَضَ بِهَا وَلَمْ يُصَرِّحْ، وَهَذَا مَا جَرَتْ عَلَيْهِ عَادَتُهُ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - مِنْ التَّعْرِيضِ بِالرُّمُوزِ الْخَفِيَّةِ كَمَا يُشِيرُ إلَيْهِ قَرِيبًا (قَوْلُهُ: وَتَلَقَّيْتهَا) أَيْ أَخَذْتهَا عَنْ أَشْيَاخِي عَنْ فُحُولِ الرِّجَالِ: أَيْ الرِّجَالِ الْفُحُولِ الْفَائِقِينَ عَلَى غَيْرِهِمْ. فِي الْقَامُوسِ: الْفَحْلُ الذَّكَرُ مِنْ كُلِّ حَيَوَانٍ، وَفُحُولُ الشُّعَرَاءِ الْغَالِبُونَ بِالْهِجَاءِ عَلَى مَنْ هَاجَاهُمْ. اهـ. قَالَ ح: وَأَوْرَدَ أَنَّ بَيْنَ الْجُمْلَتَيْنِ، تَنَافِيًا، فَإِنَّ الْبَالَ إذَا ابْتَكَرَ هَذِهِ التَّحْقِيقَاتِ جَمِيعَهَا فَكَيْفَ يَكُونُ مُتَلَقِّيًا لَهَا جَمِيعَهَا عَنْ فُحُولِ الرِّجَالِ؟ وَقَدْ يُجَابُ بِأَنَّهُ عَلَى تَقْدِيرِ مُضَافٍ: أَيْ سَنَحَ بِبَعْضِهَا الْبَالُ وَتَلَقَّيْت بَعْضَهَا عَنْ فُحُولِ الرِّجَالِ اهـ أَيْ فَهُوَ عَلَى حَدِّ
আল-কামাল এবং ইবনুল কামালের (রচনাবলি), সেই সাথে এমন সব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যা মনে উদিত হয়েছে এবং যা আমি প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে লাভ করেছি।
—
[রাদ্দুল মুহতার] প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, সুদৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। আল্লামা আস-সাইয়্যিদ আশ-শরীফ এবং আল্লামা আল-ফানারী তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর কাছে বিচারপতির দায়িত্ব পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে তাফসীর, শারহুল মাশারিক, শারহু মুখতাসারি ইবনিল হাজিব, শারহু আক্বীদাতি তুসী, আল-ইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ, শারহুস সিরাজিয়্যাহ, শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মু’তি, শারহুল মানার, শারহু তালখিসিল মা’আনী এবং আল-তাকরির শারহু উসূলিল বাযদাভী। তিনি ৭৮৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। সুলতানসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করেন এবং মিসরের শায়খুনিইয়াহ নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। (তাঁর কথা: ‘এবং আল-কামাল’): তিনি হলেন ইমাম আল-মুহাক্কিক (যাচাই-বাছাইকারী ইমাম), যাকে সাধারণত এই নামে অভিহিত করা হয়; তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল হামীদ আস-সিওয়াসী, অতঃপর আস-সাকান্দারী, কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম। তাঁর জন্ম আনুমানিক ৭৯০ হিজরিতে। তিনি সাররাজ কারী আল-হিদায়াহ এবং কাজী মুহিব্বুদ্দীন ইবনুশ শিহনার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না। তিনি বলতেন, “বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে আমি কারও অন্ধ অনুকরণ করি না।” বুরহান আল-আবনাসী, যিনি সম্ভবত তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, তিনি বলেন: “যদি আপনি দ্বীনের প্রামাণ্য দলিল অনুসন্ধান করেন, তবে আমাদের শহরে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না যে তা সম্পন্ন করতে পারত।” আধ্যাত্মিক সাধকদের মতো কাশফ ও কারামতের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অংশ ছিল। শুরুতে তিনি জাগতিক সবকিছু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তখন সুফি পন্থার অনুসারীরা তাঁকে বলেন: “আপনি মানুষের কাছে ফিরে যান, কারণ মানুষের জন্য আপনার জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে।” তাঁর অন্তরে আধ্যাত্মিক ভাবধারা জাগ্রত হতো যেভাবে সুফি মাশায়েখদের হতো, কিন্তু মানুষের সাথে মেলামেশার কারণে তা দ্রুত কেটে যেত। তিনি হিদায়াহর এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যার কোনো নজির নেই, যার নাম দিয়েছেন ‘ফাতহুল কাদীর’। তিনি এতে ‘কিতাবুল ওকালা’ (প্রতিনিধিত্ব অধ্যায়) এর মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। উসূল শাস্ত্রের ওপর তাঁর ‘আত-তাহরীর’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যার সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি এবং তাঁর ছাত্র ইবনু আমীর হাজ্জ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। এছাড়াও আকিদা শাস্ত্রে তাঁর ‘আল-মুসাইয়ারা’ এবং ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়ে ‘যাদুল ফাকীর’ নামক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৮৬১ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। সুলতানসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, যেমনটি তামীমীর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। (তাঁর কথা: ‘এবং ইবনুল কামাল’): তিনি হলেন আহমদ বিন সুলাইমান বিন কামাল পাশা; ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত এবং প্রখর ধীসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি সকল বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। এমন কোনো শাস্ত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যাতে তাঁর এক বা একাধিক রচনা নেই। সুলতান সেলিমের সাথে তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন যখন সুলতান এটি সারকাসীয়দের নিকট থেকে দখল করেন। কায়রোর অধিবাসীরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং নিখুঁত পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআনের তাফসীর, আল-কাশশাফের টীকা, বায়যাবীর প্রথমাংশের টীকা, হিদায়াহর অসমাপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-ইসলাহ ওয়াল ইদাহ’, উসূল শাস্ত্রের ‘তাগয়ীরুত তানকীহ’ ও তার ব্যাখ্যা। এছাড়াও ফারায়েয শাস্ত্রে ‘তাগয়ীরুস সিরাজিয়্যাহ’ ও তার ব্যাখ্যা, ‘তাগয়ীরুল মিফতাহ’ ও তার ব্যাখ্যা, তালবীহ-এর টীকা, মিফতাহ-এর ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য ছোট ছোট প্রবন্ধ রয়েছে যার সংখ্যা তিনশরও অধিক হতে পারে। এছাড়াও ফারসি ভাষায় তাঁর কিছু রচনা এবং তুর্কি ভাষায় উসমানীয় বংশের ইতিহাস রয়েছে। উসমানীয় ভূখণ্ডে অধিক গ্রন্থ রচনা, দ্রুত লিখন এবং জ্ঞানের গভীরতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মিসরীয় ভূখণ্ডের জালালুদ্দীন সুয়ূতীর মতো। তবে আমার মতে, তিনি সুয়ূতী অপেক্ষা সূক্ষ্মদর্শী এবং উত্তম বোধসম্পন্ন ছিলেন। যদিও তাঁরা উভয়েই সেই যুগের সৌন্দর্য ছিলেন। তিনি উসমানীয় রাজধানীতে আমৃত্যু মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ৯৪০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তামীমীর বক্তব্য সংক্ষেপে শেষ হলো। (তাঁর কথা: ‘গবেষণালব্ধ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণসহ’): এটি ‘মা হাররারাহু’ (যা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন) থেকে ‘হাল’ (অবস্থা) হয়েছে। অর্থাৎ, এই ইমামগণ যা লিপিবদ্ধ করেছেন তার সাথে সাথে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণও যুক্ত রয়েছে। ‘হ’ (আল-হামাভী) এর বক্তব্য শেষ হলো। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—দুর্ভেদ্য অর্থসমূহের সমাধান, কোনো কোনো মাসআলা বা কোনো কোনো আলেমের ওপর আনীত আপত্তিসমূহের খণ্ডন এবং অস্পষ্ট বা একাধিক অর্থবোধক বাক্যসমূহের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা ইত্যাদি। অন্যথায়, ফিকহি শাখা-প্রশাখাসমূহ অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের নিকট থেকে বর্ণনার ভিত্তিতে হতে হয়। (তাঁর কথা: ‘যা মনে উদিত হয়েছে’): ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে আছে: “আমার মনে একটি মতামত উদিত হয়েছে”—এটি ‘মানায়া’ এর ওজনে ‘সুনূহ’, ‘সানহ’ বা ‘সুনহ’ অর্থ উপস্থাপিত হওয়া। আবার এর মাধ্যমে ইঙ্গিতও করা হয়, যা সরাসরি ব্যক্ত করা হয় না। প্রথম অর্থানুসারে এটি ‘কালব’ বা পদের পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত; যেমন: “আমি আমার মাথায় টুপি প্রবেশ করিয়েছি” (অথবা টুপিতে মাথা)। আসলে এর মূল হলো ‘সানাহাত’ অর্থাৎ আমার মনে বা অন্তরে তা উদিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় অর্থানুসারে এখানে কোনো পদের পরিবর্তন নেই; তখন অর্থ হবে আমার হৃদয় ও মন তা উপস্থাপন করেছে এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেনি। আর এটাই তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বলতেন, যার দিকে তিনি শীঘ্রই ইশারা করবেন। (তাঁর কথা: ‘এবং যা আমি লাভ করেছি’): অর্থাৎ যা আমি আমার উস্তাদদের নিকট থেকে এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছি। ‘ফুহুলুর রিজাল’ অর্থ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ যারা অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে আছে: ‘ফাহল’ বলতে যে কোনো প্রাণীর পুরুষকে বোঝায়। আর কবিদের মধ্যে ‘ফাহল’ হলেন তারা যারা নিন্দামূলক কবিতায় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর জয়লাভ করেন। ‘হ’ (আল-হামাভী) বলেন: প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে যে, এই দুটি বাক্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে; কারণ যখন এই সব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ মন থেকে উদ্ভাবিত হয়, তখন সেগুলো আবার কীভাবে অন্য প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে লাভ করা হতে পারে? এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, এখানে একটি উহ্য শব্দ রয়েছে; অর্থাৎ: “যার কিছু অংশ মনে উদিত হয়েছে এবং কিছু অংশ আমি প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে লাভ করেছি।” অর্থাৎ এটি এই পর্যায়ের যে—
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَيَأْبَى اللَّهُ الْعِصْمَةَ لِكِتَابٍ غَيْرَ كِتَابِهِ، وَالْمُنْصِفُ مَنْ اغْتَفَرَ قَلِيلَ خَطَأِ الْمَرْءِ فِي كَثِيرِ صَوَابِهِ، وَمَعَ هَذَا فَمَنْ أَتْقَنَ كِتَابِي هَذَا فَهُوَ الْفَقِيهُ الْمَاهِرُ، وَمَنْ ظَفَرَ بِمَا فِيهِ، فَسَيَقُولُ بِمِلْءِ فِيهِ: كَمْ تَرَكَ الْأَوَّلُ لِلْآخِرِ
ــ
[رد المحتار] قَوْله تَعَالَى - {وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ} [فاطر: 27]- (قَوْلُهُ: وَيَأْبَى اللَّهُ الْعِصْمَةَ إلَخْ) أَبَى الشَّيْءَ يَأْبَاهُ وَيَأْبِيهِ إبَاءً وَإِبَاءَةً بِكَسْرِهِمَا كَرِهَهُ قَامُوسٌ. وَهَذَا اعْتِذَارٌ مِنْهُ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: أَيْ إنَّ هَذَا الْكِتَابَ وَإِنْ كَانَ مُشْتَمِلًا عَلَى مَا حَرَّرَهُ الْمُتَأَخِّرُونَ وَعَلَى التَّحْقِيقَاتِ الْمَذْكُورَةِ لَكِنَّهُ غَيْرُ مَعْصُومٍ. أَيْ غَيْرُ مَمْنُوعٍ مِنْ وُقُوعِ الْخَطَأِ وَالسَّهْوِ فِيهِ. فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَرْضَ، أَوْ لَمْ يُقَدِّرْ الْعِصْمَةَ لِكِتَابٍ غَيْرِ كِتَابِهِ الْعَزِيزِ الَّذِي قَالَ فِيهِ - {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ} [فصلت: 42]- فَغَيْرُهُ مِنْ الْكُتُبِ قَدْ يَقَعُ فِيهِ الْخَطَأُ وَالزَّلَلُ، لِأَنَّهَا مِنْ تَآلِيفِ الْبَشَرِ وَالْخَطَأُ وَالزَّلَلُ مِنْ شِعَارِهِمْ. [تَنْبِيهٌ] قَالَ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ عَبْدُ الْعَزِيزِ النَّجَّارِيُّ فِي شَرْحِهِ عَلَى أُصُولِ الْإِمَامِ الْبَزْدَوِيِّ مَا نَصُّهُ: رَوَى الْبُوَيْطِيُّ عَنْ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنهما أَنَّهُ قَالَ لَهُ: إنِّي صَنَّفْت هَذِهِ الْكُتُبَ فَلَمْ آلُ فِيهَا الصَّوَابَ. وَلَا بُدَّ أَنْ يُوجَدَ فِيهَا مَا يُخَالِفُ، كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةَ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُ تَعَالَى - {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82]- فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهَا مِمَّا يُخَالِفُ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةَ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي رَاجِعٌ عَنْهُ إلَى كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُزَنِيّ: قَرَأْت كِتَابَ الرِّسَالَةِ عَلَى الشَّافِعِيِّ ثَمَانِينَ مَرَّةً، فَمَا مِنْ مَرَّةٍ إلَّا وَكَانَ يَقِفُ عَلَى خَطَأٍ. فَقَالَ الشَّافِعِيُّ: هِيهِ، أَبَى اللَّهُ أَنْ يَكُونَ كِتَابًا صَحِيحًا غَيْرَ كِتَابِهِ. اهـ. (قَوْلُهُ: قَلِيلَ. خَطَأِ الْمَرْءِ) أَيْ خَطَأَ الْمَرْءِ الْقَلِيلِ. فَهُوَ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ لِلْمَوْصُوفِ. وَعَبَّرَ بِالْخَطَأِ إشَارَةً إلَى أَنَّ ذَلِكَ وَاقِعٌ لَا عَنْ اخْتِيَارٍ. فَالْإِثْمُ مَرْفُوعٌ وَالثَّوَابُ ثَابِتٌ ط (قَوْلُهُ: فِي كَثِيرِ صَوَابِهِ) مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفٍ حَالٌ مِنْ الْخَطَأِ: أَيْ الْخَطَأَ الْقَلِيلَ كَائِنًا فِي أَثْنَاءِ الصَّوَابِ الْكَثِيرِ أَوْ بِاغْتَفَرَ. وَفِي بِمَعْنَى مَعَ. أَوْ لِلتَّعْلِيلِ أَفَادَهُ ط. وَلَا يَخْفَى مَا فِي الْجَمْعِ بَيْنَ قَلِيلٍ وَكَثِيرٍ وَخَطَإٍ وَصَوَابٍ مِنْ الطِّبَاقِ (قَوْلُهُ: وَمَعَ هَذَا) أَيْ مَعَ مَا حَوَاهُ مِنْ التَّحْرِيرَاتِ وَالتَّحْقِيقَاتِ. اهـ. ح. قُلْت: وَالْأَوْلَى جَعْلُهُ مُرْتَبِطًا بِقَوْلِهِ وَيَأْبَى اللَّهُ. أَيْ مَعَ كَوْنِهِ غَيْرَ مَحْفُوظٍ مِنْ الْخَلَلِ فَمَنْ أَتْقَنَهُ كَمَا تَقُولُ فُلَانٌ بَخِيلٌ وَمَعَ ذَلِكَ فَهُوَ أَحْسَنُ حَالًا مِنْ فُلَانٍ ط (قَوْلُهُ: فَهُوَ الْفَقِيهُ) الْجُمْلَةُ خَبَرٌ مَنْ قُرِنَتْ بِالْفَاءِ لِعُمُومِ الْمُبْتَدَأِ فَأَشْبَهَ الشَّرْطَ. وَالْمُرَادُ بِالْفَقِيهِ مَنْ يَحْفَظُ الْفُرُوعَ الْفِقْهِيَّةَ وَيَصِيرُ لَهُ إدْرَاكٌ فِي الْأَحْكَامِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِنَفْسِهِ وَغَيْرِهِ وَسَيَأْتِي الْكَلَامُ عَلَى مَعْنَى الْفِقْهِ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا ط (قَوْلُهُ: الْمَاهِرُ) أَيْ الْحَاذِقُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: وَمَنْ ظَفَرَ) فِي الْقَامُوسِ: الظَّفَرُ بِالتَّحْرِيكِ الْفَوْزُ بِالْمَطْلُوبِ ظَفَرَهُ وَظَفَرَ بِهِ وَعَلَيْهِ (قَوْلُهُ: بِمَا فِيهِ) أَيْ مِنْ التَّحْرِيرَاتِ وَالتَّحْقِيقَاتِ وَالْفُرُوعِ الْجَمَّةِ وَالْمَسَائِلِ الْمُهِمَّةِ (قَوْلُهُ: فَسَيَقُولُ) أَتَى بِسِينِ التَّنْفِيسِ لِأَنَّ ذَلِكَ يَكُونُ عِنْدَ السُّؤَالِ أَوْ لِلنَّاظِرَةِ مَعَ الْإِخْوَانِ غَالِبًا، أَوْ أَنَّهَا زَائِدَةٌ أَفَادَهُ ط أَوْ لِأَنَّهُ إنَّمَا يَكُونُ بَعْدَ اطِّلَاعِهِ عَلَى غَيْرِهِ مِنْ الْكُتُبِ الَّتِي حَرَّرَهَا غَيْرُهُ وَطَوَّلَهَا بِنَقْلِ الْأَقْوَالِ الْكَثِيرَةِ وَالتَّعْلِيلَاتِ الشَّهِيرَةِ، وَخِلَافِيَّاتِ الْمَذَاهِبِ وَالِاسْتِدْلَالَات مِنْ خُلُوِّهَا مِنْ تَكْثِيرِ الْفُرُوعِ وَالتَّعْوِيلِ عَلَى الْمُعْتَمَدِ مِنْهَا كَغَالِبِ شُرُوحِ الْهِدَايَةِ وَغَيْرِهَا. فَإِذَا اطَّلَعَ عَلَى ذَلِكَ عُلِمَ أَنَّ هَذَا الشَّرْحَ هُوَ الدُّرَّةُ الْفَرِيدَةُ الْجَامِعُ لِتِلْكَ الْأَوْصَافِ الْحَمِيدَةِ، وَلِذَا أَكَبَّ عَلَيْهِ أَهْلُ هَذَا الزَّمَانِ فِي جَمِيعِ الْبُلْدَانِ. (قَوْلُهُ: بِمِلْءِ فِيهِ) الْمِلْءُ بِالْكَسْرِ: اسْمُ مَا يَأْخُذُهُ الْإِنَاءُ إذَا امْتَلَأَ وَبِهَاءٍ هَيْئَةُ الِامْتِلَاءِ وَمَصْدَرُهُ مِلْءٌ قَامُوسٌ، وَفِيهِ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ حَيْثُ شَبَّهَ الْكَلَامَ الصَّرِيحَ الَّذِي يَسْتَحْسِنُهُ قَائِلُهُ وَيَرْتَضِيهِ، وَلَا يَتَحَاشَى عَنْ الْجَهْرِ بِهِ بِمَا يَمْلَأُ الْإِنَاءَ بِجَامِعِ بُلُوغِ كُلٍّ إلَى النِّهَايَةِ أَوْ مَكْنِيَّةٌ حَيْثُ شَبَّهَ الْفَمَ بِالْإِنَاءِ وَالْمِلْءُ تَخْيِيلٌ. وَهُوَ كِنَايَةٌ عَنْ الْإِتْيَانِ بِهَذَا الْقَوْلِ جَهْرًا بِلَا تَوَقُّفٍ وَلَا خَوْفٍ مِنْ تَكْذِيبِ طَاعِنٍ، وَبَيْنَ قَوْلِهِ فِيهِ وَفِيهِ الْجِنَاسُ التَّامُّ (قَوْلُهُ: كَمْ تَرَكَ الْأَوَّلُ لِلْآخِرِ) مَقُولُ الْقَوْلِ وَكَمْ خَبَرِيَّةٌ لِلتَّكْثِيرِ
আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের জন্য নির্ভুলতা (ইসমত) প্রদান করতে অস্বীকার করেছেন। ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তিনিই, যিনি কোনো ব্যক্তির অগাধ শুদ্ধতার মাঝে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করেন। তৎসত্ত্বেও, যে ব্যক্তি আমার এই কিতাবটি আয়ত্ত করবে, সে-ই সুদক্ষ ফকিহ। আর যে এতে যা আছে তা লাভে সফল হবে, সে পূর্ণ মুখে (দৃঢ়তার সাথে) বলবে: পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!
