(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات فقهاء اليمن القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: طبقات فقهاء اليمن
تأليف: عُمَر بْن عَليْ بن سَمرة الجَعْدي
تحقيق: فؤاد سَيد، أمين المخطوطات بدار الكتب المصرية
الناشر: دار القلم ـ بيروت ـ لبنان
عدد الصفحات: 326
أعده للشاملة: مطيع السميعي - اليمن - تعز - الظهرة بادية الجند.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الأولى 1443
ইয়েমেনের ফকিহগণের জীবনীগ্রন্থ বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: ইয়েমেনের ফকিহগণের জীবনীগ্রন্থ
রচনা: ওমর ইবনে আলি ইবনে সামরাহ আল-জাদি
সম্পাদনা: ফুয়াদ সাইয়িদ, পাণ্ডুলিপি কিউরেটর, মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া)
প্রকাশক: দারুল কলাম — বৈরুত — লেবানন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৬
আল-শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুতিউস সামিঈ - ইয়েমেন - তায়িজ - আজ-জাহরা বাদিয়া আল-জান্দ.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١)
طبقَاتُ فقَهاء اليَمن
تأليف
عُمَر بن عَليْ بن سَمرة الجَعْدي (586) هـ
بتَحقيق
فؤاد سَيِّد
أمين المخطوطات بدار الكتب المصرية
دار القلم
بيروت - لبنان
ইয়েমেনের ফকিহগণের জীবনীগ্রন্থ
রচনায়
উমর বিন আলী বিন সামুরাহ আল-জাদি (৫৮৬ হিজরী)
সম্পাদনায়
ফুয়াদ সাইয়্যিদ
মিশরীয় কুতুবখানার পাণ্ডুলিপি কিউরেটর
দারুল কলাম
বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشرفي أواخر ديسمبر 1951، أتاحت لي الظروف الطيبة أن أزور اليمن السعيدة، في بعثة
(1) علمية لدراسة ما فيها من المخطوطات، وتصوير نوادرها ونفائسها، وقد تهيأت لي بذلك الفرصة لأ اعرف عن كتب ذلك التراث القيم، من المخطوطات الإسلامية، التي يحتفظ بها ذلك القطر ذو الحضارات العريقة، والذي أخرج من العلماء في كل عصر، من غذوا المكتبة الإسلامية بالمصنفات والتآليف في شتى العلوم والفنون.
وقد كان من نتائج هذه الرحلة، أن شغفت بالدراسات اليمنية، وبخاصة ما يتعلق بكتب الطبقات والتراجم، فهي في نظري السجل الحافل للتأريخ والأخبار، فضلاً عن أنها تقدم للباحثين في كل العصور ثبتاً حافلاً بمصنفات هؤلاء العلماء وآثارهم ودراساتهم.
وكان من خير كتب الطبقات التي استرعت انتباهي «طبقات فقهاء اليمن» لابن سمرة الجَعْدي، الذي يعد من أقدم المصنفات اليمنية في هذا الموضوع، فقد استوعب فيه صاحبه تراجم الفقهاء اليمنيين منذ ظهور الإسلام حتى سنة 586 هـ تقريباً، وكان مرجع من بعده من المؤلفين في كتب الطبقات والتراجم.
وفي الوقت الذي نازعتني نفسي فيه، أن أقوم على تحقيق هذا الكتاب ونشره سعدت في مصر سنة 1956 بلقاء معالي الصديق العلامة القاضي محمد بن عبد الله العمري نائب وزير الخارجية اليمنية، وتنقل بنا الحديث في نواحي كثيرة من العلم إلى أن ذكرت له اهتمامي بهذا الكتاب، وعنايتي بتحقيقه ونشره.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকা১৯৫১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে, অনুকূল পরিস্থিতি আমাকে একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দলের
(১) সদস্য হিসেবে 'সুখী ইয়ামেন' সফরের সুযোগ করে দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার পাণ্ডুলিপিগুলো অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোর দুর্লভ ও মূল্যবান বিষয়বস্তুর প্রতিলিপি গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে প্রাচীন সভ্যতার অধিকারী সেই ভূখণ্ডের সংরক্ষিত ইসলামি পাণ্ডুলিপির মূল্যবান ঐতিহ্যের কিতাবসমূহ সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ আমার হয়। এই ভূখণ্ডটি প্রতিটি যুগে এমন সব আলিম তৈরি করেছে, যারা বিভিন্ন বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় তাদের রচনা ও লেখনীর মাধ্যমে ইসলামি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
