(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: -)
المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي   (نور الدين الهيثمي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي

المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807هـ)

تحقيق: سيد كسروي حسن

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাকসাদুল আলি ফি যাওয়াইদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি   (নূরুদ্দিন আল-হাইসামি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

বই: আল-মাকসাদুল আলি ফি যাওয়াইদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি

লেখক: আবুল হাসান নূরুদ্দিন আলি ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)

তাহকীক: সাইয়্যিদ কাসরাউয়ি হাসান

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ২৯)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ أَسْتَعِينُ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْبَرِّ الْجَوَّادِ، الْهَادِي إِلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ.

رَافِعِ السَّمَاءِ بِغَيْرِ عِمَادٍ.

وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ الْمُنَزَّهُ عَنِ الأَنْدَادِ.

وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمُؤَيَّدُ بِالْمَلائِكَةِ فِي الْجِهَادِ.

صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الَّذِينَ نَشَرُوا الْعِلْمَ فِي الْبِلادِ.

صَلاةً دَائِمَةً إِلَى يَوْمِ التَّنَادِ.

وَبَعْدُ: فَقَدْ نَظَرْتُ مُسْنَدَ الإِمَامِ أَبِي يَعْلَى: أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى الْمَوْصِلِيِّ رضي الله عنه، فَرَأَيْتُ فِيهِ فَوَائِدَ غَزِيرَةً لا يَفْطُنُ لَهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ.

فَعَزَمْتُ عَلَى جَمْعِهَا عَلَى أَبْوَابِ الْفِقْهِ لِكَيْ يَسْهُلُ الْكَشْفُ عَنْهَا لِنَفْسِي وَلِمَنْ أَرَادَ ذَلِكَ وَسَمَّيْتُهُ: «الْمَقْصِدُ الْعَلِيُّ فِي زَوَائِدِ أَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ» .

وَأَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَ بِهِ إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ.

فَذَكَرْتُ فِيهِ مَا تَفَرَّدَ بِهِ عَنْ أَهْلِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ مِنْ حَدِيثٍ بِتَمَامِهِ وَمِنْ حَدِيثٍ شَارَكَهُمْ فِيهِ أَوْ بَعْضِهِمْ وَفِيهِ زِيَادَةٌ وَأُنَبِّهُ عَلَى الزِّيَادَةِ بِقَوْلِي: أَخْرَجَهُ فُلانٌ خَلا قَوْلِهِ: كَذَا.

أَوْ لَمْ أَرَهُ بِتَمَامِهِ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْهُمْ.

وَنَحْوَ هَذَا مِنَ الْفَوَائِدِ.

وَرُبَّمَا ذَكَرَ الإِمَامُ أَبُو يَعْلَى بَعْدَ الْحَدِيثِ أَحْيَانًا ثُمَّ يَقُولُ: فَذَكَرَهُ أَوْ ذَكَرَ نَحْوَهُ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি পরম হিতৈষী ও পরম দাতা, সঠিক পথের দিশারী।

যিনি কোনো খুঁটি ছাড়াই আসমানকে সমুন্নত করেছেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং তিনি সমকক্ষতা থেকে পবিত্র।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, জিহাদের ময়দানে যাঁকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে।

আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা বিভিন্ন জনপদে ইলম প্রচার করেছেন।

এমন রহমত যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

অতঃপর: আমি ইমাম আবু ইয়ালা আহমদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-মাউসিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘মুসনাদ’ পর্যালোচনা করেছি এবং এতে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ বিষয় খুঁজে পেয়েছি যা অনেক মানুষই অনুধাবন করতে পারে না।

তাই আমি সেগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সংকলন করার সংকল্প করেছি, যাতে আমার নিজের জন্য এবং যারা তা চায় তাদের জন্য তা খুঁজে বের করা সহজ হয়। আর আমি এর নামকরণ করেছি: 'আল-মাকসাদুল আলিয়্যু ফী যাওয়ায়িদি আবী ইয়ালা আল-মাউসিলী'।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী এবং দুআ কবুলকারী।

এতে আমি কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণের বর্ণনার বিপরীতে তাঁর এককভাবে বর্ণিত পূর্ণ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি। আবার এমন হাদীসও এনেছি যা তিনি তাঁদের সবার বা কারো কারো সাথে একত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাতে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। সেই অতিরিক্ত অংশটি সম্পর্কে আমি এই বলে ইঙ্গিত দিয়েছি যে: ‘অমুক এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় এই কথাটি নেই’।

অথবা আমি তাঁদের কারো কাছেই সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে দেখিনি।

এবং এই জাতীয় অন্যান্য জ্ঞানগর্ভ বিষয়াবলি।

কখনো কখনো ইমাম আবু ইয়ালা কোনো হাদীসের (সূত্র বা অংশ) উল্লেখ করার পর বলেন: ‘অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন’ অথবা ‘এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন’।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَإِذَا ذَكَرْتُ ذَلِكَ أَقُولُ: فَذَكَرَهُ.

وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ لَيْسَ فِيهِ قَالَ: فَهُوَ مِنْ تَصَرُّفِي.

وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا وَالنَّسَائِيُّ فِي الْكَبِيرِ ذَكَرْتُهُ.

وَمَا كَانَ فِي النَّسَائِيِّ الصَّغِيرِ الْمُسَمَّى «بِالْمُجْتَبَى» لَمْ أَذْكُرْهُ.

وَقَدْ سَمِعْتُ مِنْهُ عَلَى الْعَبْدِ الْفَقِيرِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى: بَدْرِ الدِّينِ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى بْنِ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ عُرِفَ بِابْنِ الْخَشَّابِ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِهِ: فِي تَرْجَمَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه:

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ» .

إِلَى قَوْلِهِ فِي تَرْجَمَةِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه:

حَدَّثَنَا الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا الْفُرَاتُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْجَزَّارِ الَّذِي يَنْحَرُ بَدَنَةً، فَأَمَرَنِي أَنْ أَتَصَدَّقَ بِلُحُومِهِنَّ وَجُلُودِهِنَّ وَأَحْلُبِهِنَّ وَلا أُعْطِي مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا وَقَالَ: «أنا نُعْطِيهِ مِنْ غَيْرِ ذَلِكَ» .

بِسَمَاعِهِ هَذَا الْقَدْرَ عَلَى الشَّيْخِ نَاصِرِ الدِّينِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ ظَافِرٍ الْبَصْرِيِّ الْحَنْبَلِيِّ.

وَسَمِعْتُ بَقِيَّتَهُ عَلَى الشَّيْخِ الصَّالِحِ الْفَقِيهِ: زَيْنِ الدِّينِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الإِسْكَنْدَرِيِّ الأَصْلِ ثُمَّ الْبِلْبِيسِيِّ، سَمَاعُهُ لَهُ عَلَى ابْنِ ظَافِرٍ الْمَذْكُورِ.

وَفَاتَهُ عَلَيْهِ مِنْ أَوَّلِ الْكِتَابِ إِلَى مُسْنَدِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ.
যখন আমি এটি উল্লেখ করি, তখন বলি: "তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।"

আর এর মধ্য থেকে যাতে "তিনি বলেছেন" কথাটি নেই, তা আমার নিজস্ব বর্ণনাভঙ্গি বা সম্পাদনা।

আর এর মধ্য থেকে যা কিছু ইমাম বুখারী তালীক হিসেবে এবং ইমাম নাসাঈ তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তা আমি উল্লেখ করেছি।

আর নাসাঈর 'আস-সাগীর' যা 'আল-মুজতাবা' নামে পরিচিত, তার মধ্যে যা রয়েছে তা আমি উল্লেখ করিনি।

এবং আমি আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা বদরুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন ঈসা বিন উমর বিন খালিদ আল-মাখযূমী—যিনি ইবনুল খাশশাব নামে পরিচিত—তাঁর নিকট এটি শ্রবণ করেছি, যা শুরু হয়েছে উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনীতে বর্ণিত তাঁর প্রথম কথা থেকে:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।"

আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনীতে তাঁর এই কথা পর্যন্ত:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাওয়ারীরী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর বিন হিশাম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফুরাত বিন সুলাইমান, তিনি আব্দুল কারীম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে এবং তিনি আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সেই কসাইয়ের নিকট পাঠালেন যে একটি উট কোরবানি করছিল। তিনি আমাকে এর গোশত, চামড়া ও জিনের আচ্ছাদন সদকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এর মধ্য থেকে (পারিশ্রমিক হিসেবে) তাকে কিছুই না দিতে আদেশ করলেন। তিনি বললেন: "আমরা তাকে অন্য খাত থেকে পারিশ্রমিক প্রদান করব।"

শাইখ নাসিরুদ্দীন বিন আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আবু বকর বিন জাফির আল-বাসরী আল-হাম্বলী-এর নিকট তাঁর এই অংশটুকু শ্রবণের মাধ্যমে।

আর আমি এর অবশিষ্টাংশ শ্রবণ করেছি নেককার ফকীহ শাইখ যাইনুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-ইসকান্দারী—যিনি পরবর্তীতে আল-বিলবীসী নামে পরিচিত—তাঁর নিকট; উল্লিখিত ইবনে জাফিরের নিকট এটি ছিল তাঁর শ্রবণ।

আর গ্রন্থের শুরু থেকে তালহা বিন উবাইদুল্লাহ-এর মুসনাদ পর্যন্ত অংশটুকু তাঁর শ্রবণে ছুটে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمِنْ أَوَّلِ مُسْنَدِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ.

إِلَى حَدِيثِ مَاشِطَةِ بِنْتِ فِرْعَوْنَ فِيهِ.

وَمِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْدَفَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ الْحَدِيثَ.

إِلَى أَوَّلِ إِسْنَادِ حَدِيثِ: يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَأَلْتُ رَبِّي أَنَّ اللاهِينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ الْبَشَرِ» .

وَفَاتَهُ أَيْضًا: مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ مِنْ حَدِيثِ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَهْلَ الْيَمَنِ يَتَّخِذُونَ شَرَابَ الْبِتْعِ.

وَحَدِيثِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ.

الْحَدِيثَ، وَفِيهِ: «أَلا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ» ؟ فَأَجَازَهُ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمِعَهُ عَلَيْهِ مَرَّةً أُخْرَى.