—
[রাদ্দুল মুহতার] আল্লাহ তাআলার বাণী— {আর পাহাড়ের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন রঙের পথ— সাদা ও লাল} [ফাতির: ২৭]— (তাঁর বাণী: "আল্লাহ নির্ভুলতা অস্বীকার করেছেন" ইত্যাদি) 'আবা' (أبى) শব্দটি কামুস অভিধান অনুযায়ী কোনো কিছুকে অপছন্দ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত লেখকের পক্ষ থেকে একটি ওজরখাহি (ক্ষমা প্রার্থনা): অর্থাৎ, এই কিতাবটি যদিও পরবর্তী ফকিহদের পরিমার্জিত বর্ণনা এবং উল্লিখিত গবেষণাসমূহ ধারণ করে, কিন্তু এটি নির্ভুল (মাসুম) নয়। অর্থাৎ, এতে ভুলভ্রান্তি বা বিচ্যুতি ঘটা অসম্ভব নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের জন্য নির্ভুলতা পছন্দ করেননি বা নির্ধারণ করেননি, যার ব্যাপারে তিনি বলেছেন— {তার কাছে বাতিল আসতে পারে না তার সামনে থেকেও নয়, তার পেছন থেকেও নয়} [ফুসসিলাত: ৪২]। সুতরাং অন্যান্য কিতাবে ভুল ও পদস্খলন ঘটা সম্ভব, কারণ সেগুলো মানুষের রচনা, আর ভুল ও বিচ্যুতি মানুষের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য। [সতর্কীকরণ] ইমাম আল্লামা আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জারি ইমাম বাজদাওয়ির উসুলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (কাশফুল আসরার)-এ বলেন: বুওয়াইতি ইমাম শাফিয়ি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে বলেছিলেন: "আমি এই কিতাবগুলো সংকলন করেছি এবং এতে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরতে কোনো ত্রুটি করিনি। তবে এতে অবশ্যই এমন কিছু পাওয়া যাবে যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর বিরোধী হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন— {যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ খুঁজে পেত} [নিসা: ৮২]। সুতরাং আমার কিতাবে যা কিছু আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর বিরোধী পাবে, তা থেকে আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসছি।" মুজানি বলেন: "আমি ইমাম শাফিয়ির নিকট 'রিসালা' কিতাবটি আশিবার পড়েছি, প্রতিবারই তিনি কোনো না কোনো ভুলের সম্মুখীন হতেন। তখন ইমাম শাফিয়ি বললেন: হায়! আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে সম্পূর্ণ সহিহ (নির্ভুল) করতে অস্বীকার করেছেন।" সমাপ্ত। (তাঁর বাণী: "ব্যক্তির সামান্য ভুল") অর্থাৎ ব্যক্তির ভুল যা পরিমাণে কম। এখানে গুণের সম্বন্ধ গুণের অধিকারীর (সিফাত-মাওসুফ) দিকে করা হয়েছে। 'ভুল' শব্দটি ব্যবহার করে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এটি অনিচ্ছাকৃত। সুতরাং এর কোনো গুনাহ নেই বরং সওয়াব সাব্যস্ত হবে। (তাহতাবি)। (তাঁর বাণী: "তার অনেক সঠিকের মাঝে") এটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যা ভুলের অবস্থা (হাল) বর্ণনা করছে: অর্থাৎ, অনেক সঠিকের মাঝে অবস্থিত সামান্য ভুল। অথবা এটি 'ক্ষমা করা' (ইগতিফার) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে 'ফি' (في) অব্যয়টি 'মাআ' (সাথে) বা কারণ দর্শানো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; এটি তাহতাবি উল্লেখ করেছেন। আর 'সামান্য' ও 'অধিক' এবং 'ভুল' ও 'সঠিক' শব্দগুলোর সমাবেশের মধ্যে যে বৈপরীত্য অলংকার (তিবাক) রয়েছে তা সুস্পষ্ট। (তাঁর বাণী: "তৎসত্ত্বেও") অর্থাৎ এতে থাকা পরিমার্জন ও সূক্ষ্ম গবেষণাসমূহ থাকা সত্ত্বেও। (ইমাম হাসকাফি)। আমি (ইবনে আবিদিন) বলি: এটিকে 'আল্লাহ অস্বীকার করেছেন' বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করাই অধিকতর উত্তম। অর্থাৎ, ভুলত্রুটি থেকে সুরক্ষিত না হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এটি আয়ত্ত করবে... যেমন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি কৃপণ, তৎসত্ত্বেও সে অমুক ব্যক্তির চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। (তাহতাবি)। (তাঁর বাণী: "সে-ই ফকিহ") এই বাক্যটি 'মান' (যে)-এর সংবাদ (খবর), যা 'ফা' সহযোগে এসেছে কারণ মুক্তাদাটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ায় শর্তের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে। এখানে ফকিহ বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যিনি ফقهি শাখা-প্রশাখাগুলো মুখস্থ রাখেন এবং নিজের ও অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে তাঁর গভীর প্রজ্ঞা তৈরি হয়। ফিকহ শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ সামনে আলোচিত হবে। (তাহতাবি)। (তাঁর বাণী: "সুদক্ষ") কামুস অভিধান অনুযায়ী এর অর্থ নিপুণ। (তাঁর বাণী: "আর যে অর্জন করবে") কামুস অভিধানে আছে: 'জাফর' (ظفر) অর্থ কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভে সফল হওয়া। (তাঁর বাণী: "তাতে যা আছে") অর্থাৎ এতে বিদ্যমান সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, গভীর গবেষণা, অসংখ্য শাখা-প্রশাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ। (তাঁর বাণী: "সে শীঘ্রই বলবে") এখানে অদূর ভবিষ্যৎবোধক 'সিন' (س) অব্যয়টি ব্যবহার করা হয়েছে কারণ এটি সাধারণত কোনো প্রশ্নের সময় বা সমসাময়িকদের সাথে পর্যালোচনার সময় ঘটে থাকে। অথবা এটি অতিরিক্ত। এটি তাহতাবি উল্লেখ করেছেন। অথবা এর কারণ হলো, এটি তখনই ঘটবে যখন সে অন্যের সংকলিত কিতাবসমূহ দেখবে, যা অনেকে দীর্ঘ করেছেন প্রচুর বর্ণনা, প্রসিদ্ধ কারণ ও দলীল এবং মাযহাবগুলোর মধ্যকার মতভেদ উল্লেখ করে; কিন্তু সেগুলোতে ফقهি শাখা-প্রশাখার প্রাচুর্য নেই এবং নির্ভরযোগ্য মতের ওপর নির্ভর করা হয়নি, যেমনটি হিদায়ার অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা অন্যান্য কিতাবে দেখা যায়। যখন সে এগুলো সম্পর্কে জানবে, তখন সে বুঝতে পারবে যে, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (রাদ্দুল মুহতার) একটি অনন্য মুক্তা যা প্রশংসনীয় গুণাবলিকে ধারণ করে আছে। এই কারণেই বর্তমান সময়ের সকল দেশের মানুষ এর ওপর ঝুঁকে পড়েছে। (তাঁর বাণী: "পূর্ণ মুখে") 'মিল' (ملء) শব্দটি পাত্র পূর্ণ হওয়ার পর যতটুকু ধরে তাকে বলা হয়। এতে সুস্পষ্ট রূপক (ইস্তিয়ারা তাসরিহিয়্যাহ) ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে সুস্পষ্ট বক্তব্যকে, যা বক্তা পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট চিত্তে সংকোচহীনভাবে প্রকাশ করেন, তাকে পাত্রের পূর্ণতার সাথে তুলনা করা হয়েছে; উভয়ের শেষ সীমায় পৌঁছানোর সাদৃশ্যের কারণে। অথবা এটি উহ্য রূপক (ইস্তিয়ারা মাকনিয়্যাহ), যেখানে মুখকে পাত্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'পূর্ণতা' হলো তার কল্পনা। এটি মূলত কোনো দ্বিধা বা সমালোচকের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ভয় ছাড়াই উচ্চস্বরে এই কথাটি বলার একটি পরোক্ষ ভঙ্গি (কিনায়া)। আর তার ভাষায় 'তাতে' (ফিহি) এবং 'মুখে' (ফিহি) শব্দ দুটির মধ্যে পূর্ণ শব্দালংকার (জিনাস তাম) রয়েছে। (তাঁর বাণী: "পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন") এটি হলো বক্তব্যের মূল অংশ। এখানে 'কাম' (كم) শব্দটি আধিক্য বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَمَنْ حَصَّلَهُ فَقَدْ حَصَلَ لَهُ الْحَظُّ الْوَافِرُ، لِأَنَّهُ هُوَ الْبَحْرُ لَكِنْ بِلَا سَاحِلٍ، وَوَابِلُ الْقَطْرِ غَيْرَ أَنَّهُ مُتَوَاصِلٌ بِحُسْنِ عِبَارَاتٍ وَرَمْزِ إشَارَاتٍ وَتَنْقِيحِ مَعَانِي، وَتَحْرِيرِ مَبَانِي، وَلَيْسَ الْخَبَرُ كَالْعِيَانِ،
ــ
[رد المحتار] مَفْعُولُ تَرَكَ، وَالْمُرَادُ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ جِنْسُ مَنْ تَقَدَّمَ فِي الزَّمَنِ وَمَنْ تَأَخَّرَ، وَهَذَا فِي مَعْنَى مَا قَالَهُ ابْنُ مَالِكٍ فِي خُطْبَةِ التَّسْهِيلِ: وَإِذَا كَانَتْ الْعُلُومُ مِنَحًا إلَهِيَّةً، وَمَوَاهِبَ اخْتِصَاصِيَّةً فَغَيْرُ مُسْتَبْعَدٍ أَنْ يُدَّخَرَ لِبَعْضِ الْمُتَأَخِّرِينَ، مَا عَسِرَ عَلَى كَثِيرٍ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ. اهـ. وَأَنْتَ تَرَى كُتُبَ الْمُتَأَخِّرِينَ تَفُوقُ عَلَى كُتُبِ الْمُتَقَدِّمِينَ فِي الضَّبْطِ وَالِاخْتِصَارِ وَجَزَالَةِ الْأَلْفَاظِ وَجَمْعِ الْمَسَائِلِ، لِأَنَّ الْمُتَقَدِّمِينَ كَانَ مَصْرِفُ أَذْهَانِهِمْ إلَى اسْتِنْبَاطِ الْمَسَائِلِ وَتَقْوِيمِ الدَّلَائِلِ؛ فَالْعَالِمُ الْمُتَأَخِّرُ يَصْرِفُ ذِهْنَهُ إلَى تَنْقِيحِ مَا قَالُوهُ، وَتَبْيِينِ مَا أَجْمَلُوهُ، وَتَقْيِيدِ مَا أَطْلَقُوهُ، وَجَمْعِ مَا فَرَّقُوهُ، وَاخْتِصَارِ عِبَارَاتِهِمْ، وَبَيَانِ مَا اسْتَقَرَّ عَلَيْهِ الْأَمْرُ مِنْ اخْتِلَافَاتِهِمْ، فَهُوَ كَمَاشِطَةِ عَرُوسٍ رَبَّاهَا أَهْلُهَا حَتَّى صَلَحَتْ لِلزَّوَاجِ، تُزَيِّنُهَا وَتَعْرِضُهَا عَلَى الْأَزْوَاجِ، وَعَلَى كُلٍّ فَالْفَضْلُ لِلْأَوَائِلِ كَمَا قَالَ الْقَائِلُ:
كَالْبَحْرِ يَسْقِيهِ السَّحَابُ وَمَا لَهُ
… فَضْلٌ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ مِنْ مَائِهِ
نَعَمْ فَضْلُ الْمُتَأَخِّرِينَ عَلَى أَمْثَالِنَا مِنْ الْمُتَعَلِّمِينَ، رَحِمَ اللَّهُ الْجَمِيعَ وَشَكَرَ سَعْيَهُمْ آمِينَ (قَوْلُهُ: الْحَظُّ) أَيْ النَّصِيبُ، وَالْوَافِرُ: الْكَثِيرُ (قَوْلُهُ: لِأَنَّهُ) : تَعْلِيلٌ لِلْجُمَلِ الثَّلَاثَةِ قَبْلَهُ، وَالضَّمِيرُ يَرْجِعُ إلَى الْكِتَابِ ط (قَوْلُهُ: هُوَ الْبَحْرُ) تَشْبِيهٌ بَلِيغٌ أَوْ اسْتِعَارَةٌ (قَوْلُهُ: لَكِنْ بِلَا سَاحِلٍ) السَّاحِلُ رِيفُ الْبَحْرِ وَشَاطِئُهُ مَقْلُوبٌ، لِأَنَّ الْمَاءَ سَحَلَهُ وَكَانَ الْقِيَاسُ مَسْحُولًا قَامُوسٌ، وَإِذَا كَانَ لَا سَاحِلَ لَهُ فَهُوَ فِي غَايَةِ الِاتِّسَاعِ، لِأَنَّ نِهَايَةَ الْبَحْرِ سَاحِلُهُ، فَهُوَ مِنْ تَأْكِيدِ الْمَدْحِ بِمَا يُشْبِهُ الذَّمَّ حَيْثُ أَثْبَتَ صِفَةَ مَدْحٍ وَاسْتَثْنَى مِنْهَا صِفَةَ مَدْحٍ أُخْرَى نَحْوَ «أَنَا أَفْصَحُ الْعَرَبِ بَيْدَ أَنِّي مِنْ قُرَيْشٍ» ، وَهُوَ آكَدُ فِي الْمَدْحِ لِمَا فِيهِ مِنْ الْمَدْحِ عَلَى الْمَدْحِ وَالْإِشْعَارُ بِأَنَّهُ لَمْ يَجِدْ صِفَةَ ذَمٍّ يَسْتَثْنِيهَا فَاضْطَرَّ إلَى اسْتِثْنَاءِ صِفَةِ مَدْحٍ. وَلَهُ نَوْعٌ ثَانٍ: وَهُوَ أَنْ يَسْتَثْنِيَ مِنْ صِفَةِ ذَمٍّ مَنْفِيَّةٍ عَنْ الشَّيْءِ صِفَةَ مَدْحٍ، كَقَوْلِهِ:
وَلَا عَيْبَ فِيهِمْ غَيْرَ أَنَّ سُيُوفَهُمْ
… بِهِنَّ فُلُولٌ مِنْ قِرَاعِ الْكَتَائِبِ
أَيْ فِي حَدِّهِنَّ كَسْرٌ مِنْ مُضَارَبَةِ الْجُيُوشِ، وَهَذَا الثَّانِي أَبْلَغُ كَمَا بُيِّنَ فِي مَحَلِّهِ فَافْهَمْ. وَفِيهِ أَيْضًا مِنْ أَنْوَاعِ الْبَدِيعِ نَوْعٌ مِنْ أَنْوَاعِ الْمُبَالَغَةِ وَهُوَ الْإِغْرَاقُ، حَيْثُ وَصَفَ الْبَحْرَ بِمَا هُوَ مُمْكِنٌ عَقْلًا مُمْتَنِعٌ عَادَةً (قَوْلُهُ: وَوَابِلُ الْقَطْرِ) الْوَابِلُ: الْكَثِيرُ، وَهُوَ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ لِلْمَوْصُوفِ: أَيْ الْقَطْرُ الْوَابِلُ ط (قَوْلُهُ: غَيْرَ أَنَّهُ مُتَوَاصِلٌ) أَيْ تَوَاصُلًا نَافِعًا غَيْرَ مُفْسِدٍ بِقَرِينَةِ الْمَقَامِ وَإِلَّا كَانَ ذَمًّا، وَهَذَا أَيْضًا مِنْ تَأْكِيدِ الْمَدْحِ بِمَا يُشْبِهُ الذَّمَّ (قَوْلُهُ: بِحُسْنِ عِبَارَاتٍ) الْبَاءُ لِلتَّعْلِيلِ مِثْلُ - فَبِظُلْمٍ - أَوْ لِلْمُصَاحَبَةِ مِثْلُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ - أَوْ لِلْمُلَابَسَةِ وَهِيَ مُتَعَلِّقَةٌ بِالْبَحْرِ لِأَنَّهُ فِي مَعْنَى الْمُشْتَقِّ: أَيْ الْوَاسِعُ مِثْلُ حَاتِمٍ فِي قَوْمِهِ، وَمِثْلُ قَوْلِ الشَّاعِرِ:
أَسَدٌ عَلَيَّ وَفِي الْحُرُوبِ نَعَامَةٌ
لِتَأَوُّلِهِ بِكَرِيمٍ وَجَرِيءٍ أَوْ بِمَحْذُوفٍ حَالٌ مِنْ الضَّمِيرِ فِي لِأَنَّهُ أَوْ مِنْ كِتَابِي (قَوْلُهُ: وَرَمْزِ إشَارَاتٍ) هُمَا بِمَعْنًى وَاحِدٍ: وَهُوَ الْإِيمَاءُ بِالْعَيْنِ أَوْ الْيَدِ أَوْ نَحْوِهِمَا كَمَا فِي الْقَامُوسِ. فَكَأَنَّهُ أَرَادَ أَلْطَفَ أَنْوَاعِ الْإِيمَاءِ وَأَخْفَاهَا كَمَا سَيُصَرِّحُ بِهِ بَعْدُ بِقَوْلِهِ: مُعْتَمِدًا فِي دَفْعِ الْإِيرَادِ أَلْطَفَ الْإِشَارَةِ. (قَوْلُهُ: وَتَنْقِيحِ مَعَانِي) أَيْ تَهْذِيبِهَا وَتَنْقِيَتِهَا، وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى الْمَوْصُوفِ، وَمِثْلُهُ قَوْلُهُ: وَتَحْرِيرِ مَبَانِي. وَفِي الْقَامُوسِ: تَحْرِيرُ الْكِتَابِ وَغَيْرِهِ تَقْوِيمُهُ اهـ وَمَبَانِي الْكَلِمَاتِ: مَا تُبْنَى عَلَيْهِ مِنْ الْحُرُوفِ، وَالْمُرَادُ بِهَا الْأَلْفَاظُ وَالْعِبَارَاتُ، مِنْ إطْلَاقِ الْجُزْءِ عَلَى الْكُلِّ، وَفِي قَوْلِهِ الْمَعَانِي وَالْمَبَانِي مُرَاعَاةُ النَّظِيرِ: وَهُوَ الْجَمْعُ بَيْنَ أَمْرٍ وَمَا يُنَاسِبُهُ، لَا بِالتَّضَادِّ نَحْوَ - {الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ} [الرحمن: 5]- ثُمَّ الْمَوْجُودُ فِي النُّسَخِ رَسْمُهَا بِالْيَاءِ مَعَ أَنَّ الْقِيَاسَ حَذْفُهَا، وَالْوَقْفُ عَلَى النُّونِ سَاكِنَةً مِثْلُ {فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ} [طه: 72]- (قَوْلُهُ: وَلَيْسَ الْخَبَرُ كَالْعِيَانِ) بِكَسْرِ الْعَيْنِ: الْمُعَايَنَةِ وَالْمُشَاهَدَةِ وَهَذِهِ عِلَّةٌ لِمَحْذُوفٍ: أَيْ أَنَّ مَا قُلْته خَبَرٌ يَحْتَمِلُ
যে ব্যক্তি এটি অর্জন করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল। কারণ এটি তীরের কিনারা বিহীন এক সমুদ্রের মতো, এক অঝোর বৃষ্টি যা সুন্দর বাক্য, গূঢ় ইশারা, পরিমার্জিত অর্থ এবং সুবিন্যস্ত কাঠামোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঝরে পড়ছে। আর সংবাদ শ্রুতি প্রত্যক্ষ দর্শনের সমতুল্য নয়।
--
