(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: -)
القول في علم النجوم للخطيب   (الخطيب البغدادي)

القسم: العقيدة


الكتاب: القول في علم النجوم للخطيب

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)

درسه وحققه: الدكتور يوسف بن محمد السعيد

الناشر: دار أطلس للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 229

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খতিব বাগদাদীর জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক বক্তব্য   (খতিব আল-বাগদাদী)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: খতিব বাগদাদীর জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক বক্তব্য

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত ৪৬৩ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক করেছেন: ডক্টর ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-সাঈদ

প্রকাশক: দার আতলাস পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১২৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الإِمَامُ رِحْلَةُ زَمَانِهِ وَحَافِظُ عَصْرِهِ وَأَوَانِهِ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ:

سَأَلَ سَائِلٌ عَنِ النُّجُومِ: هَلِ الشُّرُوعُ فِيهِ مَحْمُودٌ أَمْ مَذْمُومٌ؟ وَأَنَا أَذْكُرُ فِي ذَلِكَ مِنَ الْقَوْلِ الْمُسْتَقِيمِ مَا تَيَسَّرَ بِتَوْفِيقِ مَوْلايَ الْكَرِيمِ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.

فَأَقُولُ: إِنَّ عِلْمَ النُّجُومِ يَشْتَمِلُ عَلَى ضَرْبَيْنِ: أَحَدُهُمَا مُبَاحٌ، وَتَعَلُّمُهُ فَضِيلَةٌ.

وَالآخَرُ مَحْظُورٌ، وَالنَّظَرُ فِيهِ مَكْرُوهٌ.

فَأَمَّا الضَّرْبُ الأَوَّلُ: فَهُوَ الْعِلْمُ بِأَسْمَاءِ الْكَوَاكِبِ، وَمَنَاظِرِهَا، وَمَطَالِعِهَا، وَمَسَاقِطِهَا، وَسَيْرِهَا، وَالاهْتِدَاءُ بِهَا، وَانْتِقَالُ الْعَرَبِ عَنْ مِيَاهِهَا لأَوْقَاتِهَا، وَتَخَيُّرُهُمُ الأَزْمَانَ لِنِتَاجِ مَوَاشِيهَا، وَضِرَابِهِمُ الْفُحُولَ، وَمَعْرِفَتُهُمْ بِالأَمْطَارِ عَلَى اخْتِلافِهَا، وَاسْتِدْلالُهُمْ عَلَى مَحْمُودِهَا وَمَذْمُومِهَا، وَالتَّوَصُّلُ إِلَى جِهَةِ الْقِبْلَةِ بِالنُّجُومِ، وَمَعْرِفَةُ مَوَاقِيتِ الصَّلاةِ، وَسَاعَاتِ اللَّيْلِ بِظُهُورِهَا وَأُفُولِهَا.

وَقَدْ جَاءَ كَثِيرٌ مِنْ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل، وَفِي الآثَارِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَعَنْ أَخْيَارِ الصَّحَابَةِ، وَالتَّابِعِينَ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْخَالِفِينَ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ইমাম, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ পরিব্রাজক এবং তাঁর যুগের ও সময়ের হাফেজ আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন:

একজন প্রশ্নকারী নক্ষত্রবিদ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন: এতে লিপ্ত হওয়া কি প্রশংসনীয় নাকি নিন্দনীয়? আর আমি এ বিষয়ে আমার মহান ও দয়ালু প্রতিপালকের তৌফিকে যতটুকু সহজ হয় সঠিক কথা উল্লেখ করব; আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

অতঃপর আমি বলছি: নিশ্চয়ই নক্ষত্রবিদ্যা বা জ্যোতির্বিজ্ঞান দুটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে: যার একটি বৈধ এবং তা শিক্ষা করা একটি ফযিলত বা মর্যাদা।

আর অন্যটি নিষিদ্ধ এবং তাতে লিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয়।

প্রথম প্রকারটি হলো: নক্ষত্ররাজির নাম, তাদের দৃশ্যপট, উদয়স্থল, অস্তাচল ও গতিবিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা; আর আরবদের তাদের পানির আধারসমূহ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্থানান্তর হওয়া এবং পশুদের প্রজননের জন্য সময় নির্বাচন করা ও তাদের পুরুষ পশুদের প্রজনন করানো; এবং বিভিন্ন ধরনের বৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ও এগুলোর ভালো-মন্দের ওপর প্রমাণ গ্রহণ করা; এছাড়া নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে কিবলার দিক নির্ণয় করা এবং নক্ষত্ররাজির উদয় ও অস্ত যাওয়ার মাধ্যমে সালাতের সময় ও রাতের প্রহরসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া।

আর এর অনেক কিছুই মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কিতাবে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনাসমূহে এবং শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ ও তাঁদের পরবর্তী আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১২৭)
قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [يونس: 5] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ} [يس: 39] .

وَقَالَ عز وجل: {الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ} [الرحمن: 5] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ قَدْ فَصَّلْنَا الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [الأنعام: 97] .

وَجَاءَ فِي الآثَارِ مِنْ ذَلِكَ مَا

أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عِيسَى بْنِ يَحْيَى الْبَلَدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الإِمَامُ، بِبَلَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ
মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্কর এবং চাঁদকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মনজিলসমূহ (অবস্থান) নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছরসমূহের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো কেবল সত্যের সাথেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি বিশদভাবে বর্ণনা করেন।} [ইউনুস: ৫] ।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর চাঁদের জন্য আমি মনজিলসমূহ (অবস্থান) নির্ধারণ করেছি, অবশেষে তা প্রাচীন খেজুর শাখার মতো হয়ে ফিরে আসে।} [ইয়াসিন: ৩৯] ।

এবং মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ বলেছেন: {সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী আবর্তিত হয়।} [আর-রাহমান: ৫] ।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনিই তোমাদের জন্য তারকারাজি সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা এর মাধ্যমে স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চলতে পারো। আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।} [আল-আন’আম: ৯৭] ।

আর এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহে যা এসেছে—

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে ঈসা ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালাদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমাদ আল-ইমাম, বালাদ নামক স্থানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে হারব আত-তায়ি।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১২৮)
الْمَوْصِلِيُّ، قَالَ: ثنا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ أَبَانَ،
আল-মাওসিলী বলেন: হুসাইন আল-জু’ফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়িদাহ থেকে, তিনি আবান থেকে,
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১২৯)
عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَحَبُّ عِبَادِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ رِعَاءُ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ، الَّذِينَ يُحَبِّبُونَ عِبَادَ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ، وَيُحَبِّبُونَ اللَّهَ إِلَى عِبَادِهِ»

وَأَخْرَجَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خِيَارُ عِبَادِ اللَّهِ» .
হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহর নিকট আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় তারা, যারা সূর্য ও চন্দ্রের (গতিবিধির) প্রতি লক্ষ্য রাখে; যারা আল্লাহর বান্দাদের আল্লাহর নিকট প্রিয় করে তোলে এবং আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের নিকট প্রিয় করে তোলে।”

এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহর সর্বোত্তম বান্দা।”
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩১)
وَقَالَ الأَزْهَرِيُّ: «إِنَّ خِيَارَ عِبَادِ اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُونَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ، وَالنُّجُومَ، وَالأَظَلَّةَ لِذِكْرِ اللَّهِ عز وجل» .

وَأَخْرَجَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ قَالَ: «لَئِنْ شِئْتُمْ لأَقْسِمَنَّ أَنَّ أَحَبَّ عِبَادِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُونَ الشَّمْسَ، وَالْقَمَرَ، وَيُرَاعُونَ النُّجُومَ، وَالأَظَلَّةَ لِذِكْرِ اللَّهِ عز وجل» ، وَعَنْهُ أَيْضًا: «لَئِنْ شِئْتُمْ لأَقْسِمَنَّ لَكُمْ أَنَّ أَحَبَّ عِبَادِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ رُعَاةُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ» .

وَأَخْرَجَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَعَلَّمُوا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُونَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ، وَمِنَ النُّجُومِ مَا تَهْتَدُونَ بِهِ فِي
আল-আযহারী বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা মহান আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং ছায়ার গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখে»।

আবুদ্দারদা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা চাইলে আমি অবশ্যই শপথ করে বলতে পারি যে, আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা তারা, যারা মহান আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং ছায়ার গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখে»; এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত: «তোমরা চাইলে আমি তোমাদের জন্য অবশ্যই শপথ করে বলতে পারি যে, আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলো সূর্য ও চন্দ্রের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখা ব্যক্তিগণ»।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: «তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু শিক্ষা করো যা দিয়ে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, এবং নক্ষত্ররাজি থেকে ততটুকু শেখো যা দিয়ে তোমরা পথ খুঁজে পাবে...»
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩২)
الظُّلُمَاتِ» .

وَأَخْرَجَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: «تَعَلَّمُوا مِنَ النُّجُومِ مَا تَهْتَدُونَ بِهِ فِي الْبَرِّ، وَالْبَحْرِ، ثُمَّ انْتَهُوا، وَتَعَلَّمُوا مِنَ الأَنْسَابِ مَا تَصِلُونَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ، وَتَعْرِفُونَ مَا يَحِلُّ لَكُمْ مِمَّا يُحَرَّمُ عَلَيْكُمْ مِنَ الأَنْسَابِ، ثُمَّ انْتَهُوا» .
অন্ধকারসমূহ»।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে: «তোমরা নক্ষত্ররাজি থেকে ততটুকুই শেখো যা দ্বারা তোমরা স্থলে ও সমুদ্রে পথনির্দেশ লাভ করতে পারো, এরপর ক্ষান্ত হও। আর তোমরা বংশপরম্পরা থেকে ততটুকুই শেখো যা দ্বারা তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো এবং বংশীয় সম্পর্কের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য যা হালাল ও যা হারাম করা হয়েছে তা জানতে পারো, এরপর ক্ষান্ত হও»।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
وَأَخْرَجَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ» .

وَأَخْرَجَ عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّهُ قَالَ: «لا بَأْسَ أَنْ يَتَعَلَّمَ الرَّجُلُ مِنَ النُّجُومِ مَا يَهْتَدِي بِهِ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ، وَيَتَعَلَّمَ مَنَازِلَ الْقَمَرِ» .

وَأَخْرَجَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: " {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ} [يس: 39] ، فَقَالَ: هِيَ ثَمَانِيَةٌ وَعِشْرُونَ
এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) থেকে, তিনি বলেছেন: "পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই কিবলা।"

এবং মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জন্য নক্ষত্ররাজির সেই পরিমাণ জ্ঞান অর্জনে কোনো দোষ নেই যার দ্বারা সে স্থলে ও জলে পথনির্দেশ লাভ করতে পারে, এবং সে চন্দ্রের কক্ষপথসমূহ শিখতে পারে।"

এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর বিষয়ে বর্ণিত: "{আর চন্দ্রের জন্য আমি নির্ধারিত করেছি বিভিন্ন কক্ষপথ, অবশেষে তা শুষ্ক বাঁকা পুরনো খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়।}" [ইয়াসিন: ৩৯], তিনি বলেছেন: "তা আটাশটি।"
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
مَنْزِلا يَنْزِلُهَا فِي كُلِّ شَهْرٍ: أَرْبَعَةَ عَشْرَ مِنْهَا شَامِيَّةٌ، وَأَرْبَعَةَ عَشْرَ مِنْهَا يَمَانِيَّةٌ، فَأَوَّلُهَا الشَّرْطَيْنِ، وَالْبُطَيْنُ، وَالثُّرَيَّا، وَالدَّبَرَانُ،
মঞ্জিলসমূহ যেগুলোতে এটি প্রতি মাসে অবতরণ করে: তার মধ্যে চৌদ্দটি হলো শামিয়া এবং চৌদ্দটি হলো ইয়ামানিয়া। সেগুলোর প্রথমটি হলো আশ-শরাতাইন, আল-বুতাইন, আস-সুরাইয়া এবং আদ-দাবারান,
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وَالْهَقْعَةُ، وَالْهَنْعَةُ، وَالذِّرَاعُ، وَالنَّثْرَةُ، وَالطَّرْفُ،
এবং আল-হাকআহ, আল-হানআহ, আয-যিরা, আন-নাসরাহ এবং আত-তারফ,
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
وَالْجَبْهَةُ، وَالزُّبْرَةُ، وَالصَّرْفَةُ، وَالْعَوَّاءُ، وَالسِّمَاكُ،
এবং আল-জাবহা, এবং আল-জুবরা, এবং আস-সারফা, এবং আল-আউওয়া, এবং আস-সিমাক,
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وَهُوَ آخِرُ الشَّامِيَّةِ، وَالْغَفْرُ، وَالزُّبَانَا، وَالإِكْلِيلُ، وَالْقَلْبُ،
এবং এটি শামিয়্যাহ এর শেষ, এবং আল-গাফর, আয-যুবানা, আল-ইকলীল ও আল-কালব।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
وَالشَّوْلَةُ، وَالنَّعَائِمُ، وَالْبَلْدَةُ، وَسَعْدُ الذَّابِحُ،
আশ-শাওলাহ, আন-নাআইম, আল-বালদাহ এবং সাদুজ জাবিহ।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
وَسَعْدُ بُلَعَ، وَسَعْدُ السُّعُودِ، وَسَعْدُ الأَخْبِيَةِ، وَمُقَدَّمُ الدَّلْوِ، وَمُؤَخَّرُ الدَّلْوِ، وَالْحُوتُ، وَهُوَ آخِرُ الثَّمَانِيَةِ
এবং সাদ বুলা, সাদুস সুউদ, সাদুল আখবিয়া, মুকাদ্দামুদ দালউ, মুআখখারুদ দালউ এবং আল-হুত; আর এটি হলো এই আটটির মধ্যে সর্বশেষ।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪০)
وَالْعِشْرِينَ، فَإِذَا سَارَ هَذِهِ الثَّمَانِيَةَ وَعِشْرِينَ مَنْزِلا عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ، كَمَا كَانَ فِي أَوَّلِ الشَّهْرِ ".

وَأَخْرَجَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، فِي قَوْلِهِ تبارك وتعالى: " {الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا} [الفرقان: 61] ، قَالَ: هِيَ هَذَا الاثْنَا عَشْرَ بُرْجًا: أَوَّلُهَا الْحَمْلُ، ثُمَّ الثَّوْرُ، ثُمَّ الْجَوْزَاءُ، ثُمَّ السَّرَطَانُ، ثُمَّ الأَسَدُ، ثُمَّ السُّنْبُلَةُ، ثُمَّ الْمِيزَانُ، ثُمَّ الْعَقْرَبُ، ثُمَّ الْقَوْسُ، ثُمَّ الْجَدْيُ، ثُمَّ الدَّلْوُ، ثُمَّ الْحُوتُ ".

وَأَخْرَجَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، فِي قَوْلِهِ تبارك وتعالى: " {بِالْخُنَّسِ {15} الْجَوَارِ الْكُنَّسِ} [التكوير: 15-16] ، قَالَ: النُّجُومُ تَخْنَسُ
এবং আটাশতম; সুতরাং যখন সে এই আটাশটি মঞ্জিল বা অবস্থান অতিক্রম করে, তখন সে পুরাতন খেজুরের শুষ্ক ডালের ন্যায় হয়ে যায়, যেমনটি মাসের শুরুতে ছিল।

এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে বরকতময় ও মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: "যিনি আকাশে রাশিচক্র তৈরি করেছেন" [আল-ফুরকান: ৬১], তিনি বলেন: সেগুলো হলো এই বারোটি রাশি: তাদের প্রথমটি মেষরাশি, তারপর বৃষরাশি, তারপর মিথুনরাশি, তারপর কর্কটরাশি, তারপর সিংহরাশি, তারপর কন্যারাশি, তারপর তুলারাশি, তারপর বৃশ্চিকরাশি, তারপর ধনুরাশি, তারপর মকররাশি, তারপর কুম্ভরাশি এবং তারপর মীনরাশি।

এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে বরকতময় ও মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: "শপথ সেই নক্ষত্ররাজির যা পশ্চাতে প্রস্থান করে, যা চলমান ও অদৃশ্য হয়ে যায়" [আত-তাকভীর: ১৫-১৬], তিনি বলেন: নক্ষত্রগুলো পশ্চাতে অপসৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪১)
بِالنَّهَارِ، وَتَظْهَرُ بِاللَّيْلِ ".

وَبِهَذَا السَّنَدِ، قَالَ: " هِيَ النُّجُومُ السَّبْعَةِ: زُحَلُ، وَبَهْرَامُ، وَعُطَارِدُ، وَالْمُشْتَرِي، وَالزُّهَرَةُ، وَالشَّمْسُ، وَالْقَمَرُ ".

قَالَ: " خُنُوسُهَا: رُجُوعُهَا، وَكُنُوسُهَا: تَغَيُّبُهَا ".

وَأَخْرَجَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا طَلَعَ
দিনের বেলায়, এবং রাতে প্রকাশিত হয়।"

এবং এই সূত্রের মাধ্যমেই তিনি বলেছেন: "সেগুলো হলো সাতটি নক্ষত্র: শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, সূর্য এবং চন্দ্র।"

তিনি বলেছেন: "সেগুলোর 'খুনুস' হওয়া হলো: সেগুলোর ফিরে আসা, এবং 'কুনুস' হওয়া হলো: সেগুলোর অদৃশ্য হওয়া।"

এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন উদিত হয়
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪২)
النَّجْمُ، ارْتَفَعَتِ الْعَاهَةُ عَنْ أَهْلِ كُلِّ بَلَدٍ» وَأَخْرَجَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى تَذْهَبَ الْعَاهَةُ» .

قَالَ: فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَا ذَهَابُ الْعَاهَةِ؟ .

قَالَ: «طُلُوعُ الثُّرَيَّا» .
"যখন সুরাইয়া নক্ষত্র উদিত হয়, তখন প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের থেকে আপদ দূরীভূত হয়।" এবং ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না আপদ দূর হয়।"

তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আবু আবদুর রহমান! আপদ দূর হওয়া বলতে কী বোঝায়?

তিনি বললেন: "সুরাইয়া নক্ষত্রের উদয়।"
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
قَالَ الشَّيْخُ: وَقَدْ أَكْثَرَ الْعَرَبُ فِي أَشْعَارِهِمْ أَشْيَاءَ مِنْ عِلْمِ النُّجُومِ، فَقَالَ كُثَيِّرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ:

فَدَعْ عَنْكَ سُعْدَى إِنَّمَا تُسْعِفُ النَّوَى … قِرَانَ الثُّرَيَّا مَرَّةً ثُمَّ تَافِلُ

يُرِيدُ أَنَّ الثُّرَيَّا يُقَارِنُ الْهِلالَ لَيْلَةً مَرَّةً فِي السَّنَةِ، ثُمَّ تَغِيبُ، وَكَذَلِكَ سُعْدَى إِنَّمَا يُلاقِيهَا مَرَّةً فِي الْحَوْلِ.

