(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
الباعث الحثيث إلى اختصار علوم الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: اختصار علوم الحديث
المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774 هـ)
المحقق: أحمد محمد شاكر
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية
عدد الصفحات: 248
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বাঈসুল হাসিস ইলা ইখতিসার উলূমিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: ইখতিসার উলূমিল হাদিস
লেখক: আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আল-বাসরী অতঃপর আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি)
সম্পাদক: আহমদ মুহাম্মদ শাকির
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৮
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
تنبيه على اسم الكتاب--------------------------------------------
গ্রন্থের নাম সম্পর্কে বিশেষ সতর্কবার্তা--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال شيخنا الإمام العلامة، مفتي الإسلام، قدوة العلماء، شيخ المحدثين، الحافظ المفسر، بقية السلف الصالحين، عماد الدين، أبو الفداء إسماعيل بن كثير القرشي الشافعي، إمام أئمة الحديث والتفسير بالشام المحروس، فسح الله للإسلام والمسلمين في أيامه، وبلغه في الدارين قصده ومرامه: الحمد لله، والسلام على عباده الذين اصطفى.
" أما بعد ": فإن علم الحديث النبوي - على قائله أفضل الصلاة والسلام - قد اعتنى بالكلام فيه جماعة من الحفاظ قديماً وحديثاً، كالحاكم والخطيب، ومن قبلهما من الأئمة، ومن بعدهما من حفاظ الأمة.
ولما كان من أهم العلوم وأنفعها أحببت أن أعلق فيه مختصراً نافعاً جامعاً لمقاصد الفوائد، ومانعاً من مشكلات المسائل الفرائد. وكان الكتاب الذي اعتنى بتهذيبه الشيخ الإمام العلامة، أبو عمر بن الصلاح تغمده الله برحمته - من مشاهير المصنفات في ذلك بين الطلبة لهذا الشأن، وربما عُني بحفظه بعض المهرة من الشبان، سلكت وراءه، واحتذيت حذاءه، واختصرت ما بسطه، ونظمت ما فرطه. وقد ذكر من أنواع الحديث خمسة وستين، وتبع في ذلك الحاكم أبا عبد الله الحافظ النيسابوري شيخ المحدثين. وأنا - بعون الله - أذكر جميع ذلك، مع ما أضيف إليه من الفوائد الملتقطة من كتاب الحافظ الكبير أبي بكر البيهقي، المسمى " بالمدخل إلى كتاب السنن ". وقد اختصرته أيضاً نحو من هذا النمط، من غير وكس ولا شطط، والله المستعان، وعليه الاتكال.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের শায়খ, ইমাম, আল্লামা, ইসলামের মুফতি, উলামাদের আদর্শ, হাদিস বিশারদগণের (محدثين) প্রধান, হাফেজ (حافظ), মুফাসসির (مفسর), সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের (سلف صالحين) যোগ্য উত্তরসূরি, দ্বীনের স্তম্ভ, আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন কাসির আল-কুরাশি আশ-শাফিঈ—যিনি সুরক্ষিত সিরিয়ার হাদিস ও তাফসিরের ইমামগণের (أئمة) ইমাম—তিনি বলেছেন (আল্লাহ ইসলামের জন্য ও মুসলিমদের জন্য তাঁর জীবনকে কল্যাণময় করুন এবং উভয় জাহানে তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করুন): সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁর সেই বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যাদের তিনি মনোনীত করেছেন।
"অতঃপর": নিশ্চয়ই নবীজির—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—হাদিস শাস্ত্রের প্রতি প্রাচীন ও আধুনিককালের হাফেজগণের (حفاظ) একটি জামাত অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন; যেমন হাকেম ও খাতিব এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ইমামগণ (أئمة) ও তাঁদের পরবর্তী উম্মাহর হাফেজগণ (حفاظ)।
যেহেতু এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী একটি জ্ঞান, তাই আমি এতে একটি সংক্ষিপ্তসার রচনা করতে চেয়েছি যা হবে উপকারী এবং ইলমের সারকথাগুলোকে ধারণকারী, আর যা দুর্লভ মাসআলাগুলোর জটিলতা নিরসন করবে। শায়খ ইমাম আল্লামা আবু আমর ইবনুল সালাহ (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন) যে কিতাবটি পরিমার্জন করেছেন, সেটি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধ; এমনকি কোনো কোনো দক্ষ যুবক এটি মুখস্থও করে থাকে। আমি তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি, তাঁর নীতি গ্রহণ করেছি এবং তিনি যা বিস্তারিত লিখেছেন আমি তা সংক্ষেপ করেছি এবং তিনি যা বিক্ষিপ্তভাবে রেখেছেন আমি তা বিন্যস্ত করেছি। তিনি হাদিসের পঁয়ষট্টিটি প্রকার (أنواع) উল্লেখ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি হাদিস বিশারদগণের (محدثين) প্রধান হাকেম আবু আব্দুল্লাহ হাফেজ নিশাপুরীর অনুসরণ করেছেন। আমি আল্লাহর সাহায্যে সেই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করব, সাথে বড় হাফেজ (حافظ) আবু বকর আল-বায়হাকির আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত কিছু ফায়দাও যোগ করব। আমি সেটিকেও এই একই পদ্ধতিতে সংক্ষেপ করেছি, যাতে কোনো ঘাটতি বা অতিরঞ্জন নেই। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ذكر تعداد أنواع الحديثصحيح، حسن، ضعيف، مسند، متصل، مرفوع، موقوف، مقطوع، مرسل، منقطع، معضل، مدلَّس، شاذ، منكر، ماله شاهد، زيادة الثقة، الأفراد، المعلَّل، المضطرب، المدْرَج، الموضوع، المقلوب، معرفة من تقبل روايته، معرفة كيفية سماع الحديث وإسماعه، وأنواع التحمل من إجازة وغيرها، معرفة كتابة الحديث وضبطه، كيفية رواية الحديث وشرط أدائه، آداب المحدث، آداب الطالب، معرفة العالي والنازل، المشهور، الغريب، العزيز، غريب الحديث ولغته، المسلسل، ناسخ الحديث ومنسوخه، المصحَّف إسناداً ومتناً، مختلف الحديث، المزيد في الأسانيد، المرسل، معرفة الصحابة، معرفة التابعين، معرفة أكابر الرواة عن الأصاغر، المبج ورواية الأقران، معرفة الإخوة والأخوات، رواية الآباء عن الأبناء، عكسه، من روي عنه اثنان متقدم ومتأخر، من لم يرو عنه إلا واحد، من له أسماء ونعوت متعددة، المفردات من الأسماء، معرفة الأسماء والكنى، من عرف باسمه دون كنيته، معرفة الألقاب، المؤتلف والمختلف، المتفق والمفترق، نوع مركب من اللذين قبله. نوع آخر من ذلك، من نسب إلى غير أبيه، الأنساب التي يختلف ظاهرها وباطنها، معرفة المبهمات، تواريخ الوفيات، معرفة الثقات والضعفاء، من خلط في آخر عمره، الطبقات، معرفة الموالي من العلماء والرواة، معرفة بلدانهم وأوطانهم.
وهذا تنويع الشيخ أبي عمرو وترتيبه رحمه الله، قال: وليس بآخر الممكن في ذلك، فإنه قابل للتنويع إلى ما لا يحصى، إذ لا تنحصر أحوال الرواة وصفاتهم، وأحوال متون الحديث وصفاتها.
হাদিসের প্রকারভেদের সংখ্যার বর্ণনাবিশুদ্ধ (صحيح), উত্তম (حسن), দুর্বল (ضعيف), মুসনাদ (مسند), সংযুক্ত (متصل), মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف), মাকতু (مقطوع), মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), মুদাল (معضل), মুদাল্লাস (مدلس), শায (شاذ), মুনকার (منكر), যার শাহেদ বা সাক্ষী (شاهد) আছে, নির্ভরযোগ্য রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), একক বর্ণনা (الأفراد), ত্রুটিযুক্ত (المعلل), বিপর্যস্ত (المضطرب), অনুপ্রবিষ্ট (المدرج), জাল (الموضوع), উল্টানো বা পরিবর্তিত (المقلوب), যাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য তাদের পরিচিতি, হাদিস শোনা ও শোনানোর পদ্ধতির পরিচিতি, ইজাযাহ (إجازة) ও অন্যান্য হাদিস গ্রহণের প্রকারভেদ, হাদিস লিখন ও তার নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণের (ضبط) পরিচিতি, হাদিস বর্ণনার পদ্ধতি এবং তা আদায়ের (أداء) শর্তাবলি, মুহাদ্দিসের আদব বা শিষ্টাচার, শিক্ষার্থীর আদব বা শিষ্টাচার, উচ্চ সনদ (العالي) এবং নিম্ন সনদের (النازل) পরিচিতি, মশহুর (المشهور), গরিব (الغريب), আযীয (العزيز), হাদিসের অপরিচিত শব্দ (غريب الحديث) ও তার ভাষাতত্ত্ব, মুসালসাল (المسلسل), হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ের জ্ঞান, সনদ ও মতনে শব্দগত পরিবর্তন বা তাসহিফ (المصحف), মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث), সনদে অতিরিক্ত রাবীর সংযুক্তি (المزيد في متصل الأسانيد), মুরসাল (مرسل), সাহাবীদের (الصحابة) পরিচিতি, তাবিঈদের (التابعين) পরিচিতি, ছোটদের থেকে বড় রাবীদের বর্ণনার পরিচিতি, মুদাব্বাজ (المدبج) ও সমসাময়িকদের বর্ণনা, ভাই ও বোনদের পরিচিতি, সন্তানদের থেকে বাবাদের বর্ণনা, এর বিপরীত (অর্থাৎ বাবাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা), যাদের থেকে এমন দুইজন বর্ণনা করেছেন যাদের একজনের মৃত্যু অনেক আগে এবং অন্যজনের অনেক পরে, যাদের থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেছেন, যাদের একাধিক নাম ও গুণবাচক উপাধি রয়েছে, বিরল নামসমূহ (المفردات), নাম ও উপনামের (الكنى) পরিচিতি, যারা উপনামের পরিবর্তে নামেই পরিচিত, উপাধিগুলোর (الألقاب) পরিচিতি, মুতালিফ ও মুখতালিফ (المؤتلف والمختلف), মুত্তাফিক ও মুফতারিক (المتفق والمفترق), পূর্ববর্তী দুই প্রকারের সমন্বিত এক প্রকার, অনুরূপ অন্য এক প্রকার, যারা পিতা ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, এমন বংশীয় সম্পর্ক যার প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ দিক ভিন্ন, অস্পষ্ট নাম বা মুবহামাতের (المبهمات) পরিচিতি, মৃত্যুর তারিখসমূহ, নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও দুর্বল (الضعفاء) রাবীদের পরিচিতি, যারা শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রমের (خلط) শিকার হয়েছেন, রাবীদের স্তর বা তবাকাত (الطبقات), আলেম ও রাবীদের মধ্যে মাওয়ালিদের (الموالي) পরিচিতি, তাদের শহর ও স্বদেশ পরিচিতি।
এটি শায়খ আবু আমর (ইবনে সালাহ)-এর করা শ্রেণিবিন্যাস ও বিন্যাস, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি বলেন: "এই বিষয়ে এটিই শেষ সম্ভবপর সীমা নয়, কারণ একে অগণিত প্রকারে বিভক্ত করা সম্ভব। কেননা বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও গুণাবলী এবং হাদিসের মূল পাঠ বা মতনের অবস্থা ও গুণাবলী সীমাবদ্ধ নয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
" قلت ": وفي هذا كله نظر، بل في بسطه هذه الأنواع إلى هذا العدد نظر. إذ يمكن إدماج بعضها في بعض، وكان أليق مما ذكره.
