(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২)
صفحة فارغة
ফাঁকা পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৩)
صفحة فارغة
ফাঁকা পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৪)
صفحة فارغة
ফাঁকা পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৫)
المدخل
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا وسيدنا محمد الأمين، وعلى آله وصحابته أجمعين، ومن سار على دربهم، واقتفى أثرهم إلى يوم الدين، وبعد:
فلقد كانت موافقة سماحة الشيخ: عبد العزيز بن عبد الله بن باز على تجميع فتاواه ورسائله ومحاضراته في سفر واحد يضم أجزاء مختلفة، تلبية لرغبات كثيرة، ومحققة لفائدة علمية- نفع الله بها، وجعلها سبحانه في موازين حسناته من العلم النافع- ومزيلا للظنون فيما حاول بعض الإخوان في داخل المملكة وخارجها جمعه وتداوله من أعمال سماحته بدافع محبتهم له، واطمئنانهم بما يصدر عنه.
وقد سعدت بما أسند إلي سماحته من الإشراف على تجميع وطبع ما تبعثر من إنتاجه الغزير، فقد كان حفظه الله، وأمد في عمره على خير عمل، باسطا نفسه، وناشرا علمه لطلبة العلم وللسائلين، حريصا على المساهمة في كل ميدان للدعوة والتعليم، منذ أن تولى القضاء في الخرج عام 1357 هـ وحتى الآن، ولم يحفظ في مكتب سماحته من أعماله التي صدرت، إلا في أثناء عمله في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، ثم بعد الانتقال لعمله الأخير بالرياض.
ومع هذا بقيت أعمال أخرى كثيرة لم تحفظ: كالمحاضرات، ودروس جامع الرياض، وغيره من المساجد، والفتاوى والأحاديث في الصحف والإذاعة.. وهذه أعمال كثيرة جدا.. فكان لا بد من تجميع ما تيسر من ذلك، ثم عرضه على سماحته قبل تدوينه، وتخصيص مكانه من الكتاب، إذ كان رأيه حفظه الله عدم نشر أي شيء إلا بعد قراءته وإقراره، ورعا منه في الفتوى، وتوثقا عن التصحيف والأخطاء.
**ভূমিকা**

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও নেতা আল-আমীন (বিশ্বস্ত) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের উপর, এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন, তাদের সকলের উপর। অতঃপর:

মহামান্য শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফাতওয়া, রিসালা (ছোট প্রবন্ধ) এবং বক্তৃতাগুলোকে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করে একটি একক গ্রন্থে সংকলনের সম্মতি প্রদান ছিল বহু আকাঙ্ক্ষার প্রতি সাড়া এবং একটি জ্ঞানগত উপকারিতা অর্জনের মাধ্যম—আল্লাহ যেন এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন এবং উপকারী জ্ঞান হিসেবে এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন।

এটি (এই সংকলন) সেই সকল সন্দেহও দূর করবে, যা রাজ্যের অভ্যন্তরে ও বাইরে কিছু ভাই শায়খের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাঁর প্রদত্ত বিষয়ের প্রতি তাদের আস্থার প্রেরণায় তাঁর কাজগুলো সংকলন ও প্রচার করার চেষ্টা করেছিলেন।

তাঁর (শায়খের) বিপুল কর্মের যে অংশ বিক্ষিপ্ত ছিল, তা সংকলন ও ছাপানোর তত্ত্বাবধানের যে দায়িত্ব মহামান্য শায়খ আমার উপর অর্পণ করেছিলেন, তাতে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম। আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন এবং নেক আমলের উপর তাঁর জীবন দীর্ঘ করুন—তিনি নিজেকে উন্মুক্ত রেখেছিলেন এবং ইলমের ছাত্র ও প্রশ্নকারীদের জন্য তাঁর জ্ঞান বিতরণ করেছিলেন। ১৩৫৭ হিজরী সনে আল-খারজে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি দাওয়াহ (আহ্বান) ও শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখতে আগ্রহী ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত কাজগুলোর মধ্যে কেবল মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন এবং এরপর রিয়াদে তাঁর শেষ কর্মস্থলে স্থানান্তরিত হওয়ার পরের কাজগুলোই তাঁর দপ্তরে সংরক্ষিত ছিল।

এতদসত্ত্বেও আরও বহু কাজ সংরক্ষিত হয়নি: যেমন—বক্তৃতা, রিয়াদ জামে মসজিদ ও অন্যান্য মসজিদের দরস (পাঠদান), সংবাদপত্র ও রেডিওতে প্রদত্ত ফাতওয়া ও আলোচনা। এই কাজগুলো ছিল বিপুল পরিমাণ। তাই এর মধ্যে যা সহজলভ্য ছিল, তা সংকলন করা অপরিহার্য ছিল। এরপর তা লিপিবদ্ধ করার পূর্বে মহামান্য শায়খের কাছে পেশ করা এবং কিতাবে তার স্থান নির্দিষ্ট করা আবশ্যক ছিল। কারণ, আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন, তাঁর অভিমত ছিল যে, ফাতওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পরহেযগারী (সাবধানতা) এবং পাঠ বিকৃতি ও ভুল থেকে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর পাঠ ও অনুমোদন ছাড়া কোনো কিছুই প্রকাশ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد رأى- غفر الله له ولوالديه- البدء في العقيدة، وتخصيص الموضوعات التي تدخل ضمنها، إلا أنه قد يمر بما أودع أجزاء العقيدة، ما يدخل في أبواب الفقه، حيث أمر بالإشارة إليها في موطنها، أو نقل ما يتعلق بالفقه في موضعه؛ لأنه جاء ضمن أسئلة صحفية أو غيرها فلم يستحسن تجزئتها.
وإن سماحته ليرجو من كل من توجد لديه فتاوى أو مقالات أو أحاديث مسجلة من القديم أو الحديث أن يمدنا به ليأخذ دوره من النشر بعد عرضه على سماحته..
وصلى الله وسلم على الهادي البشير، وآله وصحبه أجمعين.
محمد بن سعد الشويعر
তিনি—আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন—আকিদা (ধর্মবিশ্বাস) দিয়ে শুরু করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুসমূহকে বিশেষভাবে স্থান দেওয়াকে উপযুক্ত মনে করেছেন। তবে আকিদার অংশসমূহের মধ্যে এমন বিষয়ও আসতে পারে যা ফিকহের (ইসলামী আইনশাস্ত্রের) অধ্যায়ভুক্ত। এমতাবস্থায় তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেগুলোর স্থানে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হবে, অথবা ফিকহ-সম্পর্কিত বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থানান্তর করা হবে; কারণ (মূল ফতোয়াটি) সাংবাদিক প্রশ্নাবলী বা অন্য কোনো মাধ্যমে এসেছে, তাই সেটিকে খণ্ড খণ্ড করা সমীচীন মনে করা হয়নি।

আর তাঁর মহোদয় (শায়খ) এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে অনুরোধ করছেন, যার কাছে পুরাতন বা নতুন কোনো ফতোয়া, প্রবন্ধ বা রেকর্ডকৃত আলোচনা সংরক্ষিত আছে, তিনি যেন তা আমাদের কাছে সরবরাহ করেন, যাতে তাঁর মহোদয়ের কাছে পেশ করার পর তা প্রকাশের জন্য তার পালা নিতে পারে।

হেদায়েতকারী ও সুসংবাদদাতা (নবী)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

মুহাম্মাদ বিন সা’দ আশ-শুওয়াই’র।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الثانية
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فهذه فتاوى ومقالات صدرت مني في أوقات متعددة ولما فيها من الفائدة رأيت أن أجمعها وأطبعها في غلاف واحد لأستفيد منها، ويستفيد منها من شاء الله من العباد، وأسأله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى أن ينفعني بها حيا وميتا، وأن ينفع بها عباده إنه سميع قريب، ولا حول ولا قوة إلا بالله وهو حسبي ونعم الوكيل، وقد رأيت ترتيبها على ترتيب الفقهاء بادئا بما يتعلق بالعقيدة؛ لكونها أهم الأمور، وقد روعي في هذه الطبعة تلافي الأخطاء المطبعية في الطبعة السابقة، والله المستعان وعليه التكلان وهو ولي التوفيق، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
المؤلف
عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن بن باز
مفتي عام المملكة ورئيس هيئة كبار العلماء
ورئيس إدارة البحوث العلمية والإفتاء
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সকলের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

এইগুলি হলো বিভিন্ন সময়ে আমার পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফাতাওয়া ও প্রবন্ধাবলী। যেহেতু এগুলোর মধ্যে উপকারিতা রয়েছে, তাই আমি এগুলোকে একত্রিত করে একটি মলাটের মধ্যে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আমি নিজে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারি এবং আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা চান, তারাও যেন এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।

আমি তাঁর সুন্দর নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) ও সুউচ্চ গুণাবলীর (সিফাতুল উলা) মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং এর দ্বারা তাঁর বান্বাদেরও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি ফিকাহবিদদের বিন্যাস অনুযায়ী এটিকে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার শুরুটা হবে আকীদা (বিশ্বাস) সম্পর্কিত বিষয়াবলী দিয়ে; কারণ এটিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই সংস্করণে পূর্ববর্তী সংস্করণের মুদ্রণজনিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁর উপরই আমাদের ভরসা। তিনিই তাওফীক (সফলতা) দানকারী অভিভাবক। আর আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর।

লেখক
আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বায
(সৌদি আরবের) গ্র্যান্ড মুফতি, উচ্চতর ওলামা পরিষদের প্রধান
এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফাতওয়া বিভাগের প্রধান।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৮)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ৯)
نبذة عن حياة المؤلف (¬1)
أنا عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله آل باز.
ولدت بمدينة الرياض في ذي الحجة سنة 1330 هـ. وكنت بصيرا في أول الدراسة ثم أصابني المرض في عيني عام 1346 هـ. فضعف بصري بسبب ذلك.. ثم ذهب بالكلية في مستهل محرم من عام 1350 هـ والحمد لله على ذلك، وأسأل الله جل وعلا أن يعوضني عنه بالبصيرة في الدنيا والجزاء الحسن في الآخرة، كما وعد بذلك سبحانه على لسان نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، كما أسأله سبحانه أن يجعل العاقبة حميدة في الدنيا والآخرة.
وقد بدأت الدراسة منذ الصغر وحفظت القرآن الكريم قبل البلوغ ثم بدأت في تلقي العلوم الشرعية والعربية على أيدي كثير من علماء الرياض من أعلامهم:
1 - الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن ابن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمهم الله.
2 - الشيخ صالح بن عبد العزيز بن عبد الرحمن بن حسن ابن الشيخ محمد بن عبد الوهاب. قاضي الرياض رحمهم الله.
3 - الشيخ سعد بن حمد بن عتيق (قاضي الرياض) رحمه الله.
4 - الشيخ حمد بن فارس (وكيل بيت المال بالرياض) رحمه الله.
5 - الشيخ سعد وقاص البخاري (من علماء مكة المكرمة) رحمه الله أخذت عنه علم التجويد في عام 1355 هـ.
6 - سماحة الشيخ محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ رحمه الله وقد لازمت حلقاته نحوا من عشر سنوات وتلقيت عنه جميع العلوم الشرعية ابتداء من سنة 1347 هـ. إلى سنة 1357 هـ حيث رشحت للقضاء من قبل سماحته.
¬__________
(¬1) تفضل سماحة الشيخ عبد العزيز بإملاء نبذة عن حياته وقرئت عليه بعد كتابتها فأقرها.
লেখকের জীবন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (১)

আমি আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল বাজ।

আমি ১৩৩০ হিজরী সনে যুলহাজ্জা মাসে রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করি। আমি অধ্যয়নের শুরুতে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলাম, এরপর ১৩৪৬ হিজরী সনে আমার চোখে রোগ দেখা দেয়। ফলে আমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে... এরপর ১৩৫০ হিজরী সনের মুহাররম মাসের শুরুতে তা (দৃষ্টিশক্তি) সম্পূর্ণরূপে চলে যায়। এর জন্য আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা। আমি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-এর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর বিনিময়ে আমাকে দুনিয়াতে অন্তর্দৃষ্টি (বাসীরাহ) এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করেন, যেমনটি তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে ওয়াদা করেছেন। আমি আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতে আমার পরিণতিকে প্রশংসনীয় করেন।

আমি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা শুরু করি এবং বালেগ হওয়ার আগেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করি। এরপর রিয়াদের বহু আলেমের নিকট থেকে শরয়ী ও আরবী জ্ঞান অর্জন শুরু করি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল লতীফ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু হাসান ইবনুশ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব রহিমাহুমুল্লাহ।

২। শায়খ সালিহ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু হাসান ইবনুশ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব, যিনি ছিলেন রিয়াদের কাযী (বিচারক) রহিমাহুমুল্লাহ।

