(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
معجم أصحاب شيخ الإسلام ابن تيمية   (وليد الأموي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: معجم أصحاب شيخ الإسلام ابن تيمية

المؤلف: وليدُ بنُ حُسْنِي بنِ بَدَوِي بنِ مُحَمَّدٍ الأُمَوِيِّ

المصدر: مشاركة للمؤلف في ملتقى أهل الحديث

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর শিষ্যদের অভিধান   (ওয়ালিদ আল-উমাউয়ী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর শিষ্যদের অভিধান

লেখক: ওয়ালিদ বিন হুসনী বিন বাদাওয়ী বিন মুহাম্মাদ আল-উমাউয়ী

উৎস: মুলতাকা আহলে হাদিস ফোরামে লেখকের একটি অংশগ্রহণ

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مُعْجَمُ أَصْحَابِ

شَيْخِ الإسْلامِ ابنِ تَيميّةَ

 

كَتَبَهُ

وليدُ بنُ حُسْنِي بنِ بَدَوِي بنِ مُحَمَّدٍ الأُمَوِيِّ

غفر الله له ولوالديه ولمشايخه وللمسلمين
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর

সাথীদের অভিধান

 

এটি লিখেছেন

ওয়ালিদ বিন হুসনি বিন বাদায়ি বিন মুহাম্মাদ আল-উমাবী

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المُقَدِّمَةُ
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد:

فهذه تراجم موجزة لأصحاب الإمام الهمام وشيخ مشايخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية النميري الحراني، قامع المبتدعين وآخر المجتهدين، اقتبستها من مجامع تراجمه رحمه الله وتراجم الأعيان الذين عاصروه ونهلوا من علمه، واتبعوا طريقته، وسلكوا سلوكه، وشرطي في هذا المعجم الذي أسميته (معجم أصحاب شيخ الإسلام ابن تيمية) أن أترجم للرجل، ذاكرًا شيئًا من سماعه العلم وطلبه له وثناءه على الشيخ ابن تيمية أو حكايته عن حاله على وجه مختصر موجز، وجعلت الخيار لنفسي في ذكر مصنفاته وكتبه أو عدمه.

وقد اعتمدت في ذلك على تراجم الشيخ رحمه الله المشتهرة وهي:

أولًا: الانتصار في ذكر أحوال قامع المبتدعين وآخر المجتهدين أحمد بن تيمية، للعلامة الإمام محمد بن أحمد ابن عبد الهادي رحمه الله. وقد طبع هذا الكتاب واشتهر تحت اسم (العقود الدرية في مناقب ابن تيمية) .

ثانيًا: الرد الوافر على من زعم أن من سمى ابن تيمية شيخ الإسلام كافر، لابن ناصر الدين محمد بن عبد الله الدمشقي.

ثالثًا: الأعلام العلية في مناقب ابن تيمية، للحافظ سراج الدين أبي حفص عمر بن علي البزار.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই এবং যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

এই সংকলনটি হলো বিদআতিদের দমনকারী এবং মুজতাহিদগণের সর্বশেষ ইমাম, শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আন-নুমাইরি আল-হাররানির সঙ্গী ও ছাত্রদের সংক্ষিপ্ত জীবনী। আমি এই জীবনীগুলো তাঁর জীবনীর সংকলনসমূহ এবং তাঁর সমসাময়িক সেই সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী থেকে সংগ্রহ করেছি যারা তাঁর থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং তাঁর পথ ও আদর্শ অনুসরণ করেছেন। আমি এই অভিধানটির নাম দিয়েছি (মুজামু আসহাবি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)। এতে আমার পদ্ধতি হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান অন্বেষণের বিষয়াবলী এবং শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি তাঁর প্রশংসা অথবা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা অত্যন্ত সংক্ষেপে উল্লেখ করা। আর তাঁদের রচনাবলি ও কিতাবসমূহের উল্লেখ করা বা না করার বিষয়টি আমি আমার নিজের ইচ্ছাধীন রেখেছি।

এক্ষেত্রে আমি শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) প্রসিদ্ধ জীবনীগ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যা হলো:

প্রথমত: আল্লামা ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে আব্দুল হাদী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আল-ইনতিসার ফি জিকরি আহওয়ালি কামিয়িল মুবতাদিইনা ওয়া আখিরিল মুজতাহিদিনা আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ'। এই কিতাবটি 'আল-উকুদ আদ-দুরিইয়াহ ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়্যাহ' নামে মুদ্রিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ইবনে নাসেরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি রচিত 'আর-রাদ্দুল ওয়াফির আলা মান যাআমা আন্না মান সাম্মা ইবনা তাইমিয়্যাহ শায়খাল ইসলাম কাফির'।

তৃতীয়ত: হাফেজ সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর বিন আলী আল-বাযযার রচিত 'আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়্যাহ'।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
رابعًا: الكواكب الدرية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية، للشيخ مرعي بن يوسف الكرمي الحنبلي.

خامسًا: القول الجلي في ترجمة شيخ الإسلام تقي الدين ابن تيمية الحنبلي، لأبي الفضل صفي الدين محمد بن أحمد البخاري.

سادسًا: الجامع لسيرة شيخ الإسلام ابن تيمية خلال سبعة قرون، وهو كتاب جمع تراجم ابن تيمية التي ترجمت له من عصره إلى عصرنا في سائر كتب التراجم، جمعه معاصران.

وكذلك اعتمدت على كتب التراجم العامة ومنها:

كتب الحافظ الذهبي:

أولًا: تاريخ الإسلام.

ثانيًا: تذكرة الحفاظ.

ثالثًا: العبر في خبر من غبر.

وكتاب البداية والنهاية لابن كثير وتفسيره، واختصاره لمقدمة ابن الصلاح.

وكتاب الذيل على طبقات الحنابلة لابن رجب الحنبلي.

والدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة لابن حجر العسقلاني، وكذلك إنباء الغمر بأبناء العمر له.

والوافي بالوفيات، وأعيان العصر وأعوان النصر، كلاهما للصلاح الصفدي.

والوفيات لابن رافع، وشذرات الذهب للعماد الحنبلي.
চতুর্থত: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর গুণাবলী বিষয়ক 'আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ', যা শাইখ মারয়ী বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-হাম্বলীর রচিত।

পঞ্চমত: শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাম্বলীর জীবনী বিষয়ক 'আল-কাওলুল জালী', যা আবুল ফজল সফিউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-বুখারীর রচিত।

ষষ্ঠত: 'আল-জামে' লি-সীরাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ফী সিবআতি কুরুউন'; এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সাত শতাব্দী ধরে ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীর সংকলন, যেখানে তাঁর যুগ থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত অন্যান্য জীবনী গ্রন্থসমূহে তাঁর সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা একত্রিত করা হয়েছে। এটি দুজন সমসাময়িক লেখক সংকলন করেছেন।

অনুরূপভাবে আমি সাধারণ জীবনী গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:

হাফেজ যাহাবীর গ্রন্থসমূহ:

প্রথমত: তারিখুল ইসলাম।

দ্বিতীয়ত: তাযকিরাতুল হুফফাজ।

তৃতীয়ত: আল-ইবার ফী খাবারি মান গাবার।

ইবনে কাসীরের গ্রন্থ 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' ও তাঁর 'তাফসীর', এবং ইবনুস সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ'-এর প্রতি তাঁর সারসংক্ষেপ।

ইবনে রজব আল-হাম্বলীর গ্রন্থ 'আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ'।

ইবনে হাজার আল-আসকালানীর গ্রন্থ 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আয়ানিল মায়াতিল সামিনাহ', এবং তাঁর রচিত 'ইনবাউল গামর বি-আবনাউল উমর'।

সালাহ আস-সাফাদীর রচিত 'আল-ওয়াফী বিল ওফাইয়াত' এবং 'আয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর'।

ইবনে রাফে'র রচিত 'আল-ওফাইয়াত' এবং ইমাদ আল-হাম্বলীর 'শাযারাতুয যাহাব'।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وكذلك: النجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة، والمنهل الصافي والمستوفي بعد الوافي، كلاهما لابن تغري بردي.

وكذلك: طبقات الشافعية الكبرى لابن السبكي، وفوات الوفيات لابن شاكر الكتبي.

والبدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع للشوكاني، والأعلام للزركلي، وهو متأخر.

وجلاء العينين في محاكمة الأحمدين، للآلوسي، وكذلك كتب ابن قيم الجوزية عامة، وغير ذلك.

وحيثما ذكرت رسالة ابن شيخ الحزاميين الواسطي فهي المعروفة ب (التذكرة والاعتبار والانتصار للأبرار) ، وكذلك رسالة ابن مريِّ هي رسالة تلميذه أحمد بن محمد بن مري الحنبلي إلى تلاميذ الشيخ بعد وفاته، يحضهم فيها على جمع كتبه ورسائله.

ثم جعلت قسمًا للمبهمين الذين صرح بعض أهل التراجم بصحبته لابن تيمية ولم أجد له ترجمة في ما وقعت عليه من التراجم.

وقد اجتهدت في جمع هذا الكتاب وتحقيقه ولم ألُ جهدًا في الإحاطة بموضوعه، وأحمد الله وأشكره على ذلك، وآمل أن يقابل من قارئه حمدًا لله وتسديدًا لخطإ كاتبه وإعذارًا ونصحًا واستغفارًا، والحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
তেমনিভাবে: ইবনে তাগরি বারদি রচিত ‘আন-নুজুম আয-যাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরা’ এবং ‘আল-মানহালুস সাফি ওয়াল মুস্তাওফি বা’দাল ওয়াফি’।

তেমনি আরও: ইবনে সুবকি রচিত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা’ এবং ইবনে শাকির আল-কুতুবি রচিত ‘ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত’।

এবং শাওকানি রচিত ‘আল-বাদরুত তালি’ বি-মাহাসিনি মান বা’দাল করনিস সাবি’’ এবং যিরিকলি রচিত ‘আল-আ’লাম’, যা পরবর্তীকালের রচনা।

আলুসি রচিত ‘জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন’, এবং একইভাবে ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহর সামগ্রিক রচনাবলি ও অন্যান্য।

আর যেখানেই ইবনে শাইখুল হাযামিয়্যিন আল-ওয়াসিতির রিসালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত ‘আত-তাদকিরা ওয়াল ইতিবার ওয়াল ইনতিসার লিল আবরার’ নামে পরিচিত। তেমনিভাবে ইবনে মুররির রিসালা হলো তাঁর ছাত্র আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন মুররি আল-হাম্বলির সেই রিসালা যা তিনি শাইখের মৃত্যুর পর তাঁর ছাত্রদের কাছে লিখেছিলেন, যেখানে তিনি তাঁদের শাইখের গ্রন্থ ও পত্রাবলি সংকলন করার প্রতি উৎসাহিত করেছিলেন।

অতঃপর আমি এমন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের জন্য একটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছি যাদের ইবনে তাইমিয়্যাহর সান্নিধ্যে থাকার কথা কোনো কোনো জীবনীকার উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি যেসকল জীবনী গ্রন্থ দেখেছি সেখানে তাঁদের কোনো জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে পাইনি।

আমি এই গ্রন্থটি সংকলন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি এবং এর বিষয়ের পূর্ণ ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করিনি। আমি এজন্য আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আশা করছি যে পাঠক আল্লাহর প্রশংসা করবেন, লেখকের ভুল সংশোধন করবেন এবং ওজর গ্রহণ, সদুপদেশ প্রদান ও ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবি ও আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌(مَنْثُورَاتٌ ومُلَحٌ)

 

أنا الفقيرُ إلى ربِّ السماواتِ … أنا المسيكينُ في مجموعِ حالاتي

أنا الظلومُ لنفسي وهي ظالمتي … والخيرُ، إن جاءنا من عندِهِ ياتي

لا أستطيعُ لنفسي جلبَ منفعةٍ … ولا عن النفسِ في دفعِ المضراتِ

وليس لي دونه مولىً يدبرُني … ولا شفيعٌ إلى ربِّ البريَّاتِ

ولست أملكُ شيئًا دونه أبدا … ولا شريكٌ أنا في بعضِ ذراني

ولا ظهيرٌ له كيما أعاونَهُ … كما يكونُ لأربابِ الوِلاياتِ

والفقرُ لي وصفُ ذاتٍ لازمٍ أبدا … كما الغنى أبداً وصفٌ له ذاتي

وهذه الحالُ حالُ الخلقِ أجمعِهِم … وكلُّهم عنده عبدٌ له آني

فمن بغى مطلباً من دونِ خالِقِهِ … فهو الجهولُ الظلومُ المشركُ العاتي

والحمدُ للهِ ملءَ الكونِ أجمعِهِ … ما كان منه، وما من بعده ياتي

ثم الصلاةُ على المختارِ من مضرٍ … خيرِ البريَّةِ من ماضٍ ومن آتى

(شيخ الإسلام ابن تيمية)

 

"ما يصنع أعدائي بي؟ أنا جنتي وبستاني في صدري؛ أين رحت فهي معي، لا تفارقني:أنا حبسي خلوة، وقتلي شهادة، وإخراجي من بلدي سياحة"

(شيخ الإسلام ابن تيمية)
‌(বিক্ষিপ্ত পঙক্তিমালা ও উপাদেয় কথা)

 