[রদ্দুল মুহতার] এটি 'তরাকা' (ছেড়ে দেওয়া) ক্রিয়ার কর্মপদ (মাফউল)। আর 'প্রথম' ও 'শেষ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সময়ানুক্রমিকভাবে যারা পূর্বে গত হয়েছেন এবং যারা পরে এসেছেন তাদের শ্রেণী। এটি ইবনে মালিক তাঁর 'আত-তাসহিল' গ্রন্থের ভূমিকায় যা বলেছেন তারই সমার্থবোধক: "যখন জ্ঞানসমূহ ঐশী দান এবং বিশেষ অনুগ্রহ হয়ে থাকে, তখন এটি অসম্ভব নয় যে, পরবর্তী যুগের কোনো ব্যক্তির জন্য এমন কিছু গচ্ছিত রাখা হয়েছে যা পূর্ববর্তী যুগের অনেক ব্যক্তির জন্য কঠিন ছিল।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আপনি দেখতে পাবেন যে, পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ যথার্থতা, সংক্ষিপ্ততা, শব্দশৈলী এবং মাসআলা সংগ্রহের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যুগের কিতাবসমূহের ওপর প্রাধান্য পায়। কারণ পূর্ববর্তী আলেমদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মাসআলা উদ্ভাবন এবং দলীলসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রতি। পক্ষান্তরে পরবর্তী যুগের আলেমগণ তাঁদের মনোযোগ ব্যয় করেন পূর্ববর্তীদের বক্তব্য পরিমার্জিত করতে, তাঁদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা বিশদ করতে, অস্পষ্ট বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করতে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করতে, তাঁদের বাক্যগুলোকে সংক্ষিপ্ত করতে এবং তাঁদের মতভেদের মাঝে কোন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে তা স্পষ্ট করতে। সুতরাং তিনি সেই কনের সজ্জাকারিণীর মতো যাকে তার পরিবার লালনপালন করে বিবাহের উপযুক্ত করেছে, আর সে তাকে সজ্জিত করে স্বামীদের সামনে উপস্থাপন করছে। তবে সব মিলিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ববর্তীদেরই জন্য, যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
এটি সমুদ্রের মতো যা মেঘমালাকে সিক্ত করে, কিন্তু সমুদ্রের ওপর মেঘমালার কোনো
… শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কারণ মেঘের পানি সমুদ্র থেকেই সংগৃহীত।
হ্যাঁ, আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরবর্তীদের অনেক অবদান রয়েছে। আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন এবং তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন। (উক্তি: ভাগ্য/অংশ) অর্থাৎ অংশ। আর 'ওয়াফির' মানে প্রচুর বা অধিক। (উক্তি: যেহেতু এটি): এটি আগের তিনটি বাক্যের কারণ বর্ণনা করছে। আর এই সর্বনামটি কিতাব বা গ্রন্থের দিকে ফিরছে (ত্বাহত্বাবী)। (উক্তি: তা সমুদ্র স্বরূপ): এটি একটি তশবিহে বালিগ বা রূপক অলঙ্কার। (উক্তি: কিন্তু তীর বিহীন): 'সাহিল' হলো সমুদ্রের তীর বা কিনারা। এটি 'সাহালা' (ঘর্ষণ করা) শব্দ থেকে আগত, কারণ পানি একে ক্ষয় করে। আর ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী এটি 'মাসহুল' হওয়ার কথা ছিল (কামুস)। যখন সমুদ্রের কোনো তীর থাকে না, তখন তা অত্যন্ত প্রশস্ত হয়, কারণ তীরের মাধ্যমেই সমুদ্রের সমাপ্তি ঘটে। এটি 'প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসাকে সুদৃঢ়করণ' (তাকিদুল মাদহি বিমা ইউশবিহুয যাম) অলঙ্কারের অন্তর্ভুক্ত; যেখানে একটি প্রশংসাসূচক গুণ সাব্যস্ত করার পর তার থেকে অন্য একটি প্রশংসাসূচক গুণের ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) দেখানো হয়। যেমন: "আমি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক বাকপটু, অধিকন্তু আমি কুরাইশ বংশীয়।" এটি প্রশংসার ক্ষেত্রে অধিক প্রভাবশালী, কারণ এতে প্রশংসার ওপর প্রশংসা রয়েছে এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, প্রশংসাকারী এমন কোনো দোষের গুণ খুঁজে পাননি যা দিয়ে তিনি ব্যতিক্রম করবেন, তাই তিনি প্রশংসাসূচক গুণের মাধ্যমেই ব্যতিক্রম করতে বাধ্য হয়েছেন। এর দ্বিতীয় একটি প্রকার আছে: যা হলো কোনো জিনিস থেকে অপসারিত কোনো দোষের গুণ থেকে প্রশংসার গুণের ব্যতিক্রম ঘটানো। যেমন কবির উক্তি:
তাদের মাঝে কোনো দোষ নেই কেবল এটি ছাড়া যে, তাদের তরবারিগুলোতে
… শত্রুবাহিনীর সাথে যুদ্ধের কারণে খাঁজ পড়ে গিয়েছে।
অর্থাৎ যুদ্ধের প্রচণ্ডতার কারণে তাদের তরবারির ধারে ভাঙন ধরেছে। এই দ্বিতীয় প্রকারটি অধিক অলঙ্কারপূর্ণ, যা অলঙ্কারশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি বুঝে নিন। এখানে বাদি' শাস্ত্রের অতিশয়োক্তি (মুবালগা) অলঙ্কারের একটি প্রকারও রয়েছে যা 'ইগরাক' নামে পরিচিত। যেখানে সমুদ্রকে এমন গুণ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে যা যুক্তিতে সম্ভব হলেও বাস্তবে বিরল। (উক্তি: অঝোর বৃষ্টিধারা): 'ওয়াবিল' অর্থ প্রচুর। এটি গুণের ইযাফত অর্থাৎ প্রচুর বর্ষণ (ত্বাহত্বাবী)। (উক্তি: তবে তা নিরবচ্ছিন্ন): অর্থাৎ এমন নিরবচ্ছিন্ন যা উপকারী, ধ্বংসাত্মক নয়। অন্যথায় এটি প্রশংসার বদলে নিন্দা হয়ে যেত। এটিও প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসাকে সুদৃঢ়করণের অন্তর্ভুক্ত। (উক্তি: সুন্দর বাক্যাবলীর মাধ্যমে): এখানে 'বা' বর্ণটি কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন - "অবিচারের কারণে" - অথবা সাহচর্য বা সাথে থাকার অর্থে, যেমন - "শান্তির সাথে অবতরণ করো" - অথবা এটি সংশ্লিষ্টতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এটি 'সমুদ্র' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত, কারণ সমুদ্র শব্দটি এখানে প্রশস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
সে আমার সামনে সিংহ, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে উটপাখি।
সিংহ দ্বারা বীরত্ব এবং উটপাখি দ্বারা ভীরুতা বোঝানোর কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। অথবা এটি উহ্য 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে 'লিআন্নাহু' এর ভেতরের সর্বনাম অথবা কিতাব থেকে এসেছে। (উক্তি: সংকেত ও ইশারা): উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত, যা হলো চোখ বা হাতের মাধ্যমে ইঙ্গিত করা (যেমন কামুস গ্রন্থে আছে)। যেন লেখক ইশারার সূক্ষ্মতম প্রকারটি উদ্দেশ্য করেছেন, যা তিনি পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে বলবেন: "আপত্তি নিরসনের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতম ইশারার ওপর নির্ভর করে।" (উক্তি: এবং অর্থের পরিমার্জন): অর্থাৎ সেগুলোকে সুন্দর ও স্বচ্ছ করা। এটিও গুণের ইযাফত হতে পারে। এর অনুরূপ হলো লেখকের উক্তি: "কাঠামোর বিন্যাস"। কামুস গ্রন্থে আছে: কিতাব বা অন্য কিছুর 'তাহরির' মানে হলো তাকে সুবিন্যস্ত করা। আর শব্দের 'মাবানি' বা কাঠামো হলো সেই বর্ণসমূহ যার ওপর শব্দ গঠিত হয়। এর দ্বারা শব্দ ও বাক্য উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। লেখকের উক্তি "অর্থ ও কাঠামো" এর মধ্যে 'মুরা'আতুন নাজির' (সাদৃশ্য রক্ষা) নামক অলঙ্কার রয়েছে। যা হলো এক বিষয়ের সাথে তার মানানসই অন্য বিষয়কে একত্রিত করা যা বিপরীতধর্মী নয়। যেমন - "সূর্য এবং চন্দ্র হিসাব অনুযায়ী চলে" [আর-রহমান: ৫]। এরপর বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে এটি 'ইয়া' সহকারে লেখা হয়েছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী তা বিলুপ্ত হওয়ার কথা এবং সাকিন যুক্ত 'নুন' এর ওপর বিরতি দেওয়ার কথা। যেমন - "তুমি যা ফয়সালা করার করো" [ত্বহা: ৭২]। (উক্তি: সংবাদ শ্রুতি প্রত্যক্ষ দর্শনের মতো নয়): এখানে 'আইন' বর্ণে কাসরা সহকারে এর অর্থ সরাসরি অবলোকন ও প্রত্যক্ষ করা। এটি একটি উহ্য বাক্যের কারণ, যার অর্থ: আমি যা বলেছি তা একটি সংবাদ যা সত্য-মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَسَتَقَرُّ بِهِ بَعْدَ التَّأَمُّلِ الْعَيْنَانِ، فَخُذْ مَا نَظَرْت مِنْ حُسْنِ رَوْضِهِ الْأَسْمَى، وَدَعْ مَا سَمِعْت عَنْ الْحُسْنِ وَسَلْمَى:
خُذْ مَا نَظَرْت وَدَعْ شَيْئًا سَمِعْت بِهِ
… فِي طَلْعَةِ الشَّمْسِ مَا يُغْنِيك عَنْ زُحَلَ
هَذَا وَقَدْ أَضْحَتْ أَعْرَاضُ الْمُصَنِّفِينَ أَغْرَاضَ سِهَامِ أَلْسِنَةِ الْحُسَّادِ، وَنَفَائِسُ تَصَانِيفِهِمْ
ــ
[رد المحتار] الصِّدْقَ وَالْكَذِبَ، وَبَعْدَ اطِّلَاعِك عَلَى التَّأْلِيفِ الْمَذْكُورِ تُعَايِنُ مَا ذَكَرْته لَك وَتَتَحَقَّقُهُ بِالْمُشَاهَدَةِ لِأَنَّ الْخَبَرَ لَيْسَ كَالْعِيَانِ أَفَادَهُ ط وَفِي هَذَا الْكَلَامِ اقْتِبَاسٌ مِمَّا رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ وَغَيْرُهُمَا مِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «لَيْسَ الْخَبَرُ كَالْمُعَايَنَةِ» وَهُوَ مِنْ جَوَامِعِ كَلِمِهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا فِي الْمَوَاهِبِ اللَّدُنِيَّةِ، وَتَضْمِينٌ لِقَوْلِ الشَّاعِرِ:
يَا ابْنَ الْكِرَامِ أَلَا تَدْنُو فَتُبْصِرَ مَا
… قَدْ حَدَّثُوك فَمَا رَاءٍ كَمَنْ سَمِعَا
(قَوْلُهُ: وَسَتُقِرُّ) الْقُرُّ: بِالضَّمِّ الْبَرْدُ، وَعَيْنُهُ تُقِرُّ بِالْكَسْرِ وَالْفَتْحِ قُرَّةً وَتُضَمُّ وَقَرُورًا بَرَدَتْ وَانْقَطَعَ بُكَاؤُهَا. أَوْ رَأَتْ مَا كَانَتْ مُتَشَوِّفَةً إلَيْهِ قَامُوسٌ، وَكَأَنَّهُ وَصَفَ الْعَيْنَ بِالْبُرُودَةِ، لِمَا قَالُوا مِنْ أَنَّ دَمْعَةَ السُّرُورِ بَارِدَةٌ وَدَمْعَةَ الْحُزْنِ حَارَّةٌ (قَوْلُهُ: بَعْدَ التَّأَمُّلِ) أَيْ التَّفَكُّرِ فِيهِ وَالتَّدَبُّرِ فِي مَعَانِيهِ ط (قَوْلُهُ: فَخُذْ) الْفَاءُ فَصِيحَةٌ: أَيْ إذَا كَانَ كَمَا وَصَفْتُهُ لَك أَوْ إذَا تَأَمَّلْتَهُ وَقَرَّتْ بِهِ عَيْنَاك فَخُذْ إلَخْ. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّهُ مِنْ هُنَا إلَى قَوْلِهِ كَيْفَ لَا وَقَدْ يَسَّرَ اللَّهُ ابْتِدَاءَ تَبْيِيضِ إلَخْ سَاقِطٌ مِنْ كَثِيرٍ مِنْ النُّسَخِ، وَكَأَنَّهُ مِنْ إلْحَاقَاتِ الشَّارِحِ، فَمَا نُقِلَ مِنْ نُسْخَتِهِ قَبْلَ الْإِلْحَاقِ خَلَا عَنْ هَذِهِ الزِّيَادَةِ، وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ. (قَوْلُهُ: مِنْ حُسْنِ رَوْضِهِ) الْحُسْنُ الْجَمَالُ جَمْعُهُ مَحَاسِنُ عَلَى غَيْرِ قِيَاسٍ قَامُوسٌ. فَهُوَ اسْمٌ جَامِدٌ لَا صِفَةٌ فَالْإِضَافَةُ فِيهِ لَامِيَّةٌ فَافْهَمْ، وَالْأَسْمَى أَفْعَلُ تَفْضِيلٍ مِنْ السُّمُوِّ: أَيْ الْأَعْلَى مِنْ غَيْرِهِ. قَالَ ط: وَفِي الْكَلَامِ اسْتِعَارَةٌ شَبَّهَ عِبَارَتَهُ الْحَسَنَةَ بِالرَّوْضِ بِجَامِعِ النَّفَاسَةِ وَتَعَلُّقِ النُّفُوسِ بِكُلٍّ وَالْقَرِينَةُ إضَافَةُ الرَّوْضِ إلَى الضَّمِيرِ (قَوْلُهُ: عَنْ الْحُسْنِ) الظَّاهِرُ أَنَّهُ بِضَمِّ الْحَاءِ، فَالْمَعْنَى دَعْ الْحُسْنَ الصُّورِيَّ الْمَحْسُوسَ وَانْظُرْ إلَى حُسْنِ رَوْضِ هَذَا الشَّرْحِ الْأَعْلَى قَدْرًا. اهـ. ح (قَوْلُهُ: وَسَلْمَى) امْرَأَةٌ مِنْ مَعْشُوقَاتِ الْعَرَبِ الْمَشْهُورَاتِ كَلَيْلَى وَلُبْنَى وَسُعْدَى وَبُثَيْنَةَ وَمَيَّةَ وَعَزَّةَ، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِهَا الْمَعْنَى الْعَلَمِيَّ، وَإِنَّمَا الْمُرَادُ الْوَصْفِيُّ لِاشْتِهَارِهَا بِالْحُسْنِ كَاشْتِهَارِ حَاتِمٍ بِالْكَرْمِ، فَيُقَالُ فُلَانٌ حَاتِمٌ بِمَعْنَى كَرِيمٍ، فَالْمُرَادُ دَعْ الْجَمَالَ وَالْجَمِيلَ (قَوْلُهُ: فِي طَلْعَةِ) خَبَرٌ مُقَدَّمٌ وَمَا يُغْنِيك مُبْتَدَأٌ مُؤَخَّرٌ؛ وَالْمَعْنَى أَنَّ طَلْعَةَ الشَّمْسِ: أَيْ طُلُوعَهَا يَكْفِيكَ عَنْ نُورِ الْكَوْكَبِ الْمُسَمَّى بِزُحَلَ، نَزَّلَ كِتَابَهُ مَنْزِلَةَ الشَّمْسِ بِجَامِعِ الِاهْتِدَاءِ بِكُلٍّ، وَنَزَّلَ غَيْرَهُ مَنْزِلَةَ زُحَلَ، وَلَا شَكَّ أَنَّ نُورَ الشَّمْسِ وَالِاهْتِدَاءَ بِهِ لَا يَكُونُ لِغَيْرِهَا مِنْ الْكَوَاكِبِ، وَزُحَلُ أَحَدُ الْكَوَاكِبِ السَّيَّارَةِ الَّتِي هِيَ السَّبْعُ، جَمَعَهَا الشَّاعِرُ عَلَى تَرْتِيبِ السَّمَوَاتِ كُلُّ كَوْكَبٍ فِي سَمَاءٍ بِقَوْلِهِ:
زُحَلُ شَرَى مَرِّيخُهُ مِنْ شَمْسِهِ
… فَتَزَاهَرَتْ لِعُطَارِدَ الْأَقْمَارُ
ط (قَوْلُهُ: هَذَا) أَيْ خُذْ هَذَا الَّذِي ذَكَرْته، وَأَرَادَ بِهِ الِانْتِقَالَ عَنْ وَصْفِ الْكِتَابِ إلَى التَّنْبِيهِ عَلَى عَدَمِ الِاغْتِرَارِ بِمَا يُشَنِّعُ بِهِ حُسَّادُ الزَّمَانِ الْمُغَيِّرُونَ فِي وُجُوهِ الْحِسَانِ:
كَضَرَائِرِ الْحَسْنَاءِ قُلْنَ لِوَجْهِهَا
… حَسَدًا وَلُؤْمًا إنَّهُ لَدَمِيمُ
(قَوْلُهُ أَعْرَاضُ) جَمْعُ عِرْضٍ بِكَسْرِ الْعَيْنِ: مَحَلُّ الْمَدْحِ وَالذَّمِّ ط (قَوْلُهُ: أَغْرَاضَ) أَيْ كَالْأَغْرَاضِ خَبَرُ أَضْحَى فَهُوَ تَشْبِيهٌ بَلِيغٌ. وَالْأَغْرَاضُ: جَمْعُ غَرَضٍ، وَهُوَ الْهَدَفُ الَّذِي يُرْمَى بِالسِّهَامِ، فَكَمَا أَنَّ الْغَرَضَ يُرْمَى بِالسِّهَامِ كَذَلِكَ أَعْرَاضُ الْمُصَنِّفِينَ تُرْمَى بِالْقَوْلِ الْكَاذِبِ، وَشَاعَ اسْتِعْمَالُ الرَّمْيِ فِي نِسْبَةِ الْقَبَائِحِ كَمَا قَالَ تَعَالَى - {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ} [النور: 6]- {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ} [النور: 4]- وَبَيْنَ الْأَعْرَاضِ وَالْأَغْرَاضِ الْجِنَاسُ الْمُضَارِعُ ط، وَفِي تَشْبِيهِ الْكَلَامِ الْقَبِيحِ بِالسِّهَامِ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ الْقَرِينَةُ إضَافَتُهَا إلَى الْأَلْسِنَةِ وَالْجَامِعُ حُصُولُ الضَّرَرِ بِكُلٍّ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ إضَافَةِ الْمُشَبَّهِ بِهِ إلَى الْمُشَبَّهِ: أَيْ الْأَلْسِنَةُ الَّتِي هِيَ كَالسِّهَامِ، لَكِنَّ تَشْبِيهَ الْكَلَامِ بِالسِّهَامِ أَظْهَرُ مِنْ تَشْبِيهِ الْأَلْسِنَةِ بِهَا تَأَمَّلْ. (قَوْلُهُ: وَنَفَائِسُ تَصَانِيفِهِمْ وَإِلَخْ) النَّفَائِسُ جَمْعُ نَفِيسَةٍ، يُقَالُ: شَيْءٌ نَفِيسٌ أَيْ يُتَنَافَسُ فِيهِ وَيُرْغَبُ،
এবং গভীর চিন্তাভাবনার পর এতে চক্ষুদ্বয় প্রশান্ত হবে। সুতরাং তুমি যা স্বচক্ষে দেখেছ সেই সর্বোচ্চ উদ্যানের সৌন্দর্য গ্রহণ করো, আর সৌন্দর্য (হুসন) ও সালমা সম্পর্কে যা শুনেছ তা বর্জন করো:
যা তুমি দেখেছ তা গ্রহণ করো এবং যা শুনেছ তা বর্জন করো
… সূর্যোদয়ের মাঝে এমন কিছু আছে যা তোমাকে শনি গ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।
এটি এমন এক অবস্থায় যখন গ্রন্থকারদের সম্মান হিংসুকদের জিহ্বারূপী তীরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, এবং তাদের মূল্যবান রচনাবলী...
