(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: -)
زاد الداعية إلى الله القسم: كتب عامة
الكتاب: زاد الداعية إلى الله (مطبوع ضمن كتاب الصيد الثمين في رسائل ابن عثيمين)
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الثقة للنشر والتوزيع، مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 24
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর পাথেয় বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর পাথেয় (ইবনে উসাইমিনের পত্রাবলি 'আস-সাইদ আস-সামিন' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুত সিকাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি، মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله الله تعالى بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، فبلَّغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، وترك أمته على محجة بيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، فصلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وأسأل الله عز وجل أن يجعلني وإياكم من أتباعه باطناً وظاهراً، وأن يتوفانا على ملته، وأن يحشرنا في زمرته، وأن يدخلنا في شفاعته، وأن يجمعنا به في جنات النعيم مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين، والصديقين، والشهداء والصالحين.
أما بعد:
فأيها الأخوة، إنه ليسرني أن ألتقي بإخواني المسلمين هنا وفي أي مكان آخر يُرجى منه الخير، ونشر هذا الدين، لأن الله تعالى أخذ على كل من أعطاه علماً، أخذ عليه ميثاقاً بما أعطاه من العلم أن يبينه للناس ولا يكتمه كما قال الله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَقَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَبَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْاْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ} . (آل عمران: 187) . وهذا الميثاق الذي أخذه الله ليس وثيقة تكتب ويشاهدها الناس، ولكنها وثيقة تعلم بما أعطى الله صاحبها من العلم، فإذا أعطاه الله العلم فإن هذه هي الوثيقة التي واثق الله بها هذا الرجل، أو هذه المرأة التي أعطاها الله علماً، فعلى كل من عنده علم أن يبلغ ما
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে এমন এক উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতোই স্পষ্ট; পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ও আপনাদেরকে তাঁর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তাঁরই আদর্শের ওপর আমাদের মৃত্যু দান করেন, তাঁরই দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের হাশর করেন, তাঁর সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর সাথে আমাদের সমবেত করেন; তাঁদের সাথে যাঁদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারদের সাথে।
অতঃপর:
হে ভ্রাতৃবৃন্দ, এখানে এবং অন্য যে কোনো স্থানে যেখানে কল্যাণের আশা করা যায় এবং এই দ্বীন প্রচারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আমার মুসলিম ভাইদের সাথে মিলিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কেননা আল্লাহ তাআলা যাঁকেই জ্ঞান দান করেছেন, তাঁর থেকে সেই জ্ঞানের ব্যাপারে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, তিনি তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন এবং তা গোপন করবেন না। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যখন আল্লাহ ঐ লোকদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবেন না। অতঃপর তারা তা নিজেদের পেছনে ফেলে দিল এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করল; সুতরাং তারা যা ক্রয় করেছে তা কতই না নিকৃষ্ট!" (আলে ইমরান: ১৮৭)। আল্লাহ যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তা এমন কোনো লিখিত দস্তাবেজ নয় যা মানুষ চাক্ষুষ দেখতে পায়, বরং এটি এমন এক দলিল যা আল্লাহ যাকে জ্ঞান দান করেছেন সে তার সেই জ্ঞানের মাধ্যমেই তা জানতে পারে। অতএব আল্লাহ যখন কোনো পুরুষ বা নারীকে জ্ঞান দান করেন, তখন সেটিই সেই ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং যার কাছে জ্ঞান রয়েছে, তার কর্তব্য হলো যা সে জানে তা পৌঁছে দেওয়া...
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
علمه من شريعة الله سبحانه وتعالى في أي مكان، وفي أي مناسبة.
أيها الأخوة: إن موضوع محاضرتنا هذه: «زاد الداعية إلى الله عز وجل» والزاد لكل مسلم هو ما بينه الله عز وجل في قوله: {وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} . (البقرة: 197) . فزاد كل مسلم هي تقوى الله عز وجل التي كرر الله تعالى ذكرها في القرآن أمراً، وثناء على من قام بها وبياناً لثوابه، وغير ذلك من أساليب الكلام: {وَسَارِعُواْ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَتُ وَالَاْرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ * الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِى السَّرَّآءِ وَالضَّرَّآءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ * وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُواْ فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُواْ أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُواْ اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُواْ لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّواْ عَلَى مَا فَعَلُواْ وَهُمْ يَعْلَمُونَ * أُوْلَئِكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا الَاْنْهَرُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ} . (آل عمران: 133 ـ 136) .
أيها الأخوة الكرام: ربما تقولون: ما هي التقوى؟
فالجواب: ما أثر عن طلق بن حبيب رحمه الله حيث قال: (التقوى أن تعمل بطاعة الله، على نور من الله، ترجو ثواب الله) . فجمع في هذه العبارات بين العلم، والعمل، واحتساب الثواب، والخوف من العقاب فهذه هي التقوى.
وإننا نعلم جميعاً أن الداعية إلى الله عز وجل أولى الناس أن يتحلى بهذا الخلق بتقوى الله في السر والعلن. وإنني ذاكر بمعونة الله عز وجل في هذا المقام ما يتعلق بالداعية وما ينبغي أن يتزود به.
*
الزاد الأول: أن يكون الداعية على علم فيما يدعو إليه:على علم صحيح مرتكز على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، لأن كل علم يتلقى من سواهما فإنه يجب أن يعرض عليهما أولاً، وبعد عرضه فإما أن يكون موافقاً
আল্লাহর শরীয়ত সম্পর্কে তিনি যা জানেন তা যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো উপলক্ষে।
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী: আমাদের এই আলোচনার বিষয়বস্তু হলো: «আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর পাথেয়»। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য পাথেয় হলো তা-ই যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া}। (আল-বাকারাহ: ১৯৭)। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের পাথেয় হলো মহান আল্লাহর তাকওয়া, যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার উল্লেখ করেছেন—কখনো নির্দেশ হিসেবে, কখনো যারা তা পালন করে তাদের প্রশংসা হিসেবে, আবার কখনো এর পুরস্কারের বর্ণনা হিসেবে এবং এ জাতীয় অন্যান্য শৈলীতে: {তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনব্যাপী, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন। এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে কিংবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলেছে, জেনে-বুঝে তাতে অবিচল থাকে না। এদেরই প্রতিদান হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতসমূহ যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতই না চমৎকার!}। (আল-ইমরান: ১৩৩-১৩৬)।
হে সম্মানিত ভ্রাতৃমণ্ডলী: আপনারা হয়তো বলবেন: তাকওয়া কী?
এর উত্তর হলো: যা তালক ইবন হাবীব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত (أثر) হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: (তাকওয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নূরের ভিত্তিতে আল্লাহর সওয়াবের আশায় তাঁর আনুগত্যের কাজ করা)। তিনি এই বাক্যগুলোতে জ্ঞান, আমল, সওয়াবের প্রত্যাশা এবং শাস্তির ভয়কে একত্রিত করেছেন; আর এটিই হলো তাকওয়া।
আমরা সবাই জানি যে, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ব্যক্তিই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত এই গুণের অধিকারী হতে, যা হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা। আর আমি আল্লাহর সাহায্যে এই পর্যায়ে দাঈ বা আহ্বানকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং যে পাথেয়গুলো তাঁর সংগ্রহ করা উচিত, তা উল্লেখ করছি।
*
প্রথম পাথেয়: আহ্বানকারী যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছেন, সে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান থাকতে হবে:এমন সঠিক (صحيح) জ্ঞান যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ এই দুই উৎস ব্যতীত অন্য যেকোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে প্রথমে এই দুইয়ের সামনে পেশ করা আবশ্যক; পেশ করার পর তা হয়তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে...
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أو مخالفاً. فإن كان موافقاً قُبل، وإن كان مخالفاً وجب رده على قائله كائناً من كان، فقد ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: «يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول: قال رسول الله وتقولون: قال أبو بكر وعمر» . إذا كان هذا في قول أبي بكر وعمر الذي يُعارض به قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما بالكم بقول من دونهما في العلم والتقوى والصحبة والخلافة؟! إن ردَّ قوله إذا خالف كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، من باب أولى، ولقد قال عز وجل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} . (النور: 63) . قال الإمام أحمد رحمه الله: «أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك، لعله إذا ردّ بعض قوله أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك» .
وإن أول زاد يتزود به الداعية إلى الله عز وجل أن يكون على علم مستمد من كتاب الله تعالى، ومن سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، الصحيحة المقبولة، وأما الدعوة بدون علم فإنها دعوة على جهل، والدعوة على الجهل ضررها أكبر من نفعها، لأن هذا الداعية قد نصب نفسه موجهاً ومرشداً فإذا كان جاهلاً فإنه بذلك يكون ضالاً مضلاًّ والعياذ بالله، ويكون جهله هذا جهلاً مركباً، والجهل المركب أشد من الجهل البسيط، فالجهل البسيط يمسك صاحبه ولا يتكلم، ويمكن رفعه بالتعلم، ولكن المشكلة كل المشكلة في حال الجاهل المركب، إن هذا الجاهل المركب لن يسكت بل سيتكلم ولو عن جهل وحينئذ يكون مدمراً أكثر مما يكون منوراً.
* أيها الأخوة: إن الدعوة إلى الله على غير علم خلاف ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم، ومن اتبعه، استمعوا إلى قول الله تعالى آمراً نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم، حيث قال: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِى أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِى وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} . (يوسف: 108) . فقال: {أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِى} ، أي أن من اتبعه، صلى الله عليه وسلم، فإنه لابد أن يدعو إلى الله على بصيرة لا على جهل.
