(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: -)
مجانبة أهل الثبور المصلين في المشاهد وعند القبور   (عبد العزيز بن فيصل الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: مجانبة أهل الثبور المصلين في المشاهد وعند القبور

المؤلف: عبد العزيز بن فيصل الراجحي

تقديم: الدكتور صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

الناشر: مكتبة الرشد، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 400

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433

মাজার ও কবরের নিকট সালাত আদায়কারী ধ্বংসপ্রাপ্তদের থেকে দূরে থাকা   (আবদুল আজিজ বিন ফয়সাল আল-রাজহি)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: মাজার ও কবরের নিকট সালাত আদায়কারী ধ্বংসপ্রাপ্তদের থেকে দূরে থাকা

লেখক: আবদুল আজিজ বিন ফয়সাল আল-রাজহি

উপস্থাপনা: ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: -)
مُجَانَبَة ُ أَهْل ِ الثُّبُوْر، المُصَلِّيْنَ في المَشَاهِدِ وَعِنْدَ القُبُوْر

الشَّيْخِ عَبْدِ العَزِيْزِ بْن ِ فَيْصَل الرّاجِحِيّ
ধ্বংসপ্রাপ্তদের থেকে বিমুখতা: যারা মাজার ও কবরের নিকট সালাত আদায় করে

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল আর-রাজীহি
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقدِيْمُ مَعَالِي الشَّيْخِ العَلامَةِ الدّكتورِ صَالِحِ بن ِفوْزَان بن ِعَبْدِ اللهِ الفوْزَان

عُضْوِ هَيْئةِ كِبَارِ العُلمَاءِ، وَعُضْوِ اللجْنةِ الدّائِمَةِ للإفتَاء

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمْدُ للهِ، وَالصَّلاة ُوَالسَّلامُ عَلى رَسُوْل ِ اللهِ نبينا محمَّدٍ، وَعَلى آلِهِ وَصَحْبهِ وَمَنْ وَالاه، وَتَمَسَّك َ بسنتهِ وَاتبعَ هُدَاه، أَمّا بَعْدُ:

فقدِ اطلعْتُ عَلى رِسَالةٍ لِلأَخِ الشَّيْخِ عَبْدِ العَزِيزِ بن ِ فيْصَل الرّاجِحِيّ، بعنوَان ِ «مُجَانبة ُ أَهْل ِ الثبوْر، المصَليْنَ في المشاهِدِ وَعِنْدَ القبوْر».

وَهِيَ رَدٌّ عَلى مَنْ أَجَازَ الصَّلاة َ في المقابرِ وَعِندَ القبوْر.

وَلمّا تأَملتها: وَجَدْتها رِسَالة ًجَيِّدَة ً في مَوْضُوْعِهَا، تدْحَضُ شبهَاتِ القبوْرِيِّيْنَ، وَتسُدُّ وَسِيْلة ً مِنْ وَسَائِل ِ الشِّرْكِ المشِيْن.

فجزَاهُ الله ُ خيْرَ الجزَاءِ، وَنفعَ بهَذِهِ الرِّسَالةِ وَغيْرِهَا مِنَ الكتبِ المفِيْدَةِ، وَالأَجْوِبةِ السَّدِيدَةِ،
মহামান্য শাইখ আল্লামা ডক্টর সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান-এর ভূমিকা

সদস্য, উচ্চতর উলামা পরিষদ এবং সদস্য, ফাতাওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন ও তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:

আমি ভাই শাইখ আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল আর-রাজহী কর্তৃক রচিত একটি পুস্তিকা পর্যালোচনা করেছি, যার শিরোনাম: «মাজার ও কবরের নিকট সালাত আদায়কারী ধ্বংসপ্রাপ্তদের সংশ্রব বর্জন»।

এটি তাদের খণ্ডন যারা কবরস্থানে এবং কবরের নিকট সালাত আদায় করা বৈধ মনে করে।

যখন আমি এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন বিষয়বস্তুর বিবেচনায় একে একটি চমৎকার পুস্তিকা হিসেবে পেলাম, যা কবরপূজারীদের সংশয়সমূহকে খণ্ডন করে এবং জঘন্য শিরকের অন্যতম একটি পথ রুদ্ধ করে দেয়।

অতএব, আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এই পুস্তিকা ও অন্যান্য উপকারী গ্রন্থ এবং সঠিক উত্তরসমূহের মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণ সাধন করুন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৬)
وَصَلى الله ُ وَسَلمَ عَلى نبينا محمَّدٍ، وَآلِهِ وَصَحْبه،،،

كتبهُ

صَالح بن فوْزان بن عَبْدِ الله الفوْزان

عُضْو هَيْئَةِ كِبارِ العُلمَاء

(التَّوقيع)

في 25/ 3/1424هـ
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।

এটি লিখেছেন

সালেহ বিন ফাওযান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান

জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য

(স্বাক্ষর)

২৫/০৩/১৪২৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمْدُ للهِ رَبِّ العالمِيْنَ، وَالصَّلاة ُوَالسَّلامُ عَلى إمَامِ وَخَاتَمِ الأَنبيَاءِ وَالمرْسَلِيْنَ، نبيِّنا مُحَمَّدٍ وَعَلى آلِهِ وَصَحْبهِ أَجْمَعِيْنَ، وَبعْدُ:

فقدْ قبضَ الله ُسُبْحَانهُ نبيَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، وَلم يَتْرُك ْ خَيْرًا إلا َّ دَلَّ الأُمَّة َعَليْهِ، وَحَثهَا إليْهِ، وَلا شرًّا إلا َّحَذّرَهَا مِنْهُ، وَأَبعَدَهَا عَنْه.

بَلْ وَمَا مِنْ سَبيْل ٍ وَلا ذرِيْعَةٍ إلىَ شَرٍّ إلا َّ وَقدْ حَذَّرَ مِنْهَا، مَخافة َ أَنْ يَنْتَهيَ الحالُ بسَالِكِهَا إلىَ مَغبَّةٍ لا يَحْمَدُ عُقبَاهَا.

خاصّة ً مَا كانَ خَطرُهُ عَلى مَعاقِدِ الإيْمَان ِ، وَمَعَاصِمِ الإسْلامِ، كالشرْكِ باِللهِ تَعَالىَ، وَذرَائِعِهِ وَوَسَائِلِه.

بَلْ حَذَّرَ صلى الله عليه وسلم مِنْ مُشَابَهَةِ المشْرِكِيْنَ، وَمُحَاكاةِ الكافِرِيْنَ، وَلوْ كانَ ذلك فِي اللبْس ِ وَالهيْئَةِ، فكيْفَ باِلعِبَادَةِ وَالطاعَة؟!

فأَمَرَ صلى الله عليه وسلم بتَغْييرِ الشَّيْبِ، وَحَفِّ الشَّوَارِبِ، وَإيْفاءِ اللحَى، مُخالفة ً لِلكافِرِيْن.

وقالَ صلى الله عليه وسلم: «فصْلُ مَا بيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْل ِ الكِتابِ: أَكلة ُ السَّحَر» رَوَاهُ مُسْلِمٌ في «صَحِيْحِه» (1096) عَنْ عَمْرِو بْنِ العَاص ِ رَضِيَ الله ُ عَنْه.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের ইমাম এবং সর্বশেষ নবী আমাদের মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর। অত:পর:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জান কবজ করেছেন এমতাবস্থায় যে, তিনি এমন কোনো কল্যাণ ছাড়েননি যার পথ উম্মতকে দেখাননি এবং এর প্রতি তাদের উৎসাহিত করেননি; আর এমন কোনো অকল্যাণও নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি এবং তা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেননি।

বরং অকল্যাণের এমন কোনো পথ বা মাধ্যম নেই যা থেকে তিনি সতর্ক করেননি, এই আশঙ্কায় যে—সে পথে বিচরণকারী শেষ পর্যন্ত এমন এক পরিণতির দিকে না পৌঁছে যায় যার শেষ ফল প্রশংসনীয় নয়।

বিশেষভাবে ঐসব বিষয় যার ঝুঁকি ঈমানের মূল ভিত্তি এবং ইসলামের সুরক্ষাকবচসমূহের ওপর আপতিত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক এবং এর যাবতীয় উপায় ও মাধ্যমসমূহ।

অধিকন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য রাখা এবং কাফিরদের অনুকরণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, এমনকি তা যদি পোশাক-পরিচ্ছদ ও বাহ্যিক অবয়বের ক্ষেত্রেও হয়। তবে ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে (অনুকরণ) কেমন হতে পারে?!

তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে সাদা চুল বা দাড়ি পরিবর্তন করতে, গোঁফ ছেঁটে ছোট করতে এবং দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া»। এটি মুসলিম তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (১০৯৬) আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১০)
قالَ شَيْخُ الإسْلامِ ابْنُ تَيْمية َ رحمه الله ُ بَعْدَهُ في «اقتِضَاءِ الصِّرَاطِ المسْتَقِيْمِ» (1/ 186 - 187): (وَهَذَا يَدُلُّ عَلى أَنَّ الفصْلَ بَيْنَ العِبَادَتيْن ِ: أَمْرٌ مَقصُوْدٌ لِلشّارِعِ، وَقدْ صَرَّحَ بذَلِك َ فِيْمَا رَوَاهُ أَبو دَاوُوْدَ (2353) عَنْ أَبي هُرَيْرَة َ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ عَن ِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم: «لا يَزَالُ الدِّينُ ظاهِرًا، مَا عَجَّلَ الناسُ الفِطرَ، لأَنَّ اليَهُوْدَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُوْن».

وَهَذا نصٌّ في أَنَّ ظهُوْرَ الدِّين ِ، الحاصِلَ بتَعْجِيْل ِ الفِطرِ، لأَجْل ِ مُخالفةِ اليَهُوْدِ وَالنَّصَارَى.

وَإذا كانَ مُخالفتهُمْ سَبَبًا لِظهُوْرِ الدِّين ِ، فإنمَا المقصُوْدُ بإرْسَال ِالرُّسُل ِ: أَنْ يَظهرَ دِيْنُ اللهِ عَلى الدِّين ِ كلهِ، فيَكوْنُ نفسُ مُخالفتهمْ، مِنْ أَكبَرِ مَقاصِدِ البعْثة) اه.

وَكانَ مِنْ أَشَدِّ مَا خَشِيَهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم عَلى أُمَّتِهِ: الشِّرْك ُ باِللهِ، وَمَا يُفضِي إليْه.

وَلمّا مَرِضَ صلى الله عليه وسلم مَرَضَ مَوْتهِ، وَكانَ وَعْكهُ شَدِيْدًا: لمْ يَشْغلهُ مَرَضُهُ الشَّدِيْدُ، وَلا مَا كانَ فِيْهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ تَحْذِيْرِ أُمَّتِهِ مِنَ الشِّرْكِ وَوَسَائِلِهِ قبْلَ قبْض ِ رُوْحِهِ الطاهِرَةِ بخمْس ِ ليَال ٍ، فقالَ صلى الله عليه وسلم -وَهُوَ كذَلِك َ-: «أَلا وَإِنَّ مَنْ كانَ قبْلكمْ، كانوْا يَتَّخِذُوْنَ قبوْرَ أَنبيَائِهمْ وَصَالحِيْهمْ مَسَاجِدَ، أَلا فلا تتَّخِذُوْا القبوْرَ مَسَاجدَ، فإني أَنهَاكمْ عَنْ ذلك) رَوَاهُ مُسْلِمٌ في «صَحِيْحِهِ» (532) عَنْ جُنْدُبِ بْن ِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ الله ُ عَنْه.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এরপর তার ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ (১/১৮৬-১৮৭) গ্রন্থে বলেছেন: (এটি প্রমাণ করে যে, দুই ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য করা শরীয়ত প্রণেতার একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। আবু দাউদ (২৩৫৩) কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন: “ততদিন পর্যন্ত দ্বীন বিজয়ী থাকবে, যতদিন মানুষ দ্রুত ইফতার করবে; কারণ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তা বিলম্ব করে থাকে”।

দ্রুত ইফতার করার মাধ্যমে দ্বীনের যে বিজয় অর্জিত হয়, তা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরোধিতার কারণেই—এই বিষয়ে এটি একটি সুস্পষ্ট দলিল।

আর যদি তাদের বিরোধিতা দ্বীন বিজয়ী হওয়ার কারণ হয়, তবে রাসূলদের প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর দ্বীনকে অন্য সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করা; ফলে তাদের সাথে এই বিরোধিতা করাই হলো রাসূল প্রেরণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।) সমাপ্ত।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার উম্মতের জন্য যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন, তা হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং যা শিরকের দিকে ধাবিত করে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তার মৃত্যুশয্যায় অসুস্থ ছিলেন এবং তার শারীরিক কষ্ট ছিল অত্যন্ত তীব্র, তখনও তার এই গুরুতর অসুস্থতা তাকে তার পবিত্র রুহ কবজ হওয়ার পাঁচ রাত আগে উম্মতকে শিরক এবং এর মাধ্যমগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: “সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরকে সেজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান! তোমরা কবরকে সেজদাগাহ বানিও না; আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।” এটি ইমাম মুসলিম তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে (৫৩২) জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১১)
فصل

وَقدْ رَأَيْتُ كاتِبا قبْلَ أَيامٍ، أُعْجِمَ قلبُهُ عَنْ هَذَا، فلمْ يُدْرِكِ المُرَادَ، فرَجَّحَ مَا ليْسَ عَليْهِ اعْتِمَادٌ، وَلا لهُ عِمَادٌ، وَكتبَ مَقالا ً يَعِيْبُ فِيْهِ عَلى الناس ِ في بلادِنا وفي بلادٍ أُخْرَى، مَا رَآهُمْ فِيْهِ مِنْ خَيْرٍ وَنِعْمَةٍ، وَبُعْدٍ عَنْ مَوَاطِن ِ الشرِّ وَالنِّقمَةِ، فقالَ: (يتلقى أَكثرُ النّاس ِحُكمَ حُرْمَةِ الصَّلاةِ فِي المقبَرَةِ باِلتَّسْلِيْمِ، وَكأَنهُ مِنَ المتفق ِ عَليْهِ، أَوْ كأَنَّ نصًّا مُحْكمًا وَرَدَ فِيْه!).

ثمَّ زَادَ فقالَ: (وَالحقِيْقة ُ أَنَّ المسْأَلة َخِلافُ ذلِك َ، وَمَذْهَبَ السَّلفِ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ: الجوَازُ، إلا َّ مَا كانَ مِنَ الإمَامِ أَحْمَدَ رحمه الله.

فالصَّلاة ُ فِي المقبَرَةِ إذنْ جَائِزَة ٌ لِلأَدِلةِ التالِيَةِ:

قوْلُ رَسُوْل ِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «جُعِلتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجدًا وَطهُوْرًا»، وَهَذَا يعُمُّ الأَرْضَ كلهَا.

بنَاءُ رَسُوْل ِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَسْجِدَهُ فِي مَقبَرَةٍ لِلمُشْرِكِيْنَ، وَهَذَا أَمْرٌ مَشْهُوْرٌ، وَهُوَ فِي «الصَّحِيْحَيْن».

صَلاة ُ رَسُوْل ِاللهِ صلى الله عليه وسلم عَلى المِسْكِيْنَةِ، التي كانتْ تقمُّ المسْجِدَ فِي المقبَرَةِ مَعَ أَصْحَابهِ رَضِيَ الله ُ عَنْهُمْ.

صَلاة ُ الصَّحَابَةِ فِي المقبَرَةِ مِنْ غيْرِ نكِيْر.

