Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: -)
التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة   (جمال الدين المطري)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة

المؤلف: جمال الدين محمد بن أحمد المطري

دراسة وتحقيق: أ د سليمان الرحيلي

الناشر: دارة الملك عبد العزيز، الرياض - السعودية

عام النشر: 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 209

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1443

দারুল হিজরত (মদীনা)-এর বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনাবলীর পরিচিতি   (জামালুদ্দীন আল-মাতারি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: আত্ব-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মাআলিমি দারিল হিজরাহ

লেখক: জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মাতারি

গবেষণা ও সম্পাদনা: প্রফেসর ড. সুলাইমান আল-রুহাইলি

প্রকাশক: কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন (দারা), রিয়াদ - সৌদি আরব

প্রকাশকাল: ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن من أهداف دارة الملك عبد العزيز التي أنشئت من أجلها تحقيق الكتب التي تخدم تاريخ الجزيرة العربية وجغرافيتها وآثارها الفكرية والعمرانية، وترجمتها ونشرها، وكذلك تاريخ وآثار الجزيرة والبلاد العربية والإسلامية بشكل عام.

وقد سعت الدارة بخطوات متعددة من أجل تحقيق هذا الهدف الكبير، وأخرجت في هذا المضمار عددًا من الكتب التي سدت بها فراغًا في المكتبة العربية، وأسهمت في خدمة الباحثين والدارسين بما وضعت بين أيديهم من كتب ودراسات متنوعة.

وإيمانًا من الدارة بأهمية الكتب التاريخية المخطوطة لكونها من المصادر التي يكثر البحث عنها وتزداد الرغبة في تداولها، ويحول بين الباحثين وبينها مكوثها حبيسة في أرفف المكتبات، فقد قامت بإصدار سلسلة تختص بنشر مصادر تاريخ الجزيرة العربية المخطوطة.

ويأتي كتاب «التعريف بما أَنْسَت الهجرة من معالم دار الهجرة» لجمال الدين المطري أحد الكتب التي تنشر ضمن هذه السلسلة، وذلك لأسباب كثيرة، أبرزها ارتباطه بتاريخ المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة
প্রস্তাবনা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠতম রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য—যার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—হলো আরব উপদ্বীপের ইতিহাস, ভূগোল এবং এর বৌদ্ধিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শনসমূহের সেবায় নিয়োজিত গ্রন্থগুলোর সম্পাদনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা করা। পাশাপাশি সাধারণভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপ এবং আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সেবা করাও এর উদ্দেশ্য।

এই মহান লক্ষ্য অর্জনে ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এই ক্ষেত্রে এমন বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেছে যা আরবি লাইব্রেরির শূন্যতা পূরণ করেছে। এটি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন গ্রন্থ ও গবেষণা তুলে দিয়ে তাদের জ্ঞানচর্চায় অবদান রেখেছে।

ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপিসমূহের গুরুত্বের প্রতি ফাউন্ডেশনের সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে; কারণ এগুলো এমন এক আকর উৎস যা নিয়ে অধিকতর গবেষণা হয় এবং সেগুলোর প্রচার-প্রসারের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। তবে লাইব্রেরির তাকে অবরুদ্ধ থাকায় গবেষকদের পক্ষে এগুলো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একারণেই ফাউন্ডেশন আরব উপদ্বীপের ইতিহাসের পাণ্ডুলিপি উৎসসমূহ প্রকাশের জন্য একটি বিশেষ ধারাবাহিক চালু করেছে।

জামালুদ্দিন আল-মাতারী রচিত «হিজরতের বাসভূমির (মদিনার) নিদর্শনসমূহের মধ্যে যা বিস্মৃত হয়েছে তার পরিচিতি» গ্রন্থটি এই সিরিজের অন্তর্ভুক্ত একটি বই। এটি প্রকাশের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানতম হলো মদিনা মুনাওয়ারার ইতিহাসের সাথে এর নিবিড় সম্পৃক্ততা—তার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম সালাত...
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والسلام، وعنايته بوصف معالمها البارزة، وتحديد مواقعها، وإشارته إلى زوال بعضها وبقاء بعضها الآخر.

وعلى الرغم من كثرة الكتب التي صنفت عن المدينة المنورة إلا أن هذا الكتاب تزداد قيمته بمعاصرة مؤلفه لعدد من الحوادث المسجلة فيه، ووقوفه على بعض المعالم، ولاعتماد عدد من المؤلفين التالين له عليه.

وقد سبق طبع الكتاب سنة 1373 هـ، ثم أعيد طبعه عام 1402 هـ. وحيث توفرت أربع نسخ أخرى للكتاب المخطوط، ونظرًا لما بذله المحقق من جهد في تحقيقه وتدقيق أسمائه، وتوضيح معالمه، وتخريج أحاديثه، والعناية به بصورة عامة، فقد رأت الدارة نشر هذا التحقيق.

نسأل الله أن ينفع به من يطلع عليه، وأن يحقق الأهداف المرجوة من وراءِ نشره والعناية بتحقيقه.

والله الموفق.

دارة الملك عبد العزيز
এবং সালাম। আর এর প্রধান নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা, সেগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা এবং কিছু নিদর্শনের বিলুপ্তি ও অন্যগুলোর টিকে থাকার প্রতি তাঁর ইঙ্গিত প্রদান করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ যত্ন।

মদীনা মুনাওয়ারা সম্পর্কে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হওয়া সত্ত্বেও, এই বইটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ এর লেখক এতে লিপিবদ্ধ বেশ কিছু ঘটনার সমসাময়িক ছিলেন, তিনি নিজে কিছু নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালের অনেক লেখক তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন।

ইতিপূর্বে বইটি ১৩৭৩ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছিল, অতঃপর ১৪০২ হিজরীতে এটি পুনর্মুদ্রিত হয়। যেহেতু এই পাণ্ডুলিপি গ্রন্থের আরও চারটি অনুলিপি পাওয়া গেছে এবং গবেষক এর সম্পাদনা, নামসমূহ যাচাইকরণ, নিদর্শনসমূহ স্পষ্টকরণ, হাদীসসমূহের তাখরীজ এবং সামগ্রিকভাবে এর প্রতি যে যত্ন ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন তা বিবেচনা করে 'আদ-দারা' এই তাহকীকটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর পাঠকদের এটি দ্বারা উপকৃত করেন এবং এর প্রকাশনা ও সম্পাদনার পেছনে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যসমূহ সফল করেন।

আল্লাহই তাওফীকদাতা।

কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন (দারাতেল মালিক আব্দুল আজিজ)
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمة

الحمد لله العلي القدير ذي الفضل والمهابة، والصلاة والسلام على ساكن طابة، وعلى آله وأصحابه، أما بعد:

فقد عني العلماء بتاريخ المدينة قديمًا وحديثًا، وسجلوا أحداثها، ودونوا أخبارها، وعنوا بتراجم أعلامها، ووصفوا معالمها، وسجلوا آثارها، حتى غدت المكتبة المدنية التاريخية من أغنى مكتبات تواريخ المدن وأثراها، وما زالت المؤلفات تترى حولها، فهذا كتاب يتناول تاريخ مسجدها، وآخر يتتبع معالمها، وثالث يدرس عقيقها، ورابع يرصد المؤلفات حولها … وهكذا.

وما من قرن إلا وحظيت فيه المدينة بمؤلف أو أكثر، ففي القرنين السابع والثامن الهجريين مثلًا ظهرت كتب عدة في تاريخ المدينة مثل: كتاب التعريف بما أَنْست الهجرة من معالم دار الهجرة لجمال الدين المطري.

وتعود صلتي بهذا الكتاب إلى أكثر من عشر سنوات عندما اعتمدت عليه في بعض أبحاثي المتعلقة بالمدينة، وأدركت منذ ذلك الوقت أن هذا الكتاب يحتاج إلى دراسة وتحقيق، فقد خلت النسخة المطبوعة منذ قرابة خمسين عامًا (1372 هـ) باعتناء الأستاذ أسعد درابزوني من أي تحقيق أو ضبط أو دراسة، بل زيد فيها نصف صفحة (ص 60) ليست من الكتاب، حتى إنه حذفه عندما أعيد طبعه مرة أخرى عام 1402 هـ. كذلك زيدت كلمة «دار» في عنوانه، حيث كررت
ভূমিকা

সকল প্রশংসা মহিমান্বিত, সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য, যিনি অনুগ্রহ ও মহিমার অধিকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাবার (মদিনার) অধিবাসীর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

আলেমগণ প্রাচীন ও আধুনিক যুগে মদিনার ইতিহাসের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা এর ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন, এর সংবাদসমূহ সংকলন করেছেন, এর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে কাজ করেছেন, এর নিদর্শনাবলি বর্ণনা করেছেন এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নসমূহ নথিভুক্ত করেছেন। এর ফলে মদিনার ঐতিহাসিক গ্রন্থাগারটি নগরসমূহের ইতিহাসের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ ও তথ্যবহুল ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। একে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ রচিত হয়েই চলেছে; যেমন কোনো গ্রন্থ এর মসজিদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে, অন্যটি এর নিদর্শনসমূহ অনুসরণ করে, তৃতীয়টি এর আকিক উপত্যকা নিয়ে গবেষণা করে এবং চতুর্থটি একে নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর তালিকা প্রদান করে … এভাবে চলতে থাকে।

এমন কোনো শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়নি যেখানে মদিনা নিয়ে এক বা একাধিক গ্রন্থ রচিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, হিজরি সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে মদিনার ইতিহাস বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যেমন: জামালুদ্দিন আল-মাতারী রচিত ‘কিতাবুত তারিফ বিমা আনসাতিল হিজরাহ মিন মাআলিম দাউরিল হিজরাহ’।

এই গ্রন্থটির সাথে আমার সম্পর্ক দশ বছরেরও বেশি সময় আগের, যখন আমি মদিনা সংশ্লিষ্ট আমার কিছু গবেষণায় এর ওপর নির্ভর করেছিলাম। সেই সময় থেকেই আমি উপলব্ধি করি যে, এই গ্রন্থটির নিবিড় পাঠ ও সম্পাদনা প্রয়োজন। কারণ, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে (১৩৭২ হিজরি) উস্তাদ আসআদ দরাবজুনির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত মুদ্রিত সংস্করণটি যেকোনো ধরণের সম্পাদনা, বিন্যাস বা গবেষণা বর্জিত ছিল। এমনকি এতে আধ পৃষ্ঠা (পৃষ্ঠা ৬০) অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছিল যা মূল গ্রন্থের অংশ নয়, এমনকি পরবর্তীতে ১৪০২ হিজরিতে এটি যখন পুনরায় মুদ্রিত হয় তখন তিনি তা বাদ দেন। অনুরূপভাবে, এর শিরোনামে ‘দার’ শব্দটি অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছিল, যেখানে এটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
مرتين ثم حذفت بعد إعادة طبعه، كما اشتملت على العديد من الحذف والأخطاء والتصحيفات الكثيرة.

كما عمل أحد طلبة الدراسات العليا وهو الأستاذ عبد الله بن سليمان اللهيب على تحقيق الكتاب ضمن متطلبات رسالة الماجستير في قسم التاريخ بكلية الآداب في جامعة الملك عبد العزيز عام 1408 هـ ولم ينشره. واعتمد في تحقيقه على نسخة واحدة من مخطوطاته؛ لذا جاء متنه خلوًا من أي مقابلة بنسخ أخرى له، أو ضبط لنصوصه، وقد نص الباحث على ذلك وذكر أنه اعتمد على نسخة وحيدة للكتاب، واطلع على نسخ لها في أماكن مختلفة؛ ولذا نص على أنه لم يجد بينها اختلافًا (ص 30)، هكذا.

ونتيجة لاعتماده على هذه النسخة فقط وعدم اطلاعه على نسخ الكتاب الأخرى ومقارنة نصه بها وتحريره في ضوئها فإنه لم يشر في هوامشه إلى أي مقارنة أو تحرير للنص على الرغم مما في تلك النسخة من أخطاء وتصحيفات لا يمكن قبولها لا سيما أن هذه ليست نسخة المؤلف مما يحتم ضرورة مقابلتها على نسخ أخرى من الكتاب كما هو معروف في منهج التحقيق.

وصدَّره بدراسة في ثلاثين صفحة عن حياة المؤلف، ونسبة الكتاب إليه والمصادر التي اعتمد عليها، وأهمية كتابه ووصف النسخة التي اعتمد عليها في تحقيقه. كما عقد فصلًا لمؤرخي المدينة حتى وفاة المؤلف، وجاء في (52) صفحة، وهو عبارة عن وصف وتلخيص لما ذكره هؤلاء في كتبهم دون تحليل لمناهجهم أو الاطلاع على دراستهم مِن قِبَل مَنْ سبقوه. وقد جاء نص الكتاب في (196) صفحة غلبت عليها تراجم أسانيد المؤلف الكثيرة.

وقد وقع الباحث في أخطاء منهجية كبيرة في تحقيق الكتاب منها أنه لم يقم بتخريج عدد من الأحاديث الواردة فيه في رسالته كما في ص 220، ص 221، ص 231، ص 232، ص 233، ص 241، ص 276، ص 314. كذلك نسب
দুইবার, তারপর এটি পুনরায় মুদ্রণের পর বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও এতে অনেক বিলোপ, ভুল এবং অসংখ্য লেখনী-বিভ্রাট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

একইভাবে, উচ্চতর গবেষণার একজন ছাত্র উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-লুহাইব ১৪০৮ হিজরি সালে কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদের ইতিহাস বিভাগে তার মাস্টার্স থিসিসের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে গ্রন্থটি সম্পাদনার কাজ করেন, তবে তিনি এটি প্রকাশ করেননি। তিনি তার সম্পাদনায় এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কেবল একটি কপির ওপর নির্ভর করেছেন; ফলে এর মূল পাঠটি অন্য কোনো কপির সাথে তুলনা করা বা এর পাঠ্যসমূহ যথাযথভাবে বিন্যাস করা থেকে মুক্ত ছিল। গবেষক নিজেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি গ্রন্থটির জন্য একটি মাত্র কপির ওপর নির্ভর করেছেন, যদিও তিনি বিভিন্ন স্থানে এর অন্যান্য কপিগুলো দেখেছিলেন; তাই তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি সেগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য পাননি (পৃষ্ঠা ৩০), ঠিক এভাবেই।

কেবল এই একটি কপির ওপর নির্ভর করার ফলে এবং গ্রন্থের অন্যান্য কপিগুলো না দেখা এবং সেগুলোর সাথে পাঠ্যের তুলনা ও তার আলোকে সম্পাদনা না করার কারণে, তিনি তার টীকাগুলোতে পাঠ্যের কোনো তুলনা বা সম্পাদনার প্রতি ইঙ্গিত করেননি। অথচ ওই কপিতে এমন সব ভুল ও লেখনী-বিভ্রাট ছিল যা গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যেহেতু এটি লেখকের নিজস্ব কপি ছিল না। আর সম্পাদনা পদ্ধতির পরিচিত নিয়ম অনুযায়ী এটি গ্রন্থের অন্যান্য কপির সাথে তুলনা করা অপরিহার্য ছিল।

তিনি গ্রন্থের শুরুতে লেখকের জীবনী, তার প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ নির্ণয়, তিনি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, তার গ্রন্থের গুরুত্ব এবং সম্পাদনায় তিনি যে কপির ওপর নির্ভর করেছেন তার বর্ণনা সম্বলিত ত্রিশ পৃষ্ঠার একটি গবেষণা যুক্ত করেছেন। এছাড়াও তিনি লেখকের মৃত্যু পর্যন্ত মদিনার ঐতিহাসিকদের নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যা ৫২ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। এটি মূলত ওই ঐতিহাসিকগণ তাদের গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার একটি বর্ণনা ও সারসংক্ষেপ মাত্র, যেখানে তাদের কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়নি বা তার পূর্বসূরিদের করা গবেষণাসমূহ পর্যালোচনা করা হয়নি। গ্রন্থের মূল পাঠটি ১৯৬ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত হয়েছে, যেখানে লেখকের অসংখ্য বর্ণনাসূত্রের বর্ণনাকারীদের জীবনী আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে।

গবেষক গ্রন্থটি সম্পাদনায় বড় ধরনের পদ্ধতিগত ভুলের শিকার হয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো, তিনি তার থিসিসে কিতাবটিতে উল্লিখিত বেশ কিছু হাদিসের উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেননি, যেমনটি দেখা যায় ২২০, ২২১, ২৩১, ২৩২, ২৩৩, ২৪১, ২৭৬ এবং ৩১৪ পৃষ্ঠায়। একইভাবে তিনি সম্বন্ধ করেছেন-
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
حديثًا ضعيفًا في ص 150 إلى صحيح مسلم. وأيضًا لم يخرج قول الإمام مالك لأبي جعفر المنصور ص 157 باستقبال القبر عند الدعاء فهو لا يجوز باتفاق، والإمام مالك لا يقرّه، ولم يثبت عنه هذا القول، فالرواية ضعيفة والسند فيها منقطع.