এই সফরের অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, আমি ইয়ামেনি অধ্যয়নের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠি, বিশেষ করে 'তাবাকাত' ও 'তারাজিম' (জীবনী অভিধান) বিষয়ক কিতাবগুলোর প্রতি। আমার দৃষ্টিতে এগুলো ইতিহাস ও সংবাদের এক সমৃদ্ধ দলিল। এছাড়া এগুলো সব যুগের গবেষকদের সামনে ঐ সকল আলিমদের গ্রন্থাবলী, নিদর্শন এবং গবেষণার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেশ করে।
'তাবাকাত' বিষয়ক শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর মধ্যে যা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তা হলো ইবনে সামরা আল-জাদি রচিত «তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান» (ইয়ামেনের ফকিহদের স্তরসমূহ), যা এই বিষয়ে ইয়ামেনের প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। এতে লেখক ইসলামের আবির্ভাব থেকে শুরু করে প্রায় ৫৮৬ হিজরি পর্যন্ত ইয়ামেনি ফকিহদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি পরবর্তী যুগের 'তাবাকাত' ও 'তারাজিম' বিষয়ক লেখকদের জন্য একটি প্রধান উৎস ছিল।
যে সময় আমি মনে মনে এই কিতাবটি তাহকিক (সম্পাদনা) ও প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখন ১৯৫৬ সালে মিশরে ইয়ামেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার সম্মানিত বন্ধু আল্লামা কাজী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আমরির সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়। আমাদের কথোপকথন বিজ্ঞানের নানা দিক নিয়ে আবর্তিত হতে হতে আমি তাঁর কাছে এই কিতাবটির প্রতি আমার আগ্রহ এবং এটি তাহকিক ও প্রকাশের বিষয়ে আমার বিশেষ মনোযোগের কথা উল্লেখ করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٤)
فما كان من سيادته: وهو الغيور على وطنه وعلى إحياء تراثه، إلا أن طلب إليَّ في إلحاح أن أسارع في تحقيق هذه الرغبة، وأنه على استعداد لتقديم كريم عونه في إخراج هذا الكتاب، وأن لديه نسخه منه منسوخة حديثاً عن أصل قديم موجود في بلاد حضرموت للإستعانة بها في تحقيق الكتاب، واشترط عليَّ أيضاً أنه مادام كتاب «ابن سمرة» هذا يترجم لعلماء اليمن الأسفل، فإنه يجب أن أقوم أيضاً بعد ذلك بتحقيق كتاب «طبقات علماء الزيدية» للسيد يحيى بن الحسين، حتى يتم لنا بذلك جميع تراجم علماء اليمن وفقهائه، وأنه سيضل دائماً عند وعده الكريم في تقديم كل عون لهذا العمل.
ولا شك أن هذا الشرط، وقع من نفسي، موقع القبول والرضا، لأن هذا الترتيب بعينه، هو ما كنت عزمت عليه، ووطنت نفسي له، فالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
وبهذه المناسبة، أرى أن أسجل في هذا المقام، أنني بعد أن أتممت تحقيق الكتاب وأنجزت من طبعه عدة ملازم، علمت أن صديقي العلامة الجليل القاضي حسين السياغي، كان له اهتمام خاص بهذا الكتاب، وأنه أعدّ منه نسخة مخطوطة قابلها على نسخة منقولة من مخطوطة حضرموت، وراجعها على بعض المصادر الأخرى، وصنع لها بعض الفهارس، وأنه أرسل هذه النسخة إلى القاهرة، وقد أتيحت ليّ الفرصة فاطلعت عليها، والحق أنه قد بذل فيها جهداً كبيراً، وعناية حسنة جديرة بالتقدير والثناء. ولو كنت أعلم عناية فضيلته بهذا الكتاب لما شرعت في تحقيقه ونشره، تاركاً له هذا العمل، باذلاً له أحسن العون، فإنه بذلك جدير، وعلى هذا الأمر قدير. ولعل خير ما يعوضه عن هذا الجهد، ويبعث في نفسه الرضا، أن يخرج هذا الكتاب بالصورة التي كان يرجوها له، وأن يؤدي رسالته في نفع الناس به.
