(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: -)
العزف على أنوار الذكر   (محمود توفيق محمد سعد)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: العزفُ على أنوار الذِّكر

معالم الطريق إلى فقه المعنى القرآنيّ في سياق السورة

المؤلف: محمود توفيق محمد سعد [ت 1446 هـ]

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 276

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর   (মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ)

বিভাগ: উলুমুল কুরআন এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: আল-আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর

সূরার প্রেক্ষাপটে কুরআনি অর্থের প্রজ্ঞা (فقه) অর্জনের পথের মাইলফলক

লেখক: মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ [মৃ. ১৪৪৬ হিজরি]

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৬

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌عزفُ على أنوار الذِّكر

معالم الطريق إلى فقه المعنى القرآنيّ في سياق السورة

إعداد

محمود توفيق محمد سعد

أستاذ البلاغة والنقد ورئيس القسم

في كلية اللغة العربية جامعة الأزهر الشريف

شبين الكوم

1424هـ

 

الطبعة الأولى: 1424هـ

الحقوق محفوظة للمؤلف

المحتويات

المقدمة

المخل إلى المنهج

الدعوة إلى التدبر

مفهوم التدبر

المبتغَى إليه بالتدبر

مفهوم المعنى القرآني

مجال التدبر والبحث عن المعنى القرآني

مراحل الطريق إلى فقه المعنى القرآني

 

توطئة

*****************

الفصل الأول

فقه موقع السورة على مدرجة السياق القرآني

تنزلات القرآن

وجه تسمية الفاتحة أم الكتاب

محور المعنى في أم الكتاب

البقرة رأس التفصيل وسنامه

أنواع المعنى القرآني في السورة

علاقة ذلك بتبيان موقع السورة على السياق الكلي

علاقة هذا بغرض عبد القراهر من كتابه (أسرار البلاغة)

مذهب السيوطي في بيان موقع السورة على السياق القرآني

تأويل مذهبه

مذهب شيخنا أبي موسى في علاقة الطواسيم ببعضها وموقع كل على السياق القرآني

عناية البقاعي بموقع السورة في السياق القرآني

بيانه علاقة البقرة بالفاتحة

علاقة آل عمران بالبقرة والفاتحة

مذهبه في تناسل مقاصد السور

مذهبه في تقسم القرآن الكريم إلى مراحل

علاقة مفتتح ومختتم كل مرحلة بمفتتح ومختتم المراحل الأخرى

علاقة السور المفتتحة بالحمد

ومواقعها في السياق القرآني

مذهب السعد التفتازاني

تفصيل البقاعي مذهب السعد

تأويل الفصل بين السور المستفتحة بالحمد

علاقة هذه السور الفاصلة بما قبلها وما بعدها

**************

الفصل الثاني

فقه وحدة سياق السورة ومقصودها الأعظم

وجه تفصيل القرآن إلى سور

دلالة التسمية بالسورة على وحدة المقصد

من إعجاز القرآن عجز الخلائق عن إعادة نسق ترتيب آيات سوره

فريضة العناية بالنظر في أول الكلام وآخره لمن تدبّر

موقف الشاطبي من غاية الفقه وغاية البياني من تدبر القرآن الكريم

أثر ذلك في تدبر وحدة مقصود السورة

لكل سورة طابعها الروحي

مذهب الشيخ دراز

تحقيق المقصود سبيل إلى عرفان تناسب الآيات

تشبيه السورة بالشجرة في تناسبها

تشبيه السورة بالدائرة في بنائها

تكرار القصص ووحدة مقصود السورة

المقصد الكلّي هو الروح المهيمن

روح التركيب عند الرافعي

أثر روح التركيب في تمازج السياقين التشريعي والتكليفي في القرآن

لا تفاوت بين بلاغة ضروب البيان التشريعي والتثقيفي

روافد استصار المقصود الأعظم في السورة:

اسم السورة

منهج التسمية ووجه الدلالة

فاتحة السورة

خاتمةالسورة

تدبر الفروق البيانية بين المعاني الكلية المصرفة في السورة

تدبر المعاني الكلية الخاصة

تدبر الفروق البيانية بين المعاني الجزئية المصرفة في السورة

تكرار أو تصريف نمط تركيبي في سياق السورة

المعجم اللغوي

***********

الفصل الثالث

تقسيم السورة إلى معاقد كلية

اشتمال السور على معانٍ كلية مترابطة

أساس تقسيم السور إلى معاقد كلية

أثر هذا التقسيم

تقسيم سورة البقرة إلى معاقد: المطلع والمقدمة - قلب السورة - خاتمتها

تأصيل ذلك من السنّة والآثار الموقوفة والمرفوعة.

مذهب الشيخ دراز في تقسيمها

ما أذهب إليه في تقسيم سورة البقرة ووجه ذلك الاختيار

علاقة معاقد سورة البقرة ببعضها

************

الفصل الرابع

التحليل البياني لكلمات وجمل وآيات السورة

بين يدي السفر في التأويل

التحليل البياني هو القادر على إضاءة السورة من داخلها

التحليل البياني قراءة تأويلية لبيان السورة

منزلة الذاتية في التحليل البيلاني

ما يقوم عليه المنهج

اهمية العناية بالتصريف البياني عن المعنى القرآني في منهج التحليل البياني

أهميبة العناية بتوجيه القراءات القرآنية في منهج التحليل البياني

التحليل البياني بين التفكيك والتركيب

مجال التحليل البياني للسورة

التحليل البياني للمفردات

التحليل البياني للتراكيب

التحليل البياني للصورة البيانية

التحليل البيان للجرس والإيقاع

فاصلة القول

 

بيان مهم

هذا الكتاب نشرته في مصر، وقد تمَّ تدريسه لطلاب جامعة الأزهر كلية اللغة العربية في مادة (قاعة البحث البلاغي)

ومن شاء أن يطبعه وينشره في طلاب العلم فله ذلك شريطة الحصول على إذن كتابيّ من المؤلف على عنوانه الآتي:

جمهورية مصر العربية - القاهرة - حدائق الزيتون رقم بريدي 11321

شارع سنَّان باشا رقم 17 - برج حمادة الشفة رقم 411
জিকিরের আলোকধারায় গুঞ্জন

সুরার প্রেক্ষাপটে কুরআনি অর্থের ফিকহ অর্জনের পথের নিদর্শনাবলি

প্রস্তুতিতে

মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ

অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান

আরবি ভাষা অনুষদ, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর

শিবিন আল-কউম

১৪২৪ হিজরি

 

প্রথম সংস্করণ: ১৪২৪ হিজরি

সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত

সূচিপত্র

ভূমিকা

গবেষণা পদ্ধতির প্রবেশিকা

তাদাব্বুর বা গভীর চিন্তাভাবনার আহ্বান

তাদাব্বুরের ধারণা

তাদাব্বুরের মাধ্যমে যা অন্বেষণ করা হয়

কুরআনি অর্থের ধারণা

তাদাব্বুর এবং কুরআনি অর্থ অনুসন্ধানের ক্ষেত্র

কুরআনি অর্থের ফিকহ অর্জনের পথের পর্যায়সমূহ

 

উপস্থাপনা

*****************

প্রথম অধ্যায়

কুরআনি প্রেক্ষাপটের সোপানে সুরার অবস্থানের ফিকহ

কুরআনের অবতরণসমূহ

সুরা ফাতিহাকে 'উম্মুল কিতাব' নামকরণের কারণ

উম্মুল কিতাবের মূল ভাববস্তু

সুরা বাকারা: বিস্তারিত বর্ণনার শীর্ষ ও কুঁজ

সুরায় বিদ্যমান কুরআনি অর্থের প্রকারভেদ

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সুরার অবস্থান সুস্পষ্ট করার সাথে এর সম্পর্ক

আব্দুল কাহিরের 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থের উদ্দেশ্যের সাথে এর সম্পর্ক

কুরআনি প্রেক্ষাপটে সুরার অবস্থান বর্ণনায় সুয়ুতির অভিমত

তাঁর মতের ব্যাখ্যা

'তাওয়াসিম' (ত্ব-সীন বিশিষ্ট সুরাসমূহ) এর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং কুরআনি প্রেক্ষাপটে এগুলোর অবস্থান বিষয়ে আমাদের শাইখ আবু মুসার অভিমত

কুরআনি প্রেক্ষাপটে সুরার অবস্থানের প্রতি বিকারি-র গুরুত্বারোপ

সুরা বাকারার সাথে সুরা ফাতিহার সম্পর্কের বর্ণনা

সুরা বাকারা ও ফাতিহার সাথে সুরা আলে ইমরানের সম্পর্ক

সুরাসমূহের উদ্দেশ্যের পর্যায়ক্রমিক উৎপত্তির বিষয়ে তাঁর অভিমত

কুরআন মাজিদকে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করার বিষয়ে তাঁর অভিমত

প্রতিটি পর্যায়ের সূচনা ও সমাপ্তির সাথে অন্যান্য পর্যায়ের সূচনা ও সমাপ্তির সম্পর্ক

'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে শুরু হওয়া সুরাসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক

এবং কুরআনি প্রেক্ষাপটে এগুলোর অবস্থান

সাদ আদ-দীন তাফতাযানির অভিমত

তাফতাযানির অভিমতের বিষয়ে বিকারি-র বিস্তারিত বর্ণনা

'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে শুরু হওয়া সুরাসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাখ্যা

এই পার্থক্যকারী সুরাগুলোর সাথে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সুরাসমূহের সম্পর্ক

**************

দ্বিতীয় অধ্যায়

সুরার প্রেক্ষাপটের ঐক্য এবং এর মহান উদ্দেশ্যের ফিকহ

কুরআনকে বিভিন্ন সুরায় বিভক্ত করার কারণ

'সুরা' নামকরণের মাধ্যমে উদ্দেশ্যের ঐক্যের ইঙ্গিত

কুরআনের মুজিযা বা অলৌকিকত্ব হলো সুরার আয়াতের বিন্যাস পুনরায় সাজাতে সৃষ্টির অক্ষমতা

যারা তাদাব্বুর করেন তাদের জন্য বক্তব্যের শুরু ও শেষের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক

কুরআন মাজিদের তাদাব্বুরের ক্ষেত্রে ফিকহ ও আলঙ্কারিক উদ্দেশ্যের বিষয়ে শাতীবির অবস্থান

সুরার উদ্দেশ্যের ঐক্য অনুধাবনে এর প্রভাব

প্রতিটি সুরার নিজস্ব আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে

শাইখ দরাজের অভিমত

উদ্দেশ্য অনুধাবনই আয়াতের মধ্যকার সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাত চেনার পথ

সামঞ্জস্যের দিক থেকে সুরাকে বৃক্ষের সাথে তুলনা

গাঠনিক দিক থেকে সুরাকে বৃত্তের সাথে তুলনা

গল্পের পুনরাবৃত্তি এবং সুরার উদ্দেশ্যের ঐক্য

সামগ্রিক উদ্দেশ্যই হলো প্রধান চালিকাশক্তি

রাফিয়ি-র নিকট বাক্য গঠনের মূল সত্তা

কুরআনে বিধানগত ও দায়িত্বারোপমূলক প্রেক্ষাপটের সংমিশ্রণে বাক্য গঠনের মূল সত্তার প্রভাব

বিধানগত ও শিক্ষামূলক বর্ণনার অলঙ্কারশাস্ত্রে কোনো পার্থক্য নেই

সুরার মহান উদ্দেশ্য অনুধাবনের উৎসসমূহ:

সুরার নাম

নামকরণের পদ্ধতি ও তাৎপর্যের দিক

সুরার প্রারম্ভ

সুরার সমাপ্তি

সুরায় ব্যবহৃত সামগ্রিক অর্থসমূহের মধ্যকার আলঙ্কারিক পার্থক্যের তাদাব্বুর

বিশেষ সামগ্রিক অর্থসমূহের তাদাব্বুর

সুরায় ব্যবহৃত আংশিক অর্থসমূহের মধ্যকার আলঙ্কারিক পার্থক্যের তাদাব্বুর

সুরার প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট বাক্যরীতির পুনরাবৃত্তি বা পরিবর্তন

শাব্দিক অভিধান

***********

তৃতীয় অধ্যায়

সুরাকে সামগ্রিক স্তম্ভে বিভক্ত করা

সুরাসমূহের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সামগ্রিক অর্থ ধারণ

সুরাসমূহকে সামগ্রিক স্তম্ভে বিভক্ত করার ভিত্তি

এই বিভক্তির প্রভাব

সুরা বাকারাকে বিভিন্ন স্তম্ভে বিভক্ত করা: প্রারম্ভ ও ভূমিকা - সুরার কেন্দ্রস্থল - এর সমাপ্তি

সুন্নাহ এবং সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (موقوف) ও রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) বিবরণসমূহের (آثار) আলোকে এর ভিত্তি।

এর বিভক্তির ক্ষেত্রে শাইখ দরাজের অভিমত

সুরা বাকারার বিভক্তির বিষয়ে আমার অভিমত এবং এই পছন্দের কারণ

সুরা বাকারার বিভিন্ন স্তম্ভের পারস্পরিক সম্পর্ক

************

চতুর্থ অধ্যায়

সুরার শব্দ, বাক্য ও আয়াতের আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ

ব্যাখ্যার জগতে ভ্রমণের প্রাক্কালে

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণই সুরার অভ্যন্তরকে আলোকিত করতে সক্ষম

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ হলো সুরার অলঙ্কারসমূহের একটি ব্যাখ্যামূলক পাঠ

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণে ব্যক্তিনিষ্ঠার স্থান

এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে কুরআনি অর্থের আলঙ্কারিক পরিবর্তনের প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা

আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে কুরআনের কিরাতসমূহের ব্যাখ্যা বা বিন্যাসের প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা

বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণের মাঝে আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ

সুরার আলঙ্কারিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্র

শব্দের আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ

বাক্য গঠনের আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ

আলঙ্কারিক রূপকের বিশ্লেষণ

ধ্বনি ও ছন্দের আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ

উপসংহার

 

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

এই বইটি আমি মিশরে প্রকাশ করেছি এবং এটি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের 'অলঙ্কারশাস্ত্র গবেষণা কক্ষ' নামক কোর্সে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যারা এটি মুদ্রণ ও জ্ঞান অন্বেষী তালিবে ইলমদের মাঝে প্রচার করতে চান, তারা লেখকের কাছ থেকে নিম্নলিখিত ঠিকানায় লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারেন:

আরব প্রজাতন্ত্র মিশর - কায়রো - হাদায়েক আল-যাইতুন, পোস্টাল কোড ১১৩২১, সিনান পাশা স্ট্রিট নম্বর ১৭ - হামাদা টাওয়ার, ফ্ল্যাট নম্বর ৪১১।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ * اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» .

أما بعد: فإن كلّ أمة من الأمم تتخذ لنفسها منهاجًا تقيم شؤون حياتها عليه وتجعل لها " دستورًا" تضبط به حركتها وحركة القائمين على شؤونها، وتندبُ ثُلّة من خيرتها للقيام على هذا المنهاجِ وذلك "الدستور" تعلمًا وتفقها ورعاية وتجديدًا وتقويًمًا.

أمر لا تكاد تجد عاقلا ينكرُه.والأمة الإسلامية لم يرض الله عز وجل أن يحمِّلها عِبْءَ تأسيس هذا المنهاج و"الدستور" والحفاظ عليه، فتكفل لها بذلك من فيض رحمانيته ورحيميته، فأنزل صفوة ملائكته "جبريل"عليه السلام على صفوة خلقه أجمعين: سيدنا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم بأعظم كتاب ومنهاج:القرآن الكريم، ليبنه للناس

{ِ.....وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ) (النحل: من الآية 44)

{.....وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ) (النحل: من الآية 89)

وتكفل بحفظه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر:9) فمُنَزِّلُه هو حافظُه من التحريف والتغيير، وحافظُه من أن يكون في الأمَّة نازلةٌ يعجزُ القرآن الكريمُ عن إحسان بيان سواء الصراط فيها، فجعله كتابا مباركًا: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (الأنعام:155) ، {وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ أَفَأَنْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ) (الانبياء:50)

{كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَأُولُوالأَلْبَابِ} (صّ:29)

فهو دائم الخير والعطاء، ليس كمثله مناهج الخَلْقِ ودساتيرهم المفتقرة إلى تقويم وتجديد وتغيير بحذفٍ وإضافة … تكفّل الله سبحانه وتعالى بذلك، وزاد الأمة تشريفا بأن حَمَلَها إلى أن تقوم بشرف فقهه وفهمه وتدبره واستخراج مكنون أسرار عطائه ونواله

{ … فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (التوبة: من الآية 122)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। * পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। * বিচার দিবসের মালিক। * আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই। * আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। * তাদের পথ, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন। তাদের পথ নয়, যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত।» .

অতঃপর: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিই নিজেদের জন্য এমন একটি আদর্শ গ্রহণ করে যার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের জীবনযাত্রা পরিচালনা করে এবং নিজেদের জন্য একটি "সংবিধান" নির্ধারণ করে যার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের কার্যাবলি পরিচালনাকারীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। আর তারা তাদের মধ্য থেকে একদল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে এই আদর্শ ও "সংবিধান" শিক্ষা করা, অনুধাবন করা, এর রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও মূল্যায়নের জন্য মনোনীত করে।

এটি এমন একটি বিষয় যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই অস্বীকার করবেন না। আর উম্মতে ইসলামিয়ার ওপর এই আদর্শ ও "সংবিধান" প্রতিষ্ঠা এবং তা সংরক্ষণের গুরুভার অর্পণ করা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেননি। বরং তিনি তাঁর অসীম রহমত ও দয়ার বশবর্তী হয়ে নিজেই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফেরেশতাদের শ্রেষ্ঠ "জিবরাঈল" (আ.)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব ও আদর্শ—আল-কুরআনুল কারীমসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি তা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন।

{.....আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের নিকট তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} (আন-নাহল: ৪৪ নং আয়াতের অংশ)

{.....আর আমি আপনার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদ।} (আন-নাহল: ৮৯ নং আয়াতের অংশ)

আর তিনি নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} (আল-হিজর: ৯)। সুতরাং এর অবতীর্ণকারীই একে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষাকারী এবং তিনি একে এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যাতে উম্মতের সামনে আসা এমন কোনো সমস্যা না থাকে যার সঠিক সমাধান দিতে আল-কুরআনুল কারীম সক্ষম নয়। ফলে তিনি একে একটি বরকতময় কিতাব হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন: {আর এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়} (আল-আনআম: ১৫৫), {আর এটি একটি বরকতময় যিকর যা আমি অবতীর্ণ করেছি, তবে কি তোমরা একে অস্বীকার করছ?} (আল-আম্বিয়া: ৫০)

{(এটি) একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং যাতে বিবেকবানরা উপদেশ গ্রহণ করে।} (সোয়াদ: ২৯)

সুতরাং এটি চিরন্তন কল্যাণ ও দানে সমৃদ্ধ, এটি সৃষ্টির তৈরি আদর্শ বা সংবিধানের মতো নয় যা সংস্কার, সংশোধন এবং কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে পরিবর্তনের মুখাপেক্ষী … আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজেই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এই উম্মতকে এর জ্ঞান ও উপলব্ধি অর্জন, এতে চিন্তা-গবেষণা এবং এর নিহিত রহস্য ও দানে সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থেকে সারবস্তু আহরণ করার মর্যাদা দিয়ে আরও সম্মানিত করেছেন।

{ … অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।} (আত-তাওবা: ১২২ নং আয়াতের অংশ)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৩)
وحثهم على التدبر: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الأَلْبَابِ} (صّ:29)

{أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} (النساء:82)

{أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (محمد:24)

وهذا التدبّرُ سبيلٌ مُمْتَدٌّ مُتًراحِبٌ تتعدَّدُ مناهج تحقيقه بتعدد الغايات المنشودة من القيام به والثمار المرجوِّ اجتناؤها، فلكلِّ متدبِّرٍطَلِبته وقطُوفٌ يبتغى جناها، وتتعدَّدُ أدواتُه وآلاتُه، وعلى قدر ما يمتلك المرءُ منها ويُحْسِنُ الانتفاعَ بها يكون نواله وعطاؤه.

