(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: -)
أبو بكر الصديق أول الخلفاء الراشدين - ط الحلبي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أبو بكر الصديق أول الخلفاء الراشدين
المؤلف: محمد رضا [ت 1369 هـ]
(أمين مكتبة جامعة فؤاد الأول)
الناشر: دار إحياء الكتب العربية، عيسى البابي الحلبي وشركاه - مصر
الطبعة: الثانية، 1369 هـ - 1950 م
عدد الصفحات: 186
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু বকর আল-সিদ্দিক প্রথম খুলাফায়ে রাশিদুন - আল-হালাবি সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আবু বকর আল-সিদ্দিক প্রথম খুলাফায়ে রাশিদুন
লেখক: মুহাম্মদ রিদা [মৃত্যু ১৩৬৯ হিজরি]
(ফুয়াদ প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক)
প্রকাশক: দার ইহয়াউল কুতুব আল-আরাবিয়া، ঈসা আল-বাবী আল-হালাবি এবং অংশীদারগণ - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৬৯ হিজরি - ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৬
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাহতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم.
مقدمة:- أحمد الله وأستغفره على نعمائه الجمة وآلائه التي لا تعد ولا تحصى، وأستغفره من كبائر الذنوب وصغائرها، وأسأله الهداية والتوفيق. وأصلي وأسلم على محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أما بعد فقد كنت شديد الرغبة في تأليف سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم لنشرها على العالم الإسلامي فقضيت الأيام والليالي الطوال في الإطلاع والبحث في كتب السير فجمعت شتاتها وشرحت الغامض منها وحققت الروايات وأثبت تواريخ الوقائع ورددت على الاعتراضات والترهات ردوداً مدعَّمة بالبراهين الساطعة والحجج القاطعة، فجاء الكتاب وافياً بغرضي من حيث إيصال المعلومات الصحيحة إلى العالم الإسلامي. ولما فرغ طبعه، تلقاه الناس بالقبول والاستسحان وأقبلوا على مطالعته بشوق وشغف، ونال بحمد الله وفضله رضا العامة والخاصة وتواردت عليّ رسائل التفريط والتشجيع من الكبراء والعلماء والأدباء حتى عجزت عن شكرهم على ثقتهم بشخصي العاجز الضعيف، وشعرت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:- আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নিকট তাঁর অফুরন্ত নিয়ামত ও অগণিত অনুগ্রহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি তাঁর নিকট কবিরা ও সগিরা গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তাঁর নিকট হিদায়াত ও তাওফিক কামনা করছি। আর আমি সালাত ও সালাম পাঠ করছি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।
অতঃপর, মুসলিম বিশ্বের মাঝে প্রচারের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত রচনার ব্যাপারে আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। ফলে আমি সিরাত বিষয়ক গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন ও গবেষণায় দীর্ঘ দিন ও রাত অতিবাহিত করেছি। অতঃপর আমি এর বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে একত্রিত করেছি, এর অস্পষ্ট অংশগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, বর্ণনাগুলো যাচাই করেছি এবং ঘটনাপ্রবাহের তারিখসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আর বিভিন্ন আপত্তি ও অসার উক্তির খণ্ডন করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণ ও অকাট্য দলিলের মাধ্যমে। ফলে বইটি মুসলিম বিশ্বে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। যখন এর মুদ্রণ সমাপ্ত হলো, মানুষ একে কবুল করে নিল এবং প্রশংসা করল, আর তারা গভীর আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে এটি পাঠে মনোনিবেশ করল। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের সন্তুষ্টি অর্জন করেছে। আর আমার নিকট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, উলামায়ে কিরাম এবং সাহিত্যিকদের পক্ষ থেকে ভূয়সী প্রশংসা ও উৎসাহব্যঞ্জক পত্র আসতে শুরু করল, এমনকি আমার এই অক্ষম ও দুর্বল সত্তার ওপর তাঁদের এই আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি অপারগ হয়ে পড়লাম, আর আমি অনুভব করলাম
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بقوة تدفعني إلى مواصلة البحث والتأليف بالرغم من كثرة المشاغل الدنيوية. وقد سألني كثير من الأصدقاء الأعزاء أن أتبع سيرة رسول الله بسير الخلفاء بنفس الطريقة التي انتهجتها فسرتني فكرتهم ولم يسعني إلا إجابة طلبهم واستخرت الله تعالى أن أكتب سيرة أبي بكر الصديق رضي الله عنه فإنه أول الخلفاء الذين أمرنا رسول الله بالاقتداء بهم والاهتداء بهديهم.
لما توفي النبي صلى الله عليه وسلم ارتجت العرب واختلف المسلمون ولا سيما الأنصار والمهاجرون في الخلافة فتدارك الأمر أبو بكر بحكمته وسرعة بديهته وتمت له البيعة بالإجماع. وقد برهن رضي الله عنه أنه أكفأ رجل وأنه رجل الساعة وقتئذ لأن العرب عندما سمعوا بوفاة رسول الله ارتد كثير منهم واستفحل أمر المرتدين في جزيرة العرب، وظهر المتنبئون وجمعوا جيوشهم وثاروا على المسلمين. فمنهم من خرج عن الإسلام، ومنهم من منع الزكاة ووضع الصلاة وأباح المحرمات وطرد كثيراً من الولاة، ولولا شدة تمسك أبي بكر بسنة رسول الله وقوة عزيمته وشجاعته لتغلب المرتدون وقضوا على الإسلام قضاءً مبرماً. ولقد هال أمر المرتدين في بادئ الأمر كبراء الصحابة، ولكن أبا بكر ثبت ولم يتزعزع وظهرت كفايته في إرسال الجيوش واختيار القواد والولاة إلى جميع أنحاء جزيرة العرب، فكبح جماح المرتدين
পার্থিব ব্যস্ততার প্রাচুর্য সত্ত্বেও এটি আমাকে গবেষণা ও গ্রন্থরচনা অব্যাহত রাখতে এক শক্তিশালী তাড়না দেয়। আমার অনেক প্রিয় বন্ধু আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতের পর একই পদ্ধতিতে খলিফাদের জীবনীও রচনা করি। তাদের এই ধারণা আমাকে আনন্দিত করেছে এবং আমি তাদের অনুরোধ রক্ষা না করে পারিনি। আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যেন আমি আবু বকর সিদ্দীকের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জীবনী লিখতে পারি; কেননা তিনি সেই প্রথম খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অনুসরণ ও অনুকরণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন, তখন আরব ভূখণ্ড কেঁপে ওঠে এবং খিলাফত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে, বিশেষ করে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার প্রজ্ঞা ও উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং সর্বসম্মতভাবে তার বাইআত সম্পন্ন হয়। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রমাণ করেছিলেন যে, তিনি ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি এবং তৎকালীন সংকটকালীন সময়ের কান্ডারি। কারণ আরবরা যখন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের খবর শুনল, তখন তাদের অনেকে মুরতাদ হয়ে গেল এবং আরব উপদ্বীপে মুরতাদদের সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করল। নবুওয়াতের ভণ্ড দাবিদারদের উদ্ভব ঘটল, তারা তাদের সৈন্যবাহিনী সংগ্রহ করল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করল। তাদের মধ্যে কেউ ইসলাম ত্যাগ করল, কেউ জাকাত দেওয়া বন্ধ করল, সালাত পরিত্যাগ করল, হারাম কাজগুলোকে হালাল করল এবং অনেক গভর্নরকে বহিষ্কার করল। রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর প্রতি আবু বকরের দৃঢ় আনুগত্য এবং তার প্রবল সংকল্প ও সাহসিকতা যদি না থাকত, তবে মুরতাদরা বিজয়ী হতো এবং ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করে দিত। শুরুতে মুরতাদদের এই পরিস্থিতি প্রবীণ সাহাবীদেরও আতঙ্কিত করে তুলেছিল, কিন্তু আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অটল ছিলেন এবং বিচলিত হননি। আরব উপদ্বীপের সকল প্রান্তে সৈন্য প্রেরণ এবং যোগ্য সেনাপতি ও গভর্নর নির্বাচনে তার দক্ষতা প্রকাশ পায়, যার মাধ্যমে তিনি মুরতাদদের অবাধ্যতাকে দমন করেন।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وهزمهم شر هزيمة واستتب الأمن في البلاد في أقل من سنة. ولم يقتصر على ذلك بل بعث الجيوش إلى العراق والشام فانهزمت الفرس والروم ومن والاهما من العرب. وقد تم ذلك كله في مدة خلافته وهي سنتان وأشهر، ولا شك أن هذه مدة قصيرة بالنسبة إلى ما تم في خلالها من جلائل الأعمال، وقد مهد بذلك طريق الفتوحات الإسلامية لمن جاء بعد من الخلفاء واتضحت بذلك حكمة رسول الله في اختيار أبي بكر بعده.
وقد كان رضي الله عنه مع ذلك لطيفاً وديعاً متواضعاً زاهداً في الدنيا متقشفاً عادلاً غير طامع في ملك أو غنى، بل كان كل همه نشر الإسلام وتوطيد أركانه واتباع سنة رسول الله. وقد كان مؤلفاً لقلوب المسلمين. وعلى العموم كان خير قدوة لهم في دينهم ودنياهم. وقد اختار لهم خير من يصلح للخلافة بعده وهو عمر بن الخطاب رضي الله عنه الذي كان وزيره وقاضيه وملازماً له طول مدة خلافته وذلك حفظاً لكيان الإسلام.
هذا هو أبي بكر الصديق خليفة رسول الله الذي عنيت بترجمة حياته وشرح خلافته ومآثره في كتابي هذا، وإني لأرجو الله سبحانه وتعالى أن أكون قد وفقت في عملي. كما أرجو أن ينتفع به المسلمون
এবং তিনি তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ইরাক ও শামে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন; ফলে পারস্য, রোম এবং তাদের মিত্র আরবরা পরাজিত হয়। এই সমস্ত কিছু তাঁর খিলাফতকালেই সম্পন্ন হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল মাত্র দুই বছর কয়েক মাস। নিঃসন্দেহে এই সময়ের মধ্যে সম্পাদিত মহান কর্মসমূহের তুলনায় এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর পরবর্তী খলিফাদের জন্য ইসলামি বিজয়ের পথ সুগম করে দেন এবং এর মধ্য দিয়ে তাঁর পরে আবু বকরকে নির্বাচনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর প্রজ্ঞা ও হিকমত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এসবের পাশাপাশি তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত দয়ালু, কোমল স্বভাবের, বিনয়ী, দুনিয়াবিমুখ, মিতব্যয়ী এবং ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। রাজত্ব বা ধন-সম্পদের প্রতি তাঁর কোনো মোহ ছিল না; বরং তাঁর সমস্ত চিন্তা ও প্রচেষ্টা নিহিত ছিল ইসলামের প্রচার, এর স্তম্ভসমূহকে সুদৃঢ় করা এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অনুসরণের মাঝে। তিনি ছিলেন মুসলিমদের হৃদয়ের যোগসূত্র স্থাপনকারী। সামগ্রিকভাবে, তিনি তাদের দীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ ছিলেন। তিনি নিজের পরে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য সর্বোত্তম যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করেছিলেন, আর তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু); যিনি তাঁর খিলাফতের পুরো সময়কাল তাঁর উজির ও বিচারক হিসেবে এবং সর্বদা তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। আর এটি তিনি করেছিলেন ইসলামের অস্তিত্ব ও সংহতি রক্ষার তাগিদে।
তিনিই হলেন রাসূলুল্লাহর খলিফা আবু বকর সিদ্দীক, যাঁর জীবনচরিত, খিলাফতের বিবরণ এবং কীর্তিসমূহ আমি আমার এই গ্রন্থে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, আমি আমার কাজে সফল হয়েছি। সেই সাথে আমি আশা করি যে, মুসলিমরা এর দ্বারা উপকৃত হবে।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويتدبروا في سير سلفهم الصالح بعد أن سهلت لهم ما يتعسر فهمه من حيث شرح المواقع وسير الرجال وضبط التواريخ وتفسير الألفاظ الغامضة تسهيلاً للبحث والمراجعة وتوفيراً للوقت. وإني في الختام أقدم مزيد شكري لجميع الذين أبدوا اهتمامهم وإعجابهم بمؤلفي "محمد رسول الله" ولا شك أني مدين لهم بهذا العطف والتشجيع.
محمد رضا.