অথবা পরিপন্থী। যদি তা (নসের সাথে) সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি তা পরিপন্থী হয় তবে প্রবক্তা যে-ই হোন না কেন তার কথা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "শীঘ্রই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে; আমি বলছি: রাসুলুল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা বলছ: আবু বকর ও ওমর বলেছেন।" যদি আবু বকর ও ওমরের কথার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিরোধিতা করার এই পরিণাম হয়, তবে ইলম, তাকওয়া, সাহচর্য ও খিলাফতের দিক থেকে তাঁদের চেয়ে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তিদের কথার অবস্থা কী হবে?! যদি কারো কথা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" (আন-নূর: ৬৩)। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক। সম্ভবত কেউ যখন তাঁর (নবীজির) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হয়, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়।"
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈর) জন্য সর্বপ্রথম পাথেয় হলো আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশুদ্ধ (صحيحة) ও গ্রহণযোগ্য (المقبولة) সুন্নাহ থেকে আহরিত জ্ঞান থাকা। আর জ্ঞানহীন দাওয়াত হলো অজ্ঞতা প্রসূত দাওয়াত; আর অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দাওয়াতের ক্ষতি উপকারের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ এই দাঈ নিজেকে একজন পথপ্রদর্শক ও নির্দেশক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন; এমতাবস্থায় যদি তিনি অজ্ঞ হন, তবে তিনি নিজে পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারী হবেন (আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই)। আর তাঁর এই অজ্ঞতা হবে জটিল অজ্ঞতা, আর জটিল অজ্ঞতা সরল অজ্ঞতার চেয়েও ভয়াবহ। কারণ সরল অজ্ঞ ব্যক্তি চুপ থাকে এবং কথা বলে না, আর শিক্ষার মাধ্যমে তার এই অজ্ঞতা দূর করা সম্ভব। কিন্তু মূল সমস্যা হলো জটিল অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে; এই জটিল অজ্ঞ ব্যক্তি চুপ থাকবে না বরং সে অজ্ঞতা সত্ত্বেও কথা বলবে, আর তখন সে আলোকিত করার চেয়ে ধ্বংসই বেশি করবে।
* হে ভ্রাতৃমণ্ডলী: জ্ঞানহীন দাওয়াত ইলাল্লাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অনুসারীদের অনুসৃত পথের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা শ্রবণ করুন, যেখানে তিনি বলেছেন: "বলুন, এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই জাগ্রত জ্ঞানের সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" (ইউসুফ: ১০৮)। তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই জাগ্রত জ্ঞানের সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে", অর্থাৎ যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে, তাদের অবশ্যই জাগ্রত জ্ঞানের সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে হবে, অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নয়।
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
* وتأمل أيها الداعية لله قول الله تعالى: {عَلَى بَصِيرَةٍ} أي على بصيرة في ثلاثة أمور:
الأول: على بصيرة فيما يدعو إليه، بأن يكون عالماً بالحكم الشرعي فيما يدعو إليه؛ لأنه قد يدعو إلى شيء يظنه واجباً، وهو في شرع الله غير واجب فيلزم عباد الله بما لم يلزمهم الله به، وقد يدعو إلى ترك شيء يظنه محرماً، وهو في دين الله غير محرم فيحرم على عباد الله ما أحله الله لهم.
الثاني: على بصيرة في حال الدعوة ولهذا لما بعث النبي صلى الله عليه وسلم، معاذاً إلى اليمن قال له: «إنك ستأتي قوماً أهل كتاب» (1) . ليعرف حالهم ويستعد لهم. فلابد أن تعلم حال هذا المدعو ما مستواه العلمي؟ وما مستواه الجدلي؟ حتى تتأهب له فتناقشه وتجادله، لأنك إذا دخلت مع مثل هذا في جدال وكان عليك لقوة جدله صار في هذا نكبة عظيمة على الحق وأنت سببها، ولا تظن أن صاحب الباطل يخفق بكل حال فإن الرسول صلى الله عليه وسلم، قال: «إنكم تختصمون إليّ ولعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض فأقضي له بنحو ما أسمع» (2) فهذا يدل على أن المخاصم وإن كان مبطلاً قد يكون ألحن بحجته من آخر فيُقضى بحسب ما تكلم به هذا المخاصم فلابد أن تكون عالماً بحال المدعو.
الثالث: على بصيرة في كيفية الدعوة قال الله تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَدِلْهُم بِالَّتِى هِىَ أَحْسَنُ} . (النحل: 125) .
* وبعض الناس قد يجد المنكر فيهجم عليه، ولا يفكر في العواقب الناتجة عن ذلك لا بالنسبة له وحده، ولكن بالنسبة له ولنظرائه من الدعاة إلى الحق، لذا يجب على الداعية قبل أن يتحرك أن ينظر إلى النتائج ويقيس، قد يكون في تلك الساعة ما يطفي لهيب غيرته فيما صنع، لكن سيخمد
--------------------------------------------
* হে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (দাঈ), মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে চিন্তা করুন: {সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর} অর্থাৎ তিনটি বিষয়ে প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টি থাকা:
প্রথমত: যে বিষয়ের দিকে তিনি আহ্বান করছেন সে সম্পর্কে প্রজ্ঞা থাকা। অর্থাৎ যে বিষয়ে তিনি আহ্বান করছেন, সে বিষয়ে শরীয়তের বিধান সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকা; কারণ তিনি হয়তো এমন কোনো বিষয়ে ডাকছেন যাকে তিনি ওয়াজিব মনে করেন, অথচ আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী সেটি ওয়াজিব নয়। ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে দেবেন যা আল্লাহ আবশ্যক করেননি। আবার হয়তো তিনি এমন কোনো বিষয় বর্জনের আহ্বান জানাবেন যাকে তিনি হারাম মনে করেন, অথচ আল্লাহর দীনে তা হারাম নয়। এর ফলে তিনি আল্লাহর বান্দাদের জন্য এমন কিছু হারাম করে দেবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন।
দ্বিতীয়ত: দাওয়াতের পরিবেশ ও পাত্র সম্পর্কে প্রজ্ঞা থাকা। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব» (১)। যাতে তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন। সুতরাং যাকে আহ্বান করা হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে—তার জ্ঞানের স্তর কেমন? তার বিতর্কের পারদর্শিতা কেমন? যেন আপনি তার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং তার সাথে আলোচনা ও বিতর্ক করতে পারেন। কারণ আপনি যদি এমন কারও সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং তার বাকপটুতার কারণে আপনি পরাজিত হন, তবে তা সত্যের জন্য এক বিরাট বিপর্যয় বয়ে আনবে এবং আপনিই হবেন এর কারণ। মনে করবেন না যে বাতিলপন্থীরা সর্বদা বিফল হবে; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, আর তোমাদের মধ্যে কেউ হয়তো অন্যজনের চেয়ে বেশি বাকপটু হতে পারে, ফলে আমি যা শুনি সে অনুযায়ী তার পক্ষে ফয়সালা করি» (২)। এটি প্রমাণ করে যে, বিবাদী ব্যক্তি বাতিলপন্থি হওয়া সত্ত্বেও অপরজনের চেয়ে অধিক বাকপটু হতে পারে, ফলে তার উপস্থাপিত যুক্তির ভিত্তিতে ফয়সালা হয়ে যেতে পারে। তাই যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য।
তৃতীয়ত: দাওয়াতের পদ্ধতির ওপর প্রজ্ঞা থাকা। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার রবের পথের দিকে আহ্বান করুন হিকমাহ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সবচেয়ে সুন্দর পন্থায়।} (আন-নাহল: ১২৫)।
* আর কিছু মানুষ কোনো মন্দ কাজ দেখলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু এর ফলে কী ফলাফল বয়ে আসতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করে না—না নিজের ক্ষেত্রে, না তার মতো অন্যান্য সত্যের পথে আহ্বানকারী দাঈদের ক্ষেত্রে। তাই একজন দাঈর উচিত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ফলাফল বিবেচনা করা এবং তা পরিমাপ করা। হয়তো সে মুহূর্তে তার কর্মকাণ্ড তার ঈমানী উদ্দীপনার উত্তাপকে কিছুটা প্রশমিত করবে, কিন্তু পরে তা নিভে যাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا الفعل نار غيرته وغيرة غيره في المستقبل، قد يكون في المستقبل القريب دون البعيد؛ لهذا أحث أخواني الدعاة على استعمال الحكمة والتأني، والأمر وإن تأخر قليلاً لكن العاقبة حميدة بمشيئة الله تعالى.
وإذا كان هذا أعني تزود الداعية بالعلم الصحيح المبني على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، هو مدلول النصوص الشرعية فإنه كذلك مدلول العقول الصريحة التي ليس فيها شبهات ولا شهوات، لأنك كيف تدعو إلى الله عز وجل وأنت لا تعلم الطريق الموصل إليه، لا تعلم شريعته كيف يصح أن تكون داعية؟!
فإذا لم يكن الإنسان ذا علم فإن الأولى به أن يتعلم أولاً، ثم يدعو ثانياً.
قد يقول قائل: هل قولك هذا يعارض قول النبي صلى الله عليه وسلم: «بلغوا عني ولو آية» . (1)
فالجواب: لا، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم، يقول: «بلغوا عني» إذاً فلابد أن يكون ما نبلغه قد صدر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، هذا هو ما نريده، ولسنا عندما نقول إن الداعية محتاج إلى العلم لسنا نقول إنه لابد أن يبلغ شوطاً بعيداً في العلم، ولكننا نقول لا يدعو إلا بما يعلم فقط ولا يتكلم بما لا يعلم.
*
الزاد الثاني: أن يكون الداعية صابراً على دعوته، صابراً على ما يدعو إليه، صابراً على ما يعترض دعوته، صابراً على ما يعترضه هو من الأذى.
أن يكون صابراً على الدعوة أي مثابراً عليها لا يقطعها ولا يمل، بل يكون مستمراً في دعوته إلى الله بقدر المستطاع وفي المجالات التي تكون الدعوة فيها أنفع وأولى وأبلغ، وليصبر على الدعوة ولا يمل، فإن الإنسان إذا طرقه الملل استحسر وترك، ولكن إذا كان مثابراً على دعوته فإنه ينال أجر الصابرين من وجه، وتكون له العاقبة من وجه آخر، واستمع إلى قول الله عز وجل مخاطباً نبيه: {تِلْكَ مِنْ أَنْبَآءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَآ إِلَيْكَ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَآ أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} . (هود: 49) .
--------------------------------------------
এই আচরণটি বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে তার ও অন্যদের আত্মমর্যাদাবোধকে উদ্দীপিত করবে; এটি অদূর ভবিষ্যতে হতে পারে অথবা সুদূর ভবিষ্যতে। এই কারণে আমি আমার দাঈ ভাইদেরকে হিকমত ও ধৈর্যের সাথে কাজ করার আহ্বান জানাই। বিষয়টি যদিও কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় এর পরিণাম হবে অত্যন্ত কল্যাণকর।
আর যদি এটি—অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে দাঈর সঠিক (صحيح) জ্ঞান অর্জন করা—শরয়ী দলীলসমূহের দাবি হয়, তবে এটি সুস্থ বিবেকেরও দাবি যাতে কোনো সংশয় বা প্রবৃত্তির তাড়না নেই। কারণ, আপনি কীভাবে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবেন অথচ আপনি তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথই জানেন না? আপনি তাঁর শরীয়ত জানেন না, তাহলে আপনার দাঈ হওয়া কীভাবে সঠিক হতে পারে?!
