(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: -)
ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين   (أبو الحسن الندوي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين

المؤلف: علي أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين الندوي (ت 1420هـ)

الناشر: مكتبة الإيمان، المنصورة - مصر

طبعة شرعية جديدة منقحة ومحققه ومزيدة

عدد الصفحات: 257

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো   (আবুল হাসান নদভী)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো

লেখক: আলী আবুল হাসান বিন আব্দুল হাই বিন ফখরুদ্দীন নদভী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ঈমান, মানসুরা - মিশর

পরিমার্জিত, সম্পাদিত (محقق) ও পরিবর্ধিত নতুন বৈধ সংস্করণ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৭

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্ব ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: -)
ماذا خسر العالم

بانحطاط المسلمين؟

 

أبو الحسن علي الحسني الندوي

 

ومقدمة بقلم الشهيد

سَيّد قطب
বিশ্বের কী ক্ষতি হলো

মুসলমানদের অধঃপতনে?

 

আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নাদভী

 

এবং শহীদের কলমে লিখিত ভূমিকা

সাইয়্যেদ কুতুব
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدمة

بقلم الباحث الإسلامي الأستاذ سيد قطب

 

ما أحوج المسلمين اليوم إلى من يرد عليهم إيمانهم بأنفسهم وثقتهم بماضيهم ورجاءهم في مستقبلهم.. وما أحوجهم لمن يرد عليهم إيمانهم بهذا الدين الذي يحملون اسمه ويجهلون كنهه، ويأخذونه بالوراثة أكثر مما يتخذونه بالمعرفة.

وهذا الكتاب الذي بين يدي: "ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين" لمؤلفه (السيد أبي الحسن علي الحسني الندوي) من خير ما قرأت في هذا الاتجاه، في القديم والحديث سواء.

إن الإسلام عقيدة استعلاء، من أخص خصائصها أنها تبعث في روح المؤمن بها إحساس العزة من غير كبر، وروح الثقة في غير اعتزاز، وشعور الاطمئنان في غير تواكل. وأنها تشعر المسلمين بالتبعة الإنسانية الملقاة على كواهلهم، تبعة الوصاية على هذه البشرية في مشارق الأرض ومغاربها، وتبعة القيادة في هذه الأرض للقطعان الضالة، وهدايتها إلى الدين القيم، والطريق السوي، وإخراجها من الظلمات إلى النور بما آتاهم الله من نور الهدى والفرقان:

{كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ} … {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِّتَكُونُواْ شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} .

وهذا الكتاب الذي بين يدي يثير في نفس قارئه هذه المعاني كلها، وينفث في روعه تلك الخصائص جميعها، ولكنه لا يعتمد في هذا على مجرد الاستثارة الوجدانية أو العصبية الدينية، بل يتخذ الموضوعية أداته، فيعرضها على النظر والحس العقل والوجدان جميعاً، ويعرض الوقائع التاريخية والملابسات الحاضرة عرضاَ عادلَا مستنيراَ، ويتحاكم في القضية التي يعرضها كاملة إلى الحق والواقع والمنطق والضمير، فتبدو كلها متساندة في صفة وفي صف قضيته، بلا تمحل ولا اعتساف في مقدمة أو نتيجة. وتلك مزية الكتاب الأولى.

إنه يبدأ فيرسم صورة صغيرة سريعة- ولكنها واضحة- لهذا العالم قبل أن
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

ভূমিকা

ইসলামি গবেষক উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুবের লেখনীতে

 

বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য এমন এক ব্যক্তিত্বের কতই না প্রয়োজন, যিনি তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস, নিজেদের অতীতের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যতের আশা ফিরিয়ে দেবেন। তাদের জন্য এমন এক ব্যক্তির কতই না প্রয়োজন, যিনি তাদের সেই দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দেবেন যার নাম তারা বহন করে অথচ এর স্বরূপ সম্পর্কে তারা অজ্ঞ; আর তারা একে জ্ঞানের মাধ্যমে গ্রহণের চেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করতেই বেশি অভ্যস্ত।

আর আমার হাতে থাকা এই গ্রন্থটি: "মুসলিমদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?" যার লেখক সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী; এই বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক উভয় ধারার সাহিত্যের মধ্যে আমি যা কিছু পড়েছি তার মাঝে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।

নিশ্চয়ই ইসলাম একটি শ্রেষ্ঠত্বের আকিদা (عقيدة), যার অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি মুমিনের অন্তরে অহংকারহীন মর্যাদাবোধ, দম্ভহীন আত্মবিশ্বাস এবং অলসতা বর্জিত প্রশান্তির অনুভূতি জাগ্রত করে। এটি মুসলিমদেরকে তাদের কাঁধে অর্পিত মানবিক দায়িত্ববোধের অনুভূতি দান করে; যা হলো পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত এই মানবজাতির অভিভাবকত্বের দায়িত্ব, এবং এই পৃথিবীতে পথভ্রষ্ট দলগুলোকে সঠিক দ্বীন ও সরল পথের দিকে নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব, আর আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত ও ফুরকানের নূরের মাধ্যমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার দায়িত্ব:

{তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির জন্য; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো...} … {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।}

আমার সামনে থাকা এই গ্রন্থটি তার পাঠকের মনে এই সকল ভাবার্থকে জাগিয়ে তোলে এবং তার হৃদয়ে এই সকল বৈশিষ্ট্যসমূহ সঞ্চারিত করে। তবে এটি কেবল আবেগীয় উত্তেজনা বা ধর্মীয় গোঁড়ামির ওপর নির্ভর করে না, বরং বস্তুনিষ্ঠতাকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে; ফলে লেখক বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণ, অনুভূতি, বুদ্ধি ও বিবেকের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও বর্তমান পরিস্থিতির এক ন্যায়নিষ্ঠ ও আলোকিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং তার উপস্থাপিত বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সত্য, বাস্তবতা, যুক্তি ও বিবেকের নিক্তিতে বিচার করেন। ফলে কোনো কৃত্রিমতা বা ভূমিকা ও ফলাফলে কোনো জবরদস্তি ছাড়াই সবকিছু তার দাবির সপক্ষে সুসংহতভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এটিই এই বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তিনি আলোচনার শুরুতে এই বিশ্বের একটি সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত—তবে অত্যন্ত স্বচ্ছ—চিত্র অঙ্কন করেছেন, যা...
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১১)
تشرق عليه أنوار الإسلام الأولى. رسم الصورة لهذا العالم شرقاً وغرباً وشمالاً وجنوباً، من الهند والصين إلى فارس والروم، صورة المجتمع وصورة الضمير في هذه الدنيا العريضة، في الجماعات التي تظلها الديانات السماوية، كاليهودية والمسيحية، والتي تظلها الديانات الوثنية، كالهندوكية والبوذية والزرادشتية.. وما إليها..

إنها صورة جامعة تعرض رقعة العالم وتصفها وصفاً بيناً، لا يعتسف المؤلف فيه، ولا يستبد به، إنما يشرك معه الباحثين والمؤرخين من القدامى والمحدثين، ممن يدينون بغير الإسلام، فلا شبهة في أن يكونوا مغرضين له، وللدور الذي أداه في ذلك العالم القديم.

إنه يصف العالم تسيطر عليه روح الجاهلية، ويتعفن ضميره، وتأسن روحه، وتختل فيه القيم والمقاييس، ويسوده الظلم والعبودية، وتجتاحه موجة من الترف الفاجر والحرمان التاعس، وتغشاه غاشية من الكفر والضلال والظلام، على الرغم من الديانات السماوية، التي كانت فد أدركها التحريف، وسرى فيها الضعف، وفقدت سيطرتها على النفوس، واستحالت جامدة، لا حياة فها ولا روح، وبخاصة المسيحية.

… فإذا فرغ المؤلف من رسم صورة العالم بجاهليته هذه، بدأ يعرض دور الإسلام في حياة البشرية. دوره في تخليص روح البشر من الوهم والخرافة، ومن العبودية والرق، ومن الفساد والتعفن، ومن القذارة والانحلال، ودوره في تخليص المجتمع الإنساني من الظلم والطغيان، ومن التفكك والانهيار، ومن فوارق الطبقات واستبداد الحكام واستذلال الكهان، ودوره في بناء العالم على أسس من العفة والنظافة والإيجابية والبناء، والحرية والتجدد، ومن المعرفة واليقين، والثقة والإيمان. والعدالة والكرامة، ومن العمل الدائب لتنمية الحياة وترقية الحياة، وإعطاء كل ذي حق حقه في الحياة.

كل أولئك في إبان الفترة التي كانت القيادة فيها للإسلام في أي مكان، والتي كان الإسلام فيها يعمل، وهو لا يستطيع أن يعمل أن يعمل ألا أن تكون له القيادة، لأنه بطبيعته عقيدة استعلاء، ومنهج قيادة، وشرعة ابتداع لا إتباع.
ইসলামের প্রাথমিক নূরসমূহ এর ওপর উদিত হচ্ছে। লেখক এই বিশ্বের একটি চিত্র অঙ্কন করেছেন—পূর্ব ও পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ—ভারত ও চীন থেকে শুরু করে পারস্য ও রোম পর্যন্ত; এই বিস্তৃত জগতের সমাজ এবং বিবেকের চিত্র। ঐ সকল জনগোষ্ঠীর চিত্র যারা আসমানি ধর্মসমূহ যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের ছায়াতলে ছিল, এবং যারা পৌত্তলিক ধর্মসমূহ যেমন হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও জরথুস্ট্রবাদ এবং এজাতীয় অন্যান্য মতবাদের ছায়াতলে ছিল।

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র যা বিশ্বের মানচিত্রকে তুলে ধরে এবং এর সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়, যেখানে লেখক কোনো জবরদস্তি করেননি বা স্বেচ্ছাচারিতা অবলম্বন করেননি। বরং তিনি তাঁর সাথে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের এমন সব গবেষক ও ঐতিহাসিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মে বিশ্বাসী; ফলে ইসলামের প্রতি এবং প্রাচীন বিশ্বে ইসলাম যে ভূমিকা পালন করেছিল তার প্রতি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার কোনো সন্দেহ থাকে না।

তিনি এমন এক বিশ্বের বর্ণনা দিচ্ছেন যা জাহেলিয়াতের চেতনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যার বিবেক পচে গেছে, আত্মা কলুষিত হয়েছে এবং যেখানে মূল্যবোধ ও মানদণ্ড বিপর্যস্ত হয়েছে। জুলুম ও দাসত্ব সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, আর পাপাচারপূর্ণ বিলাসিতা ও শোচনীয় বঞ্চনার ঢেউ তাকে গ্রাস করেছিল। কুফরি, পথভ্রষ্টতা ও অন্ধকারের এক আবরণ তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, যদিও সেখানে আসমানি ধর্মসমূহ বিদ্যমান ছিল, কিন্তু তাতে বিকৃতি ঘটেছিল এবং সেখানে দুর্বলতা (ضعف) ছড়িয়ে পড়েছিল। সেগুলো মানুষের আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল এবং প্রাণহীন ও নিথর হয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে খ্রিস্টধর্ম।

… লেখক যখন এই জাহেলিয়াতপূর্ণ বিশ্বের চিত্র অঙ্কন সম্পন্ন করেন, তখন তিনি মানবজীবনে ইসলামের ভূমিকা তুলে ধরতে শুরু করেন। মানুষের আত্মাকে বিভ্রম ও কুসংস্কার থেকে, দাসত্ব ও গোলামি থেকে, فساد (ফ্যাসাদ) ও পচন থেকে এবং অপবিত্রতা ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামের ভূমিকা; মানবসমাজকে জুলুম ও স্বৈরাচার থেকে, বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংস থেকে, শ্রেণিবিভেদ, শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুরোহিতদের অবমাননা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এর অবদান; এবং পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, ইতিবাচকতা, নির্মাণ, স্বাধীনতা, নবায়ন, জ্ঞান, নিশ্চিত বিশ্বাস, আস্থা (ثقة) ও ঈমানের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা। এটি জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার নিরলস প্রচেষ্টা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হকদারের হক নিশ্চিত করার ইনসাফ ও মর্যাদার চিত্র।

এই সব কিছুই সেই সময়ের কথা যখন যেকোনো স্থানে নেতৃত্ব ছিল ইসলামের হাতে এবং যখন ইসলাম সক্রিয় ছিল। ইসলাম তখনই কেবল কাজ করতে পারে যখন নেতৃত্ব তার হাতে থাকে, কারণ এটি স্বভাবগতভাবেই একটি শ্রেষ্ঠত্বের আকিদা, নেতৃত্বের মানহাজ এবং নতুন পথ তৈরির শরিয়ত, অন্ধ অনুকরণের নয়।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১২)
ثم تجيء الفترة التي فقد الإسلام فيها الزمام، بسبب انحطاط المسلمين، وتخليهم عن القيادة التي يفرضها عليهم هذا الدين، والوصاية التي يكلفهم بها على البشرية، والتبعات التي ينوطها بهم في كل اتجاه.

وهنا يستعرض المؤلف أسباب هذا لانحطاط الروحية والمادية، ويصف ما حل بالمسلمين أنفسهم عندما تخلوا عن مبادئ دينهم، ونكصوا عن تبعاتهم، وما نزل بالعالم كله من فقدانه لهذه القيادة الراشدة، ومن انتكاسه إلى الجاهلية الأولى، ويرسم خط الانحدار الرهيب الذي ترتكس فيه الإنسانية في ذات الوقت الذي تفتح فيه آفاق العالم الباهرة. يرسم هذا الخط عن طريق التأمل الفاحص، لا بالجمل النارية والتعبيرات المجنحة. فالحقائق الواقعة، كما عرضها المؤلف غنية عن كل بهرج وكل تزويق.

ومن خلال هذا الاستعراض، يحس القارئ، بمدى الحاجة البشرية الملحة إلى تغيير القيادة الإنسانية، وردها إلى الهدى الذي انبثق ليخرج الناس من الظلمات إلى النور، ومن الجاهلية إلى المعرفة، ويشعر بالقيمة الكلية لوجود هذه القيادة في الأرض، وبمدى الخسارة التي حلت بالبشر جميعاً، لا بالمسلمين وحدهم في الماضي وفي الحاضر وفي المستقبل القريب والبعيد.

كذلك يثور في نفس لمسلم بصفة خاصة روح الندم، على ما فرّط، وروح الاعتزاز بما وُهب وروح الاستشراف إلى القيادة التي ضيَّع.

ولعله مما يلفت النظر تعبير المؤلف دائماً عن النكسة التي حاقت بالبشرية كلها منذ أن عجز المسلمون عن القيادة بكلمة " الجاهلية ".

وهو تعبير دقيق الدلالة على فهم المؤلف للفارق الأصيل بين روح الإسلام، والروح المادي الذي سيطر على العالم قبله، ويسيطر عليه اليوم بعد تخلي الإسلام عن القيادة.. إنها (الجاهلية) في طبيعتها الأصلية، فالجاهلية ليست فترة من الزمن محدودة، ولكنها طابع روحي وعقلي معين، طابع يبرز بمجرد أن تسقط القيم الأساسية للحياة البشرية، كما أرادها الله، وتحل محلها قيم مصطنعة تستند إلى
এরপর আসে সেই কালখণ্ড যখন ইসলাম নেতৃত্বের চাবিকাঠি হারিয়ে ফেলে। এর কারণ ছিল মুসলমানদের অধঃপতন এবং সেই নেতৃত্ব ত্যাগ করা যা এই দীন তাদের ওপর অনিবার্য করেছিল, আর মানবজাতির ওপর সেই অভিভাবকত্ব যা তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল এবং সকল দিকে তাদের ওপর অর্পিত দায়বদ্ধতাসমূহ।

এখানে লেখক এই আধ্যাত্মিক ও পার্থিব অধঃপতনের কারণসমূহ পর্যালোচনা করেছেন। মুসলমানরা যখন তাদের দীনের মূলনীতিসমূহ ত্যাগ করল এবং তাদের দায়িত্ব থেকে বিমুখ হলো, তখন তাদের নিজেদের ওপর যা নেমে এল এবং এই সঠিক দিকনির্দেশনাপূর্ণ (راشدة) নেতৃত্বের অভাবে সমগ্র বিশ্বের যে দশা হলো এবং পুনরায় আদি জাহিলিয়াতের (جاهلية) দিকে ফিরে যাওয়ার যে বিপর্যয় ঘটল, তার বিবরণ তিনি দিয়েছেন। তিনি সেই ভয়াবহ পতনরেখা অঙ্কন করেছেন যাতে মানবতা নিমজ্জিত হচ্ছে, অথচ ঠিক একই সময়ে জগতের সামনে উজ্জ্বল দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি এই রেখাটি অঙ্কন করেছেন গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, কোনো আবেগপ্রসূত বাক্য বা আলঙ্কারিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে নয়। কারণ বাস্তব সত্যসমূহ লেখক যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা কোনো বাহ্যিক চাকচিক্য বা সাজসজ্জার মুখাপেক্ষী নয়।

এই পর্যালোচনার মাধ্যমে পাঠক অনুধাবন করতে পারেন যে, মানবীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য মানবজাতির কতটা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আর এই নেতৃত্বকে সেই হিদায়াতের দিকে ফিরিয়ে আনা আবশ্যক যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এবং জাহিলিয়াত (جاهلية) থেকে জ্ঞানের দিকে বের করে আনার জন্য প্রদীপ্ত হয়েছিল। তিনি পৃথিবীতে এই নেতৃত্বের অস্তিত্বের সামগ্রিক গুরুত্ব অনুভব করেন এবং সেই ক্ষতির পরিমাণও বুঝতে পারেন যা কেবল মুসলমানদের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির ওপর অতীতে, বর্তমানে এবং নিকট ও দূর ভবিষ্যতে পতিত হয়েছে।

একইভাবে, বিশেষভাবে একজন মুসলমানের হৃদয়ে তার অবহেলার জন্য অনুশোচনা, যা তাকে দান করা হয়েছিল তার জন্য গর্ববোধ এবং যে নেতৃত্ব সে হারিয়েছে তা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।

সম্ভবত একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো যে, মুসলমানরা নেতৃত্ব দানে অক্ষম হওয়ার পর থেকে সমগ্র মানবজাতির ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, লেখক তাকে সর্বদা "জাহিলিয়াত" (جاهلية) শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছেন।

এটি ইসলামের চেতনা এবং ইসলামের নেতৃত্বের পূর্বে ও বর্তমানে নেতৃত্ব ত্যাগের পর পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তারকারী বস্তুবাদী চেতনার মধ্যবর্তী মৌলিক পার্থক্যের বিষয়ে লেখকের গভীর উপলব্ধির একটি নির্ভুল পরিচায়ক। এটি এর আদি প্রকৃতিতে জাহিলিয়াত (جاهلية)। কারণ জাহিলিয়াত (جاهلية) কেবল কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল নয়, বরং এটি একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তখনই আত্মপ্রকাশ করে যখন মানবজীবনের সেই মৌলিক মূল্যবোধগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায় যা আল্লাহ চেয়েছিলেন এবং তার স্থলে কৃত্রিম মূল্যবোধ স্থলাভিষিক্ত হয় যা নির্ভর করে...
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
الشهوات الطارئة، وهذا ما تعانيه البشرية اليوم في حالة الارتقاء الأولى، كما كانت تعانيه من قبل في أيام البربرية الأولى.

فرسالة العالم الإسلامي هي الدعوة إلى الله ورسوله والإيمان باليوم الآخر. وجائزته هي الخروج من الظلمات إلى النور، ومن عبادة الناس إلى عبادة الله وحده والخروج من ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام. وقد ظهر فضل هذه الرسالة. وسهل فهمها في هذا العصر أكثر من كل عصر، فقد افتضحت الجاهلية، وبدت سوأتها للناس، واشتد تذمر الناس منها، فهذا طور انتقال العالم من قيادة الجاهلية إلى قيادة الإسلام، لو نهض العالم الإسلامي، واحتضن هذه الرسالة بكل إخلاص وحماس وعزيمة، ودان بها ((كالرسالة الوحيدة التي تستطيع أن تنقذ العالم من الانهيار والانحلال)) ، كما يقول المؤلف الفاضل قرب نهاية الكتاب.

وأخيراً، فإن الخصيصة البارزة في هذا الكتاب كله هي الفهم العميق لكليات الروح الإسلامية في محيطها الشامل وهو لهذا لا يعد نموذجاً للبحث الديني والاجتماعي فحسب، بل نموذجاً للتاريخ كما ينبغي أن يكتب من الزاوية الإسلامية.

لقد مضى الأوربيون يؤرخون للعالم كله من زاوية النظر الغربية، متأثرين بثقافاتهم المادية، وفلسفتهم المادية، ومتأثرين كذلك بالعصبية الغربية والعصبية الدينية - شعروا بذلك أم لم يشعروا ومن ثمَّ وقعت في تاريخهم أخطاء وانحرافات، نتيجة إغفالهم لقيم كثيرة في هذه الحياة لا يستقيم تاريخ الحياة ولا يصح تفسير الحوادث والنتائج بدونها، ونتيجة عصبيتهم التي تجعل أوروبا في نظرهم هي محور العالم ومركزه دائماً، ولإغفالهم العوامل الأخرى التي أثرت في تاريخ البشرية، أو التهوين من شأنها إذا لم يكن مصدرها هو أوروبا.

ولقد درجنا نحن على أن نتلقف التاريخ من أيدي أوربا كما نتلقف كل شيء آخر نتلقفه بأخطائه تلك، وهي أخطاء في المنهج بإغفال قيم كثيرة وعوامل كثيرة، وأخطاء في التصوير نتيجة النظر من زاوية واحدة للحياة البشرية، وأخطاء في النتائج
আকস্মিক লালসা ও প্রবৃত্তি; এটিই বর্তমানে মানবজাতি তাদের প্রাথমিক উত্তরণের পর্যায়ে ভোগ করছে, যেমনটি তারা পূর্বে আদিম বর্বরতার যুগে ভোগ করেছিল।

সুতরাং মুসলিম বিশ্বের মূল লক্ষ্য ও পয়গাম হলো আল্লাহর দিকে, তাঁর রাসূলের দিকে এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানানো। আর এর পুরস্কার হলো অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং মানুষের দাসত্ব থেকে কেবল এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে বেরিয়ে আসা; দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে এর প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের হওয়া। এই বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান যুগে এটি অনুধাবন করা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজতর হয়েছে, কারণ জাহেলিয়াত (جاهلية) আজ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে এবং মানুষের কাছে এর কদর্যতা প্রকাশ পেয়েছে। এর প্রতি মানুষের অসন্তোষও তীব্র হয়েছে। এটি হলো জাহেলিয়াতের (جاهلية) নেতৃত্ব থেকে ইসলামের নেতৃত্বের দিকে বিশ্বের উত্তরণের একটি পর্যায়, যদি মুসলিম বিশ্ব জেগে ওঠে এবং পূর্ণ নিষ্ঠা, উদ্দীপনা ও সংকল্পের সাথে এই বার্তাকে গ্রহণ করে এবং একে "একমাত্র বার্তা যা বিশ্বকে পতন ও ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে সক্ষম" হিসেবে বিশ্বাস করে— যেমনটি বিজ্ঞ লেখক বইটির শেষের দিকে উল্লেখ করেছেন।

পরিশেষে, এই পুরো বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যাপক পরিসরে ইসলামি রূহের সামগ্রিকতা সম্পর্কে গভীর অনুধাবন। এই কারণেই এটি কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক গবেষণার একটি আদর্শ নয়, বরং এটি ইতিহাসের এমন একটি রূপরেখা যেভাবে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস লেখা উচিত।

ইউরোপীয়রা তাদের বস্তুবাদী সংস্কৃতি ও বস্তুবাদী দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং পশ্চিমা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে—তা তারা অনুভব করুক বা না করুক—পুরো বিশ্বের ইতিহাস পশ্চিমী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রচনা করতে শুরু করেছে। এর ফলে তাদের ইতিহাসে ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। এর কারণ হলো জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধকে তারা উপেক্ষা করেছে, যা ছাড়া জীবনের ইতিহাস সঠিক হয় না এবং ঘটনা ও পরিণতির সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব নয়। এটি তাদের সেই গোঁড়ামিরও ফল যা ইউরোপকে সর্বদা বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু মনে করে এবং মানব ইতিহাসে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য উপাদানগুলোকে উপেক্ষা করে অথবা সেগুলোর গুরুত্বকে খাটো করে দেখে যদি তার উৎস ইউরোপ না হয়।

আর আমরাও অন্যান্য সবকিছুর মতো ইতিহাসকেও ইউরোপের হাত থেকে গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা একে গ্রহণ করেছি তার সেই সমস্ত ভুলভ্রান্তি সহকারে; যা অনেক মূল্যবোধ ও উপাদানকে উপেক্ষা করার কারণে পদ্ধতিগত (منهجي) ভুল, মানবজীবনকে একতরফা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার কারণে চিত্রায়নের ভুল এবং এর ফলে প্রাপ্ত ফলাফলের ভুল।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
تبعاً للأخطار المنهجية والتصويرية.

وهذا الكتاب الذي بين يدي نموذج للتاريخ الذي ينظر للأمور كلها، وللعوامل جميعها، وللقيم على اختلافها. ولعل القارئ لم يكن ينتظر من رجل مسلم، واثق بقوة الروح الإسلامي، متحمس لرد القيادة العالمية إليه، أن يتحدث عن مؤهلات القيادة، فلا ينسى

بجوار (الاستعداد الروحي) أن يلح في (الاستعداد الصناعي ولحربي) و (التنظيم العلمي الجديد) وأن يتحدث عن (الاستقلال التجاري والمالي) .

إنه الإحساس المتناسق بكل مقومات الحياة البشرية. وبهذا الإحساس المتناسق سار في استعراضه التاريخي، وفي توجيهه للأمة الإسلامية سواء، ومن هنا يعد هذا الكتاب نموذجاً للتاريخ، كما يجب أن يتناوله المسلمون مستقلين. عن التأثر بالطريقة الأوروبية، التي ينقصها هذا التناسق وهذه العدالة وهذا التحقيق.

