(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: -)
أصلح الأديان للإنسانية عقيدة وشريعة (أحمد بن عبد الغفور عطار)
القسم: كتب عامة
الكتاب: أصلح الأديان للإنسانية عقيدة وشريعة
المؤلف: أحمد بن عبد الغفور عطار (ت 1411هـ)
الناشر: غير معروف
سنة النشر: 1400 هـ - 1980 م
مكة المكرَّمة (حرسها الله تعالى)
عدد الصفحات: 122
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আকিদাহ ও শরিয়াহর বিচারে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম ধর্ম (আহমদ বিন আব্দুল গফুর আত্তার)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আকিদাহ ও শরিয়াহর বিচারে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম ধর্ম
লেখক: আহমদ বিন আব্দুল গফুর আত্তার (মৃত্যু ১৪১১ হিজরি)
প্রকাশক: অজানা
প্রকাশকাল: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
মক্কা মুকাররমা (আল্লাহ তাআলা একে হেফাজত করুন)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২২
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيمالكتاب: أصلح الأديان للإنسانية عقيدة وشريعةالمؤلف: أحمد عبد الغفور عَطارالناشر: غير معروفسنة النشر: 1400 هـ - 1980 ممكة المكرَّمة (حرسها الله تعالى)عدد الأجزاء 1تنبيه:[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]مصدر الكتاب نسخة مصورة قام الشيخ الجليل نافع - جزاه الله خيرا - بتحويلهاوقام الفقير إلى عفو ربه الكريم القدير بتصويبهوالحمد لله أولاً وآخراً وظاهراً وباطناً.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।গ্রন্থ: আকিদাহ ও শরিয়তের নিরিখে মানবতার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মলেখক: আহমদ আব্দুল গফুর আত্তারপ্রকাশক: অজ্ঞাতপ্রকাশকাল: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দমক্কা মোকাররমা (আল্লাহ তাআলা একে হেফাজত করুন)খণ্ড সংখ্যা: ১সতর্কবার্তা:[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]গ্রন্থের উৎস: একটি ছায়ালিপি সংস্করণ যা শ্রদ্ধেয় শায়খ নাফে—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—ডিজিটাল সংস্করণে রূপান্তর করেছেনএবং তার মহান ও পরাক্রমশালী রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী এই নগণ্য ব্যক্তি এটি সংশোধন করেছেনসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২০)
أيُّ الأديان أصلح للإنسانية عقيدة وشريعةواقع الوجود الإنساني يثبت أن الإسلام دين الإنسانيةعقيدة وشريعة، فمنذ ظهوره حتى اليوم وإلى قيام الساعةوهو خير دين وأكمله، ولهذا جعله الله خاتم الأديان كماجعل الرسول الذي بعثه به خير الرسل وأفضلهم وخاتمهم،فلا دين غير الإسلام، ولا نبي بعد محمدٍ عليه الصلاةوالسلام.وبراهين ذلك واضحة بشرط أن يكون العقل الذييتلمسها عقلاً مجرداً عن الهوى، منزهاً عن المواريث التيتؤثر فيه.وأكتب هذا وأنا مجرد عن الهوى، ومنزّه عن المواريثالتي تؤثر في عقلي، وأحب أن يكون لي دين من هذهالأديان التي بين أيدينا، على أن يكون ديناً صحيحاً يحويالعقيدة والسلوك والعاملة، يحوي المسجد والسوق والآداب
আকীদা (عقيدة) ও শরীয়ত (شريعة) বিচারে মানবতার জন্য কোন ধর্মটি সর্বাধিক উপযুক্ত?মানব অস্তিত্বের বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, ইসলামই হলো মানবতার ধর্ম—আকীদা (عقيدة) ও শরীয়ত (شريعة) উভয় দিক থেকে; এর আবির্ভাবকাল থেকে আজ পর্যন্ত এবং কিয়ামত পর্যন্তএটিই সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। আর একারণেই আল্লাহ একে সমস্ত ধর্মের সমাপ্তিকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনিভাবেতিনি তাঁর প্রেরিত রাসুলকে রাসুলগণের মধ্যে সর্বোত্তম, শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ হিসেবে মনোনীত করেছেন।অতএব ইসলাম ব্যতীত কোনো ধর্ম নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরে আর কোনো নবী নেই—তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।এর প্রমাণাদি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তবে শর্ত হলো যে বুদ্ধি বা বিবেকতা অনুসন্ধান করবে, তাকে হতে হবে প্রবৃত্তি (هوى) মুক্ত এবং সেই সকল উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রভাব থেকে পবিত্র যাতাকে প্রভাবিত করে।আমি প্রবৃত্তি (هوى) এবং আমার বুদ্ধিবৃত্তিকে প্রভাবিতকারী সকল উত্তরাধিকারলব্ধ সংস্কার থেকে মুক্ত হয়েই এ কথা লিখছি,আর আমি আমাদের সামনে বিদ্যমান ধর্মগুলোর মধ্য থেকে এমন একটি ধর্মের অনুসারী হতে পছন্দ করি,যা হবে একটি সহিহ (صحيح) ধর্ম; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবেআকীদা (عقيدة), সুলুক (سلوك) ও মুয়ামালাহ (معاملة); যা মসজিদ, বাজার ও আদব (آداب) বা শিষ্টাচারকে শামিল করবে।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২১)
والأخلاق الفاضلة، ويستقبل الحياة بالتفاؤل والابتسام،ولا يتجهم لها ولا يتشاءم، ويسيطر على الحياة والوجودكليهما.وبين يديّ حشدٌ من الديانات والمذاهب الاجتماعية، فماالدين أو المذهب الذي يختاره العقل السليم والضميرالصالح؟.وطبيعي أن يبهون الدين المختار حاوياً العقيدةوالشريعة، لأن دين الإنسانية يجب أن يجتمع له ما يحتاجإليه الإنسان في داخل نفسه وخارجها، حتى يكون صالحاًللإنسانية كلها، لأنه لا يصلح لها دين يغفل أحدهما،بل لا بد أن يجتمع له الدين والدنيا.وعلى هذا نعرض للمذاهب والأديان المعروفة قديماًوالقائمة في العالم اليوم لنختار منها الدين الصالح للإنسانيةفي كل العصور القادمة.وطبيعي ألا نعرض من المذاهب والأديان إلا ما كانمتبوعاً من فريق كبير من بني الإنسان أو كان متبوعاً فيعصر من العصور السالفة، إذ من الجائز أن يكون في ديانةمندثرة أو مذهب اجتماعي مبتغانا.
এবং উন্নত নৈতিকতা; তিনি জীবনকে আশাবাদ ও হাসিমুখে গ্রহণ করেন,এর প্রতি বিমুখ হন না কিংবা হতাশাবোধ করেন না, বরং জীবন ও অস্তিত্ব—উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করেন।আমার সম্মুখে বহু ধর্ম ও সামাজিক মতবাদের এক বিশাল সমাহার রয়েছে; এমতাবস্থায়সুস্থ বিবেক ও পরিশুদ্ধ বিবেকবোধ কোন ধর্ম বা মতবাদটিবেছে নেবে?আর এটা স্বাভাবিক যে, মনোনীত ধর্মটি আকিদা ওশরিয়তকে অন্তর্ভুক্ত করবে; কারণ মানবতার ধর্মের জন্য এমন সবকিছুর সমন্বয় ঘটা আবশ্যক যামানুষের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক প্রয়োজনের জন্য দরকার, যেন তা সমগ্রমানবতার জন্য উপযুক্ত (صالح) হতে পারে। কেননা এমন কোনো ধর্ম মানবতার জন্য কল্যাণকর হতে পারে না যা এই দুটির কোনো একটিকে উপেক্ষা করে,বরং তাতে অবশ্যই দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয় থাকতে হবে।এই মূলনীতির ভিত্তিতেই আমরা প্রাচীনকাল থেকে পরিচিতএবং বর্তমানে বিশ্বে বিদ্যমান বিভিন্ন মতবাদ ও ধর্মসমূহ পর্যালোচনা করছি, যেন আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে আগামী সকল যুগের জন্য মানবতার তরে এক উপযুক্ত (صالح) ধর্ম বেছে নিতে পারি।আর এটা স্বাভাবিক যে, আমরা কেবল সেই সকল মতবাদ ও ধর্মই উপস্থাপন করব যামানুষের কোনো এক বড় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে অনুসৃত অথবা যা অতীতের কোনো একযুগে অনুসৃত ছিল; কেননা এটা সম্ভব যে, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনো ধর্মবা সামাজিক মতবাদের মাঝেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নিহিত থাকতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২২)
الشيوعيةوبين أيدينا وفي عصرنا الذي نعيش فيه مذهباجتماعي هو المذهب الماركسي أو الشيوعي الذي سيطر علىشعوب كثيرة يبعد مجموع أفرادها أكثر من بليون.فهل تصلح الشيوعية أن تكون دين الإنسانية عقيدةوشريعة؟.الشيوعية، آخر مذهب اجتماعي، له حكم وسلطان ودولةعظمى، ويدين به مئات الملايين من البشر، وتعترف بأنمذهبها مبني على الإلحاد والكفر وإنكار وجود الله.وعندما تنكر الشيوعية وجود الله تعلن هذا الجحودوتفاخر به، وتحارب كل دين ومعتقد، وتبذل النكيثة فيسبيل إحلال الإلحاد محل الاعتقاد الديني، وتنشر الكفروالإلحاد، وتعاقب على التدين، وتحْرم المتدينين منحقوقهم المدنية، بل تحرمهم من الحقوق الطبيعية.فهل يصلح مذهب ينكر وجود الخالق لأن يكونمذهب الإنسانية وهو خِلْو من العقيدة الدينية؟ طبيعبىأن يكون الجواب: لا يصلح، لأنه خلو من الروح كله.إن الدين أو المذهب الذي يصلح للإنسانية كلها يجب
সাম্যবাদআমাদের সামনে এবং আমরা বর্তমানে যে যুগে বসবাস করছি তাতে এমন একটি সামাজিকমতবাদ বিদ্যমান; আর তা হলো মার্ক্সবাদী বা সাম্যবাদী মতবাদ, যা এমনঅনেক জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে যাদের মোট জনসংখ্যা এক বিলিয়নেরও বেশি।তবে সাম্যবাদ কি বিশ্বাস (عقيدة) হিসেবে মানবতার ধর্ম হওয়ার যোগ্যতা রাখেএবং জীবনবিধান (شريعة)?।সাম্যবাদ হলো সর্বশেষ সামাজিক মতবাদ, যার শাসন, ক্ষমতা ও বিশালরাষ্ট্র রয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ এটি অনুসরণ করে। তারা স্বীকার করে যে, তাদেরমতবাদ নাস্তিকতা (إلحاد), কুফর (كفر) এবং আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।যখন সাম্যবাদ আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তখন তারা এই অস্বীকৃতি প্রকাশ্যঘোষণা করে ও এতে দম্ভ প্রকাশ করে। তারা প্রতিটি ধর্ম ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ধর্মীয়বিশ্বাসের স্থলে নাস্তিকতা (إلحاد) প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে। তারা কুফর (كفر)ও নাস্তিকতা (إلحاد) প্রচার করে, ধর্ম পালনের জন্য শাস্তি দেয় এবং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদেরনাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, এমনকি তাদের সহজাত অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে।সুতরাং স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকারকারী কোনো মতবাদ কি মানবতারআদর্শ হওয়ার যোগ্যতা রাখে, যা ধর্মীয় বিশ্বাস (عقيدة) বর্জিত? স্বাভাবিকভাবেউত্তর হবে: এটি উপযুক্ত নয়; কারণ এটি সম্পূর্ণরূপে আধ্যাত্মিকতা শূন্য।নিশ্চয়ই যে ধর্ম বা মতবাদ সমগ্র মানবতার জন্য উপযোগী হবে তাকে অবশ্যই
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أن يحوي الشريعة والعقيدة معاً، ويجب أن تكون العقيدةصحيحة وسليمة، والشريعة خيِّرة وصالحة، وقد جاهرتالشيوعية بالكفر والإلحاد والدعوة إليهما ونشرهما، ومحاربةكل الأديان والمتدينين.وأي دين أو مذهب يخلو من المعتقد الديني لا يصلحلأن يكون للإنسانية، بل لا يصلح للحكم والسيادة، لأنالشيوعية فرضت نفسها بالقوة والإرهاب والحديد والنار،وإذا انحسرت عن بلد فإنه يعود إلى طبيعته متديناً.وإذا تركنا العقيدة ورضينا بالشريعة من الشيوعيةفهل تصلح لأن تكون شريعة متبعة للإنسانية أو لأمة أومجتمع؟.إن أعظم مزية للإنسان الحرية: حرية المعتقد، وحريةالفكر والرأي والقول والحركة، فهل نجد هذه الحريات فيكنف الشيوعية؟.يجيب الواقع وهو نفسه البرهان القاطع، وجوابه:لا وجود لأي ضرب من هذه الحريات، وأقرب مثال:السياحة، فنحن نجد كل أبناء البلدان الحرة لا ينقطعونْعن السفر بالملايين، ولا نجد بينهم من الكتلة الشيوعيةغير الجواسيس والموظفين.
