(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: -)
غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر   (أحمد بن محمد الحموي الحنفي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر

المؤلف: أحمد بن محمد مكي، أبو العباس، شهاب الدين الحسيني الحموي الحنفي (ت 1098هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الأولى، 1405هـ - 1985م

عدد الأجزاء:4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

«الأشباه والنظائر لابن نجيم» بأعلى الصفحة يليه - مفصولا بفاصل - شرحه «غمز عيون البصائر» لأحمد الحموي

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর-এর ব্যাখ্যায় গামজু উয়ুনিল বাসাইর   (আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হামাভী আল-হানাফী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর-এর ব্যাখ্যায় গামজু উয়ুনিল বাসাইর

লেখক: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মক্কি, আবুল আব্বাস, শিহাবুদ্দিন আল-হুসাইনি আল-হামাভী আল-হানাফী (মৃত্যু ১০৯৮ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

«ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর» পৃষ্ঠার উপরের অংশে এবং তার পরেই - একটি বিভাজক দ্বারা পৃথককৃত অবস্থায় - আহমদ আল-হামাভীর এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «গামজু উয়ুনিল বাসাইর» রয়েছে।

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

1 - قَالَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ، 2 - عَلَى مَا أَنْعَمَ.

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

قَالَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ. إخْبَارٌ صِيغَةً، إنْشَاءٌ مَعْنًى. وَلَا مَحْذُورَ فِي عَدَمِ مَحْمُودِيَّتِهِ فِي الْأَزَلِ بِمَا أَنْشَأَهُ الْعِبَادُ مِنْ الْمَحَامِدِ، وَإِنَّمَا الْمَحْذُورُ عَدَمُ اتِّصَافِهِ بِمَا يَحْمَدُونَهُ مِنْ الْكِمَالَاتِ وَهُوَ غَيْرُ لَازِمٍ. وَبِهَذَا التَّقْرِيرُ يَسْقُطُ مَا قِيلَ أَنَّهُ يَلْزَمُ عَلَى كَوْنِهِ إنْشَاءً انْتِفَاءَ الِاتِّصَافِ بِالْجَمِيلِ قَبْلَ حَمْدِ الْحَامِدِ ضَرُورَةُ أَنَّ الْإِنْشَاءَ يُقَارِنُ مَعْنَاهُ لَفْظَهُ فِي الْوُجُودِ (انْتَهَى) .

عَلَى أَنَّ اللَّازِمَ مِنْ الْمُقَارَنَةِ انْتِفَاءُ وَصْفِ الْوَاصِفِ الْمُعَيَّنِ لَا الِاتِّصَافُ وَاخْتَارَ الْمُصَنِّفُ (رحمه الله) الْجُمْلَةَ الِاسْمِيَّةَ عَلَى الْفِعْلِيَّةِ وَإِنْ كَانَ اسْتِعْمَالُهُ فِي الْإِنْشَاءِ أَقَلَّ مِنْ الْقَلِيلِ لِإِفَادَتِهَا الثَّبَاتَ وَالدَّوَامَ كَمَا قِيلَ وَفِيهِ أَنَّهُ إنْ أُرِيدَ دَوَامُ الْإِنْشَاءِ أَوْ الْمَنْشَأِ كَالثَّنَاءِ فَهُوَ غَيْرُ ثَابِتٍ أَوْ مُتَعَلِّقُ إنْشَاءِ الِاتِّصَافِ بِالْجَمِيلِ فَدَوَامُ ذَلِكَ إنَّمَا يُسْتَفَادُ بِطَرِيقِ الْإِخْبَارِ وَالْغَرَضُ الْإِنْشَاءُ وَيُجَابُ بِأَنَّ الْمُرَادَ إنْشَاءُ نِسْبَةِ الِاتِّصَافِ بِالْجَمِيلِ عَلَى الدَّوَامِ بِأَنْ يُنْسَبَ إلَيْهِ الِاتِّصَافُ بِذَلِكَ وَلَا نُسَلِّمُ أَنَّ قَصْدَ الْإِنْشَاءِ يُنَافِي إفَادَةَ الْجُمْلَةِ الدَّوَامَ فَلْيُتَأَمَّلْ فِي هَذَا الْمَقَامِ.

(2) عَلَى مَا أَنْعَمَ: قِيلَ إنْ كَانَتْ جُمْلَةُ الْحَمْدِ خَبَرِيَّةً فَيَنْبَغِي أَنْ يَتَعَلَّقَ قَوْلُهُ عَلَى مَا أَنْعَمَ بِأَحَدِ ثَلَاثَةِ أُمُورٍ: إمَّا بِالْمُبْتَدَأِ وَهُوَ الْحَمْدُ وَالْمَعْنَى كُلُّ حَمْدٍ عَلَى أَنْعَامِهِ وَلِأَجْلِهِ، أَوْ جِنْسِ الْحَمْدِ عَلَى أَنْعَامِهِ وَلِأَجْلِهِ مِلْكٌ أَوْ مُسْتَحَقٌّ لِلَّهِ، وَهَذَا الْمَعْنَى مِمَّا لَا شُبْهَةَ فِي صِحَّتِهِ إلَّا أَنَّهُ لَا فَائِدَةَ فِي الْإِخْبَارِ بِهِ لِأَنَّهُ مَعْلُومٌ فَإِنَّ ثُبُوتَ كُلِّ حَمْدٍ أَوْ جِنْسِ الْحَمْدِ
[গ্রন্থের ভূমিকা]

১ - তিনি বললেন, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। ২ - তাঁর নেয়ামতসমূহের ওপর।

--

[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

তিনি বললেন, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এটি শব্দের দিক থেকে বর্ণনামূলক, অর্থের দিক থেকে প্রবর্তনামূলক। অনাদিকাল থেকে বান্দাদের প্রবর্তিত প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসিত না হওয়ার মাঝে কোনো দোষ নেই; বরং দোষের বিষয় হলো তিনি ওইসব পূর্ণতা দ্বারা গুণান্বিত না হওয়া যার মাধ্যমে তারা তাঁর প্রশংসা করে, অথচ এটি হওয়া আবশ্যক নয়। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সেই আপত্তি নিরসন হয় যাতে বলা হয়েছে যে, এটি 'ইনশা' (প্রবর্তনামূলক) হওয়ার কারণে প্রশংসাকারীর প্রশংসার পূর্বে সুন্দর গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত হওয়া রহিত হয়ে যায়; কারণ 'ইনশা' এর অস্তিত্বে তার অর্থ ও শব্দ পরস্পর সংলগ্ন থাকে (সমাপ্ত)।

তবে কথা হলো, এই সংলগ্নতা থেকে যা সাব্যস্ত হয় তা হলো নির্দিষ্ট বর্ণনাকারীর বর্ণনার অনুপস্থিতি, স্বয়ং গুণান্বিত হওয়ার অনুপস্থিতি নয়। আর গ্রন্থকার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ক্রিয়াবাচক বাক্যের চেয়ে নামবাচক বাক্যকে প্রধান্য দিয়েছেন, যদিও 'ইনশা' এর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই নগণ্য; কেননা এটি স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা বুঝায়, যেমনটি বলা হয়েছে। এতে বক্তব্য এই যে, যদি এর দ্বারা প্রশংসার মতো 'ইনশা' বা প্রবর্তিত বিষয়ের স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সাব্যস্ত নয়। অথবা যদি এটি সুন্দর গুণে গুণান্বিত হওয়ার ইনশা-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সেই স্থায়িত্ব কেবল বর্ণনামূলক পথেই লাভ করা যায়, অথচ এখানে উদ্দেশ্য হলো 'ইনশা'। এর উত্তরে বলা হয় যে, উদ্দেশ্য হলো সুন্দর গুণে গুণান্বিত হওয়ার সম্বন্ধকে স্থায়ীভাবে প্রবর্তিত (ইনশা) করা, যাতে তাঁর দিকে সেই গুণান্বিত হওয়ার সম্বন্ধ করা হয়। আমরা এটি স্বীকার করি না যে, 'ইনশা' এর উদ্দেশ্য বাক্যের স্থায়িত্ব বুঝানোর পরিপন্থী। সুতরাং এই বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত।

(২) তাঁর নেয়ামতসমূহের ওপর: বলা হয়েছে যে, যদি প্রশংসার বাক্যটি বর্ণনামূলক হয়, তবে "তাঁর নেয়ামতসমূহের ওপর" কথাটি তিনটি বিষয়ের কোনো একটির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া উচিত: হয় মুক্তাদা-এর সাথে, যা হলো 'আল-হামদু' (প্রশংসা), আর এর অর্থ দাঁড়াবে—তাঁর নেয়ামতসমূহের কারণে ও জন্য সকল প্রশংসা; অথবা তাঁর নেয়ামতসমূহের কারণে ও জন্য যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর মালিকানাধীন বা তাঁর প্রাপ্য। এই অর্থের বিশুদ্ধতায় কোনো সন্দেহ নেই, তবে তা বর্ণনা করার মাঝে বিশেষ কোনো ফায়দা নেই কারণ এটি সুবিদিত। কেননা প্রতিটি প্রশংসা বা সকল প্রকার প্রশংসার সাব্যস্ত হওয়া...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

عَلَى أَنْعَامِ اللَّهِ لِلَّهِ مِمَّا لَا يَخْفَى عَلَى أَحَدٍ (انْتَهَى) .

(أَقُولُ لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ سَلَّمْنَا أَنَّ الْإِخْبَارَ بِذَلِكَ مِمَّا لَا يَخْفَى عَلَى أَحَدٍ لِعِلْمِهِ بِذَلِكَ لَكِنْ لَا نُسَلِّمُ أَنَّ ذَلِكَ مَحْذُورٌ مَانِعُ مِنْ كَوْنِ الْجُمْلَةِ حَمْدًا أَلَا تَرَى أَنَّك لَوْ قُلْت اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي أَوْ خَالِقِي أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا وَرَدَ فِي السُّنَّةِ كَانَ ذَلِكَ مَعْلُومًا لِكُلِّ وَاحِدٍ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ وَمَعَ ذَلِكَ يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ مُقْتَضَاهُ مِنْ حُصُولِ الثَّوَابِ وَكَذَا قَوْلُك أَنْتَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ وَنَحْوُهُ بَلْ يَكُونُ ذَلِكَ حَمْدًا لَهُ فَإِنْ كَانَ فِيمَا ذُكِرَ خُصُوصِيَّةٌ يَتَرَتَّبُ عَلَيْهَا ذَلِكَ الْمُقْتَضَى فَلِتَكُنْ هَذِهِ الْخُصُوصِيَّةُ مَوْجُودَةٌ فِي قَوْلِنَا الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى مَا أَنْعَمَ.

وَكَمْ فِي السُّنَّةِ الشَّرِيفَةِ مِنْ جُمَلٍ مَعْلُومَةٍ لِكُلِّ أَحَدٍ بَلْ بِالضَّرُورَةِ وَأَمَرَ الشَّارِعُ بِهَا لِيَتَرَتَّبَ عَلَيْهَا مُقْتَضَاهَا (وَالثَّانِي بِالْحَمْدِ اللَّازِمِ لِهَذَا الْخَبَرِ كَأَنَّهُ قِيلَ حَمْدِي اللَّازِمُ مِنْ هَذَا الْخَبَرِ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ) .

أَقُولُ: لَك أَنْ تَقُولَ فِيهِ ارْتِكَابُ خِلَافِ مَا هُوَ الْمَشْهُورُ بَيْنَهُمْ مِنْ أَنَّ الْجَارَّ وَالْمَجْرُورَ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ لَفْظٍ يَتَعَلَّقُ بِهِ وَظَاهِرُ أَنَّ الْحَمْدَ اللَّازِمَ مِنْ هَذَا الْخَبَرِ لَيْسَ هُوَ بِلَفْظٍ وَإِنَّمَا هُوَ مُجَرَّدُ مَعْنًى لَزِمَ مِنْ الْمَعْنَى الْخَبَرِيِّ وَيُفْهَمُ مِنْ قُوَّةِ الْكَلَامِ أَنَّ الْمَحْمُودَ عَلَيْهِ هُوَ قَوْلُهُ عَلَى مَا أَنْعَمَ (وَلَك أَنْ تَقُولَ جَازَ أَنْ يَكُونَ الْمَحْمُودُ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ هُوَ الذَّاتُ أَوْ الصِّفَاتُ الذَّاتِيَّةُ) وَكَأَنَّهُ قَالَ حَمْدِي اللَّازِمُ مِنْ هَذَا الْخَبَرِ لِأَجْلِ الْإِنْعَامِ صَادِرٌ فِي مُقَابِلَةِ الذَّاتِ الْعَلِيَّةِ وَالصِّفَاتِ الذَّاتِيَّةِ (وَلَا يُقَالُ أَنَّ صُدُورَهُ لِأَجْلِ الْإِنْعَامِ يُنَافِي أَنْ يَكُونَ فِي مُقَابَلَةِ الذَّاتِ) لِأَنَّا نَقُولُ لَا نُسَلِّمُ ذَلِكَ فَقَدْ صَرَّحَ الْمُحَقِّقُونَ أَنَّ الْمَحْمُودَ عَلَيْهِ لَيْسَ بَاعِثًا حَقِيقِيًّا عَلَى الْحَمْدِ (وَالثَّالِثُ) تَعَلُّقُهُ بِخَبَرِ الْمُبْتَدَأِ، أَعْنِي لِلَّهِ مَعَ حَمْلِ أَلْ عَلَى الْجِنْسِ، وَأَمَّا تَعَلُّقُهُ بِخَبَرِ الْمُبْتَدَأِ أَعْنِي لِلَّهِ مَعَ حَمْلِ أَلْ عَلَى الِاسْتِغْرَاقِ فَلَا يَنْبَغِي جَوَازُهُ إذْ الْمَعْنَى حِينَئِذٍ أَنَّ كُلَّ حَمْدٍ مَمْلُوكٌ أَوْ مُسْتَحَقٌّ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ وَقَضِيَّتُهُ انْحِصَارُ عِلَّةِ مَمْلُوكِيَّةِ الْحَمْدِ أَوْ اسْتِحْقَاقِهِ فِي الْإِنْعَامِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذْ غَيْرُ الْإِنْعَامِ كَالذَّاتِ وَصِفَاتِهَا الذَّاتِيَّةِ تَكُونُ عِلَّةً أَيْضًا لِمَا ذُكِرَ بِخِلَافِ مَا ذُكِرَ مَعَ حَمْلِ أَلْ عَلَى الْجِنْسِ، إذْ مِلْكُ جِنْسِ الْحَمْدِ وَاسْتِحْقَاقُهُ لِأَجْلِ الْإِنْعَامِ لَا يُنَافِي مِلْكَهُ وَاسْتِحْقَاقَهُ لِغَيْرِهِ أَيْضًا وَكَذَا تَعَلُّقُهُ بِمَحْذُوفٍ عَلَى أَنَّهُ خَبَرٌ.

وَلِلَّهِ صِلَةُ الْمُبْتَدَأِ مَعَ حَمْلِ أَلْ عَلَى الِاسْتِغْرَاقِ أَيْضًا إذْ الْمَعْنَى حِينَئِذٍ كُلُّ حَمْدٍ لِلَّهِ كَائِنٌ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذْ بَعْضُ الْحَمْدِ كَائِنٌ لِأَجْلِ غَيْرِ الْإِنْعَامِ كَالذَّاتِ وَالصِّفَاتِ بِخِلَافِ ذَلِكَ مَعَ حَمْلِ أَلْ عَلَى الْجِنْسِ كَمَا تَقَدَّمَ وَإِنْ كَانَتْ إنْشَائِيَّةً يَنْبَغِي تَعَلُّقُ الظَّرْفِ بِمَضْمُونِ الْجُمْلَةِ وَكَأَنَّهُ قِيلَ أَصِفُ اللَّهَ سُبْحَانَهُ بِمَالِكِيَّتِهِ كُلَّ وَصْفٍ جَمِيلٍ أَوْ جِنْسَهُ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ أَوْ بِاسْتِحْقَاقِ ذَلِكَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য নিআমত প্রদানের বিষয়টি এমন যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয় (সমাপ্ত)।

(আমি কোনো বক্তার উদ্দেশ্যে বলি যে, আমরা মেনে নিলাম—এই সংবাদ প্রদান করা এমন একটি বিষয় যা কারো কাছে গোপন নয় কারণ তিনি এ সম্পর্কে জানেন; কিন্তু আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, এটি এমন কোনো দোষ বা প্রতিবন্ধক যা এই বাক্যটিকে প্রশংসা (হামদ) হওয়া থেকে বিরত রাখবে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যদি বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি আমার পালনকর্তা' অথবা 'আমার স্রষ্টা' অথবা সুন্নাহর মধ্যে বর্ণিত এই জাতীয় কিছু, তবে তা প্রত্যেকের কাছেই পরিচিত বিষয় এবং কারো কাছে তা গোপন নয়; তা সত্ত্বেও এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা সম্পন্ন হয়। অনুরূপভাবে আপনার উক্তি—'আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা' এবং এর সদৃশ বাক্যগুলোও তাঁর জন্য প্রশংসা হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং যা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে যদি এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে যার মাধ্যমে সেই দাবি বা উদ্দেশ্যটি (সওয়াব) অর্জিত হয়, তবে আমাদের এই উক্তি 'আলহামদুলিল্লাহি আলা মা আনআমা' (আল্লাহর নিআমতের জন্য আল্লাহরই প্রশংসা)-এর মধ্যেও যেন সেই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।

আর পবিত্র সুন্নাহর মধ্যে এমন কত বাক্য রয়েছে যা প্রত্যেকের কাছেই পরিজ্ঞাত, বরং অবধারিতভাবে জানা; অথচ শরীয়ত প্রদাতা সেই বাক্যগুলো পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এর দ্বারা উদ্দেশ্যকৃত ফলাফল অর্জিত হয়। (দ্বিতীয়ত: এই খবরের জন্য অপরিহার্য প্রশংসার মাধ্যমে; যেন বলা হলো: তাঁর নিআমত প্রদানের কারণে এই খবর থেকে আমার যে প্রশংসাটি অনিবার্য হয়, তাই আমি করছি)।

আমি বলি: আপনার পক্ষে এটি বলা সম্ভব যে, এখানে উলামাদের নিকট যা প্রসিদ্ধ তার বিপরীত কাজ করা হয়েছে। প্রসিদ্ধ নিয়ম হলো—জার এবং মাজরুর-এর জন্য অবশ্যই এমন একটি শব্দ থাকতে হবে যার সাথে সেটি সংশ্লিষ্ট হবে। আর এটি স্পষ্ট যে, এই খবর বা সংবাদ থেকে যে ‘অপরিহার্য প্রশংসা’ (হামদ লাযিম) বোঝা যাচ্ছে তা কোনো উচ্চারিত শব্দ নয়; বরং এটি একটি নিছক অর্থ যা সংবাদমূলক অর্থ থেকে অনিবার্য হয়ে এসেছে। আর বাক্যের গঠনশৈলী থেকে এটি বোঝা যায় যে, যার ওপর ভিত্তি করে প্রশংসা করা হয়েছে তা হলো তাঁর বাণী—'যা তিনি নিআমত দিয়েছেন'। (এবং আপনি এটিও বলতে পারেন যে, এখানে প্রশংসা যার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে তা হতে পারে আল্লাহর সত্তা অথবা আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলি)। যেন তিনি বললেন: তাঁর নিআমত প্রদানের কারণে এই সংবাদ থেকে যে প্রশংসাটি অনিবার্য হয়, তা মহান সত্তা এবং সত্তাগত গুণাবলির বিনিময়ে প্রকাশ পাচ্ছে। (আর এটি বলা যাবে না যে, নিআমতের কারণে এই প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ সত্তার বিনিময়ে হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক); কারণ আমরা বলি, আমরা তা স্বীকার করি না। কেননা গবেষক আলিমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, যার ওপর ভিত্তি করে প্রশংসা করা হয় তা প্রশংসার জন্য কোনো প্রকৃত উদ্দীপক বা কারণ নয়। (তৃতীয়ত) এটি মুক্তাদার খবর—অর্থাৎ 'লিল্লাহি' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, যেখানে 'আল' (আল-হামদু-তে) বর্ণগত বা জাতিগত (জিনস) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে 'আল' শব্দটিকে ব্যাপকতা বা সমষ্টিকরণ (ইস্তিগরক) অর্থে গ্রহণ করে মুক্তাদার খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট করা বৈধ হওয়া উচিত নয়; কারণ তখন অর্থ দাঁড়াবে—প্রত্যেকটি প্রশংসাই তাঁর নিআমতের কারণে তাঁর মালিকানাধীন বা তাঁর প্রাপ্য। এর ফলাফল হলো—প্রশংসার মালিকানা বা প্রাপ্যতা কেবল নিআমতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া। অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ নিআমত ছাড়াও সত্তা এবং সত্তাগত গুণাবলিও উল্লিখিত বিষয়ের (প্রশংসার) কারণ হয়ে থাকে। তবে 'আল' শব্দটিকে জাতিগত অর্থে গ্রহণের বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ প্রশংসার মূল জাতি বা প্রকারটি নিআমতের কারণে আল্লাহর মালিকানাধীন বা প্রাপ্য হওয়া, অন্য কোনো কারণে (যেমন সত্তা বা গুণাবলির কারণে) তাঁর মালিকানা বা প্রাপ্য হওয়ার পরিপন্থী নয়। অনুরূপভাবে এটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া—এই ভিত্তিতে যে সেটি খবর।

আর 'লিল্লাহি' শব্দটি মুক্তাদার সিলাহ হওয়া, সেখানেও 'আল' শব্দটিকে ব্যাপকতা অর্থে ধরা হলে অর্থ হবে—আল্লাহর জন্য নিবেদিত সকল প্রশংসাই তাঁর নিআমতের কারণে হয়ে থাকে। অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ কোনো কোনো প্রশংসা নিআমত ব্যতীত অন্য কারণেও (যেমন সত্তা ও গুণাবলির জন্য) হয়ে থাকে। তবে 'আল' শব্দটিকে জাতিগত অর্থে গ্রহণ করলে বিষয়টি এর ব্যতিক্রম হয়, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাক্যটি যদি ভাবপ্রকাশক (ইনশাইয়্যাহ) হয়, তবে অব্যয়টি বাক্যের মূল বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেন বলা হলো: আমি আল্লাহ সুবহানাহুকে তাঁর নিআমত দান করার কারণে সকল সুন্দর প্রশংসা অথবা তার জাতির মালিক হওয়া অথবা তার যোগ্য হওয়ার গুণে বিশেষিত করছি।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১১)
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَالِاخْتِصَاصُ بِهِ بِمَعْنَى أَنَّ كُلَّ وَصْفٍ بِجَمِيلٍ أَوْ جِنْسَ ذَلِكَ لِأَجْلِ الْإِنْعَامِ أَصِفُهُ تَعَالَى بِمَالِكِيَّتِهِ أَوْ اسْتِحْقَاقِهِ وَالِاخْتِصَاصُ بِهِ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ.

وَبِالْمُبْتَدَأِ وَالْمَعْنَى حِينَئِذٍ أَصِفُهُ بِمَالِكِيَّتِهِ كُلَّ وَصْفٍ بِجَمِيلٍ أَوْ جِنْسَهُ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ أَوْ بِاسْتِحْقَاقِ ذَلِكَ أَوْ لِاخْتِصَاصٍ بِهِ بِمَعْنَى أَنَّ كُلَّ وَصْفٍ بِجَمِيلٍ أَوْ جِنْسَ ذَلِكَ لِأَجْلِ إنْعَامِهِ أَصِفُهُ تَعَالَى بِمَالِكِيَّتِهِ أَوْ اسْتِحْقَاقِهِ أَوْ الِاخْتِصَاصِ بِهِ وَلَا إشْكَالَ فِي صِحَّتِهِ وَحُسْنِهِ.

(انْتَهَى) وَالْفَرْقُ بَيْنَ الْمَعْنَيَيْنِ دَقِيقٌ أَشَارَ إلَيْهِ بِقَوْلِهِ بِمَعْنَى أَنَّ كُلَّ وَصْفٍ بِجَمِيلٍ أَوْ جِنْسَ ذَلِكَ لِأَجْلِ الْإِنْعَامِ أَصِفُ اللَّهَ تَعَالَى بِمَالِكِيَّتِهِ إلَى آخِرِهِ.

فَتَأَمَّلْ حَقَّ التَّأَمُّلِ.

وَلَا يَخْفَى أَنَّهُ يَلْزَمُ عَلَى تَعَلُّقِهِ بِالْمُبْتَدَأِ الْإِخْبَارُ عَنْ الْمَصْدَرِ قَبْلَ أَنْ يُكْمِلَ يَعْنِي يَذْكُرُ مُتَعَلِّقَهُ وَهُوَ لَا يَجُوزُ.

عَارَضَهُ فِيهِ عَلَى ذَلِكَ الزَّرْكَشِيُّ فِي شَرْحِ تَلْخِيصِ الْمِفْتَاحِ وَاخْتَارَ أَنَّهُ مُتَعَلِّقٌ بِالِاسْتِقْرَارِ الَّذِي تَعَلَّقَ بِهِ الْخَبَرُ أَوْ بِمَحْذُوفٍ يَدُلُّ عَلَيْهِ الْحَمْدُ أَيْ نَحْمَدُهُ عَلَى مَا أَنْعَمَ.

وَفِي حَوَاشِي الْمَوْلَى عَلَاءِ الدِّينِ فِي مُصَنَّفِهِ عَلَى الْمُطَوَّلِ أَنَّ الظَّاهِرَ أَنَّ الظَّرْفَ مُسْتَقَرُّ خَبَرٍ بَعْدَ خَبَرٍ لِيَظْهَرَ تَحَقُّقُ الِاسْتِحْقَاقَيْنِ لَا لَغْوٌ مُتَعَلِّقٌ بِالْحَمْدِ فُصِلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَامِلِهِ تَنْبِيهًا عَلَى أَنَّ الِاسْتِحْقَاقَ الذَّاتِيَّ أَقْدَمُ مِنْ الْوَصْفِيِّ كَمَا قِيلَ فَتَدَبَّرْ.

وَمَا مَصْدَرِيَّةٌ لَا مَوْصُولٌ اسْمِيٌّ وَهُوَ الْمُخْتَارُ وَعَلَى مَا قِيلَ يَجُوزُ جَعْلُهَا تَعْلِيلِيَّةً وَيَجُوزُ جَعْلُهَا لِلْمُصَاحَبَةِ وَبِمَعْنَى فِي وَبِمَعْنَى مَعَ وَيُمْكِنُ جَعْلُهَا لِلِاسْتِعْلَاءِ إشَارَةً إلَى تَفْخِيمِ الْحَمْدِ (انْتَهَى) .

(أَقُولُ) أَمَّا الْأَوَّلُ فَظَاهِرٌ وَأَمَّا الثَّانِي فَبَعِيدٌ وَأَمَّا الثَّالِثُ فَغَيْرُ صَحِيحٍ إذْ لَا مَعْنَى لِجَعْلِ الْحَمْدِ مَظْرُوفًا عَلَى الْإِنْعَامِ وَأَمَّا الرَّابِعُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَيْنَ الثَّانِي فَهُوَ قَرِيبٌ مِنْهُ وَأَمَّا الْخَامِسُ فَنَظَرَ فِيهِ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ بِأَنَّ الْحَمْدَ مِنْ جُمْلَةِ النِّعَمِ وَبِأَنَّ إرَادَةَ الِاسْتِعْلَاءِ عَلَى الْإِنْعَامِ مُخِلٌّ بِالْبَلَاغَةِ فِي هَذَا الْمَحِلِّ وَلِهَذَا كَانَتْ النِّعْمَةُ فِي الْغَالِبِ إذَا ذُكِرَتْ مَعَ الْحَمْدِ فِي الْقُرْآنِ لَمْ تَقْتَرِنْ بِعَلَى وَحَيْثُ أُشِيرَ إلَى ذِكْرِ النِّعْمَةِ أُتِيَ بِعَلَى «كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم إذَا رَأَى مَا يَكْرَهُ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ» إشَارَةً إلَى سِتْرِ النِّعْمَةِ وَاسْتِيلَاءِ الْحَمْدِ عَلَيْهَا.

 

(3) وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ: صَلَّى فِعْلٌ مَاضٍ قِيَاسًا مَصْدَرُهُ التَّصْلِيَةُ وَهُوَ مَهْجُورٌ فَلَا يُقَالُ لِعَدَمِ السَّمَاعِ وَإِنْ كَانَ هُوَ الْقِيَاسُ. كَذَا قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ وَفِي الْقَامُوسِ مَا يُؤَيِّدُهُ حَيْثُ قَالَ صَلَّى صَلَاةً لَا تَصْلِيَةً دُعَاءً (انْتَهَى) . أَقُولُ دَعْوَى عَدَمِ السَّمَاعِ مَمْنُوعَةٌ فَقَدْ سُمِعَ فِي الشِّعْرِ الْقَدِيمِ كَمَا فِي الْعِقْدِ لِابْنِ عَبْدِ رَبِّهِ:
এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসার]

এবং তাঁর সাথে বিশিষ্টতা (ইখতিসাস)-এর অর্থ হলো—অনুগ্রহ দান করার কারণে প্রতিটি সুন্দর গুণ বা সেই জাতীয় সবকিছুর মাধ্যমে আমি আল্লাহ তাআলার মালিকানা বা তাঁর পাওনা হওয়ার গুণকীর্তন করছি এবং তাঁর সাথে এই বিশিষ্টতা তাঁর অনুগ্রহের কারণেই।

এবং এটি মুবতাদা-র (উদ্দেশ্য) সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তখন অর্থ দাঁড়াবে: আমি তাঁর অনুগ্রহ দানের কারণে প্রতিটি সুন্দর গুণ বা তার জাতীয় সবকিছুর মালিকানা দিয়ে তাঁর গুণকীর্তন করছি, অথবা তাঁর সেটি পাওয়ার যোগ্য হওয়ার কারণে, অথবা তাঁর সাথে বিশিষ্টতার কারণে। অর্থাৎ অনুগ্রহের কারণে প্রতিটি সুন্দর গুণ বা তার শ্রেণি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ হলো আমি আল্লাহ তাআলার মালিকানা, বা তাঁর পাওনা হওয়া কিংবা তাঁর বিশিষ্টতার মাধ্যমেই তাঁর প্রশংসা করছি। এর বিশুদ্ধতা ও চমৎকারিত্বে কোনো সংশয় নেই।

(উদ্ধৃতি সমাপ্ত) উভয় অর্থের মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম। তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, 'প্রতিটি সুন্দর গুণ বা তার শ্রেণি অনুগ্রহের কারণে হওয়ার অর্থ হলো আমি আল্লাহ তাআলার মালিকানা দিয়ে তাঁর প্রশংসা করছি...' শেষ পর্যন্ত।

সুতরাং যথাযথভাবে অনুধাবন করুন।

এবং এটি অস্পষ্ট নয় যে, মুবতাদার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা মানলে মাসদার (ক্রিয়ামূল) পূর্ণ হওয়ার আগেই—অর্থাৎ তার সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উল্লেখ করার পূর্বেই—সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (খবর) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা ব্যাকরণগতভাবে বৈধ নয়।

এ বিষয়ে আয-যারকাশী তাঁর 'শারহু তালখিসিল মিফতাহ' গ্রন্থে তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এটি সেই স্থায়িত্ব (ইস্তিকরার)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট যার সাথে খবরটি সংশ্লিষ্ট হয়েছে, অথবা এমন কোনো উহ্য পদের সাথে যা ‘আল-হামদ’ (প্রশংসা) দ্বারা নির্দেশিত হয়, অর্থাৎ: তিনি যা অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য আমরা তাঁর প্রশংসা করছি।

এবং মাওলা আলাউদ্দীন তাঁর 'আল-মুতাউওয়াল'-এর টিকায় উল্লেখ করেছেন যে, বাহ্যিক বিষয়টি হলো যরফটি (অব্যয় পদটি) খবরের পর অপর একটি খবর হিসেবে ‘মুস্তাকার’ (স্থির), যাতে দুই প্রকার যোগ্যতার বাস্তবতা প্রকাশিত হয়। এটি ‘আল-হামদ’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ‘লাগউ’ (অসার) পদ নয় যে তার আমেল (প্রভাবক) ও তার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়েছে কেবল একথার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যে, সত্তাগত যোগ্যতা গুণগত যোগ্যতার চেয়ে অগ্রগণ্য, যেমনটি বলা হয়েছে। সুতরাং চিন্তা করুন।

আর এখানে ‘মা’ (ما) হলো মাসদারিয়্যাহ, মাওসুল ইসমি (নামবাচক সম্বন্ধপদ) নয়; আর এটিই অগ্রগণ্য মত। বর্ণিত অন্য মতানুসারে একে কারণবাচক (তালীলিয়্যাহ) ধরাও জায়েজ, আবার সাহচর্য (মুসাহাবাত), ‘ফী’ (মধ্যে) অর্থে এবং ‘মাআ’ (সাথে) অর্থে ধরাও জায়েজ। প্রশংসা বা হামদের মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে একে শ্রেষ্ঠত্ব (ইস্তি’লা) জ্ঞাপক ধরাও সম্ভব। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

(আমি বলছি) প্রথমটি স্পষ্ট, দ্বিতীয়টি দূরবর্তী, আর তৃতীয়টি সঠিক নয়; কারণ প্রশংসাকে অনুগ্রহের আধার (মাযরূফ) বানানোর কোনো অর্থ হয় না। আর চতুর্থটি যদি দ্বিতীয়টির অবিকল না-ও হয়, তবে তার কাছাকাছি। পঞ্চমটির বিষয়ে কোনো কোনো আলেম আপত্তি তুলেছেন যে, প্রশংসা নিজেই নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এই স্থানে অনুগ্রহের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব (ইস্তি’লা) বুঝানোর ইচ্ছা করা অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) পরিপন্থী। এই কারণেই কুরআনে প্রশংসার সাথে যখন নেয়ামতের আলোচনা এসেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেখানে ‘আলা’ (على) অব্যয়টি যুক্ত হয়নি। আর যেখানে নেয়ামতের আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেখানে ‘আলা’ আনা হয়েছে; যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দনীয় কিছু দেখলে বলতেন, “সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা”, যা নেয়ামতটি প্রচ্ছন্ন থাকা এবং তার ওপর প্রশংসার প্রাধান্য বিস্তার করার প্রতি ইঙ্গিতবহ।

 

(৩) এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর: ‘সাল্লা’ (صلى) হলো অতীতকালের ক্রিয়া, নিয়ম অনুযায়ী এর মাসদার হওয়ার কথা ‘তাসলিয়া’ (تصلية); কিন্তু এটি পরিত্যক্ত, তাই আরবদের থেকে শোনা যায় না বলে এটি বলা হয় না, যদিও ব্যাকরণগত নিয়ম এটিই দাবি করে। একাধিক বিদ্বান এমনটি বলেছেন। ‘আল-কামুস’ অভিধানেও এর সমর্থনে বলা হয়েছে: প্রার্থনার অর্থে ‘সাল্লা’ থেকে ‘সালাত’ আসে, ‘তাসলিয়া’ নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি: এটি শোনা যায় না বলে যে দাবি করা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য; কারণ প্রাচীন কবিতায় এর ব্যবহার পাওয়া গেছে, যেমন ইবনে আব্দ রাব্বিহি-র ‘আল-ইকদ’ গ্রন্থে পাওয়া যায়:
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

تَرَكْت الْقِيَانَ وَعَزْفَ الْقَيَانِ … وَأَدْمَنْت تَصْلِيَةً وَابْتِهَالًا

وَهُوَ مِنْ شِعْرٍ أَنْشَدَهُ ثَعْلَبٌ وَلَهُ قِصَّةٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرهَا ثُمَّ قَالَ قَوْلَهُ تَصْلِيَةً وَابْتِهَالًا تَصْلِيَةً مِنْ الصَّلَاةِ وَابْتِهَالًا مِنْ الدُّعَاءِ يُقَالُ صَلَّيْت صَلَاةً وَتَصْلِيَةً (انْتَهَى) . وَقَدْ ذَكَرَهُ الزَّوْزَنِيُّ فِي مَصَادِرِهِ فَقَالَ: التَّصْلِيَةُ " نماز كردن ودروددان " (انْتَهَى) . وَكَأَنَّهُ إنَّمَا تَرَكَهُ أَكْثَرُ أَهْلِ اللُّغَةِ لِأَنَّهُ مَصْدَرٌ قِيَاسِيٌّ وَأَهْلُ اللُّغَةِ عِنَايَتُهُمْ بِالْمَصَادِرِ السَّمَاعِيَّةِ دُونَ الْقِيَاسِيَّةِ فَتَرْكُهُمْ لَهُ وَإِنْ سُمِعَ اتِّكَالًا عَلَى الْقِيَاسِ. وَعَلَى هَذَا فَتَرْكُ اسْتِعْمَالِ التَّصْلِيَةِ فِي الْخُطَبِ إنَّمَا هُوَ لِإِيهَامِ اللَّفْظِ مَا لَيْسَ مُرَادًا وَهُوَ التَّصْلِيَةُ بِمَعْنَى التَّعْذِيبِ بِالنَّارِ فَإِنَّهُ مُصْدَرٌ مُشْتَرَكٌ بَيْنَهُمَا فَإِنَّهُ يُقَالُ صَلَاهُ تَصْلِيَةً كَمَا يُقَالُ صَلَّى تَصْلِيَةً لَا لِعَدَمِ السَّمَاعِ. وَفِي شَرْحِ النُّقَايَةِ لِلْعَلَّامَةِ مُحَمَّدٍ الْقُهُسْتَانِيِّ وَالصَّلَاةُ اسْمٌ مِنْ التَّصْلِيَةِ وَكِلَاهُمَا مُسْتَعْمَلٌ بِخِلَافِ الصَّلَاةِ بِمَعْنَى أَدَاءِ الْأَرْكَانِ، فَإِنَّ مَصْدَرَهُ لَمْ يُسْتَعْمَلْ كَمَا ذَكَرَهُ الْجَوْهَرِيُّ وَغَيْرُهُ. وَأَلِفُهَا مُنْقَلِبَةٌ عَنْ الْوَاوِ وَلَمْ يُكْتَبْ بِهَا إلَّا فِي الْقُرْآنِ كَمَا قَالَ ابْنُ دُرُسْتَوَيْهِ (انْتَهَى) . هَذَا مَا يَتَعَلَّقُ بِلَفْظِهَا عَلَى سَبِيلِ الْإِيجَازِ وَأَمَّا مَعْنَاهَا فَفِي الْكَشَّافِ فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {يُقِيمُونَ الصَّلاةَ} [المائدة: 55] أَنَّهَا تَحْرِيكُ الصَّلَاتَيْنِ حَقِيقَةً سُمِّيَتْ بِهَا الْأَرْكَانُ الْمَخْصُوصَةُ لِتَحَرُّكِهِمَا فِيهَا ثُمَّ سُمِّيَ بِهَا الدُّعَاءُ تَشْبِيهًا لِلدَّاعِي بِالْمُصَلِّي فِي تَخَشُّعِهِ فَهِيَ فِي الدُّعَاءِ اسْتِعَارَةٌ مِنْ الْمَجَازِ الْمُرْسَلِ. وَفِي الْكَشَّافِ أَيْضًا عِنْدَ قَوْله تَعَالَى {هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلائِكَتُهُ} [الأحزاب: 43] أَنَّ الصَّلَاةَ عِبَارَةٌ عَنْ الْأَرْكَانِ الْمَخْصُوصَةِ ثُمَّ نُقِلَتْ إلَى الِانْعِطَافِ عَلَى وَجْهِ التَّرَحُّمِ كَانْعِطَافِ عَائِدِ الْمَرِيضِ عَلَيْهِ وَالْمَرْأَةِ عَلَى وَلَدِهَا لِوُجُودِهِ فِيهَا، ثُمَّ مِنْهُ إلَى الدُّعَاءِ فَيَكُونُ فِي الدُّعَاءِ مَجَازًا عَنْ الِاسْتِعَارَةِ (انْتَهَى) . وَفِي الْفَائِقِ أَنَّ الصَّلَاةَ تَقْوِيمُ الْعُودِ ثُمَّ قِيلَ لِلرَّحْمَةِ صَلَاةٌ لِاشْتِمَالِهَا عَلَى تَقْوِيمِ الْعَمَلِ ثُمَّ نُقِلَتْ إلَى الدُّعَاءِ فَهِيَ فِي الدُّعَاءِ مَجَازٌ مُرْسَلٌ عَنْ الِاسْتِعَارَةِ (انْتَهَى) . وَلَا يَخْفَى مَا بَيْنهمَا مِنْ الْخِلَافِ وَقَدْ تَعَقَّبَ مَا فِي الْكَشَّافِ الْعَلَّامَةُ سَعْد الدَّيْن فِي حَاشِيَتِهِ عَلَيْهِ عِنْدَ قَوْلِهِ فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ {وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ} [البقرة: 3] بِمَا حَاصِلُهُ أَنَّ الْإِنْصَافَ هُوَ مَا عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ مِنْ أَنَّهَا حَقِيقَةٌ لُغَوِيَّةٌ فِي الدُّعَاءِ مَجَازٌ فِي الْعِبَادَةِ الْمَخْصُوصَةِ لِاشْتِمَالِهَا عَلَى الدُّعَاءِ وَبَيَّنَ ذَلِكَ أَحْسَنَ بَيَانٍ. وَهَذَا هُوَ مَا اشْتَهَرَ بَيْنَهُمْ. وَفِي بَدَائِعِ الْفَوَائِدِ لِابْنِ الْقَيِّمِ قَوْلُهُمْ الصَّلَاةُ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى بِمَعْنَى الرَّحْمَةِ،
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