وهذا ما كان باعثًا لي إلى أنْ أقيمَ هذا الكتابَ، وأنْ أنشرَه في طُلابِ العلم الشريف غاية ووسيلة ومقامًا.

أقيمه وأنشره احتسابًا ليكونَ على ثغرٍ من الثغور التي يتكاثر أعداء الأمة على اقتحامها وإتيان الأمَّة منها، فلم يعد العدوان العسكري المسلح هو السبيل الوحيد إلى امتلاك أعدائنا لديارنا وقلوبنا، بل هم يُمَهِّدُون لذلك بضروب من الغزو، منها الغزو الثقافي والعلمي والخلقي والنفسي، فمن ملك العقول والوجدان ملك الشعوب والأوطان.

وأيّ أمة لا تُعِدّ جندَها على تلك الثغور يجاهدون هذه الضروبَ من الغزوِ اللطيفِ الخبيثِ على قدرِ ما تُعِدُّ جُندَها لميادين الجهادِ المُسلِّح بالسيفِ والرُّمحِ هِيَ أمَّةٌ لا شَكَّ خاسِرةٌ النِّزالَ في ميدان القتال بالسيفِ والرّمحِ، وإن امتلكت أحدثَ وأعظم ما تُنْتِجُهُ البشريّة من أسلحةٍ وإِنْ أحْسَنَتْ استخدامها وتطويرها.

نصرُ أيِّ أمَّةٍ أو هزيمتها مؤسّسٌ على نصرِها أوهزيمتها في ميادين الجهاد الثقافي والعلمي والخلقي والنفسي، فمن ملك هذه الأبعاد من أي أمة ملكها كلها من هنا كان تداعِي الأمم علينا في هذه الميادين أشد وأنكى.
এবং তিনি তাদের গভীর অনুধাবনের (تدبر) প্রতি উৎসাহিত করেছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।} (সোয়াদ: ২৯)

{তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।} (আন-নিসা: ৮২)

{তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?} (মুহাম্মদ: ২৪)

আর এই গভীর অনুধাবন (تدبر) একটি বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী পথ, যা অর্জনের পদ্ধতিসমূহ এর পেছনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও আহরণযোগ্য ফলপ্রাপ্তির ভিন্নতার কারণে বহুমুখী হয়ে থাকে। প্রতিটি গভীর অনুধাবনকারীর (متدبر) নিজস্ব লক্ষ্য ও আহরণযোগ্য ফল থাকে এবং এর উপকরণ ও মাধ্যমসমূহও নানাবিধ; একজন ব্যক্তি এর যতটুকু আয়ত্ত করতে পারে এবং তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, সে অনুযায়ীই তার প্রাপ্তি ও দান নির্ধারিত হয়।

আর এটিই আমাকে এই কিতাবটি রচনা করতে এবং মর্যাদাপূর্ণ ইলমের (العلم الشريف) শিক্ষার্থীদের মাঝে লক্ষ্য, মাধ্যম ও উচ্চতর সোপান হিসেবে তা প্রচার করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আমি সওয়াবের আশায় এটি রচনা ও প্রকাশ করছি যেন এটি সেই সব সীমান্ত রক্ষার একটি দুর্গ হতে পারে, যেখানে উম্মাহর শত্রুরা অনুপ্রবেশ করতে ও আক্রমণ করতে তৎপর। সশস্ত্র সামরিক আগ্রাসনই এখন আমাদের শত্রুদের জন্য আমাদের ভূখণ্ড ও হৃদয়সমূহ দখলের একমাত্র পথ নয়; বরং তারা এর জন্য বিভিন্ন প্রকার আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করছে, যার মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো জাতির মন ও মননকে জয় করতে পারে, সে ওই জাতি ও ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।

আর যে জাতি তলোয়ার ও বর্শার সশস্ত্র জিহাদের ময়দানের জন্য তার সেনাদের যেভাবে প্রস্তুত করে, এই সূক্ষ্ম ও নিকৃষ্ট আগ্রাসন মোকাবিলায় সেই সব সীমান্ত রক্ষার জন্য অনুরূপভাবে প্রস্তুত করে না, তবে সেই জাতি তলোয়ার ও বর্শার লড়াইয়ের ময়দানেও নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবে—যদিও তাদের কাছে মানবসভ্যতার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্রশস্ত্র থাকে এবং তারা সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়নে দক্ষ হয়।

যেকোনো জাতির বিজয় বা পরাজয় নির্ভর করে সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক জিহাদের ময়দানে তাদের জয় বা পরাজয়ের ওপর। সুতরাং যে কেউ কোনো জাতির এই দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে তাদের সম্পূর্ণভাবে জয় করতে পারে। এ কারণেই আমাদের ওপর এই ক্ষেত্রগুলোতে শত্রু জাতিদের আক্রমণ অত্যন্ত তীব্র ও মারাত্মক।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৪)
أعداء هذه الأمة – وهم اليوم كُثْر- قد علموا أنَّ الحصن المنيع والحبل المديد المتين الذي لن تضل الأمة ما إن تمسكت به إنَّما هو الكتاب والسنة، ومن ثَم تكالبت وتظاهرت لتفتننا في أمرهما،

هم يعلمون أنهم لن يتمكنوا من العباد والبلاد إلا إذا أحكموا تضليل الأمة في فقه وتدبر الكتاب والسنة،ولذلك تنادت النخبة المثقفة والصفوة المستنيرة بفريضة إعادة قراءة القرآن الكريم قراءة معاصرة.

و (القراءة المعاصرة) أو (إعادة قراءة القرآن) هي كلمة يراد بها غير ما جاءت به السنّة النبوة: تبشيرًا وتكليفا: «إنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِهذهِ الأمّة عَلَى رَاسِ كُلِّ مِئَةِ عَامٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دينَها» (أبوداود: الملاحم)

القراءة المعاصرة ترمي إلى اتخاذ منهاج يفسر النص في حركة الفعل الإنساني، فلكلّ عصر ومصر قرآنه، لأنَّ القرآنَ حَمَّالٌ ذو وجوه يَصْلُح لكلّ زمان ومكان: يصلح للمسجد والملهى والمرقص … ...

ومن ثَمَّ تنادى القوم بما أسموه {تجديد الخطاب الدّيني} وهو ولا شكَّ في هذا إنما يريد منه بعض الناعقين به الآن الإعراض عمَّا جاء عن سلف الأمة في فهم الكتاب والسنّة والإغراء بما جاء في لسان. كثير من أدعياء التنوير العلمانيّ المقيت.

وتسارعت ثلّة ممن ينتسب إلى أهل العلم فنعقت بما نعق به العلمانيون الذين سعوا إلى أن تجري الكلمة {تجديد الخطاب الديني} على لسان كبيرهم حتّى تملك قدسيّة تحجز الألسنة عن أن تنقض أو تنقد.

ليس " تجديد الخطاب الديني" في لسان بطانة السلطان هو التجديد الذي بشرت به الحكمة النبوية.

التجديد الذي هدت إليه السنّة النبوية يرمي إلى تجديد تديُّن الأمة وفق الفهم الصحيح لما جاء به بيان الوحي

تجديد انبعاث الأمة وإقبالها على ربها بما شرعه لها لا بما شرعته هي لنفسها
এই উম্মাহর শত্রুরা—যাদের সংখ্যা আজ অনেক—তারা জানে যে, সেই দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং দীর্ঘ মজবুত রশি, যা আঁকড়ে ধরলে উম্মাহ কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো কিতাব ও সুন্নাহ (السنة)। আর এ কারণেই তারা আমাদের এই দুই বিষয়ের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

তারা জানে যে, তারা এই দেশের মানুষ ও ভূখণ্ডের ওপর ততদিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, যতদিন না তারা কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) ফেকাহ (فقه) এবং গবেষণার ক্ষেত্রে উম্মাহকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়। এজন্যই তথাকথিত শিক্ষিত উচ্চবিত্ত ও স্বঘোষিত আলোকিত গোষ্ঠী পবিত্র কুরআনের একটি 'সমকালীন পাঠ' পুনর্গঠনের আবশ্যিকতার ডাক দিয়েছে।

আর এই 'সমকালীন পাঠ' বা 'কুরআনের নতুন করে পাঠ' বলতে এমন কিছু বোঝানো হচ্ছে যা নবুওয়াতের সুন্নাহর (السنة) পরিপন্থী; যেখানে সুসংবাদ ও দায়িত্ব হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার (تجديد) করবেন।" (আবু দাউদ: আল-মালাহিম)

সমকালীন পাঠের লক্ষ্য হলো এমন একটি কর্মপন্থা (منهاج) গ্রহণ করা যা মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে মূল পাঠকে ব্যাখ্যা করে। তাদের মতে, প্রতিটি যুগ ও ভূখণ্ডের জন্য নিজস্ব কুরআন রয়েছে, কারণ কুরআন হলো বহুমুখী অর্থবহ যা সব সময় ও স্থানের উপযোগী; এমনকি এটি মসজিদ, বিনোদন কেন্দ্র ও নাচের আসরের জন্যও উপযুক্ত … ...

অতঃপর সেই দলটি একে 'ধর্মীয় বক্তৃতার সংস্কার' হিসেবে অভিহিত করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমানে এর প্রবক্তাদের একাংশ কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) বুঝ (فهم) এর ক্ষেত্রে উম্মাহর সালাফদের (سلف) অনুসৃত পথ থেকে বিমুখ হওয়া এবং ঘৃণ্য ধর্মনিরপেক্ষ আলোকায়নের দাবিদারদের চটকদার বুলির প্রতি প্রলুব্ধ করতে চায়।

আহলে ইলমের (أهل العلم) সাথে সংশ্লিষ্ট একদল লোকও দ্রুত এই মিছিলে শামিল হয়েছে এবং সেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের সুরেই কথা বলছে, যারা 'ধর্মীয় বক্তৃতার সংস্কার' কথাটিকে তাদের নেতৃস্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত করতে সচেষ্ট হয়েছে, যাতে এটি এমন এক পবিত্রতা লাভ করে যা কোনো খণ্ডন বা সমালোচনা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখে।

শাসকদের চাটুকারদের ভাষায় 'ধর্মীয় বক্তৃতার সংস্কার' সেই সংস্কার (تجديد) নয়, যার সুসংবাদ নবুওয়াতের হিকমত (حكمة) প্রদান করেছে।

সুন্নাহ (السنة) যে সংস্কারের (تجديد) দিকে পথনির্দেশ করেছে, তার লক্ষ্য হলো ওহীর বর্ণনার সঠিক বুঝ (فهم) অনুযায়ী উম্মাহর ধর্মীয় অনুশীলনের নবায়ন করা।

এটি হলো উম্মাহর পুনর্জাগরণ এবং তার রবের অভিমুখী হওয়া সেই বিধান অনুযায়ী যা তিনি তাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন, সেই অনুযায়ী নয় যা তারা নিজেরা নিজেদের জন্য তৈরি করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৫)
القرآن الكريم في التجديد النبويّ يَصْلح لكل زمان ومكان بإصْلاحِ كلِّ زمان ومكان، وما من نازلة في عَصْرٍ ومِصْرٍ إلا ولها ما يهدي في شأنها إلى سواء الصراط: {صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأُمُورُ} (الشورى:53)

التجديد النبوي في قراءة القرآن الكريم لاستنباط ما يقيم الأمة على محجة بيضاء ليلها كنهارها جلاء ونورًا له ضوابطه وآدابه، وله رجاله: {رِجَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْماً تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالأبْصَارُ} (النور:37) {يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُوراً} (الاسراء: من الآية57)

وهذا ما يسعى إليه هذا الكتاب (العزف على أنوار الذكر:معالم الطريق إلى فقه المعنى القرآني في سياق السورة)

يسعى إلى أن يشير إلى منهجٍ تدبريًٍّ يعين عَلَى اجتناء المعاني البيانية للقرآن الكريم في سياق السورة تأسيسًا على أنها وحدة التحدّي الصغرى؛ لتكون زادًا إلى حسن فقه مراد ربنا جل جلاله -َ منا، فنسعى إلى التصاعد في سبيل تحقيق ما يحب عز وجل ويرضى.

وهذا الذي أسْطُرُه منهاجًا تدبريًّا لبيان القرآن الكريم لايَسْتَهْتِرُ بتطبيق ما يقوم فيه من أصولٍ كليّةٍ ومعالمَ إرشادِيّةٍ تحْمِلُ النَّاظِرَ فيها إلى غايةٍ شريفةٍ نبيلةٍ، ولكنَّها لاتحمُله عليها

منهاجٌ يُقِيمُك على مقرُبةٍ لِتُبْصِرَ، ولا يُقِيمُك فِيه فَتُؤسَرَ، يغريك تجريبًا، ولا يَقْسِرُك تطبيقًا. في التطبيق تقديس، وفي التّجريب تقويم وتزكية

كلّ تجْريبٍ يُضِيفُ إلى المنهاج ما يُحَقِّقُ له التَّخلُّصَ مما غيرُه أزكى وأندَى
নব্যুয়তী সংস্কারের (تجديد) আলোকে আল-কুরআনুল কারীম প্রতিটি কাল ও স্থানের উপযোগী এবং তা প্রতিটি কাল ও স্থানের সংশোধনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। এমন কোনো নতুন উদ্ভূত সমস্যা (نازلة) কোনো যুগে বা জনপদে দেখা দেয় না, যা সঠিক পথের দিশা প্রদান করার ক্ষমতা রাখে না: "সেই আল্লাহর পথ, যাঁর অধিকারে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব রয়েছে। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়।" (সূরা আশ-শূরা: ৫৩)

জাতিকে এক উজ্জ্বল রাজপথের (محجة بيضاء) ওপর প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে—যার রাত দিনের মতোই স্পষ্ট ও জ্যোতির্ময়—কুরআনের পাঠ থেকে মূল অর্থ উদ্ভাবনের (استنباط) মাধ্যমে নব্যুয়তী সংস্কারের (تجديد) নিজস্ব মূলনীতি (ضوابط) ও আদব রয়েছে এবং এর নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিত্বগণ রয়েছেন: "সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান হতে বিচ্যুত করতে পারে না; তারা সেই দিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।" (সূরা আন-নূর: ৩৭); "তারা তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে অধিক নিকটতর হতে পারে, তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের আজাব অত্যন্ত ভয়াবহ।" (সূরা আল-ইসরা: ৫৭ এর অংশবিশেষ)

এই গ্রন্থটি মূলত এই লক্ষ্যেই কাজ করে (আল-আযফ আলা আনওয়ারিজ জিকর: মাআলিমুত ত্বরীক ইলা ফিকহিল মানাল কুরআনি ফী সিয়াকিস সূরাহ)

এটি এমন এক তাত্ত্বিক ও চিন্তাশীল পদ্ধতির (منهজ) প্রতি ইঙ্গিত করে, যা সূরার প্রেক্ষাপটের (سياق) আলোকে আল-কুরআনের আলংকারিক ও ব্যাখ্যামূলক অর্থসমূহ আহরণে সহায়তা করে। এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, সূরা হলো চ্যালেঞ্জের ক্ষুদ্রতম একক; যাতে করে এটি আমাদের প্রতি মহান প্রতিপালকের মাকসাদ বা উদ্দেশ্যের (مراد) সঠিক উপলব্ধিতে পাথেয় হিসেবে কাজ করে। এভাবে আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনের পথে অগ্রসর হতে সচেষ্ট হই।

কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি যে চিন্তাশীল পদ্ধতিটি (منهاج) লিপিবদ্ধ করছি, তা এখানে বিদ্যমান মৌলিক মূলনীতি (أصول كلية) ও নির্দেশনামূলক নিদর্শনাবলি প্রয়োগে শৈথিল্য প্রদর্শন করে না। এই মূলনীতিগুলো গবেষককে এক মহান ও মহৎ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে, কিন্তু তাকে সে বিষয়ে বাধ্য করে না।

এটি এমন এক পদ্ধতি (منهاج) যা আপনাকে প্রত্যক্ষ করার জন্য নিকটবর্তী স্থানে উপনীত করে, কিন্তু আপনাকে সেখানে আবদ্ধ বা বন্দী করে রাখে না। এটি আপনাকে অনুশীলনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করে, কিন্তু যান্ত্রিক প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করে না। যান্ত্রিক প্রয়োগের মধ্যে রয়েছে পবিত্রকরণ (تقديس), আর অভিজ্ঞতালব্ধ অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে সংস্কার (تقويم) ও আত্মশুদ্ধি (تزكية)।

প্রতিটি নতুন অনুশীলন এই পদ্ধতির (منهاج) সাথে এমন কিছু যুক্ত করে যা একে এমন সব বিষয় থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে যার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ও সজীবতর পথ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৬)
التطبيق يسْطِيعُه ناشئٌ قد لايملك التّحصُّنَ ممَّا قدْ يَأْتَلِقُ من المنهاج الذي بين يديه؛ لأنَّه يمكث قي المنهج، فيأسره، ولا يملك أن يَجُوسَ خلاله يَسْتَكْشِفُ عَوَارَهُ، فإذا هو بتطبيقه يلقِي على ذلك المنهاجِ طَيْلَسَانَ التّقديس … والتجريب لايقوم به إلا مُتَمكّنُ من استيصارِ أبعاد المنهاج الذي بين يديه نافذ البصيرة فيه، فلا يسيطرُ المنهاج علَيْهِ؛ لأنه لا يمكث في المنهاج بل يقيمه بين ناظريه، يتفرَّسُهُ فيقوم ويسدّد.

