(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: -)
معجم شيوخ ابن الأعرابي - ط ابن الجوزي (أبو سعيد ابن الأعرابي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: معجم ابن الأعرابي
المؤلف: أبو سعيد أحمد بن محمد بن زياد بن بشر ابن الأعرابي
تحقيق وتخريج: عبد المحسن بن إبراهيم بن أحمد الحسيني
الناشر: دار ابن الجوزي، السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1432
মুজাম শুয়ুখ ইবনিল আরাবি - ইবনুল জাওজি সংস্করণ (আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুজাম ইবনুল আরাবি
লেখক: আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন বিশর ইবনুল আরাবি
তাহকিক ও তাখরিজ: আব্দুল মুহসিন বিন ইবরাহিম বিন আহমদ আল-হুসাইনি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত)
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الزِّبْرِقَانُ الْعَبْسِيُّ، وَحُسَيْنٌ هُوَ إِشْكَابُ لَقَبٌ، أَمْلَى عَلَيَّ هَذَا النَّسَبَ ابْنُهُ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ تَرَكَ فُتْيَاهُ الَّتِي كَانَ يُفْتِي: «مَنْ أَصْبَحَ جُنُبًا فَلَا يَصُومُ»
১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু ইব্রাহিম আয-যিবরিকান আল-আবাসি; এবং হুসাইন-এর উপাধি হলো ইশকাব, তাঁর পুত্র আমার কাছে এই বংশপরম্পরাটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ক্বাতান আমর ইবনুল হাইসাম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা তাঁর সেই ফতোয়াটি পরিত্যাগ করেছেন যা তিনি প্রদান করতেন: "যে ব্যক্তি নাপাকি (জুনুবি) অবস্থায় সকাল করবে, সে যেন রোজা না রাখে।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ⦗ص: 29⦘ عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَوَّجَهَا وَلِيَّانِ فَهِيَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا، وَأَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ بَيْعًا مِنْ رَجُلَيْنِ فَهُوَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا»
২ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ক্বাতান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি কোনো নারীকে দুইজন অভিভাবক বিবাহ দেন, তবে তিনি তাদের মধ্যে প্রথমজনের জন্য সাব্যস্ত হবেন; আর যদি কোনো ব্যক্তি দুই ব্যক্তির নিকট কোনো কিছু বিক্রয় করেন, তবে তা তাদের মধ্যে প্রথমজনের জন্য সাব্যস্ত হবে।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: اسْتَفْتَانِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ فِي لَحْمِ صَيْدٍ أَصَابَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ، فَأَفْتَيْتُهُ أَنْ يَأْكُلَهُ، وَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ رضي الله عنه فَقَالَ: بِمَ أَفْتَيْتَهُ؟ قُلْتُ: أَفْتَيْتُهُ أَنْ يَأْكُلَهُ فَقَالَ: «لَوْ أَفْتَيْتَهُ بِغَيْرِ ذَلِكَ لَعَلَوْتُكَ بِالدِّرَّةِ»
৩ - মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু কাতান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাম দেশের জনৈক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন শিকার করা পশুর গোশত সম্পর্কে আমার নিকট ফাতাওয়া চেয়েছিলেন। আমি তাকে তা খাওয়ার ফাতাওয়া প্রদান করি। অতঃপর আমি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি তাকে কী ফাতাওয়া দিয়েছিলে? আমি বললাম: আমি তাকে তা খাওয়ার ফাতাওয়া দিয়েছি। তখন তিনি বললেন: «যদি তুমি এছাড়া অন্য কোনো ফাতাওয়া দিতে, তবে আমি তোমাকে চাবুক দিয়ে প্রহার করতাম।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَمْسِكُوا أَمْوَالَكُمْ، لَا تُعْمِرُوهَا؛ فَإِنَّهُ مَنْ أَعْمَرَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ حَيَاتَهُ وَبَعْدَ مَوْتِهِ»
৪ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাতান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের কাছে রাখো, তা ‘উমরা’ করো না; কেননা যে ব্যক্তি কোনো কিছু ‘উমরা’ হিসেবে দান করে, তা তার জীবনকালে ও মৃত্যুর পরে তার জন্যই সাব্যস্ত হয়।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْعُمْرَى لِمَنْ وُهِبَتْ لَهُ»
5 - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ক্বাতান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "উমরা (আজীবন দান) তার জন্য যাকে তা প্রদান করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: " تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ، قُلْتُ: كَمْ كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ؟ قَالَ: قَدْرَ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً "
৬ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ক্বাতান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, আনাস থেকে, যায়িদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাহরি খেয়েছি, এরপর আমরা সালাতের জন্য দাঁড়ালাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: উভয়ের মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন: একজন মানুষের পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করতে যতটুকু সময় লাগে।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ إِشْكَابُ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ رَجُلٍ، قَدْ سَمَّاهُ عَنِ الْعِرْبَاضِ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَغْفَرَ لِلصَّفِّ الْمُقَدَّمِ ثَلَاثًا وَلِلثَّانِي مَرَّةً»
৭ - মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন ইশকাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাতান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি ইরবাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম সারির লোকদের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় সারির জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
8 - نا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ ⦗ص: 31⦘ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَأَظُنُّهُ قَالَ: فِي رَمَضَانَ رَأَى رَجُلًا يَحْتَجِمُ فَقَالَ: «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ»
৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ক্বাতান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, আর তিনি সাওবান (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাঁটছিলেন—আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: রমজান মাসে—তখন তিনি এক ব্যক্তিকে শিঙা লাগাতে (হিজামা করতে) দেখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "শিঙা দানকারী এবং শিঙা গ্রহণকারী উভয়েই রোজা ভঙ্গ করেছে।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
9 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا هِشَامُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «الْحَجُّ عَرَفَةُ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাতান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “হজ হলো আরাফাহ।”
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
10 - نا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا هِشَامٌ قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ক্বাতান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট লিখেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু ক্বাতাদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
11 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كُنَّا نُرْزَقُ تَمْرَ الْجَمْعِ فَكُنَّا نَبِيعُ صَاعَيْنِ بِصَاعٍ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَاعَيْ تَمْرٍ بِصَاعٍ وَلَا صَاعَيْ حِنْطَةٍ بِصَاعٍ وَلَا دِرْهَمَيْنِ بِدِرْهَمٍ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ক্বাতান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের মিশ্রিত খেজুর প্রদান করা হতো, তখন আমরা দুই সা’ খেজুর এক সা’ খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করতাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বললেন: «এক সা’ খেজুরের বিনিময়ে দুই সা’ খেজুর নয়, এক সা’ গমের বিনিময়ে দুই সা’ গম নয় এবং এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম নয়»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
12 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ⦗ص: 32⦘ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ، وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাতান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ কাতাদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পান করে, সে যেন পাত্রের ভেতরে নিশ্বাস না ফেলে; আর যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন তার ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন না করে।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
13 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَدِمَ مِنَ الْحَبَشَةِ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَأَوْمَأَ بِرَأْسِهِ
১৩ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাতান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে সিরিন থেকে যে, ইবনে মাসউদ হাবাশা থেকে ফিরে আসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনি (নবী) তাঁর মাথা দিয়ে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
14 - نا مُحَمَّدٌ، نا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الْأَشْعَثَيُّ، أنا عَبْثَرٌ أَبُو زُبَيْدٍ، ⦗ص: 33⦘ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَإِلَى مَسْجِدِي هَذَا وَإِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى "
১৪ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আমর আল-আশআসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবসার আবু জুবায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি উবায়দাহ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু আল-জাদ আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে (সফরের জন্য) পালান বাঁধা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
15 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبِي، نا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلًا يُصَلِّي خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ "
১৫ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আদী ইবনুল ফাযল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বানী থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি ওয়াবিসা ইবনে মাব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় করতে দেখলেন, অতঃপর তিনি তাকে (সালাত) পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
16 - نا مُحَمَّدٌ، نا وَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، نا شُعْبَةُ، عَنْ ⦗ص: 34⦘ دَاوُدَ بْنِ فَرَاهِيجَ، عَنِ ابْنِ سَعْدٍ، أَنَّ سَعْدًا، كَانَ يَعْزِلُ
১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াহাব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ দাউদ ইবনে ফরাহীজ থেকে, ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত যে, সা'দ ‘আযল (সহবাসের সময় বীর্যপাত রোধ) করতেন।
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
17 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو قَطَنٍ، نا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ: قُلْتُ لِعُبَيْدَةَ مَا يَصْلُحُ لِابْنِ السَّبِيلِ مِنَ الثَّمَرَةِ؟ قَالَ: «يَأْكُلُ وَلَا يُفْسِدُ»، أَوْ قَالَ: «يَأْكُلُ وَلَا يَحْمِلُ»
১৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ক্বাতান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবন আউন বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উবাইদাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, ফলমূলের মধ্য থেকে পথিকের জন্য কী বৈধ? তিনি বললেন: «সে আহার করবে কিন্তু নষ্ট করবে না», অথবা তিনি বললেন: «সে আহার করবে কিন্তু বহন করে নিয়ে যাবে না»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