‌‌[গাময উয়ুনুল বাসাইর]

আমি গায়িকা এবং গায়িকাদের বাদ্যযন্ত্র ত্যাগ করেছি ... এবং আমি একনিষ্ঠভাবে সালাত ও বিনয়পূর্ণ দোয়ায় আত্মনিয়োগ করেছি।

এটি সা’লাব কর্তৃক আবৃত্ত একটি কবিতা থেকে নেওয়া এবং এর সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি ঘটনা রয়েছে যা তিনি উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: তার উক্তি ‘তাসলিয়া’ ও ‘আবতিহাল’-এর মধ্যে ‘তাসলিয়া’ সালাত থেকে এবং ‘আবতিহাল’ দোয়া থেকে উদ্ভূত। বলা হয়: ‘সাল্লাইতু সালাতান’ এবং ‘তাসলিয়াতান’ (সমাপ্ত)। আয-যাওযানী তার মাসাদির গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আত-তাসলিয়া অর্থ "নামাজ পড়া এবং দরুদ পাঠ করা" (সমাপ্ত)। সম্ভবত অধিকাংশ ভাষাবিদ এটি বর্জন করেছেন কারণ এটি একটি পদ্ধতিগত (কিয়াসী) ক্রিয়ামূল, আর ভাষাবিদদের মনোযোগ সাধারণত শ্রুতিজাত (সামায়ী) ক্রিয়ামূলের দিকে থাকে, পদ্ধতিগতগুলোর দিকে নয়। তাই পদ্ধতিগত নিয়মের ওপর নির্ভর করেই তারা এটি বর্জন করেছেন, যদিও এটি শ্রুত। এই ভিত্তিতে, খুতবায় ‘তাসলিয়া’ শব্দের ব্যবহার পরিহার করার কারণ হলো শব্দটি এমন একটি অর্থ নির্দেশ করার বিভ্রান্তি তৈরি করে যা কাঙ্ক্ষিত নয়; আর তা হলো আগুনের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া। কারণ এটি উভয়ের মধ্যে একটি সাধারণ ক্রিয়ামূল; কেননা ‘সাল্লাহু তাসলিয়াতান’ (তাকে আগুনে দগ্ধ করল) বলা হয়, যেমনিভাবে ‘সাল্লা তাসলিয়াতান’ (নামাজ বা দরুদ পাঠ করল) বলা হয়; এটি শ্রুতিজাত না হওয়ার কারণে নয়। আল্লামা মুহাম্মদ আল-কুহুস্তানি-র ‘শারহুন্নুকায়াহ’ গ্রন্থে রয়েছে: আস-সালাত শব্দটি আত-তাসলিয়া থেকে নির্গত একটি বিশেষ্য, এবং উভয়ই ব্যবহৃত হয়; তবে রুকনসমূহ আদায়ের অর্থে সালাত-এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে, কারণ এর ক্রিয়ামূল ব্যবহৃত হয় না, যেমনটি আল-জাওহারী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। এর আলিফ বর্ণটি ওয়াও থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এটি কেবল কুরআন মাজিদেই ওয়াও সহকারে লেখা হয়, যেমনটি ইবনে দুরুসতাওয়াইহ বলেছেন (সমাপ্ত)। এটি এই শব্দের শব্দতাত্ত্বিক রূপ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আর এর অর্থের ব্যাপারে ‘কাশশাফ’ তাফসিরে আল্লাহ তাআলার বাণী—{তারা সালাত কায়েম করে} [আল-মায়িদাহ: ৫৫]—এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটি প্রকৃতপক্ষে নিতম্বের দুই হাড়ের সঞ্চালন; নির্দিষ্ট রুকনগুলোকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এতে উক্ত হাড় দুটি সঞ্চালিত হয়। অতঃপর এর মাধ্যমে দোয়াকে বুঝানো হয়েছে, দোয়াকারীকে নামাজির সাথে তার বিনম্রতায় সাদৃশ্য দেওয়ার কারণে; সুতরাং দোয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি রূপক বা মাজাযে মুরসাল। ‘কাশশাফ’-এ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায়—{তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও} [আল-আহযাব: ৪৩]—আরও বলা হয়েছে যে, সালাত বলতে নির্দিষ্ট রুকনসমূহকে বোঝায়, অতঃপর তা দয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়ার অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে আসা ব্যক্তির তার প্রতি ঝুঁকে পড়া অথবা মায়ের তার সন্তানের প্রতি মমতা নিয়ে ঝুঁকে পড়া। এরপর সেখান থেকে দোয়ার অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে; সুতরাং দোয়ার ক্ষেত্রে এটি রূপকের ওপর রূপক (সমাপ্ত)। ‘আল-ফাইক’ গ্রন্থে আছে যে, সালাত অর্থ বাঁকা কাঠ সোজা করা, অতঃপর রহমতকে সালাত বলা হয়েছে কারণ এটি আমলকে সোজা করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর এটি দোয়ার অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে দোয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি রূপকের ওপর মাজাযে মুরসাল (সমাপ্ত)। এবং এই দুই মতের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা স্পষ্ট। আল্লামা সাদউদ্দীন তাঁর টীকায় ‘কাশশাফ’-এর এই বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেছেন সূরা বাকারার—{এবং তারা সালাত কায়েম করে} [আল-বাকারা: ৩]—এই আয়াতের ব্যাখ্যায়, যার সারমর্ম হলো: ইনসাফপূর্ণ কথা তাই যা জমহুর ওলামায়ে কেরাম পোষণ করেন যে, এটি আভিধানিক অর্থে দোয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত এবং নির্দিষ্ট ইবাদতের ক্ষেত্রে রূপক, যেহেতু এতে দোয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এবং তিনি এটি চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ। ইবনুল কায়্যিমের ‘বাদাইউল ফাওয়াইদ’ গ্রন্থে রয়েছে: তাদের বক্তব্য হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত মানে রহমত।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

بَاطِلٌ مِنْ ثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ أَحَدُهَا: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى غَايَرَ بَيْنَهُمَا فِي قَوْلِهِ {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ} [البقرة: 157] وَالثَّانِي أَنَّ سُؤَالَ الرَّحْمَةِ يُشْرَعُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَالصَّلَاةَ تَخْتَصُّ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلِآلِهِ فَهِيَ حَقٌّ لَهُ وَلِآلِهِ وَلِهَذَا مَنَعَ كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ مِنْ الصَّلَاةِ عَلَى مُعَيَّنٍ غَيْرِهِ وَلَمْ يَمْنَعْ أَحَدٌ مِنْ التَّرَحُّمِ عَلَى مُعَيَّنٍ غَيْرِهِ. الثَّالِثُ أَنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى عَامَّةٌ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ وَصَلَاتَهُ خَاصَّةٌ بِخَوَاصِّ عِبَادِهِ وَقَوْلَهُمْ الصَّلَاةُ بِمَعْنَى الدُّعَاءِ مُشْكِلٌ مِنْ وُجُوهٍ: أَحَدُهَا أَنَّ الدُّعَاءَ يَكُونُ بِالْخَيْرِ وَالشَّرِّ وَالصَّلَاةَ لَا تَكُونُ إلَّا فِي الْخَيْرِ وَالثَّانِي أَنَّ دَعَوْت يَتَعَدَّى بِاللَّامِ وَصَلَّيْت لَا يَتَعَدَّى إلَّا بِعَلَى وَدَعِي الْمُتَعَدِّي بِعَلَى لَيْسَ بِمَعْنَى صَلَّى وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ لَيْسَتْ بِمَعْنَى الدُّعَاءِ وَالثَّالِثُ أَنَّ فِعْلَ الدُّعَاءِ يَقْتَضِي مَدْعُوًّا وَمَدْعُوًّا لَهُ تَقُولُ دَعَوْت اللَّهَ لَك بِخَيْرٍ. وَفِعْلُ الصَّلَاةِ لَا يَقْتَضِي ذَلِكَ فَلَا تَقُولُ صَلَّيْت اللَّهَ عَلَيْك وَلَا لَك فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ بِمَعْنَاهُ فَأَيُّ تَبَايُنٍ أَظْهَرُ مِنْ هَذَا؟ ، وَلَكِنَّ التَّقْلِيدَ يُعْمِي عَنْ إدْرَاكِ الْحَقَائِقِ فَإِيَّاكَ وَالْإِخْلَادَ إلَى أَرْضِهِ (انْتَهَى)

 

قَوْلُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ظَرْفٌ لَغْوٌ مُتَعَلِّقٌ بِصَلَى وَفِي كَلَامِهِ إطْلَاقُ السَّيِّدِ عَلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَفِي الْمَسْأَلَةِ ثَلَاثَةُ أَقْوَالٍ حَكَاهَا ابْنُ الْمُنِيرِ فِي الْمُقْتَفَى أَحَدُهَا جَوَازُ إطْلَاقِهِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَعَلَى غَيْرِهِ الثَّانِي لَا يُطْلَقُ عَلَى اللَّهِ وَعَزَاهُ إلَى الْإِمَامِ مَالِكٍ.

الثَّالِثُ أَنَّهُ لَا يُطْلَقُ إلَّا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى بِدَلِيلِ مَا رُوِيَ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام قَالُوا لَهُ يَا سَيِّدَنَا قَالَ: إنَّمَا السَّيِّدُ اللَّهُ» .

وَفِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ مَا يَرُدُّ هَذَا الْقَوْلَ.

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَسَيِّدًا وَحَصُورًا} [آل عمران: 39] وَقَالَ عليه الصلاة والسلام «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلَا فَخْرَ» .

كَذَا فِي التَّعْلِيقِ وَذَكَرَ الشِّهَابُ الْخَفَاجِيُّ أُسْتَاذُنَا عَنْ الْإِنْكَارِ حِكَايَةً عَنْ النَّحَّاسِ أَنَّهُ جَوَّزَ إطْلَاقَهُ عَلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى إلَّا أَنْ يُعَرَّفَ قَالَ وَالْأَظْهَرُ جَوَازُهُ بِالْأَلِفِ وَاللَّامِ لِغَيْرِهِ تَعَالَى ثُمَّ قَالَ قَدْ عَرَفْت الْأَقْوَالَ أَرْبَعَةً وَالصَّحِيحُ مِنْهَا أَنَّهُ يَجُوزُ إطْلَاقُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَعَلَى غَيْرِهِ مُطْلَقًا وَهُوَ فِي اللَّهِ بِمَعْنَى الْعَظِيمِ الْمُحْتَاجِ إلَيْهِ وَفِي غَيْرِهِ بِمَعْنَى الشَّرِيفِ الْفَاضِلِ الرَّئِيسِ وَيَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَاسْتِعْمَالُ الْعَرَبِ وَوَجْهُهُ ظَاهِرٌ.

وَالْقَوْلُ الثَّانِي الْمَحْكِيُّ عَنْ مَالِكٍ مِنْ عَدَمِ جَوَازِ الْإِطْلَاقِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَجْهُهُ أَنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ فِي الْأَحَادِيثِ الْمَشْهُورَةِ الَّتِي وَصَلَتْ إلَيْهِ وَلِأَنَّ مَعْنَاهُ الْحَقِيقِيَّ مَنْ يَسُودُ قَوْمَهُ أَيْ يَرْأَسُهُمْ فَعِزُّهُ بِعِزِّهِمْ وَفَخْرُهُ بِكَوْنِهِ مَتْبُوعًا وَهَذَا لَا يَلِيقُ بِاَللَّهِ الْغَنِيِّ عَنْ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

তিনটি কারণে এটি বাতিল। প্রথমত: আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করেছেন: {এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত (অনুগ্রহ) এবং রহমত (দয়া) বর্ষিত হয়} [বাকারা: ১৫৭]। দ্বিতীয়ত: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রহমত বা দয়া প্রার্থনা করা শরয়িভাবে অনুমোদিত, কিন্তু সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের জন্য খাস। এটি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রাপ্য হক। এজন্যই অনেক আলেম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত নির্দিষ্ট অন্য কারো জন্য সালাত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত নির্দিষ্ট অন্য কারো জন্য রহমত কামনায় কেউ নিষেধ করেননি। তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলার রহমত ব্যাপক, যা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, কিন্তু তাঁর সালাত তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের জন্য খাস। আর তাদের এই দাবি যে, সালাত 'দুআ' (প্রার্থনা) অর্থে ব্যবহৃত হয়—এটি কয়েকটি কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথমত: দুআ কল্যাণ এবং অকল্যাণ উভয় অর্থেই হতে পারে, কিন্তু সালাত কেবল কল্যাণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত: 'দাওতু' (আমি দুআ করেছি) এর সাথে 'লাম' অব্যয় ব্যবহৃত হয়, কিন্তু 'সাল্লাইতু' (আমি সালাত পাঠ করেছি) এর সাথে কেবল 'আলা' অব্যয় ব্যবহৃত হয়। আর 'আলা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত দুআ 'সালাত'-এর অর্থে আসে না। এটি নির্দেশ করে যে, সালাত দুআ অর্থে নয়। তৃতীয়ত: দুআ ক্রিয়াটির প্রয়োগের জন্য একজন আহ্বানকারী এবং যার জন্য দুআ করা হচ্ছে—উভয়কেই প্রয়োজন হয়; যেমন আপনি বলেন: 'আমি আল্লাহর কাছে তোমার জন্য কল্যাণের দুআ করেছি'। কিন্তু সালাত ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। কারণ আপনি বলেন না যে, 'আমি আল্লাহর কাছে তোমার ওপর সালাত করেছি' বা 'তোমার জন্য সালাত করেছি'। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, সালাত দুআ অর্থে নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য আর কী হতে পারে? কিন্তু অন্ধ অনুকরণ মানুষকে সত্য অনুধাবনে অন্ধ করে দেয়। অতএব, অন্ধ অনুকরণের গহ্বরে পতিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকো। (সমাপ্ত)

 

তাঁর উক্তি "আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর"—এটি 'সালা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গৌণ অধিকরণ (জরফে লাগু)। তাঁর বক্তব্যে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের ওপর 'সাইয়্যিদ' শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে। এই মাসআলায় তিনটি মত রয়েছে, যা ইবনুল মুনীর 'আল-মুকতাফা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। প্রথমত: এটি আল্লাহ তাআলা এবং অন্য সবার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েজ। দ্বিতীয়ত: আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যাবে না; এই মতটি ইমাম মালিকের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারো জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে না। এর দলিল হলো যা বর্ণিত হয়েছে: «তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: হে আমাদের নেতা (সাইয়্যিদিনা)। তখন তিনি বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র সাইয়্যিদ (প্রভু)»।

কুরআন ও সুন্নাহতে এমন কিছু রয়েছে যা এই মতটিকে খণ্ডন করে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {এবং তিনি হবেন সাইয়্যিদ (নেতা) ও নারীবিমুখ} [আলে ইমরান: ৩৯]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «আমি আদম সন্তানের সাইয়্যিদ (নেতা), এতে কোনো অহংকার নেই»।

'তালিক'-এ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আমাদের শিক্ষক শিহাব খাফাজি আন-নাহহাসের বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল্লাহর সত্তা ব্যতীত অন্যের ওপর এর প্রয়োগ জায়েজ বলেছেন, তবে তা যদি নির্দিষ্ট (আলিফ-লাম যুক্ত) না হয়। তিনি বলেছেন: অধিকতর স্পষ্ট মত হলো এটি আল্লাহর সত্তা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও আলিফ-লাম যোগে ব্যবহার করা জায়েজ। অতঃপর তিনি বলেন: আপনি এখন চারটি মত সম্পর্কে জানলেন। এগুলোর মধ্যে সঠিক মত হলো এটি আল্লাহ তাআলা এবং অন্য সবার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহার করা জায়েজ। আল্লাহর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—যিনি মহান এবং যাঁর দিকে সবাই মুখাপেক্ষী। আর অন্যের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—সম্মানিত, শ্রেষ্ঠ ও প্রধান। কুরআন, সুন্নাহ এবং আরবদের ভাষাগত ব্যবহার এর সপক্ষে প্রমাণ দেয় এবং এর কারণটিও সুস্পষ্ট।

আর ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় মতটি, যা হলো আল্লাহ তাআলার ওপর এই শব্দের প্রয়োগ জায়েজ না হওয়া—তার কারণ হলো এটি তাঁর কাছে পৌঁছানো প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। এছাড়া এর প্রকৃত অর্থ হলো এমন কেউ যে তার সম্প্রদায়ের ওপর কর্তৃত্ব করে অর্থাৎ তাদের নেতৃত্ব দেয়, ফলে তার মর্যাদা তাদের মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তার গৌরব অনুসারীদের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এটি আল্লাহ তাআলার শানে সমীচীন নয়, যিনি অমুখাপেক্ষী...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

الْعَالَمِينَ.

وَالْقَوْلُ الثَّالِثُ وَهُوَ اخْتِصَاصُهُ تَعَالَى بِهِ وَوَجْهُهُ أَنَّ مَعْنَاهُ الْمُحْتَاجُ إلَيْهِ الْمُتَصَرِّفُ فِي أُمُورِ غَيْرِهِ وَهَذَا لَا يَلِيقُ بِغَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى الْحَقِيقَةِ وَالْقَوْلُ الرَّابِعُ الْقَائِلُ بِالتَّفْصِيلِ مَبْنِيٌّ عَلَى الِاسْتِعْمَالِ الْأَغْلَبِيِّ وَالْمُعَرَّفُ بِاللَّامِ هُوَ الْمَعْرُوفُ الْمَعْهُودُ بِالْعَظَمَةِ وَكَوْنُهُ مَلْجَأً أَوْ هُوَ أَيْضًا لَا يَلِيقُ بِغَيْرِهِ وَضَعْفُهُ ظَاهِرٌ لِمَا مَرَّ.

1 -

وَمُحَمَّدٌ عَلَمٌ شَخْصِيٌّ لِنَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم فِيهِ مَعْنَى اللَّقَبِ مِنْ حَيْثُ إشْعَارِهِ بِالْمَدْحِ ذَكَرَهُ مُلَّا شَيْخُ الْبُخَارِيِّ فِي شَرْحِ الْإِرْشَادِ وَهُوَ أَشْهَرُ أَسْمَائِهِ الشَّرِيفَةِ وَهِيَ أَلْفٌ عِنْدَ بَعْضِهِمْ وَقِيلَ ثَلَثُمِائَةٍ وَقِيلَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَهُوَ مَنْقُولٌ مِنْ اسْمِ مَفْعُولِ الْفِعْلِ الْمُضَعَّفِ أَيْ الْمُكَرَّرِ الْعَيْنِ وَهُوَ حُمِّدَ بِالتَّشْدِيدِ سَمَّاهُ بِهِ جَدُّهُ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ لِمَوْتِ أَبِيهِ فِي سَابِعِ وِلَادَتِهِ بِإِلْهَامٍ تَفَاؤُلًا بِأَنْ يَكْثُرَ حَمْدُ الْخَلْقِ لَهُ.

وَفِي السِّيَرِ قِيلَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ لِمَ سَمَّيْت ابْنَك مُحَمَّدًا وَلَيْسَ مِنْ أَسْمَاءِ آبَائِكَ وَلَا قَوْمِك قَالَ رَجَوْت أَنْ يُحْمَدَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَقَدْ حَقَّقَ اللَّهُ رَجَاءَهُ لِمَا سَبَقَ فِي عِلْمِهِ.

وَقِيلَ لَمْ يُسَمَّ بِهِ أَحَدٌ قَبْلَهُ إلَّا خَمْسَةُ عَشَرَ كَمَا بَيَّنَهُ بَعْضُهُمْ وَأَمَّا اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمْ يُسَمَّ بِهِ أَحَدٌ قَبْل وِلَادَتِهِ وَقِيلَ إنَّ اللَّهَ سَمَّاهُ قَبْلَ خَلْقِ الْخَلْقِ بِأَلْفَيْ عَامٍ وَاشْتُقَّ لَهُ مِنْ الْحَمْدِ اسْمَانِ أَحَدُهُمَا يُفِيدُ الْمُبَالَغَةَ فِي الْمَحْمُودِيَّةِ وَهُوَ مُحَمَّدٌ وَالْآخَرُ يُفِيدُ الْمُبَالَغَةَ فِي الْحَامِدِيَّةِ وَهُوَ أَحْمَدُ، وَاشْتَهَرَ الْأَوَّلُ مِنْهُمَا وَهُوَ الْأَفْضَلُ عَلَى الْأَصَحِّ اشْتِهَارًا أَكْثَرَ وَخَصَّ بِهِ.

كَلِمَةَ الشَّهَادَةِ لِأَنَّهُ أَنْسَبُ بِمَا لَهُ مِنْ مَقَامِ الْمَحْمُودِيَّةِ وَهَذَا كُلُّهُ مَشْهُورٌ إلَّا التَّصْرِيحُ بِالْأَفْضَلِيَّةِ فَنَقَلَهُ بَعْضُ مَشَايِخِ شُيُوخِنَا.

هَذَا وَلَا يَخْفَى أَنَّ كَوْنَ أَحْمَدَ يُفِيدُ الْمُبَالَغَةَ فِي الْحَامِدِيَّةِ مَبْنِيٌّ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّهُ مَنْقُولٌ مِنْ أَفْعَلِ التَّفْضِيلِ أَمَّا عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّهُ مَنْقُولٌ مِنْ الْفِعْلِ الْمُضَارِعِ كَمَا قِيلَ بِهِ، فَلَا.

وَقَدْ ادَّعَى السَّخَاوِيُّ فِي سَفَرِ السَّعَادَةِ وَسَفِيرِ الْإِفَادَةِ أَنَّ أَحْمَدَ أَبْلَغُ مِنْ مُحَمَّدٍ كَمَا أَنَّ أَحْمَرَ أَبْلَغُ مِنْ مُحَمَّرٍ وَذَكَرَ أَنَّهُ لَيْسَ مَنْقُولًا مِنْ الْفِعْلِ الْمُضَارِعِ وَلَا هُوَ أَفْعَلُ تَفْضِيلٍ إنَّمَا مِثَالُ هَذَا أَنْ يُقَالَ لَك أَيْنَ مِنْ كَرَمَ أَفْعَلُ فَتَقُولُ أَكْرَمَ وَمِنْ هَذَا " اللَّهُ أَكْبَرُ ".

وَذَكَرَ الْكَافِيجِيُّ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَمَّاهُ بِأَحْمَدَ قَبْلَ أَنْ سَمَّاهُ بِمُحَمَّدٍ لِلْآيَةِ أَعْنِي قَوْله تَعَالَى {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6] (انْتَهَى) .

وَفِيهِ تَأَمُّلٌ وَمَا اشْتَهَرَ مِنْ أَنَّ مُحَمَّدًا مَنْقُولٌ مِنْ اسْمِ مَفْعُولِ الْفِعْلِ الْمُضَعَّفِ كَمَا سَبَقَ هُوَ أَحَدُ الْقَوْلَيْنِ وَقِيلَ مَنْقُولٌ مِنْ الْمَصْدَرِ لِأَنَّ هَذِهِ الصِّيغَةَ كَمَا تَكُونُ اسْمَ مَفْعُولٍ كَمَا هُوَ الْكَثِيرُ تَكُونُ مَصْدَرًا كَمَا فِي
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

বিশ্বজগতের।

তৃতীয় মতটি হলো এটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হওয়া। এর কারণ হলো, এর অর্থ হচ্ছে এমন সত্তা যাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া হয় এবং যিনি অন্যের বিষয়াবলীতে কর্তৃত্ব করেন। আর এটি প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য শোভনীয় নয়। চতুর্থ মতটি বিস্তারিত বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যা অধিকাংশ ব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর 'লাম' (আলিফ-লাম) যুক্ত শব্দটি সেই পরিচিত মহান সত্তাকে নির্দেশ করে যিনি মহত্ত্বের অধিকারী এবং যাঁর কাছে আশ্রয় নেওয়া হয়। অথবা এটিও অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। আর এর দুর্বলতা পূর্বোল্লিখিত কারণে স্পষ্ট।

১ -

এবং 'মুহাম্মাদ' হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত নাম, যার মধ্যে প্রশংসার অর্থ বিদ্যমান থাকায় এটি উপাধির অর্থও বহন করে। মোল্লা শায়খ আল-বুখারী 'শারহুল ইরশাদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এটি তাঁর সম্মানিত নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। কারো কারো মতে তাঁর নাম এক হাজার, আবার কারো মতে তিনশ, আবার কারো মতে নিরানব্বইটি। এটি দ্বিত্ববিশিষ্ট (তাশদীদযুক্ত) ক্রিয়ার 'ইসম মাফউল' থেকে গৃহীত, অর্থাৎ যার 'আইন' বর্ণটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। আর তা হলো 'হাম্মাদা' (তাসদীদসহ)। তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে পিতার মৃত্যুর কারণে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইলহামের মাধ্যমে কল্যাণের আশায় এই নামকরণ করেন যেন সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা অধিক হয়।

সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল মুত্তালিবকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কেন আপনার নাতির নাম 'মুহাম্মাদ' রাখলেন? অথচ এটি আপনার পিতৃপুরুষ বা আপনার সম্প্রদায়ের নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।" তিনি বললেন, "আমি আশা করেছি যে আকাশ ও পৃথিবীতে তাঁর প্রশংসা করা হবে।" আর আল্লাহ তাঁর সেই আশা পূর্ণ করেছেন কারণ তা তাঁর পূর্বজ্ঞানে নির্ধারিত ছিল।

কেউ কেউ বলেন, তাঁর আগে মাত্র পনেরোজন এই নামে নামাঙ্কিত হয়েছেন যা কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর 'আহমাদ' নামে তাঁর জন্মের আগে কারো নামকরণ করা হয়নি। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগত সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগেই তাঁর এই নামকরণ করেছেন। 'হামদ' (প্রশংসা) ধাতু থেকে তাঁর জন্য দুটি নাম উদ্ভূত হয়েছে। একটি প্রশংসিত হওয়ার ক্ষেত্রে আতিশয্য বুঝায়, আর তা হলো 'মুহাম্মাদ'। অন্যটি প্রশংসা করার ক্ষেত্রে আতিশয্য বুঝায়, আর তা হলো 'আহমাদ'। এই দুটির মধ্যে প্রথমটি অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং সঠিক মতানুসারে এটিই অধিক উত্তম এবং এটিই তাঁর জন্য নির্দিষ্ট।

শাহাদাহ্ বাক্যে এটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ তাঁর 'মাকামে মাহমুদিয়্যা' বা প্রশংসিত অবস্থানের সাথে এটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ সবই প্রসিদ্ধ কথা, তবে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে আমাদের কোনো কোনো শায়খদের শায়খ বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া এটি স্পষ্ট যে, 'আহমাদ' শব্দটি প্রশংসা করার ক্ষেত্রে আতিশয্য বুঝানোর বিষয়টি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে, এটি 'আফয়ালুত তাফদীল' থেকে এসেছে। তবে যদি এই মত গ্রহণ করা হয় যে এটি 'ফেলে মুদারে' (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) থেকে গৃহীত, যেমনটি বলা হয়ে থাকে, তবে তেমনটি হবে না।

সাখাবী তাঁর 'সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, 'আহমাদ' শব্দটি 'মুহাম্মাদ' শব্দের চেয়ে অধিক অর্থবহ, যেমন 'আহমার' (গাঢ় লাল) শব্দটি 'মুহাম্মার' (লাল করা হয়েছে এমন) শব্দের চেয়ে অধিক শক্তিশালী অর্থ দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এটি ফেলে মুদারে থেকে গৃহীত নয় এবং এটি আফয়ালুত তাফদীল-ও নয়। বরং এর উদাহরণ হলো যেমন আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে 'কারুমা' ক্রিয়া থেকে 'আফয়ালু' ছাঁচ কোনটি? তখন আপনি বলেন 'আকরাম'। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো "আল্লাহু আকবার"।

কাফীজী উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে 'মুহাম্মাদ' নাম দেওয়ার আগে 'আহমাদ' নামে নামকরণ করেছেন আয়াতের কারণে, অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ} [সূরা আস-সাফ: ৬]। (সমাপ্ত)।

এতে চিন্তার অবকাশ রয়েছে। আর 'মুহাম্মাদ' শব্দটি দ্বিত্ববিশিষ্ট ক্রিয়ার ইসম মাফউল থেকে গৃহীত হওয়া নিয়ে যা পূর্বোল্লিখিত হয়েছে, তা দুটি মতের একটি। অপর একটি মত হলো এটি মাজদার (ক্রিয়ামূল) থেকে গৃহীত, কারণ এই রূপটি যেমন ইসম মাফউল হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়, তেমনি মাজদার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَسَلَّمَ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

قَوْله تَعَالَى {وَمَزَّقْنَاهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ} [سبأ: 19] وَقِيلَ أَنَّهُ مُرْتَجَلٌ وَمَشَى عَلَيْهِ ابْنُ مُعْطِي بَلْ صَرَّحَ الزَّجَّاجِيُّ بِأَنَّ الْأَعْلَامَ كُلَّهَا مُرْتَجِلَةٌ خِلَافًا لِسِيبَوَيْهِ فِي أَنَّهَا كُلَّهَا مَنْقُولَةٌ لِأَنَّ النَّقْلَ خِلَافُ الْأَصْلِ فَلَا يَثْبُتُ إلَّا بِدَلِيلٍ وَلَا دَلِيلَ عَلَى قَصْدِ النَّقْلِ إذْ لَا يَثْبُتُ إلَّا بِالتَّصْرِيحِ مِنْ الْوَاضِعِ.

وَلَمْ يَثْبُتْ عَنْهُ تَصْرِيحٌ.

أَقُولُ هَذَا لَا يَتِمُّ فِي اسْمِ مُحَمَّدٍ وَإِنْ تَمَّ فِي غَيْرِهِ لِأَنَّ دَلِيلَ قَصْدِ النَّقْلِ مِنْ الْوَاضِعِ مَوْجُودٌ وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ الْمُتَقَدِّمُ.

وَفِي شَرْحِ الْهَادِي مُحَمَّدٌ مُفَعَّلٌ مِنْ الْحَمِيدِ وَالتَّكْرِيرُ فِيهِ لِلتَّكْثِيرِ مَنْقُولٌ مِنْ الصِّفَةِ عَلَى سَبِيلِ التَّفَاؤُلِ وَأَخْطَأَ مَنْ قَالَ أَنَّهُ مُرْتَجَلٌ (انْتَهَى) .

وَهَذَا يُؤَيِّدُ مَا قُلْته.

قَالَ أُسْتَاذُنَا كَأَنَّهُ أَيْ الْقَائِلُ بِالِارْتِجَالِ ادَّعَى أَنَّ الْعَرَبَ إنَّمَا قَالَتْ فِي غَيْرِ الْعَلَمِ مَحْمُودٌ لَا مُحَمَّدٌ وَهَذَا مُرَادُ حَسَّانَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - بِقَوْلِهِ: فَذُو الْعَرْشِ مَحْمُودٌ وَهَذَا مُحَمَّدٌ.

فَتَدَبَّرْ (انْتَهَى) .

أَقُولُ وَجْهُ التَّدَبُّرِ أَنَّهُ سُمِعَ فِي الْوَصْفِيَّةِ بِغَيْرِ الْعَلَمِيَّةِ مُحَمَّدٌ قَالَ الْأَعْشَى:

إلَيْك أَبَيْت اللَّعْنَ كَانَ كَلَالَهَا … إلَى الْمَاجِدِ الْفَرْعِ الْجَوَّادِ الْمُحَمَّدِ

(4) وَسَلَّمَ: أَيْ عَلَيْهِ وَحَذَفَ مِنْ الثَّانِي لِدَلَالَةِ الْأَوَّلِ وَهُوَ كَثِيرٌ وَمَصْدَرُ سَلَّمَ التَّسْلِيمُ، وَالسَّلَامُ اسْمٌ مِنْهُ وَمَعْنَاهُ السَّلَامَةُ مِنْ النَّقَائِصِ وَيَكُونُ بِمَعْنَى التَّحِيَّةِ وَجَمَعَ بَيْنَهُمَا خُرُوجًا مِنْ خِلَافِ مَنْ كَرِهَ إفْرَادَ أَحَدِهِمَا مِنْ الْآخِرِ وَإِنْ كَانَ عِنْدَنَا لَا يُكْرَهُ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي مُنْيَةِ الْمُفْتِي وَهَذَا الْخِلَافُ فِي حَقِّ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم.

وَأَمَّا غَيْرُهُ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ فَلَا خِلَافَ فِي عَدَمِ كَرَاهَةِ الْأَفْرَادِ لِأَحَدٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَمَنْ ادَّعَى ذَلِكَ فَعَلَيْهِ أَنْ يُورِدَ نَقْلًا صَرِيحًا وَلَا يَجِدُ إلَيْهِ سَبِيلًا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

كَذَا فِي شَرْحِ الْعَلَّامَةِ مَيْرَكٍ عَلَى الشَّمَائِلِ ثُمَّ إنَّ هَذِهِ الْجُمْلَةَ وَاَلَّتِي قَبْلَهَا مَعْطُوفَتَانِ عَلَى جُمْلَةِ الْحَمْدِ عَطْفُ فِعْلِيَّةٍ عَلَى اسْمِيَّةٍ وَهُوَ غَيْرُ مُسْتَحْسَنٍ كَمَا فِي مُغْنِي اللَّبِيبِ مِنْ الْبَابِ الثَّانِي.

وَلِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ هُمَا مَعْطُوفَتَانِ عَلَى جُمْلَةِ أَنْعَمَ وَالتَّقْدِيرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى إنْعَامِهِ وَعَلَى صَلَاتِهِ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَسَلَامِهِ.

وَعَلَى هَذَا فَيَكُونَانِ مِنْ جُمْلَةِ الْمَحْمُودِ عَلَيْهِ إلَّا أَنَّ هَذَا وَإِنْ كَانَ صَحِيحًا مِنْ جِهَةِ الْمَعْنَى وَالصِّنَاعَةِ إلَّا أَنَّهُ يَلْزَمُ عَلَيْهِ فَوَاتُ إحْرَازِ فَضِيلَةِ الصَّلَاةِ بِالْكِتَابَةِ وَإِنْ حَصَلَتْ بِالنُّطْقِ وَهُوَ خِلَافُ
এবং সালাম বর্ষিত হোক।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসার]

মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম সম্পূর্ণরূপে" [সাবা: ১৯]। বলা হয়েছে যে, এটি (মুহাম্মাদ নামটি) মৌলিক বা অ-ব্যুৎপন্ন (মুরতাজাল)। ইবন মু'তী এ মতটিই গ্রহণ করেছেন। বরং যাজ্জাজী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সমস্ত নামবাচক বিশেষ্যই (আলাম) মৌলিক, সিবাওয়াইহ-এর মতের বিপরীতে—যিনি মনে করেন এগুলো সবই ব্যুৎপন্ন বা স্থানান্তরিত (মানকুল)। কারণ স্থানান্তর করা মূল নীতির পরিপন্থী, তাই তা প্রমাণ ছাড়া সাব্যস্ত হয় না। আর নাম প্রদানের উদ্দেশ্য যে স্থানান্তর ছিল, তার কোনো প্রমাণ নেই; কারণ এটি কেবল নাম প্রদানকারীর স্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া প্রমাণিত হয় না।

এবং তাঁর (নাম প্রদানকারীর) পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা প্রমাণিত হয়নি।

আমি বলি: এটি 'মুহাম্মাদ' নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যদিও অন্য নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। কারণ নাম প্রদানকারীর পক্ষ থেকে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যের প্রমাণ বিদ্যমান, আর তা হলো আবদুল মুত্তালিবের সেই উক্তি যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

আর 'শারহুল হাদি'-তে রয়েছে: মুহাম্মাদ হলো 'হামিদ' (প্রশংসা) থেকে 'মুফা'আল' ওজনের শব্দ। এখানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে আধিক্য বোঝানোর জন্য, যা শুভ লক্ষণ হিসেবে গুণবাচক শব্দ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি একে মৌলিক (মুরতাজাল) বলেছে সে ভুল করেছে (সমাপ্ত)।

এটি আমার কথাকেই সমর্থন করে।

আমাদের উস্তাদ বলেছেন: মনে হয় যেন তিনি—অর্থাৎ যিনি একে মৌলিক বলেছেন—দাবি করেছেন যে আরবরা নামবাচক বিশেষ্য ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে 'মাহমুদ' বলত, 'মুহাম্মাদ' নয়। আর হাসসান (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর উক্তির উদ্দেশ্যও এটিই: "আরশের অধিপতি প্রশংসিত (মাহমুদ), আর ইনি মুহাম্মাদ।"

অতএব চিন্তা করুন (সমাপ্ত)।

আমি বলি: চিন্তার বিষয়টি হলো, নামবাচক বিশেষ্য ছাড়াও গুণবাচক অর্থে 'মুহাম্মাদ' শব্দের প্রয়োগ শোনা গেছে। আল-আ'শা বলেছেন:

হে অভিশাপ-মুক্ত ব্যক্তি (রাজা), আপনার পানেই ছিল তাদের ক্লান্তি … সেই মহান বংশীয়, দানশীল ও অত্যন্ত প্রশংসিত ব্যক্তির কাছে।

(৪) 'ওয়াসাল্লাম': অর্থাৎ 'আলাইহি' (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। প্রথমটির প্রমাণের কারণে দ্বিতীয়টি থেকে তা উহ্য রাখা হয়েছে, আর এটি ব্যাকরণে প্রচুর পাওয়া যায়। 'সাল্লামা' এর মাসদার বা মূল ধাতু হলো 'তাসলিম'। আর 'সালাম' হলো এর থেকে নির্গত নাম। এর অর্থ হলো যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নিরাপদ থাকা। এটি অভিবাদন বা সম্ভাষণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। (সালাত ও সালাম) এই উভয়কে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে সেই মতভেদ থেকে বাঁচার জন্য, যারা একটিকে অন্যটি থেকে এককভাবে উল্লেখ করা অপছন্দ করেছেন। যদিও আমাদের নিকট এটি অপছন্দনীয় নয়, যেমনটি 'মুনিয়াতুল মুফতি'-তে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর এই মতভেদ আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হকের ক্ষেত্রে।

আর নবী ছাড়া অন্য আম্বিয়াগণের ক্ষেত্রে, তাঁদের কারো জন্য (সালাত বা সালাম) এককভাবে উল্লেখ করা অপছন্দনীয় না হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। আর যে ব্যক্তি এমন দাবি করবে, তাকে স্পষ্ট বর্ণনা পেশ করতে হবে; অথচ সে ইনশাআল্লাহ এর কোনো পথই পাবে না।

আল্লামা মীরাক-এর 'শামাইল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমনই রয়েছে। অতঃপর এই বাক্যটি এবং এর পূর্বের বাক্যটি 'আল-হামদু' বাক্যের ওপর সংযোজিত (আতিফ) হয়েছে—এটি 'নামবাচক বাক্যের' ওপর 'ক্রিয়াবাচক বাক্যের' সংযোগ। আর এটি ব্যাকরণবিদদের মতে প্রশংসনীয় নয়, যেমনটি 'মুগনী আল-লাবীব'-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে।

তবে কেউ কেউ বলতে পারেন যে, এই উভয় বাক্য 'আন'আমা' (তিনি অনুগ্রহ করেছেন) বাক্যের ওপর সংযোজিত হয়েছে। এমতাবস্থায় এর অর্থ হবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নেয়ামত দান করার কারণে এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হওয়ার কারণে।"

আর এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী সালাত ও সালাম উভয়ই প্রশংসার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এটি অর্থ ও ব্যাকরণগত দিক থেকে সঠিক হলেও, এর ফলে লেখার মাধ্যমে দরুদ পাঠের সওয়াব অর্জনে ঘাটতি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদিও উচ্চারণের মাধ্যমে তা অর্জিত হয়। আর এটি পূর্বসূরিদের রীতির পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَبَعْدُ؛ فَإِنَّ الْفِقْهَ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

مَا عَلَيْهِ عَمَلُ النَّاسِ فِي الْخُطَبِ

1 -

بَقِيَ أَنْ يُقَالَ أَنَّ الْمُصَنِّفَ رحمه الله لَمْ يَتَشَهَّدْ فِي خُطْبَتِهِ وَقَدْ قَالَ صلى الله عليه وسلم «كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا تَشَهُّدٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ وَصَحَّحَهُ النَّوَوِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ.