ــ
[রাদ্দ আল-মুহতার] সত্য ও মিথ্যা; আর উল্লেখিত রচনার ওপর অবগত হওয়ার পর আমি তোমার কাছে যা বর্ণনা করেছি তা তুমি প্রত্যক্ষ করবে এবং তা দর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে, কেননা সংবাদ লাভ চাক্ষুষ দেখার মতো নয়—এটি ‘তা’ (আল-তাতাওয়ী) বর্ণনা করেছেন। আর এই কথার মধ্যে আহমদ ও তাবারানি এবং অন্যান্যদের বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর ইক্তিরাস (উদ্ধৃতি) রয়েছে: "সংবাদ লাভ চাক্ষুষ দেখার মতো নয়।" এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী)-এর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে। এতে কবির বাণীর তদমীন (অন্তর্ভুক্তি) রয়েছে:
হে উচ্চবংশীয় সন্তান! তুমি কি নিকটে আসবে না যাতে তুমি তা দেখতে পাও যা
… তারা তোমাকে বলেছে? কারণ প্রত্যক্ষদর্শী শ্রবণকারীর মতো নয়।
(তাঁর বাণী: ‘ওয়াসাতুকিররু’): ‘কুর’ শব্দটি পেশ যোগে অর্থ হলো ঠান্ডা। এর ‘আইন’ বর্ণে যের ও জবর যোগে ‘কুররাহ’ (পেশ যোগেও হয়) ও ‘কারুর’ ক্রিয়ামূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ চোখ শীতল হওয়া এবং অশ্রু বন্ধ হওয়া। অথবা যা দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল তা দেখা—‘কামুস’। যেন তিনি চোখকে শীতলতার সাথে গুণান্বিত করেছেন, কারণ তারা বলেন যে, আনন্দের অশ্রু শীতল হয় আর দুঃখের অশ্রু উষ্ণ হয়। (তাঁর বাণী: ‘গভীর চিন্তাভাবনার পর’): অর্থাৎ এতে চিন্তা করা এবং এর অর্থের গভীরতা নিয়ে গবেষণা করার পর—‘তা’। (তাঁর বাণী: ‘সুতরাং গ্রহণ করো’): এখানে ‘ফা’ হলো ফা-ই ফাসিহা: অর্থাৎ বিষয়টি যদি তেমনই হয় যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, অথবা যদি তুমি এতে চিন্তা করো এবং এর দ্বারা তোমার চোখ জুড়ায়, তবে গ্রহণ করো ইত্যাদি। এরপর জেনে রাখো যে, এখান থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত "কিভাবে হবে না অথচ আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের সূচনা..." অংশটি অনেক অনুলিপিতে নেই। সম্ভবত এটি ভাষ্যকারের পরবর্তী সংযোজন। সুতরাং সংযোজনের আগের পাণ্ডুলিপি থেকে যা নকল করা হয়েছে তা এই অতিরিক্ত অংশ থেকে মুক্ত। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (তাঁর বাণী: ‘তার উদ্যানের সৌন্দর্য থেকে’): ‘হুসন’ অর্থ রূপ-লাবণ্য, এর বহুবচন হলো ‘মাহাসিন’ যা নিয়মের বহির্ভূত—‘কামুস’। এটি একটি জামিদ (অপরিবর্তনীয়) বিশেষ্য, গুণবাচক শব্দ নয়। সুতরাং এর ইজাফত (সম্বন্ধ) হলো লামিয়া, বিষয়টি বুঝে নাও। ‘আল-আসমা’ হলো ‘সুমু’ থেকে ইসমে তাফদিল, যার অর্থ অন্যের চেয়ে উচ্চতর। ‘তা’ বলেছেন: এই বাক্যে ইস্তিআরা (রূপক) রয়েছে; তিনি তাঁর সুন্দর ইবারত বা বর্ণনাকে উদ্যানের সাথে তুলনা করেছেন শ্রেষ্ঠত্ব এবং উভয়ের প্রতি মানুষের মনের আকর্ষণের কারণে। উদ্যানকে জমির বা সর্বনামের দিকে ইজাফত করাটি হলো এর লক্ষণ। (তাঁর বাণী: ‘সৌন্দর্য থেকে’): স্পষ্টত এটি হা-বর্ণে পেশ যোগে (হুসন); এর অর্থ হলো তুমি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাহ্যিক সৌন্দর্য পরিত্যাগ করো এবং এই শরহের বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের উদ্যানের সৌন্দর্যের দিকে তাকাও যা মর্যাদায় অতি উচ্চ।—হাশিয়া। (তাঁর বাণী: ‘সালমা’): তিনি আরবের বিখ্যাত প্রেমিকা নারীদের একজন, যেমন লায়লা, লুবনা, সু’দা, বুসাইনা, মাইয়্যা এবং আজ্জাহ। এখানে উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিবাচক নাম নয়, বরং গুণবাচক অর্থ উদ্দেশ্য; কারণ তিনি সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত যেমন হাতেম দাতা হিসেবে বিখ্যাত। যেমন বলা হয় অমুক ব্যক্তি হাতেম, অর্থাৎ সে দাতা। সুতরাং উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্য ও সুন্দরকে পরিত্যাগ করো। (তাঁর বাণী: ‘উদয়কালে’): এটি খবর মুকাদ্দাম (পূর্ববর্তী বিধেয়) এবং ‘যা তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে’ অংশটি মুক্তাদা মুয়াখখার (পরবর্তী উদ্দেশ্য)। এর অর্থ হলো সূর্যের উদয় হওয়া তোমাকে শনি নামক নক্ষত্রের আলো থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে। তিনি তাঁর কিতাবকে সূর্যের স্থানে এবং অন্যকে শনির স্থানে বসিয়েছেন উভয়ের মাধ্যমে পথনির্দেশ পাওয়ার কারণে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সূর্যের আলো এবং এর মাধ্যমে পথ পাওয়া অন্য কোনো নক্ষত্রের ক্ষেত্রে হয় না। শনি হলো সাতটি বিচরণশীল নক্ষত্রের একটি, যাকে কবি আসমানের ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি নক্ষত্র একেক আসমানে রয়েছে। তাঁর বাণী:
শনি তার মঙ্গলকে সূর্য থেকে ক্রয় করেছে
… ফলে বুধের জন্য চাঁদগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
‘তা’। (তাঁর বাণী: ‘এটি’): অর্থাৎ আমি যা উল্লেখ করেছি তা গ্রহণ করো। এর মাধ্যমে তিনি কিতাবের বর্ণনা থেকে সরে এসে সমসাময়িক হিংসুকদের কুৎসা রটনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার প্রতি সতর্ক করেছেন, যারা সুন্দরীদের চেহারা বিকৃত করে দেখায়:
যেমন সুন্দরীর সতীনরা তার চেহারা সম্পর্কে
… হিংসা ও নীচতাবশত বলে যে, এটি অত্যন্ত কুৎসিত।
(তাঁর বাণী: ‘সম্মানসমূহ’): এটি ‘ইরদ’ শব্দের বহুবচন আইন বর্ণে যের যোগে; এর অর্থ হলো প্রশংসা ও নিন্দার স্থান।—‘তা’। (তাঁর বাণী: ‘লক্ষ্যবস্তু’): অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর মতো, এটি ‘আদহা’-এর খবর, তাই এটি তাশবিহে বালিগ (নিখুঁত উপমা)। ‘আগরদ’ হলো ‘গরাদ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ এমন লক্ষ্য যা তীরের মাধ্যমে বিদ্ধ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুকে যেমন তীর দিয়ে বিদ্ধ করা হয়, তেমনি গ্রন্থকারদের সম্মানকে মিথ্যা কথার মাধ্যমে বিদ্ধ করা হয়। মন্দ বিষয়ের দিকে রূপকভাবে তীর নিক্ষেপের ব্যবহার প্রসিদ্ধ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন—{যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে} [আন-নূর: ৬]—{যারা সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে} [আন-নূর: ৪]। ‘আ’রাদ’ এবং ‘আগরদ’-এর মধ্যে জিনাসে মুদারি (এক প্রকার শব্দালঙ্কার) রয়েছে—‘তা’। মন্দ কথাকে তীরের সাথে তুলনা করার মধ্যে ইস্তিআরা তাসরিহিয়া (সুস্পষ্ট রূপক) রয়েছে, এর লক্ষণ হলো একে জিহ্বার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। উভয়ের মধ্যে মিল হলো ক্ষতির সৃষ্টি করা। এটিও সম্ভব যে এটি মুশাব্বাহ বিহি-কে মুশাব্বাহ-র দিকে ইজাফত করার অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ সেই জিহ্বা যা তীরের মতো। তবে কথাকে তীরের সাথে তুলনা করা জিহ্বাকে তীরের সাথে তুলনা করার চেয়ে বেশি স্পষ্ট। চিন্তা করো। (তাঁর বাণী: ‘এবং তাদের মূল্যবান রচনাবলী ইত্যাদি’): ‘নাফায়িস’ হলো ‘নাফিসাহ’ শব্দের বহুবচন। বলা হয়: মূল্যবান বস্তু, অর্থাৎ যাতে মানুষ প্রতিযোগিতা করে এবং আগ্রহী হয়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مُعَرَّضَةً بِأَيْدِيهِمْ تَنْتَهِبُ فَوَائِدَهَا ثُمَّ تَرْمِيهَا بِالْكَسَادِ:
أَخَا الْعِلْمِ لَا تَعْجَلْ بِعَيْبِ مُصَنِّفٍ
… وَلَمْ تَتَيَقَّنْ زَلَّةً مِنْهُ تَعْرِفُ
فَكَمْ أَفْسَدَ الرَّاوِي كَلَامًا بِعَقْلِهِ
… وَكَمْ حَرَّفَ الْأَقْوَالَ قَوْمٌ وَصَحَّفُوا
وَكَمْ نَاسِخٍ أَضْحَى لِمَعْنًى مُغَيِّرًا
… وَجَاءَ بِشَيْءٍ لَمْ يُرِدْهُ الْمُصَنِّفُ
وَمَا كَانَ قَصْدِي مِنْ هَذَا أَنْ يُدْرَجَ ذِكْرِي بَيْنَ الْمُحَرِّرِينَ. مِنْ الْمُصَنِّفِينَ وَالْمُؤَلِّفِينَ. بَلْ الْقَصْدُ رِيَاضُ الْقَرِيحَةِ وَحِفْظُ الْفُرُوعِ الصَّحِيحَةِ. مَعَ رَجَاءِ الْغُفْرَانِ. وَدُعَاءِ الْإِخْوَانِ، وَمَا عَلَيَّ
ــ
[رد المحتار] وَهُوَ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى الْمَوْصُوفِ مَرْفُوعٌ بِالْعَطْفِ عَلَى اسْمِ أَضْحَى أَوْ عَلَى الِابْتِدَائِيَّةِ وَالْوَاوُ لِلِاسْتِئْنَافِ أَوْ لِلْحَالِ، وَمُعَرَّضَةً بِتَشْدِيدِ الرَّاءِ مَنْصُوبٌ عَلَى أَنَّهُ خَبَرُ أَضْحَى أَوْ مَرْفُوعٌ عَلَى أَنَّهُ خَبَرُ الْمُبْتَدَأِ. وَبِأَيْدِيهِمْ مُتَعَلِّقٌ بِهِ: أَيْ مَنْصُوبَةً بِأَيْدِيهِمْ، مِنْ قَوْلِهِمْ: جَعَلْت الشَّيْءَ عُرْضَةً لَهُ: أَيْ نَصَبْته: أَوْ بِفَتْحِ الرَّاءِ مُخَفَّفَةً مِنْ أَعْرَضَ بِمَعْنَى أَظْهَرَ: أَيْ مُظْهَرَةً فِي أَيْدِيهِمْ وَالضَّمِيرُ لِلْحُسَّادِ، وَجُمْلَةُ تَنْتَهِبُ أَيْ الْحُسَّادُ بِالْبِنَاءِ لِلْمَعْلُومِ حَالِيَّةٌ أَوْ خَبَرٌ بَعْدَ خَبَرٍ أَوْ هِيَ الْخَبَرُ وَمُعَرَّضَةً حَالٌ. وَرَمْيُهَا بِالْكَسَادِ كِنَايَةٌ عَنْ هَجْرِهَا أَوْ ذَمِّهَا. وَالْمَعْنَى أَنَّ الْحُسَّادَ لَا يَسْتَغْنُونَ عَنْهَا بَلْ يَنْتَهِبُونَ فَوَائِدَهَا وَيَنْتَفِعُونَ بِهَا ثُمَّ يَذُمُّونَهَا وَيَقُولُونَ إنَّهَا سِلْعَةٌ كَاسِدَةٌ (قَوْلُهُ: أَخَا الْعِلْمِ) مُنَادَى عَلَى حَذْفِ أَدَاةِ النِّدَاءِ وَالْأَخُ: مِنْ النَّسَبِ وَالصِّدِّيقُ وَالصَّاحِبُ كَمَا فِي الْقَامُوسِ. وَالْمُرَادُ الْأَخِيرُ (قَوْلُهُ: بِعَيْبِ) مَصْدَرٌ مُضَافٌ إلَى مَفْعُولِهِ، وَإِنْ جُعِلَ الْعَيْبُ اسْمًا لِمَا يُوجِبُ الذَّمَّ فَهُوَ عَلَى تَقْدِيرِ مُضَافٍ: أَيْ بِذِكْرِ عَيْبٍ ط (قَوْلُهُ: مُصَنِّفٍ) بِكَسْرِ النُّونِ أَوْ بِفَتْحِهَا (قَوْلُهُ: وَلَمْ تَتَيَقَّنْ) جُمْلَةٌ حَالِيَّةٌ ط (قَوْلُهُ: مِنْهُ) مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفٍ صِفَةٌ لِزَلَّةٍ وَجُمْلَةُ تَعْرِفُ صِفَةٌ ثَانِيَةٌ أَوْ حَالٌ. أَوْ مِنْهُ مُتَعَلِّقٌ بِتَعْرِفُ وَالْجُمْلَةُ صِفَةٌ لِزَلَّةٍ (قَوْلُهُ: فَكَمْ) خَبَرِيَّةٌ لِلتَّكْثِيرِ فِي مَحَلِّ رَفْعٍ مُبْتَدَأٌ وَالْجُمْلَةُ بَعْدَهَا خَبَرٌ كَمَا هُوَ الْقَاعِدَةُ فِيمَا إذَا وَلِيَهَا فِعْلٌ مُتَعَدٍّ أَخَذَ مَفْعُولَهُ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: بِعَقْلِهِ) الْبَاءُ لِلْآلَةِ أَيْ أَنَّ عَقْلَهُ هُوَ الْآلَةُ فِي الْإِفْسَادِ ط (قَوْلُهُ: وَكَمْ حَرَّفَ) التَّحْرِيفُ التَّغْيِيرُ. وَالتَّصْحِيفُ: الْخَطَأُ فِي الصَّحِيفَةِ قَامُوسٌ. لَكِنْ فِي شَرْحِ أَلْفِيَّةِ الْعِرَاقِيِّ لِلْقَاضِي زَكَرِيَّا: التَّحْرِيفُ الْخَطَأُ فِي الْحُرُوفِ بِالشَّكْلِ. وَالتَّصْحِيفُ الْخَطَأُ فِيهَا بِالنُّقَطِ وَاللَّحْنُ: الْخَطَأُ فِي الْإِعْرَابِ اهـ. وَفِي تَعْرِيفَاتِ السَّيِّدِ: تَجْنِيسُ التَّحْرِيفِ هُوَ أَنْ يَكُونَ الِاخْتِلَافُ فِي الْهَيْئَةِ كَبُرْدٍ وَبَرْدٍ وَتَجْنِيسُ التَّصْحِيفِ أَنْ يَكُونَ الْفَارِقُ نُقْطَةً كَأَنْقَى وَأَلْقَى. اهـ. (قَوْلُهُ: أَضْحَى لِمَعْنًى مُغَيِّرًا) اللَّامُ فِي الْمَعْنَى زَائِدَةٌ لِلتَّقْوِيَةِ لِتَقَدُّمِ الْمَفْعُولِ عَلَى عَامِلِهِ مَعَ أَنَّ الْعَامِلَ مَحْمُولٌ عَلَى الْفِعْلِ فَضَعُفَ عَنْ الْمَعْمُولِ وَتَغْيِيرِ النَّاسِخِ الْمَعْنَى بِسَبَبِ تَغْيِيرِهِ الْأَلْفَاظَ وَجُمْلَةُ وَجَاءَ إلَخْ مُؤَكِّدَةٌ، وَهَذَا مَعْنَى مَا يُقَالُ النَّاسِخُ عَدُوُّ الْمُؤَلِّفِ (قَوْلُهُ: مِنْ هَذَا) أَيْ التَّأْلِيفِ (قَوْلُهُ: أَنْ يُدْرَجَ) أَيْ يَجْرِيَ. وَفِي الْقَامُوسِ: دَرَجَتْ الرِّيحُ بِالْحَصَى أَيْ جَرَتْ عَلَيْهِ جَرْيًا شَدِيدًا (قَوْلُهُ: مِنْ الْمُصَنِّفِينَ وَالْمُؤَلِّفِينَ) التَّأْلِيفُ: جَعْلُ الْأَشْيَاءِ الْكَثِيرَةِ بِحَيْثُ يُطْلَقُ عَلَيْهَا اسْمُ الْوَاحِدِ سَوَاءٌ كَانَ لِبَعْضِهَا نِسْبَةٌ إلَى بَعْضٍ بِالتَّقَدُّمِ وَالتَّأَخُّرِ أَوْ لَا. وَعَلَيْهِ فَيَكُونُ التَّأْلِيفُ أَعَمَّ مِنْ التَّرْتِيبِ اهـ تَعْرِيفَاتُ السَّيِّدِ. قِيلَ وَأَعَمُّ مِنْ التَّصْنِيفِ لِأَنَّهُ مُطْلَقُ الضَّمِّ، وَالتَّصْنِيفُ جَعْلُ كُلِّ صِنْفٍ عَلَى حِدَةٍ. وَقِيلَ الْمُؤَلِّفُ مَنْ يَجْمَعُ كَلَامَ غَيْرِهِ وَالْمُصَنِّفُ مَنْ يَجْمَعُ مُبْتَكَرَاتِ أَفْكَارِهِ، وَهُوَ مَعْنَى مَا قِيلَ وَاضِعُ الْعِلْمِ أَوْلَى بِاسْمِ الْمُصَنِّفِ مِنْ الْمُؤَلِّفِ (قَوْلُهُ: رِيَاضُ) فِي الْقَامُوسِ رَاضَ الْمُهْرَ رِيَاضًا وَرِيَاضَةً: ذَلِكَ اهـ وَمِنْهُ قَوْلُهُمْ مَسَائِلُ الرِّيَاضَةِ. قَالَ الشِّنْشَوْرِيِّ أَيْ الَّتِي تُرَوِّضُ الْفِكْرَ وَتُذَلِّلُهُ لِمَا فِيهَا مِنْ التَّمْرِينِ عَلَى الْعَمَلِ (قَوْلُهُ: الْقَرِيحَةِ) فِي الصِّحَاحِ: الْقَرِيحَةُ أَوَّلُ مَا يُسْتَنْبَطُ مِنْ الْبِئْرِ، وَمِنْهُ قَوْلُهُمْ لِفُلَانٍ قَرِيحَةٌ جَيِّدَةٌ: يُرَادُ اسْتِنْبَاطُ الْعِلْمِ بِجَوْدَةِ الطَّبْعِ. اهـ. وَالْمُرَادُ بِهَا هُنَا آلَةُ الِاسْتِنْبَاطِ: وَهِيَ الذِّهْنُ (قَوْلُهُ: وَدُعَاءِ) عَطْفٌ عَلَى الْغُفْرَانِ (قَوْلُهُ: وَمَا عَلَيَّ)
তাদের হাতে যা অর্পিত, তারা এর উপকারিতাগুলো লুটে নেয় এবং এরপর একে অচল বলে ছুঁড়ে ফেলে:
হে জ্ঞানের ভাই! কোনো গ্রন্থকারের ত্রুটি অন্বেষণে তাড়াহুড়ো করো না
… যতক্ষণ না তুমি তার এমন কোনো বিচ্যুতি সম্পর্কে নিশ্চিত হও যা তুমি চিনতে পারো।
কত বর্ণনাকারী নিজের বুদ্ধির প্যাঁচে পড়ে কথাকে কলুষিত করেছে
… আর কত জাতি বা গোষ্ঠী কথাকে বিকৃত ও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।
কত নকলনবিশ অর্থের পরিবর্তন ঘটিয়েছে
… এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা গ্রন্থকার ইচ্ছা করেননি।
আর আমার উদ্দেশ্য এটি ছিল না যে আমার নাম বিচক্ষণ গবেষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হোক, যারা গ্রন্থকার ও সংকলক। বরং উদ্দেশ্য হলো মেধার চর্চা এবং সঠিক শাখা-মাসয়ালাসমূহ সংরক্ষণ করা, সাথে সাথে ক্ষমা পাওয়ার আশা এবং ভাইদের দোয়া কামনা করা। আর আমার ওপর...