وبعد فلنقدم إلى القارئ الكتاب ومؤلفه:
তাঁর পক্ষ থেকে—যিনি নিজ দেশ এবং তার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনে অত্যন্ত সংবেদনশীল—আমার প্রতি এই ঐকান্তিক অনুরোধ আসে যে, আমি যেন এই আকাঙ্ক্ষাটি বাস্তবায়নে দ্রুত সচেষ্ট হই। তিনি এই গ্রন্থটি প্রকাশে তাঁর মহৎ সহযোগিতা প্রদানের পূর্ণ প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন। গ্রন্থটির গবেষণামূলক সম্পাদনায় সহায়তার জন্য তাঁর কাছে একটি আধুনিক অনুলিপি সংরক্ষিত ছিল, যা হাজরামাউতে বিদ্যমান একটি প্রাচীন মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। তিনি আমার ওপর একটি শর্তও জুড়ে দেন যে, যেহেতু ইবনে সামরাহ-এর এই গ্রন্থটি নিম্ন ইয়ামেনের ওলামায়ে কেরামের জীবনী নিয়ে রচিত, তাই এর পরে আমাকে সাইয়্যেদ ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইনের ‘তাবাকাতু ওলামায়িয যাইদিয়্যাহ’ গ্রন্থটিও সম্পাদনা করতে হবে, যাতে ইয়ামেনের সকল আলেম ও ফকিহগণের জীবনী পূর্ণাঙ্গভাবে আমাদের হাতে আসে। তিনি এই কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শর্তটি আমি সানন্দে গ্রহণ করেছি; কারণ এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটিই ছিল আমার সংকল্প এবং আমি এর জন্যই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলাম। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; যদি আল্লাহ আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা সঠিক পথের দিশা পেতাম না।
এই সুযোগে আমি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, গ্রন্থটির সম্পাদনা সম্পন্ন করার পর এবং এর মুদ্রণকাজের কয়েকটি ফর্মা সমাপ্ত হওয়ার পর আমি জানতে পারি যে, আমার বন্ধু বরেণ্য আলেম কাজি হুসাইন আস-সাইয়াগি-এর এই গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি এর একটি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছিলেন যা হাজরামাউতের পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত একটি অনুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল এবং তিনি অন্যান্য কিছু উৎসের সাথেও সেটি যাচাই করেছিলেন। এমনকি তিনি গ্রন্থটির জন্য কিছু সূচিপত্রও তৈরি করেছিলেন এবং সেই কপিটি কায়রোতে পাঠিয়েছিলেন। আমি সেটি দেখার সুযোগ পেয়েছি এবং সত্য বলতে, তিনি এতে ব্যাপক পরিশ্রম ও প্রশংসনীয় যত্ন বিনিয়োগ করেছেন যা অত্যন্ত সমাদৃত হওয়ার যোগ্য। যদি আমি এই গ্রন্থটির প্রতি তাঁর এই বিশেষ মনোযোগের কথা আগে জানতাম, তবে আমি এর সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজ শুরু করতাম না; বরং এই কাজটি তাঁর জন্যই ছেড়ে দিতাম এবং তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতাম। কারণ তিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত এবং এতে পারদর্শী। সম্ভবত তাঁর এই পরিশ্রমের বিনিময়ে তাঁর জন্য উত্তম প্রতিদান এবং সন্তুষ্টির বিষয় এটাই হবে যে, গ্রন্থটি তাঁর আকাঙ্ক্ষিত রূপেই প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের উপকারের যে উদ্দেশ্য ছিল তা সফল হচ্ছে।
এরপর, এখন আমরা পাঠকদের সামনে গ্রন্থটি এবং এর লেখকের পরিচয় পেশ করছি:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٥)
الكتابهذا الكتاب يعتبر من أقدم كتب الطبقات اليمنية، إن لم يكن أقدمها جميعاً، وقد قصد المؤلف بتصنيفه «أن يعَّرف كل فقيه يمني حال اليمن منذ الرسول صلى الله عليه وسلم إلى وقته هو
(1)» ورسم لنفسه منهجاً تأريخاً، يتضمن ذكر كل من تولى الأحكام والقضاء والفقه، في هذه الفترة من الزمان، مع إيراد ما أمكنه الحصول عليه من أخبارهم وحياتهم ومصنفاتهم، وأهم الحوادث، التاريخية المتصلة بذلك، معتمداً على ما حصله من بطون كتب التأريخ والفقه والحديث، وما نقله عن طريق شيوخه ومروياته من الأخبار، حتى إذا ما وصل إلى الحديث عن معاصريه، كانت تراجمه في هذا الباب تحوي معلومات وأخبار هامة، اعتبرت أساساً عند جميع من ترجم لهؤلاء الأعلام من بعده.
والمؤلف ـ وهو شافعي المذهب ـ يحكي لنا في كتابه، قصة دخول المذهب الشافعي إلى اليمن، وانتشاره فيها، خصوصاً فيما يصفه المؤرخون باليمن الأسفل، حيث كان مركز هذه الدراسات، ويقدم لنا نتفاً متفرقة عن الكتب التي كانت مرجع القوم في دراستهم العلمية، قبل دخول مصنفات الشافعية، ويصف لنا الحياة العلمية والعقلية، التي كانت سائدة عصرئذ في هذه البلاد.