وَقَالَ آخَرٌ:
শাইখ বলেন: আরবগণ তাদের কবিতায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক বিষয় অধিকমাত্রায় উল্লেখ করেছেন। অতঃপর কুসায়ির ইবনে আব্দুর রহমান বলেছেন:

সুতরাং সু’দাকে তুমি বর্জন করো, কেননা বিচ্ছেদ তো কেবল আনুকূল্য দেয় … সুরাইয়া নক্ষত্রের একবারের মিলন, অতঃপর তা দ্রুত অস্তমিত হয়।

তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, সুরাইয়া নক্ষত্র বছরে এক রাতে একবার নতুন চাঁদের সাথে মিলিত হয়, অতঃপর তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তেমনিভাবে সু’দার সাথেও বছরে কেবল একবারই তার সাক্ষাৎ ঘটে।

অন্য একজন কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
إِذَا مَا قَارَنَ الْقَمَرُ الثُّرَيَّا … لِخَامِسَةٍ فَقَدْ ذَهَبَ الشِّتَاءُ

وَالثُّرَيَّا تُقَارِنُ الْقَمَرَ لِخَمْسٍ تَخْلُو مِنَ الشَّهْرِ مَرَّتَيْنِ: عِنْدَ انْصِرَامِ الْبَرْدِ وَطِيبِ الزَّمَانِ، وَعِنْدَ انْصِرَامِ الْحَرِّ.

وَقَالَ آخَرٌ:

إِذَا مَا قَارَنَ الْقَمَرُ الثُّرَيَّا … لِخَامِسَةٍ فَقَدْ ذَهَبَ الْمَصِيفُ

وَقَالَ حَاتِمُ طَيٍّ:

وَعَاذِلَةٍ هَبَّتْ بِلَيْلٍ تَلُومُنِي … وَقَدْ غَابَ عَيُّوقُ الثُّرَيَّا فَعَرَّدَا

وَقَالَ ذُو الرُّمَّةِ فِي الاهْتِدَاءِ بِالنُّجُومِ:
যখন চাঁদ সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটবর্তী হয় … পঞ্চম রাতে, তখন শীত বিদায় নেয়।

আর সুরাইয়া মাসে দুবার চাঁদের নিকটবর্তী হয় যখন মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকে: শীতের সমাপ্তি ও মনোরম সময়ের শুরুতে এবং গরমের সমাপ্তিতে।

অন্য একজন বলেন:

যখন চাঁদ সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটবর্তী হয় … পঞ্চম রাতে, তখন গ্রীষ্ম বিদায় নেয়।

হাতেম তায়ী বলেন:

কত তিরস্কারকারিণী রাতে জেগে আমাকে ভর্ৎসনা করছিল … অথচ তখন সুরাইয়ার আইয়ুক নক্ষত্রটি অদৃশ্য হয়ে দূরে সরে গিয়েছিল।

যুর রুম্মাহ নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ সম্পর্কে বলেন:
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
فَقُلْتُ اجْعَلِي ضَوْءَ الْفَرَاقِدِ كُلِّهَا … يَمِينًا وَمِهْرَ النِّسْرِ عَنْ شِمَالِكِ

وَقَالَ آخَرٌ:

فَسِيرُوا بِقَلْبِ الْعَقْرَبِ الْيَوْمَ إِنَّهُ … سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ بِالنُّحُوسِ وَبِالسَّعْدِ

أَيْ: سِيرُوا عِنْدَ سُقُوطِ قَلْبِ الْعَقْرَبِ، وَالْعَرَبُ يَقُولُونَ: إِنَّهُ نَحْسٌ.

وَقَالَ آخَرٌ:

قَدْ جَاءَ سَعْدٌ مَوْعِدًا بِشَرِّهِ … مُخَبِّرَةً جُنُودُهُ بِحَرِّهِ
আমি বললাম, তুমি ফারকাদ নক্ষত্রসমূহের সকল আলোকশিখাকে ডানে রাখো … এবং তোমার বাম দিকে নিসর নক্ষত্রের মোহরকে রাখো।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

আজ তোমরা কালবুল আকরাব নক্ষত্র উদিত থাকা অবস্থায় পথ চলো, নিশ্চয়ই এটি … তোমাদের নিকট দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের বিচারে সমান।

অর্থাৎ: কালবুল আকরাব নক্ষত্রটি অস্ত যাওয়ার সময় তোমরা ভ্রমণ করো; আর আরবরা বলে থাকে যে এটি অশুভ।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

সা'দ তার অকল্যাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে … যার বাহিনী তার প্রচণ্ড উত্তাপের সংবাদ দিচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
يَعْنِي سَعْدَ الأَخْبِيَةِ، وَجُنُودُهُ: الْحَشَرَاتُ، وَهُوَ يَطْلَعُ فِي إِقْبَالِ الدِّفْءِ، فَيُبَشِّرُ الْهَوَامُ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا مَا كَانَ مُخْتَبِئًا، وَقِيلَ: سُمِّيَ سَعْدَ الأَخْبِيَةِ لِذَلِكَ.

وَلِلْعَرَبِ أَسْجَاعٌ فِي طُلُوعِ النُّجُومِ تَدُلُّ عَلَى عِلْمٍ كَثِيرٍ.

وَأَخْرَجَ بِسَنَدِهِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّاسِبِيِّ، قَالَ: قَالُوا يَعْنِي الْعَرَبَ: " إِذَا طَلَعَ الشَرْطَانِ، أَلْقَتِ الإِبِلُ أَوْبَارَهَا فِي الأَعْطَانِ، وَاعْتَدَلَ الزَّمَانُ، وَاخْضَرَّتِ الأَغْصَانُ، وَتَهَادَتِ الْجِيرَانُ.

وَإِذَا طَلَعَ الْبُطَيْنُ، طَلَعَتِ الأَرْضُ بِكُلِّ زَيْنِ، وَاقْتُضِيَ الدَّيْنُ، وَحَسُنَ النَّبَاتُ فِي كُلِّ عَيْنٍ.

