(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث العشرة العشارية الاختيارية لابن حجر (ابن حجر العسقلاني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الأحاديث العشرة العشارية الاختيارية لابن حجر
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)
اعتنى به: فراس محمد وليد ويس
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হাজরের দশটি নির্বাচিত উশারি হাদীস (ইবনে হাজর আল-আসকালানি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে হাজরের দশটি নির্বাচিত উশারি হাদীস
লেখক: আবুল ফজল আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাজর আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)
সম্পাদনায়: ফিরাস মুহাম্মাদ ওয়ালিদ ওয়াইস
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الْأَعْلَى ، وَسَلَّمَ اللَّهُ عَلَى أَشْرَفِ الْمَخْلُوقِينَ مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَصَلَّى.أَمَّا بَعْدُ؛الْأَحَادِيثُ الْعِشَارِيَّةُ تَخْرِيجُ الْحَافَظِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ شِهَابِ الدِّينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيِّ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.أَخْبَرَنَا بِهَا شَيْخُنَا وَأُسْتَاذُنَا ، رَئِيسُ الْمُحَدِّثِينَ ، زَيْنُ الْمِلَّةِ وَالدِّينِ ، سَيِّدُنَا وَمَوْلانَا السَّيِّدُ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْأَثَرِيُّ الْحَنَفِيُّ الْبُخَارِيُّ الْخَلِيلِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهَا شَيْخُنَا رَئِيسُ الْمُحَدِّثِينَ الْحَافِظُ أَبُو الْفَيْضِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْزُبَيْدِيُّ الْحَنَفِيُّ الْحُسَيْنِيُّ الْمُرْتَضَى ، قَالَ: أَخْبَرَنَا السَّيِّدُ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَقِيلٍ الْحُسَيْنِيُّ الْمَكِّيُّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَصْرِيِّ ، عَنِ الشَّمْسِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلاءِ الدِّينِ البَابِيِّ ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْقَلْقَشَنْدِيِّ الْوَاعِظِ ، عَنِ الْمُسْنَدِ الْمُعَمِّرِ مُحَمَّدِ بْنِ أَرْكِمَاسِ الْيَشْبُكِيِّ النِّظَامِيِّ ، عَنْ مُخْرِجِهَا ، فَهَذِهِ أَحَادِيثُ عِشَارِيَّاتُ الْأَسَانِيدِ ، تَتَبَّعْتُهَا مِنْ مَسْمُوعَاتِي ، وَالْتَقَطْتُهَا مِنْ مَرْوِيَّاتِي ، وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ هَذَا الْعَدَدَ هُوَ أَعْلَى مَا يَقَعُ لِعَامَّةِ مَشَايِخِي الَّذِينَ حَمَلْتُ عَنْهُمْ ، وَقَدْ جَمَعْتُ ذَلِكَ فَقَارَبَ الْأَلْفُ مِنْ مَسْمُوعَاتِي مِنْهُمْ ،
সকল প্রশংসা মহান সুউচ্চ আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ শান্তি বর্ষণ করুন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর এবং রহমত বর্ষণ করুন।অতঃপর;দশ রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ (আল-আহাদিসুল ইশারিয়্যাহ), যা সংকলন করেছেন হাফেজ আবুল ফজল আহমদ শিহাবুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন হাজার আল-আসকালানী আশ-শাফেয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)।আমাদের এই সংবাদ প্রদান করেছেন আমাদের শায়খ এবং উস্তাদ, মুহাদ্দিসগণের প্রধান, মিল্লাত ও দ্বীনের অলঙ্কার, আমাদের নেতা ও অভিভাবক আস-সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসারী আল-হানাফী আল-বুখারী আল-খালীলী; তিনি বলেন: আমাদের এই সংবাদ প্রদান করেছেন আমাদের শায়খ, মুহাদ্দিসগণের প্রধান হাফেজ আবুল ফয়জ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আজ-জুবাইদী আল-হানাফী আল-হুসাইনী আল-মুরতাজা; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আস-সাইয়্যেদ উমর বিন আহমদ বিন আকীল আল-হুসাইনী আল-মাক্কী, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সালিম বিন মুহাম্মদ আল-বসরী থেকে, তিনি শামস মুহাম্মদ বিন আলাউদ্দীন আল-বাবী থেকে, তিনি মুয়াম্মার বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কালকাশান্দি আল-ওয়ায়েজ থেকে, তিনি প্রবীণ মুসনিদ মুহাম্মদ বিন আরকিমাস আল-ইয়াশবুকী আন-নিজামী থেকে, তিনি এর মূল সংকলক থেকে। এগুলো হলো দশ স্তরের সনদ বিশিষ্ট হাদীসসমূহ, যা আমি আমার শ্রবণকৃত হাদীসসমূহ থেকে অনুসন্ধান করেছি এবং আমার বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ থেকে চয়ন করেছি। আর এটি জানা কথা যে, এই সংখ্যাটি হলো আমার সেই সকল শায়খদের জন্য সর্বোচ্চ স্তর যাদের নিকট থেকে আমি হাদীস গ্রহণ করেছি। আমি তা একত্রিত করেছি এবং তা আমার তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণকৃত বর্ণনাসমূহের মধ্যে প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَمَّا هَذِهِ الْأَحَادِيثُ فَإِنَّهَا وَإِنْ كَانَ فِيهَا قُصُورٌ عَنْ مَرْتَبَةِ الْصِحَاحِ ، فَقَدْ تَحَرَّيْتُ فِيهَا جُهْدِي ، وَانْتَقَيْتُهَا مِنْ مَجْمُوعِ مَا عِنْدِي ، وَبَيَّنْتُ عِلَّةَ كُلِّ حَدِيثٍ بِعَقِبِهِ ، وَأَوْضَحْتُ مَا فِيهِ لِلْمُنْتَبِهِ.واللَّهُ الْمُسْتَعَانُ ، لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْكَرِيمُ الْحَنَّانُ.
আর এই হাদিসসমূহ, যদিও এগুলোতে সহিহ হাদিসের পর্যায়ের তুলনায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, তবুও আমি এগুলোর ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং আমার নিকট যা সংগৃহীত রয়েছে তার মধ্য থেকে এগুলো চয়ন করেছি। আমি প্রতিটি হাদিসের পরপরই তার ইল্লাত (ত্রুটি) বর্ণনা করেছি এবং মনোযোগী পাঠকের জন্য তাতে যা রয়েছে তা স্পষ্ট করেছি।আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি; তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ও পরম মমতাশীল।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ1 - قَرَأْتُ عَلَى الْعَلَّامَةِ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ الْبَعْليِّ بِالْقَاهِرَةِ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْفَخْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحَمْنِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَعْلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ، أنا يَحْيَى بْنُ مَحْمُودِ بْنِ سَعْدٍ، أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَقِيلٍ، وَأَبُو عَدْنَانَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْمُطَهَّرِ بْنِ أَبِي نِزَارٍ، قَالا: أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ، أنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ اللَّخْمِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنِ رُمَاحِسٍ الْقَيْسِيُّ بِرَمَادَةِ الرَّمْلَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا أَبُو عَمْرٍو زِيَادِ بْنِ طَارِقٍ ، وَكَانَ قَدْ أَتَتْ عَلَيْهِ مِائَةٌ وَعِشْرُونَ سَنَةٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَرْوَلٍ زُهَيْرَ بْنَ صُرَدٍ الجُشَمِيَّ، يَقُولُ:
প্রথম হাদিস১ - আমি কায়রোতে আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুল মুমিন আল-বালির নিকট পাঠ করেছি: আবু আব্বাস আহমদ ইবনুল ফখর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বালি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমদ আল-মাকদিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আকিল এবং আবু আদনান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মুতাহহার ইবনে আবি নিজার, তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রিযা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আল-লাখমি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাহিস আল-কায়সি ২৭৪ হিজরি সনে রমাদাতুর রামলায়, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমর জিয়াদ ইবনে তারিক, যাঁর বয়স একশো বিশ বছর হয়েছিল, তিনি বলেন: আমি আবু জারওয়াল জুহাইর ইবনে সুরাদ আল-জুশামিকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২২)
لَمَّا أَسَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ؛ يَوْمَ هَوَازِنَ، وَذَهَبَ يُفَرِّقُ السَّبْيَ، أَتَيْتُهُ، فَأَنْشَدْتُهُ أَقُولُ:امْنُنْ عَلَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَرَمٍ … فَإِنَّكَ المَرْءُ نَرْجُوهُ وَنَنْتَظِرُامْنُنْ عَلَى بَيْضَةٍ قَدْ عَاقَهَا قَدَرٌ … مُشَتَّتٌ شَمْلُهَا فِي دَهْرِهَا غِيَرُأَبْقَتْ لَنَا الدَّهْرَ هَتَّافًا عَلَى حُزْنٍ … عَلَى قُلُوبِهِمُ الغَمَّاءُ وَالغُمَرُإِنْ لَمْ تُدَارِكْهُمُ نَعْمَاءٌ تَنْشُرُهَا … يَا أَرْجَحَ النَّاسِ حِلْمًا حِينَ يُخْتَبَرُامْنُنْ عَلَى نِسْوَةٍ قَدْ كُنْتَ تَرْضَعُهَا … إِذْ فُوكَ تَمْلَأُهُ مِنْ مَخْضِهَا الدَّرَرُإِذْ أَنْتَ طِفْلٌ صَغِيرٌ كُنْتَ تَرْضَعُهَا … وَإِذْ يَزِينُكَ مَا تَأْتِي وَمَا تَذَرُلا تَجْعَلْنَا كَمَنْ شَالَتْ نَعَامَتُهُ … وَاسْتَبْقِ مِنَّا فَإِنَّا مَعْشَرٌ زُهُرُإِنَّا لَنَشْكُرُ لِلنَّعْمَاءِ إِنْ كُفِرَتْ … وَعِنْدَنَا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ مُدَّخَرُفَأَلْبِسِ الْعَفْوَ ، قَدْ كُنْتَ تَرْضَعُهُ … مِنْ أُمَّهَاتِكَ إِنَّ الْعَفْوَ مُشْتَهِرُ
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের দিন—অর্থাৎ হাওয়াযিন যুদ্ধের দিন—আমাদেরকে বন্দী করলেন এবং যুদ্ধবন্দীদের বণ্টন করতে শুরু করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং এই কবিতা আবৃত্তি করে বললাম:হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মহানুভবতার সাথে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন … কেননা আপনিই সেই ব্যক্তি যাঁর কাছে আমরা আশা পোষণ করি এবং যাঁর প্রতীক্ষায় আমরা প্রহর গুনিএমন এক অসহায় ক্ষুদ্র দলের প্রতি কৃপা করুন যাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটিয়েছে … যাদের সংহতি ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং কালের আবর্তনে যারা বিপর্যস্তকালচক্র আমাদের মাঝে কেবল শোকার্ত ক্রন্দনকারীদেরই অবশিষ্ট রেখেছে … যাদের হৃদয়ে দুঃখ ও বিষাদ পুঞ্জীভূত হয়ে আছেযদি আপনার পক্ষ থেকে বর্ষিত কোনো নিয়ামত তাদের উদ্ধার না করে … হে পরীক্ষার মুহূর্তে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সহনশীল ব্যক্তি!সেই নারীদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাঁদের স্তন্য আপনি পান করেছেন … যখন আপনার মুখগহ্বর তাঁদের দুগ্ধের শুভ্র ধারায় পূর্ণ থাকতযখন আপনি দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন এবং তাঁদের স্তন্যপান করতেন … তখন আপনার প্রতিটি আচরণ ও বর্জন আপনাকে শ্রীমণ্ডিত করতআমাদেরকে তাদের মতো করবেন না যারা সমূলে বিনাশপ্রাপ্ত হয়েছে … বরং আমাদের অবশিষ্টদের রক্ষা করুন, কারণ আমরা এক উজ্জ্বল ও সম্মানিত সম্প্রদায়আমরা নিয়ামতের প্রতি অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যদিও তা অন্যের দ্বারা অস্বীকৃত হয় … আর আজকের এই দিনের পর আমাদের নিকট আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা সঞ্চিত থাকবেসুতরাং আপনি ক্ষমার চাদর আবৃত করে দিন তাদের, যাঁদের নিকট হতে আপনি দুগ্ধ পান করেছিলেন … আপনার সেই মায়েদের পক্ষ থেকে; নিশ্চয়ই ক্ষমা একটি সুপ্রসিদ্ধ গুণ