সুতরাং মানুষের যদি জ্ঞান না থাকে, তবে তার জন্য প্রথম কর্তব্য হলো শিক্ষা গ্রহণ করা, অতঃপর দাওয়াত প্রদান করা।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: আপনার এই কথা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর পরিপন্থী: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও"? (১)
এর উত্তর হলো: না, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও।" অতএব, আমরা যা প্রচার করছি তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হতে হবে; এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যখন বলি যে দাঈর জ্ঞানের প্রয়োজন, তখন আমরা এটি বলি না যে তাকে জ্ঞানের সুদূরপ্রসারী কোনো স্তরে পৌঁছাতে হবে; বরং আমরা বলি যে, সে কেবল যা জানে সেটুকুরই দাওয়াত দেবে এবং যা সে জানে না সে বিষয়ে কোনো কথা বলবে না।
*
দ্বিতীয় পাথেয়: দাঈকে তার দাওয়াতের কাজে ধৈর্যশীল হতে হবে, সে যার দিকে দাওয়াত দিচ্ছে তার ওপর ধৈর্য ধরতে হবে, দাওয়াতের পথে আসা বাধা-বিপত্তিতে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং নিজের ওপর আসা কষ্টের ক্ষেত্রেও সবর করতে হবে।দাওয়াতের ওপর ধৈর্যশীল হওয়ার অর্থ হলো এতে অধ্যবসায়ী হওয়া, এটি মাঝপথে ছেড়ে না দেওয়া এবং এতে ক্লান্ত না হওয়া। বরং সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর দিকে দাওয়াত অব্যাহত রাখা এবং সেই ক্ষেত্রগুলোতে দাওয়াত দেওয়া যেখানে দাওয়াত অধিকতর ফলপ্রসূ, অগ্রাধিকারযোগ্য ও কার্যকর হবে। দাওয়াতের কাজে তাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং ক্লান্ত হওয়া চলবে না; কারণ মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন সে হতাশ হয়ে কাজ ছেড়ে দেয়। কিন্তু যদি সে তার দাওয়াতে অবিচল থাকে, তবে একদিকে সে ধৈর্যশীলদের সওয়াব পাবে এবং অন্যদিকে শুভ পরিণামও তার হবে। মহান আল্লাহর বাণী শুনুন যা তিনি তাঁর নবীকে সম্বোধন করে বলেছেন: {এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি আপনার কাছে ওহী পাঠাচ্ছি, যা ইতিপূর্বে আপনি বা আপনার সম্প্রদায় জানত না। সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য}। (হূদ: ৪৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولابد أن يكون الإنسان صابراً على ما يعترض دعوته من معارضات ومجادلات لأن كل إنسان يقوم داعياً إلى الله عز وجل لابد أن يعارض: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِىٍّ عَدُوّاً مِّنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً} . (الفرقان: 31) . فكل دعوة حقة لابد أن يقوم لها معارض، لابد أن يقوم لها ممانع، ومجادل فيها ومشكك، ولكن يجب على الداعية أن يصبر على ما يعترض دعوته حتى لو وصفت تلك الدعوة بأنها خطأ أو أنها باطل وهو يدرك أنها مقتضى كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فليصبر على ذلك.
ولكن هذا لا يعني أن الإنسان يصر على ما يقول، وما يدعو إليه، وإن تبين له الحق، فإن الذي يصر على ما يدعو إليه وإن تبين له الحق يشبه من قال الله فيهم: {يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنظُرُونَ} . (الأنفال: 6) . والمجادلة في الحق بعدما تبين صفة مذمومة، وقد قال الله فيمن اتصف بها: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَآءَتْ مَصِيراً} . (النساء: 115) . فما يعترض دعوتك أيها الداعية إن كان حقّاً فالواجب عليك الرجوع إليه، وإن كان باطلاً فلا يثني عزمك عن المضي قدماً في دعوتك.
* كذلك لابد أن يكون الداعية صابراً على ما يعترضه هو من الأذى لأن الداعية لابد أن يؤذى إما بالقول وإما بالفعل، وهاهم الرسل صلوات الله وسلامه عليهم أوذوا بالقول وأوذوا بالفعل اقرأ قول الله عز وجل: {كَذَلِكَ مَآ أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ مِّن رَّسُولٍ إِلَاّ قَالُواْ سَحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ} . (الذاريات: 52) . ما رأيك فيمن يأتيه الوحي من ربه ويقال في وجهه إنك ساحر أو مجنون؟ لاشك أنه يتأذى ومع هذا فالرسل صبروا على ما أوذوا بالقول وعلى ما أوذوا بالفعل؛ انظر إلى أول الرسل نوح عليه الصلاة والسلام كان قومه
মানুষের উচিত তার দাওয়াতের পথে আসা বিরোধিতা ও বিতর্কের বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা, কারণ মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু নির্ধারণ করেছি; এবং পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট} (আল-ফুরকান: ৩১)। সুতরাং প্রতিটি সত্য দাওয়াতের বিরুদ্ধে অবশ্যই একজন বিরোধী দাঁড়িয়ে যাবে, অবশ্যই একজন বাধাদানকারী, বিতর্ককারী ও সংশয় প্রকাশকারী দণ্ডায়মান হবে। তবে দায়ী’র (আহ্বানকারী) উচিত তার দাওয়াতের পথে আসা প্রতিকূলতার ওপর ধৈর্য ধারণ করা, এমনকি যদি সেই দাওয়াতকে ভুল বা বাতিল (باطل) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, অথচ তিনি উপলব্ধি করেন যে এটি আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী; এমতাবস্থায়ও তিনি যেন ধৈর্য ধারণ করেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও মানুষ তার কথা ও দাওয়াতের ওপর জেদ ধরে অটল থাকবে। কারণ সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও যে ব্যক্তি তার দাওয়াতের ওপর গোঁয়ার্তুমি করে, সে তাদেরই সদৃশ যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তারা আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, যেন তাদের মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছে} (আল-আনফাল: ৬)। আর সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা নিয়ে বিতর্ক করা একটি নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেছেন: {কারও কাছে পথনির্দেশ স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরতে চায় আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস} (আন-নিসা: ১১৫)। সুতরাং হে দায়ী’, আপনার দাওয়াতের পথে আসা আপত্তি যদি সত্য হয়, তবে তার দিকে ফিরে আসা আপনার জন্য আবশ্যক; আর যদি তা বাতিল (باطل) হয়, তবে তা যেন আপনার দাওয়াতের পথে এগিয়ে চলার সংকল্প থেকে আপনাকে বিচ্যুত না করে।
* একইভাবে, দায়ী’কে তার নিজের প্রতি আসা কষ্টের ওপর ধৈর্যশীল হতে হবে। কারণ দায়ী’কে মৌখিকভাবে অথবা শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া হবেই। আর এই যে রাসুলগণ (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), তারা মৌখিকভাবে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করুন: {এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসুল এসেছেন, তারা বলেছে— সে একজন জাদুকর অথবা উন্মাদ} (আয-যারিয়াত: ৫২)। আপনার সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা যার কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ওহি আসে, অথচ তার মুখের ওপর বলা হয় যে আপনি একজন জাদুকর বা উন্মাদ? নিসন্দেহে তিনি এতে কষ্ট পান। তা সত্ত্বেও রাসুলগণ মৌখিক ও শারীরিক উভয় প্রকার লাঞ্ছনার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন। প্রথম রাসুল নুহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দিকে তাকান, তাঁর কওম...
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يمرون به وهو يصنع الفلك ويسخرون به فيقول لهم: {إِن تَسْخَرُواْ مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ * فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ} . (نوح: 38، 39) . ولم يقتصر الأمر بهم على السخرية به، بل توعدوه بالقتل: {قَالُواْ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهِ ينُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُرْجُومِينَ} . (الشعراء: 116) . أي من المقتولين رمياً بالحجارة، هنا توعد بالقتل مع تهديد بأنا قد رجمنا غيرك إظهاراً لعزتهم وأنهم قد رجموا آخرين وأنت منهم، ولكن هذا لم يثن نوحاً، عليه الصلاة والسلام، عن دعوته بل استمر حتى فتح الله بينه وبين قومه، وهذا إبراهيم عليه الصلاة والسلام، قابله قومه بالرفض بل شهّروا به بين الناس: {قَالُواْ فَأْتُواْ بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ} . (الأنبياء: 61) .
ثم توعدوه بالإحراق: {قَالُواْ حَرِّقُوهُ وَانصُرُواْءَالِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَعِلِينَ} . (الأنبياء: 68) . فأوقدوا ناراً عظيمة ورموه بالمنجنيق لبعدهم عنها لشدة حرارتها ولكن قال رب العزة والجلال: {قُلْنَا ينَارُ كُونِى بَرْداً وَسَلَمَا عَلَى إِبْرَهِيمَ} . (الأنبياء: 69) . فكانت برداً وسلاماً ونجا منها، فكانت العاقبة لإبراهيم، {وَأَرَادُواْ بِهِ كَيْداً فَجَعَلْنَهُمُ الَاْخْسَرِينَ} . (الأنبياء: 70) . وهذا موسى عليه الصلاة والسلام توعده فرعون بالقتل: {ذَرُونِى أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ إِنِّى أَخَافُ أَن يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَن يُظْهِرَ فِى الَاْرْضِ الْفَسَادَ} . (غافر: 26) . فتوعده بالقتل ولكن آخر الأمر كانت العقبى لموسى عليه الصلاة والسلام {وَحَاقَ بَِالِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ} (غافر: 45) وهذا عيسى عليه الصلاة والسلام، حصل له من الأذية ما حصل حتى رماه اليهود بأنه ابن بغي، وقتلوه على زعمهم
তারা তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করত যখন তিনি নৌকা তৈরি করছিলেন এবং তারা তাঁকে নিয়ে উপহাস করত। তিনি তাদের বলতেন: {তোমরা যদি আমাদের নিয়ে উপহাস করো, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করব যেমন তোমরা উপহাস করছ। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার ওপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কার ওপর আপতিত হবে চিরস্থায়ী আজাব।} (নূহ: ৩৮, ৩৯)। বিষয়টি কেবল তাদের উপহাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল: {তারা বলল, হে নূহ! তুমি যদি নিবৃত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।} (আশ-শুআরা: ১১৬)। অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপ করে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া; এখানে হত্যার হুমকির সাথে এমন ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যে, তারা ইতোপূর্বে অন্যদেরও প্রস্তরাঘাতে হত্যা করেছে—নিজেদের দম্ভ প্রকাশের জন্য এবং এটি বুঝানোর জন্য যে তারা অন্যদের পাথর মেরেছে আর তুমিও তাদেরই একজন হবে। কিন্তু এটি নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে তাঁর দাওয়াতের কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, বরং তিনি তা অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ও তাঁর কওমের মধ্যে ফয়সালা করে দিলেন। আর এই যে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), তাঁর কওম তাঁকে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছিল, বরং তারা তাঁকে জনসমক্ষে উপস্থিত করে অপদস্থ করতে চেয়েছিল: {তারা বলল, তবে তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত করো, যাতে তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে।} (আল-আম্বিয়া: ৬১)।
অতঃপর তারা তাঁকে অগ্নিদগ্ধ করার হুমকি দিল: {তারা বলল, তাকে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য করো, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।} (আল-আম্বিয়া: ৬৮)। তারা এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করল এবং আগুনের প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে দূরে অবস্থান করে তাঁকে ‘মিনজানিক’ (ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্র) দিয়ে নিক্ষেপ করল, কিন্তু প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত রব বললেন: {আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।} (আল-আম্বিয়া: ৬৯)। ফলে তা শীতল ও নিরাপদ হয়ে গেল এবং তিনি তা থেকে মুক্তি পেলেন। পরিশেষে শুভ পরিণাম ইব্রাহিমের জন্যই নির্ধারিত হলো, {তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।} (আল-আম্বিয়া: ৭০)। আর এই যে মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), ফেরাউন তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল: {ফেরাউন বলল, আমাকে ছাড়ো, আমি মুসাকে হত্যা করি এবং সে তার রবকে ডাকুক; আমি আশঙ্কা করি যে সে তোমাদের দ্বীন পরিবর্তন করে দেবে অথবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।} (গাফির: ২৬)। সে তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুভ পরিণাম মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অনুকূলেই ছিল {এবং ফেরাউন গোষ্ঠীকে শোচনীয় আজাব পরিবেষ্টন করল} (গাফির: ৪৫)। আর এই যে ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), তাঁর ওপর যেসব যাতনা ও কষ্ট আসার এসেছিল, এমনকি ইহুদিরা তাঁকে ব্যভিচারিণীর সন্তান বলে অপবাদ দিয়েছিল এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তাঁকে হত্যা করেছিল।
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وصلبوه ولكن الله تعالى يقول: {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِن شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِيهِ لَفِى شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَاّ اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِيناً * بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً} . (النساء: 157، 158) . فنجي منهم، وهذا خاتم الرسل وإمامهم وسيد بني آدم محمد صلى الله عليه وسلم، قال الله عنه: {وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُواْ لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَكِرِينَ} . (الأنفال: 30) . {وَقَالُواْ يأَيُّهَا الَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ} . (الحجر: 6) .
