(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح مقدمة التفسير لابن تيمية - العثيمين القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: شرح (مقدمة التفسير) لابن تيمية
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
إعداد وتقديم: الأستاذ الدكتور عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار
الناشر: دار الوطن، الرياض
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1995 م
عدد الصفحات: 159
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মুকাদ্দিমাতুত তাফসিরের ব্যাখ্যা - আল-উসাইমীন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
কিতাব: ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর (মুকাদ্দিমাতুত তাফসির)-এর ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হি.)
প্রস্তুতি ও উপস্থাপনা: অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-তাইয়্যার
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান، রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৯
[কিতাবটির নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة اللجنةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلي الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فإن من توفيق الله- وله الحمد والشكر- أن يسر لفضيلة شيخنا محمد بن صالح العثيمين - رحمه الله تعالى- شرح كتاب (مقدمة التفسير) لشيخ الإسلام ابن تيمية- رحمه الله تعالى- وذلك عام 1408هـ ضمن الدروس العلمية الني كان يعقدها- رحمه الله تعالى- في الجامع الكبير بمدينة عنيزة.
وقد طبع هذا الكتاب عام 1415هـ، واعتني بطبعته الأولي- مشكوراً - فضيلة الأستاذ الدكتور عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار فجزاه الله خيراً.
وقد روعي في هذه الطبعة تنفيذ القواعد والتوجيهات التي قررها فضيلة شيخنا- رحمه الله تعالي- لإخراج مؤلفاته وإعدادها للنشر.
ونود أن ننبه القارئ الكريم إلي أن جميع الحواشي- عدا العزو والتخريج للأحاديث- قد قرأها شيخنا من حاشيته، أو قرئت عليه أثناء الشرح.
نسأل الله تعالي أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، موافقاً لمرضاته، نافعاً لعباده، وأن يجزى فضيلة شيخنا عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، ويضاعف له المثوبة والأجر ويعلى درجته في المهديين، إنه سميع قريب.
وصلي الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، خاتم النبيين، وإمام المتقين، وسيد الأولين والآخرين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلي يوم الدين.
اللجنة العلمية
في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية
15/11/1425هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কমিটির ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অসংখ্য দরুদ ও পূর্ণমাত্রায় সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
আল্লাহরই তৌফিকে—এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা ও শুকরিয়া—আমাদের সম্মানিত শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'মুকাদ্দিমা ফিত তাফসির' গ্রন্থটির ব্যাখ্যা প্রদান সহজ হয়েছে। এটি ১৪০৮ হিজরি সনে উনাইজাহ শহরের জামে আল-কাবীর-এ তাঁর পরিচালিত ইলমি দরসসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই গ্রন্থটি ১৪১৫ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর প্রথম সংস্করণের কাজ অত্যন্ত যত্নের সাথে সম্পন্ন করেছেন সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ত্বাইয়্যার—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এই সংস্করণে আমাদের সম্মানিত শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর রচনাবলি প্রকাশ ও মুদ্রণের জন্য যে সকল নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে গেছেন, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
আমরা সম্মানিত পাঠককে এই বিষয়ে সচেতন করতে চাই যে, হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (عزو) এবং হাদিস চয়ন বা তাখরিজ (تخريج) ব্যতীত বাকি সমস্ত টীকা আমাদের শাইখ স্বয়ং তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করেছেন অথবা ব্যাখ্যা প্রদানের সময় তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, একে তাঁর পছন্দনীয় আমল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বান্দাদের জন্য কল্যাণকর করেন। আল্লাহ আমাদের সম্মানিত শাইখকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর পুরস্কার ও সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করুন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী।
আল্লাহ দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল, সর্বশেষ নবী, মুত্তাকীদের ইমাম এবং পূর্বাপর সকলের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
ইলমি কমিটি
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
১৫/১১/১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةرب يسر وأعن برحمتك
الحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليماً.
الشرح
هذه الخطبة تسمي خطبة الحاجة، يخطبها الإنسان عندما يريد أن يتكلم عن حاجة يريدها، سواء كانت زواجاً أو أي شيء مما يحتاجه من أمور دينه ودنياه، ولهذا تسمي خطبة الحاجة، وهذه الخطبة ننبه على فقرات فيها.
فقوله: (مَنْ يَهْدِه اللَّهُ فلا مضل له) أي من يقدر له الهداية فلا أحد يستطيع أن يضله، وكذلك لا أحد يستطيع أن يخرجه من الهداية إذا هدى هداية التوفيق.
وقوله: (ومَنْ يُضْلِلِ فَلا هَادِيَ لَهُ) أي: من يقدر له الضلالة فلا أحد يهديه، سواء كان في الضلالة وأراد أحد أن ينتشله منها أم لا.
وقوله: (أَشْهَدُ) مع أن الأفعال التي قبلها لضمير العظمة: (إن الحمد لله نستعينه ونسنغفره) قالوا: لأن الإفراد يناسب التوحيد (وأشهد أن لا إله إلا الله) ، هذا توحيد لله عز وجل، فالأنسب أن يوحد
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকাহে প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য করুন
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা যাঞ্চা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ব্যাখ্যা
এই ভাষণটি ‘খুতবাতুল হাজাহ’ (প্রয়োজনের খুতবা) নামে পরিচিত। মানুষ যখন তার কোনো প্রয়োজনের কথা বলতে চায় তখন এই খুতবাটি পাঠ করে, চাই তা বিবাহ সংক্রান্ত হোক কিংবা দীন ও দুনিয়ার অন্য কোনো প্রয়োজনীয় বিষয়। এ কারণেই একে ‘খুতবাতুল হাজাহ’ বলা হয়। আমরা এই খুতবার কয়েকটি বাক্যের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
তাঁর বাণী: (আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না) অর্থাৎ আল্লাহ যার জন্য হিদায়াত নির্ধারণ করেন তাকে বিভ্রান্ত করার সাধ্য কারো নেই। অনুরূপভাবে, আল্লাহ যদি কাউকে সফলতার পথপ্রদর্শন (هداية التوفيق) দান করেন, তবে তাকে সেই হিদায়াত থেকে বিচ্যুত করার ক্ষমতাও কারো নেই।
তাঁর বাণী: (আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই) অর্থাৎ: আল্লাহ যার জন্য পথভ্রষ্টতা নির্ধারণ করেছেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারবে না; চাই সে পথভ্রষ্টতার মাঝেই থাকুক আর কেউ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে চাক বা না চাক।
তাঁর বাণী: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি), যদিও এর পূর্ববর্তী ক্রিয়াগুলো সম্মানসূচক বহুবচনের সর্বনামে ব্যবহৃত হয়েছে: (নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি)। আলিমগণ বলেছেন: একবচনের প্রয়োগ একত্ববাদ (توحيد) এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)। এটি মহান আল্লাহর একত্ববাদ (توحيد), তাই এখানে একবচন ব্যবহার করাই অধিকতর সঙ্গত।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
لفظ الفعل (أشهد) ولا يؤتي بالنون الدالة على العظمة، أو على المتكلم ومعه غيره.
فقد سألني بعض الإخوان أن أكتب له مقدمة تتضمن قواعد كليه، تعين على فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه والتمييز - في منقول ذلك ومعقوله- بين الحق وأنواع الأباطيل، والتنبيه على الدليل الفاصل بين الأقاويل.
الشرح
يعني المؤلف (1) بهذا الكلام أن تأليفه للكتاب له سبب، وسببه سؤال بعض الإخوان أن يكتب له في هذا الموضوع، والتأليف قد يكون ابتدائيا من المؤلف، حين يرى حاجة الناس إلي موضوع معين، فيكتب فيه، وقد يكون له سبب مثل سؤال بعض الناس له أن يكتب في هذا الموضوع المعين، فالأول يكون مسؤولاً بلسان الحال، والثاني يكون مسؤولاً بلسان المقال.
فإن العالم إذا رأى الناس محتاجين إلي شيء وألفَ فيه، فإن حال الناس تستدعي أن يبين لهم هذا الأمر الذي وقعوا فيه، حتى يعرفوا حكمه، ويتعبدوا لله فيه على بصيرة، وكذلك قد يسأل عن أمر معين.
يقول المؤلف: (قواعد كليه) ، القواعد جمع قاعدة، وهي أساس الشيء، ومنها قواعد البيت أي أساساته، فهي الأساسات
--------------------------------------------
'সাক্ষ্য দিচ্ছি' (أشهد) ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হবে; মাহাত্ম্য প্রকাশক কিংবা বক্তার সাথে অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্তকারী 'নুন' (النون) বর্ণটি যুক্ত করে তা বলা যাবে না।
আমার কোনো কোনো ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি তাঁর জন্য একটি ভূমিকা লিখে দিই, যা কিছু মৌলিক নীতিমালা (قواعد كلية) সমৃদ্ধ হবে, যা কুরআন অনুধাবনে এবং এর তাফসীর ও অর্থসমূহ অনুধাবনে সহায়ক হবে এবং এর শ্রুত (منقول) ও বুদ্ধিনির্ভর (معقول) আলোচনার মধ্যে সত্য ও বিভিন্ন প্রকার বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করতে এবং নানাবিধ মতামতের মধ্যে চূড়ান্ত দলীল (الدليل الفاصل) সম্পর্কে সচেতন করতে সাহায্য করবে।
ব্যাখ্যা
লেখক (১) এই আলোচনার মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর এই গ্রন্থ রচনার একটি কারণ রয়েছে। আর তা হলো জনৈক ভাইয়ের অনুরোধ যে, লেখক যেন এই নির্দিষ্ট বিষয়ে কিছু লেখেন। গ্রন্থ রচনা লেখকের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেও হতে পারে, যখন তিনি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তখন তিনি সে বিষয়ে লিখেন। আবার কোনো কারণবশতও হতে পারে, যেমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বিষয়ে লেখার অনুরোধ। প্রথম ক্ষেত্রটিকে বলা হয় পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী (لسান الحال) এবং দ্বিতীয়টি হলো সরাসরি মৌখিক আবেদন (لسان المقال) অনুযায়ী।
কেননা একজন আলিম যখন দেখেন যে মানুষ কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী, তখন তিনি তা রচনা করেন। মানুষের অবস্থাই তখন দাবি করে যে তিনি তাদের সামনে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করবেন যাতে তারা নিপতিত হয়েছে, যেন তারা এর বিধান সম্পর্কে জানতে পারে এবং অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। তেমনিভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁকে প্রশ্নও করা হতে পারে।
লেখক বলছেন: ‘মৌলিক নীতিমালা’ (قواعد كلية)। 'কাওয়াইদ' (القواعد) শব্দটি 'কায়িদাহ' (قاعدة) এর বহুবচন, যা কোনো জিনিসের মূল ভিত্তি বুঝায়। যেমন ঘরের ভিত্তি (قواعد البيت) বলতে তার শক্ত খুঁটি বা ভিত্তিসমূহকে বুঝায়। সুতরাং এগুলো হলো মূল ভিত্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
التي تعين على فهم القرآن، وحينئذ نعرف أن هذه القواعد قواعد في التفسير؛ لتفسير القرآن، لأن فهم القرآن أحد الأمور الثلاثة التي قصدت بإنزال القرآن.
فالقرآن الكريم نزل لأمور ثلاثة: التعبد بتلاوته، وفهم معانيه والعمل به، ولهذا كان الصحابة رضي الله عنهم لا يتجاوزون عشر آيات حتى يتعلموها، وما فيها من العلم والعمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعاً.
أما لفظ القرآن فلا يكاد يشكل على أحد، أو يعسر عليه؛ لأنه يقرؤه العامي والعالم والمتعلم، وأما فهمه فهو الذي يحتاج إلي تعلم وتفكر وتدبر، وأما العمل به فهو أشد على النفوس وأعظم؛ لأن النفس تحتاج إلي مجاهدة في إلزامها بما تقتضيه الحال؛ من تصديق الخبر، وامتثال الأمر، واجتناب النهي. وتأمل قوله تعالي: (كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ) (صّ: 29) حتى يتبين لك أنه لا بد من فهم القرآن، ولابد من العمل به.
وقول المؤلف رحمه الله في هذا المقام: (ومعرفة تفسيره ومعانيه) كل هذا من باب عطف التفسير أو عطف المترداف، كقول الشاعر:
فألفى قولها كذباً ومينا
وذلك لأن فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه أمور متقاربة، وإن كان فهم القرآن يتضمن فهم معناه، وفهم حكمه وأسراره، لأن القرآن له معاني، ولهذا المعاني والأحكام حكم واسرار، ثم قد يقال: إن التفسير غير المعنى، فالتفسير تفسير اللفظ، والمعنى هو ما يراد
যা কুরআন বুঝতে সাহায্য করে, তখনই আমরা জানতে পারি যে এই নীতিগুলো হলো তাফসির (تفسير) সংক্রান্ত মূলনীতি; যা কুরআনের ব্যাখ্যার জন্য প্রয়োজন। কারণ কুরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে যে তিনটি বিষয় উদ্দেশ্য করা হয়েছে, কুরআন অনুধাবন করা তার মধ্যে অন্যতম।
পবিত্র কুরআন তিনটি উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়েছে: এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা, এর অর্থসমূহ অনুধাবন করা এবং তদনুযায়ী আমল করা। এই কারণেই সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) দশটি আয়াত অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তাঁরা সেগুলো এবং এর মধ্যকার ইলম ও আমল সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতেন। তাঁরা বলতেন: "আমরা কুরআন, ইলম এবং আমল—সবকিছুই একত্রে শিক্ষা করেছি।"
আর কুরআনের শব্দের বিষয়টি কারো কাছেই অস্পষ্ট থাকে না বা কঠিন হয় না; কারণ সাধারণ মানুষ, আলিম ও শিক্ষার্থী—সকলেই তা পাঠ করতে পারে। তবে এর মর্ম উপলব্ধি করার বিষয়টি শিক্ষা, গভীর চিন্তা ও গবেষণার (تدبر) মুখাপেক্ষী। আর এর ওপর আমল করা নফসের জন্য অধিকতর কঠিন ও মহৎ বিষয়; কেননা নফসকে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী বাধ্য করতে সাধনার (مجاهدة) প্রয়োজন হয়; যেমন সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা (تصديق الخبر), নির্দেশ পালন করা এবং নিষেধ বর্জন করা। মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: "(এটি) একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা (تدبر) করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।" (সুরা সদ: ২৯)। এর মাধ্যমে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, কুরআন বুঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করা অপরিহার্য।
এই স্থানে লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য: "(এবং এর তাফসির (تفسير) ও অর্থ জানা)"—এই সবই ব্যাখ্যামূলক সংযোজন (عطف التفسير) অথবা সমার্থক শব্দের সংযোজন (عطف المترداف) এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন কবি বলেছেন:
অতঃপর সে তার কথাকে মিথ্যা (كذب) ও অলীক মিথ্যা (مين) হিসেবে পেল
এর কারণ হলো কুরআন অনুধাবন করা এবং এর তাফসির (تفسير) ও অর্থ জানা—এগুলো পরস্পর নিকটবর্তী বিষয়। যদিও কুরআন অনুধাবন করার মাঝে এর অর্থ বুঝা এবং এর বিধান (حكم) ও রহস্যসমূহ (أسرار) বুঝা অন্তর্ভুক্ত; কারণ কুরআনের রয়েছে বিবিধ অর্থ, আর এই অর্থ ও বিধানসমূহের পেছনে রয়েছে নিগূঢ় হিকমত ও রহস্য। অতঃপর এমনটিও বলা যেতে পারে যে: তাফসির (تفسير) এবং অর্থ এক নয়; কেননা তাফসির হলো শব্দের ব্যাখ্যা, আর অর্থ হলো যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
بالكلام، وسيأتي من ذلك أمثلة إن شاء الله.