وَإِذَا طَلَعَ النَّجْمُ، خِيفَ السَّقْمُ، وَتَرَى عَانَاتُ الْوَحْشِ فِي كَدَمٍ.
অর্থাৎ সাদ আল-আখবিয়া, আর এর বাহিনী হলো পতঙ্গসমূহ। এটি উষ্ণতার আগমনের সময় উদিত হয়, ফলে কীট-পতঙ্গ সুসংবাদ দেয় এবং যা কিছু লুকানো ছিল তা বেরিয়ে আসে। বলা হয়েছে: এ কারণেই একে সাদ আল-আখবিয়া নামকরণ করা হয়েছে।

নক্ষত্ররাজির উদয় সম্পর্কে আরবদের কাছে এমন কিছু ছন্দোবদ্ধ বাক্য রয়েছে যা প্রচুর জ্ঞানের পরিচয় দেয়।

তিনি স্বীয় সনদে আবু জাফর আর-রাসিবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা (অর্থাৎ আরবরা) বলেছে: "যখন আশ-শারাওয়ান উদিত হয়, তখন উটগুলো তাদের বিশ্রামের স্থানে লোম ঝরিয়ে ফেলে, আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হয়, গাছের ডালপালা সবুজ হয়ে ওঠে এবং প্রতিবেশীরা একে অপরকে উপহার পাঠায়।"

এবং যখন আল-বুতাইন উদিত হয়, তখন পৃথিবী তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে আবির্ভূত হয়, ঋণ পরিশোধ করা হয় এবং প্রত্যেক চোখের সামনে উদ্ভিদরাজি সুন্দর হয়ে ওঠে।

আর যখন আন-নাজম (সুরেইয়া) উদিত হয়, তখন ব্যাধির আশঙ্কা করা হয় এবং বন্য গাধার পালের মধ্যে কামড়া-কামড়ি করতে দেখা যায়।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
وَإِذَا طَلَعَ الدَّبَرَانِ، بَاتَ الْفَقِيرُ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَرَمَتْ بِأَنْفُسِهَا حَيْثُ شَاءَتِ الصِّبْيَانُ، وَكُرِهَتِ النِّيرَانُ.

وَإِذَا طَلَعَتِ الْهَقْعَةُ، صَعِدَ النَّاسُ إِلَى الْقَلْعَةِ، وَرَجَعُوا إِلَى النَّجْعَةِ، وَأَوْرَسَتِ الْفَقْعَةُ.

وَإِذَا طَلَعَتِ الْهَنْعَةُ، أَحَبَّ النَّاسُ إِلَى الرِّيفِ الرَّجْعَةَ.

وَإِذَا طَلَعَتِ النَّثْرَةُ، تَرَطَّبَتِ الْبُسْرَةُ، وَجَثَى الْفَحْلُ بَكْرَةً، وَلَمْ يُتْرَكْ فِي ذَاتِ دَرٍّ قَطْرَةٌ، وَأَوَتِ الْمَوَاشِي إِلَى الْحُجْرَةِ.

وَإِذَا طَلَعَتِ الْعَوَّا، طَابَ الْخِبَا، وَانْكَنَسَتِ الظِّبَا، وَأَشْرَفَ عَلَى عَوْدِهِ الْحَرْبَا.
যখন আদ-দাবারান উদিত হয়, তখন দরিদ্র ব্যক্তি সর্বত্র রাত্রিযাপন করে, শিশুরা যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিজেদের মেলে ধরে এবং আগুনের তাপ অপছন্দ করা হয়।

যখন আল-হাক‘আহ উদিত হয়, মানুষ দুর্গে আরোহণ করে, তারা ফসলের অন্বেষণে ফিরে আসে এবং মাশরুমগুলো পীত বর্ণ ধারণ করে।

যখন আল-হান‘আহ উদিত হয়, মানুষ উর্বর পল্লী অঞ্চলে প্রত্যাবর্তন করা পছন্দ করে।

যখন আন-নাসরাহ উদিত হয়, কাঁচা খেজুরগুলো রসালো হয়ে ওঠে, প্রজননক্ষম উট প্রত্যুষে হাঁটু গেড়ে বসে, দুগ্ধবতী পশুর ওলান থেকে এক ফোঁটাও দুগ্ধ বাকি রাখা হয় না এবং গবাদি পশুরা খোঁয়াড়ে আশ্রয় নেয়।

যখন আল-আউওয়া উদিত হয়, তখন তাঁবুতে থাকা সুখকর হয়, হরিণরা তাদের আশ্রয়ে লুকিয়ে পড়ে এবং গিরগিটি কাষ্ঠখণ্ডের ওপর আরোহণ করে উঁকি দেয়।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
وَإِذَا طَلَعَ سُهَيْلٌ، فَلأُمِّ الْفَصِيلِ الْوَيْلُ.

وَإِذَا طَلَعَ السِّمَاكُ، فَأَجِدْ حِذَاكَ، وَأَصْلِحْ خِبَاكَ، وَصَوِّبْ فِنَاكَ، يَعْنِي لِلْمَطَرِ.

وَإِذَا طَلَعَ الْغَفْرُ، أَتَاكَ مِنَ الْبَرْدِ صَدْرٌ، وَقَامَ الشَّعْرُ، وَطَابَ أَكْلُ التَّمْرِ.

وَإِذَا طَلَعَ الزُّبَانَا، فَأَعِدَّ لِكُلِّ ذِي مَاشِيَةٍ هَوَانَا، وَلِكُلِّ ذِي عِيَالٍ شَانَا، وَقَالُوا: كَانَ وَكَانَا، فَاحْتَلْ لأَهْلِكَ وَلا تَوَانَا، وَاحْذَرْ أَنْ تُرَى عُرْيَانَا.

وَإِذَا طَلَعَ الإِكْلِيلُ، هَبَّتْ عَلَى الأَنْيُقِ الْفُحُولُ، وَشُمِّرَتِ الذُّيُولُ، وَخِيفَتِ السُّيُولُ.
যখন সুহাইল উদিত হয়, তখন উটের বাচ্চার মায়ের জন্য দুর্ভোগ নেমে আসে।

যখন সিমাক উদিত হয়, তখন তোমার পাদুকা মজবুত করো, তোমার তাঁবু ঠিক করো এবং তোমার আঙিনা প্রস্তুত করো; অর্থাৎ বৃষ্টির প্রস্তুতির জন্য।

যখন গাফর উদিত হয়, তখন তোমার নিকট শীতের প্রারম্ভিক অংশ চলে আসে, শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় এবং খেজুর ভক্ষণ তৃপ্তিদায়ক হয়।

যখন জুবানা উদিত হয়, তখন প্রত্যেক গবাদি পশুর মালিকের জন্য পশুখাদ্য প্রস্তুত করো এবং প্রতিটি পরিবারওয়ালা ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করো; তারা নানা কথাবার্তা বলবে। সুতরাং তোমার পরিবারের জন্য উপায় অন্বেষণ করো এবং অলসতা করো না, আর নগ্ন অবস্থায় থাকা থেকে সতর্ক হও।

যখন ইকলিল উদিত হয়, তখন মাদী উটগুলোর ওপর পুরুষ উটগুলো উত্তেজিত হয়ে ওঠে, কাপড়ের প্রান্তভাগ গুটিয়ে নেওয়া হয় এবং বন্যার আশঙ্কা করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وَإِذَا طَلَعَ الْقَلْبُ، هَرَّ الْعِشَارُ مِثْلَ الْكَلْبِ، وَصَارَ أَهْلُ الْبَادِيَةِ فِي غَمٍّ وَكَرْبِ.