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يَا خَيْرَ مَنْ مَرِحَتْ كُمْتُ الْجِيَادِ بِهِ … عِنْدَ الْهِيَاجِ إِذَا مَا اسَتَوْقَدَ الشَّرَرُإِنَّا نَُؤَمِّلُ عَفْوًا مِنْكَ تَلْبَسُهُ … هَذِي الْبَرِيَّةُ إِذْ تَعْفُو وَتَنْتَصِرُفَاعْفُ عَفَا اللَّهُ عَمَّا أَنْتَ رَاهِبُهُ … يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذْ يُهْدَى لَكَ الْظَفَرُفَلَمَّا سَمِعَ هَذَا الشِّعْرَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ» .وَقَالَتْ قُرَيْشُ: مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ للَّهِ وَلِرَسُولِهِ، وَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ للَّهِ وَرَسُولِهِ.وَبِهِ قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لا يُرْوَى عَنْ زُهَيْرٍ بِهَذَا التَّمَامِ إِلَّا بِهَذَا الْإِسْنَادِ، تَفَرَّدَ بِهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رُمَاحِسِ.هَذَا حَدْيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ، رَوَاهُ أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ قَانِعٍ فِي مُعْجَمِهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ الْخَوَّاصِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا.وَرَوَاهُ الْحَافِظُ ضِيَاءُ الدِّينِ الْمَقْدِسِيُّ فِي كِتَابِهِ الْأَحَادِيثُ الْمُخْتَارَةُ مِمَّا لَيْسَ فِي وَاحِدٍ مِنَ الصَّحِيحَيْنِ مِنْ وَجْهَيْنِ إِلَى الطَّبَرَانِيِّ.فَقَرَأْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْمُنَجَّا بِدِمَشْقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ الْمَقْدِسِيِّ، أَنَّ الْحَافِظَ أَبَا عَبِدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيَّ
হে শ্রেষ্ঠ সত্তা, যার কারণে লালচে-কালো বর্ণের তেজী ঘোড়াগুলো উল্লসিত হয় … যুদ্ধের উত্তেজনায় যখন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত হয়।নিশ্চয়ই আমরা আপনার নিকট এমন ক্ষমার আশা করি যা এই সমগ্র সৃষ্টিজগতকে আবৃত করবে, যখন আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং বিজয় লাভ করেন।সুতরাং ক্ষমা করুন, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে নিরাপত্তা দান করুন যা আপনি ভয় করেন … কিয়ামতের দিনে যখন আপনার অনুকূলে বিজয় আনীত হবে।অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কবিতাটি শ্রবণ করলেন, তিনি বললেন: «আমার এবং বনু আবদিল মুত্তালিবের যা কিছু প্রাপ্য ছিল, তা তোমাদের জন্য (দিয়ে দিলাম)»।কুরাইশরা বলল: আমাদের যা কিছু প্রাপ্য ছিল তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য; এবং আনসারগণ বলল: আমাদের যা কিছু প্রাপ্য ছিল তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।এর মাধ্যমে ইমাম তাবারানী বলেন: যুহাইর থেকে এই কবিতাটি পূর্ণাঙ্গভাবে কেবল এই সনদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে, এটি বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ ইবনে রুমাহিস একক।এটি একটি হাসান গরীব হাদীস। আবু আল-হুসাইন ইবনে কানি‘ তাঁর মু‘জাম গ্রন্থে এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে আলী আল-খাওওয়াস থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বাদাল’ (বিকল্প সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।হাফিজ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী তাঁর ‘আল-আহাদীস আল-মুখতারাহ’ গ্রন্থে (যা সহীহাইন-এর কোনোটিতেই নেই) তাবারানী পর্যন্ত দুটি সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।অতঃপর আমি দামেস্কে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-মুনাজ্জার নিকট এটি পড়েছি, তিনি সুলাইমান ইবনে হামজাহ আল-মাকদিসী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাফিজ আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী...
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الضِّيَاءَ أَخْبَرَهُمْ سَمَاعًا عَلَيْهِ، قَالَ بَعْدَ أَنْ أَخْرَجَ هَذَا الْحَدِيثَ: زُهَيْرٌ لَمْ يَذْكُرْهُ الْبُخَارِيُّ ، وَلا ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي كِتَابَيْهِمَا، وَلا زِيَادُ بْنُ طَارِقٍ.وَقَدْ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، نَحْوَ هَذِهِ الْقِصَّةِ وَالشِّعْرِ.وَسَاقَهُ مِنْ طَرِيقِ الطَّبَرَانِيِّ بِتَمَامِهِ.قُلْتُ: وَلا أَعْلَمُ لِلْحَافِظِ ضِيَاءِ الدِّينِ فِي صَحِيحِهِ سَلَفًا، لَكِنَّ رُوَاتَهُ لَمْ يُجَرَّحُوا، وَقَدْ صَرَّحَ كُلٌّ مِنْهُمْ بِالسَّمَاعِ مِنْ شَيْخِهِ، فَهُوَ فَرْدٌ غَرِيبٌ لا وَجْهَ لِتَضْعِيفِهِ.وَأَمَّا قَوْلُ الْإِمَامِ أَبِي عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ ، فِيمَا قَرَأْتُ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ سِبْطِ الرَّقِّي بِدِمَشْقَ: أَخْبَرَكُمُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْقَيْسِيُّ حُضُورًا وَإِجَازَةً، أنا الْإِمَامُ الْقَاضِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْغَمَّازِ، أنا الْحَافِظُ أَبُو الرَّبِيعِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ سَالِمٍ الْكَلاعِيُّ سَمَاعًا، قَالَ: أَجَازَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ زَرْقُونٍ، عَنْ أَبِي عِمَرَانَ مُوسَى بْنِ أَبِي تَلِيدٍ، ثنا الْحَافِظُ أَبُو عُمَرَ كِتَابُ الاسْتِيعَابِ لَهُ ، قَالَ: زُهَيْرُ بْنُ صُرَدٍ أَبُو صُرَدٍ الْجُشَمِيُّ السَّعْدِيُّ مِنْ بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ، وَقِيلَ: يُكْنَى أَبَا جَرْوَلٍ، كَانَ رَئِيسَ قَوْمِهِ، وَقَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَفْدِ هَوَازنَ إِذْ فَرَغَ مِنْ حُنَيْنٍ فَسَرَدَ أَبُو عُمَرُ الْقِصَّةَ، ثُمَّ أَسْنَدَهَا مِنْ طَرِيقِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، ثُمَّ قَالَ فِي آخِرِهِ: إِلَّا أَنَّ فِي الشِّعْرِ يَعْنِي الَّذِي سَاقَهُ بَيْتَيْنِ لَمْ يَذْكُرْهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ فِي حَدِيثِهِ، وَذَكَرَهُمَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رُمَاحِسِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ
যিয়া তাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন: যুহাইরের কথা ইমাম বুখারি এবং ইবনে আবি হাতিম তাদের কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ করেননি, আর না যিয়াদ বিন তারিক [তাকে উল্লেখ করেছেন]।মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে এই ঘটনা ও কবিতার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।তিনি এটি তাবারানির সূত্র ধরে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।আমি বলছি: হাফেজ যিয়াউদ্দীন তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে এর কোনো পূর্বসূরি আছেন বলে আমার জানা নেই, তবে এর বর্ণনাকারীদের জেরা (সমালোচনা) করা হয়নি এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ উস্তাদ থেকে শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটি একটি একক অদ্ভূত (ফর্দ গরীব) বর্ণনা হলেও একে দুর্বল বলার কোনো কারণ নেই।আর ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বার-এর বক্তব্যের বিষয়ে, যা আমি দামেস্কে আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ সিবত আর-রাক্কির কাছে পাঠ করেছি: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাবির আল-কায়সি আপনাদেরকে সশরীরে উপস্থিতি এবং ইজাজতের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম কাজী আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আল-গাম্মায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু রাবি সুলাইমান বিন মুসা বিন সালিম আল-কুলায়ী আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন যারকুন আমাকে ইজাজত দিয়েছেন, তিনি আবু ইমরান মুসা বিন আবি তালিদ থেকে বর্ণনা করেন, হাফেজ আবু উমর তাঁর রচিত 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: যুহাইর বিন সুরাদ আবু সুরাদ আল-জুশামি আস-সা’দি ছিলেন বনু সা’দ বিন বকর গোত্রের, এবং বলা হয় যে, তাঁর উপনাম ছিল আবু জারওয়াল, তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন। হুনায়নের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেন। এরপর আবু উমর পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন, অতঃপর তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাকের সূত্র ধরে এর সনদ উল্লেখ করেন এবং শেষে বলেন: তবে কবিতায় অর্থাৎ তিনি যা বর্ণনা করেছেন তাতে দুটি পঙক্তি আছে যা মুহাম্মদ বিন ইসহাক তাঁর হাদিসে উল্লেখ করেননি, কিন্তু উবায়দুল্লাহ বিন রুমাহিস যিয়াদ বিন তারিক থেকে তা উল্লেখ করেছেন, তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
