(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: -)
مسند ابن زيدان   (ابن زيدان)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند ابن زيدان

المؤلف: أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بنُ زَيْدَانَ بنِ بُرَيْدِ بنِ رَزِيْنِ بنِ رَبِيْعِ بنِ قطنٍ البَجَلِيُّ، الكُوْفِيُّ (ت 313هـ)

اعتناء وتخريج: محمد زياد عمر تكلة

الناشر: مكتبة العبيكان، الرياض

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 301

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে ইবনে যাইদান   (ইবনে যাইদান)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে ইবনে যাইদান

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন যাইদান বিন বুরাইদ বিন রাজীন বিন রাবী' বিন কাতান আল-বাজালি, আল-কুফি (মৃত্যু ৩১৩ হিজরি)

সম্পাদনা ও তাখরীজ: মুহাম্মদ যিয়াদ উমর তাকলা

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৩)
وَمِنْ مُسْنَدِ ابْنِ زَيْدَانَ

22 - نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْأَحْمَسِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ عَامِرِ بْنِ عَدَّاسٍ الْأَسَدِيُّ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، أَوْ أُوَيْسِ بْنِ أُوَيْسٍ، قَالَ: «أَقَمْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نِصْفَ شَهْرٍ، فَرَأَيْتُهُ‌‌ يُصَلِّي وَعَلَيْهِ نَعْلَانِ مُقَابَلَتَانِ، وَيَبْصُقُ عَنْ يَمِينِهِ وَيَسَارِهِ»

23 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: حَدِّثْنِي بِأَمْرٍ أَعْتَصِمُ بِهِ، فَقَالَ: ‌‌«امْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ هَذَا» ، وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ.

قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَرَأَيْتُ ذَلِكَ شَيْئًا يَسِيرًا، وَكُنْتُ رَجُلًا قَلِيلَ الْكَلَامِ، فَلَمْ أَفْطِنْ لَهُ، فَإِذَا لَا شَيْءَ أَشَدُّ مِنْهُ
এবং ইবনে জাইদান-এর মুসনাদ থেকে

২২ - মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-আহমাসী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন আমির বিন আদ্দাস আল-আসাদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কায়েস থেকে বর্ণিত, তিনি উমাইর বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন আল-মুগীরাহ থেকে, তিনি আউস বিন আউস অথবা উয়াইস বিন উয়াইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অর্ধমাস অবস্থান করেছি। তখন আমি তাঁকে দুই ফিতাওয়ালা এক জোড়া জুতো পরিহিত অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি এবং তাঁকে তাঁর ডানে ও বামে থুতু ফেলতে দেখেছি।»

২৩ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রিশদীন বিন সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উকাইল থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যা আমি আঁকড়ে ধরতে পারি। তখন তিনি বললেন: «তুমি তোমার এই জিহ্বাকে সংযত রাখো,» এবং তিনি তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন।

আব্দুর রহমান বলেন: আমি বিষয়টিকে অতি সামান্য মনে করেছিলাম, আর আমি ছিলাম অল্পভাষী মানুষ, তাই আমি এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারিনি। কিন্তু পরে দেখা গেল যে, এর চেয়ে কঠিন আর কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৪)
24 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ، ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُغِيرَةَ الطَّائِفِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ، فَلْيَكُنْ آخِرُ عَهْدِهِ بِالطَّوَافِ» .

فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: حُرَيْثُ! مَالَكَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ لَمْ تُخْبِرْنِيهِ؟

25 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ صُبَيْحٍ، عَنِ ابْنِ جَعْدَبَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ قَوْقَلٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ:‌‌ أَرَأَيْتَكَ إِنْ صَلَّيْتُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ، وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ، لَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا، أَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ ، قَالَ: «نَعَمْ» .

قَالَ: فَوَاللَّهِ، لَا أَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا
২৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন তালহা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনুল আওয়াম, হাজ্জাজ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মুগীরা আত-তাঈফী থেকে, তিনি আমর ইবনে আওস থেকে, তিনি হারিস ইবনে আওস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর হজ করবে অথবা উমরাহ করবে, তার সর্বশেষ কাজ যেন হয় তাওয়াফ করা।»

অতঃপর উমর তাকে বললেন: হে হুরাইস! তোমার কী হয়েছে যে তুমি এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে শুনেছ, অথচ আমাকে তা জানাওনি?

২৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে সুবাইহ, ইবনে জাদআবাহ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, নুমান ইবনে কাওকাল থেকে বর্ণিত যে তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি কি মনে করেন, যদি আমি ফরয সালাতগুলো আদায় করি, রমযানের সিয়াম পালন করি, হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি এবং হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করি, এবং এর ওপর আর কোনো কিছুই বৃদ্ধি না করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»।

তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি এর ওপর আর কিছুই বৃদ্ধি করব না।
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৫)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، ثَنَا جَابِرُ بْنُ نُوحٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ قَوْقَلٍ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ إِنْ صَلَّيْتُ هَذِهِ الصَّلَاةَ، وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ، وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ، أَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»

27 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ السَّائِبِ، قَالَ: جَاءَنِي عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، وَزُهَيْرُ بْنُ أُمَيَّةَ، فَاسْتَأْذَنَا على رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَثْنَيَا عَلَيَّ عِنْدَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا أَعْلَمُ بِهِ مِنْكُمَا، أَلَمْ تَكُنْ شَرِيكِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟» قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، بِأَبِي وَأُمِّي، فَنِعْمَ الشَّرِيكُ كُنْتَ، لَا تُمَارِي وَلَا تُدَارِي، قَالَ: فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا سَائِبُ،‌‌ انْظُرِ الْأَخْلَاقَ الْحَسَنَةَ الَّتِي كُنْتَ تَصْنَعُهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَاصْنَعْهَا فِي الْإِسْلَامِ، أَقْرِ الضَّيْفَ، وَأَحْسِنْ إِلَى الْيَتِيمِ، وَأَكْرِمِ الْجَارَ»
২৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে তারিফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জাবির ইবনে নুহ বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি নুমান ইবনে কাওকাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি এই সালাতগুলো আদায় করি, হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি এবং হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

২৭ - আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসআব ইবনুল মিকদাম বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনুল মুহাজির থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি সাইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আফফান এবং জুহাইর ইবনে উমাইয়াহ আমার কাছে আসলেন এবং তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তারা তাঁর নিকট আমার প্রশংসা করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি তোমাদের দুজনের চেয়ে তাকে বেশি চিনি। তুমি কি জাহিলিয়াতের যুগে আমার অংশীদার ছিলে না?" তিনি (সাইব) বলেন, আমি বললাম: হ্যাঁ, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি কতই না চমৎকার অংশীদার ছিলেন! আপনি ঝগড়াও করতেন না এবং ছলচাতুরিও করতেন না। তিনি বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "হে সাইব, জাহিলিয়াতের যুগে তুমি যেসব উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করতে সেগুলো লক্ষ্য করো এবং ইসলামেও তা পালন করো; মেহমানকে আপ্যায়ন করো এবং সদ্ব্যবহার করো এতিমের প্রতি এবং প্রতিবেশীর সম্মান করো।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৬)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ هَيَّاجٍ، قَالَا: ثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«بُعِثْتُ فِي نَفْسِ السَّاعَةِ، سَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هَذِهِ هَذِهِ» ، وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ

29 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثَنَا وَكِيعٌ، ثَنَا هِشَامٌ أَبُو الْمِقْدَامِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ آلِ سَعْدٍ، قَالَ: جَاءَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْأَرْقَمِ الْمَخْزُومِيُّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ، فَأَوْسَعْنَا لَهُ، فَأَبَى أَنْ يَتَخَطَّى، وَجَلَسَ فِي الشَّمْسِ، فَقُلْنَا لَهُ: أَوْسَعْنَا لَكَ! فَقَالَ: إِنَّ أَبِي حَدَّثَنِي، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«مَنْ تَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ، فَكَأَنَّهُ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي جَهَنَّمَ»
২৮ - আবু কুরাইব এবং মুহাম্মদ বিন উমর বিন হাইয়াজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দা বিন আসওয়াদ থেকে, তিনি মুজালিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি কায়েস বিন আবু হাজিম থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি কিয়ামতের একেবারে নিকটবর্তী সময়ে প্রেরিত হয়েছি, আমি একে ছাড়িয়ে গেছি যেভাবে এই আঙুলটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে যায়।" এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন।