--
[রাদ্দুল মুহতার]আর এটি হলো মোসুফের দিকে সিফাতের ইজাফাত। এটি 'আদহা' এর ইসম এর ওপর আতাফ হওয়ার কারণে অথবা প্রারম্ভিক (মুবতাদা) হওয়ার কারণে মারফু। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি নতুন প্রসঙ্গের সূচনার জন্য অথবা হাল (অবস্থা) বোঝানোর জন্য এসেছে। 'মুআররাদাতান' শব্দটি 'রা' বর্ণে তাশদীদসহ 'আদহা' এর খবর হওয়ার কারণে মানসুব, অথবা মুবতাদার খবর হওয়ার কারণে মারফু। 'বি-আইদিহিম' শব্দাংশটি এর সাথে সম্পর্কিত: অর্থাৎ তাদের হাতের মাধ্যমে উপস্থাপিত। এটি তাদের কথা 'আমি বস্তুটিকে তার সামনে পেশ করেছি' (অর্থাৎ আমি একে স্থাপন করেছি) থেকে এসেছে। অথবা 'রা' বর্ণে তাশদীদ ছাড়া 'আ'রাদা' (প্রকাশ করা) ক্রিয়া থেকে এসেছে: অর্থাৎ তাদের হাতে প্রকাশিত। এখানে সর্বনামটি হিংসুকদের দিকে ফিরেছে। 'তান্তাহিবু' (তারা লুটে নেয়) বাক্যটি—অর্থাৎ হিংসুকরা—মারুফ (কর্তৃবাচ্য) হিসেবে 'হাল' হয়েছে অথবা খবরের পর খবর হয়েছে, অথবা এটিই মূল খবর এবং 'মুআররাদাতান' শব্দটি হাল। একে অচল বা মন্দ বলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া বলতে এটি বর্জন করা বা এর নিন্দা করাকে রূপকভাবে বোঝানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, হিংসুকরা এ থেকে অমুখাপেক্ষী নয়, বরং তারা এর উপকারিতাগুলো লুটে নেয় এবং এ থেকে উপকৃত হয়, এরপর এর নিন্দা করে এবং বলে যে এটি একটি অচল পণ্য। (গ্রন্থকারের উক্তি: হে জ্ঞানের ভাই) এখানে আহ্বানের অব্যয় উহ্য রেখে একে 'মুনাদা' করা হয়েছে। 'আখ' বা ভাই বলতে বংশীয় ভাই, বন্ধু বা সাথী হতে পারে, যেমনটি কামুস অভিধানে উল্লেখ আছে। তবে এখানে শেষোক্ত অর্থটিই উদ্দেশ্য। (গ্রন্থকারের উক্তি: ত্রুটি অন্বেষণে) এটি একটি মাসদার যা তার মাফউলের (কর্ম) দিকে ইজাফাত করা হয়েছে। আর যদি 'আইব' বলতে এমন কিছু বোঝানো হয় যা নিন্দার উদ্রেক করে, তবে এখানে একটি উহ্য শব্দ ধরে নিতে হবে: অর্থাৎ ত্রুটি উল্লেখ করার মাধ্যমে। (গ্রন্থকারের উক্তি: গ্রন্থকার) এখানে নুন বর্ণে কাসরা (যের) বা ফাতহা (যবর) উভয়ই হতে পারে। (গ্রন্থকারের উক্তি: যতক্ষণ না তুমি নিশ্চিত হও) এটি একটি হাল নির্দেশক বাক্য। (গ্রন্থকারের উক্তি: তার থেকে) এটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সম্পর্কিত যা 'জাল্লাত' (বিচ্যুতি) এর সিফাত। আর 'তা'রিফু' (তুমি চিনতে পারো) বাক্যটি দ্বিতীয় সিফাত অথবা হাল। অথবা 'মিনহু' অংশটি 'তা'রিফু' এর সাথে সম্পর্কিত এবং পুরো বাক্যটি 'জাল্লাত' এর সিফাত। (গ্রন্থকারের উক্তি: কত) এটি আধিক্য বোঝানোর জন্য খবরিয়া হিসেবে এসেছে যা মুবতাদা হওয়ার কারণে রাফার স্থানে রয়েছে এবং এর পরের বাক্যটি খবর, যেমনটি নিয়ম রয়েছে যখন এর পরে এমন ফে'লে মুতাআদ্দি (সকর্মক ক্রিয়া) আসে যা তার মাফউলকে গ্রহণ করেছে; বিষয়টি বুঝে নাও। (গ্রন্থকারের উক্তি: নিজের বুদ্ধির দ্বারা) এখানে 'বা' (ب) অব্যয়টি যন্ত্র বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তার বুদ্ধিই হলো এই কলুষিত করার মাধ্যম। (গ্রন্থকারের উক্তি: কত বিকৃত করেছে) তাহরিফ মানে পরিবর্তন করা। আর তাসহিফ মানে পাণ্ডুলিপি বা লিখিত কপিতে ভুল করা—কামুস। তবে কাজী জাকারিয়া কর্তৃক আলফিয়্যাতুল ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: তাহরিফ হলো অক্ষরের হরকতে (স্বরচিহ্নে) ভুল করা, আর তাসহিফ হলো অক্ষরের নুকতায় (বিন্দুতে) ভুল করা। আর 'লাহান' হলো ব্যাকরণিক বিন্যাসে (ইরাব) ভুল করা। সাইয়্যেদ (শরীফ জুরজানি) এর 'তারিফাত' গ্রন্থে রয়েছে: তাহরিফের প্রকার হলো আকৃতিতে পার্থক্য হওয়া, যেমন 'বুরদুন' ও 'বারদুন'। আর তাসহিফের প্রকার হলো পার্থক্যকারী বিষয়টি নুকতা হওয়া, যেমন 'আনকা' এবং 'আলকা'। (গ্রন্থকারের উক্তি: অর্থের পরিবর্তন ঘটিয়েছে) এখানে 'মা'না' (অর্থ) এর শুরুতে 'লাম' বর্ণটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে আমেলকে (ক্রিয়া) শক্তিশালী করার জন্য, যেহেতু মাফউল তার আমেলের পূর্বে চলে এসেছে; বিশেষ করে যখন আমেলটি ফে'লের সমগোত্রীয় হওয়ার কারণে মাফউলের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে। আর নকলনবিশের অর্থের পরিবর্তন ঘটে শব্দের পরিবর্তনের কারণে। 'ওয়া জা-আ' (এবং সে নিয়ে এসেছে) বাক্যটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য। এটিই সেই কথার অর্থ যেখানে বলা হয়: 'নকলনবিশ হলো লেখকের শত্রু'। (গ্রন্থকারের উক্তি: এ থেকে) অর্থাৎ এই সংকলন বা রচনা থেকে। (গ্রন্থকারের উক্তি: অন্তর্ভুক্ত হোক) অর্থাৎ অতিবাহিত হওয়া বা অন্তর্ভুক্ত হওয়া। কামুস-এ আছে: বাতাস নুড়িপাথর নিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, অর্থাৎ তার ওপর দিয়ে দ্রুত বয়ে গেছে। (গ্রন্থকারের উক্তি: গ্রন্থকার ও লেখকদের থেকে) 'তালিফ' বা সংকলন হলো অনেকগুলো বিষয়কে এমনভাবে একত্রিত করা যাতে তার ওপর একটি একক নাম প্রয়োগ করা যায়, চাই তাদের পরস্পরের মধ্যে অগ্র-পশ্চাৎ কোনো সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক। সেই হিসেবে তালিফ বিষয়টি তারতীব (বিন্যাস) অপেক্ষা সাধারণ বা ব্যাপক—সাইয়্যেদ জুরজানির তারিফাত। বলা হয় যে এটি তাসনিফ অপেক্ষাও ব্যাপক, কারণ তালিফ হলো কেবল একত্রিত করা, আর তাসনিফ হলো প্রতিটি প্রকারকে আলাদা আলাদা করা। আরও বলা হয় যে, মুআল্লিফ হলো সে যে অন্যের কথা একত্রিত করে, আর মুসান্নিফ হলো সে যে নিজের উদ্ভাবিত চিন্তাগুলোকে একত্রিত করে। এটিই সেই কথার অর্থ যা বলা হয় যে: বিজ্ঞানের উদ্ভাবক মুআল্লিফ অপেক্ষা মুসান্নিফ নাম পাওয়ার বেশি যোগ্য। (গ্রন্থকারের উক্তি: রিয়াদু) কামুস-এ আছে: 'রা-দাল মুহরা রিয়াদান ওয়া রিয়াদাতান' অর্থাৎ ঘোড়াকে পোষ মানানো। এখান থেকেই 'মাসায়েলুর রিয়াদাহ' (অনুশীলনের মাসয়ালা) কথাটি এসেছে। শিনশাওরি বলেন: অর্থাৎ যা চিন্তাকে প্রশিক্ষিত করে এবং একে অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্তে নিয়ে আসে। (গ্রন্থকারের উক্তি: মেধা) সিহাহ অভিধানে আছে: কূয়া থেকে প্রথম যে পানি আহরণ করা হয় তাকে কারিহাহ বলে। সেখান থেকেই বলা হয় 'অমুকের কারিহাহ চমৎকার', এর দ্বারা স্বাভাবিক মেধার উৎকর্ষের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণকে বোঝানো হয়। এখানে এর দ্বারা আহরণের মাধ্যম অর্থাৎ মেধা বা বুদ্ধি উদ্দেশ্য। (গ্রন্থকারের উক্তি: এবং দোয়া) এটি 'গুফরান' (ক্ষমা) শব্দের ওপর আতাফ হয়েছে। (গ্রন্থকারের উক্তি: আর আমার ওপর)
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مِنْ إعْرَاضِ الْحَاسِدِينَ عَنْهُ حَالَ حَيَاتِي فَسَيَتَلَقَّوْنَهُ بِالْقَبُولِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بَعْدَ وَفَاتِي، كَمَا قِيلَ:
تَرَى الْفَتَى يُنْكِرُ فَضْلَ الْفَتَى
… لُؤْمًا وَخُبْثًا فَإِذَا مَا ذَهَبْ
لَجَّ بِهِ الْحِرْصُ عَلَى نُكْتَةٍ
… يَكْتُبُهَا عَنْهُ بِمَاءِ الذَّهَبْ
فَهَاكَ مُؤَلِّفًا مُهَذِّبًا بِمُهِمَّاتِ هَذَا الْفَنِّ، مُظْهِرًا لِدَقَائِقَ اُسْتُعْمِلَتْ الْفِكَرُ فِيهَا إذَا مَا اللَّيْلُ جَنَّ، مُتَحَرِّيًا أَرْجَحَ الْأَقْوَالِ وَأَوْجَزَ الْعِبَارَةِ، مُعْتَمِدًا فِي دَفْعِ الْإِيرَادِ أَلْطَفَ الْإِشَارَةِ؛ فَرُبَّمَا خَالَفْت فِي حُكْمٍ أَوْ دَلِيلٍ
ــ
[رد المحتار] مَا نَافِيَةٌ وَعَلَيَّ خَبَرُ مُبْتَدَإٍ مَحْذُوفٍ: أَيْ وَمَا عَلَيَّ بَأْسٌ أَوْ مَا اسْتِفْهَامِيَّةٌ مُبْتَدَأٌ وَعَلَيَّ الْخَبَرُ (قَوْلُهُ: فَسَيَتَلَقَّوْنَهُ بِالْقَبُولِ) قَدْ حَقَّقَ الْمَوْلَى رَجَاهُ وَأَعْطَاهُ فَوْقَ مَا تَمَنَّاهُ، وَهُوَ دَلِيلُ صِدْقِهِ وَإِخْلَاصِهِ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - وَجَزَاهُ خَيْرًا (قَوْلُهُ: تَرَى الْفَتَى) رَأَى عِلْمِيَّةٌ وَالْفَتَى مَفْعُولٌ أَوَّلُ، وَهُوَ فِي الْأَصْلِ الشَّابُّ، وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا مُطْلَقُ الشَّخْصِ، وَجُمْلَةُ يُنْكِرُ مَفْعُولٌ ثَانٍ أَوْ بَصَرِيَّةٌ وَلَا يَرِدُ أَنَّ الْإِنْكَارَ مِمَّا لَا يُدْرَكُ بِالْبَصَرِ لِأَنَّهُ قَدْ تُدْرَكُ أَمَارَاتُهُ، عَلَى أَنَّهُ إذَا جُعِلَتْ بَصَرِيَّةً فَجُمْلَةُ يُنْكِرُ حَالٌ لَا مَفْعُولَ لَهَا حَتَّى يَرِدَ ذَلِكَ فَافْهَمْ (قَوْلُهُ: لُؤْمًا) مَهْمُوزُ الْعَيْنِ مَفْعُولٌ لِأَجْلِهِ (قَوْلُهُ: مَا ذَهَبَ) أَيْ مَاتَ، وَالْقَاعِدَةُ أَنَّ مَا بَعْدَ إذَا زَائِدَةٌ (قَوْلُهُ: لَجَّ) بِالْجِيمِ؛ مِنْ اللَّجَاجِ: وَهُوَ الْخُصُومَةُ كَمَا فِي الْقَامُوسِ اهـ ح وَضَمَّنَهُ مَعْنَى اشْتَدَّ فَعَدَّاهُ بِالْبَاءِ ط (قَوْلُهُ: الْحِرْصُ) طَلَبُ الشَّيْءِ بِاجْتِهَادٍ فِي إصَابَتِهِ تَعْرِيفَاتُ السَّيِّدِ (قَوْلُهُ: عَلَى نُكْتَةٍ) مُتَعَلِّقٌ بِالْحِرْصِ وَالنُّكْتَةُ: هِيَ مَسْأَلَةٌ لَطِيفَةٌ أُخْرِجَتْ بِدِقَّةِ نَظَرٍ وَإِمْعَانِ فِكْرٍ، مِنْ نَكَتَ رُمْحَهُ بِأَرْضٍ: إذَا أَثَّرَ فِيهَا، وَسُمِّيَتْ الْمَسْأَلَةُ الدَّقِيقَةُ نُكْتَةً لِتَأَثُّرِ الْخَوَاطِرِ فِي اسْتِنْبَاطِهَا سَيِّدٌ (قَوْلُهُ: يَكْتُبُهَا) حَالٌ مِنْ الضَّمِيرِ الْمَجْرُورِ أَوْ صِفَةٌ لِنُكْتَةٍ: أَيْ يُرِيدُ كِتَابَتَهَا (قَوْلُهُ: فَهَاكَ) اسْمُ فِعْلٍ بِمَعْنَى خُذْ (قَوْلُهُ: مُهَذِّبًا) بِالْكَسْرِ بِصِيغَةِ اسْمِ الْفَاعِلِ بِقَرِينَةِ قَوْلِهِ مُظْهِرًا، أَوْ هُوَ أَوْلَى مِنْ الْفَتْحِ لِأَنَّهُ أَقَلُّ تَكَلُّفًا وَالتَّهْذِيبُ: التَّنْقِيَةُ وَالْإِصْلَاحُ، وَقَوْلُهُ: لِمُهِمَّاتِ مَفْعُولُهُ وَاللَّامُ لِلتَّقْوِيَةِ، وَهُوَ جَمْعُ مُهِمَّةٍ: مَا يُهْتَمُّ بِتَحْصِيلِهِ (قَوْلُهُ: اسْتَعْمَلْت) أَيْ أَعْمَلْت فَالسِّينُ وَالتَّاءُ زَائِدَتَانِ، عَبَّرَ بِهِمَا إشَارَةً إلَى الِاعْتِنَاءِ وَالِاجْتِهَادِ ط (قَوْلُهُ: فِيهَا) أَيْ فِي تَحْرِيرِهَا ط (قَوْلُهُ: جَنَّ) أَيْ سَتَرَ الْأَشْيَاءَ بِظُلْمَتِهِ، وَالْمَادَّةُ تَدُلُّ عَلَى الِاسْتِتَارِ كَالْجِنِّ وَالْجِنَانِ وَالْجَنِينِ وَالْجَنَّةِ، وَإِنَّمَا خَصَّ اللَّيْلَ لِكَوْنِهِ مَحَلَّ الْأَفْكَارِ غَالِبًا، وَفِيهِ يَزْكُو الْفَهْمُ لِقِلَّةِ الْحَرَكَةِ فِيهِ. وَعَادَةُ الْعُلَمَاءِ يَتَلَذَّذُونَ بِالسَّهَرِ فِي التَّحْرِيرِ لِلْمَسَائِلِ كَمَا قَالَ التَّاجُ السُّبْكِيُّ رحمه الله
سَهَرِي لِتَنْقِيحِ الْعُلُومِ أَلَذُّ لِي
… مِنْ وَصْلِ غَانِيَةٍ وَطِيبِ عِنَاقِ
وَتَمَايُلِي طَرَبًا لِحَلِّ عَوِيصَةٍ
… فِي الذِّهْنِ أَبْلَغُ مِنْ مُدَامَةِ سَاقِي
وَصَرِيرُ أَقْلَامِي عَلَى صَفَحَاتِهَا
… أَشْهَى مِنْ الدَّوْكَاءِ وَالْعُشَّاقِ
وَأَلَذُّ مِنْ نَقْرِ الْفَتَاةِ لِدُفِّهَا
… نَقْرِي لِأُلْقِيَ الرَّمْلَ عَنْ أَوْرَاقِي
(قَوْلُهُ: مُتَحَرِّيًا) حَالٌ مِنْ فَاعِلِ اسْتَعْمَلْت، وَالتَّحَرِّي: طَلَبُ أَحْرَى الْأَمْرَيْنِ وَأَوْلَاهُمَا سَيِّدٌ (قَوْلُهُ: أَرْجَحَ الْأَقْوَالِ) الْإِضَافَةُ عَلَى مَعْنَى مِنْ وَهَذَا بِاعْتِبَارِ غَالِبِ مَا وَقَعَ لَهُ، وَإِلَّا فَقَدْ يَذْكُرُ قَوْلَيْنِ مُصَحَّحَيْنِ أَوْ يَذْكُرُ الصَّحِيحَ دُونَ الْأَصَحِّ ط (قَوْلُهُ: وَأَوْجَزَ الْعِبَارَةِ) أَيْ أَخْصَرَهَا: وَالْإِضَافَةُ عَلَى مَعْنَى مِنْ ط (قَوْلُهُ: مُعْتَمِدًا) حَالٌ أَيْضًا مُتَرَادِفَةٌ أَوْ مُتَدَاخِلَةٌ: أَيْ مُعَوِّلًا ط (قَوْلُهُ: الْإِيرَادِ) أَيْ الِاعْتِرَاضِ (قَوْلُهُ: أَلْطَفَ الْإِشَارَةِ) كَأَنْ يَذْكُرَ فِي الْكَلَامِ مُضَافًا أَوْ قَيْدًا، أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا يَدْفَعُ بِهِ الْإِيرَادَ، وَلَا يَظْهَرُ ذَلِكَ إلَّا لِمَنْ اطَّلَعَ عَلَى كَلَامِ الْمَوْرِدِ، فَإِذَا رَأَى مَا ذَكَرَهُ الشَّارِحُ عَلِمَ أَنَّهُ أَشَارَ بِهِ إلَى دَفْعِ ذَلِكَ وَرُبَّمَا صَرَّحَ بِمَا يُشِيرُ إلَيْهِ أَيْضًا (قَوْلُهُ: فِي حُكْمٍ) بِأَنْ يَذْكُرَ إبَاحَةَ مَا ذَكَرَهُ غَيْرُهُ كَرَاهَتَهُ مَثَلًا (قَوْلُهُ: أَوْ دَلِيلٍ) بِأَنْ يَكُونَ دَلِيلٌ فِيهِ كَلَامٌ فَيَذْكُرُ غَيْرَهُ سَالِمًا، وَهَذَا
আমার জীবদ্দশায় আমার প্রতি হিংসুকদের বিমুখতা সত্ত্বেও, আল্লাহ চাহেন তো আমার মৃত্যুর পর তারা একে সাদরে গ্রহণ করবে, যেমনটি বলা হয়েছে:
আপনি দেখবেন যে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করে... নীচতা ও বিদ্বেষবশত; কিন্তু যখন সে চলে যায় (মারা যায়),
তখন তার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় সোনার জল দিয়ে লিখে রাখার জন্য সে অত্যন্ত লালায়িত হয়ে ওঠে।
সুতরাং আপনার সামনে পেশ করছি একটি সুবিন্যস্ত সংকলন, যা এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহকে পরিমার্জিতভাবে তুলে ধরেছে। এতে এমন সব সূক্ষ্ম রহস্য প্রকাশিত হয়েছে যার উদ্ভাবনে রাতভর চিন্তা-গবেষণা ব্যয় করা হয়েছে। এতে অধিকতর অগ্রগণ্য মতসমূহ অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আপত্তির নিরসনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। সম্ভবত আমি কোনো হুকুম বা দলিলে ভিন্নমত পোষণ করেছি...