এবং তারা যেন তাদের নেককার পূর্বসূরিদের জীবনী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে, যেহেতু আমি তাদের জন্য সেই বিষয়গুলো সহজ করে দিয়েছি যা বোঝা দুরূহ ছিল; যেমন- স্থানসমূহের বর্ণনা, ব্যক্তিবর্গের জীবনী, তারিখসমূহের নির্ভুল বিন্যাস এবং অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা—যাতে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সহজতর হয় এবং সময়ের সাশ্রয় ঘটে। পরিশেষে, আমি সেই সকল ব্যক্তিবর্গের প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা আমার রচিত "মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ" গ্রন্থটির প্রতি গভীর আগ্রহ ও প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। নিঃসন্দেহে আমি তাদের এই সদয় মমতা ও উৎসাহের জন্য ঋণী।
মুহাম্মদ রিদা।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة حياة أبو بكر الصديق رضي الله عنه- هو عبد الله بن عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة بن كعب بن لؤي القرشي التيمي. يلتقي مع رسول الله في مرة بن كعب. أبو بكر الصديق بن أبي قحافة. واسم أبي قحافة عثمان. وأمه أم الخير سلمى بنت صخر بن عامر بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة، وهي ابنة عم أبي قحافة.
أسلم أبو بكر ثم أسلمت أمه بعده، وصحب رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال العلماء: لا يعرف أربعة متناسلون بعضهم من بعض صحبوا رسول الله، إلا آل أبي بكر الصديق وهم: عبد الله بن الزبير، أمه أسماء بنت أبي بكر بن أبي قحافة. فهؤلاء الأربعة صحابة متناسلون. وأيضا أبو عتيق بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن أبي قحافة رضي الله عنهم.
ولقب عتيقاً لعتقه من النار وقيل لحسن وجهه. وعن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أبو بكر عتيق من النار) فمن يومئذ سمي (عتيقا) . وقيل سمي عتيقا لأنه لم يكن في نسبه شيء يعاب به. وأجمعت الأمة على تسميته صديقاً. قال علي
আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী- তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররা বিন কাব বিন লুয়াই আল-কুরাইশি আত-তাইমি। মুররা বিন কাব-এ গিয়ে তাঁর বংশধারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক বিন আবি কুহাফা। আর আবি কুহাফার নাম ছিল উসমান। তাঁর মা হলেন উম্মুল খায়ের সালমা বিনতে সাখর বিন আমির বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররা, যিনি আবি কুহাফার চাচাতো বোন ছিলেন।
আবু বকর ইসলাম গ্রহণ করেন, এরপর তাঁর মা তাঁর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেন। আলেমগণ বলেন: এমন কোনো চার প্রজন্মের বংশপরম্পরা জানা নেই যারা একে অপরের সন্তান এবং সকলেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন, একমাত্র আবু বকর সিদ্দিকের পরিবার ব্যতীত। তারা হলেন: আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের, তাঁর মা আসমা বিনতে আবু বকর বিন আবি কুহাফা। সুতরাং এই চারজন হলেন বংশপরম্পরায় সাহাবী। এছাড়াও আবু আতিক বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন আবি কুহাফা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।
তাঁকে 'আতিক' উপাধি দেওয়া হয়েছিল জাহান্নাম থেকে তাঁর মুক্তির কারণে, আবার কারো মতে তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আবু বকর জাহান্নাম থেকে মুক্ত)। সেদিন থেকেই তাঁর নাম 'আতিক' রাখা হয়। আবার বলা হয় যে, তাঁকে আতিক বলা হতো কারণ তাঁর বংশে দোষারোপ করার মতো কোনো ত্রুটি ছিল না। উম্মত তাঁকে 'সিদ্দিক' নামে অভিহিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আলী বলেন...
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
بن أبي طالب رضي الله عنه: (إن الله تعالى هو الذي سمى أبا بكر على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم صديقا) وسبب تسميته أنه بادر إلى تصديق رسول الله صلى الله عليه وسلم ولازم الصدق فلم تقع منه هنات ولا كذبة في حال من الأحوال. وعن عائشة أنها قالت:
(لما أسري بالنبي صلى الله عليه وسلم إلى المسجد الأقصى أصبح يحدث الناس بذلك فارتد ناس ممن كان آمن وصدق به وفتنوا به. فقال أبو بكر: إني لأصدقه في ما هو أبعد من ذلك، أصدقه بخبر السماء غدوة وروحة، فلذلك سمي أبا بكر الصديق) .
وقال أبو محجن الثقفي:
وسميت صديقا وكل مهاجر
… سواك يسمى باسمه غير منكر
سبقت إلى الإسلام والله شاهد
… وكنت جليسا في العريش المشهر
ولد أبو بكر سنة 573 م بعد الفيل بثلاث سنين تقريبا، وكان رضي الله عنه صديقا لرسول الله قبل البعث وهو أصغر منه سنا بثلاث سنوات وكان يكثر غشيانه في منزله ومحادثته. وقيل كنى بأبي بكر لابتكاره الخصال الحميدة. فلما أسلم آزر النبي صلى الله عليه وسلم في نصر دين الله تعالى بنفسه وماله. وكان له لما أسلم 40. 000 درهم أنفقها في سبيل الله مع ما كسب من التجارة.
قال تعالى {وسيجنبها الأتقى الذي يؤتي ماله يتزكى وما
আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহই রসূলুল্লাহ (সা.)-এর জবানিতে আবু বকরকে 'সিদ্দিক' নামকরণ করেছেন)। তাকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, তিনি রসূলুল্লাহ (সা.)-কে সত্য বলে স্বীকার করতে ত্বরান্বিত হয়েছিলেন এবং সর্বদা সত্যের ওপর অবিচল ছিলেন, ফলে কোনো অবস্থাতেই তার থেকে কোনো পদস্খলন বা মিথ্যা প্রকাশ পায়নি। আর আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন:
(যখন নবী (সা.)-কে মাসজিদুল আকসায় নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তিনি সকালে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করতে লাগলেন। এতে যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল এবং তাঁকে বিশ্বাস করেছিল, তাদের মধ্যে কিছু লোক মুরতাদ হয়ে গেল এবং তারা বিভ্রান্তিতে পতিত হলো। তখন আবু বকর বললেন: আমি তো তাঁকে এর চেয়েও দূরহ বিষয়েও বিশ্বাস করি; আমি সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে আসা আসমানি খবরের বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। এই কারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছে আবু বকর আস-সিদ্দিক)।
আবু মাহজান আস-সাকাফি বলেন:
আপনাকে 'সিদ্দিক' নামকরণ করা হয়েছে, অথচ আপনি ব্যতীত অন্য সকল মুহাজিরকে
… তাদের নিজ নামেই ডাকা হয় যা অনস্বীকার্য।
আপনি ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হয়েছেন এবং আল্লাহ এর সাক্ষী
… আর আপনি সেই প্রসিদ্ধ আড়িশে (শিবিরে) তাঁর সহচর ছিলেন।
আবু বকর ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে হস্তীবাহিনীর ঘটনার প্রায় তিন বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি (রা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব থেকেই রসূলুল্লাহর বন্ধু ছিলেন। তিনি বয়সে তাঁর চেয়ে তিন বছরের ছোট ছিলেন এবং অধিক পরিমাণে তাঁর ঘরে যাতায়াত ও কথাবার্তা বলতেন। বলা হয়ে থাকে যে, উত্তম গুণাবলির সূচনার কারণে তাঁর উপনাম রাখা হয়েছে 'আবু বকর'। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য নিজের জান ও মাল দিয়ে নবী (সা.)-কে শক্তিশালী করলেন। ইসলাম গ্রহণের সময় তাঁর নিকট ৪০,০০০ দিরহাম ছিল, যা তিনি ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার পাশাপাশি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছিলেন।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকিকে, যে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির জন্য নিজের সম্পদ দান করে। আর...}
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
لأحد عنده من نعمة تجزى} . الليل 17-19
وقد أجمع المفسرون على أن المراد به أبو بكر. وقد رد الفخر الرازي على من قال إنها نزلت في حق علي رضي الله عنه.
كان أبو بكر رضي الله عنه من رؤساء قريش في الجاهلية محببا فيهم مؤلفا لهم، وكان إليه الأشناق (1) في الجاهلية. كان إذا عمل شيئاً صدقته قريش، وأمضوا حمالته وحمالة من قام معه، وإن احتملتها غيره خذلوه ولم يصدقوه. فلما جاء الإسلام سبق إليه، وأسلم من الصحابة بدعائه خمسة من العشرة المبشرين بالجنة وهم: عثمان بن عفان، والزبير بن العوام، وعبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص، وطلحة بن عبيد الله، وأسلم أبواه وولداه وولد ولده من الصحابة فجاء بالخمسة الذين أسلموا بدعائه إلى رسول الله فأسلموا وصلوا.
وقد ذهب جماعة إلى أنه أول من أسلم؛ قال الشعبي: سألت ابن عباس من أول من أسلم؟ قال: أبو بكر، أما سمعت حسان يقول:
إذا تذكرت شجوا من أخي ثقة
… فاذكر أخاك أبا بكر بما فعلا
خير البرية أتقاها وأعدلها
… بعد النبي وأوفاها بما حملا
والثاني التالي المحمود مشهده
… وأول الناس قدما صدَّق الرسلا
وكان أعلم العرب بأنساب قريش وما كان فيها من خير وشر. وكان تاجرا ذو ثروة طائلة، حسن المجالسة، عالما بتعبير الرؤيا، وقد
--------------------------------------------
কারো প্রতিদান পাওয়ার জন্য নয়। সূরা আল-লাইল ১৭-১৯
মুফাসসিরগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এর দ্বারা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বোঝানো হয়েছে। আর ফখর রাযী তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা বলেছেন যে, এই আয়াত আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শানে নাযিল হয়েছে।
আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জাহেলী যুগে কুরাইশদের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন এবং তাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও সুপরিচিত ছিলেন। জাহেলী যুগে 'আশনাক' (১) বা রক্তপণ পরিশোধের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি যখন কোনো কাজ করতেন, কুরাইশরা তা সমর্থন করত এবং তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের জামিনদারী কার্যকর করত। কিন্তু অন্য কেউ এর ভার গ্রহণ করলে তারা তাকে অসমর্থন করত এবং বিশ্বাস করত না। যখন ইসলাম এল, তিনি এর দিকে অগ্রগামী হলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে পাঁচজন তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন; তাঁরা হলেন: উসমান বিন আফফান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রহমান বিন আউফ, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা বিন উবাইদুল্লাহ। তাঁর পিতামাতা, তাঁর সন্তান এবং তাঁর নাতি-নাতনিরাও সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণকারী সেই পাঁচজনকে নিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে আসলেন, অতঃপর তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন।
একদল আলিমের মতে, তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। শাবী বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম, সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: আবু বকর। আপনি কি হাসসানকে বলতে শোনেননি:
যখন তুমি কোনো বিশ্বস্ত ভাইয়ের শোকের কথা স্মরণ করবে
… তখন তোমার ভাই আবু বকরের কীর্তির কথা স্মরণ করো।
নবীর পরে তিনি সৃষ্টির সেরা, সবচেয়ে মুত্তাকী ও ন্যায়পরায়ণ
… এবং অর্পিত আমানত রক্ষায় সবচেয়ে বেশি অনুগত।
তিনি (গুহায়) দ্বিতীয় এবং নবীর পরবর্তী অনুসারী, যাঁর অবস্থান প্রশংসিত
… এবং মানুষের মধ্যে অগ্রণী হয়ে সর্বপ্রথম রাসূলদের সত্যায়নকারী।
তিনি কুরাইশদের বংশপরম্পরা এবং তাদের মধ্যকার ভালো-মন্দ সম্পর্কে আরবদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। তিনি বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারী একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি ছিলেন উত্তম সঙ্গী এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী। আর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
حرم الخمر على نفسه في الجاهلية هو وعثمان بن عفان. ولما أسلم جعل يدعو الناس إلى الإسلام قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (ما دعوت أحدا إلى الإسلام إلا كانت عنده كبوة ونظر وتردد إلا ما كان من أبي بكر رضي الله عنه ما علم عنه حين ذكرته له) أي أنه بادر إليه. ونزل فيه وفي عمر {وشاوِرْهم في الأمر} آل عمران 159 فكان أبو بكر بمنزلة الوزير من رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان يشاوره في أموره كلها.
