(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح شافية ابن الحاجب - الرضي الأستراباذي القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح شافية ابن الحاجب
المؤلف: محمد بن الحسن الرضي الإستراباذي، نجم الدين (ت 686 هـ)
مع شرح شواهده للعالم الجليل: عبد القادر البغدادي صاحب خزانة الأدب المتوفي عام 1093 من الهجرة
حققهما وضبط غريبهما وشرح مبهمهما الأساتذة:
محمد نور الحسن - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية
محمد الزفزاف - المدرس في كلية اللغة العربية
محمد محيى الدين عبد الحميد - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية
تصوير: دار الكتب العلمية بيروت - لبنان
عام النشر: 1395 هـ - 1975 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যা - আল-রাদি আল-আস্তারাবাদী বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: ইবনে হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-রাদি আল-আস্তারাবাদী, নাজমুদ্দিন (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)
সাথে রয়েছে মহান আলেম: আবদুল কাদির আল-বাগদাদীর কাব্য-প্রমাণাদির ব্যাখ্যা, যিনি খিজানাতুল আদাব-এর রচয়িতা এবং হিজরি ১০৯৩ সনে মৃত্যুবরণ করেছেন
গ্রন্থদ্বয় সম্পাদনা, কঠিন শব্দাবলির বিন্যাস এবং অস্পষ্ট বিষয়াদির ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপকগণ:
মুhammad নূর আল-হাসান - আরবি ভাষা অনুষদ বিশেষজ্ঞ শাখার শিক্ষক
মুহাম্মদ আল-জাজজাফ - আরবি ভাষা অনুষদের শিক্ষক
মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আবদুল হামিদ - আরবি ভাষা অনুষদ বিশেষজ্ঞ শাখার শিক্ষক
মুদ্রণ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত - লেবানন
প্রকাশকাল: ১৩৯৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح شافية ابن الحاجب
تأليف الشيخ رضي الدين محمد بن الحسن الاستراباذي النحوي 686 هـ
مع شرح شواهده للعالم الجليل عبد القادر البغدادي صاحب خزانة الأدب المتوفي عام 1093 من الهجرة
حققهما، وضبط غريبهما، وشرح مبهمهما، الاساتذة:
محمد نور الحسن - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية
محمد الزفزاف - المدرس في كلية اللغة العربية
محمد محيى الدين عبد الحميد - المدرس في تخصص كلية اللغة العربية
دار الكتب العلمية بيروت - لبنان
ইবনে আল-হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ
রচনায়: শায়খ রযীউদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আস্তারাবাদী নাহুবিদ (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)
সাথে রয়েছে মহান আলিম, 'খিজানাতুল আদাব'-এর লেখক আব্দুল কাদির আল-বাগদাদী (মৃত্যু ১০৯৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত এর কাব্য-নিদর্শনের ব্যাখ্যা
এগুলোর তাহকীক, কঠিন শব্দের বিন্যাস এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপকবৃন্দ:
মুহাম্মদ নূরুল হাসান - আরবী ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক
মুহাম্মদ আয-যাফযাফ - আরবী ভাষা অনুষদের শিক্ষক
মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ - আরবী ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক
দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২)
(جميع الحقوق محفوظة للشراح)
1395 - 1975 م بيروت - لبنان
(সকল স্বত্ব ব্যাখ্যাকারীদের জন্য সংরক্ষিত)
১৩৯৫ - ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله، وعلى آله وصحبه
ومن والاه.
أما بعد، فهذا شرح أفضل المحققين، وأبرع المدققين، العالم الذي لا يشق غُبَاره، ولا يدْرِك مداه، نجم الملة والدين، محمد رضي الدين بن الحسن الأستراباذي، على مقدمة العلامة النحوي الفقيه الاصولي أبي بكر المعروف بابن الحاجب التي جمع فيها زبدة فن التصرف في أوراق قليلة، غَيْرَ تارك مما يجب علمه ولا يجمل بالمتأدب جهله شيئاً، مشيراً فيها إلى اختلاف العلماء أحياناً، وإلى لغات العرب ولهجاتهم أحياناً أخرى.
وقد ظَلَّ شرح رضي الدين رحمه الله رغم كثرة طبعاته وتعددها - سِرًّا محجوباً، وكَنْزاً مدفوناً، لا يقرب منه أحا إلا أَخَذَهُ البَهْر، وأعجزه الوقوف على غوامضه وأسراره، ذلك لأنه كتاب ملأه صاحبه تحقيقاً، وأفعمه تدقيقاً، وجمع فيه أوابد الفن وشوارده، وأتى بين ثناياه على غرر ابن جني وتدقيقه، وأسرار ابن الانباري واستدلاله وتعليله، وإضافة المازني وترتيبه، وأمثلة سيبويه وتنظيره، ولم يترك في كل ما بحثه لقائل مَقالاً، ولا أبقى لباحثٍ منهجاً، حتى كان كتابه حَرياً بأن ينتجعه طالب الفائدة، ويقبل على مدارسته واستذكاره كل من أراد التفوق على أقرانه في تحصيل مسائل العلم ونوادره، وكان الذين قاموا على طبعه في الآستانة ومصر لم يعطوه من العناية ما يستحقه، حتى جاء في منظر أقلُّ ما يقال فيه إنه يبعد عنه، ولا يقرب منه، وبقي قراء العربية إلى يوم الناس هذا يعتقدون أن الكتاب وَعْرُ المسلك، صعبُ المُرْتَقى، لا تصل إليه الأفهام، ولا تدرك حقائقه الأوهام، فلم يكونوا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী
এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর, এটি হচ্ছে মুহাক্কিকদের শ্রেষ্ঠ এবং সূক্ষ্মদর্শীদের অগ্রগণ্য, সেই মহান আলেম যার সমকক্ষ হওয়া সুদূরপরাহত এবং যার জ্ঞানের গভীরতা অস্পর্শ্য, মিল্লাত ও দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুহাম্মদ রযীউদ্দীন ইবনুল হাসান আল-আস্তারাবাদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যা ব্যাকরণবিদ, ফকীহ ও উসুল শাস্ত্রবিদ আল্লামা আবু বকর—যিনি ইবনুল হাজিব নামে সমধিক পরিচিত—কর্তৃক রচিত সেই মোকাদ্দিমার ওপর লিখিত, যাতে তিনি ইলমে সরফের সারবস্তু অতি অল্প সংখ্যক পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত করেছেন। এতে তিনি এমন কিছুই বাদ দেননি যা জানা আবশ্যক এবং যা সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণকারীর অজ্ঞতা শোভন নয়। এতে তিনি মাঝে মাঝে আলিমগণের মতভেদ এবং কখনো কখনো আরবদের ভাষা ও উপভাষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
রযীউদ্দীন (রহ.)-এর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি—এর অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও—একটি লুকায়িত রহস্য ও প্রোথিত ধনভাণ্ডার হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। এর নিকটবর্তী হওয়া মাত্রই যে কেউ বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে পড়ত এবং এর রহস্য ও সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচগুলো অনুধাবনে অপারগ হয়ে যেত। কারণ, এটি এমন একটি গ্রন্থ যা এর রচয়িতা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও গভীর তত্ত্বে পরিপূর্ণ করেছেন এবং এতে শাস্ত্রের দুর্লভ ও বিরল বিষয়াদি একত্রিত করেছেন। এর পরতে পরতে তিনি ইবনে জিন্নীর শ্রেষ্ঠত্ব ও সূক্ষ্মতা, ইবনুল আম্বারীর রহস্য, প্রমাণ ও যৌক্তিকতা, মাযিনীর সংযোজন ও বিন্যাস এবং সিবওয়াইহ-এর উদাহরণ ও তাত্ত্বিক রূপরেখা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি যে বিষয়েই আলোচনা করেছেন, সেখানে অন্য কারো কথা বলার কোনো অবকাশ রাখেননি এবং কোনো গবেষকের জন্য নতুন কোনো পথ বাকি রাখেননি। এমনকি এই কিতাবটি এ যোগ্যতার অধিকারী হয়েছে যে, জ্ঞানপ্রার্থী একেই তার লক্ষ্যস্থল হিসেবে গ্রহণ করবে এবং যে ব্যক্তি শাস্ত্রীয় সমস্যা ও দুর্লভ জ্ঞান অর্জনে তার সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়, সে এর অধ্যয়ন ও চর্চায় নিবিষ্ট হবে। যারা আস্তানা ও মিশরে এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তারা এটিকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব প্রদান করেননি। ফলে এটি এমন এক জরাজীর্ণ রূপে প্রকাশিত হয়েছিল যার সম্পর্কে ন্যূনতম মন্তব্য হলো—এটি পাঠককে বিমুখ করে দেয়, আকৃষ্ট করে না। ফলে আজ পর্যন্ত আরবি ভাষাভাষী পাঠকদের এই বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে যে, এই কিতাবটির পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং এর শিখরে আরোহণ করা দুঃসাধ্য; একে সাধারণ বোধশক্তি আয়ত্ত করতে পারে না এবং কল্পনাও এর নিগূঢ় সত্যকে স্পর্শ করতে পারে না। ফলে তারা...
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ليقبلوا عليه، ولا ليتعرضوا له، والكتاب - علم الله - من أمتنع الكتب وأوفاها، وأحلفها بالنافع المفيد، وأدناها إلى من ألقى له بالاً، ولم يثنه عن اقتطاف ثماره ما أحاط بها من قَتَاد.
وكم كنا نَوَد أن الله تعالى قَيَّضَ لنا من تنبعث همته إلى نشره على وَجْهٍ يرضى به الانصاف وعرفانُ الجميل، حتى أتيحت لنا هذه الفرصة المباركة، ووُكل
إلينا أمر مراجعته وإيضاح ما يحتاج إلى الإيضاح منه، فعكفنا على مراجعة أصوله، وضبط مبهماته، وشرح مفرداته، والتعليق على مسائله وما يختاره المؤلف من الآراء تعليقاً لا يُمِلّ قارئه ولا يحوجه إلى مراجعة غيره.
ثم عرض لنا أن نذيله بشرح شواهده الذي صنّفه العالم المطلع المحقق عبد القادر البغدادي صاحب (خزانة الأدب، ولب لباب لسان العرب) التي شرح فيها شواهد شرح رضي الدين على مقدمة ابن الحاجب في النحو، فلما استقر عندنا هذا الرأي لم نشأ أن نطيل في شرح الشواهد أنناء تعليقاتنا، وأرجأنا ذلك إلى هذا الشرح الوسيط، واجتزأنا نحن بالإشارة المفهمة التي لا بدّ منها لبيان لغة الشاهد وموطن الاستشهاد.
وليس لأحدنا عمل مستقل في هذا الكتاب، فكل ما فيه من مجهود قد اشتركنا ثلاثتنا فيه إشتراكاً بأوسع ما تدل عليه العبارة، فلم يَخُطَّ أحدنا حرفاً أو حركة إلا بعد أن يقر الآخران ما أراد، فإن يكن هذا العمل قد جاء وافياً بما قصدنا إليه، مؤدياً الغرض الذي رجونا أن يؤديه، كان ذلك غاية أملنا ومنتهى سؤلنا، وإن تكن الأخرى فهذا جهد المقل، وحسبك من غِنىً شبع وري.
والله تعالى المسئول أن يتقبل منا، وأن يجعل عملنا خالصاً لوجهه، مقر بامنه، امين كتبه محمد نور الحسن محمد الزفزاف محمد محيي الدين عبد الحميد
যাতে তারা এটির প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে, এর বিরোধিতা করতে নয়; আর এই কিতাবটি—আল্লাহই ভালো জানেন—সর্বাধিক মজবুত ও পূর্ণাঙ্গ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ বিষয়াবলীতে ভরপুর, এবং এটি সেই ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত নিকটবর্তী যে এতে মনোনিবেশ করে, আর এর চারপাশ ঘিরে থাকা কাঁটা একে ফল আহরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না।
আমরা কতই না আকাঙ্ক্ষা করতাম যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য এমন কাউকে নির্ধারণ করে দিন যার হিম্মত বা সংকল্প একে এমনভাবে প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ হবে যা ইনসাফ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারের দাবি পূরণ করে। পরিশেষে আমাদের এই বরকতময় সুযোগটি জুটে গেল এবং আমাদের ওপর অর্পিত হলো এর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং যেখানে যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব। তাই আমরা এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর পর্যালোচনায় আত্মনিয়োগ করলাম, এর অস্পষ্ট বিষয়সমূহ সুবিন্যস্ত করলাম, শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করলাম এবং এর মাসআলাসমূহ ও লেখকের নির্বাচিত মতামতের ওপর এমন টীকা প্রদান করলাম যা পাঠককে ক্লান্ত করবে না এবং তাকে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষীও করবে না।
এরপর আমাদের মনে হলো যে, আমরা এর শেষে এর কাব্যিক নিদর্শনসমূহের (শাওয়াহিদ) ব্যাখ্যাটি যুক্ত করে দেই, যা সংকলন করেছেন প্রাজ্ঞ গবেষক আলিম আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি, যিনি 'খিজানাতুল আদব' এবং 'লুব্বু লুবাব লিসানিল আরব'-এর রচয়িতা। তিনি তাতে নাহু শাস্ত্রের ইবনুল হাজিব রচিত 'মুকাদ্দিমাহ'-এর ওপর রাযি উদ্দিনের শারহ-এর কাব্যিক নিদর্শনসমূহের ব্যাখ্যা করেছেন। যখন আমাদের নিকট এই সিদ্ধান্ত স্থির হলো, তখন আমরা আমাদের টীকা চলাকালীন কাব্যিক নিদর্শনসমূহের ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত করতে চাইলাম না; বরং আমরা তা এই মধ্যম মানের ব্যাখ্যার জন্য স্থগিত রাখলাম এবং আমরা কেবল সেই অপরিহার্য ব্যাখ্যামূলক ইঙ্গিতের ওপর নির্ভর করলাম যা নিদর্শনের ভাষা ও উদ্ধৃতির প্রেক্ষিত স্পষ্ট করার জন্য প্রয়োজন।
এই কিতাবে আমাদের কারোই একক কোনো কাজ নেই; বরং এতে যা কিছু শ্রম রয়েছে তাতে আমরা তিনজনেই পূর্ণাঙ্গভাবে শরিক ছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ একটি অক্ষর বা হরকতও লিখেননি যতক্ষণ না অন্য দুজন তাঁর উদ্দেশ্য অনুমোদন করেছেন। সুতরাং এই কাজটি যদি আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত হয়ে থাকে এবং আমরা যে উদ্দেশ্য আশা করেছিলাম তা পূরণ করে থাকে, তবে সেটিই হবে আমাদের পরম আশা ও প্রার্থনার সমাপ্তি। আর যদি অন্যথা হয়, তবে এটি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা মাত্র; আর তৃপ্তি ও সজীবতাই ঐশ্বর্যের জন্য যথেষ্ট।
আর মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন ও তাঁর নিরাপত্তার শামিল করেন। আমিন। এটি লিখেছেন: মুহাম্মাদ নূরুল হাসান, মুহাম্মাদ আয-যাফযাফ, মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ।
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم [وصلى الله على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم] أما بعد حمد الله توالي نعمه، والصلاةِ على رسوله محمد وعِتْرَتهِ المعصومين، فقد عزمت على أن أشرح مقدمة ابن الحاجب في التصريف والخط، وَأَبْسُطَ الكلام في شرحها كما في شَرْحِ أُخْتِها بَعضَ البَسْطِ، فإن الشُّرَّاح قد اقتصروا على شرح مُقَدِّمة الإعراب، وهذا - مع قرب التصريف من الإعراب في مَسَاس الحاجة إليه، ومع كونهما من جنس واحد - بعيدٌ من الصواب، وعلى
الله المُعَوَّل في أن يوفقني لإتمامه، بمنه وكرمه، وبالتوسل بِمَنْ أنا في مُقَدَّس حرمه، عليه من الله أزكى السلام، وعلى أولاده الغرِّ الكرام.