وَإِذَا طَلَعَتِ الشَّوْلَةُ، أَتَاكَ الشِّتَاءُ بِصَوْلَةٍ، وَكَانَتْ لِلضُّعَفَاءِ جَوْلَةٌ، وَاشْتَدَّ عَلَى الْعِيَالِ الْعَوْلَةُ، وَأَعْجَلَتِ الشَّيْخَ الْبَوْلَةُ.

وَإِذَا طَلَعَتِ الْبَلْدَةُ، فَشَتِ الرِّعْدَةُ، وَأَصَابَ النَّاسَ مِنَ الْبَرْدِ شِدَّةٌ، وَأَحَبُّوا عِنْدَ النَّارِ الْقِعْدَةَ ".

وَقَالَ بَعْضُ الْعَرَبِ فِي هَذَا الْوَقْتِ:

وَأَوْقَدَتِ الشِّعْرَى مَعَ اللَّيْلِ نَارَهَا … وَأَضْحَتْ مُحُولا جِلْدُهَا يَتَوَسَّفُ
যখন কালব নক্ষত্র উদিত হয়, দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ কুকুরের ন্যায় গোঙাতে থাকে এবং মরুচারীগণ দুঃখ ও কষ্টে নিপতিত হয়।

যখন শাওলা নক্ষত্র উদিত হয়, শীতকাল প্রবল দাপটের সাথে তোমার নিকট উপস্থিত হয়, দুর্বলদের জন্য অস্থিরতা তৈরি হয়, পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণের ভার তীব্র হয়ে ওঠে এবং বৃদ্ধ ব্যক্তির প্রস্রাব ত্বরান্বিত হয়।

যখন বালদাহ নক্ষত্র উদিত হয়, কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের ওপর তীব্র শীত আপতিত হয় এবং তারা আগুনের পাশে বসে থাকাকেই প্রিয় মনে করে।

এই সময়কাল সম্পর্কে জনৈক আরব বলেছেন:

শিরা নক্ষত্র রজনীর সাথে সাথে তার অগ্নি প্রজ্বলিত করেছে … আর ভূমিগুলো এমন শুষ্ক ও ঊষর হয়ে পড়েছে যে সেগুলোর উপরিভাগ চামড়ার ন্যায় উঠে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫০)
وَأَصْبَحَ مُبْيَضَّ السَّقِيعِ كَأَنَّهُ … عَلَى سَرَوَاتِ النِّيبِ قُطْنٌ مُنَدَّفٌ

قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: وَلَهُمْ مِنَ الأَسْجَاعِ فِي هَذَا الضَّرْبِ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا، وَلَهُمْ أَيْضًا أَسْجَاعٌ فِي تَقْدِيرِ مُكْثِ الْهِلالِ وَالْقَمَرِ مِنْ أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنَ الشَّهْرِ إِلَى عَشْرٍ مِنْهُ.

وَأَخْرَجَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ السَّرِيِّ الزَّجَّاجِ، قَالَ: " وَلِلْعَرَبِ فِي تَقْدِيرِ الْهِلالِ، وَالْقَمَرِ مِنْ أَوَّلِ لَيْلَةٍ إِلَى عَشْرٍ شَيْءٌ يَسْجَعُونَ فِيهِ، وَيُبَيِّنُونَ مِقْدَارَ مُكْثِ الْقَمَرِ عَلَى عَادَتِهِمْ فِي التَّمْثِيلِ، فَيَقُولُونَ: الْهِلالُ ابْنُ لَيْلَةٍ، رَضَاعُ سُخَيْلَةٍ، حَلَّ أَهْلُهَا بِرُمَيْلَةٍ، أَيْ قَدْرُ مُكْثِهِ ذَلِكَ الْقَدْرِ
আর তা তুষারের শুভ্রতায় এমন হয়ে গেল যেন … বৃদ্ধ উষ্ট্রীদের পিঠের ওপর ধুনিত তুলা।

শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: এই জাতীয় বিষয়ে তাদের কাছে এর চেয়েও অনেক বেশি ছন্দোবদ্ধ বাক্য রয়েছে। মাসের প্রথম রাত থেকে দশম রাত পর্যন্ত নতুন চাঁদ ও পূর্ণ চাঁদের অবস্থানের সময়কাল নির্ধারণেও তাদের ছন্দোবদ্ধ উক্তি রয়েছে।

আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আস-সারী আজ-জাজ্জাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "মাসের প্রথম রাত থেকে দশম রাত পর্যন্ত নতুন চাঁদ ও পূর্ণ চাঁদের অবস্থানের পরিমাণ নির্ধারণে আরবদের কিছু ছন্দোবদ্ধ বাক্য রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা তাদের চিরাচরিত উপমার রীতি অনুযায়ী চাঁদের অবস্থানের স্থায়িত্ব বর্ণনা করে। তারা বলে: এক রাতের নতুন চাঁদ, ছাগলছানার দুধ পানের ন্যায় স্বল্পস্থায়ী, যার মালিকরা বালুময় স্থানে তাবু ফেলেছে। অর্থাৎ, এর অবস্থানের ব্যাপ্তি ঠিক ওইটুকু পরিমাণ।"
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫১)
وَبَعْضُهُمْ، يَقُولُ: عَتَمَةُ سُخَيْلَةٍ، أَيْ: إِبْطَاءُ سُخَيْلَةٍ فِي الرَّضَاعِ.

وَإِنَّمَا قَالُوا: حَلَّ أَهْلُهَا بِرُمَيْلَةٍ، لأَنَّ لَبَنَ أُمِّهَا يَقِلُّ، فَيَقِلُّ رَضَاعُهَا.

وَابْنُ لَيْلَتَيْنِ، حَدِيثُ أَمَتَيْنِ، كَذِبٌ وَمَيْنٌ، أَيْ مُكْثُهُ قَلِيلٌ وَحَدِيثُهُمَا كَذِبٌ، فَهُوَ غَيْرُ مُتَّصِلٍ.

وَابْنُ ثَلاثٍ قَلِيلُ اللَّبَاثِ.

وَقِيلَ: حَدِيثُ قَيْنَاتٍ، غَيْرُ جَدِّ مُؤْتَلِفَاتٍ.