عَدَمُ وُجُوْدِ دَلِيْل ٍصَحِيْحٍ صَرِيْحٍ فِي النَّهْيِّ عَن ِ الصَّلاةِ فِي المقبَرَة.
পরিচ্ছেদ

কয়েক দিন আগে আমি একজন লেখককে দেখলাম, যার অন্তর এই বিষয়টি বুঝতে অক্ষম হয়েছে, ফলে তিনি এর সঠিক উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারেননি। তিনি এমন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন যার ওপর কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই এবং যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি একটি নিবন্ধ লিখেছেন যেখানে তিনি আমাদের দেশের এবং অন্যান্য দেশের মানুষের সমালোচনা করেছেন সেই কল্যাণ ও নিআমতের কারণে যা তিনি তাদের মধ্যে দেখেছেন এবং মন্দ ও বিপদের স্থান থেকে তাদের দূরে থাকার কারণে। তিনি বলেছেন: (অধিকাংশ মানুষ কবরস্থানে সালাত আদায়ের হারামের বিধানকে নিঃসংকোচে মেনে নেয়, যেন এটি কোনো সর্বসম্মত বিষয় অথবা যেন এ বিষয়ে কোনো সুষ্পষ্ট ও অকাট্য দলীল বর্ণিত হয়েছে!)।

এরপর তিনি আরও বাড়িয়ে বলেছেন: (প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এর বিপরীত, আর এই উম্মতের সালাফদের মাযহাব হলো এটি বৈধ হওয়া, কেবল ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ-এর মতটি ছাড়া)।

সুতরাং কবরস্থানে সালাত আদায় করা নিচের দলীলসমূহের ভিত্তিতে বৈধ:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «পুরো জমিনকে আমার জন্য সালাতের স্থান এবং পবিত্রতার মাধ্যম করা হয়েছে», আর এটি পুরো জমিনকেই শামিল করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুশরিকদের কবরস্থানে তাঁর মসজিদ নির্মাণ করা; এটি একটি প্রসিদ্ধ বিষয় এবং তা «সহীহাইন»-এ বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই অভাবী মহিলার জানাযার সালাত কবরস্থানে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে সাথে নিয়ে আদায় করা, যিনি মসজিদ ঝাড়ু দিতেন।

কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই সাহাবীগণের কবরস্থানে সালাত আদায় করা।

কবরস্থানে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো সহীহ ও স্পষ্ট দলীলের অনুপস্থিতি।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১২)
هَذَهِ بَعْضُ الأَدِلةِ عَلى جَوَازِ الصَّلاةِ فِي المقبَرَةِ عَلى وَجْهِ الاخْتِصَار) اه كلامُ المعْتَرِض.

ثمَّ أَحَالَ عَلى رِسَالةِ «الجوْهَرَة، فِي جَوَازِ الصَّلاةِ فِي المقبرَة»، وَليْسَ فِيْهَا شَيْءٌ يُحْتَجُّ بهِ، غيْرُ مَا ذكرَ هُوَ، وَسَيَأْتِي (ص109 - 125) إبْطالهُ بمَشِيْئَةِ الله (1)

--------------------------------------------

(1) - بَعْدَ إتْمَامِي كِتَابي هَذَا بزِيادَاتِهِ الملحَقةِ: رَأَيتُ كِتَابًا طبعَ حَدِيثا باِسْمِ «كشْفِ السُّتُوْرِ، عَمّا أَشْكلَ مِنْ أَحْكامِ القبوْر» لِمَحْمُوْدِ بن ِ سَعِيْدِ بن ِ مَمْدُوْحٍ، نشَرَتهُ دَارُ الفقِيْهِ عَامَ (1423هـ)، في (361) صَفحَة.

قرَّرَ فِيْهِ أُمُوْرًا فاسِدَة ً كثِيرَة ً، مِنْ جَوَازِ البنَاءِ عَلى القبوْرِ، وَالصَّلاةِ في المقابرِ، وَالسَّفرِ إلىَ زِيارَتِهَا، وَاسْتِحْبَابِ الدُّعَاءِ عِنْدَهَا، وَجَوَازِ النَّذْرِ لِلأَمْوَاتِ! وَعِنْدَ القبوْرِ! وَالذَّبحِ لها! وَالتَّبرُّكِ بهَا! وَغيرِ ذلِك َ مِمّا سَيَأْتِي تفصِيْلُ بطلانِه.

وَطعَنَ في شَيْخِ الإسْلامِ ابن ِ تَيْمية َ رحمه الله ُ، لِحُكمِهِ بخِلافِ مَا قرَّرَهُ هَذَا المبْطِلُ! وَرَمَاهُ بأُمُوْرٍ باطِلةٍ كثِيرَةٍ قدْ رُدَّتْ عَليْهِ! وَانصَرَفتْ إليْهِ!

وَنالَ مِنَ الشَّيْخِ مُحَمَّدِ بن ِ عَبْدِ الوَهّابِ رحمه الله ُ، وَذكرَ جَهَالاتٍ كثِيرَة ً سُقوْطهَا يغْني عَنْ إسْقاطِهَا. وَمَا كانَ مِنْ جَهَالاتِهِ قدْ يرُوْجُ عَلى بَعْض ِ العَامَّةِ وَمَنْ في حُكمِهمْ: فقدْ بَيَّنْتُ حَالهُ في هَذَا الرَّدِّ في مَوْضِعِه. أَمّا المسَائِلُ الأُخْرَى التي تَعَرَّضَ لها وَلمْ أَتعَرَّضْ لها في كِتَابي هَذَا لِعَدَمِ مُنَاسَبَتِهَا: فهيَ قلِيْلة ٌ، وَليْسَ هَذَا مَوْضِعَ الرَّدِّ عَليْهَا، مَعَ أَنَّ أَهَمِّيَتَهَا أَقلُّ مِنْ سَابقاتِهَا، وَوُضُوْحَهَا لِلنّاس ِ أَكثرُ، وَالحمْدُ لله.
(সংক্ষেপে কবরস্থানে সালাত আদায় বৈধ হওয়ার পক্ষে এগুলো কিছু দলিল) - প্রতিবাদকারীর বক্তব্য এখানেই শেষ।

অতঃপর তিনি ‘আল-জাওহারা ফি জাওয়াজিস সালাতি ফিল মাকবারাহ’ নামক পুস্তিকার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যাতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া দলিল হিসেবে পেশ করার মতো কিছুই নেই। আল্লাহর ইচ্ছায় সামনে (পৃষ্ঠা ১০৯-১২৫) এর অসারতা প্রমাণিত হবে (১)

--------------------------------------------

(১) - আমার এই কিতাবটি এর সাথে যুক্ত পরিশিষ্টসহ সম্পন্ন করার পর: আমি মাহমুদ বিন সাঈদ বিন মামদুহ রচিত ‘কাশফুস সুতুর আম্মা আশকালা মিন আহকামিল কুবুর’ নামে সম্প্রতি মুদ্রিত একটি বই দেখেছি, যা ১৪২৩ হিজরিতে দারুল ফকিহ থেকে ৩৬১ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি এতে অনেক ভ্রান্ত বিষয় সাব্যস্ত করেছেন, যেমন: কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ বৈধ করা, কবরস্থানে সালাত আদায় করা, কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা, কবরের সন্নিকটে দুআ করা মুস্তাহাব হওয়া, মৃতদের জন্য মানত করা বৈধ হওয়া! কবরের নিকট মানত করা! কবরের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা! কবরের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা! এবং এছাড়া আরও অন্যান্য বিষয় যেগুলোর অসারতার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমালোচনা করেছেন, কারণ তিনি এই বাতিলপন্থীর সাব্যস্ত করা বিষয়ের বিপরীতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন! তিনি তাঁর প্রতি অনেক মিথ্যা ও অসার অভিযোগ আরোপ করেছেন যা তাঁর ওপরই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে গেছে!

তিনি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কুৎসা রটনা করেছেন এবং অনেক মূর্খতাসুলভ কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর অসারতা এতটাই স্পষ্ট যে তা নতুন করে খণ্ডন করার প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর মূর্খতাসুলভ যেসব কথা সাধারণ মানুষ বা তাদের সমপর্যায়ের লোকদের বিভ্রান্ত করতে পারে, আমি এই খণ্ডনমূলক উত্তরের যথাস্থানে তা স্পষ্ট করেছি। আর অন্যান্য যে বিষয়গুলো তিনি আলোচনা করেছেন কিন্তু আমি আমার এই কিতাবে অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার কারণে আলোচনা করিনি, সেগুলো সংখ্যায় কম এবং এখানে সেগুলোর প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রও এটি নয়। তাছাড়া সেগুলোর গুরুত্ব পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর চেয়ে কম এবং মানুষের কাছে সেগুলোর অসারতা অধিকতর স্পষ্ট। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
فصل في تَحْرِيْرِ مَحَلِّ النِّزَاعِ في هَذِهِ المسْأَلةِ، وَبيان ِ مَا أَجْمَعَ العُلمَاءُ عَلى تَحْرِيْمِهِ فِيْهَا، وَمَا فِيْهِ خِلافٌ بَيْنَهُمْ

قبْلَ الجوَابِ عَمّا أَوْرَدَهُ المعْترِضُ، أُبيِّنُ مَسْأَلتَيْن ِ:

إحْدَاهُمَا:

أَنَّ بنَاءَ المسَاجِدِ عَلى القبوْرِ، بدْعة ٌ مُحَرَّمَة ٌ باِتفاق ِ الأَئِمَّة.

قالَ شَيْخُ الإسْلامِ ابْنُ تَيْمية َ رحمه الله ُ كمَا فِي «مَجْمُوْعِ الفتَاوَى» (27/ 488): (فإنَّ بناءَ المسَاجِدِ عَلى القبوْرِ، ليْسَ مِنْ دِيْن ِ المسْلِمِيْن.

بَلْ هُوَ مَنْهيٌّ عَنْهُ باِلنُّصُوْص ِالثابتَةِ عَن ِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وَاتفاق ِ أَئِمَّةِ الدِّين.

بَلْ لا يَجُوْزُ اتِّخاذ ُ القبوْرِ مَسَاجِدَ، سَوَاءٌ كانَ ذلِك َ ببناءِ المسْجدِ عَليْهَا، أَوْ بقصْدِ الصَّلاةِ عِنْدَهَا. بَلْ أَئِمَّة ُ الدِّين ِ مُتَّفِقوْنَ عَلى النَّهْيِّ عَنْ ذلك).

ثمَّ قالَ رحمه الله ُ (27/ 488): (بلْ ليْسَ لأَحَدٍ أَنْ يُصَليَ فِي المسَاجِدِ التي بُنِيَتْ عَلى القبوْرِ، وَلوْ لم يَقصِدِ الصَّلاة َ عِنْدَهَا، فلا يُقبَلُ ذلِك َ، لا اتفاقا، وَلا ابْتغاءًا، لِمَا فِي ذلِك َ مِنَ التَّشَبُّهِ باِلمشْرِكِيْنَ، وَالذَّرِيْعَةِ إلىَ الشِّرْك).
এই মাসআলায় বিরোধের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং এতে আলেমগণ যে সকল বিষয় হারামের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং যে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে তার বর্ণনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ।

আপত্তিকারীর উত্থাপিত বিষয়ের উত্তর দেওয়ার পূর্বে আমি দুটি মাসআলা বর্ণনা করছি:

প্রথমটি:

কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা ইমামগণের ঐকমত্যে একটি হারাম বিদআত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ রাহিমাহুল্লাহ যেমনটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (২৭/৪৮৮) গ্রন্থে বলেছেন: (নিশ্চয়ই কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা মুসলিমদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত সুসাব্যস্ত দলীল এবং দ্বীনের ইমামগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ।

বরং কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ নয়, চাই তা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমেই হোক অথবা সেখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে হোক। বরং দ্বীনের ইমামগণ এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন)।

এরপর তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন (২৭/৪৮৮): (বরং কবরের ওপর নির্মিত মসজিদসমূহে কারও জন্য সালাত আদায় করা বৈধ নয়, যদিও সে সেখানে সালাতের সংকল্প না করে; এটি গ্রহণযোগ্য হবে না, কাকতালীয়ভাবেও নয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবেও নয়। কারণ এতে মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয় এবং এটি শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি মাধ্যম)।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثمَّ قالَ رحمه الله ُ (27/ 489): (وَأَمّا المسَاجِدُ المبْنِيَّة ُ عَلى القبوْرِ: فقدْ نهَوْا عَنْهُ، مُعَللِيْنَ بخوْفِ الفِتْنَةِ بتَعْظِيْمِ المخْلوْق ِ، كمَا ذكرَ ذلِك َ الشّافِعِيُّ وَغيْرُهُ مِنْ سَائِرِ أَئِمَّةِ المسْلِمِيْن).

وَقالَ رحمه الله ُفِي مَوْضِعٍ آخَرَ (24/ 318): (وَأَمّا بنَاءُ المسَاجِدِ عَلى القبوْرِ، وَتسَمَّى «مَشَاهِدَ»: فهَذَا غيْرُ سَائِغٍ، بَلْ جَمِيْعُ الأُمَّةِ يَنْهَوْنَ عَنْ ذلك)، ثمَّ ذكرَ رحمه الله ُ بَعْضَ الأَدِلة.

المسْأَلة ُ الثانية ُ:

أَنَّ مَنْ ظنَّ أَنَّ الصَّلاة َ عِنْدَ أَيِّ قبَرٍ كانَ، لهَا فضِيْلة ٌ تخصُّهَا، أَوْ أَنَّ الصَّلاة َ عِنْدَهُ مُسْتَحَبَّة ٌ: فهُوَ ضَالّ.

قالَ شَيْخُ الإسْلامِ رحمه الله ُ (27/ 488): (بَلْ أَئِمَّة ُ الدِّين ِ مُتَّفقوْنَ عَلى النَّهْيِّ عَنْ ذلِك َ، وَأَنهُ ليْسَ لأَحَدٍ أَنْ يقصِدَ الصَّلاة َ عِنْدَ قبْرِ أَحَدٍ، لا نبيٍّ وَلا غيْرِ نبيّ.

وَكلُّ مَنْ قالَ: «إنَّ قصْدَ الصَّلاةِ عِنْدَ قبْرِ أَحَدٍ، أَوْ عِنْدَ مَسْجِدٍ بُنِيَ عَلى قبْرٍ أَوْ مَشْهَدٍ أَوْ غيْرِ ذلِك َ: أَمْرٌ مَشْرُوْعٌ»، بحيْثُ يَسْتَحِبُّ ذلِك َ، وَيَكوْنُ أَفضَلَ مِنَ الصَّلاةِ فِي المسْجِدِ الذِي لا قبَرَ فِيْهِ: فقدْ مَرَقَ مِنَ الدِّين ِ، وَخَالفَ إجْمَاعَ المسْلِمِيْنَ، وَالوَاجِبُ أَنْ يُسْتتَابَ قائِلُ هَذَا وَمُعْتَقِدُهُ، فإنْ تابَ وَإلا َّ قتِل).

وَقالَ رحمه الله ُ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ (24/ 318): (فمَن ِ اعْتقدَ أَنَّ الصَّلاة َ عِنْدَهَا، فِيْهَا فضْلٌ عَلى الصَّلاةِ عَلى غيْرِهَا، أَوْ أَنها أَفضَلُ
অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন (২৭/৪৮৯): (আর কবরের ওপর নির্মিত মসজিদসমূহের বিষয়ে কথা হলো: তারা তা থেকে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে তারা সৃষ্টির অতি-সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ফিতনার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইমাম শাফিঈ এবং অন্যান্য সকল মুসলিম ইমামগণ উল্লেখ করেছেন)।

এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অন্য এক স্থানে বলেছেন (২৪/৩১৮): (আর কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা—যাকে ‘মাশাহিদ’ বা স্মৃতিস্তম্ভ বলা হয়—তা বৈধ নয়। বরং সমগ্র উম্মত তা থেকে নিষেধ করেছেন), অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কিছু দলিল উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় মাসআলা:

যে ব্যক্তি মনে করে যে, কোনো কবরের নিকট সালাত আদায়ের বিশেষ কোনো ফজিলত রয়েছে অথবা সেখানে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব, তবে সে পথভ্রষ্ট।

শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন (২৭/৪৮৮): (বরং দ্বীনের ইমামগণ এ থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। কারো জন্যই কোনো কবরের নিকট সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য করা বৈধ নয়—চাই তিনি নবী হোন বা অন্য কেউ হোন না কেন।

এবং যে ব্যক্তি বলে: ‘কোনো ব্যক্তির কবরের নিকট অথবা কবরের ওপর নির্মিত কোনো মসজিদে বা স্মৃতিস্তম্ভে অথবা এই জাতীয় কোনো স্থানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য করা একটি শরয়ি বিষয়’—যাতে সে বিষয়টিকে মুস্তাহাব মনে করে এবং একে কবরবিহীন মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম মনে করে, তবে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলো এবং মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করল। এই কথা যে ব্যক্তি বলে এবং যে ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করে, তাকে তাওবা করানো ওয়াজিব। যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে)।

এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অন্য এক স্থানে বলেছেন (২৪/৩১৮): (সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, সেখানে সালাত আদায় করার মাঝে অন্য কোথাও সালাত আদায়ের চেয়ে ফজিলত রয়েছে অথবা তা অন্য জায়গার চেয়ে উত্তম...)
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
مِنَ الصَّلاةِ فِي بَعْض ِالمسَاجِدِ: فقدْ فارَقَ جَمَاعَة َ المسْلِمِيْنَ، وَمَرَقَ مِنَ الدِّين. بَلْ الذِي عَليْهِ الأُمَّة ُ: أَنَّ الصَّلاة َ فِيْهَا، مَنْهيٌّ عَنْهَا نهْيَ تَحْرِيْم) اه.

وَقدْ قدَّمْتُ هَاتيْن ِ المسْأَلتيْن ِ، لِيظهَرَ مَحَلُّ النِّزَاعِ، وَأَنهُمَا ليْسَتَا دَاخِلتَيْن ِ فِيْهِ، وَأَنَّ حُرْمَتَهُمَا بإجْمَاعٍ لا نِزَاعَ فِيْه.