{وَيَقُولُونَ أَءِنَّا لَتَارِكُوءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ} . (الصافات: 36) . وحصل من أذيتهم القولية والفعلية ما هو معلوم لدى العلماء في التاريخ ومع هذا صبر فكانت العاقبة له.
إذن فكل داعية لابد أن يناله أذى ولكن عليه أن يصبر، ولهذا لما قال الله تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم، {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْءَانَ تَنزِيلاً} . (الإنسان: 23) . كان من المتوقع أن يقول الله فاشكر نعمة الله على تنزيل هذا القرآن، ولكن الله قال له: {فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْءَاثِماً أَوْ كَفُوراً} . (الإنسان: 24) . إشارة إلى أن كل من قام بهذا القرآن فلابد أن يناله ما يناله من الأمور التي تحتاج إلى صبر عظيم، فعلى الداعية أن يكون صبوراً وأن يستمر حتى يفتح الله له، وليس من الضروري أن يفتح الله له في حياته؛ بل إن المهم أن تبقى دعوته بين الناس ناصعة متبوعة، ليس المهم الشخص ولكن المهم الدعوة فإذا بقيت دعوته ولو بعد موته، فإنه حي قال الله عز وجل: {أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِى النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَفِرِينَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} . (الأنعام: 122) . ففي الحقيقة أن حياة الداعية ليس معناها أن تبقى روحه في جسمه فقط بل أن تبقى مقالته حية بين الناس، وانظر إلى قصة أبي سفيان مع
এবং তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেন: {অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (এক ব্যক্তিকে) তার সদৃশ করা হয়েছিল। আর যারা তাকে নিয়ে মতভেদ করেছে, নিশ্চয় তারা সে বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতে পারেনি। বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (আন-নিসা: ১৫৭, ১৫৮)। অতঃপর তিনি তাদের থেকে রক্ষা পেলেন। আর ইনি হলেন রাসূলগণের সমাপ্তিকারী, তাদের ইমাম এবং আদম সন্তানদের সর্দার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: {আর স্মরণ করুন, যখন কাফেররা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল আপনাকে বন্দি করার জন্য অথবা হত্যা করার জন্য কিংবা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। তারা চক্রান্ত করছিল এবং আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করছিলেন। আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী।} (আল-আনফাল: ৩০)। {তারা বলেছিল, হে ওই ব্যক্তি যার ওপর যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনি একজন পাগল।} (আল-হিজর: ৬)।
{এবং তারা বলত, আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?} (আস-সাফফাত: ৩৬)। তাদের বাচনিক ও শারীরিক কষ্ট প্রদানের যে রূপ ছিল, তা ইতিহাসের আলেমদের নিকট সুবিদিত। তা সত্ত্বেও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন, ফলে চূড়ান্ত পরিণাম তাঁর পক্ষেই ছিল।
সুতরাং প্রত্যেক দায়ী (داعية)-কে অবশ্যই কষ্টের শিকার হতে হবে, তবে তাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এ কারণেই যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ করেছি।} (আল-ইনসান: ২৩)। তখন এটি প্রত্যাশিত ছিল যে আল্লাহ বলবেন—অতএব এই কুরআন অবতীর্ণের জন্য আল্লাহর নিআমতের শুকরিয়া আদায় করুন, কিন্তু আল্লাহ তাকে বললেন: {অতএব আপনি আপনার রবের বিধানের জন্য ধৈর্য ধারণ করুন এবং তাদের মধ্যে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করবেন না।} (আল-ইনসান: ২৪)। এটি এই ইঙ্গিত বহন করে যে, যে ব্যক্তিই এই কুরআনের ধারক হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে, তাকে অবশ্যই এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যা মহান ধৈর্যের দাবি রাখে। অতএব, দায়ীকে (داعية) অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে এবং অব্যাহত থাকতে হবে যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য বিজয়ের দ্বার খুলে দেন। আর আল্লাহর বিজয় যে তার জীবদ্দশাতেই হতে হবে তা আবশ্যক নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের মাঝে তার দাওয়াত স্বচ্ছ ও অনুসরণীয় হিসেবে টিকে থাকা। ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দাওয়াতই গুরুত্বপূর্ণ। যদি তার মৃত্যুর পরেও তার দাওয়াত টিকে থাকে, তবে তিনি জীবিত। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তবে কি যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি জীবিত করেছি এবং তার জন্য একটি নূর (আলো) দান করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের কার্যকলাপকে সুশোভিত করা হয়েছে।} (আল-আনআম: ১২২)। প্রকৃতপক্ষে, একজন দায়ীর (داعية) জীবনের অর্থ কেবল তার দেহের মধ্যে রুহ অবশিষ্ট থাকা নয়, বরং মানুষের মাঝে তার আদর্শ ও বাণী জীবিত থাকাই হলো প্রকৃত জীবন। আবু সুফিয়ানের সাথে [হিরাক্লিয়াসের] সেই ঘটনার দিকে লক্ষ্য করুন...
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هرقل وكان قد سمع بمخرج النبي صلى الله عليه وسلم، دعا أبا سفيان فسأله عن النبي صلى الله عليه وسلم، عن ذاته، ونسبه، وما يدعو إليه، وأصحابه فلما أخبره أبو سفيان عما سأله عنه قال هرقل له: «إن كان ما تقول حقّاً فسيملك ما تحت قدمي هاتين» (1) .
سبحان الله من يتصور أن ملكاً إمبراطوريّاً كما يقولون يقول مثل هذا القول في محمد صلى الله عليه وسلم، وهو مع ذلك لم يحرر جزيرة العرب من رق الشيطان والهوى، ومن يتصور أن مثل هذا الرجل يقول مثل هذا القول؟ ولهذا لما خرج أبو سفيان قال لقومه: «لقد أمِر أمر ابن أبي كبشة إنه ليخافه ملك بني الأصفر» ، «أمِر» يعني عظم ومنه قوله تعالى: {لقد جئت شيئاً إمرا} أي عظيماً.
وقد ملك النبي صلى الله عليه وسلم ما تحت قدمي هرقل بدعوته لا بشخصه، لأن دعوته أتت على هذه الأرض واكتسحت الأوثان والشرك وأصحابه، وملكها الخلفاء الراشدون بعد محمد صلى الله عليه وسلم، ملكوها بدعوة النبي صلى الله عليه وسلم، وبشريعة النبي صلى الله عليه وسلم، إذن على الداعية أن يصبر وستكون العاقبة له إذا كان صادقاً مع الله سواء في حياته أو بعد مماته.
{إِنَّ الأَرْضَ للَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} . (الأعراف: 128) . وقال الله تعالى: {إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيِصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ} . (يوسف: 90) .