৩। শায়খ সা'দ ইবনু হামাদ ইবনু আতীক (রিয়াদের কাযী) রহিমাহুল্লাহ।

৪। শায়খ হামাদ ইবনু ফারিস (রিয়াদের বাইতুল মালের উকিল/প্রতিনিধি) রহিমাহুল্লাহ।

৫। শায়খ সা'দ ওয়াক্কাস আল-বুখারী (মক্কা মুকাররামার আলেমদের একজন) রহিমাহুল্লাহ। আমি তাঁর নিকট থেকে ১৩৫৫ হিজরী সনে তাজবীদের জ্ঞান অর্জন করি।

৬। সামাহাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু আব্দুল লতীফ আলে শায়খ রহিমাহুল্লাহ। আমি প্রায় দশ বছর তাঁর শিক্ষাসভায় নিয়মিত উপস্থিত ছিলাম এবং ১৩৪৭ হিজরী সন থেকে ১৩৫৭ হিজরী সন পর্যন্ত তাঁর নিকট থেকে সকল শরয়ী জ্ঞান অর্জন করি। এরপর তাঁর পক্ষ থেকে আমি কাযা (বিচারক) পদে মনোনীত হই।

***

(১) সামাহাতুশ শায়খ আব্দুল আযীয তাঁর জীবন সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত পরিচিতিটি মুখে বলে দেন। এটি লেখার পর তাঁর সামনে পাঠ করা হলে তিনি তা অনুমোদন করেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১০)
جزى الله الجميع أفضل الجزاء، وأحسنه وتغمدهم جميعا برحمته ورضوانه.
وقد توليت عدة أعمال هي:
1 - القضاء في منطقة الخرج مدة طويلة استمرت أربعة عشر عاما وأشهرا وامتدت بين سنتي 1357 هـ. إلى عام 1371 هـ.. وقد كان التعيين في جمادى الآخرة من عام 1357 هـ. وبقيت إلى نهاية عام 1371 هـ.
2 - التدريس في المعهد العلمي بالرياض سنة 1372 هـ. وكلية الشريعة بالرياض بعد إنشائها سنة 1373 هـ. في علوم الفقه والتوحيد والحديث واستمر عملي على ذلك تسع سنوات انتهت في عام 1380 هـ.
3 - عينت في عام 1381 هـ. نائبا لرئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وبقيت في هذا المنصب إلى عام 1390 هـ.
4 - توليت رئاسة الجامعة الإسلامية في سنة 1390 هـ. بعد وفاة رئيسها شيخنا الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله في رمضان عام 1389 هـ. وبقيت في هذا المنصب إلى سنة 1395 هـ.
5 - وفي 14 10 1395 هـ. صدر الأمر الملكي بتعييني في منصب الرئيس العام لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، وبقيت في هذا المنصب إلى سنة 1414 هـ.
6 - وفي 20 1 1414 هـ. صدر الأمر الملكي بتعييني في منصب المفتي العام للمملكة ورئيس هيئة كبار العلماء ورئيس إدارة البحوث العلمية والإفتاء، ولا أزال إلى هذا الوقت في هذا العمل.
أسأل الله العون والتوفيق والسداد.
ولي إلى جانب هذا العمل في الوقت الحاضر عضوية في كثير من المجالس العلمية والإسلامية من ذلك:
আল্লাহ তাআলা সকলকে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিদান দিন এবং তাঁদের সকলকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন।

আমি বেশ কয়েকটি দায়িত্ব পালন করেছি, যথা:

১। আল-খারজ (Al-Kharj) অঞ্চলে বিচারকের (আল-কাদা) দায়িত্ব পালন, যা চৌদ্দ বছর ও কয়েক মাস ধরে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়েছিল। এই সময়কাল ১৩৫৭ হিজরি থেকে ১৩৭১ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আমার নিয়োগ হয়েছিল ১৩৫৭ হিজরির জুমাদাল আখিরাহ মাসে এবং আমি ১৩৭১ হিজরির শেষ পর্যন্ত সেখানে ছিলাম।

২। ১৩৭২ হিজরিতে রিয়াদের আল-মা'হাদ আল-ইলমি (Scientific Institute)-তে এবং ১৩৭৩ হিজরিতে রিয়াদের কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ (শরীয়াহ কলেজ) প্রতিষ্ঠার পর সেখানে ফিকহ, তাওহীদ ও হাদীস বিজ্ঞানে অধ্যাপনা। আমার এই কাজ নয় বছর ধরে চলেছিল, যা ১৩৮০ হিজরিতে সমাপ্ত হয়।

৩। ১৩৮১ হিজরিতে আমি মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান (ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবে নিযুক্ত হই এবং ১৩৯০ হিজরি পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলাম।

৪। ১৩৮৯ হিজরির রমযান মাসে এর প্রধান, আমাদের শাইখ, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আলে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের পর আমি ১৩৯০ হিজরিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের (প্রেসিডেন্ট) দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং ১৩৯৫ হিজরি পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলাম।

৫। ১৪/১০/১৩৯৫ হিজরিতে রাজকীয় ফরমান জারি হয়, যার মাধ্যমে আমাকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা (ফতোয়া প্রদান), দাওয়াহ ও ইরশাদ (পথনির্দেশনা) বিভাগসমূহের প্রধান পরিচালক (General President) পদে নিযুক্ত করা হয়। আমি ১৪১৪ হিজরি পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলাম।

৬। ২০/১/১৪১৪ হিজরিতে রাজকীয় ফরমান জারি হয়, যার মাধ্যমে আমাকে রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি (আল-মুফতি আল-আম), সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের (হাইয়াতু কিবারিল উলামা) প্রধান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিভাগের প্রধানের পদে নিযুক্ত করা হয়। আমি এই সময় পর্যন্তও এই দায়িত্বে নিয়োজিত আছি।

আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য, তাওফীক (সফলতা) এবং সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি।

বর্তমানে এই কাজের পাশাপাশি আমি বহু বৈজ্ঞানিক ও ইসলামী পরিষদের সদস্য হিসেবেও যুক্ত আছি। তন্মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - رئاسة هيئة كبار العلماء بالمملكة.
2 - رئاسة اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء في الهيئة المذكورة.
3 - عضوية ورئاسة المجلس التأسيسي لرابطة العالم الإسلامي.
4 - رئاسة المجلس الأعلى العالمي للمساجد.
5 - رئاسة المجمع الفقهي الإسلامي بمكة المكرمة التابع لرابطة العالم الإسلامي.
6 - عضوية المجلس الأعلى للجامعة الإسلامية في المدينة المنورة.
7 - عضوية الهيئة العليا للدعوة الإسلامية في المملكة.
أما مؤلفاتي فمنها:
1 - الفوائد الجلية في المباحث الفرضية
2 - التحقيق والإيضاح لكثير من مسائل الحج والعمرة والزيارة (توضيح المناسك) .
3 - التحذير من البدع، ويشتمل على أربع مقالات مفيدة (حكم الاحتفال بالمولد النبوي، وليلة الإسراء والمعراج، وليلة النصف من شعبان، وتكذيب الرؤيا المزعومة من خادم الحجرة النبوية المسمى الشيخ أحمد) .
4 - رسالتان موجزتان في الزكاة والصيام.
5 - العقيدة الصحيية وما يضادها.
6 - وجوب العمل بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكفر من أنكرها.
7 - الدعوة إلى الله وأخلاق الدعاة.
8 - وجوب تحكيم شرع الله ونبذ ما خالفه.
9 - حكم السفور والحجاب ونكاح الشغار.
10 - نقد القومية العربية.
11 - الجواب المفيد في حكم التصوير.
১ - রাজ্যের (সৌদি আরবের) সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের (হাইআতু কিবারিল উলামা) প্রধান।
২ - উক্ত পরিষদের অধীনস্থ স্থায়ী গবেষণা ও ফতোয়া কমিটির (আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) প্রধান।
৩ - রাবিতাতুল আলমিল ইসলামীর (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ) প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য ও প্রধান।
৪ - বিশ্ব মসজিদসমূহের সর্বোচ্চ পরিষদের (আল-মাজলিস আল-আ'লা আল-আলামি লিল মাসাজিদ) প্রধান।
৫ - রাবিতাতুল আলমিল ইসলামীর অধীনস্থ মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত ইসলামিক ফিকহ একাডেমির (আল-মাজমা আল-ফিকহি আল-ইসলামি) প্রধান।
৬ - মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য।
৭ - রাজ্যের ইসলামিক দাওয়াহর সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের (আল-হাইআহ আল-উলয়া লিদ-দা'ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ) সদস্য।

আর আমার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-ফাওয়াইদ আল-জালিয়্যাহ ফিল মাবাহিস আল-ফারদিয়্যাহ (উত্তরাধিকার আইন সংক্রান্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট উপকারিতা)।
২ - আত-তাহক্বীক্ব ওয়াল ঈদাহ লি কাছীরিম মিন মাসা'ইলিল হাজ্জ ওয়াল উমরাহ ওয়ায-যিয়ারাহ (হজ্জ, উমরাহ ও যিয়ারতের বহু মাসআলার যাচাই ও ব্যাখ্যা) [যা ‘তাওদীহুল মানাসিক’ নামেও পরিচিত]।
৩ - আত-তাহযীর মিনাল বিদআ' (বিদআত থেকে সতর্কীকরণ)। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (ক) মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন করার বিধান, (খ) ইসরা ও মি'রাজের রাতের বিধান, (গ) শবে বরাত (শাবানের মধ্য রজনী) এর বিধান, এবং (ঘ) হুযরায়ে নববীর খাদেম শায়খ আহমাদ নামক ব্যক্তির কথিত স্বপ্নকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
৪ - যাকাত ও সিয়াম (রোযা) সংক্রান্ত দুটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা।
৫ - আল-আক্বীদাহ আস-সাহীহাহ ওয়া মা ইউদ্বাদ্দুহা (বিশুদ্ধ আক্বীদাহ এবং যা এর পরিপন্থী)।
৬ - উজুবে আমল বিসুন্নাতিল রাসূল (সা.) ওয়া কুফরু মান আঙ্কারাহা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং যে তা অস্বীকার করে তার কুফরি)।
৭ - আদ-দা'ওয়াহ ইলাল্লাহ ওয়া আখলাক্বুদ দু'আহ (আল্লাহর দিকে আহ্বান এবং দাঈদের (আহ্বানকারীদের) নৈতিকতা)।
৮ - উজুবে তাহকীমু শার'ইল্লাহ ওয়া নাবযু মা খালাফাহু (আল্লাহর শরীয়ত দ্বারা শাসন করার আবশ্যকতা এবং এর বিপরীত সবকিছু বর্জন করা)।
৯ - হুকমুস সুফূর ওয়াল হিজাব ওয়া নিকাহুশ শিগার (পর্দা না করা, হিজাব এবং নিকাহে শিগার (বিনিময় বিবাহ) এর বিধান)।
১০ - নাক্বদুল ক্বাওমিয়্যাহ আল-আরাবিয়্যাহ (আরব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা)।
১১ - আল-জাওয়াব আল-মুফীদ ফী হুকমিত তাসবীর (ছবি তোলা বা চিত্রাঙ্কনের বিধান সম্পর্কে উপকারী জবাব)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১২)
12 - الشيخ محمد بن عبد الوهاب (دعوته وسيرته) .
13 - ثلاث رسائل في الصلاة: (1- كيفية صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، 2- وجوب أداء الصلاة في جماعة، 3- أين يضع المصلي يديه حين الرفع من الركوع؟) .
14 - حكم الإسلام فيمن طعن في القرآن أو في رسول الله صلى الله عليه وسلم.
15 - حاشية مفيدة على فتح الباري وصلت فيها إلى كتاب الحج.
16 - رسالة الأدلة النقلية والحسية على جريان الشمس وسكون الأرض وإمكان الصعود إلى الكواكب.
17 - إقامة البراهين على حكم من استغاث بغير الله أو صدق الكهنة والعرافين.
18 - الجهاد في سبيل الله.
19 - الدروس المهمة لعامة الأمة.
20 - فتاوى تتعلق بأحكام الحج والعمرة والزيارة.
21 - وجوب لزوم السنة والحذر من البدعة.
১২ - শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (তাঁর দাওয়াত ও জীবনচরিত)।

১৩ - সালাত সংক্রান্ত তিনটি পুস্তিকা: (১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি, ২- জামাআতে সালাত আদায় করার আবশ্যকতা, ৩- রুকু থেকে ওঠার সময় মুসল্লি তার দুই হাত কোথায় রাখবে?)।

১৪ - যে ব্যক্তি কুরআনের প্রতি অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি কটাক্ষ করে, তার ব্যাপারে ইসলামের বিধান।

১৫ - ফাতহুল বারী গ্রন্থের উপর একটি উপকারী টীকা, যা আমি কিতাবুল হাজ্জ (হজ্জ অধ্যায়) পর্যন্ত সম্পন্ন করেছি।

১৬ - সূর্য চলমান এবং পৃথিবী স্থির থাকার এবং গ্রহ-নক্ষত্রে আরোহণ করার সম্ভাবনার উপর দলীলভিত্তিক (নাক্বলি) ও ইন্দ্রিয়ভিত্তিক (হাস্সি) প্রমাণাদি সংক্রান্ত পুস্তিকা।