قَالَ ابْنُ ظَافِرٍ: أنا الشَّيْخُ شَرَفُ الدِّينِ يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْهديَانِيُّ، قَالَ: أنا الشَّيْخُ أَبُو الْفَضْلِ مَنْصُورُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِسْحَاقَ إِسْمَاعِيل الْمَخْزُومِيُّ الطَّبَرِيُّ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَنْزَرُوذِيُّ، أنا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ عَلِيٍّ الْحِيرِيُّ، أنا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى التَّمِيمِيُّ الْمَوْصِلِيُّ.

وَمَا كَانَ فِيهِ مِنْ حَدِيثٍ فِي أَوَّلِهِ (كـ) فَهُوَ مِنَ الْمُسْنَدِ الْكَبِيرِ لأَبِي يَعْلَى أَيْضًا..

وَمَا نَظَرْتُ مِنْهُ سِوَى مُسْنَدِ الْعَشَرَةِ.

وَقَدْ رَتَّبْتُهُ عَلَى كُتُبٍ أَذْكُرُهَا: كِتَابِ الإِيمَانِ.

كِتَابِ الْعِلْمِ.

كِتَابِ الطَّهَارَةِ.

كِتَابِ الصَّلاةِ وَفِيهِ: كِتَابُ الْمَسَاجِدِ.

وَكِتَابُ صَلاةِ النَّوَافِلِ.

كِتَابِ الْجَنَائِزِ.

كِتَابِ الزَّكَاةِ.

كِتَابِ الصِّيَامِ.

كِتَابِ الْحَجِّ.

كِتَابِ الأَضَاحِي.

كِتَابِ الصَّيْدِ وَالذَّبَائِحِ وَفِيهِ: الْعَقِيقَةُ.

كِتَابِ الْبُيُوعِ.

كِتَابِ اللُّقَطَةِ.

كِتَابِ الْغَصْبِ.

كِتَابِ الْوَصَايَا.

كِتَابِ الْفَرَائِضِ.

كِتَابِ الْوَصِيَّةِ بِالْمَمَالِيكِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুসনাদের শুরু থেকে।

সেখানে ফেরাউনের কন্যার মাশিতা (চিরুনি প্রদানকারিনী) সম্পর্কিত হাদীস পর্যন্ত।

এবং আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়ায ইবনে জাবালকে নিজের পেছনে সওয়ারী করেছিলেন - হাদীসের শেষ পর্যন্ত।

ইয়াজিদ আর-রাকাশি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন সেই হাদীসের সনদের শুরু পর্যন্ত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি যেন মানববংশের ক্রীড়াকৌতুকপ্রিয় ব্যক্তিদের...»।

এবং তাঁর থেকে আরও যা বাদ পড়েছে: আবু মুসা আল-াশআরীর হাদীস হতে সাইয়্যার আবু আল-হাকামের সূত্রে বর্ণিত, আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইয়েমেনবাসীরা 'বিত' নামক পানীয় প্রস্তুত করে থাকে।

এবং আবু উসমানের হাদীস, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম।

হাদীসটি, আর তাতে রয়েছে: «আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটির সন্ধান দেব না?» সুতরাং তিনি এটিকে অনুমতি দিলেন যদি না তিনি তা অন্যবার তাঁর নিকট শুনে থাকেন।

ইবনে জাফির বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ শরফুদ্দিন ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হাদইয়ানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল ফজল মনসুর ইবনে আলী ইবনে ইসহাক ইসমাইল আল-মাখজুমি আত-তাবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম জাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহহামী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-জানজারুযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদান ইবনে আলী আল-হীরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আত-তামীমী আল-মাওসিলী।

এবং এতে যে হাদীসের শুরুতে (কাফ) রয়েছে, তা আবু ইয়ালা রচিত আল-মুসনাদুল কাবীর থেকেও গৃহীত।

এবং আমি তা থেকে আশারা মুবাশশারার (দশজন জান্নাতী সাহাবীর) মুসনাদ ব্যতীত অন্য কিছু পর্যলোচনা করিনি।

আমি একে বিভিন্ন অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছি যা আমি উল্লেখ করছি: ঈমান অধ্যায়।

ইলম অধ্যায়।

পবিত্রতা অধ্যায়।

সালাত অধ্যায় এবং এতে রয়েছে: মসজিদ অধ্যায়।

এবং নফল সালাত অধ্যায়।

জানাজা অধ্যায়।

জাকাত অধ্যায়।

সিয়াম অধ্যায়।

হজ অধ্যায়।

কুরবানী অধ্যায়।

শিকার ও যবেহ অধ্যায় এবং এতে রয়েছে: আকীকা।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়।

কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু অধ্যায়।

জবরদখল অধ্যায়।

অসিয়ত অধ্যায়।

উত্তরাধিকার আইন অধ্যায়।

দাসদের প্রতি অসিয়ত অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩২)
كِتَابِ النِّكَاحِ.

كِتَابِ الطَّلاقِ.

كِتَابِ الأَيْمَانِ وَالنَّذُوُرِ.

كِتَابِ الْجِنَايَاتِ.

كِتَابِ الدِّيَاتِ.

كِتَابِ الْحُدُودِ.

كِتَابِ الْخِلافَةِ وَالإِمَارَةِ.

كِتَابِ الْقَضَاءِ.

كِتَابِ الْجِهَادِ.

كِتَابِ الْمَغَازِي.

كِتَابِ قِتَالِ أَهْلِ الْبَغْيِ.

كِتَابِ الْبِرِّ وَالصِّلَةِ.

كِتَابِ صَدَقَةِ التَّطَوُّعِ.

كِتَابِ الأَدَبِ.

كِتَابِ عَجَائِبِ الْمَخْلُوقَاتِ.

كِتَابِ التَّعْبِيرِ.

كِتَابِ الْقَدَرِ.

كِتَابِ التَّفْسِيرِ.

كِتَابِ فَضَائِلِ الْقُرْآنِ.

كِتَابِ ذِكْرِ الأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلامُهُ عَلَيْهِمْ.

كِتَابِ عَلامَاتِ النُّبُوَّةِ.

كِتَابِ الْمَنَاقِبِ.

كِتَابِ الأَطْعِمَةِ.

كِتَابِ الأَشْرِبَةِ.

كِتَابِ اللِّبَاسِ.

كِتَابِ الزِّينَةِ.

كِتَابِ الطِّبِّ.

كِتَابِ الرُّقَى.

كِتَابِ الْمَرَضِ.

كِتَابِ الأَذْكَارِ.

كِتَابِ الاسْتِعَاذَةِ.

كِتَابِ الأَدْعِيَةِ.

كِتَابِ الْمَوَاعِظ.

كِتَابِ التَّوْبَةِ وَالاسْتِغْفَارِ.

كِتَابِ الْفِتَنِ.

كِتَابِ الْبَعْثِ.

كِتَابِ صِفَةِ جَهَنَّمَ.

كِتَابِ صِفَةِ الْجَنَّةِ.

كِتَابِ الْوَرَعِ.

كِتَابِ الزُّهْدِ.
বিবাহ অধ্যায়।

তালাক অধ্যায়।

কসম ও মানত অধ্যায়।

অপরাধ ও দণ্ডবিধি অধ্যায়।

রক্তপণ অধ্যায়।

হদ বা নির্ধারিত শাস্তি অধ্যায়।

খিলাফত ও নেতৃত্ব অধ্যায়।

বিচার ব্যবস্থা অধ্যায়।

জিহাদ অধ্যায়।

যুদ্ধাভিযান অধ্যায়।

বিদ্রোহী দমন অধ্যায়।

সদাচার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অধ্যায়।

নফল দান-সদকা অধ্যায়।

শিষ্টাচার অধ্যায়।

সৃষ্টির বিস্ময়াবলি অধ্যায়।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়।

তাকদির অধ্যায়।

তাফসির অধ্যায়।

কুরআনের ফজিলত অধ্যায়।

নবীগণের আলোচনা অধ্যায় (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।

নবুয়তের নিদর্শনসমূহ অধ্যায়।

মর্যাদা ও গুণাবলি অধ্যায়।

খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়।

পানীয় দ্রব্য অধ্যায়।

পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়।

সাজসজ্জা অধ্যায়।

চিকিৎসা অধ্যায়।

ঝাড়ফুঁক অধ্যায়।

রোগ-ব্যধি অধ্যায়।

জিকিরসমূহ অধ্যায়।

আশ্রয় প্রার্থনা অধ্যায়।

দোয়া অধ্যায়।

নসিহত অধ্যায়।

তওবা ও ইস্তিগফার অধ্যায়।

ফিতনা অধ্যায়।

পুনরুত্থান অধ্যায়।

জাহান্নামের বর্ণনা অধ্যায়।

জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়।

পরহেজগারি অধ্যায়।

দুনিয়াবিমুখতা অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌كِتَابُ الإِيمَانِ

 

‌‌بَابٌ: فِي التَّوْحِيدِ

‌‌1 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا كَوْثَرُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجَاةُ هَذَا الأَمْرِ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ؟ قَالَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فَهُوَ لَهُ نَجَاةٌ» .

‌‌2 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلانَ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اخْرُجْ فَنَادِ فِي النَّاسِ: مَنْ شَهِدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ".

قَالَ عُمَرُ: ارْجِعْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَّكِلُوا عَلَيْهَا.

فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقَالَ: «مَا رَدُّكَ» ؟ فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ عُمَرَ.

فَقَالَ: «صَدَقَ» .

‌‌3 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ
কিতাবুল ঈমান

 

অনুচ্ছেদ: তাওহীদ প্রসঙ্গে

১ - হাসান ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাওসার ইবনে হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যে বিষয়ের (দীনের) অন্তর্ভুক্ত আছি, তার মুক্তি কিসে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তবে তা-ই তার জন্য মুক্তি»।

২ - সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত ইবনে আজলান থেকে, তিনি সুলাইম ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বেরিয়ে যাও এবং মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।"

উমর বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে যান, কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে মানুষ কেবল এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে।

অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে গেলাম, তখন তিনি বললেন: «তোমার ফেরার কারণ কী?» আমি তাঁকে উমরের কথা জানালাম।

তখন তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»।

৩ - আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাদাল ইবনুল মুহাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يُحَدِّثُ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنهما: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ: «أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ مُخْلِصًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» .

فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا يَتَّكِلُوا.

فَقَالَ: «دَعْهُمْ» .