أما التعريف بالمعالم والمواقع في الكتاب فقد خالفه الصواب في المنهج فيها فقد اعتمد على مصادر عامة أو قديمة في ضبطها وتحديد أماكنها. وأغفل الرجوع فيها إلى مراجع حديثة عن المدينة وآثارها ومعالمها التاريخية، أو أنه لم يفد منها بما فيه الكفاية، فضلًا عن عدم الوقوف عليها أو بعضها بنفسه كما فعل المؤلف.

ومن ثم معرفة أوضاعها وأحوالها وما بقي منها أو أزيل أو عرف أو جهل موقعه … وغير ذلك مما ينبغي أن يقرره كل باحث في عصره في هذا المجال، ويحتاج القارئ إلى معرفته في هذا العصر. انظر مثلًا ص 251، ص 310، ص 315، ص 324، ص 325، ص 355، ص 356.

وهناك الكثير من المساجد والآبار في الكتاب لم يعرف بها، أو عرف بها وأهمل ذكر حالها في هذا العصر. كما أن عددًا من المواقع وردت في الكتاب ولم يعرف بها مثل شعب علي وورقان ص 233، والجرف ص 261، وحارة الدوس ص 262، والنازية ص 328، وتلعة ص 330، وبيت الحية ص 347.

كما عرف ببعض المواقع والمعالم خطأ ومنها: الضبوعة ص 310 قال عنها بأنها تقع قرب الصفراء والصحيح أنها قرب المدينة وبعيدة عن وادي الصفراء ومن ذلك أيضًا نسب أبيار علي إلى علي رضي الله عنه ص 316 وهذا غير صحيح. كذلك ذكر أن وادي الصفراء يقع جنوب المدينة بمسافة (54) كيلًا ص 329، والصحيح أنه يقع غربها على مسافة (90) كيلًا.
১৫০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত একটি দুর্বল হাদীসকে তিনি সহীহ মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তদ্রূপ, ১৫৭ পৃষ্ঠায় দুআ করার সময় কবরের দিকে মুখ করার ব্যাপারে আবু জাফর আল-মনসুরের উদ্দেশ্যে ইমাম মালিকের যে উক্তিটি বর্ণিত হয়েছে, সেটির অসারতা তিনি বর্ণনা করেননি; অথচ ঐকমত্যানুসারে এটি বৈধ নয় এবং ইমাম মালিক এটি অনুমোদন করেননি; বরং তাঁর পক্ষ থেকে এই উক্তিটি প্রমাণিতও নয়। বর্ণনাটি দুর্বল এবং এর সনদ বিচ্ছিন্ন।

আর বইটিতে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থানসমূহের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি সঠিক ছিল না। কেননা এগুলোর বর্ণনা ও অবস্থান নির্ধারণে তিনি সাধারণ বা প্রাচীন উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি মদীনা এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ সংক্রান্ত আধুনিক রেফারেন্সগুলো পর্যালোচনা করতে অবহেলা করেছেন, অথবা সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত উপকৃত হননি। তদুপরি, লেখক নিজে যেভাবে ঐসব স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন, তিনি নিজে সেভাবে সবগুলি বা অন্তত কিছু স্থানও সশরীরে পরিদর্শন করেননি।

ফলে এগুলোর অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা—অর্থাৎ এর কতটুকু অবশিষ্ট আছে, কোনটি বিলুপ্ত হয়েছে, কার অবস্থান সুপরিচিত বা কার অবস্থান অজ্ঞাত … ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি, যা বর্তমান সময়ের এই বিষয়ের প্রত্যেক গবেষকের জন্য নির্ণয় করা বাঞ্ছনীয় এবং বর্তমান যুগের পাঠকেরও তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন পৃষ্ঠা ২৫১, ৩১০, ৩১৫, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৫, ৩৫৬।

বইটিতে এমন অনেক মসজিদ ও কূপ রয়েছে যেগুলোর পরিচিতি তিনি দেননি, অথবা দিলেও বর্তমান যুগে সেগুলোর অবস্থা কী তা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন। তদ্রূপ, বইটিতে এমন বেশ কিছু স্থানের নাম এসেছে যেগুলোর কোনো পরিচয় প্রদান করা হয়নি; যেমন: শি’বে আলী ও ওয়ারকান (পৃ. ২৩৩), আল-জুরুফ (পৃ. ২৬১), হারাতুদ দাওস (পৃ. ২৬২), আন-নাজিয়াহ (পৃ. ৩২৮), তালআহ (পৃ. ৩৩০) এবং বাইতুল হাইয়্যাহ (পৃ. ৩৪৭)।

আবার কিছু স্থান ও নিদর্শনের বর্ণনায় তিনি ভুল করেছেন। যেমন: আদ-দবুআহ (পৃ. ৩১০); তিনি বলেছেন এটি সাফরা-র নিকটবর্তী, অথচ সঠিক হলো এটি মদীনার নিকটে এবং ওয়াদি সাফরা থেকে অনেক দূরে। অনুরূপভাবে, ৩১৬ পৃষ্ঠায় 'আবিয়ার আলী'-কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। একইভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াদি সাফরা মদীনার দক্ষিণ দিকে ৫৪ কিমি দূরত্বে অবস্থিত (পৃ. ৩২৯), অথচ সঠিক হলো এটি মদীনার পশ্চিম দিকে ৯০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومنها أيضًا وصفه موضع مبرك ص 333 هـ 4 بأنه مبرك ناقة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وهذا خطأ معيب، فهو هنا موضع في الطريق إلى مكة.

وكذلك ذكر أن «عصر» يقع بين المدينة ووادي الفرع، والصحيح أنه يقع بين المدينة وخيبر.

وهذا كله على سبيل المثال لا الحصر مما لا يتسع المجال لذكره هنا.

وقد ظللت أرقب هذا الكتاب لعل أحدًا يتصدى لتحقيقه كما ينبغي أو يقرب من ذلك حتى قيض الله تعالى لي من الوقت والجهد فقُمت بذلك، وتوفرتُ على جمع أقدم نسخة المخطوطة بعد نسخة المؤلف، ومنها ثلاث نسخ تعود إلى الثلاثين سنة التي أعقبت وفاة المؤلف عام 741 هـ.

وعلى الرغم من أن المطري مؤلف مقل، وليس له شهرة مؤرخي المدينة الآخرين كابن النجار والفيروزآبادي والسمهودي، إلَّا أن معاصرته لبعض الأحداث ووقوفه بنفسه ميدانيًّا على كثير من المعالم، واعتبار كتابه أحد المصادر المبكرة التي اعتمد عليها من جاء بعده جعلت له أهمية وقيمة تاريخية لا يمكن إغفالها. ثم هو- وقد أدركنا- جدير بالعناية والاهتمام اللذين حظيت بهما مؤلفات في تاريخ المدينة أقل منه قيمة في المعنى والمبنى.

راجيًا أن أكون قد وفقت في تحقيقه وإخراجه بصورة هي أقرب ما تكون إلى الصورة التي كتبها بها مؤلفه، وخدمتها بتخريج أحاديثها، والتعريف بأعلامها ومعالمها، بإيجازٍ وتوازن لا يخل أو يطغى على المتن وغير ذلك مما يتطلبه منهج التحقيق، وبالذات المعالم وهي ما قصدها المؤلف من تأليف كتابه، وأترك لأهل الاختصاص والقراء الحكم والتمييز بين هذا الجهد والجهود السابقة المبذولة نحو هذا الكتاب، ولا أزعم الكمال فهناك هفوات وقصور لا يخلو منها مثل هذا العمل.
এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো—তিনি ৩৩৩ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর টীকায় একটি স্থানকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর উটনীর বসার স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা একটি ত্রুটিপূর্ণ ভুল। মূলত এটি মক্কার পথে অবস্থিত একটি সাধারণ স্থান।

একইভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ‘আসর’ নামক স্থানটি মদিনা এবং ওয়াদি আল-ফারা’র মাঝখানে অবস্থিত; অথচ সঠিক তথ্য হলো এটি মদিনা এবং খায়বারের মাঝখানে অবস্থিত।

এসবই কেবল উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হলো, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়; কারণ এখানে সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই কিতাবটির দিকে নজর রাখছিলাম এই আশায় যে, কেউ হয়তো এটি যথাযথভাবে বা তার কাছাকাছি মানে সম্পাদনা করার দায়িত্ব নিবেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সময় ও শ্রমের সুযোগ করে দিলেন, ফলে আমি নিজেই এই কাজে অগ্রসর হলাম। আমি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির পরের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি, যার মধ্যে তিনটি অনুলিপি লেখকের মৃত্যু (৭৪১ হিজরি) পরবর্তী ত্রিশ বছরের মধ্যে তৈরি করা।

যদিও আল-মাতাররি একজন স্বল্পপ্রজ লেখক এবং মদিনার অন্যান্য ইতিহাসবিদ যেমন ইবনে নাজ্জার, আল-ফাইরুজাবাদি এবং আস-সামহুদি-র মতো তাঁর তেমন খ্যাতি নেই; তবুও কিছু ঘটনার সমসাময়িক হওয়া এবং নিজে সরাসরি অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করা এবং তাঁর কিতাবটি পরবর্তী লেখকদের জন্য অন্যতম আদি উৎস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণে এর এমন ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মূল্য রয়েছে যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তদুপরি—আমরা যা উপলব্ধি করেছি—মদিনার ইতিহাসের ওপর এমন অনেক গ্রন্থ অধিক যত্ন ও মনোযোগ পেয়েছে যা বিষয়বস্তু ও কাঠামোগত দিক থেকে এই কিতাবটির চেয়ে কম মূল্যবান।

আমি আশা করছি যে, এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি লেখক যেভাবে লিখেছিলেন তার যথাসম্ভব কাছাকাছি রূপ দিতে সফল হয়েছি। এর হাদিসগুলোর উৎস নির্ণয়, এতে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে আমি এর খেদমত করার চেষ্টা করেছি। এখানে এমন সংক্ষিপ্ততা ও ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে যা মূল পাঠের কোনো ক্ষতি করে না বা তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে না এবং সম্পাদনার পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ও পালন করা হয়েছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক নিদর্শনগুলোর ক্ষেত্রে, যা এই কিতাবটি রচনার পেছনে লেখকের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আমি এই প্রচেষ্টা এবং এই কিতাবটি নিয়ে ইতিপূর্বে করা অন্যান্য প্রচেষ্টার মধ্যে বিচার ও পার্থক্যের ভার বিশেষজ্ঞ ও পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমি পূর্ণতার দাবি করি না, কারণ এ জাতীয় কাজে কিছু ভুলভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي الختام أشكر كل من قدم لي خدمة أو ساعدني في معلومة، أو أبدى رأيًا في مراحل تحقيق الكتاب المختلفة. ولا يفوتني أن أشكر دارة الملك عبد العزيز بالرياض على نشر الكتاب ووضعها كشافات للأحاديث والأماكن به حرصًا من الجميع على خدمة طيبة الطيبة وخدمة تاريخها فجزاهم الله خيرًا وأمتع ناظرهم بكل مفيد لها، وجعلها في موازين الأعمال يوم الدين، ورزقنا شفاعة ساكنها عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم.

المحقق

الأستاذ الدكتور سليمان الرحيلي

المدينة المنورة

رمضان المبارك 1423 هـ
পরিশেষে আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে কোনো সেবা প্রদান করেছেন, অথবা কোনো তথ্যে সহায়তা করেছেন, কিংবা এই গ্রন্থের তাহকিকের (সম্পাদনার) বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো মতামত ব্যক্ত করেছেন। আমি রিয়াদের দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ-কেও ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না এই গ্রন্থটি প্রকাশ করার জন্য এবং এতে হাদিস ও স্থানসমূহের নির্ঘণ্ট সংযোজন করার জন্য, যা মদিনা মুনাওয়ারা এবং এর ইতিহাসের খিদমতের প্রতি সকলের একাগ্রতার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, এর জন্য উপকারী সবকিছুর মাধ্যমে তাঁদের চক্ষু শীতল করুন, এটিকে কিয়ামতের দিনের নেক আমলের পাল্লায় ভারী করুন এবং আমাদের এই শহরের অধিবাসীর শাফায়াত নসিব করুন, যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।

মুহাক্কিক (সম্পাদক)

প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান আর-রুহাইলি

মদিনা মুনাওয়ারা

পবিত্র রমজান ১৪২৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌حياة المؤلف

‌‌مولده ونشأته:

هو محمد بن أحمد بن محمد بن خلف بن عيسى بن عباس بن يوسف بن علي بن عثمان المطري، ومن ألقابه أيضًا الأنصاري والسعدي والعبادي والمدني، وكثيرًا ما يوصف بها أو أحدها(1). وكنيته أبو عبد الله، ولقب بجمال الدين، والجمال المطري.

عاش جده خلف في الطور في سيناء، ومنها انتقل إلى مدينة المَطَرية(2) في مصر وعاش فيها، ثم انتقل ابنه أحمد والد المؤلف إلى المدينة فعاش فيها وعرف بالمطري(3). وفي المدينة ولد له ابنه محمد في سنة 671(4)، ورجح ابن حجر أنه ولد في سنة 676 هـ لوجوده بخط ابنه(5). وفيها نشأ وتعلم، وأصبح أحد العارفين بالمواقيت حيث ورثها عن والده(6).

--------------------------------------------

(1) ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110؛ السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 466.

(2) المطرية: مدينة مصرية قديمة ذكرها ياقوت وغيره كانت على مشارف القاهرة، وقد أصبحت في العصر الحديث إحدى ضواحيها الشمالية، وينسب إليها عدد من الأعلام ومنهم والد المؤلف.

(3) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 466.

(4) ابن فرحون: نصيحة المشاور وتعزية المجاور ص 151.

(5) ابن حجر: الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة ج 3 ص 315.

(6) نفسه.

‌লেখকের জীবনী

‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন ঈসা বিন আব্বাস বিন ইউসুফ বিন আলী বিন উসমান আল-মাতারি। তাঁর অন্যান্য উপাধিগুলো হলো আল-আনসারী, আস-সাআদী, আল-আব্বাদী এবং আল-মাদানী; প্রায়শই তাঁকে এগুলোর সবকটি বা যেকোনো একটির মাধ্যমে অভিহিত করা হয়(১)। তাঁর উপনাম (কুনিয়া) আবু আব্দুল্লাহ এবং উপাধি (লকব) জামালুদ্দিন ও আল-জামাল আল-মাতারি।

তাঁর দাদা খালাফ সিনাইয়ের তূরে বসবাস করতেন, সেখান থেকে তিনি মিশরের আল-মাতারিয়া শহরে চলে আসেন এবং সেখানে বসবাস করেন। অতঃপর তাঁর পুত্র আহমাদ (লেখকের পিতা) মদীনায় চলে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন ও 'আল-মাতারি' নামে পরিচিত হন(৩)। আর মদীনাতেই ৬৭১ হিজরি সনে তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন(৪); তবে ইবনে হাজার ৬৭৬ হিজরি সনে তাঁর জন্ম হওয়াকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, কারণ তিনি এটি তাঁর (লেখকের) পুত্রের হস্তাক্ষরে পেয়েছিলেন(৫)। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন ও শিক্ষা অর্জন করেন এবং সময় নির্ধারণের বিদ্যায় (ইলমুল মাওয়াকিত) একজন বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন, যা তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফাহাদ: লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ১১০; সাখাভী: আত-তুহফাতুল লাতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৬।

(২) আল-মাতারিয়া: এটি মিশরের একটি প্রাচীন শহর যা ইয়াকুত ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন; এটি কায়রোর উপকণ্ঠে অবস্থিত ছিল এবং বর্তমান সময়ে এটি তার উত্তর দিকের অন্যতম শহরতলী হয়ে উঠেছে। এই শহরের সাথে বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি সম্পৃক্ত ছিলেন, যাদের মধ্যে লেখকের পিতাও রয়েছেন।

(৩) সাখাভী: আত-তুহফাতুল লাতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৬।

(৪) ইবনে ফারহুন: নাসিহাতুল মুশাভির ওয়া তা'যিয়াতুল মুজাভির, পৃষ্ঠা ১৫১।

(৫) ইবনে হাজার: আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আ'য়ানিল মায়াতিল সামিনাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩১৫।

(৬) প্রাগুক্ত।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كما تولى الأذان بالمسجد النبوي وكان من أحسن الناس صوتًا فأصبح فيه من المؤذنين الرؤساء(1). ويذكر ابن فرحون أنه ناب في القضاء والخطابة والإمامة في المدينة(2)، وقد كان حسن الخلق، جامعًا للفضائل(3)، محبًا للإحسان مثل رعايته لابن فرحون وإخوانه الذي يقول عنه: لم نجد بعد والدنا مثله في الإحسان إلينا والشفقة بنا، ولي تربيتنا وتعليمنا، والسعي في مصالحنا كأبينا، وكان لكل قادم في المدينة كالأهل في الإسكان والكسوة والتعريف(4).