এটি যেন শরীয়ত ও আকীদা উভয়কেই ধারণ করে, এবং আকীদাবিশুদ্ধ (صحيحة) ও সঠিক হওয়া আবশ্যক, আর শরীয়ত কল্যাণকর ও উপযুক্ত; এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেকমিউনিজম কুফর ও নাস্তিকতাকে এবং এগুলোর দিকে আহ্বান ও প্রচার চালিয়েছে, আর যুদ্ধ ঘোষণা করেছেসকল ধর্ম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরুদ্ধে।এবং যে কোনো দ্বীন বা মতাদর্শ যা ধর্মীয় বিশ্বাস বর্জিত, তা উপযুক্ত নয়মানবতার জন্য হওয়ার, বরং তা শাসন ও কর্তৃত্বের জন্যও যোগ্য নয়, কেননাকমিউনিজম শক্তি, সন্ত্রাস এবং কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিজেকে চাপিয়ে দিয়েছে,আর যখনই তা কোনো দেশ থেকে অপসারিত হয়, তখনই সেই দেশ তার স্বাভাবিক ধর্মীয় সত্তায় ফিরে আসে।আর যদি আমরা আকীদাকে বর্জন করি এবং কমিউনিজমের শরীয়তকে গ্রহণ করিতবে কি তা মানবতা অথবা কোনো জাতি বাসমাজের জন্য অনুসরণযোগ্য শরীয়ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে?মানুষের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্বাধীনতা: বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবংচিন্তা, মত প্রকাশ, কথা বলা ও চলাফেরার স্বাধীনতা; তবে কি আমরা এই স্বাধীনতাগুলো খুঁজে পাইকমিউনিজমের ছায়াতলে?বাস্তবতা নিজেই এর উত্তর দেয় এবং এটিই হলো অকাট্য প্রমাণ, আর এর উত্তর হলো:এই ধরনের কোনো স্বাধীনতার অস্তিত্ব সেখানে নেই, আর এর নিকটতম উদাহরণ হলো:পর্যটন; আমরা দেখি স্বাধীন দেশগুলোর সকল নাগরিক নিরবচ্ছিন্নভাবেলক্ষ লক্ষ মানুষ সফর করছে, কিন্তু কমিউনিস্ট ব্লকের দেশগুলোর মধ্যে আমরা খুঁজে পাই নাগোয়েন্দা এবং সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া আর অন্য কাউকে।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والبلدان المقدسة كالقدس ومكة والمدينة تزدحمبقاصديهن على مدار أيام السنة من جميع أقطار العالم،فأبناء الديانات الثلاث: اليهودية والمسيحية والإسلام لاتنقطع سيولهم الغزيرة المتدفقة عن المقدس الشريف،وأبناء الإسلام من كل بلدان الأرض يهرعون بمئاتالألوف إلى مكة المكرمة - حرسها الله - للحج والعمرة،وإلى المدينة المنورة زادها الله شرفاً وتعظيماً للزيارة.وليس بين الملايين من الحجاج والعُمّار والزوار مندول الكتلة الشيوعية أحد، مع أن القاصدين منها قبلالشيوعية كانوا بعشرات الألوف.ولا وجود للفرد في الشيوعية، فهي تحتم ذوبانه فيالمجموع، ولهذا لا نجد فيها فرداً مستقلاً ولا حراً، فقدذوَّبته تذويباً.والمذهب الذي يخلو من الروح خلواً تاماً، ولا إله لديهغير المادة، وبناؤه كله قائم على أساس العنف العنيف لايمكن أن يكون مذهباً موصوفاً بالصحة والسلامة، بل هومذهب العاهات والآثام، ومذهب كهذا لا يصلح لأنيكون مذهب الإنسانية، لأنه خال منها، ولأنه لا وجودلصفة إنسانية فيه.
জেরুজালেম, মক্কা ও মদীনার মতো পবিত্র শহরগুলো সারা বছর ধরে বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে আগতদর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে, ফলে তিন ধর্মের অনুসারী: ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলামপন্থীদেরপ্রবল জনস্রোত পবিত্র স্থান (আল-কুদ্স আশ-শরিফ) থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না,আর পৃথিবীর সকল দেশ থেকে ইসলামের অনুসারীরা লক্ষাধিকসংখ্যায় মক্কা মুকাররমার দিকে—আল্লাহ তা রক্ষা করুন—হজ ও উমরাহর জন্য দ্রুত অগ্রসর হয়,এবং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা মুনাওয়ারার দিকে—আল্লাহ এর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—ছুটে যায়।আর এই লক্ষ লক্ষ হাজি, উমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের মধ্যেকমিউনিস্ট ব্লকের দেশগুলোর কেউ নেই, যদিও কমিউনিজমের আগেসেখান থেকে আগত অভিযাত্রীদের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার।কমিউনিজমে ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব নেই, এটি সমষ্টির মধ্যে তার বিলীন হয়ে যাওয়াকেঅনিবার্য করে তোলে, এ কারণেই আমরা সেখানে কোনো স্বাধীন বা মুক্ত ব্যক্তি খুঁজে পাই না, কারণ এটিতাকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দিয়েছে।আর যে মতাদর্শ আধ্যাত্মিকতা থেকে সম্পূর্ণরূপে শূন্য এবং যার কাছে বস্তু ছাড়াঅন্য কোনো উপাস্য নেই এবং যার সম্পূর্ণ ভিত্তি চরম সহিংসতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাকখনোই সঠিকতা (صحة) ও সুস্থতার গুণে গুণান্বিত মতাদর্শ হতে পারে না, বরং এটিত্রুটি ও পাপের মতাদর্শ; আর এই ধরনের মতাদর্শ মানবতার ধর্ম হওয়ারযোগ্য নয়, কারণ এটি মানবতাশূন্য এবং এর ভেতরেমানবিক কোনো বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
البراهيميةوإذا عدنا إلى الوراء لنختار من الأديان ديناً وجدنافي الهند (البراهمية". وغيرها من مئات الديانات، وقدسبقت دياناتٌ الديانةَ البراهمية، مثل الفيدية التي سبقتهاديانات، وكانت الديانات في الهند تتعايش فيما يشبهالسلام، ومن الديانات الكبيرة في القارة الهندية: البراهميةالتي ما تزال حتى اليوم، ولعل أتباعها يزيدون على ثلاثمائةمليون.والبراهمية منسوبة إلى براهما، وقد كان - كما تذكرالبراهمية - عدمٌ ولا وجود، ثم كان البدء بوجود ماءوعماء، ثم طفت على سطح الماء بيضة ذهبية احتوت سرالوجود، فخرج براهما من هذه البيضة، براهما الإلهالأعظم الذي خلق الكون، وعُمْر براهما155.520.000.000.000 سنة.ومن معاني البراهما: الانقطاع عن الدنيا إلى العبادةوالفناء فيها، والصلاة، وهو أحد الثالوث المقدس المكونمن براهما نفسه ومن فشنو وسيفا.وبراهما روح العالم غير المُحَسُّ به، وخالق الكونابتداء، وبدأت منه الآلهة، وإليه تعود، لأنه مُوجدها،
ব্রাহ্মণ্যধর্মআমরা যদি ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাই এবং ধর্মসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ধর্মকে বেছে নিতে চাই, তবে আমরা দেখতে পাইভারতে (ব্রাহ্মণ্যধর্ম"। এবং আরও শত শত ধর্ম। আর ব্রাহ্মণ্যধর্মের পূর্বেওবহু ধর্মের অস্তিত্ব ছিল, যেমন বৈদিক ধর্ম, যার পূর্বেও অন্যান্যধর্ম ছিল। ভারতে ধর্মগুলো এক প্রকার শান্তিপূর্ণসহাবস্থানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতো। ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ ধর্মগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্রাহ্মণ্যধর্ম,যা আজও বিদ্যমান এবং সম্ভবত এর অনুসারীর সংখ্যা ত্রিশ কোটিরওবেশি।ব্রাহ্মণ্যধর্ম শব্দটি ব্রহ্মার সাথে সম্পর্কিত। এই ধর্মের বর্ণনা অনুযায়ী—এক সময় কেবলশূন্যতা ও অস্তিত্বহীনতা ছিল। অতঃপর জল ও তিমিরের অস্তিত্বের মাধ্যমে সৃষ্টির সূচনা হয়।তারপর পানির উপরিভাগে একটি স্বর্ণডিম্ব ভেসে ওঠে যা ধারণ করেছিল অস্তিত্বের গূঢ় রহস্য।অতঃপর সেই ডিম্ব থেকেই ব্রহ্মার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ব্রহ্মা হলেন সেই মহান ঈশ্বরযিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল হলো১৫৫,৫২০,০০০,০০০,০০০ বছর।ব্রহ্মা শব্দের অন্যতম অর্থ হলো: উপাসনা ও তাতে মগ্ন হওয়ার জন্য দুনিয়া থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করাএবং প্রার্থনা। তিনি পবিত্র ত্রিমূর্তির অন্যতম সদস্য, যা গঠিতস্বয়ং ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের সমন্বয়ে।ব্রহ্মা হলেন জগতের অতীন্দ্রিয় আত্মা এবং মহাবিশ্বের আদিস্রষ্টা। তাঁর থেকেই দেবতাকুলের সূচনা এবং তাঁর কাছেই তারা ফিরে যাবে, কারণ তিনিই তাদের অস্তিত্বদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والروح الإنسانية شعلة من نيرانه المقدسة، وهو نفسه بدءالخليقة.ونسي القائلون بذلك أنما الماء سابق في الوجود لبراهما،كما أن البيضة الذهبية سابقة على وجوده، أو ظاهرة علىخروجه منها، وعلى هذا نفَوْا عنه صفة القِدم كما نفَوْا عنهصفة، (الأول" ونفوا عنه أيضاً صفة " الآخر " والخلودالسرمدي الأبدي الذي لا نهاية له، وزعموا أنه هو" أجنا " إلهة النار المقدسة، لأنهم رأوه صاحب النيرانالمقدسة.وفشنو ثاني الثالوث الإلهي، وموصوف بأنه الباقيوالحافظ، ولئن كان يأتي بعد براهما فإن فشنو قد زاحمهوانتزع منه صفة الخالق بعد أن سقطت هيبته التي انتهتبانتهاء بدء الخلق الذي تمَّ على يديه، وانتقل منه إلىفشنو "عملية " الخلق الثاني فالثالث وما بعد، وهو حافظالخلق ورازقه.والإله سيفا ثالث الثالوث، وموصوف بأنه المبيدالمفني، وانتهى به الأمر أن صار موصوفاً بالإله العظيم.وعندما انتقلت الديانة الهندية من الفيدية ذاتالثالوث إلى البراهمية ذات الثالوث أيضاً أصبحت قائمة
আর মানবাত্মা হলো তাঁর পবিত্র অগ্নিকুণ্ডের একটি শিখা, এবং তিনি নিজেই প্রারম্ভসৃষ্টির।যারা এটি বলেন তারা ভুলে গেছেন যে, অস্তিত্বের দিক থেকে পানি ব্রহ্মার পূর্ববর্তী,যেমন স্বর্ণডিম্ব তাঁর অস্তিত্বের পূর্ববর্তী অথবা তা থেকে তাঁরনির্গমনের প্রকাশ। এরই ভিত্তিতে তারা তাঁর থেকে অনাদিত্বের বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করেছেন, যেমন তারা তাঁর থেকেবৈশিষ্ট্য অস্বীকার করেছেন, (প্রথম) এবং তারা তাঁর থেকে 'শেষ' ও অবিনশ্বরতার বৈশিষ্ট্যও অস্বীকার করেছেনযা চিরন্তন ও অনন্ত যার কোনো সমাপ্তি নেই। তারা দাবি করেছেন যে, তিনিই হলেন"অগ্নি", পবিত্র অগ্নির দেবতা, কারণ তারা তাঁকে পবিত্র অগ্নিকুণ্ডসমূহেরঅধিপতি হিসেবে দেখেছিলেন।আর বিষ্ণু হলেন ঈশ্বরত্রয়ীর দ্বিতীয় জন, যাঁকে অবিনাশীও রক্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যদিও তিনি ব্রহ্মার পরে আসেন, তথাপি বিষ্ণু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনএবং তাঁর থেকে স্রষ্টার গুণটি ছিনিয়ে নেন; মূলত ব্রহ্মার সেই প্রভাব বিলুপ্ত হওয়ার পর এটি ঘটে যাতাঁর মাধ্যমে সম্পাদিত সৃষ্টির সূচনার সাথেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর ব্রহ্মা থেকেবিষ্ণুর কাছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের সৃষ্টিপ্রক্রিয়া এবং তৎপরবর্তী ধাপগুলো স্থানান্তরিত হয়; আর তিনিই হলেন সৃষ্টির রক্ষকও জীবিকাদাতা।আর দেবতা শিব হলেন ত্রয়ীর তৃতীয় জন, যাঁকে বিনাশকারীও ধ্বংসকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পরিশেষে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তাঁকে 'মহাদেব' হিসেবে অভিহিত করা হতে থাকে।আর যখন ভারতীয় ধর্ম ত্রয়ীবিশিষ্ট বৈদিক মতবাদ থেকেত্রয়ীবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাদে রূপান্তরিত হলো, তখন তা প্রতিষ্ঠিত হলো...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
