(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الفصول في مصطلح حديث الرسول (حافظ ثناء الله الزاهدي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: الفصول في مصطلح حديث الرسول
المؤلف: حافظ ثناء الله الزاهدي
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 28
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফুসুল ফি মুসতালাহ হাদিসির রাসুল (হাফেজ (حافظ) সানাউল্লাহ আল-জাহেদি)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-ফুসুল ফি মুসতালাহ হাদিসির রাসুল
লেখক: হাফেজ (حافظ) সানাউল্লাহ আল-জাহেদি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১)
الفصول فيمصطلح حديث الرسولحافظ ثناء الله الزاهديمقدمةبسم الله الرحمن الرحيمالْحَمْدُ للهِ وَحْدَه، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلى مَنْ لَاّ نَبِيَّ بَعْدَه، مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ الله، وَعَلى آلِهِ وَصَحْبِه، وَعَلى مَنْ تَمَسَّكَ بِدِيْنهِ وَاهْتَدَى بِهَدْيِه، وَأَشْهَدُ أَنْ لَاّ إلهَ إِلَاّ الله وَحْدَه لا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُه.أمّا بَعْدُ: فَهذِهِ فُصُولٌ فِي عِلْمِ مُصْطَلَحِ الْحَدِيْثِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيْفِ وِفقَ الْمَنْهَجِ الْمُقَرَّرِ لِطَلَبَةِ السَّنةِ الدِّراسِيَّةِ الثَّانِيَةِ فِي الْجَامِعَةِ الإسْلَامِيَةِ بِمَدِيْنَةِ صَادِقْ آبَاد بَاكِسْتَان.جَمَعْتُهَا مِنْ كُتُبِ أَئِمَّةِ الْحَدِيْثِ اكْتِفَاءً بِمَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الطَّالِبُ فِي الْمَرْحَلَةِ الابْتِدَائِيَّةِ الْمَذْكُورَةِ مِنْ مُهِمَّاتِ مُصْطَلَحَاتِ هذَا الْعَلْمِ الشَّريفِ، بِأُسْلُوبٍ سَهْلٍ وَاضِحٍ، وَعِبَارَاتٍ مُخْتَصََرةٍ كَافِيَةٍ، فِي رِسَالَةٍ سَمَّيْتُها … «الْفُصُولُ فِي مُصْطَلَحِ حَدِيْثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم» .وَاللهَ سبحانه وتعالى أَسْألُ أَنْ يَّنْفَعَ بِهَا طَلَبَةَ الْعِلْمِ، وَيَتَقَبَّلَ مِنِّي وَهُوَ وَلِيُّ التَّوْفِيْقِ وَالسَّدَادِ، وَعَلى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ، وَبِالإجَابَةِ جَدِيْرٌ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ العَالَمِيْنَ.
আল-ফুসুল ফিমুসতালাহ হাদিসির রাসুলহাফেজ সানাউল্লাহ আল-জাহেদীভূমিকাবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই—মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরগণের ওপর এবং তাদের ওপর যারা তাঁর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরেছে ও তাঁর পথনির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।অতঃপর: এগুলি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের কিছু পরিচ্ছেদ, যা পাকিস্তানের সাদিকাবাদ শহরের জামিয়া ইসলামিয়া-এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রণীত হয়েছে।আমি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এই মহান শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ হাদিসের ইমামগণের কিতাব হতে সহজ ও স্পষ্ট পদ্ধতিতে এবং পর্যাপ্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মাধ্যমে একটি পুস্তিকায় সংকলন করেছি, যার নাম দিয়েছি … «আল-ফুসুল ফি মুসতালাহ হাদিসির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»।আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন এবং আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করেন; তিনিই তাওফিক ও সঠিক পথের দিশারি, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং প্রার্থনা মঞ্জুরের যোগ্য। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২)
وكتبالعبد الفقير إلى الله العليحافظ ثناء الله الزاهدي24/5/1423ها صادق آبادHam_zahidi@hotmail.com
লিখেছেনমহামহিম আল্লাহর মুখাপেক্ষী অধম বান্দাহাফেজ সানাউল্লাহ আল-জাহিদী২৪/৫/১৪২৩ হিজরি, সাদিকাবাদHam_zahidi@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩)
فصل في آداب الطالب 1- أوَّلُ مَا يَجِبُ عَلى طَالِبِ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أنْ يُخلِصَ نيَّتَهُ فِي طَلَبِهِ، بِأنْ يَّكُونَ قَصْدُهُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللهِ سُبْحَانَهُ، وَلا يَتَّخِذَ هَذَا العِلْمَ ذَرِيعَةً إلى شَيءٍ مِنَ الأغْرَاضِ الدُّنِيويَّةِ.وَقَد رَوَى أبوهُرَيرةَ رضي الله عنه مرفوعاً: «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْماً مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ الله لا يَتَعَلَّمُهُ إلَاّ لِيُصِيْبَ بِهِ عَرَضاً مِنَ الدُّنْياَ لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ … الْقِيَامَةِ» صحيح أخرجه أبوداود برقم [3664] ، وابن ماجه برقم [252] .ورُوِي عَن جابر بن عبد الله رضي الله عنه مرفوعاً «لا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلا لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلا تَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ» صحيح أخرجه ابن ماجه برقم [254] وابن حبان في الصحيح [674] .2- ويَجبُ عَليه أنْ يَجتَهِدَ في التَّحَلِّي بِالأَخلاقِ الذَّكِيَّةِ والآدابِ المَرْضِيَّةِ أثناءَ الطَلَبِ وبَعدَه.وَقَد رَوَى أبُو الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه مرفوعاً «مَا مِنْ شَيْءٍ يُوضَعُ فِي الْمِيْزَانِ أَثْقَلُ مِنَ حُسْنِ الْخُلُقِ» . صحيح أخرجه الترمذي برقم [2003] .وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه مرفوعاً «خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلاقاً» صحيح أخرجه الترمذي برقم [1975] .وَقَالَ أبو عَاصِمٍ النَّبِيلُ رحمه الله: «من طَلَبَ هذا الحديثَ فَقَدْ طَلَبَ أعلى الأمورِ فيَجِبُ أنْ يَّكُونَ خَيرَ النَّاسِ» .3- ويَجِبُ عَليه أن يَّعْمَلَ بما يَسْمَعُهُ مِنَ الأحَادِيثِ لِمَا رَوَاهُ أبو بَرْزَةَ الأَسلميُّ رضي الله عنه مرفوعاً «لا تَزُوْلُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتىَّ يُسْئَلَ عَنْ عُمْرِهِ فِيْمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ عِلْمِهِ فِيْمَ فَعَلَ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيْمَ أنْفَقَهُ، وَعَنْ جِسْمِهِ فِيْمَ أبْلاهُ» صحيح رواه الترمذي برقم [2417] .
শিক্ষার্থীর আদব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস অন্বেষণকারীর ওপর প্রথম যে বিষয়টি আবশ্যক, তা হলো তার অন্বেষণে নিয়তকে একনিষ্ঠ করা; আর তা এভাবে যে, এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সে যেন এই ইলমকে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করে।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি এমন ইলম শিখল যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে শিখল, কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।» এটি সহিহ (صحيح), আবু দাউদ (হাদিস নং ৩৬৬৪) এবং ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ২৫২) এটি বর্ণনা করেছেন।জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «তোমরা আলেমদের সাথে অহংকার প্রদর্শন কিংবা নির্বোধদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য ইলম শিক্ষা করো না এবং এর মাধ্যমে মজলিসসমূহ বেছে নিয়ো না। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তার জন্য আগুন আর আগুন!» এটি সহিহ (صحيح), ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ২৫৪) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (হাদিস নং ৬৭৪) এটি বর্ণনা করেছেন।২- ইলম অন্বেষণকালীন ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীর ওপর পবিত্র চরিত্র ও পছন্দনীয় শিষ্টাচার অর্জনে সচেষ্ট থাকা আবশ্যক।আবু দারদা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «মিজানের পাল্লায় সচ্চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছু রাখা হবে না।» এটি সহিহ (صحيح), তিরমিজি (হাদিস নং ২০০৩) এটি বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে চরিত্রে সবচেয়ে সুন্দর।» এটি সহিহ (صحيح), তিরমিজি (হাদিস নং ১৯৭৫) এটি বর্ণনা করেছেন।আবু আসিম আন-নাবিল (রহ.) বলেন: «যে ব্যক্তি এই হাদিস অন্বেষণ করল, সে মূলত শ্রেষ্ঠতম বিষয়ের অনুসন্ধান করল; সুতরাং তার উচিত হবে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া।»৩- শ্রবণকৃত হাদিস অনুযায়ী আমল করাও শিক্ষার্থীর ওপর আবশ্যক। কারণ আবু বারযা আল-আসলামী (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার কদম এক চুলও নড়বে না যতক্ষণ না তাকে প্রশ্ন করা হবে: তার জীবন সম্পর্কে যে সে তা কিসে অতিবাহিত করেছে, তার ইলম সম্পর্কে যে সে অনুযায়ী কী আমল করেছে, তার সম্পদ সম্পর্কে যে তা কোথা থেকে উপার্জন করেছে ও কিসে ব্যয় করেছে এবং তার দেহ সম্পর্কে যে তা কিসে ক্ষয় করেছে।» এটি সহিহ (صحيح), তিরমিজি (হাদিস নং ২৪১৭) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৪)
4- ويَجِبُ عَليه أن يُّعَظِّمَ شَيخَه تَعظِيماً، ويَحتَرِمَه احتِرَاماً، ويُكْرِمَه إكرَاماً، لحِديثِ أنَسِ ابْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه مرفوعاً «لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيْرَنَا وَلَمْ يُوَقِّرْ كَبِيْرَنَا» صحيح رواه الترمذي برقم [1919] ، وأحمد في المسند برقم [2325] .5- ويَجِبُ عليه أن لَاّ يَبْخَلَ بما يَسْمَعُ ويَفْهَمُ على إخْوانهِ مِنَ الطَّلَبَةِ الَّذِينَ هُمْ دُونَه في الفَهْمِ والذَّكاءِ فإنَّ ذلكَ مِنَ اللُّؤْمِ الَّذي يَقَعُ فيه كثيرٌ مِنَ الطَّلَبَةِ.قال الإمامُ مالكُ رحمه الله: «مِن برَكةِ الحَدِيثِ إفادَةُ بَعضِهمْ بَعضاً» .وقد فاتَ بَعضَ الطَّلَبَةِ كتابَةُ شَيءٍ مِن حَديثٍ فقال لَه الشَّيخُ وَهُو إسْحَاقُ بنُ رَاهُوَيه: أنسِخْ مَا فاتَكَ مِنْ كُتُبِ الطَّلَبَةِ.فقال الطالبُ: إنَّهُمْ لا يُمَكِّنُونَني.فقال الشَّيخُ: إذاً وَاللهِ لا يُفْلِحُونَ.6- ويَنْبَغِي لطَالِبِ العِلْمِ أن لَاّ يَمْنَعَهُ الْحَيَاءُ أوِ الْكِبَرُ، ولا يَأنَفَ مِنْ أن يَّكْتُبَ عَمَّنْ هُوَ دُونَه مَا يَسْتَفيدُه مِنْهُ. (( (( (( (( (( (
4- আর তার জন্য আবশ্যক যে, সে তার উস্তাদকে যথাযথভাবে সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে এবং সমাদর করবে। আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعاً) হাদিসের কারণে: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করে না।» হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح), তিরমিজি এটি ১৯১৯ নম্বরে এবং আহমদ মুসনাদ-এ ২৩২৫ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।5- আর তার জন্য এটিও আবশ্যক যে, সে যা শ্রবণ করে এবং বোঝে তা তার সেই ছাত্র ভাইদের কাছে বিলিয়ে দিতে কৃপণতা করবে না যারা বোধশক্তি ও মেধায় তার চেয়ে নিচে। কেননা এটি এক প্রকার নীচতা যা অনেক ছাত্রের মধ্যেই প্রকাশ পায়।ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «হাদিসের বরকতের একটি দিক হলো একে অপরের উপকার করা।’জনৈক ছাত্রের কিছু হাদিস লেখা বাদ পড়ে গিয়েছিল, তখন শাইখ—যিনি ছিলেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ—তাকে বললেন: তোমার যা বাদ পড়েছে তা অন্য ছাত্রদের কিতাব থেকে অনুলিপি করে নাও।ছাত্রটি বলল: তারা আমাকে (তাদের কিতাব ব্যবহারের) সুযোগ দেয় না।শাইখ বললেন: তাহলে আল্লাহর কসম, তারা সফল হবে না।6- আর জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হলো যে, লজ্জা বা অহংকার যেন তাকে বাধা না দেয় এবং তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কারো কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার মতো কিছু লিখে নিতে সে যেন সংকুচিত না হয়। (( (( (( (( (( (
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
فصل في ألقاب المتن 1- الحديث: ما أُضِيْفَ إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَولٍ أو فِعْلٍ أو تَقْرِيرٍ أو صِفَةٍ.والمُرادُ بالتَّقْرِيرِ: ما فُعِلَ بفِعلٍ أو قِيلَ بقَوْلٍ بِحَضْرَتِهِ صلى الله عليه وسلم أو أُخْبِرَ عَنْ ذلكَ وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَيْهِ.والمُرادُ بالصِّفَةِ: ما كانَ صِفَةً مِنَ صِفَاتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الخَلْقِيَّةِ كما في حَدِيثِ البراء رضي الله عنه «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أحْسَنَ النَّاسِ وَجْهاً، وأحْسَنَهُ خَلْقاً، لَيْسَ بالطَّوِيلِ الذَّاهِبِ ولَا بالقَصِيْرِ» أخرجه مسلم برقم [2337] .والخُلُقِيَّةِ كما في حديث أنس رضي الله عنه «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقاً» . أخرجه مسلم برقم [2310] .2- الخَبَر: يُطْلَقُ ويُرَادُ به الحَديثُ بالمعنى الَّذِي سَبَقَ ذِكْرُهُ، وأيضاً يُرادُ به ما هُوَ أعَمُّ مِنْهُ مِنْ الأخْبَارِ.3- الأَثَر: يُطْلَقُ ويُرَادُ به حَدِيثُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم ويُرَادُ به ما أُضِيفَ إلى الصَّحَابَةِ والتَّابِعِيْنَ مِنْ الأقْوَالِ والأفْعاَلِ.4- السُّنَّة: عِنْدَ المحُدِّثِيْنَ وأهلِ الأُصُولِ: كُلُّ ما صَدَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ أو فِعْلٍ أو تَقْرِيْرٍ.وفي عُرْفِ الفُقَهَاءِ: ما ثَبَتَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الحُكْمِ ولَمْ يَكُنْ فَرْضاً أو وَاجِباً.وفي عُرْفِ عُلَمَاءِ الوَعْظِ والإِرْشَادِ: ما يُقَابِلُ البِدْعَةَ.5- المَرفُوع: وَهو على قِسمَينِ:(صَريحٌ: وَهُو الحَدِيثُ الَّذِي أُضِيفَ إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً أو تقريراً صَراحَةً.(غَيرَ صَرِيحٍ: وهُو قَولُ صَحَابِيٍّ أو فِعْلُهُ الَّذِي لَيْسَ مِنْ قَبِيْلِ ما يُمْكِنُ القَولُ أو الفِعلُ بِه مِنْ قِبَلِ الرَّأْيِ وَالاِجْتِهَادِ، كالإخبَارِ عَنِ الأُمُورِ المَاضِيَةِ أو عَنِ الآتِيَةِ،
মতন (متن)-এর পরিভাষা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১- হাদিস: যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা কোনো কথা, কাজ, অনুমোদন (تقرير) কিংবা গুণাবলী (صفة) হোক।আর অনুমোদন (تقرير) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে কোনো কাজ করা হয়েছে বা কোনো কথা বলা হয়েছে অথবা তাঁর নিকট সেই সংবাদ পৌঁছানো হয়েছে এবং তিনি তার প্রতিবাদ করেননি।আর গুণাবলী (صفة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য (خلقية) সম্বলিত গুণাবলি, যেমন বারা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুশ্রী চেহারার অধিকারী এবং শারীরিক গঠনে সর্বোত্তম ছিলেন, তিনি অত্যধিক দীর্ঘদেহী ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর [২৩৩৭]।এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (خلقية), যেমন আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর [২৩১০]।২- খবর (خبر): এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা ইতিপূর্বে উল্লিখিত অর্থের ন্যায় হাদিসকে বোঝানো হয়, আবার এর দ্বারা সাধারণ সংবাদও বোঝানো হয় যা হাদিসের তুলনায় ব্যাপকতর।৩- আছার (أثر): এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসকেও বোঝানো হয়, আবার সাহাবী ও তাবেয়ীগণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কথা ও কাজকেও এর দ্বারা বোঝানো হয়।৪- সুন্নাহ: মুহাদ্দিস ও উসুলবিদগণের নিকট: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রকাশিত প্রতিটি কথা, কাজ বা অনুমোদন (تقرير)।আর ফকীহগণের পরিভাষায়: যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত কোনো বিধান এবং যা ফরজ (فرض) বা ওয়াজিব (واجب) নয়।আর ওয়াজ ও নসিহতকারী আলেমগণের পরিভাষায়: যা বিদআত (بدعة)-এর বিপরীত।৫- মারফু (مرفوع): এটি দুই প্রকার:(সুস্পষ্ট (صريح): এটি এমন হাদিস যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে কথা, কাজ বা অনুমোদন (تقرير) হিসেবে স্পষ্টভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।(অস্পষ্ট (غير صريح): এটি কোনো সাহাবীর এমন কথা বা কাজ যা নিজস্ব অভিমত (رأي) বা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর মাধ্যমে বলা বা করা সম্ভব নয়; যেমন অতীত বা ভবিষ্যৎ বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা,
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
وكَذا ما يَحْصُلُ بِفِعْلِهِ ثَوابٌ مَخْصُوصٌ أو عِقَابٌ مَخْصُوصٌ، ويُسمَّى مَرفُوعاً حُكْمِيًّا أَيضاً.6- الْمَوقُوفُ: هُو الحدِيثُ المُضَافُ إِلى صَحَابِيٍّ، قَولاً كَانَ أو فِعْلاً، وسَواءٌ أَاتَّصَلَ سَنَدُهُ إِلَيهِ أمِ انْقَطَعَ.7- الْمَقْطُوعُ: هُو ما أُضِيفَ إِلى تَابِعِيٍّ فَمَنْ دُونَهُ مِنْ قَولٍ أو فِعلٍ، وسَواءٌ أَكَانَ إِسْنَادُهُ مُتَّصِلاً أمْ مُنْقَطِعاً.8- متَّفَقٌ عَلَيْهِ: وهُو الحَدِيثُ الَّذِي اتَّفَقَ عَلى إِخرَاجِهِ البُخَارِيُّ وَمُسلِمٌ - رَحِمَهُمَا اللهُ - في صَحِيْحَيْهِمَا.9- الْمُسْنَدُ: هُو الحَدِيثُ الْمَرْفُوعُ الَّذِي اتَّصَلَ سَنَدُه.10- الحَديثُ القُدْسِيُّ: هُو ما يَروِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَن رَبِّهِ عز وجل لَفْظاً أو مَعْنىً سِوَى القُرآنِ.
