(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار للصحب والآل من افتراءات السماوي الضال القسم: الفرق والردود
الكتاب: الانتصار للصحب والآل من افتراءات السماوي الضال
(الرد عليه في كتابه «ثم اهتديت»)
المؤلف: إبراهيم بن عامر الرحيلي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة
الطبعة: الثالثة، 1423 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 473
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সহাবাগণ এবং আহলে বায়তের সমর্থনে বিজয়: পথভ্রষ্ট সামাভীর মিথ্যাচারের খণ্ডন বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: সহাবাগণ এবং আহলে বায়তের সমর্থনে বিজয়: পথভ্রষ্ট সামাভীর মিথ্যাচারের খণ্ডন
(তার রচিত «অতঃপর আমি সুপথ পেলাম» গ্রন্থের প্রত্যুত্তর)
লেখক: ইব্রাহিম বিন আমির আর-রুহাইলি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله ربه بالرحمة والخير والهدى، وأظهر دينه، على سائر أديان الورى، وأيده بصحابته، أولي الاحلام والنهى، ومصابيح الدّجى فجعلهم رحمة للمؤمنين وغيظاً للكافرين، لا يحبهم إلا مؤمن تقي، ولا يبغضهم إلا منافق غوي.
أما بعد:
فما زال أعداء الإسلام على مختلف أديانهم ومشاربهم، يكيدون للإسلام وأهله، منذ أن أظهر الله هذا الدين، وأعز أتباعه. يحملهم على ذلك الحسد والغيرة، والحقد والضغينة، التي امتلأت بها قلوبهم على أهل هذا الدين، فتنوعت أساليبهم في حرب هذا الدين، وتعددت مكايدهم؛ وذلك بعد أن فشلوا في المواجهة العسكرية، واندحروا خائبين أمام الجيوش الإسلامية، فكان من بين تلك المكايد: ما استهدف الخلفاء والأمراء بالقتل غيلة وغدراً؛ حيث كان أول الضحايا: ثلاثة من الخلفاء الراشدين هم: عمر، وعثمان، وعلي-رضي الله عنهم
فعمر قتله مجوسي حاقد. وعثمان قُتل على إثر مؤامرة يهودية تولى كبرها عبد الله بن سبأ اليهودي. وعلي قتله مبتدع مارق،
ভূমিকা নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর রব তাঁকে রহমত, কল্যাণ ও হিদায়াতসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে পৃথিবীর অন্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেছেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সাহাবীগণের মাধ্যমে সাহায্য ও শক্তিশালী করেছেন, যাঁরা ছিলেন প্রজ্ঞা ও ধীশক্তি সম্পন্ন এবং অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ। আল্লাহ তাঁদের মুমিনদের জন্য রহমত এবং কাফিরদের জন্য ক্ষোভের কারণ বানিয়েছেন। মুত্তাকী মুমিন ব্যতীত কেউ তাঁদের ভালোবাসে না এবং পথভ্রষ্ট মুনাফিক ব্যতীত কেউ তাঁদের ঘৃণা করে না।
অতঃপর:
ইসলামের শত্রুরা তাদের বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শ নির্বিশেষে ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে সেই সময় থেকেই, যখন আল্লাহ এই দ্বীনকে প্রকাশ করেছেন এবং এর অনুসারীদের সম্মানিত করেছেন। হিংসা, ঈর্ষা, আক্রোশ ও বিদ্বেষ—যা এই দ্বীনের অনুসারীদের প্রতি তাদের অন্তরকে পূর্ণ করে রেখেছে—তাদেরকে এসবে প্ররোচিত করে। ফলে এই দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের পদ্ধতি ও ষড়যন্ত্র নানামুখী হয়েছে; বিশেষ করে সম্মুখ সমরে ব্যর্থ হওয়ার পর এবং ইসলামী বাহিনীর কাছে লাঞ্ছিত হয়ে পিছু হটার পর তারা এই কৌশল অবলম্বন করে। সেই সব ষড়যন্ত্রের মধ্যে অন্যতম ছিল: খলিফা ও আমিরদের প্রতারণা ও অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে হত্যা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এর প্রথম শিকার হয়েছিলেন খুলাফায়ে রাশেদীনের তিনজন: উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
উমরকে হত্যা করেছিল এক বিদ্বেষপরায়ণ অগ্নিউপাসক। উসমান নিহত হয়েছিলেন এক ইহুদি ষড়যন্ত্রের ফলে, যার মূল হোতা ছিল ইহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা। আর আলীকে হত্যা করেছিল এক ধর্মত্যাগী বিদআতী,
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
من أتباع ذي الخويصره، الذي طعن في النبي صلى الله عليه وسلم واتهمه بعدم العدل في القسم يوم حنين.
(1)ومن صور تلك المكايد: السعي في الوقيعة بين المسلمين، وبث الفرقة والاختلاف بين صفوفهم، بالكذب والتزوير على الخلفاء والأمراء، وإيغار صدور العامة عليهم؛ وبالتلبيس على الناس بشتى أنواع الحيل وأصناف المكر، كما فعل ابن سبأ الذي أخذ يجوب الاقطار في عهد عثمان، مؤلباً الناس على الخليفة، مظهراً الطعن عليه، وعلى أمرائه باسم الامر بالمعروف والنهي عن المنكر، فكان مقتل عثمان رضي الله عنه أولى جذوات هذه الفتنة، ثم مانتج عنه من اختلاف في الامة وتفرق، واقتتال وتمزق.
لكن الجانب الأخطر لهذه الفتنة والمكيدة العظمى لأعداء الدين: هو زعزعة العقيدة الصحيحة في نفوس المسلمين، وذلك بما أظهره هذا اليهودي الماكر في الأمة من الدعوة إلى موالاة أهل البيت ومحبتهم، مدعياً أنهم أولى الناس بالخلافة بعد النبي صلى الله عليه وسلم، فهم أهل بيته، وقرابته،
وأحق الناس بتصريف أمر الأمة من بعده. ثم مالبث أن دعى إلى القول بالوصية، وأن النبي صلى الله عليه وسلم قد عهد إلى علي بالخلافة ونص عليه نصاً جلياً، وأن الصحابة قد اغتصبوا الخلافة وظلموا علياً بإقصائه عنها، فأظهر البراءة من الخلفاء الثلاثة السابقين لعلي في الخلافة ودعى الناس إلى ذلك.
ثم بعد موت علي رضي الله عنه أظهر القول بالرجعه وزعم أن علياً لم يمت وأنه سيعود قبل قيام الساعة وينتقم من أعدائه.
(2)فكانت هذه الدعوة اليهودية المغلفة بستار محبة أهل البيت وموالاتهم هي الأساس الذي انبنت عليه عقيدة الرافضة.
ولهذا نص العلماء المحققون في الفرق والمقالات: أن الرافضة ترجع في نشأتها إلى اليهود وأن أول من ابتدع الرفض في الإسلام هو عبد الله بن سبأ اليهودي.
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন যু-খুওয়াইসিরাহ-এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত, যে ব্যক্তি হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমালোচনা করেছিল এবং বন্টনের ক্ষেত্রে তাঁকে ইনসাফ না করার অপবাদ দিয়েছিল।
(১)সেই ষড়যন্ত্রগুলোর অন্যতম রূপ ছিল: মুসলিমদের মাঝে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা এবং তাদের সারিতে অনৈক্য ও বিভেদ ছড়িয়ে দেওয়া। এটি করা হতো খলীফা ও শাসকদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে বিদ্বেষ বিষিয়ে তোলার মাধ্যমে; এছাড়া বিভিন্ন ধরণের কূটকৌশল ও প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও ছিল। যেমনটি করেছিল ইবনে সাবা, যে উসমান (রা.)-এর শাসনামলে বিভিন্ন জনপদে ঘুরে বেড়াত এবং মানুষকে খলীফার বিরুদ্ধে উস্কানি দিত। সে 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ'-এর দোহাই দিয়ে খলীফা ও তাঁর নিযুক্ত গভর্নরদের সমালোচনা করত। উসমান (রা.)-এর শাহাদাত ছিল এই ফিতনার প্রথম স্ফুলিঙ্গ। এর ফলে উম্মাহর মধ্যে মতপার্থক্য, বিভক্তি, পারস্পরিক লড়াই ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়।
তবে এই ফিতনা এবং দ্বীনের শত্রুদের এই মহা ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটি ছিল: মুসলিমদের অন্তরে সঠিক আকীদাকে অস্থিতিশীল করে তোলা। এটি সম্ভব হয়েছিল সেই ধূর্ত ইয়াহুদির মাধ্যমে, যে উম্মাহর মধ্যে আহলে বাইতের আনুগত্য ও ভালোবাসার দাওয়াত প্রচার করেছিল। সে দাবি করেছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর খিলাফতের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হলেন আহলে বাইত, কারণ তাঁরাই তাঁর পরিবার ও নিকটাত্মীয়,
এবং তাঁর পরে উম্মাহর নেতৃত্ব পরিচালনার সবচেয়ে হকদার ব্যক্তিও তাঁরা। এরপর সে অতি দ্রুত 'অসিয়ত' বা খেলাফতের মনোনয়নের কথা প্রচার করতে শুরু করে। সে দাবি করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর জন্য খিলাফতের অসিয়ত করে গিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন। সে আরও দাবি করে যে, সাহাবায়ে কেরাম খিলাফত ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং আলীকে তা থেকে বঞ্চিত করে তাঁর প্রতি জুলুম করেছেন। এভাবে সে আলীর পূর্বে খিলাফতের দায়িত্বে থাকা তিনজন খলীফার সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষণা করে এবং মানুষকে এর প্রতি আহ্বান জানায়।
অতঃপর আলী (রা.)-এর ইন্তেকালের পর সে 'রাজআ' বা পুনরুত্থানের মতবাদ প্রকাশ করে। সে দাবি করে যে, আলী (রা.) মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনি কিয়ামতের আগে পুনরায় ফিরে আসবেন ও তাঁর শত্রুদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।
(২)আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের আবরণে আবৃত এই ইয়াহুদি দাওয়াতই ছিল রাফেযী আকীদার মূল ভিত্তি।
এই কারণেই বিভিন্ন ফেরকা ও মতবাদ বিষয়ক গবেষক আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাফেযী মতবাদের উৎপত্তি ইয়াহুদিদের থেকে এবং ইসলামে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি রাফেযী মতবাদের উদ্ভাবন করেছিল সে হলো ইয়াহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «وقد ذكر أهل العلم: أن مبدأ الرفض إنما كان من الزنديق عبد الله بن سبأ؛ فإنه أظهر الإسلام، وأبطن اليهودية، وطلب أن يفسد الإسلام كما فعل بولص النصراني الذي كان يهودياً في إفساد دين النصارى».
(1)وهذه الحقيقة قد اعترف بها كبار علماء الرافضة المتقدمين كالأشعري القمي، والكشي، والنوبختي، ومن المتأخرين المامقاني، حيث أوردوا في كتبهم هذا النص: «وحكى جماعة من أهل العلم من أصحاب علي رضي الله عنه: أن عبد الله بن سبأ كان يهودياً فأسلم، ووالى علياً رضي الله عنه. وكان يقول وهو على يهوديته في يوشع بن نون بعد موسى رضي الله عنه بهذه المقالة، فقال في إسلامه بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بمثل ذلك، وهو أول من أظهر القول بفرض إمامة علي رضي الله عنه وأظهر البراءة من أعدائه، وكاشف مخالفيه فمن هناك قال من خالف الشيعة: إن أصل الرفض مأخوذ من اليهودية».
(2)والأثر اليهودي في عقيدة الرافضة ظاهر من خلال التشابه الكبير بينهما في العقيدة، فما عقيدة الوصية، والرجعة، والبداء، والتقية، التي هي أصول عقيدة الرافضة، إلا أمثلة واقعية لصلة عقيدة الرافضة باليهود.
وما جرأة الرافضة على كتاب الله بالتحريف، وكثرة الكذب فيهم، والنفاق، والطعن في خيار الأمة بالظلم والعدوان، وعدم اعتدال الرافضة في حب ولا بغض، إلا أخلاق يهودية موروثة.
وقد نبه العلماء على ذلك قديماً وحديثاً في نصوص كثيرة ليس
هذا موضع ذكرها
(3) ولكن المقصود هنا: بيان أن هذه الطائفة هي من أشد
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «বিজ্ঞ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, রাফেজি মতবাদের সূচনা হয়েছিল মূলত যিনদীক আবদুল্লাহ বিন সাবা-এর মাধ্যমে; সে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করেছিল এবং অন্তরে ইহুদিবাদ লালন করেছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা, যেমনটা ইহুদি থেকে খ্রিস্টান হওয়া পৌল (পল) খ্রিস্টধর্মকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে করেছিল»।
(১)এই সত্যটি প্রাচীন যুগের শীর্ষস্থানীয় রাফেজি আলেমগণ যেমন আশআরী আল-কুম্মী, আল-কাশ্শি ও আন-নওবাখতী এবং পরবর্তী যুগের আল-মামাকানীও স্বীকার করেছেন। তারা তাদের গ্রন্থে এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন: «আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারী একদল বিজ্ঞ আলেম বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন সাবা একজন ইহুদি ছিল, এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। সে ইহুদি থাকাকালীন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর ইউশা বিন নুন সম্পর্কে যে মত পোষণ করত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর ইসলামে এসেও অনুরূপ মত প্রকাশ করে। সে-ই সর্বপ্রথম আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামত ফরজ হওয়ার দাবি জনসমক্ষে প্রচার করে এবং তাঁর শত্রুদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয় এবং তাঁর বিরোধীদের মুখোশ উন্মোচন করে। এ কারণেই শিয়াদের বিরোধীরা বলে থাকেন: রাফেজি মতবাদের মূল উৎস ইহুদি ধর্ম থেকে গৃহীত»।
(২)রাফেজিদের আকিদাহর ওপর ইহুদি প্রভাব উভয় মতবাদের আকিদাহগত ব্যাপক সাদৃশ্যের মাধ্যমে সুস্পষ্ট। অছিয়ত, রজআত, বাদা এবং তাকিয়ার মতো বিশ্বাসগুলো, যা রাফেজি আকিদাহর মূল ভিত্তি, তা ইহুদিদের সাথে রাফেজি আকিদাহর গভীর সম্পর্কের বাস্তব দৃষ্টান্ত মাত্র।
আল্লাহর কিতাবে বিকৃতির দুঃসাহস দেখানো, তাদের মধ্যে মিথ্যার আধিক্য, নিফাক, এবং চরম যুলুম ও শত্রুতার সাথে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্রূপ করা এবং ভালোবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইহুদি চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যা এখানে বিশদভাবে আলোচনার
স্থান নয়
(৩)। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো: এটি স্পষ্ট করা যে এই গোষ্ঠীটি অত্যন্ত কঠোর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفرق المنتسبة للإسلام: بدعة وضلالاً، لنشأتها الغريبة عن الإسلام وبعد عقيدتها عن حقائق الإيمان.
ولذا حذر علماء الإسلام من الرافضة أشد ما يكون التحذير، وذموهم بما لم يذموا به طائفة أخرى، وما ذلك إلا لما اطّلعوا عليه من عظيم خطرهم على الأمة، وبعدهم عن الدين.
فعن عامر الشعبي أنه قال: «احذركم الأهواء المضلة، وشرّها الرافضة. وذلك أن منهم يهوداً يغمصون الإسلام لتحيا ضلالتهم، كما يغمص بولس بن شاول ملك اليهود النصرانية لتحيا ضلالتهم لم يدخلوافي الإسلام رغبة ولا رهبة من الله، ولكن مقتاً لأهل الإسلام.»
(1)وعن طلحة بن مصرّف أنه قال: «الرافضة لاتنكح نساؤهم، ولا تؤكل ذبائحهم، لأنهم أهل ردة».
(2)وسئل الإمام مالك عن الرافضة فقال: «لا تكلمهم ولا ترو عنهم فإنهم يكذبون».
(3)وعن أبي يوسف أنه قال: «لا أصلي خلف جهمي، ولا رافضي، ولا قدري».
(4)وعن الإمام الشافعي أنه قال: «لم أر أحداً من أصحاب الأهواء أكذب في الدعوى، ولا أشهد بالزور من الرافضة».