وإنه ليسعدني أن أتحدث عن هذا الكتاب بذلك الإحساس ذاته، وأن أسجل هذه الظاهرة، وأنا مغتبط بهذه الفرصة التي أتاحت لي أن أطلع عليه في العربية.. اللغة التي آثر صاحبه أن يكتبه بها، وأن ينشره في مصر للمرة الثانية: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ}

سيد قطب
পদ্ধতিগত এবং চিত্রায়ণগত ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে।

আমার হাতের এই বইটি ইতিহাসের এমন একটি নমুনা যা প্রতিটি বিষয়কে, সকল উপাদানকে এবং বিচিত্র মূল্যবোধকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সম্ভবত পাঠক একজন মুসলিম ব্যক্তির নিকট হতে—যিনি ইসলামী রূহের শক্তিতে আস্থাশীল এবং বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে ইসলামকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অত্যন্ত উৎসাহী—এমনটি প্রত্যাশা করবেন না যে, তিনি যখন নেতৃত্বের যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করবেন, তখন তিনি ভুলে যাবেন না...

(আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির) পাশাপাশি (শিল্প ও সামরিক প্রস্তুতির) ওপর গুরুত্বারোপ করতে এবং (আধুনিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন) ও (বাণিজ্যিক ও আর্থিক স্বাধীনতা) সম্পর্কে আলোচনা করতে।

এটি মানবজীবনের সকল উপাদানের প্রতি একটি সুসমন্বিত উপলব্ধি। এই সুসমন্বিত অনুভবের মাধ্যমেই তিনি তাঁর ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় এবং মুসলিম উম্মাহর নির্দেশনার ক্ষেত্রে একইভাবে অগ্রসর হয়েছেন। ফলে এই বইটি ইতিহাসের একটি নমুনা হিসেবে গণ্য হয়, যা মুসলিমদের স্বাধীনভাবে গ্রহণ করা উচিত—ইউরোপীয় পদ্ধতির প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে, যে পদ্ধতিতে এই সুসমন্বয়, ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) এবং সূক্ষ্ম অনুসন্ধান (تحقيق) এর অভাব রয়েছে।

একই অনুভূতি নিয়ে এই বইটি সম্পর্কে আলোচনা করতে পারা আমার জন্য আনন্দের বিষয় এবং আমি এই বৈশিষ্ট্যটি নথিবদ্ধ করতে পেরে আনন্দিত। আমি সেই সুযোগটির জন্য অত্যন্ত প্রীত যা আমাকে এটি আরবি ভাষায় পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে; যে ভাষায় এর লেখক এটি লিখতে পছন্দ করেছেন এবং মিশরে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ করেছেন: "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে অন্তর অথবা যে নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করে।"

সাইয়্যেদ কুতুব
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة الطبعة الرابعة

 

الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى.

أما بعد، فقد ظهرت الطبعة الأولى لكتاب ((ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين)) سنة 1950 م فكان الإقبال عليه عظيماً تخطى قياس المؤلف ورجاءه، فقد كان كتاباً لا يسترعي اهتمام القراء إلا موضوعه- الذي يكاد يكون طريفاً- وما يحتوي عليه من مادة ومعنى، ولم يكن من ورائه شخصية المؤلف وشهرته، فلم يكن قد ظهر لمؤلفه كتاب آخر قبل هذا الكتاب في العالم العربي، ولم يعرفه الناس في هذه الأقطار. فكانت العناية بهذا الكتاب عناية خالصة مجردة للكتاب وللموضوع، ليس فيها نصيب لشخصية المؤلف وشهرته.

ولا يُعلَّل هذا الإقبال النادر الذي حظي به الكتاب إلا بفضل الله تعالى ولطفه، وبعد ذلك بأنّ هذا الكتاب قد جاء في أوانه، وصادف رغبة غامضة واتجاهاً مبهماً في النفوس، وبأنه يتجاوب مع شعور كثير من المفكرين والمثقفين في العالم لعربي، ويلتقي مع أفكارهم وآرائهم ودراستهم.

وعلى كُلٍّ فقد كان الكتاب واسع الانتشار في العواصم العربية والأوساط العلمية، وتناولته طبقات الأمة وبعض قادة الفكر بالدراسة والبحث، وأشار المربون والمعلمون على الشباب بمطالعة هذا الكتاب، والحمد لله الذي بعزّته وجلاله تتم الصالحات.

وقد قامت لجنة التأليف والترجمة والنشر في القاهرة بالطبعة، وكان لها- ولاشك- فضل في ظهور هذا الكتاب في مظهر جميل لائق، وفي نفوذه في الأوساط العلمية والأدبية، وحرصت جماعة الأزهر للنشر والتأليف- وفيها أصدقاء المؤلف- على إعادة طبع الكتاب، فصرّحت لها بذلك، ووافق عليه المرحوم الأستاذ الكبير الدكتور أحمد أمين (بك) رئيس اللجنة فظهرت الطبعة الثانية سنة 1951 م، وفيها مقدمات للدكتور محمد يوسف موسى، والكاتب الإسلامي الأستاذ سيد قطب، وصديق المؤلف الشيخ أحمد الشرباصي، زادت في قيمة الكتاب.

ظهرت الطبعة الثانية، وأنا في جولتي في الشرق الأوسط، فلم أتمكن من أن أضيف إليها زيادات كنت أفكر فيها وأشعر بالحاجة إليها، وهيأ الله أسباب الطبعة الثالثة، ووقعت إليّ مصادر جديدة، وجدّ عندي بعض الآراء ونواح جديدة فألحقتها بالكتاب، وتأخرت هذه الطبعة لبعض الأسباب إلى سنة 1959 م، ونفدت في مدة قريبة، وها هي الطبعة الرابعة مزيدة منقحة.

وأسأل الله سبحانه وتعالى أن ينفع بهذه الطبعة- وما يليها من طبعات إن شاء الله - كما نفع بالطبعات الأولى (1) ، وأن يجعل هذا الكتاب وسيلة للوعي الجديد، والإيمان الجديد الذي تشتد حاجة العالم الإسلامي إليه، إنه على كل شيء قدير.

 

أبو الحسن علي الحسني الندوي

لكهنؤ (الهند)

تصدير

بقلم فضيلة الأستاذ

الدكتور محمد يوسف موسى

 

اتصال السماء بالأرض لأداء رسالة من الله المتفرد في سموه وعليائه، إلى عبيده المحتاجين لهديه وإرشاده، حدث من الأحداث العظام، وخرق لنواميس الطبيعة التي لا تتغير من طريقها المرسوم إلا حين الحاجة القصوى، ولغاية قدرها العزيز العليم.

وليس يحدث أو يكون أمر في هذا العالم إلا عن سبب اقتضى حدوثه وكونه، ولغاية أريدت منه.

وظهور الإسلام، وهو أعظم ما رأى العالم من أحداث، لا بد له من أسبابه التي استلزمته، وممهداته التي أعدت له، وغايته التي تنتظر دائماً منه.

ولسنا الآن بسبيل الحديث، ولو بالإيجاز الشديد، عن هذه الأسباب والممهدات التي أعدت لظهور الإسلام، بعد أن خلا العالم الذي كان معروفاً حينذاك من المجتمع الصالح والدين الصحيح، ولسنا كذلك بسبيل الحديث عن الغاية التي جاء الإسلام من أجلها، وعمل نبيه ورجاله الأولون جاهدين على الوصول إليها، فسعد به العالم، زمناً طويلاً كل ذلك معروف، يصبح الكلام فيه حديثاً معاداً، ولا محل لمثل هذا الحديث الآن في الكلمة التي يسعدني أن أقدم بها لهذا الكتاب، استجابة لطلب مؤلفه صديقنا الأستاذ الجليل السيد أبي الحسن علي الحسني الندوي، أحد دعاة الإسلام من الطراز الأول في هذا العصر الذي نعيش فيه.

على أن الكتاب في غير حاجة حقاً لتقدمة مقدم، فقد تقبله القراء بقبول حسن، وخصوه بحفاوة لم يظفر بها كتاب ظهر عن الإسلام في هذه الأيام، وإنما هو تواضع وفضل من المؤلف المؤمن الصادق الإيمان جعلاه يطلب مني هذه الكلمة، وأشهد أني قرأت الكتاب حين ظهرت طبعته الأولى في أقل من يوم، وأغرمت به غراماً شديداً، حتى لقد كتبت في آخر نسختي وقد فرغت منه ((إن قراءة هذا الكتاب فرض على كل مسلم يعمل لإعادة مجد

الإسلام)) ، وكل هذا قبل أن أعرف المؤلف الفاضل، فلما سعدت بمعرفته والحديث معه مرات عديدة، فهمت كيف ولماذا فتنت بالكتاب، وعرفت أن مرد هذا كله- فوق ما فيه من ثمرات التوفر على البحث ونشدان الحق- إلى معرفة الكاتب بالإسلام معرفة حقه وأخ نفسه في حياته به، والإخلاص في الدعوة الصحيحة له.

لقد أحس صديقنا الفاضل أبو الحسن ما نحسه جميعاً في حسرة بالغة، وألم شديد، وهو ما ارتضته الدول الإسلامية لنفسها من السير في المؤخرة وراء العالم الغربي، تميل إلى ما يميل، وتقبل حكمه فيما يعرض له من شؤونها، وترضى ما يقره من (قيم) حسب موازينه الخاصة به. وكان من هذا أن فقد العربي- والمسلم بعامة- ثقته بنفسه وجنسه ودينه ومعاييره، وقيمه العالية التي كان يحرص عليها أجداده وأسلافه الأماجد، ويحلونها من أنفسهم المكان العلي المرموق. وهذه علتنا التي يجب أن نطب لها، وفي ذلك تتركز مشكلتنا، أو مشاكلنا التي يجب علينا أن نجد الحل الناجع لها من صميم ديننا وتاريخنا وتراثنا الروحي العقلي الخالد، وإلى هذا كله نظر مؤلف كتاب "ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين"، وإليه جميعه عنى نفسه وعمل جهده.

حقاً ليست مشكلة العالم الإسلامي اليوم في عدم الدعاوة للإسلام بين غير المسلمين، ولا في اكتساب مسلمين جدد وإنما هذه المشكلة هي انصراف المسلمين عن الإسلام، وعن الشرق إلى الغرب بحضارته وقيمه التي يدعو إليها وموازينه التي بها يزن الأمور. ومن ثمَّ صرنا مسلمين بالاسم الولادة والموقع الجغرافي فحسب، وعزفنا عن الإسلام بالفعل، حتى أصبحنا ولا نعرفه في تشريعنا وتقاليدنا التي نأخذ هذه الأيام أنفسنا بها، ولسنا في حاجة في هذا لضرب الأمثال التي نحسها ونلمسها جميعاً في رجال الحكم، وفي ممثلي البلاد الإسلامية في الشرق والغرب، وفيمن يجب أيكون القدوة الطيبة بحكم مناصبهم الدينية في مصر وغير مصر، والأمر لله من قبل ومن بعد.

ولقد اختتم الله بالإسلام رسالاته للعالم، فليس لنا أن ننتظر اتصالاً جديداً من السماء بالأرض يطهرها مما كاد يعمها من شرك وضلال وفساد، ولا نبياً آخر بعد رسول الإسلام، يخرج العالم برسالة جديدة من الظلمات إلى النور، ولا قرآناً جديداً يهدي الإنسانية الحائرة

إلى سبيل الرشد والسعادة. ولكن الله الرحمن الرحيم ترك فينا بعد هذا، أو بسبب هذا، كتاباً لن يضل من اتبعه، وشريعته لن يشقى من عمل بها.

وكل ما يجب أن نعمل له، لنخرج والعالم كله من هذه الجاهلية التي احتوتنا من جميع الأطراف، هو إعادة الثقة بديننا حتى يكون أساس حياتنا في كل مقوماتها، وليس لنا أن نطلب من أحد أن يؤمن بهذا الدين قبل أن نؤمن نحن أولاً به، ولن يكون هذا الإيمان إلا بالقدوة الطيبة الصالحة نقدمها للناس جميعاً.

إن العالم، وهذا أمر لمسناه بأنفسنا لمساً بأوربا، يتخذ من فشل المسلمين سياسياً واقتصادياً دليلاً حاسماً على عدم صلاح الإسلام لقيادة المسلمين بله العالم كله! مع أن هذا العالم المسيحي نفسه حين كان المسلمون مسلمين حقاً من ناحية العقيدة والعمل على السواء، قد تزعزع عن مسيحيته عندما شاهد ما أحرزته سيوف المسلمين من نجاح منقطع النظير، إذ اعتقدوا- بحق - أن نجاح المسلمين هذا دليل قاطع على صدق دينهم، مادام الله لا يؤتي نصره إلا لعباده المختارين (2) .

وليس ما نقول، من أثر القوى الطيبة الصالحة في الدعاوة للإسلام، بالقول الذي لا يرتكز على دليل وشواهد من التاريخ الصحيح. إن صاحب كتاب الدعوة إلى الإسلام نفسه يذكر ما يأتي حرفياً:

((ويظهر أن أخلاق صلاح الدين، وحياته التي انطوت على البطولة، قد أحدثت في أذهان المسيحيين في عصره تأثيراً سحرياً خاصاً، حتى أن نفراً من الفرسان المسيحيين، قد بلغ من قوة انجذابهم إليه، أن هجروا ديانتهم المسيحية، وهجروا قومهم وانضموا إلى المسلمين، وكذلك كانت الحال عندما طرح النصرانية فارس انكليزي من فرسان المعبد يدعى ((روبرت أوف سانت ألبانس)) Robert of St. Albans عام 1185 م واعتنق الإسلام، ثم تزوج بإحدى حفيدات صلاح الدين وبعد عامين غزا صلاح الدين ((فلسطين)) وهزم الجيش المسيحي هزيمة منكرة في واقعة ((حطين)) وكان جوي Guy ملك بيت المقدس بين الأسرى.

وحدث في مساء المعركة أن ترك الملك ستة من فرسانه، وفروا إلى معسكر صلاح الدين بمحض إرادتهم (3)) .

هذا شاهد من الشواهد التي لا تحصى كثرة، والتي تزخر بها كتب التاريخ في القديم والحديث، ومنها نعلم أثر القدوة الطيبة في النفوس، حتى في نفوس غير المسلمين الذين كنا نراهم خصوماً لنا وأعداء، ومنها نعلم أيضاً سبباً من الأسباب القوية التي يسرت للمسلمين ما فتح الله عليهم من فتوح، وما ظفروا به من أمجاد.

إن هذا الإسلام لا يصلح اليوم إلا بما صلح به في الأمس، إيمان به إيماناً يخالط شغاف قلب المؤمن، واستعذاب للتضحية في سبيله بما يعتز به المرء من مال ونفس، واعتزاز بما جاء به من تشاريع ومبادئ وتقاليد صالحة لإنهاض العالم وإسعاده، ودعوة له بالعمل الصالح والقوى الطيبة، وعدم القضاء إلا بحكمه، وجعل الحياة في كل جوانبها لا تقوم إلا عليه.

 

علينا إذا أردنا أن نأخذ مكاننا من جديد في قيادة الإنسانية أن نعتقد اعتقاداً حقاً يظهر أثر في كل ما نقول أو نعمل- ما يراه شاعر الإسلام الدكتور محمد إقبال من أن المسلم لم يخلق ليندفع مع التيار، ويساير الركب البشري حيث اتجه وسار، بل خلق ليوجه العالم والمجتمع والمدينة، ويفرض على البشرية اتجاهه، ويملي عليها إرادته، لأنه صاحب الرسالة وصاحب العلم اليقين. ولأنه المسؤول عن هذا العالم وسيره واتجاهه. فليس مقامه مقام التقليد والإتباع إن مقامه مقام الإمامة والقيادة ومقام الإرشاد والتوجيه. ومقام الآمر الناهي. وإذا تنكر له الزمام، وعصاه المجتمع وانحرف عن الجادة، لم يكن له أن يستسلم ويخضع ويضع أوزاره ويسالم الدهر، بل عليه أن يثور عليه وينازله. ويظل في صراع معه وعراك، حتى يقضي الله في أمره. إن الخضوع والاستكانة للأحوال القاسرة والأوضاع القاهرة، ولاعتذار بالقضاء والقدر من شأن الضعفاء والأقزام. أما المؤمن القوي فهو بنفسه قضاء الله الغالب وقدره الذي لا يرد (4) .

وبعد: ماذا أريد أن أقول بعد ذلك في هذه الكلمة التي أحسبها طالت بعض الشيء في تقديم كتاب هو بنفسه وبكاتبه غني عن كل تقديم، كما قلت في أول الحديث؟ .

إني- علم الله- لست أذكر فيما قرأت من القديم والحديث كتاباً حوى من الخير ما حواه هذا الكتاب، ولا كتاب وضع أيدينا على دواء ما نشكو منه من أدواء وأمراض، كما فعل هذا الكتاب، ولا كتاباً نفذ كاتبه إلى روح الإسلام، وأخلص ويخلص في الدعوة له، ويقف كل جهوده على هذا السبيل كهذا الكتاب.

علينا إذاً أن نفيد من هذا الكتاب، ومن الوسائل التي يدعو مؤلفه الفاضل لاصطناعها، لنصل إلى النهضة المرجوة، والكرامة والمجد في هذه الحياة، وفي الحياة الأخرى، وذلك ما لا يكون لنا إلا إذا غيرنا من أوضاع التعليم ومناهجه غاياته عندنا، وإلا إذا جعلنا همنا تربية النشء على أسس إسلامية صحيحة، وجعلنا الغاية من التربية والتعليم عندنا النهضة بالعالم الإسلامي حتى يصل إلى ما يجب أن يكون له من مكانة ملحوظة في هذا العالم، واصطنعنا لهذا، الوسائل الناجعة حقاً.

إن هذا، حين يتم، إن أراد الله لأمة الإسلام إفاقة من نومها، ونهضة من كبوتها، يجعل من تلاميذ رجالات مسلمين حقاً في المستقبل، يحسنون تصريف شؤون الأمة حين توضع أمور الأمة بين أيديهم، ويجعل منهم رجالاً شجعاناً أمناء لدينهم وأمتهم، لا هم لهم في حياتهم إلا إعادة مجد الإسلام، والعالم الإسلامي.

والوسائل الناجعة للوصول إلى تلك الغاية المجيدة من التربية والتعليم جد كثيرة ومعروفة إن أردناها، ولكن يحسن أن نختم هذه الكلمة بقبس من كلام الأستاذ أبي الحسن الندوي نفسه، إنه يقول:

((والقرآن وسيرة محمد صلى الله عليه وسلم قوتان عظيمتان تستطيعان أن تشعلا في العالم الإسلامي نار الحماسة والإيمان، وتحدثا في كل وقت ثورة عظيمة على العصر الجاهلي وتجعلا من أمة مستسلمة منخذلة ناعسة، أمة فتية ملتهبة حماسة وغيرة وحنقاً على الجاهلية، وسخطاً على النظم الخائرة. إن علة علل العالم الإسلامي اليوم هي الرضا بالحياة الدنيا والاطمئنان بها. والارتياح إلى الأوضاع الفاسدة. والتبذير الزائد في الحياة. فلا يقلقه فساد.

ولا يزعجه انحراف. ولا يهيجه منكر. ولا يهمه غير مسائل الطعام واللباس. ولكن بتأثير القرآن والسيرة النبوية. إن وجدا إلى القلب سبيلاً. يحدث صراع بين الإيمان والنفاق. واليقين والشك. بين المنافع العاجلة والدار الآخرة، وبين راحة الجسم ونعيم القلب، وبين حياة البطولة وموت الشهادة. صراع أحدثه كل نبي في وقته. ويصلح العالم إلا به. حينئذ يقوم في كل ناحية من نواحي العالم الإسلامي. في كل أسرة إسلامية {ِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى {13} وَرَبَطْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَهاً لَقَدْ قُلْنَا إِذاً شَطَطاً} . هنالك تفوح روائح الجنة، وتهب نفحات القرن الأول. ويولد للإسلام عالم جديد لا يشبه العالم القديم في شيء)) ! .

من هذه الكلمات التي قبسناها من هذا الكتاب الذي نكتب هذا التقديم له، نرى أي روح كبيرة أملت على المؤلف ما كتب! نفع الله به وبكل آثاره، وجزاه عن الإسلام وأمته خير الجزاء.

 

محمد يوسف موسى

 

********************************

 

صورة وصفية:

أخي أبو الحسن! ..

بقلم فضيلة الأستاذ أحمد الشرباصي

 

لقيت أخي أبا الحسن أول مرة في شتاء سنة 1951 م، بدار (الشبان المسلمين) في القاهرة، عقب محاضرة لي من ((محاضرات الثلاثاء)) وقد أقبل علي يطلب في أدب جم وتواضع ظاهر ليلة من ليالي الثلاثاء، ليلقي فيها محاضرة عن ((العالم في مفترق الطريق)) .. فرأيت رجلاً نحيف البدن، نحيل العود، له لحية سمراء، وملابسه قليلة خفيفة الوزن والثمن، ونظراته عميقة نفاذة، ونبراته دقيقة أخاذه فيها بحة، عرفت فيما بعد أنها ملازمة له من جهد وإجهاد، وبعد اللقاء الأول العاجل توثقت بيني وبينه أسباب الأخوة والمحبة، وعن خبر به أكتب هذه السطور.

هو العالم المؤمن الداعية المحتسب السيد أبو الحسن علي الحسني الهندي الندوي، من المنتسبين إلى عترة الحسن بن علي رضي الله عليهما، ووالده هو الشريف العلامة عبد الحي بن فخر الدين بن عبد العلي، ينتهي نسبه إلى عبد الله بن الأشتر بن محمد ذي النفس الزكية بن عبد الله المحض بن المحسن المثنى بن الحسن السبط بن علي بن أبي طالب، ولوالده كتب كثير من المطبوع ومنها المخطوط أشهرها ((نزهة الخواطر)) في ثمانية مجلدات (5) وقد توفي سنة 1341 هجرية.

وقد ولد السيد أبو الحسن في مديرية بالهند تسمى ((راي بريلي)) ، وهي تبعد عن ((لكهنؤ)) سبعين كيلو متراً تقريباً، وكانت الولادة بقرية ((تكية)) في شهر المحرم سنة 1332هـ، مد الله في عمره وأدام به نفع الإسلام والمسلمين.

وأسرة أخي أبي الحسن من أصل عربي، لا تزال تحافظ على أنسابها إلى هذا اليوم وهي تحافظ على صلاتها بأصلها وإن كانت تتكلم الهندية وتعيش في الهند منذ

--------------------------------------------

(1) ظهرت ترجمة الكتاب الانكليزية باسم Islam and the world من جامعة بنجاب في لاهور باكستان، وظهرت الطبعة الثالثة لترجمة الكتاب الأوردية في لكهنؤ الهند.

(2) انظر في هذا الكتاب ((الدعوة إلى الإسلام)) للسير توماس أرنولد الإنجليزي المعروف ص 7 من الترجمة العربية للدكتور حسن إبراهيم وآخرين.

(3) ص 82- 83 من الكتاب المذكور.

(4) من بحث للأستاذ أبي الحسن الندوي نفسه عنوانه: - شاعر الإسلام الدكتور محمد إقبال 66 - 68.