২৯ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম আবু মিকদাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'দ পরিবারের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেন: জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছিলেন তখন উসমান বিন আরকাম আল-মাখযুমি আমাদের নিকট এলেন, আমরা তাঁর জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দিলাম, কিন্তু তিনি (মানুষের ঘাড়) ডিঙিয়ে যেতে অস্বীকার করলেন এবং রোদে বসে পড়লেন। আমরা তাঁকে বললাম: আমরা তো আপনার জন্য জায়গা করে দিয়েছি! তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় যে ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে অগ্রসর হয়, সে যেন জাহান্নামে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৭)
30 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ، ثنا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، وَوَالِدِهِ إِسْحَاقَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَشْيَاخٍ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، قَالُوا: " غَلَا السِّعْرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَيُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ أَكْثَرُ تَمْرًا؟» قَالُوا: أَبُو لُبَابَةَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا لُبَابَةَ، ارْفَعْ فِي السِّعْرِ يَرْفَعُ النَّاسُ مَعَكَ» .

فَقَالَ: لَا أفْعَلُ.

فَقَالَ النَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اسْتَسْقِ لَنَا، فَقَالَ أَبُو لُبَابَةَ: لَا تَفْعَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ تَمْرِي بِالْمِرْبَدِ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا يَحْمِلُ تَمْرَ أَبِي لُبَابَةَ، حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ ثَعْلَبِ الْمِرْبَدِ، وَلَا يَجِدُ شَيْئًا يَسُدُّ بِهِ، إِلَّا إِزَارَهُ» .

فَأَرْسَلَ اللَّهُ تبارك وتعالى السَّمَاءَ، وَخَرَجَ أَبُو لُبَابَةَ، فَوَجَدَ التَّمْرَ قَدِ احْتَمَلَهُ الْمَاءُ، فَهُوَ يَخْرُجُ مِنْ ثَعْلَبِ الْمِرْبَدِ، فَذَهَبَ يَلْتَمِسُ شَيْئًا يَسُدُّ بِهِ، فَلَمْ يَجِدْ إِلَّا إِزَارَهُ، فَأَطْلَقَهُ، فَجَعَلَ يَسُدُّ بِهِ، وَيَقُولُ: صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ.

فَزَعَمَ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: بَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّ أَبَا لُبَابَةَ، كَانَ يَقُولُ لِلسَّمَاءِ: اجْدُبِي لِتَمْرَةٍ عِنْدَهُ كَثِيرٍ، فَدَعَا اللَّهَ بِهَذَا الدُّعَاءِ
৩০ - হারুন ইবনে আবি বুরদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাদের জানিয়েছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত ও তার পিতা ইসহাক ইবনে ইয়াসার থেকে, তারা বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের একদল প্রবীণ থেকে বর্ণনা করেন, তারা বলেন: "দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‌‌«মদিনাবাসীদের মধ্যে কার কাছে সবচেয়ে বেশি খেজুর আছে?» তারা বললেন: আবু লুবাবা। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে আবু লুবাবা, তুমি দাম বাড়িয়ে দাও, তাহলে মানুষও তোমার সাথে দাম বাড়াবে»।

তিনি বললেন: আমি তা করব না।

তখন লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আবু লুবাবা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এমনটি করবেন না, কারণ আমার খেজুরগুলো এখন শুকানোর স্থানে (মিরবাদ) রয়েছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ, আমাদের এমন বৃষ্টি দিন যা আবু লুবাবার খেজুরগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, এমনকি তা শুকানোর স্থানের পানি নির্গমন পথ দিয়ে বেরিয়ে যাবে, আর তা আটকানোর জন্য সে তার লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই পাবে না»।

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। আবু লুবাবা বাইরে বের হলেন এবং দেখলেন যে পানি খেজুরগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং সেগুলো শুকানোর স্থানের নির্গমন পথ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি তা বন্ধ করার জন্য কিছু খুঁজতে লাগলেন, কিন্তু নিজের লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই পেলেন না। তখন তিনি সেটি খুলে তা দিয়ে নির্গমন পথ বন্ধ করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূল পৌঁছে দিয়েছেন।