قال المصنّف: (الحَمْدُ لِلَّهِ ربِّ العَالَمِينَ، وَالصَّلاة عَلَى سَيِّدنا محمَّدٍ وَآلِهِ الطاهرين.
وَبَعْد فَقَدِ التَمَسَ مِنِّي مَنْ لا تَسْعنِي مُخَالَفَته أنْ أُلحَقَ بِمقدِّمَتِي في الإعْرابِ مُقَدِّمَةً في التَّصْرِيفِ عَلَى نَحْوِها، ومقدِّمَةً في الخَطِّ، فَأَجَبْته سائلاً متضرِّعاً أنْ يَنْفَعَ بِهِما، كَمَا نَفَعَ بأختهما والله الموفق.
التَّصريفُ عِلْمٌ بأُصُولٍ تُعْرَفُ بها أَحْوَالُ أَبْنِيَةِ الكلم التي ليس بإِعْراب.
أقول: قوله (بأصول) يعني بها القوانين الكلية المنطبقةَ على الجزئيات،
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। [এবং আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর।] অতঃপর, আল্লাহর ক্রমাগত নিআমতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর রসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পবিত্র ও নিষ্পাপ বংশধরদের উপর দরুদ পাঠের পর, আমি রূপান্তর (তাসরিফ) ও লিপি (খত) বিষয়ে ইবনুল হাজিব-এর মুকাদ্দিমা বা ভূমিকার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছি এবং এর ব্যাখ্যায় সেভাবে বিস্তারিত আলোচনা করব যেভাবে আমি এর সহোদরা (ব্যাকরণ বিষয়ক ভূমিকা)-এর ব্যাখ্যায় কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কেননা ব্যাখ্যাকারগণ কেবল ই'রাব (ব্যাকরণ) বিষয়ক ভূমিকার ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। অথচ প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে তাসরিফ ই'রাব-এর অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং এই উভয় শাস্ত্র একই প্রকৃতির হওয়া সত্ত্বেও তাসরিফকে উপেক্ষা করা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকা। আর
এটি সম্পন্ন করার তৌফিক দানের জন্য আমি আল্লাহর উপরই ভরসা করি—তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এবং সেই মহান সত্তার অসীলায় যাঁর পবিত্র হারামে আমি অবস্থান করছি—তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর উজ্জ্বল ও সম্মানিত সন্তানদের ওপরও।
মূল লেখক বলেন: (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এমন এক ব্যক্তি—যার বিরোধিতা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়—আমার নিকট অনুরোধ করেছেন যেন আমি আমার ই'রাব (ব্যাকরণ) বিষয়ক ভূমিকার সাথে তদ্রূপ রূপান্তর (তাসরিফ) বিষয়ক একটি ভূমিকা এবং লিপি (খত) বিষয়ক একটি ভূমিকা যুক্ত করি। তাই আমি কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করে তাঁর অনুরোধ রক্ষা করলাম যে, তিনি যেন এই দুইটির মাধ্যমেও তদ্রূপ উপকার দান করেন যেমনটি তিনি তাদের সহোদরার মাধ্যমে করেছেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
তাসরিফ বা রূপান্তর হলো এমন কিছু মূলনীতি সম্পর্কিত জ্ঞান, যার মাধ্যমে শব্দের কাঠামোগত অবস্থাসমূহ জানা যায় যা ই'রাব (কারক বিভক্তি) সংক্রান্ত বিষয় নয়।
আমি বলছি: তাঁর উক্তি '(মূলনীতিসমূহ দ্বারা)' অর্থ হলো সেই সকল সামগ্রিক নিয়মাবলি যা এর অন্তর্ভুক্ত শাখা বা আংশিক বিষয়সমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়,
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২)
كقولهم مثلاً (كل واو أو ياء إذا تحركت وانفتح ما قبلها قُلِبَتْ ألفاً) والحق أن هذه الأصول هي التصريف، لا العلم بها (1) قوله (أبنية الكلم) المراد من بناء الكلمة ووزنها وصيغتها هَيْئَتُها التي يمكن أن يشاركها فيها غيرهما، وهي عدد حروفها المرتبة وحركاتها المعينة وسكونها مع اعتبار الحروف الزائدة والأصلية كُلٌّ في موضعه، فرَجُل مثلاً على هيئة وصفة يشاركه فيه عَضُد (2) ، وهي كونه على ثلاثةٍ أولها مفتوح وثانيها مضموم، وأما الحرف الأخير فلا تعتبر حركته وسكونه في البناء، فَرَجُل ورَجُلاً ورَجُلٍ على بناء واحد، وكذا جَمَلٌ على بناء ضَرَبَ، لأن الحرف الأخير لحركة الإعراب وسكونه وحركة البناء وسكونه، وإنما قلنا (يمكن أن يشاركها) لأنه قد لا يشاركها في الوجود كالحِبُكِ - بكسر الحاء وضم الباء - فإنه لم يأت له نظير (3) ، وإنما قلنا (حروفها المرتبة) لأنه إذا تغير النظم والترتيب تغير الوزن،
--------------------------------------------
যেমন তাদের কথা (উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যেক ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ যখন হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের অক্ষরটি জবরযুক্ত হয়, তখন তা ‘আলিফ’ হিসেবে পরিবর্তিত হয়ে যায়)। প্রকৃত সত্য এই যে, এই মূলনীতিগুলোই হলো রূপান্তর প্রক্রিয়া (তাসরিফ), এগুলোর জ্ঞান নয় (১)। তাঁর কথা (শব্দসমূহের গঠনসমূহ): শব্দের গঠন, ওজন এবং রূপ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার এমন অবয়ব যাতে অন্য শব্দও অংশীদার হতে পারে। আর তা হলো এর সুবিন্যস্ত অক্ষরসমূহের সংখ্যা, নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুনসমূহ, সাথে সাথে অতিরিক্ত ও মূল অক্ষরসমূহকে যার যার নিজ নিজ স্থানে বিবেচনা করা। যেমন ‘রাজুল’ শব্দটি এমন একটি অবয়ব ও বৈশিষ্ট্যের ওপর রয়েছে যাতে ‘আদুদ’ (২) শব্দটিও অংশীদার। আর তা হলো এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট হওয়া, যার প্রথমটি জবরযুক্ত এবং দ্বিতীয়টি পেশযুক্ত। আর শেষ অক্ষরের হরকত বা সুকুন গঠনের ক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়; তাই ‘রাজুল’, ‘রাজুলান’ এবং ‘রাজুলিন’ একই গঠনের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ‘জামাল’ শব্দটি ‘দারাবা’-এর গঠনের ওপর; কারণ শেষ অক্ষরটি ব্যাকরণিক পরিবর্তন (ইরাব)-এর হরকত ও সুকুন এবং গঠনগত (বিনা) হরকত ও সুকুনের জন্য নির্ধারিত। আমরা কেবল বলেছি ‘অংশীদার হতে পারে’ কারণ বাস্তবে হয়তো অন্য কোনো শব্দ অংশীদার হিসেবে নাও পাওয়া যেতে পারে, যেমন ‘হিবুক’ শব্দটি—যাতে প্রথম বর্ণে যের এবং দ্বিতীয় বর্ণে পেশ রয়েছে—কারণ এর কোনো সমরূপ শব্দ পাওয়া যায়নি (৩)। আমরা কেবল ‘সুবিন্যস্ত অক্ষরসমূহ’ বলেছি কারণ যদি বিন্যাস ও ক্রম পরিবর্তিত হয় তবে ওজনও পরিবর্তিত হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৩)
كما تقول: بئس على وزن فَعِلَ وَأَيِسَ على وزن عَفِلَ، وإنما قلنا (مع اعتبار الحروف الزائدة والأصلية) لأنه يقال: على وزن فَعْلَلَ أو أَفْعَلَ أو فَاعلَ مع توافق الجميع في الحركات المعينة والسكون، وقولنا " كل في موضع " لأن نحو دِرْهَم ليس على وزن قِمَطْرٍ (1) لتخالف مواضع الصفحتين والسكونين، وكذا نحو بَيْطَر (2) مخالف لشَرْيَفَ (3) في الوزن لتخالف موضعي الياءين، وقد يُخَالَف ذلك (4) في أوزان التصغير فيقال: أوزان التصغير ثلاثة: فُعَيْلٌ، وفُعَيْعِلٌ، وفُعَيْعِيلٌ فيدخل في فُعَيْعل أُكيْلب وَحُميّر ومُسَيْجِد ونحوها، وفي فُعَيْعِيل مُفَيْتيح وَتُمَيْثيل ونحو ذلك، [وذلك] (5) لما سيجى
--------------------------------------------
যেমন আপনি বলেন: বি’সা শব্দটি ফা’ইলা ওজনের এবং আইসা শব্দটি আফিলা ওজনের। আমরা যে বলেছি (অতিরিক্ত ও মূল অক্ষরসমূহ বিবেচনা করে), তার কারণ হলো এটি ফাল্লালা বা আফ’আলা বা ফা’আলা ওজনে বলা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুনগুলোর ক্ষেত্রে সবকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমাদের কথা "প্রত্যেকটি নিজ নিজ স্থানে" এর কারণ হলো, দিরহাম-এর মতো শব্দ কিমাতর (১) এর ওজনের নয়; কারণ এতে দুটি স্বরধ্বনি ও দুটি সুকুনের স্থান ভিন্ন ভিন্ন। একইভাবে বাইতার (২) শব্দটি ওজনের ক্ষেত্রে শারইয়াফা (৩) এর পরিপন্থী; কারণ এতে দুটি ইয়া-এর স্থান ভিন্ন। এবং কখনো কখনো এর (৪) ব্যত্যয় ঘটে তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) এর ওজনগুলোর ক্ষেত্রে। তাই বলা হয়: তাসগিরের ওজন তিনটি: ফুআইল, ফুআইয়িল এবং ফুআইয়ীল। সুতরাং ফুআইয়িল ওজনের অন্তর্ভুক্ত হয় উকালিব, হুমাইয়ার, মুসাইজিদ ও এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর ফুআইয়ীল ওজনের অন্তর্ভুক্ত হয় মুফাইতিহ, তুমাইসিল ও এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর তা (৫) এজন্য যা সামনে আসবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৪)
قوله " أحوال أبنية الكلم " يُخْرِجُ من الحد معظم أبواب التصريف، أعني الأصول التي تعرف بها أبنية الماضي والمضارع والأمر والصفة وأفعل التفضيل والآلة والموضع والمصغر والمصدر، وقد قال المصنف بعد مُدْخِلاً لهذه الأشياء في أحوال الأبنية: " وأحوال الأبنية قد تكون للحاجة كالماضي والمضارع " إلخ وفيه نظر (1) ، لأن العلم بالقانون الذي تعرف به أبنية الماضي من الثلاثي والرباعي
--------------------------------------------
তার কথা “শব্দের গঠনের অবস্থাসমূহ” সংজ্ঞার গণ্ডি থেকে সরফ (রূপান্তর)-এর অধিকাংশ অধ্যায়কে বের করে দেয়। আমার উদ্দেশ্য হলো সেই মূলনীতিসমূহ যার মাধ্যমে অতীতকাল, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল, আদেশবাচক ক্রিয়া, গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাত), আধিক্যবোধক বিশেষ্য (ইসমে তাফদীল), যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (ইসমে আলা), স্থানবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাকান), ক্ষুদ্রতাবাচক বিশেষ্য (ইসমে মুসাগগার) এবং ক্রিয়ামূল (মাসদার)-এর গঠন জানা যায়। অথচ গ্রন্থকার পরবর্তীতে এই বিষয়গুলোকে গঠনের অবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেন: “গঠনের অবস্থাসমূহ কখনও প্রয়োজনে হয়ে থাকে, যেমন অতীতকাল ও বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল” ইত্যাদি। তবে এতে পর্যালোচনা বা আপত্তি রয়েছে (১), কারণ তিন অক্ষর বিশিষ্ট এবং চার অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের অতীতকালের গঠন যে নিয়মের মাধ্যমে জানা যায় তার জ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৫)
والمزيد فيه وأبنية المضارع منها وأبنية الأمر وأبنية الفاعل والمفعول تصريفٌ بلا خلاف، مع أنه علم بأصول تُعْرَفُ به أبنية الكلم، لا أحوال أبنيتها، فإن أراد
أن الماضي والمضارع (مثلاً) حالان طارئان على بناء المصادر ففيه بُعْد، لأنهما بناءان مستَأْنَفَان بُنِيا بعدَ هَدْمِ بناء المصدر، ولو سلمنا ذلك فلم عَدَّ المصادر في أحوال الأبنية؟ فإن القانون الذي تُعْرَفُ به أبنيتها تصريفٌ، وليس يعرف به حال بناء، والماضي والمضارعُ والأمرُ وغيرُ ذلك مما مر كما أنها ليس بأحوال الأبنية ليست بأبنية أيضاً على الحقيقة، بل هي أشياء ذوات أبنية، على ما ذكرنا من تفسير البناء، بلى قد يقال لضَرَبَ مثلاً: هذا بناء حالُهُ كذا، مجازاً، ولا يقال أبداً: إن ضَرَبَ حالُ بناء، وإنما يدخل في أحوال الأبنية الابتداء، والإمالةُ، وتَخفيفُ الهمزة، والإعلال، والإبدال، والحذف، وبعض الإدغام، وهو إدغام بعض حروف الكلمة في بعض، وأما نحو " قُل لَّه " فالإدغام فيه ليس من أحوال البناء، لأن البناء على ما فسرناه لم يتغير به، وكذا بعض التقاء الساكنين، وهو إذا كان الساكنان من كلمة كما في قُلْ وأصله قُوْلْ، وأما التقاؤهما في نحو " اضْرِبِ الرجل " فليس حالاً لبناء الكلمة، إذ البناء - كما ذكرنا - يعتبر بالحركات وَالسكنات التي قبل الحرف الأخير، فهذه المذكورات أحوال الأبنية، وباقي ما ذكر هو الأبنية، الا الوقف والتقاء الساكنين في كلمتين والإدغام فيهما، فإن هذه الثلاثة لا أبنية ولا أحوال أبنية.
