(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
ذم الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذم الدنيا

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

دراسة وتحقيق: محمد عبد القادر أحمد عطا

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 191

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দুনিয়ার নিন্দা   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: দুনিয়ার নিন্দা

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আহমদ আতা

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
ذم الدنيا

‌‌الجزء الأول
দুনিয়ার নিন্দা

প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
أخبرنا الشيخ الفقيه الإمام أبو عبد الله محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن محارب القيسي بقراءتي عليه يوم الأحد الخامس من شهر ربيع الأول سنة ثمان وثلاثين وستمائة، قال: أخبرتنا الشيخة نور العين لامعة بنت المبارك بن كامل بن أبي غالب الخفاف، قراءة عليها وأنا أسمع يوم الثلاثاء رابع عشر من ربيع الأول سنة اثنتي عشرة وستمائة قال لها الإمام الحافظ أبو سعد أحمد بن محمد بن أحمد البغدادي، قال: أخبرنا أبو العباس أحمد بن محمد الطهراني قال: أخبرنا أبو محمد الحسن بن أحمد بن حيوة، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد العبدي اللبناني، قال: أخبرنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد الله القرشي قال:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ফকীহ, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহারিব আল-কায়সী, ৬৩৮ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের পাঁচ তারিখ রবিবার তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খা নূরুল আইন লামিআহ বিনতে আল-মুবারক বিন কামিল বিন আবু গালিব আল-খাফফাফ, ৬১২ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের চৌদ্দ তারিখ মঙ্গলবার তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণরত ছিলাম। তাঁকে ইমাম হাফেজ আবু সা'দ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-বাগদাদী বলেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ আত-তিহরানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আহমাদ বিন হাইওয়াহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-আবদী আল-লুবনানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-কুরাশী, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
1 - حدثنا سعيد بن سليمان الواسطي، عن زكريا بن منظور بن ثعلبة بن أبي مالك، نا أبو حازم، عن سهل بن سعد قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذي الحليفة، فرأى شاة شائلة برجلها، فقال: أترون هذه الشاة هينة على صاحبها، قالوا: نعم، قال: والذي نفسي بيده، ⦗ص: 12⦘ للدنيا أهون على الله عز وجل من هذه على صاحبها، ولوكانت الدنيا تعدل عند الله جناح بعوضة ما سقى كافراً منها شربة.
1 - আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে সুলায়মান আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনে মানযুর ইবনে সা’লাবা ইবনে আবি মালিক হতে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা’দ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল-হুলাইফা অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি একটি মৃত ছাগল দেখতে পেলেন যার পা ওপরের দিকে উঠে ছিল। তিনি বললেন: তোমরা কি মনে করো এই ছাগলটি এর মালিকের কাছে তুচ্ছ? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ আল্লাহর নিকট দুনিয়া তার মালিকের কাছে এই ছাগলটির চেয়েও অধিক তুচ্ছ। আর যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার মূল্য একটি মশার ডানার সমপরিমাণও হতো, তবে তিনি কোনো কাফিরকে তা থেকে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
2 - حدثنا خالد بن خداش، نا حماد بن زيد، عن مجالد عن قيس بن أبي حازم، عن المستورد بن شداد، قال: إني لفي ركب مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ مر بسخلة منبوذة، فقال: أترون هذه هانت على أهلها حين ألقوها فقالوا: من هوانها ألقوها، قال: والذي نفسي بيده للدنيا أهون على الله عز وجل من هذه على أهلها.
২ - আমাদের নিকট খালিদ বিন খিদাশ হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজালিদ থেকে, তিনি কায়স বিন আবি হাযিম থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একদল আরোহীর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি একটি পরিত্যক্ত মৃত ছাগলছানার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি দেখছ যে এটি তার মালিকের নিকট তুচ্ছ ছিল যখন তারা এটিকে ফেলে দিয়েছিল? তারা বলল: এর তুচ্ছ হওয়ার কারণেই তারা এটিকে ফেলে দিয়েছে। তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই দুনিয়া মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট এই ছাগলছানাটি তার মালিকের নিকট যতটা তুচ্ছ, তার চাইতেও অধিক তুচ্ছ।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
3 - وحدثنا أبو خثيمة، ومحمد بن علي بن أبي حاتم الأزدي، قالا: ⦗ص: 13⦘ أخبرنا محمد بن مصعب، حدثنا الأوزاعي، عن الأزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بشاة ميتة، فقال: والذي نفسي بيده للدنيا على الله عز وجل أهون من هذه الشاة على أهلها.