যুহরী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল যে, আবু লুবাবা তার কাছে থাকা প্রচুর খেজুরের কারণে আকাশকে লক্ষ্য করে বলতেন: "শুষ্ক থাকো", তাই তিনি আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮৮)
31 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ الْعَسْقَلَانِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رُكَانَةَ صَارَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَصَرَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رُكَانَةُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«فَرْقُ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُشْرِكِينَ الْعَمَائِمُ، وَالْقَلَانِسُ»

32 - حَدَّثَنَا ابْنُ هَيَّاجٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا زِيَادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَسْلَمِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَرْوَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ: " لَمَّا أَشْرَفْنَا عَلَى خَيْبَرَ، قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قِفُوا» ، وَوَقَفَ، ثُمَّ قَالَ: ‌‌«اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَمَا أَظْلَلْنَ، وَرَبَّ الْأَرَضِينَ وَمَا أَقْلَلْنَ، وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضْلَلْنَ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ، إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، وَخَيْرِ أَهْلِهَا، وَخَيْرِ مَا فِيهَا، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ أَهْلِهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، أَقْدِمُوا بِسْمِ اللَّهِ» .

قَالَ: وَكَانَ يَقُولُهَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ يَدْخُلُهَا
৩১ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে রাবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হাসান আল-আসকালানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রুকানাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রুকানাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কুস্তি লড়েছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুস্তিতে হারিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর রুকানাহ বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «আমাদের ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো টুপির ওপর পাগড়ি পরিধান করা»

৩২ - ইবনে হাইয়াজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসলামী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে আবি মারওয়ান থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি আবু লুবাবাহ ইবনে আব্দুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন আমরা খায়বারের নিকটবর্তী হলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: «থামো», এবং তিনি থামলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, আসমানসমূহের রব এবং তা যা কিছুকে ছায়া দেয়, জমিনসমূহের রব এবং তা যা কিছুকে ধারণ করে, শয়তানদের রব এবং তারা যাদের বিভ্রান্ত করে, আর বায়ুর রব এবং তা যা কিছু উড়িয়ে নিয়ে যায়; আমি আপনার কাছে এই জনপদের কল্যাণ, এর অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমরা আপনার কাছে এর অনিষ্ট, এর অধিবাসীদের অনিষ্ট এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহর নামে অগ্রসর হও।»" তিনি বলেন: তিনি যে জনপদেই প্রবেশ করতেন সেখানেই এটি বলতেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯০)
33 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، ثنا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مَنُصورِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بُسْرٍ الْخُزَاعِيُّ، أَنَّ مَالِكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«فَمَا رَأَيْتُ إِمَامًا كَانَ أَخَفَّ مِنْ صَلَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم»

34 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو بِشْرٍ هَارُونُ بْنُ حَاتِمٍ الْبَزَّازُ، ثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ صُهَيْبٍ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي الزَّعْرَاءِ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "‌‌ الْأَيْدِي ثَلَاثَةٌ: فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا، وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا، وَيَدُ السَّائِلِ السُّفْلَى، فَأَعْطِ الْفَضْلَ وَلَا تَعْجَزْ "
৩৩ - মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু আবী যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর ইবনু হাইয়্যান থেকে বর্ণিত, সুলায়মান ইবনু বুসর আল-খুযাঈ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, মালিক ইবনু আব্দুল্লাহ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: «আমি এমন কোনো ইমামকে দেখিনি যার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের চেয়ে বেশি সংক্ষিপ্ত ছিল»

৩৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বিশর হারুন ইবনু হাতিম আল-বায্যায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদাহ ইবনু হুমাইদ ইবনু সুহাইব আত-তাইমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যা'রা থেকে বর্ণিত, আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা মালিক ইবনু নাযলাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: " হাত তিন প্রকার: আল্লাহর হাত সর্বোচ্চ, আর দাতার হাত তার পরবর্তী, এবং যাচ্ঞাকারীর হাত হলো সর্বনিম্ন। সুতরাং অতিরিক্ত সম্পদ দান করো এবং অক্ষম হয়ো না।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯১)
35 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، رَثَّ الثِّيَابِ، فَقَالَ: «أَلَكَ مَالٌ؟» قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِنْ كُلِّ الْمَالِ.