وَابْنُ أَرْبَعٍ، عَتَمَةُ رُبَعٍ، لا جَائِعٍ وَلا مُرْضَعٍ.
এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: সুকায়লার বিলম্ব, অর্থাৎ: স্তন্যপানে ছোট মেষশাবকের ধীরগতি।

তারা কেবল একারণেই বলেছিল যে, তার পরিবার বালুময় স্থানে অবতরণ করেছে, কারণ তার মায়ের দুধ কমে যায়, ফলে তার স্তন্যপানও হ্রাস পায়।

আর দুই রাতের চাঁদ হলো দুই দাসীর কথার মতো, যা মিথ্যা ও প্রবঞ্চনা; অর্থাৎ এর অবস্থানকাল সংক্ষিপ্ত এবং তাদের আলাপচারিতা মিথ্যা, ফলে তা নিরবচ্ছিন্ন নয়।

আর তিন রাতের চাঁদ হলো অল্প সময় অবস্থানকারী।

এবং বলা হয়েছে: গায়িকাদের আলাপচারিতা, যা সুসংবদ্ধ সত্য নয়।

আর চার রাতের চাঁদ হলো বসন্তকালীন উষ্ট্রশাবকের প্রত্যাবর্তনের সময়ের মতো, যা ক্ষুধার্থও নয় আবার স্তন্যপায়ীও নয়।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫২)
الرُّبَعُ: مَا نَتَجَ فِي الرَّبِيعِ، وَهُوَ أَقْوَى مِمَّا يُنْتَحُ فِي الصَّيْفِ.

وَابْنُ خَمْسٍ، عَشَاءُ خَلِفَاتٍ قُعْسٍ.

وَالْخَلِفَاتُ: جَمْعُ خَلِفَةٍ، وَهُنَّ الْحَوَامِلُ، وَجَمَعَهُنَّ الْمَخَاضُ، وَإِنَّمَا جَعَلَهُنَّ قُعْسًا جَمْعُ قَعْسَاءَ، لأَنَّهَا إِذَا حَمَلَتْ شَمَخَتْ بِآنَافِهَا، وَرَفَعَتْ رُؤُوسَهَا، وَخَرَجَتْ صُدُورُهَا، وَتَشَذَّرَتْ فَيَقِلُّ أَكْلُهَا.

وَابْنُ سِتٍّ، سِرْ وَبِتْ.

وَقِيلَ: تَحَدَّثْ وَبِتْ، لأَنَّ الْقَمَرَ يَمْكُثُ نَحْوَ ثَلاثَةِ أَسْبَاعٍ مِنَ اللَّيْلِ.

وَقَالُوا: ابْنُ سَبْعٍ، حَدِيثُ جَمْعٍ.

وَقِيلَ: ابْنُ سَبْعٍ، دُلْجَةُ الضَّبُعِ، لأَنَّ ابْنَ السَّبُعِ يَغِيبُ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَفِي ذَلِكَ الْوَقْتِ يَتَحَرَّكُ الضَّبُعُ، لأَنَّهَا تَدْلُجُ، وَإِنَّمَا
'রুব্বা' হলো সেই শাবক যা বসন্তকালে জন্ম নেয় এবং এটি গ্রীষ্মকালে জন্ম নেওয়া শাবক অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।

আর পাঁচ দিনের চাঁদ হলো কুঁজো পিঠের গর্ভবতী উটনিদের নৈশভোজের সময়।

'খলিফাত' হলো 'খলিফাহ' শব্দের বহুবচন, আর এগুলো হলো গর্ভবতী উটনি; তাদের সমষ্টিগত নাম হলো 'মাখাদ'। তাদের 'কু'স' (যা 'কা'সা' এর বহুবচন) বলা হয়েছে কারণ উটনি যখন গর্ভবতী হয় তখন সে তার নাসিকা উন্নত করে, মস্তক উত্তোলন করে, তার বক্ষ প্রসারিত হয় এবং সে তেজস্বিতা প্রকাশ করে, ফলে তার আহার কমে যায়।

আর ছয় দিনের চাঁদ হলো: চলতে থাকো এবং রাত যাপন করো।

আবার বলা হয়েছে: গল্পগুজব করো এবং রাত কাটাও; কারণ চাঁদ রাতের প্রায় সাত ভাগের তিন ভাগ সময় পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

তারা বলেন: সাত দিনের চাঁদ হলো জনসমাবেশের কথোপকথনের সময়।

আর বলা হয়েছে: সাত দিনের চাঁদ হলো হায়েনার শেষ রাতের পরিভ্রমণ; কারণ সাত দিনের চাঁদ মধ্যরাতে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সেই সময়ে হায়েনা বিচরণ শুরু করে, কেননা সে শেষ রাতে পথ চলে। আর প্রকৃতপক্ষে...
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
قِيلَ: حَدِيثُ جَمْعٍ، لأَنَّهُ يُمْكِنُ فِيهِ حَدِيثُ الْجَمَاعَةِ.

وَابْنُ ثَمَانٍ، قَمَرٌ إِضْحِيَانَ.

وَإِضْحِيَانُ: أَيْ بَيِّنٌ.

وَابْنُ تِسْعٍ، يُلْتَقَطُ فِيهِ الْجِزْعُ.

وَقَالُوا: انْقَطَعَ الشِّسْعُ، وَإِنَّمَا قِيلَ: انْقَطَعَ الشِّسْعُ، لِطُولِ الْمُكْثِ فِيهِ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ.

وَابْنُ عَشْرٍ، مُحْنَقُ الْفَجْرِ.

وَقَالُوا: يُؤَدِّيكَ إِلَى الْفَجْرِ.

وَتَرَكَتِ الْعَرَبُ أَنْ تُمَثِّلَ مَا بَعْدَ هَذَا، لِقُرْبِهِ مِنَ الْفَجْرِ، لأَنَّهُمْ
বলা হয়েছে: এটি জনসমাবেশের আলাপচারিতা, কারণ এতে একদলের সাথে একত্রে কথা বলা সম্ভব হয়।

আর অষ্টম রাতের চাঁদ হলো উজ্জ্বল জ্যোতি ছড়ানো চাঁদ।

আর উজ্জ্বল বা জ্যোতি ছড়ানো অর্থ: সুস্পষ্ট।

আর নবম রাতের চাঁদ, এতে পুঁতি বা মূল্যবান পাথর কুড়িয়ে নেওয়া যায়।

এবং তারা বলত: স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছে; আর ‘স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছে’ কেবল এ জন্যই বলা হয়েছে যে, তা অস্ত যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।

আর দশম রাতের চাঁদ হলো সুবহে সাদিকের কণ্ঠরোধকারী।

এবং তারা বলত: তা আপনাকে ভোর পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।

আর আরবরা এর পরবর্তী অবস্থাগুলোর উপমা দেওয়া বর্জন করেছে সুবহে সাদিকের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে, কেননা তারা
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
قَدْ وَصَفُوا اللَّيَالِيَ بِجُمْلَتِهَا إِلَى آخِرِ الشَّهْرِ ".