وَالمعْتَرِضُ لا يُنَازِعُ كذَلِك َ فِي تَحْرِيْمِهمَا.

أَمّا مَحَلُّ النزَاعِ، وَمَا فِيْهِ خِلافٌ بَيْنَ أَهْل ِ العِلمِ: فهُوَ حُكمُ الصَّلاةِ ذاتِ الرُّكوْعِ وَالسُّجُوْدِ فِي المقابرِ وَعِنْدَ القبوْرِ، مِنْ غيْرِ قصْدٍ لِلصَّلاةِ فِيْهَا، وَلا تَعْظِيْمِ مَقبوْر.

وَهَذِهِ المسْأَلة ُ، هِيَ التي أَجَازَهَا المعْتَرِضُ، وَرَجَّحَهَا، وَضَعَّفَ قوْلَ مُحَرِّمِيْهَا!

وَهَذِهِ المسْأَلة ُ- أَعْنِي حُكمَ الصَّلاةِ ذاتِ الرُّكوْعِ وَالسُّجُوْدِ فِي المقابرِ وَعِنْدَ القبوْرِ، مِنْ غيْرِ قصْدِ قبْرٍ، وَلا تَعْظِيْمِ مَقبوْرٍ: فِيهَا خِلافٌ بيْنَ أَهْل ِالعِلمِ:

* فحَرَّمَهَا جَمَاعَة ٌ، مِنْهُمْ: عُمَرُ بْنُ الخطابِ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبي طالِبٍ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عَبّاس ٍ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، وَعَطاءُ، وَالنَّخَعِيُّ، وَابْنُ المنذِر.

وَإليْهِ ذهَبَ الإمَامُ أَحْمَدُ، وَإسْحَاقُ، وَأَبوْ ثوْر.

* وَأَباحَ الصَّلاة َ في المقبرَةِ، أَوْ كرِهَهَا مِنْ غيْرِ تَحْرِيْمٍ: آخَرُوْن.
(কিছু মসজিদে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে): সে মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো এবং দ্বীন থেকে চ্যুত হলো। বরং উম্মত যে মতের ওপর প্রতিষ্ঠিত তা হলো: সেগুলোতে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ, যা হারামের পর্যায়ভুক্ত। সমাপ্ত।

আমি এই মাসআলা দুটি আগে পেশ করেছি যাতে বিরোধের ক্ষেত্রটি স্পষ্ট হয় এবং এটি প্রকাশ পায় যে এই দুটি বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত নয়; আর এ দুটির নিষিদ্ধতা সর্বসম্মত, যাতে কোনো বিরোধ নেই।

আর আপত্তিদানকারীও একইভাবে এ দুটির হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত পোষণ করেন না।

পক্ষান্তরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এবং যে বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে তা হলো: কোনো কবরের উদ্দেশ্যে সালাত পড়ার সংকল্প ব্যতীত বা কবরকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন না করে কবরস্থানে এবং কবরের পাশে রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাত আদায়ের বিধান।

আর এই মাসআলাটিই আপত্তিদানকারী বৈধ বলেছেন, একেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং যারা একে হারাম বলেছেন তাদের বক্তব্যকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন!

আর এই মাসআলাটি—অর্থাৎ কোনো কবরের উদ্দেশ্য ছাড়া এবং কবরস্থ ব্যক্তিকে মহিমান্বিত না করে কবরস্থানে ও কবরের কাছে রুকু ও সিজদা যুক্ত সালাত আদায়ের বিধান: এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে:

* একদল আলেম একে হারাম বলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, আতা, নাখায়ী এবং ইবনুল মুনযির।

ইমাম আহমাদ, ইসহাক এবং আবু সাওর এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

* আর অন্যান্য আলেমগণ কবরস্থানে সালাত আদায় করাকে বৈধ বলেছেন অথবা হারাম ঘোষণা না করে মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বলেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৬)
قالَ البَغوِيُّ في «شَرْحِ السُّنَّةِ» (2/ 411): (اِخْتَلفَ أَهْلُ العِلمِ في الصَّلاةِ في المقبرَةِ وَالحمّامِ: فرُوِيَتِ الكرَاهِيَة ُ فِيْهمَا عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ السَّلف. وَإليْهِ ذهَبَ أَحْمَدُ، وَإسْحَاقُ، وَأَبوْ ثوْرٍ، لِظاهِرِ الحدِيْثِ، وَإنْ كانتِ الترْبة ُ طاهِرَة ً، وَالمكانُ نظِيْفا. وَقالوْا: قدْ قالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «اِجْعَلوْا فِي بُيُوْتِكمْ مِنْ صَلاتِكمْ، وَلا تَتَّخِذُوْهَا قبوْرًا». فدَلَّ عَلى أَنَّ مَحَلَّ القبْرِ ليْسَ بمَحَلٍّ لِلصَّلاة.

وَمِنْهُمْ: مَنْ ذهَبَ إلىَ أَنَّ الصَّلاة َ فِيْهمَا جَائِزَة ٌ، إذا صَلى في مَوْضِعٍ نظِيْفٍ مِنْه.

وَرُوِيَ: أَنَّ عُمَرَ رَأَى أَنسَ بْنَ مَالِكٍ يُصَلي عِنْدَ قبْرٍ فقالَ: «القبْرَ القبْرَ» (1)، وَلمْ يَأْمُرْهُ باِلإعادَة.

وَحُكِيَ عَن ِالحسَن ِ: أَنهُ صَلى في المقابر.

وَعَنْ مَالِكٍ: «لا بَأْسَ باِلصَّلاةِ في المقابر») اه.

قلتُ: وَقوْلُ البَغوِيِّ: (وَعَنْ مَالِكٍ: «لا بَأْسَ باِلصَّلاةِ في المقابر»): غيْرُ مُسَلمٍ، فقدِ اخْتَلفتِ الرِّوَايَة ُ عَنْ مَالِكٍ في ذلك.

--------------------------------------------

(1) - صَحِيْحٌ، عَلقهُ البُخارِيُّ في «صَحِيْحِهِ» (1/ 437)، وَرَوَاهُ مَوْصُوْلا ً: أَبوْ بَكرٍ ابْنُ أَبي شيبة َ في «مُصَنَّفِهِ» (2/ 379)، وَعَبْدُ الرَّزّاق ِفي «مُصَنَّفِهِ» أَيْضًا (1/ 404 - 405)، وَأَبوْ بَكرٍ ابْنُ المنذِرِ في «الأَوْسَطِ» (2/ 186) وَالبَيْهَقِيُّ في «سُننِهِ الكبرَى» (2/ 435).

وَسَيَأْتِي الكلامُ عَليْهِ - بمشِيْئَةِ اللهِ - في «فصْل ِ نقض ِ دَلِيْل ِ المعْترِض ِ الرّابعِ، وَهُوَ زَعْمُهُ صَلاة َ الصَّحَابَةِ في المقبرَةِ مِنْ غيرِ نكير» (ص121 - 122).
ইমাম বাগাভী «শারহুস সুন্নাহ» (২/ ৪১১) গ্রন্থে বলেছেন: (কবরস্থান ও গোসলখানায় সালাত আদায়ের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: সালাফদের একটি দলের পক্ষ থেকে এই দুই স্থানে সালাত আদায় অপছন্দনীয় হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের কারণে ইমাম আহমাদ, ইসহাক এবং আবু সাওর এই মত গ্রহণ করেছেন, যদিও মাটি পবিত্র এবং স্থানটি পরিচ্ছন্ন হয়। তাঁরা বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের সালাতের কিছু অংশ ঘরে আদায় করো এবং ঘরকে কবরে পরিণত করো না।» এটি প্রমাণ করে যে, কবরের স্থান সালাতের স্থান নয়।

আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি সেখানের কোনো পবিত্র স্থানে সালাত আদায় করা হয়, তবে তাতে সালাত জায়েজ।

বর্ণিত হয়েছে যে, উমর (রা.) আনাস বিন মালিক (রা.)-কে একটি কবরের কাছে সালাত আদায় করতে দেখে বললেন: «কবর! কবর!» (১), তবে তিনি তাঁকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি।

হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কবরস্থানে সালাত আদায় করেছেন।

এবং মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত: «কবরস্থানে সালাত আদায়ে কোনো সমস্যা নেই») সমাপ্ত।

আমি বলি: বাগাভীর উক্তি: (এবং মালেক থেকে বর্ণিত: «কবরস্থানে সালাত আদায়ে কোনো সমস্যা নেই»): এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এই বিষয়ে ইমাম মালেক থেকে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) - সহীহ, ইমাম বুখারী এটি তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে (১/ ৪৩৭) মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, এবং এটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর «মুসান্নাফ» গ্রন্থে (২/ ৩৭৯), আব্দুর রাজ্জাক তাঁর «মুসান্নাফ» গ্রন্থেও (১/ ৪০৪ - ৪০৫), আবু বকর ইবনুল মুনযির «আল-আওসাত» গ্রন্থে (২/ ১৮৬) এবং বায়হাকী তাঁর «সুনানুল কুবরা» গ্রন্থে (২/ ৪৩৫)।

আল্লাহ চাহেন তো—এই বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে—«চতুর্থ বিরোধীর দলিল খণ্ডন অধ্যায়ে, যা হলো কোনো আপত্তি ছাড়াই কবরস্থানে সাহাবীগণের সালাত আদায়ের দাবি» (পৃষ্ঠা ১২১ - ১২২)।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৭)
قالَ أَبوْ بكرٍ ابْنُ المنْذِرِ في «الأَوْسَطِ» (2/ 185): (وَاخْتُلِفَ في هَذِهِ المسْأَلةِ عَنْ مَالِكٍ: فحَكى ابْنُ القاسِمِ عَنْهُ أَنهُ قالَ: «لا بَأْسَ باِلصَّلاةِ في المقابر».

وَحُكِيَ عَنْ أَبي مُصْعَبٍ عَنْ مَالِكٍ أَنهُ قالَ: «لا أُحِبُّ الصَّلاة َ في المقابر») اه.

قلتُ: وَالذِي يَظهَرُ لِي: أَنْ لا نِزَاعَ وَلا اخْتِلافَ بَيْنَ الرِّوَايَتَيْن ِ، فالأُوْلىَ: يُرِيْدُ بهَا الصَّلاة َ في المقابرِ عَلى الجنائِزِ، وَالأُخْرَى: أَرَادَ بهَا الصَّلاة َ ذاتَ الرُّكوْعِ وَالسُّجُود.

وَقدْ أَطلقَ جَمَاعَة ٌ مِنَ الأَئِمَّةِ، جَوَازَ الصَّلاةِ في المقابرِ، أَوْ كرَاهَتَهَا، وَهُمْ يَعْنُوْنَ صَلاة َ الجنازَةِ فِيْهَا، لا الصَّلاة َ المعْهُوْدَة َ، ذاتَ الرُّكوْعِ وَالسُّجُوْد.

وَمَنْ مَنَعَ مِنْ هَؤُلاءِ الصَّلاة َ عَلى الجنازَةِ في المقبَرَةِ: فهُوَ يَمْنَعُ الصَّلاة َ ذاتَ الرُّكوْعِ وَالسُّجُوْدِ فِيْهَا مِنْ بابِ أَوْلىَ.

أَمّا مَنْ أَجَازَ مِنْهُمْ صَلاة َ الجنازَةِ بهَا: فلا يَلزَمُ مِنْ ذلِك َ تَجْوِيْزُهُ الصَّلاة َ ذاتَ الرُّكوْعِ وَالسُّجُودِ بهَا. بَلْ إنَّ جَمَاعَاتٍ مِنَ السَّلفِ، قدْ أَجَازُوْا الصَّلاة َ عَلى الجنازَةِ في المقبَرَةِ، وَحَرَّمُوْا غيْرَهَا مِنَ الصَّلوَاتِ، وَقدْ جَاءَتْ بذَلِك َ السُّنَّة.

وَالذِي عَليْهِ المحَققوْنَ مِنْ أَهْل ِالعِلمِ: أَنَّ الصَّلاة َ ذاتَ الرُّكوْعِ وَالسُّجُوْدِ، مُحَرَّمَة ٌ بلا شَكٍّ وَلا رَيْبٍ، لِكثْرَةِ الأَحَادِيْثِ
আবু বকর ইবনুল মুনযির ‘আল-আওসাত’ (২/১৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: (মালিক থেকে এই মাসআলায় মতভেদ বর্ণিত হয়েছে: ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কবরস্থানে সালাত আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই"।

আর আবু মুসআব থেকে মালিকের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কবরস্থানে সালাত আদায় করা পছন্দ করি না") সমাপ্ত।

আমি বলছি: আমার কাছে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো, এই দুই বর্ণনার মাঝে কোনো বিরোধ বা মতভেদ নেই। প্রথমটি দ্বারা তিনি কবরস্থানে জানাজার সালাত বুঝিয়েছেন, আর অন্যটি দ্বারা তিনি রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাত বুঝিয়েছেন।

আইম্মায়ে কেরামের একটি জামাত কবরস্থানে সালাতের বৈধতা বা মাকরূহ হওয়ার কথা সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন, এবং তাঁরা এর দ্বারা জানাজার সালাত উদ্দেশ্য করেছেন, রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট প্রচলিত সালাত নয়।

তাঁদের মধ্যে যারা কবরস্থানে জানাজার সালাত নিষেধ করেছেন, তাঁরা সেখানে রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাত নিষেধ করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগণ্য।

পক্ষান্তরে তাঁদের মধ্যে যারা সেখানে জানাজার সালাত বৈধ বলেছেন, তার মানে এই নয় যে তাঁরা সেখানে রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাতকেও বৈধ বলেছেন। বরং সালাফদের বহু জামাত কবরস্থানে জানাজার সালাত বৈধ বলেছেন এবং অন্য সকল সালাত হারাম করেছেন, আর সুন্নাহ দ্বারাও এটিই প্রমাণিত।

আলেমদের মধ্যে গবেষকগণ যে মতের ওপর রয়েছেন তা হলো: রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাত কোনো সন্দেহ ছাড়াই হারাম, কারণ এ বিষয়ে হাদীসের সংখ্যা অনেক।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
النّاهِيَةِ عَن ِ الصَّلاةِ فِيْهَا، وَاتخاذِهَا مَسَاجِدَ، وَلعْن ِ رَسُوْل ِاللهِ صلى الله عليه وسلم لِليهُوْدِ وَالنَّصَارَى لاتخاذِهِمْ إياهَا مَسَاجِدَ يُصَلوْنَ فِيْهَا، وَتَغْلِيْظِهِ فِي التَّحْذِيْرِ وَالزَّجْرِ عَنْ ذلِك َ، حَتَّى قبيْلَ وَفاتِهِ بليَال ٍ، وَسَيَأْتِي ذِكرُ طرَفٍ مِنْ هَذِهِ الأَحَادِيْث.

إلا َّ أَنهُمْ اخْتَلفوْا في صِحَّةِ صَلاةِ المصَلي فِيْهَا، فقالَ جَمَاعَة ٌ مِنْهُمْ: هِيَ بَاطِلة ٌ، لأَنَّ النَّهْيَ يَقتضِي التَّحْرِيْمَ وَالفسَاد. وَقالَ آخَرُوْنَ: هُوَ آثِمٌ عَاص ٍ، إلا َّ أَنَّ صَلاتهُ صَحِيْحَة ٌمَعَ إثمِهِ، وَسَيَأْتِي تفصِيْلهُ (ص45 - 65) بمشِيْئَةِ الله.

قالَ ابنُ المنذِرِ في «الأَوْسَطِ» (2/ 185): (وَالذِي عَليْهِ الأَكثرُ مِنْ أَهْل ِ العِلمِ: كرَاهِيَة ُ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ، لحدِيْثِ أَبي سَعِيْدٍ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ، وَكذَلِك َ نقوْل) اه.

قلتُ: مُرَادُ ابْن ِ المنذِرِ رحمه الله ُ باِلكرَاهَةِ هُنَا: كرَاهَة َ التَّحْرِيْمِ، لِذَا قالَ قبْلَ ذلِك َ (2/ 183) عَلى حَدِيْثِ ابْن ِ عُمَرَ رَضِيَ الله ُ عَنْهُمَا «اِجْعَلوْا في بُيُوْتِكمْ مِنْ صَلاتِكمْ، وَلا تَتَّخِذُوْهَا قبوْرًا» قالَ: (ففِي قوْلِهِ: «وَلا تَتَّخِذُوْهَا قبوْرًا»: دَلِيْلٌ عَلى أَنَّ المقبَرَة َ ليْسَتْ بمَوْضِعِ صَلاةٍ، لأَنَّ في قوْلِهِ «اِجْعَلوْا في بُيُوْتِكمْ مِنْ صَلاتِكمْ»: حَثا عَلى الصَّلوَاتِ في البيوْت.