*
الزاد الثالث: الحكمة فيدعو إلى الله بالحكمة،
وما أمرَّ الحكمة على غير ذي الحكمة. والدعوة إلى الله تعالى تكون بالحكمة، ثم بالموعظة الحسنة، ثم الجدال بالتي هي أحسن لغير الظالم، ثم الجدال بما ليس أحسن للظالم، فالمراتب إذن أربع. قال الله تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِى هِىَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} . (النحل: 125) . وقال تعالى: {وَلَا تُجَادِلُواْ أَهْلَ
--------------------------------------------
হেরাক্লিয়াস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সংবাদ শুনেছিলেন; তিনি আবু সুফিয়ানকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে—তাঁর সত্তা, তাঁর বংশমর্যাদা, তিনি কিসের দিকে দাওয়াত দেন এবং তাঁর সাথীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। যখন আবু সুফিয়ান তাঁকে জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন হেরাক্লিয়াস তাঁকে বললেন: "তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে তিনি অচিরেই আমার এই দুই পায়ের নিচের ভূমির মালিক হবেন।" (১) ।
সুবহানাল্লাহ! কে কল্পনা করতে পারে যে, তারা যেমনটি বলে—একজন সাম্রাজ্যবাদী সম্রাট মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন কথা বলবেন? অথচ তখনও তিনি আরব উপদ্বীপকে শয়তানের দাসত্ব ও প্রবৃত্তির গোলামি থেকে মুক্ত করেননি। কে কল্পনা করতে পারে যে, এমন একজন ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলবে? এই কারণেই আবু সুফিয়ান যখন সেখান থেকে বের হলেন, তখন তিনি তাঁর কওমকে বললেন: "ইবনে আবি কাবশার বিষয় তো অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে, বনু আসফারের (রোমানদের) সম্রাটও তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।" এখানে ‘আমির’ মানে হলো মহান বা শক্তিশালী হওয়া, আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনি এক গুরুতর কাজ করেছেন} অর্থাৎ বিশাল বা গুরুতর।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরাক্লিয়াসের দুই পায়ের নিচের ভূমির মালিক হয়েছিলেন তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে নয়। কারণ তাঁর দাওয়াত এই জমিনে এসেছিল এবং মূর্তিপূজা, শিরক ও এর অনুসারীদের সমূলে উৎপাটন করেছিল। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর খুলাফায়ে রাশিদিন সেই ভূমির মালিক হয়েছিলেন; তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত ও তাঁর শরীয়তের মাধ্যমেই এর মালিক হয়েছিলেন। সুতরাং, একজন দায়ীর উচিত ধৈর্য ধারণ করা, আর পরিণাম তার পক্ষেই থাকবে যদি সে আল্লাহর সাথে সত্যনিষ্ঠ হয়—তা তার জীবদ্দশায় হোক বা মৃত্যুর পরে।
{নিশ্চয়ই এই জমিন আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী দান করেন এবং শেষ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।} (আরাফ: ১২৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধরে, তবে আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।} (ইউসুফ: ৯০)।
*
তৃতীয় পাথেয়: প্রজ্ঞা; সুতরাং সে প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবে,
প্রজ্ঞাহীন ব্যক্তির নিকট প্রজ্ঞা কতই না তিক্ত! মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত হতে হবে প্রজ্ঞার মাধ্যমে, এরপর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে, এরপর যারা জালেম নয় তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে, আর যারা জালেম তাদের সাথে এমন পন্থায় বিতর্ক যা উত্তম নয়। সুতরাং, স্তর হলো চারটি। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে দাওয়াত দিন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই আপনার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি সৎপথপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত।} (নাহল: ১২৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমরা আহলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الْكِتَبِ إِلَاّ بِالَّتِى هِىَ أَحْسَنُ إِلَاّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنْهُمْ وَقُولُواْءَامَنَّا بِالَّذِى أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} . (العنكبوت: 46) .
* إن الحكمة: إتقان الأمور وإحكامها، بأن تنزل الأمور منازلها وتوضع في مواضعها، ليس من الحكمة أن تتعجل وتريد من الناس أن ينقلبوا عن حالهم التي هم عليها إلى الحال التي كان عليها الصحابة بين عشية وضحاها. ومن أراد ذلك فهو سفيه في عقله بعيد عن الحكمة، لأن حكمة الله عز وجل تأبى أن يكون هذا الأمر، ويدلك لهذا أن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الذي ينزل عليه الكتاب نزل عليه الشرع متدرجاً حتى استقر في النفوس وكمل. فرضت الصلاة في المعراج قبل الهجرة بثلاث سنوات، وقيل سنة ونصف، وقيل خمس سنين، على خلاف بين العلماء في هذا.. ومع هذا لم تفرض على وضعها الان، أول ما فرضت كانت ركعتين للظهر والعصر والعشاء والفجر، وكانت المغرب ثلاثاً، لأجل أن تكون وتراً للنهار، وبعد الهجرة وبعد أن أمضى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثلاث عشرة سنة في مكة زيدت صلاة الحضر فصارت أربعاً في الظهر والعصر والعشاء، وبقيت صلاة الفجر على ما هي عليه؛ لأنها تطول فيها القراءة، وبقيت المغرب ثلاثاً لأنها وتر النهار.
والزكاة فرضت في السنة الثانية من الهجرة أو فرضت في مكة لكنها لم تقدر تقديراً في أنصبائها وواجبها ولم يبعث النبي صلى الله عليه وسلم السعاة لأخذ الزكاة إلا في السنة التاسعة من الهجرة فكان تطور الزكاة على ثلاث مراحل: في مكة {وآتوا حقه يوم حصاده} ، ولم يبين الواجب، ولا مقدار ما يجب فيه ذلك الواجب، وجعل الأمر موكولاً إلى الناس، وفي السنة الثانية من الهجرة بينت الزكاة بأنصبائها. وفي السنة التاسعة من الهجرة صار النبي صلى الله عليه وسلم، يبعث السعاة إلى أهل المواشي والثمار لأخذها.
فتأمل مراعاة أحوال الناس في تشريع الله عز وجل وهو أحكم الحاكمين. وكذلك في الصيام تطور في تشريعه فكان أول ما فرض يخير الإنسان بين أن يصوم أو يطعم، ثم تعين الصيام، وصار الإطعام لمن لا يستطيع الصوم على وجه مستمر.
{...এবং তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে উত্তম পন্থায়; কিন্তু তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী তাদের সাথে নয়। আর তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর। আর আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো এক এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।’} (আল-আনকাবুত: ৪৬)।
* নিশ্চয়ই হিকমত (প্রজ্ঞা) হলো: বিষয়সমূহকে সুচারু ও সুসংহত করা; অর্থাৎ বিষয়গুলোকে তাদের যথাযথ মর্যাদায় রাখা এবং যথাযোগ্য স্থানে স্থাপন করা। এটি হিকমতের পরিচয় নয় যে, আপনি তাড়াহুড়ো করবেন এবং মানুষের কাছ থেকে এই প্রত্যাশা করবেন যে, তারা তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে রাতারাতি সেই অবস্থায় ফিরে যাবে যে অবস্থায় সাহাবীগণ ছিলেন। যে ব্যক্তি এমনটি চায়, সে তার বুদ্ধিবৃত্তিতে নির্বোধ এবং হিকমত থেকে বহু দূরে। কারণ মহান আল্লাহর হিকমত এমনটি হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে। আপনার জন্য এর প্রমাণ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; যাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ হতো, তাঁর ওপর শরয়ি বিধানসমূহ ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়েছে যতক্ষণ না তা মানুষের অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং পূর্ণতা লাভ করেছে। হিজরতের তিন বছর আগে মিরাজের রাতে সালাত ফরজ করা হয়েছে। কারো মতে দেড় বছর, আবার কারো মতে পাঁচ বছর—এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও সালাত বর্তমান রূপ অনুযায়ী (শুরুতেই) ফরজ হয়নি। যখন প্রথম ফরজ হয়, তখন যোহর, আসর, এশা ও ফজর ছিল দুই রাকাত করে। আর মাগরিব ছিল তিন রাকাত, যেন তা দিনের বিতর হয়। হিজরতের পর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অতিবাহিত করার পর মুকিম অবস্থার সালাত বৃদ্ধি করা হয় এবং যোহর, আসর ও এশাকে চার রাকাত করা হয়। আর ফজর তার আগের অবস্থাতেই বহাল থাকে; কারণ তাতে কিরাত দীর্ঘ করা হয়। মাগরিবও তিন রাকাত বহাল থাকে কারণ তা দিনের বিতর।
আর যাকাত দ্বিতীয় হিজরিতে ফরজ হয়েছে, অথবা মক্কায় ফরজ হয়েছিল কিন্তু তখন তার নিসাব ও প্রদেয় পরিমাণ সুনির্ধারিত ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবম হিজরির আগে যাকাত সংগ্রহের জন্য সংগ্রাহকদের প্রেরণ করেননি। সুতরাং যাকাতের বিধানের ক্রমবিকাশ ছিল তিন পর্যায়ে: মক্কায় {শস্য কর্তনের দিন তার হক আদায় করো}, এখানে কী ওয়াজিব এবং ওয়াজিবের পরিমাণ কত—তা স্পষ্ট করা হয়নি, বরং বিষয়টি মানুষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় হিজরিতে যাকাত তার নিসাবসহ বিস্তারিত বর্ণিত হয়। নবম হিজরিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গবাদি পশু ও ফল-ফসলের মালিকদের নিকট যাকাত সংগ্রহের জন্য সংগ্রাহক পাঠাতে শুরু করেন।
সুতরাং মহান আল্লাহর শরয়ি বিধানে মানুষের অবস্থার প্রতি যে লক্ষ্য রাখা হয়েছে তা গভীরভাবে চিন্তা করুন, আর তিনি হলেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক। একইভাবে সিয়াম প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রথম যখন সিয়াম ফরজ করা হয়, তখন ব্যক্তিকে সিয়াম পালন অথবা খাদ্য প্রদানের (ফিদিয়া) মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর সিয়ামকে সুনির্দিষ্টভাবে আবশ্যক করা হয় এবং যারা স্থায়ীভাবে সিয়াম পালনে অক্ষম তাদের জন্য খাদ্য প্রদানের বিধান বহাল রাখা হয়।
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
* أقول إن الحكمة تأبى أن يتغير العالم بين عشية وضحاها فلابد من طول النفس، واقبل من أخيك الذي تدعوه ما عنده اليوم من الحق، وتدرج معه شيئاً فشيئاً حتى تنتشله من الباطل، ولا يكن الناس عندك على حد سواء، فهناك فرق بين الجاهل والمعاند.
* ولعل من المناسب أن أضرب أمثلة من دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم:
* المثال الأول: دخل رجل أعرابي والنبي صلى الله عليه وسلم، جالس في أصحابه في المسجد فبال الأعرابي في طائفة من المسجد فزجره الناس ـ والزجر هو النهر بشدة ـ ولكن النبي صلى الله عليه وسلم، وهو الذي أعطاه الله تعالى من الحكمة نهاهم، فلما قضى بوله أمر صلى الله عليه وسلم أن يراق على بوله ذنوباً من ماء ـ يعني دلواً ـ فزالت المفسدة فدعا الرسول صلى الله عليه وسلم، الأعرابي فقال له: «إن هذه المساجد لا يصلح فيها شيء من الأذى أو القذر إنما هي للصلاة وقراءة القرآن» (1) . أو كما قال صلى الله عليه وسلم، فانشرح صدر الأعرابي لهذه المعاملة الحسنة، ولهذا رأيت بعض أهل العلم نقل أن هذا الأعرابي قال: «اللهم ارحمني ومحمداً ولا ترحم معنا أحداً» . لأن محمداً صلى الله عليه وسلم، عامله هذه المعاملة الطيبة، أما الصحابة رضوان الله عليهم فسعوا في إزالة المنكر من غير تقدير لحال هذا الرجل الجاهل.