كما كان على دراية بأنساب العرب، ويقرض الشعر أحيانًا(5).

 

‌‌شيوخه:

تتلمذ على يد أبي اليمن عبد الصمد بن عساكر وهو أحد علماء الحجاز نزل مكة نحوًا من أربعين سنة ثم نزل المدينة وتوفي بها سنة 686 هـ، لذا يلقب بنزيل الحرمين(6). له تصانيف عدة واشتهر في علم الحديث، وله مؤلف عن جبل حراء(7). وآخر اسمه تحفة الزائر(8) ويبدو أن المؤلف أدركه في آخر حياته عندما نزل المدينة، وروى عنه في كتابه.

وكذلك روى عن شرف الدين أبي محمد عبد المؤمن بن خلف الدمياطي الذي كان عالمًا بالفقه والأنساب والحديث وصنف كتاب الترغيب

--------------------------------------------

(1) نفسه.

(2) ابن فرحون: نصيحة المشاور ص 128.

(3) ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110.

(4) ابن فرحون: نصيحة المشاور ص 149، السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 468.

(5) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 467.

(6) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 18.

(7) الكتبي: فوات الوفيات ج 1 ص 275.

(8) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 467.

তিনি মসজিদে নববীতে আযানের দায়িত্বও পালন করেছেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন, ফলে তিনি সেখানে প্রধান মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন(১)। ইবনে ফারহুন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মদিনায় বিচারকার্য, খুতবা প্রদান এবং ইমামতিতে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন(২)। তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং সদ্গুণের আধার(৩)। তিনি সদাচরণ ও ইহসান প্রিয় ছিলেন, যেমনটি ইবনে ফারহুন ও তাঁর ভাইদের প্রতি তাঁর যত্নশীলতা থেকে প্রতীয়মান হয়। ইবনে ফারহুন তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমরা আমাদের পিতার পরে আমাদের প্রতি সদাচরণ এবং করুণার ক্ষেত্রে তাঁর মতো আর কাউকে পাইনি। তিনি আমাদের লালন-পালন, শিক্ষা এবং আমাদের কল্যাণে সচেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে পিতার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। মদিনায় আগন্তুক প্রত্যেকের জন্য তিনি আবাসন, বস্ত্র এবং পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের মতো ছিলেন"(৪)।

এছাড়া আরবদের বংশলতিকা সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল এবং মাঝে মাঝে তিনি কবিতা রচনা করতেন(৫)।

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

তিনি আবুল ইয়ামান আবদুস সামাদ ইবনে আসাকিরের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হিজাজের আলেমদের অন্যতম ছিলেন; তিনি প্রায় চল্লিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন, অতঃপর মদিনায় চলে আসেন এবং ৬৮৬ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। একারণে তাঁকে 'নাযিলুল হারামাইন' (উভয় হারামের অধিবাসী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়(৬)। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে এবং তিনি হাদিস শাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। হেরা পর্বত সম্পর্কে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে(৭)। 'তুহফাতুয যায়ির' নামে তাঁর আরেকটি গ্রন্থ আছে(৮)। প্রতীয়মান হয় যে, লেখক তাঁর জীবনের শেষ ভাগে যখন তিনি মদিনায় অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং নিজের বইয়ে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

একইভাবে তিনি শরফউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আদ-দিমইয়াতির নিকট থেকেও বর্ণনা করেছেন, যিনি ফিকহ, বংশলতিকা এবং হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন এবং 'কিতাবুত তারগিব' রচনা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত।

(২) ইবনে ফারহুন: নাসীহাতুল মুশায়ির, পৃষ্ঠা ১২৮।

(৩) ইবনে ফাহদ: লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ১১০।

(৪) ইবনে ফারহুন: নাসীহাতুল মুশায়ির, পৃষ্ঠা ১৪৯; আস-সাখাভী: আত-তুহফাতুল লতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৮।

(৫) আস-সাখাভী: আত-তুহফাতুল লতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৭।

(৬) আস-সাখাভী: আত-তুহফাতুল লতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৮।

(৭) আল-কুতুবী: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৫।

(৮) আস-সাখাভী: আত-তুহফাতুল লতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৭।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والترهيب، واختصار صحيح مسلم، وكتاب الخيل والصلاة. وتوفي سنة 705 هـ(1).

وكذلك أخذ عن التاج علي بن أحمد العراقي أحد علماء التفسير والحديث بمصر وتلقى عنه المؤلف بالإسكندرية عند زيارته لها كما سيأتي، وتوفي عام 704 هـ(2).

وكذلك عن عفيف الدين عبد السلام بن محمد بن مزروع بن أحمد بن عرفة، نزيل المدينة، أصله من البصرة، وهو أحد محدثي المدينة في القرن السابع، وتوفي بها سنة 699 هـ(3)، وهو ممن أثبت أن جبل ثور المذكور في حدود الحرم جبل معروف بالمدينة، واعتمد عليه المؤلف في ذلك(4).

ومنهم أيضًا الشيخ سراج الدين عمر بن أحمد الخضري المشهور بالسراج، أحد قضاة المدينة وقتذاك، وكان جمال الدين المطري يتلقى عنه ويحضر دروسه(5).

كما تتلمذ المطري على آخرين مثل أحمد بن إسحاق الأبرقوهي المتوفى في مكة سنة 701 هـ ودرس عليه الحديث، وكان مجيدًا في الحديث والسيرة النبوية(6).

--------------------------------------------

(1) السيوطي: طبقات الحفاظ ج 1 ص 505.

(2) الذهبي سير أعلام النبلاء ج 9 ص 84؛ ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 94.

(3) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 17.

(4) نفسه.

(5) ابن فرحون: نصيحة المشاور ص 214.

(6) الفاسي: العقد الثمين ج 3 ص 15؛ ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110.

এবং আত-তারহীব, মুখতাসার সহীহ মুসলিম এবং কিতাবুল খাইল ওয়াস সালাত। তিনি ৭০৫ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন(১)।

একইভাবে তিনি মিসরের অন্যতম তাফসীর ও হাদীস বিশেষজ্ঞ আল-তাজ আলী বিন আহমাদ আল-ইরাকীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং লেখক আলেকজান্দ্রিয়া সফরের সময় তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, যা সামনে আলোচিত হবে; তিনি ৭০৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন(২)।

একইভাবে আফীফ উদ্দিন আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ বিন মাজরু বিন আহমাদ বিন আরাফার নিকট থেকে, যিনি মদীনায় বসবাস করতেন, তাঁর আদি নিবাস ছিল বসরায়। তিনি সপ্তম শতাব্দীর মদীনার অন্যতম মুহাদ্দিস ছিলেন এবং ৬৯৯ হিজরি সালে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন(৩)। তিনি সেইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রমাণ করেছেন যে, হারামের সীমানার ভেতরে উল্লেখিত জাবালে সাওর মদীনার একটি সুপরিচিত পাহাড়, এবং লেখক এই বিষয়ে তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন(৪)।

তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন শেখ সিরাজুদ্দীন ওমর বিন আহমাদ আল-খুদরী, যিনি 'সিরাজ' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তৎকালীন মদীনার অন্যতম বিচারক ছিলেন এবং জামালুদ্দীন আল-মাতরী তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন ও তাঁর দরসে উপস্থিত হতেন(৫)।

এছাড়াও আল-মাতরী আরও অনেকের কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যেমন ৭০১ হিজরি সালে মক্কায় মৃত্যুবরণকারী আহমাদ বিন ইসহাক আল-আবরাকুহী, যাঁর কাছে তিনি হাদীস অধ্যয়ন করেন। তিনি হাদীস ও সীরাতুন্নবীতে পারদর্শী ছিলেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) আস-সুয়ূতী: তাবাকাতুল হুফফাজ, ১ম খণ্ড, ৫০৫ পৃষ্ঠা।

(২) আয-যাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৯ম খণ্ড, ৮৪ পৃষ্ঠা; ইবনে ফাহাদ: লাহজুল আলহাজ, ৯৪ পৃষ্ঠা।

(৩) আস-সাখাবী: আত-তুহফাতুল লতিফাহ, ৩য় খণ্ড, ১৭ পৃষ্ঠা।

(٤) প্রাগুক্ত।

(৫) ইবনে ফারহুন: নাসিহাতুল মুশা-উইর, ২১৪ পৃষ্ঠা।

(৬) আল-ফাসী: আল-ইকদুত সামীন, ৩য় খণ্ড, ১৫ পৃষ্ঠা; ইবনে ফাহাদ: লাহজুল আলহাজ, ১১০ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وكذلك أخذ المطري عن محمد بن القطب القسطلاني المتوفى عام 704 هـ بمكة، وكان أحد علماء الحديث فيها(1)، ومنهم أيضًا تقي الدين الحسين بن علي بن ظافر المالكي، والعز الفارقي. كما تتلمذ عليه وروى عنه نفر من العلماء مثل ابنه عفيف الدين عبد الله، وأبي محمد عبد الله بن محمد بن فرحون(2)، ومحمد بن يحيى الخشني أحد مؤذني المسجد النبوي وقتذاك(3).

 

‌‌رحلاته:

عاش جمال الدين المطري حياته في المدينة منذ أن استقرت أسرته فيها، ولم يذكر له المؤرخون رحلات سوى ما ذكره هو في كتابه هذا من أنه سافر إلى مكة لأداء الحج والعمرة، وهناك التقى بعض علمائها.

وفي طريقه إليها وقف على القليل من مساجد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم خارج المدينة ومعالم غزواته، ولهذا وصفها بأنها غير معروفة، وهو وصف غير دقيق بالتأكيد.

كما رحل إلى الطائف في سنتي 696 هـ و 727 هـ، مما أتاح له الوقوف على بعض معالمها المتعلقة بكتابه، وبالذات في موضوع مساجد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم هناك. كما رحل إلى الإسكندرية مرتين إحداهما في سنة 697 هـ وقابل خلالها التاج علي بن أحمد العراقي وتتلمذ عليه. كما زارها مرة أخرى في سنة 727 هـ. واقتصاره في رحلاته على مصر يفهم في ضوء صلاته الاجتماعية بها فأصله من هناك(4).

--------------------------------------------

(1) ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110.

(2) ابن فرحون: نصيحة المشاور وتعزية المجاور ص 80، 81، 110، 151.

(3) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 467.

(4) أورد المؤلف أخبار رحلاته في ثنايا كتابه.

তেমনিভাবে আল-মাতারী মক্কায় ৭০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী মুহাম্মাদ ইবনুল কুতুব আল-কাসতালানি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, আর তিনি সেখানকার অন্যতম হাদিস বিশারদ ছিলেন(১)। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন তাকিউদ্দীন আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে জাফির আল-মালিকি এবং আল-ইয আল-ফারিকি। একইভাবে বেশ কিছু আলেম তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন তাঁর পুত্র আফিফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফারহুন(২), এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-খুশানি, যিনি তৎকালীন সময়ে মসজিদে নববীর অন্যতম মুয়াজ্জিন ছিলেন(৩)।

 

‌‌তাঁর সফরসমূহ:

জামাল উদ্দিন আল-মাতারী তাঁর পরিবার মদিনায় স্থায়ী হওয়ার পর থেকে সেখানেই জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঐতিহাসিকগণ তাঁর অন্য কোনো সফরের কথা উল্লেখ করেননি, কেবল তিনি তাঁর এই বইটিতে যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া; যেখানে তিনি বলেছেন যে তিনি হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় সফর করেছিলেন এবং সেখানে কিছু আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

মক্কার পথে তিনি মদিনার বাইরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কিছু মসজিদ এবং তাঁর যুদ্ধসমূহের ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। এই কারণেই তিনি সেগুলোকে 'অপরিচিত' বলে বর্ণনা করেছেন, যা অবশ্যই একটি সঠিক বর্ণনা নয়।

এছাড়াও তিনি ৬৯৬ হিজরি এবং ৭২৭ হিজরিতে তায়েফে সফর করেন, যা তাঁকে তাঁর বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু নিদর্শনের ব্যাপারে ওয়াকিফহাল হওয়ার সুযোগ করে দেয়, বিশেষ করে সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মসজিদগুলোর বিষয়ে। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় দুইবার সফর করেন, যার একটি ছিল ৬৯৭ হিজরিতে। সে সময় তিনি আত-তাজ আলী ইবনে আহমাদ আল-ইরাকির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করেন। ৭২৭ হিজরিতে তিনি পুনরায় সেখানে যান। তাঁর সফরগুলো মিশরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কারণটি সেখানে তাঁর সামাজিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে বোঝা যায়, কারণ তাঁর আদি নিবাস ছিল সেখানেই(৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফাহদ: লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ১১০।

(২) ইবনে ফারহুন: নাসিহাতুল মুশাভির ওয়া তা'যিয়াতুল মুজাভির, পৃষ্ঠা ৮০, ৮১, ১১০, ১৫১।

(৩) আস-সাখাওয়ি: আত-তুহফাতুল লাতিফাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৭।

(৪) লেখক তাঁর বইয়ের বিভিন্ন স্থানে তাঁর সফরের সংবাদসমূহ উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مؤلفاته:

نص المؤلف على عنوان كتابه هذا في مقدمته وسماه «التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة» وجاء ضبط كلمة «أنست» بفتح الهمزة وسكون النون وفتح السين مضبوطًا بهذا الشكل في عنوان نسخة الأصل التي اعتمدنا عليها، ثم ذكر المؤلف ما يوحي بهذا الضبط ويبرر قبوله بقوله: «وقد خلت- أي المدينة- ممن يَعرف معالمها وأخبارها ويعرف معاهدها وآثارها فذكرت في هذا المختصر من ذلك ما عرفته … وسميته التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة» فكأن المؤلف يريد أن يعرف بما ناله الهجر والنسيان والاندثار من معالم المدينة، وهذا كله يصحح ما شاع من أن اسم الكتاب هو التعريف بما آنست .. أي بمد الهمزة من الأنس، ويظهر أن هذا الخطأ أول ما ظهر كان من أحد النساخ في كتابة عنوان إحدى نسخ مخطوطاته ثم شاع في فهارس المخطوطات ونسخة الكتاب المطبوعة وتابع ذلك كثيرون دون تمعن في دلالة العنوان وإيماء المؤلف إلى مراده منه.

ويشير ابن حجر إلى كتاب «التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة» للمطري بقوله: «وصنف تاريخًا مفيدًا»(1)، ويقول السخاوي: «وصنف تاريخًا للمدينة مفيدًا»(2)، وهذا من باب الوصف له، وليس النص على عنوانه بينما نص ابن فهد عليه فقال: «وألف لها- أي المدينة- تاريخًا سماه التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة»(3) ولم نجد في المصادر التي ترجمت لجمال الدين المطري ذكرًا لمؤلفات له عدا كتابه هذا، كما لم يشر المؤلف نفسه في ثنايا كتابه إلى رسائل أو كتب أخرى له عدا النص على كتابه هذا بالعنوان ذاته. وهذا يجعل ما ذكره حاجي خليفة من أن للمطري

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: الدرر الكامنة ج 3 ص 315.