صاحب المنهاج هو أقرب إلى التطبيق منه إلى التجريب مالم يكن فحلا، ذلك انَّ صاحبَ المنهاجِ وثيق الاعتلاق بما وضع من أصوله ومعالمه، إذ هو وليد قلبه ولسانه، فقد يغفُل، فلا يفتش عمّا فيه من خَلَلٍ، وذلك غير حميد، وإنجاز التجريب من الآخر آمَنُ عُقْبَى، وأوفرُ ثمرًا

والربّانيون من أهل العلْم لا يحملون تلاميذهم على مناهجهم، بل يحملونهم إليها حمل إبانة، ويغرونهم بالمناقدة المؤسَّسة على عرفانٍ نافذٍ محيط بما هم قائمون له، ويذكرونهم بأنَّهم في سياق المناقدة والتفتيش عن الأعلى والأزكى والأذكى (الأكمل) قائمون في طاعة سيدهم النبي المكرم سيدنا محمد صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا مؤذنًا فينا:

«لا تكونُوا إِمّعَةً:

تقُولُونَ: إِنْ أحْسَنَ النَّاسُ أَحْسَنَّا، وإنْ ظَلَمُوا ظَلَمْنَا، وَلكِنْ وَطِّنُوا أَنْفُسَكُمْ إِنْ أَحْسَنَ النَّاسُ أَنْ تُحْسِنُوا، وإنْ أَسَاءوا فَلا تَظْلِمُوا»

(رواه الترمِذي: كتاب البِرّ - حديث: 2007)
একটি কর্মপদ্ধতির প্রয়োগ (تطبيق) এমন এক নবীন শিক্ষার্থীও করতে পারে, যার কাছে তার সম্মুখে বিদ্যমান মানহাজ বা পদ্ধতির চাকচিক্য থেকে আত্মরক্ষার কোনো ঢাল নেই; কারণ সে সেই পদ্ধতির গণ্ডিতেই অবস্থান করে, ফলে তা তাকে মোহগ্রস্ত করে ফেলে। তার পক্ষে সেই পদ্ধতির গভীরে প্রবেশ করে এর ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ (عوار) উন্মোচন করা সম্ভব হয় না। ফলে সে তার প্রয়োগের মাধ্যমে ওই পদ্ধতির ওপর পবিত্রতার চাদর চড়িয়ে দেয় … পক্ষান্তরে, পরীক্ষণ বা যাঁচাইকরণ (تجريب) কেবল সেই ব্যক্তিই সম্পাদন করতে পারেন, যিনি তার সম্মুখে বিদ্যমান পদ্ধতির নানাদিক অনুধাবনে সক্ষম এবং সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী। তখন ওই পদ্ধতি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; কারণ তিনি সেই পদ্ধতির ভেতরে স্থবির হয়ে থাকেন না, বরং সেটিকে নিজের দৃষ্টির সামনে উপস্থাপন করেন এবং সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার সংশোধন ও সংস্কার সাধন করেন।

পদ্ধতির প্রণেতা যদি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব (فحل) না হন, তবে তিনি এর যাঁচাইকরণের চেয়ে প্রয়োগের অধিক নিকটবর্তী থাকেন। কারণ, পদ্ধতির প্রণেতা তার নির্ধারিত মৌলিক নীতি (أصول) ও বৈশিষ্ট্যাবলীর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকেন; যেহেতু তা তার নিজ অন্তঃকরণ ও জিহ্বারই ফসল। ফলে তিনি হয়তো অসতর্ক হয়ে পড়েন এবং এর ভেতরের কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি অনুসন্ধান করেন না, যা মোটেও প্রশংসনীয় নয়। তাই অন্যের মাধ্যমে এই যাঁচাইকরণ বা পরীক্ষণের কাজটি সম্পন্ন হওয়া পরিণতির দিক থেকে অধিক নিরাপদ এবং ফলাফল লাভের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ।

উলামায়ে রব্বানীগণ তাদের ছাত্রদেরকে নিজেদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির ওপর চলতে বাধ্য করেন না, বরং তা কেবল বিশদ ব্যাখ্যার জন্য তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। তারা ছাত্রদেরকে এমন এক গঠনমূলক পর্যালোচনায় উদ্বুদ্ধ করেন, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের গভীর ও পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই পর্যালোচনা এবং সর্বোত্তম, বিশুদ্ধতম ও অধিকতর পূর্ণাঙ্গ রূপটি তালাশ করার মাধ্যমে তারা মূলত তাদের সম্মানিত নবী, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যেই নিয়োজিত আছেন, যিনি আমাদের মধ্যে এই ঘোষণা দিয়েছেন:

«তোমরা অন্ধ অনুসারী (إمعة) হয়ো না:

তোমরা বলে থাকো যে, যদি মানুষ ভালো কাজ করে তবে আমরাও ভালো কাজ করব, আর যদি তারা অন্যায় করে তবে আমরাও অন্যায় করব। বরং তোমরা নিজেদেরকে এই সিদ্ধান্তে অটল রাখো যে, যদি মানুষ ভালো কাজ করে তবে তোমরাও ভালো কাজ করবে, আর যদি তারা মন্দ কাজ করে তবে তোমরা জুলুম বা অন্যায়ে লিপ্ত হবে না।»

(তিরমিজি বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল বির - হাদিস: ২০০৭)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৭)
وفي تسميته الإساءة في العمل: قولا وفعلا ظلمًا دلالة بينة على أنَّ من لم يجتهد في البلوغ بعمله: قولا وفعلا درجة الإحسان، فإنَّه ظالمٌ نفسَه أَوَّلا؛ إذ حرمها أن تكون مع المحسنين في الدنيا والآخرة، وصحبة أولئك هي النعيم العظيم، وإنّه أيضًا ظالمٌ أمَّتَهُ؛ إذ حرمها أن تنعم بنعمة ما هو الحسن قولا وفعلا، وقد حثّنا بيان الوحي قرآنا وسنة على أن نحسن إلى الصاحب بالجنب، فكيف بمن فوقه؟!!

وتدبر قوله صلى الله عليه وسلم َ:" وَطِّنُوا أَنْفُسَكُمْ " فإنّها هادية إلى الإبلاغ في ترويض النفس وتهذيبها وتدريبها على أن تسكن إلى الإحسان وإن تفردت به، ولم تجد لها عليه ناصرًا ومعينا.

وفي هذا هداية إلى أن العقبى لمن أحسن وإن قلَّ عددا،، فلا اغترار لمسلم بما كثر عدده وساء عمله، ولا اغترار بأن الصواب مع الأغلبية، فلم تكن الأغلبية في معايير أهل الفضل أبدًا لكن في قوم يستنصرون بالدهماء والغوغاء، ولا ينظرون إلى الأمرِ فِي نفسه، بل إلى من هو قائم له وبه، فالحق عندهم ما قام به الأغنياء والصفوة من بطانة السلطان وحزبه، والقرآن الكريم يقررغير ذلك: يقرر أن أكثر النَّاس لا يعلمون:

{وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَاّ الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَاّ يَخْرُصُونَ} (الأنعام:116)

{وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} (الأعراف: من الآية187)

{وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يُؤْمِنُونَ) (هود: من الآية17)

إن ما جاء في بيان الوحي قرآنًا وسنة في الدعوة إلى الإنقان والإحسان لَجِدُّ كثير لا يتسع المقام للإشارة إليه.
কর্মে—কথায় ও কাজে—মন্দ আচরণকে ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করার মাঝে এই সুস্পষ্ট প্রমাণ নিহিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমে—কথায় ও কাজে—ইহসানের (উৎকর্ষের) স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে না, সে মূলত প্রথমেই নিজের প্রতি অবিচারকারী; যেহেতু সে দুনিয়া ও আখিরাতে নিজেকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে, আর তাদের সাহচর্যই হলো মহান নিয়ামত। তদুপরি, সে তার উম্মাহর প্রতিও অবিচারকারী; যেহেতু সে উম্মাহকে কথা ও কাজের সেই উত্তম গুণের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেছে। ওহীর বর্ণনা—কুরআন ও সুন্নাহ—আমাদের পার্শ্বস্থ সঙ্গীর প্রতি সদাচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তবে যিনি তার ঊর্ধ্বে, তাঁর প্রতি কর্তব্যের বিষয়টি আরও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে?!!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি নিয়ে চিন্তা করুন: "তোমরা তোমাদের নফসকে অভ্যস্ত করো।" কারণ এটি নফসকে বশীভূত করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এবং ইহসানের ওপর অবিচল থাকতে নফসকে পরিশীলিত ও প্রশিক্ষিত করার এক অনন্য দিশারি, যদিও মানুষ এই পথে একাকী হয় এবং এর স্বপক্ষে কোনো সাহায্যকারী বা সহায় না পায়।

এর মাঝে এই হিদায়াত বা দিশা রয়েছে যে, শুভ পরিণাম কেবল তাদেরই জন্য যারা ইহসান বা উত্তম আমল করে, যদিও তারা সংখ্যায় অল্প হয়। সুতরাং কোনো মুসলিম যেন সংখ্যাধিক্য অথচ মন্দ আমল দ্বারা প্রতারিত না হয়, আর সত্য কেবল সংখ্যাগুরুদের সাথেই থাকে—এমন ভ্রান্ত ধারণা দ্বারাও যেন বিভ্রান্ত না হয়। গুণীজনদের মানদণ্ডে সংখ্যাধিক্য কখনোই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি ছিল না, বরং এটি সেই সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য যারা সাধারণ জনতা ও বিশৃঙ্খল ভিড়ের মাধ্যমে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে চায় এবং তারা বিষয়ের মূল সত্তার দিকে দৃষ্টিপাত করে না, বরং লক্ষ্য করে কে এর স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিকট সত্য তা-ই, যা বিত্তবানরা এবং সুলতানের পারিষদ ও তার দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠা করে। অথচ কুরআনুল কারীম এর বিপরীত সত্যই ঘোষণা করে: এটি প্রতিষ্ঠিত করে যে অধিকাংশ মানুষই প্রকৃত জ্ঞান রাখে না:

{আর যদি আপনি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।} (আল-আনআম: ১১৬)

{কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।} (আল-আরাফ: ১৮৭-এর অংশ)

{কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।} (হূদ: ১৭-এর অংশ)

বস্তুত নিপুণতা এবং ইহসানের প্রতি আহ্বানের বিষয়ে ওহীর বর্ণনায়—কুরআন ও সুন্নাহ—যা এসেছে, তা এতই বিপুল যে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা উল্লেখ করার অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৮)
والله سبحانه وتعالى أسأله هداية إبانة وإعانة وأسأله أن يصحِّح نياتنا ويجعلَها خالصة له من قبل إِقْدَامِنا وفي سعينا، وعاجل أمرنا وآجله، وأن يرفع ذكرنا بالقرآن الكريم بين عباده الصالحين في الدنيا والآخرة.

وصَلّى وسلّم وبارك على عبده ونبيه ورسُولِه سيدِنا محمّدٍ بنِ عبدِ الله وعلى آلِهِ وصَحْبِهِ وأُمَّتِه فِي كُلِّ لَمْحَةٍ وَنَفَسٍ عَدَدَ خَلقهِ وَرِضَاءَ نَفْسِه وزنّةَ عرْشِهِ وَمدادَ كَلِمَاتَه، كَما يُحِبُّ وَيَرْضى صلاة وسلاما وبركة يجمعنا بها مع عبده ونبيه سيدنا محمد صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا يوم القيامة في فردوسه الأعلى آمين أمين آمين رَ بَّ العالمين.

لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الأولَى وَالآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ.

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ. وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ. وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.

وكتَبَه

محمود توفيق محمد سعد

أستاذ البلاغة والنقد ورئيس القسم في كلية اللغة العربية

جامعة الأزهر الشريف (شبين الكوم)

القاهرة - حدائق الزيتون

رجب المعظم: 1424

আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি এমন হিদায়েতের যা সত্যকে স্পষ্ট করে এবং যা সহায়ক হয়; আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের নিয়তসমূহকে সংশোধন করে দেন এবং আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের আগে, আমাদের প্রচেষ্টারত অবস্থায় এবং আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল কাজে সেগুলোকে একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করে দেন। পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর নেককার বান্দাদের মাঝে তিনি যেন আমাদের সুখ্যাতি সমুন্নত করেন।

আর মহান আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও উম্মতের ওপর—প্রতিটি পলকে ও নিশ্বাসে, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর কালামের কালির সমান পরিমাণ। তিনি যেভাবে পছন্দ করেন ও সন্তুষ্ট হন, তেমন রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক, যার উসিলায় তিনি কিয়ামতের দিন তাঁর জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ'লায় আমাদের তাঁর বান্দা ও নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একত্রিত করবেন। আমিন, আমিন, আমিন হে বিশ্বজাহানের রব।

তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। সকল ফয়সালা করার ক্ষমতাও তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে।

আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র। আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের (المرسلين) ওপর। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মাদ সা'দ

অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা (النقد) বিষয়ের অধ্যাপক এবং আরবি ভাষা অনুষদের বিভাগীয় প্রধান

আল-আযহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয় (শিবিন আল-কুম)

কায়রো - হাদায়েক আল-জাইতুন

রজব আল-মুয়াজ্জম: ১৪২৪ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المدخل إلى المنهج

 

نزَّل الله عز وجل القرآنَ الكريم ليكون آية على صحة نبوة عبده سيّدنا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وصدق دعوته وليكون تبيانا لكل شىء وهدى ورحمة وبشرى للمسلمين

وهذا يقتضِي أن يكون من بعد كمال الإيمان به حسنُ ترتيله وحسن تدبره والعمل بما فيه وتعليمه والدعوة إليه بلسان الحال ولسان المقال

ولهذا تسمع قول الحق سبحانه وتعالى مقررًا أنَّه قد أنزله مباركًا ليدبروا آياته وليتذكر أولو الألباب: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الأَلْبَابِ} (صّ:29) فهذه (اللام) في (ليَدّبّروا) و (ليتذكر) لام الغاية والحكمة، فمن لم يأخذ حظَّه من مدخولهما لن يأخذ حظه من بركته، فعلى قدر سعيك إلى اكتساب حظك من التَّدبُّر والتَّذكُّر يكون حظك من بركة هذا الكتاب العظيم، وقد وصف الله جل جلاله القرآن الكريم في مواضع بالبركة:

{وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} (الأنعام:92)

{وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (الأنعام:155)

{وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ أَفَأَنْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ} (الانبياء:50)

والبركة من الكلمات الحبيبة التي تنشرح لها قلوب العباد، فإنَّها مرتبطة في وعيهم بالنماء والزيادة، وقد يغفلون عن معنى الثبات والدوام الذي تتضمنه الكلمة، فقرر بهذه الكلمة نَعْتينِ للكتاب:

تجدد عطائه ودوام نفعه.

ومن ثَمَّ حثّ على تدبره لاستخراج ما فيه من خير متجدد لا يزول ولا يحول ولا يغيض، فهو لا يَصْلُحُ لكلِّ زمانٍ ومكانٍ وعصرٍ ومصرٍ فحسب بل هو يُصلِح كلّ ذلك ويقومه ويقيمه على سواء الصراط:

{إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً} (الاسراء:9)

{وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَاّ خَسَاراً} (الاسراء:82)
মানহাজের ভূমিকা

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন তাঁর বান্দা আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা ও তাঁর দাওয়াতের সত্যনিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবে এবং যাতে তা হয় সবকিছুর বিশদ বিবরণ এবং মুসলিমদের জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।

আর এর দাবি হলো, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের পূর্ণতার পর একে সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করা, সুন্দরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা, এর বিধান অনুযায়ী আমল করা, একে শিক্ষা দেওয়া এবং আচরণ ও বক্তব্যের মাধ্যমে এর দিকে দাওয়াত দেওয়া।

আর এ কারণেই আপনি মহান সত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী শুনতে পান যা সুনিশ্চিত করছে যে, তিনি একে বরকতময় হিসেবে নাযিল করেছেন যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং জ্ঞানবানরা উপদেশ গ্রহণ করে: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে} (সোয়াদ: ২৯)। সুতরাং 'যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে' এবং 'যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে' বাক্যাংশে এই (লাম) অক্ষরটি হলো উদ্দেশ্য ও প্রজ্ঞা প্রকাশক লাম। ফলে যে ব্যক্তি এ দুটির মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা থেকে নিজের অংশ গ্রহণ করবে না, সে এর বরকত থেকেও নিজের অংশ পাবে না। অতএব, চিন্তা-গবেষণা ও উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার প্রচেষ্টার পরিমাণ অনুযায়ী এই মহান কিতাবের বরকত থেকে আপনার অংশ নির্ধারিত হবে। আল্লাহ জাল্লা জালালুহু পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একে বরকত দ্বারা বিশেষিত করেছেন:

{আর এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার চারপাশের লোকজনকে সতর্ক করতে পারেন। আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে তারা এর প্রতি ঈমান আনে এবং তারা তাদের সালাতের হিফাযত করে।} (আল-আনআম: ৯২)

{আর এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি নাযিল করেছি; অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়।} (আল-আনআম: ১৫৫)

{আর এটি একটি বরকতময় উপদেশ যা আমি নাযিল করেছি; তবে কি তোমরা একে অস্বীকারকারী?} (আল-আম্বিয়া: ৫০)

'বরকত' এমন এক প্রিয় শব্দ যা বান্দাদের অন্তরকে প্রফুল্ল করে, কারণ তাদের চেতনায় এটি প্রবৃদ্ধি ও আধিক্যের সাথে সম্পৃক্ত। তবে তারা স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতার সেই অর্থের ব্যাপারে গাফেল হতে পারে যা এই শব্দটির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই শব্দের মাধ্যমে কিতাবটির জন্য দুটি গুণ সাব্যস্ত হয়েছে:

এর অবদানের নতুনত্ব এবং এর উপকারের স্থায়িত্ব।

ফলশ্রুতিতে, এর ভেতরকার সেই অফুরন্ত কল্যাণ আহরণের জন্য এতে চিন্তা-গবেষণা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে যা নিঃশেষ হয় না, পরিবর্তিত হয় না এবং হ্রাস পায় না। কেননা এটি কেবল সকল কাল, স্থান, যুগ ও নগরের জন্যই উপযুক্ত নয়, বরং এটি এই সবকিছুকে সংশোধন করে, সুসংগঠিত করে এবং সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে:

{নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচাইতে সরল এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।} (আল-ইসরা: ৯)

{আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।} (আল-ইসরা: ৮২)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১০)
وأنت إذ تنظر في قول الله عز وجل: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الأَلْبَابِ} (صّ:29) تر أنّه سبحانه وتعالى قال (ليدّبروا) في قراءة الجماعة، ولتَدَبَّرُا في قراءة أبي جعفر.

قراءة "أبي جعفر" بالتاء (المثناة الفوقية) هي لكل من يصح خطابه ولا سيما من كان أمة الإجابة وعلى رأسها المخاطب بصدر الآية سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم. وقراءة الجماعة بالياء (المثناة التحتية) لم تعين مرجع (الواو) كمثل ما جاء التعيين في (ليَتذَكّر) إذ جعله من أولي الألباب (وَلِيَتَذَكّرَ أُولُو الألْبَاب) ، إشارة إلى أنَّ التَّذكُّرَ منزلةٌ مُتَرَتِّبَةٌ على حسن التدبر، فمن قام بشيءٍ من حق التَّدبُّر كان له من التذكر نصيب على قدر لبّه، وكثيرًا ما يقرِنُ التذكر بأولي الألباب: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْراً كَثِيراً وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَاّ أُولُو الأَلْبَابِ} (البقرة:269)

واللب هو خالص القلب الذي به يكون التعقل والتفكر والتذكر، والله عز وجل قدْ حَثَّ عبادَه على تدبُّره مقررًا اتِّساقه قائلا سبحانه وتعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} (النساء:82)

فقرر أنَّ ما يكون من عند غير الله سبحانه وتعالى فيه الاختلاف الكثير أمَّا ما كان من عنده جل جلاله فلا اختلاف فيه البتة، ولكنْ فيه تصريفُ البيان عن المعاني المحقق لبيان المراد كماله
যখন আপনি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন: {এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরা (أولو الألباب) উপদেশ গ্রহণ করে।} (সোয়াদ: ২৯); আপনি দেখতে পাবেন যে, তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা জুমহুর বা অধিকাংশের পাঠরীতিতে (قراءة الجماعة) 'লিইয়াদাব্বারু' বলেছেন, আর আবু জাফরের পাঠরীতিতে 'লিতাদাব্বারু' বলেছেন।

আবু জাফরের 'তা' বা দুই নুক্তাবিশিষ্ট ওপরের বর্ণ (المثناة الفوقية) যোগে পাঠটি ওই সকল ব্যক্তির জন্য যাদের সম্বোধন করা শুদ্ধ, বিশেষ করে যারা উম্মতে ইজাবাহ (أمة الإجابة) এবং যাদের শীর্ষে রয়েছেন আয়াতের শুরুতে সম্বোধিত ব্যক্তি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর জুমহুরের 'ইয়া' বা দুই নুক্তাবিশিষ্ট নিচের বর্ণ (المثناة التحتية) যোগে পাঠটিতে 'ওয়াও' (সর্বনাম)-এর মারজা বা উৎসকে নির্দিষ্ট করা হয়নি, যেমনটি 'লিইয়াতাযাক্কারা' শব্দে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যখন তিনি একে বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের (أولو الألباب) জন্য নির্ধারণ করেছেন {যাতে বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরা (أولو الألباب) উপদেশ গ্রহণ করে}। এটি এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে যে, উপদেশ গ্রহণ (تذكر) হলো উত্তম চিন্তা-গবেষণার (تدبر) ওপর নির্ভরশীল একটি স্তর। সুতরাং যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণার হকের কিয়দংশ আদায় করবে, সে তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী উপদেশ গ্রহণের অংশ লাভ করবে। আর প্রায়শই উপদেশ গ্রহণকে বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়। আর বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরা (أولو الألباب) ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।} (আল-বাকারা: ২৬৯)

'লুব' (اللب) হলো অন্তরের সেই বিশুদ্ধ নির্যাস যার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তি প্রয়োগ, চিন্তাভাবনা এবং উপদেশ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদেরকে এর চিন্তা-গবেষণায় (تدبر) উৎসাহিত করেছেন এবং এর সুসংগতি নিশ্চিত করে সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ খুঁজে পেত।} (আন-নিসা: ৮২)

(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي هذا دعوة ربانية وإغراء كريم بالعكوف على تدبُّر البيان القرآنيّ والوقوف على اتساقه وتناسبه، فإنه لن يؤمن المرء بأن القرآن الكريم من عند الله عز وجل إيمانا مؤسسًا على علم وعرفان إلا إذا استفرغ جهده في هذا التدبّر، فهو من جليل العبادات.

