(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: -)
مناسك الحج والعمرة والمشروع في الزيارة   (ابن عثيمين)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مناسك الحج والعمرة والمشروع في الزيارة

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: مكتبة الأمة، عنيزة

الطبعة: الأولى، 1413 هـ

عدد الصفحات: 146

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হজ্জ ও উমরার নিয়মাবলি এবং যিয়ারতের শরয়ি বিধান   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: হজ্জ ও উমরার নিয়মাবলি এবং যিয়ারতের শরয়ি বিধান

লেখক: মুহাম্মাদ বিন সলিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (ওফাত ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উম্মাহ, উনাইযাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهدهِ الله فلا مُضل له ، ومن يُضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً.

أما بعد: فهذه فصولٌ في السفر والحج وزيارة المسجد النبوي ألقيناها في عدة مجالس، وكتبناها في فصولٍ:

 

· الفصل الأول: في السفر وشيء من آدابه وأحكامه.

· الفصل الثاني: في شروط الحج.

· الفصل الثالث: في المواقيت وأنواع الأنساك.

· الفصل الرابع: فيما يجب به الهدي من الأنساك وصفة الهدي.

· الفصل الخامس: في محظورات الإحرام.

· الفصل السادس: في صفة العمرة.

· الفصل السابع: في صفة الحج.

· الفصل الثامن: في واجبات الحج.

· الفصل التاسع: أخطاء يرتكبها بعض الحجاج.

· الفصل العاشر: في زيارة المسجد النبوي.

· أسئلة وأجوبة في بعض مسائل الحج.

 

وقد أضفنا إليها أسئلة مهمة في هذه الموضوعات. أسأل الله أن يجعلها خالصةً لوجهه ، وأن ينفع بها، إنه جوادٌ كريمٌ.

 

المؤلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে—তাদের সবার ওপর শান্তি ও অজস্র ধারায় সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এগুলো সফর, হজ ও মসজিদে নববী যিয়ারত সংক্রান্ত কয়েকটি পরিচ্ছেদ, যা আমরা বিভিন্ন মজলিসে পেশ করেছি এবং তা নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোতে লিপিবদ্ধ করেছি:

 

· প্রথম পরিচ্ছেদ: সফর এবং এর কিছু আদব ও বিধিবিধান সংক্রান্ত।

· দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজের শর্তাবলি সংক্রান্ত।

· তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মিআতসমূহ এবং হজের প্রকারভেদ সংক্রান্ত।

· চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হজের যে প্রকারগুলোতে হাদয় (কুরবানির পশু) ওয়াজিব হয় এবং হাদয়ের বিবরণ সংক্রান্ত।

· পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কার্যাবলি সংক্রান্ত।

· ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: উমরার পদ্ধতি সংক্রান্ত।

· সপ্তম পরিচ্ছেদ: হজের পদ্ধতি সংক্রান্ত।

· অষ্টম পরিচ্ছেদ: হজের ওয়াজিবসমূহ সংক্রান্ত।

· নবম পরিচ্ছেদ: কিছু হাজীদের কৃত ভুলত্রুটিসমূহ।

· দশম পরিচ্ছেদ: মসজিদে নববী যিয়ারত সংক্রান্ত।

· হজের কিছু মাসআলা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর।

 

আমরা এই বিষয়গুলোর সাথে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর সংযোজন করেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অত্যন্ত দয়ালু।

 

লেখক
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الفصل الأول في السفر وشيء من آدابه وأحكامه

السفر: مفارقة الوطن، ويكون لأغراض كثيرة؛ دينية ودنيوية.

وحكمه: حكم الغرض الذي أُنشىء من أجله:

فإن أُنشىء لعبادة كان عبادة؛ كسفر الحج والجهاد.

وإن أُنشىء لشيء مباح كان مباحاً: كالسفر للتجارة المباحة.

وإن أُنشىء لعمل محرّم كان حراماً كالسفر للمعصية والفساد في الأرض.

‌‌وينبغي لمن سافر للحج أو غيره من العبادات أن يعتني بما يلي:

(1) إخلاص النية لله عز وجل، بأن ينوي التقرب إلى الله عز وجل في جميع أحواله لتكون أقواله وأفعاله ونفقاته مقربة له إلى الله سبحانه وتعالى، تزيد في حسناته، وتكفّر سيئاته، وترفع درجاته.

قال النبي صلى الله عليه وسلم لسعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: «إنك لن تُنفق نفقة تبتغي بها وجه الله إلا أُجرت عليها حتى ما تجعله في فِي امرأتك» أي: فمها، متفق عليه.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সফর এবং এর কিছু আদব ও হুকুম প্রসঙ্গে

সফর: স্বদেশ ত্যাগ করা; এটি দ্বীনি ও দুনিয়াবি বহু উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে।

এর বিধান: যে উদ্দেশ্যে সফর শুরু করা হয়েছে, তার বিধানও সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে:

যদি তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে; যেমন হজ ও জিহাদের সফর।

আর যদি তা কোনো বৈধ (مباح) বিষয়ের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে; যেমন বৈধ ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর।

আর যদি তা কোনো হারাম কাজের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা হারাম হিসেবে গণ্য হবে; যেমন পাপাচার ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সফর।

হজ বা অন্য কোনো ইবাদতের উদ্দেশ্যে সফরকারীর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক:

(১) মহান আল্লাহর জন্য নিয়তকে একনিষ্ঠ করা। অর্থাৎ জীবনের সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা, যাতে তার কথা, কাজ ও ব্যয়সমূহ তাকে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়, তার পুণ্য বৃদ্ধি করে, পাপসমূহ মোচন করে এবং তার মর্যাদা উন্নত করে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলেছেন: "তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, অবশ্যই তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তার জন্যও।" অর্থাৎ তার মুখ। ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
(2) أن يحرص على القيام بما أوجب الله عليه من الطاعات واجتناب المحرمات، فيحرص على إقامة الصلاة جماعةً في أوقاتها، وعلى النصيحة لرفقائه وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر، ودعوتهم إلى الله عز وجل بالحكمة والموعظة الحسنة.

ويحرص كذلك على اجتناب المحرمات القولية والفعلية، فيجتنب الكذب والغيبة والنميمة والغش والغدر، وغير ذلك من معاصي الله عز وجل.

(3) أن يتخلق بالأخلاق الفاضلة من الكرم بالبدن والعلم والمال، فيُعين من يحتاج إلى العون والمساعدة، ويبذل العلم لطالبه والمحتاج إليه، ويكون سخياً بماله، فيبذله في مصالح نفسه ومصالح إخوانه وحاجاتهم.

وينبغي أن يُكثر من النفقة وحاجات السفر، لأنه ربما تعرض الحاجة وتختلف الأمور.

وينبغي أن يكون في ذلك كله طَلْقَ الوجه، طيب النفس، رضي البال، حريصاً على إدخال السرور على رفقته ليكون أليفاً مألوفاً.

وينبغي أن يصبر على ما يحصل من جفاء رفقته
(২) আল্লাহ তাআলা তার ওপর যে সকল আনুগত্য (طاعات) আবশ্যক করেছেন তা পালন করতে এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محرمات) পরিহার করতে যত্নবান হওয়া। তাই সে যথাসময়ে জামাতের সাথে নামাজ কায়েম করতে, সঙ্গীদের নসিহত করতে, তাদের সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করতে এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে সচেষ্ট থাকবে।

এবং সে একইভাবে মৌখিক ও আচরণগত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محرمات) বর্জনেও সচেষ্ট হবে। সুতরাং সে মিথ্যা (كذب), গীবত (غيبة), চোগলখুরি (نميمة), প্রতারণা (غش) ও বিশ্বাসঘাতকতা (غدر) সহ মহান আল্লাহর অবাধ্যতামূলক অন্যান্য গুনাহ থেকে বিরত থাকবে।

(৩) শারীরিক শ্রম, জ্ঞান ও সম্পদের বদান্যতার মাধ্যমে নিজেকে মহৎ চরিত্রে (الأخلاق الفاضلة) অলঙ্কৃত করা। সুতরাং সে সাহায্যপ্রার্থীকে সহযোগিতা করবে, জ্ঞানপিপাসু ও জ্ঞানপ্রার্থীর মাঝে ইলম বিতরণ করবে এবং স্বীয় সম্পদের ব্যাপারে দানশীল হবে, যা সে নিজের এবং তার ভাইদের কল্যাণ ও প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করবে।

সফরের খরচ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে সাথে রাখা উচিত, কারণ অনেক সময় জরুরি প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

এই সব ক্ষেত্রেই হাস্যোজ্জ্বল মুখ, প্রফুল্ল মন ও তুষ্ট চিত্তের অধিকারী হওয়া উচিত এবং সঙ্গীদের মনে আনন্দ জোগাতে যত্নবান হতে হবে যাতে সে সবার সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ ও মিশুক হয়ে ওঠে।

সঙ্গীদের পক্ষ থেকে কোনো রূঢ়তা বা কর্কশ আচরণ প্রকাশ পেলে তাতে ধৈর্য ধারণ করা উচিত।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ومخالفتهم لرأيه، ويداريهم بالتي هي أحسن، ليكون محترماً بينهم، مُعظّماً في نفوسهم.

(4) أن يقول عند سفره وفي سفره ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ فمن ذلك: إذا وضع رجله في مركوبه فليقل: بسم الله، فإذا ركب واستقر عليه فليذكر نعمة الله عليه بتيسير هذا المركوب له، ثم ليقل: الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ?وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ) (الزخرف: 13-14) اللهم إنا نسألك في سفرنا هذا البرَّ والتقوى، ومن العمل ما ترضى، اللهم هوِّن علينا سفرنا هذا واطو عنا بُعدَه، اللهم أنت الصاحب في السفر، والخليفة في الأهل، اللهم إني أعوذ بك من وعثاء السفر، وكآبة المنظر، وسوء المنقلب في المال والأهل.

وينبغي أن يُكبر كلما صعد مكاناً عُلواً، ويُسبح إذا هبط مكاناً منخفضا.

وإذا نزل منزلا فليقل: أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق فمن نزل منزلاً ثم قالها لم يضرَّه شيء حتى يرتحل من منزله ذلك.
এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করা; আর সে যেন তাদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় সহনশীল আচরণ করে, যাতে সে তাদের মধ্যে সম্মানিত হয় এবং তাদের অন্তরে মর্যাদাবান থাকে।

(৪) সফরের শুরুতে এবং সফরকালীন সময়ে নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠ করা; তার মধ্যে রয়েছে: যখন সে তার বাহনে পা রাখবে তখন বলবে: 'আল্লাহর নামে'। অতঃপর যখন সে আরোহণ করবে এবং তার ওপর স্থির হবে, তখন বাহনটি তার জন্য সহজলভ্য করার মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করবে এবং বলবে: 'আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। পবিত্র সেই সত্তা যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।' (সূরা যুখরুফ: ১৩-১৪)। হে আল্লাহ, আমরা আমাদের এই সফরে আপনার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া এবং এমন কর্ম প্রার্থনা করছি যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য সংকুচিত করে দিন। হে Allah, আপনিই সফরে আমাদের সাথী এবং পরিবার-পরিজনের অভিভাবক। হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট সফরের কষ্ট-ক্লান্তি, বিষণ্ণ দৃশ্য এবং সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের অশুভ পরিণতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর যখনই কোনো উঁচু স্থানে আরোহণ করবে তখন তকবির (আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা) করা এবং যখন কোনো নিচু স্থানে অবতরণ করবে তখন তাসবিহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা) করা উচিত।

আর যখন কোনো স্থানে যাত্রাবিরতি করবে তখন বলবে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।' যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এটি পাঠ করবে, সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الصلاة في السفر

 

يجب على المسافر أن يحافظ على أداء الصلاة في أوقاتها جماعةً، كما يجب على المقيم كذلك.