(5)وقال القاسم بن سلام: «عاشرت الناس، وكلمت أهل الكلام، وكذا،
--------------------------------------------
ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত ফেরকাসমূহ: বিদআত ও পথভ্রষ্টতা; কারণ এগুলোর উদ্ভব ইসলামের জন্য বিজাতীয় এবং এগুলোর আকিদা ঈমানের হাকিকত থেকে বহুদূরে।
এ কারণেই ইসলামের উলামায়ে কেরাম রাফেজিদের ব্যাপারে কঠোরতম সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন এবং তাদের এমনভাবে নিন্দা করেছেন যা অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে করেননি। আর এটি কেবল উম্মাহর ওপর তাদের চরম বিপদ এবং দ্বীন থেকে তাদের দূরত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করার কারণেই।
আমির আশ-শা'বী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «আমি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করছি, আর এর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো রাফেজিরা। কারণ তাদের মধ্যে এমন কিছু ইহুদি রয়েছে যারা ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করে যাতে তাদের পথভ্রষ্টতা টিকে থাকে; ঠিক যেমন ইহুদিদের রাজা শাউলের পুত্র পৌল খ্রিস্টধর্মকে বিকৃত করেছিল যাতে তাদের পথভ্রষ্টতা টিকে থাকে। তারা আল্লাহর প্রতি অনুরাগ বা ভীতি থেকে ইসলামে প্রবেশ করেনি, বরং মুসলিমদের প্রতি চরম বিদ্বেষবশত প্রবেশ করেছে।»
(১)তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «রাফেজিদের নারীদের বিবাহ করা যাবে না এবং তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না; কারণ তারা মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী দল।»
(২)ইমাম মালিককে রাফেজিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «তোমরা তাদের সাথে কথা বলো না এবং তাদের থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করো না, কারণ তারা মিথ্যাবাদী।»
(৩)ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «আমি কোনো জাহমি, রাফেজি বা কাদারিয়ার পেছনে সালাত আদায় করি না।»
(৪)ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «আমি প্রবৃত্তি পূজারিদের মধ্যে নিজেদের দাবিতে রাফেজিদের চেয়ে বেশি মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানে অধিক অগ্রগামী আর কাউকে দেখিনি।»
(৫)কাসেম ইবনে সালাম বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে মেলামেশা করেছি এবং ইলমুল কালামের অনুসারীদের সাথে কথা বলেছি, এবং এভাবে...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
فما رأيت أوسخ وسخاً، ولا أقذر قذراً، ولا أضعف حجة، ولا أحمق، من الرافضة» .
(1)وعن الإمام أحمد أنه سئل عمن يشتم أبابكر وعمر وعائشة قال: «ماأراه على الإسلام» .
(2)وعن الإمام البخاري أنه قال: «ما أبالي صليت خلف الجهمي والرافضي، أم صليت خلف اليهود والنصارى، ولا يُسلم عليهم
ولا يُعادون ولا يُناكحون ولا يُشهدون ولا تُؤكل ذبائحهم» .
(3)ويقول شيخ الإسلام في معرض حديثه عن الرافضة في منهاج السنة: «والله يعلم، وكفى بالله عليماً، ليس في جميع الطوائف المنتسبة إلى الإسلام مع بدعة وضلالة، شر منهم، لا أجهل، ولا أكذب، ولا أظلم ولا أقرب إلى الكفر والفسوق والعصيان، وأبعد عن حقائق الإيمان منهم» .
(4)وأقوال العلماء في ذمهم كثيرة مشهورة، وإنما ذكرت هنا أمثلة. وقد جمعت طائفة كبيرة، منها في مبحث مستقل من هذا الكتاب، مراعياً التنويع في النقل، بحسب اختلاف الأعصار والأمصار ليعلم إجماع الأمة قاطبة على ذم الرافضة والتحذير منهم.
(5)ويكمن خطر الرافضة على الأمة في عدة أمور:
الأول: أنهم أصحاب دعوة لعقيدتهم، وهذه الدعوة تتستر بمحبة أهل بيت النبي صلى الله عليه وسلم، فيستغلون عاطفة المسلمين تجاه أهل البيت في بث أفكارهم وعقيدتهم الفاسدة.
الثاني: أنهم يدينون بالتقية، التي هي النفاق المحض، فيخدعون
--------------------------------------------
আমি রাফেজিদের চেয়ে অধিক নোংরা, অধিক অপবিত্র, অধিক দুর্বল যুক্তিসম্পন্ন এবং অধিক নির্বোধ আর কাউকে দেখিনি।
(১)ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে যখন আবু বকর, উমর এবং আয়েশা (রা.)-কে গালিদানকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "আমি তাকে ইসলামের ওপর মনে করি না।"
(২)ইমাম বুখারী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "জাহমি ও রাফেজির পেছনে সালাত আদায় করা আর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পেছনে সালাত আদায় করার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য করি না। তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না, তারা অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া যাবে না, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না, তাদের জানাজায় উপস্থিত হওয়া যাবে না এবং তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না।"
(৩)শায়খুল ইসলাম ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে রাফেজিদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন: "আল্লাহ জানেন এবং পরিজ্ঞাত হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট—বিদআত ও পথভ্রষ্টতার সাথে ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সকল ফেরকার মধ্যে তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কেউ নেই; তাদের চেয়ে অধিক মূর্খ, অধিক মিথ্যাবাদী, অধিক জালেম এবং কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতার অধিক নিকটবর্তী এবং ঈমানের প্রকৃত হাকীকত থেকে অধিক দূরবর্তী আর কেউ নেই।"
(৪)তাদের নিন্দায় আলেমদের বক্তব্য অনেক এবং সুপ্রসিদ্ধ; আমি এখানে কেবল উদাহরণ হিসেবে কিছু উল্লেখ করেছি। আমি এ গ্রন্থের একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে তাদের সম্পর্কে এক বিশাল সংগ্রহ জমা করেছি, যেখানে উদ্ধৃতিগুলোর বৈচিত্র্য বজায় রেখেছি এবং বিভিন্ন যুগ ও ভূখণ্ডের আলোকে তা সাজিয়েছি, যাতে রাফেজিদের নিন্দা এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার বিষয়ে সমগ্র উম্মতের ঐকমত্য জানা যায়।
(৫)উম্মতের ওপর রাফেজিদের বিপদ কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে:
প্রথমত: তারা তাদের আকিদার প্রচারক; আর এই প্রচার মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার আবরণে ঢাকা থাকে। ফলে তারা আহলে বাইতের প্রতি মুসলমানদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা ও আকিদা প্রচার করে।
দ্বিতীয়ত: তারা ‘তাকিয়া’ বা সত্য গোপন করার নীতিতে বিশ্বাসী, যা মূলত নিছক মুনাফেকি। এর মাধ্যমে তারা প্রতারণা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
المسلمين بما يظهرون لهم من الموافقة، والمحبة، والمناصرة، ولا يصرحون بعقيدتهم الحقيقية، فانخدع بهم من انخدع من أهل السنة، وخالطوهم في المجالس والمساكن، ومالت نفوسهم إليهم، حتى وصل الحال ببعضهم إلى موالاتهم ومحبتهم، بل الارتكاس في عقيدتهم.
الثالث: أنهم يكذبون في نقلهم وأخبارهم، يستحلون الكذب انتصاراً لمعتقدهم؛ ولهذا جاءت كتبهم مليئة بالروايات الموضوعة على لسان النبي صلى الله عليه وسلم وعلى ألسنة أئمة أهل البيت، بل تطاولوا على كتاب الله بالتحريف والتبديل، استدلالاً لباطلهم وترويجاً لبدعتهم، فخدعوا بعض العامة بذلك ولبسوا عليهم في أصل دينهم.
الرابع: أن للرافضة في دعوتهم أساليب ماكرة، يلبسون بها على الناس، ويخدعونهم بها، وهذه الأساليب كثيرة جداً، تتلون في كل عصر بما يناسبه، وكلما ظهر الناس على شئ منها وفضحوهم بها، انتقلوا إلى أسلوب آخر، وحيلة جديدة شأنهم في ذلك شأن اليهود.
فمن أساليبهم الماكرة: إطلاقهم الألقاب أو الكنى التي اشتهر بها علماء أهل السنة، على بعض علمائهم تلبيساً على الناس. وبالتالي قد ينسب الناس لذلك الامام المشهور أقوال ذلك الرافضي.
مثل: إطلاقهم (السدّي) على أحد علمائهم وهو: (محمد بن مروان) موافقه للإمام المشهور وهو: (إسماعيل بن عبد الرحمن السدي) ففرّق العلماء بينهم بإطلاق (السدّي الكبير): على الإمام السني. وإطلاق (السدّي الصغير) على الرافضي، وإن كان حصل لبعض الناس لبس في ذلك، فنسب ذلك الإمام الجليل للتشيع وهومنه برئ.
(1)--------------------------------------------
তারা মুসলমানদের সামনে বাহ্যত ঐক্য, ভালোবাসা এবং সহযোগিতা প্রদর্শন করে, অথচ নিজেদের প্রকৃত আকিদা প্রকাশ করে না। ফলে আহলুস সুন্নাহর একদল লোক তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। তারা মজলিসে ও বসতিতে তাদের সাথে মেলামেশা করেছে এবং তাদের মন তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের কেউ কেউ তাদের সাথে মিত্রতা ও ভালোবাসা স্থাপন করেছে, বরং তাদের আকিদাতেই নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
তৃতীয়ত: তারা বর্ণনা ও সংবাদ আদান-প্রদানে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং নিজেদের আকিদার বিজয়ের লক্ষ্যে মিথ্যাচারকে বৈধ মনে করে। এ কারণেই তাদের কিতাবসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আহলে বায়তের ইমামগণের নামে জাল বর্ণনায় ভরপুর। এমনকি তারা নিজেদের বাতিল মতবাদের পক্ষে দলিল পেশ করতে এবং বিদআত প্রচার করতে আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রেও বিকৃতি ও পরিবর্তনের দুঃসাহস দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের এক অংশকে প্রতারিত করেছে এবং তাদের দ্বীনের মূল বিষয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।
চতুর্থত: দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাফেজীদের বহুমুখী চাতুর্যপূর্ণ পন্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং তাদের প্রতারিত করে। এই পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত অসংখ্য, যা প্রতিটি যুগে যুগের উপযোগী রূপ ধারণ করে। যখনই মানুষ তাদের কোনো একটি কৌশল ধরে ফেলে এবং তাদের উন্মোচিত করে দেয়, তখনই তারা অন্য পদ্ধতি ও নতুন কোনো ফন্দি অবলম্বন করে; এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ঠিক ইহুদিদের মতো।
তাদের চাতুর্যপূর্ণ পন্থাগুলোর মধ্যে একটি হলো: তারা আহলুস সুন্নাহর আলেমদের সুপরিচিত উপাধি বা উপনামগুলো তাদের নিজেদের কিছু আলেমদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যাতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়। এর ফলে মানুষ সেই রাফেজী ব্যক্তির কথাগুলো ওই প্রখ্যাত ইমামের দিকে ন্যস্ত করে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ: তারা তাদের একজন আলেম 'মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান'-এর ক্ষেত্রে 'আস-সুদ্দী' উপাধি ব্যবহার করে, যা প্রসিদ্ধ ইমাম 'ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান আস-সুদ্দী'-র নামের সাথে মিলে যায়। ফলে আলেমগণ সুন্নী ইমামকে 'আস-সুদ্দী আল-কাবীর' (বড় সুদ্দী) এবং রাফেজীকে 'আস-সুদ্দী আস-সাগীর' (ছোট সুদ্দী) নামে অভিহিত করে তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। যদিও এর কারণে কিছু মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল এবং তারা সেই মহান ইমামকে শিয়া মতবাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছিলেন, অথচ তিনি এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكإطلاقهم (الطبري) على (محمد بن رستم) أحد علمائهم وتكنيته بأبي جعفر مضاهاةً للإمام الجليل: (محمد بن جرير الطبري) فاجتمع معه في الاسم، والكنية، واللقب، فلبسوا بذلك تلبيساً عظيماً، حتى إن الإمام الحافظ: أحمد بن علي السليماني نسب الإمام الطبري للرفض وهو من أبعد الناس عن ذلك، لكن السليماني اختلط عليه الإمام بالرافضي وقد أشار إلى ذلك الذهبي رحمه الله.
(1)وكذلك إطلاقهم على أحد علمائهم المسمى بعبد الله: (ابن قتيبة) مشابهة بعبد الله بن مسلم بن قتيبة، من كبار علماء أهل السنة وثقاتهم. وزيادة في التلبيس قام هذا الرافضي بتأليف كتاب سماه (المعارف) على غرار كتاب (المعارف) لابن قتيبة رحمه الله.
(2)ومن أساليبهم أيضاً: أنهم يؤلفون بعض الكتب وينسبونها إلى أحد أئمة أهل السنة، ويذكرون فيها بعض المفتريات مما يوجب الطعن على أهل السنة، كالمختصر المنسوب إلى الإمام مالك، الذي صنفه أحد الشيعة فذكر فيه أن مالك العبد يجوز له أن يلوط به.
(3)ومن مكايدهم: أنهم يزيدون بعض الابيات في شعر أحد أئمة أهل السنة، مما يؤذن بتشيعه. كما ألحق بعض الرافضة المتقدمين بما نسب إلى الإمام الشافعي من أبيات فيها:
ياراكباً قف بالمحصب من منى
… واهتف بساكن خيفها والناهض
--------------------------------------------
যেমন তারা (শিয়ারা) তাদের একজন আলেম 'মুহাম্মদ ইবনে রুস্তম'-এর ওপর 'আত-তাবারী' উপাধি প্রয়োগ করে এবং মহান ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারীর সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখতে তাকে 'আবু জাফর' কুনিয়াত (উপনাম) প্রদান করে। ফলে নাম, উপনাম ও উপাধিতে ইমামের সাথে তার মিল হয়ে যায়, যার মাধ্যমে তারা এক বিশাল বিভ্রান্তির জাল বিস্তার করে। এমনকি হাফেজ ইমাম আহমদ ইবনে আলী আস-সুলাইমানী ইমাম আত-তাবারীকে 'রাফয' বা শিয়াবাদের দিকে নিসবত করেছেন, অথচ তিনি (ইমাম তাবারী) এ থেকে বহু দূরে ছিলেন। মূলত সুলাইমানীর নিকট ইমাম এবং উক্ত রাফেযীর মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যার প্রতি ইমাম আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন।
(১)একইভাবে তারা তাদের 'আবদুল্লাহ' নামধারী জনৈক আলেমকে 'ইবনে কুতায়বাহ' বলে অভিহিত করে, যাতে আহলে সুন্নাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বার সাথে সাদৃশ্য ঘটে। বিভ্রান্তি আরও বাড়াতে এই রাফেযী ব্যক্তি ইবনে কুতায়বাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আল-মাআরিফ'-এর আদলে 'আল-মাআরিফ' নামেই একটি কিতাব রচনা করে।
(২)তাদের আরেকটি পদ্ধতি হলো, তারা কিছু কিতাব রচনা করে সেগুলো আহলে সুন্নাতের কোনো ইমামের নামে চালিয়ে দেয় এবং তাতে এমন কিছু মিথ্যাচার অন্তর্ভুক্ত করে যা আহলে সুন্নাতের ওপর অপবাদ আরোপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়; যেমন ইমাম মালিকের নামে চালিয়ে দেওয়া সেই 'মুখতাসার' নামক পুস্তিকাটি, যা প্রকৃতপক্ষে জনৈক শিয়া রচনা করেছে এবং তাতে উল্লেখ করেছে যে, দাসের মালিকের জন্য তার (ক্রীতদাসের) সাথে সমকামিতা করা বৈধ।
(৩)তাদের চক্রান্তের অন্যতম হলো, তারা আহলে সুন্নাতের কোনো ইমামের কবিতায় কিছু নতুন পঙক্তি জুড়ে দেয়, যা তার শিয়া হওয়ার জানান দেয়। যেমন পূর্ববর্তী কিছু রাফেযী ইমাম শাফেয়ীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত কবিতায় এই পঙক্তিটি জুড়ে দিয়েছে:
হে আরোহী! মিনার মুহাসসাব প্রান্তরে থামো
… এবং খীফ উপত্যকায় অবস্থানকারী ও প্রস্থানকারীদের উচ্চস্বরে বলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
فألحق الرافضي بها:
قف ثم ناد بأنني لمحمد
… ووصيه ونبيه لست بباغض
أخبرهم أني من النفر الذي
… لولاء أهل البيت لست بناقض
وقل ابن إدريس بتقديم الذي
… قدّمتموه على عليّ مارضي
(1)ولا يخفى ما في هذه الأبيات من الركاكة التي تقطع ببطلان
نسبتها إلى الإمام الشافعي رحمه الله.
