(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: -)
شرح شافية ابن الحاجب - الرضي الأستراباذي   (الرضي الأستراباذي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح شافية ابن الحاجب

المؤلف: محمد بن الحسن الرضي الإستراباذي، نجم الدين (ت 686 هـ)

مع شرح شواهده للعالم الجليل: عبد القادر البغدادي صاحب خزانة الأدب المتوفي عام 1093 من الهجرة

حققهما وضبط غريبهما وشرح مبهمهما الأساتذة:

محمد نور الحسن - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية

محمد الزفزاف - المدرس في كلية اللغة العربية

محمد محيى الدين عبد الحميد - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية

تصوير: دار الكتب العلمية بيروت - لبنان

عام النشر: 1395 هـ - 1975 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যা - আল-রাদি আল-আস্তারাবাদী   (আল-রাদি আল-আস্তারাবাদী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: ইবনে হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-রাদি আল-আস্তারাবাদী, নাজমুদ্দিন (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)

সাথে রয়েছে মহান আলেম: আবদুল কাদির আল-বাগদাদীর কাব্য-প্রমাণাদির ব্যাখ্যা, যিনি খিজানাতুল আদাব-এর রচয়িতা এবং হিজরি ১০৯৩ সনে মৃত্যুবরণ করেছেন

গ্রন্থদ্বয় সম্পাদনা, কঠিন শব্দাবলির বিন্যাস এবং অস্পষ্ট বিষয়াদির ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপকগণ:

মুhammad নূর আল-হাসান - আরবি ভাষা অনুষদ বিশেষজ্ঞ শাখার শিক্ষক

মুহাম্মদ আল-জাজজাফ - আরবি ভাষা অনুষদের শিক্ষক

মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আবদুল হামিদ - আরবি ভাষা অনুষদ বিশেষজ্ঞ শাখার শিক্ষক

মুদ্রণ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত - লেবানন

প্রকাশকাল: ১৩৯৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح شافية ابن الحاجب

تأليف الشيخ رضي الدين محمد بن الحسن الاستراباذي النحوي 686 هـ

مع شرح شواهده للعالم الجليل عبد القادر البغدادي صاحب خزانة الأدب المتوفي عام 1093 من الهجرة

حققهما، وضبط غريبهما، وشرح مبهمهما، الاساتذة:

محمد نور الحسن - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية

محمد الزفزاف - المدرس في كلية اللغة العربية

محمد محيى الدين عبد الحميد - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية

 

دار الكتب العلمية بيروت - لبنان
ইবনে আল-হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ

রচনায়: শায়খ রযীউদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আস্তারাবাদী নাহুবিদ (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)

সাথে রয়েছে মহান আলিম, 'খিজানাতুল আদাব'-এর লেখক আব্দুল কাদির আল-বাগদাদী (মৃত্যু ১০৯৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত এর কাব্য-নিদর্শনের ব্যাখ্যা

এগুলোর তাহকীক, কঠিন শব্দের বিন্যাস এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপকবৃন্দ:

মুহাম্মদ নূরুল হাসান - আরবী ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক

মুহাম্মদ আয-যাফযাফ - আরবী ভাষা অনুষদের শিক্ষক

মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ - আরবী ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক

 

দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২)
(جميع الحقوق محفوظة للشراح)

1395 - 1975 م بيروت - لبنان
(সকল স্বত্ব ব্যাখ্যাকারীদের জন্য সংরক্ষিত)

১৩৯৫ - ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله، وعلى آله وصحبه

ومن والاه.

أما بعد، فهذا شرح أفضل المحققين، وأبرع المدققين، العالم الذي لا يشق غُبَاره، ولا يدْرِك مداه، نجم الملة والدين، محمد رضي الدين بن الحسن الأستراباذي، على مقدمة العلامة النحوي الفقيه الاصولي أبي بكر المعروف بابن الحاجب التي جمع فيها زبدة فن التصرف في أوراق قليلة، غَيْرَ تارك مما يجب علمه ولا يجمل بالمتأدب جهله شيئاً، مشيراً فيها إلى اختلاف العلماء أحياناً، وإلى لغات العرب ولهجاتهم أحياناً أخرى.

وقد ظَلَّ شرح رضي الدين رحمه الله رغم كثرة طبعاته وتعددها - سِرًّا محجوباً، وكَنْزاً مدفوناً، لا يقرب منه أحا إلا أَخَذَهُ البَهْر، وأعجزه الوقوف على غوامضه وأسراره، ذلك لأنه كتاب ملأه صاحبه تحقيقاً، وأفعمه تدقيقاً، وجمع فيه أوابد الفن وشوارده، وأتى بين ثناياه على غرر ابن جني وتدقيقه، وأسرار ابن الانباري واستدلاله وتعليله، وإضافة المازني وترتيبه، وأمثلة سيبويه وتنظيره، ولم يترك في كل ما بحثه لقائل مَقالاً، ولا أبقى لباحثٍ منهجاً، حتى كان كتابه حَرياً بأن ينتجعه طالب الفائدة، ويقبل على مدارسته واستذكاره كل من أراد التفوق على أقرانه في تحصيل مسائل العلم ونوادره، وكان الذين قاموا على طبعه في الآستانة ومصر لم يعطوه من العناية ما يستحقه، حتى جاء في منظر أقلُّ ما يقال فيه إنه يبعد عنه، ولا يقرب منه، وبقي قراء العربية إلى يوم الناس هذا يعتقدون أن الكتاب وَعْرُ المسلك، صعبُ المُرْتَقى، لا تصل إليه الأفهام، ولا تدرك حقائقه الأوهام، فلم يكونوا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী

এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর, এটি হচ্ছে মুহাক্কিকদের শ্রেষ্ঠ এবং সূক্ষ্মদর্শীদের অগ্রগণ্য, সেই মহান আলেম যার সমকক্ষ হওয়া সুদূরপরাহত এবং যার জ্ঞানের গভীরতা অস্পর্শ্য, মিল্লাত ও দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুহাম্মদ রযীউদ্দীন ইবনুল হাসান আল-আস্তারাবাদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যা ব্যাকরণবিদ, ফকীহ ও উসুল শাস্ত্রবিদ আল্লামা আবু বকর—যিনি ইবনুল হাজিব নামে সমধিক পরিচিত—কর্তৃক রচিত সেই মোকাদ্দিমার ওপর লিখিত, যাতে তিনি ইলমে সরফের সারবস্তু অতি অল্প সংখ্যক পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত করেছেন। এতে তিনি এমন কিছুই বাদ দেননি যা জানা আবশ্যক এবং যা সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণকারীর অজ্ঞতা শোভন নয়। এতে তিনি মাঝে মাঝে আলিমগণের মতভেদ এবং কখনো কখনো আরবদের ভাষা ও উপভাষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

রযীউদ্দীন (রহ.)-এর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি—এর অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও—একটি লুকায়িত রহস্য ও প্রোথিত ধনভাণ্ডার হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। এর নিকটবর্তী হওয়া মাত্রই যে কেউ বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে পড়ত এবং এর রহস্য ও সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচগুলো অনুধাবনে অপারগ হয়ে যেত। কারণ, এটি এমন একটি গ্রন্থ যা এর রচয়িতা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও গভীর তত্ত্বে পরিপূর্ণ করেছেন এবং এতে শাস্ত্রের দুর্লভ ও বিরল বিষয়াদি একত্রিত করেছেন। এর পরতে পরতে তিনি ইবনে জিন্নীর শ্রেষ্ঠত্ব ও সূক্ষ্মতা, ইবনুল আম্বারীর রহস্য, প্রমাণ ও যৌক্তিকতা, মাযিনীর সংযোজন ও বিন্যাস এবং সিবওয়াইহ-এর উদাহরণ ও তাত্ত্বিক রূপরেখা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি যে বিষয়েই আলোচনা করেছেন, সেখানে অন্য কারো কথা বলার কোনো অবকাশ রাখেননি এবং কোনো গবেষকের জন্য নতুন কোনো পথ বাকি রাখেননি। এমনকি এই কিতাবটি এ যোগ্যতার অধিকারী হয়েছে যে, জ্ঞানপ্রার্থী একেই তার লক্ষ্যস্থল হিসেবে গ্রহণ করবে এবং যে ব্যক্তি শাস্ত্রীয় সমস্যা ও দুর্লভ জ্ঞান অর্জনে তার সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়, সে এর অধ্যয়ন ও চর্চায় নিবিষ্ট হবে। যারা আস্তানা ও মিশরে এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তারা এটিকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব প্রদান করেননি। ফলে এটি এমন এক জরাজীর্ণ রূপে প্রকাশিত হয়েছিল যার সম্পর্কে ন্যূনতম মন্তব্য হলো—এটি পাঠককে বিমুখ করে দেয়, আকৃষ্ট করে না। ফলে আজ পর্যন্ত আরবি ভাষাভাষী পাঠকদের এই বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে যে, এই কিতাবটির পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং এর শিখরে আরোহণ করা দুঃসাধ্য; একে সাধারণ বোধশক্তি আয়ত্ত করতে পারে না এবং কল্পনাও এর নিগূঢ় সত্যকে স্পর্শ করতে পারে না। ফলে তারা...
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৪)
ليقبلوا عليه، ولا ليتعرضوا له، والكتاب - علم الله - من أمتنع الكتب وأوفاها، وأحلفها بالنافع المفيد، وأدناها إلى من ألقى له بالاً، ولم يثنه عن اقتطاف ثماره ما أحاط بها من قَتَاد.

وكم كنا نَوَد أن الله تعالى قَيَّضَ لنا من تنبعث همته إلى نشره على وَجْهٍ يرضى به الانصاف وعرفانُ الجميل، حتى أتيحت لنا هذه الفرصة المباركة، ووُكل

إلينا أمر مراجعته وإيضاح ما يحتاج إلى الإيضاح منه، فعكفنا على مراجعة أصوله، وضبط مبهماته، وشرح مفرداته، والتعليق على مسائله وما يختاره المؤلف من الآراء تعليقاً لا يُمِلّ قارئه ولا يحوجه إلى مراجعة غيره.

ثم عرض لنا أن نذيله بشرح شواهده الذي صنّفه العالم المطلع المحقق عبد القادر البغدادي صاحب (خزانة الأدب، ولب لباب لسان العرب) التي شرح فيها شواهد شرح رضي الدين على مقدمة ابن الحاجب في النحو، فلما استقر عندنا هذا الرأي لم نشأ أن نطيل في شرح الشواهد أنناء تعليقاتنا، وأرجأنا ذلك إلى هذا الشرح الوسيط، واجتزأنا نحن بالإشارة المفهمة التي لا بدّ منها لبيان لغة الشاهد وموطن الاستشهاد.

وليس لأحدنا عمل مستقل في هذا الكتاب، فكل ما فيه من مجهود قد اشتركنا ثلاثتنا فيه إشتراكاً بأوسع ما تدل عليه العبارة، فلم يَخُطَّ أحدنا حرفاً أو حركة إلا بعد أن يقر الآخران ما أراد، فإن يكن هذا العمل قد جاء وافياً بما قصدنا إليه، مؤدياً الغرض الذي رجونا أن يؤديه، كان ذلك غاية أملنا ومنتهى سؤلنا، وإن تكن الأخرى فهذا جهد المقل، وحسبك من غِنىً شبع وري.

والله تعالى المسئول أن يتقبل منا، وأن يجعل عملنا خالصاً لوجهه، مقر بامنه، امين كتبه محمد نور الحسن محمد الزفزاف محمد محيي الدين عبد الحميد
যাতে তারা এটির প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে, এর বিরোধিতা করতে নয়; আর এই কিতাবটি—আল্লাহই ভালো জানেন—সর্বাধিক মজবুত ও পূর্ণাঙ্গ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ বিষয়াবলীতে ভরপুর, এবং এটি সেই ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত নিকটবর্তী যে এতে মনোনিবেশ করে, আর এর চারপাশ ঘিরে থাকা কাঁটা একে ফল আহরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না।

আমরা কতই না আকাঙ্ক্ষা করতাম যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য এমন কাউকে নির্ধারণ করে দিন যার হিম্মত বা সংকল্প একে এমনভাবে প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ হবে যা ইনসাফ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারের দাবি পূরণ করে। পরিশেষে আমাদের এই বরকতময় সুযোগটি জুটে গেল এবং আমাদের ওপর অর্পিত হলো এর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং যেখানে যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব। তাই আমরা এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর পর্যালোচনায় আত্মনিয়োগ করলাম, এর অস্পষ্ট বিষয়সমূহ সুবিন্যস্ত করলাম, শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করলাম এবং এর মাসআলাসমূহ ও লেখকের নির্বাচিত মতামতের ওপর এমন টীকা প্রদান করলাম যা পাঠককে ক্লান্ত করবে না এবং তাকে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষীও করবে না।

এরপর আমাদের মনে হলো যে, আমরা এর শেষে এর কাব্যিক নিদর্শনসমূহের (শাওয়াহিদ) ব্যাখ্যাটি যুক্ত করে দেই, যা সংকলন করেছেন প্রাজ্ঞ গবেষক আলিম আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি, যিনি 'খিজানাতুল আদব' এবং 'লুব্বু লুবাব লিসানিল আরব'-এর রচয়িতা। তিনি তাতে নাহু শাস্ত্রের ইবনুল হাজিব রচিত 'মুকাদ্দিমাহ'-এর ওপর রাযি উদ্দিনের শারহ-এর কাব্যিক নিদর্শনসমূহের ব্যাখ্যা করেছেন। যখন আমাদের নিকট এই সিদ্ধান্ত স্থির হলো, তখন আমরা আমাদের টীকা চলাকালীন কাব্যিক নিদর্শনসমূহের ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত করতে চাইলাম না; বরং আমরা তা এই মধ্যম মানের ব্যাখ্যার জন্য স্থগিত রাখলাম এবং আমরা কেবল সেই অপরিহার্য ব্যাখ্যামূলক ইঙ্গিতের ওপর নির্ভর করলাম যা নিদর্শনের ভাষা ও উদ্ধৃতির প্রেক্ষিত স্পষ্ট করার জন্য প্রয়োজন।

এই কিতাবে আমাদের কারোই একক কোনো কাজ নেই; বরং এতে যা কিছু শ্রম রয়েছে তাতে আমরা তিনজনেই পূর্ণাঙ্গভাবে শরিক ছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ একটি অক্ষর বা হরকতও লিখেননি যতক্ষণ না অন্য দুজন তাঁর উদ্দেশ্য অনুমোদন করেছেন। সুতরাং এই কাজটি যদি আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত হয়ে থাকে এবং আমরা যে উদ্দেশ্য আশা করেছিলাম তা পূরণ করে থাকে, তবে সেটিই হবে আমাদের পরম আশা ও প্রার্থনার সমাপ্তি। আর যদি অন্যথা হয়, তবে এটি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা মাত্র; আর তৃপ্তি ও সজীবতাই ঐশ্বর্যের জন্য যথেষ্ট।

আর মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন ও তাঁর নিরাপত্তার শামিল করেন। আমিন। এটি লিখেছেন: মুহাম্মাদ নূরুল হাসান, মুহাম্মাদ আয-যাফযাফ, মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ।
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم [وصلى الله على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم] أما بعد حمد الله توالي نعمه، والصلاةِ على رسوله محمد وعِتْرَتهِ المعصومين، فقد عزمت على أن أشرح مقدمة ابن الحاجب في التصريف والخط، وَأَبْسُطَ الكلام في شرحها كما في شَرْحِ أُخْتِها بَعضَ البَسْطِ، فإن الشُّرَّاح قد اقتصروا على شرح مُقَدِّمة الإعراب، وهذا - مع قرب التصريف من الإعراب في مَسَاس الحاجة إليه، ومع كونهما من جنس واحد - بعيدٌ من الصواب، وعلى

الله المُعَوَّل في أن يوفقني لإتمامه، بمنه وكرمه، وبالتوسل بِمَنْ أنا في مُقَدَّس حرمه، عليه من الله أزكى السلام، وعلى أولاده الغرِّ الكرام.

قال المصنّف: (الحَمْدُ لِلَّهِ ربِّ العَالَمِينَ، وَالصَّلاة عَلَى سَيِّدنا محمَّدٍ وَآلِهِ الطاهرين.

وَبَعْد فَقَدِ التَمَسَ مِنِّي مَنْ لا تَسْعنِي مُخَالَفَته أنْ أُلحَقَ بِمقدِّمَتِي في الإعْرابِ مُقَدِّمَةً في التَّصْرِيفِ عَلَى نَحْوِها، ومقدِّمَةً في الخَطِّ، فَأَجَبْته سائلاً متضرِّعاً أنْ يَنْفَعَ بِهِما، كَمَا نَفَعَ بأختهما والله الموفق.

التَّصريفُ عِلْمٌ بأُصُولٍ تُعْرَفُ بها أَحْوَالُ أَبْنِيَةِ الكلم التي ليس بإِعْراب.

أقول: قوله (بأصول) يعني بها القوانين الكلية المنطبقةَ على الجزئيات،
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। [এবং আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর।] অতঃপর, আল্লাহর ক্রমাগত নিআমতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর রসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পবিত্র ও নিষ্পাপ বংশধরদের উপর দরুদ পাঠের পর, আমি রূপান্তর (তাসরিফ) ও লিপি (খত) বিষয়ে ইবনুল হাজিব-এর মুকাদ্দিমা বা ভূমিকার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছি এবং এর ব্যাখ্যায় সেভাবে বিস্তারিত আলোচনা করব যেভাবে আমি এর সহোদরা (ব্যাকরণ বিষয়ক ভূমিকা)-এর ব্যাখ্যায় কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কেননা ব্যাখ্যাকারগণ কেবল ই'রাব (ব্যাকরণ) বিষয়ক ভূমিকার ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। অথচ প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে তাসরিফ ই'রাব-এর অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং এই উভয় শাস্ত্র একই প্রকৃতির হওয়া সত্ত্বেও তাসরিফকে উপেক্ষা করা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকা। আর

এটি সম্পন্ন করার তৌফিক দানের জন্য আমি আল্লাহর উপরই ভরসা করি—তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এবং সেই মহান সত্তার অসীলায় যাঁর পবিত্র হারামে আমি অবস্থান করছি—তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর উজ্জ্বল ও সম্মানিত সন্তানদের ওপরও।

মূল লেখক বলেন: (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এমন এক ব্যক্তি—যার বিরোধিতা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়—আমার নিকট অনুরোধ করেছেন যেন আমি আমার ই'রাব (ব্যাকরণ) বিষয়ক ভূমিকার সাথে তদ্রূপ রূপান্তর (তাসরিফ) বিষয়ক একটি ভূমিকা এবং লিপি (খত) বিষয়ক একটি ভূমিকা যুক্ত করি। তাই আমি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করে তাঁর অনুরোধ রক্ষা করলাম যে, তিনি যেন এই দুইটির মাধ্যমেও তদ্রূপ উপকার দান করেন যেমনটি তিনি তাদের সহোদরার মাধ্যমে করেছেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

তাসরিফ বা রূপান্তর হলো এমন কিছু মূলনীতি সম্পর্কিত জ্ঞান, যার মাধ্যমে শব্দের কাঠামোগত অবস্থাসমূহ জানা যায় যা ই'রাব (কারক বিভক্তি) সংক্রান্ত বিষয় নয়।

আমি বলছি: তাঁর উক্তি '(মূলনীতিসমূহ দ্বারা)' অর্থ হলো সেই সকল সামগ্রিক নিয়মাবলি যা এর অন্তর্ভুক্ত শাখা বা আংশিক বিষয়সমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়,
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২)
كقولهم مثلاً (كل واو أو ياء إذا تحركت وانفتح ما قبلها قُلِبَتْ ألفاً) والحق أن هذه الأصول هي التصريف، لا العلم بها (1) قوله (أبنية الكلم) المراد من بناء الكلمة ووزنها وصيغتها هَيْئَتُها التي يمكن أن يشاركها فيها غيرهما، وهي عدد حروفها المرتبة وحركاتها المعينة وسكونها مع اعتبار الحروف الزائدة والأصلية كُلٌّ في موضعه، فرَجُل مثلاً على هيئة وصفة يشاركه فيه عَضُد (2) ، وهي كونه على ثلاثةٍ أولها مفتوح وثانيها مضموم، وأما الحرف الأخير فلا تعتبر حركته وسكونه في البناء، فَرَجُل ورَجُلاً ورَجُلٍ على بناء واحد، وكذا جَمَلٌ على بناء ضَرَبَ، لأن الحرف الأخير لحركة الإعراب وسكونه وحركة البناء وسكونه، وإنما قلنا (يمكن أن يشاركها) لأنه قد لا يشاركها في الوجود كالحِبُكِ - بكسر الحاء وضم الباء - فإنه لم يأت له نظير (3) ، وإنما قلنا (حروفها المرتبة) لأنه إذا تغير النظم والترتيب تغير الوزن،

--------------------------------------------

(1) تريد الاعتراض على ابن الحاجب حيث قال (التصريف علم بأصول)

ولم يقل التصريف أصول، وذلك أن عبارة ابن الحاجب تشعر بأن التصريف غير الاصول المذكورة، والحق أن عبارة ابن الحاجب مستقيمة، ولا وجه للاعتراض المذكور عليها، وذلك أنه قد تقرر عند العلماء أن لفظ العلم يطلق إطلاقا حقيقيا على الاصول والقواعد، وهي القضايا الكلية التى يتعرف منها أحكام جزئيات موضوعها، وعلى التصديق بهذه الاصول والقواعد، وعلى ملكة استحضارها الحاصلة من تكرير التصديق بها، فقول ابن الحاجب (التصريف علم بأصول) يجوز أن يراد من العلم فيه القواعد، فتكون الباء قى قوله (بأصول) للتصوير، وأن يراد منه التصديق فتكون الباء للتعدية، وأن يراد منه ملكة الاستحضار فتكون الباء للسببية إلا أن القواعد سبب بعيد للملكة، والسبب القريب التصديق بها (2) العضد - كرجل وفلس وعنق وقفل وكتف - من الانسان وغيره الساعد وهو ما بين المرفق إلى الكتف (3) الحبيكة - كسفينة - الطريق في الرمل ونحوه، واسم الجمع حبيك، والجمع (*)
যেমন তাদের কথা (উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যেক ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ যখন হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের অক্ষরটি জবরযুক্ত হয়, তখন তা ‘আলিফ’ হিসেবে পরিবর্তিত হয়ে যায়)। প্রকৃত সত্য এই যে, এই মূলনীতিগুলোই হলো রূপান্তর প্রক্রিয়া (তাসরিফ), এগুলোর জ্ঞান নয় (১)। তাঁর কথা (শব্দসমূহের গঠনসমূহ): শব্দের গঠন, ওজন এবং রূপ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার এমন অবয়ব যাতে অন্য শব্দও অংশীদার হতে পারে। আর তা হলো এর সুবিন্যস্ত অক্ষরসমূহের সংখ্যা, নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুনসমূহ, সাথে সাথে অতিরিক্ত ও মূল অক্ষরসমূহকে যার যার নিজ নিজ স্থানে বিবেচনা করা। যেমন ‘রাজুল’ শব্দটি এমন একটি অবয়ব ও বৈশিষ্ট্যের ওপর রয়েছে যাতে ‘আদুদ’ (২) শব্দটিও অংশীদার। আর তা হলো এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট হওয়া, যার প্রথমটি জবরযুক্ত এবং দ্বিতীয়টি পেশযুক্ত। আর শেষ অক্ষরের হরকত বা সুকুন গঠনের ক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়; তাই ‘রাজুল’, ‘রাজুলান’ এবং ‘রাজুলিন’ একই গঠনের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ‘জামাল’ শব্দটি ‘দারাবা’-এর গঠনের ওপর; কারণ শেষ অক্ষরটি ব্যাকরণিক পরিবর্তন (ইরাব)-এর হরকত ও সুকুন এবং গঠনগত (বিনা) হরকত ও সুকুনের জন্য নির্ধারিত। আমরা কেবল বলেছি ‘অংশীদার হতে পারে’ কারণ বাস্তবে হয়তো অন্য কোনো শব্দ অংশীদার হিসেবে নাও পাওয়া যেতে পারে, যেমন ‘হিবুক’ শব্দটি—যাতে প্রথম বর্ণে যের এবং দ্বিতীয় বর্ণে পেশ রয়েছে—কারণ এর কোনো সমরূপ শব্দ পাওয়া যায়নি (৩)। আমরা কেবল ‘সুবিন্যস্ত অক্ষরসমূহ’ বলেছি কারণ যদি বিন্যাস ও ক্রম পরিবর্তিত হয় তবে ওজনও পরিবর্তিত হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) আপনি ইবনুল হাজিবের ওপর আপত্তি করতে চাইছেন যেহেতু তিনি বলেছেন (রূপান্তর প্রক্রিয়া হলো মূলনীতিসমূহের জ্ঞান),

তিনি এটি বলেননি যে রূপান্তর প্রক্রিয়া হলো স্বয়ং মূলনীতিসমূহ। ইবনুল হাজিবের এই প্রকাশভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, রূপান্তর প্রক্রিয়া উক্ত মূলনীতিসমূহ থেকে ভিন্ন বিষয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে, ইবনুল হাজিবের বক্তব্য সঠিক এবং এর ওপর উক্ত আপত্তির কোনো অবকাশ নেই। কারণ আলেমগণের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ‘জ্ঞান’ (ইলম) শব্দটি প্রকৃত অর্থেই মূলনীতি ও নিয়মাবলীর ওপর প্রয়োগ করা হয়; আর এগুলো হলো এমন সব সামগ্রিক বিষয় যার মাধ্যমে তার বিষয়ের আংশিক বিধানসমূহ জানা যায়। আবার এই শব্দটি এই মূলনীতিসমূহের সত্যায়ন এবং এই সত্যায়নের পুনরাবৃত্তি থেকে অর্জিত হওয়া উপস্থিত রাখার সক্ষমতার ওপরও প্রয়োগ হয়। সুতরাং ইবনুল হাজিবের কথা (রূপান্তর প্রক্রিয়া হলো মূলনীতিসমূহের জ্ঞান)-এর ক্ষেত্রে ‘জ্ঞান’ দ্বারা নিয়মাবলী উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে ‘এর’ অব্যয়টি বর্ণনার জন্য হবে। আবার তা দ্বারা সত্যায়ন উদ্দেশ্য হতে পারে, সেক্ষেত্রে অব্যয়টি কর্মকে নির্দেশ করার জন্য হবে। আর তা দ্বারা উপস্থিত রাখার সক্ষমতা উদ্দেশ্য হতে পারে, সেক্ষেত্রে অব্যয়টি কারণ বুঝানোর জন্য হবে; তবে নিয়মাবলী হলো সেই সক্ষমতার দূরবর্তী কারণ, আর নিকটতম কারণ হলো সেগুলোর সত্যায়ন। (২) আদুদ—রাজুল, ফিলস, উনুক, কুফল ও কাতিফ-এর মতো—মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি হলো হাতের বাহু, যা কনুই থেকে কাঁধ পর্যন্ত অংশকে বোঝায়। (৩) হাবিকাহ—সাফিনাহ-এর ওযনে—বালু বা অনুরূপ কিছুর ওপর তৈরি হওয়া পথ, এর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য হলো হাবিক এবং এর বহুবচন হলো (*)।
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৩)
كما تقول: بئس على وزن فَعِلَ وَأَيِسَ على وزن عَفِلَ، وإنما قلنا (مع اعتبار الحروف الزائدة والأصلية) لأنه يقال: على وزن فَعْلَلَ أو أَفْعَلَ أو فَاعلَ مع توافق الجميع في الحركات المعينة والسكون، وقولنا " كل في موضع " لأن نحو دِرْهَم ليس على وزن قِمَطْرٍ (1) لتخالف مواضع الصفحتين والسكونين، وكذا نحو بَيْطَر (2) مخالف لشَرْيَفَ (3) في الوزن لتخالف موضعي الياءين، وقد يُخَالَف ذلك (4) في أوزان التصغير فيقال: أوزان التصغير ثلاثة: فُعَيْلٌ، وفُعَيْعِلٌ، وفُعَيْعِيلٌ فيدخل في فُعَيْعل أُكيْلب وَحُميّر ومُسَيْجِد ونحوها، وفي فُعَيْعِيل مُفَيْتيح وَتُمَيْثيل ونحو ذلك، [وذلك] (5) لما سيجى

--------------------------------------------

حبائك وحبك، كسفين وسفائن وسفن، وقد قرى في الشواذ: (والسماء ذَاتِ

الحِبُكِ) بكسر الحاء وضم الباء، وهذه هي التي عناها الشارح المحقق بأنها لا نظير لها (1) القمطر: الجمل القوي السريع، وقيل: الجمل الضخم القوي، ورجل قمطر: قصير، وامرأة قمطرة: قصيرة عريضة، والقمطر والقمطرة: ما تصان فيه الكتب (2) بيطر: عالج الدواب، فهو بيطار.