১৭ - যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে (ইস্তিগাসাহ করে) অথবা গণক ও ভবিষ্যদ্বক্তাদের বিশ্বাস করে, তার বিধানের উপর প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠা করা।

১৮ - আল্লাহর পথে জিহাদ।

১৯ - উম্মাহর সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দরসসমূহ (শিক্ষা)।

২০ - হজ্জ, উমরাহ ও যিয়ারত (দর্শন) সংক্রান্ত বিধানাবলী সম্পর্কিত ফাতাওয়া।

২১ - সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা এবং বিদআত থেকে সতর্ক থাকা।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৩)
العقيدة الصحيحة وما يضادها (¬1)
الحمد لله وحده, والصلاة والسلام على من لا نبي بعده, وعلى آله وصحبه.
أما بعد: فلما كانت العقيدة الصحيحة هي أصل دين الإسلام , وأساس الملة, رأيت أن تكون هي موضوع المحاضرة, ومعلوم بالأدلة الشرعية من الكتاب والسنة أن الأعمال والأقوال إنما تصح وتقبل إذا صدرت عن عقيدة صحيحة , فإن كانت العقيدة غير صحيحة بطل ما يتفرع عنها من أعمال وأقوال, كما قال تعالى: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (¬2) وقال تعالى: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (¬3)
والآيات في هذا المعنى كثيرة, وقد دل كتاب الله المبين وسنة رسوله الأمين عليه من ربه أفضل الصلاة والتسليم, على أن العقيدة الصحيحة تتلخص في: الإيمان بالله, وملائكته, وكتبه, ورسله, واليوم الآخر, وبالقدر خيره وشره, فهذه الأمور الستة هي أصول العقيدة الصحيحة التي نزل بها كتاب الله العزيز, وبعث الله بها رسوله محمدا عليه الصلاة والسلام, ويتفرع عن هذه الأصول كل ما يجب الايمان به من أمور الغيب, وجميع ما أخبر الله به ورسوله صلى الله عليه وسلم. وأدلة هذه الأصول الستة في الكتاب والسنة كثيرة جدا, فمن ذلك قول الله سبحانه {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} (¬4)
¬__________
(¬1) نشرت في مجلة البحوث الإسلامية (العدد السابع) الصادر في شهر رجب وشعبان ورمضان وشوال عام 1403هـ.
(¬2) سورة المائدة الآية 5
(¬3) سورة الزمر الآية 65
(¬4) سورة البقرة الآية 177
সহীহ আকীদা এবং যা এর পরিপন্থী (¬১)

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর, যার পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর।

অতঃপর:

যেহেতু সহীহ আকীদা হলো ইসলামের মূল ভিত্তি এবং মিল্লাতের মূল স্তম্ভ, তাই আমি এটিকে এই বক্তৃতার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করেছি। কিতাব ও সুন্নাহর শরয়ী দলীল দ্বারা এটি সুস্পষ্ট যে, আমল ও কথা তখনই সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা সহীহ আকীদা থেকে উৎসারিত হয়। আর যদি আকীদা সহীহ না হয়, তবে এর থেকে উদ্ভূত সকল আমল ও কথা বাতিল হয়ে যায়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: **{আর যে ঈমানের সাথে কুফরী করবে, তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।}** (¬২)

এবং তিনি আরও বলেছেন: **{আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি অবশ্যই ওহী করা হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক করেন, তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।}** (¬৩)

এই অর্থে আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে। আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের সুন্নাহ—যাঁর উপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এই মর্মে নির্দেশনা দেয় যে, সহীহ আকীদা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষিপ্ত করা যায়: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান, শেষ দিবসের প্রতি ঈমান, এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।

এই ছয়টি বিষয়ই হলো সহীহ আকীদার মূলনীতি, যা নিয়ে আল্লাহর সম্মানিত কিতাব নাযিল হয়েছে এবং যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। এই মূলনীতিগুলো থেকেই ঈমানের জন্য ওয়াজিব সকল গায়েবী বিষয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু জানিয়েছেন, তার সবকিছু শাখা-প্রশাখা হিসেবে উৎসারিত হয়।

কিতাব ও সুন্নাহতে এই ছয়টি মূলনীতির দলীল অত্যন্ত প্রচুর। এর মধ্যে একটি হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: **{পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য হলো যে ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবের প্রতি এবং নবীগণের প্রতি।}** (¬৪)

***
(¬১) ১৪০৩ হিজরীর রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাসে প্রকাশিত 'আল-বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ' (৭ম সংখ্যা) ম্যাগাজিনে প্রকাশিত।
(¬২) সূরা আল-মায়েদা: আয়াত ৫
(¬৩) সূরা আয-যুমার: আয়াত ৬৫
(¬৪) সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৭৭
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقوله سبحانه: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ} (¬1) الآية, وقوله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} (¬2) وقوله سبحانه: {أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (¬3)
أما الأحاديث الصحيحة الدالة على هذه الأصول فكثيرة جدا, منها الحديث الصحيح المشهور الذي رواه مسلم في صحيحه من حديث أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه «أن جبريل عليه السلام سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإيمان, فقال له: الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره (¬4) » الحديث, وأخرجه الشيخان مع اختلاف يسير من حديث أبي هريرة , وهذه الأصول الستة يتفرع عنها جميع ما يجب على المسلم اعتقاده في حق الله سبحانه, وفي أمر المعاد وغير ذلك من أمور الغيب.
فمن الإيمان بالله سبحانه , الإيمان بأنه الإله الحق المستحق للعبادة دون كل ما سواه لكونه خالق العباد والمحسن إليهم والقائم بأرزاقهم والعالم بسرهم وعلانيتهم, والقادر على إثابة مطيعهم وعقاب عاصيهم, ولهذه العبادة خلق الله الثقلين وأمرهم بها, كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (¬5) {مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ} (¬6) {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} (¬7) وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (¬8) {الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (¬9)
¬__________
(¬1) سورة البقرة الآية 285
(¬2) سورة النساء الآية 136
(¬3) سورة الحج الآية 70
(¬4) صحيح مسلم الإيمان (8) ، سنن الترمذي الإيمان (2610) ، سنن النسائي الإيمان وشرائعه (4990) ، سنن أبو داود السنة (4695) ، سنن ابن ماجه المقدمة (63) ، مسند أحمد بن حنبل (1/27) .
(¬5) سورة الذاريات الآية 56
(¬6) سورة الذاريات الآية 57
(¬7) سورة الذاريات الآية 58
(¬8) سورة البقرة الآية 21
(¬9) سورة البقرة الآية 22
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার বাণী: **{রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে তার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের কারো মধ্যে তারতম্য করি না।}** (১) আয়াতটি।

এবং তাঁর (আল্লাহর) বাণী: **{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর রাসূলের উপর যে কিতাব নাযিল করেছেন এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান আনো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি কুফরি করবে, সে তো ঘোর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হয়েছে।}** (২)

এবং তাঁর (আল্লাহর) বাণী: **{তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা জানেন? নিশ্চয়ই তা একটি কিতাবে (লওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।}** (৩)

আর এই মূলনীতিগুলোর উপর প্রমাণ বহনকারী সহীহ হাদীসসমূহ অসংখ্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো সেই প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীসটি, যা আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (তা হলো) **জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে বললেন: "ঈমান হলো এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনবে। আর তুমি তকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।"** (৪) হাদীসটি। আর এই হাদীসটিই আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আশ-শাইখান) উভয়েই বর্ণনা করেছেন।

এই ছয়টি মূলনীতি থেকেই সেই সমস্ত বিষয়াবলী শাখা-প্রশাখা হিসেবে উৎসারিত হয়, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার অধিকারের ক্ষেত্রে, পুনরুত্থান (মাআ'দ)-এর বিষয়ে এবং গায়েবের অন্যান্য বিষয়াবলীতে একজন মুসলিমের জন্য বিশ্বাস করা ওয়াজিব।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনিই একমাত্র সত্য ইলাহ (উপাস্য), যিনি অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল ইবাদতের হকদার। কারণ তিনিই বান্দাদের সৃষ্টিকর্তা, তাদের প্রতি অনুগ্রহকারী, তাদের রিযিকের জিম্মাদার, তাদের গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুর জ্ঞাতা এবং তাঁর অনুগতদের পুরস্কৃত করতে ও অবাধ্যদের শাস্তি দিতে সক্ষম।

আর এই ইবাদতের জন্যই আল্লাহ জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআ'লা বলেন: **{আর আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।}** (৫) **{আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে, তারা আমাকে আহার দিক।}** (৬) **{নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই রিযিকদাতা, মহা শক্তিধর, সুদৃঢ়।}** (৭)

এবং তিনি (আল্লাহ) আরও বলেন: **{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।}** (৮) **{যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিছানা এবং আসমানকে করেছেন ছাদ, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করে তার মাধ্যমে তোমাদের রিযিক হিসেবে ফল-ফলাদি উৎপন্ন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কোনো অংশীদার (আন্দাদ) স্থাপন করো না।}** (৯)

***
(১) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২৮৫
(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৩৬
(৩) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৭০
(৪) সহীহ মুসলিম, ঈমান (৮); সুনান আত-তিরমিযী, ঈমান (২৬১০); সুনান আন-নাসায়ী, ঈমান ও শারাইয়িহু (৪৯৯০); সুনান আবূ দাউদ, আস-সুন্নাহ (৪৬৯৫); সুনান ইবনু মাজাহ, আল-মুক্বাদ্দিমাহ (৬৩); মুসনাদ আহমাদ ইবনু হাম্বল (১/২৭)।
(৫) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৬
(৬) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৭
(৭) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৮
(৮) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২১
(৯) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২২
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد أرسل الله الرسل وأنزل الكتب لبيان هذا الحق والدعوة إليه, والتحذير مما يضاده, كما قال سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (¬1) وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (¬2) وقال عز وجل: {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} (¬3) {أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنَّنِي لَكُمْ مِنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ} (¬4) وحقيقة هذه العبادة: هي إفراد الله سبحانه بجميع ما تعبد العباد به من دعاء وخوف ورجاء وصلاة وصوم وذبح ونذر وغير ذلك من أنواع العبادة, على وجه الخضوع له والرغبة والرهبة مع كمال الحب له سبحانه والذل لعظمته, وغالب القرآن الكريم نزل في هذا الأصل العظيم, كقوله سبحانه: {فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} (¬5) {أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ} (¬6) وقوله سبحانه: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} (¬7) وقوله عز وجل: {فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (¬8) وفي الصحيحين عن معاذ رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا (¬9) » .
ومن الإيمان بالله أيضا الإيمان بجميع ما أوجبه على عباده وفرضه عليهم من أركان الإسلام الخمسة الظاهرة وهي: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله, وإقام الصلاة, وإيتاء الزكاة, وصوم رمضان, وحج بيت الله الحرام لمن استطاع إليه سبيلا, وغير ذلك من
¬__________
(¬1) سورة النحل الآية 36
(¬2) سورة الأنبياء الآية 25
(¬3) سورة هود الآية 1
(¬4) سورة هود الآية 2
(¬5) سورة الزمر الآية 2
(¬6) سورة الزمر الآية 3
(¬7) سورة الإسراء الآية 23
(¬8) سورة غافر الآية 14
(¬9) صحيح البخاري الجهاد والسير (2856) ، صحيح مسلم الإيمان (30) ، سنن الترمذي الإيمان (2643) ، سنن ابن ماجه الزهد (4296) ، مسند أحمد بن حنبل (5/238) .
আর আল্লাহ তাআলা এই সত্যকে (তাওহীদকে) সুস্পষ্ট করার জন্য, এর দিকে আহ্বান জানানোর জন্য এবং এর বিপরীত বিষয় (শিরক) থেকে সতর্ক করার জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। যেমন তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:

**"আর আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো।"** (১)

তিনি আরও বলেন:

**"আর আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এই ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।"** (২)

আর তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন:

**"এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর তা প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। (৩) যাতে তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করো। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।"** (৪)

আর এই ইবাদতের বাস্তবতা হলো: বান্দারা যে সকল বিষয়ের মাধ্যমে ইবাদত করে, যেমন— দু'আ, ভয়, আশা, সালাত, সাওম, যবেহ, মান্নত এবং ইবাদতের অন্যান্য প্রকারসমূহ— সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে একক সাব্যস্ত করা। এটি তাঁর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, তাঁর মহত্ত্বের সামনে বশ্যতা, বিনয়, আগ্রহ (রগবাহ) এবং ভীতি (রহবাহ)-এর সাথে হতে হবে।

আর পবিত্র কুরআনের বেশিরভাগই এই মহান মূলনীতির (তাওহীদের) উপর নাযিল হয়েছে। যেমন তাঁর বাণী:

**"সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন, তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে।"** (৫)

**"জেনে রাখো, খালেস দীন (বিশুদ্ধ আনুগত্য) আল্লাহরই প্রাপ্য।"** (৬)

এবং তাঁর বাণী:

**"আর আপনার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো।"** (৭)

আর তাঁর আযযা ওয়া জাল্লা বাণী:

**"সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।"** (৮)

আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ মু'আয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: **"বান্দাদের উপর আল্লাহর অধিকার হলো, তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না।"** (৯)

আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে— আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর যা কিছু ওয়াজিব করেছেন এবং ফরয করেছেন, তার সবগুলোর উপর ঈমান আনা। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামের পাঁচটি প্রকাশ্য রুকন (স্তম্ভ): এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সাওম পালন করা এবং যার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর সম্মানিত ঘরের (বায়তুল্লাহিল হারামের) হজ্জ করা। এছাড়াও অন্যান্য...