ومن ضم شتات هذا النتف بعضها إلى بعض، نستطيع أن نقول: أن أهل اليمن في المائة الثالثة، قبل دخول الإمام الهادي إلى الحق يحيى بن الحسين إليها سنة 280 هـ وانتشار دعوته، وقبل ظهور دعوة علي بن الفضل القرمطي، كانوا «إما مالكية أو حنفية وهو الغالب
(2) وأكثر ما يتفقه به أهل اليمن في صدر الإسلام وما بعده ـ إلى وقت ظهور تصانيف الشافعية ـ بفقهاء مكة
--------------------------------------------
গ্রন্থ পরিচিতিএই কিতাবটি ইয়েমেনি 'তাবাকাত' (জীবনীগ্রন্থ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন হিসেবে গণ্য হয়, বরং সম্ভবত এটিই এই বিষয়ের প্রাচীনতম কিতাব। লেখক এটি সংকলনের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে লেখকের নিজস্ব সময় পর্যন্ত ইয়েমেনের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিটি ইয়েমেনি ফকীহকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া
(১)"। তিনি নিজের জন্য একটি ঐতিহাসিক মানহাজ (পদ্ধতি) নির্ধারণ করেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল উক্ত সময়কালে বিচারকার্য ও ফিকহ শাস্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের আলোচনা। এর পাশাপাশি তিনি তাদের জীবনবৃত্তান্ত ও রচনাবলী সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং তৎসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাবলীও উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ইতিহাস, ফিকহ ও হাদীসের মৌলিক গ্রন্থসমূহ থেকে আহরিত তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন। সেই সাথে তিনি তার শায়খদের নিকট থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ও সংবাদের ওপর ভিত্তি করেছেন। এমনকি তিনি যখন তার সমসাময়িকদের আলোচনায় উপনীত হয়েছেন, তখন এই অধ্যায়ে বর্ণিত জীবনীগুলো এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংবাদ ধারণ করেছে, যা পরবর্তীকালে এই বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী রচয়িতাদের নিকট মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
গ্রন্থকার—যিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী—তার এই কিতাবে ইয়েমেনে শাফেয়ী মাযহাবের প্রবেশ এবং সেখানে এর বিস্তারের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে ঐতিহাসিকগণ যাকে 'নিম্ন ইয়েমেন' হিসেবে অভিহিত করেন, যা ছিল এই ইলমি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। শাফেয়ী মাযহাবের রচনাবলী আসার পূর্বে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের নিকট কোন কিতাবগুলো প্রধান অবলম্বন ছিল, সে সম্পর্কেও তিনি বিক্ষিপ্ত কিছু তথ্য প্রদান করেছেন। সেই সাথে তৎকালীন সময়ে এই ভূখণ্ডে বিরাজমান ইলমি ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন।
এই সকল বিক্ষিপ্ত তথ্যাবলিকে একত্রিত করলে আমরা বলতে পারি যে: ২৮০ হিজরীতে ইমাম হাদি ইলাল হাক ইয়াহিয়া বিন হুসাইন ইয়েমেনে প্রবেশ ও তার দাওয়াত বিস্তারের পূর্বে এবং আলী বিন ফাদল আল-কারমাতির দাওয়াত আত্মপ্রকাশের পূর্বে অর্থাৎ তৃতীয় হিজরী শতাব্দীতে ইয়েমেনবাসীরা "হয় মালিকি অথবা হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং এটিই ছিল সংখ্যাধিক্যের অবস্থা
(২)"। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকে শুরু করে শাফেয়ী মাযহাবের রচনাবলী প্রকাশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইয়েমেনবাসীরা ফিকহ অর্জনের ক্ষেত্রে মক্কার ফকীহদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٦)
والمدينة
(1)».
وفي الوقت الذي ظهر فيه مذهب الإمام الشافعي، وانتشر في البلدان، كان بعض فقهاء اليمن يرحل إلى خارج البلاد، إلى مكة والمدينة وبغداد وغيرها، في طلب العلم، فالتقوا في هذه البلاد بعلماء كثيرين من أقطار مختلفة، فأخذوا عنهم علمهم وكتبهم، وعادوا بها إلى اليمن
(2).
ويقول المؤلف ص 80: إن «الشفعوية، وكتبها وشيوخها قبل القاسم بن محمد القرشي وأصحابه غير مشهورة في اليمن». وعن هذا الفقيه انتشر مذهب الشافعي في المائة الرابعة (من صنعاء إلى عدن) وازداد انتشاره بوساطة تلاميذه في هذه البلاد، وإن كانت مدينة زبيد في هذا الوقت، قد عرف بها مذهب الشافعية، وإليها رحل أيضاً هذا الفقيه القاسم بن محمد، وتلقى عن شيوخها
(3)، كما رحل بعد ذلك إلى مكة، ولقي فيها بعض أئمة الشافعية في هذا العصر.