(5) ظهرت سبعة مجلدات من هذا الكتاب من دائرة المعارف في حيدر أباد الهند، والكتاب يشتمل على خمسة آلاف ترجمة لأعيان الهند، وظهر للمؤلف كتاب ((الثقافة الإسلامية في الهند)) طبعه المجمع العلمي العربي في دمشق.
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম।

অতঃপর, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে 'মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমিন' (মুসলিম বিশ্বের পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো) বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বইটির প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল অভাবনীয়, যা লেখকের অনুমান ও প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এটি এমন একটি বই ছিল যা পাঠকদের আকর্ষণ করার মূল কারণ ছিল এর বিষয়বস্তু—যা ছিল অত্যন্ত চমৎকার—এবং এতে সন্নিবেশিত তথ্য ও তাৎপর্য। এর পেছনে লেখকের ব্যক্তিগত প্রভাব বা খ্যাতির কোনো ভূমিকা ছিল না; কারণ আরব বিশ্বে এই বইটির আগে লেখকের অন্য কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি এবং এই অঞ্চলের মানুষ তখনও তাকে চিনত না। তাই এই বইটির প্রতি যে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা ছিল নিছক বইটির বিষয়বস্তু ও গুরুত্বের কারণে, লেখকের পরিচিতির কোনো প্রভাব সেখানে ছিল না।

বইটির প্রতি এই বিরল আগ্রহের কারণ মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর বলা যায় যে, বইটি অত্যন্ত সঠিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি মানুষের অন্তরের এক অস্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা ও অজানা অভীপ্সাকে স্পর্শ করতে পেরেছিল। এছাড়া এটি আরব বিশ্বের বহু চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীর অনুভূতি এবং তাঁদের চিন্তাধারা ও গবেষণার সাথে মিলে গিয়েছিল।

যাই হোক, আরবের রাজধানীগুলোতে এবং ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) মহলে বইটি ব্যাপক প্রচার লাভ করে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এবং চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ এটি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেন। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকগণ তরুণদের এই বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর দয়া ও মহিমায় সকল সৎকাজ সুসম্পন্ন হয়।

কায়রোতে 'লজনাুতুত তালিফ ওয়াত তরজমা ওয়ান নাশর' (রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটি) এই সংস্করণের দায়িত্ব পালন করেছিল। বইটিকে একটি সুন্দর ও মার্জিত রূপে উপস্থাপন এবং ইলমি ও সাহিত্যিক মহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনস্বীকার্য অবদান ছিল। এরপর 'জামাআতুল আজহার লিন নাশর ওয়াত তালিফ'—যাদের মধ্যে লেখকের অনেক বন্ধু ছিলেন—বইটি পুনঃপ্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমি তাদের অনুমতি দেই এবং কমিটির প্রধান প্রখ্যাত অধ্যাপক ডক্টর আহমদ আমিন (বেক) এতে সম্মতি প্রদান করেন। ফলে ১৯৫১ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই সংস্করণে ডক্টর মুহাম্মদ ইউসুফ মুসা, ইসলামি চিন্তাবিদ সৈয়দ কুতুব এবং লেখকের বন্ধু শেখ আহমদ আল-শরবাসী কর্তৃক লিখিত ভূমিকাগুলো বইটির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দ্বিতীয় সংস্করণটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন আমি মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে ছিলাম। ফলে আমি সেই সংযোজনগুলো করতে পারিনি যা আমি ভেবেছিলাম এবং প্রয়োজনীয় মনে করেছিলাম। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তৃতীয় সংস্করণের সুযোগ তৈরি করে দিলেন। আমার হাতে নতুন কিছু উৎস ও তথ্য আসে এবং কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও দিক উন্মোচিত হয়, যা আমি বইটিতে যুক্ত করি। কিছু কারণে এই সংস্করণটি প্রকাশ হতে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত দেরি হয় এবং প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এখন এই চতুর্থ সংস্করণটি পরিমার্জিত ও বর্ধিত আকারে পেশ করা হলো।

আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সংস্করণের মাধ্যমে—এবং ইনশাআল্লাহ পরবর্তী সংস্করণগুলোর মাধ্যমেও—তেমনই উপকার করেন যেমনটি প্রথমদিকের সংস্করণগুলোর দ্বারা হয়েছে (১)। তিনি যেন এই বইটিকে এক নতুন সচেতনতা ও নতুন ঈমান (إيمان) অর্জনের মাধ্যম বানান, যার প্রয়োজনীয়তা আজ মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তীব্র। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান।

 

আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী

লক্ষ্ণৌ (ভারত)

উপস্থাপনা

শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক

ডক্টর মুহাম্মদ ইউসুফ মুসার কলমে

 

যিনি তাঁর সুউচ্চ মহিমায় অদ্বিতীয়, সেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর হিদায়াত ও নির্দেশনার মুখাপেক্ষী বান্দাদের কাছে রিসালাত (رسالة) পৌঁছানোর জন্য আসমানের সাথে জমিনের সংযোগ এক মহাঘটনা। এটি প্রকৃতির সেই নিয়মের ব্যতিক্রম যা অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এবং মহাপ্রজ্ঞাবান আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্য ব্যতীত পরিবর্তিত হয় না।

এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই কারণ ছাড়া ঘটে না এবং প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে।

ইসলামের আবির্ভাব, যা বিশ্বের দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, তারও অবশ্যই কিছু অনিবার্য কারণ ছিল, কিছু প্রেক্ষাপট ছিল যা একে ত্বরান্বিত করেছে এবং এর একটি লক্ষ্য ছিল যা সর্বদা কাঙ্ক্ষিত।

সেই তৎকালীন পরিচিত বিশ্বে যখন সৎ সমাজ ও বিশুদ্ধ (صحيح) দ্বীনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন ইসলামের আবির্ভাবের কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করারও এখন অবকাশ নেই। একইভাবে ইসলাম যে লক্ষ্যে এসেছিল এবং এর নবী ও প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ যে লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন—যার ফলে বিশ্ব দীর্ঘকাল সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করেছিল—তা নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন নেই। কারণ এই বিষয়গুলো সর্বজনবিদিত এবং এ নিয়ে কথা বলা মানে চর্বিতচর্বণ মাত্র। বর্তমানে এই বইটির মুখবন্ধ হিসেবে এ ধরনের আলোচনার কোনো স্থান নেই। আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই বইটির ভূমিকা লিখছি আমাদের বন্ধু মহান শিক্ষক এবং বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি দায়ী (دعاة) সৈয়দ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভীর অনুরোধে।

সত্যি বলতে, এই বইটির কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই। পাঠকরা একে অত্যন্ত চমৎকারভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এটি এমন এক সমাদর পেয়েছে যা বর্তমান সময়ে ইসলামের ওপর লেখা খুব কম বই-ই পেয়েছে। এটি লেখকের বিনয় ও মহানুভবতা যে তিনি আমার কাছে এই মুখবন্ধটি চেয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, প্রথম সংস্করণটি প্রকাশের পর আমি একদিনের কম সময়ে এটি পড়ে শেষ করেছিলাম। আমি বইটির প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, পড়া শেষ করে আমার কপির শেষে লিখেছিলাম: "ইসলামের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এই বইটি পড়া ফরজ (فرض)।" তখন পর্যন্ত আমি শ্রদ্ধেয় লেখকের সাথে পরিচিত ছিলাম না। পরবর্তীতে যখন তাঁর সাথে সাক্ষাতের এবং বারবার আলোচনার সুযোগ হলো, তখন আমি বুঝতে পারলাম কেন আমি এই বইটির প্রতি এত আকৃষ্ট হয়েছিলাম। আমি বুঝতে পারলাম যে, গভীর গবেষণা ও সত্য অনুসন্ধানের ফসল হওয়ার পাশাপাশি এর মূল কারণ হলো ইসলামের প্রতি লেখকের প্রকৃত জ্ঞান, ব্যক্তিজীবনে সেই জ্ঞানের প্রতিফলন এবং ইসলামের দাওয়াহ (دعوة) প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর একনিষ্ঠতা।

আমাদের শ্রদ্ধেয় বন্ধু আবুল হাসান ঠিক সেই হাহাকার ও গভীর যন্ত্রণা অনুভব করেছেন যা আমরা সবাই অনুভব করি। আর তা হলো—মুসলিম রাষ্ট্রগুলো পশ্চিমা বিশ্বের লেজুড়বৃত্তি করে পেছনে পড়ে থাকাকেই নিজেদের নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছে; পশ্চিমা বিশ্ব যা পছন্দ করে তারা তা-ই করে, তাদের সকল বিষয়ে পশ্চিমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয় এবং পশ্চিমাদের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত 'মূল্যবোধ' গ্রহণ করে। এর ফলে আরব তথা সাধারণ মুসলমানরা নিজেদের ওপর, নিজেদের জাতি ও দ্বীন এবং সেই উচ্চতর মূল্যবোধের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, যা তাদের মহান পূর্বপুরুষেরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ধারণ করতেন। এটিই আমাদের সেই ব্যাধি যার চিকিৎসা করা জরুরি। এখানেই আমাদের সেই সমস্যাগুলো নিহিত যার কার্যকরী সমাধান আমাদের দ্বীন, ইতিহাস এবং চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য থেকে খুঁজে বের করতে হবে। 'মুসলিম বিশ্বের পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো' গ্রন্থের লেখক এই সবকিছুর ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন এবং এ লক্ষ্যেই তিনি তাঁর সমস্ত শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, আজ মুসলিম বিশ্বের মূল সমস্যা অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের প্রচার না হওয়া বা নতুন মুসলিম তৈরি না হওয়া নয়। বরং মূল সমস্যা হলো মুসলমানদের ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়া এবং প্রাচ্য ছেড়ে প্রতীচ্যের সভ্যতা, মূল্যবোধ ও মানদণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়া। ফলে আমরা কেবল নাম, জন্মসূত্র ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মুসলিম রয়ে গেছি, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছি। এমনকি আমাদের আইনকানুন ও প্রচলিত রীতিনীতির মধ্যেও আমরা ইসলামকে খুঁজে পাই না। এর প্রমাণের জন্য আমাদের খুব বেশি উদাহরণের প্রয়োজন নেই; আমাদের শাসনকর্তা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং মিশরে বা মিশরের বাইরে ধর্মীয় পদের কারণে যারা আদর্শ হওয়ার কথা ছিল, তাদের অবস্থার দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়। সকল বিষয় চূড়ান্তভাবে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন।

আল্লাহ তাআলা ইসলামের মাধ্যমেই বিশ্বে তাঁর রিসালাতের পূর্ণতা দান করেছেন। তাই শিরক (شرك), পথভ্রষ্টতা ও ফাসাদ (فساد) থেকে বিশ্বকে পবিত্র করার জন্য আসমানের সাথে জমিনের নতুন কোনো সংযোগের প্রতীক্ষা করার সুযোগ নেই। ইসলামের রাসূলের পর আর কোনো নবী আসবেন না যিনি নতুন কোনো রিসালাত (رسالة) নিয়ে বিশ্বকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাবেন। দিশেহারা মানবতাকে সঠিক পথ ও সুখের সন্ধান দেওয়ার জন্য নতুন কোনো কুরআনও আসবে না। কিন্তু দয়াময় আল্লাহ আমাদের জন্য এমন এক কিতাব রেখে গেছেন, যার অনুসরণ করলে কেউ পথভ্রষ্ট হবে না এবং এমন এক শরিয়ত (شريعة) রেখে গেছেন, যা অনুযায়ী আমল করলে কেউ দুর্ভাগা হবে না।

আমাদের চারপাশকে গ্রাস করা এই জাহিলিয়্যাত (جاهلية) থেকে নিজেদের এবং পুরো বিশ্বকে মুক্ত করার জন্য আমাদের যা করতে হবে, তা হলো আমাদের দ্বীনের ওপর পুনরায় আস্থা স্থাপন করা, যাতে এটিই হয় আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের ভিত্তি। আমরা নিজেরা ঈমান (إيمان) আনার আগে অন্য কাউকে এই দ্বীনের ওপর ঈমান আনতে বলতে পারি না। আর এই ঈমান তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন আমরা সবার সামনে নিজেদের এক আদর্শ ও নেককার হিসেবে উপস্থাপন করতে পারব।

ইউরোপে ভ্রমণের সময় আমরা নিজেরা যা প্রত্যক্ষ করেছি তা হলো—বিশ্ব আজ মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতাকে ইসলাম যে মুসলিমদের তথা পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য, তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে! অথচ এই খ্রিস্টান বিশ্বই যখন দেখেছিল মুসলমানরা ঈমান (إيمان) ও আমল—উভয় দিক থেকে প্রকৃত মুসলিম এবং তাদের তলোয়ার অভূতপূর্ব বিজয় ছিনিয়ে আনছে, তখন তারা নিজেদের খ্রিস্টধর্মের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। কারণ তারা বিশ্বাস করত—এবং তা ছিল সঠিক—মুসলমানদের এই বিজয় তাদের দ্বীনের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ; যেহেতু আল্লাহ কেবল তাঁর মনোনীত বান্দাদেরই সাহায্য করেন (২)।

ইসলামের দাওয়াহ (دعوة) প্রচারের ক্ষেত্রে আদর্শ চরিত্রের প্রভাব সম্পর্কে আমরা যা বলছি, তা কোনো ভিত্তিহীন কথা নয় বরং বিশুদ্ধ (صحيح) ইতিহাসের অকাট্য প্রমাণ। 'দ্য প্রিচিং অফ ইসলাম' (The Preaching of Islam) গ্রন্থের লেখক স্বয়ং যা লিখেছেন তা হুবহু নিচে দেওয়া হলো:

"দেখা যায় যে, সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর চরিত্র এবং তাঁর বীরত্বগাথা তৎকালীন খ্রিস্টানদের মনে এক জাদুকরী প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি একদল খ্রিস্টান যোদ্ধা তাঁর প্রতি এতটাই আকৃষ্ট হয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের খ্রিস্টধর্ম ও স্বজাতি ত্যাগ করে মুসলমানদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। একইভাবে ১১৮৫ খ্রিস্টাব্দে 'রবার্ট অফ সেন্ট অ্যালবানস' (Robert of St. Albans) নামক এক ইংরেজ টেম্পলার নাইট খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সালাহউদ্দীনের এক নাতনিকে বিয়ে করেন। এর দুই বছর পর সালাহউদ্দীন ফিলিস্তিন জয় করেন এবং হিত্তিনের (حطين) যুদ্ধে খ্রিস্টান বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন, যেখানে জেরুজালেমের রাজা গাই (Guy) বন্দি হন।

যুদ্ধের পর সন্ধ্যায় সেই রাজা দেখতে পান যে তাঁর ছয়জন নাইট তাঁকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় সালাহউদ্দীনের শিবিরে চলে গেছেন (৩)।"

এটি ইতিহাসের অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে একটি মাত্র, যা প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে। এখান থেকে আমরা মানুষের অন্তরে, এমনকি আমাদের শত্রু হিসেবে পরিচিত অমুসলিমদের অন্তরেও আদর্শ চরিত্রের প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি। আমরা আরও জানতে পারি সেই শক্তিশালী কারণগুলোর একটি সম্পর্কে, যা মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও গৌরব অর্জন করা সহজ করে দিয়েছিল।

এই ইসলাম আজ কেবল সেই উপায়েই বিজয়ী হতে পারে যার মাধ্যমে অতীতে হয়েছিল। আর তা হলো—এমন ঈমান (إيمان) যা মুমিনের অন্তরের অন্তঃস্থলে মিশে থাকবে, দ্বীনের পথে জান ও মালের কুরবানিকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করা, দ্বীনের বিধিবিধান ও রীতিনীতিকে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও উন্নতির একমাত্র পথ হিসেবে গর্বের সাথে ধারণ করা, নেক আমল ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে দাওয়াহ (دعوة) প্রদান করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের ফয়সালা মেনে নেওয়া।

 

আমরা যদি মানবজাতির নেতৃত্বে পুনরায় নিজেদের স্থান ফিরে পেতে চাই, তবে আমাদের সেই বিশ্বাস অন্তরে লালন করতে হবে—যার প্রভাব আমাদের কথা ও কাজে প্রকাশ পাবে—যা ইসলামের কবি ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল মনে করতেন। তিনি বলতেন যে, মুসলমান কেবল স্রোতের অনুকূলে গা ভাসানোর জন্য বা মানবতা যেদিকে যায় সেদিকে চলার জন্য সৃষ্টি হয়নি। বরং সে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব, সমাজ ও সভ্যতাকে পথ দেখানোর জন্য, মানবতাকে সঠিক দিশা দেওয়ার জন্য এবং নিজের সংকল্পকে কার্যকর করার জন্য। কারণ সে এক মহান বার্তার বাহক এবং সুনিশ্চিত ইলম (علم) বা জ্ঞানের অধিকারী। সে এই বিশ্ব ও এর গতিপথের জন্য দায়ী। তাই তার অবস্থান অন্ধ অনুকরণকারীর নয়, বরং তার অবস্থান হলো ইমামত (إمامة) বা নেতৃত্ব এবং হিদায়াত (هداية) ও নির্দেশনার। সে হবে আদেশদাতা ও নিষেধকারী। যদি নেতৃত্বের লাগাম তার হাতছাড়া হয় এবং সমাজ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অবাধ্যতা করে, তবে সে আত্মসমর্পণ করে হাল ছেড়ে দেবে না বা সময়ের সাথে আপস করবে না। বরং সে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না আল্লাহ কোনো ফয়সালা করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও দমনমূলক ব্যবস্থার কাছে মাথা নত করা এবং ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকা দুর্বল ও কাপুরুষদের কাজ। পক্ষান্তরে একজন শক্তিশালী মুমিন নিজেই আল্লাহর সেই অজেয় ফয়সালা ও তকদির যাকে কেউ রুখতে পারে না (৪)।

পরিশেষে: যে গ্রন্থ এবং তার লেখক কোনো প্রকার প্রশংসার মুখাপেক্ষী নন, তার মুখবন্ধ হিসেবে এই আলোচনার পর আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে? যা শুরুতে বলেছি, তা আবারও বলছি।

আল্লাহ সাক্ষী—প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্যের মধ্যে আমি এমন কোনো বইয়ের কথা জানি না যা এই বইটির মতো এত কল্যাণ বয়ে এনেছে। এমন কোনো বই নেই যা আমাদের রোগ ও সমস্যার প্রকৃত দাওয়াই বা সমাধান এভাবে নির্দেশ করেছে, যেমনটি এই বই করেছে। এমন কোনো লেখককে জানি না যিনি ইসলামের রুহ বা প্রাণসত্তাকে এত গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন এবং এই বইটির মতো একনিষ্ঠভাবে দাওয়াহর পথে নিজের সমস্ত প্রচেষ্টাকে উৎসর্গ করেছেন।

কাজেই আমাদের উচিত এই বইটি থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং এর লেখক যে পন্থাগুলো অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তা গ্রহণ করা। তবেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রেনেসাঁ বা জাগরণ এবং ইহকাল ও পরকালে সম্মান ও গৌরব অর্জন করতে পারব। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিবর্তন করব। যদি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইসলামি ভিত্তিতে গড়ে তোলার বিষয়টিকে প্রধান গুরুত্ব দেই এবং আমাদের শিক্ষা ও দীক্ষার লক্ষ্য হয় মুসলিম বিশ্বকে এমন এক উচ্চাসনে নিয়ে যাওয়া যা এই পৃথিবীতে তাদের প্রাপ্য, তবেই আমরা সফল হব। আর এর জন্য আমাদের অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

যদি আল্লাহ চান যে মুসলিম উম্মাহ তাদের ঘুম থেকে জেগে উঠুক এবং হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়াক, তবে এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এমন প্রকৃত মুসলিম তৈরি হবে যারা উম্মাহর দায়িত্ব অর্পিত হলে তা সুচারুরূপে পালন করতে সক্ষম হবে। তারা হবে সাহসী ও তাদের দ্বীন ও জাতির প্রতি বিশ্বস্ত, যাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হবে ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

শিক্ষা ও দীক্ষার মাধ্যমে সেই মহান লক্ষ্য অর্জনের কার্যকরী উপায়গুলো অনেক এবং সুপরিচিত, যদি আমরা তা সত্যিই চাই। তবে আমাদের শ্রদ্ধেয় লেখক আবুল হাসান নদভীর নিজের কিছু কথা দিয়েই এই ভূমিকা শেষ করা সমীচীন হবে। তিনি বলেন:

"কুরআন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত (سيرة) হলো এমন দুটি মহীয়সী শক্তি যা মুসলিম বিশ্বে ঈমান (إيمان) ও উদ্দীপনার আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। এগুলো যে কোনো সময় জাহিলিয়্যাত (جاهلية)-এর বিরুদ্ধে এক মহান বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং একটি আত্মসমর্পণকারী ও নিস্তেজ জাতিকে এক তেজোদ্দীপ্ত, আত্মমর্যাদাশীল ও জাহিলিয়্যাতের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত জাতিতে পরিণত করতে পারে। আজ মুসলিম বিশ্বের মূল ব্যাধি হলো পার্থিব জীবনের প্রতি তুষ্ট হওয়া এবং কলুষিত ব্যবস্থার সাথে আপস করা। অতিরিক্ত বিলাসিতা তাদের অন্ধ করে দিয়েছে, ফলে কোনো ধ্বংস বা বিচ্যুতি তাদের বিচলিত করে না, কোনো মন্দ কাজ তাদের ক্ষুব্ধ করে না। খাবার ও পোশাক ছাড়া তাদের আর কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু কুরআন ও সিরাত (سيرة)-এর প্রভাব যদি হৃদয়ে প্রবেশ করে, তবে ঈমান (إيمان) ও নিফাক (نفاق)-এর মধ্যে, ইয়াকিন (يقين) ও সন্দেহের মধ্যে, নশ্বর দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে এবং দেহের আরাম ও আত্মার প্রশান্তির মধ্যে এক সংঘাত শুরু হবে। এটি বীরত্বপূর্ণ জীবন ও শাহাদাত (شهادة)-এর তামান্নার সংঘাত। এই সংঘাত প্রতিটি নবী তাঁদের সময়ে তৈরি করেছিলেন এবং এটি ছাড়া বিশ্বের সংশোধন সম্ভব নয়। তখনই মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ও প্রতিটি পরিবারে এমন যুবকদের জন্ম হবে যারা 'তাদের রবের ওপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের অন্তরকে দৃঢ় করেছেন যখন তারা দাঁড়িয়ে বলেছিল: আমাদের রব আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রব, আমরা কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো ইলাহকে ডাকব না; যদি ডাকি তবে তা হবে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।' তখনই জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া যাবে এবং ইসলামের প্রথম যুগের সেই পুণ্যময় বাতাসের ঝাপটা অনুভূত হবে। ইসলামের জন্য এমন এক নতুন বিশ্ব জন্ম নেবে যা কোনোভাবেই পুরনো বিশ্বের মতো হবে না!"

এই বই থেকে নেওয়া উপরের কথাগুলো থেকেই বোঝা যায়, লেখক কত বড় এক মহৎ প্রাণ নিয়ে এটি রচনা করেছেন! আল্লাহ এই বই এবং লেখকের অন্যান্য রচনার মাধ্যমে সবার উপকার করুন এবং তাঁকে ইসলাম ও উম্মাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

মুহাম্মদ ইউসুফ মুসা

 

********************************

 

একটি চিত্রায়ন:

আমার ভাই আবুল হাসান! ..

শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আহমদ আল-শরবাসীর কলমে

 

১৯৫১ সালের শীতকালে কায়রোর 'শুব্বানুল মুসলিমিন' (মুসলিম যুবক সমিতি) ভবনে আমার এক 'মঙ্গলবারি বক্তৃতার' পর প্রথমবার ভাই আবুল হাসানের সাথে আমার দেখা হয়। তিনি অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে আমার কাছে আসলেন এবং একটি মঙ্গলবার রাতে 'বিশ্ব আজ সন্ধিক্ষণে' (The World at the Crossroads) বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ চাইলেন। আমি দেখলাম একজন শীর্ণকায় মানুষ, হালকা গড়ন, কালো দাড়ি, সাধারণ ও সস্তা পোশাক। কিন্তু তাঁর দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত গভীর ও প্রখর এবং তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয়, যাতে কিছুটা ভাঙা ভাব ছিল—যা পরে জানতে পেরেছি তাঁর অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে হয়েছিল। সেই সংক্ষিপ্ত প্রথম সাক্ষাতের পর আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁর সাথে আমার সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমি এই ক’টি লাইন লিখছি।

তিনি হলেন একজন মুমিন আলেম, দায়ী (داعية) এবং মুখলিস ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল হাসান আলী হাসানী হিন্দি নদভী। তিনি হাসান বিন আলী (رضي الله عنهما)-এর বংশধর। তাঁর পিতা ছিলেন প্রখ্যাত আল্লামা আব্দুল হাই বিন ফখরুদ্দিন বিন আব্দুল আলী। তাঁদের বংশলতিকা আব্দুল্লাহ ইবনুল আশতার বিন মুহাম্মদ যিন নাফসিল জাকিয়্যাহ বিন আব্দুল্লাহিল মাহয বিন হাসানিল মুসান্না বিন হাসানিল সিবত বিন আলী বিন আবু তালিব পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাঁর পিতার অনেক ছাপানো ও পাণ্ডুলিপি গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে আট খণ্ডের 'নজহাতুল খাতির' (৫) সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তিনি ১৩৪১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

সৈয়দ আবুল হাসান ভারতের 'রায়বেরেলি' জেলায় জন্মগ্রহণ করেন, যা লক্ষ্ণৌ থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরে। ১৩৩২ হিজরির মহররম মাসে 'তাকিয়া' গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁর হায়াত দারাজ করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন।

আমার ভাই আবুল হাসানের পরিবার মূলত আরব বংশোদ্ভূত। তারা আজও তাদের বংশলতিকা সংরক্ষণ করে চলেছেন। যদিও তারা হিন্দুস্তানি ভাষায় কথা বলেন এবং কয়েক শতাব্দী ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তবুও তারা তাদের মূল শেকড়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

--------------------------------------------

(১) বইটির ইংরেজি অনুবাদ 'Islam and the World' নামে পাকিস্তানের লাহোরের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং উর্দু অনুবাদটি ভারতের লক্ষ্ণৌ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) স্যার থমাস আর্নল্ডের বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য প্রিচিং অফ ইসলাম'-এর ডক্টর হাসান ইব্রাহিম ও অন্যদের করা আরবি অনুবাদের ৭ম পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

(৩) উক্ত বইয়ের ৮২-৮৩ পৃষ্ঠা।

(৪) অধ্যাপক আবুল হাসান নদভীর প্রবন্ধ 'ইসলামের কবি ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল' ৬৬-৬৮ পৃষ্ঠা।

(৫) ভারতের হায়দ্রাবাদের দাইরাতুল মাআরিফ থেকে এই বইটির সাতটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে ভারতের পাঁচ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী স্থান পেয়েছে। লেখকের 'আল-সাকাফাতুল ইসলামিয়্যাহ ফিল হিন্দ' (ভারতে ইসলামি সংস্কৃতি) নামক একটি বই দামেস্কের আরবিক একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
قرون، وتمتاز بالمحافظة على التوحيد والسنة والبعد عن البدع والدعوة إلى الله والجهاد في سبيله، وللسيد أبي

الحسن أخ أكبر منه هو السيد الدكتور عبد العلي عبد الحي (1) وهو طبيب، وقد تخرج في ندوة العلماء ومعهد ديوبند، كما تخرج في جامعة لكهنؤ بتفوق وامتياز، فهو بذلك يجمع بين الثقافتين الدينية والعصرية، وله فضل كبير في تربية السيد أبي الحسن وثقافته، ويدير ندوة العلماء خلفاً لأبيه الراحل … وقد تزوج السيد أبو الحسن منذ عشر سنوات من الأسرة نفسها، لأن هذا تقليد محترم يعاقب من يخرج عليه.

بدأ السيد أبو الحسن تعلمه القرآن الكريم في البيت تعاونه أمه، وأمه من فضليات النساء والسيدات الفاضلات الصالحات، تحفظ القرآن، وتكتب، وتؤلف ثم تعلم اللغتين الأوردية والفارسية، ثم بدأ وهو في الثانية عشرة من عمره يتعلم الإنجليزية والعربية معاً، وبدأ تعلم العربية على الشيخ خليل بن محمد اليمني، وتوفر سنتين كاملتين على دراسة الأدب العربي وحده، وقرأ كثيراً من كتب الأدب، وشغف بها على خلاف العادة يومئذ في الهند، لأنهم يزهدون في الأدب العربي، وعني عناية خاصة بالعكوف على كتب ثلاثة هي: نهج البلاغة، ودلائل الإعجاز، والحماسة، ثم التحق بجامعة لكهنؤ، وهي جامعة تدرس العلوم المدنية باللغة الإنجليزية، وفيها قسم لآداب اللغة العربية التحق بها السيد أبو الحسن، وكان يومئذ أصغر طلاب الجامعة سناً، وضاق بدروس القواعد أولاً فأخره ذلك قليلاً، ثم سار في تعلمه ممتازاً فائقاً سابقاً، ثم أتم دراسته الأدبية على الدكتور الشيخ تقي الدين الهلالي المراكشي رئيس تدريس الأدب العربي في ندوة العلماء- وهي جمعية تشرف على دار العلوم هناك- ثم دخل الندوة، ومكث بها سنتين يدرس علوم الحديث، واستفاد كثيراً من شيخ الحديث الشيخ حيدر حسن خان. ومكث في دار العلوم ديوبند مدة شهور، وحضر دروس العالم الكبير المجاهد الشيخ حسين أحمد المدني في الحديث.