অনুরূপভাবে এমন বিষয় যার আমলের বিনিময়ে বিশেষ সওয়াব বা বিশেষ শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, একেও হুকমি মারফু (مرفوعاً حكمياً) বলা হয়।৬- মাওকুফ (الموقوف): এটি হলো সেই হাদিস যা কোনো সাহাবীর সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে—চাই তা কথা হোক বা কাজ, এবং তাঁর পর্যন্ত এর সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হোক কিংবা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক।৭- মাকতু (المقطوع): এটি হলো এমন বিষয় যা তাবিঈ বা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে—চাই তা কথা হোক বা কাজ, এবং এর সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হোক কিংবা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক।৮- মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): এটি হলো সেই হাদিস যার বর্ণনা করার ব্যাপারে ইমাম বুখারি ও মুসলিম (রাহিমাহুমাল্লাহ) তাঁদের সহিহদ্বয়ে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) একমত হয়েছেন।৯- মুসনাদ (المسند): এটি হলো সেই মারফু (مرفوع) হাদিস যার সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل)।১০- হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي): এটি হলো সেই বর্ণনা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ব্যতীত শব্দত বা অর্থগতভাবে তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
فصل في ألقاب الرواة 1- الصَّحَابي: هُو كلُّ مُسلِمٍ لَقِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُؤمِناً بِه ومَاتَ عَلى الإِيْمَانِ.والصَّحَابَةُ كُلُّهُم ثِِقَاتٌ عُدُولٌ، لا تَضُرُّ جِهَالَتُهُم بِالصِّحَّةِ.2- التَّابِعِيُّ: هو مَن لَقِيَ صَحَابِياًّ في حَالَةِ الإِيمَانِ وَمَاتَ عَلى ذلكَ، ويُشْتَرَطُ لِقُبُولِ رِوَايَتِهِ كَونُهُ ثِقَةً.3- تَبْعُ التَّابِعِيِّ: هو مَنْ لَقِيَ تابعياًّ مِنَ الْمُؤمِنِينَ، ويُشْتَرَطُ لِقُبُولِ رِوَايَتِهِ أَيْضاً كَونُهُ ثِقَةً.4- الثِّقةُ: هو مَنْ جَمَعَ بَينَ العَدَالَةِ وتَمَامِ الضَّبْطِ والإِتْقَانِ، وَالعَدَالَةُ عِبَارَةٌ عَنْ مُلَازَمَةِ الرَّاوِيِّ الصِّدْقَ وَالأَمَانَةَ وَالتَّقْوَى، وَسَلَامَتِه مِنَ الشِّرْكِ والبِدْعَةِ والْفِسْقِ وَالفُجُورِ وَخَوَارِمِ الْمَرُوْءَةِ.وَالمُرَادُ بِضَبْطِ الرَّاوِيِّ وَإتْقَانِهِ: سِمَاعُهُ لِلرِّاوِيَةِ كَمَا يَجِبُ، وَفَهْمُهُ لَهَا فَهْماً دقيقاً، وَحِفْظُهُ لَهَا حِفْظاً كَامِلاً لَا تَرَدُّدَ فِيهِ، وَثُبَاتُه عَلى هَذَا كُلِّهِ مِنْ وَقْتِ السِّمَاعِ إلى وَقْتِ الأدَاءِ.5- العَدْلُ: هو الْمُسلِمُ البَالِغُ العَاقِلُ الَّذِي يُؤَدِّي الفَرَائِضَ وَيَجْتَنِبُ الكَبَائِرَ وَلا يُصِرُّ عَلى الصَّغَائِرِ، ويَتَأَدَّبُ بِمَحَاسِنِ الأَخْلَاقِ وجَمِيْلِ العَادَاتِ.6- الضَّابِطُ: هو الَّذِي يُتْقِنُ لِمَا يَحْفَظُهُ فِي صَدْرِهِ مِنَ الأَحَادِيثِ بِحَيْثُ يَتَذَكَّرُهَا عَلى وَجْهِ الصَّوَابِ مَتَى شَاءَ رِوَايَتَهَا، أو حَافَظَ عَلى كِتَابِهِ الَّذِي كَتَبَ فِيْهِ مَرْوِيَّاتِهِ، وَصَانَهُ مِنَ الْمَحْوِ والتَّحْرِيفِ والتَّلَفِ وَنَحْوِهَا.ويُعْرَفُ كَونُهُ ضَابِطاً بِتَوَافُقِ رِوَايَتِهِ بِرِوَايَةِ الثِّقَاتِ الضَّابِطِينَ فِي اللَّفْظِ أو فِي الْمَعْنَى غَالِباً.7- الْمُتْقِنُ: هو الضَّابِطُ نَفْسُهُ مَعَ زِيَادَةِ قُوَّةِ الضَّبْطِ.8- الثَّبْتُ: هو العَدْلُ الضَّابِطُ فِي أَعلَى دَرَجَاتِ القُوَّةِ.
বর্ণনাকারীদের উপাধি বিষয়ক পরিচ্ছেদ 1- সাহাবী (صحابي): তিনি হচ্ছেন এমন প্রত্যেক মুসলিম যিনি ঈমান আনয়ন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন।আর সাহাবীগণের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول); তাঁদের অজ্ঞাত থাকা (جهالة) হাদিসের বিশুদ্ধতায় (صحة) কোনো ক্ষতি করে না।2- তাবেয়ি (تابعي): তিনি হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর বর্ণনা গ্রহণের জন্য তাঁর নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া শর্ত।3- তাবা-তাবেয়ি (تبع التابعي): তিনি হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি মুমিনদের মধ্য থেকে কোনো তাবেয়ির সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁর বর্ণনা গ্রহণের জন্যও তাঁর নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া শর্ত।4- নির্ভরযোগ্য (ثقة): তিনি হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং পরিপূর্ণ স্মৃতিশক্তি ও পারদর্শিতার (ضبط وإتقان) সমন্বয় ঘটিয়েছেন। আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বলতে বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও তাকওয়া অবলম্বন করা এবং শিরক, বিদআত, পাপাচার (فسق), অনৈতিকতা ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকাকে বোঝায়।বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি ও পারদর্শিতা (ضبط وإتقان) বলতে উদ্দেশ্য হলো: বর্ণনাটি যথাযথভাবে শ্রবণ করা, তার সূক্ষ্ম মর্ম উপলব্ধি করা, কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই তা পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ রাখা এবং শ্রবণ করার সময় থেকে বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত এ সমস্ত বিষয় অটুট রাখা।5- ন্যায়পরায়ণ (عدل): তিনি হচ্ছেন এমন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকসম্পন্ন মুসলিম যিনি ফরজ কাজসমূহ পালন করেন, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন, সগিরা গুনাহের ওপর অবিচল থাকেন না এবং উত্তম চরিত্র ও সুন্দর অভ্যাসসমূহ মেনে চলেন।6- স্মৃতিশক্তিতে দক্ষ (ضابط): তিনি হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত হাদিসসমূহ এমনভাবে আয়ত্ত করেন যে, যখনই বর্ণনা করতে চান তখনই সঠিকভাবে তা স্মরণ করতে পারেন; অথবা নিজের সেই কিতাবটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করেন যাতে তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ লিখে রেখেছেন এবং তা মুছে ফেলা, বিকৃতি (تحريف) ও নষ্ট হওয়া ইত্যাদি থেকে রক্ষা করেছেন।তাঁর স্মৃতিশক্তিতে দক্ষ (ضابط) হওয়ার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দে বা অর্থে অন্য নির্ভরযোগ্য ও স্মৃতিশক্তিতে দক্ষ (ثقات ضابطين) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তাঁর বর্ণনার মিল থাকার দ্বারা জানা যায়।7- সুনিপুণ পারদর্শী (متقن): তিনি মূলত স্মৃতিশক্তিতে দক্ষ (ضابط) ব্যক্তিই, যার আয়ত্ত করার সক্ষমতা অত্যন্ত সুদৃঢ়।8- সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য (ثبت): তিনি হচ্ছেন এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তিতে দক্ষ (ضابط) বর্ণনাকারী যিনি নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
9- الحافِظُ: هو مَنْ حَفِظَ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ مَتْناً وإِسْنَاداً عَلى رَأْيٍ.10- الْحُجَّةُ: هُوَ مَنْ أَحَاطَ عِلْمُهُ بِثَلَاثِمِأَةِ أَلْفِ حَدِيْثٍ عَلى رَأْيٍ.(ورِوَايَاتُ كُلِّ هَؤُلَاءِ صَحِيْحَةٌ مَقْبُولَةٌ إِنْ خَلَتْ أَسَانِيْدُهَا عَنِ اِنْقِطَاعٍ وشُذُوذٍ وعِلَّةٍ.11- الضَّعِيْفُ: هو الرَّاوِي الَّذِي اختَلَّ ضَبْطُهُ أَو سَقَطَتْ عَدَالَتُهُ.(ورِوَايَتُهُ ضَعِيفَةٌ مَرْدُودَةٌ إِنْ تَفَرَّدَ بِهَا، وإنْ تُوبِعَ يَنْجَبِرْ ضُعْفُهُ إِنْ كَانَ قَدْ ضُعِّفَ لِخَلَلٍ فِي ضَبْطِهِ دُونَ عَدَالَتِهِ، وإِنْ ضُعِّفَ لِعَدَالَتِهِ لَا يَنْجَبِرُ ضُعْفُهُ بِالْمُتَابَعَةِ.12- مَجْهُولُ الْعَيْنِ: ويُسَمَّى مَجْهُولَ العَدَالَةِ ظَاهِراً وبَاطِناً، وهو مَنْ لَمْ يَشْتَهِرْ بِطَلَبِ العِلْمِ فِي نَفْسِهِ، ولَا عَرَفَ العُلَمَاءُ بِه، ولَمْ يُعْرَفْ حَدِيثُهُ إلَاّ مِنْ جِهَةِ رَاوٍ وَاحِدٍ.(ورِوَايَتُهُ غَيْرُ مَقبُولَةٍ عِنْدَ الْمُحَدّثِيْنَ.13- مَجْهُولُ الحالِ: وهو مَنْ عُرِفَ عَيْنُهُ بِرِوَايَةِ اثْنَيْنِ عَنْهُ فَأَكثَرَ مِنْ مَشْهُورِيْنَ بِالعِلْمِ، ولَمْ يُوَثِّقْهُ أَحَدٌ.14- المسْتُورُ: هو مَجْهُولُ الحَالِ نَفْسُهُ، ويُسَمَّى أَيضاً مَجْهُولَ العَدَالَةِ باطِناً لَا ظَاهِراً.وحُكْمُ رِوَايَتِهِمَا الرَّدُّ أَيْضاً.15- مُتَّهَمٌ بالكِذْبِ: هو مَنْ ثَبَتَ كِذْبُهُ فِي حَدِيثِ النَّاسِ واشْتَهَرَ أَمْرُهُ بِذلِكَ. ورِوَايَتُهُ مَرْدُوْدَةٌ عَلى الإِطْلَاقِ.16- الكَذَّابُ: هو مَنْ ثَبَتَ كِذْبُهُ عَلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، سَوَاءٌ بِقَصْدٍ سيِّئٍ كَوَضْعِ الزَّناَدِقَةِ والمُبْتَدِعَةِ أَحَادِيثَ للتَّحْرِيفِ والتَّشْوِيْهِ، أو بِقَصْدٍ حَسَنٍ كَمَا نُقِلَ عَنْ بَعْضِ الصُّوفِيَّةِ وَالدُّعَاةِ وَضْعُ أَحاديثَ فِي الفَضَائِلِ.