فلهذه الأوجه وغيرها تعد الرافضة من أخطر الفرق على الأمة، وأشدها فتنة وتضليلاً، خصوصاً على العامة الذين لم يقفوا على حقيقة أمرهم، وفساد معتقدهم.
والرافضة في هذا العصر، قد أحدثوا حيلاً جديدة لاصطياد من لاعلم عنده من أهل السنة، والتأثير عليه بعقيدتهم الفاسدة الكاسدة.
فمن ذلك ما أحدثوه من دعوة التقريب بين السنة والشيعة، والدعوة إلى تناسي الخلافات بين الطائفتين. وما هذه الدعوة إلا ستار جديد للدعوة للرفض، ونشر هذه العقيدة الفاسدة بين صفوف أهل السنة، وإلا فالرافضة لايقبلون التنازل عن شيء من عقيدتهم. لكن هذه الدعوة مالبثت أن باءت بالفشل بحمد الله وتوفيقه، ثم بجهود العلماء المخلصين الذين حذروا من هذه المكيدة وأفسدوها.
ثم إنه في السنوات الأخيرة وبعد فشل دعوة التقريب، رأينا الرافضة تظهر بوجهها الحقيقي، في أسلوب ماكر جديد، ممثلة في رجل مجهول لا يعرف له ذكر في العلم، فادّعى أنه كان سنياً وأن الله هداه إلى عقيدة الرفض ثم أخذ يصحح عقيدة الرافضة، ويدعوا لها، ويطعن في عقيدة أهل السنة وينفر الناس منها، هذا مع القدح العظيم في الصحابة الكرام، ورميهم بالكفر والردة عن الإسلام، وذلك عن طريق تأليفه جمعاً من
--------------------------------------------
অতঃপর রাফেযী ব্যক্তি এতে যোগ করল:
দাঁড়াও এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করো যে, আমি মুহাম্মাদের
… তাঁর উত্তরসূরি ও তাঁর নবীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী নই
তাদের জানিয়ে দাও যে, আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত যারা
… আহলে বাইতের আনুগত্যের অঙ্গীকার ভঙ্গকারী নই
এবং বলো যে, ইবন ইদ্রিস তাকে অগ্রগণ্যতা দিতে
… রাজি হননি যাকে তোমরা আলীর ওপর অগ্রগণ্য করেছ
(১)এই পংক্তিগুলোর মধ্যে যে দুর্বলতা ও অসারতা বিদ্যমান তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়, যা ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর প্রতি এগুলোর সম্বন্ধকে নিশ্চিতভাবে বাতিল সাব্যস্ত করে।
এইসব দিক থেকে এবং আরও অন্যান্য কারণে রাফেযীরা উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং ফিতনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে চরম; বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য যারা তাদের প্রকৃত অবস্থা এবং তাদের আকিদার কলুষতা সম্পর্কে অবগত নয়।
বর্তমান যুগে রাফেযীরা আহলুস সুন্নাহর সেসব মানুষদের শিকার করার জন্য নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছে যাদের পর্যাপ্ত ইলম নেই এবং তাদের ওপর নিজেদের কলুষিত ও অসার আকিদার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
এরই একটি উদাহরণ হলো সুন্নী ও শিয়াদের মধ্যে 'তাকরীব' বা নৈকট্য সৃষ্টির আহ্বান এবং দুই দলের মধ্যকার মতভেদ ভুলে যাওয়ার ডাক দেওয়া। এই আহ্বানটি রাফেযী মতবাদের দাওয়াতের এবং আহলুস সুন্নাহর কাতারগুলোতে এই কলুষিত আকিদা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি নতুন আবরণ মাত্র। নতুবা রাফেযীরা তাদের আকিদার কোনো অংশ ছাড় দিতে কখনোই রাজি নয়। তবে আল্লাহর প্রশংসা ও তাওফিকে এবং নিষ্ঠাবান আলেমদের প্রচেষ্টায়—যারা এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং একে নস্যাৎ করে দিয়েছেন—এই আহ্বান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে দেরি করেনি।
অতঃপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবং তাকরীবের ডাক ব্যর্থ হওয়ার পর, আমরা রাফেযীদের তাদের প্রকৃত চেহারায় আত্মপ্রকাশ করতে দেখেছি। এটি এক নতুন ধূর্ত শৈলী, যা একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে যার ইলমি অঙ্গনে কোনো পরিচিতি নেই। সে দাবি করেছে যে সে সুন্নী ছিল এবং আল্লাহ তাকে রাফেযী আকিদার দিকে হেদায়েত দিয়েছেন। এরপর সে রাফেযী আকিদাকে সঠিক প্রমাণ করতে এবং এর দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করে, আর আহলুস সুন্নাহর আকিদাকে আক্রমণ করে মানুষকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে থাকে। এর সাথে সাথে সে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের প্রতি চরম অপবাদ আরোপ করে এবং তাঁদেরকে কুফর ও ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়ার অপবাদে অভিযুক্ত করে। আর এটি সে একগুচ্ছ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكتب بثها في الناس بعد أن شحنها بالأكاذيب والأباطيل والدس والتضليل.
هذا الرجل هو من يعرف باسم الدكتور محمد التيجاني السماوي وقد ذكر هو في حديثه عن نفسه أنه من تونس. وقد جاء على أغلفة كتبه تحت ذكر اسمه عبارة (دكتوراه في الفلسفة من جامعة السربون بباريس) وبلغني أنه الآن يعيش في بلجيكا بعد أن طُرد من تونس وكتبه هي:
1 - ثم اهتديت.
2 - لأكون مع الصادقين.
3 - فسألوا أهل الذكر.
4 - الشيعة هم أهل السنة.
الأول منها يقع في (223) صفحة، والثاني في (348) صفحة، والثالث في (354)، والرابع في (327) صفحة. كلها من الحجم المتوسط، وهي من نشر «مؤسسة الفجر بلندن».
وقد قرأت هذه الكتب فتبين لي من خلال قراءتها مايلي:
1 - أن المؤلف ليس من أهل العلم. بل هو جاهل بالشرع وعلومه وغاية ما يكون عليه حاله -مع حسن الظن- أنه ممن تربى على المدارس الفكرية المعاصرة، وهذا ظاهر من خلال أسلوبه في عرض المسائل، وتعامله مع النصوص وطريقته في الاستدلال، وعدم تمييزه بين الأحاديث الصحيحة من الضعيفة. حيث يصحح الاحاديث أحياناً، إما عن طريق العقل، أو لمجرد ورودها في كتب السنة.
ومما يؤكد جهله ما صرح به ضمن حديثه عن نفسه من أنه لم يشتر صحيح البخاري ومسلم، وأشهر كتب الأحاديث الأخرى، ولم يعرفها إلا بعد رجوعه من العراق واتصاله ببعض علماء الرافضة الذين ذكروا له -بزعمه- بعض المطاعن في الصحابة من الصحيحين فاشترى هذه الكتب للتأكد من ذلك. يقول: «سافرت إلى العاصمة، ومنها اشتريت صحيح
বইগুলো তিনি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলোকে মিথ্যা, অলীকতা, প্রক্ষেপণ এবং বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ করার পর।
এই ব্যক্তিটি হলেন তিনি যিনি ডক্টর মুহাম্মদ তিজানি সামাউই নামে পরিচিত এবং তিনি নিজের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে তিনি তিউনিসিয়ার অধিবাসী। তার বইগুলোর প্রচ্ছদে তার নামের নিচে ‘প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে পিএইচডি’ পদবিটি উল্লেখ করা হয়েছে। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিউনিসিয়া থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি বেলজিয়ামে বসবাস করছেন এবং তার বইগুলো হলো:
১ - অতঃপর আমি হেদায়াতপ্রাপ্ত হলাম।
২ - সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার জন্য।
৩ - সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।
৪ - শিয়াগণই হলো সুন্নতের অনুসারী।
এর মধ্যে প্রথমটি ২২৩ পৃষ্ঠা, দ্বিতীয়টি ৩৪৮ পৃষ্ঠা, তৃতীয়টি ৩৫৪ পৃষ্ঠা এবং চতুর্থটি ৩২৭ পৃষ্ঠা সম্বলিত। সবগুলোই মাঝারি আকারের এবং এগুলো লন্ডনের ‘আল-ফজর ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রকাশিত।
আমি এই বইগুলো পাঠ করেছি এবং পাঠের মাধ্যমে আমার কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে:
১ - লেখক ইলম বা জ্ঞানের অধিকারী কেউ নন। বরং তিনি শরীয়ত ও এর আনুষঙ্গিক জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ। তার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলেও বড়জোর এটুকু বলা যায় যে, তিনি সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শের ওপর গড়ে ওঠা স্কুলগুলোতে শিক্ষিত হয়েছেন। এটি মাসআলা উপস্থাপনের ভঙ্গি, মূল পাঠ বা দলিলের সাথে তার আচরণ, তার দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি এবং সহীহ ও যয়ীফ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে তার অক্ষমতার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কেননা তিনি কখনও যুক্তির নিরিখে, আবার কখনও কেবল সুন্নাহর কিতাবসমূহে বিদ্যমান থাকার কারণে হাদিসকে সহীহ বলে রায় দেন।
তার অজ্ঞতাকে আরও সুনিশ্চিত করে নিজের সম্পর্কে করা তার সেই স্বীকারোক্তি যেখানে তিনি বলেছেন যে, তিনি সহীহ বুখারী ও মুসলিম এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ কখনও ক্রয় করেননি। ইরাক ভ্রমণ এবং কয়েকজন রাফেযী আলেমের সাথে সংস্পর্শে আসার আগে তিনি এগুলো চিনতেনও না। সেই আলেমরা তার কাছে—তার দাবি অনুযায়ী—সহীহাইন থেকে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর বর্ণনা উল্লেখ করেছিলেন। ফলে তিনি তা যাচাই করার জন্য এই কিতাবগুলো ক্রয় করেন। তিনি বলেন: ‘আমি রাজধানীর দিকে যাত্রা করলাম এবং সেখান থেকে আমি সহীহ ক্রয় করলাম...’
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
البخاري وصحيح مسلم، ومسند الإمام أحمد، وصحيح الترمذي، وموطأ مالك، وغيرها من الكتب الأخرى المشهورة، ولم أنتظر الرجوع إلى البيت، فكنت طوال الطريق بين تونس وقفصة وأنا راكب في حافلة النقل العمومية أتصفح كتاب البخاري وأبحث عن رزية الخميس».
(1)2 - المؤلف في عقيدته الجديدة -التي يزعم أنه اهتدى إليها- رافضي جلد، يقرر عقيدة الرافضة بكل صراحة، وينتصر لها، ويعلن انتسابه إليها، والبراءة من السنة والصحابة، الذين يصرح باعتقاده ردتهم إلا القليل منهم.
حيث يقول: «قرأت الكثير حتى اقتنعت بأن الشيعة الامامية على حق، فتشيعت، وركبت على بركة الله سفينة أهل البيت، وتمسكت بحبل ولائهم، لأني وجدت بحمد الله البديل عن بعض الصحابة الذين ثبت عندي أنهم ارتدوا على أعقابهم، ولم ينج منهم إلا القليل».
(2)3 - لم يلتزم المؤلف في كتبه بالمنهج العلمي في التأليف، لا من حيث توثيق المعلومات من مصادرها، ولا من حيث طريقة عرض المسائل وترتيبها تحت أبواب أو فصول ومراعاة وحدة الموضوعات وترابطها، بل جاءت كتبه خالية من أي توثيق للمعلومات والإحالة على المصادر إلا ما ندر، وإذا ما أحال تكون الإحالة في الغالب ناقصة لاتفي بالغرض. وأما طريقته في عرض المسائل فإنه يبحثها تحت عناوين مستقلةلا ارتباط لها بما قبلها أو بعدها، بل إنه قد يعقد العنوان لبحث مسأله ويبحث تحته مسألة أخرى، فجاءت كتبه أشبه ما تكون بمقالات منوعة، جمعت من غير ترتيب ولا تهذيب وقد ذكرت لذلك أمثلة عند نقد المؤلف ومنهجه.
4 - تركزت مادة هذه الكتب حول مسألة الصحابة بشقيها الذي سارت عليه كتب الرافضة وهما: الغلو المفرط في علي وأبنائه
والإستدلال
--------------------------------------------
বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে ইমাম আহমাদ, সহীহ তিরমিযী, মুওয়াত্তা মালিক এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ। আমি বাড়ি ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারিনি, বরং তিউনিস ও গাফসার মধ্যবর্তী পুরো পথটুকু গণপরিবহনের বাসে বসে আমি বুখারীর কিতাবটি উল্টেপাল্টে দেখছিলাম এবং 'বৃহস্পতিবারের দুর্যোগ' সম্পর্কে খুঁজছিলাম।
(১)২ - লেখক তাঁর নতুন আকিদাহর ক্ষেত্রে—যেটির ব্যাপারে তিনি দাবি করেন যে তিনি সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছেন—একজন কট্টর রাফেযী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে রাফেযীদের আকিদাহ প্রতিষ্ঠিত করেন, এর পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এই মতাদর্শের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি সুন্নাত এবং সাহাবায়ে কিরাম থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করেন, যাদের সম্পর্কে তিনি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস পোষণ করেন যে তাঁদের অল্প কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই ধর্মত্যাগী হয়েছিলেন।
যেখানে তিনি বলেন: "আমি অনেক পড়েছি, এমনকি আমি নিশ্চিত হয়েছি যে শিয়া ইমামিয়াগণ হকের ওপর রয়েছে; তাই আমি শিয়া হয়ে গেলাম এবং আল্লাহর বরকতে আহলে বাইতের নৌকায় আরোহণ করলাম। আমি তাঁদের আনুগত্যের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলাম, কারণ আলহামদুলিল্লাহ আমি সেই সব সাহাবীদের বিকল্প পেয়ে গেছি যাঁদের সম্পর্কে আমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁরা তাঁদের পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছেন এবং তাঁদের অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ রক্ষা পায়নি।"
(২)৩ - লেখক তাঁর কিতাবসমূহে রচনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি; তথ্যের উৎস থেকে প্রামাণ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নয়, আবার মাসআলাসমূহ উপস্থাপন ও সেগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায় বা পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে এবং বিষয়ের ঐক্য ও পারস্পরিক যোগসূত্র রক্ষার ক্ষেত্রেও নয়। বরং তাঁর কিতাবগুলো কদাচিৎ ব্যতীত তথ্যের কোনো প্রামাণ্যতা বা উৎসের উদ্ধৃতি প্রদান থেকে শূন্য। আর যদি তিনি উদ্ধৃতি দিয়েও থাকেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অসম্পূর্ণ থাকে যা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে না। মাসআলা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি হলো—তিনি বিষয়গুলো এমন সব স্বতন্ত্র শিরোনামের অধীনে আলোচনা করেন যার পূর্বের বা পরের আলোচনার সাথে কোনো যোগসূত্র নেই। এমনকি দেখা যায় তিনি কোনো মাসআলা আলোচনার জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন অথচ তার অধীনে অন্য কোনো বিষয় আলোচনা করছেন। ফলে তাঁর কিতাবগুলো বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কোনো বিন্যাস বা পরিমার্জন ছাড়াই একত্রিত করা হয়েছে। লেখকের এবং তাঁর পদ্ধতির সমালোচনা করার সময় আমি এর উদাহরণসমূহ উল্লেখ করেছি।
৪ - এই কিতাবগুলোর বিষয়বস্তু সাহাবীদের প্রসঙ্গের দুটি দিকের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে যা রাফেযীদের কিতাবসমূহের অনুসরণে লিখিত; সেগুলো হলো: আলী ও তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি
এবং দলীল উপস্থাপন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
على ذلك بالموضوعات والمنكرات التي ليس لها حظ من الصحة والثبوت، والقدح المقذع في سائر الصحابة استدلالاً بما جاء في كتب التاريخ من أخبار، عامتها مكذوبة على الصحابة هي من وضع الرافضة والزنادقة، وقليل منها صحيح لكنه لامطعن فيه على الصحابة.
