(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المنثور في القواعد الفقهية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: المنثور في القواعد الفقهية
المؤلف: الزركشي بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الشافعي (745 - 794 هـ)
حققه: د تيسير فائق أحمد محمود
راجعه: د عبد الستار أبو غدة
الناشر: وزارة الأوقاف الكويتية (طباعة شركة الكويت للصحافة)
الطبعة: الثانية، 1405 هـ - 1985 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ
লেখক: আজ-জারকাশি বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আশ-শাফিঈ (৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি)
সম্পাদনায়: ড. তাইসীর ফায়েক আহমদ মাহমুদ
পর্যবেক্ষণে: ড. আব্দুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: কুয়েত আওকাফ মন্ত্রণালয় (কুয়েত প্রেস কোম্পানি কর্তৃক মুদ্রিত)
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
[المقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
اللَّهُ حَسْبِي وَكَفَى قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ رُحْلَةُ الطَّالِبِينَ وَمُفْتِي الْمُسْلِمِينَ وَعُمْدَةُ الْمُحَدِّثِينَ وَالْأُصُولِيِّينَ مُحَمَّدُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بَدْرُ الدِّينِ الزَّرْكَشِيُّ الشَّافِعِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُتَعَالِي عَنْ الشَّبِيهِ وَالنَّظِيرِ الْمُنَزَّهِ عَنْ وَصْفٍ يُدْرِكُ بِهِ حِسٌّ أَوْ يَخْتَلِجُ بِهِ ضَمِيرٌ.
أَحْمَدُهُ عَلَى مَا أَسْبَغَ مِنْ نِعْمَتِهِ وَأَبْلَغَ مِنْ دَقِيقِ حِكْمَتِهِ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةَ مُتَحَقِّقٍ لِعُبُودِيَّتِهِ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ عَرُوسُ حَضْرَتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَعِتْرَتِهِ.
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ ضَبْطَ الْأُمُورِ الْمُنْتَشِرَةِ الْمُتَعَدِّدَةِ فِي الْقَوَانِينِ الْمُتَّحِدَةِ هُوَ أَوْعَى لِحِفْظِهَا وَأَدْعَى لِضَبْطِهَا وَهِيَ إحْدَى حِكَمُ الْعَدَدِ الَّتِي وُضِعَ لِأَجْلِهَا، وَالْحَكِيمُ
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট। শায়খ, ইমাম, আল্লামা, জ্ঞানপিপাসুদের আশ্রয়স্থল, মুসলিমদের মুফতি এবং মুহাদ্দিস ও উসুলবিদগণের প্রধান অবলম্বন মুহাম্মদ আবু আবদুল্লাহ বদরুদ্দীন আল-যারকাশি আল-শাফিঈ - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সদৃশ ও সমকক্ষতা থেকে উর্ধ্বে এবং এমন গুণাবলী থেকে পবিত্র যা কোনো ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় অথবা যা কোনো অন্তরে উদিত হয়।
আমি তাঁর প্রশংসা করছি তাঁর অঢেল নেয়ামতের জন্য এবং তাঁর সূক্ষ্ম হিকমতের পূর্ণতার জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এমন সাক্ষ্য যা তাঁর দাসত্বের বিষয়ে সুনিশ্চিত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সান্নিধ্যের মনোনীত শ্রেষ্ঠজন; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী ও বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
অতপর: ছড়িয়ে থাকা বহুবিধ বিষয়াবলিকে অভিন্ন মূলনীতির অধীনে সুসংহত করা তা সংরক্ষণের জন্য অধিক সহায়ক এবং আয়ত্ত করার জন্য অধিক কার্যকর। আর এটি হচ্ছে সংখ্যার সেই হিকমতসমূহের অন্যতম যার জন্য তা প্রবর্তিত হয়েছে, আর প্রজ্ঞাময়...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
إذَا أَرَادَ التَّعْلِيمَ لَا بُدَّ لَهُ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ بَيَانَيْنِ: إجْمَالِيٍّ تَتَشَوَّفُ إلَيْهِ النَّفْسُ، وَتَفْصِيلِيٍّ تَسْكُنُ إلَيْهِ. وَلَقَدْ بَلَغَنِي عَنْ الشَّيْخِ قُطْبِ الدِّينِ السَّنْبَاطِيِّ (رحمه الله) أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: الْفِقْهُ مَعْرِفَةُ النَّظَائِرِ. وَهَذِهِ قَوَاعِدُ تَضْبِطُ لِلْفَقِيهِ أُصُولَ الْمَذْهَبِ، وَتُطْلِعُهُ مِنْ مَأْخَذِ الْفِقْهِ عَلَى نِهَايَةِ الْمَطْلَبِ وَتُنَظِّمُ عِقْدَهُ الْمَنْثُورَ فِي سِلْكٍ وَتَسْتَخْرِجُ لَهُ مَا يَدْخُلُ تَحْتَ مِلْكٍ. أَصْلَتِهَا لِتَكُونَ ذَخِيرَةً عِنْدَ الِاتِّفَاقِ وَفَرَّعْتُ عَلَيْهَا مِنْ الْفُرُوعِ مَا يَلِيقُ بِتَأْصِيلِهَا عَلَى الْخِلَافِ وَالْوِفَاقِ وَغَالِبُهَا بِحَمْدِ اللَّهِ مِمَّا لَا عَهْدَ لِلْأَنَامِ بِمِثْلِهَا وَلَا رَكَضَتْ جِيَادُ الْقَرَائِحِ فِي جَوَادِ سُبُلِهَا تَتَنَزَّهُ فِي رِيَاضِهَا عُيُونُ الْعُقُولِ وَيَكْرَعُ مِنْ حِيَاضِهَا لِسَانُ الْمَنْقُولِ وَيُسْتَخْرَجُ مِنْ أَبْحُرِ الْمَعَانِي دُرُّهَا الثَّمِينُ وَيَتَنَاوَلُ عِقْدَهَا
যখন কেউ শিক্ষা প্রদানের ইচ্ছা করেন, তখন তাকে অবশ্যই দুই ধরণের বর্ণনার সমন্বয় করতে হয়: একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যার প্রতি মন লালায়িত থাকে এবং একটি বিস্তারিত বর্ণনা যাতে মন স্থির হয়। শায়খ কুতুবুদ্দীন আস-সানবাতি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি বলতেন: ফিকহ হলো সমজাতীয় মাসআলাসমূহ অনুধাবন করা। আর এগুলো হলো এমন কিছু মূলনীতি যা ফকিহর জন্য মাযহাবের উসুলসমূহকে সুশৃঙ্খল করে এবং ফিকহ গ্রহণের উৎস থেকে তাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করে। এটি ফিকহের বিক্ষিপ্ত মুক্তোমালাকে একটি সুতোয় গেঁথে বিন্যস্ত করে এবং যা তার আয়ত্তাধীন রয়েছে তা থেকে সারবস্তু বের করে আনে। আমি এগুলোকে মূলনীতি হিসেবে দাঁড় করিয়েছি যাতে তা ঐকমত্যের সময় পাথেয় হিসেবে কাজ করে এবং আমি এর ওপর এমন সব শাখা-প্রশাখা তৈরি করেছি যা মতভেদ ও ঐক্যের ভিত্তিতে এই মূলনীতিগুলোর সাথে মানানসই। আল্লাহর প্রশংসায় এগুলোর অধিকাংশই এমন যা ইতিপূর্বে মানুষেরা দেখেনি এবং প্রতিভাধর ব্যক্তিদের ধীশক্তিও এর প্রশস্ত পথে বিচরণ করেনি। এর বাগানে জ্ঞানীদের চক্ষুসমূহ বিচরণ করে প্রশান্তি লাভ করে এবং এর জলাধার থেকে শরঈ বর্ণনার রসনা সুধা পান করে। এর অর্থ-সমুদ্র থেকে মূল্যবান মুক্তা আহরণ করা হয় এবং এর মালা গ্রহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
الْفَرِيدَ بِالْيَمِينِ.
وَرَتَّبْتُهَا عَلَى حُرُوفِ الْمُعْجَمِ لِيَسْهُلَ تَنَاوُلُ طِرَازِهَا الْمُعَلِّمِ، وَاَللَّهُ الْمَسْئُولُ وَهُوَ خَيْرُ مَأْمُولٍ أَنْ يُلْهِمَنَا مَحَاسِنَ مَا تَنْطِقُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَيَجْعَلُنَا مِنْ الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ.
[فَصْلٌ فِي مَعْنَى الْفِقْه وَأَنْوَاعه]فَصْلٌ
قَالَ الْقَاضِي الْحُسَيْنُ: الْفِقْهُ افْتِتَاحُ عِلْمِ الْحَوَادِثِ عَلَى الْإِنْسَانِ أَوْ افْتِتَاحُ شِعْبِ أَحْكَامِ الْحَوَادِثِ عَلَى الْإِنْسَانِ، حَكَاهُ عَنْهُ الْبَغَوِيّ فِي تَعْلِيقِهِ وَقَالَ ابْنُ سُرَاقَةَ فِي كِتَابِهِ فِي الْأُصُولِ: حَقِيقَةُ الْفِقْهِ عِنْدِي الِاسْتِنْبَاطُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83] . وَكَذَلِكَ قَالَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ فِي الْقَوَاطِعِ: هُوَ اسْتِنْبَاطُ حُكْمِ الْمُشْكِلِ مِنْ الْوَاضِحِ.
ডান হাতে অনন্য।
এবং আমি একে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি যাতে এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিন্যাসটি গ্রহণ করা সহজ হয়; আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা এবং তিনিই সর্বোত্তম আশার স্থল যে, তিনি যেন জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত সুন্দর কথাগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করেন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কথা শোনে ও তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে।
[ফিকহের অর্থ ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ
কাজী হুসাইন বলেন: ফিকহ হলো মানুষের সামনে উদ্ভূত ঘটনাবলির জ্ঞান উন্মোচিত হওয়া, অথবা মানুষের সামনে উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানের শাখাসমূহ উন্মোচিত হওয়া। বাগাভী তার ‘তালীক’ গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে সুরাকাহ তাঁর উসূল বিষয়ক গ্রন্থে বলেন: আমার মতে ফিকহের প্রকৃত অর্থ হলো ইস্তিনবাত (তত্ত্ব উদ্ঘাটন)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ঘাটন করে, তারা তা জানত} [আন-নিসা: ৮৩]। একইভাবে ইবনুস সামআনী ‘আল-কাওয়াতী’ গ্রন্থে বলেন: এটি হলো স্পষ্ট বিষয় থেকে অস্পষ্ট বিষয়ের বিধান উদ্ঘাটন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرُ فَقِيهٍ» أَيْ غَيْرُ مُسْتَنْبِطٍ، وَمَعْنَاهُ أَنَّهُ يَحْمِلُ الرِّوَايَةَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ لَهُ اسْتِدْلَالٌ وَاسْتِنْبَاطٌ مِنْهَا قَالَ: (وَمَا أَشْبَهَ الْفَقِيهَ إلَّا بِغَوَّاصٍ فِي بَحْرِ دُرٍّ كُلَّمَا غَاصَ فِي بَحْرِ فِطْنَتِهِ اسْتَخْرَجَ دُرًّا وَغَيْرُهُ يَسْتَخْرِجُ آجُرًّا) . وَمِنْ الْمَحَاسِنِ قَوْلُ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ (رحمه الله) الْفِقْهُ مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا. وَقَالَ الْإِمَامُ فِي الْغِيَاثِيِّ: أَهَمُّ الْمُطَالَبِ فِي الْفِقْهِ التَّدَرُّبِ فِي مَآخِذِ الظُّنُونِ فِي مَجَالِ الْأَحْكَامِ وَهُوَ الَّذِي يُسَمَّى فِقْهُ النَّفْسِ وَهُوَ أَنْفَسُ صِفَاتِ عُلَمَاءِ الشَّرِيعَةِ.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অনেক ফিকহ বহনকারী এমন রয়েছেন যিনি নিজে ফকীহ নন।" অর্থাৎ তিনি মাসআলা উদ্ভাবনকারী নন। এর অর্থ হলো, তিনি বর্ণনাটি বহন করেন কিন্তু তা থেকে কোনো দলিল গ্রহণ বা মাসআলা উদ্ভাবন করার যোগ্যতা তার নেই। তিনি বলেন: "ফকীহর তুলনা কেবল মুক্তার সমুদ্রের এক ডুবুরির মতো; যখনই তিনি তার মেধার সমুদ্রে ডুব দেন, তখনই মুক্তা আহরণ করেন, আর অন্য কেউ কেবল পোড়ামাটির টুকরো বের করে আনে।" আর একটি চমৎকার উক্তি হলো ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য: "ফিকহ হলো নফসের জন্য কোনটি উপকারী এবং কোনটি ক্ষতিকর তা জানা।" ইমাম (আল-জুওয়াইনী) 'আল-গিয়াছি' গ্রন্থে বলেছেন: "ফিকহশাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষণ হলো বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার উৎসগুলোতে পারদর্শিতা অর্জন করা; আর একেই 'ফিকহুন্ নাফস' বলা হয়, যা শরীয়াহর আলেমদের সবচেয়ে মূল্যবান বৈশিষ্ট্য।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَاعْلَمْ أَنَّ الْفِقْهَ أَنْوَاعٌ.
(أَحَدُهَا) مَعْرِفَةُ أَحْكَامِ الْحَوَادِثِ نَصًّا وَاسْتِنْبَاطًا وَعَلَيْهِ صَنَّفَ الْأَصْحَابُ تَعَالِيقَهُمْ الْمَبْسُوطَةَ عَلَى مُخْتَصَرِ الْمُزَنِيِّ.
(وَالثَّانِي) مَعْرِفَةُ الْجَمْعِ وَالْفَرْقِ وَعَلَيْهِ جُلُّ مُنَاظَرَاتِ السَّلَفِ حَتَّى قَالَ بَعْضُهُمْ: (الْفِقْهُ فَرْقٌ وَجَمْعٌ) وَمِنْ أَحْسَنِ مَا صُنِّفَ فِيهِ كِتَابُ الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْجُوَيْنِيِّ، وَأَبِي الْخَيْرِ بْنِ جَمَاعَةَ الْمَقْدِسِيِّ وَكُلُّ فَرْقٍ بَيْنَ مَسْأَلَتَيْنِ مُؤَثِّرٌ مَا لَمْ يَغْلِبْ عَلَى الظَّنِّ أَنَّ الْجَامِعَ أَظْهَرُ قَالَ الْإِمَامُ (رحمه الله) وَلَا يُكْتَفَى بِالْخَيَالَاتِ فِي الْفُرُوقِ بَلْ إنْ كَانَ اجْتِمَاعُ مَسْأَلَتَيْنِ أَظْهَرَ فِي الظَّنِّ مِنْ افْتِرَاقِهِمَا وَجَبَ الْقَضَاءُ بِاجْتِمَاعِهِمَا وَإِنْ انْقَدَحَ فَرَّقَ عَلَى بُعْدٍ. قَالَ الْإِمَامُ فَافْهَمُوا ذَلِكَ فَإِنَّهُ مِنْ قَوَاعِدِ الدِّينِ.
(الثَّالِثُ) بِنَاءُ الْمَسَائِلِ بَعْضِهَا عَلَى بَعْضٍ لِاجْتِمَاعِهَا فِي مَأْخَذٍ وَاحِدٍ وَأَحْسَنُ شَيْءٍ فِيهِ كِتَابُ السِّلْسِلَةِ لِلْجُوَيْنِيِّ وَقَدْ اخْتَصَرَهُ الشَّيْخُ شَمْسُ الدِّينِ بْنُ الْقَمَّاحِ
জেনে রাখুন যে, ফিকহ কয়েক প্রকার।
(প্রথমটি) নস (মূল পাঠ) এবং ইস্তিনবাত (গবেষণা ও উদ্ভাবন)-এর মাধ্যমে উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানাবলি অনুধাবন করা। এর ওপর ভিত্তি করেই ফকিহগণ মুখতাসারুল মুজানির ওপর তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (তালিকাত) রচনা করেছেন।
(দ্বিতীয়টি) সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য (আল-জামউ ওয়াল ফারক) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। সালাফদের অধিকাংশ বিতর্ক এর ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়েছে, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: "ফিকহ হলো বৈসাদৃশ্য নিরূপণ এবং সাদৃশ্য নির্ধারণ করা।" এই বিষয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী এবং আবুল খায়ের ইবন জামাআ আল-মাকদিসী-এর গ্রন্থসমূহ। দুটি মাসআলার মধ্যকার প্রতিটি পার্থক্যই ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর বলে গণ্য হয়, যতক্ষণ না প্রবল ধারণা হয় যে তাদের মধ্যকার সাধারণ বৈশিষ্ট্যটিই (সাদৃশ্য) অধিক স্পষ্ট। ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: পার্থক্যের ক্ষেত্রে নিছক কাল্পনিক ধারণার ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং যদি দুটি মাসআলার সাদৃশ্য তাদের বৈসাদৃশ্যের তুলনায় ধারণায় অধিক প্রবল হয়, তবে তাদের সমধর্মী হিসেবে গণ্য করা ওয়াজিব হবে, যদিও দূরবর্তী কোনো পার্থক্যের অবকাশ থেকে যায়। ইমাম বলেছেন: তোমরা বিষয়টি অনুধাবন করো, কারণ এটি দীনের অন্যতম মূলনীতি।
(তৃতীয়টি) এক মাসআলাকে অন্য মাসআলার ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করা, যেহেতু সেগুলো একই উৎসে মিলিত হয়েছে। এই বিষয়ে রচিত সর্বোত্তম গ্রন্থ হলো জুওয়াইনী-এর 'কিতাবুস সিলসিলাহ', যা শায়খ শামসুদ্দীন ইবনুল কাম্মাহ সংক্ষেপিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وَقَدْ يَقْوَى التَّسَلْسُلُ فِي بِنَاءِ الشَّيْءِ عَلَى الشَّيْءِ وَلِهَذَا قَالَ الرَّافِعِيُّ وَهَذِهِ سَلْسَلَةٌ طَوَّلَهَا الشَّيْخُ، ثُمَّ الْأَكْثَرُ بِنَاءُ الْوَجْهَيْنِ عَلَى قَوْلَيْنِ أَوْ عَلَى وَجْهَيْنِ إذَا كَانَ الْمَأْخَذُ فِي الْأَصْلِ أَقْوَى وَأَمَّا الْقَوْلَانِ فَيَنْبَنِيَانِ عَلَى الْقَوْلَيْنِ وَقَدْ يَنْبَنِيَانِ عَلَى الْوَجْهَيْنِ وَهُوَ مِمَّا يُسْتَنْكَرُ كَثِيرًا. وَجَوَابُهُ أَنَّ الْوَجْهَيْنِ مَأْخَذُهُمَا قَوْلَانِ فَلَمْ نَبْنِ الْقَوْلَيْنِ فِي الْحَقِيقَةِ إلَّا عَلَى قَوْلَيْنِ.