--------------------------------------------

(1) توفي إلى رحمة الله في 21 ذي العقيدة 1380 هـ الموافق 7 مايو 1961 م
শতাব্দীকাল ধরে, এবং এটি তাওহিদ (توحيد) ও সুন্নাহ (سنة) সংরক্ষণ, বিদআত (بدع) থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াত ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ (جهاد)-এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সাইয়্যেদ আবুল হাসানের

একজন বড় ভাই আছেন, তিনি হলেন সাইয়্যেদ ডক্টর আব্দুল আলী আব্দুল হাই (১), যিনি একজন চিকিৎসক। তিনি নদওয়াতুল উলামা এবং দেওবন্দ ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি তিনি লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এভাবে তিনি ধর্মীয় ও আধুনিক উভয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। সাইয়্যেদ আবুল হাসানের লালন-পালন ও জ্ঞানার্জনে তাঁর বড় অবদান রয়েছে। তিনি তাঁর প্রয়াত পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নদওয়াতুল উলামা পরিচালনা করেন … সাইয়্যেদ আবুল হাসান দশ বছর আগে একই পরিবারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, কারণ এটি একটি সম্মানিত ঐতিহ্য যার লঙ্ঘনকারীকে শাসনের আওতায় আনা হয়।

সাইয়্যেদ আবুল হাসান তাঁর মাতার সহযোগিতায় ঘরেই পবিত্র কুরআন শিক্ষা শুরু করেন। তাঁর মাতা ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী এবং নেককার বিদুষী মহীয়সী; তিনি কুরআন হিফজ করেছিলেন, লিখতে পারতেন এবং গ্রন্থ রচনা করতেন। এরপর তিনি উর্দু ও ফারসি ভাষা শেখেন। বারো বছর বয়সে তিনি একসাথে ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিখতে শুরু করেন। তিনি শেখ খলিল বিন মুহাম্মদ আল-ইয়ামানির কাছে আরবি শিক্ষা শুরু করেন এবং পূর্ণ দুই বছর কেবল আরবি সাহিত্য অধ্যয়নে ব্যয় করেন। তিনি সাহিত্যের প্রচুর কিতাব পাঠ করেন এবং সেগুলোর প্রতি গভীর অনুরাগী হয়ে ওঠেন, যা তৎকালীন ভারতের প্রচলিত রীতির বিপরীত ছিল; কারণ তখন তারা আরবি সাহিত্যের প্রতি অনাগ্রহী ছিল। তিনি বিশেষভাবে তিনটি কিতাব গভীর মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেন, সেগুলো হলো: নাহজুল বালাগাহ, দালাইলুল ইজাজ এবং আল-হামাসাহ। এরপর তিনি লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, যা ইংরেজি মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠান; সেখানে আরবি সাহিত্যের একটি বিভাগ ছিল যেখানে সাইয়্যেদ আবুল হাসান যোগদান করেন। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম ছাত্র ছিলেন। শুরুতে ব্যাকরণের পাঠগুলো তাঁর কাছে কিছুটা কঠিন মনে হওয়ায় তিনি সামান্য পিছিয়ে পড়েন, তবে পরবর্তীতে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে শিক্ষালাভে এগিয়ে যান এবং অগ্রগামিতা অর্জন করেন। এরপর তিনি নদওয়াতুল উলামার আরবি সাহিত্য বিভাগের প্রধান ডক্টর শেখ তাকিউদ্দীন আল-হিলালি আল-মাররাকুশি-এর অধীনে তাঁর সাহিত্য পাঠ সম্পন্ন করেন—নদওয়া হলো সেখানকার দারুল উলুমের তত্ত্বাবধানকারী একটি সংস্থা। এরপর তিনি নদওয়ায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে দুই বছর হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) অধ্যয়ন করেন এবং শায়খুল হাদিস (شيخ الحديث) শেখ হায়দার হাসান খানের নিকট থেকে অনেক উপকৃত হন। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দেও কয়েক মাস অবস্থান করেন এবং সেখানে বড় আলেম (عالم) ও মুজাহিদ (مجاهد) শেখ হুসাইন আহমদ মাদানির নিকট হাদিস পাঠে অংশগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) ২১ জিলকদ ১৩৮০ হিজরি মোতাবেক ৭ মে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে তিনি আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমান।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وسافر إلى لاهور، وقرأ التفسير على الشيخ أحمد علي المفسر المشهور، ولم تكن دراسته في أغلب أدوارها دراسة نظامية بشهادات، بل كانت دراسة حرة لوجه العلم والمعرفة، ولما أتم دراسته رجع إلى لكهنؤ، وعين مدرساً في دار العلوم هناك، ومكث فيها عشر سنوات يدرس علوماً مختلفة، واشتغل بجوار ذلك بالكتابة في مجلة " الضياء " العربية التي

تصدرها ندوة العلماء، ورئيس تحريرها الأستاذ مسعود الندوي، واشتغل كذلك بالتأليف في الأوردية، وأظهر كتابه ((سيرة السيد أحمد الشهيد)) فكان الإقبال عليه عظيماً حتى طبع ثلاث مرات.

ثم انتقل إلى دلهي، والتقى بالداعية المجدد العظيم الشيخ محمد إلياس، وكان هذا اللقاء نقطة تحول في حياة أبي الحسن، لأن الشيخ محمد إلياس كان مرشداً شعبياً، له صلة عميقة وثيقة بالجماهير عن طريق الدعوة إلى الله. وأبو الحسن لم يكن متصلاً بالشعب قبل ذلك، بل كان مقتصراً على الدراسة والتأليف. فأخذ يتصل بأهل القرى والدساكر، ويقوم برحلات إسلامية قد تستغرق الواحدة منها شهراً، لنشر الدعوة في قرى الهند ومدنها، وكان الشيخ إلياس- ولا يزال - هو مثل أبي الحسن الأعلى في الحكمة الدينية العميقة وفي قوة الإيمان لأن الشيخ إلياس -كما يقول أخونا- كان صورة من السلف الصالح، وكان مخلصاً غيوراً، يتألم لحال المسلمين، ويعمل من أجلهم، ويسير في شئونهم، ويحترق بروحه القوية الوثابة في سبيلهم (1) .

وتلقى التربية الروحية من العارف الجليل المربي الكبير الشيخ عبد القادر الرأي يوري واستفاد من صحبته ومجالسته.

--------------------------------------------

(1) توفي إلى رحمة الله تعالى عام 1363 هـ - وللسيد أبي الحسن تأليف في سيرته في أردو وحديث عنه في محاضرته ((الدعوة الإسلامية في الهند وتطوراتها)) .
তিনি লাহোর সফর করেন এবং প্রখ্যাত মুফাসসির (المفسر) শায়খ আহমদ আলীর নিকট তাফসির অধ্যয়ন করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের অধিকাংশ পর্যায় কোনো সনদভিত্তিক প্রথাগত শিক্ষা ছিল না, বরং তা ছিল কেবল ইলম ও মা'রিফাতের উদ্দেশ্যে একটি স্বাধীন অধ্যয়ন। শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি লখনউতে ফিরে আসেন এবং সেখানকার দারুল উলূমে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি দশ বছর অবস্থান করে বিভিন্ন শাস্ত্রের পাঠদান করেন। এর পাশাপাশি তিনি সেই আরবি সাময়িকী 'আয-যিয়া'-তে লেখালেখির কাজে যুক্ত হন যা

নদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত হতো এবং যার প্রধান সম্পাদক ছিলেন উস্তাদ মাসউদ নদভী। তিনি উর্দু ভাষায় গ্রন্থ রচনার কাজও শুরু করেন এবং তাঁর 'সীরাতে সায়্যিদ আহমদ শহীদ' কিতাবটি প্রকাশ করেন। এর প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল প্রবল, এমনকি এটি তিনবার মুদ্রিত হয়।

এরপর তিনি দিল্লি গমন করেন এবং মহান সংস্কারক (مجدد) ও দাঈ শায়খ মুহাম্মদ ইলিয়াসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎ আবুল হাসানের জীবনে এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ ছিল, কারণ শায়খ মুহাম্মদ ইলিয়াস ছিলেন গণমানুষের একজন পথপ্রদর্শক (مرشد), দাওয়াত ইলাল্লাহর মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে যাঁর গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক ছিল। আবুল হাসান এর পূর্বে জনগণের সাথে তেমন সম্পৃক্ত ছিলেন না, বরং তিনি কেবল অধ্যয়ন ও গ্রন্থ রচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এরপর তিনি গ্রাম ও মফস্বলের মানুষের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ভারতের গ্রাম ও শহরগুলোতে দাওয়াত প্রচারের জন্য ইসলামি সফরে বের হতে থাকেন, যার কোনোটি এক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতো। আবুল হাসানের নিকট গভীর দ্বীনি প্রজ্ঞা ও ঈমানের দৃঢ়তার ক্ষেত্রে শায়খ ইলিয়াস ছিলেন—এবং এখনো আছেন—এক অনন্য আদর্শ। কারণ শায়খ ইলিয়াস—যেমনটি আমাদের ভাই বলেছেন—ছিলেন সালাফে সালেহীনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান (مخلص) ও দ্বীনদারিতে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন (غيور), যিনি মুসলমানদের দুরবস্থায় ব্যথিত হতেন, তাদের কল্যাণে কাজ করতেন, তাদের বিষয়াবলি তদারকি করতেন এবং তাঁর বলিষ্ঠ ও প্রাণবন্ত আত্মা দিয়ে তাদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেন (১)।

তিনি মহান আরিফ (العارف) ও বরেণ্য মুরব্বি (المربي) শায়খ আব্দুল কাদির রায়পুরীর নিকট থেকে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং তাঁর সান্নিধ্য ও মজলিস থেকে উপকৃত হন।

--------------------------------------------

(১) তিনি ১৩৬৩ হিজরিতে মহান আল্লাহর রহমতে ইন্তেকাল করেন। সায়্যিদ আবুল হাসানের উর্দু ভাষায় তাঁর একটি জীবনীগ্রন্থ রয়েছে এবং তাঁর 'আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়া ফিল হিন্দ ওয়া তাতাওউরাতুহা' নামক বক্তৃতায় তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ورأس أبو الحسن تحرير مجلة " الندوة " العلمية التي كانت تصدر بالأوردية، وكانت لسان حال الندوة، وكلفته الجامعة الإسلامية في (عليكره) بوضع مناهج لطلبة (البكالوريا) في التعليم الديني، فألف في ذلك كتاباً أسماه (إسلاميات) وقبلت الجامعة هذا الكتاب وأخذت به وكافأت صاحبه عليه؛ ودعي لإلقاء محاضرات في الجامعة الملية الإسلامية بدلهي، فألقى محاضرة في موضوع: (الدين والمدنية) كانت موضع الاستحسان، ونشرت وكان لها تأثير واسع النطاق.

وألف في هذه الفترة كتباً لطلبة المدارس العربية في الهند، منها كتاب " مختارات في الأدب العربي " وقد قررت دار العلوم في الهند وبعض الجامعات في تدريسه. ومنها كتاب

((قصص النبيين)) في ثلاثة أجزاء، وغير ذلك من الكتب، وأصدر مجلة (التعمير) التي كانت تصدر بالأوردية مرتين في الشهر، وأسس جمعية للتبشير بالإسلام بين الهندوس، وأصدرت هذه الجمعية التبشيرية الإسلامية عدة رسائل وبحوث عن الملة الغراء باللغة الإنجليزية المنتشرة هناك. وأسس (المجمع الإسلامي العلمي) في لكهنؤ سنة 1960 م وله نشاط وإنتاج في اللغات الإنجليزية والهندية والأوردية والعربية، ومطبوعات قيمة.

وأخي المفضال أبو الحسن له غرام أصيل عميق باقتناء الكتب ومسامرتها والحديث عنها. وأعز ما يحرص عليه من عرض الحياة هو كتبه. وأغلى ما يهدي إليه كتاب يرضيه ويغذيه، ولا يقتني أبو الحسن الكتب ليزين بها داره، بل ليهضمها قراءة وبحثاً ونقداً، وكتاباته المختلفة فيها دلاله واضحة على ذلك، وقد أفادته هذه المطالعات والمسامرات - بجوار الهبة والتجربة- فدرة على الارتجال بالعربية، فهو يتدفق كالسيل بلغة بليغة فيها الصور البيانية والتعبير الجميل وأغلب محاضراته يستعد لها، وكثيراً ما يكتبها، وأسلوبه يغلب عليه العنصر العاطفي الملتهب ومع ذلك إذا طرق باب البحث أجاد وأفاد وأمتع أيضاً، وهو كما عرفت عنه وكما حدثني مراراً لا يحب أن يهجم على الحديث في موضوع ذي بال إلا إذا احتفل به وتهيأ له، وليس ذلك عن قلة بضاعة ولكنه احتراس العالم الذي يريد أن يستيقن ويتثبت! .. وقد غلب النثر على أبي الحسن فلم تطاوعه قريحته يوماً على نظم الشعر …
আবুল হাসান "আন-নাদওয়া" নামক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন, যা উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হতো এবং তা নাদওয়াতুল উলামার মুখপাত্র ছিল। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ধর্মীয় শিক্ষায় (ব্যাকালোরেট) শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যক্রম প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নামকরণ করেন "ইসলামিয়াত"। বিশ্ববিদ্যালয় এই গ্রন্থটি গ্রহণ করে, পাঠ্যভুক্ত করে এবং লেখককে পুরস্কৃত করে। তাঁকে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-তে বক্তৃতা প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে তিনি "দ্বীন ও সভ্যতা" বিষয়ে একটি বক্তৃতা প্রদান করেন যা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল। এটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

এই সময়ে তিনি ভারতের আরবি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু কিতাব রচনা করেন, যার মধ্যে "মুখতারাত ফিল আদাবিল আরবি" অন্যতম। ভারতের দারুল উলুম এবং বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এটি পাঠ্যভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মধ্যে আরও রয়েছে তিন খণ্ডে সমাপ্ত কিতাব

"কাসাসুন নাবিয়্যিন" এবং অন্যান্য গ্রন্থ। তিনি "আত-তামীর" নামক একটি সাময়িকী চালু করেন যা মাসে দুইবার উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হতো। তিনি হিন্দুদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও প্রচারের জন্য একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এই ইসলামি প্রচার সমিতি সেখানকার প্রচলিত ইংরেজি ভাষায় এই উজ্জ্বল দ্বীন সম্পর্কে বেশ কিছু রিসালাহ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে। ১৯৬০ সালে তিনি লখনউতে "আল-মাজমাউল ইসলামি আল-ইলমি" (ইসলামি শিক্ষা পরিষদ) প্রতিষ্ঠা করেন। ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু এবং আরবি ভাষায় এর বহুমুখী কার্যক্রম, ইলমি খিদমত ও মূল্যবান প্রকাশনা রয়েছে।

আমার শ্রদ্ধেয় ভাই আবুল হাসানের কিতাব সংগ্রহ করা, সেগুলোর সাথে সময় অতিবাহিত করা এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার এক গভীর ও সহজাত অনুরাগ ছিল। পার্থিব জীবনের সকল উপকরণের মধ্যে কিতাবই ছিল তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তাঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার ছিল এমন কোনো কিতাব যা তাঁকে সন্তুষ্ট ও জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে। আবুল হাসান তাঁর ঘর সাজানোর জন্য কিতাব সংগ্রহ করতেন না, বরং অধ্যয়ন, গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলো আত্মস্থ করার জন্য করতেন। তাঁর বিভিন্ন লেখালেখিতে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। জন্মগত প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন ও জ্ঞানচর্চা তাঁকে আরবি ভাষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বক্তৃতা প্রদানের সক্ষমতা দান করেছিল। তিনি স্রোতস্বিনী ধারার মতো প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলতেন, যাতে থাকত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উপমা ও চমৎকার প্রকাশভঙ্গি। তিনি তাঁর অধিকাংশ বক্তৃতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং প্রায়শই তা লিখে রাখতেন। তাঁর লিখনশৈলীতে আবেগময় উপাদানের প্রাধান্য থাকত, তথাপি যখন তিনি গবেষণার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতেন, তখন অত্যন্ত নিপুণভাবে তথ্যসমৃদ্ধ ও আনন্দদায়ক আলোচনা উপস্থাপন করতেন। আমি তাঁর সম্পর্কে যা জেনেছি এবং তিনি আমাকে বারবার যা বলেছেন তা হলো—কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পূর্ণ গুরুত্ব ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা ছাড়া তিনি আলোচনা শুরু করতে পছন্দ করতেন না। এটি জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে নয়, বরং একজন বিজ্ঞ আলেমের সতর্কতা, যিনি নিশ্চিত (يستيقن) হতে এবং যাচাই (يتثبت) করতে চান! আবুল হাসানের ওপর গদ্য সাহিত্যের প্রভাবই বেশি ছিল, তাই তাঁর কবিত্ব শক্তি কখনো তাঁকে কবিতা রচনার দিকে ধাবিত করেনি …
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد ظل الأستاذ أبو الحسن يمارس ألواناً من الألعاب الرياضية ككرة القدم والسباحة والصيد والهوكي والتنس ثم انقطع عنها أخيراً، وعلى الرغم من هذا أصابته أمراض استمرت مدة طويلة، وخاصة في الصدر، ثم عافاه الله منها، وبقي له سعال يعاوده من حين لآخر.

وهو يكره التصوير بجميع أنواعه، ويحرمه على نفسه في تشديد ملحوظ، ولقد زرت معه إحدى دور الطبع والنشر الكبرى بالقاهرة، ورغب مصور الدار أن يلتقط لنا صوراً تذكارية فرفض أبو الحسن، وأصر على الرغم من طول المحاولة والرجاء، وذكر أن المسلمين في الهند (متفقون) على حرمة التصوير!! ..

ولقد سألته ذات مرة عن السابقين الذين تأثر بهم، فأجابني بأنهم الإمام أحمد بن حنبل صاحب الموقف المعروف في المحنة، وشيخ الإسلام ابن تيمية، والشيخ أحمد السر هندي (من

سر هند، بلد في البنجاب) المتوفى سنة 1024هـ صاحب الرسائل الخالدة في الشريعة والحقيقة ومحاربة البدع، والمجدد للملة، ولشيخ ولي لله الدهلوي المتوفى سنة 1176هـ الباحث الإسلامي العظيم صاحب (حجة الله البالغة) والصاحب أحمد الشهيد مؤسس أول دولة شرعية في الهند في القرن الثالث عشر الهجري (1) ، وقد استمرت هذه الدولة عدة شهور، ثم ثار عليها الإنجليز بمؤامراتهم فأخذوا عليها الطريق.

وأعظم آمال أبي الحسن أن يرى الإسلام سائداً على الأرض، وأن يرى الدول الباغية معذبة مقهورة حتى يسلي نفسه ويستبشر ويرى انتقام الله من الذين حاربوا الإسلام وأذلوا المسلمين وهو يعتقد ويرى أن بقاء القلة المسلمة في الهند من الخير، وفيه فائدة ترجى للهند، فلعل للإسلام مستقبلاً ذا بال هناك، ولقد رحل أبو الحسن إلى الحجاز في سنتي 1947-1950 م وقدم إلى

--------------------------------------------

(1) هو من نفس أسرة السيد أبي الحسن ومن أشهر رجالها ورجال الهند. ولد سنة 1201 هـ في راي بريلي (الهند) واستشهد في سبيل الله في بالاكوت (باكستان الآن) سنة 1246 هـ.
وقد ظل الأستاذ أبو الحسن يمارس ألواناً من الألعاب الرياضية ككرة القدم والسباحة والصيد والهوكي والتنس ثم انقطع عنها أخيراً، وعلى الرغم من هذا أصابته أمراض استمرت مدة طويلة، وخاصة في الصدر، ثم عافاه الله منها، وبقي له سعال يعاوده من حين لآخر।

তিনি সব ধরণের ছবি তোলা অপছন্দ করতেন এবং বিশেষ কঠোরতার সাথে তা নিজের জন্য হারাম গণ্য করতেন। আমি তার সাথে কায়রোর একটি বড় প্রকাশনা ও মুদ্রণ সংস্থা পরিদর্শন করেছিলাম, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের আলোকচিত্রী আমাদের স্মৃতিস্বরূপ কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আবুল হাসান তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং দীর্ঘ চেষ্টা ও অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের মুসলমানগণ ছবি তোলা হারাম হওয়ার বিষয়ে একমত (متفقون)!! ..

আমি একবার তাকে সেই পূর্বসূরিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাদের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি উত্তরে বলেন, তারা হলেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল—যিনি অগ্নিপরীক্ষায় তার সুপরিচিত অবস্থানের অধিকারী; শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া; এবং শায়খ আহমাদ সিরহিন্দি (পাঞ্জাবের একটি শহর সিরহিন্দ-এর অধিবাসী, মৃত্যু ১০২৪ হিজরি)—যিনি শরিয়ত, হাকিকত ও বিদআত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কালজয়ী পত্রাবলির রচয়িতা এবং মিল্লাতের সংস্কারক; শায়খ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (মৃত্যু ১১৭৬ হিজরি)—যিনি মহান ইসলামি গবেষক ও 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' গ্রন্থের প্রণেতা; এবং সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ—যিনি ত্রয়োদশ হিজরি শতকে ভারতে প্রথম শরয়ী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন (১)। এই রাষ্ট্র কয়েক মাস স্থায়ী হয়েছিল, অতঃপর ইংরেজরা তাদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এর পথ রুদ্ধ করে দেয়।

আবুল হাসানের সর্বশ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা ছিল ইসলামকে পৃথিবীতে বিজয়ী হিসেবে দেখা এবং অত্যাচারী রাষ্ট্রগুলোকে লাঞ্ছিত ও পরাজিত হতে দেখা, যাতে তিনি মানসিক তৃপ্তি ও সুসংবাদ লাভ করতে পারেন এবং যারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে ও মুসলমানদের অপমানিত করেছে তাদের ওপর আল্লাহর প্রতিশোধ প্রত্যক্ষ করতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন ও মনে করেন যে, ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অবস্থান কল্যাণকর এবং এতে ভারতের জন্য বিশেষ উপকার নিহিত রয়েছে; সম্ভবত সেখানে ইসলামের এক গৌরবময় ভবিষ্যৎ রয়েছে। আবুল হাসান ১৯৪৭-১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে হিজাজে সফর করেন এবং...

--------------------------------------------

(১) তিনি সাইয়্যেদ আবুল হাসানের পরিবারের সদস্য এবং সেই বংশের ও ভারতের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তিনি ১২০১ হিজরিতে ভারতের রায়বেরেলিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৪৬ হিজরিতে বালাকোটে (বর্তমান পাকিস্তান) আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২০)
مصر سنة 1951 م، وطوّف بأغلب العالم الإسلامي، فرأى وشاهد (1) ودرس وكتب وحاضر وخطب، وكان له في كل أرض نزل بها مجهود وجهود وعهود.

وقد اختير عضواً مراسلاً في المجمع العلمي العربي بدمشق سنة 1957 م. ودعي لإلقاء محاضرات كأستاذ زائر في جامعة دمشق 1956 م (2) .

وقد سألته وهو بيننا في مصر عن حسنات مصر، فقال موجزاً: الإيمان بالله والدين، والمحبة للمسلم خاصة إذا كان غريباً، ورقة القلب، وسلامة الصدر، وكثرة الأعمال المنتجة … ثم سألته عن السيئات فتحرج ثم أجاب: السفور، وعدم التستر، والصور الخليعة في الصحف والمجلات، واستهانة بعض العلماء ببعض المحرمات، وعدم المحافظة على الجماعات في المساجد برغم كثرتها، والاندفاع في تقليد الحضارة الغربية بلا تبصر.

وأخي أبو الحسن بعد هذا كله عدو للمظاهر الكاذبة، يتخفف في ثيابه وطعامه وفراشه، ويكره التكلف والمجاملة الزائدة، ولا يقيم للمال وزناً في حياته، وثقته بربه فوق

كل شيء، ومثابرته على النضال في سبيل ما يؤمن به مضرب الأمثال، وإخلاصه العميق سر نجاحه بينما يفشل الآخرون.

لقد طال الكلام، ومع ذلك لم أقل كل شيء عن أخي أبي الحسن! ..

 

أحمد الشرباصي

المدرس بالأزهر الشريف

 

*************************************

--------------------------------------------

(1) طبعت مذكراته في القاهرة بعنوان ((سائح في الشرق العربي)) .

(2) ظهر مجموع هذه المحاضرات التي ألقاها الأستاذ أبو الحسن في مدرج الجامعة الكبير في دمشق وهي اثنتا عشرة محاضرة باسم ((رجال الفكر والدعوة في الإسلام)) من مطبعة جامعة دمشق سنة 1960 م.
১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে তিনি মিসরে আগমন করেন এবং ইসলামি বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি অনেক কিছু দেখেছেন ও প্রত্যক্ষ করেছেন (১), অধ্যায়ন করেছেন, লেখালেখি করেছেন, লেকচার প্রদান করেছেন এবং খুতবা দিয়েছেন। যে ভূখণ্ডেই তিনি পদার্পণ করেছেন, সেখানে তার নিরলস প্রচেষ্টা, অবদান ও অঙ্গীকার বিদ্যমান ছিল।

১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের ‘আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমি’র একজন করেসপন্ডিং মেম্বার (সদস্য) হিসেবে তাকে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে লেকচার প্রদানের জন্য তাকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল (২)।

তিনি যখন আমাদের সাথে মিসরে ছিলেন, তখন আমি তাকে মিসরের ভালো দিকগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছিলেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান ও দ্বীনদারিতা, মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসা—বিশেষ করে তারা যদি আগন্তুক হয়, হৃদয়ের কোমলতা, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা এবং ফলপ্রসূ কাজের আধিক্য... … এরপর আমি তাকে মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুটা সংকোচবোধ করেন এবং এরপর উত্তর দেন: বেপর্দা চলাফেরা, পর্দার অভাব, সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে অশ্লীল ছবি, কিছু আলেমের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু হারাম বিষয়কে তুচ্ছজ্ঞান করা, মসজিদের সংখ্যা অনেক হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া এবং কোনো প্রকার দূরদর্শিতা ছাড়াই পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ।

আমার ভাই আবুল হাসান এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে কৃত্রিম বাহ্যিকতার ঘোর বিরোধী। তিনি তার পোশাক, খাবার এবং বিছানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংযত জীবন যাপন করেন। তিনি কৃত্রিমতা ও অতিরিক্ত লৌকিকতা অপছন্দ করেন। তিনি তার জীবনে সম্পদের কোনো মূল্য দেন না। তার রবের প্রতি তার ভরসা সবকিছুর

ঊর্ধ্বে। তিনি যা বিশ্বাস করেন, তার স্বপক্ষে সংগ্রামের ক্ষেত্রে তার ধৈর্য ও অধ্যবসায় প্রবাদতুল্য। তার গভীর নিষ্ঠাই তার সাফল্যের রহস্য, যেখানে অন্যরা ব্যর্থ হয়।

কথা দীর্ঘ হয়ে গেল, তবুও আমি আমার ভাই আবুল হাসান সম্পর্কে সবকিছু বলে শেষ করতে পারিনি! ..