وقد أصاب أبا بكر من إيذاء قريش شئ كثير. فمن ذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما دخل دار الأرقم ليعبد الله ومن معه من أصحابه سرا ألح أبو بكر رضي الله عنه في الظهور، فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا أبا بكر إنا قليل. فلم يزل به حتى خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن معه من الصحابة رضي الله عنهم وقام أبو بكر في الناس خطيبا ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس ودعا إلى رسول الله، فهو أول خطيب دعا إلى الله تعالى فثار المشركون على أبي بكر رضي الله عنه وعلى المسلمين يضربونهم فضربوهم ضرباً شديداً. ووطئ أبو بكر بالأرجل وضرب ضربا شديدا. وصار عتبة بن ربيعة يضرب أبا بكر بنعلين مخصوفتين ويحرفهما إلى وجهه حتى صار لا يعرف أنفه من وجهه، فجاءت بنو تيم يتعادون فأجلت المشركين عن أبي بكر إلى أن أدخلوه منزله ولا يشكون في موته، ثم رجعوا فدخلوا المسجد فقالوا: والله لئن مات أبو بكر لنقتلن عتبة، ثم رجعوا إلى أبي بكر وصار والده
জাহিলিয়াত আমলেই তিনি এবং উসমান ইবন আফফান নিজের ওপর মদ হারাম করে নিয়েছিলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আমি যখনই কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, তখনই তার মধ্যে কিছুটা জড়তা, চিন্তা ও দ্বিধা দেখা দিয়েছিল; কিন্তু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি, যখনই আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করেছি তিনি সাথে সাথে তা গ্রহণ করেছেন।" অর্থাৎ তিনি ইসলামের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছিলেন। তাঁর এবং উমরের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে: "এবং আপনি কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন" (আলে ইমরান: ১৫৯)। সুতরাং আবু বকর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উজিরের মর্যাদায় ছিলেন; তিনি তাঁর সকল বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন।
কুরাইশদের পক্ষ থেকে আবু বকর প্রচুর নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে একটি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দারুল আরকামে প্রবেশ করলেন যাতে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণ গোপনে আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রকাশ্যে আসার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "হে আবু বকর, আমরা সংখ্যায় অল্প।" কিন্তু তিনি অনড় থাকলেন, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম বের হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন এবং আবু বকর লোকজনের মাঝে দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন এবং রাসূলুল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন। তিনিই প্রথম খতিব যিনি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। তখন মুশরিকরা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং মুসলমানদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের প্রচণ্ড প্রহার করতে থাকে। আবু বকরকে পায়ের নিচে পিষ্ট করা হয় এবং তাঁকে কঠোরভাবে আঘাত করা হয়। ওতবা ইবন রবিআ তালি দেওয়া জোড়া জুতা দিয়ে আবু বকরকে মারতে থাকে এবং তাঁর চেহারায় জুতা দিয়ে আঘাত করতে থাকে, যার ফলে তাঁর চেহারার জখমের কারণে নাক আর আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল না। তখন বনু তায়িম গোত্রের লোকেরা দৌড়ে আসে এবং মুশরিকদের আবু বকরের নিকট থেকে সরিয়ে দেয়। তারা তাঁকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাঁর বেঁচে থাকার ব্যাপারে তাদের কোনো আশা ছিল না। এরপর তারা ফিরে গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে বলল, "আল্লাহর কসম, যদি আবু বকর মারা যান, তবে আমরা অবশ্যই ওতবাকে হত্যা করব।" অতঃপর তারা পুনরায় আবু বকরের নিকট ফিরে আসে এবং তাঁর পিতা...
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أبو قحافة وبنو تيم يكلمونه فلا يجيب حتى آخر النهار، ثم تكلم وقال: ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فعذلوه فصار يكرر ذلك فقالت أمه: والله ما لي علم بصاحبك. فقال اذهبي إلى أم جميل فاسأليها عنه وخرجت إليها وسألتها عن محمد بن عبد الله، فقالت: لا أعرف محمداً ولا أبا بكر ثم قالت: تريدين أن أخرج معك؟ قالت: نعم. فخرجت معها إلى أن جاءت أبا بكر فوجدته صريعا فصاحت وقالت: إن قوما نالوا هذا منك لأهل فسق وإني لأرجو أن ينتقم الله منهم، فقال لها أبو بكر رضي الله عنه: ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقالت: هذه أمك، قال فلا عين عليك منها أي أنها لا تفشي سرك. قالت: سالم هو في دار الأرقم. فقال: والله لا أذوق طعاما ولا أشرب شرابا أو آتي رسول الله صلى الله عليه وسلم. قالت أمه فأمهلناه حتى إذا هدأت الرجل وسكن الناس خرجنا به يتكئ علي حتى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فرق له رقة شديدة وأكب عليه يقبله وأكب عليه المسلمون كذلك فقال بأبي أنت وأمي يا رسول الله ما بي من بأس إلا ما نال الناس من وجهي، وهذه أمي برة بولدها فعسى الله أن يستنقذها من النار، فدعا لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ودعاها إلى الإسلام فأسلمت (1) .
ولما اشتد أذى كفار قريش لم يهاجر أبو بكر إلى الحبشة مع
--------------------------------------------
আবু কুহাফা এবং বনু তায়িম গোত্রের লোকেরা তাঁর সাথে কথা বলছিলেন, কিন্তু তিনি দিনের শেষ পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। অতঃপর তিনি কথা বললেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কী হয়েছে? তারা তাঁকে তিরস্কার করল এবং তিনি বারবার একই কথা বলতে থাকলেন। তখন তাঁর মা বললেন: আল্লাহর কসম, তোমার সাথী সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তিনি বললেন: আপনি উম্মু জামিলের কাছে যান এবং তাঁর কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। তিনি তাঁর কাছে বের হয়ে গেলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি মুহাম্মাদ বা আবু বকর কাউকেই চিনি না। এরপর তিনি বললেন: আপনি কি চান আমি আপনার সাথে যাই? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি তাঁর সাথে বের হলেন এবং আবু বকরের কাছে আসলেন। তিনি তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে চিৎকার করে উঠলেন এবং বললেন: যে জাতি তোমার এই অবস্থা করেছে তারা অবশ্যই পাপাচারী, আর আমি আশা করি আল্লাহ তাদের থেকে প্রতিশোধ নেবেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কী হয়েছে? উম্মু জামিল বললেন: আপনার মা তো এখানে। তিনি বললেন: তাঁর থেকে তোমার কোনো ভয় নেই (অর্থাৎ তিনি তোমার গোপন কথা ফাঁস করবেন না)। তিনি বললেন: তিনি দারুল আরকামে নিরাপদে আছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি কোনো খাবার আস্বাদন করব না এবং কোনো পানীয় পান করব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যাই। তাঁর মা বললেন: আমরা অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না লোকজনের আনাগোনা বন্ধ হলো এবং মানুষ শান্ত হলো। তখন আমরা তাঁকে নিয়ে বের হলাম, তিনি আমার ওপর ভর দিয়ে হাঁটছিলেন। অবশেষে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন, তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুম্বন করতে লাগলেন। মুসলিমগণও একইভাবে তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, লোকেরা আমার চেহারায় যে আঘাত করেছে তা ছাড়া আমার আর কোনো বড় কষ্ট নেই। আর ইনি আমার মা, যিনি তাঁর সন্তানের প্রতি খুবই দয়ালু। আশা করা যায় আল্লাহ তাঁকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন, ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন (১)।
আর যখন কুরাইশ কাফেরদের অত্যাচার তীব্রতর হলো, তখন আবু বকর আবিসিনিয়ায় হিজরত করেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسلمين بل بقي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم تاركا عياله وأولاده وأقام معه في الغار ثلاثة أيام؛ قال الله تعالى {ثاني اثنين إذ هما في الغار إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا} . التوبة 41
ولما كانت الهجرة جاء رسول الله صلى الله عليه إلى أبي بكر وهو نائم فأيقظه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قد أذن لي في الخروج قالت عائشة: فلقد رأيت أبا بكر يبكي من الفرح، ثم خرجا حتى دخلا الغار فأقاما فيه ثلاثة أيام (1) . وأن رسول الله لولا ثقته التامة بأبي بكر لما صاحبه في هجرته فاستخلصه لنفسه. وكل من سوى أبي بكر فارق رسول الله، وإن الله تعالى سماه (ثاني اثنين) .
قال رسول صلى الله عليه وسلم لحسان بن ثابت: هل قلت في أبي بكر شيئا؟ فقال: نعم. فقال: قل وأنا أسمع. فقال:
وثاني اثنين في الغار المنيف وقد
… طاف العدوّ به إذ صعد الجبلا
وكان حِبّ رسول الله قد علموا
… من البرية لم يعدل به رجلا
فضحك رسول الله حتى بدت نواجذه، ثم قال: صدقت يا حسان هو كما قلت.
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يكرمه ويجله ويثني عليه في وجهه واستخلفه في الصلاة، وشهد مع رسول الله بدرا وأحدا والخندق وبيعة الرضوان بالحديبية وخيبر وفتح مكة وحنينا والطائف وتبوك
--------------------------------------------
মুসলমানদের বরং তিনি তাঁর পরিবার ও সন্তানদের ছেড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে গুহায় তিন দিন অবস্থান করলেন; আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তিনি ছিলেন দুইজনের দ্বিতীয়জন, যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন; যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।} (তওবা: ৪১)
যখন হিজরতের সময় হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রা.)-এর কাছে আসলেন যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, অতঃপর তাঁকে জাগালেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন: আমি আবু বকরকে আনন্দের আতিশয্যে কাঁদতে দেখেছি। অতঃপর তাঁরা উভয়ে বের হলেন এবং গুহায় প্রবেশ করে সেখানে তিন দিন অবস্থান করলেন (১)। আল্লাহর রাসূলের যদি আবু বকরের ওপর পূর্ণ আস্থা না থাকতো তবে তিনি হিজরতে তাঁকে সাথী বানাতেন না এবং তাঁকে নিজের জন্য বেছে নিতেন না। আবু বকর ছাড়া অন্য সবাই আল্লাহর রাসূলের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন, আর আল্লাহ তাআলা তাঁকে ‘দুইজনের দ্বিতীয়জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান ইবনে সাবিতকে বললেন: তুমি কি আবু বকর সম্পর্কে কিছু বলেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: বলো, আমি শুনছি। তখন তিনি বললেন:
তিনি সেই সুউচ্চ গুহায় দুইজনের দ্বিতীয়জন ছিলেন, যখন
… শত্রুরা তাঁকে ঘিরে ফেলেছিল যখন তিনি পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন
তিনি আল্লাহর রাসূলের প্রিয় পাত্র ছিলেন, তারা জানত যে
… সৃষ্টিজগতের মধ্যে কোনো মানুষই তাঁর সমতুল্য ছিল না
তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল, এরপর তিনি বললেন: হে হাসসান, তুমি সত্য বলেছ, তিনি তেমনই যেমনটি তুমি বলেছ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্মান করতেন, শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর সামনেই তাঁর প্রশংসা করতেন। তিনি তাঁকে সালাতে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূলের সাথে বদর, ওহুদ, খন্দক, হুদায়বিয়ার বায়আতুর রিদওয়ান, খায়বার, মক্কা বিজয়, হুনাইন, তায়েফ ও তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وحجة الوداع. ودفع رسول الله رايته العظمى يوم تبوك إلى أبي بكر وكانت سوداء، وكان فيمن ثبت معه يوم أحدا وحين ولى الناس يوم حنين. وهو من كبار الصحابة الذين حفظوا القرآن كله. ودفع أبو بكر عقبة بن معيط عن رسول الله لما خنق رسول الله وهو يصلي عند الكعبة خنقا شديدا. وقال {أَتَقْتُلُونَ رَجُلاً أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ الله وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ} . المؤمن 28
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لو كنت متخذاً خليلاً لاتخذت أبا بكر خليلاً) . رواه البخاري ومسلم
وأعتق أبو بكر سبعة ممن كانوا يعذبون في الله وهم: بلال وعامر بن فهيرة، وزنيرة، والنهدية، وابنتها، وجارية بني مؤمل، وأم عبيس. وكان أبو بكر إذا مدح قال: (اللهم أنت أعلم بي من نفسي وأنا أعلم بنفسي منهم. اللهم اجعلني خيراً مما يظنون واغفر لي ما لا يعلمون ولا تؤاخذني بما يقولون) .
قال عمر رضي الله عنه: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نتصدق ووافق ذلك مالا عندي. فقلت اليوم أسبق أبا بكر إن سبقته، فجئت بنصف مالي. فقال: ما أبقيت لأهلك؟ قلت مثله. وجاء أبو بكر بكل ما عنده. فقال: يا أبا بكر ما أبقيت لأهلك؟ قال: أبقيت لهم الله ورسوله. قلت: لا أسبقه إلى شئ أبدا.