قَالَ: ‌‌«فَإِذَا آتَاكَ اللَّهُ مَالًا، فَلْيُرَ أَثَرُهُ عَلَيْكَ»

36 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُقْرِئِ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزَّعْرَاءِ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي الْأَحْوَصِ، أَنَّ أَبَاهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ مَرَّةً: أَخْبَرَنِي أَبُو الزَّعْرَاءِ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَصَعَّدَ فِيَّ الْبَصَرَ وَطَأْطَأَ، فَقَالَ: ‌‌«أَرَبُّ إِبِلٍ أَنْتَ، أَمْ رَبُّ غَنَمٍ؟» قَالَ: فَقُلْتُ: مِنْ كُلٍّ قَدْ آتَانِيَ اللَّهُ، فَأَكْثَرَ وَأَطْيَبَ، قَالَ: " أَلَسْتَ تُنْتِجُهَا وَافِيَةً آذَانُهَا، فَتَجْدَعُ هَذِهِ، فَتَقُولُ: صَرِيمٌ، وَتَضَعُ هَذِهِ، فَتَقُولُ:
৩৫ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জরাজীর্ণ পোশাকে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «তোমার কি কোনো সম্পদ আছে?» তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, সব ধরণের সম্পদই আছে।

তিনি বললেন: ‌‌«আল্লাহ যখন তোমাকে সম্পদ দান করেছেন, তখন তোমার ওপর তাঁর নিআমতের প্রভাব যেন দেখা যায়।»

৩৬ - ইবনুল মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আজ-জারা থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) একবার বলেছেন: আবু আজ-জারা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তিনি আমার দিকে তাঁর দৃষ্টি উঁচু করলেন এবং নিচু করলেন (আমাকে আপাদমস্তক দেখলেন)। অতঃপর তিনি বললেন: ‌‌«তুমি কি উটের মালিক, নাকি ছাগলের মালিক?» তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ আমাকে সব ধরণের সম্পদই দান করেছেন এবং তা প্রচুর ও উত্তম। তিনি বললেন: "তুমি কি সেগুলো নিখুঁত কানবিশিষ্ট অবস্থায় উৎপাদন করো না? অতঃপর তুমি এগুলোর কান কেটে ফেলো এবং বলো: এটি কান কাটা, এবং সেগুলোকে এমন অবস্থায় রাখো যে তুমি বলো:
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯২)
بَحِيرَةٌ، فَسَاعِدُ اللَّهِ أَشَدُّ، وَمُوسَاهُ أَحَدُّ، لَوْ شَاءَ أَنْ يَأْتِيَكَ بِهَا صَرْمَاءَ فَعَلَ ".

ثُمَّ قَالَ: «أَرَأَيْتَكَ لَوْ كَانَ لَكَ غُلَامَانِ، أَحَدُهُمَا لَا يَعْصِيكَ، وَلَا يَخُونُكَ، وَلَا يَكْذِبُكَ، وَالْآخَرُ يَعْصِيكَ، وَيَخُونُكَ، وَيَكْذِبُكَ، فَأَيُّهُمَا كَانَ أَحَبَّ إِلَيْكَ؟» قَالَ: الَّذِي لَا يَعْصِينِي، وَلَا يَخُونُنِي، وَلَا يَكْذِبُنِي.

قَالَ: «وَكَذَلِكَ عِنْدَ رَبِّكُمْ»

37 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا ابْنُ مُبَارَكِ، وَيُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا شَهِدَ جِنَازَةً، فَيَقِلُّ أَهْلُهَا جَزَّأَهُمْ ثَلَاثَةَ صُفُوفٍ، ثُمَّ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ ثَلَاثَةُ صُفُوفٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، إِلَّا أَوْجَبَ»
বহীরাহ, আল্লাহর বাহু অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাঁর ক্ষুর অনেক ধারালো। তিনি যদি চাইতেন তবে তা তোমার কাছে কান-কাটা অবস্থাতেই পাঠাতে পারতেন।

তারপর তিনি বললেন: "তোমার কী মনে হয়, যদি তোমার দুজন গোলাম থাকত; তাদের একজন তোমার অবাধ্য হয় না, তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না এবং তোমার কাছে মিথ্যা বলে না, আর অন্যজন তোমার অবাধ্য হয়, তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তোমার কাছে মিথ্যা বলে; তবে তাদের মধ্যে কে তোমার কাছে অধিক প্রিয় হতো?"

তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হয় না, আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না এবং আমার কাছে মিথ্যা বলে না।"

তিনি বললেন: "তেমনিভাবে তোমাদের রবের নিকটও (পার্থক্য রয়েছে)।"

৩৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি ইবনুল মুবারক ও ইউনুস বিন বুকাইর থেকে, তারা মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবু হাবীব থেকে, তিনি মারসাদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মালিক বিন হুবাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন কোনো জানাজায় উপস্থিত হতেন এবং মানুষের সংখ্যা কম হতো, তখন তিনি তাদের তিনটি কাতারে বিভক্ত করতেন। এরপর তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কোনো মুসলিমের জানাজায় যদি মুসলমানদের তিনটি কাতার সালাত আদায় করে, তবে তার জন্য (জান্নাত) ওয়াজিব হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৩)
38 - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَرْمَكِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ الْقَاضِي الْمَوْصِلِيّ إِمْلَاءً، ثنا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى الْمَوْصِلِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النِّيلِيُّ، ثنا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، وَيَزِيدَ الرُّقَاشِيِّ، وميمون بن سياه، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ‌‌ رَبَّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي أَنْ يَمُدَّ أَحَدُكُمْ يَدَيْهِ إِلَيْهِ، فَيَرُدُّهُمَا خَائِبَتَيْنِ»
৩৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বারমাকি, আমাদের কাছে শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে জাফর ইবনে আহমদ আল-কাদি আল-মাওসিলি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলি ইবনুল মুসান্না আল-মাওসিলি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নাইলি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালিহ আল-মুররি, সাবিত, ইয়াজিদ আর-রাকাশি ও মাইমুন ইবনে সিয়াহ থেকে, তারা আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল, নিশ্চয়ই তোমাদের রব পরম লজ্জাশীল ও মহানুভব। তিনি লজ্জা বোধ করেন যে, তোমাদের কেউ তাঁর দিকে নিজের হাত দুটি প্রসারিত করবে, আর তিনি হাত দুটিকে ব্যর্থ বা শূন্য অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৫)
39 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى بْنِ بِنْتِ السَدِّيِّ، ثنا عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ النَّصْرِيُّ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«وَيْلٌ لِلْأُمَنَاءِ، وَيْلٌ لِلْعُرَفَاءِ، لِيَتَمَنَّيَنَّ أَقْوَامٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَّ ذَوَائِبَهُمْ كَانَتْ فِي الثُّرَيَّا، وَأَنَّهُمْ لَمْ يَلُوا عَمَلًا»

40 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، ثنا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ، ثنا سُوَيْدٌ أَبُو حَاتِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: " سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:‌‌ أَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُولُ الْقُنُوتِ» .

قِيلَ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جُهْدُ الْمُقِلِّ»
.

قِيلَ: فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْمَلُ إِيمَانًا؟ قَالَ: أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا "
৩৯ - আবু ইয়ালা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে মুসা ইবনে বিন্ত আল-সুদ্দী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে সাদ আল-নাসরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‌‌"আমানতদারদের জন্য ধ্বংস, নেতাদের জন্য ধ্বংস। কিয়ামতের দিন কতক জাতি অবশ্যই কামনা করবে যে, যদি তাদের কপালের চুলগুলো সুরাইয়া (নক্ষত্রপুঞ্জ) এর সাথে ঝুলন্ত থাকত এবং তারা কোনো কাজের দায়িত্ব গ্রহণ না করত।"

৪০ - আবু ইয়ালা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাওসারা ইবনে আশরাস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুওয়াইদ আবু হাতিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো:‌‌ কোন সালাত সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: 'দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা'।

বলা হলো: তবে কোন সদকা সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: 'অল্প সম্পদের অধিকারীর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা'।
.