 

আহমাদ আল-শারবাসি

আল-আযহার আল-শরিফ-এর শিক্ষক

 

*************************************

--------------------------------------------

(১) তার স্মৃতিকথা কায়রো থেকে ‘সায়েহ ফি আল-শারক আল-আরাবি’ (আরব প্রাচ্যের এক পর্যটক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অডিটোরিয়ামে উস্তাদ আবুল হাসান যে লেকচারগুলো দিয়েছিলেন—যা মোট বারোটি লেকচারের সমষ্টি—১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে ‘রিজাল আল-ফিকর ওয়া আদ-দাওয়াহ ফি আল-ইসলাম’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الباب الأول

العصر الجاهلي

‌‌الفصل الأول

الإنسانية في الاحتضار

كان القرن السادس والسابع (لميلاد المسيح) من أحط أدوار التاريخ بلا خلاف، فكانت الإنسانية متدلية منحدرة منذ قرون، وما على وجه الأرض قوة تمسك بيدها وتمنعها من التردي، فقد زادتها الأيام سرعة في هبوطها وشدة في إسفافها، وكأنَّ الإنسان في هذا القرن قد نسي خالقه، فنسي نفسه ومصيره، وفقد رشده، وقوة التمييز بين الخير والشر، والحسن والقبيح، وقد خفتت دعوة الأنبياء من زمن، والمصابيح التي أوقدوها قد انطفأت من العواصف التي هبت بعدهم أو بقيت، ونورها ضعيف ضئيل لا ينير إلا بعض القلوب فضلاً عن البيوت فضلاً عن البلاد، وقد انسحب رجال الدين من ميدان الحياة، ولاذوا إلى الأديرة والكنائس والخلوات، فراراً بدينهم من الفتن وضناً بأنفسهم، أو رغبة إلى الدعة والسكوت، وفراراً من تكاليف الحياة وجدها، أو فشلاً في كفاح الدين والسياسة والروح والمادة، ومن بقي منهم في تيار الحياة اصطلح مع الملوك وأهل الدنيا، وعاونهم على إثمهم وعدوانهم، وأكل أموال الناس بالباطل … على حساب الضعفاء والمحكومين. وإن الإنسانية لا تشقى بتحول الحكم والسلطان والرفاهية والنعيم من فرد إلى فرد آخر من جنسه، أو من جماعة إلى جماعة أخرى مثلها في الجور والاستبداد وحكم الإنسان للإنسان، وإن هذا الكون لا يتفجع ولا يتألم فقط بانحطاط أمة أدركها الهرم وسرى فيها الوهن، وسقوط دولة تآكلت جذورها وتفككت أوصالها، بل بالعكس تقتضي ذلك سنة الكون، وإن دموع الإنسان لأعز من أن تفيض كل يوم على ملك راحل وسلطان زائل، وإنه لفي غنى، وإنه لفي شغل عن أن يندب من لم يعمل يوماً لإسعاده، ولم يكدح ساعة لصالحه، وإن السماء والأرض لتقسوان كثيراً على هذه الحوادث التي تقع ووقعت كل يوم ووقعت ألوف المرات {كَمْ تَرَكُوا مِن جَنَّاتٍ

وَعُيُونٍ {25} وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ {26} وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ {27} كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْماً آخَرِينَ {28} فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاء وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

জাহেলি যুগ

‌‌প্রথম অধ্যায়

মুমূর্ষু মানবতা

ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দী (ঈসায়ী) নিঃসন্দেহে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সময়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কয়েক শতাব্দী যাবৎ মানবতা ক্রমাগত অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছিল এবং পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি ছিল না যা মানবতার হাত ধরে তাকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। দিন যত যাচ্ছিল, তার পতনের গতি ততই ত্বরান্বিত হচ্ছিল এবং এর হীনতা চরম আকার ধারণ করছিল। মনে হচ্ছিল, এই শতাব্দীর মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে গেছে, ফলে সে নিজেকে ও নিজের পরিণামকেও বিস্মৃত হয়েছে। সে তার সঠিক দিশা এবং ভালো-মন্দ ও সুন্দর-কুৎসিতের মধ্যকার পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। নবীদের আহ্বান অনেক কাল আগেই স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁদের প্রজ্বলিত প্রদীপগুলো তাঁদের পরবর্তীকালে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়ায় নিভে গিয়েছিল; অথবা যা অবশিষ্ট ছিল তার আলো ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ ও যৎসামান্য, যা ঘরবাড়ি বা জনপদ তো দূরের কথা, খুব সামান্য কিছু হৃদয় ছাড়া অন্য কোথাও আলো ছড়াতে পারছিল না। ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ জীবনের ময়দান থেকে পিছু হটে মঠ, গির্জা এবং নির্জন কোণে আশ্রয় নিয়েছিলেন—ফিতনা থেকে নিজেদের দ্বীন বাঁচাতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থে, অথবা নির্ঝঞ্ঝাট জীবন ও নীরবতার প্রত্যাশায় এবং জীবনের দায়িত্ব ও কঠোরতা থেকে পলায়নপর হয়ে, কিংবা দ্বীন ও রাজনীতি এবং আত্মিক ও পার্থিব জগতের লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে। আর তাদের মধ্যে যারা জীবনের কর্মচঞ্চল স্রোতে টিকে ছিলেন, তারা রাজা-বাদশাহ ও দুনিয়াদারদের সাথে আপস করে নিয়েছিলেন এবং তাদের পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করতেন। তারা দুর্বল ও শোষিতদের বিনিময়ে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করতেন …। বস্তুত মানবতা কেবল শাসনক্ষমতা ও বিলাস-সামগ্রী এক ব্যক্তি থেকে তার সমগোত্রীয় অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে অথবা এক গোষ্ঠী থেকে অন্য কোনো জালেম ও স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর কাছে স্থানান্তরের ফলে দুর্দশাগ্রস্ত হয় না। এই মহাবিশ্ব কেবল কোনো জরাগ্রস্ত ও দুর্বল জাতির অধঃপতনে অথবা কোনো ক্ষয়ে যাওয়া ও বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রের পতনে শোকাতুর বা ব্যথিত হয় না। বরং এর বিপরীতে, এটাই মহাবিশ্বের শাশ্বত নীতি। মানুষের অশ্রু অত্যন্ত মূল্যবান, যা প্রতিদিন কোনো বিলীন হওয়া রাজত্ব বা ক্ষমতাচ্যুতির জন্য ঝরবে না। আর মানুষের হাতে এমন কোনো সময় নেই যে সে তাদের জন্য বিলাপ করবে যারা একদিনের জন্যও তার কল্যাণে কাজ করেনি বা এক মুহূর্তের জন্যও তার উপকারের জন্য শ্রম দেয়নি। আকাশ ও পৃথিবী বরং প্রতিদিন এবং হাজার বার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রতি অত্যন্ত কঠোর থাকে— {তারা পেছনে ফেলে গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ, কত শস্যক্ষেত্র ও মনোরম বাসস্থান এবং কত বিলাসোপকরণ যাতে তারা আনন্দ করত! এমনই হয়েছিল এবং আমি এই সবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম অন্য এক সম্প্রদায়কে। আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তারা...}
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
مُنظَرِينَ} .

بل إن كثيراً من هؤلاء السلاطين والأمم كانوا كلاً على ظهر الأرض، وويلاً للنوع الإنساني وعذاباً للأمم الصغيرة والضعيفة، ومنبع الفساد والمرض في جسم المجتمع البشري، يسري منه السم في أعصابه وعروقه، ويتعدى المرض إلى الجسم السليم فكان لا بد من عملية جراحية، وكان قطع هذا الجزء السقيم وإبعاده من الجسم السليم مظهراً كبيراً لربوبية رب العالمين ورحمته، يستوجب الحمد والامتنان من جميع أعضاء الأسرة الإنسانية، بل من جميع أفراد الكون {فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُواْ وَالْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} ، ولكن لم يكن انحطاط المسلمين ووال دولتهم وركود ريحهم- وهم حملة رسالة الأنبياء، وهم للعالم البشري كالعافية للجسم الإنساني- انحطاط شعب أو عنصر أو قومية، فما أهون خطبه وما أخف وقعه، ولكنه انحطاط رسالة هي للمجتمع البشري كالروح، وانهيار دعامة قام عليها نظام الدين والدنيا.

فهل كان انحطاط المسلمين واعتزالهم في الواقع مما يأسف له الإنسان في شرق الأرض وغربها، وبعد قرون مضت على الحادث؟

وهل خسر العالم حقاً- وهو غني بالأمم والشعوب- بانحطاط هذه الأمة شيئاً؟ وفيم كانت خسارته ورزيته؟

وماذا آل إليه أمر الدنيا، وماذا صارت إليه الأمم بعدما تولت قيادها الأمم الأوروبية حتى خلفت المسلمين في النفوذ العالمي، وأسست دولة واسعة على أنقاض الدولة الإسلامية؟

وماذا أثر هذا التحول العظيم في قيادة الأمم وزعامة العالم في الدين والأخلاق والسياسة والحياة العامة وفي مصير الإنسانية؟

وكيف يكون الحال لو نهض العالم الإسلامي من كبوته وصحا من غفوته، وتملك زمام الحياة؟

ذلك كله ما نحاول الإجابة عنه في الصفحات الآتية! …

أبو الحسن علي الحسني
অবকাশপ্রাপ্ত (منظرين)}।

প্রকৃতপক্ষে এই সুলতান ও জাতিগুলোর মধ্যে অনেকেই পৃথিবীর বুকে এক বোঝা স্বরূপ ছিল এবং তারা ছিল মানবজাতির জন্য এক চরম বিপর্যয় ও ক্ষুদ্র ও দুর্বল (ضعيفة) জাতিগুলোর জন্য এক আজাব স্বরূপ। তারা ছিল মানব সমাজের দেহে ফাসাদ ও ব্যাধির উৎস, যেখান থেকে বিষ তার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হতো। সেই ব্যাধি যখন সুস্থ দেহে সংক্রামিত হতে শুরু করল, তখন একটি অস্ত্রোপচার অনিবার্য হয়ে পড়ল। এই রুগ্ন অংশটি কেটে ফেলা এবং সুস্থ দেহ থেকে একে অপসারিত করা ছিল রব্বুল আলামীনের রুবুবিয়্যাত ও রহমতের এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ, যা মানব পরিবারের সকল সদস্যের কাছ থেকে, বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিটি অণুর কাছ থেকে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা দাবি করে— {অতঃপর জালিম সম্প্রদায়ের মূল উৎপাটন করা হলো এবং যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।}। কিন্তু মুসলমানদের পতন, তাদের রাষ্ট্রের বিলুপ্তি এবং তাদের প্রভাবের স্তিমিত হওয়া—অথচ তারা ছিল নবীদের বার্তার বাহক এবং মানব বিশ্বের জন্য তারা ছিল মানবদেহের সুস্থতার ন্যায়—তা কেবল কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী, বংশ বা জাতীয়তার পতন ছিল না; যদি তাই হতো তবে বিষয়টি অত্যন্ত নগণ্য এবং তার প্রভাব হতো অতি সামান্য। বরং এটি ছিল এমন এক জীবনবিধানের পতন যা মানব সমাজের জন্য রূহ স্বরূপ এবং এমন এক স্তম্ভের ধস যার ওপর দ্বীন ও দুনিয়ার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিল।

তাহলে মুসলমানদের পতন এবং প্রকৃতপক্ষে বিশ্বমঞ্চ থেকে তাদের প্রস্থান কি এমন কিছু যা নিয়ে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষ দুঃখ প্রকাশ করবে, বিশেষ করে এই ঘটনার বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পর?

আর এই উম্মতের পতনের ফলে বিশ্ব—যা বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে সমৃদ্ধ—সত্যিই কি কিছু হারিয়েছে? আর তার ক্ষতি ও বিপত্তি আসলে কীসে ছিল?

ইউরোপীয় জাতিসমূহ বিশ্ব নেতৃত্বের ভার গ্রহণের পর পৃথিবীর অবস্থা কী দাঁড়িয়েছে এবং জাতিগুলোর পরিণতি কী হয়েছে? এই ইউরোপীয়রাই বিশ্বজুড়ে প্রভাব-প্রতিপত্তির ক্ষেত্রে মুসলমানদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং ইসলামী রাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষের ওপর এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

জাতিসমূহের নেতৃত্ব ও বিশ্ব পরিচালনায় এই বিশাল পরিবর্তন দ্বীন, নৈতিকতা, রাজনীতি, জনজীবন এবং মানবতার ভাগ্যে কী প্রভাব ফেলেছে?

আর কেমন হতো যদি মুসলিম বিশ্ব তাদের হোঁচট কাটিয়ে জেগে উঠত এবং তাদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা কাটিয়ে জীবনের লাগাম পুনরায় ধারণ করত?

পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা এই সবকিছুরই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব! ...

আবু হাসান আলী আল-হাসানী
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين؟

 

لم يكن انحطاط المسلمين أولاً، وفشلهم وانعزالهم عن قيادة الأمم بعد، وانسحابهم من ميدان الحياة والعمل أخيراً، حادثاً من نوع ما وقع وتكرر في التاريخ من انحطاط الشعوب والأمم، وانقراض الحكومات والدول، وانكسار الملوك والفاتحين، وانهزام الغزاة المنتصرين، وتقلص ظل المدنيات. والجزر السياسي بعد المد. فما أكثر ما وقع مثل هذا في تاريخ كل أمة. وما أكثر أمثاله في تاريخ الإنسان العام! ولكن هذا الحادث كان غريباً لا مثيل له في التاريخ. مع أن في التاريخ مثلاً وأمثلة لكل حادث غريب.

لم يكن هذا الحادث يخص العرب وحدهم، ولا يخص الشعوب والأمم التي دانت بالإسلام، فضلاً عن الأسر والبيوتات التي خسرت دولتها وبلادها، بل هي مأساة إنسانية عامة لم يشهد التاريخ أتعس منها ولا أعم منها. فلو علم العالم حقيقة هذه الكارثة، ولو عرف مقدار خسارته ورزيته، انكشف عنه غطاء العصبية، لاتخذ هذا اليوم النحس - الذي وقعت فيه يوم عزاء ورثاء، ونياحة وبكاء، ولتبادلت شعوب العالم وأممه التعازي، ولبست الأمة ثوب الحداد، ولكن ذلك لم يتم في يوم، وإنما وقع تدريجياً في عقود من السنين، والعالم لم يحسب إلى الآن الحساب الصحيح لهذا الحادث، ولم يقدره قدره، وليس عنده المقياس الصحيح لشقائه وحرمانه.

إن العالم لم يخسر شيئاً بانقراض دولة ملكت حيناً من الدهر. وفتحت مجموعاً من البلاد والأقاليم. واستعبدت طوائف من البشر. ونعمت وترفهت.

 

نظرة في الأديان والأمم:

أصبحت الديانات العظمى فريسة العابثين والمتلاعبين، ولعبة المحرفين والمنافقين، حتى فقدت روحها وشكلها، فلو بعث أصحابها الأولون لم يعرفوها، وأصبحت مهود الحضارة

الثقافة والحكم والسياسة مسرح الفوضى والانحلال والاختلال وسوء النظام، وعسف الحكام، وشغلت بنفسها، لا تحمل للعالم رسالة ولا للأمم دعوة، وأفلست في معنوياتها، ونضب معين حياتها، لا تملك مشرعاً صافياً من الدين السماوي، ولا نظاماً ثابتاً من الحكم البشري.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

 

মুসলমানদের পতন, শুরুতে জাতিসমূহের নেতৃত্ব থেকে তাদের ব্যর্থতা ও বিচ্ছিন্নতা এবং সবশেষে জীবন ও কর্মক্ষেত্র থেকে তাদের প্রস্থান কেবল ইতিহাসের সাধারণ কোনো ঘটনার মতো ছিল না—যেমনটা বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর পতন, সরকার ও রাষ্ট্রের বিলুপ্তি, রাজা ও বিজয়ীদের পরাজয় কিংবা জয়ী আক্রমণকারীদের বিচ্যুতি এবং সভ্যতার প্রভাব সঙ্কুচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ঘটে থাকে। রাজনীতির উত্থান-পতনের জোয়ার-ভাটায় প্রতিটি জাতির ইতিহাসেই এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। সামগ্রিক মানব ইতিহাসে এর উদাহরণের অভাব নেই। কিন্তু এই ঘটনাটি ছিল এক বিস্ময়কর ও ইতিহাসে নজিরবিহীন বিষয়, যদিও ইতিহাসে প্রতিটি অদ্ভুত ঘটনারই কোনো না কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।

এই ঘটনাটি কেবল আরবদের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল না, কিংবা কেবল সেই সকল জাতি ও গোষ্ঠীর জন্যও ছিল না যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল; এমনকি সেই সকল পরিবার ও রাজবংশের ক্ষতিতেও সীমাবদ্ধ ছিল না যারা তাদের রাষ্ট্র ও দেশ হারিয়েছিল। বরং এটি ছিল একটি সামগ্রিক মানবিক ট্র্যাজেডি, যার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ও ব্যাপক কোনো ট্র্যাজেডি ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেনি। বিশ্ব যদি এই বিপর্যয়ের প্রকৃত রূপ অনুধাবন করতে পারতো এবং নিজের ক্ষতি ও বিপদের পরিমাণ উপলব্ধি করতে পারতো, তবে তার ওপর থেকে গোঁড়ামির পর্দা উন্মোচিত হতো। সে ক্ষেত্রে এই অশুভ দিনটিকে—যেদিন এই পতন ঘটেছিল—শোক, বিলাপ ও ক্রন্দনের দিন হিসেবে গ্রহণ করা হতো। বিশ্বের সকল জাতি ও গোষ্ঠী একে অপরকে সমবেদনা জানাতো এবং মানবজাতি শোকের পোশাক পরিধান করতো। তবে এটি একদিনে ঘটেনি, বরং কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে সংঘটিত হয়েছে। আর বিশ্ব আজ অবধি এই ঘটনার সঠিক হিসাব কষতে পারেনি, এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজের দুর্ভাগ্য ও বঞ্চনা পরিমাপ করার সঠিক মানদণ্ডও তার কাছে নেই।

পৃথিবী এমন কোনো রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে বিশেষ কিছুই হারায় না যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজত্ব করেছে, অনেক দেশ ও অঞ্চল জয় করেছে, মানুষকে দাসে পরিণত করেছে এবং বিলাসিতায় মগ্ন থেকেছে।

 

ধর্মসমূহ ও জাতিসমূহের ওপর এক দৃষ্টিপাত:

প্রধান ধর্মগুলো খেলোতামাশাকারী ও বিকৃতকারীদের শিকারে পরিণত হয়েছিল এবং বিভ্রান্ত ও মুনাফিকদের (المنافقين) খেলার পুতুলে রূপ নিয়েছিল; এমনকি সেগুলো তাদের প্রাণসত্তা ও অবয়ব হারিয়ে ফেলেছিল। যদি এই ধর্মগুলোর আদি প্রবর্তকরা পুনরায় ফিরে আসতেন, তবে তারা এগুলোকে চিনতে পারতেন না। সভ্যতা, সংস্কৃতি, শাসন ও রাজনীতির সূতিকাগারগুলো অরাজকতা, অবক্ষয়, বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা এবং শাসকদের নির্যাতনের রঙ্গমঞ্চে পরিণত হয়েছিল। এগুলো নিজেদের নিয়েই এত ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল যে, বিশ্বের জন্য কোনো বাণী কিংবা জাতিসমূহের জন্য কোনো দাওয়াত বহন করতে পারছিল না। তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পেয়েছিল এবং জীবনের প্রাণশক্তি শুকিয়ে গিয়েছিল। তাদের কাছে না ছিল আসমানি ধর্মের কোনো স্বচ্ছ ঝরনাধারা, আর না ছিল মানবীয় শাসনের কোনো সুসংহত ব্যবস্থা।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
المسيحية في القرن السادس المسيحي:

لم تكن المسيحية في يوم من الأيام من التفصيل والوضوح ومعالجة مسائل الإنسان، بحيث تقوم عليه حضارة، أو تسير في ضوئه دولة، ولكن كان فيها أثارة من تعليم المسيح، وعليها مسحة من دين التوحيد البسيط، فجاء بولس فطمس نورها، وطعّمها بخرافات الجاهلية التي انتقل منها، والوثنية التي نشأ عليها، وقضى قسطنطين على البقية الباقية، حتى أصبحت النصرانية مزيجاً من الخرافات اليونانية والوثنية الرومية والأفلاطونية المصرية والرهبانية، اضمحلت في جنبها تعليم المسيح البسيطة كما تتلاشى القطرة من اليم، وعادت نسيجاً خشبياً من معتقدات وتقاليد لا تغذي الروح، ولا تمد العقل ولا تشعل العاطفة، ولا تحل معضلات الحياة، ولا تنير السبيل، بل أصبحت بزيادات المحرفين، وتأويل الجاهلين، تحول بين الإنسان والعلم والفكر، وأصبحت على تعاقب العصور ديانة وثنية، يقول (Sale) مترجم القرآن إلى الانكليزية عن نصارى القرن السادس الميلادي: ((وأسرف المسيحيون في عبادة القديسين والصور المسيحية حتى فاقوا في ذلك الكاثوليك في هذا العصر (1)) .

 

الحرب الأهلية الدينية في الدول الرومية:

ثم ثارت حول الديانة وفي صميمها مجادلات كلامية، وسفسطة من الجدل العقيم شغلت فكر الأمة، واستهلكت ذكاءها، وابتلعت فدرتها العملية، وتحولت في كثير من الأحيان حروباً دامية وقتلاً وتدميراً وتعذيباً، وإغارة وانتهاباً واغتيالاً، وحولت المدارس والكنائس والبيوت معسكرات دينية متنافسة وأقحمت البلاد في حرب أهلية، وكان أشد مظاهر هذا الخلاف الديني ما كان بين نصارى الشام والدولة الرومية، وبين نصارى مصر،

أو بين (الملكانية) و (المنوفيسية) بلفظ أصح، فكان شعار الملكانية عقيدة ازدواج طبيعة المسيح، وكان المنوفيسيون يعتقدون أن للسيد المسيح طبيعة واحدة، وهي الإلهية التي تلاشت فيها طبيعة المسيح البشرية،

--------------------------------------------

(1) Sale's Translation، p. 62 (1896)
ষষ্ঠ খ্রিষ্টীয় শতাব্দীতে খ্রিষ্টধর্ম:

খ্রিষ্টধর্ম কখনো বিশদ বিবরণ, স্বচ্ছতা এবং মানুষের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ে ছিল না যে, তার ওপর ভিত্তি করে কোনো সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে অথবা তার আলোকে কোনো রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে। তবে তাতে মসীহ (আ.)-এর শিক্ষার কিছু অবশিষ্টাংশ এবং সরল একত্ববাদী ধর্মের একটি ছাপ বিদ্যমান ছিল। অতঃপর পল (Paul) এসে তার সেই নূরকে নিভিয়ে দিলেন এবং এতে সেই জাহেলি কুসংস্কারসমূহ যুক্ত করলেন যা থেকে তিনি এসেছিলেন এবং সেই পৌত্তলিকতাকে মিশিয়ে দিলেন যার ওপর তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। আর কন্সটানটাইন অবশিষ্ট চিহ্নটুকুও মিটিয়ে দিলেন, যার ফলে খ্রিষ্টধর্ম গ্রিক কুসংস্কার, রোমান পৌত্তলিকতা, মিসরীয় নব্য-প্লেটোবাদ এবং বৈরাগ্যবাদের এক সংমিশ্রণে পরিণত হলো। যার পাশে মসীহ (আ.)-এর সরল শিক্ষাগুলো এমনভাবে বিলীন হয়ে গিয়েছিল যেমনটি সমুদ্রের বুকে একটি বিন্দুর অস্তিত্ব হারিয়ে যায়। এটি এমন এক প্রাণহীন বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের কাঠামোতে পরিণত হলো যা আত্মাকে পুষ্ট করে না, বুদ্ধিবৃত্তিকে শাণিত করে না, আবেগকেও জাগ্রত করে না, জীবনের সমস্যাবলি সমাধান করে না এবং পথকেও আলোকিত করে না। বরং বিকৃতকারীদের সংযোজন এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যার কারণে এটি মানুষ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের এবং চিন্তাশীলতার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। এবং যুগপরম্পরায় এটি একটি পৌত্তলিক ধর্মে রূপ নিল। কুরআনের ইংরেজি অনুবাদক জর্জ সেল (Sale) ষষ্ঠ খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে বলেন: "খ্রিষ্টানরা সাধু-সন্ন্যাসী ও মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে এত বাড়াবাড়ি শুরু করেছিল যে, তারা বর্তমান যুগের ক্যাথলিকদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিল (১)।"

 

রোমান সাম্রাজ্যে ধর্মীয় গৃহযুদ্ধ:

অতঃপর ধর্মের মর্মমূল নিয়ে এমন তাত্ত্বিক বিতর্ক ও অসার কুতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল যা জাতির চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, তাদের মেধা নিঃশেষ করে দিল এবং তাদের কর্মক্ষমতাকে গ্রাস করল। অনেক ক্ষেত্রেই তা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসলীলা, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও গুপ্তহত্যায় রূপ নিল। এবং এটি বিদ্যালয়, গির্জা ও ঘরবাড়িগুলোকে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মীয় শিবিরে পরিণত করল এবং দেশটিকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল। এই ধর্মীয় বিরোধের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ছিল সিরিয়ার খ্রিষ্টান ও রোমান রাষ্ট্রের মধ্যে এবং মিসরের খ্রিষ্টানদের মধ্যে,

অথবা আরও সঠিক পরিভাষায় বললে 'মেলকাইট' (Melkite) ও 'মনোফিসাইট' (Monophysite)-দের মধ্যে। মেলকাইটদের মূল লক্ষ্য ছিল মসীহের দ্বৈত প্রকৃতির আকিদা। আর মনোফিসাইটরা বিশ্বাস করত যে, মসীহ (আ.)-এর প্রকৃতি কেবল একটিই, আর তা হলো ঐশ্বরিক প্রকৃতি, যার মধ্যে তাঁর মানবীয় প্রকৃতি বিলীন হয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) সেলের অনুবাদ (Sale's Translation), পৃ. ৬২ (১৮৯৬)
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كقطرة من الخل تقع في بحر عميق لا قرار له. وقد اشتد هذا الخلاف بين الحزبين في القرنين السادس والسابع، حتى صار كأنه حرب عوان بين دينين متنافسين، أو كأنه خلاف بين اليهود والنصارى، كل طائفة تقول للأخرى: إنها ليست على شيء. يقول الدكتور ألفرد. ج. بتلر:

((إن ذينك القرنين كانا عهد نضال متصل بين المصريين والرومانيين، نضال يذكيه اختلاف في الجنس واختلاف في الدين، وكان اختلاف الدين أشد من اختلاف الجنس، إذ كانت علة العلل في ذلك الوقت تلك بين الملكانية والمنوفيسية، وكانت الطائفة الأولى- كما يدل عليها اسمها- حزب مذهب الدولة الإمبراطورية وحزب الملك والبلاد، وكانت تعتقد العقيدة السنية الموروثة، وهي ازدواج طبيعة المسيح، على حين أن الطائفة الأخرى وهي حزب القبط المنوفيسيين -أهل مصر- كانت تستبشع تلك العقيدة وتستفظعها، وتحاربها حرباً عنيفة في حماسة هوجاء يصعب علينا أن نتصورها أو نعرف كنهها في قوم يعقلون، بلة يؤمنون بالإنجيل (1)) .