وبطر كفرح وبيطر كجعفر وبيطر كهزبر ومبيطر، وأصله بطر الشئ يبطره شقه، وبابه نصر (3) شريف الزرع: قطع شريافه، وهو ورقة إذا كثر وطال وخشى فساده، ويقال: شرنفه، أي قطع شرنافه، وهو بمعنى الاول (4) اسم الاشارة في قوله " ذلك " يعود إلى اعتبار الحروف الزائدة والأصلية كُلٌّ في موضعه في الوزن، فأكيلب وزنه التصريفي أفيعل والتصغيري فعيعل، وحمير وزنه التصريفي فعيل والتصغيري فعيعل، ومسيجد وزنه التصريفي مفيعل والتصغيري فعيعل، ومفيتيح وزنه التصريفي مفيعيل والتصغيري فعيعيل وتميثيل وزنه التصريفي تفيعيل والتصغيري فعيعيل، وسيأتي للشارح توجيه هذه المخالفة عند قول المصنف " ويعبر عنها بالفاء والعين واللام " (5) هذه الزيادة عن النسخة الخطية (*)
যেমন আপনি বলেন: বি’সা শব্দটি ফা’ইলা ওজনের এবং আইসা শব্দটি আফিলা ওজনের। আমরা যে বলেছি (অতিরিক্ত ও মূল অক্ষরসমূহ বিবেচনা করে), তার কারণ হলো এটি ফাল্লালা বা আফ’আলা বা ফা’আলা ওজনে বলা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুনগুলোর ক্ষেত্রে সবকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমাদের কথা "প্রত্যেকটি নিজ নিজ স্থানে" এর কারণ হলো, দিরহাম-এর মতো শব্দ কিমাতর (১) এর ওজনের নয়; কারণ এতে দুটি স্বরধ্বনি ও দুটি সুকুনের স্থান ভিন্ন ভিন্ন। একইভাবে বাইতার (২) শব্দটি ওজনের ক্ষেত্রে শারইয়াফা (৩) এর পরিপন্থী; কারণ এতে দুটি ইয়া-এর স্থান ভিন্ন। এবং কখনো কখনো এর (৪) ব্যত্যয় ঘটে তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) এর ওজনগুলোর ক্ষেত্রে। তাই বলা হয়: তাসগিরের ওজন তিনটি: ফুআইল, ফুআইয়িল এবং ফুআইয়ীল। সুতরাং ফুআইয়িল ওজনের অন্তর্ভুক্ত হয় উকালিব, হুমাইয়ার, মুসাইজিদ ও এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর ফুআইয়ীল ওজনের অন্তর্ভুক্ত হয় মুফাইতিহ, তুমাইসিল ও এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর তা (৫) এজন্য যা সামনে আসবে

--------------------------------------------

হাবায়িক ও হুবুক, যেমন সাফিন, সাফাইন ও সুফুন। আর শায (বিরল) কিরাতে পড়া হয়েছে: (ওয়াসসামায়ি যাতি

হিবুকি) হা অক্ষরে কাসরা এবং বা অক্ষরে দম্মা সহকারে। আর এটিই সেই শব্দ যা দ্বারা মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকারক উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে এর কোনো নজির নেই (১) আল-কিমাতর: শক্তিশালী ও দ্রুতগামী উট। বলা হয়: বিশাল ও শক্তিশালী উট। আর রাজুলুন কিমাতরুন: খাটো ব্যক্তি, এবং ইমরাআতুন কিমাতরাতুন: খাটো ও চওড়া মহিলা। আর আল-কিমাতর ও আল-কিমাতরাহ বলতে সেই আধারকেও বোঝানো হয় যাতে কিতাবসমূহ সংরক্ষণ করা হয় (২) বাইতারা: চতুষ্পদ প্রাণীর চিকিৎসা করা; সুতরাং সে হলো বাইতার।

আর বাতিরা ফারিহা-এর মতো, বাইতারা জা’ফারা-এর মতো, বিতরা হিযাবর-এর মতো এবং মুবাইতির। এর মূল হলো বাতারা আশ-শাইয়া ইয়াবতারুহু অর্থাৎ কোনো কিছু বিদীর্ণ করা। এর পরিচ্ছেদ বা বাব হলো নাসারা (৩) শারইয়াফা যার’আ: শস্যের শারইয়াফ কেটে ফেলা; আর এটি হলো শস্যের পাতা যা যখন অনেক বেশি ও লম্বা হয়ে যায় এবং এর নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। আর একে শারনাফাও বলা হয়, অর্থাৎ তার শারনাফ কেটে ফেলা। এটি প্রথমটির অর্থেই ব্যবহৃত হয় (৪) তাঁর কথা "যালিকা" (ঐটি) এর মধ্যে ইশারাটি ওজনের ক্ষেত্রে মূল ও অতিরিক্ত হরফসমূহের নিজ নিজ স্থানের বিবেচনার দিকে ফিরেছে। সুতরাং উকালিব শব্দের রূপতাত্ত্বিক ওজন হলো আফাইইল কিন্তু তাসগিরি ওজন হলো ফুআইয়িল। হুমাইয়ার শব্দের রূপতাত্ত্বিক ওজন হলো ফুআইল কিন্তু তাসগিরি ওজন হলো ফুআইয়িল। মুসাইজিদ শব্দের রূপতাত্ত্বিক ওজন হলো মুফাইইল কিন্তু তাসগিরি ওজন হলো ফুআইয়িল। মুফাইতিহ শব্দের রূপতাত্ত্বিক ওজন হলো মুফাইয়ীল এবং তাসগিরি ওজন হলো ফুআইয়ীল। তুমাইসিল শব্দের রূপতাত্ত্বিক ওজন হলো তাফাইয়ীল এবং তাসগিরি ওজন হলো ফুআইয়ীল। লেখক সামনে এই পার্থক্যের কারণ বর্ণনা করবেন যেখানে গ্রন্থকার বলেছেন "এবং একে ফা, আইন ও লাম দ্বারা প্রকাশ করা হয়" (৫) এই সংযুক্তিটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৪)
قوله " أحوال أبنية الكلم " يُخْرِجُ من الحد معظم أبواب التصريف، أعني الأصول التي تعرف بها أبنية الماضي والمضارع والأمر والصفة وأفعل التفضيل والآلة والموضع والمصغر والمصدر، وقد قال المصنف بعد مُدْخِلاً لهذه الأشياء في أحوال الأبنية: " وأحوال الأبنية قد تكون للحاجة كالماضي والمضارع " إلخ وفيه نظر (1) ، لأن العلم بالقانون الذي تعرف به أبنية الماضي من الثلاثي والرباعي

--------------------------------------------

(1) هذا النظر في قول المصنف بعد مُدْخِلاً لهذه الأشياء في حد التصريف " وأحوال الأبنية قد تكون للحاجة كالماضي والمضارع والامر واسمى الفاعل والمفعول

وَالصِّفَةِ المُشَبَّهَةِ وَأَفْعَلِ التَّفْضِيلِ وَالْمَصْدَرِ وَاسْمَيِ الزَّمَانِ وَالْمَكَانِ وَالآلَةِ وَالْمُصَغَّرِ وَالْمَنْسُوبِ وَالْجَمْعِ وَالْتِقَاءِ السَّاكِنَيْنِ وَالابْتِدَاءِ وَالْوَقْفِ، وقدْ تَكُونُ لِلتَّوَسُّع كَالْمقْصُورِ وَالْمَمْدُودِ وذِي الزِّيَادَةِ، وَقَدْ تَكُونُ لِلْمُجَانَسَةِ كَالإِْمَالَةِ، وَقَدْ تكون للاستثقال كتخفيف الهمزة والاعلال والابدال والادغام والحذف " والحاصل أن قول المصنف " تعرف بها أحوال الابنية " إن جعلت الاضافة فيه بيانية دخل فيه الاصول التي تعرف بها أبنية الماضي والمضارع والامر واسم الفاعل اسم المفعول والصفة المشبهة وأفعل التفضيل وأسماء الزمان والمكان والالة والمصغر والمنسوب والجمع، وخرج منه الاصول التي تعرف بها أحوال الابنية كالاصول التى يعرف بها الابتداء والامالة وتخفيف الهمزة والاعلال والابدال، والحذف وبعض الادغام، وهو إدغام بعض حروف الكلمة في بعض نحو مد وامتد وشد واشتد، وبعض التقاء الساكنين وهو ما إذا كان الساكنان في كلمة نحو قل وبع، وخرج منه الاصول التى يعرف بها الادغام في كلمتين نحو " منهم من ينظر " و " منهم من يقول " و " منهم من يستمع " " فما له من وال " " قل لزيد " والتي يعرف بها التقاء الساكنين في كلمتين نحو " ادخل السوق " " واشتر الكتاب " وإن جعل الاضافة على معنى اللام خرج من الحد النوع الاول والثالث، ثم ذكر الشارح المحقق أن قول المصنف " وأحوال الابنية قد تكون الخ " مشكل على كل حال، وذلك أن الماضي وما ذكر معه الى الجمع ليس أبنية ولا أحوال أبنية كما أن الادغام من كلمتين والتقاء الساكنين من كلمتين كذلك، فلا يستقيم قوله " وأحوال الابنية قد تكون للحاجة كالماضي والمضارع الخ " سواء أجعلت الاضافة بيانية أم على معنى اللام (*)
তার কথা “শব্দের গঠনের অবস্থাসমূহ” সংজ্ঞার গণ্ডি থেকে সরফ (রূপান্তর)-এর অধিকাংশ অধ্যায়কে বের করে দেয়। আমার উদ্দেশ্য হলো সেই মূলনীতিসমূহ যার মাধ্যমে অতীতকাল, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল, আদেশবাচক ক্রিয়া, গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাত), আধিক্যবোধক বিশেষ্য (ইসমে তাফদীল), যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (ইসমে আলা), স্থানবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাকান), ক্ষুদ্রতাবাচক বিশেষ্য (ইসমে মুসাগগার) এবং ক্রিয়ামূল (মাসদার)-এর গঠন জানা যায়। অথচ গ্রন্থকার পরবর্তীতে এই বিষয়গুলোকে গঠনের অবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেন: “গঠনের অবস্থাসমূহ কখনও প্রয়োজনে হয়ে থাকে, যেমন অতীতকাল ও বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল” ইত্যাদি। তবে এতে পর্যালোচনা বা আপত্তি রয়েছে (১), কারণ তিন অক্ষর বিশিষ্ট এবং চার অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের অতীতকালের গঠন যে নিয়মের মাধ্যমে জানা যায় তার জ্ঞান...

--------------------------------------------

(১) এই পর্যালোচনাটি গ্রন্থকারের পরবর্তী বক্তব্যের ওপর, যেখানে তিনি এই বিষয়গুলোকে সরফের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেন: “গঠনের অবস্থাসমূহ কখনও প্রয়োজনে হয়ে থাকে যেমন অতীতকাল, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল, আদেশবাচক ক্রিয়া, কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যদ্বয়,

সদৃশ গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাতে মুশাব্বাহ), আধিক্যবোধক বিশেষ্য (ইসমে তাফদীল), ক্রিয়ামূল (মাসদার), কাল ও স্থানবাচক বিশেষ্যদ্বয়, যন্ত্রবাচক বিশেষ্য, ক্ষুদ্রতাবাচক বিশেষ্য, সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (ইসমে মানসুব), বহুবচন (জমা), দুই সাকিন বিশিষ্ট অক্ষরের মিলন (ইলতিকায়ে সাকিনাইন), শব্দের শুরু (ইবতিদা) এবং শব্দের সমাপ্তি বা বিরতি (ওয়াকফ)। আবার কখনও তা অর্থগত প্রসারের জন্য হয় যেমন মাকসুর, মামদুদ ও অতিরিক্ত অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ। আবার কখনও তা সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য হয় যেমন ইমালাহ। আবার কখনও তা উচ্চারণের কষ্টসাধ্যতা দূর করার জন্য হয় যেমন হামযার উচ্চারণ সহজ করা (তাখফিফ), স্বরবর্ণের পরিবর্তন (তা’লীল), অক্ষর পরিবর্তন (ইবদাল), সন্ধি (ইদগাম) এবং বিলোপ সাধন (হজফ)।” মোদ্দা কথা হলো, গ্রন্থকারের উক্তি “যার মাধ্যমে গঠনের অবস্থাসমূহ জানা যায়”—এখানে যদি সম্বন্ধকে (ইদাফাত) বর্ণনামূলক (বায়ানিয়্যাহ) ধরা হয়, তবে এর মধ্যে সেই মূলনীতিগুলো দাখিল হবে যার মাধ্যমে অতীতকাল, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল, আদেশবাচক ক্রিয়া, কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্য, সিফাতে মুশাব্বাহ, ইসমে তাফদীল, সময় ও স্থানের নামসমূহ, যন্ত্রবাচক বিশেষ্য, ক্ষুদ্রতাবাচক বিশেষ্য, সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য এবং বহুবচনের গঠন জানা যায়। আর এর থেকে সেই মূলনীতিগুলো বের হয়ে যাবে যার মাধ্যমে গঠনের অবস্থাসমূহ জানা যায়, যেমন সেই মূলনীতিসমূহ যার মাধ্যমে ইবতিদা, ইমালাহ, হামযা সহজ করা, তা’লীল, ইবদাল, হজফ এবং কিছু ইদগাম জানা যায়। আর তা হলো শব্দের এক অক্ষরকে অন্য অক্ষরের সাথে সন্ধি করা যেমন মাদ্দা, ইমতাদ্দা, শাদ্দা এবং ইশতাদ্দা। আর কিছু ইলতিকায়ে সাকিনাইনও এর অন্তর্ভুক্ত, যা এক শব্দের মধ্যে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে হয় যেমন ‘কুল’ এবং ‘বি’’। আর এর থেকে সেই মূলনীতিগুলো বের হয়ে যাবে যার মাধ্যমে দুই শব্দের মধ্যে সন্ধি বা ইদগাম জানা যায় যেমন “মিনহুম মাই ইয়ানযুরু”, “মিনহুম মাই ইয়াকুলু”, “মিনহুম মাই ইয়াস্তামি’উ”, “ফামা লাহু মিঁও ওয়াল”, “কুল লি-যায়েদিন” এবং যার মাধ্যমে দুই শব্দের মধ্যে দুই সাকিন একত্রিত হওয়া জানা যায় যেমন “উদখুলিস্ সুকা”, “ওয়াশতারিল কিতাবা”। আর যদি সম্বন্ধকে ‘লাম’-এর অর্থে ধরা হয়, তবে সংজ্ঞা থেকে প্রথম ও তৃতীয় প্রকার বের হয়ে যাবে। অতঃপর মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থকারের উক্তি “গঠনের অবস্থাসমূহ কখনও হতে পারে...” এটি সব অবস্থাতেই সমস্যাযুক্ত। কারণ অতীতকাল থেকে বহুবচন পর্যন্ত যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ‘গঠন’ও নয়, আবার ‘গঠনের অবস্থাও’ নয়, যেমনটি দুই শব্দের ইদগাম এবং দুই শব্দের দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার বিষয়টিও তদ্রূপ। সুতরাং তার কথা “গঠনের অবস্থাসমূহ কখনও প্রয়োজনে হয়ে থাকে যেমন অতীতকাল ও বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল ইত্যাদি” সঠিক হচ্ছে না; চাই সম্বন্ধকে বর্ণনামূলক ধরা হোক অথবা ‘লাম’-এর অর্থে ধরা হোক। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৫)
والمزيد فيه وأبنية المضارع منها وأبنية الأمر وأبنية الفاعل والمفعول تصريفٌ بلا خلاف، مع أنه علم بأصول تُعْرَفُ به أبنية الكلم، لا أحوال أبنيتها، فإن أراد

أن الماضي والمضارع (مثلاً) حالان طارئان على بناء المصادر ففيه بُعْد، لأنهما بناءان مستَأْنَفَان بُنِيا بعدَ هَدْمِ بناء المصدر، ولو سلمنا ذلك فلم عَدَّ المصادر في أحوال الأبنية؟ فإن القانون الذي تُعْرَفُ به أبنيتها تصريفٌ، وليس يعرف به حال بناء، والماضي والمضارعُ والأمرُ وغيرُ ذلك مما مر كما أنها ليس بأحوال الأبنية ليست بأبنية أيضاً على الحقيقة، بل هي أشياء ذوات أبنية، على ما ذكرنا من تفسير البناء، بلى قد يقال لضَرَبَ مثلاً: هذا بناء حالُهُ كذا، مجازاً، ولا يقال أبداً: إن ضَرَبَ حالُ بناء، وإنما يدخل في أحوال الأبنية الابتداء، والإمالةُ، وتَخفيفُ الهمزة، والإعلال، والإبدال، والحذف، وبعض الإدغام، وهو إدغام بعض حروف الكلمة في بعض، وأما نحو " قُل لَّه " فالإدغام فيه ليس من أحوال البناء، لأن البناء على ما فسرناه لم يتغير به، وكذا بعض التقاء الساكنين، وهو إذا كان الساكنان من كلمة كما في قُلْ وأصله قُوْلْ، وأما التقاؤهما في نحو " اضْرِبِ الرجل " فليس حالاً لبناء الكلمة، إذ البناء - كما ذكرنا - يعتبر بالحركات وَالسكنات التي قبل الحرف الأخير، فهذه المذكورات أحوال الأبنية، وباقي ما ذكر هو الأبنية، الا الوقف والتقاء الساكنين في كلمتين والإدغام فيهما، فإن هذه الثلاثة لا أبنية ولا أحوال أبنية.

قوله " التي ليست بإعراب " لم يكن محتاجاً إليه، لأن بناء الكلمة - كما ذكرنا - لا يعتبر فيه حالات آخر الكلمة، والإعراب طارٍ على آخر حروف الكلمة، فلم يدخل إذن في أحوال الأبنية حتى يجترز عنه، وإن دخل (1) فاحتاج إلى الاحتراز فكذا البناء، فهلَاّ احترز عنه أيضا؟ !

--------------------------------------------

(1) قول الشارح المحقق " وإن دخل فاحتاج إلى الاحتراز فكذا البناء فهلا " (*)
আর মাজীদ ফীহ (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত শব্দ), মুদারে-এর রূপকাঠামোসমূহ, আমরের রূপকাঠামোসমূহ এবং ফায়েল ও মাফউলের রূপকাঠামোসমূহ নিঃসন্দেহে শব্দরূপান্তরের (তসরীফ) অন্তর্ভুক্ত, যদিও এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মূলনীতি দ্বারা শব্দের রূপকাঠামোসমূহ জানা যায়, তাদের রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহ নয়। যদি তিনি উদ্দেশ্য করে থাকেন যে মাজী এবং মুদারে (উদাহরণস্বরূপ) হলো মাছদারের রূপকাঠামোর ওপর আপতিত দুটি অবস্থা, তবে তা বাস্তবতা থেকে দূরে; কারণ এই দুটি হলো নতুনভাবে প্রবর্তিত দুটি কাঠামো যা মাছদারের কাঠামো ভেঙে নির্মিত হয়েছে। আর আমরা যদি তা মেনেও নেই, তবে কেন তিনি মাছদারসমূহকে রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহের মধ্যে গণনা করলেন? কারণ যে নিয়মের মাধ্যমে সেগুলোর রূপকাঠামো জানা যায় তা হলো শব্দরূপান্তর (তসরীফ), এর মাধ্যমে রূপকাঠামোর অবস্থা জানা যায় না। মাজী, মুদারে, আমর এবং পূর্বে যা গত হয়েছে—এগুলো যেমন রূপকাঠামোর কোনো অবস্থা নয়, তেমনি এগুলো প্রকৃতপক্ষে স্বয়ং কোনো রূপকাঠামোও নয়। বরং এগুলো হলো রূপকাঠামোবিশিষ্ট বস্তু, রূপকাঠামোর যে ব্যাখ্যা আমরা প্রদান করেছি সেই অনুযায়ী। হ্যাঁ, উদাহরণস্বরূপ 'দ্বরাবা'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে রূপকভাবে বলা যেতে পারে যে: এটি এমন একটি রূপকাঠামো যার অবস্থা এমন। কিন্তু কখনোই বলা যাবে না যে: 'দ্বরাবা' হলো কোনো রূপকাঠামোর অবস্থা। বস্তুত রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহের মধ্যে শামিল হলো—ইবতিদা (প্রারম্ভ), ইমালাহ (ঝোঁকানো), হামযাহ সহজ করা (তাখফীফ), এ'লাল (রূপান্তর), ইবদাল (পরিবর্তন), হাযফ (বিলোপ) এবং কিছু ইদগাম (সন্ধি); আর তা হলো শব্দের এক অক্ষরকে অন্য অক্ষরের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। আর যেমন "কুল লাহু" এর ক্ষেত্রে যে ইদগাম হয়েছে, তা রূপকাঠামোর অবস্থার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমরা রূপকাঠামোর যে ব্যাখ্যা দিয়েছি, এর মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হয় না। একইভাবে দুই সাকিনের মিলনও; আর তা হলো যখন সাকিন দুটি একই শব্দের মধ্যে থাকে, যেমন "কুল" যার মূল ছিল "কুওল"। কিন্তু যখন তাদের মিলন "ইদ্বরিবির রাজুলা"-এর মতো হয়, তখন তা শব্দের রূপকাঠামোর অবস্থা নয়। কারণ—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—রূপকাঠামো বিবেচিত হয় শেষ অক্ষরের পূর্বের হরকত ও সুকুনগুলোর মাধ্যমে। সুতরাং এই উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো রূপকাঠামোর অবস্থা, আর বাকি যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো স্বয়ং রূপকাঠামো। তবে ওয়াকফ (থামা), দুই শব্দের মধ্যে দুই সাকিনের মিলন এবং তাদের মধ্যকার ইদগাম এর ব্যতিক্রম; কেননা এই তিনটি বিষয় না রূপকাঠামো, আর না রূপকাঠামোর অবস্থা।

তার উক্তি "যা ইরাব (বিভক্তি) নয়", এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ—আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি—শব্দের রূপকাঠামোতে শব্দের শেষ অবস্থার বিবেচনা করা হয় না, আর ইরাব আপতিত হয় শব্দের শেষ অক্ষরে। তাই এটি রূপকাঠামোর অবস্থার মধ্যে প্রবেশই করেনি যে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার (বাদ দেওয়ার) প্রয়োজন হবে। আর যদি তা প্রবেশ করেই থাকে (১) এবং বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে 'বিনা' (অপরিবর্তনীয়তা)-এর ক্ষেত্রেও তো একই কথা প্রযোজ্য, তবে তিনি সেটি কেন বাদ দেননি?!

--------------------------------------------

(১) মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকারকের উক্তি "আর যদি তা প্রবেশ করে এবং বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে বিনা-র ক্ষেত্রেও তাই, তবে কেন তিনি..." (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৬)
واعلم أن التصريف (1) جزء من أجزاء النحو بلا خلاف من اهل الصناعة،

والتصريف - على ما حكى سيبويه عنهم - هو أن تبني (2) من الكلمة بناء لم

--------------------------------------------

احترز عنه أيضا " نقول: قد يقال: إن المراد من الاعراب ما يشمل البناء، وإطلاق الاعراب على ما يشمل البناء كثير في كلامهم، من ذلك قول المصنف " أن ألحق بمقدمتي في الاعراب مقدمة في التصريف على نحوها " فهو إما حقيقة عرفية أو مجاز مشهور، وكلاهما لا يضر أخذه في التصريف.