زِيَادِ بْنِ صُرَدِ بْنِ زُهَيْرِ بْنِ صُرَدٍ ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ زُهَيْرِ بْنِ صُرَدٍ أَبِي جَرْوَلٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ هَذَا الْحَدِيثَ.انْتَهَى.فَمَا أَعْلَمُ لَهُ مُتَابِعًا عَلَى ذَلِكَ، وَلا سَاقَ إِسْنَادَهُ إِلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رُمَاحِسِ، حَتَّى نَعْلَمَ حَالَ مَنْ زَادَ هَذَيْنِ فِي إِسْنَادِهِ، فَقَدْ رَوَاهُ عَنِ ابْنِ رُمَاحِسِ الْمَذْكُورِ: أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ الَّذِي سُقْنَاهُ مِنْ طَرِيقِهِ، وَأَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَاصِمٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيُّ الْحَافِظُ الزَّاهِدُ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمُوَيْهِ الْعَسْكَرِيُّ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ زَكَرِيَّا، وَالْأَمِيرُ بَدْرُ الْحَمَامِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ زَيْدٍ الْجَعْفَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى الْمَقْدِسِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ الْخَوَّاصِ.فَهَؤُلاءِ عَدَدٌ مِنَ الثِّقَاتِ رَوَوْهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رُمَاحِسِ، قَالَ: ثنا زِيَادٌ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَرْوَلٍ.فَالظَّاهِرُ أَنَّ قَوْلَهُمْ أَقْرَبُ إِلَى الصَّوَابِ، وَالْعَدَدُ الْكَثِيرُ أَوْلَى بِالْحِفْظِ مِنَ الْوَاحِدِ، لاسِيَّمَا وَهُوَ لَمْ يُسَمَّى.وَأَمَّا الَّذِي أُنْبِئْتُ عَنِ الْحَافِظِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الذَّهَبِيِّ رحمه الله، قَالَ فِي كِتَابِ الْمِيزَانِ لَهُ فِي تَرْجَمَةِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رُمَاحِسِ: وَكَانَ مُعَمِّرًا، مَا رَأَيْتُ لِلْمُتَقَدِّمِينَ فِيهِ جَرَحًا، وَمَا هُوَ بِمَعْتَمَدٍ عَلَيْهِ، ثُمَّ رَأَيْتُ لِلْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ عِلَّةً قَادِحَةً، قَالَ أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ البَرِّ فِي شِعْرِ زُهَيْرٍ: رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رُمَاحِسِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ صُرَدِ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ زُهَيْرِ بْنِ صُرَدٍ.فَعَمَدَ عُبَيْدُ اللَّهِ إِلَى الْإِسْنَادِ
যিয়াদ ইবনে সুরাদ ইবনে জুহাইর ইবনে সুরাদ, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু জারওয়াল জুহাইর ইবনে সুরাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে এই হাদীসটি শুনিয়েছেন।সমাপ্ত।এ বিষয়ে তাঁর কোনো অনুসারী (মুতাবি‘) আছে বলে আমার জানা নেই এবং তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাইহিস পর্যন্ত তাঁর সনদও বর্ণনা করেননি, যাতে আমরা সনদে এই দুই ব্যক্তিকে বৃদ্ধিকারী ব্যক্তির অবস্থা জানতে পারতাম। অথচ উল্লিখিত ইবনে রুমাইহিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: আবুল কাসিম আত-তাবারানি (যার সূত্র থেকে আমরা এটি উদ্ধৃত করেছি), আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে কাসিম ইবনে আসিম, হাফিজ ও যাহেদ আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুওয়াইহ আল-আসকারি, আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে যাকারিয়া, আমির বদর আল-হামামি, হাসান ইবনে যাইদ আল-জাফারি, মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ঈসা আল-মাকদিসি এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আলী আল-খাওয়াস।তাঁরা একদল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী, যাঁরা এটি উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাইহিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনে রুমাইহিস) বলেছেন: যিয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু জারওয়ালকে বলতে শুনেছি।সুতরাং বাহ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁদের বক্তব্যই সত্যের অধিক নিকটবর্তী; আর একজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তিই অধিক নির্ভরযোগ্য, বিশেষ করে যখন সেই একক ব্যক্তিটির নামও উল্লেখ করা হয়নি।আর হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান আয-যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে আমাকে যা অবহিত করা হয়েছে, তিনি তাঁর 'আল-মিজান' কিতাবে উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাইহিসের জীবনীতে বলেছেন: "তিনি দীর্ঘজীবী ছিলেন, আমি তাঁর ব্যাপারে পূর্ববর্তীদের কোনো সমালোচনা (জারহ) দেখিনি, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নন। এরপর আমি তাঁর বর্ণিত হাদীসটিতে একটি মারাত্মক ত্রুটি (ইল্লাত) দেখেছি। আবু উমর ইবনে আব্দুল বার জুহাইরের কবিতার বর্ণনায় বলেছেন: এটি উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাইহিস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে তারিক থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে সুরাদ ইবনে জুহাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা জুহাইর ইবনে সুরাদ থেকে।"অতঃপর উবায়দুল্লাহ সনদটির প্রতি লক্ষ্য করলেন (বা পরিবর্তন করলেন)
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَأَسْقَطَ رَجُلَيْنِ مُنْهُ، وَمَا قَنَعَ بِذَلِكَ حَتَّى صَرَّحَ بِأَنَّ زِيَادَ بْنَ طَارِقٍ قَالَ: حَدَّثَنِي زُهَيْرٌ.انْتَهَى.فَهَذَا تَحُكُّمٌ بِلَا دَلِيلٍ، وَسِيَاقُ الذَّهَبِيِّ يُوهِمُ أَنَّ الْجَمِيعَ مِنْ كَلامِ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلِ انْتَهَى كَلامُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ قَبْلَ قَوْلِهِ: فَعَمَدَ، وَمِنْ قَوْلِهِ: فَعَمَدَ، إِلَى آخِرِهِ، فَقَالَهُ الذَّهَبِيُّ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ، بَانِيًا عَلَى مَا حَكَاهُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ، وَمُضَعِّفًا بِهِ الْحَدِيثَ، وَقَدْ قَدَّمْنَا أَنَّ قَوْلَ ابْنَ عَبْدِ الْبَرِّ لَمْ يَسْنِدْهُ.وَأَمَّا مَا قَرَأْتُ عَلَى شَيْخِنَا أَبِي الْفَضْلِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه فِي آخِرِ أَرْبَعِينِهِ العِشَارِيَّةِ: وَإِنَّمَا ذَكَرْتُ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ الْتُسَاعِيَّةَ لِبَيَانِ أَمْرَهَا، خُصُوصًا هَذَا الْأَخِيرَ الَّذِي فِيهِ إِسْقَاطُ رَجُلَيْنِ، فَقَدْ أَوْرَدَهُ الْحَافِظُ الشَّرِيفُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ الْحُسَيْنِيِّ فِي ثُمَانِيَّاتِ النَّجِيبِ، وَالْحَافِظُ أَبُو الْفَتْحِ الْيَعْمُرِيُّ فِي ثُمَانِيَّاتِ مُؤْنِسَةَ خَاتُونَ وَسُبَاعِيَّاتِهَا.انْتَهَى.فَإِنَّهُ قَلَّدَ فِي ذَلِكَ الْحَافِظَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الذَهَبِيَّ الَّذِي قَدَّمْنَاهُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
তিনি তা থেকে দুইজন ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন, এবং এতেই সন্তুষ্ট হননি যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যিয়াদ ইবনে তারিক বলেছেন: জুহাইর আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।সমাপ্ত।সুতরাং এটি প্রমাণহীন একটি স্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত। যাহাবীর বর্ণনার ধারা এই বিভ্রান্তি তৈরি করে যে সম্পূর্ণ কথাটিই ইবনে আবদিল বার-এর, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং ইবনে আবদিল বার-এর কথা তাঁর "অতঃপর তিনি ইচ্ছা করলেন" উক্তির পূর্বেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর তাঁর "অতঃপর তিনি ইচ্ছা করলেন" উক্তি থেকে শেষ পর্যন্ত কথাগুলো যাহাবী নিজের পক্ষ থেকে বলেছেন, যা ইবনে আবদিল বার যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে এবং এর মাধ্যমে হাদিসটিকে দুর্বল প্রতিপন্ন করেছেন। আর আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, ইবনে আবদিল বার তাঁর কথাটিকে সনদযুক্ত করেননি।আর আমাদের শাইখ আবুল ফজল ইবনে আল-হুসাইন আশ-শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর নিকট তাঁর "আরবাঈন আল-ইশারিয়্যাহ" এর শেষে আমি যা পড়েছি: "আমি এই তুসাঈয়্যাহ হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি এগুলোর স্বরূপ বর্ণনার জন্য, বিশেষ করে এই শেষ হাদিসটি যাতে দুইজন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাফেজ আশ-শরীফ ইজ্জুদ্দীন ইবনুল হুসাইনী একে নাজীবের 'সুমানিয়্যাত' এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং হাফেজ আবুল ফাতহ আল-ইয়ামুরী একে মুনিসা খাতুনের 'সুমানিয়্যাত' ও 'সুবাইয়্যাত' এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।"সমাপ্ত।কেননা তিনি এই বিষয়ে হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবীর অনুসরণ করেছেন যার কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْحَدِيثُ الثَّانِي2 - قَرَأْتُ عَلَى مَرْيَمَ بِنْتِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَذْرَاعِيِّ بِالْقَاهِرَةِ، أَنْبَأَكُمْ يُونُسُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْقَوِيِّ الْعَسْقَلانِيُّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الزَّاغُونِيُّ ، وَمُحَمَّدِ بْنِ نَاصِرٍ السَّلامِيِّ الْحَافِظِ ، وَعِدَّةٍ أَجَازُوهُ، قَالُوا: أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبِشْرِيُّ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَطَّةَ الْعُكْبَرِيُّ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى هُوَ ابْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ، ثنا عَطْوَانُ بْنُ مُشْكَانَ، حَدَّثَتْنِي جَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَرْبُوعِيَّةُ، قَالَتْ:
দ্বিতীয় হাদিস২ - আমি কায়রোতে মারইয়াম বিনতে আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আযরায়ীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: ইউনুস বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল কাবি আল-আসকালানি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুল হাসান বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন আবুল হাসান থেকে, তিনি আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ আয-যাগুনি ও হাফেজ মুহাম্মাদ বিন নাসির আস-সালামি এবং আরও একদল ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যারা তাকে ইজাজাহ (অনুমতি) দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন: আবুল কাসিম আলি বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বিশরির ইজাজাহর মাধ্যমে, যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে, তিনি বলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন বাত্তাহ আল-উকবারি আমার নিকট লিখেছেন যে, আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া (যিনি ইবনু আব্দুল হামিদ আল-হিমমানি) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আত্বওয়ান বিন মুশকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জমরাহ বিনতে আব্দুল্লাহ আল-ইয়ারবুয়িয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذَهَبَ بِي أَبِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا قَدْ رَدَدْتُ عَلَى أَبِي الْإِبِلَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ لِابْنَتِي هَذِهِ، قَالَتْ: «فَأَجْلَسَنِي فِي حِجْرِهِ، وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي وَدَعَا لِي» .أَخْرَجَهُ شَيْخُنَا أَبُو الْفَضِلِ فِي أَرْبَعِينِهِ، قَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَيَحْيَى الْحِمَّانِيُّ إِمَامٌ حَافِظٌ، وَقَدِ اخْتُلِفَ فِيهِ؛ فَوَثَّقَهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، وَابْنُ مَعِينٍ، وَاخْتُلِفَ فِيهِ كَلامُ الْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، فَوَثَّقَهُ مُرَّةُ، وَنَسَبَهُ مُرَّةُ إِلَى الْكَذِبِ، وعَطَوَانُ رَوَى عَنْهُ جَمَاعَةٌ، وَقَالَ فِيهِ أَبُو حَاتِمٍ: شَيْخٌ لَيْسَ بِمُنْكَرِ الْحَدِيثِ، كَتَبْنَا عَنْ رَجُلَيْنِ عَنْهُ.انْتَهَى.قُلْتُ: لَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، بَلْ تَابَعَهُ عَلَيْهِ أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمِ الْقَطِيعِيُّ، رَوَيْنَاهُ فِي رُبَاعِيَّاتِ الشَّافِعِيِّ مِنْ طَرِيقِهِ