قال الله تعالى: (وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ) (النساء: 102) فأوجب الله الجماعة على الطائفتين في حال الحرب والقتال مع الخوف، ففي حال الطمأنينة والأمن تكون الجماعة أوجب وأولى.

ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه يُواظبون على صلاة الجماعة حَضرَاً وسفرا حتى قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يُؤتى به يُهادى بين الرجلين حتى يُقام في الصف. رواه مسلم.

ويجب أن يعتني بوضوئه وطهارته، فيتوضأ من الحدث الأصغر، كالبول والغائط والريح والنوم المستغرق، ويغتسل من الجنابة كإنزال المني
সফরে সালাত

 

একজন মুসাফিরের জন্য সালাতসমূহ তার নির্দিষ্ট সময়ে জামায়াতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব, যেমনটি একজন মুকিমের জন্যও ওয়াজিব।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর আপনি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন, তখন তাদের একদল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখে। অতঃপর তারা যখন সিজদা সম্পন্ন করবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে থাকে। আর অপর একটি দল যারা সালাত আদায় করেনি, তারা যেন আসে এবং আপনার সাথে সালাত আদায় করে।” (আন-নিসা: ১০২)। সুতরাং আল্লাহ তাআলা ভয় ও যুদ্ধাবস্থায় উভয় দলের ওপর জামায়াত ওয়াজিব করেছেন; অতএব নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অবস্থায় জামায়াত আরও বেশি ওয়াজিব ও অগ্রগণ্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ মুকিম ও মুসাফির উভয় অবস্থায় সর্বদা জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের ওপর অবিচল থাকতেন। এমনকি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিক ছাড়া অন্য কেউ সালাত থেকে বিরত থাকত না। এমনকি জনৈক ব্যক্তিকে দুই জনের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো এবং কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।” মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আর মুসাফিরের জন্য তার অজু ও পবিত্রতার প্রতি যত্নশীল হওয়া আবশ্যক; সুতরাং সে ছোট নাপাকি (الحدث الأصغر) যেমন—প্রস্রাব, পায়খানা, বায়ু নির্গত হওয়া ও গভীর ঘুমের কারণে অজু করবে এবং অপবিত্রতা (الجنابة) যেমন—বীর্যপাত হওয়ার কারণে গোসল করবে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
والجماع.

فإن لم يجد الماء، أو كان معه ماء قليل يحتاجه لطعامه وشرابه، فإنه يتيمم لقوله تعالى:

(وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) (المائدة: 6) وكيفية الوضوء والغُسل معلومة.

و‌‌كيفية التيمم أن يضرب الأرض بيديه فيمسح بهما وجهه وكفيه؛ ففي «صحيح البخاري» أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعمار بن ياسر رضي الله عنه: «يكفيك الوجه والكفان» ، وفي رواية: ضرب النبي صلى الله عليه وسلم بيده الأرض فمسح وجهه وكفيه وفي رواية مسلم ثم ضرب بيديه الأرض ضربة واحدة.

وطهارة التيمم طهارةٌ مؤقتة، فمتى وجد الماء بَطلت ووجب عليه استعماله، فإذا تيمم عن جنابة ثم وجد الماء وجب عليه الاغتسال عنها، وإذا تيمم من الغائط ثم وجد الماء وجب عليه الوضوء عنه.

وفي
এবং সহবাস।

যদি সে পানি না পায়, অথবা তার কাছে সামান্য পানি থাকে যা তার পানাহার ও খাদ্যের জন্য প্রয়োজন, তবে সে তায়াম্মুম (تيمم) করবে। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:

“আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম (تيمم) কর; সুতরাং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (আল-মায়েদাহ: ৬) আর অজু (وضوء) এবং গোসল (غسل)-এর পদ্ধতি সবার জানা আছে।

এবং তায়াম্মুম (تيمم)-এর পদ্ধতি হলো সে তার দুই হাত মাটিতে আঘাত করবে, অতঃপর তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল ও দুই কবজি মাসেহ করবে। সহীহ বুখারী-তে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: “তোমার জন্য মুখমণ্ডল ও দুই কবজিই যথেষ্ট ছিল।” অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই কবজি মাসেহ করলেন। মুসলিম-এর এক বর্ণনা (رواية)-তে আছে, তারপর তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাটিতে একবার আঘাত করলেন।

তায়াম্মুম (تيمم)-এর পবিত্রতা (طهارة) একটি সাময়িক পবিত্রতা; তাই যখনই পানি পাওয়া যাবে, তা বাতিল (باطل) হয়ে যাবে এবং পানি ব্যবহার করা তার ওপর ওয়াজিব (واجب) হয়ে যাবে। সুতরাং যদি সে বড় নাপাকি বা জানাবাত (جنابة) থেকে তায়াম্মুম (تيمم) করে এবং পরে পানি পায়, তবে তার ওপর গোসল (غسل) করা ওয়াজিব (واجب)। আর যদি মলত্যাগের কারণে তায়াম্মুম (تيمم) করে এবং পরে পানি পায়, তবে তার ওপর অজু (وضوء) করা ওয়াজিব (واجب) হবে।

এবং
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث: «الصعيد الطيب وضوء المسلم وإن لم يجد الماء عشر سنين فإذا وجد الماء فليتق الله وليمسه بشرته» (1) .

والسنة للمسافر أن يقصر الصلاة الرباعية، وهي الظهر والعصر والعشاء الآخرة إلى ركعتين، لما في «الصحيحين» من حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: صحبتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان لا يزيد في السفر على ركعتين، وأبا بكر وعمر وعثمان كذلك.

وفي «صحيح البخاري» عن عائشة رضي الله عنها قالت: «فُرِضت الصلاة ركعتين ثم هاجر النبي صلى الله عليه وسلم ففرضت أربعاً، وتُركت صلاة السفر على الأولى» .

فالسنة للمسافر قَصرُ الصلاة الرباعية إلى ركعتين من حين أن يخرج من بلده إلى أن يرجع إليه، سواء طالت مدة سفره أم قَصرُت.

وفي «صحيح البخاري» عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم أقام بمكة تسعة عشر يوماً يصلي ركعتين يعنى عام الفتح. إلا أن يصلي المسافر خلف إمام يُصلي أربعاً فيلزمه أن يُصَلي أربعاً، سواءً

--------------------------------------------

(1) رواه البزار في " مسنده " (310) عن أبي هريرة ، وصححه ابن القطان في " التلخيص الحبير " (1/154) للحافظ ابن حجر.
হাদিস: «পবিত্র মাটি মুসলমানের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (وضوء), যদিও সে দশ বছর পানি না পায়। অতঃপর যখন সে পানি পাবে, তখন সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তা তার ত্বকে স্পর্শ করায়» (১) ।

আর মুসাফিরের জন্য সুন্নাহ হলো চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত—অর্থাৎ জোহর, আসর এবং এশা—সংক্ষিপ্ত (قصر) করে দুই রাকাত আদায় করা। কেননা সহীহাইন-এ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফরসঙ্গী হয়েছি এবং তিনি সফরে দুই রাকাতের বেশি পড়তেন না; এবং আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-ও অনুরূপ করতেন।

এবং সহীহ বুখারী-তে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সালাত (প্রথমে) দুই রাকাত করে ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করলেন এবং তা চার রাকাত করা হলো, আর সফরের সালাত আদি অবস্থার (দুই রাকাত) ওপর বহাল রাখা হলো» ।

সুতরাং মুসাফিরের জন্য সুন্নাহ হলো নিজ লোকালয় থেকে বের হওয়ার সময় থেকে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করে দুই রাকাত পড়া, চাই তার সফরের সময়কাল দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত।

সহীহ বুখারী-তে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর সেখানে উনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং দুই রাকাত করে সালাত আদায় করেছিলেন। তবে মুসাফির যদি এমন কোনো ইমামের পেছনে সালাত আদায় করে যে চার রাকাত পড়ছে, তবে তার জন্য চার রাকাত পূর্ণ করা আবশ্যক, চাই সে...

--------------------------------------------

(১) আল-বাজার এটি তাঁর মুসনাদ (৩১০)-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার প্রণীত আত-তালখীসুল হাবীর (১/১৫৪)-এ ইবনুল কাত্তান একে সহীহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أدرك الإمام من أول الصلاة أم من اثنائها لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إنما جُعل الإمام ليؤتم به فلا تختلفوا عليه» (1) . وقال النبي صلى الله عليه وسلم: « … فما أدركتم فصلو وما فاتكم فأتموا» (2) .

وسُئل ابن عباس رضي الله عنهما: ما بال المسافر يُصلي ركعتين إذا انفرد وأربعاً إذا ائتم بمقيم؟ فقال: تلك السنة.

وكان ابن عمر رضي الله عنهما إذا صلى مع الإمام صلى أربعاً، وإذا صلى وحده صلى ركعتين، يعني في السفر.

وأما الجمع بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء، فهو سنة للمسافر عند الحاجة إليه، إذا جد به السير واستمر به، فيفعل ما هو الأرفق به من جمع التقديم أو التأخير؛ ففي «الصحيحين» من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا ارتحل قبل أن تزيغَ الشمس أخّر الظهر إلى وقت العصر، ثم نزل فجمع بينهما، فإن زاغت الشمس قبل أن يرتحلَ صلى الظهر ثم ركب.

وللبيهقي (3) : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان في سفر وزالت الشمس صلى الظهر والعصر جمعاً.

وأما إذا لم يكن المسافر محتاجاً للجمع فلا يجمع،

--------------------------------------------

(1) متفق عليه عن أبي هريرة.

(2) متفق عليه عن أبي قتادة.