***
**তথ্যসূত্র:**
(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬
(২) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫
(৩) সূরা হূদ, আয়াত: ১
(৪) সূরা হূদ, আয়াত: ২
(৫) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২
(৬) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩
(৭) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩
(৮) সূরা গাফির, আয়াত: ১৪
(৯) সহীহ বুখারী, জিহাদ ওয়াস সায়র (২৮৫৬); সহীহ মুসলিম, ঈমান (৩০); সুনান আত-তিরমিযী, ঈমান (২৬৪৩); সুনান ইবনে মাজাহ, যুহদ (৪২৯৬); মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (৫/২৩৮)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفرائض التي جاء بها الشرع المطهر, وأهم هذه الأركان وأعظمها شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله, فشهادة أن لا إله إلا الله تقتضي: إخلاص العبادة لله وحده ونفيها عما سواه, وهذا هو معنى لا إله إلا الله , فإن معناها: لا معبود حق إلا الله, فكل ما عبد من دون الله من بشر أو ملك أو جني أو غير ذلك فكله معبود بالباطل, والمعبود بالحق هو الله وحده, كما قال سبحانه: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ} (¬1) وقد سبق بيان أن الله سبحانه خلق الثقلين لهذا الأصل الأصيل وأمرهم به, وأرسل به رسله وأنزل به كتبه, فتأمل ذلك جيدا وتدبره كثيرا ليتضح لك ما وقع فيه أكثر المسلمين من الجهل العظيم بهذا الأصل الأصيل حتى عبدوا مع الله غيره, وصرفوا خالص حقه لسواه, فالله المستعان.
ومن الإيمان بالله سبحانه: الإيمان بأنه خالق العالم ومدبر شئونهم والمتصرف فيهم بعلمه وقدرته كما يشاء سبحانه وأنه مالك الدنيا والآخرة ورب العالمين جميعا لا خالق غيره, ولا رب سواه, وأنه أرسل الرسل وأنزل الكتب لإصلاح العباد ودعوتهم إلى ما فيه نجاتهم وصلاحهم في العاجل والآجل, وأنه سبحانه لا شريك له في جميع ذلك, وقال تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ} (¬2) وقال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} (¬3)
¬__________
(¬1) سورة الحج الآية 62
(¬2) سورة الزمر الآية 62
(¬3) سورة الأعراف الآية 54
পবিত্র শরীয়ত যে সকল ফরযসমূহ (বাধ্যতামূলক বিষয়) নিয়ে এসেছে, আর এই স্তম্ভগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান হলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ'-এর সাক্ষ্য প্রদান।

সুতরাং, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য দাবি করে: একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর থেকে ইবাদতকে অস্বীকার করা। আর এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ। কেননা এর অর্থ হলো: আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা'বূদ (উপাস্য) নেই। অতএব, মানুষ, ফেরেশতা, জিন বা অন্য যা কিছুই আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত করা হয়, তার সবই বাতিল উপাস্য। আর একমাত্র আল্লাহই হলেন সত্য উপাস্য (মা'বূদ বিল-হক)। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন:

{এটা এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাকে, তারা মিথ্যা} (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৬২)।

ইতোপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই মৌলিক নীতির জন্যই জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন, এর মাধ্যমেই তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। সুতরাং, আপনি এই বিষয়টি ভালোভাবে চিন্তা করুন এবং গভীরভাবে অনুধাবন করুন, যাতে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অধিকাংশ মুসলিম এই মৌলিক নীতি সম্পর্কে কী ভয়াবহ অজ্ঞতার শিকার হয়েছে, এমনকি তারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করেছে এবং তাঁর একান্ত প্রাপ্য অধিকার অন্য কারো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।

আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনিই জগতের সৃষ্টিকর্তা, তাদের বিষয়াদির ব্যবস্থাপক এবং তিনি তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা দ্বারা যেভাবে ইচ্ছা তাদের উপর কর্তৃত্বকারী। আর তিনিই দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক এবং সকল জগতের প্রতিপালক (রব্বুল আলামীন)। তিনি ব্যতীত কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপালকও নেই।

আর তিনি (আল্লাহ) বান্দাদের সংশোধনের জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের মুক্তি ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করার জন্য রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। আর নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এসব কিছুর মধ্যে অংশীদারমুক্ত।

আর তিনি তা'আলা বলেছেন:

{আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি সকল কিছুর উপর তত্ত্বাবধায়ক (ওয়াকীল)} (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৬২)।

আর তিনি তা'আলা বলেছেন:

{নিশ্চয়ই তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে তাকে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশে নিয়ন্ত্রিত। জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ বরকতময়, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক} (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৪)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن الإيمان بالله أيضا: الإيمان بأسمائه الحسنى وصفاته العلى الواردة في كتابه العزيز, والثابتة عن رسوله الأمين من غير تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل, بل يجب أن تمر كما جاءت بلا كيف, مع الإيمان بما دلت عليه من المعاني العظيمة التي هي أوصاف لله عز وجل يجب وصفه بها على الوجه اللائق به من غير أن يشابه خلقه في شيء من صفاته, كما قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (¬1) وقال عز وجل: {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (¬2) وهذه هي عقيدة أهل السنة والجماعة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأتباعهم بإحسان, وهي التي نقلها الإمام: أبو الحسن الأشعري رحمه الله في كتابه: (المقالات) عن أصحاب الحديث وأهل السنة, ونقله غيره من أهل العلم والإيمان.
قال الأوزاعي رحمه الله: سئل الزهري ومكحول عن آيات الصفات, فقالا: أمروها كما جاءت , وقال الوليد بن مسلم رحمه الله: سئل مالك والأوزاعي والليث بن سعد وسفيان الثوري رحمهم الله عن الأخبار الواردة في الصفات, فقالوا جميعا: أمروها كما جاءت بلا كيف , وقال الأوزاعي رحمه الله: كنا -والتابعون متوافرون- نقول إن الله سبحانه على عرشه, ونؤمن بما ورد في السنة من الصفات , ولما سئل ربيعة بن أبي عبد الرحمن شيخ مالك رحمة الله عليهما عن الاستواء قال: (الاستواء غير مجهول والكيف غير معقول ومن الله الرسالة وعلى الرسول البلاغ المبين وعلينا التصديق) , ولما سئل الإمام مالك رحمه الله عن ذلك, قال: (الاستواء معلوم والكيف مجهول والإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة) , ثم قال للسائل: ما أراك إلا رجل سوء, وأمر به فأخرج , وروي هذا المعنى عن أم المؤمنين أم
¬__________
(¬1) سورة الشورى الآية 11
(¬2) سورة النحل الآية 74
আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুমহান গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা, যা তাঁর সম্মানিত কিতাবে এসেছে এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের পক্ষ থেকে প্রমাণিত হয়েছে— কোনো বিকৃতি সাধন (তাহরীফ), অস্বীকার (তা'তীল), স্বরূপ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) বা সাদৃশ্য স্থাপন (তামসীল) ব্যতিরেকে। বরং সেগুলোকে যেভাবে এসেছে, সেভাবেই স্বরূপ নির্ধারণ ব্যতিরেকে (বিলা কাইফ) মেনে নেওয়া ওয়াজিব। এর সাথে সাথে সেগুলোর মাধ্যমে নির্দেশিত মহান অর্থসমূহের প্রতিও ঈমান রাখতে হবে, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলী এবং যা দ্বারা তাঁকে তাঁর জন্য মানানসই পন্থায় গুণান্বিত করা ওয়াজিব, তাঁর কোনো সৃষ্টির সাথে তাঁর কোনো গুণের সাদৃশ্য স্থাপন না করে।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: **{তাঁর মতো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।}** (১)

এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: **{সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য উপমা পেশ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।}** (২)

আর এটিই হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণকারী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা। এই আকীদাই ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-মাকালাত’ গ্রন্থে আহলুল হাদীস ও আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ছাড়াও অন্যান্য জ্ঞান ও ঈমানের অধিকারীগণও এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যুহরী ও মাকহুলকে সিফাত (গুণাবলী) সংক্রান্ত আয়াতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা উভয়েই বলেন: "এগুলোকে যেভাবে এসেছে, সেভাবেই চলতে দাও।" ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মালিক, আওযাঈ, লাইস ইবনু সা'দ এবং সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুমুল্লাহ)-কে সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা সকলেই বলেন: "এগুলোকে স্বরূপ নির্ধারণ ব্যতিরেকে (বিলা কাইফ) যেভাবে এসেছে, সেভাবেই চলতে দাও।"

আল-আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: আমরা— যখন তাবেঈগণ বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন— তখন বলতাম যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আরশের উপর আছেন এবং সুন্নাহতে বর্ণিত সিফাতসমূহের প্রতি আমরা ঈমান রাখি।

যখন ইমাম মালিকের শায়খ রাবীআহ ইবনু আবী আবদির রহমান (রহিমাহুমাল্লাহ)-কে ‘ইসতিওয়া’ (আরশের উপর সমুন্নত হওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেন: "ইসতিওয়া অজানা নয়, কিন্তু এর স্বরূপ (কাইফ) বোধগম্য নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাত (বার্তা), রাসূলের উপর সুস্পষ্টভাবে তা পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের উপর তা বিশ্বাস করা।"

আর যখন ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেন: "ইসতিওয়া জানা বিষয়, কিন্তু এর স্বরূপ (কাইফ) অজানা। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।" এরপর তিনি প্রশ্নকারীকে বললেন: "আমার মনে হয় না তুমি মন্দ লোক ছাড়া আর কিছু।" অতঃপর তিনি তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এই একই অর্থ উম্মুল মুমিনীন উম্মু...

***
(১) সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১
(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭৪
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৮)
سلمة رضي الله عنها, وقال الإمام أبو عبد الرحمن عبد الله بن المبارك رحمة الله عليه: (نعرف ربنا سبحانه بأنه فوق سماواته على عرشه بائن من خلقه) , وكلام الأئمة في هذا الباب كثير جدا لا يمكن نقله في هذه المحاضرة, ومن أراد الوقوف على كثير من ذلك فليراجع ما كتبه علماء السنة في هذا الباب مثل كتاب (السنة) لعبد الله بن الإمام أحمد , و (التوحيد) للإمام الجليل محمد بن خزيمة , وكتاب (السنة) لأبي القاسم اللالكائي الطبري , وكتاب (السنة) لأبي بكر بن أبي عاصم , وجواب شيخ الإسلام ابن تيمية لأهل حماة , وهو جواب عظيم كثير الفائدة قد أوضح فيه رحمه الله عقيدة أهل السنة, ونقل فيه الكثير من كلامهم والأدلة الشرعية والعقلية على صحة ما قاله أهل السنة, وبطلان ما قاله خصومهم, وهكذا رسالته الموسومة بـ (التدمرية) قد بسط فيها المقام وبين فيها عقيدة أهل السنة بأدلتها النقلية والعقلية, والرد على المخالفين بما يظهر الحق, ويدفع الباطل لكل من نظر في ذلك من أهل العلم, بقصد صالح ورغبة في معرفة الحق, وكل من خالف أهل السنة فيما اعتقدوا في باب الأسماء والصفات فإنه يقع ولا بد في مخالفة الأدلة النقلية والعقلية مع التناقض الواضح في كل ما يثبته وينفيه.
(উম্মে) সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা (এর বক্তব্য)। আর ইমাম আবু আব্দুল রহমান আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আমরা আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে এভাবে জানি যে, তিনি তাঁর আরশের উপর তাঁর আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে, তাঁর সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক (বাইনুন মিন খালকিহি)।"

এই অধ্যায়ে ইমামগণের বক্তব্য অত্যন্ত বেশি, যা এই বক্তৃতায় (বা আলোচনায়) তুলে ধরা সম্ভব নয়। আর যে ব্যক্তি এর বহুলাংশ জানতে চায়, সে যেন এই অধ্যায়ে সুন্নাহর আলেমগণ যা লিখেছেন, তা পর্যালোচনা করে।

যেমন: ইমাম আহমাদ-এর পুত্র আব্দুল্লাহ কর্তৃক রচিত কিতাব ‘আস-সুন্নাহ’, এবং মহান ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু খুযাইমাহ কর্তৃক রচিত ‘আত-তাওহীদ’, আর আবুল কাসিম আল-লালকাঈ আত-তাবারী কর্তৃক রচিত ‘আস-সুন্নাহ’, এবং আবু বকর ইবনু আবী আসিম কর্তৃক রচিত ‘আস-সুন্নাহ’।