(1) قول الشارح المحقق " واعلم التصريف جزء من أجزاء النحو ب خلاف من أهل الصنعة " نقول: هذا على طريقة المتقدمين من النحاة، فانهم يطلقون النحو على ما يشمل التصريف، ويعرف على هذه الطريقة بأنه علم يعرف به أحكام الكلم العربية إفرادا وتركيبا، أو بأنه العلم بالمقاييس المستنبطة من استقراء كلام العرب الموصلة الى معرفة أحكام أجزائه التي ائتلف منها، والمتأخرون على أن التصريف قسيم النحو لا قسم منه، فيعرف كل منهما بتعريف يميزه عن قسيمه وعن كل ما عداه فيعرف النحو بأنه علم يبحث فيه عن أحوال أواخر الكلم إعرابا وبناء، وأما التصريف فيستعمل في الاصطلاح مصدرا واسما علما، فيستعمل مصدرا في تغيير الكلمة عن أصل وضعها، ويتناول هذا المعنى نوعين من التغييرات: الاول: تحويل الكلمة الى أبنية مختلفة لضروب من المعاني لا تحصل الا بذلك التحويل، وذلك كتحويل المصدر الى اسم الفاعل واسم المفعول والصفة المشبهة واسم التفضيل واسم الزمان والمكان والالة، وكالتحويل الى التثنية والجمع والتصغير والنسب، والثاني: تغيير الكلمة عن أصل وضها لقصد الالحاق أو التخلص من التقاء الساكنين أو التخفيف، وذلك التغيير كالزيادة والحذف والاعلال والابدال وتخفيف الهمزة والادغام، ويستعمل التصريف اسما علما في القواعد التي يعرف بها أبنية الكلمة وما يكون لحروفها من أصالة وزيادة وصحة وإعلال وحذف وإبدال وإدغام وابتداء وإمالة، وما يعرض لاخرها مما ليس باعراب ولا بناء كالوقف والادغام والتقاء

الساكنين، وهذان التعريفان غير التعريف الذي حكاه الشارح عن إمام أهل الصنعة سيبويه.

(2) قول الشارح " أن تبنى من الكملة بناء لم تبنه العرب الخ " نقول: يريد (*)
এবং জেনে রাখুন যে, শব্দরূপান্তর বিদ্যা (১) ব্যাকরণশাস্ত্রের অংশসমূহের মধ্যে একটি অংশ, এ ব্যাপারে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

আর তাসরিফ—যেটি সিবাওয়াইহ তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—তা হলো কোনো শব্দ থেকে এমন একটি কাঠামো গঠন (২) করা যা আগে কোনো...

--------------------------------------------

এটি থেকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আমরা বলি: কখনো বলা হয় যে, রূপান্তর (ইরাব) বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা অপরিবর্তনীয়তাকেও (বিনা) অন্তর্ভুক্ত করে। তাদের বক্তব্যে এমন বিষয়ের ওপর 'ইরাব' শব্দের প্রয়োগ প্রচুর যা 'বিনা'কেও অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে গ্রন্থকারের এই উক্তিটিও রয়েছে, "আমি রূপান্তর বিষয়ক (ইরাব) আমার আলোচনার সাথে শব্দগঠন (তাসরিফ) বিষয়ক একটি আলোচনা যুক্ত করব যা হবে অনুরূপ।" সুতরাং এটি হয় পারিভাষিক বাস্তবতা অথবা প্রসিদ্ধ রূপক, যার কোনটিই তাসরিফের সংজ্ঞায় গ্রহণ করতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

(১) মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকারের উক্তি "জেনে রাখুন তাসরিফ ব্যাকরণশাস্ত্রের একটি অংশ, এ ব্যাপারে শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই"—আমরা বলি: এটি প্রাচীন ব্যাকরণবিদদের পদ্ধতি অনুযায়ী। কেননা তারা ব্যাকরণ (নাহু) শব্দটি এমন ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেন যা শব্দরূপান্তরকেও (তাসরিফ) অন্তর্ভুক্ত করে। এই পদ্ধতিতে এর সংজ্ঞা দেওয়া হয় এভাবে যে, এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে আরবি শব্দাবলির একক ও যৌগিক অবস্থার বিধানাবলি জানা যায়। অথবা এটি হলো সেই পরিমাপকসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান যা আরবদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে, যা সেই অংশসমূহের বিধানাবলি জানার পথ দেখায় যা দ্বারা বক্তব্য গঠিত হয়। আর পরবর্তীগণ এই মত পোষণ করেন যে, তাসরিফ হলো নাহুর সমকক্ষ একটি শাস্ত্র, তার কোনো অংশ নয়। ফলে তাদের প্রত্যেককে এমন সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয় যা তাকে তার সমকক্ষ ও অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক করে। সুতরাং নাহুর সংজ্ঞা দেওয়া হয় এভাবে যে, এটি এমন একটি বিদ্যা যাতে শব্দের শেষাবস্থার পরিবর্তনশীল ও অপরিবর্তনীয় অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর তাসরিফ শব্দটি পারিভাষিক ব্যবহারে ক্রিয়ামূল এবং শাস্ত্রের নাম উভয় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। এটি ক্রিয়ামূল হিসেবে ব্যবহৃত হয় শব্দকে তার মূল গঠন থেকে পরিবর্তন করার অর্থে। এই অর্থটি দুই ধরনের পরিবর্তনকে শামিল করে: প্রথমত, শব্দকে বিভিন্ন কাঠামোতে রূপান্তর করা এমন সব বিচিত্র অর্থের জন্য যা সেই রূপান্তর ব্যতীত অর্জিত হয় না। যেমন: মূল শব্দকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য, কর্মবাচক বিশেষ্য, গুণবাচক বিশেষণ, আধিক্যবোধক বিশেষণ, কালবাচক বিশেষ্য, স্থানবাচক বিশেষ্য এবং যন্ত্রবাচক বিশেষ্য-তে রূপান্তর করা। এবং দ্বিবচন, বহুবচন, ক্ষুদ্রতা জ্ঞাপক রূপ ও সম্বন্ধবাচক রূপে রূপান্তর করা। দ্বিতীয়ত, শব্দকে তার মূল গঠন থেকে পরিবর্তন করা বর্ণ যুক্ত করা, অথবা দুই সাকিনের একত্র হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া অথবা উচ্চারণ সহজ করার উদ্দেশ্যে। আর সেই পরিবর্তনগুলো হলো বর্ণ বৃদ্ধি, বিলোপ, রূপান্তর, বিনিময়, হামযা সহজ করা এবং সন্ধি (ইদগাম)। আর তাসরিফ শব্দটি একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের নাম হিসেবে ওই সমস্ত নিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে শব্দের কাঠামো এবং তার অক্ষরগুলোর মৌলিকত্ব, অতিরিক্ততা, সঠিকতা, পরিবর্তন, বিলোপ, বিনিময়, সন্ধি, শুরু এবং ইমালাহ সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া শব্দের শেষে যা কিছু ঘটে অথচ তা পরিবর্তনশীল বা অপরিবর্তনীয় অবস্থা (ইরাব বা বিনা) নয়, যেমন বিরাম (ওয়াকফ), সন্ধি এবং দুই সাকিনের মিলন—তাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই সংজ্ঞা দুটি সেই সংজ্ঞা থেকে ভিন্ন যা ব্যাখ্যাকার এই শাস্ত্রের ইমাম সিবাওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) ব্যাখ্যাকারের উক্তি "শব্দ থেকে এমন কাঠামো গঠন করা যা আরবরা গঠন করেনি ইত্যাদি"—আমরা বলি: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৭)
تَبْنِهِ العربُ على وزن ما بَنَتْهُ ثم تعمل في البناء الذي بنيته ما تقتضيه فياس كلامهم، كما يتبين في مسائل التمرين إن شاء الله تعالى، والمتأخرون على أن التصريف علم بأبنية الكلمة، وبما يكون لحروفها من أصالة وزيادة وحذف وصحة وإعلال وإدغام وإمالة، وبما يعرض لآخرها مما ليس بإعراب ولا بناء من الوقف وغير ذلك.

‌‌أنواع الأبنية قال: " وَأَبْنِيَةُ الاسْمِ الأصُولُ ثُلاثِيَّةٌ ورُباعِيَّةٌ وخُمَاسِيَّةٌ وَأَبْنِيَةُ الفعل ثلاثية ورباعية (1)

--------------------------------------------

أن تأخذ من الكلمة لفظا لم تستعمله العرب على وزن ما استعملته ثم تعمل في هذا اللفظ الذي أخذته ما يقتضيه قياس كلامهم من إعلال وإبدال وإدغام، فإذا بنيت من وأيت مثل قفل قلت وؤى، فإذا خففت الهمزة بابدالها من جنس حركة ما قبلها صار وويا، فعلى أن قلب الواو الاولى همزة في مثل هذا واجب يقال: أوى، وعلى أنه جائز يقال: " أوى "، أو " ووى "، وإذا بنيت من وأيت مثل كوكب قلت: وَوْأَيٌ، تعل الياء بقلبها ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها، ثم تحذف الالف لالتقاء الساكنين، فإذا خففت الهمزة بنقل حركتها الى ما قبلها ثم حذفها، فعلى القول بوجوب القلب في مثله يقال: أوى، كفتى، وعلى القول بعدم وجوبه يقال: أوى، أو ووى.

(1) قول المصنف " وأبنية الاسم الاصول ثلاثية ورباعية الخ " مقتضاه أن الابنية الاصول للاسم والفعل لا تكون أقل من ثلاثة، وهو كذلك بالنظر إلى أصل

الوضع وأما بالنظر إلى الاستعمال فقد تكون على حرفين وعلى حرف واحد، مثال ما كان على حرفين من الاسم وهو محذوف اللام أب وأخ ويد وثبة وأمة، ومثاله محذوف الفاء عدة وزنة ودية وشية، ومثاله محذوف العين وهو قليل لم يسمع إلا في ثلاث كلمات: سه اتفاقا، وأصله سته بدليل جمعه على أستاه، ومذ على رأى من يقول: إن أصلها منذ، استدلالا بأنك لو سميت بمذ صغرته على منيذ وجمعته على أمناذ، قال الشارح في شرح الكافية: ومنه منه صاحب المغنى في الموضعين وقال: قولهم منيذ وأمناذ غير منقول عن العرب، وأما تحريك ذال مذفى نحو " مذ اليوم " بالضم للساكنين (*)
আরবগণ তাদের ভাষাগত কাঠামোর ওজনে শব্দকে গঠন করে, অতঃপর সেই গঠিত কাঠামোর ক্ষেত্রে তাদের ভাষার নিয়মের দাবি অনুযায়ী কাজ করে, যেমনটি অনুশীলনীর মাসআলাগুলোতে স্পষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। পরবর্তী পণ্ডিতদের মতে, ইলমুত তাসরিফ বা রূপান্তরবিদ্যা হলো শব্দের গঠন এবং এর বর্ণসমূহে যে মূলত্ব, আধিক্য, বিলুপ্তি, সুস্থতা, পরিবর্তন (ই'লাল), সন্ধি (ইদগাম) ও ঝোঁক (ইমালাহ) ঘটে, এবং শব্দের শেষে যা কিছু আপতিত হয় অথচ তা ইরাব (বিভক্তি) বা বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) নয়—যেমন ওয়াকফ ও অন্যান্য বিষয়—সেই সম্পর্কিত জ্ঞান।

‌‌কাঠামোর প্রকারভেদ তিনি বলেন: "ইসিমের মূল কাঠামোসমূহ হলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট, চার অক্ষরবিশিষ্ট ও পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট; আর ফেয়েলের কাঠামোসমূহ হলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট ও চার অক্ষরবিশিষ্ট (১)।

--------------------------------------------

কোনো শব্দ থেকে এমন একটি রূপ গ্রহণ করা যা আরবগণ ব্যবহার করেনি, তাদের ব্যবহৃত কোনো ওজনের ভিত্তিতে; অতঃপর গৃহীত এই শব্দের ওপর তাদের ভাষার কায়দা অনুযায়ী পরিবর্তন (ই'লাল), বদল (ইবদাল) ও সন্ধি (ইদগাম) প্রয়োগ করা। যদি আপনি 'ওয়াইতু' থেকে 'কুফলুন' এর ওজনে শব্দ গঠন করেন, তবে আপনি বলবেন 'উওয়াই'। এরপর যদি পূর্ববর্তী হরকতের সমজাতীয় বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে হামজাকে সহজ (তাখফিফ) করেন, তবে তা 'উওয়াইয়া' হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় প্রথম ওয়াও-কে হামজায় রূপান্তর করা যদি আবশ্যক হয় তবে বলা হবে 'আওয়া', আর যদি তা ঐচ্ছিক হয় তবে 'আওয়া' অথবা 'উওয়াই' বলা হবে। আর যদি আপনি 'ওয়াইতু' থেকে 'কাওকাবুন' এর ওজনে শব্দ গঠন করেন, তবে বলবেন 'ওয়াওআয়ুন'। এখানে 'ইয়া' বর্ণটি তার হরকত এবং পূর্ববর্তী বর্ণের ফাতাহর কারণে আলিফে রূপান্তরিত হবে, অতঃপর দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে আলিফটি বিলুপ্ত হবে। যদি হামজার হরকত পূর্ববর্তী বর্ণে স্থানান্তর করে হামজাটি বিলুপ্ত করার মাধ্যমে একে সহজ করা হয়, তবে রূপান্তরের আবশ্যকতা অনুযায়ী 'আওয়া' বলা হবে (যেমন 'ফাতা' শব্দটি), আর আবশ্যকতা না থাকলে 'আওয়া' বা 'উওয়াই' বলা হবে।

(১) গ্রন্থকারের উক্তি "ইসিমের মূল কাঠামোসমূহ তিন অক্ষরবিশিষ্ট ও চার অক্ষরবিশিষ্ট ইত্যাদি"-এর দাবি হলো এই যে, ইসিম ও ফেয়েলের মৌলিক কাঠামো তিন অক্ষরের কম হবে না। মূল গঠনগত দিক থেকে বিষয়টি এমনই। তবে ব্যবহারের দিক থেকে কখনো কখনো তা দুই অক্ষর বা এক অক্ষরেরও হতে পারে। ইসিমের মধ্য থেকে দুই অক্ষরবিশিষ্টের উদাহরণ—যার শেষ বর্ণ (লাম কালিমাহ) বিলুপ্ত—হলো: আব (পিতা), আখ (ভাই), হাত, থুবাহ ও আমাহ। আর প্রথম বর্ণ (ফা কালিমাহ) বিলুপ্ত হওয়ার উদাহরণ হলো: ইদাহ, জিনাহ, দিইয়াহ ও শিয়াহ। মধ্য বর্ণ (আইন কালিমাহ) বিলুপ্ত হওয়ার উদাহরণ খুবই বিরল, যা কেবল তিনটি শব্দে শোনা গেছে: সর্বসম্মতভাবে 'সাহ' (পোঁদ), যার মূল হলো 'সাতাহ'—এর প্রমাণ হলো এর বহুবচন 'আস্তাহ'। দ্বিতীয়টি হলো 'মুয' ঐ ব্যক্তির মতানুসারে যে বলে এর মূল হলো 'মুনযু'; যার দলিল হলো এই যে, আপনি যদি কাউকে 'মুয' নামে নামকরণ করেন তবে তার তাসগির (ক্ষুদ্রার্থ রূপ) হবে 'মুনাইয' এবং বহুবচন হবে 'আমনায'। কাফিয়াহ-র ব্যাখ্যাকারী বলেছেন: 'মুগনি'র লেখক এই দুটি স্থানে তাকে আপত্তি জানিয়েছেন এবং বলেছেন—'মুনাইয' ও 'আমনায' শব্দদ্বয় আরবদের থেকে বর্ণিত নয়। আর 'মুয'-এর 'যাল' বর্ণে হরকত প্রদান, যেমন 'আজ থেকে' (মুযিল ইয়াওম) বাক্যে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে পেশ প্রদান করা হয়েছে (*)।
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৮)
أقول: لم يتعرض النحاة لأبنية الحروف لندور تصرفها، وكذا الأسماء (1) العريقة البناء كَمَنْ ومَا

--------------------------------------------

أكثر من الكسر فلا يدل أيضا على أن أصله منذ، لجواز أن يكون للاتباع، وضم ذال مذ - سواء كان بعده ساكن أو لا - لغة غنوية، فعلى يجوز أن يكون أصله الضم فخفف فلما احتيج الى التحريك للساكنين رد إلى أصله كما ف ى " لهم اليوم " والكلمة الثالثة ذا الاشارية، على رأى من يقول: إن المحذوف منها العين، وإن أصلها ذوى، لكثرة باب طويت، وورود الامالة في ألفها ولا سب لها هنا الا انقلابها عن ياء، وهذا ما اختاره الشارح في باب التصغير والاعلال، ولكن اختار في شرح الكافية أن أصله ذيى، وأن المحذوف منه اللام، لان حذف اللام اعتباطا أكثر من حذف العين، والحمل على الاكثر عند خفاء الاصل أولى، ومثال ما كان على حرف واحد في الاسم " م الله " على رأى من يقول: إن أصله " أيمن الله " وأما على رأى من يقول: إنه موضوع للقسم هكذا ابتداء وليس مختصرا من ايمن، فهو حرف قسم كالباء والواو، وأما الفعل فقد يكون على حرفين، والمحذوف منه العين كقل وبع وسل، وقد يكون كذلك والمحذوف منه الفاء كضع ودع وذر،

وقد يكون على حرف واحد والمحذوف منه الفاء واللام المعتلان نحو " ع كلامي " و " ق نفسك " (1) قول الشارح " وكذا الاسماء العريقة البناء " يريد المتأصلة في البناء، وهو مستعار من قولهم: أعرق الرجل، إذا صار عريقا، أي: أصيلا، وهو الذى له عروق في الكرم أو اللؤم، هذا، ولم يتعرض الشارح للسر في أن أقل الابنية ثلاثة، ولا للسر في أن الاسم لا يكون سداسيا، ونحن نذكر لك ما قيل في ذلك: قال أبو حيان: إنما كان أقل الاصول ثلاثة لانه لابد من حرف يبتدأ به، وحرف يسكت عليه، وحرف يحشى به الكلمة لان بعض الكلم يحتاج إليه في بعض الاحكام، ألا ترى أن التصغير لا يتصور في اسم على حرفين لان ياءه إنما تقع ثالثة وحرف الاعراب بعدها، وفيه أن هذا إنما يتم في الاسم لا الفعل، وقال الجار بردى: " الاصل في كل كلمة أن تكون على ثلاثة أحرف: حرف يبتدأ به، وحرف يوقف عليه، وحرف يكون واسطة بين المبتدأ به والموقوف عليه، إذ (*)
আমি বলছি: ব্যাকরণবিদগণ অব্যয়সমূহের রূপান্তরের বিরলতার কারণে সেগুলোর গঠন নিয়ে আলোচনা করেননি, আর তেমনিভাবে সুদৃঢ়ভাবে অব্যয়ধর্মী বিশেষ্যসমূহও (১), যেমন 'মান' এবং 'মা'।

--------------------------------------------

কাসরা বা জেরের চেয়ে যাম্মা বা পেশের ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে এটি এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে না যে এর মূল ছিল 'মুনযু'; কারণ এটি অনুবর্তী হওয়ার কারণেও হতে পারে। আর 'মুয' শব্দের 'যাল' বর্ণে পেশ প্রদান করা—তা এরপর সাকিন থাকুক বা না থাকুক—এটি একটি ঘানওয়ী উপভাষা। সুতরাং এটি সম্ভব যে, এর মূল ছিল পেশ, অতঃপর তা হালকা করা হয়েছে; পরে যখন দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে হারাকাত প্রদানের প্রয়োজন হলো, তখন তাকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেমনটি হয়েছে 'লাহুমুল ইয়াওম' এর ক্ষেত্রে। তৃতীয় শব্দটি হলো ইশারা বা ইঙ্গিতসূচক 'যা', সেই মতানুসারে যারা বলেন যে এখান থেকে আইন বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এর মূল ছিল 'যাওয়া', 'তাওয়াইতু' এর রূপান্তরের আধিক্যের কারণে এবং এর আলিফে ইমালাহ হওয়ার কারণে। আর এখানে ইয়া থেকে রূপান্তরিত হওয়া ছাড়া ইমালার অন্য কোনো কারণ নেই। আর এটিই ব্যাখ্যাকারক তাসগীর ও ই'লাল পরিচ্ছেদে পছন্দ করেছেন। তবে তিনি 'শারহুল কাফিয়া'-তে পছন্দ করেছেন যে এর মূল হলো 'যায়ী' এবং এখান থেকে লাম বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে। কারণ কোনো কারণ ছাড়াই লাম বর্ণ বিলুপ্ত করার উদাহরণ আইন বর্ণ বিলুপ্ত করার চেয়ে অনেক বেশি। আর যখন মূল রহস্য অস্পষ্ট থাকে, তখন অধিক প্রচলিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা অধিক উত্তম। বিশেষ্যের ক্ষেত্রে একটি বর্ণের ওপর ভিত্তিশীল হওয়ার উদাহরণ হলো 'মিম্মুল্লাহ', সেই মতানুসারে যারা বলেন যে এর মূল হলো 'আইমানুল্লাহ'। আর যারা মনে করেন যে, এটি শুরু থেকেই শপথের জন্য এভাবে গঠন করা হয়েছে এবং এটি 'আইমান' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ নয়, তবে এটি একটি শপথের অব্যয় যেমন 'বা' এবং 'ওয়াও'। আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে তা কখনো দুই বর্ণের হতে পারে যেখানে আইন বর্ণটি বিলুপ্ত, যেমন: 'কুল' (বলো), 'বি'' (বিক্রি করো) এবং 'সাল' (জিজ্ঞেস করো)। আবার ফা বর্ণ বিলুপ্ত হয়েও তা হতে পারে, যেমন: 'দা'' (রাখো), 'দা'' (ছেড়ে দাও) এবং 'যার' (পরিত্যাগ করো)।

আবার তা কখনো একটি বর্ণের হতে পারে যেখানে ফা এবং লাম উভয় ইল্লত বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে, যেমন: 'ই' (আমার কথা মনে রাখো) এবং 'কী' (নিজেকে রক্ষা করো)। (১) ব্যাখ্যাকারকের উক্তি "অনুরূপভাবে সুদৃঢ়ভাবে অব্যয়ধর্মী বিশেষ্যসমূহ"—এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যেগুলোর ভিত্তি নির্মাণ বা গঠনের দিক থেকে সুদৃঢ় ও প্রাচীন। এটি তাদের কথা "আ'রাকার রাজুলু" থেকে ধার করা হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি আভিজাত্য অর্জন করে অর্থাৎ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, যার সম্মান বা হীনতায় সুগভীর শিকড় রয়েছে। তবে এখানে ব্যাখ্যাকারক কেন শব্দের সর্বনিম্ন গঠন তিনটি বর্ণ দিয়ে হয় এবং কেন বিশেষ্য ছয় বর্ণ বিশিষ্ট হয় না—সেই রহস্য নিয়ে আলোচনা করেননি। আমরা এই বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা আপনার জন্য উল্লেখ করছি: আবু হাইয়ান বলেন: মূল বর্ণ সর্বনিম্ন তিনটি হওয়ার কারণ হলো—অবশ্যই এমন একটি বর্ণ থাকতে হবে যার দ্বারা শুরু করা যায়, একটি বর্ণ যার ওপর থামা যায় এবং একটি বর্ণ যা শব্দের মাঝে যুক্ত থাকে; কারণ কোনো কোনো শব্দে কিছু বিধান পালনের ক্ষেত্রে মাঝখানের বর্ণের প্রয়োজন হয়। আপনি কি দেখেন না যে, দুই বর্ণের বিশেষ্যে তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ) সম্ভব নয়? কারণ তাসগীরের 'ইয়া' বর্ণটি সর্বদা তৃতীয় স্থানে বসে এবং এরপর বিভক্তির বর্ণ থাকে। তবে এতে আপত্তি রয়েছে যে, এটি কেবল বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নয়। জারবারদী বলেন: "প্রতিটি শব্দের মূল ভিত্তি হলো তিনটি বর্ণের হওয়া—একটি বর্ণ যার দ্বারা শুরু করা হয়, একটি বর্ণ যার ওপর থামা হয় এবং একটি বর্ণ যা শুরু ও শেষের বর্ণের মাঝে মাধ্যম হিসেবে থাকে; কারণ" (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ৯)
واعلم انه لم يُبْنَ من الفعل خماسي، لأنه إذن يصير ثقيلاً بما يلحقه مُطَّرِداً من حروف المضارعة وعلامة اسم الفاعل واسم المفعول (1) والضمائر المرفوعة التي هي كجزء الكلمة، وإنما قال " الاصول " لانه يزداد على ثُلاثِيِّ الفعل واحدٌ كأخرج، واثنان كانقطع، وثلاثة كاستخرج، وعلى رباعية واحد كتدحرج، واثنان كاحرنجم (2) ويزاد على ثلاثى الاسم واحد نحو ضارب، واثنان كمضروب، وثلاثة كمستخرج، وأربعة كاستخراج، وعلى رُباعِيَّة وَاحدٌ كمُدَحْرِج، واثنان كمتدحرج، وثلاثة كاحربحام (2) ، ولم يُزَدْ في خُمَاسِيِّه غير حرف مد قبل الآخر نحو سلسبيل (3) وعضر فوط (4) أو بعده مُجَرَّداً عن التاء كقبعثرى (5)