বলা হলো: তবে কোন মুমিন ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ? তিনি বললেন: 'যাদের চরিত্র তাদের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর'।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৬)
41 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ أَبُو عَلِيٍّ الشَّيْلَمَانِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَخْزُومِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْءَمَةِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ أَيُّ شَابٍ تَزَوَّجَ فِي حَدَاثَةِ سِنِّهِ، عَجَّ شَيْطَانُهُ: يَا وَيْلَهُ، عَصَمَ مِنِّي دِينَهُ "

42 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ بِبَغْدَادَ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ الْقَطِيعِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَيْمُونٍ
41 - আবু ইয়ালা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আবু আলী আশ-শাইলামানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে ইসমাইল আল-মাখজুমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালেহ ইবনে আবি সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যে যুবকই তার যৌবনের শুরুতে বিবাহ করে, তার শয়তান চিৎকার করে ওঠে: হায় দুর্ভোগ! সে আমার হাত থেকে তার দ্বীনকে রক্ষা করে নিল। "

42 - বাগদাদে আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আল-কাতীয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনুল হাসান ইবনে মাইমুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৭)
الْحَرْبِيُّ، ثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا سَهْلٌ السَّرَّاجُ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ رَجُلٍ تَعَلَّمَ كَلِمَةً، أَوْ كَلِمَتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا، أَوْ أَرْبَعًا، أَوْ خَمْسًا مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عز وجل وَرَسُولُهُ عَلَيْهِ، فَيَتَعَلَمُهُنَّ وَيُعَلِّمُهُنَّ، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ» .

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَمَا نَسِيتُ حَدِيثًا بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

43 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، ثنا أَبُو مَالِكُ النَّخَعِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: «مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى‌‌ رَجُلٍ سَادِلٍ ثَوْبَهُ فِي الصَّلَاةِ، فَعَطَفَهُ عَلَيْهِ»
আল-হারবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল আস-সাররাজ, তিনি বলেন: আমি হাসানকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে একটি কথা, বা দুটি কথা, বা তিনটি, বা চারটি, বা পাঁচটি কথা শেখে যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল তার ওপর ফরয করেছেন, অতঃপর সে সেগুলো শেখে এবং অন্যদের শেখায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবেই»।

আবু হুরায়রা বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে সেগুলো শোনার পর থেকে আমি আর কোনো হাদীস ভুলে যাইনি।

৪৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনুল হাসান আল-হারবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মালিক আন-নাখয়ী, আলী ইবনুল আকমার থেকে, তিনি আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে নামাযে তার কাপড় ঝুলিয়ে দিচ্ছিল, অতঃপর তিনি তা তার ওপর পেঁচিয়ে দিলেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৮)
44 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى الْقُرَشِيُّ، ثنا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ، ثنا الْهَيْثَمُ الْبَكَّاءُ، ثنا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: لَمَّا مَرِضَ أَبُو طَالِبٍ مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، أَرْسَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:‌‌ ادْعُ رَبَّكَ أَنْ يَشْفِيَنِي، فَإِنَّ رَبَّكَ ليُطِيعُكَ، وَابْعَثْ إِلَيَّ بِقِطَافٍ مِنْ قِطَافِ الْجَنَّةِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَأَنْتَ يَا عَمُّ، إِنْ أَطَعْتَ اللَّهَ أَطَاعَكَ»

45 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، ثنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، ثنا عِمَارَةُ بْنُ مِهْرَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ: "‌‌ صَلَّى بِنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ صَلَاةً، فَأَوْجَزَ فِيهَا، فَقَالَ: هَكَذَا كَانَتْ صَلَاةُ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "

46 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْأَسْوَدِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ مَظْلُومًا، فَلَهُ الْجَنَّةُ»
৪৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন ইউনুস ইবন মুসা আল-কুরাশি, তিনি বর্ণনা করেছেন শারিক ইবন আব্দুল মাজিদ আল-হানাফি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-হাইসাম আল-বাক্কা থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু তালিব যখন সেই অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পাঠালেন: আপনার রবের নিকট দুআ করুন যেন তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন, কেননা আপনার রব তো আপনার আনুগত্য করেন (আপনার কথা রাখেন), আর আমার নিকট জান্নাতের ফলসমূহ হতে একটি আঙুরের থোকা পাঠান। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন: «আর আপনি হে চাচা, আপনি যদি আল্লাহর আনুগত্য করেন, তবে তিনি আপনার আনুগত্য করবেন (আপনার কথা রাখবেন)»

৪৫ - আমাদের নিকট ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইমারাহ ইবন মিহরান থেকে, তিনি সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: " আনাস ইবন মালিক আমাদের নিয়ে নামায পড়লেন এবং তাতে সংক্ষেপ করলেন। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামায এমনই ছিল। "