আমার পিতা আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন যখন আমি আমার পিতার উটগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার এই কন্যার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন।" তিনি (কন্যা) বললেন: "অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর কোলে বসালেন, আমার মাথার ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং আমার জন্য দুআ করলেন।"আমাদের শায়খ আবুল ফজল তাঁর ‘আরবাঈন’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "এটি একটি হাসান হাদিস। ইয়াহইয়া আল-হিমমানি একজন ইমাম ও হাফেজ, তবে তাঁকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনে নুমাইর ও ইবনে মাঈন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যে তাঁকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে; এক বর্ণনায় তিনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আবার অন্য বর্ণনায় তাঁকে মিথ্যার সাথে সম্পর্কিত করেছেন। আর আতাওয়ান—তাঁর থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতিম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: 'তিনি এমন একজন শায়খ যার হাদিস মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) নয়; আমরা তাঁর থেকে দুইজন ব্যক্তির মাধ্যমে লিখেছি'।"সমাপ্ত।আমি বলছি: ইয়াহইয়া আল-হিমমানি এটি বর্ণনায় একাকী নন, বরং আবু মামার ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আল-কাতিয়ি তাঁর অনুসরণ করেছেন। আমরা এটি ইমাম শাফেয়ীর ‘রুবাইয়াত’-এ তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْحَدِيثُ الثَّالِثُ3 - قَرَأْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ الْمُنَجَّا التَّنُوخِيَّةِ بِدِمَشْقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ فِي كِتَابِهِ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي شُرَيْكٍ ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ حَدَّثَ عَنْهُ، أنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقُورِ، ثنا عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى بْنِ دَاوُدَ بْنِ الْجَرَّاحِ إِمْلاءً، ثنا أَبُو الْقَاسِمُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، ثنا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمِ الضَّبِّيُّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: مَنْ أَخَذْتُ كَرِيمَتَيْهِ فِي الدُّنْيَا، لَمْ أَرْضَ لَهُ إِلَّا الْجَنَّةَ ".فَقَالَ أَنَسٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً؟ قَالَ: «وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً» .
তৃতীয় হাদীস৩ - আমি দামেস্কে ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আল-মুনাজ্জা আত-তানুখিয়্যাহর নিকট পাঠ করেছি, তিনি সুলাইমান বিন হামযাহ থেকে, মুহাম্মাদ বিন আম্মার তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবি শুরাইক থেকে—আর তিনিই তাঁর থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি—আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আন-নাকূর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ঈসা বিন আলী বিন ঈসা বিন দাউদ বিন আল-জাররাহ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাইবান বিন ফাররূখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুলাইম আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: দুনিয়াতে আমি যার দুটি প্রিয় বস্তু (চক্ষুদ্বয়) কেড়ে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিদানে আমি সন্তুষ্ট নই।"অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যদি একটি হয়? তিনি বললেন: "যদি একটিও হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ طَرِيقِ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، وَالتِّرْمِذِيُّ مِنْ طَرِيقِ أَبِي ظِلالٍ، كِلاهُمَا عَنْ أَنَسٍ بِغَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ، وَسَعِيدُ بْنُ سُلَيْمٍ أَثْبَتَ الْبُخَارِيُّ سَمَاعَهُ مِنْ أَنَسٍ، وَقَدْ تَابَعَهُ أَبُو ظِلالٍ، وَعَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ، وَأَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَجَمَاعَةٌ كُلُّهُمْ عَنْ أَنَسٍ، وَلِأَصْلِهِ شَوَاهِدٌ يَقْوَى بِهَا.وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ
এটি একটি হাসান হাদিস। ইমাম বুখারী এটি আমর ইবনে আবি আমরের সূত্রে এবং ইমাম তিরমিযী আবু জিলালের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ই আনাস (রা.) থেকে এই শব্দ বিন্যাস ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে সুলাইম আনাস (রা.) থেকে হাদিসটি শুনেছেন বলে ইমাম বুখারী সাব্যস্ত করেছেন। আবু জিলাল, আল-মুত্তালিবের মুক্তদাস আমর ইবনে আবি আমর, আশআস ইবনে আব্দুল্লাহ এবং একদল বর্ণনাকারী তার অনুসরণ করেছেন, তারা সকলেই আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মূলের সপক্ষে বেশ কিছু সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে যার দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়।আর আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْحَدِيثُ الرَّابِعُ4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَقِّ الدِّمَشْقِيُّ بِهَا، عَنْ زَيْنَبِ بِنْتِ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ سَمَاعًا، قَالَتْ: أنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَلِيلٍ، أنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الثَّقَفِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدْنَانَ حُضُورًا، وَأُمُّ إِبْرَاهِيمَ الْجُوزَدَانِيَّةُ سَمَاعًا، قَالا: أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّانِي، أنا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدُ الطَّبَرَانِيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الكَرِيمِ بْنِ فَرُّوخِ بْنِ دِيزَجِ بْنِ بِلالِ بْنِ سَعْدٍ الْأَنْصَارِيُّ الدِّمِشْقِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي لِأُمِّي عُمَرُ بْنُ أَبَانَ بْنِ مُفَضَّلِ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: أَرَانِي أَنَسُ بْنُ مَالِكِ الْوُضُوءَ: " أَخَذَ رَكْوَةً فَوَضَعَهَا عَنْ يَسَارِهِ، وَصَبَّ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَهَا ثَلاثًا، ثُمَّ أَدَارَ الرَّكْوَةَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَهَا ثَلاثًا، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاثًا، وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاثًا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثَلاثًا، وَأَخَذَ مَاءً جَدِيدًا لِصِمَاخَيْهِ فَمَسَحَ صِمَاخَيْهِ،
চতুর্থ হাদীস4 - আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হক আদ-দিমাশকি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়নাব বিনতে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালামের নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে খলিল; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাকাফি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবি আদনান উপস্থিতির মাধ্যমে এবং উম্মু ইব্রাহিম আল-জুযদানিয়্যাহ শ্রবণের মাধ্যমে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে হুমাইদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে ফাররুখ ইবনে দিজাজ ইবনে বিলাল ইবনে সাদ আল-আনসারি আদ-দিমাশকি; আমার মাতামহ উমর ইবনে আবান ইবনে মুফাদদাল আল-মাদিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আনাস ইবনে মালিক আমাকে অযু করে দেখিয়েছেন: "তিনি একটি পানির পাত্র নিলেন এবং তা তাঁর বাম পাশে রাখলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তা তিনবার ধৌত করলেন। তারপর পাত্রটি তাঁর ডান হাতের ওপর ঘুরালেন এবং তা তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। আর তাঁর মাথা তিনবার মাসেহ করলেন এবং তাঁর দুই কানছিদ্রের জন্য নতুন পানি নিলেন ও তাঁর দুই কানছিদ্র মাসেহ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَقُلْتُ: يَا عَمِّ، قَدْ مَسَحْتَ أُذُنَيْكَ، فَقَالَ: «يَا غُلامُ، إِنَّهُمَا مِنَ الرَّأْسِ، لَيْسَ هُمَا مِنَ الْوَجْهِ» ، ثُمَّ قَالَ: «يَا غُلامُ، هَلْ رَأَيْتَ أَوْ فَهِمْتَ أَوْ أُعِيدُ عَلَيْكَ؟» قُلْتُ: قَدْ كَفَانِي وَقَدْ فَهِمْتُ، قَالَ: «هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ» .وَبِهِ إِلَى الطَّبَرَانِيِّ، قَالَ: لَمْ يَرْوِ عُمَرُ بْنُ أَبَانَ ، عَنْ أَنَسٍ حَدِيثًا غَيْرَ هَذَا.هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَعُمَرُ بْنُ أَبَانَ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ
আমি বললাম: হে চাচা, আপনি আপনার কানদ্বয় মাসাহ করেছেন। তিনি বললেন: "হে বৎস, নিশ্চয়ই এ দুটি মাথার অংশ, এগুলো চেহারার অংশ নয়।" অতঃপর তিনি বললেন: "হে বৎস, তুমি কি দেখেছ বা বুঝেছ, নাকি আমি তোমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করব?" আমি বললাম: আমার জন্য এটিই যথেষ্ট এবং আমি বুঝেছি। তিনি বললেন: "আমি এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওযু করতে দেখেছি।"এবং একই সনদে তাবারানী পর্যন্ত (বর্ণিত), তিনি বলেন: উমর ইবনে আবান আনাস (রা.) হতে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।এই সূত্রে হাদিসটি গরিব, এবং উমর ইবনে আবানকে ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْحَدِيثُ الْخَامِسُ5 - قَرَأْتُ عَلَى مَرْيَمَ بِنْتِ أَحْمَدَ بْنِ قَاضِي الْقُضَاةِ الدِّمَشْقِيِّ بِالْقَاهِرَةِ، أَخَبَرَكُمْ يُونُسُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكِنَانِيُّ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ النَّجَّارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمجلدِ، أَنَّ أَبَا الْقَاسِمِ عَلِيَّ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ أَخْبَرَهُمْ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، ثنا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ هُوَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ النَّسَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنَا أُمُّ نَهَارٍ، قَالَتْ: كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكِ يَمُرُّ بِنَا كُلَّ جُمُعَةٍ عَلَى بِرْذَوْنٍ وَعَلَيْهِ قَلَنْسُوَةٌ لاطِيَةٌ، وَكَانَ يُخَضَّبُ بِالصُّفْرَةِ ".هَذَا إِسْنَادٌ حَسَنٌ مَوْقُوفٌ، وَأَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ أَجَلُّ مِنْ أَنْ يُنَبَّهُ عَلَى قَدْرِهِ، وَأُمُّ نَهَارٍ مِصْرِيَّةٌ، وَقَدْ أَنْبَئَتْ عَنِ الْحَافِظِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الذَّهَبِيِّ، قَالَ: وَمَا عَلِمْتُ فِي النِّسَاءِ مَنِ اتُّهِمَتْ وَلا مَنْ تَرَكُوهَا
পঞ্চম হাদীস৫ - আমি কায়রোতে দামেস্কের প্রধান বিচারপতির (কাযিউল কুযাত) কন্যা মারইয়াম বিনতে আহমদের নিকট পাঠ করেছি। ইউনুস ইবনে ইবরাহীম আল-কিনানী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—সরাসরি শ্রবণ না হলেও ইজাজত (অনুমতি) সূত্রে—আলী ইবনুল হুসাইন আন-নাজ্জার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুজাল্লিদ থেকে; আবুল কাসিম আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তাদের সংবাদ দিয়েছেন—সরাসরি শ্রবণ না হলেও ইজাজত সূত্রে। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফকিহ আমার নিকট লিখেছেন; আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাবী; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আত-তাম্মার, যিনি হলেন আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ আন-নাসায়ী; তিনি বলেন: উম্মু নাহার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আনাস ইবনে মালেক (রা.) প্রতি জুমুয়াবার একটি খচ্চরে চড়ে আমাদের পাশ দিয়ে যেতেন; তাঁর মাথায় থাকতো মস্তক-সংলগ্ন একটি টুপি এবং তিনি হলুদ রঙের খেজাব ব্যবহার করতেন।"এই সনদটি হাসান এবং মাওকুফ। আর আবু নাসর আত-তাম্মার-এর মর্যাদা বর্ণনা করার অপেক্ষা রাখে না (অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য)। আর উম্মু নাহার হলেন একজন মিসরীয় বর্ণনাকারী। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: "আমি নারী বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যারা (মিথ্যা বা জালিয়াতির অভিযোগে) অভিযুক্ত হয়েছেন অথবা যাঁদের হাদীস বর্জন করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْحَدِيثُ السَّادِسُ6 - وَبِهِ إِلَى الْبَغَوِيِّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ مَرْوَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ أُمِّ حَرَامٍ وَقَدْ صَلَّى الْقِبْلَتَيْنِ جَمِيعًا يَعْنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.هَكَذَا وَقَعَ فِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ وَقَدْ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامِ بْنِ أَبِي الْدُمَيْكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدُ اللَّهِ بْنَ أُمِّ حَرَامٍ وَأَخْبَرَنِي: «أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْقِبْلَتَيْنِ»وَهَكَذَا رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُسْنَدِ الشَّامِيِّينَ.وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ ثِقَةٌ مِنْ صِغَارِ التَّابِعِينَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيُّ ضَعَّفَهُ ابْنُ مَعِينٍ وَغَيْرِهِ، وَرَوَى عَنِ
ষষ্ঠ হাদিস৬ - এবং এই সনদেই আল-বাগাভী পর্যন্ত: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন কাসীর ইবন মারওয়ান আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবন আবি আবলাহ; আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উম্মে হারামকে বলতে শুনেছি—যিনি উভয় কিবলার দিকেই সালাত আদায় করেছেন—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে।এই বর্ণনাটি এভাবেই এসেছে। তবে মুহাম্মাদ ইবন হিশাম ইবন আবুদ দুমাইক, মুহাম্মাদ ইবন কাসীরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবন আবি আবলাহ; তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন উম্মে হারামকে দেখেছি এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, «তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উভয় কিবলার দিকে সালাত আদায় করেছেন»।তদ্রূপ এটি তাবারানী ‘মুসনাদুশ শামিয়্যিন’-এ বর্ণনা করেছেন।ইবরাহীম ইবন আবি আবলাহ নির্ভরযোগ্য এবং তিনি ছোট তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। আর মুহাম্মাদ ইবন কাসীর আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরিকে ইবন মাঈন এবং অন্যরা দুর্বল বলেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
اللَّيْثِ ، وَابْنِ لَهِيعَةَ وَغَيْرِهَا، وَلا يَبْعُدُ سَمَاعُهُ مِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، وَقَدْ تَابَعَهُ عَلَيْهِ أَبُوهُ كَثِيرُ الْفِهْرِيُّ، أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي مُسْنَدِهِ مِنْ طَرِيقِهِ.
আল-লায়স, ইবনে লাহিয়াহ এবং অন্যান্যদের থেকে; এবং ইবরাহিম ইবনে আবি আবলাহ থেকে তাঁর শ্রবণ করা অসম্ভব নয়। তাঁর পিতা কাসীর আল-ফিহরি এই বর্ণনায় তাঁর অনুসরণ করেছেন; আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদে তাঁর সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْحَدِيثُ السَّابِعُ7 - قَرَأْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ العِزِّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ التَّنُوخِيَّةِ بِدِمَشْقَ، أَنْبَأَكَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي عُمَرَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارٍ الْحَرَّانِيِّ، أَنَّ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي شُرَيْكٍ أَنْبَأَهُ، أنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقُورِ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى بْنِ الْجَرَّاحِ إِمْلاءً، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ، ثنا كَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ، ثنا عَبَّادُ بْنُ عَبْدُ الصَّمَدِ أَبُو مَعْمَرٍ، ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «طَبَقَاتُ أُمَّتِي خَمْسُ طَبَقَاتٍ، كُلُّ طَبَقَةٍ أَرْبَعُونَ سَنَةً، فَطَبَقَتِي وَطَبَقَةُ أَصْحَابِي أَهْلُ الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ، وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى الثَّمَانِينِ أَهْلُ الْبِرِّ وَالتَّقْوَى، وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى الْعِشْرِينِ وَمِائَةٍ أَهْلُ التَّرَاحُمِ وَالتَّوَاصُلِ، وَالَّذِينَ يَلَونَهُمْ إِلَى السِّتِّينِ وَمِائَةٍ أَهْلُ التَّقَاطُعِ وَالتَّدَابُرِ ، وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى الْمِائَتَيْنِ أَهْلُ الْهَرْجِ وَالْحُرُوبِ» .هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ، رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَاجَهْ فِي كِتَابِ الْفِتَنِ مِنْ كِتَابِ السُّنَنِ لَهُ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ نُوحِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبَانَ الرَّقَّاشِيِّ، عَنْ أَنَسٍ نَحْوَهُوَعَبَّادٌ
সপ্তম হাদিস৭ - আমি দামেস্কে ফাতিমা বিনত আল-ইয্য মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন উসমান আত-তানুখিয়্যার নিকট পাঠ করেছি, (তিনি বলেছেন) সুলাইমান বিন হামজাহ বিন আবি উমর আপনাকে অবহিত করেছেন মুহাম্মাদ বিন আম্মার আল-হাররানি থেকে, হিবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবি শুরাইক তাকে অবহিত করেছেন, আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আন-নাক্কুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী বিন ঈসা বিন আল-জাররাহ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কামিল বিন তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ বিন আব্দুস সামাদ আবু মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের স্তর হলো পাঁচটি স্তর, প্রতিটি স্তর চল্লিশ বছর। সুতরাং আমার স্তর এবং আমার সাহাবীদের স্তর হলো জ্ঞান ও ঈমানওয়ালাদের স্তর। তাদের পরবর্তী যারা আশি বছর পর্যন্ত আসবে, তারা হলো পুণ্য ও তাকওয়াসম্পন্ন। তাদের পরবর্তী যারা একশত বিশ বছর পর্যন্ত আসবে, তারা হলো পারস্পরিক দয়া ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার স্তর। তাদের পরবর্তী যারা একশত ষাট বছর পর্যন্ত আসবে, তারা হলো পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্নকারী ও বিমুখতা প্রদর্শনকারী। আর তাদের পরবর্তী যারা দুইশত বছর পর্যন্ত আসবে, তারা হলো বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের লোক।»এটি একটি দুর্বল হাদিস, আবু আব্দুল্লাহ বিন মাজাহ তার সুনান গ্রন্থের ফিতনা অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন নাসর বিন আলী থেকে, তিনি নূহ বিন কায়েস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাকিল থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন আবান আর-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।এবং আব্বাদ
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَيَزِيدُ ضَعِيفَانُ، وَلَهُ شَوَاهِدٌ كُلُّهَا ضِعَافٌ؛ مِنْهَا: أَنَّ عَلِيَّ بْنَ حُجْرٍ رَوَاهُ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُطَهَّرٍ الْفِهْرِيِّ ، وَلَيْسَ بِعُمْدَةٍ، عَنْ أَبِي الْمَليحِ بْنِ أُسَامَةَ الْهُذَلِيِّ، عَنْ أَبِيهِ.وَمِنْهَا: مَا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ عَنْبَسَةَ الْقُرَشِيُّ وَهُوَ تَالِفٌ عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ.وَإِنَّمَا أَوْرَدْتُهُ؛ لِأَنَّ لَهُ مُتَابِعًا، وَلِكَوْنِهِ فِي إِحْدَى الْسُنَنِ.