9- হাফেজ (الحافِظُ): এক মতানুযায়ী তিনি হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি মতন (متناً) ও ইসনাদ (إِسْنَاداً) সহ এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন।10- হুজ্জাহ (الْحُجَّةُ): এক মতানুযায়ী তিনি হলেন এমন ব্যক্তি, যাঁর জ্ঞান তিন লক্ষ হাদিসকে পরিবেষ্টন করেছে।(আর তাঁদের সকলের বর্ণনা সহিহ (صَحِيْحَةٌ) ও গ্রহণযোগ্য (مَقْبُولَةٌ), যদি তাঁদের সনদসমূহ (أَسَانِيْدُهَا) বিচ্ছিন্নতা (اِنْقِطَاعٍ), অস্বাভাবিকতা (شُذُوذٍ) ও ত্রুটি (عِلَّةٍ) থেকে মুক্ত থাকে।11- দুর্বল (الضَّعِيْفُ): তিনি হলেন সেই বর্ণনাকারী যাঁর সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضَبْطُهُ) বিঘ্নিত হয়েছে অথবা যাঁর বিশ্বস্ততা (عَدَالَتُهُ) ক্ষুণ্ণ হয়েছে।(এবং তাঁর বর্ণনা দুর্বল (ضَعِيفةٌ) ও প্রত্যাখ্যাত (مَرْدُودَةٌ) যদি তিনি এটি বর্ণনায় একক হন। আর যদি সমর্থনকারী বর্ণনা (تُوبِعَ) পাওয়া যায়, তবে তাঁর দুর্বলতা দূরীভূত হয় (يَنْجَبِرْ) যদি তাঁর দুর্বলতা সংরক্ষণ ক্ষমতার ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে, বিশ্বস্ততার কারণে নয়। কিন্তু যদি তাঁর বিশ্বস্ততার (عَدَالَتُهُ) কারণে দুর্বল গণ্য করা হয়, তবে সমর্থনকারী বর্ণনা (بِالْمُتَابَعَةِ) দ্বারা তাঁর দুর্বলতা দূরীভূত হয় না।12- মাজহুলুল আইন (مَجْهُولُ الْعَيْنِ): তাঁকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে বিশ্বস্ততা অজ্ঞাত ব্যক্তিও বলা হয়। তিনি এমন ব্যক্তি যিনি জ্ঞান অন্বেষণে নিজে প্রসিদ্ধ নন, ওলামাগণ তাঁকে চেনেন না এবং মাত্র একজন বর্ণনাকারী ব্যতীত তাঁর হাদিস জানা যায় না।(মুহাদ্দিসগণের নিকট তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয় (غَيْرُ مَقبُولَةٍ)।13- মাজহুলুল হাল (مَجْهُولُ الحالِ): তিনি এমন ব্যক্তি যাঁকে জ্ঞান অর্জনে প্রসিদ্ধ এমন দুইজন বা ততোধিক ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে ব্যক্তি হিসেবে চেনা যায়, কিন্তু কোনো পারদর্শী তাকে নির্ভরযোগ্য (يُوَثِّقْهُ) বলেননি।14- মাসতুর (المسْتُورُ): তিনি মূলত মাজহুলুল হাল-ই; তাঁকে অপ্রকাশ্যভাবে বিশ্বস্ততা অজ্ঞাত কিন্তু প্রকাশ্যভাবে নয়—এমনও বলা হয়।আর তাঁদের উভয়ের বর্ণনার হুকুমও প্রত্যাখ্যান (الرَّدُّ) করা।15- মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (مُتَّهَمٌ بالكِذْبِ): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যাঁর মানুষের সাথে কথাবার্তায় মিথ্যা বলা প্রমাণিত এবং এ বিষয়ে তিনি পরিচিত। তাঁর বর্ণনা সর্বাবস্থায় প্রত্যাখ্যাত (مَرْدُوْدَةٌ)।16- চরম মিথ্যাবাদী (الكَذَّابُ): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করা প্রমাণিত হয়েছে, চাই তা অসৎ উদ্দেশ্যে হোক—যেমন জিন্দিক ও বিদআতিদের দ্বীন বিকৃতি ও কলঙ্কিত করার লক্ষ্যে হাদিস জাল করা (وَضْعُ), অথবা সৎ উদ্দেশ্যে হোক—যেমন কিছু সুফি ও দাঈদের থেকে নেক আমলের ফজিলত বর্ণনায় হাদিস জাল করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
ورِوَايَتُهُ مَرْدُودَةٌ عَلى الإِطْلَاقِ.17- الْمَتْرُوكُ: هو مَنْ سَقَطَتْ عَدَالَتُهُ بِثُبُوتِ كِذْبِهِ فِي حَدِيثِ النَّاسِ.ورِوَايَتُهُ مَرْدُودَةٌ، لا يَنْجَبِرُ ضُعْفُهَا بِالمُتَابِعَاتِ والشَّوَاهِدِ.18- الْمُبْتَدِعُ: هُوَ صَاحِبُ بِدْعَةٍ فِي الاِعْتِقَادِ أو فِي العَمَلِ.وَالبِدْعَةُ: هِيَ التَّعَبُّدُ للهِ بِمَا لَم يَشْرَعْهُ اللهُ.أو أنَّهَا اعْتِقَادٌ في عَمَلٍ مُعَيَّنٍ بِأنَّهُ شَرْعِيٌّ مِنْ حَيْثُ الشَّكْلِ وَالصُّورَةِ، وَسَبَبٌ لِلتَّقَرُّبِ إلى اللهِ وَذَرِيعَةٌ لِلأَجْرِ وَالثَّوَابِ، مَعَ أنَّ الشَّرْعَ لَمْ يَرِدْ بِتَشْرِيعِهِ صُوْرَةً، وَلَا بِإثْبَاتِهِ تَقَرُّباً وَثَوَاباً.وَهِي عَلى نَوعَيْنِ:1- مُكَفِّرَةٌ: وهِي الَّتِي تَسْتَلْزِمُ الكُفْرَ، ورِوَايَةُ صَاحِبِهَا مَرْدُوْدَةٌ عَلى الإِطْلَاقِ.2- مُفَسِّقَةٌ: وهِي الَّتِي تَسْتَلْزِمُ الفِسْقَ، ورِوَايَةُ صَاحِبِهَا مَقْبُولَةٌ بِشَرْطَيْنِ:(أنْ لَاّ يَكُونَ دَاعِياً إلى بِدْعَتِهِ.(وبِأنْ لَاّ تَكُونَ رِوَايَتُهُ مِمَّا يُؤَيِّدُ بِدْعَتَهُ.19- الْمُخْتَلِطُ: هو الَّذِي فَسَدَ نِظَامُ عَقْلِهِ بِسَبَبِ مَرَضٍ أو ضَرَرٍ أو كِبَرِ سِنٍّ ونَحْوِهَا، أو ضَاعَتْ كُتُبُهُ فَلَمْ يَقْدِرْ عَلى أَدَاءِ مَا أَرَادَ رِوَايَتَهُ عَلى وَجْهِ الصَّوَابِ.فَمَا رَوَاهُ قَبْلَ الاِخْتِلَاطِ مَقْبُولٌ إنْ كَانَ ثِقَةً، وأمَّا مَا كَانَ بَعْدَ الاِخْتِلَاطِ، وكَذَا مَا لَمْ يُتَمَيَّزْ أَهُو قَبْلَهُ أو بَعْدَهُ فَإنَّهُ لَا يُقْبَلُ.20- الوَضَّاعُ: هو الَّذِي يَخْتَلِقُ الأَحَادِيثَ عَلى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم كِذْباً وَافْتِرَاءً.ورِوَايَاتُهُ مَرْدُوْدَةٌ عَلى الإِطْلَاقِ.
এবং তার বর্ণনা সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যাত (مردودة)।১৭- পরিত্যক্ত (المتروك): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) মানুষের সাথে কথাবার্তায় মিথ্যা বলার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার কারণে লুপ্ত হয়েছে।এবং তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (مردودة), এর দুর্বলতা (ضعف) পরিপূরক বর্ণনা (المتابعات) এবং সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (الشواهد) দ্বারা দূরীভূত হয় না।১৮- বিদআতি (المبتدع): তিনি বিশ্বাসগত বা আমলগত ক্ষেত্রে বিদআতের (بدعة) অনুসারী।আর বিদআত (البدعة) হলো: আল্লাহর ইবাদত এমন পদ্ধতিতে করা যা আল্লাহ শরিয়তসম্মত করেননি।অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট আমলকে বাহ্যিক আকার ও প্রকৃতির দিক থেকে শরিয়তসম্মত বলে বিশ্বাস করা, আর একে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং সওয়াব ও প্রতিদান পাওয়ার অসিলা মনে করা; অথচ শরিয়তে উক্ত পদ্ধতিতে সেই আমলটি পালনের কোনো বিধান আসেনি এবং একে নৈকট্য লাভ বা সওয়াবের মাধ্যম হিসেবেও সাব্যস্ত করা হয়নি।আর এটি দুই প্রকার:১- কুফরি বিদআত (مكفرة): এটি সেই বিদআত যা কুফরকে (الكفر) আবশ্যক করে এবং এর অনুসারীর বর্ণনা সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যাত (مردودة)।২- ফাসেককারী বিদআত (مفَسِّقة): এটি সেই বিদআত যা ফাসেক হওয়াকে (الفسق) আবশ্যক করে এবং এর অনুসারীর বর্ণনা দুটি শর্তে গ্রহণযোগ্য (مقبولة):(১) তিনি যেন তার বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী (داعية) না হন।(২) এবং তার বর্ণিত হাদিস যেন এমন কিছু না হয় যা তার বিদআতকে (بدعة) সমর্থন করে।১৯- স্মৃতিভ্রমকারী (المختلط): তিনি এমন ব্যক্তি যার অসুস্থতা, আঘাত, বার্ধক্য বা এজাতীয় অন্য কোনো কারণে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে; অথবা তার কিতাবসমূহ হারিয়ে গিয়েছে, ফলে তিনি যা বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি।সুতরাং স্মৃতিভ্রম (الاختلاط) ঘটার পূর্বে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) যদি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হয়ে থাকেন। আর যা স্মৃতিভ্রম (الاختلاط) ঘটার পরে বর্ণনা করেছেন, এবং যেটির ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট নয় যে সেটি আগে না পরে, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।২০- মিথ্যা হাদিস রচনাকারী (الوضاع): তিনি এমন ব্যক্তি যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করে হাদিস তৈরি করেন।এবং তার বর্ণনা সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যাত (مردودة)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
فصل في أنواع الحديث المقبول 1- الصَّحِيحُ: وهُو عَلى قِسْمَينِ:(صَحِيحٌ لِذَاتِهِ: وهو الحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي اتَّصَلَ سَنَدُهُ مِنْ أَوَّلِهِ إِلى آخِرِهِ بِنَقْلِ الْعَدْلِ التَّامِّ الضَّبْطِ عَنْ مِثْلِهِ، وَلا يَكُونُ شَاذًّا ولَا مُعَلَّلاً.(صَحِيحٌ لِغَيْرِهِ: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي اتَّصَلَ سَنَدُهُ مِنْ أَوَّلِهِ إِلى آخِرِهِ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الَّذِي قَلَّ ضَبْطُهُ عَنِ الدَّرَجَةِ العُلْيَا، ولَكِنَّهُ تُوبِعَ بِطَرِيْقٍ آخَرَ مُسَاوٍ أو رَاجِحٍ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا ولَا مُعَلَّلاً.وَهُوَ دُونَ الصَّحِيْحِ لِذَاتِهِ فِي القُوَّةِ.2- الحَسَنُ: وَهُوَ عَلى قِسْمَينِ:(حَسَنٌ لِذَاتِه: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي اتَّصَلَ سَنَدُهُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الَّذِي قَلَّ ضَبْطُهُ عَنْ دَرَجَةِ الصَّحِيْحِ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا وَلَا مُعَلَّلاً.وَهُوَ أَنْزَلُ رُتْبَةً مِنَ الصَّحِيْحِ لِغَيْرِه.(حَسَنٌ لِغَيْرِه: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي ضُعِفَ رَاوِيهِ لَا بِفِسْقٍ أوْ كِذْبٍ، أوِ انْقَطَعَ سَنَدُهُ وَلكِنَّهُ انْجَبَرَ ضَعْفُهُ بِمُتَابِعٍ أو شَاهِدٍ.وَهُوَ دُونَ الحَسَنِ لِذَاتِهِ.3- الْمَحْفُوظُ: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ الأَوْثَقُ مُخَالِفاً لِرِوَايَةِ الثِّقَةِ، بِزِيَادَةٍ أو نَقْصٍ، فِي الْمَتْنِ أوِ السَّنَدِ.4- الْمَعْرُوفُ: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ الثِّقَةُ مُخَالِفاً لِمَا رَوَاهُ الضَّعِيْفُ.
পরিচ্ছেদ: গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের প্রকারভেদ সম্পর্কে 1- সহিহ (صحيح): এটি দুই প্রকার:(স্বীয় গুণেই সহিহ (صحيح لذاته): এটি সেই মুসনাদ হাদিস যার সনদ (سند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী (التام الضبط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (اتصل), যিনি নিজের অনুরূপ গুণসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তা শায (شاذًا) বা ত্রুটিযুক্ত (معللاً) নয়।(অন্যের মাধ্যমে সহিহ (صحيح لغيره): এটি সেই হাদিস যার সনদ (سند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (اتصل) হয়েছে যার স্মৃতিশক্তি উচ্চ স্তরের তুলনায় কিছুটা কম (قل ضبطه), তবে তা সমপর্যায়ের বা অধিক শক্তিশালী (راجح) অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে সমর্থিত (توبع) হয়েছে; এবং তা শায (شاذًا) বা ত্রুটিযুক্ত (معللاً) নয়।আর এটি শক্তির দিক থেকে স্বীয় গুণেই সহিহ (صحيح لذاته) অপেক্ষা নিম্নস্তরের।2- হাসান (حسن): এটি দুই প্রকার:(স্বীয় গুণেই হাসান (حسن لذاته): এটি সেই হাদিস যার সনদ (سند) এমন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (اتصل) হয়েছে যার স্মৃতিশক্তি সহিহ (صحيح)-এর স্তরের তুলনায় কিছুটা কম (قل ضبطه); এবং তা শায (شاذًا) বা ত্রুটিযুক্ত (معللاً) নয়।এটি মর্যাদার দিক থেকে অন্যের মাধ্যমে সহিহ (صحيح لغيره) অপেক্ষা নিম্নতর।(অন্যের মাধ্যমে হাসান (حسن لغيره): এটি সেই হাদিস যার বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعف راويه), তবে তার সেই দুর্বলতা পাপাচার (فسق) বা মিথ্যাচারের (كذب) কারণে নয়; অথবা যার সনদ বিচ্ছিন্ন (انقطع سنده) হয়েছে, কিন্তু তার সেই দুর্বলতা কোনো মুতাবি (متابع) বা শাহিদ (شاهد) এর মাধ্যমে পূরণ হয়েছে (انجبر)।এটি স্বীয় গুণেই হাসান (حسن لذاته) অপেক্ষা নিম্নস্তরের।3- মাহফুজ (المحفوظ): এটি সেই হাদিস যা অধিক নির্ভরযোগ্য (الأوثق) কোনো বর্ণনাকারী অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর বিপরীতে মতন (متن) বা সনদে (سند) কোনো কম-বেশি সহ বর্ণনা করেছেন।4- মারুফ (المعروف): এটি সেই হাদিস যা কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصل في أنواع الحديث المردود 1- الضَّعِيفُ: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي خَلَا عَنْ بَعْضِ صِفَاتِ الصَّحِيْحِ أَو كُلِّهَا.2- الْمُنْقَطِعُ: وَهُوَ مَا لَمْ يَتَّصِلْ سَنَدُهُ، بِأَيِّ وَجْهٍ كَانَ الاِنْقِطَاعُ.3- الْمُعْضَلُ: وَهُوَ الحَدِيثُ الَّذِي سَقَطَ مِنْ سَنَدِهِ اثْناَنِ فَصَاعِداً مِنْ أَيِّ مَوْضَعٍ كَانَ، بِشَرْطِ التَّوَالِي والتَّتَابُعِ فِي السَّاقِطِيْنَ.4- مُرْسَلُ التَّابِعِيِّ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي رَفَعَهُ التَّابِعِيُّ إِلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. كَأَنْ يَّقُولَ التَّابِعِيُّ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم.(فَإِنَّهُ ضَعِيفٌ عِنْدَ المُحَدِّثِينَ لاِحْتِمَالِ أَنْ يَكُونَ السَّاقِطُ مَعَ الصَّحَابِيِّ تَابِعِيٌّ أَو تَابِعِيَّانِ فَأَكْثَر.5-الْمُعَلَّقُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي حُذِفَ مِنْ أَوَّلِ الإِسْنَادِ بَعْضُهُ أَو كُلُّهُ.(وَالمَحْذُوفُ إِنْ كَانَ مَعْرُوفاً وَثِقَةً يُحْتَجُّ بِهِ وَإِلَاّ فَضَعِيْفٌ.6- الْمُعَنْعَنُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي يَرْوِيهِ بَعْضُ رَوَاةِ السَّنَدِ أَو كُلُّهُمْ عَمَّنْ فَوْقَهُ بِصِيْغَةِ (عَنْ) كا (عَنْ فُلَانٍ عَنْ فُلَانٍ) .(فَإِنَّهُ مَوْصُولٌ وَمَقْبُولٌ بِشَرْطِ سَلَامَةِ المُعَنْعِنِ مِنَ التَّدْلِيْسِ، وَثُبُوتِ اللِّقَاءِ بَيْنَهُمْ، وَإلَاّ فَضَعِيْفٌ وَمَرْدُوْدٌ.7- الشَّاذُ: هُوَ مَا رَوَاهُ الثِّقَةُ مُخَالِفاً لِمَا رَوَاهُ الأَوْثَقُ مِنْهُ، مَعَ عَدْمِ إِمْكَانِ الْجَمْعِ.8- الْمُنْكَرُ: هُوَ مَا رَوَاهُ الضَّعِيفُ مُخَالِفاً لِمَا رَوَاهُ مَنْ هُوَ أَوْلى مِنْهُ مِنَ الثِّقَاتِ.9- الْمُعَلَّلُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي اطُّلِعَ فِيهِ عَلى عِلَّةٍ تَقْدَحُ فِي صِحَّتِهِ، مَعَ أَنَّ ظَاهِرَهُ السَّلَامَةُ … مِنْهَا.