وَقوْلِهِ «وَلا تَجْعَلوْهَا قبوْرًا»: يدُلُّ عَلى أَنَّ الصَّلاة َ غيْرُ جَائِزَةٍ في المقبَرَة).
সেখানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা, সেগুলোকে মসজিদে পরিণত করা এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লানত করা—যেহেতু তারা সেগুলোকে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে পরিণত করেছিল। এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক ও বারণ করেছেন, এমনকি তাঁর ইন্তেকালের মাত্র কয়েক রাত পূর্বেও। এই হাদীসসমূহের একটি অংশ সামনে আলোচিত হবে।

তবে সেখানে সালাত আদায়কারীর সালাত শুদ্ধ হওয়া নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের এক দল বলেছেন: তা বাতিল, কারণ নিষেধাজ্ঞা হারাম হওয়া ও আমল বাতিল হওয়াকে সাব্যস্ত করে। অন্যরা বলেছেন: সে পাপী ও নাফরমান, তবে গুনাহ হওয়া সত্ত্বেও তার সালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ সামনে (পৃষ্ঠা ৪৫-৬৫) আসবে।

ইবনুল মুনযির 'আল-আওসাত' (২/১৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: (আহলুল ইলম বা আলেমগণের অধিকাংশ যে মতের ওপর আছেন তা হলো কবরস্থানে সালাত আদায় করা মাকরূহ; এটি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের কারণে, আর আমরাও সেই কথাই বলি) সমাপ্ত।

আমি বলছি: এখানে ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাকরূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'মাকরূহে তাহরীমী', তাই তিনি এর পূর্বে (২/১৮৩) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীস "তোমাদের সালাতের কিছু অংশ ঘরে আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না" প্রসঙ্গে বলেছেন: (তাঁর বাণী: "সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না" এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, কবরস্থান সালাত আদায়ের জায়গা নয়। কারণ তাঁর বাণী "তোমাদের সালাতের কিছু অংশ ঘরে আদায় করো" ঘরে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে।

এবং তাঁর বাণী "সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না" এ কথার ওপর দলীল যে, কবরস্থানে সালাত আদায় করা বৈধ নয়)।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقالَ ابنُ المنْذِرِ في مَوْضِعٍ آخَرَ (5/ 417 - 418): (وَفي حَدِيْثِ ابْن ِ عُمَرَ عَن ِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أَنهُ قالَ: «اِجْعَلوْا في بُيوْتِكمْ مِنْ صَلاتِكمْ، وَلا تتخِذُوْهَا قبوْرًا»: أَبيَنُ البيان ِ عَلى أَنَّ الصَّلاة َ في المقبَرَةِ غيْرُ جَائِزَة) اه.

وَقدْ أَطلقَ ابْنُ المنْذِرِ هُنَا الكرَاهَة َ، وَأَرَادَ بهَا التَّحْرِيْمَ، كإطلاق ِ جَمَاعَاتٍ مِنَ الأَئِمَّةِ ذلِك َ، وَهُمْ لا يُرِيْدُوْنَ بهِ إلا َّ ذلك.

وَوَهِمَ مَنْ ظنَّهُمْ أَرَادُوْا كرَاهَة َ التَّنْزِيْهِ التي اصْطلحَ عَليْهَا الأُصُوْلِيُّوْنَ بَعْدَهُمْ! وَسَيَأْتِي تقرِيْرُ هَذَا في فصْل ٍ قادِمٍ (ص179 - 191) بمشِيْئَةِ الله.
ইবনুল মুনযির অন্য এক স্থানে (৫/ ৪১৭ - ৪১৮) বলেছেন: (ইবনে উমর বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের সালাতের কিছু অংশ তোমাদের ঘরে আদায় করো, আর সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না": এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট বর্ণনা যে কবরস্থানে সালাত আদায় করা বৈধ নয়) সমাপ্ত।

এখানে ইবনুল মুনযির 'কারাহাত' (অপছন্দনীয়তা) শব্দটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন, আর এর দ্বারা তিনি 'তাহরিম' (হারাম হওয়া) উদ্দেশ্য নিয়েছেন; যেমনটি একদল ইমাম এই শব্দের প্রয়োগ করেছেন এবং তারা এর মাধ্যমে এটিই (হারাম হওয়া) উদ্দেশ্য নিতেন।

আর যে ব্যক্তি মনে করে যে তারা এর মাধ্যমে 'কারাহাতে তানজিহি' (সামান্য অপছন্দনীয়তা) উদ্দেশ্য নিয়েছেন—যেটি পরবর্তী উসুলবিদগণের পরিভাষায় রূপ নিয়েছে—সে ভুল করেছে! ইনশাআল্লাহ আগামী একটি অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা ১৭৯ - ১৯১) এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌فصل فِي الأَحَادِيْثِ النبَوِيَّةِ الناهِيَةِ عَن ِالصَّلاةِ فِي المقابرِ، وَعِنْدَ القبور

أَمّا الأَحَادِيْثُ النَّبَوِيَّة ُ التِي نهَتْ عَنْ الصَّلاةِ في المقابرِ وَعِنْدَ القبوْرِ وَحَرَّمَتْهَا: فكثِيْرَة ٌ، ذكرَ شَيْخُ الإسْلامِ ابْنُ تَيْمية َ رحمه الله ُ طرَفا مِنْهَا - كمَا فِي «مَجْمُوْعِ الفتَاوَى» - فقالَ (27/ 157 159): (وَالأَحَادِيْثُ عَن ِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّهْيِّ عَن ِ اتِّخاذِ القبوْرِ مَسَاجِدَ، وَالصَّلاةِ فِي المقبَرَةِ، كثِيْرَة ٌجدًّا، مِثلُ:

(1) مَا فِي «الصَّحِيْحَيْن» وَ «السُّنَن» عَنْ أَبي هُرَيْرَة َ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «قاتلَ الله ُ اليَهُوْدَ، اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِد» (1).

(2) وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْن ِمَسْعُوْدٍ قالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقوْلُ: «إنّ مِنْ شِرَارِ الناس ِ، مَنْ تدْرِكهُمُ السّاعَة ُ وَهُمْ أَحْياءٌ، وَمَنْ يَتَّخِذُ القبوْرَ مَسَاجِد» رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي «المسْنَدِ» (1/ 405، 435، 454)، وَأَبوْ حَاتِمٍ ابْنُ حِبّانَ فِي «صَحِيْحِه» (2325).

(3) وَعَن ِابْن ِعَباس ٍ قالَ: «لعَنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زُوّارَاتِ القبوْرِ، وَالمتَّخِذِينَ عَليْهَا المسَاجِدَ وَالسُّرُج» رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي «المسْندِ».

--------------------------------------------

(1) - رَوَاهُ الإمَامُ أَحْمَدُ في «مُسْنَدِهِ» (2/ 284، 285، 366، 396، 453 - 454، 518) وَالبُخَارِيُّ في «صَحِيْحِهِ» (437) وَمُسْلِمٌ (530) وَأَبوْ دَاوُوْدَ في «سُننِهِ» (3227) وَالنَّسَائِيّ (2047)
কবরস্থান এবং কবরের নিকট সালাত আদায় থেকে নিষেধকারী নববী হাদিসসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

কবরস্থান এবং কবরের নিকট সালাত আদায় করতে নিষেধকারী এবং একে হারাম ঘোষণাকারী নববী হাদিসসমূহ অনেক। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) এগুলোর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন—যেমনটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে রয়েছে। তিনি বলেন (২৭/ ১৫৭-১৫৯): “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কবরকে মসজিদে পরিণত করা এবং কবরস্থানে সালাত আদায় করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে হাদিসসমূহ অনেক, যেমন:

(১) ‘সহীহাইন’ এবং ‘সুনান’ গ্রন্থসমূহে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে» (১)।

(২) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা, যাদের জীবিত থাকা অবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং যারা কবরকে মসজিদে পরিণত করে» এটি আহমদ ‘আল-মুসনাদ’ (১/ ৪০৫, ৪৩৫, ৪৫৪) গ্রন্থে এবং আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ (২৩২৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিক হারে কবর জিয়ারতকারী নারীদের এবং যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও সেখানে বাতি জ্বালায়, তাদের ওপর লানত করেছেন» এটি আহমদ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - এটি ইমাম আহমদ তাঁর ‘মুসনাদ’ (২/ ২৮৪, ২৮৫, ৩৬৬, ৩৯৬, ৪৫৩ - ৪৫৪, ৫১৮), বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ (৪৩৭), মুসলিম (৫৩০), আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’ (৩২২৭) এবং নাসায়ী (২০৪৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২২)
(1/ 229، 287، 324)، وَأَهْلُ السُّنَن ِ الأَرْبَعَةِ (1)، وَأَبوْ حَاتِمٍ ابْنُ حِبّانَ فِي «صَحِيْحِه» (3179)، (3180).

(4) وَرَوَى أَيْضًا في «صَحِيْحِهِ» (2327) عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قالَ: «لعَنَ الله ُ مَن ِ اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِد».

(5) وَفِي «الصَّحِيْحَيْن» عَن ِ ابْن ِعُمَرَ قالَ: قالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اِجْعَلوْا مِنْ صَلاتِكمْ فِي بُيوْتِكمْ، وَلا تتَّخِذُوْهَا قبوْرًا» [خ (432)، (1187) م (777)].

(6) وَفِي «صَحِيْحِ مُسْلِمٍ» (972) عَنْ أَبي مَرْثدٍ الغنوِيِّ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «لا تصَلوْا إلىَ القبوْرِ، وَلَا تجْلِسُوْا عَليْهَا».

(7) وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْن ِعَمْرٍو رَضِيَ الله ُعَنْهُمَا قالَ: «نهَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَن ِ الصَّلاةِ فِي المقبرَة» رَوَاهُ أَبوْ حَاتِمٍ فِي «صَحِيْحِه» (2319).

(8) وَرَوَىأَيْضًا (1698)، (2315)، (2318)، (2322)، (2323) عَنْ أَنس ٍ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ: «أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم نهَى أَنْ يُصَلى بَيْنَ القبوْر».

(9) وَعَنْ أَبي سَعِيْدٍ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «الأَرْضُ كلهَا مَسْجِدٌ، إلا َّ المقبَرَة َ وَالحمّام» (2) رَوَاهُ الإمَامُ أَحْمَدُ (3/ 83، 96)،

--------------------------------------------

(1) - أَبوْدَاوُوْدَ (3236) وَالتِّرْمِذِيُّ (320) وَالنَّسَائِيُّ (2043) وَابْنُ مَاجَهْ (1575).

(2) - تَكلمَ في هَذَا الحدِيْثِ بَعْضُ أَهْل ِ العِلمِ، وَرَمَوْهُ باِلاضْطِرَابِ لإرْسَال ِ الثوْرِيِّ لهُ، وَوَصْل ِ غيرِهِ لهُ، وَسَوْفَ أُفصِّلُ - بمَشِيْئَةِ اللهِ - حَالهُ في فصْل ٍ قادِمٍ (ص163 - 172)، وَأُبيِّنُ أَنهُ حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ بلا رَيبٍ، وَأَذكرُ جُمْلة ً مِنْ كلامِ أَهْل ِ العِلمِ فِيْه.
(১/ ২২৯, ২৮৭, ৩২৪), এবং চার সুনান গ্রন্থকারগণ (১), এবং আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (৩১৭৯), (৩১৮০)।

(৪) তিনি তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (২৩২৭) আয়েশা থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন যারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে»।

(৫) এবং «সহিহাইন»-এ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের সালাতের কিছু অংশ তোমাদের ঘরে আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না» [বুখারি (৪৩২), (১১৮৭) মুসলিম (৭৭৭)]।

(৬) এবং «সহিহ মুসলিম»-এ (৯৭২) আবু মারসাদ আল-গানাওয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না এবং তার ওপর বসো না»।

(৭) এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন» এটি আবু হাতিম তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (২৩১৯) বর্ণনা করেছেন।

(৮) তিনি আরও বর্ণনা করেছেন (১৬৯৮), (২৩১৫), (২৩১৮), (২৩২২), (২৩২৩) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের মাঝে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন»।

(৯) এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «পুরো পৃথিবীই সালাত আদায়ের স্থান (মসজিদ), কেবল কবরস্থান এবং গোসলখানা ব্যতীত» (২) এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৩/ ৮৩, ৯৬),

--------------------------------------------

(১) - আবু দাউদ (৩২৩৬), তিরমিজি (৩২০), নাসায়ি (২০৪৩) এবং ইবনে মাজাহ (১৫৭৫)।

(২) - এই হাদিসটি সম্পর্কে কিছু আলেম কথা বলেছেন এবং তারা এটিকে অসংগতির (ইযতিরাব) দোষে দোষী করেছেন, কারণ সাওরি এটি মুরসাল হিসেবে এবং অন্য বর্ণনাকারীগণ এটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অচিরেই আমি—আল্লাহর ইচ্ছায়—পরবর্তী একটি পরিচ্ছেদে (পৃষ্ঠা ১৬৩ - ১৭২) এর অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা করব এবং স্পষ্ট করে দেব যে এটি নিঃসন্দেহে একটি সহিহ হাদিস এবং এতে আলেমদের একদল বক্তব্যও উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأَهْلُ الكتبِ الأَرْبَعَةِ (1)، وَابْنُ حِبّانَ فِي «صَحِيْحِه» (1699)، (2316)، (2321).

وَقالَ التِّرْمِذِيُّ: «فِيْهِ اضْطِرَابٌ» لأَنَّ سُفيانَ الثوْرِيَّ أَرْسَله. لكِنَّ غيْرَ التِّرْمِذِيِّ جَزَمَ بصِحَّتِهِ، لأَنَّ غيْرَهُ مِنَ الثقاتِ أَسْنَدُوْهُ، وَقدْ صَحَّحَهُ ابنُ حَزْمٍ أَيضًا.

(10) وَفِي «سُنَن ِأَبي دَاوُوْدَ» (490) عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ قالَ: «إنَّ خَلِيْلِي نهَانِي أَنْ أُصَليَ فِي المقبَرَةِ، وَنهَانِي أَنْ أُصَليَ فِي أَرْض ِ بابل». وَالآثارُ في ذلِك َكثِيْرَة ٌ جدًّا) اه كلامُهُ رحمه الله.

وَمِنَ الأَحَادِيثِ في ذلِك َ أَيضا:

(12) مَا رَوَاهُ البُخارِيُّ فِي «صَحِيْحِهِ» (435)، (1330)، (1390)، (3453)، (4441)، (5815)، ومُسْلِمٌ (531) عَنْ عَائِشَة َ رَضِيَ الله ُعَنْهَا قالتْ: (لمّا نزِلَ برَسُوْل ِاللهِ صلى الله عليه وسلم طفِقَ يَطرَحُ خَمِيْصَة ً لهُ عَلى وَجْههِ، فإذا اغتمَّ بهَا كشفهَا عَنْ وَجْههِ فقالَ وَهُوَ كذَلِك َ: «لعْنَة ُ اللهِ عَلى الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى، اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِدَ» يُحَذِّرُ مَا صَنعُوْا، لوْلا ذلِك َ أُبرِزَ قبْرُهُ، غيْرَ أَنهُ خَشِيَ أَنْ يُتَّخذَ مَسْجِدًا).

(13) وَعَنْ جُنْدُبِ بْن ِ عَبْدِ اللهِ البَجَلِيِّ رَضِيَ الله ُعَنْهُ قالَ: سَمِعْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قبْلَ أَنْ يَمُوْتَ بخمْس ٍ وَهُوَ يقوْلُ: «إني أَبرَأُ إلى اللهِ أَنْ يَكوْنَ لِي مِنْكمْ خَلِيْلٌ، فإنَّ الله َ تَعَالىَ قدِ اتخذَني خَلِيْلا ً، كمَا

--------------------------------------------

(1) - أَبوْ دَاوُوْدَ (492) وَالتِّرْمِذِيُّ (317) وَابْنُ مَاجَهْ (745).
এবং চার কিতাবের সংকলকগণ (১), এবং ইবনু হিব্বান তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (১৬৯৯), (২৩১৬), (২৩২১)।

ইমাম তিরমিজি বলেন: «এতে ইজতিরাব (অসংগতি) রয়েছে», কারণ সুফিয়ান সাওরি এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিরমিজি ব্যতীত অন্যগণ এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন, কারণ অন্য বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ এটি মুসনাদ (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনু হাজমও একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন।

(১০) এবং «সুনানে আবি দাউদ» (৪৯০)-এ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আমার খলিল (অকৃত্রিম বন্ধু) আমাকে কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন এবং বাবেলের জমিনে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।» আর এ বিষয়ে আছার (বর্ণনা) অনেক বেশি।) - তাঁর কথা সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

এই বিষয়ে আরও কিছু হাদিস হলো:

(১২) ইমাম বুখারি তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে (৪৩৫), (১৩৩০), (১৩৯০), (৩৪৫৩), (৪৪৪১), (৫৮১৫) এবং ইমাম মুসলিম (৫৩১) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম মুহূর্ত উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাঁর একটি চাদর নিজের চেহারার ওপর দিতে লাগলেন। যখন তিনি এর দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ বোধ করতেন, তখন চেহারা থেকে তা সরিয়ে নিতেন। তিনি এমতাবস্থায় বললেন: «ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।» তিনি তাদের কর্মকাণ্ড থেকে (উম্মতকে) সতর্ক করছিলেন। যদি এই ভয় না থাকত, তবে তাঁর কবর উন্মুক্ত রাখা হতো, কিন্তু আশঙ্কা করা হয়েছিল যে সেটিকে মসজিদে পরিণত করা হবে)।

(১৩) এবং জুনদুব ইবনু আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «আমি আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত হচ্ছি তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে আমার খলিল (অকৃত্রিম বন্ধু) বানানো হতে। কারণ, মহান আল্লাহ আমাকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি...