روي لأبي بكر رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
...এবং বিদায় হজ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুকের যুদ্ধে তাঁর প্রধান পতাকা আবু বকরের হাতে অর্পণ করেন এবং সেটি ছিল কালো রঙের। তিনি সেই সকল সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা উহুদের যুদ্ধে তাঁর সাথে অবিচল ছিলেন এবং হুনাইনের যুদ্ধে যখন লোকেরা পিছু হটেছিল তখন তিনি অটল ছিলেন। তিনি সেই মহান সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত যারা পূর্ণ কুরআন হিফজ করেছিলেন। এবং আবু বকর উকবা বিন মুআইতকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে প্রতিহত করেন যখন সে কাবার কাছে সালাতরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহকে অত্যন্ত জোরে শ্বাসরোধ করেছিল। তিনি (আবু বকর) বলেছিলেন, "তোমরা কি এমন একজন ব্যক্তিকে হত্যা করবে যিনি বলেন যে আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ তিনি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছেন?" (আল-মুমিন: ২৮)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম।" (বুখারী ও মুসলিম)।
আবু বকর আল্লাহর পথে নির্যাতিত সাতজনকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন, তারা হলেন: বিলাল, আমির ইবনে ফুহাইরা, জান্নিরাহ, নাহদিয়্যাহ, তাঁর কন্যা, বনু মুয়াম্মিলের দাসী এবং উম্মে উবাইস। আর আবু বকরের যখন প্রশংসা করা হতো তখন তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার সম্পর্কে আমার নিজের চেয়েও অধিক অবগত, আর আমি তাদের চেয়ে আমার নিজের সম্পর্কে অধিক জানি। হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্কে যা ধারণা করে আপনি আমাকে তার চেয়েও উত্তম বানান এবং তারা যা জানে না সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং তারা যা বলে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না।"
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন এবং সে সময় আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাব যদি কখনও তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। অতঃপর আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসলাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ) জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" আমি বললাম: "অনুরূপ পরিমাণ সম্পদ।" আর আবু বকর তাঁর কাছে থাকা সমস্ত কিছু নিয়ে আসলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) জিজ্ঞেস করলেন: "হে আবু বকর! তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" তিনি বললেন: "তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অবশিষ্ট রেখেছি।" আমি (উমর) বললাম: "আমি কখনও কোনো বিষয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।"
আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে-
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
142 حديثا اتفق البخاري ومسلم منها على ستة، وانفرد البخاري بأحد عشر، ومسلم بحديث واحد. وسبب قلة رواياته مع تقدم صحبته وملازمته النبي صلى الله عليه وسلم أنه تقدمت وفاته قبل انتشار الأحاديث واعتناء التابعين بسماعها، وتحصيلها، وحفظها.
بعض الأحاديث المصرحة بفضل أبي بكر:- عن عمرو بن العاص: أن النبي عليه السلام بعثه على جيش ذات السلاسل قال: فأتيته فقلت: أي الناس أحب إليك؟ فقال: عائشة. فقلت: من الرجال؟ فقال: أبوها. فقلت ثم من؟ قال: عمر بن الخطاب. فعد رجالا. رواه البخاري ومسلم.
وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة) فقال أبو بكر: إن أحد شقي ثوبي يسترخي إلا أن أتعاهد ذلك منه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إنك لست تصنع ذلك خيلاء) رواه البخاري.
وعن أبي هريرة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من أصبح منكم اليوم صائما؟ قال أبو بكر: أنا. قال: فمن تبع منكم اليوم جنازة؟ قال أبو بكر: أنا. قال: فمن أطعم منكم اليوم مسكينا؟ قال أبو بكر: أنا. قال: فمن عاد منكم اليوم مريضا؟ قال أبو بكر: أنا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما اجتمعن في امرئ إلا ودخل الجنة) رواه مسلم.
১৪২টি হাদিস। এর মধ্যে বুখারি ও মুসলিম ছয়টি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, বুখারি এককভাবে এগারোটি এবং মুসলিম একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীর্ঘ সাহচর্য এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকা সত্ত্বেও আবু বকরের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হলো, হাদিসসমূহের ব্যাপক প্রচার হওয়ার আগে এবং তাবেয়িগণ হাদিস শ্রবণ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে মনোযোগী হওয়ার আগেই তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল।
আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশকারী কিছু হাদিস:- আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত: নবী আলাইহিস সালাম তাকে 'জাতুস সালাসিল' নামক অভিযানের সেনাপতি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: আয়েশা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন: তাঁর পিতা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কে? তিনি বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাব। এভাবে তিনি আরও কয়েকজনের নাম বললেন। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা অহংকারবশত তার কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।) তখন আবু বকর বললেন: আমার কাপড়ের এক পাশ ঢিলে হয়ে ঝুলে যায়, যদি না আমি তা বারবার টেনে ঠিক করি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (নিশ্চয়ই তুমি তা অহংকারবশত করছ না।) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (আজ তোমাদের মধ্যে কে রোজা রেখেছে? আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন: আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাজায় শরিক হয়েছে? আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন: আজ তোমাদের মধ্যে কে কোনো দরিদ্রকে অন্নদান করেছে? আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন: আজ তোমাদের মধ্যে কে কোনো রোগীকে দেখতে গিয়েছে? আবু বকর বললেন: আমি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই গুণগুলোর সমাবেশ ঘটলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهن أبي هريرة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان على حراء هو وأبو بكر، وعمر، وعثمان، وعلي، وطلحة، والزبير. فتحركت الصخرة فقال النبي عليه السلام: (اهدأ فما عليك إلا نبي وصديق وشهيد) رواه مسلم.
وعن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (اقتدوا باللذَين من بعدي أبي بكر وعمر) رواه الترمذي.
وعن ابن عمر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأبي بكر (أنت صاحبي على الحوض وصاحبي في الغار) رواه الترمذي وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله عليه وسلم (ما نفعني مال أحد قط ما نفعني مال أبي بكر) فبكى أبو بكر وقال: وهل أنا ومالي إلا لك يا رسول الله.
ومن فضائله رضي الله عنه:
أن عمر بن الخطاب كان يتعاهد عجوزاً كبيرة عمياء في بعض حواشي المدينة من الليل فيستقي لها ويقوم بأمرها. فكان إذا جاء وجد غيره قد سبقه إليها فأصلح ما أرادت. فجاءها غير مرة كيلا يسبق إليها فرصده عمر فإذا الذي يأتيها هو أبو بكر الصديق، وهو خليفة. فقال عمر: أنت هو لعمري.
وهو أول خليفة في الإسلام، وأول أمير أرسل على الحج، حج بالناس سنة تسع هجرية، وأول من جمع القرآن، وأول من سمى
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেরা পাহাড়ে ছিলেন, তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা এবং যুবায়ের। তখন পাথরটি নড়ে উঠল। নবী (আলাইহিস সালাম) বললেন: "স্থির হও, কারণ তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং শহীদগণ ব্যতীত আর কেউ নেই।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরে তোমরা দুইজনের অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "তুমি হাউজের ধারে আমার সাথী এবং গুহার মধ্যেও আমার সাথী।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কারো সম্পদ আমাকে কখনোই তেমন উপকার করেনি, যেমনটি আবু বকরের সম্পদ আমাকে করেছে।" তখন আবু বকর (রা.) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এবং আমার সম্পদ কি আপনার জন্যই নয়?"
তাঁর (রা.) মর্যাদাসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে:
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মদিনার কোনো এক প্রান্তে এক বৃদ্ধা অন্ধ মহিলার খোঁজখবর নিতেন। তিনি রাতের বেলা সেখানে যেতেন, তার জন্য পানি তুলে দিতেন এবং তার প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে দিতেন। কিন্তু তিনি যখনই আসতেন, দেখতেন অন্য কেউ তাঁর আগেই পৌঁছে গেছেন এবং মহিলার যা প্রয়োজন তা করে দিয়েছেন। উমর (রা.) একাধিকবার এলেন যাতে কেউ তাঁর আগে আসতে না পারে। উমর (রা.) ওত পেতে রইলেন এবং দেখলেন যিনি আসছেন তিনি হলেন আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আর তখন তিনি ছিলেন খলিফা। তখন উমর (রা.) বললেন: "আমার জীবনের শপথ, আপনিই সেই ব্যক্তি।"
তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা, হজের জন্য প্রেরিত প্রথম আমির—যিনি নয় হিজরি সনে লোকদের নিয়ে হজ সম্পাদন করেছিলেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআন একত্রিত করেছেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি নামকরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مصحف القرآن مصحفاً، وكان يفتي الناس في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر وعمر.
توفي أبو بكر يوم الاثنين 22 جمادى الآخرة سنة 13هـ - 23 أب - أغسطس سنة 634 وتوفي أبوه بعده بنحو ستة أشهر وله 63 سنة كرسول الله صلى الله عليه وسلم وعمر بن الخطاب.
صفته رضي الله عنه- كان أبو بكر رجلا أبيض خفيف العارضين لا يتمسك إزاره، معروق الوجهة، ناتئ الجبهة عاري الأشاجع (1) أَقْنَى (2) غائر العينين حمش الساقين (3) ممحوص الفخذين (4) يخضب بالحِناء والكَتَم (5) .
زوجاته وأولاده.
- تزوج أبو بكر في الجاهلية (قتيلة بنت سعد) فولدت له عبد الله وأسماء. أما عبد الله فإنه شهد يوم الطائف مع النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
কুরআনকে মুসহাফ হিসেবে সংকলন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আবু বকর ও উমর (রা.) মানুষকে ফতোয়া দিতেন।
আবু বকর (রা.) ১৩ হিজরি সনের ২২শে জমাদিউল আখের, সোমবার—২৩শে আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা তাঁর ইনতিকালের প্রায় ছয় মাস পরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর, ঠিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর মতো।
তাঁর (রা.) শারীরিক বৈশিষ্ট্য- আবু বকর (রা.) ছিলেন ফর্সা বর্ণের মানুষ, তাঁর দুই গাল ছিল মাংসহীন। তাঁর কোমরবন্ধ (ইজার) স্থির থাকত না, চেহারা ছিল ক্ষীণ ও হাড্ডিসার, কপাল ছিল উন্নত ও অগ্রবর্তী এবং আঙুলের সংযোগস্থলগুলো ছিল মাংসহীন (১)। তাঁর নাক ছিল দীর্ঘ ও খাড়া (২), চোখ ছিল কোটরগত এবং পায়ের গোছা ছিল চিকন (৩)। তাঁর উরুদ্বয় ছিল মেদহীন (৪)। তিনি মেহেদি ও কাতাম দিয়ে খেজাব লাগাতেন (৫)।
তাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তানসন্ততি.
- আবু বকর (রা.) জাহেলিয়াত যুগে (কুতায়লা বিনতে সাদ)-কে বিবাহ করেন; তাঁর গর্ভে আবদুল্লাহ ও আসমা জন্মগ্রহণ করেন। আবদুল্লাহ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তায়েফের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبقي إلى خلافة أبيه، ومات في خلافته وترك سبعة دنانير فاستكثرها أبو بكر. وولد لعبد الله اسماعيل فمات ولا عقب له. وأما أسماء فهي ذات النطاقين، وهي التي قطعت قطعة من نطاقها فربطت به على فم السفرة في الجراب التي صنعت لرسول الله، وأبي بكر عند قيامها بالهجرة وبذلك سميت (ذات النطاقين) وهي أسن من عائشة. وكانت أسماء أشجع نساء الإسلام، وأثبتهن جأشا، وأعظمهن تربية للولد على الشهامة، وعزة النفس، تزوجها الزبير بمكة فولدت له عدة أولاد، ثم طلقها فكانت مع ابنها عبد الله بن الزبير حتى قتل بمكة، وعاشت مائة سنة حتى عميت، وماتت.