এবং উভয় ইয়াজিদই দুর্বল, আর এর অনেকগুলো শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল; তার মধ্যে একটি হলো: আলী ইবনে হুজর এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুতাহহার আল-ফিহরি থেকে—যিনি নির্ভরযোগ্য দলিল নন—তিনি আবু আল-মালিহ ইবনে উসামা আল-হুযালি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।এবং তার মধ্যে আরও রয়েছে: যা ইয়াহইয়া ইবনে আনবাসা আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন—যিনি পরিত্যক্ত—তিনি সাওরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, এর অনুরূপ।আমি এটি কেবল একারণেই উল্লেখ করেছি যে, এর জন্য মুতাবে’ (সমর্থক বর্ণনাকারী) রয়েছে এবং এটি অন্যতম একটি সুনান গ্রন্থে বিদ্যমান থাকার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْحَدِيثُ الثَّامِنُ8 - قَرَأْتُ عَلَى عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمَجْدِ بِالْقَاهِرَةِ، أَخْبَرَكُمْ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ، وَغَيْرُهُ إِذْنًا، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْآجُرِيِّ، وَغَيْرِهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ البَنَّا، أَنَّ أَبَا نَصْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيَّ، أَخْبَرَهُمْ، قَالَ: أنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ فِي السَّادِسِ مِنْ حَدِيثِهِ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، ثنا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، ثنا يَعْلَى بْنُ الْأَشْدَقِ، سَمِعْتُ النَّابِغَةَ، يَقُولُ: أَنْشَدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم:بَلَغْنَا السَّمَاءَ مَجْدُنَا وَسَنَاؤُنَا … وَإِنَّا لَنَرْجُو فَوْقَ ذَلِكَ مَظْهَرَافَقَالَ: «أَيْنَ الْمَظْهَرُ يَا أَبَا لَيْلَى؟» قُلْتُ: الْجَنَّةُ، قَالَ: «أَجَلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» ، ثُمَّ قُلْتُ:وَلا خَيْرَ فِي حِلْمٍ إِذَا لَمْ تَكُنْ لَهُ … بَوَادِرُ تَحْمِي صَفْوَهُ أَنْ يُكَدَّرَا
অষ্টম হাদিস৮ - আমি কায়রোতে আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল মাজদ-এর নিকট পাঠ করেছি; সুলাইমান বিন হামজাহ এবং অন্যান্যরা অনুমতিক্রমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন আল-হুসাইন আল-আজুরী ও অন্যদের পক্ষ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-বান্না থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আজ-জায়নাবী তাঁদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্বাস আল-মুখাল্লিস তাঁর হাদিস সংকলনের ষষ্ঠ খণ্ডে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ বিন রুশাইদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়ালা বিন আল-আশদাক বর্ণনা করেছেন, আমি আন-নাবিগাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কবিতা আবৃত্তি করলাম:আমাদের মর্যাদা ও মহিমা আকাশে পৌঁছেছে... এবং আমরা এর ঊর্ধ্বে আরও উচ্চতর গন্তব্যের আশা রাখিতখন তিনি বললেন: «হে আবু লায়লা, সেই উচ্চতর গন্তব্যটি কোথায়?» আমি বললাম: জান্নাত। তিনি বললেন: «হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)»। এরপর আমি বললাম:সেই সহিষ্ণুতায় কোনো কল্যাণ নেই যার এমন কোনো তেজস্বিতা নেই... যা তার নির্মলতাকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَلا خَيْرَ فِي جَهْلٍ إِذَا لَمْ يَكُنْ لَهُ … حَلِيمٌ إِذَا مَا أَوْرَدَ الْأَمْرَ أَصْدَرَافَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يُفَضِّضُ اللَّهُ فَاكَ» ، مَرَّتَيْنِرَوَاهُ الْبَزَّارُ فِي مُسْنَدِهِ: عَنْ هَاشِمِ بْنِ الْقَاسِمِ الْحَرَّانِيِّ، وَالْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ فِي مُسْنَدِهِ: عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحَرَّانِيِّ، كِلاهُمَا، عَنْ يَعْلَى بْنِ الْأَشْدَقِ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا عَالِيًا.وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي الْمُؤْتَلِفِ الْمُخْتَلِفِ مِنْ طَرِيقِ الرَّحَّالِ بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ ابْنِ سَامَةَ ، وَكَانَ قَدْ وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّابِغَةِ الْجَعْدِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقُلْتُ. . . فَذَكَرَهُ.قِصَّةُ النَّابِغَةِ مَشْهُورَةُ عَنْهُ مِنْ طُرُقٍ.وَبِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ إِلَى الْإِمَامِ أَبِي عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ، قَالَ فِي تَرْجَمَةِ النَّابِغَةِ: وَقَدْ وَفَدَ عَلَى
সেই মূর্খতার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যার জন্য কোনো … ধৈর্যশীল ব্যক্তি নেই, যে কোনো বিষয়কে উপস্থিত করলে (সমাধান করে) বের করে আনতে পারে।অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "আল্লাহ তোমার মুখকে (দাঁতসমূহকে) বিক্ষিপ্ত না করুন (অক্ষত রাখুন)", এটি তিনি দুইবার বললেন।এটি ইমাম বাজ্জার তাঁর মুসনাদে হাশিম বিন আল-কাসিম আল-হাররানী থেকে এবং হাসান বিন সুফিয়ান তাঁর মুসনাদে আব্দুল মালিক আল-হাররানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই ইয়ালা বিন আল-আশদাক থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের 'বাদাল' সনদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।আর ইমাম দারাকুতনী এটি 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থে রাহহাল বিন আল-মুনযিরের সূত্রে তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে ইবনে সামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন—তিনি নাবিগা আল-জাদি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং বললাম... অতঃপর তিনি পুরো ঘটনা উল্লেখ করেন।নাবিগার এই কাহিনীটি বিভিন্ন সূত্রে তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ।প্রথম হাদিসে বর্ণিত পূর্ববর্তী সনদে ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার পর্যন্ত পৌঁছেছে; তিনি নাবিগার জীবনী আলোচনায় বলেছেন: তিনি প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪০)
النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُسْلِمًا، وَأَنْشَدَهُ، وَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ مِنْ أَوَّلِ مَا أَنْشَدَهُ، قَوْلُهُ فِي قَصِيدَتِهِ الرَّائِيَّةِ:أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ بِالهَدْي … وَيَتْلُو كِتَابًا كَالْمَجَرَّةِ نَيِّرًاثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ وَالشِّعْرَ مِنْ طَرِيقِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ النَّابِغَةَ الْجَعْدِيَّ، يَقُولُ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.فَأَنْشَدْتُهُ قَوْلِي:. . . فَذَكَرَ أَبْيَاتًا مِنَ الْقَصِيدَةِ.ثُمَّ قَالَ أَبُو عُمَرَ: فِي رِوَايَةِ يَعْلَى بْنِ الْأَشْدَقِ ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جِرَادٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ لَهُ: «أَجَدْتَ، لا يُفَضِّضُ اللَّهُ فَاكَ» .ثُمَّ قَالَ أَبُو عُمَرَ: قَدْ رَوَيْنَا. . . . . . . هَذَا الْخَبَرَ مِنْ وُجُوهٍ كَثِيرَةٍ عَنِ النَّابِغَةِ الْجَعْدِيِّ مِنْ طَرِيقِ يَعْلَى بْنِ الْأَشْدَقِ وَغَيْرِهِ.قُلْتُ: فَبَانَ أَنَّ لِلْحَدِيثِ أَصْلًا، فَلِذَلِكَ خَرَّجْتُهُ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ.وَرَوَيْنَاهُ فِي الْأَرْبَعِينِ الْبُلْدَانِيَّةِ لِلسَّلَفِيِّ مِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى أَخْرَجَهَا بِإِسْنَادٍ غَرِيبٍ إِلَى الْأَصْمَعِيِّ، عَنْ أَبِي عَمْرِو بْنِ الْعَلاءِ، عَنْ نَصْرِ بْنِ سَالِمِ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّابِغَةِ بِطُولِهِ.وَطَرِيقُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جِرَادٍ الَّتِي أَشَارَ إِلَيْهَا ، رَوَيْنَاهَا فِي غَرِيبِ الْحَدِيثِ لِلْخَطَّابِيِّ مِنْ طَرِيقِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَبْيبٍ الْكَعْبِيِّ، عَنْ مُهَاجِرِ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جِرَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّابِغَةَ بْنَ أَبِي جَعْدَةَ. . . . فَذَكَرَ نَحْوَهُ، وَزَادَ فِي آخِرِهِ، قَالَ:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মুসলিম হিসেবে আসলেন এবং তাঁকে কবিতা শোনালেন, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য দুআ করলেন। তাঁর পঠিত প্রাথমিক বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তাঁর 'রা-ইয়া' কাসিদার এই উক্তিটি:আমি আল্লাহর রাসূলের নিকট আসলাম যখন তিনি হিদায়াত নিয়ে আসলেন … আর তিনি এমন কিতাব পাঠ করেন যা ছায়াপথের ন্যায় উজ্জ্বল।অতঃপর তিনি আল-হারিস ইবনে আবি উসামার সূত্র থেকে হাদীস ও কবিতাটি বর্ণনা করেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ফাদল, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তামিমি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তি যিনি নাবিগাহ আল-জাদিকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম।অতঃপর আমি তাঁকে আমার কথাগুলো শোনালাম: . . . এরপর তিনি কাসিদার কিছু পংক্তি উল্লেখ করলেন।অতঃপর আবু উমর বলেন: ইয়ালা ইবনে আশদাক ও আব্দুল্লাহ ইবনে জিরাদের বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "তুমি চমৎকার বলেছ, আল্লাহ তোমার মুখগহ্বর (দাঁতসমূহ) অক্ষত রাখুন।"অতঃপর আবু উমর বলেন: আমরা নাবিগাহ আল-জাদি থেকে ইয়ালা ইবনে আশদাক ও অন্যদের সূত্রে অনেকভাবে . . . . . . . এই সংবাদটি বর্ণনা করেছি।আমি বলছি: এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, এই হাদীসটির একটি ভিত্তি রয়েছে। আর সেই কারণেই আমি এটি চয়ন করেছি। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।আমরা এটি আস-সালাফির 'আল-আরবাউন আল-বুলদানিয়্যাহ' গ্রন্থে অন্য এক সূত্রে বর্ণনা করেছি, যা তিনি আল-আসমায়ীর নিকট একটি বিরল সনদে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে, তিনি নাসর ইবনে সালিম আল-লাইসি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাবিগাহ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।আর আব্দুল্লাহ ইবনে জিরাদের যে সূত্রের প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তা আমরা আল-খাত্তাবির 'গারিবুল হাদীস' গ্রন্থে সুলাইমান ইবনে আহমাদ আল-হারাশির সূত্রে বর্ণনা করেছি, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাবিব আল-কাব্বি থেকে, তিনি মুহাজির ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জিরাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নাবিগাহ ইবনে আবি জাদাকে বলতে শুনেছি... এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করলেন এবং এর শেষে বর্ধিত অংশ হিসেবে বর্ণনা করলেন যে:
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَكَأَنَّ فَاهُ البَرَدُ المُنْهَلِ، تَرِفُّ غُرُوبُهُ.