‌‌مفهوم التدبر.

التَّدبُّر في لسان العرب: النظر الثاقب في أدبار الأمور والوقوف على ما تنتهي إليه.

وهو عند أهل العلم بكتاب الله عز وجل: العمل على تحقيق وتحديق النظر في ما يبلغه المعنى القرآني المَدِيدُ من درجات الهداية إلى الصراط المستقيم. وهذا نظر لا يتناهَى، فإن المعنى القرآني له أصل يبدأ منه ولكن منتهاه لا يكاد يبلغه أحدٌ من العباد، فصاحب القرآن الكريم في سفر دائم طلبًا للمزيد من المعنى القرآني.

وكلّ تَعَقُلٍ وتَفَكُّرٍ وتَفَقُّهٍ وتَفَهُّمٍ للبيان القرآني لا يحقق العلم بدرجة من درجات الهداية إلى الصراط المستقيم لا يكون من تدبر القرآن الكريم في شيْءٍ.

المبتغى إليه بالتّدبر.

إذا ما كان التدبر فريضة، فما المغزى الذي يُجَيِّشُ صاحبُ القرآنِ الكريمُِ وقدراته وووسائله ويجمع زادَه ليبلغه أو ليحوم حول حماه؟

أنزل القرآن الكريم على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم ليكون هدى ورحمة وبشرى لعباده: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} (الزمر:23)
এতে রয়েছে কুরআনি বয়ানের (বিবৃতির) ওপর নিবিষ্ট হয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) এবং এর সামঞ্জস্য ও সুসমন্বয় উপলব্ধি করার জন্য এক রব্বানি আহ্বান ও সুমহান উৎসাহ। কেননা, কোনো ব্যক্তিই পবিত্র কুরআন যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তা জ্ঞান ও পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাস করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে এই গভীর চিন্তায় (تدبر) স্বীয় সামর্থ্য উজাড় করে দেয়। আর এটি অন্যতম মহান ইবাদত।

‌‌গভীর চিন্তার (تدبر) ধারণা (مفهوم).

আরবি ভাষায় ‘তাদাব্বুর’ (تدبر) হলো: কোনো বিষয়ের পরিণতির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করা এবং তা যেখানে গিয়ে শেষ হয় তা উপলব্ধি করা।

আর আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞানীদের (أهل العلم) নিকট এর অর্থ হলো: বিস্তৃত কুরআনি অর্থের মাধ্যমে হিদায়াতের (هداية) যে সকল স্তর সঠিক পথের (صراط مستقيم) দিকে পৌঁছে দেয়, সে বিষয়ে দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করা ও সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করার আমল। আর এটি এমন এক দৃষ্টি যা কখনো শেষ হয় না। কেননা কুরআনি অর্থের একটি মূল বা শুরু রয়েছে, কিন্তু এর শেষ সীমায় কোনো বান্দাই পৌঁছাতে পারে না। তাই পবিত্র কুরআনের ধারক কুরআনি অর্থের সন্ধানে এক নিরন্তর সফরে থাকেন।

কুরআনি বয়ানের ক্ষেত্রে এমন প্রতিটি বুদ্ধিপ্রয়োগ (تعقل), চিন্তা-ভাবনা (تفكر), গভীর বোধ (تفقه) এবং অনুধাবন (تفهم) যা সঠিক পথের (صراط مستقيم) দিকে হিদায়াতের (هداية) কোনো একটি স্তরের জ্ঞান অর্জন করে দেয় না, তা কোনোভাবেই পবিত্র কুরআনের গভীর চিন্তার (تدبر) অন্তর্ভুক্ত হবে না।

গভীর চিন্তার (تدبر) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

যদি গভীর চিন্তা (تدبر) একটি আবশ্যকীয় কর্তব্য (فريضة) হয়ে থাকে, তবে এর সেই গূঢ় রহস্য বা লক্ষ্য কী, যার জন্য কুরআনের ধারক তার সকল সক্ষমতা ও উপায়-উপকরণকে নিয়োজিত করেন এবং তার পাথেয় সংগ্রহ করেন যাতে তিনি সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন অথবা তার সীমানার আশেপাশে বিচরণ করতে পারেন?

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের সরদার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন তাঁর বান্দাদের জন্য হিদায়াত (هدى), রহমত (رحمة) ও সুসংবাদ (بشرى) স্বরূপ: {আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম হাদিস সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} (যুমার: ২৩)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১২)
، وهذا لا يتحقق بالوقوف عند تلاوة كلماته، وجعل تلاوته عملا ليس من ورائه شيء، ففي ذلك تعطيل للأمر بتدبره: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الأَلْبَابِ} (صّ:29)

والتدبُّر لا يكون إلاّ لما هو مكنون في الكلم من المعاني، ومن ثمّ كان المبتغى بالتدبرهوالمعنى القرآني الكريم، وهذا هو مناط البركة الرئيس

وإذا ما نظرنا في مدلول كلمة معنى في لسان العرب إلفينا أن مادة (عني) اليائية اللام تدلُّ على القصد والاهتمام والإظهار وتدل أيضا على المقاساة والتجشم.

تقول العرب:عنيت كذا: قصدته وعنت القرية: أظهرت ماءها وعنت الأرض: أنبتت نبتا حسنا وتقول:عانيت الأمر: قاسيته وتعناه: تجشمه، وعناه الأمر: أهمه

أما المعنى الاصطلاحى لكلمة (معنى) فقد لقى اختلافا بالغا بين العلوم المختلفة. ذات العلاقة باللغة، ومرد اختلافهم فى تحرير المعنى الاصطلاحى لكلمة (معنى) هو اختلافهم حول وظيفة اللغة (1))

ونحن لا نرمى إلى النظر فى معنى (المعنى اللغوى) على إطلاقه بل إلى (المعنى القرآنى) بهذا النعت التقييدي الجليل، ولذلك لن نبحر فى قاموس الاختلاف بين أهل العلم فى بيان معنى المعنى وإنما سنعمد إلى تبيان مرادنا من معنى (المعنى القرآنى)

--------------------------------------------

(1) راجع في هذا:التعريفات للسيد الشريف:122، معجم النقد العربي القديم لمطلوب:2/310+326، ومعجم المصطلحات العربية لمجدي وهبة:374،علم النفس اللغوي لنوال عطية:20،42،45، مفهوم المعنى لعزمي سلام:24، سيكولوجية اللغة لجمعة يوسف:125، دور الكلمة في اللغة لستيفان أولمان ترجمة كمال بشر:61، اللغة مبناها ومعناها لتمام حسان: 24
আর এটি কেবল এর শব্দাবলি তিলাওয়াত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে এবং তিলাওয়াতকে এমন এক আমলে পরিণত করার মাধ্যমে অর্জিত হয় না যার পেছনে আর কিছুই নেই। কারণ এর মাধ্যমে একে অনুধাবন (تدبر) করার নির্দেশের কার্যকারিতা লোপ পায়: “(এটি একটি) বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন (تدبر) করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সুরা সোয়াদ: ২৯)

আর অনুধাবন (تدبر) কেবল শব্দের অন্তরালে নিহিত অর্থের ক্ষেত্রেই সম্ভব। সুতরাং, অনুধাবন (تدبر) এর মূল লক্ষ্য হলো পবিত্র কুরআনের অর্থ, আর এটিই হলো বরকতের মূল আধার।

আর যদি আমরা আরবদের ভাষায় ‘অর্থ’ (معنى) শব্দটির তাৎপর্যের প্রতি লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে ‘আইন-নুন-ইয়া’ (عني) মূলধাতুটি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য করা, গুরুত্ব প্রদান এবং প্রকাশ করাকে বোঝায়; আবার এটি কষ্ট সহ্য করা ও পরিশ্রম করাকেও নির্দেশ করে।

আরবরা বলে থাকে: ‘আনাইতু কাযা’ অর্থাৎ আমি এটি সংকল্প বা উদ্দেশ্য করেছি। ‘আনাতিল ক্বরইয়াহ’ অর্থাৎ গ্রামটি তার পানি প্রকাশ করেছে। ‘আনাতিল আরদ’ অর্থাৎ ভূমিটি সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছে। তারা আরও বলে: ‘আনাইতুল আমরা’ অর্থাৎ আমি বিষয়টি নিয়ে কষ্ট করেছি। ‘তাআন্নাহু’ অর্থাৎ সে পরিশ্রম স্বীকার করেছে। এবং ‘আনাহুল আমরু’ অর্থাৎ বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করেছে বা সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

পক্ষান্তরে ‘অর্থ’ (معنى) শব্দের পারিভাষিক (اصطلاحي) রূপটি বিভিন্ন শাস্ত্রের মাঝে ব্যাপক মতপার্থক্যের সম্মুখীন হয়েছে। ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের মাঝে ‘অর্থ’ (معنى) শব্দটির পারিভাষিক (اصطلاحي) স্বরূপ নিরূপণে এই মতপার্থক্যের মূল কারণ হলো ভাষার কার্যাবলি সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা (১)।

আমরা এখানে সাধারণভাবে ‘আভিধানিক অর্থের’ (المعنى اللغوي) স্বরূপ অন্বেষণ করতে চাই না, বরং এই মহান ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ‘কুরআনিক অর্থ’ (المعنى القرآني) অন্বেষণ করতে চাই। তাই ‘অর্থের অর্থ’ বা অর্থের স্বরূপ বর্ণনায় জ্ঞানীদের মধ্যকার মতভেদের সমুদ্রে আমরা পাড়ি দেব না, বরং আমরা কেবল ‘কুরআনিক অর্থ’ বলতে কী উদ্দেশ্য নিয়েছি তা স্পষ্ট করার প্রয়াস পাব।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে দেখুন: আস-সাইয়্যেদ আশ-শরীফ রচিত আত-তারিফাত: ১২২; মাতলুব রচিত মুজাম আন-নাক্বদ আল-আরাবি আল-ক্বদিম: ২/৩১০+৩২৬; মাজদি ওয়াহবা রচিত মুজাম আল-মুসতালাহাত আল-আরাবিয়্যাহ: ৩৭৪; নাওয়াল আতিয়্যাহ রচিত ইলমুন নাফিস আল-লুগাভি: ২০, ৪২, ৪৫; আজমি সালাম রচিত মাফহুম আল-মা’না: ২৪; জুমআ ইউসুফ রচিত সাইকোলজিয়াতুল লুগাহ: ১২৫; স্টিফেন উলম্যান রচিত দওরুল কালিমা ফিল লুগাহ (কামাল বিশর অনূদিত): ৬১; তাম্মাম হাসসান রচিত আল-লুগাহ মাবনাহা ওয়া মা’নাহা: ২৪।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৩)
وغير خفى أن الحديث عن المعنى القرآنيّ لا يقصد إلى معانى كلمات القرآن الكريم فى حقلها المعجمى ووجودها الإفراديّ ذلك " أن الألفاظ المفردة التى هى أوضاع اللغة لم توضع لتعرف معانيها فى أنفسها، ولكن لأن يضم بعضها إلى بعض، فيعرف فيما بينهما من فوائد " (1)

ومن ثَمَّ فإنَّا إلى المعني المَنْسُولِ من أوضاع الكلمات التى تحدث بالتأليف والتركيب والبناء وهذه الأحكام وتلك المعانى هى التى كان بها الهدى، وكان بها المنهج الذى عليه تقوم الأمة المسلمة.

وفى سعينا إلى تبيان معنى (المعنى القرآنى) علينا أن نتذكر أنَّ الدلالة المعجمية لكلمة (عنى) ذات بُعْدَين رئيسين:

بُعْدُ القصد والاهتمام ِ، وبُعْدُ الظّهورِ

الذى يرجع إلى المتكلم إنَّما هو بُعْدُ القصد والاهتمام أمَّا بُعْدُ الظهور فإنَّما يرجع إلى الكلام نفسِه من وجه وإلى المخاطَبِ به من وجهٍ آخر.

البعْدُ الأول: (القصد) ليس لنا أن نزعم في تدبر البيان القرآني سعيًا إلى إدراك المعنى القرآني أنّنا نملكُ القطع بتحريره وتحقيقه من بيانه القرآنىّ، فإنَّ ما تفهمه الأمَّة من كلامه سبحانه وتعالى ليس هو عين مراده من كلامه الموحى إلى نبيه صلى الله عليه وسلم ذلك أن القطع بأن ذلك المعنى من هذه الآية مثلا هو عين مراد الله عز وجل منها إنما يكون بطريق توقيفى صحيح الإسناد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم (2)

ولا يستطيع متلقٍ بيانَ القرآن الكريم الزعمَ يتطابق إدراكه مع مراد الله تعالى لأنَّ القول بهذا فيه جرأة على الله جل جلاله

? المعنى القرآنيّ ضربان:

--------------------------------------------

(1) دلائل الإعجاز – عبد القاهر - ت: شاكر:539

(2) الزركشي: البرهان في علوم القرآن – ت: محمد أبو الفضل:1/16
এটা অজ্ঞাত নয় যে, কুরআনের অর্থ (المعنى القرآني) সম্পর্কে আলোচনা বলতে পবিত্র কুরআনের শব্দগুলোর আভিধানিক পরিমণ্ডলে তাদের একক অস্তিত্বের অর্থকে (معنى) বোঝায় না। তা এই কারণে যে, "ভাষার একক শব্দসমূহ কেবল তাদের নিজস্ব অর্থ জানার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং সেগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাদের সমন্বয়ে অর্জিত উপকারিতাগুলো অনুধাবন করা যায়।" (১)

অতএব, আমরা সেই অর্থের (معنى) দিকেই লক্ষ্য করি যা শব্দ বিন্যাস, বাক্য গঠন ও কাঠামোর মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। আর এই বিধানাবলী ও অর্থসমূহ দ্বারাই হেদায়েত প্রাপ্তি ঘটে এবং এর মাধ্যমেই সেই আদর্শ পদ্ধতি (منهج) তৈরি হয় যার ওপর মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠিত।

'কুরআনের অর্থ' (المعنى القرآني) পরিভাষাটির তাৎপর্য স্পষ্ট করার প্রচেষ্টায় আমাদের মনে রাখতে হবে যে, 'আনা' (عنى) শব্দটির আভিধানিক দ্যোতনার (دلالة) দুটি প্রধান দিক রয়েছে:

উদ্দেশ্য ও গুরুত্বের (القصد والاهتمام) দিক এবং বহিঃপ্রকাশের (الظهور) দিক।

যা বক্তার সাথে সংশ্লিষ্ট তা হলো উদ্দেশ্য ও গুরুত্বের (القصد والاهتمام) দিক। অন্যদিকে বহিঃপ্রকাশের (الظهور) দিকটি একদিক থেকে খোদ বক্তব্যের সাথে এবং অন্যদিক থেকে সম্বোধিত ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত।

প্রথম দিক: উদ্দেশ্য (القصد)। কুরআনের অর্থ (المعنى القرآني) উপলব্ধির লক্ষ্যে কুরআনিক বর্ণনা নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় আমাদের এটা দাবি করার সুযোগ নেই যে, কুরআনের বর্ণনা থেকে আমরা সেই অর্থকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ ও যাচাই করতে সক্ষম। কেননা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালাম থেকে উম্মাহ যা বোঝে, তা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ ওহির হুবহু উদ্দেশ্য (مراد) না-ও হতে পারে। কারণ উদাহরণস্বরূপ, কোনো আয়াতের নির্দিষ্ট অর্থই যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার হুবহু উদ্দেশ্য (مراد), সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানো বিশুদ্ধ সনদসম্বলিত (صحيح الإسناد) এবং অকাট্য নির্দেশিত (توقيفي) পন্থার মাধ্যমেই সম্ভব। (২)

পবিত্র কুরআনের বাণীর কোনো গ্রহণকারীই এই দাবি করতে পারেন না যে তার উপলব্ধি মহান আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যের (مراد) সাথে হুবহু মিলে গেছে। কেননা এমন কথা বলা মহান আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল।

কুরআনের অর্থ (المعنى القرآني) দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) দালাইলুল ই'জায – আব্দুল কাহের – সম্পাদনা: শাকের: ৫৩৯

(২) যারকাশী: আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন – সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আবু ফাদল: ১/১৬
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৪)
(الاول) المعنى القصْدِيّ، وهذا هو عين مراد الله سبحانه وتعالى،وهو معنى توفيقى ليس لنا معه إلا الاجتهاد فى فهمه حين يبلغنا بسند صحيح عن سيد المرسلين محمد صلى الله عليه وسلم.

(والآخر) المعنى الإدراكِيّ وهو كلُّ ما يدركه أهلُ العلم والتَّدبُّر من النَّصِّ القرآنيّ وفقا لأصول الإدراك والتَّدبُّر وضوابطها وهذا الضرب (المعنى الإدراكى) هو مناط دراستنا ونستطيع أن نعرفه الآن:

«كلُّ مايدركه ويستنبطه أهلُ العلم من النَّصِّ فى سياق السورة المقاليّ والمقاميّ وفقا لأصول وضوابط الفهم والاستنباط»

ذلك هو المبتغَى من التَّدبّر.

ووجه هذا أنَّه ما كان الاستنباط من النصّ وفق الأصول العلمية للاستنباط قائمًا به من هو أهل لذلك الاستنباط، فإنَّ ثمرة ذلك مما يريد الله عز وجل من عباده أن يعرفوه،ويريد أن يبلغهم عنه؛ لأنَّه لو كان ذلك لا يريد إبلاغه إلينا لأقامَ في بيانه من القرائن ما يصرفُنا عن فقهه، فذلك حق المستمع على المتكلم،وقد جاء عن أهل العلم أن من البلاغة ألَاّ يؤتَى السَّامع من قِبَلِ المتكلم، بألَاّ يقيمَ المنائرَعلى الطريق، وألَاّ يضعَ القرائن المُعِينَة على فقه المراد الصَّارفة عمَّا لا يريد.