প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) হাদিসের প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১- দুর্বল (ضعيف): এটি এমন হাদিস যাতে সহিহ (صحيح) হাদিসের কিছু গুণাবলি বা সমস্ত গুণাবলির অভাব রয়েছে।২- বিচ্ছিন্ন (منقطع): এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন নয়, বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) যেভাবেই হোক না কেন।৩- জটিল (معضل): এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) থেকে যেকোনো স্থান থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বিলুপ্ত হয়েছে।৪- তাবেয়ির মুরসাল (مرسل): এটি এমন হাদিস যা তাবেয়ি (تابعي) সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। যেমন তাবেয়ি (تابعي) বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।"(মুহাদ্দিসগণ (محدثين) এর নিকট এটি দুর্বল (ضعيف); কারণ সাহাবি (صحابي) এর সাথে সাথে একজন বা দুজন বা তারও বেশি তাবেয়ি (تابعي) বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।৫- মুআল্লাক (معلق): এটি এমন হাদিস যার ইসনাদ (إسناد) এর শুরু থেকে কিছু অংশ বা পুরোটা বিলুপ্ত করা হয়েছে।(বিলুপ্ত বর্ণনাকারী যদি পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به) হবে, অন্যথায় তা দুর্বল (ضعيف)।৬- মুআনআন (معنعن): এটি এমন হাদিস যার সনদের (سند) বর্ণনাকারীদের কেউ বা সকলে তাদের উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী থেকে ‘আন’ (عن) শব্দযোগে বর্ণনা করেন, যেমন: (অমুক হতে (عن) অমুক)।(এটি সংযুক্ত (موصول) এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) বলে বিবেচিত হবে যদি ‘আন’ (عن) ব্যবহারকারী বর্ণনাকারী তাদলিস (تدليس) থেকে মুক্ত থাকেন এবং তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়; অন্যথায় তা দুর্বল (ضعيف) ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود)।৭- শায (شاذ): এটি এমন হাদিস যা কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (ثقة) তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করেছেন এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়।৮- মুনকার (منكر): এটি এমন হাদিস যা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী (ضعيف) নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীবর্গের (ثقات) বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেছেন।৯- মুআল্লাল (معلل): এটি এমন হাদিস যাতে এমন সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ক্ষুণ্ণ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা তা থেকে মুক্ত … মনে হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
10- الْمُضْطَرِبُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي رُوِيَ مَرَّةً عَلى وَجْهٍ وَمَرَّةً أُخْرَى عَلى وَجْهٍ آخَرَ مُخَالِفٍ لِلأَوَّلِ عَلى وَجْهِ التَّسَاوِي، وَلَمْ يُمْكِنِ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا.(مَقْبُوْلٌ إذَا دَارَ الاِضْطِرَابُ عَلى الرُّوَاةِ الثِّقَاتِ فِي السَّنَدِ، وَإِلَاّ فَضَعِيْفٌ وَمَرْدُوْدٌ.11- الْمَتْرُوكُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي لَمْ يُعْرَفْ إِلَاّ عَنْ رَاوٍ مُتَّهَمٍ بِالكِذْبِ، أَو الفِسْقِ، أَو فَاحِشِ الغَلَطِ.12- الْمُدَلَّسُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي دَلَّسَ فِيهِ الرَّاوِيُّ بِوَجْهٍ مِنْ وُجُوهِ التَّدْلِيْسِ، وَهُوَ عَلى وَجْهَيْنِ:(تَدْلِيْسُ السَنَدِ: وَهُوَ أَنْ يَّرْوِيَ الرَّاوِيُ عَمَّنْ لَقِيَهُ مَا لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْهُ مُوْهِماً سِمَاعَهُ.(تَدْلِيْسُ الشُّيُوخِ: وَهُوَ أَنْ يَّرْوِيَ عَنْ شَيْخٍ حَدِيثاً سَمِعَهُ مِنْهُ فَيُسَمِّى شَيْخَهُ بِمَا لَا يُعْرَفُ بِهِ كَيْ لَا يُعْرَفَ لِضُعْفٍ فِيهِ أَو لِصِغَرِ سِنِّهِ.13- الْمُرْسَلُ الْخَفِيُّ: هُوَ أَنْ يَّروِيَ الرَّاوِيُّ عَمَّنْ عَاصَرَهُ مَا لَمْ يَسْمَعْه مِنْهُ بِلَفْظٍ مُوْهِمٍ لِلسِّمَاعِ.14- الْمُدْرَجُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي أَدْخَلَ الرَّاوِيُّ فِي مَتْنِهِ أَلْفَاظاً لَيْسَتْ مِنْهَا مِنْ غَيْرِ بِيَانٍ.(ولَا يَجُوزُ التَّعَمُّدُ بِالإِدْرَاجِ، وَمَا أُدْرِجَ لَا يَكُونُ فِي حُكْمِ الْمَرْفُوعِ.15- الْمَوْضُوعُ: هُوَ الخَبْرُ الْمَكْذُوبُ الْمَنْسُوبُ إِلى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم افْتِرَاءً عَلَيْهِ.فَلَا يَجُوزُ عَزْوُهُ إِلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ بِيَانٍ.
১০- বিশৃঙ্খল (مضطرب): এটি এমন হাদিস যা একবার একভাবে এবং অন্যবার ভিন্নভাবে বর্ণিত হয় যা প্রথমটির বিপরীত এবং উভয় বর্ণনা সমমানের, আর উভয়ের মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব হয় না।(এটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) যদি বর্ণনার এই বৈচিত্র্য সনদের (سند) নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মাঝে হয়, অন্যথায় এটি দুর্বল (ضعيف) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود)।১১- পরিত্যক্ত (متروك): এটি এমন হাদিস যা কেবল এমন বর্ণনাকারী থেকে পরিচিত যে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب), অথবা পাপাচারী (فسق), অথবা মারাত্মক ভুলকারী (فاحش الغلط)।১২- লুক্কায়িত (مدلس): এটি এমন হাদিস যাতে বর্ণনাকারী কোনো একভাবে লুকোচুরি (تدليس) করেছেন, আর এটি দুই প্রকার:(সনদের লুকোচুরি (تدليس السند): তা হলো বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করবেন যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু তিনি তাঁর থেকে সেটি শুনেননি, তবে তা বর্ণনার সময় এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা শোনার বিভ্রম তৈরি করে।(উস্তাদদের লুকোচুরি (تدليس الشيوخ): তা হলো তিনি তাঁর উস্তাদ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন যা তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন, কিন্তু তিনি উস্তাদের এমন নাম উল্লেখ করবেন যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত নন; যাতে উস্তাদের দুর্বলতা বা কম বয়সের কারণে তাঁকে চেনা না যায়।১৩- গোপন বিচ্ছিন্ন (مرسل خفي): তা হলো বর্ণনাকারী তাঁর সমসাময়িক এমন ব্যক্তি থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা তিনি তাঁর থেকে শুনেননি, এমন শব্দের মাধ্যমে যা শোনার বিভ্রম তৈরি করে।১৪- প্রক্ষিপ্ত (مدرج): এটি এমন হাদিস যার মূল পাঠের (متن) মধ্যে বর্ণনাকারী এমন কিছু শব্দ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তার অংশ নয় এবং কোনো ব্যাখ্যাও প্রদান করেননি।(উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রক্ষেপণ (إدراج) করা বৈধ নয়, আর যা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তা মারফু (مرفوع) এর হুকুমে গণ্য হবে না।১৫- জাল (موضوع): এটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মিথ্যারোপকৃত সংবাদ (خبر) যা তাঁর প্রতি অপবাদ (افتراء) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।কাজেই স্পষ্ট বর্ণনা ব্যতীত একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা জায়েজ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فصل في أنواع الحديث الغلط 1- الْمَقْلُوبُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذِي وَقَعَ فِي مَتْنِهِ أَو فِي سَنَدِهِ تَغْيِيْرٌ بِإِبْدَالِ لَفْظٍ بِآخَرَ، أَو بِتَقْدِيْمٍ وَتَأْخِيْرٍ وَنَحْوِ ذَلِكَ.كَأَنْ يَّكُونَ الحَدِيثُ مَشْهُوراً عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِاللهِ فَيُجْعَلُ عَنْ نَافِعٍ.وَمِثَالُ القَلْبِ فِي الْمَتْنِ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ «حَتَّى لا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ» فَقَلَبَهُ الرَّاوِيُّ إِلى «حَتىَّ لا تَعْلَمَ يَمِينُهُ مَا تُنْفِقُ شِمَالُهُ» .2- الْمُصَحَّفُ: هُوَ الحَدِيثُ الَّذي وَقَعَ الْخَطَأُ فِي نُقَطِ حُرُوفِ مَتْنِهِ كَتَصْحِيْفِ أَبِي بَكْرِ الصُّولِيِّ كَلِمَةَ (سِتًّا) إِلى (شَيْئاً) فِي حَدِيثِ «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَأَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَال» .وكَتَصْحِيْفِ ابْنِ لَهِيْعَةَ كَلِمَةَ (احْتَجَرَ) إِلى كَلِمَةِ (احْتَجَمَ) فِي حَدِيثِ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَرَ فِي الْمَسْجِدِ» .أَو فِي سَنَدِهِ كَتَصْحِيْفِ يَحْيى ابْنِ مَعِيْنٍ العَوَّامَ بْنَ مُرَاجِمٍ إلى مُزَاحِمٍ.3- المْحُرَّفُ: هُوَ مَا كَانَ فِيهِ التَّغْيِيْرُ فِي الشَّكْلِ وَالإِعْرَابِ كَتَحْرِيْفِ كُلَابٍ إِلى كِلَابٍ، وَجُنَاحٍ إِلى جَنَاحٍ.(ويَجِبُ في كُلِّ ذَلِكَ رَدُّهُ إِلى الأَصْلِ الثَّابِتِ الصَّحِيْحِ، ثُمَّ يُعْمَلُ بِهِ إِنْ كَانَ صَحِيْحاً أَو حَسَناً.
ভুল হাদিসের প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১- পরিবর্তিত (المقلوب): এটি এমন হাদিস যার মূলপাঠ (متن) অথবা সনদে (سند) একটি শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ প্রতিস্থাপন করে, অথবা আগে-পিছে করার মাধ্যমে কিংবা এই জাতীয় কোনো উপায়ে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।যেমন হাদিসটি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত হওয়া প্রসিদ্ধ, কিন্তু সেটিকে নাফে-এর সূত্রে বর্ণিত বলে চালিয়ে দেওয়া।আর মূলপাঠে (متن) পরিবর্তনের উদাহরণ হলো আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: «যাতে তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে না পারে», কিন্তু বর্ণনাকারী একে উল্টে দিয়ে বর্ণনা করেছেন: «যাতে তার বাম হাত যা দান করে ডান হাত তা জানতে না পারে»।২- বর্ণবিকৃত (المصحف): এটি এমন হাদিস যার মূলপাঠের (متن) বর্ণগুলোর নুকতা বা বিন্দুতে ভুল সংঘটিত হয়েছে; যেমন আবু বকর আস-সুলী «যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এর সাথে শাওয়ালের ছয়টি (ستاً) রোজা রাখল» হাদিসে 'ছয়' (ستاً) শব্দটিকে 'কিছু' (شيئاً) শব্দে বিকৃত করেছেন।এবং যেমন ইবনে লাহিয়া «নবী (সা.) মসজিদে একটি কক্ষ তৈরি (احْتَجَرَ) করেছিলেন» হাদিসে 'কক্ষ তৈরি' (احْتَجَرَ) শব্দটিকে 'শিঙা লাগানো' (احْتَجَمَ) শব্দে বিকৃত করেছেন।অথবা সনদে (سند) বিকৃতি হওয়া; যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন কর্তৃক 'আওয়াম ইবনে মুরাজিম'-কে 'মুজাহিম' রূপে পড়া।৩- স্বরবিকৃত (المحرف): এটি হলো যাতে শব্দের স্বরচিহ্ন (হরকত) ও ব্যাকরণগত কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটে; যেমন 'কুলাব' শব্দকে 'কিলাব' হিসেবে বিকৃত করা, অথবা 'জুনাহ' শব্দকে 'জানাহ' হিসেবে বিকৃত করা।(এই সব ক্ষেত্রে বর্ণনাটিকে সুনিশ্চিত (ثابت) ও বিশুদ্ধ (صحيح) মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া ওয়াজিব। অতঃপর সেটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) অথবা উত্তম (حسن) হয়, তবে তার ওপর আমল করা হবে।)
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصلفي أنواع الحديث من حيث عدد الرواة قَسَّمُوهُ بِهَذَا الاِعْتِبَارِ إلى قِسْمَيْنِ رَئِيْسِيَيْنِ:1- الْمُتَوَاتِرُ: وَاخْتَلَفُوا فِي تَعْرِيْفِهِ عَلَى رَأْيَيْنِ:الأَوَّلُ: هُوَ الاِعْتِبَارُ بِعَدَدٍ مُعَيَّنٍ مِنَ الرُّوَاةِ في تَعْرِيْفِهِ كَحَدٍ فَاصِلٍ بَيْنَ الْمُتَوَاتِرِ وَغَيْرِهِ، فَجَعَلَهُ بَعْضُهُمْ خَمْسَةً، وَبَعْضُهُمْ سَبْعَةً، وَبَعْضُهُمْ عَشَرَةً، وَبَعْضُهُمْ اثْنَيْ عَشَرَةَ، وَبَعْضُهُمْ عِشْرِيْنَ، وَبَعْضُهُمْ أَرْبَعِيْنَ، وَبَعْضُهُمْ سَبْعِيْنَ، وَبَعْضُهُمْ ثَلَثَ مِائَةِ وَّبِضْعَةَ عَشَرَةَ، وَبَعْضُهُمْ أَرْبَعَ عَشَرَةَ مِائَةً، وَبَعْضُهُمْ خَمْسَ عَشَرَةَ مِائَةً، وَبَعْضُهُمْ سَبْعَ عَشَرَةَ مِائَةً، وَبَعْضُهُمْ مَا لَا يَحْوِيْهِمْ بَلَدٌ، وَبَعْضُهُمْ جَمِيْعَ الأُمَّةِ كَالإِجْمَاعِ، وَغَيْرِ ذلِكَ مِنَ الأَقْوَالِ الكَثِيْرَةِ الْمُضْطَرِبَةِ وَالفَاسِدَةِ.وَالثَّانِي: هُوَ الاِعْتِبَارُ بِحُصُولِ الْعِلْمِ وَالْيَقِيْنِ؛ فَكُلُّ مَا أَفَادَ الْيَقِيْنَ فَهُوَ مُتَوَاتِرٌ عِنْدَهُمْ، سَوَاءٌ أَحَصَلَ الْعِلْمُ لِكَثْرَةِ عَدَدٍ أَمْ لِصِفَاتِ الضَّبْطِ وَالإِتْقَانِ وَالْعَدَالَةِ؛ إِذِ الصِّفَاتُ عِنْدَهُمْ تَقُومُ مَقَامَ الْعَدَدِ مِنَ الرُّوَاةِ.وَهذَا اخْتِيَارُ شَيْخِ الإِسْلَامِ ابْنِ تَيْمِيَّة وَإِمَامِ الْحَرَمَيْنِ وَابْنِ الأَثِيْرِ وَغَيْرِهِمْ.وَقَالَ الشُّوكَانِيُّ: وَهذَا قَولُ الْجُمْهُورِ.2- خَبَرُ الوَاحِدِ: وَهُوَ مُقَابِلُ الْمُتَوَاتِرِ؛ فَتَعْرِيْفُهُ عَلَى الرَّأْيِ الأَوَّلِ: مَا قَلَّ عَدَدُهُ عَن أَعْدَادِ التَّوَاتُرِ الْمَذْكُورَةِ.وَأَقْسَامُهُ ثَلَاثَةٌ:(الْمَشْهُورُ: وَهُوَ مَا رَوَاهُ ثَلَاثَةٌ فَأَكْثَر، حَيْثُ لَمْ يَبْلُغْ أَحَدَ أَعْدَادِ الْمُتَوَاتِرِ الْمَذْكُورَةِ.(الْعَزِيْزُ: وَهُوَ مَا لَمْ يَقِلَّ عَدَدُ رُوَاتِهِ عَنِ اثْنَيْنِ، وَإنْ زَادَ عَنْهُ فِي بَعْضِ الطِّبَاقِ.