قِيلَ وَالْجَوَابُ عَنْهُ بِأَنَّهُ تَشَهَّدَ بِاللِّسَانِ يَدْفَعُهُ صَرِيحُ لَفْظِ الْحَدِيثِ (انْتَهَى) .

أَقُولُ لَيْسَ فِي لَفْظِ الْحَدِيثِ صَرَاحَةٌ بِأَنَّ الْإِتْيَانَ بِالتَّشَهُّدِ فِي الْخُطْبَةِ لَا يَكُونُ إلَّا بِالْكِتَابَةِ حَتَّى يَكُونَ دَافِعًا لِلْجَوَابِ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ وَمَا قِيلَ فِي الْجَوَابِ بِأَنَّ فِي الْحَدِيثِ لِينًا غَيْرُ سَدِيدٍ لِأَنَّهُ بِفَرْضِ ذَلِكَ يُعْمَلُ بِهِ فِي الْفَضَائِلِ كَيْفَ وَقَدْ حَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ النَّوَوِيُّ؟ ، وَمَا قِيلَ أَنَّ الْحَدِيثَ فِي خُطْبَةِ النِّكَاحِ لَا فِي الْكُتُبِ وَالرَّسَائِلِ بِدَلِيلِ ذِكْرِهِ فِي كِتَابِ النِّكَاحِ مَرْدُودٌ بِأَنَّ الْعَامَّ يَجْرِي عَلَى عُمُومِهِ حَتَّى يَرِدَ مَا يُخَصِّصُهُ.

وَذِكْرُهُ فِي كِتَابِ النِّكَاحِ لَا يَصْلُحُ مُخَصِّصًا وَقَوْلُ التُّورْبَشْتِيِّ: الْمُرَادُ بِالتَّشَهُّدِ الْحَمْدُ رُدَّ بِالرِّوَايَةِ الْأُخْرَى " كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا شَهَادَتَانِ " وَبِأَنَّ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيَّ لِلتَّشَهُّدِ هُوَ الْإِتْيَانُ بِالشَّهَادَةِ وَأَمَّا هَذَا فَهُوَ مَعْنًى مَجَازِيٌّ وَالْحَمْلُ عَلَى الْمَجَازِ بِغَيْرِ قَرِينَةٍ صَارِفَةٍ عَنْ الْحَقِيقَةِ غَيْرُ مَرْضِيٍّ

 

(5) وَبَعْدُ فَإِنَّ الْفِقْهَ: بَعْدُ، كَلِمَةٌ يُؤْتَى بِهَا لِلِانْتِقَالِ مِنْ أُسْلُوبٍ إلَى آخَرَ وَهُوَ ظَرْفُ زَمَانٍ بِمَعْنَى كَثِيرًا وَقَدْ تُسْتَعْمَلُ فِي الْمَكَانِ وَيَصِحُّ إرَادَةُ كُلٍّ مِنْهُمَا هَاهُنَا وَهِيَ مَبْنِيَّةٌ عَلَى الضَّمِّ، لِحَذْفِ الْمُضَافِ إلَيْهِ وَنِيَّةٌ مَعْنَاهُ أَيْ بَعْدَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ الْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ وَالصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ، قَالَ ابْنُ الْمُلَقَّنِ فِي الْإِشَارَاتِ وَقَدْ اخْتَلَفُوا فِي ضَبْطِ بَعْدُ عَلَى أَرْبَعَةِ أَوْجُهٍ: أَحَدُهَا الضَّمُّ، وَقَدْ تَقَدَّمَ، ثَانِيهَا مَعَ التَّنْوِينِ، ثَالِثهَا: النَّصْبُ وَالتَّنْوِينُ، رَابِعُهَا: فَتْحُ الدَّالِ مَعَ تَقْدِيرِ لَفْظِ الْمُضَافِ إلَيْهِ حَكَاهُ النَّحَّاسُ (انْتَهَى) .

وَهَذِهِ الْأَوْجُهُ تَأْتِي هُنَا مَا عَدَا النَّصْبَ مَعَ التَّنْوِينِ فَإِنَّهَا لَمْ تُرْسَمْ بِأَلْفٍ وَقَدْ بَيَّنَ ابْنُ هِشَامٍ تِلْكَ الْأَوْجُهَ وَحَاصِلُهُ أَنَّهَا مَبْنِيَّةٌ عَلَى الضَّمِّ إذَا حُذِفَ الْمُضَافُ إلَيْهِ وَنُوِيَ مَعْنَاهُ وَتُعْرَبُ فِي ثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ وَهِيَ مَا إذَا ذُكِرَ الْمُضَافُ إلَيْهِ أَوْ حُذِفَ وَنُوِيَ لَفْظُهُ أَوْ حُذِفَ وَلَمْ يُنْوَ شَيْءٌ وَلَمْ يُذْكَرْ الضَّمُّ مَعَ التَّنْوِينِ الَّذِي ذَكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ الْهَيْثَمِيِّ عَنْ بَعْضِ الْمَشَايِخِ أَنَّهَا فَاعِلٌ لَفِعْلٍ مَحْذُوفٍ أَيْ مَهْمَا يَكُنْ بَعْدُ أَيْ يُوجَدُ.

قَالَ الشِّهَابُ أَحْمَدُ الْغَيْنَمِيُّ وَهُوَ قَرِيبٌ (انْتَهَى) .

(أَقُولُ) الظَّاهِرُ أَنَّهُ إنْ لَمْ يَكُنْ فَاسِدًا فَهُوَ بَعِيدٌ فَمَا مَعْنَى نِسْبَةُ الْوُجُودِ إلَى بَعْدُ؟ وَكَوْنُ الْمُرَادُ لَفْظَهَا بَعِيدٌ غَيْرُ ظَاهِرٍ فِي التَّعْلِيقِ وَالْغَرَضِ مِنْهُ.

ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ الْوَاوَ فِي قَوْلِهِ وَبَعْدُ قَدْ
অতঃপর, নিশ্চয়ই ফিকহ

—

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

খুতবাগুলোতে মানুষের আমল যা রয়েছে

১ -

একটি কথা বলা বাকি রয়ে গেছে যে, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর খুতবায় তাশাহহুদ পাঠ করেননি, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে খুতবায় তাশাহহুদ নেই, তা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হাতের মতো।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, আর নববী ও বায়হাকী একে সহীহ বলেছেন।

বলা হয়েছে যে, এর উত্তর হলো—তিনি মুখে তাশাহহুদ পাঠ করেছেন; কিন্তু হাদীসের স্পষ্ট শব্দাবলী এ উত্তরকে প্রত্যাখ্যান করে। (সমাপ্ত)

আমি বলছি, হাদীসের শব্দে এমন কোনো স্পষ্টতা নেই যে, খুতবায় তাশাহহুদ প্রদান কেবল লেখার মাধ্যমেই হতে হবে, যাতে করে তা উল্লিখিত উত্তরকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে; যেমনটি প্রজ্ঞাবানদের নিকট স্পষ্ট। আর হাদীসে শিথিলতা (দুর্বলতা) আছে বলে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়, কারণ এটি ধরে নিলেও ফযীলতের ক্ষেত্রে এর ওপর আমল করা হয়; আর কেনই বা হবে না, যেখানে তিরমিযী একে হাসান এবং নববী একে সহীহ বলেছেন? আর এটি যে কেবল বিবাহের খুতবা সম্পর্কিত, বই বা চিঠিপত্রের খুতবা নয়—একথা বলে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রমাণ হিসেবে একে 'কিতাবুন নিকাহ'-তে (বিবাহ অধ্যায়) উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, তাও প্রত্যাখ্যাত। কেননা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ তার ব্যাপকতার ওপরই বহাল থাকে যতক্ষণ না কোনো বিশেষায়িতকারী দলিল পাওয়া যায়।

আর বিবাহ অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করা বিশেষায়িতকারী হওয়ার জন্য যোগ্য নয়। তুরবিশতির বক্তব্য—'তাশাহহুদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হামদ (আল্লাহর প্রশংসা)'—অন্য একটি বর্ণনা দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে যাতে বলা হয়েছে: "প্রতিটি খুতবা যাতে শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) নেই।" তাছাড়া তাশাহহুদের প্রকৃত অর্থ হলো সাক্ষ্যবাণী প্রদান করা। আর এটি (হামদ) হলো রূপক অর্থ, আর প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করার মতো কোনো লক্ষণ ছাড়া রূপক অর্থে গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

(৫) অতঃপর, নিশ্চয়ই ফিকহ: 'অতঃপর' (বাদু) এমন একটি শব্দ যা এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সময়ের বিশেষ্য (যরফে যামান) যা 'অধিক' অর্থে আসে। কখনও এটি স্থানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং এখানে উভয় অর্থ গ্রহণ করা সঠিক হতে পারে। এটি পেশ (যম্ম) বিশিষ্ট হয়ে গঠিত হয়, কারণ এর মুদাফ ইলাইহি উহ্য থাকে এবং তার অর্থ মনে মনে নিয়ত করা হয়। অর্থাৎ: ইতিপূর্বে আলোচিত বিসমিল্লাহ, হামদ এবং দরূদ ও সালামের পর। ইবনুল মুলাক্কিন 'আল-ইশারাত' গ্রন্থে বলেছেন যে, 'বাদু' শব্দের উচ্চারণে চারটি পদ্ধতি রয়েছে: প্রথমটি হলো পেশসহ, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো তানভীনসহ পেশ। তৃতীয়টি হলো নসব (যবর) ও তানভীন। চতুর্থটি হলো দাল অক্ষরে ফাতহা (যবর) হওয়া এবং মুদাফ ইলাইহির শব্দটিকে মনে মনে ধরে নেওয়া; এটি নাহহাস বর্ণনা করেছেন। (সমাপ্ত)

আর তানভীনসহ নসব ব্যতীত এই পদ্ধতিগুলো এখানে প্রযোজ্য হতে পারে, কারণ এখানে এটি আলিফ দ্বারা লেখা হয়নি। ইবনে হিশাম এই পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। সারকথা হলো, এটি পেশের ওপর মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয় যখন মুদাফ ইলাইহি উহ্য থাকে এবং তার অর্থ নিয়ত করা হয়। আর এটি তিন অবস্থায় মু'রাব (পরিবর্তনশীল) হয়: যখন মুদাফ ইলাইহি উল্লিখিত থাকে, অথবা উহ্য থাকে এবং তার শব্দ নিয়ত করা হয়, অথবা উহ্য থাকে এবং কিছুই নিয়ত না করা হয় ও উল্লেখ না করা হয়। আর ইবনে হাজার আল-হাইতামি জনৈক শায়খ থেকে তানভীনসহ পেশ হওয়ার যে কথা উল্লেখ করেছেন যে, এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) হবে (অর্থাৎ: যা কিছু এরপর পাওয়া যাবে), তা এখানে বর্ণিত হয়নি।

শিহাব আহমদ আল-গাইনামি বলেছেন, এটি কাছাকাছি ব্যাখ্যা। (সমাপ্ত)

(আমি বলছি) প্রকাশ্য বিষয় হলো, এটি যদি অশুদ্ধ না-ও হয় তবে তা দূরবর্তী সম্ভাবনা। 'বাদু' এর সাথে অস্তিত্বকে সম্বন্ধ করার অর্থ কী? আর এর দ্বারা কেবল শব্দটিকে উদ্দেশ্য করা দূরবর্তী বিষয় এবং তা প্রাসঙ্গিকতা ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। তারপর জেনে রাখুন যে, 'অতঃপর' শব্দের শুরুতে যে 'ওয়াও' রয়েছে তা...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

اخْتَلَفُوا فِيهَا فَذَهَبَ بَعْضُهُمْ إلَى أَنَّهَا عَاطِفَةُ قِصَّةٍ عَلَى قِصَّةٍ، أَيْ عَاطِفَةُ مَضْمُونٍ سِيقَ لِغَرَضِ سَبَبِ التَّصْنِيفِ عَلَى مَضْمُونٍ سِيقَ لِقَصْدِ التَّبَرُّكِ، وَالْعَامِلُ فِي بَعْدُ عَلَى هَذَا مَحْذُوفٌ تَقْدِيرُهُ أَقُولُ.

وَنَحْوُهُ، وَالْفَاءُ زَائِدَةٌ لِلْإِشْعَارِ بِاللُّزُومِ أَوْ عَاطِفَةٌ.

وَالتَّقْدِيرُ: وَأَقُولُ بَعْدَ مَا تَقَدَّمَ.

كَذَا قِيلَ.

أَقُولُ لَا يَتَأَتَّى الْإِشْعَارُ بِاللُّزُومِ إذَا كَانَتْ الْوَاوُ عَاطِفَةً وَمِنْ ثَمَّ قَالَ الْمُحَقِّقُ الرَّضِيُّ إنَّ الْفَاءَ دَخَلَتْ لِتَوَهُّمِ: إمَّا إجْرَاءً لِلْمُتَوَهَّمِ مَجْرَى الْمُحَقَّقِ أَوْ لِتَقْدِيرِ " أَمَّا " قَبْلَ " بَعْدُ " عَلَى مَا جَوَّزَهُ الْجُرْجَانِيُّ.

وَقَدْ جَوَّزَ الْعَلَّامَةُ مُحَمَّدٌ الْقُهُسْتَانِيُّ فِي شَرْحِهِ عَلَى النُّقَايَةِ عِنْدَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ: وَبَعْدُ.

فَإِنَّ الْمُتَوَسِّلَ إلَى اللَّهِ بِأَقْوَى الذَّرِيعَةِ، أَنْ يَكُونَ الْوَاوُ لِلِاسْتِئْنَافِ وَالْفَاءُ لِلتَّعْلِيلِ وَبَيَّنَهُ بِمَا هُوَ أَبْعَدُ مِنْ الْبَعِيدِ ثُمَّ قَالَ وَإِنَّمَا قُلْنَا هَذَا لِمَا فِي الْمَشْهُورِ مِنْ الضَّعْفِ فَإِنَّ تَقْدِيرَ " أَمَّا " مَشْرُوطٌ بِأَنْ يَكُونَ مَا بَعْدَ الْجَزَاءِ أَمْرًا وَنَهْيًا نَاصِبًا لِمَا قَبْلَهَا أَوْ مُفَسِّرًا لَهُ كَمَا فِي الرَّضِيِّ وَأَمَّا تَوَهُّمُ " أَمَّا " فَلَمْ يَعْتَبِرْهُ أَحَدٌ مِنْ النَّحْوِيِّينَ (انْتَهَى) .

وَقَدْ جَوَّزَ الْفَاضِلُ الدَّمَامِينِيُّ فِي الْمَنْهَلِ الصَّافِي شَرْحِ الْوَافِي عِنْدَ قَوْلِهِ وَبَعْدُ فَقَالَ: أَضْعَفُ عِبَادِ اللَّهِ أَنْ يَكُونَ الْوَاوُ لِلْعَطْفِ وَالْفَاءُ لِلسَّبَبِيَّةِ أَوْ عَاطِفَةً أَوْ زَائِدَةً وَقَرَّرَ ذَلِكَ بِمَا يَطُولُ فَرَاجِعْهُ.

وَقِيلَ الْوَاوُ فِي وَبَعْدُ لَيْسَتْ عَاطِفَةً بَلْ عِوَضًا عَنْ أَمَّا وَالْعَامِلُ فِي بَعْدُ الْفِعْلُ الْمُقَدَّرُ وَوَقَعَ فِي كَلَامِ بَعْضِ الْمُتَأَخِّرِينَ رَحِمَهُمْ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّ الْعَامِلَ فِي بَعْدُ هَاهُنَا الْوَاوُ النَّائِبَةُ عَنْ أَمَّا الْمُتَضَمِّنَةُ مَعْنَى الشَّرْطِ وَفِعْلِهِ وَالتَّقْدِيرُ مَهْمَا يَكُنْ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ (انْتَهَى) .

وَالْعُهْدَةُ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ وَقَدْ بَحَثَ الْمُحَقِّقُ الْفَزِيُّ رحمه الله فِي حَوَاشِي التَّلْوِيحِ فِي جَعْلِ الْوَاوِ عِوَضًا عَنْ أَمَّا بِأَنْ جَعَلَهَا عِوَضًا يَقْتَضِي مُنَاسَبَةً بَيْنَ الْوَاوِ وَأَمَّا مُصَحَّحَةً لِتَعْوِيضِهَا وَلَا مُنَاسَبَةَ بَيْنَهُمَا (انْتَهَى) .

وَقَالَ ابْنُ إيَازٍ رحمه الله فِي شَرْحِ الْفُصُولِ وَأَمَّا حَذْفُ أَمَّا فَلَا يَجُوزُ لِأَنَّ أَمَّا نَائِبَةٌ عَنْ الْفِعْلِ وَأَدَاةِ الشَّرْطِ مَعًا فَلَوْ حُذِفَ كَانَ فِيهِ حَذْفُ النَّائِبِ وَالْمَنُوبِ وَهَذَا إجْحَافٌ كَثِيرٌ وَقَدْ ارْتَكَبَ كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ هَذَا الْمَحْظُورَ وَاسْتَسْهَلُوهُ وَذَلِكَ إذَا كَانَتْ أَمَّا مَعَ بَعْدُ فَيَقُولُونَ فِي أَمَّا بَعْدُ: وَبَعْدُ فَإِنَّ الْأَمْرَ كَذَا.

وَقَدْ صَنَعَ ابْنُ مُعْطِي فِي خُطْبَةِ أَلْفِيَّتِهِ هَذَا فَقَالَ: وَبَعْدُ فَالْعِلْمُ جَلِيلُ الْقَدْرِ.

وَمُرَادُهُ أَمَّا بَعْدُ (انْتَهَى) .

أَقُولُ فِي كَوْنِ مَا صَنَعَهُ ابْنُ مُعْطِي مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ نَظَرٌ لِجَوَازِ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ بِالْوَاوِ الْعَطْفَ لَا أَنَّهَا عِوَضٌ عَنْ أَمَّا، وَكَوْنُ مُرَادِهِ أَمَّا بَعْدُ لَمْ تَقُمْ قَرِينَةٌ قَاطِعَةٌ عَلَيْهِ وَعَلَى تَسْلِيمِهِ فَقَدْ نَقَلَ الرَّضِيُّ أَنَّ أَمَّا يَجُوزُ حَذْفُهَا إذَا كَانَ الْجَزَاءُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

তারা এ বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন। তাদের কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি একটি বর্ণনাকে অপর বর্ণনার সাথে যুক্তকারী (আতিফাহ), অর্থাৎ রচনার কারণ বর্ণনার উদ্দেশ্যে আনীত বিষয়বস্তুকে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আনীত বিষয়বস্তুর সাথে যুক্তকারী। এমতাবস্থায় ‘বা’দু’ (পরে) শব্দের আমেল (ক্রিয়া) উহ্য রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘আকূলু’ (আমি বলছি)।

এবং তদ্রূপ। আর ‘ফা’ অক্ষরটি অপরিহার্যতা বুঝানোর জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে অথবা এটি সংযোজক অব্যয় (আতিফাহ)।

আর এর বিশ্লেষণ হলো: এবং যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার পরে আমি বলছি।

এরূপ বলা হয়েছে।

আমি বলি, যদি ‘ওয়াও’ অক্ষরটি সংযোজক (আতিফাহ) হয়, তবে অপরিহার্যতা বুঝানো সম্ভব নয়। এই কারণেই মুহাক্কিক রাজি বলেছেন যে, ‘ফা’ অক্ষরটি একটি সংশয়ের (তাওয়াহহুম) কারণে প্রবেশ করেছে; হয় সংশয়যুক্ত বিষয়কে নিশ্চিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য, অথবা ‘বা’দু’ শব্দের পূর্বে ‘আম্মা’ শব্দটিকে উহ্য ধরার জন্য, যেমনটি জুরজানি জায়েজ (বৈধ) বলেছেন।

আল্লামা মুহাম্মদ কুহুস্তানি তার ‘নুকায়া’র ব্যাখ্যাগ্রন্থে গ্রন্থকারের উক্তি ‘ওয়া বা’দু’ এর ক্ষেত্রে বৈধতা দিয়েছেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়ে মাধ্যম তালাশকারী ব্যক্তি মনে করেন যে, এখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরটি প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফ) এবং ‘ফা’ অক্ষরটি কারণ দর্শানোর (তা’লিল) জন্য। তিনি এটিকে অত্যন্ত দূরবর্তী এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, আমরা এটি কেবল এ কারণেই বলেছি যেহেতু প্রসিদ্ধ মতটিতে দুর্বলতা রয়েছে। কারণ ‘আম্মা’ উহ্য ধরার শর্ত হলো জাজা (প্রতিদান) এর পরবর্তী অংশটি আদেশবাচক, নিষেধবাচক, তার পূর্ববর্তী অংশকে নসব প্রদানকারী অথবা তার ব্যাখ্যামূলক হওয়া, যেমনটি রাজির কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আর ‘আম্মা’ এর কাল্পনিক উপস্থিতি (তাওয়াহহুম) ব্যাকরণবিদদের কেউ বিবেচনায় নেননি। (সমাপ্ত)

ফাজেল দামামিনি ‘মানহালুস সাফি শারহুল ওয়াফি’ গ্রন্থে গ্রন্থকারের উক্তি ‘ওয়া বা’দু’ সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহর দুর্বলতম বান্দা (আমি বলছি), ‘ওয়াও’ অক্ষরটি সংযোগের (আতিফাহ) জন্য হতে পারে এবং ‘ফা’ অক্ষরটি কারণবাচক (সাবাবিয়্যাহ), সংযোজক (আতিফাহ) অথবা অতিরিক্ত হতে পারে। তিনি দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত করেছেন, সুতরাং তা দেখে নিন।

এবং বলা হয়েছে যে, ‘ওয়া বা’দু’ এর ‘ওয়াও’ অক্ষরটি সংযোজক নয়, বরং এটি ‘আম্মা’ এর পরিবর্তে এসেছে। আর ‘বা’দু’ এর আমেল হলো উহ্য থাকা একটি ক্রিয়া। পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিমের (আল্লাহ তাদের রহমত করুন) বক্তব্যে এসেছে যে, এখানে ‘বা’দু’ এর আমেল হলো সেই ‘ওয়াও’ যা ‘আম্মা’ এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যার মধ্যে শর্ত এবং তার ক্রিয়ার অর্থ নিহিত রয়েছে। আর এর সম্ভাব্য রূপ হলো ‘যাই হোক না কেন এরপর’। (সমাপ্ত)

আর এর দায়ভার তার ওপরই বর্তায়। মুহাক্কিক ফাজি (রহ.) ‘তাশিয়াতুত তালবিহ’ গ্রন্থে ‘ওয়াও’ অক্ষরটিকে ‘আম্মা’ এর স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এই যুক্তিতে যে, কোনো কিছুকে স্থলাভিষিক্ত করতে হলে ‘ওয়াও’ এবং ‘আম্মা’ এর মধ্যে একটি সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন যা এই স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে সঠিক প্রমাণ করবে, অথচ এই দুটির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। (সমাপ্ত)

ইবনে ইয়াজ (রহ.) ‘শারহুল ফুসুল’ গ্রন্থে বলেছেন, আর ‘আম্মা’ বিলুপ্ত করা জায়েজ নেই, কারণ ‘আম্মা’ একইসাথে ক্রিয়া এবং শর্তের অব্যয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং যদি একে বিলুপ্ত করা হয় তবে স্থলাভিষিক্ত এবং মূল উভয়কেই বিলুপ্ত করা হবে, যা একটি চরম বাড়াবাড়ি। অথচ অনেক মানুষ এই নিষিদ্ধ কাজটি করেছেন এবং এটিকে সহজ মনে করেছেন। আর তা হলো যখন ‘বা’দু’ শব্দের সাথে ‘আম্মা’ থাকে, তখন তারা ‘আম্মা বা’দু’ এর স্থলে বলে থাকেন: ‘ওয়া বা’দু, নিশ্চয়ই বিষয়টি এমন...’।

ইবনে মু’তি তার আলফিয়্যাহ-র ভূমিকায় এরূপই করেছেন। তিনি বলেছেন: ‘এবং এরপর, নিশ্চয়ই ইলমের মর্যাদা সুমহান’।

আর তার উদ্দেশ্য হলো ‘আম্মা বা’দু’। (সমাপ্ত)

আমি বলছি, ইবনে মু’তি যা করেছেন তা এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ আছে। কারণ এটি সম্ভব যে, তিনি ‘ওয়াও’ দ্বারা সংযোগ (আতিফাহ) উদ্দেশ্য করেছেন, এটি ‘আম্মা’ এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নয়। আর তার উদ্দেশ্য ‘আম্মা বা’দু’ হওয়ার স্বপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে রাজি বর্ণনা করেছেন যে, ‘আম্মা’ বিলুপ্ত করা জায়েজ যদি তার জাজা (ফলাফল)...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَشْرَفُ الْعُلُومِ قَدْرًا، 7 - وَأَعْظَمُهَا أَجْرًا، 8 - وَأَتَمُّهَا عَائِدَةً،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

أَمْرًا نَهْيًا فَمَنْعُ جَوَازِ حَذْفِهَا عَلَى الْإِطْلَاقِ مَمْنُوعٌ فَتَأَمَّلْ وَالْفِقْهُ هُوَ الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الْخَمْسَةِ مِنْ حَيْثُ تَعَلُّقِهَا بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ لَا الْعِلْمِ بِوُجُوبِ الْعَمَلِ كَذَا فِي فُصُولِ الْبَدَائِعِ.

(6) أَشْرَفُ الْعُلُومِ قَدْرًا: الشَّرَفُ الْعُلُوُّ وَقَدْرًا مَنْصُوبٌ عَلَى التَّمْيِيزِ وَهُوَ مَبْلَغُ الشَّيْءِ وَأَنْ يَكُونَ مُسَاوِيًا لِغَيْرِهِ مِنْ غَيْرِ زِيَادَةٍ وَلَا نُقْصَانٍ كَمَا فِي الْمَغْرِبِ وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا الْمَرْتَبَةُ وَالْمَزِيَّةُ وَفِي كَلَامِ الْمُصَنِّفِ نَظَرٌ لِاقْتِضَائِهِ أَنَّ عِلْمَ الْفِقْهِ أَشْرَفُ مِنْ عِلْمِ الْكَلَامِ وَالتَّفْسِيرِ وَالْحَدِيثِ مَعَ أَنَّ هَذِهِ الْعُلُومَ أَشْرَفُ مِنْ الْفِقْهِ لِأَنَّ شَرَفَ الْعِلْمِ بِشَرَفِ مَوْضُوعِهِ وَمَوْضُوعُ هَذِهِ الْعُلُومِ أَشْرَفُ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ.

وَحِينَئِذٍ فَالصَّوَابُ أَنْ يُقَالَ مِنْ أَشْرَفِ الْعُلُومِ وَأَجَابَ بَعْضُهُمْ بِأَنَّ مُرَادَهُ مِنْ الْفِقْهِ مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا فَيَدْخُلُ عِلْمُ الْكَلَامِ فِيهِ لَكِنَّ الْمَقَامَ يُنْبِئُ عَنْهُ (انْتَهَى) .

وَفِيهِ أَنَّهُ مَعَ نُبُوءِ الْمَقَامِ عَنْهُ غَيْرُ حَاسِمٍ لِمَادَّةِ الْإِشْكَالِ.

وَالْحَقُّ أَنْ يُقَالَ أَنَّ اللَّامَ فِي الْعُلُومِ لَيْسَتْ لِلِاسْتِغْرَاقِ بَلْ لِلْجِنْسِ وَالْحُكْمُ عَلَى الْجِنْسِ لَا يَسْتَدْعِي الْحُكْمَ عَلَى كُلِّ فَرْدٍ مِنْ أَفْرَادِهِ.

بَقِيَ أَنْ يُقَالَ الْفِقْهُ مِنْ جُمْلَةِ الْعُلُومِ فَيَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ مُفَضَّلًا عَلَى نَفْسِهِ لِأَنَّ اسْمَ التَّفْضِيلِ إذَا أُضِيفَ وَقُصِدَ بِهِ الزِّيَادَةُ عَلَى مَا أُضِيفَ إلَيْهِ يُشْتَرَطُ فِي صِحَّةِ اسْتِعْمَالِهِ أَنْ يَكُونَ بَعْضًا مِمَّا أُضِيفَ إلَيْهِ؛ وَالْجَوَابُ أَنَّهُ دَاخِلٌ فِي الْمُضَافِ إلَيْهِ لُغَةً خَارِجٌ عَنْهُ مُرَادًا كَمَا فِي الِاسْتِثْنَاءِ الْمُتَّصِلِ وَالْمَقْصُودُ تَفْضِيلُهُ عَلَى مَا يُشَارِكُهُ فِي هَذَا الْمَفْهُومِ أَعْنِي مَفْهُومَ الشَّرَفِ فَلَا يَلْزَمُ التَّفْضِيلُ عَلَى نَفْسِهِ كَذَا حَقَّقَهُ بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ فِي مِثْلِ هَذَا التَّرْكِيبِ فَلْيُحْفَظْ.

(7) وَأَعْظَمُهَا أَجْرًا: الْعِظَمُ بِكَسْرِ الْعَيْنِ ضِدُّ الصِّغَرِ وَمَتَى وُصِفَ عَبْدٌ بِالْعَظَمَةِ فَهُوَ ذَمٌّ وَالْأَجْرُ الْجَزَاءُ عَلَى الْعَمَلِ كَالْإِجَارَةِ مُثَلَّثَةً وَالْجَمْعُ أُجُورٌ.

(8) وَأَتَمُّهَا عَائِدَةً: التَّمَامُ ضِدُّ النُّقْصَانِ وَالْعَائِدَةُ الْمَعْرُوفُ وَالصِّلَةُ وَالْعَطْفُ وَالْمَنْفَعَةُ وَالْمُرَادُ هُنَا الْأَخِيرُ (أَقُولُ) وَعَلَى كَوْنِ الْعَائِدِ بِمَعْنَى الصِّلَةِ يُعْجِبُنِي قَوْلُ بَعْضِ الْأُدَبَاءِ:

لَقَدْ مَرِضْت وَعَادَنِي … مَنْ لَيْسَ مَعَهُ خَرْدَلَةٌ

تَعْسًا لَهُ مِنْ زَائِرٍ … وَعَائِدٍ بِلَا صِلَةٍ
মর্যাদার দিক থেকে ইলমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, (৭) এবং সওয়াবের দিক থেকে সবচেয়ে মহান, (৮) এবং উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

আদেশ এবং নিষেধের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা বিলুপ্ত করার বৈধতা নিষেধ করাও নিষিদ্ধ, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো। আর ফিকহ হলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে পাঁচটি বিধানের জ্ঞান, আমল করা ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞান নয়; যেমনটি ফুসুলুল বাদায়ি‘-তে উল্লেখ রয়েছে।

(৬) মর্যাদার দিক থেকে ইলমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ: 'শারাফ' অর্থ উচ্চতা। আর 'কদরান' শব্দটি তামিয হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে। এটি দ্বারা কোনো বস্তুর পরিমাণ বোঝায়, অর্থাৎ বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই অন্য একটির সমান হওয়া, যেমনটি 'আল-মাগরিব' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। এখানে এটি দ্বারা মর্যাদা এবং বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য। গ্রন্থকারের বক্তব্যে কিছু আপত্তির অবকাশ রয়েছে, কারণ এর দ্বারা বোঝা যায় যে ইলমে ফিকহ ইলমে কালাম, তাফসির এবং হাদিসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; অথচ এই জ্ঞানগুলো ফিকহের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কেননা ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে তার বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর, আর এই ইলমগুলোর বিষয়বস্তু যে অধিকতর শ্রেষ্ঠ তা সুস্পষ্ট।

এমতাবস্থায় সঠিক কথা হলো ‘শ্রেষ্ঠ ইলমগুলোর অন্যতম’ বলা। কেউ কেউ উত্তর দিয়েছেন যে, এখানে ফিকহ দ্বারা ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী নিজের উপকার ও অপকার সম্পর্কে জানা উদ্দেশ্য, যার ফলে ইলমে কালামও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু প্রসঙ্গের দাবি এর বিপরীত। (সমাপ্ত)

এতে আপত্তি হলো যে, প্রসঙ্গের সাথে অসামঞ্জস্য হওয়ার পাশাপাশি এটি আপত্তির মূল কারণকেও নিরসন করে না।

সঠিক কথা হলো, ‘আল-উলূম’ শব্দের ‘আলিফ-লাম’ এখানে ব্যাপকার্থক নয়, বরং জাতিগত অর্থের জন্য। আর জাতির ওপর কোনো হুকুম বা বিধান প্রয়োগ করা হলে তা সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি একক সদস্যের ওপর প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক নয়।

আরও একটি কথা থেকে যায় যে, ফিকহ তো জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, ফলে এটি নিজের ওপরই শ্রেষ্ঠ হওয়ার আবশ্যকীয়তা দেখা দেয়। কারণ ‘ইসমুত তাফদীল’ যখন মুজাফ হয় এবং এর মাধ্যমে মুজাফ ইলাইহির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানো হয়, তখন ব্যবহারের বিশুদ্ধতার জন্য শর্ত হলো তাকে মুজাফ ইলাইহির একটি অংশ হতে হবে। এর উত্তর হলো, আভিধানিকভাবে এটি মুজাফ ইলাইহির অন্তর্ভুক্ত হলেও উদ্দেশ্যগতভাবে তা বহির্ভূত, যেমনটি ইস্তিসনা মুত্তাসিল-এর ক্ষেত্রে হয়। উদ্দেশ্য হলো এমন সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা যা এই শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার সাথে শরিক, সুতরাং নিজের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হওয়ার আবশ্যকতা থাকে না। এ ধরণের বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে কোনো কোনো গবেষক আলেম এভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন, সুতরাং এটি স্মরণ রাখা উচিত।

(৭) এবং সওয়াবের দিক থেকে সবচেয়ে মহান: ‘ইজাম’ শব্দের অর্থ ক্ষুদ্রতার বিপরীত। যখন কোনো বান্দাকে মহত্ত্ব গুণে গুণান্বিত করা হয়, তখন তা নিন্দা হিসেবে গণ্য হয়। আর ‘অজর’ অর্থ কর্মের বিনিময়, যেমন ইজারা; এর বহুবচন হলো ‘উজূর’।

(৮) এবং উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ: ‘তামাম’ বা পূর্ণতা হলো অপূর্ণতার বিপরীত। আর ‘আয়িদাহ’ অর্থ হলো সদাচরণ, দান, দয়া এবং উপকার; এখানে শেষোক্ত অর্থটিই উদ্দেশ্য। (আমি বলি) ‘আয়িদ’ শব্দটি যখন উপঢৌকন বা দান অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন জনৈক সাহিত্যিকের এই কবিতাটি আমার খুব ভালো লাগে:

আমি অসুস্থ হয়েছিলাম আর আমাকে দেখতে এসেছিল … এমন এক ব্যক্তি যার সাথে সরিষা দানার পরিমাণও কিছু ছিল না।

ধ্বংস হোক এমন দর্শনার্থীর জন্য … যে দেখতে এল অথচ কোনো উপঢৌকন ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَأَعَمُّهَا فَائِدَةً، 10 - وَأَعْلَاهَا مَرْتَبَةً 11 - وَأَسْنَاهَا مَنْقَبَةً، 12 - يَمْلَأُ الْعُيُونَ نُورًا،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَأَعَمُّهَا فَائِدَةً: أَعَمُّ مِنْ الْعُمُومِ وَهُوَ الشُّمُولُ يُقَالُ أَعَمُّهُمْ بِالْعَطِيَّةِ أَيْ أَشْمَلُهُمْ فَلَمْ يَفُتْهُ أَحَدٌ مِنْهُمْ وَالْفَائِدَةُ لُغَةً مِنْ الْفُؤَادِ لِأَنَّهَا تُعْقَلُ بِهِ وَعَلَيْهِ قَوْلُ أُسْتَاذِي:

مِنْ الْفُؤَادِ اُشْتُقَّتْ الْفَائِدَةُ … وَالنَّفْسُ يَا صَاحِ بِذَا شَاهِدَةٌ

لِذَا تَرَى أَفْئِدَةَ النَّاسِ قَدْ … مَالَتْ لِمَنْ فِي قُرْبِهِ فَائِدَةٌ

أَوْ مِنْ الْفَيْدِ مَا اُسْتُفِيدَ مِنْ عِلْمٍ أَوْ مَالٍ وَفَسَّرَهَا بَعْضُهُمْ بِالزِّيَادَةِ تَحْصُلُ لِلْإِنْسَانِ اسْمُ فَاعِلٍ مِنْ فَادَتْ لَهُ فَائِدَةً وَفَيْدًا وَأَفَدْته أَعْطَيْته وَأَفَدْت مِنْهُ أَخَذَتْ وَعُرْفًا كُلُّ نَافِعٍ دِينِيٍّ أَوْ دُنْيَوِيٍّ أَوْ هِيَ مَا يَكُونُ بِهِ الشَّيْءُ أَحْسَنَ حَالًا مِنْهُ بِغَيْرِهِ.

(10) وَأَعْلَاهَا مَرْتَبَةً: أَيْ أَرْفَعُهَا مَنْزِلَةً قَالَ فِي الْقَامُوسِ الرُّتْبَةُ بِالضَّمِّ وَالْمَرْتَبَةُ الْمَنْزِلَةُ.