مجال التَّدبّر والبحث عن المعنى القرآنيّ:

إذا ما كان المعْنَى القرآني هو بغية المتدبر طَلِبَتِه التي يرتحل إليها، فإن لهذا التَّدبُّر المبتغِي نوالَ المعنى القرآنيّ مجالا تتوالى فيه حركة المتدبّر حلولا وارتحالا، لا يتوقف، ولا يعرف منتهًى ينتهي عِنده؛ ليعقل الراحلة ويحطَّ الرَّحْلَ.
(প্রথমটি) অভিপ্রায়মূলক অর্থ (المعنى القصْدِيّ), এবং এটিই মহান আল্লাহ তাআলার প্রকৃত উদ্দেশ্য। এটি একটি তওফিকি বা ঐশীপ্রদত্ত (توفيقي) অর্থ, যা রাসুলকুলের সরদার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) সনদের (سند) মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছালে তা বোঝার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

(আর অন্যটি হলো) উপলব্ধিগত অর্থ (المعنى الإدراكِيّ)। জ্ঞান ও চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ (أهل العلم والتدبر) কোরআনিক পাঠ (النص) থেকে উপলব্ধি ও চিন্তার মূলনীতি (أصول) এবং নিয়মাবলি (ضوابط) অনুযায়ী যা কিছু অনুধাবন করেন, তা-ই এর অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকারটিই (উপলব্ধিগত অর্থ) আমাদের আলোচনার মূল বিষয় এবং আমরা এখন এটিকে সংজ্ঞায়িত করতে পারি:

«সুরাসমূহের বাচনিক এবং প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে অনুধাবন ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (الاستنباط) মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (ضوابط) অনুযায়ী জ্ঞানীবর্গ (أهل العلم) কোরআনিক পাঠ (النص) থেকে যা কিছু উপলব্ধি ও উদ্ভাবন (استنباط) করেন, তা-ই হলো এই অর্থ।»

এটিই চিন্তাগবেষণার (التدبر) কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।

এর যৌক্তিক দিকটি হলো, যখন কোনো পাঠ (النص) থেকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (الاستنباط) বৈজ্ঞানিক মূলনীতি (الأصول العلمية) অনুযায়ী এমন কেউ ইস্তিনবাত বা গবেষণার (استنباط) কাজ সম্পন্ন করেন যিনি এর যোগ্য, তখন এর ফলাফলটি মূলত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের যা জানাতে চান এবং তাদের নিকট যা পৌঁছে দিতে চান তারই অংশ। কারণ, যদি তিনি এটি আমাদের নিকট পৌঁছাতে না চাইতেন, তবে তাঁর বর্ণনায় এমন কিছু প্রাসঙ্গিক প্রমাণ বা ইঙ্গিত (القرائن) রাখতেন যা আমাদের সেই বোধ থেকে বিমুখ করে রাখত। বক্তার নিকট এটিই শ্রোতার হক। জ্ঞানীবর্গের (أهل العلم) নিকট অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) একটি বিশেষ দিক হলো, বক্তার পক্ষ থেকে শ্রোতা যেন বিভ্রান্ত না হয়; অর্থাৎ বক্তা পথে কোনো দিকনির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করবেন না এবং উদ্দিষ্ট বিষয়টি বোঝার সহায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে বিমুখকারী কোনো ইঙ্গিত (القرائن) প্রদান করবেন না—এমনটি হতে পারে না।

কোরআনিক অর্থ অনুসন্ধান ও চিন্তাগবেষণার (التدبر) ক্ষেত্র:

কোরআনিক অর্থই যদি হয় চিন্তাশীল ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য যেখানে তিনি পৌঁছাতে চান, তবে সেই কোরআনিক অর্থ অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত চিন্তাশীলতার (التدبر) এমন এক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে চিন্তাশীল ব্যক্তির পদচারণা ও অনুসন্ধান অবিরাম চলতে থাকে; যা কখনো থামে না এবং এমন কোনো শেষ সীমাও চেনে না যেখানে পৌঁছে সে তার বাহন বাঁধবে এবং পথচলা শেষ করে বিশ্রামের বোঝা নামাবে।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويمكننا أن نقول إنّ مجال التدبر يتنوع، فقد يكون مجالا موضوعيًّا بأن يجمع المتدبّر الآيات الدَّالة على غرض معين كغرض الجهاد أو التعاون على البرّ،او النهي عن المنكر، فيجمع تلك الآيات ويتخذ له منهاج ترتيب وتصنيف وفقًا لما قد يصطفي،ويبحث عن مناهج التصوير التي اتخذها القرآن الكريم في تصوير ذلك المعنى وفي إيصال ذلك الغرض والمقصد إلى القلب في أحسن صُورة من اللفظ كما يقول الرمَّانيّ.

وقد يكون مجالا أسلوبيًّا كأن يتخذ أسلوب التشيبيه في القرآن كله أو في سورة من السّورأوموضوع من الموضوعات، فيجمع الآيات التي بنيت على التشبيه لينظر في الأغراض والمقاصدالتي استخدم التشبيه لتصويرها.

وقد يكون مجالا سياقيًا كأن يجعل مجال بحثه عن المعنى القرآني هو سياق ترتيل سورة ما باعتبار أن وحدة التحدي هي السورة

فِي سياقِ التِّلاوَةِ نرى أربع دوائر يحيط بعضها ببعض وفقا لاتساع كلّ دائرة، فكلُّ دائرة منها هي أقل اتساعًا تقوم في رحم الدائرة الأوسع.

تلك الدوائر هي دائرة الآية، فالمَعْقِدِ، فالسّورة ِ، فالقرآنِ الكريمِ، ويُمْكِنُكَ أن تقول هي خمس دوائر بجعلك الجملة دائرة تحيط بها دائرة الآية، تحيط بها دائرة المعْقِد، تحيط بها دائرة السورة، تحيط بجميع الدوائر دائرةُ السياقِ القرآنِيِّ الكريمِ

المعنى القرآني المُجْتَنَى منْ تَدَبُّرِ الجملة في سياق الآية يغلب عليه أنّه معنى قريب، وبرغمٍ من قُرْبِه هو معْنًى كريمٌ وَمُهمٌ، بل هو متعلِّقٌ بما يُعدّ أساسَ المعانِي التي تُنْسَلُ منه فهو أصل المعنى الجمهوريّ للنصّ، ويمكن لمن يكتفي بمثل ذلك الزاد أن يبصر الطريق به إلى مرضاة ربه سبحانه وتعالى أخذًا وتركًا في حركة حياته، وهذا من تيسير الله سُبْحَانَهُ وَتَعَالىعلى عباده الذين ليس لهم قدَمٌ في طلب العلم بالكتاب والسنة
আমরা বলতে পারি যে, গভীর চিন্তার (تدبر) ক্ষেত্রটি বৈচিত্র্যময়। এটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র হতে পারে, যেখানে চিন্তাশীল ব্যক্তি জিহাদ, সৎকাজে সহযোগিতা কিংবা অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) মতো কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জ্ঞাপনকারী আয়াতসমূহ সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি সেই আয়াতগুলোকে একত্রিত করেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি বিন্যাস ও শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র কুরআন কর্তৃক সেই অর্থটি চিত্রায়িত করার ক্ষেত্রে এবং শব্দের সর্বোত্তম রূপের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে চিত্রায়ন পদ্ধতিসমূহ গৃহীত হয়েছে তা অনুসন্ধান করেন, যেমনটি রুম্মানি বলেছেন।

আবার এটি শৈলীগত ক্ষেত্রও হতে পারে; যেমন সমগ্র কুরআনে অথবা কোনো নির্দিষ্ট সূরায় কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে উপমার (تشبيه) শৈলীকে গ্রহণ করা। অতঃপর তিনি সেই উপমার ওপর ভিত্তি করে রচিত আয়াতসমূহ সংগ্রহ করেন যাতে সেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অনুধাবন করা যায় যা চিত্রায়িত করার জন্য উপমা ব্যবহার করা হয়েছে।

এটি প্রাসঙ্গিক বা প্রেক্ষাপটনির্ভর (سياقي) ক্ষেত্রও হতে পারে; যেমন কুরআনের অর্থের ক্ষেত্রে তার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রটি কোনো একটি সূরার ধারাবাহিক তিলাওয়াতের প্রেক্ষাপট হওয়া, এই বিবেচনায় যে চ্যালেঞ্জের একক হলো সূরা।

তিলাওয়াতের প্রেক্ষাপটে (سياق) আমরা চারটি বৃত্ত দেখতে পাই যা প্রতিটি বৃত্তের প্রশস্ততা অনুযায়ী একে অপরকে বেষ্টন করে আছে। এর মধ্যে প্রতিটি অপেক্ষাকৃত ছোট বৃত্ত তার চেয়ে বড় বা প্রশস্ততর বৃত্তের গর্ভে অবস্থান করে।

সেই বৃত্তগুলো হলো আয়াতের বৃত্ত, তারপর সংযোগস্থলের (معقد) বৃত্ত, তারপর সূরার বৃত্ত এবং সবশেষে পবিত্র কুরআনের বৃত্ত। আপনি একে পাঁচটি বৃত্তও বলতে পারেন যদি আপনি বাক্যকে (جملة) একটি বৃত্ত ধরেন, যাকে আয়াতের বৃত্ত বেষ্টন করে আছে, যাকে সংযোগস্থলের (معقد) বৃত্ত বেষ্টন করে আছে, যাকে সূরার বৃত্ত বেষ্টন করে আছে এবং এই সকল বৃত্তকে ঘিরে আছে পবিত্র কুরআনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের (سياق) বৃত্ত।

আয়াতের প্রেক্ষাপটে (سياق) বাক্য নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) থেকে অর্জিত কুরআনিক অর্থের ওপর সাধারণত নিকটবর্তী অর্থই প্রবল থাকে। আর তা নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থ; বরং এটি এমন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত যা মূল অর্থ হিসেবে বিবেচিত এবং যা থেকে অন্যান্য অর্থ নির্গত হয়। সুতরাং এটিই মূল পাঠের মৌলিক বা সর্বজনীন অর্থ। কেউ যদি কেবল এই পাথেয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে, তবে সে তার জীবনযাত্রায় গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে তার রবের সন্তুষ্টির পথ দেখতে পাবে। আর এটি বান্দাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজীকরণ, যাদের কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনে সুদৃঢ় অবস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৬)
فأنت إذا ما نظرت في قول الله سبحانه وتعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} (محمد:19)

وتدبرت قوله عز وجل: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ} وحده من غير أن تربطه بسياقه المقاليّ والمقامي، فإنّك تصل إلى أنَّ الله جَلَّ ثَنَاؤه يأمر نبيه صلى الله عليه وسلم وأمته من بعده أن يعلم أن الله سبحانه وتعالى واحد.

وهذا المعنى إذا ملأ القلب كفاه زادًا في سعيه في هذه الحياة، ولكنَّ من وراء هذا المعنى الجمهوري المأخوذ من هذه الجملة القرآنية وحدها دون ربطها ببقية الآية وبسياقها المُمْتَدِّ في السورة وسياقها المقامي معانيَ متصاعدةً تتوافدُ عليك كلَّما وسعت دائرة التبصّر والتّدبر.

والله سبحانه وتعالى يحثنا على ألَاّ نرضى بالوقوف عند أوّل المَدْرََجَةِ إذا ما كان بمَُلكِنا أن نتصاعد، فنجتني الأوفر والأكبر:

{وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ … } (الزمر من الآية:55)

فإنَّ من وجوه المعنى – فيما أذهب إليه -: أنَّ ما أنزل إلينا من ربنا - عَزَّ اسْمُهُ - ذو عطاءٍ متكاثرٍ، فعلينا أن نتبع أحسنه عطاءً لقلوبنا، فإنَّ لكل قلبٍ مُعافََى من داء الغفلةِ من المعاني القرآنية ما يُحْسِنُ إليه غذاء وشفاء،فيحسن حاله به والمرءُ السّويّ أبصر بما يصلح قلبه ونفسه، فعليه أن يتبع.
আপনি যখন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার এই বাণীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ও মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন} (মুহাম্মদ: ১৯)

এবং আপনি যখন তাঁর এই বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই}-কে এর শাব্দিক ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের সাথে যুক্ত করা ছাড়াই এককভাবে চিন্তা করেন, তখন আপনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আল্লাহ জাল্লা সানাউহু তাঁর নবী (সা.)-কে এবং তাঁর পরবর্তী উম্মতকে এই নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তারা জানে যে মহান আল্লাহ এক।

এই মর্ম যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয়, তখন এই জীবনে পথচলার পাথেয় হিসেবে এটিই যথেষ্ট। তবে কুরআনের এই বাক্যটি থেকে প্রাপ্ত এই সাধারণ অর্থের বাইরেও—যদি একে আয়াতের অবশিষ্টাংশ, সূরার ধারাবাহিক প্রেক্ষাপট এবং শাব্দিক ও পরিস্থিতির যোগসূত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়—বহু উচ্চতর অর্থমালা আপনার হৃদয়ে ক্রমাগত ভিড় করতে থাকবে, যতবেশি আপনি চিন্তা-গবেষণা ও অন্তর্দৃষ্টির পরিধি বিস্তৃত করবেন।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের এই মর্মে উৎসাহিত করেন যেন আমরা সোপানের প্রথম ধাপে থমকে থাকাতেই সন্তুষ্ট না হই, যদি আমাদের উপরে আরোহণ করার সামর্থ্য থাকে; যাতে আমরা আরও সমৃদ্ধ ও মহান ফল অর্জন করতে পারি:

{তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্য থেকে যা উত্তম তার অনুসরণ করো … } (আয-যুমার: ৫৫)

আমার মতে এর অর্থের একটি দিক হলো: আমাদের প্রতিপালক—যাঁর নাম মহিমান্বিত—তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অফুরন্ত দানে পরিপূর্ণ। অতএব আমাদের উচিত আমাদের অন্তরের জন্য যা সর্বোত্তম খোরাক ও দান হিসেবে বিবেচিত হয়, তারই অনুসরণ করা। কেননা গাফিলতির ব্যাধি থেকে মুক্ত প্রতিটি হৃদয়ের জন্য কুরআনের এমন কিছু নিগূঢ় অর্থ রয়েছে যা তার পুষ্টি ও আরোগ্য হিসেবে তাকে ধন্য করে। এর ফলে তার অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ তার অন্তর ও নফসের সংশোধনের জন্য কোনটি উপযোগী তা অধিকতর ভালো অনুধাবন করতে পারেন; সুতরাং তাঁর উচিত সেটিই অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذا ما تجاوز صاحب القرآن الكريمُِ في تدبّره دائرة الجملة إلى دائرة الآية كان مجتنى تدبّره أبسطَ وألطفَ وأحكمَ إذا ما كانت الآية ذات معنى يمكن الوقوف عنده دون أن يفتقر المرءُ افتقارًا بالغا إلى أن يقرنَ بها غيرها، وهذا هو الغالب على كثير من آيات القرآن الكريم، ولا سيّما آيات السور الكثير عدد آياتها. وبعضُ آيات القرآن الكريم تكون بالنسبة إلى أختها كالكلمة بالنسبة إلى أختها في بناء الآية؛ لتعلُّق الأخرى بها تعلقًا تركيبيا يصير بعض الآية التالية مكمِّلا بناءَ المعنى في الجملة السابقة

ذلك أنَّ تفصيل السورة القرآنية إلى آيات ليس معياره لغويًّا نحويًّا تركيبيًّا، بل من وراء ذلك حكم لطيفة قد لا يتيسر لنا إدراكها.

وقد جاء في خبر موقوف عن أم المؤمنيبن سيدتنا " عائشة بنت الصديق – رضي الله عنهما: " أنها قالت: إن عدد آيات القرآن الكريم على عدد درج الجنة، وكلَّما قرأ صاحب القرآن آية ارتقي في الجنة درجة."

ومثل هذا لا يكون من أمِّ المؤمنين أو أحدٍ من الصحابة غيرها من عند نفسه بل هو في حكم المرفوع.

المهم أن المعنى القرآني المجْتَنَى من تدبر الآية أوفر عطاء وألطف نوالاً من المعنَى المجتنَى بتدبّر الجملة القرآنية في سياق الآية.

***

যখন পবিত্র কুরআনের পাঠক তার ভাবগবেষণার পরিধিকে একটি বাক্যের গণ্ডি থেকে আয়াতের স্তরে উন্নীত করেন, তখন তার গবেষণালব্ধ নির্যাস অধিক সহজ, সূক্ষ্ম ও সুসংহত হয়; যদি আয়াতটি এমন অর্থপূর্ণ হয় যেখানে অন্য কোনো আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট করা ছাড়াই থামা সম্ভব। পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ আয়াতের ক্ষেত্রেই এটি লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে দীর্ঘ আয়াত বিশিষ্ট সূরাগুলোর ক্ষেত্রে। পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তার পার্শ্ববর্তী আয়াতের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত থাকে যেমন একটি আয়াতের গঠনে একটি শব্দ তার পরবর্তী শব্দের সাথে যুক্ত থাকে; এর কারণ হলো তাদের মধ্যে এমন এক কাঠামোগত সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে যার ফলে পরবর্তী আয়াতের অংশবিশেষ পূর্ববর্তী বাক্যের অর্থের পূর্ণতা দান করে।

প্রকৃতপক্ষে, কুরআনের সূরাগুলোকে আয়াতে বিন্যস্ত করার মানদণ্ড কেবল ভাষাগত, ব্যাকরণগত বা গাঠনিক নয়; বরং এর নেপথ্যে রয়েছে এমন গূঢ় হিকমত যা অনুধাবন করা আমাদের জন্য সহজসাধ্য নাও হতে পারে।

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা আয়েশা বিনতে সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে একটি সাহাবী পর্যন্ত স্থগিত (موقوف) বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআনের আয়াতের সংখ্যা জান্নাতের স্তরের সংখ্যার সমপরিমাণ। কুরআন পাঠকারী যখনই একটি আয়াত পাঠ করবেন, তিনি জান্নাতে এক স্তর উপরে আরোহণ করবেন।"

আর এই ধরণের বক্তব্য উম্মুল মুমিনীন বা অন্য কোনো সাহাবীর পক্ষে নিজস্ব পক্ষ থেকে প্রদান করা সম্ভব নয়, বরং এটি সরাসরি বর্ণনা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হওয়ার হুকুম রাখে।

সারকথা হলো, একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াতের গভীর চিন্তা থেকে প্রাপ্ত কুরআনিক মর্মার্থ, আয়াতের প্রেক্ষাপটে কেবল একটি বাক্য নিয়ে চিন্তা করে অর্জিত অর্থের তুলনায় অনেক বেশি ফলপ্রসূ ও চমৎকার।

(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وإذا ما تجاوز صاحب القرآن الكريم في تدبره دائرة الآية إلى دائرة المعقد المتشكل من مجموع آيات ذات موضوع واحد كالمعقد الذي يجمع آيات تصنيف الناس إلى ثلاث في صدر سورة البقرة أو المعقد الذي يجمع آيات الإنفاق في سبيل الله سبحانه وتعالى وفي غيرسبيله، وما يتعلق بالعلاقات المالية في خواتيم سورة البقرة،أو المعقد الجامع الآيات المتحدثة في شأن الدعوة في خواتيم سورة النحل أو الآيات التي تجمع سمات عباد الرحمن في خواتيم سورة الفرقان إلى غير ذلك – إذا ما جاز إلى تلك الدائرة فإنَّ دقائق من معاني القرآن الكريم تتقاطر عليه أو تترادف وفقَ منزلِه من الفقه والفهم عن الله ربّ العالمين.

وتدبُّر المعقد ذو أهمية بليغة للمتدبر أيًّا كانت طلبته من صنوف المعاني القرآنية: صاحب معاني التشريع شأنُه شأن صاحب المعاني البيانيَّة تقتضيه طلبته ألاّ يأسر تبصُّرَه في دائرة الآية، فإنَّ غير قليل من معاني التشريع تقتضي النظر في عديد من الآيات المنسوق بعضها في إثر بعض،على أنَّ بعض المعاني التشريعية يمكن استفادتها من النَّظر في آية واحدة بخلاف المعاني البيانية، فطبيعة المعنى المبتغَى هو المقتضى مجال التدبر.

