(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: -)
صفة النفاق ونعت المنافقين لأبي نعيم   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: صفة النفاق ونعت المنافقين لأبي نعيم

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ)

تقديم وتحقيق: الدكتور عامر حسن صبري

الناشر: البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 191

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু নুআইম লিখিত মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য ও মুনাফেকদের বর্ণনা   (আবু নুআইম আল-আসবাহানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু নুআইম লিখিত মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য ও মুনাফেকদের বর্ণনা

লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)

উপস্থাপনা ও তাহকিক: ডক্টর আমের হাসান সাবরি

প্রকাশক: আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣١)
صِفَةُ النِّفَاقِ وَنَعْتُ الْمُنَافِقِينَ

 

فَإِنِّي لَما رأيت الناس وَكثير منهم استخفوا بالاحتراز من النفاق، وَاستهانوا بأن عرفوا. . . . . بأخلاق المنافقين، وَاستحسنوها وَاستجازوا المداهنة، وَتألفوها. . . . .، وَالمراوغة وَالمخادعة وَاعتقدوها، أحببت أن أجمع ما يحضرني حفظه. . . . . من الآيات الواردة عَنِ اللَّه تعالى، في كتابه في ذم ذلك.
নিফাকের বৈশিষ্ট্য ও মুনাফিকদের বিবরণ

 

নিশ্চয়ই আমি যখন দেখলাম যে, মানুষ—যাদের মধ্যে অনেকেই নিফাক থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টিকে তুচ্ছ জ্ঞান করছে এবং মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে পরিচিত হওয়াকে . . . . . নগণ্য মনে করছে, সেগুলোকে উত্তম ভাবছে, তোষামোদ বা চাটুকারিতাকে বৈধ মনে করছে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে . . . . . , এবং কূটকৌশল ও প্রতারণাকে নিজেদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে; তখন আমি পছন্দ করলাম যে, মহান আল্লাহর কিতাবে এই বিষয়ের নিন্দায় অবতীর্ণ হওয়া যে সকল আয়াত আমার স্মরণে আছে . . . . . সেগুলো একত্রিত করি।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
. . . . . . صلى الله عليه وسلم، في ذم ذلك. . . . . اللَّه تبارك وتعالى لمن نظر فيها وَتدبرها. . . . . . . . من مداهنة وَمخادعة. . . . . مذمومة. . . . . . نفاق. . . . . . هو الذي يخرج منه كثيرا، وَيدخل فيه كثيرا، وَيقال بل هو الذي قد أعده للخروج ليتفلت به إِذَا أريد اصطياده، وَذاك أنه يحفره وَيبلغ في حفره، حتى يدع منه مقدار ما يبصر منه الضوء، فإِذَا اضطر إليه فتحه وَخرج منه.

فشبه المنافق به، لأنه يدخل في الإسلام بلفظه من حيث يعلم وَيسمع، وَيخرج منه بعقده وَطويته، من حيث لا يرى وَلا يعلم، كدخول اليربوع من باب يعرف وَيرى وَخروجه من باب لا يعلم وَلا يوقف عليه.

ومما يقرب من ذلك قوله تعالى: {فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَبْتَغِيَ نَفَقًا فِي الأَرْضِ} [الأنعام: 35] ، أي: إن قدرت أن تدخل تحت الأرض من حيث يعلم
. . . . . . সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এর নিন্দায়। . . . . মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য যে এতে দৃষ্টিপাত করে এবং তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে। . . . . . . . . তোষামোদ ও প্রতারণা থেকে। . . . . নিন্দনীয়। . . . . . নিফাক (ভণ্ডামি)। . . . . . এটি এমন যা থেকে সে প্রায়ই বের হয়ে যায় এবং এতে বারবার প্রবেশ করে; আর বলা হয় বরং এটিই সেই পথ যা সে পলায়নের জন্য প্রস্তুত করেছে যাতে যখন তাকে শিকার করার ইচ্ছা করা হবে তখন সে এর মাধ্যমে ছুটে পালিয়ে যেতে পারে; আর তা এই যে, সে এটি খনন করে এবং খননের শেষ সীমা পর্যন্ত যায়, এমনকি সে এর থেকে সেই পরিমাণ অবশিষ্ট রাখে যেখান থেকে সে আলো দেখতে পায়, অতঃপর যখন সে অনন্যোপায় হয় তখন সে তা খুলে ফেলে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

অতঃপর মুনাফিককে (ভণ্ডকে) তার সাথে তুলনা করা হয়েছে, কারণ সে তার মৌখিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করে যা জানা ও শোনা যায়, কিন্তু সে তার অন্তরের বিশ্বাস ও অভ্যন্তরীণ গোপন অভিসন্ধির মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, যা দেখা যায় না এবং জানাও যায় না। এটি ঠিক যেমন ইয়ারবুর (মরু ইঁদুর) একটি সুপরিচিত ও দৃশ্যমান পথ দিয়ে প্রবেশ করা এবং এমন একটি পথ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া যা চেনা যায় না এবং যার সন্ধান পাওয়া যায় না।

আর এরই সমপর্যায়ের হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তুমি সক্ষম হও যমিনের নিচে কোনো সুড়ঙ্গ তালাশ করতে} [আল-আনআম: ৩৫], অর্থাৎ: যদি তুমি যমিনের নিচে এমন স্থান দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হও যা সম্পর্কে জানা যায়...
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
بدخولك، فتخرج من حيث لا يعلم، فافعل، وَهذا تأديب من اللَّه تعالى لنبيه، وَتعجيز له ليتعزى بذلك عن أذية المشركين له.

وَمما يقوي أنه مشتق من نافقاء اليربوع: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّد بْن حيان، قَالَ

 

1 - حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن يعقوب، حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن عثمان، قَالَ: حَدَّثَنَا علي بْن قادم، قَالَ: حَدَّثَنَا مسعر، عن إسماعيل بْن أبي خالد، عن زيد بْن وَهب، عن حذيفة، قَالَ " ما بقي منهم إلا أربعة، أحدهم شيخ كبير لا يجد برد الماء من الكبر، فقال له رجل: فمن هؤلاء الذين ينقبون بيوتنا وَيسرقون علائقنا؟ قَالَ: وَيحك أولئك الفساق ". . . . . . . . . . . وَرواه أَبُو معاوية، عَنِ الأعمش. . . . . . .
তোমার প্রবেশের মাধ্যমে, ফলে তুমি এমন স্থান দিয়ে বের হবে যা সে জানে না, সুতরাং তুমি তা করো; আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর জন্য একটি শিষ্টাচার শিক্ষা এবং তাকে অক্ষমতা জ্ঞাপন, যাতে তিনি এর মাধ্যমে মুশরিকদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের সান্ত্বনা লাভ করতে পারেন।

আর এটি যে 'ইয়ারবু' (মরু-ইঁদুর)-এর সুড়ঙ্গের মুখ (নাফিকা) থেকে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছে, সেই মতটিকে যা শক্তিশালী করে তা হলো: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ বিন হাইয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন কাদিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মিসআর বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন আবু খালিদ থেকে, তিনি যায়দ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তাদের মধ্য থেকে চারজন ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট নেই; তাদের একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, যে বার্ধক্যের কারণে পানির শীতলতাও অনুভব করতে পারে না। তখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল: তাহলে ঐ লোকগুলো কারা যারা আমাদের ঘরগুলো ছিদ্র করে সিঁধ কাটছে এবং আমাদের আসবাবপত্র চুরি করছে? তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক! ওরাই তো ফাসেক।" . . . . . . . . . . . আর এটি আবু মুআবিয়া আল-আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। . . . . . . .
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
2 - حَدَّثَنَا فَارُوقُ بْنُ عَبْدِ الْكَبِيرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ضِرَارُ بْنُ صُرَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ الزَّيَّاتِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَسْمَعَ الْعَوَاتِقَ فِي خُدُورِهِنَّ، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: «يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَخْلُصِ الإِيمَانُ إِلَى قَلْبِهِ،‌‌ لا تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ، وَلا تَتَّبِعُوا عَوَرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعْ عَوْرَةَ أَخِيهِ اتَّبَعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنِ اتَّبَعَ عَوْرَتَهُ فَضَحَهُ فِي جَوْفِ بَيْتِهِ» .

وَفِيهِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَبُرَيْدَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ
২ - ফারুক ইবনে আব্দুল কাবীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনুল ফদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দিরার ইবনে সুরাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসআব ইবনে সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামযাহ ইবনুয যাইয়াত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, এমনকি তিনি অন্তঃপুরবাসিনী পর্দানশীন যুবতীদেরও শোনালেন। অতঃপর তিনি উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: «হে সেই সম্প্রদায় যারা কেবল মুখে ঈমান এনেছ অথচ তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। কেননা যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার গোপন দোষ অনুসন্ধান করবেন, তাকে তার ঘরের অভ্যন্তরেই লাঞ্ছিত করবেন।»

আর এ বিষয়ে আবু বারযাহ, ইবনে উমর, বুরাইদাহ এবং ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
بَابُ تَأْوِيلِ قَوْلِهِ عز وجل: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ} [النساء: 145]

3 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي كَامِلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفُ الأَعْرَابِيُّ، عَنْ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنَّ‌‌ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَصْحَابُ الْمَائِدَةِ، وَآلُ فِرْعَوْنَ، وَالْمُنَافِقُونَ» .

وَرَوَاهُ أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَوْفٍ الأَعْرَابِيِّ، فَقَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ هَوْذَةُ، وَرَفَعَهُ أَبُو أُسَامَةَ
মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আগুনের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে} [আন-নিসা: ১৪৫]-এর ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ

৩ - আবু আলী ইবনুত সাওয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি কামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাওজাহ ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওফ আল-আরাবি আমাদের নিকট আবু মুগিরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই‌‌ কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে দস্তরখানের সাথীদের, ফেরাউনের অনুসারীদের এবং মুনাফিকদের।»

আবু উসামাহ এটি আওফ আল-আরাবি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবু মুগিরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হাওজাহ এটি মারফু করেননি, কিন্তু আবু উসামাহ এটি মারফু করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ حَسَّانِ بْنِ مُحَمَّدٍ الرُّعَيْنِيِّ مِنْ أَهْلِ مِصْرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: ‌‌«أَسْفَلُ أَهْلِ النَّارِ الْمُنَافِقُونَ، الَّذِينَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ»

بَابُ النِّفَاقِ وَمَحَلِّهِ وَصِفَتِهِ

5 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَارُونَ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنً عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو ذَبْحَةَ، عَنْ
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আলী ইবনে আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ, তিনি মিসর নিবাসী হাসসান ইবনে মুহাম্মদ আর-রুআইনী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «জাহান্নামীদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের লোক হলো মুনাফিকরা, যারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন অতল গহ্বরে থাকবে।»

নিফাক (কপটতা), এর স্থান ও এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ক পরিচ্ছেদ

৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারুন ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল জব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাইসাম ইবনে খারিজাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যাবহাহ, তিনি... থেকে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ حَرْمَلَةُ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ أَحَدُ بَنِي حَارِثَةَ، فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، "‌‌ الإِيمَانُ هَاهُنَا، وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى لِسَانِهِ، وَالنِّفَاقُ هَاهُنَا، وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى صَدْرِهِ، وَلا نَذْكُرُ اللَّهَ إِلا قَلِيلا.

فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَرَدَّدَ ذَلِكَ حَرْمَلَةُ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِطَرَفِ لِسَانِ حَرْمَلَةَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ لَهُ لِسَانًا صَادِقًا، وَقَلْبًا شَاكِرًا وَارْزُقْهُ حُبِّي، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّنِي، وَصَيِّرْ أَمْرَهُ إِلَى خَيْرٍ.

فَقَالَ لَهُ حَرْمَلَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي إِخْوَانًا مُنَافِقِينَ، كُنْتُ فِيهِمْ رَأْسًا، أَفَلا أَدُلُّكَ عَلَيْهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ جَاءَنَا كَمَا جِئْتَنَا اسْتَغْفَرْنَا لَهُ كَمَا اسْتَغْفَرْنَا لَكَ، وَمَنْ أَصَرَّ عَلَى ذَلِكَ فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِ، وَلا نَخْرِقُ عَلَى أَحَدٍ سِتْرًا "
আতা ইবনে আবি রাবাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় বনু হারিসার অন্যতম সদস্য হারমালা ইবনে যায়েদ আল-আনসারী তাঁর নিকট আসলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, "ঈমান এখানে—এই বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে নিজের জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন—আর নিফাক (মুনাফিকি) এখানে—এই বলে তিনি তাঁর হাত নিজের বুকের ওপর রাখলেন—এবং আমরা আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করি।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন। হারমালা পুনরায় তা ব্যক্ত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হারমালার জিহ্বার অগ্রভাগ ধরলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, তাকে একটি সত্যবাদী জিহ্বা এবং একটি কৃতজ্ঞ অন্তর দান করুন, তাকে আমার ভালোবাসা এবং যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা রিযিক হিসেবে দান করুন এবং তার সকল বিষয়কে কল্যাণের দিকে চালিত করুন।

অতঃপর হারমালা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কিছু মুনাফিক ভাই আছে, যাদের মধ্যে আমি প্রধান ছিলাম। আমি কি আপনাকে তাদের পরিচয় বলে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: যে ব্যক্তি আমাদের কাছে সেভাবে আসবে যেভাবে তুমি এসেছ, আমরা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব যেমনটি তোমার জন্য করেছি। আর যে ব্যক্তি এর ওপর অটল থাকবে, আল্লাহই তার ব্যাপারে অধিক হকদার; আমরা কারো গোপনীয়তার পর্দা উন্মোচন করব না।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وقد سبق للمنافقين من اللَّه تعالى الذم في غير سورة من القرآن، وَنعتهم بأتم ذم، وَوصفهم بأقبح صفة في أحوالهم كلها، وَذكر سوء مآبهم وَمنقلبهم في الآخرة، وَما يعذبون به من أنواع العذاب، وَسوى بينهم وَبين الكافرين لربوبيته، وَالمشركين بوحدانيته، فنعوذ بالله من قليل النفاق وَكثيره ظاهرًا وَباطنًا، وَقد روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في وَصف النفاق وَالمنافقين في الدنيا وَالآخرة نحو ما وَصفهم اللَّه تعالى به في كتابه.

وأنا ذاكر بعون اللَّه وَتوفيقه ما في القرآن من ذكرهم، وَما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من نعوتهم وَأمارتهم، وَأقدم ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في التعوذ منه، وَالتضرع إليه في الاستعاذ منه، وَالاعتصام به من النفاق، وَمن منكرات الأخلاق.

6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ فُرَاتٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاقَةَ عَنْ عَمِّهِ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ الأَخْلاقِ، وَالأَهْوَاءِ، وَالأَدْوَاءِ»
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই কুরআনের একাধিক সূরাতে মুনাফিকদের নিন্দা করা হয়েছে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ নিন্দায় ভূষিত করা হয়েছে। তাদের সকল অবস্থায় অত্যন্ত কদর্য গুণাবলীতে চিত্রিত করা হয়েছে এবং আখিরাতে তাদের মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল ও পরিণতির কথা এবং তারা যে সকল প্রকার শাস্তির মাধ্যমে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আর তিনি (আল্লাহ) তাঁর রুবুবিয়্যাতের অস্বীকারকারী কাফির এবং তাঁর একত্ববাদের ক্ষেত্রে অংশীদার স্থাপনকারী মুশরিকদের সাথে তাদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন। অতএব, আমরা আল্লাহর কাছে প্রকাশ্য ও গোপন, অল্প কিংবা অধিক সকল প্রকার নিফাক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও দুনিয়া ও আখিরাতে নিফাক ও মুনাফিকদের বর্ণনায় তেমনটি বর্ণিত হয়েছে যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

আমি আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীকে কুরআনে তাদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাদের যে সকল বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শনের কথা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করব। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নিফাক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা, আল্লাহর নিকট এর থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য বিনীত প্রার্থনা এবং নিফাক ও মন্দ চরিত্র থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় গ্রহণের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা আমি প্রথমেই উল্লেখ করব।

৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মাসউদ আহমদ ইবনে ফুরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর ইবনে কিদাম থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে ইলাকা থেকে, তিনি তাঁর চাচা কুতবাহ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: ‌‌«হে আল্লাহ, আমাকে মন্দ চরিত্র, কুপ্রবৃত্তি এবং ব্যাধি থেকে দূরে রাখুন»
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ يَعْنِي شُرَيْحَ بْنَ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الأَخْلاقِ، فَإِنَّهُ لا يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلا أَنْتَ، وَقِنِي سَيِّءَ الأَعْمَالِ وَسَيِّءَ الأَخْلاقِ، فَإِنَّهُ لا يَقِي سَيِّئَهَا إِلا أَنْتَ» .

وَلا أَعْلَمُ رَوَاهُ عَنْ شُعَيْبٍ غَيْرَ أَبِي حَيْوَةَ شُرَيْحِ بْنِ يَزِيدَ

8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ بُنْدَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ،
৭ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমর বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হাইওয়াহ—অর্থাৎ শুরাইহ বিন ইয়াজিদ—তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শুআইব বিন আবি হামযাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির, জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম আমল ও সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পথপ্রদর্শন করুন, কারণ আপনি ব্যতীত আর কেউ এগুলোর সর্বোত্তমটির দিকে পথপ্রদর্শন করতে পারে না। আর আমাকে মন্দ আমল ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা করুন, কারণ আপনি ব্যতীত আর কেউ মন্দ আমল ও চরিত্র থেকে রক্ষা করতে পারে না।»।

শুআইব থেকে আবু হাইওয়াহ শুরাইহ বিন ইয়াজিদ ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।

৮ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন বুন্দার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি আসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমর বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ,
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
حَدَّثَنِي ضُبَارَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السُّلَيْكِ الأَلْهَانِيُّ، عَنْ دُوَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ النِّفَاقِ، وَسُوءِ الأَخْلاقِ»

قَالَ اللَّه تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ
فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ {166} وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالا لاتَّبَعْنَاكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلإِيمَانِ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ} [آل عمران: 166-167] .

ومن ذلك قولهم: {لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ} [المنافقون: 8] .

9 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ،
যুবাহরাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবুস সুলাইক আল-আলহানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি দুওয়াইদ ইবনু নাফি থেকে, তিনি বলেন: আবু সালিহ আস-সাম্মান বলেছেন যে আবু হুরাইরাহ বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলে দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট নিফাক (মুনাফেকী) এবং মন্দ চরিত্র থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যেদিন দুই দল পরস্পর সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় এসেছিল তা
আল্লাহরই অনুমতিক্রমে এবং যাতে তিনি মুমিনদেরকে জেনে নেন {১৬৬} আর যাতে তিনি তাদেরকেও জেনে নেন যারা মুনাফেকী করেছিল এবং যাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘এসো, আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা প্রতিরোধ করো।’ তারা বলেছিল, ‘যদি আমরা যুদ্ধ (হবে বলে) জানতাম, তবে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম।’ সেদিন তারা ঈমানের তুলনায় কুফরীরই অধিক নিকটবর্তী ছিল। তারা তাদের মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আর তারা যা গোপন করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।} [আল ইমরান: ১৬৬-১৬৭] ।

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের এই উক্তি: {আমরা যদি মদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে অধিক সম্মানীরা হীনদেরকে বহিষ্কার করবে।} [আল-মুনাফিকুন: ৮] ।

৯ - সুলাইমান ইবনু আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু আবু মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤١)
قَالَ: حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنِ الأَغَرِّ بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ:‌‌ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ، فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: " {لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ} [المنافقون: 8] .

فَأَتَيْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ، فَحَلَفَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ بِاللَّهِ مَا تَكَلَّمَ بِهَذَا، فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا أَخْبَرَنِيهِ الْغُلامُ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، فَجَاءَ سَعْدٌ، فَأَخَذَ بِيَدِي فَانْطَلَقَ بِي، فَقَالَ: هَذَا حَدَّثَنِي، قَالَ: فَانْتَهَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَكَيْتُ، وَقُلْتُ: إِي وَالَّذِي أَنْزَلَ النُّبُوَّةَ عَلَيْكَ لَقَدْ قَالَهُ، وَانْصَرَفَ عَنْهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ} [المنافقون: 1] إِلَى آخِرِ السُّورَةِ ".

وَرَوَاهُ شَبَابَةُ، وَحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، وَبَكْرُ بْنُ بَكَّارٍ، كُلُّهُمْ عَنْ قَيْسٍ مِثْلَهُ
তিনি বলেন: আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কায়েস ইবনুর রাবী' আল-আগারর ইবনুস সাব্বাহ থেকে, তিনি খলিফা ইবনু হুসাইন থেকে, তিনি যায়েদ ইবনু আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর সাথে সেখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন বলল: আবদুল্লাহ ইবনু উবাই: "{যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই অধিকতর সম্মানীরা সেখান থেকে হীনবলদের বহিষ্কার করবে।}" [সূরা আল-মুনাফিকুন: ৮]।

অতঃপর আমি সা'দ ইবনু উবাদার নিকট এসে তাঁকে এ সংবাদ জানালাম। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের নিকট লোক পাঠালেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আল্লাহর নামে তাঁর নিকট শপথ করে বলল যে, সে এ কথা বলেনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ ইবনু উবাদার দিকে তাকালেন। সা'দ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিশোর যায়েদ ইবনু আরকামই আমাকে এ সংবাদ দিয়েছে। এরপর সা'দ আসলেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন: এই আমাকে সংবাদটি দিয়েছে। যায়েদ বলেন: তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে ধমক দিল। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং কেঁদে ফেললাম। আমি বললাম: হ্যাঁ, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনার উপর নবুওয়াত নাযিল করেছেন, সে অবশ্যই এটি বলেছে। অতঃপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে বিমুখ হলেন। তখন মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: "{যখন আপনার নিকট মুনাফিকরা আসে}" [সূরা আল-মুনাফিকুন: ১] সূরার শেষ পর্যন্ত।

শাবাবাহ, হাসান ইবনু আতিয়্যাহ এবং বাকর ইবনু বাক্কার—তাঁরা সকলেই কায়েস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٢)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ:‌‌ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: {لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ} [المنافقون: 8] ، قَالَ: فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: فَحَلَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ.

قَالَ: فَلامَنِي قَوْمِي، فَقَالُوا: مَا أَرَدْتَ إِلَى هَذَا.

قَالَ: فَانْطَلَقْتُ، فَنِمْتُ كَئِيبًا حَزِينًا، قَالَ: فَأَرَسَلَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَنْزَلَ عُذْرَكَ وَصِدْقَكَ، قَالَ: فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةَ: {هُمُ الَّذِينَ يَقُولُونَ لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا} [المنافقون: 7] الآية.
১০ - আমাদের নিকট আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বা বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন কাব আল-কুরাযী থেকে, তিনি যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

(হা) এবং আমাদের নিকট আবু আমর ইবন হামদান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ ইবন মুয়ায বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু’বা বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন কাব আল-কুরাযী থেকে, তিনি যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধে ছিলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই বলল: {যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে শক্তিশালী ব্যক্তিরা দুর্বলদের বহিষ্কার করবে} [আল-মুনাফিকুন: ৮]। তিনি বলেন: তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বলেন: তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই শপথ করে বলল যে, সে এর কিছুই বলেনি।

তিনি বলেন: এতে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে তিরস্কার করল এবং তারা বলল: তুমি কেন এমনটি করতে গেলে?

তিনি বলেন: তখন আমি চলে গেলাম এবং অত্যন্ত বিষণ্ণ ও চিন্তিত মনে ঘুমিয়ে পড়লাম। তিনি বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট লোক পাঠালেন অথবা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা ও সত্যবাদিতা অবতীর্ণ করেছেন। তিনি বলেন: তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {তারাই তারা, যারা বলে: যারা আল্লাহর রাসূলের নিকট আছে তাদের জন্য তোমরা ব্যয় করো না যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে} [আল-মুনাফিকুন: ৭] শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٣)
لَفْظُ أَحْمَدَ، عَنْ غُنْدَرٍ.

11 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالا: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْعَبَّاسِ، فَقَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، نَحْوَهُ

أَبُو حمزة اسمه طلحة بْن يزيد.

وحديث شعبة، عن عمرو بْن مرة، تفرد به عنه عبيد اللَّه بْن معاذ، عن أبيه.
আহমাদের শব্দে, গুন্দার থেকে।

১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল।

(হা) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন সুফিয়ান, তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুয়ায, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ।

(হা) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়ায বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, শু'বাহ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবু হামযাহ থেকে, তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে, অনুরূপ (বর্ণনা করেছেন)।

আবু হামযাহ, তাঁর নাম তালহা বিন ইয়াযিদ।

আর আমর বিন মুররাহ থেকে শু'বাহ-এর হাদিসটি বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ বিন মুয়ায তাঁর পিতার সূত্রে একক হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٤)
12 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ.

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ "‌‌ لَمَّا قَالَ ابْنُ أُبَيٍّ مَا قَالَ، أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرْتُهُ، فَجَاءَ فَحَلَفَ مَا قَالَ، فَجَعَلَ نَاسٌ يَقُولُونَ: جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ بِالْكَذِبِ، حَتَّى جَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ مَخَافَةَ إِذَا رَأَوْنِي، قَالُوا: هَذَا الَّذِي كَذَبَ، حَتَّى أَنْزَلَهُ اللَّهُ: {هُمُ الَّذِينَ يَقُولُونَ} [المنافقون: 7] الآيَةَ ".
১২ - আমাদের নিকট সুলাইমান ইবন আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মিকদাম ইবন দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসাদ ইবন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবন আবি জাইদাহ বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ থেকে।

এবং আমাদের নিকট ইসহাক ইবন আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাসরুক ইবনুল মারযুবান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবন আবি জাইদাহ বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর ইবন মুররাহ থেকে, তিনি ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি যায়দ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন ইবন উবাই যা বলার তা বলল, তখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁকে তা অবহিত করলাম। অতঃপর সে (ইবন উবাই) আসল এবং কসম খেয়ে বলল যে সে তা বলেনি, তখন লোকেরা বলতে লাগল: সে (যায়দ) আল্লাহর রাসূলের কাছে মিথ্যা নিয়ে এসেছে। এমনকি আমি এই ভয়ে ঘরে বসে রইলাম যে, পাছে তারা আমাকে দেখলে বলে: এই সেই ব্যক্তি যে মিথ্যা বলেছে। পরিশেষে আল্লাহ নাযিল করলেন: {তারাই তো তারা, যারা বলে...} [সূরা আল-মুনাফিকুন: ৭] শেষ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٥)
لا أَعْلَمُ رَوَاهُ عَنِ الأَعْمَشِ غَيْرُ يَحْيَى بْنِ أَبِي زَائِدَةَ.

وَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ: {يَقُولُونَ لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا} [المنافقون: 7]

13 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي سَعْدٍ الأَزْدِيِّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، قَالَ "‌‌ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَنَا نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ، وَكُنَّا نَبْتَدِرُ الْمَاءَ، وَكَانَ الأَعْرَابُ يَسْبِقُونَا، فَيَسْبِقُ الأَعْرَابِيُّ أَصْحَابَهُ، فَيَمْلأُ الْحَوْضَ، وَيَجْعَلُ حَوْلَهُ حِجَارَةً، وَيَجْعَلُ عَلَيْهِ النَّطْعَ، حَتَّى يَجِيءَ أَصْحَابُهُ.

قَالَ: فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَرْخَى زِمَامَ نَاقَتِهِ لِتَشْرَبَ، فَأَبَى أَنْ يَدَعَهُ، فَانْتَزَعَ حَجَرًا فَفَاضَ الْمَاءُ، قَالَ: فَرَفَعَ الأَعْرَابِيُّ خَشَبَةً يَضْرِبُ بِهَا رَأْسَ الأَنْصَارِيِّ فَشَجَّهُ، فَأَتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ رَأْسَ الْمُنَافِقِينَ، فَأَخْبَرَهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِهِ، قَالَ: فَغَضِبَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ
আমি জানি না যে ইয়াহইয়া ইবনে আবি যায়িদাহ ব্যতীত অন্য কেউ এটি আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এরই অন্তর্ভুক্ত তাদের এই কথা: {তারা বলে: যারা আল্লাহর রাসূলের কাছে আছে তাদের জন্য তোমরা ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে} [আল-মুনাফিকুন: ৭]

১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আত-তালহী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে ঘান্নাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাঈল, আস-সুদ্দী থেকে, তিনি আবু সাদ আল-আযদী থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.), তিনি বলেন: "‌‌ আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং আমাদের সাথে কিছু বেদুইন লোক ছিল। আমরা পানির জন্য প্রতিযোগিতা করতাম, আর বেদুইনরা আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতো। কোনো একজন বেদুইন তার সাথীদের আগে পৌঁছে যেত এবং সে পানির হাউজ পূর্ণ করত, তার চারপাশে পাথর স্থাপন করত এবং তার উপর চামড়ার ঢাকনা বিছিয়ে দিত, যতক্ষণ না তার সাথীরা আসত।

তিনি বলেন: এরপর আনসারদের জনৈক ব্যক্তি আসলেন এবং তার উটনীর লাগাম ঢিলে করে দিলেন যাতে সে পানি পান করতে পারে, কিন্তু সে (বেদুইন) তাকে বাধা দিল। তখন তিনি একটি পাথর সরিয়ে দিলেন এবং পানি উপচে পড়ল। তিনি বলেন: তখন বেদুইন ব্যক্তিটি একটি লাঠি তুলল এবং তা দিয়ে আনসারীর মাথায় আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দিল। তখন তিনি মুনাফিকদের সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছে আসলেন এবং তাকে বিষয়টি জানালেন—আর তিনি ছিলেন তার সাথীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন: তখন আব্দুল্লাহ ইবনে (উবাই) রাগান্বিত হলেন...
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٦)
أُبَيٍّ، وَقَالَ: {يَقُولُونَ لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا} [المنافقون: 7] ، يَعْنِي: مَنْ حَوْلَهُ مِنَ الأَعْرَابِ، وَكَانُوا يَحْضُرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ الطَّعَامِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لأَصْحَابِهِ: إِذَا انْفَضُّوا مِنْ عِنْدِ مُحَمَّدٍ فَأْتُوا مُحَمَّدًا بِالطَّعَامِ فَلْيَأْكُلْ هُوَ وَمَنْ عِنْدَهُ، ثُمَّ قَالَ لأَصْحَابِهِ: إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْكُمُ الأَذَلَّ.

قَالَ زَيْدُ: وَأَنَا رَدِيفُ عَمِّي، فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ وَكُنَّا أَخْوَالَهُ، فَأَخْبَرْتُ عَمِّي، فَانْطَلَقَ فَأَخْبَرَ رَسُولَ اللَّهِ، فَأَرَسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحَلَفَ وَجَحَدَ، قَالَ: فَصَدَّقَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَنِي، فَجَاءَ إِلَيَّ عَمِّي، فَقَالَ: مَا أَرَدْتَ إِلا أَنْ مَقَتَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَذَّبَكَ الْمُسْلِمُونَ.

قَالَ: فَوَقَعَ عَلَيَّ مِنَ الْهَمِّ مَا لَمْ يَقَعْ عَلَى أَحَدٍ قَطُّ، قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا أَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ إِذْ خَفَقَنِي رَأْسِي مِنَ الْهَمِّ، إِذْ أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ فِي وَجْهِي، فَمَا كَانَ يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الْخُلْدَ أَوِ الدُّنْيَا، ثُمَّ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ لَحِقَنِي، فَقَالَ: مَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: قُلْتُ: مَا قَالَ لِي شَيْئًا إِلا أَنَّهُ عَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ فِي وَجْهِي، قَالَ: أَبْشِرْ.

وَلَحِقَنِي عُمَرُ، فَقُلْتُ لَهُ قَوْلِي لأَبِي بَكْرٍ، فَلَمَّا أَصْبَحْنَا قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُورَةَ الْمُنَافِقُونَ "
উবাই সম্পর্কে; সে বলল: {তারা বলে, যারা আল্লাহর রাসূলের নিকট আছে তাদের জন্য তোমরা ব্যয় করো না যতক্ষণ না তারা সরে যায়} [আল-মুনাফিকুন: ৭], অর্থাৎ তাঁর চারপাশের বেদুঈনরা। তারা আহারের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হতো। তখন আবদুল্লাহ (ইবনে উবাই) তার সঙ্গীদের বলল: যখন তারা মুহাম্মাদের নিকট থেকে সরে যাবে, তখন তোমরা মুহাম্মাদের নিকট খাবার নিয়ে এসো যেন তিনি ও তাঁর সঙ্গের লোকেরা আহার করতে পারেন। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের বলল: তোমরা যদি মদীনায় ফিরে যাও, তবে অবশ্যই সেখান থেকে অধিক সম্মানিত ব্যক্তিরা হীনদের বের করে দেবে।

যায়দ বললেন: আমি আমার চাচার পেছনে আরোহী ছিলাম। আমি আবদুল্লাহর কথা শুনতে পেলাম—আর আমরা ছিলাম তাদের আত্মীয়। আমি আমার চাচাকে তা জানালাম। তিনি গিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সংবাদ দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে পাঠালেন। সে কসম করল এবং তা অস্বীকার করল। তিনি (যায়দ) বললেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যবাদী জ্ঞান করলেন এবং আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করলেন। এরপর আমার চাচা আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: তুমি তো কেবল এটাই চেয়েছিলে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে অপছন্দ করুন এবং মুসলিমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলুক।

তিনি বললেন: তখন আমি এমন গভীর চিন্তায় পড়ে গেলাম যা অন্য কারো ক্ষেত্রে কখনো ঘটেনি। তিনি বললেন: এক সফরে আমি যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে পথ চলছিলাম, তখন দুশ্চিন্তার ভারে আমার মাথা নুয়ে আসছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন, আমার কান মলে দিলেন এবং আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। এর বিনিময়ে চিরস্থায়ী জীবন বা গোটা পৃথিবী পাওয়াও আমাকে এত আনন্দিত করত না। অতঃপর আবু বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বলেছেন? তিনি (যায়দ) বললেন: আমি বললাম: তিনি আমাকে কিছুই বলেননি, শুধু আমার কান মলে দিয়েছেন এবং আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে হেসেছেন। তিনি বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ করো।

অতঃপর উমর আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, আমি তাকেও তাই বললাম যা আবু বকরকে বলেছিলাম। যখন সকাল হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আল-মুনাফিকুন তিলাওয়াত করলেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٧)
قوله عز وجل: {كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ} [المنافقون: 4]

14 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ الأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ وَاقِدٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، يَقُولُ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، يَقُولُ:‌‌ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ أَصَابَ النَّاسَ فِيهِ شِدَّةٌ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ لأَصْحَابِهِ: «لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا مِنْ حَوْلِهِ» .

قَالَ زُهَيْرٌ: وَهِيَ فِي قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ خَفْضُ حَوْلِهِ، وَقَالَ: لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ.

قَالَ: فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ، فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ، فَسَأَلَهُ، فَاجْتَهَدَ بِيَمِينِهِ مَا فَعَلَ، فَقَالَ: كَذَبَ زَيْدٌ رَسُولَ اللَّهِ،
মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা যেন দেয়ালে ঠেকানো কাঠ} [আল-মুনাফিকুন: ৪]

১৪ - সুলাইমান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে নাদর আল-আযদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ওয়াকিদ আল-হাররানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকামকে বলতে শুনেছেন।

(অন্য সূত্রে) এবং আমাদের নিকট আবু বকর আত-তালহী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদ ইবনে গনাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকামকে বলতে শুনেছেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে বের হলাম যেখানে লোকেরা তীব্র খাদ্যকষ্টের সম্মুখীন হয়েছিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তার সঙ্গীদের বলল: "তোমরা আল্লাহর রাসূলের নিকট যারা আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না যতক্ষণ না তারা তাঁর আশপাশ থেকে সরে যায়।"

যুহাইর বলেন: আবদুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) কিরাআতে 'হাওলাহু' শব্দটি যের (জের) দিয়ে পড়া হয়েছে। আর সে (ইবনে উবাই) বলেছিল: "আমরা যদি মদিনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই অধিক সম্মানিত ব্যক্তি সেখান থেকে হীনতম ব্যক্তিকে বের করে দেবে।"

যায়েদ বলেন: এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের নিকট লোক পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সে কসম খেয়ে খুব জোরালোভাবে তা অস্বীকার করল যে সে এরূপ করেনি। সে বলল: যায়েদ আল্লাহর রাসূলের কাছে মিথ্যা বলেছে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٨)
فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِمَّا قَالَ شِدَّةٌ، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقِي: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ} [المنافقون: 1] ، قَالَ: وَدَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَغْفِرْ لَهُمْ، فَلَوَّوْا رُءُوسَهُمْ.

وَقَوْلُهُ: {كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ} [المنافقون: 4] ، قَالَ: كَانُوا رِجَالا أَجْمَلَ شَيْءٍ.

لَفْظُ عُبَيْدِ بْنِ غَنَّامٍ.

15 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ نَجْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَمِّي فِي غَزْوَةٍ، فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ، يَقُولُ: لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَنْفَضُّوا مِنْ حَوْلِهِ. . . . الْحَدِيثَ نَحْوَهُ
তিনি যা বলেছিলেন তাতে আমার মনে চরম আঘাত লাগল, এমনকি আল্লাহ আমার সত্যতা নিশ্চিত করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন: {যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে} [আল-মুনাফিকুন: ১]। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন যেন তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, কিন্তু তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নিল।

আর আল্লাহর বাণী: {তারা যেন দেয়ালে ঠেকানো কাষ্ঠখণ্ড} [আল-মুনাফিকুন: ৪], তিনি বললেন: তারা ছিল অত্যন্ত সুশ্রী লোক।

এটি উবাইদ বিন গান্নামের শব্দাবলী।

১৫ - সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন খালিদ আল-ওয়াহবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি যায়দ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক যুদ্ধে আমার চাচার সাথে ছিলাম, তখন আমি আব্দুল্লাহ বিন উবাইকে বলতে শুনলাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যারা আছে তাদের জন্য তোমরা ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা তাঁর চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়... এভাবে হাদীসটির অবশিষ্টাংশ।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٤٩)
قوله تعالى: {يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا} [التوبة: 74] الآية.

16 - حَدَّثَنَا فَارُوقُ بْنُ عَبْدِ الْكَبِيرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الْخَلِيلِ التُّسْتَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: حَزِنْتُ عَلَى مَنْ أُصِيبَ بِالحَرَّةِ مِنْ قَوْمِي، فَكَتَبَ إِلَيَّ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، وَبَلَغَهُ شِدَّةَ حُزْنِي، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ للأَنْصَارِ، وَلأَبْنَاءِ الأَنْصَارِ» .
মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে তারা তা বলেনি; অথচ তারা কুফরির কথা বলেছে এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের পর তারা কুফরি করেছে। আর তারা এমন কিছুর সংকল্প করেছিল যা তারা হাসিল করতে পারেনি} [আত-তাওবাহ: ৭৪] আয়াত।

১৬ - ফারুক ইবন আবদিল কাবীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যিয়াদ ইবনুল খলীল আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহীম ইবনুল মুনযির আল-হিযামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন ফুলায়হ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবন উকবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল ফাযল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমার গোত্রের যারা হাররার যুদ্ধে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের জন্য আমি শোকাতুর হয়েছিলাম। তখন যায়দ ইবন আরকাম আমার নিকট পত্র লিখলেন—আর তাঁর নিকট আমার শোকের তীব্রতার সংবাদ পৌঁছেছিল—যে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন এবং আনসারদের সন্তানদেরও ক্ষমা করুন।"
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٠)
وَشَكَّ ابْنُ الْفَضْلِ: فِي أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ.

قَالَ ابْنُ الْفَضْلِ: فَسَأَلَ أَنَسًا بَعْضُ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، فَقَالَ: هُوَ الَّذِي يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَذَا الَّذِي أَوْفَى اللَّهَ بِأُذُنِهِ.

قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَسَمِعَ رَجُلا مِنَ الْمُنَافِقِينَ يَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ يَخْطُبُ: لَئِنْ كَانَ هَذَا صَادِقًا لَنَحْنُ شَرٌّ مِنَ الْحَمِيرِ، فَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ: فَقَدْ وَاللَّهِ صَدَقَ، وَلأَنْتَ شَرٌّ مِنَ الْحِمَارِ، وَرَفَعَ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَحَدَهُ الْقَائِلُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل عَلَى رَسُولِهِ: {يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا} [التوبة: 74] ، فَكَانَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ هَذِهِ الآيَةِ تَصْدِيقًا لِزَيْدٍ
এবং ইবনুল ফজল আনসারদের সন্তানদের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

ইবনুল ফজল বলেন: তাঁর কাছে উপস্থিত থাকা জনৈক ব্যক্তি আনাস (রা.)-কে জায়েদ বিন আরকাম (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: ইনিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "ইনি সেই ব্যক্তি, যার কানের কথাকে আল্লাহ সত্য প্রমাণ করেছেন।"

ইবনু শিহাব বলেন: তিনি (জায়েদ) জনৈক মুনাফিককে বলতে শুনলেন যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবা দিচ্ছিলেন: "যদি এই ব্যক্তি সত্যবাদী হয়, তবে আমরা গাধার চেয়েও নিকৃষ্ট।" তখন জায়েদ বিন আরকাম (রা.) বললেন: "আল্লাহর কসম, তিনি অবশ্যই সত্যবাদী, আর তুমি গাধার চেয়েও নিকৃষ্ট।" অতঃপর তিনি বিষয়টি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উত্থাপন করলেন, কিন্তু বক্তা তা অস্বীকার করল। তখন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর অবতীর্ণ করলেন: {তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে তারা বলেনি, অথচ তারা কুফরি বাক্য বলেছে এবং তারা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছে। আর তারা এমন কিছুর সংকল্প করেছিল যা তারা পায়নি।} [সুরা আত-তাওবাহ: ৭৪]। সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, এই আয়াতটি জায়েদের সত্যবাদিতার সমর্থনস্বরূপ ছিল।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥١)
قوله عز وجل {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ} [التوبة: 84]

17 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ.

ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، قَالا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ "‌‌ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيِّ بْنِ سَلُولٍ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ يُكَفِّنُ فِيهِ أَبَاهُ، فَأَعْطَاهُ، ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَقَالَ
মহান আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বতের বাণী {আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে} [আত-তাওবাহ: ৮৪]

১৭ - আবু বকর আত-তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদ বিন গাননাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খলিফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-মাদিনি বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে’ ইবনে উমর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “যখন আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল মৃত্যুবরণ করল, তখন তার পুত্র আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে চাইলেন যেন তিনি তাকে তাঁর জামাটি দান করেন যাতে তিনি তাঁর পিতাকে তাতে কাফন পরাতে পারেন। তিনি তাকে সেটি দিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর নিকট অনুরোধ করলেন তাঁর জানাযার সালাত পড়িয়ে দেওয়ার জন্য, তখন তিনি বললেন”
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٢)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللَّهُ، فَقَالَ: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً} [التوبة: 80] وَسَأَزِيدُ عَلَى سَبْعِينَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: إِنَّهُ مُنَافِقٌ، فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] "

18 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ.

ح
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে এখতিয়ার দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: {আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন; যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন} [আত-তাওবাহ: ৮০]। আর আমি সত্তরেরও অধিকবার (ক্ষমা প্রার্থনা) করব।” তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: “নিশ্চয়ই সে একজন মুনাফিক।” এরপরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজার সালাত আদায় করলেন। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করলেন: {আর তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮৪]।

১৮ - আমাদের নিকট আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন সাদ বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

হ
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٣)
وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، يَقُولُ: "‌‌ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيِّ بْنِ سَلُولٍ دُعِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ إِلَيْهِ، فَلَمَّا وَقَفَ يُرِيدُ الصَّلاةَ عَلَيْهِ تَحَوَّلْتُ حَتَّى قُمْتُ فِي صَدْرِهِ، وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ: فِي نَحْرِهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ الْقَائِلِ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا يُعَدِّدُ أَيَّامَهُ، قَالَ: وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُبْتَسِمٌ، حَتَّى إِذَا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ إِنِّي خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ، وَقَدْ قِيلَ: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [التوبة: 80] ، لَوْ أَعْلَمُ أَنِّي إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ غُفِرَ لَهُ لَزِدْتُ، قَالَ: ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهِ وَمَشَى مَعَهُ، فَقَامَ عَلَى قَبْرِهِ، حَتَّى فَرَغَ مِنْهُ.

قَالَ: فَعَجَبٌ لِي وَجُرْأَتِي عَلَى رَسُولِهِ، وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا كَانَ إِلا يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتْ هَاتَانِ الآيَتَانِ: {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ} [التوبة: 84] فَمَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ عَلَى مُنَافِقٍ، وَلا قَامَ
এবং আমাদের নিকট আবু আমর ইবন হামদান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান ইবন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল দাহহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন শিহাব আল-যুহরী বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহ ইবন উতবাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে বলতে শুনেছি: "‌যখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সুলুল মৃত্যুবরণ করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ডাকা হলো, তিনি তার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি দাঁড়ালেন তার জানাজা পড়ানোর ইচ্ছা করে, তখন আমি সরে গিয়ে তার বুকের সামনে দাঁড়ালাম; আওযাঈ বলেছেন: তার গলার সামনে। অতঃপর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের জানাজা পড়বেন, যে অমুক অমুক দিনে এমন এমন কথা বলেছিল? উমর তার দিনগুলোর কথা গণনা করছিলেন। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসছিলেন। এমনকি যখন আমি তার কাছে অনুনয় বৃদ্ধি করলাম, তখন তিনি বললেন: হে উমর, আমার থেকে সরে যাও, আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। আর বলা হয়েছে: {তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো; যদি তুমি সত্তর বারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, তবে আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮০]। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরের অধিকবার করলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে আমি অবশ্যই তা বাড়িয়ে দিতাম। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তার জানাজা পড়লেন এবং তার লাশের সাথে চললেন, তারপর তার কবরের পাশে দাঁড়ালেন যতক্ষণ না দাফন শেষ হলো।

তিনি বলেন: আমার নিজের ওপর এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি আমার এই ধৃষ্টতার জন্য বিস্ময় জাগে, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, সামান্য সময় অতিবাহিত হতেই এই আয়াত দুটি নাজিল হলো: {আর তাদের মধ্যে যার মৃত্যু হয়েছে তার ওপর তুমি কখনো জানাজা পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না; তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসেক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ৮৪]। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কোনো মুনাফিকের জানাজা পড়েননি এবং তাদের কবরের পাশে দাঁড়াননি।
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٤)
عَلَى قَبْرِهِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ ".

لَفْظُهُمَا سَوَاءٌ

19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "‌‌ أَرَادَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ، فَأَخَذَ جِبْرِيلُ عليه السلام بِثَوْبِهِ، فَقَالَ: {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] "
তার কবরের ওপর যতক্ষণ না আল্লাহ তার রূহ কবজ করলেন।"

উভয়ের শব্দপ্রয়োগ একই।

১৯ - মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ আর-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের জানাজা পড়ার ইচ্ছা করলেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাপড় ধরলেন এবং বললেন: {তাদের মধ্যে কারো ওপর আপনি কখনো জানাজা পড়বেন না যারা মারা গিয়েছে, এবং তার কবরের ওপর দাঁড়াবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮৪] "
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٥)
قوله عز وجل: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا} [التوبة: 107]

20 - رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَأَبُو دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَيْرُوزَ الدَّانَاجِ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ‌‌«رَأَيْتُ الدُّخَانَ يَخْرُجُ مِنْ مَسْجِدِ الضِّرَارِ»

21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ " تَمَارَى رَجُلانِ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي أُسِّسَ
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর যারা ক্ষতিসাধন ও কুফরির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ১০৭]

২০ - এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং আবু দাউদ, তারা আবদুল আজিজ ইবনুল মুখতার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ফিরোজ আদ-দানাজ থেকে, তিনি তালক ইবনে হাবিব থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: ‌‌«আমি মাসজিদে জিরার (ক্ষতিসাধনের মসজিদ) থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছি»

২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে কুতাইবা থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে, তিনি ইবনে আবি সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "সেই মসজিদটি সম্পর্কে দু'জন লোক বিতর্কে লিপ্ত হলো যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٦)
عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ، فَقَالَ رَجُلٌ: هُوَ مَسْجِدُ قُبَاءَ.

وَقَالَ الآخَرُ: هُوَ مَسْجِدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هُوَ مَسْجِدِي هَذَا ".

رَوَاهُ أَيْضًا رَبِيعَةُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ

22 - حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ " اخْتَلَفَ رَجُلانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي‌‌ الْمَسْجِدِ الَّذِي أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: مَسْجِدُ الْمَدِينَةِ.

وَقَالَ الآخَرُ: مَسْجِدُ قُبَاءَ، فَأَتَوُا النَّبِيَّ
صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: هُوَ مَسْجِدِي هَذَا ".
প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত, এক ব্যক্তি বললেন: সেটি হলো মসজিদে কুবা।

আর অপরজন বললেন: সেটি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেটি হলো আমার এই মসজিদ।"

এটি রবীআহ ইবনে উসমানও ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন।

২২ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আত-তালহী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে ঘাননাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকী', তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রবীআহ ইবনে উসমান, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে আবি আনাস, সাহল ইবনে সা'দ থেকে। তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দুই ব্যক্তি মতবিরোধ করলেন সেই মসজিদ সম্পর্কে যা তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন বললেন: মদিনার মসজিদ।

আর অন্যজন বললেন: মসজিদে কুবা। অতঃপর তারা নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি বললেন: "সেটি হলো আমার এই মসজিদ।"
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٧)
وَرَوَاهُ أَيْضًا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرٍ الأَسْلَمِيُّ، عَنْ عِمْرَانَ

23 - حَدَّثَنَاهُ أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ عِدَادُهُ فِي بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سُئِلَ عَنِ‌‌ الْمَسْجِدِ الَّذِي أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى، قَالَ: مَسْجِدِي "

قوله عز وجل: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} [التوبة: 65]

24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا
এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-আসলামিও ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন।

২৩ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবনে হামদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে ইয়াদ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-আসলামি থেকে, তিনি ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে—যিনি বনু আমির ইবনে লুয়াই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন সেই মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো যার ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত, তখন তিনি বলতেন: আমার এই মসজিদ।

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে: আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও কৌতুক করছিলাম। বলুন: তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?} [আত-তাওবাহ: ৬৫]

২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসেম ইবনে জাকারিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নূহ ইবনে হাবিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٨)
إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ الْمِخْرَاقِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ " لَقَدْ‌‌ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ يَشْتَدُّ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحِجَارَةُ تَنْكَبُ رِجْلَيْهِ، وَهُوَ يَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ: {إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ} [التوبة: 65] ، فَالْتَفَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: {أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} [التوبة: 65] "

بَابُ تَأْوِيلِ قَوْلِهِ عز وجل: {مُذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَلِكَ لا إِلَى هَؤُلاءِ وَلا إِلَى هَؤُلاءِ} [النساء: 143] الآيَةَ

25 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَثَلُ الْمُنَافِقِ مَثَلُ الشَّاةِ
ইসমাইল ইবনে দাউদ আল-মিখরাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আমি অবশ্যই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে দেখেছিলাম যে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দ্রুত হাঁটছিল এবং পাথরসমূহ তার দুই পায়ে আঘাত করছিল, এমতাবস্থায় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলছিল: {আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম} [আত-তাওবা: ৬৫]। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: {তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?} [আত-তাওবা: ৬৫]"

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {তারা এর মধ্যে দোদুল্যমান, না এদের দিকে, আর না ওদের দিকে} [আন-নিসা: ১৪৩] আয়াতের ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ

২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আত-তালহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে গান্নাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুনাফিকের উদাহরণ হলো সেই ছাগলের মতো"
(খণ্ড: ১) সিফাতুন নিফাক ওয়া নাতুল মুনাফিকীন লি আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ٥٩)
الْعَائِرَةِ بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ، إِلَى هَذِهِ، وَإِلَى هَذِهِ مَرَّةٌ»

26 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ الشَّاةِ الْعَائِرَةُ بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ، فِي هَذِهِ مَرَّةٌ، وَهَذِهِ مَرَّةٌ، لا تَدْرِي فِي أَيِّهِمَا تَتْبَعُ» .

وَرَوَاهُ صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةِ وَجُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ نَافِعٍ، مِثْلَهُ.
দুই পালের মাঝে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো (মেষের ন্যায়), একবার এটার দিকে এবং একবার ওটার দিকে।

২৬ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবুল আব্বাস আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মুনাফিকের উদাহরণ হলো দুই পালের মাঝে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো সেই মেষের মতো, যে একবার এই পালের দিকে যায় এবং একবার ঐ পালের দিকে যায়; সে জানে না কোনটিকে সে অনুসরণ করবে»।

সাখর ইবনে জুওয়াইরিয়া এবং জুওয়াইরিয়া ইবনে আসমাও নাফে' থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।