على المعرفة والفهم والبصيرة والإدراك والنطق، واقتضىهذا التطور نشوء طبقة من الفقهاء والكهان تقاسموامعرفة الأسرار وتفسير النصوص ورعاية آداب الديانة،وطبيعي أن تكون هي وحدها الطبقة الأولى العليا، وفيوقت متأخر عن نشوئها أطلق لفظ البراهما على كل فردفيها.ويوصف براهما بأنه الإله الواحد، خالق الخلق، ولكنهذه الوحدانية لفظ يعطل معناه وجود فشنو وسيفا،أحدهما انتزع من براهما القدرة على الخلق الذي أعقببدء الخليقة وهو فشنو، والآخر سيفا موصوف بالخالقالأعظم، وبذلك جرّد هذان الإلهان الإله الأول الأكبر منأعظم صفاته ومزاياه.ومن عقائد البراهمية التناسخ ووحدة الوجود، وكانتهذه العقائد موجودة فيما سبق من الديانات مثل الفيدية،ولهذا لا فناء للنفس أو الروح، لأنها عندما تكون مذنبة لاتموت بموت صاحبها، بل تنتقل من جسد إلى جسد، وليسحتما انتقالها إلى جسد آدمي، بل يجوز انتقالها إلى حيوانأو نبات، وهذا هو عقاب الذنب، فإذا صَفَتْ الروحسواء من أول مفارقتها صاحبها أو بعد التناسخ المتكررتندمج في الكل الذي لا يفنى، وهذا هو الثواب، وذلك
জ্ঞান, বোধ, অন্তর্দৃষ্টি, উপলব্ধি ও বাকশক্তির ওপর ভিত্তি করে; আর এই বিবর্তনফকিহ ও পুরোহিতদের একটি শ্রেণীর উদ্ভবকে ত্বরান্বিত করে, যারারহস্যের জ্ঞান, ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা ও ধর্মের শিষ্টাচার রক্ষার দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছিল।স্বভাবতই তারাই ছিল একমাত্র উচ্চ ও প্রথম শ্রেণী এবং তাদেরউদ্ভবের পরবর্তী সময়ে সেই শ্রেণীর প্রত্যেক সদস্যের ক্ষেত্রে ‘ব্রাহ্মণ’ শব্দটি প্রয়োগকরা হতে থাকে।ব্রহ্মাকে অদ্বিতীয় উপাস্য ও সৃষ্টির স্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করা হয়, কিন্তুএই একত্ববাদ এমন এক শব্দ যার তাৎপর্য বিষ্ণু ও শিবের অস্তিত্বের কারণে অর্থহীন হয়ে পড়ে।তাদের একজন অর্থাৎ বিষ্ণু ব্রহ্মার নিকট থেকে সৃষ্টির সূচনার পরবর্তী সৃজন ক্ষমতাছিনিয়ে নিয়েছেন, আর অন্যজন অর্থাৎ শিব মহাউত্তম স্রষ্টা হিসেবে অভিহিত।এভাবেই এই দুই দেবতা সেই আদি ও মহান উপাস্যকে তাঁরসর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে বঞ্চিত করেছেন।ব্রাহ্মণবাদের অন্যতম বিশ্বাস হলো জন্মান্তরবাদ ও সর্বেশ্বরবাদ। এইবিশ্বাসগুলো বৈদিক ধর্মের মতো পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতেও বিদ্যমান ছিল।এ কারণে নফস বা আত্মার কোনো বিনাশ নেই; কারণ আত্মা যখন পাপী হয়, তখনতার ধারকের মৃত্যুর সাথে সাথে সে মৃত্যুবরণ করে না, বরং এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়।আর এই স্থানান্তর যে মানবদেহেই হতে হবে তা আবশ্যক নয়, বরং পশুকিংবা উদ্ভিদেও এর স্থানান্তর ঘটা সম্ভব; আর এটাই হলো পাপের শাস্তি। যদি আত্মা পবিত্র হয়ে যায়—চাই তা প্রথমবার দেহ ত্যাগের সময়ই হোক কিংবা বারবার জন্মান্তরের পর—তবে তা সেই অবিনাশী মহসত্তার সাথে বিলীন হয়ে যায়; আর এটাই হলো প্রতিদান। আর তা...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لاندماجه في " النرفانا " حيث تتساوى أرواح البشروأرواح الآلهة لتبقى في حالة الاندماج إلى ما لا نهاية.وليس للنرفانا حقيقة ووجود إلا بالإسم، فهي أقربإلى أن تكون "لا شيء "هذه البراهمية من ناحية العقيدة، ولم نُرد أن ندخلبالقارئ في متاهاتها التي تنتهي بالسير إلى عالم الوهم غيرالمحدود.أما الشريعة في البراهمية فتتلخص في كلمات، إنهاانصراف عن الواقعِ وعزوف عن الدنيا.وبدأ ظهور البراهمية في الفترة التي تقع بين القرنالثامن والقرن السادس قبل الميلاد، وهناك دياناتسبقتها بآلاف السنين، وأخذت الديانات البدائية تتدرجحتى انتهت إلى الفيدية فالبراهمية فغيرها، وليس هذابالنسبة لكل الديانات البدائية، بل لما تطور منها، معبقاء كثير منها على ماكان عليه من البدائية.ومع أن بضع مئات الملايين في القارة الهندية ما تزالتدين بالبراهمية فإنها لا تصلح لأن تكون ديانة الإنسانيةلا من ناحية العقيدة التي تسيطر عليها الأساطيروالأوهام، ولا من ناحية الشريعة التى تمحو في النفس
"নির্বাণে" বিলীন হওয়ার জন্য, যেখানে মানুষের আত্মাও দেব-দেবীদের আত্মা একাকার হয়ে যায় এবং এই বিলীন অবস্থা অনন্তকাল পর্যন্ত বজায় থাকে।নাম ছাড়া "নির্বাণে"র বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই; এটি মূলত"শূন্যতা"রই নামান্তর মাত্র।বিশ্বাসের দিক থেকে এটিই হলো ব্রাহ্মণধর্ম; আমরা পাঠককেএর গোলকধাঁধায় প্রবেশ করাতে চাইনি, যা শেষ পর্যন্ত এক সীমাহীন বিভ্রমের জগতেরদিকে নিয়ে যায়।আর ব্রাহ্মণধর্মের বিধান মূলত কয়েকটি শব্দে সারসংক্ষেপ করা যায়—তা হলোবাস্তবতা থেকে বিমুখতা এবং দুনিয়াবিমুখতা।খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়েব্রাহ্মণধর্মের উদ্ভব ঘটে। সেখানে এমন অনেক ধর্ম ছিলযা এর কয়েক হাজার বছর পূর্বের। আদিম ধর্মগুলো পর্যায়ক্রমে বিবর্তিত হতে হতেবৈদিক ধর্ম, এরপর ব্রাহ্মণধর্ম এবং আরও অন্যান্য ধর্মে রূপ নেয়। তবে এটিসকল আদিম ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং সেগুলোর ক্ষেত্রেই ঘটেছে যা বিবর্তিত হয়েছে; যদিওএর অনেকগুলোই তাদের পূর্বের আদিম দশায় রয়ে গেছে।যদিও ভারতীয় উপমহাদেশে এখনও কয়েকশ মিলিয়ন মানুষব্রাহ্মণধর্মের অনুসারী, তবুও এটি মানবতার ধর্ম হওয়ার যোগ্যতা রাখে না—না বিশ্বাসের দিক থেকে, যাতে কেবল রূপকথাও বিভ্রমের আধিপত্য, আর না বিধানের দিক থেকে—যা মানুষের সত্তাকে বিলীন করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الإنسانية دوافع العمل من أجل تعمير الأرض والتمتعبطيبات الحياة، وتدفع بها إلى الإخلاد إلى الجمودوالخمول.البراهمية لا تصلح للإنسانية شريعة، لأن أتباعهاأنفسهم قرّروا فقدان صلاحها قبل غيرهم، فاستبدلوا بهاقوانين الغرب وما وضع فقهاؤهم من قوانين.والإنسان المتطور المتقدم حضارياً لا تطيب له ديانةتُميت فيه دوافع العمل والكفاح، وتجعل عالم الغيب أوالآخرة عالماً لا وجود له إلا في ضباب الأوهام.وإذا كانت البراهمية غير صالحة لأن تكون دينالإنسانية شريعة وعقيدة فإن بالقارة الهندية دياناتأخرى مثل الجينية والبوذية نكتفي بهما عن سواهما، لأنهماأكبر من غيرهما.وخرج في الهند نفسها ومن أهلها على الفيديةوالبراهمية علماء وفقهاء كفروا بهما أشد الكفر، ونالوهمابالنقد والتجريح، بل اتهموا الديانتين الكبيرتين حتى بلغبهم السخرية بالكهنة البراهميين أن شبهوهم بالكلاب،
মানবতার পৃথিবী আবাদ করার এবং জীবনের পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ উপভোগের কর্মস্পৃহা [কেড়ে নেয়]এবং তাকে স্থবিরতা ও অলসতার দিকেঠেলে দেয়।ব্রাহ্মণবাদ মানবতার জন্য জীবনবিধান (شريعة) হিসেবে উপযুক্ত নয়; কারণ এর অনুসারীরানিজেরাই অন্যদের আগে এর অযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে তারা এর পরিবর্তেপশ্চিমা আইন এবং তাদের আইনজ্ঞদের প্রণীত বিধিবিধান গ্রহণ করেছে।আর সভ্যতার বিচারে উন্নত ও প্রগতিশীল মানুষ এমন কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে পারে নাযা তার কর্মস্পৃহা ও সংগ্রামের প্রেরণা নষ্ট করে দেয় এবং অদৃশ্যের জগত (عالم الغيب) বাপরকালকে এমন এক জগতের রূপ দেয় যার অস্তিত্ব কেবল ধোঁয়াশাপূর্ণ অলীক কল্পনায় বিদ্যমান।যদি ব্রাহ্মণবাদ মানবতার জন্য ধর্ম, জীবনবিধান (شريعة)ও আকিদা (عقيدة) হিসেবে উপযুক্ত না হয়, তবে ভারতীয় উপমহাদেশে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মতোআরও কিছু ধর্ম রয়েছে; আমরা অন্য ধর্মগুলোর পরিবর্তে কেবল এই দুটির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব, কারণ এই দুটিঅন্যান্যগুলোর তুলনায় অধিক বিস্তৃত।স্বয়ং ভারতেই এবং সেখানকার অধিবাসীদের মধ্য থেকেই বৈদিক মতবাদও ব্রাহ্মণবাদের বিরুদ্ধে এমন বিজ্ঞ আলেম (علماء) ও ফকিহ (فقهاء) আত্মপ্রকাশ করেছেন যারা এই উভয় মতবাদকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং সেগুলোর সমালোচনা (النقد) ও জরাহ (التجريح) করেছেন। এমনকি তারা এই দুটি প্রধান ধর্মের প্রতি এমনভাবে অভিযোগ আরোপ করেছেন যে,ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের বিদ্রূপ করতে করতে শেষ পর্যন্ত তাদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يأخذ كل كلب بأسنانه ذيل أخيه في خط طويل هاتفاً:لنأكل ولنشرب.وفي بعض الأسفار إنكار لوجود الإله، وجحود بكلما في الديانة البراهمية، وإتهام لمؤلفي اليوبانيشاد بانهممرضى وحمقى ومهووسون.وكان هناك فلاسفة ملحدون أعلنوا كفرهمبالديانتين، وجاهروا بكفرهم وإلحادهم، وسخروا بهما أشدالسخرية، كما كان هناك فلاسفة مشّاءون يتنقلون من غابةإلى غابة، ومن بلد إلى بلد وهم يعلنون الحرب علىالديانتين في عنف وضراوة، ووجدوا معجبين ومريدينوتلامذة وأتباعاً وقفوا معهم على نقيض التزهيدوالتشاؤم، وأخذوا بالدعوة إلى انتهاب اللذات، وانتهازكل فرصة تتاح فيها المتعة واللذة، فما مضى لن يعود،وليس هناك وحدة وجود، بل لا وجود لبراهما نفسه.وبلغ الإلحاد والكفر بآلهة الديانتين حداً قصياً منقبل هؤلاء الكافرين بها حتى قال بعضهم: لا فرق في