৩ - আবু খাইসামা এবং মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আবী হাতিম আল-আযদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ মুহাম্মদ ইবন মুসআব আমাদের জানিয়েছেন, আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আযহারী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দুনিয়া এই মৃত বকরিটি তার মালিকের নিকট যতটুকু তুচ্ছ, তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
4 - حدثني الحسن بن الصباح، أخبرنا سعيد بن محمد، عن موسى الجهني، عن زيد بن وهب، عن سلمان، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الدنيا سجن المؤمن وجنة الكافر.
৪ - হাসান বিন আস-সাব্বাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি যায়িদ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জান্নাত।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٤)
5 - وحدثني الوليد بن سفيان العطار، أخبرنا ابن أبي عدي، عن شعبة، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن أبيه، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الدنيا سجن المؤمن وجنة الكافر
৫ - এবং ওয়ালীদ ইবনে সুফইয়ান আল-আত্তার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি আদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ থেকে, তিনি আল-আ'লা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٤)
6 - وحدثنا العباس بن يزيد البصري، أخبرنا معاوية، أخبرنا ⦗ص: 15⦘ الأعمش، عن شمر بن عطية، عن شهر بن حوشب، عن عبادة - أراه رفعه -، قال: يجاء بالدنيا يوم القيامة، فيقال: ميزوا ما كان لله عز وجل وألقوا سائرها في النار.
৬ - আল-আব্বাস বিন ইয়াজিদ আল-বাসরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমাশ ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শিমর বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে এবং তিনি উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেন—আমি মনে করি তিনি তা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর বলা হবে: যা মহা মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করো এবং এর অবশিষ্ট অংশ জাহান্নামে নিক্ষেপ করো।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
7 - وحدثنا محمد بن حميد، أخبرنا مهران بن أبي عمرو، أخبرنا سفيان الثوري، عن محمد بن المنكدر، عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الدنيا ملعونة، ملعون ما فيها إلا ما كان لله منها.
৭ - এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিহরান ইবনে আবি আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: দুনিয়া অভিশপ্ত, এবং এতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে যা আল্লাহর জন্য নিবেদিত তা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
8 - حدثنا خالد بن خداش، أخبرنا عبد العزيز بن محمد، حدثني ⦗ص: 16⦘ عمرو بن أبي عمرو، عن المطلب بن حنطب، عن أبي موسى الأشعري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: من أحب دنياه أضر بآخرته، ومن أحب آخرته أضر بدنياه، فآثروا ما يبقى على ما يفنى.
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খাদাশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজীজ ইবনে মুহাম্মদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ আমর ইবনে আবি আমর, মুত্তালিব ইবনে হানতাব থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের দুনিয়াকে ভালোবাসবে সে তার আখিরাতের ক্ষতি করবে, আর যে ব্যক্তি নিজের আখিরাতকে ভালোবাসবে সে তার দুনিয়ার ক্ষতি করবে। অতএব, তোমরা নশ্বর বিষয়ের ওপর অবিনশ্বর বিষয়কে প্রাধান্য দাও।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٦)
9 - حدثني سريج بن يونس، أخبرنا عباد بن العوام، عن هشام، أو عوف، عن الحسن، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حب الدنيا رأس كل خطيئة.
৯ - আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুরাইজ ইবনে ইউনুস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাদ ইবনুল আওয়াম, তিনি হিশাম অথবা আউফ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা সকল পাপের মূল।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
10 - وحدثنا سريج بن يونس، حدثني مروان بن معاوية، عن محمد بن أبي قيس، عن سليمان بن حبيب، عن أبي أمامة الباهلي، قال: لما بعث محمد صلى الله عليه وسلم أتت إبليس جنوده، وقالوا: قد بعث نبي وأخرجت أمته، قال: يحبون الدنيا؟ قالوا: نعم، قال: لئن كانوا يحبونها ما أبالي أن لا يعبدوا الأوثان، وأنا أغدو عليهم وأروح بثلاث: أخذ المال من غير حقه، وإنفاقه في غير حقه، وإمساكه عن حقه، والشر كله لهذا تبع.