(2) السخاوي: التحفة اللطيفة ج 3 ص 473.

(3) ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110.

তাঁর রচনাবলী:

লেখক তাঁর এই বইটির শিরোনামের ব্যাপারে তাঁর ভূমিকার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন ‘আত-তারিফ বিমা আনাসাত আল-হিজরাহ মিন মাআলিম দারিল হিজরাহ’। আমরা যে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, তার শিরোনামে ‘আনাসাত’ (أنست) শব্দটির উচ্চারণ হামযাহর উপরে ফাতহা, নূনের উপরে সুকুন এবং সীন-এর উপরে ফাতহা সহকারে এভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এরপর লেখক এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এই উচ্চারণ পদ্ধতিকেই সমর্থন করে এবং এর গ্রহণযোগ্যতা যুক্তিগ্রাহ্য করে তোলে; তিনি বলেছেন: “মদিনা এমন ব্যক্তিবর্গ থেকে শূন্য হয়ে পড়েছে যারা এর নিদর্শন ও সংবাদসমূহ জানত এবং এর পরিচিত স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নসমূহ সম্পর্কে অবহিত ছিল। তাই আমি এই সংক্ষিপ্তসারে যা জেনেছি তা উল্লেখ করেছি... এবং এর নাম দিয়েছি ‘আত-তারিফ বিমা আনাসাত আল-হিজরাহ মিন মাআলিম দারিল হিজরাহ’।” সুতরাং লেখক মদিনার ঐ সকল নিদর্শন সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন যা বর্জন, বিস্মৃতি ও বিলুপ্তির শিকার হয়েছে। আর এই বিষয়টি বইটির সেই বহুল প্রচলিত নামকে সংশোধন করে দেয় যাতে বলা হয় ‘আত-তারিফ বিমা আনাসাত’ (آنست).. অর্থাৎ ‘উন্স’ (অন্তরঙ্গতা) ধাতু থেকে হামযাহ-এর দীর্ঘ উচ্চারণে। প্রতীয়মান হয় যে, এই ভুলটি সর্বপ্রথম কোনো একজন অনুলিপিকারীর মাধ্যমে তাঁর একটি পাণ্ডুলিপির শিরোনাম লেখার সময় ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে পাণ্ডুলিপির সূচিপত্র এবং বইটির মুদ্রিত সংস্করণে ছড়িয়ে পড়ে। শিরোনামের অর্থের গভীরতা এবং এর দ্বারা লেখকের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য না করেই অনেকে এটি অনুসরণ করেছেন।

ইবনে হাজার আল-মাতারীর ‘আত-তারিফ বিমা আনাসাত আল-হিজরাহ মিন মাআলিম দারিল হিজরাহ’ বইটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: “তিনি একটি উপকারী ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন”(১)। সাখাভী বলেন: “তিনি মদিনার ওপর একটি উপকারী ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন”(২)। এটি মূলত বইটির গুণগত বর্ণনা, নির্দিষ্ট শিরোনামের উল্লেখ নয়। অন্যদিকে ইবনে ফাহাদ শিরোনামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: “তিনি এর জন্য—অর্থাৎ মদিনার জন্য—একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘আত-তারিফ বিমা আনাসাত আল-হিজরাহ মিন মাআলিম দারিল হিজরাহ’”(৩)। জামালুদ্দিন আল-মাতারীর জীবনী সংবলিত উৎসসমূহে এই বইটি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো রচনার উল্লেখ আমরা পাইনি। এমনকি লেখক নিজেও তাঁর বইয়ের কোথাও এই একই শিরোনামের বইটি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো রিসালাহ বা বইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেননি। এর ফলে হাজী খলিফা আল-মাতারীর যে বর্ণনা দিয়েছেন তা...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: আদ-দুরারুল কামিনাহ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৫।

(২) সাখাভী: আত-তুহফাতুল লাতিফাহ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭৩।

(৩) ইবনে ফাহাদ: লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ১১০।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
كتابًا آخر اسمه إتحاف الزائر(1) أمرًا مشكوكًا فيه، حيث إن هذا الكتاب ثابت النسبة لشيخه أبي اليمن ابن عساكر. ويبدو أن هناك لبسًا عند حاجي خليفة حول هذا الكتاب فمرة نسبه لأبي اليمن ابن عساكر، ومرة لتلميذه المطري، وثالثة لأبي اليمن البغدادي الدمشقي(2).

وقد توفي المؤلف- رحمه الله تعالى- بالمدينة سنة 741 هـ ودفن بالبقيع(3)، ولم أجد خلافًا في ذلك بين المؤرخين.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون ج 1 ص 6.

(2) نفسه.

(3) ابن فرحون: نصيحة المشاور وتعزية المجاور ص 151؛ ابن حجر: الدرر الكامنة ج 3 ص 315؛ ابن فهد: لحظ الألحاظ ص 110.

‘ইতহাফ আল-যা’ইর’(১) নামক আরেকটি কিতাব একটি সন্দেহজনক বিষয়, কারণ এই কিতাবটি তাঁর শায়খ আবু আল-ইয়ামান ইবনে আসাকিরের রচনা হিসেবে সুপ্রমাণিত। প্রতীয়মান হয় যে, এই কিতাবটি সম্পর্কে হাজি খলিফার মাঝে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে; তিনি একবার এটিকে আবু আল-ইয়ামান ইবনে আসাকিরের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, একবার তাঁর ছাত্র আল-মাতারীর দিকে, এবং তৃতীয়বার আবু আল-ইয়ামান আল-বাগদাদী আদ-দিমাশকী-র দিকে(২)।

লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—৭৪১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং বাকী’তে সমাহিত হন(৩); এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আমি কোনো মতভেদ খুঁজে পাইনি।

--------------------------------------------

(১) কাশফ উজ-জুনুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬।

(২) প্রাগুক্ত।

(৩) ইবনে ফারহুন: নাসিহাতুল মুশাভির ওয়া তা'যিয়াতুল মুজাভির, পৃষ্ঠা ১৫১; ইবনে হাজার: আদ-দুরারুল কামিনাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩১৫; ইবনে ফাহাদ: লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ১১০।

(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌منهج المؤلف

كان منهج المطري في كتابه هذا واضحًا، فقد اعتمد فيه على الرواية بالسند، وطالت سلاسل بعض الأسانيد عنده، حتى استغرقت أسطرًا كثيرة واستوى في ذلك الخبر الطويل أو القصير، حتى إن إحدى نسخ الكتاب المخطوطة ملّ صاحبها من ذلك وحذف أسانيدها.

كما اعتمد على كثير من المصادر الأصيلة العامة أو الخاصة بتاريخ المدينة، ومثال الأولى الصحيحان، وبعض كتب السنة، وكتب الأنساب والتاريخ، مثل مؤلفات الزبير بن بكار والطبري وابن خلكان وابن كثير.

ومثال الثانية الاعتماد على ابن زبالة في تاريخه عن المدينة. ومحب الدين ابن النجار (ت 641 هـ) في كتابه «الدرة الثمينة في تاريخ المدينة» الذي اعتمد عليه كثيرًا، حتى إن حاجي خليفة وصف كتاب المطري بأنه ذيل على كتاب ابن النجار. كما أورد عددًا من المصادر الأخرى رجع إليها في الغالب مرة واحدة أو سمعها من أصحابها.

ويمكن رصد ملامح منهج المطري بما يأتي

- أنه يبدي رأيه في محاربة كثير من البدع التي تمارس داخل المسجد النبوي، ويصف مَنْ يقوم بها بالعامة أو الجهال، أو يصعفه بذكره بصيغة: «يقول عوام الناس»، وأحيانًا يقول: «لا يصح ذلك»، أو «كل هذا لم يرد به نقل فلا يعتمد عليه».
লেখকের পদ্ধতি

এই গ্রন্থে আল-মাতারীর পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। এতে তিনি সনদের ওপর ভিত্তি করে বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাসূত্র বা সনদের ধারাবাহিকতা এতোটাই দীর্ঘ হয়েছে যে তা অনেকগুলো লাইন জুড়ে বিস্তৃত ছিল। সংবাদটি দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত—উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টি একই ছিল। এমনকি এই গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকার এতে বিরক্ত হয়ে তার অনুলিপি থেকে সনদগুলো বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি মদিনার ইতিহাসের ওপর সাধারণ ও বিশেষায়িত অনেকগুলো মৌলিক উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন। প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), সুন্নাহর কিছু কিতাব এবং বংশলতিকা ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ; যেমন—আয-যুবায়ের বিন বাক্কার, আত-তাবারী, ইবনে খাল্লিকান ও ইবনে কাসীরের রচনাবলি।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো মদিনার ইতিহাস বিষয়ে ইবনে যুবালার গ্রন্থের ওপর নির্ভর করা এবং মুহিব্বুদ্দীন ইবনে নাজ্জারের (মৃত্যু: ৬৪১ হিজরী) 'আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফি তারিখিল মদিনাহ' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করা, যার ওপর তিনি প্রচুর নির্ভর করেছেন। এমনকি হাজী খলিফা আল-মাতারীর এই গ্রন্থকে ইবনে নাজ্জারের গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি আরও কিছু উৎসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেগুলোর দিকে তিনি সাধারণত একবারই ফিরে গিয়েছেন অথবা সরাসরি রচয়িতাদের নিকট থেকে সেগুলো শ্রবণ করেছেন।

আল-মাতারীর পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপভাবে চিহ্নিত করা যায়:

- তিনি মসজিদে নববীর ভেতরে প্রচলিত অনেক বিদআতের বিরুদ্ধে স্বীয় অভিমত ব্যক্ত করেন এবং যারা এগুলো করে তাদের সাধারণ লোক বা জাহেল হিসেবে অভিহিত করেন। কখনও কখনও তাদের বর্ণনাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করার সময় বলেন: "সাধারণ মানুষ এমনটি বলে থাকে", আবার কখনও বলেন: "এটি সঠিক নয়" অথবা "এর সপক্ষে কোনো বর্ণনা আসেনি, তাই এর ওপর নির্ভর করা যাবে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
- أن سكناه بالمدينة ومعايشته لكثير من أحداثها في عصره أتاحت له معرفة تاريخها ومعالمها عن قرب وكثب، مما أضفى على معرفته بها ومعلوماته حولها بعدًا تميز به عمن كتب عنها من المؤرخين الذين عاشوا خارجها أو الرحالة الذين زاروها في أوقات قصيرة، وإن لم يوظف ذلك بما فيه الكفاية.

- الوقوف بنفسه على كثير من المعالم والآثار الواردة في كتابه دون الاكتفاء بما ورد من وصفها في المصادر السابقة عليه، كما أتاحت له بعض رحلاته الوقوف على بعض المساجد والمعالم في طرق الحج والغزوات. وهي صفة ما زالت تعد مطلبًا مهمًا في الباحث؛ ولهذا نجده يقف ويعاين ويشاهد كثيرًا من الأماكن والمعالم من مساجد وآبار وقصور، ويعمد أحيانًا إلى قياس مسافاتها وأطوالها بذراعه.

- كان كثيرًا ما يميز كلامه من وصف أو شرح أو نقد عن المنقول عمن قبله بقوله: «قلت»، وهو ما سيدركه القارئ بوضوح.

- لم يذكر المؤلف شيئًا عن الأحوال السياسية والاقتصادية والإدارية في المدينة خلال عصره التزامًا بمقصده من تأليف كتاب يعنى بوصف معالمها وتحديد مواقعها وبقائها أو زوالها في عصره.
- মদিনায় তাঁর বসবাস এবং তাঁর সমসাময়িক বহু ঘটনার সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা তাঁকে মদিনার ইতিহাস ও এর নিদর্শনসমূহ অত্যন্ত নিবিড় ও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি তাঁর জ্ঞান ও তথ্যের ক্ষেত্রে এমন এক স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছে যা মদিনার বাইরে বসবাসকারী ঐতিহাসিক বা স্বল্প সময়ের জন্য সফরকারী পর্যটকদের থেকে তাঁকে পৃথক মর্যাদা দান করে, যদিও তিনি এর পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহার করেননি।

- পূর্ববর্তী উৎসসমূহে বর্ণিত বর্ণনার ওপর কেবল নির্ভর না করে বরং তাঁর গ্রন্থে উল্লিখিত অনেক নিদর্শন ও পুরাকীর্তি তিনি সশরীরে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তেমনিভাবে তাঁর কিছু সফর তাঁকে হজের পথ ও যুদ্ধাভিযানের বিভিন্ন মসজিদ ও নিদর্শনসমূহ সশরীরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যটি আজও একজন গবেষকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত। একারণেই আমরা তাঁকে অনেক স্থান ও নিদর্শন—যেমন মসজিদ, কূপ ও প্রাসাদসমূহ—স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করতে দেখি; এমনকি কখনও কখনও তিনি নিজ হাত দ্বারা সেগুলোর দূরত্ব ও দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতেন।

- তিনি প্রায়শই পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতির বিপরীতে নিজের বর্ণনা, ব্যাখ্যা বা সমালোচনাকে ‘আমি বলছি’ বলার মাধ্যমে পৃথক করতেন, যা পাঠক স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।

- লেখক তাঁর গ্রন্থে মদিনার নিদর্শনসমূহের বর্ণনা, সেগুলোর অবস্থান নির্ণয় এবং তাঁর যুগে সেগুলোর বিদ্যমান থাকা বা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার বিবরণ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। ফলে এই উদ্দেশ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তিনি তাঁর সমসাময়িক মদিনার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌نسخ الكتاب

توجد للكتاب نسخ متفرقة بين دور المخطوطات، وقد اعتمدت في تحقيقه على أقدم ثلاث نسخ منها، كتبت كلُّها خلال الثلاثين سنة التي تلت وفاة المؤلف عام 741 هـ، وأقدمها كتبت بعد وفاته بسنتين، أما الرابعة فهي تعود إلى القرن الثاني عشر، وهي نسخة نفيسة إلّا أنها متأخرة ومحذوفة الأسانيد، وقد نُص على ذلك في أولها، ولذلك فإنني لم أعتمد عليها وعددتها نسخة ثانوية. أما ما أشارت إليه نسخة الكتاب المطبوعة في آخرها بما يوحي أنها معتمدة على نسخة المؤلف بعبارة «قال المؤلف» وأن تاريخها هو 741 هـ فهو مصحف عن 743 لكي يتوافق مع وفاة المؤلف، فلم يثبت لدي ما أُشير إليه في ذيل النسخة، فيما اطلعت عليه من نسخ الكتاب، ويقيني أنه مجانبٌ للحقيقة.

والنسخ التي اعتمدتها في تحقيق الكتاب هي:

 

‌‌النسخة الأولى:

وهي نسخة مُذهَّبة كتبت بخط معتاد، ويعود تاريخ نسخها إلى يوم الإثنين الخامس من شهر شوال سنة 743 هـ أي بعد وفاة المؤلف بسنتين، وقد تمت مقابلتها وقتذاك كما ظهر في آخرها، وعليها عدد من التملكات وعدد صفحاتها (168) صفحة في كل منها خمسة عشر سطرًا، وهي محفوظة في مكتبة الشيخ عارف حكمت برقم (3815) ضمن مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنورة وظهر ختم مكتبة الشيخ عارف حكمت عليها في أكثر من ورقة مؤرخًا بعام 1267 هـ.
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ

পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রগুলোতে এই গ্রন্থের বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। এর সম্পাদনায় আমি সেগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এই তিনটিই ৭৪১ হিজরীতে লেখকের মৃত্যুর পরবর্তী ত্রিশ বছরের মধ্যে লিখিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমটি তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পর লেখা হয়েছে। আর চতুর্থটি দ্বাদশ শতাব্দীর, এটি একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি হওয়া সত্ত্বেও যেহেতু এটি পরবর্তী সময়ের এবং এতে সনদসমূহ বিলুপ্ত করা হয়েছে—যার উল্লেখ এর শুরুতেই রয়েছে—তাই আমি এর ওপর নির্ভর করিনি এবং একে একটি গৌণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি। আর এই গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণের শেষে যা ইঙ্গিত করা হয়েছে—যাতে মনে হয় যে এটি লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং যেখানে 'লেখক বলেছেন' কথাটি রয়েছে এবং এর তারিখ ৭৪১ হিজরী উল্লেখ করা হয়েছে—তা মূলত ৭৪৩-এর বিকৃত রূপ, যাতে তা লেখকের মৃত্যুসালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমি গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপিসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে এই সংস্করণের শেষে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমার নিকট প্রমাণিত হয়নি এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এটি সত্যের পরিপন্থী।

গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমি যেসব পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেগুলো হলো:

 

‌প্রথম পাণ্ডুলিপি:

এটি একটি সোনালি অলঙ্করণযুক্ত পাণ্ডুলিপি যা সাধারণ লিপিশৈলীতে লেখা হয়েছে। এর অনুলিপি তৈরির তারিখ হলো ৫ই শাওয়াল, ৭৪৩ হিজরী, সোমবার; অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর দুই বছর পর। এর শেষভাগে যেমনটি দেখা যায়, তৎকালীন সময়েই এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছিল। এতে বেশ কিছু মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬৮, যার প্রতিটিতে পনেরটি করে লাইন রয়েছে। এটি মদীনা মুনাওয়ারার কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির অন্তর্গত শায়খ আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে ৩৮১৫ নম্বর সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। শায়খ আরিফ হিকমত লাইব্রেরির সিলমোহর এর একাধিক পৃষ্ঠায় দৃশ্যমান, যা ১২৬৭ হিজরী সনের।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهي أقدم نسخ الكتاب المتوافرة، وقد خلت من النقص والخرم وأجيزت مقابلة وسماعًا وقتذاك على نسخة المؤلف لقرب تاريخ نسخها فيما يبدو، وقد اعتمدت عليها وجعلتها أصلًا وأشرت لها بذلك في ثنايا الكتاب.