--------------------------------------------

(১) - আবু দাউদ (৪৯২), তিরমিজি (৩১৭) এবং ইবনু মাজাহ (৭৪৫)।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
اتخذَ إبْرَاهِيْمَ خَلِيْلا ً، وَلوْ كنتُ مُتخِذًا مِنْ أُمَّتِي خَلِيْلا ً، لاتخذْتُ أَبا بَكرٍ خَلِيْلا ً. أَلا وَإنَّ مَنْ كانَ قبْلكمْ كانوْا يتخذُوْنَ قبوْرَ أَنْبيَائِهمْ وَصَالِحِيْهمْ مَسَاجِدَ، أَلا فلا تتخِذُوْا الْقبُوْرَ مَسَاجِدَ، إني أَنهَاكمْ عَنْ ذلك» رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1)

في «صَحِيْحِه» (532).

(14) وَعَنْ أَبي عُبيْدَة َ عَامِرِ بْن ِ الجرّاحِ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ قالَ: (كانَ آخِرَ مَا تَكلمَ بهِ نبيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَنْ أَخْرِجُوْا يَهُوْدَ الحِجَازِ مِنْ جَزِيْرَةِ العَرَبِ، وَاعْلمُوْا أَنَّ شِرَارَ النّاس ِ الذِيْنَ يَتَّخِذُوْنَ الْقبوْرَ مَسَاجِد) رَوَاهُ الإمَامُ أَحْمَدُ فِي «مُسْنَدِهِ» (1/ 195)، وَرَوَاهُ الدّارِمِيُّ (2498) بشَطرِهِ الأَوَّل ِدُوْنَ الأَخِيْر.

(15) وَرَوَى الإمَامُ أَحْمَدُ فِي «مُسْنَدِهِ» (2/ 246) عَنْ أَبي هُرَيْرَة َ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ عَن ِالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم: «اللهُمَّ لا تَجْعَلْ قبْرِي وَثنَا، لعنَ الله ُ قوْمًا اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِد».

--------------------------------------------

(1) - وَرَوَاهُ ابْنُ أَبي شَيْبَة َفي «مُصَنَّفِهِ» (2/ 376) مِنْ طرِيْق ِ عَبْدِ اللهِ بْن ِ الحارِثِ النَّجْرَانِيِّ قالَ: (حَدَّثني جُنْدُبٌ) فذَكرَه.

وَعَن ِ ابْن ِ أَبي شَيْبَة َ: رَوَاهُ مُسْلِمٌ في «صَحِيْحِهِ» (532) مِنْ طرِيْقِه.

غيْرَ أَنهُ قدْ تَصَحَّفَ إسْنَادُهُ في المطبُوْعِ مِنَ «المصَنَّفِ»: مِنْ (عَبْدِ اللهِ بْن ِ الحارِثِ النَّجْرَانِيّ حَدَّثني جُنْدُبٌ) إلىَ (عَبْدِ اللهِ بْن ِ الحارِثِ النَّجْرَانِيّ حَدَّثني جَدِّي)!

وَقدْ أَوْقعَ هَذَا التَّصْحِيْفُ الشَّيْخَ الأَلبَانِيَّ رحمه الله ُ- في خَطإٍ، حَيْثُ ظنَّ هَذَا الحدِيْثَ حَدِيْثين ِ اثنين ِ، لا حَدِيْثًا وَاحِدًا! فسَاقَ في كِتَابهِ النّافِعِ «تَحْذِيْرِ السّاجِدِ» (ص20 - 22) حَدِيْثَ جُنْدُبِ بْن ِ عَبْدِ اللهِ البَجَلِيِّ، ثمَّ أَتبعَهُ بحدِيْثِ (الحارِثِ النَّجْرَانِيّ قالَ: سَمِعْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قبْلَ أَنْ يَمُوْتَ بخمْس ٍ … ) الحدِيْثَ! ثمَّ صَحَّحَهُ فقالَ: (إسْنَادُهُ صَحِيْحٌ عَلى شَرْطِ مُسْلِم)! وَهَذَا خَطأٌ ظاهِر.
“[আল্লাহ] ইব্রাহিমকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর আমি যদি আমার উম্মতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম। জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে (উপাসনালয়ে) পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)

তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (৫৩২)।

(১৪) আবু উবাইদাহ আমির ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে কথাটি বলেছিলেন তা হলো: তোমরা হিজাজের ইহুদিদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও। আর জেনে রেখো, মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা যারা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করে)। ইমাম আহমদ এটি তাঁর ‘মুসনাদ’-এ (১/১৯৫) বর্ণনা করেছেন এবং দারেমি (২৪৯৮) এর প্রথমাংশ বর্ণনা করেছেন, শেষাংশ ব্যতীত।

(১৫) ইমাম আহমদ তাঁর ‘মুসনাদ’-এ (২/২৪৬) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করবেন না। আল্লাহ সেই সম্প্রদায়ের ওপর লানত করেছেন যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।”

--------------------------------------------

(১) - ইবনে আবি শাইবা তাঁর ‘মুসান্নাফ’-এ (২/৩৭৬) আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস আন-নাজরানি-এর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (জুন্দুব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন), অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

আর ইবনে আবি শাইবা থেকে: মুসলিম এটি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (৫৩২) তাঁর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন।

তবে ‘মুসান্নাফ’-এর মুদ্রিত কপিতে এর সনদে শব্দগত বিকৃতি (তাশহিফ) ঘটেছে: “আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস আন-নাজরানি আমার কাছে জুন্দুব বর্ণনা করেছেন”-এর স্থলে “আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস আন-নাজরানি আমার কাছে আমার দাদা বর্ণনা করেছেন” হয়ে গেছে!

এই শব্দগত বিকৃতিটি শেখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ভুলের মধ্যে নিপতিত করেছে, ফলে তিনি এই একটি হাদিসকেই দুটি ভিন্ন হাদিস মনে করেছেন! তিনি তাঁর উপকারী গ্রন্থ ‘তাহযীরুস সাজিদ’ (পৃষ্ঠা ২০-২২)-এ জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালীর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, অতঃপর এর পরপরই (হারিস আন-নাজরানি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি...) হাদিসটি উল্লেখ করেছেন! তারপর তিনি এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়ে বলেছেন: (এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ)! অথচ এটি একটি স্পষ্ট ভুল।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৫)
(16) وَعَنْهُ رَضِيَ الله ُعَنْهُ قالَ: قالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لا تَجْعَلوْا بُيوْتكمْ قبوْرًا، وَلا تَجْعَلوْا قبْرِي عِيْدًا، وَصَلوْا عَليَّ فإنَّ صَلاتَكمْ تبْلغُنِي حَيْثُ كنْتُمْ» رَوَاهُ الإمَامُ أَحْمَدُ فِي «مُسْنَدِهِ» (2/ 367) وَأَبوْ دَاوُوْدَ في «سُننِهِ» (2042)، وَحَسَّنهُ شَيْخُ الإسْلامِ ابنُ تَيْمية َ، وَالحافِظ ُ ابْنُ حَجَرٍ، وَوَافقهُمَا الشَّيْخُ محمّدُ بنُ عَبْدِ الوَهّابِ، وَغيْرُهُمْ.

(17) وَعَنْ زَيدِ بْن ِثابتٍ رَضِيَ الله ُعَنْهُ: أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «لعَنَ الله ُ اليَهُوْدَ، اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِد» رَوَاهُ الإمَامُ أَحْمَدُ في «مُسْنَدِه» (5/ 184، 186).

(18) وَعَنْ عَلِيِّ بْن ِأَبي طالِبٍ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْل ِاللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «لا تتخِذُوْا قبْرِي عِيْدًا، وَلا بيوْتكمْ قبوْرًا، وَصَلوْا عَليَّ فإنَّ تَسْلِيْمَكمْ يَبْلغنُِي أَينَ كنْتُمْ» رَوَاهُ ابْنُ أَبي شَيْبَة َ في «مُصَنَّفِهِ» (2/ 375)، وَإسْحَاقُ القاضِي في «فضْل ِالصَّلاةِ عَلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم» (20)، وَأَبوْ يَعْلى الموْصِليُّ في «مُسْنَدِهِ» (1/ 361 - 362) (469)، وَالبُخارِيُّ في «التّارِيْخِ الكبيْرِ» (2/ 186) لكنْ بجزْئهِ الأَوَّل ِ دُوْنَ بَاقِيْهِ، وَالضِّيَاءُ المقدِسِيُّ فِي «الأَحَادِيْثِ المخْتَارَة».

وَسَمِعْتُ شَيْخنا ابنَ بازٍ رحمه الله ُ يَقوْلُ عَقِبَهُ: (لا بَأْسَ به).

وَالأَحَادِيْثُ في البابِ وَالآثارُ كثيْرَة ٌ، ترَكتُ مِنْهَا طرَفا، اكتفاءًا بما سَلف.
(১৬) এবং তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না। আর তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছায়»। এটি ইমাম আহমাদ তাঁর «মুসনাদ»-এ (২/ ৩৬৭) এবং আবু দাউদ তাঁর «সুনান»-এ (২০৪২) বর্ণনা করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং হাফেজ ইবনে হাজার একে উত্তম (হাসান) বলেছেন এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও অন্যান্যরা তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন।

(১৭) যায়েদ বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের প্রতি লানত করেছেন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে»। এটি ইমাম আহমাদ তাঁর «মুসনাদ»-এ (৫/ ১৮৪, ১৮৬) বর্ণনা করেছেন।

(১৮) আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। আর তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সালাম আমার কাছে পৌঁছায়»। এটি ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর «মুসান্নাফ»-এ (২/ ৩৭৫), ইসহাক আল-কাজী «ফাদলুস সালাতি আলান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)»-এ (২০), আবু ইয়ালা আল-মাওসেলি তাঁর «মুসনাদ»-এ (১/ ৩৬১ - ৩৬২) (৪৬৯), এবং বুখারী তাঁর «তারিখুল কাবির»-এ (২/ ১৮৬) বর্ণনা করেছেন—তবে কেবল এর প্রথম অংশটি, বাকি অংশ নয়—এবং আদ-দিয়া আল-মাকদিসি «আল-আহাদিসুল মুখতারা»-তে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি আমাদের শায়খ ইবনে বাযকে (রহিমাহুল্লাহ) এর পরে বলতে শুনেছি: (এটি বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই)।

এই অধ্যায়ে হাদিস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) অনেক রয়েছে, পূর্বোক্ত বর্ণনার ওপর নির্ভর করে আমি তার একাংশ উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৭)
فصل في تَحْقِيْق ِ العِلةِ الكبْرَى للنَّهْيِّ عَن ِ الصَّلاةِ في المقابرِ وَعِنْدَ القبوْر

اخْتَلفَ أَهْلُ العِلمِ مِنَ المحَرِّمِيْنَ لِلصَّلاةِ في المقابرِ في عِلةِ ذلِك َ وَسَبَبهِ:

فقالَ جَمَاعَة ٌمِنْهُمْ: «عِلة ُ ذلِك َ وَسَبَبُهُ: نجَاسَة ُ ترَابِ المقبَرَةِ، أَوْ مَظِنَّة ُ ذلِك َ، لاخْتِلاطِهِ بلحُوْمِ الموْتى، وَمَا فضُلَ عَنْهُمْ مِنْ نجَاسَات».

لهِذَا فرَّقَ هَؤُلاءِ بَيْنَ الصَّلاةِ في مَقبَرَةٍ عَتيْقةٍ، وَبينَ الصَّلاةِ في مَقبَرَةٍ جَدِيْدَةٍ، فحَرَّمُوْا الصَّلاة َ في الأُوْلىَ وَأَجَازُوْهَا في الثّانِيَة.

وَفرَّقوْا بيْنَ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ عَلى بُسُطٍ وَفرُش ٍ، تَحُوْلُ دُوْنَ أَرْضِهَا وَبينَ الصَّلاةِ عَليْهَا دُوْنَ حَائِل ٍ، فأَجَازُوْا الأُوْلىَ، وَحَرَّمُوْا الأُخْرَى. وَفي حَالاتٍ أُخْرَى جَرَى عِنْدَهُمْ فِيْهَا التَّفرِيْقُ، مُرَاعَاة ً لِلعِلةِ التِي ظنُّوْهَا.

وَقالَ جَمَاعَة ٌ آخَرُوْنَ - وَهُوَ قوْلُ المحَققِيْنَ، وَعَليْهِ الأَدِلة ُ-: إنَّ عِلة َ ذلِك َ وَسَبَبَهُ أَمْرَان ِ:

أَحَدُهُمَا: كوْنهَا ذرِيْعَة ً إلىَ الشِّرْكِ بعِبَادَةِ أَصْحَابهَا، بصَرْفِ شَيْءٍ مِنْ أَنوَاعِ العِبَادَةِ لهمْ، أَوْ ظنِّ فضْل ِ الصَّلاةِ في تِلك َ البقاعِ عَلى غيْرِهَا لأَجْل ِ ذلِك َ القبْرِ، وَنحْوِ ذلِك َ مِنَ الأُمُوْرِ الفاسِدَة.
কবরস্থান ও কবরের নিকট সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ অনুসন্ধানের পরিচ্ছেদ

কবরস্থানে সালাত আদায় করা যারা হারাম মনে করেন, সেই আলেমগণ এর কারণ ও রহস্য সম্পর্কে মতভেদ করেছেন:

তাঁদের মধ্য থেকে একটি দল বলেছেন: «এর কারণ ও রহস্য হলো: কবরস্থানের মাটির অপবিত্রতা, অথবা এর প্রবল সম্ভাবনা থাকা। কারণ তা মৃতদেহের মাংস এবং তাদের থেকে নির্গত অন্যান্য অপবিত্রতার সাথে মিশে যায়»।

এই কারণে তাঁরা পুরাতন কবরস্থান ও নতুন কবরস্থানের মাঝে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন; ফলে তাঁরা প্রথমটিতে (পুরাতন কবরস্থানে) সালাত আদায় করা হারাম করেছেন এবং দ্বিতীয়টিতে (নতুন কবরস্থানে) তা জায়েয বলেছেন।

তাঁরা আরও পার্থক্য করেছেন কবরস্থানে এমন বিছানা ও গালিচার ওপর সালাত আদায় করা—যা মাটি ও সালাতের মাঝে আড়াল তৈরি করে—এবং কোনো আড়াল ছাড়া সরাসরি মাটির ওপর সালাত আদায়ের মধ্যে। ফলে তাঁরা প্রথমটি জায়েয বলেছেন এবং দ্বিতীয়টি হারাম করেছেন। অন্যান্য আরও কিছু ক্ষেত্রেও তাঁদের নিকট এই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যা তাঁদের ধারণাকৃত কারণের প্রতি লক্ষ্য রেখেই করা হয়েছে।

অপর একদল বলেছেন—আর এটিই হলো গবেষক আলেমদের বক্তব্য এবং এর স্বপক্ষেই দলীলসমূহ বিদ্যমান—: নিশ্চয়ই এর কারণ ও রহস্য দুটি বিষয়:

তার মধ্যে একটি হলো: কবরের বাসিন্দাদের ইবাদতের মাধ্যমে এটি শিরকের মাধ্যম হওয়া। যেমন: তাদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার ইবাদত নিবেদন করা, অথবা সেই কবরের কারণে ঐ স্থানগুলোতে সালাত আদায় করাকে অন্য স্থানের তুলনায় অধিক ফযীলতপূর্ণ মনে করা, এবং এ জাতীয় অন্যান্য ভ্রান্ত বিষয়াদি।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَالآخَرُ: مُشَابَهَة ُ اليَهُوْدِ وَالنَّصَارَى المتخِذِيْنَ قبوْرَ أَنبيَائِهمْ وَصَالِحِيْهمْ مَسَاجِدَ، وَقدْ نهيْنَا عَنْ مُشَابَهَتِهمْ في دَقِيْق ِ الأُمُوْرِ، فكيْفَ بعَظِيْمِهَا؟!