আর শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হামাতের অধিবাসীদের প্রতি প্রদত্ত জবাব। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহু উপকারী জবাব, যেখানে তিনি রহিমাহুল্লাহ আহলুস সুন্নাহর আকীদাহ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যের সত্যতার উপর তাদের বহু বক্তব্য, শারঈ ও যৌক্তিক প্রমাণাদি উদ্ধৃত করেছেন, এবং তাদের বিরোধীদের বক্তব্যের বাতিল হওয়া প্রমাণ করেছেন।

অনুরূপভাবে, তাঁর ‘আত-তাদ্‌মুরিয়্যাহ’ নামক রিসালাহটিও। সেখানে তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর আকীদাহকে এর বর্ণনাভিত্তিক (নাক্বলিয়া) ও যৌক্তিক (আক্বলিয়া) প্রমাণাদিসহ স্পষ্ট করেছেন। আর তিনি বিরোধীদের এমনভাবে খণ্ডন করেছেন, যা হক্বকে প্রকাশ করে এবং বাতিলকে দূরীভূত করে—এমন প্রত্যেক জ্ঞানীর জন্য, যে সৎ উদ্দেশ্য এবং হক্ব জানার আগ্রহ নিয়ে তা অধ্যয়ন করবে।

আর যে ব্যক্তিই আসমা ওয়া সিফাতের অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহর আকীদার বিরোধিতা করবে, সে অনিবার্যভাবে বর্ণনাভিত্তিক ও যৌক্তিক প্রমাণাদির বিরোধিতার মধ্যে পতিত হবে, সেই সাথে সে যা কিছু সাব্যস্ত করে এবং যা কিছু অস্বীকার করে, তার মধ্যে সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা (তানাক্বুদ) দেখা দেবে।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৮)
أما أهل السنة والجماعة فأثبتوا لله سبحانه ما أثبته لنفسه في كتابه الكريم، أو أثبته له رسوله محمد صلى الله عليه وسلم في سنته، إثباتا بلا تمثيل، ونزهوه سبحانه عن مشابهة خلقه تنزيها بريئا من التعطيل ففازوا بالسلامة من التناقض، وعملوا بالأدلة كلها، وهذه سنة الله سبحانه فيمن تمسك بالحق الذي بعث به رسله، وبذل وسعه في ذلك وأخلص لله في طلبه، أن يوفقه للحق ويظهر حجته، كما قال تعالى: {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} (¬1) وقال تعالى: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} (¬2)
¬__________
(¬1) سورة الأنبياء الآية 18
(¬2) سورة الفرقان الآية 33
পক্ষান্তরে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (সুন্নাহ ও জামাআতের অনুসারীগণ) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার জন্য তা-ই সাব্যস্ত করেন যা তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, অথবা যা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।

এই সাব্যস্তকরণ হবে কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন (তামসীল) ব্যতিরেকে। আর তারা তাঁকে (আল্লাহকে) তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য থেকে পবিত্র ঘোষণা করেন— এমন পবিত্রতা যা বাতিলকরণ (তা'তীল) থেকে মুক্ত। ফলে তারা স্ববিরোধিতা (তানাক্কুয) থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে সফলকাম হন এবং সকল দলীল (প্রমাণ) অনুযায়ী আমল করেন।

আর এটিই হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার সেই নীতি (সুন্নাহ) যা তিনি তাঁর রাসূলদের মাধ্যমে প্রেরিত সত্যকে আঁকড়ে ধরে, এর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় এবং আল্লাহর কাছে তা (সত্য) চাওয়ার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হয়— তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর তা হলো, তিনি তাকে সত্যের পথে সফলতা দান করেন এবং তার প্রমাণকে প্রকাশ করেন।

যেমন আল্লাহ তাআ'লা বলেন:

**{বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, ফলে মিথ্যা তৎক্ষণাৎ বিলুপ্ত হয়ে যায়।}** (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৮)

এবং তিনি (আল্লাহ) আরও বলেন:

**{আর তারা তোমার কাছে কোনো দৃষ্টান্ত নিয়ে আসে না, কিন্তু আমি তোমার কাছে সত্য ও তার উত্তম ব্যাখ্যা নিয়ে আসি।}** (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৩৩)
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد ذكر الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسيره المشهور عند كلامه على قول الله عز وجل: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} (¬1) الآية، كلاما حسنا في هذا الباب يحسن نقله هاهنا لعظم فائدته، قال رحمه الله ما نصه: (للناس في هذا المقام مقالات كثيرة جدا ليس هذا موضع بسطها، وإنما نسلك في هذا المقام مذهب السلف الصالح مالك والأوزاعي والثوري والليث بن سعد والشافعي وأحمد وإسحاق بن راهويه وغيرهم من أئمة المسلمين قديما وحديثا، وهو إمرارها كما جاءت من غير تكييف ولا تشبيه ولا تعطيل، والظاهر المتبادر إلى أذهان المشبهين منفي عن الله فإن الله لا يشبهه شيء من خلقه، وليس كمثله شيء وهو السميع البصير، بل الأمر كما قال الأئمة، منهم نعيم بن حماد الخزاعي شيخ البخاري قال: من شبه الله بخلقه كفر، ومن جحد ما وصف الله به نفسه فقد كفر، وليس فيما وصف الله به نفسه ولا رسوله تشبيه، فمن أثبت لله تعالى ما وردت به الآيات الصريحة والأخبار الصحيحة على الوجه الذي يليق بجلال الله، ونفى عن الله تعالى النقائص فقد سلك سبيل الهدى) انتهى كلام ابن كثير رحمه الله.
وأما الإيمان بالملائكة فيتضمن: الإيمان بهم إجمالا وتفصيلا، فيؤمن المسلم بأن لله ملائكة خلقهم لطاعته، ووصفهم بأنهم: {عِبَادٌ مُكْرَمُونَ} (¬2) {لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ} (¬3) {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ} (¬4) وهم أصناف كثيرة منهم الموكلون بحمل العرش، ومنهم خزنة الجنة والنار، ومنهم الموكلون بحفظ أعمال العباد، ونؤمن على سبيل التفصيل بمن سمى الله ورسوله منهم، كجبريل وميكائيل ومالك خازن النار، وإسرافيل الموكل بالنفخ في الصور،
¬__________
(¬1) سورة الأعراف الآية 54
(¬2) سورة الأنبياء الآية 26
(¬3) سورة الأنبياء الآية 27
(¬4) سورة الأنبياء الآية 28
আল-হাফিয ইবন কাসীর রহিমাহুল্লাহ তাঁর সুবিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর এই বাণী প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে: **{নিশ্চয় তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর ‘ইস্তিওয়া’ (উন্নীত) হয়েছেন}** (১) – এই বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার বক্তব্য পেশ করেছেন, যার বিশাল উপযোগিতার কারণে এখানে তা উদ্ধৃত করা সমীচীন।

তিনি রহিমাহুল্লাহ যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো: (এই বিষয়ে মানুষের বহু মতবাদ রয়েছে, যা বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়। বরং আমরা এই ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন—যেমন মালিক, আওযাঈ, সাওরী, লাইস ইবন সা‘দ, শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহ এবং প্রাচীন ও আধুনিক অন্যান্য মুসলিম ইমামগণের পদ্ধতি অনুসরণ করি। আর তা হলো: কোনো প্রকার *তাকয়ীফ* (স্বরূপ নির্ধারণ), *তাশবীহ* (সাদৃশ্য প্রদান) কিংবা *তা‘তীল* (গুণাবলী অস্বীকার) ছাড়াই যেভাবে এসেছে, সেভাবেই সেগুলোকে মেনে নেওয়া।

আর *মুশাব্বিহীন* (সাদৃশ্য আরোপকারীদের) মনে যে বাহ্যিক ধারণা দ্রুত আসে, তা আল্লাহ থেকে নাকচ করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নন। **{তাঁর মতো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।}** বরং বিষয়টি তেমনই, যেমন ইমামগণ বলেছেন। তাঁদের মধ্যে ইমাম বুখারীর শিক্ষক নু‘আইম ইবন হাম্মাদ আল-খুযাঈ বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়, সে কুফরী করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন, তা অস্বীকার করে, সেও কুফরী করে। আল্লাহ নিজে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য যা বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট আয়াত ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর গুণাবলীকে এমনভাবে সাব্যস্ত করে যা আল্লাহর মহিমার সাথে মানানসই, এবং আল্লাহ থেকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি নাকচ করে, সে হেদায়েতের পথ অবলম্বন করেছে।’ ইবন কাসীর রহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত হলো।

***

আর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান হলো: মোটকথা ও বিস্তারিতভাবে তাঁদের প্রতি ঈমান আনা। মুসলিম বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর এমন ফেরেশতাগণ রয়েছেন, যাঁদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এবং আল্লাহ তাঁদেরকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা হলেন: **{সম্মানিত বান্দা।}** (২) **{তাঁরা তাঁর আগে কথা বলে না এবং তাঁরা তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে।}** (৩) **{তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে আছে এবং যা কিছু তাদের পেছনে আছে। আর তারা সুপারিশ করে না কেবল তাদের জন্য, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট; আর তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।}** (৪)

তাঁরা বহু প্রকারের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আরশ বহনের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ, জান্নাত ও জাহান্নামের রক্ষকগণ, এবং বান্দাদের আমল সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। আর আমরা বিস্তারিতভাবে তাঁদের প্রতি ঈমান আনি, যাঁদের নাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উল্লেখ করেছেন। যেমন: জিবরীল, মীকাইল, জাহান্নামের রক্ষক মালিক, এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত ইসরাফীল।

***
(১) সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৪
(২) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৬
(৩) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৭
(৪) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৮
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد جاء ذكرهم في أحاديث صحيحة، وقد ثبت في الصحيح عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خلقت الملائكة من نور وخلق الجان من مارج من نار وخلق آدم مما وصف لكم (¬1) » خرجه مسلم في صحيحه، وهكذا الإيمان بالكتب يجب الإيمان إجمالا بأن الله سبحانه أنزل كتبا على أنبيائه ورسله، لبيان حقه والدعوة إليه، كما قال تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} (¬2) الآية، وقال تعالى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ} (¬3) الآية.
ونؤمن على سبيل التفصيل بما سمى الله منها كالتوراة والإنجيل والزبور والقرآن، والقرآن هو أفضلها وخاتمها، وهو المهيمن والمصدق لها، وهو الذي يجب على جميع الأمة اتباعه وتحكيمه مع ما صحت به السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن الله سبحانه بعث رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم رسولا إلى جميع الثقلين، وأنزل عليه هذا القرآن ليحكم به بينهم، وجعله شفاء لما في الصدور، وتبيانا لكل شيء وهدى ورحمة للمؤمنين، كما قال تعالى: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (¬4) وقال سبحانه: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (¬5) وقال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (¬6)
¬__________
(¬1) صحيح مسلم الزهد والرقائق (2996) ، مسند أحمد بن حنبل (6/153) .
(¬2) سورة الحديد الآية 25
(¬3) سورة البقرة الآية 213
(¬4) سورة الأنعام الآية 155
(¬5) سورة النحل الآية 89
(¬6) سورة الأعراف الآية 158
তাঁদের (ফেরেশতাদের) আলোচনা সহীহ হাদীসসমূহে এসেছে। আর সহীহ হাদীসে আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: **"ফেরেশতাদেরকে নূর (আলো) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর জিনদেরকে আগুনের শিখা (মারিজুম মিন নার) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যা তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে।"** (¬১) এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

অনুরূপভাবে, কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা। মোটকথা, এই ঈমান আনা ওয়াজিব যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর হক (সত্য) বর্ণনা করার জন্য এবং সেদিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাঁর নবী ও রাসূলগণের উপর কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: **"আমরা আমাদের রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড নাযিল করেছি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।"** (¬২) আয়াত। এবং তিনি আরও বলেছেন: **"মানুষ ছিল একই উম্মত। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করলেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন, যাতে তারা মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তার মীমাংসা করে দিতে পারে।"** (¬৩) আয়াত।

আর আমরা বিস্তারিতভাবে সেই কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান রাখি, যার নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যেমন: তাওরাত, ইনজীল, যাবুর এবং কুরআন। আর কুরআন হলো সেগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ, এবং এটি সেগুলোর উপর প্রভুত্বকারী (মুহাইমিন) ও সত্যয়নকারী (মুসাদ্দিক)। এই কুরআনই হলো যা অনুসরণ করা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত সুন্নাহর সাথে এর বিধান কার্যকর করা সমস্ত উম্মতের উপর ওয়াজিব। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সমস্ত সাক্বালাইন (জিন ও মানব জাতি)-এর প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, এবং তাদের মাঝে ফয়সালা করার জন্য তাঁর উপর এই কুরআন নাযিল করেছেন। তিনি এটিকে অন্তরের রোগসমূহের জন্য আরোগ্য, প্রতিটি জিনিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা (তিবইয়ানান লিকুল্লি শাইয়িন), এবং মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: **"আর এটি একটি কিতাব, যা আমরা নাযিল করেছি, বরকতময়। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।"** (¬৪) আর তিনি সুবহানাহু আরও বলেছেন: **"আর আমরা তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি জিনিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।"** (¬৫)