(3) معرفة السنن والآثار " (6203) وسنده صحيح وأصله في " صحيح مسلم " (1/489) بالاسناد نفسه.
নামাজের শুরু থেকে ইমামের সাথে শরীক হওয়া হোক বা নামাজের মধ্যবর্তী কোনো সময় থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেবল তাকে অনুসরণ করার জন্য, সুতরাং তোমরা তার সাথে ভিন্নতা করো না» (১)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: « … তোমরা নামাজের যতটুকু পাও ততটুকু আদায় করো এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে যায় তা পূর্ণ করো» (২)।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুসাফিরের কী হয়েছে যে, সে যখন একা নামাজ পড়ে তখন দুই রাকাত পড়ে আর যখন কোনো মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দা) পিছনে নামাজ পড়ে তখন চার রাকাত পড়ে? তিনি বললেন: এটাই সুন্নাহ।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন ইমামের সাথে নামাজ পড়তেন তখন চার রাকাত পড়তেন, আর যখন একা পড়তেন তখন দুই রাকাত পড়তেন; অর্থাৎ সফররত অবস্থায়।

আর যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যে জমা বা একত্রীকরণ করা মুসাফিরের জন্য সুন্নাহ যখন তার প্রয়োজন হয়, যদি সে নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলে। এমতাবস্থায় সে তার জন্য যা অধিক সহজ তাই করবে, চাই তা অগ্রিম একত্রীকরণ (جمع التقديم) হোক বা বিলম্বিত একত্রীকরণ (جمع التأخير); কারণ সহীহাইন-এ আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে যোহরকে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত পিছিয়ে দিতেন, এরপর বিরতি দিয়ে উভয় নামাজ একত্রে আদায় করতেন। আর যদি রওনা হওয়ার আগেই সূর্য ঢলে পড়ত, তবে যোহর আদায় করে সওয়ার হতেন।

বাইহাকিতে (৩) বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে থাকতেন এবং সূর্য ঢলে পড়ত, তখন তিনি যোহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন।

আর মুসাফিরের যদি জমা করার প্রয়োজন না থাকে, তবে সে জমা করবে না।

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه)।

(২) আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه)।

(৩) মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার (৬২০৩), এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এর মূল রয়েছে সহীহ মুসলিম-এ (১/৪৮৯) একই সনদে (بالإسناد نفسه)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
مثل أن يكون نازلاً في مكان لا يريد أن يرتحل منه إلا بعد دخول وقت الثانية، فالأولى عدم الجمع لأنه غير محتاج إليه، ولذلك لم يجمع النبي حين كان نازلاً في منى في حَجّة الوداع لعدم الحاجة إليه.

وأما صلاة التطوع، فيتطوع المسافر بما يتطوع به المقيم، فيصلي صلاة الضحى وقيام الليل والوتر وغيرها من النوافل سوى راتبة الظهر والمغرب والعشاء فالسنة أن لا يُصليها.

 

والله سبحانه وتعالى أعلم.
যেমন—কেউ এমন এক স্থানে অবস্থান করছেন যেখান থেকে তিনি দ্বিতীয় ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে প্রস্থান করার ইচ্ছা পোষণ করেন না, এমতাবস্থায় নামাজ একত্র (الجمع) না করাই উত্তম; যেহেতু তার এর প্রয়োজন নেই। এ কারণেই নবী যখন বিদায় হজের সময় মিনায় অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি নামাজ একত্র (الجمع) করেননি, কারণ তখন এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

আর নফল (تطوع) নামাজের ক্ষেত্রে, একজন মুসাফির সে সমস্ত নফল ইবাদত করতে পারবেন যা একজন মুকিম ব্যক্তি করেন। ফলে তিনি চাশতের (الضحى) নামাজ, কিয়ামুল লাইল, বিতর এবং অন্যান্য নফল (النوافل) নামাজসমূহ আদায় করবেন; তবে জোহর, মাগরিব ও এশার নিয়মিত সুন্নত (راتبة) নামাজ ব্যতীত। কেননা সুন্নাহ (السنة) হলো এগুলো আদায় না করা।

 

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাই অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الفصل الثاني في شروط الحج

إن الشريعة‌‌ الإسلامية جاءت من لَدُن حكيم خبير، لا يُشرع منها إلا ما كان مُوافقاً للحكمة، ومطابقاً للعدل، لذلك كانت الواجبات والفرائض لا تلزم الخلق إلا بشروط مرعية يلزم وجودها حتى يكون فرضها واقعاً موقعه.

فمن ذلك فريضة الحج لا تكون فرضاً على العباد إلا بشروط:

?

الشرط الأول: أن يكون مسلماً، بمعنى أن الكافر لا يجب عليه الحج قبل الإسلام، وإنما نأمره بالإسلام أولاً، ثم بعد ذلك نأمره بفرائض الإسلام، لأن الشرائع لا تُقبل إلا بالإسلام، قال الله تعالى: (وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلا يَأْتُونَ الصَّلاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلا يُنْفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ) (التوبة: 54)

?الشرط الثاني:‌‌ العقل، فالمجنون لا يجب عليه الحج ولا يصح منه لأن الحج لا بد فيه من نية وقصد، ولا يمكن وجود ذلك من المجنون.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজের শর্তাবলী প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই ইসলামী শরীয়াহ এমন এক প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে এসেছে, যিনি হিকমত বা প্রজ্ঞার অনুকূল এবং ন্যায়ের পরিপূরক বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু বিধিবদ্ধ করেন না। এই কারণেই সৃষ্টিজগতের ওপর ওয়াজিব এবং ফরজসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক হয় না, যতক্ষণ না এমন কিছু শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে, যা সেগুলোর ফরজ হওয়ার বিধানকে যথাযথ স্থানে ন্যস্ত করে।

তারই অন্তর্ভুক্ত হলো হজের বিধান, যা বান্দাদের ওপর কেবল নিম্নোক্ত শর্তাবলি সাপেক্ষেই ফরজ হয়:

?

প্রথম শর্ত: মুসলিম হওয়া। এর অর্থ হলো, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোনো কাফেরের ওপর হজ ফরজ হয় না। বরং আমরা তাকে প্রথমে ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দেব, এরপর তাকে ইসলামের ফরজ বিধানসমূহ পালনের নির্দেশ দেব। কারণ ইসলাম ব্যতীত কোনো ইবাদত বা শরীয়াহর বিধান কবুল করা হয় না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তাদের দান গ্রহণ করতে কোনো কিছু বাধা দেয়নি কেবল এ বিষয় যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি কুফরি করেছে। আর তারা সালাতে অত্যন্ত অলসতা ছাড়া আসে না এবং অনিচ্ছুক ছাড়া ব্যয় করে না।" (আত-তাওবাহ: ৫৪)

?দ্বিতীয় শর্ত: বুদ্ধিজ্ঞান, অতএব উন্মাদের ওপর হজ ফরজ নয় এবং তার পক্ষ থেকে এটি আদায় করা শুদ্ধ হবে না। কারণ হজের জন্য নিয়ত ও সংকল্প থাকা আবশ্যক, যা একজন উন্মাদের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الشرط الثالث:‌‌ البلوغ، ويحصل البلوغ في الذكور بواحد من أمور ثلاثة:

1 ـ الإنزال، أي إنزال المني لقوله تعالى: (وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ) (النور: 59) ، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «غُسل الجمعة واجب على كل محتلم» متفق عليه.

2 ـ نباتُ شعر العانة، وهو الشعر الخشن يَنبت حول القُبل لقول عطية القرظي رضي الله عنه. عُرضنا على النبي صلى الله عليه وسلم يوم قُريظة، فمن كان محتلماً أو أَنبتَ عانته قُتِل ومَنْ لا تُرِك. (1) .

3- تمام خمس عشرة سنة، لقول عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، عُرضت على النبي صلى الله عليه وسلم يوم أُحد وأنا ابن أربعَ عشرة سنة فلم يُجزني.

زاد البيهقي وابن حبان: ولم يَرَني بلغتُ، وعُرضت عليه يوم الخندق وأنا ابن خمس عشرة سنة فأجازني.

وفي رواية للبيهقي وابن حبان: ورآني بلغت.

قال نافع: فَقدِمتُ على عمر بن

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود وابن ماجه والدرامي ، بسند صحيح.
তৃতীয় শর্ত: বয়ঃসন্ধি (البلوغ), আর পুরুষদের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে বয়ঃসন্ধি অর্জিত হয়:

১- বীর্যপাত, অর্থাৎ বীর্য নির্গত হওয়া; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (আর তোমাদের শিশুরা যখন বয়ঃসন্ধিতে (الحلم) পৌঁছাবে, তখন তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে, যেমন অনুমতি প্রার্থনা করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা; এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়) (আন-নূর: ৫৯)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "জুমার গোসল প্রত্যেক বয়ঃসন্ধিতে উপনীত (محتلم) ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।" সর্বসম্মত (متفق عليه)।

২- নাভির নিচের পশম গজানো, আর তা হলো সেই রুক্ষ পশম যা লজ্জাস্থানের চারপাশে গজায়; আতিয়্যাহ আল-কুরাজি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাণীর কারণে: কুরাইজার যুদ্ধের দিন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল; তখন যাদের বীর্যপাত হয়েছিল কিংবা যাদের নাভির নিচের পশম গজিয়েছিল তাদের হত্যা করা হয়েছিল, আর যাদের তেমনটি হয়নি তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। (১) ।

৩- পনেরো বছর পূর্ণ হওয়া; আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বাণীর কারণে: ওহুদ যুদ্ধের দিন আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল যখন আমার বয়স চৌদ্দ বছর ছিল, তখন তিনি আমাকে অনুমতি দেননি।

বাইহাকি এবং ইবনে হিব্বান বর্ধিতভাবে উল্লেখ করেছেন: এবং তিনি আমাকে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছি বলে মনে করেননি। আর খন্দক যুদ্ধের দিন আমাকে তাঁর নিকট পেশ করা হয়েছিল যখন আমি পনেরো বছর বয়সের, তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।

বাইহাকি এবং ইবনে হিব্বানের একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: এবং তিনি আমাকে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছি বলে গণ্য করেছিলেন।

নাফে বলেন: অতঃপর আমি উমর ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং দারেমি এটি বর্ণনা করেছেন, একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند)-এর সাথে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
عبد العزيز وهو خليفة فحدّثته الحديث، فقال: «إن هذا الحد بين الصغير والكبير، وكتب لعماله أن يفرضوا ـ يعني من العطاء ـ لمن بلغ خمس عشرة سنة» . رواه البخاري.

4 ـ ويحصل البلوغ في الإناث بما يحصل به البلوغ في الذكور، وزيادة أمر رابع، وهو الحيضُ، فمتى حاضت فقد بلغت وإن لم تبلغ عشر سنين.

فلا يجب الحج على من دون البلوغ لصغر سنه، وعدم تحمُّله أعباء الواجب غالباً، ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «رُفع القلم عن ثلاثة؛ عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصغير حتى يَكبُر، وعن المجنون حتى يفيق» . رواه أحمد وأبو داود والنسائي وصححه الحاكم.

لكن يصح الحج من الصغير الذي لم يبلغ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لقي رَكباً بالروحاء ـ اسم موضع ـ فقال: «من القوم؟» قالوا: المسلمون. فقالوا: من أنت؟ قال: «رسول الله» ، فرفعت إليه امرأة صبياً فقالت:
عبد العزيز তখন খলিফা ছিলেন, আমি তাঁকে হাদিসটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এটিই ছোট এবং বড়র মধ্যকার সীমারেখা», এবং তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট লিখে পাঠালেন যে, পনেরো বছর বয়সে উপনীত ব্যক্তিদের জন্য যেন তারা (ভাতা) বরাদ্দ করে। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

৪. পুরুষদের ক্ষেত্রে যে উপায়ে সাবালকতা অর্জিত হয়, নারীদের ক্ষেত্রেও সেগুলোর মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়; তবে নারীদের জন্য অতিরিক্ত চতুর্থ একটি বিষয় রয়েছে, আর তা হলো ঋতুস্রাব। সুতরাং যখনই কোনো নারী ঋতুবতী হবে, তখনই সে সাবালিকা হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তার বয়স দশ বছর পূর্ণ না হয়।

অল্প বয়সের কারণে এবং সাধারণত ইবাদতের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হওয়ার কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর হজ্জ ফরজ হয় না। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণেও: «তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে; ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ছোট শিশু যতক্ষণ না সে বড় হয় এবং পাগল ব্যক্তি যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়»। এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।

তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর হজ্জ আদায় করা শুদ্ধ হবে; কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'রাওহা' নামক স্থানে—যা একটি স্থানের নাম—একটি কাফেলার দেখা পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তোমরা কোন কওম?» তারা বলল: «মুসলিম সম্প্রদায়»। তারা জিজ্ঞেস করল: «আপনি কে?» তিনি বললেন: «আল্লাহর রাসূল», তখন এক নারী একটি শিশুকে তাঁর দিকে উঁচিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করল:
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ألهذا حج؟ قال: «نعم ولكِ أجر» رواه مسلم.