(الرَّابِعُ) الْمُطَارَحَاتُ: وَهِيَ مَسَائِلُ عَوِيصَةٌ يُقْصَدُ بِهَا تَنْقِيحُ الْأَذْهَانِ. وَقَدْ قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه لِلزَّعْفَرَانِيِّ (رحمه الله) : تَعَلَّمَ
কখনও কখনও একটি বিষয়ের ওপর অন্য বিষয়কে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে পরম্পরা বা ধারাবাহিকতা জোরালো হয়। আর একারণেই ইমাম রাফেয়ি বলেছেন যে, এটি এমন এক পরম্পরা যা শায়খ দীর্ঘায়িত করেছেন। অতঃপর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাব্য অভিমতের (ওয়াজহাইন) ভিত্তি হয় দুটি মূল উক্তির (কাওলাইন) ওপর অথবা অন্য দুটি সম্ভাব্য অভিমতের ওপর, যদি মূল উৎসের ভিত্তিটি অধিকতর শক্তিশালী হয়। আর দুটি মূল উক্তির ক্ষেত্রে সেগুলো অন্য দুটি মূল উক্তির ওপর বিন্যস্ত হয়, আবার কখনও কখনও সেগুলো দুটি সম্ভাব্য অভিমতের ওপরও বিন্যস্ত হয়; আর এটি এমন বিষয় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপত্তিজনক মনে করা হয়। এর উত্তর হলো—উক্ত দুটি সম্ভাব্য অভিমতের উৎস হলো দুটি মূল উক্তি, তাই আমরা প্রকৃতপক্ষে দুটি উক্তিকে দুটি উক্তির ওপরেই বিন্যস্ত করেছি।
(চতুর্থ) মুতারাআত (বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনা): এগুলো হলো অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম মাসআলা, যার উদ্দেশ্য হলো মেধাকে পরিচ্ছন্ন ও শাণিত করা। আর ইমাম শাফেয়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাফরানি (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলেছিলেন: শিক্ষা গ্রহণ করো...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
دَقِيقَ الْعِلْمِ كَيْ لَا يَضِيعَ.
(الْخَامِسُ) الْمُغَالَطَاتُ.
(السَّادِسُ) الْمُمْتَحِنَاتُ.
(السَّابِعُ) الْأَلْغَازُ.
(الثَّامِنُ) الْحِيَلُ، وَقَدْ صَنَّفَ فِيهِ أَبُو بَكْرٍ الصَّيْرَفِيُّ وَابْنُ سُرَاقَةَ وَأَبُو حَاتِمٍ الْقَزْوِينِيُّ وَغَيْرُهُمْ.
(التَّاسِعُ) مَعْرِفَةُ الْأَفْرَادِ وَهُوَ مَعْرِفَةُ مَا لِكُلٍّ مِنْ الْأَصْحَابِ مِنْ الْأَوْجُهِ الْقَرِيبَةِ وَهَذَا يُعْرَفُ مِنْ طَبَقَاتِ الْعَبَّادِيِّ وَغَيْرِهِ مِمَّنْ صَنَّفَ الطَّبَقَاتِ.
(الْعَاشِرُ) مَعْرِفَةُ الضَّوَابِطِ الَّتِي تَجْمَعُ جُمُوعًا وَالْقَوَاعِدُ الَّتِي تَرُدُّ إلَيْهَا أُصُولًا وَفُرُوعًا وَهَذَا أَنْفَعُهَا وَأَعَمُّهَا وَأَكْمَلُهَا وَأَتَمُّهَا وَبِهِ يَرْتَقِي الْفَقِيهُ إلَى الِاسْتِعْدَادِ لِمَرَاتِبِ الْجِهَادِ وَهُوَ أُصُولُ الْفِقْهِ عَلَى الْحَقِيقَةِ.
ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ যাতে তা হারিয়ে না যায়।
(পঞ্চম) হেত্বাভাসসমূহ।
(ষষ্ঠ) পরীক্ষামূলক মাসআলাসমূহ।
(সপ্তম) ধাঁধাসমূহ।
(অষ্টম) কৌশলসমূহ; এ বিষয়ে আবু বকর আল-সাইরাফি, ইবনে সুরাকা, আবু হাতেম আল-কাযভিনি এবং অন্যান্যরা গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(নবম) একক অভিমতসমূহের জ্ঞান; আর তা হলো মাযহাবের ফকিহগণের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত নিকটবর্তী মতসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া। এটি আল-আব্বাদির ‘তাবাকাত’ এবং যারা তাবাকাত বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের থেকে জানা যায়।
(দশম) ওই সকল বিধিবদ্ধ নিয়ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যা বহু বিষয়কে একত্রিত করে এবং ওই সকল মূলনীতি যেগুলোর দিকে মৌলিক ও শাখা মাসআলাসমূহকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এটিই হলো এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী, ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত বিষয়। এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন এবং এটিই মূলত প্রকৃত উসুলুল ফিকহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
[فَائِدَةٌ فِيمَا نضج مِنْ الْعُلُوم وَمَا احترق أولم ينضج وَلَمْ يحترق](فَائِدَةٌ) كَانَ بَعْضُ الْمَشَايِخِ يَقُولُ: الْعُلُومُ ثَلَاثَةٌ عِلْمٌ نَضِجَ وَمَا احْتَرَقَ وَهُوَ عِلْمُ الْأُصُولِ وَالنَّحْوِ وَعِلْمٌ لَا نَضِجَ وَلَا احْتَرَقَ وَهُوَ عِلْمُ الْبَيَانِ وَالتَّفْسِيرِ وَعِلْمٌ نَضِجَ وَاحْتَرَقَ، وَهُوَ عِلْمُ الْفِقْهِ وَالْحَدِيثِ.
وَكَانَ الشَّيْخُ صَدْرُ الدِّينِ بْنُ الْمُرَحَّلِ (رحمه الله) يَقُولُ: يَنْبَغِي لِلْإِنْسَانِ أَنْ يَكُونَ فِي الْفِقْهِ قَيِّمًا وَفِي الْأُصُولِ رَاجِحًا وَفِي بَقِيَّةِ الْعُلُومِ مُشَارِكًا. وَقَالَ صَاحِبُ الْأَحْوَذِيِّ: وَلَا يَنْبَغِي لِحَصِيفٍ يَتَصَدَّى إلَى تَصْنِيفٍ أَنْ يَعْدِلَ عَنْ غَرَضَيْنِ إمَّا أَنْ يَخْتَرِعَ مَعْنًى وَإِمَّا أَنْ يَبْتَدِعَ وَضْعًا وَمَبْنًى وَمَا سِوَى هَذَيْنِ الْوَجْهَيْنِ فَهُوَ تَسْوِيدُ الْوَرَقِ وَالتَّحَلِّي بِحِلْيَةِ السَّرَقِ.
[একটি পরিচ্ছেদ্য: সে সকল শাস্ত্র সম্পর্কে যা পরিপক্ক হয়েছে ও অতি-পরিপক্ক হয়েছে, অথবা যা পরিপক্ক হয়নি এবং অতি-পরিপক্কও হয়নি](একটি পরিচ্ছেদ্য) কোনো কোনো শাইখ বলতেন: শাস্ত্রসমূহ তিন প্রকার; এমন শাস্ত্র যা পরিপক্ক হয়েছে কিন্তু অতি-পরিপক্ক হয়নি—তা হলো উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) ও নাহু (ব্যাকরণ); এমন শাস্ত্র যা পরিপক্ক হয়নি এবং অতি-পরিপক্কও হয়নি—তা হলো ইলমুল বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও তাফসির; এবং এমন শাস্ত্র যা পরিপক্ক হয়েছে ও অতি-পরিপক্ক হয়েছে—তা হলো ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্র।
শাইখ সদরুদ্দীন ইবনুল মুরাহহাল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলতেন: মানুষের জন্য উচিত হলো ফিকহ শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া, উসুল শাস্ত্রে বিজ্ঞ হওয়া এবং অন্যান্য অবশিষ্ট শাস্ত্রে সম্যক অবগত হওয়া। আল-আহওয়াযী গ্রন্থের লেখক বলেন: গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এই দুটি লক্ষ্যের বাইরে যাওয়া সমীচীন নয়: হয় সে নতুন কোনো তত্ত্বের উদ্ভাবন করবে অথবা নতুন কোনো বিন্যাস ও কাঠামোর প্রবর্তন করবে; আর এই দুই পদ্ধতি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা কেবল কাগজ কালো করা এবং চৌর্যবৃত্তির অলঙ্কারে ভূষিত হওয়ার নামান্তর।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
[حَرْفُ الْأَلِفِ] [
الْإِبَاحَةُ]الْإِبَاحَةُ يَتَعَلَّقُ بِهَا مَبَاحِثُ: (الْأَوَّلُ) فِي حَقِيقَتِهَا: وَهِيَ تَسْلِيطٌ مِنْ الْمَالِكِ عَلَى اسْتِهْلَاكِ عَيْنٍ أَوْ مَنْفَعَةٍ وَلَا تَمْلِيكَ فِيهَا وَلِهَذَا لَوْ مَلَكَ شَيْئًا وَلَمْ يَقْبِضْهُ فَأَبَاحَهُ صَحَّ بِخِلَافِ مَا لَوْ وُهِبَهُ وَالْفَرْقُ أَنَّ الْهِبَةَ تَمْلِيكٌ وَفِي فَتَاوَى بَعْضِ أَهْلِ الْيَمَنِ إذَا قَالَ أَبَحْت لَك كَذَا فَإِنْ كَانَ مِمَّا لَا يُتْلَفُ فَهَلْ تَصِحُّ الْإِبَاحَةُ؟ عَلَى وَجْهَيْنِ أَصَحُّهُمَا تَصِحُّ، وَإِنْ كَانَ مِمَّا يُتْلَفُ صَحَّتْ الْإِبَاحَةُ وَجْهًا وَاحِدًا وَلَهُ الرُّجُوعُ فِيمَا لَمْ يُتْلِفْهُ الْمُبَاحُ لَهُ وَفِي فَتَاوَى الْبَغَوِيِّ إذَا أَخَذَ صَيْدًا مَلَكَهُ وَإِذَا أَرْسَلَهُ لَا يَزُولُ مِلْكُهُ فَإِذَا قَالَ أَبَحْته لِكُلِّ مَنْ أَخَذَهُ حَلَّ لِمَنْ أَخَذَهُ أَكَلَهُ. قَالَ وَجَبَ أَنْ لَا يَجُوزَ لِلْآخِذِ بَيْعُهُ وَإِنَّمَا يَحِلُّ لَهُ أَكْلُهُ لِأَنَّ مِلْكَ الْمَالِكِ لَمْ يَزُلْ بِالْإِبَاحَةِ كَالضَّيْفِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَلَا يَبِيعَهُ. انْتَهَى.
وَمِنْ أَقْسَامِهَا الضِّيَافَةُ عِنْدَ الْقَفَّالِ لِأَنَّهَا لَا تُمْلَكُ بَلْ تَنَاوُلُهُمْ إتْلَافٌ عَلَى طَرِيقِ الْإِبَاحَةِ. وَقَالَ الْجُمْهُورُ بَلْ تُمْلَكُ لِأَنَّهَا بِالتَّقْدِيمِ أُلْحِقَتْ بِالْمُبَاحَاتِ وَالْمُبَاحَاتُ تُمْلَكُ
[আলিফ বর্ণ] [
ইবাহাত (বৈধতা বা অনুমতি প্রদান)]ইবাহাত সংক্রান্ত কয়েকটি আলোচনা রয়েছে: (প্রথমত) এর হাকিকত বা স্বরূপ প্রসঙ্গে: আর তা হলো কোনো সত্তা (আইন) বা উপকারের (মানফাত) বিনাশ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালিক কর্তৃক কাউকে ক্ষমতা প্রদান করা, তবে এতে মালিকানা অর্পিত হয় না। এই কারণেই, যদি কেউ কোনো জিনিসের মালিক হয় কিন্তু তা এখনো হস্তগত (কবজ) করেনি, এমতাবস্থায় সে যদি তা (অন্যের জন্য) অনুমতি প্রদান করে তবে তা সহিহ হবে; কিন্তু যদি সে তা দান (হিবা) করে তবে তা সহিহ হবে না। আর পার্থক্য হলো—হিবা হলো মালিকানা প্রদান করা। ইয়েমেনের কোনো কোনো ফকিহ-এর ফতোয়ায় রয়েছে—যদি কেউ বলে: "আমি তোমার জন্য অমুক বিষয়টি বৈধ বা অনুমতি প্রদান করলাম", এমতাবস্থায় সেটি যদি এমন বস্তু হয় যা নিঃশেষ বা ধ্বংস হয় না, তবে কি ইবাহাত সহিহ হবে? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মতটি হলো তা সহিহ হবে। আর যদি তা নিঃশেষ হওয়ার মতো বস্তু হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে ইবাহাত সহিহ হবে। আর যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে যদি বস্তুটি নিঃশেষ না করে থাকে, তবে মালিকের জন্য তা ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকবে। ইমাম বগভীর ফতোয়ায় রয়েছে—যখন কেউ কোনো শিকার ধরে, তখন সে তার মালিক হয়ে যায়; আর যখন সে তাকে ছেড়ে দেয়, তখন তার মালিকানা বিলুপ্ত হয় না। সুতরাং সে যদি বলে: "যে এটি ধরবে তার জন্য আমি এটি বৈধ করে দিলাম", তবে যে ব্যক্তি তা ধরবে তার জন্য তা ভক্ষণ করা হালাল হবে। তিনি বলেন: গ্রহণকারীর জন্য এটি বিক্রি করা জায়েজ না হওয়া আবশ্যক, বরং তার জন্য কেবল এটি ভক্ষণ করা হালাল হবে; কেননা ইবাহাতের মাধ্যমে মূল মালিকের মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায় না, যেমন মেহমান খাবার ভক্ষণ করে কিন্তু তা বিক্রি করতে পারে না। সমাপ্ত।
আর ইমাম কাফফালের মতে মেহমানদারিও ইবাহাতের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এতে মালিকানা অর্পিত হয় না, বরং তাদের আহার করা হলো অনুমতির ভিত্তিতে নিঃশেষ করা মাত্র। জমহুর উলামাগণ বলেন: বরং এতে মালিকানা অর্পিত হয়; কারণ পরিবেশনের মাধ্যমে তা সাধারণ মুবাহ বা বৈধ বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, আর সাধারণ মুবাহ বস্তুসমূহের মালিকানা লাভ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
بِالِاسْتِيلَاءِ وَمِنْهَا الْكُتُبُ الَّتِي يَكْتُبُهَا النَّاسُ بَعْضُهُمْ إلَى بَعْضٍ عَلَى مِلْكِ الْكَاتِبِ وَلِلْمَكْتُوبِ إلَيْهِ الِانْتِفَاعُ بِهَا عَلَى سَبِيلِ الْإِبَاحَةِ حَكَاهُ الرَّافِعِيُّ فِي بَابِ الْهِبَةِ عَنْ الْمُتَوَلِّي وَوَجَّهَهُ الْقَاضِي أَبُو الطَّيِّبِ فِي بَابِ الْوَلِيمَةِ مِنْ تَعْلِيقِهِ بِأَنَّ الْكِتَابَ غَيْرُ مَقْصُودٍ وَإِنَّمَا الْمَقْصُودُ مَا فِيهِ فَهُوَ كَطَبَقِ الْهَدِيَّةِ.