فالتفسير هو تفسير اللفظ فقط، كأن يفسر هذه الكلمة كما فسرها صاحب القاموس، فمثلاً قوله تعالي: (أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا) (الأنعام: 158) ، تفسيرها اللفظي أن تقول: يوم يأتي شيء من آيات الله الدالة على قدرته مثلا والمراد بها طلوع الشمس من مغربها، فهنا صار فرق بين المعني اللفظي، أي: التفسير اللفظي والتفسير المعنوي الذي يراد، ولهذا فالقرآن يفسر على الناحيتين تفسيراً لفظياً مطابقاً للفظ فقط، وتفسيراً معنوياً، وهو ما يراد به، ثم قد يتوافقان وقد يختلفان.
فالمهم أننا إذا أردنا أن نجعل العطف في كلام المؤلف على التأسيس لا التوكيد والترداف، فنقول: إن فهم القرآن يريد به الحكم والأسرار التي يتضمنها، ومعرفة تفسيره، يعني اللفظ فقط، ومعانيه، أي: معرفة المراد به.
وقوله: (والتمييز في منقول ذلك ومعقوله بين الحق وأنواع الأباطيل) أفاد المؤلف- رحمه الله أن تفسير القرآن نوعان: نقلي وعقلي، ولكن يجب أن يكون التفسير العقلي غير مخالف للتفسير النقلي؛ لأن التفسير النقلي مقدم عليه، وذلك لأن العقول يلحقها من الشبهات والشهوات ما يحرمها الوصول إلي معرفة الحق بخلاف المنقول، ومع ذلك ففي المنقول شيء من الباطل، ففيه إسرائيليات كثيرة أدخلت في التفسير، وفيه أحاديث موضوعه وضعيفة أدخلت أيضاً في التفسير، فاحتاج الإنسان إلي أن يعرف ما يميز بين الحق وأنواع الأباطيل.
وقوله: (والتنبيه على الدليل الفاصل بين الأقاويل) ، أي: سواء
কথার মাধ্যমে, এবং ইনশাআল্লাহ এর উদাহরণ সামনে আসবে।
সুতরাং তাফসির হলো কেবল শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা, যেমন কোনো ব্যক্তি একটি শব্দকে সেভাবেই ব্যাখ্যা করে যেভাবে অভিধানপ্রণেতা (صاحب القاموس) ব্যাখ্যা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: "কিংবা আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে; যেদিন আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না" (আল-আনআম: ১৫৮)। এর শাব্দিক ব্যাখ্যা হলো আপনার এ কথা বলা: যেদিন আল্লাহর কুদরত প্রকাশকারী কোনো নিদর্শন আসবে। আর এর দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয় হলো পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়। এখানে শাব্দিক অর্থ তথা শাব্দিক ব্যাখ্যা এবং উদ্দিষ্ট ভাবার্থের (تفسير معنوي) মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হলো। এ কারণে কুরআনের ব্যাখ্যা দুই দিক থেকে করা হয়: শাব্দিক ব্যাখ্যা যা কেবল শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ভাবার্থের ব্যাখ্যা যা দ্বারা মূল উদ্দেশ্য বোঝানো হয়। এরপর কখনও উভয়টি এক হয় আবার কখনও ভিন্ন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যদি লেখকের বক্তব্যে সংযোজককে (عطف) তাকিদ (توكيد) বা সমার্থকতা (ترداف) হিসেবে না দেখে নতুন অর্থ প্রদানকারী (تأسيس) হিসেবে গণ্য করি, তবে আমরা বলব: কুরআন বোঝা বলতে তিনি এর অন্তর্ভুক্ত বিধান ও রহস্যসমূহকে বুঝিয়েছেন। আর এর তাফসির জানা বলতে কেবল শাব্দিক রূপ এবং এর অর্থসমূহ তথা এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা জানাকে বুঝিয়েছেন।
এবং তাঁর উক্তি: "এবং এর বর্ণিত (منقول) ও যুক্তিগত (معقول) বিষয়ের মধ্যে সত্য ও বিভিন্ন প্রকার মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা" দ্বারা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বুঝিয়েছেন যে, কুরআনের তাফসির দুই প্রকার: বর্ণনাভিত্তিক (نقلي) এবং যুক্তিভিত্তিক (عقلي)। তবে শর্ত হলো, যুক্তিভিত্তিক তাফসির যেন বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের বিরোধী না হয়; কেননা বর্ণনাভিত্তিক তাফসির এর ওপর অগ্রগণ্য। এর কারণ হলো, যুক্তিতে এমন সব সংশয় ও প্রবৃত্তি ভর করতে পারে যা তাকে সত্য জানা থেকে বঞ্চিত করে, কিন্তু বর্ণিত (নকলি) বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। তা সত্ত্বেও বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে কিছু বাতিল বা মিথ্যা জিনিসও রয়েছে। এতে অনেক ইসরাইলি বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং জাল (موضوع) ও দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহও তাফসিরের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়েছে। ফলে সত্য ও বিভিন্ন প্রকার মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জ্ঞান অর্জন করা মানুষের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
এবং তাঁর উক্তি: "এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে পার্থক্যকারী প্রমাণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা", অর্থাৎ চাই সেটি...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
كان الدليل نقلياً أم عقلياً؛ لأنه يجب أن نعتبر الدليل العقلي في القرآن ما لم يخالف المنقول، وإلا فالعقل لا شك أن له مدخلاً كبيراً في فهم القرآن ولهذا يأمرنا عز وجل بالتفكير في كثير من آيات القرآن الكريم، بل إن التدبر في قوله تعالي: (لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِه) (صلي الله عليه وسلم: 29) ، يدخل فيه المعنى العقلي الذي يدركه الإنسان بعقله.
* * *
فإن الكتب المصنفة في التفسير مشحونة بالغث والسمين، والباطل الواضح والحق المبين.
والعلم إما نقل مصدق عن معصوم، وإما قول عليه دليل معلوم، وما سوى ذلك فإما مزيف مردود، وإما موقوف لا يعلم أنه بهرج ولا منقود.
الشرح
(العلم الحقيقي هو إما نقل مصدق عن معصوم) وهو الرسول صلي الله عليه وسلم وإما قول عليه دليل معلوم، يعني قول لبعض من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، لكن عليه دليل معلوم من المعقول أو المنقول، ولهذا نحن نثبت دليل القياس، وهو من الدليل العقلي.
وهذه ينبغي أن نجعلها قاعدة لمعرفة العلم الحقيقي، فالعلم إما نقل مصدق عن معصوم، وإما قول عليه دليل معلوم.
وما سوى ذلك فإما مزيف مردود، وإما موقوف لا يعلم أنه بهرج ولا منقود
প্রমাণটি বর্ণিত (نقلي) হোক বা যুক্তিগত (عقلي); কারণ পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে আমাদের যুক্তিগত প্রমাণকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিবেচনা করা আবশ্যক যতক্ষণ না তা বর্ণিত (المنقول) বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। অন্যথায়, কুরআন অনুধাবনের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার যে বিশাল ভূমিকা রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ কারণেই মহান আল্লাহ আমাদের কুরআনের বহু আয়াতে চিন্তা করার আদেশ দিয়েছেন। বরং তাঁর বাণী: "যাতে তারা তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে" (সোয়াদ: ২৯)-এর মাধ্যমে যে গভীর চিন্তার কথা বলা হয়েছে, তার অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থ যা মানুষ তার বুদ্ধির মাধ্যমে অনুধাবন করে।
* * *
নিশ্চয়ই তাফসির শাস্ত্রের রচিত গ্রন্থসমূহ অসার ও সারগর্ভ এবং সুস্পষ্ট বাতিল ও সুষ্পষ্ট সত্যের সংমিশ্রণে পরিপূর্ণ।
আর জ্ঞান হলো হয় কোনো নিষ্পাপ (معصوم) সত্তা থেকে প্রাপ্ত সত্যায়িত বর্ণনা, অথবা এমন কোনো বক্তব্য যার সপক্ষে সুবিদিত প্রমাণ বিদ্যমান। এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা হয় কৃত্রিম ও প্রত্যাখ্যাত (مردود), অথবা তা স্থগিত বা মওকুফ (موقوف) পর্যায়ের; যার অসারতা বা বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
ব্যাখ্যা
(প্রকৃত জ্ঞান হলো হয় কোনো নিষ্পাপ সত্তা থেকে প্রাপ্ত সত্যায়িত বর্ণনা) আর তিনি হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অথবা এমন কোনো বক্তব্য যার সপক্ষে সুবিদিত প্রমাণ বিদ্যমান; অর্থাৎ সাহাবী, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীগণের এমন কোনো বক্তব্য যার সপক্ষে যুক্তিগত (معقول) বা বর্ণিত (منقول) কোনো প্রমাণ বিদ্যমান। এ কারণেই আমরা কিয়াসের (القياس) প্রমাণকে সাব্যস্ত করি, যা বুদ্ধিবৃত্তিক বা যুক্তিগত প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত।
আর একেই আমাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। অতএব, জ্ঞান হলো হয় কোনো নিষ্পাপ সত্তা থেকে প্রাপ্ত সত্যায়িত বর্ণনা, অথবা এমন কোনো বক্তব্য যার সপক্ষে সুবিদিত প্রমাণ বিদ্যমান।
এর বাইরে যা কিছু আছে তা হয় কৃত্রিম ও প্রত্যাখ্যাত (مردود), অথবা তা স্থগিত বা মওকুফ (موقوف) পর্যায়ের; যার অসারতা বা বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
في هذا الكلام سجع، والسجع إذا لم يكن متكلفاً فإنه لا شك يزين الكلام ويحببه إلي النفس، ولهذا يقع أحياناً في كلام الرسول عليه الصلاة والسلام لكن بدون تكلف.
والمؤلف يقول: (وما سوي ذلك) المشار إليه أي: النقل المصدق عن معصوم والقول الذي عليه دليل (فإما مزيف مردود) وهذا يكون في مقابل النقل المصدق، (وإما موقوف لا يعلم أنه بهرج ولا منقود) يعني أننا نتوقف فيه.
فالأقسام حينئذ ثلاثة: ما علمت صحته وهو الأول، وما علم بطلانه وهو الثاني، وما يجب التوقف فيه وهو الثالث، الذي لا نعلم هل هو من النقل المصدق عن معصوم، أو من القول الذي عليه دليل معلوم، أو أنه مزيف ومردود، فلا نعلم هذا ولا هذا، فالأول مقبول، والثاني مردود، والثالث متوقف فيه.
والبهرج هو المغشوش، وبهرج النقود من الذهب والفضة هي المغشوشة، والمنقودة أي: السالمة من الغش.
* * *
وحاجة الأمة ماسة إلى فهم القرآن الذي هو حبل الله المتين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، ولا يخلق على كثيرة الترديد ولا تنقضي عجائبه.
الشرح
هنا يقول المؤلف- رحمه الله: إن الناس محتاجون إلي فهم كتاب
এই বক্তব্যের মধ্যে অন্ত্যমিল রয়েছে; আর অন্ত্যমিল যদি কৃত্রিম না হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা বক্তব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং মনের কাছে প্রিয় করে তোলে। এই কারণেই মাঝে মাঝে রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর বাণীতে কৃত্রিমতা ছাড়াই এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এবং লেখক বলছেন: (এ ছাড়া অন্য যা কিছু রয়েছে) যা দ্বারা ইশারা করা হয়েছে—অর্থাৎ কোনো নিষ্পাপ সত্তার কাছ থেকে আসা সত্যায়িত বর্ণনা এবং এমন বক্তব্য যার স্বপক্ষে দলিল রয়েছে—(তা হয় মেকি ও প্রত্যাখ্যাত (مردود)) এবং এটি সত্যায়িত বর্ণনার বিপরীতে অবস্থান করে। (আর নয়তো তা স্থগিত (موقوف), যার ব্যাপারে জানা নেই যে সেটি ভেজাল না কি খাঁটি) অর্থাৎ আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থাকব।
এমতাবস্থায় প্রকারভেদ তিনটি: যার বিশুদ্ধতা (صحيح) নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছে—যা প্রথম প্রকার; যার অসারতা জানা গিয়েছে—যা দ্বিতীয় প্রকার; আর তৃতীয়টি হলো যার ব্যাপারে বিরত থাকা আবশ্যক—যা তৃতীয় প্রকার; কারণ আমরা জানি না যে এটি কি কোনো নিষ্পাপ সত্তার সত্যায়িত বর্ণনা, নাকি এমন কোনো বক্তব্য যার স্বপক্ষে দলিল রয়েছে, নাকি এটি মেকি ও প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আমরা যখন এর কোনোটিই জানতে পারি না, তখন প্রথমটি গ্রহণযোগ্য (مقبুল), দ্বিতীয়টি প্রত্যাখ্যাত (مردود) এবং তৃতীয়টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।
আর 'বাহরাজ' হলো ভেজালযুক্ত; স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার মধ্যে ভেজাল থাকলে তাকে 'বাহরাজ' বলা হয়। আর 'মানকুদা' হলো যা যাবতীয় ভেজাল থেকে মুক্ত।
* * *
আর উম্মাহর জন্য কুরআনের উপলব্ধি অত্যন্ত জরুরি, যা আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সরল পথ; যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তিগুলো বিপথগামী হয় না, জবানগুলো বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয় না, বারবার পাঠ করলেও যা পুরনো হয় না এবং যার বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না।
ব্যাখ্যা
এখানে লেখক—রাহিমাহুল্লাহ—বলছেন: নিশ্চয়ই মানুষের আল্লাহর কিতাব বোঝার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
الله، وهذا واضح، فحاجة الناس إلي فهم كتاب الله ظاهرة جداً، فإنهم في حاجة بل في ضرورة إلي فهم كتاب الله؛ لأنه الكتاب الذي أمروا باتباعه، والإنسان لو يؤمر باتباع كتاب مؤلف من المؤلفين احتاج إلي معرفته وشرحه فكيف بكتاب الله عز وجل.
