(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: -)
قلائد العقيان في محاسن الرؤساء والقضاة والكتاب والأدباء والأعيان   (الفتح بن خاقان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: قلائد العقيان في محاسن الرؤساء والقضاة والكتاب والأدباء والأعيان

المؤلف: أبو نصر الفتح بن خاقان

الناشر: المطبعة الأميرية - بولاق

عام النشر: 1284 هـ - 1866 م

عدد الصفحات: 304

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কালাইদ আল-উকইয়ান ফি মাহাসিন আল-রুয়াসা ওয়াল-কুযাত ওয়াল-কুত্তাব ওয়াল-উদাবা ওয়াল-আইয়ান   (আল-ফাতহ বিন খাকান)

বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ


বই: কালাইদ আল-উকইয়ান ফি মাহাসিন আল-রুয়াসা ওয়াল-কুযাত ওয়াল-কুত্তাব ওয়াল-উদাবা ওয়াল-আইয়ান

লেখক: আবু নাসর আল-ফাতহ বিন খাকান

প্রকাশক: আল-মাতবাআ আল-আমিরিয়্যাহ - বুলাক

প্রকাশকাল: ১২৮৪ হিজরী - ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪

[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للّه الذي راض لنا البيان حتّى انقاد في أعنّتنا. وشاد مثواه في أجنّتنا. وذلّل لنا من الفصاحة ما تصعّب فملكناه. وأوضح لنا من مشكلاتها ما تشعّب فسلكناه. فصار لنا الكلام عبدا يجيب إذا ناديناه. وسهما يصيب الغرض إذا رميناه. وصلّى اللّه على سيدنا محمّد الذي بعثه بشيرا ونذيرا وَداعِياً إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِراجاً مُنِيراً

 

(وبعد) فإنّ الأدب أجمل ما التحفته الهمّة. وعرفته هذه الأمّة. فإنّه مطلق اللّسان من عقال، ومنطق الإنسان بصواب المقال. وله من النثر والنظم نجمان، صارت القلوب لهما فلكا. والخواطر مسلكا. وما زالت صدور الملوك لهما محلا، ولبّاتهم بهما تتحلّى. ومجتمعاتهم ميدان مجالهما. ومكان رويتهما وارتجالهما. ترتشف فيها ثغورهما. ويقطف لديها نورهما. وكان النّدى يسقيهما فيثمران بالإبداع. ويسفران عن محاسن كالصّبح عند الانصداع. ثمّ تقلّص ذاك البرد الضّافي. وتكدّر ورد الأمل الصّافي. وزهد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য বর্ণনাকে এমনভাবে বশীভূত করেছেন যে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে অনুগত হয়েছে এবং আমাদের অন্তরে এর আবাসকে সুদৃঢ় করেছেন। তিনি আমাদের জন্য বাগ্মিতার সেই সব কঠিন বিষয়কে সহজ করে দিয়েছেন যা আমরা করায়ত্ত করেছি এবং এর জটিল ও শাখায়িত বিষয়গুলোকে আমাদের জন্য স্পষ্ট করেছেন যার পথে আমরা বিচরণ করেছি। ফলে বাক্য আমাদের দাসে পরিণত হয়েছে—আমরা ডাকলে সে সাড়া দেয় এবং তা এমন এক তীরের ন্যায় যা নিক্ষেপ করলে লক্ষ্যে আঘাত হানে। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যাকে তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন।

 

(অতঃপর) নিশ্চয় সাহিত্য হলো সর্বোত্তম ভূষণ যা উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিধান করেছে এবং এই উম্মত যা লাভ করেছে। কেননা এটি জিহ্বাকে জড়তা থেকে মুক্ত করে এবং মানুষকে সঠিক বাণীর মাধ্যমে বাকপটু করে তোলে। গদ্য ও পদ্যের মাঝে এমন দুটি নক্ষত্র রয়েছে, যার জন্য হৃদয়গুলো কক্ষপথ এবং চিন্তাগুলো বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে। রাজন্যবর্গের অন্তঃকরণ সর্বদা এ দুটির আবাসস্থল হয়ে আছে এবং তাঁদের হৃদয়সমূহ এ দুটির দ্বারা সুশোভিত হয়। তাঁদের মজলিসগুলো এ দুটির বিচরণক্ষেত্র এবং তাঁদের চিন্তা ও তাৎক্ষণিক রচনার স্থান। সেখানে এ দুটির সুধা পান করা হয় এবং তাদের জ্যোতি আহরণ করা হয়। বদান্যতা এ দুটিকে সিক্ত করত, ফলে তারা সৃজনশীলতার ফল দান করত এবং প্রভাতের উন্মেষের ন্যায় সৌন্দর্য প্রকাশ করত। অতঃপর সেই প্রশস্ত চাদর সংকুচিত হয়ে এল, নির্মল আশার প্রস্রবণ ঘোলাটে হয়ে গেল এবং বিমুখতা দেখা দিল...
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٣)
في اقتناء المعارف. وعريت الهمم من تلك المطارف. ورمت المحاسن أغراض المطالب فما أصابت. وهمت البدائع فلم توقع لها الرّغائب حين صابت. وكلّت الخواطر، وأقشعت سحائبها المواطر، فأصبح الأدب قد دجت مطالعه، وخوى طالعه.

(ولمّا) رأيت عنانه في يد الامتهان، وميدانه قد عطل من الرّهان، وبواتره قد صدئت في أغمادها، وشعله قد قذيت برمادها، تداركت منه الذّماء الباقي، وتلافيت له نفسا بلغت التّراقي، وانتخبت منه لمعا كالسّيوف المرهفة، والشّفوف المفوّفة قد ثقفت تثقيف القداح، وأبرزت كالنّاهد الرّداح. وانتقيت من توليده المخترع، وتجويده المبتدع، لمحا يهزّ لها الزّمان عطفه انتشاء، وتروق كالنّجوم طلعت عشاء، وضممتها إلى صوان يحفظها، وديوان يبديها للعيون فتلحظها، ليعلم أنّ بالأوان افتنانا، جرّت له العوائق بنانا وبيانا فأبقت منه أثرا لا عيانا، ورجالا لم يفصح لإبداعهم مجالا، فتلفّعت محاسنم بنقابها، وتوارت كالأراقم في أنقابها، فأظهرت ما خفي من فخارهم، ودلّلت على مراتبهم في المعارف وأقدارهم، واستثبتّ في انتقاء من أثبتّ، وانتخبت ما جلبت، وشنّفت ما صنّفت، حتّى أتى وكأنّ البدر في لبّته، ونسيم المسك من هبّته، تجنح إليه الأفكار جنوح الطّير إلى الأوكار، وتكلف به الخواطر كلف المعطس بالنّسيم العاطر. ولم يزل شخص الأدب وهو متوار وزنده غير وار، وجدّه عاثر، ومنهجه داثر. إلى أن أراد اللّه اعتلاء اسمه وإحياء رسمه، وإنارة أفقه، وإعادة رونقه، فبعث من الأمير الأجلّ أبي إسحاق إبراهيم بن يوسف بن تاشفين، ملكا عليّا، غدا للبّة المجد حليّا، وهمى على الأمّة وسميّا دوليّا، ألبس الدّنيا جمالا، جدّد لأهلها آمالا ناهيك به من ملك عالي، ناظم لأشتات المعالي. فأصبح الدّين منبسطا في نواحيه، مغتبطا بمناحيه، واليم فرقا من جوده، مفترقا في أغواره ونجوده، والبأس مزدهيا بمضائه، مكتفيا بانتضائه، والحزم مستبصرا بمنازعه، مقتصرا على أجازعه، يحمي الحقيقة، ويرمي إلى أغراض النّعمان بن الشقيقة، لو جاوره كليب ما طرق حماه، أو استجار به أحد من الدّهر لحماه، أو كان بحفر الهباءة، ما انتضى قيس سيفه، ولا قضى وطرا من خمل وحذيفة. أو كان بوادي الأخرم لطاف به ربيعة وأحرم، أو استنجده الكنديّ ما كسي الملاءة، أو كان حاضر
জ্ঞান আহরণে। এবং উচ্চাভিলাষসমূহ সেই সকল মূল্যবান পরিচ্ছদ হতে রিক্ত হয়েছে। সৌন্দর্যসমূহ অভীষ্ট লক্ষ্যপানে নিক্ষিপ্ত হয়েছে কিন্তু তা বিফল হয়েছে। উদ্ভাবনী শক্তিসমূহ সচেষ্ট হয়েছে কিন্তু পরিস্থিতির প্রতিকূলতায় সেগুলোর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। চিন্তাগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তার বারিবর্ষণকারী মেঘমালা অপসারিত হয়েছে। ফলে সাহিত্যের উদয়স্থলগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং এর সৌভাগ্য-নক্ষত্র অস্তমিত হয়েছে।

(যখন) আমি দেখলাম যে এর (সাহিত্যের) লাগাম অবমাননার হাতে এবং এর ময়দান প্রতিযোগিতার বাজি হতে শূন্য হয়ে পড়েছে। এর তীক্ষ্ণ কৃপাণসমূহ কোষবদ্ধ অবস্থায় মরিচা ধরেছে এবং এর অগ্নিশিখা ছাইচাপা পড়ে নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। তখন আমি এর অবশিষ্ট প্রাণটুকুর চিকিৎসা করলাম এবং এর সেই শেষ নিঃশ্বাসটির প্রতিকার করলাম যা কণ্ঠাগত হয়েছিল। আমি তা হতে ধারালো তলোয়ারের ন্যায় উজ্জ্বল এবং কারুকার্যখচিত সূক্ষ্ম বস্ত্রের ন্যায় কিছু অংশ চয়ন করলাম, যা তীরের ফলার ন্যায় সুতীক্ষ্ণ করা হয়েছে এবং পূর্ণবক্ষ তরুণীর ন্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। আমি এর নবসৃজিত উদ্ভাবন এবং অভিনব উৎকর্ষ হতে এমন কিছু ঝলক বেছে নিয়েছি, যার উল্লাসে সময় তার স্কন্ধ আন্দোলিত করে এবং যা সন্ধ্যার নক্ষত্ররাজির ন্যায় নেত্ররঞ্জন করে। আমি এগুলোকে একটি আধারে একত্রিত করেছি যা একে সংরক্ষণ করবে এবং এমন একটি সংকলনে নিবদ্ধ করেছি যা একে দৃষ্টির সম্মুখে উন্মোচিত করবে যেন তা অবলোকন করা যায়। যাতে জানা যায় যে, এই কালেও বৈচিত্র্য বিদ্যমান, যদিও নানাবিধ অন্তরায় তার হস্ত ও বর্ণনাকে সংকুচিত করেছে, ফলে তার বাস্তব অস্তিত্বের পরিবর্তে কেবল চিহ্নটুকু অবশিষ্ট ছিল। এমন কিছু ব্যক্তিত্ব ছিলেন যাদের উদ্ভাবনী প্রতিভার জন্য কোনো ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়নি, ফলে তাদের গুণাবলী অবগুণ্ঠনে আবৃত হয়ে পড়েছিল এবং গর্তে লুক্কায়িত সর্পের ন্যায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আমি তাদের গৌরবের যা কিছু প্রচ্ছন্ন ছিল তা প্রকাশ করেছি এবং জ্ঞান ও মর্যাদায় তাদের স্তর ও গুরুত্বের প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি তাদের নির্বাচনে আমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছি এবং যা সংগ্রহ করেছি তা সযত্নে চয়ন করেছি। আমি যা সংকলন করেছি তা সুশোভিত করেছি, এমনকি তা এমনভাবে ফুটে উঠেছে যেন পূর্ণিমা চাঁদ তার বক্ষস্থলে বিরাজমান এবং এর সুঘ্রাণ যেন মৃগনাভির মৃদুমন্দ সমীরণ। পক্ষীকুল যেমন নীড়ের দিকে ধাবিত হয়, চিন্তাগুলোও এর দিকে তদ্রূপ ঝুঁকে পড়ে এবং সুগন্ধি বাতাসের প্রতি নাসিকা যেমন ব্যাকুল হয়, মনগুলোও এর প্রতি তেমনই অনুরক্ত হয়। সাহিত্যের সত্তা দীর্ঘকাল যাবৎ লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল, এর অগ্নিপ্রস্তর অগ্নি উৎপাদনে অক্ষম ছিল, এর ভাগ্য ছিল বিপর্যস্ত এবং এর পথ ছিল বিলুপ্তপ্রায়। অবশেষে আল্লাহ যখন চাইলেন যে তাঁর নামের উচ্চতা ঘোষিত হোক, তাঁর রীতিনীতি পুনর্জীবিত হোক, এর দিগন্ত উদ্ভাসিত হোক এবং এর জৌলুস প্রত্যাবর্তন করুক, তখন তিনি মহান আমির আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে তাশফিনকে প্রেরণ করলেন। তিনি এক উচ্চমর্যাদাবান অধিপতি, যিনি মহিমার বক্ষস্থলের অলংকারস্বরূপ। তিনি উম্মতের ওপর বসন্তের মেঘের ন্যায় বর্ষিত হলেন, পৃথিবীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করলেন এবং এর অধিবাসীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করলেন। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সেই অধিপতির প্রশংসায় এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি বিক্ষিপ্ত শ্রেষ্ঠত্বসমূহকে সুসংবদ্ধকারী। ফলে ধর্ম তাঁর শাসনাধীনে চারদিকে বিস্তৃত হয়েছে এবং তাঁর কর্মপন্থার মাধ্যমে ঈর্ষণীয় হয়েছে। সিন্ধু নদ তাঁর দানশীলতার প্রভাবে ভীত হয়ে এর গভীরতা ও উচ্চতায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বীরত্ব তাঁর তলোয়ারের তীক্ষ্ণতায় গর্বিত এবং কেবল তা কোষমুক্ত করাতেই তুষ্ট। বিচক্ষণতা তাঁর লক্ষ্যসমূহের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এবং তাঁর স্থির সংকল্পে অবিচল। তিনি সত্যকে রক্ষা করেন এবং নুমান ইবনে শাকিকার ন্যায় লক্ষ্যপানে চালিত হন। কুলাইব যদি তাঁর প্রতিবেশী হতো, তবে তার সংরক্ষিত চারণভূমি কেউ আক্রমণ করত না। অথবা যদি কেউ মহাকালের অনিষ্ট হতে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, তবে তিনি তাকে সুরক্ষিত রাখতেন। অথবা তিনি যদি হাবায়াহ-র যুদ্ধের সময় উপস্থিত থাকতেন, তবে কায়সকে তাঁর তলোয়ার কোষমুক্ত করতে হতো না এবং সে খামাল ও হুযাইফার প্রতিশোধ গ্রহণের প্রয়োজন বোধ করত না। অথবা তিনি যদি আল-আখরামের উপত্যকায় থাকতেন তবে রাবিয়াহ তাঁকে প্রদক্ষিণ করত এবং ইহরাম বাঁধত। অথবা যদি কিন্দি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করত তবে তাকে আল-মুলাআহ নামক পরিচ্ছদ ধারণ করতে হতো না; অথবা যদি উপস্থিত থাকত...
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٤)
بسطام ما توسّد على الألاءة، تهابه النّفوس إذا رمقته أبصارها، وتلجأ إليه الرّياح إذا أرهقها إعصارها. لو دعا الأسد الورد لأجاب، أو أومأ إلى اللّيل البهيم لانجاب. ولو قعدت بين يديه الأطواد لتحرّك سكونها، أو عصته الطّير ما آوتها وكونها، مع عفاف كفّ حتّى عن الطّيف، وحكى المحرمين بالخيف، وندى خرق العوائد. وأورق عوده في يد الرائد. وسجايا تنجلّى بها الظّلماء، كأنّ مزاجها عسل وماء.

(ولمّا) أنارت به تلك الآفاق، وعاد به كساد الفضل إلى النّفاق، رأيت أن أخدم مجلسه العالي بزفّ الكتاب إليه، وأشرّف محاسنه بمثوله بين يديه. فوسمته باسمه، وكسوته نور وسمه، وجلبت العلق إلى مميّزه، وأجريت الجواد في ميدان محرزه، وأطلعت شمس النّبل في أفقها، وأتيت ببضاعة الفضل إلى منفّقها، واللّه وليّ التوفيق في ما قصدت، والكافي من الخطأ في الذي سردت، فعليه كان معوّلي وبه حسن تأوّلي لا إله إلّا هو، ربّ العرش العظيم.

 

‌‌القسم الأول في محاسن الرؤساء وأبناءهم ودرج أنموذجات من مستعذب أنبائهم

‌‌المعتمد على الله أبو القاسم محمد بن عباد

ملك قمع العدا وجمع الناس والندا وطلع على الدنيا بدر هدى لم يتعطل يوماً كفه ولا بنانه اونة يراعه واونة سنانه وكانت أيامه مواسم وثغور برة بواسم ولياليه كلها دررا وللزمان أحجالاً وغررا لم يغفلها من سمات عوارف ولم يضحها من ظل إيناس وارف ولا عطلها من ماثرة بقي أثرها باديا ولقي معتفيه منها إلى الفضل هاديا وكانت حضرته مطمحاً للهمم ومسرحاً لآمال الأمم وموقفاً لكل كمي ومقذفاً لذي انف حمي لم تخل من وفد ولم يصح جوها من انسجام رفد فاجتمع تحت لوآيه من جماهير الكماة ومشاهير الحماة أعداد يغص بهم الفضا وأنجاد يزهى بهم النفوذ والمضا وطلع في سمائه كل نجم متقد وكل ذي فهم منتقد فأصبحت حضرته ميداناً لرهان الأذهان وغاية لرمي هدف البيان ومضماراً لإحراز خصل في كل معنى وفصل فلم يرتسم في زمامه إلا بطل نجد ولم يتسق في نظامه إلا ذكاء ومجد فأصبح عصره أجمل عصر وغدا مصره أكل مصر تسفح فيه ديم الكريم ويفصح فيه لساناً سيف وقلم ويفضح
বিস্তাম এমন এক ব্যক্তি যে কণ্টকময় বিছানায় হেলান দেয়নি, মানুষের অন্তরসমূহ তাকে ভয় পায় যখন তাদের দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ হয়, এবং প্রবল ঘূর্ণিবায়ু তাকে ক্লান্ত করলে বাতাস তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। যদি সে লাল সিংহকে আহ্বান করত তবে সে সাড়া দিত, অথবা যদি সে ঘোর অন্ধকারের দিকে ইশারা করত তবে তা বিদূরিত হতো। যদি তার সামনে অটল পাহাড়গুলো বসে থাকত তবে তাদের স্থিরতা চঞ্চল হয়ে উঠত, আর যদি পাখিরা তার অবাধ্য হতো তবে তাদের বাসাগুলো তাদের আশ্রয় দিত না। সাথে রয়েছে হাতের পবিত্রতা, এমনকি কল্পনার ক্ষেত্রেও, আর তিনি খায়েফ নামক স্থানে ইহরামকারীদের ন্যায় পবিত্র এবং অলৌকিক দানশীলতায় অভ্যস্ত। তার কাঠ বা সম্পদ অনুসন্ধানকারীর হাতে পত্রপল্লবে সুশোভিত হয়। এমন কিছু চারিত্রিক গুণাবলী যার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত হয়, যেন তার মেজাজ মধু ও পানির মিশ্রণ।

(আর যখন) তার মাধ্যমে সেই দিগন্তসমূহ আলোকিত হলো এবং তার কারণে গুণের মন্দা অবস্থা কাটতি ও জনপ্রিয়তায় ফিরে এল, তখন আমি স্থির করলাম যে এই গ্রন্থটি তার নিকট নিবেদন করে তার উচ্চ মজলিসের খিদমত করব এবং তার সামনে এটি উপস্থিত করার মাধ্যমে এর সৌন্দর্যকে সম্মানিত করব। তাই আমি তার নামেই একে চিহ্নিত করলাম, তার নূরের পোশাকে একে সজ্জিত করলাম, এর সমঝদারের কাছে মূল্যবান সম্পদ নিয়ে আসলাম, বিজয়ীর ময়দানে দ্রুতগামী ঘোড়া ছুটিয়ে দিলাম, তার দিগন্তে শ্রেষ্ঠত্বের সূর্য উদিত করলাম এবং সমঝদারের কাছে গুণের পণ্য নিয়ে আসলাম। আমি যা উদ্দেশ্য করেছি তাতে আল্লাহই তাওফীক দাতা, আর আমি যা বর্ণনা করেছি তাতে ভুলের ক্ষেত্রে তিনিই যথেষ্ট; তাঁর উপরেই আমার ভরসা এবং তাঁর মাধ্যমেই আমার সুপরিণাম, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের রব।

 

‌‌প্রথম অংশ: নেতৃবৃন্দের গুণাবলী ও তাদের সন্তানদের বর্ণনায় এবং তাদের সুমিষ্ট সংবাদসমূহের কিছু নমুনা উপস্থাপনে

‌‌আল্লাহর ওপর ভরসাকারী আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ

তিনি এমন এক রাজা যিনি শত্রুদের দমন করেছেন এবং মানুষ ও দানশীলতাকে একত্রিত করেছেন, হেদায়েতের পূর্ণিমা হয়ে দুনিয়ায় উদিত হয়েছেন। একদিনের জন্যও তার হাত অথবা তার আঙ্গুলগুলো অবসর থাকেনি—কখনো কলম নিয়ে, আবার কখনো বর্শা নিয়ে। তার দিনগুলো ছিল উৎসবের মতো এবং সুদৃঢ় সীমান্তের হাসির মতো, আর তার রাতগুলো ছিল সম্পূর্ণ মুক্তাসদৃশ এবং সময়ের ললাটের শুভ্র চিহ্নের মতো। পরিচিত নিদর্শনের চিহ্নসমূহ থেকে তিনি তাকে গাফেল রাখেননি এবং গভীর মমতাময় ছায়া থেকে তাকে বঞ্চিত করেননি। তিনি একে এমন কোনো কীর্তি থেকে খালি রাখেননি যার প্রভাব দৃশ্যমান থাকে এবং এর থেকে সাহায্যপ্রার্থীরা গুণের দিকে পথপ্রদর্শক খুঁজে পায়। তার দরবার ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যস্থল, জাতিসমূহের আশার চারণভূমি, প্রত্যেক বীরের অবস্থানস্থল এবং আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তির আশ্রয়স্থল। কোনো কাফেলা সেখান থেকে বাদ পড়ত না এবং এর আকাশ অনুদানের বর্ষণ থেকে মুক্ত হতো না। ফলে তার পতাকাতলে অসংখ্য বীর ও সুপ্রসিদ্ধ রক্ষীবাহিনীর এমন এক বিশাল সংখ্যা সমবেত হয়েছিল যাদের ভিড়ে বিশাল প্রান্তর সংকীর্ণ হয়ে যেত এবং যাদের প্রভাব ও বীরত্বে শ্রেষ্ঠত্ব গর্বিত হতো। তার আকাশে প্রতিটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং প্রতিটি সূক্ষ্ম বুঝসম্পন্ন ব্যক্তি উদিত হয়েছিল। ফলে তার দরবার মেধার প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়েছিল, অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনার লক্ষ্যস্থল এবং প্রতিটি অর্থ ও পরিচ্ছেদে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চারণভূমিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। তার শাসনে কোনো বীর যোদ্ধা ব্যতীত কেউ স্থান পায়নি এবং তার শৃঙ্খলায় প্রজ্ঞা ও মহিমা ব্যতীত কিছু সুসংবদ্ধ হয়নি। ফলে তার যুগ পরিণত হলো শ্রেষ্ঠতম যুগে এবং তার শহর হলো সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর, যেখানে দাতার করুণাধারা বর্ষিত হয় এবং যেখানে তলোয়ার ও কলম স্পষ্টভাবে কথা বলে এবং অন্যকে লজ্জিত করে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٥)
الرضى في وصفه ايام ذي سلم وكان قومه وبنوه لتلك الحلبة زيناً ولتلك الجملة عيناً عن ركبوا خلت الأرض فلكاً بجمل نجوماً وإن وهبوا رأيت الغمام سجوماً وإن أقدموا أحجم عنترة العبسي وإن فخروا أقصر عرابة الأوسي ثم انحرفت الأيام فالوت بإشراقه وأذوت يانع ايراقه فلم يدفع الرمح ولا الحسام ولم تنفع تلك المنن الجسام فتملك بعد الملك وحط من فلكه إلى الفلك فأصبح خايضاً تحدوه الرياح وناهضاً يزجيه البكا والنياح، وقد ضجت عليه أياديه، وارتجت لاجوانب ناديه، وأضحت منازله قد بان عنها الأنس والحبور، وألوت بهجتها الصبا والدبور، فبكت العيون عليه دما، وعاد موجود الحيوة عدما، وصار أحرار الدهر فيه خدما، فسحقاًُ لدنيا ما رعت حقوقه، ولا أبقت شروقه، فكم أحياها لبنيها، وأبداها رائقة لمجتليها، وهي الأيام لا تقي من تجنيها، ولا تبقي على مواليها، أدثرت آثار جلق، وأخمدت نار المحلق، وذللت عزة عاد بن شداد، وهدت القصر ذا الشرفات من سنداد، ونعت ببوس النعمان، وأكمنت غدرها له في طلب الأمان، وقد أثبت من نظمه العذب الجنى، الرائق السنا، الفائق اللفظ والمعنى، ما يمتزج بالنفوس والقلوب، ويتارج به مسرى الصبا والجنوب، وذكرت أثناءه من مآثره المخترعة ومفاخره، ومشاهده المستبدعة ومحاضره، ما يهون الدنيا وزخرفها، ويلين تقلبها وتصرفها، أخبرني ذو الوزارتين أبو بكر بن القصيرة أنه كان بغرفة القصر المكرم مقيماً لرسوم المعتمد وحدوده، منشأ لمخاطباته وعهوده، في اليوم الذي خرج فيه ابن عمار إلى شلب معه مفتقداً لأعمالها، مسدداً أغراض عمالها، إذ طلع إليه الوزير الأجل أبو بكر بن زيدون منشرح المحيا، متضح العليا، يتهلل بشرا، ويتخيل أنه المسك نشرا، وقال لما خرج ابن عمار إلى شلب ثار للمتعمد هيامه القديم وكلفه، وتجدد له معلقه بها ومالفه، فإنه عمرها في ظل صباه، وفرع بها هضاب السرور ورباه، وبرد عمر قشيب، وشبابه غض لم يرعه مشيب، ايام ولاه المعتضد بالله أمرها، وأدارت عليه الغرارة خمرها، فقال مرتجلاً، وابن عمار بالانحفاز له: "طويل"

 

ألا حيّ أوطاني بشلب أبا بكرِ … وسلهنَّ هل عهد الوصال كما أدري

وسلّم على قصر الشراجيب عن فتىً … له أبداً شوق إلى ذلك القصرِ
ধী-সালামের দিনগুলোতে তাঁর বর্ণনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর কওম ও সন্তানরা ছিল সেই প্রতিযোগিতার ময়দানের অলঙ্কার এবং সেই জনসমষ্টির মধ্যমণি। যখন তারা সওয়ার হতো, মনে হতো যেন যমীন একটি মহাকাশ আর তাদের উটগুলো তাতে নক্ষত্ররাজী। যদি তারা দান করত, তবে আপনি মেঘমালাকে অঝোর ধারায় বর্ষণ করতে দেখতেন। যদি তারা অগ্রসর হতো, তবে আনতারা আল-আবসিও পিছপা হতো। আর যদি তারা গর্ব করত, তবে উরাবাহ আল-আউসিও হার মানত। অতঃপর সময়ের চাকা ঘুরে গেল এবং তার উজ্জ্বলতাকে ম্লান করে দিল, তার সজীব পত্রপল্লবকে শুষ্ক করে দিল। বল্লম কিংবা তলোয়ার কিছুই তা প্রতিহত করতে পারল না এবং সেই বিশাল অনুগ্রহগুলোও কোনো কাজে এল না। ফলে রাজত্বের পর তিনি পরাধীন হলেন এবং নিজ উচ্চাসন থেকে ভাগ্যের পরিহাসে পতিত হলেন। তিনি এমন এক পথিকে পরিণত হলেন যাকে বায়ুতাড়িত করে এবং এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হলেন যাকে রোদন ও বিলাপ চালিত করে। তাঁর অতীত অনুগ্রহগুলো তাঁর বিয়োগে আর্তনাদ করে উঠল এবং তাঁর সভার চারপাশ প্রকম্পিত হলো। তাঁর আবাসস্থলগুলো থেকে আনন্দ ও উল্লাস বিদায় নিল এবং পুবালী ও পশ্চিমা বাতাস তার শ্রী কেড়ে নিল। চোখগুলো তাঁর জন্য রক্তাশ্রু বিসর্জন দিল, জীবনের অস্তিত্ব অনস্তিত্বে পরিণত হলো এবং কালের স্বাধীন ব্যক্তিরা তাঁর সেবকে পরিণত হলো। ধিক এই দুনিয়াকে, যা তাঁর অধিকার রক্ষা করেনি এবং তাঁর দীপ্তিকে অবশিষ্ট রাখেনি। তিনি এই দুনিয়ার সন্তানদের জন্য একে কতবারই না উজ্জীবিত করেছিলেন এবং দর্শকদের কাছে একে মনোরম করে তুলেছিলেন। কিন্তু এই দিনগুলো এমন যে, তা কারও অপরাধ থেকে রক্ষা করে না এবং আপনজনদের প্রতিও দয়া দেখায় না। এটি জিল্লাকের স্মৃতিচিহ্ন বিলীন করেছে, মুয়াল্লিকের আগুন নির্বাপিত করেছে, আদ ইবনে শাদ্দাদের গৌরবকে লাঞ্ছিত করেছে এবং সিন্দাদের সুউচ্চ প্রাসাদ ধূলিসাৎ করেছে। এটি নু'মানের দুর্দশার সংবাদ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা চাওয়ার ছলে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা লুকিয়ে রেখেছে। আমি তাঁর সুমিষ্ট ছন্দোবদ্ধ কবিতা, উজ্জ্বল আভা এবং উৎকৃষ্ট শব্দ ও অর্থ থেকে এমন কিছু অংশ এখানে সংকলিত করেছি যা আত্মা ও হৃদয়ের সাথে মিশে যায় এবং যার সুবাসে পুবালী ও দক্ষিণা বাতাসের পথ আমোদিত হয়। আমি এর মাঝে তাঁর উদ্ভাবিত কীর্তিগাথা, গৌরবগাঁথা এবং অপূর্ব ঘটনাবলী উল্লেখ করেছি, যা দুনিয়া ও এর চাকচিক্যকে তুচ্ছ করে দেয় এবং এর পরিবর্তন ও বিবর্তনকে সহনীয় করে তোলে। আমাকে 'জু-উয়াজরাতাইন' (দুই মন্ত্রণালয়ের অধিকারী) আবু বকর ইবনুল কাসীরাহ জানিয়েছেন যে, তিনি আল-মু'তামিদের রাজকীয় রীতি ও সীমানা রক্ষার জন্য প্রাসাদ কক্ষে অবস্থান করছিলেন, যখন তিনি তাঁর পত্রাবলী ও চুক্তিপত্রগুলো লিখছিলেন। সেই দিন ইবনে আম্মার শিল্‌ব-এর কার্যাদি তদারকি এবং কর্মচারীদের লক্ষ্যস্থির করার জন্য সেখানে যাত্রা করেছিলেন। তখন মহান উজির আবু বকর ইবনে যাইদুন অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে এবং উচ্চ মর্যাদার সাথে সেখানে উপস্থিত হলেন, তাঁর চেহারায় আনন্দের আভা খেলা করছিল এবং তাঁর উপস্থিতিতে যেন কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি বললেন, যখন ইবনে আম্মার শিল্‌ব-এর উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন আল-মু'তামিদের মনে সেই পুরনো প্রেম ও ব্যাকুলতা জেগে উঠল এবং সেখানকার প্রতি তাঁর টান ও অনুরাগ নবায়িত হলো। কেননা তিনি তাঁর যৌবনের ছায়ায় সেখানে জীবন কাটিয়েছিলেন এবং সেখানে আনন্দ ও সুখের শিখরে আরোহণ করেছিলেন; তখন তাঁর জীবন ছিল শুভ্র এবং যৌবন ছিল সতেজ, বার্ধক্য তাকে স্পর্শ করেনি। সেই দিনগুলোতে মু'তাদিদ বিল্লাহ তাঁকে সেখানকার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন এবং প্রমত্ত আনন্দ তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করলেন, যখন ইবনে আম্মার তাঁর যাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিলেন: "তবিল ছন্দ"

 

হে আবু বকর, শিল্‌ব-এ আমার স্বদেশভূমিকে অভিবাদন জানাও... এবং তাদের জিজ্ঞাসা করো— মিলনের সেই প্রতিশ্রুতি কি এখনো অটুট আছে যেমনটা আমি জানি?