* المثال الثاني: معاوية بن الحكم رضي الله عنه جاء والنبي صلى الله عليه وسلم، يصلي بالناس فعطس رجل من القوم فقال الحمد لله ـ فإذا عطس أحد في الصلاة فليقل الحمد لله سواء في القيام أو في الركوع أو في السجود ـ قال هذا الرجل: الحمد لله، فقال له معاوية: يرحمك الله، وهذا خطاب لادمي يبطل الصلاة فرماه الناس بأبصارهم وجعلوا ينظرون إليه فقال معاوية: واثكل أمِّياه ـ والثكل الفقد وهذه كلمة تقال ولا يراد معناها، وقد قالها النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل رضي الله عنه حين قال: «ألا أخبرك بملاك ذلك كله؟ قال قلت: بلى يا رسول الله. قال: كف عليك هذا وأخذ بلسانه وقال: كفه عليك، فقال معاذ: وإنا لمؤاخذون بما نتكلم به؟ قال: «ثكلتك أمك يا معاذ وهل يكب الناس في النار على وجوههم أو قال على مناخرهم إلا حصائد ألسنتهم» (2) . ثم مضى معاوية رضي الله عنه في صلاته فلما أتم الصلاة دعاه
--------------------------------------------
আমি বলছি যে, প্রজ্ঞা এ কথা অস্বীকার করে যে রাতারাতি জগতের পরিবর্তন ঘটবে। তাই দীর্ঘস্থায়ী ধৈর্যের প্রয়োজন। আপনি যাকে দাওয়াত দিচ্ছেন, তার মধ্যে বর্তমানে যে সত্যটুকু আছে তা গ্রহণ করুন এবং তার সাথে পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হোন যতক্ষণ না তাকে মিথ্যার আবর্ত থেকে উদ্ধার করা যায়। সকল মানুষ আপনার নিকট সমান হওয়া উচিত নয়; কেননা অজ্ঞ এবং একগুঁয়ে ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াত থেকে কিছু উদাহরণ প্রদান করা এখানে প্রাসঙ্গিক হবে:
প্রথম উদাহরণ: একজন বেদুইন ব্যক্তি প্রবেশ করল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসা ছিলেন। বেদুইন ব্যক্তিটি মসজিদের এক কোণে প্রস্রাব করতে শুরু করল। তখন উপস্থিত লোকজন তাকে ধমক দিল—আর ধমক দেওয়া হলো কঠোরভাবে ধমকানো—কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাঁকে আল্লাহ তাআলা প্রজ্ঞা দান করেছিলেন, তিনি তাদের নিষেধ করলেন। যখন সে প্রস্রাব শেষ করল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি—অর্থাৎ এক ডোল পানি—ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এতে ক্ষতিকর বিষয়টি দূরীভূত হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বেদুইনকে ডেকে বললেন: «নিশ্চয়ই এই মসজিদগুলো কোনো কষ্টদায়ক বা নোংরা জিনিসের জন্য উপযুক্ত নয়, বরং এটি সালাত আদায় এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট» (১)। অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি বলেছিলেন। নবীজীর এই সুন্দর আচরণের কারণে সেই বেদুইনের অন্তর প্রশস্ত হলো। এই কারণেই আমি দেখেছি যে, কোনো কোনো আলেম বর্ণনা করেছেন যে সেই বেদুইন বলেছিল: «হে আল্লাহ! আপনি আমার ওপর এবং মুহাম্মদের ওপর রহম করুন এবং আমাদের সাথে আর কারো ওপর রহম করবেন না»। কারণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাথে এই সদয় আচরণ করেছিলেন। আর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই অজ্ঞ লোকটির অবস্থা বিবেচনা না করেই তাৎক্ষণিকভাবে অন্যায় কাজ দূর করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন।
দ্বিতীয় উদাহরণ: মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন দলের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল এবং বলল: আলহামদুলিল্লাহ—যদি কেউ সালাতের মধ্যে হাঁচি দেয়, তবে সে যেন আলহামদুলিল্লাহ বলে, চাই সে দণ্ডায়মান অবস্থায় থাকুক বা রুকু কিংবা সিজদায়—এই লোকটি বলল: আলহামদুলিল্লাহ। তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন: ইয়ারহামুকাল্লাহ। আর এটি হলো মানুষের সাথে কথোপকথন যা সালাতকে বাতিল করে দেয়। তখন লোকজন তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। মুয়াবিয়া বললেন: হায় আমার দুর্ভাগ্য!—আর 'থুকল' হলো প্রিয়জনকে হারানো, এটি একটি বাগধারা হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার আক্ষরিক অর্থ এখানে উদ্দেশ্য নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এটি বলেছিলেন যখন তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন: «আমি কি তোমাকে এই সবকিছুর মূল ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত করব না? মুয়াজ বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবীজী নিজের জিহ্বা ধরে বললেন: একে সংযত রাখো। মুয়াজ বললেন: আমরা যা বলি তার জন্যও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? নবীজী বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক হে মুয়াজ! মানুষের জিহ্বার অর্জিত ফসল ছাড়া আর কি কোনো কিছু মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে?» (২)। এরপর মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার সালাত চালিয়ে গেলেন। যখন সালাত শেষ হলো, নবীজী তাকে ডাকলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
النبي صلى الله عليه وسلم، قال معاوية رضي الله عنه: فوالله ما رأيت معلماً أحسن تعليماً منه، اللهم صلي وسلم عليه، والله ما كهرني، ولا نهرني وإنما قال: «إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس إنما هي التسبيح، والتكبير وقراءة القرآن» (1) . أو كما قال صلى الله عليه وسلم، انظر إلى الدعوة المحببة إلى النفوس يقبلها الإنسان وينشرح بها صدره.
ونأخذ من الحديث من الفوائد الفقهية: أن من تكلم في الصلاة وهو لا يدري أن الكلام يبطل الصلاة فإن صلاته صحيحة.
* المثال الثالث: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله هلكت. قال: «ما أهلكك؟» قال: وقعت على امرأتي في رمضان وأنا صائم. فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يعتق رقبة، فقال: لا أجد، ثم أمره أن يصوم شهرين متتابعين، قال: لا أستطيع، ثم أمره أن يطعم ستين مسكيناً، فقال: لا أستطيع، فجلس الرجل. فأتي النبي صلى الله عليه وسلم، بتمر فقال: «خذ هذا فتصدق به» . ولكن الرجل طمع في كرم النبي صلى الله عليه وسلم، الذي هو أعظم كرم لمخلوق، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم أكرم الناس، فقال الرجل: أعلى أفقر مني يا رسول الله؟ والله ما بين لابتيها أهل بيت أفقر مني، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت أنيابه أو نواجذه. لأن هذا الرجل جاء خائفاً يقول: «هلكت» فذهب غانماً، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أطعمه أهلك» (2) فذهب الرجل مطمئناً غانماً فرحاً بهذا الدين الإسلامي، وبهذا اليسر من الداعية الأول لهذا الدين الإسلامي صلوات الله وسلامه عليه.
* المثال الرابع: ولننظر كيف عامل النبي صلى الله عليه وسلم مرتكب الإثم: رأى النبي صلى الله عليه وسلم رجلاً وفي يده خاتم ذهب فنزعه النبي صلى الله عليه وسلم بيده الكريمة وطرحه في الأرض، وقال: «يعمد أحدكم إلى جمرة من نار فيضعها في يده» . فالنبي صلى الله عليه وسلم لم يعامله معاملة الأولين بل نزعه من يده وطرحه في الأرض، فلما انصرف النبي صلى الله عليه وسلم قيل للرجل خذ خاتمك انتفع به فقال: «والله لا آخذ خاتماً طرحه النبي صلى الله عليه وسلم» (3) ، الله أكبر هذا الامتثال العظيم من الصحابة رضوان الله عليهم.
المهم أنه يجب على الداعية أن يدعو إلى الله عز وجل بالحكمة
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম, আমি তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে ধমক দেননি এবং আমাকে তিরস্কারও করেননি। বরং তিনি কেবল বললেন: «নিশ্চয়ই এই নামাজে মানুষের কোনো কথা বলা সমীচীন নয়; এটি কেবল তসবিহ, তকবির এবং কুরআন পাঠের জন্য» (১)। অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। মানুষের অন্তরের জন্য প্রিয় এমন দাওয়াতের প্রতি লক্ষ্য করুন, যা মানুষ গ্রহণ করে এবং যার মাধ্যমে তার অন্তর প্রশান্ত হয়।
এবং আমরা এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত ফিকহী (الفقهية) ফায়দাহসমূহের মধ্যে পাই: যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে কথা বলবে এমতাবস্থায় যে সে জানে না কথা বলা নামাজকে বাতিল করে দেয়, তবে তার নামাজ সহিহ (صحيحة)।
* তৃতীয় উদাহরণ: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন: «কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে?» সে বলল: আমি রোজা রাখা অবস্থায় রমজান মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একজন দাস মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন। সে বলল: আমি তা খুঁজে পাচ্ছি না। এরপর তিনি তাকে টানা দুই মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। সে বলল: আমি তাতেও সক্ষম নই। এরপর তিনি তাকে ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানোর নির্দেশ দিলেন। সে বলল: আমি তাতেও সক্ষম নই। তখন লোকটি বসে পড়ল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু খেজুর আনা হলো। তিনি বললেন: «এটি গ্রহণ করো এবং তা সদকা করে দাও»। কিন্তু লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহানুভবতার প্রতি আগ্রহী হলো, যা কোনো সৃষ্টির পক্ষে ছিল এক মহান শ্রেষ্ঠ দান। কেননা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তখন লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার চেয়েও বেশি দরিদ্রের ওপর কি আমি সদকা করব? আল্লাহর কসম, মদিনার এই দুই পাথুরে প্রান্তরের মধ্যবর্তী স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে দরিদ্র আর কোনো ঘর নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এমনকি তাঁর সম্মুখের বা মাড়ির দাঁতগুলো দৃশ্যমান হলো। কারণ এই লোকটি অত্যন্ত ভীত হয়ে এসেছিল এবং বলছিল: «আমি ধ্বংস হয়ে গেছি», অথচ সে সফলকাম হয়ে ফিরে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এটি তোমার পরিবারকেই খাইয়ে দাও» (২)। লোকটি এই ইসলামি দ্বীন এবং এই দ্বীনের প্রথম দায়ীর পক্ষ থেকে পাওয়া এমন সহজসাধ্য ও সাবলীল আচরণে আশ্বস্ত ও আনন্দিত হয়ে ফিরে গেল—তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
* চতুর্থ উদাহরণ: আসুন আমরা লক্ষ্য করি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাপাচারী ব্যক্তির সাথে কেমন আচরণ করতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার হাতে একটি সোনার আংটি ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বরকতময় হাত দিয়ে তা খুলে ফেললেন এবং মাটিতে নিক্ষেপ করলেন। তিনি বললেন: «তোমাদের কেউ কি ইচ্ছাকৃতভাবে আগুনের একটি জ্বলন্ত অঙ্গারের দিকে ধাবিত হয় এবং তা নিজ হাতে ধারণ করে?» নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে পূর্বের ব্যক্তিদের মতো আচরণ করেননি, বরং তা হাত থেকে খুলে নিয়ে মাটিতে নিক্ষেপ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রস্থান করলেন, তখন লোকটিকে বলা হলো: তোমার আংটিটি তুলে নাও এবং তা দ্বারা অন্যভাবে উপকৃত হও। তখন সে বলল: «আল্লাহর কসম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আংটিটি নিক্ষেপ করেছেন আমি তা কক্ষনো গ্রহণ করব না» (৩)। আল্লাহু আকবার! সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের পক্ষ থেকে এটি ছিল এক মহান আনুগত্যের দৃষ্টান্ত।
সারকথা হলো, একজন দায়ীর জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহর পথে হিকমতের সাথে আহ্বান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فليس الجاهل كالعالم، وليس المعاند كالمستسلم، فلكل مقام مقال، ولكل منزلة حال.