ثم إنه فرق بين متماثلات منها بعضها عن بعض، وكان اللائق ذكر كل نوع إلى جانب ما يناسبه.
ونحن نرتب ما نذكره على ما هو الأنسب، وربما أدمجنا بعضها في بعض، طلباً للاختصار والمناسبة. وننبه على مناقشات لا بد منها، إن شاء الله تعالى.
النوع الأول
الصحيح
تقسيم الحديث إلى أنواعه صحة وضعفاًقال: اعلم - علمك الله وإياي - أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف.
" قلت ": هذا التقسيم إن كان بالنسبة إلى ما في نفس الأمر، فليس إلا صحيح أو ضعيف، وإن كان بالنسبة إلى إصلاح المحدثين فالحديث ينقسم عندهم إلأى أكثر من ذلك، كما قد ذكره آنفاً هو وغيره أيضاً.
تعريف الحديث الصحيحقال: أما الحديث الصحيح فهو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه، ولا يكون شاذاً ولا معللاً.
ثم أخذ يبين فوائده، وما احترز بها عن المرسل والمنقطع والمعضل
"আমি বলছি": এই সবকিছুর মধ্যেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, বরং এই প্রকারগুলোকে এভাবে সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে বিস্তারিত করায় আপত্তির বিষয় আছে। কেননা এর কতককে অপর কতকের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিল, আর সেটি তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়ে অধিক সংগতিপূর্ণ হতো।
এছাড়া তিনি সদৃশ প্রকারগুলোর মাঝে পার্থক্য করেছেন, অথচ প্রতিটি প্রকারকে তার উপযুক্ত প্রকারের পাশাপাশি উল্লেখ করাই ছিল যথাযথ।
আমরা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তুকে অধিকতর সংগতিপূর্ণ বিন্যাসে সাজাব এবং সংক্ষিপ্ততা ও প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে হয়তো কতককে অপর কতকের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করব। ইনশাআল্লাহ, আমরা এমন কিছু পর্যালোচনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করব যা অপরিহার্য।
প্রথম প্রকার
সহিহ (الصحيح)
হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার ভিত্তিতে প্রকারভেদতিনি বলেন: জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে এবং আমাকে ইলম দান করুন—হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف) এই তিন প্রকারে বিভক্ত।
"আমি বলছি": এই বিভাজন যদি বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে হয়, তবে তা কেবল সহিহ (صحيح) অথবা জইফ (ضعيف) এর মাঝেই সীমাবদ্ধ। আর যদি এটি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষার প্রেক্ষিতে হয়, তবে তাদের নিকট হাদিস এর চেয়েও অধিক প্রকারে বিভক্ত, যা ইতিপূর্বে তিনি এবং অন্যান্যরাও উল্লেখ করেছেন।
সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞাতিনি বলেন: সহিহ (صحيح) হাদিস হলো সেই মুসনাদ (المسند) হাদিস, যার সনদ (إسناد) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন নির্ভরযোগ্য (العدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন নির্ভরযোগ্য (العدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত থাকে এবং তা শায (شاذاً) কিংবা মা’লুল (معللاً) না হয়।
এরপর তিনি এর সংজ্ঞাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর মাধ্যমে মুরসাল (المرسل), মুনকাতি (المنقطع) ও মু’দাল (المعضل) থেকে যা যা বাদ পড়েছে তা বর্ণনা করতে শুরু করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
والشاذ، وما فيه علة قادحة، وما في رواية نوع جرح.
قال: وهذا هو الحديث الذي يُحكم له بالصحة، بلا خلاف بين أهل الحديث. وقد يختلفون في بعض الأحاديث، لاختلافهم في وجود هذه الأوصاف، أو في اشتراط بعضها، كما في المرسل.
" قلت ": فحاصل حد الصحيح: أنه المتصل سنده بنقل العدل الضابط عن مثله، حتى ينتهي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو إلى منتهاه، من صحابي أو من دونه، ولا يكون شاذاً، ولا مردوداً، ولا معللاً بعلة قادحة، وقد يكون مشهوراً أو غريباً.
وهو متفاوت في نظر الحفاظ في محاله، ولهذا أطلق بعضهم أصح الأسانيد على بعضها. فعن أحمد وإسحق: أصحها: الزهري عن سالم عن أبيه. وقال علي بن المديني والفلاس: أصحها محمد بن سيرين عن عبيدة عن علي. وعن يحيى بن معين: أصحها الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود. وعن البخاري، ومالك عن نافع عن ابن عمر. وزاد بعضهم: الشافعي عن مالك، إذ هو
এবং বিরল (شاذ), যাতে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) রয়েছে এবং যার বর্ণনায় কোনো প্রকার সমালোচনা (جرح) আছে।
তিনি বলেন: এটিই সেই হাদিস যা হাদিস বিশারদগণের মাঝে কোনো মতভেদ ছাড়াই বিশুদ্ধতা (صحة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়। তবে তারা কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে মতভেদ করতে পারেন, কারণ এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতির ক্ষেত্রে তাদের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে অথবা এগুলোর কোনো কোনোটি শর্ত হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তারা মতপার্থক্য করেছেন, যেমন মুরসাল (مرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
আমি বলি: বিশুদ্ধ (صحيহ) হাদিসের সংজ্ঞার সারসংক্ষেপ হলো: যার সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل), যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর থেকে বর্ণিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বা সাহাবী অথবা তার পরবর্তী স্তরের যে কোনো পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে; এবং তা বিরল (شاذ), বর্জিত (مردود) কিংবা কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়। এটি প্রসিদ্ধ (مشهور) বা একক (غريب) হতে পারে।
এটি হাফেজদের (حفاظ) দৃষ্টিতে তার প্রেক্ষিত অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। এই কারণেই তাদের কেউ কেউ কিছু সনদকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক থেকে বর্ণিত: তাদের মতে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো: যুহরী, সালেম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে। আলী ইবনুল মাদীনী ও ফাল্লাস বলেন: সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন, উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত: সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো আমাশ, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে। আর ইমাম বুখারী থেকে বর্ণিত: মালিক, নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে। কেউ কেউ এর সাথে যুক্ত করেছেন: শাফেঈ, মালিক থেকে, যেহেতু তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
أجل من روي عنه.
যাঁদের নিকট থেকে বর্ণনা (روي) করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠতম (أجل)।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أول من جمع صحاح الحديث" فائدة ": أول من اعتنى بجمع الصحيح: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، وتلاه صاحبه وتلميذه أبو الحسن مسلم بن الحجاج لنيسابوري. فهما أصح كتب الحديث. والبخاري أرجح، لأنه اشترط في إخراجه الحديث في كتابه هذا: أن يكون الراوي قد عاصر شيخه وثبت عند سماعه منه، ولم يشترط مسلم الثاني، بل اكتفى بمجرد المعاصرة. ومن ههنا ينفصل لك النزاع في ترجيح تصحيح البخاري على مسلم، كما هو قول الجمهور، خلافاً لأبي علي النيسابوري شيخ الحاكم، وطائفة من علماء المغرب.
ثم إن البخاري ومسلماً لم يلتزما بإخراج جميع ما يحكم بصحته من الأحاديث، فإنهما قد صححا أحاديث ليست في كتابيهما، كما ينقل الترمذي وغيره عن البخاري تصحيح أحاديث ليست عنده، بل في السنن وغيرها.
عدد ما في الصحيحين من الحديثقال ابن الصلاح: فجميع ما في البخاري، بالمكرر: سبعة آلاف حديث ومائتان وخمسة وسبعون حديثاً. وبغير المكرر: أربعة آلاف وجميع ما في صحيح مسلم بلا تكرار: نحو أربعة آلاف.
সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলনে অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গ"অনুসরণীয় তথ্য": সহিহ (صحيح) হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যিনি বিশেষ মনোনিবেশ করেছেন তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি। অতঃপর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাঁর সাথী ও ছাত্র আবু আল-হাসান মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি। এই গ্রন্থদ্বয় হাদিসের সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব। এর মধ্যে বুখারি অধিকতর অগ্রগণ্য, কারণ তিনি তাঁর এই গ্রন্থে হাদিস চয়নের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, বর্ণনাকারী (راوي) যেন তাঁর শায়খের সমসাময়িক হন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় জন অর্থাৎ মুসলিম শেষোক্ত শর্তটিারোপ করেননি, বরং তিনি কেবল সমসাময়িক হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আর এখান থেকেই মুসলিমের তুলনায় বুখারির বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) প্রক্রিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের কারণটি আপনার নিকট স্পষ্ট হয়, যা জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের অভিমত; যদিও হাকেমের উস্তাদ আবু আলী আন-নিশাপুরি এবং মাগরিবের একদল আলিম এর ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বুখারি ও মুসলিম বিশুদ্ধ (صحة) বলে বিচার্য সকল হাদিস সংকলন করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেননি। তাঁরা এমন অনেক হাদিসকেও সহিহ (صححا) হিসেবে গণ্য করেছেন যা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে নেই। যেমন ইমাম তিরমিজি ও অন্যান্যগণ ইমাম বুখারি থেকে এমন অনেক হাদিসের বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) বর্ণনা করেছেন যা তাঁর গ্রন্থে নেই, বরং সুনান ও অন্যান্য কিতাবে বিদ্যমান।
সহিহাইন-এ বিদ্যমান হাদিসের সংখ্যাইবনুস সালাহ বলেন: পুনরাবৃত্তিসহ (بالمكرر) বুখারিতে মোট হাদিস সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি। আর পুনরাবৃত্তি ব্যতিরেকে (بغير المكرر) চার হাজার। এবং পুনরাবৃত্তি ব্যতীত সহিহ মুসলিমে মোট হাদিস সংখ্যা প্রায় চার হাজার।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الزيادات على الصحيحينوقد قال الحافظ أبو عبد الله محمد بن يعقوب بن الأخرم: قل ما يفوت البخاري ومسلماً من الأحاديث الصحيحة.
وقد ناقشه ابن الصلاح في ذلك، فإن الحاكم قد استدرك عليهما أحاديث كثيرة وإن كان في بعضها مقال، إلا أنه يصفو له شيء كثير.
" قلت ": في هذا نظر، فإنه يلزمهما بإخراج أحاديث لا تلزمهما، لضعف رواتها عندهما، أو لتعليلهما ذلك والله أعلم.
সহীহাইনের অতিরিক্ত সংযোজনসমূহহাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনুল আখরাম বলেছেন: বুখারি ও মুসলিমের নজর এড়িয়ে যাওয়া সঠিক (صحيح) হাদিসের সংখ্যা অতি সামান্য।
ইবনুস সালাহ এই বিষয়ে তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন; কেননা আল-হাকিম তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী অনেক হাদিস সংযোজন (استدراك) করেছেন, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে সমালোচনা (مقال) রয়েছে, তবুও তাতে অনেক হাদিসই সঠিক হিসেবে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হয়।
“আমি বলছি”: এই বক্তব্যের মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ তিনি (আল-হাকিম) এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করাকে তাঁদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছেন যা তাঁদের নিকট আবশ্যক ছিল না; হয় তাঁদের নিকট বর্ণনাকারীদের (رواة) দুর্বলতার (ضعف) কারণে, অথবা তাঁদের দৃষ্টিতে সেগুলো ত্রুটিযুক্ত (تعليل) সাব্যস্ত হওয়ার কারণে। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقد خرجت كتب كثيرة على الصحيحين، يؤخذ منها زيادات مفيدة، وأسانيد جيدة، كصحيح أبي عوانة، وأبي بكر الإسماعيلي، والبرقاني، أبي نعيم الأصبهاني وغيرهم. وكتب أخر التزم أصحابها صحتها، كابن خزيمة، وابن حيان البستي، وهما خير من المستدرك بكثير، وأنظف أسانيد ومتوناً.
وكذلك يوجد في مسند الإمام أحمد من الأسانيد والمتون شيء كثير مما يوازي كثيراً من أحاديث مسلم، بل والبخاري أيضاً، وليست عندهما، ولا عند أحدهما، بل ولم يخرجه أحد من أصحاب الكتب الأربعة، وهم: أبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجة.
সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর ভিত্তি করে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেখান থেকে অনেক উপকারী অতিরিক্ত বর্ণনা এবং উত্তম সনদ (أسانيد) গ্রহণ করা যায়; যেমন—সহীহ আবু আওয়ানা, আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আল-বারকানি, আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি এবং অন্যান্যদের গ্রন্থ। এছাড়া আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর সংকলকগণ সেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, যেমন—ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি। এই গ্রন্থ দুটি আল-মুসতাদরাক অপেক্ষা অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ এবং এগুলোর সনদ (أسانيد) ও মতন (متون) অধিকতর পরিচ্ছন্ন।
একইভাবে ইমাম আহমদের মুসনাদ-এ এমন অনেক সনদ (أسانيد) ও মতন (متون) রয়েছে যা মুসলিম, এমনকি বুখারির অনেক হাদিসের সমপর্যায়ের, অথচ সেগুলো তাঁদের কিতাবে নেই। এমনকি চার কিতাবের সংকলকগণও—যাঁরা হলেন: আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ—সেগুলো বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وكذلك يوجد في معجمي الطبراني الكبير والأوسط، ومسندي أبي يعلى والبزار، وغير ذلك من المسانيد والمعاجم والفوائد والأجزاء: ما يتمكن المتبحر في هذا الشأن من الحكم بصحة كثير منه، بعد النظر في حال رجاله، وسلامته من التعليل المفسد. ويجوز له الإقدام على ذلك، وإن لم ينص على صحته حافظ قبله، موافقة للشيخ أبي زكريا يحيى النووي، وخلافاً للشيخ أبي عمرو.
অনুরূপভাবে তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর ও আল-মু'জামুল আওসাত, আবু ইয়ালা ও আল-বাজ্জারের মুসনাদ এবং এজাতীয় অন্যান্য মুসনাদ, মু'জাম, ফাওয়াইদ ও আজজা গ্রন্থসমূহে এমন অনেক হাদিস বিদ্যমান রয়েছে, যেগুলোর অনেককে এই শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ব্যক্তি বিশুদ্ধ (صحيح) বলে হুকুম দিতে সক্ষম হন; এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনা করার পর এবং তা নষ্টকারী ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে। আর তার জন্য এ ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া বৈধ, যদিও তার পূর্বে কোনো হাফিজ (حافظ) এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো মত প্রদান না করে থাকেন; এটি শায়খ আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া আন-নববীর অনুকূলে এবং শায়খ আবু আমরের মতের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وقد جمع الشيخ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي في ذلك كتاباً سماه " المختارة " ولم يتم، كان بعض الحفاظ من مشايخنا يرجحه على مستدرك الحاكم. والله أعلم.
وقد تكلم الشيخ أبو عمرو بن الصلاح على الحاكم في مستدركه فقال: وهو أوسع الخطو في شرح الصحيح، متساهل بالقضاء به، فالأولى أن يتوسط في أمره، فما لم نجد فيه تصحيحاً لغيره من لأئمة، فإن لم يكن صحيحاً، فهو حسن يحتج به، إلا أن تظهر فيه علة توجب ضعفه.
" قلت ": في هذا الكتاب أنواع من الحديث كثيرة؛ فيه الصحيح المستدرك، وهو قليل، وفيه صحيح قد خرجه البخاري ومسلم أو أحدهما، لم يعلم به الحاكم. وفيه الحسن والضعيف والموضوع أيضاً، وقد اختصره شيخنا أبو عبد الله الذهبي، وبين هذا كله، وجمع فيه جزءاً كبيراً مما وقع من الموضوعات وذلك يقارب مائة حديث. والله أعلم.
শায়খ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন 'আল-মুখতারা', তবে এটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আমাদের উস্তাদদের মধ্যে কোনো কোনো হাফিজ (حافظ) একে আল-হাকিমের মুস্তাদরাক-এর ওপর প্রাধান্য দিতেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ আল-হাকিম এবং তার মুস্তাদরাক সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: তিনি সহিহ (صحيح) হাদিসের ব্যাখ্যায় অনেক প্রশস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং হাদিসকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী (متساهل)। তাই তার ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়। সুতরাং যে হাদিসটির ব্যাপারে আমরা অন্যান্য ইমামদের পক্ষ থেকে সহিহ (تصحيح) করার প্রমাণ পাই না, সেটি যদি সহিহ (صحيح) না-ও হয়, তবে তা হাসান (حسن) পর্যায়ের এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به), যদি না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করতে বাধ্য করে।
আমি বলি: এই গ্রন্থে অনেক প্রকারের হাদিস রয়েছে। এতে এমন সহিহ (صحيح) হাদিস রয়েছে যা মুস্তাদরাক করা হয়েছে, তবে তার পরিমাণ কম। আবার এতে এমন সহিহ (صحيح) হাদিসও রয়েছে যা বুখারি ও মুসলিম অথবা তাদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আল-হাকিম সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এতে হাসান (حسن), দুর্বল (ضعيف) এবং জাল (موضوع) হাদিসও বিদ্যমান। আমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-জাহাবি গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এই সব বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সেখানে জাল (موضوع) হাদিসসমূহের একটি বড় অংশ একত্রিত করেছেন যার সংখ্যা প্রায় একশ হাদিসের কাছাকাছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
موطأ مالك" تنبيه ": قول الإمام محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله: " لا أعلم كتاباً في العلم أكثر صواباً من كتاب مالك "، إنما قاله قبل البخاري ومسلم. وقد كانت كتب كثيرة مصنفة في ذلك الوقت في السنن، لابن جريح، وابن إسحق - غير السيرة - ولأبي قرة موسى بن طارق الزبيدي، ومصنف عبد الرزاق بن همام، وغير ذلك.