আমি আসমানের রবের প্রতি মুখাপেক্ষী … আমি আমার সর্বাবস্থায় চরম নিঃস্ব।

আমি আমার নিজের প্রতি জুলুমকারী আর আমার নফসও আমার প্রতি অবিচারকারী … আর কল্যাণ যদি আমাদের নিকট আসে, তবে তা কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই আসে।

আমি নিজের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনতে সক্ষম নই … আর না পারি নিজের থেকে কোনো ক্ষতি প্রতিহত করতে।

তিনি ব্যতীত আমার কোনো অভিভাবক নেই যিনি আমার বিষয়াদি পরিচালনা করবেন … আর সৃষ্টিজগতের রবের নিকট (তাঁর অনুমতি ব্যতীত) আমার কোনো সুপারিশকারী নেই।

আমি তাঁকে ছাড়া কখনোই কোনো কিছুর মালিক নই … আর আমি আমার অস্তিত্বের কোনো ক্ষুদ্র অংকেও তাঁর অংশীদার নই।

আর আমি তাঁর কোনো সাহায্যকারীও নই যে তাঁকে সহযোগিতা করব … যেমনটি পার্থিব শাসনকর্তাদের সাহায্যকারীরা হয়ে থাকে।

মুখাপেক্ষিতা আমার সত্তার জন্য একটি অপরিহার্য ও চিরস্থায়ী গুণ … যেমন অমুখাপেক্ষিতা সর্বদা তাঁর সত্তার চিরন্তন গুণ।

আর এই অবস্থাটিই সকল সৃষ্টির সাধারণ অবস্থা … তারা সবাই তাঁর নিকট বিনীত বান্দাহ হিসেবে উপস্থিত।

সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্রষ্টা ব্যতীত অন্য কারো নিকট কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে … সে তো চরম জাহেল, জালিম, মুশরিক ও উদ্ধত।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যা সমগ্র মহাবিশ্ব পরিব্যাপ্ত … তাঁর পক্ষ থেকে যা অতীতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যা কিছু আসবে তার সবকিছুর জন্য।

অতঃপর দরুদ বর্ষিত হোক মুদার গোত্রের সেই মনোনীত ব্যক্তির প্রতি … যিনি অতীত ও আগত নিখিল সৃষ্টির মাঝে সর্বোত্তম।

(শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)

 

"আমার শত্রুরা আমার কী-ই বা করতে পারে? আমার জান্নাত ও বাগান তো আমার অন্তরেই রয়েছে; আমি যেখানেই যাই তা আমার সাথেই থাকে, কখনো আমাকে ছেড়ে যায় না। আমার কারাবাস হলো নির্জন ইবাদত, আমার মৃত্যু হলো শাহাদাত এবং আমার দেশ থেকে বহিষ্কার হওয়া হলো পর্যটন।"

(শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
" ما رأيت مثله ولا رأى هو مثل نفسه وما رأيت أحدًا أعلم بكتاب الله وسنة رسوله ولا أتبع لهما منه "

(الحافظ جمال الدين المزي)

 

" لم ير مثله منذ خمسمائة سنة"

(الحافظ جمال الدين المزي)

 

" ومن خالطه وعرفه قد ينسبني إلى التقصير في وصفه، ومن نابذه وخالفه ينسبني إلى التغالي فيه، وليس الأمر كذلك. مع أنني لا أعتقد فيه العصمة، كلا، فإنه مع سعة عمله وفرط شجاعته وسيلان ذهنه وتعظيمه لحرمات الدين بشر من البشر تعتريه حدة في البحث وغضب وشظف للخصم يزرع له عداوة في النفوس ونفورًا عنه وإلا والله فلو لاطف الخصوم ورفق بهم ولزم المجاملة وحسن المكالمة لكان كلمة إجماع فإن كبارهم وأئمتهم خاضعون لعلومه وفقهه معترفون بشفوفه وذكائه مقرون بندور خطئه"

(الحافظ شمس الدين الذهبي)

 

" هو أعظم من أن تصفه كلمي، وينبِّهَ على شأوه قلمي"

(الحافظ شمس الين الذهبي)

 

" والله ثم والله ثم والله لم أر تحت أديم السماء مثله علمًا وعملًا وحالًا وخلقًا واتباعًا وكرمًا وحلمًا في حق نفسه، وقيامًا في حق الله عند انتهاك حرماته"

(ابن شيخ الحزاميين)
"আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আর আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং এই দুইয়ের অনুসরণে তাঁর চেয়ে বেশি একনিষ্ঠ কাউকে দেখিনি।"

(আল-হাফিজ জামালুদ্দিন আল-মিযযি)

 

"বিগত পাঁচশ বছরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখা যায়নি।"

(আল-হাফিজ জামালুদ্দিন আল-মিযযি)

 

"যে ব্যক্তি তাঁর সংস্পর্শে এসেছে এবং তাঁকে চিনেছে, সে আমাকে তাঁর বর্ণনায় অপূর্ণতার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারে। আর যে তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতা করেছে, সে আমাকে তাঁর প্রশংসায় অতিশয়োক্তির দায়ে অভিযুক্ত করতে পারে। অথচ বিষয়টি সেরূপ নয়। যদিও আমি তাঁকে নির্ভুল বা নিষ্পাপ মনে করি না, কক্ষনোই নয়; কেননা তাঁর ইলমের বিশালতা, চরম সাহসিকতা, তীক্ষ্ণ মেধা এবং দ্বীনের মর্যাদার প্রতি তাঁর গভীর সম্মানবোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন মানুষই ছিলেন। বিতর্ক ও আলোচনার সময় তাঁর মাঝে তীব্রতা ও ক্রোধ প্রকাশ পেত এবং প্রতিপক্ষের প্রতি রূঢ়তা পরিলক্ষিত হতো, যা মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি শত্রুতা ও বিমুখতা তৈরি করত। তা না হলে, আল্লাহর কসম! তিনি যদি প্রতিপক্ষের প্রতি নমনীয় হতেন, তাদের সাথে কোমল আচরণ করতেন এবং সৌজন্য ও সদালাপ বজায় রাখতেন, তবে তিনি হতেন সর্বজনমান্য ঐকমত্যের মূর্ত প্রতীক। কেননা তাদের বড় বড় ইমাম ও পন্ডিতগণও তাঁর ইলম ও ফিকহের সামনে নতি স্বীকার করেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রখর মেধার স্বীকৃতি দেন এবং তাঁর ভুলের বিরলতা স্বীকার করেন।"

(আল-হাফিজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি)

 

"তিনি আমার শব্দ দিয়ে বর্ণনা করার চেয়েও মহান এবং আমার কলমের পক্ষে তাঁর উচ্চমর্যাদা তুলে ধরা সম্ভব নয়।"

(আল-হাফিজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি)

 

"আল্লাহর কসম, পুনরায় আল্লাহর কসম, পুনরায় আল্লাহর কসম! আমি আসমানের নিচে ইলম, আমল, আধ্যাত্মিক অবস্থা, চরিত্র, সুন্নাহর অনুসরণ, উদারতা এবং নিজের অধিকারের ক্ষেত্রে সহনশীলতা এবং আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সময় তাঁর অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি।"

(ইবনে শাইখিল হিযামিয়্যিন)
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ماذا يقول الواصفون له … وصفاته جلت عن الحصر

هو حجة لله قاهرة … هو بيننا أعجوبة الدهر

هو آية للخلق ظاهرة … أنوارها أربت على الفجر

(ابن الزملكاني)

 

سُبحان من سخَّر قَلبَ الورى … لقوله طوعاً وقد قيَّضا

قد أجمعَ النّاسُ على حُبِّه … ولا اعتبارَ بالذي أبغضا

(صلاح الدين الصفدي)

 

" لما اجتمعت بابن تيمية رأيت رجلًا العلوم كلها بين عينيه يأخذ منها ما يريد ويدع ما يريد"

(ابن دقيق العيد)

 

" إن لم يكن ابن تيمية شيخ الإسلام فمن؟ "

(شمس الدين ابن الحريري)

 

" ما أسلمت معارفنا إلا على يد ابن تيمية"

(أبو عبد الله محمد بن قوام)
বর্ণনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে কী-ই বা বলবে … তাঁর গুণাবলি তো গণনার ঊর্ধ্বে

তিনি আল্লাহর এক পরাক্রমশালী প্রমাণ … তিনি আমাদের মাঝে মহাকালের এক বিস্ময়

তিনি সৃষ্টির জন্য এক প্রকাশিত নিদর্শন … যার জ্যোতি উষার আলোকে ছাপিয়ে গিয়েছে

(ইবনে আস-সামলাকানি)

 

মহিমান্বিত সেই সত্তা যিনি সৃষ্টিজগতের অন্তরকে অনুগত করেছেন … তাঁর কথার প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং এটি তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন

মানুষ তাঁর ভালোবাসার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে … আর যে তাঁকে ঘৃণা করে তার কোনো গুরুত্ব নেই

(সালাহউদ্দিন আস-সাফাদি)

 

"যখন আমি ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখলাম যার চোখের সামনে সমস্ত জ্ঞান উপস্থিত ছিল; তিনি সেখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করতেন"

(ইবনে দাকীকুল ঈদ)

 

"ইবনে তাইমিয়্যাহ যদি শায়খুল ইসলাম না হন, তবে কে?"

(শামসুদ্দিন ইবনুল হারিরি)

 

"আমাদের জ্ঞান কেবল ইবনে তাইমিয়্যাহর মাধ্যমেই শুদ্ধতা লাভ করেছে"

(আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাওয়াম)
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
" حضرت مجالس ابن تيمية، فإذا هو بيت القصيدة، وأول الخريدة، علماء زمانه فلك هو قطبه، وجسم هو قلبه، يزيد عليهم زيادة الشمس على البدر، والبحر على القطر"

(أبو حفص ابن الوردي)

 

"ما رأينا أفتى من ابن تيمية؛ سعينا في دمه، فلما قدر علينا عفا عنا"

(ابن مخلوف المالكي)

 

أنتَ رَوْحُ الوجودِ في عَصْرِكَ الآ … ـنَ وقلبُ الورى وعينُ الزمانِ

والبرايا إذا اعتبرت جميعًا … منك أضحوْا بمنزلِ الجُثْمانِ

(ابن نجيح الحنبلي)

 

" لو لم يكن للشيخ تقي الدين إلا تلميذه الشيخ شمس الدين ابن القيم الجوزية صاحب التصانيف النافعة السائرة التي انتفع بها الموافق والمخالف لكان غاية في الدلالة على عظم منزلته"

(ابن حجر العسقلاني)

 

" وددت أني لأصحابي مثله لأعدائه وخصومه، وما رأيته يدعو على أحد منهم قطُّ، وكان يدعو لهم وجئت يومًا مبشرًا له بموت أكبر أعدائه وأشدهم عداوة وأذى له، فنهرني وتنكر لي واسترجع، ثم قام من فوره إلى بيت أهله، فعزاهم وقال: إني لكم مكانه، ولا يكون لكم أمر تحتاجون فيه إلى مساعدة إلا
"আমি ইবনে তাইমিয়্যাহর মজলিসে উপস্থিত হয়েছি, তখন দেখলাম তিনিই হচ্ছেন কবিতার মূল লক্ষ্য এবং রত্নমালার শ্রেষ্ঠ রত্ন। তাঁর সময়ের আলিমগণ যেন একটি কক্ষপথ আর তিনি তার মেরু, তারা যেন একটি দেহ আর তিনি তার হৃদয়। তাদের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমন, যেমন পূর্ণিমার চাঁদের উপর সূর্যের এবং জলকণার উপর সমুদ্রের শ্রেষ্ঠত্ব।"

(আবু হাফস ইবনুল ওয়ারদী)

 

"আমরা ইবনে তাইমিয়্যাহর চেয়ে বড় কোনো ফতোয়া প্রদানকারী দেখিনি; আমরা তাঁর রক্তের জন্য সচেষ্ট ছিলাম, কিন্তু যখন তিনি আমাদের উপর সামর্থ্য লাভ করলেন, তখন তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিলেন।"

(ইবনে মাখলুফ আল-মালিকি)

 

আপনি বর্তমান সময়ে অস্তিত্বের প্রাণ, সৃষ্টির হৃদয় এবং জামানার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। … আর যদি সমগ্র সৃষ্টিজগতকে বিবেচনা করা হয়, তবে আপনার তুলনায় তারা একটি জড় দেহের ন্যায় অবস্থান করছে।

(ইবনে নাজিহ আল-হাম্বলি)

 

"যদি শায়খ তাকিউদ্দিনের আর কেউ না থেকে কেবল তাঁর ছাত্র শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়াহ থাকতেন—যিনি এমন সব উপকারী ও সমাদৃত গ্রন্থের রচয়িতা যেগুলোর দ্বারা একমত পোষণকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারী সকলেই উপকৃত হয়েছে—তবে এটিই তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণের জন্য চূড়ান্ত দলিল হিসেবে যথেষ্ট হতো।"

(ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

 

"আমি কামনা করি যে, তিনি তাঁর শত্রু ও বিরোধীদের প্রতি যেমন ছিলেন, আমি যেন আমার বন্ধুদের প্রতি তেমনই (সদাচারী) হতে পারতাম। আমি তাঁকে কখনো তাদের কারো বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে দেখিনি, বরং তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। একদিন আমি তাঁর কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় ও কঠোর শত্রু—যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত—তার মৃত্যুর সুসংবাদ নিয়ে এলাম। তিনি আমাকে ধমক দিলেন, আমার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং ইন্নালিল্লাহ পাঠ করলেন। অতঃপর তখনই তিনি সেই ব্যক্তির পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দিলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের জন্য তাঁর স্থলাভিষিক্ত, এবং তোমাদের এমন কোনো প্রয়োজন থাকবে না যাতে সাহায্যের দরকার হবে কিন্তু আমি..."
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وساعدتكم فيه، ونحو هذا من الكلام فسروا به ودعوا له وعظموا هذه الحال منه"

(بعض أصحاب الشيخ)

 

"من قال إنه كافر فهو كافر حقيق ومن نسبه إلى الزندقة فهو زنديق"

(بدر الدين العيني الحنفي)

 

" والله يا فلان ما يبغض ابن تيمية إلا جاهل أو صاحب هوى فالجاهل لا يدري ما يقول وصاحب الهوى يصده هواه عن الحق بعد معرفته به ".