وحاول الإمبراطور هرقل (610-641) بعد انتصاره على الفرس سنة 638 جمع مذاهب الدولة المتصارعة وتوحيدها، وأراد التوفيق، وتقررت صورة التوفيق، أن يمتنع الناس عن الخوض في الكلام عن كنه طبيعة السيد المسيح، وعما إذا كانت له صفة واحدة، أم صفتان ولكن عليهم بأن يشهدوا بأن الله له إرادة واحدة أو قضاء واحد. وفي صدر عام 631 حصل وفاق على ذلك وصار المذهب المنوثيلي مذهباً رسمياً للدولة، ومن تضمهم من أتباع الكنيسة المسيحية، وصمم هرقل على إظهار المذهب الجديد على ما عداه من المذاهب المختلفة له متوسلاً إلى ذلك بكل الوسائل، ولكن القبط نابذوه العداء وتبرأوا من هذه البدعة والتحريف، وصمدوا له واستماتوا في سبيل عقيدتهم القديمة، وحاول الإمبراطور مرة أخرى توحيد المذاهب وحسم الخلاف، فاقتنع بأن يقر الناس بأن الله له إرادة واحدة، وأما المسألة

الأخرى،

--------------------------------------------

(1) فتح العرب لمصر، تعريب محمد فريد أبو حديد، ص 37 - 38.
যেন এক ফোঁটা সিরকা, যা এক গভীর অতল সমুদ্রে নিপতিত হয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে এই দুই দলের মধ্যকার বিরোধ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে, তা দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মের মধ্যে এক প্রচণ্ড যুদ্ধের রূপ নিয়েছিল, অথবা যেন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার কোনো বিবাদ, যেখানে প্রতিটি দল অন্যটিকে বলত যে তারা কোনো সঠিক ভিত্তির ওপর নেই। ড. আলফ্রেড জে. বাটলার বলেন:

((নিশ্চয়ই ওই দুই শতাব্দী ছিল মিসরীয় ও রোমানদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের এক যুগ; এমন এক সংগ্রাম যা জাতিগত ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে প্রবল হয়ে উঠেছিল। আর ধর্মীয় পার্থক্য ছিল জাতিগত পার্থক্যের চেয়েও প্রকট। কেননা সে সময়ে সকল সমস্যার প্রধানতম কারণ ছিল মেলকাইট ও মনোফিসাইটদের মধ্যকার বিবাদ। প্রথম দলটি—যেমনটি তাদের নাম থেকেই বোঝা যায়—ছিল সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় মাযহাবের পক্ষাবলম্বী এবং রাজা ও দেশের অনুসারী দল। তারা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সুন্নাহসম্মত (السنية) আকিদাহ পোষণ করত, যা ছিল মসীহের দ্বৈত প্রকৃতিবাদে বিশ্বাস। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটি—যারা ছিল কিবতি মনোফিসাইট অর্থাৎ মিসরের অধিবাসী—তারা এই আকিদাহকে অত্যন্ত জঘন্য ও ভয়াবহ মনে করত। তারা এর বিরুদ্ধে এক প্রচণ্ড উন্মাদনা ও আবেগ নিয়ে যুদ্ধ চালিয়েছিল, যা কোনো বিবেকসম্পন্ন জাতির ক্ষেত্রে কল্পনা করা বা এর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা আমাদের জন্য কঠিন, এমনকি যারা ইঞ্জিলের ওপর বিশ্বাসী (১) তাদের ক্ষেত্রেও।))

সম্রাট হিরাক্লিয়াস (৬১০-৬৪১), ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে পারস্যদের ওপর বিজয় লাভের পর, সাম্রাজ্যের বিবদমান মাযহাবগুলোকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি একটি সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন এবং সেই সমঝোতার রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছিল এভাবে যে, মানুষ মসীহ আলাইহিস সালামের প্রকৃতির স্বরূপ এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য কি একটি ছিল নাকি দুটি—এ বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে। তবে তাদের এই সাক্ষ্য দিতে হবে যে, আল্লাহর ইচ্ছা একটি বা তাঁর ফয়সালা একটিই। ৬৩১ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে এ বিষয়ে একটি ঐকমত্য অর্জিত হয় এবং মনোথেলিজম সাম্রাজ্য ও এর অন্তর্ভুক্ত খ্রিস্টীয় গির্জার অনুসারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় মাযহাবে পরিণত হয়। হিরাক্লিয়াস সব উপায় অবলম্বন করে অন্যান্য সকল ভিন্ন মতাদর্শের বিপরীতে এই নতুন মাযহাবকে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প করেন। কিন্তু কিবতিরা তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং এই বিদআত (بدعة) ও বিকৃতি (تحريف) থেকে নিজেদের বিযুক্ত ঘোষণা করে। তারা নিজেদের প্রাচীন আকিদাহর ওপর অটল থাকে এবং এর জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। সম্রাট আবারও মাযহাবগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে সচেষ্ট হন। তিনি এই মর্মে আশ্বস্ত হন যে, মানুষ আল্লাহ তাআলার একক ইচ্ছার বিষয়টি স্বীকার করে নেবে। আর অন্য বিষয়টি

সম্পর্কে,

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল আরব লি-মিসর, অনুবাদ: মুহাম্মদ ফরিদ আবু হাদিদ, পৃষ্ঠা ৩৭ - ৩৮।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهي نفاذ تلك الإرادة بالفعل، فأرجأ القول فيه، ومنع الناس أن يخوضوا في مناظراتها، وجعل ذلك رسالة رسمية، وبعث بها إلى جميع جهات العالم الشرقي، ولكن الرسالة لم تهدئ العاصفة في مصر ووقع اضطهاد فظيع على يد قيرس في مصر واستمر عشر سنين، وقع خلالها ما تقشعر منه الجلود، فرجال كانوا يعذبون ثم يقتلون إغراقاً، وتوقد المشاعل وتسلط نارها على الأشقياء حتى يسيل الدهن من الجانبين على الأرض، ويوضع السجين في كيس مملوء من الرمل ويرمى به في البحر، إلى غير ذلك من الفظائع.

 

الانحلال الاجتماعي والقلق الاقتصادي:

بلغ الانحلال الاجتماعي غايته في الدولة الرومية والشرقية، وعلى كثرة مصائب الرعية ازدادت الإتاوات، وتضاعفت الضرائب. حتى أصبح أهل البلاد يتذمرون من الحكومات. ويمقتونها مقتاً شديداً. ويفضلون عليها كل حكومة أجنبية، وكانت الإيجارات والمصادرات ضغثاً على إبّالة، وقد حدثت لذلك اضطرابات عظيمة وثورات. وقد هلك عام 532 في الاضطراب ثلاثون ألف شخص في العاصمة (1) . وعلى شدة الحاجة إلى الاقتصاد في الحياة أسرف الناس فيه، ووصلوا في التبذل إلى أحط الدركات. وأصبح الهم الوحيد اكتساب المال من أي وجه، ثم إنفاقه في التظرف والترف وإرضاء الشهوات.

ذابت أسس الفضيلة. وانهارت دعائم الأخلاق. حتى صار الناس يفضلون العزوبة على الحياة الزوجية ليقضوا مآربهم في حرية (2) . وكان العدل كما يقول (سيل) يباع ويساوم مثل السلع. وكانت الرشوة والخيانة تنالان من الأمة التشجيع (3) . يقول (جيبون) : ((وفي آخر القرن السادس وصلت الدولة في ترديها

--------------------------------------------

(1) Encyclopeadia Britanica.See Justin

(2) The History of Decline and Fall of the Roman Empire by Edward Gippon v. 3. p.

(3) Sale's Translation، p.72 (1896)
এটি ছিল মূলত সেই ইচ্ছারই বাস্তব রূপায়ন। তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেন এবং সাধারণ মানুষকে এ সংক্রান্ত বিতর্কে লিপ্ত হতে নিষেধ করলেন। তিনি বিষয়টিকে একটি রাষ্ট্রীয় ফরমান বা দাপ্তরিক বার্তায় রূপান্তর করলেন এবং তা প্রাচ্যের সমস্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু সেই বার্তা মিসরের অস্থিরতা প্রশমিত করতে পারেনি। বরং মিসরে কাইরাস-এর হাতে ভয়াবহ নিপীড়ন শুরু হয় যা দশ বছরকাল স্থায়ী ছিল। এই সময়ে এমন সব লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছিল যা শুনলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। পুরুষদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারা হতো। মশাল জ্বালিয়ে দুর্ভাগা লোকদের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হতো, যতক্ষণ না তাদের দুই পাশ দিয়ে গলে যাওয়া চর্বি মাটিতে পড়ত। বন্দীদের বালুভর্তি বস্তায় ভরে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো। এ ছাড়াও আরও অনেক নৃশংসতা চালানো হয়েছিল।

 

সামাজিক অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা:

রোমান সাম্রাজ্য ও প্রাচ্য দেশগুলোতে সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছিল। প্রজাসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজকীয় কর ও খাজনার বোঝাও দ্বিগুণ করা হয়েছিল। যার ফলে দেশবাসী সরকারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের চরম ঘৃণা করতে শুরু করে। তারা নিজেদের সরকারের পরিবর্তে যেকোনো বিদেশি সরকারকে শ্রেয় মনে করতে লাগল। জবরদস্তিমূলক খাজনা আদায় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর ফলে বড় ধরনের গোলযোগ ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। ৫৩২ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী শহরে দাঙ্গায় ত্রিশ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় (১)। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মানুষ অপচয় ও বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেয় এবং চারিত্রিক স্খলনের নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যে কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য, আর তা ব্যয় করা হতো আভিজাত্য প্রদর্শন, ভোগবিলাস এবং কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার পেছনে।

নৈতিকতা ও সচ্চরিত্রের ভিত্তি ধসে পড়েছিল এবং শিষ্টাচারের স্তম্ভগুলো বিলীন হয়ে গিয়েছিল। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল যে, মানুষ তাদের কুপ্রবৃত্তিগুলো স্বাধীনভাবে চরিতার্থ করার জন্য বৈবাহিক জীবনের চেয়ে অবিবাহিত থাকাকেই বেশি পছন্দ করত (২)। সেল (Sale)-এর ভাষ্যমতে, ন্যায়বিচার তখন পণ্যের মতো কেনাবেচা ও দরদাম হতো। সমাজে ঘুষ ও বিশ্বাসঘাতকতাকে উৎসাহিত করা হতো (৩)। গীবন (Gibbon) বলেন: "ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে সাম্রাজ্যের পতন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছিল..."

--------------------------------------------

(১) এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। জাস্টিন দ্রষ্টব্য।

(২) দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দ্য রোমান এম্পায়ার, এডওয়ার্ড গীবন, ৩য় খণ্ড।

(৩) সেলের অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৭২ (১৮৯৬)
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وهبوطها إلى آخر نقطة (1) . وكان مثلها كمثل دوحة عظيمة كانت أمم العالم في حين من الأحيان تستظل بظلها الوارف. ولم يبق منها إلا الجذع الذي لا يزداد كل يوم إلا ذبولاً (2)) . ويقول مؤلفو (تاريخ العالم للمؤرخين) :

((إن المدن العظيمة التي أسرع إليها الخراب ولم تسترد مجدها وزهرتها أبداً، تشهد بما أصيبت به الدولة البيزنطية في هذا العهد من الانحطاط الهائل الذي كانت نتيجته المغالاة في المكوس والضرائب والانحطاط في التجارة، وإهمال الزراعة، وتناقص العمران في البلدان (3)) .

 

مصر في عصر الدولة الرومية ديانة واقتصاداً:

أما مصر ذات النيل السعيد، والخصب المزيد، فكانت في القرن السابع من أشقى بلاد الله بالنصرانية، وبالدولة الرومية معاً، أما الأولى فلم تستفد منها إلا خلافات ومناظرات في طبيعة المسيح، وفي فلسفة ما وراء الطبيعة والفلسفة الألهية. وقد ظهرت في القرن السابع في شر مظاهرها، وأنهكت قوى الأمة العقلية، وأضعفت قواها العملية، وأما الأخرى فلم تلق منها إلا اضطهاداً دينياً فظيعاً واستبداداً سياسياً شنيعاً تجرعت في سبيلهما من المرائر في عشر سنين ما ذاقته أوربا في عهد التفتيش الديني في عقود من السنين، فألهاها ذلك عن كل وطر من أوطار الحياة، وعن كل مهمة شريفة من مهمات الدين والروح، فلا هي تتمتع بالحرية السياسية رغم كونها مستعمرة رومية، ولا هي تتمتع بالحرية الدينية والعقلية، رغم كونها نصرانية.

ويقول الدكتور غوستاف لوبون في كتابه (حضارة العرب) :

--------------------------------------------

(1) The History of Decline and Fall of the Roman Empire V. Y. P. 13.

(2) The History of Decline and Fall of the Roman Empire V. Y. P. 13.

(3) Historian's History of the World V. VII p. 175.
এবং এর পতন ঘটেছিল সর্বশেষ বিন্দু পর্যন্ত (১)। আর এর উদাহরণ ছিল একটি বিশাল মহীরুহের মতো, যার সুশীতল ছায়াতলে কোনো এক সময় বিশ্বের জাতিসমূহ আশ্রয় গ্রহণ করত। কিন্তু এখন তার মূল কাণ্ড ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা প্রতিদিন কেবল শুকিয়েই যাচ্ছে (২)। এবং ‘ঐতিহাসিকদের বিশ্ব ইতিহাস’ (Historians' History of the World)-এর রচয়িতাগণ বলেন:

“সেই মহান নগরীগুলো, যেগুলোতে দ্রুত ধ্বংস নেমে এসেছিল এবং যেগুলো কখনও তাদের গৌরব ও জৌলুস ফিরে পায়নি, সেগুলো এই যুগে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সেই ভয়াবহ অধঃপতনের সাক্ষ্য দেয়, যার ফলশ্রুতি ছিল শুল্ক ও করের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি, বাণিজ্যের বিপর্যয়, কৃষির অবহেলা এবং দেশজুড়ে জনবসতি ও নগরায়নের ক্রমহ্রাসমান অবস্থা (৩)।”

 

রোমান শাসনামলে মিশরের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অবস্থা:

আর সৌভাগ্যময় নীল নদ ও প্রাচুর্যময় উর্বরতার দেশ মিশর সপ্তম শতাব্দীতে খ্রিস্টধর্ম এবং রোমান সাম্রাজ্য—উভয় দিক থেকেই আল্লাহর ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথমত, খ্রিস্টধর্ম থেকে তারা যিশুর প্রকৃতি এবং অধিবিদ্যা ও ধর্মতাত্ত্বিক দর্শন সংক্রান্ত মতবিরোধ ও বিতর্ক ছাড়া আর কিছুই লাভ করেনি। সপ্তম শতাব্দীতে এটি তার নিকৃষ্টতম রূপে প্রকাশ পেয়েছিল, যা জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে চূর্ণ করে দিয়েছিল এবং তাদের কর্মক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, রোমান সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে তারা কেবল ভয়াবহ ধর্মীয় নিপীড়ন এবং জঘন্য রাজনৈতিক স্বৈরাচারই প্রত্যক্ষ করেছে। এর ফলে দশ বছরে তারা যে তিক্ততার স্বাদ আস্বাদন করেছিল, ইউরোপকে ইনকুইজিশন বা ধর্মীয় বিচারালয়ের যুগে কয়েক দশক ধরে সেই তিক্ততা ভোগ করতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতি তাদের জীবনের যাবতীয় মৌলিক প্রয়োজন এবং ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিটি মহৎ উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ করে রেখেছিল। ফলে রোমান উপনিবেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছিল না, তেমনি খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল।

ডক্টর গুস্তাভ লো বোন তার ‘আরব সভ্যতা’ গ্রন্থে বলেন:

--------------------------------------------

(1) The History of Decline and Fall of the Roman Empire V. Y. P. 13.

(2) The History of Decline and Fall of the Roman Empire V. Y. P. 13.

(3) Historian's History of the World V. VII p. 175.
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
((ولقد أكرهت مصر على انتحال النصرانية. ولكنها هبطت بذلك إلى حضيض الانحطاط الذي لم ينتشلها منه سوى الفتح العربي، وكان البؤس والشقاء مما كانت تعانيه مصر التي كانت مسرحاً للاختلافات الدينية الكثيرة في ذلك الزمن. وكان أهل مصر يقتتلون ويتلاعنون بفعل تلك الاختلافات، وكانت مصر التي أكلتها الانقسامات الدينية، وأنهكها استبداد الحكام تحقد أشد الحقد على سادتها الروم. وتنتظر ساعة تحريرها من براثن قياصرة القسطنطينية الظالمين (1)) .

ويقول الدكتور الفرد. ج. بتلر في كتابه (فتح العرب لمصر) :

((فالحق أن أمور الدين في القرن السابع كانت في مصر أكبر خطراً عند الناس من أمور السياسة، فلم تكن أمور الحكم هي التي قامت عليها الأحزاب، واختلف بعضها عن بعض فيها، بل كان كل الخلاف على أمور العقائد والديانات، ولم يكن نظر الناس إلى الدين أنه المعين يستمد منه الناس ما يعينهم على العمل الصالح، بل كان الدين في نظرهم هو الاعتقاد المجرد في أصول معينة.

((فكان اختلاف الناس ومناظراتهم العنيفة كلها على خيالات صورية من فروق دقيقة بين المعتقدات، وكانوا يخاطرون بحياتهم في سبيل أمور لا قيمة لها، وفي سبيل فروق في أصول الدين وفي فلسفة ما وراء الطبيعة يدق فهمها، ويشق لإدراكها (2)) .

هذا، وقد اتخذها الروم شاة حلوباً يريدون أن يستنزفوا مواردها، ويمتصوا دمها، يقول ألفرد:

((إن الروم كانوا يجبون من مصر جزية على النفوس وضرائب أخرى كثيرة العدد..مما لاشك فيه أن ضرائب الروم كانت فوق الطاقة، وكانت تجري بين الناس على غير عدل (3))

--------------------------------------------

(1) حضارة العرب، تعريب عادل زعيتر، الفصل الرابع ((العرب في مصر صفحة 336.

(2) فتح العرب لمصر، ص 47.

(3) المصدر السابق.
((মিশরকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু এর ফলে দেশটি এমন এক চরম অবনতির অতল গহ্বরে পতিত হয়েছিল, যা থেকে আরব বিজয় ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। সেই সময়ে মিশর ছিল বহু ধর্মীয় মতভেদের এক লীলাক্ষেত্র, যা দেশটির জন্য সীমাহীন দুর্দশা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মিশরের অধিবাসীরা এসব মতভেদের কারণে একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো এবং পরস্পরকে অভিশাপ দিত। ধর্মীয় বিভাজনে জর্জরিত এবং শাসকদের স্বৈরশাসনে ক্লান্ত মিশর তার রোমান প্রভুদের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করত। তারা কনস্টান্টিনোপলের অত্যাচারী সম্রাটদের নখর থেকে মুক্তির মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিল (১))।

ডক্টর আলফ্রেড জে. বাটলার তার 'ফাতহুল আরব লি-মিসর' গ্রন্থে বলেন:

((প্রকৃতপক্ষে সপ্তম শতাব্দীতে মিশরে মানুষের কাছে রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে ধর্মীয় বিষয়গুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক শাসনের ভিত্তিতে দলগুলো গঠিত হয়নি বা তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়নি; বরং যাবতীয় বিরোধ ছিল আকিদাহ (العقيدة) এবং ধর্মীয় বিশ্বাস সংক্রান্ত। মানুষের দৃষ্টিতে ধর্ম এমন কোনো উৎস ছিল না যেখান থেকে তারা নেক আমল করার পাথেয় সংগ্রহ করবে; বরং তাদের কাছে ধর্ম ছিল কতগুলো নির্দিষ্ট মূলনীতির (أصول) প্রতি কেবল এক নিছক বিশ্বাস।

((মানুষের পারস্পরিক মতভেদ এবং তাদের উগ্র বিতর্কগুলো ছিল মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোর মধ্যকার অতি সূক্ষ্ম পার্থক্যের কাল্পনিক রূপের ওপর ভিত্তি করে। তারা এমন সব মূল্যহীন বিষয়ের জন্য এবং দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) ও অধিবিদ্যার এমন সব সূক্ষ্ম পার্থক্যের জন্য নিজেদের জীবন বাজি ধরত, যা অনুধাবন করা ও বোঝা ছিল অত্যন্ত দুরূহ (২))।

তাছাড়া, রোমানরা মিশরকে একটি দুগ্ধবতী গাভী হিসেবে গ্রহণ করেছিল যেখান থেকে তারা তার সকল সম্পদ নিংড়ে নিতে এবং তার রক্ত শোষণ করতে চেয়েছিল। আলফ্রেড বলেন:

((নিশ্চয়ই রোমানরা মিশরের জনগণের কাছ থেকে মাথাপিছু জিজিয়াহ (جزية) এবং আরও অনেক ধরনের কর আদায় করত... এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রোমানদের ধার্যকৃত কর ছিল সাধ্যের অতীত এবং তা মানুষের মাঝে বেইনসাফী ও অন্যায়ভাবে পরিচালিত হতো (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাদারাতুল আরব, আদিল জুয়াইতির ভাষান্তর, চতুর্থ অধ্যায় (মিশরে আরবগণ), পৃষ্ঠা ৩৩৬।

(২) ফাতহুল আরব লি-মিসর, পৃষ্ঠা ৪৭।

(৩) প্রাগুক্ত।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ويقول مؤلفو (تاريخ العالم للمؤرخين) :

((إن مصر كانت تضيف إلى مالية الدولة البيزنطية مجموعاً كبيراً من حاصلها ومنتجاتها، وكانت طبقات الفلاحة المصرية - مع حرمانها من كل قوة سياسية ومن كل نفوذ - مرغمة على أداء الخرج للدولة الرومية ككراء الأرض فضلاً عن الضرائب، وكانت ثروة مصر في هذا العهد إلى الانتقاص والانحطاط (1)) .

وهكذا اجتمع لمصر من الاضطهاد الديني، والاستبداد السياسي والاستغلال الاقتصادي ما شغلها بنفسها، وكدر عليها صفو حياتها، وألهاها عن كل مكرمة.

الحبشة:

أما جارتها الحبشة فكانت على المذهب (المونوفيسي) كذلك، وكانت مع ذلك تعبد أوثاناً كثيرة استعارت بعضها من الهمجية، ولم يكن التوحيد إلا ضرباً راقياً من الوثنية خلعت عليها لباساً من علم ومصطلحات نصرانية، ولم تكن في الدين بذات روح، ولا في الدنيا بذات طموح، وقد قضى مجمع (نيقية) أن ليس لها استقلال بأمورها الدينية، وإنما هي تابعة للكرسي الإسكندري.

 

الأمم الأوروبية الشمالية الغربية:

أما الأمم الأوروبية المتوغلة في الشمال والغرب فكانت تتسكع في ظلام الجهل المطبق، والأمية الفاشية، والحروب الدامية، لم ينبثق فيها فجر الحضارة والعلم بعد، ولم تظهر على مسرحها الأندلسي لتؤدي رسالتها في العلم والمدنية، ولم تصهرها الحوادث، وكانت بمعزل جادة قافلة الحضارة الإنسانية بعيدة عنها، لا تعرف عن العالم ولا يعرف العالم المتمدن عنها إلا قليلاً، ولم تكن - مما يجري في الشرق والغرب مما يغير وجه التاريخ - في عير ولا نفير، وكانت بين نصرانية وليدة، ووثنية شائبة، ولم تكن بذات رسالة في الدين، ولا بذات راية في السياسة.