--------------------------------------------

يجب أن يكون المبتدأ به متحركا والموقوف عليه ساكنا، فلما تنافيا صفة كرهوا

مقارنتهما، ففصلوا بينهما بحرف لا تجب فيه الحركة ولا السكون، فكان مناسبا لهما " وهو منقوض بما كان على حرفين من الحروف والاسماء المشبهة لها، قال: " وإنما جوزوا في الاسم رباعيا وخماسيا للتوسع، ولم يجوزوا سداسيا لئلا يوهم أنه كلمتان، إذ الاصل في الكلمة أن تكون على ثلاثة أحرف " هذا، وأكثر أنواع الابنية وقوعا في الكلام الثلاثي، ويليه الرباعي، ويليه الخماسي (1) قول الشارح " وعلامة اسم الفاعل والمفعول " ظاهره أن علامة اسم الفاعل والمفعول تلحق الفعل وليس كذلك، والصواب حذفه والتعليل تام بدونه (2) الاحرنجام: الاجتماع، يقال: اخر نجم القوم، إذا اجتمع بعضهم إلى بعض، وحرجمت الابل: إذا رددت بعضها إلى بعض، فاحرنجمت: أي ارتد بعضهما الى بعض واجتمعت (3) يقال: شراب سلسل وسلسال وسلسبيل، إذا كان سهل المدخل في الحلق، واختلف علماء اللغة في قوله تعالى: (عينا فيها تسمى سلسبيلا) فقيل: إنه اسم عين في الجنة، وصرف وحقه المنع للعلمية والتأنيث، للتناسب، وقيل: إنه وصف للعين، وعليه فلا إشكال في صرفه (4) العضرفوط: دويبة بيضاء ناعمة، وقيل: ذكر العظاء (5) القبعثرى: العظيم الشديد، والانثى قبعثراة، قال المبرد: ألفه ليست (*)
জেনে রাখুন যে, ক্রিয়া পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট মূলবর্ণ দিয়ে গঠিত হয় না। কারণ, সেক্ষেত্রে এটি ভারী হয়ে যাবে সেইসব কারণে যা নিয়মিতভাবে এর সাথে যুক্ত হয়, যেমন মুদারি’র (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল) বর্ণসমূহ, কর্তাবাচক বিশেষ্য ও কর্মবাচ্য বিশেষ্যের চিহ্ন (১) এবং মারফু সর্বনামসমূহ যা শব্দেরই একটি অংশের মতো। তিনি "মূলবর্ণসমূহ" (উসুল) শব্দটি বলেছেন কারণ তিন বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার সাথে একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘আখরাজা’, দুটি বর্ণ যেমন ‘ইনকাতাআ’ এবং তিনটি বর্ণ যেমন ‘ইস্তাখরাজা’। অনুরূপভাবে চার বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘তাদাহরাজা’ এবং দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘ইহরাঞ্জামা’ (২)। আর তিন বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘দারিবুন’, দুটি বর্ণ যেমন ‘মাদরুবুন’, তিনটি বর্ণ যেমন ‘মুস্তাখরিজুন’ এবং চারটি বর্ণ যেমন ‘ইস্তিখরাজুন’। চার বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘মুদাহরিজুন’, দুটি বর্ণ যেমন ‘মুতাদাহরিজুন’ এবং তিনটি বর্ণ যেমন ‘ইহরিঞ্জামুন’ (২)। পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে শেষের বর্ণের আগে ‘মদ্দ’-এর বর্ণ ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করা হয় না, যেমন ‘সালসাবিল’ (৩) এবং ‘আদরাফুত’ (৪), অথবা শেষের বর্ণের পরে ‘তা’ মুক্ত অবস্থায় বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়, যেমন ‘কিবা’শারা’ (৫)।

--------------------------------------------

প্রারম্ভিক বর্ণ অবশ্যই হরকতবিশিষ্ট হতে হবে এবং যার ওপর থামা হবে (ওয়াকফ) তাকে সাকিন হতে হবে। যেহেতু উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিপরীতমুখী, তাই তারা এগুলোর পাশাপাশি অবস্থান করাকে অপছন্দ করেছে। ফলে তারা এ দুয়ের মাঝে এমন একটি বর্ণের মাধ্যমে পার্থক্য করেছে যাতে হরকত বা সাকিন হওয়া অপরিহার্য নয়, যা উভয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটি সেইসব ক্ষেত্রে খণ্ডিত হয় যেখানে দুই বর্ণবিশিষ্ট হরফ বা তার সাদৃশ্যপূর্ণ বিশেষ্য রয়েছে। তিনি বলেছেন: "বিশেষ্যের ক্ষেত্রে তারা চার বা পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ভাষাগত প্রশস্ততার জন্য, কিন্তু ছয় বর্ণবিশিষ্ট হওয়ার অনুমতি দেননি যাতে এটি দুটি শব্দ বলে বিভ্রম তৈরি না করে। কারণ শব্দের মূল ভিত্তি হলো তা তিন বর্ণবিশিষ্ট হওয়া।" বস্তুত, কথাবার্তায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দের গঠন হলো তিন বর্ণবিশিষ্ট, এরপর চার বর্ণবিশিষ্ট এবং এরপর পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট।

(১) ব্যাখ্যাকারকের উক্তি "কর্তাবাচক ও কর্মবাচ্য বিশেষ্যের চিহ্ন" - এর বাহ্যিক অর্থ হলো এই চিহ্নগুলো ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। সঠিক হলো এটি বাদ দেওয়া, কারণ এটি ছাড়াই কারণ দর্শানো পূর্ণাঙ্গ হয়। (২) আল-ইহরিঞ্জাম: এর অর্থ হলো একত্রিত হওয়া। বলা হয়: ‘ইহরাঞ্জামা আল-কাওমু’, যখন লোকদল একে অপরের সাথে মিলিত হয়। আর ‘হারজামতু আল-ইবিলা’ বলা হয় যখন আমি উটগুলোকে একে অপরের দিকে ফিরিয়ে দেই, তখন সেগুলো ‘ফাহরাঞ্জামাত’ অর্থাৎ একে অপরের দিকে ফিরে আসে এবং একত্রিত হয়। (৩) বলা হয়: পানীয় ‘সালসাল’, ‘সালসাল’ এবং ‘সালসাবিল’, যখন এটি গলায় সহজে প্রবেশ করে। মহান আল্লাহর বাণী (জান্নাতে একটি ঝরনা আছে যাকে সালসাবিল বলা হয়) সম্পর্কে ভাষাবিদগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন: এটি জান্নাতের একটি ঝরনার নাম, যা নির্দিষ্ট নাম ও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার কারণে তানভীনমুক্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আয়াতের অন্ত্যমিলের জন্য তানভীন দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: এটি ঝরনার একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য, সেই হিসেবে এতে তানভীন হওয়াতে কোনো জটিলতা নেই। (৪) আল-আদরাফুত: একটি সাদা ও মসৃণ ছোট প্রাণী। কেউ বলেছেন: এটি পুরুষ গিরগিটি। (৫) আল-কিবা’শারা: বিশাল ও শক্তিশালী। এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো ‘কিবা’শারাাহ’। আল-মুবররাদ বলেছেন: এর আলিফটি নয় (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১০)
أو معها كقَبَعْثَراة، وندر قَرَعْبَلانَة (1) وإصْطَفْلِينَةُ (2)

‌‌الميزان الصرفي قال: " وَيُعَبَّرُ عَنْهَا بِالْفَاءِ وَالْعَيْنِ وَاللَاّمِ، وَمَا زَادَ بِلَام ثَانِيَةٍ وَثَالِثَةٍ، وَيُعَبَّرُ عَنِ الزَّائِدِ بلَفْظِهِ، إلَاّ الْمبدلَ مِنْ تَاء الافْتِعَالِ فَإِنَّهُ بِالتّاء، وَإِلَاّ الْمُكَرَّرَ لِلإِْلْحَاقِ أَوْ لِغَيْرِهِ فإنه بما تقدمه وإنْ كان من حُرُوفِ الزِّيَادَة إِلَاّ بَثَبَتٍ، ومِنْ ثَمَّ كَانَ حِلْتِيتٌ (3) فِعْليلاً، وسحنون (4)

--------------------------------------------

للتأنيث ولا للالحاق، وإنما هي لمجرد تكثير البنية

(1) القرعبلانة: دوية عريضة عظيمة البطن، قال ابن سيده: وهو مما فات الكتاب من الابنية، قال الجواهري: أصل القرعبلانة قرعبل، فزيدت فيه ثلاثة أحرف، لان الاسم لا يكون على أكثر من خمسة أحرف، وقيل: إن هذه اللفظة لم تسمع إلا في كتاب العين، وهو غير موثوق به (2) في القاموس: " الا صطفلين - كجر دحلين بزيادة الياء ولنون -: الجزر الذي يؤكل، الواحدة إصطفيلنة، وفي كتاب معاوية إلى قيصر: " لانتزعنك من الملك انتزاع الاصطفلينة، ولاردنك إريسا من الارارسة ترعى الدوبل " اه والاريس: الاكار: أي الحراث، والدوبل: الخنزير أو الذكر من الخنازير خاصة أو ولده، قال ابن الاثير: ليست اللفظة - بمعنى الاصطفلينة - بعربية محصنة لان الصاد والطاء لا يكادان يجتمعان إلا قليلا، وقول الشارح " وندر قرعلانة وإصطفلينة " نقول: ذكر بعضهم أنه زيد في الخماسي حرفا مد قبل الاخر، نحو مغناطيس، قال: فان صح ذلك وكان عربيا جعل نادرا، وقد حكاه - أعنى مغناطيس - ابن القطاع، ونقول: " في اللسان المغنطيس حجر يجذب الحديد، وهو معرب " وفى القاموس " المغنطيس والمغنطيس والمغناطيس: حجر يجذب الحديد، معرب " اه (3) قال في اللسان: قال أبو حنيفة: " الحلتيت عربي أو معرب ولم يبلغني أنه ينبت ببلاد العرب ولكن ينبت بين بست وبين بلاد القيقان، وهو نبات يسلنطح ثم يخر من وسطه قصبة تسمو وترفع، والحلتيت أيضا: صمغ يخرج في أصول ورق تلك القصبة، وأهل تلك البلاد يطبخون بقلة الحلتيت ويأكلونها وليست مما يبقى على الشتاء " اه (4) لم نجد هذه الكلمة في القاموس وشرحه ولا في اللسان، وفى شرح الجاربدرى أنه أول الريح والمطر (*)
অথবা তার সাথে থাকে যেমন: ক্বাবায়ছরাহ, এবং কার’আবলানাহ (১) ও ইস্তফ্লীনাহ (২) এর ব্যবহার বিরল।

‌‌রূপতাত্ত্বিক ওজন (আল-মীযান আস-সারফী) তিনি বলেন: "সেগুলোকে 'ফা', 'আইন' ও 'লাম' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আর যা অতিরিক্ত হবে তা দ্বিতীয় ও তৃতীয় 'লাম' দ্বারা ব্যক্ত করা হয়। অতিরিক্ত অক্ষরকে তার নিজ শব্দেই প্রকাশ করা হয়, তবে 'ইফতি'আল' এর 'তা' থেকে পরিবর্তিত অক্ষরটি ছাড়া, কারণ তা 'তা' দ্বারাই প্রকাশ করা হয়। এবং ঐ অক্ষরটিও ব্যতিক্রম যা 'ইলহাক' (অন্য কোনো কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা) বা অন্য কোনো কারণে দ্বিত্ব হয়েছে, কারণ সেটি তার পূর্বের অক্ষরটির মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয় যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে 'সাবাত' এর বিষয়টি ভিন্ন। আর এখান থেকেই 'হিলতীত' (৩) 'ফিৎলীল' ওজনে হয়েছে এবং 'সাহনুন' (৪)...

--------------------------------------------

স্ত্রীলিঙ্গ বা ইলহাকের জন্য নয়, বরং এটি কেবল গঠনের আধিক্য বুঝানোর জন্য।

(১) আল-কার’আবলানাহ: চওড়া এবং বড় পেটের অধিকারী একটি ক্ষুদ্র প্রাণী। ইবনু সীদাহ বলেছেন: এটি কিতাবের শব্দগঠনসমূহের মধ্যে বাদ পড়ে যাওয়াগুলোর একটি। আল-জাওহারী বলেছেন: কার’আবলানাহ-এর মূল হলো কার’আবাল, অতঃপর এতে তিনটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে, কারণ বিশেষ্য সাধারণত পাঁচ অক্ষরের বেশি হয় না। বলা হয়েছে যে: এই শব্দটি 'কিতাবুল আইন' ব্যতীত অন্য কোথাও শোনা যায়নি, যা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। (২) আল-কামূস গ্রন্থে আছে: "আল-ইস্তফলীন - যার ওজন জুরদাহলীন-এর মতো এবং এতে 'ইয়া' ও 'নূন' অতিরিক্ত - এর অর্থ হলো ভক্ষণযোগ্য গাজর। এর একবচন হলো ইস্তফ্লীনাহ। মুয়াবিয়া (রা.) হতে কায়সারের নিকট লিখিত পত্রে বলা হয়েছে: 'আমি অবশ্যই রাজত্ব থেকে তোমাকে ইস্তফ্লীনাহ উপড়ানোর ন্যায় উপড়ে ফেলব এবং তোমাকে আরারিসাহদের (কৃষকদের) মধ্যে একজন আরীস হিসেবে ফিরিয়ে দেব যে কি না দূবাল চড়াবে।' আরীস মানে হলো একার অর্থাৎ কৃষক। আর দূবাল মানে হলো শূকর অথবা বিশেষভাবে পুরুষ শূকর কিংবা তার বাচ্চা। ইবনুল আসীর বলেছেন: এই শব্দটি - ইস্তফ্লীনাহ অর্থে - বিশুদ্ধ আরবি নয়, কারণ 'সাদ' ও 'ত্ব' এর একত্র হওয়া খুব বিরল। আর ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্য 'কার’আবলানাহ ও ইস্তফ্লীনাহ বিরল', এ বিষয়ে আমরা বলি: কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের শেষের আগের অক্ষরে দুইটি দীর্ঘ স্বরবর্ণ (মাদ্দ) বৃদ্ধি করা হয়, যেমন 'মাগনাতীস' (চুম্বক)। তিনি বলেন: যদি তা সহীহ হয় এবং তা আরবি হয় তবে তাকে বিরল গণ্য করা হবে। ইবনুল কাত্ত্বা’ এটি বর্ণনা করেছেন। আমরা বলি: 'আল-লিসান' গ্রন্থে রয়েছে: 'আল-মাগনাথীস' এমন এক পাথর যা লোহাকে আকর্ষণ করে এবং এটি একটি আরবিকৃত শব্দ। 'আল-কামূস' গ্রন্থে রয়েছে: মাগনাতীস, মাগনাথীস ও মাগনাতীস (বিভিন্ন উচ্চারণে) হলো লোহা আকর্ষণকারী পাথর, যা আরবিকৃত।" (৩) আল-লিসান গ্রন্থে আবু হানিফা বলেন: "হিলতীত আরবি অথবা আরবিকৃত শব্দ। আমার কাছে এমন সংবাদ পৌঁছায়নি যে এটি আরব ভূখণ্ডে জন্মে, তবে এটি বুসত ও ক্বাইক্বান অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে জন্মে। এটি এমন এক উদ্ভিদ যা ছড়িয়ে পড়ে, তারপর এর মাঝখান থেকে একটি নালী বের হয় যা উঁচুতে উঠতে থাকে। হিলতীত হলো সেই নালীর পাতার গোড়া থেকে নির্গত আঠা। ঐ অঞ্চলের অধিবাসীরা হিলতীতের শাক রান্না করে খায় এবং এটি শীতকাল পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে না।" (৪) আমরা এই শব্দটি আল-কামূস ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এবং আল-লিসান-এ খুঁজে পাইনি। তবে আল-জারবারদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে রয়েছে যে, এটি হলো বায়ু ও বৃষ্টির শুরু। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১১)
وَعُثْنُونٌ (1) فُعْلُولاً لا فُعْلُوناً لِذَلِكَ وَلِعَدَمِهِ، وَسَحْنُونٌ إِنْ صَحَّ الْفَتْحُ فَفَعْلونٌ لا فَعْلُولٌ كَحَمْدُونٍ، وَهُوَ مُخْتَصٌّ بِالعَلَم، لِنُدُورِ (2) فَعْلُولٍ وَهُوَ صَعْفُوقٌ (3) ، وَخَرْنُوبٌ ضَعيفٌ، وسَمْنَانُ (4) فَعْلَانٌ، وَخَزْعالٌ (5) نَادِرٌ وبُطْنَان (6) فُعْلان، وَقُرْطَاسٌ (7) ضَعِيفٌ مَعَ أَنَّهُ نَقيضُ ظُهْرَانٍ "

--------------------------------------------

(1) قال في القاموس: " العثنون اللحية، أو ما فضل منها بعد العارضين، أو ما نبت على الذقن وتحته سفلا، أو هو طولها، وشعيرات طوال تحت حنك البعير ومن الريح والمطر أولهما، أو عام المطر، أو المطر ما دام بين السماء والارض " (2) مرجع الضمير في قوله: " وهو مختص بالعلم " فعلون (بفتح أوله وبالنون) وقوله " لندور فعلول " تعليل لحمله على فعلون ونفى كونه فعلولا (3) قوله " وهو صعفوق " يريد الذي ندر من فعلول بفتح أوله، قال في اللسان: " وقال الازهرى كل ما جاء على فعلول فهو مضموم الاول مثل زنبور وبهلول وعمروس وما أشبه ذلك، الا حرفا جاء نادرا وهو بنو صعفوق لخول باليمامة.

وبعضهم يقول صعفوق بالضم، قال ابن بري: رأيت بخط أبي سهل الهروي على حاشية كتاب: جاء على فعلول (بالفتح) صعفوق وصعقول لضرب من الكمأة وبعكوكة الوادي لجانبه، قال ابن بري: أما بعكوكة الوادي وبعكوكة الشر فذكرها السيراني وغيره بالضم لا غير، أعني بضم الباء، وأما الصعقول لضرب من الكمأة فليس بمعروف ولو كان معروفا لذكره أبو حنيفة في كتاب النبات وأظنه نبطيا أو أعجميا " اه وقد ذكر المجد في القاموس الصندوق بضم أوله وفتحه فهو مزيد على ما حكاه ابن بري عن الهروي (4) سمنان كما قال الشارح: اسم موضع، قيل: هو من أرض نجد، وقيل: هو مدينة بين الرى ونيسابور (5) سيأتي في كلام الشارح تفسير الخزعان بأنه ظلع يصيب الناقة (6) بطنان: اسم لباطن ريش الطائر، وظهران: اسم لظاهره، وسيأتى لهذا

القول تكملة (7) القرطاس - بضم أوله، وقد يفتح، والاشهر فيه الكسر - وهو الكاغد: أي ما يكتب فيه (*)
এবং ‘উছনুন’ (১) শব্দটি ‘ফুলুল’ ওজনের, ‘ফুলুন’ ওজনের নয়; উক্ত কারণে এবং এর অনুপস্থিতির দরুন। আর ‘সাহনুন’ শব্দে যদি প্রথম অক্ষরে জবর হওয়া শুদ্ধ হয়, তবে তা ‘ফালুন’ ওজনের হবে, ‘ফালুল’ নয়; যেমন ‘হামদুন’। এবং এটি কেবল নামবাচক শব্দের (আলাম) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; কারণ ‘ফালুল’ ওজনের শব্দের বিরলতার (২) কারণে, যা হলো ‘সা’ফুক’ (৩)। আর ‘খারনুব’ শব্দটি দুর্বল। ‘সামনান’ (৪) হলো ‘ফালান’ ওজনের। ‘খাজআল’ (৫) বিরল এবং ‘বুতনান’ (৬) হলো ‘ফুলান’ ওজনের। ‘কুরতাস’ (৭) (প্রথম অক্ষরে পেশ দিয়ে) দুর্বল শব্দরূপ, যদিও এটি ‘জুহরান’-এর বিপরীত শব্দ।

--------------------------------------------

(১) ‘কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “উছনুন হলো দাড়ি, অথবা গালের দুই পাশের পর দাড়ির যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, অথবা থুতনি ও তার নিচের অংশে যা গজায়, অথবা এটি হলো দাড়ির দৈর্ঘ্য। এটি উটের থুতনির নিচের লম্বা পশমকেও বলা হয়। এছাড়া বায়ু ও বৃষ্টির শুরুর ভাগকেও এটি বলা হয়, অথবা বৃষ্টির বছরকে, অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত বৃষ্টি আকাশ ও জমিনের মাঝে থাকে।” (২) লেখকের কথা “এবং এটি নামবাচক শব্দের জন্য নির্দিষ্ট”—এখানে সর্বনামটি ‘ফালুন’ (প্রথম অক্ষরে জবর ও শেষে নূন যোগে) ওজনের দিকে ফিরেছে। আর তার কথা “ফালুল ওজনের বিরলতার কারণে”—এটি একে ‘ফালুন’ ওজনের অন্তর্ভুক্ত করার এবং ‘ফালুল’ না হওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি। (৩) তার কথা “তা হলো সা’ফুক”—এর মাধ্যমে তিনি সেই শব্দটি বুঝিয়েছেন যা ‘ফালুল’ (প্রথম অক্ষরে জবর) ওজনে বিরল হিসেবে এসেছে। ‘লিসান’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “আযহারী বলেছেন, ‘ফালুল’ ওজনে যা কিছু আসে তার প্রথম অক্ষরে পেশ হয়, যেমন: যুনবুর, বাহলুল, উমরুস এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ। তবে একটি শব্দ বিরল হিসেবে এসেছে, তা হলো বনু সা’ফুক, যারা ইয়ামামার একটি সেবক গোষ্ঠী।

কেউ কেউ একে প্রথম অক্ষরে পেশ দিয়ে ‘সু’ফুক’ও বলেন। ইবনে বাররী বলেন: আমি আবু সাহল আল-হারাভীর হস্তাক্ষরে একটি কিতাবের টীকায় দেখেছি: ‘ফালুল’ (জবর যোগে) ওজনে ‘সা’ফুক’ এবং এক প্রকার ব্যাঙের ছাতার নাম হিসেবে ‘সা’কুল’ এসেছে, আর উপত্যকার পাশ বোঝাতে ‘বা’কুকা’ এসেছে। ইবনে বাররী আরও বলেন: উপত্যকার ‘বা’কুকা’ এবং অনিষ্টের ‘বা’কুকা’ শব্দ দুটি সায়রাফী ও অন্যান্যরা কেবল প্রথম অক্ষরে পেশ দিয়েই উল্লেখ করেছেন। আর ব্যাঙের ছাতা অর্থে ‘সা’কুল’ শব্দটি পরিচিত নয়; যদি এটি পরিচিত হতো তবে আবু হানিফা তাঁর ‘কিতাবুন নাবাত’-এ এটি উল্লেখ করতেন। আমার ধারণা এটি নবতী বা অনারব শব্দ।” ইতি। আর মাজদ ‘কামুস’ গ্রন্থে ‘সুনদুক’ শব্দের প্রথম অক্ষরে পেশ ও জবর উভয়টিই উল্লেখ করেছেন, যা ইবনে বাররী হারাভী থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার অতিরিক্ত। (৪) সামনান: যেমনটি ব্যাখ্যাকার বলেছেন, এটি একটি স্থানের নাম। বলা হয়: এটি নজদ অঞ্চলের অন্তর্গত, আবার কেউ বলেন: এটি রায় ও নিশাপুরের মধ্যবর্তী একটি শহর। (৫) ব্যাখ্যাকার সামনে ‘খাজআল’-এর ব্যাখ্যায় বলবেন যে এটি উটনীর এক প্রকার খুঁড়িয়ে চলা। (৬) বুতনান: পাখির পালকের ভেতরের অংশের নাম, আর জুহরান: তার বাইরের অংশের নাম। এই আলোচনার

পূর্ণাঙ্গ অংশ সামনে আসবে। (৭) কুরতাস: প্রথম অক্ষরে পেশ যোগে, কখনো জবরও হয়, তবে এতে সবচাইতে প্রসিদ্ধ হলো প্রথম অক্ষরে যের হওয়া। এটি হলো ‘কাগায’, অর্থাৎ যাতে লেখা হয়। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১২)
أقول: يعني إذا أردت وزن الكلمة عبرت عن الحروف الأصول بالفاء والعين واللام: أي جعلت في الوزن مكان الحروف الأصلية هذه الحروف الثلاثة كما تقول: ضَرَبَ على وزن فَعَلَ اعلم أنه صيغ لبيان الوزن المشترك فيه كما ذكرنا لفظٌ متصف بالصفة التى يقال لها الوزن، واستعمل ذلك اللفظ في معرفة أوزان جميع الكلمات، فقيل: ضَرَبَ على وزن فَعَلَ، وكذا نَصَرَ وخَرَجَ، أي: هو على صفة يتصف بها فَعَلَ، وليس قولك فَعَلَ هي الهيئة المشتركة بين هذه الكلمات، لأنا نعرف ضرورةً أن نفس الفاء والعين واللام غير موجودة في شئ من الكلمات المذكورة، فكيف تكون الكلمات مُشْتَرِكة في فَعَلَ؟ بل هذا اللفظ مصوغ ليكون محلاً للهيئة المُشْتَرَكةِ فقط، بخلاف تلك الكلمات، فإنها لم تُصَغْ لتلك الهيئة بل صيغت لمعانيها المعلومة، فلما كان المراد من صَوْغ فَعَلَ الموزون به مجرَّدَ الوزن سُمِّيَ وزناً وزِنَةً، لا أنه في الحقيقة وزن وزنة، وإنما اختير لفظ فَعَلَ لهذا الغرض من بين سائر الألفاظ لأن الغرض الأهم من وزن الكلمة معرفة (1) حروفها

--------------------------------------------

(1) المراد أن يعرف المتعلم باختصار الفرق بين الاصلى والزائد ومحل الاصلى، فإذا قيل له إن وزن منطلق منفعل، كان أخصر من أن يقال الميم والنون زائدتان، وكذا إذا قيل له أن ناء فلع كان أخصر من أن يقال له إن اللام مقدمة على العين، وهكذا، وبما ذكرنا اندفع ما يقال: كيف تعرف الاصالة والزيادة من المقابلة بالفاء والعين واللام مع أن المقابلة فرع معرفة الاصالة والزيادة، وذلك أن المعلم

إذا عرف الاصالة والزيادة من أدلتهما وأراد أن يعرف المتعلم باختصار الاصالة والزيادة قابل له حروف الكلمة التيژ يريد أن يعرفه حالها بحروف الميزان، ثم إن ما ذكر من أن المقابلة بالفاء والعين واللام تدل على الاصالة إنما هو في غير المكرر أما هو سواءأ كان تكراره للالحاق أم لغيره فانما تعرف الاصالة والزيادة فيه من أمر آخر وهو أن كل تضعيف في كلمة زائدة على ثلاثة أحرف فأحد الضعفين فيها زائد كفطع وجلبب وركع (جمع راكع) ، وقردد، إذا لم يفصل بين المثلين (*)

আমি বলছি: অর্থাৎ, যখন আপনি কোনো শব্দের ওজন পরিমাপ করতে চান, তখন আপনি মূল বর্ণগুলোকে 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' দ্বারা প্রকাশ করবেন। অর্থাৎ, ওজনের ক্ষেত্রে মূল বর্ণগুলোর স্থানে এই তিনটি বর্ণ স্থাপন করবেন। যেমন আপনি বলেন: 'দরাবা' শব্দটি 'ফাআলা' ওজনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। জেনে রাখুন যে, আমরা যেমনটা উল্লেখ করেছি, সাধারণ ওজনের রূপটি বর্ণনা করার জন্য এমন একটি শব্দ গঠন করা হয়েছে যা 'ওজন' নামক বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত। সেই শব্দটি সকল শব্দের ওজন নির্ণয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়: 'দরাবা' হলো 'ফাআলা' এর ওজনে, তেমনি 'নাসারা' এবং 'খারাজা'ও। অর্থাৎ, এগুলো এমন একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা 'ফাআলা' শব্দটির বৈশিষ্ট্য। আপনার 'ফাআলা' বলাটা এই শব্দগুলোর মধ্যবর্তী অভিন্ন রূপ নয়। কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, খোদ 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' বর্ণগুলো উল্লেখিত শব্দগুলোর কোনোটিতেই নেই। তাহলে শব্দগুলো কীভাবে 'ফাআলা' এর মধ্যে অংশীদার হতে পারে? বরং এই শব্দটি কেবলমাত্র সাধারণ রূপের আধার হওয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে। ঐ শব্দগুলোর অবস্থা এর বিপরীত, কারণ সেগুলো এই রূপের জন্য গঠিত হয়নি, বরং তাদের সুনির্ধারিত অর্থ প্রকাশের জন্য গঠিত হয়েছে। যেহেতু 'ফাআলা' শব্দটির গঠনের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ওজন হিসেবে ব্যবহার করা, তাই একে 'ওজন' বা 'যিনাহ' (পরিমাপক) নামকরণ করা হয়েছে; আসলে এটি স্বয়ং কোনো ওজন বা পরিমাপ নয়। আর অন্যান্য শব্দের মধ্য থেকে এই উদ্দেশ্যের জন্য 'ফাআলা' শব্দটি বাছাই করার কারণ হলো, কোনো শব্দের ওজনের প্রধান লক্ষ্য হলো তার (১) বর্ণসমূহ চেনা।

--------------------------------------------

(১) উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী যেন সংক্ষেপে মূল বর্ণ ও অতিরিক্ত বর্ণের মধ্যে পার্থক্য এবং মূল বর্ণের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। যেমন যখন তাকে বলা হয় যে 'মুনতালিক' এর ওজন হলো 'মুনফাইল', তখন এটি এই কথা বলার চেয়ে অনেক সংক্ষিপ্ত হয় যে 'মীম' এবং 'নুন' বর্ণ দুটি অতিরিক্ত। একইভাবে যদি তাকে বলা হয় যে 'নাআ' এর ওজন হলো 'ফালা', তবে তা এটি বলার চেয়ে সংক্ষিপ্ত হয় যে 'লাম' বর্ণটি 'আইন' বর্ণের আগে এসেছে, ইত্যাদি। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে সেই প্রশ্নের সমাধান হয় যেখানে বলা হয়: কীভাবে 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' এর সাথে সমান্তরাল করার মাধ্যমে মূল ও অতিরিক্ত বর্ণ চেনা সম্ভব, যেখানে সমান্তরাল করাটাই তো মূল ও অতিরিক্ত বর্ণ চেনার ওপর নির্ভরশীল? এর কারণ হলো, শিক্ষক যখন সংশ্লিষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে মূল ও অতিরিক্ত বর্ণ সম্পর্কে অবগত হন এবং শিক্ষার্থীকে সংক্ষেপে মূল ও অতিরিক্ত বর্ণ সম্পর্কে জানাতে চান, তখন তিনি যে শব্দের অবস্থা জানাতে চাচ্ছেন তার বর্ণগুলোকে পরিমাপক বর্ণগুলোর (মীযান) সাথে মিলিয়ে দেখান। এরপর কথা হলো, 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' এর সাথে সমান্তরাল করা মূল বর্ণের প্রমাণ হওয়া কেবল দ্বিত্বহীন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর দ্বিত্ব বা পুনরাবৃত্ত বর্ণ—চাই তা ইলহাক বা অন্য কোনো কারণে হোক—সেক্ষেত্রে মূল ও অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়টি অন্য বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়। আর তা হলো, তিন বর্ণের অধিক কোনো শব্দে যদি একই বর্ণের দ্বিত্ব থাকে, তবে সেই দ্বিত্বের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয়; যেমন 'কাত্তাআ', 'জালবাবা', 'রুকা' (রাকি শব্দের বহুবচন), এবং 'কারদাদ', যদি দুটি সমবর্ণের মাঝে কোনো বিচ্ছেদ না থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الاصول وما يزيد فيها من الحروف وما طرأ عليها من تغييرات لحروفها بالحركة والسكون، والمطَّردُ في هذا المعنى الفعل وَالأسماء المتصلة بالأفعال كاسم الفاعل واسم المفعول والصفة المشبهة والآلة والموضع، إذ لا تجد فعلاً ولا اسماً متصلاً به إلا وهو في الأصل مَصْدَرٌ قد غُيِّر غالباً إما بالحركات كضَرب وَضُرِبَ أوْ بالحروف كيضرب وَضارب ومضروب، وأما الاسم الصريح الذي لا اتصال له بالفعل فكثير منه خَالٍ من هذا المعنى كرجُل وَفَرس وَجَعْفَر وَسَفَرْجَل، لا تغيير في شئ منها عن أصل ومعنى تركيب " ف غ ل " مشترك بين جميع الأفعال وَالأسماء المتصلة بها، إذ الضَّرْب فعل، وكذا القَتْلُ وَالنَّوْمُ، فجعلوا ما تشترك الأفعال والأسماء المتصلة بها في هيئته اللفظية مما تشترك أيضاً في معناه، ثم جعلوا الفاء والعين واللام في مقابلة الحروف الأصلية، إذ الفاء والعين واللام أصول، فإن زادت الأصول على الثلاثة كَرَّرْتَ اللام دون الفاء والعين، لانه لما لم يكن بد في الوزن من زيادة حرف بعد اللام لأن الفاء والعين واللام تكفي في التعبير بها عن أول الاصول وثانيها وثالثها كانت الزيادة بتكرير أحد الحروف التى في مقابلة الأصول بعد اللام أولى، ولما كانت اللام أقرب كُرِّرَتْ هي دون البعيد فإن كان في الكلمة المقصودة وَزْنُها حرفٌ زائد فهو على ضربين: إن

كانت الزيادة بتكرير حرف أصلي كتكرير عين قَطَّع أو لام جَلْبَبَ كُرِّرَت العين في زن الاول نو فَعَّل واللام في وزن الثاني نحو فَعْلَلَ، ولا يُورَدُ ذلك المزيدُ بعينه، فلا يقال: فَعْطَلَ وَلَا فَعْلَبَ، تنبيهاً في الوزن على أن الزائد حصل مِنْ تكرير حرف أصلي، سواء كان التكرير للالحاق كقردد (1) أو

--------------------------------------------

حرف أصلى، وإن لم تزد على الثلاثة فالمثلان فيها أصليان كمد وعد وبر وجب (1) قردد: اسم جبل، وما ارتفع من الارض، ومن الظهر أعلاه، ومن الشتاء شدته وحدته، ويقال: جاء بالحديث على قردده: أي وجهه (*)
মূল অক্ষরসমূহ এবং তাতে যে সব অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয় এবং হরকত ও সুকুনের মাধ্যমে এগুলোর অক্ষরে যে সব পরিবর্তন ঘটে, তার আলোচনা। এই অর্থটি ক্রিয়া এবং ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে প্রযোজ্য, যেমন: কর্তাবাচক বিশেষ্য, কর্মবাচক বিশেষ্য, গুণবাচক বিশেষণ, যন্ত্রবাচক বিশেষ্য এবং স্থানবাচক বিশেষ্য। কেননা আপনি এমন কোনো ক্রিয়া বা তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্য পাবেন না যা মূলত একটি 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) নয়, যা প্রায়শই পরিবর্তিত হয়েছে—হয়ত হরকতের মাধ্যমে যেমন 'দারাবা' ও 'দুরিবা', অথবা অক্ষরের মাধ্যমে যেমন 'ইয়াদরিবু', 'দারিব' ও 'মাদরুব'। আর সেই স্পষ্ট বিশেষ্য যার ক্রিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, তার অনেকগুলোই এই অর্থ থেকে মুক্ত, যেমন: 'রাজুল' (ব্যক্তি), 'ফারাস' (ঘোড়া), 'জা'ফার' এবং 'সাফারজাল'। এগুলোর কোনোটির মূল গঠনে কোনো পরিবর্তন নেই। আর 'ফা-আইন-লাম' কাঠামোর অর্থ সমস্ত ক্রিয়া এবং তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহের মধ্যে সাধারণ। কেননা 'দারব' (প্রহার করা) একটি কাজ, আর তেমনিভাবে 'কাতল' (হত্যা করা) এবং 'নাওম' (নিদ্রা যাওয়া)। তাই তারা ক্রিয়া এবং তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহ যে শাব্দিক রূপ ধারণ করে, তাকে এমন বিষয় সাব্যস্ত করেছেন যা অর্থের ক্ষেত্রেও সমরূপ। অতঃপর তারা 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম'-কে মূল অক্ষরসমূহের বিপরীতে নির্ধারণ করেছেন, কেননা 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' হলো মূল। যদি মূল অক্ষর তিনটির বেশি হয়, তবে আপনি 'লাম' অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করবেন, 'ফা' বা 'আইন'-এর নয়। কারণ ওজনের ক্ষেত্রে 'লাম'-এর পরে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা অপরিহার্য ছিল, যেহেতু 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মূল অক্ষরকে প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট ছিল, তাই 'লাম'-এর পরে মূল অক্ষরের বিপরীতে থাকা অক্ষরগুলোর কোনো একটির পুনরাবৃত্তি করাই ছিল অধিকতর শ্রেয়। আর যেহেতু 'লাম' নিকটবর্তী, তাই দূরের অক্ষরের পরিবর্তে এরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এখন ওজনের জন্য নির্ধারিত শব্দে যদি কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে, তবে তা দুই প্রকারের: যদি

অতিরিক্ত অক্ষরটি কোনো মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয়, যেমন 'কাত্তা'আ'-এর 'আইন'-এর পুনরাবৃত্তি অথবা 'জালবাবা'-এর 'লাম'-এর পুনরাবৃত্তি, তবে প্রথমটির ওজনে 'আইন'-কে পুনরাবৃত্তি করা হবে যেমন 'ফাআলা' এবং দ্বিতীয়টির ওজনে 'লাম'-কে পুনরাবৃত্তি করা হবে যেমন 'ফাল্লালা'। সেই অতিরিক্ত অক্ষরটিকে হুবহু ওজনে আনা হবে না, তাই 'ফাতলা' বা 'ফালবা' বলা যাবে না; যাতে ওজনের মাধ্যমে এই বিষয়ে সতর্ক করা যায় যে, অতিরিক্ত অক্ষরটি একটি মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তি থেকে এসেছে, চাই সেই পুনরাবৃত্তিটি সংযুক্তিকরণের জন্য হোক যেমন কারদাদ (১) অথবা

--------------------------------------------

মূল অক্ষর। আর যদি তা তিন অক্ষরের অধিক না হয়, তবে তাতে দুটি সদৃশ অক্ষরই মূল হবে, যেমন: মাদ্দা, আদ্দা, বাররা এবং জাব্বা। (১) কারদাদ: একটি পাহাড়ের নাম, এবং যমিনের উঁচু অংশ, এবং পিঠের উপরিভাগ, এবং শীতের তীব্রতা ও প্রখরতা। বলা হয়: সে সংবাদটি তার যথাযথ রূপে উপস্থাপন করেছে, অর্থাৎ তার সঠিক পন্থায়। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
لغيره كقطع، وإن لم تكن الزيادة بتكرير حرف أصلي أُوْرِدَ في الوزن تلك الزيادة بعينها، كما يقال في ضارب: فاعل، وفي مصروب: مفعول الوزن التصغيري وقد ينكسر هذا الأصل الممهَّد في أوزان التصغير، إذ قصدوا حَصْرَ جميعها في أقرب لفظ وهو قولهم: أوزان التصغير ثلاثة فعيل، وفعيعل، وفعيعيل، ويدخل في فُعَيْعِل دُرَيْهِمٌ مع أن وزنه الحقيقي فُعَيْلِلٌ، وأُسَيْوِدُ وهو أُفَيْعل، وَمُطَيْلِق وهو مُفَيْعِل، وَجُوَيْرِب وهو فُوَيْعِل، وحُمَيِّر وهو فُعَيِّل، ويدخل في فُعَيْعِيلٍ عُصَيْفِيرٌ وهو فُعَيْليلٌ، ومُفَيْتِيحٌ وهو مُفَيْعيل، ونحو ذلك، وإنما كان كذلك لأنهم قصدوا الاختصار بحصر جميع أوزان التصغير فيما يُشْتَرَكُ فيه بحسب الحركات المعينة والسكنات، لا بحسب زيادة الحروف وأصالتها، فإن دُرَيْهماً مثلاً وأُحَيْمَرَ وَجُدَيْوِلا ومُطَيْلِقاً تشترك في ضم أول الحروف وفتح ثانيها ومجئ ياء ثالثة وكسر ما بعدها، وإن كانت أوزانه في الحقيقة مختلفةً باعتبار أصالة الحروف وزيادتها، فقالوا لما قصدوا جمعها في لفظ للاختصار: إن وزن الجميع فعيعل، فوزنوها بِوَزْن يكون في الثلاثي دون الرباعي، لكونه أكثر منه، وأقدم بالطبع، ثم قصدوا ألا يأتوا في هذا الوزن الجامع يزيادة إلا من نفس الفاء والعين واللام، إذ لابد للثلاثي - إذا

كان على هذا الوزن - من زيادة، واختيار بعض حروف " اليوم تنساه " للزيادة دون بعض تحكمٌ، إذ لو قالوا مثلاً أفيعل باعتبار نحو أحيمر أو مُفَيعل باعتبار نحو مُجَيْلِس أو فُعَيِّل باعتبار نحو حُمَيِّر أو غير ذلك كان تحكماً، فلم يكن بُدٌّ من تكرير أحد الأصول، وفي الثلاثي لا تكون زيادة التضعيف في الفاء فلم يقولوا فُفَيْعل، بل لا تكون إلا في العين كزرق (1) أو في اللام كمهدد (2) وقردد،

--------------------------------------------

(1) الزرق بوزان سكر طائر صياد وبياض في ناصية الفرس والجمع زراريق (2) مهدد: اسم امرأة، قال ابن سيده: وإنما قضيت على ميم مهدد أنها أصل (*)
অন্যদের জন্য যেমন কাত' (কর্তন); আর যদি অতিরিক্ত অক্ষরটি মৌলিক অক্ষরের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে না হয়, তবে ওজনের মধ্যে সেই অতিরিক্ত অক্ষরটিকেই সরাসরি উল্লেখ করা হয়। যেমন বলা হয় 'দারিব' (প্রহারকারী)-এর ক্ষেত্রে 'ফাউইল' এবং 'মাসরুব' (প্রহৃত)-এর ক্ষেত্রে 'মাফউল'। ক্ষুদ্রতাবাচক রূপের ওজন: কখনো কখনো তাসগিরের (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপের) ওজনে এই প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিটি লঙ্ঘিত হয়, কারণ তারা (ভাষাবিদগণ) তাসগিরের সমস্ত ওজনকে নিকটতম শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সংকল্প করেছেন। আর তা হলো তাদের এই কথা: তাসগিরের ওজন তিনটি— ফুআইল, ফুআইয়িল এবং ফুআইয়িল। 'ফুআইয়িল'-এর অন্তর্ভুক্ত হয় 'দুরাইহিম', যদিও এর প্রকৃত ওজন হলো 'ফুআইলিল'। তেমনি 'উসাইউয়িদ' যা মূলত 'উফাইয়িল', 'মুতাইলিক' যা মূলত 'মুফাইয়িল', 'জুআইরিব' যা মূলত 'ফুয়াইয়িল', এবং 'হুমাইয়ির' যা মূলত 'ফুআইয়িল'। আর 'ফুআইয়িল'-এর অন্তর্ভুক্ত হয় 'উসাইফির' যা মূলত 'ফুআইলিল', 'মুফাইতিহ' যা মূলত 'মুফাইয়িল' এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। এটি এমন করা হয়েছে কারণ তারা নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুন অনুযায়ী সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমস্ত তাসগিরের ওজনকে সীমাবদ্ধ করে সংক্ষেপ করার সংকল্প করেছেন; অক্ষরের অতিরিক্ত হওয়া বা মৌলিক হওয়ার বিচারে নয়। কেননা 'দুরাইহিম', 'উহাইমির', 'জুদাইউয়িল' এবং 'মুতাইলিক' উদাহরণস্বরূপ প্রথম অক্ষরে পেশ, দ্বিতীয় অক্ষরে জবর, তৃতীয় স্থানে 'ইয়া' এবং চতুর্থ অক্ষরে যের হওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সদৃশ; যদিও প্রকৃত অর্থে অক্ষরগুলোর মৌলিকতা ও অতিরিক্ত হওয়ার বিচারে এগুলোর ওজন ভিন্ন ভিন্ন। তাই যখন তারা সংক্ষেপ করার জন্য এগুলোকে একটি শব্দের মধ্যে জমা করতে চাইলেন, তখন বললেন: সবগুলোর ওজনই হলো 'ফুআইয়িল'। সুতরাং তারা এগুলোকে এমন ওজনে পরিমাপ করলেন যা চতুবর্ণ শব্দের তুলনায় ত্রিবর্ণ শব্দে বেশি দেখা যায়, কারণ এটি অধিক ব্যবহৃত এবং প্রকৃতিগতভাবে অগ্রগণ্য। এরপর তারা সংকল্প করলেন যে, এই সংকলিত ওজনে যেন ফা, আইন এবং লাম ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত অক্ষর না আনা হয়। কারণ ত্রিবর্ণ বিশিষ্ট শব্দ—যখন তা এই ওজনে হয়—তাতে একটি অতিরিক্ত অক্ষর থাকা আবশ্যক। আর (অতিরিক্ত হিসেবে) 'আল-ইয়াওমা তানসাহু' (অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্য অক্ষরসমূহ)-এর মধ্য থেকে কোনো কোনোটিকে গ্রহণ করা এবং অন্যগুলোকে বর্জন করা হবে খামখেয়ালি বা পক্ষপাতমূলক। কারণ তারা যদি উদাহরণস্বরূপ 'উহাইমির' বিবেচনায় 'উফাইয়িল' বা 'মুজাইলিস' বিবেচনায় 'মুফাইয়িল' অথবা 'হুমাইয়ির' বিবেচনায় 'ফুআইয়িল' বা অন্য কিছু বলতেন, তবে তা খামখেয়ালি হতো। ফলে কোনো একটি মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আর ত্রিবর্ণ বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে 'ফা' অক্ষরে দ্বিত্ব হয় না, তাই তারা 'ফুফাইয়িল' বলেননি। বরং দ্বিত্ব কেবল 'আইন' অক্ষরে হয় যেমন 'জুররাক' অথবা 'লাম' অক্ষরে যেমন 'মাহদাদ' ও 'কারদাদ'।

--------------------------------------------

(১) জুররাক: সুক্কর-এর ওজনে একটি শিকারি পাখি এবং ঘোড়ার কপালে শুভ্রতা, এর বহুবচন হলো জারারিক। (২) মাহদাদ: একজন নারীর নাম; ইবনে সিদাহ বলেন: আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে মাহদাদ শব্দের মিম অক্ষরটি মৌলিক। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فلو قالوا فعيلل لالتبس بوزن جعيفر، أعني وزن الرباعي المجرد عن الزيادة، وهم قصدوا وزن الثلاثي كما ذكرنا، فكرروا العين ليكون الوزن الجامع وَزن الثلاثي خاصة، وإن لم يقصدوا الحصر المذكور ورنوا كل مصغر بما يليق به، فقالوا: دُرَيْهِمٌ فعيلل، وحمير فُعَيِّل، وَمُقَيْتِل مُفَيْعِل، ونحو ذلك.

هذا، وقد يجوز في بعض الكلمات أن تُحْمَلَ الزيادة على التكرير، وأن لا تحمل عليه، إذا كان الحرف من حوف " اليوم تنساه " وذلك كما في حلتيت، يحتمل أن تكون اللام مكررة كما في شِمْليلٍ فيكون وزنه فعليلا فيكون ملحقا بقنديل، وأن يكون لم يقصد تكرير لامه وإن اتفق ذلك، بل كان القصد الى زيادة الياء والتاء كما في عفريت (1) فيكون فعليتا، وكذا سمنان: إما أن يكون مكرر اللام للإلحاق بِزِلزَال، أو يكون زيد فيه الألف والنون لا للتكرير بل كما زيد في سَلْمَان، ولا دليل في قول الحماسي: - 1 - نَحْوَ الأُمَيْلِحِ من سمنان مبتكرا * * بفتية فيهم المرار والحكم (2) - بمنه صرف سَمْنَانَ - على كونه فَعْلانَ، لجواز كونه فَعْلَالاً وامتناعُ صرفه لتأويله بالأرض والبقعة لأنه اسم موضع، قال المصنف: لا يجوز أن يكون مكرر

اللام للإلحاق لأن فَعْلَالاً نادر كخَزْعال، ولا يلحق بالوزن النادر، ولقائل أن يقول: إن فَعْلَالاً إذا كان فاؤء ولامه الأولى من جنس واحد نحو زلزال (3)

--------------------------------------------

لانها لو كانت زائدة لم تكن الكلمة مفكوكة وكانت مدغمة كمسد ومرد، وهو (مهدد) فعلل اه وقال سيبويه: الميم من نفس الكلمة، ولو كانت زائدة لادغم الحرف مثل مفر ومرد، فثبت أن الدال ملحقة، والمحلق لا يدغم اه (1) العفريت: النافذ في الامر المبالغ فيه مع دهاء (2) الاميلح: ماء لبنى ربيعة، وسمنان تقدم ذكره، ومبتكرا: ذاهبا في بكرة الهار، وهى أوله، والمرار والحكم أخو الشاعر، وهو زياد بن منقذ (3) الزلزال: التحريك الشديد، والخلخال: حلى يلبس في الساق، وخلخال: بلد ويقال: ثوب خلخال، أي رقيق (*)
যদি তারা ফুআইলিল বলতেন, তবে তা জুআইফার ওজনের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত; অর্থাৎ অতিরিক্ত অক্ষর বর্জিত চতুরক্ষর শব্দের ওজনের সাথে। অথচ তারা ত্রাক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ওজনকে বুঝাতে চেয়েছেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তাই তারা আইন অক্ষরটিকে পুনরাবৃত্তি করেছেন যেন সাধারণ ওজনটি বিশেষভাবে ত্রাক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ওজনে থাকে। আর যদি তারা উল্লিখিত সীমাবদ্ধতা পোষণ না করতেন এবং প্রতিটি ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দকে তার উপযুক্ত ওজনে ওজন করতেন, তবে তারা বলতেন: দুরাইহিম হলো ফুআইলিল, হুমাইর হলো ফুআইয়িল, এবং মুকাইতিল হলো মুফাইইল ইত্যাদি।

এর বাইরে, কিছু শব্দের ক্ষেত্রে অক্ষর বৃদ্ধিকে পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা জায়েজ হতে পারে আবার নাও হতে পারে, যদি সেই অক্ষরটি 'আল-ইয়াওমা তানসাহু' (অতিরিক্ত অক্ষরসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন হিলতীত শব্দের ক্ষেত্রে; সম্ভাবনা আছে যে এখানে লাম অক্ষরটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে যেমন শিমলীল শব্দের ক্ষেত্রে হয়, সেক্ষেত্রে এর ওজন হবে ফালীলান যা কান্দীল-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হবে। আবার এটিও হতে পারে যে এখানে লাম-এর পুনরাবৃত্তি উদ্দেশ্য নয় যদিও তা মিলে গেছে, বরং উদ্দেশ্য ছিল ইয়া এবং তা বৃদ্ধি করা যেমনটি ইফ্রীত (১) শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে, তখন ওজন হবে ফালীয়ান। অনুরূপভাবে সামনান: হয় এটি যিলযাল-এর সাথে সংযুক্তির জন্য লাম অক্ষরের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, অথবা এতে আলিফ ও নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে পুনরাবৃত্তির জন্য নয় বরং সালমান শব্দে যেভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। হামাসী কবির নিম্নোক্ত বক্তব্যে কোনো প্রমাণ নেই: - ১ - সামনান হতে উমাইলিহের দিকে ভোরে যাত্রা করলাম * * এমন এক যুবদলের সাথে যাদের মাঝে মুরার ও হাকাম বিদ্যমান (২) - এখানে সামনান শব্দটিকে তানভীন প্রদান (সারফ) করা হতে - যে এটি ফালান ওজনের; কারণ এটি ফালাল ওজনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর তানভীন নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো ভূখণ্ড বা স্থান হিসেবে এর ব্যাখ্যা করা, যেহেতু এটি একটি জায়গার নাম। গ্রন্থকার বলেছেন: সংযুক্তির জন্য লাম অক্ষরের পুনরাবৃত্তি হওয়া জায়েজ নয়

কারণ ফালাল ওজনটি বিরল যেমন খাযআল, আর বিরল ওজনের সাথে সংযুক্তি করা হয় না। তবে কেউ বলতে পারেন যে: ফালাল ওজনটি তখন হয় যখন এর ফা এবং প্রথম লাম একই জাতীয় হয়, যেমন যিলযাল (৩)।

--------------------------------------------

কারণ যদি তা অতিরিক্ত হতো তবে শব্দটি বর্ণবিশ্লিষ্ট হতো না বরং মাসাদ ও মারাদ-এর মতো সন্ধিযুক্ত (ইদগাম) হতো। আর এটি (মুহাদদাদ) হলো ফাল্লাল ওজন। সিবওয়াইহ বলেছেন: মীম বর্ণটি শব্দের মূল অংশ, যদি তা অতিরিক্ত হতো তবে মাফার ও মারাদ-এর মতো বর্ণটি সন্ধিযুক্ত হতো। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে দাল বর্ণটি সংযুক্ত, আর যা সংযুক্ত করা হয় তাতে সন্ধি হয় না। (১) ইফ্রীত: কোনো কাজে অত্যন্ত দক্ষ এবং ধূর্ত। (২) উমাইলিহ: বনু রাবীআহ গোত্রের একটি জলাশয়; আর সামনান-এর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। মুবতাকিরান: দিনের শুরুতে তথা ভোরে গমনকারী। মুরার ও হাকাম হলো কবির ভাই, আর তিনি হলেন যিয়াদ বিন মুনকিয। (৩) যিলযাল: প্রচণ্ড কম্পন। খিলখাল: পায়ে পরিধান করার অলংকার। খিলখাল: একটি শহরের নামও। বলা হয়: খিলখাল কাপড়, অর্থাৎ পাতলা কাপড়। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وخلخال غير نادر اتفاقا، فهلا يجوز أن يكون سمنان ملحقا به، وليس نحو زَلْزَال بِفَعْفَال على ما هو مذهب الفراء كما يذكره المصنف في باب ذي الزيادة، ولا يجوز أن يكون التاءان أصليتين في حلتيت وكذا النونا ن في سمنان لما سيجئ من أن التضعيف في الرباعي والخماسي لا يكون إلا زائداً إلا أن يُفْصَلَ أحد الحرفين عن الآخر بحرف أصلي كزَلْزَال على ما فيه من الخلاف كما سيجئ، ولا يجوز أن يكون كرر اللام فيهما لغير الألحاق كما في سُودَدٍ (1) عندَ سيبويه لأن معنى الالحاق حاصل فيهما، وإنما امتنع ذلك في نحو سودد عند سيبويه (1) لعدم نحو جُخْدَب عنده وأما نحو سُحنون وعُثنون فهما مكررا اللام للإلحاق بعُصْفور، ولا يجوز أن يكون زيد الواو والنون كما في حَمْدُون لعدم فُعْلُون في أبنيتهم، وأما سَحْنُون - بفتح الفاء - فليس بمكرر اللام للإلحاق بصَعْفُوقٍ، لأنه نادر، ولا يلحق بالنادر، وليس التكرير لغير الألحاق كما في سُودَدٍ (1) لعدم فعول مكرَّرَ اللام

فهو إذن فَعْلُون لثبوت فعلون في الأعلام خاصة، وسَحْنُون علم وأما بُطْنَان فليس بمكرر اللام، لأنه جمع بطن (2) ، وليس فعلال من

--------------------------------------------

(1) هذا الكلام الذي ذكره الشارح هاهنا في كلمة سؤدد مخالف لما سيأتي له، فقد قال في مبحث الالحاق: وَلا تلحق كلمة بكلمة مزيد فيها إلا بأن يجئ في الملحقة ذلك الزائد بعينه في مثل مكانه، ولهذا ضعف قول سيبويه في نحو سؤدد إنه ملحق بجُنْدَبٍ المزيد نونه، وقوي قول الأخفش إنه ثبت نحو جُخْدَب وإن نحو سؤدد ملحق به.

وقال في باب الاعلال عند التعليل لتصحيح كلمة عُلْيَب: وَهو عند الأخفش ملحق بجُخْدَب وعند سيبويه للإلحاق أيضاً كسؤدد وإن لم يأت عنده فُعْلَل اه فهاتان العبارتان صريحتان في أنه يرى أن مذهب سيبويه أن كلمة سؤدد ملحقة بنحو جندب (2) الذي قاله المصنف هنا هو الذي ذكره المجد في القاموس والجوهري في (*)
এবং 'খালখাল' সর্বসম্মতভাবেই বিরল নয়, এমতাবস্থায় 'সিমনান' শব্দটিকে কি এর সাথে সংশ্লিষ্ট (ইলহাক) করা জায়েজ হতে পারে না? আর আল-ফাররার মতানুযায়ী 'যালযাল'-এর মতো শব্দগুলো 'ফাফআল' ওজনের নয়, যেমনটি গ্রন্থকার 'অতিরিক্ত বর্ণ' (যিল-যিয়াদাহ) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। 'হিলতিত' শব্দের দুটি 'তা' মূল বর্ণ হওয়া জায়েজ নয়, একইভাবে 'সিমনান' শব্দের দুটি 'নুন'-ও মূল বর্ণ হওয়া জায়েজ নয়; কারণ সামনে এটি আলোচিত হবে যে, চতুর্বর্ণী ও পঞ্চবর্ণী শব্দে দ্বিত্বকরণ কেবল অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবেই হয়ে থাকে, তবে যদি দুটি বর্ণের একটি অন্যটি থেকে কোনো মূল বর্ণের মাধ্যমে পৃথক হয়—যেমন 'যালযাল'—সেটি ভিন্ন কথা, যদিও এতে মতভেদ রয়েছে যা সামনে আসবে। সিবওয়াইহের মতে 'সুদাদ' শব্দের ন্যায় এই দুটি শব্দের (হিলতিত ও সিমনান) ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণের পুনরাবৃত্তি ইলহাক (সংশ্লিষ্টকরণ) ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হওয়া জায়েজ নয়, কেননা এই দুটির মধ্যে ইলহাকের অর্থ বিদ্যমান রয়েছে। সিবওয়াইহের নিকট 'সুদাদ' জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে এটি এই কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে যে, তাঁর মতে 'জুখদাব'-এর মতো কোনো ওজনের অস্তিত্ব নেই। আর 'সুহনুন' ও 'উশনুন'-এর মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণটি 'উসফুর' ওজনের সাথে ইলহাক করার উদ্দেশ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। আর 'হামদুন' শব্দের ন্যায় এতে 'ওয়াও' ও 'নুন' অতিরিক্ত হওয়া জায়েজ নয়, কারণ তাদের ভাষাগত কাঠামোতে 'ফুলুন' ওজনের কোনো ভিত্তি নেই। তবে 'সাহনুন' (প্রথম বর্ণে ফাতহাহ যোগে) শব্দটি 'সাফউক' ওজনের সাথে ইলহাকের জন্য 'লাম' দ্বিত্বকৃত শব্দ নয়, কারণ এটি বিরল; আর বিরল ওজনের সাথে ইলহাক করা হয় না। আবার এর পুনরাবৃত্তি 'সুদাদ' শব্দের ন্যায় ইলহাক ব্যতিরেকে অন্য কোনো কারণেও নয়, কারণ 'লাম' দ্বিত্বকৃত 'ফাউল' ওজনের কোনো অস্তিত্ব নেই।

অতএব এটি 'ফালুন' ওজনের, কারণ বিশেষ করে নামবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'ফালুন' ওজনের অস্তিত্ব সাব্যস্ত, আর 'সাহনুন' একটি নাম। তবে 'বুতনান' শব্দটি 'লাম' পুনরাবৃত্ত হওয়া শব্দ নয়, কারণ এটি 'বাতন'-এর বহুবচন। আর 'ফিলাল' ওজনটি কোনো...

--------------------------------------------

(১) 'সুদাদ' শব্দ সম্পর্কে ব্যাখ্যাকার এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা সামনে তিনি যা বলবেন তার পরিপন্থী। তিনি ইলহাক অধ্যায়ে বলেছেন: কোনো অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত শব্দের সাথে অন্য কোনো শব্দকে ইলহাক করা যাবে না যতক্ষণ না ইলহাককৃত শব্দে সেই একই অতিরিক্ত বর্ণটি ঠিক একই স্থানে বিদ্যমান থাকে। এই কারণেই সিবওয়াইহের সেই বক্তব্যটি দুর্বল হয়ে পড়েছে যেখানে তিনি 'সুদাদ' শব্দটিকে নুন অতিরিক্ত যুক্ত 'জুনদাব' ওজনের সাথে মুলহাক (সংশ্লিষ্ট) বলেছেন; বরং আল-আখফাশের মতটিই শক্তিশালী যে 'জুখদাব' ওজনটি ভাষাগতভাবে সাব্যস্ত এবং 'সুদাদ' এর সাথে মুলহাক।

তিনি ইলাল (বর্ণ পরিবর্তন) অধ্যায়ে 'উলয়াব' শব্দটিকে সহীহ রাখার কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেছেন: এটি আখফাশের মতে 'জুখদাব' ওজনের সাথে মুলহাক, আর সিবওয়াইহের মতেও এটি 'সুদাদ'-এর মতো ইলহাকের উদ্দেশ্যে, যদিও তাঁর নিকট 'ফুললাল' ওজনের অস্তিত্ব নেই। সুতরাং এই দুটি বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি মনে করেন সিবওয়াইহের মাজহাব হলো 'সুদাদ' শব্দটি 'জুনদাব' সদৃশ ওজনের সাথে সংশ্লিষ্ট। (২) গ্রন্থকার এখানে যা বলেছেন তা আল-মাজদ তার 'কামুস'-এ এবং আল-জাওহারী তার...
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أبنية الجموع، وفُعْلانُ منها كَقُفْزَانٍ (1) ولو كان بطنان واحداً لجاز أن يكون فُعلالاً مكرر اللام للإلحاق بقُسْطَاسٍ (2) كما في قُرْطاط (3) وَفُسْطَاط (4) ، أو يقال في الثلاثة إنها مكررة اللام لا للإلحاق كما في سُؤْدَدٍ عند سيبويه (5) وقال المصنف: لا يجوز أن يكون بُطْنَان ملحق بقُرْطَاس لأنه ضعيف، والفصيح قِرْطَاسٌ - بكسر الفاء - والقائل أن يكون بُطْنَان ملحقاً بقُرْطَاس لانه ضعفيف، وقد قرئ في الكتاب العزيز بالكسر والضم، وما قيل " إنها لغة رومية " لم يثبت والظاهر أن المصنف بنى على أن بُطْناناً وظُهْرَاناً مفردان (5) فحمل بُطْناناً في كونه فُعْلان عَلَى ظُهْرَان الذي هو فُعْلان بيقين، ولو جعلهما جَمْعَيْن لم يحتج إلى ما ذكر، لأن فُعْلالاً ليس من أبنية الجموع، والحق أنهما جمعا بطن وظهر كما ذكر أهل اللغة رجعنا إلى تفسير كلامه، قوله " يعبر عنها " أي عن الاصول: أي،

--------------------------------------------

* الصحاح وابن منظور في اللسان عن ابن سيده، لكن قال الجاربردي في شرحه

على الشافية إن ظهرانا اسم لظاهر الريش وبطنانا اسم لباطنه فهما على ذلك مفردان كما يقتضيه كلام المصنف (1) القفزان: جمع قفيز، وهو مكيال يسع ثمانية مكاكيك (والمكاكيك: جمع مكوك - بزنة تنور - وهو مكيال يسع صاعا ونصف صاع) .

والقفيز من الارض يساوي مائة وأربعا وأربعين ذراعا (2) القسطاس - بالضم والكسر - الميزان (3) القرطاط - بالضم والكسر - ما يوضع تحت رحل البعير، وهو الداهية أيضا.

(4) الفسطاط - بضم أوله أو كسره - المدينة التى فيها مجتمع الناس، وكل مدينة فسطاط، ومنه قيل لمدينة مصر التى بناها عمرو بن العاص فسطاط، وقال الزمخشري: الفسطاط: ضرب من الابنية في السفر دون السرادق، وبه سميت المدينة، ويقال لمصر والبصرة الفسطاط اه عن اللسان (5) أنظر (ص 16 هـ امن هذا الجزء) (*)
বহুবচনের গঠনরীতিসমূহ, এবং এর মধ্যে 'ফু'লান' ওজনের শব্দ রয়েছে যেমন 'কুফজান' (১)। আর 'বুতনান' যদি একবচন হতো, তবে 'কিসতাস' (২)-এর সাথে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে (ইলহাক) শেষ বর্ণ বা লাম-বর্ণটি দ্বিত্ব করার মাধ্যমে একে 'ফু'লাল' ওজনের হওয়া বৈধ হতো, যেমনটি 'কুরতাত' (৩) এবং 'ফুসতাত' (৪)-এর ক্ষেত্রে হয়েছে। অথবা এই তিনটির ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, এগুলোতে লাম-বর্ণটি দ্বিত্ব করা হয়েছে ইলহাক বা সংযুক্ত করার জন্য নয়, যেমনটি সিবওয়াইহ-এর মতে 'সু'দাদ'-এর ক্ষেত্রে হয়েছে (৫)। এবং গ্রন্থকার বলেছেন: 'বুতনান' শব্দটি 'কুরতাস'-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হওয়া জায়েজ নয়, কারণ এটি একটি দুর্বল মত; আর বিশুদ্ধ হলো 'কিরতাস'—প্রথম বর্ণে কাসরা দিয়ে। আর যিনি বলেন যে 'বুতনান' 'কুরতাস'-এর সাথে সংযুক্ত, তা দুর্বল হওয়ার কারণেই বলা হয়েছে। অথচ মহাগ্রন্থ কুরআনে কাসরা এবং দম্মা উভয়ভাবেই কিরাআত পাঠ করা হয়েছে। আর এটি যে 'রোমান ভাষা' থেকে এসেছে বলে যা বলা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। এবং বাহ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থকার এই ভিত্তির ওপর বিষয়টি গঠন করেছেন যে 'বুতনান' এবং 'জুহরান' হলো দুটি একবচন শব্দ (৫)। তাই তিনি 'বুতনান' শব্দটিকে 'ফু'লান' ওজনের হওয়ার ক্ষেত্রে 'জুহরান'-এর ওপর কিয়াস করেছেন, যা নিশ্চিতভাবেই 'ফু'লান' ওজনের। আর যদি তিনি এ দুটিকে বহুবচন হিসেবে গণ্য করতেন, তবে উল্লিখিত আলোচনার কোনো প্রয়োজন হতো না; কারণ 'ফু'লাল' বহুবচনের গঠনরীতি বা ওজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর সত্য কথা হলো এই যে, এ দুটি 'বাতন' এবং 'জাহর'-এর বহুবচন, যেমনটি ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন। আমরা পুনরায় তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফিরে যাই; তাঁর কথা "তা দ্বারা প্রকাশ করা হয়" অর্থাৎ মূল বর্ণসমূহ থেকে; অর্থাৎ,

--------------------------------------------

* আস-সিহাহ এবং ইবনে মানজুর 'লিসান' গ্রন্থে ইবনে সিদাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে জারবারদি 'শাফিয়া'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, 'জুহরান' হলো পালকের বহির্ভাগের নাম এবং 'বুতনান' হলো তার অভ্যন্তরীণ ভাগের নাম; সুতরাং সেই অনুযায়ী শব্দ দুটি একবচন, যেমনটি গ্রন্থকারের বক্তব্য দাবি করে।

(১) কুফজান: 'কাফিজ'-এর বহুবচন, এটি এমন একটি পরিমাপক পাত্র যাতে আটটি 'মাক্কুক' ধরে (মাক্কুকসমূহ: 'মাক্কুক'-এর বহুবচন—তান্নুর-এর ওজনে—এটি এমন একটি পরিমাপক যাতে এক সা' এবং অর্ধেক সা' পরিমাণ ধরে)।

আর ভূমির ক্ষেত্রে এক কাফিজ একশ চুয়াল্লিশ হাতের সমান। (২) আল-কিসতাস—দম্মা এবং কাসরা যোগে—এর অর্থ দাঁড়িপাল্লা। (৩) আল-কুরতাত—দম্মা এবং কাসরা যোগে—যা উটের জিনের নিচে রাখা হয়, এটি বিপদ বা বিপর্যয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

(৪) আল-ফুসতাত—প্রথম বর্ণে দম্মা বা কাসরা যোগে—এমন শহর যেখানে মানুষের সমাবেশ ঘটে। প্রত্যেক শহরই এক একটি ফুসতাত। এই কারণেই আমর ইবনুল আস কর্তৃক নির্মিত মিশরের শহরটিকে 'ফুসতাত' বলা হয়। যামাখশারী বলেছেন: ফুসতাত হলো সফরের সময় ব্যবহৃত তাবু বা তাঁবুর মতো এক ধরণের স্থাপনা যা বড় তাঁবুর চেয়ে ছোট, এবং এর নামানুসারেই শহরের নামকরণ করা হয়েছে। মিশর ও বসরাকেও ফুসতাত বলা হয়।—লিসানুল আরব থেকে সংগৃহীত। (৫) দেখুন (এই খণ্ডের ১৬ নং পৃষ্ঠা) (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
يُجْعل في الوزن مكانَ أول الأصول الفاء، ومكان ثانيها العين، ومكان ثالثها اللام.

قوله " وما زاد " أي: وما زاد عن ثلاثة من الأصول يُعَبَّرُ عنه بلام ثانية إن كان الاسم رباعياً، كما تقول: وزن جَعْفَرٍ فَعْلَلٌ قوله " وثالثة " أي: إذا كان الاسم خماسياً كما تقول: وَزْنُ سَفَرْجَلٍ فَعْلَّلٌ قوله " ويعبر عن الزائد بلفظه ": أي يورد في الوزن الحرفُ الزائد بعينه في مثل مكانه، كما تقول: مَضْروب على وزن مَفْعُول زنة المبدل من تاء الافتعال قوله " إلا المبدل من تاء الافتعال " يعني تقول في مثل اضْطَرَبَ وَازْدَرَعَ (1) افْتَعَلَ، ولا تقول افْطَعَل ولا افْدَعَلَ، وهذا مما لا يُسَلَّم، بل تقول: اضْطَرَبَ على وزن افْطَعَلَ، وَفَحَصْطَ (2) وزنه فَعَلْطُ، وهَرَاق (3) وزنه هَفْعَل، وَفُقَيْمِجٌّ وزنه (4) فُعَيْلِجّ، فيعبر عن كل الزائد المبدَل (منه) بالبدل، لا بالمبدل منه

وقال عبد القاهر في المبدل عن الحرف الأصلي: " يجوز أن يعبر عنه بالبدل، فيقال في قال: إنه على وزن فال " اه، قال في الشرح (5) : إنما لم يُوزَنْ المبدل من تاء

--------------------------------------------

(1) أصل ازدرع ازترع، فأبدلوا التاء دالا لوقوعها بعد الزاى، وهى بمعنى زرع أي طرح البذر (2) فحصط: هو فحصت بتاء المتكلم، فأبدلت طاء تشبيها لها بالتاء في نحو اصطبر والابدال في فحصت شاذ، إذ التاء فيه من الاسماء العريقة في البناء (3) هراق: أصله أولا أريق ثم أعل بالنقل والقلب فصار أراق ثم، أبدلت همزته هاء شذوذا (4) فقيمج (بالتصغير والجيم مشددة) أصله فقيمى، وهو المنسوب إلى فقيم، وفقيم: بطن من كنانة، أبدلت فيه الياء المشددة جيما كما قالوا: علجا وعشجا في على وعشى (5) المراد بالشرح في هذه العبارة شرح ابن الحاجب على شافيته (*)
ওজনে প্রথম মূল বর্ণের স্থলে ফা, দ্বিতীয়টির স্থলে আইন এবং তৃতীয়টির স্থলে লাম রাখা হয়।

তাঁর উক্তি "যা অতিরিক্ত হবে" অর্থাৎ: মূল তিনটি বর্ণের চেয়ে যা অতিরিক্ত হবে, তা দ্বিতীয় একটি লাম দ্বারা প্রকাশ করা হবে যদি শব্দটি চার বর্ণবিশিষ্ট (রুবায়ি) হয়, যেমন আপনি বলবেন: জা'ফার-এর ওজন হলো ফাল্লাল। তাঁর উক্তি "এবং তৃতীয়টি" অর্থাৎ: যদি শব্দটি পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট (খুমাসি) হয়, যেমন আপনি বলবেন: সাফারজাল-এর ওজন হলো ফাল্লালাল। তাঁর উক্তি "এবং অতিরিক্ত অক্ষরকে তার নিজ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়": অর্থাৎ ওজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণটিকে তার নির্দিষ্ট স্থানে হুবহু উল্লেখ করা হবে, যেমন আপনি বলবেন: মাদরুব-এর ওজন হলো মাফউল। ইফতি'আলের 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণের ওজনের ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি "ইফতি'আলের 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণ ব্যতীত" অর্থাৎ আপনি ইদতরাবা এবং ইজদারা'আ-এর ক্ষেত্রে বলবেন ইফতা'আলা; ইফতআলা বা ইফদা'আলা বলবেন না। তবে এটি সর্বসম্মত নয়, বরং আপনি বলবেন: ইদতরাবা-এর ওজন হলো ইফতআলা, ফাহাস্তা-এর ওজন হলো ফালতু, হারা-কা-এর ওজন হলো হাফ'আলা এবং ফুকাইমিজ-এর ওজন হলো ফুকাইলিজ। সুতরাং প্রতিটি অতিরিক্ত বর্ণ যা পরিবর্তিত হয়েছে, তাকে পরিবর্তিত রূপ (বাদাল) দ্বারাই প্রকাশ করা হবে, যা থেকে পরিবর্তিত হয়েছে (মুবদাল মিনহু) তা দিয়ে নয়।

আব্দুল কাহির মূল বর্ণ থেকে পরিবর্তিত বর্ণ সম্পর্কে বলেছেন: "একে পরিবর্তিত রূপ (বাদাল) দিয়ে প্রকাশ করা জায়েয। সুতরাং ক্বলা সম্পর্কে বলা হবে যে, এটি ফা-লা ওজনে।" তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। ব্যাখ্যার মধ্যে বলা হয়েছে: 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণের ওজন করা হয়নি কারণ...

--------------------------------------------

(১) ইজদারা'আ-এর মূল ছিল ইজতারা'আ, অতঃপর 'যা' বর্ণের পরে আসার কারণে 'তা' বর্ণটিকে 'দাল' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি 'যারা'আ' এর অর্থে, অর্থাৎ বীজ বপন করা। (২) ফাহাস্তা: এটি মূলত মুতাকাল্লিমের 'তা' সহকারে ছিল ফাহাসতু, অতঃপর ইস্তাবারা-এর 'তা' এর সাদৃশ্যে একে 'ত্বা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফাহাসতু শব্দে এই পরিবর্তনটি বিরল, কারণ এখানে 'তা' শব্দটি গঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। (৩) হারা-কা: এর মূল ছিল আরাইক্বা, তারপর স্থানান্তর এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি আরা-ক্বা হয়েছে। এরপর বিরল নিয়ম অনুযায়ী এর হামজাকে 'হা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। (৪) ফুকাইমিজ (ক্ষুদ্রার্থবোধক এবং জিম বর্ণটি তাসদীদযুক্ত): এর মূল ছিল ফুকাইমিয়্যু, যা ফুকাইম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর ফুকাইম হলো কিনানা গোত্রের একটি শাখা। এখানে তাসদীদযুক্ত ইয়া-কে জিম দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমনটি তারা আলিয়্যু এবং আশিয়্যু-এর ক্ষেত্রে ইলজান এবং ইশজান বলে থাকে। (৫) এই ইবারতে 'ব্যাখ্যা' বলতে ইবনুল হাজিব কর্তৃক তাঁর নিজের কিতাব 'শাফিয়া'র ব্যাখ্যাকে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الافتعال بلفظه إما للاستثقال أو للتنبيه على الاصل، قلنا: هذا حاصلان في فَحَصْطُ وفي فُزْدُ (1) ولا يوزنان إلا بلفظ البدل، ولو قال: ويعبر عن الزائد بلفظه، إلا المدغم في أصلي فإنه بما بعده، والمكرر فإنه بما قبله، ليدخل فيه نحو قولك: ازَّيَّنَ وَادَّارَك (2) على وزن افَّعَّل وَافَّاعَلَ، وقولك قَرْدَدَ وَقَطَّعَ واطَّلَبَ على وزن فَعْلَلَ وَفَعَّلَ وَاْفَّعَلَ، لكان أولى وأعم قوله " أو لغيره " أي: لا يقال في نحو قَطَّع فَعْطَل، بل فعل، قال: (3) زنة المكرر " إنما وُزِنَ المكرر للإلحاق بأحد حروف فعل لأنه في مقابلة الحرف الأصلي، وهذا ينتقض عليه بقولهم في وزن حَوْقَل وَبَيْطَر: فَوْعَل وَفَيْعَل، بل العلة في التعبير عن المكرر للإلحاق (كان) أو لغيره عيناً كان أو لا ما ذكرته قبلُ

قوله " فإنه بما تقدمه " أي: فَإِنَّ المكرر يعبر عنه في الوزن بالحرف الذي تقدمه، عَيْناً كان ذلك الحرف أو لا ما قوله " وإن كان من حروف الزيادة " أي: وإن كان أيضاً ذلك الحرف المكرر من حروف " اليوم تنساه " لا يعبر عنه بلفظه، بل بما تقدمه، فالنون من عُثْنُون من حروف " اليوم تنساه " ولا يعبر عنه في الوزن بالنون، بل باللام الذى تقدمه.