১০ - এবং আমাদের নিকট সুরাইজ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আবি কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলায়মান ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হলেন, তখন ইবলিসের নিকট তার সৈন্যরা এসে বলল: একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর উম্মত আত্মপ্রকাশ করেছে। সে (ইবলিস) বলল: তারা কি দুনিয়াকে ভালোবাসে? তারা বলল: হ্যাঁ। সে বলল: যদি তারা একে (দুনিয়াকে) ভালোবাসে, তবে তারা মূর্তিপূজা না করলেও আমার তাতে কোনো পরোয়া নেই। আর আমি তাদের কাছে সকাল-সন্ধ্যায় তিনটি বিষয় নিয়ে যাতায়াত করব: অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করা, তা অন্যায় পথে ব্যয় করা এবং তার হক আদায় থেকে বিরত থাকা; আর সকল মন্দই এই বিষয়গুলোর অনুসারী।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
11 - وحدثني أبو علي عبد الرحمن بن زبان الطائي، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، أخبرنا عبد الواحد بن زيد حدثني أسلم الكوفي، عن مرة، عن زيد بن أرقم، قال: ⦗ص: 18⦘ كنا مع أبي بكر فدعا بشراب فأتي بماء وعسل، فلما أدناه من فيه بكى وبكى حتى أبكى أصحابه، فسكتوا وما سكت، ثم عاد فبكى حتى ظنوا أنهم لن يقدروا على مسألته، ثم مسح عينيه، فقالوا: يا خليفة رسول الله، ما أبكاك؟ قال: كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فرأيته يدفع عن نفسه شيئاً ولم أر معه أحداً، فقلت: يا رسول الله ما الذي تدفع عن نفسك؟ قال: هذه الدنيا مثلت لي فقلت لها: إليك عني، ثم رجعت، فقالت: إنك إن أفلت مني لن ينفلت مني من بعدك.
১১ - এবং আবু আলী আবদুর রহমান ইবনে যাবান আত-তাঈ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসলাম আল-কুফি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুররাহ থেকে বর্ণিত, যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ আমরা আবু বকরের সাথে ছিলাম, তখন তিনি পানীয় চাইলেন। ফলে তাঁর কাছে পানি ও মধু নিয়ে আসা হলো। যখন তিনি তা তাঁর মুখের নিকটবর্তী করলেন, তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন এবং এত কাঁদলেন যে তাঁর সাথীদেরও কাঁদিয়ে দিলেন। এরপর তারা চুপ হয়ে গেলেও তিনি থামলেন না। অতঃপর তিনি পুনরায় কাঁদতে লাগলেন, এমনকি তারা ধারণা করলেন যে, তারা তাঁকে আর কোনো কিছু জিজ্ঞেস করতে পারবেন না। তারপর তিনি তাঁর দুচোখ মুছলেন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! কী আপনাকে কাঁদাল? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে দেখলাম যে তিনি নিজের থেকে কোনো কিছু সরিয়ে দিচ্ছেন, অথচ আমি তাঁর সাথে কাউকে দেখছিলাম না। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিজের থেকে কী সরিয়ে দিচ্ছেন? তিনি বললেন: এই দুনিয়া আমার সামনে মূর্ত হয়ে এসেছিল, তখন আমি তাকে বললাম: আমার থেকে দূরে সরে যাও। এরপর তা ফিরে এল এবং বলল: আপনি যদি আমার থেকে বেঁচেও যান, তবে আপনার পরবর্তীগণ আমার থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
12 - وحدثنا إسحاق بن إسماعيل، أخبرنا سفيان، عن إسماعيل، عن قيس سمعه يقول: أخبرنا المستورد الفهري أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: والله ما الدنيا في الآخرة إلا مثل ما يجعل أحدكم إصبعه في اليم، فلينظر ما يرجع إليه.