‌‌4 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: " نَادِ يَا عُمَرُ فِي النَّاسِ: أَنَّهُ مَنْ مَاتَ يَعْبُدُ اللَّهَ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ النَّارَ ".

قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلا أُبَشِّرُ النَّاسَ؟ فَقَالَ: «لا.

لا يَتَّكِلُوا» .

‌‌5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَسَارٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ جَارِنَا يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: «اعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» .

‌‌6 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: حُدِّثْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ لَقِيَ طَلْحَةَ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ وَاجِمًا؟ قَالَ: كَلِمَةً سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزْعُمُ أَنَّهَا مُوجَبَةٌ فَلَمْ أَسْأَلْهُ عَنْهَا.

فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا أَعْلَمُ مَا هِيَ.
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে মানুষের মধ্যে ঘোষণা দিতে আদেশ করেছিলেন: "যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

তখন উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তবে তো তারা এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে।

তিনি বললেন: "তাদের ছেড়ে দাও।"

৪ - আমাদের নিকট আবু বকর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন ইবনে আলী থেকে, তিনি যায়িদাহ থেকে, তিনি ইবনে আকিল থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে উমর, মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও: যে ব্যক্তি অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।"

বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে সুসংবাদটি দেব না? তিনি বললেন: "না।

তারা যেন এর ওপর নির্ভর করে বসে না থাকে।"

৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াসার আল-আবদি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আমাদের প্রতিবেশী আবু হামযাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়ায ইবনে জাবালকে বললেন: "জেনে রেখো, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

৬ - আমাদের নিকট আবু খাইসামা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবু বকর তালহার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: কী হয়েছে যে আমি তোমাকে বিষণ্ণ দেখছি? তিনি বললেন: একটি কালেমা যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন যে এটি জান্নাত অবধারিতকারী, কিন্তু আমি সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।

আবু বকর বললেন: আমি জানি সেটি কী।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: «لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ» .

‌‌7 - حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلامِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسْوَسَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَكُنْتُ فِي مَنْ وَسْوَسَ.

قَالَ: فَمَرَّ عُمَرُ عَلَيَّ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، فَلَمْ أَرُدَّ عَلَيْهِ، فَشَكَانِي إِلَى أَبِي بَكْرٍ.

قَالَ: فَجَاءَا فَقَالَ لِي: يُسَلِّمُ عَلَيْكَ أَخُوكَ فَلَمْ تَرُدَّ عَلَيْهِ.

قَالَ: قُلْتُ: مَا عَلِمْتُ تَسْلِيمَهُ.

وَإِنِّي عَنْ ذَلِكَ فِي شُغْلٍ.

قَالَ: وَلِمَ؟ قُلْتُ: قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ أَسْأَلْهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الأَمْرِ.

قَالَ: فَقَدْ سَأَلْتُهُ.

قَالَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَاعْتَنَقْتُهُ.

قَالَ: قُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ.

قَالَ: قَدْ سَأَلْتُهُ فَقَالَ: «مَنْ قَبِلَ الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُهَا عَلَى عَمِّي فَهِيَ لَهُ نَجَاةٌ» .

‌‌8 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ غَيْرُ مُتَّهَمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ يُحَدِّثُ: أَنَّ رِجَالا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ أَنْ يُوَسْوَسَ.
তিনি বললেন: আর সেটি কী? তিনি বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)"।

‌‌৭ - মাসরুক ইবনুল মারযুবান আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন বিশর থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হলো, তখন তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কিছু মানুষ অত্যন্ত বিচলিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, এবং আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাঁরা বিচলিত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন: অতঃপর উমর আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন, কিন্তু আমি তাঁর সালামের উত্তর দিইনি। এরপর তিনি আবু বকর-এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন।

তিনি বলেন: অতঃপর তাঁরা উভয়ে আসলেন এবং তিনি (আবু বকর) আমাকে বললেন: আপনার ভাই আপনাকে সালাম দিয়েছেন অথচ আপনি তাঁর উত্তর দেননি।

তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি তাঁর সালাম দেওয়ার বিষয়টি টেরই পাইনি।

আর আমি তখন অত্যন্ত দুশ্চিন্তা ও গভীর চিন্তায় নিমগ্ন ছিলাম।

তিনি বললেন: কেন? আমি বললাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হয়ে গেল অথচ আমি তাঁকে এই বিষয়টি থেকে নাজাত বা মুক্তির উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না।

তিনি (আবু বকর) বললেন: আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

তিনি (উসমান) বলেন: তখন আমি তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম।

তিনি বলেন: আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক, আপনিই এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য।

তিনি (আবু বকর) বললেন: আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি সেই কালিমাটি গ্রহণ করবে যা আমি আমার চাচার (আবু তালিবের) নিকট পেশ করেছিলাম, সেটিই তার জন্য নাজাতের (মুক্তির) উপায় হবে"।

‌‌৮ - আবু খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, আনসারদের মধ্য থেকে ফকীহ এবং নির্ভরযোগ্য একজন ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উসমান বিন আফফানকে বর্ণনা করতে শুনেছেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কিছু লোক তাঁর শোকে এতই মর্মাহত হয়েছিলেন যে, তাঁদের কেউ কেউ প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَقَالَ عُثْمَانُ: فَكُنْتُ مِنْهُمْ، فَبَيْنَا أنا جَالِسٌ فِي ظِلٍّ أُطُمٍّ، مَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ مَرَّ وَلا سَلَّمَ، فَانْطَلَقَ عُمَرُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ، فَقَالَ: أَلا أُعْجِبُكَ؟! مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلامَ.

فَأَقْبَلَ عُمَرُ وَأَبُو بَكْرٍ فِي وِلايَةِ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى أَتَيَا فَسَلَّمَا جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: جَاءَنِي أَخُوكَ عُمَرُ فَزَعَمَ أَنَّهُ مَرَّ عَلَيْكَ فَسَلَّمَ فَلَمْ تَرُدَّ عليه السلام، فَمَا الَّذِي حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟ فَقُلْتُ: مَا فَعَلْتُ.

قَالَ عُمَرُ: بَلَى، وَلَكِنَّهَا عُبِّيَّتُكُمْ يَا بَنِي أُمَيَّةَ.

قَالَ عُثْمَانُ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ بِأَنَّكَ مَرَرْتَ وَلا سَلَّمْتَ.

قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: صَدَقَ عُثْمَانُ وَلَقَدْ شَغَلَكَ عَنْ ذَلِكَ أَمْرٌ.

قَالَ: قُلْتُ: أَجَلْ.

قَالَ: فَمَا هُوَ؟ قَالَ عُثْمَانُ: قُلْتُ تَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ أَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الأَمْرِ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ سَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ.

قَالَ عُثْمَانُ: فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَنْتَ أَحَقُّ بِهَا.

فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّه، مَا نَجَاةُ هَذَا الأَمْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَبِلَ مِنِّي الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُ عَلَى عَمِّي فَرَدَّها فَهِيَ لَهُ نَجَاة» .
উসমান (রা.) বললেন: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। একদা আমি একটি দুর্গের ছায়ায় বসে ছিলাম, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। কিন্তু তিনি যে অতিক্রম করেছেন বা সালাম দিয়েছেন তা আমি টেরই পাইনি। এরপর উমর (রা.) প্রস্থান করলেন এবং আবু বকর (রা.)-এর কাছে গিয়ে বললেন: "আমি কি আপনাকে একটি বিস্ময়কর কথা বলব না? আমি উসমানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না।"

অতঃপর আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে উমর ও আবু বকর (রা.) আসলেন এবং উভয়েই সালাম দিলেন। এরপর আবু বকর (রা.) বললেন: "তোমার ভাই উমর আমার কাছে এসে দাবি করল যে সে তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে এবং সালাম দিয়েছে, কিন্তু তুমি সালামের উত্তর দাওনি। কিসে তোমাকে এমন করতে প্ররোচিত করল?" আমি বললাম: "আমি এমনটি করিনি।"

উমর (রা.) বললেন: "অবশ্যই করেছ, তবে হে বনু উমাইয়া! এটি তোমাদের আভিজাত্যের অহংকার।"

উসমান (রা.) বললেন: আমি বললাম: "আল্লাহর শপথ! আপনি যে অতিক্রম করেছেন বা সালাম দিয়েছেন তা আমি টেরই পাইনি।"

তিনি বললেন: তখন আবু বকর (রা.) বললেন: "উসমান সত্য বলেছে, অবশ্যই কোনো বিষয় তোমাকে এ থেকে অন্যমনস্ক করে রেখেছিল।"

তিনি বললেন: আমি বললাম: "হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "সেটি কী?" উসমান (রা.) বললেন: আমি বললাম: "আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওফাত দিয়েছেন এর আগে যে, আমি তাঁকে এই বিষয়ের (দীনের) মুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।"

আবু বকর (রা.) বললেন: "আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।"

উসমান (রা.) বললেন: আমি বললাম: "আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনিই এর জন্য অধিক উপযুক্ত।"

অতঃপর আবু বকর (রা.) বললেন: আমি বলেছিলাম: "হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়ের মুক্তি কিসে?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি আমার চাচার নিকট যে কালিমা পেশ করেছিলাম এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যে ব্যক্তি আমার নিকট থেকে তা গ্রহণ করে নেবে, তা-ই তার জন্য মুক্তি।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَابٌ: فِي الإِسْلامِ وَالإِيمَانِ

‌‌9 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الإِسْلامُ عَلانِيَةٌ وَالإِيمَانُ فِي الْقَلْبِ» .

ثُمَّ يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى صَدْرِهِ: «التَّقْوَى هَاهُنَا.

التَّقْوَى هَاهُنَا» .

‌‌10 - حَدَّثَنَا الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ مُبَارَكٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الْمُؤْمِنِ قَالَ: «مَنْ أَمِنَهُ جَارُهُ وَلا يَخَافُ بَوَائِقَهُ.

وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ» .

‌‌11 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، وَيُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ السُّوءَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يَدْخُلُ عَبْدٌ الْجَنَّةَ لا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ ".
পরিচ্ছেদ: ইসলাম ও ঈমান প্রসঙ্গে

৯ - আমাদের নিকট আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট যাইদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে মাসআদাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম প্রকাশ্য এবং ঈমান অন্তরে থাকে।"

অতঃপর তিনি তাঁর হাত দ্বারা তাঁর বুকের দিকে ইশারা করে বললেন: "তাকওয়া এখানে।

তাকওয়া এখানে।"

১০ - আমাদের নিকট আল-মুকাদ্দামী বর্ণনা করেছেন মুবারক থেকে, তিনি আবদুল আজীজ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুমিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি যার থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে এবং তার অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।

আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।"

১১ - আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে যাইদ, ইউনুস ইবনে উবাইদ ও হুমাইদ থেকে, তাঁরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ নিরাপদ মনে করে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে, এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে। আর যাঁর হাতে (আল্লাহর হাত) আমার প্রাণ তাঁর কসম, কোনো বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যদি তার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌3-‌‌ بَابٌ: بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ

‌‌12 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصِيَامِ رَمَضَانَ ".

‌‌13 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ الأَعْمَى، عَنِ الشَّعْبِيِّ.

فَذَكَرَهُ.

 

‌‌4 -‌‌ بَابٌ: فِي شَطْرِ الإِسْلامِ

‌‌14 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ حَبِيبٍ أَخُو حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الإِسْلامُ ثَمَانِيَةُ أَسْهُمٍ.

وَالصَّلاةُ سَهْمٌ.

وَالزَّكَاةُ سَهْمٌ.

وَالْحَجُّ سَهْمٌ.

وَالْجِهَادُ سَهْمٌ.

وَصَوْمُ رَمَضَانَ سَهْمٌ.

وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ سَهْمٌ.

وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ سَهْمٌ.

وَخَابَ مَنْ لا سَهْمَ لَهُ» .
৩-‌‌ পরিচ্ছেদ: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর

‌‌১২ - আমাদের নিকট আবু বকর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুআবিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শাইবান থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আমির থেকে, তিনি জারির থেকে বর্ণনা করেন, জারির (রা.) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।"

‌‌১৩ - আবু বকর আবু শায়বা থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি দাউদ আল-আমা থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেন।

অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৪ -‌‌ পরিচ্ছেদ: ইসলামের অংশসমূহ প্রসঙ্গে

‌‌১৪ - আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হামজা আজ-জায়্যাত-এর ভাই হাবিব ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «ইসলামের অংশ হলো আটটি।

সালাত হলো একটি অংশ।

জাকাত হলো একটি অংশ।

হজ হলো একটি অংশ।

জিহাদ হলো একটি অংশ।

রমজানের সিয়াম হলো একটি অংশ।

সৎ কাজের আদেশ দেওয়া হলো একটি অংশ।

অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা হলো একটি অংশ।

আর সে ব্যক্তি ব্যর্থ হলো যার কোনো অংশ নেই»।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌15 - حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ شَيْبَةَ الْخُضْرِيِّ أَنَّهُ شَهِدَ عُرْوَةَ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ثَلاثٌ أَحْلِفُ عَلَيْهِنَّ: لا يَجْعَلُ اللَّهُ مَنْ لَهُ سَهْمٌ فِي الإِسْلامِ كَمَنْ لا سَهْمَ لَهُ.

وَسِهَامُ الإِسْلامِ ثَلاثٌ: الصَّوْمُ.

وَالصَّلاةُ.

وَالصَّدَقَةُ.

لا يَتَوَلَّى اللَّهُ عَبْدًا فَيُوَلِّهِ غَيْرَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

وَلا يُحِبُّ رَجُلٌ قَوْمًا إِلا جَاءَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

وَالرَّابِعَةُ لَوْ حَلَفْتُ عَلَيْهَا لَمْ أَخَفْ أَنْ آثَمَ لا يَسْتُرُ اللَّهُ عَلَى عَبْدٍ فِي الدُّنْيَا إِلا سَتَرَ عَلَيْهِ فِي الآخِرَةِ ".

فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِذَا سَمِعْتُمْ مِثْلَ هَذَا مِنْ مِثْلِ عُرْوَةَ فَاحْفَظُوهُ.

قُلْتُ: رَوَاهُ النَّسَائِيُّ.

‌‌16 - قَالَ إِسْحَاقُ: وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ.
১৫ - হুদবা ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে বর্ণিত, শাইবা আল-খুদরি থেকে বর্ণিত যে, তিনি উরওয়াহকে উমর ইবনে আবদুল আজিজের নিকট বর্ণনা করতে দেখেছেন, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয় যার ওপর আমি কসম করছি: আল্লাহ তাআলা ইসলামে অংশীদার ব্যক্তিকে এমন ব্যক্তির মতো করবেন না যার কোনো অংশ নেই।

আর ইসলামের অংশসমূহ তিনটি: রোজা,

নামাজ

এবং দান-সদকা।

আল্লাহ কোনো বান্দার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করলে কিয়ামতের দিন তাকে অন্য কারও দায়িত্বে সোপর্দ করবেন না।

আর কোনো ব্যক্তি কোনো জাতিকে ভালোবাসলে কিয়ামতের দিন সে তাদের সাথেই থাকবে।

আর চতুর্থ বিষয়টি এমন যে, যদি আমি সেটার ওপর কসম করি তবে আমার গুনাহ হওয়ার ভয় নেই: আল্লাহ দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখলে আখেরাতেও তিনি অবশ্যই তা গোপন রাখবেন।"

অতঃপর উমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন: "যখন তোমরা উরওয়াহর মতো ব্যক্তিদের থেকে এ জাতীয় হাদিস শোনো, তখন তা সংরক্ষণ করো।"

আমি বলছি: এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।

১৬ - ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌بَابٌ

‌‌17 - حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ لَلَوْحًا فِيهِ ثَلاثُ مِائَةٍ وَخَمْسَةَ عَشَرَ شَرِيعَةً، يَقُولُ الرَّحْمَنُ: وَعِزَّتِي وَجَلالِي، لا يَأْتِي عَبْدٌ مِنْ عِبَادِي لا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا فِيهِ وَاحِدَةٌ مِنْهَا إِلا دَخَلَ الْجَنَّةَ ".

‌‌18 - (كـ) حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ مَوْلَى عُثْمَانَ، عَنْ عُثْمَانَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ عز وجل مِائَةَ خُلُقٍ وَسِتَّةَ عَشَرَ خُلُقًا، مَنْ أَتَاهُ بِخُلُقٍ مِنْهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ» .

‌‌19 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ.

فَذَكَرَهُ إِلا أَنَّهُ قَالَ: «مِائَةَ خُلُقٍ وَسَبْعَةَ عَشَرَ خُلُقًا» .

 

‌‌بَابٌ: فِي قَوَاعِدِ الدِّينِ

‌‌20 - حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ الْجِيزِيُّ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا
‌পরিচ্ছেদ

‌‌১৭ - আমাদের নিকট যুহাইর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবন জিয়াদ বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন আফফানের মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবন রাশিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রহমানের দুই হাতের সামনে একটি ফলক রয়েছে যাতে তিনশত পনেরটি শরিয়াহ বা বিধান রয়েছে। রহমান বলেন: আমার সম্মান ও মহিমার কসম, আমার বান্দাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার সাথে কোনো কিছু শরিক না করে এগুলোর মধ্য থেকে কেবল একটি বিধান নিয়েও উপস্থিত হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

‌‌১৮ - (কাফ) আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহিদ ইবন যায়েদ বর্ণনা করেছেন, উসমানের মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবন রাশিদ থেকে, তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর একশত ষোলোটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যে ব্যক্তি এর মধ্য থেকে কোনো একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর নিকট আসবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।

‌‌১৯ - আমাদের নিকট মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন তবে তিনি বলেছেন: «একশত সতেরটি বৈশিষ্ট্য»।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে

‌‌২০ - আমাদের নিকট আবু ইউসুফ আল-জিজি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআম্মিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন যায়েদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট...
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪১)
عُمَرُ بْنُ مَالِكٍ النُّكْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَ حَمَّادٌ: وَلا أَعْلَمُهُ إِلا وَقَدْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " عُرَى الإِسْلامِ وَقَوَاعِدُ الدِّينِ ثَلاثَةٌ عَلَيْهِنَّ أُسِّسَ الإِسْلامُ: مَنْ تَرَكَ مِنْهُنَّ وَاحِدَةً فَهُوَ بِهَا كَافِرٌ حَلالُ الدَّمِ.

شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ.

وَالصَّلاةُ الْمَكْتُوبَةُ.

وَصَوْمُ رَمَضَانَ ".

ثُمَّ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: تَجِدُهُ كَثِيرَ الْمَالِ لا يُزَكِّي فَلا يَزَالُ بِذَلِكَ كَافِرًا يَحِلُّ دَمُهُ.

وَتَجِدُهُ كَثِيرَ الْمَالِ لَمْ يَحُجَّ فَلا يَزَالُ بِذَاكَ كَافِرًا وَلا يَحِلُّ دَمُهُ.

‌‌21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بُلْقِينَ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِوَادِي الْقُرَى، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِمَا أُمِرْتَ؟ قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تُقِيمُوا الصَّلاةَ وَتُؤْتُوا الزَّكَاةَ» .

فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلاءِ؟ فَقَالَ: " الْمَغْضُوبُ عَلَيْهِمْ يَعْنِي: الْيَهُودَ ".

فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلاءِ؟ فَقَالَ: " الضَّالِّينَ: يَعْنِي: النَّصَارَى ".
উমর ইবনে মালিক আন-নুকারি, আবু আল-জাওযা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ বলেন: আমি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত (মারফু) হিসেবেই জানি। তিনি বলেছেন: "ইসলামের রশি ও দ্বীনের ভিত্তি হলো তিনটি, যার ওপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। যে ব্যক্তি এগুলোর মধ্য থেকে একটি ত্যাগ করবে সে তার কারণে কাফির এবং তার রক্ত হালাল।

এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

ফরয সালাত।

এবং রমজানের রোজা।"

অতঃপর ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি অনেক সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখতে পাও যে জাকাত দেয় না, ফলে সে কারণে সে কাফির হয়ে যায় এবং তার রক্ত হালাল হয়।

আবার তুমি অনেক সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখতে পাও যে হজ করেনি, ফলে সে কারণে সে কাফির গণ্য হলেও তার রক্ত হালাল হয় না।

২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গিয়াস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, বুদাইল ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, আর তিনি বুলকাইন গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি ওয়াদি আল-কুরায় অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? তিনি বললেন: "আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করো, আর সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো।"

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? তিনি বললেন: "যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে অর্থাৎ ইহুদিরা।"

আমি বললাম: এরা কারা? তিনি বললেন: "পথভ্রষ্টরা অর্থাৎ নাসারা (খ্রিস্টান) সম্প্রদায়।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪২)
قُلْتُ: فَلِمَنِ الْمَغْنَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِلَّهِ عز وجل سَهْمٌ.

وَلِهَؤُلاءِ أَرْبَعَةُ أَسْهُمٍ» .

قَالَ: قَالَتْ: فَهَلْ أَحَدٌ أَحَقُّ بِالْمَغْنَمِ مِنْ أَحَدٍ؟ قَالَ: «لا، حَتَّى السَّهْمُ يَأْخُذُهُ أَحَدُكُمْ مِنْ جَنْبِهِ فَلَيْسَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ أَحَدٍ» .

 

‌‌بَابٌ: فِي حَقِّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ

‌‌22 - حَدَّثَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ التَّرْجُمَانِيُّ، حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ قَالَ: " أَرْبَعُ خِصَالٍ وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ لِي.

وَوَاحِدَةُ لَكَ.

وَوَاحِدَةٌ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ.

وَوَاحِدَةٌ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ عِبَادِي.

فَأَمَّا الَّتِي لِي: فَتَعْبُدْنِي لا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا.

وَأَمَّا الَّتِي لَكَ عَلَيَّ: فَمَا عَمِلْتَ مِنْ خَيْرٍ جَزَيْتُكَ بِهِ.

وَأَمَّا الَّتِي بَيْنِي وَبَيْنَكَ: فَمِنْكَ الدُّعَاءُ وَعَلَيَّ الإِجَابَةُ.

وَأَمَّا الَّتِي بَيْنَكَ وَبَيْنَ عِبَادِي: فَارْضَ لَهُمْ مَا تَرْضَى لِنَفْسِكَ ".

 

‌‌بَابٌ: صَرِيحِ الإِيمَانِ

‌‌23 - (كـ) حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَامِعٍ الْعَطَّارُ بَصْرِيٌّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يَبْلُغُ عَبْدٌ صَرِيحَ الإِيمَانِ حَتَّى يَدَعَ الْمُزَاحَ وَالْكَذِبَ وَيَدَعَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا» .
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, গনিমতের মাল কার জন্য? তিনি বললেন: «মহান আল্লাহর জন্য এক ভাগ।

আর এদের জন্য চার ভাগ।» ।

তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তিনি (মহিলা) বললেন: তাহলে কি গনিমতের মালের ওপর একে অপরের চেয়ে বেশি হকদার কেউ আছে? তিনি বললেন: «না, এমনকি সেই তীরটির ক্ষেত্রেও যা তোমাদের কেউ তার পাশ থেকে গ্রহণ করে, সেটির ব্যাপারেও সে অন্য কারো চেয়ে বেশি হকদার নয়।» ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক প্রসঙ্গে

‌‌২২ - আবু ইবরাহিম আত-তারজুমানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সালিহ আল-মুররি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "চারটি বৈশিষ্ট্য; তার মধ্যে একটি আমার জন্য।

একটি তোমার জন্য।

একটি আমার ও তোমার মাঝে।

আর একটি তোমার ও আমার বান্দাদের মাঝে।

যা আমার জন্য: তা হলো তুমি আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।

আর যা তোমার জন্য আমার ওপর: তা হলো তুমি যে কল্যাণকর কাজই করবে আমি তোমাকে তার প্রতিদান দেব।

আর যা আমার ও তোমার মাঝে: তা হলো তোমার পক্ষ থেকে দোয়া আর আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করা।

আর যা তোমার ও আমার বান্দাদের মাঝে: তা হলো তুমি তাদের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ করো।"

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বিশুদ্ধ ঈমান

‌‌২৩ - (কাফ) মুহাম্মদ বিন জামি' আল-আত্তার বসরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন উসমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুলাইমান বিন দাউদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন গানম থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ঈমানে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না সে কৌতুক ও মিথ্যা বর্জন করবে এবং ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করবে যদিও সে সত্যের ওপর থাকে।»।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌بَابٌ: الإِيمَانُ بِاللَّهِ وَلِقَائِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ

‌‌24 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ حَقٌّ وَلِقَاءَهُ حَقٌّ، وَأَنَّ السَّاعَةَ حَقٌّ، وَأَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ وَالنَّارَ حَقٌّ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ.

وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ جَهَنَّمَ.

قَالَ أَبُو خَيْثَمَةَ: كَأَنَّهُ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌بَابٌ: فِي مَا جَاءَ فِي الْوَسْوَسَةِ

‌‌25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَجْلَحِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ.

فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ.

فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟! فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ".

‌‌26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ لَيْثًا يُحَدِّثُ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ أَنَّ رَجُلا قَالَ لِعَائِشَةَ: إِنَّ أَحَدَنَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ لَوْ تَكَلَّمَ بِهِ ذَهَبَتْ آخِرَتُهُ وَلَوْ ظَهَرَ عَلَيْهِ لَقُتِلَ.

قَالَ: فَكَبَّرَتْ ثَلاثًا ثُمَّ قَالَتْ: سُئِلَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ ثَلاثًا ثُمَّ قَالَ: «إِنَّما يُخْتَبَرُ بِهَذَا الْمُؤْمِنُ» .
‌পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

‌‌২৪ - আবু খায়সামা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আইয়ুব থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ সত্য এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ সত্য, আর কেয়ামত সত্য এবং জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

এবং কবরের আজাব ও জাহান্নামের আজাব থেকে।

আবু খায়সামা বলেন: মনে হচ্ছে তিনি এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বুঝিয়েছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

‌‌২৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আমের ইবনে যুরারা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল আজলাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের কারো নিকট আসে এবং বলে: আসমানসমূহ কে সৃষ্টি করেছেন? তখন সে উত্তর দেয়: আল্লাহ।

শয়তান পুনরায় বলে: জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? সে উত্তর দেয়: আল্লাহ।

তখন শয়তান বলে: তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?! যখন এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন সে যেন বলে: আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি।"

‌‌২৬ - আবদুল আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মা’মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি লাইসকে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি আয়েশা (রা.)-কে বললেন: আমাদের কেউ মনে মনে এমন কিছুর উদ্রেক অনুভব করে যা মুখে উচ্চারণ করলে তার আখিরাত ধ্বংস হয়ে যাবে এবং যদি তা প্রকাশ পায় তবে তাকে হত্যা করা হবে।

বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি (আয়েশা) তিনবার তাকবীর দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনিও তিনবার তাকবীর দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই এর মাধ্যমে মুমিনকে পরীক্ষা করা হয়»।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ أحدنا يحدث نفسه بالشيء الذي لأن يخر من السماء فينقطع أحب إليه من أن يتكلم به؟ فقَالَ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «تِلْكَ مَحْضُ الإِيمَانِ» .

‌‌28 - حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ: أنا نَكُونُ عِنْدَكَ عَلَى حَالٍ؛ حَتَّى إِذَا فَارَقْنَاكَ نَكُونُ عَلَى غَيْرِهِ قَالَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ وَنَبِيُّكُمْ» ؟ قَالُوا: أَنْتَ نَبِيُّنَا فِي السِّرِّ وَالْعَلانِيَةِ.

قَالَ: «لَيْسَ ذَاكَ النِّفَاقُ» .

‌‌29 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ: أَنَّ عُمَرَ مَرَّ عَلَى عُثْمَانَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَجْلِسِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَدَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَاشْتَكَى ذَلِكَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ.

قَالَ: فَأَيْنَ هُوَ؟ قَالَ: هُوَ فِي الْمَسْجِدِ قَاعِدٌ.

قَالَ: فَانْطَلَقَا إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَرُدَّ عَلَى أَخِيكَ حِينَ سَلَّمَ عَلَيْكَ؟
২৭ - মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আর-রাকাশী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কি মনে হয় যে, আমাদের কেউ নিজের মনে এমন বিষয়ের কল্পনা করে যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত হয়ে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়া তার নিকট অধিক প্রিয়? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তা তো খাঁটি ঈমান»।

২৮ - আবুল রাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যখন আপনার নিকট থাকি তখন এক অবস্থায় থাকি; কিন্তু যখন আপনার থেকে পৃথক হই তখন অন্য অবস্থায় চলে যাই। তিনি বললেন: «তোমরা এবং তোমাদের নবীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন?» তাঁরা বললেন: আপনি গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাদের নবী।

তিনি বললেন: «তা নিফাক নয়»।

২৯ - ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর—অর্থাৎ ইবনে আবি আমর—আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুওয়াইরিস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন: উমর উসমানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি মজলিসে বসা ছিলেন। উমর তাঁকে সালাম দিলেন কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। এরপর উমর আবু বকরের নিকট প্রবেশ করে তাঁর কাছে এই অভিযোগ করলেন এবং বললেন: আমি উসমানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না।

আবু বকর বললেন: তিনি কোথায়? উমর বললেন: তিনি মসজিদে বসা আছেন।

বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তাঁরা উভয়ে তাঁর দিকে গেলেন এবং আবু বকর তাঁকে বললেন: তোমার ভাই যখন তোমাকে সালাম দিল, তখন তাঁর সালামের উত্তর দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
قَالَ: وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ أَنَّهُ سَلَّمَ.

مَرَّ بِي وَأَنَا أُحَدِّثُ نَفْسِي؛ فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ سَلَّمَ.

فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: بِمَا تُحَدِّثُ نَفْسَكَ؟ قَالَ: خَلا بِي الشَّيْطَانُ فَجَعَلَ يُلْقِي فِي نَفْسِي أَشْيَاءَ مَا أُحِبُّ أَنِّي تَكَلَّمْتُ بِهَا وَأَنَّ لِي مَا عَلَى الأَرْضِ.

قُلْتُ فِي نَفْسِي حِينَ أَلْقَى الشَّيْطَانُ ذَلِكَ فِي نَفْسِي: يَا لَيْتَنِي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا الَّذِي يُنْجِينَا مِنْ هَذَا الأَمْرِ الَّذِي يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِي أَنْفُسِنَا.

فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَإِنِّي وَاللَّهِ قَدِ اشْتَكَيْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلْتُهُ: مَا الَّذِي يُنْجِينَا مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ الَّذِي يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِي أَنْفُسِنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُنْجِيكُمْ مِنْ ذَلِكَ أَنْ تَقُولُوا مِثْلَ الَّذِي أَمَرْتُ بِهِ عَمِّي عِنْدَ الْمَوْتِ فَلَمْ يَفْعَلْ» .

 

‌‌بَابٌ: فِي مَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ

‌‌30 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ نَوْفَلٍ قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى أَنَسٍ فَقُلْنَا: حَدَّثَنَا مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ حَرُمَ عَلَى النَّارِ وَحَرُمَتِ النَّارُ عَلَيْهِ: إِيمَانٌ بِاللَّهِ، وَحُبٌّ فِي اللَّهِ، وَأَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ فَيَحْتَرِقُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ فِي الْكُفْرِ ".
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি বুঝতে পারিনি যে তিনি সালাম দিয়েছেন।

তিনি আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যখন আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম; তাই আমি টের পাইনি যে তিনি সালাম দিয়েছেন।

তখন আবু বকর বললেন: আপনি নিজের মনে কী কথা বলছিলেন? তিনি বললেন: শয়তান আমাকে নির্জনে পেয়েছিল এবং সে আমার মনে এমন কিছু বিষয় নিক্ষেপ করছিল যা উচ্চারণ করার চেয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের মালিক হওয়াও আমার কাছে তুচ্ছ।

যখন শয়তান আমার মনে সেই কুমন্ত্রণা দিচ্ছিল তখন আমি মনে মনে বললাম: হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতাম যে, শয়তান আমাদের মনে যেসব বিষয় নিক্ষেপ করে তা থেকে আমাদের কিসে মুক্তি দেবে।

তখন আবু বকর বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করেছিলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: শয়তান আমাদের মনে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা থেকে কিসে আমাদের মুক্তি দেবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের মুক্তি দেবে সেই কথা বলা, যা আমি আমার চাচাকে মৃত্যুর সময় বলার নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা করেননি»।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম

‌‌৩০ - আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ আন-নারসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাওফাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আনাস (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আপনি যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন।

তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে জাহান্নামের জন্য হারাম হবে এবং জাহান্নামও তার জন্য হারাম হবে: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়ে পুড়ে যাওয়া তার কাছে কুফরিতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌31 - حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلا أُخْبِرُكُمْ عَلَى مَنْ تَحْرُمُ النَّارُ غَدًا؟ عَلَى كُلِّ هَيِّنٍ لَيِّنٍ قَرِيبٍ سَهْلٍ» .

 

‌‌بَابٌ: أَنَّ اللَّهَ لا يَنَامُ

‌‌32 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ شِبْلٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي عَنْ مُوسَى عليه السلام عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ: " وَقَعَ فِي نَفْسِهِ: هَلْ يَنَامُ اللَّهُ عز وجل؟ فَأَرْسَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا فَأَرَّقَهُ ثَلاثًا، ثُمَّ أَعْطَاهُ قَارُورَتَيْنِ فِي كُلِّ يَدٍ قَارُورَةٌ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَحْتَفِظَ بِهِمَا.

قَالَ: فَجَعَلَ يَنَامُ وَتَكَادُ يَدَاهُ تَلْتَقِيَانِ، ثُمَّ يَسْتَيْقِظُ فَيَحْبِسُ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى، حَتَّى نَامَ نَوْمَةً فَاصْطَفَقَتْ يَدَاهُ فَانْكَسَرَتِ الْقَارُورَتَانِ.

قَالَ: فَضَرَبَ اللَّهُ لَهُ مَثَلَهُ أَنَّ اللَّهَ عز وجل لَوْ كَانَ يَنَامُ لَمْ تَسْتَمْسِكِ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ ".
‌৩১ - মুসআব ইবন আবদুল্লাহ আল-যুবায়রী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব না যে, আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) কার জন্য জাহান্নাম হারাম? প্রত্যেক এমন ব্যক্তির জন্য যে কোমল স্বভাবের, নম্র, মানুষের নিকটবর্তী এবং সহজ-সরল»।

 

‌‌অধ্যায়: আল্লাহ ঘুমান না

‌‌৩২ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমাইয়া ইবন শিবল থেকে, তিনি আল-হাকাম ইবন আবান থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারের উপর মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "তাঁর মনে উদয় হলো: মহান আল্লাহ কি ঘুমান? তখন আল্লাহ তাঁর নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন এবং তাঁকে তিন (দিন) নির্ঘুম রাখলেন। এরপর তাঁকে দুটি কাঁচের পাত্র দিলেন, প্রত্যেক হাতে একটি করে পাত্র, এবং তাঁকে সেগুলো সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলেন।

তিনি বলেন: অতঃপর তিনি ঘুমাতে লাগলেন এবং তাঁর হাত দুটি প্রায় পরস্পরের সাথে লেগে যাচ্ছিল, এরপর তিনি জেগে উঠতেন এবং একটি হাতকে অপরটি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এক সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন এবং তাঁর হাত দুটি সজোরে পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেল, ফলে পাত্র দুটি ভেঙে গেল।

তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাঁর জন্য এই উদাহরণ পেশ করলেন যে, মহান আল্লাহ যদি ঘুমাতেন তবে আসমান ও জমিন স্থির থাকত না।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌3-‌‌‌‌ بَابٌ: فِي عَظَمَةِ اللَّهِ تَعَالَى

‌‌33 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الرَّمَانِيُّ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دُونَ اللَّهِ سَبْعُونَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُورٍ وَظُلْمَةٍ مَا تَسْمَعُ نَفْسٌ شَيْئًا مِنْ حِسِّ تِلْكَ الْحُجُبِ إِلا زَهَقَتْ نَفْسُهَا» .

 

بَابٌ

‌‌34 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ: أَنْشَدَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَبْيَاتًا فَقَالَ:

شَهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدا … رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَوَاتِ مِنْ عَلِ

وَأَنَّ أَبَا يَحْيَى وَيَحْيَى كِلَيْهِمَا … لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّلُ

وَأَنَّ أَخَا الأَحْقَافِ إِذْ قَامَ فِيهِمْ … يَقُومُ بِذَاتِ اللَّهِ فِيهِمْ وَيَعْدِلُ

فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَأَنَا» .

‌‌5-‌‌ بَابٌ فِي: الدِّينُ النَّصِيحَةُ

‌‌35 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ،
৩- পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর মহিমা প্রসঙ্গে

৩৩ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আর-রামানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাক্কী ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উবাইদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আল্লাহর সামনে নূর ও অন্ধকারের সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে। কোনো প্রাণ যদি সেই পর্দাগুলোর সামান্যতম আওয়াজও শুনতে পায়, তবে অবশ্যই তার প্রাণ নির্গত হয়ে যাবে (সে মারা যাবে)»।

 

পরিচ্ছেদ

৩৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাইয়ান আত-তাইমি থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) নবী (সা.)-এর সামনে কিছু কাব্যপঙ্ক্তি আবৃত্তি করলেন এবং বললেন:

আমি আল্লাহর অনুমতিক্রমে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ … সেই সত্তার রাসূল যিনি আসমানসমূহের উপরে সুউচ্চে রয়েছেন।

আর আবু ইয়াহইয়া এবং ইয়াহইয়া—উভয়েরই … আমল তাঁর দ্বীনে কবুলযোগ্য।

এবং আহকাফবাসীগণের ভাই (হুদ আ.) যখন তাদের মধ্যে দণ্ডায়মান হলেন … তখন তিনি আল্লাহর সত্তার খাতিরেই তাদের মাঝে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ন্যায়বিচার করেছিলেন।

অতঃপর নবী (সা.) বললেন: «এবং আমিও»।

৫- পরিচ্ছেদ: দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা

৩৫ - আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» .

قَالُوا: لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِكِتَابِ اللَّهِ وَلِنَبِيِّهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ» .

‌‌36 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَرَنِي جِبْرِيلُ عليه السلام بِالنُّصْحِ» .

‌‌6-‌‌ بَابٌ: الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ

‌‌37 - حَدَّثَنَا أَبُو يَاسِرٍ عَمَّارٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمِقْدَامِ هِشَامُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ» .

قَالَ: الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ.
আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «দীন হলো কল্যাণকামিতা»।

তাঁরা বললেন: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাবের জন্য, তাঁর নবীর জন্য এবং মুসলিমদের ইমামগণের জন্য»।

৩৬ - ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরআরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালম ইবনে কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আলী আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «জিবরাঈল (আ.) আমাকে কল্যাণকামিতার নির্দেশ দিয়েছেন»।

৬- পরিচ্ছেদ: লজ্জা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত

৩৭ - আবু ইয়াসির আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মিকদাম হিশাম ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «লজ্জা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত»।

তিনি বললেন: ধৈর্য ও উদারতা।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌بَابٌ: بَيْعَةُ النِّسَاءِ

‌‌38 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَتْنِي غِبْطَةُ أُمُّ عَمْرٍو - عَجُوزٌ مِنْ بَنِي مُجَاشِعٍ - حَدَّثَتْنِي عَمِّتِي، عَنْ جَدَّتِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَتْ هِنْدُ بِنْتُ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِتُبَايِعَهُ فَنَظَرَ إِلَى يَدَيْهَا فَقَالَ: «اذْهَبِي فَغَيِّرِي يَدَكِ» .

قَالَتْ: فَذَهَبَتْ غَيَّرَتْهَا بِحِنَّاءٍ ثُمَّ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقَالَ: «أُبَايِعُكِ عَلَى أَنْ لا تُشْرِكِي بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلا تَسْرِقِي، وَلا تَزْنِي» .

قَالَتْ: أَوَتَزْنِي الْحُرَّةُ؟ قَالَ: «وَلا تَقْتُلُنَّ أَوْلادَكُنَّ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ» .

قَالَتْ: وَهَلْ تَرَكْتَ لَنَا أَوْلادًا نَقْتُلُهُمْ؟ قَالَ: فَبَايَعَتْهُ.

ثُمَّ قَالَتْ لَهُ: وَعَلْيَها سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ: مَا تَقُولُ فِي هَذَيْنِ السِّوَارَيْنِ؟ قَالَ: «جَمْرٌ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ» .

‌‌39 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْطُ بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ سَلْمَى وَكَانَتْ إِحْدَى خَالاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ صَلَّتْ مَعَهُ الْقِبْلَتَيْنِ وَكَانَتْ إِحْدَى نِسَاءِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ.
পরিচ্ছেদ: নারীদের বায়আত

৩৮ - নাসর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গিবতাহ উম্মু আমর—বনু মুজাশির এক বৃদ্ধা—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর ফুফু থেকে, তিনি তাঁর দাদি থেকে, তিনি আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিন্দা বিনতে উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বায়আত হওয়ার জন্য আসলেন। তিনি তাঁর দুই হাতের দিকে তাকালেন এবং বললেন: «যাও এবং তোমার হাত পরিবর্তন করে আসো (অর্থাৎ মেহেদি ব্যবহার করো)»।

আয়িশাহ (রা.) বলেন: অতঃপর তিনি গেলেন এবং মেহেদি দিয়ে তা পরিবর্তন করলেন। এরপর তিনি পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন: «আমি তোমার থেকে এই শর্তে বায়আত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না এবং ব্যভিচার করবে না»।

তিনি বললেন: স্বাধীন নারী কি ব্যভিচার করতে পারে? তিনি বললেন: «আর দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না»।

তিনি বললেন: আপনি কি আমাদের জন্য কোনো সন্তান অবশিষ্ট রেখেছেন যাদের আমরা হত্যা করব? বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন।

এরপর তিনি তাঁকে বললেন—এমতাবস্থায় যে তাঁর পরিধানে সোনার দুটি বালা ছিল—: এই বালা দুটির ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: «জাহান্নামের আগুনের অঙ্গার»।

৩৯ - আবু খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইত ইবনে আইয়ুব তাঁর মা থেকে, তিনি সালমা (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালাদের একজন ছিলেন এবং তাঁর সাথে দুই কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন এবং তিনি বনু আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রের একজন নারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫০)
قَالَتْ: جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْتُهُ فِي نِسْوَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَلَمَّا شَرَطَ عَلَيْنَا: أَنْ لا نُشْرِكَ بِاللَّه شَيْئًا، وَلا نَسْرِقَ، وَلا نَزْنِيَ، وَلا نَقْتُلَ أَوْلادَنَا، وَلا نَأْتِيَ بُهْتَانًا نَفْتَرِيهِ بَيْنَ أَيْدِينَا وَأَرْجُلِنَا، وَلا نَعْصِيهِ فِي مَعْرُوفٍ.

قَالَ: «وَلا تَغْشُشْنَ أَزْوَاجَكُنَّ» .

قَالَتْ: فَبَايَعْنَاهُ ثُمَّ انْصَرَفْنَا.

فَقُلْتُ لامْرَأَةٍ مِنْهُنَّ: ارْجِعِي فَسَلِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا غِشُّ أَزْوَاجِنَا؟ قَالَتْ: فَسَأَلْتُهُ.

فَقَالَ: «تَأْخُذُ مَالَهُ فَتُحَابِي بِهِ غَيْرَهُ» .

‌‌40 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عُثْمَانَ الْكِلابِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَطِيَّةَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي أُمُّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ جَمَعَ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فِي بَيْتٍ، ثُمَّ بَعَثَ إِلَيْنَا عُمَرَ فَقَامَ فَسَلَّمَ فَرَدَدْنَا عليه السلام.

فَقَالَ: إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُنَّ.

قُلْنُا: مَرْحَبًا بِرَسُولِ اللَّهِ وَبِرَسُولِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ فَقَالَ: أَتُبَايِعْنَنِي عَلَى أَنْ لا تُشْرِكَنَّ بِاللَّهِ، وَلا تَزْنِينَ، وَلا تَسْرِقْنَ، وَلا تَقْتُلْنَ أَوْلادَكُنَّ، وَلا تَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ تَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُنَّ وَأَرْجُلِكُنَّ، وَلا تَعْصِينَ فِي مَعْرُوفٍ.

فَقُلْنَا: نَعَمْ.
তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এবং একদল আনসারী মহিলার সাথে তাঁর কাছে বাইয়াত হলাম। অতঃপর যখন তিনি আমাদের ওপর শর্ত আরোপ করলেন যে: আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, আমাদের সন্তানদের হত্যা করব না, আমরা আমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটাব না এবং কোনো সৎ কাজে তাঁর অবাধ্য হব না।

তিনি বললেন: "এবং তোমরা তোমাদের স্বামীদের সাথে প্রতারণা করো না।"

তিনি বললেন: অতঃপর আমরা তাঁর কাছে বাইয়াত হলাম, তারপর আমরা ফিরে গেলাম।

আমি তাদের মধ্য থেকে একজন মহিলাকে বললাম: তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করো: আমাদের স্বামীদের সাথে প্রতারণা করা কী? তিনি বললেন: অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: "তার সম্পদ গ্রহণ করা এবং তা দিয়ে অন্যদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা।"

৪০ - আবু কুরাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওকী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে উসমান আল-কিলাবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আতিয়্যাহ আল-আনসারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদী উম্মু আতিয়্যাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমন করলেন, তখন তিনি আনসারী মহিলাদের একটি ঘরে একত্রিত করলেন। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে উমরকে পাঠালেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন এবং আমরা তাঁর সালামের উত্তর দিলাম।

অতঃপর তিনি বললেন: আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরিত দূত।

আমরা বললাম: আল্লাহর রাসুল এবং আল্লাহর রাসুলের দূতের প্রতি স্বাগতম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (উমর) বললেন: তোমরা কি আমার কাছে এই মর্মে বাইয়াত হবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, এবং তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটাবে না এবং কোনো সৎ কাজে নাফরমানি করবে না?

আমরা বললাম: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَتْ: فَمَدَدْنَا أَيْدِيَنَا مِنْ دَاخِلِ الْبَيْتِ وَمَدَّ يَدَهُ مِنْ خَارِجِهِ.

فَذَكَرَهُ.

قَالَ: هُوَ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ.

وَرَوَى أَبُو دَاوُد مِنْهُ قِطْعَةً يَسِيرَةً مِنْ حَدِيثِهَا.

 

‌‌بَابٌ: الاشْتِرَاطُ عِنْدَ الْبَيْعَةِ

‌‌41 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ هَاشِمٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنِ الْجَارُودِ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُبَايِعُهُ فَقُلْتُ لَهُ: عَلَى أَنِّي إِنْ تَرَكْتُ دِينِي وَدَخَلْتُ دِينَكَ لا يُعَذِّبُنِي اللَّهُ فِي الآخِرَةِ، قَالَ: «نَعَمْ» .

 

‌‌بَابٌ: لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ وَلِجَارِهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنَ الْخَيْرِ

‌‌42 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ وَلِجَارِهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ» .

قُلْتُ: هُوَ فِي الصَّحِيحِ عَلَى الشَّكِّ لأَخِيهِ أَوْ لِجَارِهِ.

‌‌43 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
তিনি বললেন: আমরা ঘরের ভেতর থেকে আমাদের হাত বাড়ালাম এবং তিনি বাহির থেকে তাঁর হাত বাড়ালেন।

অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করলেন।

তিনি বললেন: এটি উমরের হাদিস হিসেবে সহিহ গ্রন্থে রয়েছে।

এবং আবু দাউদ তার হাদিস থেকে এর একটি সামান্য অংশ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বায়াত গ্রহণের সময় শর্তারোপ করা

‌‌৪১ - আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে হাশেম থেকে, তিনি আশআস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আল-জারুদ আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর নিকট বায়াত হওয়ার জন্য আসলাম এবং তাঁকে বললাম: এই শর্তে যে, যদি আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করি এবং আপনার ধর্মে প্রবেশ করি, তবে আল্লাহ আখেরাতে আমাকে শাস্তি দেবেন না। তিনি বললেন: "হ্যাঁ"।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাই ও প্রতিবেশীর জন্য তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য কল্যাণের বিষয় হিসেবে পছন্দ করে

‌‌৪২ - আবু মুসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে আনাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাই ও প্রতিবেশীর জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"

আমি বললাম: এটি সহিহ গ্রন্থে সন্দেহের সাথে বর্ণিত হয়েছে— "তার ভাইয়ের জন্য" অথবা "তার প্রতিবেশীর জন্য"।

‌‌৪৩ - উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, খালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আল-মুয়াল্লিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫২)
" وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ: لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنَ الْخَيْرِ ".

قُلْتُ: هُوَ فِي الصَّحِيحِ خَلا قَوْلِهِ: «مِنَ الْخَيْرِ» .

 

‌‌بَابٌ: لا إِيمَانَ لِمَنْ لا أَمَانَةَ لَهُ

‌‌44 - حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلالٍ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: مَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلا قَالَ: «لا إِيمَانَ لِمَنْ لا أَمَانَةَ لَهُ، وَلا دِينَ لِمَنْ لا عَهْدَ لَهُ» .

‌‌45 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ.

فَذَكَرَ نَحَوْهُ.

 

‌‌بَابٌ: مَا جَاءَ فِي الْخِيَانَةِ وَالْكَذِبِ

‌‌46 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ الْبَرِيدُ، قَالَ: سَمِعْتُ الأَعْمَشَ يَذْكُرُهُ: عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ خُلَّةٍ يُطْبَعُ» - أَوْ قَالَ: يُطْوَى عَلَيْهَا لِلْمُؤْمِنِ «- شَكَّ عَلِيُّ بْنُ
"সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে—কল্যাণের মধ্য হতে।"

আমি বলছি: এটি 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তবে 'কল্যাণের মধ্য হতে' কথাটুকু ব্যতীত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই

‌‌৪৪ - শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন, তখনই বলতেন: "যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই, আর যার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুণ নেই তার কোনো দ্বীন নেই।"

‌‌৪৫ - আল-হাসান ইবনে সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: খিয়ানত ও মিথ্যাচার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

‌‌৪৬ - দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হাশিম আল-বারিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমাশকে এটি উল্লেখ করতে শুনেছি: আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিনের স্বভাবে প্রতিটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই বদ্ধমূল হয়ে যেতে পারে" - অথবা তিনি বলেছেন: "তাতে সে অভ্যস্ত হতে পারে" - আলী ইবনে... সন্দেহ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
هَاشِمٍ -» إِلا الْخِيَانَةَ وَالْكَذِبَ ".