وتزوج أبو بكر أيضا في الجاهلية (أم رومان) فولدت له عبد الرحمن، وعائشة زوجة رسول الله توفيت في حياة رسول الله في سنة ست من الهجرة فنزل رسول الله قبرها واستغفر لها، وكانت حية وقت حديث الإفك، وحديث الإفك في سنة ست فن شعبان، فعبد الرحمن شقيق عائشة، شهد بدرا وأحدا مع الكفار، ودعا إلى البراز فقام إليه أبو بكر ليبارزه، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم (متعنا بنفسك) وكان شجاعاً رامياً، أسلم في هدنة الحديبية وحسن إسلامه، شهد اليمامة مع خالد بن الوليد فقتل وهو من أكابرهم، وهو الذي
তিনি তাঁর পিতার খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং তাঁর খিলাফতকালেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সাতটি দিনার রেখে গিয়েছিলেন, যা আবু বকর অধিক মনে করেছিলেন। আবদুল্লাহর ইসমাইল নামে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল, যে মৃত্যুবরণ করে এবং তার কোনো বংশধর ছিল না। আর আসমা হলেন 'জাতুন নিতাকাইন'। তিনিই হিজরতের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ এবং আবু বকরের জন্য প্রস্তুতকৃত সফরের খাবারের থলের মুখ বাঁধার জন্য তাঁর নিজের কোমরবন্ধনীর এক টুকরো ছিঁড়ে ব্যবহার করেছিলেন এবং এ কারণেই তাঁর নাম হয়েছে 'জাতুন নিতাকাইন'। তিনি আয়েশার চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। আসমা ছিলেন ইসলামের নারীগণের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী ও দৃঢ়চেতা এবং বীরত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধের ওপর সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। মক্কায় জুবায়েরের সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং সেখানে তাঁর বেশ কিছু সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে তিনি তাঁকে তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের সাথে ছিলেন মক্কায় তাঁর শাহাদাত বরণ করা পর্যন্ত। তিনি একশ বছর জীবিত ছিলেন এবং শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, অতঃপর মৃত্যুবরণ করেন।
আবু বকর জাহেলি যুগে উম্মু রুমানকেও বিবাহ করেছিলেন। তাঁর গর্ভে আবদুর রহমান এবং রাসূলুল্লাহর পত্নী আয়েশা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহর জীবদ্দশায় হিজরি ষষ্ঠ সনে ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ তাঁর কবরে নামেন এবং তাঁর জন্য ইস্তিগফার করেন। ইফক বা অপবাদের ঘটনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন, আর ইফকের ঘটনাটি ঘটেছিল ষষ্ঠ হিজরির শাবান মাসে। আবদুর রহমান ছিলেন আয়েশার সহোদর ভাই। তিনি কাফিরদের সাথে বদর ও ওহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং দ্বৈরথ যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন আবু বকর তাঁর মোকাবিলায় লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, "আপনার জীবন দ্বারা আমাদের উপকৃত হতে দিন।" তিনি অত্যন্ত সাহসী ও দক্ষ তিরন্দাজ ছিলেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম পালন অত্যন্ত সুন্দর ছিল। তিনি খালিদ ইবনে ওয়ালিদের সাথে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিকে হত্যা করেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قتل محكم اليمامة بن الطفيل الذي كان من قواد بني حنيفة المشهورين، رماه بسهم في نحره فقتله، كما سيأتي ذكر ذلك في موقعة اليمامة،. وكان عبد الرحمن أسن ولد أبي بكر وكان فيه دعابة. توفي فجأة بمكان اسمه حبش على نحو عشرة أميال من مكة، وحمل إلى مكة ودفن فيها، وكان موته سنة 53 هجرية.
وتزوج أبو بكر في الإسلام (أسماء بنت عُمَيس) وكانت قبله عند جعفر بن أبي طالب. فلما قتل جعفر تزوجها أبو بكر الصديق فولدت له محمد بن أبي بكر ثم مات عنها فتزوجها علي بن أبي طالب رضي الله عنه مصر فقاتله صاحب معاوية، وظفر به فقتله، وولد له القاسم.
وتزوج أيضا في الإسلام (حبيبة بنت خارجة بن زيد بن أبي زهير الخزرجي) فولدت له جارية سمتها عائشة أم كلثوم. تزوجها طلحة بن عبيد الله فولدت له زكريا، وعائشة، ثم قتل عنها فتزوجها عبد الرحمن بن عبيد الله بن أبي ربيعة المخزومي.
قال الأستاذ واشنجتون إيرفنج في كتاب (محمد وخلفاؤه) :
كان أبو بكر رجلا عاقلا سديد الرأي وقد كان في بعض الأحيان شديد الحذر والحيطة في إدارته، لكنه كان شريف الأغراض غير محب
ইয়ামামার মুয়াক্কাম ইবনুত তুফায়েলকে হত্যা করা হয়েছিল, যিনি বনু হানিফার অন্যতম প্রসিদ্ধ সেনাপতি ছিলেন। তিনি তার কণ্ঠে তীর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করেন, যেমনটি ইয়ামামার যুদ্ধের বর্ণনায় সামনে আসবে। আব্দুর রহমান ছিলেন আবু বকরের সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ এবং তাঁর মধ্যে কৌতুকপ্রিয়তা ছিল। মক্কা থেকে প্রায় দশ মাইল দূরে হুবশ নামক স্থানে তিনি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মক্কায় বহন করে আনা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৫৩ হিজরি সনে।
আবু বকর ইসলাম গ্রহণের পর আসমা বিনতে উমাইসকে বিবাহ করেন, যিনি এর আগে জাফর ইবনে আবি তালিবের বিবাহবন্ধনে ছিলেন। জাফর যখন নিহত হন, তখন আবু বকর সিদ্দীক তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর আবু বকর মৃত্যুবরণ করলে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি (মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর) মিশরে মুয়াবিয়ার সেনাপতির সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং সেনাপতি তাঁর ওপর জয়ী হয়ে তাঁকে হত্যা করেন। তাঁর কাসিম নামক এক পুত্র ছিল।
তিনি ইসলাম গ্রহণের পর হাবিবা বিনতে খারিজাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আবি যুহাইর আল-খাযরাজিকেও বিবাহ করেছিলেন। তিনি তাঁর এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন, যার নাম তিনি উম্মে কুলসুম রেখেছিলেন। তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে জাকারিয়া ও আয়েশা জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তালহা নিহত হলে আব্দুর রহমান ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়া আল-মাখজুমি তাঁকে বিবাহ করেন।
প্রফেসর ওয়াশিংটন আরভিং তাঁর 'মুহাম্মাদ ও তাঁর খলিফাগণ' গ্রন্থে বলেছেন:
আবু বকর ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ ও সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী ব্যক্তি। তিনি কখনো কখনো তাঁর শাসনকার্যে অত্যন্ত সতর্ক ও দূরদর্শী ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন মহৎ উদ্দেশ্যের অধিকারী এবং তিনি কোনো হীন লালসাগ্রস্ত ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
للذات، ساعيا للخير لا لمصلحته الذاتية فلم يبتغ من وراء حكمه مطامع دنيوية بل كان لا يهمه الغنى، زاهدا في الفخر، راغبا عن اللذات ولم يقبل أجرا على خدماته غير مبلغ زهيد يكفي لمعاش رجل عربي عادي ما كان يرد إليه في يوم الجمعة إلى المحتاجين، والفقراء، ويساعد المعوزين بماله الخاص.
নিজ সত্তার প্রতি নির্লিপ্ত থেকে কল্যাণের অন্বেষণকারী ছিলেন, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। ফলে তিনি তাঁর শাসনের মাধ্যমে কোনো পার্থিব উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে চাননি, বরং ঐশ্বর্য তাঁর নিকট গুরুত্বহীন ছিল। তিনি অহমিকা থেকে বিমুখ এবং ভোগবিলাসে অনাগ্রহী ছিলেন। তিনি তাঁর সেবার বিনিময়ে অতি সামান্য পরিমাণ অর্থ ব্যতীত কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না, যা একজন সাধারণ আরব ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত ছিল। জুমার দিনে তাঁর নিকট যা আসত, তা তিনি অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন এবং নিজ সম্পদ দ্বারা নিঃস্বদের সাহায্য করতেন।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
حديث السقيفة وبيعة أبي بكر الصديق.
- توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين 12 ربيع الأول من السنة الحادية عشرة من الهجرة (9 حزيران يونيه سنة 632 م) فهب الأنصار يطالبون بالخلافة قبل أن يدفن رسول الله مع أم المهاجرين لم يكونوا قد فكروا في الخلافة، بل كان كبار الصحابة مشغولين بتجهيز رسول الله ودفنه، وطمع سعد بن أبي عبادة في أن يكون خليفة ويكنى أبا ثابت، وكان نقيب بني سعادة والسيد المطاع في الخزرج.
اجتمع الأنصار في سقيفة بني ساعدة (1) وجاؤوا بسعد بن أبي عبادة وهو مريض بالحمى ليبايعوه، وطلبوا إليه أن يخطب. فقال لابنه أو بعض بني عمه: إني لا أقدر لشكواي أن أسمع القوم كلهم كلامي، ولكن تلق مني قولي فأسمعهم، فكان يتكلم ويحفظ الرجل قوله فيرفع صوته فيسمع أصحابه.
--------------------------------------------
সকিফার ঘটনা এবং আবু বকর সিদ্দিকের বায়আত.
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরী একাদশ বর্ষের ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার (৯ই জুন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) ইন্তেকাল করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহর দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই আনসারগণ খিলাফতের দাবি নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন; অথচ মুহাজিরগণ তখনো খিলাফত নিয়ে কোনো চিন্তা করেননি, বরং জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহর কাফন-দাফন ও প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সা’দ ইবনে আবি উবাদাহ খলিফা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন, যাঁর কুনিয়াত ছিল আবু সাবিত। তিনি ছিলেন বনী সা’দাহর নকিব এবং খাযরাজ গোত্রের মান্যবর নেতা।
আনসারগণ বনী সায়েদাহর সকিফায় (১) সমবেত হলেন এবং সা’দ ইবনে আবি উবাদাহকে সেখানে নিয়ে এলেন যখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন, যেন তাঁরা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করতে পারেন। তাঁরা তাঁকে ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ করলেন। তিনি তাঁর পুত্রকে অথবা তাঁর কোনো এক চাচাতো ভাইকে বললেন: ‘আমি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত সকলকে আমার কথা শোনাতে সক্ষম নই, তবে তুমি আমার কাছ থেকে কথাগুলো গ্রহণ করো এবং তাদের শুনিয়ে দাও।’ ফলে তিনি কথা বলতেন আর ওই ব্যক্তি তাঁর কথাগুলো মনে রেখে উচ্চস্বরে অন্যদের শুনিয়ে দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
خطبة سعد بن عبادة- قال سعد بعد أن حمد الله وأثنى عليه:
(يا معشر الأنصار، لكم سابقة في الدين، وفضيلة في الإسلام ليست لقبيلة من العرب. إن محمدا عليه السلام لبث بضع عشرة سنة في قومه يدعوهم إلى عبادة الرحمن، وخلع الأنداد والأوثان، فما آمن به من قومه إلا رجال قليل، ما كانوا يقدرون على أن يمنعوا رسول الله، ولا أن يعزوا دينه، ولا أن يدفعوا عن أنفسهم ضيما عموا به، حتى إذا أراد بكم الفضيلة، ساق إليكم الكرامة وخصكم بالنعمة، فرزقكم الإيمان به وبرسوله، والمنع له ولأصحابه، والإعزاز له ولدينه، والجهاد لأعدائه، فكنتم أشد الناس على عدوه حتى استقامة العرب لأمر الله طوعا وكرها، وأعطى البعيد المقادة صاغرا داخرا حتى أثخن الله عز وجل لرسوله بكم الأرض، ودانت بأسيافكم له العرب، وتوفاه الله وهو عنكم راض وبكم قرير عين استبدوا بالأمر دون الناس، فإنه لكم دون الناس (1)) .