وإذا أثبت النبي صلى الله عليه وسلم للصبي حجاً ثبت جميع مقتضيات هذا الحج فليُجنَّب جميع ما يجتنبه المُحرم الكبير من محظورات الإحرام، إلا أن عمدَه خطأٌ، فإذا فعل شيئاً من محظورات الإحرام فلا فدية عليه ولا على وليِّه.

?الشرط الرابع:‌‌ الحرية، فلا يجب الحج على مملوك لعدم استطاعته.

?

الشرط الخامس:‌‌ الاستطاعة بالمال والبدن، بأن يكونَ عنده مال يتمكن به من الحج ذهاباً وإياباً ونفقة، ويكون هذا المال فاضلاً عن قضاء الديون والنفقات الواجبة عليه، وفاضلاً عن الحوائج التي يحتاجها من المطعم والمشرب والملبس والمنكح والمسكن ومتعلقاته وما يحتاج إليه من مركوب وكُتبِ علمٍ وغيرها، لقوله تعالى: (وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً) (آل عمران: 97) ومن الاستطاعة أن يكون للمرأة مَحْرَمٌ، فلا يجب أداء الحج على من لا محرم لها لامتناع السفر
এর জন্যও কি হজ আছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে সওয়াব» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শিশুর জন্য হজ সাব্যস্ত করেছেন, তখন এই হজের যাবতীয় দাবি ও বিধানও সাব্যস্ত হয়ে যাবে। সুতরাং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ইহরামকারী ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে যেভাবে বেঁচে থাকেন, শিশুকেও সেভাবে সেসব থেকে দূরে রাখতে হবে। তবে তার ইচ্ছাকৃত কাজ ভুল হিসেবে গণ্য হবে। তাই সে যদি ইহরামের নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেলে, তবে তার নিজের ওপর বা তার অভিভাবকের ওপর কোনো ফিদয়া আবশ্যক হবে না।

?চতুর্থ শর্ত:‌‌ স্বাধীনতা, ফলে সামর্থ্য না থাকার কারণে দাসের ওপর হজ ফরজ নয়।

?

পঞ্চম শর্ত:‌‌ সামর্থ্য শারীরিক ও আর্থিক হওয়া; অর্থাৎ তার নিকট এমন সম্পদ থাকতে হবে যা দিয়ে সে যাতায়াত ও পাথেয়সহ হজের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। এই সম্পদ তার ঋণ পরিশোধ এবং তার ওপর অর্পিত আবশ্যক খরচাদির অতিরিক্ত হতে হবে। এছাড়া তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয়, পোশাক, বিবাহ, বাসস্থান ও এর আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় বাহন ও ইলমি কিতাবাদি ইত্যাদির মতো মৌলিক প্রয়োজনেরও অতিরিক্ত হতে হবে। আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক) (আলে ইমরান: ৯৭)। সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো নারীর জন্য মাহরাম থাকা। সুতরাং সফর করা অসম্ভব হওয়ার কারণে যার মাহরাম নেই, তার ওপর হজ আদায় করা ওয়াজিব নয়।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عليها شرعاً، إذ لا يجوز للمرأة أن تسافر للحج ولا غيره بدون محرم، سواء أكان السفر طويلاً أم قصيراً، وسواء أكان معها نساء أم لا، وسواء كانت شابة جميلة أم عجوزاً شوهاء، وسواء في طائرة أم غيرها لحديث ابن عباس رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يخطب يقول: «لا يخلون رجلٌ بامرأة إلا ومعها ذو محرم، ولا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم» ، فقام رجلٌ فقال: يا رسول الله إن امرأتي خرجت حاجة، وإني اكتتبت في غزوة كذا وكذا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «انطلق فحج مع امرأتك» . (1)

ولم يستفصله النبي صلى الله عليه وسلم هل كان معها نساء أم لا؟ ولا هل كانت شابة جميلة أم لا؟ ولا هل كانت آمنةً أم لا؟

والحكمة في منع المرأة من السفر بدون محرم صونُ المرأة عن الشر والفساد، وحمايتها من أهل الفجور والفسق؛ فإن المرأة قاصرةٌ في عقلها وتفكيرها والدفاع عن نفسها، وهي مطمعُ الرجال، فربما تُخدع أو تُقهر، فكان من الحكمة أن تُمنع من السفر بدون محرم

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী এটি তার ওপর নির্ধারিত; কেননা নারীর জন্য হজ্জ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করা বৈধ নয়, চাই সেই সফর দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত, তার সাথে অন্যান্য নারী থাকুক বা না থাকুক, তিনি সুন্দরী যুবতী হোন কিংবা বিরূপ চেহারার বৃদ্ধা, বিমানে সফর হোক বা অন্য কোনো যানবাহনে—এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা প্রদানকালে বলতে শুনেছেন: «মাহরাম ব্যতীত কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে এবং মাহরাম ব্যতীত কোনো নারী যেন সফর না করে।» তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম তালিকাভুক্ত করেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ সম্পন্ন করো»। (১)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কোনো বিশদ বিবরণ জানতে চাননি যে, তার সাথে মহিলারা ছিল কি না? কিংবা তিনি সুন্দরী যুবতী ছিলেন কি না? অথবা পথ নিরাপদ ছিল কি না?

মাহরাম ব্যতিরেকে নারীর সফর নিষিদ্ধ করার পেছনে নিহিত প্রজ্ঞা হলো তাকে অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে রক্ষা করা এবং পাপাচারী ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিদের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা প্রদান করা; কেননা নারী তার বুদ্ধি, চিন্তা ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ এবং সে পুরুষদের লালসার পাত্রী, ফলে সে প্রতারিত বা নিগৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মাহরাম ছাড়া সফর নিষিদ্ধ করার মাঝেই প্রকৃত হিকমত নিহিত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يُحافظ عليها ويصونها؛ ولذلك يُشترط أن يكون المَحرَم بالغاً عاقلاً، فلا يكفي المحرم الصغير أو المعتوه.

والمَحرَمُ زوج المرأة، وكل ذَكرٍ تَحرمُ عليه تحريماً مؤبداً بقرابةٍ أو رضاع أو مصاهرة.

ف‌‌المحارم من القرابة سبعة:

1 ـ الأصول؛ وهم الآباء والأجداد وإن علوا، سواء من قِبَلِ الأب أو من قِبَلِ الأم.

2 ـ الفروع؛ وهم الأبناء وأبناء الأبناء وأبناء البنات وإن نزلوا.

3 ـ الإخوة؛ سواءٌ كانوا إخوةً أشقاء أم لأب أم لأم.

4 ـ الأعمام؛ سواء كانوا أعماماً أشقاء أم لأب أو لأم، وسواء كانوا أعماماً للمرأة أو لأحدٍ من آبائها أو أمهاتها، فإن عم الإنسان عمٌّ له ولذريته مهما نزلوا.

5 ـ الأخوال سواء كانوا أخوالاً أشقاء أم لأب أم لأم، وسواء كانوا أخوالاً للمرأة أو لأحدٍ من آبائها أو أُمهاتها، فإن خال الإنسان خالٌ له ولذريته مهما نزلوا.
তিনি তাকে রক্ষা ও হেফাযত করবেন; এই কারণে শর্তারোপ করা হয়েছে যে, মাহরামকে (مَحرم) প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) ও বুদ্ধিমান (عاقل) হতে হবে। সুতরাং অপ্রাপ্তবয়স্ক বা বিকারগ্রস্ত মাহরাম (مَحرم) যথেষ্ট নয়।

আর মাহরাম (مَحرم) হলেন মহিলার স্বামী এবং এমন প্রত্যেক পুরুষ, যার সঙ্গে বংশীয় সম্পর্ক (قرابة), দুগ্ধপান সম্পর্ক (رضاع) কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের (مصاهرة) কারণে ওই মহিলার বিবাহ চিরস্থায়ীভাবে হারাম (تحريماً مؤبداً)।

সুতরাং বংশীয় সম্পর্কের মাহরামগণ (المحارم من القرابة) সাত প্রকার:

১ ـ মূল বা ঊর্ধ্বতন (أصول); তারা হলেন পিতা ও পিতামহগণ এবং তাদের ঊর্ধ্বতন সকলে, চাই তারা পিতার পক্ষ থেকে হোন বা মাতার পক্ষ থেকে।

২ ـ শাখা বা অধস্তন (فروع); তারা হলেন পুত্র, পুত্রের পুত্র এবং কন্যার পুত্র এবং তাদের অধস্তন সকলে।

৩ ـ ভাইগণ; তারা সহোদর (أشقاء) ভাই হোক অথবা বৈমাত্রেয় কিংবা বৈপিত্রীয় ভাই হোক।

৪ ـ চাচাগণ; তারা সহোদর (أشقاء) হোন কিংবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রীয় হোন, এবং তারা ওই মহিলার চাচা হোন কিংবা তার পিতা বা মাতার চাচা হোন। কেননা কোনো ব্যক্তির চাচা তার নিজের জন্য এবং তার অধস্তন বংশধরদের জন্য চাচা হিসেবেই গণ্য হন।

৫ ـ মামাগণ; তারা সহোদর (أشقاء) হোন কিংবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রীয় হোন, এবং তারা ওই মহিলার মামা হোন কিংবা তার পিতা বা মাতার মামা হোন। কেননা কোনো ব্যক্তির মামা তার নিজের জন্য এবং তার অধস্তন বংশধরদের জন্য মামা হিসেবেই গণ্য হন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
6 ـ أبناء الإخوة وأبناء أبنائهم وأبناء بناتهم وإن نزلوا، سواءٌ كانوا أشقاء أم لأب أم لأم.

7 ـ أبناء الأخوات وأبناء أبنائهن وأبناء بناتهن وإن نزلوا، سواءٌ كُنّ شقيقات أم لأب أم لأم.

و‌‌المحارم من الرضاع نظير المحارم من النسب، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «يحرمَ من الرضاع ما يَحرمُ من النسب» . متفق عليه.

و‌‌المحارم بالمصاهرة أربعة:

1 ـ أبناء زوج المرأة وأبناء أبنائه وأبناء بناته وإن نزلوا.

2 ـ آباء زوج المرأة وأجداده من قِبَل الأب أو من قِبَل الأم وإن عَلَوا.

3 ـ أزواج بنات المرأة وأزواج بنات أبنائها وأزواج بنات بناتها وإن نزلن.