ثم وصف المؤلف القرآن الكريم بعدة أوصاف، فقال عنه: ((الذي هو حبل الله المتين)) حبل الله لأن الله تعالي هو الذي وضعه، والحبل في الأصل: ما يتوصل به إلي غيره، كالسبب تقريباً؛ ولهذا فسر قوله تعالي: (فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ) (الحج: 15) ، أي: بحبل ووصف بأنه حبل الله لأنه موصل إلي الله عز وجل.
ووصفه بقوله: ((والذكر الحكيم)) وقد أخذ المؤلف- رحمه الله هذا الوصف من قول الله تعالي: (ذَلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ) (آل عمران: 58) ، فهو ذكر، لأنه مذكر، وهو ذكر، لأن فيه الذكري لمن تمسك به ورفع ذكره، كما قال تعالي: (وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِك) (الزخرف: 44) يعني رفعة وشرفاً. والحكيم: معناه المحكم أو المتضمن للحكمة البالغة في أحكامه.
وقوله: ((والصراط المستقيم)) الصراط معناه الطريق، والمستقيم معناه المعتدل الذي ليس فيه ميل.
وقوله: ((والذي لا تزيغ به الأهواء)) الزيغ: معناه الميل، ومنه: زاغت الشمس إذا مالت، يعني أن أهواء الناس مهما عظمت لا يمكن أن تزيغ به، بل إنه باق ثابت مهما سلط الناس عليه من الأهواء فإنها
...আল্লাহ, এবং এটি স্পষ্ট। আল্লাহর কিতাব বোঝার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট; প্রকৃতপক্ষে, তারা আল্লাহর কিতাব বোঝার জন্য শুধু মুখাপেক্ষীই নয়, বরং এটি তাদের জন্য এক অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা (ضرورة)। কারণ এটি সেই কিতাব যা অনুসরণ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মানুষকে যদি কোনো লেখকের রচিত বই অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তার সেটি জানা এবং ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে; তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে?
অতঃপর লেখক পবিত্র কুরআনকে বেশ কয়েকটি গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন। তিনি এটি সম্পর্কে বলেছেন: "যা আল্লাহর সুদৃঢ় রশি (حبل الله المتين)"। এটি আল্লাহর রশি কারণ মহান আল্লাহ তাআলাই এটি স্থাপন করেছেন। মূলত রশি (الحبل) বলতে এমন মাধ্যমকে বোঝায় যার দ্বারা অন্য কিছুতে পৌঁছানো যায়, অনেকটা উপায়ের (السبب) মতো। এই কারণেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "সে যেন আকাশের দিকে একটি উপায় বা রশি (بسبب) ঝুলিয়ে দেয়" (আল-হজ্জ: ১৫)-এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে রশি হিসেবে। একে আল্লাহর রশি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে কারণ এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর মাধ্যম (موصل)।
এবং তিনি একে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (الذكر الحكيم)"। লেখক -রহিমাহুল্লাহ- মহান আল্লাহর বাণী থেকেই এই বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন: "এগুলো আমি আপনার নিকট তিলাওয়াত করছি নিদর্শনাবলী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (الذكر الحكيم) থেকে" (আলে ইমরান: ৫৮)। সুতরাং এটি একটি জিকর (ذكر), কারণ এটি স্মরণ করিয়ে দেয়; এবং এটি জিকর কারণ এতে তার জন্য উপদেশ (الذكرى) রয়েছে যে একে মজবুতভাবে ধারণ করে এবং এটি তার মর্যাদা (ذكر) বৃদ্ধি করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এটি অবশ্যই আপনার জন্য ও আপনার কওমের জন্য এক মর্যাদা (ذكر)" (আয-যুখরুফ: ৪৪), অর্থাৎ উচ্চতা ও সম্মান। আর হাকীম (الحكيم) অর্থ হলো সুদৃঢ় (المحكم) অথবা যা তার বিধানসমূহে সুগভীর প্রজ্ঞা (الحكمة) ধারণ করে।
এবং তাঁর বাণী: "এবং সরল পথ (الصراط المستقيم)"। সিরাত (الصراط) অর্থ হলো পথ, আর মুস্তাকিম (المستقيم) অর্থ হলো সুষম বা সরল যাতে কোনো বিচ্যুতি নেই।
এবং তাঁর বাণী: "এবং যার দ্বারা প্রবৃত্তি পথভ্রষ্ট হয় না (لا تزيغ به الأهواء)"। যাইগ (الزيغ) অর্থ হলো বিচ্যুতি বা ঝোঁক, আর এখান থেকেই এসেছে: 'সূর্য ঢলে পড়েছে (زاغت الشمس)' যখন তা হেলে পড়ে। এর অর্থ হলো মানুষের খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তি (الأهواء) যতই প্রবল হোক না কেন, তা একে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না, বরং এটি অটল ও স্থির থাকে; মানুষ এর ওপর যতই প্রবৃত্তি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, সেগুলো...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
لا تزيغ به لأنه هدى.
وقوله: ((ولا تلتبس به الألسن)) تلتبس: أي تختلط، لأنه بلسان عربي مبين فلا يمكن أن تختلط به الألسن، ولهذا حتى الإنسان الأعجمي لو قرأه يقرؤه بلسان عربي، ولهذا كان من غير الممكن أن يترجم القرآن ترجمة حرفية أبداً.
وقوله: ((ولا يخلق من كثرة الترديد)) معني يخلق: أي يبلى، فهو على جدته، مهما كرره الإنسان فكأنه لم يقرأه من قبل، لكن الإنسان إذا كرر أبلغ قصيدة من قصائد العرب- من المعلقات السبع أو غيرها- أو كرر أبلغ خطبة خطبها الخطباء كما يكرر القرآن لمل وسئم، لكن من القرآن ما نقرؤه في الصلاة الواحدة أكثر من مرة ومع ذلك لا نمل، وهذه من آيات الله عز وجل في هذا القرآن الكريم.
وقوله: ((ولا تنقضي عجائبه)) لا تنقضي عجائبه لمن أعطاه الله تعالي فهماً لكتابه، فإنه يتذوق فيه المعاني العظيمة الكثيرة، أما المعرض عنه فإنه قد لا يرى فيه عجباً واحداً، لكننا هنا نصف القرآن من حيث هو قرآن، بقطع النظر عن القارئ.
* * *
ولا يشبع منه العلماء من قال به صدق ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي صراط مستقيم، ومن تركه من جبار قصمه الله ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله.
الشرح
كل هذه الأوصاف حق يعرفها المتأمل، فإن العلماء لا يشبعون
এটি দ্বারা কোনো বিচ্যুতি ঘটে না, কারণ এটি হিদায়াত (هدى)।
এবং তাঁর বাণী: ((আর এর মাধ্যমে জিহ্বাগুলো বিভ্রান্ত হয় না))। 'বিভ্রান্ত হওয়া' (تلتبس): অর্থাৎ সংমিশ্রিত হওয়া; যেহেতু এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে, তাই জিহ্বাগুলো এতে বিভ্রান্ত হওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে এমনকি কোনো অনারব ব্যক্তিও যদি এটি পাঠ করে, তবে সে তা আরবি ভাষাতেই পাঠ করে। আর এ কারণেই কুরআনের আক্ষরিক অনুবাদ (ترجمة حرفية) করা কখনোই সম্ভব নয়।
এবং তাঁর বাণী: ((অধিক পুনরাবৃত্তির ফলে এটি পুরোনো হয়ে যায় না))। 'পুরোনো হওয়া' (يخلق) অর্থ: জীর্ণ হয়ে যাওয়া। এটি সর্বদা তার নবীনতা বজায় রাখে; মানুষ একে যতই পুনরাবৃত্তি করুক না কেন, মনে হয় সে এটি ইতিপূর্বে কখনো পাঠ করেনি। অথচ মানুষ যদি আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠ কবিতা—যেমন সাবআ মুআল্লাকাত বা অন্য কিছু—কিংবা কোনো বাগ্মীর শ্রেষ্ঠ কোনো ভাষণ কুরআনের মতো বারবার পাঠ করত, তবে সে অবশ্যই বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু কুরআনের এমন কিছু অংশ আছে যা আমরা এক সালাতেই একাধিকবার পাঠ করি, তবুও আমরা ক্লান্ত হই না। এটি এই মহিমান্বিত কুরআনের মাঝে মহান আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন।
এবং তাঁর বাণী: ((এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না))। আল্লাহ তাআলা যাকে তাঁর কিতাব বোঝার অনুধাবন ক্ষমতা দান করেছেন, তার কাছে এর বিস্ময় শেষ হয় না। ফলে সে এতে বহু মহান অর্থের স্বাদ আস্বাদন করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এটি থেকে বিমুখ থাকে, সে হয়তো এতে একটিও বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পাবে না। তবে আমরা এখানে কুরআনকে তার নিজস্ব সত্তার আলোকে বর্ণনা করছি, পাঠকের অবস্থা বিবেচনা না করেই।
* * *
আলেমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না। যে এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য (صدق) বলে। যে এটি অনুযায়ী আমল করে সে প্রতিদান (أجر) প্রাপ্ত হয়। যে এর মাধ্যমে ফয়সালা করে সে ন্যায়বিচার (عدل) করে। যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের (صراط مستقيم) দিশা পায়। কোনো স্বৈরাচারী যদি একে বর্জন করে তবে আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন এবং যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত (هدى) সন্ধান করে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন।
ব্যাখ্যা
এই সকল বৈশিষ্ট্যই ধ্রুব সত্য যা একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারেন। নিশ্চয় আলেমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
منه، وكلما كان الإنسان بالله أعلم وبشرعه أعلم كان لكتابه أحب، فتجده دائماً يفكر ويتدبر هذا القرآن، سواء كان في مجلس العلم، أو وهو يمشي، أو في أي مكان، فالإنسان لا يشبع منه أبداً.
وكذلك أيضاً: ((من قال به صدق)) لأنه قال قولاً هو أصدق الأقوال، فإذا قال قائل: إن الكافر في نار جهنم فقد صدق؛ لأنه قال بماء جاء به القرآن.
وقوله: ((ومن عمل به أجر)) يعني أثيب على عمله.
وقوله: ((ومن حكم به عدل)) من حكم به عدل سواء كان الحكم فصلاً بين الناس، أو كان هذا الحكم حكماً مطلقاً فمن قال: إن الميتة حرام، فقد عدل، ومن قال: إنه يجب العدل بين الزوجات مثلاً فقد عدل؛ لأن هذا الحكم في القرآن، ومن قال: (فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ) (البقرة: 194) ، فقد عدل.
كذلك يقول: ((ومن دعا إليه هدي إلي صراط مستقيم)) ، يعني هداه الله، فالإنسان إذا دعا إلى القرآن، فقد هدي إلي صراط مستقيم، أما إذا دعا إلي الهوي، وحرف القرآن من أجل هواه فإنه يضل، ولهذا قال: ((ومن ابتغي الهدى في غيره أضله الله)) .
((ومن تركه من جبار قصمه الله)) ومعني قصمه: في الأصل يغني قطع ظهره، ولكن لا يرد علينا أننا نجد من الجبابرة الآن من ترك القرآن، لأننا نقول: إن القصم قد يكون في الدنيا وقد يكون في الآخرة، فهذا إن فاته في الدنيا لم يفته في الآخرة.
মানুষ আল্লাহ এবং তাঁর শরিয়ত সম্পর্কে যত বেশি পরিজ্ঞাত হবে, তাঁর কিতাবের প্রতি তার ভালোবাসা তত বৃদ্ধি পাবে। তাই আপনি তাকে সর্বদা এই কুরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণায় নিমগ্ন পাবেন; চাই সে ইলমি মজলিসে থাকুক, কিংবা চলাফেরা করুক অথবা অন্য যেকোনো স্থানে থাকুক; মানুষ কখনোই তা থেকে তৃপ্ত হয় না।
এবং তদ্রূপ: "যে ব্যক্তি এর আলোকে কথা বলবে, সে সত্য বলবে"; কারণ সে এমন কথা বলেছে যা সর্বাপেক্ষা সত্য। সুতরাং যদি কেউ বলে: কাফের জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, তবে সে সত্যই বলেছে; কারণ সে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই বলেছে।
এবং তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করবে, সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হবে"; অর্থাৎ সে তার আমলের জন্য সওয়াব লাভ করবে।
এবং তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে ফয়সালা করবে, সে ন্যায়বিচার করবে"; যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে ফয়সালা করবে সে ন্যায়বিচার করবে, চাই সেই ফয়সালা মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে হোক অথবা কোনো সাধারণ বিধানের ক্ষেত্রে। সুতরাং কেউ যদি বলে: মৃত প্রাণী হারাম, তবে সে ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা করেছে। আর কেউ যদি বলে: উদাহরণস্বরূপ স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ বজায় রাখা ওয়াজিব, তবে সে ন্যায়সঙ্গত কথা বলেছে; কারণ এই বিধান কুরআনে বিদ্যমান। আর যে ব্যক্তি বলল: "সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর তদ্রূপ আক্রমণ করো যেমন সে তোমাদের ওপর করেছে" (আল-বাকারা: ১৯৪), সে ন্যায়সংগত ফয়সালা করল।
তদ্রূপ তিনি বলেন: "আর যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান করবে, তাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া হয়েছে", অর্থাৎ আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেছেন। সুতরাং মানুষ যখন কুরআনের দিকে আহ্বান করে, তখন তাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে যখন সে কুপ্রবৃত্তির দিকে আহ্বান করে এবং আপন প্রবৃত্তির স্বার্থে কুরআনের অপব্যাখ্যা করে, তখন সে পথভ্রষ্ট হয়। এই কারণেই তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।"
"আর যে কোনো স্বৈরাচারী ব্যক্তি অহংকারবশত একে পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন।" ধ্বংস বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করা শব্দের মূল অর্থ হলো তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। তবে বর্তমানে আমরা অনেক স্বৈরাচারীকে কুরআন বর্জন করতে দেখেও ধ্বংস হতে দেখছি না—এরূপ আপত্তি আমাদের ওপর আসবে না; কারণ আমরা বলি: এই ধ্বংস হওয়া দুনিয়াতেও হতে পারে আবার আখিরাতেও হতে পারে। সুতরাং যদি কারো ক্ষেত্রে দুনিয়াতে তা না ঘটে, তবে আখিরাতে তা অবশ্যই ঘটবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
* * *
قال تعالي: (فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَاى فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى (123) وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى (124) قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيراً (125) قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى) (طه: 123-126) .
الشرح
قوله: (فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ) هذه الجملة جملة شرطية، لأن أصلها إن ما، وما زائدة للتوكيد، وفعل الشرط: يأتينكم، وجواب الشرط جملة: (فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَاى) وهذه الجملة أيضاً جملة شرطية، فالجملة الشرطية الثانية- من فعل الشرط وجوابه- جواب للشرط الأول.