وكان كتاب مالك، وهو " الموطأ "، أجلها وأعظمها نفعاً، وإن كان بعضها أكبر حجماً منه وأكثر أحاديث. وقد طلب المنصور من الإمام مالك أن يجمع
মুয়াত্তা মালিক"বিশেষ দ্রষ্টব্য": ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর উক্তি: "আমি ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে মালিকের কিতাব অপেক্ষা অধিকতর সঠিক (أكثر صواباً) কোনো কিতাব সম্পর্কে জানি না।" মূলত তিনি এ কথাটি বুখারি ও মুসলিম-এর সংকলনের পূর্বে বলেছিলেন। সেই সময়ে সুনান বিষয়ক অনেক কিতাব সংকলিত হয়েছিল, যেমন ইবনে জুরাইজ ও ইবনে ইসহাকের (সীরাত ব্যতীত) কিতাবসমূহ, আবু কুরাহ মুসা বিন তারিক আল-জুবাইদির কিতাব এবং আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মামের মুসান্নাফসহ আরও অন্যান্য কিতাব।
ইমাম মালিকের কিতাব তথা "মুয়াত্তা" ছিল সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও উপকারের দিক থেকে সুমহান, যদিও সেগুলোর মধ্যে কোনোটি আকারে এর চেয়ে বড় এবং হাদিসের সংখ্যায় অধিক ছিল। আল-মানসুর ইমাম মালিকের নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি সংকলন করেন
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الناس على كتابه، فلم يجبه إلى ذلك. وذلك من تمام علمه واتصافه بالإنصاف، وقال: " إن الناس قد جمعوا واطلعوا على أشياء لم نطلع عليها ".
وقد اعتنى الناس بكتابه " الموطأ "، وعلقوا كتباً جمة. ومن أجود ذلك كتابا " التمهيد "، و " الاستذكار "، للشيخ أبي عمر بن عبد البر النمري القرطبي، رحمه الله. هذا مع ما فيه من الأحاديث المتصلة الصحيحة والمرسلة والمنقطعة، والبلاغات اللاتي لا تكاد توجد مسندة إلا على ندور.
إطلاق اسم " الصحيح " على الترمذي والنسائيوكان الحاكم أبو عبد اله والخطيب البغدادي يسميان كتاب الترمذي: " الجامع الصحيح ". وهذا تساهل منهما. فإن فيه أحاديث كثيرة منكرة. وقول الحافظ أبي علي بن السكن، وكذا الخطيب البغدادي في كتاب السنن للنسائي: إنه صحيح، فيه نظر. وإن له شرطاً في كتاب السنن للنسائي: إنه صحيح، فيه نظر. وإن شرطاً في الرجال أشد من شرط مسلم غير مسلَّم. فإن فيه رجالاً مجهولين: إما عيناً أو حالاً، وفيهم المجروح، وفيه أحاديث ضعيفة ومعللة ومنكرة، كما نبهنا عليه في " الأحكام الكبير ".
مسند الإمام أحمدوأما قول الحافظ أبي موسى محمد بن أبي بكر المديني عن مسند الإمام أحمد: إنه صحيح: فقول ضعيف، فإن فيه أحاديث ضعيفة، بل وموضوعة، كأحاديث فضائل مرو، وعسقلان، والبِرث الأحمر عند حمص، وغير ذلك، كما نبه عليه طائفة من الحفاظ.
মানুষজনকে তাঁর কিতাবের ওপর একত্রিত করতে (চেয়েছিলেন), কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি। আর এটি ছিল তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ও ইনসাফপূর্ণ (ন্যায়পরায়ণ) গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেছিলেন: "মানুষ অনেক কিছু সংগ্রহ করেছে এবং এমন সব বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়েছে যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।"
মানুষ তাঁর কিতাব "মুয়াত্তা"-র প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং এর ওপর অনেক গ্রন্থ রচনা করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো শায়খ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর দুটি গ্রন্থ: "আত-তামহীদ" এবং "আল-ইসতিযকার"। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) সহিহ (صحيحة), বিচ্ছিন্ন (مرسلة) ও কর্তিত (منقطعة) হাদিস এবং এমন কিছু 'বালাগাত' (বিবরণ) যা সূত্রযুক্ত (مسندة) অবস্থায় খুব কমই পাওয়া যায়।
তিরমিজি ও নাসাঈ-র ওপর "সহিহ" নাম প্রয়োগ করাহাকেম আবু আব্দুল্লাহ এবং খতিব আল-বাগদাদি তিরমিজির কিতাবকে "আল-জামি আস-সহিহ" নামে অভিহিত করতেন। এটি তাঁদের পক্ষ থেকে শিথিলতা (تساهل)। কারণ এতে অনেক অগ্রহণযোগ্য (منكرة) হাদিস রয়েছে। হাফেজ আবু আলি ইবনুস সাকান এবং খতিব আল-বাগদাদির নাসাঈ-র সুনান কিতাব সম্পর্কে বক্তব্য—যে এটি সহিহ—তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর নাসাঈ-র বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে শর্তসমূহ মুসলিমের শর্তের চেয়েও কঠোর হওয়া সংক্রান্ত দাবিটি স্বীকৃত নয়। কেননা এতে এমন অনেক বর্ণনাকারী রয়েছে যারা অজ্ঞাত (مجهولين), তা সত্তার দিক থেকে হোক (عيناً) কিংবা গুণের দিক থেকে (حالاً)। তাদের মধ্যে সমালোচিত (المجروح) ব্যক্তিও রয়েছে। এছাড়া এতে অনেক দুর্বল (ضعيفة), ত্রুটিযুক্ত (معللة) এবং অগ্রহণযোগ্য (منكرة) হাদিসও বিদ্যমান, যেমনটি আমরা "আল-আহকাম আল-কাবীর" গ্রন্থে সতর্ক করেছি।
ইমাম আহমদের মুসনাদআর ইমাম আহমদের মুসনাদ সম্পর্কে হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাদিনির উক্তি—যে এটি সহিহ—তা একটি দুর্বল (ضعيف) মত। কারণ এতে দুর্বল (ضعيفة) এমনকি জাল (موضوعة) হাদিসও রয়েছে, যেমন মার্ভ, আসকালান এবং হিমসের নিকটবর্তী 'আল-বিরজুল আহমার' এর ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং অন্যান্য আরও বিষয়, যেগুলোর প্রতি একদল হাফেজে হাদিস সজাগ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ثم إن الإمام أحمد قد فاته في كتابه هذا - مع أنه لا يوازيه مسند في كثرته وحسن سياقته - أحاديث كثيرة جداً، بل قد ثيل إنه لم يقع له جماعة من الصحابة الذين في الصحيحين قريباً من مائتين.
অতঃপর ইমাম আহমদ তাঁর এই গ্রন্থে—যদাপি এর বিশালতা ও উত্তম বিন্যাসের দিক থেকে কোনো মুসনাদ এর সমতুল্য নয়—অসংখ্য হাদিস সংকলন করতে পারেননি; এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, সহীহাইনে বিদ্যমান প্রায় দুইশত সাহাবীর একটি দল তাঁর এই গ্রন্থে সংকলিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الكتب الخمسة وغيرهاوهكذا قول الحافظ أبي طاهر السلفي في الأصول الخمسة، يعني البخاري ومسلماً وسنن أبي داود والترمذي والنسائي: إنه اتفق على صحتها علماء المشرق والمغرب: تساهل منه. وقد أنكره ابن الصلاح وغيره. قال ابن الصلاح: وهي مع ذلك أعلى رتبة من كتب المسانيد. كمسند عبد بن حُميد، والدارمي، وأحمد بن حنبل، وأبي يعلى، والبزار، وأبي داود الطيالسي، والحسن بن سفيان، وإسحاق بن راهويه، وعبيد الله بن موسى، وغيرهم. لأنهم يذكرون عن كل صحابي ما يقع لهم من حديثه.
التعليقات التي في الصحيحينوتكلم الشيخ أبو عمرو على التعليقات الواقعة في صحيح البخاري، وفي مسلم أيضاً، لكنها قليلة، قيل: إنها أربعة عشر موضعاً.
পাঁচটি কিতাব ও অন্যান্যঅনুরূপভাবে হাফিজ আবু তাহির আল-সিলাফির উক্তি পাঁচটি মূল কিতাবের ব্যাপারে—অর্থাৎ বুখারি, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈ—যে, এগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আলেমগণ একমত হয়েছেন; এটি তার পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা (تساهل) মাত্র। ইবনুল সালাহ এবং অন্যান্যরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনুল সালাহ বলেন: এতদসত্ত্বেও এগুলো মুসনাদ কিতাবগুলোর তুলনায় উচ্চতর মর্যাদার। যেমন—আবদ বিন হুমাইদ, দারেমি, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু ইয়ালা, বাজার, আবু দাউদ তায়ালিসি, হাসান বিন সুফিয়ান, ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ, উবায়দুল্লাহ বিন মুসা এবং অন্যান্যদের মুসনাদ। কারণ তারা প্রত্যেক সাহাবীর (صحابي) অধীনে সেই সকল হাদিস উল্লেখ করেন যা তারা লাভ করেছেন।
সহীহাইন-এ বিদ্যমান মুয়াল্লাক (التعليقات) বর্ণনাসমূহশায়খ আবু আমর সহীহ বুখারিতে এবং সহীহ মুসলিমেও বিদ্যমান মুয়াল্লাক (التعليقات) বর্ণনাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে মুসলিমে এর সংখ্যা খুবই কম; বলা হয়ে থাকে যে, তা মাত্র চৌদ্দটি স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وحاصل الأمر: أن ما علقه البخاري بصيغة الجزم فصحيح إلى من علقه عنه، ثم النظر فيما بعد ذلك. وما كان منها بصيغة التمريض فلا يستفاد منها صحة ولا تنافيها أيضاً، لأنه وقع من ذلك كذلك وهو صحيح، وربما رواه مسلم.