 

‌‌النسخة الثانية:

وهي نسخة خزائنية كتبت بخط نسخ جيد بعناوين كبيرة ملونة يبلغ عدد صفحاتها (163)، وعدد أسطر كل منها (15) سطرًا وشكل كثير من كلماتها. تم نسخها في القاهرة في يوم الأربعاء الرابع من شهر ربيع الأول سنة 759 هـ وفي السنة التالية تمت مقابلتها بأصلها بالمسجد النبوي بالمدينة على يد ابن المؤلف عبد الرحمن بن محمد بن أحمد المطري في يوم الأربعاء الخامسِ عشر من شهر شوال سنة 760 هـ.

وهي في مكتبة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة برقم (9316) وقد اعتمدت عليها في كل مراحل تحقيق الكتاب وأفدت منها كثيرًا في ضبط كثير من كلماته ورمزت لها بحرف (ب) في ثنايا الكتاب.

 

‌‌النسخة الثالثة:

وهي نسخة تعود إلى أواخر سنة 772 هـ وقد نسخت في البداية بالمدينة المنورة على يد أبي محمد عبد الله الأصفهاني وذيلت بما يفيد قراءتها في مجلس واحد بغرض المقابلة وطلب الثواب للمؤلف فيما يبدو. وقد كتبت بخط معتاد، ثم تعرضت إلى خرم في مواضع كثيرة فأكملت بخط آخر معتاد أصغر حجمًا. يبلغ عدد صفحاتها (140) صفحة تراوح عدد أسطر صفحاتها بين (19) و (21) سطرًا، عليها عدد من الأختام الحديثة تُثبت وقف السيد الصافي لها على المكتبة بالمدينة سنة 1327 هـ.
এটি বইটির লভ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। এটি কোনো প্রকার ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। দৃশ্যত এর প্রতিলিপি করার তারিখ মূল রচনার কাছাকাছি হওয়ায় তৎকালীন সময়ে এটি লেখকের পাণ্ডুলিপির সঙ্গে তুলনা এবং শ্রবণের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল। আমি এর ওপর নির্ভর করেছি এবং এটিকে মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং বইয়ের বিভিন্ন স্থানে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

 

‌‌দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটি একটি রাজকীয় পাণ্ডুলিপি যা চমৎকার নাসখ লিপিতে বড় বড় রঙিন শিরোনামসহ লিখিত। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬৩ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ১৫। এর অধিকাংশ শব্দেই হরকত প্রদান করা হয়েছে। এটি ৭৫৯ হিজরি সনের ৪ঠা রবিউল আউয়াল বুধবার কায়রোতে অনুলিপি করা হয়েছিল। পরবর্তী বছর ৭৬০ হিজরি সনের ১৫ই শাওয়াল বুধবার মদিনার মসজিদে নববীতে লেখকের পুত্র আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাতারীর হাতে এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছিল।

এটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ৯৩১৬ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে। বইটির সম্পাদনার প্রতিটি পর্যায়ে আমি এর ওপর নির্ভর করেছি এবং এর অনেক শব্দের সঠিক রূপ নির্ণয়ে এটি থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি এবং বইয়ের মধ্যে একে 'বা' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

‌‌তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:

এই পাণ্ডুলিপিটি ৭৭২ হিজরি সনের শেষের দিকের। শুরুতে এটি মদিনা মুনাওয়ারায় আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ইসফাহানির হাতে অনুলিপিত হয়। এর শেষে এমন টীকা যুক্ত আছে যা থেকে বোঝা যায় যে, দৃশ্যত পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখা এবং লেখকের জন্য সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে এটি এক মজলিসে পাঠ করা হয়েছিল। এটি সাধারণ লিপিতে লিখিত ছিল, তবে পরবর্তীকালে অনেক স্থানে অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ায় অন্য একটি ছোট আকারের সাধারণ লিপিতে তা পূর্ণ করা হয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪০ এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ১৯ থেকে ২১-এর মধ্যে। এতে বেশ কিছু আধুনিক সিলমোহর রয়েছে যা ১৩২৭ হিজরি সনে মদিনার লাইব্রেরিতে সাইয়্যেদ আস-সাফী কর্তৃক এটি ওয়াকফ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
كما توجد صور منها في مركز خدمة السنة والسيرة النبوية، ومركز بحوث ودراسات المدينة بالمدينة المنورة، وقد استعنت بها في تحقيق كتاب ورمزت لها بحرف (ص).

والنسخ الثلاث قليلة الاختلاف كما سيلحظ القارئ وهذا يعود إلى حسن مقابلتها وإجازتها وقتذاك، إلّا أنها تتفاوت في إيراد التتمة التي نص على عدم دخولها في السماع فقد وردت في النسخة الأولى في آخر الكتاب وجاءت في النسخة الثانية والثالثة في مناسبتها في وسط الكتاب، إلَّا أنني التزمت بإيرادها وفق مكانها في النسخة الأولى عندما جعلتها أصلًا كما أن نسخًا متأخرة للكتاب سارت على ذلك.

 

‌‌النسخة الرابعة:

وهي نسخة نفيسة الشكل مُذَهَّبة خطها نسخ إلّا أنها متأخرة، وتعود إلى القرن الثاني عشر الهجري فيما يبدو. عليها أختام عدة لمكتبة الشيخ عارف حكمت تعود إلى عام 1267 هـ باستثناء ختم صفحة العنوان فهو يعود إلى سنة 1266 هـ. وما زالت محفوظة في مكتبته ضمن مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنورة. وهي محذوفة الأسانيد الأصلية في الكتاب، وقد نص على ذلك في ورقتها الثانية، وتكرر فيها إيراد تتمة الكتاب المشار إليها آنفًا مرة في وسطها ومرة في آخرها، كما ذيلت بتعليق ذكر أنه يضاهي موضوع الكتاب. وقد عددتها نسخة ثانوية رجعت لها في أحيان قليلة في رسم بعض الكلمات أو شكلها.
তেমনিভাবে এর অনুলিপিগুলো মদীনা মুনাওয়ারার সুন্নাহ ও সীরাত সেবা কেন্দ্র এবং মদীনা গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রে সংরক্ষিত রয়েছে। আমি কিতাবটির তাহকীকে (সম্পাদনায়) সেগুলোর সাহায্য নিয়েছি এবং সেগুলোকে (সোয়াদ) 'ص' অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

এই তিনটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ খুবই সামান্য, যা পাঠক লক্ষ্য করবেন। এর কারণ হলো তৎকালীন সময়ে সেগুলোর উত্তম মুকাবিলা (মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা) এবং ইজাযত (অনুমোদন)। তবে 'তাতিম্মাহ' বা পরিশিষ্ট যুক্ত করার ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, যে অংশটি শ্রবণের (সামা‘) অন্তর্ভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে কিতাবের শেষে এসেছে, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাণ্ডুলিপিতে প্রাসঙ্গিক স্থানে কিতাবের মাঝখানে এসেছে। তবে আমি প্রথম পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী এর স্থান নির্ধারণের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি, যেমনটি কিতাবের পরবর্তী পাণ্ডুলিপিগুলোতেও করা হয়েছে।

 

‌‌চতুর্থ পাণ্ডুলিপি:

এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি, যা স্বর্ণখচিত এবং নসখ লিপিতে লেখা। তবে এটি পরবর্তী সময়ের, যা আপাতদৃষ্টিতে হিজরী দ্বাদশ শতাব্দীর বলে মনে হয়। এতে শায়খ আরিফ হিকমাতের লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি সিলমোহর রয়েছে যা ১২৬৭ হিজরী সালের, তবে শিরোনাম পৃষ্ঠার সিলমোহরটি ১২৬৬ হিজরী সালের। এটি এখনও মদীনা মুনাওয়ারার কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত তাঁর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। এই কপিতে কিতাবের মূল সনদগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং এর দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পূর্বে উল্লিখিত কিতাবের পরিশিষ্ট অংশটি একবার মাঝখানে এবং একবার শেষে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এছাড়া শেষে একটি টীকা যুক্ত করা হয়েছে যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি কিতাবের বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি এটিকে একটি গৌণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি এবং খুব অল্প ক্ষেত্রে কিছু শব্দের বানান বা হরকত যাচাইয়ের জন্য এর সাহায্য নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌منهج التحقيق

اتبعت في تحقيق الكتاب القواعد العامة في تحقيق المخطوطات وبالذات التاريخية، وقمت بالخطوات الآتية:

- أولًا: إخراج نص الكتاب على أقرب مراد للمؤلف بالاعتماد على أقدم نسخة وهي التي تعود إلى عام 43 هـ أي بعد انتهاء المؤلف من كتابه بثلاث سنوات ووفاته بسنتين، ومقابلتها على النسخ الأخرى، وهي نسخ أيضًا قريبة منها جدًّا كما سبقت الإشارة، وأثبتُ الاختلاف بينها في الهوامش.

- ثانيًا: رجعت إلى المصادر التي نقل منها المؤلف، ووثقت معلوماته عنها بالجزء والصفحة وقابلت ما أخذه بمصادره الأصلية، وقد ساعدني في ذلك أن المؤلف اعتمد اعتمادًا كبيرًا على ابن النجار (ت 643 هـ) في كتابه الدرة الثمينة.

- ثالثًا: خرجت الأحاديث والآثار الواردة في الكتاب، وقد استغرق ذلك وقتًا وجهدًا، فقد تساهل المؤلف في ذكر كثير من الأحاديث الضعيفة في فضائل الأمكنة والمعالم، وقد اكتفيت بالحكم على نصوص الروايات الواردة في المتن، ولم أُعْن بتراجم رجال السند الواردين في تلك الروايات بعد معرفة حال متونها، وهي سلاسل طويلة أثقلت متن الكتاب مما دعا إلى حذفها من إحدى نسخه المخطوطة. ولم أشأ أن أثقل بها هوامشه.
সম্পাদনা পদ্ধতি

আমি কিতাবটির সম্পাদনায় পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার সাধারণ নিয়মাবলি, বিশেষ করে ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছি:

- প্রথমত: কিতাবের পাঠ্যকে লেখকের মূল উদ্দেশ্যের সম্ভাব্য নিকটতম রূপে বিন্যস্ত করা। এ ক্ষেত্রে প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা ৪৩ হিজরী সালের; অর্থাৎ লেখকের গ্রন্থটি রচনার কাজ শেষ করার তিন বছর পর এবং তাঁর ইন্তেকালের দুই বছর পরের। এই পাণ্ডুলিপিটিকে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেগুলোর বর্ণনা পূর্বে গত হয়েছে যে সেগুলোও এর খুব কাছাকাছি সময়ের। আমি এগুলোর মধ্যকার পার্থক্যগুলো পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।

- দ্বিতীয়ত: লেখক যে সকল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন আমি সেই উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি এবং খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ তথ্যের উৎস নিশ্চিত করেছি। লেখক তাঁর মূল উৎস থেকে যা গ্রহণ করেছেন তার সাথে আমি মিলিয়ে দেখেছি। এ ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছে যে, লেখক ইবনে আন-নাজ্জার (মৃত্যু: ৬৪৩ হি.)-এর ‘আদ-দুররাহ আল-ছামিনাহ’ কিতাবের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন।

- তৃতীয়ত: কিতাবে উল্লিখিত হাদিস ও আসারসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি। এতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম ব্যয় হয়েছে, কারণ লেখক বিভিন্ন স্থান ও নিদর্শনের ফজিলত বর্ণনায় বহু দুর্বল হাদিস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করেছেন। আমি কেবল মূল পাঠ্যে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর হুকুম বর্ণনার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি। বর্ণনার পাঠ্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমি সেই বর্ণনাগুলোর সনদে থাকা রাবীদের জীবনী আলোচনার পেছনে সময় ব্যয় করিনি; কারণ এগুলো ছিল দীর্ঘ ধারাবাহিকতা যা কিতাবকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল এবং সে কারণে একটি পাণ্ডুলিপি থেকে এগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি পাদটীকাসমূহকেও এই দীর্ঘ বিবরণের মাধ্যমে ভারাক্রান্ত করতে চাইনি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
- رابعًا: عرَّفت ببعض الأعلام وبالأمكنة الواردة في النص وقارنت بين مواقعها وأسمائها القديمة والحديثة وما آلت إليه في هذا العصر، وألحقت به خرائط عدة في الملحق تساعد في تصور المعالم التي ذكرها المؤلف ووقفتُ على العديد منها سواء في داخل المدينة أم خارجها.

- خامسًا: شرحت كثيرًا من المصطلحات والألفاظ التي تصعب على القارئ، وبيَّنت معانيها ودلالاتها، ومناسبتها في المتن.

- سادسًا: ضبطت كثيرًا من كلام النص الصعبة أو التي تحتمل أن تقرأ بصور عدة وكذلك بعض الأعلام وأسماء المواقع، وأشرت أحيانًا في الهوامش إلى طريقة كتابتها في الأصل.

- سابعًا: ورد في المتن مواطن غموض أو زيادة إيضاح أو احتياج رابط ونحو ذلك مما يتطلبه السياق فوضعت ما يناسبه في المتن بين قوسين معقوفتين بالاعتماد على مصادر المؤلف في الغالب.

- ثامنًا: حررت النص وفق ضوابط الكتابة الحديثة المعهودة للقارئ في هذا العصر، واستخدمت الكثير من الفواصل والنقاط وبداية الفقرات وغيرها من علامات الترقيم.

- تاسعًا: أبقيت عناوين الكتاب وترتيب مادته كما وضعها مؤلفه دون تغيير حتى إنني التزمت بحجم بعض أسماء المعالم أو الكلمات بحروف أكبر من سواها تبعًا لما وردت به في الأصل.