وهذه الأنواع الثلاثة تثبت المحرمية فيهم بمجرد العقد الصحيح على الزوجة، وإن فارقها قبل الخلوةِ والدخولِ.
৬ ـ ভাইদের পুত্রগণ এবং তাদের পুত্রদের পুত্রগণ ও তাদের কন্যাদের পুত্রগণ, তারা পর্যায়ক্রমে নিচে বিস্তৃত হোক না কেন; চাই তারা সহোদর হোক কিংবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রীয়।

৭ ـ বোনদের পুত্রগণ এবং তাদের পুত্রদের পুত্রগণ ও তাদের কন্যাদের পুত্রগণ, তারা পর্যায়ক্রমে নিচে বিস্তৃত হোক না কেন; চাই তারা সহোদরা হোক কিংবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রীয়।

এবং দুগ্ধপানজনিত মাহরামগণ বংশীয় মাহরামদের অনুরূপ, নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: "দুগ্ধপান তা-ই হারাম করে, যা বংশীয় সম্পর্ক হারাম করে।" ঐকমত্যপুষ্ট (متفق عليه)।

এবং বৈবাহিক সম্পর্কজনিত মাহরামগণ চার প্রকার:

১ ـ মহিলার স্বামীর পুত্রগণ এবং তাদের পুত্রদের পুত্রগণ ও তাদের কন্যাদের পুত্রগণ, তারা পর্যায়ক্রমে নিচে বিস্তৃত হোক না কেন।

২ ـ মহিলার স্বামীর পিতৃবর্গ এবং তাঁর পিতৃকূলীয় বা মাতৃকূলীয় পিতামহ ও মাতামহগণ, তারা যত উপরেই হোক না কেন।

৩ ـ মহিলার কন্যাদের স্বামীগণ এবং তাঁর পুত্রদের কন্যাদের স্বামীগণ ও তাঁর কন্যাদের কন্যাদের স্বামীগণ, তারা পর্যায়ক্রমে নিচে বিস্তৃত হোক না কেন।

এই তিন প্রকারের ক্ষেত্রে মাহরাম হওয়ার বিধান স্ত্রীর সাথে কেবল সঠিক বৈবাহিক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়ে যায়, যদিও তিনি নির্জনবাস ও মিলনের পূর্বেই তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
4 ـ أزواج أمهات المرأة وأزواج جداتها وإن علوا، سواء من قِبَل الأب أو من قِبَل الأم، لكن لا تثبت المحرمية في هؤلاء إلا بالوطء، وهو الجماع في نكاح صحيح، فلو تزوج امرأةً ثم فارقها قبل الجماعِ لم يكن مَحرماً لبناتها وإن نزلن.

فإن لم يكن الإنسان مستطيعاً بماله فلا حج عليه، وإن كان مستطيعاً بماله عاجزاً ببدنه؛ نظرنا.

فإن كان عجزاً يُرجى زواله كمرض يُرجى أن يزول، انتظر حتى يزول، ثم يُؤدي الحج بنفسه.

وإن كان عجزا لا يُرجى زواله، كالكبر والمرض المُزمن الذي لا يُرجى برؤه، فإنه يُنيب عنه من يقوم بأداء الفريضة عنه لحديث ابن عباس رضي الله عنهما أن امرأة من خثعم قالت: «يا رسول الله إن أبي أدركته فريضةُ الله في الحج شيخاً كبيراً لا يستطيع أن يستوي على ظهر بعيره، قال: «حجي عنه» رواه الجماعة.

هذه شروط الحج التي لا بد من توافرها لوجوبه.

واعتبارها مطابقٌ للحكمة والرحمة والعدل (وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ) (المائدة: 50)
৪. কোনো মহিলার মাতার স্বামীগণ এবং তার মাতামহী ও পিতামহীদের স্বামীগণ, তারা ঊর্ধ্বতন স্তরের হলেও; চাই তারা পিতার দিক থেকে হোক বা মাতার দিক থেকে। তবে এদের ক্ষেত্রে মাহরাম হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয় না যতক্ষণ না সহবাস (وطء) সম্পন্ন হয়, আর তা হলো সঠিক (صحيح) বিয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত মিলন। সুতরাং কেউ যদি কোনো মহিলাকে বিয়ে করে অতঃপর মিলনের পূর্বেই তাকে পৃথক করে দেয়, তবে সে তার কন্যাদের জন্য—তারা অধস্তন স্তরের হলেও—মাহরাম হবে না।

যদি কোনো ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তবে তার ওপর হজ ফরজ নয়। আর যদি তার আর্থিক সামর্থ্য থাকে কিন্তু শারীরিকভাবে অক্ষম হয়, তবে বিষয়টি বিবেচ্য।

যদি এই অক্ষমতা এমন হয় যা দূর হওয়ার আশা করা যায়, যেমন এমন রোগ যা থেকে সুস্থ হওয়ার আশা রয়েছে, তবে তিনি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, অতঃপর নিজেই হজ সম্পাদন করবেন।

আর যদি অক্ষমতা এমন হয় যা দূর হওয়ার আশা করা যায় না, যেমন বার্ধক্য কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যা থেকে আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই, তবে তিনি তার পক্ষ থেকে এমন কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবেন যিনি তার হয়ে এই ফরজ (فريضة) দায়িত্বটি পালন করবেন। এর কারণ হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে খাসআম গোত্রের এক মহিলা বললেন: «হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতার ওপর আল্লাহর হজের ফরজ (فريضة) বিধান এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে যখন তিনি অতি বৃদ্ধ, বাহনের পিঠে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না», তিনি বললেন: «তুমি তার পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করো»; এটি আল-জামাআ (الجماعة) বর্ণনা করেছেন।

এগুলো হলো হজের শর্তাবলি যা এটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার জন্য বিদ্যমান থাকা অনিবার্য।

আর এগুলোর বিবেচনা প্রজ্ঞা, করুণা ও ন্যায়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ (আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?) (আল-মায়েদাহ: ৫০)
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفصل الثالث في المواقيت وأنواع الأنساك

المواقيت نوعان: زمانية ومكانية.

فالزمانية للحج خاصة، أما العمرة فليس لها زمن معين لقوله تعالى: (الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ) (البقرة: الآية197) وهي ثلاثةٌ شوال وذو القعدة وذو الحجة.

وأما المكانية فهي خمسة، وقّتها رسول الله صلى الله عليه وسلم ففي «الصحيحين» من حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: «وقّت رسول الله صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة ذا الحُليفة، ولأهل الشام الجُحفة، ولأهل نجد قَرن المنازل، ولأهل اليمن يَلَملَم، فهنّ لهنّ ولمن أتى عليهنّ من غير أهلهنّ لمن كان يريد الحج والعمرة، فمن كان دونهنّ فمَهِلُّه من أهلِه، وكذلك حتى أهل مكة يُهلُّون منها» .

وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم وقّت لأهل العراق (ذات عِرْق) رواه أبو داود والنسائي.

فالأول: ذو الحليفة ويسمى (أبيار علي) بينه وبين مكة نحو عشر مراحل، وهو ميقات أهل المدينة ومن مرّ به من غيرهم.
তৃতীয় অধ্যায়: মীকাতসমূহ (مواقيت) এবং ইহরামের (أنساك) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

মীকাতসমূহ (مواقيت) দুই প্রকার: সময়ভিত্তিক ও স্থানভিত্তিক।

সময়ভিত্তিক মীকাত (مواقيت زمانية) বিশেষ করে হজের জন্য নির্ধারিত, পক্ষান্তরে ওমরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হজ হয় সুনির্দিষ্ট মাসসমূহে" (আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)। আর তা হলো তিনটি মাস: শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ।

আর স্থানভিত্তিক মীকাতসমূহ (مواقيت مكانية) হলো পাঁচটি, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্ধারণ করেছেন। সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নির্ধারণ করেছেন। এই স্থানগুলো সেইসব অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং যারা ঐ পথ দিয়ে আসবে তাদের জন্য—যারা হজ ও ওমরা করার ইচ্ছা রাখে। আর যে ব্যক্তি এই মীকাতগুলোর ভেতর অবস্থান করে, সে যেখান থেকে যাত্রা শুরু করবে সেখান থেকেই ইহরাম (إهلال) বাঁধবে; এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম (إهلال) বাঁধবে।"

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরাকবাসীদের জন্য ‘যাতু ইর্ক’ নির্ধারণ করেছেন। এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

প্রথমটি হলো: যুল-হুলাইফা, যাকে ‘আবইয়ারে আলী’ বলা হয়। এর এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় দশ মানজিল। এটি মদিনাবাসীদের এবং যারা মদিনা হয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্য মীকাত (ميقات)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الثاني: الجحفة، وهي قرية قديمة بينها وبين مكة نحو ثلاث مراحل، وقد خربت فصار الناس يُحرمون من رابغ بدلاً عنها وهي ميقات أهل الشام ومن مر بها من غيرهم إن لم يمروا بذي الحليفة قبلها، فإن مروا بها لزمهم الإحرام منها.

الثالث: قرن المنازل؛ ويسمى (السيل) وبينه وبين مكة نحو مرحلتين، وهو ميقات أهل نجد ومن مر به من غيرهم.

الرابع: يلملم وهو جبل أو مكان بتهامة، بينه وبين مكة نحو مرحلتين، ويسمى (السعدية) وهو ميقات أهل اليمن ومن مر به من غيرهم.

الخامس: ذات عرق، ويسمى عند أهل نجد (الضريبة) بينها وبين مكة مرحلتان، وهي لأهل العراق ومن مر بها من غيرهم.

وَمَن كان أقربَ إلى مكة من هذه المواقيت فميقاته مكانه فَيُحرم منه، حتى أهل مكة يحرِمون من مكة، إلا في العمرة فيحرم من كان في الحَرَم من أدنى الحلّ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعبد الرحمن بن أبي بكر: «اخْرُج بأُختِك ـ يعني
দ্বিতীয়: আল-জুহফাহ; এটি একটি প্রাচীন গ্রাম যা মক্কা থেকে প্রায় তিন মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। বর্তমানে এটি জনশূন্য ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় মানুষ এর পরিবর্তে 'রাবিগ' থেকে ইহরাম বাঁধে। এটি সিরিয়াবাসী এবং এই পথ দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যদের জন্য নির্ধারিত মীকাত, যদি তারা এর আগে যুল-হুলাইফাহ অতিক্রম না করে থাকে। তবে তারা যদি যুল-হুলাইফাহ অতিক্রম করে, তবে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধা তাদের জন্য আবশ্যক।

তৃতীয়: কারনুল মানাযিল; একে 'আস-সাইল' বলা হয়। এটি মক্কা থেকে প্রায় দুই মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। এটি নজদবাসী এবং এই পথ দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যদের জন্য নির্ধারিত মীকাত।

চতুর্থ: ইয়ালামলাম; এটি তিহামাহ অঞ্চলের একটি পাহাড় বা স্থান, যা মক্কা থেকে প্রায় দুই মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। একে 'আস-সাদিয়াহ' বলা হয়। এটি ইয়েমেনবাসী এবং এই পথ দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যদের জন্য নির্ধারিত মীকাত।

পঞ্চম: যাতু ইরক; নজদবাসীদের নিকট একে 'আদ-দারিবাহ' বলা হয়। এটি মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। এটি ইরাকবাসী এবং এই পথ দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যদের জন্য নির্ধারিত মীকাত।

আর যারা এই মীকাতগুলোর তুলনায় মক্কার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করে, তাদের মীকাত হলো তাদের নিজ নিজ অবস্থানস্থল এবং তারা সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। তবে উমরার ক্ষেত্রে যারা হারামের সীমানার ভেতরে অবস্থান করছে, তারা হারামের নিকটবর্তী বাইরের সীমানা (হিল্ল) থেকে ইহরাম বাঁধবে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরকে বলেছিলেন: «তোমার বোনকে নিয়ে (হারামের সীমানার বাইরে) বের হও—অর্থাৎ...
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عائشة لما طلبت منه العمرة ـ من الحَرَم فَلتُهِل بعمرة» متفق عليه.