وما كان من التعليقات صحيحاً فليس من نمط الصحيح المسند فيه، لأنه قد وسم كتابه " بالجامع المسند الصحيح المختصر في أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه ".
فأما إذا قال البخاري " قال لنا " أو " قال لي فلان كذا "، أو " زادني " ونحو ذلك، فهو متصل عند الأكثر.
وحكي ابن الصلاح عن بعض المغاربة أنه تعليق أيضاً، يذكره للاستشهاد لا للاعتماد، ويكون قد سمعه في المذاكرة.
وقد رده ابن الصلاح، فإن الحافظ أبا جعفر بن حمدان قال: إذا قال البخاري " وقال لي فلان " فهو مما سمعه عرضاً ومناولة.
وأنكر ابن الصلاح على أبن حزم رده حديث الملاهي حيث قال فيه
সারসংক্ষেপ হলো: ইমাম বুখারি যে সকল বর্ণনা দৃঢ়তাব্যঞ্জক শব্দ (صيغة الجزم) ব্যবহার করে ঝুলন্তভাবে (علق) উল্লেখ করেছেন, সেগুলো যার পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার পর্যন্ত সহিহ (صحيح); অতঃপর এর পরবর্তী অংশটি পর্যালোচনার বিষয়। আর যে সকল বর্ণনা অনিশ্চয়তাব্যঞ্জক শব্দ (صيغة التمريض) ব্যবহার করে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো থেকে বর্ণনাটির সহিহ (صحيح) হওয়া প্রমাণিত হয় না, আবার তা সহিহ (صحيح) হওয়ার পরিপন্থীও নয়; কারণ এই ধরনের অনেক বর্ণনা রয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে সহিহ (صحيহ) এবং সম্ভবত ইমাম মুসলিম সেটি বর্ণনা করেছেন।
ঝুলন্ত বর্ণনাগুলোর (تعليقات) মধ্যে যা সহিহ (صحيح), তা এই গ্রন্থের সংযুক্ত সনদবিশিষ্ট (مسند) সহিহ (صحيح) বর্ণনার মানদণ্ডভুক্ত নয়। কারণ, তিনি তাঁর গ্রন্থের নামকরণ করেছেন "আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি"।
পক্ষান্তরে বুখারি যখন বলেন "তিনি আমাদের বলেছেন" অথবা "অমুক আমাকে এভাবে বলেছেন" কিংবা "তিনি আমাকে অতিরিক্ত জানিয়েছেন" এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেন, তখন অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে তা সংযুক্ত (متصل) হিসেবে গণ্য।
ইবনুস সালাহ কতিপয় মাগরিবী (উত্তর আফ্রিকান) আলিমের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটিও ঝুলন্ত বর্ণনা (تعليق); যা তিনি সমর্থক প্রমাণ হিসেবে (استشهاد) উল্লেখ করেন, মূল ভিত্তি হিসেবে (اعتماد) নয় এবং সম্ভবত তিনি তা শিক্ষালাপ বা আলোচনার (مذاكرة) সময় শুনেছিলেন।
ইবনুস সালাহ এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাফিজ আবু জাফর বিন হামদান বলেন: বুখারি যখন বলেন "অমুক আমাকে বলেছেন", তখন তা মূলত পাঠ করে শোনানো (عرض) অথবা পাণ্ডুলিপি হস্তান্তরের (مناولة) মাধ্যমে প্রাপ্ত।
ইবনুস সালাহ বাদ্যযন্ত্র সংক্রান্ত হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করার কারণে ইবনে হাজমের সমালোচনা করেছেন, যেখানে তিনি সেই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
البخاري: " وقال هشام بن عمار "، وقال: أخطأ ابن حزم من وجوه، فإنه ثابت من حديث هشام بن عمار.
" قلت ": وقد رواه أحمد في مسنده، وأبو داود في سننه وخرجه البرقاني في صحيحه، وغير واحد، مسنداً متصلاً إلى هشام بن عمار وشيخه أيضاً، كما بيناه في كتاب " الأحكام " ولله الحمد.
ثم حكى أن الأمة تلقت هذين الكتابين بالقبول، سوى أحرف يسيرة، انتقدها بعض الحفاظ، كالدارقطني وغيره، ثم استنبط من ذلك القطع بصحة ما فيهما من الأحاديث، لأن الأمة معصومة عن الخطأ، فما ظنت صحته ووجب عليها العمل به، لا بد وأن يكون صحيحاً في نفس الأمر. وهذا جيد.
وقد خالف في هذه المسئلة الشيخ محيي الدين النووي وقال: لا يستفاد القطع بالصحة من ذلك.
" قلت ": وأنا مع ابن الصلاح فيما عول عليه وأرشد إليه. والله أعلم.
বুখারি: "এবং হিশাম ইবনে আম্মার বলেছেন", এবং তিনি বলেছেন: ইবনে হাজম বিভিন্ন দিক থেকে ভুল করেছেন, কারণ এটি হিশাম ইবনে আম্মারের হাদিস থেকে সাব্যস্ত (ثابت)।
"আমি বলি": ইমাম আহমদ তার মুসনাদে, আবু দাউদ তার সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বারকানি তার সহিহ-তে এটি সংকলন করেছেন, এছাড়াও একাধিক ব্যক্তি এটি হিশাম ইবনে আম্মার এবং তার শায়খ পর্যন্ত সনদসহ (مسنداً) ও নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) ভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা "আল-আহকাম" গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, উম্মত এই দুটি কিতাবকে গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ (بالقبول) করে নিয়েছে, কেবল সামান্য কিছু শব্দ বা বিষয় ব্যতীত যা কিছু হাফেজ (الحفاظ) — যেমন দারাকুতনি ও অন্যান্যরা — সমালোচনা করেছেন। এরপর তিনি এ থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই দুই কিতাবে বিদ্যমান হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত (القطع)। কারণ উম্মত ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত (معصومة), তাই যার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তারা দৃঢ় ধারণা পোষণ করেছে এবং যার ওপর আমল করা তাদের জন্য আবশ্যক হয়েছে, তা অবশ্যই প্রকৃতপক্ষে সহিহ (صحيح) হতে হবে। আর এটি একটি উত্তম অভিমত।
শায়খ মুহিউদ্দিন আন-নববী এই মাসআলায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: এর দ্বারা বিশুদ্ধতার (بالصحة) বিষয়ে নিশ্চিত (القطع) হওয়া লাভ হয় না।
"আমি বলি": ইবনে সালাহ যে বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন এবং যার নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি তার সাথেই রয়েছি। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
" حاشية " ثم وقفت بعد هذا على كلام لشيخنا العلامة ابن تيمية، مضمونه: أنه نقل القطع بالحديث الذي تلقته الأمة بالقبول عن جماعات من الأئمة: منهم القاضي عبد الوهاب المالكي، والشيخ أبو حامد الاسفرائيني والقاضي أبو الطيب الطبري، والشيخ أبو إسحق الشيرازي من الشافعية، وابن حامد، وأبو يعلى بن الفراء، وأبو الخطاب، وابن الزاغوني، وأمثالهم من الحنابلة، وشمس الأئمة السرخسي من الحنفية قال: " وهو قول أكثر أهل الكلام من الأشعرية وغيرهم: كأبي إسحاق الاسفرائيني، وابن فورك قال: وهو مذهب أهل الحديث قاطبة ومذهب السلف عامة ".
وهو معنى ما ذكره ابن الصلاح استنباطاً. فوافق فيه هؤلاء الأئمة.
"টীকা" এরপর আমি আমাদের শায়খ আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ-এর একটি বক্তব্যের সন্ধান পাই, যার মর্মার্থ হলো: তিনি একদল ইমামের নিকট থেকে এমন হাদিসের নিশ্চিত হওয়ার (القطع) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন যাকে উম্মাহ গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে (تلقته الأمة بالقبول)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মালিকি মাযহাবের কাজী আবদুল ওয়াহহাব; শাফেয়ি মাযহাবের শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনি, কাজী আবু তাইয়্যিব আত-তাবারী এবং শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি; হাম্বলি মাযহাবের ইবনে হামিদ, আবু ইয়ালা বিন আল-ফাররা, আবু আল-খাত্তাব, ইবনে আল-জাগুনি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; এবং হানাফি মাযহাবের শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসি। তিনি বলেন: "এটি আশআরি ও অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদের (أهل الكلام) মত, যেমন আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এবং ইবনে ফুরাক। তিনি বলেন: এটিই সর্বসম্মতভাবে হাদিস বিশেষজ্ঞদের (أهل الحديث) মাযহাব এবং সাধারণভাবে পূর্বসূরিদের (السلف) মাযহাব।"
আর এটিই সেই মর্মার্থ যা ইবনে আস-সালাহ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباطاً) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তিনি এ বিষয়ে এই ইমামগণের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
النوع الثاني
الحسنوهو في الاحتجاج به كالصحيح عند الحمهور.
وهذا النوع لما كان وسطاً بين الصحيح والضعيف في نظر الناظر، لا في نفس الأمر. عسر التعبير عنه وضبطه على كثير من أهل هذه الصناعة. وذلك لأنه أمر نسبي، شيء ينقدح عنه الحافظ، ربما تقصر عبارته عنه.