(ابن سوار السبكي)

 

لما أتينا تقيَ الدينِ لاحَ لنا … داعٍ إلى الله فردٌ ما له وَزَرُ

على محياهُ من سِيمَا الأولى صَحِبُوا … خيرَ البريةِ نورٌ دونه القَمَرُ

حبرٌ تَسَرْبَل منه دَهْرَهُ حِبَرا … بحرٌ تقاذفُ من أمواجِهِ الدُرَرُ

قام ابنُ تيميةَ في نَصْرِ شرعتِنَا … مقامَ سَيِّدِ تَيْمٍ إذ عَصَتْ مُضَرُ

فأظهر الحقَ إذ آثارُهُ دَرَسَتْ … وأخمدَ الشرَّ إذ طارتْ لَهُ الشَّرَرُ

كنَّا نحدِّثُ عن حَبْرٍ يجيء فها … أنت الإمامُ الذي قد كان يُنْتَظَرُ

(أبو حيان النحوي)
এবং আমি আপনাদের এতে সাহায্য করেছি। এজাতীয় কথার মাধ্যমেই তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁর জন্য দোয়া করেছেন এবং তাঁর এই অবস্থাকে মহিমান্বিত করেছেন।

(শাইখের কিছু সাথী)

 

"যে ব্যক্তি বলে যে তিনি কাফের, সে ব্যক্তি নিজেই প্রকৃত কাফের। আর যে তাঁকে ধর্মদ্রোহিতার দিকে নিসবত করে, সে নিজেই যিনদিক (ধর্মদ্রোহী)।"

(বদরুদ্দিন আল-আইনি আল-হানাফি)

 

"আল্লাহর কসম, হে অমুক! ইবনে তাইমিয়াকে কেবল কোনো মূর্খ অথবা প্রবৃত্তি-পূজারী ব্যক্তিই ঘৃণা করে। মূর্খ তো জানেই না সে কী বলছে, আর প্রবৃত্তি-পূজারীকে সত্য অনুধাবন করার পর তার প্রবৃত্তিই তাকে সত্য থেকে বিমুখ করে দেয়।"

(ইবনে সাওয়ার আস-সুবকি)

 

যখন আমরা তাকিউদ্দীনের নিকট আসলাম, তখন আমাদের কাছে প্রকাশ পেলেন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এক অনন্য পুরুষ, যার কোনো সমকক্ষ নেই …

তাঁর মুখমণ্ডলে সেই প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গের চিহ্ন বিদ্যমান যারা সৃষ্টির সেরা মানবের সাহচর্য পেয়েছিলেন, সেখানে এমন এক নূর যার কাছে চাঁদও ম্লান …

তিনি এমন এক পণ্ডিত যিনি মহাকালের পরিক্রমায় জ্ঞানের ভূষণে সজ্জিত ছিলেন; তিনি এমন এক সমুদ্র যার ঢেউ থেকে মুক্তাগুলো উথলে পড়ে …

ইবনে তাইমিয়া আমাদের শরীয়ত রক্ষায় তেমনি দাঁড়িয়েছিলেন, যেমনটি দাঁড়িয়েছিলেন তাইম গোত্রের নেতা যখন মুদার গোত্র অবাধ্যতা করেছিল …

তিনি সত্যকে প্রকাশ করলেন যখন এর চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হচ্ছিল, এবং মন্দের আগুন নিভিয়ে দিলেন যখন এর স্ফুলিঙ্গগুলো ছড়িয়ে পড়ছিল …

আমরা এমন এক পণ্ডিতের আগমনের কথা বলতাম, আর আপনিই তো সেই ইমাম যাঁর প্রতীক্ষা করা হচ্ছিল …

(আবু হাইয়ান আন-নাহবী)
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(مِنْ كَلِمَاتِ الشَّيْخِ الذَّهَبِيَّةِ)

(مُسْتَلَّةٌ مِن كُتُبِ تِلْمِيذِهِ ابنِ القَيِّمِ)

 

أ- " إنَّ في الدُّنيا جَنَّةً مَنْ لَمْ يَدْخُلْهَا لَنْ يَدْخُلَ جَنَّةَ الآخِرَةِ ". (الجواب الكافي لابن القيم) .

ب- " بالصبر واليقين تنال الإمامة في الدين" (مدارج السالكين) .

ت- "الذكر للقلب مثل الماء للسمك فكيف يكون حال السمك إذا فارق الماء؟ ". (الوابل الصيب لابن القيم) .

ث- " لا أترك الذكر إلا بنية إجمام نفسي وإراحتها لأستعد بتلك الراحة لذكر آخر" (الوابل الصيب) .

ج- " ما يصنع أعدائي بي؟ أنا جنتي وبستاني في صدري إن رحت فهي معي لا تفارقني إن حبسي خلوة وقتلي شهادة وإخراجي من بلدي سياحة" (الوابل الصيب) .

ح- "المحبوس من حبس قلبه عن ربه تعالى والمأسور من أسره هواه" (الوابل الصيب) .

خ- " تزوجت الحقيقة الكافرة بالبدعة الفاجرة، فتولد بينهما خسران الدنيا والآخرة " (مدارج السالكين) .

د- "ما ندم من استخار الخالق، وشاور المخلوقين" (الوابل الصيب) .

ذ- "فضل عموم الدعاء على خصوصه كفضل السماء على الأرض" (بدائع الفوائد) .
‌(শাইখের সুবর্ণ বাণীসমূহ থেকে)

(তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত)

 

ক- "নিশ্চয়ই দুনিয়াতে একটি জান্নাত রয়েছে, যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে না, সে পরকালের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" (ইবনুল কাইয়্যিমের আল-জাওয়াবুল কাফি)।

খ- "ধৈর্য ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দ্বীনের নেতৃত্ব লাভ করা যায়।" (মাদারিজুস সালিকিন)।

গ- "অন্তর বা হৃদয়ের জন্য জিকির হলো মাছের জন্য পানির মতো; সুতরাং মাছের অবস্থা কেমন হবে যখন সে পানি ত্যাগ করে?" (ইবনুল কাইয়্যিমের আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব)।

ঘ- "আমি জিকির বর্জন করি না কেবল নিজের নফসকে বিশ্রাম ও প্রশান্তি দেওয়ার নিয়ত ব্যতীত, যাতে আমি সেই বিশ্রামের মাধ্যমে পরবর্তী জিকিরের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি।" (আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব)।

ঙ- "আমার শত্রুরা আমার কী করতে পারে? আমার জান্নাত ও আমার বাগান তো আমার বক্ষেই রয়েছে; আমি যেখানেই যাই তা আমার সাথেই থাকে, আমাকে ছেড়ে যায় না। আমার কারাবাস হলো নির্জন সাধনা, আমার মৃত্যু হলো শাহাদাত, আর আমার দেশ থেকে বহিষ্কার হলো পর্যটন।" (আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব)।

চ- "প্রকৃত বন্দি সেই ব্যক্তি, যার অন্তর তার মহান প্রতিপালক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্দি হয়ে পড়েছে; আর প্রকৃত কয়েদি সেই ব্যক্তি, যাকে তার কুপ্রবৃত্তি বন্দি করে ফেলেছে।" (আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব)।

ছ- "অবিশ্বাসী সত্য যখন পাপাচারী বিদআতের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো, তখন তাদের উভয়ের মাঝে দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতি জন্ম লাভ করলো।" (মাদারিজুস সালিকিন)।

জ- "সেই ব্যক্তি অনুতপ্ত হয় না যে স্রষ্টার নিকট ইস্তিখারা করে এবং সৃষ্টিজীবের সাথে পরামর্শ করে।" (আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব)।

ঝ- "ব্যাপক বা সাধারণ দোয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নির্দিষ্ট বা বিশেষ দোয়ার ওপর ঠিক তেমন, যেমন আসমানের শ্রেষ্ঠত্ব জমিনের ওপর।" (বাদায়িউল ফাওয়াইদ)।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ر- "ذكر الله الصبر الجميل، والصفح الجميل، والهجر الجميل: فالصبر الجميل: الذي لا شكوى معه. والهجر الجميل: الذي لا أذى معه. والصفح الجميل: الذي لا عتاب معه" (مدارج السالكين) .

ز- " إياك نعبد تدفع الرياء، وإياك نستعين تدفع الكبرياء" (مدارج السالكين) .

س- " العامة يعبدون الله، والصوفية يعبدون أنفسهم" (مدارج السالكين) .

ش- " من أراد السعادة الأبدية فليلزم عتبة العبودية" (مدارج السالكين) .

ص- " الخوف المحمود: ما حجزك عن محارم الله" (مدارج السالكين) .

ض- " العارف لا يرى له على أحد حقًا، ولا يشهد له على غيره فضلًا؛ ولذلك لا يعاتب، ولا يطالب، ولا يضارب" (مدارج السالكين) .

ط- " ما لي شيء، ولا مني شيء، ولا فيَّ شيء، وكان كثيرًا ما يتمثل بهذا البيت:

أنا المكدِّى وابن المكدِّى … وهكذا كان أبي وجدي

وكان إذا أثنى عليه في وجهه يقول: والله إني إلى الآن أجدد إسلامي كل وقت، وما أسلمت بعد إسلامًا جيدًا" (من لسان ابن القيم في المدارج) .

ظ- " الزهد: ترك مالا ينفع في الآخرة، والورع: ترك ما تخاف ضرره في الآخرة" (مدارج السالكين) .

ع- " إذا لم تجد للعمل حلاوة في قلبك وانشراحًا فاتهمه فإن الربَّ تعالى شكور، يعني: أنه لابد أن يثيب العامل على عمله في الدنيا من حلاوة يجدها في قلبه وقوة انشراح وقرة عين، فحيث لم يجد ذلك فعمله مدخول" (مدارج السالكين) .
র- "আল্লাহ সুন্দর ধৈর্য, সুন্দর ক্ষমা এবং সুন্দর বর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন: সুতরাং সুন্দর ধৈর্য হলো তা, যার সাথে কোনো অভিযোগ থাকে না। সুন্দর বর্জন হলো তা, যার সাথে কোনো কষ্ট দেওয়া থাকে না। আর সুন্দর ক্ষমা হলো তা, যার সাথে কোনো তিরস্কার থাকে না" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

য- "'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি' (আয়াতটি) রিয়া বা লোক-দেখানো ইবাদতকে প্রতিহত করে, আর 'আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই' (আয়াতটি) অহংকারকে প্রতিহত করে" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

স- "সাধারণ মানুষ আল্লাহর ইবাদত করে, আর সূফীরা তাদের নিজেদের নফসের ইবাদত করে" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

শ- "যে ব্যক্তি চিরন্তন সুখ ও সৌভাগ্য কামনা করে, সে যেন দাসত্বের চৌকাঠ আঁকড়ে ধরে থাকে" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

স- "প্রশংসনীয় ভয় হলো তা, যা আপনাকে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বিরত রাখে" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

দ- "আরেফ (তত্ত্বজ্ঞানী) ব্যক্তি নিজের জন্য অন্যের ওপর কোনো পাওনা বা অধিকার দেখেন না এবং অন্যের ওপর নিজের কোনো শ্রেষ্ঠত্বও প্রত্যক্ষ করেন না; আর এ কারণেই তিনি কাউকে তিরস্কার করেন না, কারও কাছে কিছু দাবি করেন না এবং কারও সাথে বিবাদে লিপ্ত হন না" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

ত- "আমার কোনো কিছু নেই, আমার পক্ষ থেকে কোনো কিছু নয় এবং আমার মাঝেও কোনো কিছু নেই; তিনি প্রায়ই এই পঙ্ক্তিটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করতেন:

আমি এক নিঃস্ব এবং নিঃস্বের সন্তান … এভাবেই ছিলেন আমার পিতা ও পিতামহ

আর যখন তাঁর সামনে তাঁর প্রশংসা করা হতো, তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, আমি এখনো প্রতি মুহূর্তে নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করছি, আমি এখনো সঠিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে পারিনি" (মাদারিজুস সালিকিনে ইবনুল কাইয়্যিমের জবানিতে) ।

য- "যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) হলো: আখিরাতে যা কোনো উপকারে আসবে না তা বর্জন করা। আর ওয়ারা (সতর্কতা) হলো: আখিরাতে যেটির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তা বর্জন করা" (মাদারিজুস সালিকিন) ।

আ- "যদি আপনি আপনার আমলের জন্য অন্তরে কোনো মিষ্টতা এবং প্রশস্ততা খুঁজে না পান, তবে আমলটিকে ত্রুটিযুক্ত মনে করুন; কারণ মহান প্রতিপালক অত্যন্ত গুণগ্রাহী (শাকুর)। অর্থাৎ: আমলকারীকে দুনিয়াতেই তার আমলের প্রতিদান হিসেবে অন্তরে যে মিষ্টতা, প্রবল প্রশস্ততা এবং চোখের শীতলতা পাওয়ার কথা, তিনি তা অবশ্যই দান করেন; সুতরাং যেখানে এটি অনুপস্থিত, সেখানে বুঝতে হবে যে আমলে ভেজাল রয়েছে" (মাদারিজুস সালিকিন) ।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
غ- "إن كان نصبًا حبُّ صحبِ محمَّدٍ … فليشهدِ الثقلانِ: أنِّي ناصبي". (الكافية الشافية لابن القيم) .