والمؤلف لم يأت بجديد في هذا الباب، بل هو معتمد على ما جاء في كتب الرافضة من مطاعن، مع ادعائه أنه قد توصل لهذه المسائل عن طريق البحث العلمي الجاد وهو في ذلك كاذب. بل إني أشك في استقلاله بتأليف هذه الكتب، للتناقض الكبير الحاصل فيها -والذي ستأتي له أمثلة مفصلة عند نقد المؤلف ومنهجه- ولعدم ترابط موضوعاتها وتناسقها مما يبعد معه أن تكون لمؤلف واحد ولا أستبعد أن يكون للخوئي والصدر وغيرهما من علماء الرافضة المعاصرين اليد الطولى في أصل فكرة وضع هذه الكتب، والمشاركة في تأليفها، خصوصاً وأن المؤلف صرح بأنه إنما شرع في البحث بعد اتصاله بهم في العراق وتزويدهم له بكمية كبيرة من كتب الرافضة.
ثم إني بعد تأمل هذه الكتب وما حوته من تضليل وتلبيس، وما بلغني أيضاً من سعي الرافضة في طباعتها وترجمتها إلى عدة لغات، وتوزيعها على كل نطاق، وتلقف العوام لها في بلاد كثيرة خلت من العلماء الذين يحذرون من هذه الكتب وخطرها، وينبهون الناس على
زيفها وباطلها: عقدت العزم على الرد عليها، وكشف زيفها وتهافتها نصحاً للأمه ودفاعاً عن السنة.
وإن كنت مؤثراً أن يتولى هذا الرد عالم من علماء الأمة، إلا أن معرفتي بانشغال العلماء بما هو أعظم حملني على تجشم هذا الأمر -على ضعف منى وتقصير- رغبة في الأجر والذب عن السنة، متشبهاً بالعلماء في ذلك، غير متطاول على مقامهم.
فبدأت بجرد تلك الكتب الأربعه وحصر المسائل الواردة فيها، والتي تحتاج إلى رد، ثم جمعت من الأدلة وكلام أهل العلم حول كل مسألة ما
এই বিষয়গুলোকে এমন সব জাল ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও প্রামাণিকতার কোনো ভিত্তি নেই। উপরন্তু, ইতিহাসের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিভিন্ন খবরের ভিত্তিতে সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের ওপর জঘন্য অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। অথচ সেসব খবরের অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামের প্রতি আরোপিত মিথ্যাচার, যা রাফেযি ও যিনদিকদের তৈরি। আর যে সামান্য কিছু বর্ণনা সহিহ রয়েছে, সেগুলোতেও সাহাবায়ে কেরামকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো সুযোগ নেই।
লেখক এ বিষয়ে নতুন কোনো কিছু নিয়ে আসেননি; বরং তিনি রাফেযিদের কিতাবসমূহে বর্ণিত আপত্তিসমূহের ওপরই নির্ভর করেছেন। অথচ তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়গুলোতে উপনীত হয়েছেন, যা তাঁর একটি ডাহা মিথ্যাচার। এমনকি এই কিতাবগুলো এককভাবে তাঁরই রচনা কি না, সে বিষয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে। কেননা এগুলোতে ব্যাপক বৈপরীত্য বিদ্যমান—যার বিস্তারিত উদাহরণ লেখক ও তাঁর কর্মপদ্ধতির সমালোচনার সময় সামনে আসবে। তদুপরি বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র ও সামঞ্জস্য নেই, যা থেকে এটি কোনো একজন লেখকের রচনা হওয়া সুদূরপরাহত মনে হয়। আমি এটিও অসম্ভব মনে করি না যে, এই কিতাবগুলো রচনার মূল পরিকল্পনা এবং এগুলোর রচনায় খুয়ি, সদরের মতো বর্তমান যুগের রাফেযি আলেমদের বড় ধরনের হাত রয়েছে। বিশেষ করে লেখক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইরাকে তাঁদের সাথে যোগাযোগের পর এবং তাঁদের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ রাফেযি কিতাব সরবরাহের পরেই এই গবেষণা শুরু করেছিলেন।
অতঃপর এই কিতাবসমূহ এবং এগুলোতে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও প্রতারণা পর্যবেক্ষণ করার পর, আর রাফেযিরা যেভাবে এগুলো মুদ্রণ ও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং যে সব জনপদে এই কিতাবগুলোর বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার মতো এবং এর অসারতা ও বাতুলতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মতো উলামায়ে কেরাম নেই, সেখানকার সাধারণ মানুষ যেভাবে এগুলো লুফে নিচ্ছে—তা জানার পর আমি এগুলোর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনায় ও সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় এগুলোর অসত্য ও অন্তঃসারশূন্যতা উন্মোচন করার দৃঢ় সংকল্প করেছি।
যদিও আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, উম্মাহর কোনো প্রাজ্ঞ আলেম এই খণ্ডনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, কিন্তু আলেমগণ এর চেয়েও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাপৃত আছেন জেনে সওয়াবের আশায় এবং সুন্নাহর সুরক্ষায়—নিজের দুর্বলতা ও অক্ষমতা সত্ত্বেও—আমি এই কষ্টসাধ্য কাজের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমি আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি মাত্র, তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার সমকক্ষ হওয়ার কোনো ধৃষ্টতা দেখাইনি।
তাই আমি উক্ত চারটি কিতাব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পাঠ করে সেগুলোতে উপস্থাপিত খণ্ডনযোগ্য বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে শুরু করলাম। অতঃপর প্রতিটি বিষয়ের সপক্ষে দলিল-প্রমাণ এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করলাম যা...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يفي بالغرض في الرد عليها، وكنت قد صنفتها حسب الموضوعات من غير نظر إلى الكتاب الواردة فيه، تمهيداً للرد عليها في كتاب واحد بحسب ذلك الترتيب الموضوعي.
ثم رأيت من المصلحة إفراد الرد على كل كتاب بكتاب مستقل، لما بلغني من انتشار بعض تلك الكتب في بعض الأماكن دون بعض فما أردت أن أعين على نشر مالم يعرف منها عن طريق عرض المسائل عند الرد عليها، ولما في هذه الطريقة المختارة من سهولة على القارئ في مراجعة مسائل كل كتاب على حدة.
وها هو ذا الرد على الكتاب الأول من هذه الكتب، وهو كتاب «ثم اهتديت» الذي يعد من أكثر تلك الكتب تلبيساً وتضليلاً، حيث تتبعت كل مسائله وفندت كل شبهة، بالدليل الصحيح، والخبر الموثق، والحجة المقنعة، حتى ظهر الحق، وزهق الباطل، إن الباطل كان زهوقاً. والمنة فيها والفضل لله وحده. فله الحمد على ماأنعم ويسر أولاً وآخراً.
وقبل الشروع في تفصيل الرد جعلت له مدخلاً تضمن مباحث نافعة ومفيدة -إن شاء الله- جاءت مقسمة على ستة مباحث:
المبحث الأول: في التعريف بالرافضة.
المبحث الثاني: نشأة الرافضة وبيان دور اليهود في نشأتهم.
المبحث الثالث: تعريف موجز بأهم عقائد الرافضة.
المبحث الرابع: مطاعن الرافضة على أئمة أهل السنة وعلمائهم.
المبحث الخامس: موقف أهل السنة من الرافضة ومن عقيدتهم.
المبحث السادس: نقد عام للمؤلف ومنهجه في كتبه الأربعة.
وقد سميت كتابي هذا (الانتصار للصحب والآل من افتراءات السماوي الضال) .
هذا واسأل الله - تعالى - كما وفق لهذا العمل بلطفه وكرمه، أن يجعله
যা সেগুলোর যথাযথ উত্তর প্রদানের উদ্দেশ্য পূরণ করবে। আমি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মূল বইয়ের ক্রম বিবেচনা না করে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজিয়েছিলাম, যাতে সেই বিন্যাস অনুযায়ী একটি গ্রন্থেই সবকিছুর উত্তর প্রদান করা সম্ভব হয়।
অতঃপর আমি প্রতিটি বইয়ের জন্য পৃথকভাবে স্বতন্ত্র উত্তর প্রদান করাকেই অধিক কল্যাণকর মনে করলাম। কারণ আমি জানতে পেরেছি যে, এই বইগুলোর কোনোটি কোনো বিশেষ অঞ্চলে প্রচলিত হলেও অন্য অঞ্চলে তা অজ্ঞাত। তাই আমি চাইনি যে, উত্তর দেওয়ার সময় অপ্রকাশিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর প্রচারে সহায়ক হতে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে পাঠকের পক্ষে প্রতিটি বইয়ের বিষয়সমূহ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করাও সহজ হবে।
আর এই হলো সেই ধারার প্রথম বইটির উত্তর, যার নাম ‘সুম্মা ইহতাদাইতু’ (অতঃপর আমি হেদায়াত পেলাম)। বিভ্রান্তি ও প্রতারণার বিচারে এটি উক্ত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমি এর প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছি এবং সঠিক দলিল, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ও অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি সংশয় খন্ডন করেছি; যাতে সত্য প্রকাশিত হয় এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়, আর নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়। এর যাবতীয় অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র আল্লাহর। প্রথমে ও শেষে তাঁর সকল নেয়ামত ও সহজীকরণের জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা।
বিস্তারিত উত্তর শুরু করার আগে আমি একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি যা—ইনশাআল্লাহ—অত্যন্ত উপকারী ও প্রয়োজনীয় আলোচনা সমৃদ্ধ। এটি ছয়টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের পরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের উদ্ভব এবং তাদের উৎপত্তিতে ইহুদিদের ভূমিকার বিবরণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের প্রধান আকিদাসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাতের ইমাম ও ওলামাদের প্রতি রাফেজিদের কুৎসা ও আক্রমণ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রাফেজি সম্প্রদায় এবং তাদের আকিদার ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের অবস্থান।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: লেখক এবং তার চারটি বইয়ে অনুসৃত পদ্ধতির সাধারণ সমালোচনা।
আমি আমার এই বইটির নামকরণ করেছি ‘আল-ইন্তিসারু লিস-সাহবি ওয়াল আলি মিন ইফতিরাআতিস সামাউয়্যিদ দাল’ (পথভ্রষ্ট সামাউয়্যির মিথ্যাচার থেকে সাহাবী ও আহলে বায়তের পক্ষে বিজয়)।
পরিশেষে আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, যেভাবে তিনি তাঁর করুণা ও দয়া দ্বারা এই কাজের তৌফিক দান করেছেন, তিনি যেন একে...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خالصاً لوجهه الكريم، وأن يمن علىّ فيه بالقبول، وأن ينفع به من يراه من المسلمين، وأن يدحض به كيد الكائدين، وشبه المبتدعين إنه سميع قريب مجيب، وبالإجابة جدير.
এই আমল যেন একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির নিমিত্তে একনিষ্ঠ হয়; তিনি যেন অনুগ্রহপূর্বক আমাকে এটি কবুলের তাওফিক দান করেন, এর দ্বারা পাঠক মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত ও বিদআতিদের সংশয়সমূহ নস্যাৎ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী ও দোয়াকবুলকারী; আর তিনিই প্রার্থনা মঞ্জুর করার যোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول تعريف الرافضة
الرفض في اللغة هو: الترك، يقال رفضت الشيء: أي تركته.
(1)
والرافضة في الاصطلاح: هي إحدى الفرق المنتسبة للتشيع لآل البيت، مع البراءة من أبي بكر وعمر، وسائر أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلا القليل منهم، وتكفيرهم لهم وسبهم إياهم.
قال الإمام أحمد -رحمه الله تعالى-: «والرافضة: هم الذين يتبرؤن من أصحاب محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم ويسبونهم وينتقصونهم».
(2)وقال عبد الله بن أحمد -رحمهما الله تعالى-: «سألت أبي من الرافضة؟ فقال: الذين يشتمون -أو يسبون- أبا بكر وعمر رضي الله عنهما».
(3)وقال الإمام أبوالقاسم التيمي الملقب (بقوام السنة) في تعريفهم: «وهم الذين يشتمون أبا بكر وعمر رضي الله عنهما ورضي عن
محبهما».
(4)--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাফেজীদের সংজ্ঞা
শাব্দিক অর্থে ‘রাফদ’ (বর্জন) হলো: কোনো কিছু পরিত্যাগ করা। বলা হয়: ‘আমি জিনিসটি রাফদ করেছি’, অর্থাৎ আমি তা বর্জন করেছি বা ছেড়ে দিয়েছি।
(১)
পরিভাষায় রাফেজী: তারা হলো আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসার দাবিদার শিয়াদের একটি দল, যারা আবু বকর ও উমর এবং গুটিকয়েক জন ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমস্ত সাহাবীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়, তাঁদেরকে কাফের বলে গণ্য করে এবং তাঁদেরকে গালিগালাজ করে।
ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: «রাফেজী হলো তারা, যারা আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়, তাঁদেরকে গালি দেয় এবং তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে»।
(২)আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) বলেন: «আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাফেজী কারা? তিনি বললেন: যারা আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মন্দ বলে অথবা গালি দেয়»।
(৩)ইমাম আবুল কাসিম আত-তাইমী, যাঁর উপাধি ‘কিওয়ামুস সুন্নাহ’, তাঁদের সংজ্ঞায় বলেন: «তারা হলো ওই সব লোক যারা আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দেয়; আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি এবং তাঁদেরকে যারা ভালোবাসেন তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন»।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد انفردت الرافضة من بين الفرق المنتسبة للإسلام بمسبة الشيخين أبي بكر وعمر، دون غيرها من الفرق الأخرى، وهذا من عظم خذلانهم قاتلهم الله.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-: «فأبوبكر وعمر أبغضتهما الرافضة ولعنتهما، دون غيرهم من الطوائف».
(1)وقد جاء في كتب الرافضة ما يشهد لهذا: وهو جعلهم محبة الشيخين وتوليهما من عدمها هي الفارق بينهم وبين غيرهم ممن يطلقون عليهم (النواصب) فقد روى الدرازي عن محمد بن علي بن موسى قال: «كتبت إلى علي بن محمد عليه السلام
(2) عن الناصب هل يحتاج في امتحانه إلى أكثر من تقديمه الجبت
والطاغوت
(3) واعتقاد إمامتهما؟ فرجع الجواب من كان على هذا فهو ناصب».
(4)
سبب تسميتهم رافضة:يرى جمهور المحققين أن سبب اطلاق هذه التسمية على الرافضة: هو رفضهم زيد بن علي وتفرقهم عنه بعد أن كانوا في جيشه، حين خروجه على هشام بن عبد الملك، في سنة إحدى وعشرين ومائة وذلك بعد أن أظهروا البراءة من الشيخين فنهاهم عن ذلك.
يقول أبو الحسن الأشعرى: «وكان زيد بن علي يفضل علي بن
--------------------------------------------
ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত দলগুলোর মধ্যে একমাত্র রাফেজিরাই শাইখাইন (দুই বর্ষীয়ান খলিফা) আবু বকর ও উমরকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র, যা অন্য কোনো দলের মধ্যে দেখা যায় না। এটি তাদের চরম লাঞ্ছনার বহিঃপ্রকাশ; আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— বলেন: «অন্যান্য সকল দল বা গোষ্ঠীর বিপরীতে কেবল রাফেজিরাই আবু বকর ও উমরকে ঘৃণা করে এবং তাদের অভিশাপ দেয়»।
(১)রাফেজিদের কিতাবসমূহে এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়: আর তা হলো, শাইখাইনের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য পোষণ করা বা না করাকেই তারা নিজেদের এবং অন্যদের (যাদের তারা ‘নাসিবি’ বলে অভিহিত করে) মধ্যে পার্থক্যের মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। আদ-দারাজি মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আলি ইবনে মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাম
(২) এর নিকট নাসিবি ব্যক্তি সম্পর্কে লিখে পাঠালাম যে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য জিবত
ও তাগুতকে
(৩) (আবু বকর ও উমরকে) অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাদের ইমামতের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করার চেয়ে বেশি কিছু কি প্রয়োজন? উত্তরে জানানো হলো যে, যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকবে সে-ই নাসিবি»।
(৪)
তাদের রাফেজি নামকরণের কারণ:অধিকাংশ গবেষকের মতে, তাদেরকে ‘রাফেজি’ (বর্জনকারী) নাম দেওয়ার কারণ হলো: হিজরি ১২১ সালে হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময় জায়েদ ইবনে আলির বাহিনীতে থাকা সত্ত্বেও তারা তাকে বর্জন (রাফদ) করে এবং তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি তখন ঘটেছিল যখন তারা শাইখাইনের প্রতি সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়, কিন্তু তিনি (জায়েদ ইবনে আলি) তাদেরকে তা করতে নিষেধ করেন।
আবুল হাসান আল-আশআরি বলেন: «জায়েদ ইবনে আলি আলিকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أبي طالب على سائر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ويتولى أبا بكر وعمر، ويرى الخروج على أئمة الجور، فلما ظهر في الكوفة في أصحابه الذين بايعوه سمع من بعضهم الطعن على أبي بكر وعمر فأنكر ذلك على من سمعه منه، فتفرق عنه الذين بايعوه، فقال لهم: رفضتموني، فيقال إنهم سموا رافضة لقول زيد لهم رفضتموني».
(1)وبهذا القول قال قوام السنة
(2)، والرازي
(3)، والشهرستاني
(4)، وشيخ الإسلام ابن تيمية
(5) رحمهم الله.
وذهب الأشعري في قول آخر: إلى أنهم سموا بالرافضة لرفضهم إمامة الشيخين، قال: «وإنما سموا رافضة لرفضهم إمامة أبي بكر وعمر».
(6)والرافضة اليوم يغضبون من هذه التسمية ولا يرضونها، ويرون أنها من الألقاب التي ألصقها بهم مخالفوهم، يقول محسن الأمين: «الرافضة لقب ينبز به من يقدم علياً رضي الله عنه في الخلافة وأكثر مايستعمل للتشفي والانتقام».
(7)ولهذا يتسمون اليوم بـ (الشيعة) وقد اشتهروا بهذه التسمية
عند العامة، وقد تأثر بذلك بعض الكتاب والمثقفين، فنجدهم
يطلقون عليهم هذه التسمية. وفي الحقيقة أن الشيعة
مصطلح عام يشمل كل من شايع
علياً رضي الله عنه
(8).
--------------------------------------------
আলী ইবনে আবি তালিবকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সাহাবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করতেন এবং আবু বকর ও উমরের সাথে মিত্রতা পোষণ করতেন। তিনি জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে সংগত মনে করতেন। অতঃপর যখন তিনি কূফায় তাঁর ঐ সকল অনুসারীদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করলেন যারা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিল, তখন তিনি তাদের কারো কারো কাছ থেকে আবু বকর ও উমরের সমালোচনা ও কটূক্তি শুনতে পেলেন। তিনি যারা এটি করছিল তাদের তিরস্কার করলেন। ফলে যারা তাঁর হাতে বায়আত হয়েছিল তারা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: “তোমরা আমাকে বর্জন করলে (রাফাদতুমুনি)।” তাই বলা হয়ে থাকে যে, যায়িদের সেই “তোমরা আমাকে বর্জন করলে” উক্তির কারণেই তাদের ‘রাফেজি’ নামকরণ করা হয়েছে।
(১)এই একই মত পোষণ করেছেন কিওয়ামুস সুন্নাহ
(২), আর-রাজি
(৩), আশ-শাহরাস্তানি
(৪) এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া
(৫) রহিমাহুমুল্লাহ।
আল-আশআরি অন্য এক বর্ণনায় এই মত ব্যক্ত করেছেন যে: শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর ইমামত বা খেলাফত বর্জন করার কারণেই তাদের রাফেজি বলা হয়। তিনি বলেন: “মূলত আবু বকর ও উমরের ইমামত বর্জন করার কারণেই তাদের রাফেজি নামকরণ করা হয়েছে।”
(৬)বর্তমান যুগে রাফেজিরা এই নামকরণে ক্ষুব্ধ হয় এবং তারা এটি পছন্দ করে না। তারা মনে করে যে এটি এমন এক উপাধি যা তাদের বিরোধীরা তাদের ওপর লেপন করে দিয়েছে। মুহসিন আল-আমীন বলেন: “রাফেজি এমন এক উপাধি যা দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করা হয় যে আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে খিলাফতের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মনে করে এবং এটি মূলত মনের ঝাল মেটাতে ও প্রতিশোধ নিতেই অধিক ব্যবহৃত হয়।”
(৭)এই কারণেই বর্তমানে তারা নিজেদের (শিয়া) নামে অভিহিত করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তারা এই নামেই সুপরিচিত। এর ফলে অনেক লেখক ও বুদ্ধিজীবীও প্রভাবিত হয়েছেন এবং আমরা তাদের এই নামেই সম্বোধন করতে দেখি। অথচ প্রকৃতপক্ষে ‘শিয়া’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যা আলী রাদিআল্লাহু আনহুর সকল সমর্থক ও অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করে।
(৮)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد ذكر أصحاب الفرق والمقالات أنهم ثلاثة أصناف:
غالية: وهم الذين غلوا في علي رضي الله عنه ولربما ادعوا فيه الألوهية أو النبوة.
ورافضة: وهم الذين يدعون النص على استخلاف علي ويتبرءون من الخلفاء قبله وعامة الصحابة.
وزيدية: وهم أتباع زيد بن علي، الذين كانوا يفضلون علياً على سائر الصحابة ويتولون أبا بكر وعمر.
(1)فإطلاق «الشيعة» على الرافضة من غير تقييد لهذا المصطلح غير صحيح، لأن هذا المصطلح يدخل فيه الزيدية، وهم دونهم في المخالفة وأقرب إلى الحق منهم.
بل إن تسميتهم «بالشيعة» يوهم التباسهم بالشيعة القدماء الذين كانوا في عهد علي رضي الله عنه ومن بعدهم؛ فإن هؤلاء مجمعون على تفضيل الشيخين على عليّ رضي الله عنه وإنما كانوا يرون تفضيل علي على
عثمان وهؤلاء وإن كانوا مخطئين في ذلك إلا أن فيهم كثيراً من أهل العلم ومن هو منسوب إلى الخير والفضل.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-: «ولهذا كانت الشيعة المتقدمون، الذين صحبوا علياً، أو كانوا في ذلك الزمان، لم يتنازعوا في تفضيل أبي بكر وعمر، وإنما كان نزاعهم في تفضيل علي وعثمان».
(2)لذا فإن تسمية «الرافضة» بالشيعة من الأخطاء البينة الواضحة التي وقع فيها بعض المعاصرين تقليداً للرافضة في سعيهم للتخلص من هذا الاسم، لما رأوا من كثرة ذم السلف لهم، ومقتهم إياهم، فأرادوا التخلص من ذلك
--------------------------------------------
বিভিন্ন ফিরকা ও মতবাদের বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, তারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
চরমপন্থী (গালিয়াহ): তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে এবং এমনকি তাঁর মধ্যে উপাস্যত্ব (উলুহিয়্যাত) বা নবুওয়াতের দাবিও করেছে।
রাফেজি (রাফিদাহ): তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আলীকে স্থলাভিষিক্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নস বা নির্দেশ থাকার দাবি করে এবং তাঁর পূর্ববর্তী খলিফাগণ ও সাধারণ সাহাবীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়।
যায়দি (যাইদিয়্যাহ): তারা হলো যায়দ ইবনে আলীর অনুসারী, যারা আলীকে অন্য সকল সাহাবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করত কিন্তু আবু বকর ও উমরকে সম্মান করত ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত।
(১)সুতরাং কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই রাফেজিদের ওপর 'শিয়া' পরিভাষাটি প্রয়োগ করা সঠিক নয়, কারণ এই পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত যায়দিরাও হয়, অথচ তারা (যায়দিরা) বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের (রাফেজিদের) চেয়ে অনেক কম এবং হকের অধিক নিকটবর্তী।
বরং তাদের 'শিয়া' নামে অভিহিত করা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ের প্রাচীন শিয়াদের সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে; কারণ সেই প্রাচীন শিয়ারা আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তুলনায় শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-এর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একমত ছিলেন। তারা কেবল আলীকে
উসমানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। তারা এই মতের ক্ষেত্রে ভুল পথে থাকলেও, তাদের মধ্যে অনেক আহলে ইলম (বিদ্বান) এবং কল্যাণ ও ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "এই কারণেই পূর্ববর্তী শিয়ারা, যারা আলীর সাহচর্য পেয়েছিলেন অথবা সেই সময়ের ছিলেন, আবু বকর ও উমরের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো বিবাদে লিপ্ত হননি। তাদের বিবাদ ছিল কেবল আলী এবং উসমানের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে।"
(২)তাই 'রাফেজি'দেরকে 'শিয়া' নামকরণ করা একটি সুস্পষ্ট ভুল, যা বর্তমান সময়ের কেউ কেউ রাফেজিদের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে করে ফেলেছেন। রাফেজিরা মূলত এই (রাফেজি) নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল, কারণ তারা দেখেছিল যে সালাফগণ তাদের চরম নিন্দা করেছেন এবং তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেছেন। ফলে তারা তা থেকে নিষ্কৃতি পেতে চেয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الاسم تمويهاً وتدليساً على من لا يعرفهم بالانتساب إلى الشيعة على وجه العموم. فكان من آثار ذلك ماوقع فيه بعض الطلبة المبتدئين ممن لم يعرفوا حقيقة هذه المصطلحات من الخلط الكبير بين أحكام الرافضة وأحكام الشيعة، لما تقرر عندهم إطلاق مصطلح التشيع على الرافضة، فظنوا أن ما ورد في كلام أهل العلم المتقدمين في حق (الشيعة) يتنزل على الرافضة، في حين أن أهل العلم يفرقون بينهما في كافة أحكامهم.
يقول الإمام الذهبي في ترجمة (أبان بن تغلب) بعد أن ذكر توثيق
الأئمة له مع أنه شيعي: «فلقائل أن يقول: كيف ساغ توثيق مبتدع وحدّ الثقة العدالة والإتقان، فكيف يكون عدلاً من هو صاحب بدعة؟.
وجوابه: أن البدعة على ضربين: فبدعة صغرى كغلو التشيع، أو كالتشيع بلا غلو ولا تحرّف، فهذا كثير في التابعين وتابعيهم مع الدين والورع والصدق، فلو رُدّ حديث هؤلاء لذهب جملة من الآثار النبوية وهذه مفسدة بينة، ثم بدعة كبرى كالرفض الكامل والغلو فيه والحط على أبي بكر وعمر رضي الله عنهما والدعاء إلى ذلك فهذا النوع لايحتج به ولا كرامة
إلى أن قال: فالشيعي الغالي في زمان السلف وعرفهم: هو من تكلم في عثمان، والزبير، وطلحة، ومعاوية، وطائفة ممن حارب علياً رضي الله عنه وتعرض لسبهم.
والغالي في زماننا وعرفنا هو الذي يكفّر هؤلاء السادة، ويتبرأ من الشيخين أيضاً، فهذا ضال مفتر، ولم يكن أبان بن تغلب يعرض للشيخين أصلاً، بل قد يعتقد علياً أفضل منهما».
(1)وعليه فإن من الواجب: أن يسمى هؤلاء الروافض بمسماهم الحقيقي الذي اصطلح عليه أهل العلم وعدم تسميتهم بالشيعة على
وجه الاطلاق، لما في ذلك من اللبس والإيهام، وإذا ما اطلق عليهم مصطلح (التشيع)
--------------------------------------------
যারা তাদের চেনে না, তাদের কাছে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাধারণভাবে 'শিয়া' পরিচয়ে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অন্যতম ফলশ্রুতিতে কিছু নবীন শিক্ষার্থী, যারা এই পরিভাষাগুলোর প্রকৃত হাকিকত জানত না, তারা রাফিযিদের বিধান এবং শিয়াদের বিধানের মধ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়েছে। তাদের নিকট রাফিযিদের ওপর 'তাশায়িউ' (শিয়া হওয়া) পরিভাষাটির প্রয়োগ সুনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তারা মনে করেছে যে, পূর্ববর্তী জ্ঞানীদের বক্তব্যে 'শিয়া' সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা রাফিযিদের ওপর প্রযোজ্য। অথচ উলামায়ে কেরাম তাদের সমস্ত আহকামের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করে থাকেন।
ইমাম আয-যাহাবি 'আবান ইবনে তাগলিব' শিয়া হওয়া সত্ত্বেও ইমামগণ কর্তৃক তার নির্ভরযোগ্যতা বা তাওসিকের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: «কেউ হয়তো বলতে পারেন: একজন বিদআতির নির্ভরযোগ্যতা কীভাবে স্বীকৃত হতে পারে, যেখানে বিশ্বস্ততার মানদণ্ডই হলো ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতা? এমতাবস্থায় একজন বিদআতি ব্যক্তি কীভাবে ন্যায়পরায়ণ হতে পারেন?
এর উত্তর হলো: বিদআত দুই প্রকার। প্রথমত: ছোট বিদআত—যেমন অতিরঞ্জিত শিয়া মতবাদ, অথবা কোনো চরমপন্থা ও বিচ্যুতি ছাড়াই সাধারণ শিয়া মতবাদ। তাবেয়ি ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে দীনদারী, পরহেজগারী ও সত্যবাদিতার সাথে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। যদি তাদের বর্ণিত হাদিস বর্জন করা হতো, তবে নববী সুন্নাহর একটি বিশাল অংশ বিলুপ্ত হয়ে যেত, যা একটি প্রকাশ্য ফিতনা। দ্বিতীয়ত: বড় বিদআত—যেমন পূর্ণাঙ্গ রাফিযি মতবাদ, এতে চরম বাড়াবাড়ি করা, আবু বকর ও উমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর মর্যাদাহানি করা এবং এর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এই শ্রেণির লোকের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর কোনো মর্যাদা নেই।
তিনি আরও বলেন: সালাফদের যুগে ও পরিভাষায় 'গালি' বা চরমপন্থী শিয়া বলতে তাদের বোঝানো হতো যারা উসমান, যুবাইর, তালহা, মুআবিয়া এবং আলি (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী একদল সাহাবীর সমালোচনা ও গালমন্দ করতেন।
আর আমাদের যুগে ও আমাদের পরিভাষায় 'গালি' হলো সেই ব্যক্তি, যে এই মহান ব্যক্তিবর্গকে কাফের সাব্যস্ত করে এবং শাইখাইন (আবু বকর ও উমর) থেকেও বিমুখতা প্রকাশ করে; এমন ব্যক্তি পথভ্রষ্ট ও অপবাদকারী। আবান ইবনে তাগলিব মূলত শাইখাইন সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতেন না, বরং তিনি হয়তো আলিকে তাঁদের চেয়ে উত্তম মনে করতেন।»
(১)কাজেই এটি আবশ্যক যে: এই রাফিযিদের সেই প্রকৃত নামেই অভিহিত করা যা উলামায়ে কেরাম পরিভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সাধারণভাবে তাদের 'শিয়া' নামে সম্বোধন না করা। কারণ এতে বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়। আর যদি তাদের ওপর 'তাশায়িউ' পরিভাষাটি প্রয়োগ করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فينبغي أن يقيد بما يدل عليهم خاصة كأن يقال (الشيعة الإمامية) أو (الشيعة الاثني عشرية) على ما جرت به عادة العلماء عند ذكرهم والله تعالى أعلم.
অতএব একে এমন বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা উচিত যা বিশেষভাবে তাদেরই নির্দেশ করে, যেমন বলা হয় (শিয়া ইমামিয়্যাহ) অথবা (শিয়া ইসনা আশারিয়্যাহ), যেভাবে আলেমগণ তাদের উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সচরাচর করে থাকেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني نشأة الرافضة وبيان دور اليهود في نشأتهم أول من يعرف أنه دعا إلى أصول عقائد الرافضة التي انبنت عليها عقائدهم الأخرى: رجل يهودي اسمه (عبد الله بن سبأ) من يهود اليمن، أسلم في عهد الخليفة الراشد عثمان بن عفان -رضي الله تعالى عنه- وأخذ يتنقل بين أمصار المسلمين للدعوة لهذا المعتقد الفاسد.
وهذا نص ما ذكره الإمام الطبري في تأريخه في شأن الرجل ضمن حوادث سنة خمس وثلاثين من الهجرة النبوية الشريفة.
قال: «كان عبد الله بن سبأ يهودياً من أهل صنعاء، أمه سوداء، فأسلم زمان عثمان، ثم تنقل في بلدان المسلمين يحاول ضلالتهم، فبدأ بالحجاز، ثم البصرة، ثم الكوفة، ثم الشام، فلم يقدر على ما يريد عند أحد من أهل الشام، فأخرجوه حتى أتى مصر، فاعتمر فيهم فقال لهم فيما يقول: لعجب ممن يزعم أن عيسى يرجع، ويكذب بأن محمداً يرجع وقد قال الله: {إن الذي فرض عليك القرآن لرادك إلى معاد}
(1) ، فمحمد أحق بالرجوع من عيسى، قال: فقبل ذلك عنه، ووضع لهم الرجعة فتكلموا فيها، ثم قال لهم بعد ذلك: إنه كان ألف
نبي ولكل نبي وصيّ، وكان عليّ وصيّ محمد؛ ثم قال: محمد خاتم الأنبياء، وعلي خاتم الأوصياء.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজীদের উৎপত্তি এবং তাদের উৎপত্তিতে ইহুদিদের ভূমিকার বিবরণ সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি রাফেজীদের মূল আকিদা-বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানিয়েছিল বলে জানা যায়—যার ওপর ভিত্তি করেই তাদের অন্যান্য আকিদাসমূহ গড়ে উঠেছে—সে হলো ইয়েমেনের ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল্লাহ বিন সাবা নামক এক ইহুদি ব্যক্তি। সে খলিফায়ে রাশেদ উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে ইসলাম গ্রহণ করে এবং এই ভ্রান্ত মতবাদের প্রচারের উদ্দেশ্যে মুসলিম জনপদসমূহের এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়াতে থাকে।
সম্মানিত হিজরি পঁয়ত্রিশ সালের ঘটনাবলির বর্ণনায় ইমাম তাবারী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে এই ব্যক্তি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তার মূল পাঠ নিম্নরূপ:
তিনি বলেন: «আব্দুল্লাহ বিন সাবা ছিল সানআর একজন ইহুদি, তার মা ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। সে উসমানের যুগে ইসলাম গ্রহণ করে, অতঃপর মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টায় মুসলিম দেশগুলোতে বিচরণ করতে থাকে। সে হিজাজ থেকে শুরু করে, এরপর বসরা, তারপর কুফা, তারপর সিরিয়া যায়। সিরিয়াবাসীদের কারো কাছে সে তার উদ্দেশ্য সফল করতে সক্ষম না হওয়ায় তারা তাকে সেখান থেকে বের করে দেয় এবং সে মিশরে চলে আসে। সে তাদের মাঝে অবস্থান করে বলতে থাকে: ‘সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে দাবি করে ঈসা ফিরে আসবেন, অথচ মুহাম্মাদ ফিরে আসবেন—এ কথা অস্বীকার করে; অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় যিনি আপনার ওপর কুরআনকে অপরিহার্য করেছেন, তিনি আপনাকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে আনবেন}
(১)। সুতরাং ঈসার চেয়ে মুহাম্মাদ ফিরে আসার অধিক হকদার।’ বর্ণনাকারী বলেন: তার পক্ষ থেকে এই কথা গ্রহণ করা হলো এবং সে তাদের মাঝে ‘রাজআত’ (প্রত্যাবর্তন)-এর আকিদা প্রতিষ্ঠিত করল এবং তারা এ বিষয়ে কথা বলতে লাগল। এরপর সে তাদের বলল: ‘নিশ্চয়ই এক হাজার নবী অতিবাহিত হয়েছেন এবং প্রত্যেক নবীর একজন করে প্রতিনিধি (ওয়াসি) ছিলেন, আর আলী ছিলেন মুহাম্মাদের প্রতিনিধি।’ এরপর সে বলল: ‘মুহাম্মাদ হলেন শেষ নবী এবং আলী হলেন শেষ প্রতিনিধি’।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم قال لهم بعد ذلك: من أظلم ممن لم يجز وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم ووثب على وصي رسول الله صلى الله عليه وسلم وتناول أمر الأمة.
ثم قال لهم بعد ذلك: إن عثمان أخذها بغير حق، وهذا وصيّ رسول الله صلى الله عليه وسلم فانهضوا في هذا الأمر فحركوه، وابدؤوا الطعن على أمرائكم وأظهروا الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، تستميلوا الناس وادعوهم إلى هذا الأمر، فبث دعاته وكاتب من كان استفسده في الأمصار، وكاتبوه، ودعوا في السر إلى ما عليه رأيهم».
(1)هكذا كانت بداية الرفض. ومازالت تلك العقائد التي دعا إليها ابن سبأ تسير في نفوس أناس من أهل الزيغ والضلال وتتشربها قلوبهم وعقولهم حتى كان من ثمارها مقتل الخليفة الراشد ذي النورين عثمان ابن عفان رضي الله عنه على يد هذه الشرذمة الفاسدة.
حتى إذا ما جاء عهد علي بن أبي طالب رضي الله عنه بدأت تلك العقائد تظهر إلى الوجود أكثر من ذي قبل إلى أن بلغت علياً رضي الله عنه فأنكرها أشد ما يكون الإنكار وتبرأ منها ومن أهلها.
ومما صح في ذلك عن علي رضي الله عنه مارواه ابن عساكر عن
عمار الدهني قال: «سمعت أبا الطفيل يقول: رأيت المسيب بن لجبة أتى به ملببه يعني -ابن السوداء- وعلي على المنبر فقال علي: ما شأنه؟ فقال: يكذب على الله ورسوله».
(2)وعن يزيد بن وهب عن علي قال: «مالي ولهذا الحَمِيت
(3) الأسود».
(4)--------------------------------------------
এরপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: "সে ব্যক্তির চেয়ে বড় অবিচারকারী আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়ত কার্যকর করেনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মনোনীত স্থলাভিষিক্তের ওপর চড়াও হয়েছে এবং উম্মতের শাসনভার দখল করে নিয়েছে?"
অতঃপর তিনি তাদের আরও বললেন: "নিশ্চয়ই উসমান অন্যায়ভাবে খিলাফত দখল করেছেন, অথচ এই ব্যক্তিই (আলী) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রকৃত উত্তরাধিকারী। সুতরাং তোমরা এই উদ্দেশ্যে জেগে ওঠো এবং আন্দোলন শুরু করো। তোমাদের আমিরদের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করো এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের প্রকাশ ঘটাও, এতে তোমরা মানুষের মন জয় করতে পারবে এবং তাদের এই বিষয়ের দিকে দাওয়াত দাও।" এরপর তিনি তাঁর প্রচারকদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিলেন এবং বিভিন্ন জনপদে যাদের তিনি বিভ্রান্ত করেছিলেন তাদের সাথে পত্রবিনিময় করলেন। তারা তাকে চিঠি লিখত এবং গোপনে তাদের মতাদর্শের দিকে মানুষকে আহ্বান জানাত।
(১)এভাবেই 'রাফয' বা শিয়া মতবাদের সূচনা হয়েছিল। ইবনে সাবা যে ভ্রান্ত আকিদার প্রচার করেছিলেন, তা বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট লোকদের হৃদয়ে আসন গেড়ে নিল এবং তাদের অন্তর ও মস্তিষ্ক তা এমনভাবে গ্রহণ করল যে, এর চূড়ান্ত পরিণতিতে এই পাপিষ্ঠ গোষ্ঠীর হাতেই খুলাফায়ে রাশিদীনের অন্যতম খলিফা যুন-নুরাইন উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শাহাদাতবরণ করেন।
পরবর্তীতে যখন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামল শুরু হলো, তখন এই আকিদাগুলো আগের চেয়ে আরও প্রকটভাবে আত্মপ্রকাশ করতে লাগল। অবশেষে যখন আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাছে এ সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ও এর অনুসারীদের থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করলেন।
এই প্রসঙ্গে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে যা ইবনে আসাকির আম্মার আদ-দুহনী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
আবু তুফাইল বলেছেন: "আমি দেখলাম মুসাইয়িব ইবনে নাজিবাহ তাকে (অর্থাৎ ইবনে সাওদাকে) ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে আসছেন, তখন আলী মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। আলী জিজ্ঞাসা করলেন: 'তার বিষয়টি কী?' তিনি উত্তর দিলেন: 'সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যাচার করছে'।"
(২)ইয়াজিদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমার সাথে এই স্থূল কালো লোকটির (হামীত) কী সম্পর্ক!"
(৩)(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن طريق يزيد بن وهب أيضاً عن سلمة عن شعبه قال علي بن أبي طالب: «مالي ولهذا الحَمِيت الاسود -يعني عبد الله بن سبأ- وكان يقع في أبي بكر وعمر».
(1)وهذه الروايات ثابتة عن علي رضي الله عنه بأسانيد صحيحة
(2)وحكى المؤرخون وأصحاب الفرق والمقالات: أن ابن سبأ ادّعى الربوبية في علي رضي الله عنه فأحرقه علي رضي الله عنه هو وأصحابه بالنار.
يقول الجرجاني: «السبئية من الرافضة ينسبون إلى عبد الله بن سبأ، وكان أول من كفر من الرافضة، وقال: عليّ رب العالمين فأحرقه علي وأصحابه بالنار».
(3)ويقول الملطي في معرض حديثه عن السبئية: «هم أصحاب عبد الله بن سبأ. قالوا لعلي عليه السلام: أنت أنت قال: ومن أنا؟ قالوا: الخالق البارئ فاستتابهم فلم يرجعوا، فأوقدلهم ناراً ضخمة وأحرقهم وقال مرتجزاً:
لما رأيتُ الأمرَ أمراً منكراً
… أجَجْتُ ناري ودعوتُ قنبرا»
(4)وذهب بعض المؤرخين إلى أن علياً رضي الله عنه لم يحرق ابن سبأ وإنما نفاه إلى المدائن. ثم ادّعى بعد موت علي رضي الله عنه أن علياً لم يمت، وقال لمن نعاه: «لو جئتمونا بدماغه في سبعين صُرّة ما صدقنا موته».
(5)ولعل القول الأول هو الصحيح ويشهد له ما جاء في صحيح
--------------------------------------------
ইয়াজিদ ইবন ওয়াহাব থেকে সালমা ও শুবা-এর সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আলী ইবন আবী তালিব (রা.) বলেছেন: «এই কালো চামড়ার থলির (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন সাবা) সাথে আমার কী সম্পর্ক? সে আবূ বকর ও উমর (রা.)-এর সমালোচনা করত/তাঁদের গালি দিতো»।
(১)এই বর্ণনাগুলো সহীহ বা শক্তিশালী সূত্রে আলী (রা.) থেকে প্রমাণিত।
(২)ঐতিহাসিক এবং বিভিন্ন দল ও মতবাদ বিষয়ক গবেষকগণ বর্ণনা করেছেন যে: ইবন সাবা আলী (রা.)-এর ব্যাপারে খোদাত্ব বা রুবুবিয়্যাতের দাবি করেছিল, ফলে আলী (রা.) তাকে এবং তার অনুসারীদের আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন।
আল-জুরজানী বলেন: «সাবায়িয়্যাহ হলো রাফেজীদের একটি দল যারা আব্দুল্লাহ ইবন সাবার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সে-ই রাফেজীদের মধ্যে প্রথম কুফরি করেছিল। সে বলেছিল: আলী হলেন সৃষ্টিজগতের রব (রাব্বুল আলামীন), ফলে আলী এবং তাঁর সঙ্গীরা তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন»।
(৩)আল-মালাতী সাবায়িয়্যাহদের সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন: «তারা আব্দুল্লাহ ইবন সাবার অনুসারী। তারা আলী (আ.)-কে বলেছিল: আপনিই সেই (আল্লাহ)। তিনি বললেন: আমি কে? তারা বলল: আপনিই সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ভাবক। এরপর তিনি তাদের তওবা করার আহ্বান জানালেন, কিন্তু তারা ফিরে এল না। ফলে তিনি তাদের জন্য বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত করলেন এবং তাদের পুড়িয়ে দিলেন। তখন তিনি ছন্দোবদ্ধভাবে আবৃত্তি করেছিলেন:
যখন আমি বিষয়টিকে চরম আপত্তিকর হিসেবে দেখলাম... তখন আমি আগুন জ্বালালাম এবং কানবারকে ডাকলাম»
(৪)কোনো কোনো ঐতিহাসিক এই মত পোষণ করেছেন যে, আলী (রা.) ইবন সাবাকে পুড়িয়ে মারেননি, বরং তাকে মাদায়েনে নির্বাসিত করেছিলেন। এরপর আলী (রা.)-এর ইন্তেকালের পর সে দাবি করে যে আলী মারা যাননি। সে তাঁর মৃত্যু সংবাদ দানকারীকে বলেছিল: «যদি তোমরা সত্তরটি থলিতে করে তাঁর মগজও নিয়ে আসো, তবুও আমরা তাঁর মৃত্যু বিশ্বাস করব না»।
(৫)সম্ভবত প্রথম মতটিই সঠিক এবং সহীহ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর সত্যতা প্রমাণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
البخاري: عن عكرمة رضي الله عنه قال: أُتي عليّ رضي الله عنه بزنادقة فأحرقهم فبلغ ذلك ابن عباس فقال: (لوكنت أنا لم أحرقهم لنهي رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تعذبوا بعذاب الله. ولقتلتهم لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: من بدل دينه فاقتلوه).
(1)قال ابن حجر في شرح الحديث بعد أن ذكر بعض الروايات في هؤلاء المحَرَّقين وفيها: أنهم ناس كانوا يعبدون الأصنام، وفي بعضها أنهم قوم ارتدوا عن الإسلام، على اختلاف بين الروايات في تعيينهم قال بعد ذلك: «وزعم أبو المظفر الإسفرايني في (الملل والنحل) أن الذين أحرقهم علي طائفة من الروافض ادعوا فيه الالهية وهم السبئية.
وكان كبيرهم عبد الله بن سبأ يهودياً أظهر الإسلام، وابتدع هذه المقالة. وهذا يمكن أن يكون أصله: ما رويناه في الجزء الثالث من حديث أبي طاهر المخلص من طريق عبد الله بن شريك العامري قال: قيل لعلي إن هنا قوماً على باب المسجد يدعون أنك ربهم، فدعاهم فقال: ويلكم ماتقولون؟ قالوا: أنت ربنا وخالقنا ورازقنا».
(2)ثم ساق بقية الرواية وفيها أن علياً رضي الله عنه استتابهم ثلاثاً فلم يرجعوا، فحرقهم بالنار في أخاديد قد حُفِرت لهم وقال:
إني إذا رأيت أمراً منكراً
… أوقدت ناري ودعوت قنبرا
قال ابن حجر: «وهذا سند حسن».
(3)فعلى هذا يكون تحريق علي رضي الله عنه للسبئية ثابتاً وسواء أكان ذلك بأثر عكرمة في البخاري أم بهذا الأثر على رأي ابن حجر
-رحمه الله تعالى-.
--------------------------------------------
আল-বুখারি: ইকরিমাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রা.)-এর নিকট একদল জিন্দিককে (ধর্মদ্রোহী) নিয়ে আসা হলো, তখন তিনি তাদের পুড়িয়ে দিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নিকট এ খবর পৌঁছালে তিনি বললেন: (আমি হলে তাদের পুড়াতাম না, কারণ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন: তোমরা আল্লাহর শাস্তি দিয়ে শাস্তি দিও না। তবে আমি তাদের হত্যা করতাম, কারণ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো)।
(১)ইবনে হাজার (রহ.) উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় সেই দগ্ধ ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেন—যেখানে কোনো বর্ণনায় রয়েছে যে তারা মূর্তিপূজা করত এবং কোনোটিতে রয়েছে যে তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, যদিও তাদের পরিচয় নির্ধারণে বর্ণনাগুলোর মাঝে ভিন্নতা রয়েছে—তিনি এরপর বলেন: «আবু আল-মুজাফফর আল-ইসফারায়িনী তাঁর (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল) গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, আলী (রা.) যাদের পুড়িয়েছিলেন তারা ছিল রাফেজিদের একটি দল যারা তাঁর প্রতি প্রভুত্বের দাবি করেছিল এবং তারা ছিল সাবায়ি সম্প্রদায়।
তাদের প্রধান ছিল আব্দুল্লাহ বিন সাবা, যে ছিল একজন ইহুদি, সে বাহ্যত ইসলাম প্রকাশ করেছিল এবং এই মতবাদের উদ্ভাবন করেছিল। এর উৎস সম্ভবত সেটি যা আমরা 'আবু তাহের আল-মুখাল্লিস'-এর হাদিসের তৃতীয় খণ্ডে আব্দুল্লাহ বিন শারিক আল-আমিরির সূত্রে বর্ণনা করেছি। তিনি বলেন: আলী (রা.)-কে বলা হলো যে, এখানে মসজিদের দরজায় একদল লোক আছে যারা দাবি করছে যে আপনিই তাদের প্রতিপালক। তিনি তাদের ডাকলেন এবং বললেন: তোমাদের ধ্বংস হোক! তোমরা কী বলছ? তারা বলল: আপনি আমাদের প্রতিপালক, আমাদের স্রষ্টা এবং আমাদের রিজিকদাতা।»
(২)এরপর তিনি বর্ণনার বাকি অংশ উল্লেখ করেন, যাতে রয়েছে যে আলী (রা.) তাদের তিনবার তওবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু তারা ফিরে আসেনি, ফলে তিনি তাদের জন্য খননকৃত গর্তে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন এবং বলেন:
আমি যখন কোনো গর্হিত বিষয় দেখি
… তখন আমার আগুন প্রজ্জ্বলিত করি এবং কানবারকে ডাকি।
ইবনে হাজার বলেন: «এই সনদটি হাসান (উত্তম)»।
(৩)সুতরাং এর ভিত্তিতে সাবায়ি সম্প্রদায়কে আলী (রা.)-এর অগ্নিশাস্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত, তা বুখারিতে বর্ণিত ইকরিমার বর্ণনার মাধ্যমেই হোক কিংবা ইবনে হাজার (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী এই বর্ণনার মাধ্যমেই হোক।
-রাহিমাহুল্লাহ তাআলা-।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وسيأتي في كلام شيخ الإسلام ابن تيمية ما يشعر بميله للرأي الأول والله تعالى أعلم.
والمقصود هنا هو ظهور عقائد الرافضة المتمثلة في الغلو في علي رضي الله عنه في تلك الفترة الزمنية المتقدمة، وإمعان علي رضي الله عنه في عقوبتهم حتى قال ابن عباس في ذلك ما قال.
كما ثبت انكار علي رضي الله عنه لكل العقائد الأخرى التي ظهرت في عهده وانتظمت في سلك التشيع له: كتفضيله على عامة الصحابة وتقديمه على الشيخين، وكانتشار سب الصحابة والازراء عليهم بين أولئك الضلاّل.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-: «ولما أحدثت
البدع الشيعية في خلافة أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه ردها، وكانت (ثلاث طوائف) غالية، وسبابة ومفضِّلة. فأما الغالية فإنه حرقهم بالنار، فإنه خرج ذات يوم من باب كندة فسجد له أقوام، فقال: ما هذا؟ فقالوا: أنت هو الله فا ستتابهم ثلاثاً فلم يرجعوا فأمر في الثالث بأخاديد فخُدّت وأضرم فيها النار، ثم قذفهم فيها وقال:
لما رأيت الأمر أمراً منكراً
… أججت ناري ودعوت قنبرا
وفي صحيح البخاري: (أن علياً أتى بزنادقة فحرّقهم وبلغ ذلك ابن عباس فقال: أما أنا فلو كنت لم أحرقهم لنهي النبي صلى الله عليه وسلم أن يُعَذّب بعذاب الله ولضربت أعناقهم لقول النبي صلى الله عليه وسلم من بدل دينه فاقتلوه) .
(1)وأما السبابة: فإنه لما بلغه من سب أبا بكر وعمر طلب قتله، فهرب منه إلي قرقيسيا وكلمه فيه، وكان علي يداري أمراءه، لأنه لم يكن متمكنا ولم يكن يطيعونه في كل ما يأمرهم به.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্য সামনে আসবে যা প্রথম মতের প্রতি তাঁর ঝোঁকের আভাস দেয়। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই সূচনালগ্নেই আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যাপারে অতিশয়োক্তির (গুলু) মাধ্যমে রাফেযীদের আকিদাহর প্রকাশ ঘটা এবং তাদের শাস্তিদানে আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কঠোরতা অবলম্বন, এমনকি এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সুবিদিত মন্তব্যটি করেছিলেন।
অনুরূপভাবে, তাঁর যুগে প্রকাশিত এবং তাঁর প্রতি শিয়াত্ব বা পক্ষাবলম্বনের সূত্রে গাঁথা অন্যান্য সকল আকিদাহর প্রতিও আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অস্বীকৃতি প্রমাণিত রয়েছে। যেমন: সাধারণ সাহাবায়ে কেরামের ওপর তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা ও শাইখাইনের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সেই পথভ্রষ্টদের মধ্যে সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া ও তাঁদের তুচ্ছজ্ঞান করার প্রচার ঘটা।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেন: «যখন আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খিলাফতকালে
শিয়া বিদআতগুলো উদ্ভাবিত হলো, তখন তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তারা (তিনটি দল) ছিল: চরমপন্থী (গালিয়া), গালি প্রদানকারী (সাব্বাবাহ) এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারী (মুফাদ্দিলা)। চরমপন্থীদের তিনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন; কেননা একদিন তিনি কিনদাহ ফটক দিয়ে বের হলে কিছু লোক তাঁকে সিজদা করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কী? তারা বলল: আপনিই আল্লাহ। তিনি তিনবার তাদের তওবা করার সুযোগ দিলেন, কিন্তু তারা ফিরে এল না। তৃতীয়বারে তিনি গর্ত খননের নির্দেশ দিলেন। গর্ত খনন করে তাতে আগুন জ্বালানো হলো, অতঃপর তিনি তাদের তাতে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন:
যখন আমি বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত দেখলাম
… তখন আমার আগুন প্রজ্জ্বলিত করলাম এবং কানবারকে ডাকলাম
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে: (আলীর কাছে কিছু যিনদীককে আনা হলো এবং তিনি তাদের পুড়িয়ে দিলেন। ইবনে আব্বাসের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি বললেন: আমি হলে তাদের পুড়াতাম না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর শাস্তি দিয়ে শাস্তি দিতে নিষেধ করেছেন। বরং আমি তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতাম; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)।
(১)আর গালি প্রদানকারীদের ব্যাপারে কথা হলো: যখন তাঁর কাছে আবু বকর ও উমরকে গালি দেওয়ার সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু সে পালিয়ে কারকীসিয়া চলে গেল এবং তার ব্যাপারে তাঁর সাথে কথা বলা হলো। আলী তাঁর সেনাপতিদের সাথে নমনীয় আচরণ করতেন; কারণ তখন তিনি পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না এবং তিনি যা নির্দেশ দিতেন তার সবকিছুতে তারা তাঁর আনুগত্য করত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأما المفضلة: فقال: لا أوتى بأحد يفضلني على أبي بكر وعمر إلا جلدته حد المفترين. وروي عنه من أكثر من ثمانين وجهاً أنه قال: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر ثم عمر».
(1)وعلى كل حال فعقائد الرافضة مع ظهورها في عهد علي رضي الله عنه
إلا أنها بقيت محصورة في أفراد لا تمثلها طائفة أو فرقة، حتى انقضى عهد علي رضي الله عنه وهي على تلك الحال.
يقول شيخ الإسلام واصفاً ذلك الواقع وما حصل بعد ذلك من تطور في نشأة الرافضة:
«ثم ظهر في زمن علي من تكلم بالرفض؛ لكن لم يجتمعوا ويصير لهم قوة إلا بعد مقتل الحسين رضي الله عنه، بل لم يظهر اسم الرفض إلا حين خروج زيد بن علي بن الحسين بعد المائة الأولى، لما أظهر الترحم على أبي بكر وعمر رضي الله عنهما رفضته الرافضة، فسموا (الرافضة) واعتقدوا أن أبا جعفر هو الإمام المعصوم، واتبعه آخرون فسموا (زيدية) نسبة إليه».
(2)وخلاصة القول أن الرافضة مرت في نشأتها بعدة مراحل حتى أصبحت فرقة مستقلة متميزة بعقيدتها واسمها عن سائر فرق الأمة. ويمكن إبراز ذلك من خلال أربع مراحل رئيسة:
المرحلة الأولى: دعوة عبد الله بن سبأ إلى ما دعى إليه من الأصول التي انبنت عليها عقيدة الرافضة: كدعوته لعقيدة الرجعة وإحداثه القول بالوصية لعلي رضي الله عنه والطعن في الخلفاء السابقين لعلي في الخلافة.
وقد ساعد ابن سبأ في ترويج فكره الضال البعيد عن روح الإسلام أمران:
--------------------------------------------
আর যারা শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী (মুফাদ্দিলা): তিনি (আলী রা.) বলেছেন: "আমার কাছে এমন কাউকে নিয়ে আসা হবে না যে আমাকে আবু বকর এবং উমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, নতুবা আমি তাকে অপবাদদানকারীর শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করব।" তাঁর থেকে আশিটিরও বেশি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নবী (সা.)-এর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর।"
(১)যাই হোক, রাফেজিদের আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ আলী (রা.)-এর যুগে আত্মপ্রকাশ করলেও তা কেবল কিছু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল হিসেবে নয়। আলী (রা.)-এর শাসনকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।
শাইখুল ইসলাম সেই বাস্তবতা এবং পরবর্তীতে রাফেজিদের উৎপত্তির বিবর্তনের বর্ণনা দিয়ে বলেন:
«অতঃপর আলীর সময়ে এমন কিছু লোক প্রকাশ পায় যারা রাফয (প্রত্যাখ্যান) নিয়ে কথা বলত; কিন্তু হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের আগে তারা একত্রিত হতে পারেনি এবং তাদের কোনো শক্তিও সঞ্চিত হয়নি। বরং 'রাফয' নামটি প্রথম শতাব্দীর পর যায়েদ বিন আলী বিন হুসাইনের বিদ্রোহের সময় পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি। যখন তিনি আবু বকর ও উমর (রা.)-এর প্রতি আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করলেন, তখন রাফেজিরা তাঁকে বর্জন করল, ফলে তাদের নাম দেওয়া হলো (রাফেজি) এবং তারা বিশ্বাস করল যে আবু জাফর হলেন মাসুম (নিষ্পাপ) ইমাম। আর অন্যরা তাঁকে অনুসরণ করল এবং তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের নাম হলো (যাইদিয়া)»।
(২)সারকথা হলো, রাফেজি সম্প্রদায় তাদের উৎপত্তির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করেছে, যতক্ষণ না তারা উম্মতের অন্যান্য দল থেকে তাদের স্বতন্ত্র আকিদা ও নামের ভিত্তিতে একটি পৃথক দলে পরিণত হয়েছে। একে চারটি প্রধান পর্যায়ের মাধ্যমে তুলে ধরা যায়:
প্রথম পর্যায়: আবদুল্লাহ ইবনে সাবার সেই সব মূলনীতির দিকে আহ্বান জানানো যার ওপর রাফেজিদের আকিদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: যেমন রাজআ (পুনরাবর্তন) আকিদায় আহ্বান জানানো, আলী (রা.)-এর অনুকূলে অসিয়ত বা খেলাফতের মনোনয়নের কথা উদ্ভাবন করা এবং আলীর পূর্ববর্তী খলিফাদের নিন্দা ও সমালোচনা করা।
ইসলামের চেতনা থেকে বিচ্যুত ইবনে সাবার এই ভ্রান্ত চিন্তাধারা প্রসারে দুটি বিষয় সহায়তা করেছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الأمر الأول: اختيار ابن سبأ البيئة المناسبة لدعوته، حيث
بث دعوته في بلدان: الشام، ومصر، والعراق، بعد أن أكثر التنقل بين هذه الأمصار كما مر في كلام الطبري.
(1)فنشأت هذه الدعوة في مجتمعات لم تتمكن من فهم الإسلام الفهم الصحيح، وتترسخ أقدامها في العلم الشرعي والفقه بدين الله تعالى، وذلك لقرب عهدها بالإسلام فإن تلك الأمصار إنما فتحت في عهد عمر رضي الله عنه. هذا بالإضافة إلى بعدها عن مجتمع الصحابة في الحجاز وعدم التفقه عليهم.
الأمر الثاني: ان ابن سبأ مع اختياره لدعوته تلك المجتمعات فإنه زيادة في المكر والخديعة: أحاط دعوته بستار من التكتم والسرية، فلم تكن دعوته موجهة لكل أحد، وإنما لمن علم أنهم أهل لقبولها من جهلة الناس، وأصحاب الأغراض الخبيثة، ممن لم يدخلوا في الإسلام إلا كيداً لأهله بعد أن قوضت جيوش الإسلام عروش ملوكهم ومزقت ممالكهم، وقد تقدم كلام الطبري السابق عن ابن سبأ: «فبث دعاته، وكاتب من كان استفسده في الأمصار، وكاتبوه، ودعوا في السر إلى
ما عليه رأيهم» .
(2)ويقول في سياق وصفهم: «وأوسعوا الأرض إذاعة
وهم يريدون غير ما يظهرون» .
(3)المرحلة الثانية: إظهار هذا المعتقد، والتصريح به، وذلك بعد مقتل عثمان رضي الله عنه وانشغال الصحابة رضوان الله عليهم بإخماد الفتنة التي حصلت بمقتله، فوجد هؤلاء الضلال متنفساً في تلك الظروف، وقويت تلك العقائد الفاسدة في نفوسهم، إلا أنه مع كل ذلك بقيت هذه العقائد محصورة في طائفة مخصوصة ممن أضلهم
ابن سبأ، وليست لهم شوكة ولا كلمة
--------------------------------------------
প্রথম বিষয়: ইবনে সাবা তার প্রচারণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নির্বাচন করেন, যেখানে
তিনি শাম, মিসর এবং ইরাকের মতো দেশগুলোতে তার দাওয়াত ছড়িয়ে দেন, যেমনটি ইতিপূর্বে তাবারির বর্ণনা হতে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি এসব শহরগুলোর মাঝে ব্যাপকভাবে যাতায়াত করেছিলেন।
(১)ফলস্বরূপ এই দাওয়াত এমন সব সমাজে গড়ে উঠেছিল যারা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হয়নি এবং শরয়ি জ্ঞান ও আল্লাহর দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞায় যাদের পদযুগল সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল না। এর কারণ ছিল ইসলামে তাদের নতুন পদার্পণ, কেননা ওই শহরগুলো মূলত উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে বিজিত হয়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল হিজাজে অবস্থিত সাহাবায়ে কেরামের সমাজ থেকে তাদের দূরত্ব এবং তাঁদের নিকট থেকে দ্বীন শেখার সুযোগ না পাওয়া।
দ্বিতীয় বিষয়: ইবনে সাবা তার প্রচারণার জন্য এই সমাজগুলোকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি ধূর্ততা ও প্রতারণা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তার আহ্বানকে গোপনীয়তা ও রাখঢাকের আবরণে আবৃত করেছিলেন। তার এই দাওয়াত সবার প্রতি পরিচালিত ছিল না, বরং কেবল তাদের প্রতি ছিল যাদের ব্যাপারে তিনি জানতেন যে তারা তা গ্রহণ করার উপযুক্ত; যেমন—মূর্খ লোকজন এবং অসৎ উদ্দেশ্য পোষণকারী ব্যক্তিবর্গ, যারা মূলত ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্যই ইসলামে প্রবেশ করেছিল, যখন ইসলামের সেনাবাহিনী তাদের সম্রাটদের সিংহাসন ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল এবং তাদের রাজত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। ইবনে সাবা সম্পর্কে তাবারির পূর্বোক্ত বক্তব্য ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে: «অতঃপর সে তার প্রচারকদের ছড়িয়ে দিল এবং বিভিন্ন শহরে যাদেরকে সে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের সাথে পত্রবিনিময় করল, তারাও তার সাথে যোগাযোগ করল এবং তারা গোপনে নিজেদের মতাদর্শের দিকে
আহ্বান করতে লাগল»।
(২)তাদের বর্ণনায় তিনি আরও বলেন: «তারা পৃথিবীর বুকে ব্যাপকভাবে প্রচারণা ছড়িয়ে দিয়েছিল
অথচ তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের প্রকাশ্য দাবির বিপরীত»।
(৩)দ্বিতীয় পর্যায়: এই আকিদার প্রকাশ ও ঘোষণা। এটি ঘটেছিল উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের পর এবং তাঁর শাহাদাতের ফলে উদ্ভূত ফিতনা দমনে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ব্যস্ত থাকার সুযোগে। ফলে এই পথভ্রষ্টরা সেই পরিস্থিতিতে একটি অবকাশ খুঁজে পায় এবং তাদের অন্তরে ওইসব ভ্রান্ত আকিদা শক্তিশালী হয়। তবে এতদসত্ত্বেও এই আকিদাগুলো ইবনে সাবা কর্তৃক বিভ্রান্ত
একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এবং তাদের কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি বা জোরালো অবস্থান ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مسموعة عند أحد سوى من ابتلي بمصيبتهم في مقتل عثمان رضي الله عنه، وشاركهم في دمه من الخوارج المارقين، ومما يدل على ذلك ما نقله المؤرخون في الحوار الدائر بين هؤلاء قُبيل موقعة الجمل، ومما جاء فيه كما ذكر الطبري: «قال ابن السوداء ودّ والله الناس أنكم على جديلة
(1) ولم تكونوا مع أقوام برآء، ولو كان ذلك الذي تقول لتخطفكم كل شئ».