وقوله تعالي: (فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى) أي: لا يضل في علمه، ولا يشقي في عمله، وقيل: لا يضل في الدنيا ولا يشقي في الآخرة، والمعنيان متلازمان، لكن الغالب أن الضلال في مقابلة العلم والهدي، وأن الشقاء في مقابلة السعادة.
وقوله تعالي: (وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِى فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى) (طه: 124) قيل: إن المراد بالمعيشة الضنك عذاب القبر، وأنه يضيق عليه قبره حتى تختلف أضلاعه.
وقيل: إن المراد بالمعيشة الضن معيشته في الدنيا، وأنه وإن كان في سرور ظاهر، فإن قلبه في ضيق وضنك، كما قال الله تعالى:
মহান আল্লাহ বলেন: (অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসে, তবে যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। (১২৩) আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। (১২৪) সে বলবে, হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় হাশর করালেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। (১২৫) তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে।) (ত্বহা: ১২৩-১২৬)।
ব্যাখ্যা
তাঁর বাণী: (অতঃপর যদি তোমাদের কাছে আসে) - এই বাক্যটি একটি শর্তমূলক বাক্য। কারণ এর মূল রূপ হলো 'ইন' ও 'মা', আর এখানে 'মা' বর্ণটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। এখানে শর্তের ক্রিয়া হলো: 'তোমাদের কাছে আসে', আর শর্তের উত্তর হলো: (তবে যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে) এই বাক্যটি। এই বাক্যটিও একটি শর্তমূলক বাক্য। সুতরাং দ্বিতীয় শর্তমূলক বাক্যটি—শর্তের ক্রিয়া ও এর উত্তরসহ—প্রথম শর্তের উত্তর হিসেবে গণ্য হবে।
মহান আল্লাহর বাণী: (সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না) অর্থাৎ: সে তার জ্ঞানের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হবে না এবং তার কর্মের ক্ষেত্রে দুর্ভাগা হবে না। আবার বলা হয়েছে: সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখেরাতে দুর্ভাগা হবে না। উভয় অর্থই একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, তবে সাধারণত পথভ্রষ্টতা হলো জ্ঞান ও হেদায়াতের বিপরীত এবং দুর্ভাগ্য হলো সৌভাগ্যের বিপরীত বিষয়।
মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব) (ত্বহা: ১২৪)। বলা হয়েছে যে: সংকীর্ণ জীবন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কবরের আজাব, যেখানে তার জন্য কবর এমনভাবে সংকীর্ণ হয়ে যাবে যে, তার একদিকের পাঁজরের হাড় অন্যদিকের হাড়ের মধ্যে ঢুকে যাবে।
আবার বলা হয়েছে: সংকীর্ণ জীবন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার জীবন। যদিও বাহ্যিকভাবে তাকে সুখী মনে হয়, তবুও তার অন্তর সংকীর্ণতা ও কষ্টের মধ্যে থাকে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقاً حَرَجاً كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاء) (الأنعام: 125) وكما قال تعالى:. (مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً) (النحل: 97) ، فإن هذا يدل على أن من ليس كذلك فحياته غير طيبة.
وقوله تعالي: (وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى) ، وذلك حساً ومعني، ولهذا يقول: (رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيراً) (قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا) يعني تركتها ولم تعمل بها، (وَكَذَلِكَ الْيَوْم تُنْسَى) يعني تترك.
والشاهد أن هذا فيه دليل على أن التمسك بهذا القرآن سبب للسعادة في الدنيا والآخرة، وأن المتمسك به لا يضل ولا يشقى، وأن الإعراض عنه سبب للشقاء في الدنيا والآخرة.
* *
وقال تعالي: (قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيراً مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ) (15) (يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ) (المائدة: 15-16) .
الشرح
علم من هذا القرآن موحى به، وأنه سبب الهداية بإذن الله، وأن المهتدي به من اتبع رضوان الله، كما قال تعالي: (هُدىً لِلْمُتَّقِينَ) (البقرة: 2) وقال تعالي: (يَايُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ
"আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করতে চান, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষ সংকীর্ণ ও অতিশয় সংকুচিত করে দেন, মনে হয় যেন সে আকাশে আরোহণ করছে" (আল-আনআম: ১২৫)। মহান আল্লাহ আরও যেমন বলেছেন: "পুরুষ হোক কিংবা নারী, যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, আমি অবশ্যই তাকে এক পবিত্র জীবন দান করব" (আন-নাহল: ৯৭)। এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি এরূপ নয়, তার জীবন পবিত্র নয়।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "কেয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব"। এটি ইন্দ্রিয়গত এবং অর্থগত উভয় অর্থেই প্রযোজ্য। এজন্যই সে বলবে: "হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন, অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম?" আল্লাহ বলবেন: "এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে (অর্থাৎ তা বর্জন করেছিলে এবং সে অনুযায়ী আমল করোনি), ঠিক তেমনিভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে (অর্থাৎ বর্জন করা হবে)"।
প্রাসঙ্গিক বিষয়টি হলো যে, এই কুরআনের আদর্শকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের কারণ। যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর এটি থেকে বিমুখ হওয়া দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভাগ্যের কারণ।
* *
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছুই তোমাদের কাছে প্রকাশ করেন এবং অনেক কিছু উপেক্ষা করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে, তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং স্বীয় অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন" (আল-মায়িদাহ: ১৫-১৬)।
ব্যাখ্যা
এ থেকে জানা যায় যে, এই কুরআন প্রত্যাদেশকৃত ওহি (وحي) এবং এটি আল্লাহর অনুমতিক্রমে হিদায়াতের কারণ। আর এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তিই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয় যে আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "এটি মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত" (আল-বাকারাহ: ২)। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে মানুষ! তোমাদের নিকট এসেছে..."
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ) (يونس: 57) .
ثم يقول: (يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ) (المائدة: 16) وسبل السلام مفعول ثان ليهدي، لأن ((يهدي)) فعل ينصب مفعولين؛ الأول: من اتبع، والثاني: سبل السلام.
وفي هذه الآية قال تعالي: ((يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ)) مع أن سبيل الله واحد كما قال الله تعالي: (وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ) (الأنعام: 153) والجمع بين الآيتين أن يقال: إن سبيل الحق واحد، لكن له فروع وشعب، من صلاة، وزكاة، وصوم، وحج، وجهاد، وبر، وصلة وما أشبه ذلك، فهذه سبل لكنها تجتمع كلها في سبيل واحد، وأيضاً لا يمكن أن تطلق سبل ويراد بها الإسلام، وإنما تضاف كما في قوله: (سُبُلَ السَّلامِ) فإذا كانت كلها مؤدية إلي السلام فهي الإسلام.
وقوله عز وجل: (وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِه) أي: المعنوية؛ لأن القرآن هدايته معنوية، فيخرجهم من الظلمات أي: ظلمات الجهل، وظلمات القصد، وظلمات الجهل ألا يكون عند الإنسان علم، وظلمات القصد أن يكون عنده علم لكن لا يريد الحق ولا يؤمن به، إذاً فالنور نور العلم ونور العمل.
وقوله: (بِإِذْنِه) في الآية: (يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ) قد يقول قائل: كيف قال الله تعالى يهدي به بإذنه مع أن الله تعالى لا يهدي إلا بعد
...তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময়, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত) (ইউনূস: ৫৭)।
অতঃপর তিনি বলেন: “(এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে)” (আল-মায়িদাহ: ১৬)। এখানে ‘শান্তির পথসমূহ’ শব্দটি ‘পরিচালিত করা’ (ইয়াহদী) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল), কারণ ‘ইয়াহদী’ এমন একটি ক্রিয়া যা দুটি কর্মকে নসব প্রদান করে; প্রথমটি হলো: ‘যে অনুসরণ করে’ (মান ইত্তাবা), এবং দ্বিতীয়টি হলো: ‘শান্তির পথসমূহ’ (সুবুলুস সালাম)।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “(এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে)”, অথচ আল্লাহর পথ মাত্র একটি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “(আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করবে)” (আল-আনআম: ১৫৩)। এই আয়াত দুটির মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে: সত্যের পথ মূলত একটিই, তবে এর বিভিন্ন শাখা ও প্রশাখা রয়েছে। যেমন—সালাত, জাকাত, সওম, হজ, জিহাদ, পুণ্য কাজ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। এগুলো বিভিন্ন পথ হওয়া সত্ত্বেও সবই একটি মূল পথে গিয়ে মিলিত হয়। এছাড়া ‘পথসমূহ’ শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করে ইসলামকে বোঝানো সম্ভব নয়, বরং এটি অন্য শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় যেমন তাঁর বাণী: ‘শান্তির পথসমূহ’। সুতরাং যখন এই সমস্ত পথ শান্তির দিকে পরিচালিত করে, তখন তা-ই ইসলাম।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: “(এবং তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আনেন)” অর্থাৎ: আত্মিক বা অর্থগত দিক থেকে; কারণ কুরআনের হিদায়াত হলো আত্মিক। ফলে তিনি তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আনেন অর্থাৎ: অজ্ঞতার অন্ধকার এবং অসৎ সংকল্পের অন্ধকার। অজ্ঞতার অন্ধকার হলো মানুষের জ্ঞান না থাকা, আর অসৎ সংকল্পের অন্ধকার হলো মানুষের জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সত্যকে না চাওয়া এবং তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন না করা। সুতরাং, আলো হলো জ্ঞানের আলো এবং কর্মের আলো।
এবং আয়াতে তাঁর বাণী: “(তাঁর অনুমতিক্রমে)”— “(এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আনেন)”। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করতে পারে: আল্লাহ তাআলা কেন বললেন যে, ‘তিনি এর মাধ্যমে তাঁর অনুমতিক্রমে হিদায়াত দান করেন’, অথচ আল্লাহ তো হিদায়াত দান করেন না কেবল...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أن يريد؟ فيقال: إن قوله: (بِإِذْنِه) متعلق بقوله: ((مَنِ اتَّبَعَ)) يعني من اتبع رضوانه بإذنه؛ لأن الإنسان لا يستقل بعمله ولا رأيه، فهو لا يفعل إلا بإذن الله.
وقوله تعالي: (وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ) ، هذا من باب عطف الصفة، لأن قوله (يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ) هو معني قوله تعالي: (وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ) إلا أن تفسر الهداية الأولي بهداية التوفيق، والثانية بهداية الدلالة، ولهذا عديت الثانية بإلي وعديت الأولي بنفسها، ويكون المعني: أن من اهتدي بالإسلام زاده الله تعالي علماً، كما في قوله تعالي: (وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدىً) (محمد: 17) .
* **
وقال تعالي: (الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ (1) اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ) (ابراهيم: 1-2) .
الشرح
هذا كالأول تقريباً لكن فيه فائدة، وهي صحة إضافة الشيء إلي سببه المعلوم لقوله: لِتُخْرِجَ يعني أنت، مع أن المخرج حقيقة هو الله، ولهذا قيده بقوله: (بِإِذْنِ رَبِّهِمْ) ، حتى لا يظن أن السبب مستقل، فإضافة الشي إلي سببه المعلوم أمر جائز، ولا أحد ينكره، فقد جاءت به السنة، وجاء به القرآن إذا كان السبب معلوماً، إما
কী বুঝাতে চেয়েছেন? এর উত্তরে বলা হয়: তাঁর বাণী: (তাঁর অনুমতিক্রমে) শব্দটি তাঁর এই বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট: ((যে অনুসরণ করে)) অর্থাৎ যে তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে; কারণ মানুষ তার কর্ম বা মতামতের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাই সে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কিছুই করে না।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তিনি তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন), এটি বৈশিষ্ট্যের আতাফ (عطف الصفة) এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তাঁর এই বাণী (এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে) মূলত মহান আল্লাহর এই বাণীরই অর্থ: (এবং তিনি তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন)। তবে প্রথম হিদায়াতকে তাওফিকের হিদায়াত (هداية التوفيق) এবং দ্বিতীয়টিকে দিকনির্দেশনার হিদায়াত (هداية الدلالة) হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে; এই কারণেই দ্বিতীয়টিকে ‘ইলা’ অব্যয় যোগে এবং প্রথমটিকে সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে। আর এর অর্থ হবে: যে ব্যক্তি ইসলামের মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, মহান আল্লাহ তার জ্ঞান বাড়িয়ে দেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (আর যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, তিনি তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছেন) (মুহাম্মদ: ১৭)।
* **
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: (আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, সেই পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনতে পারেন। (১) আল্লাহ, যাঁর জন্য রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তার মালিকানা) (ইব্রাহিম: ১-২)।
ব্যাখ্যা
এটি প্রায় প্রথমটির মতোই তবে এতে একটি বিশেষ উপকারিতা রয়েছে; আর তা হলো কোনো বিষয়কে তার সুপরিচিত কারণের (سبب) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সঠিক হওয়া। যেমন তাঁর বাণী: ‘যাতে আপনি বের করে আনেন’ অর্থাৎ এখানে ‘আপনি’ সম্বোধন করা হয়েছে, যদিও প্রকৃতপক্ষে বের করে আনয়নকারী হলেন আল্লাহ। এই কারণেই তিনি বিষয়টিকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেছেন: (তাদের রবের অনুমতিক্রমে), যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে কারণটি (سبب) স্বতন্ত্র বা স্বাধীন। সুতরাং কোনো বিষয়কে তার সুপরিচিত কারণের (سبب) দিকে সম্বন্ধ করা একটি বৈধ বিষয় এবং কেউ তা অস্বীকার করে না; সুন্নাহ ও কুরআনে এটি বর্ণিত হয়েছে যখন কারণটি সুপরিচিত হয়, চাই তা...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بالشرع وإما بالحس والواقع، ولكن هذا السبب يجب إذا اعتقدت أنه يحصل به الشي فيجب أن تعلم أن هذا السبب ليس مؤثراً بنفسه، بل بإذن الله الذي جعله سبباً، ولهذا قال هنا: (بِإِذْنِ رَبِّهِمْ) .
وقوله: (الْحَمِيدِ) بوزن الفعيل، وهل هو بمعني فاعل أو بمعني مفعول أو بمعناهما؟ الجواب أنه بمعناهما، فهو محمود سبحانه وتعالى على أفعاله وصفاته، وهو حامد لعباده الذين يستحقون الحمد والثناء.
وقوله: (اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأرْضِ) لفظ الجلالة هنا بدل من العزيز.
* * *
وقال تعالي: (وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الإيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ (52) مُسْتَقِيمٍ صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ) (الشورى: 52-53) .
الشرح
قال تعالي: (وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا) ، (رُوحاً) أي القرآن، وسماه الله تعالي روحاً، لأن به الحياة المعنوية، وإن شئت فقل الحقيقية أيضاً، لأن من اهتدي به فإن له الحياة الكاملة في الدنيا وفي الآخرة.