ف- " أعظم الكرامة لزوم الاستقامة" (مدارج السالكين) .

ق- " التكبر شر من الشرك؛ فإن المتكبر يتكبر عن عبادة الله تعالى، والمشرك يعبد الله وغيره" (مدارج السالكين) .

ك- " قد عرض له بعض الألم فقال له الطبيب اضر ما عليك الكلام في العلم والفكر فيه والتوجه والذكر فقال الستم تزعمون ان النفس إذا قويت وفرحت اوجب فرحها لها قوة تعين بها الطبيعة على دفع العارض فإنه عدوها فإذا قويت عليه قهرته فقال له الطبيب بلى فقال إذا اشتغلت نفسي بالتوجه والذكر والكلام في العلم وظفرت بما يشكل عليها منه فرحت به وقويت فأوجب ذلك دفع العارض هذا" (مفتاح دار السعادة) .

ل- " من فارق الدليل ضل السبيل ولا دليل إلا بما جاء به الرسول" (مفتاح دار السعادة) .

م- " العوارض والمحن هي كالحر والبرد فإذا علم العبد أنه لا بد منهما لم يغضب لورودهما ولم يغتم لذلك ولم يحزن" (مدارج السالكين) .

ن- " الولادة نوعان أحدهما هذه المعروفة والثانية ولادة القلب والروح وخروجهما من مشيمة النفس وظلمة الطبع" (مدارج السالكين) .

هـ- " إن رضى الرب في العجلة إلى أوامره" (مدارج السالكين) .

و " العامة تقول قيمة كل امرىء ما يحسن، والخاصة تقول قيمة كل امرىء ما يطلب" (مدارج السالكين) .
গ- "যদি মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবীদের ভালোবাসা নাসেবি হওয়া হয় … তবে যেন জিন ও ইনসান সাক্ষী থাকে যে: আমি একজন নাসেবি।" (ইবনুল কাইয়্যিমের আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ) .

ফ- "শ্রেষ্ঠ কারামত হলো ইস্তেকামাতের ওপর অবিচল থাকা" (মাদারিজুস সালিকিন) .

ক- "অহংকার শিরকের চেয়েও নিকৃষ্ট; কেননা অহংকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর ইবাদত করা থেকে অহংকার করে, আর মুশরিক আল্লাহরও ইবাদত করে আবার অন্যেরও।" (মাদারিজুস সালিকিন) .

ক- "একবার তাঁর কিছু পীড়া দেখা দিল, তখন চিকিৎসক তাঁকে বললেন, আপনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো ইলমি আলোচনা, এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং আল্লাহর দিকে মনোযোগ ও জিকির করা। তখন তিনি বললেন, আপনারা কি এমনটি দাবি করেন না যে নফস যখন শক্তিশালী ও আনন্দিত হয়, তখন তার সেই আনন্দ এমন এক শক্তির জন্ম দেয় যা ব্যাধি দূর করতে শরীরকে সাহায্য করে? কারণ ব্যাধি হলো শরীরের শত্রু, তাই নফস যখন শক্তিশালী হয় তখন সে তাকে পরাজিত করে। চিকিৎসক বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যখন আমার নফস আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া, জিকির ও ইলমি আলোচনায় লিপ্ত হয় এবং এর জটিল বিষয়গুলো সমাধান করতে সক্ষম হয়, তখন সে আনন্দিত ও শক্তিশালী হয়, আর এটাই এই ব্যাধি দূর করতে সহায়ক হয়।" (মিফতাহু দারিস সাআদাহ) .

ল- "যে দলিল ত্যাগ করল সে পথ হারাল, আর রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ছাড়া কোনো দলিল নেই" (মিফতাহu দারিস সাআদাহ) .

ম- "বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা হলো গ্রীষ্ম ও শীতের মতো। যখন বান্দা জানতে পারে যে এগুলো অনিবার্য, তখন সে এগুলোর আগমনে রাগান্বিত হয় না, বিমর্ষ হয় না এবং চিন্তিতও হয় না" (মাদারিজুস সালিকিন) .

ন- "জন্ম দুই প্রকার: একটি হলো এই পরিচিত জন্ম, আর দ্বিতীয়টি হলো অন্তর ও রূহের জন্ম এবং নফসের অমরা ও স্বভাবজাত অন্ধকার থেকে সে দুটির বেরিয়ে আসা" (মাদারিজুস সালিকিন) .

হ- "নিশ্চয়ই রবের সন্তুষ্টি তাঁর আদেশ পালনে দ্রুততা প্রদর্শনের মাঝে নিহিত" (মাদারিজুস সালিকিন) .

ও- "সাধারণ মানুষ বলে প্রত্যেক ব্যক্তির মূল্য তার পারদর্শিতায়, আর বিশিষ্টজনরা বলেন প্রত্যেক ব্যক্তির মূল্য সে যা অন্বেষণ করে তার মাঝে" (মাদারিজুস সালিকিন) .
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌تَرْجَمَةُ

شَيْخِ الإِسْلامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ

رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى

 

مِنْ كِتَابِ

الذيل على طبقات الحنابلة

للإمام الحافظ بقية السلف

عبد الرحمن ابن رجب الحنبلي

رحمه الله تعالى
জীবনী

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন

 

নিম্নোক্ত গ্রন্থ হতে:

আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ

ইমাম হাফিয, সালাফদের সুযোগ্য উত্তরসূরি

আবদুর রহমান ইবনে রাজাব আল-হাম্বলীর

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبى القاسم ابن الخضر بن محمد ابن تيمية الحراني، ثم الدمشقي، الإمام الفقيه، المجتهد المحدث، الحافظ المفسر، الأصولي الزاهد، تقي الدين أبو العباس، شيخ الإسلام وعلم الأعلام، وشهرته تغنى عن الإطناب في ذكره، والإسهاب في أمره.

ولد يوم الاثنين عاشر ربيع الأول سنة إحدى ستين وستمائة بحران.

وقدم به والده وبإخواته إلى دمشق عند استيلاء التتر على البلاد، سنة سبع وستين.

فسمع الشيخ بها من ابن عبد الدايم، وابن أبي اليسر، وابن عبد، والمجد ابن عساكر، ويحيى بن الصيرفي الفقيه، وأحمد بن أبي الخير الحداد، والقاسم الأربلي، والشيخ شمس الدين بن أبي عمر، ولمسلم بن علان، وإبراهيم بن الدرجي، وخلفه كثير.

وعني بالحديث وسمع " المسند " مرات، والكتب الستة، ومعجم الطبراني الكبير، وما لا يحصى من الكتب والأجزاء. وقرأ بنفسه، وكتب بخطه جملة من الأجزاء، وأقبل على العلوم في صغره، فأخذ الفقه والأصول عن والده، وعن الشيخ شمس الدين بن أبي عمر، والشيخ زين الدين بن المنجا. وبرع في ذلك، وناظر.

وقرأ في العربية أياماً على سليمان بن عبد القوى، ثم أخذ كتاب سيبويه، فتأمله ففهمه. وأقبل على تفسير القرآن الكريم، فبرز فيه، وأحكم أصول الفقه، والفرائض، والحساب والجبر والمقابلة، وغير ذلك من العلوم، ونظر في علم الكلام الفلسفة، وبرز في ذلك على أهله، ورد على رؤسائهم وأكابرهم، ومهر في هذه الفضائل، وتأهل للفتوى والتدريس، وله دون
আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম ইবনুল খিজর বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, অতঃপর আদ-দিমাশকী। তিনি ছিলেন ইমাম, ফকীহ, মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, মুফাসসির, উসূলী এবং যাহেদ। তাঁর উপাধি তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস। তিনি শাইখুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ইমামদের অন্যতম। তাঁর প্রসিদ্ধি তাঁর সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা বা বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।

তিনি ৬৬১ হিজরী সালের ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন।

৬৬৭ হিজরীতে যখন তাতারীরা দেশ দখল করে নেয়, তখন তাঁর পিতা তাঁকে ও তাঁর ভাইদের নিয়ে দামেস্কে আগমন করেন।

সেখানে শাইখ ইবনে আব্দুল দায়েম, ইবনে আবুল ইউসর, ইবনে আব্দ, আল-মাজদ ইবনে আসাকির, ফকীহ ইয়াহইয়া বিন আস-সাইরাফী, আহমদ বিন আবুল খায়ের আল-হাদ্দাদ, আল-কাসিম আল-আরবিলি, শাইখ শামসুদ্দীন বিন আবি উমর, মুসলিম বিন আল্লান, ইব্রাহিম বিন আদ-দারাজী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।

তিনি হাদীসের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি 'মুসনাদ' কয়েকবার শ্রবণ করেছেন, এছাড়াও কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি হাদীস গ্রন্থ), তাবারানীর 'মুজামুল কাবীর' এবং অগণিত কিতাব ও সংকলন শ্রবণ করেছেন। তিনি নিজে পাঠ করতেন এবং নিজ হাতে অনেক সংকলন লিখেছিলেন। শৈশবেই তিনি ইলম অর্জনের প্রতি নিবিষ্ট হন এবং তাঁর পিতা, শাইখ শামসুদ্দীন বিন আবি উমর এবং শাইখ যাইনুদ্দীন বিন আল-মুনজ্জা-এর নিকট থেকে ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শিক্ষা করেন। তিনি এতে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং বিতর্কে অংশ নেন।

তিনি সুলাইমান বিন আব্দুল কাওয়ির নিকট কিছুদিন আরবী ভাষা শিক্ষা করেন, এরপর সিবওয়াইহ-এর কিতাব গ্রহণ করেন এবং তা গভীর মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করে বুঝে নেন। তিনি কুরআনুল কারীমের তাফসীরের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তিনি উসূলে ফিকহ, ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, বীজগণিত ও সমীকরণ এবং অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি ইলমুল কালাম ও দর্শনের ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং সে বিষয়ের পণ্ডিতদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। তিনি তাদের প্রধান ও বড় বড় পণ্ডিতদের মতবাদ খণ্ডন করেন। এসকল জ্ঞান ও গুণে তিনি দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। তাঁর বয়স যখন...
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
العشرين سنة، وأفتى من قبل العشرين أيضاً، وأمده الله بكثرة الكتب وسرعة الحفظ، وقوة الإدراك والفهم، وبطء النسيان، حتى قال غير واحد: إنه لم يكن يحفظ شيئاً فينساه.

ثم توفى والده إحدى وعشرين سنة. فقام بوظائفه بعده. فدرس بدار الحديث السكرية في أول سنة ثلاث وثمانين وستمائة.

وحضر عنده قاضي القضاة بهاء الدين بن الزكى، والشيخ تاج الدين الغزاري، وزين الدين بن المرحل، والشيخ زين الدين المنجا، وجماعة، وذكر درساً عظيماً في البسملة. وهو مشهور بين الناس، وعظمه الجماعة الحاضرون، وأثنوا عليه ثناءً كثيراً.

قال الذهبي: وكان الشيخ تاج الدين الغزاري، يبالغ في تعظيمه الشيخ تقي الدين، بحيث إنه علق بخطه درسه بالسكرية ثم جلس عقب ذلك مكان والده بالجامع على منبر أيام الجمع، لتفسير القرآن العظيم، وشرع من أول القرآن. فكان يورد من حفظه في المجلس نحو كراسين أو أكثر، وبقي يفسر في سورة نوح، عدة سنين أيام الجمع.

وفي سنة تسعين: ذكر على الكرسي يوم جمعة شيئاً من الصفات، فقام بعض المخالفين، وسعوا في منعه من الجلوس، فلم يمكنهم ذلك.

وقال قاضي القضاة شهاب الدين الخوي: أنا على اعتقاد الشيخ تقي الدين، فعوقب في ذلك. فقال: لأن ذهنه صحيح، ومواده كثيرة، فهو لا يقول إلا الصحيح.