প্রত্যেকটি কুকুর তার দাঁত দিয়ে তার সঙ্গীর লেজ কামড়ে ধরে একটি দীর্ঘ সারিতে এই চিৎকার করতে থাকে:আমরা যেন আহার করি ও পান করি।আর কিছু গ্রন্থে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অস্বীকৃতি এবং ব্রাহ্মণধর্মের যাবতীয় বিষয়ের প্রতিঅবিশ্বাস বিদ্যমান; সেই সাথে উপনিষদের রচয়িতাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে এই বলে যে তারাঅসুস্থ, নির্বোধ ও বিকারগ্রস্ত।সেখানে এমন কিছু নাস্তিক দার্শনিক ছিলেন যারা উভয় ধর্মের প্রতি নিজেদের কুফর বা অবিশ্বাসের কথা ঘোষণা করেছিলেনএবং তারা তাদের কুফর ও নাস্তিক্যবাদকে জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। তারা উভয় ধর্মকে চরমভাবেউপহাস করেছিলেন। তদ্রূপ সেখানে এমন কিছু মাশশাঈ (পরিব্রাজক) দার্শনিকও ছিলেন যারা এক অরণ্যথেকে অন্য অরণ্যে এবং এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে বিচরণ করতেন এবং তারা অত্যন্ত উগ্রতা ও প্রচণ্ডতার সাথে উভয় ধর্মেরবিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেন। তারা নিজেদের এমন কিছু গুণগ্রাহী, মুরিদ,ছাত্র ও অনুসারী পেয়েছিলেন যারা বৈরাগ্য ও নৈরাশ্যবাদের বিপরীতেতাদের পক্ষ নিয়েছিলেন। তারা ভোগবিলাস অন্বেষণ এবং আনন্দ ও তৃপ্তিরপ্রতিটি সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানাতে থাকেন; কেননা যা গত হয়েছে তা আর ফিরে আসবে না,সেখানে কোনো ‘অস্তিত্বের এককত্ব’ বলতে কিছু নেই, এমনকি স্বয়ং ব্রহ্মারও কোনো অস্তিত্ব নেই।উভয় ধর্মের দেবদেবীদের প্রতি নাস্তিক্য ও কুফর এই অস্বীকারকারীদের মাধ্যমে এমন এক চরম সীমায়পৌঁছেছিল যে, তাদের কেউ কেউ বলেছিল: এতে কোনো পার্থক্য নেই...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحقيقة بين فشنو وأي كلب من الكلاب.وتقوَّضت دولة الإيمان بالديانتين وآلهتهما في نفوسملايين من المؤمنين، وكثر عدد من كفروا بهم، وبلغَ الملايين،وانتصر الملاحدة انتصاراً مؤزَّراً في مجال الفكر والمنطقوالمادية حتى أن الديانتين اللتين جاءتا بعد الديانتينالسابقتين قد خلتا من الإله ومن الطقوس الدينية التيابتدعها الكهان.وهاتان الديانتان الملحدتان هما الجينية والبوذيةاللتان كانتا من ثمار الحرب التي شنها الملاحدة علىالديانتين السابقتين.***الجينيةوتنتسب الجينية إلى جينا بمعنى القهار، وسميتالديانةُ " الجينية " لأن مؤسسها الأول قهر نفسه فأطلقعليها ذلك الاسم، واسم المؤسس فارذامانا"المعروف بلقب ماهافيرا " بمعنى البطل العظيم،وهو الاسم الذي خلعه عليه أتباعه المخلصون.وعاش ماهافيرا ما بين 599 - 527 قبل الميلاد،
বিষ্ণু এবং যেকোনো কুকুরের মধ্যকার স্বরূপ।লক্ষ লক্ষ বিশ্বাসীদের অন্তরে এই দুই ধর্ম ও তাদের উপাস্যদের প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তি ধসে পড়েছিল এবং যারা তাদের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে লাখে লাখে পৌঁছেছিল,এবং নাস্তিকরা চিন্তা, যুক্তি ও বস্তুবাদের ময়দানে এক চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল,এমনকি পূর্ববর্তী দুই ধর্মের পর যে দুটি ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছিল, সেগুলো ঈশ্বর এবং পুরোহিতদের উদ্ভাবিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে মুক্ত ছিল।আর এই নাস্তিক্যবাদী ধর্ম দুটি হলো জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম,যা ছিল পূর্ববর্তী দুই ধর্মের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের পরিচালিত সংগ্রামেরই ফসল।***জৈনধর্মজৈনধর্ম 'জিনা' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত যার অর্থ বিজয়ী বা দমনকারী, আর এই ধর্মকে 'জৈনধর্ম' বলা হয় কারণ এর আদি প্রতিষ্ঠাতা নিজের নফসকে দমন করেছিলেন বিধায় তিনি একে এই নামে অভিহিত করেন। প্রতিষ্ঠাতার নাম ছিল বর্ধমান"যিনি মহাবীর উপাধিতে পরিচিত" যার অর্থ মহান বীর,এটি সেই নাম যা তার একনিষ্ঠ অনুসারীরা তাকে প্রদান করেছিলেন।মহাবীর খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯ থেকে ৫২৭ অব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন,
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقيل: ما بين سنة 549 - 477 ق. م، وعاش منعماً مترفاًفي ثراء أبيه ومجده حتى فجع في والديه اللذين آثراالانتحار جوعاً، إذ كانا ينتميان إلى عقيدة تحببالانتحار الذي يحسب فيها نعمة لا تعد لها الحياة التي هيلعنة في معتقدهم.وخرج الابن حاقدا على المجد والثراء والنعيم والمسرةإذ رأى غاية والديه الأليمة فتنكر للحياة نفسها، وارتدىالقشف والجوع والحرمان، وأخذ يتجول في إقليم البنغالينشد تطهير النفس وصفاء الروح ثلاث عشرة سنة حتىانتهى إلى قهر نوازع نفسه، وسلطان شهواته وغرائزه.وأعجب به الناس، ورأوْا (جينا" أي القهار بينأيديهم يُبعث من جديد لينقذ الهند التي غرقت في أوحالاللذات والآثام، واعتقدوا أنه "الماهافيرا" المنتظر بُعثلينقذ الغرقى ويهدي الضالين، فالتفَّت الجماهير حولهواتخذوه زعيمهم ورمزهم، وأطلقوا على مبادئه " الجينية "نسبة إلى "جينا" بمعنى القهار.بل ليست "الجينية " مبادئ وإنما ديانة، ولهذا رضيأتباع ماهافيرا أن يحيَوْا حياة غاية في القَشَف والقسوةوالحرمان وتعذيب الجسمم والروح إلى حد لم يعرف في أيدين.
এবং বলা হয়: ৫৪৯ - ৪৭৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়; তিনি অত্যন্ত বিলাসিতা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত করেনতার পিতার ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির মধ্যে, যতক্ষণ না তিনি তার পিতামাতার বিয়োগান্তক ঘটনায় শোকাহত হন যারাঅনাহারে আত্মাহুতি দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন; কারণ তারা এমন এক আকিদার অনুসারী ছিলেন যাআত্মাহুতিকে পছন্দনীয় করে তোলে, যা সেখানে এমন এক নেয়ামত হিসেবে গণ্য হয় যার তুলনায় জীবন কিছুই নয়, যাতাদের বিশ্বাসমতে একটি অভিশাপ।সেই পুত্র তখন আভিজাত্য, ঐশ্বর্য, বিলাসিতা ও আমোদ-প্রমোদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে বেরিয়ে পড়েন,যেহেতু তিনি তার পিতামাতার বেদনাদায়ক পরিণতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাই তিনি খোদ জীবনের প্রতি বিরাগভাজন হন এবংরুক্ষতা, অনাহার ও বঞ্চনাকে বরণ করেন। তিনি প্রায় তেরো বছর যাবৎ বাংলা অঞ্চলেআত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতার সন্ধানে পরিভ্রমণ করেন, যতক্ষণ নাতিনি তার প্রবৃত্তির তাড়না এবং লালসা ও সহজাত প্রবৃত্তির ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হন।মানুষ তার প্রতি মুগ্ধ হলো এবং তারা তাদের সামনে এক 'জিনা' তথা 'বিজয়ী'রপুনরুত্থান দেখতে পেল, যিনি ভোগবিলাস ও পাপের পঙ্কিলতায়নিমজ্জিত ভারতকে উদ্ধার করবেন। তারা বিশ্বাস করত যে তিনি সেই প্রতীক্ষিত 'মহাবীর', যিনিনিমজ্জিতদের উদ্ধার করতে এবং পথভ্রষ্টদের পথ দেখাতে প্রেরিত হয়েছেন। ফলে জনতা তার চারধারে সমবেত হলোএবং তাকে তাদের নেতা ও আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করল। তারা তার মূলনীতিসমূহকে 'জৈন ধর্ম'হিসেবে নামকরণ করল, যা 'জিনা' শব্দের সাথে সম্পর্কিত, যার অর্থ বিজয়ী।বস্তুত 'জৈনবাদ' কেবল কিছু মূলনীতি নয়, বরং এটি একটি ধর্ম। এই কারণেইমহাবীরের অনুসারীরা চরম রুক্ষতা, কঠোরতাএবং বঞ্চনা ও দেহ-মনের এমন এক যন্ত্রণাদায়ক জীবন যাপনে সন্তুষ্ট ছিল যা অন্য কোনোধর্মে পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فالجينية تحرم كل متعة ولذة وسرور، فأكل اللحمحرام، وقتل كل ذي روح حرام، وكما الحرام إيذاء أيكائن، سواء أكان إنساناً أم حيواناً أم نباتاً أم جماداً،والزواج حرام، لأنه متعة، والمتعة محرمة، والإعجاببالجمال أو حبه حرام.وأسرف أتباع الديانة الجينية في الزهد وحرمانالنفس من كل شيء يبعث اللذة أو الراحة النفسية أوالبدنية، ويجب على الجيني أن يكون أكبر من الألموالضيق، فلا يتبرَّم بألم الجوع والظمأ والبرد والحر، وألايضيق أو يتضايق بلذع الحشرات، وألا يشعر بالخزي أوالعار أو الخجل من العري، ولا يتبرم من النوم علىالأرض دون فراش، فحرام النوم على فراش.ومن الفرائض ألا يشعر بالأسى على نعيم فقده، لأنه لاأسف ولا حزن على حرام متروك.ويأخذ الجيني نفسه بالقسوة التي لا قسوة بعدها، فعلىالجيني أن يضع على لهب سراجه حاجزاً يمنع اقتحام فراشأو حشرة لئلا تحترق، ومن الفرائض ألا تدخل في فمه أوأنفه حشرة، فهو - لهذا - يحمل بيده مروحة يذود عنهماالحشرات والهوامّ، ومن تلك الفرائض ألا يطأ حشرة عمداًأو غير عمد، بل لا يجوز أن يدعسها وهو لا يعلم، ولهذا
জৈন ধর্ম প্রতিটি আমোদ, স্বাদ ও আনন্দকে নিষিদ্ধ করে, তাই মাংস ভক্ষণহারাম (حرام), এবং প্রতিটি প্রাণধারী (ذي روح) সত্তাকে হত্যা করা হারাম (حرام), আর ঠিক যেমন হারাম (حرام) হলো কোনোসৃষ্টিকে কষ্ট দেওয়া, চাই তা মানুষ হোক বা পশু, উদ্ভিদ হোক বা জড় পদার্থ,তেমনি বিবাহ করাও হারাম (حرام), কেননা তা একটি ভোগবিলাস, আর ভোগবিলাস হলো নিষিদ্ধ (محرم), এবং সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধ হওয়াবা সৌন্দর্যকে ভালোবাসা হারাম (حرام)।জৈন ধর্মের অনুসারীরা যুহদ (زهد) বা কৃচ্ছ্রসাধনে এবং আত্মাকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে চরম সীমা লঙ্ঘন করেছেযা আনন্দ দেয় কিংবা মানসিক বা শারীরিক প্রশান্তি বয়ে আনে। একজন জৈনের জন্য আবশ্যক হলো সে যেন ব্যথাও সংকটের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। তাই সে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, শীত ও গ্রীষ্মের যন্ত্রণায় বিরক্ত হবে না,এবং পতঙ্গের দংশনেও সে সংকীর্ণতা বোধ করবে না বা বিরক্ত হবে না; নগ্নতার কারণে সে কোনো প্রকার লাঞ্ছনা,কলঙ্ক বা লজ্জা অনুভব করবে না; এবং বিছানা ছাড়া মাটিতে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও কোনো অভিযোগ করবে না,কেননা বিছানায় শোয়া হারাম (حرام)।তাদের ফরজ (فرائض) বা আবশ্যিক কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো হারিয়ে যাওয়া কোনো নিআমতের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করা, কেননাবর্জনকৃত হারাম (حرام) বস্তুর জন্য কোনো পরিতাপ বা দুঃখ নেই।একজন জৈন অনুসারী নিজের ওপর এমন কঠোরতা আরোপ করে যার ওপরে আর কোনো কঠোরতা নেই। তাকেতার প্রদীপের শিখার ওপর এমন এক প্রতিবন্ধক স্থাপন করতে হয় যা পতঙ্গ বা পোকাকে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে বিরত রাখেযাতে সেগুলো পুড়ে না যায়। তাদের ফরজ (فرائض) সমূহের মধ্যে এটিও রয়েছে যে যেন তার মুখ বানাকে কোনো পতঙ্গ প্রবেশ না করে; সে —এই কারণে— নিজ হাতে একটি পাখা বহন করে যা দিয়ে সে তাদের থেকেপতঙ্গ ও কীটপতঙ্গ দূরে সরিয়ে রাখে। সেই ফরজ (فرائض) গুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো পতঙ্গকে মাড়াবে না,বরং না জেনেও সেটির ওপর পা রাখা জায়েজ (جائز) নয়। এই কারণে—