পরিচ্ছেদবর্ণনাকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে হাদিসের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে এই বিবেচনায় তাঁরা হাদিসকে প্রধান দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:১- মুতাওয়াতির (المتواتر): এর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে তাঁরা দুটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন:প্রথমটি: এর সংজ্ঞায় বর্ণনাকারীদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বিবেচনা করা, যা মুতাওয়াতির (المتواتر) এবং এর বাইরের হাদিসগুলোর মধ্যে পার্থক্যকারী সীমারেখা হিসেবে কাজ করবে। কেউ কেউ এই সংখ্যাকে পাঁচ নির্ধারণ করেছেন, কেউ সাত, কেউ দশ, কেউ বারো, কেউ বিশ, কেউ চল্লিশ, কেউ সত্তর, কেউ তিনশ দশের কিছু বেশি, কেউ চৌদ্দশ, কেউ পনেরশ, কেউ সতেরশ, কেউ এমন সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন যা কোনো শহর ধারণ করতে পারে না, আবার কেউ ইজমার (الإجماع) ন্যায় পুরো উম্মতকেই বিবেচনা করেছেন। এ ছাড়াও আরও অনেক মতামত রয়েছে যা সংখ্যায় অধিক এবং অসংলগ্ন ও ত্রুটিপূর্ণ।দ্বিতীয়টি: এর বিবেচনা হলো নিশ্চিত জ্ঞান ও ধ্রুব বিশ্বাস অর্জনের ওপর; সুতরাং যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, তাঁদের নিকট সেটিই মুতাওয়াতির (المتواتر), চাই সেই জ্ঞান বর্ণনাকারীর আধিক্যের কারণে অর্জিত হোক কিংবা তাঁদের সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط), নিপুণতা (الإتقان) ও ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) গুণাবলির কারণে হোক; কেননা গুণাবলি তাঁদের নিকট বর্ণনাকারীর সংখ্যার স্থলাভিষিক্ত হয়।আর এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইমামুল হারামাইন, ইবনুল আসীর এবং অন্যদের মনোনীত মত।শাওকানী বলেন: এটিই অধিকাংশ (الجمهور) আলেমের মত।২- একক খবর (خبر الواحد): এটি মুতাওয়াতির (المتواتر) এর বিপরীত; প্রথম মতানুসারে এর সংজ্ঞা হলো: যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা উল্লিখিত মুতাওয়াতির (المتواتر) এর নির্ধারিত সংখ্যা অপেক্ষা কম।এর প্রকারভেদ তিনটি:(প্রসিদ্ধ (المشهور): এটি এমন হাদিস যা তিন বা ততোধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যেখানে তা উল্লিখিত মুতাওয়াতির (المتواتر) এর কোনো সংখ্যায় পৌঁছায়নি।(আজিজ (العزيز): যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা দুইজনের কম নয়, যদিও কোনো কোনো স্তরে (الطباق) তা দুইয়ের অধিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(الْغَرِيْبُ: وَهُوَ الَّذِي يَنْفَرِدُ بِهِ شَخْصٌ وَاحِدٌ فِي جَمِيْعِ طِبَاقِ السَّنَدِ أَوْ بَعْضِهَا.وَعَلى الثَّانِي: مَا أَفَادَ الظَّنَ.قُلْتُ: الأَصْلُ الثَّابِتُ الصَّحِيْحُ فِي قُبُولِ الأَخْبَارِ وَالَّذِي نَزَلَ بِهِ الشَّرْعُ وَاسْتَقَرَّ عَلَيْهِ الأَمْرُ عِنْدَ أَصْحَابِ العُقُولِ الصَّحِيْحَةِ وَالْفِطْرَةِ السَّلِيْمَةِ، هُوَ السُّكُونُ وَالطُّمْأَنِيْنَةُ وَالْقَطْعُ بِأَخْبَارِ الثقات الْمَعْرُوفِيْنَ عِنْدَهُمْ بِالصِّدْقِ والأَمَانَةِ وَالاِعْتِدَالِ، مِنْ غَيْرِ تَكَلُّفٍ بِإِثَارَةِ الظُّنُونِ وَالوَسَاوِسِ حَوْلَهَا بِحُجَّةِ تَجْوِيْزِ الْعَقْلِ لأَنْوَاعٍ مِنَ الاِحْتِمَالِ، إِلَاّ فِي مُلَابِسَاتٍ مُعَيَّنَةٍ وَظُرُوفٍ خَاصَّةٍ بِالْخَبْرِ تَدُلُّ عَلَى خِلَافِ ذلِكَ، فَحِيْنَئِذٍ كَانُوْا يَلْجَئُوْنَ إِلَى التَّثَبُّتِ بِوَسَائِلَ أُخْرَى.أَمَّا تَقْسِيْمُ الأَخْبَارِ إِلى تَوَاتُرٍ وَآحَادٍ ثُمَّ تَعْلِيْقُ إِفَادَةِ الْقَطْعِ وَاليَقِيْنِ كُلِّهِ مَعَ الْمُتَوَاتِرِ وَالظَّنِ كُلِّهِ مَعَ الآحَادِ فَلَيْسَ أَصْلاً مِنْ أُصُولِ الْمُسْلِمِيْنَ.وَإنَّمَا هِيَ أَقْسَامٌ وَتَقْسِيْمَاتٌ وَمُقَدِّمَاتٌ وَنَتَائِجُ تَكَلَّمَ فِيْهَا مَنَاطِقَةُ اليُونَانِ أَوَّلاً، وَتَأَثَّرَ بِهَا فِيْمَا بَعْدَ ذلِكَ الْمُتَكَلِّمُونَ وَالفُقَهَاءُ وَالأُصُولِيُّونَ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ الَّذِيْنَ دَرَسُوا كُتَبَ الْمَنْطِقِ وَالْفَلْسَفَةِ اليُونَانِيَّةِ فَتَكَلَّمُوا بِلِسَانِهَا وَسَلَّمُوا لِنَتَائِجِهَا وَتَمَسَّكُوا بِكُلَّيَاتِهَا وَجُزْئِيَّاتِهَا تَمَسُّكَ الْمُقَلِّدِ الأَعْمَى.ثُمَّ حُكَمَاءُ اليُونَانِ إِذْ قَسَمُوا أَخْبَارَهُمْ إِلى تَوَاتُرٍ وَآحَادٍ وَحَكَمُوا بِالْقَطْعِ لِلْمُتَوَاتِرِ وَالظَّنِّ لِلآحَادِ كَانُوا عَلَى نَوْعِ مِنَ الْمَعْقُولِيَّةِ، حَيْثُ أَنَّ مُجْتَمَعَهُمْ عَلى فَسَادٍ فِي الْعَقِيْدَةِ، وَانْهِيَارٍ فِي الْخُلُقِ وَالسُّلُوكِ، وَدِمَارٍ لِلْقِيَمِ الإِنْسَانِيَّةِ، وَمُقْتَضِيَّاتِ التَّثَبُّتِ وَالصِّدْقِ وَالأَمَانَةِ فِي الأَخْبَارِ وَغَيْرِهَا.وَهُمْ مَعَ ذلِكَ حَكَمُوا عَلى أَخْبَارِ آحَادِهِمْ بِالظَّنِّ، وَكَانَ الْحَقُّ يَعْنِي أَنْ يُحْكَمَ عَلى أَخْبَارِ أَمْثَالِ هؤُلاء بِالشَّكِّ لَا بِالظَّنِّ.
গারিিব (الغريب): তা হলো এমন বর্ণনা যাতে সনদ বা বর্ণনাসূত্রের (السند) সমস্ত স্তরে অথবা কোনো কোনো স্তরে মাত্র একজন ব্যক্তি একক থাকেন।এবং দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে: যা ধারণা (الظن) প্রদান করে।আমি বলি: সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সঠিক নীতি, যা শরিয়ত নিয়ে এসেছে এবং সুস্থ বিবেক ও নির্মল স্বভাবের অধিকারীদের নিকট যা নির্ধারিত হয়েছে, তা হলো সেই সমস্ত নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের সংবাদের ওপর স্থির থাকা, প্রশান্তি লাভ করা এবং দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা, যারা তাদের নিকট সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের জন্য সুপরিচিত। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাব্যতার অজুহাতে কোনো প্রকার ধারণা (الظن) বা সংশয় তৈরির কৃত্রিম প্রচেষ্টা চালানো যাবে না। তবে সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতি যদি এর বিপরীত ইঙ্গিত দেয়, কেবল তখনই তারা অন্যান্য উপায়ে যাচাই (التثبت) করার আশ্রয় নিতেন।পক্ষান্তরে সংবাদসমূহকে মুতাওয়াতির (تواتر) এবং আহাদ (آحاد) ভাগে বিভক্ত করা, এরপর মুতাওয়াতির (المتواتر) এর সাথে নিশ্চিত ও চূড়ান্ত জ্ঞানকে এবং আহাদ (الآحاد) এর সাথে সম্পূর্ণভাবে ধারণাকে (الظن) সম্পৃক্ত করা মুসলমানদের কোনো মৌলিক মূলনীতি নয়।বরং এগুলো হলো গ্রিক যুক্তিবিদদের উদ্ভাবিত কিছু বিভাগ, উপবিভাগ, ভূমিকা এবং ফলাফল; যারা এগুলো নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেছিল। পরবর্তীতে মুসলমানদের মধ্য থেকে সেই সমস্ত মুতাকাল্লিম, ফকিহ এবং উসুলবিদগণ এতে প্রভাবিত হয়েছিলেন যারা গ্রিক যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছেন। ফলে তারা তাদের ভাষায় কথা বলেছেন, তাদের সিদ্ধান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তাদের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়কে অন্ধ অনুসারীর মতো আঁকড়ে ধরেছেন।গ্রিক দার্শনিকগণ যখন তাদের সংবাদগুলোকে মুতাওয়াতির (تواتر) ও আহাদ (آحاد) ভাগে ভাগ করেছিলেন এবং মুতাওয়াতির (المتواتر) সংবাদের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞান ও আহাদ (الآحاد) সংবাদের ক্ষেত্রে ধারণার (الظن) বিধান দিয়েছিলেন, তখন তারা এক প্রকার যৌক্তিক অবস্থানেই ছিলেন। কারণ তাদের সমাজ ছিল আকিদাগত বিভ্রান্তি, চারিত্রিক ও আচরণগত অবক্ষয় এবং মানবিক মূল্যবোধের ধ্বংসলীলায় নিমজ্জিত; যেখানে সংবাদের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও সততা রক্ষার আবশ্যকতা বলতে কিছু ছিল না।তা সত্ত্বেও তারা তাদের আহাদ (آحاد) সংবাদগুলোর ক্ষেত্রে ধারণার (الظن) হুকুম দিয়েছিলেন, অথচ বাস্তবতা হলো এ জাতীয় লোকদের সংবাদের ক্ষেত্রে ধারণার পরিবর্তে বরং সন্দেহের (الشك) হুকুম প্রয়োগ করাই ছিল সমীচীন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَمَّا فَلَاسِفَةُ الإِسْلَامِ وَحُكَمَاءُ الأُصُولِ إِذْ حَكَمُوا عَلى أَخْبَارِ رُوَاةِ الْحَدِيْثِ النَّبَوِيِّ الشَّرِيْفِ الَّذِيْنَ هُمْ زُبْدَةُ الْمُجْتَمَعِ الإِسْلَامِيِّ وَالَّذِيْنَ هُمْ عَلى غَايَةِ مِّنَ الْعَدَالَةِ وَالتُّقَى، وَعَلى ذِرْوَةِ مِّنَ الحِفْظِ وَالإِتْقَانِ وَالتَّيَقُّظِ وَالذَّكَاءِ، وَعَلى قِمَّةِ مِّنَ الأَمَانَةِ وَالصِّدْقِ وَالصَّفَاءِ بِنَفْسِ حُكْمِ الْمُجْتَمَعِ الْفَاسِدِ وَهُوَ الظَّنُّ، لَمْ يُنْصِفُوا مَعَ الْعِلْمِ وَالْمَعْرِفَةِ وَالْحَقِّ وَالتَّحْقِيْقِ.بَلْ فِي قَوْلِهِمْ بِالتَّسْوِيَةِ بَيْنَ الْخَبَرَيْنِ - أَعْنِي بَيْنَ خَبَرِ الْمُجْتَمَعِ الْفَاسِقِ وَالْفَاسِدِ وَبَيْنَ خَبَرِ رُوَاةِ الْحَدِيْثِ الأَتْقِيَاءِ العُدُولِ - إِهْدَارٌ لِلْقِيَمِ الإِسْلَامِيَّةِ السَّامِيَةِ وَالنَّبِيْلَةِ كُلِّهَا فِي مَرَّةٍ وَاحِدَةٍ، وَهذَا وَاللهِ جَوْرٌ كَبِيْرٌ وَظُلْمٌ عَظِيْمٌ يَا أَخَوَانِي الْمُسْلِمِيْنَ.