ومن الكتب القديمة التي كان عليها مدار الفقه والتشريع، في هذا المخلاف من اليمن، قبل دخول مصنفات الشافعية «جامع السنن» لمعمر بن راشد البصري (وهو أقدم من الموطأ)، وموطأ الإمام مالك، و «جامع عبد الرزاق الصنعاني» و «جامع السنن» لأبي قرة موسى بن طارق اللحجي الرعرعي الذي كانت عليه أيضاً تواليف في الفقه انتزعها من فقه مالك وأبي حنيفة ومعمر وابن جريج والثوري وابن عيينة، لأنه لقيهم جميعاً
(4).
وكان الغالب في هذه البلاد، مذهب مالك وأبي حنيفة كما ذكرنا،
--------------------------------------------
এবং মদিনা
(১)»।
যে সময়ে ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের আবির্ভাব ঘটে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময়ে ইয়েমেনের কিছু ফকীহ জ্ঞান অন্বেষণে দেশের বাইরে মক্কা, মদিনা, বাগদাদ এবং অন্যান্য স্থানে সফর করতেন। তাঁরা এসব দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের বহু আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান ও কিতাবসমূহ গ্রহণ করতেন এবং সেগুলো নিয়ে ইয়েমেনে ফিরে আসতেন
(২)।
লেখক ৮০ পৃষ্ঠায় বলেন: «কাসেম ইবন মুহাম্মদ আল-কুরাশী ও তাঁর সঙ্গীদের পূর্বে ইয়েমেনে শাফেয়ী মাযহাব, এর কিতাবসমূহ এবং এর শায়খগণ প্রসিদ্ধ ছিলেন না»। এই ফকীহের মাধ্যমেই চতুর্থ শতাব্দীতে (সানআ থেকে আদন পর্যন্ত) শাফেয়ী মাযহাব ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে এ দেশে এর বিস্তার আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও জাবিদ শহরে এই সময়ে শাফেয়ী মাযহাব পরিচিত ছিল এবং এই ফকীহ কাসেম ইবন মুহাম্মদ সেখানেও সফর করেছিলেন ও সেখানকার শায়খদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন
(৩), এরপর তিনি মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে সেই যুগের কিছু শাফেয়ী ইমামের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
শাফেয়ী রচনাগুলো প্রবেশের পূর্বে ইয়েমেনের এই অঞ্চলে যেসব প্রাচীন কিতাবের ওপর ফিকহ ও শরীয়াহর ভিত্তি ছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মা’মার ইবন রাশিদ আল-বসরীর «জামেউস সুনান» (যা মুয়াত্তার চেয়েও প্রাচীন), ইমাম মালিকের «মুয়াত্তা», «জামে আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনী» এবং আবু কুররাহ মুসা ইবন তারিক আল-লাহজী আর-রা'রায়ীর «জামেউস সুনান»। তাঁর ফিকহ বিষয়ক আরও কিছু সংকলন ছিল যা তিনি মালিক, আবু হানিফা, মা’মার, ইবন জুরাইজ, সাওরী এবং ইবন উয়ায়নার ফিকহ থেকে চয়ন করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁদের সবার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন
(৪)।
এবং যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এই দেশে মালিকী ও হানাফী মাযহাবই প্রবল ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٧)
«ولم يكن علم السنة مأخوذاً عندهم، إلا من «جامع» معمر بن راشد ـ وهو مصنف في صنعاء ـ و «جامع» سفيان بن عيينة، وجامع أبو قرة اللحجي، وأيضاً من المرويات عن مالك في الموطأ وغيره، مثل كتاب أبي مصعب الزهري، ومما يروى عن طاووس وابنه والحكم بن أبان وقدماء فقهاء اليمن»
(1).
ثم دخلت مصنفات الشافعية إلى هذه البلاد، وتفقه بها العلماء، واشتغلوا بالتأليف حولها من تهذيب واختصار وشرح وغير ذلك، «وكان أهل اليمن في المائة الخامسة وما قبلها يتفقهون بكتاب المزني، وبالرسالة للإمام الشافعي، وبمصنفات القاضي الطبري، وكتاب ابن القطان، ومجموع المحاملي، وشروح المزني المشهورة، وبالفروع لسليم بن أيوب الرازي
(2)». وذلك قبل أن يدخل إليهم كتاب «المهذب» لأبي إسحاق الشيرازي، الذي لم يصل إليهم في اليمن، إلا في آخر المائة الخامسة
(3)، فكان معتمدهم في الفقه والفتيا.
ومن المؤكد أن أغلب مصنفات الشافعية من أهل اليمن التي لم تعرف، كانت موجودة عندهم، ومتداولة بينهم، إلا أنها لم تعرف ولم تشتهر خارج بلادهم، ككتب اليمنيين جميعاً، تحت ظروف خاصة بهم وبعزلتهم.