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: **"বলো, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল নিরক্ষর নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হেদায়েত লাভ করতে পারো।"** (¬৬)

***
(¬১) সহীহ মুসলিম, যুহদ ও রাকায়েক (২৯৯৬), মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (৬/১৫৩)।
(¬২) সূরা আল-হাদীদ, আয়াত ২৫
(¬৩) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২১৩
(¬৪) সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৫৫
(¬৫) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৮৯
(¬৬) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৮
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২১)
والآيات في هذا المعنى كثيرة، وهكذا الرسل يجب الإيمان بهم إجمالا وتفصيلا فنؤمن أن الله سبحانه أرسل إلى عباده رسلا منهم مبشرين ومنذرين ودعاة إلى الحق، فمن أجابهم فاز بالسعادة، ومن خالفهم باء بالخيبة والندامة، وخاتمهم وأفضلهم هو نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، كما قال سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (¬1) وقال تعالى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} (¬2) وقال تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (¬3) ومن سمى الله منهم أو ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم تسميته آمنا به على سبيل التفصيل والتعيين، كنوح وهود وصالح وإبراهيم وغيرهم صلى الله وسلم عليهم وعلى آلهم وأتباعهم.
وأما الإيمان باليوم الآخر فيدخل فيه الإيمان بكل ما أخبر الله به ورسوله صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد الموت كفتنة القبر وعذابه ونعيمه، وما يكون يوم القيامة من الأهوال والشدائد والصراط والميزان والحساب والجزاء ونشر الصحف بين الناس، فآخذ كتابه بيمينه وآخذ كتابه بشماله، أو من وراء ظهره، ويدخل في ذلك أيضا الإيمان بالحوض المورود لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم، والإيمان بالجنة والنار، ورؤية المؤمنين لربهم سبحانه وتكليمه إياهم، وغير ذلك مما جاء في القرآن الكريم والسنة الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيجب الإيمان بذلك كله وتصديقه على الوجه الذي بينه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
وأما الإيمان بالقدر فيتضمن: الإيمان بأمور أربعة:
أولها: أن الله سبحانه قد علم ما كان وما يكون، وعلم أحوال عباده، وعلم أرزاقهم وآجالهم وأعمالهم وغير ذلك من شئونهم لا يخفى عليه من ذلك شيء
¬__________
(¬1) سورة النحل الآية 36
(¬2) سورة النساء الآية 165
(¬3) سورة الأحزاب الآية 40
এই অর্থে আয়াতসমূহ অনেক। অনুরূপভাবে, রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব (আবশ্যক), সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে। আমরা বিশ্বাস করি যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের কাছে রাসূলদের প্রেরণ করেছেন—তাঁরা সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং সত্যের দিকে আহ্বানকারী। যে তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েছে, সে সৌভাগ্য অর্জন করেছে। আর যে তাঁদের বিরোধিতা করেছে, সে ব্যর্থতা ও অনুশোচনা নিয়ে ফিরেছে। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:

**"আর আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো।"** (সূরা নাহল: ৩৬)

তিনি আরও বলেন:

**"সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণকে (প্রেরণ করেছি), যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।"** (সূরা নিসা: ১৬৫)

তিনি আরও বলেন:

**"মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (খাতামুন নাবিয়্যীন)।"** (সূরা আহযাব: ৪০)

তাঁদের মধ্যে যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে যাদের নাম সুপ্রমাণিত হয়েছে, আমরা তাঁদের প্রতি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে ঈমান আনি। যেমন: নূহ, হূদ, সালিহ, ইবরাহীম এবং অন্যান্য (নবীগণ)। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও দরূদ বর্ষিত হোক।

আর আখেরাতের দিনের (শেষ দিবসের) প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো—মৃত্যুর পরে যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু জানিয়েছেন, তার সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা। যেমন: কবরের পরীক্ষা (ফিতনা), তার শাস্তি ও তার নিয়ামত। আর কিয়ামতের দিন যে সকল ভয়াবহতা ও কঠোরতা ঘটবে, যেমন: সিরাত (পুলসিরাত), মীযান (দাঁড়িপাল্লা), হিসাব, প্রতিদান এবং মানুষের মাঝে আমলনামা বিতরণ—কেউ ডান হাতে তার কিতাব গ্রহণ করবে, আর কেউ বাম হাতে বা তার পিঠের পেছন দিক দিয়ে গ্রহণ করবে।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রতিশ্রুত হাউযের (হাউযে কাওসার) প্রতি ঈমান, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান, মুমিনদের কর্তৃক তাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে দর্শন করা (রুইয়াত), তাঁর সাথে আল্লাহর কথা বলা (তাকলীম), এবং এছাড়া আরও যা কিছু কুরআনুল কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাহতে এসেছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে তা বর্ণনা করেছেন, সেই পদ্ধতিতেই এর সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা ও তা সত্যায়ন করা ওয়াজিব।

আর তাকদীরের (ঐশী বিধানের) প্রতি ঈমান চারটি বিষয়ের প্রতি ঈমানকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা, তাদের রিযিক, তাদের আয়ুষ্কাল, তাদের আমল এবং তাদের অন্যান্য সকল বিষয় সম্পর্কে জানেন। এর কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২২)
سبحانه وتعالى، كما قال سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (¬1) وقال عز وجل: {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} (¬2)
والأمر الثاني: كتابته سبحانه لكل ما قدره وقضاه كما قال سبحانه: {قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَعِنْدَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ} (¬3) وقال تعالى: {وَكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ} (¬4) وقال تعالى: {أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (¬5)
الأمر الثالث: الإيمان بمشيئته النافذة فما شاء كان وما لم يشأ لم يكن كما قال سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ} (¬6) وقال عز وجل: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (¬7) وقال سبحاله: {وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} (¬8)
الأمر الرابع: خلقه سبحانه لجميع الموجودات لا خالق غيره ولا رب سواه، كما قال سبحانه: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ} (¬9) وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ} (¬10)
فالإيمان
¬__________
(¬1) سورة الأنفال الآية 75
(¬2) سورة الطلاق الآية 12
(¬3) سورة ق الآية 4
(¬4) سورة يس الآية 12
(¬5) سورة الحج الآية 70
(¬6) سورة الحج الآية 18
(¬7) سورة يس الآية 82
(¬8) سورة التكوير الآية 29
(¬9) سورة الزمر الآية 62
(¬10) سورة فاطر الآية 3
সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা। যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন:
{নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী।} [সূরা আনফাল: ৭৫]
আর তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন:
{যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।} [সূরা ত্বালাক: ১২]

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: তিনি সুবহানাহু যা কিছু নির্ধারণ করেছেন ও ফয়সালা করেছেন, তার সবকিছু লিখে রাখা। যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন:
{মাটি তাদের মধ্য থেকে যা কিছু হ্রাস করে, তা আমরা অবশ্যই জানি। আর আমাদের নিকট রয়েছে এক সুরক্ষিত কিতাব (লওহে মাহফুজ)।} [সূরা ক্বাফ: ৪]
আর তিনি তাআ'লা বলেছেন:
{আর আমরা সবকিছু সুস্পষ্ট কিতাবে (ইমামে মুবীন) গণনা করে রেখেছি।} [সূরা ইয়াসীন: ১২]
আর তিনি তাআ'লা বলেছেন:
{তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, তা সবই জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে (লিপিবদ্ধ) আছে। নিশ্চয় এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।} [সূরা হাজ্জ: ৭০]

তৃতীয় বিষয়টি হলো: তাঁর কার্যকর (نافذة) ইচ্ছার (মশীআত) প্রতি ঈমান আনা। তিনি যা চান, তা হয়; আর তিনি যা চান না, তা হয় না। যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন:
{নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তাই করেন।} [সূরা হাজ্জ: ১৮]
আর তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন:
{তাঁর ব্যাপার তো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি কেবল বলেন: ‘হও’, আর তা হয়ে যায়।} [সূরা ইয়াসীন: ৮২]
আর তিনি সুবহানাহু বলেছেন:
{আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।} [সূরা তাকভীর: ২৯]

চতুর্থ বিষয়টি হলো: তিনি সুবহানাহু কর্তৃক সকল বিদ্যমান বস্তুর সৃষ্টি। তিনি ছাড়া কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই। যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন:
{আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।} [সূরা যুমার: ৬২]
আর তিনি তাআ'লা বলেছেন:
{হে মানবজাতি, তোমাদের উপর আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া কি অন্য কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক প্রদান করে? তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছো?} [সূরা ফাতির: ৩]

সুতরাং ঈমান...
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৩)
بالقدر يشمل الإيمان بهذه الأمور الأربعة عند أهل السنة والجماعة خلافا لمن أنكر بعض ذلك من أهل البدع، ويدخل في الإيمان بالله اعتقاد أن الإيمان قول وعمل يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية وأنه لا يجوز تكفير أحد من المسلمين بشيء من المعاصي التي دون الشرك والكفر كالزنا، والسرقة وأكل الربا وشرب المسكرات، وعقوق الوالدين، وغير ذلك من الكبائر ما لم يستحل ذلك؛ لقول الله سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} (¬1)
ولما ثبت في الأحاديث المتواترة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن الله يخرج من النار من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان، ومن الإيمان بالله الحب في الله والبغض في الله والموالاة في الله والمعاداة في الله، فيحب المؤمن المؤمنين ويواليهم، ويبغض الكفار ويعاديهم، وعلى رأس المؤمنين من هذه الأمة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأهل السنة والجماعة يحبونهم ويوالونهم ويعتقدون أنهم خير الناس بعد الأنبياء. لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «خير الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم (¬2) » متفق على صحته، ويعتقدون أن أفضلهم أبو بكر الصديق ثم عمر الفاروق ثم عثمان ذو النورين ثم علي المرتضى رضي الله عنهم أجمعين، وبعدهم بقية العشرة، ثم بقية الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، ويمسكون عما شجر بين الصحابة، ويعتقدون أنهم في ذلك مجتهدون، من أصاب فله أجران ومن أخطأ فله أجر، ويحبون أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم المؤمنين به، ويتولونهم ويتولون أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم أمهات المؤمنين، ويترضون عنهن جميعا، ويتبرءون من طريقة الروافض الذين يبغضون أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ويسبونهم ويغلون في أهل البيت، ويرفعونهم فوق منزلتهم التي أنزلهم الله عز وجل، كما يتبرءون من طريقة النواصب الذين يؤذون أهل البيت بقول أو عمل.
¬__________
(¬1) سورة النساء الآية 48
(¬2) صحيح البخاري الشهادات (2652) ، صحيح مسلم فضائل الصحابة (2533) ، سنن الترمذي المناقب (3859) ، سنن ابن ماجه الأحكام (2362) ، مسند أحمد بن حنبل (1/434) .
তাকদীরের (ভাগ্যের) উপর ঈমান আনা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট এই চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি বিদ‘আতী দলগুলোর বিপরীত, যারা এর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। আল্লাহর উপর ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপের মাধ্যমে হ্রাস পায়।

এবং এই বিশ্বাসও রাখা যে, শিরক ও কুফরের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কোনো পাপের কারণে কোনো মুসলিমকে কাফির ঘোষণা করা জায়েয নয়। যেমন: ব্যভিচার, চুরি, সুদ ভক্ষণ, নেশাদ্রব্য পান করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং অন্যান্য কবীরা গুনাহ—যদি না সে সেগুলোকে হালাল মনে করে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: **{নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না, তবে এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।}** (সূরা নিসা: ৪৮)

আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত) হাদীসসমূহে প্রমাণিত হয়েছে যে, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন। আল্লাহর উপর ঈমানের অংশ হলো: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব (মুওয়ালাত) করা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা (মু‘আদাত) পোষণ করা।

সুতরাং মুমিন ব্যক্তি মুমিনদেরকে ভালোবাসেন এবং তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখেন। আর কাফিরদেরকে ঘৃণা করেন এবং তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেন। এই উম্মতের মুমিনদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত তাঁদেরকে ভালোবাসেন এবং তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁরা (সাহাবাগণ) নবী-রাসূলগণের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: **“সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী।”** (সহীহ বলে সর্বসম্মত)।

তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আবূ বকর আস-সিদ্দীক, অতঃপর উমার আল-ফারূক, অতঃপর উসমান যুন-নূরাইন, অতঃপর আলী আল-মুরতাযা—রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন। তাঁদের (খুলাফায়ে রাশিদীনের) পরে হলেন অবশিষ্ট আশারায়ে মুবাশশারা (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন), অতঃপর অবশিষ্ট সকল সাহাবী—রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।

সাহাবীদের মধ্যে যে মতবিরোধ বা বিবাদ ঘটেছিল, আহলুস সুন্নাহ সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁরা (সাহাবাগণ) ছিলেন মুজতাহিদ (স্বাধীনভাবে ইজতিহাদকারী); যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তাঁর জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার, আর যিনি ভুল করেছেন, তাঁর জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।

তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুমিন আহলে বাইতকে (পরিবারবর্গকে) ভালোবাসেন এবং তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ, উম্মাহাতুল মুমিনীনদের (মুমিনদের মাতাগণ) সাথেও বন্ধুত্ব রাখেন এবং তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্টি কামনা করেন।

তাঁরা রাওয়াফিযদের (শিয়াদের) পথ ও পদ্ধতি থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাঁদেরকে গালি দেয় এবং আহলে বাইতের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাঁদেরকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল যে মর্যাদা দিয়েছেন, তার চেয়ে উপরে তুলে ধরে। অনুরূপভাবে, তাঁরা নাওয়াসিবদের পথ ও পদ্ধতি থেকেও সম্পর্ক ছিন্ন করেন, যারা কথা বা কাজের মাধ্যমে আহলে বাইতকে কষ্ট দেয়।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৪)
وجميع ما ذكرناه في هذه الكلمة الموجزة داخل في العقيدة الصحيحة التي بعث الله بها رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم، وهي عقيدة الفرقة الناجية أهل السنة والجماعة التي قال فيها النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تزال طائفة من أمتي على الحق منصورة لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله سبحانه (¬1) » وقال عليه الصلاة والسلام: «افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة. فقال الصحابة: من هي يا رسول الله؟ قال `من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي (¬2) » وهي العقيدة التي يجب التمسك بها والاستقامة عليها والحذر مما خالفها.
¬__________
(¬1) سنن الترمذي الفتن (2192) ، سنن ابن ماجه المقدمة (6) .
(¬2) سنن الترمذي الإيمان (2640) ، سنن أبو داود السنة (4596) ، سنن ابن ماجه الفتن (3991) ، مسند أحمد بن حنبل (2/332) .
আর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি, তার সবই সেই সহীহ আকীদার অন্তর্ভুক্ত, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন।

আর এটিই হলো নাজাতপ্রাপ্ত দল ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’-এর আকীদা, যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল হকের উপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের পরিত্যাগ করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশ এসে যায়।” (১)

তিনি (নবী) আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আরও বলেছেন: “ইয়াহুদীরা একাত্তর (৭১) দলে বিভক্ত হয়েছিল, নাসারারা বাহাত্তর (৭২) দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই উম্মত তিয়াত্তর (৭৩) দলে বিভক্ত হবে। তাদের মধ্যে একটি দল ছাড়া বাকি সবাই জাহান্নামে যাবে।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?” তিনি বললেন: “যারা আমার এবং আমার সাহাবীগণের মতো পথের উপর থাকবে।” (২)

আর এটিই হলো সেই আকীদা, যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, এর উপর অবিচল থাকা এবং এর বিপরীত সকল বিষয় থেকে সতর্ক থাকা ওয়াজিব।

***
(১) সুনানুত তিরমিযী, কিতাবুল ফিতান (২১৯২); সুনানু ইবনে মাজাহ, আল-মুক্বাদ্দিমাহ (৬)।
(২) সুনানুত তিরমিযী, কিতাবুল ঈমান (২৬৪০); সুনানু আবী দাউদ, কিতাবুস্ সুন্নাহ (৪৫৯৬); সুনানু ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান (৩৯৯১); মুসনাদু আহমাদ ইবনে হাম্বল (২/৩৩২)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما المنحرفون عن هذه العقيدة والسائرون على ضدها فهم أصناف كثيرة، فمنهم عباد الأصنام والأوثان والملائكة والأولياء والجن والأشجار والأحجار وغيرها، فهؤلاء لم يستجيبوا لدعوة الرسل، بل خالفوهم وعاندوهم كما فعلت قريش وأصناف العرب مع نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وكانوا يسألون معبوداتهم قضاء الحاجات وشفاء المرضى والنصر على الأعداء، ويذبحون لهم وينذرون لهم، فلما أنكر عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك وأمرهم بإخلاص العبادة لله وحده استغربوا ذلك وأنكروه وقالوا: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} (¬1) فلم يزل صلى الله عليه وسلم يدعوهم إلى الله وينذرهم من الشرك ويشرح لهم حقيقة ما يدعو إليه حتى هدى الله منهم من هدى، ثم دخلوا بعد ذلك في دين الله أفواجا، فظهر دين الله على سائر الأديان بعد دعوة متواصلة، وجهاد طويل من رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم والتابعين لهم بإحسان، ثم تغيرت الأحوال وغلب الجهل على أكثر الخلق حتى عاد الأكثرون إلى دين الجاهلية، بالغلو في الأنبياء والأولياء ودعائهم والاستغاثة بهم وغير ذلك من أنواع الشرك، ولم يعرفوا معنى لا إله إلا الله كما عرف معناها كفار العرب، فالله المستعان.
¬__________
(¬1) سورة ص الآية 5
আর যারা এই আকীদা থেকে বিচ্যুত এবং এর বিপরীত পথে চলে, তারা বহু প্রকারের। তাদের মধ্যে রয়েছে প্রতিমা ও মূর্তিপূজকগণ, ফেরেশতা, ওলী-আউলিয়া, জিন, গাছপালা, পাথর এবং অন্যান্য বস্তুর পূজারিরা। এরা রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াতে সাড়া দেয়নি, বরং তারা তাঁদের বিরোধিতা করেছে এবং তাঁদের সাথে শত্রুতা করেছে, যেমনটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কুরাইশ ও অন্যান্য আরব গোত্রগুলো করেছিল।

তারা তাদের উপাস্যদের কাছে প্রয়োজন পূরণ, রোগমুক্তি এবং শত্রুদের উপর বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করত। তারা তাদের জন্য পশু যবেহ করত এবং মানত করত। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই কাজকে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার নির্দেশ দিলেন, তখন তারা এতে বিস্মিত হলো এবং তা অস্বীকার করে বলল: **{সে কি সমস্ত উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করে দিয়েছে? নিশ্চয়ই এটি এক অত্যাশ্চর্য বিষয়!}** (১)

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্রমাগতভাবে তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে থাকলেন, শিরক থেকে সতর্ক করতে থাকলেন এবং তিনি যার দিকে আহ্বান করছিলেন তার বাস্তবতা তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে থাকলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দিলেন। এরপর তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল। এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণকারী তাবেঈনদের পক্ষ থেকে দীর্ঘ জিহাদ ও নিরবচ্ছিন্ন দাওয়াতের পর আল্লাহর দ্বীন অন্যান্য সকল ধর্মের উপর বিজয়ী হলো।

এরপর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলো এবং অধিকাংশ সৃষ্টির উপর অজ্ঞতা ছেয়ে গেল, এমনকি বেশিরভাগ মানুষ জাহেলিয়াতের ধর্মে ফিরে গেল। তারা নবী-রাসূল ও ওলী-আউলিয়াদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (গ্লু) করার মাধ্যমে, তাদের কাছে দু’আ করার মাধ্যমে, তাদের কাছে সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে এবং অন্যান্য প্রকার শিরকের মাধ্যমে এই কাজ করল। অথচ তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ সেভাবে জানতে পারেনি, যেভাবে আরবের কাফিররা এর অর্থ জানত। সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাওয়া যায়। (ফাল্লাহুল মুসতাআন)।

***
(১) সূরা সাদ, আয়াত ৫।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولم يزل هذا الشرك يفشو في الناس إلى عصرنا هذا بسبب غلبة الجهل وبعد العهد بعصر النبوة.
وشبهة هؤلاء المتأخرين هي شبهة الأولين، وهي قولهم: {هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ} (¬1) ، {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (¬2) وقد أبطل الله هذه الشبهة وبين أن من عبد غيره كائنا من كان فقد أشرك به، وكفر، كما قال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ} (¬3) فرد الله عليهم سبحانه بقوله: {قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} (¬4) فبين سبحانه في هذه الآية أن عبادة غيره من الأنبياء والأولياء أو غيرهم، هي الشرك الأكبر، وإن سماها فاعلوها بغير ذلك وقال تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (¬5) فرد الله عليهم سبحانه بقوله: {إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ} (¬6) فأبان بذلك سبحانه أن عبادتهم لغيره بالدعاء والخوف والرجاء ونحو ذلك كفر به سبحانه، وأكذبهم في قولهم: إن آلهتهم تقربهم إليه زلفى.
ومن العقائد الكفرية المضادة للعقيدة الصحيحة، والمخالفة لما جاءت به الرسل عليهم الصلاة والسلام: ما يعتقده الملاحدة في هذا العصر من أتباع ماركس ولينين وغيرهما، من دعاة الإلحاد والكفر، سواء سموا ذلك اشتراكية أو شيوعية أو بعثية أو غير ذلك من الأسماء فإن من أصول
¬__________
(¬1) سورة يونس الآية 18
(¬2) سورة الزمر الآية 3
(¬3) سورة يونس الآية 18
(¬4) سورة يونس الآية 18
(¬5) سورة الزمر الآية 3
(¬6) سورة الزمر الآية 3
প্রবল অজ্ঞতার কারণে এবং নবুওয়াতের যুগ থেকে দীর্ঘ ব্যবধানের ফলে এই শিরক আমাদের বর্তমান যুগ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

এই পরবর্তী যুগের লোকদের সন্দেহ (শুবহা) হলো পূর্ববর্তী যুগের লোকদের সন্দেহেরই অনুরূপ। আর তা হলো তাদের এই উক্তি: **{এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী}** (১) এবং **{আমরা তো কেবল এজন্যই তাদের ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে}** (২)।

আল্লাহ তাআলা এই সন্দেহকে বাতিল করে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তিই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে—সে যেই হোক না কেন—সে অবশ্যই তাঁর সাথে শিরক করেছে এবং কুফরি করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: **{আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী}** (৩)।

তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জবাবে বলেন: **{বলো, তোমরা কি আল্লাহকে এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছো যা তিনি আসমানসমূহে বা যমীনে জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শিরক করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে}** (৪)।

সুতরাং, এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নবী-রাসূল, আওলিয়া বা অন্য যেই হোক না কেন, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা হলো ‘শিরকে আকবার’ (বড় শিরক), যদিও এর সম্পাদনকারীরা এর অন্য কোনো নাম দেয়।

আর আল্লাহ তাআলা বলেন: **{আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে অভিভাবক (আওলিয়া) হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: আমরা তো কেবল এজন্যই তাদের ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে}** (৫)।

তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জবাবে বলেন: **{নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে। নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যে মিথ্যাবাদী, ঘোর কাফির}** (৬)।

এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দোয়া, ভয়, আশা এবং এ জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা তাঁর প্রতি কুফরি করা। আর তিনি তাদের এই দাবিতে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন যে, তাদের উপাস্যরা তাদেরকে তাঁর নৈকট্য এনে দেবে।

সহীহ আকিদার বিরোধী এবং রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) যা নিয়ে এসেছেন তার বিপরীত কুফরি আকিদাসমূহের মধ্যে রয়েছে: এই যুগে নাস্তিক্য ও কুফরির প্রচারক মার্কস, লেনিন এবং তাদের অনুসারী অন্যান্য নাস্তিকদের বিশ্বাস। তারা এর নাম সমাজতন্ত্র (ইশতিরাকিয়্যাহ), সাম্যবাদ (শিয়ুয়িয়্যাহ), বা'আসবাদ (বা'আছিয়্যাহ) বা অন্য যে নামই দিক না কেন, এর মূলনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে...