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يحمل بيده مكنسة حين يمشي يكنس ما بين يديه حتى لاتقع قدمه على حشرة فيقتلها أو يؤذيها.وفرض على الجيني ألا يبكي أو يشكو أو يتأوه إذاأصيب بما يؤلمه، بل يجب ألا يشعر بضيق من أي أذى أومصاب.ويجب أن يتخلّق بالأخلاق الحسنة، ويتنزه عن كلالآثام صغيرها وكبيرها.وعندما يستطيع الجيني أن يخضع لدينه اثني عشر عاماًيتبع ما رَسَم فإنه يصل إلى الدرجة العليا التي تمكنه منقتل نفسه، فإذا استطاع أن يتنعم بالانتحار جوعاً مثلما فعل والدا الماهافيرا فقد أدرك النعيم.وقد فارق كثير من زعماء الجينية الحياة على هذاالنحو، وما يزالون حتى أيامنا هذه ينعمون بهذا الانتحار،ويبلغ عدد الجينيين حوالى المليونين في القارة الهندية.ولا وجود في الديانة الجينية لإله، فعى لاهوت بلا إلهولعل فيما ذكرناه في الجينية يغني عن المزيد، لأن أيإنسان في الوجود كله من غير هؤلاء ذوي الفجائع
তিনি হাঁটার সময় হাতে একটি ঝাড়ু বহন করেন, তাঁর সামনে যা আছে তা তিনি ঝাড়ু দেন যাতে তাঁরপা কোনো পতঙ্গের ওপর না পড়ে এবং তিনি সেটিকে হত্যা না করেন বা কষ্ট না দেন।একজন জৈনের ওপর আবশ্যিক করা হয়েছে যে, সে কাঁদবে না, অভিযোগ করবে না বা ব্যথায় কাতরাবে না যখন সেকষ্টদায়ক কোনো কিছু দ্বারা আক্রান্ত হবে; বরং কোনো ক্ষতি বাবিপদে তার সংকীর্ণতা অনুভব করাও অনুচিত।আর তার জন্য উত্তম চরিত্রের গুণাবলি অর্জন করা এবং সকলছোট ও বড় পাপ থেকে পবিত্র থাকা আবশ্যক।যখন একজন জৈন বারো বছর পর্যন্ত তাঁর ধর্মের প্রতি অনুগত থাকতে সক্ষম হনএবং এর বিধিবিধান অনুসরণ করেন, তখন তিনি সেই উচ্চ সোপানে পৌঁছান যা তাঁকেনিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে সক্ষম করে তোলে। আর যদি তিনি অনাহারে আত্মাহুতির মাধ্যমে সুখ লাভ করতে সক্ষম হন, যেমনটিমহাবীরের পিতামাতা করেছিলেন, তবে তিনি পরম সুখ লাভ করলেন।জৈনধর্মের অনেক নেতা এইভাবেই জীবনাবসান ঘটিয়েছেনএবং বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁরা এই আত্মাহুতির মাধ্যমে সুখ অন্বেষণ করে যাচ্ছেন,ভারতীয় উপমহাদেশে জৈনদের সংখ্যা প্রায় বিশ লক্ষ।জৈন ধর্মে কোনো উপাস্যের অস্তিত্ব নেই, এটি মূলত ঈশ্বরহীন এক ধর্মতত্ত্ব,সম্ভবত জৈনধর্ম সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট হবে; কারণএই শোচনীয় ব্যক্তিদের ছাড়া সমগ্র জগতের যেকোনো মানুষ
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
والعاهات والمصائب يرضى بأن يدخل في الجينية، ولم يؤثَرأن أحداً من أي بلد في العالم رضي بها دينا غير أناس منالهند.فالجينية لا تصلح لأن تكون دين الإنسانية عقيدةوشريعة، بل لا تصلح لأن تكون ديناً على الإطلاق لغيرأولئك القوم.***البوذيةوالبوذية من أديان الهند، وهي كالجينية ديانة ملحدة،لا وجود فيها لإله ولاهوتها بغير إله.والبوذية منسوبة إلى بوذا المولود سنة 568 قبلالميلاد بشمال الهند من إقليم نيبال من أب حاكم، وذكروا لهمن الخوارق في حمله ومولده الشيء الكثير، كما ذكروا أنوالدته توفيت بعد ولادته بسبعة أيام لئلا تعيش فتحملغيره.واسم بوذا هو سدذارتا، ومعناه: الذي حقق أمله،وأما بوذا فمعناه: المستنير، وكانت له وهو أميرٌ ابن ملكألقاب، وعاش كأمثاله غارقاً في المتع والنعيم والجواهر
শারীরিক অক্ষমতা ও মুসিবত সত্ত্বেও কেউ জৈন ধর্মে প্রবেশ করতে সম্মত হবে—এমনটি বর্ণিত হয়নিযে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কেউ একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে, কেবল ভারতের একদল লোক ব্যতীতভারতবর্ষের।সুতরাং জৈন ধর্ম আকিদাহর দিক থেকে মানবতার ধর্ম হওয়ার উপযোগী নয়এবং শরিয়তের দিক থেকেও নয়; বরং এটি ঐ সকল লোক ব্যতীত অন্যদের জন্য আদৌ ধর্ম হওয়ার যোগ্য নয়ঐ সকল সম্প্রদায়।***বৌদ্ধধর্মবৌদ্ধধর্ম ভারতের ধর্মগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি জৈন ধর্মের মতোই একটি নাস্তিক্যবাদী ধর্ম,এতে ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং এর ঈশ্বরতত্ত্ব ঈশ্বরবিহীন।বৌদ্ধধর্ম বুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত, যিনি ৫৬৮ খ্রিস্টপূর্বঅব্দে উত্তর ভারতের নেপাল অঞ্চলের এক শাসক পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তারা তাঁরগর্ভধারণ ও জন্মের বিষয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা এও উল্লেখ করেছেন যে,তাঁর মাতা তাঁর জন্মের সাত দিন পর মৃত্যুবরণ করেন যাতে তিনি বেঁচে থেকে অন্য কাউকে গর্ভধারণ করতেনা পারেন।বুদ্ধের নাম ছিল সিদ্ধার্থ, যার অর্থ: যে ব্যক্তি নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছে,আর বুদ্ধ শব্দের অর্থ হলো: আলোকপ্রাপ্ত। রাজকুমার ও রাজার পুত্র হিসেবে তাঁর অনেকউপাধি ছিল এবং তিনি তাঁর সমপর্যায়ের অন্যদের মতোই ভোগ-বিলাস, স্বাচ্ছন্দ্য ও মণি-মুক্তার প্রাচুর্যের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
والذهب والترف حتى بلغ التاسعة والعشرين حيث تغيرمجرى حياته، فقد رأى ذات مرة مريضاً وذات مرة ميتا،وأخرى شيخاً فانياً فتأثر بما رأى، وساوره شعور لا يخلومن التجديف.وذات ليلة قرر أن يبحث عن الحقيقة فغادر القصرمودِّعاً زوجه وولده، وعاش بين النساك حتى صار منأئمتهم، ودرس أسفار الفيدا واليوبانيشاد، وغرق فيالنسك والقشَف والتأمل، وانتهى إلى أعلى المراتب بينالنساك حتى صار مرشدهم، ودرس البراهمية وأطلع علىأسرارها، ولكنه لم يجد بها ما يرجو، ولم تبح له بسرِّالوجود والحياة، فانصرف إلى غارٍ بالبنغال، وقسا علىنفسه أشد القسوة، وتقلب في أشد ضروب الزهد والحرمانوإذلال الجسد وإرهاق النفس، وتبعه خمسة من النساكجعلوه إمامهم، وقضوا ست سنوات أشرفوا في نهايتها علىالتلف وكادوا يهلكون.وذاع صيت بوذا في الآفاق وهو على حاله حتى انتهىبه تعذيب الجسد وإرهاق النفس إلى حد السكون التام، لايتحرك، فكانت الطيور تقف عليه آمنة وكأنها تقف علىعود ثابت، بل كانت الوحوش تتحرك خلفه مطمئنة لاتقربه بسوء، وعاش على ذلك ست سنوات دراكاً ومعه
স্বর্ণ ও বিলাসিতার প্রাচুর্যের মধ্যে তিনি ঊনত্রিশ বছর বয়সে পদার্পণ করা পর্যন্ত অতিবাহিত করেন, যখন তাঁর জীবনের গতিধারা পরিবর্তিতহয়ে যায়। তিনি একদা এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখলেন এবং একবার এক মৃত ব্যক্তিকে দেখলেন,এবং অন্য এক সময়ে এক জরাগ্রস্ত বৃদ্ধকে দেখে তিনি যা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাতে গভীরভাবে প্রভাবিত হলেন; তাঁর অন্তরে এমন এক অনুভূতি উদিত হলো যা প্রথাগত বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা (التجديف) থেকে মুক্ত ছিল না।এক রাতে তিনি সত্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং স্ত্রী ও সন্তানকে বিদায় জানিয়ে প্রাসাদ ত্যাগ করলেন। তিনি সন্ন্যাসীদের (النساك) মাঝে জীবনযাপন করতে শুরু করলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদের ইমামদের (أئمة) অন্তর্ভুক্ত হলেন। তিনি বেদ ও উপনিষদ গ্রন্থসমূহ (أسفار) অধ্যয়ন করলেন এবং সন্ন্যাসব্রত (النسك), কৃচ্ছ্রসাধন (القشف) ও ধ্যানে মগ্ন হলেন। সন্ন্যাসীদের মাঝে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদায় উপনীত হলেন এবং তাঁদের পথপ্রদর্শক (مرشد) হয়ে উঠলেন। তিনি ব্রাহ্মণধর্ম অধ্যয়ন করেন এবং এর রহস্যসমূহ অবগত হন; কিন্তু তিনি সেখানে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পাননি এবং তা তাঁর কাছে অস্তিত্ব ও জীবনের রহস্য উন্মোচন করেনি। অতঃপর তিনি বাংলার এক গুহায় চলে যান এবং নিজের ওপর চরম কঠোরতা আরোপ করেন। তিনি কৃচ্ছ্রসাধনের (الزهد) চরম রূপ, বঞ্চনা, দেহের অবমাননা ও প্রাণের ক্লান্তিকর সাধনার বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলেন। পাঁচজন সন্ন্যাসী (النساك) তাঁকে অনুসরণ করলেন এবং তাঁকে তাঁদের ইমাম (إمام) হিসেবে বরণ করলেন। তাঁরা সেখানে ছয় বছর অতিবাহিত করলেন, যার শেষভাগে তাঁরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিলেন এবং প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন।দিগদিগন্তে বুদ্ধের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, আর তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন। একপর্যায়ে দেহের যাতনা ও প্রাণের কঠোর পরিশ্রম তাঁকে পূর্ণ স্থবিরতার পর্যায়ে নিয়ে গেল, তিনি আর নড়াচড়াকরতেন না। ফলে পাখিরা তাঁর ওপর নির্ভয়ে এসে বসত যেন তারা কোনো স্থির কাষ্ঠখণ্ডের ওপর বসে আছে। এমনকি বন্য হিংস্র প্রাণীরাও তাঁর পেছনে নিশ্চিন্তে বিচরণ করত এবং তাঁর কোনোক্ষতি করত না। তিনি এভাবেই একনাগাড়ে (دراكاً) ছয় বছর অতিবাহিত করলেন এবং তাঁর সাথে ছিল...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
خمسة النساك، إلا أنه صحا من سكونه ومن الحياة التيحييها على جديد من الأمر، فقد أحس أن التجربة التيخاضها لم تحقق مأمله، وصمم على الانتقال إلى حياة غيرالحياة السابقة، وحدَّث زملاءه الخمسة، فلم يستطيعوا ثَنْيَهعن عزيمته فأخفقوا، فاتهموه بالردة والمروق، فاعتزلوهوتركوه وغادروا المكان إلى مرج الغزال في مدينة بنارس.أما بوذا فكان قد استرد بعض قواه ونشاطه، وانتقلإلى شجرة جلس تحتها متربعاً، ضامّاً يديه وفخذيه وساقيه،وعزم ألا يبارح مكانه ولا يفك حبوته ولو نخرت عظامهوجف جلده أو يتنزل عليه نور الحكمة والمعرفة.وما كاد سنا الفجر يشرق حتى أشرق معه نور الحقيقةوالمعرفة وأضاء قلبه وأدرك ما كان يرجو، أدرك أنالماضي والحاضر والمستقبل كلٌّ لا يتجزأ، ويصف سرالحياة والموت، ورحلة الروح في مختلف الأجساد حتىتصعد إلى " النرفانا " حيث العدم العام وفناء النفس، وهماالسكينة والفناء، إنه وجود يفنى في وجود، مثل فناءألوان الطيف الشمسي في البياض الناصع الذي لا لون له،ولا يمكن الوصول إلى النرفانا إلا بعد صفاء النفسوالفضاء في عالم الحس، أما تعذيب النفس والجسدوالعبادة الظاهرة فليس ذلك بسبيل إلى النرفانا.