*
الزاد الرابع: أن يتخلق الداعية بالأخلاق الفاضلةبحيث يظهر عليه أثر العلم في معتقده، وفي عبادته، وفي هيئته، وفي جميع مسلكه حتى يمثل دور الداعية إلى الله، أما أن يكون على العكس من ذلك فإن دعوته سوف تفشل وإن نجحت فإنما نجاحها قليل.
فعلى الداعية أن يكون متخلقاً بما يدعو إليه من عبادات أو معاملات أو أخلاق وسلوك حتى تكون دعوته مقبولة وحتى لا يكون من أول من تسعر بهم النار.
* أيها الأخوة: إننا إذا نظرنا إلى أحوالنا وجدنا أننا في الواقع قد ندعو إلى شيء ولكننا لا نقوم به وهذا لا شك أنه خلل كبير، اللهم إلا أن يحول بيننا وبينه النظر إلى ما هو أصلح لأن لكل مقام مقالاً. فالشيء الفاضل قد يكون مفضولاً لأمور تجعل المفضول راجحاً ولهذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم يدعو إلى بعض الخصال ولكنه يشتغل أحياناً بما هو أهم منها، وربما يصوم حتى يقال لا يفطر، ويفطر حتى يقال لا يصوم.
* أيها الأخوة: إنني أريد من كل داعية أن يكون متخلقاً بالأخلاق التي تليق بالداعية حتى يكون داعية حقّاً وحتى يكون قوله أقرب إلى القبول.
*
الزاد الخامس أن يكسر الداعية الحواجزالتي بينه وبين الناس لأن كثيراً من إخواننا الدعاة إذا رأى قوماً على منكر قد تحمله الغيرة وكراهة هذا المنكر على أن لا يذهب إلى هؤلاء ولا ينصحهم، وهذا خطأ وليس من الحكمة أبداً؛ بل الحكمة أن تذهب وتدعو، وتبلغ وترغب وترهب، ولا تقل هؤلاء فسقة لا يمكن أن أمشي حولهم. إذا كنت أنت أيها الداعية المسلم لا يمكن أن تمشي حول هؤلاء ولا أن تذهب إليهم لدعوتهم إلى الله فمن الذي يتولاهم؟ أيتولاهم أحد مثلهم؟! أيتولاهم قوم لا يعلمون؟ أبداً ولهذا ينبغي للداعية أن يصبر، وهذا من الصبر
কেননা অজ্ঞ ব্যক্তি জ্ঞানীর সমান নয়, আর হঠকারী ব্যক্তি অনুগত ব্যক্তির সমান নয়। প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত কথা রয়েছে এবং প্রতিটি স্তরের জন্য রয়েছে যথাযথ অবস্থা।
*
চতুর্থ পাথেয়: দাঈর (আহ্বায়ক) উত্তম চারিত্রিক গুণাবলিতে ভূষিত হওয়াযাতে তার আকিদা, ইবাদত, বাহ্যিক অবয়ব এবং তার সামগ্রিক কর্মপন্থায় ইলমের (জ্ঞান) প্রভাব প্রকাশ পায় এবং সে আল্লাহর পথে একজন দাঈর যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। পক্ষান্তরে এর বিপরীত হলে তার দাওয়াত ব্যর্থ হবে, আর যদি সফলও হয় তবে সেই সাফল্য হবে অতি সামান্য।
দাঈ যে ইবাদত, লেনদেন কিংবা চরিত্র ও আচরণের দিকে মানুষকে আহ্বান করেন, নিজের জীবনেও তা ধারণ করা আবশ্যক; যাতে তার দাওয়াত গ্রহণযোগ্য হয় এবং তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত না হন যাদের মাধ্যমে সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে।
* হে ভ্রাতৃবৃন্দ! আমরা যদি আমাদের অবস্থার দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব যে, আমরা বাস্তবে কোনো বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছি অথচ নিজেরা তা পালন করছি না। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় ত্রুটি। তবে যদি এর চেয়ে অধিক কল্যাণকর কোনো বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করার কারণে তা সম্ভব না হয় (তবে তা ভিন্ন), কারণ প্রতিটি পরিস্থিতির উপযোগী কথা রয়েছে। কেননা কোনো উত্তম (فاضل) বিষয়ও কখনও কখনও অনুত্তম (مفضول) হিসেবে গণ্য হতে পারে এমন সব কারণে যা অনুত্তম (مفضول) বিষয়টিকে অগ্রগণ্য (راجح) করে তোলে। একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু চারিত্রিক গুণের প্রতি আহ্বান জানাতেন কিন্তু কখনও কখনও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকতেন। কখনও তিনি এমনভাবে রোজা রাখতেন যে বলা হতো তিনি আর রোজা ভাঙবেন না, আবার কখনও এমনভাবে রোজা ত্যাগ করতেন যে বলা হতো তিনি আর রোজা রাখবেন না।
* হে ভ্রাতৃবৃন্দ! আমি চাই প্রত্যেক দাঈ যেন সেই সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে ভূষিত হন যা একজন দাঈর জন্য শোভনীয়, যাতে তিনি প্রকৃত দাঈ হতে পারেন এবং তার কথা গ্রহণের অধিক নিকটবর্তী হয়।
*
পঞ্চম পাথেয়: দাঈর (মানুষের সাথে তার মাঝে বিদ্যমান) দেয়াল ভেঙে ফেলাযা তার ও মানুষের মাঝে বিদ্যমান। কারণ আমাদের অনেক দাঈ ভাই যখন কোনো সম্প্রদায়কে অন্যায় (منكر) কাজে লিপ্ত দেখেন, তখন দীনি আত্মমর্যাদাবোধ এবং সেই অন্যায়ের (منكر) প্রতি ঘৃণা তাকে তাদের কাছে না যেতে এবং নসিহত না করতে প্ররোচিত করতে পারে। এটি একটি ভুল পদ্ধতি এবং মোটেও হিকমতের (প্রজ্ঞা) অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং হিকমত হলো আপনি যাবেন এবং দাওয়াত দেবেন, সত্য পৌঁছে দেবেন এবং উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন করবেন। আপনি এমনটি বলবেন না যে, "এরা পাপাচারী (فاسق), এদের আশেপাশে হাঁটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।" যদি আপনি একজন মুসলিম দাঈ হয়েও তাদের আশেপাশে না যান এবং তাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাদের কাছে না যান, তবে তাদের দায়িত্ব কে নেবে? তাদের মতো কেউ কি তাদের দায়িত্ব নেবে? নাকি এমন সব লোক যারা কিছুই জানে না? কখনোই নয়! একারণেই দাঈর উচিত ধৈর্য ধারণ করা, আর এটি ধৈর্যেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذي ذكرناه سابقاً أن يصبر نفسه ويكرهها وأن يكسر الحواجز بينها وبين الناس حتى يتمكن من إيصال دعوته إلى من هم في حاجة إليها، أما أن يستنكف فهذا خلاف ما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يفعله، والنبي صلى الله عليه وسلم كما هو معلوم كان يذهب في أيام منى إلى المشركين في أماكنهم ويدعوهم إلى الله وقد أثر عنه أنه صلى الله عليه وسلم قال: «ألا أحد يحملني حتى أبلغ كلام ربي فإن قريشاً منعتني أن أبلغ كلام ربي» (1) . فإذا كان هذا دأب نبينا، وإمامنا وقدوتنا محمد صلى الله عليه وسلم، فإنه من الواجب علينا أن نكون مثله في الدعوة إلى الله.
*
الزاد السادس: أن يكون قلب الداعية منشرحاً لمن خالفه،
لاسيما إذا علم أن الذي خالفه حسن النية وأنه لم يخالفه إلا بمقتضى قيام الدليل عنده، فإنه ينبغي للإنسان أن يكون مرناً في هذه الأمور، وأن لا يجعل من هذا الخلاف مثاراً للعداوة والبغضاء، اللهم إلا رجل خالف معانداً بحيث يبين له الحق ولكن يصر على باطله فإن هذا يجب أن يعامل بما يستحق أن يعامل به من التنفير عنه، وتحذير الناس منه؛ لأنه تبين عداوته حيث بين له الحق فلم يمتثل.