—
[রদ্দুল মুহতার] এখানে "মা" (মা) হলো না-বোধক এবং "আলাইয়া" (আলাইয়া) হলো একটি ঊহ্য মুক্তাদার খবর: অর্থাৎ "আমার ওপর কোনো সমস্যা নেই"। অথবা "মা" প্রশ্নবোধক হিসেবে মুক্তাদা এবং "আলাইয়া" তার খবর। (তার উক্তি: "অচিরেই তারা একে সাদরে গ্রহণ করবে"): মহান প্রতিপালক তার আশা পূরণ করেছেন এবং তিনি যা আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন তার চেয়েও বেশি তাকে দান করেছেন। আর এটিই তার সত্যবাদিতা ও ইখলাসের প্রমাণ—আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। (তার উক্তি: "আপনি দেখবেন সেই ব্যক্তিকে"): এখানে দেখা বলতে জ্ঞানগত দেখা উদ্দেশ্য এবং "আল-ফাতা" (যুবক) এখানে প্রথম কর্ম (মাফউল)। মূলত এর অর্থ যুবক হলেও এখানে যেকোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। আর "ইউনকিরু" (অস্বীকার করে) বাক্যটি দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল)। অথবা এটি চাক্ষুষ দেখা অর্থেও হতে পারে; আর এই আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না যে, 'অস্বীকার করা' তো চোখে দেখা যায় না, কারণ অনেক সময় এর লক্ষণসমূহ চোখে ধরা পড়ে। তা ছাড়া, একে যদি চাক্ষুষ দেখা ধরা হয়, তবে "ইউনকিরু" বাক্যটি অবস্থা (হাল) হিসেবে গণ্য হবে, কর্ম (মাফউল) হিসেবে নয়। সুতরাং বিষয়টি বুঝে নিন। (তার উক্তি: "নীচতাবশত"): এটি কর্মের কারণ (মাফউলুন লাহু) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (তার উক্তি: "যখন সে চলে যায়"): অর্থাৎ মারা যায়। নিয়ম হলো, "ইজা" (ইজা) এর পর "মা" (মা) অতিরিক্ত হিসেবে আসে। (তার উক্তি: "লাজ্জা"): জীম বর্ণ দিয়ে; এটি "লাজাজ" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বিবাদ করা, যেমনটি 'আল-কামুস'-এ রয়েছে। হাশিয়া-কার এটিই বলেছেন। এখানে এটি "তীব্র হওয়া" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এর সাথে "বা" অক্ষর যোগ করা হয়েছে। (তার উক্তি: "তীব্র আকাঙ্ক্ষা"): কোনো কিছু অর্জনে পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করা—এটি সাইয়্যিদ শরিফের সংজ্ঞা। (তার উক্তি: "কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ের ওপর"): এটি "আকাঙ্ক্ষা" শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। "নুকতাহ" (সূক্ষ্ম বিষয়) হলো এমন এক সূক্ষ্ম মাসআলা যা গভীর দৃষ্টি ও নিবিড় চিন্তার মাধ্যমে উদ্ঘাটিত হয়। এটি 'নাকাতা রুমহাহু বিল আরদ' (ভূমিতে বর্শার আঘাত করা) থেকে এসেছে যখন তা সেখানে চিহ্ন রেখে যায়। সূক্ষ্ম মাসআলাকে "নুকতাহ" বলা হয় কারণ এটি উদ্ভাবনের সময় চিন্তাজগতে প্রভাব ফেলে—সাইয়্যিদ। (তার উক্তি: "সেটি লিখে রাখার জন্য"): এটি পূর্ববর্তী সর্বনাম থেকে অবস্থা (হাল) অথবা "নুকতাহ" এর গুণ (সিফাত); অর্থাৎ সে তা লিখতে চায়। (তার উক্তি: "আপনার সামনে পেশ করছি"): এটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যা 'নিন' বা 'গ্রহণ করুন' অর্থে ব্যবহৃত। (তার উক্তি: "পরিমার্জিতকারী"): কর্তৃবাচ্য হিসেবে, কারণ পরবর্তী শব্দ 'প্রকাশকারী'-এর সাথে এর মিল রয়েছে। এটি কর্মবাচ্য হওয়ার চেয়ে উত্তম কারণ এতে কৃত্রিমতা কম। 'তাহজিব' মানে হলো পরিষ্কার করা ও সংশোধন করা। আর 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের জন্য' অংশটি এর কর্ম, এবং 'লাম' অক্ষরটি কর্মকে শক্তিশালী করার জন্য এসেছে। 'মুহিম্মাহ' এর বহুবচন হলো এটি, যার অর্থ যা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। (তার উক্তি: "আমি ব্যবহার করেছি"): অর্থাৎ আমি প্রয়োগ করেছি। এখানে 'সীন' ও 'তা' বর্ণদ্বয় অতিরিক্ত, যা বিশেষ যত্ন ও প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে। (তার উক্তি: "তাতে"): অর্থাৎ তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে। (তার উক্তি: "আচ্ছন্ন করে"): অর্থাৎ রাত তার অন্ধকার দিয়ে সব কিছু ঢেকে দেয়। এই শব্দমূলটি মূলত লুকানো বা আবৃত করা বোঝায়, যেমন: জিন, অন্তকরণ, ভ্রূণ এবং জান্নাত। রাতের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে কারণ রাত সাধারণত চিন্তা-গবেষণার উপযুক্ত সময়। এতে নড়াচড়া কম থাকায় বোধশক্তি প্রখর হয়। ওলামায়ে কেরামের অভ্যাস হলো তারা মাসআলা গবেষণায় রাত জাগরণে আনন্দ পান, যেমনটি তাজউদ্দীন সুবকী (রহ.) বলেছেন:
জ্ঞানের সূক্ষ্মতা পরিমার্জনে আমার রাত জাগরণ আমার কাছে কোনো সুন্দরী রমণীর সঙ্গ এবং সুগন্ধি আলিঙ্গনের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।
কোনো জটিল সমস্যার সমাধানের আনন্দে আমার দুলতে থাকা, সাকির পরিবেশন করা মদের নেশার চেয়েও অধিক চিত্তাকর্ষক।
কাগজের পাতায় আমার কলমের খসখস শব্দ কস্তুরী বা প্রেমিক-প্রেমিকার ফিসফিসানির চেয়েও মধুর।
আর কিতাবের পাতা থেকে বালু ঝাড়ার জন্য আমার টোকা দেওয়া, কোনো কিশোরীর ডফ বাজানোর শব্দের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক।
(তার উক্তি: "অনুসন্ধানকারী"): এটি "আমি ব্যবহার করেছি" ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা (হাল)। 'তাহারি' মানে হলো দুটি বিষয়ের মধ্যে অধিকতর উত্তম ও উপযুক্তটি অনুসন্ধান করা—সাইয়্যিদ। (তার উক্তি: "অধিকতর অগ্রগণ্য মতসমূহ"): এখানে সম্বন্ধ পদটি 'থেকে' অর্থে ব্যবহৃত। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রের বিবেচনায় বলা হয়েছে, অন্যথায় লেখক কখনো কখনো দুটি বিশুদ্ধ মতই উল্লেখ করেন, অথবা সবচাইতে বিশুদ্ধটির বদলে কেবল বিশুদ্ধ মতটি উল্লেখ করেন। (তার উক্তি: "সংক্ষিপ্ততম অভিব্যক্তি"): অর্থাৎ সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। এখানেও সম্বন্ধ পদটি 'থেকে' অর্থে। (তার উক্তি: "নির্ভর করে"): এটিও একটি অবস্থা (হাল) যা পূর্বের হালের অনুগামী বা তার অন্তর্ভুক্ত; এর অর্থ হলো ভরসা করে। (তার উক্তি: "আপত্তি"): অর্থাৎ প্রতিবাদ। (তার উক্তি: "সূক্ষ্মতম ইঙ্গিত"): যেমন বক্তব্যে কোনো সম্বন্ধ পদ বা শর্ত যোগ করা, যার মাধ্যমে আপত্তি নিরসন হয়। বিষয়টি কেবল তারাই বুঝতে পারেন যারা আপত্তি উত্থাপনকারীর বক্তব্য সম্পর্কে অবগত। যখন তারা ব্যাখ্যাকারের কথা দেখেন, তখন বুঝতে পারেন যে এর মাধ্যমে তিনি উক্ত আপত্তির নিরসনের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। কখনো কখনো তিনি ইঙ্গিতের বিষয়টি স্পষ্টভাবেও উল্লেখ করেন। (তার উক্তি: "কোনো হুকুমে"): যেমন অন্য কেউ যে বিষয়টিকে মাকরূহ বলেছেন, তিনি সেটিকে জায়েজ বলেছেন। (তার উক্তি: "বা কোনো দলিলে"): যেমন কোনো দলিলে ত্রুটি থাকায় তিনি সেটি বাদ দিয়ে অন্য কোনো ত্রুটিমুক্ত দলিল উল্লেখ করেছেন। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَحَسَبَهُ مَنْ لَا اطِّلَاعَ لَهُ وَلَا فَهْمَ عُدُولًا عَنْ السَّبِيلِ، وَرُبَّمَا غَيَّرْت تَبَعًا لِمَا شَرَحَ عَلَيْهِ الْمُصَنِّفُ كَلِمَةً أَوْ حَرْفًا، وَمَا دَرَى أَنَّ ذَلِكَ لِنُكْتَةٍ تَدُقُّ عَنْ نَظَرِهِ وَتَخْفَى.