সেই পাঁচজন তাপস; তবে তিনি তাঁর স্থবিরতা এবং যে জীবন তিনি অতিবাহিতকরছিলেন তা থেকে এক নতুন সংকল্পের দিকে জাগ্রত হলেন। তিনি অনুভব করলেন যে, তিনি যে অভিজ্ঞতারমধ্য দিয়ে গিয়েছেন তা তাঁর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এবং তিনি পূর্ববর্তী জীবনের পরিবর্তে অন্য একজীবনে পদার্পণের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি তাঁর পাঁচজন সঙ্গীর সাথে এ বিষয়ে কথা বললেন, কিন্তু তারা তাঁকেতাঁর সংকল্প থেকে ফেরাতে সক্ষম হলেন না এবং ব্যর্থ হলেন। ফলে তারা তাঁকে ধর্মত্যাগ (ردة) ও সত্যবিচ্যুতি (مروق)-র অভিযোগে অভিযুক্ত করল, অতঃপর তারা তাঁকে বর্জন করলএবং তাঁকে ত্যাগ করে বারাণসী শহরের মৃগদাব (সারনাথ) অভিমুখে স্থানটি ত্যাগ করল।অন্যদিকে বুদ্ধ তাঁর শক্তির কিছু অংশ ও প্রাণচঞ্চলতা ফিরে পেয়েছিলেন এবং একটিবৃক্ষের তলে উপস্থিত হয়ে সেখানে বাবু হয়ে বসলেন, তাঁর হাত, উরু ও পা একত্রে সংকুচিত করে;এবং তিনি সংকল্প করলেন যে, তিনি তাঁর স্থান ত্যাগ করবেন না এবং তাঁর বসার ভঙ্গিও পরিবর্তন করবেন না, যদিও তাঁর হাড় ক্ষয় হয়ে যায়এবং চামড়া শুকিয়ে যায়, যতক্ষণ না তাঁর ওপর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের জ্যোতি অবতীর্ণ হয়।ভোরের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার সাথে সাথেই তাঁর হৃদয়ে সত্যও জ্ঞানের আলো প্রজ্জ্বলিত হলো এবং তিনি যা আশা করেছিলেন তা উপলব্ধি করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে,অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবই একটি অবিভাজ্য পূর্ণতা, এবং তা ব্যাখ্যা করে জীবনেরও মৃত্যুর রহস্য; আর বিভিন্ন দেহের মধ্য দিয়ে আত্মার সেই পরিক্রমা যা শেষ পর্যন্ত"নির্বাণ"-এ উন্নীত হয়; যেখানে রয়েছে পরম শূন্যতা এবং নফসের বিনাশ (فناء), যাপ্রশান্তি ও বিলীনতা (فناء)। এটি এমন এক অস্তিত্ব যা অন্য অস্তিত্বে বিলীন হয়ে যায়, যেমনবর্ণালীর রঙগুলো স্বচ্ছ শুভ্রতায় বিলীন হয়ে যায় যার কোনো বর্ণ নেই;ইন্দ্রিয়জগতে নফসের বিশুদ্ধতা এবংনির্মলতা অর্জন ব্যতীত নির্বাণ লাভ করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে নফস ও দেহের ওপর নিপীড়ন চালানোকিংবা নিছক বাহ্যিক ইবাদত নির্বাণ লাভের কোনো পথ নয়।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
لقد هبطت عليه (الاستنارة" فكان بوذا، وكثرأتباعه، ومضى إلى مرج الغزال ببنارس يريد زملاءهالخمسة الذين ما كادوا يرونه حتى عزموا فيما بينهم أنيقاطعوه، وألا يكلموه، وما كاد يصل إليهم حتى هبوالاستقباله، فقد محت هيبته عزيمتهم المصممة، واحتفَوابه، وأخذوا منه أول درس، فإذا النور يشرق في قلوبهمويفيض على وجوههم مسرة.وبعد هذا التحول في حياة بوذا، كانت الديانة البوذيةوقوامها: أن براهما نفسه الإله الأعظم عند البراهميةيصيبه التغير والفناء، مثله مثل أي كائن، وجحِدتالفكرة القائلة: إن براهما يستمد وجوده من ذاته، كماتنفي البوذية عن براهما أنه كائن روحي منزه بن شوائبالمادة، وتجحد أنه مصدر المعرفة والإلهام، ولا تؤمن بوجودالآلهة، وتنفي عنها ما يعتقده فيها عبَّادها.وتعتقد البوذية بالتناسخ، وهو عندها وعند أصحابالبراهمية التي تعتقده قصاص، لأن النفس الشر يرة لاتمضى إلى النرفانا لتفنى فيه، فلا ولادة) وإنما تمضى إلىالتناسخ الذي هو عقوبة الروح الشريرة الق تولد منجديد لتحل في كائن آخر قد يكون إنساناَ أو حيواناً أونباتا أو جمادا، وهكذا كلما مات الجسد الذي حلت فيه
তাঁর ওপর ‘আলোকায়ন’ (الاستنارة) অবতীর্ণ হলো এবং তিনি বুদ্ধ হলেন, আর বৃদ্ধি পেলতাঁর অনুসারীর সংখ্যা। তিনি বেনারসের মৃগদাব অভিমুখে যাত্রা করলেন তাঁর সেই পাঁচজন সঙ্গীর সন্ধানেযারা তাঁকে দেখামাত্র নিজেদের মধ্যে এই মর্মে সংকল্প করেছিল যে,তাঁকে বর্জন করবে এবং তাঁর সাথে কথা বলবে না। কিন্তু তিনি তাদের নিকট পৌঁছামাত্রই তারা সচকিত হয়ে উঠলতাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে; কেননা তাঁর ব্যক্তিত্বের গাম্ভীর্য তাদের সুদৃঢ় সংকল্পকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। তারা তাঁকেসমাদর করল এবং তাঁর নিকট থেকে প্রথম পাঠ গ্রহণ করল। তৎক্ষণাৎ তাদের হৃদয়ে এক দিব্যজ্যোতি প্রজ্বলিত হলোএবং তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ল।বুদ্ধের জীবনের এই পরিবর্তনের পর বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব ঘটে,যার মূল ভিত্তি ছিল: স্বয়ং ব্রহ্মা—যিনি ব্রাহ্মণ্যবাদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ ঈশ্বর—তিনিও যে কোনো সৃষ্টির ন্যায় পরিবর্তন ও নশ্বরতার অধীন। এই ধারণাটিকেপ্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, ব্রহ্মা স্বীয় সত্তা হতে অস্তিত্ব লাভ করেন। তেমনিভাবেবৌদ্ধ ধর্ম ব্রহ্মাকে পার্থিব পঙ্কিলতামুক্ত কোনো আধ্যাত্মিক সত্তা হিসেবেও অস্বীকার করে,এবং তিনি জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার উৎস—এটিও প্রত্যাখ্যান করে। এটি দেব-দেবীর অস্তিত্বেবিশ্বাস করে না এবং উপাসকরা তাদের সম্পর্কে যা বিশ্বাস করে তা নাকচ করে।বৌদ্ধ ধর্ম জন্মান্তরবাদে (التناسخ) বিশ্বাসী। এটি তাদের নিকট এবং ঐ সকলব্রাহ্মণ্যবাদীদের নিকট—যারা এটি বিশ্বাস করে—একটি শাস্তি স্বরূপ। কারণ পাপিষ্ঠ আত্মানির্বাণে (النرفانا) বিলীন হয়ে যেতে পারে না (ফলে পুনর্জন্ম রহিত হয়), বরং সে ধাবিত হয়জন্মান্তরবাদের (التناسخ) দিকে, যা পাপিষ্ঠ আত্মার জন্য একটি দণ্ড। সেই আত্মাপুনরায় জন্মগ্রহণ করে অন্য কোনো দেহে প্রবেশ করার জন্য; যা হতে পারে মানুষ, পশু,উদ্ভিদ কিংবা জড় পদার্থ। এভাবেই যে দেহে সে আশ্রয় নিয়েছিল তা যখনই মৃত্যুবরণ করে...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الروح حتى إذا طهرت صعدت إلى النرفانا.وعقيدة التناسخ مردها كلما نرى إلى كفر تلكالديانات بالبعث، أو خلوها منه وعدم تصورها للبعثوالنشور، وترى أن الجزاء عقاباً أو ثواباً حتم لضمانالعدل، فلا يصح أن يتساوى المذنب والصالح، فلا بد منأن ينال الشرير أو الخيِّر الجزاء، ولهذا اخترعوا التناسخلمن استحق العقاب، والنرفانا لمن استحق الثواب.فالعقيدة في البوذية - كما مر - ليست عقيدة بالمعنىالمعروف من كلمة العقيدة، لأن فكرة اللَه معدومة فيها،فهي لاهوت من غير إله، وخَلْق بدون خالق.ووجود (الكارما) أو (النرفانا) لا يودع في البوذيةالعقيدة التي انتفت بانتفاء الألوهية والإله منها.والبوذية تعترف بالواقع والمادة، ولكنها لا تحاربالمؤمنين بالآلهة، وهي مثل الجينية ثي الإلحاد.أما من ناحية الشريعة فكل ما جاء في البوذية آدابوأخلاق حسنة، أوامر ونواهِ تدعو إلى العمل الصالحوالقول الصادق، عمل الخير للناس، وكف الأذى عنهم،والبعد عن تعذيب الجسد وإيلامه، والتنزه عن الكذبوالفسق والباطل كله، والتمسك بالحلال الصرف.