--------------------------------------------

(1) فزد: أصلها فزت، فعل ماض من الفوز مسند إلى ضمير المتكلم، فأبدلت التاء دالا تشبيها لها بالتاء في نحو ازدجر وازدرع (2) ازين: أصله تزين، فأبدلت التاء زايا ثم أدغم ثم أتى بهمزة الوصل توصلا إلى النطق بالساكن، وادارك: أصله تدارك أبدلت التاء دالا ثم فعل به ما فعل بسابقه، واطلب: أصله اطتلب أبدلت تاء الافتعال طاء لوقوعها بعد حرف الاطباق ثم أدغمت الطاء في الطاء (3) القائل هو المصنف في الشرح المنسوب إليه (*)
ইফতিআল (افتعال) ছাঁচটিকে তার নিজ শব্দে ব্যক্ত করা হয় হয় উচ্চারণের কঠিনতা দূর করার জন্য অথবা মূল বর্ণের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য। আমরা বলি: এই দুটি বিষয়ই ‘ফাহাস্তু’ এবং ‘ফুজদু’ (১) এর মধ্যে বিদ্যমান এবং এগুলোকে কেবল পরিবর্তিত বর্ণের মাধ্যমেই ওজন করা হয়। যদি তিনি বলতেন: অতিরিক্ত বর্ণকে তার নিজ শব্দে প্রকাশ করা হবে, তবে মূল বর্ণের সাথে সন্ধিপ্রাপ্ত (ইদগাম) বর্ণকে তার পরবর্তী বর্ণের মাধ্যমে এবং পুনরাবৃত্ত বর্ণকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে আপনার বলা ‘ইযযাইয়ানা’ এবং ‘ইদদারাকা’ (২) শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—যা ‘ইফ্ফাআলা’ এবং ‘ইফ্ফাআলা’ ওজনে গঠিত। এবং আপনার বলা ‘কারদাদা’, ‘কাত্তাআ’ এবং ‘ইত্তালাবা’ শব্দগুলো ‘ফাল্লালা’, ‘ফাউআলা’ এবং ‘ইফ্ফাআলা’ ওজনে অন্তর্ভুক্ত হতো। আর এটিই হতো অধিকতর উত্তম ও ব্যাপক। তাঁর বক্তব্য ‘অথবা অন্য কিছুর জন্য’ অর্থাৎ: ‘কাত্তাআ’ এর ন্যায় শব্দের ওজনে ‘ফাতলা’ বলা হবে না, বরং ‘ফাউআলা’ বলা হবে। তিনি বলেছেন: (৩) পুনরাবৃত্ত বর্ণের ওজন—মূলত পুনরাবৃত্ত বর্ণকে ‘ফা-আ-লা’ (فعل) এর কোনো একটি বর্ণের মাধ্যমে ওজন করা হয় তাকে মূল বর্ণের সমান্তরাল করার জন্য বা তার সাথে যুক্ত করার (ইলহাক) জন্য। কিন্তু তাদের ‘হাওকালা’ এবং ‘বাইতারা’ শব্দের ওজনে ‘ফাউলালা’ এবং ‘ফাইআলা’ বলা দ্বারা এই বিষয়টি খণ্ডিত হয়। বরং পুনরাবৃত্ত বর্ণকে প্রকাশের কারণ—তা ইলহাক-এর জন্য হোক বা অন্য কিছুর জন্য, কিংবা তা ‘আইন’ বর্ণ হোক বা না হোক—তা-ই যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।

তাঁর বক্তব্য "নিশ্চয়ই তা তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত বর্ণকে ওজনে তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হবে, সেই বর্ণটি ‘আইন’ বর্ণ হোক বা না হোক। তাঁর বক্তব্য "যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত হয়" অর্থাৎ: যদি সেই পুনরাবৃত্ত অক্ষরটি ‘আল-ইয়াওমা তানসাহু’ (اليوم تنساه) এর অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্তও হয়, তবে তাকে তার নিজ শব্দে প্রকাশ করা হবে না; বরং তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হবে। যেমন ‘উশনুন’ শব্দের শেষ ‘নুন’ বর্ণটি ‘আল-ইয়াওমা তানসাহু’ এর অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ওজনে একে ‘নুন’ দ্বারা প্রকাশ করা হবে না, বরং তার পূর্ববর্তী ‘লাম’ বর্ণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

--------------------------------------------

(১) ফুজদু: এর মূল হলো ফুযতু, এটি ‘ফাওয’ থেকে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া যা উত্তম পুরুষ একবচনের সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এখানে ‘তা’ বর্ণটিকে ‘দাল’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে ‘ইযদাজারা’ এবং ‘ইযদারাআ’ শব্দের ‘তা’ বর্ণের সাথে সাদৃশ্য রাখার জন্য। (২) ইযযাইয়ানা: এর মূল হলো তাযাইয়ানা, এখানে ‘তা’ বর্ণটিকে ‘যা’ দ্বারা পরিবর্তন করে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে। এরপর সাকিন বর্ণ উচ্চারণের সুবিধার্থে শুরুতে হামযাতুল ওয়াসল আনা হয়েছে। ইদদারাকা: এর মূল হলো তাদারাকা, এখানে ‘তা’ বর্ণটিকে ‘দাল’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এরপর পূর্বের শব্দটির ন্যায় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। ইত্তালাবা: এর মূল হলো ইততালাবা, এখানে ইফতিআল-এর ‘তা’ বর্ণটিকে ‘তা’ (طاء) দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে ‘ইতবাক’ বর্ণের পরে আসার কারণে, এবং এরপর ‘তা’ বর্ণদ্বয়কে সন্ধি করা হয়েছে। (৩) বক্তা হলেন স্বয়ং গ্রন্থকার, তাঁর সাথে সম্পর্কিত ব্যাখ্যাগ্রন্থে। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
قوله " إلا بثبت " أي: إلا أن يكون هناك حجة تدل على أن المراد من الإتيان بحروف " اليوم تنساه " ليس تكريراً كما قلنا في سَحْنُون - بالفتح - إنه فَعْلُون لا فَعْلُِول.

قوله " ومن ثم " أي: من جهة التعبير عن المكرر بما تقدمه وإن كان من حروف " اليوم تنساه "، ونحن قد ذكرنا أنه لا مانع أن يقال: إنه فعليت قوله " لذلك " أي: لوجوب التعبير عن المكرر بما تقدمه وإنْ كان من حروف الزيادة.

قوله " ولعدمه " أي: لعدم فُعْلُون.

قوله " وسحنون إن صح الفتح " إنما قال ذلك لانه روى الفتح فيه، والمشهور الضم، وحمدون وسحنون: علمان.

قوله " وهو صَعْفُوق " أي: الفَعْلُولُ النادر صَعْفوق، وهو اسم رجل، وبنو صَعْفُوق: خَوَلٌ باليمامة (1) قوله " وَخَرْنُوب ضعيف " المشهور ضم الخاء، وقد منع الجوهري الفتح، ولو ثبت أيضاً لم يدل على ثبوت فَعْلُول، لأن النون زائدة لقولهم الخَرُّوب - بالتضعيف - بمعناه، وهو نبت.

قوله " وخزعال نادر " قال الفراء: لم يأت من غير المضاعف على فَعْلَال إلا قولهم: ناقة بها خَزْعَال: أي ظلْع، وزاد ثعلب قَهْقَاراً، وأنكره الناس، وقالوا:

--------------------------------------------

(1) الخول - بفتحتين - الخدم والرعاة إذا حسن قيامهم على المال والغنم، الواحد خولى كعرب وعربى.

قال ابن الاثير: الخولى عند أهل الشام القيم بأمر الابل واصلاحها، من التخول التعهد وحسن الرعاية (*)
তাঁর কথা "প্রমাণ ব্যতীত" অর্থাৎ: যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে, "আল-ইয়াওমা তানসাহু" (যে অক্ষরগুলো অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়) এর অক্ষরগুলো নিয়ে আসার উদ্দেশ্য পুনরাবৃত্তি নয়, যেমনটি আমরা 'সাহনুন' (সীন বর্ণে যবর যোগে) শব্দের ক্ষেত্রে বলেছি যে এটি 'ফালুন' ওজনে গঠিত, 'ফালুল' ওজনে নয়।

তাঁর কথা "আর সেখান থেকেই" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত হওয়া বর্ণকে তার পূর্ববর্তী মূল বর্ণ দিয়ে ব্যক্ত করার দিক থেকে, যদিও সেটি "আল-ইয়াওমা তানসাহু" এর অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, একে 'ফালিয়াত' বলাতে কোনো বাধা নেই।

তাঁর কথা "সেজন্য" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত হওয়া বর্ণকে তার পূর্ববর্তী মূল বর্ণ দিয়ে ব্যক্ত করা আবশ্যক হওয়ার কারণে, যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়।

তাঁর কথা "এবং এর অনুপস্থিতির কারণে" অর্থাৎ: 'ফালুন' ওজনের অস্তিত্ব না থাকার কারণে।

তাঁর কথা "এবং সাহনুন—যদি যবর হওয়াটি সঠিক হয়" তিনি এটি একারণেই বলেছেন যে, এতে যবর সহযোগে পড়ার বর্ণনা পাওয়া গেছে, তবে প্রসিদ্ধ হলো পেশ দিয়ে পড়া। আর হামদুন এবং সাহনুন হলো দুটি নাম।

তাঁর কথা "আর তা হলো সা'ফুক" অর্থাৎ: বিরল 'ফালুল' ওজনের শব্দটি হলো সা'ফুক; এটি এক ব্যক্তির নাম। আর বনু সা'ফুক হলো ইয়ামামার সেবক বা রাখাল (১)।

তাঁর কথা "এবং খারনুব—দুর্বল" প্রসিদ্ধ হলো 'খা' বর্ণে পেশ দেওয়া, আর আল-জাওহারী এতে যবর দেওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। আর যদি যবর পড়া প্রমাণিতও হয়, তবে তা 'ফালুল' ওজনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, কারণ এর 'নুন' বর্ণটি অতিরিক্ত; এর প্রমাণ হলো তাদের একই অর্থে ব্যবহৃত তাশদীদ যুক্ত শব্দ 'খাররুব', যা একটি উদ্ভিদের নাম।

তাঁর কথা "এবং খুয'আল—বিরল" আল-ফাররা বলেছেন: দ্বিত্ব বর্ণ (মুদাআফ) ব্যতীত অন্য শব্দে 'ফাল্লাল' ওজনে কোনো শব্দ আসেনি, কেবল তাদের এই প্রবাদটি ছাড়া: "ল্যাংচানো উট"। সা'লাব 'কাহকার' শব্দটি এর সাথে যুক্ত করেছেন, কিন্তু আলেমগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) 'খাওয়াল' (উভয় বর্ণে যবর যোগে) বলতে এমন সেবক ও রাখালদের বোঝায় যারা সম্পদ ও মেষপাল সুন্দরভাবে পরিচালনা ও দেখাশোনা করে। এর একবচন হলো 'খাওয়ালী', যেমন 'আরব' শব্দের একবচন 'আরবী'। ইবনুল আসীর বলেছেন: শাম অঞ্চলের অধিবাসীদের নিকট 'খাওয়ালী' অর্থ উটের দেখাশোনা ও তা হৃষ্টপুষ্ট করার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি। এটি 'আত-তাখাওয়ুল' শব্দ থেকে আগত যার অর্থ যত্ন নেওয়া ও উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
قَهْقَرٌّ (1) وزاد أبو مالك قَسْطَالا بمعنى قَسْطَلِ، وهو الغبار، وأما في المضاعف كخَلْخَال وَبَلْبَال (2) وَزَلْزَال فكثير.

قال: " ثُمَّ إِنْ كانَ قَلْبٌ في المَوْزُونِ قُلِبَتِ الزِّنَةُ مِثْلَهُ كقولهم في ادر أَعْفُل، وَيُعْرَفُ الْقَلْبُ بِأَصْلِهِ كَنَاءَ يَنَاءُ مَعَ النَّأْيِ، وَبِأَمْثِلَةِ اشْتِقَاقِهِ كَالجَاهِ وَالحَادِي وَالقِسِيِّ، وَبِصِحَّتِهِ كَأَيِسَ، وَبِقِلَّةِ اسْتِعْمَالِهِ كآرَامٍ وآدُرٍ، وبأدَاءِ تَرْكِهِ إِلَى هَمْزَتَيْنِ عِنْدَ الْخَلِيلِ نَحْوَ جَاءٍ، أَوْ إِلَى مَنْعِ الصرف بغير علة على الأصح نَحْوَ أَشْيَاءَ، فَإِنَّها لَفْعَاءُ، وَقَالَ الْكِسَائيُّ: أفْعَالٌ، وَقَالَ الْفَرَّاءُ: أَفْعَاءُ وَأَصْلُهَا أَفْعِلَاءُ، وَكَذِلِكَ الْحَذْفُ كَقَوْلِكَ فِي قَاضٍ فَاعٍ، إِلَاّ أَنْ يُبَيَّنَ فيهما " أقول: يعنى بالقلب تقديمَ بعض حروف الكلمة على بعض، وأكثرُ ما يتفق القلب في المعتل والمهموز، وقد جاء في غيرهما قليلاً، نحو امْضَحَلَّ واكْرَهَفَّ

في اضْمَحَلَّ واكْفَهَرَّ، (3) وأكثر ما يكون بتقديم الآخر على مَتلُوِّهِ كَنَاءَ يَنَاءُ في نأى ينأى، وراء في رأى، وَلاعٍ وهاعٍ وَشَوَاعٍ في لائع وهائع (4)

--------------------------------------------

(1) قال في اللسان: القهقر، والقهقر بتشديد الراء الحجر الاملس الاسود الصلب، وكان أحمد بن يحى يقول وحده القهقار اه وأحمد هو ثعلب (2) البلبال: شدة الهم، والوسواس في الصدر (3) اضمحل الشئ: ذهب، وامضحل في لغة الكلابيين بمعناها، واكفهر الرجل: عبس وقطب وجهه، واكرهف بمعناها (4) تقول: رجل هائع لائع: أي جبان ضعيف جزوع، وهو اسم فاعل من الاجوف قلبت عينه ألفا ثم همزة كما في بائع وقائل، وقد قال أكثر العرب هاع لاع (معربا بحركات ظاهره على آخر الكلمة وهو العين) فاختلف العلماء في تخريجه فمنهم من ذهب إلى أنه على زنة فعل بكسر العين قلبت عينه ألفا لتحركها إثر فتحة وقال آخرون: أصله هائع لائع، فحذفت العين ووزنه فال، وقال بعض العرب هاع لاع (معربا إعراب قاض) فقال العلماء: أصله هايع لاوع قدمت اللام على العين فصار هاعيا ولاعوا ثم أعلا إعلال قاض وغاز، فالاعراب على هذا الوجه بفتحة ظاهرة وبضمة وكسرة مقدرتين، هذا، واعلم أنه قد تتوارد هذه الاوجه (*)
কাহকার (১) এবং আবু মালিক 'কাসতাল' এর সমার্থক হিসেবে 'কাসতালা' শব্দটি যুক্ত করেছেন, যার অর্থ ধুলাবালি। আর দ্বিরুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে যেমন খালখাল, বালবাল (২) ও যালযাল; এর ব্যবহার অনেক বেশি।

তিনি বলেন: "অতঃপর যদি তুলাদণ্ডভুক্ত শব্দে (মাওযুন) বর্ণ-বিপর্যয় ঘটে, তবে ওজনেও (যিনাহ) অনুরূপ বিপর্যয় ঘটবে, যেমন 'আদুর' শব্দের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি 'আ'ফুল'। বর্ণ-বিপর্যয় চেনা যায় তার মূল উৎসের মাধ্যমে, যেমন 'নয়ুন' এর সাথে 'না-আ ইয়ানা-উ'। আবার এর ব্যুৎপত্তিগত উদাহরণের মাধ্যমেও চেনা যায়, যেমন 'জাহ', 'হাদি' ও 'কিসিয়্যুন'। এছাড়া শব্দের সুস্থতার (অপরিবর্তিত থাকা) মাধ্যমে চেনা যায় যেমন 'আইসা'। ব্যবহারের স্বল্পতার মাধ্যমেও চেনা যায় যেমন 'আরাম' ও 'আদুর'। খলীল-এর মতে বর্ণ-বিপর্যয় পরিত্যাগ করলে দুটি হামযাহ একত্রিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরির মাধ্যমেও এটি চেনা যায়, যেমন 'জা-ইন'। অথবা বিশুদ্ধ মতানুসারে কোনো কারণ ছাড়াই শব্দটিকে দিপ্তোত (অব্যয় বা পরিবর্তনহীন) হওয়া থেকে রক্ষা করার মাধ্যমেও চেনা যায়, যেমন 'আশইয়া'; কারণ এটি 'লাফ'আ' ওজনের। কিসাঈ বলেছেন: এটি 'আফ'আল' ওজনের। ফাররা বলেছেন: এটি 'আফ'আ' এবং এর মূল ছিল 'আফ'ইলাউ'। অনুরূপভাবে বিলোপনও (চেনার মাধ্যম), যেমন 'কাদিন' শব্দের ক্ষেত্রে আপনার উক্তি 'ফায়িন', যদি না উভয় ক্ষেত্রে (বিপর্যয় ও বিলোপন) তা সুস্পষ্ট করা হয়।" আমি বলি: বর্ণ-বিপর্যয় বলতে শব্দের কিছু বর্ণের একটিকে অন্যটির আগে নিয়ে আসাকে বোঝায়। বর্ণ-বিপর্যয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বল বর্ণযুক্ত (মু'তাল) ও হামযাযুক্ত (মাহমুয) শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে। তবে এগুলো ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও এটি সামান্য দেখা যায়, যেমন 'ইমদাহাল্লা' ও 'আকরাহাফ্ফা'

যা 'ইদমাহাল্লা' ও 'ইকফাহাররা' এর স্থলে ব্যবহৃত হয়। (৩) আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের শেষের বর্ণকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের আগে নিয়ে আসার মাধ্যমে এটি ঘটে, যেমন 'না-আ ইয়ানা-উ' যা 'না-আ ইয়ানা-উ' থেকে এসেছে, এবং 'রা-আ' যা 'রা-আ' থেকে এসেছে। এছাড়া 'লা-ইন', 'হা-ইন' ও 'শাওয়াইন' শব্দগুলো 'লাই' ও 'হাই' থেকে এসেছে। (৪)

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাহকার এবং রা বর্ণের তাশদীদসহ কাহকার হলো মসৃণ কালো শক্ত পাথর। আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া একাকী একে 'কাহকার' বলতেন; আর এই আহমাদ হলেন সা'লাব। (২) বালবাল: তীব্র উদ্বেগ এবং অন্তরের কুমন্ত্রণা। (৩) কোনো কিছু ইদমাহাল্লা হওয়ার অর্থ হলো তা চলে যাওয়া বা বিলীন হওয়া। কিলাবি গোত্রের ভাষায় ইমদাহাল্লা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তির ইকফাহাররা হওয়ার অর্থ হলো সে মুখ কুঁচকালো এবং রাগান্বিত হলো; আর আকরাহাফ্ফা শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। (৪) আপনি বলবেন: একজন ব্যক্তি 'হা-ইউন লা-ইউন', অর্থাৎ একজন ভীরু, দুর্বল ও অস্থিরচিত্ত ব্যক্তি। এটি আজওয়াফ ক্রিয়ার কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসম ফায়িল), যার আইন বর্ণটি আলিফে এবং পরবর্তীতে হামযায় রূপান্তরিত হয়েছে যেমন বায়ি' ও কায়িল শব্দের ক্ষেত্রে হয়। অধিকাংশ আরব একে 'হা-আ লা-আ' বলেছেন (শব্দের শেষ বর্ণ অর্থাৎ আইন-এর ওপর প্রকাশ্য হরকত দিয়ে)। এর বিশ্লেষণে আলিমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি 'ফায়িলা' ওজনের যার আইন বর্ণটি যবরের পরে থাকার কারণে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্যেরা বলেছেন: এর মূল ছিল 'হা-ইউন লা-ইউন', অতঃপর আইন বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এর ওজন হলো 'ফাল'। আবার কোনো কোনো আরব একে 'হা-আ লা-আ' বলেছেন (কাদিন শব্দের মতো ইরাব দিয়ে)। তখন আলিমগণ বলেছেন: এর মূল ছিল 'হা-ইউন লা-উন', যেখানে শেষ বর্ণটি আইন বর্ণের আগে চলে এসেছে, ফলে তা 'হা-ইয়ান' ও 'লা-ওয়ান' এ পরিণত হয়েছে, অতঃপর কাদিন ও গাযিন শব্দের মতো রূপান্তর ঘটেছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী ইরাব হবে যবরের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য এবং পেশ ও যেরের ক্ষেত্রে উহ্য। জেনে রাখুন যে, এই রূপান্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটতে পারে। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
وشوائع (1) والملهاة وأصلها الْمَاهَةُ (2) ، وَأَمْهَيْتُ الحديد (3) في أَمَهْتُهُ، ونحو جَاءٍ عند الخليل، وقد يُقدَّمُ متلوُّ الآخر على العين نحو طَأمَنَ وأصله طَمْأنَ (4) لأنه من الطُّمَأْنِينَة، ومنه اطْمَأَنَّ يطمئنُّ اطمئناناً، وقد تُقَدَّمُ العين على الفاء كما في أَيِسَ وَجَاهٍ وأيْنُقٍ والآراء والآبار والآدُرِ (5) ، وتقدم اللا على الفاء كما في أشياء على الأصح، وقد تؤخر الفاء عن اللام كما في الحادي وأصله الواحد

--------------------------------------------

الثلاثة فيما ورد مجرورا بالكسرة، فأما المرفوع والمنصوب بالفتحة على الحرف الصحيح فلا يجئ الا أحد

الوجهين، وإن كان على غير ذلك فهو على ما ذكر آخرا ليس غير (1) شوائع: جمع شائعة، تقول: أخبار شائعة وشوائع إذا كانت منتشرة، وكذا تقول شاعية وشواع بالقلب، وتقول: جاءت الخيل شوائع وشواعي: أي متفرقة (2) الماهة: واحدة الماء، وهو الماء، قاله في اللسان، والمهاة - بفتح الميم - الحجارة البيض التى تبرق، وهى البلورة التى تبص لشدة بياضها، وهى الدرة أيضا، والمهاة - بضم الميم - ماء الفحل، وإذا استقرأت أمثلة القلب المكانى علمت أنه لابد بين معنى اللفظ المقلوب والمقلوب عنه من المناسبة لكن لا يلزم أن يكون هو نفسه، بل يجوز أن يكون مما شبه بمعنى المقلوب عنه أو من بعض أفراده، قال ابن منظور: " المهو من السيوف: الرقيق، وقيل: هو الكثير الفرند، وزنه فلع، مقلوب من لفظ ماه، قال ابن جنى: وذلك لانه أدق حتى صار كالماء " اه (3) تقول: أمهيت الحديدة إذا سقيتها الماء وأحددتها ورققتها وتقول: اماه الرجل السكين وغيرها إذا سقاها الماء وذلك حين حين تسنها به، ومثل ذلك قولهم في حفر البئر أمهى وأماه إذا انتهى إلى الماء (4) طأمن الرجل الرجل: إذا سكنه، والطمأنينة: السكون، والذى ذهب إليه المؤلف من أن طأمن مقلوب عن طمأن هو ما ذهب إليه أبو عمرو بن العلاء وسيبويه ذهب إلى أن طمأن مقلوب عن طأمن، انظر اللسان فان فيه حجة الامامين وتفصيل المذهبين (5) الجاه: المنزلة والقدر عند السطان: وأصله وجه قدمت العين فيه على الفاء ثم حركت الواو، لان الكلمة لما لحقها القلب ضعفت فغبروها بتحريك ما كان ساكنا (*)
এবং শুওয়াই' (১) ও আল-মালহাহ, যার মূল হলো আল-মাহাহ (২)। আর আমি লোহাকে পানি দিয়েছি (৩)—এটি ‘আ মাহতুহু’ এর অন্তর্ভুক্ত। আর খালীল (রহ.)-এর নিকট ‘জা-ইন’ এর ন্যায় শব্দসমূহ। কখনো কখনো শেষ বর্ণের পরবর্তী বর্ণটি আইন কালিমার আগে চলে আসে, যেমন ‘ত্ব-মানা’, যার মূল ছিল ‘ত্বম-আনা’ (৪); কেননা এটি ‘তুমানীনাহ’ (প্রশান্তি) থেকে উদ্গত। আর এ থেকেই ‘ইত্বমা-আন্না’, ‘ইয়াত্বমাইন্নু’, ‘ইত্বমীনা-নান’ শব্দসমূহ এসেছে। আবার কখনো আইন কালিমা ফা কালিমার পূর্বে চলে আসে, যেমন ‘আইসা’, ‘জাহ’, ‘আইনুক’, ‘আল-আরা’, ‘আল-আবার’ এবং ‘আল-আদুর’ (৫) শব্দসমূহে। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে লাম কালিমা ফা কালিমার আগে আসে, যেমন ‘আশইয়া’ শব্দে। আবার কখনো ফা কালিমা লাম কালিমার পরে চলে যায়, যেমন ‘আল-হাদি’ শব্দে, যার মূল ছিল ‘আল-ওয়াহিদ’।

--------------------------------------------

কাসরা যোগে মাজরুর হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তার তিনটি রূপ; তবে সহীহ অক্ষরের ওপর ফাতহা দ্বারা মারফু ও মানসুব হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল দুটি সুরতের একটিই আসবে। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে তা শেষে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ীই হবে, অন্য কিছু নয়। (১) শুওয়াই': এটি ‘শায়িআহ’ শব্দের বহুবচন। আপনি বলবেন: ‘আখবারুন শায়িআতুন’ এবং ‘শুওয়াইউন’ যখন সংবাদগুলো ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে অক্ষর পরিবর্তনের (কলব) মাধ্যমে ‘শায়িয়াহ’ এবং ‘শুওয়া’ বলা হয়। আবার আপনি বলবেন: ঘোড়াগুলো ‘শুওয়াইআ’ এবং ‘শুওয়া-ঈ’ অর্থাৎ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় এসেছে। (২) আল-মাহাহ: এটি ‘মা-উন’ (পানি) এর একক শব্দ, আর তা হলো পানি; ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে এমনটাই বলা হয়েছে। আর আল-মাহাহ—মীমের ফাতহা যোগে—হলো সেই উজ্জ্বল সাদা পাথর যা অত্যন্ত শুভ্রতার কারণে চমকায়, আর তা হলো মুক্তা। আর আল-মুহাহ—মীমের দম্মা যোগে—হলো বীর্যের পানি। আপনি যদি অক্ষর পরিবর্তনের স্থানগুলোর উদাহরণগুলো অনুসন্ধান করেন তবে বুঝতে পারবেন যে, মূল শব্দ এবং পরিবর্তিত শব্দের অর্থের মাঝে অবশ্যই একটি যোগসূত্র থাকতে হবে, তবে তা হুবহু একই হতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং এটি মূল শব্দের অর্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু হওয়া বা তার কোনো একটি শাখা হওয়া জায়েজ। ইবনে মানযুর বলেছেন: ‘তরবারির ক্ষেত্রে আল-মাহু শব্দের অর্থ হলো পাতলা হওয়া। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো অধিক নকশা বা দ্যুতি থাকা; এর ওজন হলো ‘ফালউন’, যা ‘মাহ’ শব্দ থেকে পরিবর্তিত। ইবনে জিন্নি বলেন: এটি এ কারণে হয়েছে যে, তরবারিটি এতই ধারালো ও চিকন ছিল যে তা পানির মতো স্বচ্ছ হয়ে গিয়েছিল’। (৩) আপনি বলবেন: ‘আমহাইতুল হাদীদাতা’ যখন আপনি লোহাকে পানি পান করাবেন (ধার দেবেন) এবং তাকে তীক্ষ্ণ ও পাতলা করবেন। আর মানুষ ছুরি বা অন্য কিছুকে ‘আ-মাহা’ করেছে বলা হয় যখন সে ধার দেওয়ার সময় তাতে পানি ব্যবহার করে। অনুরূপভাবে কূপ খননের ক্ষেত্রে বলা হয় ‘আমহা’ এবং ‘আমা-হা’ যখন সে পানির নাগাল পায়। (৪) এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ‘ত্ব-মানা’ করেছে অর্থ হলো সে তাকে শান্ত করেছে। আর ‘আত-তুমানীনাহ’ অর্থ হলো প্রশান্তি। লেখক যে মতটি গ্রহণ করেছেন যে ‘ত্ব-মানা’ শব্দটি ‘ত্বম-আনা’ থেকে পরিবর্তিত, সেটিই আবু আমর ইবনুল আলা-এর অভিমত। তবে সীবওয়াইহি-এর মতে ‘ত্বম-আনা’ শব্দটি ‘ত্ব-মানা’ থেকে পরিবর্তিত। লিসানুল আরব গ্রন্থটি দেখুন, কারণ সেখানে উভয় ইমামের দলিল এবং উভয় মাযহাবের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। (৫) আল-জাহ: সুলতানের নিকট মর্যাদা ও সম্মান। এর মূল শব্দ ছিল ‘ওয়াজহুন’, যেখানে আইন কালিমাকে ফা কালিমার আগে আনা হয়েছে, অতঃপর ‘ওয়াও’ বর্ণকে হরকত প্রদান করা হয়েছে। কেননা শব্দটিতে যখন অক্ষর পরিবর্তন (কলব) ঘটেছে তখন তা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাই তারা সাকিন বর্ণটিকে হরকত দিয়ে পরিবর্তন করে দিয়েছে। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
قوله " بأصله " أي: بما اشْتُقَّ منه الكلمة التي فيها القلب، فان مصدر ناء يناء النأز لا النئ قوله " وبأمثلة اشتقاقه " أي: بالكلمات المشتقة مما اشْتُقَّ منه المقلوبُ،

فان توجه ووجه وَالْوَجَاهَةُ مشتقة من الوجه، كما أن الجاه مشتق منه، وكذلك الواحد وَتَوَّحَد مشتقان من الْوَحْدَة كاشتقاق الحادي منها، والأقواس وَتَقَوَّسَ مشتقان من الْقَوْس اشتقاقَ القِسِيّ منه، وهذا منه عجيب، لم جعله قسما آخر وهو من الأول: أي مما يعرف بأصله؟ ! بل الكلمات المشتقة من ذلك الاصل توكد كون الكلمات المذكورة مقلوبة قوله " وبصحته كأيِس " حَقُّ العلامة أن تكون مطردةً، وليس صحة الكلمة نصا في كونها مقلوبة، إذ قد تكون لاشياء أخر كما في حول وعور

--------------------------------------------

ثم قلبت الواو وألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها، وليس يلزم في القلب اتحاد وزن المقلوب والمقلوب عنه، قاله في اللسان عن ابن جنى، وذهب بعض الشراح إلى أن الواو لما أخرت عن الجيم أخرت وهى مفتوحة، وحركت الجيم ضرورة أنها صارت مبتدأ بها، وكانت حركتها الفتحة للخفة أو لانها أصل حركة الفاء في هذه الكلمة، وبعضهم يذهب إلى أن الواو انقلبت ألفا لانفتاح ما قبلها وإن كانت هي ساكينة كما في طائى وياجل.