هذه خطبة سعد بن عبادة. فقد كان يرى أن المهاجرين استبدوا بالأمر، وأن الأنصار أحق بالولاية للأسباب التي ذكرها، مع أن المهاجرين لم يكونوا قد اجتمعوا، ولم يتشاوروا في أمر الخلافة، ولم
--------------------------------------------
সাদ ইবনে উবাদাহ-এর ভাষণ- আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর সাদ বললেন:
(হে আনসার সম্প্রদায়, দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের এমন অগ্রবর্তিতা এবং ইসলামে এমন মর্যাদা রয়েছে যা আরবদের অন্য কোনো গোত্রের নেই। মুহাম্মদ (সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর কওমের মাঝে দশ বছরের কিছু বেশি সময় অবস্থান করে তাদেরকে দয়াময় আল্লাহর ইবাদত করার এবং শরীক ও মূর্তিদের বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কওমের অল্প কয়েকজন লোক ছাড়া কেউ তাঁর ওপর ঈমান আনেনি। তারা আল্লাহর রাসূলকে রক্ষা করতে, তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করতে কিংবা তাদের ওপর চেপে বসা যুলুম-অত্যাচার প্রতিহত করতে সক্ষম ছিল না। অবশেষে যখন আল্লাহ তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব চাইলেন, তখন তিনি তোমাদের কাছে সম্মান বয়ে আনলেন এবং তোমাদেরকে নেয়ামত দ্বারা বিশিষ্ট করলেন। ফলে তিনি তোমাদেরকে তাঁর প্রতি এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার, তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের রক্ষা করার, তাঁকে ও তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করার এবং তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার তাওফিক দান করলেন। তোমরা তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ছিলে, এমনকি আরবরা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর নির্দেশের সামনে মাথা নত করল এবং দূর-দূরান্তের লোকেরা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়ে বশ্যতা স্বীকার করল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাধ্যমে তাঁর রাসূলের জন্য যমীনকে বশীভূত করলেন এবং তোমাদের তলোয়ারের মাধ্যমে আরবরা তাঁর অনুগত হলো। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে এমন অবস্থায় মৃত্যু দান করলেন যখন তিনি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তোমাদের কারণে তাঁর চক্ষু শীতল ছিল। সুতরাং তোমরা অন্য লোকদের বাদ দিয়ে এই শাসনের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে গ্রহণ করো, কারণ এটি অন্য কারো চেয়ে তোমাদেরই বেশি প্রাপ্য (১))।
এটি ছিল সাদ ইবনে উবাদাহ-এর ভাষণ। তিনি মনে করতেন যে মুহাজিরগণ কর্তৃত্ব গ্রহণ করে নিচ্ছেন এবং তাঁর বর্ণিত কারণসমূহের ভিত্তিতে আনসাররাই নেতৃত্বের অধিক হকদার। অথচ তখনো মুহাজিরগণ একত্রিত হননি এবং খেলাফতের বিষয়ে কোনো পরামর্শও করেননি, আর তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
يقرروا شيئا. ولا شك في أن هذه الخطبة حازت استحسان الأنصار، ولا سيما الخزرج، فأجابوا بأجمعهم أن قد وفقت في الرأي، وأصبت في القول، ولن نعدو ما رأيت، نوليك هذا الأمر فإنك فينا مقنع، ولصالح المؤمنين رضاً.
وطبيعي أن يحتج المهاجرون على هذا الكلام،. فقالوا: نحن المهاجرون وأصحاب رسول الله الأولون، وعشيرته وأولياؤه. فقال الأنصار: (منا أمير ومنكم أمير) ولن نرضى بدون هذا أبدا. فقال سعد: (هذا أول الوَهْن) .
بلغ عمر بن الخطاب ما كان من خطبة سعد وما وقع من خلاف بين الأنصار الذين أثاروا هذا الموضوع وبين المهاجرين، فجاء إلى منزل رسول الله؛ وأرسل إلى أبي بكر أن أخرج إلي فأرسل إليه أني مشتغل فأرسل إليه أنه قد حدث أمر لا بد لك من حضوره. فخرج فأعلمه الخبر فمضيا مسرعين إلى السقيفة ومعهما أبو عبيدة بن الجراح، وأراد عمر رضي الله عنه أن يبدأ بالكلام، فأسكته أبو بكر قائلا: (رويداً حتى أتكلم) ثم تكلم بكل ما أراد أن يقول عمر.
خطبة أبي بكر الصديق- بدأ أبو بكر فحمد الله وأثنى عليه ثم قال:
(إن الله بعث محمدا رسولاً إلى خلقه، وشهيدا على أمته ليعبدوا
কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। নিঃসন্দেহে এই ভাষণ আনসারদের বিশেষ করে খাযরাজ গোত্রের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে তারা সবাই মিলে উত্তর দিল যে, আপনি সঠিক মত পোষণ করেছেন এবং সঠিক কথা বলেছেন। আমরা আপনার মতের বাইরে যাব না। আমরা আপনাকে এই বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করছি, কারণ আপনি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং মুমিনদের কল্যাণের জন্য সন্তুষ্টির পাত্র।
স্বাভাবিকভাবেই মুহাজিররা এই কথার প্রতিবাদ করলেন। তারা বললেন: আমরা মুহাজির এবং রাসূলুল্লাহর প্রথম পর্যায়ের সাহাবী এবং তাঁর গোত্র ও অভিভাবক। তখন আনসাররা বলল: (আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর এবং আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে) এবং আমরা কখনো এর চেয়ে কম কিছুতে সম্মত হব না। সা'দ বললেন: (এটিই হলো দুর্বলতার শুরু)।
উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে সা’দের ভাষণ এবং এই বিষয়টি উত্থাপনকারী আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে সেই খবর পৌঁছাল। তিনি রাসূলুল্লাহর ঘরে আসলেন এবং আবু বকরের কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, আমার কাছে বেরিয়ে আসুন। তিনি উত্তর পাঠালেন যে, আমি ব্যস্ত আছি। তখন তিনি পুনরায় সংবাদ পাঠালেন যে, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে আপনার উপস্থিতি অপরিহার্য। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং উমর তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। এরপর তারা দ্রুত সাকিফার দিকে রওয়ানা হলেন এবং তাদের সাথে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ছিলেন। উমর (রাযি.) কথা শুরু করতে চাইলেন, কিন্তু আবু বকর তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন: (ধৈর্য ধরুন, আগে আমি কথা বলি)। তারপর উমর যা বলতে চেয়েছিলেন তিনি তার সবটুকুই বললেন।
আবু বকর সিদ্দিকের ভাষণ- আবু বকর শুরু করলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান গাইলেন এবং এরপর বললেন:
(নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে তাঁর সৃষ্টির কাছে রাসূল হিসেবে এবং তাঁর উম্মতের উপর সাক্ষী হিসেবে পাঠিয়েছেন যাতে তারা ইবাদত করে...
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الله ويوحدوه، وهم يعبدون من دونه آلهة شتى، ويزعمون أنها لهم عنده شافعة، ولهم نافعة وإنما هي من حجر منحوت، وخشب منجور. ثم قرأ: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ الله مَا لَا يَضًّرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ الله} يونس 18 {وَقَالُوا مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَاّ لَيُقَرِّبُونَا إِلَى الله زُلْفَى} الزمر 3. فعظم على العرب أن يتركوا دين آبائهم، فخص الله المهاجرين الأولين من قومه بتصديقه، والإيمان به، والمواساة له، والصبر معه على شدة أذى قومهم لهم، وتكذيبهم إياهم، وكل الناس لهم مخالف. زار عليهم، فلم يستوحشوا لقلة عددهم، وشنف الناس لهم (1) وإجماع قومهم عليهم، فهم أول من عبد الله في الأرض، وآمن بالله والرسول وهم أولياؤه وعشيرته وأحق الناس بهذا الأمر من عبده، ولا ينازعهم ذلك إلا ظالم، أنتم يا معشر الأنصار من لا ينكر فضلهم في الدين، ولا سابقتهم العظيمة في الإسلام. رضيكم الله أنصارا لدينه ولرسوله، وجعل إليكم هجرته وفيكم جلة أزواجه وأصحابه فليس بعد المهاجرين الأولين عندنا بمنزلتكم، فنحن الأمراء وأنتم الوزراء، لا تُفْتانون بمشْوَرة، ولا تقضى دونكم الأمور.
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং তাঁর একত্ববাদ (স্বীকার করে), অথচ তারা তাঁকে বাদ দিয়ে নানাবিধ উপাস্যের ইবাদত করছিল এবং দাবি করছিল যে, এগুলো আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে ও তাদের উপকার করবে; অথচ এগুলো ছিল খোদাই করা পাথর ও তক্ষিত কাঠ মাত্র। তারপর তিনি পাঠ করলেন: "আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে যে, ‘এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী’।" (ইউনুস ১৮)। "তারা বলে, ‘আমরা তো এদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায়’।" (আয-যুমার ৩)। তখন আরবদের নিকট তাদের পিতৃপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। ফলে আল্লাহ তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে প্রথম যুগের মুহাজিরদের তাঁর সত্যয়ন, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং নিজ সম্প্রদায়ের চরম নির্যাতন ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মুখে তাঁর সাথে ধৈর্য ধারণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করলেন; তখন সমস্ত মানুষ তাদের বিরোধী ছিল। তাদের ওপর চড়াও হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের অল্প সংখ্যার কারণে একাকীত্ব বোধ করেননি এবং মানুষের ঘৃণা (১) ও তাদের বিরুদ্ধে নিজ সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণেও বিচলিত হননি। তারাই জমিনে সর্বপ্রথম আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছেন। তারাই তাঁর প্রিয়জন ও স্বজন এবং আল্লাহর ইবাদতকারীদের মধ্যে এই বিষয়ের (নেতৃত্বের) সর্বাধিক হকদার। কোনো জালেম ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে তাদের সাথে বিবাদ করবে না। হে আনসার সম্প্রদায়! আপনারা এমন এক জাতি যাদের দ্বীনের মর্যাদা এবং ইসলামে আপনাদের মহান অগ্রগামিতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। আল্লাহ আপনাদেরকে তাঁর দ্বীন ও তাঁর রাসূলের সাহায্যকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন, আপনাদের কাছেই তাঁর হিজরতকে নির্ধারিত করেছেন এবং আপনাদের মাঝেই তাঁর সম্মানিত পত্নীগণ ও সাহাবীগণ অবস্থান করেছেন। সুতরাং প্রথম যুগের মুহাজিরদের পর আমাদের নিকট আপনাদের মর্যাদার তুল্য আর কেউ নেই। অতএব আমরা হলাম আমীর এবং আপনারা হলেন উযীর। কোনো পরামর্শে আপনাদের বাদ দেওয়া হবে না এবং আপনাদের ছাড়া কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خطبة الحباب بن المنذر- فقام الحباب بن المنذر بن الجموح الأنصاري الخزرجي السلمي، ويكنى أبا عمر وكان يقال له ذو الرأي. فقال:
(يا معشر الأنصار املكوا عليكم أمركم فإن الناس في فيئكم وفي ظلكم ولن يجتري مجترئ على خلافكم، ولن يصدر الناس إلا عن رأيكم، أنتم أهل العز والثروة، وأولو العدة والمنعة والتجربة، ذوو البأس والنجدة وإنما ينظر الناس إلى ما تصنعون، ولا تختلفوا فيفسد رأيكم، وينتقض عليكم أمركم أبى هؤلاء إلا ما سمعتم فمنا أمير ومنهم أمير) .
ورد عمر بن الخطاب على الحباب فقال:
(هيهات لا يجتمع اثنان في قَرَن (1) والله لا ترضى العرب أن يؤمروكم ونبيها من غيركم ولكن العرب لا تمتنع أن تولي أمرها من كانت النبوة فيهم وولي أمرهم فيهم، ولنا بذلك على من أبى من العرب الحجة الظاهرة والسلطان المبين، من ذا ينازعنا سلطان محمد وإمارته، ونحن أولياؤه وعشيرته إلا مدل بباطل أو متجانف لإثم (2) أو متورط في هلكة) .
--------------------------------------------
হুবাব ইবনে মুনযিরের ভাষণ- অতঃপর হুবাব ইবনে মুনযির ইবনে আল-জামুহ আল-আনসারী আল-খাযরাজী আস-সুলামী দাঁড়ালেন, তাঁর উপনাম ছিল আবু উমর এবং তাঁকে ‘সুচিন্তিত মতের অধিকারী’ বলা হতো। তিনি বললেন:
(হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের বিষয়টি নিজেদের কর্তৃত্বে রাখো, কারণ মানুষ তোমাদের আশ্রয় ও ছায়াতলে রয়েছে। কেউ তোমাদের বিরোধিতা করার সাহস করবে না এবং মানুষ তোমাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না। তোমরাই সম্মান ও প্রাচুর্যের অধিকারী এবং তোমরাই সরঞ্জাম, শক্তি ও অভিজ্ঞতার অধিকারী। তোমরাই বীরত্ব ও সাহায্যের আধার এবং মানুষ কেবল তোমরা কী করছো সেদিকেই তাকিয়ে আছে। তোমরা পরস্পর মতভেদ করো না, অন্যথায় তোমাদের চিন্তাধারা কলুষিত হবে এবং তোমাদের কর্তৃত্ব খর্ব হবে। তারা যদি তোমাদের প্রস্তাবিত বিষয় ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করে, তবে আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে এবং তাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে।)
উমর ইবনুল খাত্তাব হুবাবের কথার প্রতিবাদ করে বললেন:
(কখনো নয়! এক রশিতে দুইজনকে যুক্ত করা যায় না (১)। আল্লাহর কসম! আরবরা তোমাদের নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজী হবে না যখন তাদের নবী তোমাদের বংশের বাইরের কেউ। তবে আরবরা তাদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে কোনো আপত্তি করবে না যাদের মধ্যে নবুওয়াত বিদ্যমান এবং যাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব মনোনীত হয়েছে। আর যারা এটি অস্বীকার করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট দলিল ও সুনিশ্চিত কর্তৃত্ব রয়েছে। মুহাম্মাদ (সা.)-এর ক্ষমতা ও নেতৃত্বের ব্যাপারে কে আমাদের সাথে বিবাদ করবে, যেখানে আমরাই তাঁর প্রকৃত উত্তরসূরি ও নিকটাত্মীয়? কেবল বাতিল নিয়ে আস্ফালনকারী বা ইচ্ছাকৃতভাবে পাপে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তি অথবা ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এমনটি করবে না।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقام الحباب بن المنذر فقال:
(يا معشر الأنصار املكوا على أيديكم، ولا تسمعوا مقالة هذا وأصحابه فيذهبوا بنصيبكم من هذا الأمر فإن أبوا علكم ما سألتموه فأجلوهم عن هذه البلاد، وتولوا عليهم هذه الأمور، فأنتم والله أحق بهذا الأمر منهم فإنه بأسيافكم دان لهذا الدين من دان ممن لم يكن يدين، أنا جُذَيلها (1) المحكَّك وعُذَيقُها المرَجَّب، أما والله لو شئتم لنعيدنَّها جَذَعة) .