وقال الشيخ شرف الدين المقدسي: أنا أرجو بركته ودعاءه، وهو صاحبي، وأخى. ذكر ذلك البرزالي في تاريخه.
কুড়ি বছর বয়সে এবং কুড়ি বছরের আগেও তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রচুর কিতাব, দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা, প্রখর উপলব্ধি ও বোধশক্তি এবং বিস্মৃতির ধীরগতি দ্বারা সাহায্য করেছেন। এমনকি একাধিক ব্যক্তি বলেছেন: তিনি যা কিছু মুখস্থ করতেন তা কখনও ভুলতেন না।

অতঃপর একুশ বছর বয়সে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার দায়িত্বসমূহ গ্রহণ করেন। তিনি ৬৮৩ হিজরি সালের শুরুতে দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়াহ-তে অধ্যাপনা করেন।

তাঁর মজলিসে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি বাহাউদ্দিন ইবনে আল-জাকি, শেখ তাজউদ্দীন আল-ফাজারি, জাইন উদ্দীন ইবনুল মুরাহহাল, শেখ জাইন উদ্দীন আল-মানজা এবং একদল আলেম। তিনি সেখানে বিসমিল্লাহর উপর এক মহান পাঠ প্রদান করেন। এটি মানুষের মাঝে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

যাহাবি বলেন: শেখ তাজউদ্দীন আল-ফাজারি শেখ তকিউদ্দীনকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, এমনকি তিনি নিজ হাতে সুক্কারিয়াহ-তে তাঁর পাঠের অনুলিপি লিখেছিলেন। এরপর তিনি জুমার দিনগুলোতে জামে মসজিদে মিম্বরে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন মহান কুরআনের তাফসির করার জন্য এবং কুরআনের শুরু থেকে তাফসির শুরু করেন। তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে মজলিসে প্রায় দুই করাস বা তার বেশি বর্ণনা করতেন। তিনি জুমার দিনগুলোতে বেশ কয়েক বছর ধরে সূরা নূহের তাফসির অব্যাহত রেখেছিলেন।

এবং ৬৯০ হিজরি সালে জুমার দিনে মিম্বরে বসে তিনি আল্লাহর কিছু গুণাবলি আলোচনা করেন। ফলে কিছু বিরোধী লোক দাঁড়িয়ে যায় এবং তাঁর পাঠদান বন্ধ করার চেষ্টা করে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি।

প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দীন আল-খুয়ী বলেন: আমি শেখ তকিউদ্দীনের আকিদার ওপর আছি। এ কারণে তাঁকে তিরস্কারও সইতে হয়েছিল। তিনি বলেন: কারণ তাঁর মেধা সঠিক এবং তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার বিশাল, তাই তিনি সঠিক কথা ছাড়া কিছু বলেন না।

শেখ শারফুদ্দিন আল-মাকদিসি বলেন: আমি তাঁর বরকত ও দোয়ার আশা করি, তিনি আমার সঙ্গী ও ভাই। আল-বারজালি তাঁর ইতিহাসে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وشرع في الجمع والتصنيف، من دون العشرين، ولم يزل في علو وازدياد من العلم والقدر إلى آخر عمره. سمع الحديث، وأكثر بنفسه من طلبه، وكتب وخرج، ونظر في الرجال والطبقات، وحصل ما لم يحصله غيره. برع في تفسير القرآن، وغاص في دقيقة معانيه بطبع سيال، وخاطر إلى مواقع الإشكال ميال، واستنبط منه أشياء لم يسبق إليها. وبرع في الحديث وحفظه، فقل من يحفظ ما يحفظه من الحديث، معزوا إلى أصوله وصحابته، مع شدة استحضاره له وقت إقامة الدليل، وفاق الناس في معرفة الفقه، واختلاف المذاهب، وفتاوى الصحابة والتابعين، بحيث إنه إذا أفتى لم يلتزم بمذهب، بل يقوم بما دليله عنده. وأتقن العربية أصولاً وفروعاً، وتعليلاً واختلافاً. ونظر في العقليات، وعرف أقوال المتكلمين، ورد عليهم، ونبه على خطئهم، وحذر منهم.

ونصر السنة بأوضح حجج وأبهر براهين. وأوذي في ذات الله من المخالفين، وأضيف في نصر السنة المحضة، حتى أعلى الله منارة، وجمع قلوب أهل التقوى على محبته والدعاء له، وكتب أعداه، وهدي به رجالاً من أهل الملل والنحل، وجبل قلوب الملوك والأمراء على الانقياد له غالباً، وعلى طاعته، وأحي به الشام، بل والإسلام، بعد أن كاد ينثلم بتثبيت أولى الأمر لما أقبل حزب التتر والبغي في خيلائهم، فظنت بالله الظنون، وزلزل المؤمنون، واشرأب النفاق وأبدى صفحته. ومحاسنه كثيرة، وهو أكبر من أن ينبه على سيرته مثلي، فلو حلفت بين الركن والمقام، لحلفت: أنى ما رأيت بعيني مثله، وأنه ما رأى مثل نفسه.
তিনি বিশ বছর বয়সের পূর্বেই সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। আমৃত্যু তাঁর ইলম ও মর্যাদা কেবল উত্তরোত্তর বৃদ্ধি লাভ করেছিল। তিনি হাদিস শ্রবণ করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এর অন্বেষণে প্রভূত পরিশ্রম করেন। তিনি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন, তাখরিজ করেছেন এবং বর্ণনাকারী ও তাদের স্তরসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছেন; যা অন্য কেউ সেভাবে অর্জন করতে পারেনি। তিনি কুরআনের তাফসির শাস্ত্রে অনন্য বুৎপত্তি লাভ করেন এবং তাঁর প্রখর ধীশক্তি দিয়ে এর সূক্ষ্ম অর্থসমূহের গভীরে অবগাহন করেন। তাঁর চিন্তা সংশয়পূর্ণ স্থানগুলোর সমাধানের প্রতি আগ্রহী ছিল এবং তিনি কুরআন থেকে এমন অনেক বিষয় উদ্ঘাটন করেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করতে পারেনি। হাদিস ও তা হিফজ করার ক্ষেত্রেও তিনি পারদর্শী ছিলেন; মূল উৎস ও সাহাবীদের পরম্পরাসহ তিনি যত হাদিস মুখস্থ রাখতেন, তা সমসাময়িককালে বিরল ছিল। দলিল উপস্থাপনের সময় তাঁর তাৎক্ষণিক মুখস্থশক্তির প্রখরতা ছিল অতুলনীয়। ফিকহ শাস্ত্র, মাযহাবগুলোর মতপার্থক্য এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফতোয়া সম্পর্কে জ্ঞানে তিনি সমকালের সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি যখন ফতোয়া দিতেন, নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং যাঁর কাছে শক্তিশালী দলিল থাকত, সে অনুযায়ী ফয়সালা দিতেন। তিনি আরবি ভাষার মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা, ভাষাতাত্ত্বিক কারণ ও মতভেদসমূহে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্রসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন এবং মুতাকাল্লিমদের মতবাদসমূহ অবগত হয়ে তাদের খণ্ডন করেন। তিনি তাদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সকলকে সে ব্যাপারে সতর্ক করেন।

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট যুক্তি ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে সুন্নাহর বিজয় নিশ্চিত করেন। আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে তিনি বিরোধীদের হাতে লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হন। তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহর পক্ষে নিরলস সংগ্রাম করেন, পরিশেষে আল্লাহ তাঁর সুখ্যাতির মিনারকে সুউচ্চ করেন এবং মুত্তাকীদের অন্তরকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও দোয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ করে দেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে তাঁর শত্রুদের লাঞ্ছিত করেন এবং বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের বহু মানুষকে সঠিক পথের দিশা দান করেন। শাসক ও আমীরদের অন্তরকেও তিনি তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলেন। তাতার ও বিদ্রোহীদের দাম্ভিক আক্রমণের ফলে যখন ইসলাম ও শাম দেশ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল, তখন আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে তা পুনর্জীবিত করেন। সেই সংকটকালে আল্লাহর প্রতি নানা (অশুভ) ধারণা পোষণ করা হচ্ছিল, মুমিনরা প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল এবং মুনাফেকি তার নগ্ন রূপ প্রকাশ করেছিল। তাঁর গুণাবলি অগণিত। তাঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। আমি যদি রুকন ও মাকামে ইবরাহিমের মধ্যস্থলে দাঁড়িয়ে শপথ করি, তবে এই শপথই করব যে—আমি নিজ চোখে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি এবং তিনিও তাঁর নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد قرأت بخط الشيخ العلامة شيخنا كما الدين ابن الزملكاني، ما كتبه سنة بضع وتسعين تحت اسم. " ابن تيمية " كان إذا سئل عن فن من العلم ظن الرائي والسامع: أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحداً لا يعرفه مثله. وكان الفقهاء من سائر الطوائف إذا جالسوه استفادوا منه في مذهبهم أشياء، ولا يعرف أنه ناظر أحداً فانقطع منه، ولا تكلم في علم من العلوم - سواء كان من علوم الشرع أو غيرها - إلا فاق فيه أهله، واجتمعت فيه شروط الاجتهاد على وجهها.

وقال الذهبي في معجمه المختصر: كان إماماً متجراً في علوم الديانة، صحيح الذهن، سريع الإدراك، سيال الفهم، كثير المحاسن، موصوفاً بفرط الشجاعة والكرم، فارغاً عن شهوات المأكل والملبس والجماع، لا لذة له في غير نشر العلم وتدوينه. والعمل بمقتضاه.

قلت: وقد عرض عليه قضاء القضاة قبل التسعين ومشيخة الشيوخ، فلم يقبل شيئاً من ذلك. قرأت ذلك بخطه.

قال الذهبي: ذكره أبو الفتح اليعمري الحافظ - يعنى ابن سيد الناس - في جواب سؤالات أبي العباس الدمياطي الحافظ، فقال: ألفيته ممن أدرك من العلوم حظا. وكاد يستوعب السنن والآثار حفظاً، إن تكلم في التفسير فهو حامل رأيته، وإن أفتى في الفقه فهو مدرك غايته، أو ذاكر بالحديث فهو صاحب علمه، وذو روايته، أو حاضر بالنحل والملل لم ير أوسع من نحلته،
আমি আমাদের শায়খ আল্লামা শায়খ কামালুদ্দিন ইবনুল জামলকানির হস্তাক্ষরে পড়েছি, যা তিনি নব্বইয়ের দশকের কয়েক বছর পর "ইবনে তাইমিয়্যাহ" নামের অধীনে লিখেছিলেন: যখন তাঁকে কোনো শাস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি ওই শাস্ত্র ছাড়া আর কিছুই জানেন না এবং তারা সিদ্ধান্ত দিতেন যে তাঁর মতো এই বিষয়টি আর কেউ জানে না। বিভিন্ন মাযহাবের ফকিহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাযহাবের অনেক বিষয়েই তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হতেন। এমন জানা যায় না যে কেউ তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তাঁকে পরাস্ত করতে পেরেছে। তিনি শরয়ি জ্ঞান হোক বা অন্য কোনো বিদ্যা—যে বিষয়েই কথা বলতেন, সে বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের তিনি ছাড়িয়ে যেতেন। তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের যাবতীয় শর্তাবলি যথাযথভাবে বিদ্যমান ছিল।

জাহাবি তাঁর মুজামুল মুখতাসার-এ বলেছেন: তিনি ছিলেন দ্বীনি জ্ঞানসমূহে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন ইমাম, সঠিক মনন ও দ্রুত অনুধাবনক্ষমতার অধিকারী, প্রখর বোধশক্তিসম্পন্ন এবং বহু গুণের আধার। তিনি চরম সাহসিকতা ও বদান্যতায় গুণান্বিত ছিলেন। আহার, পোশাক ও জৈবিক চাহিদার প্রতি তাঁর কোনো মোহ ছিল না। জ্ঞান প্রচার, তা গ্রন্থবদ্ধ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া অন্য কিছুতে তিনি আনন্দ পেতেন না।

আমি বলছি: নব্বই হিজরির পূর্বেই তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ এবং শায়খুল মাশায়েখ পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি এর কোনোটিই গ্রহণ করেননি। আমি এটি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে পড়েছি।

জাহাবি বলেছেন: হাফেজ আবুল ফাতহ আল-ইয়া’মারি—অর্থাৎ ইবনে সাইয়িদুন নাস—হাফেজ আবু আব্বাস আদ-দাময়্যাতির প্রশ্নের জবাবে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে পেয়েছি যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক বিশাল অংশ লাভ করেছেন। তিনি প্রায় সমস্ত সুনান ও আসার মুখস্থ করে আয়ত্ত করেছেন। তিনি যদি তাফসির নিয়ে কথা বলেন, তবে তিনিই এর ঝাণ্ডাবাহী। যদি ফিকহ শাস্ত্রে ফতোয়া দেন, তবে তিনিই এর চূড়ান্ত গন্তব্য। যদি হাদিসের আলোচনা করেন, তবে তিনিই এর প্রকৃত বিদ্যান ও বর্ণনাকারী। আর যদি বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের বিতর্কে উপস্থিত হন, তবে তাঁর চেয়ে প্রশস্ত পাণ্ডিত্যের অধিকারী আর কাউকে দেখা যায়নি।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا أرفع من درايته، برز في كل فن على أبناء حسنه، ولم ترعين من رآه مثله، ولا رأت عينه مثل نفسه.