আর সেই শরাজিব প্রাসাদকে সেই যুবকের পক্ষ থেকে সালাম জানাও... যার হৃদয়ে সেই প্রাসাদের জন্য চিরন্তন তৃষ্ণা বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٦)
منازل آسادٍ وبيض نواعم … فناهيك عن غيلٍ وناهيك من حذرِ

وكم ليلةٍ قد بتّ أنعم جنحها … بمخصبة الأرداف مجذبة الخصرِ

وبيض وسمر فاعلات بمهجتي … فعال الصفاح البيض والاسل المسرِ

وليل بسدّ النهر لهواً قطعته … بذات سوار مثل منعطف البدرِ

نصت بردها عن غصن بانٍ منَّعم … نصيركما انشقَّ الكمام عن الزهرِ

وأخبرني ذخر الدولة ابن المعتضد أنه دخل عليه في ليلة قد ثنى السرور منامها، وامتطى الحبور غاربها وسنامها، وراع الأنس فوادها، وستر بياض الأماني سوادها، وغازل نسيم الروض زوارها وعوادها، ونور السرج قد قلص أذيالها، ومحا من لجين الأرض نبالها، والمجلس مكتس بالمعالي، وصوت المثاني والمثالث عال، والبدر قد كمل، والتحف بضوءه القصر واشتمل، وتزين بسناه وتجمل، فقال: "كامل"

ولقد شربت الراح يسطع نورها … والليل قد مدَّ الظلام رداءَ

حتَّى تبدى البدر في جوزائه … ملكاً تناهى بهجة وبهاءَ

لمّا أراد تنزّها في غربه … جعل المظلّة فوقه الجوزاءَ

وتناهضت زهر النجوم يحفّه … لألآؤها فاستكمل الآلآءَ

وترى الكواكب كالمواكب حوله … رفعت ثريَّاها عليه لواءَ

وحكيته في الأرض بين مواكبٍ … وكواعبٍ جمعت سنا وسناءَ

إن نشرت تلك الدروع حنادساً … ملأت لنا هذي الكؤس ضياءَ

وإذا تغنّت هذه في مزهر … لم تال تلك على التريك غناءَ

وأخبرني أبو بكر بن عيسى الداني المعروف بابن اللبانة أنه استدعاه ليلة إلى مجلس قد كساه الروض وشيه، وامتثل الدهر أمره فيه ونهيه، فسقاه الساقي وحياه، وسفر له الأنس عن مؤنق محياه، فقام للمعتمد مادحاً، وعلى دوحة تلك النعماء صادحاً، فاستجاد قوله، وأفاض عليه طوله، فصدر وقد امتلأت يداه، وغمره جوده ونداه، فلما حل بمنزلة وافاه رسوله بقطيع وكاس من بلار، وقد اترع بصرف العقار، ومعهما: "كامل"

 

جاءتك ليلاً في ثياب نهارِ … من نورها وغلالةِ البلَاّرِ

كالمشتري قد لقَّ من مرّيخه … غذ لفَّه في الماءِ جذوة نارِ

 

لطف الجمود لذا وذا فتألفا … لم يلقَ ضدَّ ضدَّه بنفارِ

يتحيَّر الراءون في نعتيهما … أصفاء ماءٍ أم صفاء دراري

وأخبرني ابن إقبال الدولة ابن مجاهد أنه كان عنده في يوم قد نشر من غيمه رداء ند، واسكب من قطرة ماء ورد، وأبدى من برقة لسان نار، وأظهر من قوس قزحه حنايا آس حفت بنرجس وجلنار، والروض قد نفث رياه، وبث الشكر لسقياه، فكتب إلى الطبيب أبي محمد المصري: "خفيف"

 

أيّها الصاحب الذي فارقت عي … ني ونفسي منه السنا والسناءَ

نحن في المجلس الذي يهب الرا … حة والسمع والغنا والغناءَ

نتعاطى التي تسمَّى من الل? … ?ذة والرقّة الهوى والهواءَ

فأته تلفَ راحة ومحيا … قدّ أعدّا لك الحيا والحياءَ

فوافاه والفى مجلسه قد اتعلت أباريقه أجيادها، وأقامت به خيل السرور طرادها، وأعطته الأماني انطباعها وانقيادها، وأهدت الدنيا ليومه مواسمها وأعيادها، وخلعت عليه الشمس شعاعها، ونشرت فيه الحدائق إيناعها، فأديرت الراح، وتعوطيت الأقداح، وخامر النفوس الابتهاج والارتياح، وأظهر المتعهد في إيناسه، ما استرق به نفوس جلاسه، ثم دعا بكبير، فشربه كالشمس غربت في ثبير، وعندما تناولها قام المصري ينشد أبياتاً تمثلها: "بسيط"

 

أشرب هنيئاً عليك التاج مرتفعاً … بشاذ مهر ودع غمدان لليمنِ

فأنت اولى بتاج الملك تلبسه … من هوذة بن عليّ وابن ذي يزنِ

فطرب حتى زحف من مجلسه، وأسرف في تأنسه، وأمر فخلعت عليه ثياب لا تصلح إلا للخلفاء، وأدناه حتى أجلسه مجلس الأكفاء، وأمر له بدنانير عدداً، وملأ بالمواهب منه يدا، وكان مجلس ذي الوزارتين أبي الوليد بن زيدون منحطاً عنة مجلسه في القعود لإنفاذ أوامر أبيه المعتضد فكتب إلا للخلفاء، وأدناه حتى أجلسه مجلس الأكفاء، وأمر له بدنانير عدداً، وملأ بالمواهب منه يدا، وكان مجلس ذي الوزارتين أبي الوليد بن زيدون منحطاً عنة مجلسه في القعود لإنفاذ أوامر أبيه المعتضد فكتب إليه: "رمل"

 

أيّها المنحطّ عنّي مجلساً … وله في النفس أعلا مجلسِ

بفؤادي لك حبَّ يقتضي … أن ترى تحمل فوق الأرؤسِ

فكتب إليه ابن زيدون مراجعاً: "رمل"

 

أسقيط الطلّ فوق النرجس … ام نسيم الروض تحت الحندسِ

أم قريض جاءني من ملكٍ … مالك بالبرّرقَّ الأنفسِ
সিংহদের আবাস এবং কোমল শুভ্রতনু ললনাদের বিচরণস্থল … অরণ্যের ভয়াবহতা আর সতর্কতার কথা না বলাই ভালো।

কত রাত আমি পরমানন্দে অতিবাহিত করেছি … স্থূল নিতম্বিনী ও ক্ষীণ কটিদেশী ললনার সান্নিধ্যে।

শুভ্র ও শ্যামবর্ণা ললনারা আমার হৃদয়ে তেমন ক্রিয়া করে … যেমন ধারালো সাদা তলোয়ার এবং ক্ষিপ্র বর্শা ক্রিয়া করে।

নদীর বাঁধের পাশে আমোদ-প্রমোদে আমি এক রাত কাটিয়েছি … পূর্ণিমার বাঁকা চাঁদের মতো কঙ্কণ পরিহিতা এক রূপসীর সাথে।

সে তার ওড়না সরিয়ে নিল সুঠাম এক ললনা থেকে … যেমন করে ফুলের কুঁড়ি থেকে ফুল প্রস্ফুটিত হয়।

যুখরুদ দাওলা ইবনুল মুতাদিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একবার তাঁর (মুতামিদের) নিকট এমন এক রাতে প্রবেশ করলেন যখন আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিদ্রাকে বিদায় দিয়েছে, এবং সুখ তার শিখরে আরোহণ করেছে। প্রাণের মাঝে তখন উল্লাস বিরাজমান, আর সাদা সাদা স্বপ্নগুলো অন্ধকারের কালোকে ঢেকে দিয়েছে। বাগানের মৃদুমন্দ বাতাস দর্শনার্থী ও অভ্যাগতদের সাথে প্রেমের আলাপ করছিল। প্রদীপের আলো অন্ধকারের প্রান্তগুলোকে সংকুচিত করে দিয়েছে এবং পৃথিবীর রুপালি আভা থেকে কালিমা মুছে দিয়েছে। মজলিসটি শ্রেষ্ঠত্বের পোশাকে আবৃত ছিল, বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ ও নিম্ন সুরের তারসমূহ ছিল উচ্চগ্রামের। চাঁদ তখন পূর্ণতা পেয়েছে এবং প্রাসাদটি চাঁদের আলোয় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে, আর তার জ্যোতিতে সুসজ্জিত ও সুন্দর হয়ে উঠেছে। তখন তিনি বললেন: "কামিল ছন্দ"

আমি সুরা পান করেছি যার দীপ্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছিল … যখন রাত অন্ধকারের চাদর বিছিয়ে দিয়েছিল।

যতক্ষণ না পূর্ণিমা তার জাওজা (মিথুন) রাশিতে উদিত হলো … এক রাজকীয় মহিমায় যা লাবণ্য ও সৌন্দর্যের শিখরে পৌঁছেছে।

যখন সে পশ্চিমে ভ্রমণের ইচ্ছা করল … তখন জাওজা রাশিকে নিজের মাথার উপর চন্দ্রাতপ বানিয়ে নিল।

উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজী তাকে ঘিরে উঠতে লাগল … তাদের দীপ্তিতে তার পূর্ণতা অর্জিত হলো।

নক্ষত্রগুলোকে তার চারপাশে শোভাযাত্রার মতো মনে হচ্ছিল … যেন সুরাইয়া (কৃত্তিকা) নক্ষত্রপুঞ্জ তার ওপর পতাকা উত্তোলন করেছে।

আমি পৃথিবীতে সেই দৃশ্যের অনুকরণ করেছি বিভিন্ন শোভাযাত্রার মাঝে … এবং সুন্দরী ললনাদের মাঝে যারা লাবণ্য ও মহিমার আধার।

যদি সেই বর্মগুলো অন্ধকারের জাল বিস্তার করে … তবে এই পেয়ালাগুলো আমাদের জন্য আলোয় ভরে দেয়।

যখন এই ললনারা বাদ্যযন্ত্রের তালে গান গায় … তখন তারা সেই তলোয়ারের ঝনঝনানির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

আবু বকর ইবনে ঈসা আদ-দানি, যিনি ইবনে আল-লাব্বানা নামে পরিচিত, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, মুতামিদ তাকে এক রাতে এমন এক মজলিসে আহ্বান করেছিলেন যা উদ্যান তার কারুকার্য দ্বারা সুশোভিত করেছিল এবং কালচক্র সেখানে তাঁর আদেশ-নিষেধের অনুগত ছিল। সাকি (পরিবেশনকারী) তাকে পান করালেন এবং সম্ভাষণ জানালেন, আর অন্তরঙ্গতা তার মনোলোভা রূপ প্রকাশ করল। তখন তিনি মুতামিদের প্রশংসায় দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সেই নেয়ামতের বৃক্ষে সুমধুর কণ্ঠে গাইতে লাগলেন। মুতামিদ তার কাব্য পছন্দ করলেন এবং তার ওপর অঢেল অনুগ্রহ বর্ষণ করলেন। তিনি যখন ফিরে আসলেন তখন তাঁর দুই হাত পূর্ণ ছিল এবং মুতামিদের দান ও ঔদার্য তাকে সিক্ত করেছিল। তিনি যখন নিজ বাসস্থানে পৌঁছালেন, তখন মুতামিদের দূত একটি টুকরো (উপহার) এবং স্ফটিকের একটি পেয়ালা নিয়ে উপস্থিত হলো, যা খাঁটি সুরায় পূর্ণ ছিল। আর তার সাথে ছিল এই কবিতা: "কামিল ছন্দ"

 

এটি রাতের বেলা দিনের পোশাকে তোমার কাছে এসেছে … তার নিজের আলো এবং স্ফটিকের আবরণের ঔজ্জ্বল্য নিয়ে।

যেন তা বৃহস্পতি গ্রহ যা মঙ্গল গ্রহ থেকে নির্গত হয়েছে … যখন আগুনের শিখাকে পানির মাঝে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এই দুই কঠিন বস্তুর নম্রতা একীভূত হয়েছে … ফলে কোনো বিপরীত বস্তু তার বিপরীতের সাথে বিমুখতা দেখায়নি।

দর্শকরা এদের গুণাগুণ বর্ণনায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে … এটি কি পানির শুভ্রতা নাকি উজ্জ্বল নক্ষত্রের স্বচ্ছতা?

ইবনে ইকবাল আদ-দাওলা ইবনে মুজাহিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর নিকট এমন একদিনে উপস্থিত ছিলেন যখন মেঘ তার সুগন্ধি চাদর বিছিয়ে দিয়েছে এবং গোলাপ জলের ফোঁটার মতো বৃষ্টি বর্ষণ করছে। বিজলি যেন আগুনের জিহ্বা প্রকাশ করছে এবং রংধনু যেন নরগিস ও ডালিম ফুলের চারপাশ ঘিরে থাকা এক ধনুক। উদ্যান তার সুগন্ধি ছড়াচ্ছিল এবং সেচের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিল। তখন তিনি চিকিৎসক আবু মুহাম্মদ আল-মিসরির নিকট লিখলেন: "খাফিফ ছন্দ"

 

হে সেই সাথী, যার থেকে আমার চক্ষু ও প্রাণ … তার দ্যুতি ও মহিমা হারিয়েছে।

আমরা এমন এক মজলিসে আছি যা প্রশান্তি দান করে … এবং শ্রবণশক্তি ও সুমধুর সংগীত বিলিয়ে দেয়।

আমরা তা গ্রহণ করছি যা স্বাদ ও সুক্ষ্মতায় … প্রেম ও বায়ুর মতো বহমান।

সুতরাং আপনি আসুন, এখানে এমন এক স্বস্তি ও চেহারা পাবেন … যা আপনার জন্য দান ও লজ্জা প্রস্তুত করে রেখেছে।

অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁর মজলিসকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, সুরার পাত্রগুলো তাদের গ্রীবা উন্নত করে আছে, আনন্দের ঘোড়াগুলো সেখানে বিচরণ করছে, আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো সেখানে বশীভূত হয়েছে এবং দুনিয়া তার সকল উৎসব ও ঈদ সেই দিনের জন্য উপহার পাঠিয়েছে। সূর্য তার রশ্মি সেখানে ঢেলে দিয়েছে এবং বাগানগুলো তাদের ফল সম্ভার অবারিত করেছে। অতঃপর সুরা পরিবেশিত হলো, পেয়ালা আদান-প্রদান হতে লাগল এবং প্রাণগুলোতে উল্লাস ও স্বস্তি হিল্লোল তুলল। মুতামিদ তাঁর আতিথেয়তায় এমন রূপ প্রকাশ করলেন যা তাঁর মজলিসে উপবিষ্টদের হৃদয় জয় করে নিল। অতঃপর তিনি একটি বড় পেয়ালা চাইলেন এবং তা পান করলেন, যেন থাবীর পাহাড়ের আড়ালে সূর্য অস্ত গেল। যখন তিনি তা গ্রহণ করলেন, তখন মিসরি দাঁড়িয়ে এই পঙক্তিগুলো পাঠ করলেন: "বাসিত ছন্দ"

 

সুখে পান করুন, আপনার মস্তকে মুকুট সমুন্নত রয়েছে … শাজমেহরের প্রাসাদে, আর ইয়েমেনের গামদানকে বর্জন করুন।

রাজমুকুট পরিধানের জন্য আপনিই অধিক যোগ্য … হাওযা ইবনে আলী এবং ইবনে যি-ইয়াযান অপেক্ষা।

তিনি এতোই আনন্দিত হলেন যে নিজের আসন থেকে এগিয়ে এলেন এবং অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহার করলেন। তিনি আদেশ দিলেন এবং তাকে এমন পোশাক পরানো হলো যা কেবল খলিফাদের জন্যই শোভনীয়। তিনি তাকে নিজের কাছে টেনে নিলেন এবং সমমর্যাদাবানদের আসনে বসালেন। তাঁর জন্য অনেক স্বর্ণমুদ্রার আদেশ দিলেন এবং তাঁর হাত দান-দক্ষিণায় পূর্ণ করে দিলেন। যুল-ওয়াযারাতাইন আবু ওয়ালিদ ইবনে যায়দুন-এর আসন তাঁর পিতা মুতাদিদের আদেশ পালনের খাতিরে নিচে ছিল, কিন্তু খলিফাদের পোশাক তাকে পরানো হলো এবং সমমর্যাদাবানদের আসনে বসানো হলো। তাঁর জন্য অনেক স্বর্ণমুদ্রার আদেশ দিলেন এবং দান-দক্ষিণায় তাঁর হাত পূর্ণ করে দিলেন। যুল-ওয়াযারাতাইন আবু ওয়ালিদ ইবনে যায়দুনের আসনটি বসার ক্ষেত্রে তাঁর নিচেই ছিল। তখন তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: "রামাল ছন্দ"

 

হে তুমি, যে অবস্থানে আমার থেকে নিচে … কিন্তু অন্তরে যার স্থান সর্বোচ্চ।

তোমার প্রতি আমার হৃদয়ে এমন ভালোবাসা আছে … যা দাবি করে যে তোমাকে মানুষের মাথার ওপর বহন করা হোক।

ইবনে যায়দুন উত্তরে লিখলেন: "রামাল ছন্দ"

 

নর্গিস ফুলের উপর কি শিশির কণা ঝরছে … নাকি অন্ধকারের নিচে বাগানের মৃদু সমীরণ বইছে?

নাকি এমন এক রাজার পক্ষ থেকে আমার কাছে কবিতা এসেছে … যিনি নিজের মহত্ত্ব দ্বারা মানুষের প্রাণ জয় করে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٨)
يا جمال الموكب الغادي إذا … سار فيه يا بهاء المجلسِ

شرفت بكر المعالي خطبه … بك فأنعم بسرور المعرسِ

وارتشف معسول ثغرٍ أشنبٍ … تجتنيه من مجاجِ العسِ

واغتبق بالسعد في دست المنى … يصبح الصنع دهاق الأكوسِ

فاعتراض الدهر في ماشيته … مرتقى في صدره لم يهجسِ

وله في ظلام رأه يوم العروبة من ثنيات الوغا طالعاً، ولطلا الأبطال قارعا، وفي الدماء والغا، ولمستشبع كؤس المنايا سائغاً، وهو ظبي قد فارق كناسه، وعاد أسداً صارت الفتى أخياسه، ومتكاثف قد مزقه إشراقه، وقلوب الدارعين قد شكتها أحداقه، فقال:

 

أبصرت طرفك بين مشتجر القنى … فبدا لطرفي أنّه فلكُ

أو ليس وجهك فوقه قمراً … يجلى بنيّر نوره الحلك

وله فيه: "متقارب"

 

ولمّا اقتحمت الوغا دارعاً … وقنّعت وجهك بالمغفرِ

حسبنا محيَّاك شمس الضحى … عليها سحاب من العنبرِ

وتوجه اليد الوزير أبو الإصبع بن أرقم رسولاً عن المعتصم ومعه الوزير أبو عبيد البكري والقاضي أبو بكر بن صاحب الأحباس فلما دنا من حضرته واقترب، وبات منها على قرب، معتقداً حلولها فجر أو ضحاه، معتمداً مشاهدة فطر ذلك اليوم أو اضحاه، بادر بالإعلام، وكتب إليه على عادة الإعلام، شعراً منه: "بسيط"

 

يا ملكاً عظّمته العرب والعجمُ … وواحداً وهو في أثوابه أممُ

إنّا وردناك والأقطار مظلمةً … والبدر يرجى إذا ما التخّت الظلمُ

فكتب إليه رحمه الله: بسيط

 

أهلاً بكم صحبتكم نحويَ الديمُ … إن كان لم يتبجّح لي بكم حلمُ

حثّوا المطيّ ولو ليلاً بمجهلة … فلن تصلوّا ومن بشري لكم علمُ

لأنتم القوم إن خطوّا يجد قلمٌ … وإن يقولوا يصيب فصلَ الخطاب فمُ

لاعيّ إن رقموا كتباً ولا حصرُ … إذ ينتدون ولا جورٌ إذا حكموا

أقدم أبا الإصبع المودودَ تلقَ فتىً … هشّ المودّة لا يزري به سأمُ

هذا فؤادي قد طار السرور به … إن كنت تنقلك الوخّادة الرسمُ

سأكتم الليل ما ألقاه من بعدٍ … وأسئل الصبح عنكم حين يبتسمُ
হে যাত্রাকারী কাফেলার সৌন্দর্য, যখন তা এগিয়ে চলে … হে সভার শোভা!

উচ্চমর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব তোমার মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে … তাই বরের আনন্দের ন্যায় আনন্দ উপভোগ করো।

এবং শুভ্র দন্তবিশিষ্ট সুমিষ্ট অধরের সুধা পান করো … যা মৌচাকের নির্যাস থেকে আহরিত।

আকাঙ্ক্ষার আসনে সৌভাগ্যের সাথে সান্ধ্যকালীন পানীয় গ্রহণ করো … সুনিপুণভাবে প্রস্তুত পূর্ণ পেয়ালাগুলো তোমার জন্য তৈরি।

কালের প্রতিকূলতা তার চলার পথে বাধা দিতে পারেনি … এ এমন এক উচ্চতা যা তার হৃদয়ে কল্পনায়ও আসেনি।

এবং জুমুআর দিনে যুদ্ধের মোড়গুলো থেকে তাকে উদিত হতে দেখে তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—সে বীরদের ঘাড় প্রহারকারী, রক্তে নিমজ্জিত, মৃত্যুর পেয়ালা পানকারীদের জন্য যা সহজলভ্য। সে যেন এক হরিণ যে তার বিচরণস্থল ত্যাগ করেছে এবং এমন এক সিংহে পরিণত হয়েছে যার বনভূমিতে যুবকরা বিচরণ করে। তার জ্যোতি ঘন অন্ধকারকে বিদীর্ণ করেছে এবং বর্ম পরিহিতদের হৃদয় তার দৃষ্টির তীক্ষ্ণতায় বিদ্ধ হয়েছে। তিনি বললেন:

 

আমি বর্শার ঝনঝনানির মাঝে তোমার দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছি … তখন আমার চোখে মনে হয়েছে যেন তা একটি কক্ষপথ।

তোমার মুখমণ্ডল কি তার উপরে এক পূর্ণিমা চাঁদ নয় … যার উজ্জ্বল আলোয় অন্ধকার দূরীভূত হয়।

তার রচিত অন্য একটি কবিতা: "মুতাক্বারিব ছন্দ"

 

যখন তুমি বর্ম পরিহিত অবস্থায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লে … এবং শিরস্ত্রাণ দিয়ে তোমার মুখমণ্ডল ঢেকে নিলে।

আমরা তোমার চেহারাবয়বকে মধ্যাহ্নের সূর্য মনে করেছি … যার উপরে আম্বরের মেঘ ছেয়ে আছে।

উজির আবু আল-ইসবাহ ইবনে আরকাম আল-মুতাসিমের পক্ষ থেকে দূত হিসেবে রওনা হলেন এবং তার সাথে ছিলেন উজির আবু উবাইদ আল-বাকরি ও বিচারক আবু বকর ইবনে সাহিব আল-অাহবাস। যখন তিনি তার দরবারের নিকটবর্তী হলেন এবং অত্যন্ত নিকটে অবস্থান নিলেন, ভোর বা চাশতের সময় সেখানে পৌঁছানোর সংকল্প করলেন এবং সেই দিনের ঈদ বা কুরবানির সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তিনি চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী তাকে অবহিত করতে কবিতার মাধ্যমে লিখলেন: "বাসিত ছন্দ"

 

হে এমন এক রাজা, যাকে আরব ও অনারব সকলেই সম্মান করে … আপনি একাকী অথচ আপনার পোশাকের আবরণে যেন এক বিশাল জাতি বিদ্যমান।

আমরা আপনার কাছে এসেছি যখন চতুর্দিক অন্ধকার … আর যখন অন্ধকার ঘনীভূত হয় তখনই পূর্ণিমার চাঁদের আশা করা হয়।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তার উত্তরে লিখলেন: বাসিত ছন্দ

 

আপনাদের স্বাগতম, আপনাদের আগমনে যেন মেঘমালা আমার দিকে প্রবাহিত হয়েছে … যদি আমার স্বপ্ন আমাকে নিয়ে গর্বিত না করে থাকে।

বাহনগুলোকে দ্রুত চালিত করুন যদিও তা অজানা রাতের অন্ধকার হয় … আপনারা পৌঁছাতে পারবেন না যতক্ষণ না আমার সুসংবাদ আপনাদের কাছে পৌঁছাবে।

আপনারাই সেই জাতি, যারা লিখলে কলম তার সার্থকতা পায় … আর যখন তারা কথা বলে তখন মুখ থেকে সত্য ও ন্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বাণী নিঃসৃত হয়।

তারা যখন পত্র লেখে তখন কোনো জড়তা থাকে না, আর কোনো সঙ্কোচ থাকে না … যখন তারা সভায় বসে এবং যখন তারা বিচার করে তখন কোনো অবিচার হয় না।

হে প্রিয় আবু আল-ইসবাহ, অগ্রসর হোন, আপনি এমন এক যুবকের দেখা পাবেন … যার বন্ধুত্ব অত্যন্ত প্রফুল্ল এবং ক্লান্তি যাকে হীন করে না।

এই যে আমার হৃদয়, আনন্দে তা যেন উড়ে চলেছে … যদি দ্রুতগামী উটগুলো আপনাকে আমার কাছে নিয়ে আসে।

আমি রাতের কাছে আপনার দূরত্বের বিরহ গোপন রাখব … আর যখন ভোর হবে তখন আপনাদের কথা জিজ্ঞেস করব যখন সে মৃদু হাসবে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٩)
وأخبرني ذخر الدولة أنه استدعاه في ليلة قد ألبسها البدر رداءة، وأوقد فيها أضواءه، وهو على البحيرة الكبرى، والنجوم قد انعكست فيها تخالها زهراً، وقابلتها المجرة فسالت فيها نهرا، وقد ارجت نوافح الند، وماست معاطف الرند، وحسد النسيم الروض فوشى باسراره، وأفشى أحاديث آسه وعراره، ومشى مختالاً بين لبات النور وأزراره، وهو وجم، ودمعه منسجم، وزفراته تترجم عن غرام، وتجمجم عن تعذر مرام، فلما نظر إليه استدناه وقربه، وشكا إليه من الهجران ما استغربه، وأنشد: متقارب

 

أيا نفس لا تجزعي واصبري … وإلاّ فإنّ الهوى متلفُ

حبيب جفاكِ وقلب عصاكِ … ولاح لحاكِ ولا ينصفُ

شجون منعن الجفون الكرى … وعوّضها أدمعاً تنزفُ

فانصرف ولم يعلمه بقصته، ولا كشف له عن غصته، وأخبرني أنه دخل عليه في دار المزيّنة والزهر يحسد أشراق مجلسه، والدر يحكى اتساق تأنسه، وقد رددت الطير شدوها، وجددت طربها وشجوها، والغصون قد التحفت بسندسها، والأزهار تحيي بطيب تنفسها، والنسيم يلم بها فتضعه بين أجفانها، وتودعه أحاديث أذارها ونيسانها، وبين يديه فتى من فتيانه يتثنى تثني القضيب، ويحمل الكاس في راحة أبهى من الكف الخضيب، وقد توشح وكان الثريا وشاحه، وأنار فكان الصبح من محياه كان اتضاحه، فكلما ناوله الكاس خامره سورة، وتخيل أن الشمس تهديه نوره، فقال المعتمد: منسرح

 

لله ساقٍ مهفهفٌ غنجٌ … قام ليسقي فجاء بالعجبِ

أهدى لنا من لطيف حكمته … في جامد الماء ذائب الذهبِ

ولما وصل لورقة استدعى ذا الوزارتين القائد ابا الحسن بن اليسع ليلته تلك في وقت لم يخف فيه زائر من مراقب، ولم يبد فيع غير نجم كثاقب، فوصل وما للأمن إلى فؤاده من وصول، وهو يتخيل أن الجو صوارم ونصول، بعد أن وصى بما خلف، وودع من تخلف، فلما مثل بين يديه أنسه، وأزال توجسه، وقال خرجت من اشبيلية وفي النفس غرام طويته بين ضلوعي، وكفكفت فيه غرب دموعي، بفتاة هي الشمس أو كالشمس أخالها، لا يحول قلبها ولا خلخالها، وقد قلت في يوم وداعها، عند تفطر كبدي وانصداعها: طويل

 

ولمّا التقينا للوداع غديّةً … وقد خفقت في ساحة القصر راياتُ
যুখরুদ দাওলা আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি তাকে এমন এক রাতে ডেকে পাঠালেন যখন পূর্ণিমার চাঁদ তাকে তার চাদর পরিয়ে দিয়েছিল এবং তাতে তার আলো প্রজ্বলিত করেছিল। তিনি তখন এক বিশাল সরোবরের পাড়ে ছিলেন, আর নক্ষত্ররাজি তাতে প্রতিফলিত হচ্ছিল যা তোমার কাছে ফুল বলে ভ্রম হবে। ছায়াপথ তার মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাতে নদীর ন্যায় প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে সুগন্ধি ধূপের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছিল এবং সুগন্ধি বৃক্ষের শাখাগুলো দুলছিল। বসন্তের সমীরণ উদ্যানকে ঈর্ষা করে তার গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ করে দিচ্ছিল এবং এর আকন্দ ও বুনোফুলের গল্পগুলো প্রচার করছিল। সে সমীরণ পুষ্পকলি ও কুঁড়িদের মাঝে গর্বভরে হেঁটে বেড়াচ্ছিল। এমতাবস্থায় তিনি ছিলেন বিষণ্ণ, তার অশ্রু ছিল প্রবহমান এবং তার দীর্ঘশ্বাসগুলো প্রেমের অনুবাদ করছিল এবং কোনো উদ্দেশ্য লাভে ব্যর্থতার কথা ব্যক্ত করছিল। যখন তিনি তার দিকে তাকালেন, তাকে নিকটে ডাকলেন এবং তার কাছে বিচ্ছেদের এমন অভিযোগ করলেন যা তাকে বিস্মিত করল। তিনি আবৃত্তি করলেন: মুতাকারিব

 

হে নফস! বিচলিত হয়ো না, ধৈর্য ধরো … অন্যথায় এই অনুরাগ বিনাশকারী হবে।

এক প্রিয়তম যে তোমার প্রতি বিমুখ হয়েছে এবং এক হৃদয় যা তোমার অবাধ্য হয়েছে … তোমার নিন্দুক প্রকাশ পেয়েছে যে ন্যায়বিচার করে না।

দুঃখ-বেদনা চোখের পাতা থেকে নিদ্রা কেড়ে নিয়েছে … আর তার বদলে রক্তক্ষরণকারী অশ্রু দান করেছে।

অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন অথচ তাকে তার কাহিনী জানালেন না এবং তার মনের দুঃখও তার কাছে উন্মোচন করলেন না। তিনি আমাকে আরও সংবাদ দিলেন যে, তিনি তার কাছে সুসজ্জিত প্রাসাদে প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় যে ফুলগুলো তার মজলিসের উজ্জ্বলতাকে ঈর্ষা করছিল এবং মুক্তোগুলি তার সান্নিধ্যের সুশৃঙ্খলতার অনুকরণ করছিল। পাখিরা তাদের সুমধুর গান ফিরিয়ে এনেছিল এবং তাদের আনন্দ ও বিষাদকে নতুনত্ব দিয়েছিল। ডালপালাগুলো তাদের রেশমি বস্ত্র পরিধান করেছিল এবং ফুলগুলো তাদের সুগন্ধি নিশ্বাসের মাধ্যমে সম্ভাষণ জানাচ্ছিল। মৃদু বাতাস যখন তাদের স্পর্শ করছিল, তখন তারা তাকে তাদের চোখের পাতার মাঝে স্থান দিচ্ছিল এবং তাকে তাদের বসন্তকালের ঘটনাবলি আমানত হিসেবে দিচ্ছিল। তার সামনে ছিল তার এক কিশোর ভৃত্য যে বৃক্ষশাখার ন্যায় দুলছিল এবং সে মেহেদি রাঙা হাতের চেয়েও সুন্দর হাতের তালুতে পানপাত্র বহন করছিল। সে কোমরবন্ধ পরিধান করেছিল যেন কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জই তার কোমরবন্ধ, এবং সে আলোকোজ্জ্বল ছিল যেন তার চেহারা থেকেই ভোরের স্পষ্টতা ফুটে বেরোচ্ছে। যখনই সে তাকে পানপাত্রটি দিচ্ছিল, তার মধ্যে এক প্রকার উন্মাদনা কাজ করছিল এবং তার মনে হচ্ছিল যেন সূর্য তাকে তার আলো উপহার দিচ্ছে। তখন আল-মু’তামিদ বললেন: মুনসারিহ

 

আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত এই সুঠাম তনু ও লাস্যময়ী সাকী! … সে পান করাতে দাঁড়াল এবং এক বিস্ময় নিয়ে এল।

সে তার সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা থেকে আমাদের উপহার দিল … জমাটবদ্ধ পানির মাঝে গলিত সোনা।

আর যখন তিনি লোরকায় পৌঁছালেন, তখন সেই রাতে দ্বৈত মন্ত্রণালয়ের অধিকারী সেনাপতি আবু হাসান ইবনুল ইয়াসাকে এমন এক সময়ে ডেকে পাঠালেন যখন কোনো পরিদর্শক কোনো প্রহরীর ভয় করত না এবং আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তিনি উপস্থিত হলেন অথচ তার হৃদয়ে নিরাপত্তার কোনো লেশ ছিল না, তিনি কল্পনা করছিলেন যে আকাশ যেন তরবারি ও ফলক। তিনি পেছনে যা রেখে এসেছেন সে বিষয়ে অসিয়ত করার এবং যারা রয়ে গেছে তাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর উপস্থিত হলেন। যখন তিনি তার সামনে দাঁড়ালেন, তিনি তাকে আশ্বস্ত করলেন এবং তার শঙ্কা দূর করলেন। তিনি বললেন, আমি সেভিল থেকে বের হয়েছি এমন এক অনুরাগ মনে নিয়ে যা আমি আমার পাঁজরের মাঝে লুকিয়ে রেখেছি এবং তাতে আমার চোখের অশ্রুকে সংবরণ করেছি। এমন এক তরুণীর প্রেমে যে সূর্য অথবা আমি তাকে সূর্যের মতোই মনে করি; তার হৃদয় টলে না এবং তার পায়ের নূপুরও স্থানচ্যুত হয় না। তার সাথে বিদায়ের দিনে যখন আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছিল এবং বিদীর্ণ হচ্ছিল, তখন আমি বলেছিলাম: তওয়ীল

 

যখন আমরা প্রভাতে বিদায়ের জন্য মিলিত হলাম … আর প্রাসাদের প্রাঙ্গণে ঝাণ্ডাগুলো উড়ছিল।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٠)
بكينا دماً حتّى كانّ عيوننا … بجري الدموع الحمر منها جراحاتُ

وقد زارتني هذه الليلة في مضجعي، وأبرأتني من توجعي، ومكنتني من رضابها، وفتنتني بدلالها وخضابها، فقلت: طويل

أباح لطيفي طيفها الخدّ والنهدا … فعضّ به تفّاحة واجتنى وردا

ولو قدرت زارت على حال يقظة … ولكنْ حجابُ البين ما بيننا مدَّا

أما وجدت عنّا الشجونُ معرّجا … ولا وجدت منّا خطوبُ النوى بدَّا

سقى اللهُ صوب القطر أمّ عبيدة … كما قد سقت قلبي على حرّة بردا

هي الظبيُ جيداً والغزالةُ مقلةً … وروض الربا عرفاً وغصن النقا قدّا

فكرر استجادته، وأكثر استعادته، فأسر له بخمسماية دينار لورقة من حينه، وأخبرني الوزير الفقيه أبو الحسن ابن سراج أنه حضر مع الوزراء، والكتاب بالزهراء، في يوم غفل عنه الدهر فلم يرمقه بطرف، ولم يطرقه بصرف، ارخت به المسرات عهدها، وأبرزت له الأماني خدها، وأرشفت فيه لماها، وأباحت للزائرين حماها، ومازالوا ينتقلون من قصر إلى قصر، ويبتذلون الغصون بجني وهصر، ويتوقلون في تلك الغرفات، ويتعاطون الكؤس بين تلك الشرفات، حتى استقروا بالروض من بعد ما قضوا من تلك الآثار اوطارا، وأوقروا بالاعتبار قطارا، فحلوا منه في درانيك ربيع مفوقة بالأزهار، مطرزة بالجداول والأنهار، والغصون تختال في أدواحها، وتنثني في أكف أرواحها، وآثار الديار قد أشرفت عليهم كثكالى ينحن على خرابها، وانقراض أطرابها، والوهي بمشيدها لاعب، وعلى كل جدار غراب ناعب، وقد محت الحوادث ضياءها، وقلصت ظلالها وأفياءها، وطالما أشرقت بالخلائق وابتهجت، وفاحت من شذاهم وارجت، أيام نزلوا خلالها، وتفيئوا ظلالها، وعمروا حدائقها وجناتها، ونبهوا الآمال من سناتها، وراعوا الليوث في آجامها، وأخجلوا الغيوث عند انسجامها، فأضحت ولها بالتداعي تلفع واعتجار، ولم يبق من آثارها إلا نوي وأحجار، وقد هوت قبابها، وهرم شبابها، وقد يلين الحديد، ويبلى على طيه الجديد، فبينما هم يتعاطونها صغاراً وكباراً، ويديرونها أنا واعتبارا، إذ برسول المعتمد قد وافاهم برقعة فيها: خفيف

 

حسد القصر فيكمُ الزهراءَ … ولعمري وعمركم ما أساءَ

قد طلعتم بها شموساً صباحاً … فاطلعوا عندنا بدورا مساءَ
আমরা রক্ত অশ্রু বিসর্জন দিয়েছি, এমনকি আমাদের চোখগুলো যেন … লাল অশ্রু ঝরার ফলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল।

আর সে আজ রাতে আমার শয্যায় আমাকে দেখতে এসেছিল, এবং আমার ব্যথার উপশম ঘটিয়েছিল; সে আমাকে তার ওষ্ঠসুধা পানের সুযোগ দিয়েছিল এবং তার লাবণ্য ও মেহেদির রঙে আমাকে মুগ্ধ করেছিল। অতঃপর আমি বললাম: তওয়ীল ছন্দ

তার কল্পমূর্তি আমার সূক্ষ্ম সত্তার জন্য গাল ও বক্ষদেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল … ফলে সে তাতে আপেল দংশন করল এবং গোলাপ আহরণ করল।

যদি সে সক্ষম হতো, তবে জাগ্রত অবস্থায় দেখা করতে আসত … কিন্তু আমাদের মাঝে বিচ্ছেদের পর্দা টেনে দেওয়া হয়েছে।

দুঃখ-বেদনা কি আমাদের ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পথ খুঁজে পায়নি? … আর বিচ্ছেদের বিপদ কি আমাদের ছাড়া অন্য কোনো গন্তব্য পায়নি?

আল্লাহ যেন উম্মে উবাইদাহর ওপর বৃষ্টির বারিধারা বর্ষণ করেন … যেমনটি সে আমার হৃদয়ের উত্তাপে শীতলতা সিঞ্চন করেছে।

সে স্কন্ধের দিক থেকে হরিণী এবং চোখের দিক থেকে গাজাল … সুঘ্রাণে সে টিলার বাগান এবং দৈহিক গঠনে সে বালুকাময় মরুভূমির লতানো ডাল।

তিনি বারবার এর প্রশংসা করলেন এবং পুনরায় পাঠ করতে বললেন, আর তাৎক্ষণিকভাবে এক পৃষ্ঠার জন্য তাকে পাঁচশত দিনার প্রদান করার নির্দেশ দিলেন। ফকিহ উজির আবুল হাসান ইবনে সিরাজ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি উজির ও লেখকদের সাথে জাহরায় উপস্থিত ছিলেন এমন এক দিনে যা কালচক্রের দৃষ্টির আড়ালে ছিল, তাই সে তার প্রতি চোখ তুলে তাকায়নি এবং কোনো বিপত্তি দিয়ে তাকে আঘাত করেনি। আনন্দসমূহ সেখানে তাদের প্রতিশ্রুতি উন্মোচিত করেছিল, আকাঙ্ক্ষাসমূহ তার সামনে তাদের গণ্ডদেশ প্রকাশ করেছিল, সে তাতে তার অধরসুধা পান করিয়েছিল এবং দর্শকদের জন্য তার সংরক্ষিত চত্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। তারা ক্রমাগত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে বিচরণ করছিল এবং ফল পেড়ে ও ডাল নুইয়ে ডালপালার মাধুর্য আস্বাদন করছিল। তারা সেই কক্ষগুলোতে আরোহণ করছিল এবং বারান্দাগুলোর মাঝে পানপাত্র আদান-প্রদান করছিল। অবশেষে তারা সেই প্রাচীন নির্দশনগুলো থেকে নিজেদের বাসনা পূর্ণ করার পর এবং শিক্ষার এক বিশাল ভাণ্ডার সংগ্রহ করার পর উদ্যানে গিয়ে থিতু হলো। সেখানে তারা বসন্তের এমন গালিচায় অবস্থান করল যা ফুলে ফুলে সুশোভিত এবং ছোট ছোট স্রোতধারা ও নহর দিয়ে কারুকার্যময়। বৃক্ষশাখাগুলো তাদের ঝোপঝাড়ে গর্বভরে দুলছিল এবং বাতাসের হাতে অবনমিত হচ্ছিল। আর ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষগুলো তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল এমন সন্তানহারা জননীদের মতো যারা তাদের ধ্বংসের ওপর এবং আনন্দের বিনাশের ওপর বিলাপ করছে। জরাজীর্ণতা তার সুউচ্চ অট্টালিকা নিয়ে খেলছে এবং প্রতিটি দেয়ালে কর্কশ কণ্ঠে কাক ডাকছে। কালের বিবর্তন তার উজ্জ্বলতা মুছে দিয়েছে এবং তার ছায়া ও আশ্রয়কে সংকুচিত করেছে। অথচ এক সময় তা সৃষ্টিজগতকে আলোকিত করত এবং আনন্দিত হতো, তাদের সুবাসে সুবাসিত হতো এবং আমোদিত হতো; সেই দিনগুলোতে যখন তারা এর মাঝে অবতরণ করত, এর ছায়াতলে আশ্রয় নিত, এর বাগান ও উদ্যানগুলোকে আবাদ করত, তন্দ্রা থেকে আশার উন্মেষ ঘটাত, ঝোপঝাড়ের সিংহদের ভয় দেখাত এবং বর্ষণের সময় মেঘমালাকে লজ্জিত করত। কিন্তু এখন তা ধ্বংসের আবরণে ঢাকা পড়ে গেছে এবং তার নিদর্শনের মধ্যে শুধু পরিখা ও পাথর অবশিষ্ট রয়েছে। তার গম্বুজগুলো ধসে পড়েছে, তার যৌবন বার্ধক্যে রূপ নিয়েছে। লোহাও কোমল হয় এবং নতুনের ভাঁজে ভাঁজে তা জীর্ণ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তারা যখন ছোট-বড় পাত্রে সুধা পান করছিল এবং তা নিয়ে বারবার বিচার-বিবেচনা ও শিক্ষা গ্রহণ করছিল, তখন আল-মুতামিদের এক দূত তাদের কাছে একটি লিপি নিয়ে উপস্থিত হলো যাতে লেখা ছিল: খফীফ ছন্দ

 

প্রাসাদ আপনাদের উপস্থিতিতে জাহরা নগরীকে ঈর্ষা করেছে … আর আমার ও আপনাদের জীবনের শপথ, সে কোনো মন্দ কাজ করেনি।

আপনারা সকালে সেখানে সূর্যের মতো উদিত হয়েছিলেন … এখন সন্ধ্যায় আমাদের কাছে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উদিত হোন।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١١)
فصاروا إلى قصر البستان بباب العطارين فالفوا مجلساً قد حار فيه الوصف، واحتشد به اللهو والقصف، وتوقدت نجوم مدامه، وتاودت قدود خدامه، وأربى على الخورنق والسدير، وأبدى صفحة البدر من أزرار المدير، فأقاموا ليلتهم ما طرقهم نوم، ولا عراهم عن طيب اللذات سوم، وكانت قرطبة منتهى أمله، وكان روم أمرها أشهى عمله، ومازال يخطبها بمداخله أهليها، ومواصلة واليها، غذ لم يكن في منازلتها قائد، ولم يكن لها إلا حيل ومكائد، لاستمساكهم بدعوة خلفائها، وأنفتهم من طموس رسم الخلافة وعفائها، وحين اتفق له تملكها، وأطلعه فلكها، وحصل في قطب دارتها، ووصل إلى تدبير رياستها وإدارتها، قال: بسيط

 

من للملوك بشأو الأصيد البطلِ … هيهاتَ جاءتكم مهديّة الدولِ

خطبتُ قرطبة الحسناء إذ منعت … من جاء بخطبها بالبيض والأسلِ

وكم غدت عاطلاً حتّى عرضتُ لها … فأصبحتْ في سرى الحلّي والحللِ

عرس الملوك لما في قصرها عرس … كلّ الملوك به في مأتم الوجلِ

فراقبوا عن قريب لا أبا لكمُ … هجوم ليثٍ بدرع الباس مشتملِ

ولما نظمت في سلكه، واتسمت بملكه، أعطى ابنه الظافر زمامها، وولاة نقضها وإبرامها، فأفاض فيها نداه، وزاد على أمك ومداه، وجملاها بكثرة حبائه، واشتغل بأعبائها عن فتائه، ولم يزل فيها أمراً وناهياً، غافلاً عن المكر ساهياً، حسن ظن بأهلها اعتقد، واغترار بهم ما رواه ولا انتقد، وهيهات كم من ملك كفنوه في دمائه، ودفنوه بذمائه، وكم من عرش ثلوه، وعزيز أذلوه، إلى أن ثار فيها ابن عكاشة ليلاً، وجر إليها حرباً وويلاً، فبرز الظافر منفردا من كماته، عارياً عن حماته، وسيفه في يمينه، وهاديه في الظلماء نور جبينه، فإنه كان غلاماً كما بلله الشباب بإندائه، والحفه الحسن بردائه، فدافعهم أكثر ليله، وقد منع منه تلاحق رجله وخيله، حتى أمكنتهم منه عثرة لم يقل لها لعاً، ولا استقل منها ولا سعى، فترك ملتحفاً بالظلماء، معفراً في وسط الحماء، تحرسه الكواكب، بعد الكواكب، وبسترة الحندس، بعد السندس، فمر بمصرعه سحراً أحد أيمة الجامع المغلسين وقد ذهب ما كان عليه ومضى، وهو أعرى من الحسام المنتضى، فخلع رداءه عن منكبيه ونضاه، وستره به ستراً أقنع المجد وأرضاه، وأصبح لا يعلم رب تلك الصنيعة، ولا يعرف
অতঃপর তারা আতর বিক্রেতাদের তোরণের (বাবুল আত্তারিন) নিকটবর্তী উদ্যান প্রাসাদে পৌঁছালেন এবং সেখানে এমন এক মজলিশ দেখতে পেলেন যার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাষা হারিয়ে যায়; আমোদ-প্রমোদ ও উৎসবের ঘটা সেখানে সমবেত হয়েছিল। শরাবের নক্ষত্রগুলো সেখানে প্রোজ্জ্বল ছিল, আর সেবকদের দেহবল্লরী ছিল লাবণ্যময়। তা খাওয়ারনাক ও সাদির প্রাসাদকেও হার মানিয়েছিল এবং পরিবেশনকারীর পোশাকের বোতাম থেকে যেন পূর্ণিমার চাঁদের আভা বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তারা তাদের রাতটি সেখানে এমনভাবে অতিবাহিত করলেন যে, না তাদের চোখে ঘুম এল, না উত্তম আস্বাদ গ্রহণে কোনো ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করল। কুরতুবা (কর্ডোভা) ছিল তার আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমা, আর এর শাসনভার লাভ করা ছিল তার পরম অভিলাষ। তিনি শহরটির অধিবাসীদের সাথে সখ্যতা এবং সেখানকার গভর্নরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বারবার তা হস্তগত করার চেষ্টা করছিলেন; কারণ শক্তি দিয়ে তা জয় করার মতো কোনো সেনাপতি তখন ছিল না এবং কৌশল ও ষড়যন্ত্র ছাড়া তা লাভের আর কোনো পথও ছিল না। এর কারণ ছিল সেখানকার অধিবাসীদের খলিফাদের আহ্বানের প্রতি অবিচল থাকা এবং খেলাফতের চিহ্নের বিলুপ্তি ও বিনাশের প্রতি তাদের অনীহা। অবশেষে যখন তার জন্য তা জয় করা সম্ভব হলো, ভাগ্যের আকাশ তাকে সেই সুযোগ করে দিল, তিনি এর কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হলেন এবং এর শাসন ও নেতৃত্বের চাবিকাঠি লাভ করলেন, তখন তিনি 'বাসীত' ছন্দে বললেন:

 

রাজন্যবর্গের মধ্যে সেই বীর শ্রেষ্ঠের সমকক্ষ কে হতে পারে? … অসম্ভব! তোমাদের কাছে এসেছে রাষ্ট্রসমূহের পথপ্রদর্শক শক্তি।

আমি রূপসী কুরতুবাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলাম যখন সে অন্যদের প্রত্যাখ্যান করেছিল; … যারা সাদা তলোয়ার ও বল্লম নিয়ে তার পাণিপ্রার্থনা করতে এসেছিল।

সে কতকাল অলঙ্কারহীন ছিল, অবশেষে আমি তার সামনে নিজেকে পেশ করলাম; … ফলে আজ সে রাতের গভীরে অলঙ্কার ও রাজকীয় পোশাকে সজ্জিতা।

রাজাদের বাসরঘর, কারণ তার প্রাসাদে আজ উৎসবের মহড়া; … যার ভয়ে অন্য সব রাজা আজ শোকাতুর।

সুতরাং তোমরা শীঘ্রই অপেক্ষা করো—তোমাদের কল্যাণ হোক— … বীরত্বে আবৃত এক সিংহের আক্রমণের।

যখন কুরতুবা তার রাজ্যভুক্ত হলো এবং তার শাসনাধীন হলো, তখন তিনি এর লাগাম এবং এর সকল শাসনভার তার পুত্র আয-যাফিরকে অর্পণ করলেন। আয-যাফির সেখানে তার বদান্যতা ঢেলে দিলেন এবং তার সামর্থ্যের চেয়েও অধিক দান করলেন। তারা শহরটিকে তাদের অঢেল দানে সুশোভিত করলেন। আয-যাফির এর রাজকার্য পালনে মগ্ন হয়ে নিজের তারুণ্যের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে সর্বদা আদেশ ও নিষেধ জারি রাখতেন, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ছিলেন গাফেল ও উদাসীন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের ওপর সুধারণা পোষণ করেছিলেন এবং তাদের ব্যাপারে এমনভাবে প্রতারিত হয়েছিলেন যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি বা তলিয়ে দেখেননি। হায়! কত রাজাকেই না তারা তাদের রক্তে কাফন পরিয়েছে এবং তাদের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত দাফন করেছে! আর কত সিংহাসনকেই না তারা উল্টে দিয়েছে এবং সম্মানিতকে করেছে লাঞ্ছিত! অবশেষে একদিন রাতে সেখানে ইবনে উকাশা বিদ্রোহ করল এবং শহরের বুকে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বিভীষিকা টেনে আনল। আয-যাফির তার বীর যোদ্ধাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং রক্ষকহীন অবস্থায় বেরিয়ে এলেন; তার ডান হাতে ছিল তলোয়ার এবং অন্ধকারে তার কপালের জ্যোতিই ছিল তার পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন এক যুবক যাকে যৌবন যেন সিক্ত করেছিল এবং সৌন্দর্য তাকে আপন চাদরে ঢেকে রেখেছিল। তিনি রাতের অধিকাংশ সময় তাদের প্রতিহত করলেন, কিন্তু তার পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী এসে পৌঁছাতে পারল না। শেষ পর্যন্ত এক পদস্খলন তাকে কাবু করে ফেলল যার জন্য কোনো অনুশোচনা করা হয়নি এবং যেখান থেকে তিনি উঠে দাঁড়াতে বা চেষ্টা করতে পারেননি। ফলে তাকে অন্ধকারের চাদর গায়ে জড়িয়ে কাদার মাঝে ধূলিধূসরিত অবস্থায় ফেলে রাখা হলো। নক্ষত্রের পর নক্ষত্র তাকে পাহারা দিচ্ছিল, আর রেশমের পরিবর্তে ঘুটঘুটে অন্ধকার তাকে আবৃত করে রেখেছিল। শেষ রাতে মসজিদের জনৈক ইমাম অন্ধকার থাকতে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তার লাশের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আয-যাফিরের কাছে যা কিছু ছিল তা ততক্ষণে লুটে নেওয়া হয়েছে, তিনি কোষমুক্ত তলোয়ারের চেয়েও নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তখন সেই ইমাম নিজের কাঁধ থেকে চাদরটি খুলে নিলেন এবং তাকে তা দিয়ে ঢেকে দিলেন; এমন এক আবরণ যা মর্যাদাকে তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট করল। এমতাবস্থায় ভোর হলো যে, সেই মহানুভব কাজের কর্তার পরিচয় কেউ জানতে পারল না এবং তাকে চেনা গেল না।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٢)
فشكر له يده الرفيعة، فكان المتعهد إذا تذكر صرعته، وسعر الجوى لوعته، رفع بالعويل نداءه، وأنشد، ولم أدر من ألقى عليه رداءة، ولما كان من الغد حزراسه ورفع على سن رمح وهو يشرق كنار على علم، ويرشق نفس كل ناظر بألم، فلما رمقته الأبصار، وتحققته الحماة والأنصار، رموا أسلحتهم، وسووا للفرار أجنحتهم، فمنهم من أختار فراره وجلاه، ومنهم من اتت به إلى حينه رجلاه، وشغل المعتمد عن رثائه، بطلب ثاره، ونصب الحبائل لوقوع ابن عكاشة وعثاره، وعدل عن تابينه، إلى البحث عن مفرقه وجبينه، فلم تحفظ له فيه قافية، ولا كلمة للوعته شافية، إلا إشارته إليه، في تأبين أخويه، المأمون والراضي المقتولين في أول النائرة، والفتنة الثائرة، التي ينتهي بنا القول إلى سرد خبرها، ونص عبرها، فإنه قال: طويل

 

يقولون صبراً لا سبيل إلى الصبرِ … سأبكي وأبكي ما تطاول من عمري

نرى زهرها في مأتمٍ كلّ ليلةٍ … يخمّشن لهفاً وسطه صفحة البدرِ

ينحن على نجمين أثكلن ذا وذا … ويا صبر ما للقلب في الصبرِ من عذرِ

مدى الدهر فلبيك الغمام مصابه … بصنويه يعذرْ في البكاءِ مدى الدهر

بعين سحاب وأكف قصرْ دمعها … على كلّ قبر حلّ فيه أخو القطرِ

وبرق ذكيَ النار حتّى كأنّما … يسعّر ممّا في فؤادي من الجمرِ

هوى ااكوكبان الفتح ثمّ شقيقه … يزيد فهل بعد الكواكب من صبرِ

افتحُ لقد فتّحت لي باب رحمةٍ … كما يزيدَ اللهُ قد زاد في أجري

هوى بكما المقدار عنّي ولم أمت … وأدعى وفيّاً قد نكصت إلى الغدرِ

تولّيتما والسنّ بعد صغيرة … ولم تلبث الأيّام أن صغّرت قدري

فلو عدتّما لاخترتما العود في الثرى … إذا أنتما أبصرتمانيَ في الأسرِ

يعيد على سمعي الحديد نشيده … ثقيلاً فتبكي العين بالحسّ والنقرِ

معي الأخوات الهالكات عليكما … وأمّكما الثكلى المضرّمة الصدرِ

فتبكي بدمع للقطر مثله، ويزجرها التقوى فتصغي إلى الزجرِ

أبا خالد أورثتني البثّ خالداً … أبا النصر مذ ودّعت ودّعني نصري

وقبلكما ما أودع القلب حسرة … تجدّد طول الدهر ثكل أبي عمرو

وكان المعتصم بن صمادح قد اختص بأمير المسلمين رحمه الله أيام جوازه البحر إلى

অতঃপর তিনি তার সুউচ্চ হস্তের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন। সেই আশ্রয়দাতা ব্যক্তি যখনই তার পতনের কথা স্মরণ করতেন এবং অন্তরের দহন তার শোককে প্রজ্বলিত করত, তিনি উচ্চস্বরে বিলাপ করে আর্তনাদ করতেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতেন। আমি জানি না কে তার ওপর চাদর নিক্ষেপ করেছিল। পরদিন তার মস্তক ছিন্ন করা হলো এবং বল্লমের ডগায় তা উঁচিয়ে ধরা হলো; সেটি পাহাড়ের চূড়ায় আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছিল এবং প্রত্যেক দর্শকের প্রাণকে বেদনায় বিদ্ধ করছিল। যখন চক্ষুসমূহ তার দিকে নিবদ্ধ হলো এবং রক্ষক ও সাহায্যকারীরা বিষয়টি নিশ্চিত করল, তখন তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিক্ষেপ করল এবং পলায়নের জন্য ডানা মেলল। তাদের কেউ পলায়ন ও দেশান্তর হওয়াকে বেছে নিল, আর কাউকে তার দুই পা তার মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে গেল। আল-মুতামিদ তার শোকগাথা ছেড়ে প্রতিশোধ গ্রহণে এবং ইবনে উক্বাশাকে ফাঁদে ফেলে ধরাশায়ী করার প্রচেষ্টায় মগ্ন হলেন। তিনি তার গুণকীর্তন বাদ দিয়ে তার সন্ধানে মনোনিবেশ করলেন। তার এই শোকের ব্যাপারে কোনো ছন্দবদ্ধ পঙক্তি বা শোক উপশমকারী কোনো শব্দ সংরক্ষিত হয়নি, কেবল তার দুই ভাই আল-মামুন ও আল-রাযীর শোকগাথায় তার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যারা বিদ্রোহ ও ফিতনার শুরুতে নিহত হয়েছিলেন। সেই ফিতনার বিবরণ ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনার পর্যায় এখন আমাদের সামনে উপস্থিত। তিনি বলেছিলেন:

 

তারা বলে ধৈর্য ধরো, অথচ ধৈর্যের কোনো পথ নেই... আমি কেঁদেই যাব যতকাল আমার জীবন দীর্ঘ হয়।

আমরা প্রতি রাতে শোকের মাতমে নক্ষত্রদের দেখি... তারা যেন পূর্ণিমার চাঁদের কপালে অনুতাপের নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে।

তারা এমন দুই নক্ষত্রের জন্য বিলাপ করছে যারা একে অপরকে শোকাতুর করেছে... হে ধৈর্য! ধৈর্যের ব্যাপারে হৃদয়ের আর কোনো অজুহাত নেই।

অনন্তকাল ধরে মেঘমালা যেন তার এই মুসিবতে সাড়া দেয়... দুই ভাইয়ের শোকে চিরকাল ক্রন্দন করাও মার্জনীয়।

মেঘের চোখ দিয়ে এবং এমন করতল দিয়ে যার অশ্রু সংক্ষিপ্ত... সেই প্রতিটি কবরের ওপর যেখানে বৃষ্টির সহোদর শায়িত আছে।

আর প্রখর আগুনের মতো বিদ্যুৎ, মনে হয় যেন... তা প্রজ্বলিত হচ্ছে আমার হৃদয়ের জ্বলন্ত অঙ্গার থেকে।

আল-ফাতহ এবং তার সহোদর ইয়াযিদ—এই দুই নক্ষত্র ঝরে পড়েছে... নক্ষত্রদের পতনের পর আর কি ধৈর্যের কিছু অবশিষ্ট থাকে?

হে ফাতহ! তুমি আমার জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করেছ... যেমন আল্লাহ নেকি বৃদ্ধি করেন, তেমনি তিনি আমার প্রতিদানও বৃদ্ধি করেছেন।

ভাগ্য তোমাদের দুজনকে আমার থেকে কেড়ে নিয়েছে অথচ আমি মরিনি... আমাকে বিশ্বস্ত বলা হয় অথচ আমি তো বেঁচে থেকে বিশ্বাসঘাতকতার দিকেই ধাবিত হয়েছি।

তোমরা দুজনে চলে গেলে যখন বয়স ছিল অত্যন্ত অল্প... আর কালচক্র আমার মর্যাদাকে তুচ্ছ করতে দেরি করেনি।

যদি তোমরা ফিরে আসতে, তবে মাটির নিচে ফিরে যাওয়াকেই বেছে নিতে... যদি তোমরা আমাকে বন্দিদশায় দেখতে।

লোহার বেড়ি আমার কানে তার ভারী সংগীত বারবার শুনিয়ে যায়... ফলে চক্ষু সেই করাঘাতে ব্যথিত হয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয়।

আমার সাথে আছে তোমাদের শোকে মৃতপ্রায় বোনেরা... আর তোমাদের শোকাতুর মা, যার বক্ষ অগ্নিদগ্ধ।

তিনি বৃষ্টির মতো অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কাঁদেন, আর খোদাভীতি তাকে সংযত করে, তখন তিনি সেই বাধার প্রতি কর্ণপাত করেন।

হে আবু খালিদ! তুমি আমার জন্য চিরস্থায়ী দুঃখ রেখে গেছ... হে আবু নাসর! যখন থেকে তুমি বিদায় নিয়েছ, আমার বিজয় আমাকে বিদায় জানিয়েছে।

তোমাদের আগে আবু আমরের বিয়োগব্যথা হৃদয়ে এমন কোনো হাহাকার রেখে যায়নি... যা মহাকালের দীর্ঘ পরিক্রমায় বারবার নতুন হয়ে ফিরে আসে।

আর আল-মুতাসিম বিন সুমাদিহ মুসলিমদের আমিরের (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন যখন তিনি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ওই দিকে যাচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٣)
حماية الأندلس حين فغر العدو عليها فما، وأسال دموع أهلها دما، وملأ نفوسهم رعباً، وأخذ كل سفينة غصباً، ففل الله به غربه، وحكم فيه طعنه وضربه، فما سعدت نجومه، ولا قعدت عن شياطينه رجومه، في يوم عروبة لم يكن فيه جمع إلا في المدى، ولم تركع فيه إلا رؤس العدا، ولم يطل فيه إلا ذابل وحسام، ولم يصل فيه إلا بطل مقدام، وهو يوم شفى الإسلام بعد ما أشفى، واقتص من أيام الروم واستوفى، وكان للمعتمد رحمه الله فيه ظهور، وغناء مشهور، جلا متكاثف عجاجه، وجلا الروم عن غيطانه وفجاجه، بعد ما لقي حرة، وسقي أمره، وكلم العدويك، وثلم عدده، وتخاذل فيه رؤساء الأندلس فلم يعمل لهم فيه سنان، ولم يكحل جفونهم من قتامة عنان، والمعتمد يلقي اسنتهم بلباته، وتنثني الذوابل ولا ينثني من عناته، وفي ذلك يقول ابن عبادة: وافر

 

وقالوا كفّه جرحت فقلنا … أعاديه تواقعها الجراحُ

وما أثر الجراحة ما رأيتم … فتوهنها المناصل والرماحُ

ولكن فاض سبيل الباس منها … ففيها في مجاريه انسياحُ

وقد صحت وسمحت بالأماني … وفاض الجود منها والسماحُ

رأى منه أبو يعقوبَ فيها … عقاباً لا يهاض له جناحُ

فقال له لك القدح المعلّى … إذا ضربت بمشهدك القداحُ

وفي ذلك يقول عبد الجليل ويشير إلى أمير المسلمين وحسن بلائه، وما أظهر المعتمد من إخلاصه وولائه، وأول القصيدة: وافر

 

أظنّ خطوبها قالت سلامُ … فلم يعبس لها منك ابتسامُ

ومنها:

 

فثار إلى الطعان حليف صدق … تثور به الحفيظة والذمامُ

ونما في حميرٍ ونمتك لخم … وتلك وشائح فيها التحامُ

تهجن لسيله نهجاً فوافى … وفي أذيّه الطامي عرامُ

فهيل به كثيب الكفر هيلاً … وكلّ رقيقة منها ركامُ

وأصبح فوق ظهر الأرض أرضاً … وكانّ وهادها منهم إكامُ

عديد لا يشارفه حسابٌ … ولا يحوي جماعته زمامُ

تألّفتِ الوحوش عليه شتّى … فما نقص الشراب ولا الطعامُ

فإن ينجو اللعين فلا كحرّ … ولكن مثل ما تنجو الليامُ
আন্দালুসের সুরক্ষা যখন শত্রু তার উপর মুখ ব্যাদান করেছিল, তার অধিবাসীদের চোখের পানিকে রক্তে পরিণত করেছিল, তাদের অন্তরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং প্রতিটি নৌকা জবরদস্তিমূলকভাবে দখল করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তার মাধ্যমে শত্রুর দম্ভ চূর্ণ করলেন এবং তার প্রতি বর্শার আঘাত ও তলোয়ারের প্রহার নির্ধারণ করলেন। ফলে শত্রুর নক্ষত্ররাজি সুপ্রসন্ন হয়নি, আর তার শয়তানদের বিরুদ্ধে উল্কাপিন্ডের আঘাত থেমে থাকেনি। এক জুমার দিনে যেখানে তরবারির আঘাত ছাড়া আর কোনো জমায়েত ছিল না, যেখানে শত্রুর মস্তক ছাড়া কেউ সিজদাবনত হয়নি, যেখানে দীর্ঘ বর্শা এবং ধারালো তলোয়ার ছাড়া আর কিছু দীর্ঘায়িত হয়নি, আর যেখানে অসম সাহসী বীর ছাড়া কেউ অগ্রসর হয়নি। এটি এমন এক দিন ছিল যখন ইসলাম রুগ্ন হওয়ার পর আরোগ্য লাভ করেছিল এবং রোমকদের (খ্রিস্টানদের) দিনগুলো থেকে কড়ায়-গন্ডায় প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিল। আল-মুতামিদ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই দিনে প্রকাশ্য বীরত্ব এবং প্রসিদ্ধ অবদান রেখেছিলেন; তিনি ঘন ধূলিজাল উন্মোচিত করেছিলেন এবং রোমকদের তাদের সমভূমি ও গিরিপথ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। তিনি চরম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর, তিক্ত স্বাদ আস্বাদনের পর, শত্রুকে আহত এবং তাদের শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করার পর এই সাফল্য অর্জন করেন। সেই দিন আন্দালুসের নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তাদের কোনো বর্শার ফলক কাজে আসেনি এবং যুদ্ধের ধূলিকণা তাদের চোখের পাতায় সুরমার মতো লাগেনি। আর মুতামিদ তার নিজের বক্ষ দিয়ে শত্রুদের বর্শার মোকাবিলা করছিলেন; বর্শাগুলো বাঁকা হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু তিনি তার সংকল্প থেকে বিচ্যুত হননি। এ সম্পর্কে ইবনে আবাদাহ বলেন: ওয়াফির ছন্দ

 

তারা বলল, তার হাত আহত হয়েছে; আমরা বললাম... তার শত্রুরাই জখমে জর্জরিত হয়েছে।

তোমরা যা দেখেছ তা কোনো জখমের চিহ্ন নয়... যা তলোয়ার ও বর্শার আঘাতে দুর্বল হয়ে পড়ে;

বরং তা থেকে বীরত্বের ঝরনাধারা উপচে পড়ছে... আর তার প্রবাহপথগুলোতে তা বয়ে চলেছে।

তা এখন আরোগ্য লাভ করেছে এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ করেছে... আর তা থেকে দানশীলতা ও উদারতা উপচে পড়ছে।

আবু ইয়াকুব তার মাঝে এমন এক ঈগল দেখতে পেয়েছিলেন... যার ডানা কখনো ভেঙে পড়ে না।

তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্যই সর্বোচ্চ সম্মান... যখন তোমার উপস্থিতিতে শ্রেষ্ঠত্বের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আব্দুল জলীল বলেন, যেখানে তিনি আমিরুল মুসলিমীনের প্রতি এবং তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আর মুতামিদ তার যে একনিষ্ঠতা ও আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। কবিতার শুরুটি হলো: ওয়াফির ছন্দ

 

আমি মনে করি বিপদাপদগুলো আপনাকে সালাম জানিয়েছে... তাই আপনার হাসি তাদের দেখে মলিন হয়নি।

তার অংশবিশেষ:

 

অতঃপর এক সত্যনিষ্ঠ মিত্র যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন... যার মধ্যে আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ববোধ জেগে উঠেছিল।

তিনি হিমইয়ার বংশে এবং আপনি লাখম বংশে লালিত হয়েছেন... আর এ হলো এমন এক আত্মীয়তা যা সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ।

তার বাহিনীর প্লাবনের জন্য তিনি পথ তৈরি করলেন, অতঃপর তা উপস্থিত হলো... আর তার উত্তাল তরঙ্গে ছিল প্রচণ্ড শক্তি।

এর মাধ্যমে কুফরের স্তূপ ধূলিসাৎ হয়ে গেল... আর তার প্রতিটি অংশ স্তূপাকার হয়ে গেল।

তা জমিনের পিঠের উপর যেন আরেকটি জমিন হয়ে গেল... আর তাদের লাশের কারণে নিচু ভূমিগুলো টিলায় পরিণত হলো।

এমন এক সংখ্যা যা কোনো হিসাবের আওতাভুক্ত নয়... এবং কোনো লাগাম তাদের সমাবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

বন্য পশুরা তাদের লাশের ওপর বিভিন্নভাবে সমবেত হয়েছিল... ফলে তাদের পানাহার বা খাদ্যের কোনো কমতি হয়নি।

অভিশপ্ত শত্রু যদি বেঁচেও যায়, তবে তা কোনো বীরের মতো নয়... বরং তা হীন কাপুরুষদের বেঁচে যাওয়ার মতো।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٤)
ميا أدفنشُ يا مغرورُ هلاّ … تجنّبت المشيخة يا غلامُ

ستسالك النساء ولا الرجال … فحدث ما ورائك يا عصامُ

راقبها بأرضك طالعات … كما تهدي صواعقها الغمامُ

أقمت لذا الوغا سوقاً فخذها … مناجرةً وهون ما تسامُ

فإن شئتَ اللُّجين فثمّ سام … وإن شئت النَّضار فثمّ حامُ

جلالك فوق ما يعطيك وهم … وفعلك فوق ما يسمع الكلامُ

وأنت النعمة البيضاء فاسلم … لنا وليطّرد فيك التمامُ

ومازال ابن صمادح يتصنع إليه بكل معنى يغرب، ويفسد ما بينه وبين المعتمد ويخرب، ويؤرش بينهما ويضرب، فلما أعلم بقبيح سعيه، وعلم حقيقة بغيه، كتب إليه: كامل

 

يا من تعرّض لي يريد مساءتي … لا تعرضنّ فقد نصحت لمندمِ

من غرّة منّي خلايق سهلة … فالستم تحت لبان مسّ الأرقمِ

ومن منازعه الشريفة، ومقاطعه المنيفة، وشيمه الملكية، وهممه الفلكية، أن ابن زيدون الذي كان وزير أبيه الذي أظهر صولته، ودبر دولته، وأدجى ضحاها، وأدار بالمكاره رحاها، وأغراه بأعدائه، وزين له الإيقاع بعماله ووزرائه، فغدا شجا في صدورهم، ونكدا في سرورهم، فلما هيل التراب على المعتضد، وأفضى أمره إلى المعتمد، ثاروا إلى طلب ابن زيدون وجاشوا، وبروا في البغي له وراشوا، وأغروه بنكبته، وأروه الرشاد في هدم رتبته، وأرادوه بالي أرادهم، وكادوه كما كادهم، فرموا إلى المعتمد برقعة فيها: كامل

 

يا أيّها الملك العليّ الأعظم … اقطع وريدي كلّ باغ ينئمُ

واحسم بسيفك داء كلّ منافق … يبدي الجميل وضدّ ذلك يكتمُ

لا تحقرنّ من الكلام قليله … إنّ الكلام له سيوف تكلمُ

والملك يحمي ملكه عن لفظة … تسري فتجلي عن دواةٍ تعظمُ

فضلاً عن الكلم الذي قد أصبحت … غوغاؤنا جهراً به تتكلمُ

فالله يعلم أن كلّ مؤمل … مثلي على حذر وخوف منهمُ

فالدمع من أجفاننا متهلّل … والنار في أحشائنا تتضرمُ

ولقد علمتَ ولن نبصّرك الهدى … فلأنت أهدى في الأمور واعلمُ
হে দাম্ভিক আলফনসো! হে বালক, তুমি কেন এই শ্রেষ্ঠত্ব পরিহার করলে না? … পুরুষরা নয় বরং মহিলারা তোমাকে প্রশ্ন করবে; অতএব হে ইসাম, তোমার পেছনে যা ঘটেছে তা ব্যক্ত করো।

তোমার ভূমিতে উদিত হতে থাকা বিপর্যয়গুলো লক্ষ্য করো, … যেমন করে মেঘমালা তার বজ্রপাত উপহার দেয়।

তুমি যুদ্ধের এক বাজার বসিয়েছ, সুতরাং তা গ্রহণ করো; … এটি এক কদর্য বাণিজ্য এবং তোমার যা ক্ষতি হচ্ছে তা তুচ্ছ জ্ঞান করো।

যদি তুমি রৌপ্য চাও তবে সেখানে সাম রয়েছে, … আর যদি স্বর্ণ চাও তবে সেখানে হাম রয়েছে।

তোমার মহিমা কল্পনা যা দিতে পারে তার ঊর্ধ্বে, … আর তোমার কর্ম কথা যা শুনতে পায় তার চেয়েও বড়।

তুমি এক শুভ নেয়ামত, সুতরাং তুমি আমাদের জন্য নিরাপদে থাকো, … আর তোমার মধ্যে পূর্ণতা সর্বদা বিরাজ করুক।

ইবনে সুমাদিহ প্রতিটি বিরল ও সূক্ষ্ম অর্থ দ্বারা তার মন জয় করার কৃত্রিম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, আর তার ও আল-মুতামিদের মধ্যকার সম্পর্ক কলুষিত ও ধ্বংস করছিলেন। তিনি তাদের মাঝে উস্কানি ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। অতঃপর যখন তাকে তার হীন অপচেষ্টা সম্পর্কে জানানো হলো এবং তার বিদ্রোহের সত্যতা প্রকাশ পেল, তখন তিনি তাকে লিখলেন: (কামিল ছন্দে)

 

হে আমার সামনে অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে আস্ফালনকারী! … তুমি আস্ফালন করো না, কারণ আমি অনুতপ্ত হতে যাওয়া ব্যক্তির জন্য উপদেশ দিয়েছি।

যাকে আমার কোমল স্বভাব ধোঁকায় ফেলেছে, … জেনে রেখো সে এক বিশাল বিষধর সাপের বুকের নিচে অবস্থান করছে।

আর তার মহান বৈশিষ্ট্যসমূহ, সমুন্নত সিদ্ধান্তসমূহ, রাজকীয় চরিত্র এবং গগনচুম্বী সংকল্পসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, ইবনে জায়দুন—যিনি তার পিতার উজির ছিলেন, যিনি তার প্রতাপ প্রকাশ করেছিলেন, তার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন, তার প্রভাতকে তিমিরমুক্ত করেছিলেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও রাষ্ট্রের চাকা সচল রেখেছিলেন; তিনি তাকে তার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেছিলেন এবং তার সামনে তার কর্মচারী ও উজিরদের পর্যুদস্ত করাকে সুশোভিত করেছিলেন। ফলে তিনি তাদের হৃদয়ে কন্টকস্বরূপ এবং তাদের আনন্দের মাঝে নিরানন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অতঃপর যখন আল-মুতাদিদের কবরে মাটি দেওয়া হলো এবং শাসনভার আল-মুতামিদের কাছে হস্তান্তরিত হলো, তারা ইবনে জায়দুনের প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হলো এবং বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হলো এবং তার পতন ঘটাতে প্ররোচিত করল। তারা তার পদমর্যাদা ধ্বংস করার মধ্যেই সঠিক পথ দেখতে পেল। তারা তার সাথে তেমনই আচরণ করতে চাইল যা সে তাদের সাথে করতে চেয়েছিল এবং তারা তার বিরুদ্ধে তেমন ষড়যন্ত্র করল যেমনটি সে তাদের বিরুদ্ধে করেছিল। অতঃপর তারা আল-মুতামিদের কাছে একটি পত্র পাঠাল যাতে ছিল: (কামিল ছন্দে)

 

হে সমুন্নত মহামতি সম্রাট! … প্রত্যেক সেই ফিতনাবাজ সীমালঙ্ঘনকারীর শাহরগ কেটে দিন।

আপনার তরবারি দ্বারা প্রত্যেক মুনাফিকের ব্যাধি নির্মূল করুন, … যে বাহ্যিকভাবে সৌন্দর্য প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে তার বিপরীতটি গোপন রাখে।

কথার সামান্য অংশকেও তুচ্ছজ্ঞান করবেন না, … কেননা কথার এমন তীক্ষ্ণ তলোয়ার রয়েছে যা ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।

আর সম্রাট তার রাজত্বকে সামান্য এমন একটি শব্দ থেকেও রক্ষা করেন … যা ছড়িয়ে গিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় বা কলঙ্ক বয়ে আনতে পারে।

সেই সব কথার কথা তো বলাই বাহুল্য, যা নিয়ে … আমাদের সাধারণ মানুষ এখন প্রকাশ্যে আলোচনা করছে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে, আমার মতো প্রত্যেক আশাবাদী ব্যক্তিই … তাদের থেকে সতর্ক ও শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।

ফলে আমাদের নয়নদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে, … আর আমাদের অন্তরে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে।

আপনি তো অবগতই আছেন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে আসিনি; … কেননা আপনি সকল বিষয়ে অনেক বেশি হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং অনেক বেশি প্রজ্ঞাবান।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٥)
إنّ الملوك تخاف من أبنائها … فتحلّ من مهجاتهم ما يحرمُ

ولذاك قيل الملك أعقم لم يزل … فيه الوليّ يثير حرباً تضرمُ

فاحسم دواعي كلّ شرّ دونه … فالداء يسري أن غدا لا يحسمُ

كم سقط زند قد نما حتّى غدا … بركان نار كل شيء يحطمُ

وكذلك السيل الجحافُ فإنّما … أولاه طلّ ثمّ وبل يسجم

والمال يخرج أهله عن حدّهمْ … فأفهم فإنّك بالبواطن أفهمُ

واذكر صنيع أبيك أوّلَ مرّةٍ … في كلّ متّهمٍ فإنّك تعلمُ

لم يبق منهم من توقّع شرّه … فصفتْ له الدنيا ولذّ المطعمُ

فعلى مَ تنكلُ عن صنيع مثله … ولانت أمضى في الخطوب وأشهمُ

وجنانك الثبت الذي لا ينثني … وحسامك العضب الذي لا يكهمُ

والحال أوسعُ والعوالي جمّة … والمجدّ أشمخُ والصريمة ضيغمُ

لا تتركنْ للنّاس موضعَ تهمةٍ … واحزم فمثلك في العظائم يحزمُ

قد قال شاعر كندة فيما مضى … بيتاً على مرّ الليالي يعلمُ

لا يسلم الشرف الرفيع من الأذى … حتّى يراق على جوانبه الدمُ

فاجعله قدوتك التي تعتادها … في كلّ من يبغي ورأيك أحكمُ

واسلم على الأيّام أنك زينها … وجمالها والدهر دونك ماتمُ

لازلتَ بالنصر العزيز مهنّئاً … والدين عن محمود سعيك يبسمُ

وغدت على الأعداء منك رزينةً … لا تستقلّ بها وخطب صيلمُ

ووقيت مكروه الحوادث واغتدت … طير السعود بإيككم تترنّمُ

فلما قرأها المعتمد عف عما أرادوه، وكف ألسنة الذين كادوه، بمراجعة حلت من بغيهم ما انعقد، وزأرت عليهم زئير الليث على النقد، دلت على تحققه بالرياسة، وتسنمه لذرى النفاسة، وتقليل لأيمة العدل المعرضين عن الوشاة، الرافضين للبغاة، العارفين بمعاني السعايات وأسبابها، النابذين لأصحابها وأربابها، فأجمل حلي الملوك التصامم عن سماع القدح في ولي، والتعاظم عن الوضع لعلي، والهجر لمن بغي، والزجر لمن نعب بمكروه أورغا، والمراجعة: كامل

 

كذبتْ مناكم صرحوا أو جمجموا … الدين أمتن والسجيّة أكرمُ

خنتم ورمتم إن أخون وربّما … حاولتمُ أن يستخفّ يلملمُ
রাজন্যবর্গ তাদের সন্তানদের থেকে ভয় পায় … ফলে তারা তাদের প্রাণের বিনিময়ে এমন কাজ বৈধ করে নেয় যা নিষিদ্ধ।

আর সেই কারণেই বলা হয় যে, রাজত্ব সর্বদা বন্ধ্যা … যেখানে উত্তরাধিকারী প্রজ্বলিত যুদ্ধ উসকে দেয়।

সুতরাং তার পূর্বেই অনিষ্টের সকল কারণ নির্মূল করুন … কারণ রোগ যদি আজ দমন করা না হয়, তবে তা ছড়িয়ে পড়ে।

কতই না ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ বৃদ্ধি পেয়ে এমন রূপ নিয়েছে … যা অবশেষে সব কিছু ধ্বংসকারী আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।

প্রবল বন্যার অবস্থাও তদ্রূপ, কারণ তার … শুরু হয় সামান্য শিশিরকণা দিয়ে, তারপর তা মুষলধারে বর্ষণে রূপ নেয়।

সম্পদ তার মালিককে সীমালঙ্ঘন করতে বাধ্য করে … বিষয়টি অনুধাবন করুন, কেননা আপনি অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি সম্পর্কে অধিক সম্যক জ্ঞাত।

প্রত্যেক অভিযুক্তের ক্ষেত্রে আপনার পিতার পূর্বের পদক্ষেপগুলো স্মরণ করুন … কেননা আপনি সে সম্পর্কে অবগত আছেন।

যাদের থেকে অনিষ্টের আশঙ্কা ছিল তাদের কাউকেই তিনি অবশিষ্ট রাখেননি … ফলে পৃথিবী তার জন্য নিষ্কণ্টক হয়েছিল এবং আহার হয়েছিল সুস্বাদু।

তবে কেন আপনি অনুরূপ কাজ থেকে বিরত থাকছেন … অথচ আপনি বিপদসংকুলে অধিকতর দৃঢ় এবং অধিকতর সাহসী।

আপনার হৃদয় অটল যা কখনও দমে যায় না … এবং আপনার তরবারি অত্যন্ত ধারালো যা কখনও ভোঁতা হয় না।

পরিস্থিতি এখন অনুকূল, সাহায্যকারী প্রচুর … মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ এবং সংকল্প সিংহের ন্যায় অজেয়।

মানুষের মনে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখবেন না … এবং কঠোর হোন, কেননা আপনার মতো ব্যক্তিরাই মহৎ কাজে কঠোরতা অবলম্বন করেন।

অতীতে কিন্দাহ গোত্রের কবি এমন এক পংক্তি বলেছেন … যা যুগের পর যুগ ধরে মানুষের জানা।

সুউচ্চ মর্যাদা অনিষ্ট হতে রক্ষা পায় না … যতক্ষণ না তার চারপাশে রক্ত প্রবাহিত হয়।

একেই আপনার আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করুন … যে বিদ্রোহ করতে চায় তার বিরুদ্ধে, আর আপনার সিদ্ধান্তই সর্বাধিক প্রাজ্ঞ।

দীর্ঘকাল নিরাপদ থাকুন কারণ আপনিই এর অলংকার … ও সৌন্দর্য, আর আপনি ব্যতীত কাল যেন এক শোকাতুর গৃহ।

আপনি সর্বদা গৌরবময় বিজয়ের অভিবাদন পেতে থাকুন … আর আপনার প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার দরুন ধর্ম আনন্দিত হোক।

আপনার পক্ষ থেকে শত্রুদের ওপর এমন ভারী আঘাত আসুক … যা তারা সহ্য করতে পারবে না এবং তা হবে সমূলে বিনাশকারী বিপদ।

আপনি অনিষ্টকর ঘটনাবলি হতে সুরক্ষিত থাকুন এবং সৌভাগ্যের পাখিরা … আপনার উদ্যানে গুঞ্জন করতে থাকুক।

যখন আল-মুতামিদ এটি পাঠ করলেন, তখন তারা যা চেয়েছিল তা থেকে তিনি নিজেকে বিরত রাখলেন এবং যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তাদের কণ্ঠ রোধ করলেন এমন এক প্রত্যুত্তরের মাধ্যমে যা তাদের বিদ্রোহের বন্ধন ছিন্ন করে দিল। এটি তাদের বিরুদ্ধে সিংহের গর্জনের ন্যায় প্রভাব ফেলল, যা তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণের পরিচয় দেয়। এটি ন্যায়পরায়ণ শাসকের সেই গুণের বহিঃপ্রকাশ যারা চোগলখোরদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না, বিদ্রোহীদের প্রত্যাখ্যান করেন এবং কুৎসা রটনার উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে এর হোতাদের বর্জন করেন। রাজন্যবর্গের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম অলংকার হলো মিত্রদের বিরুদ্ধে নিন্দা শোনা থেকে বধির হওয়া, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবমাননা থেকে নিজেকে রক্ষা করা, অবাধ্যদের ত্যাগ করা এবং অমঙ্গলকামীদের কঠোরভাবে দমন করা। আর প্রত্যুত্তরটি হলো পূর্ণ ছন্দে:

 

তোমাদের আকাঙ্ক্ষা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, তোমরা তা স্পষ্টভাবে বলো কিংবা অস্পষ্টভাবে … দ্বীন অধিক সুদৃঢ় এবং স্বভাব অধিক মহৎ।

তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছ এবং চেয়েছ যে আমিও যেন বিশ্বাসঘাতকতা করি … সম্ভবত তোমরা ইলামলাম পাহাড়কেও হালকা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছ।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٦)
وأردتّمُ تضييق صدرٍ لم يضق … والسمر في ثغر النحور تحطِّمُ

وزحفتمُ بمحالكم لمجرّبٍ … ما زال يثبت للمحال فيهزمُ

أنّى رجوتم غدرَ من جرّبتمُ … منه الوفاء وظلمَ من لا يظلمُ

أناذلكمْ لا البغي يثمر غرسه … عندي ولا مبنى الصنيعة يهدمُ

كفّوا وإلاّ فارقبوا لي بطشةً … يلقى السفيه بمثلها فيحلّمُ

فلما بلغ ابن زيدون ما راجعهم به، وتحقق حسن مذهبه، وعلم أن مخيلتهم قد أخفقت، وسعايتهم ما نفقت، وسهامهم تهزعت، ومكائدهم تبددت وتوزعت، قال يمدحه ويعرض بهم: كامل

 

الدهر أن اسأل فصيح أعجمُ … يعطي اعتباري ما جهلت فاعلمُ

وإذا الفتى قدر الحوادث قدرها … ساوى لديه الشهدَ منها العلقمُ

وإذا نظرت فلا اغترارٌ يقتضي … كنهَ المالِ ولا توقٍّ يعصمُ

كم قاعدٍ يحظى تعجّل حظّه … من جاهد يصل الدروب فيحرمُ

وأرى المساعي كالسيوف تبادرت … شاو المضاء فمنثنٍ ومصمّمُ

ولكم تسامى بالرفيع نصابهُ … خطراً فناصبه الوضيع الآلامُ

واشدّ فاجئه الدواهي محسنٌ … يسعى فيلقه الجريمةَ مجرمُ

تلقى الحسود أصمَّ عن جرس الرقى … ولقد يصيح إلى الرقاة الأرقمُ

قل للبغاة المنبضين قسيّهم … سترون من تصميه تلك الأسهمُ

أسررتمُ فرأى نجيّ غيوبكم … شيحان ملموم عليها ملهمُ

وعبأتم للفسق ظفر سعاية … لم يعدكم إذ ردّ وهو مقلّمُ

ونبذتم التقوى وراء ظهوركم … فغدا نقيضكمُ التقيّ المسلمُ

ما كان حلم محمّد ليحيله … عن عهد دغل الضمير مذمّمُ

ملك تطلّع للخواطر غرّة … زهراء زين بها الزمان الأدهمُ

يغشى النواظر من جهير روائه … خلق يرى ملء الصدور مطهّمُ

وسنا جبين يستبين شعاعه … يغني عن القمرين من يتوسّمُ

خلق تودّ الشمس لو صيغت له … تاجاً ترصّع جانبيه الأنجمُ

فضحت محاسنه الرياض بكى الحيا … وهمى عليها فاغتدت تبتسّمُ

فالغدر يبعد والتواضع يدّني … والبشر يشمس والندى يتغيّمُ
আপনারা এমন এক বক্ষকে সংকুচিত করতে চেয়েছিলেন যা কখনও সংকীর্ণ হয়নি … যখন বাদামী বর্ণের বর্শাসমূহ কণ্ঠনালীর উপরিভাগে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।

আপনারা আপনাদের অসার প্রপঞ্চ নিয়ে এমন এক অভিজ্ঞ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়েছেন … যিনি সর্বদা অসম্ভবের বিরুদ্ধে অটল থাকেন এবং তাকে পরাজিত করেন।

আপনারা যাঁর কাছে বিশ্বস্ততা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁর থেকে কীভাবে বিশ্বাসঘাতকতার আশা করলেন … এবং এমন একজনের থেকে জুলুমের আশা করলেন যিনি কখনও জুলুম করেন না?

হে নিকৃষ্ট সম্প্রদায়! আমার কাছে বিদ্রোহের বৃক্ষ সুফল দেয় না … এবং উপকারের যে ইমারত তা ধ্বংস করা যায় না।

ক্ষান্ত হও, নতুবা আমার এমন এক কঠোর আঘাতের অপেক্ষা করো … যার মুখোমুখি হলে নির্বোধ ব্যক্তিও ধৈর্যশীল ও হুঁশিয়ার হয়ে যায়।

যখন ইবনে যায়দুন তাদের প্রতি তাঁর দেওয়া এই প্রত্যুত্তর সম্পর্কে অবগত হলেন এবং তাঁর মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলেন, আর জানলেন যে তাদের কল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের চোগলখুরি কাজে আসেনি, তাদের তীরসমূহ ভেঙে গেছে এবং তাদের চক্রান্তসমূহ ছিন্নভিন্ন ও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে; তখন তিনি তাঁর প্রশংসা করে এবং তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে কামিল ছন্দে বললেন:

 

কাল বা সময়, আমি যদি প্রশ্ন করি, তবে সে এক বাগ্মী মূক … সে আমার উপলব্ধিকে তা দান করে যা আমি জানতাম না, ফলে আমি জানতে পারি।

যখন কোনো যুবক বিপদাপদকে তার সঠিক মাপে পরিমাপ করে … তখন তার কাছে তার মিষ্টতা ও তিক্ততা সমান হয়ে যায়।

আর আপনি যদি লক্ষ্য করেন, তবে কোনো বিভ্রান্তিই পরিণতির স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে পারে না … এবং কোনো সতর্কতাও রক্ষা করতে পারে না।

কত উপবিষ্ট ব্যক্তি আছে যে দ্রুত তার ভাগ্য লাভ করে … আবার কত কঠোর পরিশ্রমী আছে যে সঠিক পথ পর্যন্ত পৌঁছেও বঞ্চিত হয়।

আমি প্রচেষ্টাগুলোকে তলোয়ারের ন্যায় দেখি যা তীব্রতার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় … ধারাল হওয়ার লক্ষে কেউ নুয়ে পড়ে, আবার কেউ লক্ষ্যে অবিচল থাকে।

কত উচ্চবংশীয় ব্যক্তিই না তার মর্যাদায় সমুন্নত হয়েছে … কিন্তু নীচ ব্যক্তি তাকে ব্যথার মাধ্যমে প্রতিহত করতে চেয়েছে।

বিপদে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সেই ইহসানকারী … যে কল্যাণ কামনায় সচেষ্ট হয়, অথচ জনৈক অপরাধী তাকে অপরাধের মাধ্যমেই মোকাবেলা করে।

আপনি হিংসুক ব্যক্তিকে মন্ত্রের শব্দের প্রতি বধির পাবেন … অথচ বিষধর কৃষ্ণসর্পও মন্ত্রপাঠকারীর ডাকে সাড়া দেয়।

সেই সব বিদ্রোহীদের বলুন যারা তাদের ধনুকে ছিলা চড়িয়েছে … শীঘ্রই তোমরা দেখতে পাবে যে সেই তীরসমূহ কাকে বিদ্ধ করে।

তোমরা যা গোপন করেছিলে, তোমাদের অদৃশ্যের সেই রহস্যসমূহ এমন এক ব্যক্তি দেখে ফেলেছেন … যিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ, প্রত্যুৎপন্নমতি এবং সেই বিষয়ে ইলহামপ্রাপ্ত।

আর তোমরা পাপাচারের জন্য চোগলখুরির যে নখর প্রস্তুত করেছিলে … তা তোমাদেরই ক্ষতি করেছে যখন তা কর্তিত অবস্থায় ফিরে এসেছে।

তোমরা তাকওয়াকে তোমাদের পেছনে নিক্ষেপ করেছ … ফলে তোমাদের প্রতিপক্ষ একজন মুত্তাকী মুসলিম হয়ে গেছেন।

মুহাম্মাদের ধৈর্য এমন ছিল না যে তাকে বিচ্যুত করতে পারে … কোনো কুটিল হৃদয়ের নিন্দনীয় ব্যক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপচেষ্টা।

তিনি এমন এক রাজা যাঁর উদয় চিন্তার জগতে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা … এক শুভ্র ললাট, যা দ্বারা এই অন্ধকার সময় সুশোভিত হয়েছে।

তাঁর জাঁকজমকপূর্ণ সৌন্দর্যে দৃষ্টিসমূহ অভিভূত হয়ে যায় … এমন এক চরিত্র যা অন্তরে পূর্ণতা দানকারী ও নিখুঁত হিসেবে প্রতিভাত হয়।

এবং ললাটের এমন জ্যোতি যার বিকিরণ সুস্পষ্ট … যা পর্যবেক্ষণকারীর জন্য সূর্য ও চন্দ্রের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।

এমন এক চরিত্র যার জন্য সূর্য আকাঙ্ক্ষা করে যদি সে একটি মুকুট হতো … এমন এক মুকুট যার উভয় পার্শ্ব নক্ষত্ররাজি দ্বারা খচিত।

তাঁর সৌন্দর্য উদ্যানসমূহকে লজ্জিত করেছে, মেঘমালা রোদন করেছে … এবং তাদের ওপর বারিবর্ষণ করেছে, ফলে তারা হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

বিশ্বাসঘাতকতা দূরে সরে যায় আর বিনয় নিকটবর্তী করে … প্রফুল্লতা সূর্যের ন্যায় উদ্ভাসিত হয় আর দানশীলতা মেঘের রূপ ধারণ করে বারিবর্ষণ করে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٧)
جذلان في يوم الوغا متطلّق … وجها إليها والردى متجهّمُ

باس كما صال الهزبر إزاءه … جهودكما جاش الخضمُّ الخضرمُ

نفسي فداؤك أيّها الملك الذي … كلّ الملوك له العلاءَ يسلّمُ

سدتَّ الجميع فليس منهم منكر … إن صرتَ فذّهمُ الذي لا يتأمُ

لا غرو إنّ المجد في حكم الحجنى … من أن يضاف إليك صنو اعقمُ

ما أن يرى كخصالك الزهر التي … منها على زهر الكواكب ميسمُ

المحتد الزاكي السرى والسوود السّ? … ?امي الذوائب والفخار الأعظمُ

والحلم يرسخ هضبه والعلم يز … خرُ بحره ولظى الذكا يتضرّمُ

دع ذكر صخر وابن صخر بعده … أنت الحليم وغيرك المتحلّمُ

لك عفوُ شهمٍ لا يضيع حزامه … ولئن بطشت فبطش من لا يظلمُ

إنّ الكمال شرحت معنى لفظه … ولكان وهو المشكل المستبهمُ

الله قد أرضاه منك تخرّجٌ … ثقف وعقد في التقى مستحكمُ

لمّا اعتمدتَّ عليه كان بنصره … داباً مويدك الذي لا يسلمُ

فمتى أودّي فرض أنعمك التي … وبلت كما يبل السحاب المسجمُ

أمطيتني متن السماك برتبةٍ … علياءِ منكب عزّها لا يزحمُ

وتركت حسادي عليك وكلّهم … شاكي حشا يدوي وأنف يرغمُ

نصح العدا في زعمهم فوقمتهم … والغشّ في بعض النصائح مدغمُ

وثناهمُ ثبتٌ قناة أناته … خلقاء يصلب متنها غذ يعجمُ

وزهاهم نظم الهراءِ فكفّهم … نظم عقود السحر منه تنظّمُ

أشرعت منه إلى الغواة أسنّة … نفذت وقد ينبو الطرير اللهذمُ

فرقٌ عوت فزأرتَ زأرةَ زاجر … راع الكليبَ بها السبتني الضيغمُ

ياليت شعري هل يعود سفيههمْ … أم قد حماه النبح ذاك الأكعمُ

لي منك فليذب الحسود تلظّيا … لطف المكانة والمحلّ الأكرمُ

وشفوف حظّ ليس يفتؤ يجتلي … غضّ الشباب وكلّ غضّ يهرمُ

لم تلف صاغيتي لديك مضاعة … كلاّ ولا حقّ اصطناعي الأقدمُ

بل أوسعتْ حفظاً وصدق رعاية … ذممُ موثّقة العرى لا تفصمُ

فليخرقنّ الأرض شكرٌ منجد … منّي تناقله المحافل متهمُ
যুদ্ধের দিনে তিনি আনন্দিত ও প্রফুল্ল … যখন তিনি যুদ্ধের মুখোমুখি হন অথচ মৃত্যু সেখানে ভ্রুকুটি কুঞ্চিত করে রাখে।

তেমনই পরাক্রমশালী যেমন সম্মুখপানে সিংহ আক্রমণ করে … আপনাদের প্রচেষ্টায় উদ্বেলিত হয়েছে অঢেল ও প্রশস্ত সমুদ্র।

আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক হে সম্রাট! যাঁর কাছে … সকল রাজন্যবর্গ উচ্চমর্যাদা সমর্পণ করে।

আপনি সকলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন, তাই তাদের কেউ তা অস্বীকারকারী নয় … যেহেতু আপনি এমন এক অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন যাঁর কোনো জোড়া নেই।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, প্রজ্ঞার বিচারে মহিমা … আপনার সাথে কোনো সদৃশ বা সমকক্ষকে যুক্ত করতে অসমর্থ।

আপনার সেই উজ্জ্বল গুণাবলির মতো আর কিছু দেখা যায় না … যার ছাপ উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ওপরেও বিদ্যমান।

পবিত্র বংশধারা, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুউচ্চ … শিখর ও সুমহান গৌরব।

সহিষ্ণুতা তার পাহাড়কে সুদৃঢ় করে এবং জ্ঞান তার … সমুদ্রকে পরিপূর্ণ করে, আর বুদ্ধিমত্তার শিখা প্রজ্জ্বলিত হয়।

সাখর এবং তার পরবর্তী ইবনে সাখরের আলোচনা ত্যাগ করুন … আপনিই প্রকৃত সহিষ্ণু, আর অন্যেরা কেবল সহিষ্ণুতার ভানকারী।

আপনার মাঝে রয়েছে বীরোচিত ক্ষমা যার সংকল্প কখনো শিথিল হয় না … আর যদি আপনি আঘাত করেন, তবে তা হয় এমন একজনের আঘাত যিনি জুলুম করেন না।

নিশ্চয়ই আপনি 'পূর্ণতা' শব্দের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করেছেন … অথচ তা ছিল এক জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়।

আল্লাহ আপনার পক্ষ থেকে এমন এক শৃঙ্খলাকে পছন্দ করেছেন … যা সুশিক্ষিত এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে এক সুদৃঢ় বন্ধন।

যখন আপনি তাঁর ওপর ভরসা করলেন, তখন তাঁর সাহায্যই ছিল … আপনার চিরন্তন সহায়তাকারী, যিনি কাউকে অসহায় ছেড়ে দেন না।

আমি কখন আপনার সেই সব নিয়ামতের হক আদায় করব যা … বর্ষণোন্মুখ মেঘের মতো অঝোরে বর্ষিত হয়েছে?

আপনি আমাকে সুউচ্চ মর্যাদার মাধ্যমে নক্ষত্রলোকের পিঠে সওয়ার করেছেন … যার গৌরবের কাঁধে ভিড় জমানোর সাধ্য কারও নেই।

আর আপনি আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিদের এমন অবস্থায় ছেড়েছেন যে তারা সবাই … অন্তরের যন্ত্রণায় কাতর এবং অপমানিত।

শত্রুরা তাদের ধারণায় হিতাকাঙ্ক্ষা করেছিল, কিন্তু আপনি তাদের পর্যুদস্ত করেছেন … অথচ কিছু উপদেশের অন্তরালে প্রতারণা লুকিয়ে থাকে।

তাদেরকে হটিয়ে দিয়েছে তাঁর সহিষ্ণুতার সুদৃঢ় বল্লম … যা পরীক্ষার সময় অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত প্রমাণিত হয়।

নিরর্থক বাক্যের বিন্যাস তাদের বিভ্রান্ত করেছিল, অতঃপর আপনার … যাদুমাখা ছন্দের মালিকা তাদের নিবৃত্ত করেছে।

আপনি সেই কাব্য থেকে বিভ্রান্তদের দিকে এমন বর্শা নিক্ষেপ করেছেন … যা বিদ্ধ করে চলে গেছে, যেখানে ধারালো তলোয়ারও হয়তো ব্যর্থ হতো।

নানা দল চিৎকার করছিল, তখন আপনি গর্জনকারীর মতো এমন হুঙ্কার দিলেন … যার মাধ্যমে পরাক্রমশালী সিংহ কুকুরগুলোকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে।

হায়! যদি আমি জানতাম তাদের নির্বোধরা কি ফিরে আসবে … নাকি সেই মুখবন্ধনী তাদের ঘেউ ঘেউ করা থেকে বিরত রাখবে?

আপনার পক্ষ থেকে আমার জন্য রয়েছে—হিংসুকেরা জ্বলনে গলে যাক— … অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান ও সম্মানজনক অবস্থান।

এবং ভাগ্যের এমন ঔজ্জ্বল্য যা সর্বদা প্রস্ফুটিত হতে থাকে … চিরযৌবনের মতো, যদিও প্রতিটি সজীব বস্তুই বার্ধক্যে উপনীত হয়।

আপনার কাছে আমার আনুগত্য বৃথা যায়নি … আর না আমার দীর্ঘদিনের সেবার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

বরং তা লাভ করেছে হিফাযত ও অকৃত্রিম যত্নের প্রশস্ততা … এমন সুদৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে যা কখনো ছিন্ন হয় না।

সুতরাং আমার পক্ষ থেকে এমন এক উচ্চকণ্ঠ কৃতজ্ঞতা ধরণীকে বিদীর্ণ করবে … যা সকল মজলিসে সর্বত্র প্রচারিত হবে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٨)
عطر هو المسك السطيع يطيب في … شمّ العقول أريجه المتنسّمُ

فإذا غصون المكرمات تهدّلت … كان الهديل ثناءها المترنّمُ

الفخر ثغر عن حياضك باسم … والمجد بردَ من وفائك معلمُ

فاسلم مدى الدنيا جمالها … وتسوّغ النعمى فإنّك منعمُ

ولما ثل عرش الخلافة وخوى نجمها، ووهى ركن الإمامة وطمس رسمها، وصار الملك دعوى، وعادت العافية بلوى، استنسر البغاث، وصحت الأضغاث، واستاسد الظبي في كناسه، وثار كل أحد في ناسه، وخلت المنابر من رقاتها، وفقدت الجمع مقيمي أوقاتها، وكان باديس بن حبوس بغرناطة عاثياً في فريقه، عادلاً عن سنن العدل وطريقه، يجتري على الله غير مراقب، ويجري إلى ما شاء غير ملتفت للعواقب، قد حجب سنانه لسانه، وسبقت إساءته إحسانه، ناهيك من رجل لم يبت من ذنب على ندم، ولا شرب الماء إلا من قليب دم، احزم من كاد ومكر، وأجرم من راح وابتكر، ومازال متقداً في مناحيه، مفتقداً لنواحيه، لا يرام بريث ولا عجل، ولا يبيت له جار إلا على وجل، إلى أن وكل أمره إلى احد اليهود واستكفاه، وجرى في ميدان لهوه حتى استوفاه، وأمره أضيع من مصباح الصباح، وهمه في غبوق واصطباح، وبلاده مراد للفاتك، وستره في يد الهاتك، فسقط الخبر على المعتضد بالله ملقح الحرب، ومنتج الطعن والضرب، الذي صار الطير تحت أجنحة العقبان، وأخذ الفريسة من فم الثعبان، فسدد إلى مالقة سهمه وسنانه، ورد إليها طرفه وبنانه، وصمم إليها تصميم سابور إلى الحضر، وعزم عليها عزيمة رسول الله صلى الله عليه وسلم على النضر، ووجه إليها جيشه المتزاحم الأفواج، المتلاطم الأمواج، وعليه سيفه المستل، وحتفه المحتل، ابنه المعتمد سهام الأعادي، وحمام الأسد العادي، فلما أطل عليها أعطته صفقتها، وأمطته صهوتها، إلا قصبتها فإنها امتنعت بطائفة من السودان المغاربة لم يرضوا سفاحها، ولا أمضوا نكاحها، وفي أثناء امتناعهم، وخلال مجادلتهم ودفاعهم، طيروا إلى باديس من ذلك خبراً أصحاه من نشوته، ولحاه على صبوته، فأخرج من حينه كتيبته التي كانت ترمي بالزند، ولا تنثني عن القنا القصد، وعليها ابن الناية قائد جنده، وموري زند، وقد كان أشار على المعتمد برابرة بتنفيس الممتنعين ولووه عن مساورتهم، وثنوه عن مراوحتهم ومباكرتهم، ومنعوه من نزالهم، وأطمعوه في استنزالهم، إنما كان ذلك أبقى على
সুগন্ধি তো সেই প্রস্ফুটিত কস্তুরী, যা সুবাসিত হয়... বিবেকসমূহ যার প্রবাহিত সুঘ্রাণ আঘ্রাণ করে।

যখন মহত্বের শাখাগুলো অবনমিত হয়... তখন ঘুঘুর ডাক হয় তাদের সুরেলা প্রশংসা।

গর্ব আপনার হ্রদসমূহের ওপর এক হাস্যোজ্জ্বল মুখ... এবং মর্যাদা আপনার বিশ্বস্ততা দ্বারা চিহ্নিত একটি চাদর।

পৃথিবীর আয়ুষ্কাল পর্যন্ত এর সৌন্দর্য হয়ে আপনি শান্তিতে থাকুন... এবং নেয়ামত আস্বাদন করুন, কেননা আপনিই নেয়ামতপ্রাপ্ত।

যখন খিলাফতের সিংহাসন চূর্ণ-বিচূর্ণ হলো এবং তার সৌভাগ্য-নক্ষত্র খসে পড়ল, যখন ইমামতের স্তম্ভ দুর্বল হয়ে গেল এবং তার নাম-নিশানা মুছে গেল, যখন রাজত্ব কেবল দাবিতে পর্যবসিত হলো এবং নিরাপত্তা মুসিবতে পরিণত হলো, তখন তুচ্ছ পাখিরাও ঈগলের ন্যায় প্রতাপ দেখাতে শুরু করল, অলীক কল্পনাগুলো সত্য মনে হতে লাগল, হরিণ তার ডেরায় সিংহের ন্যায় আচরণ শুরু করল, আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ গোত্রে বিদ্রোহ করে বসল। মিম্বরগুলো খতিব শূন্য হয়ে পড়ল এবং জুমার জামাতগুলো সময়মতো প্রতিষ্ঠাকারীদের হারাল। গ্রানাডায় বাদিস ইবন হাবুস তার প্রজাদের ওপর উৎপীড়ন চালাচ্ছিল, ইনসাফের পথ ও পদ্ধতি থেকে সে বিচ্যুত ছিল। সে আল্লাহর ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে দুঃসাহস দেখাত এবং পরিণতির কথা চিন্তা না করে আপন খেয়ালখুশিমতো চলত। তার বর্শার ফলা তার জিহ্বাকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল এবং তার অসদাচরণ তার সদাচরণের ওপর প্রাধান্য পেয়েছিল। এমন এক ব্যক্তির কথা ভাবুন, যে কোনো পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে রাত কাটাত না এবং রক্ত ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে তৃষ্ণা মেটাত না। ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে সে ছিল অত্যন্ত নিপুণ, আর পাপাচারে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সে সর্বদা তার লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট থাকত এবং নিজ সীমানা রক্ষায় সজাগ থাকত। না তাকে মন্থর গতিতে কাবু করা যেত, না দ্রুততায়। কোনো প্রতিবেশীই চরম আতঙ্ক ছাড়া তার পাশে রাত কাটাতে পারত না। শেষ পর্যন্ত সে তার যাবতীয় দায়িত্ব এক ইহুদির হাতে ন্যস্ত করল এবং তাকেই যথেষ্ট জ্ঞান করল। সে আমোদ-প্রমোদে এমনভাবে মত্ত হলো যে তার শেষ সীমায় পৌঁছে গেল। তার শাসনব্যবস্থা প্রভাতের প্রদীপের চেয়েও অবহেলিত হয়ে পড়ল এবং তার সমস্ত চিন্তা সকাল-সন্ধ্যার মদ্যপানে নিমগ্ন থাকল। তার দেশ হয়ে উঠল লুণ্ঠনকারীদের বিচরণক্ষেত্র এবং তার মান-মর্যাদা লাঞ্ছনাকারীদের হাতে চলে গেল। এই সংবাদ মুতাদিদ বিল্লাহর কাছে পৌঁছাল, যিনি ছিলেন যুদ্ধের উদ্দীপক এবং বর্শার আঘাত ও তরবারির যুদ্ধের কারিগর। যার প্রভাবে পাখিরা বাজপাখির ডানার নিচে আশ্রয় নিত এবং যিনি অজগরের মুখ থেকে শিকার ছিনিয়ে নিতেন। তিনি মালাগার দিকে তার লক্ষ্য স্থির করলেন এবং সেদিকে মনোনিবেশ করলেন। যেমনটি সাবুর 'হাযর' বিজয়ে সংকল্প করেছিলেন, আর যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'নদর' গোত্রের ব্যাপারে সংকল্প করেছিলেন। তিনি সেখানে তার সুশৃঙ্খল ও বিশাল বাহিনী প্রেরণ করলেন, যার তরবারি ছিল উন্মুক্ত এবং যার মৃত্যু ছিল অনিবার্য। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন তার পুত্র মুতামিদ, যিনি শত্রুদের জন্য তীরের ন্যায় এবং আক্রমণকারী সিংহের জন্য যমদূত স্বরূপ। বাহিনী যখন শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছাল, শহরবাসী তার বশ্যতা স্বীকার করল এবং আনুগত্যের মস্তক অবনত করল। কেবল শহরের দুর্গটি একদল মাগরেবি কৃণাঙ্গ সৈন্যের কারণে অবরুদ্ধ রয়ে গেল, যারা এর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে সম্মত ছিল না এবং এই সন্ধি মেনে নিতে রাজি হয়নি। তাদের এই প্রতিরোধ ও বাদানুবাদের মধ্যেই তারা বাদিসকে এই সংবাদ পাঠিয়ে দিল। এই সংবাদ তাকে তার মত্ততা থেকে জাগিয়ে তুলল এবং তার খামখেয়ালিপনার জন্য লজ্জিত করল। ফলে সে তৎক্ষণাৎ তার সেই বিশেষ বাহিনী পাঠাল যারা আগুনের স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ধ্বংসাত্মক ছিল এবং লক্ষ্যভেদী বল্লম থেকে কখনো বিচ্যুত হতো না। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল তার সেনাপতি ইবনুন নায়াহ, যে ছিল অত্যন্ত তেজোদ্দীপ্ত। বার্বাররা মুতামিদকে এই পরামর্শ দিয়েছিল যে, অবরুদ্ধদের ওপর চাপ কমিয়ে দেওয়া হোক এবং তাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ থেকে বিরত থাকা হোক। তারা তাকে সকাল-বিকাল লড়াই থেকে নিরস্ত করল এবং প্ররোচিত করল যে তারা এমনিতেই বশ্যতা স্বীকার করবে। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করা...
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ١٩)
الأقارب، وأتقى على أوليك المغارب، فعدل عن انتهاز فرصتهم، وإبراء غصتهم، إلى الاستراحة من تعبة، والإناخة على لهوه ولعبه، وتفرق أصحابه في ارتياد الفتيات، وطراد اللذات، فما أمسى إلا وقد غشيه ليلها، وسال عليه سيلها، وأصحابه بين صريع رحيق، ومنادى من مكان سحيق، فحاب سعيه، وبال رأيه، ونجا براس طمرة ولجام، وآوى إلى أحد المعاقل أعرى من الحسام، فحقد المعتضد عليه بتنفيسه لأهل القصبة، وأصاخته إلى تلك العصبة، وضربه بالعصي، ونكله تنكيل القصي، فكتب إليه: بسيط مجزوء

 

مولاي اشكو إليك داءً … أصبح قلبي به جريحاً

سخطك قد زادني سقاماً … فابعث إليَّ الرضى مسيحاً

فعفا عنه وصفح، وعبق له عرف رضاه ونفخ، وقد كان قبل كتب إليه حين أمره بالمقام بالموضع الذي نحا إليه مسجوناً يسليه، ويعرض له بالبربر ويستعطفه مما حصل فيه: بسيط

 

سكّن فؤادك لا تذهب به الفكر … ماذا يعيد عليك البثّ والحذرُ

فإن يكنْ قدر قد عاق عن وطر … فلا مرد لما يأتي به القدر

وإن تكن خيبة في الدهر واحدة … فكم غزوت ومن أشياعك الظفرُ

يا فارساً تحذر الأبطال صولته … صن حدّ عبدك فهو الصارم الذكرُ

قد أخلقتني صروف أنت تعلمها … وغال مورد أمالي لها كدر

فالنفس جازعة والعين دامعة … والصوت منخفض والطرف منكسرُ

قد حلت لوناً وما بالجسم من سقم … وشبت رأساً ولم يبلغني الكبرُ

لم يأت عبدك ذنباً يستحق به … عتبا وهاهو قد ناداك يعتذرُ

ما الذنب إلاّ على قوم ذوي دغل … وفي لهى عدلك المألوف إذ غدروا

قوم نصيحتهم غش وحبهم … يغض ونفعهم أن صرّفوا ضررُ

يميَّز البغض في الألفاظ أن نطقوا … ويعرف الحقد في الألحاظ أن نظروا

ولما بدت الفتنة وسال سيلها، وانسحب على بهجة الهدنة ذيلها، نازل المرابطون قرطبة وفيها ابنه المأمون وكان أشهر ملوك أوانه خيراً، وأيمنهم طيراً، وما اشتغل بمعاطاة المدامة، ولا توغل للعصيان شعب ندامة، فأقاموا عليها شهوراً، وأرخوا من محاصرتها والتضييق عليها ستوراً، يساورونها مساورة الأراقم، ويباكرونها
নিকটাত্মীয়গণ, এবং তিনি সেই পশ্চিমাঞ্চলীয়দের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। ফলে তিনি তাদের সুযোগ গ্রহণ এবং তাদের ক্ষোভ প্রশমনের পথ পরিহার করে ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম এবং খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তাঁর সঙ্গীরাও তরুণীদের অন্বেষণে এবং লালসা পূরণে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। সন্ধ্যা হতে না হতেই দুর্যোগের রাত তাকে আচ্ছন্ন করল এবং ধ্বংসের স্রোত তার ওপর দিয়ে বয়ে গেল। তাঁর সঙ্গীদের কেউ মদের নেশায় লুটিয়ে পড়ল, আবার কাউকে দূর-দূরান্ত থেকে ডাকা হচ্ছিল। ফলে তাঁর সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো এবং তাঁর বিচারবুদ্ধি লোপ পেল। তিনি কেবল একটি তেজস্বী ঘোড়া ও তার লাগাম নিয়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচালেন এবং তরবারির খাপের চেয়েও রিক্ত হস্তে একটি দুর্গে আশ্রয় নিলেন। আল-মুতাদিদ কাসবাহর অধিবাসীদের প্রতি তাঁর শিথিলতা এবং সেই দলের প্রতি তাঁর অনুরাগের কারণে তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি তাঁকে লাঠি দিয়ে প্রহার করলেন এবং চরম দণ্ড দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে লিখলেন (বাসিত মাজজু ছন্দে):

 

হে আমার মনিব! আমি আপনার কাছে এমন এক ব্যাধির অভিযোগ করছি … যার কারণে আমার হৃদয় আজ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

আপনার অসন্তুষ্টি আমার অসুস্থতা বাড়িয়ে দিয়েছে … তাই আপনার সন্তুষ্টিকে আরোগ্য দানকারী মাসীহ হিসেবে পাঠান।

অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা ও মার্জনা করলেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির সুঘ্রাণ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এর আগে যখন তিনি তাকে কারাবন্দী হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তাকে সান্ত্বনা দিতে এবং বার্বার জাতি সম্পর্কে ইঙ্গিত করতে এবং যা ঘটেছে তার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করতে লিখেছিলেন (বাসিত ছন্দে):

 

তোমার হৃদয়কে শান্ত করো, চিন্তায় বিভোর হইয়ো না … দুঃখ আর সতর্কতা তোমার কী-ই বা ফিরিয়ে আনবে?

যদি কোনো আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাকদির অন্তরায় হয় … তবে যা তাকদিরে লেখা আছে তা রোধ করার কেউ নেই।

যদি জীবনে একটি ব্যর্থতা এসেই থাকে … তবে মনে করো কত যুদ্ধে তুমি জয়ী হয়েছো এবং বিজয় তোমার সঙ্গী ছিল।

হে সেই বীর সওয়ার, যার বীরত্বকে বীরযোদ্ধারাও ভয় পায় … আপনার এই গোলামের তেজ রক্ষা করুন, কারণ সে তো এক ধারালো তরবারি।

মহাকালের আবর্তন আমাকে জীর্ণ করে দিয়েছে যা আপনি জানেন … এবং আমার আশার ঝরনাধারা পঙ্কিলতায় ভরে গেছে।

তাই আজ প্রাণ অস্থির, চোখ অশ্রুসজল … কণ্ঠস্বর নিচু এবং দৃষ্টি অবনত।

শরীরের কোনো রোগ ছাড়াই আমার গাত্রবর্ণ বিবর্ণ হয়ে গেছে … এবং বার্ধক্য আসার আগেই আমার চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে।

আপনার এই গোলাম এমন কোনো অপরাধ করেনি যার জন্য সে তিরস্কারের যোগ্য … তবুও দেখুন সে আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।

অপরাধ কেবল সেই প্রতারক সম্প্রদায়ের … যারা আপনার পরিচিত ন্যায়ের মুখে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

এমন এক জাতি যাদের উপদেশ হলো প্রতারণা, আর যাদের ভালোবাসা হলো ঘৃণা … এবং তাদের কল্যাণও প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিরই নামান্তর।

তারা কথা বললে তাদের শব্দে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় … আর তারা তাকালে তাদের দৃষ্টিতে ঘৃণা ফুটে ওঠে।

যখন ফিতনা প্রকাশ পেল এবং তার প্লাবন বয়ে গেল, আর সন্ধির সৌন্দর্যের ওপর কলঙ্কের আঁচল টেনে দেওয়া হলো, তখন মুরাবিতুন বাহিনী কর্ডোভা অবরোধ করল। সেখানে তাঁর পুত্র আল-মামুন ছিলেন, যিনি তাঁর সময়ের রাজাদের মধ্যে কল্যাণের জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলেন। তিনি মদ্যপানে লিপ্ত ছিলেন না এবং অবাধ্যতার অনুশোচনামূলক পথেও পা বাড়াননি। তারা মাসের পর মাস শহরটি অবরোধ করে রাখল এবং কঠোর অবরোধের পর্দা ঝুলিয়ে দিল। তারা শহরের ওপর বিষধর সাপের মতো আক্রমণ করতে লাগল এবং প্রতিদিন ভোরে আক্রমণ শানাতে লাগল।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٠)
بداء من الحصار فأقم، والمأمون قد أوجس في نفسه خيفة، وتوقع منهم داهية مطيفة، فنقل ماله وأهله إلى المدور بعد أن حصنه، وملأه بالعدد وشحنه، وأقام بقصر قرطبة مضطرباً، ولأول نبأة مصيخاً ومرتقباً، إلا أن صبحوها يوماً لعدة كانت بينهم وبين أهلها في تسم أسوارها، وتقحم أنجادها وأغوارها، فوقفوا هاربين، وتشوفوا راهبين، وأهلها يدعون بشعارهم، ويتبعون أهواء مردتهم ودعارهم، وكلهم يبدي تلومه وأحجامه، ويعتقك هولاً لا يرى اقتحامه، إلى أن استهلوا استصعابه، وتوغلوا شعابه، وصمموا إلى القصر، وقد علموا قعود الجماعة عن الحماية له والنصر، فلما أحس بهم المأمون خرج بعدد قليل، وحد قليل، وقد رتبت له بطريقه رصائد، ونصبت له فيها مصائد، علق فيه زمامه، ورشق إليه منها حمامه، فانقضوا عليه انقضاض الجارح، وانصبوا إليه انصباب الطير إلى المسارح، فلم يكن له فيها أين يعرج، ولا وجد للخلاص باباً ينفرج، فقطع رأسه وحيز، وخيض به النهر وأجيز، ولما استقر بالمحلة رفع على سن رمح وطيف به في جوانبها، وأخيف به قلب مجانبها، وبقي جسده على الأرض مطروحاً، كأنه لم يكن للملك روحاً، ولا اختال في عراصه فحكى غصناً مروحاً، وذلك بتقدير العليم ثم انتقلوا إلى رندة أحد معاقل الأندلس الممتنعة، وقواعدها السامية المرتفعة، تطرد منها على بعد ملتقاها، ودنو النجوم من ذراها، عيون لأنصبابها دوي كالرعد القاصف، والرياح العواصف، ثم تتكون وادياً يلتوي بجوانبها التواء الشجاع، ويزيدها في التوعر والامتناع، وقد تجونت نواحيها وأقطارها، وتكونت فيها لباناتها وأوطارها، لا يعتذر لها مطلب، ولا يتصور فيها عدو إلا علقه ناب أو مخلب، فأناخوا منها على بعد، وأقاموا من الرجاء بها على غير وعد، وفيها ابنه الراضي لم يحفل بأناختهم بإزائه، ولا عدها من أرزائه، لامتناعه عن منازلتهم، وارتفاعه عن مطاولتهم، إلى أن انقضى في أمر إشبيلية ما انقضى، وأفضى أمر أبيه إلى ما أفضى، فحمل على مخاطبة ولله لينزل عن صياصيه، ويمكنهم من نواصيه، فنزل براً بأبيه، وإبقاء على أرماق ذويه، بعد أن عاقدهم مستوثقاً، وأخذ عليهم عهداً من الله وموثقاً، فلما وصل إليهم، وحصل في أيديهم، ومالوا به عن الحصن وجرعوه الردى، واقطعوه الثرى حين أودى، وفي ذلك يقول المعتمد يرثيهما وقد رأى قمرية بائحة بشجنها، نائحة بفننها على سكنها، وأمامها وكر فيه طائران يرددان نغماً، ويغردان ترحة وترنما:

অবরোধের শুরুতেই তিনি অবস্থান নিলেন। আল-মামুন মনে মনে শঙ্কা বোধ করলেন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন বিপদের আশঙ্কা করলেন। তাই তিনি তার সম্পদ ও পরিজনদের আল-মুদাওয়ারে স্থানান্তর করলেন, সেটিকে সুরক্ষিত করার পর যুদ্ধের সরঞ্জাম ও রসদ দিয়ে পূর্ণ করলেন। তিনি কুরতুবার প্রাসাদে অস্থির চিত্তে অবস্থান করতে লাগলেন এবং প্রতিটি সংবাদের জন্য কান খাড়া করে প্রতীক্ষা করতে থাকলেন। একদিন সকালে তারা শহরের প্রাচীর ধ্বংস করে এবং এর উচ্চতা ও গভীরতা অতিক্রম করে আক্রমণ চালাল। তারা পলায়নপর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইল এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাকাতে লাগল। শহরের অধিবাসীরা তাদের স্লোগান দিচ্ছিল এবং তাদের বিদ্রোহী ও পাপাচারীদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করছিল। প্রত্যেকেই তাদের দ্বিধা ও পিছুটান প্রকাশ করছিল এবং এমন এক বিভীষিকা অনুভব করছিল যার মোকাবিলা করা তাদের সাধ্যের বাইরে ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা এর দুর্ভেদ্যতাকে সহজ করে নিল, এর গিরিপথগুলোতে ঢুকে পড়ল এবং প্রাসাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করল। তারা জানত যে, জনতা একে রক্ষা ও সাহায্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

যখন আল-মামুন তাদের উপস্থিতি টের পেলেন, তিনি স্বল্প সংখ্যক সৈন্য ও সামান্য প্রস্তুতি নিয়ে বের হলেন। কিন্তু তার পথে আগে থেকেই ওত পেতে থাকার স্থান ও ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছিল। সেখানেই তার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হলো এবং তার দিকে মৃত্যুর তীর নিক্ষেপ করা হলো। তারা শিকারি পাখির মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং চারণভূমির পাখির মতো তার দিকে ধাবিত হলো। সেখানে তার ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং পরিত্রাণের কোনো পথও খোলা ছিল না। ফলে তার মাথা কেটে আলাদা করা হলো এবং তা নিয়ে নদী পার হওয়া হলো। যখন তা সেনাশিবিরে পৌঁছাল, তখন তা একটি বল্লমের ডগায় চড়ানো হলো এবং চারদিকে ঘুরানো হলো, যা বিরোধীদের হৃদয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করল। আর তার দেহটি ভূমিতে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে রইল, যেন তা কখনো রাজকীয় আত্মার আধার ছিল না এবং কখনো কোনো উদ্যানে সুশোভিত শাখার মতো দোদুল্যমান ছিল না। আর এটি ছিল সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