لقد لج الحباب في الخصومة، واستعمل في خطبته ألفاظا شديدة وحرض الأنصار على إجلاء المهاجرين من المدينة إذا لم يولوهم الخلافة وتوعدهم بالشر لذلك قال له عمر محتدا، إذن يقتلك الله. قال: بل إياك يقتلك.
قال أبو عبيدة:) يا معشر الأنصار إنكم أول من نصر وآزر فلا تكونوا أول من غير وبدل) .
--------------------------------------------
অতঃপর হুবাব ইবনুল মুনযির দাঁড়িয়ে বললেন:
(হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের শাসনভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখো এবং এই ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গীদের কথা শুনো না; অন্যথায় তারা এই শাসনভার থেকে তোমাদের প্রাপ্য অংশটুকু নিয়ে যাবে। তোমরা যা চেয়েছ তারা যদি তা প্রদানে অস্বীকার করে, তবে তোমরা তাদেরকে এই ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করো এবং এই বিষয়ের দায়িত্বভার নিজেরা গ্রহণ করো। আল্লাহর শপথ! তাদের চেয়ে তোমরাই এই পদের অধিক হকদার। কেননা তোমাদের তরবারির আঘাতেই এই দ্বীনের অনুগত হয়েছে তারা, যারা ইতিপূর্বে অনুগত ছিল না। আমি হচ্ছি সেই পরীক্ষিত কাষ্ঠখণ্ড যা দ্বারা উটের চুলকানি দূর করা হয় এবং এমন এক ফলন্ত খেজুর গাছ যাকে ঠেস দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আল্লাহর শপথ! তোমরা যদি চাও তবে আমি এই বিবাদকে পুনরায় তার প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারি।)
হুবাব বিবাদের ক্ষেত্রে অনড় অবস্থান গ্রহণ করলেন এবং তাঁর ভাষণে অত্যন্ত কঠোর শব্দাবলি ব্যবহার করলেন। তিনি আনসারদের প্ররোচিত করলেন যেন তারা মুহাজিরদের মদিনা থেকে বহিষ্কার করে যদি তারা তাদেরকে খিলাফতের দায়িত্ব না দেয় এবং তিনি তাদেরকে অকল্যাণের হুমকি প্রদান করলেন। একারণে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তেজিত হয়ে তাকে বললেন, তবে আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তিনি বললেন: বরং তোমাকেই আল্লাহ ধ্বংস করুন।
আবু উবাইদাহ বললেন: (হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরাই প্রথম সাহায্যকারী ও সহযোদ্ধা হয়েছিলে, সুতরাং তোমরাই প্রথম পরিবর্তন ও রদবদলকারী হয়ো না)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعندئذ قام بشير بن سعد بن ثعلبة بن الجلاس الخزرجي الأنصاري، ويكنى أبا النعمان فقال:
(يا معشر الأنصار إنا والله كنا أولى فضيلة في جهاد المشركين وسابقة في هذا الدين، ما أردنا به إلا رضا ربنا، وطاعة نبينا والكدح لأنفسنا. فما ينبغي لنا أن نستطيل على الناس بذلك، ألا إن محمدا صلى الله عليه وسلم من قريش وقومه به أحق وأولى، وايم الله لا يراني الله أنازعهم هذا الأمر أبدا فاتقوا الله ولا تخالفوهم ولا تنازعوهم) .
فأراد أبو بكر بحكمته أن يضع حدا لهذا الخلاف خشية استحكامه فرشح للخلافة اثنين من المهاجرين قائلا: (هذا عمر وهذا أبو عبيدة فأيهما شئتم فبايعوا) .
فقالا: (لا والله لا نتولى هذا الأمر عليك، فإنك أفضل المهاجرين وثاني إثنين إذ هما في الغار وخليفة رسول الله على الصلاة والصلاة أفضل دين المسلمين فمن ذا ينبغي له أن يتقدمك، أو يتولى هذا الأمر عليك أبسط يدك نبايعك) . فلما ذهبا ليبايعاه سبقهما إليه بشير بن سعد فبايعه، فهو على ذلك أول من بايع أبا بكر الصديق.
ولما رأت الأوس ما صنع بشير بن سعد، وما تدعو إليه قريش وما تطلب الخزرج من تأمير سعد بن عبادة، قال بعضهم لبعض وفيهم أُسَيد بن حُضَير (الذي كان رئيس الأوس يوم بُعَاث ومن أحسن الناس صوتاً بالقرآن، وكان أحد المشهود لهم بالعقل وأحد النقباء) :
সেই সময় বাশির বিন সা’দ বিন ছা’লাবাহ বিন আল-জুলাস আল-খাযরাজি আল-আনসারি দাঁড়িয়ে গেলেন, তাঁকে আবু নু’মান উপনামে ডাকা হতো, এরপর তিনি বললেন:
(হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহর শপথ, মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এই দ্বীনে আমাদের অগ্রগণ্যতা অনস্বীকার্য। এর মাধ্যমে আমরা কেবল আমাদের রবের সন্তুষ্টি, আমাদের নবীর আনুগত্য এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রমই উদ্দেশ্য করেছি। সুতরাং এর কারণে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা আমাদের জন্য সমীচীন নয়। জেনে রেখো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ বংশের এবং তাঁর কওমই এই বিষয়ে (নেতৃত্বে) অধিক হকদার ও যোগ্য। আল্লাহর শপথ, এই বিষয়ে আমি যেন কখনোই তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হই তা আল্লাহ দেখছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাদের বিরোধিতা করো না ও তাদের সাথে বিবাদে জড়িয়ো না)।
তখন আবু বকর তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে এই মতবিরোধের একটি সমাপ্তি টানতে চাইলেন পাছে এটি আরও জটিল আকার ধারণ করে, তাই তিনি মুহাজিরদের মধ্য থেকে দুজনকে খিলাফতের জন্য মনোনীত করে বললেন: (এই তো উমর এবং এই তো আবু উবাইদাহ, তোমাদের যাকে ইচ্ছা তোমরা বায়আত প্রদান করো)।
তাঁরা দুজন বললেন: (না, আল্লাহর শপথ, আপনার বর্তমানতায় আমরা এই দায়িত্ব গ্রহণ করব না। কেননা আপনি মুহাজিরদের মধ্যে সর্বোত্তম, সেই গুহার দুজনের দ্বিতীয়জন এবং সালাতের বিষয়ে রাসূলুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত, আর সালাত হলো মুসলিমদের দ্বীনের সর্বোত্তম বিষয়। সুতরাং কার এমন সাধ্য যে আপনার আগে অগ্রসর হবে অথবা আপনার উপস্থিতিতে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবে? আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমরা আপনার বায়আত গ্রহণ করব)। যখন তাঁরা দুজনে তাঁর বায়আত গ্রহণ করতে উদ্যত হলেন, বাশির বিন সা’দ তাঁদের আগেই এগিয়ে গিয়ে তাঁর বায়আত গ্রহণ করলেন। এভাবেই তিনি আবু বকর সিদ্দিকের বায়আত গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হলেন।
যখন আউস গোত্র দেখল বাশির বিন সা’দ কী করেছেন এবং কুরাইশরা কীসের দিকে আহ্বান করছে আর খাযরাজ গোত্র সা’দ বিন উবাদাহকে নেতা বানানোর জন্য কী দাবি করছে, তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল—তাদের মধ্যে উসাইদ বিন হুদাইরও ছিলেন (যিনি বু’আছ যুদ্ধের দিন আউস গোত্রের প্রধান ছিলেন এবং মানুষের মধ্যে আল-কুরআনের সবথেকে সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন এবং যাকে প্রজ্ঞাবান ও অন্যতম নকীব হিসেবে গণ্য করা হতো):
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والله لئن وَلِيْتها الخزرج عليكم مرة لا زالت لهم بذلك الفضيلة، ولا جعلوا لكم معهم فيها نصيباً أبداً فقاموا إليه فبايعوه، فأنكر على سعد بن عبادة وعلى الخزرج ما كانوا أجمعواه له من أمرهم.
ولم يلق الرأي الذي قاله الأنصار (منا أمير ومنكم أمير) قبولا حتى سعد نفسه فإنه لما سمع به قال: (هذا أول الوهن) لأن انقسام القوة موهن لها، وكذا رفضه عمر حيث قال: (هيهات لا يجتمع اثنان في قرن) وأسرع عمر في مبايعة أبي بكر علما منه بمكانته واعترافا بفضله.
أقبل الناس يبايعون أبا بكر من كل جانب، وأقبلت أسلم بجماعاتها حتى تضايقت بهم السكك فبايعوا فكان عمر يقول: (ما هو إلا أن رأيت أسلم فأيقنت بالنصر) وكاد الناس من شدة الزحام يطأون سعد بن عبادة الذي كان يومئذ مريضا ولا يستطيع النهوض، وحدثت بينه وبين عمر مشادة، وأخيرا حمل سعد وأدخل في داره وترك أياما ثم بعث إليه أن أقبل فبايع فقد بايع الناس وبايع قومك فقال:
(أما والله حتى أرميكم بما في كنانتي من نبل، وأخضب سنان رمحي وأضربكم بسيفي ما ملكته يدي، وأقاتلكم بأهل بيتي ومن أطاعني من قومي، فلا أفعل. وايم الله لو أن الجن اجتمعت لكم مع الإنس ما بايعتكم حتى أعرض على ربي وأعلم ما حسابي) .
আল্লাহর শপথ, যদি একবার খাযরাজ সম্প্রদায় তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে, তবে এর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব সবসময়ের জন্য তাদেরই হয়ে যাবে এবং তারা তোমাদের এতে কখনও কোনো অংশ দেবে না। অতঃপর তারা উঠে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করল। আর তিনি সাদ বিন উবাদাহ এবং খাযরাজ গোত্র তাদের যে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করলেন।
আনসারদের দেওয়া প্রস্তাব—‘আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির’—তা এমনকি সাদের নিজের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কারণ তিনি যখন এটি শুনলেন, তখন বললেন: ‘এটিই হলো দুর্বলতার প্রথম ধাপ’; কেননা শক্তির বিভাজন শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। একইভাবে উমরও তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন: ‘অসম্ভব! এক আধারে দুজন একত্রিত হতে পারে না।’ উমর আবু বকরের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত থাকায় এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণে দ্রুত অগ্রসর হলেন।
চারদিক থেকে মানুষ আবু বকরের কাছে বাইআত গ্রহণের জন্য আসতে লাগল। আসলাম গোত্র দলে দলে আসতে লাগল, এমনকি রাস্তাঘাট তাদের ভিড়ে সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। তারা বাইআত গ্রহণ করল। উমর বলতেন: ‘আমি আসলাম গোত্রকে দেখামাত্রই বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলাম।’ মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ে সাদ বিন উবাদাহ প্রায় পদদলিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন; তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন এবং উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তাঁর ও উমরের মধ্যে বাদানুবাদ হলো। পরিশেষে সাদকে বহন করে তাঁর ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো এবং কয়েক দিন সেভাবেই রাখা হলো। এরপর তাঁর কাছে বার্তা পাঠানো হলো যেন তিনি এসে বাইআত গ্রহণ করেন, কেননা সাধারণ মানুষ এবং তাঁর স্বগোত্রীয়রাও বাইআত গ্রহণ করেছে। তখন তিনি বললেন:
‘শোনো, আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ না আমি আমার তূণীরের সমস্ত তীর তোমাদের দিকে নিক্ষেপ করি, আমার বল্লমের ফলায় রক্ত মাখাই, আমার আল্লাহর দেওয়া হাত যতক্ষণ তলোয়ার ধারণ করতে পারবে ততক্ষণ তা দিয়ে তোমাদের আঘাত করি এবং আমার পরিবার ও কওমের অনুগতদের নিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, ততক্ষণ আমি এটি করব না। আল্লাহর কসম! যদি জিন ও মানুষ সবাই তোমাদের জন্য একত্রিত হয়, তবুও আমি তোমাদের হাতে বাইআত হব না, যতক্ষণ না আমি আমার রবের সামনে পেশ হই এবং জানতে পারি আমার হিসাব কী হবে।’
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هذا ما أجاب به سعد من دعوه إلى مبايعة أبي بكر بعد أن علم أن البيعة قد تمت ولكن ماذا يفيد امتناعه عن البيعة، وليس له أنصار ولا أغلبية! لقد طمع في الخلافة، وظن أن قومه سيقاومون ويتمسكون به إلى آخر رمق من حياتهم. إنه توعد وهدد بمفرده لذلك لم يكترث به أحد فتركوه وشأنه.