وقد كتب الذهبي في تاريخه الكبير للشيخ ترجمة مطولة، وقال فيها: وله خبرة تامة بالرجال، وجرحهم وتعديلهم. وطبقاتهم، ومعرفة بفنون الحديث، وبالعالي والنازل، والصحيح والسقيم، مع حفظة لمتونه، الذي أنفرد به، فلا يبلغ أحد في العصر رتبته، ولا يقاربه،وهو عجيب في استحضاره، واستخراج الحجج منه، وإليه المنتهى في عزوه إلى الكتب الستة، والمسند، بحيث يصدق عليه أن يقال: كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث.

وقال: ولما كان معتقلاً بالإسكندرية: التمس منه صاحب سبتة أن يجيز لأولاده، فكتب لهم في ذلك نحواً من ستمائة سطر، منها سبعة أحاديث بأسانيدها، والكلام على صحتها ومعانيها، وبحث وعمل ما إذا نظر فيه المحدث خضع له من صناعة الحديث. وذكر أسانيده في عدة كتب. ونبه على العوالى. عمل ذلك كله من حفظه، من غير أن يكون عنده ثبت أو من يراجعه.

ولقد كان عجيباً في معرفة علم الحديث. فأما حفظه متون الصحاح وغالب متون السنن والسند: فما رأيت من يدانيه في ذلك أصلاً.قال: وأما التفسير فمسلم إليه، وله من استحضار الآيات من القرآن - وقت إقامة الدليل بها على المسألة - قوة عجيبة. وإذا رآه المقرئ تحير فيه. ولفرط إمامته في
এবং তাঁর প্রজ্ঞার চেয়ে উচ্চতর আর কিছু নেই, তিনি প্রতিটি বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন। যারা তাঁকে দেখেছেন তাঁদের চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি, আর তাঁর নিজের চোখও তাঁর ন্যায় দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি।

ইমাম আয-যাহাবী তাঁর বিশাল ইতিহাস গ্রন্থে শাইখের একটি দীর্ঘ জীবনী লিখেছেন এবং সেখানে বলেছেন: রাবিদের (বর্ণনাকারী) পরিচয়, তাঁদের জরাহ (সমালোচনা) ও তাদীল (নির্ভরযোগ্যতা) এবং তাঁদের স্তর বিন্যাস সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, উচ্চ ও নিম্ন সনদ এবং সহীহ ও দুর্বল হাদীস সম্পর্কে তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞান ছিল। হাদীসের মতন (মূল পাঠ) হিফজ করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, ফলে সমকালীন কেউ তাঁর স্তরে পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর নিকটবর্তীও হতে পারেনি। হাদীস তাৎক্ষণিক স্মরণে আনা এবং তা থেকে দলিল বের করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর। কুতুবে সিত্তা ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত মাপকাঠি, যার ফলে তাঁর সম্পর্কে এই প্রবাদটি সত্য হয়েছে যে: "যে হাদীস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, তা হাদীসই নয়।"

তিনি আরও বলেছেন: যখন তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় বন্দি ছিলেন, তখন সেউতার অধিপতি তাঁর সন্তানদের জন্য 'ইজাজত' প্রার্থনা করেন। তখন তিনি তাঁদের জন্য প্রায় ছয়শ লাইন লিখেছিলেন, যার মধ্যে সনদসহ সাতটি হাদীস এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও অর্থ সংক্রান্ত নিগূঢ় আলোচনা ছিল। তিনি এমন এক তাত্ত্বিক কাজ পেশ করেন যা কোনো হাদীসবিশারদ দেখলে হাদীসশাস্ত্রের নিপুণ কৌশলের কারণে তাঁর প্রতি বিনত হবেন। তিনি বেশ কিছু কিতাবে তাঁর সনদগুলো উল্লেখ করেছেন এবং উচ্চ সনদের বিষয়ে সচেতন করেছেন। এই সব কিছুই তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে সম্পন্ন করেছিলেন; তখন তাঁর কাছে কোনো কিতাব বা সাহায্যকারী কেউ ছিল না।

হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞানে তিনি সত্যিই বিস্ময়কর ছিলেন। সিহাহ সিত্তাহর মতন এবং সুনান ও সনদের অধিকাংশ মতন মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে আমি তাঁর সমকক্ষ কাউকে মোটেও দেখিনি। তিনি বলেন: আর তাফসীরের ক্ষেত্রে তো তিনিই ছিলেন সর্বস্বীকৃত ইমাম। কোনো মাসআলায় দলিল পেশ করার সময় কুরআন থেকে আয়াত উপস্থিত করার ক্ষেত্রে তাঁর এক অলৌকিক ক্ষমতা ছিল। কোনো বিজ্ঞ ক্বারী যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে যেতেন। তাঁর ইমামতির অত্যধিক প্রাবল্যের কারণে...
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
التفسير، وعظم إطلاعه. يبين خطأ كثير من أقوال المفسرين. ويوهي أقولا عديدة.

وينصر قولا واحداً، موافقاً لما دل عليه القرآن والحديث. ويكتب في اليوم والليلة من التفسير، أو من الفقه، أو من الأصلين، أو من الرد على الفلاسفة والأوائل: نحواً من أربعة كراريس أو أزيد. قلت: وقد كتب " الحموية " في قعدة واحدة. وهي أزيد من ذلك. وكتب في بعض الأحيان في اليوم ما يبيض منه مجلد.

وكان رحمه الله فريد دهره في فهم القرآن، ومعرفة حقائق الإيمان. وله يد طولي في الكلام على المعارف والأحوال والتمييز بين صحيح ذلك الزملكاني بخطه على كتاب " إبطال التحليل " للشيخ ترجمة لكتاب واسم الشيخ. وترجم له ترجمة عظيمة. وأثنى عليه ثناء عظيماً.

وكتب أيضاً تحت ذلك:

ماذا يقولُ الواصفونَ له … وصفاتُهُ جلَّت عن الحَصْرِ

هو حجةٌ للهِ قاهرةٌ … هو بيننا أعجوبةُ الدَّهْرِ

هو آيةٌ للخلقِ ظاهرةٌ … أنوارُها أربَتْ على الفَجْرِ

وللشيخ أثير الدين أبي حيان الأندلس النحوي - لما دخل الشيخ مصر واجتمع به - ويقال: إن أبا حيان لم يقل أبياتًا خيرًا منها ولا أفحل:

لما رأينا تقي الدين لاح لنا … داع إلى الله فرداً، ماله وزر

على محياه من سيما الأولى صحبوا … خير البرية نور دونه القمر

خبر تسر بل منه دهره صبرا … بحر تقاذف من أمواجه الدرر
তাফসির এবং তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য। তিনি মুফাসসিরগণের অনেক মতের ভুল স্পষ্ট করেন এবং অসংখ্য মতকে দুর্বল হিসেবে প্রমাণ করেন।

তিনি এমন একটি মতকে সমর্থন করেন যা কুরআন ও হাদিসের দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি এক দিন ও রাতে তাফসির, ফিকহ, দুই মূলনীতি (উসুলাইন) অথবা দার্শনিক ও পূর্ববর্তীদের খণ্ডন বিষয়ে প্রায় চার খাতা বা তার চেয়েও বেশি লিখতেন। আমি বলছি: তিনি "হামাবিয়া" এক বসাতেই লিখেছিলেন, যা ছিল এর চেয়েও বেশি। কখনও কখনও তিনি একদিনে এত বেশি লিখতেন যা দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড প্রস্তুত হয়ে যেত।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে এবং ঈমানের প্রকৃত তত্ত্বসমূহ উপলব্ধির ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। আধ্যাত্মিক জ্ঞান (মা'রিফাত), আধ্যাত্মিক অবস্থা (আহওয়াল) এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিরূপণের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ও অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। যামলকানি স্বহস্তে শাইখের "ইবতালুত তাহলিল" বইয়ের ওপর শাইখের নাম ও তাঁর পরিচিতি লিখেছিলেন। তিনি তাঁর এক মহান জীবনী ও পরিচয় লিখেছিলেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

তিনি এর নিচে আরও লিখেছিলেন:

বর্ণনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে কী-ই বা বলবে … তাঁর গুণাবলি তো গণনার ঊর্ধ্বে

তিনি আল্লাহর এক অকাট্য প্রমাণ … তিনি আমাদের মাঝে মহাকালের বিস্ময়

তিনি সৃষ্টির জন্য এক সুস্পষ্ট নিদর্শন … তাঁর নূর ভোরের আলোকেও ছাড়িয়ে গেছে

শাইখ আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান আন্দালুসি ব্যাকরণবিদ—যখন শাইখ মিশরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন—বলা হয় যে, আবু হাইয়ান এর চেয়ে উত্তম এবং এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো পঙ্ক্তি বলেননি:

যখন আমরা তাকিউদ্দীনকে দেখলাম, তখন আমাদের সামনে প্রতিভাত হলেন … আল্লাহর দিকে এক অনন্য আহ্বানকারী, যাঁর কোনো সাহায্যকারী নেই

তাঁর চেহারায় সেই অগ্রজদের নিদর্শন রয়েছে যাঁরা সঙ্গ দিয়েছিলেন … সৃষ্টির সেরা মানবের, যাঁর জ্যোতির কাছে চাঁদও ম্লান

এমন এক সংবাদ যাঁর মাধ্যমে মহাকাল ধৈর্য ও প্রশান্তি লাভ করে … এমন এক সমুদ্র যাঁর ঢেউ থেকে মুক্তা ঝরে পড়ে
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قام ابن تيمية في نصر شرعتنا … مقام سيد تيم إذ عصت مضر

فأظهر الدين إذ آثاره درست … وأخمد الشرك إذ طارت له شرر

يا من تحدث عن علم الكتاب أصخ … هذا الإمام الذي قد كان ينتظر

وحكى الذهبي عن الشيخ: أن الشيخ تقي الدين بن دقيق العيد قال له - عند اجتماعه به وسماعه لكلامه -: ما كنت أظن أن الله بقي يخلق مثلك

ومما وجد في كتاب كتبه العلامة قاضي القضاة أبو الحسن السبكي إلى الحافظ أبي عبد الله الذهبي في أمر الشيخ تقي الدين المذكور أما قول سيدي في الشيخ فالمملوك يتحقق كبر قدره. وزخارة بحره وتوسعه في الشرعية والعقلية. وفرط ذكائه واجتهاده. وبلوغه في كل من ذلك المبلغ الذي يتجاوز الوصف. والمملوك يقول ذلك دائماً. وقدره في نفس أكبر من ذلك وأجل. مع ما جمعه الله له من الزهاده والورع والديانة. ونصرة الحق. والقيام فيه لا نعرض سواه. وجريه على سنن السلف. وأخذه من ذلك بالمأخذ الأوفى. وغرابة مثله في هذا الزمان بل من أزمان.

وكان الحافظ أبو الحجاج المزي: يبالغ في تعظيم الشيخ والثناء عليه، حتى كان يقول: لم ير مثله منذ أربعمائة سنة.

وبلغني من طريق صحيح عن ابن الزملكاني: أنه سئل عن الشيخ؟ فقال: لم ير من خمسمائة سنة، أو أربعمائة سنة. الشك من الفاقل. وغالب ظنه: أنه قال: من خمسمائة - أحفظ منه.
ইবনে তাইমিয়া আমাদের শরীয়তের সাহায্যে দাঁড়িয়েছেন … ঠিক যেমন মুদার গোত্র অবাধ্য হলে তাইম গোত্রের সর্দার দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি দ্বীনকে প্রকাশ করেছেন যখন এর চিহ্নসমূহ বিলীন হয়েছিল … এবং শিরককে নির্বাপিত করেছেন যখন এর স্ফুলিঙ্গ উড়ছিল।

হে কিতাবের ইলম সম্পর্কে আলোচনাকারী, কান পেতে শোনো … তিনিই সেই ইমাম যার প্রতীক্ষা করা হচ্ছিল।

ইমাম যাহাবী শাইখ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: শাইখ তাকীউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ তাঁর সাথে সাক্ষাৎকালে এবং তাঁর কথা শোনার পর তাঁকে বলেছিলেন— "আমি মনে করতাম না যে আল্লাহ এখনও আপনার মতো কাউকে সৃষ্টি করেন।"

আল্লামা কাযিউল কুযাত আবু আল-হাসান আস-সুবকী কর্তৃক হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-যাহাবীর কাছে শাইখ তাকীউদ্দীন সম্পর্কে লিখিত একটি পত্রে যা পাওয়া যায়: "শাইখ সম্পর্কে আমার মনিবের বক্তব্যের বিষয়ে এই অধম তাঁর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে নিশ্চিত। তাঁর ইলমের সমুদ্রের বিশালতা, শরয়ী ও যৌক্তিক জ্ঞানে তাঁর প্রশস্ততা, তাঁর প্রখর মেধা ও ইজতিহাদ এবং এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁর এমন স্তরে পৌঁছানো যা বর্ণনাতীত। এই অধম সর্বদা একথাই বলে থাকে। আর আমার অন্তরে তাঁর মর্যাদা এর চেয়েও বড় এবং মহান। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাঁর মাঝে যুহদ, পরহেযগারী ও দ্বীনদারীকে একত্রিত করেছেন। সেই সাথে হকের সাহায্য এবং অন্য কিছুর পরোয়া না করে তাতে অবিচল থাকা। সালাফদের আদর্শের অনুসরণ এবং তা থেকে সর্বোত্তম অংশ গ্রহণ। এই যুগে বরং দীর্ঘ যুগ ধরে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের উদাহরণ মেলা ভার।"

হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযী শাইখের অত্যন্ত সম্মান ও প্রশংসা করতেন, এমনকি তিনি বলতেন: "বিগত চারশ বছরে তাঁর মতো কাউকে দেখা যায়নি।"

ইবনে আয-যামলাকানী থেকে একটি সহীহ সূত্রের মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তাঁকে শাইখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "পাঁচশ বা চারশ বছর ধরে তাঁর মতো কাউকে দেখা যায়নি।" সন্দেহ বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে। তবে বর্ণনাকারীর প্রবল ধারণা যে তিনি বলেছিলেন: "পাঁচশ বছর ধরে তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ আর দেখা যায়নি।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وكذلك كان أخوه الشيخ شرف الدين يبالغ في تعظيمه جداً وكذلك المشايخ العارفون، كالقدوة أبي عبد الله محمد بن قوام ويحكي عنه أنه كان يقول: ما أسلمت معارفنا إلا على يد ابن تيمية.