وَقَدْ أَنْشَدَنِي شَيْخِي الْحَبْرُ السَّامِي وَالْبَحْرُ الطَّامِي. وَاحِدُ زَمَانِهِ وَحَسَنَةُ أَوَانِهِ. شَيْخُ الْإِسْلَامِ الشَّيْخُ خَيْرُ الدِّينِ الرَّمْلِيُّ أَطَالَ اللَّهُ بَقَاءَهُ:
قُلْ لِمَنْ لَمْ يَرَ الْمَعَاصِرَ شَيْئًا
… وَيَرَى لِلْأَوَائِلِ التَّقْدِيمَا
إنَّ ذَاكَ الْقَدِيمَ كَانَ حَدِيثًا
… وَسَيَبْقَى هَذَا الْحَدِيثُ قَدِيمًا
ــ
[رد المحتار] كُلُّهُ غَيْرُ مَا يُصَرِّحُ بِهِ وَيُنَبِّهُ عَلَيْهِ، كَقَوْلِهِ مَا ذَكَرَهُ فُلَانٌ خَطَأٌ وَنَحْوُ ذَلِكَ (قَوْلُهُ: فَحَسَبَهُ) أَيْ ظَنَّ مَا خَالَفْت فِيهِ غَيْرِي (قَوْلُهُ: مَنْ لَا اطِّلَاعَ لَهُ) أَيْ عَلَى مَا اطَّلَعْت عَلَيْهِ وَلَا فَهْمَ لَهُ بِمَا قَصَدْته (قَوْلُهُ: عُدُولًا) أَيْ مَيْلًا عَنْ السَّبِيلِ، أَيْ الطَّرِيقِ الْوَاضِحِ (قَوْلُهُ: تَبَعًا لِمَا شَرَحَ عَلَيْهِ الْمُصَنِّفُ) فَإِنَّ الْمُصَنِّفَ لَمَّا شَرَحَ مَتْنَهُ غَيَّرَ مِنْهُ بَعْضَ أَلْفَاظٍ مُنَبِّهًا عَلَى التَّغْيِيرِ فَبَقِيَتْ نُسَخُ الْمَتْنِ الْمُجَرَّدِ مُخَالِفَةً لِنُسْخَةِ الْمَتْنِ الْمَشْرُوحِ فَتَابَعَهُ الشَّارِحُ فِيمَا غَيَّرَهُ، وَرُبَّمَا غَيَّرَ مَا لَمْ يُغَيِّرْهُ الْمُصَنِّفُ (قَوْلُهُ: وَمَا دَرَى) مَعْطُوفٌ عَلَى مَحْذُوفٍ أَيْ فَاعْتَرَضَ وَمَا دَرَى أَفَادَهُ ط
(قَوْلُهُ: وَقَدْ أَنْشَدَنِي) أَنْشَدَ الشِّعْرَ: قَرَأَهُ قَامُوسٌ، وَالْمُرَادُ أَسْمَعَنِي هَذَا الشِّعْرَ (قَوْلُهُ: الْحَبْرُ) بِالْكَسْرِ وَيُفْتَحُ: الْعَالِمُ أَوْ الصَّالِحُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: السَّامِي) أَيْ الْعَالِي الْقَدْرِ (قَوْلُهُ: الطَّامِي) أَيْ الْمَلْآنُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: وَاحِدُ زَمَانِهِ) أَيْ الْمُنْفَرِدُ فِي زَمَانِهِ بِالصِّفَاتِ (قَوْلُهُ: وَحَسَنَةُ أَوَانِهِ) أَيْ الَّذِي أَحْسَنَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ عَلَى الْخَلْقِ فِي أَوَانِهِ: أَيْ زَمَانِهِ أَفَادَهُ ط أَوْ الَّذِي يُعَدُّ حَسَنَةً لِزَمَانِهِ الْكَثِيرِ الْإِسَاءَةِ عَلَى أَبْنَائِهِ (قَوْلُهُ: الشَّيْخُ خَيْرُ الدِّينِ) الظَّاهِرُ أَنَّهُ اسْمُهُ الْعُلَيْمِيُّ؛ إذْ تَرْجَمَهُ جَمَاعَةٌ وَلَمْ يَذْكُرُوا غَيْرَهُ مِنْهُمْ الْأَمِيرُ الْمُحِبِّيُّ. قَالَ خَيْرُ الدِّينِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نُورِ الدِّينِ عَلِيِّ بْنِ زَيْنِ الدِّينِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْأَيُّوبِيُّ نِسْبَةً إلَى بَعْضِ أَجْدَادِهِ الْعُلَيْمِيِّ بِالضَّمِّ نِسْبَةً إلَى سَيِّدِي عَلِيِّ بْنِ عُلَيْمٍ الْوَلِيِّ الْمَشْهُورِ. الْفَارُوقِيِّ نِسْبَةً إلَى الْفَارُوقِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - الرَّمْلِيُّ الْإِمَامُ الْمُفَسِّرُ الْمُحَدِّثُ الْفَقِيهُ اللُّغَوِيُّ الصُّوفِيُّ النَّحْوِيُّ الْبَيَانِيُّ الْعَرُوضِيُّ الْمَنْطِقِيُّ الْمُعَمِّرُ. شَيْخُ الْحَنَفِيَّةِ فِي عَصْرِهِ وَصَاحِبُ الْفَتَاوَى السَّائِرَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ التَّآلِيفِ النَّافِعَةِ فِي الْفِقْهِ، مِنْهَا حَوَاشِيهِ عَلَى الْمِنَحِ. وَعَلَى شَرْحِ الْكَنْزِ لِلْعَيْنِيِّ. وَعَلَى الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ. وَعَلَى الْبَحْرِ الرَّائِقِ. وَعَلَى الزَّيْلَعِيِّ، وَعَلَى جَامِعِ الْفُصُولَيْنِ، وَرَسَائِلُ، وَدِيوَانُ شِعْرٍ مُرَتَّبٌ عَلَى حُرُوفِ الْمُعْجَمِ. وُلِدَ سَنَةَ (993) وَتُوُفِّيَ بِبَلَدِهِ الرَّمْلَةِ سَنَةَ (1081) وَأَطَالَ فِي ذِكْرِ مَنَاقِبِهِ وَأَحْوَالِهِ وَبَيَانِ مَشَايِخِهِ وَتَلَامِذَتِهِ فَلْيُرَاجَعْ (قَوْلُهُ: أَطَالَ اللَّهُ بَقَاءَهُ) أَيْ وُجُودَهُ. وَالْمُرَادُ الدُّعَاءُ بِالْبَرَكَةِ فِي عُمُرِهِ، لِأَنَّ الْأَجَلَ مَحْتُومٌ، وَذَكَرَ ط عَنْ الشِّرْعَةِ وَشَرْحِهَا مَا يُفِيدُ كَرَاهَةَ الدُّعَاءِ بِذَلِكَ. أَقُولُ: يَرُدُّ عَلَيْهِ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام دَعَا لِخَادِمِهِ أَنَسٍ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - بِدَعَوَاتٍ مِنْهَا: وَأَطَالَ عُمْرَهُ» وَمَذْهَبُ أَهْلِ السُّنَّةِ أَنَّ الدُّعَاءَ يَنْفَعُ وَإِنْ كَانَ كُلُّ شَيْءٍ بِقَدَرٍ. وَاسْتُفِيدَ مِنْ كَلَامِ الشَّارِحِ أَنَّهُ أَلَّفَ كِتَابَهُ هَذَا فِي حَيَاةِ شَيْخِهِ الْمَذْكُورِ وَهُوَ كَذَلِكَ، فَإِنَّهُ سَيَذْكُرُ آخِرَ الْكِتَابِ أَنَّهُ فَرَغَ مِنْ تَأْلِيفِهِ سَنَةَ (1071) فَيَكُونُ قَدْ فَرَغَ مِنْ تَأْلِيفِهِ قَبْلَ مَوْتِ شَيْخِهِ الْمَذْكُورِ بِعَشْرِ سِنِينَ (قَوْلُهُ: إنَّ هَذَا الْحَدِيثَ إلَخْ) فِيهِ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَدِيعِ الْمَذْهَبُ الْكَلَامِيُّ، وَهُوَ إيرَادُ حُجَّةٍ لِلْمَطْلُوبِ عَلَى طَرِيقَةِ أَهْلِ الْكَلَامِ نَحْوَ - {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} [الأنبياء: 22]- وَبَيَانُ أَنَّ تَفْضِيلَ الْمَرْءِ بِأَوْصَافِهِ لَا بِتَقَدُّمِهِ، لِأَنَّ كُلَّ مُتَقَدِّمٍ قَدْ كَانَ حَادِثًا وَلَمْ يَزِدْ بِتَقْدِيمِهِ عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ وَقْتَ حُدُوثِهِ، وَهَذَا الْمَعَاصِرُ سَيَمْضِي عَلَيْهِ زَمَانٌ يَصِيرُ فِيهِ قَدِيمًا، فَإِذَا فَضَّلْتُمْ ذَلِكَ الْمُتَقَدِّمَ بِأَوْصَافِهِ لَزِمَكُمْ تَفْضِيلُ ذَلِكَ الْمَعَاصِرِ الَّذِي سَيَبْقَى
যাদের বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা নেই, তারা একে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি মনে করেছে। কখনো কখনো আমি মূল লেখকের ব্যাখ্যার অনুকরণে কোনো শব্দ বা অক্ষর পরিবর্তন করেছি, অথচ সেই সমালোচক বুঝতে পারেনি যে এর পেছনে এমন এক সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে যা তার দৃষ্টির অগোচরে ও আড়ালে রয়ে গেছে।
আমার উস্তাদ, সুউচ্চ ইলমের অধিকারী এবং অথৈ জ্ঞানসমুদ্র, নিজ জামানার অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব এবং সমকালের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার, শাইখুল ইসলাম শাইখ খাইরুদ্দীন আর-রামলি (আল্লাহ তাঁর হায়াত দরাজ করুন) আমাকে এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:
বল তাকে, যে সমসাময়িকদের মধ্যে বিশেষ কিছুই দেখে না
… এবং কেবল পূর্ববর্তীদেরই অগ্রাধিকার দেয়
নিশ্চয়ই সেই প্রাচীন একদা নতুন ছিল
… আর অচিরেই এই নতুনটি প্রাচীন হয়ে যাবে
ــ
[রদ্দুল মুহতার]এর পুরোটাই সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং যার প্রতি সজাগ করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "অমুক যা উল্লেখ করেছেন তা ভুল" এবং এই জাতীয় কথা। (তাঁর উক্তি: অতঃপর তিনি মনে করেছেন) অর্থাৎ, যেখানে আমি অন্যদের বিরোধিতা করেছি, সেটিকে তিনি ধারণা করেছেন। (তাঁর উক্তি: যার কোনো সম্যক অবগতি নেই) অর্থাৎ আমি যে বিষয়ে অবগত হয়েছি, সে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই এবং আমি যা উদ্দেশ্য করেছি তা বোঝার মতো প্রজ্ঞা তার নেই। (তাঁর উক্তি: বিচ্যুতি) অর্থাৎ সঠিক পথ বা স্পষ্ট রাস্তা থেকে সরে যাওয়া। (তাঁর উক্তি: মূল লেখক যে ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন তার অনুসরণে) কেননা মূল লেখক যখন তাঁর মূল পাঠের (মাতান) ব্যাখ্যা করেছেন, তখন তিনি কিছু শব্দ পরিবর্তন করেছেন এবং সেই পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কিন্তু মূল পাঠের (ব্যাখ্যাহীন) কপিগুলো ব্যাখ্যাযুক্ত কপির পাঠ থেকে ভিন্ন রয়ে গেছে। ফলে ব্যাখ্যাকার (শারহকার) সেই পরিবর্তিত পাঠের ক্ষেত্রে মূল লেখকের অনুসরণ করেছেন। আবার কখনো কখনো তিনি এমন কিছুও পরিবর্তন করেছেন যা মূল লেখক পরিবর্তন করেননি। (তাঁর উক্তি: অথচ তিনি জানতেন না) এটি একটি উহ্য বাক্যের ওপর আতফ বা সংযুক্ত হয়েছে, যার অর্থ হলো: অতঃপর তিনি আপত্তি করেছেন অথচ তিনি জানতেন না—এটি তাতাউয়ি (ত) বর্ণনা করেছেন।
(তাঁর উক্তি: তিনি আমাকে শুনিয়েছেন) কামুস গ্রন্থে আছে: কবিতা পাঠ করা। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: তিনি আমাকে এই কবিতাটি শ্রবণ করিয়েছেন। (তাঁর উক্তি: আল-হাবর) হা বর্ণে কাসরা (ই-কার) বা ফাতহা (আ-কার) উভয়ই পড়া যায়, যার অর্থ: মহাজ্ঞানী বা পুণ্যবান ব্যক্তি—কামুস। (তাঁর উক্তি: আস-সামি) অর্থাৎ সুউচ্চ মর্যাদাবান। (তাঁর উক্তি: আত-তামি) অর্থাৎ পরিপূর্ণ জ্ঞানসমুদ্র—কামুস। (তাঁর উক্তি: নিজ জামানার অদ্বিতীয়) অর্থাৎ নিজ যুগে গুণাবলির দিক থেকে অনন্য। (তাঁর উক্তি: নিজ সময়ের শ্রেষ্ঠ সম্পদ) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে তাঁর সমকালীন সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহ করেছেন; অথবা এর অর্থ হলো: এমন এক ব্যক্তি যাকে সেই সময়ের জন্য একটি নেকি বা পুণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, যে সময়টি তার সন্তানদের প্রতি অনেক মন্দ আচরণের জন্য পরিচিত। (তাঁর উক্তি: শাইখ খাইরুদ্দীন) প্রকাশ্যত এটি তাঁর নাম, তিনি আল-উলাইমি; কেননা একদল জীবনীকার তাঁর জীবনী লিখেছেন এবং আল-মুহিব্বি সহ অন্যরাও এই নাম ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। খাইরুদ্দীন ইবনে আহমাদ ইবনে নূরুদ্দীন আলী ইবনে যাইনুদ্দীন ইবনে আব্দুল ওয়াহাব আল-আইয়ুবী। তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে 'আল-উলাইমি' বলা হয়, যা মূলত প্রসিদ্ধ ওলি সাইয়িদি আলী বিন উলাইম-এর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ। আর 'আল-ফারুকি' হলো আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে নিসবত। তিনি আর-রামলি, একজন ইমাম, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, ভাষাবিদ, সুফি, নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ), বালাগাতবিদ, ছন্দবিদ, যুক্তিবিদ এবং দীর্ঘজীবী ব্যক্তি। তিনি নিজ যুগের হানাফিদের শাইখ ছিলেন এবং 'ফাতাওয়া খাইরিয়্যাহ' ও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যান্য উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে আল-মিনাহ গ্রন্থের হাশিয়া, আইনীর কানয-এর শারাহ-এর ওপর হাশিয়া, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির-এর হাশিয়া, আল-বাহরুর রায়িক-এর হাশিয়া, যাইলায়ি-এর ওপর হাশিয়া, জামিউল ফুসুলাইন-এর হাশিয়া, বহু রিসালা এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৯৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৮১ হিজরিতে নিজ শহর রামলায় মৃত্যুবরণ করেন। গ্রন্থকার তাঁর গুণাবলি, অবস্থা এবং তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রদের বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যা দেখে নেওয়া যেতে পারে। (তাঁর উক্তি: আল্লাহ তাঁর হায়াত দরাজ করুন) অর্থাৎ তাঁর অস্তিত্ব দীর্ঘায়িত করুন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর জীবনে বরকতের দোয়া করা, কারণ মৃত্যু নির্ধারিত। 'তাতাউয়ি' (ত) 'শিরআতিল ইসলাম' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, এভাবে দোয়া করা মাকরুহ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। আমি বলব: এর বিপরীতে যুক্তি হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খাদেম আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য কয়েকটি দোয়া করেছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল: "তাঁর আয়ু দীর্ঘ করুন।" আর আহলুস সুন্নাহর মাযহাব হলো, দোয়া উপকারে আসে, যদিও সবকিছুই তাকদির বা পূর্বনির্ধারিত। শারহকারের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তিনি তাঁর এই কিতাবটি তাঁর উল্লিখিত উস্তাদের জীবদ্দশাতেই রচনা করেছেন এবং বিষয়টি এমনই। কারণ তিনি কিতাবের শেষে উল্লেখ করবেন যে, তিনি ১০৭১ হিজরিতে এর রচনা শেষ করেছেন। সুতরাং তিনি তাঁর উস্তাদের মৃত্যুর দশ বছর পূর্বেই এই কিতাব রচনা সম্পন্ন করেছিলেন। (তাঁর উক্তি: নিশ্চয়ই এই কবিতাটি ইত্যাদি) এর মধ্যে বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের 'আল-মাযহাবুল কালামি' নামক শৈলী রয়েছে, যা হলো ইলমুল কালামের পদ্ধতিতে উদ্দিষ্ট বিষয়ের সপক্ষে দলিল পেশ করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত} [আম্বিয়া: ২২]। এর ব্যাখ্যা হলো: মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার গুণাবলির দ্বারা নির্ধারিত হয়, শুধু আগে আসার কারণে নয়। কারণ প্রতিটি প্রাচীন বা পূর্ববর্তী ব্যক্তি একসময় নতুন ছিল এবং প্রাচীন হওয়ার কারণে তার সেই গুণাবলিতে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি যা তার সূচনাকালে ছিল। আর বর্তমানের এই সমসাময়িক ব্যক্তির ওপরও এমন এক সময় আসবে যখন সে প্রাচীন হয়ে যাবে। সুতরাং আপনারা যদি সেই পূর্ববর্তী ব্যক্তিকে তার গুণাবলির কারণে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকেন, তবে এই সমসাময়িক ব্যক্তিকেও শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া আপনাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে, যে অচিরেই প্রাচীন হবে।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
عَلَى أَنَّ الْمَقْصُودَ وَالْمُرَادَ، مَا أَنْشَدَنِيهِ شَيْخِي رَأْسُ الْمُحَقِّقِينَ النُّقَّادُ مُحَمَّدٌ أَفَنْدِي الْمَحَاسِنِيُّ وَقَدْ أَجَادَ:
لِكُلِّ بَنِي الدُّنْيَا مُرَادٌ وَمَقْصَدٌ
… وَإِنَّ مُرَادِي صِحَّةٌ وَفَرَاغُ
لِأَبْلُغَ فِي عِلْمِ الشَّرِيعَةِ مَبْلَغًا
… يَكُونُ بِهِ لِي فِي الْجِنَانِ بَلَاغُ
فَفِي مِثْل هَذَا فَلْيُنَافِسْ أُولُو
… النُّهَى وَحَسْبِي مِنْ الدُّنْيَا الْغَرُورِ بَلَاغُ
ــ