ولقد كان هدف المؤلف في هذا الكتاب، أن يبين «وجه اتصال الفقه برسول الله صلى الله عليه وسلم، مع ما يندرج فيه من ذكر تأريخ فقهاء اليمن وغيرهم
(4)».
ولا ريب أن المؤلف قد أستطاع أن يبلغ غرضه من هذا المنهج بعناية وتحقيق، وأضاف إلى ما أورد من تراجم، الكثير من المعلومات التاريخية الهامة، وبخاصة في أحداث العصر الذي عاش فيه، مما لا يوجد عند غيره من المؤرخين، إلا من أخذ عنه أو نقل منه.
--------------------------------------------
«তাদের নিকট সুন্নাহর ইলম গ্রহণ করা হতো না কেবল মা'মার ইবনে রাশিদ-এর "জামি" (যা সানআয় সংকলিত) থেকে এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার "জামি", আবু কুররা আল-লাহজির জামি এবং মুওয়াত্ত্বা ও অন্যান্য গ্রন্থে মালিকের বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহ থেকে, যেমন আবু মুসআব আল-যুহরীর কিতাব এবং যা তাউস, তার পুত্র, আল-হাকাম ইবনে আবান এবং ইয়ামেনের প্রাচীন ফকিহদের থেকে বর্ণিত হয়েছে»
(১)。
এরপর শাফিঈ মাযহাবের গ্রন্থসমূহ এই দেশগুলোতে প্রবেশ করে এবং আলেমগণ এর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করেন। তাঁরা এগুলোকে কেন্দ্র করে পরিমার্জন, সংক্ষিপ্তকরণ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার কাজে নিয়োজিত হন। «ইয়ামেনের অধিবাসীগণ পঞ্চম শতাব্দী ও তার পূর্বে আল-মুযানির কিতাব, ইমাম শাফিঈর আর-রিসালাহ, কাযী তাবারীর রচনাবলি, ইবনুল কাত্তানের কিতাব, আল-মাহামিলীর মাজমু, আল-মুযানির প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং সুলাইম ইবনে আইয়ুব আর-রাযীর আল-ফুরু’র মাধ্যমে ফিকহ চর্চা করতেন
(২)»। আর এটি ছিল আবু ইসহাক আশ-শিরাযীর "আল-মুহাযযাব" কিতাবটি তাদের কাছে পৌঁছানোর পূর্বে, যা ইয়ামেনে পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগ ছাড়া পৌঁছেনি
(৩)। অতঃপর ফিকহ ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে এটিই তাদের প্রধান নির্ভরস্থলে পরিণত হয়।
এটা সুনিশ্চিত যে, ইয়ামেনী আলেমদের অধিকাংশ শাফিঈ গ্রন্থ যা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল, তা তাদের নিকট বিদ্যমান ছিল এবং তাদের মাঝে প্রচলিত ছিল। তবে তাদের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিচ্ছিন্নতার কারণে ইয়ামেনী লেখকদের সকল বইয়ের মতোই তা দেশের বাইরে পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।
আর এই কিতাবে লেখকের উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফিকহের সম্পর্কের যোগসূত্র বর্ণনা করা, যার সাথে ইয়ামেন ও অন্যান্য স্থানের ফকিহদের ইতিহাসের আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
(৪)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, লেখক যত্ন ও তাহকিকের সাথে এই পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জীবনী আলোচনার পাশাপাশি প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য যোগ করেছেন, বিশেষ করে তাঁর সমকালীন ঘটনাবলির ক্ষেত্রে, যা তিনি ছাড়া অন্য কোনো ঐতিহাসিকের নিকট পাওয়া যায় না, কেবল তারা ছাড়া যারা তাঁর থেকে গ্রহণ করেছেন বা উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٨)
وقد يستطرد في بعض الأحيان، إلى ذكر معلومات هامة في التأريخ بعيدة عن موضوع الترجمة التي هو بصددها ولا صله لها به، ثم يعود إلى ما كان فيه بقوله ولنرجع إلى ما كنا فيه. كذلك قد يعرض للمؤلف ذكر بعض العلماء من غير اليمنين - ممن تلقى عنهم صاحب الترجمة التي يؤرخ لها، أورد ذكرهم
استطراداً - فيترجم لهم، وبذلك حفل كتابه بتراجم هامة لأعيان فقهاء الشافعية فيما بين القرنين الرابع والسادس.
ومن الواضح أن المؤلف كان حريصاً على تحقيق وفيات من ترجم لهم، إلا أنه في الفترة التي عاصرها، ترك كثيراً من تأريخ الوفيات (على بياض)، ولعل ذلك كان. لأن بعضهم كانوا لا يزالون على قيد الحياة، والبعض الآخر لم يصل إلى علمه تعيين تواريخ وفياتهم. وكانت بعض التراجم - وخصوصاً الأخيرة في الكتاب - موجزة ومختصرة، وهذا يدل على أن معلوماته عنهم لم تكن كافية، ومع ذلك فقد حرص على ألا يخلو كتابه من ذكرهم رغم ضآلة أخبارهم.