وقد بذلت كل خطوة أو مرحلة من مراحل تحقيق الكتاب جهدي قدر الإمكان، واعتمدت على مصادرها المتخصصة التزامًا بالمبدأ المنهجي الثابت وهو أخذ المعلومة المناسبة من المصدر المناسب.
- চতুর্থত: আমি পাঠ্যে উল্লেখিত কিছু ব্যক্তিত্ব এবং স্থানসমূহের পরিচিতি প্রদান করেছি এবং সেগুলোর প্রাচীন ও আধুনিক নাম ও অবস্থানের মাঝে তুলনা করে বর্তমান যুগে সেগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছি। এছাড়া আমি পরিশিষ্টে বেশ কিছু মানচিত্র যুক্ত করেছি যা লেখকের বর্ণিত নিদর্শনসমূহ অনুধাবনে সহায়ক হবে এবং আমি শহরের ভেতরে ও বাইরে এগুলোর অনেকগুলো সশরীরে পরিদর্শন করেছি।

- পঞ্চমত: আমি এমন অনেক পরিভাষা ও শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছি যা পাঠকের জন্য দুর্বোধ্য হতে পারে এবং মূল পাঠে সেগুলোর অর্থ, তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট করেছি।

- ষষ্ঠত: আমি পাঠ্যের অনেক কঠিন শব্দ বা যে শব্দগুলো একাধিক উপায়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলোর সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করে দিয়েছি। একইভাবে কিছু ব্যক্তিত্ব ও স্থানের নামও বিন্যস্ত করেছি এবং ক্ষেত্রবিশেষে পাদটীকায় মূল পাণ্ডুলিপিতে সেগুলো যেভাবে লেখা ছিল তা উল্লেখ করেছি।

- সপ্তমত: মূল পাঠের যেখানে অস্পষ্টতা ছিল অথবা অধিকতর ব্যাখ্যা কিংবা সংযোগকারী শব্দের প্রয়োজন ছিল, সেখানে প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী যথাযথ শব্দ থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে যুক্ত করেছি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেখকের ব্যবহৃত মূল উৎসসমূহের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

- অষ্টমত: আমি বর্তমান যুগের পাঠকের নিকট পরিচিত আধুনিক লিখনশৈলী অনুযায়ী পাঠ্যটি বিন্যস্ত করেছি এবং প্রচুর কমা, দাঁড়ি, অনুচ্ছেদ শুরু করা ও অন্যান্য বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেছি।

- নবমত: আমি গ্রন্থের শিরোনামসমূহ এবং এর বিষয়বস্তুর বিন্যাস লেখকের মূল বিন্যাস অনুযায়ী অপরিবর্তিত রেখেছি। এমনকি মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী কোনো কোনো নিদর্শনের নাম বা শব্দ অন্য অক্ষরের তুলনায় বড় হরফে রাখার বিষয়টিও অনুসরণ করেছি।

আমি এই কিতাবটির সম্পাদনার প্রতিটি ধাপে ও স্তরে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং যথাযথ উৎস থেকে সঠিক তথ্য গ্রহণের চিরাচরিত নীতি অনুসরণ করে বিশেষায়িত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وحرصت ألَّا أثقل الكتاب بهوامش وشروح وتراجم تثقل متنه وتطغى عليه، فقد اختصرت في التخريج والتعريفات بما يتناسب وحجم المتن، ويكون محققًا للفائدة دونما إسهاب، وهو ما أراه في منهج تحقيق الكتب التاريخية والأدبية ونحوها.
এবং আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন গ্রন্থটিকে এমন সব টীকা, ব্যাখ্যা ও জীবনী দ্বারা ভারাক্রান্ত না করি যা এর মূল পাঠের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তাই আমি উৎস নির্দেশ ও সংজ্ঞাসমূহ প্রদানের ক্ষেত্রে মূল পাঠের কলেবরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংক্ষেপ করেছি, যেন কোনো বাহুল্য ছাড়াই উপকার সাধিত হয়। ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক ও এই জাতীয় গ্রন্থ সম্পাদনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমি এটিকেই যুক্তিযুক্ত মনে করি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

والحمد لله وحده، وبه نستعين(1).

الحمد لله(2) الذي شرف طَيْبَةَ الطيِّبَةَ بحلول مصطفاه، وخصها بشريف سَكنِه، ووَرِيفِ ظل وطنه، وكريم مثواه، وجعلها دار هجرته الذي يأرِزُ(3) الإيمان إليها عند اقتراب الأمر وبلوغ منتهاه، وأراه بثبات أوسها، ووثبات خَزْرَجِهَا، من النصر ما قَرَّتْ به عيناه، وأظهر فيه دينه الذي أتم به نعمته على خلقه، وأكمله لهم وارتضاه. أحمده ولا يحمد على النعم سواه، وأشكره على ما خَوّله من جزيل كرمه وأسداه، وأشهد أن لا إلَهَ إلَّا الله وحده لا شريك له نعم الرب ونعم الحسب نِعْمَ الإلَه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي اختاره مِنْ خَلقه واجتباه، وكَرّمه بعظيم خُلقه وحَبَاه، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه صلاة دائمة بدوام ملك الله.

--------------------------------------------

(1) في (ب) بسم الله الرحمن الرحيم وصلى الله على محمد، وفي (ص) حذفت عبارة الحمد لله وما بعدها.

(2) بدئت كل من (ب) و (ص) بعبارة قال الشيخ الإمام العالم العامل، ثم ذكر أربعة أسطر في أوصاف المؤلف وذكر كنيته واسمه ولقبه والدعاء له بالرحمة.

(3) يأرز: أي ينضم إليها، ويجتمع بعضه إلى بعض فيها، كما جاء في هامش صفحة الأصل وهو صحيح، واللفظة مأخوذة من الحديث كما سيأتي بعد قليل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি(১)।

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মনোনীত ব্যক্তিকে (মুস্তফা) সেখানে অবস্থানের মাধ্যমে তাইবা আত-তইয়িবাহকে (মদিনা) সম্মানিত করেছেন; এবং একে তাঁর মহিমান্বিত আবাসস্থল, তাঁর স্বদেশের সুশীতল ছায়া এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ বিশ্রামস্থল হিসেবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তিনি একে তাঁর হিজরতস্থলে পরিণত করেছেন, যেখানে বিষয়ের পরিসমাপ্তি ও শেষ সময় ঘনিয়ে আসলে ঈমান প্রত্যাবর্তন করবে(৩)। তিনি তাঁকে আওস গোত্রের অবিচলতা এবং খাযরাজ গোত্রের বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন বিজয় দেখিয়েছেন যা তাঁর চক্ষু শীতল করেছে। তিনি এর মাধ্যমে তাঁর সেই দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন, যার দ্বারা তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর স্বীয় নিআমত পূর্ণ করেছেন, তাঁদের জন্য একে পরিপূর্ণ করেছেন এবং একে জীবনবিধান হিসেবে পছন্দ করেছেন। আমি তাঁরই প্রশংসা করি, আর নিআমতসমূহের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য কেউ প্রশংসার যোগ্য নয়। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি তাঁর সুমহান করুণা থেকে তিনি যা কিছু দান করেছেন এবং প্রদান করেছেন তার জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি কতই না উত্তম রব, কতই না উত্তম সাহায্যকারী এবং কতই না উত্তম ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল, যাকে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে নির্বাচন করেছেন ও মনোনীত করেছেন; তাঁকে সুমহান চরিত্রের মাধ্যমে ভূষিত ও সম্মানিত করেছেন। আল্লাহর রাজত্ব স্থায়িত্বের ন্যায় তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সর্বদা দরুদ ও রহমত বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) 'বা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক মুহাম্মদের ওপর। আর 'সাদ' পাণ্ডুলিপিতে 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য' এবং এর পরবর্তী অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে।

(২) 'বা' এবং 'সাদ' উভয় পাণ্ডুলিপি এই বাক্য দ্বারা শুরু হয়েছে: শাইখ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম ও আমলকারী ব্যক্তি বলেছেন... এরপর লেখকের গুণাবলি বর্ণনায় চার লাইন অতিবাহিত হয়েছে এবং তাঁর উপনাম, নাম ও উপাধি উল্লেখ করে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করা হয়েছে।

(৩) 'يأرز' (ইয়ায়েরিযু) অর্থ: এতে সম্মিলিত হবে এবং এতে একে অপরের সাথে মিলিত হবে; যেমনটি মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় এসেছে এবং এটিই সঠিক। শব্দটি হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে যা সামনে শীঘ্রই আসবে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وبعد فإن العناية بالمدينة الشريفة متعينة، والرعاية لعظيم حرمتها لكل خير متضمنة، والوسيلة بنشر شرفها شافعة، والفضيلة لأشتات معاهدها جامعة، لأنها طابة(1) ذات الحجرة المُفَضلة، ودار الهجرة المُكَمَّلة، وحَرَم النبوة المُشرفة بالآيات المُنزَّلة، والمسجد الذي تشد إليه الرِّحال المُرقِلَة(2). والبقعة التي تهبط(3) الأملاك عليها، والمدينة التي يأْرِزُ الإيمان إليها(4)، والمسجد الذي تفوح أرواح نجد من ثياب زائريه(5)، والمورد الذي لا يَروى(6) من الشوق غُلّة(7) واردِيه، والعَرصة(8) التي خَصَّها الله تعالى عز وجل بالنبي الأطهر، والحُوْمة(9) التي فيها الروضة المُقدسة، بين القبر والمنبر، والتربة التي سَمت بساكنها على الآفاق، وفَضُلَتْ بِقاعَ الأرض على الإطلاق(10)، فهي كما قيل:

جَزَم الجميع بأنّ خيرَ الأرض ما … قد حاط ذاتَ المُصطفى وحَواها

--------------------------------------------

(1) طابة: بتخفيف الباء اسم من أسماء المدينة بمعنى طيِّبة، وطابة وطيبة بإسكان الوسط وطيبة بتشديده كلها من أسمائها متشابهة في اللفظ والمعنى، وفي الحديث الصحيح «إن الله سمى المدينة طابة». مسلم: صحيحة ج 2 ص 1007؛ السمهودي ج 1 ص 16.

(2) المرقلة: أي المسرعة.

(3) في أيمن هذه الصفحة بالأصل تعليق باللغة التركية، وإشارة إلى أصل الفعل يأرز في الصحاح للجوهري.

(4) هذه الجملة مأخوذة من الحديث الصحيح «إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها». البخاري: ج 2 ص 663

(5) اشتهرت نجد عند العرب بروائح زهورها البرية من خُزامى ونَفْل ونحوها، والمؤلف يشير إلى ذلك.

(6) في (ب) و (ص) لا تروي.

(7) غلة: أي عطش. الفيروزآبادي: القاموس المحيط ج 3 ص 412.

(8) العرصة: الأرض الواسعة بين الدور والجبال ونحوها ومعناها هنا البقعة.

(9) الحومة: تأتي بالفتح وصف للرمل الكثير أو أشد موضع فيه أي بؤرته، وتأتي بالضم بمعنى البِلَّور. المصدر السابق ج 3 ص 746.

(10) بالغ المؤلف هنا في الوصف، وكان ينبغي عليه أن يستثني مكة، فالثابت شرعًا أنَّها أحب البقاع إلى الله.
অতঃপর, সম্মানিত মদিনার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া অপরিহার্য, এবং এর মহান পবিত্রতার রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিটি কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত। এর মর্যাদা প্রচারের মাধ্যমটি সুপারিশকারী এবং এর বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থানের মাহাত্ম্য একত্রিতকারী; কারণ এটিই হলো তাবাহ(১) যা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী প্রকোষ্ঠ (হুজরা) বিশিষ্ট এবং পরিপূর্ণ হিজরতের আবাসভূমি, এবং নবুওয়তের হারাম যা অবতীর্ণ আয়াতসমূহ দ্বারা সম্মানিত, এবং সেই মসজিদ যার দিকে দ্রুতগামী আরোহীরা(২) সফর করে। এটি সেই ভূখণ্ড যেখানে ফেরেশতারা অবতরণ করেন(৩), এবং সেই শহর যেদিকে ঈমান প্রত্যাবর্তন করে(৪), এবং সেই মসজিদ যার জিয়ারতকারীদের পোশাক থেকে নজদ এলাকার সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হয়(৫), এবং এমন এক প্রস্রবণ যেখানকার আগন্তুকদের(৬) পিপাসা(৭) তার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে নিবৃত্ত হয় না। এটি সেই প্রান্তর(৮) যাকে মহান আল্লাহ অতি পবিত্র নবী দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, এবং সেই স্থান(৯) যেখানে পবিত্র রওজাহ অবস্থিত—কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে। এটি সেই মাটি যা তার অধিবাসীর কারণে দিগন্ত ছাড়িয়ে উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে এবং সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর সকল ভূখণ্ডের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে(১০)। যেমনটি বলা হয়েছে:

সকলেই এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, পৃথিবীর সর্বোত্তম অংশ হলো তা … যা মুস্তফার পবিত্র সত্তাকে বেষ্টন করে আছে এবং তাঁকে ধারণ করেছে।

--------------------------------------------

(১) তাবাহ: ‘বা’ বর্ণে হালকা উচ্চারণসহ এটি মদিনার অন্যতম নাম যার অর্থ পবিত্র। তাবাহ, ত্বীবাহ (মাঝখানের বর্ণে সুকুনসহ) এবং ত্বীব্বাহ (তাসদিদসহ)—সবগুলোই এর নাম, যা শব্দ ও অর্থে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। সহিহ হাদিসে এসেছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মদিনার নাম তাবাহ রেখেছেন।’ মুসলিম: সহিহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০০৭; সামহুদি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬।

(২) আল-মুরকিলাহ: অর্থাৎ দ্রুতগামী।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপির এই পৃষ্ঠার ডানে তুর্কি ভাষায় একটি টীকা রয়েছে এবং জওহরীর ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে ‘ইয়াহরিজু’ ক্রিয়ামূলের মূল রূপের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(৪) এই বাক্যটি সহিহ হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে।’ বুখারি: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৬৩।

(৫) আরবদের কাছে নজদ এলাকাটি এর বুনো ফুল যেমন খুজামা, নাফল প্রভৃতির সুগন্ধির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল, লেখক সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

(৬) (বা) এবং (সোয়াদ) পাণ্ডুলিপিতে ‘লা তারউয়ি’ এসেছে।

(৭) গুল্লাহ: অর্থাৎ পিপাসা। ফিরোজাবাদী: আল-কামুস আল-মুহিত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১২।

(৮) আল-عرصة (আরসাহ): ঘরবাড়ি ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী প্রশস্ত ভূমি, এখানে এর অর্থ হলো ভূখণ্ড।

(৯) আল-حومة (হুমাহ): জবর সহযোগে বালুর স্তূপ বা তার গভীরতম অংশ বুঝায়; আর পেশ সহযোগে ‘স্ফটিক’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূর্বোক্ত উৎস, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৪৬।

(১০) লেখক এখানে বর্ণনায় অতিশয়োক্তি করেছেন, অথচ তাঁর উচিত ছিল মক্কাকে ব্যতিক্রম রাখা; কেননা শরয়িভাবে প্রমাণিত যে মক্কাই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَنَعَمْ لَقد صَدَقوا بِساكنها عَلَتْ … كالنفسِ حين زكتْ زكا مأواها(1)

وَقد خلتْ مِمنْ يَعرِفُ معالمَها وأخبارَهَا، ويعرِفُ معاهِدَهَا وآثارَها، فَذكرتُ في هذا المُختصر(2) من ذلك ما عرفتهُ، وبعض ما ورد في فضلِها وأسندته، رجاء ثواب الله العميم، وشفاعة نبيه الكريم، وأن يجعلنا من خِيار أمته ويحشرَنا معه في زمرته، غير خزايا ولا نادمين، ولا مُغيّرِين، ولا مبدلين آمين آمين آمين، وسميته التعريفَ بما أَنْسَتْ الهجرةُ من مَعَالِمِ دار الهِجرةَ(3).

--------------------------------------------

(1) هذان البيتان من قصيدة طويلة مطلعها:

دار الحبيب أحق أن تهواها … وتحن من طرب إلى ذكراها

لعبد الله بن عمران البسكري نسبة إلى بسكرة بلدة بالجزائر، جاور بالمدينة مدة وتوفي بها سنة 713 هـ. ابن حجر: الدرر الكامنة ج 2 ص 385. وانظر القصيدة كاملة عند السمهودي: وفاء الوفاء ج 4 ص 1420

(2) وصف المؤلف كتابه بأنه مختصر تواضعًا كعادة العلماء. وفي هذا رد على من يقول بأنه ذيل على كتاب الدر الثمينة لابن النجار، إذ إن المؤلف لم يذكر ذلك البتة.