وَأَخْرَجَ عَنْ أَبِي يَحْيَى مُحَمَّدِ بْنِ كُنَاسَةَ الأَسَدِيِّ صَاحِبِ النُّجُومِ، وَقَالَ: " كَانَتِ الْعَرَبُ تُسَمِّي الشَّهْرَ عَشْرَةَ أَسْمَاءٍ، لِكُلِّ ثَلاثَةٍ مِنْهَا اسْمٌ، فَتُسَمِّي أَوَّلَهَا الْغُرَرَ، ثُمَّ النُّفَلَ، ثُمَّ الدُّرَعَ، ثُمَّ الْعُشَرَ، ثُمَّ الْبِيضَ، ثُمَّ الظُّلُمَ، ثُمَّ الْحُنْدُسَ، ثُمَّ الدَّآدِئَ، ثُمَّ الْمُحَاقَ، ثُمَّ الْفَلْتَةَ.

فَأَمَّا الْغُرَرُ، فَإِنَّ غُرَّةَ كُلَّ شَيْءٍ فِي أَوَّلِهِ، فَإِنَّهَا كَانَتْ تَصُومُ الْغُرَرَ شِبْهَ الْفَرْضِ عَلَيْهَا، لا تَتْرُكَهُ.
তারা মাসের শেষ পর্যন্ত সমস্ত রাতগুলোকে সামগ্রিকভাবে বর্ণনা করেছেন।"

এবং জ্যোতির্বিদ আবু ইয়াহইয়া মুহাম্মদ ইবন কুনাসাহ আল-আসাদি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আরবরা মাসের রাতগুলোকে দশটি নামে নামকরণ করত, যার প্রতি তিন রাতের জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম ছিল। তারা প্রথম তিনটিকে আল-গুরার, এরপর আন-নুফাল, এরপর আদ-দুরা', এরপর আল-উশার, এরপর আল-বিদ, এরপর আয-যুলাম, এরপর আল-হুনদুস, এরপর আদ-দাদি', এরপর আল-মুহাক এবং সবশেষে আল-ফালতাহ বলত।

আর আল-গুরার-এর বিষয়টি হলো, প্রতিটি বস্তুর শুরু বা অগ্রভাগকে গুররাহ বলা হয়। তারা এই গুরার দিনগুলোতে রোজা রাখাকে নিজেদের ওপর প্রায় ফরজের মতো মনে করত এবং তা কখনো ত্যাগ করত না।
(খণ্ড: ১) আল কাওলু ফী ইলমিন নুজূম লিল খাতীব (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وَأَمَّا النُّفَلُ، فَكَانَتْ تَصُومُ شِبْهَ النَّافِلَةِ، إِنْ شَاءَتْ تَصُومُ، وَإِنْ شَاءَتْ تَتْرُكُهُ.

وَأَمَّا الدُّرَعُ، فَتَقُولُ: قَدْ تَدَرَّعَتِ الأَرْضُ الْقَمَرَ، أَيْ: صَارَ الْقَمَرُ عَلَى الأَرْضِ كَثِيرًا.

وَأَمَّا الْعُشَرُ: فَتَقُولُ: عَشَرٌ، وَأَحَدَ عَشَرَ، وَاثْنَا عَشَرَ.

وَأَمَّا الْبِيضُ، فَتَعْنِي اتِّصَالَ الْقَمَرِ مَعَ الشَّمْسِ.

وَأَمَّا الظُّلُمُ، فَحِينَ يَذْهَبُ الْقَمَرُ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ.

وَأَمَّا الْحُنْدُسُ، فَتَعْنِي بِهَا أَشَدَّ ظُلْمَةٍ مِنَ الظُّلُمِ.

وَأَمَّا الدَّآدِئُ، فَحِينَ يَنْقُصُ الْهِلالُ، يَقُولُ: قَدْ وَقَعَ الدَّاءُ فِيهِ.

وَأَمَّا الْمُحَاقُ، فَقَدْ ذُكِرَ فِي الْحَدِيثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ وَقَدْ رَأَى رَجُلا يَحْتَجِمُ فِي الْمُحَاقِ: «أَمَا إِنَّهُ لَنْ يَنْفَعَهُ» .

وَأَمَّا الْفَلْتَةُ، فَإِنَّ الشَّهْرَ لَيْسَ يَتِمُّ أَبَدًا ثَلاثِينَ، فَإِذَا تَمَّ فِي
আর 'নুফাল' সম্পর্কে কথা হলো, তা যেন নফল ইবাদতের মতো ছিল; চাইলে সে রোযা রাখত, আর চাইলে তা ছেড়ে দিত।

আর 'দুরা' সম্পর্কে তারা বলে: চাঁদ পৃথিবীকে বর্মের মতো আচ্ছাদিত করেছে; অর্থাৎ পৃথিবীতে চাঁদের আলো অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল।

আর 'উশার' সম্পর্কে তারা বলে: দশম, একাদশ ও দ্বাদশ দিন।

আর 'বীদ' (উজ্জ্বল দিনসমূহ) দ্বারা সূর্যের সাথে চাঁদের মিলন বা পূর্ণতাকে বুঝানো হয়েছে।

আর 'জুলুম' হলো যখন রাতের শুরুতে চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যায়।

আর 'হুনদুস' দ্বারা তারা 'জুলুম'-এর চেয়েও প্রচণ্ড অন্ধকারকে বুঝিয়ে থাকে।

আর 'দাআদি' হলো যখন অর্ধচন্দ্র হ্রাস পায়; তখন বলা হয়: এতে ক্ষয়রোগ দেখা দিয়েছে।

আর 'মুহাক' সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে 'মুহাক' (মাসের শেষ দিনগুলোতে) শিঙা লাগাতে দেখে বলেছিলেন: «জেনে রেখো, এটি তাকে কোনো উপকার দেবে না»।

আর 'ফালতাহ' সম্পর্কে কথা হলো, মাস সর্বদা ত্রিশ দিনে পূর্ণ হয় না; সুতরাং যখন তা পূর্ণ হয়...