ومن كان طريقه يميناً أو شمالاً من هذه المواقيت فإنه يحرم إذا حاذى أقرب المواقيت إليه، فإن لم يُحاذِ ميقاتاً مثل أهل سواكنَ في السودان ومن يمر من طريقهم فإنهم يحرمون من جُدّة.

ولا يجوز لمن مر بهذه المواقيت وهو يريد الحج أو العمرة أن يتجاوزها إلا محرماً، وعلى هذا فإذا كان في الطائرة وهو يُريد الحج أو العمرة، وجب عليه الإحرام إذا حاذى الميقات من فوقه، فيتأهب ويلبس ثياب الإحرام قبل محاذاة الميقات، فإذا حاذاه عقد نية الإحرام فوراً.

ولا يجوز له تأخيره إلى الهبوط في جُدّة، لأن ذلك من تعدي حدود الله تعالى، وقد قال سبحانه: (وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ) (الطلاق: 1) ، (وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ) (البقرة: 229) ، (وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ) (النساء: 14) . ومن مَرّ بالمواقيت وهو لا يريد حَجّاً ولا عمرة، ثم
আয়েশা (রা.) যখন তাঁর কাছে উমরার আবেদন করলেন—(তখন তিনি বললেন) হারামের ভেতর থেকে তিনি যেন উমরার ইহরাম শুরু করেন। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

আর এই মিকাতগুলোর ডানে বা বামে যাদের পথ, তারা তাদের নিকটতম মিকাতের সমান্তরালে পৌঁছালে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি কোনো মিকাতের সমান্তরাল না হয়, যেমন সুদানের সোয়াকিনবাসী এবং যারা তাদের পথ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে তারা জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধবে।

যে ব্যক্তি হজ বা উমরার সংকল্প নিয়ে এই মিকাতগুলো অতিক্রম করবে, তার জন্য ইহরাম ছাড়া এগুলো অতিক্রম করা বৈধ নয়। এর ভিত্তিতে, কেউ যদি বিমানে থাকে এবং সে হজ বা উমরার ইচ্ছা রাখে, তবে যখন সে উপর দিয়ে মিকাতের সমান্তরালে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। সুতরাং মিকাতের সমান্তরালে পৌঁছানোর আগেই সে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং ইহরামের কাপড় পরিধান করবে; এরপর যখনই সমান্তরালে পৌঁছাবে, সাথে সাথে ইহরামের নিয়ত করবে।

আর জেদ্দায় অবতরণ পর্যন্ত ইহরাম বিলম্ব করা তার জন্য বৈধ নয়; কারণ তা আল্লাহ তাআলার সীমা লঙ্ঘনের শামিল। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (এবং যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজেরই ওপর জুলুম করে) (আত-তালাক: ১), (আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই জালিম) (আল-বাকারাহ: ২২৯), (এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি) (আন-নিসা: ১৪)। আর যে ব্যক্তি হজ বা উমরার ইচ্ছা না রেখে মিকাতগুলো অতিক্রম করে, অতঃপর...
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
بدا له بعد ذلك أن يعتمر أو يحج فإنه يُحرم من المكان الذي عزم فيه على ذلك لأن في «الصحيحين» من حديث ابن عباس رضي الله عنهما في ذكر المواقيت قال: ومن كان دون ذلك فَمِن حيث أنشأ، وإذا مرّ بهذه المواقيت وهو لا يريد الحج ولا العمرة وإنما يريد مكة لغرض آخر كطلب علم، أو زيارة قريب، أو علاج مرض، أو تجارة أو نحو ذلك فإنه لا يجب عليه الإحرام إذا كان قد أدى الفريضة، لحديث ابن عباس السابق وفيه: «هن لهن ولمن أتى عليهن من غير أهلهن لمن كان يريد الحج والعمرة» ، فإن مفهومه أن من لا يريدهما لا يجب عليه الإحرام.

وإرادة الحج والعمرة غير واجبة على من أدى فريضتهما، وهما لا يجبان في العُمرِ إلا مرة واحدة، لقول النبي صلى الله عليه وسلم حين سُئل هل يجب الحج كل عام؟ قال: «الحج مرة فما زاد فهو تطوع» .

والعمرة كالحج لا تجب إلا مرة في العمر.

لكن الأولى لمن مر بالميقات أن لا يدع الإحرام بعمرة أو حج إن كان في أشهرهِ، وإن كان قد أدى الفريضة ليحصل له بذلك الأجر، ويخرج من الخلاف في وجوب الإحرام عليه.
এরপর যদি তার মনে উমরাহ বা হজ করার ইচ্ছা জাগে, তবে সে যেখানে এই সংকল্প করবে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। কারণ সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মিকাতসমূহের বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "আর যারা এর (মিকাতের) ভেতরে অবস্থান করে, তারা যেখান থেকে (হজ বা উমরার) সংকল্প করবে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে।" আর যদি কেউ এই মিকাতগুলো অতিক্রম করার সময় হজ বা উমরার ইচ্ছা না রাখে, বরং জ্ঞানার্জন, আত্মীয়-স্বজন পরিদর্শন, চিকিৎসা গ্রহণ, ব্যবসা বা অনুরূপ কোনো প্রয়োজনে মক্কায় যেতে চায়, তবে ইতিপূর্বে ফরজ আদায় করে থাকলে তার ওপর ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব নয়। এর প্রমাণ হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে: "এই মিকাতগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা ঐ পথ দিয়ে আসবে তাদের জন্য, যদি তারা হজ বা উমরার ইচ্ছা রাখে।" সুতরাং এর মর্মার্থ (مفهوم) হলো, যার এই দুটির ইচ্ছা নেই তার ওপর ইহরাম বাঁধা আবশ্যক নয়।

যারা ইতোপূর্বে তাদের ফরজ হজ ও উমরাহ আদায় করেছে, তাদের ওপর পুনরায় এর ইচ্ছা পোষণ করা ওয়াজিব নয়। কেননা জীবনে এগুলো মাত্র একবারই আবশ্যক হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, হজ কি প্রতি বছর আবশ্যক? তখন তিনি বলেছিলেন: "হজ একবারই ফরজ, আর এর অতিরিক্ত যা করা হবে তা নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে।"

উমরাহও হজের মতো জীবনে মাত্র একবারই ওয়াজিব হয়।

তবে উত্তম (الأولى) হলো, কেউ যদি মিকাত অতিক্রম করার সময় হজের মাসসমূহে থাকে, তবে উমরাহ বা হজের ইহরাম বর্জন না করা—যদিও সে ইতিপূর্বে তার ফরজ আদায় করে থাকে। এর ফলে সে সওয়াব অর্জন করতে পারবে এবং তার ওপর ইহরাম ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত মতভেদ থেকেও বেরিয়ে আসতে পারবে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أنواع الأنساك ثلاثة:

الأول: التمتع بالعمرة إلى الحج، وهو أن يُحرم في أشهر الحج بالعمرة وحدها، ثم يفرغ منها بطواف وسعي وتقصير، ويحل من إحرامه، ثم يحرم بالحج في وقته من ذلك العام.

الثاني: القران؛ وهو أن يحرم بالعمرة والحج جميعاً، أو يُحرم بالعمرة أولاً ثم يُدخل الحج عليها قبل الشروع في طوافها فإذا وصل إلى مكة طاف طواف القدوم، وسعى بين الصفا والمروة للعمرة والحج سعياً واحداً، ثم استمرّ على إحرامه حتى يُحل منه يوم العيد.

ويجوز أن يؤخر السعي عن طواف القدوم إلى ما بعد طواف الحج، لا سيما إذا كان وصوله إلى مكة متأخراً وخاف فوات الحج إذا اشتغل بالسعي.

الثالث: الإفراد؛ وهو أن يُحرم بالحج مفرداً، فإذا وصل مكة طاف طواف القدوم، وسعى للحج، واستمر على إحرامه حتى يحل منه يوم العيد.

ويجوز أن يؤخر السعي إلى ما بعد طواف الحج كالقارن.

وبهذا تبين أن عمل المُفرد والقارن سواء، إلا أن القارن عليه الهديُ لحصول النُّسُكين له دون المفرد.
হজ্জ পালনের পদ্ধতিসমূহ (أنواع الأنساك) তিন প্রকার:

প্রথম: তামাত্তু (التمتع); এটি হলো হজ্জের মাসসমূহে কেবল উমরার ইহরাম বাঁধা, অতঃপর তাওয়াফ, সাঈ এবং চুল ছোট করার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া, এরপর সেই বছরই হজ্জের নির্ধারিত সময়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধা।

দ্বিতীয়: কিরান (القران); এটি হলো উমরা ও হজ্জ উভয়ের জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধা, অথবা প্রথমে উমরার ইহরাম বাঁধা এবং উমরার তাওয়াফ শুরু করার পূর্বেই তাতে হজ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। অতঃপর মক্কায় পৌঁছে ‘তাওয়াফে কুদুম’ করা এবং উমরা ও হজ্জের জন্য একটি সাঈ করা। এরপর ঈদের দিন ইহরাম মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় অবিচল থাকা।

তাওয়াফে কুদুমের পরবর্তী সাঈ-কে হজ্জের তাওয়াফের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ, বিশেষ করে যখন মক্কায় পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং সাঈতে মশগুল হলে হজ্জ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তৃতীয়: ইফরাদ (الإفراد); এটি হলো এককভাবে কেবল হজ্জের ইহরাম বাঁধা। মক্কায় পৌঁছে ‘তাওয়াফে কুদুম’ করা এবং হজ্জের জন্য সাঈ করা। এরপর ঈদের দিন ইহরাম মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকা।

কিরানকারীর ন্যায় ইফরাদকারীর জন্যও সাঈ-কে হজ্জের তাওয়াফের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, ইফরাদকারী ও কিরানকারীর আমলসমূহ অভিন্ন, তবে পার্থক্য হলো—দুটি ইবাদত (النسكين) একত্রে আদায় করার কারণে কিরানকারীর ওপর ‘হাদি’ (الهدي) বা কোরবানি করা ওয়াজিব, যা ইফরাদকারীর ওপর নেই।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأفضل هذه الأنواع التمتع، لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر به أصحابه وحثهم عليه، بل أمرهم أن يُحولوا نية الحج إلى العمرة من أجل التمتع.