আত্মা যখন পবিত্র হয়, তখন তা নিরভানার দিকে উন্নীত হয়।জন্মান্তরবাদের মূল কারণ হলো ঐ সকল ধর্মের পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা অথবা তাদের মাঝে এর অনুপস্থিতি এবং পুনরুত্থান ও হাশর সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা না থাকা। তারা মনে করে যে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য শাস্তি বা পুরস্কার হওয়া অনিবার্য।অপরাধী এবং সৎকর্মশীল কখনও সমান হওয়া সংগত নয়; তাই মন্দ বা ভালো ব্যক্তিকে অবশ্যই তার প্রাপ্য প্রতিদান লাভ করতে হবে। এ কারণেই যারা শাস্তির যোগ্য তাদের জন্য তারা জন্মান্তরবাদ এবং যারা পুরস্কারের যোগ্য তাদের জন্য নিরভানা উদ্ভাবন করেছে।বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাস—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তা প্রচলিত অর্থে কোনো আকীদা বা বিশ্বাস নয়। কারণ এতে আল্লাহর ধারণা অনুপস্থিত। এটি এমন এক ধর্মতত্ত্ব যেখানে কোনো উপাস্য নেই এবং এমন এক সৃষ্টি যেখানে কোনো স্রষ্টা নেই।'কারমা' বা 'নিরভানা'র অস্তিত্ব বৌদ্ধধর্মে সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে না, যা মূলত ঈশ্বর ও উপাস্যের অনুপস্থিতির কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।বৌদ্ধধর্ম বাস্তবতা ও বস্তুবাদকে স্বীকার করে, তবে তারা ঈশ্বরবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে না। নাস্তিক্যবাদের ক্ষেত্রে এটি জৈনধর্মের সদৃশ।আর শরীয়ত বা বিধানের দিক থেকে বৌদ্ধধর্মে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা হলো উত্তম শিষ্টাচার ও নৈতিকতা; এমন কিছু আদেশ ও নিষেধ যা সৎকর্ম, সত্যবাদিতা, মানুষের কল্যাণ সাধন এবং তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।সেইসাথে শরীরকে নির্যাতন ও যাতনা প্রদান থেকে দূরে থাকা এবং মিথ্যা, পাপাচার (فسق) ও সকল প্রকার বাতিল থেকে পবিত্র থাকা এবং কেবল বিশুদ্ধ হালাল বা বৈধ বিষয়সমূহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وفي البوذية آداب مرعية وأخلاق فاضلة هي مواريثالفطرة التي فطر الله الناس عليها، وتوجزها وصاياهاالعشر التي جاءت في كتاب من كتبها المقدسة وهو كتاب"سوتابيتاكا" الذي يضم مجموعة من خطب بوذا مكونةمن خمسة فصول.وخمس الوصايا الأولى موجهة للعامة والخمس الأخرىللخاصة، - أي الكهان - والخمس الأولى هن:أولا - لا تزهق روح أحد.ثانيا - لا تكذب، ولا تقل غير الحق.ثالثا - لا تأخذ مالاً حراماً (رشوة أو سرقة)رابعا - لا تتناول مسكراً.خامسا - لا تُقِمْ أي صلة جنسية محرمة (لا تَزْن) .أما الخمس التي اختص بهن الكهنة فهن:أولا - لا تأكل في الليل طعاماً غير ناضج.ثانيا - لا تحضر حفلة رقص أوغناء أو تمثيل.ثالثا - لا تتزين بأي من أنواع الزينة، ولا تستعمل أيعطر أو طيب.رابعا - لا تتخذ أي فراش وثير.خامسا - لا تقبل من أحد ذهباً أو فضة.أما الخطايا التي يجب أن يتجنبها الإنسان فعشر، وهي
বৌদ্ধধর্মে এমন কিছু পালনীয় শিষ্টাচার ও সদ্গুণাবলি রয়েছে যা সেই উত্তরাধিকারস্বভাবজাত প্রবৃত্তির (الفطرة) যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আর সেটিকে সংক্ষিপ্ত করেছে তার দশটিআজ্ঞা যা তাদের পবিত্র গ্রন্থসমূহের একটিতে বর্ণিত হয়েছে এবং তা হলো‘সুত্ত পিটক’ নামক গ্রন্থ, যা বুদ্ধের ভাষণের একটি সংকলন এবং যা গঠিতপাঁচটি অধ্যায় নিয়ে।প্রথম পাঁচটি আজ্ঞা সাধারণ মানুষের জন্য এবং অপর পাঁচটিবিশেষ ব্যক্তিদের জন্য—অর্থাৎ পুরোহিতদের জন্য—আর প্রথম পাঁচটি হলো:প্রথমত—কারো প্রাণ সংহার করবে না।দ্বিতীয়ত—মিথ্যা বলবে না এবং সত্য ভিন্ন অন্য কিছু বলবে না।তৃতীয়ত—অবৈধ (حرام) অর্থ (ঘুষ বা চুরি) গ্রহণ করবে না।চতুর্থত—মাদকদ্রব্য পান করবে না।পঞ্চমত—কোনো অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে না (ব্যভিচার (زنا) করবে না)।আর যে পাঁচটি আজ্ঞা পুরোহিতদের জন্য নির্দিষ্ট, সেগুলো হলো:প্রথমত—রাতে অপক্ক খাদ্য গ্রহণ করবে না।দ্বিতীয়ত—নাচ, গান বা অভিনয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবে না।তৃতীয়ত—কোনো প্রকার সাজসজ্জা করবে না এবং কোনোসুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করবে না।চতুর্থত—কোনো আরামদায়ক শয্যা গ্রহণ করবে না।পঞ্চমত—কারো কাছ থেকে স্বর্ণ বা রৌপ্য গ্রহণ করবে না।আর যেসব পাপ থেকে মানুষের বেঁচে থাকা আবশ্যক তা দশটি, সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الأغلال التي تمعه من الصعود إلى النرفانا، والخطايا العشر.هي:1 - الشهوة2 - الجهل.3 - سوء النية.4 - الغرور.5 - الشك.6 - الوهم.7 - دنس القلب.8 - الكبرياء.9 - الأنانية.10 - الشر.وعندما يستطيع الإنسان التزام الوصايا العشر وحَطْمالأغلال العثحر وأضاف إليها خصالاً عشراً كان منالسعداء الأخيار، وهم الذين يصعدون إلى النرفانا أويمضون إليه، وتلك الخصال العثحر هي:1 - السخاء والجود.3 - العفو والحلم.3 - العفة المطلقة.4 - التخلص من العودة إلى الحياة.
সেই শৃঙ্খলসমূহ যা তাকে নিৰ্ভাণে আরোহণ করতে বাধা প্রদান করে এবং দশটি পাপ।সেগুলো হলো:১ - কামনা২ - অজ্ঞতা।৩ - মন্দ অভিপ্রায়।৪ - আত্মপ্রবঞ্চনা।৫ - সংশয়।৬ - বিভ্রম।৭ - অন্তরের কলুষতা।৮ - অহমিকা।৯ - স্বার্থপরতা।১০ - অশুভ।যখন মানুষ এই দশটি আজ্ঞা পালন করতে এবং দশটি শৃঙ্খল ছিন্ন করতে সক্ষম হয় এবং এর সাথে আরও দশটি সদ্গুণ যুক্ত করে, তখন সে পুণ্যবান সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হয়; তারাই সেই ব্যক্তি যারা নিৰ্ভাণে আরোহণ করে বা সেদিকে ধাবিত হয়। আর সেই দশটি সদ্গুণ হলো:১ - উদারতা ও বদান্যতা।৩ - ক্ষমা ও সহনশীলতা।৩ - পূর্ণ পবিত্রতা।৪ - পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪২)
5 - الخلق الفاضل مع التفكير في العواقب.6 - القوة في دفع النفس إلى التسامي.7 - حسن القول ولينه.8 - حسن معاشرة الإخوان وإيثارهم على نفسه.9 - الإعراض عن الناس والتوجه إلى الحق.. ا - بذل النفس في سبيل الحق مع الشوق إلى البذل.ومع أن بوذا وصَّى ونصح وشجع على الزهد فإنه لميتجهم للنعيم، فقد جاءه غني واسع الغنى يستمْتيه: أنزولهعن ثروته وجاهه وسلطانه أفضل أم عيشة الزهادالناسكين الذين تجردوا من الدنيا واتخذوا فراشهم الأرضوغطاءهم السماء؟ فأجابه: " في وسع كل إنسان أن يتقلب فينعيم الحياة الفاضلة إذا عف قلبه ولسانه ويده، وإن من لميستعبده الشغف إلى الثروة والحرص والكنز إذا ملكهاوأنفقها في وجوه البر والخير والصلاح فإنه يكون نعمةوخيراً وبركة على مواطنيه ".ومما لا شك فيه أن بوذا من الناحية الإنسانية إنسانكبير قلَّ في الناس من يدانيه إنسانية، ومن الناحيةالاجتماعية مصلح اجتماعي أراد الخير وعمل على صلاحالمجتمع ونقائه، وكان هو نفسه آية في حسن السلوك، أمامن ناحية العقيدة فقد انتهى إلى الإلحاد، فما آمن ببراهما
৫ - পরিণাম চিন্তা সহকারে উন্নত চরিত্র।৬ - নফসকে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ধাবিত করার শক্তি।৭ - সুন্দর ও কোমল কথা।৮ - ভ্রাতৃবৃন্দের সাথে উত্তম সাহচর্য এবং নিজের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দান।৯ - মানুষের সংস্পর্শ বর্জন এবং সত্যের (حق) দিকে মনোনিবেশ করা।. ১০ - আত্মোৎসর্গের আকাঙ্ক্ষাসহ সত্যের (حق) পথে জীবন বিলিয়ে দেওয়া।যদিও বুদ্ধ দুনিয়াবিমুখতার (زهد) উপদেশ ও নসিহত প্রদান করেছেন এবং এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন, তবুও তিনি পার্থিব নিআমতের প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করেননি। তাঁর নিকট এক বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ব্যক্তি এসে একটি বিষয়ে তাঁর নিকট বিধান (استفتاء) চাইলেন: তার ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা ও ক্ষমতা ত্যাগ করা কি অধিকতর উত্তম, নাকি সেইসব দুনিয়াত্যাগী (زهاد) ও তাপসদের (ناسكين) ন্যায় জীবন যাপন করা উত্তম—যারা পার্থিব আসক্তি বর্জন করেছেন এবং জমিনকে বিছানা ও আকাশকে চাদর হিসেবে গ্রহণ করেছেন? তিনি উত্তর দিলেন: "প্রত্যেক মানুষের পক্ষেই এক পুণ্যময় জীবনের নিআমতের মধ্যে অবস্থান করা সম্ভব যদি তার অন্তর, জিহ্বা ও হাত পবিত্র থাকে। আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ অর্জনের মোহ এবং তা পুঞ্জীভূত করার লালসার দাসে পরিণত হয়নি, সে যদি সম্পদের মালিক হওয়ার পর তা পুণ্য (بر), কল্যাণ ও সংশোধনের পথে ব্যয় করে, তবে সে তার দেশবাসীর জন্য এক নিআমত, কল্যাণ ও বরকত স্বরূপ।"এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বুদ্ধ ছিলেন এক মহান মানব, যাঁর সমতুল্য ব্যক্তিত্ব মানুষের মধ্যে বিরল। আর সামাজিক বিচারে তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক, যিনি কল্যাণ কামনা করতেন এবং সমাজের সংশোধন ও পবিত্রতার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি নিজে ছিলেন সদাচরণের এক জীবন্ত নিদর্শন। তবে আকিদার (عقيدة) দিক থেকে তিনি নাস্তিক্যবাদে (إلحاد) উপনীত হয়েছিলেন; কেননা তিনি ব্রহ্মায় বিশ্বাস করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وغيره من آلهة الناس، بل كفر بها.وأثَّر بوذا بشخصيته وخلائقه ووصاياه ودعوته فيكثير من الشعوب والمجتمعات والأفراد منذ وجوده حتىاليوم، فهو في الهندوكية - وهي الديانة البراهمية - منالأخيار، بل رفعته إلى مقام الأعلياء النوادر الألىْ حلتفيهم روح الإله " فشنو " الإله المنقذ في الديانة البراهمية،وفيها الأقنوم الثاني من الثالوث البراهمي المقدس، وعدَّهبعض القديسين المسيحيين النصارى قديساً عظيما.وقال فيه شوبنهاور الفيلسوف الألاني في كتابه " العالمإرادة وفكرة: " إن للبوذية المكانة السامية بينالأديان ".هذه خلاصة وافية عن بوذا والبوذية عرضناها فيأمانة، ولم نُبد فيها رأي الإسلام وإن كان الإسلام يقدرحق القدر من أحب مكارم الأخلاق، واتصف بها دونالنظر إلى دينه، فقد كانت ابنة حاتم الطائي الجوادالأريحي العربي الذي ذهب مثلاً في الكرم في أسر المسلمينفطلب رسول الله صلى الله عليه وسلم إطلاقها من الأسروقال ما معناه: " كان أبوها يحب مكارم الأخلاق ".فهل تصلح البوذية لأن تكون دين الإنسانية؟
মানুষের অন্যান্য উপাস্যদের মতো নয়, বরং তিনি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলেন।বুদ্ধ তার ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, উপদেশাবলি এবং আহ্বানের মাধ্যমে প্রভাবিত করেছেনতার আবির্ভাব থেকে আজ অবধি বহু জাতি, সমাজ এবং ব্যক্তিকে,তিনি হিন্দুধর্মে — যা মূলত ব্রাহ্মণ্য ধর্ম — সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত,বরং তারা তাকে সেই বিরল উচ্চাসীনদের মর্যাদায় উন্নীত করেছে যাদের মাঝে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের ত্রাণকর্তা দেবতা 'বিষ্ণু'র আত্মা প্রবিষ্ট হয়েছিল,এবং তিনি পবিত্র ব্রাহ্মণ্য ত্রিত্ববাদের দ্বিতীয় মূলসত্তা হিসেবে বিবেচিত, আর কতিপয় খ্রিস্টান সাধু তাকে একজন মহান সাধু হিসেবে গণ্য করেছেন।জার্মান দার্শনিক শোপেনহাওয়ার তার 'জগৎ ইচ্ছা ও ধারণা হিসেবে' গ্রন্থে বুদ্ধ সম্পর্কে বলেছেন: "ধর্মসমূহের মধ্যে বৌদ্ধধর্মের এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে।"বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ যা আমরা বিশ্বস্ততার সাথে উপস্থাপন করেছি,আর এতে আমরা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করিনি, যদিও ইসলাম উত্তম চরিত্রকে যারা ভালোবাসে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করে,এবং ধর্ম নির্বিশেষে কেউ এই গুণাবলিতে গুণান্বিত হলে তার প্রশংসা করে; যেমন দানশীল ও মহানুভব আরব ব্যক্তি হাতিম তাই — যার দানশীলতা প্রবাদে পরিণত হয়েছে — তার কন্যা যখন মুসলিমদের যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন,তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং এর মর্মার্থ (ما معناه) হিসেবে বলেন: "তার পিতা উত্তম চরিত্র পছন্দ করতেন।"তাহলে বৌদ্ধধর্ম কি মানবতার ধর্ম হওয়ার উপযুক্ত?