وقد تجشم كثير منهم حده. فقال الخطابي: هو ما عرف مخرجه واشتهر رجاله، قال: وعليه مدار أكثر الحديث، وهو الذي يقبله أكثر العلماء، ويستعمله عامة الفقهاء.
" قلت ": فإن كن المعرف هو قوله " ما عرف مخرجه واشتهر رجاله " فالحديث الصحيح كذلك، بل والضعيف. وإن كان بقية الكلام من تمام الحد، فليس هذا الذي ذكره مسلماً له: أن أكثر الحديث من قبيل الحسان، ولا هو الذي يقبله أكثر العلماء ويستعمله عامة الفقهاء.
দ্বিতীয় প্রকারহাসান (حسن)দলীল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে এটি সহিহ (صحيح)-এর ন্যায়।
এই প্রকারটি যখন পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে—বাস্তবতার নিরিখে নয়—সহিহ (صحيح) এবং যয়িফ (ضعيف)-এর মাঝামাঝি স্তরের হয়, তখন এই শাস্ত্রের অনেক বিশেষজ্ঞের নিকট এর সংজ্ঞা প্রদান ও তা সুনির্দিষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর তা এজন্য যে, এটি একটি আপেক্ষিক বিষয় যা হাফিজ (حافظ)-এর অন্তরে উদিত হয়, কিন্তু সম্ভবত তাঁর শব্দচয়ন তা প্রকাশে অপূর্ণ থেকে যায়।
তাদের অনেকেই এর সংজ্ঞা প্রদানের কষ্টসাধ্য প্রয়াস চালিয়েছেন। ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: এটি এমন হাদিস যার সূত্রস্থল সুপরিচিত এবং এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ। তিনি আরও বলেন: অধিকাংশ হাদিসের আবর্তন এর ওপরই হয়ে থাকে, এটিই অধিকাংশ আলিম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ (فقهاء) এটি ব্যবহার করেন।
"আমি বলছি": যদি সংজ্ঞায়িত অংশটি কেবল তাঁর এই বক্তব্য হয় যে, "যার সূত্রস্থল সুপরিচিত এবং বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ", তবে সহিহ (صحيح) হাদিসও তো এমনই, এমনকি যয়িফ (ضعيف) হাদিসও এমন হতে পারে। আর যদি বক্তব্যের অবশিষ্টাংশ সংজ্ঞারই পূর্ণতাদানকারী অংশ হয়, তবে তাঁর দাবিকৃত বিষয়টি সর্বসম্মত নয় যে, অধিকাংশ হাদিস হাসান (حسن) পর্যায়ের; আর এটিই যে অধিকাংশ আলিম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ (فقهاء) ব্যবহার করেন—একথাটিও প্রশ্নাতীত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
تعريف الترمذي للحديث الحسنقال ابن الصلاح: وروينا عن الترمذي أنه يريد بالحسن: أن لا يكون في إسناده من يهتم بالكذب، ولا يكون حديثاً شاذاً، ويروى من غير وجه نحو ذلك.
وهذا إذا كان قد روي عن الترمذي أنه قاله ففي أي كتاب له قاله وأين إسناده عنه، وإن كان قد فُهم من اصطلاحه في كتابه " الجامع " فليس ذلك بصحيح، فإنه يقول في كثير من الأحاديث: هذا حديث حسن غريب، لا نعرفه إلا من هذا الوجه.
হাসান (حسن) হাদিস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযীর সংজ্ঞাইবনুস সালাহ বলেন: আমাদের নিকট তিরমিযী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাসান (حسن) দ্বারা উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন: যার সনদ (إسناد)-এ এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب), আর হাদিসটি শায (شاذ) নয় এবং অনুরূপ হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আর এটি যদি তিরমিযী থেকে বর্ণিত হয়ে থাকে যে তিনি এটি বলেছেন, তবে তা তাঁর কোন গ্রন্থে বলেছেন এবং তাঁর থেকে এর সনদ (إسناد) কোথায়? আর যদি এটি তাঁর গ্রন্থ "আল-জামি" এ ব্যবহৃত পরিভাষা (اصطلاح) থেকে বোঝা হয়ে থাকে, তবে তা সঠিক নয়। কারণ তিনি অনেক হাদিস সম্পর্কে বলেন: "এটি একটি হাসান (حسن) গরীব (غريب) হাদিস, আমরা কেবল এই সূত্র ব্যতীত এটি জানি না।"
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
تعريفات أخرى للحسنقال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله: وقال بعض المتأخرين: الحديث الذي فيه ضعف قريب مُحتمل، هو الحديث الحسن، ويصلح للعمل به.
ثم قال الشيخ: وكل هذا مستبهم لا يشفي الغليل، وليس فيما ذكره الترمذي والخطابي ما يفصل الحسن عن الصحيح وقد أمعنت النظر في ذلك والبحث، فتنقح لي واتضح أن الحديث الحسن قسمان: " أحدهما ": الحديث الذي لا يخلو رجال إسناده من مستور لم تتحقق أهليته، غير أنه ليس مغفلاً كثير الخطأ، ولا هو متهم بالكذب، ويكون ممتن الحديث قد روي مثله أو نحوه من وجه آخر، فيخرج بذلك عن كونه شاذاً أو منكراً. ثم قال: وكلام الترمذي على هذا القسم يُتنزل.
" قلت ": لا يمكن تنزيله لما ذكرناه عنه. والله أعلم.
হাসান (الحسن) এর অন্যান্য সংজ্ঞাশায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কিছু আলেম বলেছেন: যে হাদিসের মধ্যে নিকটবর্তী ও সহনীয় পর্যায়ের দুর্বলতা (ضعف) থাকে, তা-ই হাসান (حسن) হাদিস এবং তা আমল করার উপযোগী।
অতঃপর শায়খ বলেন: এই সবকিছুই অস্পষ্ট যা পর্যাপ্ত তৃপ্তি দেয় না; এবং ইমাম তিরমিযি ও খাত্তাবি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করেছি, ফলে আমার নিকট পরিচ্ছন্ন ও স্পষ্ট হয়েছে যে, হাসান (حسن) হাদিস দুই প্রকার: "প্রথমটি": এমন হাদিস যার সানাদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো অপ্রকাশিত অবস্থার (مستور) বর্ণনাকারী রয়েছেন যার যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি, তবে তিনি নিতান্ত অসতর্ক ও অধিক ভুলকারী নন এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) নন। উপরন্তু হাদিসটির মতন (متن) অন্য কোনো সূত্র থেকে অনুরূপ বা কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার ফলে এটি শায (شاذ) অথবা মুনকার (منكر) হওয়া থেকে রক্ষা পায়। অতঃপর তিনি বলেন: তিরমিযির বক্তব্য এই প্রকারের ওপরই প্রযোজ্য হয়।
"আমি বলছি": আমরা তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি তার প্রেক্ষিতে একে সেখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
قال: " القسم الثاني ": أن يكون رواية من المشهورين بالصدق والأمانة. ولم يبلغ درجة رجال الصحيح في الحفظ والاتقان، ولا يُعد ما ينفرد به منكراً، ولا يكون المتن شاذاً ولا معللاً. قال: وعلى هذا يتنزل كلام الخطابي، قال: والذي ذكرناه يجمع بين كلاميهما.
قال الشيخ أبو عمر: لا يلزم من ورود الحديث من طرق متعددة كحديث " الأذنان من الرأس ": أن يكون حسناً، لأن الضعف يتفاوت، فمنه ما لا يزول بالمتابعات، يعني لا يؤثر كونه تابعاً أو متبوعاً، كرواية الكذابين والمتروكين، ومنه ضعف يزول بالمتابعة، كما إذا كان راويه سيء الحفظ، أو روي الحديث عن حضيض الضعف إلى أوج الحسن أو الصحة. والله أعلم.
তিনি বলেন: "দ্বিতীয় প্রকার": এটি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত ব্যক্তিদের বর্ণনা হওয়া। কিন্তু তিনি মুখস্থ শক্তি (الحفظ) ও নির্ভুলতার (الإتقان) ক্ষেত্রে সহিহ এর বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাননি, আর তাঁর একক বর্ণনাকে অস্বীকৃত (منكر) বলা যাবে না, এবং হাদিসের পাঠটি (المتن) বিচ্ছিন্ন (شاذ) বা ত্রুটিযুক্ত (معلل) হবে না। তিনি বলেন: আর ইমাম খাত্তাবীর কথাটি এ কথার ওপরেই বর্তায়। তিনি বলেন: আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা তাঁদের উভয়ের বক্তব্যকে সমন্বিত করে।
শায়খ আবু আমর বলেন: "কান দুটি মাথার অংশ" হাদিসটির মতো কোনো হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়া মানেই এটি গ্রহণযোগ্য (حسن) হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ দুর্বলতা (الضعف) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে; ফলে এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات) দ্বারা দূরীভূত হয় না, অর্থাৎ সেটির সমর্থনকারী (تابع) বা সমর্থিত (متبوع) হওয়া কোনো প্রভাব ফেলে না, যেমন চরম মিথ্যাবাদী (الكذابين) ও বর্জিত (المتروكين) বর্ণনাকারীদের বর্ণনা। আবার এর মধ্যে এমন দুর্বলতা (الضعف) রয়েছে যা সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعة) দ্বারা দূর হয়, যেমন যদি এর বর্ণনাকারী মন্দ মুখস্থ শক্তি (سيء الحفظ) সম্পন্ন হন, অথবা হাদিসটি দুর্বলতার (الضعف) তলানি থেকে গ্রহণযোগ্য (حسن) বা বিশুদ্ধতার (الصحة) শিখরে উন্নীত হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
الترمذي أصل في الحديث الحسنقال: وكتاب الترمذي أصل في معرفة الحديث الحسن، وهو الذي نوه بذكره، ويوجد في كلام غيره من مشايخه، كأحمد، والبخاري، وكذا من بعده، كالدراقطني.