(3) هذا هو اسم الكتاب كما أراده له مؤلفه، وهو يتفق مع ذكره في صفحة العنوان في الأصل، ولم ترد فيه لفظة كتاب كما جاء في نسخة (ب) كما أنه لا يتفق مع وصف بعضهم له بتاريخ المطري.
হ্যাঁ, তারা সত্যই বলেছেন যে, এর অধিবাসীর কারণে এটি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে … ঠিক যেমন আত্মা যখন পবিত্র হয়, তখন তার বাসস্থানও পবিত্র হয়ে যায়(১)

এখন এটি এমন লোকদের থেকে শূন্য হয়ে গেছে যারা এর নিদর্শনসমূহ ও সংবাদ সম্পর্কে জানতেন এবং এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও প্রত্নচিহ্নসমূহ চিনতেন। তাই আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে(২) সেই সব বিষয় উল্লেখ করেছি যা আমি জানি এবং এর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বর্ণনা ও সেগুলোর সনদ প্রদান করেছি। আমি আল্লাহর ব্যাপক সওয়াব এবং তাঁর সম্মানিত নবীর শাফায়াতের আশা রাখি। আরও আশা রাখি যে, তিনি যেন আমাদের তাঁর শ্রেষ্ঠ উম্মতভুক্ত করেন এবং তাঁর দলের সাথে আমাদের হাশর করেন; লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত হওয়া ছাড়া এবং (দ্বীনকে) পরিবর্তন বা বিকৃত করা ছাড়া। আমীন, আমীন, আমীন। আর আমি এর নাম রেখেছি: ‘আত-তারিফু বিমা আনসাতিল হিজরাতু মিন মাআলিমি দারিল হিজরাহ’ (হিজরতের বাসভূমির নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে যা হিজরত ভুলিয়ে দিয়েছে তার পরিচিতি)(৩)।

--------------------------------------------

(১) এই কবিতাংশ দুটি একটি দীর্ঘ কাসিদা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার শুরু হলো:

প্রিয়তমার ঘরই অধিক হকদার যে তুমি তাকে ভালোবাসবে … এবং আনন্দের সাথে তার স্মৃতির প্রতি ব্যাকুল হবে

এটি আব্দুল্লাহ বিন ইমরান আল-বিসকরি-এর রচনা; বিসকরা আলজেরিয়ার একটি শহর। তিনি মদিনায় দীর্ঘকাল অবস্থান করেছিলেন এবং ৭১৩ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে হাজার: আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা। পুরো কাসিদাটি দেখুন আস-সামহুদি রচিত: ওফাউল ওফা, ৪র্থ খণ্ড, ১৪২০ পৃষ্ঠা।

(২) লেখক বিনয়বশত তাঁর গ্রন্থটিকে ‘সংক্ষিপ্ত’ (মুখতাসার) বলে অভিহিত করেছেন, যেমনটি আলেমদের রীতি। এটি তাদের কথার প্রতিবাদ যারা বলে থাকেন যে এটি ইবনুল নাজ্জার রচিত ‘আদ-দুররাতুস সামিনাহ’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট, কারণ লেখক নিজে এ কথা কোথাও উল্লেখ করেননি।

(৩) এটিই বইয়ের সেই নাম যা লেখক স্বয়ং নির্ধারণ করেছেন এবং এটি মূল পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পৃষ্ঠার বিবরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে ‘কিতাব’ শব্দটি যুক্ত নেই যেমনটি পাণ্ডুলিপি ‘খ’-তে এসেছে। আবার এটি কারো কারো দেওয়া ‘তারিখুল মাতারি’ নামকরণের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌ما جاء في فضل المدينة من صحيح البخاري

حدثنا الشيخ الإمام العالم أمين الدين أبو اليمن عبد الصمد بن أبي الحسن عبد الوهاب بن عساكر رحمه الله ثنا الشيخ الإمام أبو عبد الله الحسين بن المبارك الزبيدي البغدادي حدثنا شيخ الإسلام أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب، ثنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر الداوودي، حدثنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حَمويْه السرخسي، ثنا الإمام أبو عبد الله محمد بن يوسف ابن بشر بن مطر الفَرْبري، ثنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري رحمه الله، قال: حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا(1) مالك عن يحيى بن سعيد قال: سمعت أبا الحباب سعيد بن يسار يقول: سمعت أبا هريرة رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «أُمرت بقرية تأكل القُرى يقولون يثرب وهي المدينة تنفي الناس كما ينفي الكيرُ خبَثَ الحديد»(2). وبه(3) إلى البخاري(4)، حدثنا محمد بن بشار، ثنا عبد الرحمن، ثنا شيبان(5)، عن الأعمش، عن إبراهيم التيمي، عن أبيه، عن علي رضي الله عنه قال: «ما عندنا شيء إلَّا كتاب الله وهذه الصحيفة».

--------------------------------------------

(1) في (ب) و (ص) أنا. أخبرنا مختصرة.

(2) البخاري ج 2 ص 662.

(3) وبه أي بالصحيح.

(4) هكذا بالأصل، وفي (ب) بدون كلمة البخاري وهو الأقرب.

(5) في الأصل شيبان وهو خطأ وصوابه سفيان أي سفيان الثوري العالم المشهور كما في صحيح البخاري.
সহীহ বুখারী থেকে মদীনার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইখ, ইমাম, আলিম, আমীনুদ্দীন আবু আল-ইয়ামান আবদুস সামাদ বিন আবুল হাসান আবদুল ওয়াহাব বিন আসাকির (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইখ, ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুবারক আজ-জুবাইদী আল-বাগদাদী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইখুল ইসলাম আবু আল-ওয়াক্ত আবদুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফর আদ-দাউদী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হামউইয়াহ আস-সারখাসী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ ইবনে বিশর বিন মাতার আল-ফিরাবরী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন(১), তিনি বলেন: আমি আবুল হুবাব সাঈদ বিন ইয়াসারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: «আমি এমন এক জনপদের দিকে (হিজরতের জন্য) আদিষ্ট হয়েছি যা অন্যান্য জনপদকে গ্রাস করবে। লোকেরা একে ইয়াসরিব বলে, অথচ তা হলো মদীনা। এটি (খারাপ) মানুষকে এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়»(২)। এবং সেই একই সূত্রে(৩) আল-বুখারী পর্যন্ত(৪); আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন বাশার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইবান(৫) হাদীস বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব এবং এই সহীফা (লিপি) ব্যতীত আর কিছুই নেই»।

--------------------------------------------

(১) (ব) ও (স) পাণ্ডুলিপিতে 'আনা' রয়েছে। যা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

(২) বুখারী, ২য় খণ্ড, ৬৬২ পৃষ্ঠা।

(৩) 'এবং এর মাধ্যমে' অর্থাৎ সহীহ বুখারীর সূত্রে।

(৪) মূল কপিতে এভাবেই আছে, তবে (ব) পাণ্ডুলিপিতে 'আল-বুখারী' শব্দটি নেই, যা অধিকতর সঙ্গত।

(৫) মূল কপিতে 'শাইবান' রয়েছে যা ভুল; এর সঠিক রূপ হলো 'সুফিয়ান' অর্থাৎ বিখ্যাত আলিম সুফিয়ান আস-সাওরী, যেমনটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم «المدينة حَرمٌ ما بين عير إلى كذا(1)، من أحدث فيها حدثًا أو آوى محدثًا فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يُقبل منه صرف ولا عدل»(2). وبه(3) قال: ثنا خالد بن مخلد، ثنا سليمان، حدثني عمرو بن يحيى عن عباس بن سهل بن سعد، عن أبي حميد، قال: أقبلنا مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم من تبوك(4) حتى أشرفنا على المدينة فقال: «هذه طابةٌ» وبه قال: ثنا إبراهيم بن المنذر ثنا أنس بن عياض حدثني عبيد الله عن خبيب(5) بن عبد الرحمن، عن حفص بن عاصم، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها»(6) وبه(7) قال: حدثنا عبد الله بن يوسف أخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عبد الله بن الزبير عن سفيان ابن أبي زهير عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: «يفتح اليمن فيأتي قوم يُبِسون(8) فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون، وتفتح الشام فيأتي قوم يُبِسون فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم، والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون، وتفتح العراق فيأتي قوم يبسون فيتحملون بأهليهم ومن أطاعهم، والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون»(9). وبه قال: حدثنا إسماعيل بن عبد الله حدثني أخي عن سليمان، عن عبيد الله، عن سعيد

--------------------------------------------

(1) هكذا في الصحيح (ج 3 ص 1157) ولكن هذا الحديث جاء برواية أخرى وفيه «المدينة حرم ما بين عير إلى ثور … ». البخاري ج 6 ص 2482.

(2) البخاري ج 3 ص 1157.

(3) وبه أي بالصحيح.

(4) تبوك: اليوم مدينة كبيرة معروفة تنسب لها الغزوة المشهورة، وتبعد عن المدينة 720 كيلًا إلى الشمال.

(5) في الأصل جندب والصواب خبيب كما ورد في الصحيح الذي ينقل عنه المؤلف.

(6) البخاري ج 2 ص 663. وفي (ب) إلى حجرها تصحيف.

(7) وبه أي بالصحيح.

(8) يبسون: أي يزين لهم ومن ثم يسيحون، ويخرجون منها إلى غيرها. ابن منظور ج 1 ص 212؛ ابن حجر: فتح الباري ج 4، ص 93.

(9) البخاري ج 2 ص 663، وقد وردت تفتح بالأصل يفتح بالياء في كل الحديث والصواب ما أثبتناه كما جاء في الصحيح.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আইর থেকে অমুক স্থান(১) পর্যন্ত মদীনা একটি হারাম (পবিত্র এলাকা)। যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন অনিষ্ট (বিদআত বা অপরাধ) সংঘটিত করবে অথবা কোনো অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেবে, তার উপর আল্লাহর, ফেরেশতাকুলের এবং সকল মানুষের লানত। তার কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না"(২)। এবং তিনি (একই সূত্রে)(৩) বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে মাখলাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে ইয়াহইয়া আমার নিকট আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে সা’দ থেকে, তিনি আবু হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাবুক(৪) থেকে ফিরে আসছিলাম, এমনকি যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন তিনি বললেন: "এটি হলো তাবাহ (পবিত্র শহর)।" এবং তিনি (একই সূত্রে) বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আনাস ইবনে ইয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট উবাইদুল্লাহ খুবাইব(৫) ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবনে আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ঈমান অবশ্যই মদীনার দিকে ফিরে আসবে (সংকুচিত হয়ে আসবে), যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে"(৬)। এবং তিনি (একই সূত্রে)(৭) বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে আবি যুহাইর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "ইয়েমেন বিজিত হবে, তখন কিছু লোক আসবে যারা অন্যদের প্রলুব্ধ করবে(৮) এবং তাদের পরিবার ও যারা তাদের অনুগামী হবে তাদের নিয়ে (মদীনা ছেড়ে) চলে যাবে। অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। তারপর শাম (সিরিয়া) বিজিত হবে, তখন কিছু লোক আসবে যারা অন্যদের প্রলুব্ধ করবে এবং তাদের পরিবার ও যারা তাদের অনুগামী হবে তাদের নিয়ে চলে যাবে। অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। তারপর ইরাক বিজিত হবে, তখন কিছু লোক আসবে যারা অন্যদের প্রলুব্ধ করবে এবং তাদের পরিবার ও যারা তাদের অনুগামী হবে তাদের নিয়ে চলে যাবে। অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত"(৯)। এবং তিনি (একই সূত্রে) বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই আমার নিকট সুলাইমান থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারীতে (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১১৫৭) এভাবেই আছে, তবে এই হাদিসটি অন্য রেওয়ায়েতেও এসেছে যাতে রয়েছে "মদীনা আইর থেকে সাওর পাহাড় পর্যন্ত হারাম..."। বুখারী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৪৮২।

(২) বুখারী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১১৫৭।

(৩) 'এবং তিনি' অর্থাৎ সহীহ বুখারীর সূত্রে।

(৪) তাবুক: বর্তমানে এটি একটি সুপরিচিত বড় শহর যার নামে সেই বিখ্যাত যুদ্ধটি পরিচিত, এটি মদীনা থেকে উত্তর দিকে ৭২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'জুন্দুব' রয়েছে, তবে সঠিক হলো 'খুবাইব' যেমনটি সেই সহীহ (বুখারী) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যা থেকে লেখক উদ্ধৃত করেছেন।

(৬) বুখারী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৬৩। এবং 'খ' পাণ্ডুলিপিতে 'তার গর্তের দিকে' শব্দটিতে লিপিকারের প্রমাদ রয়েছে।

(৭) 'এবং তিনি' অর্থাৎ সহীহ বুখারীর সূত্রে।

(৮) ইউবিস্সুন: অর্থাৎ তাদের কাছে বিষয়টিকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করা হয় এবং ফলে তারা প্রলুব্ধ হয়ে মদীনা থেকে অন্যত্র চলে যায়। ইবনে মানজুর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১২; ইবনে হাজার: ফাতহুল বারী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৩।

(৯) বুখারী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৬৩। মূল পাণ্ডুলিপিতে পুরো হাদিস জুড়ে 'বিজিত হবে' শব্দটি ইয়া (পুংলিঙ্গ) বর্ণ দিয়ে ছিল, তবে সঠিক হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি (তা দিয়ে - স্ত্রীলিঙ্গ), যেমনটি সহীহ (বুখারী) গ্রন্থে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
المقبري، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «حُرِّم ما بين لَابَتَي المدينة على لساني»(1) وأتى النبي صلى الله عليه وآله وسلم بني حارثة، وقال: «أراكم يا بني حارثة قد خرجتم من الحرم» ثم التفت، فقال: «بل أنتم فيه»(2)، وبه قال: وحدثنا عبد العزيز ابن عبد الله حدثني إبراهيم بن سعد عن جده(3) عن أبي بكرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «لا يدخل المدينة رُعْب المسيح الدجال لها يومئذ سبعة أبواب، على كل باب ملكان»(4).

وبه قال وحدثنا إبراهيم بن المنذر ثنا الوليد ثنا أبو عمرو ثنا إسحاق حدثني أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «ليس من بلد إلّا سيطؤه الدجال إلّا مكة والمدينة ليس له من نقابها نقب(5) إلّا عليه الملائكة صافين يحرسونها، ثم ترجف المدينة بأهلها ثلاث(6) رجفات فيخرج إليه كل كافر ومنافق»(7). وبه قال حدثنا يحيى بن بكير ثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب أخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة أن أبا سعيد الخدري رضي الله عنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حديثًا طويلًا عن الدجال، فكان فيما حدثنا به أنْ قال: «يأتي الدجال- وهو مُحرّمٌ عليه أن يدخلَ نِقاب المدينة- ينزل بعض السباخ التي بالمدينة فيخرج إليه يومئذ رجل هو خير الناس أو من خير الناس، فيقول: أشهد أنك الدجال الذي حدثنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عنك حديثه، فيقول الدجال: أرأيتم إن قتلت هذا ثم أحييته هل تشكون في الأمر، فيقولون: لا، فيقتله ثم

--------------------------------------------

(1) البخاري ج 2 ص 663.

(2) نفسه.

(3) هكذا في الأصل وصواب السند عن جده عن أبيه عن أبي بكرة كما ورد في الصحيح.

(4) البخاري ج 2 ص 664.

(5) النقب هنا معناه الطريق. ابن منظور ج 6 ص 698.

(6) في الأصل ثلاثة. وفي (ب) كما أثبتناه والحديث بهذا السند بدون إليه، وتوجد بسند آخر وكلاهما صحيح.