১২ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইসমাইল থেকে, তিনি কায়েস থেকে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: মুস্তাওরিদ আল-ফিহরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর শপথ, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়া কেবল এমন, যেমন তোমাদের কেউ তার আঙুল সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়, অতঃপর সে যেন লক্ষ্য করে তা কী নিয়ে ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
13 - حدثني محمد بن عثمان العجلي، أخبرنا أبو أسامة، عن ⦗ص: 19⦘ مجالد، عن الشعبي، قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: والله ما الدنيا في الآخرة إلا كنفجة أرنب.
১৩ - আমাকে মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসামা, ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ মুজালিদ হতে, শা'বি হতে, তিনি বলেন: উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আল্লাহর কসম, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়া কেবল একটি খরগোশের লাফের মতো।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
14 - حدثنا حمدون بن سعد المؤدب، أخبرنا النضر بن إسماعيل، عن موسى الصغير، عن عمرو بن مرة، عن أبي جعفر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عجباً كل العجب للمصدق بدار الخلود، وهو يسعى لدار الغرور.
14 - হামদুন ইবনে সাদ আল-মুয়াদ্দিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাজর ইবনে ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা আস-সাগীর থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সেই ব্যক্তির জন্য চরম বিস্ময় যে চিরস্থায়ী নিবাসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, অথচ সে ধোঁকার নিবাসের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
15 - حدثني سريج بن يونس، أخبرنا الوليد بن مسلم، قال: قال الضحاك بن عثمان: سمعت بلال بن سعد يقول: قال أبو الدرداء: ⦗ص: 20⦘ لو كانت الدنيا تزن عند الله جناح بعوضة ما سقى فرعون منها شربة ماء.
১৫ - সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আদ-দাহহাক ইবনে উসমান বলেছেন: আমি বিলাল ইবনে সা'দকে বলতে শুনেছি, আবু আদ-দারদা বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ যদি দুনিয়া আল্লাহর নিকট একটি মশার ডানার সমান ওজন রাখত, তবে তিনি ফেরাউনকে এখান থেকে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
16 - حدثني سريج أخبرنا عنبسة بن عبد الواحد، عن مالك بن مغول قال: قال ابن مسعود: الدنيا دار من لا دار له، ومال من لا مال له، ولها يجمع من لا عقل له.
১৬ - সুরাইজ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমবাসাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক বিন মিগওয়াল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: দুনিয়া হলো সেই ব্যক্তির আবাস যার কোনো আবাস নেই, এবং সেই ব্যক্তির সম্পদ যার কোনো সম্পদ নেই, আর এর জন্যই সেই ব্যক্তি সম্পদ জমা করে যার কোনো বিবেক নেই।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
17 - حدثنا هارون بن عبد الله، وعلي بن مسلم، قالا: أخبرنا سيار، حدثنا جعفر، أخبرنا مالك بن دينار، قال: قالوا: لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: يا أبا الحسن، صف لنا الدنيا؟ قال: أطيل أم أقصر؟ قالوا: بل أقصر، قال: حلالها حساب، وحرامها النار.
১৭ - আমাদের নিকট হারুন ইবনে আবদুল্লাহ এবং আলী ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: সায়্যার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে দিনার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লোকেরা আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: হে আবুল হাসান, আমাদের কাছে দুনিয়ার বিবরণ দিন। তিনি বললেন: আমি কি দীর্ঘ করব নাকি সংক্ষিপ্ত করব? তাঁরা বললেন: বরং সংক্ষিপ্ত করুন। তিনি বললেন: এর হালাল বস্তুর জন্য রয়েছে হিসাব, আর এর হারাম বস্তুর পরিণাম হলো আগুন।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
18 - وحدثني الحسين بن عبد الرحمن، أخبرنا عبيد الله بن محمد التيمي، عن شيخ من بني عدي، قال: قال رجل لعلي بن أبي طالب: يا أمير المؤمنين، صف لنا الدنيا؟ قال: وما أصف لك من دار من صح فيها أمن، ومن سقم فيها ندم، ومن افتقر فيها حزن، ومن استغنى فيها فتن، من حلالها حساب ومن حرامها النار.