--------------------------------------------

(1) Historian's History of the World ، V. VII p. 173.
‘ঐতিহাসিকদের বিশ্ব ইতিহাস’ (Historian's History of the World)-এর রচয়িতাগণ বলেন:

“নিশ্চয়ই মিসর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজকোষে তার ফসল ও উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর একটি বিশাল অংশ প্রদান করত। মিসরীয় কৃষক সমাজ—যাদের কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা প্রভাব ছিল না—তাদেরকে কর প্রদানের পাশাপাশি ভূমির খাজনা হিসেবে রোমান সাম্রাজ্যকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো। এই যুগে মিসরের সম্পদ ক্রমাগত হ্রাস ও অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছিল (১)।”

এভাবে মিসরের ভাগ্যে ধর্মীয় নিপীড়ন, রাজনৈতিক স্বৈরাচার এবং অর্থনৈতিক শোষণের এমন এক সমাহার ঘটেছিল, যা তাকে নিজের দুরাবস্থায় নিমগ্ন করে রেখেছিল, তার জীবনের স্বস্তি বিনষ্ট করেছিল এবং তাকে সকল প্রকার মহত্ত্ব থেকে বিমুখ করে দিয়েছিল।

হাবশা (আবিসিনিয়া):

তার প্রতিবেশী দেশ হাবশাও একইভাবে ‘মনোফিসিট’ মতবাদের অনুসারী ছিল। তা সত্ত্বেও তারা এমন অনেক মূর্তিপূজা করত যা তারা বর্বরতা থেকে গ্রহণ করেছিল। সেখানে একত্ববাদ ছিল মূর্তিপূজারই একটি মার্জিত রূপ মাত্র, যার ওপর খ্রিস্টীয় বিদ্যা ও পরিভাষার প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। ধর্মীয় ক্ষেত্রে সেখানে কোনো আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি ছিল না এবং পার্থিব ক্ষেত্রেও কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। ‘নিকিয়া কাউন্সিল’ (Council of Nicaea) সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ধর্মীয় বিষয়ে হাবশার কোনো স্বাধীনতা থাকবে না, বরং তা আলেকজান্দ্রিয়ার ধর্মীয় পর্ষদের অনুগত থাকবে।

 

উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় জাতিসমূহ:

উত্তর ও পশ্চিমের গহীন অঞ্চলে বসবাসকারী ইউরোপীয় জাতিগুলো ঘোর অজ্ঞতা, ব্যাপক নিরক্ষরতা এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তাদের মাঝে তখনো সভ্যতা ও জ্ঞানের ঊষালগ্ন উপস্থিত হয়নি। আন্দালুসীয় মঞ্চে জ্ঞান ও সভ্যতার ঝাণ্ডা নিয়ে তখনো তাদের আবির্ভাব ঘটেনি। কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ তাদের তখনো সুসংহত করেনি এবং তারা মানব সভ্যতার মূল ধারা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও দূরে অবস্থান করছিল। তারা বহির্বিশ্ব সম্পর্কে তেমন কিছুই জানত না এবং সভ্য বিশ্বও তাদের সম্পর্কে সামান্যই অবগত ছিল। পূর্ব ও পশ্চিমে ইতিহাস সৃষ্টিকারী কোনো ঘটনাপ্রবাহেই তাদের কোনো সংশ্রব বা গুরুত্ব ছিল না। তারা ছিল নবজাতক খ্রিস্টধর্ম এবং মিশ্র মূর্তিপূজার এক সন্ধিক্ষণে। ধর্মের ক্ষেত্রে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা ছিল না এবং রাজনীতির ময়দানেও তাদের কোনো শক্তিশালী পতাকা ছিল না।

--------------------------------------------

(1) Historian's History of the World ، V. VII p. 173.
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
يقول هـ. ج. ويلز:

((ولم تكن في أوربا الغربية في ذلك العهد أمارات الوحدة والنظام (1)) .

ويقول (Robert Briffault) :

((لقد أطبق على أوربا ليل حالك من القرن الخامس إلى القرن العاشر، وكان هذا الليل يزداد ظلاماً وسواداً. قد كانت همجية ذلك العهد أشد هولاً وأفظع من همجية العهد القديم، لأنها كانت أشبه بجثة حضارة كبيرة قد تعفنت، وقد انطمست معالم هذه الحضارة وقضي عليها بالزوال، وقد كانت الأقطار الكبيرة التي ازدهرت فيها

هذه الحضارة وبلغت أوجها في الماضي، كإيطاليا وفرنسا، فريسة الدمار والفوضى والخراب (2)) .

 

اليهود:

وكانت في أوربا وآسيا وإفريقيا أمة هي أغنى أمم الأرض مادة في الدين، وأقربها فهماً لمصطلحاته ومعانيه، أولئك هم اليهود، ولكن لم يكونوا عاملاً من عوامل الحضارة والسياسة أو الدين يؤثر في غيرهم، بل قُضي عليهم من قرون طويلة أن يتحكم فيهم غيرهم، وأن يكونوا عرضة للاضطهاد والاستبداد، والنفي والجلاء، والعذاب والبلاء، وقد أورثهم تاريخهم الخاص وما تفردوا به بين أمم الأرض من العبودية الطويلة والاضطهاد الفظيع والكبرياء القومية، والإدلال بالنسب، والجشع وشهوة المال وتعاطي الربا، أورثهم كل ذلك نفسية غريبة لم توجد في أمة وانفردوا بخصائص خلقية كانت لهم شعاراً على تعاقب الإعصار والأجيال، منها الخنوع عند الضعف، والبطش وسوء السيرة عند الغلبة، والختل والنفاق في عامة الأحوال،

--------------------------------------------

(1) A Short History of the World.H. G. Wels

(2) The Making of Humanity، Robert Briffault P. 164.
এইচ. জি. ওয়েলস বলেন:

((সেই যুগে পশ্চিম ইউরোপে ঐক্য ও শৃঙ্খলার কোনো লক্ষণাবলী বিদ্যমান ছিল না (১))।

রবার্ট ব্রিফল্ট (Robert Briffault) বলেন:

((পঞ্চম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের ওপর এক নিবিড় অন্ধকার রজনী ছেয়ে ছিল এবং এই অন্ধকার ক্রমাগত ঘনীভূত হচ্ছিল। সেই যুগের বর্বরতা প্রাচীন যুগের বর্বরতার চেয়েও ছিল অধিকতর ভয়াবহ ও শোচনীয়; কারণ এটি ছিল মূলত একটি পচে যাওয়া বিশাল সভ্যতার মরদেহের ন্যায়। এই সভ্যতার চিহ্নসমূহ মুছে গিয়েছিল এবং এটি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। ইতালি ও ফ্রান্সের মতো যে বৃহৎ ভূখণ্ডগুলোতে এই সভ্যতা অতীতে বিকশিত হয়েছিল এবং উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিল, সেগুলো তখন ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার শিকারে পরিণত হয়েছিল (২))।

 

ইহুদি সম্প্রদায়:

ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় এমন এক জাতি বিদ্যমান ছিল যারা ধর্মীয় উপাদানের দিক থেকে পৃথিবীর সকল জাতির চেয়ে সমৃদ্ধ এবং ধর্মের পরিভাষা ও মর্মার্থ অনুধাবনে তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিল; তারা হলো ইহুদি। কিন্তু তারা সভ্যতা, রাজনীতি বা ধর্মের এমন কোনো প্রভাবশালী শক্তি ছিল না যা অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে। বরং দীর্ঘ শতাব্দী ধরে তাদের জন্য এটাই নির্ধারিত ছিল যে, অন্য কেউ তাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে এবং তারা নিপীড়ন, স্বৈরাচার, নির্বাসন, দেশান্তর এবং যাতনা ও পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তাদের নিজস্ব ইতিহাস এবং পৃথিবীর অন্যান্য জাতির মধ্যে তাদের দীর্ঘকালীন দাসত্ব, ভয়াবহ নিপীড়ন, জাতীয় অহমিকা, বংশীয় আভিজাত্যের দম্ভ, লালসা, অর্থলিপ্সা ও সুদের কারবার—এসবই তাদের মাঝে এক বিচিত্র মনস্তত্ত্বের জন্ম দিয়েছিল যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। যুগের পর যুগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এমন কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়ে উঠেছিল যা তাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে দুর্বল অবস্থায় হীনম্মন্যতা ও আনুগত্য প্রকাশ, আর বিজয়ী অবস্থায় কঠোরতা ও অসদাচরণ অবলম্বন করা এবং সর্বাবস্থায় প্রতারণা ও কপটতা (نفاق) প্রদর্শন করা।

--------------------------------------------

(1) A Short History of the World.H. G. Wels

(2) The Making of Humanity، Robert Briffault P. 164.
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
والقسوة والأثرة وأكل أموال الناس بالباطل، والصد عن سبيل الله. وقد وصفهم القرآن الكريم وصفاً دقيقاً عميقاً يصور ما كانوا عليه في القرنين السادس والسابع من تدهور خلقي، وانحطاط نفسي، وفساد اجتماعي، عزلوا بذلك عن إمامة الأمم وقيادة العالم.

 

بين اليهود والمسيحيين:

وقد تجدد في أوائل القرن السابع من الحوادث ما بغضهم إلى المسيحيين، وبغض المسيحيين إليهم وشوه سمعتهم، ففي السنة الأخيرة من حكم فوكاس (610 م) أوقع اليهود بالمسيحيين في أنطاكية، فأرسل الإمبراطور قائده " أبنوسوس" ليقضي على ثورتهم، فذهب وأنفذ عمله بقسوة نادرة، فقتل الناس جميعاً، قتلاً بالسيف، وشنقاً وإغراقاً وتعذيباً، ورمياً للوحوش الكاسرة.

وكان ذلك بين اليهود والنصارى مرة بعد مرة. قال المقريزي في كتاب الخطط: ((وفي أيام فوقا ملك الروم، بعث كسرى ملك فارس جيوشه إلى بلاد الشام ومصر فخربوا كنائس القدس وفلسطين وعامة بلاد الشام، وقتلوا النصارى بأجمعهم وأتوا إلى مصر في طلبهم، وقتلوا منهم أمة كبيرة، وسبوا منهم سبياً لا يدخل تحت حصر وساعدهم اليهود في محاربة النصارى وتخريب كنائسهم. وأقبلوا نحو الفرس من طبرية وجبل الجليل، وقرية الناصرية صور، وبلاد القدس، فنالوا من النصارى كل منال، وأعظموا النكاية فيهم، وخربوا لهم كنيستين وأحرقوا أماكنهم، وأخذوا قطعة من عود الصليب، وأسروا بطرك القدس وكثيراً من أصحابه (1)) .

إلى أن قال بعد أن ذكر فتح الفرس لمصر:

((فثارت اليهود في أثناء ذلك بمدينة صور وأرسلوا بقيتهم في بلادهم وتواعدوا على الإيقاع بالنصارى وقتلهم، فكانت بينهم حرب اجتمع فيها من

--------------------------------------------

(1) كتاب الخطط المقريزية، ج4 ص 392.
নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ এবং আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করা। পবিত্র কুরআন তাদের একটি সুক্ষ্ম ও গভীর বর্ণনা দিয়েছে, যা ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে তাদের নৈতিক অধঃপতন, মানসিক অবক্ষয় এবং সামাজিক দুর্নীতির চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এর ফলে তারা জাতিসমূহের নেতৃত্ব ও বিশ্ব পরিচালনার যোগ্যতা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

 

ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে:

সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে এমন কিছু ঘটনা পুনরায় ঘটেছিল যা তাদের খ্রিস্টানদের কাছে অপ্রিয় করে তোলে এবং খ্রিস্টানদেরও তাদের কাছে অপ্রিয় করে তোলে এবং তাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। সম্রাট ফোকাসের (৬১০ খ্রিস্টাব্দ) শাসনের শেষ বছরে, ইহুদিরা আন্তাকিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণ চালায়। সম্রাট তার সেনাপতি "আবনোসোস"কে তাদের বিদ্রোহ দমন করতে পাঠান। তিনি গিয়ে বিরল নিষ্ঠুরতার সাথে তা সম্পাদন করেন; তিনি তলোয়ার দিয়ে হত্যা, ফাঁসি, পানিতে ডুবিয়ে মারা, নির্যাতন এবং হিংস্র পশুর মুখে ফেলে দিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেন।

ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বারবার এই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। আল-মাকরিজি তার 'খিতাত' গ্রন্থে বলেন: "রোমান সম্রাট ফোকাসের আমলে পারস্য সম্রাট খসরু তার সেনাবাহিনী সিরিয়া ও মিশরে প্রেরণ করেন। তারা জেরুজালেম, ফিলিস্তিন এবং সমগ্র সিরিয়ার গির্জাগুলো ধ্বংস করে এবং সমস্ত খ্রিস্টানদের হত্যা করে। তারা তাদের সন্ধানে মিশরে আসে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক খ্রিস্টানকে হত্যা করে এবং অগণিত মানুষকে বন্দি করে। ইহুদিরা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাদের গির্জা ধ্বংসে পারস্যদের সাহায্য করেছিল। তারা তাবারিয়া, জাবাল আল-জালিল, নাসরিয়া গ্রাম, সোর এবং জেরুজালেম অঞ্চল থেকে পারস্যদের দিকে অগ্রসর হয়। তারা খ্রিস্টানদের ওপর চরম আক্রমণ চালায়, তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, তাদের দুটি গির্জা ধ্বংস করে, তাদের আবাসস্থল পুড়িয়ে দেয় এবং ক্রুশের কাঠের একটি অংশ নিয়ে যায়। তারা জেরুজালেমের প্যাট্রিয়ার্ক এবং তার অনেক সঙ্গীকে বন্দি করে (১)।"

পারস্যদের মিশর বিজয়ের কথা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন:

"ইতিমধ্যে সোর শহরে ইহুদিরা বিদ্রোহ করে এবং তাদের দেশের অবশিষ্টাংশকে সংবাদ পাঠিয়ে খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণ ও হত্যার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। ফলে তাদের মধ্যে এমন যুদ্ধ শুরু হয় যাতে সমবেত হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) কিতাব আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৯২।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
اليهود نحو عشرين ألفا وهدموا كنائس النصارى خارج صور فقوي النصارى عليهم وكاثروهم فانهزم اليهود هزيمة قبيحة وقتل منهم كثير، وكان هرقل قد ملك الروم بقسطنطينية، وغلب الفرس بحيلة دبرها على كسرى حتى رحل عنهم، ثم سار من قسطنطينية ليمهد ممالك الشام ومصر، ويجدد ما خربها الفرس، فخرج إليه اليهود من طبرية وغيرها، وقدموا له الهدايا الجليلة طلبوا منهم أن يؤمنهم ويحلف لهم على ذلك فأمنهم وحلف لهم، ثم دخل القدس وقد تلقاه النصارى بالأناجيل والصلبان والبخور والشموع المشعلة، فوجد المدينة وكنائسها وقمامتها خراباً، فساءه ذلك وتوجع له، وأعلمه النصارى بما كان من ثورة اليهود مع الفرس وإيقاعهم بالنصارى وتخريبهم الكنائس، وأنهم كانوا أشد نكاية لهم من الفرس وقاموا قياماً كبيراً في قتلهم من آخرهم، وحثوا هرقل على الوقيعة بهم، وحسنوا له ذلك فاحتج عليه بما كان من تأمينه لهم وحلفه، فأفتاه رهبانهم وبطاركتهم وقسيسوهم بأنه لا حرج عليه في قتلهم، فإنهم عملوا حيلة حتى أمنهم من غير أن يعلم بما كان منهم، وأنهم يقومون عنه بكفارة يمينه بأن يلتزموا ويلزموا النصارى بصوم جمعة في كل سنة عنه على ممر الزمان والدهور، فمال إلى

قولهم وأوقع باليهود وقيعة شنعاء أبادهم جميعهم فيها، حتى لم يبق في ممالك الروم بمصر والشام منهم إلا من فر واختفى الخ)) .

وبهذه الروايات يعلم ما وصل إليه الفريقان، اليهود والنصارى، من القسوة والضراوة بالدم الإنساني وتحين الفرص للنكاية في العدو، وعدم مراعاة الحدود في ذلك، وبهذه الأخلاق المنحطة والاستهانة بحياة الإنسان لا يمكن لطائفة أو أمة أن تؤدي رسالة الحق والعدل والسلام وتسعد البشرية في ظلها وتحت حكمها.

 

إيران والحركات الهدامة فيها:

أما فارس التي شاطرت الروم في حكم العالم المتمدن فكانت الحقل القديم لنشاط كبار الهدامين الذين عرفهم العالم، كان أساس الأخلاق متزعزعاً مضطرباً منذ عهد عريق في القدم، ولم تزل المحرمات النسبية التي تواضعت على حرمتها ومقتها طبائع أهل الأقاليم المعتدلة موضع خلاف ونقاش، حتى إن يزدجرد الثاني الذي
ইহুদিরা সংখ্যায় প্রায় বিশ হাজার ছিল এবং তারা সুর শহরের বাইরের খ্রিস্টানদের গির্জাগুলো ধ্বংস করে ফেলেছিল। ফলে খ্রিস্টানরা তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সংখ্যায় তাদের ছাড়িয়ে যায়। এতে ইহুদিরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং তাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যক লোক নিহত হয়। তখন হেরাক্লিয়াস কনস্টান্টিনোপলে রোমানদের সম্রাট ছিলেন। তিনি পারস্য সম্রাট খসরুর বিরুদ্ধে এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে তার ওপর বিজয়ী হন, এমনকি খসরু সেখান থেকে প্রস্থান করতে বাধ্য হন। এরপর তিনি কনস্টান্টিনোপল থেকে সিরিয়া ও মিশরের রাজ্যসমূহ সুসংগঠিত করতে এবং পারস্যবাসীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলো পুনর্নির্মাণ করতে যাত্রা করেন। তখন তিবরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে ইহুদিরা তার নিকট আসে এবং তাকে মূল্যবান উপঢৌকন প্রদান করে। তারা তার নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করে এবং এ ব্যাপারে শপথ করার আবেদন জানায়; ফলে তিনি তাদের নিরাপত্তা দান করেন এবং তাদের অনুকূলে শপথ করেন। এরপর তিনি জেরুজালেমে প্রবেশ করেন, তখন খ্রিস্টানরা ইঞ্জিল, ক্রুশ, ধূপ ও প্রজ্বলিত মোমবাতি নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। তিনি পবিত্র শহর ও এর গির্জাগুলোকে বিধ্বস্ত এবং আবর্জনার স্তূপে পরিণত হতে দেখে অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত হন। খ্রিস্টানরা তাকে পারস্যবাসীদের সাথে ইহুদিদের বিদ্রোহ, খ্রিস্টানদের ওপর তাদের আক্রমণ এবং গির্জা ধ্বংস করার কথা অবগত করে। তারা এও উল্লেখ করে যে, ইহুদিরা পারস্যবাসীদের চেয়েও তাদের জন্য অধিক ক্ষতিকর ছিল এবং তারা খ্রিস্টানদের সমূলে বিনাশ করার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিল। তারা হেরাক্লিয়াসকে ইহুদিদের ওপর আক্রমণ করতে প্ররোচিত করে এবং বিষয়টিকে তার নিকট যুক্তিযুক্ত করে তোলে। তখন তিনি তাদের দেওয়া নিরাপত্তা ও শপথের কথা উল্লেখ করে আপত্তি করেন। এমতাবস্থায় তাদের ধর্মগুরু, বিশপ ও পাদ্রিরা তাকে এই মর্মে ফতোয়া প্রদান করেন যে, তাদের হত্যা করার মধ্যে তার কোনো দোষ বা গুনাহ (حرج) নেই; কারণ তারা প্রকৃত সত্য গোপন করে চাতুর্যের সাথে তার নিকট থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছিল। আর তারা হেরাক্লিয়াসের শপথের কাফফারা আদায়ের দায়িত্ব এই শর্তে গ্রহণ করে যে, তারা এবং সকল খ্রিস্টানরা অনন্তকাল ধরে প্রতি বছর তার পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ রোজা পালন করবে। ফলে তিনি তাদের

কথার প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং ইহুদিদের ওপর এমন এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালান যাতে তাদের সমূলে বিনাশ করেন। এমনকি রোম সাম্রাজ্যের মিশর ও সিরিয়া অঞ্চলে তাদের মধ্যে কেবল তারাই অবশিষ্ট ছিল যারা পালিয়ে আত্মগোপন করেছিল ইত্যাদি))।

এই বর্ণনাগুলোর (روايات) মাধ্যমে জানা যায় যে, ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় দলই মানবিক রক্তপাত এবং শত্রুকে কুপোকাত করার সুযোগ সন্ধানে কতটা নিষ্ঠুরতা ও হিংস্রতায় উপনীত হয়েছিল এবং এ ক্ষেত্রে তারা কোনো প্রকার সীমা রক্ষা করত না। এই ধরনের হীন নৈতিকতা এবং মানুষের জীবনের প্রতি অবজ্ঞা পোষণকারী কোনো গোষ্ঠী বা জাতি কখনোই সত্য, ন্যায় ও শান্তির বাণী প্রচারের দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারে না এবং তাদের ছায়াতলে বা শাসনের অধীনে মানবজাতি সুখী হতে পারে না।

 

ইরান এবং সেখানকার ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসমূহ:

পারস্যের কথা বলতে গেলে, যারা সভ্য বিশ্ব শাসনে রোমানদের অংশীদার ছিল, সেটি ছিল বিশ্বের পরিচিত বড় বড় ধ্বংসাত্মক ব্যক্তিবর্গের তৎপরতার এক প্রাচীন চারণভূমি। অতি প্রাচীনকাল থেকেই সেখানে নৈতিকতার ভিত্তি ছিল নড়বড়ে ও অস্থির। এমনকি নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক—যা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষের সুস্থ প্রকৃতিগতভাবেই নিষিদ্ধ (محرمات) ও ঘৃণ্য হিসেবে স্বীকৃত—সেখানেও তা ছিল বিতর্ক ও আলোচনার বিষয়। এমনকি দ্বিতীয় ইয়াজদগেরদ, যিনি
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
حكم في أواخر القرن الخامس الميلادي تزوج بنته ثم قتلها (1) ، وأن بهرام جوبين الذي تملك في القرن السادس كان متزوجاً بأخته (2)

يقول البروفسور ((أرتهر كرستن سين)) أستاذ الألسنة الشرقية في جامعة كوبنهاجن بالدنمارك المتخصص في تاريخ إيران في كتابه (إيران في عهد الساسانيين) :

((إن المؤرخين المعاصرين للعهد الساساني مثل (جاتهياس) وغيره، يصدقون بوجود عادة زواج الإيرانيين بالمحرمات، ويوجد في تاريخ العهد الساساني أمثلة لهذا الزواج، فقد تزوج بهرام جوبين وتزوج جشتسب قبل أن يتنصر بالمحرمات (3) ، ولم يكن يعد هذا الزواج معصية عند الإيرانيين، بل كان عملاً صالحاً يتقربون به إلى الله، ولعل الرحالة الصيني (هوئن سوئنج) أشار إلى هذا الزواج بقوله: إن الإيرانيين يتزوجون من غير استثناء (4)) .

ظهر "ماني" في القرن الثالث المسيحي، وكان ظهوره رد فعل عنيف غير طبعي ضد النزعة الشهوية السائدة في البلاد، ونتيجة منافسة النور والظلمة الوهمية فدعا إلى حياة العزوبة

لحسم مادة الفساد الشر من العالم، وأعلن أن امتزاج النور بالظلمة شر يجب الخلاص منه فحرَّم النكاح استعجالاً للفناء وانتصاراً للنور على الظلمة بقطع النسل. وقتله بهرام سنة 276م قائلاً إن هذا خرج داعياً إلى تخريب العالم فالواجب أن يبدأ بتخريب نفسه قبل أن يتهيأ له شيء من مراده. ولكن تعاليمه لم تمت بموته بل عاشت إلى ما بعد الفتح الإسلامي.

ثم ثارت روح الطبيعة الفارسية على تعاليم ماني المجحفة، وتقمصت دعوة مزدك الذي ولد 487 م فأعلن أن الناس ولدوا سواء لا فرق بينهم، فينبغي أن يعيشوا سواء لا فرق بينهم، ولما كان المال والنساء مما حرصت النفوس على حفظه

--------------------------------------------

(1) Historian's History of the World V. 8. P. 84.

(2) تاريخ الطبري ج3 ص 138.

(3) إيران في عهد الساسانيين، ترجمة الدكتور محمد إقبال من الفرنسية إلى الأردية ص 439.

(4) ((إيران في عهد الساسانيين)) ص 430
৫ম শতাব্দীর শেষের দিকে জনৈক শাসক শাসন করতেন, যিনি স্বীয় কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করেছিলেন (১)। এছাড়া ষষ্ঠ শতাব্দীতে ক্ষমতাসীন বাহরাম চোবিনও তার বোনকে বিবাহ করেছিলেন (২)।

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষার অধ্যাপক এবং ইরানি ইতিহাস বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আর্থার ক্রিস্টেনসেন তার 'সাসানীয় যুগে ইরান' শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেন:

((সাসানীয় আমলের সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণ যেমন অগাথিয়াস ও অন্যান্যরা ইরানীদের মধ্যে নিষিদ্ধ স্বজনদের (محرمات) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রথার অস্তিত্বকে সত্য বলে স্বীকার করেন। সাসানীয় যুগের ইতিহাসে এ জাতীয় বিবাহের একাধিক দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। বাহরাম চোবিন এবং গুশতাস্প খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পূর্বে নিষিদ্ধ স্বজনদের (محرمات) বিবাহ করেছিলেন (৩)। ইরানীদের নিকট এই ধরনের বিবাহ কোনো পাপাচার (معصية) বলে গণ্য হতো না, বরং এটি একটি নেক আমল (عمل صالح) হিসেবে বিবেচিত হতো যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করত। সম্ভবত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাং এই বিবাহের প্রতি ইঙ্গিত করেই বলেছিলেন: ইরানীরা কোনো বাছবিচার ছাড়াই বিবাহ করে (৪)))।

তৃতীয় খ্রিস্টাব্দে "মানি" এর আবির্ভাব ঘটে। তার এই আবির্ভাব ছিল দেশে বিদ্যমান কামলিপ্সার বিরুদ্ধে এক অস্বাভাবিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া। আলো ও অন্ধকারের কাল্পনিক দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতে তিনি অবিবাহিত ও বৈরাগ্যপূর্ণ জীবনের আহ্বান জানান

যাতে পৃথিবী থেকে অনিষ্টের মূল উৎপাটন করা যায়। তিনি ঘোষণা করেন যে, অন্ধকারের সাথে আলোর সংমিশ্রণ একটি অনিষ্ট যা থেকে মুক্তি পাওয়া অপরিহার্য। ফলে তিনি বংশবিস্তার রোধ করার মাধ্যমে মানবজাতির বিলুপ্তি ত্বরান্বিত করতে এবং অন্ধকারের ওপর আলোর বিজয় নিশ্চিত করতে বিবাহ (نكاح) হারাম (حرام) ঘোষণা করেন। ২৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম তাকে হত্যা করেন এবং বলেন যে, এই ব্যক্তি পৃথিবী ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে আবির্ভূত হয়েছে, তাই তার লক্ষ্য অর্জনের পূর্বেই তাকে ধ্বংস করা আবশ্যক। তবে তার মৃত্যুর পরেও তার শিক্ষাগুলো বিলুপ্ত হয়নি, বরং তা ইসলামী বিজয়ের পরবর্তী সময় পর্যন্ত টিকে ছিল।

পরবর্তীতে মানির এই নিপীড়নমূলক শিক্ষার বিরুদ্ধে পারস্যের প্রকৃতিতে বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং তা মাজদাকের দাওয়াতের রূপ ধারণ করে। ৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী মাজদাক ঘোষণা করেন যে, মানুষ সমানভাবে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সুতরাং তাদের জীবনযাপনও হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। যেহেতু ধন-সম্পদ ও নারী এমন বিষয় যা মানুষ নিজ অধিকারে রাখতে সচেষ্ট থাকে...