فإذا أراد المتدبِّرُ ضربًا آعلى من دقائق المعاني ولطائفها، فإنَّه يتخذُ دائرة السُّورة مجالا يُعْمِلُ فيه بصيرته وفراسته البيانية، فإنَّ لكلِّ سورةٍ سياقا يوحد نسب آياتها، ويحقِّق الرَّحم القائم بينها، ومراعاة ذلك السياق فيه البرّ برحم المعنى القرآني في السورة،وفي نور السياق الممتد للسورة يتبين للمتدبِّرِ كثيرٌ من اللطائف.

وقد أشار إلى ذلك " أبو إسحاق الشاطبي" في الموافقات ":
যখন কুরআনুল কারীমের ধারক তার গভীর অনুধাবন (تدبر) প্রক্রিয়ায় একটি আয়াতের গণ্ডি পেরিয়ে এমন এক বিষয়ভিত্তিক আয়াতসমষ্টির (المعقد) দিকে অগ্রসর হন যা একই বিষয়ের একাধিক আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত—যেমন সূরা বাকারার শুরুতে মানুষের তিনটি শ্রেণিবিন্যাস সংবলিত আয়াতসমষ্টি, অথবা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে ও অন্য পথে ব্যয় সংক্রান্ত আয়াতসমূহ এবং সূরা বাকারার শেষাংশে আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিষয়াবলির সমষ্টি, কিংবা সূরা নাহলের শেষ দিকে দাওয়াত সংক্রান্ত আলোচনার আয়াতসমষ্টি অথবা সূরা ফুরকানের শেষাংশে 'ইবাদুর রহমান'-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রকারী আয়াতসমূহ ইত্যাদি—যখন তিনি সেই পরিধিতে উত্তীর্ণ হন, তখন কুরআনুল কারীমের সূক্ষ্ম অর্থসমূহ তার ওপর বর্ষিত হতে থাকে অথবা রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তার গভীর প্রজ্ঞা (فقه) ও বুঝের স্তর অনুযায়ী একের পর এক আসতে থাকে।

গবেষণাকারীর জন্য এই বিষয়ভিত্তিক আয়াতসমষ্টির (المعقد) গভীর অনুধাবন (تدبر) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চাই তার কাম্য বিষয় কুরআনের যেকোনো প্রকারের অর্থই হোক না কেন: বিধান প্রণয়ন (تشريع) সংক্রান্ত অর্থ অন্বেষণকারীর অবস্থা ঠিক আলঙ্কারিক (بيانية) অর্থ অন্বেষণকারীর মতোই; তার উদ্দেশ্য তাকে বাধ্য করে যেন সে তার অন্তর্দৃষ্টিকে কেবল একটি আয়াতের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ না রাখে। কারণ, বিধান প্রণয়ন (تشريع) সংক্রান্ত অনেক অর্থই পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত একাধিক আয়াতের প্রতি দৃষ্টিপাত করার দাবি রাখে, যদিও কিছু বিধানগত অর্থ আলঙ্কারিক (بيانية) অর্থের বিপরীতে কেবল একটি আয়াত থেকেই লাভ করা সম্ভব। মূলত উদ্দিষ্ট অর্থের প্রকৃতিই হচ্ছে গভীর অনুধাবন (تدبر) এর ক্ষেত্র নির্ধারণের মাপকাঠি।

গবেষণাকারী যদি সূক্ষ্ম অর্থ ও তার লালিত্যের আরও উচ্চতর কোনো স্তর আকাঙ্ক্ষা করেন, তবে তিনি পূর্ণাঙ্গ সূরার পরিধিকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করবেন যেখানে তিনি তার অন্তর্দৃষ্টি ও আলঙ্কারিক (بيانية) প্রজ্ঞাকে প্রয়োগ করবেন। কেননা প্রতিটি সূরারই একটি নির্দিষ্ট প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট (سياق) থাকে যা তার আয়াতসমূহের মধ্যকার যোগসূত্রকে একীভূত করে এবং তাদের মধ্যকার বিদ্যমান নিবিড় সম্পর্ককে সচল রাখে। সেই প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট (سياق) রক্ষা করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সূরার অন্তর্গত কুরআনীয় অর্থের আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা। আর সূরার এই বিস্তৃত প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট (سياق)-এর আলোকেই গবেষণাকারীর নিকট বহু সূক্ষ্ম তত্ত্ব উম্মোচিত হয়।

আবু ইসহাক আশ-শাতবি আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ১৯)
«الكلام المنظور فيه تارة يكون واحدًا بكلّ اعتبار، بمعنى أنّه أنزل في قضية واحدة طالت أو قصرت، وعليه أكثر سور المفصل،وتارة يكون متعددًا في الاعتبار بمعنى أنّه أنزل في قضايا متعددة كسورة البقرة … ولا علينا أنزلت السورة بكمالها دفعة واحدة أم نزلت شيئًا بعد شيءٍ

ولكن هذا القسم له اعتباران:

*اعتبار من جهة تعدد القضايا، فتكون كلُّ قضية مختصة بنظرها،ومن هنالك [أي من النظر في كلّ قضية على حدتها] يلتمس الفقه على وجه ظاهر لا كلام فيه …

* واعتبار من جهة النظم الذي وجدنا عليه السورة إذ هو ترتيب بالوحي لامدخل فيه لآراء الرجال … فاعتبار جهة النظمِ مثلا في السورة لايتمُّ به فائدة إلَاّ بعد استيفاء جميعها بالنظر، فالاقتصار على بعضها فيه غير مفيد غاية المقصود، كما أنَّ الاقتصار على بعض الآية في استفادة حكم ما لايفيد إلَاّ بعد كمال النَّظر في جميعها.» (1)

والمعنى المُجْتَنَى من التَّدبُّر في سياق السورة هو المعنى القرآني الذي أذهب إلى أن البحث عنه محقق لكثير من المعاني الإحسانية التي نحن في مزيد الافتقار إليها تفقُّهًا وتأدبا، ولهذا قلت في تعريف المعنى القرآني: "كلُّ مايدركه ويستنبطه أهلُ العلم من النَّصِّ فى سياق السورة المقاليّ والمقاميّ وفقا لأصول وضوابط الفهم والاستنباط"

قلت (فى سياق السور) لأنَّ تمام المعنى لا يدرك فى سياقه الجزئى وإنما يدرك فى سياق السورة كلِّها التى هى وحدة التحدى، وكلُّ درس آية خارج سياق سورتها هو درس خداج عاجز عن استبصار كثير من وجوه المعنى القرآنى التى تغذو الروح واللب بلطائف المعانى الاحسانية.

وما نجري في سياقه الآن إنَّما هو النَّظر في معالم فقه المعنى القرآني في سياق السورة.

***

--------------------------------------------

(1) الشاطبي: الموافقات في أصول الشريعة: ج 3 ص 414- 415 - تح: عبد الله دراز.
«বিবেচ্য বক্তব্য কখনো সব দিক থেকে একক হতে পারে, অর্থাৎ এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত; আল-মুফাসসাল পর্যায়ের অধিকাংশ সূরা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। আবার কখনো তা বিবেচনার দিক থেকে বহুবিধ হতে পারে, অর্থাৎ তা একাধিক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন সূরা আল-বাকারাহ … আর সূরাটি সম্পূর্ণভাবে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে নাকি ধারাবাহিকভাবে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

তবে এই শ্রেণির দুটি দিক রয়েছে:

* বিষয়সমূহের আধিক্যের দিক থেকে বিবেচনা; ফলে প্রতিটি বিষয় নিজস্ব পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট থাকে। আর সেখান থেকেই [অর্থাৎ প্রতিটি বিষয় পৃথকভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে] ফিকহ (الفقه) বা গভীর প্রজ্ঞা এমন স্পষ্টভাবে অন্বেষণ করা হয় যেখানে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে না …

* আবার বিন্যাস (النظم)-এর দিক থেকেও বিবেচনা হতে পারে যে অবস্থায় আমরা সূরাটিকে পেয়েছি; কারণ এটি ওহি (الوحي)-র মাধ্যমে প্রাপ্ত বিন্যাস যাতে মানুষের মতামতের কোনো সুযোগ নেই … উদাহরণস্বরূপ, সূরার বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা তখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ না তা পুরোপুরি পর্যালোচনার আওতায় আসে। কারণ এর কোনো আংশিক পাঠ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট নয়, যেমন কোনো বিধান (حكم) আহরণের ক্ষেত্রে আয়াতের একাংশের পর্যালোচনা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হয় না যতক্ষণ না তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়।» (১)

সূরার প্রসঙ্গ (سياق) নিয়ে গভীর অনুধাবন (التدبر) থেকে প্রাপ্ত অর্থই হলো সেই 'কুরআনিক অর্থ', যা নিয়ে গবেষণা করলে অনেক ইহসানি বা উচ্চতর আধ্যাত্মিক অর্থ অর্জিত হয় বলে আমি মনে করি। আমাদের জ্ঞানগত ও চারিত্রিক উৎকর্ষের জন্য এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ কারণেই কুরআনিক অর্থের সংজ্ঞায় আমি বলেছি: "জ্ঞানী ব্যক্তিগণ আহরণ (استنباط)-এর মূলনীতি (أصول) ও নিয়মানুযায়ী কোনো পাঠের শাব্দিক ও প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট থেকে যা কিছু উপলব্ধি ও আহরণ করতে পারেন, তা-ই কুরআনিক অর্থ।"

আমি 'সূরার প্রসঙ্গ' কথাটি বলেছি কারণ অর্থের পূর্ণতা আংশিক প্রেক্ষাপটে অনুধাবন করা সম্ভব নয়, বরং তা পুরো সূরার প্রেক্ষাপটেই উপলব্ধি করা যায় যা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অলৌকিক চ্যালেঞ্জ (تحدي)-এর একক। সূরার প্রসঙ্গ বহির্ভূত যেকোনো আয়াতের আলোচনা হলো মূলত একটি অপূর্ণাঙ্গ (خداج) আলোচনা, যা কুরআনিক অর্থের সেই বহুমুখী দিকগুলো অনুধাবনে অক্ষম যা আত্মাকে এবং অন্তরকে উচ্চতর সূক্ষ্ম অর্থ দ্বারা পুষ্ট করে।

আমরা বর্তমানে সূরার প্রসঙ্গের আলোকে কুরআনিক অর্থের ফিকহ (الفقه) বা গভীর প্রজ্ঞার স্বরূপ নিয়েই আলোচনা করছি।

***

--------------------------------------------

(১) আশ-শাতিবি: আল-মুওয়াফাকাত ফি উসুলিশ শরিয়াহ (الموافقات في أصول الشريعة): ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৪-৪১৫ - সম্পা: আবদুল্লাহ দরাজ।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২০)
ويبقى من بعد هذا المجال الأرحب للتدبر: دائرة السياق القرآني كله من مفتتح تلاوته: (أم الكتاب) إلى مختتم التلاوة: (سورة الناس)

والمتدبِّر في تدبُّره في حركة متصاعدة بتصاعد المعنى القرآني، وجميع هذه المعاني المتصاعدة المبثوثة في آيات القرآن الكريم من مفتتح سورة (البقرة: سنام القرآن الكريم) إلى مختتم آيات (سورة الناس) هي تفصيل لما هو مجمل من المعاني في سورة الفاتحة (أم الكتاب) وكلُّ معنى قرآني هو منسولٌ من معنى من معاني سورة الفاتحة، ولهذا قرَّر أهل التحقيق أن (سورة الفاتحة: أم الكتاب) قد جمعت كل معاني القرآن الكريم على سبيل الإحكام، وسائر السور تفصيل لتلك المعاني، وكلام أهل العلم في هذا مبسوط في مواطنه.

مجمل القول أن مجالَ التَّدبُّرِ من حيث اتساعه دوائر يحيط بالصغير منها ما هو أكبر منه حتّى تحيط دائرة السياق القرآني كلِّه بالدوائر كلِّها.

ولكل دائرة من دوائر مجال التدبر مؤونتها وعطاؤها،وعلى قدْرِ الزَّاد الذي يحمل المتدبِّر والوسائل التي يمتلك والمنهج الذي به يأخذ يكون العطاء والنوال.

***
এরপর অনুধ্যানের এই প্রশস্ততম ক্ষেত্রটি অবশিষ্ট থাকে: আর তা হলো তিলাওয়াতের প্রারম্ভ—উম্মুল কিতাব থেকে নিয়ে তিলাওয়াতের সমাপ্তি—সূরা নাস পর্যন্ত সমগ্র কুরআনিক প্রসঙ্গের পরিমণ্ডল।

কুরআনের অর্থের ঊর্ধ্বগতি অনুসারে অনুধ্যানকারী তার অনুধ্যানের ক্ষেত্রে এক ক্রমবর্ধমান গতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে পরিব্যাপ্ত এই সকল ক্রমবর্ধমান অর্থ—সূরা বাকারাহ (পবিত্র কুরআনের চূড়া) থেকে শুরু করে সূরা নাস-এর শেষ আয়াত পর্যন্ত—সবই সূরা ফাতিহার (উম্মুল কিতাব) সংক্ষিপ্ত অর্থসমূহের বিস্তারিত রূপ। কুরআনের প্রতিটি অর্থই সূরা ফাতিহার কোনো না কোনো অর্থ থেকে উৎসারিত। একারণেই বিজ্ঞ গবেষকগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সূরা ফাতিহা (উম্মুল কিতাব) সংক্ষিপ্তভাবে পবিত্র কুরআনের সকল অর্থকে ধারণ করেছে এবং অন্যান্য সমস্ত সূরা হলো সেই অর্থসমূহেরই বিস্তারিত বিবরণ। আলেমগণের এ সংক্রান্ত আলোচনা সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সারকথা হলো, অনুধ্যানের ক্ষেত্রটি তার ব্যাপ্তির দিক থেকে এমন কতগুলো বৃত্তের ন্যায়, যার ক্ষুদ্রতর বৃত্তটিকে তার চেয়ে বড় বৃত্তটি পরিবেষ্টন করে থাকে; শেষ পর্যন্ত সমগ্র কুরআনিক প্রসঙ্গের বৃত্তটি অন্য সকল বৃত্তকে পরিবেষ্টন করে নেয়।

অনুধ্যানের পরিমণ্ডলের প্রতিটি বৃত্তেরই নিজস্ব রসদ ও প্রাপ্তি রয়েছে। একজন অনুধ্যানকারী যে পরিমাণ পাথেয় বহন করেন এবং তার আয়ত্তে থাকা উপকরণ ও অবলম্বিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই এই দান ও প্রাপ্তি অর্জিত হয়।

***
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২১)
مراحل الطريق إلى فقه المعنى القرآني

الفصل الأول: فقه موقع السورة على مدرجة السياق القرآنى

الفصل الثانى: فقه وحدة سياق السورة ومقصودها الأعظم:

الفصل الثالث:تقسيم السورة إلى معاقد

الفصل الرابع:التحليل البياني للكلمات والجمل والآيات

 

‌‌توطئة …

 

جمهور أهل العلم بالقرآن الكريم على أن أقل قدر تُحُدِّيَ به الثقلان هو السورة أيًّا كان مقدارها الكميّ، فسورة" الإخلاص " وسورة "البقرة " فى التحدِّي سواء من أنّه سبحانه وتعالى قال: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (البقرة:23) وقال: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (يونس:38)

وقد جاءت فى كلتيهما (سورة) نكرة، وفى هذا التنكير دلالة على العموم أىْ أىَّ سورةٍ طويلةٍ أو قصيرةٍ، ولكنهم يذهبون أيضا إلى أنَّ ما كان كالسورة فى مقدارها الكميّ (ثلاث آيات) فأكثر يقع به التحدِّي.

ويؤخذ من ذلك أنَّه إن كان جزء من آية يعدِل مقدار السورة كَمًا ومقدارًا فلا يقع به التحدِّى، بْل لا بُدَّ أن يكون المُعادل ثلاث آياتٍ، فأكثر، فآية الكرسيّ سيدة آي القرآن الكريم كأنَّها جملة بيانيَّة واحدة، وكذلك آية المداينة فى سورة البقرة على الرغم من أنها تفوق كثيرا من قصار السُّور فى مقدار جملها وكلماتها وحروفها لم يقع التحدى بها وإن كانت في نفسها معجزة، فهى جزء من سورة وعنصر من عناصر بناء معناها بينما سورة من قصار السور أقل فى عدد حروفها وكلماتها ذات مقصد تام وفيها من سمات البيان القرآنى ما فى السورالطوال قد وقع بها التحدى عند جمهور أهل العلم

ويذهب برهان الدين البقاعي (ت:885) إلى أنَّ الآية الواحدة القائمة بتمام المعنى يقع بها التحدي، ويتحقق فيها الإعجاز، فلا يفرق بين مناط الإعجاز ومناط التّحدّي.
কুরআনি অর্থের প্রজ্ঞা অর্জনের পথের পর্যায়সমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনি প্রেক্ষাপটের ক্রমধারায় সূরার অবস্থান বিষয়ক প্রজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার প্রেক্ষাপটের ঐক্য এবং এর মহান উদ্দেশ্য বিষয়ক প্রজ্ঞা:

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরাকে বিভিন্ন মূলকেন্দ্রে (معاقد) বিভক্ত করা

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শব্দ, বাক্য এবং আয়াতের আলঙ্কারিক (بياني) বিশ্লেষণ

 

‌‌ভূমিকা (توطئة) …

 

কুরআন বিষয়ক অধিকাংশ (جمهور) আলেম একমত যে, মানব ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ (تحدي) হিসেবে পেশ করা ন্যূনতম পরিমাণ হলো একটি সূরা, তার পরিমাণগত ব্যাপ্তি যাই হোক না কেন। চ্যালেঞ্জের (تحدي) ক্ষেত্রে সূরা ইখলাস এবং সূরা বাকারা সমান; যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাক, তবে তার মত একটি সূরা নিয়ে এস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীগণকে ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} (সূরা বাকারা: ২৩) এবং তিনি বলেছেন: {নাকি তারা বলে যে, সে তা নিজে রচনা করেছে? বল, তবে তোমরা তার মত একটি সূরা নিয়ে এস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} (সূরা ইউনুস: ৩৮)।

এই উভয় স্থানেই 'সূরা' শব্দটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে এসেছে। এই অনির্দিষ্টকরণে (تنكير) ব্যাপকতা (عموم) নির্দেশ করে, অর্থাৎ যে কোনো সূরা—তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। তবে তাঁরা এটাও মনে করেন যে, যা পরিমাণগত দিক থেকে একটি সূরার সমান (তিনটি আয়াত) বা তার চেয়ে বেশি, তার মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ (تحدي) সঙ্ঘটিত হয়।