قوله " التي ليست بإعراب " لم يكن محتاجاً إليه، لأن بناء الكلمة - كما ذكرنا - لا يعتبر فيه حالات آخر الكلمة، والإعراب طارٍ على آخر حروف الكلمة، فلم يدخل إذن في أحوال الأبنية حتى يجترز عنه، وإن دخل (1) فاحتاج إلى الاحتراز فكذا البناء، فهلَاّ احترز عنه أيضا؟ !
--------------------------------------------
আর মাজীদ ফীহ (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত শব্দ), মুদারে-এর রূপকাঠামোসমূহ, আমরের রূপকাঠামোসমূহ এবং ফায়েল ও মাফউলের রূপকাঠামোসমূহ নিঃসন্দেহে শব্দরূপান্তরের (তসরীফ) অন্তর্ভুক্ত, যদিও এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মূলনীতি দ্বারা শব্দের রূপকাঠামোসমূহ জানা যায়, তাদের রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহ নয়। যদি তিনি উদ্দেশ্য করে থাকেন যে মাজী এবং মুদারে (উদাহরণস্বরূপ) হলো মাছদারের রূপকাঠামোর ওপর আপতিত দুটি অবস্থা, তবে তা বাস্তবতা থেকে দূরে; কারণ এই দুটি হলো নতুনভাবে প্রবর্তিত দুটি কাঠামো যা মাছদারের কাঠামো ভেঙে নির্মিত হয়েছে। আর আমরা যদি তা মেনেও নেই, তবে কেন তিনি মাছদারসমূহকে রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহের মধ্যে গণনা করলেন? কারণ যে নিয়মের মাধ্যমে সেগুলোর রূপকাঠামো জানা যায় তা হলো শব্দরূপান্তর (তসরীফ), এর মাধ্যমে রূপকাঠামোর অবস্থা জানা যায় না। মাজী, মুদারে, আমর এবং পূর্বে যা গত হয়েছে—এগুলো যেমন রূপকাঠামোর কোনো অবস্থা নয়, তেমনি এগুলো প্রকৃতপক্ষে স্বয়ং কোনো রূপকাঠামোও নয়। বরং এগুলো হলো রূপকাঠামোবিশিষ্ট বস্তু, রূপকাঠামোর যে ব্যাখ্যা আমরা প্রদান করেছি সেই অনুযায়ী। হ্যাঁ, উদাহরণস্বরূপ 'দ্বরাবা'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে রূপকভাবে বলা যেতে পারে যে: এটি এমন একটি রূপকাঠামো যার অবস্থা এমন। কিন্তু কখনোই বলা যাবে না যে: 'দ্বরাবা' হলো কোনো রূপকাঠামোর অবস্থা। বস্তুত রূপকাঠামোর অবস্থাসমূহের মধ্যে শামিল হলো—ইবতিদা (প্রারম্ভ), ইমালাহ (ঝোঁকানো), হামযাহ সহজ করা (তাখফীফ), এ'লাল (রূপান্তর), ইবদাল (পরিবর্তন), হাযফ (বিলোপ) এবং কিছু ইদগাম (সন্ধি); আর তা হলো শব্দের এক অক্ষরকে অন্য অক্ষরের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। আর যেমন "কুল লাহু" এর ক্ষেত্রে যে ইদগাম হয়েছে, তা রূপকাঠামোর অবস্থার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমরা রূপকাঠামোর যে ব্যাখ্যা দিয়েছি, এর মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হয় না। একইভাবে দুই সাকিনের মিলনও; আর তা হলো যখন সাকিন দুটি একই শব্দের মধ্যে থাকে, যেমন "কুল" যার মূল ছিল "কুওল"। কিন্তু যখন তাদের মিলন "ইদ্বরিবির রাজুলা"-এর মতো হয়, তখন তা শব্দের রূপকাঠামোর অবস্থা নয়। কারণ—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—রূপকাঠামো বিবেচিত হয় শেষ অক্ষরের পূর্বের হরকত ও সুকুনগুলোর মাধ্যমে। সুতরাং এই উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো রূপকাঠামোর অবস্থা, আর বাকি যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো স্বয়ং রূপকাঠামো। তবে ওয়াকফ (থামা), দুই শব্দের মধ্যে দুই সাকিনের মিলন এবং তাদের মধ্যকার ইদগাম এর ব্যতিক্রম; কেননা এই তিনটি বিষয় না রূপকাঠামো, আর না রূপকাঠামোর অবস্থা।
তার উক্তি "যা ইরাব (বিভক্তি) নয়", এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ—আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি—শব্দের রূপকাঠামোতে শব্দের শেষ অবস্থার বিবেচনা করা হয় না, আর ইরাব আপতিত হয় শব্দের শেষ অক্ষরে। তাই এটি রূপকাঠামোর অবস্থার মধ্যে প্রবেশই করেনি যে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার (বাদ দেওয়ার) প্রয়োজন হবে। আর যদি তা প্রবেশ করেই থাকে (১) এবং বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে 'বিনা' (অপরিবর্তনীয়তা)-এর ক্ষেত্রেও তো একই কথা প্রযোজ্য, তবে তিনি সেটি কেন বাদ দেননি?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৬)
واعلم أن التصريف (1) جزء من أجزاء النحو بلا خلاف من اهل الصناعة،
والتصريف - على ما حكى سيبويه عنهم - هو أن تبني (2) من الكلمة بناء لم
--------------------------------------------
এবং জেনে রাখুন যে, শব্দরূপান্তর বিদ্যা (১) ব্যাকরণশাস্ত্রের অংশসমূহের মধ্যে একটি অংশ, এ ব্যাপারে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
আর তাসরিফ—যেটি সিবাওয়াইহ তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—তা হলো কোনো শব্দ থেকে এমন একটি কাঠামো গঠন (২) করা যা আগে কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৭)
تَبْنِهِ العربُ على وزن ما بَنَتْهُ ثم تعمل في البناء الذي بنيته ما تقتضيه فياس كلامهم، كما يتبين في مسائل التمرين إن شاء الله تعالى، والمتأخرون على أن التصريف علم بأبنية الكلمة، وبما يكون لحروفها من أصالة وزيادة وحذف وصحة وإعلال وإدغام وإمالة، وبما يعرض لآخرها مما ليس بإعراب ولا بناء من الوقف وغير ذلك.
أنواع الأبنية قال: " وَأَبْنِيَةُ الاسْمِ الأصُولُ ثُلاثِيَّةٌ ورُباعِيَّةٌ وخُمَاسِيَّةٌ وَأَبْنِيَةُ الفعل ثلاثية ورباعية (1)
--------------------------------------------
আরবগণ তাদের ভাষাগত কাঠামোর ওজনে শব্দকে গঠন করে, অতঃপর সেই গঠিত কাঠামোর ক্ষেত্রে তাদের ভাষার নিয়মের দাবি অনুযায়ী কাজ করে, যেমনটি অনুশীলনীর মাসআলাগুলোতে স্পষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। পরবর্তী পণ্ডিতদের মতে, ইলমুত তাসরিফ বা রূপান্তরবিদ্যা হলো শব্দের গঠন এবং এর বর্ণসমূহে যে মূলত্ব, আধিক্য, বিলুপ্তি, সুস্থতা, পরিবর্তন (ই'লাল), সন্ধি (ইদগাম) ও ঝোঁক (ইমালাহ) ঘটে, এবং শব্দের শেষে যা কিছু আপতিত হয় অথচ তা ইরাব (বিভক্তি) বা বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) নয়—যেমন ওয়াকফ ও অন্যান্য বিষয়—সেই সম্পর্কিত জ্ঞান।
কাঠামোর প্রকারভেদ তিনি বলেন: "ইসিমের মূল কাঠামোসমূহ হলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট, চার অক্ষরবিশিষ্ট ও পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট; আর ফেয়েলের কাঠামোসমূহ হলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট ও চার অক্ষরবিশিষ্ট (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৮)
أقول: لم يتعرض النحاة لأبنية الحروف لندور تصرفها، وكذا الأسماء (1) العريقة البناء كَمَنْ ومَا
--------------------------------------------
আমি বলছি: ব্যাকরণবিদগণ অব্যয়সমূহের রূপান্তরের বিরলতার কারণে সেগুলোর গঠন নিয়ে আলোচনা করেননি, আর তেমনিভাবে সুদৃঢ়ভাবে অব্যয়ধর্মী বিশেষ্যসমূহও (১), যেমন 'মান' এবং 'মা'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ৯)
واعلم انه لم يُبْنَ من الفعل خماسي، لأنه إذن يصير ثقيلاً بما يلحقه مُطَّرِداً من حروف المضارعة وعلامة اسم الفاعل واسم المفعول (1) والضمائر المرفوعة التي هي كجزء الكلمة، وإنما قال " الاصول " لانه يزداد على ثُلاثِيِّ الفعل واحدٌ كأخرج، واثنان كانقطع، وثلاثة كاستخرج، وعلى رباعية واحد كتدحرج، واثنان كاحرنجم (2) ويزاد على ثلاثى الاسم واحد نحو ضارب، واثنان كمضروب، وثلاثة كمستخرج، وأربعة كاستخراج، وعلى رُباعِيَّة وَاحدٌ كمُدَحْرِج، واثنان كمتدحرج، وثلاثة كاحربحام (2) ، ولم يُزَدْ في خُمَاسِيِّه غير حرف مد قبل الآخر نحو سلسبيل (3) وعضر فوط (4) أو بعده مُجَرَّداً عن التاء كقبعثرى (5)
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, ক্রিয়া পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট মূলবর্ণ দিয়ে গঠিত হয় না। কারণ, সেক্ষেত্রে এটি ভারী হয়ে যাবে সেইসব কারণে যা নিয়মিতভাবে এর সাথে যুক্ত হয়, যেমন মুদারি’র (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল) বর্ণসমূহ, কর্তাবাচক বিশেষ্য ও কর্মবাচ্য বিশেষ্যের চিহ্ন (১) এবং মারফু সর্বনামসমূহ যা শব্দেরই একটি অংশের মতো। তিনি "মূলবর্ণসমূহ" (উসুল) শব্দটি বলেছেন কারণ তিন বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার সাথে একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘আখরাজা’, দুটি বর্ণ যেমন ‘ইনকাতাআ’ এবং তিনটি বর্ণ যেমন ‘ইস্তাখরাজা’। অনুরূপভাবে চার বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘তাদাহরাজা’ এবং দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘ইহরাঞ্জামা’ (২)। আর তিন বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘দারিবুন’, দুটি বর্ণ যেমন ‘মাদরুবুন’, তিনটি বর্ণ যেমন ‘মুস্তাখরিজুন’ এবং চারটি বর্ণ যেমন ‘ইস্তিখরাজুন’। চার বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় যেমন ‘মুদাহরিজুন’, দুটি বর্ণ যেমন ‘মুতাদাহরিজুন’ এবং তিনটি বর্ণ যেমন ‘ইহরিঞ্জামুন’ (২)। পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে শেষের বর্ণের আগে ‘মদ্দ’-এর বর্ণ ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করা হয় না, যেমন ‘সালসাবিল’ (৩) এবং ‘আদরাফুত’ (৪), অথবা শেষের বর্ণের পরে ‘তা’ মুক্ত অবস্থায় বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়, যেমন ‘কিবা’শারা’ (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১০)
أو معها كقَبَعْثَراة، وندر قَرَعْبَلانَة (1) وإصْطَفْلِينَةُ (2)
الميزان الصرفي قال: " وَيُعَبَّرُ عَنْهَا بِالْفَاءِ وَالْعَيْنِ وَاللَاّمِ، وَمَا زَادَ بِلَام ثَانِيَةٍ وَثَالِثَةٍ، وَيُعَبَّرُ عَنِ الزَّائِدِ بلَفْظِهِ، إلَاّ الْمبدلَ مِنْ تَاء الافْتِعَالِ فَإِنَّهُ بِالتّاء، وَإِلَاّ الْمُكَرَّرَ لِلإِْلْحَاقِ أَوْ لِغَيْرِهِ فإنه بما تقدمه وإنْ كان من حُرُوفِ الزِّيَادَة إِلَاّ بَثَبَتٍ، ومِنْ ثَمَّ كَانَ حِلْتِيتٌ (3) فِعْليلاً، وسحنون (4)
--------------------------------------------
অথবা তার সাথে থাকে যেমন: ক্বাবায়ছরাহ, এবং কার’আবলানাহ (১) ও ইস্তফ্লীনাহ (২) এর ব্যবহার বিরল।
রূপতাত্ত্বিক ওজন (আল-মীযান আস-সারফী) তিনি বলেন: "সেগুলোকে 'ফা', 'আইন' ও 'লাম' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আর যা অতিরিক্ত হবে তা দ্বিতীয় ও তৃতীয় 'লাম' দ্বারা ব্যক্ত করা হয়। অতিরিক্ত অক্ষরকে তার নিজ শব্দেই প্রকাশ করা হয়, তবে 'ইফতি'আল' এর 'তা' থেকে পরিবর্তিত অক্ষরটি ছাড়া, কারণ তা 'তা' দ্বারাই প্রকাশ করা হয়। এবং ঐ অক্ষরটিও ব্যতিক্রম যা 'ইলহাক' (অন্য কোনো কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা) বা অন্য কোনো কারণে দ্বিত্ব হয়েছে, কারণ সেটি তার পূর্বের অক্ষরটির মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয় যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে 'সাবাত' এর বিষয়টি ভিন্ন। আর এখান থেকেই 'হিলতীত' (৩) 'ফিৎলীল' ওজনে হয়েছে এবং 'সাহনুন' (৪)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَعُثْنُونٌ (1) فُعْلُولاً لا فُعْلُوناً لِذَلِكَ وَلِعَدَمِهِ، وَسَحْنُونٌ إِنْ صَحَّ الْفَتْحُ فَفَعْلونٌ لا فَعْلُولٌ كَحَمْدُونٍ، وَهُوَ مُخْتَصٌّ بِالعَلَم، لِنُدُورِ (2) فَعْلُولٍ وَهُوَ صَعْفُوقٌ (3) ، وَخَرْنُوبٌ ضَعيفٌ، وسَمْنَانُ (4) فَعْلَانٌ، وَخَزْعالٌ (5) نَادِرٌ وبُطْنَان (6) فُعْلان، وَقُرْطَاسٌ (7) ضَعِيفٌ مَعَ أَنَّهُ نَقيضُ ظُهْرَانٍ "
--------------------------------------------
এবং ‘উছনুন’ (১) শব্দটি ‘ফুলুল’ ওজনের, ‘ফুলুন’ ওজনের নয়; উক্ত কারণে এবং এর অনুপস্থিতির দরুন। আর ‘সাহনুন’ শব্দে যদি প্রথম অক্ষরে জবর হওয়া শুদ্ধ হয়, তবে তা ‘ফালুন’ ওজনের হবে, ‘ফালুল’ নয়; যেমন ‘হামদুন’। এবং এটি কেবল নামবাচক শব্দের (আলাম) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; কারণ ‘ফালুল’ ওজনের শব্দের বিরলতার (২) কারণে, যা হলো ‘সা’ফুক’ (৩)। আর ‘খারনুব’ শব্দটি দুর্বল। ‘সামনান’ (৪) হলো ‘ফালান’ ওজনের। ‘খাজআল’ (৫) বিরল এবং ‘বুতনান’ (৬) হলো ‘ফুলান’ ওজনের। ‘কুরতাস’ (৭) (প্রথম অক্ষরে পেশ দিয়ে) দুর্বল শব্দরূপ, যদিও এটি ‘জুহরান’-এর বিপরীত শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১২)
أقول: يعني إذا أردت وزن الكلمة عبرت عن الحروف الأصول بالفاء والعين واللام: أي جعلت في الوزن مكان الحروف الأصلية هذه الحروف الثلاثة كما تقول: ضَرَبَ على وزن فَعَلَ اعلم أنه صيغ لبيان الوزن المشترك فيه كما ذكرنا لفظٌ متصف بالصفة التى يقال لها الوزن، واستعمل ذلك اللفظ في معرفة أوزان جميع الكلمات، فقيل: ضَرَبَ على وزن فَعَلَ، وكذا نَصَرَ وخَرَجَ، أي: هو على صفة يتصف بها فَعَلَ، وليس قولك فَعَلَ هي الهيئة المشتركة بين هذه الكلمات، لأنا نعرف ضرورةً أن نفس الفاء والعين واللام غير موجودة في شئ من الكلمات المذكورة، فكيف تكون الكلمات مُشْتَرِكة في فَعَلَ؟ بل هذا اللفظ مصوغ ليكون محلاً للهيئة المُشْتَرَكةِ فقط، بخلاف تلك الكلمات، فإنها لم تُصَغْ لتلك الهيئة بل صيغت لمعانيها المعلومة، فلما كان المراد من صَوْغ فَعَلَ الموزون به مجرَّدَ الوزن سُمِّيَ وزناً وزِنَةً، لا أنه في الحقيقة وزن وزنة، وإنما اختير لفظ فَعَلَ لهذا الغرض من بين سائر الألفاظ لأن الغرض الأهم من وزن الكلمة معرفة (1) حروفها
--------------------------------------------
আমি বলছি: অর্থাৎ, যখন আপনি কোনো শব্দের ওজন পরিমাপ করতে চান, তখন আপনি মূল বর্ণগুলোকে 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' দ্বারা প্রকাশ করবেন। অর্থাৎ, ওজনের ক্ষেত্রে মূল বর্ণগুলোর স্থানে এই তিনটি বর্ণ স্থাপন করবেন। যেমন আপনি বলেন: 'দরাবা' শব্দটি 'ফাআলা' ওজনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। জেনে রাখুন যে, আমরা যেমনটা উল্লেখ করেছি, সাধারণ ওজনের রূপটি বর্ণনা করার জন্য এমন একটি শব্দ গঠন করা হয়েছে যা 'ওজন' নামক বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত। সেই শব্দটি সকল শব্দের ওজন নির্ণয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়: 'দরাবা' হলো 'ফাআলা' এর ওজনে, তেমনি 'নাসারা' এবং 'খারাজা'ও। অর্থাৎ, এগুলো এমন একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা 'ফাআলা' শব্দটির বৈশিষ্ট্য। আপনার 'ফাআলা' বলাটা এই শব্দগুলোর মধ্যবর্তী অভিন্ন রূপ নয়। কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, খোদ 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' বর্ণগুলো উল্লেখিত শব্দগুলোর কোনোটিতেই নেই। তাহলে শব্দগুলো কীভাবে 'ফাআলা' এর মধ্যে অংশীদার হতে পারে? বরং এই শব্দটি কেবলমাত্র সাধারণ রূপের আধার হওয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে। ঐ শব্দগুলোর অবস্থা এর বিপরীত, কারণ সেগুলো এই রূপের জন্য গঠিত হয়নি, বরং তাদের সুনির্ধারিত অর্থ প্রকাশের জন্য গঠিত হয়েছে। যেহেতু 'ফাআলা' শব্দটির গঠনের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ওজন হিসেবে ব্যবহার করা, তাই একে 'ওজন' বা 'যিনাহ' (পরিমাপক) নামকরণ করা হয়েছে; আসলে এটি স্বয়ং কোনো ওজন বা পরিমাপ নয়। আর অন্যান্য শব্দের মধ্য থেকে এই উদ্দেশ্যের জন্য 'ফাআলা' শব্দটি বাছাই করার কারণ হলো, কোনো শব্দের ওজনের প্রধান লক্ষ্য হলো তার (১) বর্ণসমূহ চেনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الاصول وما يزيد فيها من الحروف وما طرأ عليها من تغييرات لحروفها بالحركة والسكون، والمطَّردُ في هذا المعنى الفعل وَالأسماء المتصلة بالأفعال كاسم الفاعل واسم المفعول والصفة المشبهة والآلة والموضع، إذ لا تجد فعلاً ولا اسماً متصلاً به إلا وهو في الأصل مَصْدَرٌ قد غُيِّر غالباً إما بالحركات كضَرب وَضُرِبَ أوْ بالحروف كيضرب وَضارب ومضروب، وأما الاسم الصريح الذي لا اتصال له بالفعل فكثير منه خَالٍ من هذا المعنى كرجُل وَفَرس وَجَعْفَر وَسَفَرْجَل، لا تغيير في شئ منها عن أصل ومعنى تركيب " ف غ ل " مشترك بين جميع الأفعال وَالأسماء المتصلة بها، إذ الضَّرْب فعل، وكذا القَتْلُ وَالنَّوْمُ، فجعلوا ما تشترك الأفعال والأسماء المتصلة بها في هيئته اللفظية مما تشترك أيضاً في معناه، ثم جعلوا الفاء والعين واللام في مقابلة الحروف الأصلية، إذ الفاء والعين واللام أصول، فإن زادت الأصول على الثلاثة كَرَّرْتَ اللام دون الفاء والعين، لانه لما لم يكن بد في الوزن من زيادة حرف بعد اللام لأن الفاء والعين واللام تكفي في التعبير بها عن أول الاصول وثانيها وثالثها كانت الزيادة بتكرير أحد الحروف التى في مقابلة الأصول بعد اللام أولى، ولما كانت اللام أقرب كُرِّرَتْ هي دون البعيد فإن كان في الكلمة المقصودة وَزْنُها حرفٌ زائد فهو على ضربين: إن
كانت الزيادة بتكرير حرف أصلي كتكرير عين قَطَّع أو لام جَلْبَبَ كُرِّرَت العين في زن الاول نو فَعَّل واللام في وزن الثاني نحو فَعْلَلَ، ولا يُورَدُ ذلك المزيدُ بعينه، فلا يقال: فَعْطَلَ وَلَا فَعْلَبَ، تنبيهاً في الوزن على أن الزائد حصل مِنْ تكرير حرف أصلي، سواء كان التكرير للالحاق كقردد (1) أو
--------------------------------------------
মূল অক্ষরসমূহ এবং তাতে যে সব অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয় এবং হরকত ও সুকুনের মাধ্যমে এগুলোর অক্ষরে যে সব পরিবর্তন ঘটে, তার আলোচনা। এই অর্থটি ক্রিয়া এবং ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে প্রযোজ্য, যেমন: কর্তাবাচক বিশেষ্য, কর্মবাচক বিশেষ্য, গুণবাচক বিশেষণ, যন্ত্রবাচক বিশেষ্য এবং স্থানবাচক বিশেষ্য। কেননা আপনি এমন কোনো ক্রিয়া বা তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্য পাবেন না যা মূলত একটি 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) নয়, যা প্রায়শই পরিবর্তিত হয়েছে—হয়ত হরকতের মাধ্যমে যেমন 'দারাবা' ও 'দুরিবা', অথবা অক্ষরের মাধ্যমে যেমন 'ইয়াদরিবু', 'দারিব' ও 'মাদরুব'। আর সেই স্পষ্ট বিশেষ্য যার ক্রিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, তার অনেকগুলোই এই অর্থ থেকে মুক্ত, যেমন: 'রাজুল' (ব্যক্তি), 'ফারাস' (ঘোড়া), 'জা'ফার' এবং 'সাফারজাল'। এগুলোর কোনোটির মূল গঠনে কোনো পরিবর্তন নেই। আর 'ফা-আইন-লাম' কাঠামোর অর্থ সমস্ত ক্রিয়া এবং তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহের মধ্যে সাধারণ। কেননা 'দারব' (প্রহার করা) একটি কাজ, আর তেমনিভাবে 'কাতল' (হত্যা করা) এবং 'নাওম' (নিদ্রা যাওয়া)। তাই তারা ক্রিয়া এবং তার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ্যসমূহ যে শাব্দিক রূপ ধারণ করে, তাকে এমন বিষয় সাব্যস্ত করেছেন যা অর্থের ক্ষেত্রেও সমরূপ। অতঃপর তারা 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম'-কে মূল অক্ষরসমূহের বিপরীতে নির্ধারণ করেছেন, কেননা 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' হলো মূল। যদি মূল অক্ষর তিনটির বেশি হয়, তবে আপনি 'লাম' অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করবেন, 'ফা' বা 'আইন'-এর নয়। কারণ ওজনের ক্ষেত্রে 'লাম'-এর পরে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা অপরিহার্য ছিল, যেহেতু 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মূল অক্ষরকে প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট ছিল, তাই 'লাম'-এর পরে মূল অক্ষরের বিপরীতে থাকা অক্ষরগুলোর কোনো একটির পুনরাবৃত্তি করাই ছিল অধিকতর শ্রেয়। আর যেহেতু 'লাম' নিকটবর্তী, তাই দূরের অক্ষরের পরিবর্তে এরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এখন ওজনের জন্য নির্ধারিত শব্দে যদি কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে, তবে তা দুই প্রকারের: যদি
অতিরিক্ত অক্ষরটি কোনো মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয়, যেমন 'কাত্তা'আ'-এর 'আইন'-এর পুনরাবৃত্তি অথবা 'জালবাবা'-এর 'লাম'-এর পুনরাবৃত্তি, তবে প্রথমটির ওজনে 'আইন'-কে পুনরাবৃত্তি করা হবে যেমন 'ফাআলা' এবং দ্বিতীয়টির ওজনে 'লাম'-কে পুনরাবৃত্তি করা হবে যেমন 'ফাল্লালা'। সেই অতিরিক্ত অক্ষরটিকে হুবহু ওজনে আনা হবে না, তাই 'ফাতলা' বা 'ফালবা' বলা যাবে না; যাতে ওজনের মাধ্যমে এই বিষয়ে সতর্ক করা যায় যে, অতিরিক্ত অক্ষরটি একটি মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তি থেকে এসেছে, চাই সেই পুনরাবৃত্তিটি সংযুক্তিকরণের জন্য হোক যেমন কারদাদ (১) অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لغيره كقطع، وإن لم تكن الزيادة بتكرير حرف أصلي أُوْرِدَ في الوزن تلك الزيادة بعينها، كما يقال في ضارب: فاعل، وفي مصروب: مفعول الوزن التصغيري وقد ينكسر هذا الأصل الممهَّد في أوزان التصغير، إذ قصدوا حَصْرَ جميعها في أقرب لفظ وهو قولهم: أوزان التصغير ثلاثة فعيل، وفعيعل، وفعيعيل، ويدخل في فُعَيْعِل دُرَيْهِمٌ مع أن وزنه الحقيقي فُعَيْلِلٌ، وأُسَيْوِدُ وهو أُفَيْعل، وَمُطَيْلِق وهو مُفَيْعِل، وَجُوَيْرِب وهو فُوَيْعِل، وحُمَيِّر وهو فُعَيِّل، ويدخل في فُعَيْعِيلٍ عُصَيْفِيرٌ وهو فُعَيْليلٌ، ومُفَيْتِيحٌ وهو مُفَيْعيل، ونحو ذلك، وإنما كان كذلك لأنهم قصدوا الاختصار بحصر جميع أوزان التصغير فيما يُشْتَرَكُ فيه بحسب الحركات المعينة والسكنات، لا بحسب زيادة الحروف وأصالتها، فإن دُرَيْهماً مثلاً وأُحَيْمَرَ وَجُدَيْوِلا ومُطَيْلِقاً تشترك في ضم أول الحروف وفتح ثانيها ومجئ ياء ثالثة وكسر ما بعدها، وإن كانت أوزانه في الحقيقة مختلفةً باعتبار أصالة الحروف وزيادتها، فقالوا لما قصدوا جمعها في لفظ للاختصار: إن وزن الجميع فعيعل، فوزنوها بِوَزْن يكون في الثلاثي دون الرباعي، لكونه أكثر منه، وأقدم بالطبع، ثم قصدوا ألا يأتوا في هذا الوزن الجامع يزيادة إلا من نفس الفاء والعين واللام، إذ لابد للثلاثي - إذا
كان على هذا الوزن - من زيادة، واختيار بعض حروف " اليوم تنساه " للزيادة دون بعض تحكمٌ، إذ لو قالوا مثلاً أفيعل باعتبار نحو أحيمر أو مُفَيعل باعتبار نحو مُجَيْلِس أو فُعَيِّل باعتبار نحو حُمَيِّر أو غير ذلك كان تحكماً، فلم يكن بُدٌّ من تكرير أحد الأصول، وفي الثلاثي لا تكون زيادة التضعيف في الفاء فلم يقولوا فُفَيْعل، بل لا تكون إلا في العين كزرق (1) أو في اللام كمهدد (2) وقردد،
--------------------------------------------
অন্যদের জন্য যেমন কাত' (কর্তন); আর যদি অতিরিক্ত অক্ষরটি মৌলিক অক্ষরের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে না হয়, তবে ওজনের মধ্যে সেই অতিরিক্ত অক্ষরটিকেই সরাসরি উল্লেখ করা হয়। যেমন বলা হয় 'দারিব' (প্রহারকারী)-এর ক্ষেত্রে 'ফাউইল' এবং 'মাসরুব' (প্রহৃত)-এর ক্ষেত্রে 'মাফউল'। ক্ষুদ্রতাবাচক রূপের ওজন: কখনো কখনো তাসগিরের (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপের) ওজনে এই প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিটি লঙ্ঘিত হয়, কারণ তারা (ভাষাবিদগণ) তাসগিরের সমস্ত ওজনকে নিকটতম শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সংকল্প করেছেন। আর তা হলো তাদের এই কথা: তাসগিরের ওজন তিনটি— ফুআইল, ফুআইয়িল এবং ফুআইয়িল। 'ফুআইয়িল'-এর অন্তর্ভুক্ত হয় 'দুরাইহিম', যদিও এর প্রকৃত ওজন হলো 'ফুআইলিল'। তেমনি 'উসাইউয়িদ' যা মূলত 'উফাইয়িল', 'মুতাইলিক' যা মূলত 'মুফাইয়িল', 'জুআইরিব' যা মূলত 'ফুয়াইয়িল', এবং 'হুমাইয়ির' যা মূলত 'ফুআইয়িল'। আর 'ফুআইয়িল'-এর অন্তর্ভুক্ত হয় 'উসাইফির' যা মূলত 'ফুআইলিল', 'মুফাইতিহ' যা মূলত 'মুফাইয়িল' এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। এটি এমন করা হয়েছে কারণ তারা নির্দিষ্ট হরকত ও সুকুন অনুযায়ী সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমস্ত তাসগিরের ওজনকে সীমাবদ্ধ করে সংক্ষেপ করার সংকল্প করেছেন; অক্ষরের অতিরিক্ত হওয়া বা মৌলিক হওয়ার বিচারে নয়। কেননা 'দুরাইহিম', 'উহাইমির', 'জুদাইউয়িল' এবং 'মুতাইলিক' উদাহরণস্বরূপ প্রথম অক্ষরে পেশ, দ্বিতীয় অক্ষরে জবর, তৃতীয় স্থানে 'ইয়া' এবং চতুর্থ অক্ষরে যের হওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সদৃশ; যদিও প্রকৃত অর্থে অক্ষরগুলোর মৌলিকতা ও অতিরিক্ত হওয়ার বিচারে এগুলোর ওজন ভিন্ন ভিন্ন। তাই যখন তারা সংক্ষেপ করার জন্য এগুলোকে একটি শব্দের মধ্যে জমা করতে চাইলেন, তখন বললেন: সবগুলোর ওজনই হলো 'ফুআইয়িল'। সুতরাং তারা এগুলোকে এমন ওজনে পরিমাপ করলেন যা চতুবর্ণ শব্দের তুলনায় ত্রিবর্ণ শব্দে বেশি দেখা যায়, কারণ এটি অধিক ব্যবহৃত এবং প্রকৃতিগতভাবে অগ্রগণ্য। এরপর তারা সংকল্প করলেন যে, এই সংকলিত ওজনে যেন ফা, আইন এবং লাম ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত অক্ষর না আনা হয়। কারণ ত্রিবর্ণ বিশিষ্ট শব্দ—যখন তা এই ওজনে হয়—তাতে একটি অতিরিক্ত অক্ষর থাকা আবশ্যক। আর (অতিরিক্ত হিসেবে) 'আল-ইয়াওমা তানসাহু' (অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্য অক্ষরসমূহ)-এর মধ্য থেকে কোনো কোনোটিকে গ্রহণ করা এবং অন্যগুলোকে বর্জন করা হবে খামখেয়ালি বা পক্ষপাতমূলক। কারণ তারা যদি উদাহরণস্বরূপ 'উহাইমির' বিবেচনায় 'উফাইয়িল' বা 'মুজাইলিস' বিবেচনায় 'মুফাইয়িল' অথবা 'হুমাইয়ির' বিবেচনায় 'ফুআইয়িল' বা অন্য কিছু বলতেন, তবে তা খামখেয়ালি হতো। ফলে কোনো একটি মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আর ত্রিবর্ণ বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে 'ফা' অক্ষরে দ্বিত্ব হয় না, তাই তারা 'ফুফাইয়িল' বলেননি। বরং দ্বিত্ব কেবল 'আইন' অক্ষরে হয় যেমন 'জুররাক' অথবা 'লাম' অক্ষরে যেমন 'মাহদাদ' ও 'কারদাদ'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فلو قالوا فعيلل لالتبس بوزن جعيفر، أعني وزن الرباعي المجرد عن الزيادة، وهم قصدوا وزن الثلاثي كما ذكرنا، فكرروا العين ليكون الوزن الجامع وَزن الثلاثي خاصة، وإن لم يقصدوا الحصر المذكور ورنوا كل مصغر بما يليق به، فقالوا: دُرَيْهِمٌ فعيلل، وحمير فُعَيِّل، وَمُقَيْتِل مُفَيْعِل، ونحو ذلك.