এরপর তারা আন্দালুসের অন্যতম দুর্ভেদ্য ও সুউচ্চ দুর্গ রান্দার দিকে অগ্রসর হলো। এর সুউচ্চ চূড়াগুলো থেকে নক্ষত্ররাজিকে নিকটবর্তী মনে হয়। সেখান থেকে ঝর্ণাধারাগুলো প্রচণ্ড বজ্রপাত ও ঝোড়ো বাতাসের মতো শব্দ করে নিচে পতিত হয়। তারপর সেগুলো একটি উপত্যকায় রূপ নেয় যা সর্পের মতো এর চারপাশ দিয়ে বয়ে যায় এবং এর দুর্গমতা ও দুর্ভেদ্যতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর চারপাশ ও প্রান্তভাগগুলো মেঘাচ্ছন্ন হয়ে থাকত এবং সেখানে মানুষের সকল আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন পূর্ণ হতো। সেখানে কোনো উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হতো না এবং কোনো শত্রু সেখানে প্রবেশের কল্পনাও করতে পারত না, যদি না সে হিংস্র নখর বা থাবার কবলে পড়ত। তারা এর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান নিল এবং কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই আশার ওপর ভর করে সেখানে অবস্থান করল। সেখানে তার পুত্র আর-রাযী অবস্থান করছিলেন, যিনি তাদের এই অবস্থানের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি এবং একে তার বিপদের কারণ হিসেবেও গণ্য করেননি। কেননা তিনি তাদের মোকাবিলা করা থেকে সুরক্ষিত ছিলেন এবং তাদের নাগালের অনেক উঁচুতে অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইশবিলিয়ার ব্যাপারে যা ঘটার ছিল তা ঘটে গেল এবং তার পিতার পরিণতি যা হওয়ার ছিল তাই হলো। অতঃপর তাকে তার দুর্গ থেকে নেমে আসার জন্য এবং তার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে অর্পণ করার জন্য আহ্বান জানানো হলো। তখন তিনি তার পিতার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং তার স্বজনদের জীবন রক্ষার্থে নেমে এলেন। তবে তিনি তাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে সুদৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করার পরই তা করলেন। কিন্তু তিনি যখন তাদের কাছে পৌঁছালেন এবং তাদের হস্তগত হলেন, তখন তারা তাকে দুর্গ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল এবং তাকে মৃত্যুর তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাল। যখন তিনি মারা গেলেন, তখন তারা তাকে মাটির নিচে সমাহিত করল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আল-মুতামিদ তাদের উভয়ের স্মরণে শোকগাথা রচনা করেন; তিনি যখন দেখলেন একটি ঘুঘু পাখি তার সঙ্গীর বিরহে ডালে বসে বিলাপ করছে এবং তার সামনে একটি বাসা রয়েছে যেখানে দুটি পাখি করুণ সুরে গান গাইছে ও হাহাকার করছে:

(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢١)
طويل

 

بكت أن رأت الفين ضمهما وكر … مساءً وقد أخنى على ألفها الدهرُ

وناحت فباحت واستراحت بسرها … وما نطقت حرفاً يبوح به سرُّ

فما ليَ لا أبكي أم القلب صخرة … وكم صخرة في الأرض يجري بها نهرُ

بكت واحداً لم يشجها غير فقه … وأبكي لآلاف عديدهمُ كثرُ

بنىُّ صغيراً أو خليل موافق … يمزّق ذا فقر ويغرق ذا بحرُ

ونجمان زينٌ للزمان احتواهما … بقرطبة النكداءَ أو رندة القبرُ

عذرت إذاً أن ضنَّ جفني بقطرة … وإن لؤمت نفسي فصاحبها الصبرُ

فقل للنجوم الزهر تبكيهما معي … لمثلهما فلتحزن الأنجم الزهرُ

ولما تم في الملك أمك، وأراد الله أن تخر عمك، وتنقرض أيامه، وتتقوض عن عراص الملك خيامه، نازلته جيوش أمير المسلمين ومحلاته، وظاهرته فساطيطه ومظلاته، بعدما نثرت حصونه وقلاعه، وسعرت بالنكاية جوارحه وأضلاعه، وأخذت عليه الفروج والمضائق، وثنت إليه الموانع والعوائق، وطرقته بالأضرار، وأمطرته كل ديمة مدرار، وهو ساه بروض ونسيم، لاه براح ومحبباً وسيم، زاه بفتاة تنادمه، ناه عن هدم أنس هو هادمه، لا يصيخ إلى نبأة سمعه، ولا ينيخ إلا على لهو يفرق جموعه جمعه، قد ولى المدامة ملامه، وثنى إلى ركنها طوافه واستلامه، وتلك الجيوش تجوش خلاله، وتقلص ظلاله، محين اشتد حصاره، وعجزت عن المدافعة أنصاره، ودلس عليه ولاته، وكثرت أدواؤه وعلاته، فتح باب الفرج، وقد لفح شواظ الهرج، فدخلت عليه من المرابطين زمرة، واشتعلت لهم من التغلب جمرة، تأجج اضطرامها، وسهل بها إيقاد البقية وإضرامها، وعندما سقط الخبر عليه خرج حاسراً من مفاضته، جامحاً كالمهر قبل رياضته، فلحق أوائلهم عند الباب المذكور وقد انتشروا في جنباته، وظهروا على البلد من أكثر جهاته، وسيفه في يده يتلمظ الطلا والهام، ويعد بانفراج ذلك الإبهام، فرماه أحد الداخلين برمح تخطاه، وجاوز مطاه، فبادره بضربه أذهبت نفسه، وأغربت شمسه، ولقي ثانياً فضربه وقصمه، وخاض حشا ذلك الداء فحمسه، فأجلوا عنه، وولوا فراراً منه، فأمر بالباب فسد، وبني منه ماهد، ثم انصرف وقد أراح نفسه وسفاها، وأبعد الله عنه الملامة ونفاها، وفي ذلك يقول عند ما خلع، وأودع من المكروه ما أودع: كامل مجزوء

 

أن يسلب القوم العدا … ملكي وتسلمني الجموع
দীর্ঘ

 

সে কেঁদে উঠল যখন দেখল এক জোড়া প্রেমিককে একটি বাসায় সমবেত হতে... সন্ধ্যায়, অথচ কালচক্র তার আপনজনের প্রতি নিষ্ঠুরতা করেছে।

সে বিলাপ করল, তার মনের কথা ব্যক্ত করল এবং নিজের রহস্যের মাধ্যমে প্রশান্তি খুঁজল... অথচ সে এমন কোনো বর্ণ উচ্চারণ করেনি যা কোনো রহস্য প্রকাশ করে দেয়।

আমার কী হলো যে আমি কাঁদছি না? নাকি আমার অন্তর একটি পাথর?... অথচ জমিনে কত পাথর আছে যার ভেতর দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়।

সে একজনের জন্য কেঁদেছে যাকে বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কিছু ব্যথিত করেনি... আর আমি কাঁদছি হাজারো মানুষের জন্য যাদের সংখ্যা অগণিত।

ক্ষুদ্র সন্তান হোক কিংবা কোনো অনুকূল বন্ধু... দারিদ্র্য একে ছিন্নভিন্ন করছে আর সমুদ্র তাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে।

আর দুটি নক্ষত্র যা ছিল সময়ের অলঙ্কার, তাদের কবরে ধারণ করেছে... দুর্ভাগা কর্ডোভা কিংবা রন্ডা শহরে।

আমি ক্ষমার যোগ্য হতাম যদি আমার চোখের পাতা এক ফোঁটা অশ্রুর জন্য কার্পণ্য করত... আর যদি আমার আত্মা নীচ হতো তবে ধৈর্য হতো তার সঙ্গী।

অতঃপর উজ্জ্বল নক্ষত্রদের বলো তারা যেন আমার সাথে তাদের জন্য কাঁদে... তাদের মতো ব্যক্তিদের জন্যই উজ্জ্বল নক্ষত্রদের শোক করা উচিত।

যখন রাজত্বে আপনার কর্তৃত্ব পূর্ণ হলো এবং আল্লাহ চাইলেন আপনার চাচাকে গদিচ্যুত করতে, তার সময়কাল সমাপ্ত করতে এবং রাজপ্রাসাদের আঙিনা থেকে তার তাবুগুলো গুটিয়ে নিতে; তখন আমীরুল মুসলিমীনের বাহিনী ও তার সেনাদল তাকে অবরোধ করল। তার তাবু ও শামিয়ানাগুলো তাকে পরিবেষ্টন করল, যখন তার দুর্গ ও কেল্লাগুলো ধূলিসাৎ করা হলো এবং যন্ত্রণার আগুনে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও পাঁজর দগ্ধ হলো। তার সমস্ত প্রবেশপথ ও গিরিপথ রুদ্ধ করা হলো, আর তার সামনে সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা হাজির করা হলো। তার ওপর বিপদ আপতিত হলো এবং অবিরাম ধারায় দুর্যোগ বর্ষিত হলো। অথচ সে উদ্যান ও মৃদুমন্দ বাতাসে মগ্ন ছিল, শরাব ও রূপবান প্রিয়জনে বিভোর ছিল, এক কিশোরীর সান্নিধ্যে অহঙ্কারী ছিল এবং যে আনন্দের পরিবেশ সে নিজেই ধ্বংস করছিল তা থেকে অন্যদের নিবৃত্ত করছিল। সে কোনো সতর্কবার্তার দিকে কান দিচ্ছিল না এবং আমোদ-প্রমোদ ছাড়া কোথাও আশ্রয় নিচ্ছিল না, যা তার ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছিল। সে নিন্দার দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে শরাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল এবং পানের আসরেই তার বিচরণ সীমাবদ্ধ রেখেছিল। এদিকে সেই বাহিনী তার এলাকাগুলোতে বিচরণ করছিল এবং তার ছায়াকে সংকুচিত করে আনছিল। যখন তার অবরোধ অত্যন্ত কঠিন হলো এবং তার সহযোগীরা প্রতিরক্ষা করতে অক্ষম হলো, আর তার গভর্নররা তার সাথে প্রতারণা করল এবং তার রোগ ও ত্রুটিসমূহ বৃদ্ধি পেল; তখন মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হলো যখন গোলযোগের অগ্নিশিখা দাউদাউ করে জ্বলছিল। তার ওপর মুরাবিতুনদের একটি দল প্রবেশ করল এবং বিজয়ের এক স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠল যার দহন তীব্র হতে থাকল এবং বাকি সবটুকু জ্বালিয়ে দেওয়া সহজ হয়ে গেল। যখন এই সংবাদ তার কাছে পৌঁছল, সে তার বর্ম ছাড়াই বেরিয়ে এল, যেমন অবাধ্য ঘোড়া বশ মানার আগেই বেরিয়ে পড়ে। সে তাদের অগ্রবর্তী দলের দেখা পেল উক্ত দরজায়, যখন তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শহরের অধিকাংশ অংশে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তার তলোয়ার তার হাতে ছিল যা ঘাড় ও মস্তক কর্তনের জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল এবং সেই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল। প্রবেশকারীদের একজন তাকে লক্ষ্য করে একটি বর্শা নিক্ষেপ করল যা তাকে অতিক্রম করে গেল, কিন্তু সে দ্রুত আঘাত করে তার প্রাণ হরণ করল এবং তার সূর্য অস্তমিত করে দিল। সে দ্বিতীয়জনের দেখা পেয়ে তাকে আঘাত করে দ্বিখণ্ডিত করল এবং সেই বিপদের গভীরে প্রবেশ করে তাকে দমন করল। ফলে তারা তার কাছ থেকে দূরে সরে গেল এবং পলায়ন করল। এরপর সে দরজাটি বন্ধ করার আদেশ দিল এবং যা বিধ্বস্ত হয়েছিল তা পুনর্নির্মাণ করা হলো। অতঃপর সে ফিরে এল যখন সে নিজেকে ভারমুক্ত করল এবং আল্লাহ তার ওপর থেকে নিন্দা দূর করে দিলেন। এ সম্পর্কে সে বলেছিল যখন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল এবং সে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে নিপতিত হয়েছিল: পূর্ণ সংক্ষেপিত ছন্দ

 

যদি শত্রু সম্প্রদায় ছিনিয়ে নেয়... আমার রাজত্ব, আর জনতা আমাকে একা ছেড়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فالقلب بين ضلوعه … لم تسلم القلب الضلوع

قد رمت يوم نزالهم … ألا تحصّنني الدروع

وبرزت ليس سوى القمي? … ?ص على الحشى شيء دفوع

أجلي تأخّر لم يكن … بهواي ذلّي والخضوع

ما سرت قطٌّ إلى القتا … ل وكان من أملي الرجوع

شيم الأولى أنا منهمُ … والأصل تتبعه الفروع

وما زالت عقارب تلك الداخلة تدب، وريحها العاصفة تهب، وضلوعها تحنق وتحقد، وتضمر الغدر وتعتقد، حتى دخل البلد من واديه، وبدت من المكروه بواديه، وكر عليه الدهر بعوائد وعواديه، وهو مستمسك بعرى لذاته، منغمس فيها بذاته، ملقى بين جواريه، مغتر بودائع ملكه وعواريه، التي استرجعت منه في يومه، ونبهه فواتها من نومه، ولما انتشر الداخلون في البلد، وأوهنوا القوى والجلد، خرج والموت يتسعر في الحاظه، ويتصدر من ألفاظه، وحسامه يعد بمضائه، ويتوقد عند انتضائه، فلقيهم في رحبة القصر وقد ضاق بهم فضاؤها، وتضعضعت من رجتهم أعضاؤها، فحمل فيهم حملة صيرتهم فرقاً، وملأتهم فرقاً، ومازال يوالي عليهم الكر، حتى أوردهم النهر، وما بهم جواد، وأودعهم حشاه كأنهم له فؤاد، ثم انصرف وقد أيقن بانتهاب ماله، وذهاب ملكه وارتحاله، وعاد إلى قصره واستمسك به يومه وليته مانعاً لحوزته، دافعاً للذل عن عزته، وقد عزم على أفظع أمر، وقال يبدي لا بيد عمرو، ثم صرفه تقاه، عما كان نواه، فنزل من القصر بالقسر، إلى قبة الأسر، فقيد للحين، وحان له يوم شر ما ظن أنه يحين، ولما قيدت قدماه، وبعدت عنه رقة الكبل ورحماه، قال يخاطبه: طويل

 

إليك فلو كانت قيودك أشعرت … تصرّمَ منها كلّ كفّ ومعصمِ

مخافة من كلُّ الرجال بسيبه … ومن سيفه في جنّة أو جهنّمِ

ولما آلمه عضه، ولازمه كسره ورضه، وأوهاه ثقله، وأعياه نقله، قال: متقارب

 

تبدّلت من عزّ ظلّ البنودِ … بذلّ الحديد وثقل القيودِ

وكانَ حديدي سناناً ذليقاً … وعضبا رقيقاً صقيل الحديدِ

فقد صار ذاك وذا أدهما … يعضّ بساقيّ عضّ الأسودِ

ثم جمع هو وأهله وحملتهم الجواري المنشآت، وضمتهم جوانحها كأنهم أموات، بعد
হৃদয় তার পাজরের মাঝখানে … পাজরগুলো হৃদয়কে নিরাপদ রাখেনি

তাদের যুদ্ধের দিনে আমি চেয়েছিলাম … বর্ম যেন আমাকে সুরক্ষা না দেয়

আমি বের হয়েছিলাম শরীর রক্ষার জন্য … কেবল একটি কামিজ ছাড়া কিছু না নিয়ে

আমার মৃত্যু বিলম্বিত হয়েছে, কিন্তু আমার লাঞ্ছনা ও বশ্যতা … আমার ইচ্ছাধীন ছিল না

আমি কখনই যুদ্ধের দিকে এই আশা নিয়ে যাত্রা করিনি … যে আমি ফিরে আসব

এটা পূর্বসূরিদের স্বভাব যাদের আমি একজন … আর শাখা সর্বদা মূলকে অনুসরণ করে

আর সেই অনুপ্রবেশকারীদের বিচ্ছুরা হামাগুড়ি দিতেই থাকল, তাদের ঝোড়ো হাওয়া বইতেই থাকল, তাদের পাজরগুলো রাগে ও বিদ্বেষে ফুঁসতে থাকল, তারা বিশ্বাসঘাতকতা গোপন রাখল এবং তা বিশ্বাসে পরিণত করল। শেষ পর্যন্ত তারা উপত্যকা দিয়ে শহরে প্রবেশ করল এবং মন্দ কাজের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেল। কালচক্র তার চিরচেনা আপদ নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, অথচ সে তখনও তার ভোগবিলাসের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল এবং তাতে নিজের সত্তাসহ নিমজ্জিত ছিল। সে তার দাসীদের মাঝে পড়ে ছিল, তার রাজত্বের আমানত ও ধার করা বস্তুগুলো নিয়ে বিভ্রান্ত ছিল, যা সেই দিনই তার কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর চলে যাওয়া তাকে তার ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়েছিল। যখন অনুপ্রবেশকারীরা শহরে ছড়িয়ে পড়ল এবং তারা শক্তি ও সহনশীলতাকে দুর্বল করে দিল, তখন সে বের হয়ে এল যখন মৃত্যু তার দৃষ্টিতে প্রজ্জ্বলিত ছিল এবং তার কথা থেকে প্রকাশিত হচ্ছিল। তার তলোয়ার তার ক্ষিপ্রতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল এবং কোষমুক্ত করার সময় তা জ্বলে উঠছিল। সে প্রাসাদের প্রশস্ত প্রাঙ্গণে তাদের মোকাবিলা করল, যেখানে তাদের ভিড়ে জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের কোলাহলে প্রাসাদের অংশগুলো নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। সে তাদের ওপর এমন এক আক্রমণ চালাল যা তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিল এবং তাদের ভীতিতে পূর্ণ করল। সে ক্রমাগত তাদের ওপর আক্রমণ করতে থাকল যতক্ষণ না সে তাদের নদীর তীরে নিয়ে গেল। তাদের কাছে কোনো ঘোড়া ছিল না, আর সে তাদের নিজের হৃদয়ের গহীনে স্থান দিল যেন তারা তার কলিজা। এরপর সে ফিরে এল যখন সে তার সম্পদ লুণ্ঠিত হওয়ার এবং তার রাজত্ব চলে যাওয়ার ও প্রস্থানের ব্যাপারে নিশ্চিত হলো। সে তার প্রাসাদে ফিরে এল এবং সেই দিনটি সেখানে অবস্থান করল; হায়! সে যদি তার সীমানা রক্ষা করতে পারত এবং তার মর্যাদা থেকে লাঞ্ছনাকে হটাতে পারত। সে এক ভয়াবহ কাজের সংকল্প করল এবং বলল—যা আমার হাতে নয় বরং অন্যের হাতে প্রকাশ পাবে। এরপর তার তাকওয়া তাকে তার সংকল্প থেকে ফিরিয়ে রাখল। অতঃপর সে প্রাসাদ থেকে জোরপূর্বক বন্দিশালার গম্বুজে নেমে এল। তাকে সেই সময়ের জন্য বন্দি করা হলো, আর তার জন্য এমন এক অশুভ দিন ঘনিয়ে এল যা সে কখনও ঘনিয়ে আসবে বলে ভাবেনি। যখন তার পা দুটিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হলো এবং তার কাছ থেকে শৃঙ্খলের কোমলতা ও দয়া দূরে সরে গেল, তখন সে তাকে সম্বোধন করে বলল: দীর্ঘ ছন্দ

 

তোমাকে বলছি, যদি তোমার এই শৃঙ্খলগুলো বুঝতে পারত … তবে প্রতিটি কবজি ও হাত তা থেকে ছিন্ন হয়ে যেত

সেই ব্যক্তির ভয়ে যার দানে সমস্ত মানুষ ধন্য হয় … আর যার তলোয়ারে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নামে যায়

যখন শৃঙ্খলের দংশন তাকে ব্যথিত করল, এবং এর ভাঙন ও পিষণ তাকে জাপটে ধরল, আর এর ভার তাকে দুর্বল করে দিল এবং তা বহন করা তাকে ক্লান্ত করে দিল, তখন সে বলল: মুতাকারিব ছন্দ

 

পতাকার ছায়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হয়ে গেছে … লোহার লাঞ্ছনা ও শৃঙ্খলের ভারে

আমার লোহা ছিল ধারালো বর্শার ফলক … এবং মসৃণ লোহার তৈরি পাতলা তলোয়ার

এখন সেই দুটিই কালো শৃঙ্খলে পরিণত হয়েছে … যা সিংহের দংশনের মতো আমার দুই পায়ে দংশন করছে

অতঃপর তাকে ও তার পরিবারকে একত্রিত করা হলো এবং বড় বড় জাহাজগুলো তাদের বহন করে নিয়ে চলল, আর সেগুলোর অভ্যন্তরভাগ তাদের এমনভাবে আঁকড়ে ধরল যেন তারা মৃতদেহ, এরপরে...
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ما ضاق عنهم القصر، وراق منهم العصر، والناس قد حشروا بضفتي الوادي، وبكوا بدموع كالغوادي، فساروا والنوح يحدوهم، والبوح باللوعة لايعدوهم، وفي ذلك يقول ابن اللبانة: بسيط

 

تبكي السماء بمزن رائح غادِ … على البهاليل من أبناء عبّادِ

على الجبال التي هدتّ قواعدها … وكانت الأرض منهم ذات أوتادِ

عريسة دخلتها النائبات على … أساود لهمُ فيها وأسادِ

وكعبة كانت الآمال تخدمها … فاليومَ لا عاكفٌ فيها ولا بادِ

يا ضيق أفقر بيتٌ المكرمات فخذ … في ضمّ رحلك واجمع فضلة الزادِ

ويا مؤمّل واديهم ليسكنه … خفّ القطين وجفّ الزرع بالوادي

وأنت يا فارس الخيل التي جعلت … تختال في عدد منهم وأعدادِ

ألق السلاح وخلّ المشرفيّ فقد … أصبحتَ في لهوات الضيغم العادي

لمّا دنا الوقت لم تخلق له عدة … وكلّ شيء لميقات وميعادِ

أن يخلعوا فبنوا العبّاس قد خلعوا … وقد خلت قبل حمصٍ أرضُ بغدادِ

حملوا حريمهمُ حتّى إذا غلبوا … سيقوا على نسق في حبلِ مقتادِ

وأنزلوا في متون الشهب واحتملوا … فريقَ دهمٍ لتلك الخيل اندادِ

وعيثَ في كلّ طوق من دروعهمِ … فصيغَ منهنّ أغلال لأجيادِ

نسيت إلاّ غداة النهر كونهمُ … في المنشآت كأمواتٍ بالحادِ

والناس قد ملأوا العبرين واعتبروا … من لؤلؤ طافيات فوق أزبادِ

حطّ القناع فلم تستر مخدّرة … ومزّقت أوجه تمزيق أبرادِ

حان الوداع فضجّت كلّ صارخة … وصارخ من مفدّاة ومن فادِ

سارت سفائنهم والنوح يصحبها … كأنّها إبل يحدو بها الحادي

كم سال في الماء من دمع وكم حملت … تلك القطائع من قطعات أكبادِ

ولما نقل من بلاده، وأعرى من طارفه وتلاده، وحمل في السفين، وأحمل في العدوة محل الدفين، تنبه منابره وأعواده، ولا يدنو منه زواره ولا عوادة، بقي آسفاً تتصعد زفراته، وتطرد أطراد المذانب عبراته، لا يخلو بموانس، ولا يرى إلا عريناً بدلاً من تلك المكانس، ولما لم يجد سلوا، ولم يؤمل دنوا، ولم يروجه مسرة مجلوا، تذكر منازله فشاقته، وتصور بهجتها فراقته، وتخيل استيحاش
প্রাসাদ তাদের জন্য সংকীর্ণ ছিল না এবং তাদের সময়কালটি ছিল মনোরম। মানুষ উপত্যকার দুই তীরে সমবেত হয়েছিল এবং তারা বৃষ্টির মতো অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল। তারা যখন যাত্রা শুরু করল, তখন বিলাপ তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল আর অন্তরের গভীর যাতনা প্রকাশ করা ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর ছিল না। এ বিষয়ে ইবনে আল-লাব্বানাহ বলেন: বাসীত ছন্দ

 

আকাশ তার সকাল ও সন্ধ্যার মেঘমালা দিয়ে অশ্রু বর্ষণ করছে … আব্বাদ বংশের মহান ব্যক্তিদের শোকে।

সেই পাহাড়গুলোর ওপর যার ভিত্তিগুলো ধসে পড়েছে … অথচ তাদের মাধ্যমেই জমিন সুসংহত ও প্রোথিত খুঁটিবিশিষ্ট ছিল।

এটি এমন এক বন ছিল যাতে বিপদসমূহ প্রবেশ করেছে … সেখানকার কালসর্প ও সিংহদের ওপর।

এটি ছিল এমন এক কাবা যেখানে আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো সেবায় নিয়োজিত থাকত … অথচ আজ সেখানে কোনো অবস্থানকারী নেই, নেই কোনো আগন্তুক।

ওহে সংকীর্ণতা! মহানুভবতার ঘরগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, তাই তোমার আসবাবপত্র গুছিয়ে নাও … এবং পাথেয় যা অবশিষ্ট আছে তা সংগ্রহ করো।

হে সেই ব্যক্তি যে তাদের উপত্যকায় বসবাসের আশা করতে … বাসিন্দারা চলে গেছে এবং উপত্যকার শস্য শুকিয়ে গেছে।

আর ওহে সেই অশ্বারোহী, যার ঘোড়াগুলো তাদের প্রাচুর্য ও আভিজাত্যের কারণে … গর্বভরে দম্ভভরে চলত।

অস্ত্র ফেলে দাও এবং মাশরাফী তলোয়ার ত্যাগ করো, কেননা তুমি এখন … হিংস্র সিংহের গ্রাসে পরিণত হয়েছ।

যখন অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল, কোনো প্রস্তুতিই তার কাজে এল না … কারণ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময় ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

যদি তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তবে বনু আব্বাসকেও তো ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল … আর হিমসের আগে বাগদাদের জমিনও জনশূন্য হয়েছিল।

তারা তাদের অন্তঃপুরবাসিনীদের নিয়ে চলল, এমনকি যখন তারা পরাজিত হলো … তখন তাদের সুশৃঙ্খলভাবে হাঁকিয়ে নেওয়া হলো যেন রশিতে বাঁধা কয়েদি।

তাদের উজ্জ্বল ও দ্রুতগামী বাহনগুলো থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো … অন্ধকারাচ্ছন্ন একদলকে যারা ছিল সেই ঘোড়াদেরই সমকক্ষ।

তাদের বর্মের প্রতিটি কড়া তছনছ করা হলো … এবং সেগুলো থেকেই গ্রীবায় পরার মতো শৃঙ্খল তৈরি করা হলো।

আমি সবকিছুই ভুলে গেছি, শুধু সেই নদীর সকালের কথা ভুলিনি যখন তারা বড় বড় নৌকায় ছিল … যেন কবরে শায়িত মৃতদেহ।

মানুষ নদীর দুই তীরে ভিড় জমিয়েছিল এবং তারা ফেনার ওপর ভাসমান মুক্তা দেখে … শিক্ষা নিচ্ছিল।

পর্দার অবগুণ্ঠন ফেলে দেওয়া হলো, ফলে কোনো পর্দানশীন নারীই আর অন্তরালে থাকল না … এবং মুখমণ্ডলগুলো এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত হলো যেমন বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়।

বিদায়ের বেলা ঘনিয়ে এল, প্রতিটি বিলাপকারিণী চিৎকার করে উঠল … আর চিৎকার উঠল তাদের পক্ষ থেকে যাদের উৎসর্গ করা হচ্ছিল এবং যারা উৎসর্গ করছিল।

তাদের নৌকাগুলো চলতে লাগল আর বিলাপ ছিল তাদের অনুগামী … মনে হচ্ছিল যেন একপাল উট যাকে চালক হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

পানিতে কত অশ্রু প্রবাহিত হলো আর সেই নৌবহরগুলো … হৃদয়ের কত টুকরোকে বয়ে নিয়ে গেল!

আর যখন তাকে তার দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো, তার অর্জিত ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সকল সম্পদ থেকে রিক্ত করা হলো, তাকে নৌকায় তোলা হলো এবং নদীর অপর তীরে কবরের মতো স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তার মিম্বর ও কাঠের সিংহাসনগুলো হাহাকার করে উঠল। তার কাছে কোনো সাক্ষাৎকারী বা শুভাকাঙ্ক্ষী ভিড়তে পারল না। তিনি অত্যন্ত আফসোসের সাথে রয়ে গেলেন, তার দীর্ঘশ্বাস ঊর্ধ্বগামী হচ্ছিল এবং তার অশ্রু ঝরনাধারার মতো বয়ে যাচ্ছিল। তার কোনো সঙ্গী ছিল না এবং সেই মনোরম প্রাসাদের পরিবর্তে তিনি যেন বিজন বন ছাড়া আর কিছুই দেখছিলেন না। যখন তিনি কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পেলেন না, ফিরে আসার কোনো আশা রইল না এবং কোনো আনন্দই তাকে প্রফুল্ল করতে পারল না, তখন তিনি তার আবাসস্থলের কথা স্মরণ করলেন যা তাকে ব্যাকুল করে তুলল, সেগুলোর সৌন্দর্যের চিত্র তার মনে ভেসে উঠল যা তাকে বিমোহিত করল এবং নির্জনতার দৃশ্য কল্পনা করলেন...
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أوطانه، وأجهاش قصره إلى قطانه، وإظلام جوه من أقماره، وخلوة من حراسة وسمارة، فقال: بسيط

 

بكى المبارك في أثر ابن عبّادِ … بكى على أثر غزلان وأسادِ

بكت ثريّاه لا غمّت كواكبها … بمثل نوء الثريّا الرائح الغادي

بكى الوحيد بكى الزاهي وقبّتة … والنهر والتاج كلٌّ ذلُّة بادِ

ماء السماء على أبنائه درر … يا لجّة دومي ذات أزبادِ

وفي ذلك يقول ابن اللبانة: بسيط

 

استودع الله أرضاه عندما وضحت … بشائر الصبح فيها بدّلت حلكاً

كانَ المؤيّد بستاناً بساحتها … يجني النعيم وفي عليائها فلكاً

في أمره لملوك الدهر معتبر … فليس يغترّ ذو ملك بما ملكا

نبكيه من جبل خرّت قواعده … فكلّ من كان في بطحائه هلكا

ما سدّ موضعه للرزق سدّ به … طوبى لمن كان يدري أيّةً سلكا

وكان الحصن الزاهر من أجمل المواضع لديه وأبهاها، وأحبها إليه وأشهاها، لإطلاله على النهر، وإشرافه على القصر، وجماله في العيون، واشتماله بالشجر والزيتون، وكان له به من الطرب، والعيش المزري بحلاوة الضرب، ما لم يكن بحلب لبني حمدان، ولا لسيف بن ذي يزن في رأس غمدان، وكان كثيراً ما يدير به راحه، ويجعل فيه انشراحه، فلما استد إليه الزمان بعدوانه، ووسد عليه أبواب سلوانه، لم يحن إلا إليه، ولم يتمن إلا الحلول لديه، فقال: طويل

 

غريب بأرض المغربين أسيرُ … سيبكي عليه منبر وسريرُ

وتندبه البيض الصوارم والقنا … وينهلّ دمع بينهنّ غزيرُ

مضى زمنٌ والملك مستانسٌ به … وأصبح منه اليوم وهو نفورُ

برأيٍ من الدهر المضلّل فاسدٍ … متى صلحت للصالحين دهورُ

أذلَّ بني ماءِ السماءِ زمانهم … وذلُّ بني ماءِ السماءِ كبيرُ

فيا ليت شعري هل أبيتنّ ليلةٌ … أمامي وخلفي روضةٌ وغديرُ

بمنبتة الزيتون مورثة للعلا … يغنّي حمامٌ أو تدنّ طيورُ

بزاهرها السامي الذرى جاده الحيا … تشير الثّريّا نحونا ونشيرُ

ويلحظنا الزاهي وسعد سعوده … غيورين والصبّ المحبّ غيورُ
তার মাতৃভূমি, তার প্রাসাদের বাসিন্দাদের জন্য বিলাপ, তার চাঁদদের (প্রিয়জনদের) অভাবে আকাশের অন্ধকার হয়ে যাওয়া, এবং প্রহরী ও নৈশকালীন সহচরদের অনুপস্থিতি। অতঃপর তিনি (বাসিত ছন্দে) বললেন:

 

ইবনে আব্বাদের প্রস্থানে আল-মুবারাক প্রসাদ কেঁদেছে … সে হরিণী ও সিংহদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কেঁদেছে।

তার সুরাইয়া কেঁদেছে, তবে তার নক্ষত্রগুলো ম্লান হয়নি … সকাল-সন্ধ্যায় বহমান সুরাইয়া নক্ষত্রের বৃষ্টির মতো।

আল-ওয়াহিদ কেঁদেছে, আল-জাহি এবং তার গম্বুজ কেঁদেছে … আর নদী ও মুকুট, প্রত্যেকের মাঝেই অবমাননা স্পষ্ট।

আকাশের পানি তার সন্তানদের ওপর মুক্তোসদৃশ … হে অতল গহ্বর, ফেনা সহ স্থায়িত্ব লাভ করো।

এই বিষয়ে ইবনুল লাব্বানাহ বলেন: বাসিত ছন্দ

 

তিনি আল্লাহর নিকট তার সন্তুষ্টি সমর্পণ করেছেন যখন তা স্পষ্ট হয়েছে … ভোরের সুসংবাদ সেখানে অন্ধকারে পরিবর্তিত হয়েছে।

আল-মুয়াইয়্যাদ তার প্রাঙ্গণে ছিল এক উদ্যান … সে সুখ আহরণ করত এবং তার উচ্চতায় ছিল একটি আকাশ।

তার পরিণতিতে যুগের রাজাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে … সুতরাং কোনো রাজ্যের মালিক যেন তার মালিকানা নিয়ে প্রতারিত না হয়।

আমরা তার জন্য এমন পাহাড়ের ন্যায় কাঁদি যার ভিত্তি ধসে পড়েছে … ফলে তার সমতলে যারা ছিল তারা সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে।

জীবিকার জন্য তার স্থান যা দিয়ে পূর্ণ ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে … ধন্য সেই ব্যক্তি যে জানত সে কোন পথে চলেছে।

আর আল-হিসনুল জহির (উজ্জ্বল দুর্গ) ছিল তার কাছে অন্যতম সুন্দর ও চমৎকার স্থান, এবং তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত; কারণ তা ছিল নদীর তীরে এবং প্রাসাদের সম্মুখে অবস্থিত। দর্শকদের চোখে তার সৌন্দর্য এবং গাছপালা ও জলপাই গাছে তার আবৃত থাকা ছিল অতুলনীয়। সেখানে তার আনন্দ ও জীবন ছিল এমন যা মধুর মিষ্টতাকেও হার মানাত। এমন সুখ আলেপ্পোর হামদানি বংশের বা গামদান চূড়ায় সাইফ ইবনে যি-ইয়াজানেরও ছিল না। তিনি প্রায়শই সেখানে তার সময় কাটাতেন এবং প্রফুল্লতা খুঁজে পেতেন। কিন্তু যখন কালচক্র তার সাথে শত্রুতা শুরু করল এবং তার থেকে সান্ত্বনার পথ রুদ্ধ করে দিল, তখন তিনি কেবল সেই স্থানের জন্যই ব্যথিত হতেন এবং সেখানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতেন। তিনি (তবীল ছন্দে) বললেন:

 

দুই মাগরিবের (পশ্চিমে) ভূমিতে এক বন্দী প্রবাসী … তার জন্য মিম্বর ও সিংহাসন অঝোরে কাঁদবে।

সাদা ধারালো তলোয়ার ও বল্লমগুলো তার জন্য শোক প্রকাশ করবে … আর তাদের মাঝে প্রচুর অশ্রু ঝরবে।

এমন এক সময় পার হয়েছে যখন রাজত্ব তার সাথে সখ্যতা করত … আর আজ তা তার কাছ থেকে বিমুখ হয়ে গেছে।

পথভ্রষ্ট সময়ের এক ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে … সৎকর্মশীলদের জন্য যুগ আবার কবে অনুকূল ছিল?