১৮ - এবং হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাইমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বনু আদির জনৈক শায়খ থেকে, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আলী ইবনে আবি তালিবকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমাদের নিকট দুনিয়ার বর্ণনা দিন? তিনি বললেন: আমি তোমার নিকট এমন এক আবাসের কী বর্ণনা দেব, যার মধ্যে যে সুস্থ থাকে সে নিরাপদ থাকে, আর যে অসুস্থ হয় সে অনুতপ্ত হয়, যে অভাবগ্রস্ত হয় সে বিষণ্ণ হয়, আর যে সম্পদশালী হয় সে ফিতনায় পতিত হয়; এর হালাল বিষয়ের জন্য রয়েছে হিসাব এবং হারামের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
19 - حدثني القاسم بن هاشم، أخبرنا عبد الوهاب بن نجدة الحوطي، أخبرنا بقية بن الوليد، عن أبي الحجاج المهري، عن ابن الميمون اللخمي، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقف على مزبلة، فقال: هلموا إلى الدنيا، وأخذ خرقاً وقد بليت على تلك المزبلة وعظاماً قد نخرت، فقال: هذه الدنيا.
১৯ - আল-কাসিম ইবনে হাশিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদিল ওয়াহহাব ইবনে নাজদা আল-হুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকিয়্যাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আল-হাজ্জাজ আল-মাহরি থেকে, তিনি ইবনে আল-মাইমুন আল-লাখমি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ময়লার স্তূপের নিকট দাঁড়ালেন এবং বললেন: "তোমরা দুনিয়ার দিকে এসো।" এরপর তিনি সেই ময়লার স্তূপ থেকে কিছু জীর্ণ হয়ে যাওয়া কাপড় এবং পচে যাওয়া হাড় হাতে নিলেন এবং বললেন: "এটাই হলো দুনিয়া।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حدثنا داود بن عمرو، أخبرنا منصور بن أبي الأسود، عن ⦗ص: 22⦘ الأعمش، عن أبي سفيان، عن الحسن البصري، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الدنيا حلوة خضرة، وإن الله مستخلفكم فيها فناظر كيف تعملون، إن بني إسرائيل لما بسطت لهم الدنيا ومهدت تباهوا في الحلية والطيب والنساء والثياب.
২০ - দাউদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর ইবনে আবিল আসওয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট ও সজীব, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে এতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কীভাবে আমল করো। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলের জন্য যখন দুনিয়াকে প্রশস্ত ও সুগম করা হয়েছিল, তখন তারা অলঙ্কার, সুগন্ধি, নারী এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে গর্ব ও অহঙ্কারে মেতে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - وحدثنا محمد بن عمرو بن العباس الباهلي، أخبرنا سعيد بن عامر، عن معاذ بن الأعلم، عن يونس بن عبيد، قال: ما شبهت الدنيا إلا كرجل نائم فرأى في منامه ما يكره وما يحب، فبينما هو كذلك إذ انتبه.
২১ - এবং আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আব্বাস আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আমির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুআয বিন আল-আলাম থেকে, তিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দুনিয়াকে কেবল একজন নিদ্রামগ্ন ব্যক্তির সাথে তুলনা করি, যে তার স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে এবং যা সে পছন্দ করে; এমতাবস্থায় হঠাৎ তার জাগরণ ঘটল।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
22 - وحدثنا إسحاق بن إسماعيل، أخبرنا إبراهيم بن عيينة، قال: قيل لبعض الحكماء: أي شيء أشبه بالدنيا؟ قال: أحلام النائم.