[رد المحتار] قَدِيمًا بِأَوْصَافِهِ أَيْضًا. وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِ الْإِمَامِ الْمُبَرِّدِ: لَيْسَ لِقِدَمِ الْعَهْدِ يَفْضُلُ الْفَائِلُ وَلَا لِحَدَاثَتِهِ يُهْضَمُ الْمُصِيبُ، وَلَكِنْ يُعْطَى كُلٌّ مَا يَسْتَحِقُّ. اهـ. قَالَ الدَّمَامِينِيُّ فِي شَرْحِ التَّسْهِيلِ بَعْدَ نَقْلِهِ كَلَامَ الْمُبَرِّدِ: وَكَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ مَنْ تَحَرَّى هَذِهِ الْبَلِيَّةَ الشَّنْعَاءَ، فَتَرَاهُمْ إذَا سَمِعُوا شَيْئًا مِنْ النُّكَتِ الْحَسَنَةِ غَيْرَ مَعْزُوٍّ إلَى مُعَيَّنٍ اسْتَحْسَنُوهُ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ لِلْمُتَقَدِّمِينَ، فَإِذَا عَلِمُوا أَنَّهُ لِبَعْضِ أَبْنَاءِ عَصْرِهِمْ نَكَصُوا عَلَى الْأَعْقَابِ وَاسْتَقْبَحُوهُ، أَوْ ادَّعَوْا أَنَّ صُدُورَ ذَلِكَ عَنْ عَصْرِيٍّ مُسْتَبْعَدٌ، وَمَا الْحَامِلُ لَهُمْ عَلَى ذَلِكَ إلَّا حَسَدٌ ذَمِيمٌ وَبَغْيٌ مَرْتَعُهُ وَخِيمٌ اهـ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: عَلَى أَنَّ إلَخْ) بِمَنْزِلَةِ الِاسْتِدْرَاكِ عَلَى مَا يُتَوَهَّمُ مِنْ قَوْلِهِ فَهَاكَ إلَخْ، مِنْ أَنَّ الْمُرَادَ مَدْحُ نَفْسِهِ وَتَأْلِيفِهِ، وَأَنَّ الْمَقْصُودَ بِالشُّهْرَةِ التَّأْلِيفُ ط (قَوْلُهُ: شَيْخِي) فِي بَعْضِ النُّسَخِ زِيَادَةٌ: وَبَرَكَتِي وَوَلِيُّ نِعْمَتِي قَالَ ط. الْبَرَكَةُ اتِّسَاعُ الْخَيْرِ، وَوَلِيٌّ فَعِيلٌ بِمَعْنَى فَاعِلٍ: أَيْ مُتَوَلِّي نِعْمَتِي، وَالْمُرَادُ بِالنِّعْمَةِ نِعْمَةُ الْعِلْمِ الَّتِي هِيَ مِنْ أَعْظَمِ النِّعَمِ اهـ (قَوْلُهُ: مُحَمَّدٌ أَفَنْدِي) قَالَ الْمُحِبِّيُّ فِي تَارِيخِهِ: هُوَ ابْنُ تَاجِ الدِّينِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَحَاسِنِيُّ الدِّمَشْقِيُّ الْخَطِيبُ بِجَامِعِ دِمَشْقَ، أَشْهَرُ آلِ بَيْتِ مَحَاسِنَ وَأَفْضَلُهُمْ، كَانَ فَاضِلًا كَامِلًا أَدِيبًا لَبِيبًا، لَطِيفَ الشَّكْلِ وَجِيهًا، جَامِعًا لِمَحَاسِنِ الْأَخْلَاقِ، حَسَنَ الصَّوْتِ، وَلِيَ خَطَابَةَ جَامِعِ السُّلْطَانِ سَلِيمٍ بِصَالِحِيَّةِ دِمَشْقَ، ثُمَّ صَارَ إمَامًا بِجَامِعِ بَنِي أُمَيَّةَ وَخَطِيبًا فِيهِ، وَقَرَأَ فِيهِ صَحِيحَ مُسْلِمٍ، وَكَتَبَ عَلَيْهِ بَعْضَ تَعَالِيقَ. وَوَلِيَ دَرْسَ الْحَدِيثِ تَحْتَ قُبَّةِ النَّسْرِ مِنْ الْجَامِعِ الْمَذْكُورِ، وَكَانَ فَصِيحَ الْعِبَارَةِ. وَانْتَفَعَ بِهِ خَلْقٌ مِنْ عُلَمَاءِ دِمَشْقَ، مِنْهُمْ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ الشَّيْخُ عَلَاءُ الدِّينِ الْحَصْكَفِيُّ مُفْتِي الشَّامِ، وَلَهُ شِعْرٌ حَسَنٌ وَتَحْرِيرَاتٌ تَدُلُّ عَلَى عِلْمِهِ. وُلِدَ سَنَةَ (1012) وَتُوُفِّيَ سَنَةَ (1072) ، وَرَثَاهُ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ الشَّيْخُ عَبْدُ الْغَنِيِّ النَّابْلُسِيُّ - بِقَصِيدَةٍ جَيِّدَةٍ إلَى الْغَايَةِ مَطْلَعُهَا قَوْلُهُ: لِيَهْنُ رِعَاعُ النَّاسِ وَلْيَفْرَحْ الْجَهْلُ فَبَعْدَك لَا يَرْجُو الْبَقَا مَنْ لَهُ عَقْلُ أَيَا جَنَّةً قَرَّتْ عُيُونُ أُولِي النُّهَى بِهَا زَمَنًا حَتَّى تَدَارَكَهَا الْمَحْلُ اهـ مُلَخَّصًا (قَوْلُهُ: لِكُلِّ بَنِي الدُّنْيَا) أَيْ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْ النَّاسِ الْمَوْجُودِينَ فِيهَا، وَسُمُّوا أَبْنَاءَهَا لِأَنَّهُمْ مِنْهَا مَادَّةً وَغِذَاءً، وَبِهَا انْتِفَاعُهُمْ. وَفِيهَا تَرْبِيَتُهُمْ. وَهِيَ اسْمٌ لِمَا قَبْلَ الْآخِرَةِ لِدُنُوِّهَا وَقُرْبِهَا. وَيُحْتَمَلُ أَنْ يُرَادَ بِأَبْنَائِهَا الطَّالِبُونَ لَهَا الْمُنْهَمِكُونَ فِيهَا (قَوْلُهُ: صِحَّةٌ) أَيْ فِي الْجَسَدِ، وَفَرَاغٌ مِمَّا يَشْغَلُ عَنْ الْآخِرَةِ (قَوْلُهُ: لِأَبْلُغَ) عِلَّةٌ لِقَوْلِهِ وَإِنَّ مُرَادِي إلَخْ (قَوْلُهُ: مَبْلَغًا) مَصْدَرٌ مِيمِيٌّ مَنْصُوبٌ عَلَى الْمَفْعُولِيَّةِ الْمُطْلَقَةِ (قَوْلُهُ: فِي الْجِنَانِ بَلَاغُ) أَيْ إيصَالٌ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى إلَى الْمَرَاتِبِ الْعَالِيَةِ فِيهَا، وَهُوَ اسْمُ مَصْدَرٍ. قَالَ فِي الْقَامُوسِ: الْبَلَاغُ كَسَحَابِ الْكِفَايَةُ وَالِاسْمُ مِنْهُ الْإِبْلَاغُ وَالتَّبْلِيغُ وَهُمَا الْإِيصَالُ. اهـ. (قَوْلُهُ: فَفِي مِثْلِ هَذَا) أَيْ هَذَا الْمُرَادِ الْمَذْكُورِ وَالْفَاءُ لِلسَّبَبِيَّةِ مُفِيدَةٌ لِلتَّعْلِيلِ وَالْجَارُّ وَالْمَجْرُورُ مُتَعَلِّقٌ بِيُنَافِسْ (قَوْلُهُ: فَلْيُنَافِسْ) أَيْ يَرْغَبْ وَالْفَاءُ زَائِدَةٌ مُؤَكِّدَةٌ لِلْأُولَى، مِثْلُهَا فِي قَوْلِ الشَّاعِرِ:
وَإِذَا هَلَكْت فَعِنْدَ ذَلِكَ فَاجْزَعِي
(قَوْلُهُ: أُولُو النُّهَى) أَيْ أَصْحَابُ الْعُقُولِ، وَأَمَّا غَيْرُهُمْ فَمُنَافَسَتُهُمْ فِي الدُّنْيَا (قَوْلُهُ: وَحَسْبِي) مُبْتَدَأٌ: أَيْ كَافِي ط (قَوْلُهُ: الْغَرُورِ) فَعُولٌ يَسْتَوِي فِيهِ الْمُذَكَّرُ وَالْمُؤَنَّثُ: أَيْ الْغَارَّةِ اهـ ط (قَوْلُهُ: بَلَاغُ) أَيْ مِقْدَارُ الْكِفَايَةِ وَهُوَ
বস্তুত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো যা আমার শাইখ, গবেষক ও সমালোচকদের শিরোমণি মুহাম্মদ এফেন্দি আল-মাহাসিনী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, আর তিনি চমৎকার বলেছেন:
দুনিয়াবাসীর প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে
… আর আমার উদ্দেশ্য হলো সুস্থতা ও অবসর
যাতে আমি শরীয়তের জ্ঞানে এমন এক স্তরে পৌঁছাতে পারি
… যার দ্বারা জান্নাতে আমার জন্য পর্যাপ্ত প্রাপ্তি ঘটে
এমন বিষয়েই বুদ্ধিমানদের প্রতিযোগিতা করা উচিত
… আর এই প্রতারক দুনিয়া থেকে যৎসামান্য জীবনোপকরণই আমার জন্য যথেষ্ট
--
[রাদ্দুল মুহতার] অনাদিভাবে তাঁর গুণাবলি সহকারেও। আর এটাই ইমাম মুবাররাদের বক্তব্যের মর্মার্থ: "অতীত হওয়ার কারণে কোনো ভ্রান্ত ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব পায় না, আবার নতুন হওয়ার কারণে কোনো সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করা যায় না; বরং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করা হয়।" সমাপ্ত। আদ-দামামিনি 'শারহুত তাসহিল'-এ ইমাম মুবাররাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: "বহু মানুষ এই জঘন্য বিপদে লিপ্ত যে, তারা যখন নির্দিষ্ট কোনো লেখকের নাম ছাড়া কোনো সুন্দর সূক্ষ্ম কথা শোনে, তখন তারা তা প্রাচীনদের মনে করে পছন্দ করে। কিন্তু যখনই তারা জানতে পারে যে এটি তাদের সমসাময়িক কারো বক্তব্য, তখনই তারা পিছু হটে এবং একে মন্দ মনে করে, অথবা দাবি করে যে সমসাময়িক কারো থেকে এমন কথা আসা অসম্ভব। এর পেছনে তাদের একমাত্র চালিকাশক্তি হলো নিন্দনীয় হিংসা ও জুলুম, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।" সমাপ্ত সংক্ষেপিত। (তাঁর বক্তব্য: বস্তুত ইত্যাদি) এটি তাঁর পূর্ববর্তী কথা 'সুতরাং গ্রহণ করো' থেকে উদ্ভূত কোনো ভুল ধারণা নিরসনের স্থলাভিষিক্ত; যাতে কেউ মনে না করে যে তাঁর উদ্দেশ্য নিজের এবং নিজের রচনার প্রশংসা করা, কিংবা খ্যাতির উদ্দেশ্যেই এই রচনা। 'তা' (একটি টীকা)। (তাঁর বক্তব্য: আমার শাইখ) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'আমার বরকত ও আমার হিতাকাঙ্ক্ষী' শব্দগুলো অতিরিক্ত রয়েছে। 'তা' বলেন: বরকত হলো কল্যাণের ব্যাপকতা। আর 'ওয়ালি' মানে কর্তা, অর্থাৎ আমার নিয়ামত দেখাশোনা করার মালিক। এখানে নিয়ামত বলতে ইলম বা জ্ঞানের নিয়ামত বুঝানো হয়েছে, যা সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত। (তাঁর বক্তব্য: মুহাম্মদ এফেন্দি) মুহিব্বি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে তাজউদ্দীন ইবনে আহমদ আল-মাহাসিনী আদ-দিমাশকি, যিনি দামেস্কের জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। তিনি মাহাসিন পরিবারের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে বিদগ্ধ পণ্ডিত, পূর্ণাঙ্গ মানুষ, সাহিত্যিক ও প্রাজ্ঞ। অত্যন্ত সুশ্রী ও মর্যাদাবান ছিলেন এবং সচ্চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তিনি দামেস্কের সালিহিয়্যা এলাকায় সুলতান সেলিম মসজিদের খতিব নিযুক্ত হন। এরপর তিনি বনু উমাইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হন এবং সেখানে সহীহ মুসলিম পাঠদান করেন ও এর ওপর কিছু টীকা লেখেন। তিনি উক্ত মসজিদের 'কুব্বাতুন নাসর'-এর নিচে হাদিসের দরস প্রদান করতেন। তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন। দামেস্কের বহু আলেম তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাক্কিক শাইখ আলাউদ্দীন আল-হাসকাফি আশ-শামি অন্যতম। তাঁর চমৎকার কবিতা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ রচনাবলী রয়েছে যা তাঁর ইলমের প্রমাণ দেয়। তিনি ১০১২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাক্কিক শাইখ আব্দুল গনি আন-নাবুলুসি তাঁর মৃত্যুতে একটি অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের শোকগাথা পাঠ করেন, যার শুরুটা ছিল এমন: "সাধারণ লোকেরা আনন্দিত হোক এবং মূর্খরা খুশি হোক, কারণ তোমার পর কোনো বুদ্ধিমান আর বেঁচে থাকার আশা রাখে না। হে সেই জান্নাত, যার মাধ্যমে জ্ঞানীদের চক্ষু দীর্ঘকাল শীতল ছিল, যতক্ষণ না তাতে অনাবৃষ্টি হানা দিল।" সমাপ্ত সংক্ষেপিত। (তাঁর বক্তব্য: দুনিয়াবাসীর প্রত্যেকেরই) অর্থাৎ দুনিয়াতে বিদ্যমান প্রত্যেকটি মানুষের। তাদের দুনিয়ার সন্তান বলা হয়েছে কারণ তারা উপাদানে ও খাদ্যে এরই অংশ এবং এরই মাধ্যমে তারা উপকৃত হয়। এখানেই তাদের বেড়ে ওঠা। পরকালের আগের জগতকে 'দুনিয়া' বলা হয় এর নৈকট্য ও নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে দুনিয়া অন্বেষণকারী ও এতে মগ্ন ব্যক্তিরা। (তাঁর বক্তব্য: সুস্থতা) অর্থাৎ শরীরের সুস্থতা, এবং পরকাল থেকে বিমুখ করে এমন ব্যস্ততা থেকে অবসর। (তাঁর বক্তব্য: যাতে আমি পৌঁছাতে পারি) এটি তাঁর কথা "আমার উদ্দেশ্য হলো..." এর কারণ বা উদ্দেশ্য বর্ণনাকারী। (তাঁর বক্তব্য: এক পর্যায়ে) এটি একটি মাসদারে মিমি যা 'মাফউলে মুতলাক' হিসেবে মানসুব হয়েছে। (তাঁর বক্তব্য: জান্নাতে গন্তব্য) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামসমূহে পৌঁছে দেওয়া। এটি ইসমে মাসদার। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'বালাগ' মানে পর্যাপ্ততা; আর এর মাসদার হলো 'ইবলাগ' ও 'তাবলিগ', যার অর্থ পৌঁছে দেওয়া। সমাপ্ত। (তাঁর বক্তব্য: সুতরাং এমন বিষয়েই) অর্থাৎ উল্লিখিত এই উদ্দেশ্যেই। এখানে 'ফা' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য এসেছে। আর জার-মাজরুর 'ইউনাফিস' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। (তাঁর বক্তব্য: প্রতিযোগিতা করা উচিত) অর্থাৎ আগ্রহী হওয়া উচিত। এখানে 'ফা' বর্ণটি অতিরিক্ত যা প্রথমটিকে তাকিদ বা জোর প্রদানের জন্য এসেছে, যেমন কবির উক্তিতে:
আর যখন আমি মারা যাব, তখন তুমি বিলাপ করো
(তাঁর বক্তব্য: বুদ্ধিমানরা) অর্থাৎ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা। আর যারা তারা ছাড়া, তাদের প্রতিযোগিতা তো কেবল দুনিয়া নিয়ে। (তাঁর বক্তব্য: আর আমার জন্য যথেষ্ট) এটি মুবতাদা, অর্থাৎ আমার জন্য পর্যাপ্ত। 'তা'। (তাঁর বক্তব্য: ধোঁকা) এটি 'ফাউল' ওজনে যা পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক উভয়ের জন্য সমভাবে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ প্রবঞ্চনাকারী। সমাপ্ত। 'তা'। (তাঁর বক্তব্য: যৎসামান্য পাথেয়) অর্থাৎ প্রয়োজনীয় পরিমাণ যা যথেষ্ট হয়, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন = রাদ্দুল মুহতার - ত-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَمَا الْفَوْزُ إلَّا فِي نَعِيمٍ مُؤَبَّدٍ
… بِهِ الْعَيْشُ رَغْدٌ وَالشَّرَابُ يُسَاغُ
ــ
[رد المحتار] خَبَرُ الْمُبْتَدَأِ، وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ بَلَاغِ الْأَوَّلِ الْجِنَاسُ التَّامُّ الْخَطِّيُّ اللَّفْظِيُّ أَفَادَهُ ط (قَوْلُهُ: فَمَا الْفَوْزُ) أَيْ النَّجَاةُ وَالظَّفَرُ بِالْخَيْرِ قَامُوسٌ، وَالْفَاءُ لِلسَّبَبِيَّةِ عَاطِفَةٌ عَلَى جُمْلَةِ يُنَافِسْ مُفِيدَةٌ لِلتَّعْلِيلِ (قَوْلُهُ: إلَّا فِي نَعِيمٍ إلَخْ) فِي بِمَعْنَى الْبَاءِ مِثْلُهَا فِي قَوْلِ الشَّاعِرِ:
وَيَرْكَبُ يَوْمَ الرَّوْعِ مِنَّا فَوَارِسُ
… بَصِيرُونَ فِي طَعْنِ الْكُلَى وَالْأَبَاهِرِ
لِأَنَّ فَازَ يَتَعَدَّى بِالْبَاءِ أَوْ فِي لِلظَّرْفِيَّةِ، وَالْمُرَادُ بِالنَّعِيمِ مَحَلُّهُ: وَهُوَ الْجَنَّةُ، مِنْ إطْلَاقِ اسْمِ الْحَالِّ وَإِرَادَةِ الْمَحَلِّ، مِثْلُ - {فَفِي رَحْمَةِ اللَّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [آل عمران: 107]- وَعَلَى كُلٍّ فَالْفَوْزُ مُبْتَدَأٌ وَالْجَارُّ وَالْمَجْرُورُ فِي مَحَلِّ الْخَبَرِ، وَالتَّقْدِيرُ مَا الْفَوْزُ حَاصِلٌ بِشَيْءٍ إلَّا بِنَعِيمٍ، أَوْ مَا الْفَوْزُ حَاصِلٌ فِي مَحَلٍّ إلَّا فِي مَحَلِّ نَعِيمٍ، أَوْ الْخَبَرُ مَحْذُوفٌ وَالْجَارُّ وَالْمَجْرُورُ مُتَعَلِّقٌ بِالْفَوْزِ: أَيْ فَمَا الْفَوْزُ مُعْتَبَرٌ إلَّا بِنَعِيمٍ، وَالْبَاءُ فِي بِهِ لِلسَّبَبِيَّةِ عَلَى الْأَوَّلِ، أَعْنِي جَعَلَ " فِي " بِمَعْنَى الْبَاءِ، وَلِلظَّرْفِيَّةِ عَلَى الثَّانِي مِثْلُ {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ} [آل عمران: 123] و {نَجَّيْنَاهُمْ بِسَحَرٍ} [القمر: 34] (قَوْلُهُ: الْعَيْشُ) أَيْ الْمَعِيشَةُ الَّتِي تَعِيشُ بِهَا مِنْ الْمَطْعَمِ وَالْمَشْرَبِ وَمَا يَكُونُ بِهِ الْحَيَاةُ قَامُوسٌ (قَوْلُهُ: رَغْدٌ) بِسُكُونِ الْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ: أَيْ وَاسِعٌ طَيِّبٌ ح عَنْ الْقَامُوسِ (قَوْلُهُ: يُسَاغُ) أَيْ يَسْهُلُ دُخُولُهُ فِي الْحَلْقِ ح عَنْ الْقَامُوسِ
সুতরাং চিরস্থায়ী নিআমত ব্যতীত কোনো প্রকৃত সফলতা নেই
… যার মাধ্যমে জীবন হবে স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং পানীয় হবে সুপেয়।
—
[রাদ্দুল মুহতার] এটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য)-এর খবর (বিধেয়); এবং এর ও প্রথম 'বালাগ' শব্দের মাঝে 'জিনাসে তাম খত্তি ও লাফযি' (লৈখিক ও শাব্দিক পূর্ণ অনুপ্রাস) বিদ্যমান, যা আল্লামা তাহতাউয়ি উল্লেখ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: সুতরাং সফলতা নেই) অর্থাৎ মুক্তি লাভ এবং কল্যাণ অর্জন করা—কামূস অভিধান অনুযায়ী; আর এখানে 'ফা' বর্ণটি কারণবাচক, যা 'প্রতিযোগিতা করবে' (ইউনাফিস) বাক্যের ওপর সংযুক্ত হয়ে কারণ বর্ণনা করছে। (তাঁর বক্তব্য: নিআমত ব্যতীত ইত্যাদি) এখানে 'ফি' অব্যয়টি 'বা' অব্যয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি কবির এই পঙক্তিতে পাওয়া যায়:
যুদ্ধের ভয়াবহ দিনে আমাদের মধ্য হতে এমন অশ্বারোহীরা অভিযানে বের হয়
… যারা শত্রুর বৃক্ক ও মহাধমনীতে আঘাত করতে অত্যন্ত পারদর্শী।
কেননা 'ফাযা' (সফল হওয়া) ক্রিয়াটি 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে অথবা আধার বা স্থান নির্দেশক 'ফি' অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। এখানে 'নিআমত' বলে তার আধার তথা 'জান্নাত' উদ্দেশ্য করা হয়েছে; এটি অবস্থার নাম উল্লেখ করে স্থানকে বুঝানোর অলঙ্কার, যেমন আল্লাহর বাণী: - {অতঃপর তারা আল্লাহর রহমতের মাঝে (অর্থাৎ জান্নাতে) চিরকাল থাকবে} [আলে ইমরান: ১০৭] - সর্বাবস্থায় 'সফলতা' শব্দটি মুক্তাদা এবং জার-মাজরুর খবরের স্থলাভিষিক্ত। এর আনুমানিক বিশ্লেষণ হলো: কোনো কিছুর মাধ্যমেই সফলতা অর্জিত হয় না চিরস্থায়ী নিআমত ব্যতীত, অথবা কোনো স্থানেই সফলতা অর্জিত হয় না নিআমতের স্থান (জান্নাত) ব্যতীত। অথবা খবরটি উহ্য রয়েছে এবং জার-মাজরুর 'সফলতা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ: সফলতাকে চিরস্থায়ী নিআমত ব্যতীত ধর্তব্য মনে করা হয় না। আর 'বিহি' (তার মাধ্যমে) শব্দের 'বা' অব্যয়টি প্রথম বিশ্লেষণ অনুযায়ী কারণবাচক—অর্থাৎ যদি 'ফি'-কে 'বা'-এর অর্থে ধরা হয়; আর দ্বিতীয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী তা স্থানবাচক, যেমন আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন} [আলে ইমরান: ১২৩] এবং {আমরা তাদেরকে রাতের শেষাংশে মুক্তি দিয়েছি} [ক্বামার: ৩৪]। (তাঁর বক্তব্য: জীবন) অর্থাৎ এমন জীবনোপকরণ যার মাধ্যমে মানুষ বেঁচে থাকে, যেমন খাদ্য, পানীয় এবং যা দ্বারা জীবন অতিবাহিত হয়—কামূস অভিধান। (তাঁর বক্তব্য: স্বাচ্ছন্দ্যময়) গাইন বর্ণে সুকুনসহ: অর্থাৎ প্রশস্ত ও উত্তম—আল্লামা হালাবি কামূস থেকে বর্ণনা করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: সুপেয়) অর্থাৎ যা সহজে গলায় প্রবেশ করে—আল্লামা হালাবি কামূস থেকে বর্ণনা করেছেন।