وقوله (رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا) يعني مما نأمر به ونوحي به، وبهذا
শরীয়তের মাধ্যমে অথবা ইন্দ্রিয়ানুভুতি ও বাস্তবতার মাধ্যমে। তবে এই কারণটির ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই এটি বিশ্বাস করা উচিত যে, এর দ্বারা কোনো কিছু অর্জিত হলেও এই কারণটি নিজে থেকে প্রভাব বিস্তারকারী নয়, বরং আল্লাহর অনুমতিক্রমে হয়, যিনি একে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই কারণেই তিনি এখানে বলেছেন: (তাদের রবের অনুমতিক্রমে)।
এবং তাঁর বাণী: (আল-হামিদ) এটি ‘ফায়ীল’ এর ওজনে এসেছে। এটি কি ‘ফায়িল’ (কর্তা) অর্থে নাকি ‘মাফউল’ (কর্ম) অর্থে, নাকি উভয় অর্থে? উত্তর হলো: এটি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর কার্যাবলী ও গুণাবলীর জন্য প্রশংসিত, আবার তিনি তাঁর ঐ সকল বান্দাদের প্রশংসাকারী যারা প্রশংসা ও স্তুতির যোগ্য।
এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহর, যাঁর জন্য রয়েছে যা কিছু আসমানে আছে এবং যা কিছু যমীনে আছে) এখানে মহান আল্লাহর পবিত্র নাম ‘আল্লাহ’ শব্দটি ‘আল-আজিজ’ এর বদল (বিনিময় শব্দ) হিসেবে এসেছে।
* * *
আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে ‘রূহ’ ওহী করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী? কিন্তু আমি একে করেছি একটি নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন। সেই আল্লাহর পথ, যাঁর মালিকানায় আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়) (আশ-শুরা: ৫২-৫৩)।
ব্যাখ্যা
আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে ‘রূহ’ ওহী করেছি), এখানে ‘রূহ’ অর্থ হলো কুরআন। আল্লাহ তাআলা একে ‘রূহ’ নামে অভিহিত করেছেন, কারণ এর মাধ্যমেই আধ্যাত্মিক জীবন লাভ হয়। আপনি চাইলে একে ‘প্রকৃত জীবন’ও বলতে পারেন; কারণ যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়, সে দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ণাঙ্গ জীবন লাভ করে।
এবং তাঁর বাণী (আমার নির্দেশ থেকে রূহ) অর্থাৎ যা আমি নির্দেশ প্রদান করি এবং ওহী করি। আর এর মাধ্যমে
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
استدللنا على أن القرآن غير مخلوق، من قوله (ً مِنْ أَمْرِنَا) ووجه ذلك أن الله قال في آية أخري: (ِ أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْر) فجعل الأمر قسيماً للخلق، والقرآن من الأمر لا من الخلق، فتبين بهذا أن القرآن غير مخلوق.
وقوله: (مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الإيمَانُ) فالفعل تدري ينصب مفعولين علقت بما الاستفهامية، وما: استفهام مبتدأ، والكتاب خبر، والجملة من المبتدأ والخبر في محل نصب سد مسد مفعولي تدري؛ لأن الرسول صلي الله عليه وسلم ما كان يدري ما الكتاب ولا الإيمان قبل أن يوحي إليه.
وقوله: (وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ) يعني: صيرنا هذا الروح الذي أوحينا إليك نوراً نهدي به من نشاء من عبادنا، وكلمة (مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا) عامة، ولا ندري من الذي يشاء الله أن يهديه بالقرآن، لكن إذا رجعنا إلي الآية التي قبلها صار الذي يهديه به الله من اتبع رضوانه من عباده.
وقوله: (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ) ، قال هنا (نَهْدِي بِهِ) وفي نفس الآية: (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي) ..لكن بين الهدايتين فرق، (نَهْدِي بِهِ) هداية توفيق وهداية ولابة، ولهذا عديت بنفسها (تهدي به من) ، وأما (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاط) فهي هداية دلالة، فالرسول صلي الله عليه وسلم يهدي لله، ولا يهدي من، قال تعالى: (إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْت) (القصص: من الآية56) ، لكن (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاط) فهو عليه الصلاة السلام يدل الناس، لكن ليس بيده هداية التوفيق.
يقول تعالي: (صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْض)
আমরা কুরআন সৃষ্টি নয় (غير مخلوق) হওয়ার স্বপক্ষে তাঁর বাণী "আমাদের নির্দেশ হতে" দ্বারা দলিল পেশ করেছি। এর প্রেক্ষাপট হলো, আল্লাহ অন্য এক আয়াতে বলেছেন: "জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই।" এখানে তিনি নির্দেশকে সৃষ্টির একটি সমান্তরাল বা ভিন্ন বিভাগ (قسيم) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর কুরআন নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত, সৃষ্টির নয়; সুতরাং এর মাধ্যমে প্রতিপন্ন হলো যে, কুরআন সৃষ্টি নয় (غير مخلوق)।
এবং তাঁর বাণী: "আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ইমান কী।" এখানে "জানতেন" ক্রিয়াটি দুটি কর্মপদ (مفعولين) গ্রহণ করে, যা প্রশ্নবোধক "মা" দ্বারা আমল স্থগিত (تعليق) রাখা হয়েছে। এখানে "মা" হলো প্রশ্নবোধক উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং "আল-কিতাব" হলো বিধেয় (خبر)। এই উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে গঠিত বাক্যটি নাসব (نصب) এর স্থলে "তাদরি" ক্রিয়ার দুটি কর্মপদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে জানতেন না কিতাব কী এবং ইমান কী।
এবং তাঁর বাণী: "কিন্তু আমি একে একটি নূর করেছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করি।" অর্থাৎ: আমরা আপনার প্রতি ওহি হিসেবে যে রুহ অবতীর্ণ করেছি, তাকে আমরা নূরে পরিণত করেছি যার মাধ্যমে আমরা আমাদের বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ দেখাই। আর "আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা" শব্দগুচ্ছটি সাধারণ বা ব্যাপক (عام); আল্লাহ কাকে কুরআনের মাধ্যমে হেদায়েত দিতে চান তা আমাদের জানা নেই, তবে আমরা যদি এর পূর্ববর্তী আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখা যায় যে, তিনি তাঁর ঐ সকল বান্দাকেই এর মাধ্যমে হেদায়েত দেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে।
এবং তাঁর বাণী: "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন।" তিনি এখানে বলেছেন "আমরা এর মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করি" এবং একই আয়াতে বলেছেন: "এবং নিশ্চয়ই আপনি পথপ্রদর্শন করছেন।" তবে উভয় হেদায়েতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। "আমরা এর মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করি" হলো তাওফীক প্রদানের হেদায়েত (هداية توفيق) এবং কর্তৃত্বের হেদায়েত; একারণেই এটি সরাসরি কর্মপদের দিকে নির্দেশিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন" হলো পথপ্রদর্শন বা দিকনির্দেশনামূলক হেদায়েত (هداية دلالة)। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দিকে পথপ্রদর্শন করেন, কিন্তু তিনি (সরাসরি হৃদয়ে) হেদায়েত দান করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না" (কাসাস: ৫৬)। তবে "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন" এর অর্থ হলো তিনি মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, কিন্তু তাওফীক প্রদানের হেদায়েত (هداية توفيق) তাঁর হাতে নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "সেই আল্লাহর পথ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব যাঁরই।"
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
هنا أضيف الصراط إلي الله عز وجل وقد أضيف في سورة الفاتحة إلي غير الله، فقال تعالي (صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ) ولا تعارض بين الإضافتين، فإن إضافته إلي الله باعتبار أنه هو الذي وضعه لعباده، وأنه موصل إليه، وإضافته إلي الناس في قوله: (صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ) باعتبار أنهم أهله وسالكوه، فالإضافة مختلفة، فلهذا صح أن تضاف إلي هذا تارة وإلي هذا تارة.
وقوله: (أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ) الأمور هنا أي الشؤون، فكل الأمور الدنيوية والأخروية، الشرعية والكونية، كلها تصير إلي الله سبحانه وتعالي، ولهذا لا مرجع للخلق إلا ربهم سبحانه وتعالي، في جميع أحوالهم وشؤونهم الدينية والدنيوية، كما قال تعالي: (وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ) (الشوري: 10) وكذلك الأمور الكونية (قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ) (88) (سَيَقُولُونَ لِلَّه) (المؤمنون: من الآية88-89) .
وتصدير الجملة بألا في قوله تعالي: (أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ) للتنبيه الدال على الأهمية، وتقديم المتعلق يفيد الحصر، يعني: ألا إلي الله لا إلي غيره.
* *
وقد كتبت هذه المقدمة مختصرة بحسب تيسير الله تعالى من إملاء الفؤاد، والله الهادي
إلى سبيل الرشاد.
الشرح
يقول المؤلف: ((وقد كتبت هذه المقدمة)) ، والمقدمة يجوز فيها
এখানে সিরাতকে (পথ) আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করা হয়েছে, আবার সূরা ফাতিহায় তা আল্লাহ ছাড়া অন্যের দিকেও সম্বন্ধ (إضافة) করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: (صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ)। এই দুই সম্বন্ধের (إضافة) মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা আল্লাহর দিকে এর সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার কারণ হলো, তিনিই এটি তাঁর বান্দাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন এবং এটি তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম। আর আল্লাহর বাণী: (صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ)-এ মানুষের দিকে এর সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার কারণ হলো, তারা এই পথের অনুসারী ও পথিক। সুতরাং সম্বন্ধের (إضافة) ধরণ ভিন্ন। এ কারণেই একবার এর দিকে এবং অন্যবার ওর দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করা সঠিক হয়েছে।
এবং তাঁর বাণী: (أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ) – এখানে ‘উমুর’ অর্থ হলো বিষয়াদি। সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতের শরয়ি এবং সৃষ্টিগত সকল বিষয়ই মহান আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। এ কারণে সকল সৃষ্টিজগতের জন্য তাদের প্রতিপালক ছাড়া আর কোনো গন্তব্যস্থল নেই, তাদের দ্বীনি ও দুনিয়াবি সকল অবস্থা ও বিষয়ের ক্ষেত্রে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: (وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ) (আশ-শুরা: ১০)। তদ্রূপ সৃষ্টিগত বিষয়াবলির ক্ষেত্রেও (আল্লাহ বলেন): (قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ * سَيَقُولُونَ لِلَّه) (আল-মু’মিনুন: ৮৮-৮৯)।
মহান আল্লাহর বাণী (أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ)-তে ‘আলা’ (ألا) দিয়ে বাক্য শুরু করা হয়েছে বিষয়টির গুরুত্বের প্রতি সতর্কীকরণের (تنبيه) জন্য। আর সংশ্লিষ্ট পদটি অগ্রে আনা (تقديم المتعلق) সীমাবদ্ধকরণ (حصر)-এর অর্থ প্রদান করে; অর্থাৎ: জেনে রেখো, কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটেই, অন্য কারো নিকট নয়।
* *
আল্লাহর সহজ করে দেওয়া তাওফিকে আমি মনের অন্তস্থল থেকে এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকা (المقدمة) লিখেছি। আর আল্লাহই সত্য পথের দিশারী।
ব্যাখ্যা
লেখক বলছেন: ((আমি এই ভূমিকা (المقدمة) লিখেছি)), আর ভূমিকা (المقدمة) শব্দটিতে বৈধ হলো...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وجهان: المقدمة
والمقدمة فالمقدمة باعتبار أن الكتاب قدمها بين يدي الكاتب، والمقدمة باعتبار أنها تقدمه للكتاب، كأنها تقدم الكتاب.
فصل في أن النبي صلي الله عليه وسلم بين لأصحابه معاني القرآنيجب أن يعلم أن النبي صلي الله عليه وسلم بين لأصحابه معاني القرآن كما بين لهم ألفاظه؛ فقوله تعالي: (لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) (النحل: 44) يتناول هذا وهذا.
الشرح
وكذلك قوله تعالي: (ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ) (القيامة: 19) ، يتضمن هذا وهذا، أي: بيان لفظه وبيان معناه، وفي هذا رد واضح على أهل التفويض، الذين يقولون: إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يبين معاني أسماء الله وصفاته، فإننا نقول لهم: قولكم هذا إما أن تعنوا أن الرسول صلي الله عليه وسلم جاهل بمعاني أسماء الله وصفاته، وإما أنه كاتم لما يعلمه من ذلك، فإن قلتم بالأول وصفتموه بالجهل، وإن قلتم بالثاني وصفتموه بالخيانة.
وقوله: (لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) اللام هذه للتعليل، يعني لأجل هذا، وليست للأمر، والدليل على أنها ليست للأمر أن الفعل بعدها منصوب.
* * *
وقد قال أبو عبد الرحمن السلمي: حدثنا الذين كانوا يقرئوننا القرآن، كعثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود، وغيرهما أنهم كانوا
এর দুটি দিক রয়েছে: মুকাদ্দিমা (المقدمة) এবং মুকাদ্দামা (المقدمة)। 'মুকাদ্দামা' এই বিবেচনায় যে, লেখক একে কিতাবের সম্মুখে পেশ করেছেন; আর 'মুকাদ্দিমা' এই বিবেচনায় যে, এটি পাঠককে কিতাবের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, যেন এটি কিতাবটিকে উপস্থাপন করছে।
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট কুরআনের অর্থসমূহ বর্ণনা করেছেনএটি জানা আবশ্যক যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট কুরআনের শব্দসমূহ যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তেমনিভাবে এর অর্থসমূহও বর্ণনা করেছেন; মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" (আন-নাহল: ৪৪) — এই আয়াতটি শব্দ ও অর্থ উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
ব্যাখ্যা
অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা করার দায়িত্ব আমাদেরই" (আল-কিয়ামাহ: ১৯), এটিও শব্দ ও অর্থ উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ এর শব্দের বর্ণনা এবং এর অর্থের বর্ণনা। আর এর মধ্যে তাফউইদপন্থী (أهل التفويض)-দের প্রতি সুস্পষ্ট খণ্ডন রয়েছে, যারা বলে যে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ বর্ণনা করেননি। আমরা তাদের বলি: তোমাদের এই কথাটির অর্থ হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, অথবা তিনি যা জানতেন তা গোপন করেছেন। যদি তোমরা প্রথমটি বলো, তবে তাঁকে অজ্ঞতায় বিশেষিত করলে, আর যদি দ্বিতীয়টি বলো, তবে তাঁকে খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করলে।
আর তাঁর বাণী: "যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" — এখানে 'লাম' অক্ষরটি কারণ দর্শানোর (للتعليل) জন্য এসেছে, অর্থাৎ 'এই উদ্দেশ্যে'; এটি নির্দেশের (للأمر) জন্য নয়। এটি যে নির্দেশের জন্য নয় তার প্রমাণ হলো এর পরবর্তী ক্রিয়াটি নসব (منصوب) অবস্থায় রয়েছে।
* * *
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী বলেছেন: যারা আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন, যেমন উসমান ইবনে আফফান, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যগণ, তাঁরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে তাঁরা যখন...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يحاوزوها حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعاً (1) ولهذا كانوا يبقون مدة في حفظ السورة.