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
إن دين الإنسانية يجب أن يجتمع له المعتقد والشريعة، وطبيعي أنيكون المعتقد سليماً والشريعة إنسانية صالحة.وما ثم شك عندنا أن في البوذية من مكارم الأخلاقطائفة صالحة تعد من ذخائر الإنسانية بأوامرها ونواهيها.ومع وجود مكارم الأخلاق في البوذية فإنها لم تستوفما يجب أن يكون فيها من شرائع وقوانين لضمان العدلوالأمن بين الناس، وذلك نقص كبير.وليست مجتمعات العصر الحديث كالمجتمعات السابقةالساذجة أو التي كان كل مجتمع منها مقصوراً على نفسه،ولم تكن مصالح الأمم متشابكة، ولهذا لا تصلح البوذيةلأن تكون دين الإنسانية شريعة وعقيدة، لأنها خالية منوجود إله حق أو غير حق، وشريعتها مقصورة على آدابوأخلاق لا تتسع للمعاملات وغيرها.ومع أن البوذية هندية الأصل فإن عددهم في الهند لايعدو بضعة عشر مليوناً أكثرهم من بورما وسيلان، وهيشائعة في غير الهند، مثل الصين، حيث صار بوذا نفسهإلهاً معبوداً لدى الصينيين وأهل بورما والأقطار غيرالهندية.صار بوذا لدى هؤلاء إلها ذا أقانيم ثلاثة، يرمزون
মানবতার ধর্মের জন্য বিশ্বাস ও বিধানের সমন্বয় ঘটা আবশ্যক, এবং এটিই স্বাভাবিক যেবিশ্বাস হবে বিশুদ্ধ এবং বিধান হবে মানবীয় ও কল্যাণকর।আমাদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বৌদ্ধধর্মের সচ্চরিত্রের শিক্ষার মধ্যেএমন এক পুণ্যময় অংশ বিদ্যমান যা তার আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে মানবতার অমূল্য সম্পদ হিসেবে গণ্য।তবে বৌদ্ধধর্মে সচ্চরিত্রের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান ও আইনসমূহের দিক থেকে এটি পূর্ণতা পায়নি,যা একটি বিশাল অপূর্ণতা।আধুনিক যুগের সমাজগুলো পূর্ববর্তী সমাজগুলোর মতোসহজ-সরল কিংবা কেবল নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়,এবং জাতিসমূহের স্বার্থও এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়; এই কারণে বৌদ্ধধর্মবিধান ও বিশ্বাস হিসেবে মানবতার ধর্ম হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, কারণ এটিসত্য কিংবা অসত্য কোনো উপাস্যের অস্তিত্বের ধারণা থেকে শূন্য, এবং এর বিধান কেবল শিষ্টাচারও নৈতিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ যা লেনদেন ও অন্যান্য বৈষয়িক বিষয়কে ধারণ করতে পারে না।বৌদ্ধধর্মের মূল উৎস ভারত হওয়া সত্ত্বেও ভারতে তাদের সংখ্যাদশ-বারো মিলিয়নের বেশি নয় যাদের অধিকাংশই বার্মা ও সিলন থেকে আগত, তবে এটিভারতের বাইরে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেমন চীন; যেখানে স্বয়ং বুদ্ধচীনা, বার্মিজ ও অন্যান্য অ-ভারতীয় অঞ্চলের মানুষের নিকটউপাস্য মাবুদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।এসব মানুষের নিকট বুদ্ধ তিন বিশিষ্টতা সম্পন্ন এক উপাস্যে পরিণত হয়েছেন, যা তারা প্রতীকায়িত করে থাকে...
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
إليها بهذه الأحرف: ا. و. م، ويسمون بوذا " فو " ورأيتاله في تايبيه عاصمة تايوان (فرموزه) تمثالاً من الذهبومعبداً آية في هندسة البناء والفن والجمال.***ولعل فيما ذكرنا من ديانات الهند غناء، فهي أعظمهاوأكثرها أتباعاً أو بروزاً، وما عداها يسري عليه ما سرىعلى ما هو أعظم من ديانات الهند التي صرفنا عنها النظر* * *الهندوكيةوأما الهندوكية فهي البراهمية، ولها كتاب مقدسيسمى " منوسمرتي"، يحوي قانون الهندوكية فيالعبادات والمعاملات والأخلاق والحدود والعقوباتالمختلفة والحقوق وغيرها.
এই অক্ষরগুলো দ্বারা: অ, উ, ম; তারা বুদ্ধকে "ফো" নামে অভিহিত করে। আমি দেখেছিতাইওয়ানের (ফরমোজা) রাজধানী তাইপেইতে তাঁর একটি স্বর্ণমূর্তিএবং স্থাপত্যশৈলী, শিল্প ও সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন একটি মন্দির।***ভারতের ধর্মসমূহ সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সম্ভবত যথেষ্ট হবে; কারণ এগুলোই প্রধানএবং অনুসারীর সংখ্যা ও প্রসারের দিক থেকে সর্বাধিক। এছাড়া অবশিষ্ট ধর্মগুলোর অবস্থা সেই রূপইযা ভারতের সেই বৃহত্তর ধর্মগুলোর ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলোকে আমরা এখানে বিবেচনা করিনি।* * *হিন্দুধর্মআর হিন্দুধর্ম মূলত ব্রাহ্মণ্যবাদ। এর একটি পবিত্র গ্রন্থ রয়েছেযাকে ‘মনুস্মৃতি’ বলা হয়; এতে হিন্দুধর্মের বিধানাবলি রয়েছে:ইবাদত (العبادات), মুয়ামালাত (المعاملات), নৈতিকতা, হুদুদ (الحدود) ও বিভিন্ন দণ্ডবিধিএবং বিভিন্ন অধিকার ও অন্যান্য বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وفي " منوسمرتي " أشياء كثيرة حسنة وصالحة لأن يحكمبها، وفيها من الآداب المرعية الطيبة وقواعد السلوكالحسن والأصول شيء كثير يصلح لكل العصور، وفيها منالأحكام الشرعية ما هو صالح بالنسبة للعصور التي وضعتفيها وما بعدها.ولكن " منوسمرتي " من ناحية العقيدة يحوي ما يدلعلى أساطير وخرافات ووثنيات وشركيات، ويذكر المترجملفظ الجلالة ترجمة لكلمة " الإله " الأعظم عند الهندوكية،وما أحسب أنهم يريدون، (الله" جل جلاله، فصفات الإلهالأعظم لا تمت كلها إلى الوحدانية كما نفهمها، ففي تلكالصفات ما لا يتفق مع كمال الله تبارك وتعالى، فالهندوكيةتقرر تعدد الآلهة، وهم لديها كثير، ولكن (برماتما" سيِّدكل الآلهة، ويصفه الترجم بأنه واجب الوجود، وهووصف لا يصلح لغير الله جل جلاله، فالإله الهندوكيالأعظم برماتا يحويه زمان ومكان وبدء ونهاية، ففى ترجمةالمترجم في أول الكتاب تحت عنوان " خلقة العالم " هذهالعبارات (ص 10 - 11) : * ثم بدا له أن يخلق المخلوقاتمن جسمه، فخلق - أولاً - الماء بالفكر، ثم ألقى فيهبذرته ".و"فصارت هذه البذرة بيضة ذهبية لها لمعان
"মনুস্মৃতি"-তে বিচার-ফয়সালা করার মতো অনেক সুন্দর ও সঠিক বিষয় রয়েছে যা দ্বারা বিচার করাযায়। এতে অনেক পালনীয় শিষ্টাচার, উত্তম আচরণেরনিয়মাবলী এবং মূলনীতির (الأصول) এমন অনেক কিছু রয়েছে যা সকল যুগের জন্য উপযোগী। এতে এমন কিছুশরয়ী বিধান রয়েছে যা সেই সময়ের জন্য এবং পরবর্তী সময়েরজন্যও প্রযোজ্য ছিল।কিন্তু আকিদার (العقيدة) দিক থেকে "মনুস্মৃতি" এমন কিছু বিষয়বস্তু ধারণ করে যারূপকথা, কুসংস্কার, মূর্তিপূজা এবং শিরকের (شركيات) পরিচায়ক। অনুবাদক হিন্দুধর্মেরসর্বোচ্চ "উপাস্য" শব্দের অনুবাদ হিসেবে 'আল্লাহ' (لفظ الجلالة) শব্দটি ব্যবহার করেছেন।তবে আমার মনে হয় না তারা এর দ্বারা আল্লাহ (جل جلاله)-কে বুঝিয়েছেন; কারণ সেই সর্বোচ্চ উপাস্যেরগুণাবলী আমাদের বুঝ অনুযায়ী একত্ববাদের (الوحدانية) সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই গুণাবলীরমধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পূর্ণতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হিন্দুধর্মবহুদেববাদে বিশ্বাসী এবং তাদের উপাস্য অনেক, তবে 'পরমাত্মা' সকলদেবতার প্রধান। অনুবাদক তাকে 'অনিবার্য অস্তিত্ব' (واجب الوجود) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাআল্লাহ জাল্লা জালালুহু ব্যতীত অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। কেননা হিন্দুদের সর্বোচ্চ উপাস্য'পরমাত্মা' কাল, স্থান, শুরু এবং সমাপ্তির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। গ্রন্থের শুরুতেঅনুবাদকের অনুবাদে "বিশ্ব সৃষ্টি" শিরোনামের অধীনে এইবাক্যগুলো রয়েছে (পৃষ্ঠা ১০-১১): * "অতঃপর তাঁর ইচ্ছা হলো যে তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করবেনতাঁর নিজ দেহ থেকে, তাই তিনি সর্বপ্রথম চিন্তার মাধ্যমে পানি সৃষ্টি করলেন, তারপর তাতে তাঁরবীজ নিক্ষেপ করলেন।"এবং "এই বীজটি একটি উজ্জ্বল স্বর্ণডিম্বে পরিণত হলো যা থেকে উদ্ভাসিত হলো..."
(খণ্ড: ১)
আসলাহুল আদিয়ান লিল ইনসানিয়্যাহ আকিদাতান ওয়া শারিয়াতান
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
كالشمس، وانبعث منها برماتما نفسه في صورة برهماجد العالم كله.و" إن الذات الأولى التي خلقها برماتما الباطن الأبديالذي هو حق وغير حق معاً هي برهما ".و"أقام برهما في هذه البيضة سنة كاملة إلخ ".والإله الأعظم (برماتما) هو برهما، وكان في البيضةوسبقه الماء في الوجود.وهذه الصفات لا يمكن أن يوصف بها الله سبحانهوتعالى، وإله الهندوكية - التي هي البرهمية نفسها - المسمىبرماتما أو برهما إله وثني.وعلى أي حال ما قلناه في البرهمية هو قولنا فيالهندوكية، لأنهما ديانة واحدة، ومع وجود " منوسمرتي "فهي لا تصلح لأن تكون دينْ الإنسانية عقيدة وشريعة،لأن العقيدة وثنية، ولأنه لا وجود فيها لليوم الآخر،والنرفانا عدم أسطوري، والشريعة وثنية، وإن كان بها منالآداب والأحكام ما هو إنساني، وتلك هي الحصةالإنسانية المشتركة بين الديانات الوثنية والديانات السماويةالصحيحة.فشريعة الهندوكية غير صالحة وإن معتنقيها أدركوا
সূর্যের মতো, এবং তা থেকে পরমাত্মা স্বয়ং ব্রহ্মার রূপে আবির্ভূত হনযিনি সমগ্র বিশ্বের পিতামহ।এবং "নিশ্চয়ই সেই প্রথম সত্তা, যাকে চিরন্তন ও নিহিত পরমাত্মা সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি একই সাথে সত্য ও অসত্য—তিনিই হলেন ব্রহ্মা।"এবং "ব্রহ্মা এই অণ্ড বা ডিম্বের মধ্যে পূর্ণ এক বছর অবস্থান করেন ইত্যাদি।"আর মহান ঈশ্বর (পরমাত্মা) হলেন ব্রহ্মা, এবং তিনি সেই ডিম্বের মধ্যে ছিলেনআর তাঁর অস্তিত্বের পূর্বে পানির অস্তিত্ব ছিল।আর এই গুণাবলি দ্বারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে গুণান্বিত করা সম্ভব নয়,এবং হিন্দুধর্মের উপাস্য—যা মূলত ব্রাহ্মণ্যবাদই—যাকেপরমাত্মা বা ব্রহ্মা বলা হয়, তা একটি পৌত্তলিক উপাস্য।যাই হোক, ব্রাহ্মণ্যবাদ সম্পর্কে আমরা যা বলেছি, হিন্দুধর্ম সম্পর্কেও আমাদের বক্তব্য তা-ই,কারণ এ দুটি একই ধর্ম; আর 'মনুস্মৃতি'র অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেওতা বিশ্বাস ও বিধানের দিক থেকে মানবতার ধর্ম হওয়ার যোগ্য নয়,কারণ এর বিশ্বাস পৌত্তলিকতাপূর্ণ, এবং যেহেতু এতে পরকাল বা শেষ দিবসের কোনো অস্তিত্ব নেই,আর নির্বাণ হলো একটি পৌরাণিক শূন্যতা, এবং এর বিধান পৌত্তলিকতাপূর্ণ, যদিও এতে এমন কিছুশিষ্টাচার ও বিধিবিধান রয়েছে যা মানবিক; আর তা হলো সেই সাধারণ মানবিক অংশযা পৌত্তলিক ধর্মসমূহ এবং সঠিক (صحيح) আসমানি ধর্মসমূহের মধ্যে বিদ্যমান।সুতরাং হিন্দুধর্মের বিধান অযোগ্য, যদিও এর অনুসারীরা তা উপলব্ধি করেছে।