18 - نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْمُنْذِرِ الْقَزَّازُ، بَصْرِيٌّ مِنْ بَنِي يَشْكُرَ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، نا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ قَالَ: مَكَثَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ سِيرِينَ فِي مُصَلَّاهَا ثَلَاثِينَ سَنَةً لَا تَخْرُجُ إِلَّا لِقَضَاءٍ أَوْ لِقَابِلَةٍ قَالَ: مَكَثَتْ كَرِيمَةُ بِنْتُ سِيرِينَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً لَا تَخْرُجُ مِنْ مُصَلَّاهَا إِلَّا لِحَاجَةٍ
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল মুনযির আল-কাযযায, তিনি বসরার অধিবাসী এবং বানু ইয়াশকর গোত্রের; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আমির; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহদী ইবনে মাইমুন, তিনি বলেন: হাফসা বিনতে সিরিন ত্রিশ বছর যাবত তাঁর সালাতের স্থানে অবস্থান করেছিলেন, তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ অথবা ধাত্রীর প্রয়োজন ব্যতিরেকে বের হতেন না। তিনি বলেন: কারীমাহ বিনতে সিরিন পনেরো বছর যাবত তাঁর সালাতের স্থান থেকে প্রয়োজন ব্যতীত বের হননি।
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
19 - نا مُحَمَّدٌ، نا مُوسَى، نا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ ⦗ص: 36⦘ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «مَنْ لَمْ يَدْخُلْ فِي وَصِيَّةٍ لَمْ يَنَلْهُ جَهْدُ الْبَلَاءِ»
১৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মূসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, জামআহ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ ইবনে তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি অসিয়তের মধ্যে প্রবেশ করেনি, কঠিন পরীক্ষা তাকে স্পর্শ করেনি।’»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
20 - نا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، نا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَافَرَ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ»
20 - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে সীরীন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনা সফর করেছেন, তিনি দুই রাকাত সালাত পড়তেন এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
21 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي طَلِيقٍ، نا ⦗ص: 37⦘ حِبَّانُ بْنُ جَزْءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَرْبِطُ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِهِ مِنَ الْغَرَثِ»
21 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, জয়নব বিনতে আবি তালীক থেকে বর্ণিত, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ হিব্বান বিন জায', তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার তীব্রতার কারণে তাঁর পেটে পাথর বাঁধতেন।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
22 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو عَاصِمٍ، نا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: خَرَجْتُ يَوْمًا فَرَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَتَعَرَّضْتُ لَهُ حَتَّى رَآنِي ثُمَّ رَجَعْنَا فَإِذَا رَجُلٌ يُطِيلُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ فَقُلْتُ: تَرَاهُ مُرَائِيًا؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَقَالَ: «مَنْ يُشَادَّ هَذَا الدِّينَ يَغْلِبْهُ»
২২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট উয়ায়নাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন জাওশান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: একদিন আমি বের হলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখলেন। আমি তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম যতক্ষণ না তিনি আমাকে লক্ষ্য করলেন। এরপর আমরা ফিরে আসলাম এবং তখন দেখা গেল এক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে রুকু এবং সিজদা করছে। আমি বললাম: আপনি কি তাকে রিয়াকার (লৌকিকতা প্রদর্শনকারী) মনে করছেন? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি এই দ্বীনের ওপর কঠোরতা আরোপ করবে, এটি তাকে পরাস্ত করবে।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
23 - نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْمُنْذِرِ الْقَزَّازُ الْبَصْرِيُّ، نا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْقَدَّاحُ قَالَ: حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ امْرَأَةَ أَبِي حُذَيْفَةَ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: إِنَّ سَالِمًا مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ يَدْخُلُ عَلَيَّ وَأَنَا وَاضِعَةٌ ثَوْبِي فَأَجِدُ فِي نَفْسِي فَقَالَ: «أَرْضِعِيهِ يَذْهَبْ عَنْكِ الَّذِي تَجِدِينَ»
২৩ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল মুনযির আল-কাযযায আল-বাসরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি যিয়াদ আল-কাদ্দাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুযায়ফার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: “আবু হুযায়ফার মুক্তদাস সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে এমতাবস্থায় যখন আমি আমার (শিথিল) পোশাকে থাকি, ফলে আমি মনে মনে সংকোচ বোধ করি।” তখন তিনি বললেন: “তুমি তাকে দুধ পান করাও, তবেই তোমার মনে যে সংকোচ রয়েছে তা দূর হয়ে যাবে।”
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
24 - نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، نا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «آخِرُ كَلَامٍ فِي الْقَدَرِ لَشِرَارُ أُمَّتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ وَمِرَاءٌ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ»
২৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, আনবাসাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «শেষ জামানায় তাকদীর বিষয়ে সর্বশেষ আলোচনা (বা বিতর্ক) করবে আমার উম্মতের নিকৃষ্ট লোকেরা এবং কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা কুফরী।’»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
25 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: {رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 24] قَالَ: «مَا كَانَ مَعَهُ رَغِيفٌ وَلَا دِرْهَمٌ»
২৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, মানসুর থেকে, ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত: {হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী} [আল-কাসাস: ২৪]। তিনি বলেন: «তাঁর নিকট কোনো রুটি কিংবা দিরহাম ছিল না।»
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
26 - نا مُحَمَّدٌ، نا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: «مَا سَأَلَ إِلَّا أُكْلَةً مِنْ طَعَامٍ»
২৬ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তিনি কেবল এক লোকমা খাদ্য প্রার্থনা করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
27 - نا مُحَمَّدٌ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ الضُّبَعِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ» قَالَ: " فَبَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً لَهُ إِذْ أَعْيَهَا فَرَكِبَهَا فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ فَقَالَتْ: لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ " قَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» وَلَيْسَا فِي الْقَوْمِ فَقَالَ النَّاسُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " وَبَيْنَمَا رَجُلٌ فِي غَنَمٍ لَهُ إِذْ جَاءَ الذِّئْبُ فَأَخَذَ شَاةً مِنْهَا فَسَعَى خَلْفَهُ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ فَقَالَ: كَيْفَ تَصْنَعُ بِهَا يَوْمَ السَّبُعِ يَوْمَ لَا رَاعِي لَهَا غَيْرِي؟ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِنِّي آمَنْتُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» وَلَيْسَا فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ النَّاسُ: آمَنَّا بِمَا آمَنَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৭ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন আমির আদ-দুবাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।" তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি তার একটি গাভীকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এমতাবস্থায় সেটি ক্লান্ত হয়ে পড়লে সে সেটির ওপর সওয়ার হলো। তখন সেটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: আমাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে জমি চাষ করার জন্য।" লোকেরা বলল: সুবহানাল্লাহ! তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও," অথচ তারা তখন সেই কাওমের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন না। তখন লোকেরা বলল: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাতে ঈমান এনেছেন, আমরাও তাতে ঈমান আনলাম। তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি তার বকরির পালের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে এসে একটি বকরি ছিনিয়ে নিয়ে গেল। সে সেটির পিছু ধাওয়া করল। তখন নেকড়েটি তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল: হিংস্র প্রাণীদের দিনে তুমি এর সাথে কী করবে, যেদিন আমি ছাড়া এর কোনো রাখাল থাকবে না?" তখন লোকেরা বলল: সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ! তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও," অথচ তারা তখন সেই কাওমের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন না। তখন লোকেরা বলল: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাতে ঈমান এনেছেন, আমরাও তাতে ঈমান আনলাম।
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
28 - نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: قِيلَ لِمُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، لَوْ تَكَلَّمْتَ فَقَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ هَذِهِ عَلَانِيَةٌ حَسَنَةٌ ثُمَّ تَلَا: {إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لَلْأَوَّابِينَ غَفُورًا} [الإسراء: 25] "
২৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল মুনজির বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসিকে বলা হলো: হে আবু আবদিল্লাহ, আপনি যদি কিছু নসিহত করতেন। তিনি বললেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটি একটি উত্তম প্রকাশ্য বিষয়।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {যদি তোমরা সৎকর্মপরায়ণ হও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তওবাকারীদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল} [আল-ইসরা: ২৫]
(খণ্ড: ১)
মুজামু শুয়ূখি ইবনিল আরাবী - ত ইবনুল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
29 - نا مُحَمَّدٌ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى أَنَّهُ قَدْ أَصْبَحَ فَإِذَا عَلَيْهِ لَيْلٌ قَالَ: فَسَمِعْتُ وَطِيًّا خَلْفِي قَالَ: فَقَالَ: تَقَدَّمْ فَصَلِّ ثُمَّ قُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ مَلِيكٌ، وَإِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُقْتَدِرٌ، وَإِنَّكَ مَا تَشَاءُ مِنْ أَمْرٍ يَكُنْ، ثُمَّ سَلْ لِدُنْيَاكَ وَآخِرَتِكَ قَالَ: فَقُلْتُ، فَمَا شَيْءٌ سَأَلْتُهُ لِدُنْيَايَ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ مَا سَأَلْتُهُ لِآخِرَتِي عَلَى ذَلِكَ
২৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আমির বর্ণনা করেছেন আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং ধারণা করলেন যে ভোর হয়ে গেছে, অথচ তখনও রাত অবশিষ্ট ছিল। তিনি বলেন: আমি আমার পেছনে পদধ্বনি শুনতে পেলাম। তিনি (পিছনের ব্যক্তি) বললেন: সামনে অগ্রসর হোন এবং সালাত আদায় করুন, অতঃপর বলুন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, আপনিই একমাত্র অধিপতি, আর আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান; এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সংঘটিত হয়।" এরপর আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি (সাঈদ) বলেন: আমি তা পাঠ করলাম। অতঃপর আমি দুনিয়ার কল্যাণে যা কিছুই প্রার্থনা করেছি তা প্রাপ্ত হয়েছি। আর আমি আশা পোষণ করি যে, আখিরাতের বিষয়ে আমি যা প্রার্থনা করেছি তাও তদ্রূপ হবে।