--------------------------------------------

(1) Historian's History of the World V. 8. P. 84.

(2) তারিখুত তাবারী, ৩য় খণ্ড, ১৩৮ পৃষ্ঠা।

(3) ইরান ফী আহদিস সাসানিয়্যিন (সাসানীয় যুগে ইরান), ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল কর্তৃক ফরাসি থেকে উর্দুতে অনূদিত, পৃষ্ঠা ৪৩৯।

(4) ইরান ফী আহদিস সাসানিয়্যিন (সাসানীয় যুগে ইরান), পৃষ্ঠা ৪৩০।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
وحراسته كان ذلك عند مزدك أهم ما تجب فيه المساواة والاشتراك.

قال الشهرستاني (1) . ((أحل النساء وأباح الأموال وجعل الناس شركة فيها كاشتراكهم في الماء والنار والكلأ)) . وحظيت هذه الدعوة بموافقة الشبان والأغنياء والمترفين وصادفت من قلوبهم هوى، وسعدت كذلك بحماية البلاط فأخذ قباذ بناصرها ونشط في نشرها وتأييدها حتى انغمست إيران بتأثيرها في الفوضى الخلقية وطغيان الشهوات، قال الطبري: ((افترض السّفلة ذلك واغتنموا وكاتفوا مزدك وأصحابه وشايعوهم فابتلى الناس بهم وقوي أمرهم حتى كانوا يدخلون على الرجل في داره فيغلبونه على منزله ونسائه وأمواله لا يستطيع الامتناع منهم، وحملوا قباذ على تزيين ذلك وتوعدوه بخلعه فلم يلبثوا إلا قليلاً حتى صاروا لا يعرف الرجل ولده ولا المولود أباه ولا يملك شيئاً مما يتسع به (2)) إلى أن قال: ((ولم يزل قباذ من خيار ملوكهم حتى حملة مزدك على ما حمله عليه فانتشرت الأطراف وفسدت الثغور (3)) .

 

تقديس الأكاسرة:

وكانت الأكاسرة ملوك فارس يدَّعون أنه يجري في عروقهم دم إلهي، وكان الفرس إليهم كآلهة ويعتقدون أن في طبيعتهم شيئاً علوياً مقدساً فكانوا يكفرون لهم، وينشدون

الأناشيد بألوهيتهم ويرونهم فوق القانون وفوق الانتقاد وفوق البشر، لا يجري اسمهم على لسانهم، ولا يجلس أحد في مجلسهم، ويعتقدون أن لهم حقاً على كل إنسان، وليس لإنسان حق عليهم وأن ما يرضخون لأحد من فضول أموالهم وفتات نعيمهم إنما هو صدقة وتكرم من غير استحقاق، وليس للناس قِبلهم إلا السمع والطاعة، وخصصوا بيتاً معيناً - وهو البيت الكياني

--------------------------------------------

(1) الملل والنحل للشهرستاني ج 1 ص 86.

(2) تاريخ الطبري ج 2 ص 88.

(3) المصدر السابق.
এবং এর সুরক্ষা প্রদান করা মুজদাকের নিকট সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাতে সমতা ও অংশীদারিত্ব থাকা সর্বাপেক্ষা জরুরি।

শাহরাস্তানি (১) বলেন, “তিনি নারীদের হালাল (أحل) সাব্যস্ত করেন এবং সম্পদকে বৈধ ঘোষণা করেন। তিনি এসবে মানুষের অংশীদারিত্ব (شركة) নিশ্চিত করেন, ঠিক যেমন পানি, আগুন ও চারণভূমিতে তাদের অংশীদারিত্ব থাকে।” এই দাওয়াত যুবক, ধনী ও বিলাসপ্রিয়দের সমর্থন লাভ করে এবং তাদের হৃদয়ের কুপ্রবৃত্তির সাথে মিলে যায়। এটি রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করে, ফলে কুবায একে সমর্থন দেন এবং এর প্রচারে সক্রিয় হন, যতক্ষণ না ইরান এর প্রভাবে নৈতিক বিশৃঙ্খলা ও কামলালসার আধিক্যে নিমজ্জিত হয়। তাবারী বলেন: “নিম্নশ্রেণির লোকেরা একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এবং তারা মুজদাক ও তার সঙ্গীদের সাথে জোটবদ্ধ হয় ও তাদের অনুসরণ করে। ফলে মানুষ তাদের দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় নিপতিত হয় এবং তাদের শক্তি এত বৃদ্ধি পায় যে, তারা মানুষের ঘরে প্রবেশ করে তার বাড়ি, নারী ও সম্পদের ওপর চড়াও হতো এবং কেউ তাদের বাধা দিতে পারত না। তারা কুবাযকে এই পরিস্থিতিকে সুশোভিত করতে বাধ্য করে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেয়। অল্পকাল পরেই অবস্থা এমন হয় যে, কোনো ব্যক্তি তার সন্তানকে চিনত না এবং কোনো নবজাতক তার পিতাকে চিনত না; আর মানুষের নিকট সচ্ছলতার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কিছুরই মালিকানা অবশিষ্ট ছিল না (২)।” তিনি আরও বলেন: “কুবায তাদের শ্রেষ্ঠ রাজাদের একজন ছিলেন যতক্ষণ না মুজদাক তাকে এসব পথে পরিচালিত করেন, যার ফলে সাম্রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলসমূহ অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত (فسدت) হয় (৩)।”

 

কিসরাদের পবিত্র জ্ঞান করা:

পারস্যের সম্রাট কিসরাগণ দাবি করতেন যে, তাদের শিরায় ঐশ্বরিক রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। পারস্যের জনগণ তাদের উপাস্যের মতো গণ্য করত এবং বিশ্বাস করত যে তাদের প্রকৃতির মাঝে কোনো উচ্চতর ও পবিত্র সত্তা বিদ্যমান। ফলে তারা তাদের সামনে সিজদাবনত হতো এবং তাদের ঈশ্বরত্ব (ألوهية) নিয়ে সংগীত গাইত। তারা তাদের আইন, সমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের ঊর্ধ্বে মনে করত। তাদের নাম মানুষের মুখে উচ্চারিত হতো না এবং তাদের মজলিসে কেউ বসতে পারত না। তারা বিশ্বাস করত যে, প্রত্যেক মানুষের ওপর তাদের অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাদের ওপর মানুষের কোনো অধিকার নেই। তারা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বা ভোগবিলাসের উচ্ছিষ্ট থেকে কাউকে যা প্রদান করত, তা কেবল তাদের দয়া ও বদান্যতা (صدقة) হিসেবে গণ্য হতো, যা পাওয়ার কোনো অধিকার মানুষের ছিল না। জনগণের দায়িত্ব ছিল কেবল শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة) করা। তারা একটি নির্দিষ্ট বংশকে—অর্থাৎ কিয়ানি রাজবংশকে—এর জন্য নির্ধারিত করেছিল।

--------------------------------------------

(১) শাহরাস্তানি কৃত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৬।

(২) তারিখুত তাবারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৮।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فكانوا يعتقدون أن لأفراده وحدهم الحق أن يلبسوا التاج ويجبوا الخراج، وهذا الحق ينتقل فيهم كابراً عن كابر وأباً عن جد لا ينازعهم ذلك إلا ظالم ولا ينافسهم إلا دعي نذل، فكانوا يدينون بالملك والوراثة في البيت المالك لا يبغون به بدلاً ولا يريدون عنه محيصاً، فإذا لم يجدوا من هذه الأسرة كبيراً ملكوا عليهم طفلاً، وإذا لم يجدوا رجلاً ملكوا عليهم امرأة فقد ملكوا بعد شيرويه ولده أزدشير وهو ابن سبع سنين وملك فرُّخ زاد خسروا ابن كسرى أبرويز وهو طفل، وملكوا بوران بنت كسرى، وملكت كذلك ابنة كسرى ثانية يقال لها أزرمي دخت (1) ولم يخطر ببالهم أن يملكوا عليهم قائداً كبيراً أو رئيساً من رؤسائهم مثل رستم وجابان وغيرهما لأنهم ليسوا من البيت الملكي.

 

التفاوت بين الطبقات:

وكذلك اعتقادهم في الببيوتات الروحية والأشراف من قومهم، فيرونهم فوق العامة في طينتهم وفوق مستوى الناس في عقولهم ونفوسهم. ويعطونهم سلطة لا حد لها، ويخضعون لها خضوعاً كاملاً- يقول البروفسور أرتهرسين مؤلف تاريخ (إيران في عهد الساسانيين) :

((كان المجتمع الإيراني مؤسساً على اعتبار النسب والحِرف، وكان بين طبقات المجتمع هوة واسعة لا يقوم عليها جسر ولا تصل بينها صلة (2) ، وكانت الحكومة تحظر على العامة أن يشتري أحد منهم عقاراً لأمير أو كبير (3) ، وكان من قواعد السياسة الساسانية أن يقنع كل واحد بمركزه الذي منحه نسبه، ولا يستشرف لما فوقه (4) ، ولم يكن لأحد أن يتخذ

حرفة (5) غير الحرفة التي خلقه الله لها (6) ،

--------------------------------------------

(1) راجع تاريخ الطبري ج 2، وتاريخ إيران لمكاريوس.

(2) ((إيران في عهد الساسانيين)) ص 590.

(3) أيضاً ص 420.

(4) أيضاً ص 418.

(5) أيضاً ص 418.

(6) أيضاً ص 422.

তারা বিশ্বাস করত যে, কেবল এই রাজবংশের সদস্যদেরই মুকুট পরিধান করার এবং কর আদায় করার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার তাদের মধ্যে বংশানুক্রমে এবং পিতা থেকে পিতামহে স্থানান্তরিত হতো। কোনো জালেম ব্যতীত কেউ তাদের এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করত না এবং কোনো হীন বংশোদ্ভূত বংশমর্যাদাহীন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করত না। তারা রাজবংশের রাজতন্ত্র ও উত্তরাধিকারের প্রতি অনুগত ছিল, তারা এর কোনো বিকল্প অন্বেষণ করত না এবং তা থেকে বিমুখ হওয়া পছন্দ করত না। যদি তারা এই পরিবারে কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে না পেত, তবে তারা কোনো শিশুকেই নিজেদের রাজা হিসেবে গ্রহণ করত। আর যদি কোনো পুরুষকে না পেত, তবে কোনো নারীকেই তারা শাসক নিযুক্ত করত। তারা শিরোয়ার পর তার পুত্র আরদাশিরকে রাজা বানিয়েছিল, অথচ তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তারা খসরু পারভেজের পুত্র ফাররুখজাদ খসরুকে শিশু থাকা অবস্থায় রাজা করেছিল এবং খসরুর কন্যা বুরানকেও রাজপদে বসিয়েছিল। একইভাবে খসরুর দ্বিতীয় কন্যা আযারমিদুখতকেও (১) তারা রাজমুকুট পরিয়েছিল। তাদের মনে কখনোই রস্তম বা জাবানের মতো কোনো বড় সেনাপতি বা প্রধানকে রাজা বানানোর চিন্তা আসেনি, কারণ তারা রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না।

 

শ্রেণিবিভেদ:

একইভাবে আধ্যাত্মিক পরিবার এবং তাদের কওমের অভিজাতদের সম্পর্কেও তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে উচ্চতর প্রকৃতির এবং সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও অন্তরাত্মার স্তরের ঊর্ধ্বে। তারা তাদের অসীম ক্ষমতা প্রদান করত এবং তাদের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করত। 'সাসানীয় যুগে ইরান' ইতিহাসের লেখক অধ্যাপক আর্থার ক্রিস্টেনসেন বলেন:

((ইরানি সমাজ বংশ এবং পেশার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান ছিল, যার ওপর কোনো সেতু ছিল না এবং যার মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না (২)। সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কোনো আমির বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করা নিষিদ্ধ করেছিল (৩)। সাসানীয় রাজনীতির অন্যতম নীতি ছিল যে, প্রত্যেকে তার বংশগত মর্যাদাপ্রাপ্ত অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকবে এবং তার উপরের পদের আকাঙ্ক্ষা করবে না (৪)। আল্লাহ তাকে যে পেশার জন্য সৃষ্টি করেছেন, তা ব্যতীত অন্য কোনো পেশা (৫) গ্রহণ করার অধিকার কারো ছিল না (৬)।))

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখে তবারি ২য় খণ্ড এবং মাকারিউস রচিত তারিখে ইরান।

(২) 'সাসানীয় যুগে ইরান', পৃষ্ঠা ৫৯০।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪২০।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪১৮।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪১৮।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪২২।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وكان ملوك إيران لا يولون وضيعاً وظيفة من وظائفهم (1) ، وكان العامة كذلك طبقات متميزة بعضها عن بعض تميزاً واضحاً، وكان لكل واحد مركز محدد في المجتمع (2)) .

وكان في هذا التفاوت بين طبقات الأمة امتهان للإنسانية يظهر لك جلياً في مجالس الأمراء والأشراف، حيث يقوم الناس على رؤوس الأمراء كأنهم جماد لا حراك بهم ويجلسون مزجر الكلب، وقد أكبر ذلك على رسول المسلمين وأنكره، ويتبين مما روى الطبري ما وصل إليه الفرس من الاستكانة والخضوع لسادتهم جرياً على عاداتهم، قال:

((عن أبي عثمان النهدي قال لما جاء المغيرة إلى القنطرة فعبرها إلى أهل فارس أجلسوه واستأذنوا رستم في إجازته، ولم يغيروا شيئاً من شارتهم تقوية لتهاونهم، فأقبل المغيرة بن شعبة والقوم في زيهم عليهم التيجان والثياب المنسوجة بالذهب، وبُسطهم على غلوة، ولا يصل إلى صاحبهم حتى يمشي عليها غلوة، وأقبل المغيرة وله أربع ضفائر يمشي حتى جلس معه على سريره ووسادته، فوثبوا عليه فترتروه وأنزلوه ومغثوه، فقال: كانت تبلغنا عنكم الأحلام ولا أرى قوماً أسفه منكم، إنا معشر العرب سواء لا يستعبد بعضنا بعضاً إلا أن يكون محارباً لصاحبه، فظننت أنكم تواسون قومكم كما نتواسى، وكان أحسن من الذي صنعتم أن تخبروني أن بعضكم أرباب بعض، وأن هذا الأمر لا يستقيم فيكم فلا نصنعه، ولم آتكم ولكن دعوتموني. اليوم علمت أن أمركم مضمحل، وأنكم مغلوبون، وأن ملكاً لا يقوم على هذه السيرة ولا على هذه العقول (3)) .

--------------------------------------------

(1) أيضاً ص 422.

(2) ((إيران في عهد الساسانيين)) ص 421.

(3) الطبري ج4 ص 108.
পারস্যের সম্রাটগণ নিচু বংশীয় কোনো ব্যক্তিকে তাদের কোনো রাজকীয় পদে নিযুক্ত করতেন না (১), এবং সাধারণ জনগণও একইভাবে সুষ্পষ্ট ও স্বতন্ত্র স্তরে বিভক্ত ছিল। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারিত ছিল (২)।

জাতির এই বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যকার বৈষম্যের মাঝে মানবতার অবমাননা নিহিত ছিল, যা আমির ও অভিজাতদের মজলিসসমূহে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হতো। সেখানে মানুষ আমিরদের সামনে প্রাণহীন মূর্তির মতো নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত এবং অত্যন্ত হীনভাবে উপবেশন করত। মুসলিমদের দূতের নিকট এই বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত মনে হয়েছিল এবং তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাবারী যা বর্ণনা করেছেন (روى) তা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পারস্যবাসী তাদের প্রথা অনুযায়ী তাদের প্রভুদের সামনে কতটা হীনম্মন্যতা ও আনুগত্য প্রকাশ করত। তিনি বলেন:

((আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: যখন মুগীরা সেতুর নিকট পৌঁছে পারস্যবাসীদের এলাকা পার হলেন, তখন তারা তাকে বসিয়ে রাখল এবং রুস্তমের নিকট তার গমনের অনুমতি চাইল। তারা তাদের জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার কোনো পরিবর্তন করেনি যেন তাদের অবজ্ঞা আরও প্রকট হয়। মুগীরা ইবনে শু'বা এগিয়ে এলেন, তখন পারস্যের আভিজাত্যের পোশাকে তারা সুসজ্জিত ছিল, তাদের মস্তকে ছিল মুকুট এবং পরিধানে ছিল স্বর্ণখচিত বস্ত্র। তাদের গালিচাগুলো এক তীর নিক্ষেপ দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং তাদের অধিপতির নিকট পৌঁছাতে হলে সেই দীর্ঘ গালিচার ওপর দিয়েই হেঁটে যেতে হতো। মুগীরা এগিয়ে এলেন, তার চুলের চারটি বেণী ছিল; তিনি হেঁটে গিয়ে সরাসরি তার সাথে সিংহাসনে ও তাকিয়ায় আসীন হলেন। তখন তারা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, তাকে হেঁচকা টান দিয়ে নিচে নামিয়ে দিল এবং তার সাথে রূঢ় আচরণ করল। তখন তিনি বললেন: তোমাদের প্রজ্ঞা সম্পর্কে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাত, কিন্তু আমি তোমাদের চেয়ে অধিকতর নির্বোধ কোনো জাতি দেখি না। আমরা আরব জাতি একে অপরের সমান; আমাদের কেউ কাউকে দাসে পরিণত করে না, যতক্ষণ না কেউ কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। আমি ভেবেছিলাম যে তোমরা তোমাদের কওমের সাথে সমতার ভিত্তিতে আচরণ করো যেমনটি আমরা করে থাকি। তোমরা যা করেছ তার চেয়ে বরং এটিই উত্তম হতো যদি আমাকে জানাতে যে, তোমাদের মধ্যে একজন অপরজনের প্রভু এবং এই নিয়মটি তোমাদের মাঝে স্বীকৃত, তবে আমরা এরূপ করতাম না। আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে তোমাদের নিকট আসিনি, বরং তোমরাই আমাকে আহ্বান করেছ। আজ আমি জানলাম যে তোমাদের শাসনক্ষমতা ক্ষয়িষ্ণু এবং তোমরা নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হবে। কেননা এমন শিষ্টাচার ও এমন বুদ্ধিবৃত্তির ওপর কোনো রাজত্ব টিকে থাকতে পারে না (৩)।)

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪২২।

(২) সাসানীয় যুগে ইরান, পৃষ্ঠা ৪২১।

(৩) তাবারী, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৮।
(খণ্ড: ১) মাযা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
تمجيد القومية الفارسية:

ثم يبالغون في تمجيد القومية الفارسية ويرون أن لها فضلاً على سائر الأجناس والأمم، وأن الله قد خصها بمواهب ومنح لم يشرك فيها أحداً، وكانوا ينظرون إلى الأمم حولهم نظرة ازدراء وامتهان، ويلقبونها بألقاب فيها الاحتقار والسخرية.

عبادة النار وتأثيرها في الحياة:

كانوا في الزمن القديم يعبدون الله ويسجدون له، ثم جعلوا يمجدون الشمس والقمر والنجوم وأجرام السماء مثل غيرهم من الأوائل، وجاء زرادشت صاحب الديانة الفارسية فيقال: إنه دعا إلى التوحيد وأبطل الأصنام، وقال: إن نور الله يسطع في كل ما يشرق ويلتهب في الكون. وأمر بالاتجاه إلى جهة الشمس والنار وساعة الصلاة لأن النور رمز إلى الإله وأمر بعدم تدنيس العناصر الأربعة وهي: النار والهواء والتراب والماء، وجاء بعده علماء سنوا للزرادشتيين شرائع مختلفة فحرموا عليهم الاشتغال بالأشياء التي تستلزم النار فاقتصروا في أعمالهم على الفلاحة والتجارة، ومن هذا التمجيد للنار واتخاذها قبلة في العبادات تدرج الناس إلى عبادتها حتى صاروا يعبدونها عيناً ويبنون لها هياكل ومعابد، وانقرضت كل عقيدة وديانة غير عبادة النار وجُهلت الحقيقة ونسي التاريخ (1) .

ولما كانت النار لا توحي إلى عبّادها بشريعة ولا ترسل رسولاً، ولا تتدخل في شئون حياتهم ولا تعاقب العصاة والمجرمين أصبحت الديانة عند المجوس عبارة عن طقوس وتقاليد يؤدونها في أمكنة خاصة في ساعات خاصة، أما في خارج المعابد، وفي دورهم ودوائر حكمهم وتصرفهم، وفي السياسة والاجتماع، فكانوا أحراراً يسيرون على هواهم. وما تملي عليهم نفوسهم، أو ما يؤدي إليه تفكيرهم. أو ما توحي به مصالحهم ومنافعهم، شأن المشركين في كل عصر ومصر.

--------------------------------------------

(1) انظر تاريخ إيران تأليف شاهين مكاريوس ص 221 - 224.
পারসিক জাতীয়তাবাদের মহিমা কীর্তন:

অতঃপর তারা পারসিক জাতীয়তাবাদের মহিমা কীর্তনে অতিরঞ্জন করে এবং মনে করে যে, অন্য সকল জাতি ও গোষ্ঠীর ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাদের এমন কিছু প্রতিভা ও অনুগ্রহ বিশেষভাবে দান করেছেন যা অন্য কাউকে দেননি। তারা তাদের চারপাশের জাতিগুলোকে ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখত এবং তাদের এমন সব উপাধিতে ভূষিত করত যাতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও উপহাস প্রকাশ পায়।

অগ্নিপূজা এবং জীবনে এর প্রভাব:

প্রাচীনকালে তারা আল্লাহর ইবাদত করত এবং তাঁর প্রতি সিজদাবনত হতো। অতঃপর তারা প্রাচীনকালের অন্যদের মতো সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং মহাকাশীয় পিণ্ডসমূহের মহিমা কীর্তন করতে শুরু করে। এরপর পারসিক ধর্মের প্রবর্তক জরথুস্ত্রের আবির্ভাব ঘটে। বলা হয় যে, তিনি একত্ববাদ (توحيد)-এর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মূর্তিপূজা বাতিল করেছিলেন। তিনি বলতেন: মহাবিশ্বের যা কিছু উজ্জ্বল ও প্রজ্বলিত, তার সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহর নূর বিকিরিত হয়। তিনি সালাত বা প্রার্থনার সময় সূর্য ও অগ্নির দিকে মুখ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারণ আলো হলো স্রষ্টার প্রতীক। তিনি চারটি উপাদান—অগ্নি, বায়ু, মাটি ও পানি—কলুষিত না করার আদেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পরে এমন কিছু পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটে যারা জরথুস্ত্রবাদীদের জন্য বিভিন্ন বিধান প্রবর্তন করেন। তারা তাদের জন্য অগ্নির সংস্পর্শ প্রয়োজন এমন কাজগুলোতে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ করেন, ফলে তারা কেবল কৃষি ও বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অগ্নির এই মহিমা কীর্তন এবং ইবাদতে একে কিবলা (قبلة) হিসেবে গ্রহণ করার ধারাবাহিকতায় মানুষ কালক্রমে সরাসরি অগ্নির ইবাদত শুরু করে; এমনকি তারা সরাসরি আগুনের পূজা করতে থাকে এবং এর জন্য বিশাল অট্টালিকা ও উপাসনালয় নির্মাণ করে। অগ্নিপূজা ব্যতীত অন্য সকল আকিদা (عقيدة) ও ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যায়, সত্য অজ্ঞাত হয়ে পড়ে এবং ইতিহাস বিস্মৃত হয় (১)।

যেহেতু অগ্নি তার পূজারীদের কাছে কোনো শরিয়ত (شريعة) প্রদান করে না, কোনো রাসুল (رسول) প্রেরণ করে না, তাদের জীবনযাত্রার বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না এবং পাপী ও অপরাধীদের শাস্তি দেয় না, তাই মাজুসিদের নিকট ধর্ম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল, যা তারা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পালন করত। কিন্তু উপাসনালয়ের বাইরে, তাদের ঘরবাড়িতে, শাসনব্যবস্থায়, কাজকর্মে এবং রাজনীতি ও সমাজনীতিতে তারা ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন; তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো চলত। তাদের প্রবৃত্তি যা চাইত, অথবা তাদের চিন্তা যেদিকে ধাবিত করত কিংবা তাদের স্বার্থ ও উপকারের জন্য যা প্রয়োজন মনে হতো, তারা সে অনুযায়ী চলত—যেমনটি সব যুগে ও সব দেশের মুশরিকদের (مشركين) বৈশিষ্ট্য।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারীখে ইরান, শাহীন মাকারিওস বিরচিত, পৃষ্ঠা ২২১ - ২২৪।