এখান থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আয়াতের কোনো অংশ যদি পরিমাণে একটি সূরার সমান হয়, তবে তার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ (تحدي) সঙ্ঘটিত হবে না; বরং তা অবশ্যই তিনটি আয়াত বা তার বেশি হতে হবে। কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহের নেত্রী আয়াতুল কুরসি যেন একটি স্বতন্ত্র আলঙ্কারিক বাক্য। একইভাবে সূরা বাকারার ঋণের আয়াতটি (আয়াতুল মুদাইয়ানা), শব্দ ও বাক্যের বিচারে অনেক ছোট সূরার চেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদান করা হয়নি, যদিও এটি নিজ গুণেই অলৌকিক (معجزة)। কারণ এটি একটি সূরার অংশ এবং এর অর্থ কাঠামোর একটি উপাদান মাত্র। পক্ষান্তরে, ছোট সূরাগুলোর মধ্যে অক্ষরের সংখ্যা কম হলেও সেগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য (مقصد تام) রয়েছে এবং এতে দীর্ঘ সূরাগুলোর মতো কুরআনি অলঙ্কারশাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান। তাই অধিকাংশ (جمهور) আলেমের মতে, এগুলোর মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ (تحدي) সঙ্ঘটিত হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন আল-বিকাঈ (মৃত্যু: ৮৮৫ হিজরি) মনে করেন যে, পূর্ণ অর্থ বহনকারী একটি আয়াতের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ (تحدي) সঙ্ঘটিত হতে পারে এবং তাতে অলৌকিকতা (إعجاز) প্রকাশ পায়। ফলে তিনি অলৌকিকতার (إعجاز) ক্ষেত্র এবং চ্যালেঞ্জের (تحدي) ক্ষেত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২২)
ويذهب العلامة الإمام "محمود شاكر" رحمه الله إلى أنَّ قليل القرآن وكثيره فى شأن الإعجاز سواء. يقول بعد أن أبان أنَّ النبى صلى الله عليه وسلم من بعد أن نزل عليه الوحى طالب قومه بأن يؤمنوا بما دعاهم إليه ويُقِرُّوا له بصدق نبوته بدليل واحد، وهو هذا الذى يتلوه عليهم من قرآن يقرءون «كان هذا القرآن ينزل عليه منجَّمًا، وكان الذى نزل عليه يومئذ قليلا كما تعلم وكان هذا القليل من التنزيل هو برهانُه الفرد على نبوته، وإذن، فقليل ما أوحى إليه من آيات يومئذ، وهو على قلته، وقلَّةِ ما فيه من المعانى التى تنامت وتجمعت فى القرآن جملة، كما نقرؤه اليوم منطوٍ علي دليل مُسْتَبِينٍ قاهرٍ، يحكم له بأنَّه ليس من كلام البشر، وبذلك يكون دليلا على أنَّ تالِيهِ عليهم، وهو بشر مثلهم نبى من عند الله مرسَلٌ، فإذا صَحَّ هذا – وهو صحيح لا ريب فيه – ثبت ما قلناه أوَّلاً من أنَّ الآيات القليلة من القرآن، ثُمَّ الآيات الكثيرة، ثُمَّ القرآنُ كلُّه أىّ ذلك كان فى تلاوته على سامعه من العرب الدليل الذى يطالبه بأن يقطعَ بأنَّ الكلامَ مُفارِقٌ لجنس كلام البشر، وذلك من وجه واحد، وهو وجه البيان والنظم. (1)

وعندي أن نفرق بين ما يقع به الإعجاز، وما وقف عنده التحدِّي:

التحدي وقف عند "السورة" كما دلَّ ظاهر البيان القرآنيّ، ولكنَّ الإعجازَ واقع بالآية الواحدة التامّة المعنى، أمَّا التي لايتم معناها إلا بآية أو آيات أخرى فلا يقع الإعجاز بها وحدها.مثل (مُدْهَامَّتَانِ) (الرحمن:64) ، (أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى) (العلق:9)

--------------------------------------------

(1) تقديم كتاب: " الظاهرة القرآنية " لمالك بن نبي: بعنوان: (فصل في إعجاز القرآن) بقلم محمود شاكر – ص:27-28 –ط: دار الفكر – دمشق - 1405
আল্লামা ইমাম "মাহমুদ শাকির" (রহিমাহুল্লাহ) এই অভিমত পোষণ করেন যে, অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিচারে কুরআনের অল্প অংশ এবং অধিক অংশ উভয়ই সমান। তিনি এটি স্পষ্ট করার পর বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি তাঁর কওমকে তাঁর দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনতে এবং তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা স্বীকার করার জন্য কেবল একটি প্রমাণের দাবি জানিয়েছিলেন; আর তা হলো এই কুরআন যা তিনি তাদের নিকট পাঠ করতেন। তিনি বলেন: "এই কুরআন তাঁর নিকট কিস্তিতে বা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হতো। আপনি যেমন জানেন, সে সময় যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার পরিমাণ ছিল সামান্য। আর এই সামান্য পরিমাণ অবতীর্ণ অংশই ছিল তাঁর নবুওয়াতের একমাত্র অকাট্য দলিল। সুতরাং, সে সময় তাঁর নিকট অবতীর্ণ আয়াতের পরিমাণ সামান্য হওয়া সত্ত্বেও—এবং বর্তমানে আমরা পূর্ণাঙ্গ কুরআন যেভাবে পাঠ করি তার তুলনায় সেই অবতীর্ণ অংশে অর্থের যে ব্যাপকতা পরে তৈরি ও পুঞ্জীভূত হয়েছে তা কম থাকা সত্ত্বেও—তা একটি সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণের ধারক ছিল, যা একথাই সাব্যস্ত করে যে এটি মানুষের কথা নয়। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, যিনি তাদের নিকট এটি পাঠ করছেন—অথচ তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ—তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسل) একজন নবী। যদি এটি সঠিক (صحيح) হয়—আর এটি যে নিঃসন্দেহে সঠিক (صحيح) তাতে কোনো সন্দেহ নেই—তবে আমরা প্রথমে যা বলেছিলাম তা-ই প্রমাণিত হয় যে, কুরআনের অল্প সংখ্যক আয়াত হোক, কিংবা অনেক আয়াত, অথবা পূর্ণ কুরআন—আরব শ্রোতাদের নিকট এর তিলাওয়াত যা-ই হোক না কেন, তা এমন এক দলিল যা তাকে এই ধ্রুব সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য করে যে, এই বাণী মানবীয় বাণীর বৈশিষ্ট্য থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বা বিসদৃশ। আর তা কেবল একটি দিক থেকেই প্রমাণিত, আর তা হলো এর বাগ্মিতা ও বাচনরীতির দিক।" (১)

আমার মতে, যে বিষয়ের মাধ্যমে অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রকাশ পায় এবং যেখানে এসে চ্যালেঞ্জ (تحدي) শেষ হয়—এ দুটির মধ্যে আমাদের পার্থক্য করা উচিত:

কুরআনী বর্ণনার বাহ্যিক নির্দেশ অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ (تحدي) 'সূরা' পর্যন্ত এসে থেমেছে, কিন্তু অলৌকিকত্ব (إعجاز) পূর্ণ অর্থবোধক একটি মাত্র আয়াতের মাধ্যমেই সুঘটিত হয়। তবে যে আয়াতের অর্থ অন্য আয়াত বা আয়াতসমূহ ব্যতীত পূর্ণ হয় না, কেবল সেই আয়াতের মাধ্যমে অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রকাশ পায় না। যেমন: (مُدْهَامَّتَانِ) (আর-রাহমান: ৬৪), (أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى) (আল-আলাক: ৯)

--------------------------------------------

(১) মালিক বিন নবী রচিত "আজ-জহিরা আল-কুরআনিয়া" (The Quranic Phenomenon) গ্রন্থের ভূমিকা: 'ফাসলুন ফি ইজাজিল কুরআন' (কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক অধ্যায়) শিরোনামে, লেখক: মাহমুদ শাকির – পৃ: ২৭-২৮ – প্রকাশনী: দারুল ফিকর – দামেস্ক - ১৪০৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وإذا نظرنا فى كلمة (سورة) التى كان منتهى التحدِّي عندها ألفينا أنَّ دلالتها فى لسان العربية راجعٌ إلى التصاعد والمرتبة وسورالمدينة والسّؤْر.

فهل تكون الدلالة اللغوية لكلمة (سورة) هي المرادة في مقام التحدي في قوله سبحانه وتعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (البقرة:23)

وقوله جل جلاله: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (يونس:38)

يذهب البقاعي إلى أنَّ معنى (السورة) في مقام التحدِّي هو المعنى اللغوي: أي قطعة من القرآن الكريم آية فما فوقها، فالإعجاز والتحدّي معًا واقعان بالآية الواحدة، والجمهور على أنَّ المراد في مقام التحدي هو المعنى الاصطلاحي: «قطعة من القرآن معينة بمبدأ ونهاية لا يَتَغَيَّرانِ مُسَمَّاةٌ باسْمٍ مخصوص تشتمل على ثلاث آيات فأكثر فى غرض تامٍّ ترتكز عليه معانى آيات تلك السورة ناشئ عن أسباب النزول أو عن مقتضيات ما تشمل عليه من المعانى المتناسبة (1)

والتسمية باسم (السورة) فيه دلالة على أنَّ بين عناصر هذا المجموع من الآيات ترابطًا بينها سواء كان الجذر الاشتقاقي للتسمية " سور المدينة أو المرتبة والتسور أو السور أو التصاعد "، ففى كلِّ هذا شىء من ذلك المعنى.

وكثير من أهل العلم يلمح ما بين هذه التسمية وسورالمدينة من تشابه يقول العلامة: أبو الحسن الحَرَالّيّ (ت / 637 هـ)

"السورة تمام جملة من المسموع محيط بمعنى تام بمنزلة إحاطة السور بالمدينة"

--------------------------------------------

(1) التحرير والتنوير للطاهر بن عاشور:1/84
আমরা যখন ‘সূরা’ (سورة) শব্দটির দিকে তাকাই, যা ছিল চ্যালেঞ্জের (التحدي) চূড়ান্ত সীমা, তখন আমরা দেখতে পাই যে আরবি ভাষায় এর অর্থ উচ্চতা (التصاعد), মর্যাদা (المرتبة), শহরের প্রাচীর (سور المدينة) এবং অবশিষ্টাংশ (السؤر) থেকে গৃহীত হয়েছে।

তবে কি মহান আল্লাহর এই বাণীতে ‘সূরা’ (سورة) শব্দের আভিধানিক (اللغوي) অর্থটিই চ্যালেঞ্জের (التحدي) ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট? যেখানে সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর যদি তোমরা এ বিষয়ে সন্দেহে থাক যা আমি আমার বান্দার প্রতি নাযিল করেছি, তবে তোমরা এর মত একটি সূরা নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীগণকে ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (আল-বাকারা: ২৩)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি জাল করেছে? বল, তবে তোমরা এর মত একটি সূরা নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (ইউনুস: ৩৮)

আল-বিকায়ি মনে করেন যে, চ্যালেঞ্জের (التحدي) ক্ষেত্রে ‘সূরা’ (سورة)-এর অর্থ হলো এর আভিধানিক (اللغوي) অর্থ: অর্থাৎ কুরআনুল কারিমের একটি অংশ, যা একটি আয়াত (آية) বা তার বেশি। ফলে মুজিজা (الإعجاز) এবং চ্যালেঞ্জ (التحدي) উভয়ই একটি আয়াতের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়। তবে জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে চ্যালেঞ্জের (التحدي) ক্ষেত্রে এর পারিভাষিক (الاصطلاحي) অর্থই উদ্দিষ্ট: «কুরআনের এমন এক নির্দিষ্ট অংশ যার শুরু ও শেষ অপরিবর্তনীয়, যা একটি বিশেষ নামে নামাঙ্কিত, যা তিন বা ততোধিক আয়াত (آيات) নিয়ে গঠিত এবং যা একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্যকে ধারণ করে যার ওপর ওই সূরার আয়াতগুলোর অর্থ আবর্তিত হয়। এই উদ্দেশ্যটি শানে নুযূল (أسباب النزول) অথবা এর অন্তর্ভুক্ত অর্থগুলোর সামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।» (১)

‘সূরা’ (سورة) হিসেবে নামকরণের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, আয়াতের এই সমষ্টির উপাদানগুলোর মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে; চাই এই নামকরণের ব্যুৎপত্তিগত মূল (الجذر الاشتقاقي) ‘শহরের প্রাচীর’ (سور المدينة), ‘মর্যাদা’ (المرتبة), ‘আরোহণ’ (التسور), ‘অবশিষ্টাংশ’ (السؤر) বা ‘উচ্চতা’ (التصاعد) যা-ই হোক না কেন। এর প্রত্যেকটির মধ্যেই সেই অর্থের কোনো না কোনো দিক বিদ্যমান।

অনেক আলিম এই নামকরণ এবং শহরের প্রাচীরের (سور المدينة) মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ্য করেন। আল্লামা আবু হাসান আল-হারাল্লি (মৃত্যু: ৬৩৭ হিজরি) বলেন:

“সূরা (سورة) হলো শ্রুত বাণীর এমন এক পূর্ণাঙ্গ সমষ্টি যা একটি পূর্ণ অর্থকে পরিবেষ্টন করে থাকে, যেমন প্রাচীর একটি শহরকে পরিবেষ্টন করে রাখে।”

--------------------------------------------

(১) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, তাহির বিন আশুর: ১/৮৪
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومعنى ذلك أنَّه " نُزّلت الآيات والجمل التى هى من أجزاء السورة منزلة المحلات والبيوت فى البلد، ولولا هذا التنزيل لم يصح هذا التشبيه"

وقد يأتى البيان القرآنيّ مطلقا كلمة (سورة) على جملة من الآيات مثلما جاء إطلاق كلمة (قرآن) على بعضه، يقول الله عز وجل:

{وَإِذَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ أَنْ آمِنُوا بِاللَّهِ وَجَاهِدُوا مَعَ رَسُولِهِ اسْتَأْذَنَكَ أُولُوا الطَّوْلِ مِنْهُمْ وَقَالُوا ذَرْنَا نَكُنْ مَعَ الْقَاعِدِينَ) (التوبة:86)

{فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ) (النحل:98)

فدلَّ على أنَّ التَّحدَّي غيرُ مقصورٍ على السُّورة بمعناها الاصطلاحى بل يكون التحدى بما كان فيه من الآيات بعض خصائصها من تمام المعنى ومن الاختصاص بمعنى كليّ وغرض تام، كما تراه فى آية الكرسيّ مثلا، فإنَّ مثل هذا القدر من القرآن الكريم فيه من الإعجاز ما يقع به التحدي.

وغير خفى أنَّ الذي يهمنا هنا ليس أمر التّحدذي ن بل يهمنا أمْرُ الإعجاز البيانِيّ للقرآن الكريم،وهولا شكَّ متحققٌ بآية تامذة المعنى ن فما فوقها.

وإذا ما تحقق الإعجاز الذى هو البرهان القاطع على صحة النبوة بسورة أو ما دونها من الآيات ذوات الغرض الخاص والمعنى التام، فإنَّ الإعجاز مراتب بعضها فوق بعض من حيث مقتضياته الكامنة والشَّاخصة فى بيانه ونظمه، فإنَّ خصائص البيان والنظم المعجزة فى آيات معدودات من سورة ما ليست على قدرها فى السورة كلّها، وليست على قدرها فى القرآن الكريم كله

إنَّ الإعجاز ليس خاصا بالسورة بمعناها الاصطلاحى، ولكنَّها ذات خصائص بيانية نظمِيَّة لا تكون فيما دون السورة بمعناها الاصطلاحى

لو أنَّنا استقصينا آيات موضوع ما فى القرآن الكريم وبلغت عشرات الآيات كآيات التوحيد مثلا، فإن هذا القدر من آيات التوحيد، وإن كان معجزا يقع به البرهان القاطع على صحة النبوة، فالإعجاز فى هذا القدر من آيات التوحيد لا يكون على قدر الإعجاز فى أقصر سورة من سور القرآن الكريم لِمَا اشتملت عليه السورة من خصائص بيانية ونظمية لن تحقق فى مجموع آيات التوحيد فى القرآن الكريم كلّه.

لهذا فإنى أزعم أن التَّدبّر البيانى والبحث عن المعنى القرآنى فى سياق السورة هو أكرم وأوفر أنماط البحث عنه عطاء.

وهذا لايعني أنَّ تدبر المعنى القرآني الواحد في مواقع عديدة في السياق القرآنيَّ ليس عليًّا بل لكل منهاجٍ عطاءه ومقْتَضِياته وزاده ووسائله. ولكنِّي هنا بصدد النظر في مراحل تدبر المعنى القرآنيِّ في سياق بناء السورة القرآنية.
এর অর্থ এই যে, "একটি সূরার অংশবিশেষ আয়াত ও বাক্যগুলোকে একটি নগরের পাড়া-মহল্লা ও গৃহের মর্যাদায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে; আর এই মর্যাদা প্রদান না করা হলে এই উপমাটি সঠিক হতো না।"

কুরআনি বর্ণনায় 'সূরা' শব্দটি কখনো একদল আয়াতের ওপর সাধারণভাবে (مطلق) প্রয়োগ করা হয়, যেমনটি 'কুরআন' শব্দটি এর অংশবিশেষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:

{আর যখন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয় যে, তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনো এবং তাঁর রাসূলের সাথে জিহাদ করো, তখন তাদের মধ্যকার সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে এবং বলে, 'আমাদেরকে ছেড়ে দিন, আমরা বসে থাকা লোকদের সাথেই থাকি'।} (আত-তাওবা: ৮৬)

{অতঃপর যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।} (আন-নাহল: ৯৮)

এটি এ কথাই প্রমাণ করে যে, চ্যালেঞ্জ কেবল তার পারিভাষিক অর্থের সূরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেই আয়াতগুলোর মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ হতে পারে যেগুলোতে সূরার কিছু বৈশিষ্ট্য, যেমন—অর্থের পূর্ণতা এবং কোনো বিশেষ সামগ্রিক উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে; যেমনটি আপনি আয়াতুল কুরসীর ক্ষেত্রে দেখতে পান। কারণ পবিত্র কুরআনের এই পরিমাণ অংশের মধ্যেই এমন অলৌকিকতা বিদ্যমান যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান সম্ভব।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, এখানে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেবল 'চ্যালেঞ্জ' নয়, বরং আমাদের নিকট প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো পবিত্র কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব। আর নিঃসন্দেহে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক আয়াত বা তার অধিক আয়াতের মাধ্যমে সুনিশ্চিত হয়।

আর নবুওয়াতের সত্যতা (صحة)-র ওপর অকাট্য দলিল হিসেবে যখন কোনো একটি সূরা বা তার চেয়ে কম কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ও পূর্ণাঙ্গ অর্থসম্পন্ন আয়াতের মাধ্যমে অলৌকিকতা প্রমাণিত হয়, তখন সেই অলৌকিকতার বিভিন্ন স্তর থাকে—যা তার বর্ণনার বিন্যাস ও কাঠামোর অন্তর্নিহিত এবং বাহ্যিক আবশ্যকতা অনুযায়ী একে অপরের চেয়ে উচ্চতর হয়। কোনো সূরার গুটিকয়েক আয়াতের অলৌকিক বর্ণনা ও বিন্যাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ সমগ্র সূরার সমতুল্য নয়, আর তা সমগ্র কুরআনের সমপর্যায়েরও নয়।

প্রকৃতপক্ষে অলৌকিকতা কেবল পারিভাষিক অর্থের সূরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তবে সূরার এমন কিছু বর্ণনাগত ও বিন্যাসগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা পারিভাষিক অর্থের সূরার চেয়ে কম আয়াতের সমষ্টিতে পাওয়া সম্ভব নয়।

যদি আমরা পবিত্র কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করি এবং তা যদি কয়েক ডজন আয়াতে পৌঁছায়—যেমন তাওহীদ সংক্রান্ত আয়াতসমূহ—তবে তাওহীদের এই আয়াতগুলোর সমষ্টি যদিও অলৌকিক এবং নবুওয়াতের সত্যতা (صحة)-র অকাট্য দলিল, তবুও এই আয়াতগুলোর অলৌকিকতা কুরআনের ক্ষুদ্রতম সূরার অলৌকিকত্বের সমপর্যায়ের হবে না। কারণ একটি সূরা এমন সব বর্ণনাগত ও বিন্যাসগত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে যা পবিত্র কুরআনের সমস্ত তাওহীদ বিষয়ক আয়াতের সমষ্টির মাধ্যমেও অর্জিত হবে না।

এই কারণেই আমি দাবি করি যে, সূরার প্রেক্ষাপটে আলঙ্কারিক তাৎপর্যের গভীর চিন্তা-গবেষণা এবং কুরআনি মর্মার্থ অনুসন্ধান করা হলো জ্ঞান অন্বেষণের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও প্রাচুর্যময় পদ্ধতি।

এর অর্থ এই নয় যে, কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা উচ্চমার্গের নয়; বরং প্রতিটি পদ্ধতিরই নিজস্ব অবদান, আবশ্যকতা, পাথেয় এবং উপকরণ রয়েছে। তবে আমি এখানে কুরআনি সূরার কাঠামোগত প্রেক্ষাপটে কুরআনি অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণার পর্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الأول: فقه موقع السورة على مدرجة السياق القرآنى

***

للقرآن ثلاثة تنزلات:

التنزيل الأول: من الله سبحانه وتعالى إلى اللوح المحفوظ {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ * فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} (البروج:21-22)

{بسم الله الرحمن الرحيم* حم * وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ * إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ * وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ} (الزخرف:1-4) (1)

--------------------------------------------

(1) - يقول ابن جرير في تأويل هذه الآية: يقول تعالى ذكره: وإنَّ هذا الكتاب أصل الكتاب الذي منه نسخ هذا الكتاب [أي القرآن الكريم] عندنا لعلِيّ، يقول لذو عُلوٍ ورفعة، حكيم: قد أحكمت آيته ثُم فصلت، فهو ذو حكمة.