وقال أنس: كان الرجل إذا قرأ البقرة وآل عمران جدً في أعيننا (2)
الشرح
يعني صار جليلاً معظماً؛ لأنهم لا يحفظونه إلا إذا عرفوا معناه، معني ذلك أن الإنسان إذا كان يحفظ البقرة لفظاً ومعنى، وآل عمران لفظاً ومعنى، فعنده علم كبير.
* * *
وأقام ابن عمر على حفظ البقرة عدة سنين- قيل: ثماني سنين- ذكره مالك (3) وذلك أن الله تعالي قال: (كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ) (صّ: 29) وقال: (أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآن) (محمد: 24) ، وقال: (أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْل) (المؤمنون: 68) وتدبر
--------------------------------------------
যখন তারা নবী (সা.)-এর নিকট থেকে দশটি আয়াত শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত না তাতে বিদ্যমান ইলম ও আমল সম্পর্কে জানতেন, ততক্ষণ তা অতিক্রম করতেন না। তারা বলতেন: আমরা কুরআন, ইলম ও আমল সব একসাথে শিখেছি (১)। এ কারণেই তারা একটি সূরা মুখস্থ করার জন্য দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন।
আনাস (রা.) বলেন: কোনো ব্যক্তি যখন সূরা আল-বাকারা ও সূরা আল-ইমরান পাঠ করত, তখন আমাদের দৃষ্টিতে সে অত্যন্ত মর্যাদাবান হয়ে উঠত (২)
ব্যাখ্যা
অর্থাৎ সে মহান ও সম্মানিত হয়ে উঠত; কারণ তারা এর অর্থ না জানা পর্যন্ত তা মুখস্থ করত না। এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি যদি সূরা আল-বাকারা এবং সূরা আল-ইমরানের শব্দ ও অর্থ উভয়ই আয়ত্ত করে, তবে তার কাছে বিশাল ইলম রয়েছে।
* * *
ইবনে উমর (রা.) সূরা আল-বাকারা মুখস্থ করার জন্য কয়েক বছর—বলা হয় আট বছর—সময় ব্যয় করেছিলেন। মালিক এটি উল্লেখ করেছেন (৩)। আর এটি একারণে যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “(এটি) একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (تدبر) করে এবং যাতে জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা সোয়াদ: ২৯)। তিনি আরও বলেছেন: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (تدبر) করে না?” (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)। তিনি আরও বলেছেন: “তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (تدبر) করেনি?” (সূরা আল-মুমিনুন: ৬৮)। আর গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (تدبر) করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الكلام بدون فهم معانيه لا يمكن، وكذلك قال تعالي: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) (يوسف: 2) وعقل الكلام متضمن لفهمه.
الشرح
قوله تعالي: (كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ) فبركة القرآن في تلاوته وتدبره، والعمل به، وما يحصل فيه من التأثير على القلب لزيادة الإيمان، ومعرفة الله عز وجل وأسمائه وصفاته وأحكامه، وكذلك ما حصل فيه من التأثير على الأمم، حيث فتح الله بهذا القرآن مشارق الأرض ومغاربها كل هذا من بركاته، وكذلك ما حصل للمتمسكين به من الرفعة والعزة والظهور على جميع الأمم، وكذلك ما يحصل للمتمسك به من صحة القصد، وسلامة المنهج، والسعادة في الدنيا والآخرة، فالمهم أن بركات هذا القرآن لا تحصى.
وقوله: (لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ) ، هذا فيه ثناء عظيم على من تذكر بالقرآن واتعظ به، وأنه هو صاحب اللب، أي العقل.
وقوله تعالي: (أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآن) هذا فيه حث على تدبر القرآن؛ لأن الله وبخ هؤلاء الذين لا يتدبرونه، وقوله تعالي: (أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْل) كذلك، والمراد بالقول هنا القرآن، واقرأ قوله تعالي: (أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُمْ مَا لَمْ يَأْتِ آبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ) (المؤمنون 68، 69) . فأتى بالقرآن وأتى بالسنة: (أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ) (المؤمنون: 69) .
অর্থের মর্মার্থ না বুঝে কথা বলা সম্ভব নয়। একইভাবে মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।" (ইউসুফ: ২) আর কোনো কথা উপলব্ধি করার বিষয়টি তার অর্থ অনুধাবনেরই অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা
মহান আল্লাহর বাণী: "এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যেন তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে।" সুতরাং কোরআনের বরকত এর তিলাওয়াত, গভীর চিন্তা-গবেষণা, এর ওপর আমল করা এবং ঈমান বৃদ্ধি ও মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও বিধানসমূহ চেনার ক্ষেত্রে অন্তরে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়, তার মাঝে নিহিত। একইভাবে বিভিন্ন জাতির ওপর এর যে প্রভাব পড়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ এই কোরআনের বদৌলতে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ জয় করেছেন, এ সবই এর বরকতের অংশ। একইভাবে যারা একে আঁকড়ে ধরেছে তাদের জন্য যে উন্নতি, মর্যাদা এবং সকল জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছে, তাও এর অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ একে ধারণকারীর সদিচ্ছা, মানহাজ বা পদ্ধতির বিশুদ্ধতা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য লাভও এর বরকতের ফসল। মূলকথা হলো, এই কোরআনের বরকতসমূহ গণনা করে শেষ করা যাবে না।
আর তাঁর বাণী: "যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে এবং বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।" এতে ঐ সকল ব্যক্তির সুউচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে যারা কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে; আর এরাই হলো প্রকৃত বিবেকবান তথা বুদ্ধিমান।
মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করে না?" এতে কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে; কারণ আল্লাহ ঐ লোকদের তিরস্কার করেছেন যারা এতে চিন্তা-গবেষণা করে না। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না?" এখানে 'আল-কাওল' (বাণী) দ্বারা কোরআন উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য করুন: "তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? নাকি তারা তাদের রাসূলকে চেনে না, ফলে তারা তাঁকে অস্বীকার করছে?" (আল-মুমিনুন: ৬৮, ৬৯)। সুতরাং এখানে কোরআন এবং সুন্নাহ উভয়টিই উপস্থাপিত হয়েছে: "নাকি তারা তাদের রাসূলকে চেনে না, ফলে তারা তাঁকে অস্বীকার করছে?" (আল-মুমিনুন: ৬৯)।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال تعالي: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) (يوسف: 2) لعل هذه للتعليل، وتعقلون يعني تفهمونه فهماً كاملاً؛ لأنه من المعلوم أنه لو نزل على العرب بلغة غير العربية، ما عقلوه ولا فهموه، والعقل يأتي بمعني الفهم، كما قال الله تعالي: (وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ) (البقرة: 75) .
* *
ومن المعلوم أن كل كلام فالمقصود منه فهم معانيه دون مجرد ألفاظه، فالقرآن أولى بذلك.
وأيضاً فالعادة تمنع أن يقرأ قوم كتاباً في فن من العلم، كالطب والحساب ولا يستشرحوه. فكيف بكلام الله تعالى الذي هو عصمتهم وبه نجاتهم وسعادتهم وقيام دينهم ودنياهم؟!
الشرح
هذا كلام صحيح، فإننا لو كنا مثلاً ندرس كتاب زاد المستقنع، ونقرؤه ثم نمشي فإننا لا نستفيد، وكذلك لو قرأنا كتاباً مثلا في الطب أو في الكيمياء أو ما أشبه ذلك، بأن نقرأ ونمشي، فإننا لن نستفيد أبداً، فلقد جرت العادة المؤكدة أنه لا يمكن أن نقرأ أي كتاب إلا ونستشرحه، بأن نطلب من يشرحه لنا، وإلا صارت قراءتنا له عبثاً.
ولا يقال إن القرآن يختلف عن ذلك لكون الإنسان يثاب على تلاوته، فيقال إن القرآن له جهتان: جهة تعبد وجهة عمل وتنفيذ، فالأولى قد تحصل بأن يتعبد الإنسان لله عز وجل بقراءة القرآن. لكن الثانية التي نزل من أجلها (لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ)
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো) (ইউসুফ: ২)। এখানে ‘লাআল্লা’ শব্দটি কারণ দর্শানোর (للتعليل) উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘তোমরা বুঝতে পারো’ অর্থ হলো তোমরা যেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি (تعقلون) করতে পারো; কেননা এটি সুনিশ্চিত যে, যদি কুরআন আরবদের ওপর আরবি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় নাযিল হতো, তবে তারা তা অনুধাবন করতে পারতো না এবং বুঝতে পারতো না। আর ‘আকল’ বা বুদ্ধি এখানে অনুধাবনের (الفهم) অর্থে এসেছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (তাদের মধ্যে একটি দল ছিল যারা আল্লাহর কালাম শ্রবণ করত, অতঃপর তা অনুধাবন করার (عقلوه) পর জেনে-শুনে তা বিকৃত করত) (আল-বাকারাহ: ৭৫)।
* *
এটি সর্বজনবিদিত যে, যেকোনো বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হলো তার অর্থ উপলব্ধি করা, কেবল নিছক শব্দাবলি পাঠ করা নয়; সুতরাং কুরআনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি অগ্রগণ্য।
তদুপরি, প্রচলিত নিয়ম এটি হতে দেয় না যে, কোনো জাতি কোনো শাস্ত্রীয় কিতাব পাঠ করবে—যেমন চিকিৎসা শাস্ত্র বা গণিত—অথচ তারা তার ব্যাখ্যা অন্বেষণ (يستشرحوه) করবে না। তাহলে মহান আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হওয়া উচিত, যা তাদের জন্য সুরক্ষাস্বরূপ এবং যার মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাদের মুক্তি, সৌভাগ্য এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার স্থিতিশীলতা?!
ব্যাখ্যা
এটি একটি সঠিক কথা। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি ‘যাদুল মুসতাকনি’ বইটি অধ্যয়ন করি এবং কেবল তা পড়ে চলে যাই, তবে আমরা উপকৃত হতে পারব না। অনুরূপভাবে যদি আমরা চিকিৎসা শাস্ত্র বা রসায়ন শাস্ত্র বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ের বই কেবল পাঠ করে যাই, তবে আমরা কখনই লাভবান হতে পারব না। সুনিশ্চিত রীতি এই যে, কোনো বই পাঠ করলে অবশ্যই তার ব্যাখ্যা দাবি (نستشرحه) করতে হয় অর্থাৎ কারো কাছ থেকে তার ব্যাখ্যা জেনে নিতে হয়; অন্যথায় আমাদের সেই পাঠ নিরর্থক হয়ে যাবে।
আর এ কথা বলা যাবে না যে, কুরআন এই নিয়মের ব্যতিক্রম যেহেতু মানুষ এটি তিলাওয়াত করলেই সওয়াব লাভ করে। এর উত্তরে বলা হবে যে, কুরআনের দুটি দিক রয়েছে: একটি ইবাদতের (تعبد) দিক এবং অন্যটি আমল ও বাস্তবায়নের (تنفيذ) দিক। প্রথমটি অর্জিত হতে পারে যখন কোনো মানুষ কুরআন পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করে। কিন্তু দ্বিতীয় দিকটিই হচ্ছে সেই মূল উদ্দেশ্য যার জন্য এটি অবতীর্ণ হয়েছে: (যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (ليدبروا) করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে)।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مفقودة في حق من لم يعرف معني القرآن ولم يتعظ به.
* * *
ولهذا كان النزاع بين الصحابة في تفسير القرآن قليلاً جداً، وهو إن كان في التابعين أكثر منه في الصحابة، فهو قليل بالنسبة إلى من بعدهم، وكلما كان العصر أشرف كان الاجتماع والائتلاف والعلم والبيان فيه أكثر.
الشرح
وجه كون النزاع في التفسير في الصحابة أقل لسبين:
السبب الأول: أن القرآن نزل بلغتهم التي لم تتغير، فكانوا أفهم الناس لمعانيه، وأفضل له، ثم تغيرت الألسن بعدهم.
السبب الثاني: قلة الأهواء فيهم وسلامة قصدهم، فما تجد الرجل ينتصر لهواه ورأيه، ولكن كان الواحد منهم لا يقصد إلا الحق أينما وجده أخذه، حتى أن الخليفة يرجع إلي الحق الذي ذكرته به امرأة من النساء، ولم يقل أنا الخليفة لا يرد علي فأنا أعلم منها ولم يقل: أنا لي السلطة.
فلهذين السببين كان الخلاف بين الصحابة- رضوان الله عليهم- في تفسير كلام الله أقل.
ثم جاء التابعون من بعدهم فحصل نقص لا في السبب الأول ولا في السبب الثاني، بل إن التابعين كثرت الفتوح في زمنهم، واختلط العربي بالعجمي وتغيرت الألسن، وقد ذكر أن أول تأليف للنحو كان في عهد على بن أبي طالب رضي الله عنه.
এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত যে কোরআনের অর্থ বোঝে না এবং তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না।
* * *
আর এই কারণেই সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে কোরআনের ব্যাখ্যার (تفسير) ক্ষেত্রে মতভেদ ছিল খুবই সামান্য। যদিও তা তাবেয়ীদের (تابعين) মধ্যে সাহাবীদের (صحابة) তুলনায় বেশি ছিল, তবুও তাদের পরবর্তী যুগের তুলনায় তা ছিল নগণ্য। যুগ যত বেশি শ্রেষ্ঠ ছিল, সেখানে ঐক্য, সংহতি, জ্ঞান এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা তত বেশি ছিল।
ব্যাখ্যা
সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে তাফসিরের ক্ষেত্রে মতভেদ কম হওয়ার কারণ দুটি:
প্রথম কারণ: কোরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল যা তখনো অপরিবর্তিত ছিল, ফলে তারা এর অর্থের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন এবং এর জন্য সর্বোত্তম ছিলেন। অতঃপর তাদের পরবর্তী সময়ে ভাষার পরিবর্তন ঘটে।
দ্বিতীয় কারণ: তাদের মাঝে খেয়াল-খুশির অনুসরণ ছিল কম এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিষ্কলুষ। আপনি এমন কাউকে পাবেন না যে তার প্রবৃত্তি বা মতামতের পক্ষে লড়াই করত; বরং তাদের প্রত্যেকেই কেবল সত্যের অনুসন্ধান করতেন এবং যেখানেই তা পেতেন তা গ্রহণ করে নিতেন। এমনকি খলিফাও একজন মহিলার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্যের দিকে ফিরে আসতেন। তিনি এমনটি বলেননি যে, 'আমি খলিফা, আমার কথার বিরোধিতা করা যাবে না, আমি তার চেয়ে বেশি জানি' অথবা 'আমি ক্ষমতার অধিকারী'।
এই দুটি কারণেই আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সাহাবীদের (صحابة)—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—মধ্যে মতভেদ কম ছিল।
অতঃপর তাদের পরে তাবেয়ীদের (تابعين) যুগ আসে, তখন প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় কারণের ক্ষেত্রেই কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। বরং তাবেয়ীদের (تابعين) যুগে বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পায়, আরবরা অনারবদের সাথে মিশে যায় এবং ভাষার পরিবর্তন ঘটে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাকরণ শাস্ত্রের (نحو) প্রথম সংকলন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد كثرت الأهواء والفتن وانتصار الإنسان لرأيه، حتى أدى ذلك إلي التطاحن والتقاتل بين المسلمين، وعلى هذا فيكون الخلاف بينهم في تفسير كلام الله أكثر من الخلاف بين الصحابة، ثم كلما بعد العهد عن عصر النبوة، صار البلاء أشد، والتباس بالباطل الحق أعظم، وكما نجد الآن في زماننا، كل عمود في مسجد تحته عالم يرى نفسه أنه ابن تيمية، وكل خيمة في مني فيها عالم يرى نفسه أنه أحمد بن جنبل أو الشافعي.