সময় 'বনু মাউস সামা'কে (আকাশের পানির সন্তানদের) লাঞ্ছিত করেছে … আর 'বনু মাউস সামা'র এই লাঞ্ছনা অত্যন্ত প্রকট।

হায়! যদি আমি জানতাম, আমি কি এমন কোনো রাত কাটাব … যখন আমার সামনে ও পেছনে থাকবে বাগান ও ঝরনা?

জলপাই বাগানের সেই স্থানে যা আভিজাত্যের উত্তরাধিকারী … যেখানে কবুতর গান গায় অথবা পাখিরা কিচিরমিচির করে?

তার সুউচ্চ ও উজ্জ্বল শিখরে যেন রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয় … সুরাইয়া নক্ষত্র আমাদের দিকে ইঙ্গিত করে আর আমরাও তার দিকে ইঙ্গিত করি।

আল-জাহি এবং তার সৌভাগ্যের নক্ষত্রগুলো আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখে … তারা ঈর্ষাকাতর, যেমন একজন গভীর প্রেমিক ঈর্ষাকাতর হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٥)
تراه عسيراً أو يسيراً مناله … إلا كلّ ما شاء الإله يسيرُ

وأول عيد أخذه باغمات وهو سارح، وما غير الشجون له مسارح، ولا زيّ إلاّ حالة الخمول، واستحالة المأمول، فدخل عليه من بينه، من يسلم عليه ويهنيه، وفيهم بناته وعليهنّ أطمار، كأنّها كسوف وهنّ أقمار، يبكين عند التسايل، ويبدين الخشوع بعد التخايل، والضياع قد غير صورهن، وحير نظرهن، وأقدامهن حافية، وأثار نعيمهن عافية، فقال: بسيط

 

فيما مضى كنتَ بالأعياد مسروراً … فساءك العيد في أغمات مأسوراً

ترى بناتك في الأطمار جائعة … يغزلن للناس ما يملكن قطميراً

برزن نحوك للتسليم خاشعة … أبصارهنّ حسيرات مكاسيرا

يطأن في الطين والأقدام حافية … كأنّها لم تطأ مسكاً وكافوراً

لأخدّ إلاّ تشكّى الجدبَ ظاهرهُ … وليس إلاّ مع الأنفاس ممطورا

أفطرتَ في العيد لا عادت إساءته … فكانَ فطرك للأكباد تفطيراً

قد كان دهرك إن تأمره متمثلاً … فردّك الدهر منهيّاً ومأموراً

من بات بعدك في ملك يسرّ به … فإنّما بات بالأحلام مغروراً

وأقام بالعدوة برهة لا يروع له سرب، وإن لم يكن آمناً، ولا يثور له كرب، وإن كان في ضلوعه كامناً، إلى أن ثار أحد بينه باركش معقلاً كان مجاوراً لإشبيلية مجاورة الأنامل للراح، ظاهراً على بسائط وبطاح، لا يمكن معه عيش، ولا يتمكن من منازلته جيش، فغدا بالمكاره على أهلها وراح، وضيق عليهن المتسع من جهاتها والبراح، فسار نحوه الأمير ابن أبي بكر رحمة الله عليه، قبل أن يرتد طرف استقامته إليه، فوجه وشره قد تشمر، وضره قد تنمر، وجمرة متسعر، وأمره متوعر، فنزل عدوته، وحل للحزم حبوته، وتدارك داءه قبل أعضاله، ونازله وما أعد آلات نضاله، وانحشرت إليه الجيوش من كل قطر، وأفرغ في مالسكه كل قطر، فبقي محصوراً لا يشد له إلا سهم، ولا ينفذ عنه إلا نفس أو وهم، وامتسك شهوراً حتى غرضه أحد الرماة فرماه، بسهم أصماه، فهوى في مطلعه، وخر قتيلاً في موضعه، فدفن إلى جانب سريره، وأمن عاقبة تغييره، وبقي أهله ممتنعين مع طائفة من وزرائه حتى اشتد عليهم الحصر، وارتد عنهم النصر، وعمهم الجوع، وأغب أجفانهم الهجوع، فنزلت منهم طائفة متهافتة، ورقت بأنفاس خافتة، فتبعهم من بقي، ورغب
তুমি একে কঠিন মনে করো বা এর অর্জনকে সহজ মনে করো … প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই সহজ।

আর প্রথম যে ঈদটি তাকে আগমতে পেল, তখন তিনি দিশেহারা অবস্থায় ছিলেন; দুঃখ-বেদনা ছাড়া তাঁর আর কোনো বিচরণস্থল ছিল না। তাঁর অবস্থা ছিল নিছক তুচ্ছতা এবং যা কিছু কাম্য ছিল তার রূপান্তর। তাঁর নিকট তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা প্রবেশ করল তাঁকে সালাম দিতে এবং অভিনন্দন জানাতে। তাদের মধ্যে ছিল তাঁর কন্যারা, তাদের গায়ে ছিল জরাজীর্ণ বস্ত্র; তারা যেন চন্দ্র ছিল কিন্তু তাতে গ্রহণ লেগেছিল। তারা কান্নার সময় অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল এবং অহংকারের পর বিনয় প্রকাশ করছিল। অভাব তাদের রূপ বদলে দিয়েছিল এবং তাদের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করেছিল। তাদের পা ছিল নগ্ন এবং তাদের পূর্বের নিআমতের চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন:

 

অতীতে তুমি ঈদ উপলক্ষে আনন্দিত হতে … কিন্তু আজ আগমতে বন্দী অবস্থায় এই ঈদ তোমাকে শোকার্ত করল।

তুমি তোমার কন্যাদের দেখছ জরাজীর্ণ বস্ত্রে ক্ষুধার্ত অবস্থায় … তারা মানুষের জন্য সূতা কাটছে, অথচ তাদের সামান্যতম তুচ্ছ সম্পদও অবশিষ্ট নেই।

তারা তোমার দিকে এগিয়ে এল নতশিরে সালাম দিতে … তাদের দৃষ্টি ছিল ক্লান্ত ও ভগ্নহৃদয়।

তারা নগ্ন পায়ে কাদার ওপর দিয়ে হাঁটছে … অথচ মনে হয় তারা যেন কখনো মিশক ও কর্পূরের ওপর পদচারণা করেনি।

এমন কোনো গাল নেই যার বহির্ভাগ রুক্ষতার অভিযোগ করছে না … আর তা কেবল দীর্ঘশ্বাসের সাথেই অশ্রুসিক্ত হচ্ছে।

তুমি ঈদের দিন রোজা ভাঙলে—এই অশুভ দিন যেন আর ফিরে না আসে … তোমার এই ইফতার যেন কলিজাকে বিদীর্ণ করে দিল।

এক সময় মহাকাল তোমার আদেশের বাধ্য ছিল … আজ সেই মহাকালই তোমাকে আদেশ ও নিষেধের অনুগামী করে দিল।

তোমার পরে যে ব্যক্তি রাজত্ব পেয়ে আনন্দিত হয় … সে আসলে স্বপ্নের ঘোরে প্রবঞ্চিত হয়ে রাত অতিবাহিত করছে।

তিনি সমুদ্রের অপর তীরে বেশ কিছুকাল অবস্থান করলেন, সেখানে তাঁর কোনো শত্রু ছিল না, যদিও তিনি পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ছিলেন না। তাঁর মনে কোনো ক্ষোভের উদ্রেক হতো না, যদিও তা পাঁজরের ভেতরে সুপ্ত ছিল। এরপর ইশবিলিয়ার সন্নিকটে বারকিশ নামক এক দুর্গে এক ব্যক্তি বিদ্রোহ করল, যা ছিল হাতের তালুর সাথে আঙ্গুলের মতো নিকটবর্তী। তা ছিল সমভূমি ও উপত্যকার ওপর প্রকাশ্য। সেখানে বসবাস করা সম্ভব ছিল না এবং কোনো সেনাবাহিনীর পক্ষে তার মোকাবিলা করাও সহজসাধ্য ছিল না। সে সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর বিপদ নিয়ে আসত এবং তাদের জন্য প্রশস্ত জায়গাসমূহকে সংকীর্ণ করে তুলত। তখন আমির ইবনে আবি বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তার দিকে অগ্রসর হলেন, তাঁর সংকল্প তখনও অটল ছিল। তিনি তার দিকে রুখে দাঁড়ালেন যখন তার অশুভ প্রভাব বিস্তৃত হয়েছিল, তার অনিষ্ট হিংস্র রূপ ধারণ করেছিল, তার ক্রোধের আগুন জ্বলছিল এবং তার বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি তার সন্নিকটে অবতরণ করলেন এবং দৃঢ়তার সাথে কোমর বাঁধলেন। রোগটি কঠিন হওয়ার আগেই তিনি তার প্রতিকার করলেন। তিনি তার ওপর আক্রমণ করলেন অথচ যুদ্ধের সরঞ্জাম তখনও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করেননি। প্রতিটি প্রান্ত থেকে তাঁর দিকে সেনাবাহিনী ধাবিত হলো এবং তাঁর কোষাগারের সমস্ত সম্পদ তিনি ব্যয় করলেন। ফলে বিদ্রোহী ব্যক্তিটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল; কেবল তীর নিক্ষেপ ছাড়া তার আর কোনো গতি রইল না, আর দীর্ঘশ্বাস বা কল্পনা ছাড়া তার কাছ থেকে কিছুই বের হতে পারল না। সে কয়েক মাস ধৈর্য ধরল, অবশেষে তীরন্দাজদের একজন তাকে লক্ষ্য করে এমন এক অব্যর্থ তীর নিক্ষেপ করল যা তাকে ধরাশায়ী করল। সে তার অবস্থানের জায়গায় মুখ থুবড়ে পড়ে নিহত হলো। তাকে তার শয্যার পাশে দাফন করা হলো এবং তার অবস্থার পরিবর্তনের অশুভ পরিণতি থেকে সে নিষ্কৃতি পেল। তার পরিবারের সদস্যরা এবং একদল উজির দুর্ভেদ্য অবস্থায় রয়ে গেল, যতক্ষণ না অবরোধ তাদের জন্য কঠোর হয়ে উঠল এবং বিজয় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। ক্ষুধা তাদের গ্রাস করল এবং তাদের চোখের পাতা থেকে ঘুম বিদায় নিল। অতঃপর তাদের একটি দল জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় নিচে নেমে এল এবং ক্ষীণ স্বরে করুণা ভিক্ষা করল। বাকিরা তাদের অনুসরণ করল এবং তাদের ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করল।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٦)
في التنعم من شقي، فوصلوا إلى قبضة الملمات، وحصلوا في غصة الممات، فرسمهم الحيف، وتقسمهم السيف، ولما زأر الشبل خيفت ثورة الأسد، ولم يرج صلاح الكل والبعض قد فسد، فاعتقل المعتمد خلال تلك الحال وأثناءها، وأحل ساحة الخطوب وفناءها، وحين أركبوه أساودا، وأورثوه حزناً بات له معاودا، قال: كامل

 

غنّتك أغماتيّة الألحان … ثقلت على الأرواح والأبدان

قد كان كالثعبان رمحك في الوغا … فغدا عليك القيد كالثعبان

متعدداً بحميك كل تعدّد … متعطّفاً لا رحمة للعاني

قلبي إلى الرحمن يشكو بثّه … ما خاب من يشكو إلى الرحمن

يا سائلاً عن شأنه ومكانه … ما كان أغنى شانه عن شأني

هاتيك قينته وذلك قصره … من بعد لأتى مقاصرٍ وقيان

ولما فقد من يجالسه، وبعد عنه من كان يوانسه، وتمادى كربه، ولم تسالمه حربه، قال: طويل

 

تؤمّل للنفس الشجيّة فرحة … وتأبى الخطوب السود إلاّ تمادياً

لياليك في زاهيك أصفى صحبتها … كما صحبتْ قلبي الملوك اللياليا

نعيم وبؤس ذا لذلك ناسخ … وبعدهما نسخ المنايا الأمانيا

ولما امتدت في الثقاف مدته، واشتدت عليه قسوة الكبل وشدته، وأقلقته همومه، وأطبقته غمومه، وتوالت عليه الشجون، وطالت لياليه الجون، قال: بسيط

 

أنباء أسرك قد طبّقن أفاقاً … بل قد عممن جهات الأرض إقلاقاً

سارت من الغرب لا تطوى لها قدم … حتّى أتت شرقها تنعاك إشراقاً

فأحرق الفجع أكباداً وأفئدةً … وأغرق الدمع إماقاً وأحداقاً

قد ضاق صدر المعالي غذ نعيتَ لها … وقيل إنّ عليك القيدَ قد ضاقا

إنّي غلبتَ وكنت الدهرَ ذا غلب … للغالبين وللسبّاق سبّاقاً

قلت الخطوبُ أذلّتني طوارقها … وكان عزميَ لأعداء طرّاقا

متى رأيت صروفَ الدهر تاركةً … إذا انبرت لذوي الأخطار أرماقا

وقال لي من أثق به لما ثار ابنه حيث ثار، وأثار من حقد أمير المسلمين عليه ما أثار، جزع جزعاً مفرطاً، وعلم أنه قد صار في أنشوطة الشر متورطاً، وجعل يتشكى من فعله ويتظلم، ويتوجع منه ويتألم، ويقول عرض بي للمحن، ورضي لي أن أمتحن،
সুখ-শান্তির মাঝে কেউ দুর্ভাগ্যে পতিত হলো, তারা বিপদের কবলে নিপতিত হলো এবং মৃত্যুর যন্ত্রণায় উপনীত হলো। অবিচার তাদের ললাটলিখন হয়ে দাঁড়ালো এবং তলোয়ার তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিল। যখন সিংহশাবক গর্জন করে উঠল, তখন সিংহের বিপ্লবের আশঙ্কা দেখা দিল। যখন কিছু অংশ কলুষিত হয়ে পড়ল, তখন সামগ্রিক সংশোধনের আর কোনো আশা রইল না। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই আল-মুতামিদকে বন্দি করা হলো এবং তাকে বিপদ-আপদ ও ধ্বংসের আঙিনায় নিক্ষেপ করা হলো। যখন তারা তাকে কৃষ্ণসর্পতুল্য শিকলে আবদ্ধ করল এবং এমন এক শোকের উত্তরাধিকারী করল যা বারবার ফিরে আসতে লাগল, তখন তিনি কামিল ছন্দে বললেন:

 

আগমাতের সুরগুলো তোমার কাছে গীত হয়েছে … যা আত্মা ও শরীরের জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে।

রণক্ষেত্রে তোমার বর্শা ছিল সাপের মতো ক্ষিপ্র … আজ তোমার ওপর এই শিকলই সাপের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তোমার চারপাশকে সে নানাভাবে ঘিরে রেখেছে … তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে, বন্দির প্রতি যার কোনো করুণা নেই।

আমার হৃদয় দয়াময় আল্লাহর কাছে তার দুঃখের অভিযোগ জানাচ্ছে … যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে, সে কখনও ব্যর্থ হয় না।

হে তাঁর অবস্থা ও স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসু … তাঁর শান ও গরিমা আমার এই অবস্থা থেকে কতই না ঊর্ধ্বে ছিল!

ওই তো তাঁর গায়িকা এবং ওই তাঁর প্রাসাদ … রাজকীয় কক্ষ ও গায়িকাদের সান্নিধ্য লাভের পর আজ এই কঠিন অবস্থা।

যখন তিনি তাঁর সহচরদের হারালেন এবং তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধুরা দূরে সরে গেল, আর তাঁর কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হলো এবং যুদ্ধ তাঁর সাথে সন্ধি করল না, তখন তিনি তবিল ছন্দে বললেন:

 

বিষাদগ্রস্ত আত্মা আনন্দের আশা করে … কিন্তু কালো বিপদরাশি কেবল দীর্ঘায়িত হতেই চায়।

‘জাহি’ প্রাসাদে কাটানো তোমার রাতগুলো ছিল পরম সুখের … যেমন রাজাদের রাতগুলো আমার হৃদয়ের সঙ্গী ছিল।

সুখ ও দুঃখ একে অপরের পরিপূরক ও রহিতকারী … আর এ দুটির পর মৃত্যু এসে সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

যখন বন্দিশালায় তাঁর সময় দীর্ঘ হলো এবং শিকলের কঠোরতা ও তীব্রতা তাঁর ওপর চেপে বসল, যখন তাঁর দুশ্চিন্তা তাঁকে অস্থির করে তুলল এবং দুঃখ-বেদনা তাঁকে আচ্ছন্ন করল, আর তাঁর বিষাদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেল এবং আঁধার রাতগুলো দীর্ঘায়িত হলো, তখন তিনি বাসিত ছন্দে বললেন:

 

তোমার বন্দি হওয়ার সংবাদ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে … বরং তা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তকে অস্থিরতায় নিমজ্জিত করেছে।

তা পশ্চিম থেকে যাত্রা শুরু করেছে অক্লান্ত চরণে … অবশেষে তা পূর্ব দিগন্তে পৌঁছে তোমার পতনের সংবাদ প্রচার করেছে।

এই শোক কলিজা ও হৃদয়কে দগ্ধ করেছে … আর অশ্রু চোখের কোণ ও মণিগুলোকে প্লাবিত করেছে।

শ্রেষ্ঠত্বের বুক সংকুচিত হয়ে এল যখন তোমার বিয়োগ সংবাদ শোনানো হলো … আর বলা হলো যে, তোমার ওপর শিকলগুলো বড়ই সংকীর্ণ হয়ে চেপে বসেছে।

হায়! তুমি আজ পরাজিত হলে, অথচ একসময় তুমি ছিলে মহাকালের বিজয়ী … বিজয়ীদের ওপর বিজয়ী এবং অগ্রগামীদের মধ্যেও অগ্রগামী।

তুমি বললে, আকস্মিক বিপদগুলো আমাকে লাঞ্ছিত করেছে … অথচ আমার সংকল্প ছিল শত্রুদের জন্য এক প্রবল আঘাতকারী।

তুমি কি কখনও দেখেছ যে কালের বিবর্তন কাউকে ছেড়ে দিয়েছে … যখন তা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়?

আমার এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমাকে বললেন যে, যখন তাঁর পুত্র বিদ্রোহ করল, তখন তা আমিরুল মুসলিমীনের মনে তাঁর প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভের উদ্রেক করল। তিনি চরমভাবে বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি অনিষ্টের জালে ফেঁসে গেছেন। তিনি তাঁর পুত্রের কাজের জন্য অভিযোগ করতে লাগলেন, অনুনয়-বিনয় করতে লাগলেন এবং ব্যথিত ও মর্মাহত হয়ে বলতে লাগলেন, "সে আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং আমার এই পরীক্ষায় সে সন্তুষ্ট হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ووالله ما أبكي إلا انكشاف من أتخلفه بعدي، ويتحيفه بعدي، ثم أطرق ورفع رأسه وقد تهللت أسرته، وظللته مسرته، ورأيته قد استجمع، ولشوف إلى السماء وتطلع، فعلمت أنه قد رجا عودة إلى سلطانه، وأوبة إلى أوطانه، فما كان إلا مقدار ما تنداح دائرة، أو تلتفت مقلة حائرة، حتى قال: متقارب

 

كذا يهلك السيف في جفنه … إذا هزّ كف طويل الحنينِ

كذا يعطش الرمح لم أعتقله … ولم تروه من نجيعٍ يمني

كذا يمنع الطرف علك الشكي … م مرتقباً غرّة في كمينِ

كانّ الفوارس فيه ليوث … تراعى فرائسها في عرينِ

إلا شرف يرحم المشر ف … يّ مما به من سماة الوتينِ

الأكرم ينعش السمهريَّ … ويشفيه من كل داءٍ دفينِ

الأحنّة لبن محنيه … شديد الحنين ضعيف الأنينِ

يؤمل من صدرها ضمّة … تبوّئه صدر كفؤّ معينِ

وكانت طائفة من أهل فاس قد عاثوا فيها وفسقوا، وانتظموا في سلك الطغيان واتسقوا، ومنعوا جفون أهلها السنات، وأخذوا البنين من جحور أمهاتهم والبنات، وتلقبوا بالإمارة، واركبوا السواء نفوسهم الإمارة، حتى كادت تقفر على أيديهم، وتدثر رسومها بإفراط تعديهم، إلى أن تدارك أمير المسلمين رحمه الله أمرهم، وأطفأ جمرهم، وأوجعهم ضرباً، وأقطعهم ما شاء حزناً وكرباً، وسجنهم باغمات، وضمتهم جوانح الملمات، والمعتهد غذ ذاك، معتقل هناك، وكان فيهم طائفة شعرية، مذنبة أو برية، فرغبوا إلى سجانهم، أن يستريحوا إلى المعتمد من أشجانهم، فخلى ما بينهم وبينه، وغمض لهم في ذلك عينه، فكان المعتمد رحمه الله يتسلى بمجالستهم، ويجد أثر موانستهم، ويستريح إليهم بجواه، ويبوح لهم بسره ونجواه، إلى أن شفع فيهم وانطلقوا من وثاقهم، وانفرج لهم مبهم أغلاقهم، وبقي المعتمد في مجلسه يتشكى من ضيق الكبل، ويبكي بدمع كالوبل، فدخلوا عليه مودعين، ومن بثه متوجعين، فقال: طويل

 

أما لانسكاب الدمع في الخد راحة … لقد آن أن ينفي ويقنا به الخد

هبوا دعوة يا آل فاس لمبتل … بما منه قد عافاكم الصمد الفرد

تخلصتم من سجن أغمات والتوت … عليّ قيود لم يحن فكّها بعدُ

من الدهم أمّا خلقها فأساودَ … تلوى وأمّا الأيد والبطش فالأسدُ
আল্লাহর কসম, আমি কেবল তাদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে কাঁদছি যাদের আমি পেছনে ছেড়ে যাচ্ছি এবং যারা আমার অবর্তমানে ক্রমাগত ক্ষতির শিকার হবে। এরপর তিনি মাথা নিচু করলেন এবং পুনরায় মাথা তুললেন, তখন তাঁর ললাট উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তাঁর অবয়বে আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ল। আমি তাঁকে সংকল্পবদ্ধ অবস্থায় দেখলাম এবং তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করছিলেন। আমি বুঝতে পারলাম তিনি তাঁর রাজত্বে ফিরে যাওয়ার এবং নিজ স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের আশা পোষণ করছেন। এর মাঝে কেবল একটি বৃত্ত প্রশস্ত হওয়া বা কোনো উদভ্রান্ত চোখের পলক ফেলার মতো সময় পার হলো, তারপর তিনি মুতাকারিব ছন্দে বললেন:

 

এভাবেই তলোয়ার তার কোষের ভেতর ধ্বংস হয়ে যায় … যখন দীর্ঘ আকুলতাময় কোনো হস্ত তাকে প্রকম্পিত না করে।

এভাবেই বর্শা তৃষ্ণার্ত থাকে যখন আমি তা ধারণ করি না … এবং ইয়েমেনি রক্ত দ্বারা তুমি তাকে সিক্ত করো না।

এভাবেই অশ্ব লাগাম চিবানো থেকে বিরত থাকে … যখন সে অতর্কিত আক্রমণের সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে।

যেন অশ্বারোহীরা তাতে এক একটি সিংহ … যারা তাদের গুহায় শিকার পাহারা দিচ্ছে।

কেবল সেই মর্যাদা ছাড়া যা মাশরাফি তলোয়ারের ওপর দয়া করে … তার ধমনী ছেদকারী ধারালো আঘাতের চিহ্নের কারণে।

সেই মহান ব্যক্তিই ঋজু বর্শাকে পুনরুজ্জীবিত করেন … এবং একে প্রতিটি সুপ্ত ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করেন।

ধনুকগুলো যেন তাদের বাঁকানো কাঠামোর স্তন্যদানকারিণী … যা প্রবল আকুলতাময় কিন্তু অত্যন্ত ক্ষীণ আর্তনাদ বিশিষ্ট।

সে তার বক্ষ থেকে এমন এক আলিঙ্গন আশা করে … যা তাকে এক যোগ্য সাহায্যকারীর বক্ষে স্থান দেবে।

ফেজ শহরের একদল লোক সেখানে বিশৃঙ্খলা ও পাপাচার ছড়িয়ে দিয়েছিল, তারা অবাধ্যতার শিকলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তারা শহরবাসীদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল এবং মায়েদের কোল থেকে তাদের পুত্র-কন্যাদের ছিনিয়ে নিয়েছিল। তারা 'ইমারত' (নেতৃত্ব) উপাধি ধারণ করেছিল এবং তাদের মন্দপ্রবণ প্রবৃত্তি তাদের ওপর সওয়ার হয়েছিল। এমনকি তাদের সীমালঙ্ঘনের আতিশয্যে শহরটি প্রায় জনশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং এর প্রাচীন নিদর্শনগুলো মুছে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমীরুল মুসলিমীন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাদের বিষয়টি তদারকি করলেন, তাদের বিদ্রোহের আগুন নেভালেন, তাদের কঠোর প্রহার করলেন এবং তাদের চরম দুঃখ ও কষ্টের সাগরে নিমজ্জিত করলেন। তিনি তাদের আগমাত কারাগারে বন্দি করলেন এবং বিপদের সংকটে তারা সেখানে একত্রিত হলো। আর আল-মুতামিদও সেই সময় সেখানেই বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে একদল কবিও ছিল, যারা অপরাধী বা নিরপরাধ যাই হোক না কেন, তারা তাদের কারারক্ষীর কাছে আকুতি জানালো যাতে তারা আল-মুতামিদের কাছে গিয়ে তাদের শোক ও দুঃখ থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়। কারারক্ষী তাদের ও তাঁর মধ্যবর্তী পথ খুলে দিল এবং এ বিষয়ে নমনীয়তা প্রদর্শন করল। আল-মুতামিদ (রহ.) তাদের সাথে উঠাবসা করে মনে প্রশান্তি পেতেন, তাদের সাহচর্যের প্রভাব অনুভব করতেন এবং তাদের কাছে নিজের মনের ব্যথা ও গোপন কথা প্রকাশ করে হালকা হতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সুপারিশে তারা মুক্তি পেল এবং তাদের বন্দিদশার কঠিন অর্গল খুলে গেল। কিন্তু আল-মুতামিদ তাঁর সেই মজলিসেই রয়ে গেলেন, শিকলের সংকীর্ণতায় আক্ষেপ করতে লাগলেন এবং প্রবল বর্ষণের মতো অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলেন। তারা যখন বিদায় নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশ করল এবং তাঁর বিরহে ব্যথিত হলো, তখন তিনি তবীল ছন্দে বললেন:

 

গালে অশ্রু গড়িয়ে পড়াতে কি কোনো শান্তি নেই? … সময় হয়েছে যে এই গাল অশ্রু দ্বারা সিক্ত ও রঞ্জিত হবে।

হে ফেজবাসী! আপনারা এই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য দোয়া করুন … যাকে অদ্বিতীয় অমুখাপেক্ষী আল্লাহ সেই বিপদ থেকে মুক্ত করেছেন যাতে আমি এখনো নিমজ্জিত।

আপনারা আগমাতের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন, কিন্তু আমার ওপর … সেই শিকলগুলো চেপে বসল যার মুক্তির সময় এখনো আসেনি।

সেই কালো শিকলগুলো, গঠনে যেন তারা কালো বিষধর সাপ … যা পেঁচিয়ে ধরে, আর তাদের শক্তি ও আক্রমণ যেন সিংহের মতো।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فهنّئتمُ النعمى ودامت لكّلكم … سعادته أن كان قد خانني سعدُ

خرجتم جماعات وخلّفت واحداً … ولله في أمري وأمركمُ الحمدُ

ومر عليه في موضع اعتقاله سرب قطا لم يعلق لها جناح، ولا تعلق بها من الأيام جناح، ولا عاقها عن أفراخها الأشراك، ولا أعوزها البشام ولا الأراك، وهي تمرح في الجو، وتسرح في مواقع النو، فتنكد مما هو فيه من الوثاق، وما دون أحبته من الرقباء والأغلاق، وما يقاسيه من كبله، ويعانيه من وجده وخبله، وفكر في بناته وافتقارهن إلى نعيم عهدنه، وحبور حضرته وشهدنه، فقال: طويل

 