فعن ابن عباس رضي الله عنهما أنه سُئل عن متعةِ الحج؟ فقال: «أهل المهاجرون والأنصار وأزواج النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع وأهللنا، فلما قدمنا مكة قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اجعلوا إهلالكم بالحج عُمرةً إلا من قَلّد الهدي» فَطُفنا بالبيت وبالصفا والمروة وأتينا النساء ولبسنا الثياب) رواه البخاري ، وعن جابر رضي الله عنه قال: «خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مُهلين بالحج، معنا النساء والولدان، فلما قدمنا مكة طُفنا بالبيت والصفا والمروة، فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لم يكن معه هديٌ فَليحلُل» ، قال: قلنا: أي الحل؟! قال: «الحلُّ كله» . قال: فأتينا النساء، ولبسنا الثياب ومَسَسنا الطيب، فلما كان يومُ التروية أهللنا بالحج» رواه مسلم. وفي رواية له قال: «قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «قد علمتُم أني أتقاكم لله، وأصدقكم وأبرُّكم، ولولا هَديي لأحللت كما تُحلون، ولو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسق الهديَ، فَحِلُّوا» . فَحللنا وسَمِعنا وأطعنا» .
এই প্রকারগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো তামাচ্ছু (التمتع), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন; বরং তিনি তাঁদেরকে তামাচ্ছু (التمتع)-এর উদ্দেশ্যে হজের নিয়তকে উমরায় পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে হজের তামাচ্ছু (متعة الحج) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "বিদায় হজে মুহাজির, আনসার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ ইহরাম (أهل) বেঁধেছিলেন এবং আমরাও ইহরাম বেঁধেছিলাম। যখন আমরা মক্কায় পৌঁছালাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'যাদের সাথে কুরবানীর পশু (الهدي) নেই, তারা যেন তাদের হজের ইহরামকে উমরায় পরিণত করে।' অতঃপর আমরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলাম এবং সাফা ও মারওয়া সাঈ করলাম এবং আমরা স্ত্রীদের নিকট গেলাম ও সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজের ইহরামকারী (مُهلين) হিসেবে বের হলাম, আমাদের সাথে নারী ও শিশুরাও ছিল। যখন আমরা মক্কায় পৌঁছালাম, তখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলাম এবং সাফা ও মারওয়া সাঈ করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: 'যাদের সাথে কুরবানীর পশু (هدي) নেই, তারা যেন হালাল (ليحلل) হয়ে যায়।' তিনি (জাবির) বলেন, আমরা বললাম: কোন ধরনের হালাল হওয়া? তিনি বললেন: 'পূর্ণাঙ্গ হালাল হওয়া (الحلُّ كله)।' বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা স্ত্রীদের নিকট গেলাম, সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম এবং সুগন্ধি ব্যবহার করলাম। এরপর যখন তারবিয়ার দিন (يوم التروية) এল, তখন আমরা হজের ইহরাম (أهللنا) বাঁধলাম।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তাঁর অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: 'তোমরা অবশ্যই জানো যে, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি, সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী এবং সবচেয়ে বেশি নেককার। যদি আমার সাথে কুরবানীর পশু (هديي) না থাকতো, তবে তোমরা যেভাবে হালাল হয়েছ আমিও সেভাবে হালাল (لأحللت) হয়ে যেতাম। যা আমি পরে জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতাম, তবে আমি কুরবানীর পশু (الهدي) সাথে নিয়ে আসতাম না। সুতরাং তোমরা হালাল (حِلُّوا) হয়ে যাও।' অতঃপর আমরা হালাল হলাম এবং আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।"
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فهذا صريح في تفضيل التمتع على غيره من الأنساك لقوله صلى الله عليه وسلم: «لو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أسُق الهديَ» ، ولم يمنعه من الحِلِّ إلا سوقُ الهدي، ولأنّ التمتُّع أيسر على الحاج، حيث يتمتع بالتحلل بين الحج والعمرة، وهذا هو الذي يُوافق مُرادَ الله عز وجل حيث قال سبحانه: (يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ) (البقرة: 185) ، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «بُعِثتُ بالحنيفية السمحة» . (1)

هذا وقد يُحرم الحاج بالعمرة متمتعاً بها إلى الحج، ثم لا يتمكن من إتمامها قبل الوقوف بعرفة، ففي هذه الحال يدخل الحج على العمرة قبل الشروع في طوافها ويصير قارناً، ولذلك مثالان:

المثال الأول: امرأةٌ أحرمت بالعمرة متمتعة بها إلى الحج، فحاضت أو نَفِست قبل أن تطوف، ولم تَطهر قبل وقت الوقوف بعرفة، فإنها تُحرم بالحج وتصير قارنة، وتفعل ما يفعله الحاج، غير أنها لا تطوف بالبيت، ولا تسعى بين الصفا والمروة حتى تطهر وتغتسل.

المثال الثاني: شخص أحرم بالعمرة متمتعاً بها إلى الحج، فلم يتمكن من الدخول إلى مكة قبل وقت الوقوف بعرفة، فإنه يُدخِلُ الحج على العمرة ويصير قارناً لتعذُّر إكمال العمرة منه.

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد (6/116 و 233) عن عائشة ، وحسنه السخاو في " المقاصد الحسنة " (214) والمناوي في " فيض القدير " (3/203) ..
এটি অন্যান্য ইবাদত বা হজের পদ্ধতির তুলনায় তামাত্তু হজের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে একটি স্পষ্ট বক্তব্য। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি যদি আমার এই কাজের পরিণাম আগে জানতে পারতাম যা আমি পরে জেনেছি, তবে আমি হাদি সাথে নিয়ে আসতাম না।” তাঁকে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া থেকে কেবল হাদি সাথে রাখাই বাধা দিয়েছিল। তাছাড়া তামাত্তু হজ পালনকারীর জন্য অধিকতর সহজ, যেহেতু তিনি হজ ও ওমরার মধ্যবর্তী সময়ে ইহরামমুক্ত হয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এটি মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অভিপ্রায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: “আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না” (আল-বাকারা: ১৮৫)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “আমি সহজ-সরল ও একনিষ্ঠ দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।” (১)

কখনও কখনও কোনো হাজি তামাত্তু হিসেবে ওমরার ইহরাম বাঁধেন, কিন্তু আরাফায় অবস্থানের আগে ওমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন না। এমতাবস্থায় তিনি ওমরার তাওয়াফ শুরু করার আগেই ওমরার সাথে হজের ইহরাম যুক্ত করবেন এবং ক্বিরান হজ পালনকারী হয়ে যাবেন। এর দুটি উদাহরণ রয়েছে:

প্রথম উদাহরণ: একজন নারী তামাত্তু হিসেবে ওমরার ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু তাওয়াফ করার আগে তাঁর মাসিক বা নেফাস শুরু হলো এবং আরাফায় অবস্থানের সময়ের আগে তিনি পবিত্র হলেন না। এমতাবস্থায় তিনি হজের ইহরাম বাঁধবেন এবং ক্বিরান হজ পালনকারী হয়ে যাবেন। তিনি একজন হাজি যা যা করেন তাই করবেন, তবে পবিত্র হয়ে গোসল করার আগে তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবেন না এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করবেন না।

দ্বিতীয় উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তামাত্তু হিসেবে ওমরার ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আরাফায় অবস্থানের সময়ের আগে মক্কায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলেন না। এমতাবস্থায় ওমরা সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ার কারণে তিনি ওমরার সাথে হজের ইহরাম যুক্ত করবেন এবং ক্বিরান হজ পালনকারী হয়ে যাবেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ (৬/১১৬ ও ২৩৩) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সাখাবি তাঁর ‘আল-মাকাসিদ আল-হাসানা’ (২১৪) গ্রন্থে এবং আল-মুনাভি তাঁর ‘ফায়দুল কাদির’ (৩/২০৩) গ্রন্থে একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الرابع فيما يجب به الهدي من الأنساك ، وما صفة الهدي

سبق في الفصل الثالث أن الأنساك ثلاثة: التمتع والقِران والإفراد، والذي يجب به الهديُ هو التمتع والقِران.

والمتمتع: هو مَن أحرم بالعمرة في أشهر الحج ثم حَلّ منها وأحرم بالحج في عامِه، فلو أحرم بالعمرة قبل دخول شهر شوال، وبقي في مكة ثم حج في عامه فلا هدي عليه لأنه ليس بمتمتع، حيث كان إحرامه بالعمرة قبل دخول أشهر الحج.

ولو أحرم بالعمرة بعد دخول شوال وحج من العام الثاني، فلا هدي عليه أيضاً لأن العمرة في عامٍ والحج في عام آخر.

ولو أحرم بالعمرة في أشهر الحج، وحل منها ثم رجع إلى بلده وعاد منه مُحرماً بالحج وحده لم يكن متمتعاً لأنه أفرد الحج بسفر مستقل.

وأما القِران: فهو أن يُحرم بالعمرة والحج معاً، أو
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হজের যে সকল পদ্ধতিতে হাদঈ ওয়াজিব হয় এবং হাদঈর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে

তৃতীয় পরিচ্ছেদে ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, হজের পদ্ধতি তিনটি: তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ। আর যে পদ্ধতিতে হাদঈ ওয়াজিব হয় তা হলো তামাত্তু ও কিরান।

তামাত্তুকারী হলো সেই ব্যক্তি, যে হজের মাসসমূহে উমরার ইহরাম বাঁধে, অতঃপর তা থেকে হালাল হয়ে ওই একই বছর হজের ইহরাম বাঁধে। সুতরাং যদি কেউ শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার আগে উমরার ইহরাম বাঁধে এবং মক্কায় অবস্থান করে ওই বছর হজ পালন করে, তবে তার ওপর হাদঈ ওয়াজিব হবে না; কারণ সে তামাত্তুকারী নয়, যেহেতু তার উমরার ইহরাম ছিল হজের মাসসমূহ শুরু হওয়ার আগে।

যদি কেউ শাওয়াল মাস প্রবেশের পর উমরার ইহরাম বাঁধে এবং পরবর্তী বছর হজ পালন করে, তবে তার ওপরও হাদঈ ওয়াজিব হবে না; কারণ উমরা এক বছরে এবং হজ অন্য বছরে সম্পন্ন হয়েছে।

আর যদি কেউ হজের মাসসমূহে উমরার ইহরাম বাঁধে এবং তা থেকে হালাল হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে যায়, অতঃপর সেখান থেকে শুধু হজের জন্য নতুনভাবে ইহরাম বেঁধে আসে, তবে সে তামাত্তুকারী হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ সে স্বতন্ত্র সফরের মাধ্যমে এককভাবে হজ সম্পাদন করেছে।

আর কিরান হলো: উমরা ও হজের ইহরাম একত্রে বাঁধা, অথবা
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
يُحرم بالعمرة أولاً ثم يُدخل الحج عليها قبل الشروع في طوافها كما سبق.

ولا يجب الهدي على المتمتع والقارن إلا بشرط أن لا يكونا من حاضري المسجد الحرام، أي: لا يكونا من سكان مكة أو الحرم، فإن كانوا من سكان مكة أو الحرم فلا هدي عليهم لقوله تعالى: (ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ) (البقرة: 196) . ويلزم الهدي أهل جُدّة إذا أحرموا بتمتع أو قِران، لأنهم ليسوا من حاضري المسجد الحرام. ومَن كان مِن سُكان مكة ثم سافر إلى غيرها لطلب علم أو غيره، ثم رجع إليها متمتعاً أو قارناً فلا هدي عليه لأن العبرة بمحل إقامته ومسكنه وهو مكة.

أما إذا كان من أهل مكة ولكن انتقل للسكنى في غيرها ثم رجع إليها متمتعاً أو قارناً فإنه يلزمه الهدي، لأنه حينئذٍ ليس من حاضري المسجد الحرام.