وبنحو الذي قلنا في ذلك قال أهل التأويل: …

 

… عن عطية بن سعد في قول الله تبارك وتعالى {وإِنّه فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنا لَعليٌّ حَكِيمٌ} يعني القرآن في أم الكتاب الذي عند الله، منْهُ نُسِخَ. (جامع البيان في تأويل القرآن ج11ص178-179، ط: دار الغد العربي - القاهرة
প্রথম অধ্যায়: কুরআনিক প্রসঙ্গের পর্যায়ক্রমে সূরার অবস্থানের প্রজ্ঞা (فقه)

***

কুরআনের তিনটি অবতরণ (تنزلات) রয়েছে:

প্রথম অবতরণ (التنزيل): আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে লাওহে মাহফুজে {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) লিপিবদ্ধ।} (বুরুজ: ২১-২২)

{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে আরবি কুরআন করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। আর নিশ্চয়ই এটি আমার নিকট ‘উম্মুল কিতাব’-এ উচ্চমর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাময় রূপে সংরক্ষিত।} (যুখরুফ: ১-৪) (১)

--------------------------------------------

(১) - ইবনে জারির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় (تأويل) বলেন: মহান আল্লাহ বলছেন: নিশ্চয়ই এই কিতাবটি হলো সেই মূল কিতাব (أصل الكتاب) যা থেকে এই কিতাব [অর্থাৎ পবিত্র কুরআন] প্রতিলিপি (نسخ) করা হয়েছে; এটি আমাদের নিকট উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন; তিনি বলেন, এটি সুউচ্চ ও সুমহান; প্রজ্ঞাময় (হাকিম): যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে এরপর তা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, সুতরাং এটি প্রজ্ঞাময়।

আর আমরা যা বলেছি তার অনুরূপ কথা ব্যাখ্যাকারগণও (أهل التأويل) বলেছেন: …

 

… আতিয়্যাহ বিন সাদ থেকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই বাণী {আর নিশ্চয়ই এটি আমার নিকট ‘উম্মুল কিতাব’-এ উচ্চমর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাময় রূপে সংরক্ষিত} সম্পর্কে বর্ণিত, অর্থাৎ কুরআন উম্মুল কিতাবে রয়েছে যা আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত, যেখান থেকে এটি প্রতিলিপি (نسخ) করা হয়েছে। (জামেউল বয়ান ফি তাউইলিল কুরআন, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯, প্রকাশনী: দারুল গাদ আল-আরাবি - কায়রো)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد نزل القرآنُ الكريمُ جملة فى اللوح المحفوظ، وذلك اللَّوح هو الذى أودع الله عز وجل كلَّ شىء فيه: {وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} (القمر:53)

{وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} (الأنعام:38)

التنزيل الثانى: من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة فى السماء الدنيا جملة واحدة فى ليلة القدر {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} (القدر:1)

{شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (البقرة:185)

{إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ) (الدخان:3)

وروى الحاكم بسنده فى المستدرك عن ابن عباس رضي الله عنه أنه قال:

«فُصِلَ القرآنُ مِن الذِّكْرِ فوضِعَ فى بيت العِزَّةِ من السَّماء الدُّنيا، فجَعَلَ جبريلُ ينزل به على النبى صلى الله عليه وسلم يُرتِّلة ترتيلا» (المستدرك: التفسير – أنزل القرآن جملة واحدة – حديث رقم: 2881/10)

وروى الحاكم فى المستدرك والبيهقى فى الأسماء والصفات، والطبرانى فى (الكبير) عن ابن عباس رضي الله عنهما فى قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ) (القدر:1)
পবিত্র কুরআন লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলক) পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। আর সেই ফলকটি হলো সেটিই, যাতে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা প্রতিটি বস্তু গচ্ছিত রেখেছেন: "আর প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ই লিপিবদ্ধ।" (আল-কামার: ৫৩)

"আর ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো এক একটি উম্মত নয়। আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি; তারপর তাদেরকে তাদের রবের নিকট সমবেত করা হবে।" (আল-আনআম: ৩৮)

দ্বিতীয় অবতরণ: লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জাহ-তে লাইলাতুল কদরে একযোগে অবতীর্ণ হওয়া: "নিশ্চয়ই আমরা এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।" (আল-কদর: ১)

"রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এর সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না। আর যাতে তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে পথপ্রদর্শন করেছেন সেজন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" (আল-বাকারা: ১৮৫)

"নিশ্চয়ই আমরা এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমরা সতর্ককারী ছিলাম।" (আদ-দুখান: ৩)

আর ইমাম আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে তাঁর সনদ (سند) সহকারে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

“কুরআনকে যিকির (লাওহে মাহফুজ) থেকে পৃথক করে দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জাহ-তে রাখা হয়েছে। অতঃপর জিবরাঈল তা নিয়ে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট ধীরলয়ে অবতীর্ণ হতে থাকেন।” (আল-মুস্তাদরাক: আত-তাফসির – কুরআন একযোগে অবতীর্ণ হওয়া – হাদিস নম্বর: ২৮৮১/১০)

আর আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে, আল-বায়হাকী আল-আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে এবং আত-তাবারানী আল-মুজামুল কাবীর গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমরা এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।" (আল-কদর: ১)
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: «أُنْزِلَ القرآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً فِي لَيْلَةِ القَدْرِ إلَى السَّماءِ الدُّنيَا وَكانَ بِمَواقِعِ النُّجُومِ، وكانَ ينزل على رسُولِه صلى الله عليه وسلم بعضَه فى أثَرِ بعض … » (المستدرك الكتاب السابق – حديث:2878/7)

وفي تفسير "ابن جرير سورة (القَدْرِ) فيضٌ من الأحاديث الموقوفة المؤكدة ذلك المعنى.

وإذا ما كان هذا موقوفا على سيدنا " ابن عباس" رضي الله عنهما فإنَّ ما هو موقوف على الصحابى فيما لا مجال فيه للرأى كالمرفوع؛لأنَّه لن يقول صحابى فى هذا من عند نفسه بل لابد أن يكون قد سمعه من النبيّ صلى الله عليه وسلم (1) .

التنزيل الثالث: من بيت العزة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى ثلاث وعشرين سنة بدأت بليلة القدر: {وَقُرْآناً فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلاً} (الاسراء:106)

{وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنْ الْمُنذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} (الشعراء:192-195)

{وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلاً * وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إلَاّ جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً) (الفرقان:32- 33)

فالتنزيل الثالث كان منجَّما على حسب الأحداث والوقائع وفى هذا ضرب من ضروب التربية للأمَّة ومعالجة لأحوالها.

فكان للقرآن الكريم سياقٌ تنزيلِىّ تاريخى اقترنت فيه الآيات نزولا بملابسات ووقائع فى السياق الاجتماعى للأمَّة زمن البعثة.

--------------------------------------------

(1) - ينظر: الزرقاني: مناهل العرفان في علوم القرآن ج1 ص43-47- ط: عيسى الحلبي
তিনি বলেন: «কুরআন কদরের রাতে একবারে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তা নক্ষত্ররাজির অবস্থানের মতো (পর্যায়ক্রমে) ছিল, আর তা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর একের পর এক অবতীর্ণ হতো … » (আল-মুস্তাদরাক পূর্বোক্ত কিতাব – হাদিস: ২৮৭৮/৭)

আর ইবনে জারীরের তাফসিরে 'সুরা কদর'-এ এই অর্থকে নিশ্চিতকারী প্রচুর পরিমাণে মওকুফ (موقوف) হাদিসসমূহ রয়েছে।

আর যেহেতু এটি আমাদের সাইয়্যেদ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত, সেহেতু সাহাবীর থেকে এমন বিষয়ে বর্ণিত মওকুফ (موقوف) বর্ণনা যাতে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো অবকাশ নেই, তা মারফু (مرفوع) হাদিসের সমতুল্য; কারণ একজন সাহাবী এ বিষয়ে নিজ থেকে কিছু বলবেন না, বরং অবশ্যই তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন (১)।

তৃতীয় অবতরণ: বাইতুল ইজ্জত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তেইশ বছর সময়কালে যা কদরের রাতে শুরু হয়েছিল: {আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি} (আল-ইসরা: ১০৬)

{নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} (আশ-শুয়ারা: ১৯২-১৯৫)

{আর কাফিররা বলে, কেন তাঁর ওপর পুরো কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলো না? এভাবেই আমি তা অবতীর্ণ করেছি আপনার হৃদয়কে এর দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি তা সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করেছি। তারা আপনার কাছে কোনো উদাহরণ নিয়ে এলে আমি আপনাকে তার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি} (আল-ফুরকান: ৩২-৩৩)

সুতরাং তৃতীয় অবতরণটি ছিল ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিস্তিতে বা পর্যায়ক্রমে, আর এর মধ্যে উম্মতের জন্য এক প্রকার শিক্ষা ও তাদের অবস্থার প্রতিকার নিহিত ছিল।

ফলে কুরআন মাজিদের একটি ঐতিহাসিক অবতরণ-প্রেক্ষাপট ছিল, যাতে আয়াতসমূহ অবতরণের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের যুগে উম্মতের সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল।

--------------------------------------------

(1) - দ্রষ্টব্য: আয-যারকানি: মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩-৪৭ - প্রকাশনা: ঈসা আল-হালাবি
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وإذ ما نظرنا ألفَيْنا النُّزول الأوَّل والثانى كان نزولا جَمْعِيًّا للقرآن الكريم، وكان النزولُ الثَّالثُ نزولاً مُفرَّقا: قد تنزلُ آياتٌ من سورة، فتَتْلوها آياتٌ من سورة أخرى قبل تمام السورة الأولى: ظلت سورة البقرة تتوالى آياتها نزولا سنوات عِدَّة، وكان فى أثناء نزول آياتها تنزل آيات سور آخرى، وكان جبريل عليه السلام ينزل بالآية وموضعها من سورتها على النبيّ صلى الله عليه وسلم فيأمر النبيّ صلى الله عليه وسلم كتاب الوحى بأن توضع آية كذا فى سورة كذا مُحَدِّدًا موضعها حتَّى إذا ما تم القرآن الكريم نزولاً كانت كلُّ آيةٍ فى كل سورة فى موضعها المحكم، وكذلك كل سورة فى موضعها من النسق الكُلِىِّ للقرآن الكريم على النحو الذى هو عليه فى اللوح المحفوظ وفى بيت العزة من السماء الدُّنْيَا (التنزيل الأوَّل والثانى)

ولذا كانت العرضتان الأخيرتان للقرآن الكريم فى شهر رمضان الأخير من حياة النبيّ صلى الله عليه وسلم مطابقتين فى ترتيب الآيات والسور لما هو عليه فى اللوح المحفوظ فى بيت العزة، وبذلك تطابقت صورة الترتيب الكليّ للقرآن الكريم فى أطورها التنزيليّة الثلاثة، فما بين أيدينا من صورته الترتيبيَّة آياته وسورة هو ما عليه القرآن الكريم فى اللوح المحفوظ وفى بيت العزة (1)

ولعل هذا بعض من معنى قول الله سبحانه وتعالى:

{الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ) (هود:1)

لهذا كان للمعنى القرآنيّ سياقٌ كُلّيٌّ تقع كُلُّ سورةٍ من سُوَرِهِ على مَدْرَجَةٍ من مدارج هذا السياق القرآنى يبدأ هذا السياق بأم الكتاب التى تجمع معانى القرآن الكريم كلِّه فيها فكانت جديرةً بأن تكون أمَّ القرآن وبذلك جاءت السُّنة مؤكدة أنها (أم القرآن) وأنها السبع المثانى والقرآن العظيم.

--------------------------------------------

(1) - ينظر: مقدمتان في علوم القرآن: ص 39،وما بعدها
আমরা যদি লক্ষ্য করি তবে দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআনের প্রথম ও দ্বিতীয় অবতরণ (نزول) ছিল সমষ্টিগত (جمعيًا), এবং তৃতীয় অবতরণ (نزول) ছিল পৃথক পৃথক বা খণ্ডকালীন (مفرَّقًا): কোনো সূরার কিছু আয়াত অবতীর্ণ হতো, আবার প্রথম সূরাটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই অন্য সূরার কিছু আয়াত অবতীর্ণ হতো। সূরা আল-বাকারার আয়াতসমূহ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হতে থাকে এবং এর আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার মাঝেই অন্যান্য সূরার আয়াতসমূহও অবতীর্ণ হতো। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আয়াত এবং সংশ্লিষ্ট সূরায় তার অবস্থান নির্দিষ্ট করে দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অবতরণ (نزول) করতেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী লেখকদের নির্দেশ দিতেন যেন অমুক আয়াতটি অমুক সূরায় স্থাপন করা হয় এবং তিনি তার সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দিতেন। এভাবে যখন পবিত্র কুরআনের অবতরণ (نزول) সমাপ্ত হলো, তখন প্রতিটি সূরার প্রতিটি আয়াত তার সুসংবদ্ধ বা সুনির্ধারিত (محكم) স্থানে বিন্যস্ত হলো। একইভাবে প্রতিটি সূরা কুরআনের সামগ্রিক বিন্যাসে তার নির্দিষ্ট স্থানে বিন্যস্ত হলো, ঠিক যেভাবে তা লাওহে মাহফুজে এবং দুনিয়ার আসমানে অবস্থিত বায়তুল ইজ্জাহ-তে (প্রথম ও দ্বিতীয় অবতরণ) সংরক্ষিত ছিল।

এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের শেষ রমজান মাসে কুরআনের যে শেষ দু’টি পাঠ বা উপস্থাপনা (العرضتان) সম্পন্ন হয়েছিল, তা আয়াত ও সূরার বিন্যাসের দিক থেকে লাওহে মাহফুজ ও বায়তুল ইজ্জাহ-তে সংরক্ষিত বিন্যাসের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের সামগ্রিক বিন্যাসের রূপটি এর তিনটি অবতরণ (نزول) স্তরেই অভিন্ন রূপ লাভ করল। সুতরাং বর্তমানে আমাদের হাতে আয়াত ও সূরার বিন্যাসের যে রূপটি রয়েছে, সেটিই লাওহে মাহফুজ ও বায়তুল ইজ্জাহ-তে সংরক্ষিত কুরআনের বিন্যাস। (১)

সম্ভবত এটিই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীর কিছু অর্থ প্রকাশ করে:

{আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুসংবদ্ধ (أحكمت), অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিশদভাবে বিবৃত (فصلت)} (হূদ: ১)

এ কারণে কুরআনিক অর্থের একটি সামগ্রিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, যেখানে প্রতিটি সূরা এই কুরআনিক প্রেক্ষাপটের এক একটি সোপানে বিন্যস্ত। এই প্রেক্ষাপট শুরু হয় উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) দিয়ে, যা পবিত্র কুরআনের সমস্ত অর্থকে নিজের মধ্যে ধারণ করে; ফলে এটি ‘উম্মুল কুরআন’ হওয়ার যোগ্য। এভাবেই সুন্নাহর মাধ্যমে বিষয়টি সমর্থিত হয়েছে যে, এটি ‘উম্মুল কুরআন’ এবং এটিই ‘আস-সাবউল মাসানি’ (সাতটি বারবার পঠিত আয়াত) ও মহা কুরআন।

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: মুকাদ্দিমাতান ফি উলূমিল কুরআন: পৃষ্ঠা ৩৯ এবং পরবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল আযফু আলা আনওয়ারিয যিকর (পৃষ্ঠা: ২৯)
روى البخاري رضي الله عنه في كتاب (فضائل القرآن) من صحيحه بسنده عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ رضي الله عنه قَالَ كُنَّا فِى مَسِيرٍ لَنَا، فَنَزَلْنَا، فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ، فَقَالَتْ: إِنَّ سَيِّدَ الْحَىِّ سَلِيمٌ، وَإِنَّ نَفَرَنَا غُيَّبٌ، فَهَلْ مِنْكُمْ رَاقٍ؟ فَقَامَ مَعَهَا رَجُلٌ مَا كُنَّا نَأْبُنُهُ بِرُقْيَةٍ، فَرَقَاهُ، فَبَرَأَ، فَأَمَرَ لَهُ بِثَلَاثِينَ شَاةً، وَسَقَانَا لَبَناً، فَلَمَّا رَجَعَ قُلْنَا لَهُ: أَكُنْتَ تُحْسِنُ رُقْيَةً أَوْ كُنْتَ تَرْقِى؟ قَالَ: لَا، مَا رَقَيْتُ إِلَاّ بِأُمِّ الْكِتَابِ. قُلْنَا:لَا تُحْدِثُوا شَيْئاً حَتَّى نَأْتِىَ - أَوْ نَسْأَلَ - النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ ذَكَرْنَاهُ لِلنَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «وَمَا كَانَ يُدْرِيهِ أَنَّهَا رُقْيَةٌ؟!! اقْسِمُوا، وَاضْرِبُوا لِى بِسَهْمٍ» (حديث:5007)
ইমাম বুখারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সহিহ বুখারি-র ‘ফাযায়েলুল কুরআন’ অধ্যায়ে তাঁর নিজস্ব সনদ (سند) সহ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা এক সফরে ছিলাম, অতঃপর আমরা এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলাম। তখন এক দাসী এসে বলল, ‘গোত্রের সর্দার অসুস্থ (দংশিত), আর আমাদের পুরুষরা বর্তমানে অনুপস্থিত; আপনাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী আছেন?’ তখন তাঁর সাথে এমন একজন লোক উঠে দাঁড়ালেন যার ঝাড়ফুঁক করার দক্ষতা সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি তাঁকে ঝাড়ফুঁক করলেন এবং তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। ফলে সর্দার তাঁকে ত্রিশটি বকরি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং আমাদের দুধ পান করালেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কি আগে থেকেই ঝাড়ফুঁক জানতেন নাকি কেবল আজই করলেন?’ তিনি বললেন, ‘না, আমি কেবল উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) দিয়েই ঝাড়ফুঁক করেছি।’ আমরা বললাম, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছানোর আগে—অথবা তাঁকে জিজ্ঞেস করার আগে—তোমরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলো না।’ অতঃপর যখন আমরা মদিনায় পৌঁছলাম, তখন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: ‘তিনি কীভাবে জানলেন যে এটি একটি ঝাড়ফুঁক?!! তোমরা (বকরিগুলো) বণ্টন করো এবং আমার জন্যও একটি অংশ রেখো।’ (হাদিস: ৫০০৭)