(7) أورد المؤلف الحديث بحذف له وكلمة نقب.
মাকবুরী, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মদিনার দুই পাথুরে প্রান্তরের মধ্যবর্তী এলাকা আমার মুখে (আমার ভাষায়) হারাম ঘোষিত হয়েছে"(১)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বনু হারিসার নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে বনু হারিসা, আমি দেখছি তোমরা হারাম এলাকা থেকে বের হয়ে গেছ।" অতঃপর তিনি মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: "বরং তোমরা এর ভেতরেই আছ"(২)। একই সনদে তিনি বলেছেন: আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে সাদ আমার নিকট তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন(৩), তিনি আবু বাকরা (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মদিনায় মাসীহ দাজ্জালের আতঙ্ক প্রবেশ করবে না। সেদিন মদিনার সাতটি প্রবেশপথ থাকবে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে দুইজন করে ফেরেশতা থাকবে"(৪)।

একই সনদে তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "এমন কোনো জনপদ নেই যা দাজ্জাল পদদলিত করবে না, কেবল মক্কা ও মদিনা ব্যতীত। এর (মদিনার) প্রবেশপথগুলোর এমন কোনো পথ নেই(৫) যেখানে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত নেই। অতঃপর মদিনা তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার(৬) প্রকম্পিত হবে, যার ফলে প্রত্যেক কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার (দাজ্জালের) নিকট চলে যাবে"(৭)। একই সনদে তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে এটিও ছিল যে, তিনি বলেছেন: "দাজ্জাল আসবে—অথচ মদিনার প্রবেশপথগুলোতে প্রবেশ করা তার জন্য হারাম—সে মদিনার নিকটবর্তী কোনো এক লবণাক্ত ঊষর ভূমিতে অবস্থান নেবে। সেদিন তার নিকট এমন এক ব্যক্তি বের হয়ে আসবে যে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই সেই দাজ্জাল যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন দাজ্জাল বলবে: তোমরা কি মনে করো যদি আমি একে হত্যা করি এবং তারপর জীবিত করি, তবে কি তোমরা এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ করবে? তারা বলবে: না। অতঃপর সে তাকে হত্যা করবে এবং তারপর...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৬৩।

(২) প্রাগুক্ত।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সনদের সঠিক রূপ হলো তার দাদা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু বাকরা থেকে, যেমনটি সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) বুখারী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৬৪।

(৫) এখানে 'নাকব' অর্থ হলো পথ। ইবনে মনজুর, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬৯৮।

(৬) মূলে রয়েছে 'সালাসাহ' (তিনটি)। এবং (খ) পাণ্ডুলিপিতে আমরা যা সাব্যস্ত করেছি সেভাবেই আছে। আর এই সনদে হাদীসটি 'ইলাইহি' শব্দ ছাড়াই বর্ণিত, তবে অন্য সনদে এটি বিদ্যমান এবং উভয়টিই সহীহ।

(৭) লেখক হাদীসটি 'লাহু' এবং 'নাকব' শব্দ দুটি বাদ দিয়ে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
يحييه، فيقول حين يحييه: والله ما كنتُ قط أشد بصيرة مني اليوم فيقول الدجال: أَقتلُه فلا أسلط عليه»(1).

وبه قال حدثني عبد الله بن محمد ثنا وهب بن جرير ثنا أبي قال: سمعت يونس عن ابن شهاب عن أنس عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «اللهم اجعل بالمدينة ضِعْفَيْ ما جعلت بمكة من البركة»(2)، وبه قال ثنا قتيبة ثنا إسماعيل بن جعفر عن حميد عن أنس أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان إذا قدم من سفر فنظر إلى جدرات(3) المدينة أوضع(4) راحلته، وإن كان على دابة حرَّكها من حبها(5). وبه قال ثنا عبيد بن إسماعيل ثنا أبو أسامة عن هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنه ا قالت: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم المدينة وُعِك أبو بكر وبلال رضي الله عنه ما، فكان أبو بكر إذا أخذته الحمى(6) يقول:

كل امرئ مُصبَّح في أهله … والموت أدنى من شراك نعله(7)

وكان بلال إذا أقلع عنه يرفع عقيرته فيقول:

ألا ليت شعري هل أبيتن ليلةً … بوادٍ وحَولي إذخرٌ(8) وجَليلُ(9)

--------------------------------------------

(1) البخاري ج 2 ص 665. وقد سقط عنك من السند والصحيح ما أثبتناه كما جاء عند البخاري، ومثلها أسلط جاءت في الأصل يسلط.

(2) البخاري ج 2 ص 666.

(3) هكذا في كل النسخ وفي رواية أخرى درجات المدينة. البخاري ج 2 ص 638.

(4) أوْضَع راحلته: أي يحملها على السير السريع. ابن منظور ج 6 ص 942.

(5) البخاري ج 2 ص 666.

(6) في الأصل الحما. وفي (ب) الحمى.

(7) هذا البيت لشاعر اسمه حنظلة بن يسار قاله في يوم ذي قار، وهو أحد أيام العرب المشهورة قبيل الإسلام. وقد تمثل به أبو بكر الصديق رضي الله عنه هنا عندما أخذته الحمى. الزرقاني: شرح موطأ الإمام مالك ج 5 ص 212.

(8) الإذخر نبات عشبي يرتفع نحو الذراع أوراقه على هيئة خيوط ناعمة، وله أزهارٌ بِيضٌ ورائحة ذكية، إذا ما فُرك، وله استخدامات طبية قديمة. ويكثر في الحجاز وما زال يعرف باسمه في المدينة ومكة. انظر: الغساني: حديقة الأزهار ص 29. انظر الرسالة ص 101.

(9) جليل: هو نبات الثمام، وهو نبات تحشى به الأرائك. ابن منظور: لسان العرب ج 1 ص 488.
তিনি তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন, তখন তিনি তাকে পুনরুজ্জীবিত করার সময় বলবেন: আল্লাহর কসম, আজকের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টি আমার আর কখনোই ছিল না। তখন দাজ্জাল বলবে: আমি একে হত্যা করব, তবে এরপর আর আমি তার ওপর ক্ষমতা পাব না।(১)

এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ওহাব ইবনে জারীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুসকে ইবনে শিহাব থেকে এবং তিনি আনাস থেকে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ! মক্কায় আপনি যে বরকত রেখেছেন, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন।"(২) এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, কুতায়বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে জাফর আমাদের কাছে হুমায়দ থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফর থেকে ফিরতেন এবং মদিনার দেয়ালগুলোর(৩) দিকে তাকাতেন, তখন তিনি তাঁর সওয়ারিকে দ্রুত চালিত করতেন(৪), আর যদি তিনি কোনো পশুর পিঠে থাকতেন তবে মদিনার প্রতি ভালোবাসার কারণে সেটিকে দ্রুত গতিশীল করতেন(৫)। এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন, উবাইদ ইবনে ইসমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আসলেন, তখন আবু বকর ও বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জ্বরে আক্রান্ত হলেন। আবু বকর যখন জ্বরে(৬) আক্রান্ত হতেন, তখন বলতেন:

প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারে সকাল কাটায় ... অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটতর।(৭)

আর বিলাল যখন জ্বর থেকে মুক্তি পেতেন তখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে বলতেন:

হায়! আমি যদি জানতাম, আমি কি কোনো একটি রাত কাটাতে পারব ... এমন এক উপত্যকায় যেখানে আমার চারপাশে ইযখির(৮) ও জলীল(৯) ঘাস থাকবে!

--------------------------------------------

(১) বুখারী, ২য় খণ্ড, ৬৬৫ পৃষ্ঠা। আপনার থেকে সনদের কিছু অংশ বাদ পড়েছিল এবং আমরা তা সহীহ (বুখারী) অনুযায়ী সাব্যস্ত করেছি যেভাবে বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে; অনুরূপভাবে 'উসাল্লাত' শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ইউসাল্লাতু' হিসেবে এসেছিল।

(২) বুখারী, ২য় খণ্ড, ৬৬৬ পৃষ্ঠা।

(৩) সকল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে অন্য বর্ণনায় 'মদিনার স্তরসমূহ' এসেছে। বুখারী, ২য় খণ্ড, ৬৩৮ পৃষ্ঠা।

(৪) সওয়ারিকে দ্রুত চালিত করতেন: অর্থাৎ তাকে দ্রুত গতির জন্য নির্দেশ দিতেন। ইবনে মানযুর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৯৪২ পৃষ্ঠা।

(৫) বুখারী, ২য় খণ্ড, ৬৬৬ পৃষ্ঠা।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আল-হামা' ছিল এবং (খ) পাণ্ডুলিপিতে 'আল-হুম্মা' (জ্বর)।

(৭) এই পঙক্তিটি হানজালা ইবনে ইয়াসার নামক এক কবির, যা তিনি যী-কার দিবসে বলেছিলেন। এটি প্রাক-ইসলামী আরবের এক বিখ্যাত যুদ্ধ দিবস ছিল। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু জ্বরে আক্রান্ত হলে এটি আবৃত্তি করতেন। যারকানি: শারহ মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক, ৫ম খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠা।

(৮) ইযখির একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ যা প্রায় এক হাত পর্যন্ত উঁচু হয়, এর পাতাগুলো চিকন সুতার মতো এবং এটি ঘষলে সাদা ফুল ও সুগন্ধি বের হয়; এর অনেক প্রাচীন ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। এটি হিজাযে প্রচুর পরিমাণে জন্মায় এবং এখনও মদিনা ও মক্কায় এই নামেই পরিচিত। দ্রষ্টব্য: আল-গাসসানি: হাদিকাতুল আযহার, ২৯ পৃষ্ঠা; এবং আর-রিসালাহ, ১০১ পৃষ্ঠা।

(৯) জলীল: এটি সুমাম নামক এক প্রকার উদ্ভিদ, যা দিয়ে গদি বা আসন ভর্তি করা হয়। ইবনে মানযুর: লিসানুল আরব, ১ম খণ্ড, ৪৮৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তারীফ বিমা আনাসাতিল হিজরাহ মিন মায়ালিমি দারিল হিজরাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وهل أَرِدَنْ يومًا مياه مَجنّةٍ(1) … وهل يَبْدُوَنْ لي شامةٌ(2) وطفيلُ(3)

اللهم العن شيبة بن ربيعة وعتبة بن ربيعة وأمية بن خلف(4) كما أخرجونا من أرضنا إلى أرض الوباء، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «اللهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، اللهم بارك لنا في صاعنا، وفي مدنا، وصححها لنا، وانقل حماها إلى الجحفة»(5) قالت: وقدمنا المدينة وهي أوبأ أرض الله قالت/: فكان بطحان(6) يجري نجلًا، تعني ماء آجنًا(7).

--------------------------------------------

(1) مياه مجنة: موضع ماء بالقرب من مر الظهران على بريد من مكة كانت تكثر به الآبار والبساتين. البكري: معجم ما استعجم ج 3 ص 892، ج 4 ص 1187.

(2) شامة: جبل شمال مكة.

(3) طفيل: جبل بالقرب من جبل شامة السابق ذكره وهو إلى الخبت أقرب جنوب غرب عقبة هرشى المشهورة المعروفة إلى اليوم. البكري: معجم ما استعجم ج 4 ص 1351.

(4) هؤلاء الثلاثة من زعماء قريش وكبار مشركيها في مكة كانت له صولة وجولة، وفيهم شدة وتعذيب للمسلمين في مكة وعلى رأسهم بلال رضي الله عنه، كما حرصوا على إخراجهم من أرضهم، وقد قتل ثلاثتهم في غزوة بدر سنة 2 هـ.

(5) البخاري ج 2 ص 667. والجحفة هي الميقات المعروف لأهل الشام ومصر وهي قرية قديمة كانت تسمى مَهْيعة ثم تعرضت لسيل كبير دمرها واجتحفها فسميت الجحفة وما زالت كذلك إلى اليوم بالقرب من مدينة رابغ. ياقوت: معجم البلدان ج 2 ص 111.

(6) بطحان: هو أحد أودية المدينة المشهورة ينحدر من حرة شوران في الجنوب وما جاورها ويمر بشرقي قباء ثم يمر بالمدينة من غربي المصلى حتى منطقة الخندق أو المساجد السبعة حاليًا وكان إذا سال يشق المدينة مجرى مائه، ويحدث أضرارًا أحيانًا، وكانت تقوم على جنباته في الجنوب البساتين الغناء، أما الآن فقد اندرس هذا الوادي وأتى عليه العمران والشوارع والأحياء السكنية، ولم يبق إلّا اسمه، وسد كبير في أعلاه يسمى سد بطحان. وقد وصفَته أكثر تواريخ المدينة.

(7) هكذا في البخاري ج 3 ص 667 وفي الأصل يعني ماء، وفي (ب) و (ص) يعني ماء آجنًا … وآجن أي متغير الطعم والرائحة. ابن منظور ج 1 ص 26.
আমি কি কোনোদিন মাজান্নার পানি পান করতে পারব(১) … আর শামা(২) ও তুফাইল(৩) কি কোনোদিন আমার সামনে দৃশ্যমান হবে?

হে আল্লাহ! শায়বা ইবনে রাবিয়া, উতবা ইবনে রাবিয়া এবং উমাইয়া ইবনে খালাফের(৪) ওপর লানত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে তারা আমাদের নিজেদের ভূমি থেকে মহামারীর ভূমিতে বের করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ! আমাদের নিকট মদিনাকে প্রিয় করে দিন যেমনিভাবে মক্কা আমাদের প্রিয় ছিল অথবা তার চেয়েও বেশি। হে আল্লাহ! আমাদের সা’ এবং মুদ্দে (পরিমাপ যন্ত্রে) বরকত দান করুন, মদিনার আবহাওয়াকে আমাদের জন্য সুস্থ করে দিন এবং এর জ্বরকে জুহফায় স্থানান্তরিত করে দিন»(৫)। আয়েশা (রা.) বলেন: আমরা মদিনায় আসলাম এমতাবস্থায় যে সেটি ছিল আল্লাহর ভূমির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মহামারী আক্রান্ত। তিনি বলেন: বাতহান(৬) উপত্যকাটি নাজিল হিসেবে প্রবাহিত হতো, যার অর্থ হলো পচা পানি(৭)।

--------------------------------------------

(১) মাজান্নার পানি: এটি মাররুজ জাহরানের নিকটবর্তী একটি পানির স্থান, যা মক্কা থেকে এক বারিদ (প্রায় ১২ মাইল) দূরত্বে অবস্থিত। সেখানে অনেক কুয়া ও বাগান ছিল। আল-বাকরি: মুজাম মা ইস্তাজাম, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮৯২; খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৮৭।

(২) শামা: মক্কার উত্তরে অবস্থিত একটি পাহাড়।

(৩) তুফাইল: পূর্বোল্লিখিত শামা পাহাড়ের নিকটবর্তী একটি পাহাড়। এটি খাবত এলাকার অধিক নিকটবর্তী এবং বর্তমানে সুপরিচিত আকাবায়ে হারশার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। আল-বাকরি: মুজাম মা ইস্তাজাম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৫১।

(৪) এই তিনজন কুরাইশ নেতা ও মক্কার বড় মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মক্কায় তাদের অনেক প্রতাপ ও প্রভাব ছিল এবং তারা মক্কায় মুসলমানদের ওপর, বিশেষ করে বেলাল (রা.)-এর ওপর কঠোর নির্যাতন চালাত। তারা মুসলমানদেরকে তাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে সচেষ্ট ছিল। হিজরি ২ সনে বদর যুদ্ধে তারা তিনজনই নিহত হয়।

(৫) বুখারি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৬৭। জুহফা হলো সিরিয়া ও মিশরের অধিবাসীদের সুপরিচিত মিকাত। এটি একটি প্রাচীন গ্রাম ছিল যার নাম ছিল মাহয়াহ। পরবর্তীতে একটি বড় বন্যা একে ধ্বংস করে দেয় এবং ভাসিয়ে নিয়ে যায় (ইজতাহাফা), তাই একে জুহফা বলা হয়। বর্তমান রাবেগ শহরের কাছে আজও এটি এই নামেই পরিচিত। ইয়াকুত: মুজামুল বুলদান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১১।

(৬) বাতহান: এটি মদিনার অন্যতম সুপরিচিত উপত্যকা। এটি দক্ষিণে শাওরান নামক আগ্নেয়গিরি অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে নেমে এসেছে এবং কুবার পূর্ব পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। এরপর এটি মুসল্লার পশ্চিম দিক হয়ে বর্তমানের খন্দক বা সাতটি মসজিদের এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। যখন এটি প্রবাহিত হতো, তখন এর জলধারা মদিনা শহরকে চিরে প্রবাহিত হতো এবং কখনো কখনো ক্ষয়ক্ষতিও ঘটাত। এর দক্ষিণ দিকে ঘন বাগান ছিল। তবে বর্তমানে এই উপত্যকাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর ওপর দালানকোঠা, রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। এখন শুধু এর নাম ও এর ওপরের দিকে নির্মিত 'সদ বাতহান' বা বাতহান বাঁধটি অবশিষ্ট রয়েছে। মদিনার অধিকাংশ ইতিহাসগ্রন্থে এর বর্ণনা রয়েছে।

(৭) বুখারি খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৬৭-এ এভাবেই এসেছে। মূলে আছে ‘মাআ’ (পানি), আর (বা) ও (সাদ) পাণ্ডুলিপিতে আছে ‘মাআ আজিনান’... আজিন মানে যার স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ইবনে মানজুর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬।