(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: -)
المصطلح الأصولي ومشكلة المفاهيم   (علي جمعة)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: المصطلح الأصولي ومشكلة المفاهيم

المؤلف: على جمعة محمد عبد الوهاب (مفتي مصر)

الناشر: المعهد العالمي للفكر الإسلامي - القاهرة

الطبعة: الأولى - 1417 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুল সংক্রান্ত পরিভাষা (المصطلح الأصولي) এবং ধারণাগত সমস্যা (مشكلة المفاهيم)   (আলী জুমা)

বিভাগ: ইসলামি আইনশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: উসুল সংক্রান্ত পরিভাষা (المصطلح الأصولي) এবং ধারণাগত সমস্যা (مشكلة المفاهيم)

লেখক: আলী জুমা মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব (মিশরের মুফতি)

প্রকাশক: ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الكتاب: المصطلح الأصولي ومشكلة المفاهيم

المؤلف: د. علي جمعة محمد (مفتي الديار المصرية)

الناشر: المعهد العالمي للفكر الإسلامي - القاهرة

الطبعة: الأولى - 1417 هـ - 1996 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ: উসূল সংক্রান্ত পরিভাষা (المصطلح الأصولي) এবং ধারণাগত সমস্যা

লেখক: ড. আলী জুমা মুহাম্মদ (মিশরের মুফতি)

প্রকাশক: ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله، والصلاة على رسول الله، وبعد. . .

فقد لاحظنا أنه قد شاع التلاعب بالمفاهيم بإزاء المصطلحات شيوعاً كاد أن

يقضى على الهوية وأصاب الأمة بحالة من الفوضى تعكس الأزمة الفكرية التى تمر بها الأمة مما دفعنى فى إطار المجموعة البحثية لمشروع المفاهيم بالمعهد العالمى للفكر الإسلامى - مكتب القاهرة - أن أتكلم عن قضية المصطلح والاصطلاح وأن أجمع ما تيسر لى في هذا من كتب التراث وأطبقها على تعريف القياس باعتباره مصطحاً أصولياْ وقدمت لذلك بمدخل لقضية المفاهيم والمصطحات، فوفع ذلك

في ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: المدخل.

المبحث الثانى: الاصطلاح.

المبحث الثالث: التطيق على شرح مصطلح القياس.

ومنها يتبين لنا أن التلاعب بصطلحات السلف الصالح، أو عدم فهم

معانيها يؤدى إلى كارثة علمية محققة، وانهيار تام لأركان العلم وضياع لمفاهيمه، وهذا ما نراه الآن بعد احتلال واختلال مفهوم كلمة العلم، والتى كانت تعنى فى تراثنا: الإدراك الجازم المطابق للواقع الناشئ عن دليل والذى شاع استعماله الآن فى مقابلة ترجمة اللفظة الانجليزية Science

ومعناها: العلم المدرك بالحس فقط دون غيره بن وسائل الإدراك العقلية أو السمعية أو العرفانية، مما أدى إلى القول بأن

مسألة الألوهية مسألة غير علمية مما يوِقع فى نفس السامع العامى أنها جهل،

حيث إن ضد العلم، الجهل.

ولقد لُبثت كثير من المصطلحات، وشوهت بإزائها

كثير من المفاهيم مثل الحضارة والدين والتراث والحكومة وغير ذلك مما دعى

الشيخ المرصفى اإلى أن يؤلف كتابه فى أواخر الماضى (الكلم الثمان)

ويتكلم فيه عن ما طراً على مفاهيم كلمات ثمانٍ لاحظ تغير مدلولها بين الماضى والحاضر،

وتقوم الدعاوى الآن لتجديد العلوم الشرعية، ووضع مصطحات جديدة بدعوى الاجتهاد أو بدعوى التيسير، فينبغى الالتفات بدقة إلى ما يمكن أن يحدثه وضع الألفاظ بإزاء المعانى من خلل فى الفهم واضطراب في العلم فعالجت هذه المسألة فى بحثى هذا من حانب علم أصول الفقه.

وعسى اللَّهُ أن ينفع به إنه نعم المولى ونعم النصير.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং রাসূলুল্লাহর ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক, অতঃপর...

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, পরিভাষাগুলোর বিপরীতে ধারণা বা সংজ্ঞাসমূহের অপব্যবহার বা কারসাজি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যা প্রায় আমাদের জাতীয় পরিচয়কে বিলীন করে দিচ্ছে এবং উম্মাহকে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে, যা উম্মাহর বর্তমান বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটেরই প্রতিফলন। এটিই আমাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট’ - কায়রো অফিসের ‘ধারণা বা প্রেষণা গবেষণা প্রকল্পের’ অধীনে ‘পরিভাষা (مصطلح)’ ও ‘পরিভাষা নির্ধারণ (اصطلاح)’ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আমি এই বিষয়ে ঐতিহ্যের (تراث) কিতাবাদি থেকে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা সংগ্রহ করেছি এবং ‘কিয়াস (قياس)’ বা অনুমিতিকে একটি উসুলি (أصولي) পরিভাষা হিসেবে বিবেচনা করে তার সংজ্ঞার ওপর তা প্রয়োগ করেছি। এর আগে আমি ধারণা ও পরিভাষা সংক্রান্ত বিষয়ের একটি ভূমিকা পেশ করেছি। পুরো বিষয়টি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিভাষা নির্ধারণ (اصطلاح)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘কিয়াস (قياس)’ পরিভাষার ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ।

এখান থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, সালাফে সালেহীন (السلف الصالح)-দের পরিভাষা নিয়ে কারসাজি করা অথবা সেগুলোর অর্থ না বোঝা একটি নিশ্চিত তাত্ত্বিক বিপর্যয়, জ্ঞানের স্তম্ভগুলোর পূর্ণাঙ্গ ধস এবং এর মৌলিক ধারণাগুলো হারিয়ে যাওয়ার দিকে পরিচালিত করে। ‘ইলম (علم)’ বা জ্ঞান শব্দের ধারণার বিকৃতি ও বিচ্যুতি ঘটার ফলে আমরা এখন বর্তমানে সেটিই দেখতে পাচ্ছি। আমাদের ঐতিহ্যে ‘ইলম’ বলতে বোঝানো হতো: দলিলভিত্তিক বাস্তবসম্মত সুনিশ্চিত উপলব্ধি; যা বর্তমানে ইংরেজি শব্দ ‘Science’-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যার অর্থ হলো: কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, যেখানে বুদ্ধিভিত্তিক, শ্রবণলব্ধ (سمعية) বা আধ্যাত্মিক (عرفانية) উপলব্ধির মাধ্যমগুলোকে উপেক্ষা করা হয়। এর ফলে এই দাবি উত্থাপিত হয়েছে যে, ঈশ্বরত্বের (ألوهية) বিষয়টি একটি অবৈজ্ঞানিক বিষয়, যা সাধারণ শ্রোতার মনে এমন ধারণা সৃষ্টি করে যে এটি হয়তো অজ্ঞতা; কেননা ইলম বা জ্ঞানের বিপরীত হলো অজ্ঞতা (جهل)।

অনেক পরিভাষাকে অস্পষ্ট করে ফেলা হয়েছে এবং এর বিপরীতে সভ্যতা (حضارة), ধর্ম (دين), ঐতিহ্য (تراث), শাসনব্যবস্থা (حكومة) ইত্যাদি অনেক ধারণাকে বিকৃত করা হয়েছে। এ কারণেই শেখ আল-মারসাফি গত শতাব্দীর শেষের দিকে তাঁর বই ‘আল-কালিম আল-সামান’ (আটটি শব্দ) রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি এমন আটটি শব্দের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোর অর্থের পরিবর্তন তিনি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে লক্ষ্য করেছিলেন।

বর্তমানে শরয়ি জ্ঞান (العلوم الشرعية) সংস্কারের জন্য এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) বা সহজীকরণের অজুহাতে নতুন পরিভাষা তৈরির দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। তাই অর্থের বিপরীতে শব্দ চয়নের ফলে উপলব্ধির ক্ষেত্রে যে বিভ্রান্তি এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, সেদিকে সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আমি আমার এই গবেষণায় উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছি।

আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকার দান করুন, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحث الأول

مدخل لقضية المفاهيم والمصطلحات
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول)

ধারণা (المفاهيم) ও পরিভাষা (المصطلحات) সংক্রান্ত বিষয়ের ভূমিকা (مدخل)
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول

مدخل لقضية المفاهيم والمصطلحات

‌‌أولاً: تجديد المشكلة وتصورها:

1 - لقد اطلعنا على دين الإسلام المنقول إلينا عبر النبى صلى الله عليه وسلم، من مصادره الكتاب والسنة، واطلعنا أيضاً على فهم المسلمين - فيما اتفقوا عليه - لهذا الدين، وفهمنا من ذلك صورة معينة مرضية، ثم رأينا أن هناك تحولاً شديدا عن الدين بهذا المفهوم الموروث والذى ارتضيناه وهذا التحول شاع فى حياتنا الثقافية وبين جمهور المثقفين، ورأينا تصوراً آخر ودعوى أخرى لنيل السعادة فى الدنيا، والتمكن فى الأرض، وكلما أطلعنا على دين الله وجدناه بالمعنى الموروث أقرب إلى الواقع وأشد ثيابا لتحقيق سعادة الدارين الدنيا والآخرة.

2 - فالإسلام عقيدة ينبثق عنها نظام، والعقيدة إدراك جازم ثابت والعقيدة

الصحيحة مطابقة للواقع عن دليل وبرهان، وترى العقيدة الإسلامية أن هذا

الكون مخلوق للة تعالى، وأن الله قد أرسل الرسل وأنزل الكتب عن طريق الوحى لإرشاد العباد لما خلقهم له، وأنه سبحانه قد خلق الخلق لأمرين: -

أ - لعبادته

ب - ولعمارة الأرض

وأنزل لهم شريعة يلتزمون بها ومنهاجاً يسيرون على هديه لتحقيق هذين

الهدفين، وختم الرسالة بالنبى محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، (فالله يأمر وينهى والعبد يطيع ويلتزم) هذه هى صورة الكون، التى أخبر الله عن كل ما فيه أنه مسخر للإنسان فقال: (وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ)

3 - أما صورة الإنسان: فهو مخلوق له جسد وله نفسية وهناك صلة

بينهما، ووضع الإسلام للإنسان ما يناسب تركيبه الجسدى من أنواع المآكل

والمشارب والبيئات والعلاقات فحرم عليه ما يذهب العقل من خمر أو مخدر وما هو خبيث، قال تعالى: (وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ) ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم

"من لا يشكر للناس لا يشكر لله "

وقال تعالى (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ)

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم

"من لا يرحم لا يرحم "

"إن الله يحب من أحدكم إذا عمل عملاً أن يتقنه ".
প্রথম পরিচ্ছেদ

ধারণা ও পরিভাষা সংক্রান্ত বিষয়ের ভূমিকা

‌‌প্রথমত: সমস্যার স্বরূপ নির্ধারণ ও তার অনুধাবন:

১ - আমরা নবী (সা.)-এর মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছানো ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এর উৎসসমূহ—কিতাব ও সুন্নাহ হতে অবগত হয়েছি। আমরা ইসলাম সম্পর্কে মুসলমানদের ঐকমত্যপূর্ণ বুঝ ও ব্যাখ্যা সম্পর্কেও অবগত হয়েছি এবং তা থেকে একটি সুনির্দিষ্ট সন্তোষজনক রূপরেখা অনুধাবন করেছি। এরপর আমরা লক্ষ্য করলাম যে, এই পরম্পরাগত ধারণালব্ধ দ্বীন যা আমরা গ্রহণ করেছি, তা থেকে এক ভয়াবহ বিচ্যুতি ঘটছে। এই বিচ্যুতি আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনে এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আমরা দুনিয়াবি সুখ অর্জন এবং পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক ধারণা ও দাবির সম্মুখীন হয়েছি। অথচ আমরা যখনই আল্লাহর দ্বীন নিয়ে গবেষণা করেছি, তখনই এই পরম্পরাগত অর্থের দ্বীনকেই বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী এবং ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতের সুখ অর্জনের জন্য অধিক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে পেয়েছি।

২ - ইসলাম হলো এমন এক আকিদা যা থেকে একটি জীবনব্যবস্থা উদ্ভূত হয়। আকিদা হলো একটি অকাট্য ও দৃঢ় উপলব্ধি। আর বিশুদ্ধ (صحيح) আকিদা দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। ইসলামী আকিদা অনুযায়ী এই মহাবিশ্ব মহান আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, সে পথে পরিচালনার জন্য ওহির মাধ্যমে নবিদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা মাখলুকাতকে দুটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন:

ক - তাঁর ইবাদতের জন্য

খ - পৃথিবী আবাদের জন্য

আর তিনি তাদের জন্য এমন এক শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন যা তারা মেনে চলবে এবং এমন এক পথনির্দেশ দিয়েছেন যার আলোকে তারা এই দুটি লক্ষ্য অর্জনে অগ্রসর হবে। তিনি নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। (আল্লাহ আদেশ ও নিষেধ প্রদান করেন আর বান্দা তা আনুগত্য ও পালন করে)—এটিই হলো মহাবিশ্বের সেই চিত্র, যার মধ্যে বিদ্যমান সবকিছুর ব্যাপারে আল্লাহ জানিয়েছেন যে, তা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন: "আর তিনি আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুকে তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন।"

৩ - মানুষের স্বরূপ হলো: সে এমন এক সৃষ্টি যার দেহ ও মনস্তত্ত্ব রয়েছে এবং এই উভয়ের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের দৈহিক কাঠামোর উপযোগী বিভিন্ন প্রকার পানাহার, পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিধান ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই ইসলাম মানুষের জন্য এমন সব অপবিত্র বস্তু হারাম করেছে যা বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, যেমন মদ বা মাদকদ্রব্য। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন।" রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"

মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দাও।"

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।"

"নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজ করে, সে যেন তা সুচারুভাবে সম্পাদন করে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১২)
"أحب الأعمال للهِ أدومها وإن قل "، في غير ما آية وحديث تعالج تنظيم تلك الحياة.

2 - ويرى الإسلام بمفهومه الموروث أن الإنسان ذو فطرة خيرة وأن

الشر أمر طارئ عليه، فهو يولد خيرا سويا فى نفسيته، كما خلق سوياً معتدلاً فى جسده.

قال تعالى (لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (4)

وقال (فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (30) ،

قال ابن كثير فى تفسيره "ونفسٍ وما سواها": أى خلقها سوية مستقيمة على الفطرة،

ويصف ابن القيم

الإنسان فى تفسيره (ص 374)

قال: قلبه مضيء يكاد يعرف الحق بفطرته وعقله ولكن لا مادة له من نفسه

فجاءت مادة الوحى فباشرت قلبه وخالطت بشاشته فازداد نوراً بالوحى على نوره الذى فطره الله تعالى عليه، فاجتمع له نور الوحى إلى نور الفطرة، نور على نور، فيكاد ينطق بالحق وإن لم يسمع فيه أثراً، ثم يسمع الأثر مطابقاً لما شهدت به فطرته فيكون نورا على نور" ا. هـ

5 - والخير الذى فطر عليه الإنسان هو:

أ - السلامة من العيوب

ب - الاعتراف بعبودية الإنسان لخالق واحد

جـ - أصول القيم الأخلاقية: فهو يعرف أن الشكر خير محمود وأن

الجحود شر مذموم.

د - أصول المعرفة العقلية: يعلم أن الأثر يدل على المؤثر وأن الكل أكبر

من الجزء وأن التناقض باطل.

هـ - أصول القيم الجمالية: كحب الجمال والنظافة والنظام والخير

والقوة -. إلخ.

و الغرائز والحاجات التى تدفع الإنسان إلى حفظ النفس والنوع بالأكل

والشرب والسكن واللباس والتزاوج.

ز - القدرة على العمل والتفكير والإبداع والاختيار.

6 - فمعنى الفطرة أن الله صاغ الإنسان وكونه وركبه بحيث لا يصلح له

إلا الخير، وأن الله جعل معرفة ذلك مركوزة فى الإنسان لا يحتاج إلى من يعلمه ذلك من خارجه وإن كان العلم الخارجى يزيدة قوة. ومع ذلك
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়" - জীবন পরিচালনার ব্যবস্থা সম্পর্কিত বহু আয়াত ও হাদিস রয়েছে।

২ - ইসলাম তার ঐতিহ্যগত ধারণায় মনে করে যে, মানুষ উত্তম স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) অধিকারী এবং অকল্যাণ বা মন্দ একটি বাহ্যিক বিষয় যা তার ওপর আপতিত হয়। সে মানসিকভাবে উত্তম ও সুঠাম হয়ে জন্মগ্রহণ করে, যেমন তার দেহ সুঠাম ও সুষমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে।" (৪)

তিনি আরও বলেন: "তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। আল্লাহর দেওয়া সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) ওপর চলো, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" (৩০),

ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে 'শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন' আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ তিনি তাকে স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) ওপর সুষম ও সঠিকরূপে সৃষ্টি করেছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম

তাঁর তাফসিরে (পৃষ্ঠা ৩৭৪) মানুষের বর্ণনা দিতে গিয়ে

বলেন: তার অন্তর জ্যোতির্ময়, সে তার সহজাত স্বভাব (فطرة) ও বুদ্ধি দিয়ে সত্যকে চিনতে পারে, কিন্তু তার নিজের মধ্যে এর কোনো স্বতন্ত্র উপাদান থাকে না।

অতঃপর ওহির উপাদান আসলো এবং তা তার অন্তরে প্রবেশ করে তার হৃদয়ের গভীরের সাথে মিশে গেল। ফলে আল্লাহ তাকে যে স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) ওপর সৃষ্টি করেছিলেন, ওহির মাধ্যমে সেই নূরের ওপর তার নূর আরও বৃদ্ধি পেল। এভাবে তার জন্য ওহির নূরের সাথে স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) নূর একত্রিত হলো, যা নূরের ওপর নূর। সে প্রায় সত্য উচ্চারণ করতে থাকে যদিও সে বিষয়ে কোনো বর্ণনা (أثر) শুনেনি। এরপর যখন সে বর্ণনা (أثر) শোনে, তখন তা তার স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সাক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, ফলে তা নূরের ওপর নূরে পরিণত হয়।" সমাপ্ত।

৫ - আর যে কল্যাণের ওপর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা হলো:

ক - ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকা।

খ - এক স্রষ্টার প্রতি মানুষের দাসত্ব বা বন্দেগি স্বীকার করা।

গ - নৈতিক মূল্যবোধের মূলনীতি: সে জানে যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একটি প্রশংসনীয় কল্যাণ এবং

অকৃতজ্ঞতা একটি নিন্দনীয় মন্দ।

ঘ - বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের মূলনীতি: সে জানে যে চিহ্ন (أثر) প্রভাবকের ইঙ্গিত দেয় এবং সমগ্র অংশটি

খণ্ডিত অংশের চেয়ে বড়, আর বৈপরীত্য বাতিল বা ভিত্তিহীন।

ঙ - নান্দনিক মূল্যবোধের মূলনীতি: যেমন সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, কল্যাণ

এবং শক্তির প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি।

চ - প্রবৃত্তি ও প্রয়োজনীয়তা যা মানুষকে আহার,

পানীয়, আবাসন, পোশাক ও বিবাহের মাধ্যমে জীবন ও বংশধারা রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।

ছ - কর্মক্ষমতা, চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং পছন্দের ক্ষমতা।

৬ - সুতরাং স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) অর্থ হলো এই যে, আল্লাহ মানুষকে এমনভাবে গঠন ও সৃষ্টি করেছেন এবং সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন যেন

কল্যাণ ছাড়া তার জন্য অন্য কিছু উপযুক্ত না হয়। আর আল্লাহ এই জ্ঞান মানুষের অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন, যার ফলে বাইরে থেকে কেউ তা শিখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, যদিও বাহ্যিক জ্ঞান একে আরও শক্তিশালী করে। তথাপি...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
فالإنسان له إرادة يستطيع أن يسير فى طريق الخير أو الشر إن شاء يسعد أو

يشقى.

7 - وطبقاً لهذه الصورة للإنسان فى هذا الكون، ولأهدافه المطلوب

تحقيقها (العبادة والعمران) ، فإن تعليم الإنسان ونقل المعرفة منه وإليه - وكما هو مفهوم من مصادر الشريعة وما عليه المحققون من علماء المسلمين - يجب أن يكون فى إطار معرنى محدد، مصادره الوحي والوجود.

8 - أما الوحى، فهو خطاب اللهِ تعالى للبشر، وهذا الخطاب مدلول عليه

بالقرآن الكريم، وهو كتاب الله المنقول إلينا بالتواتر بين دفتى المصحف المتعبد بتلاوته، وبسنة رسوله وهى ما صح عنه عن طريق الرواية بصحة الأسانيد، وثقة الرواة الناقلين، وبصحة معناه بحيث لا يتعارض مع غيره من أصول الشرع المنقولة المستقرة.

9 - أما الوجود، ففرق العلماء والمفكرون بين الواقع وبين نفس الأمر. فالواقع هو ما يدرك بالحواس البشرية، والملاحظ أنه ثابت عبر الأزمان، فما زال الماء سائلا لطفاً يسبب الري وتقبله الفطرة للطهارة والاستعمال، وما زالت الشمس ترى وهى تسير فى السماء من المشرِق إلى المغرب، هكذا. ومن الملاحظ أن الوحى وهو يخاطب الجميع يخاطبهم طبقا للواقع أى ما تدركه الحواس البشرية

من غير واسطة بل ويبنى أحكامه على ذلك ولا يعارض ولا ينهى عن معرفة نفس الأمر.

أما نفس الأمر، فهو مختلف وغير ثابت، فالمقصود بنفس الأمر ما وراء

الحواس البشرية، أى الحياة المجهرية سواء الميكرسكوبية أو التليسكوبية، فإن نقطة الماء تحت الميكرسكوب ستظهر بما فيها من آلاف أو ملايين البكتريا: لما تعافه النفس البشرية أن تقدم على شربه لو اطلع عليه عموم الناس، والقمر الذى تغنى بجماله وبهائه الشعراء سطح مخربش قبيح تحت نظر التليسكوب، وهذه الصورة للماء والقمر ليست نهاية المطاف بل إن الماء مكون من أيدروحين يشتعل وأكسوجين يساعد على الاشتعال وحقيقة الحسبة ليست كذلك، وليس هذا نهاية المطاف فإن ذرة الأيدروجِن فيها نواة واليكترون يسير حولها والنواة لها مكونات، وهكذا فإن الحقيقة التى عند الله فى وجوده يكتشف الإنسان كل يوم منها بقدر لا يحيط بها، فإن قلنا إن نفس الأمر هو ما عند الله فإن الطريق ما بين الواقع المشاهد المحسوس بالحواس البشرية وبين نفس الأمر سيمر الإنسان فيه من مرحلة إلى مرحلة، ومن إطلاع إلى إطلاع (وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ (76) .
মানুষের ইচ্ছা রয়েছে, সে চাইলে কল্যাণ অথবা অকল্যাণের পথে চলতে পারে; চাইলে সে সুখী হতে পারে অথবা

দুর্ভাগা হতে পারে।

৭ - এই মহাবিশ্বে মানুষের এই রূপ এবং তার অর্জনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহের (ইবাদত ও আবাদকরণ) প্রেক্ষিতে, মানুষের শিক্ষা এবং তার মধ্যে ও তার থেকে জ্ঞান আদান-প্রদান করা - শরিয়তের উৎসসমূহ থেকে যা অনুধাবন করা যায় এবং মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে যারা গবেষক তাদের অভিমত অনুযায়ী - একটি নির্দিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে হওয়া আবশ্যক, যার উৎস হলো ওহি এবং অস্তিত্ব (জগত)।

৮ - আর ওহি হলো মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তাআলার সম্বোধন; এই সম্বোধন পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে নির্দেশিত, যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংকলিত, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রে (تواتر) পৌঁছেছে। অনুরূপভাবে রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমেও তা নির্দেশিত, যা সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الأسانيد) এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এর ভিত্তিতে বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর থেকে সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, এবং যার অর্থের বিশুদ্ধতা এমন যে তা শরিয়তের অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত ও বর্ণিত মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না।

৯ - আর অস্তিত্বের (জগত) ক্ষেত্রে, আলেমগণ ও চিন্তাবিদগণ 'বাস্তবতা' এবং 'প্রকৃত স্বরূপ'-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। বাস্তবতা হলো তা যা মানুষের ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় এবং এটি লক্ষ্যণীয় যে তা সর্বযুগে অপরিবর্তিত। যেমন- পানি সর্বদা তরল ও কোমল রয়ে গেছে যা তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি একে পবিত্রতা ও ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করে। সূর্যকে আকাশপথে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পরিভ্রমণ করতে দেখা যায়, এভাবেই চলে আসছে। এটি লক্ষ্যণীয় যে, ওহি যখন সবাইকে সম্বোধন করে, তখন তা মানুষের ইন্দ্রিয়লব্ধ সরাসরি বাস্তবতার নিরিখেই সম্বোধন করে, এমনকি ওহি তার বিধানসমূহকে এর ওপরই ভিত্তি করে এবং প্রকৃত স্বরূপ সন্ধানে কোনো বাধা প্রদান করে না।

আর প্রকৃত স্বরূপ হলো ভিন্ন এবং পরিবর্তনশীল। প্রকৃত স্বরূপ বলতে মানুষের ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়ের অন্তরালে যা রয়েছে তাকে বোঝায়, অর্থাৎ অণুবীক্ষণিক বা দূরবীক্ষণিক জগত। যেমন- এক ফোঁটা পানি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখলে তাতে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া দৃশ্যমান হবে; যা সাধারণ মানুষ দেখলে তাদের মন তা পান করতে ঘৃণা বোধ করবে। আবার কবিরা যার সৌন্দর্য ও জৌলুসের প্রশংসা করেন সেই চাঁদ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে একটি কর্কশ ও কুৎসিত পৃষ্ঠ হিসেবে ধরা দেয়। পানি ও চাঁদের এই চিত্রই শেষ কথা নয়; বরং পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত যা দহনশীল ও দহনে সহায়তাকারী, কিন্তু প্রকৃত স্বরূপ বিষয়টি কেবল এমন নয়। এটিও শেষ কথা নয়, কারণ হাইড্রোজেনের পরমাণুতে নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন রয়েছে যা একে কেন্দ্র করে ঘোরে এবং নিউক্লিয়াসেরও উপাদান রয়েছে। এভাবেই আল্লাহর কাছে তাঁর অস্তিত্বের যে প্রকৃত সত্য রয়েছে, মানুষ প্রতিদিন তার সামান্য অংশই উন্মোচন করতে পারে কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পারে না। যদি আমরা বলি যে 'প্রকৃত স্বরূপ' হলো তা যা আল্লাহর নিকট রয়েছে, তবে দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা থেকে প্রকৃত স্বরূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে মানুষকে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে এবং এক পর্যবেক্ষণ থেকে অন্য পর্যবেক্ষণে যেতে হবে (আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে রয়েছেন মহাজ্ঞানী - সূরা ইউসুফ: ৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
10 - ومن هنا كان لابد للقيم الأخلاقية والاجتماعية أن تكون أقرب إلى

الواقع المعاش الذى يتعامل منه الإنسان لا مع ما أدركه من نفس الأمر، وكان لابد أن تكون معرفة الإنسان مقيدة بالوحى والوجود معاً، فالوحى يرشد إلى خير نظام لأنه صادر من عليم بنفس الأمر دون أن يجعل نفس الأمر موضوعاً ينتظره المفكرون، ولقد أخطأت الفلسقة الغربية حينما انهارت أمام نفس الأمر وتشككت فى قدراتها فى القرن التاسع عشر حتى لم يبق للحاقائق معنى ولا ثبات، فالحق أو الواقع حقيقة ثابتة وأن الطريق إلى معرفة نفس الأمر هو المتغير.

11 - ولقد أخطأت فرق من المسلمين حينما - تمسكوا بظاهر الوحى وأنكروا جهة الوجود وأنكروا نفس الأمر لمخالفته لظاهر الوحى بزعمهم كمن أنكروا دوران الأرض لنصوص تصرح بجريان الشمس (وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا) .

كما أخطاً من المسلمين من أنكر الوحى أو تأويله أو شك فيه أو كفر به

فارتد، حينما أيد الوجود والسعي فى طريق نفس الأمر عند التعارض الظاهري، حيث لم يلتفت إلى الفرق بين الأمرين.

12 - واللغة الموررثة إنما وضعت لبيان الواقع لا لبيان نفسى الأمر، بل إن

نفس الأمر قد لا تحتمله ألفاظ اللغة فيلجأ إلى الرمز، أو إلى ألفاظ مولدة هى

عبارة عن اختصارات لكلمات كثيرة.

13 - والوضع: الوضع هو جعل اللفظ بإزاء المعنى، والواضع والجاعل

لذلك قد تكون اللغة أو الشرع أو أهل العرف العام أو أهل العرف الخاص.

14 - واختلف المفكرون المسلمون فى نشأة اللغة وأصلها، فذهب فريق

إلى أنه وضع إلهى وأن الله علم آدم الأسماء كلها، وفريق آخر إلى أنهم البشر

وثالث إلى أن أصول الكلمات من الله والتفريع والاشتقاق قام به البشر بعد معرفة القانون الكلى، كأن ما على وزن فاعل فى اللغة العربية يفيد من قام بالفعل، كالضارب والشارب. وتوقف فريق رابع لأن هذا المبحث لم يقم عليه دليل لا من الوحى ولا من التاريخ عندهم والأكثر على الرأي الأول ودليله (وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا) وأن هناك ألفاظا مثل لفظ الجلالة (الله) لا يمكن للبشر وضعه بإزاء مكناه حيث أنه خارج في الحس، ويمكن وضع إله لما فطروا عليه من وجود إله للعالم، ولكن كلمة (الله) غير كلمة (إله) فهى علم على الذات الواجب الوجود المستحق لجميع المحامد ولم يتسم به غيره مما يدل على أن ذلك الوضع من خارج البشر، إلى آخر أدلتهم.

15 - والشرع يأتى وينقل من معناه اللغوي إلى معنى آخر يريده فيصبح
10 - আর এখান থেকেই নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোর জন্য এটি আবশ্যক ছিল যে, তা মানুষের প্রাত্যহিক বাস্তব জীবনের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠ হবে

যা নিয়ে মানুষ কারবার করে; বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (نفس الأمر) সম্পর্কে যা সে অনুধাবন করেছে কেবল তার সাথে নয়। এটিও আবশ্যক ছিল যে, মানুষের জ্ঞান ওহি (وحي) এবং অস্তিত্ব—উভয়ের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কেননা ওহি (وحي) সর্বোত্তম ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে, কারণ এটি এমন একজনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (نفس الأمر) সম্পর্কে সর্বজ্ঞ (عليم); ওহিকে বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (نفس الأمر) হিসেবে নির্ধারণ না করেই যা চিন্তাবিদদের জন্য এক প্রতীক্ষিত বিষয়ে পরিণত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা দর্শন যখন বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার (نفس الأمر) সামনে ভেঙে পড়েছিল এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়ে নিপতিত হয়েছিল, তখন তারা ভুল করেছিল। এমনকি তখন সত্যের কোনো অর্থ বা স্থায়িত্ব অবশিষ্ট ছিল না। অথচ সত্য বা বাস্তব হলো একটি অটল বাস্তবতা, আর বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (نفس الأمر) জানার পথটি হলো পরিবর্তনশীল।

11 - মুসলমানদের কিছু দল তখন ভুল করেছিল যখন তারা ওহির (وحي) বাহ্যিক অর্থের ওপর অটল থেকে বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছিল এবং তাদের ধারণামতে ওহির (وحي) বাহ্যিক অর্থের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতাকে (نفس الأمر) অস্বীকার করেছিল। যেমন তারা সূর্যের গতিশীলতা স্পষ্টকারী ভাষ্যের (এবং সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবমান) কারণে পৃথিবীর আহ্নিক গতিকে অস্বীকার করেছিল।

একইভাবে মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তিও ভুল করেছে যে ওহিকে (وحي) অস্বীকার করেছে, অথবা এর ভুল ব্যাখ্যা (تأويل) দিয়েছে, অথবা এতে সন্দেহ পোষণ করেছে কিংবা ওহিকে কুফরি (كفر) করে ধর্মত্যাগ (ارتداد) করেছে;

যখন সে আপাতদৃষ্টে বিরোধের সময় অস্তিত্বের বাহ্যিক দিক এবং বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার (نفس الأمر) পথকে সমর্থন করেছিল, অথচ সে এই দুই বিষয়ের পার্থক্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি।

12 - আর উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভাষা মূলত বাস্তবতাকে বর্ণনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতাকে (نفس الأمر) বর্ণনার জন্য নয়। বরং

বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা (نفس الأمر) হয়তো ভাষার শব্দসমূহ সহ্য করতে পারে না, ফলে রূপকের আশ্রয় নিতে হয়, অথবা এমন সব নবসৃষ্ট পরিভাষার আশ্রয় নিতে হয় যা

অনেকগুলো শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ।

13 - আর শব্দপ্রয়োগ (الوضع): শব্দপ্রয়োগ (الوضع) হলো কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য শব্দ নির্ধারণ করা। আর এই প্রয়োগকারী বা নির্ধারক

হতে পারে ভাষা, শরিয়ত (الشرع), সাধারণ প্রথা (العرف العام) কিংবা বিশেষ প্রথা (العرف الخاص)।

14 - ভাষার উৎপত্তি ও মূল ভিত্তি নিয়ে মুসলিম চিন্তাবিদগণ মতভেদ করেছেন। একদল অভিমত দিয়েছেন যে,

এটি একটি ঐশ্বরিক নির্ধারণ (وضع إلهي) এবং আল্লাহ তাআলাই আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন। অন্য দল মনে করেন যে, এটি মানুষের সৃষ্টি।

তৃতীয় একটি মত হলো, শব্দের মূল ভিত্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং এর শাখা-প্রশাখা ও ব্যুৎপত্তিগত রূপান্তর মানুষের দ্বারা সাধিত হয়েছে যখন তারা এর সামগ্রিক নিয়মাবলী জানতে পেরেছে। যেমন আরবি ভাষায় 'ফা-য়িল' (فاعل) ওজনের শব্দগুলো সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে কাজটি সম্পাদন করেছে, যেমন: প্রহারকারী (الضارب) ও পানকারী (الشارب)। চতুর্থ একটি দল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন, কারণ তাদের মতে এই বিষয়ের ওপর ওহি (وحي) বা ইতিহাস থেকে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। তবে অধিকাংশ আলেম প্রথম মতটির পক্ষালম্বন করেছেন এবং এর প্রমাণ হলো— (এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন)। এছাড়া আরও দলিল হলো, 'আল্লাহ' (الله) শব্দের মতো এমন কিছু শব্দ আছে যা মানুষ এর অর্থের বিপরীতে নিজে থেকে নির্ধারণ করতে পারে না, কারণ তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে। মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে জগতের একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব থাকার কারণে তারা 'ইলাহ' (إله) শব্দটির প্রচলন করতে পারত, কিন্তু 'আল্লাহ' (الله) শব্দটি 'ইলাহ' (إله) শব্দ থেকে ভিন্ন। এটি এমন এক সত্তার নাম যিনি আবশ্যম্ভাবী সত্তা (واجب الوجود), যিনি যাবতীয় প্রশংসার যোগ্য এবং এই নামে অন্য কাউকে কখনো অভিহিত করা হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, এই শব্দপ্রয়োগ মানুষের সাধ্যের বাইরের বিষয়—এটিই তাদের দলিলের সারাংশ।

15 - আর শরিয়ত (الشرع) এসে শব্দকে তার আভিধানিক অর্থ থেকে অন্য একটি অর্থের দিকে স্থানান্তরিত করে যা সে উদ্দেশ্য করে, ফলে তা হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
للكلمة معنى فى اللغة ومعنى فى الشرع، فالصلاة معناها العطف لغة وجاء

الشارع ليجعل معناها أفعال مخصوصة تبدأ بالتكبير وتنتهى بالتسليم لعبادة الله، والعطف الذى هو معتاها فى اللغة يؤخد منه معنى الثنى فسمى الفرس الثانى فى السباق مصلى، وأخذ منه معنى الدعاء لأن الداعى وهو طرف من الأطراف يدعو وينتظر الإجابة من الطرف الآخر.

16 - وأهل العرف العام قد يستقر عندهم معنى للكلمة هو أخص من

معناها فى اللغة وهذا يسميه أهل النحو العلم بالغلبة، وهو أن يكون للفظ عموم بحسب الوضع اللغوى فيعرض له خصوص بحسب الاستعمال، فكلمة عقبة أو مدينة تستعمل فى اللغة لأى عالًق فى الطريق أو لأى تجمع سكنى، وغلب عند أهل العرف العام تسمية المكان الخصوصى بالبحر الأحمر عقبة أو عند إطلاق المدينة ينصرف الذهن إلى المدينة المنورة بالحجاز، والدابة فى اللغة لكل ما يدب على الأرض وفى الاستعمال أصبحت للفرس والحمار خاصة.

وقد يستعمل أهل العرف العام والمقصود بهم عموم الناس فى بلد معين

لفظة لغوية فى غير معناها اصلاً، فيصبح إطلاقها فى اصطلاح المخاطبين يعنى

ذلك المعنى، لا المعنى العجمى مثل كلمة دبوس وهى لغة آلة من أدوات الحرب التى شاع استعمالها فى المشبك فى العرف العام.

17 - ومن الملاحظ أن وضع العرف العام للألفاظ بإزاء المعانى إنما هو فى

قليل محصور من الكلمات، وإلا لو كثر وزاد زيادة كبيرة لانقطع التفاهم بالكلية بين متعلم العربية وبين عمرم الناس، وهذا خلاف الواقع المشاهد على أن كثيرا من صعوبة الفهم بينهما ترجع إلى استحداث معان جديدة لألفاظ لها معان أخرى

في اللغة الأم.

18 - وأهل العرف هم الكاتبون والباحثون فى العلوم المختلفة، وأهل كل

فن أو علم لهم وضع مستقل للألفاظ بإزاء المعانى، وهو ما يسمى بالمصطلح،

ولابد لهذا المصطلح: -

أ - أن يكون شائعاً بين أهل الفن الواحد شيوعا تاماً.

ب - أن يكون مقبولاً قبولَا عاماً.

جـ - أن يستعمل داخل العلم، ومن هنا قالوا لا مشاحة فى الاصطلاح

يعنى أن الألفاظ قوالب للمعانى والهدف منها نقل الأفكار من ذهن المتكلم أو

الكاتب إلى ذهن السامع أو القارئ، وما دام اللفظ المعين أياً كان موضوعاً بإزاء معنى فى فن معين ولا يستعمل إلا داخل هذا الفن فلا بأس باستعماله.
শব্দের একটি ভাষাগত অর্থ এবং একটি শারীয়াতগত (شرع) অর্থ রয়েছে। যেমন—ভাষাগতভাবে সালাত (صلاة) শব্দের অর্থ হলো দয়া বা মমতা। কিন্তু শারীয়াত (شارع) প্রণেতা একে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কিছু কার্যাবলীর নাম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা তাকবির (تكبير) দিয়ে শুরু হয় এবং তাসলিম (تسليم) এর মাধ্যমে শেষ হয়। আর সালাতের যে ভাষাগত অর্থ মমতা, তা থেকে বাঁকানো বা দ্বিতীয় হওয়ার অর্থ গৃহীত হয়েছে; একারণেই দৌড় প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়া ঘোড়াকে 'মুসাল্লি' বলা হয়। আবার তা থেকে দোয়ার অর্থটিও গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ প্রার্থনাকারী এক পক্ষ হয়ে অপর পক্ষের নিকট প্রার্থনা করে এবং কবুল হওয়ার প্রতীক্ষা করে।

১৬ - সাধারণ জনপদ বা প্রচলিত রীতির অনুসারীদের (أهل العرف العام) নিকট কোনো শব্দের এমন একটি অর্থ সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে যা তার ভাষাগত অর্থের চেয়েও অধিক সুনির্দিষ্ট। ব্যাকরণবিদগণ একে প্রচলনের কারণে নাম হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া (العلم بالغلبة) বলে অভিহিত করেন। এর অর্থ হলো—ভাষাগত অবস্থানের দিক থেকে কোনো শব্দের অর্থ ব্যাপক হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট কোনো অর্থের জন্য খাস বা বিশিষ্ট হয়ে যাওয়া। উদাহরণস্বরূপ, 'আকাবাহ' বা 'মদিনা' শব্দ দুটি ভাষাগতভাবে পথের যেকোনো উঁচু স্থান বা যেকোনো জনবসতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সাধারণ প্রচলিত রীতিতে লোহিত সাগরের একটি বিশেষ স্থানের নাম 'আকাবাহ' হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। আবার কেবল 'মদিনা' বললে মক্কা-মদিনা অঞ্চলের (হিজাজ) 'মদিনা মুনাওয়ারা'র দিকেই মনোযোগ নিবদ্ধ হয়। অনুরূপভাবে, 'দাব্বাহ' শব্দটি ভাষাগতভাবে পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রত্যেক প্রাণীর জন্য ব্যবহৃত হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা বিশেষত ঘোড়া ও গাধার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে।

মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষ (أهل العرف العام) কোনো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে কোনো ভাষাগত শব্দকে তার মূল অর্থ ব্যতিরেকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে থাকে। ফলে সেই জনপদে শব্দটি উচ্চারণ করলে মূল অনারবীয় অর্থের পরিবর্তে প্রচলিত সেই বিশেষ অর্থটিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। যেমন—'দাব্বুস' (পিন) শব্দটি; ভাষাগতভাবে এটি যুদ্ধের একটি সরঞ্জামের নাম ছিল, যা সাধারণ মানুষের পরিভাষায় বর্তমানে 'ক্লিপ' বা 'পিন' অর্থে বহুল ব্যবহৃত হয়।

১৭ - এটি লক্ষণীয় যে, অর্থের বিপরীতে প্রচলিত রীতির (العرف العام) এই শব্দ চয়ন কেবল অল্প কিছু শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্যথায় এর পরিমাণ যদি অনেক বেশি হতো, তবে আরবি ভাষা শিক্ষিত সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। তবে বাস্তবতা এর বিপরীত। অবশ্য তাদের উভয়ের মধ্যে বুঝার ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়, তার অনেকটা মূল ভাষায় বিদ্যমান শব্দের নতুন নতুন অর্থ উদ্ভাবনের কারণে হয়ে থাকে।

১৮ - আর বিশেষজ্ঞ (أهل العرف) বলতে বিভিন্ন বিজ্ঞানের লেখক ও গবেষকগণ উদ্দেশ্য। প্রতিটি শিল্প বা বিজ্ঞানের পারদর্শীগণের জন্য অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র শব্দ চয়ন থাকে, যাকে পরিভাষা (اصطلاح) বলা হয়। একটি পরিভাষার জন্য অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকা জরুরি:

ক- সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এটি পূর্ণমাত্রায় প্রচলিত হতে হবে।

খ- এটি সর্বজনগ্রাহ্য হতে হবে।

গ- এটি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের গণ্ডির ভেতরেই ব্যবহৃত হতে হবে। একারণেই বিজ্ঞজনরা বলেন—পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই (لا مشاحة في الاصطلاح)। অর্থাৎ শব্দসমূহ হলো অর্থের কাঠামো মাত্র এবং এর লক্ষ্য হলো বক্তা বা লেখকের চিন্তা শ্রবণকারী বা পাঠকের মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট শব্দ কোনো একটি শাস্ত্রে কোনো অর্থের বিপরীতে ব্যবহৃত হয় এবং কেবল সেই শাস্ত্রের ভেতরেই তার প্রয়োগ থাকে, ততক্ষণ সেটি ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانياً: المدخل النظري

1 - يحسن للباحث فى مسألة وضع المصطحات بإزاء المفاهيم، ومدى

مطابقتها، لإطاره المرجعى أن يلم بشيء من طريقة المواضعة وإنشاء المصطلح.

2 - لقد وضع عضد الدين الإيجي رسالته فى علم الوضع فكان بذلك أول

من أفرد هذا المعنى بالتأليف حتى صار فرعاً من فروع علم اللغة، والوضع هو: جعل اللفظ بإزاء المعنى.

3 - وتقاسم الوضع ثلائة: -

أ - من جهة نفس الوضع ينقسم إلى قسمينِ:

- تحقيقى: وهو تعيين اللفظ بإزاء المعنى للدلالة عليه بنفسه أى من غير

علاقة ولا قرينة، وهو ما يسمى بالحقيقة عند البلاغيين فالحقيقة عندهم هى

استعمال اللفظ فيما وضع له أولاً فى اصطلاح التخاطب، فاستعمال كلمة (دين)

فى معناه الذى وضع له فى الشرع وهو وضع إلهى سائق لذوى العقول السليمة باختيارهم المحمود إلى ما هو خير لهم بالذات هذا الاستعمال حقيقة، لأن وضعه لهذا المعنى تحقيقى.

- تأويلى: وهو تعيين اللفظ بإزاء المعنى لدلالة عليه بواسطة العلاقة

والقرينة، مثل المجاز حيث عرفوه بأنه استعمال اللفظ فى غير ما وضع له أولاً فى اصطلاح التخاطب، فاستعمال كلمة الدين فى العبادات والشعائر فقط استعمال مجازى لأن وضعه لهذا المعنى تأويلى.

ب - من جهة اللفظ الموضوع ينقسم إلى: -

- مشخص: وهو ما كان اللفظ الموضوع فيه ملحوظ بخصوصه فاللفظ

شخصى سواء أكان المعنى كذلك كوضع (زيد) اسماً لشخص معين، أو كان

المعنى كليا كوضع "إنسان " بإزاء الحيوان الناطق (فلا علاقة بين شخصية اللفظ وشخصية المعنى هنا فالتشخيص هو للفظ وليس للمعنى لأنه قد يكون كلياً.

- نوعى: وهو ألا يكون اللفظ الموضوع ملاحظاً بخصوصه وعلى ذلك فهو

يمثل قاعدة كلية يندرج تحتها حزئيات كثيرة مثل لفظ على هيئة (فاعل) يدل فى العربية على من قام بالفعل و (مفعول) يدل على من وقع عليه الفعل وهكذا فهو يشمل المجازات.

جـ - ومن جهة ملاحظة الواضع عند الوضع:
দ্বিতীয়ত: তাত্ত্বিক ভূমিকা

১ - কোনো গবেষকের পক্ষে ধারণার বিপরীতে পারিভাষিক শব্দ নির্ধারণ (وضع المصطلح) এবং তার উৎসকাঠামোর সাথে সেই শব্দগুলোর সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে শব্দের সংজ্ঞায়ন (المواضعة) ও পরিভাষা তৈরির (إنشاء المصطلح) পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

২ - আদুদুদ্দীন আল-ইজি শব্দসংস্থাপন বিদ্যায় (علم الوضع) তার রিসালা রচনা করেছেন, যার ফলে তিনিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেন এবং পরবর্তীতে এটি ভাষাবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে পরিগণিত হয়। সংস্থাপন (الوضع) হলো: কোনো অর্থের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণ করা।

৩ - শব্দসংস্থাপন (الوضع) তিন ভাগে বিভক্ত: -

ক - স্বয়ং সংস্থাপনের (الوضع) দিক থেকে এটি দুই প্রকার:

- প্রকৃত (تحقيقي): এটি হলো কোনো প্রকার যোগসূত্র বা আনুষঙ্গিক ইঙ্গিত (قرينة) ব্যতীত সরাসরি অর্থের ওপর নির্দেশ করার জন্য শব্দের সুনির্দিষ্টকরণ। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের নিকট একেই প্রকৃত (الحقيقة) বলা হয়। তাঁদের মতে হাকিকত বা প্রকৃত শব্দ (الحقيقة) হলো প্রচলিত সংলাপে শব্দটিকে যে অর্থের জন্য প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছে সেই অর্থেই ব্যবহার করা। যেমন শরিয়তপ্রদত্ত অর্থে 'দ্বীন' (دين) শব্দটির ব্যবহার; যা মূলত একটি ঐশী বিধান যা সুস্থ বিবেকসম্পন্নদের তাদের প্রশংসনীয় ইচ্ছায় সরাসরি তাদের নিজেদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। এই ব্যবহারটি হলো প্রকৃত (حقيقة), কারণ এই অর্থের জন্য শব্দটির সংস্থাপন হলো প্রকৃত (تحقيقي)।

- ব্যাখ্যামূলক (تأويلي): এটি হলো কোনো যোগসূত্র বা আনুষঙ্গিক ইঙ্গিতের (قرينة) মাধ্যমে কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করার জন্য শব্দ নির্ধারণ করা। যেমন রূপক (المجاز); গবেষকগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে—প্রচলিত সংলাপে শব্দটিকে যে অর্থের জন্য প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেই অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে ব্যবহার করা। সুতরাং, 'দ্বীন' শব্দটি শুধুমাত্র ইবাদত বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা একটি রূপক (مجازي) ব্যবহার, কারণ এই অর্থের জন্য শব্দটির সংস্থাপন হলো ব্যাখ্যামূলক (تأويلي)।

খ - সংস্থাপিত শব্দের (اللفظ الموضوع) দিক থেকে এটি বিভক্ত: -

- সুনির্দিষ্ট (مشخص): এটি এমন শব্দ যেখানে সংস্থাপিত শব্দটি এককভাবে পর্যালোচিত হয়। এখানে শব্দটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা সুনির্দিষ্ট (شخصي), চাই তার অর্থটিও তদ্রূপ হোক—যেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম হিসেবে 'যায়েদ' (زيد) শব্দটি নির্ধারণ করা—অথবা অর্থটি সামগ্রিক (كلي) হোক—যেমন 'বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী'-এর বিপরীতে 'মানুষ' (إنسان) শব্দটি নির্ধারণ করা। (এখানে শব্দের সুনির্দিষ্টতার সাথে অর্থের সুনির্দিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং সুনির্দিষ্টকরণটি শব্দের জন্য, অর্থের জন্য নয়; কারণ অর্থটি সামগ্রিক (كلي) হতে পারে)।

- শ্রেণিগত (نوعي): এটি হলো সেই শব্দ যেখানে সংস্থাপিত শব্দটিকে এককভাবে বিবেচনা করা হয় না। বরং এটি একটি সামগ্রিক মূলনীতি (قاعدة كلية) উপস্থাপন করে, যার অধীনে অনেক উপ-বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন আরবি ভাষায় 'কর্তৃকারক' (فاعل) আকৃতির শব্দগুলো নির্দেশ করে যে কাজটি করেছে এবং 'কর্মকারক' (مفعول) আকৃতির শব্দগুলো নির্দেশ করে যার ওপর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে এটি রূপকসমূহকেও (المجازات) অন্তর্ভুক্ত করে।

গ - এবং শব্দ সংস্থাপনকালে সংস্থাপনকারীর (الواضع) বিবেচনার দিক থেকে:
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
- خاص

- والموضوع له خاص أيضاَ وهو وضع أعلام الأشخاص كزيد وعمرو أو

أعلام الأحناس كأسامة علم على الأسد، والوضع الخاص لموضوع خاص يتعقل الواضع موضوعاً له بخصوصه وشخصيته ثم يضع بإزائه اللفظ.

والموضوع له قد يكون موجوداَ فعلاً أو تقديراً فى الذهن فقط.

- عام

- والموضوع له عام أيضاً وهو أن يلاحظ الواضع معنى كلياً ثم يضع بإزائه

لفظاً كوضع إنسان ورجل وقام وضرب، بإزاء معانيها، كوضع لفظة العلم بإزاء كل إدراك جازم.

4 - اللفظ بالنسبة إلى مدلوله قد يكون كلياً أو جزئياً، فالكلى ما لا يمنع

نفس تصور معناه من وقوع الشركة فيه، والجزئي ما يمنع نفس تصور معناه من وقوع الشركة فيه، والكلى إما أن يدل على حدث أو ذات أو مركب منهما أو ملحق بذلك.

- فما يدل على الحديث يسمى مصدراً كالعدل والظلم.

- فما يدل على الذات يسمى اسم جنس كالإنسان.

ِ - والمركب منهما يسمى المشتق من الأسماء.

- وما يلحق به يسمى الفعل وهو مشتمل على حدث وزمان ونسبة بينهما

مثل (ذهب) .

5 - المشتق إما فعل أو غير الفعل، وغير الفعل يدل على ذات وحدث

ونسبة بينهما يقصد بها ربط ذلك الحدث بتلك الذات، وأعنى بالذات هنا ما

يشمل المكان والزمان حتى يدخل معنا اسم المكان واسم الزمان والواضع للمشتق بإزاء معناه يلاحظ مادته وهيئته.

أما المادة فهى عبارة عن الحروف بغض النظر عن ترتيبها أو حركتها

وسكناتها فهى كالمادة الخام، وأما الهيئة فهى عبارة عن ذلك الترتيب وتلك

الحركات والسكنات.
- বিশেষ (خاص)

- আর যার জন্য শব্দটি গঠিত হয়েছে (موضوع له) তাও বিশেষ (خاص)। এটি হলো ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট নাম নির্ধারণ করা, যেমন- জায়েদ ও আমর; অথবা জাতিবাচক নাম নির্ধারণ করা, যেমন সিংহের নাম হিসেবে 'উসামা' নির্ধারণ করা। বিশেষ বিষয়ের জন্য বিশেষ শব্দ গঠন (الوضع الخاص) বলতে বোঝায়—শব্দ গঠনকারী ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র সত্তাকে মনে কল্পনা করে এবং তারপর সেই সত্তার বিপরীতে কোনো শব্দ নির্ধারণ করে।

যার জন্য শব্দটি গঠিত হয়েছে (موضوع له), সেটি বাস্তবে বিদ্যমান হতে পারে অথবা কেবল মনে কল্পনাপ্রসূত হতে পারে।

- সাধারণ (عام)

- আর যার জন্য শব্দটি গঠিত হয়েছে (موضوع له) তাও সাধারণ (عام)। এটি হলো শব্দ গঠনকারী ব্যক্তি প্রথমে একটি সামগ্রিক অর্থ (معنى كلي) বিবেচনা করবেন এবং তারপর তার বিপরীতে কোনো শব্দ নির্ধারণ করবেন। যেমন: 'মানুষ', 'ব্যক্তি', 'দাঁড়াল' এবং 'আঘাত করল' শব্দগুলো তাদের নিজ নিজ অর্থের বিপরীতে গঠন করা; ঠিক যেমন 'ইলম' শব্দটি প্রতিটি সুনিশ্চিত উপলব্ধির বিপরীতে ব্যবহার করা হয়।

৪ - অর্থের বিচারে শব্দ কখনো সামগ্রিক (كلي) হয় আবার কখনো আংশিক (جزئي) হয়। সামগ্রিক (كلي) হলো এমন শব্দ যার অর্থ কল্পনা করলেই তাতে একাধিক সত্তার অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নাকচ হয় না। আর আংশিক (جزئي) হলো এমন শব্দ যার অর্থ কল্পনা করলেই তাতে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়। এই সামগ্রিক (كلي) শব্দটি হয় কোনো কার্যের (حدث) ওপর প্রমাণ পেশ করবে, অথবা কোনো সত্তার (ذات) ওপর, কিংবা এই উভয়ের সংমিশ্রণের (مركب) ওপর অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর।

- যা কোনো কার্যের (حدث) ওপর প্রমাণ পেশ করে তাকে মূলধাতু (مصدر) বলা হয়, যেমন 'ন্যায়বিচার' ও 'অবিচার'।

- যা কোনো সত্তার (ذات) ওপর প্রমাণ পেশ করে তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس) বলা হয়, যেমন 'মানুষ'।

- আর এই দুইয়ের সংমিশ্রণকে বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত ব্যুৎপন্ন শব্দ (مشتق) বলা হয়।

- আর যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাকে ক্রিয়া (فعل) বলা হয়, যা মূলত কোনো কার্য (حدث), কাল (زمان) এবং এই উভয়ের মধ্যকার সম্পর্কের সমষ্টি; যেমন: (সে গেল)।

৫ - ব্যুৎপন্ন শব্দ (مشتق) হয় ক্রিয়া (فعل) হবে অথবা ক্রিয়া ব্যতীত অন্য কিছু হবে। ক্রিয়া ব্যতীত শব্দটি কোনো সত্তা (ذات), কার্য (حدث) এবং তাদের মধ্যকার এমন সম্পর্কের ওপর প্রমাণ পেশ করে যার উদ্দেশ্য হলো সেই কার্যকে সেই সত্তার সাথে সম্পৃক্ত করা। এখানে সত্তা (ذات) বলতে আমি এমন কিছু বোঝাচ্ছি যা স্থান ও কালকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে স্থানবাচক বিশেষ্য (اسم مكان) ও কালবাচক বিশেষ্য (اسم زمان)-ও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ব্যুৎপন্ন শব্দের (مشتق) রূপকার এর অর্থের বিপরীতে শব্দ গঠনের সময় এর মূল উপাদান (مادة) ও বহিরাবরণ (هيئة) বিবেচনা করেন।

মূল উপাদান (مادة) বলতে বর্ণগুলোকে বোঝায়—সেগুলোর বিন্যাস এবং স্বরচিহ্ন বা স্থিরতা (হরকত ও সাকিন) বিবেচনা করা ছাড়াই; এটি যেন একটি কাঁচামাল। আর বহিরাবরণ (هيئة) বলতে সেই বিশেষ বিন্যাস এবং সেই স্বরচিহ্ন ও স্থিরতাসমূহকে বোঝায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
6 - ثم إن الواضع قد يكون هو واضع اللغة، فيقال معنى هذه اللفظة فى

اللغة كذا أي وضعها واضع اللغة بإزاء هذا المعنى، وقد يكون الشرع فيقال

معناها شرعا كذا، وقد يكون العرف أما العام فيقال عرفا كذا أو عرف أهل فن أو علم أو حرفة أو مهنة معينة وهذا ما يدعى (الاصطلاح) فيقال فى الاصطلاح (كذا) فلابد من تجديد أهل ذلك الاصطلاح.

7 - ويمكن أن نعرف أى علم من العلوم سواء أكان تجريبياً أو اجتماعياٌ

عن طريق التكلم عن قواعده، أو عن الملكة التى هى كيفية راسخة فى النفس بها تدرك النفس الجزئيات فى ذلك العلم، عن طريق الإدراك الذى هو حصول لصورة مسألة من مسائل العلم فى الذهن، ومن الملاحظ أن القواعد تصورها لا ْيحتاج إلى عالم أما الملكة والإدراك فيحتاج إلى عالمٍ بالفن المعروف، وهذا التنوع لا يمثل آراء مختلفة بل يمثل اختيارات ممكنة.

- وعلى ذلك فإن هناك فرقاً يمكن إدراكه بين العلم باعتباره قواعد وبين

العالم المتخصص في هذا الفن أو ذاك، ومصطلحات كل علم إنما يحددها

المشتغلون فيه، وهولاء المششغلون قد تكون لهم مدارس مختلفة ومضارب متنوعة يختلف بموجبها معالجتهم لكل علم أو فن، بل قد يختلفون فِى المصطلحات الأساسية أو فى مسائل الفن أو مداخل العلم.

والذى يجعلهم جميعا من أهل علم أو فن معين وليس فنون متعددة يتعدد مشاربهم هو ما يسمى (بموضوع العلم) .

وموضوع كل علم هو ما يبحث فيه عن عوارضه الذاتية، فموضوع علم الطب هو جسم الإنسان من حيث الصحة والمرض وعلى ذلك تتكون مسائل الطب فى صورة جمل مفيدة فيها جسم الإنسان من ناحية الصحة أو المرض مبتدأ وما توصل إليه العلم وأهل الفن خبر فيقال جسم الإنسان يمرض بكذا إن حدث كذا ويصح من كذاً إن أخذ كذا. -. . إلخ.

وباتحاد موضوع العلم يطلق عليه اسماً معيناً.

8 - وشروط وضع المصطلح بإزاء المعنى فى فن من فنون العلم يمكن

تلخيصها فيما يلى:

أ - وجود ثمة علاقة بين المعنى اللغوى والمعنى الاصطلاحى وإلا وصلنا إلى

قضية الرمز، والاصطلاح بالرمز أمر آخر غير الاصطلاح باللفظ، ونحن هنا فى بحثنا نعالج أموراً حول الأخير وليس الأول. فهناك علاقة بين معنى مصطح
6 - অতঃপর যিনি কোনো শব্দের অর্থ নির্ধারণ করেন, তিনি হতে পারেন খোদ ভাষা প্রণেতা; তখন বলা হয় যে, ভাষাগত (لغة) দিক থেকে এই শব্দের অর্থ এমন। অর্থাৎ, ভাষা প্রণেতা এই অর্থের বিপরীতে এই শব্দটি নির্ধারণ করেছেন। আবার কখনো এই প্রণেতা হতে পারে শরয়ি (شرع) কর্তৃপক্ষ, তখন বলা হয় যে শরয়ি (شرعا) পরিভাষায় এর অর্থ এমন। আবার কখনো তা হতে পারে লোকরীতি বা প্রথা (عرف); যদি তা সাধারণ জনগণের প্রথা হয় তবে তাকে সাধারণ প্রথা (عرفا) বলা হয়। অথবা তা হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্র, জ্ঞান, শিল্প বা পেশার বিশেষজ্ঞগণের প্রথা, আর এটিকেই পারিভাষিক সংজ্ঞা (اصطلاح) বলা হয়। এমতাবস্থায় বলা হয় যে, পারিভাষিক (اصطلاح) দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ এমন; তাই সেই পরিভাষার প্রবর্তকদের সংজ্ঞা অনুযায়ী তা নিরূপণ করা আবশ্যক।

7 - যে কোনো শাস্ত্রকে, চাই তা পরীক্ষামূলক হোক বা সামাজিক, তার নিয়মাবলির (قواعد) মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব। অথবা তার সেই বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতার (ملكة) মাধ্যমেও সংজ্ঞায়িত করা যায় যা অন্তরে প্রোথিত এমন এক গুণ, যার সাহায্যে মানুষের আত্মা উক্ত শাস্ত্রের খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ উপলব্ধি করতে পারে। এটি উপলব্ধির (إدراك) মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা মূলত মস্তিস্কে সেই শাস্ত্রের কোনো একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি উপস্থিত হওয়া। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, শাস্ত্রীয় নিয়মাবলি (قواعد) অনুধাবনের জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা (ملكة) ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন উপলব্ধির (إدراك) জন্য সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ হওয়া প্রয়োজন। জ্ঞানের এই বৈচিত্র্য কোনো ভিন্ন মতের প্রতিফলন নয়, বরং এটি শাস্ত্র সংজ্ঞায়নের সম্ভাব্য বিকল্পসমূহকে উপস্থাপন করে।

- এর ভিত্তিতে, নিয়মাবলি (قواعد) হিসেবে কোনো জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতের মধ্যে একটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রতিটি শাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দাবলি (اصطلاح) মূলত সেই শাস্ত্রের গবেষকগণই নির্ধারণ করে থাকেন। এই গবেষকগণের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাধারা বা ঘরানা থাকতে পারে, যার ফলে শাস্ত্রের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে তাঁদের পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা দেয়। এমনকি তারা মৌলিক পরিভাষা (اصطلاح), শাস্ত্রের মাসআলা বা প্রবেশের দ্বারসমূহ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।

পদ্ধতি ও রুচির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও যা তাঁদের সকলকে একটি নির্দিষ্ট শাস্ত্র বা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে, তাকেই শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) বলা হয়।

প্রতিটি শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) হলো এমন বিষয়, যাতে তার আবশ্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (عوارض ذاتية) নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) হলো সুস্থতা ও অসুস্থতার নিরিখে মানবদেহ। এরই ভিত্তিতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাসআলাসমূহ এমন অর্থপূর্ণ বাক্যে গঠিত হয় যেখানে মানবদেহের সুস্থতা বা অসুস্থতার দিকটি থাকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে এবং বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা যা অর্জন করেছেন তা থাকে বিধেয় (خبر) হিসেবে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: মানবদেহ অমুক কারণে অসুস্থ হয় এবং অমুক ওষুধ সেবনে সুস্থ হয়—ইত্যাদি।

শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) অভিন্ন হওয়ার কারণেই একে একটি নির্দিষ্ট নামে অভিহিত করা হয়।

8 - কোনো শাস্ত্রের নির্দিষ্ট অর্থের বিপরীতে পরিভাষা (اصطلاح) নির্ধারণের শর্তাবলি নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:

ক - শাব্দিক অর্থ (معنى لغوي) এবং পারিভাষিক অর্থের (معنى اصطلاحي) মধ্যে একটি যোগসূত্র থাকা আবশ্যক; অন্যথায় এটি নিছক সংকেতে (رمز) পরিণত হবে। আর সাংকেতিক পরিভাষা (رمز) এবং ভাষাগত শব্দের মাধ্যমে পরিভাষা (اصطلاح) নির্ধারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আমরা এখানে আমাদের আলোচনায় পরবর্তী বিষয়টি (শব্দভিত্তিক পরিভাষা) নিয়ে আলোচনা করছি, প্রথমটি নয়। সুতরাং পরিভাষার অর্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
السلطة فى معناها اللغوي ومعناها السياسى أو بين القياس فى معناه اللغوي ومعناه الأصولى وهكذا.

ب - أن يقره فريق من العلماء من أهل ذلك العلم ليصبح مقبولاً كمصطح

قبولاً عاماً، وقبل إقراره إنما هو اقتراح مصطلح.

جـ - أن يتعلق معناه الجديد بموضوع العلم الموضوع هو فيه، وإلا فإنه

يكون مستعاراً من علم آخر، وحينئذ فهو من المفاهيم الرحالة.

9 - كذلك فيتعلق بتلك المسألة قولهم لا مشاحة فى الاصطلاح أى لا

منازعة لأنه هناك فرق بين الخلاف اللفظي بين فريقين وهو الذى لو اطلع كل

فريق على معنى ما يقوله الآخر لقال به.

فالمعنى واحد والخلاف راجع للفظ، وعلى هذا لا يترتب على الخلاف اللفظى أثر، وبين الخلاف المعنوى.

والذى لو اطلع كل فريق على معنى ما يقوله الآخر لم يقل به فيترتب على ذلك الخلاف أثر فالخلاف اللفظى يقال فيه إنه لا مشاحة فى الاصطلاح.

وعلى هذا فينبغى أن يحصر استعمال المصطح داخل العلم، ولا يجوز أن

يخرج عن قاعة التباحث والتدارس إلى جمهور الناس، لأن اختلاف جمهور الخطاب من المتعلمين إلى العوام يؤدى إلى فوضى فى الاستعمال، واضطراب وتلبيس فى نقل المفاهيم ورسوخها ثم عملها وترتب الآثار عليها.

ومن ثّمَّ يكون هناك مشاحة فى مضمون ذلك المصطح حيث تغيرت رسالته من التباحث المتخصص بين أهل علم بعينه إلى العمل على نشر مضمون المنطلق من إطار مرجعى معين لفاعليه ملاحظات.

مثال ذلك لفظة العلم التى عنى بها ما قام على الحس والتجربة وجعلوه

الطريق الوحيد لحدوث اليقين، فنشأ عن هذا أن قضية الألوهية خارج نطاق العلم بهذا المفهوم فهى غير علمية على ما فى غير علمية من ظلال توحى بضدها وهو الجهل أو جهلية، كما تصبح المسألة راجعة للوجدان فمن أراد الاعتماد على تجربته مع الله فليؤمن ومن لم تكن له تجربة فليس فليكفر على ذلك أن تصبح الدعوة إلى الله والإيمان به مستحيلة حيث تحول الأمر إلى وحدانيات والوجدان لا يقام عليه دليل وحيث أصبح الأمر ظنياً ولا سبيل للقطع فيه فلنترك على زعمهم الأمور خالية من تلك القضية.

10 - ويتعلق بمسألة المصطلح عملية الحد أو التعريف التى ذكرها المناطقة

الصوريون وسموها القول الشارح وجعلوه يتوصل به إلى توصيل معنى المفرد إلى ذهن المخاطب من أقرب طريق، ووضعوا له شروطا وأقساما وتكلموا
কর্তৃত্ব তার আভিধানিক ও রাজনৈতিক অর্থে, অথবা অনুমান (قياس) তার আভিধানিক ও মৌলনীতি সংক্রান্ত (أصولي) অর্থে, এভাবেই পর্যায়ক্রমে।

খ - সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের একদল বিশেষজ্ঞ আলেম কর্তৃক এটি স্বীকৃত হতে হবে যাতে এটি পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য হয়; আর স্বীকৃতির পূর্বে এটি কেবল একটি পারিভাষিক প্রস্তাবনা মাত্র।

গ - এর নতুন অর্থটি যে শাস্ত্রের জন্য এটি নির্ধারিত হয়েছে সেই শাস্ত্রের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে, অন্যথায় এটি অন্য কোনো শাস্ত্র থেকে ধার করা হবে এবং সেক্ষেত্রে এটি পরিভ্রমণকারী ধারণার অন্তর্ভুক্ত হবে।

৯ - একইভাবে এই বিষয়ের সাথে তাদের একটি প্রবাদ সংশ্লিষ্ট, তা হলো: "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই (لا مشاحة في الاصطلاح)" অর্থাৎ কোনো ঝগড়া নেই; কারণ দুই পক্ষের মধ্যকার শব্দগত মতভেদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা এমন যে যদি প্রতিটি পক্ষ অন্য পক্ষের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ জানত, তবে তারাও সেই কথাটিই বলত।

সুতরাং মূল অর্থ এক এবং মতপার্থক্যটি কেবল শব্দগত, আর এই কারণে শব্দগত মতপার্থক্যের কোনো প্রভাব বা ফলাফল থাকে না। পক্ষান্তরে অর্থগত মতপার্থক্য ভিন্ন।

যার ক্ষেত্রে যদি প্রতিটি পক্ষ অন্য পক্ষের বক্তব্যের অর্থ জানত, তবুও তারা তা মেনে নিত না, ফলে এই মতপার্থক্যের একটি প্রভাব বা ফলাফল সৃষ্টি হয়। সুতরাং শব্দগত মতপার্থক্যের ক্ষেত্রেই বলা হয় যে, "পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই (لا مشاحة في الاصطلاح)"।

এ প্রেক্ষিতে পারিভাষিক শব্দের (مصطلح) ব্যবহার সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। গবেষণা ও অধ্যয়নের কক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের কাছে এটি বেরিয়ে আসা সমীচীন নয়। কারণ, শিক্ষিত সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সম্বোধিত জনসমষ্টির ভিন্নতার ফলে এর ব্যবহারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ধারণাসমূহ স্থানান্তর, সেগুলোর দৃঢ়তা, প্রয়োগ এবং তজ্জনিত ফলাফল লাভের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়।

ফলে তখন সেই পারিভাষিক বিষয়ের (مصطلح) বিষয়বস্তু নিয়ে বিবাদের সৃষ্টি হয়, যেহেতু এর বার্তাটি কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার বিশেষায়িত আলোচনা থেকে বিচ্যুত হয়ে এমন এক প্রচারকার্যে পরিণত হয় যা একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং যেখানে সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ কাজ করে।

এর উদাহরণ হলো 'ইলম' বা 'বিজ্ঞান' শব্দটি, যা দ্বারা তারা ইন্দ্রিয়লব্ধ ও পরীক্ষামূলক জ্ঞানকে বুঝিয়েছে এবং একেই তারা নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) অর্জনের একমাত্র পথ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ফলে এই ধারণা অনুযায়ী প্রভুত্বের বিষয়টি বিজ্ঞানের পরিধির বাইরে চলে গেছে; অর্থাৎ এটি অবৈজ্ঞানিক হিসেবে গণ্য হয়েছে—যদিও 'অবৈজ্ঞানিক' শব্দটির আড়ালে এর বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ অজ্ঞতা বা মূর্খতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তেমনিভাবে বিষয়টি তখন কেবল আধ্যাত্মিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে তার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে চায় সে ঈমান আনবে, আর যার এমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই সে কুফরি করবে। এর ফলে আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান ও তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ বিষয়টি তখন ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়ে পর্যবসিত হয়। অথচ ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর কোনো দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। যেহেতু বিষয়টি ধারণাপ্রসূত (ظني) হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে অকাট্য সিদ্ধান্তের (قطع) কোনো পথ নেই, তাই তাদের দাবি অনুযায়ী—আসুন আমরা বিষয়গুলোকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত রাখি।

১০ - পারিভাষিক শব্দের (مصطلح) সাথে সংজ্ঞা (حد) বা সংজ্ঞায়নের (تعريف) প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট, যা রূপক যুক্তিবিদগণ উল্লেখ করেছেন এবং একে তারা 'ব্যাখ্যামূলক উক্তি' নামে অভিহিত করেছেন। তারা একে এমন এক মাধ্যম বানিয়েছেন যার সাহায্যে একক কোনো শব্দের অর্থ শ্রোতার মস্তিষ্কে দ্রুততম উপায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়। তারা এর জন্য কিছু শর্ত ও প্রকারভেদ নির্ধারণ করেছেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২০)
لضبطه على الكلى والجزئي، وعلى الصورة القائمة للشيء فى الذهن وعلى ما يصدق عليها فى خارج الذهن مما يجعل مقدمة المنطق العربى مهمة التلخيص لهذا البحث ومهمة الحضور فى ذهن المهتم بمسألة المفاهيم.

11 - فالمصطلح إذن يتكون من عملية وضع يقوم بها دارس فن معين

لتوصيل معنى فى ذهنه إلى المخاطب من دارسى نفس الفن، ثم إنه من الملاحظ أن المصطلح الواحد قد تختلف معانيه داخل العلم الواحد لاختلاف المدارس الفكرية والأطر المرجعية للمفكرين والعلماء داخل هذا العلم أو ذاك.

كما يلاحظ أنه قد يعتريه التطور ويحتاج إلى البحث عن تطور المصطلح الدلالى وهذا شائع فى كل

العلوم خاصة الاجتماعية والإنسانية.

12 - وتختلف معانى المصطلح الواحد أيضاً بين العلوم المختلفة، وهذا لا

إشكال فيه فكلمة الموضوع تعنى فى علم الحديث القول المكذوب المنسوب إلى قائله وزراً فى حين تعنى فى المنطق ما عليه الحمل فى حين تعنى فى مداخل العلوم معنى يقارب هذا وهو ما يتكلم العلم عن عوارف الذاتية.

13 - أما عملية انتقال المفهوم أو نقله من الاستعمال التخصصى ومجال

الجماعة العلمية إلى مخاطبة عموم الناس فيكتنفها شيء من الخطورة، حيث يأخذ اللفظ الواحد معان شتى، طبقا لمستويات الخطاب وجمهوره، وبدلاً من عمليات الوضع المنظم التى كان ينبغى أن تتم داخل قاعات البحث لتحقيق هدف توصيل المعلومات وقيام العلم بدوره نرى عملية أخرى يمكن أن نسميها الخط المفهومى ونعنى بها أن يفسر كل مخاطبٍ المصطلح الواصل إلبه عبر الصحافة وأخواتها من وسائل الاتصال تفسيرا عشوائيا، فيصبح للمصطلح الواحد أكثر من مفهوم، وحيئذ تظهر المشاحنة والمنازعة، حيث إن هذا يسبب الخطأ فى الاستعمال طبقاً للخطأ الحاصل فى ذهن المستعمل، لذا فهو يحمل فى طياته تلبيساً خطيراً.

أما خطاً الاستعمال هذا فهو بالمقارنة بين الواقع وما قام بالذهن كما لو

رأى شخص شيئا فظنه حجراً فسماه به، فإطلاق الحجر على مدلوله القائم

بالذهن صحيحاً وإن كان الشيء لخارجى فى الواقع ليس حجراً، فإن تبين له أنه طائر سماه به فإن تأكد أنه إنسان أطلق عليه هذا، فهذه الإطلاقات كذب

لمخالفتها للواقع ونفس الأمر على أنها صحيحة بالنسبة لما قام بذهنه من صور
এটি সমষ্টিগত ও অংশগত উভয় বিষয়ের জন্য, এবং মনের মধ্যে বিদ্যমান কোনো বস্তুর প্রতিকৃতি ও মনের বাইরে যা তার ওপর প্রযোজ্য হয় তার ওপর ভিত্তি করে সুসংজ্ঞায়িত করার জন্য। এর ফলে আরবি যুক্তিশাস্ত্রের ভূমিকা এই গবেষণার সারসংক্ষেপ হিসেবে এবং ধারণার বিষয়াবলীতে আগ্রহী ব্যক্তির মনে উপস্থিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১১ - সুতরাং, পরিভাষা মূলত এমন একটি সংজ্ঞায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয় যা কোনো বিশেষ শাস্ত্রের গবেষক সম্পন্ন করেন,

যাতে তার মনের কোনো অর্থ একই শাস্ত্রের অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অধিকন্তু, এটি লক্ষণীয় যে, একই শাস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তাধারা এবং চিন্তাবিদ ও আলিমদের রেফারেন্স ফ্রেম বা মানদণ্ডের পার্থক্যের কারণে একটি পরিভাষার একাধিক অর্থ হতে পারে।

একইভাবে লক্ষ্য করা যায় যে, পরিভাষার বিবর্তন ঘটতে পারে এবং এর অর্থগত বিবর্তনের ওপর গবেষণার প্রয়োজন হতে পারে; এটি সব বিজ্ঞানেই সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে সামাজিক ও মানবিক বিজ্ঞানে।

১২ - এছাড়া বিভিন্ন শাস্ত্রের মাঝেও একই পরিভাষার অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং এতে কোনো

সমস্যা নেই। যেমন, হাদিস শাস্ত্রে জাল (موضوع) শব্দটি বলতে এমন মিথ্যা বক্তব্য বোঝায় যা অন্যায়ভাবে কারো দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে যুক্তিশাস্ত্রে এটি 'উদ্দেশ্য' (Subject) বোঝায়, আবার বিভিন্ন বিজ্ঞানের পরিচিতিতে এর অর্থ এর কাছাকাছি হয়, যা মূলত কোনো বিষয়ের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে।

১৩ - তবে কোনো ধারণার স্থানান্তর বা বিশেষায়িত ব্যবহার এবং

বিদগ্ধ সমাজের পরিমণ্ডল থেকে সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা ঝুঁকি থাকে। যেখানে বক্তব্যের স্তর এবং শ্রোতার ধরন অনুযায়ী একই শব্দের নানাবিধ অর্থ তৈরি হয়। তথ্য আদান-প্রদান এবং বিজ্ঞানের যথাযথ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে গবেষণাগারের অভ্যন্তরে যে সুশৃঙ্খল সংজ্ঞায়ন প্রক্রিয়া হওয়া উচিত ছিল, তার পরিবর্তে আমরা অন্য একটি প্রক্রিয়া দেখতে পাই যাকে আমরা 'ধারণাগত বিচ্যুতি' বলতে পারি। এর অর্থ হলো, সংবাদ মাধ্যম বা অনুরূপ যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে পৌঁছানো পরিভাষাকে প্রতিটি শ্রোতা নিজ নিজ খেয়ালখুশিমতো ব্যাখ্যা করে। ফলে একটি পরিভাষার একাধিক ধারণা তৈরি হয় এবং তখনই বিবাদ ও তর্কের সৃষ্টি হয়। কারণ এটি ব্যবহারকারীর মনের ভুলের কারণে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভুলের জন্ম দেয়, যা তার অন্তরালে এক বিপজ্জনক বিভ্রান্তি বহন করে।

ব্যবহারের এই ভুলের বিষয়টি হলো বাস্তবতা এবং মনে উদিত ছবির মধ্যে তুলনা করার মতো। যেমন যদি

কোনো ব্যক্তি একটি বস্তুকে দেখে পাথর মনে করে এবং তাকে পাথর বলে ডাকে, তবে মনের মধ্যে থাকা ধারণার প্রেক্ষিতে পাথর বলাটা সঠিক,

যদিও বাস্তবে বাইরের বস্তুটি পাথর নয়। এরপর যদি তার কাছে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি পাখি, সে তাকে পাখি বলে ডাকবে; আবার যদি নিশ্চিত হয় যে এটি মানুষ, তবে সে তাকে মানুষ বলে অভিহিত করে। বাস্তবতার পরিপন্থী হওয়ার কারণে এই নামকরণগুলো মিথ্যা,

যদিও মনের মধ্যে উদিত ছবির প্রেক্ষাপটে তা সঠিক ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২১)
ولذا نبه علماء الإسلام إلى أن من المصطلحات ما لا يذكر إلا وسط الجماعة

العلمية.

14 - هذا الفصل بين قاعة البحث أو الجماعة العلمية وبين عموم الناس

وعوامهم كان فى العصور السابقة منضبطاً، ولكن بعد تطور وسائل المواصلات الشديد وظهور الطباعة أصبح صوت الدارسين داخل قاعات البحث مسموعاً عند عموم الناس وزال الحاجز الذى بينهما، فألقى هذا عبثاً جديداً على الواضع حيث ينبغى أن يراعى فى عملية الوضع ثقافة الأمة وإطارها المرجعى، فلم تعد المسألة

قاصرة على الجماعة العلمية بل أصبحت تلك المفاهيم شائعة وسط عموم الناس، بل تدهور الحال وأعطى للعموم حق وشرعية الوضع، وأصبح للمصطلح عشرات بل مئات التعريفات، فوصلنا إلى رطانة غير مفهومة بين الباحثين، فكرَّ هذا على جواز الاختلاف بالبطلان وأصبح الذى معه الحق ويؤيده العلم وما ينبغى أن يكون عليه الأمر هو من دعاء إلى قيم دينه وثقافته ومن خرج عن هذا الاطار إثما هو

تلاعب بالعلم مضر بالحياة الثقافية ومفسد لها.

ولقد تدهور الحال أكثر عندما خرج جماعة من المثقفين بدعوى أن يكون

لكل واحد قاموسه الخاص به ومصطحاته التى يجب أن نفهم كلامه من خلالها

فوصل الحال إلى قطع الصلة بين الباحثين وغدا الأمر مضحكاً بشكل محير.

15 - وهنا تبرز مشكلة علاقة الوحى، وهو مقوم ومعيار مع تلك المفاهيم

الشائعة، ومخالفة هذه المفاهيم للوحى ينشأ منه أن يكون رفضنا لها هو موقف واع لا عن تجاهل، كما أن مشكلة علاقة التراث وكيف اختلف مفهوم ذلك المصطلح عما كان عليه عند السلف ينشأ عنه خرف على ثقافتنا من الناقض من ناحية وحذر من أثر ذلك التغير فى تهميش الإطار المرجعى واختلال السلوك المنبثق عن العقيدة من ناحية ثانية، ومحاولة للفرار من التبعية الفكرية للغير من ناحية أخرى.

وتبرز أيضاٌ مشكلة علاقة العرف وتأثيره وتأثره (فى دائرة متصلة) بتلك

المفاهيم وما يترتب على ذلك من تغير فى المنظومة الاجتماعية والنسق العرفى

العام.

16 - قال الف سمرفلت فى مطلع مقاله "الاتجاهات الحديثة فى علم اللغة"

الذى نشره فى مجلة ديوجين عدد رقم 1 ص 64 - 70 "إن أهمية اللغة لفهم
তাই ইসলামের আলিমগণ সতর্ক করেছেন যে, পরিভাষাসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কেবল তাত্ত্বিক জামাতের (গবেষক মহলের) মধ্যেই আলোচনা করা উচিত।

গবেষক মহলের।

১৪ - গবেষণা কক্ষ বা তাত্ত্বিক জামাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেকার এই পার্থক্য পূর্ববর্তী যুগসমূহে সুশৃঙ্খল ছিল। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম উন্নতি এবং মুদ্রণযন্ত্রের আবির্ভাবের পর গবেষণা কক্ষের অভ্যন্তরে থাকা গবেষকদের কণ্ঠস্বর সাধারণ মানুষের কাছে শ্রবণযোগ্য হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যকার যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা দূর হয়ে গেছে। এটি পরিভাষা নির্ধারণকারীর ওপর এক নতুন দায়িত্বারোপ করেছে যেখানে পরিভাষা নির্ধারণ (الوضع) প্রক্রিয়ায় উম্মাহর সংস্কৃতি ও এর নির্দেশিকা বা রেফারেন্স ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বিষয়টি আর কেবল তাত্ত্বিক জামাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সেই ধারণাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অবস্থার অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষকেও পরিভাষা নির্ধারণের (الوضع) অধিকার ও বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং একটি পরিভাষার দশটি এমনকি শত শত সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে। ফলে আমরা গবেষকদের মধ্যে এক অবোধ্য সংলাপে পৌঁছেছি। এটি মতভেদের বৈধতাকে অসারতায় পর্যবসিত করেছে। এখন সত্য যার সাথে রয়েছে এবং জ্ঞান যাকে সমর্থন করে এবং বিষয়টি যেমন হওয়া উচিত ছিল, তা হলো সেই ব্যক্তি যে তার দীনের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির দিকে আহ্বান জানায়; আর যে এই কাঠামোর বাইরে চলে যায়, সে মূলত জ্ঞানের সাথে এক ধরণের তামাশা করে যা সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর এবং ধ্বংসাত্মক।

অবস্থার আরও অবনতি ঘটে যখন একদল বুদ্ধিজীবী এই দাবি নিয়ে আবির্ভূত হন যে, প্রত্যেকের নিজস্ব অভিধান এবং নিজস্ব পরিভাষা থাকা উচিত যার মাধ্যমে তার কথা বুঝতে হবে। এর ফলে গবেষকদের মধ্যকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে হাস্যাস্পদ হয়ে উঠেছে।

১৫ - আর এখানেই প্রত্যাদেশ (وحى)-এর সাথে সম্পর্কের সমস্যাটি প্রকট হয়ে ওঠে, যা এই প্রচলিত ধারণাগুলোর ক্ষেত্রে একটি মূল উপাদান ও মানদণ্ড। এই ধারণাগুলোর সাথে প্রত্যাদেশ (وحى)-এর বৈপরীত্যের ফলে আমাদের পক্ষ থেকে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করাটা কোনো অজ্ঞতা থেকে নয় বরং একটি সচেতন অবস্থান থেকে হওয়া উচিত। তেমনিভাবে ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কের সমস্যা এবং পূর্বসূরী (سلف)-দের নিকট সেই পরিভাষার ধারণা যেমন ছিল তা থেকে বর্তমানের বিচ্যুতি আমাদের সংস্কৃতির ওপর এক ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনে। একদিক থেকে এটি নির্দেশিকা বা রেফারেন্স ফ্রেমওয়ার্ককে প্রান্তিকীকরণের ভীতি তৈরি করে এবং অন্যদিকে আকিদাহ (عقيدة) থেকে উদ্ভূত আচরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এছাড়া এটি অন্যের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক পরাধীনতা থেকে পলায়নের একটি প্রচেষ্টাও বটে।

এছাড়া প্রথা (عرف)-এর সাথে সম্পর্কের সমস্যা এবং এই ধারণাগুলোর দ্বারা প্রথা (عرف)-এর প্রভাবিত হওয়া ও প্রভাব বিস্তারের (একটি নিরবচ্ছিন্ন চক্রে) বিষয়টিও সামনে আসে, যার ফলে সামাজিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ প্রথাগত কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে।

১৬ - আলফ সামারফেল্ট তার "ভাষাবিজ্ঞানে আধুনিক প্রবণতা" শীর্ষক নিবন্ধের শুরুতে বলেছেন, যা ডিওজেনেস ম্যাগাজিনের ১ নম্বর সংখ্যায় ৬৪-৭০ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে: "বোঝার জন্য ভাষার গুরুত্ব...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২২)
الثقافة حق الفهم أمر أخذ يحس به من يعرضون لدراسة الحضارات، وذلك لأن أى نظام لغوي تعبير عن نظام إدراك جماعة من الجماعات لبيئتها ولنفسها وإن لم يكن هذا التعبير كاملاً، ومن ثم فلا يستطع أن يفهم حضارة ما حق الفهم من

يجهل وسيلتها اللغوية فى التعبير.

وقال د. إبراهيم أنيس: اللغة مع أنها مجرد وسيلة ولكن لارتباطها

بالغاية الارتباط الوثيق أصبحت فى نظر الإنسان أسمى من مجرد رمز،

ومن المغالاة أن تعد الأصوات اللغوية كالرموز الأخرى فهى أسمى وأرقى، الأمر الذى يجعلنا كلما سمعنا لفظاً ينطق به أمامنا نشعر نحوه بالاعتزاز فنتبناه ونعتز به كأنه جزء لا يتجزأ من دلالته أو معناه.

17 - وعند التحامل مع أى مفهوم يننبغى الالتفات إلى علم الدلالة وما

يشتمل عليه في تحليل لفكرة المعنى، وعلاقة اللغة بالفكر سواء كان المصطلح

مفردا أو مركباً، مع مبحث الدلالة عند الأصوليين المسلمين.

كما أنه ينبغى الالتفات إلى مسألة الاشتقاق والتعريبِ وعملية الترجمة بتوسع يمكننا من التعامل الواعى مع المفاهيم موضع البحث.

18 - فمن الملاحظ أن المصطلح الواحد قد تختلف معانيه داخل العلم

الواحد لاختلاف الدارس الفكرية والأطر المرجعية للمفكرين والعلماء داخل هذا العلم أو ذاك.

كما يلاحظ أنه قد يعتريه التطور ويحتاج إلى البحث عن تطور

المصطلح الدلالى، مثال الأول مصطلح العلم له عند الأصوليين تعاريف وحقائق كثيرة وعند القياس عندهم عرف بأنه إثبات مثل حكم معلوم فى معلوم آخر
সংস্কৃতির যথার্থ অনুধাবন এমন একটি বিষয় যা সভ্যতা নিয়ে গবেষণাকারীরা অনুভব করে থাকেন। কারণ, যেকোনো ভাষাগত পদ্ধতি (نظام لغوي) হলো কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পরিবেশ ও নিজেদের সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি প্রকাশের একটি মাধ্যম, যদিও সেই প্রকাশ পূর্ণাঙ্গ নাও হতে পারে। ফলে, কোনো সভ্যতার ভাষাগত প্রকাশের মাধ্যম সম্পর্কে যার জ্ঞান নেই, সে সেই সভ্যতাকে যথাযথভাবে বুঝতে সক্ষম হবে না।

ড. ইব্রাহিম আনিস বলেন: ভাষা কেবল একটি মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্যের সাথে তার নিবিড় সম্পর্কের কারণে তা মানুষের দৃষ্টিতে নিছক প্রতীকের চেয়েও ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে। ভাষাগত শব্দসমূহকে অন্য সব প্রতীকের ন্যায় গণ্য করা হবে এক প্রকার অতিশয়োক্তি, বরং এগুলো আরও উন্নত ও শ্রেষ্ঠ। এর ফলে যখনই আমাদের সামনে কোনো শব্দ উচ্চারিত হয়, তখনই আমরা তার প্রতি এক ধরনের গৌরব অনুভব করি এবং তাকে আপন করে নিই; যেন এটি তার অর্থ বা তাৎপর্যের (دلالة) এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

17 - যেকোনো ধারণা বা প্রত্যয়ের (مفهوم) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অর্থবোধকতা বিদ্যা (علم الدلالة) এবং অর্থের বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। শব্দ একক (مفرد) হোক বা যৌগিক (مركب), চিন্তার সাথে ভাষার কী সম্পর্ক তাও দেখা জরুরি। এর পাশাপাশি মুসলিম উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট শব্দার্থবিদ্যার (الدلالة) আলোচনাটিও বিবেচ্য।

সেইসাথে শব্দমূলতত্ত্ব (الاشتقاق), আরবীকরণ (التعريب) এবং অনুবাদ প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোর প্রতিও বিস্তৃতভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন, যা আমাদের আলোচ্য ধারণাগুলোর (المفاهيم) যথার্থ অনুধাবনে সহায়তা করবে।

18 - এটি লক্ষ্যণীয় যে, বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাবিদ ও আলিমদের রেফারেন্স কাঠামোর ভিন্নতার কারণে একই শাস্ত্রের অভ্যন্তরে একটি একক পরিভাষার (المصطلح) বিভিন্ন অর্থ হতে পারে।

আবার এটিও পরিলক্ষিত হয় যে, পরিভাষার অর্থগত বিবর্তন ঘটতে পারে এবং পরিভাষার সেই অর্থগত বিবর্তন নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন হয়। প্রথমটির উদাহরণ হলো ‘জ্ঞান’ (العلم) পরিভাষাটি; উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট এর অনেক সংজ্ঞা ও বাস্তবতা রয়েছে। আবার কিয়াস (القياس) বা অনুমানের ক্ষেত্রে তাদের নিকট এর সংজ্ঞা হলো—একটি জ্ঞাত বিষয়ের মতো বিধান (حكم) অন্য একটি জ্ঞাত বিষয়ে সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
لاشتراكهما فى علة الحكم عند المثبت، عرفرا العلم هنا بمطلق الإدراك فى حين أنهم عرفره بأنه الإدراك الجازم الثابت المطابق للواقع عن دليل فى كل أمر.

وسبب ذلك أن القياس يجرى عندهم فى القطعيات والظنيات، فناسب

تفسير العلم الذى حدث منه الاشتقاق فى لفظ معلوم بمطلق الإدراك الشامل للظن واليقين لا العلم بالمعنى الأخص وهو الإدراك الجازم. . . إلخ.

19 - وتختلف معانى المصطلح الواحد بين العلوم المختلفة وهذا لا إشكال

فيه فكلمة الموضوع فى علم الحديث تعني القول المكذوب المنسوب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى حين تعنى فى المنطق مثلاً ما عليه الحمل: المبتداً والفاعل فى الجملة العربية.

20 - ومن الملاحظ أيضاً أنه قد تتم عملية (تدليس) باستعمال الألفاظ التى

بإزاء معان معينة فى علم من العلوم أو فن من الفنون فى الحياة العرفية العامة فيتبادر ذهن السامع أو القارئ إلى معناها عنده، ويقصد الكاتب عن قصد أو عدم قصد معنى آخر غير ما يتبادر إلى الذهن.

مثال ذلك العلم فى عرف المسلمين يطلق على ما سبق من الإدراك الجازم

الثابت. . . . إلخ. فيشمل علوم العقل والنقل والحس فى حين يستخدمها بعض الكاتبين فى الصحافة بمعنى العلم التجربيى القائم على المشاهدة والحس وهذا وإن كان جزءا من المعنى الشائع عند أهل العرف العام إلا أن مقولة إن قضية الألوهية قضية غير علمية أي خارج قياس الحس ومشاهدته تسبب لبساً كبيراً (قد يكون مقصودا) حيث يتبادر إلى الذهن من مردود كلمة غير علمية عداء بين العلم الذى ما زال يعنى اليقين عند عامة الناس ويعنى مضادته للجهل والعلم فى عقول الناس وبين تلك القضية ومقابل العلم الجهل فهى قضية لابد أن تنحى.

وهنا فإن عبارة لا مشاحة فى اصطلاح قد فقدت شرطها وهى أن تستعمل

المصطحات بين أهل الفن الواحد العارفين بمعانيها لا بين أهل فن معين وأهل

العرف العام أو بين أهل فن معين وفن آخر.

21 - وهذا المبحث يعالجه علم الوضع بتوسع وقد كثرت التآليف فيه.

22 - كما أنه يحسن أن نحلل الألفاظ إلى معانيها حتى نكون على بينة من

الاستعمالات الحقيقية والمجازية لللفظة.

فالحقيقة هى استعمال اللفظ فيما وضع له أولاً فى اصطلاح التخاطب

والمجاز هو استعمال اللفظ فى غير ما وضع له فى اصطلاح التخاطب.

فإن الأسد إذا أريد منه الحيوان المفترس كان هذا حقيقة لأنه وضع فى اللغة
বিধানের কারণের (علة الحكم) ক্ষেত্রে উভয়ের অংশীদারিত্বের কারণে—যিনি এটি সাব্যস্ত করেন তাঁর নিকট—তাঁরা এখানে ‘ইলম’ (জ্ঞান)-কে সাধারণ উপলব্ধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অথচ তাঁরা বিষয়টিকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীলভিত্তিক বাস্তবসম্মত ও অকাট্য স্থির উপলব্ধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে থাকেন।

এর কারণ হলো, তাঁদের নিকট ‘কিয়াস’ (অনুমান) অকাট্য ও ধারণাভিত্তিক উভয় বিষয়েই কার্যকর হয়। ফলে ‘মালুম’ (জ্ঞাত) শব্দটির উৎস হিসেবে ‘ইলম’-এর ব্যাখ্যাকে এমন সাধারণ উপলব্ধি দ্বারা করা সঙ্গত হয়েছে যা ধারণা (ظن) এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাস (يقين)—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; বিশেষ অর্থের ‘ইলম’ বা অকাট্য উপলব্ধির অর্থে নয়। ... ইত্যাদি।

19 - বিভিন্ন শাস্ত্রের ভেদে একই পরিভাষার অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। যেমন, হাদিস শাস্ত্রে ‘মওজু’ শব্দটি দ্বারা জাল (موضوع) বা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আরোপিত মিথ্যা বক্তব্যকে বোঝায়; অথচ যুক্তিবিদ্যায় এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার ওপর কোনো বিধান আরোপ করা হয়, যেমন আরবি বাক্যের মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও ফায়েল (কর্তা)।

20 - এটিও লক্ষণীয় যে, কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্র বা কলার বিশেষ অর্থের শব্দাবলিকে সাধারণ প্রচলিত জীবনে ব্যবহারের মাধ্যমে কখনো কখনো তথ্য গোপন (تدليس)-এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এতে শ্রোতা বা পাঠকের মনে তার পরিচিত অর্থটিই ভেসে ওঠে, অথচ লেখক ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে উদিত হওয়া অর্থের বাইরে অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য করেন।

এর উদাহরণ হলো, মুসলিমদের পরিভাষায় ‘ইলম’ বা জ্ঞান বলতে পূর্বোক্ত অকাট্য স্থির উপলব্ধিকেই বোঝানো হয়... ইত্যাদি। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক, বর্ণনাভিত্তিক এবং ইন্দ্রিয়লব্ধ—সকল জ্ঞানকেই অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ সংবাদপত্রের কিছু লেখক একে পর্যবেক্ষণ ও ইন্দ্রিয়নির্ভর ‘পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান’ অর্থে ব্যবহার করেন। যদিও এটি সাধারণ মানুষের প্রচলিত সংজ্ঞার একটি অংশ, তথাপি ‘উলুহিয়াত বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি কোনো বৈজ্ঞানিক বিষয় নয়’—অর্থাৎ তা ইন্দ্রিয়জাত পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের বহির্ভূত—এমন বক্তব্য এক বিশাল বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে (যা সম্ভবত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত)। কারণ ‘অ-বৈজ্ঞানিক’ শব্দটির নেতিবাচক প্রভাব থেকে মানুষের মনে এই ধারণা জন্মে যে, সাধারণ মানুষের কাছে যে ‘ইলম’ বা জ্ঞান এখনও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) প্রতিশব্দ এবং যা মূর্খতার বিপরীত, সেই জ্ঞানের সাথে উক্ত বিষয়ের এক প্রকার শত্রুতা রয়েছে। মানুষের মনে জ্ঞানের বিপরীত যেহেতু মূর্খতা, তাই (এই যুক্তিতে) ওই বিষয়টি বর্জনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

এক্ষেত্রে ‘পরিভাষা নির্ধারণে কোনো বিতর্ক নেই’—এই বাক্যটি তার শর্ত হারিয়ে ফেলে। কারণ এর শর্ত হলো, পরিভাষাটি সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পারদর্শী ব্যক্তিদের মধ্যেই ব্যবহৃত হতে হবে যারা এর অর্থ সম্পর্কে অবগত; কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কিংবা এক শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ও অন্য শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নয়।

21 - এই বিষয়টি ‘ইলমুল ওয়াদ’ (শব্দ প্রয়োগ বিজ্ঞান) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে এবং এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

22 - একইভাবে, শব্দাবলিকে তাদের অর্থের আলোকে বিশ্লেষণ করা উত্তম, যাতে আমরা শব্দের প্রকৃত ও রূপক ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবগত হতে পারি।

‘হাকীকাত’ বা প্রকৃত অর্থ হলো শব্দের সেই ব্যবহার যার জন্য তা মূলত কথোপকথনের পরিভাষায় নির্ধারিত হয়েছে। আর ‘মাজায’ বা রূপক অর্থ হলো কথোপকথনের পরিভাষায় নির্ধারিত অর্থের বাইরে শব্দের ব্যবহার।

যেমন—‘আসাদ’ (সিংহ) দ্বারা যদি হিংস্র পশু উদ্দেশ্য করা হয়, তবে তা হবে প্রকৃত অর্থ; কারণ ভাষাগতভাবে তা সেই অর্থেই নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
لهذا المعنى، وإذا قصد به الرجل الشجاع كان مجازاً لأنه يشتمل على شيء من التشبيه.

والقياس الذى فيه إثبات نقيض حكم شيء فى شيء آخر لنقيض العلة تسميته

قياساً مجاز لأن حقيقته ما سبق ذكره.

24 - وتحليل الألفاظ إلى معانيها يساعد فى فهم استعمالها فكلمة جرى

معناها: -

1 - الانتقال من مكان لمكان.

2 - بسرعة.

3 - مع إرادة.

فماذا قلنا جرى الغلام لكانت تلك الكلمة مشتملة على عناصرها التى

حددتها ولو قلت جرى القطار لقصد عنصر الإرادة ولو قلت جرى المطر لفقد ْعنصر الإرادة والسرعة ويكون بمعنى (سال) الذى فيه الانتقال وليس فيه السرعة.

فاستعمال اللفظ فى المثال الأول حقيقة والثانى والثالث مجاز إلا أن التجوز فى

الثالث أشد منه فى الثانى.

25 - وعلم الدلالة قام بدور كبير خاصة الأبحاث الحديثة منه حول هذا

الموضوع.
এই অর্থের জন্য; আর যদি এটি দ্বারা কোনো সাহসী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, তবে তা রূপক (مجاز) হবে, কারণ এতে এক প্রকার সাদৃশ্য (تشبيه) বিদ্যমান।

আর যে কিয়াস (قياس)-এ ইল্লত (علة) বা কারণের বৈপরীত্যের দরুন এক বিষয়ের বিধানের বিপরীত বিধান অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা হয়, তাকে কিয়াস (قياس) বলা

রূপক (مجاز), কারণ এর প্রকৃত (حقيقة) অর্থ ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই।

24 - শব্দাবলিকে তাদের অর্থের নিরিখে বিশ্লেষণ করা সেগুলোর ব্যবহারের ধরন বুঝতে সাহায্য করে। যেমন 'জারা' শব্দটির

অর্থ হলো: -

1 - এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর।

2 - দ্রুততার সাথে।

3 - ইচ্ছাশক্তির সাথে।

সুতরাং আমরা যখন বলি 'বালকটি দৌড়েছে', তখন এই শব্দটি তার নির্ধারিত উপাদানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু যদি বলা হয় 'ট্রেনটি চলেছে', তবে ইচ্ছাশক্তির উপাদানটি (রূপকভাবে) উদ্দেশ্য হয়। আর যদি বলা হয় 'বৃষ্টি পড়েছে', তবে সেখানে ইচ্ছা এবং দ্রুততা উভয় উপাদানই অনুপস্থিত থাকে এবং এটি 'প্রবাহিত হওয়া' (سال) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যাতে স্থান পরিবর্তন বিদ্যমান থাকলেও দ্রুততা নেই।

প্রথম উদাহরণে শব্দটির ব্যবহার হলো প্রকৃত (حقيقة), আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় উদাহরণে তা রূপক (مجاز); তবে তৃতীয় উদাহরণের রূপক (تجوز) প্রকৃতি

দ্বিতীয়টির তুলনায় অধিক প্রবল।

25 - শব্দার্থবিজ্ঞান (علم الدلالة) এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে এই সংক্রান্ত আধুনিক গবেষণাগুলো।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني

الاصطلاح
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পরিভাষা (الاصطلاح)
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثاني

الاصطلاح

تثير قضية المصطلح بعض المشكلات النى نعالجها فى هذا البحث فى نقاط

متتالية إن شاء الله تعالى.

وقضية المصطح تتصل بقضية الوضع، والوضع، كما عرفه العلماء

جعل اللفظ بإزاء المعنى، وهذا قد يكون فى مجال اللغة فيسمى لغوياً،، أو

العرف فيسمى عرفياً، والعرف إما عرف الشرع، أو عرف الناس أو طائفة معينة منهم، فيقال: معنى تلك اللفظة شرعا أوعرفا أو اصطلاحا.

كذا وقد اختلفوا فى علم الأصول في واضع اللغة أى واضع الألفاظ بإزاء المعانى على أقوال عشرة: منها أنه الله سبحانه وتعالى أى أنها توقيفية - واستدلوا على ذلك بقوله تعالى: (وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا.

ومنها: أن البشر هم الذين جعلوا اللفظ بإزاء معناه واصطلحوا على ذلك

بالوضع.

وقول ثالث يقول: إن الله سبحانه وتعالى، قد علم آدم بعض الأسماء

وعلمه كيف يضع، ثم بعد ذلك أكمل البشر، فجعلوا لكل محدث من المحدثات لفظاٌ جديداً واصطلحوا فيما بينهم عليه.

ومن هذه المذاهب الوقف، وهو أن هذه القضية ليست من القضايا التى

ينبغى أن نبحثها ولا يترتب عليها كثير فائدة.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পরিভাষা (اصطلاح)

পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত বিষয়টি কিছু সমস্যার অবতারণা করে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা এই গবেষণায় ধারাবাহিক কিছু

পয়েন্টের মাধ্যমে আলোচনা করব।

আর পরিভাষার (اصطلاح) বিষয়টি শব্দচয়ন (الوضع) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর শব্দচয়ন (الوضع), যেমনটি উলামায়ে কেরাম সংজ্ঞায়িত করেছেন,

তা হলো কোনো অর্থ প্রকাশের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণ করা। আর এটি ভাষার ক্ষেত্রে হতে পারে যাকে ভাষাগত (لغوي) বলা হয়, অথবা

প্রথার ক্ষেত্রে হতে পারে যাকে প্রথাগত (عرفي) বলা হয়। আর প্রথা হয় শারয়ি প্রথা (عرف الشرع), অথবা সাধারণ মানুষের প্রথা কিংবা তাদের বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর প্রথা। ফলে বলা হয়: ওই শব্দটির অর্থ শারয়ি (شرعاً), প্রথাগতভাবে (عرفاً) অথবা পারিভাষিকভাবে (اصطلاحاً) এরূপ।

অনুরূপভাবে, উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ ভাষার প্রবর্তক (واضع اللغة), অর্থাৎ অর্থের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণকারীর বিষয়ে দশটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো, এটি মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত, অর্থাৎ এটি প্রত্যাদিষ্ট (توقيفي)। আর তারা এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন)।

অন্যতম একটি মত হলো: মানুষই অর্থের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণ করেছে এবং সেই শব্দচয়নের (الوضع) ব্যাপারে তারা

ঐক্যমতে (اصطلاح) উপনীত হয়েছে।

তৃতীয় একটি অভিমত হলো: মহান আল্লাহ তাআলা আদমকে কিছু নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন

এবং কিভাবে শব্দচয়ন (الوضع) করতে হয় তাও শিখিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর মানুষ তা পূর্ণতা দান করেছে; ফলে তারা প্রতিটি নতুন উদ্ভূত বিষয়ের জন্য নতুন শব্দ তৈরি করেছে এবং নিজেদের মধ্যে সেই পরিভাষার (اصطلاح) বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে।

আর এসব মতবাদের মধ্যে একটি হলো স্থগিত রাখা (الوقف), আর তা হলো এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা নিয়ে

আমাদের গবেষণা করা উচিত এবং এর ওপর বিশেষ কোনো ফায়দা বা উপকারিতা নির্ভর করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
فعلينا أن نتوقف فيها دون أن نعرف من الواضع، لأن هذا لا يفيدنا فى

شيء ومنها غير ذلك مما لا أطيل فيه، لأنه ليس هو المقصود بالذات.

ولم يقتصر الأمر على الوضع اللغوي وجعل الألفاظ بإزاء المعانى فى اللغة

التى تعارف عليها الناس والتى نقلت الأفكار من ذهن إلى ذهن، ومن شخص إلى آخر حيث جاء الشرع الشريف بوضع جديد وبألفاظ جديدة بإزاء معانى لم تكن معهودة أمام هذه الألفاظ فى اللغة، فأصبح عندنا حقائق شرعية، وحقائق لغوية،

والحقيقة هى اللفظ المستعمل فيما وضع له أولاً فى اصطلاح التخاطب.

فإذا أطلقت الصلاة فى لغة الشرع أو عند علماء الشرع انصرفت إلى

الأقوال والأفعال المبتدئة بالتكبير المختتمة بالتسليم ذات الشروط الخاصة المعروفة عند أهل الشرع، على أنها فى اللغة، كانت أولا تعنى العطف كما نص على ذلك ابن هشام وغيره من أئمة اللغة وفرعوا من العطف الدعاء والصلة وما إلى ذلك من معان أخرى، وكذلك الصيام والزكاة والحج والنية.

فكل هذه الألفاظ لها فى الشرع معان ولها فى اللغة معان أخرى، ومعانيها

فى الشرع لها ثمة علاقة بمعانيها فى اللغة. ولكن ليس هى نفسها.

وهذا الوضع الجديد لتلك الألفاظ بإزاء معانيها التى حددها الشرع، وهو

ما يسمى بالوضع الشرعى -

وقد تضع اللغة لفظة بإزاء معنى من المعانى ويأتى العرف فيخرحها عن

معناها إلى معنى آخر، وهذا ما يسمى بالوضع العرفى العام، فكلمة دابة مثلاً

تعنى فى اللغة كل ما يدب على الأرض، ولكن الناس فى العراق وفى مصر قديما
অতএব আমাদের এতে বিরত থাকা উচিত কে এর প্রণেতা (الواضع) তা জানা ছাড়াই, কারণ এটি আমাদের কোনো উপকারে আসবে না এবং এ ছাড়াও আরও বিষয় রয়েছে যা নিয়ে আমি দীর্ঘ আলোচনা করব না, কারণ এটি মূলত কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়।

বিষয়টি কেবল ভাষাগত প্রয়োগ (الوضع) এবং মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভাষায় অর্থের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যার মাধ্যমে চিন্তা এক মন থেকে অন্য মনে এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হয়। যেহেতু শরয়ি বিধান একটি নতুন প্রয়োগ (الوضع) এবং এমন সব অর্থের বিপরীতে নতুন শব্দ নিয়ে এসেছে যা ভাষার ক্ষেত্রে এই শব্দগুলোর অনুকূলে পরিচিত ছিল না, ফলে আমাদের কাছে শরয়ি বাস্তবতা (حقائق شرعية) এবং ভাষাগত বাস্তবতা (حقائق لغوية) সৃষ্টি হয়েছে।

আর প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) হলো এমন শব্দ যা কথোপকথনের পরিভাষায় (اصطلاح) মূলত যার জন্য নির্ধারিত হয়েছে তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং যখন শরয়ি ভাষায় বা শরয়ি আলেমদের নিকট সালাত শব্দটি উচ্চারণ করা হয়, তখন তা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু হওয়া এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হওয়া ঐ সকল কথা ও কাজকে বোঝায় যার বিশেষ শর্তাবলি শরয়ি বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপরিচিত। অথচ ভাষায় এটি প্রাথমিকভাবে 'অনুকম্পা' অর্থ প্রকাশ করত, যেমনটি ইবনে হিশাম এবং অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিক ইমামগণ উল্লেখ করেছেন এবং তারা এই অনুকম্পা থেকে দোয়া, সংযোগ এবং এ জাতীয় অন্যান্য অর্থ বের করেছেন। অনুরূপভাবে সিয়াম, জাকাত, হজ এবং নিয়তের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য।

অতএব এই সকল শব্দের শরয়ি পরিভাষায় নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে এবং লভিধানিক ভাষায় অন্য অর্থ রয়েছে। শরয়ি পরিভাষার অর্থগুলোর সাথে লভিধানিক অর্থের একটি যোগসূত্র রয়েছে, তবে সেগুলো হুবহু এক নয়।

আর শরয়ি বিধান কর্তৃক নির্ধারিত অর্থের বিপরীতে এই শব্দগুলোর যে নতুন প্রয়োগ (الوضع), তাকেই শরয়ি প্রয়োগ (الوضع الشرعى) বলা হয়।

কখনও ভাষা কোনো একটি অর্থের বিপরীতে একটি শব্দ নির্ধারণ করে, কিন্তু প্রথা (العرف) এসে সেই শব্দটিকে তার মূল অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে নিয়ে যায়। একেই সাধারণ প্রথাগত প্রয়োগ (الوضع العرفى العام) বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, 'দাব্বাহ' শব্দটি আভিধানিক ভাষায় পৃথিবীতে বিচরণশীল সকল প্রাণীকে বোঝায়, কিন্তু ইরাক ও মিশরের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وحديثاً أطلقوها بصفة خاصة على الحصان وعلى الحمار وبحيث إذا أطلقت كلمة الدابة انصرفت إلى هذا الحيوان بالذات دون سواه.

وهذا مخالف للوضع اللغوى، ولذلك سمي الوضع العرفى العام، لأن الكافة

والجميع مشتركرن فى فهم معناه عند إطلاقه من غير إلى رجوع إلى الوضع اللغوى الأول.

كذلك يتواضع أهل فن معين أو طائفة خاصة من الصناع أو الحرفيين

أوغيرها من الطوائف على ألفاظ بإزاء معانى خاصة بذلك الفن أو تلك الحرفة، حتى إذا اطلق هذا اللفظ عندهم انصرفت ذهنهم إلى ذلك المعنى مباشرة فكان فى ذلك توفير للوقت وللجهد، وكان في ذلك أيضا تخاطب سريع بين أهل الفن الواحد، فهذا ما يسمى بالوضع العرفى الحاص أو ما يسمى أيضا بالاصطلاح -
আধুনিককালে তাঁরা এই শব্দটিকে বিশেষভাবে ঘোড়া এবং গাধার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে যখন 'দাব্বাহ' শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন তা অন্য কোনো প্রাণী ব্যতিরেকে বিশেষভাবে এই নির্দিষ্ট প্রাণীটিকেই নির্দেশ করে।

এটি আভিধানিক নির্ধারণের (الوضع اللغوي) পরিপন্থী। এ কারণেই একে সাধারণ প্রথাগত নির্ধারণ (الوضع العرفي العام) বলা হয়; কারণ সর্বসাধারণ

এবং প্রত্যেকেই এর প্রয়োগকালে মূল আভিধানিক অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন ছাড়াই এর অর্থ অনুধাবনে একমত।

একইভাবে, কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ অথবা কারিগর ও পেশাজীবীদের কোনো বিশেষ গোষ্ঠী

অথবা অন্যান্য কোনো গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট শাস্ত্র বা পেশার বিশেষ অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে একমত হন। এমনকি যখন তাদের নিকট এই শব্দটির প্রয়োগ ঘটে, তখন তাদের মন সরাসরি সেই অর্থের দিকেই ধাবিত হয়। এর ফলে সময়ের সাশ্রয় ও পরিশ্রম লাঘব হয় এবং একই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দ্রুত ভাববিনিময় সম্ভব হয়। আর একেই বলা হয় বিশেষ প্রথাগত নির্ধারণ (الوضع العرفي الخاص) বা পরিভাষা (اصطلاح)—
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
وبناء على ما تقدم، فإن الاصطلاح كما هو الوضع العرفى الخاص.

قال ابن عابدين فى حاشيته فى المجلد الأول هـ 36:

" الاصطلاح لغة: الاتفاق ".

وقال الشيخ الباجورى فى حاشيته على ابن قاسم فى المجلد الأول هـ 20.

وكذلك قال مثله أبو النجا فى حاشيته على شرح الشيخ خالد على الآجرومية:

"الاصطلاح لغة مطلق الاتفاق، فالاصطلاح افتعال من اصطلح على وزن

افتعل، وقلبت التاء طاء لوروده بعد حروف الإطباق الأربعة وهى الصاد والضاد والطاء والظاء.

قال ابن مالك، طاتا افتعال رد أثر مطبق* والدان وازدد وادكر والابقى.

ولو رجعنا إلى العرف لوجدنا أن صيغة الافتعال تأتي فى اللغة بمعان كثيرة

لكن المراد منها هنا التشارط والإظهار فافتعل تأتى للتشارط وتأتى للإظهار،

فالاصطلاح كأنه يشترط فيه تشارط طائفة فى الاتفاق عليه ثم إظهار هذا

التشارط، وسترى أثر ذلك عندما نحدد شروط الاصطلاح.
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, পরিভাষা (الاصطلاح) হলো সুনির্দিষ্ট প্রচলিত প্রথা।

ইবনে আবিদীন তাঁর হাশিয়া-র প্রথম খণ্ডের ৩৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

"আভিধানিকভাবে পরিভাষা (الاصطلاح) অর্থ: ঐক্যমত্য (الاتفاق)।"

এবং শায়খ আল-বাজুরি ইবনে কাসিমের ওপর তাঁর হাশিয়া-র প্রথম খণ্ডের ২০ পৃষ্ঠায় অনুরূপ বলেছেন।

একইভাবে আবুল নাজা আল-আজুরুম্মিয়াহর ওপর শায়খ খালিদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের হাশিয়া-তে বলেছেন:

"আভিধানিকভাবে পরিভাষা (الاصطلاح) হলো নিরঙ্কুশ ঐক্যমত্য। পরিভাষা (الاصطلاح) শব্দটি ইফতি'আল (افتعال) ছাঁচে ইসতালাহা (اصطلح) থেকে আগত, যা ইফতা'আলা (افتعل) ওজনে গঠিত। এখানে 'তা' (تاء) অক্ষরটিকে 'ত্ব' (طاء) তে রূপান্তর করা হয়েছে, কারণ এটি ইতবাক (الإطباق)-এর চারটি বর্ণের (যথা- সোয়াদ, দোয়াদ, ত্ব এবং জোয়া) কোনো একটির পরে এসেছে।

ইবনে মালিক বলেছেন, ইতবাক (مطبق) বর্ণের পরবর্তী ইফতি'আল (افتعال)-এর 'তা' (تاء) অক্ষরটিকে 'ত্ব' (طاء) তে রূপান্তর করো; আর 'দাল' (الدان) এর ক্ষেত্রে যেমন ইজদাদা (ازدد), ইদ্দাকারা (ادكر) এবং অবশিষ্টাংশেও এমনটি ঘটে।

যদি আমরা প্রচলিত ব্যবহারের দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখব যে ভাষাতত্ত্বে ইফতি'আল (الافتعال) রূপটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

তবে এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক শর্তারোপ (التشارط) এবং প্রকাশ করা (الإظهار)। কেননা ইফতা'আলা (افتعل) রূপটি পারস্পরিক শর্তারোপ এবং প্রকাশের অর্থে ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং পরিভাষা (الاصطلاح)-এর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন এতে কোনো একটি গোষ্ঠীর মাঝে কোনো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য পারস্পরিক অঙ্গীকার এবং পরবর্তীতে সেই অঙ্গীকারের প্রকাশ ঘটানো শর্ত হিসেবে গণ্য। যখন আমরা পরিভাষা (الاصطلاح)-এর শর্তাবলি নির্ধারণ করব, তখন আপনি এর প্রভাব দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
إذن الاصطلاح لغة هومطلق الاتفاق، أما اصطلاحاً، ويتحدث عنه

الجرجانى فى التعريفات ص 28 ويورد له عدة تعريفات وليس تعريفاً واحداً،

فيقول:

هو إخراج اللفظ من معنى لغوى إلى آخر لمناسبة بينهما، وقيل هو اتفاق

طائفة على وضع اللفظ بإزاء المعنى، وقيل: إخراج الشيء عن معنى لغوى إلى معنى آخر لييان المراد، فمرة عير باللفظ ومرة عبر بالشيء، ثم قال: وقيل الاصطلاح لفظ معين بين قوم معينين، فرجع ليعبر باللفظ مرة أخرى.

وفى كل تلك التعريفات للاصطلاح، نرى أنه لا يكون إلا فى الألفاظ

التى وضعت لمعان جارية فى فن معين أو علم خاص، حتى من عرفه بأنه: إخراج الشيء. كما جاء فى التعريف الثالث الذى ذكرناه، فإنه ينصرف إلى اللفظ، حيث إن قوله: عن معنى لغوي، يحتم أن يكون الشيء هنا. بمعنى اللفظ.

هذا هو الاتجاه الأول فى تعريف الاصطلاح.

- 6 -

وهناك اتجاه آخر نجده عند أبى النجا فى حاشيته على الشيخ خالد، يقول:

هو اتفاق طائفة مخصوصة على أمر معهود، فلم يقل لفظ، ولكن قال: على أمر معهود بينهم متى أطلق انصرف إليه.

وقد سار على هذا المنهج الشيخ الباجورى

فى حاشيته على ابن قاسم حيث يقول:

هو اتفاق طائفة على وضع أمر لأمر حتى إذا أطلق انصرف إليه.

وهذا الاتجاه فى تعريف الاصطلاح يدخل فيه الإشارة والعقد والنصب

والخط، وكل أنواع الدوال وما شاكل ذلك، فهو لا يقتصر على الألفاظ فقط.

بل يدخل باقى الدوال التى تدل على شيء من قبيل الاصطلاح وعلى ذلك

فإشارة المرور عندهم من الاصطلاح العام لأنها تمثل عرفا بين الناس جميعاً، فاللون الأحمر دال على التوقف، واللون الأخضر دال على المسير، وأنا أختار الاتجاه الأول، وأرى أن المصطلح هو اللفظ الموضوع من طائفة مخصوصة بإزاء معنى مخصوص بينه وبين المعنى اللغوي مناسبة.

- 7 -

إذا وصلنا إلى هذا الحد اعترضتنا أسئلة منها: هل الآلات والوسائل

- والأدوات وطرق البحث تعد مما يصطلح عليه، حتى إذا ما عالجنا المصطلح، فلابد
সুতরাং, ‘পরিভাষা’ (اصطلاح) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো নিঃশর্ত ঐকমত্য। পক্ষান্তরে পারিভাষিক অর্থে এর সংজ্ঞা সম্পর্কে আল-জোরজানি তাঁর ‘আত-তারিফাত’ (পৃষ্ঠা ২৮) গ্রন্থে আলোচনা করেছেন এবং তিনি এর একটি মাত্র সংজ্ঞা না দিয়ে বরং একাধিক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

তিনি বলেন:

তা হলো কোনো শব্দকে (لفظ) তার আভিধানিক অর্থ (معنى لغوى) থেকে সরিয়ে উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্যের (مناسبة) কারণে অন্য একটি অর্থে ব্যবহার করা। আবার বলা হয়েছে: কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর কোনো নির্দিষ্ট শব্দকে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থের বিপরীতে নির্ধারণ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা। কেউ কেউ বলেছেন: কোনো বিষয়কে (شيء) তার আভিধানিক অর্থ থেকে সরিয়ে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য অন্য কোনো অর্থে নিয়ে যাওয়া। ফলে লেখক একবার ‘শব্দ’ (لفظ) দিয়ে ভাব প্রকাশ করেছেন আবার কখনও ‘বিষয়’ (شيء) দিয়ে। এরপর তিনি বলেছেন: কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত সুনির্দিষ্ট শব্দই হলো পরিভাষা (اصطلاح); অর্থাৎ তিনি পুনরায় ‘শব্দ’ (لفظ) শব্দটির ব্যবহারের মাধ্যমে সংজ্ঞায় ফিরে এসেছেন।

পরিভাষার এই সকল সংজ্ঞায় আমরা দেখতে পাই যে, এটি কেবল সেই সকল শব্দের (ألفاظ) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যা কোনো নির্দিষ্ট শিল্প বা বিশেষ বিদ্যায় প্রচলিত অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এমনকি যিনি একে ‘কোনো বিষয়কে সরিয়ে নেওয়া’ (إخراج الشيء) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন—যেমনটি আমরা উল্লিখিত তৃতীয় সংজ্ঞায় দেখেছি—সেখানেও এটি ‘শব্দ’ (لفظ) অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ তার উক্তি—‘আভিধানিক অর্থ থেকে’ (عن معنى لغوي)—এটি নিশ্চিত করে যে এখানে ‘বিষয়’ (الشيء) দ্বারা ‘শব্দ’ (اللفظ) অর্থই উদ্দেশ্য।

এটি হলো পরিভাষা (اصطلاح) সংজ্ঞায়নের প্রথম ধারা।

- ৬ -

দ্বিতীয় আরেকটি ধারা আমরা আবু নাজা-র শেখ খালিদের ওপর লেখা টীকাগ্রন্থে দেখতে পাই; তিনি বলেছেন:

তা হলো কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি সুপরিচিত বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করা। তিনি এখানে কেবল ‘শব্দ’ বলেননি, বরং বলেছেন: তাদের মধ্যকার এমন একটি সুপরিচিত বিষয়ের ওপর ঐকমত্য যা সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হলে সেই সুনির্দিষ্ট অর্থটিকেই বোঝায়।

শেখ বাজুরি ইবনে কাসিমের ওপর তাঁর টীকাগ্রন্থে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

তা হলো একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করার ব্যাপারে কোনো এক জনগোষ্ঠীর ঐকমত্য, যাতে করে যখনই তা নিঃশর্তভাবে প্রয়োগ করা হবে, তখনই সেই বিষয়টিকেই বোঝানো হবে।

পরিভাষার (اصطلاح) সংজ্ঞায়নের এই ধারার মধ্যে ইশারা-ইঙ্গিত, গাণিতিক হিসাব বা চুক্তি (العقد), চিহ্ন স্থাপন (النصب), লিখন পদ্ধতি (الخط) এবং নির্দেশক সকল প্রকার মাধ্যম ও অনুরূপ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এটি কেবল শব্দের (الألفاظ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

বরং এর অন্তর্ভুক্ত হয় অন্যান্য সেই সকল নির্দেশক যা পরিভাষা (اصطلاح) হিসেবে কোনো কিছুর অর্থ প্রকাশ করে। সেই অনুযায়ী, তাদের মতে ট্রাফিক সিগন্যাল একটি সাধারণ পরিভাষা (اصطلاح عام), কারণ এটি সকল মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত প্রথা (عرف) হিসেবে স্বীকৃত। যেমন লাল রঙ থামার নির্দেশক এবং সবুজ রঙ চলার নির্দেশক। আমি এক্ষেত্রে প্রথম ধারাটিকে বেছে নিচ্ছি এবং মনে করি যে, পরিভাষা (اصطلاح) হলো এমন একটি শব্দ (اللفظ) যা একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিপরীতে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে পারিভাষিক অর্থের সাথে তার আভিধানিক অর্থের (المعنى اللغوي) সামঞ্জস্য (مناسبة) বিদ্যমান থাকে।

- ৭ -

যখন আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছলাম, তখন কিছু প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে, যেমন: গবেষণার যন্ত্রপাতি, উপকরণ, হাতিয়ার এবং পদ্ধতিসমূহ কি পরিভাষা (اصطلاح) হিসেবে গণ্য হবে? ফলে যখন আমরা পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করব, তখন কি অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
علينا أن ندخل هذه الأشياء فى كلمة مصطح؟ وهل الأشخاص أيضاً يمكن أن

ندخلهم تحت طائلة الاصطلاح.

إن كلمة جعل اللفظ بإزاء المعنى فى أصلها يمكن

أن تشمل كل ذلك، لأن المعنى هو الصورة الذهنية للشئ الخارجي، وقد تكلم العلماء عن الوجودات الأربعة، وهى وجود في الأذهان، ووجود في الأذهان، ووجود على اللسان، ووجود فى البنان والوجود فى البنان والوجود المتعين المخصص هو الوجود الخارجي الذى له صورة فى الذهن، ولفظ يترجم عنه على اللسان، وبالكتابة بما يشير إلى ذلك اللفظ.

فالمعنى إذن يمكن أن يكون لكل شىء، وباعتبار أن الاصطلاح هو عملية

وضع جديد فإن الاصطلاح يمكن أن يشمل كل ما ذكرناه.

- 8 -

وعلى سبيل المثال، فإن الدبوس فى اللغة هو آلة من آلات الحرب ويعنى

به عند طائفة من الصناع نوعاً من الكماشات، هذا الدبوس فى اللغة إذا أطلقناه عند العربى لانصرف ذهنه إلى آلة الحرب المعروفة، وهى كرة بها بروزٌ من حوانب متعددة، ولها يد يمسكها المحارب ويضرب بها خصمه وعدوه.

ولكننا إذا أطلقناها عند طائفة الصناع هولاء وقال أحدهم لصبيه: ائتني بالدبوس، فلابد عليه أن يأتيه بهذه الآلة المتعارف عليها بين أهل هذه الصناعة بهذا الاسم، هذا على حين أنه يطلق عند طائفة النساء على ما يشبك به مثلا.

وأطلق فى العصر الحديث على أداة من معدن على هيئة المسمار الصغير.

وهكذا نرى أن كلمة واحدة عرض لها الاصطلاح عند طوائف متعددة،

وعلى ذلك يمكن عندما نتعرض لصناعة من الصناعات أو فن من الفنون أو علم من العلوم أن نتعرض ونعد من المصطلح ما يدل على الآلة وما يدل على الوسيلة.

وما يدل على الأداة وما يدل على طريقة البحث وهكذا، لأن الاصطلاح فى

حقيقته وضع، وعندما يتوفر الوضع وتتوفر هذه العملية فلا بأس علينا من أن

نسمى ذلك اصطلاحاً، وأن نسمى تلك الألفاظ مصطلحاً.

بالنسبة للأشخاص إذا ما تأملنا ما بين أيدينا من التراث نجد أن الشافعى

رضى الله عنه يطلق كلمة الثقة، ويريد بها محمد بن إبراهيم بن أبى يحيى، فإذا
আমাদের কি এই বিষয়গুলোকে পরিভাষা (مصطلح) শব্দের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত? আর ব্যক্তিদেরকেও কি আমরা

পরিভাষার (اصطلاح) আওতায় নিয়ে আসতে পারি?

মূলত অর্থের বিপরীতে শব্দ নির্ধারণ করার বিষয়টি এই সমস্ত কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, কারণ অর্থ হলো কোনো বাহ্যিক বস্তুর মানসিক প্রতিচ্ছবি। উলামায়ে কেরাম চার প্রকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো: মানসপটে অস্তিত্ব (وجود في الأذهان), বাস্তবে অস্তিত্ব (وجود في الأعيان), মুখে বা জিহ্বায় উচ্চারিত অস্তিত্ব (وجود على اللسان) এবং লেখনীতে অস্তিত্ব (وجود في البنان)। আর সুনির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত অস্তিত্ব হলো সেই বাহ্যিক অস্তিত্ব যার একটি প্রতিচ্ছবি মনে বিদ্যমান থাকে, মুখে একটি শব্দ তা প্রকাশ করে এবং লেখনীর মাধ্যমে সেই শব্দের দিকে ইঙ্গিত করা হয়।

সুতরাং, অর্থ যেকোনো কিছুর জন্যই হতে পারে। যেহেতু পরিভাষা (اصطلاح) হলো একটি নতুন নামকরণের প্রক্রিয়া, তাই পরিভাষা (اصطلاح) আমাদের উল্লিখিত সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

- ৮ -

উদাহরণস্বরূপ, আভিধানিক অর্থে 'দাব্বুস' (গদা) হলো যুদ্ধের সরঞ্জামসমূহের একটি। আবার কারিগরদের একটি দলের কাছে এর দ্বারা এক প্রকারের সাঁড়াশি বোঝানো হয়। আভিধানিক অর্থে যখন আমরা কোনো আরবের সামনে এই 'দাব্বুস' শব্দটি ব্যবহার করি, তখন তার মনে সেই সুপরিচিত যুদ্ধের অস্ত্রের কথা ভেসে ওঠে; যা হলো এমন একটি গোলক যার চারপাশ থেকে কাঁটা বের করা থাকে এবং তাতে একটি হাতল থাকে যা দিয়ে যোদ্ধা তা ধরে এবং প্রতিপক্ষ বা শত্রুকে আঘাত করে।

কিন্তু আমরা যদি কারিগরদের সেই দলের মাঝে শব্দটি ব্যবহার করি এবং তাদের কেউ তার সহযোগীকে বলে: 'আমাকে দাব্বুস দাও', তবে তাকে অবশ্যই এই শিল্পের কারিগরদের মাঝে এই নামে পরিচিত যন্ত্রটিই এনে দিতে হবে। অথচ আবার নারীদের কাছে এই শব্দটি এমন কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা দিয়ে কোনো কিছু আটকানো হয় (যেমন পিন)।

বর্তমান যুগে ছোট পেরেকের মতো ধাতব যন্ত্রের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।

এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, একটি শব্দ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পরিভাষা (اصطلاح) হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ করেছে। সেই অনুযায়ী, আমরা যখন কোনো শিল্প, কলা বা বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমরা সেই সব শব্দকে পরিভাষার (مصطلح) অন্তর্ভুক্ত করতে পারি যা কোনো যন্ত্র বা মাধ্যমকে নির্দেশ করে।

তেমনিভাবে যা কোনো উপকরণ বা গবেষণা পদ্ধতি নির্দেশ করে তাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কারণ পরিভাষা (اصطلاح) মূলত একটি নির্ধারণ বা নামকরণ। যখন এই নির্ধারণ ও নামকরণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, তখন তাকে পরিভাষা (اصطلاح) বলা এবং সেই শব্দগুলোকে পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) হিসেবে অভিহিত করতে আমাদের কোনো বাধা নেই।

ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডার (তুরাস) পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম শাফিঈ (রা.) 'নির্ভরযোগ্য' (ثقة) শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়াকে উদ্দেশ্য করেন। সুতরাং যখন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قال: حدثنى الثقة انصرف ذهن الرواة عنه إلى ذلك الشخص، فهم أسموه ثقة لأغراض عندهم تخصه وتخص علمه، وذلك فى حين أن مالكاً رضى الله تعالى عنه كان يقول: إنه زنديق ولا يقبل الرواية عنه، وكان الشافعى رضى الله عنه يروى عنه ويبجله ويجله، ويقول الشافعية إنهم تتبعوا روايات فيه فلم يجدوا فيها خللا أبدا، وأما مالك فقد اتهمه بذلك لغموض بينهما رآها كذلك ولم يرها الشافعى.

على كل حال نحن هنا فى إطلاق كلمة الثقة، على محمد بن إبراهيم بن أبى

يحيى، الذى صار مصطلحاً للشافعى ومصطلحاً لمن أتى بعده فى الرواية، حيث يقول: حدثنا الشافعى قال حدثنا الثقة، وعلى ذلك تصحح الأحاديث وتضعف بناء على علم مصطلح الحديث.

كذلك جرى علماء الحديث علي أنهم إذا أطلقوا الحسن غير منسوب فإنه

ينصرف إلى البصري ولا ينصرف إلى الحسن بن على، فإذا قالوا قال الحسن، انصرف ذهن المحدث بل ذهن الفقيه إلى أن تلك من قول الحسن البصرى وليس من قوله الحسن بن علي، والذى دفعهم إلى ذلك أمر آخر، وهو أنهم أرادوا أن يتبركوا بذكر الإمامين، فيكون الحسن بن على إن أرادوا أن يتكلموا عن الحسن بن علي، كما أن مرويات الحسن بن علي بسيطة وقليلة، ولذلك ميز لأنه أقل.

أما مرويات الحسن البصري فكثيرة، وفقه الحسن البصرى كبير، حتى إنه

عندما جمع وصل إلى ثمانية مجلدات.

فإذا أطلقت كلمة الحسن عند علماء الحديث أو عند علماء الفقه انصرف

ذلك إلى الحسن البصري فهل هذا اصطلاحاً يجد المتأمل أنه ليس اصطلاحا، لأنه لم تتفق طائفة من الناس لوضع هذه الكلمة بإزاء هذا المعنى بهذه الكيفية.

ولكننى أرى أن كثرة الاستعمال دون نكير من أحد فى قوة المصطلح،

وحتى وإن لم يمن مصطلحا بالمعنى الفنى الدقيق إلا أنه فى قوة المصطلح.

ويظهر لنا الاصطلاح فى مقابلة الأشخاص إذا نظرنا فى أصول الفقه،

ْفمثلا هم يطلقون كلمة الإمام، ويعنون بها الإمام الرازي، حتى إذا ما قيل فى أى كتاب من كتب أصول الفقه قال الإمام: فهو فخر الدين الرازي المتوفني سنة 606 هـ.

ولم يخرج عن هذا سوى مختصر ابن الحاحب وهو كتاب أصولى.

انفرد ابن الحاجب فيه باصطلاح خاص من بين الأصوليين وأرجع الناس ذلك

إلى كثرة تفننه فى العلوم، فكان إذا أطلق كلمة الإمام فإنه يعنى بها الإمام الجويني.
তিনি বলেছেন: "জনৈক নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন," তখন বর্ণনাকারীদের মনোযোগ সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির দিকে ধাবিত হয়। তারা তাদের বিশেষ উদ্দেশ্যে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে অভিহিত করেছেন যা তার সত্তা এবং তার ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট। অথচ ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলতেন: সে একজন ধর্মত্যাগী (زنديق) এবং তার থেকে বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তার থেকে বর্ণনা (رواية) করতেন এবং তাকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। শাফিঈগণ বলেন যে, তারা তার বর্ণনাগুলোর (رواية) ওপর অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং তাতে কখনও কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি। আর ইমাম মালিক তাকে ওই অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন তাদের মধ্যকার এক অস্পষ্ট বিষয়ের কারণে যা তিনি সেভাবেই দেখেছিলেন, কিন্তু ইমাম শাফিঈ তা দেখেননি।

যাই হোক, আমরা এখানে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' শব্দের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করছি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া-এর ওপর, যা ইমাম শাফিঈ এবং তাঁর পরবর্তী বর্ণনাকারীদের নিকট একটি পরিভাষা (مصطلح) হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে তিনি বলেন: "শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট জনৈক নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।" এর ওপর ভিত্তি করেই হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم مصطلح الحديث) আলোকে হাদিসসমূহকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করা হয় অথবা দুর্বল (ضعيف) ঘোষণা করা হয়।

একইভাবে হাদিস বিশারদগণ এই রীতি অনুসরণ করেছেন যে, যখন তারা কোনো সম্বন্ধ ছাড়াই 'হাসান' শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করেন, তখন তা হাসান বসরির দিকেই ইঙ্গিত করে, হাসান ইবনে আলীর দিকে নয়। সুতরাং যখন তারা বলেন: "হাসান বলেছেন," তখন হাদিস বিশারদ এমনকি ফকিহদের মনেও এটিই আসে যে, এটি হাসান বসরির উক্তি, হাসান ইবনে আলীর উক্তি নয়। যে বিষয়টি তাদের এই দিকে ধাবিত করেছে তা হলো অন্য একটি কারণ—আর তা হলো তারা এই দুই ইমামের নাম উল্লেখ করে বরকত হাসিল করতে চেয়েছিলেন। তাই যখন তারা হাসান ইবনে আলী সম্পর্কে কথা বলতে চাইতেন, তখন হাসান ইবনে আলীর নাম নিতেন। তাছাড়া হাসান ইবনে আলীর বর্ণিত হাদিসসমূহ (مرويات) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সংখ্যায় অল্প, তাই সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে একে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে হাসান বসরির বর্ণিত হাদিসসমূহ (مرويات) অনেক বেশি এবং হাসান বসরির ফিকহ অত্যন্ত ব্যাপক, এমনকি যখন তা সংকলন করা হয়েছে তখন তা আট খণ্ডে পৌঁছেছে।

সুতরাং যখন হাদিস বিশারদ অথবা ফকিহদের নিকট 'হাসান' শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা হাসান বসরির দিকেই নির্দেশ করে। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি কি একে পারিভাষিক (اصطلاحاً) প্রয়োগ হিসেবে পাবেন? তিনি দেখবেন যে এটি প্রকৃত অর্থে পরিভাষা (اصطلاح) নয়; কারণ একদল লোক এই শব্দটিকে এই অর্থের বিপরীতে এই পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো ঐকমত্য পোষণ করেননি।

কিন্তু আমি মনে করি যে, কারো পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ছাড়াই অধিকতর ব্যবহার পরিভাষার (مصطلح) শক্তিতে উন্নীত হয়। যদিও তা কারিগরি অর্থে সূক্ষ্ম পরিভাষা (مصطلح) না-ও হয়, তবুও তা পরিভাষার (مصطلح) শক্তির অধিকারী।

ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিভাষার (اصطلاح) এই ব্যবহার আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যখন আমরা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের দিকে তাকাই। উদাহরণস্বরূপ, তারা 'আল-ইমাম' শব্দটি ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা ইমাম রাজি-কে উদ্দেশ্য করেন। এমনকি উসুলুল ফিকহের যেকোনো কিতাবে যখন বলা হয় "ইমাম বলেছেন", তখন এর দ্বারা ৬০৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ফখরুদ্দীন রাজি-কেই বোঝানো হয়।

উসুলুল ফিকহের কিতাব মুখতাসার ইবনুল হাজিব ছাড়া আর কেউ এই নিয়মের বাইরে যায়নি।

ইবনুল হাজিব উসুল বিশারদদের মধ্যে এখানে একটি স্বতন্ত্র ও নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاح) গ্রহণ করেছেন এবং বিজ্ঞজনেরা এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন জ্ঞানে তার অসাধারণ পারদর্শিতাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি যখন 'আল-ইমাম' শব্দটি ব্যবহার করতেন, তখন তিনি এর দ্বারা ইমাম জুওয়াইনি-কে বোঝাতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وعند الشافعية، القاضى، هو القاضى حسين، فى حين إنه عند المفسرين

إذا قالوا قال القاضي، انصرف الذهن مباشرة إلى القاضى البيضاوي، فى حين إن المتكلمين إذا قالوا القاضى فإنه ينصرف مباشرة إلى الشيخ الباقلانى، وكذلك فإن الإمام فى الفقه ينصرف إلى الجوينى وليس إلى الرازي والاسفرائينى إلى أبى إسحاق الإسفرائينى وليس إلى أبى حامد.

يمكن إذن أن نجيب على سؤال: هل الآلات وما شابهها، والأشخاص

يمكن أن يصطلح عليها بالإيجاب.

على أننا يجب أن ننبه إلى أن أسماء الأعلام لا تدخل فى المصطلح، فمالك

والشافعى وأبو حنيفة ليست مصطلحات، وإنما يدخل منها من صار إطلاق أسمه بهيئة معينة كالحسن غير منسوب، أو وصف كالإمام والقاضى والأستاذ، أو الكنية أو اللقب تصبح مصطلحا إذا أطلقت فى فن بعينه ينصرف به أهل ذلك الفن إليه.

وكذلك فإن الآلات والوسائل لابد أن يخرج اللفظ عن معناه اللغوى فإن لم

يخرج عن معناه اللغوى فليس بمصطح.

فكلمة الشاكوش والمشط والحبل وغيرها من الأدوات، ليست مصطلحات حيث إن وضعها أمام وبإزاء معانيها من وضع

اللغة ولم تخرج عن هذا الوضع إلى معنى جديد، فكل شخص سواء من أهل الفن. أو من خارج أهل الفن يفهم الشاكوش، شاكوشاً والحبل حبلاً، فالألفاظ التى خرجت عن معانيها اللغوية هى التى نستطع أن نسميها مصطلحاً.

من هذا يمكن أن نتبين شروط وضع المصطلح وهى:

1 - أن تقوم به طائفة من أهل فن أو علم أو صنعة معينة، فإن قام به فرد

أو فردان، فلا يصير هذا مصطح علم إنما يصير مصطح شخص.

2 - أن يخرج اللفظ عن معناه اللغوى إلى معنى جديد، فإن لم يخرج فليس

بمصطلح.

3 - على أن يكون هناك ثمة مناسبة بين المعنى الجديد والمعنى اللغوى،

وهذه المناسبة هى العلاقة التى يتكلم عنها علماء البلاغة فى المجاز المرسل والتى

أوصلها بعضهم إلى خمس وعشرين علاقة، وأحياناً إلى أربعين علاقة عند

التفصيل.
শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের (شافعية) নিকট 'আল-কাদী' হলেন কাদী হুসাইন; যেখানে তাফসীরবিদদের (مفسرين) নিকট

যখন তাঁরা বলেন "কাদী বলেছেন", তখন সরাসরি কাদী বায়যাবীর কথা মনে আসে। আবার কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) নিকট যদি তাঁরা 'আল-কাদী' বলেন, তবে তা সরাসরি শেখ বাকিলানীকে বোঝায়। একইভাবে ফিকহশাস্ত্রে 'আল-ইমাম' বলতে জুয়াইনীকে বোঝায়, রাযীকে নয়; এবং 'আল-ইসফারাইনী' বলতে আবু ইসহাক আল-ইসফারাইনীকে বোঝায়, আবু হামিদকে নয়।

সুতরাং আমরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি যে: সরঞ্জাম ও অনুরূপ বস্তু এবং ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে কি

পারিভাষিক নামকরণ (اصطلاح) ইতিবাচকভাবে সম্ভব?

তবে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে, ব্যক্তিবাচক বিশেষ্যগুলো (أسماء الأعلام) পারিভাষিক শব্দের (مصطلح) অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং মালিক,

শাফেয়ী এবং আবু হানিফা কোনো পারিভাষিক শব্দ (مصطلحات) নন। বরং এর মধ্যে তারাই অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদের নাম একটি নির্দিষ্ট রূপে ব্যবহৃত হয়, যেমন কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়া 'আল-হাসান', অথবা কোনো বিশেষণ যেমন আল-ইমাম (الإمام), আল-কাদী (القاضي) এবং আল-উস্তাদ (الأستاذ)। অথবা কুনিয়া (كنية) বা উপাধি (لقب) তখন পারিভাষিক শব্দে (مصطلح) পরিণত হয় যখন তা নির্দিষ্ট কোনো শাস্ত্রে (فن) ব্যবহৃত হয় এবং সেই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ (أهل الفن) তার দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই বুঝে থাকেন।

একইভাবে সরঞ্জাম এবং উপকরণের ক্ষেত্রে শব্দটিকে অবশ্যই তার শাব্দিক অর্থ (معنى لغوي) থেকে বের হয়ে আসতে হবে; যদি তা

শাব্দিক অর্থ (معنى لغوي) থেকে বের না হয়, তবে তা পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) নয়।

হাতুড়ি, চিরুনি, দড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জামের শব্দগুলো পারিভাষিক শব্দ (مصطلحات) নয়, কারণ সেগুলোর অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে আভিধানিক বা ভাষাগত (لغة) প্রেক্ষাপট থেকে এবং সেগুলো সেই অবস্থান থেকে কোনো নতুন অর্থে পরিবর্তিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ (أهل الفن) হোক বা বাইরের কেউ হোক, প্রত্যেকেই হাতুড়িকে হাতুড়ি এবং দড়িকে দড়ি হিসেবেই বোঝেন। সুতরাং যে শব্দগুলো তাদের শাব্দিক অর্থ (معاني لغوية) থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সেগুলোকেই আমরা পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) বলতে পারি।

এখান থেকে আমরা পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) নির্ধারণের শর্তাবলী স্পষ্ট করতে পারি, যা হলো:

1 - এটি কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্র (فن), জ্ঞান (علم) বা পেশার একদল বিশেষজ্ঞ (أهل فن) দ্বারা সম্পাদিত হতে হবে। যদি এটি এক

বা দুইজন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়, তবে তা শাস্ত্রীয় পরিভাষা (مصطلح علم) হবে না, বরং তা ব্যক্তিগত পরিভাষা (مصطلح شخص) হবে।

2 - শব্দটিকে তার শাব্দিক অর্থ (معنى لغوي) থেকে বের হয়ে একটি নতুন অর্থে পদার্পণ করতে হবে। যদি তা বের না হয়, তবে তা

পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) নয়।

3 - নতুন অর্থ এবং শাব্দিক অর্থের (معنى لغوي) মধ্যে অবশ্যই কোনো না কোনো সামঞ্জস্য (مناسبة) থাকতে হবে।

এই সামঞ্জস্যই হলো সেই সম্পর্ক (علاقة) যা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ (علماء البلاغة) রূপক (مجاز مرسل) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা

কেউ কেউ পঁচিশটি এবং বিস্তারিত বর্ণনায় কখনও চল্লিশটি সম্পর্ক পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
4 - أن يشهر ذلك المعنى ويظهر بحيث ينصرف الذهن إليه عند إطلاق

اللفظ عند أهل الفن، فإن لم يشتهر لم يؤد وظيفته التى من أجلها كانت عملية الاصطلاح، وهى أن يصل المعنى إلى ذهن السامع من أقرب طريق للاستغناء به عن الإطالة فى الكلام وعن الشرح المستفيض، وهذا الاشتهار هو ما يمكن أن نسميه القبول العام من أهل الفن.

نأتى بعد ذلك لسؤال مهم هو هل الألفاظ الشرعية اصطلاح. أى هل تعد

من المصطلحات؟

إذا تاُملنا خريطة الوضع التى رسمناها لقلنا: إن الوضع يمكن أن يكون لغويا

أو عرفيا والعرفى إما عام وإما خاص.

وبناء على هذا التقسيم، فإن الألفاظ الشرعية تعد من قبيل الاصطلاح

العرفى الخاص بالشرع، ومن أجل ذلك نرى فى عبارات الكتاب عبارة

"وفى عرف الشرع كذا" أى فى اصطلاحهم، ولكن لما كان الشرع ليس خاصا بطائفة معينة من أهل العلوم والفنون، وكان اصطلاحه هذا يعرفه الكل حتى صار شبيهاً بالعرف العام، فقد قالوا معنى اللفظ لغة كذا، وشرعا كذا، وعرفا كذا، واصطلاحاً كذا، ففرقوا بين الشرعية والاصطلاحية،

وقولهم: لغة وشرعاً وعرفاً

أى فى اللغة وفى الشرع وفى العرف العام، وفى العرف الخاص، ونرى ذلك

مميزاً بين الشرعى والعرفى مثل الخاص والعام الاصطلاحى.

ويلخص الشيخ الباجورى هذه القضية فى سطور قليلة، فيقول: تارة

يعبرون بقولهم اصطلاحا، وتارة يعبرون بقولهم شرعا، والفرق بينهما أن الأول يكون فى الأمر المتلقى من الشارع كمعنى الصلاة، وهى أقوال وأفعال مبتدئة بالتكبير مختتمة بالتسليم بشرائط مخصوصة.

وقد يعبرون بقولهم شرعا فيما اصطلح

عليه الفقهاء من حيث أنهم حملة الشرع.

كما قال الشبراملسي، وقد نقل هذا عنه العلامة الجمل فى حاشيته على

شرح المنهج المجلد الأول ص 13 وكذلك البجيرمى على شرح المنهج للشيخ

زكريا الأنصارى المجلد الأول صـ 9 وقد قال الشبراملسي: العرف والاصطلاح متساويان، وقيل الاصطلاح هو العرف الخاص، وهو ما تعين ناقله، والعرف إذا أطلق يراد به العام، رهو ما لم يمَعين نامله، وعلى كل فالمراد من العرف والاصطلاح: اللفظ المستعمل في معنى غير لغوي، ولم يكن ذلك مستفاداً من
4 - সেই অর্থটি এমনভাবে প্রসিদ্ধ ও প্রকাশ হওয়া, যাতে শাস্ত্রজ্ঞদের নিকট শব্দটি উচ্চারণ করার সাথে সাথেই মন সেই অর্থের দিকে ধাবিত হয়। যদি তা প্রসিদ্ধ না হয়, তবে পরিভাষা তৈরির যে মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ কথা দীর্ঘ না করে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা ব্যতিরেকেই দ্রুততম উপায়ে শ্রোতার হৃদয়ে অর্থটি পৌঁছে দেওয়া—তা অর্জিত হবে না। এই প্রসিদ্ধিকেই আমরা শাস্ত্রজ্ঞদের 'সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা' বলতে পারি।

এরপর আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে আসছি যে, শরয়ি শব্দসমূহ কি পারিভাষিক পরিভাষা (اصطلاح)? অর্থাৎ এগুলি কি পরিভাষাসমূহের (مصطلحات) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে?

শব্দের বুৎপত্তিগত প্রয়োগের (وضع) যে নকশাটি আমরা এঁকেছি, তা যদি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি তবে আমরা বলতে পারি: শব্দপ্রয়োগ (وضع) ভাষাগত (لغوي) হতে পারে অথবা প্রথাগত (عرفي) হতে পারে; আর প্রথাগত (عرفي) বিষয়টি হয় সাধারণ (عام) হবে অথবা বিশেষ (خاص) হবে।

এই বিভাজনের ভিত্তিতে, শরয়ি শব্দসমূহ শরিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রথাগত পরিভাষার (اصطلاح) অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই আমরা গ্রন্থকারদের ইবারতে দেখতে পাই "শরয়ি প্রথায় (عرف الشرع) এমন..." অর্থাৎ তাদের পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح)। কিন্তু যেহেতু শরিয়ত কোনো নির্দিষ্ট বিজ্ঞান বা শাস্ত্রজ্ঞদের দলের জন্য সীমাবদ্ধ নয় এবং এর পরিভাষাগুলো সবার কাছে পরিচিত, এমনকি তা সাধারণ প্রথার (العرف العام) সদৃশ হয়ে গেছে, তাই তারা বলেন: শব্দটির অর্থ ভাষাগতভাবে (لغة) এমন, শরয়িভাবে (شرعا) এমন, প্রথাগতভাবে (عرفا) এমন এবং পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاحا) এমন। এভাবে তারা শরয়ি এবং পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

তাদের উক্তি: ভাষাগতভাবে (لغة), শরয়িভাবে (شرعاً) এবং প্রথাগতভাবে (عرفاً);

অর্থাৎ ভাষায়, শরিয়তে, সাধারণ প্রথায় এবং বিশেষ প্রথায়। আমরা এই পার্থক্যকে শরয়ি এবং প্রথাগত বিষয়ের মধ্যে দেখতে পাই, যেমনটা পারিভাষিক বিশেষ (خاص) ও সাধারণের (عام) মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।

শেখ বাজুরি এই বিষয়টি অল্প কথায় সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেন: কখনও তারা 'পারিভাষিকভাবে' (اصطلاحا) শব্দটি ব্যবহার করেন, আবার কখনও তারা 'শরয়িভাবে' (شرعا) শব্দটি ব্যবহার করেন। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথমটি (শরয়ি) সরাসরি শারী' (বিধানদাতা) থেকে প্রাপ্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'সালাত' (নামাজ)-এর অর্থ। আর তা হলো নির্দিষ্ট কিছু শর্তের সাথে তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হওয়া কতগুলো কথা ও কাজের সমষ্টি।

কখনও কখনও ফকিহগণ যে বিষয়ে পারিভাষিক ঐকমত্য (اصطلاح) পোষণ করেছেন, তাকেও তারা শরয়ি (شرعا) বলে অভিহিত করেন, যেহেতু তারা শরিয়তের বাহক।

যেমনটি শুবরামালসি বলেছেন, আর তার থেকে আল্লামা জামাল তার হাশিয়াহ আলা শারহিল মানহাজ (প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩) এবং আল-বুজাইরমি তার শারহুল মানহাজ লিল শেখ জাকারিয়া আল-আনসারী (প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯) কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন। শুবরামালসি বলেন: প্রথা (العرف) এবং পরিভাষা (الاصطلاح) সমার্থক। আবার কেউ বলেছেন, পরিভাষা (الاصطلاح) হলো বিশেষ প্রথা (العرف الخاص), যার প্রয়োগকর্তা সুনির্দিষ্ট। আর প্রথা (العرف) শব্দটি যখন নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা দ্বারা সাধারণ প্রথা (العرف العام) বোঝানো হয়, যার প্রয়োগকর্তা সুনির্দিষ্ট নয়। মোদ্দাকথা হলো, প্রথা (العرف) এবং পরিভাষা (الاصطلاح) দ্বারা এমন শব্দকে বোঝানো হয় যা কোনো অ-ভাষাগত অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং যা কোনো নির্দিষ্ট উৎস থেকে আহরিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
كلام الشارع بان أخذ من القرآن أو السنة وقد يطلق الشرعي مجازا على ما كان من كلام الفقهاء وليس مستفادا من الشارع.

وإذا نظرنا فى ذلك القول فإننا نرى أن اللفظ الواحد قد يكون له معان منعدة بتعدد العلوم، ومثال ذلك كلمة المفرد

التى تعنى فى علم النحو الكلمة الواحدة، وهى عند المناطقة والأصوليين:

ما لا يدل جزؤه على جزء معناه وهذا الخلاف فى المعنى يرجع إلى اختلاف العلوم.

وكلمة "الكلام " عند اللغوين تعنى: كل ما أفاد من كتابة أو إشارة أو

عقد أو نصب، بينما تعنى عند النحاة: اللفظ المركب المفيد بالوضع، وعند

الفقهاء كل ما أفسد الصلاة، ولو كان حرفا مبهماً أو حرفين وإن لم يفهما.

وهذا ما يسمى كلاماً عند الفقهاء.

أما عند المتكلمين فهو عبارة عن المعنى القديم القائم بذاته تعالى.

وهكذا نرى كلمة واحدة ومصطحا واحداً يختلف معانيه باختلاف العلوم

وهذا شيء طبيعى.

كذلك نجد أن المصطلح يختلف باختلاف المدارس داخل العلم الواحد،

فالواجب والفرض فى أصول الفقه. مترادفان عند الجمهور،

وقد قالت الحنيفة إن الفرض ما ثبت بدليل قطعي، والواجب ما ثبت بدليل ظني.

وكلمة: مال، عند فقهاء الحنيفة، تعنى موجود قابل للادخار فى حال

السعة والاختيار، له قيمة مادية بين الناس، فى حين إنه عند الجمهور ما كان فيه منفعة مقصودة مباحة شرعاً لغير حاجة أو ضرورة، حتى يخرج من المحرمات التى تباح بالضرورة، وله قيمة مادية بين الناس.

فعند الحنيفة المال، منه ما هو متقوم وما هو غير متقوم، واشترطواً فيه

قابليته للادخار، وذلك خلافاً للجمهور الذى لم يشترط ذلك، وقد بنى على

ذلك كثير من مسائل الفقه.

والمصطح قد يتطور مدلوله وتعريفه عبر القرون، وقد يكون الاختلاف فى

الصيغة فقط، وقد يكون فى مدلوله أيضاً ومعناه.

فالحكم عند الأصوليين كما قال الغزالي فى أواخر القرن الخامس وأوائل

السادس خطاب الله تعالى المتعلق بأفعال المكلفين ثم يأتى الشراح ويقولون
আইনদাতার (شارع) কথা যা কুরআন বা সুন্নাহ থেকে গৃহীত হয়েছে; এবং রূপকভাবে 'শরয়ী' শব্দটি ফকীহগণের কথার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে যা সরাসরি আইনদাতার (شارع) থেকে প্রাপ্ত নয়।

আমরা যদি এই বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে একটি শব্দের বিজ্ঞানের ভিন্নতার কারণে একাধিক অর্থ হতে পারে। এর উদাহরণ হলো 'একক' (مفرد) শব্দটি,

যা নাহু শাস্ত্রে একটি একক শব্দ বোঝায়, কিন্তু যুক্তিবিদ ও উসুলবিদদের (أصوليون) নিকট তা হলো:

যার কোনো অংশ তার পূর্ণ অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না। অর্থের এই ভিন্নতা বিভিন্ন বিজ্ঞানের পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকে।

ভাষাবিদদের নিকট 'কালাম' (كلام) শব্দের অর্থ হলো: যা কিছু অর্থ প্রদান করে, হোক তা লেখা, ইশারা, গাণিতিক হিসাব বা কোনো সংকেত; পক্ষান্তরে নাহুবিদদের নিকট এর অর্থ হলো: নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গঠিত অর্থবোধক বাক্য; আর ফকীহগণের নিকট এটি হলো সালাত নষ্টকারী প্রতিটি বিষয়, যদিও তা একটি অস্পষ্ট বর্ণ বা এমন দুটি বর্ণ হয় যার কোনো অর্থ বোঝা যায় না।

ফকীহগণের নিকট এটিই 'কালাম' (كلام) হিসেবে অভিহিত।

তবে কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمون) নিকট এটি মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান অনাদি অর্থকে বোঝায়।

এভাবে আমরা দেখি যে, একই শব্দ এবং একই পরিভাষার অর্থ শাস্ত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়,

এবং এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়।

একইভাবে দেখা যায় যে, একই শাস্ত্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ঘরানা বা মাযহাবের পার্থক্যের কারণেও পরিভাষার ভিন্নতা ঘটে।

যেমন উসুলে ফিকহে 'ওয়াজিব' (واجب) এবং 'ফরজ' (فرض) জুমহুর (جمهور) আলেমদের নিকট সমার্থক,

কিন্তু হানাফীগণ বলেন যে, 'ফরজ' (فرض) হলো যা অকাট্য (قطعي) দলীল দ্বারা প্রমাণিত, আর 'ওয়াজিব' (واجب) হলো যা ধারণাপ্রসূত (ظني) দলীল দ্বারা প্রমাণিত।

হানাফী ফকীহগণের নিকট 'মাল' (সম্পদ) বলতে এমন বিদ্যমান বস্তুকে বোঝায় যা সচ্ছলতা ও সাধারণ অবস্থায় জমা করে রাখা সম্ভব এবং মানুষের কাছে যার বস্তুগত মূল্য রয়েছে। পক্ষান্তরে জুমহুর (جمهور) আলেমদের নিকট এটি হলো এমন বস্তু যাতে শরয়তসম্মতভাবে বৈধ ও উদ্দেশ্যমূলক উপকারিতা রয়েছে যা কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ভোগ করা যায় (যাতে জরুরি প্রয়োজনে বৈধ ঘোষিত হারাম বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত না হয়) এবং মানুষের নিকট যার বস্তুগত মূল্য আছে।

হানাফীগণের নিকট সম্পদের মধ্যে কিছু হলো 'মুতাকাউউইম' (متقوم) এবং কিছু হলো 'গায়র-মুতাকাউউইম' (غير متقوم); এবং তারা সম্পদ হওয়ার জন্য তা জমাযোগ্য হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, যা জুমহুর (جمهور) আলেমদের বিপরীত যারা এমন শর্তারোপ করেননি। এর ওপর ভিত্তি করেই ফিকহের অনেক মাসআলা উদ্ভাবিত হয়েছে।

একটি পরিভাষার রূপরেখা ও সংজ্ঞা শতাব্দীভেদে বিবর্তিত হতে পারে; কখনো কেবল শব্দগত গঠনে পরিবর্তন আসে, আবার কখনো এর অর্থ ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটে।

যেমন উসুলবিদদের (أصوليون) নিকট 'হুকুম' (حكم) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগ ও ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর দিকের আলেম ইমাম গাজালী বলেছেন— এটি হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সম্বোধন। এরপর ব্যাখ্যাকারগণ এসে বলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসত্বলাহ আল-উসূলী ওয়া মুশকিলাতুল মাফাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
(. . . من حيث هو مكلف - ويسمونه قيد الحيثية؛ لأنه أضاف إلى التعريف شيئا لم يذكره الإمام الغزالى، ولكن فهمه الناس من كلامه.

فلما عرفته مدرسة الإمام الرازي ومنهم البيضاوي قال إن الحكم "خطاب

الله المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير وهذا تطور فى الصياغة رغم أن المعنى واحد، ثم جاء ابن الحاحب واختلف معهم فى أمر جوهرى، وهو على ما يطلق الحكم الشرعى، أيطلق على التكليفي فقط أم على التكليفى والوضعى معا فزاد، أو الوضع.

والمناقشات فى هذا المضوع كثيرة، لأن إضافة كلمة واحدة لمدلول ذلك

المصطلح تغير مدلوله لتبنيه رأيا معينا فى مدرسته.

وقد يكون التغيير جوهرياً حتى فى المدرسة الواحدة، ونجد هذا فى علم

مصطلح الحديث.

فمثلا كلمة مرسل، تطلق عند الأقدمين مثل أحمد وأقرانه على

كل سند انقطع فى أي مكان منه، وبأي عدد، فى حين أن صاحب البيقونية

يقول: والمرسل منه الصحابى سقط وقل غريباً روى ما روى راوٍ فقط.

فغير بذلك معنى المرسل، وسار على هذا المعنى المتأخرون فيما عدا ابن

همات الدمشقي، حيث سار ابن حجر فى النخبة على ما قاله صاب

البيقونية.

وبالطع، فإن هذا التطور له أسبابه، ولكننا لسنا الآن بصدد بحث

الأسباب، بل فى مسألة الاصطلاح، وكيف تطور هذا الخلاف ليس فى الصياغة فقط وليس باختلاف المدارس أو العلوم فقط، بل من قبيل التطور الدلالى وعلى ذلك فالمصطلح الواحد قد نجد له فى العلم الواحد أكثر من تعريف لاعتبار من تلك الاعتبارت السابقة، أو لاختلاف مدخل تعريفه.
(. . . এই দিক থেকে যে সে দায়বদ্ধ (مکلف) - এবং তাঁরা একে প্রেক্ষিতের শর্ত (قيد الحيثية) বলে অভিহিত করেন; কারণ তিনি সংজ্ঞায় এমন কিছু যোগ করেছেন যা ইমাম গাজালি উল্লেখ করেননি, তবে মানুষ তাঁর কথা থেকে তা বুঝতে পেরেছে।

অতঃপর যখন ইমাম রাজির ধারা এবং তাঁদের মধ্যে বায়জাভি একে সংজ্ঞায়িত করলেন, তখন তিনি বললেন যে বিধান (الحكم) হলো "আল্লাহর এমন এক

সম্বোধন যা দায়বদ্ধ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে দাবি (الاقتضاء) বা ঐচ্ছিকতার (التخيير) নিরিখে সংশ্লিষ্ট।" আর এটি শব্দ চয়নে একটি বিবর্তন যদিও অর্থ একই। এরপর ইবনে হাজিব আসলেন এবং একটি মৌলিক বিষয়ে তাঁদের সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন, আর তা হলো শারয়ি বিধান (الحكم الشرعي) পরিভাষাটি কিসের ওপর প্রয়োগ করা হবে? এটি কি কেবল দায়বদ্ধতামূলক (التكليفي) বিধানের ওপর প্রয়োগ হবে নাকি দায়বদ্ধতামূলক (التكليفي) ও পরিস্থিতিমূলক (الوضعي) উভয় বিধানের ওপর একত্রে হবে? ফলে তিনি যোগ করলেন, "অথবা পরিস্থিতিমূলক (الوضع)"।

এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দীর্ঘ, কারণ সেই পরিভাষার অর্থের সাথে একটি শব্দ যোগ করা হলে তার

অর্থের পরিবর্তন ঘটে তার ধারায় কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ গ্রহণের ফলে।

এমনকি একই ধারার মধ্যেও পরিবর্তনটি মৌলিক হতে পারে, আর আমরা এর উদাহরণ হাদিস শাস্ত্রের

পরিভাষায় (مصطلح الحديث) দেখতে পাই।

উদাহরণস্বরূপ, বিচ্ছিন্ন (مرسل) শব্দটি ইমাম আহমদ এবং তাঁর সমসাময়িক পূর্বসূরিদের কাছে সনদের

যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সংখ্যক বর্ণনাকারী বাদ পড়া প্রতিটি সনদ (سند) এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে আল-বাইকুনিয়ার রচয়িতা

বলেন: "বিচ্ছিন্ন (مرسل) হলো তা যেখান থেকে সাহাবি বাদ পড়েছেন, আর তাকে একক (غريب) বলো যা মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।"

এভাবে তিনি বিচ্ছিন্ন (مرسل) এর অর্থ পরিবর্তন করে দেন এবং ইবনে হাম্মাত আদ-দিমাশকি ব্যতীত পরবর্তীগণ (المتأخرون) এই অর্থের ওপরই পরিচালিত হন;

যেখানে ইবনে হাজার নুখবাহ গ্রন্থে আল-বাইকুনিয়ার

রচয়িতার মতটিই অনুসরণ করেছেন।

স্বভাবতই এই বিবর্তনের নানাবিধ কারণ রয়েছে, তবে আমরা এখন সেই কারণগুলো অনুসন্ধানের

পর্যায়ে নেই, বরং আমরা পারিভাষিক বিষয়ে এবং এই মতভেদ কেবল শব্দ চয়নে কিংবা বিভিন্ন ধারা বা শাস্ত্রের পার্থক্যের কারণেই নয় বরং কীভাবে এটি অর্থগত বিবর্তনের দিক থেকে বিকশিত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করছি। সুতরাং, সেই পূর্বোক্ত বিবেচনাগুলোর কারণে অথবা সংজ্ঞায়নের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার ফলে একই শাস্ত্রে একই পরিভাষার একাধিক সংজ্ঞা পাওয়া যেতে পারে।