(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
مدخل إلى التفسير وعلوم القرآن   (عبد الجواد خلف)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مدخل إلى التفسير وعلوم القرآن

المؤلف: عبد الجواد خلف محمد عبد الجواد

الناشر: دار البيان العربى - القاهرة

عدد الصفحات: 248

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

তাফসীর ও কুরআন বিজ্ঞানের ভূমিকা   (আব্দুল জাওয়াদ খালাফ)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: তাফসীর ও কুরআন বিজ্ঞানের ভূমিকা

লেখক: আব্দুল জাওয়াদ খালাফ মুহাম্মদ আব্দুল জাওয়াদ

প্রকাশক: দার আল-বায়ান আল-আরাবি - কায়রো

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وعلى أصحابه ومن والاه.

وبعد: فإن أكثر ما قامت عليه الحضارات البشرية كلها مردّه إلى التعاليم الإلهية التى جاءت بها النبوات الكبرى منذ العصور الأولى للإنسان.

وقد ختمت هذه النبوات، وتبلورت مفاهيمها، ووضحت صورتها تمام الوضوح ببعثة محمد صلى الله عليه وسلم بالإسلام.

وقد كان لبعثته صلى الله عليه وسلم فاتحة عهد جديد لظهور أمة جديدة ختمت بها الأمم، أرست قواعدها وأركانها الأساسية، وأقامت جذورها، على «الوحى الإلهى» الذى تبلور فى علوم القرآن، وعلوم السّنة.

وهذا الكتاب محاولة «لترتيب المفاهيم الفكرية للإنسان» حول جذور الحضارة الإسلامية خاصة فيما يتعلق بالمنبع الأصلى لهذه الجذور، وهو «الوحى الإلهى»، الذى لم تكن الحضارة الإسلامية بدعا من الأمم فى الاعتماد عليه، وإنما تفردت عن سائر الأمم المعتمدة على هذا المنبع فى تنظيمه، وتنسيقه، وإعداده ليكون منهج حياة يستوعب سائر الأمم مكانا وزمانا.

و «الوحى الإلهى» فى مفهوم الحضارة الإسلامية هو القرآن والسنة معا، لا ينفكان ولا ينفصلان عن «مفهوم الوحى». وإنما ينفكان وينفصلان فى ضوابط الحكم على جزئيات المسائل الفرعية بين ما هو قطعى فى دلالته على الحكم، أو ما هو ظنىّ فيها، وهذا ما توصف به السنة كما يوصف به القرآن، وذلك عند من يفهم أن منبع هذه الجذور واحد.

أما من لا يستقيم له هذا الفهم فينكر السّنة أو شيئا منها، فليس له من فهم الحضارة الإسلامية نصيب كبير، وعلّته فى سقم فهمه، ولا يفتّ فى عضد جذر
‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেন তাদের সবার ওপর।

অতঃপর: মানব সভ্যতার অধিকাংশ ভিত্তিই ঐ সকল ঐশী শিক্ষার দিকে প্রত্যাবর্তন করে যা মানুষের আদি যুগ থেকে প্রধান নবুওয়াতসমূহের মাধ্যমে আনীত হয়েছে।

এই নবুওয়াতসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটেছে, এর ধারণাসমূহ বিকশিত হয়েছে এবং এর রূপরেখা পূর্ণ স্পষ্টতা লাভ করেছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামের সাথে প্রেরণের মাধ্যমে।

তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা এবং এক নতুন জাতির আত্মপ্রকাশের পথপ্রদর্শক, যাদের মাধ্যমে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধারাবাহিকতা পূর্ণ হয়েছে। এই জাতি তার বুনিয়াদি কানুন ও স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় করেছে এবং তার মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে 'ঐশী ওহীর' ওপর, যা কুরআন এবং সুন্নাহর উলূমের (علوم) মাঝে বিকশিত হয়েছে।

এই কিতাবটি মূলত ইসলামী সভ্যতার শেকড় সম্পর্কে 'মানুষের বুদ্ধিভিত্তিক ধারণাসমূহ বিন্যস্ত করার' একটি প্রচেষ্টা, বিশেষ করে সেই মূল উৎসের সাথে যা সংশ্লিষ্ট। আর তা হলো 'ঐশী ওহী', যার ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতা অন্যান্য জাতির তুলনায় কোনো অভিনব বিষয় ছিল না; বরং এই উৎসের বিন্যাস, সমন্বয় এবং একে এমন একটি জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তা অন্যান্য জাতি থেকে স্বতন্ত্র ছিল যা সকল কালের ও সকল স্থানের মানুষকে ধারণ করতে সক্ষম।

ইসলামী সভ্যতার ধারণায় 'ঐশী ওহী' হলো কুরআন এবং সুন্নাহ একত্রে, যা 'ওহীর ধারণা' থেকে অবিচ্ছেদ্য। এগুলো কেবলমাত্র শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহের হুকুম প্রদানের মানদণ্ডের ক্ষেত্রে পৃথক হতে পারে; যেমন—কোনোটি হুকুমের ওপর দালালাতের (دلالة) ক্ষেত্রে নিশ্চিত (قطعي) অথবা কোনোটি ধারণাপ্রসূ (ظني)। আর এটি যেমন সুন্নাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি কুরআনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে—তাদের নিকট যারা বোঝেন যে এই শেকড়গুলোর উৎস অভিন্ন।

পক্ষান্তরে যার নিকট এই উপলব্ধি সঠিক নয় এবং সে সুন্নাহ অথবা তার কোনো অংশকে অস্বীকার করে, ইসলামী সভ্যতা বোঝার ক্ষেত্রে তার বড় কোনো অংশ নেই। আর তার এই সমস্যার মূলে রয়েছে তার উপলব্ধির অসুস্থতা, এবং এটি এই ভিত্তিমূলের শক্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
من جذور هذه الحضارة قليلا أو كثيرا.

وهذا الكتاب أيضا، وإن ألقى ضوءا سريعا على السنّة النبوية المشرفة، ومنزلتها، وعلومها الجليلة إلا أنه معنىّ بالدرجة الأولى فى الأخذ بيد القارئ إلى التعرف على علوم القرآن الكريم، وأولها «علم علوم القرآن» وهو علم التفسير.

فلا غرابة إذا أن يكون عنوان هذا الكتاب: «مدخل إلى التفسير وعلوم القرآن» ليعرف القارئ الكريم أن أول ما نشأ من علوم القرآن فى أحضان النّبوّة، وتحت رعايتها هو «علم التفسير» الذى احتاج فيما بعد إلى ابتكار سائر علوم القرآن ليشدّ من أزره على خدمة القرآن، والكشف عن مراد الله تعالى، وبيان تشريعه، وأحكامه، وآدابه.

وكذلك ليرتب كلّ منتم إلى حضارة الإسلام ذهنه وفكره، على أن القرآن والسنة بعلومهما، وفنونهما هما منابع تلك الحضارة، وأن البعد عن هذه المنابع بعد عن الأمة الإسلامية والانسلاخ عنها إلى حضارات أخرى ليست محل عنايتها.

وقد جاء هذا المدخل فى قسمين رئيسين: تناولت فى القسم الأول: الكلام حول مجموعة من المباحث اهتمت بالحديث عن جذور الحضارة الإسلامية.

وتناولت فى القسم الثانى: مجموعة من الأبواب المختارة فى علم التفسير، وبعض علوم القرآن المتعلقة به.

وتركت تفصيل ذكر مباحث القسمين إلى الفهرس العام.

والله أسأل أن ينفع به من صلحت نيته للاستفادة منه، وأن يأجرنا جميعا بصوالح نوايانا إنه نعم المجيب.

د/ عبد الجواد خلف كراتشى فى: 1409 هـ- 1989 م القاهرة فى: 1410 هـ- 1996 م
এই সভ্যতার শিকড় থেকে অল্প বা বিস্তর অংশ।

এই বইটি যদিও সম্মানিত সুন্নাহ (السنة), তার মর্যাদা এবং তার সুমহান শাস্ত্রসমূহ (العلوم) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছে, তবে এটি প্রধানত পাঠককে কুরআনুল কারীমের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সচেষ্ট; যার প্রথমটি হলো ‘উলূমুল কুরআন শাস্ত্র’ (علم علوم القرآن), যা মূলত তাফসির শাস্ত্র (علم التفسير)।

অতএব, এই বইটির শিরোনাম ‘তাফসির ও উলূমুল কুরআনের ভূমিকা’ হওয়াতে আশ্চর্যের কিছু নেই; যাতে পাঠক জানতে পারেন যে, নবুওয়াতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে উলূমুল কুরআনের যে বিষয়টি সর্বপ্রথম বিকাশ লাভ করেছিল তা হলো ‘তাফসির শাস্ত্র’ (علم التفسير)। পরবর্তীতে কুরআনের খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য উন্মোচন করতে এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধান, আহকাম ও শিষ্টাচার বর্ণনায় সহায়তা প্রদানের জন্য অন্যান্য কুরআন সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহ উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।

একইভাবে ইসলামি সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার চিন্তা ও চেতনাকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে পারেন যে—কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) এবং এদের সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও শাখাগুলোই হলো সেই সভ্যতার মূল উৎস। আর এই উৎসগুলো থেকে বিচ্যুত হওয়ার অর্থ হলো মুসলিম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং এমন সব ভিন্ন সভ্যতায় বিলীন হওয়া যা উম্মাহর মনোযোগের দাবিদার নয়।

এই ভূমিকাটি দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: প্রথম ভাগে আমি ইসলামি সভ্যতার শিকড় সংক্রান্ত কতিপয় গবেষণামূলক বিষয়ের আলোচনা তুলে ধরেছি।

দ্বিতীয় ভাগে আমি তাফসির শাস্ত্র (علم التفسير) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) কিছু নির্বাচিত অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি।

উভয় অংশের বিস্তারিত আলোচ্য বিষয় আমি সাধারণ সূচিপত্রে উল্লেখ করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, এই বইটি যেন সেই ব্যক্তির উপকারে আসে যার নিয়ত এটি থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য শুদ্ধ হয়েছে; এবং তিনি যেন আমাদের সকলকে আমাদের নেক নিয়তের প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম কবুলকারী।

ডা. আবদুল জাওয়াদ খালাফ, করাচি: ১৪০৯ হিজরি- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ; কায়রো: ১৪১০ হিজরি- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌القسم الأول جذور الحضارة الإسلامية
প্রথম বিভাগ: ইসলামি সভ্যতার শিকড়সমূহ
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول جذور الحضارة الإسلامية

 

‌‌المبحث الأول: تمهيد

كل أمة من أمم الأرض تخضع فى «حضارتها» بمفهومها الشامل، من ثقافة، وتربية، وتعليم، وزراعة، وصناعة، وعادات، وتقاليد، وعمران، إلى «دينها» الذى تدين به.

فأمة الهند مثلا تبنى كل حياتها على الديانة «الهندوكية» وتوابعها من البوذية، والجينية وتستمد كل ثقافاتها من هذه العقائد الدينية بما فيها أشكال الأبنية والعمارات، والزواج، والطلاق، وسائر شئون الحياة حتى التعامل مع جثث الموتى.

وكذلك أمة اليهود والنصارى يستمدان حضارتهما من ديانتهما.

والأمة التى لا تدين بدين، ولا تؤمن بإله، أمة- أيضا- تستمد حضارتها من الدين. ودين مثل هذه الأمة: «أنه لا دين لها».

ومنذ أدرك الإنسان نفسه على سطح هذا الكوكب الذى نعيش فيه، وهو يبحث بفطرته وغريزته عن سرّ وجوده فى هذا الكون، بل وعن الكون المحيط به:

من أوجده؟ وما غاية هذا الوجود؟.

ولم يزل الإنسان فى هذا البحث منذ عهد سحيق يريد أن يحدد مركزه ومركز الكون المحيط به وهو يرى السماء والأرض، والسهول والجبال، ويرى الرعد القاصف والبرق الخاطف والعواصف الشديدة، ويرى الأعاصير التى تقتلع الأشجار، والأمطار الغزيرة التى تجعله يبحث عن مأوى يحميه منها.

ثم يرى الليل، والنهار، والشمس، والقمر، وتأثير كل واحد منها على حياته، وحياة الكائنات الحية فيما حوله من حيوانات، وطيور.
প্রথম বিভাগ: ইসলামি সভ্যতার শিকড়সমূহ

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা

পৃথিবীর প্রতিটি জাতি তার সংস্কৃতি, প্রতিপালন, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, রীতিনীতি, ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যসহ সামগ্রিক অর্থে তার «সভ্যতা»র ক্ষেত্রে সেই «ধর্মের» অনুগামী হয়, যা সে অনুসরণ করে।

উদাহরণস্বরূপ, ভারত তার সমগ্র জীবন «হিন্দুধর্ম» এবং এর অনুসারী বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে। তারা তাদের সকল সংস্কৃতি এই ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহ থেকে আহরণ করে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভবনের নকশা ও স্থাপত্য, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং মৃতদেহের সৎকারসহ জীবনের অন্যান্য যাবতীয় বিষয়।

অনুরূপভাবে, ইহুদি ও খ্রিস্টান জাতিও তাদের ধর্ম থেকে তাদের সভ্যতা আহরণ করে।

আর যে জাতি কোনো ধর্ম পালন করে না এবং কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, সে জাতিও তার সভ্যতা ধর্ম থেকেই গ্রহণ করে। আর এই ধরনের জাতির ধর্ম হলো: «তাদের কোনো ধর্ম নেই»।

মানুষ যখন থেকে এই গ্রহের পৃষ্ঠে নিজের অস্তিত্ব অনুভব করেছে, তখন থেকেই সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও সহজাত বুদ্ধিবলে এই মহাবিশ্বে তার অস্তিত্বের রহস্য এবং তার চারপাশের জগত সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে:

কে তাকে সৃষ্টি করেছে? আর এই অস্তিত্বের লক্ষ্যই বা কী?

সুদূর অতীত থেকেই মানুষ এই অনুসন্ধানে লিপ্ত রয়েছে; সে আকাশ ও পৃথিবী, সমভূমি ও পাহাড়-পর্বত দেখছে এবং নিজের ও তাকে পরিবেষ্টিত মহাবিশ্বের অবস্থান নির্ধারণ করতে চাচ্ছে। সে দেখছে প্রকম্পিত বজ্র, চমকপ্রদ বিদ্যুৎ এবং প্রবল ঝড়। সে দেখছে গাছপালা উপড়ে ফেলা ঘূর্ণিঝড় এবং মুষলধারে বৃষ্টি, যা তাকে এমন এক আশ্রয়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে যা তাকে এগুলো থেকে রক্ষা করবে।

অতঃপর সে দেখছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র এবং তার নিজের জীবন ও তার চারপাশের পশুপাখিসহ অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর ওপর এগুলোর প্রভাব।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم يتأمل الحياة فيمن يولد من حوله .. ويتفكر فى الموت فى من يذهب عنه ليدفن فى باطن الأرض .. ما السّر وراء كل ذلك؟!

وها هي الآثار الأدبية للإنسان المصرى القديم تحدثنا عن هذه التأملات الفكرية المتقدمة فى تلك المنظومة الرائعة للوزير «حتب» الكاهن المصرى الفرعونى، والتى سجلها فى «كتاب الموتى» حيث يقول:

«إن الموتى الذين ذهبوا لم يعد واحد منهم من «الأبديّة» ليحدثنا بما جرى لهم حتى يسعد قلوبنا .. فدع عقلك ينسى هذا، واتبع رغبات قلبك ما دمت حيّا، وتمتّع بأطايب الحياة قبل أن يأتى «يوم الآخرة» .. فالمرء لا يأخذ متاعه، والذاهب لا يعود».

ولا أحسب أن ذلك الإنسان القديم .. قدم التاريخ .. وهو يقدم لنا هذا الفكر المتواضع كان يدرك- وهو يفعل هذا- أنه إنما ينمّى غريزة كامنة فى نفسه، ألا وهى غريزة التدين!

فكما أن علماء الاجتماع توصلوا إلى أن الإنسان «مدنى بطبعه» فإن علماء الأديان يحق لهم أن يقولوا أيضا: «إن الإنسان متدين بطبعه» .. !

وغريزة التدين شأنها شأن سائر الغرائز التى أودعها الله فى الإنسان كغريزة الجوع، وغريزة العطش، وغريزة التّمدن، وغريزة حبّ التملك، وغيرها من الغرائز التى تطالب الإنسان أن يسعى إلى إشباعها، وسدّ مطالبها واحتياجاتها.

فغريزة الجوع: تدفعه إلى العمل، والسعى فى الأرض للحصول على الرزق الذى يهيئ له الطعام ليسد به غائلة جوعه، ويشبع به هذه الغريزة.

وغريزة العطش: تدفعه إلى البحث عن الماء، وتنمية موارده وتخزينه، واستعماله عند الضرورة والحاجة.

وغريزة التّمدّن: جعلته يشعر بالحاجة إلى أخيه من بنى الإنسان، وأنه لا
অতঃপর সে তার চারপাশের নবজাতকদের মাঝে জীবন নিয়ে অনুধ্যান করে... এবং যারা তাকে ছেড়ে মাটির নিচে সমাহিত হতে চলে যাচ্ছে তাদের মাঝে মৃত্যু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে... এই সবকিছুর পেছনে রহস্য কী?!

প্রাচীন মিশরীয়দের সাহিত্যকর্মসমূহ আমাদের এই উন্নত বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধ্যানসমূহ সম্পর্কে অবহিত করে, যা প্রাচীন মিশরীয় ফারাওনিক পুরোহিত উজির 'হোতেপ'-এর সেই চমৎকার পঙ্ক্তিমালায় ফুটে উঠেছে; তিনি এগুলো ‘বুক অব দ্য ডেড’ (মৃতদের কিতাব)-এ লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

«যেসব মৃত ব্যক্তি চলে গেছেন, তাদের কেউই 'অনন্তকাল' থেকে ফিরে আসেননি যা ঘটেছিল তা আমাদের জানানোর জন্য, যাতে আমাদের হৃদয় প্রশান্ত হতে পারে... অতএব তোমার মস্তিষ্ক থেকে এটি মুছে দাও, এবং যতদিন জীবিত আছো তোমার হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুসরণ করো, আর 'পরকাল' আসার পূর্বেই জীবনের পরম আনন্দগুলো উপভোগ করে নাও... কেননা মানুষ তার পার্থিব সামগ্রী সাথে নিয়ে যেতে পারে না, আর যে চলে যায় সে আর ফিরে আসে না»।

আমি মনে করি না যে সেই প্রাচীন মানুষটি—ইতিহাসের মতোই যার প্রাচীনত্ব—এই বিনম্র চিন্তাধারা পেশ করার সময় এটি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি আসলে তাঁর নিজের ভেতরকার এক সুপ্ত প্রবৃত্তিকেই বিকশিত করছেন; আর তা হলো ধর্মীয় প্রবৃত্তি!

সমাজবিজ্ঞানীরা যেভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে মানুষ ‘স্বভাবগতভাবে সামাজিক’, তেমনি ধর্মতত্ত্ববিদদেরও এটি বলার অধিকার আছে যে: ‘মানুষ স্বভাবগতভাবেই ধর্মপ্রাণ’...!

আর ধর্মীয় প্রবৃত্তিও মানুষের মধ্যে আল্লাহর গচ্ছিত রাখা অন্যান্য সমস্ত প্রবৃত্তির মতোই, যেমন—ক্ষুধা, তৃষ্ণা, সামাজিকতা এবং মালিকানার মোহ; এছাড়াও অন্যান্য প্রবৃত্তি যা মানুষকে সেগুলো মেটাতে এবং তাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে।

ক্ষুধার প্রবৃত্তি: তাকে কর্মতৎপর হতে এবং পৃথিবীতে রিজিকের অন্বেষণে ছুটতে প্ররোচিত করে, যা তার জন্য খাদ্যের সংস্থান করে যেন সে তার ক্ষুধার কষ্ট নিবারণ করতে পারে এবং এই প্রবৃত্তিকে পরিতৃপ্ত করতে পারে।

তৃষ্ণার প্রবৃত্তি: তাকে পানির সন্ধানে, পানির উৎসের উন্নয়নে, তা সংরক্ষণ করতে এবং প্রয়োজন ও অভাবের সময় তা ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করে।

সামাজিকতার প্রবৃত্তি: তাকে তার অন্য মানব ভ্রাতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়, এবং এটি যে সে... না
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
يمكن أن يعيش بمفرده منعزلا عن الآخرين.

وغريزة حب التملك: دفعته إلى اقتناء الحاجات الضرورية، وحفظها، والدفاع عنها ضد من يحاول أن ينتزعها من يده.

وكذلك «التدين» غريزة دفعته إلى أن ينظر إلى نفسه، من أين أتى .. ؟ وإلى أين يذهب .. ؟

وأن ينظر إلى الكون من حوله .. ما مصيره؟ وما مصير العالم كله من بعده؟

وسرعان ما اكتشف بعقله المجرد .. أن هذا الوجود كله لا بد وأن يكون وراءه موجد، وأن هذا الكون كله لا بد له من صانع، وقد تبين له أن الصانع الموجد قوة جبارة تقهر ولا تقهر، تجير ولا يجار عليها.

عرفها أيضا بعقله، وفطرته، وغريزته .. واستصرخها، وطلب نجدتها عند ما ألمّت به أمواج البحار توشك أن تغرقه، أو عند ما عصفت به الرياح توشك أن تهلكه .. فأغاثته ونجدته.

وَإِذا مَسَّ الْإِنْسانَ ضُرٌّ دَعا رَبَّهُ مُنِيباً إِلَيْهِ (1).

وَإِذا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوْا رَبَّهُمْ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ (2).

وانتشر الإنسان على الأرض ليكوّن الجماعات، وانتشرت الجماعات لتكوّن الشعوب، والقبائل، والأمم، وعرفت كل أمة بحضارتها، ولونها وجنسها، ودينها.

يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْناكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثى وَجَعَلْناكُمْ شُعُوباً وَقَبائِلَ لِتَعارَفُوا. (3)

ومع انتشار الأمم وتفرق القبائل، تفرّقت الأديان، وتشعبت الملل والنّحل

--------------------------------------------

(1) الزمر: 8.

(2) الروم: 33.

(3) الحجرات: 13.
একজন মানুষ অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী বসবাস করতে পারে।

আর মালিকানা লাভের প্রবৃত্তি: তাকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে এবং কেউ তার হাত থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

তদ্রূপ ‘ধর্মপরায়ণতা’ এমন এক প্রবৃত্তি যা তাকে নিজের সত্তার প্রতি তাকাতে উদ্বুদ্ধ করে— সে কোথা থেকে এসেছে? এবং সে কোথায় যাবে?

এবং তার চারপাশের মহাবিশ্বের দিকে তাকাতে উদ্বুদ্ধ করে— এর পরিণতি কী? আর তার পরবর্তী সমগ্র বিশ্বেরই বা কী পরিণতি হবে?

খুব শীঘ্রই সে তার বিমূর্ত বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করে যে... এই সমগ্র অস্তিত্বের পেছনে অবশ্যই একজন অস্তিত্বদানকারী থাকতে হবে এবং এই সমগ্র মহাবিশ্বের অবশ্যই একজন নির্মাতা থাকতে হবে। তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সেই নির্মাতা ও অস্তিত্বদানকারী এক প্রবল পরাক্রমশালী শক্তি, যিনি সকলকে পরাভূত করেন কিন্তু কেউ তাঁকে পরাভূত করতে পারে না; যিনি আশ্রয় দান করেন কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় পেতে পারে না।

সে তাঁকে তার বুদ্ধি, সহজাত প্রকৃতি এবং প্রবৃত্তি দ্বারাও চিনতে পেরেছে... সে তাঁকে উচ্চৈঃস্বরে ডেকেছে এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেছে যখন সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গমালা তাকে ডুবিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছিল, অথবা যখন প্রচণ্ড ঝড় তাকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল... অতঃপর তিনি তাকে উদ্ধার করেছেন ও সাহায্য করেছেন।

আর যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে (১)।

আর যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে তাঁরই অভিমুখী হয়ে (২)।

মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী গঠন করল, আর গোষ্ঠীগুলো ছড়িয়ে পড়ে জাতি, উপজাতি ও উম্মাহ গঠন করল। প্রতিটি জাতি তাদের সভ্যতা, গাত্রবর্ণ, বংশ এবং ধর্মের ভিত্তিতে পরিচিতি লাভ করল।

হে মানবমণ্ডলী, আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার (৩)।

জাতিসমূহের বিস্তার এবং গোত্রগুলোর বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে ধর্মগুলোও পৃথক হয়ে গেল এবং বিভিন্ন ধর্মাদর্শ ও মতবাদ বহু শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ল।

--------------------------------------------

(১) আল-যুমার: ৮।

(২) আর-রূম: ৩৩।

(৩) আল-হুজুরাত: ১৩।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
واعتصمت كلّ أمة بإله تناجيه، وتلوذ به.

عرف أن العرب قبل الإسلام كانوا يعبدون الأصنام .. فصنعوها من الحجر، والخشب ثم ما لبثوا أن صنعوها من العجوة، وكانوا يحملونها فى أسفارهم حتى إذا جاعوا جلسوا إلى شجرة فأكلوا منها ثم سجدوا لها شاكرين.

وقد ذكروا أن أعرابيا مسافرا أكل من عجوة صنمه شيئا، ثم قام يقضى حاجته بعيدا، فجاء ثعلب من الثعالب يطوف حول متاع الأعرابى والصنم قائم عند المتاع، فأخذ الثعلب يشم رائحة الصنم يستسيغ أكله فلم يسغه، لأن الثعالب من فصيلة الكلاب .. تأكل ما يأكله الكلب، وتبول كما يبول الكلاب، فما كان من الثعلب- وقد استقذر- رائحة الصنم إلا أن رفع رجله وبال على رأسه والأعرابى يرقبه فى حذر ودهشة. فلما انتهى الثعلب من فعلته، وأفاق الأعرابى من دهشته، قام إلى متاعه فحمله، وإلى صنمه فداسه، ثم أنشد على فطرته السليمة هاتفا:

أربّ يبول الثّعلبان برأسه؟ … لقد ذلّ من بالت عليه الثّعالب (1)

ومثله ذلك الأعرابى على فطرته السليمة .. وغريزته البصيرة، وقد نظر فى ما حوله من صحراء مترامية الأطراف، ترتمى فى أحضان أرض بعيدة المدار ..

تعلوها سماء تتعانق معهما عند مدّ البصر، ذات نجوم وأبراج، فما لبث يفكر فى عظمة هذا الخلق، ويردّه بفطرته إلى يد الخالق فيقول:

«سماء ذات أبراج، وأرض ذات فجاج.

البعرة تدل على البعير، والقدم يدل على المسير.

أفلا يدل هذا على الحكيم الخبير» … ؟

--------------------------------------------

(1) تاج العروس 2/ 90.
প্রতিটি জাতি এমন এক উপাস্যের (إله) সাথে সংহতি প্রকাশ করেছিল যার কাছে তারা প্রার্থনা করত এবং যার আশ্রয় গ্রহণ করত।

এটি সুবিদিত যে, ইসলামের পূর্ববর্তী আরবরা মূর্তিপূজা (أصنام) করত... তারা পাথর ও কাঠ দিয়ে সেগুলো নির্মাণ করত, অতঃপর তারা অচিরেই আজওয়া খেজুর দিয়েও সেগুলো তৈরি করতে শুরু করল। তারা তাদের বিভিন্ন সফরে সেগুলো সাথে বহন করত; এমনকি যখন তারা ক্ষুধার্ত হতো, তখন তারা কোনো গাছের নিচে বসে সেগুলো থেকে অংশবিশেষ আহার করত এবং এরপর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেগুলোকে সিজদা করত।

বর্ণিত আছে যে, এক যাযাবর বেদুইন পথিক তার খেজুর-নির্মিত মূর্তির কিছু অংশ খেয়েছিল, অতঃপর সে দূরে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে গেল। তখন একটি শেয়াল এসে বেদুইনের আসবাবপত্রের চারপাশে ঘুরতে লাগল, যেখানে মূর্তিটি দণ্ডায়মান ছিল। শেয়ালটি মূর্তির ঘ্রাণ নিতে লাগল যাতে সেটি ভক্ষণ করা যায় কি না দেখা যায়, কিন্তু সেটি তা গ্রহণ করল না। কারণ শেয়াল কুকুরের সমগোত্রীয়... তারা কুকুরের মতো খাবার খায় এবং কুকুরের মতোই প্রস্রাব করে। অতঃপর শেয়ালটি মূর্তির ঘ্রাণকে অপছন্দ করে কেবল তার পা তুলল এবং মূর্তির মাথায় প্রস্রাব করে দিল। বেদুইনটি তখন সতর্ক ও বিস্ময়ের সাথে তা লক্ষ্য করছিল। যখন শেয়ালটি তার কাজ শেষ করল এবং বেদুইন তার বিস্ময় কাটিয়ে উঠল, সে তার আসবাবপত্রের কাছে গিয়ে তা তুলে নিল এবং তার মূর্তির কাছে গিয়ে সেটি পদদলিত করল। এরপর সে তার সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) থেকে উচ্চস্বরে এই কবিতা আবৃত্তি করল:

সে কি কোনো প্রতিপালক (رب) হতে পারে যার মাথায় শেয়াল প্রস্রাব করে? … সে তো নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত যার ওপর শেয়ালরা প্রস্রাব করে। (১)

তেমনিভাবে সেই বেদুইনও তার সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সহজাত মেধা দিয়ে তার চারপাশের দিগন্তবিস্তৃত মরুভূমির দিকে তাকাল, যা সুদূরপ্রসারী ভূখণ্ডের কোলে শায়িত...

তার উপরে রয়েছে আকাশ যা দৃষ্টির শেষ সীমানায় উভয়ের সাথে মিলিত হয়, যা নক্ষত্ররাজি ও গ্রহপুঞ্জ শোভিত। অচিরেই সে এই সৃষ্টির বিশালতা নিয়ে চিন্তা করতে লাগল এবং তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) দিয়ে একে স্রষ্টার কুদরতের সাথে সম্পৃক্ত করে বলল:

«নক্ষত্ররাজি শোভিত আকাশ এবং প্রশস্ত পথবিশিষ্ট পৃথিবী।

উটের বিষ্ঠা উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং পদচিহ্ন চলার পথের প্রমাণ দেয়।

তবে কি এই সবকিছু প্রজ্ঞাময় (حكيم) ও সর্বজ্ঞ (خبير) সত্তার প্রমাণ দেয় না?» … ?

--------------------------------------------

(১) তাজুল আরুস ২/ ৯০।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأما أصحاب الفطر السقيمة، والعقول القاصرة، فلم يبلغوا هذا المبلغ فتخبطوا فى دياناتهم خبط عشواء متحلقين حول صنم لا ينفع ولا يضر، أو متجهين إلى كوكب مصيره الأفول، أو إلى نار يوقدها بنفسه لتنطفئ وتخلف رمادا لا طائل من ورائه لعابد ولا ناسك.

أو حائرين حول فلسفات عقلية، أو مناظرات ومجادلات عقيمة لا تؤدى إلى نتيجة قاطعة.

فكان من رحمة الله الخالق المدبر أن أرسل رسله مبشرين، هادين ومرشدين ولم يترك عباده لعقولهم وأهوائهم تلعب بهم:

وَما كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا (1).

* فبعث فى كل أمة رسولا منهم ليعرفوه:

وَلَقَدْ بَعَثْنا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ (2).

* يتكلم بلسانهم، ويخاطبهم بلغتهم ليفهموا عنه، ويبين لهم، ليعوا ما يقول:

وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ (3).

* يعلمهم أنهم مخلوقون لله جل شأنه، خلقهم ليعرفوه فيعبدوه، وهم محتاجون له وهو غنى عنهم:

وَما خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ما أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَما أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ (4).

ومنذ ذلك الوقت البعيد: تنزّل الوحى، على رسل مختارة بعناية الله لهداية الأمم والأقوام، والتقت السماء بالأرض، والملائكة بالأنبياء تحمل معها كتب

--------------------------------------------

(1) النساء: 15.

(2) النحل: 36.

(3) إبراهيم: 4.

(4) الذاريات: 56 - 58
পক্ষান্তরে, যাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) কলুষিত এবং বুদ্ধি সংকীর্ণ, তারা এই উচ্চতর স্তরে উপনীত হতে পারেনি। ফলে তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসে চরম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে; তারা এমন প্রতিমার চারপাশে ভিড় করেছে যা কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। অথবা তারা এমন নক্ষত্রের প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে যার পরিণতি হলো অস্তমিত হওয়া, কিংবা এমন অগ্নির দিকে যা মানুষ নিজেই প্রজ্বলিত করে, অথচ তা একসময় নিভে যায় এবং অবশিষ্ট থাকে কেবল ছাই, যা কোনো ইবাদতকারী বা সাধকের কোনো উপকারে আসে না।

অথবা তারা বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন কিংবা এমন সব নিষ্ফল বিতর্ক ও বাদানুবাদের গোলকধাঁধায় আবর্তিত হচ্ছে, যা কোনো অকাট্য (قطعي) সিদ্ধান্তে উপনীত করতে পারে না।

স্রষ্টা ও ব্যবস্থাপক আল্লাহর পরম করুণার দাবি এই ছিল যে, তিনি তাঁর রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা, পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশকরূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাদের বুদ্ধি ও খেয়াল-খুশির হাতে ছেড়ে দেননি যা তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে:

আর আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকেও শাস্তি প্রদান করি না (১)।

* তিনি প্রত্যেক জাতির নিকট তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যেন তারা তাঁকে চিনতে পারে:

আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো (২)।

* তিনি তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলেন এবং তাদের ভাষায় সম্বোধন করেন যেন তারা তাঁর কথা বুঝতে পারে এবং তিনি তাদের নিকট সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেন যাতে তারা তাঁর বক্তব্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারে:

আর আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা দিয়ে পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন (৩)।

* তিনি তাদের শিক্ষা দেন যে, তারা মহান আল্লাহর সৃষ্টি; তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন যেন তারা তাঁকে চিনে তাঁর ইবাদত করে। তারা আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী:

আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি এও চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহই তো রিজিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, সুদৃঢ় (৪)।

সেই সুদূর অতীত থেকে: উম্মত ও জাতিগোষ্ঠীর হিদায়াতের নিমিত্তে আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে মনোনীত রাসূলগণের ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হতে থাকে; আসমানের সাথে জমিনের সংযোগ স্থাপিত হয় এবং ফেরেশতাগণ নবীদের নিকট আসমানি কিতাবসমূহ নিয়ে আগমন করেন...

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ১৫।

(২) আন-নাহল: ৩৬।

(৩) ইব্রাহিম: ৪।

(৪) আজ-জারিয়াত: ৫৬ - ৫৮
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
الله وصحفه، لتتلوها رسله على خلقه.

فسارع إلى الإيمان بها من كتب له النجاة.

وسارع إلى نكرانها من كتبت له الشقاوة والحرمان.

وتنازعت أمم الأرض أديان مختلفة، وعقائد متباينة، نجملها فى اثنين لا ثالث لهما.

أديان إلهية سماوية، وأديان فلسفية عقلية.

والأديان الإلهية: أساسها الوحى، ووسائل بيانها وتبليغها الأنبياء والرسل.

والأديان الوضعية: أساسها العقل البشرى، ووسائل تبليغها مفكروها وفلاسفتها.

وجميع الأديان سواء كانت إلهية، أو عقلية متفقة كلها على التمييز بين الخير والشر فكلها يدرك أن الصدق، والوفاء، والأمانة، وإطعام الجائع، وإكساء العارى، وعلاج المرضى، ونصرة المظلوم، والنكاح الصحيح من مكارم الأخلاق ومحاسنها. وكلها يدرك أن الكذب والخيانة، والسرقة، والفظاظة والغلظة، والقتل، والزنا، وشرب الخمر من مساوئ الأخلاق التى لا يرضاها العاقل من الناس.

والفارق بين الديانات الإلهية والعقلية: أن الديانات العقلية الفلسفية ترد الأعمال إلى ضرورة الاجتماع البشرى الذى يرى العقل المجرد ضرورة تنظيمه فى إقرار المعروف وإنكار المنكر فى صورة قوانين، ولوائح، ونظم، يجرّمها ويعاقب عليها سلطة زمنية مؤقتة سواء كان حاكما، أو إلها مزيفا لا يملك مع الله الخالق الحقيقى شيئا.
আল্লাহ এবং তাঁর সহীফাসমূহ, যা তাঁর রাসূলগণ তাঁর সৃষ্টির নিকট তিলাওয়াত করেন।

ফলে যার ভাগ্যে মুক্তি নির্ধারিত ছিল, সে এগুলোর প্রতি ঈমান আনতে ত্বরান্বিত হলো।

আর যার ভাগ্যে দুর্ভাগ্য ও বঞ্চিত হওয়া অবধারিত ছিল, সে এগুলো অস্বীকার করতে ত্বরান্বিত হলো।

পৃথিবীর জাতিসমূহ বিভিন্ন ধর্ম এবং ভিন্ন ভিন্ন আকীদার বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে, যা আমরা এমন দুই ভাগে সংক্ষেপ করতে পারি যার তৃতীয় কোনোটি নেই।

ঐশী আসমানী ধর্মসমূহ এবং দার্শনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্মসমূহ।

আর ঐশী ধর্মসমূহ: এর ভিত্তি হলো ওহী, এবং তা বর্ণনা ও প্রচারের মাধ্যম হলেন নবী ও রাসূলগণ।

আর মানব-রচিত ধর্মসমূহ: এর ভিত্তি হলো মানব বুদ্ধি, এবং তা প্রচারের মাধ্যম হলেন তাদের চিন্তাবিদ ও দার্শনিকগণ।

সকল ধর্মই—তা ঐশী হোক বা বুদ্ধিবৃত্তিক—কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়ে একমত। সুতরাং তাদের সকলেই উপলব্ধি করে যে—সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আমানতদারী, ক্ষুধার্তকে অন্নদান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান, রোগীর চিকিৎসা, মজলুমের সাহায্য এবং সঠিক (صحيح) বিবাহ হলো মহান ও সুন্দর চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।

আর তারা সকলেই উপলব্ধি করে যে—মিথ্যা, খিয়ানত, চুরি, রূঢ়তা ও কর্কশতা, হত্যা, ব্যভিচার এবং মদ্যপান হলো নিকৃষ্ট চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো বিবেকবান মানুষ পছন্দ করে না।

ঐশী ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্মসমূহের মধ্যে পার্থক্য হলো: দার্শনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্মসমূহ কর্মসমূহকে মানবিক সমাজের আবশ্যিকতার দিকে প্রত্যাবর্তন করায়, যেখানে কেবল বিবেকবুদ্ধি সৎ কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ বা প্রত্যাখ্যাত (منكر) কাজের নিষেধকে আইন, বিধিমালা ও ব্যবস্থার আদলে সুশৃঙ্খল করা প্রয়োজন মনে করে। এ সকল ক্ষেত্রে কোনো নশ্বর ও অস্থায়ী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অপরাধ সাব্যস্ত ও দণ্ড প্রদান করা হয়; চাই সে কর্তৃপক্ষ কোনো শাসক হোক কিংবা এমন কোনো মিথ্যা উপাস্য হোক, যে প্রকৃত স্রষ্টা আল্লাহর মোকাবিলায় বিন্দুমাত্র ক্ষমতার অধিকারী নয়।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما الديانات الإلهية، فإنها ترد الأعمال كلها إلى الخالق الحقيقى للكون والإنسان، وترد التجريم، والعقاب، والجزاء إليه، وتعتبر أن هذه الحياة التى يحياها البشر حياة مؤقتة، معدة للأعمال، وما يسرى فيها من جزاء إنما هو جزاء مؤقت، وأن الجزاء الأوفى فى حياة أبدية دائمة، تقام بعد فناء هذا العالم الذى سيزول يوما ما.

وهذا الفكر الذى جاءت به الديانات الإلهية تبلور بصفة نهائية فى مسمّى الإسلام، واكتملت كل أسسه وقواعده على يد النبىّ محمد صلى الله عليه وسلم، وعلى سائر إخوانه من الأنبياء.

إذا: فما هو هذا «الإسلام»؟

والجواب: الإسلام هو دين الله عز وجل.

قال تعالى: إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلامُ (1).

وقال تعالى: وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخاسِرِينَ (2).

وقال تعالى: وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً (3).

وهو دعوة جميع الرسل، والأنبياء.

أى أن جميع الرسل والأنبياء أمروا من الله تعالى بتبليغ «الإسلام» إلى أممهم من أولهم: «نوح» عليه السلام، إلى آخرهم: «محمد» صلى الله عليه وسلم، وعلى إخوانه من الأنبياء.

قال عز وجل: شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ ما وَصَّى بِهِ نُوحاً، وَالَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ، وَما وَصَّيْنا بِهِ إِبْراهِيمَ وَمُوسى، وَعِيسى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 19.

(2) آل عمران: 85.

(3) المائدة: 3.
ঐশ্বরিক ধর্মসমূহের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, তা যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে মহাবিশ্ব ও মানুষের প্রকৃত স্রষ্টার দিকেই প্রত্যাবর্তিত করে এবং অপরাধ সাব্যস্তকরণ, শাস্তি ও প্রতিদানকেও তাঁরই দিকে সোপর্দ করে। এটি বিবেচনা করে যে, মানুষ যে জীবন অতিবাহিত করছে তা একটি সাময়িক জীবন, যা কর্মের জন্য নির্ধারিত; আর এতে যে প্রতিদান পরিলক্ষিত হয় তা কেবল অস্থায়ী প্রতিদান মাত্র। প্রকৃতপক্ষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান কেবল সেই চিরস্থায়ী ও শাশ্বত জীবনেই পাওয়া যাবে, যা এই নশ্বর জগতের অবসানের পর প্রতিষ্ঠিত হবে যা একদিন বিলীন হয়ে যাবে।

ঐশ্বরিক ধর্মসমূহ যে চিন্তাধারা নিয়ে এসেছে, তা 'ইসলাম' নামকরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে এবং এর সকল ভিত্তি ও মূলনীতি নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর অন্যান্য নবী ভ্রাতৃবৃন্দের হাতে পূর্ণতা পেয়েছে।

তাহলে, এই «ইসলাম» কী?

উত্তর: ইসলাম হলো মহান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম (১)।

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তবে তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে (২)।

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: আর আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছি (৩)।

আর এটি সকল রসূল ও নবীর দাওয়াত ছিল।

অর্থাৎ সকল রসূল ও নবীকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের উম্মতদের কাছে «ইসলাম» পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; তাদের প্রথমজন «নূহ» আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সর্বশেষ «মুহাম্মদ» সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর অন্যান্য নবী ভ্রাতৃবৃন্দ পর্যন্ত।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার আদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার প্রতি ওহি করেছি এবং যার আদেশ আমি ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম— এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না, মুশরিকদের জন্য তা অত্যন্ত গুরুতর...

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান: ১৯।

(২) আল ইমরান: ৮৫।

(৩) আল মায়িদাহ: ৩।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
عَلَى الْمُشْرِكِينَ ما تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ (1)

وقال النبى صلى الله عليه وسلم: «الأنبياء إخوة لعلّات، أمّهاتهم شتّى ودينهم واحد» (2).

وما أرسل الله رسولا من هؤلاء الرسل، ولا أتبعه بنبىّ من بعده إلا بلّغ قومه بالإسلام، وحثهم عليه فى نفسه، وأمرهم فى أنفسهم أن يسلموا، بل وربما كان من شدة خوف الأنبياء من الله تعالى، وخوفهم على أبنائهم وأممهم أنه كان إذا حضر الواحد منهم الموت جمع أبناءه حوله، وأخذ يطمئن منهم على تمسكهم من بعده بدعوة الإسلام.

والمتتبع لدعوة الأنبياء جميعا من خلال نصوص القرآن الكريم يراهم حريصين جدّ الحرص الذى لا حرص بعده ولا قبله على تمسكهم بمسمى الإسلام وغايته، لا مسمى غيره، ولا غاية سواه، واحدا بعد واحد.

وسنمضى مع مسيرتهم المباركة بحسب ترتيبهم الزمنى كما يأتى:

 

‌‌(1) نوح: عليه السلام:

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قالَ لِقَوْمِهِ يا قَوْمِ إِنْ كانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقامِي وَتَذْكِيرِي بِآياتِ اللَّهِ فَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكاءَكُمْ ثُمَّ لا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلا تُنْظِرُونِ. فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَما سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ (3).

 

‌‌(2) إبراهيم: عليه السلام:

1 - وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْراهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْناهُ فِي الدُّنْيا وَإِنَّهُ

--------------------------------------------

(1) الشورى: 13.

(2) صحيح البخارى 3/ 1270 الحديث رقم (3259) - كتاب الأنبياء.

(3) يونس: 71.
মুশরিকদের ওপর তা অত্যন্ত ভারী মনে হয় যার প্রতি আপনি তাদের আহ্বান করছেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন (১)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নবীগণ হলেন বৈমাত্রেয় ভাই, তাঁদের মাগণ ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু তাঁদের দ্বীন এক" (২)।

আল্লাহ এই রসূলগণের মধ্য থেকে এমন কোনো রসূল পাঠাননি কিংবা তাঁর পরে কোনো নবীকে স্থলাভিষিক্ত করেননি, যিনি তাঁর কওমের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেননি, ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের উৎসাহিত করেননি এবং তাঁদেরকে ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দেননি। এমনকি নবীগণের মনে আল্লাহর প্রতি গভীর ভয় এবং তাঁদের সন্তান ও উম্মতদের ব্যাপারে উদ্বেগের কারণে এমনটি হতো যে, যখন তাঁদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হতো, তখন তিনি তাঁর সন্তানদের চারপাশে সমবেত করতেন এবং তাঁর পরে ইসলামের দাওয়াতের ওপর তাঁদের অটল থাকার ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে চাইতেন।

পবিত্র কুরআনের ভাষ্য থেকে সকল নবীর দাওয়াতের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, তাঁরা একের পর এক ধারাবাহিকভাবে ইসলামের নাম ও এর লক্ষ্যের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে চরমভাবে যত্নবান ছিলেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো নাম বা লক্ষ্য তাঁদের ছিল না।

আমরা তাঁদের এই বরকতময় পরিক্রমার কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী নিম্নে আলোচনা করব:

 

‌‌(১) নূহ (আলাইহিস সালাম):

আর আপনি তাদেরকে নূহের সংবাদ শুনিয়ে দিন, যখন সে তার কওমকে বলেছিল: হে আমার কওম! যদি আমার অবস্থান ও আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর ওপরই ভরসা করছি। সুতরাং তোমরা তোমাদের শরিকদের নিয়ে তোমাদের কর্মপন্থা স্থির করো, অতঃপর তোমাদের কর্মপন্থা যেন তোমাদের কাছে অস্পষ্ট না থাকে। তারপর আমার বিরুদ্ধে যা করার করে ফেলো এবং আমাকে বিন্দুমাত্র অবকাশ দিও না। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাইনি; আমার প্রতিদান কেবল আল্লাহর কাছেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি (৩)।

 

‌‌(২) ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম):

১ - আর কে ইবরাহিমের আদর্শ থেকে বিমুখ হবে সে ছাড়া যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে? আমি তো তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং নিশ্চয়ই সে...

--------------------------------------------

(১) আশ-শুরা: ১৩।

(২) সহিহ বুখারি ৩/ ১২৭০ হাদিস নং (৩২৫৯) - কিতাবুল আম্বিয়া।

(৩) ইউনুস: ৭১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْراهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْناهُ فِي الدُّنْيا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ. إِذْ قالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعالَمِينَ (1).

2 - وَوَصَّى بِها إِبْراهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفى لَكُمُ الدِّينَ فَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (2).

 

‌‌(3) إبراهيم وإسماعيل: عليهما السلام:

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْراهِيمُ الْقَواعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْماعِيلُ رَبَّنا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. رَبَّنا وَاجْعَلْنا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنا مَناسِكَنا وَتُبْ عَلَيْنا إِنَّكَ

أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (3).

 

‌‌(4) يعقوب (إسرائيل) وبنوه: عليهم السلام:

1 - أَمْ كُنْتُمْ شُهَداءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قالَ لِبَنِيهِ ما تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قالُوا نَعْبُدُ إِلهَكَ وَإِلهَ آبائِكَ إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ إِلهاً واحِداً وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (4).

2 - قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَما أُنْزِلَ إِلَيْنا وَما أُنْزِلَ إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ وَما أُوتِيَ مُوسى وَعِيسى وَما أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (5).

 

‌‌(5) يوسف: عليه السلام:

يطلب يوسف من ربه- بعد أن منّ عليه بالنبوة والملك أن يحسن ختامه «بالإسلام».

رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحادِيثِ فاطِرَ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِماً وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ (6).

--------------------------------------------

(1) البقرة: 130 - 131

(2) البقرة: 132.

(3) البقرة: 127 - 128

(4) البقرة: 133

(5) البقرة: 136

(6) يوسف: 101.
১ - আর কে ইব্রাহীমের আদর্শ থেকে বিমুখ হবে সে ছাড়া যে নিজেকে নির্বোধ করেছে? আর অবশ্যই আমি তাকে দুনিয়াতে মনোনীত করেছি এবং পরকালেও সে নিশ্চয়ই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত। যখন তার রব তাকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’, সে বলল, ‘আমি বিশ্বজগতের রবের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম’ (১)।

২ - আর ইব্রাহীম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এই অসিয়ত করেছিলেন যে, ‘হে আমার সন্তানেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না’ (২)।

 

‌‌(৩) ইব্রাহীম ও ইসমাঈল: তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক:

আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল বায়তুল্লাহর ভিত্তি স্থাপন করছিল (এবং বলছিল), ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা। হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার প্রতি এক অনুগত জাতি গড়ে দিন এবং আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি

অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’ (৩)।

 

‌‌(৪) ইয়াকুব (ইসরাঈল) ও তাঁর পুত্রগণ: তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক:

১ - তোমরা কি উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছিল? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, ‘আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে?’ তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ—সেই অদ্বিতীয় ইলাহের ইবাদত করব এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত’ (৪)।

২ - তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা মুসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত’ (৫)।

 

‌‌(৫) ইউসুফ: তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক:

ইউসুফ তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করছেন—আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত ও রাজত্ব প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করার পর—যেন তাঁর জীবনের সমাপ্তি ‘ইসলামের’ সাথে সুন্দর হয়।

‘হে আমার রব! আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখেরাতে আমার অভিভাবক। আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন’ (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারাহ: ১৩০ - ১৩১

(২) আল-বাকারাহ: ১৩২।

(৩) আল-বাকারাহ: ১২৭ - ১২৮

(৪) আল-বাকারাহ: ১৩৩

(৫) আল-বাকারাহ: ১৩৬

(৬) ইউসুফ: ১০১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌(6) سليمان: عليه السلام:

1 - فى خطاب سليمان الذى أرسله إلى «بلقيس» ملكة اليمن يدعوها إلى «الإسلام».

إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ. أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ (1).

2 - طلب سليمان من معاونيه من الجنّ، ومن عنده علم من الكتاب إحضار عرش «بلقيس» من اليمن إليه فى الشام قبل أن تجئ إليه «مسلمة»:

قالَ يا أَيُّهَا الْمَلَؤُا أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِها قَبْلَ أَنْ يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ (2).

3 - إقرار بلقيس «بالإسلام» الذى يعتقده ويدين به سليمان عليه السلام:

قالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ (3).

 

‌‌(7) موسى: عليه السلام، والنبيون حملة التوراة:

1 - يقول موسى لقومه وهو يشد من أزرهم وعزمهم ويثبّتهم على الإيمان إن كانوا قد أسلموا حقيقة.

وَقالَ مُوسى يا قَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ (4)

2 - إقرار سحرة فرعون بالإيمان بالله، وصبرهم على تعذيب فرعون، ودعائهم إلى الله بالصبر والثبات، وعدم إماتتهم إلا على «الإسلام».

وَما تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآياتِ رَبِّنا لَمَّا جاءَتْنا رَبَّنا أَفْرِغْ عَلَيْنا صَبْراً وَتَوَفَّنا مُسْلِمِينَ (5).

3 - إقرار فرعون «بالإسلام» الذى عليه موسى، وبنو إسرائيل فى آخر لحظة من عمره:

--------------------------------------------

(1) النمل: 30، 31.

(2) النمل: 38.

(3) النمل: 44.

(4) يونس: 84

(5) الأعراف: 126
‌‌(৬) সুলাইমান: আলাইহিস সালাম:

১ - ইয়ামানের রানি ‘বিলকিস’-এর নিকট প্রেরিত সুলাইমানের পত্রে, যেখানে তিনি তাকে ‘ইসলাম’ (الإسلام)-এর দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন।

নিশ্চয়ই এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তোমরা আমার প্রতি অবাধ্যতা করো না এবং আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হিসেবে আমার নিকট উপস্থিত হও (১)।

২ - সুলাইমান তাঁর অধীনস্থ জিন এবং কিতাবের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট ইয়ামান থেকে বিলকিসের সিংহাসন তাঁর নিকট (শামে) উপস্থিত করার আবেদন জানান, সে ‘আত্মসমর্পণকারী (مسلمة)’ হিসেবে তাঁর নিকট আসার পূর্বেই:

তিনি বললেন, হে পরিষদবর্গ! তারা আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হয়ে আমার নিকট আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসনটি আমার নিকট নিয়ে আসবে? (২)।

৩ - সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) যে ‘ইসলাম’ (الإسلام)-এ বিশ্বাসী ছিলেন এবং যা পালন করতেন, বিলকিসের পক্ষ থেকে তার স্বীকৃতি প্রদান:

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ (أَسْلَمْتُ) করলাম (৩)।

 

‌‌(৭) মূসা: আলাইহিস সালাম এবং নবীগণ যারা তাওরাত বহনকারী:

১ - মূসা তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে বলছেন যখন তিনি তাদের শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধি করছিলেন এবং যদি তারা প্রকৃতপক্ষেই আত্মসমর্পণকারী (أَسْلَمُوا) হয়ে থাকে তবে তাদের ঈমানের ওপর অবিচল থাকার তাকিদ দিচ্ছিলেন।

এবং মূসা বললেন, হে আমার কওম! যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হয়ে থাকো (৪)।

২ - আল্লাহর প্রতি ঈমানের ব্যাপারে ফেরাউনের জাদুকরদের স্বীকৃতি, ফেরাউনের নির্যাতনের মুখে তাদের ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর নিকট ধৈর্য ও অটলতার প্রার্থনা, যেন ‘ইসলাম’ (الإسلام)-এর ওপর তাদের মৃত্যু হয়।

আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী যখন আমাদের নিকট এল তখন আমরা তাতে ঈমান এনেছি—একথা ব্যতীত তুমি তো আমাদের অন্য কোনো দোষ পাচ্ছ না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ধৈর্য দান করো এবং আমাদের আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হিসেবে মৃত্যু দান করো (৫)।

৩ - জীবনের শেষ মুহূর্তে মূসা ও বনী ইসরাঈল যে ‘ইসলাম’ (الإسلام)-এর ওপর ছিল, ফেরাউনের পক্ষ থেকে তার স্বীকৃতি:

--------------------------------------------

(১) আন-নামল: ৩০, ৩১।

(২) আন-নামল: ৩৮।

(৩) আন-নামল: ৪৪।

(৪) ইউনুস: ৮৪

(৫) আল-আরাফ: ১২৬
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَجاوَزْنا بِبَنِي إِسْرائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْياً وَعَدْواً حَتَّى إِذا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لا إِلهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُوا إِسْرائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ (1).

4 - إثبات أن «التوراة» يحكم بها النبيون، والربانيون، والأحبار- الذين أسلموا على يد موسى عليه السلام شعب اليهود.

إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْراةَ فِيها هُدىً وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتابِ اللَّهِ وَكانُوا عَلَيْهِ شُهَداءَ فَلا تَخْشَوُا النَّاسَ

وَاخْشَوْنِ وَلا تَشْتَرُوا بِآياتِي ثَمَناً قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِما أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولئِكَ هُمُ الْكافِرُونَ

. (2)

 

‌‌(8) عيسى: عليه السلام، وأتباعه: الحواريون:

1 - يقر أصحاب عيسى عليه السلام وهم الحواريون الذين آمنوا به- أنهم على دين «الإسلام».

وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنا مُسْلِمُونَ (3)

2 - إثبات القرآن اعتراف أهل الكتاب- من اليهود والنصارى- وغيرهم بالإيمان بالله تعالى، وبالقرآن الذى سينزل على نبىّ آخر الزمان محمد صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) يونس: 90.

(2) المائدة: 44.

(3) المائدة: 111.
আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলাম, অতঃপর ফিরআউন ও তার সৈন্যবাহিনী জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করার উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে নিমজ্জিত হতে শুরু করল, তখন বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম যে, বনী ইসরাঈল যার ওপর ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই এবং আমি মুসলিমদের (আত্মসমর্পণকারীদের) অন্তর্ভুক্ত।’ (১)।

৪ - এই বিষয়টি সাব্যস্ত করা যে, ‘তাওরাত’ অনুযায়ী সেই নবিগণ, রব্বানিগণ এবং পণ্ডিতগণ ফয়সালা প্রদান করতেন—যারা মূসা আলাইহিস সালামের হাতে ইয়াহুদি জাতির মধ্য হতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো। নবিগণ যারা অনুগত হয়েছিলেন, তারা এর মাধ্যমে ইয়াহুদিদের ফয়সালা দিতেন। আর রব্বানি ও পণ্ডিতগণও (ফয়সালা দিতেন), কারণ তাদের আল্লাহর কিতাব রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা ছিল এর ওপর সাক্ষী। সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করো না। আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা দেয় না, তারাই কাফির।

। (২)

 

‌‌(৮) ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর অনুসারীগণ: হাওয়ারিগণ:

১ - ঈসা আলাইহিস সালামের সাথীগণ—আর তারা হলেন সেই হাওয়ারিগণ যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন—তারা স্বীকার করেন যে তারা ‘ইসলাম’ ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

এবং স্মরণ করো যখন আমি হাওয়ারিদের প্রতি ইলহাম (বা প্রত্যাদেশ) পাঠিয়েছিলাম যে, ‘আমার প্রতি ও আমার রাসুলের প্রতি ঈমান আনো।’ তারা বলেছিল, ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)।’ (৩)

২ - কুরআনের মাধ্যমে আহলে কিতাব—ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান—এবং অন্যদের আল্লাহ তাআলার প্রতি এবং শেষ যমানার নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতে যাওয়া কুরআনের প্রতি ঈমান আনার স্বীকৃতির বিষয়টি সাব্যস্ত করা:

--------------------------------------------

(১) ইউনুস: ৯০।

(২) আল-মায়িদাহ: ৪৪।

(৩) আল-মায়িদাহ: ১১১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ وَإِذا يُتْلى عَلَيْهِمْ قالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ أُولئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِما صَبَرُوا وَيَدْرَؤُنَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ وَإِذا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقالُوا لَنا أَعْمالُنا وَلَكُمْ أَعْمالُكُمْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ لا نَبْتَغِي الْجاهِلِينَ إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ وَقالُوا إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنا أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَماً آمِناً يُجْبى إِلَيْهِ ثَمَراتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقاً مِنْ لَدُنَّا وَلكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لا يَعْلَمُونَ. (1)

3 - كما نجد أن الله تعالى ينفى تماما عن أبى الأنبياء وجدّهم إبراهيم عليه السلام أىّ مسمى آخر غير مسمى «الإسلام» وأىّ دين آخر غير دين «الإسلام».

ما كانَ إِبْراهِيمُ يَهُودِيًّا وَلا نَصْرانِيًّا وَلكِنْ كانَ حَنِيفاً مُسْلِماً وَما كانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (2).

 

‌‌(9) محمد: صلى الله عليه وسلم، وختم الوحى والنبوّات:

ثم بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم برسالة الإسلام التى كلّف بها إخوانه من الرسل السابقين، وأمره ربّه بتبليغ الإسلام لقومه:

1 - قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ (3).

2 - قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدى وَأُمِرْنا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعالَمِينَ (4).

* ثم شاءت إرادة الله تعالى أن يجعل محمّدا صلى الله عليه وسلم آخر الأنبياء والمرسلين وأن يختم به الوحى والنبوات إلى قيام الساعة.

1 - يقول الله تعالى:

ما كانَ مُحَمَّدٌ أَبا أَحَدٍ مِنْ رِجالِكُمْ وَلكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخاتَمَ النَّبِيِّينَ (5).

2 - ويقول الرسول محمد صلى الله عليه وسلم:

أ- «أنا محمد النبىّ الأمىّ، ولا نبىّ بعدى» (6).

--------------------------------------------

(1) لقصص: 52 - 157.

(2) آل عمران: 67.

(3) الأنعام: 14.

(4) الأنعام: 71.

(5) الأحزاب: 40.

(6) صحيح البخارى- كتاب الأنبياء، مسند أحمد 2/ 172.
যাদের আমি ইতিপূর্বে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস স্থাপন করে। আর যখন তাদের নিকট এটি তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা এতে ঈমান এনেছি; নিশ্চয়ই এটি আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। আমরা তো এর আগেও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) ছিলাম।’ তারা এমন লোক, যাদেরকে তাদের পুরস্কার দুইবার প্রদান করা হবে, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তারা ভালোর মাধ্যমে মন্দকে প্রতিহত করে এবং আমি তাদেরকে যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। আর যখন তারা অনর্থক কথা শোনে, তখন তা থেকে বিমুখ হয় এবং বলে, ‘আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি সালাম; আমরা মূর্খদের সঙ্গ চাই না।’ নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তারা বলে, ‘যদি আমরা আপনার সাথে হিদায়াতের অনুসরণ করি, তবে আমাদের ভূখণ্ড থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে।’ আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র এলাকা) প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিজিক হিসেবে সব ধরনের ফলমূল সংগৃহীত হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশেই তা জানে না। (১)

৩ - অনুরূপভাবে আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা নবীদের পিতা ও তাদের পিতামহ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে ‘ইসলাম’ ব্যতীত অন্য যেকোনো নাম এবং ‘ইসলাম’ ধর্ম ব্যতীত অন্য যেকোনো দ্বীনকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (২)

 

‌‌(৯) মুহাম্মদ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং ওহি ও নবুয়তের সমাপ্তি:

অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলামের সেই রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যার দায়িত্ব তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ভ্রাতৃপ্রতিম রাসুলগণকে প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে তাঁর কওমের নিকট ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন:

১ - বলুন, ‘নিশ্চয়ই আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমিই প্রথম আত্মসমর্পণকারী হই।’ (৩)

২ - বলুন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর হিদায়াতই হলো প্রকৃত হিদায়াত এবং আমরা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করতে আদিষ্ট হয়েছি।’ (৪)

* অতঃপর আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বশেষ নবী ও রাসুল করা হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ওহি ও নবুয়তের ধারা তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত করা হয়েছে।

১ - আল্লাহ তাআলা বলেন:

মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং নবীদের সমাপ্তিকারী। (৫)

২ - এবং রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

ক- ‘আমি মুহাম্মদ, উম্মি নবী; আমার পরে আর কোনো নবী নেই।’ (৬)

--------------------------------------------

(১) আল-কাসাস: ৫২ - ১৫৭।

(২) আলে ইমরান: ৬৭।

(৩) আল-আনআম: ১৪।

(৪) আল-আনআম: ৭১।

(৫) আল-আহজাব: ৪০।

(৬) সহিহ বুখারি- কিতাবুল আম্বিয়া, মুসনাদ আহমদ ২/ ১৭২।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
ب- «يا علىّ: أنت منى بمنزلة هارون من موسى إلا أنّه لا نبىّ بعدى» (1)

ج- «يا محمد: أنت رسول الله وخاتم الأنبياء» (2).

* كما شاءت إرادته سبحانه أن يجعل رسالة محمد صلى الله عليه وسلم رسالة كافة للعالمين، عامة للناس أجمعين إلى قيام الساعة:

1 - وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ (3).

2 - وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ (4).

* وبهذا شبّه «الإسلام» كأنه قصر عظيم بدئ فى بنائه منذ عهد أول نبى، حتى كمل بناؤه، واستقر صرحه، وثبتت دعائمه، وحسنت صورته ببعث محمد صلى الله عليهم جميعا وسلّم.

وهذا تماما ما صوره رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث يقول:

«مثلى فى النبيين كمثل رجل بنى دارا فأحسنها وأكملها، وترك فيها موضع لبنة لم يضعها فجعل الناس يطوفون بالبنيان ويعجبون منه، ويقولون لو تم موضع هذه اللبنة؟

«فأنا فى النبيين موضع تلك اللبنة». (5)

* وبعد تمام نعمة «الإسلام» واكتمال الدين:

1 - نفى الحرج عن كل أتباع الإسلام الذين ينتسبون إليه منذ عهد إبراهيم عليه السلام:

--------------------------------------------

(1) سنن الترمذى باب المناقب، مسند أحمد 1/ 177.

(2) صحيح مسلّم 1/ 185 كتاب الإيمان.

(3) الأنبياء: 107.

(4) سبأ: 28.

(5) مسند الإمام أحمد 5/ 137، وانظر الأحاديث التساعية ص 3.
খ- «হে আলী: হারুন মূসার নিকট যেমন মর্যাদাবান ছিলেন, আমার কাছে তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনি, তবে আমার পরে কোনো নবী নেই» (১)

গ- «হে মুহাম্মদ: আপনি আল্লাহর রসূল এবং নবীদের সমাপ্তিকারী» (২)।

* মহান রবের ইচ্ছা যেমনটি ছিল যে, তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে বিশ্বজগতের জন্য এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য ব্যাপক করবেন:

১ - "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি" (৩)।

২ - "আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রেরণ করেছি" (৪)।

* আর এভাবেই 'ইসলাম'-কে একটি বিশাল প্রাসাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার নির্মাণ প্রথম নবীর যুগ থেকে শুরু হয়েছিল, যতক্ষণ না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁদের প্রেরণের মাধ্যমে এর নির্মাণ সম্পন্ন হলো, এর অবকাঠামো সুসংহত হলো, এর ভিত্তি সুদৃঢ় হলো এবং এর সৌন্দর্য পূর্ণতা পেল।

এটি হুবহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিত্রের ন্যায়, যেখানে তিনি বলেছেন:

«নবীদের মাঝে আমার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তা খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে তৈরি করল, কিন্তু সেখানে একটি ইটের জায়গা খালি রাখল। মানুষ সেই ভবনের চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল এবং আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলতে লাগল—যদি এই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করা হতো!

«নবীদের মাঝে আমিই হলাম সেই ইটের স্থান»। (৫)

* 'ইসলাম'-এর নেয়ামতের পূর্ণতা এবং দ্বীনের পূর্ণতা লাভের পর:

১ - ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত সকল অনুসারীর ওপর থেকে সংকীর্ণতা দূর করা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) সুনান আত-তিরমিযী, মানাকিব অধ্যায়; মুসনাদ আহমাদ ১/১৭৭।

(২) সহীহ মুসলিম ১/১৮৫, ঈমান অধ্যায়।

(৩) আল-আম্বিয়া: ১০৭।

(৪) সাবা: ২৮।

(৫) মুসনাদ ইমাম আহমাদ ৫/১৩৭, এবং দেখুন আল-আহাদিস আত-তিসায়িয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وَجاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهادِهِ هُوَ اجْتَباكُمْ وَما جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْراهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هذا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيداً عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَداءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلى وَنِعْمَ النَّصِيرُ (1).

2 - ونهى عن التعرض بالأذى أو الاعتداء لأهل الكتاب من اليهود والنصارى المندرجين بالعهد فى أمة الإسلام والذين أعرضوا عن مسمى الإسلام إلى مسمى اليهودية، والنصرانية. والاكتفاء بدعوتهم «إلى العودة» إلى مسمى «الإسلام» بالحسنى والرفق فإن أجابوا فلأنفسهم، وإن أعرضوا فعليها، و «أما نحن». فله «مسلمون».

أ- وَلا تُجادِلُوا أَهْلَ الْكِتابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلهُنا وَإِلهُكُمْ واحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (2).

ب- فَإِنْ حَاجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ وَقُلْ لِلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّما عَلَيْكَ الْبَلاغُ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبادِ (3).

* أمر الله تعالى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم «بالاعلان» لجميع البشر أن «الإسلام» هو الدين القيّم، وهو الصراط المستقيم:

قُلْ إِنَّنِي هَدانِي رَبِّي إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ دِيناً قِيَماً مِلَّةَ إِبْراهِيمَ حَنِيفاً وَما كانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (4)

 

‌‌نتيجة هذا المبحث: حقق هذا المبحث النتائج التالية:

1 - «الدّين» غريزة من الغرائز التى فطرها الله وأودعها فى الإنسان عند خلقه كسائر الغرائز.

2 - غريزة «التّديّن» الكامنة فى فطرة الإنسان تحتاج إلى درجة من الإشباع

--------------------------------------------

(1) الحج: 78.

(2) العنكبوت: 46.

(3) آل عمران: 20.

(4) الأنعام: 161.
আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা তাঁর হক। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত (আদর্শ)। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানবজাতির ওপর। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী (১)।

২ - আর তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টান আহলে কিতাবদের কোনো প্রকার কষ্ট দিতে বা আক্রমণ করতে নিষেধ করেছেন, যারা ইসলামি উম্মাহর সাথে চুক্তিবদ্ধ এবং যারা ইসলামের নাম বর্জন করে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের পরিচয়ে পরিচিত হয়েছে। আর তাদের কেবল সদাচরণ ও কোমলতার সাথে পুনরায় ‘ইসলামের’ দিকে ‘ফিরে আসার’ আহ্বান জানানোর ওপর ক্ষান্ত থাকতে বলেছেন। তারা যদি সেই আহ্বানে সাড়া দেয় তবে তা তাদের নিজেদের জন্যই; আর যদি তারা বিমুখ হয় তবে তার দায়ভার তাদের ওপরই। আর ‘আমাদের’ পক্ষ থেকে বক্তব্য হলো, আমরা তাঁরই প্রতি ‘অনুগত (মুসলিম)’।

ক- আর তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তার ওপর; আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো একই, এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)’ (২)।

খ- এরপরও যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে বলো, ‘আমি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছি এবং আমার অনুসারীরাও।’ আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের এবং নিরক্ষরদের বলো, ‘তোমরাও কি আত্মসমর্পণ করেছ?’ যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে তারা অবশ্যই সঠিক পথ পেল; আর যদি তারা বিমুখ হয় তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া। আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা (৩)।

* আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে সমস্ত মানুষের কাছে এই ‘ঘোষণা’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘ইসলাম’ হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং এটিই সরল পথ:<

বলো, ‘নিশ্চয় আমার রব আমাকে এক সরল পথের দিশা দিয়েছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং একনিষ্ঠ ইবরাহীমের আদর্শ; আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না’ (৪)

 

‌‌এই পরিচ্ছেদের ফলাফল: এই পরিচ্ছেদটি নিম্নোক্ত ফলাফলগুলো নিশ্চিত করেছে:

১ - ‘দ্বীন’ হলো সেইসব প্রবৃত্তিগুলোর একটি, যা আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির সময় তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নিহিত রেখেছেন, যেমনটি তিনি অন্যান্য প্রবৃত্তিকেও নিহিত রেখেছেন।

২ - মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির মধ্যে সুপ্ত ‘ধর্মমুখিতার’ প্রবৃত্তিটির নির্দিষ্ট মাত্রার পরিতৃপ্তির প্রয়োজন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-হজ: ৭৮।

(২) আল-আনকাবুত: ৪৬।

(৩) আল ইমরান: ২০।

(৪) আল-আনআম: ১৬১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
سدّا لحاجة هذه الغريزة عند الشعور بها، تماما كحاجته إلى الطعام لسد غائلة الجوع عند الشعور به غريزيا.

3 - إهمال معالجة إشباع غريزة التدين يؤدى إلى الانحراف عن الله تعالى، وعن دينه الصحيح.

4 - للإشباع السليم لغريزة التدين عند الإنسان أرسل الله الرسل والأنبياء للناس أيا كان زمانهم أو مكانهم لإرشادهم إلى أن الحقيقة الكبرى، والوحيدة، والباقية التى لا تفنى إنما هى: وجود الله عز وجل.

5 - أن جميع الرسل والأنبياء دعاة لدين واحد، له مسمى واحد: هو «الإسلام»، وأنّ له غاية واحدة هى: معرفة الله الذى لا شريك له، ولا خالق سواه.

6 - اكتملت رسالة الإسلام تماما، وأغلقت النبوات، وختمت الشرائع ببعث محمد صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌المبحث الثانى: الوحى الإلهى

‌‌مطلب فى: الله … والفطرة … والأنبياء … والوحى …

(1) استدلّ إنسان ما قبل النّبوّات فى مواقع مختلفة من هذا الكوكب بفطرته، وغريزته إلى أن هناك قوة عظمى وخفية هى المؤثرة فى هذا العالم وجودا، ونظاما، ونشاطا. وكان هذا استجابة لمطلب غريزى يدفعه إلى سوق بعض التساؤلات عن خلقه وخالقه، والكون المحيط به، وأنظمته، والحياة، والموت، وما وراءهما.

كما كانت استجابة لمطلب عقلى فطرى يدفعه إلى ضرورة الإجابة عن ما قد يتوفر له معرفته ردّا على هذه التّساؤلات الغريزية.
এই প্রবৃত্তি অনুভূত হওয়া মাত্রই তার চাহিদা মেটানোর জন্য, ঠিক যেমন একজন ব্যক্তির ক্ষুধা অনুভূত হওয়ার পর তার তীব্রতা নিবারণের জন্য সহজাতভাবে খাদ্যের প্রয়োজন হয়।

3 - ধর্মীয় প্রবৃত্তির পরিতৃপ্তির বিষয়টি অবহেলা করা মহান আল্লাহ এবং তাঁর সঠিক দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার দিকে ধাবিত করে।

4 - মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ধর্মীয় প্রবৃত্তির সঠিক পরিতৃপ্তির জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছে রাসূল ও নবীগণকে পাঠিয়েছেন—তাঁদের সময় বা স্থান যা-ই হোক না কেন—তাদেরকে এই পথনির্দেশ দিতে যে, মহত্তম, একমাত্র এবং অবিনশ্বর সত্য যা কখনো বিলীন হবে না, তা হলো: মহান আল্লাহর অস্তিত্ব।

5 - সমস্ত রাসূল ও নবীগণ একটি মাত্র দ্বীনের আহ্বায়ক ছিলেন, যার একটিই নাম: তা হলো «ইসলাম», এবং এর একটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল: সেই আল্লাহর পরিচয় লাভ করা যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই।

6 - মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরণের মাধ্যমে ইসলামের রিসালাত পূর্ণতা লাভ করেছে, নবুওয়াতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং শরিয়তসমূহ মোহরাঙ্কিত (ختمت) হয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খোদায়ী ওহি (وحي)

‌‌আল্লাহ … ফিতরাত (فطرة) … নবীগণ … এবং ওহি (وحي) … সংক্রান্ত আলোচনা

(1) নবুওয়াত-পূর্ব যুগের মানুষ এই গ্রহের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের ফিতরাত (فطرة) এবং সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, এমন একটি সুমহান ও অদৃশ্য শক্তি রয়েছে যা এই জগতের অস্তিত্ব, শৃঙ্খলা ও কর্মতৎপরতার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী। এটি ছিল একটি সহজাত চাহিদার প্রতি সাড়া প্রদান, যা তাকে তার সৃষ্টি ও স্রষ্টা, পরিবেষ্টিত মহাবিশ্ব ও এর নিয়মাবলী এবং জীবন, মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী বিষয়াদি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করত।

তেমনি এটি ছিল একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও সহজাত চাহিদার প্রতিফলন, যা তাকে এই প্রবৃত্তিগত প্রশ্নগুলোর উত্তরে লভ্য জ্ঞানসমূহ জানার প্রয়োজনীয়তার দিকে ধাবিত করত।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
(2) ولما كان العقل البشرى الفطرى يختلف من إنسان لآخر فى حدّ القدرة والذكاء، كما يختلف فى حدّ الضعف والغباء، وأن الناس يتفاوتون فى المعرفة نتيجة تفاوتهم فى الاستنتاج والاستنباط من مقدمات الكون وأدلته، لذلك لم يترك الله عز وجل وهو الحقيقة الكبرى والوحيدة- هذا المخلوق نهبا لعقله الفطرى الذى قد يصيب عند البعض، ويخطئ عند الغالبية العظمى، لذلك «ألهم» من بينهم عقلاء … شرفاء … أمناء … أرسلهم إلى أممهم ليدلوهم على الطريق السوى … ويهدوهم إلى السبيل القويم … ويتلوا عليهم كتبا فيها تنظيم لسلوكياتهم، وترشيد لمفاهيمهم وأعمالهم، وتعريفهم بمنازلهم عند الخطأ أو حال الصواب.

1 - أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّما خَلَقْناكُمْ عَبَثاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنا لا تُرْجَعُونَ (1).

2 - وَما كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا (2).

* إذا فالله تعالى هو حقيقة الوجود بلا مراء، ولا جدال، وكل ما عداه باطل .. زائف .. زائل.

وهذا المعنى هتفت به فطرة الإنسان العربى قبل أن يبعث النبىّ محمد صلى الله عليه وسلم.

قال لبيد:

ألا كل شىء ما خلا الله باطل … وكل نعيم لا محالة زائل (3)

* وقد دلّت الفطرة السليمة، والنظر السديد فى آيات الكون المنظور .. فى السماء .. فى الأرض .. فى الجبال .. فى البحار .. فى المطر .. فى الرعد ..

فى كل شىء على إثبات حقيقة وجود الله تعالى .. وحقيقة أنه الخالق ..

--------------------------------------------

(1) المؤمنون: 115.

(2) الإسراء: 15.

(3) جامع البيان 13/ 148.
(2) যেহেতু মানুষের সহজাত বুদ্ধি ক্ষমতা ও মেধার মাত্রার দিক থেকে একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে, যেমনটি তা দুর্বলতা ও নির্বুদ্ধিতার মাত্রার ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন হয়, এবং মানুষ মহাবিশ্বের প্রেক্ষাপট ও এর নিদর্শনসমূহ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উদ্ভাবনের (استنباط) পার্থক্যের ফলে জ্ঞানের ক্ষেত্রেও ভিন্নতর হয়ে থাকে; তাই মহান আল্লাহ—যিনি পরম ও অদ্বিতীয় সত্য—এই সৃষ্টিকে তার সেই সহজাত বুদ্ধির ওপর সঁপে দেননি, যা কারো কারো ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রেই ভুল করে থাকে। একারণে তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন জ্ঞানবান … সম্ভ্রান্ত … ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের 'অনুপ্রাণিত' করেছেন … যাদেরকে তিনি তাদের জাতিসমূহের কাছে পাঠিয়েছেন যাতে তারা তাদের সঠিক পথের দিশা দিতে পারেন … এবং তাদের সরল পথের হিদায়াত দিতে পারেন … এবং তাদের সামনে এমন কিতাবসমূহ পাঠ করেন যাতে রয়েছে তাদের আচরণের সুশৃঙ্খল বিধান, তাদের চিন্তা ও কর্মের সঠিক নির্দেশনা এবং ভুল বা শুদ্ধ অবস্থায় তাদের অবস্থানের পরিচয়।

1 - তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে নিরর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? (1)।

2 - আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না (2)।

* সুতরাং আল্লাহ তাআলাই হলেন অস্তিত্বের পরম সত্য, এতে কোনো সন্দেহ বা বিতর্ক নেই; আর তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা সব বাতিল .. অলীক .. নশ্বর।

আর এই ভাবধারাটি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বেই আরবদের প্রকৃতিতে ধ্বনিত হয়েছিল।

লাবিদ বলেছেন:

জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই বাতিল … আর সকল নেয়ামত অবশ্যই নশ্বর (3)

* সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং দৃশ্যমান মহাবিশ্বের নিদর্শনাবলির প্রতি সঠিক পর্যবেক্ষণ—আকাশে, জমিনে, পাহাড়ে, সাগরে, বৃষ্টিতে, বজ্রপাতে—

সব কিছুর মধ্যেই আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের সত্যতা এবং তিনি যে একমাত্র স্রষ্টা—সেই সত্যের প্রমাণ মিলেছে...

--------------------------------------------

(1) আল-মুমিনুন: 115।

(2) আল-ইসরা: 15।

(3) জামিউল বায়ান 13/ 148।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
القادر .. القاهر فوق عباده:

وفى كل شىء له آية … تدل على أنه الواحد

إلى حدّ أنه من البساطة بمكان إحباط حجة «الملحد» الذى ينكر وجود الله أصلا عند ما يبادرك بسؤاله التقليدى الساذج: ما الدليل على أنّ الله موجود؟

فيكون إحباط ما يظنّ ويدّعى أنه سؤال مفحم بمجرد عكس السؤال وردّه عليه كالآتى: وما الدليل على أن الله غير موجود؟

عندئذ ينكشف الستار عن سهولة الإجابة عن السؤال الأول حيث تتوفر هذه الإجابة فى ملايين الملايين من الأدلة القاطعة التى لا مجال لإنكارها.

كما ينكشف الستار لا عن صعوبة الإجابة على السؤال الثانى فحسب .. بل عن استحالة وجود جواب صحيح قاطع يصلح أن يقيم لمعارض حجة.

* ولما ثبت وجود الله تعالى بالنظر فى آيات الكون المنظور، والفطرة الغريزية، والدلائل العقلية، والمقدمات المنطقية السليمة المؤدية إلى نتائج صحيحة ثبتت له جل شأنه القدرة على كل شىء:

1 - فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (1).

2 - يَخْلُقُ اللَّهُ ما يَشاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (2).

3 - يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ ما يَشاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (3).

* وتبعا لهذا الإيمان اليقينى الراسخ، نؤمن بأن الله تعالى خلق ما يشاء من الخلق كالملائكة من حيث شاء، وكالجن من حيث شاء، وكالطير من حيث شاء، وكسائر الخلق من حيث شاء، فهو ربّ الخلائق، والعوالم، وله الحمد على كلّ ما خلق:

--------------------------------------------

(1) البقرة: 259.

(2) النور: 45.

(3) فاطر: 1.
সর্বশক্তিমান.. তাঁর বান্দাদের উপর প্রবল পরাক্রমশালী:

এবং প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই তাঁর নিদর্শন রয়েছে … যা প্রমাণ করে যে তিনি অদ্বিতীয়।

বিষয়টি এতই সহজ যে, সেই নাস্তিকের যুক্তি (حجة) খণ্ডন করা অত্যন্ত সহজসাধ্য যে মূলত আল্লাহর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে, যখন সে আপনাকে তার চিরাচরিত ও সেকেলে প্রশ্নটি করে বসে: আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ (دليل) কী?

ফলে সে যা মনে করে এবং দাবি করে যে এটি একটি নিরুত্তর প্রশ্ন, সেটির অসারতা প্রমাণ করা সম্ভব কেবল প্রশ্নটিকে উল্টে দিয়ে তার দিকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে: আল্লাহর অস্তিত্ব নেই—এর প্রমাণ (دليل) কী?

তখন প্রথম প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার সহজসাধ্যতা উন্মোচিত হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ এমন অকাট্য (قاطع) প্রমাণাদির (أدلة) মাধ্যমে সেই উত্তর বিদ্যমান থাকে, যা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।

তেমনিভাবে কেবল দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার কঠিনতা নয়, বরং এমন একটি সঠিক ও অকাট্য (قاطع) উত্তর খুঁজে পাওয়ার অসম্ভবতাও উন্মোচিত হয়, যা কোনো বিরোধীর স্বপক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে দাঁড় করানো যায়।

* দৃশ্যমান মহাবিশ্বের নিদর্শনাবলি, স্বভাবজাত প্রবৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণাদি (دلائل) এবং সঠিক ফলাফলে পৌঁছাতে সক্ষম এমন নির্ভেজাল যৌক্তিক উপপাদ্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার মাধ্যমে যখন মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে, তখন তাঁর সুমহান মর্যাদার উপযোগী করে প্রতিটি বিষয়ের ওপর তাঁর ক্ষমতাও সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে:

1 - অতঃপর যখন তাঁর নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হলো, তখন তিনি বললেন, আমি জানি যে আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান (১)।

2 - আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান (২)।

3 - তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন, নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান (৩)।

* এই সুনিশ্চিত (يقيني) ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের ধারাবাহিকতায় আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেছেন; যেমন তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন, জীনদের সৃষ্টি করেছেন, পাখিদের সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যান্য সকল সৃষ্টিকেও তাঁর ইচ্ছামাফিক সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তিনিই সকল সৃষ্টি ও জগতের প্রতিপালক এবং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য:

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারাহ: ২৫৯।

(২) আন-নূর: ৪৫।

(৩) ফাতির: ১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ (1).

2 - وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ (2).

* وقدّر لكل مخلوق عمله، ووظيفته، وقدّر له مقدرته على أداء هذه الأعمال، فشأن الملائكة مثلا: القدرة على الهبوط إلى الأرض، والصعود إلى السماء، والتشكل بما يشاءون من الأشكال الحسنة، والأجنحة المتعددة التى تساعدهم على أداء وظائفهم.

الْحَمْدُ لِلَّهِ فاطِرِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ جاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنى وَثُلاثَ وَرُباعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ ما يَشاءُ (3).

* فلا غرابة إذا أن تنزل الملائكة على أشخاص مميزين ليكونوا رسل الله إلى الناس فى أممهم ..

ولا يستنكر العقل، ولا العاطفة، ولا الشعور، ولا الغريزة: تلك الظاهرة التى عرضناها فى صلة السماء بالأرض، ألا وهى ظاهرة: الوحى.

فلا ينكر أهل «التوراة» أن «الوحى» نزل على موسى عليه السلام بها، و «بالألواح» التى كتب له فيها من كل شىء موعظة، وبكل شىء تفصيل.

ولا ينكر أهل «الإنجيل» أن «الوحى» نزل على عيسى عليه السلام «بالإنجيل»، فيه هدى ونور، ليحكم به أهله بما أنزل الله فيه.

فظاهرة «الوحى» عند أصحاب النبوات جميعا ظاهرة معروفة غير منكرة، فهى إذا ثابتة بالتواتر منذ عهد آدم، والكلام عنه من باب تعليم المتعلم ما ينبغى أن يعلم، وليس من باب إثبات شىء يحتاج إلى إثبات؛ وما كتبه بعض الباحثين عن «إمكانية وقوع الوحى» ومحاولة إثباته، لا يعدو أن يكون ترفقا ببعض من يركبهم الغرور الناتج عن خلل فطروا عليه فى تفكيرهم.

--------------------------------------------

(1) الفاتحة: 1.

(2) الأنعام: 164.

(3) فاطر: 1.
1 - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক (১)।

2 - আর তিনি প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক (২)।

* এবং তিনি প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য তার কাজ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছেন, এবং এই কাজগুলো সম্পাদনের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দান করেছেন। যেমন ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য হলো: পৃথিবীতে অবতরণ করা, আকাশে আরোহণ করা এবং তারা যেভাবে ইচ্ছা সুন্দর রূপ ধারণ করা এবং বহু ডানা থাকা যা তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা, যিনি ফেরেশতাদের করেছেন বার্তাবাহক—যাঁরা দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার ডানাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন (৩)।

* সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, ফেরেশতারা বিশেষ ব্যক্তিদের নিকট অবতরণ করবেন যাতে তাঁরা নিজ নিজ জাতির মধ্যে মানুষের কাছে আল্লাহর রসূল হতে পারেন...

আর বুদ্ধি, আবেগ, অনুভূতি বা প্রবৃত্তি কোনোটিই সেই বিষয়টিকে অস্বীকার করে না যা আমরা আকাশ ও পৃথিবীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপস্থাপন করেছি, আর তা হলো: ওহি।

সুতরাং 'তওরাত' অনুসারীরা অস্বীকার করে না যে, মূসা আলাইহিস সালামের ওপর 'ওহি'র মাধ্যমে এটি অবতীর্ণ হয়েছে, এবং সেই 'ফলকসমূহ' যাতে তাঁর জন্য প্রতিটি বিষয়ের উপদেশ ও বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ ছিল।

আর 'ইঞ্জিল' অনুসারীরাও অস্বীকার করে না যে, ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর 'ওহি'র মাধ্যমে 'ইঞ্জিল' অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো, যেন এর অনুসারীরা আল্লাহ এতে যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে বিচার করতে পারে।

সুতরাং সমস্ত নবীগণের অনুসারীদের কাছে 'ওহি'-র বিষয়টি একটি সুপরিচিত বিষয় এবং তা অস্বীকৃত নয়। ফলে এটি আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত। আর এ নিয়ে আলোচনা মূলত শিক্ষার্থীকে যা জানা উচিত তা শিক্ষা দেওয়ার জন্য, এমন কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য নয় যার প্রমাণের প্রয়োজন আছে। 'ওহি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা' নিয়ে কোনো কোনো গবেষক যা লিখেছেন এবং তা প্রমাণের যে চেষ্টা করেছেন, তা কেবল সেইসব মানুষের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন বৈ কিছু নয়, যারা তাদের চিন্তার জন্মগত ত্রুটির ফলে সৃষ্ট অহংকারে নিমজ্জিত।

--------------------------------------------

(1) আল-ফাতিহা: ১।

(2) আল-আনআম: ১৬৪।

(3) ফাতির: ১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌نتيجة هذا المبحث:

1 - أن «لله» تعالى هو الخالق للوجود كله بلا مراء ولا جدال.

2 - ثبوت الوحى المنزل على الرّسل بالتواتر عن جميع الأديان السماوية.

 

‌‌مطلب فى: التعريف بالوحى:

قال الله عز وجل: إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى (1). قُلْ إِنَّما أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحى إِلَيَّ أَنَّما إِلهُكُمْ إِلهٌ واحِدٌ (2). قُلْ إِنَّما أُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْيِ (3).

فما هو الوحى إذا؟ ما معناه؟ وما أنواعه؟:

(1) الوحى فى لغة العرب: مصدر مأخوذ من الفعل: وحى، و .. أوحى وهو لفظ من ألفاظ الاشتراك اللغوى التى تطلق على معان منها: الإلهام، والإشارة، والرسالة، والأمر، والإيماء ويجمعها كلها معنى واحد هو: «إعلام الغير فى خفاء» (4). وقد ورد لفظ «الوحى» فى القرآن الكريم بهذه المعانى اللغوية الشائعة على النحو التالى:

1 - على سبيل الإلهام الغريزى الذى يعطى للكائن البسيط كالحشرات، والحيوانات لكى تؤدى وظائفها المنوطة بها.

ونجد هذا المعنى فى قوله تعالى: وَأَوْحى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبالِ بُيُوتاً وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ، ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَراتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا (5).

2 - على سبيل الإلهام الفطرى للإنسان، حيث يتلقى الإنسان معلومة فطرية سريعة لم تكن فى سابق تفكيره.

--------------------------------------------

(1) النجم: 4.

(2) فصلت: 6.

(3) الأنبياء: 45.

(4) تهذيب اللغة: 5/ 296.

(5) النحل: 68، 69.
‌এই আলোচনার ফলাফল:

১ - আল্লাহ তাআলাই যে কোনো প্রকার সন্দেহ ও বিতর্ক ছাড়াই সমগ্র অস্তিত্বের স্রষ্টা।

২ - সকল আসমানি ধর্মের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواتر) রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ প্রত্যাদেশের (وحي) সত্যতা প্রমাণিত।

 

‌একটি অনুচ্ছেদ: ওহীর পরিচয় প্রসঙ্গে:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “এটি তো কেবল প্রত্যাদেশ (وحي), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয় (১)।” “বলুন: আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষই, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ (২)।” “বলুন: আমি তো কেবল প্রত্যাদেশের (وحي) মাধ্যমেই তোমাদের সতর্ক করি (৩)।”

তাহলে ওহী কী? এর অর্থ কী? এবং এর প্রকারভেদগুলো কী কী?

(১) আরবি ভাষায় ওহী (وحي): এটি ‘ওয়াহা’ ও ‘আওহা’ ক্রিয়া থেকে গৃহীত একটি শব্দমূল যা বিভিন্ন আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: অন্তরে নিক্ষেপ করা বা অনুপ্রেরণা (إلهام), সংকেত, বার্তা, আদেশ এবং ইশারা। এই সবগুলোকে একটি অর্থই শামিল করে, আর তা হলো: ‘গোপনে অন্যকে কোনো বিষয় অবগত করা’ (৪)। পবিত্র কুরআনে ওহী (وحي) শব্দটি এই প্রচলিত আভিধানিক অর্থগুলোতে নিম্নোক্তভাবে ব্যবহৃত হয়েছে:

১ - জন্মগত স্বভাবজাত অনুপ্রেরণা (إلهام) হিসেবে, যা পতঙ্গ ও পশুর মতো সাধারণ প্রাণীকে দান করা হয় যাতে তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে।

আমরা এই অর্থটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে দেখতে পাই: “এবং আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ (أوحى) করলেন যে: পাহাড়, গাছপালা এবং মানুষ যে মাচা তৈরি করে, তাতে ঘর বানিয়ে নাও। তারপর প্রত্যেক ফল থেকে ভক্ষণ করো এবং তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো (৫)।”

২ - মানুষের ক্ষেত্রে সহজাত অনুপ্রেরণা (إلهام) অর্থে, যেখানে মানুষ দ্রুত এমন কোনো সহজাত তথ্য লাভ করে যা তার পূর্বচিন্তায় ছিল না।

--------------------------------------------

(১) আন-নাজম: ৪।

(২) ফুসসিলাত: ৬।

(৩) আল-আম্বিয়া: ৪৫।

(৪) তাহযীবুল লুগাহ: ৫/২৯৬।

(৫) আন-নাহল: ৬৮, ৬৯।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ونجد هذا المعنى متمثلا فى تصرف «أم موسى» الذى يحدثنا به القرآن الكريم: وَأَوْحَيْنا إِلى أُمِّ مُوسى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ (1).

3 - على سبيل الوسوسة، وهو ما يحدث من تفكير الشياطين الذى تحدث عنه القرآن الكريم بقوله:

وَإِنَّ الشَّياطِينَ لَيُوحُونَ إِلى أَوْلِيائِهِمْ لِيُجادِلُوكُمْ (2).

فهذه المعانى الثلاثة للوحى تناولها القرآن الكريم من حيث الدلالة اللغوية العامة لمعنى كلمة «الوحى» وليس من حيث الدلالة الاصطلاحية الفنية، التى تدل على الوحى بالمعنى الشرعى.

الوحى: شرعا:

يجب أن يعرف أن أى معنى اصطلاحى، أو شرعى لا بد وأن يكون مأخوذا من المعنى اللغوى أو من أحد المعانى اللغوية إن كان للكلمة أكثر من معنى.

ولا يكون المعنى الاصطلاحى أو الشرعى معتبرا إذا أهمل المعنى اللغوى للكلمة، ومن هنا فإن:

الوحى هو: تكليم الله سبحانه وتعالى لمن اختاره من عباده بإحدى طرق الوحى. (3)

أو هو: كلام الله المنزل على الأنبياء والمرسلين صلوات الله وسلامه عليهم. (4)

وقد عرفه الإمام محمد عبده بقوله:

«عرفان يجده الشخص من نفسه مع اليقين بأنه من الله تعالى بواسطة أو

--------------------------------------------

(1) القصص: 7.

(2) الأنعام: 121.

(3) مورد الظمآن إلى علوم القرآن: ص 10.

(4) أنوار البيان فى علوم القرآن ص 34.
আমরা এই অর্থটির প্রতিফলন দেখতে পাই 'উম্মে মুসা'-এর আচরণের মধ্যে, যা পবিত্র কুরআন আমাদের বর্ণনা করে: "আর আমি মুসার জননীকে ওহি পাঠালাম যে, তাকে স্তন্যদান করো। অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও বিমর্ষ হয়ো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসুলগণের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত করব।" (১)।

৩ - কুমন্ত্রণা হিসেবে, আর তা শয়তানের চিন্তাপ্রসূত কুমন্ত্রণা থেকে ঘটে থাকে, যার সম্পর্কে পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে এই বলে:

"আর শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি অবশ্যই ওহি পাঠায় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে।" (২)।

ওহির এই তিনটি অর্থ পবিত্র কুরআন 'ওহি' শব্দের সাধারণ ভাষাগত নির্দেশনার দিক থেকে আলোচনা করেছে, পারিভাষিক বা কারিগরি নির্দেশনার দিক থেকে নয়, যা শরয়ি অর্থে ওহিকে নির্দেশ করে।

ওহি: শরয়ি পরিভাষায়:

এটা জানা আবশ্যক যে, যেকোনো পারিভাষিক বা শরয়ি অর্থ অবশ্যই ভাষাগত অর্থ থেকে অথবা কোনো শব্দের একাধিক ভাষাগত অর্থ থাকলে তার মধ্য থেকে কোনো একটি অর্থ থেকে গৃহীত হতে হবে।

আর শব্দের ভাষাগত অর্থকে উপেক্ষা করা হলে পারিভাষিক বা শরয়ি অর্থ গ্রহণযোগ্য (معتبراً) হবে না। এখান থেকেই বলা যায় যে:

ওহি হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাঁকে তিনি মনোনীত করেছেন, ওহির পন্থাসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটির মাধ্যমে তাঁর সাথে কথা বলা। (৩)

অথবা এটি হলো: নবি ও রাসুলগণের (المرسلين) ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম, তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। (৪)

ইমাম মুহাম্মদ আবদুহু একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন:

«এটি হলো এমন এক জ্ঞান যা কোনো ব্যক্তি নিজের মধ্যে অনুভব করেন এবং সাথে সাথে এই দৃঢ় নিশ্চয়তা (اليقين) পোষণ করেন যে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মাধ্যম বা...

--------------------------------------------

(১) আল-কাসাস: ৭।

(২) আল-আনআম: ১২১।

(৩) মাওরিদুয যামআন ইলা উলূমিল কুরআন: পৃষ্ঠা ১০।

(৪) আনওয়ারুল বায়ান ফি উলূমিল কুরআন: পৃষ্ঠা ৩৪।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
بغير واسطة» (1).

ومن هذه التعاريف يفهم أن للوحى الشرعى قيودا، وضوابط يخصصه عن الإطلاق اللغوى العام، وأهم هذه الضوابط هى:

أ- له مصدر أساسى، أوحد: وهو الله تعالى (الموحى).

ب- له مستقبل مختار بعناية الله: لا يملك التنصل عن مهمة الاستقبال والتبليغ: وهو الرسول المختار (الموحى إليه).

ج- له نصّ خاص يراد إبلاغه وبيانه للناس (موحى به).

د- له كيفية خاصة تربط المصدر بالمستقبل وهذه الكيفية هى الواسطة بين المصدر، والمستقبل (وهى صور الوحى).

 

‌‌مطلب: فى صور الوحى

للوحى صور متعددة يأتى فيها وهى:

 

‌‌(1) النّفث فى روع النبى، أو إلقاء الإلهام فى قلبه على صورة غير مشكوك فيها أنها من عند الله.

وهذه الصورة تتم بطريقتين:

الأولى: بالإلهام.

ودليلها: قوله صلى الله عليه وسلم: «إن روح القدس نفث فى روعى أن نفسا لن تموت حتى تستوفى رزقها، ألا فاتقوا الله، وأجملوا فى الطلب» (2).

والثانية: بالرؤيا فى المنام.

ودليلها:

1 - قوله تعالى فى شأن إبراهيم وولده إسماعيل:

--------------------------------------------

(1) الوحى المحمدى للشيخ محمد رشيد رضا: ص 44.

(2) شرح السنة للبغوى 14/ 304 (4112).
মাধ্যম ছাড়া (بغير واسطة)» (১)।

আর এই সংজ্ঞাসমূহ থেকে এটি বোধগম্য হয় যে, শরয়ি ওহির (الوحى الشرعى) জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা ও নীতিমালা রয়েছে, যা একে সাধারণ আভিধানিক অর্থ থেকে বিশেষিত করে। এই নীতিমালার মধ্যে প্রধান হলো:

ক- এর একটি মৌলিক ও একক উৎস রয়েছে: আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ (ওহি প্রেরণকারী - الموحى)।

খ- এর একজন গ্রহণকারী রয়েছেন যিনি আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে মনোনীত: ওহি গ্রহণ ও তা প্রচারের দায়িত্ব থেকে পিছু হটার কোনো অধিকার তাঁর নেই। আর তিনি হলেন মনোনীত রসূল (যাঁর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয় - الموحى إليه)।

গ- এর একটি সুনির্দিষ্ট পাঠ বা বিষয়বস্তু রয়েছে যা মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং ব্যাখ্যা করা উদ্দিষ্ট (যা ওহি হিসেবে অবতীর্ণ - موحى به)।

ঘ- এর একটি বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে যা উৎসের সাথে গ্রহণকারীকে সংযুক্ত করে; আর এই পদ্ধতিটিই হলো উৎস ও গ্রহণকারীর মধ্যবর্তী মাধ্যম (যা ওহির বিভিন্ন রূপ - صور الوحى)।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ওহির বিভিন্ন রূপ প্রসঙ্গে

ওহি বিভিন্ন রূপে অবতীর্ণ হয়, সেগুলো হলো:

 

‌‌(১) নবীর হৃদয়ে ফুঁকে দেওয়া, অথবা তাঁর অন্তরে ইলহাম (إلهام) ঢেলে দেওয়া এমন এক পদ্ধতিতে যাতে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

এই রূপটি দুইভাবে সম্পন্ন হয়:

প্রথমটি: ইলহামের (إلهام) মাধ্যমে।

এর দলীল (دليل): রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «নিশ্চয়ই রূহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) আমার হৃদয়ে এই কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণই তার জন্য নির্ধারিত রিযিক পূর্ণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো» (২)।

এবং দ্বিতীয়টি: ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের (رؤيا) মাধ্যমে।

এর দলীল (دليل):

১ - ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী:

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদা রচিত আল-ওয়াহি আল-মুহাম্মদি: পৃষ্ঠা ৪৪।

(২) বাগাওয়ী কৃত শারহুস সুন্নাহ ১৪/ ৩০৪ (৪১১২)।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
يا بُنَيَّ إِنِّي أَرى فِي الْمَنامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ ماذا تَرى (1).

2 - ما أخرجه البخارى عن عائشة رضى الله عنها قالت:

«أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى: الرؤيا الصالحة فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح» (2).

 

‌‌(2) تكليم الله تعالى لنبيّه من وراء حجاب.

وصورتها: أن يسمع الموحى إليه الصوت، ولا يبصر المتكلم لتنزه البارى جل جلاله عنه.

ودليل هذه الصورة: قوله تعالى فى شأن «موسى» عليه السلام:

وَهَلْ أَتاكَ حَدِيثُ مُوسى. إِذْ رَأى ناراً فَقالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ ناراً لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْها بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدىً. فَلَمَّا أَتاها نُودِيَ يا مُوسى. إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوادِ الْمُقَدَّسِ طُوىً،. وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِما يُوحى. إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لا إِلهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي (3).

 

‌‌(3) ملك يخصص بالوحى:

فيأتى إلى النبى صلى الله عليه وسلم على واحد من الصور الآتية:

الأولى: صوت كصوت الجرس، أو كدوى النحل، أو كخفق أجنحة الملك يتقدم بإلقاء القول الثقيل على قلبه، ويكون تقدمه من أجل أن يفرغ سمعه للوحى فلا يبقى فيه مكانا لغيره.

 

‌‌ودليله: قول عبد الله بن عمر رضى الله عنهما:

«سألت النبى صلى الله عليه وسلم: هل تحس بالوحى؟، فقال: أسمع صلاصل، ثم

--------------------------------------------

(1) الصافات: 102.

(2) صحيح البخارى بشرح السندى 1/ 6.

(3) طه: 9 - 14.
"হে বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী দেখো" (১)।

২ - ইমাম বুখারি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ওহী (وحي) শুরুর প্রথম পর্যায় ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة)। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা প্রভাতের আলোর ন্যায় পরিস্ফুটিত হতো» (২)।

 

‌‌(২) পর্দার অন্তরাল থেকে মহান আল্লাহর তাঁর নবীর সাথে কথা বলা।

এর স্বরূপ হলো: ওহীপ্রাপ্ত (الموحى إليه) ব্যক্তি শব্দ শুনতে পান, কিন্তু বক্তাকে দেখতে পান না; যেহেতু মহান সৃষ্টিকর্তা এর (সচক্ষু দর্শনের) ঊর্ধ্বে।

এই পদ্ধতির দলিল হলো মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী:

তোমার কাছে কি মুসার সংবাদ পৌঁছেছে? যখন সে আগুন দেখল এবং তার পরিবারকে বলল, 'তোমরা অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য সেখান থেকে কিছু আঙার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের কাছে কোনো পথপ্রদর্শক পাব।' অতঃপর যখন সে আগুনের কাছে এল, তাকে সম্বোধন করে বলা হলো, 'হে মুসা! আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তোমার জুতো খুলে ফেলো, তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি; সুতরাং যা ওহী (يوحى) পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো' (৩)।

 

‌‌(৩) ওহীর (وحي) জন্য নির্ধারিত ফেরেশতা:

তিনি নবী (সা.)-এর নিকট নিচের পদ্ধতিগুলোর কোনো একটিতে আসতেন:

প্রথমটি: ঘণ্টার শব্দের মতো শব্দ, অথবা মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ, অথবা ফেরেশতার ডানা ঝাপটানোর শব্দের মতো, যা তাঁর হৃদয়ে গুরুগম্ভীর বাণী পৌঁছে দেওয়ার আগে হতো। আর এই শব্দের আগমন ঘটত তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয়কে ওহীর (وحي) জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে, যাতে সেখানে অন্য কোনো কিছুর অবকাশ না থাকে।

 

‌‌এর দলিল হলো আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর উক্তি:

«আমি নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি ওহী (وحي) অনুভব করেন? তিনি বললেন: আমি ঝনঝনানি শব্দ শুনতে পাই, তারপর...

--------------------------------------------

(১) আস-সাফফাত: ১০২।

(২) সিন্দি কর্তৃক ব্যাখ্যাসহ সহীহ বুখারী, ১/৬।

(৩) তাহা: ৯ - ১৪।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
أسكت، وعند ذلك: فما من مرة يوحى إلىّ إلا ظننت أن نفسى تقبض (1).

وهذه أشد حالات الوحى قوة، كما ورد فى صحيح البخارى عن عائشة رضى الله عنها قالت:

«سأل الحارث بن هشام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، كيف يأتيك الوحى؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحيانا يأتينى مثل صلصلة الجرس وهو أشدّه علىّ فيفصم عنى، وقد وعيت عنه» (2).

الثانية: يأتيه ملك الوحى على صورته الحقيقية التى خلقه الله تعالى عليها بأجنحته الوفيرة ودليله:

1 - حديث عائشة رضى الله عنها فى رؤيته صلى الله عليه وسلم لجبريل.

قال صلى الله عليه وسلم: «رأيته منهبطا من السماء سادا عظم خلقه ما بين السماء إلى الأرض» (3).

2 - حديث زرّ بن حبيش عن عبد الله بن مسعود، قال:

«لقد رأى من آيات ربه الكبرى، قال: رأى جبريل فى صورته له ستّمائة جناح» (4).

الثالثة: يأتيه ملك الوحى على صورة «رجل» مجهول حسن الصورة لا يعرفه أحد ودليله:

 

‌‌حديث عمر رضى الله عنه؛ قال:

بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثّياب. شديد سواد الشّعر. لا يرى عليه أثر السّفر. ولا يعرفه منّا أحد. حتّى

--------------------------------------------

(1) مسند الإمام أحمد 2/ 222.

(2) صحيح البخارى بحاشية السندى 1/ 6.

(3) صحيح مسلّم 1/ 159 (287)

(4) صحيح البخارى، تفسير سورة النجم 3/ 193.
আমি নীরব হয়ে যেতাম, এবং সেই সময়ে: এমন কোনো বার ওহি নাযিল হয়নি যখন আমার মনে হয়নি যে আমার জান কবজ হয়ে যাচ্ছে (১)।

আর এটি ওহি অবতরণের সবচেয়ে তীব্র অবস্থা ছিল, যেমনটি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়ে সহিহ বুখারিতে এসেছে, তিনি বলেন:

«হারিস ইবনে হিশাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে ওহি কীভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: কখনো তা আমার কাছে ঘণ্টার আওয়াজের মতো আসে, আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টকর হয়, এরপর যখন তা শেষ হয় তখন আমি যা বলা হয়েছে তা আত্মস্থ করে ফেলি» (২)।

দ্বিতীয়: ওহির ফেরেশতা তাঁর কাছে সেই আসল আকৃতিতে আসতেন যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে অসংখ্য ডানা বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন এবং এর প্রমাণ হলো:

১ - জিবরাঈলকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখার বিষয়ে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আমি তাঁকে আকাশ থেকে নামতে দেখেছি, তাঁর বিশাল দেহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দিয়েছিল» (৩)।

২ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যিরর ইবনে হুবাইশ-এর হাদিস, তিনি বলেন:

«নিশ্চয়ই তিনি তাঁর প্রতিপালকের মহান নিদর্শনসমূহ দেখেছিলেন; তিনি বলেন: তিনি জিবরাঈলকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শ ডানা ছিল» (৪)।

তৃতীয়: ওহির ফেরেশতা একজন অপরিচিত ও সুশ্রী 'মানুষের' বেশে আসতেন যাঁকে কেউ চিনত না এবং এর প্রমাণ হলো:

 

‌‌উমর (রা.)-এর হাদিস; তিনি বলেন:

একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থাকাবস্থায় হঠাৎ আমাদের সামনে অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক উপস্থিত হলেন। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনতও না। এমনকি...

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ ইমাম আহমদ ২/ ২২২।

(২) সহিহ বুখারি হাশিয়াতুস সিন্দী ১/ ৬।

(৩) সহিহ মুসলিম ১/ ১৫৯ (২৮৭)

(৪) সহিহ বুখারি, তাফসির সূরা আন-নাজম ৩/ ১৯৩।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
جلس إلى النّبىّ صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفّيه على فخذيه. وقال:

يا محمّد! أخبرنى عن الإسلام. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأنّ محمّدا رسول الله. وتقيم الصّلاة. وتؤتى الزّكاة. وتصوم رمضان. وتحجّ البيت، إن استطعت إليه سبيلا» قال: صدقت. قال فعجبنا له.

يسأله ويصدّقه. قال: فأخبرنى عن الإيمان، قال «أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر. وتؤمن بالقدر خيره وشرّه» قال: صدقت، قال:

فأخبرنى عن الإحسان، قال «أن تعبد الله كأنّك تراه. فإن لم تكن تراه، فإنّه يراك». قال: فأخبرنى عن السّاعة. قال «ما المسئول عنها بأعلم من السّائل» قال: فأخبرنى عن أمارتها. قال: «أن تلد الأمة ربّتها. وأن ترى الحفاة العراة، العالة، رعاء الشاة، يتطاولون فى البنيان». قال: ثمّ انطلق فلبثت مليّا، ثم قال لى «يا عمر! أتدري من السّائل؟» قلت: الله ورسوله أعلم، قال «فإنّه جبريل. أتاكم يعلّمكم دينكم».

الرابعة: يأتيه ملك الوحى، على صورة رجل معين من العرب كان حسن الصورة والهيئة اسمه «دحية الكلبى». أما الرسول صلى الله عليه وسلم، فيعرف أنه جبريل عليه السلام، ويذكر ذلك لأصحابه بعد أن ينصرف جبريل عليه السلام. (1).

ودليله قوله تعالى:

وَلَوْ جَعَلْناهُ مَلَكاً لَجَعَلْناهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنا عَلَيْهِمْ ما يَلْبِسُونَ. (2).

 

‌‌وجميع صور الوحى مجملة كلها فى قوله تعالى:

وَما كانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْياً أَوْ مِنْ وَراءِ حِجابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ ما يَشاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ (3).

--------------------------------------------

(1) تفسير البغوى 2/ 86

(2) الأنعام: 9.

(3) الشورى: 51.
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে বসলেন এবং তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু মিলালেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর উরুর ওপর রাখলেন। এরপর বললেন:

হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “ইসলাম হলো—তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করবে; জাকাত প্রদান করবে; রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করবে।” তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম—

তিনি নিজেই তাঁর কাছে জানতে চাচ্ছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: তবে আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, “তা হলো—তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং ভালো-মন্দ তকদিরের (القدر) ওপর বিশ্বাস রাখবে।” তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন:

তবে আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, “তা হলো—তুমি আল্লাহর এমনভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন।” তিনি বললেন: তবে আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, “যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।” তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, “তা হলো—দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখতে পাবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, নিঃস্ব মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।” বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন আর আমি দীর্ঘ সময় অবস্থান করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, “হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?” আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, “তিনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।”

চতুর্থত: ওহির (وحي) ফেরেশতা জনৈক আরবের আকৃতিতে তাঁর কাছে আসতেন, যিনি অত্যন্ত সুশ্রী ও সুঠাম অবয়বের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল ‘দাহইয়াতুল কালবী’। তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানতেন যে তিনি জিবরীল (আলাইহিস সালাম), এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম) প্রস্থান করার পর তিনি তাঁর সাহাবীদের বিষয়টি জানাতেন। (১)।

এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:

“আমি যদি তাকে ফেরেশতা করতাম তবে তাকে পুরুষ মানুষের রূপেই পাঠাতাম এবং তারা যে সংশয়ে লিপ্ত রয়েছে, আমিও তাদের সেই সংশয়েই লিপ্ত রাখতাম।” (২)।

 

‌ওহির (وحي) সকল প্রকারের সারকথা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে নিহিত:

“কোনো মানুষের জন্য এটা সম্ভব নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি (وحي) ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ব্যতীত কিংবা এমন কোনো দূত পাঠানো ব্যতীত যে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহি (وحي) হিসেবে পৌঁছাবে; নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।” (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে বাগভী ২/ ৮৬

(২) আল-আনআম: ৯।

(৩) আশ-শূরা: ৫১।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ويلاحظ من التدبر والنظر فى ظاهرة الوحى أنّ لها الخصائص التالية:

الأولى: أنها قوة خارجية، ليست ذاتية فى نفس النبى الذى يوحى إليه.

الثانية: أنها قوة خيّرة معصومة، مهمتها الإرشاد إلى الخير، ومعصومة من الخلل والزلل فى توجيه الأوامر والنواهى، والسلوكيات العامة والخاصة.

الثالثة: أنها قوة عالمة، تمد النبىّ بعلم مكنون لم يكن له به معرفة سابقة.

الرابعة: أنها حالة اختيارية.

الخامسة: أنها أمر عارض غير عادى (1).

ولما كنّا قد استخلصنا من تعريف الوحى بالمعنى الشرعى الخاص، والمقيد بالإطلاق اللغوى بمفهومه العام قيودا، وضوابط هى:

(1) الموحى: وهو الله تعالى شأنه.

(2) الموحى به: وهو الكلام المنزل.

(3) المرسل بالوحى: وهو الملك.

(4) المستقبل للوحى: وهو الرسول المختار.

لذلك فإن كلمة «الوحى» قد تطلق على أغلب هذه الضوابط.

فقد يسمى الملك المرسل، وحيا.

وقد يسمى الكلام الموحى به- القرآن، والحديث النبوى، والحديث القدسى- وحيا.

* ويلاحظ- كذلك- أن الوحى كان ينزل بأوامر الله تعالى، ونواهيه، كما ينزل بالأخبار وقصص الأولين، كما ينزل فاصلا لمنازعات وقتية، ومشاحنات عارضة.

--------------------------------------------

(1) مورد الظمآن فى علوم القرآن ص 17.
ওহির প্রপঞ্চ নিয়ে চিন্তা ও গভীর অনুধাবন করলে লক্ষ্য করা যায় যে, এর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে:

প্রথমত: এটি একটি বাহ্যিক শক্তি, ওহিপ্রাপ্ত নবীর নিজের সত্তা থেকে উদ্ভূত কোনো বিষয় নয়।

দ্বিতীয়ত: এটি একটি কল্যাণময় ও নিষ্পাপ (معصومة) শক্তি; যার কাজ হলো কল্যাণের দিকে পথনির্দেশ করা এবং আদেশ-নিষেধ প্রদান ও সাধারণ ও বিশেষ আচরণের ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি থেকে সুরক্ষিত (معصومة) থাকা।

তৃতীয়ত: এটি একটি জ্ঞানময় শক্তি, যা নবীকে এমন গুপ্ত জ্ঞান প্রদান করে যার সম্পর্কে ইতিপূর্বে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না।

চতুর্থত: এটি একটি ঐচ্ছিক অবস্থা।

পঞ্চমত: এটি একটি বিশেষ বা অস্বাভাবিক বিষয় (১)।

যেহেতু আমরা ওহির বিশেষ শরিয়তসম্মত সংজ্ঞা এবং এর সাধারণ ভাষাগত অর্থ থেকে কিছু শর্ত ও মানদণ্ড আহরণ করেছি, আর সেগুলো হলো:

(১) ওহি প্রদানকারী (الموحى): তিনি স্বয়ং মহান আল্লাহ।

(২) ওহিকৃত বিষয় (الموحى به): তা হলো অবতীর্ণ কালাম (কথা)।

(৩) ওহিবাহক (المرسل بالوحى): তিনি হলেন ফেরেশতা।

(৪) ওহি গ্রহণকারী (المستقبل للوحى): তিনি হলেন মনোনীত রাসুল।

এ কারণে, 'ওহি' শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মানদণ্ডগুলোর ওপর প্রযুক্ত হতে পারে।

কখনো ওহিবাহক ফেরেশতাকেও ওহি বলা হয়।

আবার ওহিকৃত বিষয়কেও—যেমন কুরআন, হাদিসে নববি এবং হাদিসে কুদসি—ওহি বলা হয়।

* এছাড়া লক্ষ্য করা যায় যে, ওহি মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ নিয়ে অবতীর্ণ হতো, যেমনটি অবতীর্ণ হতো পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও কাহিনী নিয়ে এবং সাময়িক বিবাদ ও আকস্মিক ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসাকারী হিসেবে।

--------------------------------------------

(১) মাওরিদুয যামআন ফি উলুমিল কুরআন, পৃ. ১৭।
(খণ্ড: ১) মাদখাল ইলাত তাফসীর ওয়া উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهى فى كل هذه الأمور لا بدّ أن يوقف الوحى الرّسول الموحى إليه على القول الموحى به من حيث إثباته فى السطور وتدوينه وحفظه فى الصدور، أم لا.

ويوقفه على ما ينبغى معرفته إن كان آية يجب إثباتها على أنها من كلام الله تعالى أم أنها خبر للفصل فى قضية أو منازعة.

كما نلاحظ- أيضا- الفرق بين الوحى الّذي هو شخص الملك، والوحى الذى هو إلهام، والوحى الذى هو رؤيا فى المنام.

فما كان متعلقا بكلام الله تعالى لفظا ومعنى، ونصّا فإن الوحى «الملك» ينزل به شخصيا، ويوقف عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم على أنه كلام الله تعالى نصا، كما يعلمه موقع الآية، أو الآيات من السورة الواحدة.

وما ليس من كلام الله تعالى نصا، ولكنه من كلامه معنى، فإن الوحى فى هذه الصورة يمكن أن يكون بطريق الإلهام، أو الرؤيا، كما يمكن أن يكون بطريق الملك نفسه غير أن الملك يخبر الرسول على أنه ليس من كلام الله نصا.

 

‌‌مطلب فى: أنواع الوحى وخصائصه:

ولذلك يمكن لنا أن نقسم «الوحى» تقسيما «اجتهاديا» وذلك على ضوء الملاحظات المتكررة فى مبحث «الوحى» إلى حالتين اثنتين «نختصهما بالوحى المنزل على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم» وهما:

(1) وحى جلىّ: وهو القرآن الكريم، كلام الله عز وجل (لفظا ومعنى).

ويقال فيه: وحى مسطور، أو وحى مسجل فى اللوح المحفوظ، خص «جبريل» من بين الملائكة (غالبا) بإنزاله على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم مفرقا على مدار سنوات الدعوة التى بلغت ثلاثا وعشرين سنة.

كما نزل بالكتب على سائر الأنبياء من قبله صلوات الله عليهم جميعا.
وهী (وحى) এর এই সব বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য যে, ওহী (وحى) প্রাপ্ত রাসূলকে ওহীর বাণীর বিষয়ে অবহিত করা হবে যে, তা কাগজে লিপিবদ্ধ করা এবং অন্তরে মুখস্থ করে সংরক্ষণ করা হবে কি না।

এবং তাকে তা জানানোর প্রয়োজন হয় যে, বিষয়টি কি কোনো আয়াত (آية) যা মহান আল্লাহর বাণী হিসেবে সাব্যস্ত করা আবশ্যক, নাকি এটি কোনো বিরোধ বা সমস্যার মীমাংসার জন্য কোনো সংবাদ (خبر)।

তেমনিভাবে আমরা ওহী (وحى) এর ক্ষেত্রে—যা ফেরেশতার (ملك) মাধ্যমে আগত, যা ইলহাম (إلهام) বা অন্তরের অনুপ্রেরণা স্বরূপ এবং যা ঘুমের ঘোরে প্রাপ্ত স্বপ্ন (رؤيا)—এসবের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করি।

অতএব, যা শব্দ ও অর্থে এবং মূল পাঠে (نص) মহান আল্লাহর বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট, ওহী-বাহক ফেরেশতা (ملك) ব্যক্তিগতভাবে তা নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করেন যে এটি সরাসরি মহান আল্লাহর বাণী। সেই সাথে তিনি তাকে সূরার মধ্যে উক্ত আয়াত (آية) বা আয়াতসমূহের অবস্থানও শিখিয়ে দেন।

আর যা সরাসরি মহান আল্লাহর শব্দগত বাণী (نص) নয়, বরং অর্থগতভাবে তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, এই প্রকারের ওহী (وحى) ইলহাম (إلهام) অথবা স্বপ্নের (رؤيا) মাধ্যমে হতে পারে। আবার তা সরাসরি ফেরেশতার (ملك) মাধ্যমেও হওয়া সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে ফেরেশতা রাসূলকে অবহিত করেন যে এটি সরাসরি আল্লাহর বাণী (نص) নয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ওহীর প্রকারভেদ ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এই কারণে ওহী (وحى) সংক্রান্ত বিষয়ের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের আলোকে আমরা ওহী (وحى)-কে একটি গবেষণামূলক (اجتهادي) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুটি অবস্থায় বিভক্ত করতে পারি (যা আমরা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ ওহীর সাথে নির্দিষ্ট করছি); সেগুলো হলো:

(১) সুস্পষ্ট ওহী (وحى جلىّ): আর তা হলো আল-কুরআনুল কারীম, যা শব্দ ও অর্থে মহান আল্লাহর বাণী।

একে লিপিবদ্ধ ওহী (وحى مسطور) বা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ওহী-ও বলা হয়। ফেরেশতাদের মধ্য থেকে (প্রধানত) জিবরাঈলকে এটি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতীর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, যা তেইশ বছরের দীর্ঘ দাওয়াতি জীবনে পর্যায়ক্রমে নাজিল হয়েছে।

যেমনিভাবে তাঁর পূর্ববর্তী সকল নবীদের ওপর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছিল, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।