وَمِنْ أَقْسَامِهَا الْعَارِيَّةُ عِنْدَ الْمَرَاوِزَةِ فَهِيَ إبَاحَةٌ لَا مِلْكَ فِيهَا وَالْمُسْتَبِيحُ لَا يَمْلِكُ نَقْلَ الْمِلْكِ بِالْإِبَاحَةِ إلَى غَيْرِهِ وَتَابَعَهُمْ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) فِي بَابِ الْوَصِيَّةِ. وَمِنْ ثَمَّ تَنْعَقِدُ بِلَفْظِهَا فَلَوْ قَالَ أَبَحْت لَك دَرَّ هَذِهِ الشَّاةِ وَنَسْلُهَا كَانَتْ عَارِيَّةً صَحِيحَةً قَالَهُ فِي التَّتِمَّةِ وَعَلَى هَذَا فَقَدْ تَكُونُ الْعَارِيَّةُ لِاسْتِفَادَةِ عَيْنٍ كَالْإِجَارَةِ فِي الرَّضَاعِ وَالْبِئْرِ وَمِمَّا يَفْتَرِقَانِ فِيهِ أَنَّ الْعَارِيَّةَ لَا بُدَّ فِيهَا مِنْ لَفْظٍ إمَّا مِنْ الْجَانِبَيْنِ أَوْ مِنْ أَحَدِهِمَا وَالْفِعْلُ مِنْ الْآخَرِ وَالْإِبَاحَةُ لَا يُشْتَرَطُ ذَلِكَ فِيهَا عَلَى أَحَدِ الْوَجْهَيْنِ، وَفِي
দখল নেওয়ার মাধ্যমে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল পত্র যা মানুষ একে অপরকে লিখে থাকে, যা লেখকের মালিকানাধীন থাকে এবং প্রাপকের জন্য অনুমতি (ইবাহাত) হিসেবে তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকে। ইমাম রাফেয়ী 'হিবা' (দান) অধ্যায়ে আল-মুতাওয়াল্লী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কাজী আবু তাইয়্যেব তাঁর 'তালীক' গ্রন্থের 'ওয়ালিমা' অধ্যায়ে এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, পত্রটি (কাগজ) এখানে মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এর মধ্যকার বিষয়বস্তুই মূল উদ্দেশ্য; তাই এটি উপহারের পাত্রের ন্যায়।
এর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হলো 'আরিয়াহ' (ব্যবহারের জন্য ধার), যা মারওয়াযীগণের মতে কেবল একটি অনুমতি (ইবাহাত), এতে কোনো মালিকানা অর্জিত হয় না। আর যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে এই অনুমতির মাধ্যমে মালিকানা অন্যের নিকট হস্তান্তর করার অধিকার রাখে না। ইমাম রাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) 'ওসিয়ত' অধ্যায়ে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। এই কারণেই এটি তার নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদি কেউ বলে: 'আমি তোমার জন্য এই বকরির দুধ ও এর শাবক বৈধ করলাম', তবে তা একটি সঠিক 'আরিয়াহ' হিসেবে গণ্য হবে, যা 'আত-তাতিনম্মাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে 'আরিয়াহ' কখনও কোনো বস্তু (আইন) থেকে সরাসরি উপকৃত হওয়ার জন্য হতে পারে, যেমন দুগ্ধপান করানো বা কূপের ক্ষেত্রে ইজারা (ভাড়া) হয়ে থাকে। এই দুইয়ের (আরিয়াহ ও ইবাহাত) মধ্যে পার্থক্যের একটি দিক হলো যে, 'আরিয়াহ'-এর ক্ষেত্রে অবশ্যই শব্দ বা উচ্চারণ থাকতে হবে, তা উভয় পক্ষ থেকে হোক অথবা এক পক্ষ থেকে শব্দ এবং অপর পক্ষ থেকে কাজের মাধ্যমে হোক। কিন্তু 'ইবাহাত'-এর ক্ষেত্রে দুটি মতের একটি অনুযায়ী এটি (উচ্চারণ) শর্ত নয়। এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فَتَاوَى الْقَاضِي الْحُسَيْنِ (رحمه الله) جَمَاعَةٌ تَيَمَّمُوا لِعَدَمِ الْمَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ أَبَحْت لَكُمْ هَذَا الْمَاءَ وَهُوَ يَكْفِي لِوَاحِدٍ بَطَلَ تَيَمُّمُهُمْ جَمِيعًا لِأَنَّ الْمَاءَ لَا يَتَعَيَّنُ لِوَاحِدٍ وَإِنْ قَالَ وَهَبْت لَكُمْ فَقَبِلُوا إنْ قُلْنَا يَجِبُ اسْتِعْمَالُهُ بَطَلَ وَإِلَّا فَلَا.
(الثَّانِي) : الْإِبَاحَةُ قَدْ تَكُونُ جَائِزَةَ الرُّجُوعِ وَقَدْ تَكُونُ لَازِمَةً كَمَا لَوْ أَوْصَى لَهُ بِالْمَنَافِعِ مُدَّةَ حَيَاتِهِ فَإِنَّهُ يَسْتَحِقُّهَا عَلَى جِهَةِ الْإِبَاحَةِ اللَّازِمَةِ لَا التَّمْلِيكِ حَتَّى أَنَّهُ إذَا مَاتَ لَا تُورَثُ، عَنْهُ وَفِي جَوَازِ الْإِعَارَةِ لَهُ وَجْهَانِ وَقَالَ الْإِمَامُ فِي الْأَسَالِيبِ (فِي الْكَلَامِ عَلَى الضِّيَافَةِ) لَيْسَ فِي الشَّرْعِ إبَاحَةٌ تُفْضِي إلَى اللُّزُومِ إلَّا فِي النِّكَاحِ، إذَا قُلْنَا إنَّهُ إبَاحَةٌ لَا مِلْكَ فِيهِ وَيُرَدُّ عَلَيْهِ مَا ذَكَرْنَا.
(الثَّالِثُ) : هَلْ يُشْتَرَطُ فِي الْإِبَاحَةِ الْعِلْمُ بِالْقَدْرِ الْمُبَاحِ؟ قَالَ الْعَبَّادِيُّ (رحمه الله) فِي الزِّيَادَاتِ لَوْ قَالَ: أَنْتِ فِي حِلٍّ مِمَّا تَأْخُذُ مِنْ مَالِي أَوْ تُعْطِي أَوْ تَأْكُلُ فَأَكَلَ فَهُوَ حَلَالٌ وَإِنْ أَخَذَ أَوْ أَعْطَى لَمْ يَجُزْ لِأَنَّ الْأَكْلَ إبَاحَةٌ وَالْإِبَاحَةُ تَصِحُّ مَجْهُولَةً وَلَا تَصِحُّ الْهِبَةُ
কাজী আল-হুসাইনের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ফাতাওয়া: একদল লোক পানি না থাকার কারণে তায়াম্মুম করল। এরপর এক ব্যক্তি বলল, "আমি তোমাদের জন্য এই পানি ব্যবহারের অনুমতি (ইবাহাত) দিলাম," অথচ সেই পানি মাত্র একজনের জন্য যথেষ্ট। এমতাবস্থায় তাদের সকলের তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যাবে, কারণ পানিটি নির্দিষ্টভাবে কোনো একজনের জন্য নির্ধারিত হয়নি। আর যদি সে বলে, "আমি তোমাদের এটি দান (হিবা) করলাম" এবং তারা তা গ্রহণ করে; তবে যদি আমরা বলি যে এটি ব্যবহার করা ওয়াজিব, তাহলে তায়াম্মুম বাতিল হবে, অন্যথায় নয়।
(দ্বিতীয়): ইবাহাত (অনুমতি প্রদান) কখনও প্রত্যাহারযোগ্য হয়, আবার কখনও বাধ্যতামূলক (লাজিম) হয়। যেমন কেউ যদি কারও জন্য তার জীবনভর কোনো সম্পদের উপযোগের অসিয়ত করে; তবে সে বাধ্যতামূলক ইবাহাতের ভিত্তিতে তার হকদার হবে, মালিকানা হিসেবে নয়। এমনকি সে ব্যক্তি মারা গেলে তা তার উত্তরাধিকারীদের নিকট হস্তান্তরিত হবে না। এটি অন্যকে ধার দেওয়ার বৈধতার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে। ইমাম (আল-জুয়াইনি) 'আল-আসালিব' গ্রন্থে (আতিথেয়তা প্রসঙ্গে আলোচনায়) বলেছেন: শরীয়তে এমন কোনো ইবাহাত নেই যা বাধ্যতামূলক রূপ পরিগ্রহ করে, কেবল বিবাহ ব্যতীত—যদি আমরা বলি যে এটি ইবাহাত, মালিকানা নয়। তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা তাঁর এই বক্তব্যকে খণ্ডন করে।
(তৃতীয়): ইবাহাতের ক্ষেত্রে কি অনুমোদিত বস্তুর পরিমাণ জানা থাকা শর্ত? আল-আব্বাদী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) 'আয-যিয়াদাত' গ্রন্থে বলেছেন: যদি কেউ বলে, "আমার সম্পদ থেকে তুমি যা গ্রহণ করো, বা দান করো, অথবা আহার করো—তা তোমার জন্য বৈধ," এমতাবস্থায় সে যদি আহার করে তবে তা হালাল হবে। কিন্তু সে যদি (অন্য উদ্দেশ্যে) গ্রহণ করে বা দান করে, তবে তা বৈধ হবে না। কারণ আহার করা হলো ইবাহাত (অনুমতি প্রদান), আর পরিমাণ অজ্ঞাত থাকলেও ইবাহাত শুদ্ধ হয়, কিন্তু হিবা (দান) শুদ্ধ হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
مَجْهُولَةً. وَنَحْوُهُ قَوْلُ الشَّيْخِ (إبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيِّ) (رحمه الله) فِي تَعْلِيقِهِ لَوْ قَالَ لِصَاحِبِهِ أَبَحْت لَك حِلَابَ شَاتِي فَهُوَ إبَاحَةُ الْمَجْهُولِ كَمَا لَوْ قَالَ أَبَحْت لَك مَا تَأْكُلُهُ مِنْ هَذَا الطَّعَامِ فَتَجُوزُ مُسَامَحَتُهُ، وَفِي فَتَاوَى الْبَغَوِيِّ (رحمه الله) إذَا قَالَ أَبَحْت لَك مَا فِي بَيْتِي أَوْ اسْتِعْمَالُ مَا فِي دَارِي مِنْ الْمَتَاعِ لَا تَصِحُّ هَذِهِ الْإِبَاحَةُ حَتَّى يُبَيِّنَ، وَإِنْ قَالَ أَبَحْت لَك مَا فِي دَارِي مِنْ الطَّعَامِ أَوْ مَا فِي كَرْمِي مِنْ الْعِنَبِ جَازَ لَهُ أَكْلُهُ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَحْمِلَهُ أَوْ يَبِيعَهُ أَوْ يُطْعِمَ غَيْرَهُ وَهَذَا يُسَاعِدُ مَا فِي زَوَائِدِ الرَّوْضَةِ فِي كِتَابِ الْقِسْمَةِ إذَا كَانَ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ حَيَوَانٌ لَبُونٌ أَوْ شَجَرَةٌ مُثْمِرَةٌ لَمْ تَجُزْ الْقِسْمَةُ بِالْمُهَايَأَةِ لِمَا فِيهَا مِنْ الزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ فَطَرِيقُهُمَا أَنْ يُبِيحَ كُلُّ وَاحِدٍ لِصَاحِبِهِ مُدَّةً، وَفِي فَتَاوَى ابْنِ الصَّلَاحِ (رحمه الله) رَجُلٌ وَكَّلَ آخَرَ وَكَالَةً مُطْلَقَةً لِيَتَصَرَّفَ فِي مَالِهِ كَيْفَ شَاءَ وَأَذِنَ لَهُ فِي الْأَكْلِ وَمَا أَرَادَ عَلَى طَرِيقِ الْإِبَاحَةِ فَإِذَا أَخَذَ
অজ্ঞাত। এরই অনুরূপ হলো শাইখ (ইবরাহিম আল-মারওয়াযী) (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর বক্তব্য, যা তিনি তাঁর টীকাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: যদি কেউ তার সঙ্গীকে বলে, 'আমি তোমার জন্য আমার ছাগীর দুধ দোহন করা বৈধ করলাম', তবে তা হবে অজ্ঞাত বিষয়ের অনুমতি প্রদান; যেমনটি কেউ যদি বলে, 'আমি তোমার জন্য এই খাদ্য থেকে যা তুমি খাবে তা বৈধ করলাম', তবে এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন বৈধ। আর বাগাওয়ীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ফতোয়াসমূহতে রয়েছে: যখন কেউ বলে, 'আমার ঘরে যা আছে অথবা আমার বাড়ির আসবাবপত্রের ব্যবহার আমি তোমার জন্য বৈধ করলাম', তবে তা নির্দিষ্টভাবে বর্ণনা না করা পর্যন্ত এই অনুমতি সঠিক হবে না। আর যদি সে বলে, 'আমার বাড়িতে থাকা খাদ্যদ্রব্য অথবা আমার আঙুর বাগানের আঙুর আমি তোমার জন্য বৈধ করলাম', তবে তার জন্য তা খাওয়া বৈধ; কিন্তু তার জন্য তা বহন করে নিয়ে যাওয়া, বিক্রি করা কিংবা অন্য কাউকে খাওয়ানো বৈধ নয়। এটি 'যাওয়াইদ আল-রাওদাহ' গ্রন্থের 'বণ্টন অধ্যায়'-এ বর্ণিত বিষয়ের অনুকূল যে, যখন অংশীদারদের মাঝে কোনো দুগ্ধবতী পশু বা ফলবান বৃক্ষ থাকে, তখন পালাক্রমে ব্যবহারের চুক্তি পদ্ধতিতে বণ্টন বৈধ নয়, কারণ এতে কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাদের পন্থা হলো, একে অপরের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা বৈধ করে দেওয়া। আর ইবনুস সালাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর ফতোয়াসমূহতে রয়েছে: এক ব্যক্তি অন্য একজনকে তার সম্পদে নিজের ইচ্ছামতো হস্তক্ষেপ করার জন্য সাধারণ প্রতিনিধিত্ব প্রদান করল এবং তাকে অনুমতির ভিত্তিতে আহার করার ও যা খুশি করার অনুমতি দিল। অতঃপর সে যখন গ্রহণ করল...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
مِنْ مَالِهِ مَثَلًا مِائَةَ دِرْهَمٍ هَلْ تُحْمَلُ عَلَى الْإِبَاحَةِ الْمُطْلَقَةِ؟ أَجَابَ إذَا كَانَ لَفْظُ الْإِبَاحَةِ شَامِلًا لِذَلِكَ أَخْذًا وَقَدْرًا وَلِمَا يُرِيدُ أَنْ يَفْعَلَهُ بِهَا جَازَ ذَلِكَ وَفِي الْقَوَاعِدِ لِلشَّيْخِ عِزِّ الدِّينِ (رحمه الله) لَا يُشْتَرَطُ فِي الْإِبَاحَةِ أَنْ يَكُونَ الْمُبَاحُ مَعْلُومًا لِلْمُبِيحِ وَهَذَا مُسْتَثْنًى مِنْ الْمَجْهُولِ لِلْحَاجَةِ إلَيْهِ.
(الرَّابِعُ) : هَلْ يَصِحُّ تَعْلِيقُهَا قَالَ الرُّويَانِيُّ (رحمه الله) فِي آخِرِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ مِنْ الْبَحْرِ لَوْ قَالَ إذَا جَاءَ رَأْسُ الشَّهْرِ فَقَدْ أَبَحْت لَك فِيهِ وَجْهَانِ قُلْت: وَيُشْبِهُ تَرْجِيحُ الْجَوَازِ إذْ لَا تَمْلِيكَ فِيهَا.
(الْخَامِسُ) : هَلْ تَرْتَدُّ بِالرَّدِّ قَالَ الْإِمَامُ (رحمه الله) فِي بَابِ الْوَكَالَةِ لَا أَعْلَمُ خِلَافًا
উদাহরণস্বরূপ তাঁর সম্পদ থেকে একশত দিরহাম, এটি কি নিরঙ্কুশ অনুমতির (ইবাহাহ মুতলাকাহ) ওপর গণ্য হবে? তিনি উত্তর দিলেন, যদি অনুমতির শব্দটি গ্রহণ করার পদ্ধতি, পরিমাণ এবং সে যা করতে চায় সে বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা বৈধ হবে। শায়খ ইযযুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আল-কাওয়ায়িদ গ্রন্থে রয়েছে যে, অনুমতির ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিষয়টি অনুমতিদাতার নিকট পরিচিত বা সুনির্দিষ্ট হওয়া শর্ত নয়; এটি প্রয়োজনের কারণে অজ্ঞাত বা অজানা (মাজহুল) বিষয়ের বিধান থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য।
(চতুর্থ): এটি কি কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে রাখা বা যুক্ত করা (তালিক) সঠিক হবে? ইমাম রুয়ানি (রাহিমাহুল্লাহ) আল-বাহর গ্রন্থের ওকালাত অধ্যায়ের শেষে বলেছেন, যদি কেউ বলে: "মাসের শুরু এলে আমি তোমার জন্য এটি বৈধ করে দিলাম", তবে এতে দুটি অভিমত রয়েছে। আমি বলছি: বৈধ হওয়ার অভিমতটিই অগ্রগণ্য হওয়ার সদৃশ, যেহেতু এতে কোনো মালিকানা প্রদান (তামলিক) নেই।
(পঞ্চম): এটি কি প্রত্যাখ্যান করার দ্বারা বাতিল হয়ে যায়? ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) ওকালাত অধ্যায়ে বলেছেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানি না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فِي أَنَّ مَنْ أَبَاحَ لِغَيْرِهِ طَعَامًا فَقَالَ الْمُبَاحُ لَهُ رَدَدْت الْإِبَاحَةَ وَكَانَ الْمُبِيحُ مُسْتَمِرًّا عَلَى إبَاحَتِهِ فَلِلْمُبَاحِ لَهُ الِاسْتِبَاحَةُ وَلَا أَثَرَ لِقَوْلِهِ رَدَدْت الْإِبَاحَةَ ثُمَّ قَالَ وَفِي النَّفْسِ مِنْ رَدِّ الْإِبَاحَةِ شَيْءٌ عَلَى بُعْدٍ وَذَكَرَ ابْنُ الرِّفْعَةِ (رحمه الله) أَنَّ كَلَامَ الْمُهَذَّبِ (يَعْنِي فِي الْعَارِيَّةِ) يَقْتَضِي الرَّدَّ. (قُلْت) وَبِهِ صَرَّحَ فِي الذَّخَائِرِ فَقَالَ لِلْمُبَاحِ لَهُ أَنْ يَرُدَّ، وَذَكَرَ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) فِي بَابِ الْوَدِيعَةِ أَنَّ الضَّيْفَ لَوْ قَالَ عَزَلْت نَفْسِي كَانَ لَهُ الْأَكْلُ بَعْدَهُ.