৪৬ - আমাদের নিকট বিশর ইবন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন আবি আইয়ুব থেকে, আমার নিকট আবু আল-আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে, আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি নিজ সম্পদের রক্ষা করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে নিহত হয়, তার জন্য জান্নাত রয়েছে»
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯৯)
47 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى الْأَسَدِيُّ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنِ الْهَيْثَمِ، عَنِ الشَّعَبِيِّ، قَالَ: ‌‌«أصَادَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ أَرْنَبًا بِأُحُدٍ، فَلْمَ يَجِدْ سِكِّينًا، فَذَبَحَهَا بِمَرْوَةَ، فَسَأَلَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْكُلَهَا»
৪৭ - আমাদের নিকট বিশর ইবনে মূসা আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি হাইসাম থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি উহুদ পাহাড়ে একটি খরগোশ শিকার করল। সে কোনো ছুরি খুঁজে পেল না, ফলে সে একটি ধারালো পাথর দিয়ে সেটি যবেহ করল। এরপর সে এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে সেটি খাওয়ার নির্দেশ দিলেন।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ৩০০)
48 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَكَنٍ، قَالَ: " كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَعِنْدَهُ قَصْعَةٌ مِنْ ثَرِيدٍ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ الْأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ، فَقَالَ: أَلَا تَدْنُو يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِلَى الْغَدَاءِ؟ قَالَ: أَوَ مَا صُمْتمُ الْيَوْمَ؟ قَالَ:‌‌ هَذَا يَوْمٌ كُنَّا نَصُومُهُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ رَمَضَانُ، فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ صُمْنَاهُ، وَتَرَكْنَا مَا سِوَاهُ "

49 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثنا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ قَطُّ، وَلَا زَادَ اللَّهُ مَنْ عَفَا إِلَّا عِزًّا، وَمَا أَحَدٌ تَوَاضَعَ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ»

50 - حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعَبِيِّ، قَالَ: قُلْنَا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو حَدِّثْنَا مَا سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَدَعِ الْكُتُبَ، فَإِنَّا لَا نَعْبَأُ بِهَا،
৪৮ - আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন রাজা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন তালহা বর্ণনা করেছেন, জুবাইদ থেকে, তিনি সাদ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি কায়েস বিন সাকান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আশুরার দিনে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তাঁর নিকট এক পাত্র সারীদ (গোশত ও রুটির ঝোলযুক্ত খাবার) ছিল। এমতাবস্থায় আল-আশ'আস বিন কায়েস তাঁর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন: 'হে আবু মুহাম্মদ, তুমি কি দুপুরের খাবারের জন্য কাছে আসবে না?' তিনি বললেন: 'আপনারা কি আজ রোজা রাখেননি?' তিনি বললেন: ‌‌'এটি এমন একটি দিন ছিল যখন রমজান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আমরা রোজা রাখতাম। অতঃপর যখন রমজান অবতীর্ণ হলো, তখন আমরা রমজানের রোজা রাখা শুরু করলাম এবং এ ব্যতীত অন্য যা ছিল তা আমরা বর্জন করলাম'।"

৪৯ - আমাদের নিকট আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন জুরাই বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাওহ বিন আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন, আল-আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: ‌‌«দান-সদকা দ্বারা কখনো সম্পদের ঘাটতি হয় না, আর ক্ষমা করার বিনিময়ে আল্লাহ কোনো বান্দার কেবল সম্মানই বৃদ্ধি করেন, এবং কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হলে আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন»।

৫০ - আমাদের নিকট ইদ্রিস বিন আব্দুল করিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসিম বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মাসউদি বর্ণনা করেছেন, মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আব্দুল্লাহ বিন আমরকে বললাম: "আপনি আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, আর কিতাবসমূহ (পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের বর্ণনা) বাদ দিন, কেননা আমরা সেগুলোর পরোয়া করি না।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদ ইবনু যাইদান (পৃষ্ঠা: ৩০১)
قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا حَرَّمَهُ رَبُّهُ عَزَّ وَجَلَّ»
তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে; আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে তার প্রতিপালক যা নিষিদ্ধ করেছেন তা বর্জন করে, যিনি মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত।”