وَقدِ اسْتَدَلَّ هَؤُلاءِ المحَققوْنَ عَلى صِحَّةِ عِلتِهمْ تِلك َ، بأَدِلةٍ كثِيْرَةٍ قوِيةٍ، وَرَدُّوْا قوْلَ السّابقِيْنَ وَضَعَّفوْه.

وَلا شَك َّ وَلا رَيْبَ: أَنَّ العِلة َ الحقِيْقيَّة َ الكبْرَى لِلنَّهْيِّ عَن ِ الصَّلاةِ في المقابرِ وَعِنْدَ القبوْرِ: هِيَ مَا ذكرَهُ هَؤُلاءِ المحَققوْنَ مِنْ كوْنِهَا ذرِيْعَة ً إلىَ الشِّرْكِ، وَفتْحَ بَابٍ لهُ، وَمُشَابَهَة ً لأَهْل ِ الكِتَاب.

أَمّا قوْلُ المعَللِيْنَ بنجَاسَةِ التُّرَابِ: فهُوَ قوْلٌ ضَعِيْفٌ مُطرَحٌ، يُبَيِّنُ ذلِك َ أُمُوْرٌ عِدَّة ٌ، سَاقهَا شَيْخُ الإسْلامِ ابْنُ تَيْمية َ رحمه الله ُ فقالَ:

(وَأَبلغُ مِنْ هَذَا: أَنهُ نهَى عَن ِ الصَّلاةِ إلىَ القبْرِ، فلا يَكوْنُ القبْرُ بَيْنَ المصَلي وبَيْنَ القِبْلةِ، فرَوَى مُسْلِمٌ في «صَحِيْحِهِ» (972) عَنْ أَبي مَرْثدٍ الغنوِيِّ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «لا تَجْلِسُوْا عَلى القبوْرِ، وَلا تُصَلوْا إليْهَا».

وَفِي هَذَا إبْطالُ قوْل ِمَنْ زَعَمَ أَنَّ النَّهْيَ عَن ِ الصَّلاةِ فِيْهَا: لأَجْل ِ النَّجَاسَةِ، فهَذَا أَبعَدُ شَيْءٍ عَنْ مَقاصِدِ الرَّسُوْل ِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ بَاطِلٌ مِنْ عِدَّةِ أَوْجُهٍ:

1 - مِنْهَا: أَنَّ الأَحَادِيْثَ كلهَا، ليْسَ فِيْهَا فرْقٌ بَيْنَ المقبَرَةِ الحدِيْثةِ وَالمنْبُوْشَةِ، كمَا يَقوْلُ المعَللوْنَ باِلنَّجَاسَة.
এবং অন্যটি হলো: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা, যারা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছিল। অথচ আমাদের তো তাদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে তাদের বড় ও গুরুতর বিষয়ে সাদৃশ্য গ্রহণের পরিণাম কী হতে পারে?!

এই মুহাক্কিকগণ (গবেষকগণ) তাদের সেই কারণ বা যুক্তির সঠিকতার স্বপক্ষে অনেক শক্তিশালী দলিল পেশ করেছেন এবং পূর্ববর্তীদের মতকে খণ্ডন ও দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

এতে কোনো সন্দেহ ও সংশয় নেই যে, কবরস্থানে এবং কবরের নিকট সালাত আদায় করার নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত ও প্রধান কারণ হলো সেটিই যা এই মুহাক্কিকগণ উল্লেখ করেছেন; আর তা হলো একে শিরকের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা, শিরকের পথ উন্মুক্ত করা এবং আহলে কিতাবদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা।

আর যারা মাটির অপবিত্রতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন, তাদের সেই মতটি অত্যন্ত দুর্বল ও পরিত্যাজ্য। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করে তা স্পষ্ট করেছেন; তিনি বলেছেন:

(এর চেয়েও জোরালো বিষয় হলো: তিনি কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, যেন সালাত আদায়কারী ও কিবলার মাঝখানে কবর না থাকে। ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (৯৭২) আবু মারসাদ আল-গানাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কবরের ওপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না»।

এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির দাবি অসার প্রমাণিত হয় যে ধারণা করে যে, সেখানে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞাটি মূলত অপবিত্রতার কারণে। এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং তা বিভিন্ন দিক থেকে বাতিল বা অসার:

১ - তন্মধ্যে একটি হলো: হাদীসসমূহের কোথাও নতুন কবরস্থান এবং খননকৃত পুরাতন কবরস্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি, যেমনটি অপবিত্রতার অজুহাত প্রদানকারীরা করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - وَمِنْهَا: أَنهُ صلى الله عليه وسلم لعَنَ اليَهُوْدَ وَالنَّصَارَى عَلى اتخاذِ قبوْرِ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِدَ. وَمَعْلوْمٌ قطعًا أَنَّ هَذَا ليْسَ لأَجْل ِ النَّجَاسَةِ، فإنَّ ذلِك َ لا يَخْتَصُّ بقبوْرِ الأَنبيَاءِ، وَلأَنَّ قبوْرَ الأَنبيَاءِ مِنْ أَطهَرِ البقاعِ، وَليْسَ لِلنَّجَاسَةِ عَليْهَا طرِيْقٌ البتة َ، فإنَّ الله َ حَرَّمَ عَلى الأَرْض ِ أَنْ تأْكلَ أَجْسَادَهُمْ، فهُمْ في قبوْرِهِمْ طرِيوْن.

3 - وَمِنْهَا: أَنهُ صلى الله عليه وسلم نهَى عَن ِ الصَّلاةِ إليْهَا.

4 - وَمِنْهَا: أَنهُ أَخْبَرَ أَنَّ «الأَرْضَ كلهَا مَسْجِدٌ، إلا َّ المقبَرَة َ وَالحمّام». وَلوْ كانَ ذلِك َ لأَجْل ِ النَّجَاسَةِ، لكانَ ذِكرُ الحشوْش ِ وَالمجَازِرِ وَنحْوِهَا أَوْلىَ مِنْ ذِكرِ القبوْر.

5 - وَمِنْهَا: أَنَّ مَوْضِعَ مَسْجِدِهِ صلى الله عليه وسلم، كانَ مَقبَرَة ً لِلمُشْرِكِيْنَ، فنبشَ صلى الله عليه وسلم قبوْرَهُمْ وَسَوّاهَا، وَاتخذَهُ مَسْجِدًا. وَلمْ يَنْقلْ ذلِك َ التُّرَابَ، بَلْ سَوَّى الأَرْضَ وَمَهَّدَهَا، وَصَلى فِيْهِ، كمَا ثبتَ في «الصَّحِيْحَيْن» عَنْ أَنس ِ بْن ِمَالِكٍ رَضِيَ الله ُ عَنْه).

ثمَّ قالَ شَيْخُ الإسْلامِ:

(6 - وَمِنْهَا: أَنَّ فِتْنَة َ الشِّرْكِ باِلصَّلاةِ فِي القبوْرِ، وَمُشَابَهَةِ عُبّادِ الأَوْثان ِ، أَعْظمُ بكثِيْرٍ مِنْ مَفسَدَةِ الصَّلاةِ بَعْدَ العَصْرِ وَالفجْر. فإذا نهى عَنْ ذلِك َ سَدًّا لِذَرِيْعَةِ التَّشَبُّهِ التِي لا تَكادُ تَخْطرُ ببال ِ المصَلي، فكيْفَ بهَذِهِ الذّرِيْعَةِ القرِيْبَةِ، التِي كثِيْرًا مَا تدْعُوْ صَاحِبَهَا إلىَ الشِّرْكِ، وَدُعَاءِ الموْتى وَاسْتغاثتِهمْ، وَطلبِ الحوَائِجِ مِنْهُمْ،
২ - আর এগুলোর মধ্যে (অন্যতম) হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অভিশাপ দিয়েছেন তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করার কারণে। আর এটি অকাট্যভাবে জানা যে, এটি নাপাকির (নাজাসাত) কারণে নয়; কেননা নাপাকির বিষয়টি কেবল নবীদের কবরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। তাছাড়া নবীদের কবরসমূহ পৃথিবীর পবিত্রতম স্থানগুলোর অন্তর্ভুক্ত, সেখানে নাপাকির কোনো পথই নেই। কারণ আল্লাহ জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন, তাই তাঁরা তাঁদের কবরে সজীব ও তাজা রয়েছেন।

৩ - আর এগুলোর মধ্যে (অন্যতম) হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

৪ - আর এগুলোর মধ্যে (অন্যতম) হলো: তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, "পুরো জমিনই মসজিদ, কেবল কবরস্থান ও গোসলখানা (হাম্মাম) ব্যতীত।" যদি বিষয়টি নাপাকির কারণে হতো, তবে শৌচাগার ও জবাইখানা প্রভৃতির উল্লেখ কবরের চেয়েও অধিক যুক্তিযুক্ত হতো।

৫ - আর এগুলোর মধ্যে (অন্যতম) হলো: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের স্থানটি মুশরিকদের কবরস্থান ছিল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কবরগুলো খনন করে সমান করে দেন এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। তিনি সেখানকার মাটি সরিয়ে নেননি, বরং ভূমি সমান ও সমতল করে সেখানে সালাত আদায় করেন, যেমনটি 'সহীহাইন'-এ আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে প্রমাণিত হয়েছে।

অতঃপর শায়খুল ইসলাম বলেন:

(৬ - আর এগুলোর মধ্যে (অন্যতম) হলো: কবরের নিকট সালাত আদায়ের শিরকের ফিতনা এবং মূর্তিপূজকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার বিষয়টি আসর ও ফজরের পর সালাত আদায়ের ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি বড়। সুতরাং সাদৃশ্য অবলম্বনের পথ রুদ্ধ করার জন্য যদি সেই সময়ের সালাত নিষিদ্ধ করা হয়—যা সালাত আদায়কারীর মনে সচরাচর উদয়ও হয় না—তবে এই নিকটবর্তী উপায়ের বিষয়টি কেমন হবে, যা প্রায়শই ব্যক্তিকে শিরক, মৃতদের আহ্বান করা, তাদের নিকট উদ্ধার কামনা করা এবং তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনার দিকে ধাবিত করে?
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاعْتِقادِ أَنَّ الصَّلاة َ عِنْدَ قبوْرِهِمْ أَفضَلُ مِنْهَا فِي المسَاجِدِ، وَغيْرِ ذلِك َ مِمّا هُوَ مُحَادَّة ٌ ظاهِرَة ٌ للهِ وَرَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم.

فأَينَ التَّعْلِيْلُ بنَجَاسَةِ البُقعَةِ مِنْ هَذِهِ المفسَدَة؟!

وَمِمّا يَدُلُّ عَلى أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قصَدَ مَنْعَ هَذِهِ الأُمَّةِ مِنَ الفِتْنَةِ باِلقبوْرِ، كمَا افتتَنَ بهَا قوْمُ نوْحٍ وَمَنْ بَعْدَهُمْ.

7 - وَمِنْهَا: أَنهُ صلى الله عليه وسلم لعَنَ المتَّخِذِيْنَ عَليْهَا مَسَاجِدَ، وَلوْ كانَ ذلِك َ لأَجْل ِالنَّجَاسَةِ، لأَمْكنَ أَنْ يُتَّخَذَ عَليْهَا المسْجِدُ مَعَ تَطييْنِهَا بطيْن ٍ طاهِرٍ، فتَزُوْلُ اللعْنَة ُ! وَهُوَ بَاطِلٌ قطعًا.

8 - وَمِنْهَا: أَنهُ صلى الله عليه وسلم قرَنَ في اللعْن ِ بَيْنَ مُتَّخِذِي المسَاجِدِ عَليْهَا، وَمُوْقِدِي السُّرُجِ عَليْهَا، فهُمَا في اللعْنَةِ قرِيْنَان ِ، وَفي ارْتِكابِ الكبيْرَةِ صِنْوَان ِ، فإنَّ كلَّ مَا لعَنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فهُوَ مِنَ الكبائِر.

وَمَعْلوْمٌ أَنَّ إيْقادَ السُّرُجِ عَليْهَا، إنمَا لعِنَ فاعِلهُ، لِكوْنِهِ وَسِيْلة ً إلىَ تَعْظِيْمِهَا، وَجَعْلِهَا نصُبًا يُوْفضُ إليْهِ المشْرِكوْنَ، كمَا هُوَ الوَاقِعُ، فهَكذَا اتخاذُ المسَاجِدِ عَليْهَا.

وَلِهَذَا قرَنَ بَيْنَهُمَا، فإنَّ اتخاذَ المسَاجِدِ عَليْهَا تَعْظِيْمٌ لهَا، وَتَعْرِيْضٌ لِلفِتْنةِ بهَا، وَلِهَذَا حَكى الله ُ سبحانه وتعالى عَن ِ المتغَلبيْنَ عَلى أَمْرِ أَصْحَابِ الكهْفِ أَنهُمْ قالوْا " لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا ". [الكَهْفُ: 21].

9 - وَمِنْهَا: أَنهُ صلى الله عليه وسلم قالَ: «اللهُمَّ لا تَجْعَلْ قبْرِي وَثنا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غضَبُ اللهِ عَلى قوْمٍ اتخذُوْا قبوْرَ أَنبيَائِهمْ مَسَاجِد».
এবং তাদের কবরের নিকট সালাত আদায় করাকে মসজিদের চেয়ে উত্তম মনে করা এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ।

এই মহাক্ষতির তুলনায় স্থানের অপবিত্রতার অজুহাত দেখানোর অবকাশ কোথায়?!

এবং এ বিষয়টি প্রমাণ করে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই উম্মতকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় ও তাদের পরবর্তীগণ এর মাধ্যমে ফেতনায় নিপতিত হয়েছিল।

৭ - এর মধ্যে রয়েছে: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে। যদি এটি কেবল অপবিত্রতার কারণে হতো, তবে কবরের ওপর পবিত্র মাটি দিয়ে প্রলেপ দিয়ে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হতো, ফলে অভিশাপ দূর হয়ে যেত! অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই বাতিল ও ভিত্তিহীন।

৮ - এর মধ্যে রয়েছে: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীদের অভিশাপের ক্ষেত্রে একত্রিত করেছেন। তারা অভিশাপের ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গী এবং কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও সমান। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছুর ওপর লানত বা অভিশাপ করেছেন, তা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

আর এটি সুবিদিত যে, কবরের ওপর বাতি প্রজ্জ্বলনকারীকে কেবল একারণেই অভিশাপ দেওয়া হয়েছে যে, এটি কবরকে অতিমর্যাদা দেওয়ার একটি মাধ্যম এবং একে মূর্তির মতো উপাস্যের রূপ দেওয়া যাতে মুশরিকরা ধাবিত হয়, যেমনটি বাস্তবে ঘটছে। কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের বিষয়টিও তদ্রূপ।

একারণেই তিনি এই দুটির মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছেন। কেননা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা তাকে অতিমর্যাদা দেওয়া এবং তার দ্বারা ফেতনায় পড়ার পথ তৈরি করা। একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসহাবে কাহাফের বিষয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলেছিল: "আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব।" [আল-কাহাফ: ২১]।

৯ - এর মধ্যে রয়েছে: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়। আল্লাহর কঠোর ক্রোধ সেই জাতির ওপর আপতিত হয়েছে যারা তাদের নবিদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে।"
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩১)
فذِكرُهُ عَقِيبَ قوْلِهِ «اللهُمَّ لا تَجْعَلْ قبْرِي وَثنا يُعْبَدُ»: تَنْبيْهٌ مِنْهُ عَلى سَبَبِ لحُوْق ِ اللعْن ِ لهمْ، وَهُوَ تَوَصُّلهُمْ بذَلك َ إلىَ أَنْ تَصِيْرَ أَوْثانا تعْبَد.

وَبالجمْلةِ: فمَنْ لهُ مَعْرِفة ٌ باِلشِّرْكِ وَأَسْبَابهِ وَذرَائِعِهِ، وَفهمَ عَن ِالرَّسُوْل ِ صلى الله عليه وسلم مَقاصِدَهُ: جَزَمَ جَزْمًا لا يَحْتَمِلُ النَّقِيْضَ، أَنَّ هَذِهِ المبالغة َ مِنْهُ باِللعْن ِ، وَالنَّهْيِّ بصِيْغتيْهِ: صِيْغةِ «لا تفعَلوْا»، وَصِيْغةِ «إني أَنهَاكمْ»، ليْسَ لأَجْل ِ النَّجَاسَةِ، بَلْ هُوَ لأَجْل ِ نَجَاسَةِ الشِّرْكِ اللاحِقةِ بمَنْ عَصَاهُ، وَارْتكبَ مَا عَنْهُ نهَاهُ، وَاتبعَ هَوَاهُ، وَلمْ يَخْشَ رَبهُ وَمَوْلاهُ، وَقلَّ نَصِيْبُهُ، أَوْ عَدِمُ تَحْقِيْقَ شَهَادَةِ أَنْ لا إلهَ إلا َّ الله.