(2)وفي موطن آخر: «وتكلم ابن السوداء فقال: يا قوم إن عزكم في خلطة الناس فصانعوهم».
(3)وهذا القول لا يقوله صاحب شوكة ومنعة. ومع هذا فإنه لاينكر دور هؤلاء السبئية وقتلة عثمان في إشعال نار الحرب بين الصحابة، بل ذلك مقرر عند أهل التحقيق للفتنة وأحداثها.
يقول ابن حزم مقرراً ذلك: «وبرهان ذلك أنهم اجتمعوا ولم يقتتلوا ولا تحاربوا، فلما كان الليل عرف قتلة عثمان أن الإراعة والتدبير عليهم، فبيتوا عسكر طلحة والزبير، وبذلوا السيوف فيهم فدفع القوم عن أنفسهم».
(4)ويقول ابن كثير: «وبات قتلة عثمان بشر ليلة، وباتوا يتشاورون وأجمعوا على أن يثيروا الحرب من الغلس».
(5)المرحلة الثالثة: اشتداد أمرهم وقوتهم، واجتماعهم تحت قيادة واحدة، وذلك بعد مقتل الحسين رضي الله عنه للأخذ بثأر الحسين والانتقام له من أعدائه.
--------------------------------------------
উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ডের বিপর্যয়ে যারা লিপ্ত হয়েছিল এবং সেই ধর্মত্যাগী খারিজিদের মধ্যে যারা তাঁর রক্তপাতে অংশ নিয়েছিল, তারা ব্যতীত অন্য কারো কাছে তাদের কথা গ্রহণযোগ্য ছিল না। এর প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিকরা জঙ্গে জামালের প্রাক্কালে তাদের মধ্যকার যে কথোপকথন বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখযোগ্য। তাবারী কর্তৃক বর্ণিত সেই আলোচনার অংশবিশেষ নিম্নরূপ: «ইবনে আস-সাওদা বলেছিল: আল্লাহর কসম! মানুষ কামনা করে যে আপনারা যেন একটি স্বতন্ত্র পথে
(১) থাকেন এবং নির্দোষ লোকদের সাথে না থাকেন। আপনারা যা বলছেন তা যদি ঘটত, তবে সব কিছুই আপনাদের ছিনিয়ে নিয়ে যেত»।
(২)অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে: «ইবনে আস-সাওদা বলল: হে আমার কওম! মানুষের সাথে মেলামেশার মধ্যেই আপনাদের শক্তি নিহিত, তাই তাদের সাথে কূটকৌশলী আচরণ করুন (মিশে থাকুন)»।
(৩)এমন কথা কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি ও শক্তিধর ব্যক্তি বলে না। তা সত্ত্বেও, সাহাবীদের মধ্যে যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করার ক্ষেত্রে এই সাবায়ি সম্প্রদায় এবং উসমানের হত্যাকারীদের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না; বরং ফেতনা ও এর ঘটনাবলি নিয়ে যারা সূক্ষ্ম গবেষণা করেন তাদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য।
ইবনে হাজম এটি সুনিশ্চিত করে বলেন: «এর প্রমাণ হলো যে, তারা (উভয় পক্ষ) একত্রিত হয়েছিল এবং কোনো লড়াই বা যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। কিন্তু রাত হলে উসমানের হত্যাকারীরা বুঝতে পারল যে, সন্ধি ও শান্তি পরিকল্পনা তাদের প্রতিকূলে যাচ্ছে। ফলে তারা তালহা ও জুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর শিবিরের ওপর নৈশকালীন অতর্কিত হামলা চালাল এবং তলোয়ার চালাতে শুরু করল, তখন তারা আত্মরক্ষায় প্রবৃত্ত হলো»।
(৪)ইবনে কাসীর বলেন: «উসমানের হত্যাকারীরা এক চরম অশুভ রাত অতিবাহিত করল। তারা পরামর্শ করতে থাকল এবং শেষ রাতের অন্ধকারে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হলো»।
(৫)তৃতীয় পর্যায়: তাদের শক্তি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি এবং একক নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এটি ঘটেছিল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের পর, তাঁর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ এবং তাঁর শত্রুদের কাছ থেকে বদলা নেওয়ার উদ্দেশ্যে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يقول الطبري ضمن حوادث سنة أربع وستين للهجرة: «وفي
هذه السنة تحركت الشيعة بالكوفة، واتّعدوا الاجتماع بالنخيلة سنة خمس وستين للمسير لأهل الشام للطلب بدم الحسين بن علي، وتكاتبوا في ذلك» .
(1)وكان مبدأ أمرهم ما ذكره الطبري أيضاً من رواية عبد الله بن عوف بن الأحمر الأزدي أنه قال: «لما قتل الحسين بن علي ورجع ابن زياد من معسكره بالنخيلة، فدخل الكوفة، تلاقت الشيعة بالتلاوم والتندم، ورأت أنها قد أخطأت خطأ كبيراً بدعائهم الحسين إلى النصرة وتركهم إجابته، ومقتله إلى جانبهم لم ينصروه، ورأوا أنه لا يغسل عارهم والإثم عنهم في مقتله إلا بقتل من قتله، أو القتل فيه، ففزعوا بالكوفة إلى خمسة نفر من رؤوس الشيعة: إلى سليمان بن صُرَد الخزاعي، وكانت له صحبة مع النبي صلى الله عليه وسلم، وإلى المُسَيّب بن نجَبَة الفزاري، وكان من أصحاب علي وخيارهم، وإلى عبد الله بن سعد ابن نفيل الأزدي، وإلى عبد الله بن وال التَّيمى، وإلى رفاعة بن شداد البَجَلي. ثم إن هؤلاء النفر الخمسة اجتمعوا في منزل سليمان بن صُرَد وكانوا من خيار أصحاب علي، ومعهم أناس من الشيعة وخيارهم ووجوههم» .
(2)وكان هذا الاجتماع عاماً يشمل كافة الشيعة، وقد اجتمع إلى سليمان بن صُرَد نحو من سبعة عشر ألفاً، ثم لم تعجب سليمان قلتهم فأرسل حكيم بن منقذ فنادى في الكوفة بأعلى صوته: (يا ثأرات الحسين) فلم يزل ينادي حتى خرج إلى النخلية أشراف أهل الكوفة وخرج الناس معهم فكانوا قريباً من عشرين ألفاً.
(3)ثم إنه في هذه الأثناء قدم المختار بن أبي عبيد الثقفي إلى الكوفة «فوجد الشيعة قد التفت على سليمان بن صرد وعظموه تعظيماً زائداً، وهم معدون للحرب، فلما استقر المختار عندهم بالكوفة دعا إلى إمامة المهدي
--------------------------------------------
আল-তাবারী হিজরি চৌষট্টি সালের ঘটনাবলির বর্ণনায় বলেন:
“এই বছরেই কুফায় শিয়াদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয় এবং তারা আল-হুসাইন ইবনে আলীর রক্তের প্রতিশোধ নিতে সিরিয়াবাসীদের বিরুদ্ধে যাত্রার লক্ষ্যে পঁয়ষট্টি সালে নুখালায় সমবেত হওয়ার অঙ্গীকার করে; তারা এ বিষয়ে পরস্পরের কাছে চিঠিপত্রও লেখে।”
(১)তাদের এই আন্দোলনের সূচনা সম্পর্কে তাবারী আব্দুল্লাহ ইবনে আউফ ইবনে আল-আহমার আল-আজদীর বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেন: “যখন আল-হুসাইন ইবনে আলী শহীদ হলেন এবং ইবনে যিয়াদ নুখালায় তার শিবির থেকে কুফায় ফিরে এলেন, তখন শিয়ারা একে অপরকে ভর্ৎসনা ও অনুশোচনা প্রকাশ করে মিলিত হতে লাগল। তারা দেখল যে, হুসাইনকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করে এবং পরে তাঁর ডাকে সাড়া না দিয়ে তারা এক বিরাট ভুল করেছে; তাদের চোখের সামনে তিনি শহীদ হলেন অথচ তারা তাঁকে সাহায্য করল না। তারা মনে করল যে, হুসাইনের হত্যাকারীদের হত্যা করা অথবা এই পথে নিজেরা মৃত্যুবরণ করা ছাড়া তাদের এই কলঙ্ক ও পাপ মোচন হবে না। তাই তারা কুফায় শিয়াদের পাঁচজন প্রধান নেতার শরণাপন্ন হলো: সুলাইমান ইবনে সুরাদ আল-খুজায়ী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য পেয়েছিলেন; আল-মুসাইয়্যিব ইবনে নাজাবাহ আল-ফাযারী, যিনি আলীর বিশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠ সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে নুফাইল আল-আজদী; আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াল আল-তাইমী; এবং রিফাআহ ইবনে শাদ্দাদ আল-বাজালী। অতঃপর এই পাঁচজন সুলাইমান ইবনে সুরাদের বাড়িতে সমবেত হলেন। তারা ছিলেন আলীর শ্রেষ্ঠ সাথীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের সাথে শিয়াদের একদল বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।”
(২)এই সমাবেশ ছিল অত্যন্ত ব্যাপক যাতে শিয়াদের সকল স্তর অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুলাইমান ইবনে সুরাদের কাছে প্রায় সতেরো হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। কিন্তু সুলাইমান এই সংখ্যাকে পর্যাপ্ত মনে করলেন না। ফলে তিনি হাকীম ইবনে মুনকিযকে পাঠালেন, যিনি কুফায় উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা!) তিনি অনবরত এই ডাক দিতে থাকলেন যতক্ষণ না কুফার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে নুখালায় বেরিয়ে এল; ফলে তাদের সংখ্যা প্রায় বিশ হাজারে পৌঁছাল।
(৩)ইতিমধ্যে আল-মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আল-ছাকাফি কুফায় উপস্থিত হলেন। “তিনি দেখলেন যে শিয়ারা সুলাইমান ইবনে সুরাদের পাশে সমবেত হয়েছে এবং তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করছে, আর তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখতার তাদের মাঝে কুফায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে মাহদীর ইমামতের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহবি ওয়াল আল মিন ইফতীরাআতিল সামাভী আদ দাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
محمد بن علي بن أبي طالب وهو محمد بن الحنفية، ولقبه بالمهدي فاتبعه على ذلك كثير من الشيعة، وفارقوا سليمان بن صرد، وصارت الشيعة فرقتين، الجمهور منهم مع سليمان، يريدون الخروج على الناس ليأخذوا بثأر الحسين، وفرقة أخرى مع المختار يريدون الخروج للدعوة إلى إمامة محمد بن الحنفية، وذلك عن غير أمر ابن الحنفية ورضاه، وإنما يتقولون عليه ليروجوا على الناس به، وليتوصلوا إلى أغراضهم الفاسده.
(1)فكان هذا بداية اجتماع الشيعة. ثم يذكر المؤرخون خروج
سليمان بن صرد بمن كان معه من الشيعة إلى الشام، فالتقوا مع أهل الشام عند عين تسمى «عين الوردة» واقتتلوا اقتتالاً عظيماً لمدة ثلاثة أيام، يقول ابن كثير في وصفه: «لم ير الشيب والمرد مثله لايحجز بينهم إلا أوقات الصلوات إلى الليل»
(2)، ثم انتهى القتال بينهم بقتل سليمان بن صرد رحمه الله وكثير من أصحابه، وهزيمتهم، وعودة من بقي من أصحابه إلى الكوفة.
(3)وأما المختار بن أبي عبيد: فلما رجع من بقي من جيش سليمان إلى الكوفة وأخبروه بما كان من أمرهم، وما حل بهم فترحم على سليمان ومن كان قتل معه، وقال: «وبعد فأنا الأمير المأمون قاتل الجبارين والمفسدين، إن شاء الله فأعدّوا واستعدوا وأبشروا».
(4)يقول ابن كثير: «وقد كان قبل قدومهم أخبر الناس بهلاكهم عن ربه
(5)، الذي كان يأتي إليه من الشيطان، فإنه قد كان يأتي إليه شيطان فيوحي إليه قريباً مما كان يوحي شيطان مسيلمة له».
(6)«ثم إن المختار بعث الأمراء إلى النواحي والبلدان والرساتيق،
من
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব, যিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ নামে পরিচিত। মুখতার তাকে ‘মাহদী’ উপাধিতে ভূষিত করেন, ফলে শিয়াদের এক বিশাল অংশ তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে এবং সুলাইমান ইবনে সুরদকে পরিত্যাগ করে। এতে শিয়ারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে: তাদের একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল সুলাইমান ইবনে সুরদের সাথে, যারা হোসাইনের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিদ্রোহ করতে চেয়েছিল; অন্য দলটি ছিল মুখতারের সাথে, যারা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর ইমামতের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহ করতে চেয়েছিল। অথচ এটি ইবনুল হানাফিয়্যাহর কোনো নির্দেশ বা সন্তুষ্টি ছাড়াই করা হয়েছিল; মূলত তারা মানুষের মাঝে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে এবং তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তাঁর নামে মিথ্যা প্রচারণা চালাত।
(১)এভাবেই শিয়াদের সংগঠিত হওয়ার সূচনা ঘটে। অতঃপর ঐতিহাসিকগণ সুলাইমান ইবনে সুরদ এবং তাঁর অনুসারী শিয়াদের সিরিয়া অভিমুখে যাত্রার কথা উল্লেখ করেন। তারা সিরিয়াবাসীদের সাথে ‘আইনুল ওয়ারদাহ’ নামক একটি ঝরনার কাছে মুখোমুখি হন এবং তিন দিন ধরে এক ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হন। ইবনে কাসীর এই যুদ্ধের বর্ণনায় বলেন: “বৃদ্ধ বা যুবক কেউই এর মতো কোনো যুদ্ধ দেখেনি; নামাজের ওয়াক্ত এবং রাত ব্যতীত তাদের মাঝে কোনো বিরতি ছিল না।”
(২) অতঃপর এই যুদ্ধ সুলাইমান ইবনে সুরদ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর বহু সঙ্গীর নিহত হওয়া, তাদের পরাজয় এবং অবশিষ্টদের কুফায় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
(৩)আর মুখতার ইবনে আবি উবাইদ প্রসঙ্গে বলা হয়: সুলাইমানের সেনাবাহিনীর অবশিষ্টাংশ যখন কুফায় ফিরে এসে তাকে তাদের অবস্থা এবং তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত করল, তখন সে সুলাইমান এবং তাঁর সাথে নিহতদের জন্য রহমতের দোয়া করল এবং বলল: “অতঃপর আমি হলাম সেই আল-আমীর আল-মামুন (বিশ্বস্ত সেনাপতি), আল্লাহর ইচ্ছায় আমি অত্যাচারী ও ফাসাদকারীদের বিনাশকারী। সুতরাং তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো।”
(৪)ইবনে কাসীর বলেন: “তাদের আগমনের পূর্বেই সে তার রবের (জিন সহযোগীর) পক্ষ থেকে তাদের ধ্বংসের সংবাদ মানুষকে দিয়েছিল,
(৫) যে মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে তার কাছে আসত। তার কাছে এমন এক শয়তান আসত যে তাকে তেমনি কুমন্ত্রণা দিত যেমনটি মুসাইলামার শয়তান তাকে দিত।”
(৬)“অতঃপর মুখতার বিভিন্ন অঞ্চল, জনপদ এবং গ্রামাঞ্চলে আমিরদের প্রেরণ করল,
থেকে
--------------------------------------------