أبو داود من مظان الحديث الحسنقال: ومن مظانه: سنن أبي داود، روينا عنه أنه قال: ذكرت الصحيح وما يشبهه ويقاربه، وما كان فيه وهن شديد بينته، وما لم أذكر شيئاً فهو صالح، وبعضها أصح من بعض. قال وروي عنه أنه يذكر في كل باب أصح ما عرف فيه.
" قلت ": ويروى عنه أنه قال: وما سكت عنه هو حسن.
قال ابن الصلاح: فما وجدناه في كتابه مذكوراً مطلقاً وليس في واحد من الصحيحين، ولا نص على صحته أحد، فهو حسن عند أبي داود.
" قلت ": الروايات عن أبي داود بكتابه " السنن " كثيرة جداً، ويوجد في بعضها من الكلام، بل والأحاديث، ما ليس في الأخرى. ولأبي عبيد الآجري عنه أسئلة في الجرح والتعديل، والتصحيح والتعليل، كتاب مفيد. ومن ذلك أحاديث ورجال قد ذكرها في سنته. فقوله وما سكت عليه فهو حسن: ما سكت عليه في سننه فقط؟ أو مطلقاً؟ هذا مما ينبغي التنبيه عليه والتيقظ له.
ইমাম তিরমিজি হাসান (حسن) হাদিসের মূল ভিত্তিতিনি বলেন: ইমাম তিরমিজির কিতাব হাসান (حسن) হাদিস চেনার ক্ষেত্রে একটি মূল উৎস। তিনিই মূলত এর আলোচনাকে প্রসিদ্ধ করেছেন। যদিও তাঁর অন্যান্য উস্তাদগণের বক্তব্যেও এর প্রয়োগ পাওয়া যায়, যেমন- ইমাম আহমদ এবং ইমাম বুখারি। একইভাবে তাঁর পরবর্তীগণের মাঝেও এটি পাওয়া যায়, যেমন- ইমাম দারা কুতনি।
সুনানে আবু দাউদ হাসান (حسن) হাদিসের অন্যতম উৎসতিনি বলেন: হাসান (حسن) হাদিসের অন্যতম আধার হলো সুনানে আবু দাউদ। আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: আমি (আমার কিতাবে) সহিহ (صحيح) এবং যা এর সদৃশ বা কাছাকাছি তা উল্লেখ করেছি। আর যার মধ্যে অত্যধিক দুর্বলতা (وهن شديد) রয়েছে তা আমি বর্ণনা করে দিয়েছি। আর যে সম্পর্কে আমি কিছুই বলিনি তা গ্রহণযোগ্য (صالح); তবে সেগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। তিনি আরও বলেন, তাঁর থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি প্রত্যেক অধ্যায়ে ওই অধ্যায়ের সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হাদিসটি উল্লেখ করেন।
"আমি বলি": তাঁর থেকে এটিও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "যেসব হাদিসের ব্যাপারে আমি নীরব থেকেছি, সেগুলো হাসান (حسن)।"
ইবনুস সালাহ বলেন: সুতরাং তাঁর কিতাবে আমরা যে সকল হাদিস নিঃশর্তভাবে উল্লিখিত পেয়েছি, অথচ সেগুলো সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর কোনোটিতে নেই এবং অন্য কেউও সেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি, তবে সেগুলো আবু দাউদের নিকট হাসান (حسن)।
"আমি বলি": আবু দাউদের সুনান গ্রন্থের বর্ণনাগুলো সংখ্যায় অনেক। এগুলোর কোনো কোনোটিতে এমন কিছু আলোচনা, এমনকি এমন কিছু হাদিসও রয়েছে যা অন্যগুলোতে নেই। আবু উবাইদ আল-আজুরি-র আবু দাউদের নিকট জরাহ ও তাদিল (جرح وتعديل), এবং সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) ও ত্রুটি চিহ্নিতকরণের (تعليل) বিষয়ে করা প্রশ্নাবলি একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব। এর মধ্যে এমন অনেক হাদিস ও বর্ণনাকারীর (رجال) কথা রয়েছে যা তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতএব তাঁর কথা— "যার ব্যাপারে আমি নীরব থেকেছি তা হাসান (حسن)"— এটি কি কেবল তাঁর সুনান গ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? নাকি নিঃশর্তভাবে সব ক্ষেত্রে? এটি এমন একটি বিষয় যার প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং সচেতন থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
كتاب المصابيح للبغويقال: وما يذكره البغوي في كتابه (المصابيح) ، من أن الصحيح ما أخرجاه أو أحدهما، وأن الحسن ما رواه أبو داود الترمذي وأشباههما: فهو اصطلاح خاص، لا يعرف إلا له. وقد أنكر عليه النووي ذلك: لما في بعضها من الأحاديث المنكرة.
আল-বাগাওয়ীর কিতাবুল মাসাবীহতিনি বলেন: আল-বাগাওয়ী তাঁর কিতাব (আল-মাসাবীহ)-এ যা উল্লেখ করেছেন যে, সহিহ (الصحيح) হলো তা যা তাঁরা উভয়ই অথবা তাঁদের একজন বর্ণনা করেছেন; এবং হাসান (الحسن) হলো যা আবু দাউদ, তিরমিজি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন—তা মূলত একটি বিশেষ পরিভাষা (اصطلاح), যা কেবল তাঁরই একক বৈশিষ্ট্য। ইমাম নববী তাঁর এই মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; কারণ এর মধ্যে কিছু মুনকার (المنكرة) হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
صحة الإسناد لا يلزم منها صحة الحديثقال: والحكم بالصحة أو الحسن على الإسناد لا يلزم منه الحكم بذلك على المتن، إذ قد يكون شاذاً أو معللاً.
قول الترمذي حسن صحيحقال: وأما قول الترمذي. " هذا حديث حسن صحيح " فمشكل، لأن الجمع بينهما في حديث واحد كالمعتذر، فمنهم من قال: ذلك باعتبار إسناد حسن وصحيح.
" قلت ": وهذا يرده أنه يقول في بعض الأحاديث: " هذا حديث حسن صحيح غريب، لا نعرفه إلا من هذا الوجه ".
ومنهم من يقول: هو حسن باعتبار المتن، صحيح بإعتبار الإسناد. وفي هذا نظر أيضاً، فإنه يقول ذلك في أحاديث مروية في صفة جهنم، وفي الحدود والقصاص، ونحو ذلك.
والذي يظهر لي: أنه يشرب الحكم بالصحة على الحديث كما يشرب الحسن بالصحة. فعلى هذا يكون ما يقول فيه " حسن صحيح " أعلى رتبة عنده من
সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) থেকে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) আবশ্যক হয় নাতিনি বলেছেন: সনদের (إسناد) ওপর সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম প্রদান করা হলে তা মতনের (متن) ওপরও অনুরূপ হুকুম হওয়াকে আবশ্যক করে না; কারণ সেটি শায (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) হতে পারে।
ইমাম তিরমিযীর উক্তি "হাসান সহিহ (حسن صحيح)"তিনি বলেছেন: ইমাম তিরমিযীর এই উক্তি— "এটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস" —একটি জটিল (مشكل) বিষয়। কারণ একটি হাদিসে এই উভয় গুণের সমন্বয় করা প্রায় অসম্ভব। তাই কেউ কেউ বলেছেন: তা একটি হাসান (حسن) সনদ এবং একটি সহিহ (صحيح) সনদের বিবেচনায় বলা হয়েছে।
"আমি বলি": এই মতটিকে তাঁর (ইমাম তিরমিযীর) নিজস্ব বক্তব্যই নাকচ করে দেয়, যেখানে তিনি কিছু হাদিস সম্পর্কে বলেন: "এটি একটি হাসান সহিহ গারিব (حسن صحيح غريب) হাদিস, যা কেবল এই সূত্র ব্যতীত আমরা অন্য কোনোভাবে জানি না।"
আবার কেউ কেউ বলেন: এটি মতনের (متن) বিবেচনায় হাসান (حسن) এবং সনদের (إسناد) বিবেচনায় সহিহ (صحيح)। এ মতটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ তিনি এই পরিভাষাটি জাহান্নামের বর্ণনা এবং হুদুদ ও কিসাস সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন।
আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: তিনি হাদিসের ওপর সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুমকে এমনভাবে প্রয়োগ করেন যাতে তা হাসানের অর্থকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি তিনি হাসানকে সহিহ-এর সাথে মিশ্রিত করেন। এই হিসেবে, যে হাদিস সম্পর্কে তিনি "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলেন, সেটি তাঁর নিকট সাধারণ হাসান (حسن) হাদিসের চেয়ে উচ্চস্তরের।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
الحسن، ودون الصحيح، ويكون حكمه على الحديث بالصحة المحضة أقوى من حكمه عليه بالصحة مع الحسن. والله أعلم.
النوع الثالث
الحديث الضعيفقال: وهو ما لم يجتمع فيه صفات الصحيح، ولا صفات الحسن المذكورة كما تقدم.
ثم تكلم على تعداده وتنوعه لاعتبار فقده واحدة من صفات الصحة أو أكثر، أو جميعها.
فينقسم جنسه إلى: الموضوع، والمقلوب، والشاذ، والمعلل، والمضطرب، والمرسل، والمنقطع، والمعضل، وغير ذلك.