فإنَّ هَذَا وَأَمْثالهُ مِنَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم صِيَانة ٌلِحِمَى التَّوْحِيْدِ أَنْ يَلحَقهُ الشِّرْك ُ وَيَغْشَاهُ، وَتَجْرِيْدٌ لهُ وَغضَبٌ لِرَبهِ أَنْ يُعْدَلَ بهِ سِوَاه.

فأَبى المشْرِكوْنَ إلا َّ مَعْصِيَة ً لأَمْرِهِ، وَارْتِكابًا لِنَهْيهِ، وَغرَّهُمُ الشَّيْطانُ فقالَ: «بَلْ هَذَا تَعْظِيْمٌ لِقبوْرِ المشَايخِ وَالصّالِحِيْنَ، وَكلمَا كنْتُمْ أَشَدَّ لهَا تَعْظِيْمًا، وَأَشَدَّ فِيْهمْ غلوًّا، كنْتُمْ بقرْبهمْ أَسْعَدَ، وَمِنْ عِدَائِهمْ أَبعَد».

وَلعَمْرُ اللهِ مِنْ هَذَا البابِ بعَيْنِهِ دَخَلَ عَلى عُبّادِ يَغُوْثَ وَيَعُوْقَ وَنسْرٍ. وَمِنْهُ دَخَلَ عَلى عُبّادِ الأَصْنَامِ مُنْذُ كانوْا إلىَ يَوْمِ القِيَامَة. فجَمَعَ المشْرِكوْنَ بَيْنَ الغلوِّ فِيْهمْ، وَالطعْن ِ في طرِيْقتِهمْ.

وَهَدَى الله ُ أَهْلَ التَّوْحِيْدِ لِسُلوْكِ طرِيْقتِهمْ، وَإنزَالِهمْ مَنَازِلهُمُ التِي أَنزَلهُمُ الله ُ إياهَا، مِنَ العُبُوْدِيةِ وَسَلبِ خَصَائِص ِ الإلهِيَّةِ عَنْهُمْ،
"হে আল্লাহ, আপনি আমার কবরকে পূজিত প্রতিমায় পরিণত করবেন না"—তাঁর এই বাণীর পরপরই এর উল্লেখ করা মূলত তাদের ওপর অভিশাপ আপতিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁর পক্ষ থেকে এক সতর্কবাণী। আর তা হলো, এই কাজের মাধ্যমেই তাদের সেই স্থানগুলো পূজিত প্রতিমায় রূপান্তরিত হওয়ার পথ সুগম হয়।

মোটকথা, শিরক এবং এর কারণ ও মাধ্যমগুলো সম্পর্কে যার জ্ঞান রয়েছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যসমূহ যে বুঝতে পেরেছে, সে অকাট্যভাবে নিশ্চিত হবে যে, অভিশাপ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর এই কঠোরতা এবং দুই ধরণের শব্দে—অর্থাৎ 'তোমরা করো না' এবং 'আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি'—এই যে নিষেধাজ্ঞা, তা কোনো বাহ্যিক অপবিত্রতার কারণে নয়। বরং তা হলো শিরকের সেই অপবিত্রতার কারণে যা ঐ ব্যক্তির ওপর আপতিত হয় যে তাঁর অবাধ্য হয়, তাঁর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়, আপন প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তাঁর প্রতিপালক ও অভিভাবককে ভয় করে না এবং আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর প্রকৃত বাস্তবায়নে যার কোনো অংশ নেই অথবা যা সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।

কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই পদক্ষেপ এবং অনুরূপ অন্যান্য পদক্ষেপ হলো তাওহীদের সীমানাকে হেফাযত করা যাতে শিরক সেখানে পৌঁছাতে না পারে এবং তাকে আচ্ছন্ন করতে না পারে। আর এটি হলো তাওহীদকে একনিষ্ঠ করা এবং আপন রবের সন্তুষ্টির নিমিত্তে ক্রোধ প্রকাশ করা যাতে অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষ সাব্যস্ত না করা হয়।

কিন্তু মুশরিকরা তাঁর আদেশের অবাধ্যতা এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞায় লিপ্ত হওয়া ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। শয়তান তাদেরকে ধোঁকা দিয়ে বলেছে: "বরং এটি তো মাশায়েখ ও নেককার বান্দাদের কবরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। তোমরা তাদের প্রতি যত বেশি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং তাদের বিষয়ে যত বেশি অতিরঞ্জন করবে, তোমরা তাদের সান্নিধ্য লাভে তত বেশি সৌভাগ্যবান হবে এবং তাদের শত্রুতা থেকে তত দূরে থাকবে।"

আল্লাহর কসম! ঠিক এই পথ দিয়েই শয়তান ইয়াগূস, ইয়াঊক ও নাসর-এর পূজারীদের মাঝে প্রবেশ করেছিল। আর এই পথেই সে মূর্তিপূজারীদের মাঝে তাদের সূচনালগ্ন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রবেশ করে চলেছে। ফলে মুশরিকরা তাদের প্রতি অতিরঞ্জন এবং তাদের প্রকৃত আদর্শের ওপর আঘাত হানার বিষয়টি একত্রিত করেছে।

পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা তাওহীদপন্থীদেরকে তাদের (নেককারদের) প্রকৃত পথ অনুসরণের হেদায়েত দান করেছেন এবং তাদেরকে সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহ তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর তা হলো তাদের জন্য আল্লাহর দাসত্বের মর্যাদা সাব্যস্ত করা এবং তাদের থেকে উপাস্য হওয়ার যাবতীয় বৈশিষ্ট্য অপসারিত করা।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَهَذَا غاية ُ تَعْظِيْمِهمْ وَطاعَتِهمْ.

فأَمّا المشْرِكوْنَ: فعَصَوْا أَمْرَهُمْ، وَتنقصُوْهُمْ في صُوْرَةِ التَّعْظِيْمِ لهمْ، قالَ الشّافِعِيُّ: «أَكرَهُ أَنْ يُعَظمَ مَخْلوْقٌ، حَتَّى يُجْعَلَ قبْرُهُ مَسْجِدًا، مَخَافة َ الفِتْنَةِ عَليْهِ، وَعَلى مَنْ بَعْدَهُ مِنَ النّاس») اه كلامُ شَيْخِ الإسْلامِ، نقلهُ عَنْهُ العَلامَة ُ ابنُ القيِّمِ في «إغاثةِ اللهْفان» (1/ 187 - 189).

وَقالَ شَيْخُ الإسْلامِ ابنُ تَيْمية َ رحمه الله ُ أَيْضًا:

(وَهَذِهِ العِلة ُ- التِي لأَجْلِهَا نهَى الشّارِعُ عَن ِ اتخاذِ المسَاجِدِ عَلى القبوْرِ -: هِيَ التي أَوْقعَتْ كثِيْرًا مِنَ الأُمَمِ إمّا في الشِّرْكِ الأَكبَرِ، أَوْ فِيْمَا دُوْنهُ مِنَ الشِّرْك.

فإنَّ النُّفوْسَ قدْ أَشْرَكتْ بتَمَاثِيْل ِ القوْمِ الصّالِحِيْنَ، وَتَمَاثِيْلَ يَزْعُمُوْنَ أَنهَا طلاسِمُ لِلكوَاكِبِ، وَنحْو ذلك.

فإنَّ الشِّرْك َ بقبْرِ الرَّجُل ِ الذِي يُعْتَقدُ صَلاحُهُ، أَقرَبُ إلىَ النُّفوْس ِ مِنَ الشِّرْكِ بخشبةٍ أَوْ حَجَر.

وَلهِذَا نجدُ أَهْلَ الشِّرْكِ كثِيْرًا يَتَضَرَّعُوْنَ عِنْدَهَا، وَيَخْشَعُوْنَ وَيَخْضَعُوْنَ وَيَعْبُدُوْنهُمْ بقلوْبهمْ عِبَادَة ً لا يَفعَلوْنهَا في بُيُوْتِ اللهِ، وَلا وَقتَ السَّحَرِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْجُدُ لها! وَأَكثرُهُمْ يَرْجُوْنَ مِنْ بَرَكةِ الصَّلاةِ عِنْدَهَا وَالدُّعَاءِ، مَا لا يرْجُوْنهُ في المسَاجِد!

فلأَجْل ِ هَذِهِ المفسَدَةِ: حَسَمَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم مَادَّتهَا، حَتَّى نهَى عَن ِ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ مُطلقا، وَإنْ لمْ يقصِدِ المصَلي برَكة َ البقعَةِ
আর এটিই হলো তাঁদের সম্মান ও আনুগত্যের সর্বোচ্চ পর্যায়।

পক্ষান্তরে মুশরিকরা তাদের আদেশের অবাধ্য হয়েছে এবং সম্মান প্রদর্শনের আড়ালে মূলত তাদের মর্যাদাকে খাটো করেছে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: «আমি কোনো সৃষ্টিকে এমনভাবে সম্মান করা অপছন্দ করি যে তার কবরকে মসজিদে পরিণত করা হবে; তার নিজের ওপর এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ফিতনার আশঙ্কায় (এ কথা বলছি)»—শাইখুল ইসলামের বক্তব্য এখানে শেষ হলো, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তার ‘ইগাছাতুল লাহফান’ (১/ ১৮৭-১৮৯) গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) আরও বলেন:

(আর এই কারণটি—যার দরুন শরীয়ত প্রণেতা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ করেছেন—তা-ই অনেক জাতিকে হয় বড় শিরকে, না হয় তার চেয়ে নিম্নস্তরের শিরকে লিপ্ত করেছে।

কেননা মানুষের মন নেককার লোকেদের প্রতিকৃতি এবং গ্রহ-নক্ষত্রের যাদু বা এ জাতীয় জিনিসের মূর্তির মাধ্যমে শিরকে লিপ্ত হয়েছে।

কারণ যাকে সৎ লোক বলে বিশ্বাস করা হয় তার কবরের মাধ্যমে শিরক করা মানুষের মনের জন্য কাঠ বা পাথরের মাধ্যমে শিরক করার চেয়েও নিকটতর।

এ কারণেই আমরা অনেক মুশরিককে সেখানে কান্নাকাটি করতে দেখি; তারা এমন বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করে এবং মনে মনে এমন ইবাদত করে যা তারা আল্লাহর ঘরে কিংবা শেষ রাতেও করে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার সেগুলোকে সিজদাও করে! তাদের অধিকাংশের ধারণা, সেখানে নামায ও দোয়ার মাধ্যমে এমন বরকত পাওয়া যায় যা মসজিদেও পাওয়া যায় না!

এই অনিষ্টের কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মূলোৎপাটন করেছেন, এমনকি তিনি কবরস্থানে নামায পড়া সাধারণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন, যদিও মুসল্লি সেই স্থানের বরকত লাভের নিয়ত না-ও করে থাকে।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بصَلاتهِ، كمَا يقصِدُ بصَلاتهِ برَكة َ المسَاجِد.

كمَا نهَى عَن ِ الصَّلاةِ وَقتَ طلوْعِ الشَّمْس ِ وَغرُوْبهَا، لأَنهَا أَوْقاتٌ يَقصِدُ المشْرِكوْنَ الصَّلاة َفِيْهَا لِلشَّمْس ِ، فنَهَى أُمَّتَهُ عَن ِ الصَّلاةِ حِيْنَئِذٍ، وَإنْ لمْ يَقصِدِ المصَلي مَا قصَدَهُ المشْرِكوْنَ، سَدًّا لِلذَّرِيْعَة.

وَأَمّا إذا قصَدَ الرَّجُلُ الصَّلاة َعِنْدَ القبوْرِ، مُتَبَرِّكا باِلصَّلاةِ في تِلك َ البُقعَةِ: فهَذَا عَيْنُ المحَادَّةِ للهِ وَلِرَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم، وَالمخالفةِ لِدِينِهِ، وَابْتِدَاعُ دِيْن ٍ لمْ يَأْذنْ بهِ الله ُ تَعَالىَ) اه نقلهُ عَنْهُ ابنُ القيِّمِ في «إغاثةِ اللهْفان» (1/ 184 - 185).

وَقالَ شَيْخُ الإسْلامِ ابنُ تَيْمية َ في «شَرْحِ العُمْدَة» (2/ 448 - 449): (فإنمَا نهَى عَنْ ذلِك َ لأَنَّ الصَّلاة َ عِنْدَهَا، وَاتخاذهَا مَسَاجِدَ، ضَرْبٌ مِنْ عِبَادَةِ الأَوْثان ِ، وَسَبَبٌ إليْهِ، لأَنَّ عُبّادَ الأَوْثان ِ مَا كانوْا يَقوْلوْنَ «إنَّ تِلك َ الحِجَارَة َ وَالخشَبَ خَلقتْهُمْ»، وَإنمَا كانوْا يَقوْلوْنَ «إنهَا تَمَاثِيْلُ أَشْخاص ٍ مُعَظمِيْنَ مِنَ الملائِكةِ، أَوِ النُّجُوْمِ، أَوِ البَشرِ، وَإنهُمْ بعِبَادَتِهمْ يتوَسَّلوْنَ إلىَ الله».

فإذا توَسَّلَ العَبْدُ بالقبْرِ إلىَ اللهِ: فهُوَ عَابدُ وَثن ٍ، حَتَّى يَعْبُدَ الله َ مُخْلِصًا لهُ الدِّينَ، مِنْ غيْرِ أَنْ يَجْعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ شُفعَاءَ وَشُرَكاءَ، كمَا أَمَرَ الله ُ تَعَالىَ بذَلِك َ في كِتَابهِ، وَيَعْلمَ أَنهُ ليْسَ مِنْ دُوْن ِ اللهِ وَلِيٌّ وَلا شَفِيْعٌ كمَا أَخْبَرَ تَعَالىَ.
তার সালাতের মাধ্যমে, যেমন সে তার সালাতের মাধ্যমে মসজিদের বরকত কামনা করে।

যেমন তিনি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন; কারণ এগুলো এমন সময় যখন মুশরিকরা সূর্যের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করার সংকল্প করে। ফলে তিনি তাঁর উম্মতকে সেই সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, যদিও সালাত আদায়কারী মুশরিকদের ন্যায় সংকল্প না-ও করে থাকে—অকল্যাণের পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।

আর যখন কোনো ব্যক্তি সেই স্থানে সালাত আদায় করে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে কবরের নিকট সালাত আদায়ের সংকল্প করে, তবে এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সরাসরি শত্রুতা পোষণ, তাঁর দ্বীনের বিরোধিতা এবং এমন নতুন দ্বীন উদ্ভাবন করা যার অনুমতি মহান আল্লাহ প্রদান করেননি। (সমাপ্ত) ইবনুল কাইয়্যিম এটি তাঁর নিকট থেকে 'ইগাছাতুল লাহফান' (১/ ১৮৪-১৮৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'শারহুল উমদাহ' (২/ ৪৪৮-৪৪৯) গ্রন্থে বলেছেন: (নিশ্চয়ই তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন, কারণ কবরের নিকট সালাত আদায় করা এবং সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করা মূর্তি পূজারই একটি প্রকার এবং তার মাধ্যম। কেননা মূর্তি পূজারিরা এ কথা বলত না যে, "এই পাথর ও কাঠগুলো তাদের সৃষ্টি করেছে", বরং তারা বলত, "এগুলো ফেরেশতা, নক্ষত্র অথবা মানুষদের মধ্য থেকে এমন সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি যাদের ইবাদতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করে থাকে"।

অতএব, যখন কোনো বান্দা কবরের উসিলায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তখন সে একজন মূর্তি পূজারি, যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে তাঁর ইবাদত করে; নিজের এবং আল্লাহর মাঝে কোনো সুপারিশকারী ও অংশীদার সাব্যস্ত করা ব্যতিরেকে—যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নির্দেশ দিয়েছেন। আর সে জেনে নেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই, যেমনটি মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَلِهَذَا جَمَعَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ مَحْق ِالتَّمَاثِيْل ِ، وَتَسْوِيةِ القبوْرِ المشْرِفةِ، إذْ كانَ بكليْهمَا يتوَسَّلُ بعِبَادَةِ البَشَرِ إلىَ اللهِ، قالَ أَبوْ الهيّاجِ الأَسَدِيُّ: قالَ لِي عَلِيٌّ رَضِيَ الله ُ عَنْهُ: «أَلا أَبْعَثُك َ عَلى مَا بَعَثنِي عَليْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ أَلا َّ تدَعَ تِمْثالا ً إلا َّ طمَسْتهُ، وَلا قبْرًا مُشْرِفا إلا َّ سَوَّيته»، رَوَاهُ الجمَاعَة ُ إلا َّ البُخارِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ [حم (1/ 129، 89) م (969) د (3218) ت (1049) ن (2031)]) اه.

وَقالَ أَيْضًا رحمه الله ُفي «شَرْحِ العُمْدَةِ» (2/ 450 - 451): (وَأَمّا مَنْ يُصَلي عِنْدَ القبْرِ اتفاقا مِنْ غيْرِ أَنْ يَقصِدَهُ: فلا يَجُوْزُ أَيضًا، كمَا لا يَجُوْزُ السُّجُوْدُ بَيْنَ يَدَيْ الصَّنَمِ وَالنارِ وَغيْرِ ذلِك َ مِمّا يُعْبَدُ مِنْ دُوْن ِ اللهِ، لِمَا فِيْهِ مِنَ التَّشبهِ بعُبّادِ الأَوْثان ِ، وَفتْحِ بَابِ الصَّلاةِ عِنْدَهَا، وَاتهَامِ مَنْ يَرَاهُ أَنهُ قصَدَ الصَّلاة َ عِنْدَهَا.

وَلأَنَّ ذلِك َ مَظِنَّة ُ تِلك َ المفسَدَةِ، فعُلقَ الحكمُ بهَا، لأَنَّ الحِكمَة َ قدْ لا تَنْضَبط ُ، وَلأَنَّ في ذلِك َ حَسْمًا لِهَذِهِ المادَّةِ، وَتَحْقِيْقَ الإخْلاص ِ وَالتَّوْحِيْدِ، وَزَجْرًا لِلنُّفوْس ِ أَنْ تتعَرَّضَ لها بعِبَادَةٍ، وَتَقبيْحًا لِحَال ِ مَنْ يَفعَلُ ذلِك َ، وَلِهَذَا نهَى النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم عَن ِ الصَّلاةِ عِنْدَ طلوْعِ الشَّمْس ِ، لأَنَّ الكفارَ يسْجُدُوْنَ لِلشَّمْس ِحِيْنَئِذٍ).

ثمَّ قالَ رحمه الله ُ (2/ 452 - 453): (فهَذِهِ هِيَ العِلة ُ المقصُوْدَة ُ لِصَاحِبِ الشَّرْعِ في النَّهْيِّ عَن ِ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ، وَاتخاذِ القبوْرِ مَسَاجِدَ، لِمَنْ تَأَمَّلَ الأَحَادِيْثَ وَنظرَ فِيْهَا، وَقدْ نصَّ الشّارِعُ عَلى هَذِهِ العِلةِ كمَا تقدَّم.
আর একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিকৃতি নিশ্চিহ্ন করা এবং উঁচু কবরগুলোকে সমান করে দেওয়ার বিষয়টিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন; কারণ এই উভয় বিষয়ের মাধ্যমেই মানুষের ইবাদতকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অসিলা (উপায়) হিসেবে গ্রহণ করা হতো। আবু হাইয়াজ আল-আসাদি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন: «আমি কি তোমাকে এমন এক মিশনে পাঠাব না, যে মিশনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো: তুমি কোনো প্রতিকৃতি (মূর্তি) মিটিয়ে ফেলা ছাড়া ছাড়বে না এবং কোনো উঁচু কবরকে সমান করা ছাড়া ছাড়বে না», এটি বুখারী ও ইবনে মাজাহ ব্যতীত হাদিস বিশারদগণের জামায়াত বর্ণনা করেছেন [আহমাদ (১/ ১২৯, ৮৯), মুসলিম (৯৬৯), আবু দাউদ (৩২১৮), তিরমিজি (১০৪৯), নাসায়ি (২০৩১)]। ইতি।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) 'শারহুল উমদাহ' (২/ ৪৫০-৪৫১) গ্রন্থে আরও বলেন: (আর যে ব্যক্তি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই ঘটনাচক্রে কবরের নিকট সালাত আদায় করে, তবে তাও বৈধ নয়; যেমনটি প্রতিমা, আগুন বা আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তার সামনে সিজদা করা বৈধ নয়। কারণ এর মধ্যে মূর্তিপূজারীদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, সেখানে সালাত আদায়ের পথ উন্মুক্ত হওয়া এবং যে ব্যক্তি তাকে দেখবে সে তাকে সেখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য করার অপবাদ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আর যেহেতু এটি উক্ত অনিষ্টের একটি ক্ষেত্র, তাই এর সাথে হুকুমটি সম্পৃক্ত করা হয়েছে; কারণ অনেক সময় হিকমত বা যৌক্তিক কারণ সুনির্দিষ্টভাবে ধরা যায় না। অধিকন্তু এর মধ্যে সেই অনিষ্টের মূল উপড়ে ফেলা, ইখলাস ও তাওহীদকে বাস্তবায়িত করা, প্রবৃত্তিকে সেখানে ইবাদতের সম্মুখীন হওয়া থেকে বিরত রাখা এবং এই কাজটি যে করে তার অবস্থাকে মন্দ হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য রয়েছে। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন; কারণ কাফেররা তখন সূর্যের উদ্দেশ্যে সিজদা করে)।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন (২/ ৪৫২-৪৫৩): (যে ব্যক্তি হাদিসসমূহ নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করবে, তার কাছে কবরস্থানে সালাত আদায় করতে এবং কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করতে শরিয়ত প্রণেতার নিষেধের মূল উদ্দেশ্য এটিই প্রতিভাত হবে। আর শরিয়ত প্রণেতা ইতিপূর্বে বর্ণিত এই কারণটির বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فأَمّا الترَابُ إنْ كانَ نجسا: فهَذِهِ عِلة ٌ أُخْرَى، قدْ تُجَامِعُ الأُوْلىَ، لكِنَّ المفسَدَة َ النّاشِئَة َ مِنَ اتخاذِهَا أَوْثانا، أَعْظمُ مِنْ مَفسَدَةِ نجاسَةِ الترَاب.

فإنَّ تِلك َ تقدَحُ في نفس ِ التَّوْحِيْدِ وَالإخْلاص ِ، الذِي هُوَ أَصْلُ الدِّين ِ، وَجِمَاعُهُ وَرَأْسُهُ، وَالذِي بُعِثَتْ بهِ جَمِيْعُ المرْسَلِيْنَ … وَقدْ تفارِقُ الأُوْلىَ إذا كانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الترَابِ حَائِلٌ مِنَ البسَاطِ وَنحْوِهِ، أَوْ كانتِ المقبَرَة ُ جَدِيْدَة ً، لا سِيَّمَا المسْجدُ المبْنِيُّ عَلى قبْرِ نبيٍّ أَوْ رَجُل ٍ صَالِحٍ، فإنَّ ترْبتهُ لمْ يُدْفنْ فِيْهَا غيْرُهُ، فلا نجَاسَة َ هُنَاك َ البَتَّة َ، مَعَ مَا فِيْهِ مِنْ نهْي الشّارِع).

ثمَّ قالَ (2/ 458 - 459): (وَقدْ بَينا أَنهُ لا يَجُوْزُ أَنْ يُرَادَ بتِلك َ الأَحَادِيْثِ، المقبَرَة َ العَتِيْقة َالمنْبُوْشة َ فقط، لأَنهُ نهَى عَن ِ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ، وَنهَى عَن ِ اتخاذِ القبوْرِ مَسَاجِدَ، وَنهَى عَن ِ اتخاذِ قبْرِ النَّبيِّ أَوِ الرَّجُل ِ الصّالِحِ مَسْجِدًا.

وَمَعْلوْمٌ أَنَّ قبوْرَ الأَنبيَاءِ لا تنبش.

وَلأَنَّ عَامَّة َ مَقابرِ المسْلِمِيْنَ في وَقتِهِ كانتْ جَدِيْدَة ً، وَلا يَجُوْزُ أَنْ يُطلقَ اسْمُ المقبَرَةِ، وَيرِيْدُ بهَا مَقابرَ المشْرِكِيْنَ العُتَّق ِ، مَعَ أَنَّ المفهُوْمَ عِنْدَهُمْ مَقابرُهُمْ، وَلا يَجُوْزُ أَنْ يُرِيْدَ بهَا مَا يتجدَّدُ مِنَ القبوْرِ العُتَّق ِ، دُوْنَ المقابرِ الموْجُوْدَةِ في زَمَانِهِ وَبَلدِهِ، فإنَّ مَا يَعْرِفهُ المتكلمُ مِنْ أَفرَادِ العَامِّ، هُوَ أَوْلىَ باِلدُّخُوْل ِ في كلامِه.
মাটি যদি অপবিত্র হয়, তবে তা একটি স্বতন্ত্র কারণ, যা প্রথম কারণটির সাথে একত্রিত হতে পারে। কিন্তু সেগুলোকে মূর্তিতে পরিণত করার ফলে সৃষ্ট অনিষ্ট, মাটির অপবিত্রতা জনিত অনিষ্টের চেয়ে অনেক বড়।

কেননা তা খোদ তাওহিদ ও ইখলাসের মূলে আঘাত হানে, যা দ্বীনের ভিত্তি, মূল নির্যাস ও শিরোভাগ এবং যা নিয়ে সমস্ত রাসূল প্রেরিত হয়েছেন ... আর যখন ব্যক্তি ও মাটির মাঝে গালিচা বা অনুরূপ কোনো আড়াল থাকে, অথবা যদি কবরস্থানটি নতুন হয়, তবে তা প্রথম কারণটি (অপবিত্রতা) থেকে পৃথক হতে পারে। বিশেষ করে কোনো নবী বা নেককার ব্যক্তির কবরের উপর নির্মিত মসজিদের ক্ষেত্রে; কারণ তাঁর কবরের মাটিতে অন্য কাউকে দাফন করা হয়নি, ফলে সেখানে বিন্দুমাত্র অপবিত্রতা নেই। এতদসত্ত্বেও শরিয়ত প্রণেতা সেখানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

এরপর তিনি বলেন (২/ ৪৫৮ - ৪৫৯): (আমরা স্পষ্ট করেছি যে, সেই হাদিসগুলোর দ্বারা কেবল খুঁড়ে ফেলা পুরাতন কবরস্থান উদ্দেশ্য হওয়া জায়েজ নয়। কেননা তিনি কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করতে নিষেধ করেছেন এবং কোনো নবী বা নেককার ব্যক্তির কবরকে মসজিদে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন।

আর এটি সুবিদিত যে, নবীদের কবর কখনও খনন করা হয় না।

তদুপরি তাঁর সময়ে সাধারণ মুসলিমদের অধিকাংশ কবরস্থান ছিল নতুন। সুতরাং 'কবরস্থান' শব্দ প্রয়োগ করে এর দ্বারা কেবল মুশরিকদের পুরাতন কবরস্থানগুলো উদ্দেশ্য করা বৈধ নয়; অথচ তাদের নিকট 'কবরস্থান' বলতে তাদের নিজেদের কবরস্থানই বুঝাত। আর তাঁর যুগ ও জনপদে বিদ্যমান বর্তমান কবরস্থানগুলোকে বাদ দিয়ে কেবল সেসব খুঁড়ে ফেলা পুরাতন কবরকে এর উদ্দেশ্য সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। কেননা বক্তা একটি সাধারণ বা ব্যাপক শব্দের অন্তর্ভুক্ত যেসব একক সম্পর্কে অবগত থাকেন, সেগুলোই তাঁর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার রাখে।)
(খণ্ড: ১) মুজানাবাতু আহলিস সুবুর আল-মুসাল্লীনা ফিল মাশাহাদি ওয়া ইনদাল কুবুর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثمَّ إنهُ لوْ أَرَادَ القبوْرَ المنْبُوْشة َ وَحْدَهَا: لوَجَبَ أَنْ يَقرِنَ بذَلِك َ قرِينة ً تدُلُّ عَليْهِ، وَإلا َّ فلا دَلِيْلَ يَدُلُّ عَلى أَنَّ المرَادَ هُوَ هَذَا.

وَمِنَ المحَال ِ أَنْ يُحْمَلَ الكلامُ عَلى خِلافِ الظاهِرِ المفهُوْمِ مِنْهُ، مِنْ غيْرِ أَنْ يُنْصَبَ دَلِيْلٌ عَلى ذلك.

ثمَّ إنهُ نهَانا عَمّا كانَ يَفعَلهُ أَهْلُ الكِتَابيْن ِ، مِنَ اتخاذِ القبوْرِ مَسَاجِد. وَأَكثرُ مَا اتخذُوْهُ مِنَ المسَاجدِ مقبَرَة ً جَدِيدَة ً، بَلْ لا يَكوْنُ إلا َّ كذَلِك.

ثمَّ هُمْ يَفرُشوْنَ في تِلك َ الأَرْض ِ مَفارِشَ تَحُوْلُ بيْنَهُمْ وَبيْنَ ترْبتهَا، فعلمَ أَنهُ صلى الله عليه وسلم نهانا عَنْ ذلك.

وَباِلجمْلةِ: فمَنْ جَعَلَ النَّهْيَ عَن ِ الصَّلاةِ في المقبَرَةِ لأَجْل ِ نَجَاسَةِ الموْتى فقط: فهُوَ بَعِيْدٌ عَنْ مَقصُوْدِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، كمَا تَقدَّم).

ثمَّ قالَ (2/ 480 - 481): (وَمِنْهُمْ: مَنْ لمْ يَكرَهْ ذلِك َ إلا َّ في القبْرِ خَاصَّة ً، لأَنَّ النَّهْيَ عَن ِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم إنمَا صَحَّ في الصَّلاةِ إلىَ القبوْرِ كمَا تقدَّم. وَلأَنهَا هِيَ التِي يُخافُ أَنْ تُتَّخذَ أَوْثانا، فالصَّلاة ُ إليْهَا شَبيْهَة ٌ باِلصَّلاةِ بَيْنَ يَدَيْ الصَّنَمِ، وَذلِك َ أَعْظمُ مِنَ الصَّلاةِ بَيْنَهَا.

وَلِهَذَا يَكرَهُوْنَ مِنَ الصَّلاةِ إلىَ القبْرِ، مَا لا يَكرَهُوْنهُ مِنَ الصَّلاةِ إلىَ المقبَرَة.

وَهَذِهِ حُجَّة ُ مَنْ رَأَى التَّحْرِيْمَ وَالإبطالَ، مُخْتَصًّا باِلصَّلاةِ إلىَ القبْرِ، وَإنْ كرِهَ الصَّلاة َ إلىَ تِلك َ الأَشْيَاءِ، وَهُوَ قوْلٌ قوِيٌّ جِدًّا، وَقدْ
অধিকন্তু, তিনি যদি কেবল উন্মুক্ত কবরের ইচ্ছা করতেন, তবে এর সাথে এমন কোনো সূত্র যুক্ত করা আবশ্যক ছিল যা তা নির্দেশ করে। অন্যথায়, উদ্দেশ্য যে কেবল এটিই—তার কোনো প্রমাণ নেই।

আর কোনো প্রমাণ স্থাপন না করে কোনো বক্তব্যকে তার স্পষ্ট ও বোধগম্য অর্থের বিপরীতে গ্রহণ করা অসম্ভব।

অতঃপর তিনি আমাদেরকে দুই কিতাবধারীদের (আহলে কিতাব) কার্যকলাপ থেকে নিষেধ করেছেন, যা ছিল কবরকে সিজদাগাহ বা মসজিদে পরিণত করা। তারা যেগুলোকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করত, তার অধিকাংশ ছিল নতুন গোরস্থান; বরং বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে।

তদুপরি তারা সেই জমিনে এমন বিছানা বিছাত যা তাদের ও কবরের মাটির মধ্যে আড়াল তৈরি করত। ফলে জানা গেল যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে তা থেকেও নিষেধ করেছেন।

মোদ্দাকথা: যে ব্যক্তি গোরস্থানে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞাকে কেবল মৃত ব্যক্তির অপবিত্রতার কারণে মনে করে, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী অবস্থানে রয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এরপর তিনি বলেন (২/ ৪৮০ - ৪৮১): (আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যারা কেবল কবরের বিষয়টিকেই বিশেষভাবে অপছন্দ করেন, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা কেবল কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের বিষয়েই সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কবরের মাধ্যমেই এই আশঙ্কা থাকে যে সেটিকে প্রতিমা বানিয়ে নেওয়া হবে। সুতরাং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা মূর্তির সামনে সালাত আদায়ের সদৃশ, এবং এটি কবরের মাঝে সালাত আদায়ের চেয়েও গুরুতর।

এই কারণেই তারা কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করাকে যতটা অপছন্দ করেন, গোরস্থানের দিকে মুখ করে সালাত আদায়কে ততটা করেন না।

আর এটিই তাদের দলিল যারা মনে করেন যে, হারাম হওয়া এবং সালাত বাতিল হওয়া বিষয়টি কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের সাথেই নির্দিষ্ট, যদিও তারা এই বিষয়গুলোর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করাকে অপছন্দ করেন। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মত, আর ইতিমধ্যে...