والذى ذكره المؤلف من أن أينقا مقلوب هو أحد مذهبين لسيبويه قال في اللسان: قال ابن حبى ذهب سيبويه في قولهم أينق مذهبين أحدهما أن تكون عين أينق قلبت إلى ما قبل الفاء فصارت في التقدير أونق ثم أبدلت الواو ياء لانها كما أعلت بالقلب كذلك أعلت بالابدال أيضا، والاخر ان تكون العين حذفت ثم عوضت الياء منها قبل الفاء فمثالها على هذا القول أيفل وعلى القول الاول أعفل.

وأصل آراء وآبار ارآء وابآر بدليل مفردهما فقدمت العين فالتقى همزتان في أول الكلمة وثانيتهما ساكنة فقلب الثانية وجوبا مدة من جنس حركة ما قبلها، وأصل آدر أدور جمع دار، أبذلت الواو المضمومة ضمة لازمة همزة جوازا، ثم قدمت العين على الفاء فقلبت ثانية الهمزتين ألفا (*)
তার বক্তব্য "তার মূল দ্বারা" অর্থাৎ: যে মূল থেকে সেই শব্দটি গঠিত হয়েছে যাতে কাল্ব (বর্ণের স্থান পরিবর্তন) বিদ্যমান। কেননা 'না-আ' (ناء) ক্রিয়াপদ যা 'ইয়ানাউ' (يناء) হয়, তার মাসদার বা মূল হলো 'আন-না'জ' (النأز), 'আন-না-ঈ' (النئ) নয়। তার বক্তব্য "এবং তার ব্যুৎপত্তিগত উদাহরণসমূহ দ্বারা" অর্থাৎ: মাকলুব (স্থানান্তরিত) শব্দটি যেখান থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে, সেই একই মূল থেকে উৎপন্ন অন্যান্য শব্দসমূহ দ্বারা।

কেননা তাওয়াজ্জাহা (توجه), ওয়াজহ (وجه) এবং আল-ওয়াজাহাতু (الوجاهة) শব্দগুলো 'ওয়াজহ' (الوجه) থেকে ব্যুৎপন্ন, যেমন 'আল-জাহ' (الجاه) শব্দটিও তা থেকে ব্যুৎপন্ন। অনুরূপভাবে আল-ওয়াহিদ (الواحد) এবং তাওয়াহ্হাদা (توحد) শব্দ দুটি 'আল-ওয়াহদাহ' (الوحدة) থেকে ব্যুৎপন্ন, ঠিক যেমন 'আল-হাদি' (الحادي) শব্দটি তা থেকে ব্যুৎপন্ন। আর আল-আকওয়াস (الأقواس) এবং তাকাওওয়াসা (تقوس) শব্দ দুটি 'আল-কাওস' (القوس) থেকে ব্যুৎপন্ন, যেমন 'আল-কিসিই' (القسي) শব্দটি তা থেকে ব্যুৎপন্ন। লেখকের পক্ষ থেকে এটি আশ্চর্যজনক যে, কেন তিনি একে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করলেন অথচ এটি প্রথম প্রকারেরই (অর্থাৎ যা মূল দ্বারা চেনা যায়) অন্তর্ভুক্ত? বরং সেই মূল থেকে ব্যুৎপন্ন শব্দগুলো উল্লিখিত শব্দগুলোর মাকলুব হওয়ার বিষয়টিকে আরও সুদৃঢ় করে। তার বক্তব্য "এবং তার সহীহ হওয়ার দ্বারা যেমন আইয়িসা (أيِس)"—চিহ্ন বা আলামতের বৈশিষ্ট্য হলো তা সর্বদা প্রযোজ্য হওয়া। কোনো শব্দের সহীহ হওয়া (ইল্লাত বা পরিবর্তন না হওয়া) সেটি মাকলুব হওয়ার অকাট্য দলিল নয়, কারণ এটি অন্য কোনো কারণেও হতে পারে যেমন 'হাওয়িলা' (حول) এবং 'আওবিরা' (عور) শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে।

--------------------------------------------

অতঃপর 'ওয়াও' বর্ণটিকে আলিফে রূপান্তরিত করা হয়েছে তার হারাকাতযুক্ত হওয়া এবং পূর্ববর্তী বর্ণ ফাতহাযুক্ত হওয়ার কারণে। কাল্ব বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মাকলুব (স্থানান্তরিত শব্দ) এবং মাকলুব আনহু (যা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে)-এর ওযন বা ছন্দ এক হওয়া জরুরি নয়; ইবনে জিন্নি-র বরাতে ‘আল-লিসান’ গ্রন্থে এটি বলা হয়েছে। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার এই মত পোষণ করেছেন যে, 'ওয়াও' বর্ণটিকে যখন 'জিম'-এর পরে নেওয়া হয়েছে, তখন সেটি ফাতহা বিশিষ্ট অবস্থায় ছিল, আর জিম বর্ণটি হারাকাতযুক্ত হয়েছে কারণ সেটি শব্দের শুরুতে চলে এসেছে। আর তার হারাকাতটি ফাতহা রাখা হয়েছে হালকা করার জন্য অথবা এই শব্দের ফা-কালিমার মূল হারাকাত ফাতহা হওয়ার কারণে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, ওয়াও বর্ণটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বর্ণ ফাতহাযুক্ত হওয়ার কারণে, যদিও ওয়াও বর্ণটি নিজে সাকিন ছিল, যেমনটি 'তায়ি-ই' (طائى) এবং 'ইয়াজালু' (ياجل) শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে।

লেখক ‘আইনুক’ (أينقا) শব্দটিকে যে মাকলুব (স্থানান্তরিত) বলে উল্লেখ করেছেন, তা সিবাওয়াইহ-র দুটি মতের একটি। ‘আল-লিসান’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনে জিন্নি বলেছেন, সিবাওয়াইহ ‘আইনুক’ শব্দের বিষয়ে দুটি মত পোষণ করেছেন। প্রথমটি হলো, আইনুক শব্দের 'আইন' বর্ণটিকে 'ফা' বর্ণের পূর্বে আনা হয়েছে, ফলে তা শুরুতে ‘আওনুক’ (أونق) হিসেবে গণ্য হয়েছিল, অতঃপর ওয়াও বর্ণটিকে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে; কারণ যেভাবে একে কাল্ব বা স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে, তেমনি ইবদাল বা বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমেও পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্বিতীয় মতটি হলো, এর আইন বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে ফা বর্ণের পূর্বে ইয়া যুক্ত করা হয়েছে। এই মতানুসারে এর ওযন হবে ‘আইফাল’ (أيفল) আর প্রথম মতানুসারে এর ওযন হবে ‘আ’ফাল’ (أعفل)।

আর 'আরা' (آراء) এবং 'আবার' (آبار)-এর মূল হলো 'আর-আ' (ارآء) এবং 'আব-আর' (وابآر), যার প্রমাণ হলো এদের একবচন। এখানে আইন বর্ণটিকে সামনে আনা হয়েছে, ফলে শব্দের শুরুতে দুটি হামযা একত্রিত হয়েছে যার দ্বিতীয়টি সাকিন। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় হামযাটিকে পূর্ববর্তী বর্ণের হারাকাত অনুযায়ী মদ্দ (দীর্ঘ স্বর) হিসেবে পরিবর্তন করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। আর 'আদুর' (آدر) এর মূল হলো 'আদওয়ুর' (أدور), যা 'দার' (دار) শব্দের বহুবচন। এখানে যম্মাহযুক্ত ওয়াও বর্ণটিকে জাইয বা বৈধভাবে হামযা দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতঃপর আইন বর্ণটিকে ফা বর্ণের পূর্বে আনা হয়েছে এবং দুটি হামযার দ্বিতীয়টিকে আলিফে রূপান্তরিত করা হয়েছে। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَاجْتَوَرُوا وَالْحَيَدَى، وكذا قلة استعمال إحدى الكلمتين وكثرة استعمال الأخرى المناسبة لها لفظاً ومعنى لا تدل على كون القليلة الاستعمال مقلوبةً، فإن رَجْلةً في جمع رَجُل أقل استعمالاً من رِجَال وليست بمقلوبة منه، ولعل مراده أنها إذا كانت الكلمتان بمعنى واحد ولا فرق بينهما إلا بقلب في حروفهما، فإن كانت إحداهما صحيحة مع ثبوت العلة فيها دون الأخرى كأيِسَ مع يئس فالصحيحة مقلوبة من الأخرى، وكذا إن كانت إحداهما أقل استعمالاً مع الفرض المذكور من الأخرى، فالْقُلَّى مقلوبة من الكبرى، كآرام وآدر مع أَرْآم وأَدؤر، مع أن هذا ينتقض بجذب وجبذ، فإن جذب أشهر مع أنهما أصلان (1) على ما قالوا ويصح أن يقال: إن جميع ما ذكر من المقلوبات يُعْرَف بأصله، فالجاه والحادي والقسيّ عرف قلبها بأصولها وهي الوجه والوحدة والقوس، وكذا أيس يأيس باليأس، وآرام وآدر برِئْمٍ وَدَارٍ، فإن ثبت لغتان بمعنًى يُتَوَهَّمُ فيهما القلب، ولكل واحدة منهما أصل كجذب جَذْبَاً وجبذ جَبْذاً، لم يحكم بكون إحداهما مقلوبة من الأخرى، ولا يلزم كون المقلوب قليل الاستعمال، بل قد يكون كثيراً كالحادي والجاه، وقد يكون مَرْفُوض الأصل كالقِسِيِّ، فإن أصله - أعني القووس - غير مستع؟ وليس شئ من القلب قياسياً إلا ما ادعى الخليل فيما أدى تك القلب فيه إلى اجتماع الهمزتين كجاءٍ وسواءٍ (2) ، فإنه عنده قياسي

--------------------------------------------

(1) هذا الذى ذكره من أن جذب وجبذ أصلان هو ما ذهب إليه جمهرة المحققين من النحاة وذهب أبو عبيد وابن سيده في المحكم على ما قاله اللسان (في مادة جذب) إلى أن جبذ مقلوبة عن جذب ونقل في اللسان عن ابن سيده (في مادة جبذ) مثل قول الجمهور (2) جمع سائية، وهى مؤنث ساء، وهو اسم فاعل من قولهم ساءه سوءا وسواه

وسواءة وسواية وسوائية ومساءة ومسائية على القلب، فعل به ما يكره (*)
এবং তারা পাশাপাশি অবস্থান করল এবং তারা বিচ্যুত হল। অনুরূপভাবে, দুটি শব্দের একটির ব্যবহার কম হওয়া এবং শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য শব্দটির ব্যবহার বেশি হওয়া—কম ব্যবহৃত শব্দটি অন্যটি থেকে উল্টে আসা বা মাকলুব হওয়ার প্রমাণ নয়। কেননা 'রাজুল' (ব্যক্তি) শব্দের বহুবচনে 'রাজলাহ' শব্দের ব্যবহার 'রিজাল' শব্দের চেয়ে কম, অথচ এটি 'রিজাল' থেকে পরিবর্তিত কোনো রূপ নয়। সম্ভবত লেখকের উদ্দেশ্য এই যে, যখন দুটি শব্দের অর্থ একই হয় এবং তাদের বর্ণের স্থান পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য না থাকে, তখন যদি একটি শব্দে 'ইল্লাত' বা পরিবর্তনের কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেটি অপরিবর্তিত বা সহীহ থাকে (যেমন 'ইয়াইসা' এর বিপরীতে 'আয়িসা'), তবে সেই অপরিবর্তিত শব্দটি অন্যটি থেকে পরিবর্তিত বা মাকলুব বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে, যদি উল্লিখিত অনুমানের ভিত্তিতে একটি শব্দ অন্যটির চেয়ে কম ব্যবহৃত হয়, তবে কম ব্যবহৃত শব্দটি প্রধান শব্দটি থেকে পরিবর্তিত রূপ হিসেবে বিবেচিত হবে; যেমন 'আর-আম' ও 'আদ-উর' এর বিপরীতে 'আরাম' ও 'আদর'। যদিও 'জাযবা' ও 'জাবাযা'র ক্ষেত্রে এই নিয়মটি খাটে না; কারণ 'জাযবা' শব্দটি অধিক প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী উভয় শব্দই স্বতন্ত্র দুটি মূল ধাতু। এটি বলাও সঠিক যে, উল্লিখিত সকল পরিবর্তিত (মাকলুব) শব্দের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের মূল ধাতুর মাধ্যমে। যেমন 'জাহ' (মর্যাদা), 'হাদী' (একাদশ) এবং 'কুসিয়্যি' (ধনুকসমূহ) শব্দের রূপান্তর চেনা যায় তাদের মূল যথাক্রমে 'ওয়াজহ', 'ওয়াহদাহ' এবং 'কাউস' এর মাধ্যমে। অনুরূপভাবে, 'আইসা-ইয়াইসু' এর মূল হচ্ছে 'ইয়াস' (হতাশা), এবং 'আরাম' ও 'আদর' এর মূল হলো যথাক্রমে 'রিম' ও 'দার'। সুতরাং যদি একই অর্থে এমন দুটি রূপ সাব্যস্ত হয় যেখানে ওলটপালট হওয়ার ধারণা জন্মে, অথচ তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা মূল ধাতু থাকে (যেমন 'জাযবান' ও 'জাবযান'), তবে একটিকে অন্যটির পরিবর্তিত রূপ বলে গণ্য করা হবে না। এছাড়া পরিবর্তিত বা মাকলুব শব্দটি যে সর্বদা কম ব্যবহৃত হবে তা জরুরি নয়, বরং অনেক সময় তা অধিক ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন 'হাদী' এবং 'জাহ'। আবার কখনও মূল শব্দটি পরিত্যক্তও হতে পারে, যেমন 'কুসিয়্যি'; কেননা এর মূল রূপটি—অর্থাৎ 'কুউস'—ব্যবহৃত হয় না। আর এই ওলটপালট বা 'কালব' এর কোনোটিই নিয়মানুগ (কিয়াসি) নয়, কেবল খলীল সেই ক্ষেত্রে একে নিয়মানুগ বলে দাবি করেছেন যেখানে ওলটপালটের কারণে দুটি হামযাহ একত্রে আসার উপক্রম হয়, যেমন 'জা-ইন' এবং 'সাওয়া-ইন'। এটি তাঁর মতে নিয়মানুগ।

--------------------------------------------

(১) লেখক এখানে যা উল্লেখ করেছেন যে, 'জাযবা' ও 'জাবাযা' দুটি স্বতন্ত্র মূল ধাতু—এটিই অধিকাংশ গবেষক নাহুবিদদের অভিমত। আবু উবাইদ এবং ইবনু সিদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে—যেমনটি 'আল-লিসান' (জাযবা পরিচ্ছেদে) বর্ণিত হয়েছে—এই মত পোষণ করেছেন যে, 'জাবাযা' শব্দটি 'জাযবা' থেকে পরিবর্তিত রূপ। আবার 'আল-লিসান' গ্রন্থে ইবনু সিদাহ থেকে (জাবাযা পরিচ্ছেদে) জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতের অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। (২) এটি 'সাইয়্যিআহ' এর বহুবচন, যা 'সা-আ' এর স্ত্রীলিঙ্গ। আর এটি তাদের বক্তব্য 'সা-আহু সু-আন' (সে তাকে কষ্ট দিল) থেকে ইসমে ফায়েল।

এবং 'সাওয়া-আহ', 'সাওয়া-ইয়াহ', 'সাওয়া-ইয়্যাহ', 'মাসা-আহ' এবং 'মাসা-ইয়্যাহ' শব্দগুলো ওলটপালট বা কালব এর মাধ্যমে গঠিত; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—কারো সাথে এমন কিছু করা যা সে অপছন্দ করে। (*)
(খণ্ড: ১) শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله " وبأداء تركه إلى همزتين عند الخليل كجاءٍ " أي: أن الخليل يعرف القلب بهذا ويحكم به، وهو أن يؤدي تركه إلى اجتماع همزتين، وسيبويه لا يحكم به وإن أدى تركه إلى هذا، وذلك في اسم الفاعل من الأجوف المهموز اللام نحو ساءٍ وجاءٍ، وفي جمعه على فواعل نحو جَوَاءٍ وَسَواءٍ جَمْعَيْ جائية وسائية وفي الجمع الأقصى لمفردٍ لامه همزة قبلها حرف مد كخطايا في جمع خطيئة، وليس ما ذهب إليه الخليل بمتين، وذلك لانه إنما يحتزر عن مكروه إذا خيف ثباته وبقاؤه، أما إذا أدى الأمر إلى مكروه وهناك سبب لزواله فلا يجب الاحتراز من الأداء إليه، كما أن نقل حركة واو نحو مَقُوُول إلى ما قبلها وإن كان مؤدياً إلى اجتماع الساكنين لم يجتنب لَمَّا كان هناك سبب مُزيل له، وهو حذف أولهما، وكذا في مسئلتنا قياسٌ موجب لزوال اجتماع الهمزتين، وهو قلب ثانيتهما في مثله حرف لين كما هو مذهب سيبويه، وإنما دعا الخليل إلى ارتكاب وجوب القلب في مثله أداء ترك القلب إلى إعلالين كما هو مذهب سيبويه، وكثرةُ القلب في الأجوف الصحيح اللام، نحو شاكٍ وشواع في شائك وشوائع، لئلا يهمز ما ليس أصله الهمز والهمز مستثقل عندهم كما يجئ في باب تخفيف الهمزة، ويحذفه بعضهم فيما ذكرت حَذَراً من ذلك، فيقول: رجلٌ هاعٌ لاعٌ بضم العين، فلما رأى فِرَارَهم من الأداء إلى همزة في بعض المواضع أوجب الفرار مما يؤدي إلى همزتين، وأما سيبويه فإنه يقلب الأولى همزة كما هو قياس الأجوف الصحيح اللام نحو قائل وبائع، ثم يقلب الهمزة الثانية ياءً لاجتماع همزتين ثانيهما لام كما سيجئ تحقيقه في باب تخفيف الهمزة، فيتخلص مما يجتنبه الخليل مع عدم ارتكاب القلب الذي هو خلاف الأصل، وقد نقل سيبويه عن الخليل مثل ذلك أيضاً، وذلك أنه حكى عنه أنه إذا

اجتمعت همزتان في كلمة واحدة اختير تخفيفُ الأخيرة نحو جاءٍ وآدم، فقد حكم على ما ترى بانقلاب ياء الجائي عن الهمزة، وهو عين مذهب سيبويه
তাঁর উক্তি "আর খালীল-এর মতে এর বর্জন যখন দুটি হামজার সমাগমের দিকে ধাবিত করে, যেমন জা-ইন" - এর অর্থ হলো: খালীল এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্বলব বা স্থান পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেন এবং এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন। বিষয়টি হলো এই যে, ক্বলব বর্জন করা হলে দুটি হামজা একত্রিত হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু সিবওয়াইহ্ ক্বলবের সিদ্ধান্ত দেন না, যদিও তা বর্জন করা এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। আর এটি মূলত আজওয়াফ শব্দের ইসমুল ফায়েলের ক্ষেত্রে ঘটে যার শেষ বর্ণ বা লাম কালিমা হামজা, যেমন সা-ইন এবং জা-ইন। এছাড়া 'ফাওয়ায়িল' ওজনের বহুবচনের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে, যেমন জাওয়ায়িন এবং সাওয়ায়িন, যা জাইয়াহ ও সাইয়াহ শব্দের বহুবচন। তদ্রূপ এমন একবচন শব্দের চূড়ান্ত বহুবচনের ক্ষেত্রেও এটি পরিলক্ষিত হয় যার শেষ বর্ণ হামজা এবং তার পূর্বে একটি দীর্ঘ স্বরবর্ণ বা মাদ্দ রয়েছে, যেমন খাতীআহ শব্দের বহুবচন খাতায়া। খালীল যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা খুব একটা জোরালো নয়। কারণ, কোনো অপছন্দনীয় বিষয় থেকে তখনই সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যখন তা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পক্ষান্তরে যদি বিষয়টি কোনো অপছন্দনীয় অবস্থার দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তা নিরসনের কারণ বিদ্যমান থাকে, তবে সেই পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক নয়। যেমন মাকউউল সদৃশ শব্দে ওয়াও-এর স্বরচিহ্নকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তর করা, যদিও তা দুটি সুকুনযুক্ত বর্ণ একত্রিত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়, তবুও তা বর্জন করা হয়নি; কারণ সেখানে সেই পরিস্থিতি নিরসনের উপায় বিদ্যমান ছিল, আর তা হলো তাদের প্রথমটিকে বিলুপ্ত করা। একইভাবে আমাদের আলোচ্য মাসআলাতেও এমন নিয়ম বিদ্যমান যা দুটি হামজা একত্রিত হওয়ার অবস্থাকে দূর করে দেয়। আর তা হলো অনুরূপ শব্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হামজাকে কোমল বর্ণে রূপান্তরিত করা, যা সিবওয়াইহ্-এর মত। খালীলকে এই ধরনের ক্ষেত্রে ক্বলব করা আবশ্যক মনে করতে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—সিবওয়াইহ্-এর মত অনুযায়ী ক্বলব বর্জন করা দুটি রূপান্তরের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়া আজওয়াফ সহীহুল লাম শব্দে ক্বলবের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন শাইক ও শাওয়ায়ি-এর পরিবর্তে শাকিন ও শুয়া-য়ি। এটি করা হয় যাতে এমন বর্ণে হামজা না আসে যার মূলে হামজা নেই। আর হামজা উচ্চারণ করা তাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টকর মনে হতো, যা হামজা সহজীকরণ অধ্যায়ে আলোচিত হবে। কেউ কেউ এই আশঙ্কায় উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে হামজা বিলুপ্ত করে দেন; ফলে তারা বলেন: আইন বর্ণে পেশসহ জনৈক ব্যক্তি 'হা-উন লা-উন'। যখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তারা কিছু ক্ষেত্রে একটি হামজার উচ্চারণ থেকে পলায়ন করছে, তখন তিনি এমন অবস্থা থেকে পলায়ন করাকে আবশ্যক মনে করলেন যা দুটি হামজার দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে সিবওয়াইহ্ প্রথম বর্ণটিকে হামজায় রূপান্তরিত করেন, যেমনটি আজওয়াফ সহীহুল লাম-এর সাধারণ নিয়ম, যেমন কায়িল ও বায়ি। এরপর তিনি দ্বিতীয় হামজাকে ইয়া বর্ণে রূপান্তরিত করেন যেহেতু দুটি হামজা একত্রিত হয়েছে যার দ্বিতীয়টি শব্দের শেষ বর্ণ। যেমনটি হামজা সহজীকরণ অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে প্রমাণিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি খালীল যা পরিহার করতে চেয়েছিলেন তা থেকে নিষ্কৃতি পান, অথচ তাকে ক্বলব বা স্থান পরিবর্তনের মতো বিষয়—যা মূল নিয়মের পরিপন্থী—তাও করতে হয়নি। সিবওয়াইহ্ খালীলের পক্ষ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন একটি শব্দে দুটি

হামজা একত্রিত হয়, তখন শেষোক্তটিকে সহজ করা পছন্দনীয়, যেমন জা-ইন এবং আদাম। সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন, তিনি জা-ইন শব্দের ইয়া বর্ণটিকে হামজা থেকে পরিবর্তিত হিসেবেই গণ্য করেছেন, যা সিবওয়াইহ্-এর নিজস্ব মতেরই হুবহু অনুরূপ।