وقد كان لهذا الكتاب عند المؤرخين قيمة كبيرة، لما استقوه من معلومات هامة، لم تكن تعرف عندهم، لو لم يجمعها المؤلف ويضمنها كتابه. بل إن الجَنَدي اعتبره أساس كتابه «السلوك» وقال عن مؤلفه: «وهو شيخي في جمع هذا الكتاب، ولولا كتابه لم أهتد إلى تأيف ما ألفت، ولقد أبقى للفقهاء من أهل اليمن ذكراً وشرح لذوي الأفكار صدراً
(1)».
وذكر الجَنَدي أيضاً في مقدمة كتابه المذكور أنه «أخذ أخبار المتقدمين غالباً، من أحد كتب ثلاثة، أكملها في ذكر العلماء وتواريخهم كتاب الفقيه
--------------------------------------------
কখনও কখনও তিনি মূল প্রসঙ্গের বাইরে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করেন যা আলোচ্য জীবনীর বিষয়বস্তু থেকে দূরে এবং যার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। অতঃপর তিনি এই বলে মূল আলোচনায় ফিরে আসেন যে, "আসুন আমরা পূর্বের আলোচনায় ফিরে যাই।" একইভাবে লেখক অ-ইয়েমেনি কিছু আলেমদের উল্লেখও করেছেন যাদের নিকট থেকে আলোচ্য জীবনীকার শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রাসঙ্গিক আলোচনা হিসেবে তাদের উল্লেখ করেছেন এবং তাদের জীবনীও বর্ণনা করেছেন। এভাবে তাঁর গ্রন্থটি চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ের শাফেয়ি ফকিহদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ জীবনীতে পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এটি স্পষ্ট যে, লেখক যাদের জীবনী লিখেছেন তাদের মৃত্যুর তারিখ যাচাই করার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। তবে তাঁর সমসাময়িক সময়ে তিনি অনেক মৃত্যুর তারিখ ফাঁকা রেখে গেছেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তখনও জীবিত ছিলেন এবং অন্যদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট তারিখ তাঁর জানা ছিল না। কিছু কিছু জীবনী—বিশেষ করে বইয়ের শেষের দিকেরগুলো—অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ ছিল। এটি নির্দেশ করে যে তাদের সম্পর্কে লেখকের তথ্য পর্যাপ্ত ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি এই চেষ্টা করেছেন যাতে তথ্যের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও বইটি তাদের উল্লেখ থেকে বঞ্চিত না থাকে।
ইতিহাসবিদদের কাছে এই বইটির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ তারা এখান থেকে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আহরণ করেছেন যা লেখক যদি সংগ্রহ করে তাঁর বইয়ে অন্তর্ভুক্ত না করতেন তবে তাদের কাছে তা অজানা থেকে যেত। প্রকৃতপক্ষে আল-জানাদি একে তাঁর 'আস-সুলুক' গ্রন্থের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং এর লেখক সম্পর্কে বলেছেন: "এই কিতাব সংকলনের ক্ষেত্রে তিনি আমার উস্তাদ। যদি তাঁর কিতাবটি না থাকত, তবে আমি যা রচনা করেছি তা রচনার পথ খুঁজে পেতাম না। তিনি ইয়েমেনের ফকিহদের স্মৃতিকে অম্লান রেখেছেন এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অন্তরকে প্রশস্ত করেছেন
(১)।"
আল-জানাদি তাঁর উক্ত কিতাবের ভূমিকায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পূর্ববর্তীদের সংবাদগুলো মূলত তিনটি কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে আলেমদের বর্ণনা এবং তাঁদের জীবনকাল বর্ণনায় সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো ফকিহ’র কিতাবটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٩)
أبي حفص عمر بن علي بن سمرة، إذ ذكر غالب الفقهاء باليمن منذ ظهر به الإسلام إلى سنة بضع وثمانين وخمسمائة، الخ»
وقال عنه ابن الديبع الشيباني .. الذي ينقل عنه كثيراً - في مقدمة كتابه «قرة العيون في أخبار اليمن الميمون»: أنه ذو السبق والإبتداء فيمن ألف في تأريخ اليمن وفضائله.
عنوان الكتابورد عنوان الكتاب في النسخ التي أعتمدناها للتحقيق على صور مختلفة هي:
1 ـــــ جاء في نسخة الأصل في صفحة العنوان: كتاب طبقات فقهاء اليمن وعيون من أخبار سادات رؤساء الزمن، ومعرفة أنسابهم، ومعرفة أعمارهم، ووقت وفاتهم - جمع الفقيه الفاضل الكامل العارف المحقق نور الدين أبي حفص عمر بن علي بن الحسين بن سمرة بن أبي الهيثم بن أبي العشيرة الجعدي.