والشيخ عماد الدين الواسطى كان يعظمه جداً، وتتلمذ له، مع أنه كان أسس منه. وكان يقول: قد شارف مقام الأئمة الكبار، ويناسب قيامه في بعض الأمور قيام الصديقين.

وكتب رسالة إلى خواص أصحاب الشيخ يوصيهم بتعظيمه واحترامه، ويعرفهم حقوقه، ويذكر فيها: أنه طاف أعيان بلاد الإسلام، ولم ير فيها مثل الشيخ علماً وعملاً، وحالاً وخلقا واتباعا وكرما وحلما في حق نفسه، وقياما في حق الله تعالى، عند انتهاك حرماته. وأقسم على ذلك بالله ثلاث مرات.

ثم قال: أصدق الناس عقداً، وأصحهم علما وعزما، وأنقذهم وأعلاهم في انتصار الحق وقيامه، وأسخاهم كفا، وأكملهم اتباعا لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم. ما رأينا في عصرنا هذا من تستجلي النبوة المحمدية وسننها من أقواله وأفعاله إلا هذا الرجل، بحيث يشهد القلب الصحيح. أن هذا هو الاتباع حقيقة.

ولكن كان هو وجماعة من خواص أصحابه ربما أنكروا من الشيخ كلامه في بعض الأئمة الأكابر الأعيان، أو في أهل التخلي والانقطاع ونحو ذلك.
একইভাবে তাঁর ভাই শেখ শরফউদ্দীন তাঁর প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন। অনুরূপভাবে আরিফ মাশায়েখগণও, যেমন আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাওয়াম; তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: ইবনে তাইমিয়ার হাতের মাধ্যমেই আমাদের জ্ঞানসমূহ সঠিক রূপ লাভ করেছে।

এবং শেখ ইমাদুদ্দীন আল-ওয়াসিতি তাঁর অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যদিও তিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তিনি বলতেন: তিনি বড় বড় ইমামদের মর্যাদার নিকটবর্তী হয়েছেন এবং কিছু বিষয়ে তাঁর অবস্থান সিদ্দীকগণের অবস্থানের অনুরূপ।

তিনি শেখের বিশিষ্ট সঙ্গীদের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তিনি তাঁদেরকে তাঁর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের উপদেশ দেন এবং তাঁদেরকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে: তিনি ইসলামি ভূখণ্ডের প্রধান শহরগুলো ভ্রমণ করেছেন কিন্তু ইলম, আমল, আধ্যাত্মিক অবস্থা, চরিত্র, আদর্শের অনুসরণ, উদারতা এবং নিজের হকের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং আল্লাহ তাআলার পবিত্র বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হওয়ার সময় আল্লাহর হকের পক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এই শেখের ন্যায় আর কাউকে দেখেননি। আর তিনি এর ওপর আল্লাহর নামে তিনবার শপথ করেন।

অতপর তিনি বলেন: বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ, জ্ঞান ও সংকল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ, সত্যের বিজয় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে ক্ষিপ্র ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী, দানে সবচেয়ে মুক্তহস্ত এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। আমাদের এই যুগে আমরা এমন কাউকে দেখিনি যার কথা ও কাজের মাধ্যমে মুহাম্মাদি নবুয়ত এবং তাঁর সুন্নাহর জ্যোতি প্রতিভাত হয় কেবল এই ব্যক্তি ছাড়া; যা সুস্থ অন্তর সাক্ষ্য দেয় যে, এটিই প্রকৃত অনুসরণ।

তবে তিনি এবং তাঁর বিশিষ্ট সঙ্গীদের একটি দল কখনও কখনও কিছু বড় ও প্রসিদ্ধ ইমামদের সম্পর্কে অথবা যারা দুনিয়া ত্যাগী ও নির্জনতা অবলম্বনকারী ছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে শেখের কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করতেন।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكان الشيخ رحمه الله لا يقصد بذلك إلا الخير، والانتصار للحق إن شاء الله تعالى.

وطوائف من أئمة أهل الحديث وحفاظهم وفقائهم: كانوا يحبون الشيخ ويعظمونه، ولم يكونوا يحبون له التوغل مع أهل الكلام ولا الفلاسفة، كما هو طريقة أئمة أهل الحديث المتقدمين، كالشافعي وأحمد وإسحاق وأبي عبيد ونحوهم، وكذلك كثير من العلماء من الفقهاء والمحدثين والصالحين كرهوا له التفرد ببعض شذوذ المسائل التي أنكرها السلف على من شذ بها، حتى إن بعض قضاة العدل من أصحابنا منعه من الإفتاء ببعض ذلك.

قال الذهبي: وغالب خطه على الفضلاء والمتزهده فبحق، وفي بعضه هو مجتهد، ومذهبه توسعة العذر للخلق، ولا يكفر أحداً إلا بعد قيام الحجة عليه.

قال: ولقد نصر السنة المحضة، والطريقة السلفية، واحتج لها ببراهين ومقدمات، وأمور لم يسبق إليها، وأطلق عبارات أحجم عنها الأولون والآخرون وهابوا، وجر هو عليها حتى قام عليه خلق من علماء مصر والشام قياما لا مزيد عليه، وبدعوه وناظروه وكابروه، وهو ثابت لا يداهن ولا يحابي، بل يقول الحق المر الذي أداه إليه اجتهاده، وحده ذهنه، وسعة دائرته في السنن والأقوال، مع ما اشتهر عنه من الورع، وكمال الفكر، وسرعة الإدراك، والخوف من الله، والتعظيم لحرمات الله.
শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এর মাধ্যমে কল্যাণ সাধন এবং ইনশাআল্লাহ সত্যকে বিজয়ী করা ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেননি।

আহলে হাদিসের ইমামগণ, হাফেজগণ এবং ফকিহদের বিভিন্ন দল শায়খকে ভালোবাসতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন। তবে তাঁরা ইলমুল কালামের পণ্ডিত বা দার্শনিকদের সাথে তাঁর অধিক সংশ্লিষ্টতা পছন্দ করতেন না, যেমনটি ছিল শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং তাঁদের ন্যায় পূর্বসূরী আহলে হাদিস ইমামদের অনুসৃত পথ। একইভাবে অনেক আলেম, ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং নেককার ব্যক্তিরা তাঁর সেই সকল বিচ্ছিন্ন মাসআলাগুলোতে একক মতামত অবলম্বন করাকে অপছন্দ করতেন, যেগুলোর ক্ষেত্রে সালাফগণ ভিন্নমত পোষণকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এমনকি আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কিছু ন্যায়পরায়ণ বিচারক তাঁকে সেগুলোর কোনো কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করতে নিষেধও করেছিলেন।

যাহাবী বলেছেন: গুণীজন ও দুনিয়াবিমুখদের প্রতি তাঁর অধিকাংশ সমালোচনা ছিল যথার্থ। আবার কিছু ক্ষেত্রে তিনি মুজতাহিদ ছিলেন। তাঁর নীতি ছিল সৃষ্টির ওজরের ক্ষেত্রকে প্রশস্ত করা এবং তিনি প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কাফির বলতেন না।

তিনি বলেছেন: তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহ এবং সালাফি মানহাজকে সাহায্য করেছেন এবং এর সপক্ষে এমন সব দলিল, প্রস্তাবনা ও বিষয়াদি উপস্থাপন করেছেন যাতে তাঁর পূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি। তিনি এমন সব অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন যা থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলে বিরত থেকেছেন এবং ভয় পেয়েছেন; কিন্তু তিনি সেগুলোর ওপর সাহসের সাথে অটল ছিলেন। যার ফলে মিসর ও শামের অসংখ্য আলেম তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং তাঁকে বিদআতী আখ্যা দিয়েছেন, তাঁর সাথে বিতর্ক করেছেন এবং তাঁর বিরোধিতা করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি ছিলেন অবিচল, কোনো প্রকার তোষামোদ বা পক্ষপাত করেননি। বরং তিনি সেই তিক্ত সত্য উচ্চারণ করতেন যা তাঁর ইজতিহাদ, প্রখর মেধা এবং সুন্নাহ ও পূর্ববর্তীদের উক্তিগুলোর ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁর তাকওয়া, চিন্তার পূর্ণতা, দ্রুত উপলব্ধি করার ক্ষমতা, আল্লাহভীতি এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি তাঁর সম্মানবোধ সুবিদিত ছিল।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فجرى بينه وبينهم حملات حربية، ووقعات شامية ومصرية، وكم من نوبة قدرموه عن قوس واحدة، فينجيه الله. فإنه دائم الابتهال، كثير الاستغاثة، والاستعانة به قوى التوكل، ثابت الجأس، له أوراد وأذكار يدمنها بكيفية وجمعية. وله من الطرف الآخر محبون من العلماء والصلحاء، ومن الجند والأمراء ومن التجار والكبراء، وسائر العامة تحبه؛ لأنه منتصب لنفعهم ليلاً ونهاراً، بلسانه وقلمه.

وأما شجاعته: فبها تضرب الأمثال، وببعضها يتشبه أكابر الأبطال. ولقد أقامه لله تعالى في نوبة قازان. والتقى أعباء الأمر بنفسه. وقام وقعد وطلع، ودخل وخرج، واجتمع بالملك - يعنى قازان - مرتين، وبقطلوا شاه، وبولاى. وكان قيجق يتعجب من إقدامه وجرائته على المغول.

وله حده قوية تعتريه في البحث، حتى كأن ليث حرب. وهو أكبر من أن ينبه مثلي على نعوته. وفيه قلة مدارة، وعدم تؤدة غالبا، والله يغفر له. وله إقدام وشهامة، وقوة نفس توقعه في أمور صعبة، فيدفع الله عنه.

وله نظم قليل وسط، ولم يتزوج، ولا تسرى، ولا له من المعلوم إلا شيء قليل. وأخوه يقوم بمصالحه، ولا يطلب منهم غذاء ولا عشاء في غالب الوقت.

وما رأيت في العالم أكرم منه، ولا أفرغ منه عن الدينار والدرهم، لا يذكره، ولا أظنه يدور في ذهنه. وفيه مروءة، وقيام مع أصحابه، وسعى في
ফলে তাঁর এবং তাদের মধ্যে নানাবিধ যুদ্ধাভিযান এবং সিরিয়া ও মিশরের বিভিন্ন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কতবারই না তারা একযোগে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি সর্বদা রোনাজারি ও বিনয়াবনত প্রার্থনায় রত থাকতেন এবং আল্লাহর কাছে প্রচুর সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তাঁর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং তিনি ছিলেন অবিচল হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর নির্দিষ্ট কিছু যিকির ও অজিফা ছিল যা তিনি অত্যন্ত নিবিষ্টতা ও একাগ্রতার সাথে নিয়মিত আদায় করতেন। অন্যদিকে আলেম ও নেককার ব্যক্তিগণ, সৈন্য ও আমীরগণ এবং ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর পরম অনুরাগী ছিলেন। সাধারণ মানুষও তাঁকে ভালোবাসত; কারণ তিনি দিন-রাত নিজের যবান ও কলম দিয়ে তাদের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।

আর তাঁর সাহসিকতা তো প্রবাদতুল্য, যা বড় বড় বীরদের জন্য অনুকরণীয়। গাজান খানের যুদ্ধের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এক মহান দায়িত্বে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি পরিস্থিতির সমস্ত গুরুভার নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত তৎপর ছিলেন—উঠেছেন, বসেছেন, উপরে উঠেছেন এবং ভেতরে-বাইরে যাতায়াত করেছেন। তিনি গাজান খান নামক রাজার সাথে দুইবার এবং কুতলু শাহ ও বুলায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। কাইজাক মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও দুঃসাহস দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন।

গবেষণামূলক বাহাস বা বিতর্কের সময় তাঁর মধ্যে এক প্রবল তেজ লক্ষ্য করা যেত, মনে হতো যেন তিনি রণক্ষেত্রের এক সিংহ। তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করার মতো সামর্থ্য আমার মতো মানুষের নেই; তিনি তার চেয়েও অনেক উর্ধ্বে। তাঁর স্বভাবে কিছুটা নমনীয়তার অভাব ছিল এবং প্রায়শই তিনি তাড়াহুড়ো করতেন; আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। তাঁর মাঝে ছিল প্রবল সাহস, মহত্ত্ব এবং আত্মার এমন এক শক্তি যা তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিত, কিন্তু আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তা প্রতিহত করতেন।

তাঁর কাব্যচর্চা ছিল যৎসামান্য ও সাধারণ মানের। তিনি বিবাহ করেননি এবং কোনো দাসীও রাখেননি। নির্ধারিত ভাতা বা বরাদ্দ থেকে সামান্যই গ্রহণ করতেন। তাঁর ভাই তাঁর প্রয়োজন পূরণ করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি তাঁদের কাছে সকাল বা রাতের খাবারের আবেদনও করতেন না।

আমি পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে অধিক দানশীল এবং দিরহাম ও দিনারের প্রতি এমন নির্লোভ আর কাউকে দেখিনি। তিনি কখনো অর্থের আলোচনা করতেন না এবং আমার মনে হয় না যে এটি কখনো তাঁর হৃদয়ে উদিত হতো। তাঁর মধ্যে ছিল অনন্য পৌরুষত্ব, বন্ধুদের প্রতি সহমর্মিতা এবং তাঁদের প্রয়োজনে প্রচেষ্টায় রত থাকা...
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مصالحهم. وهو فقير لا مال له. وملبوسه كآحاد الفقهاء: فَرَّجِيَّه، ودلق، وعمامة تكون قيمة ثلاثين درهما، ومداس ضعيف الثمن. وشعره مقصوص.