هذا، وقد يجوز في بعض الكلمات أن تُحْمَلَ الزيادة على التكرير، وأن لا تحمل عليه، إذا كان الحرف من حوف " اليوم تنساه " وذلك كما في حلتيت، يحتمل أن تكون اللام مكررة كما في شِمْليلٍ فيكون وزنه فعليلا فيكون ملحقا بقنديل، وأن يكون لم يقصد تكرير لامه وإن اتفق ذلك، بل كان القصد الى زيادة الياء والتاء كما في عفريت (1) فيكون فعليتا، وكذا سمنان: إما أن يكون مكرر اللام للإلحاق بِزِلزَال، أو يكون زيد فيه الألف والنون لا للتكرير بل كما زيد في سَلْمَان، ولا دليل في قول الحماسي: - 1 - نَحْوَ الأُمَيْلِحِ من سمنان مبتكرا * * بفتية فيهم المرار والحكم (2) - بمنه صرف سَمْنَانَ - على كونه فَعْلانَ، لجواز كونه فَعْلَالاً وامتناعُ صرفه لتأويله بالأرض والبقعة لأنه اسم موضع، قال المصنف: لا يجوز أن يكون مكرر
اللام للإلحاق لأن فَعْلَالاً نادر كخَزْعال، ولا يلحق بالوزن النادر، ولقائل أن يقول: إن فَعْلَالاً إذا كان فاؤء ولامه الأولى من جنس واحد نحو زلزال (3)
--------------------------------------------
যদি তারা ফুআইলিল বলতেন, তবে তা জুআইফার ওজনের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত; অর্থাৎ অতিরিক্ত অক্ষর বর্জিত চতুরক্ষর শব্দের ওজনের সাথে। অথচ তারা ত্রাক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ওজনকে বুঝাতে চেয়েছেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তাই তারা আইন অক্ষরটিকে পুনরাবৃত্তি করেছেন যেন সাধারণ ওজনটি বিশেষভাবে ত্রাক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ওজনে থাকে। আর যদি তারা উল্লিখিত সীমাবদ্ধতা পোষণ না করতেন এবং প্রতিটি ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দকে তার উপযুক্ত ওজনে ওজন করতেন, তবে তারা বলতেন: দুরাইহিম হলো ফুআইলিল, হুমাইর হলো ফুআইয়িল, এবং মুকাইতিল হলো মুফাইইল ইত্যাদি।
এর বাইরে, কিছু শব্দের ক্ষেত্রে অক্ষর বৃদ্ধিকে পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা জায়েজ হতে পারে আবার নাও হতে পারে, যদি সেই অক্ষরটি 'আল-ইয়াওমা তানসাহু' (অতিরিক্ত অক্ষরসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন হিলতীত শব্দের ক্ষেত্রে; সম্ভাবনা আছে যে এখানে লাম অক্ষরটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে যেমন শিমলীল শব্দের ক্ষেত্রে হয়, সেক্ষেত্রে এর ওজন হবে ফালীলান যা কান্দীল-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হবে। আবার এটিও হতে পারে যে এখানে লাম-এর পুনরাবৃত্তি উদ্দেশ্য নয় যদিও তা মিলে গেছে, বরং উদ্দেশ্য ছিল ইয়া এবং তা বৃদ্ধি করা যেমনটি ইফ্রীত (১) শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে, তখন ওজন হবে ফালীয়ান। অনুরূপভাবে সামনান: হয় এটি যিলযাল-এর সাথে সংযুক্তির জন্য লাম অক্ষরের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, অথবা এতে আলিফ ও নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে পুনরাবৃত্তির জন্য নয় বরং সালমান শব্দে যেভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। হামাসী কবির নিম্নোক্ত বক্তব্যে কোনো প্রমাণ নেই: - ১ - সামনান হতে উমাইলিহের দিকে ভোরে যাত্রা করলাম * * এমন এক যুবদলের সাথে যাদের মাঝে মুরার ও হাকাম বিদ্যমান (২) - এখানে সামনান শব্দটিকে তানভীন প্রদান (সারফ) করা হতে - যে এটি ফালান ওজনের; কারণ এটি ফালাল ওজনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর তানভীন নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো ভূখণ্ড বা স্থান হিসেবে এর ব্যাখ্যা করা, যেহেতু এটি একটি জায়গার নাম। গ্রন্থকার বলেছেন: সংযুক্তির জন্য লাম অক্ষরের পুনরাবৃত্তি হওয়া জায়েজ নয়
কারণ ফালাল ওজনটি বিরল যেমন খাযআল, আর বিরল ওজনের সাথে সংযুক্তি করা হয় না। তবে কেউ বলতে পারেন যে: ফালাল ওজনটি তখন হয় যখন এর ফা এবং প্রথম লাম একই জাতীয় হয়, যেমন যিলযাল (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وخلخال غير نادر اتفاقا، فهلا يجوز أن يكون سمنان ملحقا به، وليس نحو زَلْزَال بِفَعْفَال على ما هو مذهب الفراء كما يذكره المصنف في باب ذي الزيادة، ولا يجوز أن يكون التاءان أصليتين في حلتيت وكذا النونا ن في سمنان لما سيجئ من أن التضعيف في الرباعي والخماسي لا يكون إلا زائداً إلا أن يُفْصَلَ أحد الحرفين عن الآخر بحرف أصلي كزَلْزَال على ما فيه من الخلاف كما سيجئ، ولا يجوز أن يكون كرر اللام فيهما لغير الألحاق كما في سُودَدٍ (1) عندَ سيبويه لأن معنى الالحاق حاصل فيهما، وإنما امتنع ذلك في نحو سودد عند سيبويه (1) لعدم نحو جُخْدَب عنده وأما نحو سُحنون وعُثنون فهما مكررا اللام للإلحاق بعُصْفور، ولا يجوز أن يكون زيد الواو والنون كما في حَمْدُون لعدم فُعْلُون في أبنيتهم، وأما سَحْنُون - بفتح الفاء - فليس بمكرر اللام للإلحاق بصَعْفُوقٍ، لأنه نادر، ولا يلحق بالنادر، وليس التكرير لغير الألحاق كما في سُودَدٍ (1) لعدم فعول مكرَّرَ اللام
فهو إذن فَعْلُون لثبوت فعلون في الأعلام خاصة، وسَحْنُون علم وأما بُطْنَان فليس بمكرر اللام، لأنه جمع بطن (2) ، وليس فعلال من
--------------------------------------------
এবং 'খালখাল' সর্বসম্মতভাবেই বিরল নয়, এমতাবস্থায় 'সিমনান' শব্দটিকে কি এর সাথে সংশ্লিষ্ট (ইলহাক) করা জায়েজ হতে পারে না? আর আল-ফাররার মতানুযায়ী 'যালযাল'-এর মতো শব্দগুলো 'ফাফআল' ওজনের নয়, যেমনটি গ্রন্থকার 'অতিরিক্ত বর্ণ' (যিল-যিয়াদাহ) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। 'হিলতিত' শব্দের দুটি 'তা' মূল বর্ণ হওয়া জায়েজ নয়, একইভাবে 'সিমনান' শব্দের দুটি 'নুন'-ও মূল বর্ণ হওয়া জায়েজ নয়; কারণ সামনে এটি আলোচিত হবে যে, চতুর্বর্ণী ও পঞ্চবর্ণী শব্দে দ্বিত্বকরণ কেবল অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবেই হয়ে থাকে, তবে যদি দুটি বর্ণের একটি অন্যটি থেকে কোনো মূল বর্ণের মাধ্যমে পৃথক হয়—যেমন 'যালযাল'—সেটি ভিন্ন কথা, যদিও এতে মতভেদ রয়েছে যা সামনে আসবে। সিবওয়াইহের মতে 'সুদাদ' শব্দের ন্যায় এই দুটি শব্দের (হিলতিত ও সিমনান) ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণের পুনরাবৃত্তি ইলহাক (সংশ্লিষ্টকরণ) ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হওয়া জায়েজ নয়, কেননা এই দুটির মধ্যে ইলহাকের অর্থ বিদ্যমান রয়েছে। সিবওয়াইহের নিকট 'সুদাদ' জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে এটি এই কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে যে, তাঁর মতে 'জুখদাব'-এর মতো কোনো ওজনের অস্তিত্ব নেই। আর 'সুহনুন' ও 'উশনুন'-এর মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণটি 'উসফুর' ওজনের সাথে ইলহাক করার উদ্দেশ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। আর 'হামদুন' শব্দের ন্যায় এতে 'ওয়াও' ও 'নুন' অতিরিক্ত হওয়া জায়েজ নয়, কারণ তাদের ভাষাগত কাঠামোতে 'ফুলুন' ওজনের কোনো ভিত্তি নেই। তবে 'সাহনুন' (প্রথম বর্ণে ফাতহাহ যোগে) শব্দটি 'সাফউক' ওজনের সাথে ইলহাকের জন্য 'লাম' দ্বিত্বকৃত শব্দ নয়, কারণ এটি বিরল; আর বিরল ওজনের সাথে ইলহাক করা হয় না। আবার এর পুনরাবৃত্তি 'সুদাদ' শব্দের ন্যায় ইলহাক ব্যতিরেকে অন্য কোনো কারণেও নয়, কারণ 'লাম' দ্বিত্বকৃত 'ফাউল' ওজনের কোনো অস্তিত্ব নেই।
অতএব এটি 'ফালুন' ওজনের, কারণ বিশেষ করে নামবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'ফালুন' ওজনের অস্তিত্ব সাব্যস্ত, আর 'সাহনুন' একটি নাম। তবে 'বুতনান' শব্দটি 'লাম' পুনরাবৃত্ত হওয়া শব্দ নয়, কারণ এটি 'বাতন'-এর বহুবচন। আর 'ফিলাল' ওজনটি কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أبنية الجموع، وفُعْلانُ منها كَقُفْزَانٍ (1) ولو كان بطنان واحداً لجاز أن يكون فُعلالاً مكرر اللام للإلحاق بقُسْطَاسٍ (2) كما في قُرْطاط (3) وَفُسْطَاط (4) ، أو يقال في الثلاثة إنها مكررة اللام لا للإلحاق كما في سُؤْدَدٍ عند سيبويه (5) وقال المصنف: لا يجوز أن يكون بُطْنَان ملحق بقُرْطَاس لأنه ضعيف، والفصيح قِرْطَاسٌ - بكسر الفاء - والقائل أن يكون بُطْنَان ملحقاً بقُرْطَاس لانه ضعفيف، وقد قرئ في الكتاب العزيز بالكسر والضم، وما قيل " إنها لغة رومية " لم يثبت والظاهر أن المصنف بنى على أن بُطْناناً وظُهْرَاناً مفردان (5) فحمل بُطْناناً في كونه فُعْلان عَلَى ظُهْرَان الذي هو فُعْلان بيقين، ولو جعلهما جَمْعَيْن لم يحتج إلى ما ذكر، لأن فُعْلالاً ليس من أبنية الجموع، والحق أنهما جمعا بطن وظهر كما ذكر أهل اللغة رجعنا إلى تفسير كلامه، قوله " يعبر عنها " أي عن الاصول: أي،
--------------------------------------------
বহুবচনের গঠনরীতিসমূহ, এবং এর মধ্যে 'ফু'লান' ওজনের শব্দ রয়েছে যেমন 'কুফজান' (১)। আর 'বুতনান' যদি একবচন হতো, তবে 'কিসতাস' (২)-এর সাথে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে (ইলহাক) শেষ বর্ণ বা লাম-বর্ণটি দ্বিত্ব করার মাধ্যমে একে 'ফু'লাল' ওজনের হওয়া বৈধ হতো, যেমনটি 'কুরতাত' (৩) এবং 'ফুসতাত' (৪)-এর ক্ষেত্রে হয়েছে। অথবা এই তিনটির ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, এগুলোতে লাম-বর্ণটি দ্বিত্ব করা হয়েছে ইলহাক বা সংযুক্ত করার জন্য নয়, যেমনটি সিবওয়াইহ-এর মতে 'সু'দাদ'-এর ক্ষেত্রে হয়েছে (৫)। এবং গ্রন্থকার বলেছেন: 'বুতনান' শব্দটি 'কুরতাস'-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হওয়া জায়েজ নয়, কারণ এটি একটি দুর্বল মত; আর বিশুদ্ধ হলো 'কিরতাস'—প্রথম বর্ণে কাসরা দিয়ে। আর যিনি বলেন যে 'বুতনান' 'কুরতাস'-এর সাথে সংযুক্ত, তা দুর্বল হওয়ার কারণেই বলা হয়েছে। অথচ মহাগ্রন্থ কুরআনে কাসরা এবং দম্মা উভয়ভাবেই কিরাআত পাঠ করা হয়েছে। আর এটি যে 'রোমান ভাষা' থেকে এসেছে বলে যা বলা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। এবং বাহ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থকার এই ভিত্তির ওপর বিষয়টি গঠন করেছেন যে 'বুতনান' এবং 'জুহরান' হলো দুটি একবচন শব্দ (৫)। তাই তিনি 'বুতনান' শব্দটিকে 'ফু'লান' ওজনের হওয়ার ক্ষেত্রে 'জুহরান'-এর ওপর কিয়াস করেছেন, যা নিশ্চিতভাবেই 'ফু'লান' ওজনের। আর যদি তিনি এ দুটিকে বহুবচন হিসেবে গণ্য করতেন, তবে উল্লিখিত আলোচনার কোনো প্রয়োজন হতো না; কারণ 'ফু'লাল' বহুবচনের গঠনরীতি বা ওজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর সত্য কথা হলো এই যে, এ দুটি 'বাতন' এবং 'জাহর'-এর বহুবচন, যেমনটি ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন। আমরা পুনরায় তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফিরে যাই; তাঁর কথা "তা দ্বারা প্রকাশ করা হয়" অর্থাৎ মূল বর্ণসমূহ থেকে; অর্থাৎ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يُجْعل في الوزن مكانَ أول الأصول الفاء، ومكان ثانيها العين، ومكان ثالثها اللام.