النوع الرابع
المسندقال الحاكم: هو ما اتصل إسناده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال
হাসান (حسن), এবং এটি সহিহ (صحيح)-এর নিম্নস্তরের। কোনো হাদিসের ওপর তাঁর কেবল নিরঙ্কুশ বিশুদ্ধতার (صحة محض) হুকুম প্রদান করা, হাসান (حسن)-এর সাথে সহিহ (صحة) হুকুম প্রদানের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আল্লাহই ভালো জানেন।
তৃতীয় প্রকার
দুর্বল (الضعيف) হাদিসতিনি বলেন: এটি এমন হাদিস যার মধ্যে সহিহ (صحيح)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং পূর্বে উল্লিখিত হাসান (حسن)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রিত হয়নি।
অতঃপর তিনি বিশুদ্ধতার (صحة) কোনো একটি বা একাধিক অথবা সকল বৈশিষ্ট্য না থাকার বিবেচনায় এর গণনা ও প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এর মূল শ্রেণিটি নিম্নোক্ত প্রকারে বিভক্ত হয়: বানোয়াট (الموضوع), ওলটপালট (المقلوب), শায (الشاذ), ত্রুটিযুক্ত (المعلل), দ্বিধাপূর্ণ (المضطرب), মুরসাল (المرسل), বিচ্ছিন্ন (المنقطع), জটিল বিচ্ছিন্ন (المعضل) এবং আরও অন্যান্য।
চতুর্থ প্রকার
মুসনাদইমাম হাকেম বলেন: এটি এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। এবং তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
الخطيب: هو ما اتصل إلى منتهاه. وحكي ابن عبد البر: أنه المروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسواء كان متصلاً أو منقطعاً. فهذه أقوال ثلاثة.
النوع الخامس
المتصلويقال له: " الموصول " أيضاً، وهو ينفي الإرسال والانقطاع، ويشمل لمرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، و
الموقوف على الصحابي أو من دونه.
النوع السادس
المرفوعهو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً عنه، وسواء كان متصلاً أو منقطعاً أو مرسلاً، ونفي الخطيب أن يكون مرسلاً، فقال: هو ما أخبر فيه الصحابي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
النوع السابعالموقوف
ومطلقه يختص بالصحابي، فيمن دونه إلا مقيداً. وقد يكون إسناده متصلاً وغير متصل، وهو الذي يسميه كثير من الفقهاء والمحدثين أيضاً: أثراً. وعزاه ابن الصلاح إلى الخراسانيين: أنهم يسمون الموقوف أثراً.
আল-খাতিব বলেন: এটি তা-ই যা শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل)। ইবনে আবদিল বার বর্ণনা করেছেন যে: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস, তা নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطعاً) হোক। সুতরাং এই হলো তিনটি অভিমত।
পঞ্চম প্রকার
নিরবচ্ছিন্ন (المتصل)একে "সংযুক্ত (الموصول)"ও বলা হয়, এটি মুরসাল হওয়া (إرسال) এবং বিচ্ছিন্নতাকে (انقطاع) নাকচ করে। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু (مرفوع) এবং সাহাবী বা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো ওপর মাওকুফ (الموقوف) — উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
ষষ্ঠ প্রকার
মারফু (المرفوع)এটি হলো তা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা বা কাজ হিসেবে তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়; তা নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً), বিচ্ছিন্ন (منقطعاً) কিংবা মুরসাল (مرسلاً) যা-ই হোক না কেন। তবে আল-খাতিব এটি মুরসাল (مرسلاً) হওয়াকে অস্বীকার করেছেন; তিনি বলেছেন: এটি হলো তা যাতে সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংবাদ প্রদান করেন।
সপ্তম প্রকারমাওকুফ (الموقوف)
এর নিঃশর্ত ব্যবহার সাহাবীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, তবে শর্তযুক্ত হলে তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো ক্ষেত্রেও হতে পারে। এর সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) কিংবা বিচ্ছিন্ন (غير متصل) উভয়টিই হতে পারে। অনেক ফকিহ এবং মুহাদ্দিস একে আসার (أثراً) নামেও অভিহিত করেন। ইবনেস সালাহ খুরাসানিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, তারা মাওকুফ (الموقوف) হাদিসকে আসার (أثراً) বলে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
" قال ": وبلغنا عن أبي القاسم الفوراني أنه قال: الخبر ما كان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، والأثر ما كان عن الصحابي.
" قلت ": ومن هذا يسمي كثير من العلماء الكتاب الجامع لهذا وهذا " بالسنين والآثار " ككتابي " السنن والآثار " للطحاوي، والبيهقي وغيرهما. والله أعلم.
النوع الثامن
المقطوعوهو الموقوف على التابعين قولاً وفعلاً، وهو غير
المنقطع. وقد وقع في عبارة الشافعي والطبراني إطلاق " المقطوع " على منقطع الإسناد غير الموصول.
وقد تكلم الشيخ أبو عمرو على قول الصحابي " كنا نفعل "، أو " نقول كذا "، إن لم يُضفه إلى زمان النبي صلى الله عليه وسلم: فقال أبو بكر البرقاني عن شيخه أبي بكر الإسماعيلي: إنه من قبيل الموقوف. وحكم النيسابوري برفعه، لأنه يدل على التقرير، ورجحه ابن الصلاح.
قال: ومن هذا القبيل قول الصحابي " كنا لا نرى بأساً بكذا "، أو " كانوا يفعلون أو يقولون "، أو " يقال كذا في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ": إنه من قبيل المرفوع.
وقول الصحابي " أمرنا بكذا "، أو " نهينا عن كذا " مرفوع مسند عند
" তিনি বলেন ": এবং আবুল কাসিম আল-ফাওরানি থেকে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: সংবাদ (الخبر) হলো যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, আর অবশেষ (الأثر) হলো যা সাহাবী থেকে বর্ণিত।
" আমি বলছি ": এবং এই কারণে অনেক আলেম এই উভয় বিষয়কে একত্রে সংকলনকারী গ্রন্থকে "সুনান ও আসার" নামে অভিহিত করেন, যেমন ইমাম তাহাবি এবং বায়হাকি প্রমুখের "সুনান ও আসার" নামক গ্রন্থদ্বয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
অষ্টম প্রকার
বিচ্ছিন্ন (المقطوع)এটি তাবিঈদের কথা ও কাজের ওপর স্থগিত (الموقوف), এবং এটি সনদ-বিচ্ছিন্ন (المنقطع) থেকে ভিন্ন। ইমাম শাফিয়ী এবং তবারানির বক্তব্যে সংযোগহীন বিচ্ছিন্ন সনদের ক্ষেত্রেও "বিচ্ছিন্ন (المقطوع)" শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়।
শায়খ আবু আমর সাহাবীর উক্তি "আমরা এমন করতাম" বা "আমরা এমন বলতাম" সম্পর্কে আলোচনা করেছেন—যদি তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করেন: আবু বকর আল-বারকানি তাঁর উস্তাদ আবু বকর আল-ইসমাঈলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি স্থগিত (الموقوف) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে নিসাবুরি একে ঊর্ধ্বারোপিত (مرفوع) হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কারণ এটি মৌনসম্মতি (التقرير) নির্দেশ করে এবং ইবনুস সালাহ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন: সাহাবীর এই উক্তিগুলোও একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত: "আমরা এতে কোনো সমস্যা মনে করতাম না", অথবা "তারা করত বা বলত", অথবা "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এমন বলা হতো": এগুলো ঊর্ধ্বারোপিত (المرفوع) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
এবং সাহাবীর উক্তি "আমাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে" বা "আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে" হলো ঊর্ধ্বারোপিত (مرفوع) ও সনদযুক্ত (مسند) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-বাইসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
أصحاب الحديث. وهو قول أكثر أهل العلم. وخالف في ذلك فريق، منهم أبو بكر الإسماعيلي. وكذا الكلام على قوله " من السنة كذا "، وقول أنس " أمر بلال أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة ".
قال: وما قيل من أن تفسير الصحابي في حكم المرفوع، فإنما ذلك فيما كان سبب نزول، أو نحو ذلك.
أما إذا قال الراوي عن الصحابي: " يرفع الحديث " أو " ينميه " أو " يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم "، فهو عند أهل الحديث من قبيل المرفوع الصريح في الرفع. والله أعلم.
النوع التاسع
المرسلقال ابن الصلاح: وصورته التي لا خلاف فيها: حديث التابعي الكبير الذي قد أدرك جماعة من الصحابة وجالسهم، كعبيد الله بن عدي بن الخيار، ثم سعيد بن المسيب، وأمثالهما، إذا قال: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ".
হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث)। এটি অধিকাংশ আলেম সমাজের অভিমত। তবে একটি দল এর বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে আবু বকর আল-ইসমাঈলি অন্যতম। অনুরূপ হুকুম প্রযোজ্য হবে যখন কোনো সাহাবী বলেন "সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন..." অথবা আনাস (রা.)-এর উক্তি: "বেলালকে (রা.) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আজানের শব্দগুলো জোড়া জোড়া এবং একামতের শব্দগুলো বেজোড় ভাবে দেওয়ার জন্য।"
তিনি বলেন: সাহাবীর তাফসির মারফু-এর সমপর্যায়ভুক্ত (حكم المرفوع) হওয়ার বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তা কেবল শানে নুযূল বা এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
পক্ষান্তরে, যদি বর্ণনাকারী (الراوي) সাহাবী থেকে বর্ণনা করার সময় বলেন: "তিনি হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করছেন (يرفع الحديث)" অথবা "রাসূলের দিকে সম্বন্ধ করছেন (ينميه)" অথবা "রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেন (يبلغ به)"—তবে হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট এটি বর্ণনার দিক থেকে সুস্পষ্ট মারফু (المرفوع الصريح) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
নবম প্রকার
মুরসাল (المرسل)ইবনুস সালাহ বলেন: এর যে রূপটি নিয়ে কোনো মতভেদ নেই তা হলো: সেই প্রবীণ তাবেয়ীর (التابعي الكبير) হাদিস যিনি একদল সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁদের সান্নিধ্যে বসেছেন, যেমন উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে আল-খিয়ার, অতঃপর সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং তাঁদের সমগোত্রীয়গণ; যখন তাঁরা বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।"