ومتى عَدِمَ المتمتع والقارن الهدي أو ثمنه بحيث لا يكونُ معه من المال إلا ما يحتاجه لنفقته ورجوعه فإنه يسقط عنه الهدي، ويلزمه الصوم؛ لقوله تعالى: (فَمَنْ
প্রথমে উমরার ইহরাম (إحرام) করবে, অতঃপর তার (উমরার) তাওয়াফ (طواف) শুরু করার পূর্বে তার সাথে হজ অন্তর্ভুক্ত করবে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর মুতামাত্তি (متمتع) এবং ক্বিরান (قارن) কারীর ওপর কুরবানি (هدي) ওয়াজিব (واجب) হবে না একটি শর্ত ব্যতীত, তা হলো তারা মসজিদুল হারামের নিবাসী হবে না; অর্থাৎ তারা মক্কা বা হারামের অধিবাসী হবে না। অতএব তারা যদি মক্কা বা হারামের অধিবাসী হয়, তবে তাদের ওপর কোনো কুরবানি (هدي) নেই। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (এ বিধান তার জন্য যার পরিবার-পরিজন মসজিদুল হারামের নিবাসী নয়) (আল-বাকারাহ: ১৯৬)। আর জেদ্দার অধিবাসীরা যখন তামাত্তু (تمتع) বা ক্বিরান (قران) পদ্ধতিতে ইহরাম (إحرام) করবে, তখন তাদের ওপর কুরবানি (هدي) ওয়াজিব (واجب) হবে; কারণ তারা মসজিদুল হারামের নিবাসী নয়। আর যে ব্যক্তি মক্কার অধিবাসী ছিল কিন্তু জ্ঞান অর্জন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অন্যত্র সফর করেছে, অতঃপর সে মুতামাত্তি (متمتعاً) বা ক্বিরান (قارناً) হিসেবে ফিরে এসেছে, তবে তার ওপর কোনো কুরবানি (هدي) নেই। কারণ এখানে মূল ধর্তব্য বিষয় হলো তার আবাসস্থল ও বসবাসের স্থান, আর তা হলো মক্কা।

পক্ষান্তরে, যদি সে মক্কার অধিবাসী হয় কিন্তু অন্য স্থানে বসবাসের জন্য স্থানান্তরিত হয়, অতঃপর সে মুতামাত্তি (متمتعاً) বা ক্বিরান (قارناً) হিসেবে ফিরে আসে, তবে তার ওপর কুরবানি (هدي) ওয়াজিব (واجب) হবে; কারণ এমতাবস্থায় সে মসজিদুল হারামের নিবাসী নয়।

আর যখন মুতামাত্তি (متمتع) ও ক্বিরান (قارن) কারী কুরবানি (هدي) বা তার মূল্যের সংকটে পড়ে—এমনভাবে যে তার কাছে নিজের ভরণপোষণ ও ফিরে আসার ব্যয়ভার ব্যতীত কোনো অতিরিক্ত অর্থ না থাকে—তবে তার ওপর থেকে কুরবানি (هدي) রহিত হয়ে যাবে এবং তার ওপর সিয়াম (صوم) পালন করা আবশ্যক হবে; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: (অতঃপর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ) (البقرة: 196) ويجوز أن يصوم الأيام الثلاثة في أيام التشريق؛ وهي اليوم الحادي عشر والثاني عشر والثالث عشر من ذي الحجة، لقول عائشة وابن عمر رضي الله عنهم: «لم يُرَخّص في أيام التشريق أن يُصمنَ إلا لمن لم يجد الهدي» رواه البخاري.

ويجوز أن يصومها قبل ذلك، بعد الإحرام بالعمرة إذا كان يعرف من نفسه أنه لا يستطيع الهدي، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة» ، فمن صام الثلاثة في العمرة فقد صامها في الحج.

لكن لا يصوم هذه الأيام يوم العيد لحديث أبي سعيد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم «نهى عن صوم يومين: يوم الفطر ويوم النحر» متفق عليه.

ويجوز أن يصوم هذه الثلاثة متوالية ومتفرقة، ولكن لا يؤخرها عن أيام التشريق. وأما السبعة الباقية فيصومها إذا رجع إلى أهله إن شاء متوالية، وإن شاء متفرقة، لأن الله سبحانه أوجبها ولم يشرط أنها متتابعة.
(যে ব্যক্তি হজের সাথে উমরার তামাত্তু (تمتع) করবে, সে যা সহজসাধ্য হয় এমন হাদি (الهدي) প্রদান করবে। অতঃপর যে তা পাবে না, সে হজের সময় তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে আসবে তখন সাত দিন রোজা রাখবে। এই হলো পূর্ণ দশ দিন।) (আল-বাকারাহ: ১৯৬)। আর আইয়ামে তাশরীকের (أيام التشريق) দিনগুলোতে অর্থাৎ জিলহজ মাসের এগারো, বারো এবং তেরো তারিখে এই তিন দিন রোজা রাখা বৈধ (يجوز); কারণ আয়েশা ও ইবনে ওমর (রাযিআল্লাহু আনহুম) বলেছেন: "হাদি (الهدي) লাভে যে অক্ষম, সে ব্যতীত অন্য কারো জন্য আইয়ামে তাশরীকের (أيام التشريق) দিনগুলোতে রোজা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

আর যদি কেউ নিজের সম্পর্কে অবগত থাকে যে সে হাদি (الهدي) প্রদানে সক্ষম হবে না, তবে উমরার ইহরাম (الإحرام) গ্রহণের পর থেকেই এই তিন দিন রোজা রাখা তার জন্য বৈধ (يجوز)। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।" অতএব, যে ব্যক্তি উমরার সময় তিন দিন রোজা রাখল, সে যেন হজের সময়ই তা পালন করল।

কিন্তু ঈদের দিনে এই রোজাগুলো রাখা যাবে না। কারণ আবু সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "দুইটি দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন: ঈদুল ফিতরের দিন এবং নহরের (النحر) দিন (কোরবানির দিন)।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

এই তিন দিন রোজা ধারাবাহিকভাবে (متوالية) অথবা বিচ্ছিন্নভাবে (متفرقة) রাখা বৈধ (يجوز), তবে তা আইয়ামে তাশরীকের (أيام التشريق) সময়ের পরে বিলম্ব করা যাবে না। আর অবশিষ্ট সাতটি রোজা সে যখন তার পরিবার বা স্বদেশে ফিরে যাবে তখন পালন করবে; চাইলে তা ধারাবাহিকভাবে (متوالية) অথবা বিচ্ছিন্নভাবে (متفرقة) রাখতে পারে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এটি আবশ্যক করেছেন এবং নিরবচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক (متتابعة) হওয়ার শর্তারোপ করেননি।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مسائل تتعلق بالهدي

 

المسألة الأولى: في بيان‌‌ نوع الهدي.

المسألة الثانية: فيما يجبُ أو ينبغي أن يتوافر فيه.

المسألة الثالثة: في مكان ذبحه.

المسألة الرابعة: في وقت ذبحه.

المسألة الخامسة: في كيفية الذبح المشروع.

المسألة السادسة: في كيفية توزيعه.

فأما نوع الهدي: فهو من الإبل أو البقر أو الغنم الضأن والمعز لقوله تعالى: (وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ) (الحج: 34) وبهيمة الأنعام هي الإبل والبقر والغنم.

وتجزىء الواحدة من الغنم في الهدي عن شخص واحد.

وتُجزىء الواحدة من الإبل أو البقر عن سبعة أشخاص لحديث جابر رضي الله عنه قال: «أَمَرَنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نشتركَ في الإبل والبقر، كلُّ سبعةٍ منا في بَدَنة» متفق عليه.
হাদি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ

 

প্রথম মাসআলা: ‌হাদির প্রকারভেদ বর্ণনায়।

দ্বিতীয় মাসআলা: এতে যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক বা বাঞ্ছনীয় সে সম্পর্কে।

তৃতীয় মাসআলা: হাদি যবেহ করার স্থান প্রসঙ্গে।

চতুর্থ মাসআলা: হাদি যবেহ করার সময় প্রসঙ্গে।

পঞ্চম মাসআলা: শরয়ি পদ্ধতিতে যবেহ করার নিয়ম সম্পর্কে।

ষষ্ঠ মাসআলা: হাদি বণ্টনের পদ্ধতি সম্পর্কে।

হাদির প্রকারভেদ হলো: হাদি উট, গরু অথবা ছাগল (ভেড়া ও বকরি) হতে হবে। মহান আল্লাহর বাণী: (আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির বিধান দিয়েছি, যাতে তারা তাদের দেওয়া চতুষ্পদ জন্তুর ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করে) (আল-হজ্জ: ৩৪)। আর চতুষ্পদ জন্তু বলতে উট, গরু এবং ছাগলকেই বোঝায়।

হাদির ক্ষেত্রে একটি ছাগল একজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।

আর একটি উট বা একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা উট ও গরুর ক্ষেত্রে শরিক হই, আমাদের প্রতি সাতজন একটি উটে।" হাদিসটি ঐক্যমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ওয়াল মাশরূউ ফীয যিয়ারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما‌‌ ما يجبُ أن يتوافر فيه:

فيجب أن يتوافر فيه شيئان:

1 ـ بلوغ السن الواجب وهو خمس سنين في الإبل، وسنتان في البقر، وسنة في المعز، وستة أشهر في الضأن، فما دون ذلك لا يُجزىء لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تذبحوا إلا مُسنة إلا أن يَعسر عليكم فتذبحوا جذعةً من الضأن» رواه الجماعةُ إلا البخاري.

2 ـ السلامة من العيوب الأربعة التي أمر النبي صلى الله عليه وسلم باتقائها وهي:

ـ العوراء البيِّن عورها والعمياء أشد فلا تُجزىء.

ـ المريضة البيِّن مرضها بجرب أو غيره.

ـ العرجاء البيِّن ضلعها، والزمنى التي لا تمشي، ومقطوعة إحدى القوائم أشدُّ.

ـ الهزيلة التي لا مُخَّ فيها.

لما روى مالك في «الموطأ» عن البراء بن عازب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم سُئل: ماذا يُتقى من
আর‌ ‌ যে বিষয়গুলো এতে থাকা আবশ্যক:

এতে দুটি বিষয় থাকা আবশ্যক:

১ ـ নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানো, আর তা হলো উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর, গরুর ক্ষেত্রে দুই বছর, ছাগলের ক্ষেত্রে এক বছর এবং ভেড়ার ক্ষেত্রে ছয় মাস। এর কম বয়সের পশু যথেষ্ট হবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা পূর্ণবয়স্ক (مسنة) পশু ব্যতীত জবেহ করো না; তবে যদি তোমাদের জন্য তা কষ্টসাধ্য হয়, তবে ভেড়ার মধ্য থেকে ছয় মাস বয়সী (جذعة) পশু জবেহ করো»। এটি বুখারি ব্যতীত জামাআহ (الجماعة) বর্ণনা করেছেন।

২ ـ সেই চারটি ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা যেগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর সেগুলো হলো:

ـ এক চোখ কানা যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, আর অন্ধ পশু তো আরও অধিক ত্রুটিপূর্ণ; তাই তা যথেষ্ট হবে না।

ـ অসুস্থ পশু যার অসুস্থতা (চর্মরোগ বা অন্য কিছু) স্পষ্ট।

ـ ল্যাংড়া পশু যার খোঁড়ামি স্পষ্ট, এবং অতিশয় পঙ্গু পশু যে হাঁটতে পারে না; আর যার কোনো একটি পা কাটা তা আরও গুরুতর ত্রুটি।

ـ অতিশয় দুর্বল পশু যার হাড়ে কোনো মজ্জা নেই।

যেহেতু ইমাম মালিক আল-মুয়াত্তা গ্রন্থে বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন বিষয়গুলো পরিহার করতে হবে...