২২ - এবং ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন উয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: কোন বস্তু দুনিয়ার সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ? তিনি বললেন: ঘুমন্ত ব্যক্তির স্বপ্ন।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
23 - وحدثني محمد بن الحسين، قال: سمعت أبا زكريا المنتوف يحدث ⦗ص: 23⦘ القواريري، قال: ذكرت الدنيا عند الحسن البصري، فقال: أحلام نوم أو كظل زائل … إن اللبيب بمثلها لا يخدع
২৩ - এবং মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যাকারিয়া আল-মানতুফকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ আল-কাওয়ারীরীর নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসান বসরীর নিকট দুনিয়ার কথা আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন: ঘুমের স্বপ্ন অথবা বিলীয়মান ছায়ার মতো … নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তি এর ন্যায় বস্তু দ্বারা প্রতারিত হয় না।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
24 - وحدثني محمد بن الحسين، أخبرنا يوسف بن الحكم الرقي، قال كان الحسن بن علي يتمثل، ويروى أنه من قوله: يا أهل لذات دنيا لا بقاء لها … إن اغتراراً بظل زائل حمق
২৪ - এবং আমার নিকট মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন আল-হাকাম আর-রাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন যে, আল-হাসান বিন আলী (এই কবিতাটি) উদাহরণ হিসেবে পেশ করতেন, এবং বর্ণিত আছে যে এটি তাঁরই উক্তি: হে স্থায়িত্বহীন দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণকারীরা … নিশ্চয়ই বিলীয়মান ছায়ার দ্বারা প্রতারিত হওয়া মূর্খতা।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
25 - حدثني موسى بن عبد الله المقرئ، قال: نزل أعرابي بقوم فقدموا له طعاماً فأكل، ثم قام إلى ظل خيمة لهم فنام هناك، فاقتلعوا الخيمة فأصابته الشمس، فانتبه وقام وهو يقول:

ألا إنها الدنيا كظل بنيته … ولا بد يوماً أن ظلك زائل
২৫ - মুসা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুকরি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক বেদুঈন এক কওমের নিকট অবতরণ করলেন। তারা তাকে খাবার প্রদান করল এবং তিনি তা আহার করলেন। অতঃপর তিনি তাদের একটি তাঁবুর ছায়ার নিচে গিয়ে সেখানে নিদ্রা গেলেন। এরপর তারা তাঁবুটি সরিয়ে নিলে তার গায়ে সূর্যের তাপ লাগল। তখন তিনি জাগ্রত হলেন এবং দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন:

জেনে রেখো, এই দুনিয়া তো তোমার নির্মিত ছায়ার ন্যায় ... আর একদিন অবশ্যই তোমার সেই ছায়া বিলীন হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
26 - حدثني الحسين بن عبد الرحمن، حدثني محمد بن أنس، قال: مر قوم بواد فسمعوا هاتفاً يقول: وإن امرءاً دنياه أكبر همه … لمستمسك منها بحبل غرور
২৬ - আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আনাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক সম্প্রদায় একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিল, এমতাবস্থায় তারা এক অদৃশ্য আহ্বানকারীকে বলতে শুনল: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তির দুনিয়া তার বৃহত্তম চিন্তার বিষয় ... সে আসলে এর এক প্রতারণার রশিই আঁকড়ে ধরে আছে।
(খণ্ড: ১) যাম্মুদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
27 - حدثني أبو علي الطائي، أخبرنا عبد الرحمن المحاربي، عن ليث: أن عيسى ابن مريم رأى الدنيا في صورة عجوز هتماء عليها من كل زينة، فقال لها: كم تزوجت؟ قالت: لا أحصيهم، قال: كلهم مات عنك أو كلهم طلقك؟ قالت: بل كلهم قتلت قال: فقال عيسى عليه السلام: بؤساً لأزواجك الباقين، ألا يعتبرون بأزواجك الماضين، كيف تهلكينهم واحداً واحداً ولا يكونون منك على حذر.
২৭ - আবু আলী আত-তাঈ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান আল-মুহারিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, লাইস থেকে বর্ণিত: ঈসা ইবনে মারিয়াম দুনিয়াকে এমন এক বৃদ্ধার রূপে দেখলেন যার সামনের দাঁত পড়ে গেছে এবং তার ওপর সব ধরণের সাজসজ্জা রয়েছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কতজনকে বিয়ে করেছো? সে বলল: আমি তাদের সংখ্যা গণনা করতে পারি না। তিনি বললেন: তারা সবাই কি তোমার থেকে (বিচ্ছিন্ন হয়ে) মারা গেছে নাকি তারা সবাই তোমাকে তালাক দিয়েছে? সে বলল: বরং আমি তাদের সবাইকে হত্যা করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন: তোমার অবশিষ্ট স্বামীদের জন্য দুর্ভোগ! তারা কি তোমার বিগত স্বামীদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না? তুমি কীভাবে তাদের একে একে ধ্বংস করছ অথচ তারা তোমার ব্যাপারে সতর্ক হচ্ছে না।