وهو ربع القامة، بعيد ما بين المنكبين، كأن عينيه لسانان ناطقان، ويصلي بالناس صلاة لا يكون أطول من ركوعها وسجود. وربما قام لمن يجئ من سفر أو غاب عنه، وإذا جاء فربما يقومون له، الكل عنده سواء، كأنه فارغ من هذه الرسوم، ولن ينحن لأحد قط، وإنما يسلم ويصافح ويبتسم. وقد يعظم جليسه مرة، ويهينه في المحاورة مرات.

قلت: وقد سافر الشيخ مرة على البريد إلى الديار المصرية يستنفر السلطان عند مجئ التترسنة من السنين، وتلا علهم آيات الجهاد، وقال: إن تخليتم عن الشام ونصرة أهله والذب عنهم، فإن الله تعالى يقيم لهم من ينصرهم غيركم، ويستبدل بكم سواكم. وتلا قوله تعالى {وإن تتولوا يستبدل قوماً غيركم ثم لا يكونوا أمثالكم} [محمد:38] ، وقوله تعالى {إلا تنفروا يعذبكم عذاباً أليماً ويستبدل قوماً غيركم ولا تضروه شيئًا} [التوبة:39] .

وبلغ ذلك الشيخ تقي الدين بن دقيق العيد - وكان هو القاضي حينئذ - فاستحسن ذلك، وأعجبه هذا الاستنباط وتعجب من مواجهة الشيخ للسلطان بمثل هذا الكلام.
তাদের কল্যাণ। তিনি ছিলেন নিঃস্ব, তাঁর কোনো সম্পদ ছিল না। তাঁর পোশাক ছিল সাধারণ ফকীহদের মতো: জুব্বা, মোটা কাপড় এবং একটি পাগড়ি যার মূল্য ছিল ত্রিশ দিরহামের মতো, আর সামান্য মূল্যের জুতো। তাঁর চুল ছোট করে ছাঁটা ছিল।

তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার, দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তাঁর চোখ দুটি যেন ছিল দুটি মুখর জিহ্বা। তিনি মানুষকে নিয়ে এমনভাবে সালাত আদায় করতেন যে, রুকু ও সিজদার চেয়ে দীর্ঘ আর কিছু হতো না। সফর থেকে আসা কিংবা অনুপস্থিত কারও সম্মানে তিনি হয়তো উঠে দাঁড়াতেন, আবার তিনি যখন আসতেন তখন হয়তো অন্যরা তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন; তাঁর কাছে সবাই সমান ছিল, যেন তিনি এই সকল লৌকিকতা থেকে মুক্ত। তিনি কারো সামনে কখনো মাথা নত করেননি, বরং কেবল সালাম দিতেন, মুসাফাহা করতেন এবং মুচকি হাসতেন। তিনি কখনো তাঁর পাশে বসা ব্যক্তিকে সম্মান দিতেন, আবার আলোচনার সময় বারবার তাকে তুচ্ছও করতেন।

আমি বলছি: শাইখ একবার ডাকযোগে মিশর অভিমুখে সফর করেছিলেন তাতারদের আগমনের এক বছরে সুলতানকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে। তিনি তাদের সামনে জিহাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন: যদি আপনারা শাম ও তার অধিবাসীদের সাহায্য ও প্রতিরক্ষা ত্যাগ করেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য আপনাদের পরিবর্তে অন্য সাহায্যকারী দাঁড় করাবেন এবং আপনাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্যদের নিয়ে আসবেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণী তিলাওয়াত করলেন, "আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না" [মুহাম্মদ: ৩৮], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী, "যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন, আর তোমরা তাঁর সামান্যতম ক্ষতিও করতে পারবে না" [আত-তাওবাহ: ৩৯]।

এই সংবাদ শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকিক আল-ইদ-এর কাছে পৌঁছালো—যিনি তখন বিচারক ছিলেন—তিনি বিষয়টি পছন্দ করলেন, এই উদ্ভাবনী ব্যাখ্যা তাঁকে মুগ্ধ করল এবং সুলতানের সামনে শাইখের এমন সরাসরি বক্তব্যে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করলেন।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الأَسْمَاءُ
নামসমূহ
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌حَرْفُ

 

الأَلِفِ (الهَمْزَةِ)
বর্ণ

 

আলিফ (হামযাহ)
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
•‌‌ إبراهيمُ بنُ أحمدَ الغيانيُّ ( … -....) .

هو الملقب بخادم شيخ الإسلام، كان يخدمه ويصحبه، خدمه في سجنه، وله فصل في حكاية تكسير شيخ الإسلام للحجارة التي كان يزورها الناس ويتبركون بها، وهو بأكمله في الكواكب الدراري، والجامع لسيرة ابن تيمية.

****

•‌‌ إبراهيمُ بنُ أحمدَ بنِ هلالِ بنِ بدرِ القاضي، برهانُ الدينِ الزرعيُّ الحنبليُّ (688 - 741) .

قال الحافظ ابن حجر:" اشتغل على ابن تيمية، وابن الزملكاني، والقزويني، وتقدم في الفتيا، ودرس بالمدرسة الحنبلية لما سجن ابن تيمية، فمقتته الحنابلة لذلك".

وقال:" كان أشعريًا في غالب المعتقد! ".

قلت: ولم أجد ذلك لغيره، وللحافظ ابن حجر في هذا الشأن نوع تهويل!، ومن تتبع كلامه في الدرر وغيره، عرف ذلك حق المعرفة.

وقال الصلاح الصفدي:" رأيته يحضر دروس العلامة ابن تيمية كثيراً، ويأخذ من فوائده ما شادَ به مجداً أثيلاً أثيراً، يجلس منصتاً لا يتكلف لبحث، ولا يتكلم، ويرى أنه يتعلقُ بأهدافه ويتعلم، إلى أن قضى نحبه وسكن تُربه، ولقي ربه، رحمه الله تعالى"انتهى
•‌‌ ইবরাহিম ইবনে আহমাদ আল-গায়ানি ( … -....) .

তিনি শাইখুল ইসলামের খাদেম বা সেবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর খেদমত করতেন এবং তাঁর সাথে থাকতেন। তিনি তাঁর কারাজীবনেও তাঁর সেবা করেছেন। শাইখুল ইসলাম কর্তৃক সেই সব পাথর ভেঙে ফেলার ঘটনার বর্ণনায় তাঁর একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রয়েছে যা মানুষ জিয়ারত করত এবং তা থেকে বরকত গ্রহণ করত। এই সম্পূর্ণ বর্ণনাটি 'আল-কাওয়াকিব আদ-দাওয়ারি' এবং 'আল-জামি লি-সিরাত ইবনে তাইমিয়্যাহ' গ্রন্থে বিদ্যমান।

****

•‌‌ ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে হিলাল ইবনে বদর আল-কাদি, বুরহানউদ্দিন আজ-জুরায়ি আল-হাম্বলি (৬৮৮ - ৭৪১) .

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে আয-যামলাকানি এবং আল-কাযউইনির নিকট জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ফতোয়া প্রদানে অগ্রসর ছিলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ যখন কারারুদ্ধ হন, তখন তিনি আল-মাদরাসা আল-হাম্বলিয়্যাহ-তে শিক্ষকতা করেন, যার ফলে হাম্বলিরা তাঁকে অপছন্দ করত।"

তিনি আরও বলেন: "আকিদার অধিকাংশ বিষয়ে তিনি আশআরি ছিলেন!"

আমি (গ্রন্থকার) বলি: আমি অন্য কারো নিকট এই বর্ণনাটি পাইনি। এই বিষয়ে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যে এক ধরণের অতিশয়োক্তি রয়েছে! যারা 'আদ-দুরার' এবং অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর বক্তব্যগুলো অনুসরণ করেছেন, তারা বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।

আস-সালাহ আস-সাফাদি বলেন: "আমি তাঁকে আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহর পাঠদানগুলোতে প্রায়ই উপস্থিত হতে দেখেছি। তিনি তাঁর নিকট থেকে এমন সব জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা অর্জন করতেন যা দিয়ে তিনি এক সুউচ্চ ও মহৎ মর্যাদা নির্মাণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে বসে থাকতেন, বাহাস বা বিতর্কের ভার চাপাতেন না এবং কোনো কথাও বলতেন না। দেখে মনে হতো তিনি নিজের উদ্দেশ্য হাসিল ও জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন রয়েছেন, যে পর্যন্ত না তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর মাটিতে শায়িত হন ও তাঁর প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুজামু আসহাবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكان له قدرة على محاكاة الخطوط، وكان يعتني بكتابة عنواين الكتب عليها، يكتبه لنفسه وللناس، وتعلم اللغة التركية فلم يجد من يجاريه فيها، وكان فصيحًا حسن العبارة في العربية.

وكان ذكيًا ألمعيًا عالي الهمة جميل الشكل والمنظر.

قال الصفدي:" لم يحصد الموت من زرعٍ له نظيراً، ولا اجتلى الناس من حوران مثله قمراً منيراً، أتقن الفروع، وبهر فيها من الشروع، وجوّد أصول الفقه وشغل فيها الناس، وأوضح لهم فيه ما حصل من الإلباس، وبرع في النحو وظهر، ومارس غوامضه ومهر، وقرأ الفرائض، وأتى فيها وحده بما لم يأتِ به ألف رائض، اشتغل في الحساب، وغني بذهنه الوقاد عن الاكتساب، وكتب المنسوب الفائق، وسلك فيه أحسن الطرائق"انتهى

****

•‌‌ إبراهيم بن أسعد بن حمزة بن القلانسي، مجد الدين ابن مؤيد الدين أبو إسحاق التميمي ( … -765) .

قال ابن حجر:" كان ديناً خيراً فاضلاً حدث عن ست الوزراء بمسند الشافعي".
হাতের লেখা অনুকরণে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তিনি বইয়ের শিরোনাম লেখার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতেন এবং নিজের ও অন্যের জন্য তা লিখে দিতেন। তিনি তুর্কি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন এবং এতে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। আরবি ভাষায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও চমৎকার বাচনভঙ্গির অধিকারী।

তিনি অত্যন্ত মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং অত্যন্ত সুদর্শন ও মনোরম অবয়বের অধিকারী ছিলেন।

আস-সাফাদি বলেছেন: "মৃত্যু তাঁর মতো কোনো শস্য বা সমকক্ষকে ছিনিয়ে নেয়নি, আর হাওরান অঞ্চলের মানুষ তাঁর মতো এমন উজ্জ্বল পূর্ণিমা কখনও দেখেনি। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের শাখাসমূহ আয়ত্ত করেছিলেন এবং এর সূচনায় সকলকে বিস্মিত করেছিলেন। তিনি উসুলুল ফিকহ বা ফিকহের মূলনীতি শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং সেখানে মানুষকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন। এই শাস্ত্রে বিদ্যমান অস্পষ্টতাগুলো তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং এর নিগূঢ় বিষয়গুলো চর্চা করে তাতে দক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন অধ্যয়ন করেন এবং এই শাস্ত্রে একাই এমন সব অবদান রাখেন যা হাজারজন দক্ষ ব্যক্তিও করতে পারেনি। তিনি গণিত শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন এবং তাঁর প্রখর মেধার কারণে তা আয়ত্ত করতে তাঁকে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। তিনি উৎকৃষ্ট মানের লিপি লিখতেন এবং এতে সর্বোত্তম পথ অনুসরণ করতেন।" ইতি

****

•‌‌ ইব্রাহিম বিন আসআদ বিন হামজাহ বিন আল-কালানিসি, মাজদুদ্দীন ইবন মুআইয়িদুদ্দীন আবু ইসহাক আত-তামিমি ( ... -৭৬৫ হিজরি) ।

ইবনে হাজার বলেন: "তিনি ধার্মিক, সৎ ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সিত্তুল উজারা থেকে মুসনাদে শাফিঈ বর্ণনা করেছেন।"