(السَّادِسُ) : قَالَ الْمَاوَرْدِيُّ (رحمه الله) فِي كِتَابِ الْأَيْمَانِ مِنْ الْحَاوِي الِاسْتِبَاحَةُ إذَا صَادَفَتْ إبَاحَةً لَمْ يَعْلَمْهَا الْمُسْتَبِيحُ جَرَى عَلَيْهَا حُكْمُ الْإِبَاحَةِ دُونَ الْحَظْرِ كَمَنْ اسْتَبَاحَ مَالًا قَدْ أَبَاحَهُ لَهُ مَالِكُهُ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ بِإِبَاحَتِهِ لَهُ جَرَى عَلَى الْمَالِ الْمُسْتَبَاحِ حُكْمُ الْإِبَاحَةِ اعْتِبَارًا بِالْمُبِيحِ وَلَمْ يَجْرِ عَلَيْهِ حُكْمُ الْحَظْرِ اعْتِبَارًا بِالْمُسْتَبِيحِ (قُلْت) وَلَوْ
এ বিষয়ে যে, যদি কেউ অন্যকে খাবার গ্রহণের অনুমতি দেয় এবং অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলে, "আমি অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলাম", অথচ অনুমতিদাতা তার অনুমতিতে বহাল থাকে, তবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ থাকবে এবং তার "আমি অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলাম" বলার কোনো প্রভাব পড়বে না। অতঃপর তিনি বলেন: তবে অনুমতির প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে মনে কিছুটা সংশয় রয়ে যায়, যদিও তা দূরবর্তী সম্ভাবনা। ইবনে আল-রিফআহ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-মুহাযযাব'-এর বক্তব্য (অর্থাৎ ধার দেওয়া বা আরিয়্যাহ প্রসঙ্গে) প্রত্যাখ্যানের দাবি রাখে। (আমি বলছি) আর 'আয-যাখাইর' গ্রন্থে এটিই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে। আর রাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) আমানত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, মেহমান যদি বলে "আমি নিজেকে অপসারিত করলাম", তবুও এরপর তার জন্য আহার করা বৈধ হবে।
(ষষ্ঠ) : আল-মাওয়ার্দি (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-হাবি' গ্রন্থের শপথ অধ্যায়ে বলেছেন: কোনো বিষয় ভোগ বা ব্যবহার করা যদি এমন কোনো অনুমতির সাথে মিলে যায় যা ব্যবহারকারী জানত না, তবে তার ওপর নিষিদ্ধতার বিধানের পরিবর্তে অনুমতির বিধানই প্রযোজ্য হবে। যেমন কেউ এমন কোনো সম্পদ ব্যবহার করল যার মালিক তাকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, অথচ সে তার অনুমতির কথা জানত না; তবে সেই ব্যবহৃত সম্পদের ওপর অনুমতিদাতার বিবেচনায় অনুমতির বিধান কার্যকর হবে এবং ব্যবহারকারীর বিবেচনায় নিষিদ্ধতার বিধান কার্যকর হবে না। (আমি বলছি) আর যদি
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
أَبَاحَهُ ثِمَارَ بُسْتَانِهِ ثُمَّ رَجَعَ قَالَ الْغَزَالِيُّ (رحمه الله) (فَمَا يَتَنَاوَلُهُ) قَبْلَ بُلُوغِ الْخَبَرِ فَلَا ضَمَانَ. وَقَالَ الصَّيْدَلَانِيُّ بِالْغُرْمِ لِأَنَّهُ لَا يُؤَثِّرُ بِجَهْلِهِ قَالَ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) : وَإِلَيْهِ مَيْلُ الْإِمَامِ.
وَاَلَّذِي فِي النِّهَايَةِ لَا غُرْمَ بِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ أَجْرَى فِيهِ قَوْلَيْ عَزْلِ الْوَكِيلِ وَرَجَّحَ الْجُمْهُورُ وُجُوبَ الْأُجْرَةِ فِيمَا لَوْ رَجَعَ الْمُعِيرُ وَاسْتَعْمَلَهَا الْمُسْتَعِيرُ جَاهِلًا.
(السَّابِعُ) : مَا يُبَاحُ بِالْإِبَاحَةِ وَمَا لَا يُبَاحُ وَهُوَ عَلَى أَقْسَامٍ:
أَحَدُهَا: مَا يَجُوزُ قَطْعًا وَهُوَ الْأَمْوَالُ بِالِانْتِفَاعِ.
الثَّانِي: مَا يَمْتَنِعُ قَطْعًا فَمِنْهَا إتْلَافُ الْمَالِ لِغَيْرِ غَرَضٍ شَرْعِيٍّ كَمَا صَرَّحُوا بِهِ
তিনি তাকে নিজের বাগানের ফলমূল ভোগ করার অনুমতি প্রদান করলেন, অতঃপর তিনি তা থেকে ফিরে আসলেন (অনুমতি প্রত্যাহার করলেন)। ইমাম আল-গাযালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (অনুমতি প্রত্যাহারের) সংবাদ পৌঁছানোর পূর্বে সে যা কিছু গ্রহণ করেছে, তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। আর আস-সাইদালানি ক্ষতিপূরণের পক্ষাবলম্বন করেছেন, কেননা ব্যক্তির অজ্ঞতা এখানে কোনো প্রভাব রাখে না। ইমাম আর-রাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমামের (আল-জুওয়াইনী) ঝোঁকও এই অভিমতটির দিকেই।
আর 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো, এতে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই মাসআলায় প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করার ব্যাপারে প্রচলিত দুটি মতকে প্রয়োগ করেছেন। আর জুমহুর ওলামায়ে কেরাম সেই ক্ষেত্রে ভাড়ার আবশ্যকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেখানে দাতা তার অনুমতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কিন্তু গ্রহীতা তা না জেনে ব্যবহার করে ফেলেছে।
(সপ্তম): অনুমতির মাধ্যমে যা বৈধ সাব্যস্ত হয় এবং যা হয় না; এটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: যা নিশ্চিতভাবে বৈধ, আর তা হলো ভোগের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবহার।
দ্বিতীয়টি: যা নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ; এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো শারয়ি উদ্দেশ্য ব্যতীত সম্পদ বিনষ্ট করা, যে বিষয়টি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
فِي بَابِ الْغَصْبِ وَغَيْرِهِ وَمِنْهَا الْأَبْضَاعُ وَلِهَذَا لَوْ أَذِنَتْ الْمَرْأَةُ فِي الزِّنَى وَطَاوَعَتْ لَمْ يَسْقُطْ الْحَدُّ لِأَنَّهُ لَا يُبَاحُ بِالْإِبَاحَةِ وَفِي تَعْلِيقِ الشَّيْخِ أَبِي حَامِدٍ فِي كَلَامِهِ عَلَى الْبَيْعِ الْفَاسِدِ لَوْ أَبَاحَ وَطْءَ أَمَتِهِ لِإِنْسَانٍ فَوَطِئَهَا لَا يَلْزَمُهُ الْمَهْرُ لِلْإِذْنِ. قَالَ الرُّويَانِيُّ فِي الْبَحْرِ وَلَا يَنْبَغِي أَنْ تَسْلَمَ لَهُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةُ لِأَنَّ الْوَطْءَ لَا يُسْتَبَاحُ بِالْإِبَاحَةِ فَعِوَضُهُ لَا يَسْقُطُ بِالْإِبَاحَةِ وَيَحْتَمِلُ قَوْلَيْنِ كَمَا فِي إذْنِ الرَّاهِنِ لِلْمُرْتَهِنِ هَلْ يَلْزَمُهُ الْمَهْرُ؟ قَوْلَانِ لَكِنَّهُمَا فِي جَاهِلِ التَّحْرِيمِ فَإِنْ عَلِمَ فَهُوَ زِنًى، وَالزِّنَى لَا يُوجِبُ الْمَهْرَ إلَّا عِنْدَ الْإِكْرَاهِ فِي الْأَمَةِ عَلَى الصَّحِيحِ (وَمِنْهَا) الْقَتْلُ إذَا قَالَ اُقْتُلْنِي لَا يُبَاحُ بِالْإِذْنِ قَطْعًا كَمَا قَالَهُ الْمَاوَرْدِيُّ فِي الْوَدِيعَةِ وَإِنَّمَا الْخِلَافُ فِي الْقِصَاصِ وَالدِّيَةِ وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُمَا لَا يَجِبَانِ فَإِنْ قُلْت: هَلَّا ضَمِنَ فِي الْقَتْلِ فَإِنَّ الْمُحْرِمَ لَوْ حَلَقَ أَجْنَبِيٌّ شَعْرَهُ وَهُوَ سَاكِتٌ فَإِنَّهُ يَضْمَنُ (أَيْ الْمُحْرِمُ) لِأَنَّ الشَّعْرَ فِي يَدِهِ عَارِيَّةٌ أَوْ وَدِيعَةٌ وَالنَّفْسُ أَوْلَى بِذَلِكَ. (قُلْت) : هُمَا سَوَاءٌ فَإِنَّ الْكَفَّارَةَ تَجِبُ عَلَى مُبِيحِ نَفْسِهِ وَهُوَ حَقُّ اللَّهِ تَعَالَى كَوُجُوبِ الْفِدْيَةِ هُنَاكَ وَإِنْ سَقَطَ الْقِصَاصُ لِأَنَّهُ حَقٌّ آدَمِيٌّ وَقَدْ أَسْقَطَهُ (وَمِنْهَا) إبَاحَةُ الْعَرْضِ كَذَلِكَ لَوْ قَالَ اقْذِفْنِي فَلَا يَجِبُ الْحَدُّ فِي الْأَصَحِّ وَقِيلَ يَجِبُ وَنَقْلَ الْإِمَامُ إجْمَاعَ الْأَصْحَابِ عَلَيْهِ لِأَنَّ الْعَارَ يَلْحَقُ الْعَشِيرَةَ فَلَا يُؤَثِّرُ الْإِذْنُ فِي حَقِّهِمْ.
জবরদখল (গসব) ও অন্যান্য অধ্যায়ে এর অন্তর্ভুক্ত হলো লজ্জাস্থানসমূহ; একারণেই যদি কোনো নারী ব্যভিচারের অনুমতি দেয় এবং স্বেচ্ছায় তাতে লিপ্ত হয়, তবে হদ (নির্ধারিত দণ্ড) রহিত হবে না। কারণ, কেবল অনুমতির মাধ্যমে তা বৈধ হয় না। শায়খ আবু হামিদের ‘তালীক’-এ ফাসিদ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আলোচনায় এসেছে—যদি কেউ তার দাসীর সাথে সহবাস করার অনুমতি কাউকে প্রদান করে এবং সে সহবাস করে, তবে অনুমতির কারণে তার ওপর মোহর ওয়াজিব হবে না। আল-রুয়ানী ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে বলেছেন, তার এই মাসআলাটি মেনে নেওয়া সমীচীন নয়। কারণ, কেবল সম্মতির মাধ্যমে সহবাস বৈধ হয়ে যায় না, তাই সম্মতির কারণে এর বিনিময় (মোহর) রহিত হবে না। এখানে দুটি মতের সম্ভাবনা রয়েছে, যেমনটি বন্ধকদাতার পক্ষ থেকে বন্ধকগ্রহীতাকে (সহবাসের) অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়েছে; সেক্ষেত্রে মোহর ওয়াজিব হবে কি না সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। তবে এই দুটি মত কেবল তখন প্রযোজ্য যখন হারাম হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অজ্ঞ থাকে। আর যদি হারাম হওয়ার কথা জানা থাকে, তবে তা ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে। আর সহীহ মত অনুযায়ী দাসীর ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বাধ্য করা ছাড়া ব্যভিচারের কারণে মোহর ওয়াজিব হয় না।
(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) হত্যা; যদি কেউ বলে ‘আমাকে হত্যা করো’, তবে অনুমতির কারণে তা বৈধ হবে না—একথাটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, যেমনটি আল-মাওয়ার্দী আমানত (ওয়াদিয়া) অধ্যায়ে বলেছেন। মতভেদ কেবল কিসাস এবং দিয়াতের (রক্তপণ) ক্ষেত্রে। অধিকতর স্পষ্ট মত হলো, এই দুটি ওয়াজিব হবে না। আপনি যদি প্রশ্ন করেন—হত্যার ক্ষেত্রে কেন জরিমানা দিতে হবে না? অথচ কোনো মুহরিম ব্যক্তির চুল যদি অন্য কেউ কেটে দেয় এবং মুহরিম ব্যক্তি চুপ থাকে, তবে সেই মুহরিম ব্যক্তিকেই জরিমানা দিতে হয়। কারণ চুল তার কাছে আমানত বা গচ্ছিত বস্তুর মতো, আর জীবন বা প্রাণ তো এক্ষেত্রে আরও অগ্রগণ্য হওয়ার কথা। (আমি উত্তরে বলব): উভয়টি সমান। কেননা যে ব্যক্তি নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেয়, তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়, যা মহান আল্লাহর হক; যেমনটি সেখানে ফিদিয়া ওয়াজিব হওয়ার মতো। তবে কিসাস রহিত হয়ে যাবে, কারণ তা মানুষের হক এবং সে নিজেই তা রহিত করে দিয়েছে।
(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) সম্মানের বৈধতা প্রদান; একইভাবে যদি কেউ বলে ‘আমাকে অপবাদ দাও’, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী হদ ওয়াজিব হবে না। কেউ কেউ বলেছেন, ওয়াজিব হবে। ইমাম এ বিষয়ে ফকীহগণের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন; কারণ এর কলঙ্ক বংশের সবার ওপর পড়ে, তাই তাদের হকের ক্ষেত্রে ব্যক্তির দেওয়া অনুমতি কোনো প্রভাব ফেলে না বা কার্যকর হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
[الْإِبْرَاءُ]يَتَعَلَّقُ بِهِ مَبَاحِثُ:
(الْأَوَّلُ) : هَلْ هُوَ إسْقَاطٌ مَحْضٌ كَالْإِعْتَاقِ أَوْ تَمْلِيكٌ لِلْمَدْيُونِ مَا فِي ذِمَّتِهِ فَإِذَا مَلَكَهُ سَقَطَ؟ فِيهِ اخْتِلَافُ تَرْجِيحٍ وَلِهَذَا قَالَ النَّوَوِيُّ (رحمه الله) فِي مَوْضِعٍ لَا يُطْلَقُ التَّرْجِيحُ بَلْ يَخْتَلِفُ بِحَسَبِ الصُّوَرِ أَيْ فَإِنَّهُمْ مَنَعُوا تَعْلِيقَهُ بِالشَّرْطِ وَأَبْطَلُوهُ مِنْ الْمَجْهُولِ وَمَنَعُوا إبْهَامَ الْمَحَلِّ فِيمَا لَوْ كَانَ لَهُ عَلَى كُلٍّ مِنْهُمَا دَيْنٌ فَقَالَ أَبْرَأْتُ أَحَدَكُمَا وَلَوْ كَانَ إسْقَاطًا لَصَحَّ ذَلِكَ كُلُّهُ وَرَجَّحُوا أَنَّهُ لَا يُشْتَرَطُ فِيهِ عِلْمُ الْمَدْيُونِ بِهِ وَلَا قَبُولُهُ وَأَنَّهُ لَا يَرْتَدُّ بِالرَّدِّ وَلَوْ كَانَ تَمْلِيكًا لِشَرْطِ ذَلِكَ كُلِّهِ وَلِهَذَا تَوَسَّطَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ فَقَالَ إنَّهُ تَمْلِيكٌ فِي حَقِّ مَنْ لَهُ الدَّيْنُ إسْقَاطٌ فِي حَقِّ الْمَدْيُونِ وَذَلِكَ لِأَنَّ الْإِبْرَاءَ إنَّمَا
[ঋণমুক্তি]এর সাথে বেশ কিছু আলোচনা সংশ্লিষ্ট:
(প্রথমত): এটি কি দাসমুক্তির ন্যায় নিছক একটি দায়মুক্তি, নাকি দেনাদারের জিম্মায় যা রয়েছে তার মালিকানা তাকে প্রদান করা, ফলে সে যখন তার মালিক হলো তখন ঋণটি বিলুপ্ত হয়ে গেল? এ বিষয়ে কোন মতটি প্রাধান্য পাবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এ কারণেই ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এক স্থানে বলেছেন যে, প্রধান মতটি নিরঙ্কুশভাবে বলা যাবে না, বরং তা ক্ষেত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। অর্থাৎ, ফকিহগণ একে কোনো শর্তের সাথে যুক্ত করা নিষিদ্ধ করেছেন, অজ্ঞাত বিষয়ের ক্ষেত্রে একে বাতিল গণ্য করেছেন এবং যদি দুই ব্যক্তির প্রত্যেকের নিকট ঋণ থাকে আর পাওনাদার বলে, "আমি তোমাদের একজনকে ঋণমুক্ত করলাম"—তবে এক্ষেত্রে অস্পষ্টতার কারণে তারা তা নিষিদ্ধ করেছেন। অথচ এটি যদি নিছক দায়মুক্তি হতো, তবে এই সবকটি বিষয়ই সঠিক হতো। আবার তাঁরা এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এতে দেনাদারের অবগতি কিংবা তার কবুল করা (গ্রহণ করা) শর্ত নয় এবং দেনাদার তা প্রত্যাখ্যান করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয় না। অথচ এটি যদি মালিকানা প্রদান হতো, তবে এই সবকটি বিষয়ই শর্ত হতো। একারণেই ইবনে সামআনী মধ্যপন্থা অবলম্বন করে বলেছেন যে, এটি পাওনাদারের ক্ষেত্রে মালিকানা প্রদান এবং দেনাদারের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি। আর তা এই কারণে যে, ঋণমুক্তি মূলত...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
يَكُونُ تَمْلِيكًا بِاعْتِبَارِ أَنَّ الدَّيْنَ مَالٌ وَهُوَ إنَّمَا يَكُونُ مَالًا فِي حَقِّ مَنْ لَهُ الدَّيْنُ فَإِنَّ أَحْكَامَ الْمَالِيَّةِ إنَّمَا تَظْهَرُ فِي حَقِّهِ.
(الثَّانِي) : أَنَّهُ بَاطِلٌ مِنْ الْمَجْهُولِ إلَّا فِي صُورَتَيْنِ: (إحْدَاهُمَا) إبِلُ الدِّيَةِ (وَالثَّانِيَةُ) مَا إذَا ذَكَرَ غَايَةً يَتَحَقَّقُ أَنَّ حَقَّهُ دُونَهَا كَمَا نَصَّ عَلَيْهِ فِي الْبُوَيْطِيِّ فَيَقُولُ مَثَلًا أَبْرَأَتْك مِنْ دِرْهَمٍ إلَى أَلْفٍ إذَا عَلِمَ أَنَّ مَالَهُ لَا يَزِيدُ عَلَى أَلْفٍ فَإِنَّهُ يَبْرَأُ حِينَئِذٍ عَنْ مَالِهِ فِي ذِمَّتِهِ وَإِنْ جَهِلَ قَدْرَهُ. وَلَوْ قَالَ أَبْرَأْتُك مِنْ الدَّرَاهِمِ فَهَلْ يَصِحُّ وَيُحْمَلُ عَلَى ثَلَاثَةٍ، وَجْهَانِ فِي بَابِ الضَّمَانِ مِنْ الرَّافِعِيِّ وَأَصَحُّهُمَا عَدَمُ الصِّحَّةِ وَهُوَ يَقْتَضِي عَدَمَ صِحَّةِ الْبَرَاءَةِ مِنْ أَدْنَى الْمَرَاتِبِ وَكَلَامُهُ فِي الصَّدَاقِ يَقْتَضِي تَرْجِيحَ الصِّحَّةِ فَإِنَّهُ أَبْطَلَ الْإِبْرَاءَ فِي غَيْرِ الْمُتَيَقَّنِ وَجَعَلَ الْمُتَيَقَّنَ عَلَى وَجْهَيْنِ مِنْ تَفْرِيقِ الصَّفْقَةِ.
تَنْبِيهٌ: فِي مَعْنَى الْمَجْهُولِ مَا لَوْ قَالَ أَبْرِئْنِي مِنْ مِائَةٍ فَأَبْرَأَهُ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ أَنَّ لَهُ
এটি মালিকানা প্রদান হিসেবে গণ্য হবে এই বিবেচনায় যে, ঋণ হলো একটি সম্পদ। আর এটি কেবল পাওনাদারের পক্ষেই সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ সম্পদের বিধানাবলী কেবল তারই ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়।
(দ্বিতীয়ত): অজ্ঞাত বা অজানা বিষয় থেকে দায়মুক্তি প্রদান বাতিল, দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত: (এক) দিয়ত বা রক্তপণের উট এবং (দুই) যখন এমন কোনো শেষ সীমা উল্লেখ করা হয় যার নিচে তার পাওনা থাকা নিশ্চিত, যেমনটি ইমাম বুওয়ায়তী (র.)-এর কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পাওনাদার বলল: "আমি তোমাকে এক দিরহাম থেকে এক হাজার দিরহাম পর্যন্ত দায়মুক্ত করলাম", যখন সে নিশ্চিতভাবে জানে যে তার পাওনা এক হাজারের অধিক নয়। সেক্ষেত্রে সে তার জিম্মায় থাকা পাওনা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে, যদিও সে তার সঠিক পরিমাণ জানে না। আর যদি সে বলে: "আমি তোমাকে দিরহামসমূহ থেকে দায়মুক্ত করলাম", তবে কি তা সঠিক হবে এবং তিন (দিরহাম) হিসেবে গণ্য হবে? ইমাম রাফেয়ী (র.)-এর জামানত অধ্যায়ে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ অভিমত হলো এটি সহিহ না হওয়া। এটি সর্বনিম্ন পর্যায় থেকেও দায়মুক্তির অবৈধতাকে দাবি করে। তবে মোহরানা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর আলোচনা বৈধতাকেই প্রধান্য দেয়; কেননা তিনি অনিশ্চিত বিষয়ের ক্ষেত্রে দায়মুক্তিকে বাতিল ঘোষণা করেছেন এবং নিশ্চিত বিষয়টিকে 'চুক্তি বিভাজন' (তাফরিকুস সাফাকাহ)-এর দুটি দিকের ওপর ন্যস্ত করেছেন।
সতর্কবার্তা: অজ্ঞাত বা অজানার সংজ্ঞায় এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, যদি ঋণগ্রহীতা বলে: "আমাকে একশত থেকে দায়মুক্ত করুন", অতঃপর পাওনাদার তাকে দায়মুক্ত করে দিল অথচ সে জানত না যে তার পাওনা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
عَلَيْهِ شَيْئًا ثُمَّ تَيَقَّنَ أَنَّ لَهُ عَلَيْهِ مِائَةً وَفِي بَرَاءَتِهِ وَجْهَانِ فِي كِتَابِ الصَّدَاقِ مِنْ الرَّافِعِيِّ، وَفِي فَتَاوَى النَّوَوِيِّ (رحمه الله) لَوْ اسْتَوْفَى دَيْنَهُ مِنْ غَرِيمِهِ وَكَانَ الْوَفَاءُ مِنْ مَالٍ حَرَامٍ وَلَمْ يَعْلَمْ الْقَابِضُ أَنَّهُ حَرَامٌ ثُمَّ أَبْرَأَهُ صَاحِبُ الدَّيْنِ إنْ أَبْرَأَهُ بَرَاءَةَ اسْتِيفَاءٍ لَمْ يَصِحَّ وَيَبْقَى الدَّيْنُ فِي ذِمَّتِهِ وَإِنْ أَبْرَأَهُ بَرَاءَةَ إسْقَاطٍ سَقَطَ وَسَكَتَ عَمَّا إذَا أَطْلَقَ، وَالظَّاهِرُ حَمْلُهُ عَلَى بَرَاءَةِ الِاسْتِيفَاءِ فَلَا يَبْرَأُ.
تَنْبِيهٌ آخَرَ: الْمُرَادُ بِالْمَجْهُولِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْمُبْرِئِ، وَأَمَّا الْمُبْرَأُ وَهُوَ الْمَدْيُونُ فَهَلْ يُشْتَرَطُ عِلْمُهُ قَالَ فِي الرَّوْضَةِ إنْ قُلْنَا إسْقَاطٌ لَمْ يُشْتَرَطْ وَإِنْ قُلْنَا تَمْلِيكُ اشْتِرَاطٍ كَالْمُتَّهَبِ.
قُلْت: وَهَذَا فِيمَا لَا مُعَاوَضَةَ فِيهِ فَأَمَّا فِي الْخُلْعِ فَلَا بُدَّ مِنْ عِلْمِ الزَّوْجِ بِمِقْدَارِ مَا أَبْرَأَتْهُ مِنْهُ قَطْعًا لِأَنَّهُ يُؤَوَّلُ إلَى الْمُعَاوَضَةِ وَقَدْ غَلِطَ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ جَمَاعَةٌ وَأَجْرُوا كَلَامَ الْأَصْحَابِ عَلَى إطْلَاقِهِ.
(الثَّالِثُ) : تَعْلِيقُ الْإِبْرَاءِ بِشَرْطٍ لَا يَجُوزُ كَقَوْلِهِ إذَا جَاءَ رَأْسُ الشَّهْرِ فَقَدْ أَبْرَأْتُك، وَسَوَاءٌ
...তার ওপর কোনো কিছু, অতঃপর সে নিশ্চিত হলো যে তার নিকট তার পাওনা একশত রয়েছে; এমতাবস্থায় দায়মুক্তির (ইবরা) বিষয়ে রাফিয়ীর কিতাবুস সাদাক-এ দুটি মত বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নববীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ফাতাওয়ায় আছে: যদি কেউ তার ঋণী ব্যক্তির নিকট থেকে ঋণ উসুল করে এবং সেই পরিশোধিত সম্পদ হারাম ছিল, অথচ গ্রহণকারী জানত না যে তা হারাম, অতঃপর পাওনাদার তাকে দায়মুক্তি প্রদান করে—তবে যদি সে 'উসুলের দায়মুক্তি' হিসেবে মুক্তি দেয় তবে তা সহিহ হবে না এবং ঋণটি তার জিম্মায় বহাল থাকবে। আর যদি সে 'বিলোপের দায়মুক্তি' হিসেবে মুক্তি দেয় তবে তা রহিত হয়ে যাবে। আর যদি সে সাধারণভাবে মুক্তি দেয় তবে সে বিষয়ে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন; এবং স্পষ্টত একে 'উসুলের দায়মুক্তি' হিসেবে গণ্য করা হবে, সুতরাং সে দায়মুক্ত হবে না।
অন্য একটি সতর্কতা: এখানে 'অজ্ঞাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দায়মুক্তিদাতার সাপেক্ষে অজ্ঞাত হওয়া। পক্ষান্তরে যাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ ঋণী ব্যক্তি, তার জন্য কি বিষয়টি জানা থাকা শর্ত? 'রওদাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি আমরা একে 'বিলোপ' বলি তবে শর্ত নয়, আর যদি আমরা একে 'মালিকানা প্রদান' বলি তবে দান গ্রহণকারীর মতো এখানেও বিষয়টি জানা থাকা শর্ত হবে।
আমি বলছি: এটি ঐ সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো বিনিময় নেই। কিন্তু খুলআ-এর ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য সেই বিষয়ের পরিমাণ জানা থাকা অবশ্যই আবশ্যক যা থেকে স্ত্রী তাকে দায়মুক্তি দিচ্ছে, কেননা এটি বিনিময়ের রূপ পরিগ্রহ করে। একদল আলিম এই মাসআলায় ভুল করেছেন এবং তাঁরা আসহাবগণের বক্তব্যকে তার সাধারণ অর্থেই প্রয়োগ করেছেন।
(তৃতীয়): কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া জায়েয নয়। যেমন কারো কথা: "যখন মাসের শুরু আসবে, তখন আমি তোমাকে দায়মুক্ত করে দিলাম।" আর সমান বিষয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
قُلْنَا الْإِبْرَاءُ إسْقَاطٌ أَوْ تَمْلِيكٌ كَمَا قَالَهُ الْمُتَوَلِّي وَغَيْرُهُ. وَلَوْ قَالَتْ الْمَرْأَةُ لِزَوْجِهَا إنْ طَلَّقْتنِي فَأَنْتَ بَرِيءٌ مِنْ صَدَاقِي أَوْ فَقَدْ أَبْرَأْتُك مِنْهُ فَطَلَّقَ لَمْ يَبْرَأْ لِأَنَّ تَعْلِيقَ الْإِبْرَاءِ لَا يَصِحُّ وَعَلَيْهَا مَهْرُ الْمِثْلِ لِأَنَّهُ لَمْ يُطَلِّقْ مَجَّانًا كَذَا قَالَهُ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) فِي الصَّدَاقِ وَكَلَامُ الْمُتَوَلِّي قُبَيْلَ الصُّلْحِ يَقْتَضِي تَرْجِيحَ الْبَرَاءَةِ وَقَوَّاهُ بَعْضُهُمْ. أَمَّا لَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ إنْ أَبْرَأْتنِي مِنْ صَدَاقِك فَأَنْتِ طَالِقٌ فَأَبْرَأَتْهُ فِي مَجْلِسِ التَّوَاجُبِ وَقَعَ بَائِنًا فِي الْأَصَحِّ، وَلَوْ قَالَ إنْ أَبْرَأْت فُلَانًا عَنْ الدَّيْنِ الَّذِي لَك عَلَيْهِ فَأَنْتِ طَالِقٌ فَإِنَّهُ يَقَعُ رَجْعِيًّا وَكَأَنَّ الْفَرْقَ أَنَّهُ فِي الثَّانِيَةِ تَعْلِيقٌ مَحْضٌ وَفِي الْأُولَى مَعْنَى الْمُعَاوَضَةِ حَكَاهُ الرَّافِعِيُّ آخِرَ الطَّلَاقِ عَنْ فَتَاوَى الْقَفَّالِ.
وَيُسْتَثْنَى مِنْ تَعْلِيقِ الْإِبْرَاءِ صُوَرٌ أُخَرُ:
(إحْدَاهَا) : لَوْ قَالَ إنْ رَدَدْت عَبْدِي فَقَدْ أَبْرَأْتُك عَنْ الدَّيْنِ الَّذِي لِي عَلَيْك صَحَّ وَإِذَا رَدَّ يَبْرَأُ لِأَنَّا إنْ قُلْنَا الْإِبْرَاءُ إسْقَاطٌ فَهُوَ إسْقَاطٌ يَجُوزُ بَذْلُ الْعِوَضِ فِي مُقَابَلَتِهِ فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْعِوَضُ مَنَافِعَ بَدَنِهِ قَالَهُ الْمُتَوَلِّي فِي بَابِ الصُّلْحِ.
আমরা বলি যে, দায়মুক্তি হলো অধিকার বিলোপ করা অথবা মালিকানা প্রদান করা, যেমনটি আল-মুতাওয়াল্লি এবং অন্যান্যরা বলেছেন। যদি কোনো নারী তার স্বামীকে বলে: “আপনি যদি আমাকে তালাক দেন, তবে আপনি আমার মোহরানা থেকে দায়মুক্ত” অথবা “আমি আপনাকে তা থেকে অব্যাহতি দিলাম”, এরপর স্বামী তালাক প্রদান করল, তবে সে দায়মুক্ত হবে না; কারণ দায়মুক্তিকে শর্তযুক্ত করা সঠিক নয়। আর এমতাবস্থায় স্ত্রীর ওপর ‘মহরে মিসিল’ (অনুরূপ মোহরানা) সাব্যস্ত হবে, কারণ স্বামী বিনামূল্যে তালাক দেয়নি। ইমাম রাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘মোহরানা’ অধ্যায়ে এমনটিই বলেছেন। এবং ‘সন্ধি’ অধ্যায়ের ঠিক আগে আল-মুতাওয়াল্লির বক্তব্য দায়মুক্তির অগ্রাধিকারকেই দাবি করে এবং কেউ কেউ একে শক্তিশালী বলেছেন। পক্ষান্তরে, স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বলে: “তুমি যদি আমাকে তোমার মোহরানা থেকে দায়মুক্ত করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা”, এরপর স্ত্রী যদি ‘মজলিসে তাওয়াজুব’-এ তাকে দায়মুক্ত করে, তবে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী তা ‘তালাকে বাইন’ হিসেবে কার্যকর হবে। কিন্তু স্বামী যদি বলে: “তুমি যদি অমুক ব্যক্তিকে তোমার পাওনা ঋণ থেকে দায়মুক্ত করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা”, তবে তা ‘তালাকে রজয়ি’ হিসেবে কার্যকর হবে। এদের মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো, দ্বিতীয়টি কেবলই শর্তযুক্তকরণ, আর প্রথমটিতে বিনিময়ের অর্থ বিদ্যমান। ইমাম রাফেয়ি ‘তালাক’ অধ্যায়ের শেষে আল-কাফফালের ফাতাওয়া থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
দায়মুক্তিকে শর্তযুক্ত করার বিষয় থেকে আরও কিছু ক্ষেত্র ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য:
(প্রথমটি): যদি কেউ বলে: “তুমি যদি আমার গোলামকে ফিরিয়ে দাও, তবে আমি তোমাকে আমার পাওনা ঋণ থেকে দায়মুক্ত করে দিলাম”, তবে তা শুদ্ধ হবে এবং যখন সে গোলাম ফিরিয়ে দেবে, তখন সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ আমরা যদি বলি যে দায়মুক্তি হলো অধিকার বিলোপ করা, তবে এটি এমন এক বিলোপন যার বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ। সুতরাং শারীরিক পরিশ্রম বা সেবা বিনিময় হওয়া জায়েজ। আল-মুতাওয়াল্লি ‘সন্ধি’ অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الثَّانِيَةُ) : الْبَرَاءَةُ الْمُعَلَّقَةُ بِمَوْتِ الْمُبْرِئِ كَمَا لَوْ قَالَ لِمَنْ لَهُ عَلَيْهِ دَيْنٌ: إذَا مِتُّ فَأَنْتِ فِي حِلٍّ، فَفِي فَتَاوَى ابْنِ الصَّلَاحِ أَنَّهُ وَصِيَّةٌ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ دَيْنِهِ اُعْتُبِرَ مِنْ الثُّلُثِ، وَيُؤَيِّدُهُ جَوَازُ الْوَقْفِ الْمُعَلَّقِ بِمَوْتِ الْوَاقِفِ. وَمِثْلُهُ مَا فِي فَتَاوَى الْقَاضِي صَدْرِ الدِّينِ مَوْهُوبٍ الْجَزَرِيِّ إذَا قَالَ: أَنْتَ بَرِيءٌ عَنْ الدَّيْنِ بَعْدَ مَوْتِي أَوْ قَالَ إذَا مِتُّ فَقَدْ أَبْرَأْتُك عَنْ الدَّيْنِ، كَانَ ذَلِكَ وَصِيَّةً صَحِيحَةً، سَوَاءٌ قُلْنَا الْإِبْرَاءُ تَمْلِيكٌ أَوْ إسْقَاطٌ لِأَنَّ عَلَى هَذِهِ الطَّرِيقَةِ تُمْلَكُ الْأَعْيَانُ حَتَّى لَوْ قَالَ هَذَا الثَّوْبُ لَك بَعْدَ مَوْتِي صَحَّ.
(الثَّالِثَةُ) : تَعْلِيقُ الْإِبْرَاءِ ضِمْنًا لَا قَصْدًا كَمَا إذَا عَلَّقَ عِتْقَ عَبْدٍ ثُمَّ كَاتَبَهُ فَوُجِدَتْ الصِّفَةُ عَتَقَ وَتَضَمَّنَ ذَلِكَ الْإِبْرَاءَ مِنْ النُّجُومِ حَتَّى تَتْبَعَهُ أَكْسَابُهُ، وَلَوْ لَمْ يَتَضَمَّنْهُ الْإِبْرَاءُ لَمْ يُعْتَقْ عَنْهَا فَلَا يَتْبَعُهُ كَسْبُهُ.
(الرَّابِعَةُ) : الْبَرَاءَةُ تَنْقَسِمُ إلَى اسْتِيفَاءٍ وَإِسْقَاطٍ. قَالَ الْقَفَّالُ فِيمَا حَكَاهُ الْقَاضِي الْحُسَيْنُ
(দ্বিতীয়): দায়মুক্তকারীর মৃত্যুর সাথে শর্তযুক্ত দায়মুক্তি। যেমন কেউ যদি তার দেনাদারকে বলে: "আমি যখন মারা যাব, তখন তুমি দায়মুক্ত।" ইবনে আস-সালাহর ফাতাওয়া অনুযায়ী এটি একটি অসিয়ত। সুতরাং যদি তা ঋণ পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তা মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে বিবেচিত হবে। ওয়াকিফের মৃত্যুর সাথে শর্তযুক্ত ওয়াকফ জায়েজ হওয়া এই বিষয়টিকে সমর্থন করে। কাজী সদরুদ্দীন মাওহুব আল-জাজারির ফাতাওয়াতেও অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ বলে: "আমার মৃত্যুর পর তুমি ঋণ থেকে মুক্ত" অথবা বলে "যদি আমি মারা যাই তবে আমি তোমাকে ঋণ থেকে দায়মুক্ত করলাম", তবে তা একটি সঠিক অসিয়ত হবে; চাই আমরা দায়মুক্তিকে মালিকানা প্রদান (তামলীক) বলি কিংবা দায় বিলোপ (ইস্কাত) বলি। কারণ এই পদ্ধতিতে কোনো বস্তুগত জিনিসেরও মালিকানা দেওয়া যায়, এমনকি কেউ যদি বলে "এই পোশাকটি আমার মৃত্যুর পর তোমার হবে", তবে তা সহীহ হবে।
(তৃতীয়): উদ্দেশ্যমূলকভাবে নয় বরং আনুষঙ্গিকভাবে বা পরোক্ষভাবে দায়মুক্তির শর্তারোপ করা। যেমন কেউ যদি কোনো দাসের মুক্তিকে কোনো বিষয়ের সাথে ঝুলিয়ে রাখে, অতঃপর তার সাথে মুক্তিচুক্তি (মুকাতাবাহ) করে। এরপর যখন সেই শর্তটি পাওয়া যায়, তখন দাসটি মুক্ত হয়ে যায় এবং এটি চুক্তির কিস্তি (নুজুম) থেকে দায়মুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে তার উপার্জিত সম্পদ তার অনুগামী হয়। যদি এটি দায়মুক্তির অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে সে মুক্তি পেত না এবং তার উপার্জনকে সে অনুসরণ করতে পারত না।
(চতুর্থ): দায়মুক্তি (বারাআহ) দুই ভাগে বিভক্ত: পূর্ণ আদায় (ইস্তিফা) এবং দায় বিলোপ (ইস্কাত)। কাজী হুসাইন যা উদ্ধৃত করেছেন তাতে ইমাম কাফফাল বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
عَنْهُ فِي كِتَابِ الْأَسْرَارِ: وَحَدُّ الِاسْتِيفَاءِ حُصُولُ الْبَرَاءَةِ لِمَنْ عَلَيْهِ الدَّيْنُ مَعَ تَمَكُّنِ صَاحِبِهِ (وَهُوَ الْمُخْتَارُ) مِنْ التَّصَرُّفِ فِي بَدَلِهِ غَيْرَ أَنَّ التَّصَرُّفَ اقْتَرَنَ بِالِاسْتِيفَاءِ وَهُوَ إقْرَاضُهُ مِنْهُ. قَالَ وَقَدْ يُجْعَلُ الشَّيْءُ الْوَاحِدُ قَبْضًا وَاسْتِيفَاءً حُكْمًا كَالْعِتْقِ جُعِلَ تَمْلِيكًا وَإِزَالَةً وَاخْتَارَ أَنَّ الْحَوَالَةَ اسْتِيفَاءٌ وَبَعْدَ الِاسْتِيفَاءِ اسْتَحَالَ الْعَوْدُ إلَيْهِ وَلَوْ كَانَتْ مُعَاوَضَةً لَلَزِمَ بَيْعُ الدَّيْنِ بِالدَّيْنِ.
(الْخَامِسُ) أَنَّهُ إنَّمَا يَكُونُ عَمَّا اسْتَقَرَّ مِنْ الدُّيُونِ فِي الذِّمَمِ فَأَمَّا مَا لَمْ يَجِبْ فَلَا يَصِحُّ الْإِبْرَاءُ عَنْهُ فَإِنْ جَرَى سَبَبُ وُجُوبِهِ فَقَوْلَانِ وَأَصَحُّهُمَا إلْغَاؤُهُ كَمَا لَوْ أَبْرَأَ الْمَالِكُ الْغَاصِبَ مِنْ الضَّمَانِ وَالْمَالُ بَاقٍ فِي يَدِهِ فَفِي بَرَاءَتِهِ وَصَيْرُورَةِ يَدِهِ يَدَ أَمَانَةٍ وَجْهَانِ مَبْنِيَّانِ عَلَى الْإِبْرَاءِ عَمَّا لَمْ يَجِبْ، وَجَرَى (سَبَبُ وُجُوبِهِ لِأَنَّ الْغَصْبَ) سَبَبُ وُجُوبِ الْقِيمَةِ عِنْدَ التَّلَفِ وَمِثْلُهُ الْمَبِيعُ قَبْلَ الْقَبْضِ فِي ضَمَانِ الْبَائِعِ فَلَوْ أَبْرَأَهُ الْمُشْتَرِي عَنْ الضَّمَانِ فَخِلَافٌ مَبْنِيٌّ عَلَى مَا قَبْلَهُ وَالْأَصَحُّ عَدَمُ الْبَرَاءَةِ. وَمِثْلُهُ أَوْدَعَهُ عَيْنًا وَأَبْرَأَهُ مِنْ ضَمَانِهَا فَإِنْ كَانَ بَعْدَ تَلَفِهَا وَاسْتِقْرَارِ غُرْمِهَا فِي ذِمَّتِهِ صَحَّ الْإِبْرَاءُ وَإِنْ كَانَ مَعَ بَقَائِهَا فَفِي سُقُوطِ الضَّمَانِ وَجْهَانِ أَصَحُّهُمَا الْمَنْعُ. وَلَوْ أَبْرَأَتْ الْمُفَوِّضَةُ عَنْ مَهْرِ الْمِثْلِ قَبْلَ الْفَرْضِ وَالْمَسِيسِ لَمْ يَصِحَّ لِأَنَّ الْمَذْهَبَ أَنَّ الْعَقْدَ لَمْ يَجِبْ بِهِ شَيْءٌ.
কিতাবুল আসরারে তাঁর থেকে বর্ণিত: ইস্তিফা বা পরিপূর্ণ আদায়ের সংজ্ঞা হলো যার ওপর ঋণ রয়েছে তার দায়মুক্তি ঘটা, সেই সাথে পাওনাদারের পক্ষ থেকে (এটিই পছন্দনীয় মত) উক্ত ঋণের বিনিময়ের ওপর হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন করা; তবে এখানে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের বিষয়টি আদায়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, আর তা হলো তাকে পুনরায় তা ঋণ হিসেবে প্রদান করা। তিনি বলেছেন, কখনো কখনো কোনো বিষয়কে বিধানগতভাবে একই সাথে 'কবজ' (দখল) এবং 'ইস্তিফা' (আদায়) গণ্য করা হয়, যেমন দাসমুক্তকরণকে একই সাথে মালিকানা প্রদান ও মালিকানা বিলুপ্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, 'হাওয়ালহ' (ঋণ হস্তান্তর) একটি ইস্তিফা বা আদায়। আর একবার আদায় হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া অসম্ভব। যদি এটি বিনিময় চুক্তি হতো, তবে ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় করা আবশ্যক হয়ে পড়ত।
(পঞ্চম) তা কেবল জিম্মায় বা দায়বদ্ধতায় স্থির হওয়া ঋণের ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়। তবে যা এখনও আবশ্যক বা ওয়াজিব হয়নি, তা থেকে দায়মুক্তি প্রদান (ইব্রা) সহীহ হবে না। যদি আবশ্যক হওয়ার কারণ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো একে বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করা। যেমন মালিক যদি জবরদখলকারীকে ক্ষতিপূরণের দায় থেকে মুক্তি দেয় অথচ সম্পদটি তখনও তার হাতে বিদ্যমান থাকে, তবে তার দায়মুক্তি লাভ করা এবং তার দখলটি আমানত হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে যা 'ওয়াজিব হওয়ার পূর্বেই দায়মুক্তি প্রদান' নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কারণ জবরদখল করা হলো বস্তু বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তার মূল্য পরিশোধ আবশ্যক হওয়ার কারণ। অনুরূপভাবে, হস্তান্তরের পূর্বে বিক্রিত পণ্য বিক্রেতার জিম্মায় থাকে। এমতাবস্থায় ক্রেতা যদি বিক্রেতাকে সেই জিম্মাদারি থেকে মুক্তি দেয়, তবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে যা পূর্বোক্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে উৎসারিত এবং অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এতে দায়মুক্তি ঘটবে না। এর সদৃশ আরেকটি উদাহরণ হলো, কেউ কাউকে কোনো বস্তু আমানত রাখল এবং তাকে তার দায়ভার থেকে মুক্তি দিল। যদি বস্তুটি বিনষ্ট হওয়ার পর এবং তার ক্ষতিপূরণ জিম্মায় সাব্যস্ত হওয়ার পর এই মুক্তি প্রদান করা হয়, তবে তা সহীহ হবে। আর যদি বস্তুটি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় হয়, তবে দায়ভার রহিত হওয়ার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ হলো তা অকার্যকর হওয়া। আর যদি মোহর নির্ধারিত না হওয়া কোনো নারী মোহর নির্ধারণের পূর্বে এবং সহবাসের পূর্বে মোহরে মিসিল থেকে দায়মুক্তি প্রদান করে, তবে তা সহীহ হবে না। কারণ মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো, এই নিকাহ চুক্তির মাধ্যমে তখন পর্যন্ত কোনো কিছু ওয়াজিব হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَيُسْتَثْنَى مِنْ هَذَا الْقِسْمِ مَا لَوْ حَفَرَ بِئْرًا فِي مِلْكِ غَيْرِهِ بِلَا إذْنٍ وَأَبْرَأَهُ الْمَالِكُ وَرَضِيَ بِاسْتِبْقَائِهَا بَعْدَ الْحَفْرِ بَرِئَ مِمَّا يَقَعُ فِيهَا وَصَارَ كَمَا لَوْ أُذِنَ لَهُ ابْتِدَاءً قَالَهُ (صَاحِبُ الْبَيَانِ) فِي فَتَاوِيهِ. وَلَيْسَ لَنَا إبْرَاءٌ يَصِحُّ (قَبْلَ وُجُوبِهِ غَيْرَ) هَذِهِ الصُّورَةِ وَأَمَّا مَا لَمْ يَسْتَقِرَّ فَلَا يَصِحُّ الْإِبْرَاءُ عَنْهُ كَمَا لَوْ بَاعَ دِينَارًا فِي ذِمَّتِهِ بِعِشْرِينَ دِرْهَمًا فِي ذِمَّةِ صَاحِبِهِ وَأَبْرَأَ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ لَمْ يَصِحَّ لِعَدَمِ اسْتِقْرَارِهِ قَالَهُ الْمَاوَرْدِيُّ وَغَيْرُهُ. وَنُقِضَ بِدَيْنِ الْكِتَابَةِ وَالْأَحْسَنُ تَعْلِيلُهُ بِأَنَّ الشَّرْطَ فِي الرِّبَوِيِّ الْقَبْضُ الْحَقِيقِيُّ بِدَلِيلِ امْتِنَاعِ الْحَوَالَةِ بِهِ وَلَمْ يُوجَدْ ذَلِكَ (وَمِنْهُ الدَّعْوَى فَفِي) صِحَّةِ الْإِبْرَاءِ عَنْهَا وَجْهَانِ. قَالَ الْقَفَّالُ لَا يَصِحُّ (فَلَوْ قَالَ أَبْرَأَتْنِي مِنْ هَذِهِ الدَّعْوَى لَا يُسْمَعُ) .
[الْأَبْنِيَةُ]تُعْتَبَرُ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ وَعَدَمِ الْقَصْرِ وَالْفِطْرِ وَالصَّوْمِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ رُخَصِ السَّفَرِ وَفِي عَدَمِ تَحْرِيمِ الِاسْتِقْبَالِ وَالِاسْتِدْبَارِ لِقَاضِي الْحَاجَةِ وَقَضَاءِ الصَّلَاةِ
এই প্রকারের ব্যতিক্রম হলো যদি কেউ অনুমতি ব্যতীত অন্যের মালিকানাধীন জমিতে একটি কুয়া খনন করে এবং খনন কার্যের পর মালিক তাকে দায়মুক্ত করে দেয় এবং কুয়াটি অবশিষ্ট রাখার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, তবে তাতে যা পড়বে তার দায় থেকে সে মুক্ত হয়ে যাবে। বিষয়টি এমন হয়ে যাবে যেন তাকে শুরুতেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ‘সাহিবুল বয়ান’ তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আমাদের নিকট এই রূপটি ছাড়া ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার পূর্বে দায়মুক্তি প্রদান (ইবরা) সহীহ হওয়ার অন্য কোনো সুরত নেই। আর যা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি, তা থেকে দায়মুক্তি সহীহ নয়; যেমন কেউ যদি তার যিম্মায় থাকা একটি দিনারকে তার সঙ্গীর যিম্মায় থাকা বিশ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে এবং তাদের একজন অপরজনকে দায়মুক্ত করে দেয়, তবে সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে তা সহীহ হবে না। ইমাম মাওয়ার্দী ও অন্যান্যগণ এটি বলেছেন। কিতাবাত চুক্তির ঋণের মাধ্যমে একে খণ্ডন করা হয়েছে। তবে এর উত্তম কারণ দর্শানো হলো এই যে, রিবাবী (সুদযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাময়) বস্তুর ক্ষেত্রে শর্ত হলো প্রকৃত হস্তগত হওয়া, যার প্রমাণ হলো এর মাধ্যমে হাওয়ালা (ঋণ স্থানান্তর) নিষিদ্ধ হওয়া, আর এখানে তা পাওয়া যায়নি। (অনুরূপ একটি বিষয় হলো দাবি বা মামলা), তা থেকে দায়মুক্তি সহীহ হওয়া প্রসঙ্গে দুটি অভিমত রয়েছে। ইমাম কাফফাল বলেছেন, এটি সহীহ নয় (অতএব যদি কেউ বলে, ‘তুমি আমাকে এই দাবি থেকে মুক্ত করে দিয়েছ’, তবে তা শোনা হবে না)।
[স্থাপনা বা অট্টালিকা]জুমুআহর সালাত, কসর না করা, রোজা ভঙ্গ না করা এবং সফরের অন্যান্য সুযোগ বা রুখসত না পাওয়ার ক্ষেত্রে অট্টালিকা বা স্থাপনা বিবেচিত। এছাড়া শৌচকার্য সম্পাদনের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া হারাম না হওয়ার ক্ষেত্রে এবং সালাত কাযা করার ক্ষেত্রেও এটি ধর্তব্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
بِالتَّيَمُّمِ عِنْدَ فَقْدِ الْمَاءِ عَلَى الْمُقِيمِ بِالْأَبْنِيَةِ دُونَ الْمُسَافِرِ غَالِبًا وَفِي الْبَيْعِ يَدْخُلُ فِي بَيْعِ الْقَرْيَةِ الْأَبْنِيَةُ وَالسَّاحَاتُ الْمُحِيطَةُ بِالسُّورِ لَا الْمَزَارِعُ فِي الْأَصَحِّ. وَلَوْ وَلِيَ قَضَاءَ بَلْدَةٍ فَحَكَمَ وَهُوَ خَارِجُ الْأَبْنِيَةِ فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ عَلَى الْخِلَافِ فِي نَظَائِرِهِ فِي دُخُولِ الْمَزَارِعِ فِي الْبَيْعِ وَنَحْوِهِ وَلَوْ حَلَفَ لَا يَدْخُلُ قَرْيَةَ كَذَا لَمْ يَحْنَثْ بِدُخُولِ مَزَارِعِهَا الْخَارِجَةِ عَنْهَا.
[الْأُبُوَّةُ وَالْبُنُوَّةُ مُتَضَايِفَانِ]ِ بِمَعْنَى أَنَّهُ يَلْزَمُ مِنْ ثُبُوتِ أَحَدِهِمَا ثُبُوتُ الْآخَرِ وَمِنْ فُرُوعِهِ: قَالَ الرُّويَانِيُّ الْأَوْلَى فِي ادِّعَاءِ النَّسَبِ أَنْ يَقُولَ مُدَّعِي الْأُبُوَّةِ أَنَا ابْنُك وَمُدَّعِي الْبُنُوَّةَ أَنْتَ ابْنِي فَلَوْ قَالَ الِابْنُ أَنْتِ أَبِي أَوْ الْأَبُ أَنَا أَبُوك صَحَّتْ الدَّعْوَى حُكْمًا وَإِنْ فَسَدَتْ اخْتِيَارًا.
[اتِّحَادُ الْمُوجِبِ وَالْقَابِلِ يَمْتَنِعُ إلَّا فِي مَسْأَلَتَيْنِ](إحْدَاهُمَا) الْأَبُ وَالْجَدُّ فِي بَيْعِ مَالِ الطِّفْلِ لِنَفْسِهِ.
(الثَّانِيَةُ) إذَا وَكَّلَهُ فِي الْبَيْعِ وَأَذِنَ لَهُ فِي الْبَيْعِ مِنْ نَفْسِهِ وَقَدَّرَ الثَّمَنَ وَنَهَاهُ عَنْ
পানি না পাওয়ার কারণে দালানকোঠায় অবস্থানকারী মুকিমের জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ, যা সাধারণত মুসাফিরের ক্ষেত্রে হয় না। আর কেনাবেচার ক্ষেত্রে, গ্রাম বিক্রির অন্তর্ভুক্ত হবে দালানকোঠা এবং সীমানা প্রাচীর বেষ্টিত আঙিনাগুলো, বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী আবাদি জমি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি কেউ কোনো শহরের কাজির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দালানকোঠার বাইরে থাকা অবস্থায় কোনো ফয়সালা করেন, তবে এ বিষয়টি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আবাদি জমি অন্তর্ভুক্ত হওয়া না হওয়ার তদ্রূপ মাসআলাগুলোর মতভেদের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। আর যদি কেউ কসম করে যে, সে অমুক গ্রামে প্রবেশ করবে না, তবে সেই গ্রামের বাইরে অবস্থিত আবাদি জমিতে প্রবেশ করলে সে কসম ভঙ্গকারী হবে না।
[পিতৃত্ব ও পুত্রত্ব পরস্পর আপেক্ষিক] এর অর্থ হলো, এদের একটি সাব্যস্ত হওয়া অন্যটি সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে। এর শাখাগত মাসআলাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমাম রুয়ানি বলেছেন, বংশ পরিচয়ের দাবির ক্ষেত্রে উত্তম হলো পিতৃত্বের দাবিদার বলবে ‘আমি তোমার পুত্র’ এবং পুত্রত্বের দাবিদার বলবে ‘তুমি আমার পুত্র’। তবে যদি পুত্র বলে ‘তুমি আমার পিতা’ অথবা পিতা বলে ‘আমি তোমার পিতা’, তবে বিধানগতভাবে দাবিটি সঠিক হবে, যদিও তা সাধারণ পদ্ধতির দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ।
[প্রস্তাবকারী ও গ্রহণকারী একই ব্যক্তি হওয়া নিষিদ্ধ, কেবল দুটি মাসআলা ব্যতীত](প্রথমটি) শিশুর সম্পদ নিজের নিকট বিক্রির ক্ষেত্রে পিতা ও দাদা।
(দ্বিতীয়টি) যখন তাকে বিক্রির জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয় এবং নিজের নিকট বিক্রয় করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং তাকে নিষেধ করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
الزِّيَادَةِ فَفِي الْمَطْلَبِ أَنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ يَجُوزَ، إذْ اتِّحَادُ الْمُوجِبِ وَالْقَابِلِ إنَّمَا يُمْنَعُ لِأَجْلِ التُّهْمَةِ بِدَلِيلِ الْجَوَازِ فِي حَقِّ الْأَبِ وَالْجَدِّ.
[اتِّحَادُ الْقَابِضِ وَالْمُقْبِضِ يَمْتَنِعُ إلَّا فِي صُوَرٍ]الْوَالِدُ يَتَوَلَّى طَرَفَيْ الْقَبْضِ فِي الْبَيْعِ وَفِي النِّكَاحِ إذَا أَصْدَقَ فِي ذِمَّتِهِ أَوْ فِي مَالِ وَلَدٍ وَلَدَهُ لِبِنْتِ ابْنِهِ وَفِي صُورَةِ الْخُلْعِ إذَا خَالَعَهَا عَلَى طَعَامٍ فِي ذِمَّتِهَا بِصِفَةِ السَّلَمِ وَأَذِنَ لَهَا فِي صَرْفِهِ لِوَلَدِهِ مِنْهَا فَصَرَفَتْهُ لَهُ مِنْ غَيْرِ تَوَسُّطِ قَبْضِ صَاحِبِ الْمَالِ فَإِنَّهَا تَبْرَأُ إلَّا فِي احْتِمَالٍ لِابْنِ الصَّبَّاغِ مِنْ اتِّحَادِ الْقَابِضِ وَالْمُقْبِضِ.
وَنَقَلَ الْجُورِيُّ عَنْ الشَّافِعِيِّ (رحمه الله) أَنَّ السَّاعِيَ يَأْخُذُ مِنْ نَفْسِهِ لِنَفْسِهِ وَقَدْ يَسْتَشْكِلُ ذَلِكَ لِأَنَّ قِسْمَةَ الْمَالِ الْمُشْتَرَكِ لَا يَسْتَقِلُّ بِهِ أَحَدُ الشَّرِيكَيْنِ حَتَّى يَحْضُرَ الْآخَرُ أَوْ يَرْفَعَ الْأَمْرَ إلَى الْقَاضِي إلَّا أَنْ يَعْتَذِرَ بِأَنَّهُ أَمِينٌ مِنْ جِهَةِ الشَّرْعِ وَلَوْ قَالَ مَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ كَفَّارَةُ يَمِينٍ لِغَيْرِهِ أَطْعِمْ عَنِّي عَشَرَةَ مَسَاكِينَ فَأَطْعَمَ يَسْقُطُ الْفَرْضُ
বৃদ্ধির ব্যাপারে 'আল-মাতলাব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি জায়েজ হওয়া উচিত। কেননা ইজাবকারী (প্রস্তাবকারী) এবং কবুলকারী (গ্রহণকারী) একই ব্যক্তি হওয়া কেবল সন্দেহের (তহমত) কারণে নিষিদ্ধ করা হয়, যার প্রমাণ হলো পিতা এবং পিতামহের ক্ষেত্রে এর বৈধতা।
[গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী একই ব্যক্তি হওয়া কয়েকটি বিশেষ চিত্র ব্যতীত নিষিদ্ধ]পিতা ক্রয়-বিক্রয় এবং নিকাহর ক্ষেত্রে কবজ বা দখলের উভয় পক্ষ পরিচালনা করেন, যখন তিনি তার নিজ জিম্মায় কিংবা তার নাতির সম্পদের বিনিময়ে তার নাতনির জন্য মোহরানা নির্ধারণ করেন। এছাড়া 'খুল' এর ক্ষেত্রেও, যখন তিনি স্ত্রীর জিম্মায় থাকা খাদ্যের বিনিময়ে 'সালাম' চুক্তির পদ্ধতিতে খুল সম্পন্ন করেন এবং তাকে তার (স্ত্রীর) গর্ভজাত নিজ সন্তানের জন্য তা ব্যয় করার অনুমতি দেন, আর সে (স্ত্রী) সম্পদের মালিকের কবজ বা গ্রহণের মধ্যস্থতা ছাড়াই তা ব্যয় করে, তবে সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। তবে ইবনুল সাব্বাগের মতে গ্রহণকারী ও প্রদানকারী একই ব্যক্তি হওয়ার কারণে এতে একটি অসম্মতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আল-জুরি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাকাত আদায়কারী নিজের পক্ষ থেকে নিজের জন্যই তা গ্রহণ করতে পারেন। তবে এটি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, কারণ অংশীদারিত্বের সম্পদ বণ্টনে কোনো একজন অংশীদার অপরজনের উপস্থিতি ছাড়া কিংবা বিষয়টি বিচারকের নিকট উপস্থাপন করা ছাড়া একাকী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তবে এর স্বপক্ষে এই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, তিনি শরিয়তের পক্ষ থেকে একজন বিশ্বস্ত আমানতদার। আর যদি শপথের কাফফারা ওয়াজিব হওয়া কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে বলে যে, "আমার পক্ষ থেকে দশজন অভাবগ্রস্তকে খাইয়ে দাও" এবং সে খাইয়ে দেয়, তবে তার বাধ্যবাধকতা সমাপ্ত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
عَنْهُ وَإِنْ كَانَتْ الْهِبَةُ لَا بُدَّ فِيهَا مِنْ الْقَبْضِ، وَيُجْعَلُ قَبْضُ الْمَسَاكِينِ كَقَبْضِهِ قَالَهُ فِي التَّتِمَّةِ فِي كِتَابِ الشُّفْعَةِ وَفِي مَسْأَلَةِ الظُّفْرِ الْمَشْهُورَةِ، وَلَوْ وَكَّلَ الْمَوْهُوبُ لَهُ الْغَاصِبَ أَوْ الْمُسْتَعِيرَ أَوْ الْمُسْتَأْجِرَ فِي قَبْضِ مَا فِي يَدِهِ مِنْ نَفْسِهِ وَقَبِلَ صَحَّ، وَإِذَا مَضَتْ مُدَّةٌ يَتَأَتَّى فِيهَا الْقَبْضُ بَرِئَ الْغَاصِبُ وَالْمُسْتَعِيرُ مِنْ الضَّمَانِ نَقَلَهُ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) فِي كِتَابِ الْهِبَةِ قَالَ وَهُوَ مُخَالِفٌ لِلْأَصْلِ الْمُقَرَّرِ فِي أَنَّ الشَّخْصَ لَا يَكُونُ قَابِضًا وَمُقْبِضًا.
وَكَذَلِكَ لَوْ أَجَّرَ دَارًا بِدَرَاهِمَ مَعْلُومَةٍ ثُمَّ أَذِنَ الْمُؤَجِّرُ لِلْمُسْتَأْجِرِ فِي صَرْفِهَا فِي الْعِمَارَةِ فَإِنَّهُ يَجُوزُ. قَالَ ابْنُ الرِّفْعَةِ (رحمه الله) وَلَمْ يُخَرِّجُوهُ عَلَى الْخِلَافِ فِي اتِّحَادِ الْقَابِضِ وَالْمُقْبِضِ. وَفِي الْإِشْرَافِ لَوْ كَانَ لَهُ فِي ذِمَّةِ شَخْصٍ مَالٌ فَأَذِنَ لَهُ فِي إسْلَامِهِ فِي كَذَا. قَالَ ابْنُ سُرَيْجٍ يَصِحُّ وَالْمَذْهَبُ الْمَنْعُ وَيَنْبَغِي طَرْدُ هَذَا الْخِلَافِ فِي الَّتِي قَبْلَهَا.
[الْإِثْبَاتُ]ُ أَقْرَبُ إلَى الْإِحَاطَةِ وَالْعِلْمِ مِنْ النَّفْي. وَلِذَلِكَ يُقَدَّمُ الْمُثْبِتُ عَلَى النَّافِي عِنْدَ التَّعَارُضِ وَكَانَ الْحَلِفُ فِي طَرَفِ الثُّبُوتِ
তার পক্ষ থেকে, যদিও হিবা (দান) সম্পন্ন হওয়ার জন্য কবজ (দখল গ্রহণ) আবশ্যক। আর মিসকিনদের কবজ করাকে তার (দাতার) কবজ করার স্থলাভিষিক্ত ধরা হবে, যেমনটি কিতাবুশ শুফআ-এর 'তাতিন্মাহ' গ্রন্থে এবং নখের সুপ্রসিদ্ধ মাসয়ালায় বলা হয়েছে। আর যদি যাকে হিবা করা হয়েছে সে ব্যক্তি যদি গাসিব (অবৈধ দখলদার), মুসতায়ির (ধার গ্রহণকারী) বা মুসতাজিরকে (ভাড়াটিয়া) তার নিকট থাকা বস্তুটি নিজের পক্ষ থেকে কবজ করার জন্য উকিল (প্রতিনিধি) নিয়োগ করে এবং সে তা কবুল করে, তবে তা সহীহ হবে। আর যখন এমন সময় অতিবাহিত হবে যাতে কবজ করা সম্ভব, তখন গাসিব ও মুসতায়ির জামানত (ক্ষতিপূরণ) থেকে অব্যাহতি পাবে। ইমাম রাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবুল হিবা-তে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির পরিপন্থী যে, একই ব্যক্তি একই সাথে দাতা (প্রদানকারী) ও গ্রহীতা হতে পারে না।
অনুরূপভাবে, যদি কেউ নির্দিষ্ট দিরহামের বিনিময়ে একটি ঘর ভাড়া দেয়, অতঃপর মুয়াজ্জির (ভাড়া দাতা) মুসতাজিরকে (ভাড়াটিয়াকে) সেই অর্থ ঘর মেরামতের কাজে ব্যয় করার অনুমতি দেয়, তবে তা জায়েজ হবে। ইবনুর রিফআহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ফকীহগণ একে দাতা ও গ্রহীতা একই ব্যক্তি হওয়ার বিষয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে সমাধান করেননি। আর 'আল-ইশরাফ' গ্রন্থে আছে, যদি কারো জিম্মায় অন্য ব্যক্তির কোনো মাল পাওনা থাকে এবং পাওনাদার তাকে ওই মাল দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতে সালাম (অগ্রিম ক্রয়) চুক্তি করার অনুমতি দেয়; তবে ইবনে সুরাইজ বলেন এটি সহীহ হবে, কিন্তু মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো এটি নিষিদ্ধ। আর এই মতপার্থক্যকে তার পূর্ববর্তী মাসআলাতেও প্রয়োগ করা উচিত।
[প্রমাণ বা সাব্যস্তকরণ] অস্বীকৃতি বা না-বোধক বিষয়ের তুলনায় কোনো কিছু প্রমাণ করা বা সাব্যস্ত করা বিষয়টি পরিবেষ্টন করা ও ইলমের (জ্ঞানের) অধিক নিকটবর্তী। এই কারণেই বিরোধ বা বৈপরীত্যের সময় না-বোধক প্রমাণের ওপর হাঁ-বোধক বা প্রমাণ উপস্থাপনকারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শপথ প্রমাণের পক্ষেই নির্ধারিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
عَلَى الْبَتِّ وَفِي النَّفْي عَلَى الْعِلْمِ. وَمِنْ فُرُوعِهِ: لَوْ ادَّعَتْ الطَّلَاقَ فَأَنْكَرَ الزَّوْجُ فَحَلِفَ ثُمَّ رَجَعَتْ لَمْ يُقْبَلْ قَوْلُهَا لِاسْتِنَادِ قَوْلِهَا إلَى الْإِثْبَاتِ وَلَوْ زُوِّجَتْ وَكَانَ رِضَاهَا شَرْطًا فَقَالَتْ لَمْ أَرْضَ ثُمَّ اعْتَرَفَتْ بِهِ فَالْأَصَحُّ عِنْدَ الْغَزَالِيِّ قَبُولُهُ لِأَنَّ قَوْلَهَا الْأَوَّلُ رَاجِعٌ إلَى النَّفْيِ وَالثَّانِي وَهُوَ الْمَنْصُوصُ لَا يُقْبَلُ لِأَنَّ النَّفْيَ فِي فِعْلِهَا كَالْإِثْبَاتِ وَلِذَلِكَ يَحْلِفُ فِي نَفْيِ فِعْلِهِ عَلَى الْبَتِّ.
(وَمِنْهَا) لَوْ قَالَ الْغَاصِبُ الْمُتْلِفُ أَوْ الضَّامِنُ هَذَا الْمَالُ فِي يَدِي حَرَامٌ وَلَمْ يُصَدِّقْهُ الْمَضْمُونُ لَهُ وَالْمَالِكُ فَإِنَّهُ لَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ أَخْذُهُ لِعَدَمِ عِلْمِهِ بِتَحْرِيمِ ذَلِكَ. وَلَوْ قَالَ الْغَاصِبُ هُوَ حَلَالٌ وَقَالَ الْمَضْمُونُ لَهُ حَرَامٌ أُجْبِرَ الْمَضْمُونُ لَهُ عَلَى الْأَخْذِ أَوْ الْإِبْرَاءِ لِأَنَّهُ لَمْ يَتَحَقَّقْ الْعِلْمُ بِالتَّحْرِيمِ.
تَنْبِيهٌ: فَلَوْ كَانَ النَّفْيُ مَحْصُورًا كَانَ كَالْإِثْبَاتِ فِي إمْكَانِ الْإِحَاطَةِ وَلِهَذَا لَوْ شَهِدَا أَنَّهُ بَاعَ فُلَانًا فِي سَاعَةِ كَذَا وَشَهِدَ آخَرَانِ أَنَّهُ كَانَ سَاكِنًا فِي تِلْكَ الْحَالَةِ (أَوْ شَهِدَ اثْنَانِ أَنَّهُ قَتَلَ فُلَانًا سَاعَةَ كَذَا وَشَهِدَ آخَرَانِ أَنَّهُ كَانَ سَاكِنًا فِي تِلْكَ الْحَالَةِ) لَا يَتَحَرَّكُ وَلَا يَعْمَلُ شَيْئًا فَفِي قَبُولِ الشَّهَادَةِ الثَّانِيَةِ وَجْهَانِ أَصَحُّهُمَا الْقَبُولُ وَوَجَّهَهُ
নিশ্চিতভাবে এবং অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে জ্ঞানের ভিত্তিতে। এর শাখাসমূহ হতে: যদি স্ত্রী তালাকের দাবি করে আর স্বামী তা অস্বীকার করে এবং শপথ করে, অতঃপর স্ত্রী (পূর্বের দাবি হতে) ফিরে আসে, তবে তার কথা কবুল করা হবে না; কারণ তার কথাটি ইতিবাচক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আর যদি তাকে বিবাহ দেওয়া হয় যেখানে তার সম্মতি শর্ত ছিল, আর সে বলল, "আমি সম্মত ছিলাম না", অতঃপর সে তা স্বীকার করে নেয়, তবে ইমাম গাজালীর নিকট বিশুদ্ধতর মতানুসারে তা গ্রহণীয় হবে। কারণ তার প্রথম কথাটি ছিল অস্বীকৃতিমূলক। এবং দ্বিতীয় মতটি—যা দলিলে বর্ণিত—তা হলো এটি কবুল করা হবে না। কারণ নিজের কাজের ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি ইতিবাচক সাব্যস্ত করার মতোই। আর এজন্যই নিজের কাজ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই শপথ করতে হয়।
(তার মধ্যে অন্যতম হলো) যদি কোনো ধ্বংসকারী আত্মসাৎকারী অথবা জামিনদার বলে যে, "আমার হাতে থাকা এই সম্পদ হারাম", কিন্তু যার জন্য জামিন নেওয়া হয়েছে সে অথবা মালিক তাকে বিশ্বাস না করে, তবে তা গ্রহণ করা তার জন্য হারাম হবে না; কেননা তার সেটি হারাম হওয়ার বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। আর যদি আত্মসাৎকারী বলে যে এটি হালাল, কিন্তু যার জন্য জামিন নেওয়া হয়েছে সে বলে এটি হারাম, তবে তাকে তা গ্রহণ করার জন্য অথবা ঋণমুক্ত করার জন্য বাধ্য করা হবে। কেননা এর হারাম হওয়া নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
সতর্কীকরণ: যদি অস্বীকৃতিটি সীমাবদ্ধ হয়, তবে তা পরিবেষ্টন করার সম্ভবপরতার দিক থেকে ইতিবাচক সাব্যস্ত করার মতোই হবে। আর একারণেই যদি দুইজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে, সে অমুকের কাছে অমুক সময়ে বিক্রয় করেছে, এবং অন্য দুইজন সাক্ষী দেয় যে সে ওই অবস্থায় স্থির ছিল (অথবা দুইজন সাক্ষ্য দেয় যে সে অমুক সময়ে অমুককে হত্যা করেছে এবং অন্য দুইজন সাক্ষ্য দেয় যে সে ওই অবস্থায় স্থির ছিল), কোনো নড়াচড়া করেনি এবং কোনো কাজ করেনি, তবে দ্বিতীয় সাক্ষ্যটি কবুল হওয়ার বিষয়ে দুটি মত রয়েছে; তার মধ্যে বিশুদ্ধতরটি হলো তা কবুল করা হবে। এবং এর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
النَّوَوِيُّ (رحمه الله) بِمَا ذَكَرْنَا.
[الْإِجَارَةُ كَالْبَيْعِ إلَّا فِي وُجُوبِ التَّأْقِيتِ وَالِانْفِسَاخِ]ِ بَعْدَ الْقَبْضِ بِتَلَفِ الْمَوْرِدِ مِنْ الدَّابَّةِ وَالدَّارِ بِخِلَافِ الْبَيْعِ.
وَفِي خِيَارِ الشَّرْطِ فِيهَا خِلَافٌ، وَأَنَّ الْعَقْدَ يُرَدُّ عَلَى الْمَنْفَعَةِ فِي الْأَصَحِّ وَفِي الْبَيْعِ عَلَى الْعَيْنِ وَأَنَّ الْعِوَضَ يُمْلَكُ فِي الْبَيْعِ بِالْقَبْضِ مِنْ الطَّرَفَيْنِ مِلْكًا مُسْتَقِرًّا؛ وَفِي الْإِجَارَةِ مِلْكًا مُرَاعًى لَا يَسْتَقِرُّ إلَّا بِمُضِيِّ الْمُدَّةِ.
[الْأَجَلُ لَا يَحِلُّ بِغَيْرِ وَقْتِهِ إلَّا فِي صُوَرٍ](مِنْهَا) الْمَوْتُ وَلَوْ مَاتَ الْعَبْدُ الْمَأْذُونُ وَعَلَيْهِ دُيُونٌ مُؤَجَّلَةٌ وَفِي يَدِهِ أَمْوَالٌ فَإِنَّهَا تَحِلُّ. ذَكَرَهُ فِي أَصْلِ الرَّوْضَةِ، فِي بَابِهِ عَنْ الْقَاضِي الْحُسَيْنِ.
(وَمِنْهَا) الْجُنُونُ يَحِلُّ بِهِ الدُّيُونُ الْمُؤَجَّلَةُ فِي الْمَشْهُورِ فِي أَصْلِ الرَّوْضَةِ وَلَا تَرْجِيحَ فِي الرَّافِعِيِّ.
(وَمِنْهَا) اسْتِرْقَاقُ الْحَرْبِيِّ. فِيهِ خِلَافٌ مُرَتَّبٌ عَلَى الْحُلُولِ بِالْإِفْلَاسِ وَأَوْلَى بِالْحُلُولِ؛ ذَكَرَهُ الرَّافِعِيُّ (رحمه الله) فِي السِّيَرِ. قَاعِدَةٌ: حَيْثُ حَلَّ الْأَجَلُ وَلَمْ يُوجَدْ مَا أُجِّلَ لِأَجْلِهِ هَلْ يَبْقَى الْأَمْرُ كَمَا فِي
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) যা আমরা উল্লেখ করেছি।
[ইজারা বা ইজারা-চুক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যায়, তবে সময়সীমা নির্ধারণ এবং চুক্তি বাতিলের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্র ব্যতীত] দখলের পর কোনো পশু বা ঘর ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে (চুক্তি বাতিল হয়ে যায়), যা ক্রয়-বিক্রয়ের বিপরীত।
এতে শর্তাধীন ইচ্ছাধিকারের (খিয়ারুশ শর্ত) ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আর বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী ইজারার ক্ষেত্রে চুক্তিটি উপযোগ বা ব্যবহারের ওপর বর্তায়, যেখানে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তা বস্তুর সত্তার ওপর বর্তায়। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে বিনিময়টি স্থায়ী মালিকানায় পরিণত হয়; কিন্তু ইজারার ক্ষেত্রে মালিকানাটি পর্যবেক্ষণাধীন থাকে এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তা স্থায়ী হয় না।
[নির্ধারিত সময় বা মেয়াদ তার নির্দিষ্ট সময়ের আগে শেষ হয় না, তবে কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত](সেগুলোর মধ্যে একটি হলো) মৃত্যু। যদি অনুমতিপ্রাপ্ত দাস মারা যায় এবং তার ওপর কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ থাকে অথচ তার হাতে সম্পদ থাকে, তবে সেই ঋণগুলো তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হয়ে যায়। কাজী হুসাইনের সূত্রে 'আসলুর রওজাহ'র সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(সেগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো) উন্মাদনা বা পাগল হওয়া। 'আসলুর রওজাহ'-এর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এর মাধ্যমে কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণগুলো তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হয়ে যায়, তবে রাফেয়ীর বর্ণনায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
(সেগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো) হারবি কাফেরকে দাস বানানো। দেউলিয়া হওয়ার কারণে ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার মাসআলার ওপর ভিত্তি করে এখানেও মতভেদ রয়েছে এবং এটি পরিশোধযোগ্য হওয়ার বিষয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য; ইমাম রাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। মূলনীতি: যখন সময়সীমা অতিক্রান্ত হয় অথচ যে কারণে সময় দেওয়া হয়েছিল তা পাওয়া না যায়, তখন কি বিষয়টি তেমনি থাকবে যেমনটা ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মানসূর ফিল কাওয়াাইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الْحَالِّ؟ فِيهِ خِلَافٌ فِي صُوَرٍ:
(مِنْهَا) لَوْ بَاعَ بِمُؤَجَّلٍ وَلَمْ يُسْلِمْ حَتَّى حَلَّ الْأَجَلُ هَلْ يَجِبُ عَلَيْهِ التَّسْلِيمُ أَوْ لَا حَتَّى يَقْبِضَ الثَّمَنَ؟ رَجَّحَ فِي الْكَبِيرِ الْوُجُوبَ وَفِي الصَّغِيرِ عَدَمَهُ.
(وَمِنْهَا) إذَا أَصْدَقَهَا مُؤَجَّلًا فَلَمْ تُسَلِّمْ نَفْسَهَا حَتَّى حَلَّ الْأَجَلُ لَمْ يَجِبْ عَلَيْهَا التَّسْلِيمُ حَتَّى تَقْبِضَ فِي الْأَصَحِّ. (وَمِنْهَا) إذَا بَاعَ بِمُؤَجَّلٍ فَلَمْ يُسَلِّمْ الثَّمَنَ حَتَّى حَجَرَ عَلَى الْمُشْتَرِي فِيهِ وَجْهَانِ.
[الِاجْتِهَادُ لَا يُنْقَضُ بِالِاجْتِهَادِ]ِ لِأَنَّهُ لَوْ نُقِضَ بِهِ لَنُقِضَ النَّقْضُ أَيْضًا لِأَنَّهُ مَا مِنْ اجْتِهَادٍ إلَّا وَيَجُوزُ أَنْ يَتَغَيَّرَ وَيَتَسَلْسَلَ فَيُؤَدِّي إلَى أَنَّهُ لَا تَسْتَقِرُّ الْأَحْكَامُ. وَمِنْ ثَمَّ اتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّهُ لَا يُنْقَضُ حُكْمُ الْحَاكِمِ فِي الْمَسَائِلِ الْمُجْتَهِدِ فِيهَا وَإِنْ قُلْنَا الْمُصِيبُ وَاحِدٌ لِأَنَّهُ غَيْرُ مُتَعَيِّنٍ، وَلَوْ حَكَمَ الْقَاضِي بِاجْتِهَادِهِ ثُمَّ تَغَيَّرَ بِاجْتِهَادٍ آخَرَ لَا يُنْقَضُ الْأَوَّلُ، وَإِنْ كَانَ الثَّانِي أَقْوَى مِنْهُ.
غَيْرَ أَنَّهُ إذَا تَجَدَّدَ لَهُ لَا يُعْمَلُ إلَّا بِالثَّانِي بِخِلَافِ مَا لَوْ بَانَ لَهُ الْخَطَأُ بِالْيَقِينِ قَالَهُ يُنْقَضُ.
وَلَوْ تَقَدَّمَ خَصْمَانِ إلَى الْقَاضِي فَقَالَا كَانَ بَيْنَنَا خُصُومَةٌ فِي كَذَا، وَتَحَاكَمْنَا فِيهَا إلَى الْقَاضِي فُلَانٍ فَحَكَمَ بَيْنَنَا بِكَذَا لَكِنَّا نُرِيدُ أَنْ نَسْتَأْنِفَ الْحُكْمَ فِيهَا عِنْدَك فَقِيلَ يُجِيبُهُمَا وَالْأَصَحُّ الْمَنْعُ بَلْ يَمْضِي حُكْمُ الْأَوَّلِ.
পরিশোধের সময় হওয়া? এক্ষেত্রে কয়েকটি ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে:
(তন্মধ্যে একটি হলো) যদি কেউ বাকিতে বিক্রি করে এবং পণ্য অর্পণ না করে যতক্ষণ না মেয়াদ পূর্ণ হয়, তবে কি তার ওপর পণ্য অর্পণ করা ওয়াজিব হবে নাকি মূল্য গ্রহণ না করা পর্যন্ত তা ওয়াজিব নয়? আল-কাবীর গ্রন্থে ওয়াজিব হওয়াকে এবং আল-ছাগীর গ্রন্থে ওয়াজিব না হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
(আরেকটি হলো) যখন স্বামী স্ত্রীকে বাকিতে মোহরানা প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকে সমর্পণ না করে যতক্ষণ না মোহরানার মেয়াদ পূর্ণ হয়, তবে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী মোহরানা গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজেকে সমর্পণ করা তার ওপর ওয়াজিব হবে না। (আরেকটি হলো) যখন কেউ বাকিতে বিক্রি করে এবং ক্রেতা মূল্য পরিশোধ না করে যতক্ষণ না ক্রেতার ওপর দেউলিয়া হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়, এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
[ইজতিহাদ অন্য ইজতিহাদ দ্বারা খণ্ডন করা যায় না] কারণ যদি এর মাধ্যমে তা খণ্ডন করা হতো, তবে সেই খণ্ডন প্রক্রিয়াটিও আবার খণ্ডিত হতে পারত। কেননা এমন কোনো ইজতিহাদ নেই যার পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয় এবং এটি একটি অসীম ধারাবাহিকতা তৈরি করবে, যা শেষ পর্যন্ত কোনো বিধানই স্থির না থাকার দিকে নিয়ে যাবে। এই কারণে ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, ইজতিহাদী মাসআলাসমূহে বিচারকের ফয়সালা খণ্ডন করা যাবে না, যদিও আমরা বলি যে সত্য বা সঠিক মতটি একটিই, কারণ তা সুনির্দিষ্ট নয়। আর বিচারক যদি তার ইজতিহাদের ভিত্তিতে কোনো রায় প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে অন্য ইজতিহাদের কারণে তার মত পরিবর্তন হয়, তবে আগের রায়টি খণ্ডিত হবে না, যদিও দ্বিতীয়টি প্রথমটির চেয়ে শক্তিশালী হয়।
তবে তার কাছে যদি নতুন ইজতিহাদ আসে, তবে দ্বিতীয়টি অনুযায়ীই আমল করতে হবে। পক্ষান্তরে যদি তার কাছে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে ভুল বলে স্পষ্ট হয়, তবে সেক্ষেত্রে রায়টি খণ্ডিত হয়ে যাবে।
যদি দুইজন বিবাদী বিচারকের কাছে আসে এবং বলে যে, আমাদের মধ্যে অমুক বিষয়ে বিবাদ ছিল এবং আমরা অমুক বিচারকের কাছে এর ফয়সালা চেয়েছিলাম এবং তিনি আমাদের মধ্যে এই মর্মে রায় দিয়েছেন, কিন্তু এখন আমরা আপনার কাছে এই রায়ের পুনর্বিচার চাচ্ছি; তবে এমতাবস্থায় বলা হয়েছে যে, বিচারক তাদের আবেদনে সাড়া দেবেন, কিন্তু বিশুদ্ধতর মত হলো এর অনুমতি নেই; বরং প্রথম বিচারকের রায়ই বহাল থাকবে।