 

‌‌بَابٌ: الشُّحُّ يَمْحَقُ الإِسْلامَ

‌‌47 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حُصَيْنٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي سَارَّةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مَحَقَ الإِسْلامُ مَحْقَ الشُّحِّ شَيْئًا» .

 

‌‌بَابٌ: ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا

‌‌48 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَحَجَّ وَاعْتَمَرَ وَقَالَ إِنِّي مُسْلِمٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ".

 

‌‌بَابٌ: الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعَاءٍ وَاحِدٍ

‌‌49 - حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعَاءٍ وَاحِدٍ، وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ» .
হাশিম -» বিশ্বাসঘাতকতা এবং মিথ্যা ব্যতীত।"

 

‌‌অনুচ্ছেদ: কৃপণতা ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়

‌‌৪৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনু আবী সারাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানী, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কৃপণতার মতো কোনো কিছুই ইসলামকে এতটা ধ্বংস করে দেয় না।"

 

‌‌অনুচ্ছেদ: তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক

‌‌৪৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনু ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ আর-রকাশী, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনু মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তিনটি বিষয় যার মাঝে থাকবে সে মুনাফিক, যদিও সে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে, হজ ও ওমরাহ পালন করে এবং বলে যে 'আমি একজন মুসলিম': যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে।"

 

‌‌অনুচ্ছেদ: মুমিন একটি অন্ত্রে আহার করে

‌‌৪৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনু আবী শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, তিনি বুরাইদ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মুমিন একটি অন্ত্রে আহার করে, আর কাফের সাতটি অন্ত্রে আহার করে।"
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
قُلْتُ: هُوَ فِي الصَّحِيحِ، وَإِنَّمَا ذَكَرْتُهُ لأَنَّهُ ذَكَرَ بَعْدَهُ سَنَدًا إِلَى أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: بِمِثْلِهِ وَهُوَ هَذَا.

‌‌50 - حَدَّثَنَا قَاسِمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ.

 

‌‌بَابٌ: لا يَكْفُرُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ

‌‌51 - حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرًا وَهُوَ مُجَاوِرٌ بِمَكَّةَ وَكَانَ نَازِلا فِي بَنِي فِهْرٍ، فَسَأَلَهُ رَجُلٌ: هَلْ كُنْتُمْ تَدْعُونَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ مُشْرِكًا؟ قَالَ: مَعَاذَ اللَّهِ، فَفَزَعَ لِذَلِكَ.

قَالَ: هَلْ كُنْتُمْ تَدْعُونَ أَحَدًا مِنْكُمْ كَافِرًا؟ قَالَ: لا.

‌‌52 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، إِنَّ نَاسًا يَشْهَدُونَ عَلَيْنَا بِالْكُفْرِ وَالشِّرْكِ، قَالَ أَنَسٌ: أُولَئِكَ مِنْ شَرِّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ.
আমি বললাম: এটি সহীহ গ্রন্থে রয়েছে, আর আমি এটি কেবল এই জন্য উল্লেখ করেছি কারণ তিনি এর পরে আবু সাঈদ থেকে একটি সনদ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: অনুরূপ, আর তা হলো এটি।

‌‌50 - কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজালিদ থেকে, তিনি আবুল ওয়াদ্দাক থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কিবলাপন্থীদের কাউকেই কাফির বলা যাবে না

‌‌51 - ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবির (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি মক্কায় অবস্থান করছিলেন এবং বনু ফিহর গোত্রে অবস্থান করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল: আপনারা কি কিবলাপন্থীদের কাউকেই মুশরিক বলতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই, তিনি এতে আতঙ্কিত হলেন।

তিনি বললেন: আপনারা কি আপনাদের মধ্য থেকে কাউকে কাফির বলতেন? তিনি বললেন: না।

‌‌52 - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ আর-রাক্কাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আবু হামযা! নিশ্চয়ই কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে কুফর ও শিরকের সাক্ষ্য দিচ্ছে। আনাস (রা.) বললেন: তারা সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌بَابٌ: إِنَّ دِينَ اللَّهِ فِي يُسْرٍ

‌‌53 - حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ هِلالٍ، عَنْ غَاضِرَةَ بْنِ عُرْوَةَ الْفُقَيْمِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالنَّاسُ يَنْتَظِرُونَ الصَّلاةَ، فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَجُلٌ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مِنْ وُضُوءٍ تَوَضَّأَهُ - أَوْ غُسْلٍ اغْتَسَلَهُ - فَصَلَّى بِنَا.

فَلَمَّا صَلَّيْنَا جَعَلَ النَّاسُ يَقُومُونَ إِلَيْهِ ثُمَّ يَقُولُونَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ كَذَا، أَرَأَيْتَ كَذَا، يُرَدِّدُهَا مَرَّاتٍ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ دِينَ اللَّهِ فِي يُسْرٍ، يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ دِينَ اللَّهِ فِي يُسْرٍ» .

 

‌‌بَابٌ: مَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ لا يَنْفَعُهُ عَمَلٌ

‌‌54 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ هِشَامَ بْنَ الْمُغِيرَةِ كَانَ يَصِلُ الرَّحِمَ، وَيَقْرِي الضَّيْفَ، وَيَفُكُّ الْعُنَاةَ، وَيُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَلَوْ أَدْرَكَكَ أَسْلَمَ هَلْ ذَلِكَ نَافِعُهُ؟ قَالَ: «لا إِنَّهُ كَانَ يُعْطِي لِلدُّنْيَا وَذَكَرَهَا وَحْدَهَا وَلَمْ يَقُلْ يَوْمًا قَطُّ رَبِّ اغْفِرْ لِي يَوْمَ الدِّينِ» .

 

‌‌بَابٌ: إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ

‌‌55 - حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ.

(ح) وحَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّضْرِ الأَحْوَلُ وَنَسَخْتُهُ مِنْ نُسْخَةِ عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْغَافِرِ، عَنْ
পরিচ্ছেদ: নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীন সহজ

৫৩ - ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসেম ইবনে হিলাল আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন গাদির ইবনে উরওয়াহ আল-ফুকাইমি থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মদিনায় এসে মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন লোকজন সালাতের জন্য অপেক্ষা করছিল। এমতাবস্থায় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি বের হয়ে আসলেন যার মাথা থেকে অজুর পানি অথবা গোসলের পানি ঝরছিল; অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

যখন আমরা সালাত শেষ করলাম, তখন লোকজন তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে বলতে লাগল: হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী, ওই বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তারা বারবার এটি বলছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীন সহজ, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীন সহজ।»

 

পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেনি, কোনো আমলই তার উপকারে আসবে না

৫৪ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম: হিশাম ইবনুল মুগীরা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখত, মেহমানদারি করত, বন্দীদের মুক্ত করত এবং খাদ্য দান করত; সে যদি আপনাকে পেত তবে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করত। এগুলো কি তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: «না, কারণ সে দুনিয়ার উদ্দেশ্যেই দান করত এবং কেবল দুনিয়ার কথাই আলোচনা করত, সে কখনও বলেনি: হে আমার প্রতিপালক! বিচার দিবসে আমাকে ক্ষমা করুন।»

 

পরিচ্ছেদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের ওপর জান্নাত হারাম করেছেন

৫৫ - আবুল আশআস আহমদ ইবনুল মিকদাম আল-ইজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

(হা) এবং আসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাদর আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আমি এটি আসেমের পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছি—তিনি বলেন: মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, কাতাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকবাহ ইবনুল গাফির থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَنَا: " لَيَأْخُذَنَّ رَجُلٌ بِيَدِ أَبِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلْيُقْطِعْنَهُ نَارًا يُرِيدُ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ.

قَالَ: فَيُنَادَى أَنَّ الْجَنَّةَ لا يَدْخُلُهَا مُشْرِكٌ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى كُلِّ مُشْرِكٍ.

قَالَ: فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ أَبِي.

قَالَ: فَيَتَحَوَّلُ فِي صُورَةٍ قَبِيحَةٍ وَرِيحٍ مُنْتِنَةٍ ".

قَالَ: «فَيَتْرُكُهُ» .

قَالَ: فَكَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرَوْنَ أَنَّهُ إِبْرَاهِيمَ وَلَمْ يَزِدْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى ذَلِكَ.
আবূ সাঈদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বলেছেন: "কিয়ামতের দিন অবশ্যই এক ব্যক্তি তার পিতার হাত ধরবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইবে, কিন্তু তাকে আগুনের দিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন: তখন ঘোষণা করা হবে যে, জান্নাতে কোনো মুশরিক প্রবেশ করবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক মুশরিকের জন্য জান্নাত হারাম করেছেন।

তিনি বলেন: তখন সে বলবে: হে আমার রব! আমার পিতা।

তিনি বলেন: তখন তাকে একটি কুৎসিত আকৃতি ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় রূপান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন: «অতঃপর সে তাকে ছেড়ে দেবে»।

তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ মনে করতেন যে, তিনি হলেন ইব্রাহিম, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নিকট এর অতিরিক্ত আর কিছু ব্যক্ত করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-মাকসাদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আল-মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌كِتَابُ الْعِلْمِ

‌‌بَابٌ: فِي عِلْمِ سَيِّدِنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

‌‌57 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ، يَقُولُ: قَدْ أُوتِيَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم مَفَاتِيحَ كُلِّ شَيْءٍ إِلا مَفَاتِيحَ الْخَمْسِ {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ} [لقمان: 34] الآيَةَ.

‌‌58 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُعْطِيتُ فَوَاتِحَ الْكَلِمِ وَخَوَاتِمَهُ» .

قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ فَعَلَّمَنَا.
ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়

অনুচ্ছেদ: আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলম প্রসঙ্গে

৫৭ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে: তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঁচটি চাবি ব্যতীত সবকিছুর চাবি প্রদান করা হয়েছে। (সেগুলো হলো:) {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি গর্ভাশয়ে যা আছে তা জানেন...} [লুকমান: ৩৪] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

৫৮ - ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হারাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা আল-আশআরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে বাক্যের প্রারম্ভিকা ও পরিসমাপ্তি (সবই) প্রদান করা হয়েছে।”

আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাদের শিক্ষা দিন। অতঃপর তিনি আমাদের শিক্ষা দিলেন।