ولهذا كثرت الأهواء حتى إنك لتجد في المسألة التي ليس فيها فيما سبق إلا قول واحد أو قولان، تجد فيها عدة أقوال؛ لأن العلم قليل والهوى كثير، فترتب على نقص العلم وكثرة الهوى الضياع والخلاف والشقاق وعدم الائتلاف.
* * *
ومن التابعين من تلقى جميع التفسير عن الصحابة، كما قال مجاهد: عرضت المصحف على ابن عباس، أوقفه عند كل آية منه وأسأله عنها؛ ولهذا قال الثوري: إذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به، ولهذا يعتمد على تفسيره الشافعي والبخاري وغيرهما من أهل العلم، وكذلك الإمام أحمد وغيره ممن صنف في التفسير، يكرر الطرق عن مجاهد أكثر من غيره.
والمقصود أن التابعين تلقوا التفسير عن الصحابة كما تلقوا عنهم علم السنة، وإن كانوا قد يتكلمون في بعض ذلك بالاستنباط والاستدلال كما يتكلمون في بعض السنن بالاستنباط والاستدلال.
প্রবৃত্তি ও ফিতনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের মাঝে নিজস্ব মতামতের পক্ষাবলম্বন করার প্রবণতা প্রকট হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত ও লড়াই পর্যন্ত গড়িয়েছে। এমতাবস্থায় আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার মতবিরোধ সাহাবী (الصحابة)-দের মধ্যকার মতবিরোধের চেয়েও অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতঃপর নবুওয়াতের যুগ থেকে সময় যত অতিবাহিত হয়েছে, বিপর্যয় তত কঠিন হয়েছে এবং সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ তত প্রবল হয়েছে; যেমনটি আমরা বর্তমানে আমাদের সময়ে দেখতে পাই—মসজিদের প্রতিটি খুঁটির নিচে এমন একজন আলেম রয়েছেন যিনি নিজেকে ইবনে তাইমিয়্যাহ মনে করেন, আর মিনার প্রতিটি তাঁবুতে এমন একজন আলেম রয়েছেন যিনি নিজেকে আহমাদ ইবনে হাম্বল কিংবা শাফিঈ মনে করেন।
এই কারণে প্রবৃত্তির অনুসরণ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, আপনি এমন মাসআলায় এখন অনেকগুলো মত খুঁজে পাবেন যাতে অতীতে কেবল একটি বা দুটি মত ছিল; কারণ বর্তমানে ইলম বা জ্ঞান খুবই সামান্য এবং প্রবৃত্তির আধিক্য অনেক বেশি। ফলে ইলমের স্বল্পতা এবং প্রবৃত্তির আধিক্যের কারণে পথভ্রষ্টতা, মতবিরোধ, বিভেদ ও ঐক্যের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
* * *
তাবিঈ (التابعين)-দের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা পূর্ণ তাফসির সাহাবী (الصحابة)-দের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। যেমন মুজাহিদ বলেছেন: "আমি ইবনে আব্বাসের নিকট পূর্ণ মুসহাফ পেশ করেছি; প্রতিটি আয়াতের নিকট তাঁকে থামাতাম এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম।" এই কারণেই আস-সাওরী বলেন: "যদি মুজাহিদের পক্ষ থেকে তোমার নিকট তাফসির পৌঁছে, তবে সেটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।" আর এ কারণেই শাফিঈ, বুখারী এবং অন্যান্য আলেমগণ তাঁর তাফসিরের ওপর নির্ভর করেন। একইভাবে ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য যারা তাফসির বিষয়ে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, তাঁরা মুজাহিদের বর্ণিত বর্ণনাসূত্রসমূহ (الطرق) অন্য কারো চেয়ে বেশি উল্লেখ করেন।
মূল কথা হলো, তাবিঈ (التابعين)গণ সাহাবী (الصحابة)-দের নিকট থেকে তাফসির সেভাবেই গ্রহণ করেছেন যেভাবে তাঁরা তাঁদের থেকে সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছেন। যদিও তাঁরা কখনো কখনো এগুলোর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইস্তিনবাত (الاستنباط) এবং ইস্তিদলাল (الاستدلال)-এর মাধ্যমে কথা বলেছেন, ঠিক যেভাবে তাঁরা কোনো কোনো সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইস্তিনবাত (الاستنباط) ও ইস্তিদলাল (الاستدلال)-এর মাধ্যমে কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الشرح
وهذا أمر لابد منه، يعني كون التابعين يزيدون على الصحابة في الاستدلال والاستنباط أمر لابد منه وضروري؛ لأنه حدثت أمور لم تكن معهودة في عهد الرسول عليه الصلاة والسلام، وهكذا كلما طرأت أمور جديدة لم ينص على عينها في الكتاب والسنة فلا بد من أن يكون هناك استنباط واستدلال لعلماء العصر، حتى يطبقوها على ما في الكتاب والسنة؛ لأن الكتاب والسنة لم يأتيا بكل مسألة تحدث بعينها إلي يوم القيامة.
إذ لو أتى بذلك لكان المصحف أكبر مما هو عليه مائة مرة، وأيضاً لأتى الناس بما لا يعرفونه، فمثلاً ستحدث عن الشيكات وعن البنوك وعن التأمينات، ومثل هذه الأشياء يتحدث عنها في عهد الصحابة وهم لا يعرفون ذلك، أما الآن فكلما حدثت أمور وجدت صار لعلماء المسلمين من النظر والاستدلال والاستنباط ما لم يكن لغيرهم، حتى يطبقوها على ما يقتضيه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
ব্যাখ্যা
এটি একটি অনিবার্য বিষয়; অর্থাৎ দলিল গ্রহণ (الاستدلال) এবং মাসআলা উদ্ঘাটন (الاستنباط) এর ক্ষেত্রে সাহাবীগণ (الصحابة) অপেক্ষা তাবিঈগণ (التابعين) এর অগ্রগামী হওয়া একটি অনিবার্য ও প্রয়োজনীয় বিষয়। কারণ এমন সব পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে পরিচিত ছিল না। একইভাবে যখনই এমন নতুন কোনো বিষয়ের অবতারণা হয় যেগুলোর সুনির্দিষ্ট উল্লেখ কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে নেই, তখন সমকালীন আলেমদের জন্য মাসআলা উদ্ঘাটন (الاستنباط) ও দলিল গ্রহণ (الاستدلال) করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যাতে তারা এগুলোকে কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে প্রয়োগ করতে পারেন; কেননা কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য প্রতিটি সুনির্দিষ্ট মাসআলা কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে সরাসরি বর্ণিত হয়নি।
যদি তা বর্ণিত হতো, তবে মুসহাফ বর্তমানের চেয়ে শতগুণ বড় হতো। এছাড়া মানুষের সামনে এমন সব বিষয় আসত যা তারা চিনত না। উদাহরণস্বরূপ, চেক, ব্যাংক এবং বীমা সম্পর্কে এমন সব বিষয়ের অবতারণা যা সাহাবীগণ (الصحابة) এর যুগে আলোচিত হলে তারা তা জানতেন না। কিন্তু বর্তমানে যখনই নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে, মুসলিম স্কলারদের জন্য এমন সূক্ষ্ম গবেষণা, দলিল গ্রহণ (الاستدلال) এবং মাসআলা উদ্ঘাটন (الاستنباط) এর সুযোগ তৈরি হয়েছে যা অন্যদের জন্য ছিল না, যাতে তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দাবি অনুযায়ী বিষয়গুলোকে প্রয়োগ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل في اختلاف السلف في التفسير وأنه اختلاف تنوعالخلاف بين السلف في التفسير قليل، وخلافهم في الأحكام أكثر من خلافهم في التفسير، وغالب ما يصح عنهم من الخلاف يرجع إلى اختلاف تنوع لا اختلاف تضاد وذلك صنفان:
الشرح
هنا أثبت المؤلف أن السلف قد يكون بينهم خلاف في تفسير القرآن، لكن خلافهم في تفسير القرآن أقل من خلافهم في الأحكام، لأن تفسير القرآن هو تبيين ألفاظه، معناها والمراد بهان وهذا شيء يقل فيه الخلاف، لكن الأحكام مبينة على الاجتهاد والنظر والقياس، فصار الاختلاف فيها أكثر من الاختلاف في التفسير، وذلك لاختلاف الناس في العلم والفهم.
وقد سبق لنا القول بأن هناك فرقاً بين التفسير بالمعنى والتفسير باللفظ، فتفسير اللفظ شيء وتفسير المعني الذي يراد بالآية شيء آخر، يعنى أن اللفظ يفسر بمعناه بحسب الكلمة، ويفسر بالمراد به بحسب السياق والقرائن.
পূর্বসূরিদের (سلف) মাঝে তাফসিরের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য এবং এটি যে বৈচিত্র্যগত মতপার্থক্য (اختلاف تنوع), সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদতাফসিরের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যকার মতপার্থক্য সামান্য। তবে আহকাম বা বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে তাদের মতপার্থক্য তাফসিরের তুলনায় অধিক। তাদের থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত অধিকাংশ মতপার্থক্যই মূলত বৈচিত্র্যগত মতপার্থক্য (اختلاف تنوع), বিরোধপূর্ণ মতপার্থক্য (اختلاف تضاد) নয়। আর এটি দুই প্রকার:
ব্যাখ্যা
এখানে লেখক সাব্যস্ত করেছেন যে, কুরআনুল কারিমের তাফসিরের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (سلف) মাঝে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তাফসিরের ক্ষেত্রে তাদের এই মতপার্থক্য বিধি-বিধানের তুলনায় কম। কারণ কুরআনের তাফসির হলো এর শব্দাবলি, অর্থ এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা স্পষ্ট করা; আর এটি এমন বিষয় যাতে মতপার্থক্য কমই হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, বিধি-বিধানসমূহ ইজতিহাদ (اجتهاد), গভীর পর্যবেক্ষণ এবং কিয়াস (قياس)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ফলে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিন্নতার কারণে তাফসিরের তুলনায় এ ক্ষেত্রে মতপার্থক্য বেশি হয়ে থাকে।
আমরা ইতোপূর্বেও বলেছি যে, আক্ষরিক তাফসির এবং অর্থগত তাফসিরের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। শব্দের ব্যাখ্যা এক জিনিস আর আয়াত দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থের ব্যাখ্যা অন্য জিনিস। অর্থাৎ, কোনো শব্দের ব্যাখ্যা তার শাব্দিক অর্থ অনুযায়ী হতে পারে, আবার বর্ণনাভঙ্গি (سياق) ও পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) ভিত্তিতে এর দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থ অনুযায়ীও হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والفرق بين اختلاف التنوع واختلاف التضاد: أن اختلاف التضاد لا يمكن الجمع فيه بين القولين؛ لأن الضدين لا يجتمعان.
واختلاف التنوع يمكن الجمع فيه بين القولين المختلفين؛ لأن كل واحد منهما ذكر نوعاً، والنوع داخل في الجنس، وإذا اتفقا في الجنس فلا اختلاف.
وعلى ذلك فاختلاف التضاد معناه أنه لا يمكن الجمع بين القولين لا بجنس ولا بنوع، ولا بفرد من باب أولى، واختلاف التنوع معناه أنه يجمع بين القولين في الجنس ويختلفان في النوع، فيكون الجنس اتفق عليه القائلان ولكن النوع يختلف، وحينئذ لا يكون هذا اختلافاً؛ لأن كل واحد منهما ذكر نوعاً كأنه على سبيل التمثيل.
وسيذكر المؤلف أمثلة لذلك، لكننا لا بد لنا أن نعرف الفرق بين اختلاف التنوع واختلاف التضاد.
* * *
أحدهما: أن يعبر كل واحد منهم عن المراد بعبارة غير عبارة صاحبه تدل على معنى في المسمى غير المعنى الآخر مع اتحاد المسمى، بمنزلة الأسماء المتكافئة التي بين المترادفة والمتباينة.
الشرح
اختلاف التنوع جعله المؤلف صنفين:
الأول: أن يعبر كل واحد منهم عن المراد بعبارة غير عبارة
বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) এবং বিপরীতমুখী মতভেদ (اختلاف التضاد)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: বিপরীতমুখী মতভেদ (اختلاف التضاد)-এর ক্ষেত্রে দুটি মতের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়; কারণ দুটি বিপরীত বিষয় একত্রে অবস্থান করতে পারে না।
আর বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع)-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দুটি মতের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব; কারণ সেখানে প্রত্যেকে একেকটি প্রকার (نوع) উল্লেখ করেছেন, আর প্রকারটি মূল শ্রেণির (جنس) অন্তর্ভুক্ত। যখন তাঁরা মূল শ্রেণির (جنس) ক্ষেত্রে একমত হন, তখন আর কোনো মতভেদ থাকে না।
সে অনুযায়ী, বিপরীতমুখী মতভেদ (اختلاف التضاد)-এর অর্থ হলো—দুটি মতের মধ্যে কোনো মূল শ্রেণি (جنس), প্রকার (نوع), এমনকি একক কোনো স্তরের (فرد) ক্ষেত্রেও সমন্বয় করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع)-এর অর্থ হলো—দুটি মত মূল শ্রেণির (جنس) ক্ষেত্রে একীভূত হয়, তবে প্রকারের (نوع) ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। ফলে মূল শ্রেণির (جنس) ক্ষেত্রে উভয় বক্তা একমত হলেও প্রকার (نوع) ভিন্ন হয়। এমতাবস্থায় এটি (প্রকৃত) মতভেদ হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ প্রত্যেকে কেবল উদাহরণের খাতিরে একেকটি প্রকার (نوع) উল্লেখ করেছেন মাত্র।
লেখক এর কিছু উদাহরণ পেশ করবেন, তবে আমাদের অবশ্যই বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) এবং বিপরীতমুখী মতভেদ (اختلاف التضاد)-এর মধ্যাকার পার্থক্য জেনে নিতে হবে।
* * *
এর মধ্যে একটি হলো: তাদের প্রত্যেকে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্য অন্যের ব্যবহৃত শব্দের চেয়ে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করবেন, যা নামধারী সত্তার (المسمى) এমন একটি বৈশিষ্ট্যের অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে যা অন্য অর্থটি থেকে পৃথক, অথচ নামধারী সত্তা (المسمى) অভিন্ন। এটি অনেকটা সমতুল্য নামগুলোর (الأسماء المتكافئة) মতো, যা সমার্থক (المترادفة) এবং ভিন্নার্থক (المتباينة) শব্দের মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে।
ব্যাখ্যা
লেখক বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع)-কে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:
প্রথমটি: তাদের প্রত্যেকে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্য অন্যের ব্যবহৃত শব্দের চেয়ে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করবেন...