* وهناك مسائل فرعية يختلف فيها الناس وهي في الحقيقة مما وسع الله فيه على عباده ـ وأعني مسائل ليست من الأصول التي تبلغ إلى تكفير المخالف ـ فهذه مما وسع الله فيها على العباد وجعل الخطأ فيها واسعاً، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا حكم الحاكم فاجتهد فأصاب فله أجران وإن أخطأ فله أجر واحد» . فالمجتهد لا يخرج عن دائرة الأجر أبداً فإما أجران إن أصاب، وإما أجر واحد إن أخطأ، وإذا كنت لا تريد أن يخالفك غيرك فإن غيرك أيضاً يريد أن لا يخالفه أحد، فكما أنك تريد أن يأخذ الناس بقولك، فالمخالفون لك يريدون أيضاً أن يأخذ الناس بقولهم، والمرجع عند التنازع ما بيّنه الله عز وجل في قوله: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَىْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبِّى عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} . (الشورى: 10) . ويقول عز وجل: {يَأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِى الَاْمْرِ مِنْكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْءٍ
--------------------------------------------
পূর্বে আমরা যা আলোচনা করেছি তা হলো—ব্যক্তি নিজে ধৈর্য ধারণ করবে ও প্রবৃত্তিকে বাধ্য করবে এবং নিজের ও মানুষের মাঝে বিদ্যমান সকল বাধা ভেঙে ফেলবে, যাতে সে যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো প্রয়োজন তাদের নিকট তার আহ্বান পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়। আর যদি কেউ বিমুখতা প্রদর্শন করে, তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী। যেমনটি সুবিদিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার দিনগুলোতে মুশরিকদের নিকট তাদের আবাসস্থলে যেতেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। তাঁর থেকে বর্ণিত (أثر) আছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এমন কি কেউ নেই যে আমাকে নিয়ে যাবে, যাতে আমি আমার রবের বাণী পৌঁছে দিতে পারি? কারণ কুরাইশরা আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছাতে বাধা প্রদান করেছে।» (১) সুতরাং এটিই যদি আমাদের নবী, আমাদের ইমাম এবং আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীতি হয়, তবে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের জন্যও তাঁর অনুরূপ হওয়া কর্তব্য।
*
ষষ্ঠ পাথেয়: যারা দাঈর বিরোধিতা করে তাদের প্রতি তাঁর অন্তর প্রশস্ত হওয়া،
বিশেষ করে যখন জানা যায় যে, বিরোধিতাকারী ব্যক্তি সদিচ্ছা পোষণ করে এবং সে কেবল তার নিকট যে দলিল (دليل) বিদ্যমান রয়েছে তার অনিবার্য দাবি অনুযায়ীই ভিন্নমত পোষণ করছে। এমতাবস্থায় মানুষের উচিত এসব বিষয়ে নমনীয় হওয়া এবং এই মতভেদকে শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণ না বানানো। তবে এমন ব্যক্তি যে হঠকারিতাবশত বিরোধিতা করে, যার নিকট সত্য স্পষ্ট করে দেওয়ার পরেও সে তার বাতিলের ওপর অটল থাকে, তার সাথে তার প্রাপ্য অনুযায়ী এমন আচরণ করতে হবে যাতে মানুষ তার থেকে বিমুখ হয় এবং তার ব্যাপারে সতর্ক হয়; কারণ সত্য স্পষ্ট করার পরেও যেহেতু সে তা অনুসরণ করেনি, তাই তার শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে।
* আর এমন অনেক শাখা-প্রশাখাগত মাসয়ালা রয়েছে যেগুলোতে মানুষ মতপার্থক্য করে থাকে এবং এগুলো প্রকৃতপক্ষে সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য প্রশস্ততা রেখেছেন—আমি এমন সব মাসআলা বোঝাচ্ছি যা এমন মূলনীতি (أصول) বা বুনিয়াদী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় যা বিরোধিতাকারীকে কাফের সাব্যস্ত করার পর্যায়ে নিয়ে যায়। এগুলো এমন বিষয় যাতে আল্লাহ বান্দাদের জন্য অবকাশ রেখেছেন এবং তাতে ভুল হওয়াকেও ক্ষমার্হ রেখেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো বিচারক বিচার করার সময় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর যদি তিনি ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।» অতএব, মুজতাহিদ (مجتهد) কখনোই সওয়াবের গণ্ডি থেকে বের হন না; হয় তিনি সঠিক হওয়ার কারণে দুটি সওয়াব পাবেন, নতুবা ভুল করার কারণে একটি সওয়াব পাবেন। আপনি যদি না চান যে অন্য কেউ আপনার বিরোধিতা করুক, তবে অন্যরাও চায় না যে কেউ তাদের বিরোধিতা করুক। আপনি যেমন চান মানুষ আপনার কথা গ্রহণ করুক, তেমনি আপনার বিরোধিতাকারীরাও চায় মানুষ তাদের কথা গ্রহণ করুক। আর বিরোধের ক্ষেত্রে মীমাংসার স্থল হলো তা-ই যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট। তিনিই আল্লাহ, আমার রব; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই।} (আশ-শুরা: ১০)। তিনি আজ্জা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের উলুল আমরদের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الَاْخِرِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} . (النساء: 59) . فيجب على كل المختلفين والمتنازعين أن يرجعوا إلى هذين الأصلين كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يحل لأحد أن يعارض كلام الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم بكلام أحد من البشر مهما كان، فإذا تبين لك الحق فالواجب أن تضرب بقول من خالفه عرض الحائط، وأن لا تلتفت إليه مهما كانت منزلته من العلم والدين، لأن البشر يخطىء لكن كلام الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم ليس فيه خطأ.
* ويؤسفني أن أسمع عن قوم يعتبرون جادّين في طلب الحق والوصول إليه ومع ذلك نجدهم متفرقين، لكل واحد منهم اسم معين أو وصف معين، وهذا في الحقيقة خطأ، إن دين الله عز وجل واحد، وأمة الإسلام واحدة، يقول الله عز وجل: {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَحِدَةً وَأَنَاْ رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} . (المؤمنون: 52) . ويقول الله سبحانه وتعالى لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِى شَىْءٍ إِنَّمَآ أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ} . (الأنعام: 159) . وقال عز وجل: {شَرَعَ لَكُم مِّنَ الِدِينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِى أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُواْ الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُواْ فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِى إِلَيْهِ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ} . (الشورى: 13) .
فإذا كان هذا توجيه الله عز وجل لنا فالواجب علينا أن نأخذ بهذا التوجيه، وأن نجتمع على بساط البحث، وأن يناقش بعضنا بعضاً على سبيل الإصلاح لا على سبيل الانتقاد أو الانتقام، فإن أي إنسان يجادل غيره ويحاج بقصد الانتصار لرأيه واحتقار رأي غيره، أو لقصد الانتقاد دون الإصلاح فإن الغالب أن يخرجوا على وجه لا يرضي الله ورسوله، فالواجب علينا في مثل هذا الأمر أن نكون أمة واحدة، وأنا لا أقول إنه لا يخطىء أحد، كل يخطىء، ويصيب، ولكن الكلام في الطريق إلى إصلاح هذا الخطأ، ليس الطريق إلى إصلاح الخطأ أن أتكلم في غيبته وأقدح فيه، ولكن الطريق إلى إصلاحه،
{...তবে তোমরা তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখ। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} (আন-নিসা: ৫৯)। সুতরাং সকল মতভেদকারী ও বিবাদমান ব্যক্তিদের জন্য এই দুটি মূলনীতির (الأصلين) দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব, যা হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ। আর কোনো মানুষের জন্যই এটি বৈধ নয় যে, সে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর বিপরীতে অন্য কোনো মানুষের কথাকে দাঁড় করাবে, সে ব্যক্তি যেই হোক না কেন। সুতরাং যখন আপনার নিকট সত্য প্রতিভাত হয়ে যাবে, তখন ওয়াজিব হলো তার বিরোধী বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করা, ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মর্যাদা যাই হোক না কেন। কারণ মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীতে কোনো ভুল নেই।
* এটি আমার জন্য দুঃখজনক যে, আমি এমন এক সম্প্রদায়ের কথা শুনি যারা সত্যের অনুসন্ধান ও তা লাভে নিজেদের একনিষ্ঠ মনে করে, অথচ আমরা তাদের দেখি যে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন। তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট নাম বা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভুল। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর দ্বীন এক এবং ইসলামের উম্মাহ এক। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর তোমাদের এই যে জাতি, এতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব; অতএব আমাকেই ভয় কর।} (আল-মুমিনুন: ৫২)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেন: {নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয় তো আল্লাহরই নিকট। অতঃপর তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত।} (আল-আনআম: ১৫৯)। এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং এতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মুশরিকদের যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করছেন তা তাদের কাছে গুরুভার মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান নিজের দিকে মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে হিদায়াত দান করেন।} (আশ-শূরা: ১৩)।
এটি যদি আমাদের প্রতি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নির্দেশনা হয়, তবে আমাদের কর্তব্য হলো এই নির্দেশনা গ্রহণ করা এবং আলোচনার টেবিলে একত্রিত হওয়া। আমাদের একে অপরের সাথে সংশোধনের উদ্দেশ্যে আলোচনা করা উচিত, সমালোচনা বা প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে নয়। কারণ যে ব্যক্তি নিজের মতের বিজয় এবং অন্যের মতকে তুচ্ছজ্ঞান করার উদ্দেশ্যে, অথবা সংশোধনের পরিবর্তে সমালোচনার উদ্দেশ্যে অন্যের সাথে বিতর্ক বা তর্কে লিপ্ত হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের এই আলোচনা এমনভাবে সমাপ্ত হয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে না। সুতরাং এই ধরণের বিষয়ে আমাদের কর্তব্য হলো আমরা যেন এক উম্মাহ হয়ে থাকি। আর আমি বলছি না যে কেউই ভুল করে না; প্রত্যেকেই ভুল করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে (يصيب) উপনীত হতে পারে, কিন্তু কথা হচ্ছে এই ভুল সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে। ভুল সংশোধনের পদ্ধতি এটি নয় যে, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার নিন্দা করব এবং তার সমালোচনা বা নিন্দা (أقدح) করব; বরং সংশোধনের পদ্ধতি হলো...
(খণ্ড: ১)
যাদুদ্দায়িয়াতি ইলাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أن أجتمع به وأناقشه فإذا تبين بعد ذلك أن الرجل مصرّ على عناده، وعلى ما هو عليه من باطل فحينئذ لي العذر ولي الحق بل يجب عليّ أن أبين خطأه، وأن أحذر الناس من خطئه، وبهذا تصلح الأمور، أما التفرق والتحزب فإن هذا لا تقر به عين أحد، إلا من كان عدوّاً للإسلام والمسلمين.
والله أسأل أن يجمع قلوبنا على طاعته، وأن يجعلنا من المتحاكمين إلى الله ورسوله، وأن يخلص لنا النية ويبين لنا ما خفي علينا من شريعته إنه جواد كريم.
والحمد لله رب العالمين وصلى وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমি যেন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাঁর সাথে আলোচনা করি; অতঃপর যদি এরপর এটি স্পষ্ট হয় যে, ব্যক্তিটি তার হঠকারিতা এবং সে যে বাতিল (باطل) বিষয়ের ওপর রয়েছে তার ওপর অটল, তবে আমার নিকট ওযর ও অধিকার থাকবে, বরং আমার ওপর এটি আবশ্যক হবে যেন আমি তার ভুল স্পষ্ট করি এবং মানুষকে তার ভুল থেকে সতর্ক করি। এর মাধ্যমেই বিষয়সমূহ সংশোধিত হয়। আর বিচ্ছিন্নতা ও দলাদলি—এতে কারো চক্ষু শীতল হয় না, কেবল যারা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু তারা ব্যতীত।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের অন্তরসমূহকে তাঁর আনুগত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন এবং আমাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালার প্রতি প্রত্যাবর্তনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন, আর আমাদের জন্য নিয়তকে বিশুদ্ধ করেন এবং তাঁর শরীয়তের যা আমাদের নিকট অস্পষ্ট তা আমাদের নিকট প্রকাশ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দানশীল, মহানুভব।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।