***
(১) সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮
(২) সূরা যুমার, আয়াত: ৩
(৩) সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮
(৪) সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮
(৫) সূরা যুমার, আয়াত: ৩
(৬) সূরা যুমার, আয়াত: ৩
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৬)
هؤلاء الملاحدة أنه لا إله والحياة مادة، ومن أصولهم إنكار المعاد وإنكار الجنة والنار، والكفر بالأديان كلها، ومن نظر في كتبهم ودرس ما هم عليه علم ذلك يقينا، ولا ريب أن هذه العقيدة مضادة لجميع الأديان السماوية، ومفضية بأهلها إلى أسوأ العواقب في الدنيا والآخرة، ومن العقائد المضادة للحق ما يعتقده بعض المتصوفة من أن بعض من يسمونهم بالأولياء يشاركون الله في التدبير، ويتصرفون في شئون العالم، ويسمونهم بالأقطاب والأوتاد والأغواث، وغير ذلك من الأسماء التي اخترعوها لآلهتهم، وهذا من أقبح الشرك في الربوبية، وهو شر من شرك جاهلية العرب؛ لأن كفار العرب لم يشركوا في الربوبية وإنما أشركوا في العبادة، وكان شركهم في حال الرخاء، أما في حال الشدة فيخلصون لله العبادة، كما قال الله سبحانه: {فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ} (¬1)
أما الربوبية فكانوا معترفين بها لله وحده كما قال سبحانه: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} (¬2) وقال تعالى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} (¬3) والآيات في هذا المعنى كثيرة.
أما المشركون المتأخرون فزادوا على الأولين من جهتين، إحداهما: شرك بعضهم في الربوبية، والثانية: شركهم في الرخاء والشدة، كما يعلم ذلك من خالطهم وسبر أحوالهم، ورأى ما يفعلون عند قبر الحسين والبدوي وغيرهما في مصر، وعند قبر العيدروس في عدن، والهادي في اليمن وابن عربي في الشام، والشيخ: عبد القادر الجيلاني في العراق، وغيرها من القبور المشهورة التي غلت فيها العامة وصرفوا لها الكثير من حق الله عز وجل، وقل من
¬__________
(¬1) سورة العنكبوت الآية 65
(¬2) سورة الزخرف الآية 87
(¬3) سورة يونس الآية 31
এই ধর্মদ্রোহীগণ (নাস্তিকগণ) বিশ্বাস করে যে, কোনো ইলাহ নেই এবং জীবন কেবলই বস্তু (বস্তুবাদ)। তাদের মূলনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনরুত্থান (মা'আদ), জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করা এবং সকল ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করা। যে ব্যক্তি তাদের গ্রন্থগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাদের মতবাদ নিয়ে গবেষণা করেছে, সে নিশ্চিতভাবে এই বিষয়টি জানে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই আকিদা সকল আসমানী ধর্মের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং এর অনুসারীদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে নিকৃষ্টতম পরিণতির দিকে ধাবিত করে।

সত্যের বিরোধী আকিদাগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু সূফীর এই বিশ্বাস যে, তারা যাদেরকে 'আওলিয়া' বলে অভিহিত করে, তাদের কেউ কেউ আল্লাহর পরিচালনায় (তাদবীর) অংশীদার হন এবং বিশ্বের বিষয়াদি পরিচালনা করেন। তারা তাদেরকে 'আকতাব' (কুতুব), 'আওতাদ' (আওতাদ) এবং 'আগওয়াস' (আগাউস) সহ তাদের উদ্ভাবিত অন্যান্য নামে ডাকে। এটি রুবুবিয়্যাতের (সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের) ক্ষেত্রে নিকৃষ্টতম শিরক।

এটি জাহেলিয়াতের আরবদের শিরকের চেয়েও জঘন্য; কারণ আরবের কাফিররা রুবুবিয়্যাতে শিরক করেনি, বরং তারা ইবাদতে শিরক করেছিল। আর তাদের শিরক ছিল স্বাচ্ছন্দ্যের সময়। কিন্তু কঠিন বিপদের সময় তারা আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করত। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:

**"অতঃপর যখন তারা জলযানে আরোহণ করে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে স্থলে এনে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শিরক করে।"** (১)

পক্ষান্তরে, রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে তারা কেবল আল্লাহর জন্যই তা স্বীকার করত। যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন:

**"আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।"** (২)

এবং তিনি তাআলা বলেছেন:

**"বলুন, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দেন? অথবা কে কান ও চোখের মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবন্তকে বের করেন এবং জীবন্ত থেকে মৃতকে বের করেন? আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তখন বলুন, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?"** (৩)

এই অর্থে আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে।

পক্ষান্তরে, পরবর্তী যুগের মুশরিকগণ পূর্ববর্তীদের চেয়ে দুই দিক থেকে বাড়াবাড়ি করেছে। প্রথমত: তাদের কেউ কেউ রুবুবিয়্যাতে শিরক করেছে। দ্বিতীয়ত: তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও কঠিন উভয় অবস্থাতেই শিরক করে। যারা তাদের সাথে মিশেছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে, তারা এই বিষয়টি জানে। আর যারা মিসরে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবর, বাদাউয়ী ও অন্যান্যদের কবরের কাছে, আদনে আল-আইদারুসের কবরের কাছে, ইয়েমেনে আল-হাদীর কবরের কাছে, শামে ইবন আরাবীর কবরের কাছে, ইরাকে শায়খ আব্দুল কাদির জিলানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কবরের কাছে এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ কবরগুলোর কাছে তারা যা করে, তা দেখেছে। এসব কবরের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বাড়াবাড়ি করেছে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর প্রাপ্য অধিকারের অনেক কিছু তাদের জন্য ব্যয় করেছে। খুব কম লোকই...

***
**তথ্যসূত্র:**
(১) সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত ৬৫
(২) সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত ৮৭
(৩) সূরা ইউনুস, আয়াত ৩১
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৭)
ينكر عليهم ذلك ويبين لهم حقيقة التوحيد الذي بعث الله به نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم، ومن قبله من الرسل عليهم الصلاة والسلام، فإنا لله وإنا إليه راجعون، ونسأله سبحانه أن يردهم إلى رشدهم، وأن يكثر بينهم دعاة الهدى، وأن يوفق قادة المسلمين وعلماءهم لمحاربة هذا الشرك والقضاء عليه ووسائله، إنه سميع قريب.
ومن العقائد المضادة للعقيدة الصحيحة في باب الأسماء والصفات عقائد أهل البدع: من الجهمية، والمعتزلة، ومن سلك سبيلهم في نفي صفات الله عز وجل، وتعطيله سبحانه من صفات الكمال، ووصفه عز وجل بصفة المعدومات والجمادات والمستحيلات، تعالى الله عن قولهم علوا كبيرا، ويدخل في ذلك من نفى بعض الصفات وأثبت بعضها، كالأشاعرة، فإنه يلزمهم فيما أثبتوه من الصفات نظير ما فروا منه من الصفات التي نفوها، وتأولوا أدلتها، فخالفوا بذلك الأدلة السمعية والعقلية، وتناقضوا في ذلك تناقضا بينا، أما أهل السنة والجماعة فقد أثبتوا لله سبحانه ما أثبته لنفسه، أو أثبته له رسوله محمد صلى الله عليه وسلم من الأسماء والصفات على وجه الكمال، ونزهوه عن مشابهة خلقه، تنزيها بريئا من شائبة التعطيل، فعملوا بالأدلة كلها ولم يحرفوا ولم يعطلوا، وسلموا من التناقض الذي وقع فيه غيرهم- كما سبق بيان ذلك- وهذا هو سبيل النجاة والسعادة في الدنيا والآخرة، وهو الصراط المستقيم الذي سلكه سلف هذه الأمة وأئمتها، ولن يصلح آخرهم إلا ما صلح به أولهم وهو اتباع الكتاب والسنة، وترك ما خالفهما.
والله ولي التوفيق، وهو سبحانه حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا به، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد وآله وصحبه.
তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করা হবে এবং তাদের কাছে সেই তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরা হবে, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এবং তাঁর পূর্বের সকল রাসূলগণকে (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরণ করেছেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জি‘ঊন (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী)। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন, তাদের মাঝে যেন হেদায়েতের আহ্বানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন, এবং মুসলিম নেতা ও আলেমগণকে যেন এই শিরকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, এটিকে এবং এর সকল মাধ্যমকে নির্মূল করতে তাওফীক দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা (সামি'), নিকটবর্তী (কারীব)।

সহীহ আকীদার পরিপন্থী যে সকল আকীদা 'আসমা ওয়া সিফাত' (আল্লাহর নাম ও গুণাবলী) অধ্যায়ে বিদ্যমান, তার মধ্যে রয়েছে আহলুল বিদআতের আকীদা: যেমন জাহমিয়্যাহ, মু'তাযিলাহ এবং যারা তাদের পথ অবলম্বন করেছে—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সিফাতসমূহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এবং তাঁকে (সুবহানাহু) কামালিয়াতের গুণাবলী থেকে *তা'তীল* (গুণহীন) করার মাধ্যমে। তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-কে অস্তিত্বহীন, জড় পদার্থ এবং অসম্ভব বস্তুর গুণে গুণান্বিত করেছে। তারা যা বলে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে (তা'আলাল্লাহু 'আলুওয়ান কাবীরা)।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো যারা কিছু সিফাত অস্বীকার করে এবং কিছু সিফাত সাব্যস্ত করে, যেমন আশআরিয়্যাহ। কারণ, তারা যে সিফাতগুলো সাব্যস্ত করেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সেই একই সমস্যা অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা থেকে তারা পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল সেই সিফাতগুলো অস্বীকার করে, যেগুলোর দলীলকে তারা *তা'বীল* (মনগড়া ব্যাখ্যা) করেছে। এর ফলে তারা শ্রুতিগত (সাম'ঈ) এবং যুক্তিনির্ভর (আকলী) উভয় প্রকার দলীলকেই লঙ্ঘন করেছে এবং এই বিষয়ে তারা সুস্পষ্টভাবে স্ববিরোধী (তানাক্কুয) হয়েছে।

পক্ষান্তরে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য সেই সকল নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন—পূর্ণতার ভিত্তিতে। এবং তারা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য থেকে মুক্ত রেখেছেন (*তানযীহ* করেছেন), এমনভাবে মুক্ত রাখা যা *তা'তীল*-এর (গুণ অস্বীকারের) কলুষতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। সুতরাং তারা সকল দলীলের উপর আমল করেছেন, কোনো বিকৃতি (*তাহরীফ*) করেননি, কোনো গুণ অস্বীকার (*তা'তীল*) করেননি, এবং অন্যদের মতো স্ববিরোধিতা থেকে মুক্ত থেকেছেন—যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আর এটাই হলো দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি ও সৌভাগ্যের পথ। এটিই হলো সেই সিরাতুল মুস্তাকীম (সরল পথ) যা এই উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরিগণ) এবং তাদের ইমামগণ অনুসরণ করেছেন। এই উম্মতের শেষ প্রজন্ম ততক্ষণ পর্যন্ত সংশোধন হবে না, যতক্ষণ না তারা সেই পথ অনুসরণ করবে যা দ্বারা প্রথম প্রজন্ম সংশোধিত হয়েছিল—আর তা হলো কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং এগুলোর বিপরীত সবকিছু বর্জন করা।

আল্লাহই তাওফীক দাতা। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ২৮)
التوحيد وأنواعه (¬1)
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله وخليله وأمينه على وحيه، وصفوته من خلقه، نبينا وإمامنا وسيدنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن سلك سبيله، واهتدى بهداه إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإني أشكر الله عز وجل على ما من به من هذا اللقاء، بإخوة في الله، وبأبناء أعزاء أسأله سبحانه أن يجعله لقاء مباركا، وأن يصلح قلوبنا وأعمالنا جميعا، وأن يمنحنا الفقه في الدين والثبات عليه، وأن يصلح أحوال المسلمين جميعا في كل مكان، وأن يولي عليهم خيارهم، ويصلح قادتهم، وأن يكثر فيهم دعاة الهدى إنه جواد كريم.
ثم أشكر القائمين على هذه الجامعة: جامعة أم القرى، وعلى هذا المركز الصيفي، وعلى رأسهم الأخ الكريم صاحب الفضيلة الدكتور: راشد بن راجح مدير الجامعة على دعوتهم لي لهذا اللقاء وأسأله سبحانه بأسمائه الحسنى، وصفاته العلى أن يوفقنا جميعا لما فيه صلاحنا وسعادتنا في العاجل والآجل.
أيها الإخوة في الله، أيها المستمعون الكرام: سمعنا جميعا ما قرأه علينا الطالب من سورة الحشر، سمعنا آيات كريمات فيها عبرة وذكرى، يقول الله جل وعلا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (¬2)
¬__________
(¬1) محاضرة ألقيت في جامعة أم القرى بالمركز الصيفي.
(¬2) سورة الحشر الآية 18
**তাওহীদ এবং এর প্রকারভেদ** (১)

সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণতি মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, রাসূল, খলীল (ঘনিষ্ঠ বন্ধু), তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর উপর। এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর হেদায়েত দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত পথপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের সকলের উপর।

**অতঃপর:**

আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর শুকরিয়া আদায় করছি এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য, যা ঈমানী ভাই ও প্রিয় সন্তানদের সাথে হচ্ছে। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সাক্ষাতকে বরকতময় করেন, আমাদের সকলের অন্তর ও আমলকে সংশোধন করে দেন, এবং আমাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) ও এর উপর অবিচলতা দান করেন।

এবং তিনি যেন সকল স্থানের সমস্ত মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দেন, তাদের উপর তাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তিদের শাসক নিযুক্ত করেন, তাদের নেতৃবৃন্দকে সংশোধন করেন, এবং তাদের মধ্যে হেদায়েতের আহ্বানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা দাতা, পরম দয়ালু।

এরপর আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের (উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং এই গ্রীষ্মকালীন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাই। বিশেষত তাদের শীর্ষে থাকা সম্মানিত ভাই, ফযীলতপূর্ণ ডক্টর: রাশিদ ইবনে রাজিহ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক, এই সাক্ষাতের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। আমি তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে এমন কাজের তাওফীক দেন, যাতে ইহকাল ও পরকালে আমাদের কল্যাণ ও সুখ নিহিত রয়েছে।

হে আল্লাহর পথের ভাইয়েরা, হে সম্মানিত শ্রোতাবৃন্দ:

আমরা সকলে মিলে শুনলাম, ছাত্রটি সূরা আল-হাশর থেকে যা তিলাওয়াত করল। আমরা কিছু মহিমান্বিত আয়াত শুনলাম, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ।

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন:

**{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ}** (২)

**অর্থ:** {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে, আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।}

***
**টীকা:**
(১) উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন কেন্দ্রে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা।
(২) সূরা আল-হাশর, আয়াত ১৮।