فلما علم أبو بكر بما قال سعد؛ قال له عمر: لا تدعه حتى يبايع. فقال له بشير بن سعد: إنه قد لج وأبى، وليس بمبايعتكم حتى يقتل، وليس بمقتول حتى يقتل معه ولده، وأهل بيته، وطائفة من عشيرته، فاتركوه فليس تركه بضاركم إنما هو رجل واحد. فتركوه عملا برأي بشير.
تخلف علي رضي الله عنه عن البيعة- قال الزهري: (بقي علي وبنو هاشم والزبير ستة أشهر لم يبايعوا أبا بكر حتى ماتت فاطمة رضي الله عنها فبايعوه (1)) وكانت فاطمة أرسلت إلى أبي بكر تسأله ميراثها من رسول الله مما أفاء الله عليه بالمدينة وفَدَكَ (2) وما بقي من خمس خيبر فأبى أبو بكر أن يدفع إليها شيئا؛ لأن رسول الله قال: (لا نُوْرَثُ ما تركناه صدقة) فوجدت
--------------------------------------------
এটিই ছিল সা’দ-এর উত্তর যখন তাঁকে আবু বকরের প্রতি আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তিনি জানতে পেরেছিলেন যে বাইয়াত ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাঁর এই বাইয়াত থেকে বিরত থাকায় কী-ই বা লাভ হতো, যেখানে তাঁর কোনো সমর্থক বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না! তিনি খিলাফতের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন এবং ধারণা করেছিলেন যে তাঁর কওম প্রতিরোধ করবে এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাঁকে আঁকড়ে ধরবে। তিনি একাই হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তাই কেউ তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি এবং তাঁকে তাঁর অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিল।
যখন আবু বকর সা’দ যা বলেছেন তা জানতে পারলেন, তখন উমর তাঁকে বললেন: তাকে ছেড়ো না যতক্ষণ না সে বাইয়াত গ্রহণ করে। তখন বশীর ইবনে সা’দ তাঁকে বললেন: তিনি জেদ ধরেছেন এবং অস্বীকার করেছেন, আর তিনি নিহত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের বাইয়াত গ্রহণ করবেন না। আর তিনি ততক্ষণ নিহত হবেন না যতক্ষণ না তাঁর সাথে তাঁর সন্তান, পরিবারের সদস্য এবং তাঁর গোত্রের একদল লোক নিহত হয়। সুতরাং আপনারা তাঁকে ছেড়ে দিন, কারণ তাঁকে ছেড়ে দিলে আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না, তিনি তো কেবল একজন ব্যক্তি মাত্র। ফলে বশীরের পরামর্শ অনুযায়ী তারা তাঁকে ছেড়ে দিলেন।
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাইয়াত গ্রহণে বিলম্ব করা- যুহরী বলেন: (আলী, বনু হাশিম এবং যুবাইর ছয় মাস অতিবাহিত করলেন তাঁরা আবু বকরের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল করেন, অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন (১))। ফাতিমা আবু বকরের কাছে লোক পাঠিয়েছিলেন আল্লাহর রাসূলের মিরাস (উত্তরাধিকার) থেকে তাঁর অংশ চাইতে, যা আল্লাহ তাঁকে মদীনায় এবং ফাদাক (২) ও খায়বারের খুমুসের অবশিষ্ট অংশ থেকে দান করেছিলেন। আবু বকর তাঁকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন; কারণ আল্লাহর রাসূল বলেছিলেন: (আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা)। এতে তিনি ব্যথিত হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فاطمة على أبي بكر الصديق في ذلك ولم تكلمه حتى توفيت.
وقد كان علي رضي الله عنه يرى أنه أحق بالخلافة من أبي بكر لقرابته من رسول الله، لذلك فقد تخلف عن البيعة (1) مع أن رسول الله لما مرض وتعذر عليه الخروج إلى الصلاة. قال مروا أبا بكر فليصل بالناس. فقالت له عائشة: يا رسول الله إن أبا بكر رجل رقيق إذا قام مقامك لا يسمع الناس من البكاء قال: مروا أبا بكر فليصل بالناس. فعاودته مثل مقولتها. فقال: إنكن صواحبات يوسف. مروا أبا بكر فليصل بالناس. وفي تقديمه أبا بكر إلى الصلاة إشارة إلى أنه الخليفة بعده قال الزبير: لا أغمد سيفا حتى يبايع علي. فقال عمر: خذوا سيفه واضربوا به الحجر. ثم أتاهم عمر فأخذهم للبيعة. وقيل لما سمع علي ببيعة أبي بكر خرج في قميصه ما عليه إزار، ولا رداء عجلا حتى يبايعه ثم استدعى
--------------------------------------------
ফাতিমা এ বিষয়ে আবু বকর সিদ্দিকের ওপর নাখোশ ছিলেন এবং তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর সাথে কথা বলেননি।
আর আলী (রা.) মনে করতেন যে, রাসুলুল্লাহর সাথে তাঁর আত্মীয়তার কারণে তিনি আবু বকরের চেয়ে খিলাফতের অধিক হকদার, এই কারণে তিনি বায়আত গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন (১)। যদিও রাসুলুল্লাহ যখন অসুস্থ হলেন এবং সালাতের জন্য বের হওয়া তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল, তখন তিনি বললেন, "আবু বকরকে নির্দেশ দাও যাতে সে লোকেদের সালাত পড়ায়।" তখন আয়েশা (রা.) তাঁকে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আবু বকর একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ, তিনি যখন আপনার স্থলাভিষিক্ত হবেন, তখন কান্নার আধিক্যের কারণে লোকেরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে না।" তিনি বললেন, "আবু বকরকে নির্দেশ দাও যাতে সে লোকেদের সালাত পড়ায়।" আয়েশা পুনরায় একই কথা বললেন। তখন তিনি বললেন, "তোমরা ইউসুফের (আ.) সাথী নারীদের মতো। আবু বকরকে নির্দেশ দাও যাতে সে লোকেদের সালাত পড়ায়।" আর সালাতের জন্য আবু বকরকে ইমাম হিসেবে মনোনীত করার মাঝে এই ইঙ্গিত নিহিত ছিল যে, তিনি তাঁর পরবর্তী খলিফা। যুবাইর (রা.) বললেন, "আলী বায়আত না করা পর্যন্ত আমি তলোয়ার খাপবদ্ধ করব না।" তখন উমর (রা.) বললেন, "তাঁর তলোয়ারটি কেড়ে নাও এবং তা পাথরের ওপর আছাড় দাও।" এরপর উমর তাঁদের নিকট আসলেন এবং তাঁদের বায়আতের জন্য নিয়ে গেলেন। বর্ণিত আছে যে, আলী (রা.) যখন আবু বকরের বায়আতের খবর পেলেন, তখন তিনি অতি দ্রুততার সাথে কেবল কামিজ পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে পড়লেন, তাঁর অঙ্গে কোনো লুঙ্গি বা চাদর ছিল না, যাতে তিনি দ্রুত বায়আত হতে পারেন। এরপর তিনি তলব করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إزاره ورداءه فتجلله. قال ابن الأثير: والصحيح أن أمير المؤمنين ما بايع إلا بعد ستة أشهر.
وممن تخلف عن بيعة أبي بكر عتبة بن أبي لهب، وخالد بن سعيد والمقداد بن عمرو، وسلمان الفارسي، وأبو ذر، وعمار بن ياسر، والبراء بن عازب وأبي بن كعب ومالوا مع علي، وتخلف أيضا أبو سفيان من بني أمية.
أفضل الناس بعد رسول الله- أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم (أبو بكر) رضي الله عنه. وقالت الشيعة وكثير من المعتزلة هو (عليّ) وهؤلاء جوزوا إمامة المفضول مع وجود الفاضل. وحجتهم أن قيام علي بالجهاد كان أكثر من قيام أبي بكر فوجب أن يكون علي أفضل منه لقوله تعالى: {وَفَضَّلَ الله المُجَاهِدِينَ عَلَىَ الْقَاعِدِينَ أَجْراً عَظِيماً} .
وأجاب أهل السنة عنه بأن الجهاد على قسمين: جهاد بالدعوة إلى الدين وجهاد بالسيف. ومعلوم أن أبا بكر رضي الله عنه جاهد في الدين في أول الإسلام بدعوة الناس إلى الإسلام. وبدعوته أسلم عثمان، وطلحة، والزبير، وسعد، وسعيد، وأبو عبيدة بن الجراح رضي الله عنهم أجمعين.
তাঁর লুঙ্গি ও চাদর, অতঃপর তিনি তা পরিধান করলেন। ইবনুল আসীর বলেন: সঠিক মত হলো এই যে, আমীরুল মুমিনীন ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেই কেবল বায়আত গ্রহণ করেছিলেন।
আর যারা আবু বকরের বায়আত থেকে বিরত ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন— উতবা বিন আবি লাহাব, খালিদ বিন সাঈদ, মিকদাদ বিন আমর, সালমান আল-ফারিসী, আবু যার, আম্মার বিন ইয়াসির, বারা বিন আযিব এবং উবাই বিন কা’ব; এবং তাঁরা আলীর পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। বনু উমাইয়ার আবু সুফিয়ানও বায়আত থেকে বিরত ছিলেন।
রাসূলুল্লাহর পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন (আবু বকর) রাদিয়াল্লাহু আনহু। শিয়া সম্প্রদায় এবং মুতাযিলাদের অনেকে বলেছেন তিনি হলেন (আলী); আর তারা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তির ইমামত বা নেতৃত্বকে বৈধ মনে করেন। তাদের দলিল হলো যে, জিহাদে আলীর অংশগ্রহণ আবু বকরের চেয়ে বেশি ছিল, তাই আলীকে তাঁর চেয়ে উত্তম হওয়া আবশ্যক; যেহেতু আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ মুজাহিদগণকে ঘরে বসে থাকা লোকদের ওপর মহা পুরস্কারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন}।
আহলে সুন্নাত এর জবাবে বলেছে যে, জিহাদ দুই প্রকার: দাওয়াতের মাধ্যমে জিহাদ এবং তলোয়ারের মাধ্যমে জিহাদ। আর এটি সুবিদিত যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের প্রারম্ভে মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীনের জিহাদ করেছেন। তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমেই উসমান, তালহা, যুবায়ের, সাদ, সাঈদ এবং আবু উবায়দাহ বিন জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আবু বকর আস-সিদ্দীক আওয়ালুল খুলাফাউর রাশিদীন - ত আল-হালাবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعلي رضي الله عنه إنما جاهد بالسيف عند قوة الإسلام، فكان الأول أولى، وحجة القائلين بفضل أبي بكر رضي الله عنه قوله صلى الله عليه وسلم: (ما طلعت الشمس ولا غربت على أحد بعد النبيين والمرسلين أفضل من أبي بكر (1)) .
--------------------------------------------
এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কেবল ইসলামের শক্তির সময়েই তলোয়ার দ্বারা জিহাদ করেছিলেন, তাই প্রথমজনই অধিক অগ্রগণ্য ছিলেন। আর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শ্রেষ্ঠত্বের সপক্ষে যারা বলেন, তাদের দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "(১) নবী ও রাসুলগণের পর এমন কোনো ব্যক্তির ওপর সূর্য উদিত হয়নি এবং অস্তও যায়নি, যে আবু বকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
--------------------------------------------