قوله " وما زاد " أي: وما زاد عن ثلاثة من الأصول يُعَبَّرُ عنه بلام ثانية إن كان الاسم رباعياً، كما تقول: وزن جَعْفَرٍ فَعْلَلٌ قوله " وثالثة " أي: إذا كان الاسم خماسياً كما تقول: وَزْنُ سَفَرْجَلٍ فَعْلَّلٌ قوله " ويعبر عن الزائد بلفظه ": أي يورد في الوزن الحرفُ الزائد بعينه في مثل مكانه، كما تقول: مَضْروب على وزن مَفْعُول زنة المبدل من تاء الافتعال قوله " إلا المبدل من تاء الافتعال " يعني تقول في مثل اضْطَرَبَ وَازْدَرَعَ (1) افْتَعَلَ، ولا تقول افْطَعَل ولا افْدَعَلَ، وهذا مما لا يُسَلَّم، بل تقول: اضْطَرَبَ على وزن افْطَعَلَ، وَفَحَصْطَ (2) وزنه فَعَلْطُ، وهَرَاق (3) وزنه هَفْعَل، وَفُقَيْمِجٌّ وزنه (4) فُعَيْلِجّ، فيعبر عن كل الزائد المبدَل (منه) بالبدل، لا بالمبدل منه
وقال عبد القاهر في المبدل عن الحرف الأصلي: " يجوز أن يعبر عنه بالبدل، فيقال في قال: إنه على وزن فال " اه، قال في الشرح (5) : إنما لم يُوزَنْ المبدل من تاء
--------------------------------------------
ওজনে প্রথম মূল বর্ণের স্থলে ফা, দ্বিতীয়টির স্থলে আইন এবং তৃতীয়টির স্থলে লাম রাখা হয়।
তাঁর উক্তি "যা অতিরিক্ত হবে" অর্থাৎ: মূল তিনটি বর্ণের চেয়ে যা অতিরিক্ত হবে, তা দ্বিতীয় একটি লাম দ্বারা প্রকাশ করা হবে যদি শব্দটি চার বর্ণবিশিষ্ট (রুবায়ি) হয়, যেমন আপনি বলবেন: জা'ফার-এর ওজন হলো ফাল্লাল। তাঁর উক্তি "এবং তৃতীয়টি" অর্থাৎ: যদি শব্দটি পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট (খুমাসি) হয়, যেমন আপনি বলবেন: সাফারজাল-এর ওজন হলো ফাল্লালাল। তাঁর উক্তি "এবং অতিরিক্ত অক্ষরকে তার নিজ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়": অর্থাৎ ওজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণটিকে তার নির্দিষ্ট স্থানে হুবহু উল্লেখ করা হবে, যেমন আপনি বলবেন: মাদরুব-এর ওজন হলো মাফউল। ইফতি'আলের 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণের ওজনের ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি "ইফতি'আলের 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণ ব্যতীত" অর্থাৎ আপনি ইদতরাবা এবং ইজদারা'আ-এর ক্ষেত্রে বলবেন ইফতা'আলা; ইফতআলা বা ইফদা'আলা বলবেন না। তবে এটি সর্বসম্মত নয়, বরং আপনি বলবেন: ইদতরাবা-এর ওজন হলো ইফতআলা, ফাহাস্তা-এর ওজন হলো ফালতু, হারা-কা-এর ওজন হলো হাফ'আলা এবং ফুকাইমিজ-এর ওজন হলো ফুকাইলিজ। সুতরাং প্রতিটি অতিরিক্ত বর্ণ যা পরিবর্তিত হয়েছে, তাকে পরিবর্তিত রূপ (বাদাল) দ্বারাই প্রকাশ করা হবে, যা থেকে পরিবর্তিত হয়েছে (মুবদাল মিনহু) তা দিয়ে নয়।
আব্দুল কাহির মূল বর্ণ থেকে পরিবর্তিত বর্ণ সম্পর্কে বলেছেন: "একে পরিবর্তিত রূপ (বাদাল) দিয়ে প্রকাশ করা জায়েয। সুতরাং ক্বলা সম্পর্কে বলা হবে যে, এটি ফা-লা ওজনে।" তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। ব্যাখ্যার মধ্যে বলা হয়েছে: 'তা' থেকে পরিবর্তিত বর্ণের ওজন করা হয়নি কারণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الافتعال بلفظه إما للاستثقال أو للتنبيه على الاصل، قلنا: هذا حاصلان في فَحَصْطُ وفي فُزْدُ (1) ولا يوزنان إلا بلفظ البدل، ولو قال: ويعبر عن الزائد بلفظه، إلا المدغم في أصلي فإنه بما بعده، والمكرر فإنه بما قبله، ليدخل فيه نحو قولك: ازَّيَّنَ وَادَّارَك (2) على وزن افَّعَّل وَافَّاعَلَ، وقولك قَرْدَدَ وَقَطَّعَ واطَّلَبَ على وزن فَعْلَلَ وَفَعَّلَ وَاْفَّعَلَ، لكان أولى وأعم قوله " أو لغيره " أي: لا يقال في نحو قَطَّع فَعْطَل، بل فعل، قال: (3) زنة المكرر " إنما وُزِنَ المكرر للإلحاق بأحد حروف فعل لأنه في مقابلة الحرف الأصلي، وهذا ينتقض عليه بقولهم في وزن حَوْقَل وَبَيْطَر: فَوْعَل وَفَيْعَل، بل العلة في التعبير عن المكرر للإلحاق (كان) أو لغيره عيناً كان أو لا ما ذكرته قبلُ
قوله " فإنه بما تقدمه " أي: فَإِنَّ المكرر يعبر عنه في الوزن بالحرف الذي تقدمه، عَيْناً كان ذلك الحرف أو لا ما قوله " وإن كان من حروف الزيادة " أي: وإن كان أيضاً ذلك الحرف المكرر من حروف " اليوم تنساه " لا يعبر عنه بلفظه، بل بما تقدمه، فالنون من عُثْنُون من حروف " اليوم تنساه " ولا يعبر عنه في الوزن بالنون، بل باللام الذى تقدمه.
--------------------------------------------
ইফতিআল (افتعال) ছাঁচটিকে তার নিজ শব্দে ব্যক্ত করা হয় হয় উচ্চারণের কঠিনতা দূর করার জন্য অথবা মূল বর্ণের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য। আমরা বলি: এই দুটি বিষয়ই ‘ফাহাস্তু’ এবং ‘ফুজদু’ (১) এর মধ্যে বিদ্যমান এবং এগুলোকে কেবল পরিবর্তিত বর্ণের মাধ্যমেই ওজন করা হয়। যদি তিনি বলতেন: অতিরিক্ত বর্ণকে তার নিজ শব্দে প্রকাশ করা হবে, তবে মূল বর্ণের সাথে সন্ধিপ্রাপ্ত (ইদগাম) বর্ণকে তার পরবর্তী বর্ণের মাধ্যমে এবং পুনরাবৃত্ত বর্ণকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে আপনার বলা ‘ইযযাইয়ানা’ এবং ‘ইদদারাকা’ (২) শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—যা ‘ইফ্ফাআলা’ এবং ‘ইফ্ফাআলা’ ওজনে গঠিত। এবং আপনার বলা ‘কারদাদা’, ‘কাত্তাআ’ এবং ‘ইত্তালাবা’ শব্দগুলো ‘ফাল্লালা’, ‘ফাউআলা’ এবং ‘ইফ্ফাআলা’ ওজনে অন্তর্ভুক্ত হতো। আর এটিই হতো অধিকতর উত্তম ও ব্যাপক। তাঁর বক্তব্য ‘অথবা অন্য কিছুর জন্য’ অর্থাৎ: ‘কাত্তাআ’ এর ন্যায় শব্দের ওজনে ‘ফাতলা’ বলা হবে না, বরং ‘ফাউআলা’ বলা হবে। তিনি বলেছেন: (৩) পুনরাবৃত্ত বর্ণের ওজন—মূলত পুনরাবৃত্ত বর্ণকে ‘ফা-আ-লা’ (فعل) এর কোনো একটি বর্ণের মাধ্যমে ওজন করা হয় তাকে মূল বর্ণের সমান্তরাল করার জন্য বা তার সাথে যুক্ত করার (ইলহাক) জন্য। কিন্তু তাদের ‘হাওকালা’ এবং ‘বাইতারা’ শব্দের ওজনে ‘ফাউলালা’ এবং ‘ফাইআলা’ বলা দ্বারা এই বিষয়টি খণ্ডিত হয়। বরং পুনরাবৃত্ত বর্ণকে প্রকাশের কারণ—তা ইলহাক-এর জন্য হোক বা অন্য কিছুর জন্য, কিংবা তা ‘আইন’ বর্ণ হোক বা না হোক—তা-ই যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।
তাঁর বক্তব্য "নিশ্চয়ই তা তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত বর্ণকে ওজনে তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হবে, সেই বর্ণটি ‘আইন’ বর্ণ হোক বা না হোক। তাঁর বক্তব্য "যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত হয়" অর্থাৎ: যদি সেই পুনরাবৃত্ত অক্ষরটি ‘আল-ইয়াওমা তানসাহু’ (اليوم تنساه) এর অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্তও হয়, তবে তাকে তার নিজ শব্দে প্রকাশ করা হবে না; বরং তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হবে। যেমন ‘উশনুন’ শব্দের শেষ ‘নুন’ বর্ণটি ‘আল-ইয়াওমা তানসাহু’ এর অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ওজনে একে ‘নুন’ দ্বারা প্রকাশ করা হবে না, বরং তার পূর্ববর্তী ‘লাম’ বর্ণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২০)
قوله " إلا بثبت " أي: إلا أن يكون هناك حجة تدل على أن المراد من الإتيان بحروف " اليوم تنساه " ليس تكريراً كما قلنا في سَحْنُون - بالفتح - إنه فَعْلُون لا فَعْلُِول.
قوله " ومن ثم " أي: من جهة التعبير عن المكرر بما تقدمه وإن كان من حروف " اليوم تنساه "، ونحن قد ذكرنا أنه لا مانع أن يقال: إنه فعليت قوله " لذلك " أي: لوجوب التعبير عن المكرر بما تقدمه وإنْ كان من حروف الزيادة.
قوله " ولعدمه " أي: لعدم فُعْلُون.
قوله " وسحنون إن صح الفتح " إنما قال ذلك لانه روى الفتح فيه، والمشهور الضم، وحمدون وسحنون: علمان.
قوله " وهو صَعْفُوق " أي: الفَعْلُولُ النادر صَعْفوق، وهو اسم رجل، وبنو صَعْفُوق: خَوَلٌ باليمامة (1) قوله " وَخَرْنُوب ضعيف " المشهور ضم الخاء، وقد منع الجوهري الفتح، ولو ثبت أيضاً لم يدل على ثبوت فَعْلُول، لأن النون زائدة لقولهم الخَرُّوب - بالتضعيف - بمعناه، وهو نبت.
قوله " وخزعال نادر " قال الفراء: لم يأت من غير المضاعف على فَعْلَال إلا قولهم: ناقة بها خَزْعَال: أي ظلْع، وزاد ثعلب قَهْقَاراً، وأنكره الناس، وقالوا:
--------------------------------------------
তাঁর কথা "প্রমাণ ব্যতীত" অর্থাৎ: যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে, "আল-ইয়াওমা তানসাহু" (যে অক্ষরগুলো অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়) এর অক্ষরগুলো নিয়ে আসার উদ্দেশ্য পুনরাবৃত্তি নয়, যেমনটি আমরা 'সাহনুন' (সীন বর্ণে যবর যোগে) শব্দের ক্ষেত্রে বলেছি যে এটি 'ফালুন' ওজনে গঠিত, 'ফালুল' ওজনে নয়।
তাঁর কথা "আর সেখান থেকেই" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত হওয়া বর্ণকে তার পূর্ববর্তী মূল বর্ণ দিয়ে ব্যক্ত করার দিক থেকে, যদিও সেটি "আল-ইয়াওমা তানসাহু" এর অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, একে 'ফালিয়াত' বলাতে কোনো বাধা নেই।
তাঁর কথা "সেজন্য" অর্থাৎ: পুনরাবৃত্ত হওয়া বর্ণকে তার পূর্ববর্তী মূল বর্ণ দিয়ে ব্যক্ত করা আবশ্যক হওয়ার কারণে, যদিও তা অতিরিক্ত অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাঁর কথা "এবং এর অনুপস্থিতির কারণে" অর্থাৎ: 'ফালুন' ওজনের অস্তিত্ব না থাকার কারণে।
তাঁর কথা "এবং সাহনুন—যদি যবর হওয়াটি সঠিক হয়" তিনি এটি একারণেই বলেছেন যে, এতে যবর সহযোগে পড়ার বর্ণনা পাওয়া গেছে, তবে প্রসিদ্ধ হলো পেশ দিয়ে পড়া। আর হামদুন এবং সাহনুন হলো দুটি নাম।
তাঁর কথা "আর তা হলো সা'ফুক" অর্থাৎ: বিরল 'ফালুল' ওজনের শব্দটি হলো সা'ফুক; এটি এক ব্যক্তির নাম। আর বনু সা'ফুক হলো ইয়ামামার সেবক বা রাখাল (১)।
তাঁর কথা "এবং খারনুব—দুর্বল" প্রসিদ্ধ হলো 'খা' বর্ণে পেশ দেওয়া, আর আল-জাওহারী এতে যবর দেওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। আর যদি যবর পড়া প্রমাণিতও হয়, তবে তা 'ফালুল' ওজনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, কারণ এর 'নুন' বর্ণটি অতিরিক্ত; এর প্রমাণ হলো তাদের একই অর্থে ব্যবহৃত তাশদীদ যুক্ত শব্দ 'খাররুব', যা একটি উদ্ভিদের নাম।
তাঁর কথা "এবং খুয'আল—বিরল" আল-ফাররা বলেছেন: দ্বিত্ব বর্ণ (মুদাআফ) ব্যতীত অন্য শব্দে 'ফাল্লাল' ওজনে কোনো শব্দ আসেনি, কেবল তাদের এই প্রবাদটি ছাড়া: "ল্যাংচানো উট"। সা'লাব 'কাহকার' শব্দটি এর সাথে যুক্ত করেছেন, কিন্তু আলেমগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২১)
قَهْقَرٌّ (1) وزاد أبو مالك قَسْطَالا بمعنى قَسْطَلِ، وهو الغبار، وأما في المضاعف كخَلْخَال وَبَلْبَال (2) وَزَلْزَال فكثير.
قال: " ثُمَّ إِنْ كانَ قَلْبٌ في المَوْزُونِ قُلِبَتِ الزِّنَةُ مِثْلَهُ كقولهم في ادر أَعْفُل، وَيُعْرَفُ الْقَلْبُ بِأَصْلِهِ كَنَاءَ يَنَاءُ مَعَ النَّأْيِ، وَبِأَمْثِلَةِ اشْتِقَاقِهِ كَالجَاهِ وَالحَادِي وَالقِسِيِّ، وَبِصِحَّتِهِ كَأَيِسَ، وَبِقِلَّةِ اسْتِعْمَالِهِ كآرَامٍ وآدُرٍ، وبأدَاءِ تَرْكِهِ إِلَى هَمْزَتَيْنِ عِنْدَ الْخَلِيلِ نَحْوَ جَاءٍ، أَوْ إِلَى مَنْعِ الصرف بغير علة على الأصح نَحْوَ أَشْيَاءَ، فَإِنَّها لَفْعَاءُ، وَقَالَ الْكِسَائيُّ: أفْعَالٌ، وَقَالَ الْفَرَّاءُ: أَفْعَاءُ وَأَصْلُهَا أَفْعِلَاءُ، وَكَذِلِكَ الْحَذْفُ كَقَوْلِكَ فِي قَاضٍ فَاعٍ، إِلَاّ أَنْ يُبَيَّنَ فيهما " أقول: يعنى بالقلب تقديمَ بعض حروف الكلمة على بعض، وأكثرُ ما يتفق القلب في المعتل والمهموز، وقد جاء في غيرهما قليلاً، نحو امْضَحَلَّ واكْرَهَفَّ
في اضْمَحَلَّ واكْفَهَرَّ، (3) وأكثر ما يكون بتقديم الآخر على مَتلُوِّهِ كَنَاءَ يَنَاءُ في نأى ينأى، وراء في رأى، وَلاعٍ وهاعٍ وَشَوَاعٍ في لائع وهائع (4)
--------------------------------------------
কাহকার (১) এবং আবু মালিক 'কাসতাল' এর সমার্থক হিসেবে 'কাসতালা' শব্দটি যুক্ত করেছেন, যার অর্থ ধুলাবালি। আর দ্বিরুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে যেমন খালখাল, বালবাল (২) ও যালযাল; এর ব্যবহার অনেক বেশি।
তিনি বলেন: "অতঃপর যদি তুলাদণ্ডভুক্ত শব্দে (মাওযুন) বর্ণ-বিপর্যয় ঘটে, তবে ওজনেও (যিনাহ) অনুরূপ বিপর্যয় ঘটবে, যেমন 'আদুর' শব্দের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি 'আ'ফুল'। বর্ণ-বিপর্যয় চেনা যায় তার মূল উৎসের মাধ্যমে, যেমন 'নয়ুন' এর সাথে 'না-আ ইয়ানা-উ'। আবার এর ব্যুৎপত্তিগত উদাহরণের মাধ্যমেও চেনা যায়, যেমন 'জাহ', 'হাদি' ও 'কিসিয়্যুন'। এছাড়া শব্দের সুস্থতার (অপরিবর্তিত থাকা) মাধ্যমে চেনা যায় যেমন 'আইসা'। ব্যবহারের স্বল্পতার মাধ্যমেও চেনা যায় যেমন 'আরাম' ও 'আদুর'। খলীল-এর মতে বর্ণ-বিপর্যয় পরিত্যাগ করলে দুটি হামযাহ একত্রিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরির মাধ্যমেও এটি চেনা যায়, যেমন 'জা-ইন'। অথবা বিশুদ্ধ মতানুসারে কোনো কারণ ছাড়াই শব্দটিকে দিপ্তোত (অব্যয় বা পরিবর্তনহীন) হওয়া থেকে রক্ষা করার মাধ্যমেও চেনা যায়, যেমন 'আশইয়া'; কারণ এটি 'লাফ'আ' ওজনের। কিসাঈ বলেছেন: এটি 'আফ'আল' ওজনের। ফাররা বলেছেন: এটি 'আফ'আ' এবং এর মূল ছিল 'আফ'ইলাউ'। অনুরূপভাবে বিলোপনও (চেনার মাধ্যম), যেমন 'কাদিন' শব্দের ক্ষেত্রে আপনার উক্তি 'ফায়িন', যদি না উভয় ক্ষেত্রে (বিপর্যয় ও বিলোপন) তা সুস্পষ্ট করা হয়।" আমি বলি: বর্ণ-বিপর্যয় বলতে শব্দের কিছু বর্ণের একটিকে অন্যটির আগে নিয়ে আসাকে বোঝায়। বর্ণ-বিপর্যয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বল বর্ণযুক্ত (মু'তাল) ও হামযাযুক্ত (মাহমুয) শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে। তবে এগুলো ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও এটি সামান্য দেখা যায়, যেমন 'ইমদাহাল্লা' ও 'আকরাহাফ্ফা'
যা 'ইদমাহাল্লা' ও 'ইকফাহাররা' এর স্থলে ব্যবহৃত হয়। (৩) আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের শেষের বর্ণকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের আগে নিয়ে আসার মাধ্যমে এটি ঘটে, যেমন 'না-আ ইয়ানা-উ' যা 'না-আ ইয়ানা-উ' থেকে এসেছে, এবং 'রা-আ' যা 'রা-আ' থেকে এসেছে। এছাড়া 'লা-ইন', 'হা-ইন' ও 'শাওয়াইন' শব্দগুলো 'লাই' ও 'হাই' থেকে এসেছে। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وشوائع (1) والملهاة وأصلها الْمَاهَةُ (2) ، وَأَمْهَيْتُ الحديد (3) في أَمَهْتُهُ، ونحو جَاءٍ عند الخليل، وقد يُقدَّمُ متلوُّ الآخر على العين نحو طَأمَنَ وأصله طَمْأنَ (4) لأنه من الطُّمَأْنِينَة، ومنه اطْمَأَنَّ يطمئنُّ اطمئناناً، وقد تُقَدَّمُ العين على الفاء كما في أَيِسَ وَجَاهٍ وأيْنُقٍ والآراء والآبار والآدُرِ (5) ، وتقدم اللا على الفاء كما في أشياء على الأصح، وقد تؤخر الفاء عن اللام كما في الحادي وأصله الواحد
--------------------------------------------
এবং শুওয়াই' (১) ও আল-মালহাহ, যার মূল হলো আল-মাহাহ (২)। আর আমি লোহাকে পানি দিয়েছি (৩)—এটি ‘আ মাহতুহু’ এর অন্তর্ভুক্ত। আর খালীল (রহ.)-এর নিকট ‘জা-ইন’ এর ন্যায় শব্দসমূহ। কখনো কখনো শেষ বর্ণের পরবর্তী বর্ণটি আইন কালিমার আগে চলে আসে, যেমন ‘ত্ব-মানা’, যার মূল ছিল ‘ত্বম-আনা’ (৪); কেননা এটি ‘তুমানীনাহ’ (প্রশান্তি) থেকে উদ্গত। আর এ থেকেই ‘ইত্বমা-আন্না’, ‘ইয়াত্বমাইন্নু’, ‘ইত্বমীনা-নান’ শব্দসমূহ এসেছে। আবার কখনো আইন কালিমা ফা কালিমার পূর্বে চলে আসে, যেমন ‘আইসা’, ‘জাহ’, ‘আইনুক’, ‘আল-আরা’, ‘আল-আবার’ এবং ‘আল-আদুর’ (৫) শব্দসমূহে। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে লাম কালিমা ফা কালিমার আগে আসে, যেমন ‘আশইয়া’ শব্দে। আবার কখনো ফা কালিমা লাম কালিমার পরে চলে যায়, যেমন ‘আল-হাদি’ শব্দে, যার মূল ছিল ‘আল-ওয়াহিদ’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قوله " بأصله " أي: بما اشْتُقَّ منه الكلمة التي فيها القلب، فان مصدر ناء يناء النأز لا النئ قوله " وبأمثلة اشتقاقه " أي: بالكلمات المشتقة مما اشْتُقَّ منه المقلوبُ،
فان توجه ووجه وَالْوَجَاهَةُ مشتقة من الوجه، كما أن الجاه مشتق منه، وكذلك الواحد وَتَوَّحَد مشتقان من الْوَحْدَة كاشتقاق الحادي منها، والأقواس وَتَقَوَّسَ مشتقان من الْقَوْس اشتقاقَ القِسِيّ منه، وهذا منه عجيب، لم جعله قسما آخر وهو من الأول: أي مما يعرف بأصله؟ ! بل الكلمات المشتقة من ذلك الاصل توكد كون الكلمات المذكورة مقلوبة قوله " وبصحته كأيِس " حَقُّ العلامة أن تكون مطردةً، وليس صحة الكلمة نصا في كونها مقلوبة، إذ قد تكون لاشياء أخر كما في حول وعور
--------------------------------------------
তার বক্তব্য "তার মূল দ্বারা" অর্থাৎ: যে মূল থেকে সেই শব্দটি গঠিত হয়েছে যাতে কাল্ব (বর্ণের স্থান পরিবর্তন) বিদ্যমান। কেননা 'না-আ' (ناء) ক্রিয়াপদ যা 'ইয়ানাউ' (يناء) হয়, তার মাসদার বা মূল হলো 'আন-না'জ' (النأز), 'আন-না-ঈ' (النئ) নয়। তার বক্তব্য "এবং তার ব্যুৎপত্তিগত উদাহরণসমূহ দ্বারা" অর্থাৎ: মাকলুব (স্থানান্তরিত) শব্দটি যেখান থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে, সেই একই মূল থেকে উৎপন্ন অন্যান্য শব্দসমূহ দ্বারা।
কেননা তাওয়াজ্জাহা (توجه), ওয়াজহ (وجه) এবং আল-ওয়াজাহাতু (الوجاهة) শব্দগুলো 'ওয়াজহ' (الوجه) থেকে ব্যুৎপন্ন, যেমন 'আল-জাহ' (الجاه) শব্দটিও তা থেকে ব্যুৎপন্ন। অনুরূপভাবে আল-ওয়াহিদ (الواحد) এবং তাওয়াহ্হাদা (توحد) শব্দ দুটি 'আল-ওয়াহদাহ' (الوحدة) থেকে ব্যুৎপন্ন, ঠিক যেমন 'আল-হাদি' (الحادي) শব্দটি তা থেকে ব্যুৎপন্ন। আর আল-আকওয়াস (الأقواس) এবং তাকাওওয়াসা (تقوس) শব্দ দুটি 'আল-কাওস' (القوس) থেকে ব্যুৎপন্ন, যেমন 'আল-কিসিই' (القسي) শব্দটি তা থেকে ব্যুৎপন্ন। লেখকের পক্ষ থেকে এটি আশ্চর্যজনক যে, কেন তিনি একে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করলেন অথচ এটি প্রথম প্রকারেরই (অর্থাৎ যা মূল দ্বারা চেনা যায়) অন্তর্ভুক্ত? বরং সেই মূল থেকে ব্যুৎপন্ন শব্দগুলো উল্লিখিত শব্দগুলোর মাকলুব হওয়ার বিষয়টিকে আরও সুদৃঢ় করে। তার বক্তব্য "এবং তার সহীহ হওয়ার দ্বারা যেমন আইয়িসা (أيِس)"—চিহ্ন বা আলামতের বৈশিষ্ট্য হলো তা সর্বদা প্রযোজ্য হওয়া। কোনো শব্দের সহীহ হওয়া (ইল্লাত বা পরিবর্তন না হওয়া) সেটি মাকলুব হওয়ার অকাট্য দলিল নয়, কারণ এটি অন্য কোনো কারণেও হতে পারে যেমন 'হাওয়িলা' (حول) এবং 'আওবিরা' (عور) শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَاجْتَوَرُوا وَالْحَيَدَى، وكذا قلة استعمال إحدى الكلمتين وكثرة استعمال الأخرى المناسبة لها لفظاً ومعنى لا تدل على كون القليلة الاستعمال مقلوبةً، فإن رَجْلةً في جمع رَجُل أقل استعمالاً من رِجَال وليست بمقلوبة منه، ولعل مراده أنها إذا كانت الكلمتان بمعنى واحد ولا فرق بينهما إلا بقلب في حروفهما، فإن كانت إحداهما صحيحة مع ثبوت العلة فيها دون الأخرى كأيِسَ مع يئس فالصحيحة مقلوبة من الأخرى، وكذا إن كانت إحداهما أقل استعمالاً مع الفرض المذكور من الأخرى، فالْقُلَّى مقلوبة من الكبرى، كآرام وآدر مع أَرْآم وأَدؤر، مع أن هذا ينتقض بجذب وجبذ، فإن جذب أشهر مع أنهما أصلان (1) على ما قالوا ويصح أن يقال: إن جميع ما ذكر من المقلوبات يُعْرَف بأصله، فالجاه والحادي والقسيّ عرف قلبها بأصولها وهي الوجه والوحدة والقوس، وكذا أيس يأيس باليأس، وآرام وآدر برِئْمٍ وَدَارٍ، فإن ثبت لغتان بمعنًى يُتَوَهَّمُ فيهما القلب، ولكل واحدة منهما أصل كجذب جَذْبَاً وجبذ جَبْذاً، لم يحكم بكون إحداهما مقلوبة من الأخرى، ولا يلزم كون المقلوب قليل الاستعمال، بل قد يكون كثيراً كالحادي والجاه، وقد يكون مَرْفُوض الأصل كالقِسِيِّ، فإن أصله - أعني القووس - غير مستع؟ وليس شئ من القلب قياسياً إلا ما ادعى الخليل فيما أدى تك القلب فيه إلى اجتماع الهمزتين كجاءٍ وسواءٍ (2) ، فإنه عنده قياسي
--------------------------------------------
এবং তারা পাশাপাশি অবস্থান করল এবং তারা বিচ্যুত হল। অনুরূপভাবে, দুটি শব্দের একটির ব্যবহার কম হওয়া এবং শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য শব্দটির ব্যবহার বেশি হওয়া—কম ব্যবহৃত শব্দটি অন্যটি থেকে উল্টে আসা বা মাকলুব হওয়ার প্রমাণ নয়। কেননা 'রাজুল' (ব্যক্তি) শব্দের বহুবচনে 'রাজলাহ' শব্দের ব্যবহার 'রিজাল' শব্দের চেয়ে কম, অথচ এটি 'রিজাল' থেকে পরিবর্তিত কোনো রূপ নয়। সম্ভবত লেখকের উদ্দেশ্য এই যে, যখন দুটি শব্দের অর্থ একই হয় এবং তাদের বর্ণের স্থান পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য না থাকে, তখন যদি একটি শব্দে 'ইল্লাত' বা পরিবর্তনের কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেটি অপরিবর্তিত বা সহীহ থাকে (যেমন 'ইয়াইসা' এর বিপরীতে 'আয়িসা'), তবে সেই অপরিবর্তিত শব্দটি অন্যটি থেকে পরিবর্তিত বা মাকলুব বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে, যদি উল্লিখিত অনুমানের ভিত্তিতে একটি শব্দ অন্যটির চেয়ে কম ব্যবহৃত হয়, তবে কম ব্যবহৃত শব্দটি প্রধান শব্দটি থেকে পরিবর্তিত রূপ হিসেবে বিবেচিত হবে; যেমন 'আর-আম' ও 'আদ-উর' এর বিপরীতে 'আরাম' ও 'আদর'। যদিও 'জাযবা' ও 'জাবাযা'র ক্ষেত্রে এই নিয়মটি খাটে না; কারণ 'জাযবা' শব্দটি অধিক প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী উভয় শব্দই স্বতন্ত্র দুটি মূল ধাতু। এটি বলাও সঠিক যে, উল্লিখিত সকল পরিবর্তিত (মাকলুব) শব্দের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের মূল ধাতুর মাধ্যমে। যেমন 'জাহ' (মর্যাদা), 'হাদী' (একাদশ) এবং 'কুসিয়্যি' (ধনুকসমূহ) শব্দের রূপান্তর চেনা যায় তাদের মূল যথাক্রমে 'ওয়াজহ', 'ওয়াহদাহ' এবং 'কাউস' এর মাধ্যমে। অনুরূপভাবে, 'আইসা-ইয়াইসু' এর মূল হচ্ছে 'ইয়াস' (হতাশা), এবং 'আরাম' ও 'আদর' এর মূল হলো যথাক্রমে 'রিম' ও 'দার'। সুতরাং যদি একই অর্থে এমন দুটি রূপ সাব্যস্ত হয় যেখানে ওলটপালট হওয়ার ধারণা জন্মে, অথচ তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা মূল ধাতু থাকে (যেমন 'জাযবান' ও 'জাবযান'), তবে একটিকে অন্যটির পরিবর্তিত রূপ বলে গণ্য করা হবে না। এছাড়া পরিবর্তিত বা মাকলুব শব্দটি যে সর্বদা কম ব্যবহৃত হবে তা জরুরি নয়, বরং অনেক সময় তা অধিক ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন 'হাদী' এবং 'জাহ'। আবার কখনও মূল শব্দটি পরিত্যক্তও হতে পারে, যেমন 'কুসিয়্যি'; কেননা এর মূল রূপটি—অর্থাৎ 'কুউস'—ব্যবহৃত হয় না। আর এই ওলটপালট বা 'কালব' এর কোনোটিই নিয়মানুগ (কিয়াসি) নয়, কেবল খলীল সেই ক্ষেত্রে একে নিয়মানুগ বলে দাবি করেছেন যেখানে ওলটপালটের কারণে দুটি হামযাহ একত্রে আসার উপক্রম হয়, যেমন 'জা-ইন' এবং 'সাওয়া-ইন'। এটি তাঁর মতে নিয়মানুগ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব - আর-রাযী আল-আস্তারাবাদী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله " وبأداء تركه إلى همزتين عند الخليل كجاءٍ " أي: أن الخليل يعرف القلب بهذا ويحكم به، وهو أن يؤدي تركه إلى اجتماع همزتين، وسيبويه لا يحكم به وإن أدى تركه إلى هذا، وذلك في اسم الفاعل من الأجوف المهموز اللام نحو ساءٍ وجاءٍ، وفي جمعه على فواعل نحو جَوَاءٍ وَسَواءٍ جَمْعَيْ جائية وسائية وفي الجمع الأقصى لمفردٍ لامه همزة قبلها حرف مد كخطايا في جمع خطيئة، وليس ما ذهب إليه الخليل بمتين، وذلك لانه إنما يحتزر عن مكروه إذا خيف ثباته وبقاؤه، أما إذا أدى الأمر إلى مكروه وهناك سبب لزواله فلا يجب الاحتراز من الأداء إليه، كما أن نقل حركة واو نحو مَقُوُول إلى ما قبلها وإن كان مؤدياً إلى اجتماع الساكنين لم يجتنب لَمَّا كان هناك سبب مُزيل له، وهو حذف أولهما، وكذا في مسئلتنا قياسٌ موجب لزوال اجتماع الهمزتين، وهو قلب ثانيتهما في مثله حرف لين كما هو مذهب سيبويه، وإنما دعا الخليل إلى ارتكاب وجوب القلب في مثله أداء ترك القلب إلى إعلالين كما هو مذهب سيبويه، وكثرةُ القلب في الأجوف الصحيح اللام، نحو شاكٍ وشواع في شائك وشوائع، لئلا يهمز ما ليس أصله الهمز والهمز مستثقل عندهم كما يجئ في باب تخفيف الهمزة، ويحذفه بعضهم فيما ذكرت حَذَراً من ذلك، فيقول: رجلٌ هاعٌ لاعٌ بضم العين، فلما رأى فِرَارَهم من الأداء إلى همزة في بعض المواضع أوجب الفرار مما يؤدي إلى همزتين، وأما سيبويه فإنه يقلب الأولى همزة كما هو قياس الأجوف الصحيح اللام نحو قائل وبائع، ثم يقلب الهمزة الثانية ياءً لاجتماع همزتين ثانيهما لام كما سيجئ تحقيقه في باب تخفيف الهمزة، فيتخلص مما يجتنبه الخليل مع عدم ارتكاب القلب الذي هو خلاف الأصل، وقد نقل سيبويه عن الخليل مثل ذلك أيضاً، وذلك أنه حكى عنه أنه إذا
اجتمعت همزتان في كلمة واحدة اختير تخفيفُ الأخيرة نحو جاءٍ وآدم، فقد حكم على ما ترى بانقلاب ياء الجائي عن الهمزة، وهو عين مذهب سيبويه
তাঁর উক্তি "আর খালীল-এর মতে এর বর্জন যখন দুটি হামজার সমাগমের দিকে ধাবিত করে, যেমন জা-ইন" - এর অর্থ হলো: খালীল এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্বলব বা স্থান পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেন এবং এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন। বিষয়টি হলো এই যে, ক্বলব বর্জন করা হলে দুটি হামজা একত্রিত হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু সিবওয়াইহ্ ক্বলবের সিদ্ধান্ত দেন না, যদিও তা বর্জন করা এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। আর এটি মূলত আজওয়াফ শব্দের ইসমুল ফায়েলের ক্ষেত্রে ঘটে যার শেষ বর্ণ বা লাম কালিমা হামজা, যেমন সা-ইন এবং জা-ইন। এছাড়া 'ফাওয়ায়িল' ওজনের বহুবচনের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে, যেমন জাওয়ায়িন এবং সাওয়ায়িন, যা জাইয়াহ ও সাইয়াহ শব্দের বহুবচন। তদ্রূপ এমন একবচন শব্দের চূড়ান্ত বহুবচনের ক্ষেত্রেও এটি পরিলক্ষিত হয় যার শেষ বর্ণ হামজা এবং তার পূর্বে একটি দীর্ঘ স্বরবর্ণ বা মাদ্দ রয়েছে, যেমন খাতীআহ শব্দের বহুবচন খাতায়া। খালীল যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা খুব একটা জোরালো নয়। কারণ, কোনো অপছন্দনীয় বিষয় থেকে তখনই সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যখন তা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পক্ষান্তরে যদি বিষয়টি কোনো অপছন্দনীয় অবস্থার দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তা নিরসনের কারণ বিদ্যমান থাকে, তবে সেই পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক নয়। যেমন মাকউউল সদৃশ শব্দে ওয়াও-এর স্বরচিহ্নকে তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তর করা, যদিও তা দুটি সুকুনযুক্ত বর্ণ একত্রিত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়, তবুও তা বর্জন করা হয়নি; কারণ সেখানে সেই পরিস্থিতি নিরসনের উপায় বিদ্যমান ছিল, আর তা হলো তাদের প্রথমটিকে বিলুপ্ত করা। একইভাবে আমাদের আলোচ্য মাসআলাতেও এমন নিয়ম বিদ্যমান যা দুটি হামজা একত্রিত হওয়ার অবস্থাকে দূর করে দেয়। আর তা হলো অনুরূপ শব্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হামজাকে কোমল বর্ণে রূপান্তরিত করা, যা সিবওয়াইহ্-এর মত। খালীলকে এই ধরনের ক্ষেত্রে ক্বলব করা আবশ্যক মনে করতে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—সিবওয়াইহ্-এর মত অনুযায়ী ক্বলব বর্জন করা দুটি রূপান্তরের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়া আজওয়াফ সহীহুল লাম শব্দে ক্বলবের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন শাইক ও শাওয়ায়ি-এর পরিবর্তে শাকিন ও শুয়া-য়ি। এটি করা হয় যাতে এমন বর্ণে হামজা না আসে যার মূলে হামজা নেই। আর হামজা উচ্চারণ করা তাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টকর মনে হতো, যা হামজা সহজীকরণ অধ্যায়ে আলোচিত হবে। কেউ কেউ এই আশঙ্কায় উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে হামজা বিলুপ্ত করে দেন; ফলে তারা বলেন: আইন বর্ণে পেশসহ জনৈক ব্যক্তি 'হা-উন লা-উন'। যখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তারা কিছু ক্ষেত্রে একটি হামজার উচ্চারণ থেকে পলায়ন করছে, তখন তিনি এমন অবস্থা থেকে পলায়ন করাকে আবশ্যক মনে করলেন যা দুটি হামজার দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে সিবওয়াইহ্ প্রথম বর্ণটিকে হামজায় রূপান্তরিত করেন, যেমনটি আজওয়াফ সহীহুল লাম-এর সাধারণ নিয়ম, যেমন কায়িল ও বায়ি। এরপর তিনি দ্বিতীয় হামজাকে ইয়া বর্ণে রূপান্তরিত করেন যেহেতু দুটি হামজা একত্রিত হয়েছে যার দ্বিতীয়টি শব্দের শেষ বর্ণ। যেমনটি হামজা সহজীকরণ অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে প্রমাণিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি খালীল যা পরিহার করতে চেয়েছিলেন তা থেকে নিষ্কৃতি পান, অথচ তাকে ক্বলব বা স্থান পরিবর্তনের মতো বিষয়—যা মূল নিয়মের পরিপন্থী—তাও করতে হয়নি। সিবওয়াইহ্ খালীলের পক্ষ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন একটি শব্দে দুটি
হামজা একত্রিত হয়, তখন শেষোক্তটিকে সহজ করা পছন্দনীয়, যেমন জা-ইন এবং আদাম। সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন, তিনি জা-ইন শব্দের ইয়া বর্ণটিকে হামজা থেকে পরিবর্তিত হিসেবেই গণ্য করেছেন, যা সিবওয়াইহ্-এর নিজস্ব মতেরই হুবহু অনুরূপ।