আমি তাঁর দিকে তাকালাম, আর তাঁর মুখগহ্বর যেন ছিল বর্ষিত শিলাখণ্ডের ন্যায়, যার দন্তপ্রান্তসমূহ উজ্জ্বলতা বিকিরণ করছিল।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الْحَدِيثُ التَّاسِعُ9 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَاهِدٍ الْبَالِسِيُّ بِدِمَشْقَ، أَخْبَرَتْنَا زَيْنَبُ بِنْتُ الْكَمَالِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ سَمَاعًا عَلَيْهَا، أنا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ أَنْجَبَ النِّشْتِبْرِيُّ فِي كِتَابِهِ، عَنْ وَجِيهِ بْنِ طَاهِرٍ، أنا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَزْهَرِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدُ الْمَخْلَدِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ، ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا أَبُو هَاشِمٍ كَثَيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأُبَلِّيُّ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ، قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ، وَأَنَا ابْنُ ثَمَانِ سِنِينَ، وَكَانَ أَبِي تُوُفِّيَ، وَتَزَوَّجَتْ أُمِّي بِأَبِي طَلْحَةَ، وَكَانَ أَبُو طَلْحَةَ إِذْ ذَاكَ لَمْ يَكُنْ لَهُ شَيْءٌ، وَرُبَّمَا بِتْنَا اللَّيْلَةَ وَاللَّيْلَتَيْنِ بِغَيْرِ عَشَاءٍ،
নবম হাদীস৯ - উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাহিদ আল-বালিসি দামেস্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জয়নাব বিনতে আল-কামাল আহমদ ইবনে আবদুর রহীম তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল খালিক ইবনে আনজাব আন-নিشতিবরি তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াজিহ ইবনে তাহির থেকে, আবু হামিদ আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-আজহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-মাখলাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হাশিম কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উবল্লি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহর নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় প্রবেশ করেন, তখন আমার বয়স ছিল আট বছর। ইতিপূর্বে আমার পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন এবং আমার মা আবু তালহাকে বিবাহ করেছিলেন। সেই সময় আবু তালহার নিকট (আর্থিক সংস্থান) কিছুই ছিল না, এমনকি অনেক সময় আমরা এক রাত বা দুই রাত নৈশভোজ ছাড়াই অতিবাহিত করতাম।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَوَجَدْنَا كَفًّا مِنْ شَعِيرٍ، فَطَحَنَتْهُ وَعَجَنَتْهُ، وَخَبَزَتْ مِنْهُ قُرْصَيْنِ، وَطَلَبَتْ شَيْئًا مِنَ اللَّبَنِ مِنْ جَارَةٍ لَهَا أَنْصَارِيَّةٍ، فَصَبَّتْ عَلَى الْقُرْصَيْنِ، وَقَالَتْ: اذْهَبْ فَادْعُ بِأَبِي طَلْحَةَ تَأْكُلانِ جَمِيعًا.فَخَرَجْتُ أَشْتَدُّ فَرَحًا لِمَا أُرِيدُ أَنْ آكُلَ، فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا وَأَصَحَابِهِ، فَدَنَوْتُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: إِنَّ أُمِّي تَدْعُوكَ.فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، وَقَالَ لِأَصْحَابِهِ: «قُومُوا» ، فَجَاءَ حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَرِيبٍ مِنْ مَنْزِلِنَا، فَقَالَ لِأَبِي طَلْحَةَ: «هَلْ صَنَعْتُمْ شَيْئًا دَعَوْتُمُونَا إِلَيْهِ؟» فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِ نَبِيًّا، مَا دَخَلَ فَمِي مُنْذُ غُدَاةِ أَمْسٍ شَيْءٌ، قَالَ: «فَلِأَيِّ شَيْءٍ دَعَتْنَا أُمُّ سُلَيْمٍ؟ ادْخُلْ فَانْظُرْ» .فَدَخَلَ أَبُو طَلْحَةَ، فَقَالَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ، لِأَيِّ شَيْءٍ دَعَوْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَتْ: مَا فَعَلْتُ غَيْرَ أَنِّي اتَّخَذْتُ قُرْصَيْنِ مِنْ شَعِيرٍ، وَطَلَبْتُ مِنْ جَارَتِي الْأَنْصَارِيَّةِ لَبَنًا فَصَبَبْتُ عَلَى الْقُرْصَيْنِ، وَقُلْتُ لِابْنِي أَنَسٍ: اذْهَبْ فَادْعُ أَبَا طَلْحَةَ تَأْكُلانِ جَمِيعًا.فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ، فَقَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ادْخُلْ بِنَا يَا أَنَسُ» .فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبُو طَلْحَةَ ، وَأَنَا مَعَهُمْ، فَقَالَ: «يَا أُمَّ سُلَيْمٍ، ائْتِينِي بِقُرْصِكِ» .فَأَتَتْهُ بِهِ، فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَبَسَطَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى الْقُرْصِ،
আমরা এক মুষ্টি যব পেলাম, তিনি তা পিষলেন এবং খামির করলেন, এরপর তা দিয়ে দুটি রুটি তৈরি করলেন। তিনি তাঁর জনৈক আনসারী প্রতিবেশী মহিলার কাছে কিছু দুধ চাইলেন এবং তা রুটি দুটির ওপর ঢেলে দিলেন। অতঃপর বললেন: যাও এবং আবু তালহাকে ডেকে আনো, তোমরা উভয়ে মিলে খাবে।আমি যা খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছিলাম তার আনন্দে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে বসে আছেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম এবং বললাম: আমার মা আপনাকে ডাকছেন।অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাহাবীদের বললেন: "তোমরা ওঠো।" তিনি আমাদের বাড়ির নিকটবর্তী হওয়া পর্যন্ত আসলেন, অতঃপর আবু তালহাকে বললেন: "তোমরা কি কিছু প্রস্তুত করেছ যার জন্য আমাদের দাওয়াত দিয়েছ?" আবু তালহা বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকে আমার মুখে কিছুই প্রবেশ করেনি। তিনি বললেন: "তাহলে উম্মু সুলাইম আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন? ভেতরে যাও এবং দেখো।"তখন আবু তালহা ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে উম্মু সুলাইম, কেন তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দিয়েছ? তিনি বললেন: আমি বিশেষ কিছু করিনি, কেবল যবের দুটি রুটি তৈরি করেছি এবং আমার আনসারী প্রতিবেশীর কাছে দুধ চেয়েছি, যা আমি রুটি দুটির ওপর ঢেলেছি। আর আমি আমার পুত্র আনাসকে বলেছিলাম: যাও এবং আবু তালহাকে ডাকো যেন তোমরা দুজনে মিলে খেতে পারো।আবু তালহা বেরিয়ে আসলেন এবং উম্মু সুলাইম যা বলেছেন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আনাস, আমাদের সাথে ভেতরে চলো।"অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে প্রবেশ করলেন, আবু তালহা এবং তাঁদের সাথে আমিও ছিলাম। তিনি বললেন: "হে উম্মু সুলাইম, তোমার রুটি নিয়ে এসো।"তিনি তা তাঁর কাছে নিয়ে আসলেন এবং তা তাঁর সামনে রাখা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটির ওপর তাঁর হাত প্রসারিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، فَقَالَ: «يَا أَبَا طَلْحَةَ، اذْهَبْ فَادْعُ مِنْ أَصْحَابِنَا عَشَرَةٍ» .فَدَعَا بِعَشَرَةٍ، فَقَالَ لَهُمْ: «اقْعُدُوا وَسَمُّوا، وَكُلُوا مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِي» .فَقَعَدُوا، فَقَالُوا: بِسْمِ اللَّهِ، فَأَكَلُوا مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ حَتَّى شَبِعُوا، فَقَالُوا: شَبِعْنَا، فَقَالَ: «انْصَرِفُوا» ، وَقَالَ لِأَبِي طَلْحَةَ: «ادْعُ لِي بِعَشَرَةٍ أُخْرَى» ، فَمَا زَالَ تَذْهَبُ عَشَرَةٌ وَتَجِيءُ عَشَرَةٌ، حَتَّى أَكَلَتْ مِنْهُ ثَلاثَةٌ وَسَبْعُونَ رَجُلًا، قَالَ: «يَا أَبَا طَلْحَةَ، وَيَا أَنَسُ، تَعَالَوْا» .فَأَكَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبُو طَلْحَةَ، وَأَنَا مَعَهُمْ حَتَّى شَبِعْنَا، ثُمَّ إِنَّهُ رَفَعَ الْقُرْصَيْنِ، فَقَالَ: «يَا أُمَّ سُلَيْمٍ، كُلِي وَأَطْعِمِي مَنْ شِئْتِ» .فَلَمَّا أَبْصَرَتْ أُمُّ سُلَيْمٌ ذَلِكَ، أَخَذَتْهَا الرَّعْدَةُ، يَعْنِي مِنَ الْعَجَبِ.هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَهُوَ مَشْهُورٌ عَنْ أَنَسٍ، وَفِي الْإِسْنَادِ الَّذِي أَوْرَدْنَاهُ مَقَالٌ، مِنْ جِهَةِ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَدْ تَكَلَّمُوا فِيهِ كَثِيرًا، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ، فَقَدْ تَابَعَهُ إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَخْرَجَ الْبُخَا رِيُّ بَعْضَهُ مِنْ طَرِيقِهِ بِمَعْنَاهُ ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ
এবং তিনি তাঁর আঙুলগুলো ফাঁক করলেন, অতঃপর বললেন: "হে আবু তালহা, যাও এবং আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে দশজনকে ডেকে আনো।" অতঃপর তিনি দশজনকে ডাকলেন, তখন তিনি তাদের বললেন: "তোমরা বসো এবং আল্লাহর নাম নাও, আর আমার আঙুলগুলোর মধ্য থেকে খাও।" ফলে তারা বসলেন এবং বললেন: বিসমিল্লাহ। তারা তাঁর আঙুলগুলোর মধ্য থেকে আহার করলেন যতক্ষণ না তারা তৃপ্ত হলেন। তারা বললেন: আমরা তৃপ্ত হয়েছি। তখন তিনি বললেন: "তোমরা চলে যাও।" এবং তিনি আবু তালহাকে বললেন: "আমার জন্য আরও দশজনকে ডেকে আনো।" এভাবে দশজন করে যাচ্ছিল এবং দশজন করে আসছিল, যতক্ষণ না তিয়াত্তর জন লোক তা থেকে আহার করল। তিনি বললেন: "হে আবু তালহা এবং হে আনাস, তোমরা আসো।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু তালহা এবং আমি তাঁদের সাথে আহার করলাম যতক্ষণ না আমরা তৃপ্ত হলাম। তারপর তিনি রুটির টুকরো দুটি তুললেন এবং বললেন: "হে উম্মে সুলাইম, তুমি খাও এবং যাকে ইচ্ছা তাকে খাওয়াও।" যখন উম্মে সুলাইম তা দেখলেন, তখন বিস্ময়ের কারণে তাঁর মাঝে কম্পন সৃষ্টি হলো। এই সূত্রে হাদীসটি গরীব, তবে এটি আনাস থেকে মাশহুর (প্রসিদ্ধ)। আর আমরা যে সনদটি উল্লেখ করেছি তাতে কাষীর ইবনে আব্দুল্লাহর কারণে আপত্তি রয়েছে, কেননা মুহাদ্দিসগণ তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা করেছেন। তবে তিনি এটি বর্ণনায় একক নন, বরং ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা আনাস থেকে তাঁর অনুসরণ (তাবে) করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সূত্র থেকে এর কিছু অংশ সমার্থে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْحَدِيثُ الْعَاشِرُ10 - قَرَأْتُ عَلَى مَرْيَمَ بِنَتِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الْأَذْرَعِيِّ بِظَاهِرِ الْقَاهِرَةِ، أَخْبَرَكُمْ يُونُسُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبُّوسِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ، أنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، أنا أَبُو الْكَرَمِ الْمُبَارَكُ بْنُ الْحَسَنِ الشَّهْرُزُورِيُّ، عَنِ الشَّيْخَيْنِ: أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَزَارْمَرْدَ الصَّرِيفِينِيِّ، وَأَبِي الْحَسَنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقُورِ، قَالا: ثنا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الكَتَّانِيُّ.وَقَرَأْتُ عَلَى التَّقِيِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَالِبِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُ الْوَاحِدِ فِي كِتَابِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الزَّاغُونِيُّ، أنا أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُ، أنا أَبُو طَاهرٍ الْمُخَلِّصُ.قَالا: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا طَالُوتُ بْنُ عَبَّادٍ، ثنا فَضَّالُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: " اكْفُلُوا لِي بِسِتٍ أَكْفُلْ لَكُمْ بِالْجَنَّةِ: إِذَا حَدَّثَ أَحَدُكُمْ فَلا يَكْذِبْ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ فَلا يَخُنْ، وَإِذَا وَعَدَ فَلا يُخْلِفْ، غُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ ".هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَطَالُوتُ بْنُ عَبَّادٍ، قَالَ فِيهِ أَبُو حَاتِمٍ: صَدُوقٌ، وَضَعَّفَهُ غَيْرُهُ، كَذَا قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيُّ!
দশম হাদিস১০ - আমি কায়রোর উপকণ্ঠে মরিয়ম বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আজরয়ীর নিকট পাঠ করেছি। ইউনুস বিন ইব্রাহিম আদ-দাব্বুসী সরাসরি শ্রবণ করিয়ে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আল-হুসাইন ইজাযাহর মাধ্যমে—যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল করম আল-মুবারক বিন আল-হাসান আশ-শাহরাযুরী দুই শায়খ: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাযারমারদ আস-সারিফিনী এবং আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাকুর হতে। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উমর বিন ইব্রাহিম আল-কাত্তানী।এবং আমি আত-তাকী আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উবাইদুল্লাহর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবু তালিব হতে। মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আয-যাগুনী হতে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আজ-যাইনাবী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আল-মুখাল্লিস।তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন তালুত বিন আব্বাদ। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ফাদদাল বিন জুবায়ের, তিনি আবু উমামাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো: যখন তোমাদের কেউ কথা বলবে তখন যেন মিথ্যা না বলে, যখন আমানত রাখা হবে তখন যেন খেয়ানত না করে, যখন প্রতিশ্রুতি দেবে তখন যেন তা ভঙ্গ না করে, তোমাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখো, তোমাদের হাতকে বিরত রাখো এবং তোমাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করো।"এটি একটি হাসান হাদিস। তালুত বিন আব্বাদ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে অন্যরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইবনুল জাওযী এমনটিই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قَالَ الذَّهَبِيُّ: وَقَدْ تَعِبْتُ فِي التَّفْتِيشِ لِأَجِدَ أَحَدًا ضَعَّفَهُ فَلَمْ أَقْدِرْ عَلَى ذَلِكَ.قُلْتُ وَلَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ، بَلْ تَابَعَهُ عَلَيْهِ أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكَجِّيُّ الْحَافِظُ الثِّقَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ بْنِ الْبِرِنْدِ السَّامِيِّ الْمُتَّفَقِ عَلَى إِخْرَاجِ حَدِيثِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ، عَنْ فَضَّالِ بْنِ جُبَيْرٍ.فَأَمَّا فَضَّالٌ فَذَكَرَهُ أَبُو أَحْمَدَ الْعَسَّالِ فِي تَارِيخِهِ، فَقَالَ فَضَّالَ بْنَ جُبَيْرٍ: بَصْرِيٌّ، سَمِعَ مِنْ أَبِي أُمَامَةَ.وَسَاقَ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ طَرِيقِ مُطَيَّنٍ، عَنْ طَالُوتَ، وَلَمْ يُجَرِّحَهُ.وَذَكَرَهُ أَبُو حَاتِمٍ فَضَعَّفَهُ فِيمَا ذَكَرَ الْكَتَّانِيُّ عَنْهُ، وَلَمْ أَرَهُ فِي كِتَابِ ابْنِ أَبِي حَاتِمٍ.وَأَوْرَدَ لَهُ ابْنُ عَدِيٍّ ، وابْنُ حِبَّانَ أَحَادِيثَ اسْتَنْكَرَاهَا، وَقَدْ أَخْرَجَ لَهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ.وَلِحَدِيثِهِ هَذَا شَوَاهِدٌ مِنْهَا: عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فِي صَحِيحِ ابْنِ حِبَّانَ ، وَمُسْتَدْرَكِ الْحَاكِمِ،
যাহাবি বলেন: আমি তাকে দুর্বল বলেছে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়ার জন্য অনুসন্ধানে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, কিন্তু আমি তা করতে সক্ষম হইনি।আমি বলছি, তিনি এতে একক নন, বরং হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবু মুসলিম ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাজ্জি তাকে অনুসরণ করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আরআরআহ ইবনুল বিরিন্দ আস-সামি থেকে, যার হাদিস সহিহাইন-এ গ্রহণ করার বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে, তিনি ফাদদাল ইবনে জুবাইর থেকে।আর ফাদদালের ব্যাপারে আবু আহমাদ আল-আসসাল তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ফাদদাল ইবনে জুবাইর: একজন বসরাবাসী, তিনি আবু উমামাহ থেকে শুনেছেন।তিনি মুতাইয়্যান-এর সূত্রে তালুত থেকে তার এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাকে কোনো দোষারোপ করেননি।আবু হাতিম তাকে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে দুর্বল বলেছেন যেমনটি আল-কাত্তানি তার পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন, তবে আমি ইবনে আবু হাতিমের কিতাবে এটি দেখিনি।ইবনে আদি এবং ইবনে হিব্বান তার এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে তার হাদিস বর্ণনা করেছেন।এবং তার এই হাদিসের কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: সহিহ ইবনে হিব্বান এবং মুস্তাদরাকে হাকিমে বর্ণিত উবাদাহ ইবনে সামিতের হাদিস,
(খণ্ড: ১)
আল আহাদিসুল আশারাহ আল উশারিয়্যাহ আল ইখতিয়ারিয়্যাহ লি ইবনি হাজার
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَعَنْ أَنَسٍ فِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ بْنِ مَنِيعٍ ، وَالْحَسَنِ بْنِ سُفْيَانَ ، وَأَبِي يَعْلَى ، وَمُسْتَدْرَكِ الْحَاكِمِ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي الْمُعْجَمِ الْأَوْسَطِ لِلطَّبَرَانِيِّ وَغَيْرِهِ، وَعَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ مُرْسَلًا فِي الزُّهْدِ لِسَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ.وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ
আনাস (রা.) থেকে আহমাদ ইবনে মানি‘, আল-হাসান ইবনে সুফইয়ান ও আবু ইয়া‘লার মুসনাদ এবং হাকিমের মুসতাদরাকে বর্ণিত হয়েছে; এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে তাবারানির আল-মু‘জাম আল-আওসাত ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; এবং জুবাইর ইবনে আদি থেকে মুরসাল হিসেবে সাঈদ ইবনে মানসুরের আয-যুহদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।