(11) وَأَسْنَاهَا مَنْقَبَةً: السَّنَا ضَوْءُ الْبَرْقِ وَيُمَدُّ.

وَالْمَنْقَبَةُ بِالْفَتْحِ الطَّرِيقُ فِي الْجَبَلِ وَالْمَعْنَى أَنَّ عِلْمَ الْفِقْهِ أَظْهَرُ الْعُلُومِ طَرِيقًا لِأَنَّ طَرِيقَهُ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ قَوْلِيًّا أَوْ فِعْلِيًّا أَوْ سُكُوتِيًّا وَالْقِيَاسُ الصَّحِيحُ.

وَهَذِهِ فِي صِحَّةِ الدَّلَالَةِ وَظُهُورِهَا لَا يُضَاهِيهَا غَيْرُهَا مِنْ الدَّلَالَاتِ الْعَقْلِيَّةِ وَالطَّبْعِيَّةِ وَالْعَادِيَّةِ لِاخْتِلَافِهَا وَعَدَمِ انْضِبَاطِهَا لِاخْتِلَافِ الْعُقُولِ وَالطِّبَاعِ وَالْعَادَاتِ وَفَسَّرَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ الْمَنْقَبَةَ هُنَا بِالْفِعْلِ الْكَرِيمِ وَهُوَ غَيْرُ مُنَاسِبٍ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ.

(12) يَمْلَأُ الْعُيُونَ نُورًا: يَمْلَأُ مِنْ الْمِلْءِ وَهُوَ مِقْدَارُ مَا يَأْخُذُهُ الْإِنَاءُ إذَا امْتَلَأَ يُقَالُ مَلَأْت الْوِعَاءَ فَهُوَ مَلْءٌ وَامْتَلَأَ بَطْنُهُ وَتَمَلَّأَ مِنْ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَمَنْ الْمَجَازِ نَظَرْت إلَيْهِ فَمَلَأْت مِنْهُ عَيْنِي وَهُوَ مَلْآنُ مِنْ الْكَرَمِ ذَكَرَهُ الزَّمَخْشَرِيُّ وَالْعُيُونُ جَمْعُ عَيْنٍ الْبَاصِرَةُ وَهِيَ مُؤَنَّثٌ وَالْمُرَادُ عَيْنُ الْبَصِيرَةِ لَا الْبَاصِرَةُ إلَّا بِتَكَلُّفٍ. وَالنُّورُ بِالضَّمِّ قِيلَ أَنَّهُ كَيْفِيَّةٌ عَارِضَةٌ مِنْ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ وَالنَّارِ عَلَى ظَاهِرِ الْأَجْسَامِ بِعُرُوضِهَا تُصَيِّرُ الْمَرْئِيَّاتِ مُنْكَشِفَةً مُتَجَلِّيَةً؛ وَلِهَذَا قِيلَ فِي تَفْسِيرِهِ هُوَ الظَّاهِرُ بِنَفْسِهِ الْمُظْهِرُ لِغَيْرِهِ. وَالْحَقُّ أَنَّهُ الثَّانِي مِنْ الْأَضْوَاءِ وَالْأَضْوَاءُ قِيلَ هِيَ أَجْسَامٌ شَفَّافَةٌ تَنْفَصِلُ عَنْ الْمُضِيءِ لِأَنَّهَا مُتَحَرِّكَةٌ بِدَلِيلِ
এবং এটি উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক, (১০) মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ, (১১) এবং ফযীলতের দিক থেকে উজ্জ্বলতম, (১২) যা চোখগুলোকে আলোয় ভরিয়ে দেয়।

—

‌[গামযু উয়ুনিল বাসাইর]

এবং এটি উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক: 'আ-আম্মু' শব্দটি 'উমুম' থেকে এসেছে যার অর্থ ব্যাপকতা বা অন্তর্ভুক্ত করা। বলা হয়, 'তিনি তাদের দানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যাপক' অর্থাৎ তাদের সকলের প্রতি তিনি দান করেছেন, ফলে তাদের কেউই তা থেকে বঞ্চিত হয়নি। আর 'ফায়িদা' (উপকার) শব্দটি আভিধানিক অর্থে 'ফুয়াদ' (অন্তর) থেকে ব্যুৎপন্ন, কারণ এটি অন্তরের মাধ্যমে অনুধাবন করা হয়। এই বিষয়ে আমার শিক্ষকের উক্তি হলো:

অন্তর থেকেই ফায়িদা শব্দটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে … হে বন্ধু! আত্মা এর সাক্ষী।

এ কারণেই তুমি দেখবে মানুষের অন্তরসমূহ … সেদিকেই ঝুঁকে পড়েছে যার সান্নিধ্যে উপকার নিহিত।

অথবা এটি 'ফায়দ' থেকে এসেছে যার অর্থ অর্জিত জ্ঞান বা সম্পদ। কেউ কেউ একে মানুষের অর্জিত 'অতিরিক্ত' কিছু বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি 'ফাদাত' থেকে ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), যার দ্বারা উপকার ও প্রাপ্তি বুঝায়। 'আফাদতুহু' মানে তাকে দান করেছি, আর 'আফাদতু মিনহু' মানে তার থেকে গ্রহণ করেছি। পারিভাষিক অর্থে, প্রতিটি দ্বীনি বা দুনিয়াবি কল্যাণকর বিষয়কে ফায়িদা বলে; অথবা এটি এমন বিষয় যা দ্বারা কোনো জিনিসের অবস্থা পূর্বের চেয়ে উন্নত হয়।

(১০) এবং মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ: অর্থাৎ পদের দিক থেকে সুউচ্চ। 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'রুতবাহ' এবং 'মারতাবাহ' অর্থ হলো মর্যাদা বা স্থান।

(১১) এবং ফযীলতের দিক থেকে উজ্জ্বলতম: 'সানা' অর্থ হলো বিদ্যুতের চমক, যা দীর্ঘায়িত বা প্রসারিত হয়।

আর 'মানকাবাহ' (জবর সহযোগে) অর্থ হলো পাহাড়ের পথ। এর তাৎপর্য হলো ফিকহ শাস্ত্র হলো সকল শাস্ত্রের মধ্যে পথ ও পদ্ধতির দিক থেকে সুস্পষ্টতম। কারণ এর পথ বা উৎস হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (তা কথা, কাজ বা মৌন সম্মতির মাধ্যমেই হোক) এবং সঠিক কিয়াস।

দলীল হওয়ার নির্ভুলতা ও স্পষ্টতার দিক থেকে জ্ঞানীয়, প্রাকৃতিক বা অভ্যাসগত অন্যান্য দলীলগুলো এর সমকক্ষ নয়; কারণ জ্ঞান, প্রকৃতি ও অভ্যাসের ভিন্নতার কারণে সেগুলোতে ভিন্নতা ও অসংলগ্নতা দেখা দেয়। কোনো কোনো বিদগ্ধ পণ্ডিত এখানে 'মানকাবাহ' অর্থ করেছেন 'মর্যাদাপূর্ণ কর্ম', তবে এটি এখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যেমনটি স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়।

(১২) চোখগুলোকে আলোয় ভরিয়ে দেয়: 'য়ামলাউ' শব্দটি 'মিলউন' থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি পাত্র পূর্ণ হলে যতটুকু বস্তু ধারণ করে। বলা হয়, 'আমি পাত্রটি পূর্ণ করেছি', অর্থাৎ এটি কানায় কানায় পূর্ণ। পেট পূর্ণ হওয়া এবং পানাহারে পরিতৃপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। রূপক অর্থে বলা হয়, 'আমি তার দিকে তাকালাম এবং আমার চোখ তার দ্বারা পূর্ণ হলো' (অর্থাৎ তাকে দেখে তৃপ্ত হলাম)। এটি যামাখশারি উল্লেখ করেছেন। 'উয়ুন' শব্দটি 'আইন' এর বহুবচন যার অর্থ চোখ। এখানে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ (অন্তর্দৃষ্টি) বোঝানো হয়েছে, বাহ্যিক চোখ নয়, তবে কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা উদ্দেশ্য হতে পারে। 'নূর' (পেশ সহযোগে) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি সূর্য, চন্দ্র বা আগুন থেকে বস্তুসমূহের উপরিভাগে আপতিত এমন একটি আপত গুণ, যার প্রভাবে দৃশ্যমান বস্তুসমূহ উম্মোচিত ও প্রকাশিত হয়; এই কারণেই এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি স্বয়ং প্রকাশিত এবং অন্যকে প্রকাশকারী। প্রকৃত সত্য হলো এটি আলোগুলোর একটি প্রকার। আলোগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এগুলো স্বচ্ছ কোনো সত্তা যা আলোকদানকারী থেকে বিচ্ছুরিত হয় কারণ সেগুলো গতিশীল, যেমনটি এর প্রমাণ রয়েছে...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْقُلُوبَ سُرُورًا،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

انْحِدَارِهَا عَنْ الْكَوَاكِبِ وَانْعِكَاسِهَا وَكُلُّ مُتَحَرِّكٍ جِسْمٌ. وَرُدَّ بِمَنْعِ حَرَكَتِهَا. وَقَوْلُهُ لِأَنَّهَا مُتَحَرِّكَةٌ وَفِي نُسْخَةٍ مُنْحَدِرَةً وَمُنْعَكِسَةً قُلْنَا لَا نُسَلِّمُ ذَلِكَ بَلْ هُوَ يُحْدِثُ فِي مُقَابِلَةِ الْمُقَابِلِ دَفَعَهُ لَكِنْ لَمَّا كَانَ حُدُوثُهُ مِنْ شَيْءٍ عَالٍ فِي مَكَان مُقَابِلٍ سَبَقَ إلَى الْوَهْمِ أَنَّهُ مُنْحَدِرٌ وَمُنْعَكِسٌ فَالْحَقُّ أَنَّهَا كَيْفِيَّاتٌ فَمِنْهَا مَا هُوَ ضَوْءٌ أَوَّلٌ وَهُوَ الْحَاصِلُ فِي الْجِسْمِ مِنْ مُقَابَلَةِ الْمُضِيءِ لِذَاتِهِ كَضَوْءِ وَجْهِ الْأَرْضِ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَيُسَمَّى ضِيَاءٌ إنْ قَوِيَ وَشُعَاعًا إنْ ضَعُفَ وَمِنْهَا مَا هُوَ ثَانٍ وَهُوَ الْحَاصِلُ فِي الْجِسْمِ مِنْ مُقَابَلَةِ الْمُضِيءِ بِالْغَيْرِ كَالضَّوْءِ الْحَاصِلِ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقْتَ الْإِسْفَارِ وَعَقِيبَ غُرُوبِ الشَّمْسِ فَإِنَّهُ صَارَ مُضِيئًا بِالْهَوَى الَّذِي صَارَ مُضِيئًا بِالشَّمْسِ وَكَالضَّوْءِ الْحَاصِلِ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقْتَ الْإِسْفَارِ مِنْ مُقَابَلَةِ الْقَمَرِ وَيُسَمَّى هَذَا النَّوْعُ نُورًا وَالْكَلَامُ مُشْتَمِلٌ عَلَى تَشْبِيهِ الْمَعْقُولِ بِالْمَحْسُوسِ بِوَجْهٍ تَخْيِيلِيٍّ لِأَنَّهُ لَمَّا كَانَتْ الْبِدْعَةُ وَكُلُّ مَا هُوَ جَهْلٌ يَجْعَلُ صَاحِبَهَا كَمَنْ يَمْشِي فِي الظُّلْمَةِ فَلَا يَهْتَدِي لِلطَّرِيقِ وَلَا يَأْمَنُ أَنْ يَنَالَ مَكْرُوهًا شُبِّهَتْ الْبِدْعَةُ بِالظُّلْمَةِ فَلَزِمَ أَنْ يُشَبَّهَ عِلْمُ الشَّرِيعَةِ وَكُلُّ مَا هُوَ عِلْمٌ وَهِدَايَةٌ بِالنُّورِ. وَشَاعَ هَذَا حَتَّى تُخُيِّلَ أَنَّهُ مِمَّا لَهُ بَيَاضٌ وَإِشْرَاقٌ كَذَا فِي التَّقْرِيرِ. أَقُولُ عَلَى هَذَا كَانَ الظَّاهِرُ أَنْ يُعَبِّرَ بِالْقُلُوبِ دُونَ الْعُيُونِ لِأَنَّهُ الْمُنَاسِبُ لِلنُّورِ بِمَعْنَى الْعِلْمِ وَأَنْ يُعَبِّرَ فِي الْفِقْرَةِ الَّتِي بَعْدَهَا بِالنُّفُوسِ بَدَلَ الْقُلُوبِ دُونَ الْعُيُونِ وَاعْلَمْ أَنَّ النُّور مِنْ أَسْمَائِهِ تَعَالَى وَلَهُ سِرٌّ عَظِيمٌ مَنْ كَتَبَهُ هَكَذَا " ن ور " خَمْسَ مَرَّاتٍ وَعَلَّقَهُ عَلَى مَنْ شَكَا وَجَعَ مَعِدَتِهِ وَخَفَقَانَ قَلْبِهِ أَزَالَ اللَّهُ تَعَالَى مَا يَشْكُوهُ وَإِذَا وُضِعَ عَلَى مَوْضِعِ أَلَمٍ سَكَنَ.

(13) وَالْقُلُوبَ سُرُورًا: الْقُلُوبُ جَمْعُ قَلْبٍ وَهُوَ الْفُؤَادُ أَوْ أَخُصُّ مِنْهُ وَالْعَقْلُ كَذَا فِي الْقَامُوسِ وَقَالَ الْوَاحِدِيُّ الْقَلْبُ مُضْغَةٌ فِي الْفُؤَادِ مُعَلَّقَةٌ بِالنِّيَاطِ فَهُوَ أَخُصُّ مِنْ الْفُؤَادِ وَفِي الصِّحَاحِ أَنَّهُمَا مُتَرَادِفَانِ. قَالَ الْبَدْرُ الزَّرْكَشِيُّ وَالْأَحْسَنُ قَوْلُ غَيْرِهِ الْفُؤَادُ غِشَاءُ الْقَلْبِ وَالْقَلْبُ حَبَّةُ سُوَيْدَاهُ وَيُؤَيِّدُ الْفَرْقَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم (أَلْيَنَ قُلُوبًا وَأَرَقَّ أَفْئِدَةً) وَفِي شَرْحِ الشِّفَاءِ لِلسَّيِّدِ عِيسَى الصَّفَوِيِّ أَنَّ الْفُؤَادَ ثَابِتٌ فِي الْجَنْبِ الْأَيْسَرِ بِنَاءً عَلَى مَذْهَبِ الْمُتَكَلِّمِينَ مِنْ أَنَّهُ مَحِلُّ الْعِلْمِ، وَالْقُوَّةِ الْمُدْرِكَةِ قَائِمَةٌ بِهِ، لَا بِالدِّمَاغِ (انْتَهَى) . وَهُوَ مَنْبَعُ الْحَيَاةِ وَعُنْصُرٌ لِحَرَارَةِ الْجِسْمِ وَلِتَحْقِيقِ أَنَّهُ سِرٌّ لَطِيفٌ بِهِ يُدْرِكُ الْإِدْرَاكَ وَيُعَبِّرُ عَنْهُ بِهَذِهِ الْجَارِحَةِ تَقْرِيبًا لِلْأَذْهَانِ. قِيلَ وَيُسَمَّى الْقَلْبُ قَلْبًا لِتَقَلُّبِهِ وَعَلَيْهِ قَوْلُ بَعْضِ الْأُدَبَاءِ:
এবং হৃদয়সমূহকে আনন্দিত করার জন্য,

—

‌‌[গাময উইউনিল বাসাইর]

নক্ষত্র থেকে এর অবতরণ ও প্রতিফলন এবং প্রতিটি গতিশীল বস্তু হলো দেহ। এর গতিরোধের মাধ্যমে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এবং তাঁর কথা 'কেননা তা গতিশীল', অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'অবতরণকারী ও প্রতিফলিত', আমরা বলি: আমরা তা মেনে নেই না, বরং তা সরাসরি মোকাবিলাকারী বস্তুর বিপরীতে হঠাৎ সৃষ্টি হয়; কিন্তু যেহেতু এর উৎপত্তি উচ্চ কোনো স্থান থেকে মোকাবিলাকারী স্থানে হয়, তাই ভ্রান্ত ধারণা জন্মে যে এটি নিচে নামছে বা প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলি হলো গুণগত অবস্থা (কাইফিয়াত)। এগুলোর মধ্যে কিছু হলো 'প্রথম আলো', যা কোনো বস্তুর মধ্যে সেই বস্তুর সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার কারণে অর্জিত হয় যা স্বয়ং আলোকিত, যেমন সূর্যোদয়ের পর জমিনের উপরিভাগের আলো; একে 'দিয়া' (জ্যোতি) বলা হয় যদি তা প্রবল হয় এবং 'শু'আ' (রশ্মি) বলা হয় যদি তা দুর্বল হয়। আর কিছু হলো 'দ্বিতীয় আলো', যা কোনো বস্তুর মধ্যে সেই বস্তুর মুখোমুখি হওয়ার কারণে অর্জিত হয় যা অন্যের মাধ্যমে আলোকিত, যেমন ভোরের সময় বা সূর্যাস্তের ঠিক পরে জমিনের উপরিভাগে অর্জিত আলো; কারণ তা বাতাসের মাধ্যমে আলোকিত হয় যা আবার সূর্যের মাধ্যমে আলোকিত হয়েছিল। একইভাবে ভোরের সময় চাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কারণে জমিনের উপরিভাগে অর্জিত আলো; এই প্রকারকে 'নূর' (আলো) বলা হয়। এই আলোচনাটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে একটি কাল্পনিক পদ্ধতিতে তুলনা করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ বিদআত এবং সকল প্রকার অজ্ঞতা যেহেতু তার অধিকারীকে এমন ব্যক্তির মতো করে দেয় যে অন্ধকারে পথ চলে, ফলে সে সঠিক পথ পায় না এবং কোনো অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না, তাই বিদআতকে অন্ধকারের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ফলে শরীয়তের জ্ঞান এবং যা কিছু জ্ঞান ও হিদায়াত, তাকে নূরের সাথে তুলনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এটি এতটাই প্রচলিত হয়েছে যে, একে শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতা সম্পন্ন কিছু হিসেবে কল্পনা করা হয়; যেমনটি 'তাকরীর' গ্রন্থে রয়েছে। আমি বলি, এই ভিত্তিতে প্রকাশ্য দাবি ছিল 'চোখ' (উইউন)-এর পরিবর্তে 'হৃদয়' (কুলুব) শব্দ ব্যবহার করা, কারণ জ্ঞানের অর্থে নূরের জন্য এটিই উপযুক্ত। এবং পরবর্তী বাক্যে চোখের পরিবর্তে নফসের (সত্তা) মাধ্যমে প্রকাশ করা। জেনে রাখুন যে, 'নূর' মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি। এর মধ্যে একটি মহান রহস্য রয়েছে: যে ব্যক্তি এটি এভাবে পাঁচবার লিখবে "ন উ র" এবং তা এমন ব্যক্তির শরীরে ঝুলিয়ে দেবে যে পাকস্থলীর ব্যথা বা হৃদকম্পনের অভিযোগ করছে, তবে আল্লাহ তাআলা তার অভিযোগ দূর করে দেবেন। আর যদি ব্যথার স্থানে রাখা হয় তবে তা প্রশমিত হবে।

(১৩) এবং হৃদয়সমূহকে আনন্দিত করার জন্য: 'আল-কুলুব' হলো 'কালব'-এর বহুবচন, আর তা হলো ফুয়াদ বা তার চেয়েও বিশেষ কিছু এবং আকল (বুদ্ধি); 'কামুস' গ্রন্থে এমনটিই বলা হয়েছে। ওয়াহিদী বলেন: কালব হলো ফুয়াদের মধ্যে অবস্থিত একটি গোশতের টুকরো যা ধমনীর সাথে ঝুলন্ত, তাই এটি ফুয়াদের তুলনায় অধিক বিশেষ। 'সিহাহ' গ্রন্থে আছে যে এ দুটি সমার্থক। বদর আজ-জারকাশি বলেন: অন্যের বক্তব্যটিই উত্তম যে, ফুয়াদ হলো হৃদয়ের আবরণ এবং কালব হলো এর অভ্যন্তরের মূল কৃষ্ণবিন্দু। এই পার্থক্যকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী সমর্থন করে: "(তাদের) হৃদয়সমূহ অধিক কোমল এবং অন্তঃকরণসমূহ অধিক সূক্ষ্ম।" সাইয়্যেদ ঈসা আস-সাফাওয়ীর 'শরহুশ শিফা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ফুয়াদ বাম পার্শ্বে অবস্থিত, মুতাকাল্লিমদের মাযহাব অনুযায়ী এটিই জ্ঞানের আধার এবং উপলব্ধি করার ক্ষমতা এর সাথেই সম্পৃক্ত, মগজের সাথে নয় (সমাপ্ত)। এটিই জীবনের উৎস এবং দেহের উষ্ণতার উপাদান। সত্য এই যে, এটি একটি সূক্ষ্ম রহস্য যার মাধ্যমে উপলব্ধি অর্জিত হয়, আর বোঝার সুবিধার্থে একে এই শারীরিক অঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, কালবকে 'কালব' নামকরণ করা হয়েছে এর সর্বদা পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণে, আর এ বিষয়েই জনৈক সাহিত্যিকের উক্তি রয়েছে:
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২১)
وَالصُّدُورَ انْشِرَاحًا 15 - وَيُفِيدُ الْأُمُورَ اتِّسَاعًا وَانْفِتَاحًا، 16 - هَذَا لِأَنَّ مَا بِالْخَاصِّ وَالْعَامِّ مِنْ الِاسْتِقْرَارِ عَلَى سُنَنِ النِّظَامِ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

لِلصَّبِّ بَعْدَك حَالَةٌ لَا تُعْجِبُ … وَتَتِيهُ مِنْ صَلَفٍ عَلَيْهِ وَتَعْجَبُ

وَأَقُولُ لِلْقَلْبِ الَّذِي لَا يَنْتَهِي … عَنْ حُبِّهِ أَبَدًا وَلَا يَتَجَنَّبُ

قَدْ كَادَ أَنَّك لَا يُسَمِّيك الْوَرَى … قَلْبًا لِأَنَّك عَنْهُ لَا تَتَقَلَّبُ

وَالسُّرُورُ الْفَرَحُ.

(14) وَالصُّدُورَ انْشِرَاحًا: الصُّدُورُ جَمْعُ صَدْرٍ أَعْلَى مُقَدِّمِ كُلِّ شَيْءٍ وَالصَّدْرُ مُذَكَّرٌ وَأُنِّثَ فِي قَوْلِ الْأَعْشَى:

وَتَشْرَقُ بِالْقَوْلِ الَّذِي قَدْ أَذَعْته … كَمَا شَرِقَتْ صَدْرُ الْقَنَاةِ مِنْ الدَّمِ

لِاكْتِسَابِهِ التَّأْنِيثَ مِنْ الْمُضَافِ إلَيْهِ وَقَدْ تَقَصَّيْت عَمَّا يَكْتَسِبُهُ الْمُضَافُ مِنْ الْمُضَافِ إلَيْهِ فَأَوْصَلْت ذَلِكَ إلَى ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَيْئًا وَلَمْ يَسْبِقنِي أَحَدٌ إلَى ذَلِكَ إذْ غَايَةُ مَا أَوْصَلَهَا الْجَمَالُ بْنُ هِشَامٍ فِي الْمُغْنِي إلَى عَشْرَةٍ وَالْجَلَالُ السُّيُوطِيّ فِي الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ النَّحْوِيَّةِ إلَى ثَلَاثَةَ عَشَرَ وَقَدْ نَظَمْتهَا فِي أَبْيَاتٍ وَهِيَ:

ثَمَانٌ وَعَشْرٌ يَكْتَسِبُهَا الْمُضَافُ مِنْ … مُضَافٍ إلَيْهِ فَأُسْمِعْتهَا مُفَصِّلًا

فَتَعْرِيفٌ تَخْصِيصٌ وَتَخْفِيفٌ بَعْدَهُ … بِنَاءٌ وَإِعْرَابٌ وَتَصْغِيرٌ قَدْ تَلَا

وَتَذْكِيرٌ تَأْنِيثٌ وَتَصْدِيرٌ بَعْدَهُ … إزَالَةُ قُبْحٍ وَالتَّجَوُّزُ يَا فَلَا

وَظَرْفِيَّةٌ جِنْسِيَّةٌ مَصْدَرِيَّةٌ … وَشَرْطٌ وَتَنْكِيرٌ فَلَا تَكُ مُهْمِلَا

وَتَثْنِيَةٌ جَمْعٌ وَقَدْ تَمَّ جَمْعُنَا … صَحِيحًا مِنْ الْأَدْوَا عَلَى رَغْمِ مَنْ قَلَا

وَالِانْشِرَاحُ مُطَاوِعٌ شَرَحْته فَانْشَرَحَ أَيْ وَسَّعْته فَاتَّسَعَ لَكِنَّ بَابَ الْمُطَاوَعَةِ تَخُصُّ بِكُلِّ فِعْلٍ عِلَاجِيٍّ وَشَرْحُ الصَّدْرِ أَمْرٌ مَعْنَوِيٌّ لَا مُعَالَجَةَ فِيهِ فَتَأَمَّلْ.

(15) وَيُفِيدُ الْأُمُورَ اتِّسَاعًا وَانْفِتَاحًا: الْإِفَادَةُ بَذْلُ الْفَائِدَةِ وَتَقَدَّمَ مَعْنَاهَا وَالْأُمُورُ جَمْعُ أَمْرٍ بِمَعْنَى الْحَادِثَةِ قَالَ الرَّضِيُّ فِي شَرْحِ الشَّافِيَةِ يُطْلَقُ الْأَمْرُ عَلَى الشَّيْءِ فَيَشْتَمِلُ الْأَعْيَانَ وَالْمَعَانِيَ.

وَالِاتِّسَاعُ مُطَاوِعٌ وَسَّعَهُ فَاتَّسَعَ مِنْ وَسَّعَهُ تَوْسِيعًا ضِدُّ ضَيَّقَهُ وَالِانْفِتَاحُ مُطَاوِعُ فَتَحَهُ فَانْفَتَحَ ضِدُّ غَلَقَ.

(16) هَذَا لِأَنَّ مَا بِالْخَاصِّ وَالْعَامِّ مِنْ الِاسْتِقْرَارِ عَلَى سُنَنِ النِّظَامِ وَالِاسْتِمْرَارِ عَلَى
এবং বক্ষসমূহকে উন্মুক্ত করা ১৫ - এবং এটি বিষয়সমূহকে প্রশস্ততা ও উন্মোচন প্রদান করে, ১৬ - এটি এজন্য যে, খাস (বিশেষ) ও আম (সাধারণ) উভয়ের ক্ষেত্রে যে স্থিতি সুশৃঙ্খল রীতির ওপর বিদ্যমান

—

‌‌[গামজু উইউনিল বাসায়ির]

তোমার বিরহে প্রেমিকের এমন দশা যা মনোরম নয় … আর তুমি তার প্রতি অহংকারবশত উদাসীন থাকো এবং বিস্ময় প্রকাশ করো।

আর আমি সেই অন্তরকে বলি যা কখনও শেষ হয় না … তার ভালোবাসা থেকে এবং তা থেকে কখনও বিমুখ হয় না।

প্রায় এমন অবস্থা যে সৃষ্টিজগত তোমাকে আর হৃদয় বলে ডাকবে না … কারণ তুমি তার থেকে কখনও বিচ্যুত বা পরিবর্তিত হও না।

আর 'সুরূর' অর্থ হলো আনন্দ।

(১৪) এবং বক্ষসমূহকে উন্মুক্ত করা: 'সুদূর' হলো 'সদর'-এর বহুবচন, যার অর্থ কোনো বস্তুর উপরিভাগের অগ্রভাগ। 'সদর' শব্দটি মূলত পুংলিঙ্গ, তবে আল-আ'শার এই উক্তিতে একে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে:

আর তুমি সেই কথার দ্বারা কণ্ঠরুদ্ধ হও যা তুমি প্রচার করেছ … যেমন বর্শার অগ্রভাগ রক্তে রঞ্জিত ও রুদ্ধ হয়।

মুদাফ ইলাইহি থেকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করার কারণে এটি হয়েছে। মুদাফ তার মুদাফ ইলাইহি থেকে যা কিছু অর্জন করে, সে বিষয়ে আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছি এবং বিষয়টিকে আঠারোটি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আমার পূর্বে কেউ এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেননি; কেননা আল-জামাল ইবনে হিশাম 'আল-মুগনি' গ্রন্থে একে দশটি পর্যন্ত এবং জালাল আল-সুয়ূতী 'আল-আশবাহ ওয়া আন-নাজায়ির আন-নাহবিয়্যাহ' গ্রন্থে তেরোটি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আমি সেগুলো কয়েকটি চরণে কাব্যিক রূপ দিয়েছি, যা হলো:

আঠারোটি বিষয় যা মুদাফ অর্জন করে … মুদাফ ইলাইহি থেকে, আমি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি।

পরিচয় প্রদান, নির্দিষ্টকরণ এবং এরপর লাঘব করা … গঠন, রূপান্তর এবং ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ এর অনুগামী হয়েছে।

পুংলিঙ্গ হওয়া, স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া এবং এরপর শুরুতে আসা … কদর্যতা দূর করা এবং রূপক ব্যবহার করা, হে বন্ধু!

আধেরবাচকতা, জাতিবাচকতা, মূলক্রিয়াবাচকতা … শর্ত এবং অনির্দিষ্টকরণ, সুতরাং তুমি উদাসীন হয়ো না।

দ্বিবচন ও বহুবচন হওয়া; আমাদের এই সংকলন পূর্ণ হয়েছে … দোষমুক্ত ও শুদ্ধভাবে, বিদ্বেষ পোষণকারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও।

আর 'ইনশিরাহ' হলো 'শারাহতুহু' (আমি তা উন্মুক্ত করেছি) এর পরিণতিবাচক শব্দ, অর্থাৎ আমি একে প্রশস্ত করেছি ফলে তা প্রশস্ত হয়েছে। তবে পরিণতিবাচকতার এই পরিচ্ছেদটি প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাজের সাথে নির্দিষ্ট, আর বক্ষ উন্মোচন (শারহুস সাদর) একটি আধ্যাত্মিক বিষয় যাতে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কসরত নেই, সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করো।

(১৫) এবং এটি বিষয়সমূহকে প্রশস্ততা ও উন্মোচন প্রদান করে: 'ইফাদাহ' মানে উপকার প্রদান করা এবং এর অর্থ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। 'উমুর' হলো 'আমর' এর বহুবচন যার অর্থ ঘটনা। আর-রাযী 'শারহুশ শাফিয়া' গ্রন্থে বলেছেন যে, 'আমর' শব্দটি কোনো বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা সত্তা এবং অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আর 'ইত্তিসা' হলো 'ওয়াসসাআহু' (সে তাকে প্রশস্ত করেছে) এর পরিণতিবাচক রূপ, যা 'তাওসি' এর বিপরীত ' সংকীর্ণ করা'। আর 'ইনফিতাহ' হলো 'ফাতাহাহু' (সে তা খুলেছে) এর পরিণতিবাচক রূপ, যা 'বন্ধ করা' এর বিপরীত।

(১৬) এটি এজন্য যে, খাস (বিশেষ) ও আম (সাধারণ) উভয়ের ক্ষেত্রে যে স্থিতি সুশৃঙ্খল রীতির ওপর বিদ্যমান এবং যার ধারাবাহিকতা...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২২)
وَالِاسْتِمْرَارِ عَلَى وَتِيرَةِ الِاجْتِمَاعِ وَالِالْتِئَامِ،

17 - إنَّمَا هُوَ بِمَعْرِفَةِ الْحَلَالِ مِنْ الْحَرَامِ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَتِيرَةِ الِاجْتِمَاعِ وَالِالْتِئَامِ: كَلِمَةُ هَذَا مُسْتَعْمَلَةٌ هُنَا لِلرَّبْطِ أَيْ لِرَبْطِ مَا بَعْدَهَا بِمَا قَبْلَهَا عَلَى حَدِّ قَوْله تَعَالَى {هَذَا وَإِنَّ لِلطَّاغِينَ لَشَرَّ مَآبٍ} [ص: 55] وَالْإِشَارَةُ تَعُودُ إلَى اتِّصَافِ الْفِقْهِ بِمَا ذُكِرَ وَالْمَقْصُودُ هُنَا رَبْطُ الْمَعْلُولِ بَعْلَتِهِ وَالْعَامُّ التَّامُّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَاسْمُ جَمْعٍ لِلْعَامَّةِ ضِدُّ الْخَاصَّةِ وَهُوَ الْمُرَادُ هُنَا.

وَالْخَاصُّ وَالْخَاصَّةُ ضِدُّ الْعَامِّ وَالْعَامَّةُ وَالْخُوَيْصَةُ تَصْغِيرُ الْخَاصَّةِ يَاؤُهَا سَاكِنَةٌ لِأَنَّ يَاءَ التَّصْغِيرِ لَا يَتَحَرَّكُ وَقَوْلُهُ مِنْ الِاسْتِقْرَارِ بَيَانٌ لِمَا فِي مَحِلِّ النَّصْبِ عَلَى الْحَالِ مِنْ أَقَرَّهُ فِي مَكَانِهِ فَاسْتَقَرَّ أَيْ ثَبَتَ.

وَقَوْلُهُ عَلَى سُنَنِ انْتِظَامِ ظَرْفٍ لَغْوٌ مُتَعَلِّقٌ بِالِاسْتِقْرَارِ.

وَالسُّنَنُ مُثَلَّثَةً وَبِضَمَّتَيْنِ الطَّرِيقُ الْوَاضِحَةُ وَالنِّظَامُ بِالْكَسْرِ كُلُّ خَيْطٍ يُنْظَمُ بِهِ لُؤْلُؤٌ وَنَحْوُهُ وَمَصْدَرٌ لَنَظَمْت الشَّيْءَ فَانْتَظَمَ أَيْ أَقَمْته فَاسْتَقَامَ وَهُوَ عَلَى نِظَامٍ وَاحِدٍ أَيْ نَهْجٍ غَيْرِ مُخْتَلِفٍ.

وَالِاسْتِمْرَارُ هُوَ الْمُضِيُّ عَلَى طَرِيقَةٍ وَاحِدَةٍ.

الْوَتِيرَةُ الطَّرِيقَةُ أَوْ طَرِيقٌ تَلَازَقَ الْجَبَلَ وَالِالْتِئَامُ الْمُوَافَقَةُ مِنْ لَائَمَهُ مُلَاءَمَةً أَيْ وَافَقَهُ

 

(17) إنَّمَا هُوَ بِمَعْرِفَةِ الْحَلَالِ مِنْ الْحَرَامِ: أَيْ بِتَمْيِيزِ الْحَلَالِ مِنْ الْحَرَامِ وَالْمَعْرِفَةُ الْعِلْمُ لَكِنَّهَا هُنَا مُتَضَمَّنَةٌ لِمَعْنَى التَّمْيِيزِ لَتَعَدِّيهَا بِمِنْ.

وَالْحَلَالُ يُفْتَحُ وَيُكْسَرُ، ضِدُّ الْحَرَام كَالْحِلِّ بِالْكَسْرِ وَالْحَرَامُ كَسَحَابٍ ضِدُّ الْحَلَالِ وَهُوَ فِي الشَّرِيعَةِ مَا ثَبَتَ الْمَنْعُ عَنْهُ بِدَلِيلٍ قَطْعِيٍّ وَأَمَّا الْمَكْرُوهُ تَحْرِيمًا مَا ثَبَتَ الْمَنْعُ عَنْهُ بِظَنِّيٍّ وَهُوَ إلَى الْحَرَامِ أَقْرَبُ بِمَعْنَى أَنَّ فَاعِلَهُ يَسْتَحِقُّ مَحْذُورًا دُونَ الْعُقُوبَةِ بِالنَّارِ كَحِرْمَانِ الشَّفَاعَةِ.

كَذَا فِي التَّلْوِيحِ وَأَوْرَدَ عَلَيْهِ أَنَّ الْمَكْرُوهَ تَحْرِيمًا لَيْسَ فَوْقَ الْكَبِيرَةِ وَمُرْتَكِبَهَا لَيْسَ مَحْرُومًا مِنْ الشَّفَاعَةِ وَإِنْ مَاتَ قَبْلَ التَّوْبَةِ عِنْدَ أَهْلِ السُّنَّةِ.

وَقَدْ قَالَ صلى الله عليه وسلم «شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي» فَكَيْفَ يَصِحُّ تَرَتُّبُ اسْتِحْقَاقِ حِرْمَانِ الشَّفَاعَةِ عَلَى فِعْلِهِ وَأُجِيبُ بِأَنَّ الشَّفَاعَةَ لَا يَلْزَمُ أَنْ تَكُونَ لِلتَّخَلُّصِ عَنْ النَّارِ بَلْ قَدْ تَكُونُ لِرَفْعِ الدَّرَجَاتِ وَلَوْ سُلِّمَ فَالْمُرَادُ بِالْحِرْمَانِ حِرْمَانٌ مُؤَقَّتٌ لَا مُؤَبَّدٌ بِأَنْ تَتَأَخَّرَ الشَّفَاعَةُ لِمُرْتَكِبِهِ عَنْ الشَّفَاعَةِ لِمَنْ لَمْ يَرْتَكِبْهُ وَلَوْ سُلِّمَ فَاسْتِحْقَاقُ حِرْمَانِ الشَّفَاعَةِ لَا يُنَافِي وُقُوعَهَا كَمَا لَا يُنَافِي اسْتِحْقَاقُ الْعِقَابِ عَفْوَهُ
এবং একত্রীকরণ ও সংহতির ধারার উপর অবিচল থাকা,

১৭ - তা মূলত হারাম থেকে হালালকে চেনার মাধ্যমেই সম্ভব,

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসার]

একত্রীকরণ ও সংহতির ধারা: এখানে ‘এই’ শব্দটি সম্পর্কের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ পরবর্তী অংশকে পূর্ববর্তী অংশের সাথে সংযুক্ত করার জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "এটি (হবে), আর নিশ্চয়ই অবাধ্যদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তন" [সূরা সোয়াদ: ৫৫]। এখানে ইঙ্গিতটি ফিকহ শাস্ত্রের বর্ণিত গুণাবলীতে বিভূষিত হওয়ার দিকে ফিরছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো ফলাফলকে তার কারণের সাথে সংযুক্ত করা। আর 'আম' (সাধারণ) হলো সবকিছুর পূর্ণ ব্যাপকতা, এটি 'খাস' (বিশেষ)-এর বিপরীত সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য; আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য।

আর 'খাস' এবং 'খাসসাহ' হলো 'আম' এবং 'আম্মাহ'-এর বিপরীত। 'খুয়াইসাহ' শব্দটি 'খাসসাহ'-এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ, এর ‘ইয়া’ অক্ষরটি সাকিন হবে, কারণ ক্ষুদ্রতাবাচক ‘ইয়া’ কখনো হরকতযুক্ত হয় না। আর তাঁর উক্তি ‘স্থায়িত্ব থেকে’ (মিনাল ইস্তিকরার) হলো সেই বিষয়ের বর্ণনা যা ‘হাল’ বা অবস্থা হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে; যা ‘সেটিকে তার জায়গায় স্থির করেছে’ থেকে উদ্ভূত, ফলে তা স্থির হয়েছে অর্থাৎ সুদৃঢ় হয়েছে।

এবং তাঁর উক্তি ‘শৃঙ্খলার পদ্ধতির উপর’ একটি অপ্রধান ক্রিয়া-বিশেষণ (জরফে লাগব), যা ‘ইস্তিকরার’ বা স্থায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট।

‘সুনান’ শব্দটি সীন বর্ণে তিন প্রকার হরকত দিয়ে এবং সীন ও নূন উভয় বর্ণে পেশ যোগেও পড়া যায়, যার অর্থ স্পষ্ট পথ। আর ‘নিযাম’ (যের যোগে) হলো সেই সুতা যা দিয়ে মুক্তা ও অনুরুপ বস্তু গেঁথে রাখা হয়; এটি ‘আমি বস্তুটি গেঁথেছি ফলে তা সুশৃঙ্খল হয়েছে’ অর্থাৎ ‘আমি তা প্রতিষ্ঠিত করেছি ফলে তা সঠিক হয়েছে’ এর ক্রিয়ামূল। আর এটি একটি পদ্ধতির ওপর হওয়া অর্থাৎ কোনো ভিন্নতা ছাড়াই একই নীতিতে চলা।

আর ‘ইস্তিমরার’ (অবিচলতা) হলো একই পথে চলতে থাকা।

‘ওয়াতীরাহ’ অর্থ পদ্ধতি অথবা পাহাড়ের সাথে লেগে থাকা পথ। আর ‘ইলতিয়াম’ (সংহতি) অর্থ মিল বা সামঞ্জস্য, যা ‘তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে’ থেকে আগত।

(১৭) তা মূলত হারাম থেকে হালালকে চেনার মাধ্যমেই সম্ভব: অর্থাৎ হারাম থেকে হালালকে পৃথক করার মাধ্যমে। এখানে ‘মারেফাত’ বা চেনা বলতে জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে, তবে ‘থেকে’ (মিন) অব্যয়টি ব্যবহারের কারণে এখানে এটি পৃথক করার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করছে।

‘হালাল’ শব্দটি হা বর্ণে যবর এবং যের উভয়ভাবে পড়া যায়, যা হারামের বিপরীত, যেমন ‘হিল্ল’ (যের যোগে)। আর ‘হারাম’ শব্দটি হালালের বিপরীত। শরিয়তের পরিভাষায় হারাম হলো তা, যার নিষিদ্ধতা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর যা সংশয়পূর্ণ দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তা হলো ‘মাকরুহে তাহরীমি’। এটি হারামের অধিক নিকটবর্তী, এই অর্থে যে এর লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তির উপযোগী হবে, তবে তা জাহান্নামের আগুনের শাস্তি নয়, বরং সুপারিশ (শাফায়াত) থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো শাস্তি।

‘তালবীহ’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, মাকরুহে তাহরীমি কবিরা গুনাহর চেয়ে বড় নয়, আর কবিরা গুনাহকারী যদি তওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করে, তবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে সে শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হবে না।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আমার উম্মতের কবিরা গুনাহকারীদের জন্যই আমার সুপারিশ।" এমতাবস্থায় এই কাজ করার কারণে শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া সাব্যস্ত হওয়া কীভাবে সঠিক হতে পারে? এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সুপারিশ কেবল জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য হওয়া আবশ্যক নয়, বরং তা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও হতে পারে। আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য, তবে বঞ্চিত হওয়া বলতে সাময়িক বঞ্চিত হওয়া বোঝানো হয়েছে, চিরস্থায়ী নয়; অর্থাৎ লিপ্ত ব্যক্তির জন্য সুপারিশ সেই ব্যক্তির সুপারিশের চেয়ে বিলম্বে হবে যে এতে লিপ্ত হয়নি। আর যদি এটিও মেনে নেওয়া হয়, তবে সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হওয়ার যোগ্য হওয়া সুপারিশ সংঘটিত হওয়ার পরিপন্থী নয়, যেমন শাস্তির যোগ্য হওয়া আল্লাহর ক্ষমার পরিপন্থী নয়।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَالتَّمْيِيزُ بَيْنَ الْجَائِزِ وَالْفَاسِدِ فِي وُجُوهِ الْأَحْكَامِ، 19 - بُحُورُهُ زَاخِرَةٌ، 20 - وَرِيَاضُهُ نَاضِرَةٌ، 21 - وَنُجُومُهُ زَاهِرَةٌ 22 - وَأُصُولُهُ ثَابِتَةٌ وَفُرُوعُهُ نَابِتَةٌ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَالتَّمْيِيزُ بَيْنَ الْجَائِزِ وَالْفَاسِدِ فِي وُجُوهِ الْأَحْكَامِ: التَّمْيِيزُ عَزْلُ الشَّيْءِ مِنْ الشَّيْءِ وَإِفْرَازُهُ كَمَا فِي الْقَامُوسِ وَفِي الْمِصْبَاحِ مَيَّزْت الشَّيْءَ أَيْ عَزَلْته وَفَصَلْته مِنْ غَيْرِهِ وَالتَّفْعِيلُ مُبَالَغَةٌ وَذَلِكَ يَكُونُ فِي الْمَنْهِيَّاتِ نَحْوَ {لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ} [الأنفال: 37] وَالْجَائِزُ الْمَاضِي وَالنَّافِذُ وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا الْمُبَاحُ وَقَدْ فَرَّقُوا بَيْنَ الْمُبَاحِ وَالْجَائِزِ بِأَنَّ كُلَّ مُبَاحٍ جَائِزٌ دُونَ الْعَكْسِ لِأَنَّ الْجَوَازَ ضِدُّ الْحُرْمَةِ، وَالْإِبَاحَةَ ضِدُّ الْكَرَاهَةِ فَإِذَا انْتَفَى الْجَوَازُ ثَبَتَ ضِدُّهُ وَهُوَ الْحُرْمَةُ فَتَنْتَفِي الْإِبَاحَةُ أَيْضًا وَإِذَا انْتَفَتْ الْإِبَاحَةُ ثَبَتَ ضِدُّهَا وَهُوَ الْكَرَاهَةُ وَلَا يَنْتَفِي بِهِ الْجَوَازُ لِجَوَازِ اجْتِمَاعِ الْجَوَازِ مَعَ الْكَرَاهَةِ كَذَا فِي الْعِنَايَةِ.

وَالْفَاسِدُ مِنْ الْفَسَادِ ضِدُّ الصَّلَاحِ وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا كُلُّ مَا مُنِعَ عَنْهُ شَرْعًا.

وَوُجُوهُ الْأَحْكَامِ طُرُقُهَا وَالْأَحْكَامُ جَمْعُ حُكْمٍ وَهُوَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ.

(19) بُحُورُهُ زَاخِرَةٌ: الْبَحْرُ الْمَاءُ الْكَثِيرُ أَوْ الْمِلْحُ فَقَطْ كَمَا فِي الْقَامُوسِ وَزَاخِرَةٌ مِنْ زَخَرَ الْبَحْرُ ظَمَأَ وَتَمَلَّأَ وَفِي الْكَلَامِ اسْتِعَارَةٌ مَكِنِيَّةٌ وَتَخْيِيلِيَّةٌ وَمُرَشَّحَةٌ.

(20) وَرِيَاضُهُ نَاضِرَةٌ: الرِّيَاضُ جَمْعُ رَوْضَةٍ وَيُجْمَعُ عَلَى رَوْضٍ وَالرِّيضَةُ بِالْكَسْرِ مِنْ الرَّمْلِ وَالْعُشْبِ مُسْتَنْقَعُ الْمَاءِ لِاسْتِرَاضَةِ الْمَاءَ فِيهَا أَيْ لِاسْتِنْقَاعِهِ وَالنَّاضِرُ الشَّدِيدُ الْخُضْرَةِ وَيُبَالَغُ بِهِ فِي كُلِّ لَوْنٍ فَيُقَالُ أَخْضَرُ نَاضِرٌ أَوْ أَصْفَرُ أَوْ أَحْمَرُ نَاضِرٌ أَوْ فِي الْكَلَامِ اسْتِعَارَةٌ مَكْنِيَّةٌ وَتَخْيِيلِيَّةٌ وَتَرْشِيحِيَّةٌ.

(21) وَنُجُومُهُ زَاهِرَةٌ: النُّجُومُ جَمْعُ نَجْمٍ وَهُوَ الْكَوْكَبُ وَزَاهِرَةٌ مُنِيرَةٌ مُشْرِقَةٌ مِنْ زَهِرَ زُهُورًا تَلَأْلَأَ.

(22) وَأُصُولُهُ ثَابِتَةٌ وَفُرُوعُهُ نَابِتَةٌ: الْأُصُولُ جَمْعُ أَصْلٍ وَهُوَ لُغَةً أَسْفَلُ الشَّيْءِ وَفِي الْعُرْفِ مَا يُبْتَنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ وَالْمُرَادُ بِهَا الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ وَالْقِيَاسُ.

وَالْفُرُوعُ جَمْعُ
বিধিবিধানের দিকসমূহের মাঝে বৈধ ও ত্রুটিযুক্তের মধ্যে পার্থক্যকরণ; ১৯- এর সমুদ্রসমূহ উত্তাল; ২০- এর বাগানসমূহ সবুজ-শ্যামল; ২১- এর নক্ষত্রসমূহ উজ্জ্বল; ২২- এর মূলসমূহ সুদৃঢ় এবং শাখাসমূহ বর্ধনশীল।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

বিধিবিধানের দিকসমূহের মাঝে বৈধ ও ত্রুটিযুক্তের মধ্যে পার্থক্যকরণ: 'তাময়িজ' (পার্থক্যকরণ) হলো কোনো বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করা ও আলাদা করা, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে এসেছে। আর 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে আছে: আমি বস্তুটিকে 'তাময়িজ' করেছি অর্থাৎ আমি একে অন্যটি থেকে আলাদা ও পৃথক করেছি। আর (তাময়িজ শব্দটিতে) 'তাফয়িল' বাবটি আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। আর এটি নিষিদ্ধ বিষয়াবলির ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে, যেমন: {যাতে আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন} [আল-আনফাল: ৩৭]। আর 'জায়েয' (বৈধ) অর্থ যা অতিক্রান্ত ও কার্যকর। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'মুবাহ' (অনুমোদিত)। আলেমগণ মুবাহ এবং জায়েযের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই মর্মে যে, প্রত্যেক মুবাহ-ই জায়েয, কিন্তু প্রত্যেক জায়েয মুবাহ নয়। কারণ 'জাওয়াজ' (বৈধতা) হলো 'হুরমাত' (নিষিদ্ধতা) এর বিপরীত, আর 'ইবাহাত' (অনুমোদন) হলো 'কারাহাত' (অপছন্দনীয়তা) এর বিপরীত। সুতরাং যখন বৈধতা বিলুপ্ত হয় তখন তার বিপরীত অর্থাৎ নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হয়, ফলে অনুমোদনও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর যখন অনুমোদন বিলুপ্ত হয় তখন তার বিপরীত অর্থাৎ অপছন্দনীয়তা সাব্যস্ত হয়, কিন্তু এর দ্বারা বৈধতা বিলুপ্ত হয় না। কারণ অপছন্দনীয়তার সাথে বৈধতা একত্রিত হওয়া সম্ভব। 'আল-ইনায়াহ' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আর 'ফাসিদ' (ত্রুটিযুক্ত) শব্দটি 'ফাসাদ' থেকে আগত যা 'সালাহ' (সঠিক হওয়া)-এর বিপরীত। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীয়ত যা থেকে নিষেধ করেছে।

আর বিধিবিধানের দিকসমূহ হলো তার পদ্ধতিসমূহ। আর 'আহকাম' হলো 'হুকুম' শব্দের বহুবচন। আর হুকুম হলো মুকাল্লাফ (যাদের ওপর শরীয়ত অর্পিত হয়েছে) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহ তাআলার সম্বোধন।

(১৯) এর সমুদ্রসমূহ উত্তাল: 'বাহর' (সমুদ্র) হলো প্রচুর পানি অথবা শুধু লোনা পানি, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে। আর 'যাখিরাহ' শব্দটি 'যাখারা আল-বাহর' থেকে আগত, যার অর্থ সমুদ্র পূর্ণ হওয়া ও উথলে ওঠা। এই বাক্যে 'ইস্তিয়ারা মাকানিয়াহ', 'তাখয়িলিয়াহ' এবং 'মুরাশ্শাহাহ' (রূপক অলঙ্কার) রয়েছে।

(২০) এর বাগানসমূহ সবুজ-শ্যামল: 'রিয়াদ' হলো 'রাওদাহ' এর বহুবচন। এর বহুবচন 'রাওদ'ও হয়। আর 'রিদাহ' (জের সহকারে) হলো বালু ও ঘাসযুক্ত স্থানের পানির আধার, যেখানে পানি স্থির হয়ে থাকে। 'নাদির' অর্থ গাঢ় সবুজ। এই শব্দটি প্রতিটি রঙের প্রগাঢ়তা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাই বলা হয় গাঢ় সবুজ অথবা গাঢ় হলুদ অথবা গাঢ় লাল। এই বাক্যে 'ইস্তিয়ারা মাকানিয়াহ', 'তাখয়িলিয়াহ' এবং 'তারশিহিয়াহ' (রূপক অলঙ্কার) রয়েছে।

(২১) এর নক্ষত্রসমূহ উজ্জ্বল: 'নুজুম' হলো 'নাজম' এর বহুবচন, আর তা হলো তারকা। 'যাহিরাহ' অর্থ আলোকিত ও উজ্জ্বল, যা 'যাহারা-যুহুরান' থেকে আগত যার অর্থ চমকানো।

(২২) এর মূলসমূহ সুদৃঢ় এবং শাখাসমূহ বর্ধনশীল: 'উসুল' হলো 'আসল' এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এর অর্থ কোনো জিনিসের নিচের অংশ। আর পরিভাষায় তা হলো এমন ভিত্তি যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।

আর 'ফুরু' হলো বহুবচন...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
لَا يَفْنَى بِكَثْرَةِ الْإِنْفَاقِ كَنْزُهُ، 24 - وَلَا يَبْلَى عَلَى طُولِ الزَّمَانِ عِزُّهُ، 25 -

وَإِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ كُنْهَ صِفَاتِهِ … وَلَوْ أَنَّ أَعْضَائِي جَمِيعًا تَكَلَّمُ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

فَرْعٍ ضِدُّ الْأَصْلِ وَفِي الْعُرْفِ مَا يُبْتَنَى عَلَى غَيْرِهِ وَالْمُرَادُ بِهَا الْأَشْيَاءُ الثَّابِتَةُ أَحْكَامُهَا بِالْأُصُولِ الْمُتَقَدِّمَةِ مِنْ الْفَرْضِ وَالْوَاجِبِ وَالْمَسْنُونِ وَالْمَنْدُوبِ وَالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ كَرَاهَةً تَحْرِيمِيَّةً وَتَنْزِيهِيَّةً.

وَالنَّابِتُ اسْمُ فَاعِلٍ مِنْ نَبَتَ الزَّرْعُ إذَا ظَهَرَ مِنْ الْأَرْضِ وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا ظُهُورُ أَحْكَامِ تِلْكَ الْفُرُوعِ.

(23) لَا يَفْنَى بِكَثْرَةِ الْإِنْفَاقِ كَنْزُهُ: شَبَّهَ مَسَائِلَ الْفِقْهِ بِالشَّيْءِ النَّفِيسِ الْمُكْنَزِ تَحْتَ الْأَرْضِ تَشْبِيهًا مُضْمَرًا فِي النَّفْسِ وَأَثْبَتَ لَهُ شَيْئًا مِنْ رَوَادِفِ الْمُشَبَّهِ بِهِ تَخْيِيلًا وَهُوَ الْكَنْزُ عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ الْمَكِنِيَّةِ الْمُسْتَتْبَعَةِ لِلتَّخَيُّلِيَّةِ وَشَبَّهَ تَعَاطِيَ الْمَسَائِلَ الْفِقْهِيَّةَ بِالْإِفَادَةِ بِالْإِنْفَاقِ عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ الْمَكْنِيَّةِ الْمُسْتَتْبَعَةِ لِلتَّخَيُّلِيَّةِ وَشَبَّهَ تَعَاطِيَ الْمَسَائِلَ الْفِقْهِيَّةَ بِالْإِفَادَةِ بِالْإِنْفَاقِ عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ الْأَصْلِيَّةِ التَّصْرِيحِيَّةِ وَقَوْلُهُ بِكَثْرَةِ الْإِنْفَاقِ أَيْ بِالْإِنْفَاقِ الْكَثِيرِ مِنْ قَبِيلِ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى مَوْصُوفِهَا.

(24) وَلَا يَبْلَى عَلَى طُولِ الزَّمَانِ عِزُّهُ: يَبْلَى مِنْ بَلِيَ الثَّوْبُ يَبْلَى بَلَاءً فَنِيَ وَقَوْلُهُ عَلَى طُولِ الزَّمَانِ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى الْمَوْصُوفِ أَيْ الزَّمَانُ الطَّوِيلُ.

وَعَلَى بِمَعْنَى لَامَ التَّعْلِيلِ أَوْ بِمَعْنَى مِنْ وَالتَّقْدِيرُ لَا يَفْنَى عِزُّ الْعِلْمِ لِأَجْلِ مُضِيِّ الزَّمَانِ الطَّوِيلِ عَلَيْهِ أَوْ لَا يَبْلَى بَلَاءً نَاشِئًا مِنْ طُولِ الزَّمَانِ وَالْمُرَادُ بِعِزِّ الْعِلْمِ الْجَاهُ وَالشَّرَفُ الْحَاصِلُ بِهِ وَفِي مَنْشُورِ الْحِكَمِ: كُلُّ عِزٍّ فَإِلَى ذُلٍّ مَصِيرُهُ، إلَّا عَنْ الْعِلْمِ.

(25)

وَإِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ كُنْهَ صِفَاتِهِ … وَلَوْ أَنَّ أَعْضَائِي جَمِيعًا تَكَلَّمُ

بَيْتَ شَعْرٍ لَا أَعْلَمُ قَائِلَهُ وَالِاسْتِطَاعَةُ الْقُدْرَةُ عَلَى الشَّيْءِ.

وَالْكُنْهُ بِالضَّمِّ جَوْهَرُ الشَّيْءِ وَقَدْرُهُ وَغَايَتُهُ.

وَالصِّفَاتُ جَمْعُ صِفَةٍ وَهِيَ مَا قَامَ بِالشَّيْءِ كَالْعِلْمِ وَالسِّيَادَةِ وَالْأَعْضَاءُ جَمْعُ عُضْوٍ بِالضَّمِّ وَالْكَسْرِ كُلُّ لَحْمٍ وَافِرٍ بِعَظْمِهِ وَتَكَلَّمُ أَصْلِهِ تَتَكَلَّمُ فَحُذِفَتْ إحْدَى التَّاءَيْنِ تَخْفِيفًا وَالْمَعْنَى أَنِّي لَا أَقْدِرُ عَلَى إدْرَاكِ ذِكْرِ غَايَةِ صِفَاتِهِ أَوْ قَدْرِ صِفَاتِهِ لَوْ فُرِضَ أَنَّ جَمِيعَ أَعْضَائِي تَتَكَلَّمُ بِصِفَاتِهِ فَمَا بَالُك وَلَيْسَ مِنْ أَعْضَائِي يَتَكَلَّمُ إلَّا عُضْوٌ وَاحِدٌ وَهُوَ اللِّسَانُ.
প্রচুর ব্যয়ের ফলে তাঁর ভাণ্ডার শেষ হয় না, ২৪ - এবং দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তাঁর মর্যাদা জীর্ণ হয় না, ২৫ -

আর আমি তাঁর গুণাবলীর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করতে সক্ষম নই … যদিও আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলত

ــ

‌‌[চক্ষুষ্মানদের অন্তর্দৃষ্টির সংকেত]

শাখা হলো মূলের বিপরীত, এবং লোকজ পরিভাষায় যা অন্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল বিষয় যেগুলোর বিধান পূর্বে উল্লিখিত মূলনীতিসমূহ অর্থাৎ ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব, হালাল, হারাম এবং মাকরূহে তাহরিমি ও তানজিহি দ্বারা প্রমাণিত।

অংকুরিত শব্দটি একটি কর্তাবাচক বিশেষ্য, যা 'শস্য অংকুরিত হওয়া' থেকে নির্গত, যখন তা মাটি থেকে প্রকাশ পায়। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল শাখার বিধানসমূহ প্রকাশ পাওয়া।

(২৩) প্রচুর ব্যয়ের ফলে তাঁর ভাণ্ডার শেষ হয় না: এখানে ফিকহশাস্ত্রের মাসআলাসমূহকে মাটির নিচে গচ্ছিত মূল্যবান বস্তুর সাথে তুলনা করা হয়েছে—যা অন্তরে প্রচ্ছন্ন একটি তুলনা—এবং তার আনুসঙ্গিক বিষয় হিসেবে 'ভাণ্ডার' শব্দটি রূপকার্থে সাব্যস্ত করা হয়েছে কাল্পনিক রূপকের অনুগামী হয়ে। আর ফিকহী মাসআলাসমূহ চর্চার মাধ্যমে উপকৃত হওয়াকে ব্যয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে স্পষ্ট ও মৌলিক রূপক অলঙ্কারের পদ্ধতিতে। তাঁর উক্তি "প্রচুর ব্যয়ের ফলে" অর্থাৎ অধিক ব্যয়ের মাধ্যমে; এটি বিশেষ্যের দিকে গুণের সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

(২৪) এবং দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তাঁর মর্যাদা জীর্ণ হয় না: 'জীর্ণ হওয়া' শব্দটি কাপড় পুরনো হয়ে ছিঁড়ে যাওয়া বা নিঃশেষ হওয়া থেকে এসেছে। তাঁর উক্তি "দীর্ঘ সময়ের ফলে" এটি বিশেষ্যের দিকে গুণের সম্বন্ধ, অর্থাৎ দীর্ঘ সময়।

আর এখানে 'আলা' অব্যয়টি কারণ দর্শানোর অর্থে অথবা 'হতে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো: দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে জ্ঞানের মর্যাদা শেষ হয় না, অথবা দীর্ঘ সময়ের ফলে সৃষ্ট কোনো ক্ষয় তাকে স্পর্শ করে না। আর জ্ঞানের মর্যাদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে অর্জিত সম্মান ও আভিজাত্য। প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীতে বর্ণিত আছে: প্রত্যেক মর্যাদাই অপমানের দিকে ধাবিত হয়, জ্ঞানের মর্যাদা ব্যতীত।

(২৫)

আর আমি তাঁর গুণাবলীর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করতে সক্ষম নই … যদিও আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলত

এটি একটি কাব্যগ্রন্থের পঙক্তি যার রচয়িতা সম্পর্কে আমি অবগত নই। সক্ষমতা অর্থ কোনো কিছুর ওপর সামর্থ্য রাখা।

'কুনহু' (পেশ সহযোগে) অর্থ কোনো বস্তুর সারকথা, পরিমাণ এবং শেষ সীমা।

গুণাবলী হলো গুণের বহুবচন, আর তা হলো ঐ বিষয় যা কোনো সত্তার সাথে বিদ্যমান থাকে, যেমন জ্ঞান এবং শ্রেষ্ঠত্ব। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো 'উদউন' (পেশ বা জের যোগে) শব্দের বহুবচন, যা হাড়যুক্ত প্রতিটি পুষ্ট মাংসখণ্ডকে বোঝায়। 'কথা বলা' শব্দটির মূলে দুটি 'তা' ছিল, সহজীকরণের জন্য একটি 'তা' বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো আমি তাঁর গুণাবলীর শেষ সীমা বা পরিমাণ বর্ণনায় সক্ষম নই, যদি ধরে নেওয়া হয় যে আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করছে, তবে কী অবস্থা হবে? অথচ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে কেবল একটি অঙ্গই কথা বলে, আর তা হলো জিহ্বা।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَأَهْلُهُ قِوَامُ الدِّينِ وَقُوَّامُهُ، 27 - وَبِهِمْ ائْتِلَافُهُ وَانْتِظَامُهُ، 28 - وَإِلَيْهِمْ الْمَفْزَعُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَأَهْلُهُ قِوَامُ الدِّينِ وَقُوَّامُهُ: أَهْلُ الرَّجُلِ عَشِيرَتُهُ وَقَرَابَتُهُ وَأَهْلُ الْأَمْرِ وُلَاتُهُ وَأَهْلُ الْبَيْتِ سُكَّانُهُ وَأَهْلُ الْمَذْهَبِ مَنْ يَدِينُ بِهِ وَهَذَا هُوَ الْمُرَادُ هُنَا وَالْقِوَامُ بِالْكَسْرِ نِظَامُ الْأَمْرِ وَعِمَادُهُ وَمِلَاكُهُ وَالْقُوَّامُ بِضَمِّ الْقَافِ وَتَشْدِيدِ الْوَاوِ جَمْعُ قَيِّمٍ وَهُوَ مَنْ يَنْتَصِبُ لِلشَّيْءِ وَيَقُومُ بِخِدْمَتِهِ وَمِنْهُ قَيِّمُ الْوَقْفِ.

وَفَرَّقَ فِي الْمَبْسُوطِ بَيْنَ الْقَيِّمِ وَالْمُتَوَلِّي فَقَالَ الْقَيِّمُ مَنْ فُوِّضَ إلَيْهِ الْحِفْظُ وَالْجَمْعُ وَالتَّفْرِيقُ وَالْقَيِّمُ تَحْتَ يَدِ الْمُتَوَلِّي وَهُوَ يَفْعَلُ بِإِذْنِهِ.

(27) وَبِهِمْ ائْتِلَافُهُ وَانْتِظَامُهُ: الِائْتِلَافُ مَصْدَرُ أَلِفَهُ كَعَلِمَهُ بِمَعْنَى الْمُوَافَقَةِ وَالِانْتِظَامُ مُطَاوِعٌ نَظَّمَهُ فَانْتَظَمَ أَيْ أَقَامَهُ فَاسْتَقَامَ وَذَلِكَ الِانْتِظَامُ الْحَاصِلُ بِهِمْ بِإِفَادَتِهِمْ لِمَسَائِلِ الدِّينِ تَقْرِيرًا وَتَحْرِيرًا.

(28) وَإِلَيْهِمْ الْمَفْزَعُ فِي الْآخِرَةِ وَالدُّنْيَا: الْمَفْزَعُ مَصْدَرٌ مِيمِيٌّ بِمَعْنَى الِالْتِجَاءِ وَالْآخِرَةُ وَالْأُخْرَى دَارُ الْبَقَاءِ وَالدُّنْيَا نَقِيضُ الْآخِرَةِ وَقَدْ يُنَوَّنُ وَالْجَمْعُ دُنَى كَذَا فِي الْقَامُوسِ وَفِي تَفْسِيرِ الْعَلَّامَةِ ابْنِ عَرَفَةَ عِنْدَ قَوْله تَعَالَى فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ {فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [البقرة: 85] مَا نَصُّهُ دُنْيَا فَعَلَى تَأْنِيثِ الْأَدْنَى مِنْ الدُّنُوِّ وَهُوَ الْقُرْبُ وَأَلِفُهَا لِلتَّأْنِيثِ وَلَا تُحْذَفُ مِنْهَا إلَّا ضَرُورَةً كَقَوْلِهِ:

يَوْمَ تَرَى النُّفُوسُ مَا أَعَدَّتْ … فِي سَعْيِ دُنْيَا طَالَمَا مُدَّتْ

وَهَذِهِ قَاعِدَةٌ وَهِيَ كُلُّ فُعْلَى صِفَةٍ لَامُهَا وَاوٌ تُبْدَلُ يَاءً نَحْوَ الْعُلْيَا وَالدُّنْيَا فَأَمَّا قَوْلُهُمْ " الْقُصْوَى عِنْدَ تَمِيمٍ وَالْحَلْوَى عِنْدَ الْجَمِيعِ " فَشَاذٌّ فَلَوْ كَانَتْ فُعْلَى اسْمًا صَحَّتْ الْوَاوُ كَقَوْلِهِ: إذَا رَأَى بِحُزْوَى هَجَتْ لَعَيْنِ عَبْرَةٍ فَاءَ الْهَوَى يَرْفَضُّ أَوْ يَتَرَقْرَقُ وَقَدْ اُسْتُعْمِلْت اسْتِعْمَالَ الْأَسْمَاءِ فَلَمْ يُذْكَرْ مَوْصُوفُهَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا} [الأنفال: 67] وَقَالَ ابْنُ السَّرَّاجِ فِي الْمَقْصُورِ وَالْمَمْدُودِ: وَالدُّنْيَا مَقْصُورَةٌ مُؤَنَّثَةٌ تُكْتَبُ
এবং এর অনুসারীরাই হলো দ্বীনের ভিত্তি ও এর ধারক-বাহক। ২৭ - তাদের মাধ্যমেই দ্বীনের সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। ২৮ - দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কাছেই আশ্রয় নেওয়া হয়।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

"এবং এর অনুসারীরা দ্বীনের ভিত্তি ও এর ধারক-বাহক": কোনো ব্যক্তির 'আহল' (পরিজন) বলতে তার গোত্র ও আত্মীয়-স্বজনকে বোঝায়, 'আহলুল আমর' বলতে শাসকবর্গকে বোঝায়, 'আহলুল বাইত' বলতে ঘরের অধিবাসীদের বোঝায়, আর 'আহলুল মাযহাব' বলতে যারা সেই মাযহাব বা মতাদর্শ অনুসরণ করে তাদের বোঝায়; আর এখানে এটাই উদ্দেশ্য। 'কিওয়াম' (ক্বাফ বর্ণে কাসরা বা জের যোগে) অর্থ বিষয়ের শৃঙ্খলা, এর খুঁটি ও মূল ভিত্তি। আর 'কুওয়াম' (ক্বাফ বর্ণে পেশ ও ওয়াও বর্ণে তাশদীদ যোগে) হলো 'কাইয়্যিম' শব্দের বহুবচন। 'কাইয়্যিম' ওই ব্যক্তিকে বলা হয় যে কোনো কাজের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করে এবং তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। এ থেকেই 'কাইয়্যিমুল ওয়াকফ' (ওয়াকফ-তত্ত্বাবধায়ক) শব্দটি এসেছে।

আল-মাবসুত গ্রন্থে 'কাইয়্যিম' ও 'মুতাওয়াল্লি'-র মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কাইয়্যিম হলো সে ব্যক্তি যার নিকট রক্ষণাবেক্ষণ, সংগ্রহ ও বণ্টনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কাইয়্যিম মূলত মুতাওয়াল্লির অধীনে কাজ করে এবং তার অনুমতি নিয়েই সবকিছু সম্পাদন করে।

(২৭) "তাদের মাধ্যমেই এর সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে": 'ইতিলাফ' শব্দটি 'আলিফাহু' (আলিমা-র ওজনে) ক্রিয়ামূল থেকে আগত মাসদার, যার অর্থ একমত হওয়া বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। 'ইনতিজাম' হলো 'নাজ্জামাহু' এর অনুগামী (মুতাবি') ক্রিয়ারূপ—অর্থাৎ সে এটিকে সুশৃঙ্খল করেছে ফলে তা সুশৃঙ্খল হয়েছে অথবা সে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ফলে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমে যে শৃঙ্খলা অর্জিত হয় তা মূলত দ্বীনি মাসআলাগুলো বক্তব্য ও লেখনীর মাধ্যমে সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা ও সংকলন করার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

(২৮) "দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কাছেই আশ্রয় নেওয়া হয়": 'মাফযা' হলো মিমি মাসদার যার অর্থ আশ্রয়স্থল। 'আখিরাত' ও 'উখরা' হলো পরকাল বা স্থায়ী আবাস। আর 'দুনিয়া' হলো আখিরাতের বিপরীত শব্দ। কখনো এটি তানভীনসহ ব্যবহৃত হয় এবং এর বহুবচন হলো 'দুনা'; 'আল-কামুস' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে। আল্লামা ইবনে আরাফাহর তাফসিরে সূরা বাকারার ৮৫ নম্বর আয়াত—{তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করবে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা}—এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে: 'দুনিয়া' শব্দটি 'ফু'লা' ছাঁচে 'আদনা' এর স্ত্রীলিঙ্গ, যা 'দুনুও' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। এর শেষে থাকা আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক, আর বিশেষ কাব্যিক প্রয়োজন ছাড়া এটি বিলুপ্ত করা যায় না। যেমন কবির উক্তি:

সেদিন আত্মারা দেখবে যা তারা প্রস্তুত করেছে... দুনিয়ার প্রচেষ্টায় যা দীর্ঘকাল বিস্তৃত ছিল।

এটি একটি ব্যাকরণিক নিয়ম যে, 'ফু'লা' ওজনের প্রতিটি বিশেষণ যার শেষ বর্ণ (লাম-কালিমা) 'ওয়াও', তা 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যেমন: 'উলইয়া' এবং 'দুনিয়া'। তবে আরবদের উক্তি "বনু তামীম গোত্রের নিকট 'কুসওয়া' এবং সবার নিকট 'হালওয়া' (এর ব্যবহার)" ব্যতিক্রমধর্মী। যদি 'ফু'লা' কোনো বিশেষ্য (ইসম) হতো তবে 'ওয়াও' তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকত, যেমন কবির উক্তি: "যখন সে 'হুযওয়া' নামক স্থানটি দেখল, তার চোখে অশ্রু উথলে উঠল, হৃদয়ের টানে সেই অশ্রু ঝরতে শুরু করল অথবা চোখের কোণে টলমল করতে লাগল।" এই শব্দটি (দুনিয়া) বিশেষ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে তার বিশেষিত শব্দটি (মাউসুফ) উহ্য থাকে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ কামনা করো}। ইবনুস সাররাজ 'আল-মাকসুর ওয়াল মামদুদ' গ্রন্থে বলেছেন: দুনিয়া শব্দটি মাকসুর এবং স্ত্রীলিঙ্গ, এটি লেখা হয়-
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَالْمَرْجِعُ فِي التَّدْرِيسِ وَالْفَتْوَى، 30 - خُصُوصًا أَنَّ أَصْحَابَنَا رحمهم الله لَهُمْ خُصُوصِيَّةُ السَّبَقِ فِي هَذَا الشَّأْنِ.

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

بِالْأَلِفِ هَذَا لُغَةُ نَجْدٍ وَتَمِيمٍ إلَّا أَنَّ أَهْلَ الْحِجَازِ وَبَنِي أَسَدٍ يُلْحِقُونَهَا وَنَظَائِرَهَا بِالْمَصَادِرِ ذَوَاتِ الْوَاوِ وَيَقْلِبُونَ دُنْوَى سُرْوَى وَكَذَلِكَ يَفْعَلُونَ بِكُلِّ فُعْلَى مَوْضِعُ لَامِهَا وَاوٌ يَفْتَحُونَ أَوَّلَهَا وَيَقْلِبُونَ يَاءَهَا وَاوًا وَأَمَّا أَهْلُ اللُّغَةِ الْأُولَى فَيَضُمُّونَ الدَّالَ وَيَقْلِبُونَ الْوَاوَ يَاءً لِاسْتِثْقَالِهِمْ الْوَاوَ مَعَ الضَّمَّةِ.

(29) وَالْمَرْجِعُ فِي التَّدْرِيسِ وَالْفَتْوَى: الْمَرْجِعُ مَصْدَرٌ مِيمِيٌّ بِمَعْنَى الرُّجُوعِ وَهُوَ الْعُودُ إلَى الشَّيْءِ وَالتَّدْرِيسُ مِنْ دَرَسَ الْكِتَابَ قَرَأَهُ قَالَ الشَّاعِرُ:

هَذَا سُرَاقَةُ لِلْقُرْآنِ يُدَرِّسُهُ

وَالْفُتْيَا وَالْفَتْوَى وَتُفْتَحُ مَا أَفْتَى بِهِ الْفَقِيهُ وَأَفْتَاهُ فِي الْأَمْرِ أَبَانَهُ كَذَا فِي الْقَامُوسِ وَفِي حَوَاشِي الْكَشَّافِ لِلسَّيِّدِ السَّنَدِ اشْتِقَاقُ الْفَتْوَى مِنْ الْفَتِيِّ لِأَنَّهَا جَوَابٌ فِي حَادِثَةٍ أَوْ إحْدَاثِ حُكْمٍ أَوْ تَقْوِيَةٍ لِبَيَانٍ مُشْكِلٍ يَعْنِي أَنَّهُ يُلَاحِظُ فِيهَا مَا يُنْبِئُ عَنْهُ الْفَتِيُّ مِنْ الْحُدُوثِ أَوْ الْقُوَّةِ لَا أَنَّ الْمُرَادَ حَقِيقَةً الِاشْتِقَاقُ. وَعَرَّفَهَا بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ بِأَنَّهَا الْإِخْبَارُ عَنْ الْحُكْمِ عَلَى غَيْرِ وَجْهِ الْإِلْزَامِ قِيلَ اُحْتُرِزَ بِالْقَيْدِ الْأَخِيرِ عَنْ الْقَضَاءِ وَفِيهِ نَظَرٌ إذْ الْقَضَاءُ إنْشَاءٌ فَلَا يَصْدُقُ مَا قَبْلَ هَذَا الْقَيْدِ عَلَيْهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ الْفَتْوَى مَأْخُوذٌ عَنْ الْفَتَى وَهُوَ الشَّابُّ الْقَوِيُّ سُمِّيَ الْحُكْمُ فَتْوَى لِتَقَوِّي السَّائِلِ بِهِ فِي جَوَابِ الْحَادِثَةِ وَفِيهِ أَنَّ الْفَتْوَى بَيَانُ حُكْمِ الْحَادِثَةِ وَهُوَ جَوَابُهَا لَا الْحُكْمُ كَمَا ذُكِرَ. قَالَ فِي الْمُجْمَلِ أَفْتَى الْفَقِيهُ فِي الْمَسْأَلَةِ إذَا بَيَّنَ حُكْمَهَا. قَالَ فِي الْبَيَانِ أَفْتُونِي أَجِيبُونِي عَنْ سُؤَالِ رُؤْيَايَ فِي الْمَنَامِ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي أَجِيبُونِي. (30)

خُصُوصًا أَنَّ أَصْحَابَنَا رحمهم الله لَهُمْ خُصُوصِيَّةُ السَّبَقِ فِي هَذَا الشَّأْنِ: خُصُوصًا مَصْدَرُ خَصَّهُ عَلَى غَيْرِ قِيَاسٍ وَهُوَ مَنْصُوبٌ بِفِعْلٍ مَحْذُوفٍ مَعَ مُلَاحَظَةِ مَفْعُولٍ بِهِ مُقَدَّرٍ فِي نَظْمِ الْكَلَامِ وَالتَّقْدِيرُ أَخُصُّ أَصْحَابَنَا بِالْإِنْصَافِ بِمَا ذُكِرَ خُصُوصًا.

وَقَوْلُهُ إنَّ أَصْحَابَنَا إلَخْ تَعْلِيلٌ لِلتَّخْصِيصِ بِمَا ذُكِرَ مَعَ مُلَاحَظَةِ لَامِ التَّعْلِيلِ الْمُقَدَّرَةِ الَّتِي لِأَجْلِهَا فُتِحَتْ هَمْزَةُ أَنَّ وَالتَّقْدِيرُ إنَّمَا خَصَّصْت أَصْحَابَنَا بِالِاتِّصَافِ بِمَا ذُكِرَ لِأَنَّ أَصْحَابَنَا لَهُمْ خُصُوصِيَّةُ السَّبَقِ فِي هَذَا الشَّأْنِ وَالْخُصُوصِيَّةُ بِالضَّمِّ وَتُفْتَحُ بِمَعْنَى الِاخْتِصَاصِ وَالْمُرَادُ
এবং অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আধার (নির্ভরস্থল), ৩০ - বিশেষ করে আমাদের সাথীবৃন্দ (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) এই বিষয়ে অগ্রগামী হওয়ার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

ــ

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

আলিফ সহকারে (উচ্চারণ) এটি নজদ ও তামীম গোত্রের ভাষা; তবে হিজাজবাসী ও বনী আসাদ গোত্র একে এবং এর সমজাতীয় শব্দগুলোকে 'ওয়াও' যুক্ত মূল শব্দের (মাসদার) সাথে যুক্ত করে এবং 'দুনওয়া' কে 'সুরওয়া' তে রূপান্তর করে। একইভাবে তারা প্রতিটি 'ফু'লা' (فُعْلَى) ওজনের শব্দের ক্ষেত্রে এমনটি করে যার 'লাম' বর্ণটি 'ওয়াও', তারা এর প্রথম বর্ণে জবর দেয় এবং এর 'ইয়া' কে 'ওয়াও' তে রূপান্তর করে। আর প্রথম ভাষার অনুসারীরা 'দাল' বর্ণে পেশ দেয় এবং পেশের সাথে 'ওয়াও' এর উচ্চারণ ভারী হওয়ার কারণে 'ওয়াও' কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করে।

(২৯) এবং অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আধার (নির্ভরস্থল): 'মারজি' (مرجع) শব্দটি 'রুজু' (رجوع) অর্থের 'মাসদারে মিমি', যার অর্থ কোনো কিছুর দিকে ফিরে আসা। আর 'তাদরিস' (تدريس) শব্দটি 'দারাসা আল-কিতাব' থেকে আগত, যার অর্থ কিতাব পাঠ করা। জনৈক কবি বলেছেন:

এই সেই সুরাকাহ যে কুরআন পাঠ করে (অধ্যাপনা করে)

'আল-ফুতইয়া' ও 'আল-ফাতওয়া' (ফাতা বর্ণে জবর সহকারেও পড়া হয়) হলো ফকিহ যা ফতোয়া প্রদান করেন। কোনো বিষয়ে কাউকে ফতোয়া দেওয়া মানে বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট করা; 'কামুস' গ্রন্থে এমনটিই বলা হয়েছে। 'কাশশাফ' এর টীকায় সাইয়্যেদ আস-সানাদ উল্লেখ করেছেন যে, 'ফাতওয়া' শব্দটির ব্যুৎপত্তি 'ফাতী' (যুবক/শক্তিশালী) থেকে, কারণ এটি কোনো নতুন উদ্ভূত সমস্যার জবাব, অথবা নতুন কোনো হুকুম প্রবর্তন অথবা কোনো জটিল বর্ণনার শক্তি বৃদ্ধিস্বরূপ। অর্থাৎ এতে সেই অর্থটি লক্ষ্য রাখা হয়েছে যা 'ফাতী' শব্দ থেকে নতুন কিছু ঘটা বা শক্তির ইঙ্গিত দেয়, এর উদ্দেশ্য আভিধানিক ব্যুৎপত্তি নয়। জনৈক গবেষক এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, এটি হলো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ব্যতিরেকে শরয়ি হুকুম সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। বলা হয়েছে যে, শেষোক্ত শর্তের (বাধ্যবাধকতা ব্যতীত) মাধ্যমে বিচারিক রায়কে (কাজা) বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এতে দ্বিমত রয়েছে, কারণ বিচারিক রায় হলো একটি বিধান প্রবর্তন করা (ইনশা), তাই এই শর্তের পূর্ববর্তী অংশটুকু (সংবাদ প্রদান করা) বিচারিক রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কেউ কেউ বলেছেন, 'ফাতওয়া' শব্দটি 'ফাতা' থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ শক্তিশালী যুবক। হুকুমকে ফাতওয়া বলা হয় কারণ এর মাধ্যমে কোনো নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির জবাবে প্রশ্নকারী শক্তি লাভ করে। তবে এখানে আপত্তি রয়েছে যে, ফাতওয়া হলো উদ্ভূত পরিস্থিতির হুকুম বর্ণনা করা এবং সেটি তার জবাব, স্বয়ং হুকুম নয় যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। 'মুজমাল' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ফকিহ কোনো মাসয়ালায় ফতোয়া দিয়েছেন অর্থাৎ তিনি এর হুকুম বর্ণনা করেছেন। 'বায়ান' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'তোমরা আমাকে ফতোয়া দাও' অর্থাৎ 'আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে উত্তর দাও', 'আমার বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দাও' অর্থাৎ 'আমাকে উত্তর দাও'। (৩০)

বিশেষ করে আমাদের সাথীবৃন্দ (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) এই বিষয়ে অগ্রগামী হওয়ার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী: 'খুসুসান' (خصوصا) শব্দটি 'খাসসাহু' এর মাসদার যা নিয়মের বাইরে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি উহ্য ক্রিয়া (ফেল) দ্বারা মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে, যেখানে বাক্যের গঠনে একটি উহ্য কর্ম (মাফউল বিহি) বিবেচনা করা হয়। এর মূল বাক্যটি হলো: "আমি আমাদের সাথীবৃন্দকে উল্লিখিত বিষয়ে ইনসাফের সাথে বিশিষ্ট করছি।"

এবং তার উক্তি 'নিশ্চয়ই আমাদের সাথীবৃন্দ...' এটি হলো উল্লিখিত বিশেষীকরণের কারণ বর্ণনা (তালীল), যেখানে একটি উহ্য কারণবাচক 'লাম' (লামে তালীল) বিবেচনা করা হয়েছে যার কারণে 'আন্না' এর হামজায় জবর হয়েছে। বাক্যটির উদ্দেশ্য হলো: আমি আমাদের সাথীবৃন্দকে উল্লিখিত গুণের সাথে বিশিষ্ট করেছি কারণ আমাদের সাথীবৃন্দ এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। 'খুসুসিয়াহ' শব্দটি পেশ দিয়ে এবং জবর দিয়েও পড়া যায়, যার অর্থ বিশেষত্ব। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالنَّاسُ لَهُمْ أَتْبَاعٌ؛ 32 - وَالنَّاسُ فِي الْفِقْهِ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه، 33 - وَلَقَدْ أَنْصَفَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله حَيْثُ قَالَ: مِنْ أَرَادَ أَنْ يَتَبَحَّرَ فِي الْفِقْهِ فَلْيَنْظُرْ إلَى كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله، 34 - كَمَا نَقَلَهُ ابْنُ وَهْبَانَ عَنْ حَرْمَلَةَ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

بِأَصْحَابِنَا أَصْحَابُ مَذْهَبِنَا وَهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ وَأَصْحَابُهُ رحمهم الله.

وَالسَّبَقُ التَّقَدُّمُ وَهَذَا الشَّأْنُ مَا ذَكَرَهُ مِنْ التَّدْرِيسِ وَالْفَتْوَى وَنَحْوِهِمَا.

هَكَذَا يَجِبُ أَنْ يُفْهَمَ هَذَا الْمَحِلُّ.

(31) وَالنَّاسُ لَهُمْ أَتْبَاعٌ: النَّاسُ يَجُوزُ أَنْ يُقْرَأَ بِالنَّصْبِ عَطْفًا عَلَى دُخُولِ أَنَّ قَبْلَهُ مَعَ مُلَاحَظَةِ أَدَاةِ التَّعْلِيلِ.

وَالْمَعْنَى عَلَى هَذَا إنَّمَا خَصَّصْت أَصْحَابَنَا بِالِاتِّصَافِ بِمَا ذُكِرَ لِأَنَّ النَّاسَ لَهُمْ أَتْبَاعٌ وَيَجُوزُ أَنْ يُقْرَأَ بِالرَّفْعِ وَتَكُونُ الْوَاوُ لِلْحَالِ وَالتَّقْدِيرُ عَلَى هَذَا لِأَنَّ أَصْحَابَنَا لَهُمْ خُصُوصِيَّةُ السَّبَقِ فِي هَذَا الشَّأْنِ وَالْحَالُ أَنَّ النَّاسَ لَهُمْ أَتْبَاعٌ وَالنَّاسُ الْبَشَرُ وَقَدْ اُخْتُلِفَ فِي اشْتِقَاقِهِ فَقِيلَ مِنْ نَاسَ يَنُوسُ إذَا تَحَرَّكَ وَقِيلَ مِنْ الْأُنْسِ وَهُوَ السُّكُونُ وَالْأُلْفَةُ وَقِيلَ مِنْ النِّسْيَانِ وَعَلَى الثَّانِي قَوْلُ الشَّاعِرِ:

وَمَا سُمِّيَ الْإِنْسَانُ إلَّا لِأُنْسِهِ … وَمَا الْقَلْبُ إلَّا أَنَّهُ يَتَقَلَّبُ

وَالْأَتْبَاعُ جَمْعُ تَبَعٍ مُحَرَّكَةً وَهُوَ مَنْ يَمْشِي خَلْفَك وَيَأْخُذُ بِقَوْلِك.

(32) وَالنَّاسُ فِي الْفِقْهِ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله: هَذِهِ الْجُمْلَةُ مُسْتَأْنَفَةٌ اسْتِئْنَافًا بَيَانِيًّا وَاقِعَةٌ فِي جَوَابِ سُؤَالٍ مُقَدَّرٍ تَقْدِيرُهُ أَنْ يُقَالَ لِمَ كَانَ النَّاسُ أَتْبَاعًا لِأَصْحَابِك فِيمَا ذُكِرَ؟ فَقَالَ النَّاسُ فِي الْفِقْهِ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ وَأَصْحَابِهِ رحمه الله أَيْ كَالْعِيَالِ وَالْعِيَالُ كَكِتَابٍ جَمْعُ عَيِّلٍ وَهُوَ مَنْ يَكُونُ نَفَقَتُهُ عَلَى غَيْرِهِ.

(33) وَلَقَدْ أَنْصَفَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله حَيْثُ قَالَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَتَبَحَّرَ فِي الْفِقْهِ فَلْيَنْظُرْ إلَى كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله: أَنْصَفَ مِنْ الْإِنْصَافِ وَهُوَ الْعَدْلُ وَحَيْثُ هُنَا ظَرْفُ زَمَانٍ وَالْمَعْنَى وَلَقَدْ عَدَلَ الشَّافِعِيُّ وَقْتَ قَوْلِهِ هَذَا وَالتَّبَحُّرُ التَّوَسُّعُ يُقَالُ تَبَحَّرَ فِي الْعِلْمِ تَوَسَّعَ وَتَعَمَّقَ وَنَظَرَ الشَّيْءَ وَإِلَيْهِ تَأَمَّلَ بِالْبَصَرِ وَقَوْلُهُ إلَى كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ أَيْ كُتُبِ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ الْمُصَنَّفَةِ عَلَى مَذْهَبِهِ لِأَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ لَمْ يُصَنِّفْ شَيْئًا سِوَى الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ فِي عِلْمِ الْكَلَامِ عَلَى مَا اشْتَهَرَ.

(34) كَمَا نَقَلَهُ ابْنُ وَهْبَانَ عَنْ حَرْمَلَةَ: أَيْ عَلَى مَا نَقَلَهُ وَإِلَّا مَا هُنَا عَيْنُهُ لَا مِثْلُهُ
এবং মানুষ তাঁদের অনুসারী; ৩২ - আর ফিকহ শাস্ত্রে মানুষ আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুখাপেক্ষী, ৩৩ - ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) যথার্থ ইনসাফ করেছেন যখন তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে চায়, সে যেন আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহের দিকে লক্ষ্য করে, ৩৪ - যেমনটি ইবনে ওয়াহবান হারমালা থেকে বর্ণনা করেছেন।

--

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

আমাদের সাথী (আসহাবুন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমাদের মাযহাবের ইমামগণ, আর তাঁরা হলেন আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবৃন্দ (রহিমাহুমুল্লাহ)।

আর 'আস-সাবকু' অর্থ হলো অগ্রগামিতা, আর এই বিষয়টি বলতে তিনি শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান ও এ জাতীয় বিষয়গুলোকে বুঝিয়েছেন।

এই স্থানটি এভাবেই বোঝা আবশ্যক।

(৩১) এবং মানুষ তাঁদের অনুসারী: 'আন-নাসু' শব্দটিকে নসব (যবর) যোগে পড়া জায়েজ, এর পূর্বের 'আন্না' (أنَّ)-এর ওপর আতফ করে, যার সাথে কারণ দর্শানোর অব্যয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

এই অর্থের ভিত্তিতে এর সারমর্ম হলো: আমি আমাদের সাথীদেরকে উল্লেখিত গুণাবলির দ্বারা বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছি কারণ মানুষ তাঁদের অনুসারী। আর এটিকে রফ’ (পেশ) যোগে পড়াও জায়েজ, সেক্ষেত্রে 'ওয়াও' (و) অক্ষরটি 'হাল' (অবস্থা বর্ণনার) জন্য হবে। এমতাবস্থায় এর মর্ম হবে: কারণ আমাদের সাথীদের এই বিষয়ে অগ্রগামিতার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, আর অবস্থা এই যে মানুষ তাঁদের অনুসারী। আর 'আন-নাস' বলতে মানবজাতিকে বোঝায়। এর শব্দমূল (ইশতিকাক) নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে এটি 'নাসা ইয়ানুসু' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ যখন নড়াচড়া করে। আবার বলা হয়েছে এটি 'আল-উন্স' (ঘনিষ্ঠতা) থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রশান্তি ও হৃদ্যতা। আবার বলা হয়েছে এটি 'নিসইয়ান' (বিস্মৃতি) থেকে এসেছে। দ্বিতীয় মত অনুযায়ী কবির বক্তব্য:

মানুষকে তো কেবল তার হৃদ্যতার কারণেই 'ইনসান' নামকরণ করা হয়েছে … আর অন্তরকে কেবল তার পরিবর্তনের কারণেই 'কালব' বলা হয়েছে।

আর 'আল-আতবা' শব্দটি 'তাবা' (হরকতযুক্ত) এর বহুবচন; আর সে হলো এমন ব্যক্তি যে তোমার পেছনে চলে এবং তোমার কথা গ্রহণ করে।

(৩২) এবং ফিকহ শাস্ত্রে মানুষ আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুখাপেক্ষী: এই বাক্যটি 'ইস্তি’নাফে বয়ানি' হিসেবে এসেছে, যা একটি ঊহ্য প্রশ্নের উত্তরে গঠিত। যার সম্ভাব্য রূপ হলো— কেন মানুষ উল্লেখিত বিষয়ে আপনার সাথীদের অনুসারী? তখন তিনি বললেন, ফিকহ শাস্ত্রে মানুষ আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের (রহিমাহুমুল্লাহ) মুখাপেক্ষী বা পরিবারতুল্য। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের মতো। আর 'ইয়াল' শব্দটি 'কিতাব'-এর ওজনে 'আইয়িল'-এর বহুবচন; আর সে হলো এমন ব্যক্তি যার ভরণপোষণের ভার অন্যের ওপর থাকে।

(৩৩) ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) যথার্থ ইনসাফ করেছেন যখন তিনি বলেছেন— যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে চায়, সে যেন আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহের দিকে লক্ষ্য করে: 'আনসাফা' শব্দটি 'ইনসাফ' থেকে এসেছে যার অর্থ ন্যায়বিচার। আর এখানে 'হাইসু' শব্দটি সময়ের পাত্র (জরফে যামান)। এর অর্থ হলো: ইমাম শাফিয়ী তাঁর এই বক্তব্য প্রদানের সময় ন্যায় করেছেন। আর 'তাবাহহুর' অর্থ হলো প্রশস্ততা। বলা হয়ে থাকে, সে ইলমে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছে অর্থাৎ প্রশস্ততা ও গভীরতা লাভ করেছে। কোনো বস্তুর দিকে 'নাজারা' করা বলতে দৃষ্টি দিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করা বোঝায়। আর তাঁর বক্তব্য— 'আবু হানিফার কিতাবসমূহের দিকে', এর অর্থ হলো আবু হানিফার সাথীদের কিতাবসমূহ যা তাঁর মাযহাব অনুযায়ী রচিত হয়েছে। কেননা প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আবু হানিফা ইলমে কালামের ক্ষেত্রে 'আল-ফিকহুল আকবার' ছাড়া অন্য কিছু রচনা করেননি।

(৩৪) যেমনটি ইবনে ওয়াহবান হারমালা থেকে বর্ণনা করেছেন: অর্থাৎ তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে। অন্যথায় এখানে 'মা' বলতে সরাসরি মূল বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে, তার সাদৃশ্যকে নয়।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَهُوَ كَالصِّدِّيقِ رضي الله عنه،

36 - وَلَهُ أَجْرُهُ وَأَجْرُ مِنْ دَوَّنَ الْفِقْهَ وَأَلَّفَهُ وَفَرَّعَ أَحْكَامَهُ عَلَى أُصُولِهِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

وَحَرْمَلَةُ بِالْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَرْمَلَةَ صَاحِبُ الشَّافِعِيِّ كَمَا فِي الْقَامُوسِ وَذَكَرَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي كِتَابِهِ الْمُسَمَّى بِالصَّحِيفَةِ فِي مَنَاقِبِ فَقِيهِ الْوَقْتِ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّ الْمُزَنِيّ رَوَى عَنْ الشَّافِعِيِّ (رحمه الله) هَذَا الَّذِي رَوَاهُ حَرْمَلَةُ وَنَقَلَ أَيْضًا فِي الْكِتَابِ الْمَذْكُورِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ الصَّبَّاحِ قَالَ سَمِعْت الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: قِيلَ لِمَالِكٍ هَلْ رَأَيْت أَبَا حَنِيفَةَ قَالَ نَعَمْ رَأَيْت رَجُلًا لَوْ كَلَّمَك فِي هَذِهِ السَّارِيَةِ أَنْ يَجْعَلَهَا ذَهَبًا لَقَامَ بِحُجَّتِهِ.

وَنَقَلَ أَيْضًا فِي الْكِتَابِ الْمَذْكُورِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُفْلِسٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُقَاتِلٌ قَالَ سَمِعْت ابْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُ إنَّ الْأَثَرَ قَدْ عُرِفَ وَإِنْ اُحْتِيجَ إلَى الرَّأْيِ فَرَأْيُ مَالِكٍ وَسُفْيَانَ وَأَبِي حَنِيفَةَ؛ وَأَبُو حَنِيفَةَ أَحْسَنُهُمْ رَأْيًا وَأَدَقُّهُمْ فِطْنَةً وَأَغْوَصُهُمْ عَلَى الْفِقْهِ وَهُوَ أَفْقَهُ الثَّلَاثَةِ.

(35) وَهُوَ كَالصِّدِّيقِ رضي الله عنه: جُمْلَةٌ مُسْتَأْنَفَةٌ سِيقَتْ لِبَيَانِ إحْرَازِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله قَصَبَ السَّبَقِ فِي الْعِلْمِ وَالْفَضْلِ وَالصِّدِّيقُ كَسِكِّيتٍ لَقَبُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه شَيْخُ الْخُلَفَاءِ وَوَجْهُ الشَّبَهِ بَيْنَهُمَا أَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا ابْتَدَأَ أَمْرًا لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهِ وَذَلِكَ أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ رحمه الله ابْتَدَأَ تَدْوِينَ الْفِقْهِ وَكَانَ قَبْلَهُ مَحْفُوظًا فِي الصُّدُورِ وَأَبُو بَكْرٍ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - ابْتَدَأَ جَمَعَ الْقُرْآنِ بَعْدَ وَفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم بِمَشُورَةِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - كَذَا قِيلَ.

وَقِيلَ وَجْهُ الشَّبَهِ بَيْنهمَا أَنَّ الصِّدِّيقَ أَوَّلُ مَنْ آمَنَ مِنْ الرِّجَالِ وَأَبَا حَنِيفَةَ رحمه الله أَوَّلُ مَنْ دَوَّنَ الْفِقْهَ

 

(36) وَلَهُ أَجْرُهُ وَأَجْرُ مَنْ دَوَّنَ الْفِقْهَ وَأَلَّفَهُ وَفَرَّعَ أَحْكَامَهُ عَلَى أُصُولِهِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ: أَيْ أَجْرُ تَدْوِينِ الْفِقْهِ فَالضَّمِيرُ رَاجِعٌ إلَى الْفِقْهِ مَعَ مُلَاحَظَةِ الْمُضَافِ الَّذِي قَدَّرْنَاهُ كَمَا يَدُلُّ عَلَيْهِ.

وَأَجْرُ مَنْ دَوَّنَهُ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَمَا أَنَّ لِأَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه أَجْرُ جَمْعِ الْقُرْآنِ وَأَجْرُ مَنْ جَمَعَهُ بَعْدَهُ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ عَلَى الْقَوْلِ الْأَوَّلِ وَعَلَى الْقَوْلِ الثَّانِي يُقَالُ كَمَا أَنَّ لِأَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه أَجْرُ إيمَانِهِ وَأَجْرُ كُلِّ مَنْ آمَنَ بَعْدَهُ مِنْ الرِّجَالِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

قُلْت وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام «مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» أَيْ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ (أَقُولُ) الْقَوْلُ الثَّانِي هُوَ الظَّاهِرُ إذْ الْقُرْآنُ بَعْدَ مَا جُمِعَ لَا يُتَصَوَّرُ جَمْعُهُ ثَانِيًا اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ
এবং তিনি সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মতো।

৩৬ - আর তাঁর জন্য রয়েছে তাঁর প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা ফিকহ সংকলন করবে, তা রচনা করবে এবং এর মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে শাখা মাসআলাগুলো বের করবে, তাদেরও প্রতিদান।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

আর হারমালা—বিনা নুকতাহওয়ালা 'হা' দিয়ে—হলেন আবদুল্লাহ ইবনে হারমালার পুত্র, যিনি ইমাম শাফিঈর ছাত্র, যেমনটি 'আল-কামুস'-এ বর্ণিত হয়েছে। হাফিজ জাহাবি তাঁর 'আস-সাহীফা' নামক কিতাবে সমকালীন ফকিহ আবু হানিফার মর্যাদার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, মুযানী ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) থেকে এই বর্ণনাটি রেওয়ায়েত করেছেন যা হারমালা বর্ণনা করেছেন। তিনি উক্ত কিতাবে আহমদ ইবনে সাব্বাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি: ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যিনি যদি আপনার সাথে এই খুঁটিটি সম্পর্কে কথা বলেন যে তিনি এটিকে সোনা বানিয়ে দেবেন, তবে তিনি তাঁর দলিলের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে দিতেন।

তিনি উক্ত কিতাবে আহমদ ইবনে মুফলিস থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুকাতিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে, আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) তো জানা গেছেই, তবে যদি রায়ের (গবেষণালব্ধ মত) প্রয়োজন হয় তবে তা হলো মালিক, সুফিয়ান এবং আবু হানিফার রায়; আর আবু হানিফা তাঁদের মধ্যে রায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর, বুদ্ধিমত্তায় সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং ফিকহশাস্ত্রে সবচেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং তিনি তাঁদের তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ।

(৩৫) এবং তিনি সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মতো: এটি একটি নতুন বাক্য যা আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করার জন্য আনা হয়েছে। 'সিদ্দীক' শব্দটি 'সিক্কীত'-এর ওজনে, যা খলিফাদের প্রধান আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর উপাধি। উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্যের দিক হলো যে, তাঁদের প্রত্যেকেই এমন এক কাজ শুরু করেছিলেন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। আর তা হলো, আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) ফিকহ সংকলন শুরু করেছিলেন, অথচ তাঁর আগে এটি মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল। আর আবু বকর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ইন্তেকালের পর উমর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর পরামর্শে কুরআন সংকলন শুরু করেছিলেন; এভাবেই বলা হয়েছে।

আবার বলা হয়েছে যে, তাঁদের উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্যের দিকটি হলো যে, সিদ্দীক হলেন পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী এবং আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) হলেন সর্বপ্রথম ফিকহ সংকলনকারী।

 

(৩৬) আর তাঁর জন্য রয়েছে তাঁর প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা ফিকহ সংকলন করবে, তা রচনা করবে এবং এর মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে শাখা মাসআলাগুলো বের করবে, তাদেরও প্রতিদান: অর্থাৎ ফিকহ সংকলনের প্রতিদান। এখানে সর্বনামটি 'ফিকহ'-এর দিকে ফিরছে, সেই উহ্য শব্দটির বিবেচনায় যা আমরা নির্ধারণ করেছি, যেমনটি এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এটি সংকলন করবে তাদের প্রতিদানও তিনি পাবেন, যেমনটি প্রথম মতানুসারে আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর জন্য কুরআন সংকলনের প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরবর্তী সংকলনকারীদের প্রতিদান রয়েছে। আর দ্বিতীয় মতানুসারে বলা হবে যে, যেমনটি আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর জন্য তাঁর ঈমানের প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে ঈমান আনয়নকারী সকল পুরুষের প্রতিদান রয়েছে।

আমি বলি, এর দলিল হলো নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম রীতির সূচনা করবে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে।" অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানের অনুরূপ প্রতিদান সে পাবে। (আমি বলি) দ্বিতীয় মতটিই স্পষ্ট, কারণ কুরআন একবার সংকলিত হওয়ার পর পুনরায় তা সংকলন করার কথা কল্পনা করা যায় না। তবে যদি...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَإِنَّ الْمَشَايِخَ الْكِرَامَ 38 - قَدْ أَلَّفُوا.

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

يُرَادَ مِنْ جَمْعِهِ ثَانِيًا كِتَابَتُهُ مَجْمُوعًا.

وَقِيلَ كَالصِّدِّيقِ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - فِي أَنَّ لَهُ أَجْرَ التَّصْدِيقِ وَأَجْرَ مَنْ صَدَّقَ بَعْدَهُ لِأَنَّهُ فَتَحَ بَابَ التَّصْدِيقِ وَقَوْلُهُ دَوَّنَهُ أَيْ جَعَلَهُ دِيوَانًا وَالدِّيوَانُ - وَيُفْتَحُ - مَجْمَعُ الصُّحُفِ وَالْكِتَابُ يُكْتَبُ فِيهِ أَهْلُ الْجَيْشِ وَأَهْلُ الْعَطِيَّةِ وَأَوَّلُ مَنْ وَضَعَهُ عُمَرُ رضي الله عنه

وَقَوْلُهُ فَرَّعَ أَحْكَامَهُ أَيْ اسْتَخْرَجَهَا مِنْ أُصُولِهَا بِقَوَاعِدِ الِاسْتِنْبَاطِ

 

(37) وَإِنَّ الْمَشَايِخَ الْكِرَامَ: عَطَفَ عَلَى أَنَّ أَصْحَابَنَا.

وَالْمَشَايِخُ جَمْعُ شَيْخٍ وَهُوَ لُغَةً مَنْ اسْتَبَانَتْ فِيهِ السِّنُّ أَوْ مَنْ بَلَغَ خَمْسِينَ أَوْ إحْدَى وَخَمْسِينَ إلَى آخِرِ عُمُرِهِ أَوْ إلَى الثَّمَانِينَ وَلَهُ جُمُوعٌ خِلَافُ هَذَا ذَكَرَهَا فِي الْقَامُوسِ وَالْمُرَادُ بِهِ هُنَا مَنْ لَهُ مَعْرِفَةٌ فِي الْعِلْمِ وَإِنْ لَمْ يَبْلُغْ هَذَا السِّنَّ.

وَالْكِرَامُ جَمْعُ كَرِيمٍ وَهُوَ الصَّفُوحُ.

(38) قَدْ أَلَّفُوا: التَّأْلِيفُ جَعْلُ الْأَشْيَاءِ الْكَثِيرَةِ بِحَيْثُ يُطْلَقُ عَلَيْهَا اسْمُ الْوَاحِدِ سَوَاءً كَانَ لِبَعْضِ أَجْزَائِهِ نِسْبَةٌ إلَى الْبَعْضِ بِالتَّقَدُّمِ وَالتَّأَخُّرِ أَوْ لَا. وَعَلَيْهِ فَيَكُونُ التَّأْلِيفُ أَعُمَّ مِنْ التَّرْتِيبِ ذَكَرَهُ السَّيِّدُ السَّنَدُ.

قَالَ بَعْضُهُمْ وَأَعَمُّ مِنْ التَّصْنِيفِ وَهُوَ جَعْلُ كُلِّ صِنْفٍ عَلَى حِدَةٍ قَالَ ابْنُ أَحْمَرَ:

سُقْيًا لِحُلْوَانَ ذِي الْكُرُومِ … وَمَا صُنِّفَ مِنْ تِينِهِ وَمِنْ عِنَبِهِ

فَالتَّأْلِيفُ لِكَوْنِهِ مُطْلَقَ الضَّمِّ أَعَمُّ مِنْ التَّصْنِيفِ لِكَوْنِهِ جَعَلَ كُلَّ صِنْفٍ عَلَى حِدَةٍ وَلِهَذَا قَالَ بَعْضُهُمْ التَّأْلِيفُ يَرْجِعُ مَعْنَاهُ إلَى جَمْعِ كَلَامِ الْغَيْرِ وَضَمِّهِ فَحَسْبُ وَالتَّصْنِيفُ إبْرَازُ صِفَاتِ الْمَعَانِي وَإِثْبَاتُ الْأَفْكَارِ الْغَرِيبَةِ عَلَى وَجْهٍ لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهِ وَالْمُؤَلِّفُ مَنْ يَجْمَعُ كَلَامَ غَيْرِهِ وَيَضُمُّهُ بِإِيقَاعِ الْأُلْفَةِ مِنْ غَيْرِ ابْتِكَارِ مَعْنَى مِنْ عِنْدِهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاضِعُ الْعِلْمِ أَوْلَى بِاسْمِ الْمُصَنِّفِ مِنْ الْمُؤَلِّفِ وَإِنْ صَحَّ أَيْضًا فِيهِ لِأَنَّ الْعِلْمَ مُطْلَقًا بِمَعْنَى الْإِدْرَاكِ جِنْسٌ وَمَا تَحْتَهُ مِمَّا فِي الظَّنِّ وَالْيَقِينِ نَوْعٌ فَوَاضِعُ الْعِلْمِ لَمَّا لَاحَظَ الْغَايَةَ الْمَقْصُودَةَ لَهُ فَوَجَدَهَا تَتَرَتَّبُ عَلَى الْعِلْمِ بِأَحْوَالِ شَيْءٍ أَوْ أَشْيَاءَ مِنْ جِهَةٍ خَاصَّةٍ وَضَعَهُ لِيَبْحَثَ عَنْهُ مِنْ تِلْكَ الْجِهَةِ فَقَيَّدَ ذَلِكَ النَّوْعَ مِنْ الْعِلْمِ بِعَارِضٍ كُلِّيٍّ فَصَارَ صِنْفًا وَقِيلَ لِوَاضِعِهِ صَنَّفَ الْعِلْمَ أَيْ جَعَلَهُ صِنْفًا مُتَنَاسِبًا فَهُوَ بِاسْمِ الْمُصَنِّفِ أُوَفِّقُ.
এবং নিশ্চয়ই সম্মানিত মাশায়েখগণ ৩৮ - তাঁরা সংকলন করেছেন।

—

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

এটি পুনরায় সংকলন করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা একত্রিতভাবে লিপিবদ্ধ করা।

বলা হয়ে থাকে, তিনি সিদ্দিক—রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু—এর মতো; এই অর্থে যে, তাঁর জন্য সত্যায়নের সওয়াব এবং তাঁর পরবর্তী যারা সত্যায়ন করবে তাদের সওয়াবও রয়েছে; কারণ তিনি সত্যায়নের দ্বার উন্মোচন করেছেন। আর তাঁর কথা ‘তিনি একে সংকলন (দেওয়ানভুক্ত) করেছেন’ অর্থাৎ তিনি একে একটি দেওয়ান বানিয়েছেন। আর দেওয়ান—যা দাল বর্ণে জবর দিয়েও (দাওয়ান) পড়া যায়—হলো নথিপত্রের সমষ্টি এবং এমন একটি খাতা যাতে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও ভাতাভোগীদের নাম লেখা হয়। সর্বপ্রথম যিনি এটি প্রবর্তন করেন তিনি হলেন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

আর তাঁর কথা ‘এর বিধানাবলিকে শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত করেছেন’ অর্থাৎ ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ)-এর মূলনীতির মাধ্যমে সেগুলোকে সেগুলোর মূল উৎস হতে বের করেছেন।

 

(৩৭) এবং নিশ্চয়ই সম্মানিত মাশায়েখগণ: এটি ‘নিশ্চয়ই আমাদের সাথীবৃন্দ’ কথাটির ওপর সংযোজিত হয়েছে।

মাশায়েখ হলো শায়খ শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে শায়খ বলা হয় যার মধ্যে বার্ধক্য স্পষ্ট হয়েছে, অথবা যার বয়স পঞ্চাশ বা একাান্ন বছর থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত অথবা আশি বছর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর আরও কিছু বহুবচন রয়েছে যা কামুস অভিধানে বর্ণিত হয়েছে। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার ইলম বা জ্ঞানের গভীরতা রয়েছে, যদিও সে এই বয়সে না পৌঁছায়।

আর কিরাম হলো কারীম শব্দের বহুবচন, যার অর্থ ক্ষমাশীল বা উদার।

(৩৮) তাঁরা সংকলন করেছেন: তালিফ (সংকলন) হলো বহু বস্তুকে এমনভাবে একত্রিত করা যাতে তার ওপর একটি নাম প্রয়োগ করা যায়, চাই এর অংশগুলোর একে অপরের সাথে অগ্র-পশ্চাৎ হিসেবে কোনো সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক। সেই হিসেবে তালিফ (সংকলন) হলো তারতীব (বিন্যাস) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। এটি সাইয়্যেদ সানাদ উল্লেখ করেছেন।

কেউ কেউ বলেছেন, এটি তাসনিফ (শ্রেণিবিন্যাস) থেকেও অধিক ব্যাপক। তাসনিফ হলো প্রতিটি শ্রেণিকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করা। ইবনে আহমার বলেছেন:

হুলওয়ানের আঙ্গুর বাগানসমূহ এবং এর ডুমুর ও আঙ্গুরের শ্রেণিবিন্যাসকৃত ফসলের ওপর রহমত বর্ষিত হোক...

সুতরাং তালিফ যেহেতু নিছক একত্রিত করা, তাই এটি তাসনিফ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ তাসনিফ হলো প্রতিটি বিষয়কে পৃথক শ্রেণিভুক্ত করা। এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন, তালিফ-এর অর্থ কেবল অন্যের কথাকে একত্র করা ও মেলানো; আর তাসনিফ হলো অর্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশ করা এবং এমনভাবে অভিনব চিন্তা-ভাবনা উপস্থাপন করা যা আগে কেউ করেনি। আর মুয়াল্লিফ (সংকলক) তিনি যিনি অন্যের কথা একত্র করেন এবং নিজের পক্ষ থেকে কোনো নতুন অর্থ উদ্ভাবন না করে সামঞ্জস্য বিধানের মাধ্যমে তা জুড়ে দেন। কেউ কেউ বলেছেন, কোনো শাস্ত্রের প্রবর্তকের ক্ষেত্রে মুয়াল্লিফ অপেক্ষা ‘মুসান্নিফ’ (শ্রেণিবিন্যাসকারী) নাম ব্যবহার করা অধিক যুক্তযুক্ত, যদিও তাঁর ক্ষেত্রেও এটি (তালিফ) ব্যবহার করা সঠিক; কারণ সাধারণভাবে ইলম (জ্ঞান) উপলব্ধি অর্থে একটি জেনাস বা মূল প্রকার; আর এর অধীনে যা ধারণা বা ধ্রুব সত্যের অন্তর্ভুক্ত তা হলো প্রজাতি। শাস্ত্রের প্রবর্তক যখন তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে লক্ষ্য করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে তা কোনো একটি বিষয় বা বিষয়সমূহের বিশেষ দিকের জ্ঞান অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তিনি সেই বিশেষ দিক থেকে বিষয়টি আলোচনার জন্য শাস্ত্রটি প্রবর্তন করেন এবং জ্ঞানের সেই প্রজাতিকে একটি সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেন। ফলে তা একটি স্বতন্ত্র শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ কারণেই এর প্রবর্তককে বলা হয় যে তিনি জ্ঞানকে ‘তাসনিফ’ (শ্রেণিবদ্ধ) করেছেন, অর্থাৎ একে সুবিন্যস্ত শ্রেণিতে পরিণত করেছেন। তাই তিনি মুসান্নিফ নামের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩০)
مَا بَيْنَ مُخْتَصَرٍ وَمُطَوَّلٍ 40 - مِنْ مُتُونٍ وَشُرُوحٍ وَفَتَاوَى، 41 - وَاجْتَهَدُوا فِي الْمَذْهَبِ وَالْفَتْوَى وَحَرَّرُوا وَنَقَّحُوا، شَكَرَ اللَّهُ سَعْيَهُمْ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

مَا بَيْنَ مُخْتَصَرٍ وَمُطَوَّلٍ: أَيْ أَلَّفُوا تَأْلِيفًا مِنْهَا مُخْتَصَرٌ وَمِنْهَا مُطَوَّلٌ هَذَا هُوَ الْمُرَادُ مِنْ هَذِهِ الْعِبَارَةِ وَالْعِبَارَةُ لَا تُفِيدُهُ.

وَالْمُخْتَصَرُ اسْمُ مَفْعُولٍ مِنْ الِاخْتِصَارِ وَهُوَ تَقْلِيلُ اللَّفْظِ وَتَكْثِيرُ الْمَعْنَى.

وَالْمُطَوَّلُ اسْمُ مَفْعُولٍ مِنْ التَّطْوِيلِ وَهُوَ زِيَادَةُ اللَّفْظِ عَلَى مَا يُؤَدِّي أَصْلَ الْمُرَادِ مَعَ كَوْنِ الزَّائِدِ غَيْرَ مُتَعَيَّنٍ فَإِنْ تُعُيِّنَ فَهُوَ الْحَشْوُ وَيُوصَفُ الْكَلَامُ بِكَوْنِهِ طَوِيلًا عَرِيضًا عَلَى جِهَةِ الِاسْتِعَارَةِ لِمُشَابِهَتِهِ لِلْجِسْمِ فِي اتِّصَالِ الْأَجْزَاءِ وَتَوَالِيهَا فَطُولُهُ كَثْرَةُ أَلْفَاظِهِ لِكَثْرَةِ مَعَانِيهِ وَعَرْضُهُ كَثْرَةُ أَلْفَاظِهِ لِتَوْضِيحِ مَعَانِيهِ وَالْإِيجَازُ أَدَاءُ الْمَقْصُودِ بِأَقَلَّ مِنْ عِبَارَتِهِ الْمُتَعَارَفَةِ وَالْإِطْنَابُ أَدَاؤُهُ بِأَكْثَرَ مِنْهَا.

(40) مِنْ مُتُونٍ وَشُرُوحٍ وَفَتَاوَى: بَيَانٌ لِمَا.

(41) وَاجْتَهَدُوا فِي الْمَذْهَبِ وَالْفَتْوَى وَحَرَّرُوا وَنَقَّحُوا شَكَرَ اللَّهُ سَعْيَهُمْ: أَيْ فِي تَقْرِيرِ مَسَائِلِهِ وَتَحْرِيرِهَا وَالْمَذْهَبُ لُغَةً مَوْضِعُ الذَّهَابِ وَهُوَ الْمُرُورُ فَحَاصِلُهُ الطَّرِيقُ ثُمَّ نَقَلَ مِنْهُ إلَى الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الِاجْتِهَادِيَّةِ الَّتِي هِيَ طَرَائِقُ الْمُجْتَهِدِينَ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا بِأَقْدَامِ عُقُولِهِمْ الرَّاجِحَةُ لِتَحْصِيلِ الظَّنِّ بِهَا وَأَمَّا مَعْنَاهُ فِي الْعُرْفِ وَهُوَ مَا اُخْتُصَّ بِهِ الْمُجْتَهِدُ مِنْ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْفَرْعِيَّةِ الِاجْتِهَادِيَّةِ الْمُسْتَفَادَةِ مِنْ الْأَدِلَّةِ الظَّنِّيَّةِ وَهَذَا يَشْتَمِلُ جَمِيعَ مَذَاهِبِ الْمُجْتَهِدِينَ. وَالتَّعْرِيفُ الْخَاصُّ لِمَذْهَبِ إمَامِنَا هُوَ مَا اُخْتُصَّ بِهِ مِنْ تِلْكَ الْأَحْكَامِ وَعَرَّفَ بَعْضُهُمْ الْمَذْهَبَ بِأَنَّهُ الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ الْفَرْعِيَّةُ الِاجْتِهَادِيَّةُ وَأَسْبَابُهَا وَشُرُوطُهَا وَمَوَانِعُهَا وَالْحِجَجُ الْمُثْبِتَةُ لِلْأَسْبَابِ وَالشُّرُوطِ وَالْمَوَانِعِ.

وَاعْتُرِضَ عَلَيْهِ بِوَجْهَيْنِ الْأَوَّلُ أَنَّ نَفْسَ الْحُكْمِ الْمَذْكُورِ لَيْسَ بِمَذْهَبِ الْمُجْتَهِدِ وَإِنَّمَا مَذْهَبُهُ الْمَسَائِلُ الِاجْتِهَادِيَّةُ الَّتِي يَكُونُ ذَلِكَ الْحُكْمُ مِنْ جُمْلَةِ مَبَادِهَا التَّصَوُّرِيَّةِ.

الثَّانِي: أَنَّ الْبَحْثَ عَنْ السَّبَبِ وَالشَّرْطِ وَالْمَانِعِ وَالْحَجَّةِ لَيْسَ بِوَظِيفَةِ الْمُجْتَهِدِ أَصَالَةً وَإِنَّمَا وَظِيفَتُهُ قَصْدًا وَأَصَالَةً هُوَ الْبَحْثُ عَنْ الْأَحْكَامِ سَوَاءً كَانَتْ أَحْكَامَ الْأَدِلَّةِ وَالْأَسْبَابِ أَوْ الشُّرُوطِ أَوْ الْمَوَانِعِ وَالْمُرَادُ مِنْ الْأَحْكَامِ الْوُجُوبُ وَالنَّدْبُ وَالْحَلَالُ وَالْحَرَامُ وَالْكَرَاهِيَةُ.

وَالِاجْتِهَادُ لُغَةً تَحَمُّلُ الْمَشَقَّةِ فِي أَمْرٍ. وَاصْطِلَاحًا اسْتِفْرَاغُ الْفَقِيهِ الْوُسْعَ لِتَحْصِيلِ الظَّنِّ بِحُكْمٍ شَرْعِيٍّ.
সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতর মাঝে ৪০ - মূলপাঠ (মতন), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) ও ফতোয়াসমূহ হতে, ৪১ - এবং তারা মাযহাব ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন এবং (সেগুলোকে) সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিত করেছেন, আল্লাহ তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতর মাঝে: অর্থাৎ তারা এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যার কোনটি সংক্ষিপ্ত এবং কোনটি বিস্তারিত; এই বাক্যটি দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য, যদিও শাব্দিক বিন্যাস সরাসরি তা প্রকাশ করে না।

আর 'মুখতাসার' (সংক্ষিপ্ত) শব্দটি 'ইখতিসার' থেকে নির্গত ইসমে মাফউল, যার অর্থ হলো শব্দ কমিয়ে অর্থকে ব্যাপক করা।

আর 'মুতাউওয়াল' (বিস্তারিত) শব্দটি 'তাতউইল' থেকে নির্গত ইসমে মাফউল, যার অর্থ হলো মূল উদ্দেশ্য প্রকাশের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে শব্দ বৃদ্ধি করা, তবে সেই অতিরিক্ত অংশটি নির্দিষ্ট না হওয়া। যদি অতিরিক্ত অংশটি নির্দিষ্ট হয় (অপ্রয়োজনীয় হয়), তবে তাকে 'হাশউ' (অপ্রাসঙ্গিক সংযোজন) বলা হয়। কথাকে রূপকার্থে দীর্ঘ ও প্রশস্ত বলা হয়, কারণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরস্পর সংযোগ ও অনুক্রমের দিক থেকে এটি দেহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং দীর্ঘ হওয়ার অর্থ হলো ব্যাপক অর্থের কারণে শব্দের আধিক্য থাকা, আর প্রশস্ত হওয়ার অর্থ হলো অর্থকে স্পষ্ট করার জন্য শব্দের আধিক্য থাকা। আর 'ঈজায' (সংক্ষেপণ) হলো কোনো উদ্দেশ্যকে তার প্রচলিত অভিব্যক্তির চেয়ে কম শব্দে প্রকাশ করা এবং 'ইতনাব' (পল্লবিত করা) হলো তার চেয়ে বেশি শব্দে তা প্রকাশ করা।

(৪০) মূলপাঠ (মতন), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) ও ফতোয়াসমূহ হতে: এটি পূর্বোক্ত বিষয়ের বর্ণনা।

(৪১) এবং তারা মাযহাব ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন এবং (সেগুলোকে) সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিত করেছেন, আল্লাহ তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন: অর্থাৎ মাযহাবের মাসআলাগুলো প্রতিষ্ঠা ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে। 'মাযহাব' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গমনের স্থান তথা পথ। পরবর্তীতে এটি এমন ইজতিহাদভিত্তিক শরয়ি বিধানগুলোর ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে যা মুজতাহিদগণের পথস্বরূপ, যে পথে তারা তাদের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক পদচারণার মাধ্যমে প্রবল ধারণা লাভের জন্য চলেন। আর পারিভাষিক অর্থে এর অর্থ হলো: উপশাখা সংক্রান্ত ইজতিহাদভিত্তিক শরয়ি বিধানসমূহ যা মুজতাহিদগণের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং যা ধারণাপ্রসূত দলিলসমূহ থেকে আহরিত। এটি সকল মুজতাহিদের মাযহাবকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর আমাদের ইমামের মাযহাবের বিশেষ সংজ্ঞা হলো: ঐ সকল বিধান যা তাঁর সাথে সুনির্দিষ্ট। কেউ কেউ মাযহাবের সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন যে, এটি হলো উপশাখা সংক্রান্ত ইজতিহাদভিত্তিক শরয়ি বিধানসমূহ এবং সেগুলোর কারণ, শর্ত, প্রতিবন্ধক এবং ঐ সকল দলিল যা কারণ, শর্ত ও প্রতিবন্ধকসমূহকে প্রমাণ করে।

এর ওপর দুটি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমটি হলো: উল্লিখিত বিধানটি স্বয়ং মুজতাহিদের মাযহাব নয়, বরং তাঁর মাযহাব হলো সেই সকল ইজতিহাদি মাসআলা যেগুলোর ধারণাগত মূলভিত্তির অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বিধানটি।

দ্বিতীয়ত: কারণ, শর্ত, প্রতিবন্ধক ও দলিল নিয়ে গবেষণা করা মূলত মুজতাহিদের মৌলিক দায়িত্ব নয়। বরং তাঁর লক্ষ্য ও মৌলিক দায়িত্ব হলো বিধানাবলি সম্পর্কে গবেষণা করা, তা দলিলাদি ও কারণের বিধান হোক কিংবা শর্ত ও প্রতিবন্ধকের বিধান হোক। আর বিধানাবলি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হালাল, হারাম ও মাকরূহ হওয়া।

আভিধানিক অর্থে 'ইজতিহাদ' হলো কোনো কাজে কষ্ট স্বীকার করা। আর পারিভাষিক অর্থে তা হলো: কোনো শরয়ি বিধান সম্পর্কে প্রবল ধারণা লাভের জন্য ফকিহ বা ফিকহবিদের নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু ব্যয় করা।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩১)
إلَّا أَنِّي لَمْ أَرَ لَهُمْ كِتَابًا يَحْكِي كِتَابَ الشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ السُّبْكِيّ الشَّافِعِيّ مُشْتَمِلًا عَلَى فُنُونٍ فِي الْفِقْهِ، وَقَدْ كُنْت لَمَّا وَصَلْت فِي شَرْحِ الْكَنْزِ 43 - إلَى تَبْيِيضِ الْبَيْعِ الْفَاسِدِ، أَلَّفْت كِتَابًا مُخْتَصَرًا 44 - فِي الضَّوَابِطِ وَالِاسْتِثْنَاءَات مِنْهَا، 45 - سَمَّيْته بِالْفَوَائِدِ الزَّيْنِيَّةِ فِي الْفِقْهِ الْحَنَفِيَّةِ وَصَلَ إلَى خَمْسِمِائَةِ ضَابِطَةٍ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

إلَّا أَنِّي لَمْ أَرَ لَهُمْ كِتَابًا يَحْكِي كِتَابَ الشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ السُّبْكِيّ الشَّافِعِيِّ مُشْتَمِلًا عَلَى فُنُونٍ فِي الْفِقْهِ وَقَدْ كُنْت لَمَّا وَصَلْت فِي شَرْحِ الْكَنْزِ: اسْتِدْرَاكٌ مِنْ قَوْلِهِ قَدْ أَلَّفُوا.

وَقَوْلُهُ: يَحْكِي أَيْ يُشَابِهُ وَقَوْلُهُ يَشْتَمِلُ عَلَى فُنُونٍ فِي الْفِقْهِ مِنْ اشْتِمَالِ الْكُلِّ عَلَى أَجْزَائِهِ كَاشْتِمَالِ السَّكَنْجَبِينِ عَلَى الْخَلِّ وَالْعَسَلِ فَلَا يَلْزَمُ اتِّحَادُ الْمُشْتَمِلِ وَالْمُشْتَمَلِ عَلَيْهِ.

وَالِاشْتِمَالُ عَلَى الشَّيْءِ الْإِحَاطَةُ بِهِ وَالْفَرْقُ بَيْنَ الِاشْتِمَالِ وَالشُّمُولِ أَنَّ الشُّمُولَ يُوصَفُ بِهِ الْمَفْهُومُ الْكُلِّيُّ بِالنِّسْبَةِ إلَى جُزْئِيَّاتِهِ وَالِاشْتِمَالُ يُوصَفُ بِهِ الْكُلُّ بِالنِّسْبَةِ إلَى أَجْزَائِهِ كَذَا فِي حَوَاشِي الْمَوْلَى؛ زَادَهُ عَلَى صَدْرِ الشَّرِيعَةِ.

وَالْفُنُونُ جَمْعُ فَنٍّ وَهُوَ النَّوْعُ وَالضَّرْبُ مِنْ الشَّيْءِ يُجْمَعُ أَيْضًا عَلَى أَفْنَانٍ.

(43) إلَى تَبْيِيضِ الْبَيْعِ الْفَاسِدِ أَلَّفْت كِتَابًا مُخْتَصَرًا: التَّبْيِيضُ فِي اصْطِلَاحِ الْمُصَنِّفِينَ عِبَارَةٌ عَنْ كِتَابَةِ الشَّيْءِ عَلَى وَجْهِ الضَّبْطِ وَالتَّحْرِيرِ مِنْ غَيْرِ شَطْبٍ بَعْدَ كِتَابَتِهِ كَيْفَ مَا اتَّفَقَ.

(44) فِي الضَّوَابِطِ وَالِاسْتِثْنَاءَات مِنْهَا: الضَّوَابِطُ جَمْعُ ضَابِطَةٍ وَهُوَ عَلَى مَا سَيَذْكُرُهُ الْمُصَنِّفُ فِي دِيبَاجَةِ الْفَنِّ الثَّانِي مَا يَجْمَعُ فُرُوعًا مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ بِخِلَافِ الْقَاعِدَةِ وَهِيَ مَا يَجْمَعُهَا مِنْ أَبْوَابٍ شَتَّى، وَالِاسْتِثْنَاءَات جَمْعُ اسْتِثْنَاءٍ بِمَعْنَى الْمُسْتَثْنَى وَلِذَا جَمَعَهُ وَإِلَّا فَالْمَصْدَرُ لَا يُثْنَى وَلَا يُجْمَعُ إلَّا إذَا قُصِدَ بِهِ التَّنْوِيعُ أَوْ لَحِقَتْهُ تَاءُ الْوَحْدَةِ.

(45) سَمَّيْته بِالْفَوَائِدِ الزَّيْنِيَّةِ فِي الْفِقْهِ الْحَنَفِيَّةِ وَصَلَ إلَى خَمْسِمِائَةِ ضَابِطَةٍ: فِي الصِّحَاحِ سَمَّيْت فُلَانًا زَيْدًا وَسَمَّيْته بِزَيْدٍ بِمَعْنًى وَأَسْمَيْته مِثْلَهُ فَتَسَمَّى بِهِ وَتَقُولُ هُوَ سَمِيُّ فُلَانٍ إذَا وَافَقَ اسْمُهُ اسْمَهُ كَمَا تَقُولُ هُوَ كَنِيُّهُ (انْتَهَى) .

وَالِاسْمُ اللَّفْظُ الْمَوْضُوعُ
তবে আমি হানাফী আলেমদের এমন কোনো কিতাব দেখিনি যা শায়খ তাজউদ্দীন আল-সুবকী আল-শাফেয়ীর কিতাবের অনুরূপ এবং যা ফিকহ শাস্ত্রের নানাবিধ বিষয়ের ওপর সংকলিত। আমি যখন ‘কানয’ (কানযুদ্দাকায়িক)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ‘ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) বিক্রয়’ অধ্যায়টি চূড়ান্ত লিপি (তাবয়ীদ) করার পর্যায়ে পৌঁছলাম, তখন আমি বিধিবিধান ও তার ব্যতিক্রমী বিষয়াবলির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব রচনা করলাম। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-ফাওয়াইদ আল-যাইনিয়্যাহ ফিল ফিকহিল হানাফিয়্যাহ’, যা পাঁচশত বিধিবিধান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

—

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

তবে আমি তাদের এমন কোনো কিতাব দেখিনি যা শায়খ তাজউদ্দীন আল-সুবকী আল-শাফেয়ীর কিতাবের অনুরূপ এবং যা ফিকহ শাস্ত্রের নানাবিধ বিষয়ের ওপর সংকলিত। আর আমি যখন কানয-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে পৌঁছেছিলাম: এটি তার ‘তারা কিতাব রচনা করেছেন’ উক্তির একটি সংশোধনী বা অনুবৃত্তি।

এবং লেখকের কথা: ‘ইয়াহকী’ অর্থাৎ সাদৃশ্য রাখে। আর তার কথা: ‘ফিকহ শাস্ত্রের নানাবিধ বিষয়ের ওপর সংকলিত হওয়া’ হলো ‘পুরো বিষয় তার অংশসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার’ অন্তর্ভুক্ত, যেমন ‘সেকাঞ্জাবিন’ (সিরকা ও মধুর শরবত) সিরকা ও মধুকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে অন্তর্ভুক্তকারী এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের অভিন্ন হওয়া আবশ্যক নয়।

কোনো বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ হলো তাকে পরিবেষ্টন করা। আর ‘ইশতিমাল’ (অন্তর্ভুক্তকরণ) এবং ‘শুমুল’ (ব্যাপকতা)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—‘শুমুল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় কোনো সামষ্টিক ধারণার ক্ষেত্রে তার অন্তর্গত একক বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে। আর ‘ইশতিমাল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় কোনো পূর্ণাঙ্গ বস্তুর ক্ষেত্রে তার অংশগুলোর প্রেক্ষিতে। মাওলার টীকাগ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে; যা তিনি ‘সদরুশ শরীয়া’র ওপর সংযোজন করেছেন।

আর ‘ফুনুন’ শব্দটি ‘ফান’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো কোনো জিনিসের প্রকার বা ধরন। এর বহুবচন ‘আফনান’ হিসেবেও আসে।

(৪৩) ফাসিদ বিক্রয় অধ্যায়টির চূড়ান্ত লিপি (তাবয়ীদ) করার সময় পর্যন্ত আমি একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব রচনা করলাম: গ্রন্থকারদের পরিভাষায় ‘তাবয়ীদ’ বলতে বুঝায় কোনো কিছুকে সুশৃঙ্খল ও পরিমার্জিতভাবে লেখা, যাতে প্রাথমিক খসড়া রচনার পর কোনো প্রকার কাটাকাটি না থাকে।

(৪৪) বিধিবিধান (দওয়াবিত) এবং তার ব্যতিক্রমী বিষয়াবলির ওপর: ‘দওয়াবিত’ শব্দটি ‘দবিতা’র বহুবচন। লেখক কিতাবের দ্বিতীয় শিল্পের (ফন) ভূমিকায় যা উল্লেখ করবেন সেই অনুযায়ী—‘দবিতা’ হলো যা একটি মাত্র অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে একত্রিত করে। এটি ‘কায়েদা’ (নীতিমালা) থেকে ভিন্ন, কারণ কায়েদা বিভিন্ন অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে একত্রিত করে। আর ‘ইস্তিসনাআত’ (ব্যতিক্রমসমূহ) শব্দটি ‘ইস্তিসনা’ এর বহুবচন যা ‘মুসতাসনা’ (ব্যতিক্রমী বিষয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একারণেই একে বহুবচন করা হয়েছে; নতুবা ক্রিয়ামূলের (মাসদার) দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না, যদি না এর দ্বারা প্রকারভেদ বুঝানো হয় অথবা তাতে একত্বের ‘তা’ যুক্ত থাকে।

(45) আমি এর নাম রেখেছি ‘আল-ফাওয়াইদ আল-যাইনিয়্যাহ ফিল ফিকহিল হানাফিয়্যাহ’ যা পাঁচশত বিধিবিধান পর্যন্ত পৌঁছেছে: ‘সিহাহ’ অভিধানে রয়েছে, আমি অমুকের নাম ‘যায়েদ’ রেখেছি—এক্ষেত্রে ‘সাম্মাইতুহু যাইদান’ বা ‘সাম্মাইতুহু বি-যাইদিন’ উভয়ই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘আসাম্মাইতুহু’ শব্দটিও অনুরূপ। এভাবে সে এই নামে নামধারী হয়। যখন কারো নাম অন্য কারো নামের সাথে মিলে যায়, তখন বলা হয় সে অমুকের ‘সামিয়্যু’ বা সমনামধারী, যেমনটি বলা হয় ‘কানিয়্যু’ (একই উপনামধারী)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আর ‘ইসম’ (নাম) হলো সেই শব্দ যা কোনো সত্তার পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَأُلْهِمْت أَنْ أَصْنَعَ كِتَابًا عَلَى النَّمَطِ السَّابِقِ مُشْتَمِلًا عَلَى سَبْعَةِ فُنُونٍ. 47 - يَكُونُ هَذَا الْمُؤَلَّفُ النَّوْعُ الثَّانِي مِنْهَا: 48 - الْأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ الَّتِي تُرَدُّ إلَيْهَا وَفَرَّعُوا الْأَحْكَامَ عَلَيْهَا

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

عَلَى الْجَوْهَرِ وَالْعَرَضِ لِلتَّمْيِيزِ وَهَلْ أَسْمَاءُ الْكُتُبِ مِنْ قَبِيلِ عَلَمِ الْجِنْسِ أَوْ اسْمِ الْجِنْسِ؟ قِيلَ بِهَذَا وَقِيلَ بِهَذَا وَالتَّحْقِيقُ أَنَّهَا مِنْ قَبِيلِ عَلَمِ الْجِنْسِ كَمَا حَقَّقَهُ الدَّوَانِيُّ فِي شَرْحِ التَّهْذِيبِ وَأَمَّا مُسَمَّاهَا فَالْمُخْتَارُ.

أَنَّهَا الْأَلْفَاظُ مِنْ حَيْثُ دَلَالَتِهَا عَلَى الْمَعَانِي.

وَالزَّيْنِيَّةُ نِسْبَةٌ إلَى زَيْنِ الدِّينِ عَلَى مَا هُوَ الْأَصْلُ فِي النِّسْبَةِ إلَى صَدْرِ الْمُرَكَّبِ الْإِضَافِيِّ وَأَمَّا الْبَكْرِيُّ وَالزُّبَيْرِيُّ فِي النِّسْبَةِ إلَى أَبِي بَكْرٍ وَابْنِ الزُّبَيْرِ فَمُسْتَثْنَيَانِ مِنْ هَذَا الْأَصْلِ كَمَا تَقَرَّرَ فِي مَحِلِّهِ.

(46) فَأُلْهِمْت أَنْ أَضَعَ كِتَابًا عَلَى النَّمَطِ السَّابِقِ مُشْتَمِلًا عَلَى سَبْعَةِ فُنُونٍ: الْإِلْهَامُ تَلْقِينُ الْخَبَرِ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى لِعَبْدِهِ وَلَا يُرَدُّ عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} [الشمس: 8] لِأَنَّ الْإِلْهَامَ فِي الْآيَةِ بِمَعْنَى التَّعْلِيمِ وَالتَّبْيِينِ كَمَا فِي تَفْسِيرِ الْمُحَقِّقِ السَّيِّدِ مُعِينِ الدِّينِ الصَّفَوِيِّ وَالْمُرَادُ بِالْوَضْعِ التَّأْلِيفُ، وَالنَّمَطُ الطَّرِيقُ وَالنَّوْعُ وَالْمُرَادُ تَصْنِيفُ كِتَابٍ يَحْكِي كِتَابَ الشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ السُّبْكِيّ الشَّافِعِيِّ.

(47) يَكُونُ هَذَا الْمُؤَلَّفُ النَّوْعُ الثَّانِي مِنْهَا: أَيْ بِمَنْزِلَتِهِ لَا أَنْ يَكُونَ عَيْنَهُ فَإِنَّ فِيهِ فَوَائِدُ وَضَوَابِطُ لَمْ تُذْكَرْ فِي الْفَنِّ الثَّانِي.

وَفِي الْفَنِّ الثَّانِي فَوَائِدُ وَضَوَابِطُ لَمْ تُذْكَرْ فِيهِ وَحِينَئِذٍ لَا يُسْتَغْنَى بِأَحَدِهِمَا عَنْ الْآخَرِ كَمَا يَقْتَضِيهِ ظَاهِرُ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ.

(48) الْأَوَّلُ مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ الَّتِي تُرَدُّ إلَيْهَا وَفَرَّعُوا الْأَحْكَامَ عَلَيْهَا: أَيْ تُرَدُّ الْفُرُوعُ إلَيْهَا وَالْمُرَادُ بِرَدِّ الْفُرُوعِ إلَيْهَا اسْتِخْرَاجُهَا مِنْهَا وَطَرِيقُ الِاسْتِخْرَاجِ أَنْ تُضَمَّ كُبْرَى إلَى الصُّغْرَى سَهْلَةَ الْحُصُولِ كَأَنْ يُقَالَ مَثَلًا هَذَا الثَّوْبُ طَاهِرٌ يَقِينًا وَكُلُّ طَاهِرٍ يَقِينًا لَا تَزُولُ طَهَارَتُهُ بِالشَّكِّ.

يَنْتُجُ بَعْدَ إسْقَاطِ الْمُكَرَّرِ مِنْ الشَّكْلِ الْأَوَّلِ: هَذَا الثَّوْبُ لَا تَزُولُ طَهَارَتُهُ بِالشَّكْلِ.

وَبِهَذَا التَّقْرِيرُ يَظْهَرُ أَنْ لَا حَاجَةَ إلَى قَوْلِهِ: وَفَرَّعُوا الْأَحْكَامَ عَلَيْهَا.

وَالْمَعْرِفَةُ الْعِلْمُ وَقَدْ فَرَّقَ الْأَكْثَرُونَ بَيْنَهُمَا مِنْ وَجْهَيْنِ أَحَدُهُمَا أَنَّ الْعِلْمَ يَتَعَلَّقُ
আমি অনুপ্রাণিত হলাম পূর্ববর্তী পদ্ধতির আলোকে সাতটি শাস্ত্র সম্বলিত একটি কিতাব রচনা করতে। ৪৭ - এই সংকলনটি হবে এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার: ৪৮ - প্রথমটি: সেই মূলনীতিসমূহের পরিচিতি যেগুলোর দিকে (শাখা-প্রশাখাগুলো) প্রত্যাবর্তিত হয় এবং যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিধানসমূহ বের করেছেন।

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

পার্থক্য করার জন্য জাওহার (মৌলিক সত্তা) ও আরাদ (আকস্মিক গুণ)-এর ওপর। আর কিতাবসমূহের নাম কি আলম-এ-জিনস (শ্রেণিবাচক সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য) নাকি ইসম-এ-জিনস (শ্রেণিবাচক সাধারণ বিশেষ্য) পর্যায়ভুক্ত? কেউ কেউ এটি বলেছেন, আবার কেউ কেউ ওটি বলেছেন। তবে সঠিক গবেষণা হলো এগুলো আলম-এ-জিনস পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি দাওয়ানী 'শারহুত তাহজিব'-এ বিশ্লেষণ করেছেন। আর এর নামধারী (বিষয়বস্তু) সম্পর্কে পছন্দনীয় মত হলো।

যে এগুলো হলো সেই শব্দসমূহ যা অর্থের ওপর নির্দেশক হওয়ার দিক থেকে বিবেচিত।

আর 'জাইনিইয়্যাহ' সম্বন্ধ করা হয়েছে জাইনউদ্দিনের দিকে, যা সম্বন্ধযুক্ত পদের প্রথম অংশের দিকে সম্বন্ধ করার মূল নীতি অনুযায়ী। তবে আবু বকর ও ইবনুল জুবাইরের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে 'বাকরি' ও 'জুবাইরি' বলা এই মূল নীতির ব্যতিক্রম, যা স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

(46) আমি পূর্ববর্তী পদ্ধতির আলোকে সাতটি শাস্ত্র সম্বলিত একটি কিতাব রচনা করার অনুপ্রেরণা পেলাম: ইলহাম হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার অন্তরে কোনো সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। আর এর ওপর মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার ইলহাম (জ্ঞান) দান করেছেন" [শামস: ৮] দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না। কারণ এই আয়াতে ইলহাম অর্থ হলো শিক্ষা দান ও স্পষ্ট করা, যেমনটি গবেষক সাইয়্যেদ মুঈনুদ্দীন সাফাবীর তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে। আর এখানে 'ওয়াদ' (স্থাপন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গ্রন্থ রচনা করা। আর 'নামাত' অর্থ হলো পথ ও ধরন। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো শায়খ তাজউদ্দীন সুবকি শাফেয়ীর কিতাবের অনুরূপ একটি কিতাব রচনা করা।

(47) এই সংকলনটি হবে এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার: অর্থাৎ এর স্থলাভিষিক্ত, এমন নয় যে এটি হুবহু সেটিই। কারণ এতে এমন অনেক উপকারিতা ও মূলনীতি রয়েছে যা দ্বিতীয় শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

আবার দ্বিতীয় শাস্ত্রেও এমন অনেক উপকারিতা ও মূলনীতি রয়েছে যা এতে উল্লেখ করা হয়নি। এমতাবস্থায় একটির কারণে অন্যটি থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না, যেমনটি গ্রন্থকারের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয়।

(48) প্রথমটি হলো সেই মূলনীতিসমূহের পরিচিতি যেগুলোর দিকে (শাখা-প্রশাখাগুলো) প্রত্যাবর্তিত হয় এবং যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিধানসমূহ বের করেছেন: অর্থাৎ শাখা-প্রশাখাগুলো এগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। আর শাখা-প্রশাখাকে এগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো সেগুলো থেকে বিধান আহরণ করা। বিধান আহরণের পদ্ধতি হলো সহজে অর্জনযোগ্য একটি ক্ষুদ্রতর প্রস্তাবনার সাথে একটি বৃহত্তর প্রস্তাবনা যুক্ত করা। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা হলো: "এই কাপড়টি নিশ্চিতভাবে পবিত্র, আর নিশ্চিতভাবে পবিত্র প্রতিটি বস্তুর পবিত্রতা সন্দেহের কারণে দূর হয় না।"

প্রথম আকৃতি থেকে পুনরুক্ত অংশ বাদ দেওয়ার পর ফলাফল বের হবে: "সন্দেহের কারণে এই কাপড়টির পবিত্রতা দূর হবে না।"

এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর এই কথাটির—"এবং যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিধানসমূহ বের করেছেন"—কোনো প্রয়োজন ছিল না।

আর মা'রিফাত অর্থ হলো ইলম বা জ্ঞান। অধিকাংশ পণ্ডিত এই দুটির মধ্যে দুটি দিক থেকে পার্থক্য করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো ইলম সংশ্লিষ্ট হয়...
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

بِالنِّسَبِ أَيْ وُضِعَ لِنِسْبَةِ شَيْءٍ إلَى آخَرَ وَلِهَذَا يَتَعَدَّى إلَى الْمَفْعُولَيْنِ بِخِلَافِ " عَرَفَ " فَإِنَّهُ وُضِعَ لِلْمُفْرَدَاتِ تَقُولُ عَرَفْت زَيْدًا.

الثَّانِي أَنَّ الْعِلْمَ لَا يَسْتَدْعِي سَبْقَ جَهْلٍ بِخِلَافِ الْمَعْرِفَةِ وَلِهَذَا لَا يُقَالُ.

اللَّهُ تَعَالَى عَارِفٌ.

وَيُقَالُ لَهُ عَالَمٌ وَقَدْ نَصَّ جَمَاعَةٌ مِنْ الْأُصُولِيِّينَ أَيْضًا وَمِنْهُمْ الْآمِدِيُّ فِي إبْكَارِ الْأَفْكَارِ عَلَى نَحْوِهِ فَقَالَ إنَّ الْمَعْرِفَةَ لَا تُطْلَقُ عَلَى الْعِلْمِ الْقَدِيمِ.

قَالَ الْعَلَّامَةُ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِمَادٍ الْأَفْقَهِيِّ فِي حَوَاشِيهِ عَلَى شَرْحِ مِنْهَاجِ الْبَيْضَاوِيِّ لِلْعَلَّامَةِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْإِسْنَوِيِّ: فِي كَلَامِ الْفَرِيقَيْنِ نَظَرٌ أَمَّا الْأَوَّلُ فَلِأَنَّهُمْ قَسَّمُوا الْعِلْمَ إلَى مُفْرَدٍ وَإِلَى مُرَكَّبٍ وَلِهَذَا قَالَ ابْنُ الْحَاجِبِ فِي مُخْتَصَرِهِ وَالْعِلْمُ ضَرْبَانِ عِلْمٌ بِمُفْرَدٍ ثُمَّ قَالَ وَعِلْمٌ بِمَرْكَبٍ وَأَمَّا الْفَرْقُ الثَّانِي فَلِأَنَّ أَسْمَاءَ اللَّهِ تَعَالَى تَوْقِيفِيَّةٌ فَلَا يَصِحُّ إطْلَاقُ غَيْرَ الْمَأْذُونِ فِيهِ عَلَيْهِ وَقَدْ رَدَّهُ " تَعَرَّفْ إلَى اللَّهِ فِي الرَّخَا يَعْرِفْك فِي الشِّدَّةِ " وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ فِي تَفْسِيرِ قَوْله تَعَالَى {وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ} [البقرة: 65] إنَّ عَلِمْتُمْ بِمَعْنَى عَرَفْتُمْ أَعْيَانَهُمْ وَقِيلَ عَلِمْتُمْ أَحْكَامَهُمْ وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا أَنَّ الْمَعْرِفَةَ مُتَوَجِّهَةٌ إلَى ذَاتِ الشَّيْءِ وَالْعِلْمُ مُتَوَجِّهٌ إلَى أَحْوَالِ الشَّيْءِ فَإِذَا قُلْت عَرَفْت زَيْدًا فَالْمُرَادُ شَخْصُهُ وَإِذَا قُلْت عَلِمْت زَيْدًا فَالْمُرَادُ الْعِلْمُ بِأَحْوَالِهِ مِنْ فَضْلٍ وَنَقْصٍ فَعَلَى الْأَوَّلِ يَتَعَدَّى الْفِعْلُ إلَى مَفْعُولٍ وَاحِدٍ وَهُوَ قَوْلُ سِيبَوَيْهِ عَلِمْتُمْ بِمَعْنَى عَرَفْتُمْ وَعَلَى الثَّانِي إلَى مَفْعُولَيْنِ.

وَحَكَى الْأَخْفَشُ وَلَقَدْ عَلِمْت زَيْدًا وَلَمْ يَكُنْ أَعْلَمُهُ.

وَفِي التَّنْزِيلِ {لا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ} [الأنفال: 60] كُلُّ هَذَا بِمَعْنَى الْمَعْرِفَةِ فَاعْلَمْهُ.

انْتَهَى كَلَامُ الْقُرْطُبِيِّ.

قَالَ الْعَلَّامَةُ ابْنُ الْعِمَادِ فَظَهَرَ بِذَلِكَ أَنَّ الْمَعْرِفَةَ أَيْضًا تَسْتَدْعِي سَبْقَ عِلْمٍ وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ «أَنَّ مَلَكًا يَأْتِي النَّاسَ وَهُمْ فِي الْمَوْقِفِ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ نَعُوذُ بِاَللَّهِ مِنْك لَسْت رَبَّنَا وَنَحْنُ فِي مَكَانِنَا هَذَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا فَإِذَا أَتَانَا رَبُّنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيَهُمْ اللَّهُ فِي الصُّورَةِ الَّتِي يَعْرِفُونَ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ أَنْتَ رَبُّنَا وَيَقَعُوا سَاجِدِينَ» فَلَوْلَا تَقَدَّمَ عِلْمٌ لَهُمْ لَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم «فَيَأْتِيَهُمْ اللَّهُ فِي الصُّورَةِ الَّتِي يَعْرِفُونَ» ثُمَّ يُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَ مَعْرِفَتُهُمْ لَهُ أَنَّهُمْ عَرَفُوهُ بِأَوْصَافِهِ وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُمْ رَأَوْهُ قَبْلَ ذَلِكَ إمَّا فِي الْبَرْزَخِ وَإِمَّا عِنْدَ الْمَوْتِ لِمَا وَرَدَ فِي الْحَدِيثِ «إنَّكُمْ لَنْ تَرَوْا رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا» وَقَالَ تَعَالَى {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} [الحجرات: 13] فَلَوْلَا تَقَدَّمَ عِلْمٌ لَمَا تَعَارَفُوا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসাইর]

সম্বন্ধের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ এটি একটি বস্তুকে অন্যটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কারণেই এটি (ইলম) দুটি কর্মের (মাফউল) দিকে ধাবিত হয়; পক্ষান্তরে "আরাফা" (চেনা) এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি একক বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন তুমি বল— আমি জায়েদকে চিনেছি।

দ্বিতীয়ত, ইলম বা জ্ঞানের জন্য পূর্বে অজ্ঞতা থাকা আবশ্যক নয়, কিন্তু মারিফাত বা পরিচয়ের বিষয়টি ভিন্ন। এ কারণেই বলা হয় না যে—

আল্লাহ তাআলা হলেন আরিফ (পরিজ্ঞাতা)।

বরং তাঁকে আলিম (সর্বজ্ঞ) বলা হয়। মূলনীতি বিশারদগণের একটি দলও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আল-আমিদি তার "ইবকারুল আফকার" গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে, মারিফাত শব্দটি অনাদি জ্ঞানের (ইলমে কাদিম) ওপর প্রয়োগ করা যায় না।

আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইমাদ আল-আফকাহি, আল্লামা আবদুর রহিম আল-ইসনাউয়ির "শারহু মিনহাজিল বায়দাওয়ি" এর ওপর তাঁর টীকায় বলেন: উভয় দলের বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা ইলমকে একক ও যৌগিক দুই ভাগে ভাগ করেছেন। এজন্যই ইবনুল হাজিব তাঁর "মুখতাসার" গ্রন্থে বলেছেন— ইলম দুই প্রকার: একক বিষয়ের জ্ঞান, এরপর তিনি বলেন— এবং যৌগিক বিষয়ের জ্ঞান। আর দ্বিতীয় পার্থক্যের ক্ষেত্রে কথা হলো, আল্লাহ তাআলার নামসমূহ শারঈ বিধিবদ্ধতার (তাওকিফিয়্যাহ) ওপর নির্ভরশীল, সুতরাং যে নামের অনুমতি দেওয়া হয়নি তা তাঁর ওপর প্রয়োগ করা সঠিক নয়। তবে এই মতটি এই হাদীস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে— "তুমি স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহকে চেনো, তিনি তোমাকে বিপদের সময় চিনবেন।" ইমাম কুরতুবি আল্লাহ তাআলার বাণী— "আর তোমরা তো তাদের কথা জানো যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছিল" [বাকারা: ৬৫]-এর তাফসীরে বলেন যে, এখানে "আলিমতুম" (তোমরা জেনেছ) অর্থ হলো "আরাফতুম" (তোমরা তাদের চিনেছ), অর্থাৎ তাদের ব্যক্তিদের চিনেছ। আবার বলা হয়েছে, তোমরা তাদের বিধানসমূহ জেনেছ। এ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো— মারিফাত বস্তুর সত্তার দিকে নিবদ্ধ হয়, আর ইলম বস্তুর অবস্থার দিকে নিবদ্ধ হয়। সুতরাং তুমি যখন বল "আমি জায়েদকে চিনেছি", তখন তার সত্তা উদ্দেশ্য হয়। আর যখন বল "আমি জায়েদকে জেনেছি", তখন তার গুণাবলি তথা শ্রেষ্ঠত্ব বা ত্রুটি সম্পর্কে জানা উদ্দেশ্য হয়। প্রথম মতানুসারে ক্রিয়াটি একটি কর্ম গ্রহণ করে, যা সিবওয়াইহ-এর অভিমত যে "আলিমতুম" এখানে "আরাফতুম" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর দ্বিতীয় মতানুসারে এটি দুটি কর্ম গ্রহণ করে।

আল-আখফাশ বর্ণনা করেন যে— আমি জায়েদকে জেনেছি অথচ আমি তাকে আগে চিনতাম না।

কুরআনে এসেছে— "তোমরা তাদের জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন" [আনফাল: ৬০]। এ সবই মারিফাত বা চেনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সুতরাং এটি জেনে রেখো।

কুরতুবির বক্তব্য এখানেই শেষ।

আল্লামা ইবনুল ইমাদ বলেন, এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে মারিফাতও পূর্ববর্তী জ্ঞানের দাবি রাখে। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে— "একজন ফেরেশতা হাশরের ময়দানে মানুষের কাছে আসবেন এমতাবস্থায় যে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আমরা তোমার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই, তুমি আমাদের রব নও। আমরা আমাদের এই স্থানেই থাকব যতক্ষণ না আমাদের রব আমাদের কাছে আসেন। যখন আমাদের রব আমাদের কাছে আসবেন, তখন আমরা তাঁকে চিনে নেব। অতঃপর আল্লাহ তাদের কাছে সেই আকৃতিতে আসবেন যা তারা চিনে, এরপর তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে: আপনিই আমাদের রব এবং তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে।" তাদের যদি পূর্বজ্ঞান না থাকত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলতেন না যে— "অতঃপর আল্লাহ তাদের কাছে সেই আকৃতিতে আসবেন যা তারা চিনে।" অধিকন্তু এমন সম্ভাবনাও আছে যে, তাদের এই চেনাটা ছিল তাঁর গুণাবলির মাধ্যমে চেনা। আবার এমন সম্ভাবনাও আছে যে, তারা তাকে এর আগেই দেখেছিল— হয় বরজখের জীবনে অথবা মৃত্যুর সময়, যেমনটি হাদীসে এসেছে— "তোমরা মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত তোমাদের রবকে দেখতে পাবে না।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন— "আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো" [হুজুরাত: ১৩]। যদি পূর্বজ্ঞান না থাকত, তবে তারা একে অপরকে চিনতে পারত না।
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَهِيَ أُصُولُ الْفِقْهِ فِي الْحَقِيقَةِ، 50 - وَبِهَا يَرْتَقِي الْفَقِيهُ إلَى دَرَجَةِ الِاجْتِهَادِ وَلَوْ فِي الْفَتْوَى، 51 - وَأَكْثَرُ فُرُوعِهَا ظَفِرْت بِهِ فِي كُتُبٍ غَرِيبَةٍ أَوْ عَثَرْت بِهِ فِي غَيْرِ مَظِنَّةٍ 52 - إلَّا أَنِّي بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ لَا أَنْقُلُ إلَّا الصَّحِيحَ الْمُعْتَمَدَ فِي

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

فَطَاحَ قَوْلُ مَنْ قَالَ إنَّ الْمَعْرِفَةَ تَسْتَدْعِي سَبْقَ الْجَهْلِ بِخِلَافِ الْعِلْمِ بَلْ الْأَمْرُ بِالْعَكْسِ (انْتَهَى) .

فَلْيُحْفَظْ.

(49) وَهِيَ أُصُولُ الْفِقْهِ فِي الْحَقِيقَةِ: أَيْ كَأُصُولِ الْفِقْهِ وَإِلَّا فَلَيْسَتْ أُصُولٌ لِفِقْهٍ؛ فَضْلًا عَنْ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ عَلَى سَبِيلِ الْحَقِيقَةِ فَتَأَمَّلْ.

(50) وَبِهَا يَرْتَقِي الْفَقِيهُ إلَى دَرَجَةِ الِاجْتِهَادِ وَلَوْ فِي الْفَتْوَى: عَطْفٌ عَلَى قَوْلِهِ هِيَ أُصُولُ الْفِقْهِ.

وَقَوْلُهُ بِهَا مُتَعَلِّقُ يَرْتَقِي.

قُدِّمَ لِإِفَادَةِ الْحَصْرِ وَالْمُرَادُ أَنَّهُ بِمُزَاوَلَةِ التَّخْرِيجِ عَلَى تِلْكَ الْقَوَاعِدِ يَبْلُغُ الْفَقِيهُ دَرَجَةَ الِاجْتِهَادِ وَالْمُرَادُ بِالْفَقِيهِ الْمُقَلِّدُ فِي الْفِقْهِ وَالدَّرَجَةُ الْمَرْقَاةُ وَالْمُرَادُ بِهَا هُنَا الْمَرْتَبَةُ وَالِاجْتِهَادُ عِبَارَةٌ عَنْ الْمَلَكَةِ الَّتِي تَحْصُلُ لِلْإِنْسَانِ يَقْتَدِرُ بِهَا عَلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ وَقَوْلُهُ وَلَوْ فِي الْفَتْوَى أَيْ وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ الِاجْتِهَادُ الْحَاصِلُ مِنْ مُزَاوَلَةِ الْقَوَاعِدِ كَائِنًا فِي الْفَتْوَى وَمُجْتَهِدُ الْفَتْوَى هُوَ الَّذِي يَقْدِرُ عَلَى اسْتِخْرَاجِ أَحْكَامِ الْحَوَادِثِ الَّتِي لَمْ يَنُصَّ عَلَيْهَا الْإِمَامُ وَلَا أَصْحَابُهُ مِنْ قَوَاعِدِهِمْ وَأُصُولِهِمْ كَنُصَيْرِ بْنِ يَحْيَى وَالْفَقِيهِ أَبِي اللَّيْثِ وَمُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ وَغَيْرِهِمْ.

(51) وَأَكْثَرُ فُرُوعِهَا ظَفِرْتُ بِهِ فِي كُتُبٍ غَرِيبَةٍ: الظَّفَرُ هُوَ الْفَوْزُ بِالْمَطْلُوبِ وَالْمُرَادُ الْغَرِيبَةُ بِالنِّسْبَةِ إلَى بَعْضِ النَّاسِ، لِعَدَمِ عِنَايَتِهِ بِتَحْصِيلِ تِلْكَ الْكُتُبِ، لَا مُطْلَقًا، وَإِلَّا فَقَدْ صَرَّحَ هُوَ فِي بَعْضِ رَسَائِلِهِ بِأَنَّهُ لَا يَجُوزُ النَّقْلُ مِنْ الْكُتُبِ الْغَرِيبَةِ الَّتِي لَمْ تَشْتَهِرْ - أَوْ عَثَرْت بِهِ فِي غَيْرِ مَظِنَّةٍ - عَثَرَ كَنَصَرَ مِنْ الْعُثُورِ وَهُوَ الِاطِّلَاعُ عَلَى الشَّيْءِ وَيَتَعَدَّى بِعَلَى لَا بِالْبَاءِ إلَّا أَنَّهُ هُنَا ضُمِّنَ مَعْنَى الظَّفَرِ وَحِينَئِذٍ يُشَكَّلُ عَطْفُهُ عَلَى الظَّفَرِ بِأَوْ، وَالْمَظِنَّةُ بِكَسْرِ الظَّاءِ الْمُعْجَمَةِ مَوْضِعُ الشَّيْءِ وَمَعْدِنُهُ، مَفْعِلَةٌ مِنْ الظَّنِّ بِمَعْنَى الْعِلْمِ وَكَانَ الْقِيَاسُ فَتْحَ الظَّاءِ وَإِنَّمَا كُسِرَ لِأَجْلِ الْهَاءِ، كَذَا ذَكَرَهُ الْإِمَامُ ابْنُ هِشَامٍ اللَّخْمِيُّ فِي شَرْحِ شَوَاهِدِ كِتَابِ الْجُمَلِ.

وَفِي التَّعْلِيلِ الْمَذْكُورِ نَظَرٌ فَلْيُتَأَمَّلْ فِيهِ.

(52) إلَّا أَنِّي بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ لَا أَنْقُلُ إلَّا الصَّحِيحَ الْمُعْتَمَدَ فِي الْمَذْهَبِ وَإِنْ كَانَ
আর এগুলো প্রকৃতপক্ষে উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি); ৫০ - এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, এমনকি তা যদি কেবল ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেও হয়; ৫১ - এর অধিকাংশ শাখা-প্রশাখা আমি দুর্লভ কিতাবসমূহে লাভ করেছি অথবা এমন স্থানে খুঁজে পেয়েছি যেখানে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না; ৫২ - তবে আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে কেবল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য সহিহ মতটিই উদ্ধৃত করি, যদিও তা

—

‌‌[গামজু উয়ুনিল বাসাইর]

ফলে সেই ব্যক্তির কথা বাতিল হয়ে গেল যে বলেছিল যে, 'মা'রিফাত' (পরিচয়) অর্জনের আগে অজ্ঞতা থাকা আবশ্যক, যা 'ইলম' (জ্ঞান) এর বিপরীত; বরং বিষয়টি এর উল্টো। (সমাপ্ত)। এটি মুখস্থ রাখা উচিত।

(৪৯) আর এগুলো প্রকৃতপক্ষে উসুলুল ফিকহ: অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ সদৃশ। অন্যথায় এগুলো ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (উসুল) নয়; একে বাস্তব বা প্রকৃত অর্থে উসুল বলা তো দূরের কথা। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।

(৫০) এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, এমনকি তা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেও হয়: এটি তাঁর পূর্বোক্ত কথা "এগুলো উসুলুল ফিকহ"-এর ওপর সংযোজিত (আতাফ)।

আর তাঁর "এর মাধ্যমে" কথাটি "উন্নীত হওয়া"-র সাথে সংশ্লিষ্ট।

এটি সীমাবদ্ধতা (হাসর) বোঝানোর জন্য আগে আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো—এই মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবনের (তাখরিজ) চর্চার মাধ্যমে ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছান। আর এখানে 'ফকিহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফিকহশাস্ত্রে মুকাল্লিদ (অনুসারী)। 'দরাজাহ' বা স্তর বলতে ধাপ বোঝানো হয়েছে, যার দ্বারা এখানে 'মর্যাদা' উদ্দেশ্য। আর 'ইজতিহাদ' হলো এমন এক সক্ষমতা (মালাকাহ) যা মানুষের অর্জিত হয় এবং যার মাধ্যমে সে শরয়ি বিধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়। আর তাঁর কথা "এমনকি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেও"—এর অর্থ হলো, এই মূলনীতিসমূহের চর্চার মাধ্যমে অর্জিত ইজতিহাদ যদি কেবল ফতোয়া প্রদানের স্তরেও হয়। ফতোয়ার মুজতাহিদ (মুজতাহিদ ফিল ফাতওয়া) হলেন তিনি, যিনি এমন সব নতুন উদ্ভূত সমস্যার (হাওয়াদিস) বিধান বের করতে সক্ষম হন যে ব্যাপারে ইমাম বা তাঁর সঙ্গীদের থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, তবে তিনি তা তাঁদের মূলনীতি ও উসুলের আলোকে উদ্ভাবন করেন। যেমন নুসায়ের বিন ইয়াহইয়া, ফকিহ আবু লাইস, মুহাম্মদ বিন ফজল এবং তাঁদের মতো অন্যান্যগণ।

(৫১) এর অধিকাংশ শাখা-প্রশাখা আমি দুর্লভ কিতাবসমূহে লাভ করেছি: 'জাফর' (লাভ করা) অর্থ হলো উদ্দিষ্ট বস্তুটি অর্জন করা। আর 'দুর্লভ' (গারিবাহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিছু মানুষের সাপেক্ষে দুর্লভ হওয়া, কারণ সেই কিতাবগুলো সংগ্রহের ব্যাপারে তাদের গুরুত্ব ছিল না; এটি পরমভাবে (মুতলাক) দুর্লভ নয়। অন্যথায়, গ্রন্থকার নিজেই তাঁর কিছু রিসালায় স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এমন দুর্লভ কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া জায়েজ নয় যা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। —অথবা এমন স্থানে খুঁজে পেয়েছি যেখানে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না— 'আছারা' শব্দটি 'নাসারা' এর ওজনে, যার অর্থ কোনো বিষয়ে অবগত হওয়া। এটি সাধারণত 'আলা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, 'বা' যোগে নয়; তবে এখানে একে 'জাফর' বা লাভ করার অর্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন অবস্থায় 'আও' (অথবা) অব্যয় দিয়ে একে 'জাফর' শব্দের ওপর সংযোজিত করা কিছুটা জটিলতাপূর্ণ। আর 'মাজিননাহ' (ظ দিয়ে) অর্থ হলো কোনো জিনিসের প্রাপ্তিস্থান বা উৎস। এটি 'জান্ন' (ধারণা) থেকে উৎপন্ন যা 'ইলম' (জ্ঞান) অর্থে ব্যবহৃত। ব্যাকরণ অনুযায়ী 'জা' (ظ) অক্ষরে জবর হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু 'হা' (ة) অক্ষরের কারণে এটি যের যুক্ত হয়েছে। ইমাম ইবন হিশাম আল-লাখমি 'শারহু শওয়াহিদি কিতাবিল জুমাল'-এ এমনই উল্লেখ করেছেন।

তবে উক্ত যুক্তির পেছনে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, তাই এটি নিয়ে চিন্তা করা উচিত।

(৫২) তবে আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে কেবল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য সহিহ মতটিই উদ্ধৃত করি, যদিও তা
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْمَذْهَبِ، وَإِنْ كَانَ مُفَرَّعًا عَلَى قَوْلٍ ضَعِيفٍ أَوْ رِوَايَةٍ ضَعِيفَةٍ نَبَّهْت عَلَى ذَلِكَ غَالِبًا. 53 -

وَحُكِيَ أَنَّ الْإِمَامَ أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ جَمَعَ قَوَاعِدَ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله سَبْعَ عَشْرَةَ قَاعِدَةً 54 - وَرَدَّهُ إلَيْهَا. 55 -

وَلَهُ حِكَايَةٌ مَعَ أَبِي سَعِيدٍ الْهَرَوِيِّ الشَّافِعِيِّ رحمه الله، فَإِنَّهُ لَمَّا بَلَغَهُ ذَلِكَ سَافَرَ إلَيْهِ وَكَانَ أَبُو طَاهِرٍ ضَرِيرًا، يُكَرِّرُ كُلَّ لَيْلَةٍ تِلْكَ الْقَوَاعِدِ بِمَسْجِدِهِ بَعْدَ أَنْ يَخْرُجَ النَّاسُ مِنْهُ، فَالْتَفَّ الْهَرَوِيُّ بِحَصِيرٍ وَخَرَجَ النَّاسُ وَأَغْلَقَ أَبُو طَاهِرٍ بَابَ الْمَسْجِدِ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

مُفَرَّعًا عَلَى قَوْلٍ ضَعِيفٍ أَوْ رِوَايَةٍ ضَعِيفَةٍ نَبَّهْت عَلَى ذَلِكَ غَالِبًا: اسْتِدْرَاكٌ مِنْ قَوْلِهِ ظَفِرْت إلَى آخِرِهِ وَذَلِكَ لِأَنَّ مَا فِي غَيْرِ الْمَظِنَّةِ وَالْكُتُبِ الْغَرِيبَةِ يُتَوَهَّمُ أَنْ يَكُونَ ضَعِيفًا فَرُفِعَ هَذَا التَّوَهُّمُ بِالِاسْتِدْرَاكِ.

وَالْحَوْلُ الْقُدْرَةُ عَلَى التَّصَرُّفِ وَالتَّنْبِيهُ كَمَا قَالَ ابْنُ الْكَمَالِ إعْلَامُ مَا فِي ضَمِيرِ الْمُتَكَلِّمِ لِلْمُخَاطِبِ وَفِي الصِّحَاحِ نَبَّهْت عَلَى الشَّيْءِ وَقَّفْته عَلَيْهِ فَتَنَبَّهَ هُوَ عَلَيْهِ وَقَوْلُهُ غَالِبًا قَيْدٌ فِي التَّنْبِيهِ وَهُوَ مَنْصُوبٌ عَلَى نَزْعِ الْخَافِضِ أَيْ بِالْفِعْلِ بِسَبَبِ إسْقَاطِ الْخَافِضِ لَا أَنَّ نَزْعَ الْخَافِضِ عَامِلٌ كَمَا حَقَّقَهُ الرَّضِيُّ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ صِفَةَ مَصْدَرٍ مَحْذُوفٍ كَمَا ذَكَرَهُ الْعَلَّامَةُ الشِّيرَازِيُّ فِي شَرْحِ الْعَضُدِيِّ وَهُوَ أَوْلَى.

(53) وَحُكِيَ أَنَّ الْإِمَامَ أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ جَمَعَ قَوَاعِدَ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله سَبْعَ عَشْرَةَ قَاعِدَةً: هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ مَنْسُوبٌ إلَى الدَّبْسِ الْمَأْكُولِ وَمِنْ الْمَنْسُوبِ إلَيْهِ:

وَإِذَا طَلَبْت الْعِلْمَ فَاعْلَمْ أَنَّهُ … حِمْلٌ فَأَبْصِرْ أَيَّ شَيْءٍ تَحْمِلُ

وَإِذَا عَلِمْت بِأَنَّهُ مُتَفَاضِلٌ … فَاشْغَلْ فُؤَادَك بِاَلَّذِي هُوَ أَفْضَلُ

(54) وَرَدَّهُ إلَيْهَا: يَعْنِي بِتَعَسُّفٍ وَتَكَلُّفٍ وَقَوْلٍ جُمَلِيٍّ.

وَأَمَّا رَدَّهُ عَلَى سَبِيلِ الْوُضُوحِ فَيَرْبُو عَلَى الْخَمْسِينَ بَلْ الْمِائَتَيْنِ كَذَا قَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ.

(55) وَلَهُ حِكَايَةٌ مَعَ أَبِي سَعِيدٍ الْهَرَوِيِّ الشَّافِعِيِّ رحمه الله فَإِنَّهُ لَمَّا بَلَغَهُ ذَلِكَ سَافَرَ إلَيْهِ وَكَانَ أَبُو طَاهِرٍ ضَرِيرًا يُكَرِّرُ كُلَّ لَيْلَةٍ تِلْكَ الْقَوَاعِدَ بِمَسْجِدِهِ بَعْدَ أَنْ يَخْرُجَ النَّاسُ مِنْهُ فَالْتَفَّ الْهَرَوِيُّ بِحَصِيرَةٍ وَخَرَجَ النَّاسُ وَأَغْلَقَ أَبُو طَاهِرٍ بَابَ الْمَسْجِدِ: الْمَقْصُودُ مِنْ
মাযহাবের, আর যদি তা কোনো দুর্বল মত বা দুর্বল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে আমি সাধারণত সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। ৫৩ -

বর্ণিত আছে যে, ইমাম আবু তাহের আদ-দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযহাবের মূলনীতিসমূহকে সতেরটি মূলনীতিতে সংকলন করেছেন ৫৪ - এবং একে সেগুলোর দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছেন। ৫৫ -

আবু সাঈদ আল-হারাউয়ি আশ-শাফিয়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে তাঁর একটি ঘটনা রয়েছে। যখন তিনি এই খবর পেলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে সফর করলেন। আবু তাহের অন্ধ ছিলেন, তিনি প্রতি রাতে মানুষ মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সেখানে সেই মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। তখন আল-হারাউয়ি একটি চাটাই জড়িয়ে লুকিয়ে থাকলেন, আর মানুষ বেরিয়ে গেলে আবু তাহের মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলেন।

—

‌‌[গামযু উয়ুনিল বাসাইর]

"কোনো দুর্বল মত বা দুর্বল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে আমি সাধারণত সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি": এটি তাঁর "আমি লাভ করেছি" (জাফিরতু) কথাটি থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের একটি অনুবৃত্তি (ইস্তিদরাক)। এটি এজন্য যে, অপ্রধান উৎস বা অপরিচিত গ্রন্থসমূহে যা পাওয়া যায়, তা দুর্বল বলে ভ্রম হতে পারে; তাই এই অনুবৃত্তির মাধ্যমে সেই ভ্রম দূর করা হয়েছে।

'হাওল' হলো পরিচালনার ক্ষমতা। আর 'তানবিহ' (সতর্ক করা) হলো, যেমনটি ইবনে কামাল বলেছেন, বক্তার মনে যা আছে তা শ্রোতাকে জানানো। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে আছে: 'আমি তাকে কোনো বিষয়ের ওপর সতর্ক করেছি' অর্থাৎ আমি তাকে সেটি অবহিত করেছি, ফলে সে সে সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। আর তাঁর 'সাধারণত' (গালিবান) কথাটি সতর্ক করার ক্ষেত্রে একটি শর্ত; এটি 'নাযউল খাফিদ' (অব্যয় বিলুপ্তি) হিসেবে মানসুব (জবরযুক্ত), অর্থাৎ অব্যয় ফেলে দেওয়ার কারণে কর্মবাচক হয়েছে; এমন নয় যে অব্যয় বিলুপ্তি নিজেই আমলকারী, যেমনটি ইমাম রাজি সুনিশ্চিত করেছেন। আর এটি উহ্য কোনো মাসদারের (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য) বিশেষণ হওয়াও সম্ভব, যেমনটি আল্লামা শিরাজি 'শারহুল আদুদি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এটিই অধিকতর উত্তম।

(৫৩) বর্ণিত আছে যে, ইমাম আবু তাহের আদ-দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযহাবের মূলনীতিসমূহকে সতেরটি মূলনীতিতে সংকলন করেছেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, তাঁর উপাধি খাদ্যযোগ্য 'দাবস' (খেজুরের রস) থেকে এসেছে। তাঁর প্রতি আরোপিত কবিতার অংশ বিশেষ:

আর যখন তুমি জ্ঞান অন্বেষণ করবে, তখন জেনে রেখো তা … একটি বোঝা, তাই ভেবে দেখো তুমি কী বহন করছো

আর যখন জানলে যে জ্ঞানের স্তরে স্তরভেদ আছে, … তবে তোমার হৃদয়কে তার পেছনেই ব্যস্ত করো যা সবচেয়ে উত্তম

(৫৪) এবং একে সেগুলোর দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছেন: অর্থাৎ কষ্টসাধ্য ও আয়োজন করে এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে।

পক্ষান্তরে, সুস্পষ্টভাবে একে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পঞ্চাশের অধিক বরং দুইশতেরও বেশি, যেমনটি কিছু বিদগ্ধ আলেম বলেছেন।

(৫৫) আবু সাঈদ আল-হারাউয়ি আশ-শাফিয়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে তাঁর একটি ঘটনা রয়েছে। যখন তিনি এই খবর পেলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে সফর করলেন। আবু তাহের অন্ধ ছিলেন, তিনি প্রতি রাতে মানুষ মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সেখানে সেই মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। তখন আল-হারাউয়ি একটি চাটাই জড়িয়ে লুকিয়ে থাকলেন, আর মানুষ বেরিয়ে গেলে আবু তাহের মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য—
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَسَرَدَ مِنْهَا سَبْعَةً 57 - فَحَصَلَتْ لِلْهَرَوِيِّ سَعْلَةٌ فَأَحَسَّ بِهِ أَبُو طَاهِرٍ 58 - فَضَرَبَهُ وَأَخْرَجَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ، 59 - ثُمَّ لَمْ يُكَرِّرْهَا فِيهِ بَعْدَ ذَلِكَ،

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

سَوْقِ هَذِهِ الْحِكَايَةِ التَّنْوِيهُ بِشَرَفِ الْقَوَاعِدِ حَيْثُ سَافَرَ مِثْلُ هَذَا الْإِمَامِ لِأَجْلِ تَحْصِيلِ تِلْكَ الْقَوَاعِدِ وَهَذَا لَيْسَ أَبُو سَعِيدٍ الْهَرَوِيُّ الشَّافِعِيُّ هُوَ صَاحِبُ هَذِهِ الْوَاقِعَةِ مَعَ أَبِي طَاهِرٍ الدَّبَّاسِ وَإِنَّمَا هُوَ نَاقِلٌ لِلْحِكَايَةِ عَنْهُ مَعَ بَعْضِ عُلَمَاءِ الْحَنَفِيَّةِ بِهَرَاةَ كَمَا فِي الْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ لِلْجَلَالِ السُّيُوطِيِّ وَمِثْلُهُ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ.

(56) وَسَرَدَ مِنْهَا سَبْعَةً: شَبَّهَ قِرَاءَتَهَا مُنْتَظِمَةً مُتَّسِقَةً بِسَرْدِ الدَّرْعِ عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ التَّبَعِيَّةِ وَكَانَ الصَّوَابُ أَنْ يَقُولَ سَبْعًا لِأَنَّ الْمَعْدُودَ مُؤَنَّثٌ عَلَى مَا هُوَ الْقَاعِدَةُ الْمَشْهُورَةُ (لَا يُقَالُ الْقَاعِدَةُ مُقَيَّدَةٌ بِمَا إذَا كَانَ الْمُمَيَّزُ مَذْكُورًا بَعْدَ الْعَدَدِ وَأَمَّا إذَا حُذِفَ أَوْ قُدِّرَ فَيَجُوزُ حِينَئِذٍ فِي اسْمِ الْعَدَدِ إلْحَاقُ التَّاءِ وَحَذْفُهَا) لِأَنَّا نَقُولُ مَا ذُكِرَ مِنْ جَوَازِ التَّاءِ وَعَدَمِهَا إذَا كَانَ الْمُمَيَّزُ الْأَيَّامُ وَحْدَهَا وَأَمَّا إذَا كَانَ غَيْرُ الْأَيَّامِ فَالْوَجْهُ مُطَابَقَةُ الْقَاعِدَةِ الْأَصْلِيَّةِ مِنْ إثْبَاتِ التَّاءِ فِي الْمُذَكَّرِ وَحَذْفِهَا فِي الْمُؤَنَّثِ وَأَمَّا إذَا كَانَتْ الْأَيَّامُ مَعَ اللَّيَالِي فَالْمَسْمُوعُ حَذْفُ التَّاءِ تَغْلِيبًا لِلَّيَالِيِ.

كَذَا قَرَّرَهُ الْإِمَامُ السُّبْكِيُّ فِي رِسَالَةِ إبْرَازِ الْحُكْمِ قَالَ وَفِي كَلَامِ سِيبَوَيْهِ وَابْنِ مَالِكٍ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ انْتَهَى فَلْيُحْفَظْ.

(57) فَحَصَلَتْ لِلْهَرَوِيِّ سَعْلَةٌ فَأَحَسَّ بِهِ أَبُو طَاهِرٍ: السَّعْلَةُ وَالسُّعَالُ بِضَمِّ أَوَّلِهِمَا حَرَكَةٌ تَدْفَعُ بِهَا الطَّبِيعَةُ الْأَذَى عَنْ الرِّئَةِ وَالْأَعْضَاءِ الَّتِي تَتَّصِلُ بِهَا وَقَدْ اسْتَشْكَلَ بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ مِنْ الْأَطِبَّاءِ عَدَّهُ فِي الْأَمْرَاضِ لِأَنَّ الْأُمُورَ الطَّبِيعِيَّةَ الْعَارِضَةَ لِلْإِنْسَانِ لَا تُعَدُّ مَرَضًا وَيُجَابُ عَنْ ذَلِكَ بِأَنَّ عَدَّهُ مَرَضًا بِاعْتِبَارِ كَثْرَةِ عُرُوضِهِ وَاسْتِمْرَارِهِ لَا بِاعْتِبَارِ أَصْلِ عُرُوضِهِ.

(58) فَضَرَبَهُ وَأَخْرَجَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ: فِيهِ أَنَّهُ كَيْفَ يَصْدُرُ هَذَا مِنْ مِثْلِ هَذَا الْعَالَمِ مَعَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لَهُ ضَرْبُهُ وَلَا إخْرَاجُهُ مِنْ الْمَسْجِدِ لِأَجْلِ مَا ذُكِرَ.

(59) ثُمَّ لَمْ يُكَرِّرْهَا فِيهِ بَعْدَ ذَلِكَ: عَطَفَ عَلَى قَوْلِهِ أَخْرَجَهُ.

أَقُولُ فِيهِ إنَّ فِي عَدَمِ تَكْرِيرِهَا بَعْدَ ذَلِكَ خَشْيَةَ مَنْ يَسْمَعُهَا وَيَسْتَفِيدُهَا كَتْمًا لِلْعِلْمِ وَهُوَ مَذْمُومٌ وَقَدْ وَرَدَ فِي الْحَدِيثِ «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أَلْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ النَّارِ» .
এবং তিনি এর মধ্য থেকে সাতটি ধারাবাহিকভাবে পাঠ করলেন। ৫৭ - তখন হারাওয়ীর কাশি হলো এবং আবু তাহির তা অনুভব করলেন। ৫৮ - অতঃপর তিনি তাকে প্রহার করলেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। ৫৯ - এরপর তিনি আর সেখানে তার পুনরাবৃত্তি করেননি।

—

‌‌[গাময উইউনিল বাসাইর]

এই কাহিনীটি অবতারণা করার উদ্দেশ্য হলো ফিকহী মূলনীতিসমূহের উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করা, যেখানে এই ইমামের মতো একজন ব্যক্তিত্ব ঐসব মূলনীতি অর্জনের জন্য সফর করেছিলেন। আর আবু তাহির আদ-দাব্বাসের সাথে ঘটা এই ঘটনার মূল ব্যক্তি আবু সাঈদ আল-হারাওয়ী আশ-শাফেয়ী নন; বরং জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.)-এর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' এবং অনুরূপভাবে 'ফাতহুল কাদীর'-এ যেমন বর্ণিত হয়েছে, তিনি হেরাতের জনৈক হানাফী আলেম থেকে কাহিনীটি বর্ণনাকারী মাত্র।

(৫৬) এবং তিনি এর মধ্য থেকে সাতটি ধারাবাহিকভাবে পাঠ করলেন: এখানে ধারাবাহিকভাবে এবং সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করাকে বর্ম তৈরির বুনন বা ধারাবাহিকতার সাথে রূপকভাবে (ইসতিআরা তাবাইয়্যাহ) তুলনা করা হয়েছে। ব্যাকরণগতভাবে 'সাবআ' (সাত - স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্নহীন) বলা সঠিক হতো, কারণ গণনাকৃত বিষয়টি (কাওয়াইদ) স্ত্রীলিঙ্গ এবং এটিই প্রসিদ্ধ নিয়ম। (এমনটি বলা যাবে না যে, এই নিয়মটি তখনই প্রযোজ্য যখন গণনাকৃত বিষয়টি সংখ্যার পরে সরাসরি উল্লেখ থাকে; আর যদি তা উহ্য বা অনুমিত থাকে, তবে সংখ্যার শেষে 'তা' যুক্ত করা বা বর্জন করা উভয়ই জায়েজ)। কারণ আমরা বলি যে, 'তা' যুক্ত করা বা না করার যে বৈধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন গণনাকৃত বিষয়টি কেবল 'দিন' (আইয়্যাম) হয়। কিন্তু দিন ছাড়া অন্য কিছু হলে মূল নিয়ম অনুসরণ করাই নিয়ম, অর্থাৎ পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'তা' যুক্ত করা এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'তা' বর্জন করা। আর যদি দিন ও রাত একত্রে থাকে, তবে রাতের প্রাধান্য দিয়ে 'তা' বর্জন করাই শ্রুত।

ইমাম সুবকী তাঁর 'ইবরাযুল হুকম' নামক রিসালায় এভাবেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, সিবওয়াইহি এবং ইবন মালিকের বক্তব্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এটি মুখস্থ রাখা উচিত।

(৫৭) তখন হারাওয়ীর কাশি হলো এবং আবু তাহির তা অনুভব করলেন: কাশি (সা’লাহ বা সুআল - উভয় ক্ষেত্রে প্রথম অক্ষরে পেশসহ) হলো এমন একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রকৃতি ফুসফুস এবং এর সাথে যুক্ত অঙ্গগুলো থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে। কোনো কোনো গবেষক চিকিৎসক এটিকে রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে রোগ বলা যায় না। এর উত্তর হলো, এর বারবার হওয়া এবং স্থায়িত্বের বিবেচনায় একে রোগ বলা হয়েছে, এর মূল প্রকৃতির বিবেচনায় নয়।

(৫৮) অতঃপর তিনি তাকে প্রহার করলেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন: এতে প্রশ্ন জাগে যে, এমন একজন আলেমের পক্ষ থেকে এমন কাজ কীভাবে হতে পারে, অথচ উল্লিখিত কারণে তাকে প্রহার করা বা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া বৈধ নয়।

(৫৯) এরপর তিনি আর সেখানে তার পুনরাবৃত্তি করেননি: এটি 'তিনি তাকে বের করে দিলেন' বাক্যের ওপর সংযোজিত।

আমি বলব যে, কেউ এটি শুনে উপকৃত হবে এই ভয়ে পরবর্তীতে এর পুনরাবৃত্তি না করা জ্ঞান গোপন করার অন্তর্ভুক্ত, যা নিন্দনীয়। হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান গোপন করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) গামযু উয়ূনিল বাসাইর ফী শারহিল আশবাহি ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَرَجَعَ الْهَرَوِيُّ إلَى أَصْحَابِهِ وَتَلَاهَا عَلَيْهِمْ 61 -

الثَّانِي: الضَّوَابِطُ وَمَا دَخَلَ فِيهَا وَمَا خَرَجَ عَنْهَا وَهُوَ أَنْفَعُ الْأَقْسَامِ لِلْمُدَرِّسِ وَالْمُفْتِي وَالْقَاضِي، فَإِنَّ بَعْضَ الْمُؤَلَّفِينَ يَذْكُرُ ضَابِطَهُ 62 - وَيَسْتَثْنِي مِنْهُ أَشْيَاءَ، فَأَذْكُرُ فِيهَا أَنِّي زِدْت عَلَيْهِ أَشْيَاءَ أُخَرَ، فَمَنْ لَمْ يَطَّلِعْ عَلَى الْمَزِيدِ 63 - ظَنَّ الدُّخُولَ وَهِيَ خَارِجَةٌ كَمَا سَتَرَاهُ 64 - وَلِهَذَا وَقَعَ مَوْقِعًا حَسَنًا عِنْدَ ذَوِي الْإِنْصَافِ، وَابْتَهَجَ بِهِ مَنْ هُوَ مِنْ أُولِي الْأَلْبَابِ

ــ

‌‌[غمز عيون البصائر]

فَرَجَعَ الْهَرَوِيُّ إلَى أَصْحَابِهِ وَتَلَاهَا عَلَيْهِمْ: أَيْ الْقَوَاعِدَ السَّبْعَ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ الدَّبَّاسِ قِيلَ مِنْهَا - الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ - وَالثَّانِيَةُ الْمَشَقَّةُ تَجْلِبُ التَّيْسِيرَ - وَالثَّالِثَةُ - الضَّرَرُ يُزَالُ - وَالرَّابِعَةُ الْعَادَةُ مُحَكَّمَةٌ - وَالْخَامِسَةُ الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا - كَذَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ.

(61) الثَّانِي الضَّوَابِطُ وَمَا دَخَلَ فِيهَا وَمَا خَرَجَ عَنْهَا وَهُوَ أَنْفَعُ الْأَقْسَامِ لِلْمُدَرِّسِ وَالْمُفْتِي وَالْقَاضِي فَإِنَّ بَعْضَ الْمُؤَلِّفِينَ يَذْكُرُ ضَابِطَهُ: أَيْ الْفَنُّ الثَّانِي مِنْ الْفُنُونِ السَّبْعَةِ وَقَوْلُهُ مَا خَرَجَ عَنْهَا أَيْ اُسْتُثْنِيَ مِنْهَا وَلَوْ عَبَّرَ بِهِ لَكَانَ أَوْلَى.

(62) وَيُسْتَثْنَى مِنْهُ أَشْيَاءُ فَأَذْكُرُ فِيهِ أَنِّي زِدْت عَلَيْهِ أَشْيَاءَ أُخَرَ فَمَنْ لَمْ يَطَّلِعْ عَلَى الْمَزِيدِ: الْأَشْيَاءُ جَمْعُ شَيْءٍ وَهُوَ عِبَارَةٌ عَنْ كُلِّ مَوْجُودٍ حِسًّا كَالْأَجْسَامِ أَوْ حُكْمًا كَالْأَقْوَالِ وَقَالَ سِيبَوَيْهِ مَا يَصِحُّ أَنْ يُعْلَمَ بِهِ وَيُخْبِرَ عَنْهُ.

(63) ظَنَّ الدُّخُولَ وَهِيَ خَارِجَةٌ كَمَا سَتَرَاهُ: أَيْ اعْتَقَدَهُ وَغَيْرُ خَافٍ مَا يَتَرَتَّبُ عَلَى ذَلِكَ مِنْ الْخَطَأِ وَالْفَسَادِ وَمِنْ ثَمَّ صَرَّحَ الْمُصَنِّفُ فِي الْفَوَائِدِ الزَّيْنِيَّةِ بِأَنَّهُ لَا يَجُوزُ الْفَتْوَى بِمَا تَقْتَضِيه الضَّوَابِطُ لِأَنَّهَا لَيْسَتْ كُلِّيَّةً بَلْ أَغْلَبِيَّةً خُصُوصًا وَهِيَ لَمْ تَثْبُتْ عَنْ الْإِمَامِ بَلْ اسْتَخْرَجَهَا الْمَشَايِخُ مِنْ كَلَامِهِ.

(64) وَلِهَذَا وَقَعَ مَوْقِعًا حَسَنًا عِنْدَ ذَوِي الْإِنْصَافِ وَابْتَهَجَ بِهِ مَنْ هُوَ مِنْ أُولِي الْأَلْبَابِ: كِنَايَةً عَنْ تَلَقِّي الْفُضَلَاءِ لَهُ بِالْقَبُولِ وَالْإِنْصَافِ وَالْعَدْلِ، وَالِابْتِهَاجُ السُّرُورُ بِالشَّيْءِ.
এরপর হারায়উয়ি তার সাথীদের নিকট ফিরে আসলেন এবং তাদের সামনে তা পাঠ করলেন। ৬১ -

দ্বিতীয়: দাওয়াবিত (বিশেষ মূলনীতিমালা) এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত ও যা এর বহির্ভূত; এটি শিক্ষক, মুফতি ও বিচারকদের জন্য সবচেয়ে উপকারী বিভাগ। কেননা কোনো কোনো লেখক তাদের নির্ধারিত মূলনীতি উল্লেখ করেন ৬২ - এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেন। আমি এখানে উল্লেখ করছি যে, আমি এতে আরও কিছু বিষয় বৃদ্ধি করেছি। সুতরাং যারা এই অতিরিক্ত অংশগুলো সম্পর্কে অবগত হবেন না ৬৩ - তারা মনে করবেন যে ঐ বিষয়গুলো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, অথচ সেগুলো বহির্ভূত, যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন ৬৪ - আর এই কারণেই এটি ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের নিকট সুসমাদৃত হয়েছে এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা এতে আনন্দিত হয়েছেন।

--

‌‌[গাময উয়ুনিল বাসার]

এরপর হারায়উয়ি তার সাথীদের নিকট ফিরে আসলেন এবং তাদের সামনে তা পাঠ করলেন: অর্থাৎ সেই সাতটি মূলনীতি যা তিনি আদ-দাব্বাস থেকে শুনেছেন। বলা হয়ে থাকে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘নিশ্চয়তা সংশয়ের দ্বারা দূর হয় না’, দ্বিতীয়টি— ‘কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে’, তৃতীয়টি— ‘ক্ষতি দূর করা হবে’, চতুর্থটি— ‘প্রথা ফয়সালাকারী’ এবং পঞ্চমটি— ‘কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল’— ফাতহুল কাদির গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে।

(৬১) দ্বিতীয়: দাওয়াবিত (বিশেষ মূলনীতিমালা) এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত ও যা এর বহির্ভূত; এটি শিক্ষক, মুফতি ও বিচারকদের জন্য সবচেয়ে উপকারী বিভাগ। কেননা কোনো কোনো লেখক তাদের নির্ধারিত মূলনীতি উল্লেখ করেন: অর্থাৎ সাতটি বিষয়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বিষয়। আর লেখকের কথা ‘যা এর থেকে বহির্ভূত’ অর্থাৎ যা এর থেকে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে; যদি তিনি ‘ব্যতিক্রম’ শব্দ ব্যবহার করতেন তবে তা অধিক উত্তম হতো।

(৬২) এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেন। আমি এখানে উল্লেখ করছি যে, আমি এতে আরও কিছু বিষয় বৃদ্ধি করেছি। সুতরাং যারা এই অতিরিক্ত অংশগুলো সম্পর্কে অবগত হবেন না: ‘আশইয়া’ (বস্তুসমূহ) শব্দটি ‘শাই’ এর বহুবচন, যা দ্বারা বাহ্যিক অস্তিত্বসম্পন্ন সবকিছু যেমন দেহ, অথবা হুকুমগত বিষয় যেমন কথাবার্তাকে বোঝানো হয়। সিবাহওয়াইহি বলেছেন: যা কিছু সম্পর্কে জানা এবং সংবাদ দেওয়া সঠিক হয় (তাই বস্তু)।

(৬৩) তারা মনে করবেন যে ঐ বিষয়গুলো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, অথচ সেগুলো বহির্ভূত, যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন: অর্থাৎ তারা সেগুলোকে মূলনীতির অংশ বলে বিশ্বাস করবেন। আর এর ফলে যে ভুল ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে তা অস্পষ্ট নয়। এ কারণেই লেখক আল-ফাওয়ায়িদুয যাইনিয়্যাহ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দাওয়াবিত বা বিশেষ মূলনীতিগুলো যা দাবি করে সে অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ এগুলো সার্বিক (কুল্লিয়্যাহ) নয় বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আগলাবিয়্যাহ); বিশেষ করে এগুলো সরাসরি ইমাম থেকে প্রমাণিত নয়, বরং মাশায়েখগণ উনার কালাম থেকে এগুলো উদ্ভাবন করেছেন।

(৬৪) আর এই কারণেই এটি ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের নিকট সুসমাদৃত হয়েছে এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা এতে আনন্দিত হয়েছেন: এটি গুণীজনদের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য হওয়া এবং তাদের ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার একটি রূপক বর্ণনা। আর ‘ইবতিহাজ’ অর্থ হলো কোনো বিষয়ে আনন্দিত হওয়া।