بكيت إلى سرب القطا إذ مررن بي … سوارح لا سجن يعوق ولا كبلُ

ولم تكُ والله المعيد حسادة … ولكن حنيناً أنّ شكلي لها شكلُ

فإسرح فلاشمل صديع ولا الحشا … وجيعٌ ولا عينان يبكيهما ثكلُ

وما ذاك ممّا يعتريه وإنّما … وصفت الذي في جبلة الخلق من قبلُ

هنيئاً لها إن لم يفرَّقْ جميعها … ولا ذاق منها البعد عن أهله أهلُ

وإن لم تبت مثلي تطير قلوبها … إذا اهتزّ باب السجن أو صلصل القفلُ

لنفسي إلى القيا الحمام تشوّف … سواي يحبّ العيش في ساقه كبلُ

ألا عصم الله القطا في فراخها … فإن فراخي خانها الماءُ والظلُّ

وفي هذه الحال زاره الأديب أبو بكر بن اللبانة المتقدم الذكر وهو أحد شعراء دولته المرتضعين درها، المنتجعين درها، وكان المعتمد رحمه الله يميزه بالشفوف والإحسان، ويجوزه في فرسان هذا الشأن، فلما رآه وحلقات الكبل قد عضت بساقيه عض الأسود، والتوت عليه التواء الأساود السود، وهو لا يطيق أعمال قدم، ولا يريق دمعاً إلا ممزوجاً بدم، بعد ما عهده فوق منبر وسرير، ووسط جنة وحرير، تخفق عليه الألوية، وتشرق منه الأندية، وتكف الأمطار من راحته، وتشرف الأقدار بحلول ساحته، ويرتاع الدهر من أوامره ونواهيه، ويقصر النسر أن يقاربه أو يضاهيه، ندبه بكل مقال يلهب الأكباد، ويثير فيها لوعة الحارث بن عباد، أبدع من أناشيد معبد، وأصدع للكبد من مراثي أربد، أو بكاء ذي الرمة بالمربد، سلك فيها للاختفاء طريقاً لاحباً، وغدا فيها لذيول الوفاء ساحباً، فمن ذلك قوله: بسيط

 

لكلّ شيءٍ من الأشاء ميقاتُ … وللمنى من منائيهن غاياتُ
তোমাদেরকে এই নিআমতের অভিনন্দন জানানো হোক এবং তোমাদের সবার জন্য সুখ দীর্ঘস্থায়ী হোক … অথচ ভাগ্য আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তোমরা দলবদ্ধভাবে বেরিয়ে গেলে এবং আমাকে একা রেখে গেলে … আর আমার ও তোমাদের সকল বিষয়ে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য।

তার বন্দিত্বের স্থানে তার পাশ দিয়ে একদল বালিহাঁস উড়ে গেল যাদের ডানায় কোনো বাধার স্পর্শ ছিল না, সময়ের কোনো বিপদ তাদের ডানা রুদ্ধ করেনি, কোনো ফাঁদ তাদেরকে তাদের শাবকদের কাছে যেতে বাধা দেয়নি, আর তাদের জন্য বাশাম বা আরাক গাছেরও কোনো অভাব ছিল না। তারা আকাশে আনন্দ-উল্লাস করছিল এবং মেঘের আনাগোনায় বিচরণ করছিল। এতে তিনি নিজের শিকলবদ্ধ অবস্থা এবং আপনজনদের থেকে দূরে প্রহরীদের বেষ্টনী ও রুদ্ধ দ্বারের কারণে ব্যথিত হলেন। তিনি তার শিকলের কষ্ট এবং নিজের বিরহ ও ব্যাকুলতা অনুভব করছিলেন। তিনি তার কন্যাদের কথা এবং তাদের অভাব-অনটনের কথা ভাবলেন, যারা একসময় বিলাসিতায় অভ্যস্ত ছিল এবং তার সান্নিধ্যে থেকে আনন্দ প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন তিনি বললেন:

 

আমি বালিহাঁসের দলের দিকে তাকিয়ে কেঁদেছি যখন তারা আমার পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল … তারা মুক্ত বিচরণকারী, কোনো কারাগার বা শিকল তাদের বাধা দেয় না।

আর পুনরুত্থানকারী আল্লাহর কসম! এটি কোনো হিংসাবশত ছিল না … বরং এটি ছিল এক গভীর আর্তি, কারণ আমার অবস্থাও একসময় তাদের মতোই ছিল।

সুতরাং তোমরা বিচরণ করো, তোমাদের একতা ছিন্ন হয়নি এবং তোমাদের অন্তরও … ব্যথিত নয়, আর কোনো প্রিয়জন হারানোর শোক তোমাদের দুচোখকে কাঁদায় না।

তাদের ওপর এমন কিছু আপতিত হয়নি, বরং আমি … সৃষ্টির আদি স্বভাবজাত যে বিষয়গুলো রয়েছে তারই বর্ণনা দিচ্ছিলাম।

তাদের জন্য সুসংবাদ যে, তাদের দলের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেনি … আর তাদের কোনো পরিবারের সদস্য নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করেনি।

আর তারা যদি আমার মতো রাত যাপন না করে যাদের হৃদয় ভয়ে উড়ে যায় … যখনই কারাগারের দরজা নড়ে ওঠে অথবা তালার শব্দ হয়।

আমার আত্মা মৃত্যুর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করে … অথচ আমি ছাড়া অন্য কেউ হয়তো পায়ে শিকল নিয়ে বেঁচে থাকাকেই ভালোবাসে।

ওহে! আল্লাহ যেন বালিহাঁসগুলোকে তাদের শাবকদের মাঝে নিরাপদে রাখেন … কারণ আমার সন্তানদের ভাগ্য থেকে পানি ও ছায়া ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় সাহিত্যিক আবু বকর ইবনে আল-লাব্বানা—যার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে—তাকে দেখতে এলেন। তিনি ছিলেন আল-মু’তামিদের রাজত্বের অন্যতম কবি যারা তার দাক্ষিণ্যে লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং তার করুণাধারা লাভ করেছিলেন। আল-মু’তামিদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশেষ মর্যাদা ও ইহসান প্রদান করতেন এবং তাকে এই অঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। যখন তিনি তাকে দেখলেন যে শিকলের কড়াগুলো তার দুই পায়ে সিংহের কামড়ের মতো কামড়ে ধরেছে এবং কালো বিষধর সাপের মতো তাকে পেঁচিয়ে ধরেছে, অথচ তিনি তার পা নাড়াতে পারছেন না এবং তার চোখ দিয়ে কেবল রক্তের সাথে মিশ্রিত অশ্রু ঝরছে; অথচ একসময় তিনি তাকে মিম্বর ও সিংহাসনে আসীন অবস্থায় দেখেছিলেন, জান্নাততুল্য বাগান ও রেশমের মাঝে অবস্থান করতে দেখেছিলেন, যখন তার মাথার ওপর পতাকা উড়ত, তার উপস্থিতিতে মজলিসগুলো আলোকিত হতো, তার হাতের দানে বৃষ্টির প্রয়োজন ফুরাত, তার আঙিনায় উপস্থিত হয়ে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পেত, কালচক্র তার আদেশ-নিষেধের ভয়ে কম্পমান থাকত এবং শিকারি ঈগলও তার সমকক্ষ হতে বা তার কাছে ঘেঁষতে ভয় পেত—তখন তিনি তাকে এমন এক শোকগাঁথায় স্মরণ করলেন যা কলিজাকে দগ্ধ করে দেয় এবং হারেস ইবনে আব্বাদের সেই গভীর শোককে জাগিয়ে তোলে। এটি ছিল মা’বাদ-এর সংগীতের চেয়েও অপূর্ব এবং কলিজার জন্য আরবাদ-এর শোকগাথা কিংবা মিরবাদ-এ যি-রুম্মার ক্রন্দনের চেয়েও অধিক বিদীর্ণকারী। তিনি এতে কৃতজ্ঞতার পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এবং তার মধ্যে অন্যতম হলো তার এই উক্তি:

 

প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে … আর আকাঙ্ক্ষাসমূহ যখন তাদের মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন তারও একটি পরিণতি থাকে।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٩)
والدهر في صبغة الحرباء منغمسٌ … ألوانُ حلّته فيها استحالاتُ

ونحن من لعب الشطرنج في يده … ورّبما فخرت بالبيدق الشاةُ

انفضْ يديك من الدنيا وساكنها … فالأرض قد أقفرت والناس قد ماتوا

وقل لعلمها السفليّ قد كتمت … سريرة العالم العلويّ أغماتُ

طوتْ مظلّتها لا بل مذلّتها … من لم تزل فوقه للعزّراياتُ

من كان بين الندى والباس أنصله … هنديّةٌ وعطاياه هنيداتُ

رماه من حيث لم تستره سابغة … دهر مصيباته نبلٌ مصيبباتٌ

وكان ملء عيان العين تبصره … وللأمانيّ في مراءة مراءاتُ

أنكرتُ إلاّ التواءات القيود به … وكيف تنكر في الروضات حيّاتُ

غلطت بين همائين عقدنْ لهُ … وبينها فإذا الأنواع أشتاتُ

وقلت هنّ ذؤابات فكم عكست … من رأسه نحو رجليه الذؤابات

حسبتها من قناة أو أعنّته … إذا بها لثقاف المجد آلات

دورة ليثا فخافوا منه عاديةٌ … عذرتهم فلعدو الليث عاداتُ

منه المهابات في الأرواح آخذة … وإن تكن أخذت منه المهاباتُ

لو كان يفرج عنه بعض أوانةٍ … قامت بدعوته حتّى الجماداتُ

بحر محيط عهدناه تجيء له … كنقطة الدارة السبع المحيطاتُ

وبدر سبعٍ وسبعً تستميد به السب? … ?ع الأقاليم والسبع السماواتُ

به وإن كان أخفاه السرار سنا … قبل الصباح به تجلى الدجنّاتُ

لهفي على آل عبادٍ فإنّهمُ … أهلّة مالها في الأفق هالاتُ

تمسّكت بعرى اللّذات ذاتهمُ … يا بئس ما جنيت للذات لذّاتُ

راح الحيا وغدا منهم بمنزلة … كانت لنا بكرٌ فيها وروحاتُ

أرض كانّ على أقطارها سرجاً … قد أوقدتهنّ في الأذهان أنباتُ

وفوق شاطئ واديها رياض ربا … قد ظلّلتها من الأنشام دوحاتُ

كانّ واديها بلبّتها … وغاية الحسن أسلاك ولبّاتُ

نهر شربتُ بعبريه على صورِ … كانت لها فيّ قبل الراح سوراتُ

وكنتُ أورق في إيكانه ورقاً … تهوى ولي من قريض الشعر أصوات

وكم جريت بشطَّي طعنتته إلى … محاسنٍ للهوى فيهنّ وقفاتُ
কাল গিরগিটির রঙের ন্যায় নিমজ্জিত … তার পোশাকের বর্ণসমূহে রয়েছে রূপান্তর।

আর আমরা তার হাতের দাবা খেলার গুটির মতো … এবং সম্ভবত দাবাড়ু রাজা সামান্য পদাতিক সৈন্যের ওপর গর্ব করে।

দুনিয়া ও তার অধিবাসীদের থেকে তোমার হাত ঝেড়ে ফেলো … কেননা জমিন জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং মানুষ সব মরে গেছে।

আর তার নিম্নস্থ জগতের জ্ঞানকে বলো যে, উচ্চ জগতের রহস্যকে … আঘমাত (অঞ্চল) গোপন করে রেখেছে।

সে তার শামিয়ানা গুটিয়ে নিয়েছে, বরং তার লাঞ্ছনাকে … যার ওপর সর্বদা মর্যাদার পতাকাসমূহ উড্ডীন থাকত।

দানশীলতা ও বীরত্বের মাঝে যার তরবারিগুলো ছিল … হিন্দি এবং তার দানসমূহ ছিল অঢেল প্রাচুর্যময়।

কাল তাকে এমন এক জায়গা থেকে আঘাত করেছে যেখানে কোনো বর্ম তাকে রক্ষা করতে পারেনি … এমন এক কাল যার বিপদসমূহ হলো অব্যর্থ তীর।

তিনি দৃষ্টির পূর্ণতা জুড়ে ছিলেন যা তাকে দেখত … আর আকাঙ্ক্ষাসম্মত বিষয়ের জন্য তার দর্পণে ছিল নানাবিধ প্রতিচ্ছবি।

আমি কিছুই অস্বীকার করিনি কেবল তার শিকলের মোচড় ছাড়া … আর বাগানের মাঝে সাপকে কীভাবে অস্বীকার করা যায়?

আমি সেই দুই মেঘমালার মাঝে ভুল করেছি যা তার জন্য একত্রিত হয়েছিল … আর সেগুলোর মাঝে প্রকারভেদ ছিল বিচিত্র।

আমি বললাম এগুলো তো কেশগুচ্ছ, কিন্তু কতই না তা উল্টে গেল … তার মাথা থেকে তার দুই পায়ের দিকে সেই কেশগুচ্ছগুলো।

আমি সেগুলোকে বল্লম বা লাগাম মনে করেছিলাম … অথচ সেগুলো ছিল মহিমা অর্জনের হাতিয়ারস্বরূপ।

তারা এক সিংহকে ঘিরে ধরেছিল এবং তার আক্রমণের ভয় পাচ্ছিল … আমি তাদের ক্ষমা করেছি, কেননা সিংহের শত্রুদের তো এমনই স্বভাব।

তার প্রভাব আত্মাগুলোকে আবিষ্ট করে রেখেছে … যদিও তার থেকে প্রভাব-প্রতিপত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

যদি কোনো এক সময়ের জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হতো … তবে জড় পদার্থগুলোও তার আহ্বানে দাঁড়িয়ে যেত।

তিনি এক মহাসমুদ্র যাকে আমরা জানতাম, যার নিকট আসত … বৃত্তের বিন্দুর ন্যায় সাতটি পরিবেষ্টিত সমুদ্র।

আর চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমা যার থেকে সাহায্য প্রার্থনা করত … সাতটি অঞ্চল এবং সাতটি আসমান।

তার মাধ্যমে, যদিও মাসের শেষ রাতের অন্ধকার তার প্রভাকে আড়াল করেছে … সকালের পূর্বেই তার দ্বারা অন্ধকার দূরীভূত হয়।

আব্বাদ পরিবারের জন্য আমার আক্ষেপ, কেননা তারা … এমন এক এক ফালি চাঁদ যাদের দিগন্তে কোনো জ্যোতির্বলয় নেই।

তাদের সত্তা লালসার হাতলকে আঁকড়ে ধরেছিল … হায়, নফসের জন্য সঞ্চিত লালসা কতই না মন্দ।

লজ্জা চলে গেছে এবং তাদের পক্ষ থেকে এমন এক অবস্থানে পরিণত হয়েছে … যেখানে আমাদের জন্য ছিল সকাল ও সন্ধ্যার বিচরণ।

এমন এক ভূমি যার দিগন্তসমূহে মনে হতো যেন প্রদীপ জ্বলছে … যা মেধা ও বুদ্ধিতে সংবাদসমূহ প্রজ্বলিত করেছিল।

আর তার উপত্যকার তীরের ওপর ছিল পাহাড়ের বাগানসমূহ … যাকে বৃহৎ বৃক্ষরাজি ছায়া প্রদান করত।

মনে হয় যেন তার উপত্যকাটি তার গলার হার … আর সৌন্দর্যের চরম সীমা হলো এর সুতো ও অলঙ্কার।

এমন এক নদী যার দুই তীরে আমি পান করেছি সেইসব ছবির ন্যায় রূপের সামনে … মদের নেশার পূর্বেই যাদের প্রভাব আমার ওপর ছিল।

আর আমি তার বৃক্ষশাখার নীড়ে নীড়ে পাখির মতো কিচিরমিচির করতাম … আমি ভালোবাসতাম এবং কবিতার ছন্দে আমার কণ্ঠ ধ্বনিত হতো।

আর কতই না আমি তার দুই তীরে দৌড়েছি সেইসব … সৌন্দর্যের দিকে যেখানে অনুরাগের বিরতি ছিল।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وربّما كنتُ أسمو للخليج به … وفي الخليج لأهل الراح راحاتُ

وبالغرسات لاجفّت منابتها … من النعيم غروسات جنّياتُ

معاهدٌ ليت أنّي قبل فرقتها … قدمتّ والتاركوها ليتهم ماتوا

فجئت منها بإخوان ذوي ثقة … والأرض فيها من الإخوان آفاتُ

وافيت في آخر الصحراء طائفة … لغاتهم في كتاب الله لغاتُ

رغد من العيش مالي ارتقبه ولي … عند ابن أغلب أكناف بسيطاتُ

إن لم يكن عنده كوني فلا سعة … للرزق عندي ولا للأنس ساعاتُ

هو المراد ولكن دونه خلج … رخاوة عندها بيض معلاتُ

وإن تكن رجس من فوق مذهبه … فليس تغرب في وجهي الملماتُ

هناك أوي من النعمى إلى كنف … فيه ظلال وأموه وجنّاتُ

بين الحصار وبين المرتضى عمر … ذاك الحصار من المحذور منجاةُ

هل يذكر المسجد المعمور شرجيه … أو للعهود على الذكرى قديماتُ

عندي رسالاتُ شوق عنده فعسى … مع الرياح توافيه رسالاتُ

ولم تزل كبده تتوقد بالزفرات، وخلله يتردد بين النكبات والعثرات، ونفسه تتقسم بالأشجان والحسرات، إلى أن شفته منيته، وجاءته بها أمنيته، فدفن باغمات، وأريح من تلك الأزمات، وعطلت المآثر من حلاها، وأفرزت المفاخر من علاها، ورفعت المفاخر من علاها، ورفعت مكارم الأخلاق، وكسدت نفائس الأعلاق، وصار أمره عبرة في عصره، وصاب أبداً عبرة في مصره، وبعد أيام وافاه أبو بكر بن عبد الصمد شاعره المتصل به، المتوصل إلى المنى بسببه، فلما كان يوم العيد وانتشر الناس ضحى، وظهر كل متوار وضحى، قام على قبره عند انفصالهم من مصلاهم، واختيالهم بزينتهم زحلاهم، وقال بعد أن طاف بقبره والتزمه، وخر على تربه ولثمه: كامل

 

ملك الملوك أسامع فأنادي … أم قد عدتك عن السماع عوادِ

لما خلت منك القصور ولم تكن … فيها كما قد كنت في الأعيادِ

أقبلت في هذا الثرى لك خاضعاً … وتخذت قبرك موضع الإنشادِ

قد كنت أحسب أن تبدّد أدمعي … نيران حزن أضرمت بفؤادي

فغذا بدمعي كلّما أجريته … زادت عليَّ حرارة الأكبادِ
সম্ভবত আমি এর মাধ্যমে উপসাগরের উচ্চতায় আরোহণ করতাম ... আর উপসাগরে শরাব পানকারীদের জন্য রয়েছে প্রশান্তি।

এবং সেই সব চারাগাছের মাধ্যমে যার উৎপত্তিস্থল কখনো শুষ্ক না হোক ... নেয়ামতরাজি হতে আহরণযোগ্য জান্নাতি চারাগাছসমূহ।

এমন সব স্মৃতিবিজড়িত স্থান, হায়! যদি আমি তা বিচ্ছেদের পূর্বেই ... পরলোকে পাড়ি জমাতাম; আর যারা একে ত্যাগ করেছে, হায়! যদি তারা মরে যেত।

অতঃপর আমি সেখান থেকে একদল নির্ভরযোগ্য ভ্রাতৃবৃন্দ নিয়ে এলাম ... অথচ জমিনে ভাইদের মধ্যে আপদসমূহও বিদ্যমান।

আমি মরুভূমির শেষ প্রান্তে এমন এক দলের সাক্ষাৎ পেলাম ... আল্লাহর কিতাবে যাদের ভাষাসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

বিলাসী জীবন, যার আমি প্রত্যাশা করি না, অথচ আমার জন্য ... ইবনে আগলাবের নিকট বিস্তৃত আশ্রয়স্থল রয়েছে।

যদি তাঁর নিকট আমার অবস্থান না থাকে, তবে আমার নিকট ... জীবিকার কোনো প্রশস্ততা নেই, আর না আছে সখ্যতার কোনো মুহূর্ত।

তিনিই লক্ষ্যস্থল, কিন্তু তাঁর আগে রয়েছে এমন সব প্রতিবন্ধকতা ... যেখানে কোমল ও উজ্জ্বল তরবারিগুলো উত্তোলিত।

আর যদি তাঁর আদর্শের ঊর্ধ্বে কোনো কলঙ্ক থাকে ... তবে বিপদসমূহ আমার সম্মুখে কখনো অপসৃত হবে না।

সেখানে আমি নেয়ামতের ছায়াতলে এমন এক আশ্রয়ে আশ্রয় গ্রহণ করি ... যেখানে রয়েছে ছায়া, জলরাশি এবং উদ্যানসমূহ।

হিসার এবং পছন্দনীয় উমরের মধ্যবর্তী স্থানে ... সেই হিসার হলো ভীতিপ্রদ বিষয় হতে মুক্তির স্থান।

আবাদকৃত মসজিদ কি তার পূর্ব দিকের কথা স্মরণ করে ... নাকি স্মৃতির পাতায় প্রতিশ্রুতিগুলো অতি প্রাচীন হয়ে গেছে।

তাঁর নিকট পাঠানোর মতো আমার কাছে ব্যাকুলতার বার্তা রয়েছে, হতে পারে ... বাতাসের সাথে সেই বার্তাসমূহ তাঁর নিকট পৌঁছে যাবে।

অতঃপর তাঁর কলিজা দীর্ঘশ্বাসের দহনে জ্বলতে থাকল, তাঁর অবস্থা বিপর্যয় ও পদস্খলনের মাঝে আবর্তিত হতে থাকল এবং তাঁর আত্মা দুঃখ ও আক্ষেপে বিদীর্ণ হতে থাকল, যতক্ষণ না মৃত্যু তাঁকে আরোগ্য দান করল এবং তাঁর আকাঙ্ক্ষিত মরণ তাঁর নিকট এল। ফলে তাঁকে আগমাতে সমাহিত করা হলো এবং তিনি সেই সকল সংকট থেকে মুক্তি পেলেন। তাঁর কীর্তিসমূহ অলঙ্কারহীন হয়ে পড়ল, তাঁর গৌরবসমূহ উচ্চমর্যাদা থেকে বিচ্যুত হলো, চারিত্রিক মহত্ত্বসমূহ বিদায় নিল এবং অমূল্য সম্পদসমূহ মূল্যহীন হয়ে পড়ল। তাঁর পরিণতি তাঁর সমসাময়িকদের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হলো এবং তাঁর শহরে চিরদিনের জন্য শোকের কারণ হয়ে রইল। কয়েক দিন পর তাঁর কবি আবু বকর ইবনে আবদুস সামাদ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন, যিনি তাঁর সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর কামনার লক্ষ্যে পৌঁছাতেন। যখন ঈদের দিন উপস্থিত হলো এবং মানুষ পূর্বাহ্নে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং প্রত্যেক আত্মগোপনকারী ও প্রকাশ্য ব্যক্তি আবির্ভূত হলো, তখন তারা যখন ঈদগাহ থেকে ফিরছিল এবং নিজেদের সাজসজ্জা নিয়ে গর্বভরে হেঁটে যাচ্ছিল, তখন তিনি (কবি) তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কবরটি প্রদক্ষিণ করলেন এবং একে জড়িয়ে ধরলেন, অতঃপর তাঁর মাটির ওপর লুটিয়ে পড়লেন এবং তা চুম্বন করলেন; অতঃপর কামিল ছন্দে বললেন:

 

হে রাজাধিরাজ! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন যে আমি ডাকব? ... নাকি কোনো বাধা আপনাকে শ্রবণ করা হতে নিবৃত্ত রেখেছে?

যখন রাজপ্রাসাদগুলো আপনার শূন্যতায় খালি হয়ে গেল এবং আপনি তাতে আর নেই ... যেমনটি আপনি ঈদের দিনগুলোতে থাকতেন।

তখন আমি এই মাটির ওপর আপনার প্রতি বিনীত হয়ে এগিয়ে এলাম ... এবং আপনার কবরকেই আমার কবিতা পাঠের স্থান বানিয়ে নিলাম।

আমি মনে করতাম যে আমার চোখের অশ্রু নিভিয়ে দেবে ... সেই শোকের আগুন যা আমার হৃদয়ে প্রজ্বলিত হয়েছে।

কিন্তু দেখা গেল, আমি যখনই অশ্রু প্রবাহিত করি ... তা আমার কলিজার দহনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) কালায়িদুল উকিয়ান ফী মাহাসিনির রু-আসা ওয়াল কুদাত ওয়াল কুত্তাব ওয়াল আদাবা ওয়াল আয়ান (পৃষ্ঠা: ٣١)
فالعين في التسكاب والتهتان وال … أحشاء في الإحراق والإيقادِ

يا أيّها القمر المنير أهكذا … يمحى ضياء النيّر الوقادِ

أفقدتُ عيني مذ فقدت أناره … لحجابها في ظلمه وسوادِ

ما كان ظنّي قبل موتك أن أزر … قبراً يضم شوامخ الأطوادِ

الهضبة الشمّاء تحت ضريحه … والبحر ذو التيّار والأزبادِ

عهدي بملك وهو طلق ضاحك … متهلّل الصفحات للقصّادِ

والمال ذو شمل مذاذٍ والندى … يهمي وشمل الملك غير مذادٍ

أيام تخفق حولك الرايات فو … ق كتائب الرؤساء والأجنادِ

والأمر أمرك والزمان مبشّر … بممالك قد أذعنت وبلادِ

والخيل تمرح والفوارس تنحني … بين الصوارم والقنا الميّادِ

وهي قصيدة أطال أنشادها، وبنى بها اللواعج وشادها، فانحشر الناس إليه وأحفلوا، وبكوا لبكائه وأعولوا، وأقاموا أكثر نهارهم مطيفين به طواف الحجيج، مديمين البكاء والعجيج، ثم انصرفوا وقد نزفوا ماء عيونهم، وأقرحوا مأقيهم بفيض شؤنهم، وهذه نهاية كل عيش، وغاية كل ملك وجيش، والأيام لا تدع حيا، ولا تألوا كل نشر طيا، تطرق رزاياها كل سمع، وتفرق مناياها كل جمع، وتصمي كل ذي أمر ونهي، وترمي كل مشيد بوهي، ومن قبله طوت النمعان ابن الشقيقة، ولوت مجازها في تلك الحقيقة.

 

‌‌ابنة الراضي بالله أبو خالد يزيد بن محمد رحمه الله

ملك تقرع من دوحة سناء، أصلها ثابت وفرعها في السماء، وتحدر من سلالة أكابر، ورقاة أسرة ومنابر، وتصرف أثناء شبيبته بين دراسة معارف، وأفاضه عوارف، وكلف بالعلم حتى صار ملهج لسانه، وروضته أجفانه، لا يستريح منه إلا إلى متن سائل الغرة، ميمون الأسرة، يسابق به الرياح، ويحاسن بغرته البدر اللياح، عريق في السناء، عتيق الاقتناء، سريع الوخد والإرقال: من آل أعوج أو ولد العقال: إلى أن ولاة أبوه الجزيرة الخضراء، وضم إليها رندة الغراء، فانتقل من متن الجواد، إلى ذروة الأعواد، وأقلع عن الدراسة، إلى تدبير الرياسة، ومازال يدبرها بجودة ونهاه، ويورد الآمل فيها مناه، حتى غدت عراقاً، وامتلأت إشراقاً، إلى أن اتفق

চক্ষু অশ্রু বিসর্জনে ও নিরন্তর বর্ষণে মগ্ন এবং … অন্তরাত্মা দহন ও প্রজ্বলনে ব্যথিত।

হে উজ্জ্বল চাঁদ! এভাবেই কি … প্রদীপ্ত জ্যোতির্ময় আলোর দ্যুতি নিভে যায়?

আমি আমার চক্ষু হারিয়েছি যখন থেকে তার আলো হারিয়েছি … তার পর্দার অন্ধকার ও কৃষ্ণতার কারণে।

তোমার মৃত্যুর আগে আমার এমন ধারণা ছিল না যে আমি যিয়ারত করব … এমন এক কবর, যা সুউচ্চ পাহাড়সমূহকে নিজের ভেতর ধারণ করে আছে।

উন্নত মালভূমি তার সমাধির নিচে শায়িত … আর রয়েছে উত্তাল তরঙ্গ ও ফেনিল সমুদ্র।

রাজার সাথে আমার সেই সময়ের স্মৃতি রয়েছে যখন তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল … যাঞ্ঝাকারীদের জন্য সহাস্য চেহারার অধিকারী।

সম্পদ ছিল অবারিত এবং বদান্যতা … ঝরে পড়ত বৃষ্টিধারার মতো, আর রাজত্বের সংহতি ছিল অটুট।

সেই দিনগুলোর কথা, যখন তোমার চারপাশ ঘিরে পতাকাসমূহ উড়ত … সেনাপতি ও সৈন্যদের সেনাদলের উপরে।

আদেশ ছিল কেবলই তোমার আদেশ এবং যুগ ছিল সুসংবাদদাতা … এমন সব রাজ্যের ও ভূখণ্ডের, যা বশ্যতা স্বীকার করেছিল।

ঘোড়াগুলো দাপিয়ে বেড়াত আর অশ্বারোহীরা নুয়ে পড়ত … ধারালো তলোয়ার ও দোদুল্যমান বর্শার মাঝে।

এটি এমন এক কসিদা যা তিনি দীর্ঘক্ষণ আবৃত্তি করেছিলেন, এর মাধ্যমে তিনি হৃদয়ের ব্যাকুলতাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং সুদৃঢ় করেছিলেন। ফলে মানুষ তার কাছে সমবেত হলো এবং ভিড় জমাল। তারা তার ক্রন্দনে ক্রন্দন করল এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করল। তারা দিনের অধিকাংশ সময় হাজীদের তাওয়াফের ন্যায় তাকে ঘিরে অবস্থান করল, অবিরত রোদন ও হাহাকার করতে থাকল। অতঃপর তারা ফিরে গেল এমতাবস্থায় যে, তাদের চোখের জল নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং অশ্রু বিসর্জনে তাদের চোখের কোণগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। এটাই প্রতিটি জীবনের পরিণতি এবং প্রতিটি রাজত্ব ও সেনাবাহিনীর শেষ গন্তব্য। দিনগুলো কোনো জীবিতকে ছেড়ে দেয় না এবং প্রতিটি বিকশিত বিষয়কে গুটিয়ে নিতে কসুর করে না। এর বিপদসমূহ প্রতিটি কানে আঘাত হানে, এর মৃত্যু প্রতিটি জমায়েতকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এটি প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের অধিকারীকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং প্রতিটি মজবুত অট্টালিকাকে জরাজীর্ণ করে ধসিয়ে দেয়। এর আগে তা নুমান ইবনে আল-শাকিকাকে গুটিয়ে নিয়েছিল এবং সেই ধ্রুব বাস্তবতার দিকেই তার গতিপথকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

 

‌‌আর-রাযী বিল্লাহর কন্যা আবু খালিদ ইয়াযীদ বিন মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)

তিনি এক উচ্চমর্যাদার মহীরুহ থেকে চয়নকৃত রাজা, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। তিনি মহান ব্যক্তিদের বংশধারা এবং মিম্বর ও পরিবারের উচ্চাসনে আরোহণকারীদের উত্তরসূরি। তিনি তার যৌবনকাল অতিবাহিত করেছেন জ্ঞানচর্চা এবং দান-দাক্ষিণ্যের মাঝে। ইলমের প্রতি তার অনুরাগ এমন ছিল যে, তা তার জিহ্বার অবিরাম জপে পরিণত হয়েছিল এবং তার চক্ষুর শীতলতায় পরিণত হয়েছিল। তিনি ইলম থেকে কেবল তখনই বিশ্রাম নিতেন যখন তিনি শুভ্র ললাট ও কল্যাণময় চেহারার ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হতেন, যা বাতাসের সাথে পাল্লা দিত এবং যার কপাল পূর্ণিমার চাঁদের সৌন্দর্যকেও হার মানাত। আভিজাত্যে সে অত্যন্ত প্রাচীন এবং সংগ্রহে সে অতি মূল্যবান। সে দ্রুতগামী ও ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন: 'আওয়াজ' বংশীয় অথবা 'ইকাল'-এর বংশধর। অবশেষে তার পিতা তাকে আল-জাজিরা আল-খাদরার গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং এর সাথে উজ্জ্বল রান্দাকে যুক্ত করেন। ফলে তিনি অশ্বপৃষ্ঠ থেকে মিম্বরের শিখরে স্থানান্তরিত হন এবং জ্ঞানচর্চা থেকে শাসনকার্য পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি তার উত্তম মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে শাসনকাজ পরিচালনা করতে থাকেন এবং আশাবাদীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে থাকেন, এমনকি তা ইরাকের ন্যায় সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং দীপ্তিতে ভরে ওঠে, যতক্ষণ না এটি একমত হলো...