(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
المصطلحات الأربعة في القرآن   (أبو الأعلى المودودي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المصطلحات الأربعة في القرآن

المؤلف: أبو الأعلى بن أحمد حسن المودودي (ت 1399هـ)

تقديم: محمد عاصم الحداد

تخريج: محمد ناصر الدين الالباني.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 84

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কোরআনের চারটি পরিভাষা   (আবু আল-আলা আল-মওদুদী)

বিভাগ: উলূমুল কোরআন ও উসূলে তাফসীর


গ্রন্থ: কোরআনের চারটি পরিভাষা

লেখক: আবু আল-আলা বিন আহমদ হাসান আল-মওদুদী (মৃত্যু: ১৩৯৯ হিজরি)

ভূমিকা: মুহাম্মদ আসিম আল-হাদ্দাদ

হাদিসের উৎস যাচাই ও মান নির্ধারণ (تخريج): মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১)
المصطلحات الأربعة

في القرآن

 

أبو الأعلى المودودي

تقديم الطبعة الأولى

هذه رساله ألفها الاستاذ السيد أبو الأعلى المودودي في سنة 1360هـ - 1941 م، ونشر فصولها تباعا في مجلته الشهرية " ترجمان القرآن " ثم جمعها ونشرها في رسالة سماها " المصطلحات الأربعة في القرآن ". وما كتبه الأستاذ المودودي نفسه في مقدمته لهذه الرساله عن أهميه هذه المصطلحات في الإسلام، فيه ما يغني عن إعادة ذكره في هذا التقديم، وحسبنا أن نبين هنا تأريخ تأليف هذه الرسالة والمناسبة التي دعت لتأليفها.

… تم تأليف هذه الرسالة سنة 1360هـ، وهي السنة التي تأسست فيها " الجماعة الإسلامية " في الهند، فكان لهذه الرسالة يد – وأي يد – في إيضاح دعوة الجماعة، وتحديد موقفها من جميع الاحزاب والجمعيات التي كانت قائمة في البلاد. فما تقدم بعدها أحد للإشتراك إلا كان على بينة تامة من الفرق بين دعوة الجماعة وبين ما تدعو إليه سائر الاحزاب والجمعيات، على الرغم من أن بعضها يدعي أنها ما قامت إلا لأجل الاسلام ونشر دعوته.

… وقد ظهر من هذه الرسالة حتى الان أربع طبع – في كل طبعه نحو 3000 نسخة – باللغة الاردية، ولم تنقل حتى يومنا هذا إلى أيه لغة أخرى، إلا هذه الترجمة العربية التي نهض بها الاخ الفاضل الاديب الاستاذ السيد محمد كاظم سباق، من زملاء " دار العروبة للدعوة الاسلامية " وها نحن أولاء نتشرف بتقديمها إلى اخواننا الناطقين بالضاد.

وهذه الرسالة هي الثانية من رسائلنا – تحلت بالطبع في مدينة دمشق – معقل الاسلام الحصين – على أيدي اخوان لنا في العلم والدين، ممن اجتمعت قلوبنا وقلوبهم على حب الاسلام والاستماته في سبيله، جزاهم الله عن الاسلام وأهله خير الجزاء، ووفقنا جميعا للعمل بما فيه مرضاته، انه ولي التوفيق وانه سميع مجيب.
চতুষ্পদ পরিভাষা (المصطلحات الأربعة)

কুরআনে

 

আবু আল-আলা মওদুদী

প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

এটি একটি পুস্তিকা যা উস্তাদ সাইয়্যিদ আবু আল-আলা মওদুদী ১৩৬০ হিজরি - ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে রচনা করেছেন। তিনি এর অধ্যায়গুলো ধারাবাহিকভাবে তাঁর মাসিক পত্রিকা "তরজুমানুল কুরআন"-এ প্রকাশ করেন, এরপর সেগুলোকে একত্রিত করে "কুরআনে চতুষ্পদ পরিভাষা (المصطلحات الأربعة في القرآن)" নামক পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করেন। ইসলামে এই পরিভাষা (المصطلحات) সমূহের গুরুত্ব সম্পর্কে উস্তাদ মওদুদী নিজে এই পুস্তিকার ভূমিকায় যা লিখেছেন, তা এই উপস্থাপনায় পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন রাখে না। এখানে আমাদের জন্য এই পুস্তিকা রচনার ইতিহাস এবং যে প্রেক্ষাপটে এটি রচিত হয়েছিল তা বর্ণনা করাই যথেষ্ট।

… এই পুস্তিকাটি ১৩৬০ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছিল, আর এটিই সেই বছর যে বছর ভারতে "জামায়াতে ইসলামী" প্রতিষ্ঠিত হয়। জামায়াতের দাওয়াত স্পষ্ট করতে এবং দেশে বিদ্যমান সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিপরীতে এর অবস্থান নির্ধারণে এই পুস্তিকার এক বিশাল ভূমিকা ছিল। ফলে এরপর যে কেউ জামায়াতে শরিক হতে এগিয়ে এসেছেন, তিনি জামায়াতের দাওয়াত এবং অন্যান্য দল ও সংগঠনের দাওয়াতের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে পূর্ণ স্বচ্ছতা লাভ করেছেন, যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করত যে তারা কেবল ইসলামের জন্য এবং এর দাওয়াত প্রচারের জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

… এ পর্যন্ত উর্দু ভাষায় এই পুস্তিকার চারটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে—প্রতিটি সংস্করণে প্রায় ৩০০০ কপি। আজ পর্যন্ত এটি অন্য কোনো ভাষায় অনূদিত হয়নি, কেবল এই আরবি অনুবাদটি ব্যতীত যা "দারুল উরুবা লিদ দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ"-এর অন্যতম সহকর্মী, বিদগ্ধ সাহিত্যিক উস্তাদ সাইয়্যিদ মুহাম্মদ কাজিম সাব্বাক সম্পন্ন করেছেন। আমরা এখন গর্বের সাথে এটি আমাদের আরবি ভাষী ভাইদের নিকট উপস্থাপন করছি।

এই পুস্তিকাটি আমাদের প্রকাশিত পুস্তিকাসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়—যা ইসলামের সুদৃঢ় দুর্গ দামেস্ক নগরীতে আমাদের সেইসব ইলম ও দ্বীনি ভাইদের হাতে মুদ্রিত হয়েছে, যাদের অন্তর ইসলামের ভালোবাসা এবং এর পথে আত্মত্যাগের লক্ষ্যে আমাদের হৃদয়ের সাথে একীভূত। আল্লাহ তাদের ইসলাম ও এর অনুসারীদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টির কাজে তাওফিক দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিকের মালিক এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২)
.. وقد سبق أن نشر في دمشق رسالة " مبادئ الاسلام " للأستاذ المودودي، وثماني رسائل أخرى نشرت في القاهرة - يجد القارئ اسماءها في ختام هذه الرسالة - والمأمول أن تعقبها رسائل أخرى من هذه السلسلة قريبا إن شاء الله.

… وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

… لاهور في 13 جمادى الأولى 1374 هـ

… ... 8 كانون الثاني (يناير) 1955 م

 

كتبه العاجز الفقير إلى رحمة الله تعالى

محمد عاصم الحداد
.. ইতোপূর্বে দামেস্কে অধ্যাপক মওদুদীর "মাবাদিউল ইসলাম" পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয়েছে এবং কায়রোতে আরও আটটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে—পাঠক এই পুস্তিকাটির শেষে সেগুলোর নাম দেখতে পাবেন—এবং আশা করা যায় যে, ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এই সিরিজের অন্যান্য পুস্তিকাগুলোও প্রকাশিত হবে।

… এবং আমাদের সর্বশেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

… লাহোর, ১৩ই জুমাদাল উলা, ১৩৭৪ হিজরি

… ... ৮ই জানুয়ারি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ

 

আল্লাহ তাআলার রহমতের মুখাপেক্ষী অধম বান্দা এটি লিখেছেন—

মুহাম্মদ আসিম আল-হাদ্দাদ
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الإله والرب والدين والعبادة

هذه الكلمات الأربع أساس المصطلح القرآني وقوامه، والقطب الذي تدور حوله دعوة القرآن. فجماع ما يدعو إليه القرآن الكريم هو أن الله تعالى هو الإله الواحد الأحد والرب الفرد الصمد، لا إله إلا هو، ولا رب سواه، ولا يشاركه في ألوهيته ولا في ربوبيته أحد. فيجب على الإنسان أن يرضى به إلهاً وأن يتخذه دون سواه رباً، ويكفر بألوهية غيره ويجحد ربوبية من سواه، وأن يعبده وحده ولا يعبد أحداً غيره ويخلص دينه لله تعالى ويرفض كل دين غير دينه سبحانه كما ورد في التنزيل: (وَما أَرسَلْنا مِنْ قَبلِكَ مِنْ رَسولٍ إلاّ نوحي إليهِ أنهُ لا إله إلاّ أنا فاعبدونِ) . (الأنبياء: 25)

(وما أُمِروا إلاّ لِيَعْيُدوا إلهاً واحِداً لا إلهَ إلاّ هوَ سُبحانَهُ عمّا يُشْرِكون) . (التوبة: 31)

(إنَّ هذه أمّتُكُمْ أمَّة واحدةً وأنا رَبُّكُمْ فاعبدون) (الأنبياء: 92)

(قل أغيْرَ الله ابغي رَبّاً وهُوَ ربُّ كلِّ شيء) (الأنعام: 164)

(فَمَن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملاً صالحاً ولا يشرك بعبادة ربه أحداً) (الكهف: 110)

(ولقد بَعثنا في كل أمة رسولاً أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت) (النحل: 36)

(أفغير دين الله يبغون وله أسلم من في السماوات والأرض طوعاً وكرهاً وإليه يرجعون) (آل عمران: 83)

(قل إني أمرتُ أن أعبدَ الله مخلصاً له الدين) (الزمر: 11) (إن الله ربي وربّكم فاعبدوه هذا صراطٌ مستقيم) (آل عمران: 51)

هذه الآي المعدودة إنما سردناها مثالاً وأنموذجاً، وإلا فمن قرأ القرآن وتتبع آياته، فإنه يحس لأول وهلة ان كل ما نزل به القرآن الكريم من الهدي والإرشاد لا يدور إلا حول هذه المصطلحات الأربعة، وليس موضوع الكتاب وفكرته الأساسية إلا:

أن الله هو الرب والإله.

وأنه لا رب ولا إله إلا هو.

فإياه ينبغي أن يعبد الإنسان.

وله وحده ينبغي أن يخلص الدين.

 

أهمية المصطلحات الأربعة
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‌‌ভূমিকা

ইলাহ, রব, দ্বীন এবং ইবাদত

এই চারটি শব্দ কুরআনি পরিভাষার মূল ভিত্তি ও কাঠামো এবং সেই কেন্দ্রবিন্দু যাকে আবর্তন করে কুরআনের দাওয়াত পরিচালিত হয়। পবিত্র কুরআন যা কিছুর দিকে আহ্বান জানায় তার সারকথা হলো: আল্লাহ তাআলা একমাত্র অদ্বিতীয় ইলাহ এবং একক অমুখাপেক্ষী রব; তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো রব নেই। তাঁর উপাস্যত্ব ও প্রতিপালকত্বে কেউ শরিক নেই। সুতরাং মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তাঁকে ইলাহ হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ না করা; অন্যের উপাস্যত্বকে অস্বীকার করা ও তিনি ছাড়া অন্য কারো প্রতিপালকত্বকে বর্জন করা। আর কেবল তাঁরই ইবাদত করা এবং তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা, আল্লাহ তাআলার জন্য নিজের দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা এবং মহান আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত অন্য সকল দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করা, যেমনটি অবতীর্ণ বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার কাছে এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" (আল-আম্বিয়া: ২৫)

"তাদেরকে কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; তারা যাকে শরিক করে তিনি তা থেকে পবিত্র।" (আত-তাওবাহ: ৩১)

"নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।" (আল-আম্বিয়া: ৯২)

"বলুন, আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো রব অনুসন্ধান করব, অথচ তিনি সব কিছুর রব?" (আল-আন'আম: ১৬৪)

"সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।" (আল-কাহফ: ১১০)

"আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" (আন-নাহল: ৩৬)

"তারা কি আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।" (আল-ইমরান: ৮৩)

"বলুন, আমি আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।" (আয-যুমার: ১১) "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব; সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সরল পথ।" (আল-ইমরান: ৫১)

এই কয়েকটি আয়াত আমরা কেবল উদাহরণ ও নমুনা স্বরূপ উল্লেখ করেছি; অন্যথায় যে ব্যক্তিই কুরআন পাঠ করবে এবং এর আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করবে, সে প্রথম দর্শনেই অনুভব করবে যে, পবিত্র কুরআনে হিদায়াত ও নির্দেশনার যা কিছু নাযিল হয়েছে, তার সবকিছুই এই চারটি পরিভাষাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর এই কিতাবের বিষয়বস্তু ও মূল চিন্তা কেবল এটাই:

আল্লাহই হলেন রব ও ইলাহ।

এবং তিনি ব্যতীত কোনো রব ও ইলাহ নেই।

সুতরাং মানুষের উচিত কেবল তাঁরই ইবাদত করা।

এবং কেবল তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা উচিত।

 

এই চারটি পরিভাষার গুরুত্ব
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن الظاهر البيّن أنه لابد لمن أراد أن يدرس القرآن ويسبر غور معانيه، أن يتفهم المعاني الصحيحة لكل من هذه الكلمات الأربع ويتلقى مفهومها الكامل الشامل، فإذا كان الإنسان لا يعرف ما الإله، وما معنى الرب، وما العبادة، وما تطلق عليه كلمة الدين فلا جرم، أن القرآن كله سيعود في نظره كلاماً مهملاً لا يفهم من معانيه شيء. فلا يقدر أن يعرف حقيقة التوحيد، أو يتفطن إلى ماهية الشرك، ولا يستطيع ان يخص عبادته بالله سبحانه أو يخلص دينه له. وكذلك إذا كان مفهوم تلك المصطلحات غامضاً متشابهاً في ذهن الرجل وكانت معرفته بمعانيها ناقصة فلا شك أنه يلتبس عليه كل ما جاء به القرآن من الهدى والإرشاد، وتبقى عقيدته وأعماله كلها ناقصة مع كونه مؤمناً بالقرآن. فإنه لن ينفك يلهج بكلمة لا إله إلا الله ويتخذ مع ذلك آلهة متعددة من دون الله. ولن يبرح يعلن أنه لا رب إلا الله ثم يكون مطيعاً لأرباب من دون الله في واقع الأمر. إنه يجهر بكل صدق وإخلاص بأنه لا يعبد إلا الله تعالى ولا يخضع إلا له، ولكنه مع ذلك يكون عاكفاً على عبادة آلهة كثيرة من دون الله. وكذلك يصرح بكل شدة وقوة أنه في حظيرة دين الله وكنفه وإن قام أحد يعزوه إلى دين آخر غير الإسلام هجم عليه وناصبه الحرب؛ ولكنه يبقى مع ذلك متعلقاً بأذيال متعددة ولا شك أنه لا يدعو أحداً غير الله تعالى ولا يسميه بالإله أو الرب بلسانه، لكن تكون له آلهة كثيرة وأرباب متعددة من حيث المعاني التي وضعت لها هاتان الكلمتان، والمسكين لا يشعر أصلاً أنه قد أشرك بالله آلهة وأرباباً أخرى وغذ نبّهته إلى أنه عابد لغير الله ومقترفٌ للشرك في الدين، لانقض عليك يخمش وجهك، إلا أنه يكون عابداً لغير الله حقاً وداخلاً في غير دينه بدون ريب من حيث مغزى (العبادة) و (الدين) وهو لا يدري مع كل ذلك أن الأعمال التي يرتكبها هي في حقيقة الأمر عبادة لغير الله وأن الحالة التي قد سقط فيها هي نفس الأمر دينٌ ما

এটা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রতীয়মান যে, যে ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করতে এবং এর অর্থসমূহের গভীরতা উপলব্ধি করতে চায়, তার জন্য উল্লিখিত এই চারটি শব্দের সঠিক অর্থ অনুধাবন করা এবং এগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক ধারণা গ্রহণ করা অপরিহার্য। যদি কোনো মানুষ ইলাহ (إله) কী, রব (رب) এর অর্থ কী, ইবাদত (عبادة) কী এবং দ্বীন (دين) শব্দটি কীসের ওপর প্রয়োগ করা হয় তা না জানে, তবে নিঃসন্দেহে পুরো কুরআন তার দৃষ্টিতে একটি অর্থহীন কালামে পরিণত হবে যার মর্মার্থের কিছুই সে বুঝবে না। ফলে সে তাওহীদের (توحيد) হাকীকত জানতে পারবে না অথবা শিরকের (شرك) স্বরূপ অনুধাবন করতে পারবে না এবং সে তার ইবাদতকে (عبادة) মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করতে বা তার দ্বীনকে (دين) একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করতে সক্ষম হবে না। অনুরূপভাবে, যদি সেই পরিভাষাগুলোর ধারণা কোনো ব্যক্তির মনে অস্পষ্ট ও সংশয়যুক্ত (متشابه) থাকে এবং সেগুলোর অর্থ সম্পর্কে তার জ্ঞান অসম্পূর্ণ হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআনে বর্ণিত যাবতীয় হেদায়াত ও নির্দেশাবলি তার কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হবে এবং কুরআনের ওপর বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার আকিদা (عقيدة) ও আমলসমূহ ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে। সে অবিরত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' জপ করবে কিন্তু তা সত্ত্বেও আল্লাহর পরিবর্তে অনেক ইলাহ (إله) গ্রহণ করবে। সে ঘোষণা করতে থাকবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো রব (رب) নেই, অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে সে আল্লাহকে ছেড়ে অনেক রবের (رب) অনুগত হয়ে থাকবে। সে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে উচ্চকণ্ঠে বলবে যে সে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত (عبادة) করে না এবং তিনি ব্যতীত কারো সামনে মাথা নত করে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও সে আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ-এর (إله) উপাসনায় লিপ্ত থাকবে। একইভাবে সে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করবে যে সে আল্লাহর দ্বীনের (دين) অন্তর্ভুক্ত ও এর আশ্রয়ে রয়েছে; এমনকি কেউ যদি তাকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীনের (دين) অনুসারী বলে চিহ্নিত করে তবে সে তার ওপর চড়াও হবে এবং শত্রুতা পোষণ করবে; কিন্তু তা সত্ত্বেও সে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের অনুগামী হয়ে থাকবে। এতে সন্দেহ নেই যে সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকে না এবং মুখে অন্য কাউকে ইলাহ (إله) বা রব (رب) বলে সম্বোধন করে না, কিন্তু এই শব্দ দুটির যে অর্থ রয়েছে সেই অর্থের নিরিখে তার অনেক ইলাহ (إله) ও বহু রব (رب) থেকে যায়। সেই অসহায় ব্যক্তিটি মোটেও অনুভব করতে পারে না যে সে আল্লাহর সাথে অন্যান্য ইলাহ (إله) ও রবকে (رب) শরিক (شرك) করেছে। আপনি যদি তাকে সতর্ক করেন যে সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকারী (عابد) এবং দ্বীনের (دين) মধ্যে শিরক (شرك) করছে, তবে সে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। অথচ ইবাদত (عبادة) ও দ্বীনের (دين) তাৎপর্যের দিক থেকে নিঃসন্দেহে সে বাস্তবেই আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকারী (عابد) এবং ভিন্ন দ্বীনের (دين) অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে। সে এই সবকিছুর মাঝেও জানে না যে, সে যেসব কাজ করছে তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত (عبادة) এবং সে যে অবস্থায় পতিত হয়েছে তা মূলত এক প্রকার ভিন্ন দ্বীন (دين)।

(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
انزل الله به من سلطان.

السبب الحقيقي لهذا الفهم الخاطئ

يدلنا النظر في عصر الجاهلية وما تبعه من عصور الإسلام أنه لما نزل القرآن في العرب وعرض على الناطقين بالضاد كان حينئذ يعرف كل امرئٍ منهم ما معنى (الإله) وما المراد بـ (الربْ) ، لأن كلمتي (الإله) و (الرب) كانتا مستعملتين في كلامهم منذ قبل، وكانوا يحيطون علماً بجميع المعاني التي تطلقان عليها. ومن ثم إذا قيل لهم: لا غله إلا الله ولا رب سواه ولا شريك له في ألوهيته وربوبيته، أدركوا ما دُعوا إليه تماماً وتبين لهم من غير ما لبس ولا إبهام أي شيء هو الذي قد نفاه القائل ومنع غير الله أن يوصف به؛ وأي شيء قد خصه وأخلصه لله تعالى، فالذين كفروا إنما كفروا عن بينة ومعرفة بكل ما يبطله وينعي عليه كفره بألوهية غير الله وربوبيته، وكذلك من آمن فقد آمن عن بينة وبصيرة بكل ما يوجب قبول تلك العقيدة الأخذ به أو الانسلاخ عنه.

وكذلك كانت كلمتا (العبادة) و (الدين) شائعتين في لغتهم وكانوا يعلمون ما البعد، وما الحال التي بعبر عنها بالعبودية، وما هو المنهاج العملي الذي يطلق عليه اسم (العبادة) وما مغزى (الدين) وما هي المعاني التي تشتمل عليها هذه الكلمة؟ ومن ثم لما قيل لهم "أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت" وادخلوا في دين الله منقطعين عن الأديان كلها ما أخطأوا في فهم هذه الدعوة التي جاء بها القرآن. وما إن قرعت كلماتها أسماعهم حتى تبينوا: أي نوع من التغيير في نظام حياتهم جاءت تطالبهم به تلك الدعوة؟

ولكنه في القرون التي تلت ذلك العصر الزاهر جعلت تتبدل المعاني الأصلية الصحيحة لجميع تلك الكلمات، تلك المعاني التي كانت شائعة بين القوم عصر نزول القرآن، حتى أخذت تضيق كل كلمة من تلكم الكلمات الأربع عما كانت تتسع له وتحيط به من قبل، وعادت منحصرة في معان ضيقة محدودة؛ بمدلولات غامضة مستبهمة. وذلك لسببين اثنين:
আল্লাহ এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ (سلطان) অবতীর্ণ করেননি।

এই ভুল উপলব্ধির প্রকৃত কারণ

জাহেলিয়াত যুগ এবং পরবর্তী ইসলামি যুগসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, যখন আরবদের মাঝে কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং তা আরবি ভাষাভাষীদের সামনে পেশ করা হলো, তখন তাদের প্রত্যেকেই জানত 'ইলাহ' (إله) শব্দের অর্থ কী এবং 'রব' (رب) বলতে কী বোঝায়। কারণ, 'ইলাহ' (إله) এবং 'রব' (رب) শব্দ দুটি আগে থেকেই তাদের কথোপকথনে ব্যবহৃত হতো এবং শব্দ দুটি যেসব অর্থ প্রকাশ করে, সে সম্পর্কে তারা পূর্ণ অবগত ছিল। ফলে যখন তাদের বলা হতো: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য (إله) নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক (رب) নেই, আর তাঁর উলুহিয়্যাত (ألوهية) ও রুবুবিয়্যাতে (ربوبية) কোনো অংশীদার নেই', তখন তারা যে বিষয়ের দিকে আমন্ত্রিত হচ্ছে তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারত। কোনো প্রকার সংশয় বা অস্পষ্টতা ছাড়াই তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত যে, প্রবক্তা কোন বিষয়টিকে অস্বীকার করছেন এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য সেই গুণাবলি আরোপ করতে নিষেধ করছেন; আর কোন বিষয়টিকে তিনি কেবল মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট ও নিবেদিত করছেন। সুতরাং যারা কুফরি (كفر) করেছিল, তারা স্পষ্ট দলিল ও সেই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রেখেই তা করেছিল যা তাদের আল্লাহর উলুহিয়্যাত (ألوهية) ও রুবুবিয়্যাত (ربوبية) অস্বীকার করার দাবিকে বাতিল করে দেয়। একইভাবে যারা ঈমান (إيمان) এনেছে, তারা এই আকিদাহ (عقيدة) গ্রহণের ফলে যা কিছু গ্রহণ করা আবশ্যক বা যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া জরুরি, সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির সাথেই ঈমান (إيمان) এনেছে।

একইভাবে 'ইবাদত' (عبادة) এবং 'দ্বীন' (دين) শব্দ দুটি তাদের ভাষায় প্রচলিত ছিল। তারা জানত দাসত্ব কী, কোন অবস্থাকে উবুদিয়াত (عبودية) দ্বারা প্রকাশ করা হয়, কোন ব্যবহারিক কর্মপদ্ধতিকে 'ইবাদত' (عبادة) বলা হয়, 'দ্বীন' (دين)-এর তাৎপর্য কী এবং এই শব্দটি কী কী অর্থ ধারণ করে? ফলে যখন তাদের বলা হলো, 'তোমরা আল্লাহর ইবাদত (عبادة) করো এবং তাগুত (طاغوت) বর্জন করো' এবং 'অন্য সব মতাদর্শ ত্যাগ করে আল্লাহর দ্বীনে (دين) প্রবেশ করো', তখন কুরআনের আনীত এই দাওয়াত (دعوة) বুঝতে তারা কোনো ভুল করেনি। এই শব্দগুলো তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছামাত্রই তারা বুঝতে পেরেছিল যে, এই দাওয়াত (دعوة) তাদের জীবনব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন দাবি করছে।

কিন্তু সেই সোনালি যুগের পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এই শব্দগুলোর মূল ও সঠিক অর্থসমূহ পরিবর্তিত হতে শুরু করে—যে অর্থগুলো কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় আরবদের মাঝে প্রচলিত ছিল। এমনকি এই চারটি শব্দের প্রতিটিই পূর্বেকার ব্যাপক অর্থ হারিয়ে সংকুচিত হতে শুরু করে এবং অস্পষ্ট ও অসংজ্ঞায়িত ধারণার সাথে কিছু সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আর এর পেছনে দুটি কারণ ছিল:
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
الأول: قلة الذوق العربي السليم ونضوب معين العربية الخالصة في العصور المتأخرة، والثاني أن الذين ولدوا في المجتمع الإسلامي ونشؤوا فيه، لم يكن قد بقي لهم من معاني كلمات (الإله) و (الرب) و (العبادة) و (الدين) ما كان شائعاً في المجتمع الجاهلي وقت نزول القرآن. ولأجل هذين السببين أصبح اللغويون والمفسرون في العصور المتأخرة يشرحون أكثر كلمات القرآن في معاجم اللغة وكتب التفسير بالمعاني التي فهمها المتأخرون من المسلمين بدلاً من معانيها اللغوية الأصلية. ودونك من ذلك أمثلة:

إن كلمة (الإله) جعلوها كأنها مترادفة مع كلمة الأصنام والأوثان.

وكلمة (الرب) جعلوها مترادفة مع الذي يربي وينشئ وللذات القائمة بأمر تربية الخلق وتنشئتهم.

وكلمة (العبادة) حددوها في معاني التأله والتنسك والخضوع والصلاة بين يدي الله.

وكلمة (الدين) جعلوها نظيراً لكلمة النحلة (Religion) .

وكلمة (الطاغوت) فسروها بالصنم أو الشيطان.
প্রথমত: পরবর্তী যুগগুলোতে বিশুদ্ধ আরবি রুচিবোধের অভাব এবং খাঁটি আরবির মূল প্রস্রবণের শুষ্কতা; দ্বিতীয়ত: যারা ইসলামি সমাজে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় জাহেলি সমাজে ‘ইলাহ’ (الإله), ‘রব’ (الرب), ‘ইবাদত’ (العبادة) এবং ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দগুলোর যে অর্থ প্রচলিত ছিল, তা তাদের কাছে অবশিষ্ট থাকেনি। এই দুটি কারণে পরবর্তী যুগের ভাষাবিদ এবং মুফাসসিরগণ অভিধান ও তাফসির গ্রন্থগুলোতে কুরআনের অধিকাংশ শব্দের ব্যাখ্যা মূল শাব্দিক অর্থের পরিবর্তে পরবর্তী যুগের মুসলিমদের উপলব্ধিকৃত অর্থ দিয়ে করতে থাকেন। আপনার সম্মুখে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

নিশ্চয়ই ‘ইলাহ’ (الإله) শব্দটিকে তারা মূর্তি ও প্রতিমার সমার্থক বানিয়ে দিয়েছেন।

এবং ‘রব’ (الرب) শব্দটিকে তারা লালন-পালনকারী ও বিকাশ সাধনকারী এবং মাখলুকাতের লালন-পালন ও বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত সত্তার সমার্থক করে ফেলেছেন।

আর ‘ইবাদত’ (العبادة) শব্দটিকে তারা উপাসনা, কৃচ্ছ্রসাধন, আনুগত্য এবং আল্লাহর সম্মুখে সালাত আদায়ের অর্থে সীমাবদ্ধ করেছেন।

এবং ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দটিকে তারা ধর্মের (Religion) সমার্থক হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

আর ‘তাগুত’ (الطاغوت) শব্দটির ব্যাখ্যা তারা মূর্তি বা শয়তান হিসেবে করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
فكانت النتيجة أن تعذر على الناس أن يدركوا حتى الغرض الحقيقي والمقصد الجوهري من دعوة القرآن فإذا دعاهم القرآن ألا يتخذوا من دون الله إلهاً، ظنوا أنهم وفّوا مطالبة القرآن حقها لما تركوا الأصنام واعتزلوا الأوثان؛ والحال أنهم لا يزالون متشبثين بكل ما يسعه ويحيط به مفهوم (الإله) ما عدا الأوثان والأصنام، وهم لا يشعرون أنهم بعملهم ذلك قد اتخذوا غير الله إلهاً. وإذا ناداهم القرآن أن الله تعالى هو الرب فلا تتخذوا من دونه رباً، قالوا ها نحن أولاء لا نعتقد أحداً من دون الله مربياً لنا ومتعهداً لمرنا، وبذلك قد كملت عقيدتنا في باب التوحيد، والواقع أنه قد أذعن أكثرهم لربوبية غير الله من حيث المعاني الأخرى التي تطلق عليها كلمة (الرب) غير هذا المعنى – المربي-. وإذا خاطبهم القرآن أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت، قالوا: لا نعبد الأوثان، ونبغض الشيطان ونلعنه ولا نخشع إلا لله، فقد امتثلنا هذا الأمر القرآني أيضاً امتثالاً، والحال أنهم لا يزالون متمسكين بأذيال الطواغيت الأخرى غير الأصنام المنحوتة من الأحجار، وقد خصوا سائر ضروب العبادة – اللهم إلا التأله- لغير الله، وقل مثل ذلك في (الدين) ، فإنه لا يفهم الناس من معنى إخلاص الدين لله تعالى غير أن ينتحل المرء ما يسمونه (الديانة الإسلامية) وألا يبقى في ملة الهنادك أو اليهود أو النصارى. ومن هنا يزعم كل من هو معدود من أهل الديانة الإسلامية أنه قد أخلص دينه لله، والحق أن أغلبيتهم ممن لم يخلصوا دينهم لله تعالى من حيث المعاني الواسعة التي تشتمل عليها كلمة (الدين) .

نتائج هذا الفهم الخاطئ

من الحق الذي لا مراء فيه أنه قد خفي على الناس معظم تعاليم القرآن، بل قد غابت عنهم روحه السامية وفكرته المركزية لمجرد ما غشي هذه المصطلحات الأربعة الأساسية من حجب الجهل. وذلك من أكبر الأسباب التي قد تطرق لأجلها الوهن والضعف إلى عقائدهم وأعمالهم على رغم قبولهم دين الإسلام وكونهم في عداد المسلمين. ومن أجل ذلك كله يجدر بنا أن نفصل معاني تلك المصطلحات الأربعة ونشرحها شرحاً كاملاً، ليتبين غرض القرآن الحقيقي وتعاليمه الأساسية.

ومع أني قد حاولت الإلمام بمفهوم تلك المصطلحات في مقالات لي عديدة تقدم لي كتابها، غير أن ما قد كتبته حتى الآن لا يكفي في حد ذاته لدرء الأخطاء التي قد تسربت إلى الأذهان في هذا الباب؛ ولا يكاد يقتنع به الناس ويطمئنون إليه لأنهم يحسبون كل ما آني به من الشرح والتفصيل لمعاني تلك الكلمات من غير استشهاد بآي الكتاب العزيز ومن غير استناد إلى معاجم اللغة - يحسبونه رأياً لي ارتأيته؛ والظاهر أن رأيي الشخصي لا يمكن أن يقنع الذين لا يرون رأيي ولا يوافقونني عليه على الأقل. فأردت في هذه الرسالة أن أبين المعاني الكاملة الشاملة لهذه المصطلحات الأربعة، من دون أن آتي في ذلك بقول لا يؤيده القرآن أو برأي لا يستند إلى معاجم اللغة.

وسأتناول بالبحث أولاً كلمة (الإله) ثم (الرب) ثم (العبادة) ثم (الدين) إن شاء الله تعالى.

أبو الأعلى
এর ফলে মানুষের পক্ষে কুরআনের দাওয়াতের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মৌলিক লক্ষ্য অনুধাবন করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কুরআন যখন তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য (إله) হিসেবে গ্রহণ না করতে আহ্বান জানায়, তখন তারা মনে করে যে, তারা যেহেতু প্রতিমা বর্জন করেছে এবং মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করেছে, সেহেতু তারা কুরআনের দাবির যথাযথ হক আদায় করে ফেলেছে; অথচ বাস্তবতা হলো, তারা ‘উপাস্য’ (إله) শব্দের ধারণার অন্তর্ভুক্ত ও পরিব্যাপ্ত অন্য সবকিছুতেই তখনও লিপ্ত থাকে এবং তারা টেরই পায় না যে, তাদের এই কাজের মাধ্যমে তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকেই উপাস্য (إله) হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। আর যখন কুরআন তাদেরকে এই বলে ডাক দেয় যে, আল্লাহ তাআলাই হলেন একমাত্র প্রতিপালক (الرب), সুতরাং তাঁকে ব্যতীত অন্য কাউকে প্রতিপালক (الرب) হিসেবে গ্রহণ করো না; তখন তারা বলে, এই তো আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে আমাদের লালনকর্তা ও কার্যনির্বাহক বলে বিশ্বাস করি না, আর এর মাধ্যমেই তাওহিদের বিষয়ে আমাদের আকিদা (عقيدة) পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, ‘প্রতিপালক’ (الرب) শব্দটি ‘লালনকর্তা’ ব্যতীত আরও যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়, সেই অন্যান্য অর্থের দিক থেকে তাদের অধিকাংশ লোকই আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রভুত্ব মেনে নিয়েছে। আর যখন কুরআন তাদেরকে সম্বোধন করে বলে যে, আল্লাহর ইবাদত (العبادة) করো এবং তাগুত (الطاغوت) বর্জন করো, তখন তারা বলে: আমরা তো মূর্তিপূজা করি না, শয়তানকে ঘৃণা করি ও অভিশাপ দেই এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মস্তক অবনত করি না, সুতরাং আমরা কুরআনের এই নির্দেশও যথাযথভাবে পালন করেছি। অথচ বাস্তবতা এই যে, পাথর খোদাই করা মূর্তিসমূহ ছাড়াও তারা অন্যান্য যে সমস্ত তাগুত (الطاغوت) রয়েছে সেগুলোরই অনুসারী হয়ে আছে। তারা ‘উলুহিয়্যাত’ (تأله) ব্যতীত ইবাদতের (العبادة) অন্যান্য সকল প্রকার আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছে। ‘দীন’ (الدين) শব্দের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেননা মানুষ আল্লাহর জন্য দীনকে (الدين) একনিষ্ঠ করার অর্থ কেবল এটাই বোঝে যে, ব্যক্তি নিজেকে ‘ইসলাম ধর্ম’ নামধারী একটি দলের অন্তর্ভুক্ত করবে এবং হিন্দু, ইহুদি বা খ্রিস্টান মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। এখান থেকেই প্রত্যেক ব্যক্তি—যাকে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়—সে দাবি করে বসে যে, সে আল্লাহর জন্য তার দীনকে (الدين) একনিষ্ঠ করেছে। অথচ সত্য হলো, তাদের অধিকাংশ এমন লোক যারা ‘দীন’ (الدين) শব্দের অন্তর্ভুক্ত ব্যাপক অর্থসমূহের দিক থেকে আল্লাহর জন্য নিজেদের দীনকে (الدين) একনিষ্ঠ করতে পারেনি।

এই ভ্রান্ত বুঝের পরিণাম

এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য যে, কুরআনের অধিকাংশ শিক্ষা মানুষের নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেছে, বরং স্রেফ এই চারটি মৌলিক পরিভাষার ওপর অজ্ঞতার পর্দা পড়ে যাওয়ার কারণে কুরআনের সুউচ্চ চেতনা ও এর কেন্দ্রীয় চিন্তা তাদের দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এটিই হলো অন্যতম প্রধান কারণ যার ফলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা এবং মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের আকিদা ও আমলের মধ্যে দুর্বলতা ও শিথিলতা প্রবেশ করেছে। এই কারণেই আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলো এই চারটি পরিভাষার অর্থ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা এবং পূর্ণাঙ্গরূপে ব্যাখ্যা করা, যাতে কুরআনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর মৌলিক শিক্ষাগুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যদিও আমি ইতিপূর্বে আমার লেখা বিভিন্ন প্রবন্ধে এই পরিভাষাগুলোর ধারণা ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছি, তবুও এ পর্যন্ত আমি যা লিখেছি তা এই বিষয়ে মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া ভুলগুলো দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়। আর মানুষ এতে সহজে আশ্বস্ত ও সন্তুষ্ট হতে পারে না, কারণ তারা মনে করে যে, কিতাবুল্লাহর আয়াত ও অভিধানের প্রমাণ ছাড়া এই শব্দগুলোর যে ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ আমি দিচ্ছি, তা আমার একান্তই নিজস্ব মতামত। আর এটা স্পষ্ট যে, আমার ব্যক্তিগত মত সেই সব লোককে আশ্বস্ত করতে পারে না যারা অন্তত আমার এই মতের সাথে একমত নয়। তাই আমি এই পুস্তিকায় এই চারটি পরিভাষার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক অর্থ বর্ণনা করতে চেয়েছি, যাতে আমি এমন কোনো কথা বলব না যা কুরআন দ্বারা সমর্থিত নয় অথবা এমন কোনো মতামত দেব না যা অভিধানের ওপর ভিত্তি করে নয়।

আমি ইনশাআল্লাহ প্রথমে ‘উপাস্য’ (إله), এরপর ‘প্রতিপালক’ (الرب), এরপর ‘ইবাদত’ (العبادة) এবং এরপর ‘দীন’ (الدين) শব্দ নিয়ে আলোচনা করব।

আবুল আ’লা
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الإله

التحقيق اللغوي

مادة كلمة (الإله) : الهمزة واللام والهاء، وقد جاء في معاجم اللغة من هذه المادة ما يأتي بيانه فيما يلي: (1)

[ألهتُ إلى فلان] : سكنت إليه

[ألهَ الرجل يأله] إذا فرغ من أمرٍ نزل به فألهه أي أجاره

[ألِه الرجلُ إلى الرجل] : اتجه إليه لشدة شوقه إليه.

[اله الفصيل] إذا ولع بأمّه

[أله الإهة والُوهَة] عبد.

وقيل (الإله) مشتق من (لاه يليه ليهاً] : أي احتجب

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير ابن كثير 1/19-20، وتفسير النيسابوري بحاشية تفسير الطبري 1-65 - 66.
আল-ইলাহ (الإله)

ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

‘আল-ইলাহ’ (الإله) শব্দটির মূল উপাদান (مادة): হামযা (الهمزة), লাম (اللام) এবং হা (الهاء)। ভাষাবিজ্ঞানের অভিধানসমূহে এই মূল উপাদান থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো: (১)

[আমি অমুক ব্যক্তির নিকট প্রশান্তি লাভ করেছি (ألهتُ)]: অর্থাৎ আমি তার সান্নিধ্যে স্থিরতা লাভ করেছি।

[লোকটি আশ্রয় গ্রহণ করেছে (ألهَ)]: এটি তখন বলা হয় যখন সে কোনো বিপদে পতিত হয় এবং কেউ তাকে আশ্রয় বা নিরাপত্তা প্রদান (أجاره) করে।

[লোকটি অন্য ব্যক্তির প্রতি ধাবিত হয়েছে (ألِه)]: অর্থাৎ তীব্র ব্যাকুলতার কারণে সে তার অভিমুখী হয়েছে।

[উটশাবকটি তার মায়ের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত হয়েছে (اله)]।

[সে উপাসনা (الإهة) ও আরাধনা (الُوهَة) করেছে (أله)]: অর্থাৎ সে ইবাদত বা উপাসনা (عبد) করেছে।

বলা হয়ে থাকে যে, ‘আল-ইলাহ’ (الإله) শব্দটি ‘লাহা-ইয়ালিহু-লাইহান’ (لاه يليه ليهاً) থেকে উদ্ভূত: যার অর্থ হলো সে নিজেকে আবৃত বা অন্তরালে (احتجب) রেখেছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ১/১৯-২০ এবং তাফসিরে তবারির পাদটীকায় তাফসিরে নিশাপুরি ১/৬৫-৬৬।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
ويتبين من التأمل في هذه المعاني المناسبة التي جعلت "اله ياله إلهة" تستعمل بمعنى العبادة – (أي التأله) – (الاله) بمعنى المعبود:

1- أن أول ما ينشأ في ذهن الإنسان من الحافز على العبادة والتأله يكون ما أتاه احتياج المرء وافتقاره. وما كان الإنسان ليخطر بباله أن يعبد أحداً ما لم يظن فيه أنه قادر على أن يسد خلته، وأن ينصره على النوائب ويؤويه عند الآفات، وعلى أن يسكن من روعه في حال القلق والاضطراب.

2- وكذلك أن اعتقاد المرء أن أحداً ما قاض للحاجات ومجيب للدعوات، لستلزم أن يعده أعلى منه منزلة وأسمى مكانة، وألا يعترف بعلوه في المنزلة فحسب، بل أن يعترف كذلك بعلوه وغلبته في القوة والأيد.

3- ومن الحق كذلك أن ما تقضى به حاجات المرء غالباً حسب قانون الأسباب والمسببات في هذه الدنيا، ويقع جل عمله في قضاء الحاجات تحت سمع المرء وبصره، وفي حدود لا تخرج من دائرة علمه، لا ينشئ في نفس المرء شيئاً من النزوع إلى عبادته أبداً، خذ لذلك مثلاً أن رجلاً يحتاج إلى مال ينفقه في بعض حاجته، فيأتي رجلاً آخر يطلب منه عملاً أو وظيفة فيجيبه الرجل إلى طلبه ويقلده عملاً، ثم يأجره على عمله، فإن الرجل لا يخطر له ببال أصلاً – فضلاً عن أن يعتقد – أن الرجل يستحق العبادة من قبله، لما علم بل رأى بأمّ عينه كل المنهاج الذي بلغ به غايته وعرف الطريقة التي اتخذها الرجل لقضاء حاجته. فإن تصور العبادة لا يمكن أن يخطر ببال المرء إلا إذا كان شخص المعبود وقوّته من وراء حجاب الغيب، وكانت مقدرته على قضاء الحوائج تحت أستار الخفاء. من ها هنا قد اختيرت للمعبود كلمة تتضمن معاني الاحتجاب والحيرة والوله مع اشتمالها على معنى الرفعة والعلوّ.

4- ورابع الأربعة أنه من الأمور الطبيعية التي لا مندوحة عنها أن يتجه الإنسان في شوق وولع إلى من يظن فيه أنه قادر على أن يقضي حاجته إذا احتاج، وعلى أن يؤويه إذا نابته النوائب، ويهدئ أعصابه عند القلق.
এই অর্থগুলোর ওপর গভীর চিন্তা করলে সেই উপযুক্ত প্রেক্ষাপটটি স্পষ্ট হয় যার কারণে "ইলাহা" (اله), "ইয়াহলাহু" (ياله), "ইলাহাতান" (إلهة) শব্দগুলো উপাসনা (العبادة) — অর্থাৎ ইবাদতমুখিতা (التأله) — অর্থে এবং "ইলাহ" (الاله) শব্দটি উপাস্য (المعبود) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

১- মানুষের মনে উপাসনা (العبادة) ও ইবাদতমুখিতার (التأله) যে প্রেরণা প্রথম জাগ্রত হয়, তার মূলে রয়েছে মানুষের প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষিতা। মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কারো উপাসনা করার কথা কল্পনাও করে না, যতক্ষণ না সে তার সম্পর্কে এই ধারণা পোষণ করে যে, তিনি তার অভাব পূরণ করতে সক্ষম, বিপদে তাকে সাহায্য করতে পারেন, দুর্যোগে তাকে আশ্রয় দিতে পারেন এবং উদ্বেগ ও অস্থিরতার সময় তাকে প্রশান্তি দান করতে পারেন।

২- একইভাবে, কোনো সত্তাকে অভাব পূরণকারী এবং প্রার্থনায় সাড়াদানকারী হিসেবে বিশ্বাস করার অপরিহার্য দাবি হলো, তাঁকে নিজের চেয়ে উচ্চতর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠতর অবস্থানের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা। শুধু তাঁর মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্বই নয়, বরং শক্তি ও ক্ষমতার ক্ষেত্রেও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যকে (الأيد) স্বীকার করে নেওয়া।

৩- এটিও বাস্তব সত্য যে, এই পৃথিবীতে সাধারণত কার্যকারণ বিধির (الأسباب والمسببات) অধীনে মানুষের যা কিছু প্রয়োজন পূরণ হয় এবং সেই প্রয়োজন পূরণের অধিকাংশ প্রক্রিয়া মানুষের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও দৃষ্টির ভেতরে থাকে, যা তার ইলমের গণ্ডির বাইরে নয়; এই বিষয়গুলো মানুষের মনে কখনই উপাসনা (العبادة) করার কোনো আগ্রহ তৈরি করে না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তির কিছু অর্থ প্রয়োজন, সে অন্য এক ব্যক্তির কাছে গেল কাজ বা চাকরির সন্ধানে। সেই ব্যক্তি তাকে কাজ দিল এবং কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দিল। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মনে কখনই — বিশ্বাস করা তো দূরের কথা — এই কল্পনাও আসবে না যে ঐ ব্যক্তি তার উপাসনা (العبادة) পাওয়ার যোগ্য। কারণ সে নিজের চোখে সেই পুরো প্রক্রিয়াটি দেখেছে যার মাধ্যমে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছে এবং সেই ব্যক্তির অবলম্বন করা উপায়টিও সে চিনে নিয়েছে। মূলত উপাসনার (العبادة) ধারণা মানুষের মনে তখনই উদিত হতে পারে, যখন উপাস্যের (المعبود) সত্তা ও তাঁর শক্তি অদৃশ্যের (الغيب) পর্দার আড়ালে থাকে এবং অভাব পূরণে তাঁর সক্ষমতা গোপনীয়তার আড়ালে থাকে। এই কারণেই উপাস্যের (المعبود) জন্য এমন একটি শব্দ চয়ন করা হয়েছে যার মধ্যে অন্তরাল হওয়া, বিস্ময় এবং অনুরাগ (الوله) এর মতো অর্থগুলো নিহিত রয়েছে এবং সাথে সাথে উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অর্থও এতে অন্তর্ভুক্ত।

৪- চতুর্থত, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় যা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে, মানুষ অত্যন্ত অনুরাগ ও ব্যাকুলতার সাথে সেই সত্তার দিকেই ধাবিত হয় যার সম্পর্কে সে বিশ্বাস রাখে যে, তিনি তার প্রয়োজনে অভাব মোচনে সক্ষম, বিপদে তাকে আশ্রয় দিতে পারেন এবং উদ্বেগের সময় তাকে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
فتبين من ذلك كله أن التصورات التي قد أطلقت من أجلها كلمة (الإله) على المعبود هي: قضاء الحاجة والإجارة والتهدئة والتعالي والهيمنة وتملك القوى التي يرجى بها أن يكون المعبود قاضياً للحاجات مجيراً في النوازل وأن يكون متوارياً عن الأنظار يكاد يكون سراً من الأسرار لا يدركه الناس، وأن يفزع إليه الإنسان ويولع به.

‌‌تصور الإله عند أهل الجاهلية:

ويجمل بنا بعد هذا البحث اللغوي أن ننظر ماذا كانت تصورّات العرب والأمم القديمة في باب الألوهية التي جاء القرآن بإبطالها.

يقول سبحانه وتعالى

1- (واتخذوا من دون الله آلهةً ليكونوا لهم عزاً) (مريم:81)

(واتخذوا من دون الله آلهة لعلهم يُنصرون) (يس: 74)

يتبين من هاتين الآيتين الكريمتين أن الذين كان يحسبهم أهل الجاهلية آلهة لأنفسهم كانوا يظنون بهم أنهم أولياؤهم وحماتهم في النوائب والشدائد وأنهم يكونون بمأمن من الخوف والنقض إذا احتموا بجوارهم.

2- (فما أغنت عنهم آلهتهم التي يدعون من دون الله من شيء لمّا جاء أمر ربك وما زادوهم غير تتبيب) (هود: 101)

(والذين يدعون من دون الله لا يخلقون شيئاً وهم يخلقون. أمواتٌ غير أحياءٍ وما يشعرون أيّان يبعثون. إلهكم إلهٌ واحدٌ) (النحل: 20-22)

(ولا تدع مع الله إلهاً آخر، لا إله إلا هو (1)) (القصص: 88)

(وما يتّبع الذين يدعون من دون الله شركاء إن يتبعون إلا الظن وإن هم إلا يخرصون) (يونس: 66)

--------------------------------------------

(1) مما ينبغي أن يلاحظ في هذا المقام أن كلمة (الإله) جاء استعمالها في القرآن بمعنيين اثنين، أحدهما المعبود الذي يعبده الناس في الواقع، حقاً كان ذلك المعبود أم باطلاً، لا عبرة بذلك، وثانيهما المعبود الذي يستحق في حقيقة الأمر أن يعبد. وفي هذه الآية قد استعملت كلمة (الإله) في الموضعين منها بهذين المعنيين المختلفين.
এ সব কিছু থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, যে সকল ধারণার ভিত্তিতে উপাস্যের ক্ষেত্রে 'ইলাহ' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে তা হলো: প্রয়োজন পূরণ করা, আশ্রয় প্রদান, প্রশান্তি দান, শ্রেষ্ঠত্ব, আধিপত্য এবং এমন শক্তির মালিক হওয়া যার মাধ্যমে আশা করা যায় যে উপাস্য অভাবসমূহ মোচন করবেন, বিপদ-আপদে আশ্রয় দেবেন এবং তিনি দৃষ্টির অগোচরে থাকবেন যা প্রায় একটি রহস্যের মতো যা মানুষ উপলব্ধি করতে পারে না এবং মানুষ যেন তাঁর দিকেই ধাবিত হয় ও তাঁর প্রতি অনুরাগী হয়।

‌‌জাহেলি যুগের মানুষের নিকট ইলাহ-এর ধারণা:

এই ভাষাগত আলোচনার পর আমাদের জন্য এটি দেখা সমীচীন হবে যে, উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্বের বিষয়ে আরব ও প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর ধারণা কেমন ছিল, যা বাতিল করার জন্যই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:

১- (তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্যদের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে যাতে তারা তাদের জন্য শক্তির উৎস হতে পারে) (মারইয়াম: ৮১)

(তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্যদের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে এই আশায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে) (ইয়াসিন: ৭৪)

এই সম্মানিত আয়াতদ্বয় থেকে স্পষ্ট হয় যে, জাহেলি যুগের লোকেরা যাদেরকে নিজেদের ইলাহ মনে করত, তাদের ব্যাপারে তারা ধারণা পোষণ করত যে, তারা বিপদ-আপদ ও কঠিন সময়ে তাদের বন্ধু ও রক্ষক হবে এবং তাদের আশ্রয়ে থাকলে তারা ভয়-ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকবে।

২- (অতঃপর যখন আপনার রবের নির্দেশ আসল, তখন আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল ইলাহকে ডাকত, তারা তাদের কোনো উপকারে এল না; বরং তারা কেবল তাদের ধ্বংসই বৃদ্ধি করল) (হূদ: ১০১)

(আর তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। তারা মৃত, জীবিত নয়; এবং তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে। তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ) (আন-নাহল: ২০-২২)

(এবং আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই (১)) (আল-কাসাস: ৮৮)

(আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য শরীকদের ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে) (ইউনুস: ৬৬)

--------------------------------------------

(১) এখানে এটি লক্ষ্য করা উচিত যে, কুরআনে 'ইলাহ' শব্দটির ব্যবহার দুটি অর্থে এসেছে। এর মধ্যে একটি হলো সেই উপাস্য যাকে মানুষ বাস্তবে উপাসনা করে, সেই উপাস্য সত্য হোক বা মিথ্যা হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আর দ্বিতীয়টি হলো সেই উপাস্য যিনি প্রকৃতপক্ষে উপাসনা পাওয়ার যোগ্য। এই আয়াতে 'ইলাহ' শব্দটি উভয় স্থানে এই দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
وتتجلى من هذه الآيات بضعة أمور، أحدها أن الذين كان أهل الجاهلية يتخذونهم آلهة لهم كانوا يدعونهم عند الشدائد ويستغيثون بهم؛ والثاني: أن آلهتهم أولئك لم يكونوا من الجن أو الملائكة أو الأصنام فحسب بل كانوا كذلك أفراداً من البشر قد ماتوا من قبل، كما يدل عليه قوله تعالى: "أمواتٌ غير أحياء وما يشعرون أيان يُبعثون" دلالة واضحة والثالث: أنهم كانوا يزعمون أن آلهتهم هذه يسمعون دعاءهم ويقدرون على نصرهم.

ولابد للقارئ في هذا المقام من أن يكون على ذكر من مفهوم الدعاء، ومن وضعية النصرة التي يرجوها الإنسان من الإله فالمرء إذا كان أصابه العطش مثلاً فدعا خادمه وأمره بإحضار الماء أو إذا أصيب بمرض فدعا الطبيب لمداواته، ولا يصحّ أن يطلق على طلب الرجل للخادم أو للطبيب حكم "الدعاء" وكذلك ليس من معناه أن الرجل قد اتخذ الخادم أو الطبيب إلهاً له. وذلك أن كل ما فعله الرجل جار على قانون العلل والأسباب ولا يخرج عن دائرة حكمه. ولكنه إذا استغاث بولي أو وثن – وقد أجهده العطش أو المرض- بدلاً من أن يدعو الخادم أو الطبيب، فلا شك أنه دعاه لتفريج الكربة واتخذه إلهاً. فإنه دعا ولياً قد ثوى في قبر يبعد عنه بمئات من الأميال، فكأني له يراه سميعاً بصيراً ويزعم أن له نوعاً من السلطة على عالم الأسباب مما يجعله قادراً على ان يقوم بإبلاغه الماء أو شفائه من المرض، وكذلك إذا دعا وثناً في مثل هذه الحال يلتمس منه الماء أو الشفاء، فكأنه يعتقد أن الوثن حكمه نافذ على الماء أو الصحة أو المرض، مما يقدر به أن يتصرف في الأسباب لقضاء حاجته تصرفاً غيبياً خارجاً عن قوانين الطبيعة. وصفوة القول أن التصور الذي لأجله يدعو الإنسان الإله ويستغيثه ويتضرع إليه هو لا جرم تصور كونه مالكاً للسلطة المهيمنة على قوانين الطبيعة وللقوى الخارجة عن دائرة نفوذ قوانين الطبيعة.
এই আয়াতগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়; প্রথমত, জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা যাদেরকে তাদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করত, বিপদের সময় তারা তাদের আহ্বান করত এবং তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করত। দ্বিতীয়ত, তাদের সেই উপাস্যরা কেবল জিন, ফেরেশতা বা মূর্তিই ছিল না, বরং তারা এমন কিছু মানুষও ছিল যারা পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিল; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: "তারা মৃত, জীবিত নয় এবং তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে" — এই আয়াতটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তা নির্দেশ করে। তৃতীয়ত, তারা ধারণা করত যে, তাদের এই উপাস্যরা তাদের প্রার্থনা শুনতে পায় এবং তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

এই স্থলে পাঠকের জন্য 'দুয়া'-এর প্রকৃত ধারণা এবং মানুষ উপাস্যের নিকট যে ধরনের সাহায্যের আশা করে, সে সম্পর্কে অবগত থাকা আবশ্যক। কোনো ব্যক্তি যদি পিপাসার্ত হয় এবং তার ভৃত্যকে পানি আনার জন্য আহ্বান করে, অথবা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসককে ডাকে, তবে ভৃত্য বা চিকিৎসকের নিকট এই আহ্বানকে 'দুয়া' হিসেবে গণ্য করা সঠিক হবে না। একইভাবে এর অর্থ এটাও নয় যে, সেই ব্যক্তি ভৃত্য বা চিকিৎসককে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর কারণ হলো, সেই ব্যক্তি যা কিছু করেছে তা কার্যকারণ ও উপকরণের সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত এবং তা এর গণ্ডির বাইরে নয়। কিন্তু সে যদি ভৃত্য বা চিকিৎসকের পরিবর্তে—পিপাসা বা রোগে কাতর হয়ে—কোনো ওলি বা মূর্তির নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে নিঃসন্দেহে সে তাকে সংকট নিরসনের জন্যই ডেকেছে এবং তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেননা সে এমন একজন ওলিকে ডেকেছে যিনি শত মাইল দূরের কবরে শায়িত, যেন সে তাকে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা মনে করছে। সে ধারণা করছে যে, কার্যকারণ জগতের ওপর সেই ওলির এমন এক ধরনের কর্তৃত্ব রয়েছে যা তাকে পানি পৌঁছে দিতে বা রোগ থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম করে তোলে। একইভাবে এই অবস্থায় সে যদি কোনো মূর্তিকে আহ্বান করে তার নিকট পানি বা আরোগ্য প্রার্থনা করে, তবে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সে বিশ্বাস করে পানি, স্বাস্থ্য বা রোগের ওপর সেই মূর্তির নির্দেশ কার্যকর, যার মাধ্যমে সে প্রকৃতির নিয়মের বাইরে অতিপ্রাকৃত উপায়ে তার প্রয়োজন পূরণের জন্য উপকরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। সারকথা হলো, যে ধারণার বশবর্তী হয়ে মানুষ উপাস্যকে আহ্বান করে, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে এবং অনুনয় করে, তা হলো তাকে প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী এবং প্রাকৃতিক আইনের প্রভাবের বাইরের শক্তির অধিকারী হিসেবে কল্পনা করা।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
3- (ولقد أهلكنا ما حولكم من القرى وصرَّفنا الآيات لعلهم يرجعون. فلولا نصرهم الذين اتخذوا من دون الله قرباناً آلهةً بل ضلّوا عنهم وذلك إفكُهم وما كانوا يفترون) (الأحقاف: 27-28)

(ومالي لا أعبد الذي فطرني وإليه ترجعون، أأتخذ من دونه آلهة إن يردن الرحمان بضرٍّ لا تغن عني شفاعتهم شيئاً ولا ينقذون) (يس: 22-23)

(والذين اتخذوا من دونه أولياء ما نعبدهم إلا ليقربونا إلى الله زُلفى إن الله يحكم بينهم فيما هم فيه يختلفون) (الزمر: 3)

(ويعبدون من دون الله مالا يضرهم ولا ينفعهم ويقولون هؤلاء شفعاؤنا عند الله) (يونس: 18)
3- (এবং অবশ্যই আমি তোমাদের চারপাশের জনপদসমূহকে ধ্বংস করেছি এবং আমি বিবিধভাবে নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি যাতে তারা ফিরে আসে। অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে নৈকট্য লাভের জন্য তারা যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে হারিয়ে গেল; আর তা-ই ছিল তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া উদ্ভাবন) (আল-আহকাফ: ২৭-২৮)

(আর আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত হতে হবে? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করব? পরম করুণাময় যদি আমাকে কোনো বিপদে আক্রান্ত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না) (ইয়াসিন: ২২-২৩)

(আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে (তারা বলে): ‘আমরা তো এদের ইবাদত একারণেই করি যে, এরা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে।’ তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন) (আজ-জুমার: ৩)

(আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না; আর তারা বলে: ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী’) (ইউনুস: ১৮)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
فيتجلى من هذه الآيات الكريمة أمور عديدة منها أن أهل الجاهلية ما كانوا يعتقدون في آلهتهم أن الألوهية قد توزعت فيما بينهم، فليس فوقهم إله قاهر، بل كان لديهم تصور واضح لإله قاهر كانوا يعبرون عنه بكلمة (الله) في لغتهم. وكانت عقيدتهم الحقيقة في شأن سائر الآلهة أن لهم شيئاً من التدخل والنفوذ في ألوهية ذلك الإله الأعلى، وأن كلمتهم تُتَلقى عنده بالقبول وأنه يمكن أن تتحقق أمانينا بواسطتهم ونستدر النفع ونتجنب المضار باستشفاعهم. ولمثل هذه الظنون كانوا يتخذونهم أيضاً آلهة مع الله تعالى. ومن هنا يتبين أن الإنسان عن اتخذ أحداً شافعاً له عند الله ثم أصبح يدعوه ويستعين به ويقوم بآداب التبجيل والتعظيم ويقدم له القربات والنذور، فكل ذلك على ما اصطلح عليه أهل الجاهلية اتخاذه إياه إلهاً. (1)

4- (وقال الله: لا تتخذوا إلهين اثنين، إنما هو إله واحدٌ فإياي فارهبون) (النحل: 51)

(ولا أخاف ما تشركون به إلا أن يشاء ربي شيئاً) (الأنعام: 80)

(إن نقول إلا اعتراك بعض آلهتنا بسوء) (هود: 54)

--------------------------------------------

(1) ومما يجب أن يعرفه القارئ في هذا المقام أن الشفاعة قسمان: شفاعة يكون من ورائها نوع من أنواع القوة والنفوذ، ويأبى الشافع إلا أن تقبل شفاعته. وشفاعة لا تقدم إلى المشفوع إليه غلا كما تقدم العرائض تذللاً وتخشعاً، لا يكون من ورائها نصر على أن تقبل في كل حال. فأما من ظن أحداً شافعاً عند الله بالمعنى الأول فلا شك أنه قد اتخذه إلهاً وأشركه بالله تعالى في الألوهية. وهذه هي الشفاعة التي يرفضها القرآن ويبطلها، وأما الشفاعة بالمعنى الثاني فيجوز أن يكون كل من الأنبياء والملائكة والصالحين والمؤمنين وعامة العباد شافعين بهذا المعنى إلى الله تعلل فيمن سواه من عباده، ولله جل شأنه أن يقبل شفاعتهم أو لا يقبلها.
এই সম্মানিত আয়াতসমূহ থেকে বেশ কিছু বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে; তন্মধ্যে একটি হলো, জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে এমন বিশ্বাস পোষণ করত না যে, উলুহিয়্যাত বা ঈশ্বরত্ব তাদের মাঝে বণ্টিত হয়ে গেছে এবং তাদের ঊর্ধ্বে কোনো পরাক্রমশালী উপাস্য নেই। বরং তাদের মাঝে একজন পরাক্রমশালী ইলাহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা বিদ্যমান ছিল, যাকে তারা তাদের ভাষায় 'আল্লাহ' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করত। অন্যান্য উপাস্যদের ব্যাপারে তাদের প্রকৃত আকিদা বা বিশ্বাস ছিল এই যে, সেই সুউচ্চ ইলাহের উলুহিয়্যাতে তাদের কিছুটা হস্তক্ষেপ ও প্রভাব রয়েছে। তারা মনে করত যে, আল্লাহর নিকট তাদের কথা কবুল করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হতে পারে, আর তাদের সুপারিশের (شفاعة) মাধ্যমে আমরা কল্যাণ লাভ করতে পারি এবং অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকতে পারি। এ জাতীয় ধারণার বশবর্তী হয়েই তারা আল্লাহ তাআলার পাশাপাশি তাদেরকেও উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করত। এখান থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, কোনো মানুষ যদি আল্লাহর নিকট কাউকে সুপারিশকারী (شافع) হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর তাকে ডাকতে শুরু করে, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, সম্মান ও মর্যাদাদানের রীতিনীতি পালন করে এবং তার উদ্দেশ্যে নজর-নিয়াজ ও কোরবানি পেশ করে, তবে জাহেলি পরিভাষা অনুযায়ী এই সবকিছুই তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করার নামান্তর। (১)

৪- (আর আল্লাহ বলেছেন: তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না, তিনিই কেবল একমাত্র ইলাহ; সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো) (আন-নাহল: ৫১)

(আর তোমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করো আমি তাদের ভয় করি না; তবে আমার প্রতিপালক যদি কোনো বিষয়ে ইচ্ছা করেন [তবে তা ভিন্ন কথা]) (আল-আনআম: ৮০)

(আমরা তো কেবল একথাই বলি যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অকল্যাণ দ্বারা আবিষ্ট করেছে) (হুদ: ৫৪)

--------------------------------------------

(১) এই পর্যায়ে পাঠকের জন্য যা জানা আবশ্যক তা হলো, সুপারিশ (شفاعة) দুই প্রকার: এক প্রকার সুপারিশ (شفاعة) এমন যার পেছনে এক ধরনের প্রভাব ও প্রতিপত্তি থাকে এবং সুপারিশকারী তার সুপারিশ কবুল করানোর বিষয়ে অটল থাকে। আর অন্য প্রকার সুপারিশ (شفاعة) এমন যা সুপারিশকৃত সত্তার নিকট বিনীত প্রার্থনা ও বিনম্র নিবেদনের ন্যায় পেশ করা হয় মাত্র; এর পেছনে এমন কোনো প্রভাব থাকে না যে তা সর্বাবস্থায় গ্রহণ করতে হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কাউকে প্রথমোক্ত অর্থে সুপারিশকারী (شافع) মনে করে, সে নিঃসন্দেহে তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করল এবং উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে তাকে আল্লাহর সাথে শরিক করল। এটিই সেই সুপারিশ (شفاعة) যা কুরআন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বাতিল ঘোষণা করেছে। আর দ্বিতীয় অর্থের সুপারিশের (شفاعة) ক্ষেত্রে নবীগণ, ফেরেশতাগণ, নেককারগণ, মুমিনগণ এবং সাধারণ বান্দারা আল্লাহর নিকট অন্য বান্দাদের জন্য সুপারিশকারী হতে পারেন; তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এখতিয়ার যে, তিনি তাদের সুপারিশ (شفاعة) কবুল করবেন কি করবেন না।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويتضح من هذه الآيات الحكيمة، أن أهل الجاهلية كانوا يخافون من قبل آلهتهم أنهم إن أسخطوا آلهتهم على أنفسهم لسبب من الأسباب أو حرموا عنايتهم بهم وعطفهم عليهم نابتهم نوائب المرض والقحط والنقص في الأنفس والأموال ونزلت بهم نوازل أخرى.

5- (اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله والمسيح بن مريم وما أمروا إلا ليعبدوا إلهاً واحداً لا إله إلا هو) (التوبة: 31)

(أرأيت من اتخذ إلهه هواه، أفأنت تكون عليه وكيلا) (الفرقان: 43)

(وكذلك زيّن لكثير من المشركين قتل أولادهم شركاؤهم) (الأنعام: 137)

(أم لهم شركاء شرعوا لهم من الدين ما لم يأذن به الله) (الشورى: 21)

وفي الآيات يقف المتأمل على معنى آخر لكلمة (الإله) يختلف كل الاختلاف عن كل ما تقدم ذكره من معانيها، فليس ههنا شيء من تصور السلطة المهيمنة على قوانين الطبيعة، فالذي اتّخذ إلهاً هو إما واحد من البشر أو نفس الإنسان نفسه، ولم يتخذ ذلك إلهاً من حيث أن الناس يدعونه أو يعتقدون فيه أنه يضرهم وينفعهم، أو أنه يستجار به، بل قد اتخذوه إلهاً من حيث تلقوا أمره شرعاً لهم، وائتمروا بأمره وانتهوا عما نهى عنه، واتبعوه فيما حلله وحرمه، وزعموا ان له الحق في أن يأمر وينهى بنفسه، وليس فوقه سلطة قاهرة يحتاج إلى الرجوع والاستناد إليها. فالآية الأولى تبين لنا كيف اتخذت اليهود والنصارى أحبارهم ورهبانهم أرباباً وآلهة من دون الله، كما بين ذلك الحديث النبوي الشريف فيما رواه الإمام الترمذي وابن جرير من طرق عن عدي بن حاتم رضي الله عنه "أنه دخل على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وفي عنقه صليب من ذهب وهو يقرأ هذه الآية، قال، فقلت: إنهم لم يعبدوهم، فقال: بلى، إنهم حرموا عليهم الحلال وأحلوا لهم الحرام فاتبعوهم فذلك عبادتهم إياهم".

وأما الآية الثانية فمعناها واضح كل الوضوح، وذلك أن من يتبع هوى النفس ويرى أمره فوق كل أمر فقد اتخذ نفسه إلهاً له في واقع الأمر.
এই প্রজ্ঞাপূর্ণ আয়াতগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, জাহেলি যুগের লোকেরা তাদের উপাস্যদের পক্ষ থেকে এই ভয়ে থাকত যে, যদি তারা কোনো কারণে তাদের উপাস্যদের নিজেদের ওপর অসন্তুষ্ট করে ফেলে অথবা তাদের প্রতি উপাস্যদের অনুগ্রহ ও মমতা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তারা রোগ-ব্যাধি, দুর্ভিক্ষ এবং জান ও মালের ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং তাদের ওপর অন্যান্য বিপদ আপতিত হবে।

৫- (তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মরিয়ম-তনয় মসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে। অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই।) (আত-তাওবা: ৩১)

(আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? তবুও কি আপনি তার কর্মবিধায়ক হবেন?) (আল-ফুরকান: ৪৩)

(এভাবেই অনেক মুশরিকের কাছে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে শোভনীয় করে দিয়েছে।) (আল-আনআম: ১৩৭)

(নাকি তাদের এমন সব উপাস্য আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?) (আশ-শূরা: ২১)

উল্লিখিত আয়াতগুলোতে মনোনিবেশকারী ব্যক্তি ‘ইলাহ’ শব্দের এমন এক ভিন্ন অর্থ দেখতে পাবেন যা পূর্বে বর্ণিত অর্থসমূহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে প্রকৃতির নিয়মের ওপর কোনো আধিপত্য বিস্তারকারী কর্তৃত্বের কল্পনা করা হয়নি। যাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে সে হয় কোনো মানুষ অথবা মানুষের নিজের প্রবৃত্তি। মানুষ তাকে এজন্য ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেনি যে তারা তাকে ডাকবে অথবা তার ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখবে যে সে তাদের ক্ষতি বা উপকার করতে পারে কিংবা তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা যায়; বরং তারা তাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে যে, তারা তার নির্দেশকে নিজেদের জন্য শরিয়ত (শরঈ বিধান) হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তার আদেশের আনুগত্য করেছে ও তার নিষেধ থেকে বিরত থেকেছে। তারা তার হালাল করা বিষয়কে হালাল এবং হারাম করা বিষয়কে হারাম হিসেবে অনুসরণ করেছে। তারা ধারণা করেছে যে, তার নিজ থেকেই আদেশ ও নিষেধ করার অধিকার আছে এবং তার ওপর এমন কোনো উচ্চতর ক্ষমতা নেই যার দিকে প্রত্যাবর্তন করার বা যার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন আছে। প্রথম আয়াতটি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, কীভাবে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও ধর্মগুরুদের রব ও ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। যেমনটি সম্মানিত নববী হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম তিরমিজি এবং ইবনে জারির আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণনা করেছেন (رواه) যে, "তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমন অবস্থায় উপস্থিত হলেন যখন তাঁর গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ছিল এবং রাসুল (সা.) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন। আদি (রা.) বলেন, আমি বললাম: তারা তো তাদের ইবাদত করত না। রাসুল (সা.) বললেন: অবশ্যই করত; তারা (পণ্ডিতরা) তাদের জন্য হালালকে হারাম করত এবং হারামকে হালাল করত, আর তারা তাদের অনুসরণ করত; এটাই ছিল তাদের প্রতি তাদের ইবাদত।"

আর দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ সম্পূর্ণ স্পষ্ট। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং নিজের আকাঙ্ক্ষাকে সকল আদেশের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, সে প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই নিজের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أما الآيتان التاليتان بعدهما فإنه وإن وردت فيهما كلمة (الشركاء) مكان (الإله) ، فالمراد بالشرك هو الإشراك بالله تعالى في الألوهية. ففي هاتين الآيتين دلالة واضحة على أن الذين يرون أن ما وضعه رجل أو طائفة من الناس من قانون أو شرعة أو رسم هو قانون شرعي من غير أن يستند إلى أمر من الله تعالى، فهم يشركون ذلك الشارع بالله تعالى في الألوهية.

ملاك الأمر في باب الألوهية

إن جميع ما تقدم ذكره من المعاني المختلفة لكلمة (الإله) يوجد فيما بينها ارتباط منطقي لا يخفى على المتأمل المستبصر. فالذي يتخذ كائناً ما ولياً له ونصيراً وكاشفاً عنه السوء، وقاضياً لحاجته ومستجيباً لدعائه وقادراً على أن ينفعه ويضره، كل ذلك بالمعاني الخارجة عن نطاق السنن الطبيعية، يكون السبب لاعتقاده ذلك ظنه فيه أن له نوعاً من أنواع السلطة على نظام هذا العالم. وكذلك من يخاف أحداً ويتقيه ويرى أن سخطه يجر عليه الضرر ومرضاته تجلب له المنفعة، لا يكون مصدر اعتقاده ذلك وعمله إلا ما يكون في ذهنه من تصور أن له نوعاً من السلطة على هذا الكون. ثم أن الذي يدعو غير الله ويفزع إليه في حاجاته بعد إيمانه بالله العلي الأعلى، فلا يبعثه على ذلك إلا اعتقاده فيه أن له شركاً في ناحية من نواحي السلطة الألوهية. وعلى غرار ذلك من يتخذ حكم أحد من دون الله قانوناً ويتلقى أوامره ونواهيه شريعة متبعة فإنه أيضاً يعترف بسلطته القاهرة. فخلاصة القول أن أصل الألوهية وجوهرها هو السلطة سواء أكان يعتقدها الناس من حيث أن حكمها على هذا العالم حكم مهيمن على قوانين الطبيعة، أو من حيث أن الإنسان في حياته الدنيا مطيع لأمرها وتابع لإرشادها، وأن أمرها في حد ذاته واجب الطاعة والإذعان.

استدلال القرآن
পরবর্তী দুটি আয়াতের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে, যদিও সেগুলোতে 'ইলাহ' (الإله) শব্দের পরিবর্তে 'অংশীদার' (الشركاء) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, তবুও এখানে শিরক (الشرك) বলতে মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাতে (الألوهية) অংশীদারিত্বকেই বোঝানো হয়েছে। এই আয়াত দুটিতে এক স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, যারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক প্রবর্তিত কোনো আইন, শরীয়াহ (شريعة) বা রীতিকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশের কোনো ভিত্তি ছাড়াই শরয়ী আইন (قانون شرعي) বলে গণ্য করে, তারা মূলত সেই বিধানদাতাকে (الشارع) উলুহিয়্যাতের (الألوهية) ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করে।

উলুহিয়্যাতের (الألوهية) অধ্যায়ে মূল প্রতিপাদ্য বিষয়

'ইলাহ' (الإله) শব্দের ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিভিন্ন অর্থসমূহের মধ্যে একটি যৌক্তিক যোগসূত্র বিদ্যমান যা কোনো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয়। যে ব্যক্তি কোনো সত্তাকে তার অভিভাবক, সাহায্যকারী, বিপদ হরণকারী, অভাব পূরণকারী, দোয়ায় সাড়াদানকারী এবং লাভ-ক্ষতির মালিক হিসেবে গ্রহণ করে—আর এই সবকিছুই যদি প্রাকৃতিক নিয়ম বা কার্যকারণ সম্পর্কের বহির্ভূত অর্থে হয়—তবে তার এই বিশ্বাসের কারণ হলো সেই সত্তা সম্পর্কে তার এই ধারণা যে, এই মহাবিশ্বের ব্যবস্থার ওপর তার এক প্রকার কর্তৃত্ব রয়েছে। তদ্রূপ, যে ব্যক্তি কাউকে ভয় করে ও তাকে সমীহ করে চলে এবং মনে করে যে তার অসন্তুষ্টি ক্ষতি বয়ে আনবে আর তার সন্তুষ্টি কল্যাণ সাধন করবে, তার এই বিশ্বাস ও কর্মের উৎস কেবল তার মনের সেই কল্পনা যে, এই মহাবিশ্বের ওপর উক্ত সত্তার এক প্রকার কর্তৃত্ব রয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান থাকা সত্ত্বেও নিজের প্রয়োজনে অন্য কাউকে আহ্বান করে এবং তার নিকট আরজি পেশ করে, তাকে এই কাজে কেবল এই বিশ্বাসই উদ্বুদ্ধ করে যে, উলুহিয়্যাতের (الألوهية) কর্তৃত্বের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সেই সত্তার অংশীদারিত্ব রয়েছে। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সিদ্ধান্তকে আইন হিসেবে গ্রহণ করে এবং তার আদেশ ও নিষেধকে অনুসরণযোগ্য শরীয়াহ (شريعة) হিসেবে মেনে নেয়, সে মূলত তার অপরাজেয় কর্তৃত্বকেই স্বীকার করে নেয়। সারকথা হলো, উলুহিয়্যাতের (الألوهية) মূল ভিত্তি ও সারসত্তা হলো কর্তৃত্ব (السلطة); চাই মানুষ তা এই বিশ্বাসে পোষণ করুক যে এই জগতের ওপর তার শাসন প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর আধিপত্যশীল, অথবা এই দিক থেকে যে মানুষ তার পার্থিব জীবনে তার আদেশের অনুগত ও নির্দেশনার অনুসারী এবং তার নির্দেশ মূলত স্বীয় সত্তাগতভাবেই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের দাবি রাখে।

কুরআনের দলিলপ্রমাণ (استدلال)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا هو تصور السلطة الذي يجعله القرآن الكريم أساساً يأتي به من البراهين والحجج على إنكار ألوهية غير الله، وإثبات الألوهية لله تعالى وحده. فالذي يستدل به القرآن في هذا الشأن هو انه لا يملك جميع السلطات والصلاحيات في السماوات والأرض إلا الله. فالخلق مختص به، والنعمة كلها بيده، والمر له وحده، والقوة والحول في قبضته، وكل ما في السماوات والأرض قانت له ومطيع لأمره طوعاً وكرهاً، ولا سلطة لأحد سواه ولا ينفذ فيها الحكم لأحد غيره، وما من أحد دونه يعرف أسرار الخلق والنظم والتدبير، أو يشاركه في صلاحيات حكمه. ومن ثم لا إله في حقيقة الأمر إلا هو، وإذ لم يكن في الحقيقة إله آخر من دون الله، فكل ما تأتونه من الأفعال معتقدين غيره إلهاً باطل من أساسه، سواء أكان ذلك دعاءكم إياه واستجارتكم له أم كان خوفكم إياه ورجاءكم منه، أم كان اتخاذكم إياه شافعاً لدى الله، أم كان إطاعتكم له وامتثالكم لأمره؛ فإن هذه الأواصر والعلاقات التي قد عقدتموها مع غير الله، يجب أن تكون مختصة بالله سبحانه لأنه هو الذي يملك السلطة دون غيره.

وأما الأسلوب الذي يستدل به القرآن الكريم في هذا الباب، فدونك بيانه في كلامه البليغ المعجز:

(وهو الذي في السماء إلهٌ وفي الأرض إلهٌ وهو الحكيم العليم) (الزخرف: 84)

(أفمن يخلق كمن لا يخلق أفلا تذكرون) (والذين يدعون من دون الله لا يخلقون شيئاً وهم يُخْلَقون) (إلهكم إلهٌ واحدٌ) (النحل: 17، 20، 22)

(يا أيُّها الناس اذكروا نعمة الله عليكم هل من خالقٍ غير الله يرزقكم من السماء والأرض لا إله إلا هو، فأنى تؤفكون) (فاطر: 3)

(قل أرأيتم عن أخذ الله سمعكم وأبصاركم وختم على قلوبكم من إلهٌ غير الله يأتيكم به) (الأنعام: 46)
আর এটিই হলো কর্তৃত্বের সেই ধারণা, যাকে পবিত্র কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসত্ব অস্বীকার এবং একমাত্র মহান আল্লাহর উপাসত্ব প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে প্রমাণ ও দলিল উপস্থাপন করেছে। এক্ষেত্রে কুরআন যা দ্বারা দলিল পেশ করে তা হলো এই যে, আসমান ও জমিনের যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নন। সৃষ্টিজগত তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট, সকল নেয়ামত তাঁরই হাতে, নির্দেশ একমাত্র তাঁরই, সকল শক্তি ও সামর্থ্য তাঁরই আয়ত্তে; আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর অনুগত এবং ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর আদেশের আজ্ঞাবহ। তিনি ছাড়া অন্য কারও কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং সেখানে তিনি ছাড়া অন্য কারও হুকুম কার্যকর হয় না। সৃষ্টি, শৃঙ্খলা ও পরিচালনার রহস্য তিনি ছাড়া অন্য কেউ জানে না এবং তাঁর শাসন ক্ষমতার অধিকারেও কেউ অংশীদার নয়। ফলে প্রকৃত বিচারে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। যেহেতু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, তাই অন্য কাউকে ইলাহ মনে করে আপনারা যা কিছু করেন তার সবই ভিত্তিহীন; চাই তা তাকে ডাকার মাধ্যমে হোক কিংবা তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে, অথবা তাকে ভয় করা কিংবা তার কাছে আশা রাখার মাধ্যমে, অথবা তাকে আল্লাহর নিকট সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে, কিংবা তার আনুগত্য ও তার আদেশ পালনের মাধ্যমেই হোক না কেন। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের সাথে আপনারা যেসব সম্পর্ক ও বন্ধন স্থাপন করেছেন, তা একান্তভাবে মহান আল্লাহর জন্যই হওয়া আবশ্যক; কারণ তিনিই একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী, অন্য কেউ নয়।

আর এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন যে পদ্ধতি অবলম্বন করে দলিল পেশ করে, তার অলৌকিক ও প্রাঞ্জল বাণীতে তার বিবরণ দেখুন:

(তিনিই যিনি আসমানেও ইলাহ এবং জমিনেও ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।) (আল-যুখরুফ: ৮৪)

(যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তাঁর মতো যে সৃষ্টি করে না? তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?) (আর আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট।) (তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ।) (আন-নাহল: ১৭, ২০, ২২)

(হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া কি কোনো স্রষ্টা আছে যে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিজিক দান করে? তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হয়ে চলেছ?) (ফাতির: ৩)

(বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের তা ফিরিয়ে দেবে?) (আল-আনআম: ৪৬)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
(وهو الله لا إله إلا هو له الحمد في الأولى والآخرة وله الحُكم وإليه ترجعون. قل أرأيتم إن جعل الله عليكم الليل سرمداً إلى يوم القيامة من إله غير الله يأتيكم بضياءٍ أفلا تسمعون. قل أرأيتم إن جعل الله عليكم النهار سرمداً إلى يوم القيامة من إلهٌ غير الله يأتيكم بليلٍ تسكنون فيه أفلا تبصرون) (القصص: 7-72)

(قل ادعوا الذين زعمتم من دون الله لا يملكون مثال ذرةٍ في السماوات ولا في الأرض وما لهم فيهما من شرك وما له منهم من ظهير. ولا تنفع الشفاعة عنده إلا لمن أذن له) (سبأ: 22:23)

(خلق السماوات والأرض بالحق يكور الليل على النهار ويكور النهار على الليل وسخر الشمس والقمر كلٌ يجري لأجلٍ مسمى) (الزمر: 5)

(خلقكم من نفس واحدة ثم جعل منها زوجها وأنزل لكم من الأنعام ثمانية أزواجٍ يخلقكم في بطون أمهاتكم خلقاً من بعد خلق في ظلمات ثلاثٍ ذلكم الله ربُّكم له الملك لا إله إلا هو فأنى تُصرفون) (الزمر: 6)

(أمن خلق السماوات والأرض وأنزل لكم من السماء ماءً فأنبتنا به حدائق ذات بهجة ما كان لكم أن تنبتوا شجرها أإلهٌ مع الله بل هم قومٌ يعدلون. أمن جعل الأرض قراراً وجعل خلالها أنهاراً وجعل لها رواسي وجعل بين البحرين حاجزاً. أإلهٌ مع الله بل أكثرهم لا يعلمون، أمّن يُجيب المضطر إذا دعاه ويكشف السوء ويجعلكم خلفاء الأرض. أإلهٌ مع الله قليلاً ما تذكرون. أمّن يهديكم في ظلمات البرِّ والبحر ومن يرسل الرياح بشرى بين يدي رحمته أإله مع الله تعالى الله عما يُشركون. أمن يبدأ الخلق ثم يعيده ومن يرزقكم من السماء والأرض أإلهٌ مع الله قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين) (النمل: 60-64)

(الذي له ملك السماوات والأرض ولم يتخذ ولداً ولم يكن له شريكٌ في الملك وخلق كل شيءٍ فقدره تقديراً. واتخذوا من دونه آلهةً لا يخلقون شيئاً وهم يخلقون، ولا يملكون لأنفسهم ضراً ولا نفعاً ولا يملكون موتاً ولا حياةً ولا نشوراً) (الفرقان: 2: 3)
(আর তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। সকল বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ যদি রাতকে কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের জন্য স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন ইলাহ আছে যে তোমাদের আলোকোজ্জ্বলতা এনে দেবে? তবুও কি তোমরা শ্রবণ করবে না? বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের জন্য স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন ইলাহ আছে যে তোমাদের নিকট রাত নিয়ে আসবে যাতে তোমরা প্রশান্তি লাভ করতে পারো? তবুও কি তোমরা প্রত্যক্ষ করবে না?) (আল-কাসাস: ৭০-৭২)

(বলুন, তোমরা তাদের আহ্বান করো যাদের তোমরা আল্লাহ ছাড়া (ইলাহ) মনে করতে। তারা আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, আর তাদের মধ্য হতে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর নিকট কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না) (সাবা: ২২-২৩)

(তিনি যথাযথভাবে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং দিন দিয়ে রাতকে আচ্ছাদিত করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে) (আয-যুমার: ৫)

(তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি হতে, অতঃপর তিনি তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদের মাতৃগর্ভে তিন স্তরের অন্ধকারে একের পর এক পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেন। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা; সার্বভৌমত্ব কেবল তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; অতএব তোমাদের কোথায় বিমুখ করা হচ্ছে?) (আয-যুমার: ৬)

(নাকি তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করি, যার বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়। নাকি তিনি, যিনি জমিনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং তার মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন, আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। নাকি তিনি, যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদের জমিনের প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো। নাকি তিনি, যিনি তোমাদের স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা অংশীদার সাব্যস্ত করে আল্লাহ তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে। নাকি তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন অতঃপর পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এবং যিনি তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিজক দান করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তোমাদের দলিল পেশ করো) (আন-নামল: ৬০-৬৪)

(যিনি আসমান ও জমিনের রাজত্বের অধিকারী, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে যথাযথ পরিমাণে নির্ধারণ করেছেন। আর তারা তাঁর পরিবর্তে এমন সব ইলাহ গ্রহণ করেছে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃজিত। তারা নিজেদের অপকার বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থানের ওপরও তাদের কোনো ক্ষমতা নেই) (আল-ফুরকান: ২-৩)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
(بديع السماوات والأرض أنّى يكون له ولدق ولم تكن له صاحبة وخلق كل شيءٍ وهو بكل شيءٍ عليم. ذلكم الله ربكم لا إله إلا هو خالق كل شيء فاعبدوه وهو على كل شيء وكيل) (الأنعام: 101 – 102)

(ومن الناس من يتخذ من دون الله أنداداً يحبونهم كحب الله والذين آمنوا أشد حباً لله، ولو يرى الذين ظلموا إذ يرون العذاب إنّ القوة لله جميعاً) (البقرة: 165)

(قل أرأيتم ما تدعون من دون الله أروني ما خلقوا من الأرض أم لهم شرك في السماوات) (ومن أضل ممن يدعو من دون الله من لا يستجيب له إلى يوم القيامة) (الأحقاف: 4، 5)

(لو كان فيهما آلهةٌ إلا الله لفسدتا فسبحان الله رب العرش عما يصفون. لا يُسئل عما يفعلُ وهُم يُسئلون) (الأنبياء: 22-23)

(ما اتخذ الله من ولد وما كان معه من إله إذاً لذهب كل إله بما خلق ولعلا بعضهم على بعض) (المؤمنون: 91)

(قل لو كان معه آلهةٌ كما يقولون إذاً لابتغوا إلى ذي العرش سبيلاً. سبحانه وتعالى عمّا يقولن علوّاً كبيراً) (الإسراء: 42 – 43)

 

ففي جميع هذه الآيات من أولها إلى آخرها لا تجد إلا فكرة رئيسية واحدة ألا وهي أن كلاً من الألوهية والسلطة تستلزم الأخرى وأنه لا فرق بينهما من حيث المعنى والروح. فالذي لا سلطة له، لا يمكن أن يكون إلهاً ولا ينبغي أن يتخذ إلهاً. وأما من يملك السلطة فهو الذي يجوز أن يكون غلهاً وهو وحده ينبغي أن يتخذ إلهاً. ذلك بأن جميع حاجات المرء التي تتعلق بالإله أو التي يضطر المرء لأجلها أن يتخذ أحداً إلهاً له لا يمكن قضاء شيء منها من دون وجود السلطة. ولذلك لا معنى لألوهية من لا سلطة له، فإن ذلك أيضاً مخالف للحقيقة، ومن النفخ في الرماد أن يرجع إليه المرء ويرجو منه شيئاً.

والأسلوب الذي يستدل به القرآن واضعاً بين يديه هذه الفكرة الرئيسية، يمكن القارئ أني فهم مقدماته ونتائجه حق الفهم بالترتيب الآتي:
(আসমানসমূহ ও জমিনের আদি স্রষ্টা; তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই? তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের ওপর কর্মবিধায়ক) (আল-আনআম: ১০১–১০২)

(আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে তাদের ভালোবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় সুদৃঢ়। আর যদি যালিমরা দেখত—যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে—যে সমস্ত শক্তিই আল্লাহর জন্য) (আল-বাকারা: ১৬৫)

(আপনি বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ডাকো? তারা জমিনের কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও, নাকি আসমানসমূহে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে?) (আর সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না?) (আল-আহকাফ: ৪, ৫)

(যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং আরশের রব আল্লাহ তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র। তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে) (আল-আম্বিয়া: ২২-২৩)

(আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; থাকলে প্রতিটি ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং তারা একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত) (আল-মুমিনুন: ৯১)

(আপনি বলুন, তাদের কথানুযায়ী যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির দিকে কোনো পথ অন্বেষণ করত। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বলে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে—মহা সমুন্নত) (আল-ইসরা: ৪২–৪৩)

 

এই সকল আয়াতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি কেবলমাত্র একটি মূল চিন্তা খুঁজে পাবেন, আর তা হলো—উপাস্যত্ব এবং কর্তৃত্ব একে অপরের জন্য অপরিহার্য এবং অর্থ ও মর্মের দিক থেকে এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যার কোনো কর্তৃত্ব নেই, সে ইলাহ হতে পারে না এবং তাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করাও অনুচিত। আর যার হাতে কর্তৃত্ব রয়েছে, তিনিই ইলাহ হওয়ার যোগ্য এবং একমাত্র তাঁকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ, ইলাহ সম্পর্কিত মানুষের যাবতীয় প্রয়োজন অথবা যে কারণে মানুষ কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়, কর্তৃত্ব ছাড়া তার কোনোটিই পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই যার কোনো কর্তৃত্ব নেই, তার ইলাহ হওয়ার কোনো অর্থই হয় না; বরং তা সত্যের পরিপন্থী এবং কারো পক্ষে তার দিকে ফিরে আসা বা তার কাছে কোনো কিছুর প্রত্যাশা করা ভস্মে ফুঁ দেওয়ার মতো নিষ্ফল কাজ।

কুরআন যে পদ্ধতিতে এই মূল চিন্তার সপক্ষে দলীল পেশ করে, পাঠক তার ভূমিকা ও ফলাফলগুলো নিম্নোক্ত ক্রমানুসারে সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন:
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
1- إن أعمال قضاء الحاجة وكشف الضرر والإجارة والتوفيق والنصر والرقابة والحماية وإجابة الدعوات التي قد تهاونتم بها وصغرتم من شأنها، ما هي بأعمال هينة في حقيقة الأمر، بل الحق أن صلتها وثيقة بالقوى والسلطات التي تتولى أمر الخلق والتدبير في هذا الكون فإنكم إن تأملتم في المنهاج الذي تقضى به حوائجكم التافهة الحقيرة، عرفتم أن قضاءها مستحيل من غير أن تتحرك لأجله عوامل لا تحصى في ملكوت الأرض والسماء خذوا لذلك مثلاً كأساً من الماء تشربونها أو حبة من القمح تأكلونها فما أدركوا إذ تعمل كل من الشمس والأرض والرياح والبحار قبل أن تتهيأ لكم هذه وتصل إلى أيديكم. فالحق أنه لا تتطلب إجابة دعائكم وقضاء حاجتكم وما إليها من الشؤون سلطة هينة، بل يتطلب ذلك سلطة يقتضيها ويستلزمها خلق السماوات والأرض وتحريك السيارات وتصريف الرياح وإنزال الأمطار وبكلمة موجزة يقتضيها ويتطلبها تدبير نظام هذا الكون بأسره.

2- وهذه السلطة غير قابلة للتجزئة، فلا يمكن أبداً أن تكون السلطة في أمر الخلق بيد وفي أمر الرزق بيد أخرى، وأن تكون الشمس مسخرة لهذا وتكون الأرض مذللة لذاك. كما لا يمكن أن يكون الإنشاء في يد والمرض والشفاء في يد أخرى، والموت والحياة بيد ثالثة. فإنه لو كان الأمر كذلك ما أمكن لنظام هذا الكون أن تقوم له قائمة. فما لابدّ منه أن تكون جميع السلطات والصلاحيات بيد حاكم واحد يرجع إليه كل ما في السماوات والأرض. فإنّ نظام هذا العالم يقتضي أن يكون الأمر كذلك وهو في الواقع كذلك:
1- প্রয়োজন পূরণ, ক্ষতি মোচন, আশ্রয় প্রদান, তাওফিক, সাহায্য প্রদান, তদারকি, সুরক্ষা এবং দুআ কবুল করার মতো যে কাজগুলোকে আপনারা অবজ্ঞা করেছেন এবং তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন, প্রকৃতপক্ষে সেগুলো মোটেও সামান্য কাজ নয়। বরং সত্য হলো, এগুলোর নিবিড় সম্পর্ক সেই শক্তি ও ক্ষমতার সাথে, যা এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। আপনারা যদি আপনাদের অতি তুচ্ছ ও সাধারণ প্রয়োজনগুলো পূরণের পদ্ধতির প্রতি লক্ষ্য করেন, তবে বুঝতে পারবেন যে, আসমান ও জমিনের রাজত্বে অগণিত প্রভাবক সক্রিয় হওয়া ছাড়া সেগুলো পূরণ হওয়া অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, এক গ্লাস পানি যা আপনারা পান করেন অথবা গমের একটি দানা যা আপনারা আহার করেন—সেটির কথা ভাবুন। এটি আপনাদের জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং আপনাদের হাতে পৌঁছানোর আগে সূর্য, পৃথিবী, বায়ু এবং সমুদ্র যে ভূমিকা পালন করে, তা কি আপনারা উপলব্ধি করেন? সুতরাং বাস্তব সত্য এই যে, আপনাদের দুআ কবুল করা, প্রয়োজন পূরণ করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের জন্য কোনো সামান্য ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না; বরং এর জন্য এমন ক্ষমতার প্রয়োজন যা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা, গ্রহ-নক্ষত্র পরিচালনা করা, বায়ু প্রবাহিত করা এবং বৃষ্টি বর্ষণের জন্য অপরিহার্য। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সমগ্র মহাবিশ্বের ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতার প্রয়োজন, এগুলোর জন্যও সেই একই ক্ষমতার প্রয়োজন।

2- আর এই ক্ষমতা অবিভাজ্য। সৃষ্টির ক্ষমতা একজনের হাতে এবং রিজিক প্রদানের ক্ষমতা অন্যজনের হাতে—এমনটি হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। সূর্য একজনের অধীনে আর পৃথিবী অন্যজনের অনুগত থাকবে—এটিও অসম্ভব। একইভাবে সৃষ্টি করার ক্ষমতা একজনের হাতে আর রোগ ও আরোগ্য প্রদানের ক্ষমতা অন্যজনের হাতে এবং জীবন ও মৃত্যু তৃতীয় কোনো সত্তার হাতে থাকা সম্ভব নয়। যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে এই মহাবিশ্বের ব্যবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও টিকে থাকতে পারত না। সুতরাং এটি অনিবার্য যে, সকল ক্ষমতা ও ইখতিয়ার একজন মাত্র শাসকের হাতে থাকবে, যার কাছে আসমান ও জমিনের সবকিছু প্রত্যাবর্তন করে। এই বিশ্বের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা এমনটিই দাবি করে এবং বাস্তবেও বিষয়টি এমনই।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
3- وإذ كانت السلطة كلها بيد الحاكم الواحد ولم يكن لأحد غيره نقير منها ولا قطمير، فالألوهية أيضاً مخصوصة به لا محالة، وخالصة له دون غيره ولا شريك له فيها. فلا يملك أحد من دونه أن يغيثك أو يستجيب دعاءك أو يجيرك أو يكون حامياً لك ونصيراً أو لياً ووكيلاً، أو يملك لك شيئاً من النفع أو الضر. إذاً لا إله لكم غير الله بمعنى من تلك المعاني التي قد تخطر ببالكم، حتى إنه لا يمكن أن يكون أحداً إلهاً لكم بأن له دالة عند حاكم هذا الكون وتتقبل شفاعته لديه، لمكانه من التقرب عنده. كلا بل ليس في وسع أحد أن يتصدى لأمر من أمور حكمه وتدبيره، ولا يستطيع أحد أن يتدخل في شيء من شؤونه، وكذلك قبول الشفاعة أو رفضها متوقف على مشيئته وإرادته، وليس لأحد من القوة والنفوذ ما يجعل شفاعته مقبول لديه.
3- যেহেতু সকল কর্তৃত্ব একমাত্র শাসকের হাতে এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো তাতে সামান্যতম বা অণুপরিমাণও কোনো অধিকার নেই, তাই উলুহিয়্যাতও অনিবার্যভাবে তাঁর জন্যই সুনির্দিষ্ট এবং অন্য কেউ ব্যতিরিকে কেবল তাঁরই জন্য একক, যাতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। ফলে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তোমাকে সাহায্য করতে, তোমার প্রার্থনা কবুল করতে, তোমাকে আশ্রয় দিতে কিংবা তোমার রক্ষক, সাহায্যকারী, অভিভাবক বা কর্মবিধায়ক হতে পারে না এবং তোমার কোনো উপকার বা অপকারের মালিকানাও কারো নেই। সুতরাং তোমাদের মনে উদিত হতে পারে এমন কোনো অর্থেই আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই; এমনকি এই বিশ্বজগতের শাসকের নিকট বিশেষ প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকার কারণে কারো সুপারিশ কবুল হবে—এই যুক্তিতেও কেউ তোমাদের ইলাহ হতে পারে না। কখনোই নয়, বরং তাঁর শাসন ও পরিচালনার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সাধ্য কারো নেই এবং তাঁর কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সামর্থ্যও কেউ রাখে না। তদ্রূপ সুপারিশ কবুল হওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হওয়া সম্পূর্ণ তাঁরই ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভরশীল এবং কারো এমন কোনো শক্তি বা প্রভাব নেই যা তাঁর নিকট তার সুপারিশকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
4- وما يقتضيه توحد السلطة العليا أن يكون جميع ضروب الحكم والأمر راجعة إلى مسيطر قاهر واحد، وإلاّ ينتقل منه جزء من الحكم إلى غيره. فإنه إذا لم يكن الخلق إلا له ولم يكن له شريك فيه، وإذا كان هو الذي يرزق الناس ولم تكن لأحد من دونه يد في الأمر، إذا كان هو القائم بتدبير نظام هذا الكون وتسيير شؤونه ولم يكن له في ذلك شريك، فما يتطلبه العقل ألَاّ يكون الحكم والأمر والتشريح إلا بيده كلك ولا مبرّر لأن يكون أحد شريكاً له في هذه الناحية أيضاً. وكما أنّه من الخطأ أن يكون أحد غيره مجيباً لدعوة الداعي وقاضياً لحاجة المحتاج، ومجيراً للمضطر في دائرة ملكوته في السموات والأرض، فمن الخطأ والباطل كذلك أن يكون أحد غيره حاكماً مستقلاً بنفسه، وآمراً مستبداً بحكمه، وشارعاً مطلق اليد في تشريعه، إن الخلق والرزق والاحياء والإنامة، وتسخير الشمس والقمر، وتكوير الليل والنهار والقضاء والقدر، والحكم والملك، والأمر والتشريع.. كل أولئك وجوه مختلفة للسلطة الواحدة، ومظاهر شتى للحكم الواحد، والحكم والسلطة لا يقبل شيء منهما التجزئة والتقسيم البتة. فالذي يعتقد أمر كائن ما من دون الله مما يجب إطاعته والإذعان له بغير سلطان من عند الله، فإنه يأتي من الشرك بمثل ما يأتي به الذي يدعو غير الله ويسأله. وكذلك الذي يدعي أنه مالك الملك، والمسيطر القاهر، والحاكم المطلق بالمعاني السياسية (1) ، فإن دعواه هذه كدعوى الألوهية ممن ينادي بالناس: "إني وليكم وكفيلكم وحاميكم وناصركم"، ويريد بكل ذلك المعاني الخارجة عن نطاق السنن الطبيعية. ألم تر أنه بينما جاء في القرآن أن الله تعالى لا شريك له في الخلق وتقدير الأشياء وتدبير نظام العالم، جاء معه أن الله له الحكم وله الملك ليس له شريك في الملك، مما يدل دلالة واضحة على أن الألوهية تشتمل على معاني الحكم والملك أيضاً،

--------------------------------------------

(1) انظر تحقيق ذلك وبسطه في رسالة (نظرية الإسلام السياسية) للمؤلف.
4- সর্বোচ্চ ক্ষমতার একত্ব যা দাবি করে তা হলো, শাসন ও আদেশের সকল প্রকার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও মহাপ্রতাপশালী শাসকের নিকটই প্রত্যাবর্তন করবে, অন্যথায় শাসনের কোনো অংশ তাঁর থেকে অন্যের নিকট স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। কেননা, সৃষ্টি যখন একমাত্র তাঁরই এবং তাতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং যখন তিনিই মানুষকে রিজিক দান করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর ব্যতিরেকে অন্য কারো কোনো হাত নেই; তদ্রূপ যখন তিনিই এই মহাবিশ্বের নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিচালনা ও এর যাবতীয় কার্যাবলি নির্বাহের দায়িত্ব পালন করেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তখন বিবেক এটাই দাবি করে যে শাসন, আদেশ ও আইন প্রণয়নও সম্পূর্ণভাবে তাঁর হাতেই থাকবে এবং এই ক্ষেত্রেও অন্য কারো অংশীদার হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর ঠিক যেভাবে আসমান ও জমিনে তাঁর রাজত্বের পরিধিতে তাঁর পরিবর্তে অন্য কারো জন্য প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায় সাড়া দানকারী, অভাবগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণকারী এবং বিপদগ্রস্তের আশ্রয়দাতা হওয়া ভুল, ঠিক তেমনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো স্বয়ংসম্পূর্ণ শাসক, নিজ সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারী নির্দেশদাতা এবং আইন প্রণয়নে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হওয়াও ভুল ও বাতিল (باطل)। নিশ্চয়ই সৃষ্টি, রিজিক দান, জীবন দান ও মৃত্যু প্রদান, সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করা, রাত ও দিনের আবর্তন, ভাগ্য ও ফয়সালা, শাসন ও রাজত্ব এবং আদেশ ও আইন প্রণয়ন—এই সবই মূলত একই ক্ষমতার বিভিন্ন দিক এবং একই শাসনের বিবিধ প্রকাশ। শাসন ও ক্ষমতার কোনোটিই বিন্দুমাত্র খণ্ডিত হওয়া বা বিভাজন হওয়া গ্রহণ করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্তার আদেশ পালন করা এবং তার সামনে মস্তক অবনত করা আবশ্যক বলে মনে করে যার স্বপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ বা কর্তৃত্ব নেই, সে মূলত শিরক (شرك) করল; ঠিক যেমনটি সেই ব্যক্তি করে যে আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আহ্বান করে এবং তার নিকট প্রার্থনা করে। তদ্রূপ যে ব্যক্তি রাজনৈতিক অর্থে (১) নিজেকে রাজত্বের মালিক, সর্বেসর্বা অধিপতি ও নিরঙ্কুশ শাসক বলে দাবি করে, তার এই দাবি মূলত ইলাহিয়াত (ألوهية)-এর দাবিরই অনুরূপ; যেমন কেউ মানুষের মাঝে ঘোষণা করে: "আমি তোমাদের অভিভাবক, জিম্মাদার, রক্ষক ও সাহায্যকারী", অথচ সে এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক নিয়মের বহির্ভূত অর্থ উদ্দেশ্য গ্রহণ করে। আপনি কি দেখেননি যে, কুরআনে একদিকে যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে সৃষ্টি, তাকদির নির্ধারণ এবং বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনায় আল্লাহর কোনো অংশীদার নেই, সেখানে এর সাথে এটাও বর্ণিত হয়েছে যে শাসন ও রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই এবং রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই; যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইলাহিয়াত (ألوهية) শব্দটির মধ্যে শাসন ও রাজত্বের অর্থও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ের বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য লেখকের ‘ইসলামের রাজনৈতিক তত্ত্ব’ নামক পুস্তিকাটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وأنه مما يستلزمه توحيد الإله ألا يشرك بالله تعالى في هذه المعاني كذلك. وقد فصل القول في ذلك أكثر مما تقدم فيما يلي من الآيات:

(قلْ اللهمّ مالك الملك تؤتي الملك من تشاء وتنزع الملك من تشاءُ وتعز من تشاء وتذل من تشاء) (آل عمران: 26)

(قل أعوذ برب الناس. ملك الناس. إله الناس) (الناس: 1-3)

وقد صرح القرآن بالأمر بأكثر من كل ما سبق في (سورة غافر) حيث جاء:

(يوم هم بارزون، لا يخفى على الله منهم شيء، لمن الملك اليوم لله الواحد القهار) (غافر: 16)

أي يوم يكون الناس قد انقشعت الحجب عنهم، ولا يخفى على الله خافية من أمرهم، ينادي المنادي: لمن الملك اليوم؟ ولا يكون الجواب إلا أن الملك لله الذي غلبت سلطته جميع الخلق، وأحسن ما يفسر هذه الآية ما رواه الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ هذه الآية ذات يوم على المنبر (وما قد روا الله حق قدره، والأرض جميعاً قبضته يوم القيامة، والسموات مطويات بيمينه، سبحانه وتعالى عما يشركون) ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: هكذا بيده ويحركها، يقبل بها ويدبر، يمجد الرب نفسه، أنا الجبار، أنا المتكبر، أنا العزيز، أنا الكريم، فرجف برسول الله صلى الله عليه وسلم المنبرُ حتى قلنا: ليخرَّنَّ به.
আল্লাহ তাআলার ইলাহ হিসেবে একত্ববাদের (তৌহিদ) একটি অপরিহার্য দাবি হলো এই যে, এই অর্থ বা গুণাবলির ক্ষেত্রেও আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে এ প্রসঙ্গে পূর্বের চেয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে:

(বলুন: হে আল্লাহ! আপনিই রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন) (আল-ইমরান: ২৬)

(বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে, মানুষের মালিকের কাছে, মানুষের ইলাহ-এর কাছে) (আন-নাস: ১-৩)

কুরআন মাজিদ সূরা গাফিরে পূর্বের সবকিছুর চেয়ে আরও স্পষ্টভাবে বিষয়টি বর্ণনা করেছে, যেখানে বলা হয়েছে:

(যেদিন তারা আত্মপ্রকাশ করবে, আল্লাহর কাছে তাদের কোনো কিছুই গোপন থাকবে না; আজ রাজত্ব কার? একমাত্র পরাক্রমশালী আল্লাহরই) (গাফির: ১৬)

অর্থাৎ যেদিন মানুষের সামনে থেকে সমস্ত পর্দা অপসারিত হবে এবং আল্লাহর কাছে তাদের কোনো বিষয়ই গোপন থাকবে না। সেদিন এক আহ্বানকারী ঘোষণা করবেন: আজ রাজত্ব কার? তখন এর উত্তর কেবল এটাই হবে যে, রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর, যাঁর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সমস্ত সৃষ্টির ওপর বিজয়ী হয়েছে। এই আয়াতের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো সেই বর্ণনা, যা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই আয়াতটি পাঠ করলেন— (তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে)। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত দিয়ে ইশারা করছিলেন এবং তা নাড়াচাড়া করে সামনে-পেছনে ঘুরাচ্ছিলেন আর মহান রব নিজের মহিমা বর্ণনা করে বলছিলেন: 'আমিই প্রতাপশালী, আমিই অহংকারী, আমিই মহাপরাক্রমশালী, আমিই পরম দয়ালু।' এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে মিম্বারটি এমনভাবে কাঁপতে লাগল যে, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে এটি তাঁকে নিয়ে পড়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
2-‌‌الرب

التحقيق اللغوي

مادة كلمة (الرب) : الراء والباء المضعَّفة

قال ابن فارس في (مقاييس اللغة) 2/381: - 382 مادة (رب) : "الراء والياء يدل على أصول، فالأول: إصلاح الشيء والقيام عليه، فالرب: المالك، والخالق، والصاحب، والرب: المصلح للشيء..

والأصل الآخر: لزوم الشيء والإقامة عليه، وهو مناسب للأصل الأول..،

والأصل الثالث: ضم الشيء للشيء وهو أيضاً مناسب لما قبله: ومتى أنعم النظر كان الباب كله قياساً واحداً.." اهـ، ومعناها الأصلي الأساسي: التربية، ثم تتشعب عنه معاني التصرف والتعهد والاستصلاح والإتمام والتكميل، ومن ذلك كله تنشأ في الكلمة معاني العلو والرئاسة والتملك والسيادة. ودونك أمثلة لاستعمال الكلمة في لغة العرب بتلك المعاني المختلفة: (1)

(1) التربية والتنشئة والإنماء:

يقولون (ربَّ الولد) أي ربّاه حتى أدرك فـ (الرّبيب) هو الصبي الذي تربيه و (الربيبة) الصبية. وكذلك تطلق الكلمتان على الطفل الذي يربى في بيت زوج أمه و (الربيبة) أيضاً الحاضنة ويقال (الرّابة) لامرأة الأب غير الأم، فإنها وإن لم تكن أم الولد، تقوم بتربيته وتنشئته. و (الراب) كذلك زوج الأم. (المربب) أو (المربى) هو الدواء الذي يختزن ويدّخر. و (رَبَّ يُربُّ ربَّاً) من باب نصر معناه الإضافة والزيادة والإتمام، فيقولون (ربَّ النعمة) : أي زاد في الإحسان وأمعن فيه.

(2) الجمع والحشد والتهيئة:

يقولون: (فلان يرب الناس) أي يجمعهم أو يجتمع عليه الناس، ويسمون مكان جمعهم (بالمرّبّ) و (التربُّب) هو الانضمام والتجمّع.

(3) التعهد والاستصلاح والرعاية والكفالة:

يقولون (رب ضيعة) أي تعهدّها وراقب أمرها. قال صفوان بن أمية لأبي سفيان: لأن يربني رجل من قريش أحب إلي من أن يربني رجل من هوازن، أي يكفلني ويجعلني تحت رعايته وعنايته. وقال علقمة بن عبدة:

وكنت امرءاً أفضت إليك ربابتي … ... وقبلك ربتني فضيعت ربوب (2)

أي انتهى إليك الآن أمر ربابتي وكفالتي بعد أن رباني قبلك ربوب فلم يتعهدوني ولم يصلحوا شأني. ويقول الفرزدق:

كانوا كسالئة حمقاء إذ حقنت … ... سلاءها في أديم غير مربوب (3)

--------------------------------------------

(1) انظر (لسان العرب) مادة (ربب) 1/384 -: 39، و (القاموس المحيط) مادة (ربب) ، والمخصص 17/154.

(2) البيت في ديوانه: 132 والمفضليات: 2/194، واللسان (ربب) ومقاييس اللغة: 2/383، وتفسير الطبري: 1/48، والصحاح (ربب) والمخصص: 17/154.

(3) البيت في اللسان (سلا) . واللا: المن.
২-‌‌আল-রব (الرب)

ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (التحقيق اللغوي)

'আল-রব' (الرب) শব্দের মূল উপাদান (مادة): দ্বিত্ব বিশিষ্ট 'রা' (الراء) এবং 'বা' (الباء المضعَّفة)

ইবনে ফারিস তাঁর 'মাকায়িস আল-লুগাহ' (مقاييس اللغة) ২/৩৮১-৩৮২ গ্রন্থে 'রব' (رب) মূল উপাদান সম্পর্কে বলেন: "রা এবং বা-এর এই মূল রূপটি কয়েকটি মৌলিক অর্থের প্রতি নির্দেশ করে। প্রথমত: কোনো বস্তুর সংস্কার করা (إصلاح الشيء) এবং তার তত্ত্বাবধান করা। সুতরাং 'রব' (الرب) হলেন: মালিক (المالك), স্রষ্টা (الخالق), এবং অধিপতি (الصاحب); আর 'রব' অর্থ কোনো বস্তুর সংস্কারক (المصلح)...

দ্বিতীয় মূল অর্থ: কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা এবং সেখানে অবস্থান করা, যা প্রথম অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ...

তৃতীয় মূল অর্থ: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে একত্রিত করা। এটাও পূর্ববর্তী অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গভীর অভিনিবেশ সহকারে দেখলে বোঝা যাবে যে, এই শব্দমূলের সকল অর্থই মূলত একই নিয়মে গঠিত..." ইতি। এর মৌলিক ও প্রধান অর্থ হলো: প্রতিপালন (التربية), অতঃপর তা থেকে ব্যবস্থাপনা (التصرف), রক্ষণাবেক্ষণ (التعهد), সংস্কার (الاستصلاح), সমাপ্তিকরণ (الإتمام) ও পূর্ণতাদান (التكميل) প্রভৃতি অর্থ উৎসারিত হয়েছে। আর এ সমস্ত কিছু থেকেই শব্দটিতে উচ্চমর্যাদা (العلو), নেতৃত্ব (الرئاسة), মালিকানা (التملك) এবং সার্বভৌমত্বের (السيادة) অর্থসমূহ সৃষ্টি হয়। আরবদের ভাষায় বিভিন্ন অর্থে শব্দটির ব্যবহারের কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো: (১)

(১) প্রতিপালন (التربية), লালন-পালন (التنشئة) ও বর্ধিতকরণ (الإنماء):

তারা বলে 'রাব্বাল ওয়ালাদা' (ربَّ الولد) অর্থাৎ সে সন্তানটিকে লালন-পালন করেছে যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। সুতরাং 'রাবিব' (الرّبيب) হলো সেই বালক যাকে প্রতিপালন করা হয় এবং 'রাবিবাহ' (الربيبة) হলো সেই বালিকা। অনুরূপভাবে এই শব্দ দুটি সেই শিশুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যে তার মায়ের স্বামীর ঘরে প্রতিপালিত হয়। 'রাবিবাহ' (الربيبة) বলতে ধাত্রী বা লালনকারিনীকেও বোঝায়। পিতার স্ত্রীকে (মা ছাড়া অন্য স্ত্রী) 'রাব্বাহ' (الرّابة) বলা হয়; কারণ সে সন্তানের জন্মদাত্রী মা না হলেও তার লালন-পালন ও গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে। 'রাব্ব' (الراب) বলতে মায়ের স্বামীকেও (সৎ বাবা) বোঝানো হয়। 'মুরাব্বাব' (المربب) বা 'মুরাব্বা' (المربى) হলো সেই ওষুধ যা প্রক্রিয়াজাত করে সঞ্চয় করে রাখা হয়। 'রাব্বা-ইয়াহরুব্বু-রাব্বান' (رَبَّ يُربُّ ربَّاً) যা 'নাসারা' (نصر) এর ব্যাকরণিক নিয়ম থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো সংযোজন (الإضافة), বৃদ্ধি (الزيادة) ও পূর্ণতা দান (الإتمام)। তারা বলে 'রাব্বান নিয়মাহ' (ربَّ النعمة) : অর্থাৎ সে অনুগ্রহ বৃদ্ধি করেছে এবং তাতে গভীরতা দান করেছে।

(২) একত্রিতকরণ (الجمع), সমাবেশ (الحشد) ও প্রস্তুতি গ্রহণ (التهيئة):

তারা বলে: "অমুক ব্যক্তি মানুষকে 'ইয়াবুব্বু' (يرب) করছে" অর্থাৎ সে তাদের একত্রিত করছে অথবা তার কাছে মানুষ সমবেত হচ্ছে। তাদের সমবেত হওয়ার স্থানকে তারা 'মিরবাব' (بالمرّبّ) বলে। আর 'তারাব্বুব' (التربُّب) অর্থ হলো দলবদ্ধ হওয়া ও একত্রিত হওয়া।

(৩) রক্ষণাবেক্ষণ (التعهد), সংস্কার (الاستصلاح), তত্ত্বাবধান (الرعاية) ও জিম্মাদারি (الكفالة):

তারা বলে 'রব্বা দ্বয়আতান' (رب ضيعة) অর্থাৎ সে ভূসম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করেছে এবং এর অবস্থার তদারকি করেছে। সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া আবু সুফিয়ানকে বলেছিলেন: "কুরাইশ বংশীয় কোনো ব্যক্তির জিম্মাদারিতে (يربني) থাকা আমার কাছে হাওয়াযিন বংশীয় কোনো ব্যক্তির জিম্মাদারিতে থাকার চেয়ে অধিক প্রিয়।" অর্থাৎ সে আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে এবং আমাকে তার তত্ত্বাবধান ও আশ্রয়ে রাখবে। আলকামা ইবনে আবাদাহ বলেন:

আমি এমন এক ব্যক্তি ছিলাম যার জিম্মাদারি (ربابتي) আপনার কাছে ন্যস্ত হয়েছে … ... আর আপনার পূর্বে অনেক জিম্মাদার (ربوب) আমাকে লালন করেছিল কিন্তু তারা আমাকে অবহেলা করে নষ্ট করে দিয়েছিল (২)

অর্থাৎ এখন আমার দায়িত্ব ও জিম্মাদারি আপনার ওপর বর্তেছে, অথচ আপনার আগে অনেক জিম্মাদার বা অভিভাবক আমার দায়িত্ব নিয়েছিল কিন্তু তারা আমার রক্ষণাবেক্ষণ করেনি এবং আমার অবস্থার সংস্কার করেনি। ফারাজদাক বলেন:

তারা ছিল সেই নির্বোধ ঘি-বিক্রেতা মহিলার মতো যে তার ঘি … ... এমন পশুর চামড়ার পাত্রে রেখেছিল যা সংস্কার করা হয়নি (غیر مربوب) (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন লিসান আল-আরব, শব্দমূল (ربب) ১/৩৮৪-৩৯; আল-কামুস আল-মুহিত, শব্দমূল (ربب); এবং আল-মুখাসসাস ১৭/১৫৪।

(২) কবিতাটি তার দিওয়ানের ১৩২ পৃষ্ঠায় এবং আল-মুফাদ্দালিয়াত ২/১৯৪-এ রয়েছে। এছাড়া লিসান (ربب), মাকায়িস আল-লুগাহ ২/৩৮৩, তাফসিরে তাবারি ১/৪৮, আস-সিহাহ (ربب) এবং আল-মুখাসসাস ১৭/১৫৪-এ দ্রষ্টব্য।

(৩) কবিতাটি লিসান (سلا) অংশে রয়েছে। 'আল-লা' অর্থ 'মান' (অনুগ্রহ)।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
أي الأديم الذي لم يليّن ولم يدبغ. ويقال (فلان يربب صنعته عند فلان) أي يشتغل عنده بصناعته ويتمرن عليها ويكسب على يده المهارة فيها.

(4) العلاء والسيادة والرئاسة وتنفيذ الأمر والتصرف:

يقولون (قد ربّ فلان قومه) : أي ساسهم وجعلهم ينقادون له. و (ربيت القوم) أي حكمتهم وسدتهم، ويقول لبيد بن ربيعة:

وأهلكن يوماً رب كندة وابنه … وربَّ معد بين خبث وعرعر (1)

والمراد برب كندة ههنا سيد كندة ورئيسهم. وفي هذا المعنى يقول النابغة الذبياني:

تخُبٌّ إلى لانعمان حتى تناله … فدىً لك من ربٍ تليدي وطارفي (2)

(5) التملك:

قد جاء في الحديث أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم رجلاً "أرب غنم أم رب ابل؟، أي أمالك غنم أنت أم مالك ابل؟ وفي هذا المعنى يقال لصاحب البيت (رب الدار) وصاحب الناقة: (رب الناقة) ومالك الضيعة: (رب الضيعة) وتأتي كلمة الرب بمعنى السيد أيضاً فتستعمل بمعنى ضد العبد أو الخادم.

هذا بيان ما يتشعب من كلمة (الرب) من المعاني. وقد أخطأوا لعمر الله حين حصروا هذه الكلمة في معنى المربي والمنشئ، ورددوا في تفسير (الربوبية) هذه الجملة (هو إنشاء الشيء حالاً فحالاً إلى حد التمام) . والحق أن ذلك إنما هو معنى واحد من معاني الكلمة المتعددة الواسعة. وبإنعام النظر في سعة هذه الكلمة واستعراض معانيها المتشعبة يتبين أن كلمة (الرب) مشتملة على جميع ما يأتي بيانه من المعاني:

المربي الكفيل بقضاء الحاجات، والقائم بأمر التربية والتنشئة.

الكفيل والرقيب، والمتكفل بالتعهد وإصلاح الحال.

السيد الرئيس الذي يكون في قومه كالقطب يجتمعون حوله.

--------------------------------------------

(1) البيت في تفسير الطبري: 1/47، وتفسير الطبرسي: 1/11 والمخصص: 17/154.

(2) البيت في تفسير الطبري 1/141 طبع وزارة المعارف، تحقيق محمود شاكر: (طريفي وتالدي) ، وهو كذلك في الديوان، 89، والمخصص 7/154 والطريف: هو المال المستحدث. والتالدي: المال العتيق الذي ولد عندك.
অর্থাৎ এমন চামড়া যা নরম বা পাকা করা হয়নি। আর বলা হয় (অমুক ব্যক্তি অমুকের কাছে তার শিল্পের পরিচর্যা করছে) অর্থাৎ সে তার কাছে তার শিল্পকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয় এবং তার নিকট থেকেই তাতে দক্ষতা অর্জন করে।

(৪) উচ্চমর্যাদা, নেতৃত্ব, আধিপত্য, আদেশ কার্যকর করা এবং কর্তৃত্ব:

তারা বলে থাকেন (অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের ওপর প্রভুত্ব করেছেন) : অর্থাৎ তিনি তাদের শাসন করেছেন এবং তাদের নিজের অনুগত করেছেন। আর (আমি কওমের প্রভুত্ব করেছি) অর্থাৎ আমি তাদের শাসন ও নেতৃত্ব দিয়েছি। লাবীদ ইবনে রাবিআ বলেন:

এবং তারা একদিন কিন্দাহ্র অধিপতি ও তার পুত্রকে ধ্বংস করেছিল … এবং খুবাছ ও আরআরের মাঝে মা'আদ গোত্রের অধিপতিকে (১)

এখানে 'রাব্বু কিন্দাহ' দ্বারা কিন্দাহ্র সরদার ও তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এই অর্থেই নাবিগাহ আদ-দুবইয়ানি বলেন:

তা নু'মানের দিকে দ্রুত ধাবিত হয় যতক্ষণ না তাকে পায় … আপনার জন্য আমার পুরনো ও নতুন সকল সম্পদ উৎসর্গিত হোক (২)

(৫) মালিকানা:

হাদিসে এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "তুমি কি ছাগলের মালিক নাকি উটের মালিক?", অর্থাৎ তুমি কি ছাগলের অধিকারী নাকি উটের অধিকারী? এই অর্থেই গৃহকর্তাকে (রব্বুদ দার), উটনীর মালিককে (রব্বুন নাকাহ) এবং ভূ-সম্পত্তির মালিককে (রব্বুজ জয়আহ) বলা হয়। আর 'রব' শব্দটি সরদার বা মনিব অর্থেও আসে, যা দাস বা ভৃত্যের বিপরীত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

এটি 'রব' শব্দের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা থেকে উদ্ভূত অর্থসমূহের বর্ণনা। আল্লাহর কসম! তারা ভুল করেছেন যখন তারা এই শব্দটিকে কেবল লালনকারী ও বিকাশকারী অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং 'রুবুবিয়াত'-এর ব্যাখ্যায় এই বাক্যটি বারবার আওড়েছেন (এটি হলো কোনো বস্তুকে ধাপে ধাপে পূর্ণতা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া)। সত্য হলো, এটি এই শব্দের বহুবিধ ও ব্যাপক অর্থের মধ্যে মাত্র একটি অর্থ। এই শব্দের ব্যাপকতার প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে এবং এর শাখা-প্রশাখা অর্থসমূহ পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, 'রব' শব্দটি নিম্নোক্ত সকল অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে:

লালন-পালনকারী, যিনি প্রয়োজন পূরণের জিম্মাদার এবং প্রতিপালন ও বিকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত।

জিম্মাদার ও পর্যবেক্ষক, এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও অবস্থা সংশোধনের দায়িত্ব গ্রহণকারী।

সেই সরদার বা প্রধান, যিনি নিজ কওমের মাঝে কেন্দ্রবিন্দুস্বরূপ এবং তাকে কেন্দ্র করেই সকলে একত্রিত হয়।

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি তাবারির তাফসির: ১/৪৭, তাবারসির তাফসির: ১/১১ এবং আল-মুখাসসাস: ১৭/১৫৪ গ্রন্থে রয়েছে।

(২) কবিতাটি তাবারির তাফসির ১/১৪১, উইজারাতুল মাআরিফ সংস্করণ, মাহমুদ শাকেরের সম্পাদনা: (তরিফি ওয়া তালিদি), এবং এটি দিওয়ানেও ৮৯ পৃষ্ঠায় ও আল-মুখাসসাস গ্রন্থে ৭/১৫৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে। 'তরিফ' হলো নব্য অর্জিত সম্পদ। 'তালিদি' হলো পুরনো সম্পদ যা জন্মগতভাবেই তোমার মালিকানাধীন।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
السيد المطاع، والرئيس وصاحب السلطة النافذ الحكم، والمعترف له بالعلاء والسيادة، والمالك لصلاحيات التصرف.

الملك والسيد.

 

‌‌استعمال كلمة (الرب) في القرآن

وقد جاءت كلمة (الرب) في القرآن بجميع ما ذكرناه آنفاً من معانيها. ففي بعض المواضع أريد بها معنى أو معنيان من تلك المعاني. وفي الأخرى أريد بها أكثر من ذلك. وفي الثالثة جاءت الكلمة مشتملة على المعاني الخمسة بأجمعها في آن واحد. وها نحن نبين ذلك بأمثلة من آي الذكر الحكيم.

 

بالمعنى الأول

(قال معاذ الله إنه ربي أحسن مثواي) (1) (يوسف: 23)

 

بالمعنى الثاني وباشتراك شيء من تصور المعنى الأول.

(فإنهم عدوٌ لي إلا رب العالمين. الذي خلقني فهو يهدين والذي هو يطعمني ويسقين. وإذا مرضت فهو يشفين) (الشعراء: 77-80)

(وما بكم من نعمة فمن الله، ثم إذا مسكم الضر فإليه تجأرون، ثم إذا كشف الضر عنكم إذا فريق منكم بربهم يشركون) (النحل: 53-54)

(قل أغير الله أبغي رباً وهو ربُّ كل شيء) (الأنعام: 164)

(ربُّ المشرق والمغرب لا إله إلا هو فاتخذه وكيلاً) (المزمل: 9)

 

بالمعنى الثالث

--------------------------------------------

(1) لا يذهبن بأحد الظن أن يوسف عليه الصلاة والسلام أراد بكلمة (ربي) في الآية عزيز مصر، كما ذهب إليه بعض المفسرين ز وإنما يرجع الضمير في (انه) إلى الله الذي قد استعاذ به يوسف عليه السلام بقوله: (معاذ الله) .

ولما كان المشار إليه قريبا من ضمير الاشارة فأي حاجة بنا إلى أن نلتمس له مشارا إليه آخر لم يذكر قريبا منه.

ونقول: ما نفاه الاستاذ المودودي من أن الضمير في (إنه) يعود على عزيز مصر رواه الطبري في التفسير 12/108 من وجوه عن مجاهد وابن اسحاق، ولم ينقل غيره. وقد روى الوجه الذي ذهب إاليه الاستاذ المودودي الطبرسي في (مجمع البيان) 5/223 مقال: ".. وقيل: أن الهاء عائد إلى الله سبحانه، والمعنى أن الله ربي رفع من محلي وأحسن إلى وجعلني نبياً فلا أعصيه أبدا "
মান্যবর প্রভু, নেতা ও কার্যকর ক্ষমতার অধিকারী কর্তৃপক্ষ, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্ব সর্বজনস্বীকৃত এবং যিনি পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতার মালিক।

অধিপতি ও প্রভু।

 

‌‌কুরআনে ‘রব’ (الرب) শব্দের ব্যবহার

কুরআনে ‘রব’ (الرب) শব্দটি আমরা ইতিপূর্বে যে অর্থগুলো উল্লেখ করেছি তার সবকটি অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে এই অর্থগুলোর একটি বা দুটি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আবার অন্য ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় কোনো ক্ষেত্রে শব্দটি একই সাথে পাঁচটি অর্থের সবকটিকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা এখন মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াত থেকে উদাহরণের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করছি।

 

প্রথম অর্থে:

(তিনি বললেন, আল্লাহর পানাহ! নিশ্চয়ই তিনি আমার রব (ربي), তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন।) (১) (ইউসুফ: ২৩)

 

দ্বিতীয় অর্থে এবং যেখানে প্রথম অর্থের কিছু ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

(তারা সবাই আমার শত্রু, কেবল বিশ্বপ্রতিপালক (رب العالمين) ছাড়া। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন। আর যিনি আমাকে আহার দান করেন ও পান করান। এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।) (আশ-শুআরা: ৭৭-৮০)

(তোমাদের কাছে যেসব নিয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। অতঃপর যখন তোমাদের কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে আর্তনাদ করো। এরপর যখন তিনি তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একদল তাদের রবের (بربهم) সাথে শিরক করতে লিপ্ত হয়।) (আন-নাহল: ৫৩-৫৪)

(বলুন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো রব (رباً) তালাশ করব, অথচ তিনি সবকিছুর রব (ربُّ كل شيء)?) (আল-আনআম: ১৬৪)

(তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব (ربُّ المشرق والمغرب), তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; অতএব তাঁকেই কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করো।) (আল-মুযযাম্মিল: ৯)

 

তৃতীয় অর্থে:

--------------------------------------------

(১) কারো যেন মনে এমন ধারণা না হয় যে, ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আয়াতে ‘রব’ (ربي) শব্দ দ্বারা মিসরের আজিজকে উদ্দেশ্য করেছেন, যেমনটি কোনো কোনো মুফাসসির (المفسرين) মনে করেছেন। বরং ‘ইন্নাহু’ (إنه) এর সর্বনাম (الضمير) আল্লাহর দিকেই ফিরেছে, যাঁর আশ্রয় ইউসুফ আলাইহিস সালাম এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন: ‘মা‘আযাল্লাহ’ (معاذ الله)।

যেহেতু নির্দেশিত বিষয়টি সর্বনামের (ضمير الإشارة) অতি নিকটে রয়েছে, তাই আমাদের জন্য অন্য কোনো নির্দেশিত বিষয় খোঁজার কী প্রয়োজন যার উল্লেখ এর নিকটে নেই?

আমরা বলতে চাই: উস্তাদ মওদূদী ‘ইন্নাহু’ (إنه) এর সর্বনাম (الضمير) মিসরের আজিজের দিকে ফেরার যে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তা ইমাম তাবারী তাফসির তাবারিতে (১২/১০৮) মুজাহিদ ও ইবনে ইসহাক থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং তিনি এছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। আর উস্তাদ মওদূদী যে মতটির দিকে গিয়েছেন, তা তাবারসি মাজমাউল বায়ান (৫/২২৩) গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন: “... এবং বলা হয়েছে যে, ‘হা’ (الهاء) সর্বনামটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে ফিরছে; এর অর্থ হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব (ربي), তিনি আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন, তাই আমি কখনোই তাঁর অবাধ্য হব না।”
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
(هو ربكم وإليه ترجعون) (هود: 34)

(ثم إلى ربكم مرجعكم) (الزمر: 7)

(قل يجمع بيننا ربنا) (سبأ: 26)

(وما من دابةً في الأرض ولا طائرٍ يطير بجناحيه إلا أممٌ أمثالكم، ما فرطنا في الكتاب من شيء ثم إلى ربّهم يُحشرون) (الأنعام: 38)

(ونفخ في الصور فإذا هم من الأجداث إلى ربّهم ينسلون) (يس: 51)

 

بالمعنى الرابع وباشتراك بعض تصور المعنى الثالث.

(اتّخذوا أحبارهم ورُهبانهم أرباباً من دون الله) (التوبة: 31)

(ولا يتخذ بعضنا بعضاً أرباباً من دون الله) (آل عمران: 64)

والمراد بالأرباب في كلتا الآيتين الذين تتخذهم الأمم والطوائف هداتها ومرشديها على الإطلاق. فتذعن لأمرهم ونهيهم، وتتبع شرعهم وقانونهم، وتؤمن بما يحلون وما يحرمون بغير أن يكون قد أنزل الله تعالى به من سلطان، وتحسبهم فوق ذلك أحقاء بأن يأمروا وينهوا من عند أنفسهم.

(أما أحدكما فيسقي ربه خمراً) .. (وقال للذي ظنّ أنه ناجٍ منهما اذكرني عند ربك فأنساه الشيطان ذكر ربه) .. (فلما جاءه الرّسول قال ارجع إلى ربك فاسأله ما بال النسوة اللاتي قطّعن أيديهنّ إنّ ربي بكيدهنّ عليم) (يوسف: 41، 42، 50)

قد كرر يوسف عليه السلام في خطابه لأهل مصر في هذه الآيات تسمية عزيز مصر بكلمة (ربهم) فذلك لأن أهل مصر بما كانوا يؤمنون بمكانته المركزية وبسلطته العليا، ويعتقدون أنه مالك الأمر والنهي، فقد كان هو ربهم في واقع الأمر، وبخلاف ذلك لم يُرد يوسف عليه السلام بكلمة (الرب) عندما تكلم بها بالنسبة لنفسه إلا الله تعالى فإنه لم يكن يعتقد فرعون، بل الله وحده المسيطر القاهر ومالك الأمر والنهي.

 

بالمعنى الخامس:

(فليعبدوا ربّ هذا البيت الذي أطعمهم من جوعٍ وآمنهم من خوفٍ) (قريش: 3-4)

(سبحان ربك ربِّ العزة عما يصفون) (الصافات: 180)

(فسبحان الله ربِّ العرش عما يصفون) (الأنبياء: 22)

(قل من ربُّ السماوات السبع وربُّ العرش العظيم) (المؤمنون: 86)
(তিনিই তোমাদের পালনকর্তা (رب) এবং তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে) (হূদ: ৩৪)

(অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার (رب) নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল) (যুমার: ৭)

(বলুন, আমাদের পালনকর্তা (رب) আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন) (সাবা: ২৬)

(ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল কোনো প্রাণী কিংবা নিজ ডানার সাহায্যে উড়ন্ত কোনো পাখি নেই, যারা তোমাদের মতো একেকটি উম্মত নয়। আমি কিতাবে কোনো কিছু লিখতে ছাড়িনি; অতঃপর তাদের সবাইকে তাদের পালনকর্তার (رب) নিকট সমবেত করা হবে) (আনআম: ৩৮)

(আর যখন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, অমনি তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার (رب) দিকে ছুটে চলবে) (ইয়াসিন: ৫১)

 

চতুর্থ অর্থের ভিত্তিতে এবং তৃতীয় অর্থের কিছু ধারণার অংশীদারিত্বে।

(তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের পালনকর্তা (أرباب) হিসেবে গ্রহণ করেছে) (তাওবাহ: ৩১)

(এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া পালনকর্তা (أرباب) হিসেবে গ্রহণ করবে না) (আলে ইমরান: ৬৪)

উভয় আয়াতে 'পালনকর্তা' (أرباب) বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে, যাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠী নিরঙ্কুশভাবে নিজেদের পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে। তারা তাদের আদেশ ও নিষেধের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে, তাদের প্রবর্তিত শরিয়ত ও আইন অনুসরণ করে এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ হওয়া ছাড়াই তারা যা হালাল বা হারাম করে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে। তদুপরি তারা মনে করে যে, এই ব্যক্তিরা নিজ থেকেই আদেশ ও নিষেধ প্রদানের অধিকারী।

(তোমাদের দুজনের একজন তার পালনকর্তাকে (رب) মদ্যপান করাবে) .. (এবং সে তাদের দুইজনের মধ্যে যার সম্পর্কে ধারণা করেছিল যে সে মুক্তি পাবে, তাকে বলল: তোমার পালনকর্তার (رب) নিকট আমার কথা উল্লেখ করো। কিন্তু শয়তান তাকে তার পালনকর্তার (رب) নিকট সে কথা উল্লেখ করতে ভুলিয়ে দিল) .. (অতঃপর যখন তার নিকট দূত এল, তখন সে বলল: তুমি তোমার পালনকর্তার (رب) নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো যে, সেই নারীদের অবস্থা কী যারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল? নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা (رب) তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে সম্যক অবগত) (ইউসুফ: ৪১, ৪২, ৫০)

ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) মিসরবাসীদের সম্বোধন করার সময় এই আয়াতগুলোতে মিসরের আজিজকে 'তাদের পালনকর্তা' (رب) শব্দে বারবার অভিহিত করেছেন। কারণ মিসরবাসীরা যেহেতু তার কেন্দ্রীয় অবস্থান ও উচ্চতর কর্তৃত্বে বিশ্বাস করত এবং তাকে আদেশ ও নিষেধের মালিক মনে করত, তাই বাস্তবে সে-ই ছিল তাদের পালনকর্তা (رب)। এর বিপরীতে, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) যখন নিজের ক্ষেত্রে 'পালনকর্তা' (رب) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তখন তিনি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেননি। কারণ তিনি ফেরাউনকে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহকেই সর্বজয়ী নিয়ন্ত্রক এবং আদেশ ও নিষেধের মালিক বলে বিশ্বাস করতেন।

 

পঞ্চম অর্থের ভিত্তিতে:

(অতএব তারা যেন এই ঘরের পালনকর্তার (رب) ইবাদত করে, যিনি তাদেরকে ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন এবং ভয় থেকে মুক্তি দিয়েছেন) (কুরাইশ: ৩-৪)

(পবিত্রতা আপনার পালনকর্তার (رب), যিনি সম্মানের অধিকারী—তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র) (সাফফাত: ১৮০)

(অতএব আরশের পালনকর্তা (رب) আল্লাহ অত্যন্ত পবিত্র—তারা যা বলে তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে) (আম্বিয়া: ২২)

(বলুন, সাত আসমানের পালনকর্তা (رب) এবং মহান আরশের পালনকর্তা (رب) কে?) (মুমিনুন: ৮৬)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
(رب السماوات والأرض وما بينهما وربُّ المشارق) (الصافات: 5)

(وأنه هو رب الشِّعرى) (النجم: 49)

 

‌‌تصورات الأمم الضالة في باب الربوبية

ومما تقدم من شواهد آيات القرآن، تتجلى معاني كلمة (الرب) كالشمس ليس دونهما غمام. فالآن يجمل بنا أن ننظر ماذا كانت تصورات الأمم الضالة في باب الربوبية، ولماذا جاء القرآن ينقضها ويرفضها، وما الذي يدعو إليه القرآن الكريم؟ ولعل من الأجدر بنا في هذا الصدد أن نتناول كل أمة من الأمم الضالة التي ذكرها القرآن منفصلة بعضها عن بعض، فنبحث في عقائدها وأفكارها حتى يستبين الأمر ويخلص من كل لبس أو إبهام.

 

قوم نوح عليه السلام

إن أقدم أمة في التاريخ يذكرها القرآن هي أمة نوح عليه السلام، ويتضح مما جاء فيه عن هؤلاء القوم أنهم لم يكونوا جاحدين بوجود الله تعالى، فقد روى القرآن نفسه قولهم الآتي في ردّهم على دعوة نوح عليه السلام:

(ما هذا إلا بشرٌ مثلكم يريدُ أن يتفضل عليكم، ولو شاء الله لأنزل ملائكة) … (المؤمنون: 24)

وكذلك لم يكونوا يجحدون كون الله تعالى خالق هذا العالم، وبكونه رباً بالمعنى الأول والثاني، فإنه لما قال لهم نوح عليه السلام

(هو ربكم وإليه ترجعون) (هود: 34)

و (استغفروا ربكم إنه، كان غفاراً) و (ألم تروا كيف خلق الله سبع سماوات طباقاً وجعل القمر فيهن نوراً وجعل الشمس سراجاً والله أنبتكم من الأرض نباتاً) (نوح: 10، 15، 16، 17)

لم يقم أحد منهم يرد على نوح قوله ويقول: ليس الله بربنا، أوليس الله بخالق الأرض والسماء ولا بخالقنا نحن، أو ليس هو الذي يقوم بتدبير الأمر في السماوات والأرض.

ثم إنهم لم يكونوا جاحدين أن الله إلهٌ لهم. ولذلك دعاهم نوح عليه السلام بقوله: (ما لكم من إله غيره) فإن القوم لو كانوا كافرين بألوهية الله تعالى، إذاً لكانت دعوة نوح إياهم غير تلك الدعوة وكان قوله عليه السلام حينئذ من مثل "يا قوم! اتخذوا الله إلهاً) .
(আসমানসমূহ ও জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব এবং উদয়াচলসমূহের রব) (আস-সাফফাত: ৫)

(আর তিনিই শির’আ নক্ষত্রের রব) (আন-নাজম: ৪৯)

 

‌‌রুবুবিয়্যাতের বিষয়ে পথভ্রষ্ট জাতিসমূহের ধারণা

আল-কুরআনের আয়াতসমূহের পূর্বোক্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি থেকে 'রব' শব্দের অর্থসমূহ সূর্যের মতো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার সামনে কোনো মেঘ নেই। এখন আমাদের জন্য রুবুবিয়্যাতের বিষয়ে পথভ্রষ্ট জাতিসমূহের ধারণা কী ছিল, কুরআন কেন সেগুলোকে খণ্ডন ও প্রত্যাখ্যান করতে এসেছে এবং কুরআনুল কারিম কিসের দিকে আহ্বান জানায়—সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা সমীচীন হবে। সম্ভবত এই প্রসঙ্গে কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি পথভ্রষ্ট জাতিকে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করা আমাদের জন্য অধিকতর উপযুক্ত হবে; যাতে আমরা তাদের আকিদা ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণা করতে পারি এবং বিষয়টি সকল প্রকার অস্পষ্টতা ও সংশয় থেকে মুক্ত হয়ে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

নুহ আলাইহিস সালামের কওম

ইতিহাসের প্রাচীনতম যে জাতির কথা কুরআন উল্লেখ করেছে, তা হলো নুহ আলাইহিস সালামের জাতি। এই কওম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তারা মহান আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকারকারী ছিল না। নুহ আলাইহিস সালামের দাওয়াতের জবাবে তাদের যে উক্তি কুরআন স্বয়ং বর্ণনা করেছে তা হলো:

(সে তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নয়, সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই ফেরেশতা পাঠাতেন) … (আল-মুমিনুন: ২৪)

তেমনিভাবে তারা মহান আল্লাহ এই জগতের স্রষ্টা হওয়া এবং প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থের নিরিখে তাঁর 'রব' হওয়াকেও অস্বীকার করত না। কারণ নুহ আলাইহিস সালাম যখন তাদের বলেছিলেন:

(তিনিই তোমাদের রব এবং তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে) (হুদ: ৩৪)

এবং (তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল) এবং (তোমরা কি লক্ষ করোনি আল্লাহ কীভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন? আর সেখানে চাঁদকে রেখেছেন আলো হিসেবে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপ হিসেবে? আর আল্লাহ তোমাদের উদ্ভিদরূপে মাটি থেকে উৎপন্ন করেছেন) (নুহ: ১০, ১৫, ১৬, ১৭)

তাদের মধ্যে কেউ নুহ আলাইহিস সালামের কথার প্রতিবাদ করে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেনি যে: আল্লাহ আমাদের রব নন, কিংবা আল্লাহ আসমান ও জমিনের স্রষ্টা নন এবং আমাদেরও স্রষ্টা নন, অথবা আসমান ও জমিনের যাবতীয় কার্যাবলি তিনি পরিচালনা করেন না।

তদুপরি তারা আল্লাহ যে তাদের ইলাহ, সে বিষয়েও অস্বীকারকারী ছিল না। এই কারণেই নুহ আলাইহিস সালাম তাদের এই বলে দাওয়াত দিয়েছিলেন: (তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই)। কারণ এই জাতি যদি মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করত, তবে তাদের প্রতি নুহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত ভিন্ন প্রকৃতির হতো এবং তখন তাঁর কথা হতো অনেকটা এমন—"হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো"।
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
فالسؤال الذي يخالج نفس الباحث في هذا المقام هو: أي شيء كان إذاً موضوع النزاع بينهم وبين نبيهم نوح عليه السلام. وإننا إذاً أرسلنا النظر لأجل ذلك في آيات القرآن وتتبعناها، تبين لنا أنه لم يكن موضوع النزاع بين الجانبين إلا أمرين اثنين: أولهما أن نوحاً عليه السلام كان يقول لقومه: إن الله الذي هو رب العالمين والذي تؤمنون بأنه هو الذي قد خلقكم وخلق هذا العالم جميعاً، وهو الذي يقضي حاجاتكم، هو في الحقيقة إلهكم الواحد الأحد ولا إله إلا هو، وليس لأحد من دونه أن يقضي لكم الحاجات ويكشف عنكم الضر ويسمع دعواكم ويغيثكم، ومن ثم يجب عليكم ألا تعبدوا إلا إياه ولا تخضعوا إلا له وحده.

(يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره) (الأعراف: 59)

(ولكني رسولٌ من رب العالمين أبلغكم رسالات ربي) (الأعراف: 61-62)

وكان قومه بخلاف ذلك مصرين على قولهم بأن الله هو رب العالمين دون ريب. إلا أن هناك آلهة أخرى لها أيضاً بعض الدخل في تدبير نظام هذا العالم، وتتعلق بهم حاجاتنا، فلا بد أن نؤمن بهم كذلك آلهة لنا مع الله:

(وقالوا لا تذرنُّ آلهتكم ولا تذرنّ وداً ولا سواعاً ولا يغوث ويعوق ونسراً) (نوح: 23)
এই পর্যায়ে একজন গবেষকের মনে যে প্রশ্নটি উদিত হয় তা হলো: তাদের এবং তাদের নবী নূহ আলাইহিস সালামের মধ্যকার বিরোধের মূল বিষয়টি আসলে কী ছিল? এ উদ্দেশ্যে আমরা যদি কুরআনের আয়াতসমূহের ওপর দৃষ্টিপাত করি এবং সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি কেবল দুটি বিষয়ে নিহিত ছিল: প্রথমটি হলো, নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা—যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক এবং যাঁর সম্পর্কে তোমরা বিশ্বাস করো যে তিনিই তোমাদের এবং এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা এবং তিনিই তোমাদের প্রয়োজন পূরণকারী—তিনিই মূলত তোমাদের একমাত্র সত্য উপাস্য এবং তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি ব্যতীত আর কারো পক্ষে সম্ভব নয় তোমাদের প্রয়োজন পূরণ করা, বিপদ-আপদ দূর করা, তোমাদের প্রার্থনা শ্রবণ করা এবং তোমাদের সাহায্য করা। অতএব, তোমাদের কর্তব্য হলো একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং কেবল তাঁরই সমীপে মস্তক অবনত করা।

(হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই) (আল-আরাফ: ৫৯)

(কিন্তু আমি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসুল, আমি তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি) (আল-আরাফ: ৬১-৬২)

পক্ষান্তরে, তাঁর কওম এই বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল যে, আল্লাহই জগতসমূহের প্রতিপালক—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের দাবি ছিল যে, আরও কিছু উপাস্য রয়েছে যাদের এই মহাবিশ্বের ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং আমাদের প্রয়োজনসমূহ তাদের সাথে সম্পৃক্ত; তাই আল্লাহর পাশাপাশি তাদেরও উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করা অনিবার্য:

(এবং তারা বলল, ‘তোমরা কখনো তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; আর বর্জন করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকে’) (নূহ: ২৩)
(খণ্ড: ১) আল মুসতালাহাতুল আরবাআতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وثانيهما أن القوم لم يكونوا يؤمنون بربوبية الله تعالى إلا من حيث إنه خالقهم، جميعاً ومالك الأرض والسماوات، ومدبر أمر هذا العالم، ولم يكونوا يقولون بأنه وحده هو الحقيق – كذلك- بأن يكون له الحكم والسلطة القاهرة في أمور الأخلاق والاجتماع والمدنية والسياسة وسائر شؤون الحياة الإنسانية، وبأنه وحده أيضاً هادي السبيل وواضع الشرع ومالك الأمر والنهي، وبأنه وحده يجب كذلك أن يتبع. بل كانوا قد اتخذوا رؤساءهم وأحبارهم أرباباً من دون اله في جميع تلك الشؤون. وكان يدعوهم نوح عليه السلام – بخلاف ذلك إلى ألا يجعلوا الربوبية يتقسمها أرباب متفرقة بل عليهم أن يتخذوا الله تعالى وحده رباً بجميع ما تشتمل عليه كلمة (الرب) من المعاني وأن يتبعوه ويطيعوه فيما يبلغهم من أوامر الله تعالى وشيعته نائباً عنهن فكان يقول لهم:

(إني لكم رسولٌ أمين. فاتقوا الله واطيعون) (الشعراء: 107- 108)

 

عاد قوم هود

ويذكر القرآن بعد قوم نوح عاداً قوم هود عليه السلام. ومعلوم أن هذه الأمة أيضاً لم تكن جاحدة بوجود الله تعالى، وكذلك لم تكن تكفر بكونه إلهاً. بل كانت تؤمن بربوبية الله تعالى بالمعاني التي كان يؤمن بها قوم نوح عليه السلام. أما النزاع بينها وبين نبيها هود عله السلام فلم يكن إلا حول الأمرين الاثنين اللذين كان حولهما نزاع بين نوح عليه السلام وقومه يدل على ذلك ما يأتي من النصوص القرآنية دلالة واضحة:

(وإلى عادٍ أخاهم هوداً، قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره) (الأعراف: 65)

(قالوا أجئتنا لنعبد الله وحده ونذر ما كان يعبد آباؤنا) (الأعراف: 70)

(قالوا لو شاء ربنا لأنزل ملائكةً) … (فصلت: 11)

(وتلك عادٌ جحدوا بآيات ربهم وعصوا رسله واتبعوا أمرَ كل جبّارٍ عنيد) (هود: 59)

 

ثمود قوم صالح
দ্বিতীয়ত বিষয়টি হলো এই যে, সেই জাতি আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে বিশ্বাস করত না, কেবল এই দিকটি ছাড়া যে—তিনি তাদের সকলের স্রষ্টা, আসমান ও জমিনের মালিক এবং এই মহাবিশ্বের সকল বিষয়ের পরিচালক। তারা এটি স্বীকার করত না যে—একইভাবে একমাত্র তিনিই নৈতিকতা, সমাজব্যবস্থা, সভ্যতা, রাজনীতি এবং মানবজীবনের অন্যান্য সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার যোগ্য। তারা এটিও বিশ্বাস করত না যে—একইভাবে একমাত্র তিনিই সঠিক পথের দিশারী, বিধানপ্রণেতা এবং আদেশ ও নিষেধের নিরঙ্কুশ মালিক এবং একমাত্র তাঁরই অনুসরণ করা আবশ্যক। বরং তারা এসব বিষয়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের নেতা ও পণ্ডিতদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছিল। পক্ষান্তরে নূহ (আলাইহিস সালাম) তাদের—এর বিপরীতে—এই আহ্বান জানিয়েছিলেন যে, তারা যেন রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বকে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন প্রভুর জন্য সাব্যস্ত না করে, বরং 'রব' শব্দের অন্তর্ভুক্ত সকল অর্থের নিরিখে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই রব হিসেবে গ্রহণ করে এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতিনিধি হিসেবে নূহ (আলাইহিস সালাম) তাদের কাছে আল্লাহর যে সকল আদেশ পৌঁছে দেন, তাতে তারা যেন তাঁরই আনুগত্য ও অনুসরণ করে। তিনি তাদের বলতেন:

(নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।) (আশ-শুআরা: ১০৭-১০৮)

 

হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় আদ

কুরআন মাজীদে কওমে নূহের পর হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় আদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সর্বজনবিদিত যে, এই জাতিও আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব অস্বীকারকারী ছিল না এবং একইভাবে তারা তাঁর ইলাহ হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করত না। বরং তারা আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে সেই অর্থেই বিশ্বাসী ছিল, যে অর্থে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় বিশ্বাস করত। আর তাদের ও তাদের নবী হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে বিবাদ কেবল সেই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই ছিল, যা নিয়ে নূহ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল। কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ এর ওপর সুস্পষ্ট দলীল প্রদান করে:

(এবং আদের নিকট আমি তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছি। তিনি বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।) (আল-আরাফ: ৬৫)

(তারা বলেছিল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, আমরা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদত করত তাদের বর্জন করি?) (আল-আরাফ: ৭০)

(তারা বলেছিল, আমাদের রব চাইলে অবশ্যই ফেরেশতা অবতীর্ণ করতেন।) … (ফুসসিলাত: ১১)

(এই হলো আদ সম্প্রদায়, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর রাসূলগণের অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা প্রত্যেক উদ্ধত হঠকারীর নির্দেশের অনুসরণ করেছিল।) (হূদ: ৫৯)

 

সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সামুদ