বস্তুত ইসলামের দার্শনিক এবং উসুল শাস্ত্রের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ যখন সম্মানিত নববী হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) সংবাদের (خبر) ওপর—যারা ইসলামি সমাজের সারনির্যাস এবং যারা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও খোদাভীতির চূড়ান্ত পর্যায়ে, মুখস্থশক্তি (حفظ), নিপুণতা (إتقان), সতর্কতা ও মেধার শীর্ষে এবং আমানতদারি, সততা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত—একটি কলুষিত সমাজের ন্যায় কেবল 'ধারণা' (ظن) প্রসূত হুকুম প্রদান করেছেন, তখন তারা জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার প্রতি সুবিচার করেননি।বরং উভয় সংবাদের (خبر) মধ্যে সমতা বিধানের দাবির মাধ্যমে—অর্থাৎ পাপাচারী (فاسق) ও কলুষিত সমাজের সংবাদ (خبر) এবং মুত্তাকী ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) সংবাদের (خبر) মধ্যে সমতা করা—একযোগে সমস্ত সুমহান ও মহৎ ইসলামি মূল্যবোধকে বিসর্জন দেওয়ার নামান্তর। হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা! আল্লাহর কসম, এটি একটি বড় অবিচার এবং চরম জুলুম।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل في أنواع التحمل وصيغ الأداء 1- السِّمَاعُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ: وَهُوَ أَنْ يَّقْرَأَ الشَّيْخُ مَرْوِيَّاتِهِ عَلى الطَّلَبَةِ مِنْ حِفْظِهِ أَو مِنْ كِتَابِهِ لِيَحْفَظُوهَا أَو لِيَكْتُبُوهَا اسْتِعْدَاداً لِرِوَايَتِهَا عَنْ الشَّيْخِ بِسَنَدِهِ.وَهُوَ أَعْلى طُرُقِ تَحَمُّلِ الحَدِيثِ عَنْ الْمَشَايِخِ عِنْدَ الْجُمْهُورِ.وَيَجُوزُ لِلطَّالِبِ أَنْ يَّقُولَ: «حَدَّثَنَا وحَدَّثَنِي، أَو أَخْبَرَنَا وأَخْبَرَنِي، أَو أَنْبَأَنَا وأَنْبَأَنِي» حِينَ رِوَايَتِهِ مَا سَمِعَهُ عَنِ الشَّيْخِ الْمَذْكُورِ. إِلَاّ أَنَّ الأَحْوَطَ أَنْ يَّقُولَ «سَمِعْتُ» .2- الْقِرَاءَةُ عَلى الشَّيْخِ: وَهُوَ أَنْ يَقْرَأَ الطَّالِبُ الأَحَادِيثَ الَّتِي هِيَ مِنْ مَرْوِيَّاتِ الشَّيْخِ عَلى الشَّيْخِ وَهُوَ يَسْمَعُ.وَالأَحْوَطُ أنْ يَّقُولَ الطَّالِبُ حِينِ أدَاءِ مَا تَحَمَّلَهُ عَنِ الشَّيْخِ فِي هذِهِ الحَالَةِ: قَرَأتُ عَلى فُلَانٍ إنْ قَرَاَهُ هُوَ عَلى الشَّيْخِ، أو قُرِئَ عَلَيْه وَأنَا أَسْمَعُ إنْ قَرَأَ عَلَيهِ غَيْرُهُ، وَكَثِيرٌ مِنَ المُحَدِّثِينَ يُعَبِّرُونَ عَنْهَا بِكَلِمَةِ أخْبَرَنَا أو أخْبَرَنِي.3- الإجَازَةُ: وَهِيَ الإذْنُ بِالرِّوَايَةِ، كَأَنْ يَّقُولَ الشَّيْخُ لِطُلَاّبِهِ أجَزْتُ لَكُم أنْ تَرَوَوْا عَنِّي صَحِيْحَ البُخَارِي مَثَلاً، أو جَمِيْعَ مَسْمُوعَاتِي.والصَّحِيْحُ الَّذِي عَلَيْه الجُمْهُورُ جَوَازُ الرِّوَايَةِ والعَمَلُ بِهَا.والأولى أنْ يَّقُولَ الْمُجَازُ لَهُ حِيْنَ أَدَاءِ مَا أُجِيْزَ لَهُ: أَجَازَ لِي فُلَانٌ. ويَجُوزُ لَه أنْ يَّقُولَ: حَدَّثَنِي أو أخْبَرَنِي فُلَانٌ إجَازَةً. وَاصْطِلَاحُ الْمُتَأخِّرِينَ أنْ يَّقُولَ: أنْبَأنَا أو أنْبَأنِي.4- الْمُنَاوَلَةُ: وَهِيَ أنْ يَّدْفَعَ الشَّيْخُ كِتَابَهُ إلى الطَّالِبِ وَيَقُولَ لَهُ: هَذَا رِوَايَتِي عَنْ فُلَانٍ فَارْوِهِ عَنِّي.وَهِيَ طَرِيقَةٌ صَحِيحَةٌ لِلتَّحَمُّلِ.
পরিচ্ছেদ: হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও প্রদানের (أداء) পদ্ধতিসমূহ ১- শায়খের কণ্ঠ থেকে শ্রবণ (سماع): এটি হলো শায়খ তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে অথবা তাঁর কিতাব থেকে ছাত্রদের সামনে তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো পাঠ করবেন, যাতে তারা তা মুখস্থ করতে পারে অথবা শায়খের সনদ (سند) সহ তা বর্ণনা করার প্রস্তুতি হিসেবে লিখে নিতে পারে।জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে এটি শায়খদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণের (تحمل) সর্বোচ্চ পদ্ধতি।শিক্ষার্থীর জন্য জায়েজ (يجوز) যে, সে উক্ত শায়খের কাছ থেকে যা শুনেছে তা বর্ণনা করার সময় বলবে: «হদ্দাসানা (حَدَّثَنَا) এবং হদ্দাসানি (حَدَّثَنِي), অথবা আখবারানা (أَخْبَرَنَا) এবং আখবারানি (أَخْبَرَنِي), অথবা আম্বাআনা (أَنْبَأَنَا) এবং আম্বাআনি (أَنْبَأَنِي)»। তবে সতর্কতা হিসেবে «সামিআতু (سَمِعْتُ)» (আমি শুনেছি) বলা অধিকতর উত্তম।২- শায়খের নিকট পাঠ করা (قراءة): এটি হলো ছাত্র শায়খের বর্ণিত হাদিসগুলো তাঁর সামনে পাঠ করবে এবং শায়খ তা শ্রবণ করবেন।এক্ষেত্রে ছাত্র শায়খের কাছ থেকে যা গ্রহণ (تحمل) করেছে তা প্রদানের (أداء) সময় সতর্কতা হিসেবে বলবে: 'আমি অমুকের নিকট পাঠ করেছি' (قَرَأتُ عَلى فُلَانٍ) - যদি সে নিজেই শায়খের নিকট পাঠ করে থাকে; অথবা বলবে: 'তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম' (قُرِئَ عَلَيْه وَأنَا أَسْمَعُ) - যদি অন্য কেউ তাঁর নিকট পাঠ করে থাকে। অনেক মুহাদ্দিস (محدث) একে 'আখবারানা' বা 'আখবারানি' শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন।৩- অনুমতি প্রদান (إجازة): এটি হলো বর্ণনার অনুমতি দেওয়া; যেমন শায়খ তাঁর ছাত্রদের বললেন: "আমি তোমাদের অনুমতি দিলাম যেন তোমরা আমার পক্ষ থেকে উদাহরণস্বরূপ Sahih Bukhari অথবা আমার শ্রুত সকল হাদিস বর্ণনা করো।"জমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরামের নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী এর মাধ্যমে বর্ণনা করা ও তার ওপর আমল করা বৈধ (جواز)।যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে যা বর্ণনা করার অনুমতি (إجازة) পেয়েছে তা প্রদানের (أداء) সময় বলবে: 'অমুক আমাকে অনুমতি দিয়েছেন' (أَجَازَ لِي فُلَانٌ)। তার জন্য এটি বলাও জায়েজ (يجوز): 'অমুক আমাকে অনুমতিক্রমে (إجَازَةً) বর্ণনা করেছেন বা সংবাদ দিয়েছেন'। আর পরবর্তী যুগের (متأخرين) মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা হলো 'আম্বাআনা' বা 'আম্বাআনি' বলা।৪- হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রদান (مناولة): এটি হলো শায়খ তাঁর কিতাব ছাত্রের হাতে অর্পণ করবেন এবং তাকে বলবেন: "এটি অমুকের সূত্রে আমার বর্ণনা, সুতরাং তুমি আমার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করো।"এটি হাদিস গ্রহণের (تحمل) একটি সঠিক (صحيح) পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والأفْضَلُ فِي أدَائِهَا أنْ يَّقُولَ: نَاوَلَنِي وَأجَازَ لِي. ويَجُوزُ لَهُ أنْ يَّقُولَ: حَدَّثَنِي مُنَاوَلَةً، أو أخْبَرَنِي مُنَاوَلَةً وإجَازَةً.5- الكِتَابَةُ: وَهِيَ أنْ يَكْتُبَ الشَّيْخُ مَسْمُوعَهُ لأحَدٍ بِخَطِّهِ أو بِأمْرِهِ، ويُجِيْزَ لَهُ رِوَايَةَ مَا كَتَبَهُ إلَيْهِ.وَالرِّوَايَةُ بِهَا أيْضاً صَحِيْحَةٌ، وَألْفَاظُ أدَائِهَا: كَتَبَ إليَّ فُلانٌ، أو حَدَّثَنِي فُلانٌ كِتَابَةً، أو أَخْبَرَنِي فُلانٌ كِتَابَةً.
এবং এটি আদায়ের (أداء) ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো এই বলা যে: "তিনি আমাকে সরাসরি প্রদান করেছেন (ناولني) এবং আমার প্রতি অনুমতি প্রদান করেছেন (أجاز لي)"। আর বর্ণনাকারীর জন্য এটি বলাও জায়েজ যে: "তিনি আমাকে সরাসরি প্রদানের (مناولة) মাধ্যমে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني)", অথবা "তিনি আমাকে সরাসরি প্রদান (مناولة) ও অনুমতির (إجازة) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)"।৫- লিখন (الكتابة): এটি হলো শায়খ বা শিক্ষক তার শ্রুত বিষয়সমূহ কারো জন্য নিজ হাতে অথবা তার নির্দেশে লিখে দেবেন এবং তিনি তার কাছে যা লিখেছেন তা বর্ণনা করার জন্য তাকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করবেন।এর মাধ্যমে বর্ণনা করাও বিশুদ্ধ (صحيحة), এবং এর আদায়ের (أداء) শব্দাবলি হলো: "অমুক ব্যক্তি আমার নিকট লিখেছেন", অথবা "অমুক ব্যক্তি আমাকে লিখিতভাবে (كتابة) হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني)", অথবা "অমুক ব্যক্তি আমাকে লিখিতভাবে (كتابة) সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)"।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فصل في أسباب التوثيق للرواة وَالتَّوْثِيْقُ: هُوَ وَصْفُ الرَّاوِيِّ بِمَا يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ ضَبْطِهِ وَاسْتِقَامَةِ عَدَالَتِهِ.وَالعَدَالَةُ تَثْبُتُ لأُمُوْرٍ تَالِيَةٍ:1- الإسْلَامُ: بِأنْ يَّكُونَ الرَّاوِيُّ مُؤمِناً صَادِقاً غَيْرَ مُنَافِقٍ وَمُشْرِكٍ أو كَافِرٍ أو مُكَفَّرٍ بِسُوء اعْتِقَادٍ أوْ عَمَلٍ.2- الْعَقْلُ: بِأَنْ لَاّ يَكُونَ مَجْنُوناً مَعْتُوهاً.3- الْبُلُوغُ: بِأنْ لَاّ يَكُونَ صَبِياًّ غَيْرَ مُمَيِّزٍ.4- الصِّدْقُ: بِأنْ يَكُونَ صَادِقَ اللَّهْجَةِ أَمِيْناً، وَلا يَكُونُ كَاذِباً، لا فِي حَدِيْثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَلا فِي حَدِيْثِ النَّاسِ. … 5- التَّقْوَى: أنْ يَّكُونَ وَرِعاً مُلْتَزِماً، مُتَأَدِّباً بِمَحَاسِنِ الأَخْلَاقِ وَجَمِيْلِ العَادَاتِ، وَلَا يَكُوْنَ فاَسِقاً مُجَاهِراً بِالكبَائِرِ أو مُصِرًّا عَلَى الصَّغَائِرِ، وَلا مُتَهَاوِناً بِالوَاجِبَاتِ وَالفَرَائِضِ.6- الشُّهْرَةُ: بِأنْ يَّكُونَ مَعْرُوفَ الطَّلَبِ وَالرِّوَايَةِ، لَهُ مَشَايِخُ ثِقَاتٌ وَثَّقُوهُ، وَتَلامِذَةٌ مَعْرُوفُوْنَ رَوَوْا عَنْهُ، فَلَا يَكُونُ مَجْهُولاً لا عَيْناً وَلا حَالاً.(وَمَا تَثْبُتُ بِهِ صِحَّةُ ضَبْطِهِ هُوَ:1- أنْ يَّرْوِيَ مَرْوِيَّاتِهِ عَلَى وَجْهٍ صَحِيْحٍ، وَأنْ لَاّ يَغْلَطَ فِيْهَا غَلَطاً كَثِيْراً.2- أنْ يَّكُونَ حِفْظُهُ قَوِياًّ، فَيُتْقِنُ مَا يَحْفَظُهُ حَتَّى يُؤَدِّيَهَا عَلَى وَجْهِ الصَّوَابِ.3- أنْ يَّكُونَ يَقِظًا نَبِيْهًا عِنْدَ التَّحَمُّلِ، غَيْرَ مُغَفَّلٍ، وَغَيْرَ مَشْغُولِ البَالِ بِأمْرٍ آخَرَ وَقْتَ السِّمَاعِ فِي مجْلِسِ الشَّيْخِ.4- أنْ يُّحَدِّثَ مِنْ أَصْلٍ مُقَابَلٍ صَحِيْحٍ، وَلا يَرْوِيَ مِنْ نُسَخٍ غَيْرَ مُصَحَّحَةٍ.5- أنْ لَاّ يَكُونَ رِوَايَتُهُ مُخَالِفَةً لِرِوَايَاتِ الثِّقَاتِ إلَاّ نَادِراً.
রাবিদের নির্ভরযোগ্য (توثيق) সাব্যস্ত করার কারণসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ নির্ভরযোগ্য (توثيق) সাব্যস্ত করা হলো: রাবি বা বর্ণনাকারীকে এমন গুণাবলীতে ভূষিত করা যা তার সংরক্ষণ দক্ষতার সঠিকতা (ضبط) এবং তার সততার (عدالة) দৃঢ়তা নির্দেশ করে।আর সততা (عدالة) নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়:1- ইসলাম: রাবিকে একজন সত্যনিষ্ঠ মুমিন হতে হবে; তিনি মুনাফিক, মুশরিক বা কাফির হবেন না এবং ভ্রান্ত বিশ্বাস বা কর্মের কারণে কাফির হিসেবে গণ্য হবেন না।2- বুদ্ধিমত্তা: তাকে পাগল বা বিবেকহীন হওয়া যাবে না।3- প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: তাকে বিবেক-বুদ্ধিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু হওয়া যাবে না।4- সত্যবাদিতা: তাকে বাক্যে সত্যবাদী ও আমানতদার হতে হবে। তিনি মিথ্যাবাদী (كاذب) হবেন না—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের ক্ষেত্রেও নয়, মানুষের সাধারণ কথাবার্তার ক্ষেত্রেও নয়। … 5- তাকওয়া: তাকে পরহেযগার, শরিয়তের অনুসারী এবং উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচারের অধিকারী হতে হবে। তিনি পাপাচারী (فاسق) হবেন না, অর্থাৎ প্রকাশ্যে কবিরা গুনাহকারী কিংবা সগিরা গুনাহে অবিচল থাকবেন না এবং ওয়াজিব ও ফরজ কার্যাবলীর প্রতি উদাসীন হবেন না।6- প্রসিদ্ধি: হাদিস অন্বেষণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাকে সুপরিচিত হতে হবে; তার এমন নির্ভরযোগ্য (ثقة) শিক্ষকবৃন্দ থাকবেন যারা তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقوه) সাব্যস্ত করেছেন এবং এমন পরিচিত ছাত্রবৃন্দ থাকবেন যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সত্তাগতভাবে অপরিচিত (مجهول العين) বা গুণগতভাবে অপরিচিত (مجهول الحال) হবেন না।(আর যার মাধ্যমে তার সংরক্ষণ দক্ষতার সঠিকতা (ضبط) সাব্যস্ত হয় তা হলো:1- তার বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিকভাবে বর্ণনা করা এবং তাতে প্রচুর ভুলভ্রান্তি না করা।2- তার মুখস্থশক্তি প্রখর হওয়া, যাতে তিনি যা মুখস্থ করেছেন তা সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করেন এবং সঠিকভাবে তা পৌঁছে দিতে পারেন।3- হাদিস গ্রহণকালে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকা; তিনি অসতর্ক হবেন না এবং শিক্ষকের মজলিসে শ্রবণের সময় অন্য কোনো চিন্তায় মগ্ন থাকবেন না।4- এমন কোনো মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করা যা অন্য শুদ্ধ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে; অসংরক্ষিত বা অশুদ্ধ কপি থেকে বর্ণনা না করা।5- তার বর্ণিত হাদিসসমূহ নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবিদের বর্ণনার বিরোধী (مخالفة) না হওয়া, তবে তা অত্যন্ত নগণ্য ক্ষেত্রে হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
6- أنْ لَاّ يَكُونَ جَاهِلاً بِمَدْلُولَاتِ الألْفَاظِ وَمَقَاصِدِهَا الشَّرْعِيَّةِ.
৬- তিনি যেন শব্দের অর্থ ও নির্দেশকসমূহ (مدلولات الألفاظ) এবং সেগুলোর শরয়ী লক্ষ্য-উদ্দেশ্য (مقاصد شرعية) সম্পর্কে অজ্ঞ (جاهل) না হন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصل في أسباب الجرح الْجَرْحُ هُو الطَّعْنُ في عَدَالَةِ الرَّاوِيِّ أو ضَبْطِهِ أو كِلَيْهِمَا بِمَا يَقْتَضِي عَدَمَ قُبُولِ رِوَايَتِهِ.(وَالطَّعْنُ في عَدَالَتِهِ يَكُونُ لأُمُورٍ تَالِيَةٍ.1- الْكُفْرُ وَالشِّرْكُ: لأنَّهُمَا مِنْ أَعْظَمِ مُوجِبَاتِ العَدَاءِ لِلدِّينِ وَأهْلِهِ؛ فَلا تُقْبَلُ رِوَايَةُ صَاحِبِهِمَا مَهْمَا كَانَ عَلَيْهِ مِن الصِّدْقِ.2- الْكِذْبُ: سَوَاءٌ كَانَ فِي حَدِيْثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم أوْ فِي حَدِيثِ النَّاسِ، وَبِأيِّ نِيَّةٍ يَكُونُ، وَهُوَ شَرُّ أنْوَاعِ الْجَرْحِ في الْعَدَالَةِ.3- الْفِسْقُ: وَهُوَ العِصْيَانُ وَالتَّرْكُ لأَمْرِاللهِ، والفَاسِقُ الَّذِي يَكُونُ فِسْقُهُ جَرْحاً فِي العَدَالَةِ هُوَ: الْمُجَاهِرُ بِارْتِكَابِ الْمَعَاصِي الْكَبِيْرَةِ والْمُصِرُّ عَلَى الصَّغِيْرَةِ، والْمُتَهَاوِنُ بِالوَاجِبَاتِ وَالفَرَائِضِ.4- البِدْعَةُ: وَهِيَ الْحَدَثُ في الدِّيْنِ مَا لَيْسَ مِنْهَ، أو أَنَّهَا الاعْتِقَادُ في شَيْءٍ بِأَنَّه دِيْنٌ يُوجِبُ العَمَلُ بِهِ التَّقَرُّبَ إلى اللهِ والثَّوَابَ، مَعَ أَنَّ الشَّرْعَ لَمْ يَرِدْ بِإِثْبَاتِهِ.5- الْجَهَالَةُ: وَهِيَ عَلى مَرْتَبَتَيْنِ:إحْدَاهُمَا: أن يَّكُونَ الرَّاوِيُّ غَيْرَ مَعْرُوفِ العِنَايَةِ بِالطَّلَبِ وَالرِّوَايَةِ أصْلاً، ثُمَّ لَمْ يَرْوِ عِنْهُ غَيْرُ رَاوٍ وَاحِدٍ.ثَانِيْهِمَا: أنْ يَّرْوِيَ عَنْهُ أثْنَانِ فَصَاعِداً مِنَ الْمَشْهُورِينَ بِالْعِلمِ، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ مِنْ أحَدٍ تَوثِيْقَه وَلا تَعْدِيلَه.(وَالطَّعْنُ في الضَّبْطِ يَكُونُ لأمُورٍ تَالِيَةٍ.1- سُوءُ الْحِفْظِ: وَهُوَ النِّسْيَانُ، أو عَدَمُ القُدْرَةِ عَلى أَدَاءِ مَا حَفِظَهُ عِنْدَ حَاجَتِهِ إلَيْهِ.
ত্রুটিারোপের (الجرح) কারণসমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ ত্রুটিারোপ (الجرح) হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) অথবা তার নির্ভুলতা (ضبط) অথবা উভয়ের ওপর এমনভাবে আপত্তিকরণ (طعن), যা তার বর্ণনা গ্রহণ না করাকে আবশ্যক করে।(ন্যায়নিষ্ঠতার (العدالة) ক্ষেত্রে আপত্তিকরণ (الطعن) নিচের বিষয়গুলোর কারণে হয়ে থাকে।১- অবিশ্বাস (كفر) ও শিরক (شرك): কারণ এই দুটি দ্বীন এবং এর অনুসারীদের প্রতি চরম শত্রুতার কারণ; সুতরাং এই দুটিতে লিপ্ত ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, সে যত বড় সত্যবাদীই হোক না কেন।২- মিথ্যাচার (كذب): চাই তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে হোক কিংবা মানুষের সাধারণ কথাবার্তায় হোক এবং তা যে কোনো উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) বিষয়ক ত্রুটিারোপের (الجرح) প্রকারগুলোর মধ্যে এটি নিকৃষ্টতম।৩- পাপাচার (فسق): এটি হলো আল্লাহর অবাধ্য হওয়া এবং তাঁর নির্দেশ পরিত্যাগ করা। যে পাপাচারীর ফাসিকি আচরণ ন্যায়নিষ্ঠতার (عدالة) ক্ষেত্রে ত্রুটিারোপ (جرح) হিসেবে গণ্য হয়, সে হলো: প্রকাশ্যে বড় গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি, ছোট গুনাহে অবিচল ব্যক্তি এবং ওয়াজিব ও ফরজ কার্যাবলিতে অবহেলাকারী।৪- নব-উদ্ভাবন (بدعة): এটি হলো দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়; অথবা কোনো বিষয়কে দ্বীন হিসেবে বিশ্বাস করা যার ওপর আমল করাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও সওয়াবের কারণ মনে করা হয়, অথচ শরীয়তে তার কোনো প্রমাণ নেই।৫- পরিচয়হীনতা (جهالة): এটি দুই স্তরের:প্রথমটি: বর্ণনাকারী হাদিস অন্বেষণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে আদৌ পরিচিত না হওয়া এবং তার থেকে কেবল একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করা।দ্বিতীয়টি: ইলমের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এমন দুইজন বা ততোধিক ব্যক্তি তার থেকে বর্ণনা করা, কিন্তু কোনো বিশেষজ্ঞ থেকে তার নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) বা ন্যায়নিষ্ঠ সাব্যস্তকরণ (تعديل) প্রমাণিত না হওয়া।(আর নির্ভুলতার (الضبط) ক্ষেত্রে আপত্তিকরণ (الطعن) নিচের বিষয়গুলোর কারণে হয়ে থাকে।১- স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ): আর তা হলো বিস্মৃতি, অথবা প্রয়োজনের সময় যা মুখস্থ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম না হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
2- كَثْرَةُ الغَلَطِ: وَهُوَ الإكْثَارُ مِنَ سِيَاقِ الرِّوَايَاتِ عَلى غَيْرِ وَجْهِهَا كَالتَّغْيِيرِ والزِّيَادَةِ وَالقَلْبِ وَنَحْوِ ذَلِكَ فِيْهَا.3- كَثْرَةُ الغَفْلَةِ: وَالغَفْلَةُ هِيَ التَّسَاهُلُ في سِمَاعِ الْحَدِيْثِ أو إسْمَاعِه كَأَنْ يَنَامَ، أو يُشْغِلَ بَالَهُ عَمَّا يُقْرَأُ في مَجْلِسِ السِّمَاعِ، أَو أَنْ يُّحَدِّثَ مِنْ أصْلٍ غَيْرِ مُقَابَلٍ، أو غَيْرِ صَحِيْحٍ.4- كَثْرَةُ الْمُخَالَفَةِ: بِأنْ يُكْثِرَ الرَّاوِيُّ مِنْ رِوَايَةِ الأَحَادِيْثِ مِمَّا يُخَالِفُ بِهِ الثِّقَاتَ، فَيَصِيْرُ حَدِيْثُهُ لأَجْلِ الْمُخَالَفَةِ شَاذَّا أَومُنْكَراً.5- الاخْتِلَاطُ: وَهُوَ فَسَادُ العَقْلِ وعَدَمُ انْتِظَامِ الأَقْوَالِ وَالأفْعَالِ في الرَّاوِيِّ بِسَبَبِ مَرَضٍ أو ضَرَرٍ أو شَيْخُوخَةٍ، أو ذِهَابِ كُتُبٍ؛ فَيَعْجِزُ عَن أدَاءِ مَرْوِيَّاتِهِ عَلى وَجْهِ الصَّوَابِ.6- التَّلْقِيْنُ: وَهُوَ أن يُقَالَ لِلرَّاوِيِّ: «هذِهِ الأحَادِيْثُ مِنْ مَرْوِيَّاتِكَ عَنْ فُلانٍ» فَيُصَدِّقُهُ لِغَفْلَتِهِ وتَسَاهُلِهِ.وَإن تَعَمَّدَ بِقُبُولِ التَّلْقِيْنِ وَمِنْ غَيْرِ مُبَالاةٍ بِرِوَايَةِ مَا لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الْمَشَايِخِ يَكُونُ جَرْحاً في عَدَالَتِهِ أيْضاً.
2- অত্যধিক ভুল করা (كثرة الغلط): আর তা হলো বর্ণনাসমূহকে তার যথাযথ রূপের বাইরে অধিক পরিমাণে উপস্থাপন করা, যেমন সেগুলোর মধ্যে পরিবর্তন (تغيير), পরিবর্ধন (زيادة), শব্দ বা অর্থের ওলটপালট (قلب) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ঘটানো।3- অত্যধিক অসতর্কতা (كثرة الغفلة): আর অসতর্কতা (غفلة) হলো হাদিস শ্রবণ (سماع) বা তা অন্যকে শুনানোর (إسماع) ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করা; যেমন ঘুমিয়ে পড়া, কিংবা শ্রবণ মজলিসে (مجلس السماع) যা পাঠ করা হচ্ছে তা থেকে অন্যমনস্ক থাকা, অথবা এমন মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে হাদিস বর্ণনা করা যা মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়নি (غير مقابل) অথবা যা সঠিক (صحيح) নয়।4- অধিক বিরোধিতা (كثرة المخالفة): অর্থাৎ বর্ণনাকারী (راو) কর্তৃক এমন সব হাদিস অধিক পরিমাণে বর্ণনা করা যাতে তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) বিরোধিতা করেন। ফলে তার বর্ণিত হাদিসটি এই বিরোধিতার কারণে ব্যতিক্রমী (شاذ) অথবা অগ্রহণযোগ্য (منكر) হয়ে পড়ে।5- স্মৃতিভ্রম (اختلاط): আর তা হলো অসুস্থতা, আঘাত, বার্ধক্য অথবা কিতাবাদি হারিয়ে যাওয়ার কারণে বর্ণনাকারীর (راو) বুদ্ধিবৃত্তিক বৈকল্য এবং কথা ও কাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া; যার ফলে তিনি তার বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিকভাবে আদায় বা বর্ণনা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন।6- শিখিয়ে দেওয়া (تلقين): আর তা হলো বর্ণনাকারীকে (راو) এমন বলা যে: «এই হাদিসগুলো অমুক ব্যক্তি থেকে আপনার বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত», আর তিনি তার অসতর্কতা (غفلة) ও শিথিলতার (تساهل) কারণে তা মেনে নেন।আর যদি তিনি জেনেশুনে শিখিয়ে দেওয়া (تلقين) বিষয় গ্রহণ করেন এবং শাইখদের থেকে যা শোনেননি তা বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পরোয়া না করেন, তবে তা তার ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ক্ষেত্রেও একটি দোষারোপ (جرح) হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في قواعد الجرح والتعديل (الصَّحَابَةُ كُلُّهُمْ عُدُوْلٌ.(لا يُقْبَلُ جَرْحٌ فِي شَخْصٍ اجْمَعُوا عَلَى تَعْدِيْلِهِ وَتَوْثِيْقِهِ كَالبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَأحمَدَ وَالشَّافِعِيِّ ومَالِكٍ وغَيْرِهِم رحمهم الله.(لا يُقْبَلُ الْجَرْحُ والتَّعْدِيْلُ إلَاّ مِنْ ثِقَةٍ مُتْقِنٍ عَارِفٍ بِأسْبَابِهِمَا مَعْرِفَةً جَيِّدَةً.(لا يُشْتَرَطُ فِي الْمُزَكِّيْنَ العَدَدُ كَالشَّهَادَةِ، بَلْ يُقْبَلُ مِنْ وَاحِدٍ.(مُجَرَّدُ تَحْدِيْثِ الثِّقَةِ عَنْ رَاوٍ لا يُعْتَبَرُ تَعْدِيْلاً لَهُ.(يُقْبَلُ الْجَرْحُ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ السَّبَبِ إنْ كَانَ الْجَارِحُ ثِقَةً مَرْضِيًّا وَعَارِفًا بِأَسْبَابِهِ.(مُجَرَّدُ عَمَلِ العَالِمِ أو فُتْيَاهُ بِوِفْقِ حَدِيْثٍ لا يُعْتَبَرُ تَصْحِيْحًا لَهُ، وَلا تَوْثِيْقًا لِرَاوِيْهِ.(إذَا تَعَارَضَ الْجَرْحُ الْمُفَسَّرُ والتَّعْدِيْلُ فِي رَاوٍ وَاحِدٍ لا يُرَجَّحُ أحَدُهُمَا عَلَى الآخَرِ بِالإطْلَاقِ، بَلْ يُنْظَرُ إلى مَكَانَةِ الْمُعَدِّلِ وَالْجَارِحِ وَمُسْتَواهُمَا فِي الْخِبْرَةِ وَالْمُمَارَسَةِ أوَّلاً ثُمَّ إلى الظُّرُوفِ وَالأَحْوَالِ وَالأَلْفَاظِ وَالأَسْبَابِ الَّتِيْ صَدَرَ عَنْهُمَا الْحُكْمُ لأجْلِهَا فِي الرَّاوِيِّ، وَإِلَاّ فَالتَّرْجِيْحُ لِلجَرْحِ احْتِيَاطاً.(مَنْ لَمْ يَثْبُتْ فِيْهِ الْجَرْحُ وَلَا التَّعْدِيْلُ، وَلكِنَّ الشَّيْخَيْنِ أَوْ أحَدَهُمَا احْتَجَّ بِه فَهُوَ ثِقَةٌ.(يُتَوَقَّفُ فِي قُبُولِ الْجَرْحِ إن كَانَ سَبَبُهُ الاخْتِلَافُ فِي الاعْتِقَادِ، أَوِ الْمُنَافَسَةُ بَيْنَ الأقْرَانِ.
জরহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত নীতিমালা বিষয়ক পরিচ্ছেদ (সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)।(এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো সমালোচনা (جرح) গ্রহণ করা হবে না, যাঁর সত্যানয়ন (تعديل) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (توثيق) ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন; যেমন: বুখারি, মুসলিম, আহমাদ, শাফিঈ, মালিক এবং তাঁদের মতো অন্যান্য আইম্মাগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)।(নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদক্ষ (متقن) এবং এই উভয় বিষয়ের কারণসমূহ সম্পর্কে উত্তম জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তি ব্যতীত কারো সমালোচনা (جرح) ও সত্যানয়ন (تعديل) গ্রহণ করা হবে না।(গুণকীর্তনকারীদের (المزكين) ক্ষেত্রে সাক্ষ্যপ্রদানের মতো নির্দিষ্ট সংখ্যার শর্ত নেই, বরং একজনের পক্ষ থেকেও তা গ্রহণযোগ্য।(একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কোনো রাবির নিকট থেকে কেবল হাদিস বর্ণনা করলেই তা উক্ত রাবির জন্য সত্যানয়ন (تعديل) হিসেবে গণ্য হবে না।(যদি সমালোচনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة), গ্রহণযোগ্য এবং সমালোচনার কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হন, তবে কারণ উল্লেখ করা ছাড়াই সমালোচনা (جرح) গ্রহণ করা হবে।(কোনো আলেমের কেবল কোনো হাদিস অনুযায়ী আমল করা বা ফতোয়া প্রদান করা উক্ত হাদিসের জন্য বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর বর্ণনাকারীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) হিসেবেও বিবেচিত হবে না।(যখন একই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে ব্যাখ্যাত সমালোচনা (الجرح المفسر) এবং সত্যানয়ন (تعديل) পরস্পর বিরোধী হয়, তখন ঢালাওভাবে কোনো একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। বরং প্রথমে সত্যানয়নকারী (المعدل) ও সমালোচনাকারীর (الجارح) মর্যাদা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও চর্চার স্তর দেখতে হবে; এরপর সেই পরিস্থিতি, অবস্থা, শব্দাবলি এবং কারণসমূহ বিবেচনা করতে হবে যেগুলোর ভিত্তিতে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে উক্ত হুকুম প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায় সতর্কতাস্বরূপ (احتياطاً) সমালোচনাকেই (جرح) প্রাধান্য দিতে হবে।(যাঁর ব্যাপারে সমালোচনা (جرح) বা সত্যানয়ন (تعديل) কোনোটিই প্রমাণিত নয়, কিন্তু শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কেউ একজন তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।(যদি সমালোচনার (جرح) কারণ আকিদাগত মতপার্থক্য অথবা সমসাময়িকদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তবে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থগিত (يتوقف) থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فصل في أنواع كتب الحديث 1- الصّحِيْحُ: وَجَمْعُهُ «الصِّحَاحُ» ، وَالْمُرَادُ بِالصَّحِيْحِ الكِتَابُ الَّذِي الْتَزَمَ فِيهِ مُؤَلِّفُهُ بِأَنْ لَا يُدْخِلَ فِيهِ إِلَاّ الأَحَادِيثَ الصَّحِيْحَةَ، وَهِيَ كَثِيْرَةٌ.أَهَمُّهُمَا: صَحِيْحُ الإِمَامِ البُخَارِيِّ وَهُوَ أَصَحُّ الكُتُبِ بَعْدَ كِتَابِ اللهِ العَزِيْزِ.وَبَعْدَهُ: صَحِيْحُ الإِمَام مُسْلِم، وَصَحِيْحُ الإِمَامِ ابْنِ خُزَيْمَةَ، وَصَحِيْحُ الإِمَامِ مُحَمَّدِ بْنِ حِبَّانَ البُسْتِيِّ، وَصَحِيْحُ الإِمَامِ أَبِي عَلِيٍّ سَعِيْدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ السَّكَنِ الْمُتَوَفَّى سَنَة 353ها.2- الْجَامِعُ: وَجَمْعُهُ «الْجَوَامِعُ» وَهُوَ مَا أَلَّفَهُ صَاحِبُهُ عَلى الفِقْهِ فِي جَمِيْعِ مَوضُوعَاتِ الدِّيْنِ كَالعَقِيْدَةِ، وَالعِبَادَاتِ، وَالْمُعَامَلَاتِ، وَالتَّارِيْخِ، وَالآدَابِ، وَالتَّفْسِيرِ، وَالرِّقَاقِ، وَالفِتَنِ، وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ، وَالْمَنَاقِبِ وَغَيْرِ ذَلِكَ.وَمِنْ أَشْهَرِهَا الجَامِعُ الصَّحِيحُ لِلإِمَامِ البُخَارِيِّ، وَالجَامِعُ الصَّحِيحُ لِلإِمَام مُسْلِم، والجَامِعُ لِلإِمَامِ التِّرْمِذِيِّ.3- الْمُسْنَدُ: وَجَمْعُهُ «الْمَسَانِيدُ» وَهُوَ الكِتَابُ الَّذِي جَمَعَ فِيهِ مُؤَلِّفُهُ مَرْوِيَّاتِ كُلِّ صَحَابِيٍّ عَلى حِدَةٍ، كَأَنْ يَّجْمَعَ مَثَلاً أَحَادِيثَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه تَحْتَ اِسْمِهِ، وَأَحَادِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه كُلَّهَا تَحْتَ عُنْوَانِ اسْمِهِ وَهَكَذَا، مِنْ غَيْرِ تَفْرِيْقٍ بَيْنَ صَحِيْحٍ وَضَعِيْفٍ.وَأَوَّلُ مَنْ أَلَّفَ عَلى هَذَا الْمَنْهَجِ هُوَ الإِمَامُ أَبُو دَاوُودَ الطَّيَالِسِيُّ، وَأَعْظَمُ مَا أُلِّفَ فِيهِ هُوَ مُسْنَدُ الإِمَامِ أَحْمَدِ بْنِ حَنْبَلٍ رحمهم الله أَجْمَعِينَ.4- الْمُعْجَمُ: وَجَمْعُهُ «الْمَعَاجِمُ» وَهُوَ الكِتَابُ الَّذِي يُجْمَعُ فِيهِ الأَحَادِيثُ عَلى تَرْتِيْبِ الصَّحَابَةِ، أَوِ الشُّيُوخِ، أَوِ الْبُلْدَانِ أَوِ الْقَبَائِلِ، وَالْغَالِبُ أَنْ يَّكُونَ التَّرْتِيْبُ عَلى حُرُوفِ الْهِجَاءِ.
পরিচ্ছেদ: হাদিসের কিতাবসমূহের প্রকারভেদ ১- সহিহ (الصحيح): এর বহুবচন হলো ‘সিহাহ’ (الصحاح)। সহিহ (الصحيح) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কিতাব, যাতে তার সংকলক শুধুমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতাারোপ করেছেন; আর এ জাতীয় হাদিস অনেক।সে দুটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ইমাম বুখারীর সহিহ বুখারি, যা মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।এরপর রয়েছে: সহিহ মুসলিম, সহিহ ইবনে খুজায়মাহ, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তির সহিহ ইবনে হিব্বান এবং ৩৫৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইমাম আবু আলী সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে আস-সাকানের সহিহ ইবনে আস-সাকান।২- জামি (الجامع): এর বহুবচন হলো ‘জাওয়ামি’ (الجوامع)। এটি এমন কিতাব যা এর সংকলক দ্বীনের সকল বিষয়ের ওপর ফিকহি বিন্যাসে রচনা করেছেন, যেমন— আকিদা (বিশ্বাস), ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন), ইতিহাস, আদব (শিষ্টাচার), তাফসির, রিকাক (হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা), ফিতনা (বিপর্যয়), কিয়ামতের আলামত, মানাকিব (মর্যাদা) এবং অন্যান্য বিষয়।এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ইমাম বুখারীর জামি সহিহ (সহিহ বুখারি), ইমাম মুসলিমের জামি সহিহ (সহিহ মুসলিম) এবং ইমাম তিরমিজীর জামি।৩- মুসনাদ (المسند): এর বহুবচন হলো ‘মাসানিদ’ (المسانيد)। এটি এমন কিতাব যাতে সংকলক প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদিসসমূহ পৃথক পৃথকভাবে জমা করেছেন। যেমন উদাহরণস্বরূপ: আবু বকর (রা.)-এর হাদিসসমূহ তার নামের অধীনে এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর সকল হাদিস তার নামের অধীনে একত্র করা এবং এভাবেই অন্যান্য; এতে সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।এই পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম যিনি সংকলন করেছেন তিনি হলেন ইমাম আবু দাউদ আত-তায়ালিসি। আর এই ক্ষেত্রে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদ—আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।৪- মুজাম (المعجم): এর বহুবচন হলো ‘মাআজিম’ (المعاجم)। এটি এমন কিতাব যাতে হাদিসসমূহ সাহাবীগণ, কিংবা উস্তাদগণ, কিংবা এলাকা অথবা গোত্রসমূহের অনুক্রমে জমা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিন্যাস বর্ণানুক্রমিক হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَمِنْ أَشْهَرِ الْمَعَاجِمِ: مَعَاجِمُ أَبِي القَاسِمِ الطَّبْرَانِيِّ الثَّلَاثَةُ، وَهِيَ الْمُعْجَمُ الكَبِيْرُ وَهُوَ مُرَتَّبٌ عَلى أَسْمَاءِ الصَّحَابَةِ، وَالأَوْسَطُ وَالصَّغِيْرُ: وَهُمَا مُرَتَّبَانِ عَلى أَسمْاَءِ شُيُوخِهِ.5- الْسُنَنُ: وَهُوَ الكِتَابُ الَّذِي أَلَّفَهُ صَاحِبُهُ عَلى أَبْوَابِ الفِقْهِ فَقَطْ، دُونَ العَقَائِدِ وَالْمَنَاقِبِ وَالتَّارِيْخِ وَنَحْوِهَا.وَأَشْهَرُ كُتُبِ السُّنَنِ: سُنَنُ أَبِي دَاوُوْدَ، وَسُنَنُ النَّسَائِيِّ، وَسُنَنُ ابْنِ مَاجَه، وَسُنَنُ الدَّارَمِيِّ، وَسُنَنُ الدَّارَقُطْنِيِّ.6- الْجُزْءُ: وَجَمْعُهُ «الأَجْزَاءُ» ، وَهُوَ مَا أَفْرَدَهُ مُؤَلِّفُهُ لِمَسْأَلَةٍ وَاحِدَةٍ مُعَيَّنَةٍ كَجُزْءِ رَفْعِ اليَدَيْنِ لِلبُخَارِيِّ، وَجُزْءِ القِرَاءَةِ خَلْفَ الإِمَامِ لِِلْبَيْهَقِيِّ، وَغَيْرِهَا مِنَ الأَجْزَاءِ. وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ.
সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মা'জাম গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু আল-কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মা'জাম: আর সেগুলো হলো আল-মু'জাম আল-কাবির—যা সাহাবিদের (صحابة) নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত, এবং আল-আওসাত ও আস-সগির—যা তাঁর শাইখদের (شيوخ) নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।৫- সুনান: এটি এমন কিতাব যা এর রচয়িতা শুধুমাত্র ফিকহের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংকলন করেছেন; আকিদা, মানাকিব, ইতিহাস এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ব্যতিরেকে।সুনান গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসায়ি, সুনান ইবনে মাজাহ, সুনান দারিমি এবং সুনান দারাকুতনি।৬- জুজ: এর বহুবচন হলো ‘আজজা’। এটি এমন গ্রন্থ যা এর লেখক একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর এককভাবে রচনা করেছেন; যেমন—বুখারির 'জুজউ রাফউল ইয়াদাইন' এবং বায়হাকির 'জুজউল কিরাআতি খালফাল ইমাম' ও অন্যান্য জুজ। আমাদের শেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী মুসত্বলাহি হাদীছির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَصْلٌ:فِيْ طُرُقِ سَبْرِ الرِّوَايَاتِ سَنَدًا وَمَتْنًا 1- الْمُتَابَعَةُ: وَهِيَ عَلَى نَوْعَيْنِ:(تَامَّةٌ: وَهِيَ الَّتِيْ تَحْصُلُ لِلرَّاوِيِّ نَفْسِهِ، بِحَيْثُ يَرْوِيْ عَنْ شَيْخِهِ تِلْمِيْذٌ غَيْرُهُ بِمِثْلِ مَا رَوَاهُ هُوَ عَنْ الشَّيْخِ.(قَاصِرَةٌ: وَهِيَ الَّتِي تَحْصُلُ لِشَيْخِ الرَّاوِيِّ فَمَنْ فَوْقَهُ.فَمَثَلاً رَوَى الإِمَامُ الشَّافِعِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِاللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ عُمَرَ حَدِيْثًا، فَتَفَرَّدَ بِكَلِمَةٍ أَوْ جُمْلَةٍ مِنَ الْمَتْنِ عَنْ أصْحَابِ مَالِكٍ.فَإِنْ وَجَدْنَا أَحَدًا مِنْ تَلَامِذَةِ مَالِكٍ رَوَى عَنْ مَالِكٍ بِنَفْسِ الْجُمْلَةِ الَّتِيْ رَوَاهَا الشَّافِعِيُّ فَهِيَ مُتَابَعَةٌ تَامَّةٌ لِلشَّافِعِيِّ.وَإِنْ لَّمْ يُوجَدْ فِي تَلَامِذَةِ مَالِكٍ مَنْ يَّرْوِيْ ذلِكَ عَنْهُ، وَلكِنَّهُ وَجَدْنَا غَيْرَ مَالِكٍ يَرْوِيْ عَنْ عَبْدِاللهِ بْنِ دِيْنَارٍ، أَوْ غَيْرَ عَبْدِاللهِ بْنِ دِيْنَارٍ رَوَى عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَوْ غَيْرَ عَبْدِاللهِ بْنِ عُمَرَ رَوَى مَرْفُوعًا بِالْكَلِمَةِ الْمَذْكُوْرَةِ، فَهِيَ فِي كُلِّ الصُّوَرِ الْمَذْكُوْرَةِ مُتَابَعَةٌ قَاصِرَةٌ.2- الشَّاهِدُ: وَلَهُ إِطْلَاقَانِ أَيْضًا:(أَنْ يُّؤَيِّدَ حَدِيْثًا مَتْنُ حَدِيْثٍ آخَرَ يُشْبِهُهُ فِي اللَّفْظِ وَالْمَعْنَى أَوْ فِي الْمَعْنَى فَقَطْ، عَنْ صَحَابِيٍّ آخَرَ.(مُطْلَقُ الْمُشَارَكَةِ وَالتَّأْيِيْدِ اللَّفْظِيِّ أَوِ الْمَعْنَوِيِّ لِحَدِيْثٍ، سَوَاءٌ أَكَانَ عَنْ نَفْسِ الصَّحَابِيِّ أَمْ عَنْ غَيْرِهِ.وَيُطْلَقُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى الآخَرِ كَثِيْرًا.
পরিচ্ছেদ:সনদ (سند) ও মতন (متن) এর আলোকে বর্ণনা যাচাইয়ের পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে ১- মুতাবাআত (المتابعة): এটি দুই প্রকার:(পূর্ণাঙ্গ (تامة): এটি মূলত বর্ণনাকারীর নিজের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়; এভাবে যে, উক্ত বর্ণনাকারীর শায়খ থেকে অন্য কোনো ছাত্রও ঠিক তেমন বর্ণনা করে, যেমনটি তিনি নিজে সেই শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন।(অপূর্ণাঙ্গ (قاصرة): এটি বর্ণনাকারীর শায়খ কিংবা তাঁর উপরের স্তরের কারো ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।উদাহরণস্বরূপ, ইমাম শাফিঈ ইমাম মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন; যেখানে তিনি মালিকের অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায় মতনের (متن) কোনো একটি শব্দ বা বাক্যের বর্ণনায় একক (تفرّد) হয়ে গেছেন।এখন যদি আমরা ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে এমন কাউকে পাই, যিনি ইমাম শাফিঈর বর্ণিত সেই একই বাক্য মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সেটি ইমাম শাফিঈর জন্য পূর্ণাঙ্গ মুতাবাআত (متابعة تامة) হিসেবে গণ্য হবে।আর যদি মালিকের ছাত্রদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া না যায় যিনি এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমরা মালিক ছাড়া অন্য কাউকে পেলাম যিনি আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন; অথবা আবদুল্লাহ ইবনে দীনার ছাড়া অন্য কাউকে পেলাম যিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন; অথবা ইবনে ওমর ছাড়া অন্য কোনো সাহাবীকে পেলাম যিনি উক্ত শব্দসহ হাদিসটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন—তবে এই সকল সুরত বা অবস্থায় একে অপূর্ণাঙ্গ মুতাবাআত (متابعة قاصرة) বলা হবে।২- শাহিদ (الشاهد): এরও দুটি প্রয়োগ রয়েছে:(ক) কোনো হাদিসকে অন্য কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসের মতন (متن) কর্তৃক সমর্থন করা, যা শব্দে ও অর্থে অথবা কেবল অর্থে তার সদৃশ হয়।(খ) কোনো হাদিসের শব্দগত বা অর্থগত অংশগ্রহণের নিরঙ্কুশ সমর্থন; চাই তা একই সাহাবী থেকে হোক কিংবা অন্য কারো থেকে।এবং প্রায়শই এই দুটির প্রত্যেকটিকে অপরটির ক্ষেত্রে (একে অপরের পরিপূরক হিসেবে) ব্যবহার করা হয়।