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صاحبه، والضمير في قوله: ((منهم)) هنا يعود على الصحابة، بل على السلف أعم، ليشمل الصحابة والتابعين، فيعبر بعبارة غير عبارة صاحبه، لكن تدل على معني في المسمى غير المعنى الآخر مع اتحاد المسمى، فهما اتفقا على المراد لكن عبر كل واحد منهما عنه بتعبير غير الأول، وإلا فهما متفقان، كما لو قال قائل في تعريف السيف: هو المهند، وقال الثاني: السيف هو الصارم، وقال الثالث: السيف ما تقطع به الرقاب، وما أشبه ذلك، فهذا في الحقيقة ليس بخلاف.
وكذلك لو قال إنسان: الغضنفر الأسد، وقال الثاني: الغضنفر القسورة، وقال الثالث: الغضنفر الليث، وما أشبه ذلك، فليس هذا خلافاً ولا تنوعاً أيضاً، لكن كل لفظه تدل على معني لا تدل عليه اللفظة الأخرى والمسمى واحد.
وهذا هو المقصود بعبارة المؤلف: (أن يعبر كل واحد منهم عن المراد بعبارة غير عبارة صاحبه تدل على معني في المسمي غير المعني الآخر مع اتحاد المسمي) .
ثم قال المؤلف: إنها بمنزلة الأسماء المتكافئة التي بين المترادفة والمتباينة، فقوله: ((المتكافئة)) هذه فيها إشكال إلا إذا كان المؤلف رحمه الله يريد بها معنى آخر، فالأسماء المترادفة هي الدالة على معنى واحد، والأسماء المتباينة هي الدالة على معنيين. فهذه الأسماء باعتبار دلالتها على المسمى مترادفة، وباعتبار دلالتها على معني يختص بكل لفظ منها تكون متباينة.
* * *
তার সঙ্গী; এবং এখানে ‘তাদের মধ্য থেকে’ (منهم) কথাটির মধ্যে যে সর্বনামটি রয়েছে তা সাহাবীগণের (الصحابة) দিকে ফিরেছে, বরং আরও ব্যাপকভাবে সালফে সালেহীনদের (السلف) দিকে, যাতে সাহাবী (الصحابة) ও তাবিঈগণ (التابعين) অন্তর্ভুক্ত হন। ফলে তিনি তার সঙ্গীর ন্যায় একই অভিব্যক্তি ব্যবহার না করে ভিন্ন অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন, কিন্তু এটি নামধারী বা উদ্দিষ্ট সত্তার এমন এক অর্থ নির্দেশ করে যা অন্য অর্থের চেয়ে ভিন্ন, যদিও সত্তাটি অভিন্ন। সুতরাং তারা উভয়েই উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর একমত হয়েছেন, তবে তাদের প্রত্যেকেই প্রথমজনের চেয়ে ভিন্ন অভিব্যক্তির মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন। অন্যথায় তারা একমত; যেমন কেউ যদি তলোয়ারের সংজ্ঞায় বলে: এটি ‘আল-মুহান্নাদ’, দ্বিতীয় জন বলে: তলোয়ার হলো ‘আস-সারিম’, আর তৃতীয় জন বলে: তলোয়ার হলো যার দ্বারা ঘাড় বিচ্ছিন্ন করা হয়, এবং তদ্রূপ আরও কিছু; তবে এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো মতভেদ নয়।
অনুরূপভাবে যদি কোনো মানুষ বলে: ‘আল-গাদানফার’ হলো সিংহ (আসাদ), দ্বিতীয় জন বলে: ‘আল-গাদানফার’ হলো ‘আল-কাসওয়ারা’, আর তৃতীয় জন বলে: ‘আল-গাদানফার’ হলো ‘আল-লাইস’ এবং তদ্রূপ আরও কিছু; তবে এটিও কোনো মতভেদ বা প্রকারভেদ নয়। বরং প্রতিটি শব্দ এমন একটি অর্থ নির্দেশ করে যা অন্য শব্দটি নির্দেশ করে না, অথচ নামধারী সত্তাটি অভিন্ন।
আর লেখকের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্যও এটাই: (তাদের প্রত্যেকেই উদ্দিষ্ট বিষয়টি এমন অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা তার সঙ্গীর অভিব্যক্তির চেয়ে ভিন্ন, যা সত্তাটি অভিন্ন থাকা সত্ত্বেও নামধারী সত্তার এমন একটি অর্থ নির্দেশ করে যা অন্য অর্থ থেকে ভিন্ন)।
এরপর লেখক বলেছেন: এগুলো হলো সমতুল্য (المتكافئة) নামসমূহের মর্যাদায়, যা সমার্থক (المترادفة) এবং ভিন্নার্থক (المتباينة) নামগুলোর মাঝামাঝি। সুতরাং লেখকের বক্তব্য: ‘সমতুল্য’ (المتكافئة)—এ শব্দটিতে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, যদি না লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এর দ্বারা অন্য কোনো অর্থ বুঝিয়ে থাকেন। কেননা সমার্থক (المترادفة) নামগুলো একটিমাত্র অর্থ নির্দেশ করে, আর ভিন্নার্থক (المتباينة) নামগুলো দুটি ভিন্ন অর্থ নির্দেশ করে। অতএব এই নামগুলো নামধারী সত্তার নির্দেশক হওয়ার বিচারে সমার্থক (المترادفة), আর প্রতিটি শব্দ থেকে উদ্ভূত বিশেষ অর্থের নির্দেশক হওয়ার বিচারে এগুলো ভিন্নার্থক (المتباينة)।
* * *
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كما قيل في اسم السيف الصارم والمهند، وذلك مثل أسماء الله الحسنى، وأسماء رسوله صلى الله عليه وسلم، وأسماء القرآن، فإن أسماء الله كلها تدل على مسمى واحد.
الشرح
أسماء الله- تعالي- كثيرة جداً، لكن مسماها واحد. فهي مترادفة من حيث دلالتها على الذات متباينة من حيث اختصاص كل اسم منها بالمعني الخاص به وكذلك أسماء الرسول صلي الله عليه وسلم متعددة، فهي باعتبار دلالتها على الذات مترادفة، وباعتبار دلالة كل لفظ منها على معنى آخر متابينة. وكذلك القرآن يسمي القرآن، والفرقان، التنزيل وغير ذلك، فهذه الألفاظ باعتبار دلالتها على القرآن مترادفة، وباعتبار أن كل واحد منها له معني خاص متباينة.
* * *
فليس دعاؤه باسم من أسمائه الحسنى مضاداً لدعائه باسم آخر، بل الأمر كما قال تعالى: (قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى) (الاسراء: 110) ، وكل اسم من أسمائه يدل على الذات المسماة وعلى الصفة التي تضمنها الاسم، كالعليم يدل على الذات والعلم، والقدير يدل على الذات والقدرة، والرحيم يدل على الذات والرحمة.
الشرح
إذا هذه الأسماء الثلاثة باعتبار دلالتها على الذات مترادفة،
যেমনটি তরবারির নাম হিসেবে ‘আস-সারিম’ এবং ‘আল-মুহান্নাদ’ বলা হয়; বিষয়টি ঠিক আল্লাহ তাআলার আসমাউল হুসনা (সুন্দরতম নামসমূহ), তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামসমূহ এবং কুরআনের নামসমূহের মতোই। কেননা আল্লাহর সকল নামই একক সত্তাকে (مسمى) নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা
মহান আল্লাহর নামসমূহ অনেক, কিন্তু সেই নামগুলোর উদ্দেশ্য বা সত্তা (مسمى) এক। এই নামগুলো সত্তার দিকে নির্দেশ করার বিচারে সমার্থক (مترادفة), আর প্রতিটি নাম তার নিজস্ব বিশেষ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিচারে ভিন্নধর্মী (متباينة)। তদ্রূপ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামসমূহও একাধিক; সেগুলো সত্তার দিকে নির্দেশ করার বিবেচনায় সমার্থক (مترادفة), আর প্রতিটি শব্দ ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশের বিবেচনায় ভিন্নধর্মী (متباينة)। একইভাবে কুরআনকে কুরআন, ফুরকান, তানজিল ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়; এই শব্দগুলো কুরআনের প্রতি নির্দেশ করার বিবেচনায় সমার্থক (مترادفة), আর এগুলোর প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা অর্থ থাকার বিবেচনায় এগুলো ভিন্নধর্মী (متباينة)।
* * *
সুতরাং তাঁর সুন্দরতম নামসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে তাঁকে ডাকা অন্য আরেকটি নামের মাধ্যমে ডাকার পরিপন্থী নয়। বরং বিষয়টি তেমনই যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো কিংবা ‘রহমান’ নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই” (আল-ইসরা: ১১০)। তাঁর প্রতিটি নাম সেই সত্তার (ذات) নির্দেশ করে যাঁর নাম রাখা হয়েছে এবং সেই গুণেরও নির্দেশ করে যা ঐ নামের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ‘আল-আলিম’ সত্তা এবং ইলম (জ্ঞান)-এর নির্দেশ করে, ‘আল-কাদির’ সত্তা এবং কুদরত (ক্ষমতা)-এর নির্দেশ করে এবং ‘আর-রাহিম’ সত্তা এবং রহমত (দয়া)-এর নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা
অতএব, সত্তার ওপর নির্দেশ করার বিচারে এই তিনটি নাম সমার্থক (مترادفة)।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতিত তাফসীর লি ইবনি তাইমিয়্যাহ - আল-উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وباعتبار دلالة الأول: على العلم، والثاني: على القدرة، والثالث: على الرحمة، فهي متباينة.
ومن أنكر دلالة أسمائه على صفاته ممن يدعي الظاهر فقوله من جنس قول غلاة الباطنية القرامطة الذين يقولون: لا يقال هو حي ولا ليس بحي، بل ينفون عنه النقيضين، فإن أولئك القرامطة الباطنية لا ينكرون اسما هو علم محض، كالمضمرات، وإنما ينكرون ما في أسمائه الحسنى من صفات الإثبات، فمن وافقهم على مقصودهم كان- مع دعواه الغلو في الظاهر- موافقاً لغلاة الباطنية في ذلك، وليس هذا موضع بسط ذلك.
الشرح
والمؤلف رحمه الله لتشبعه بهذا العلم صار لا بد أن يذكره.
انقسم الناس في أسماء الله سبحانه وتعالي إلى أقسام فمنهم من جعلها أعلاماً محضة لا تدل على المعنى إطلاقاً، ومنهم من جعلها أعلاماً وأوصافاً، ومنهم من قال: لا نقول: إنه حي ولا نقول: إنه ليس بحي، فننكر هذا وهذا وهم الباطنية، ويجيبون بقولهم: إن الحياة والموت لا يصح نفيهما وإثباتهما إلا لمن هو قابل لذلك، والله تعالى ليس بقابل للحياة ولا للموت، ولهذا لا يوصف الجدار بأنه حي ولا ميت.
وللإجابة على ذلك نقول لهم: إن دعواكم إن الحياة والموت لا
প্রথমটির নির্দেশনা জ্ঞানের ওপর, দ্বিতীয়টির শক্তির ওপর এবং তৃতীয়টির দয়ার ওপর হওয়ার বিচারে সেগুলো পরস্পর ভিন্ন ভিন্ন (متباينة)।
আর যারা নিজেদের বাহ্যিক অনুসারী বলে দাবি করা সত্ত্বেও আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলির (صفات) ওপর নির্দেশ করার বিষয়টি অস্বীকার করে, তাদের বক্তব্য মূলত চরমপন্থী বাতেনি (الباطنية) কারামতিদের বক্তব্যের সমজাতীয়। তারা বলে: তাঁকে 'চিরঞ্জীব' বলা যাবে না, আবার 'চিরঞ্জীব নন' তাও বলা যাবে না; বরং তারা তাঁর সত্তা থেকে পরস্পরবিরোধী উভয় বিষয়কেই অস্বীকার করে। এই কারামতি বাতেনিরা এমন কোনো নাম অস্বীকার করে না যা কেবল নিছক নাম (علم محض), যেমন সর্বনামগুলো (المضمرات); বরং তারা তাঁর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে থাকা সাব্যস্তকারী গুণাবলি (صفات الإثبات) অস্বীকার করে। ফলে যে ব্যক্তি তাদের এই উদ্দেশ্যের সাথে একমত হবে—যদিও সে বাহ্যিক বিষয়ে বাড়াবাড়ির দাবি করে—সে এই বিষয়ে চরমপন্থী বাতেনিদেরই অনুসারী হবে। আর এটি সেই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।
ব্যাখ্যা (الشرح)
আর লেখক (المؤلف), আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, এই জ্ঞানে পূর্ণ হওয়ার কারণে এটি উল্লেখ করা তাঁর জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহের বিষয়ে মানুষ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেগুলোকে নিছক নাম (أعلام محضة) হিসেবে গণ্য করেছে যা একেবারেই কোনো অর্থের ওপর নির্দেশনা দেয় না। আবার কেউ কেউ সেগুলোকে নাম ও গুণাবলি (أوصاف) উভয়টি হিসেবে গণ্য করেছে। আবার কেউ কেউ বলেছে: আমরা বলব না যে ‘তিনি চিরঞ্জীব’, আবার আমরা এও বলব না যে ‘তিনি চিরঞ্জীব নন’; ফলে আমরা এটি এবং সেটি উভয়টিই অস্বীকার করি—আর তারা হলো বাতেনি (الباطنية) সম্প্রদায়। তারা এই বলে উত্তর দেয় যে: জীবন ও মৃত্যুর নেতিবাচকতা বা ইতিবাচকতা কেবল তারই ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে যে এই দুটির যোগ্যতা রাখে। আর আল্লাহ তাআলা জীবন বা মৃত্যু কোনোটিরই যোগ্য নন, আর এই কারণেই দেয়ালকে জীবিত বা মৃত হিসেবে বিশেষিত করা হয় না।
এর উত্তরে আমরা তাদের বলব: তোমাদের এই দাবি যে জীবন ও মৃত্যু...