2 ـــ وفي نسخة حضرموت: طبقات فقهاء اليمن الأسفل- تأليف الفقيه العلامة أبي الخطاب عمر بن علي بن سمرة بن الحسين بن سمرة الجعدي.
3 ـــ وفي نسخة مكتبة علي أميري باستنبول: طبقات فقهاء جبال اليمن وعيون من أخبار سادات رؤساء الزمن، ومعرفة أنسابهم ووقت وفاتهم، ومواليدهم.
جمع الفقيه عمر بن علي بن سمرة بن الحسين بن سمرة بن أبي الهيثم الجعدي. وبآخر هذه النسخة: تم التأريخ طبقات الفقهاء في جبال اليمن من صنعاء إلى عدن.
4 ـــ وفي نسخة ألمانيا
(1): يبدوا أن رأس صفحة العنوان قطع وضاع معه عنوان الكتاب ولصق بدلها قطعة ورق كتب عليها بعضهم سطراً واحداً ليتسق
--------------------------------------------
আবু হাফস উমর বিন আলি বিন সামুরাহ, যেহেতু তিনি ইসলামের আবির্ভাব থেকে শুরু করে পাঁচশত আশি-র কিছু বেশি বছর পর্যন্ত ইয়েমেনের অধিকাংশ ফকিহকে (ইসলামি আইনবিদ) উল্লেখ করেছেন, ইত্যাদি।
এবং ইবনে আদ-দাইবা আশ-শাইবানি—যিনি তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন—তাঁর ‘কুররাতুল উয়ুন ফি আখবারি ইয়ামানিল মাইমুন’ কিতাবের ভূমিকায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইয়েমেনের ইতিহাস ও শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে গ্রন্থ রচয়িতাদের মধ্যে অগ্রণী ও পথিকৃৎ।
গ্রন্থের শিরোনামতাহকিক (সম্পাদনা)-এর জন্য আমরা যে সকল পাণ্ডুলিপি অবলম্বন করেছি, তাতে গ্রন্থের শিরোনামটি বিভিন্ন রূপে এসেছে, যা নিম্নরূপ:
১ — মূল পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পৃষ্ঠায় এসেছে: ‘কিতাবু তবাক্বাতু ফুক্বাহাইল ইয়ামান ওয়া উয়ুনু মিন আখবারি সাদাতি রুআসায়িয যামান, ওয়া মারিফাতু আনসাবিহিম, ওয়া মারিফাতু আমারিহিম, ওয়া ওয়াক্তু ওফাতিহিম’ (ইয়েমেনের ফকিহগণের স্তরবিন্যাস এবং সমকালীন নেতৃবৃন্দের খবরাখবরের নির্যাস, তাদের বংশপরিচয়, তাদের বয়স এবং মৃত্যুর সময় বিষয়ক গ্রন্থ) — সংকলনে: ফকিহ, ফাজেল, কামেল, আরিফ, মুহাদ্দিক নূরুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন সামুরাহ বিন আবিল হাইসাম বিন আবিল আশিরা আল-জাদি।
২ — হাজরামাউত পাণ্ডুলিপিতে: ‘তবাক্বাতু ফুক্বাহাইল ইয়ামানিল আসফাল’ (নিম্ন ইয়েমেনের ফকিহগণের স্তরবিন্যাস) — রচনায়: ফকিহ আল্লামা আবুল খাত্তাব উমর বিন আলি বিন সামুরাহ বিন আল-হুসাইন বিন সামুরাহ আল-জাদি।
৩ — ইস্তাম্বুলের আলি আমিরি লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপিতে: ‘তবাক্বাতু ফুক্বাহাই জিবালিল ইয়ামান ওয়া উয়ুনু মিন আখবারি সাদাতি রুআসায়িয যামান, ওয়া মারিফাতু আনসাবিহিম ওয়া ওয়াক্তু ওফাতিহিম, ওয়া মাওয়ালিদিহিম’।
সংকলনে: ফকিহ উমর বিন আলি বিন সামুরাহ বিন আল-হুসাইন বিন সামুরাহ বিন আবিল হাইসাম আল-জাদি। এই পাণ্ডুলিপির শেষে আছে: সানা থেকে এডেন পর্যন্ত ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলের ফকিহগণের ইতিহাসের স্তরবিন্যাস সমাপ্ত হলো।
৪ — জার্মান পাণ্ডুলিপিতে
(১): প্রতীয়মান হয় যে, শিরোনাম পৃষ্ঠার উপরিভাগ কেটে ফেলা হয়েছে এবং তার সাথে গ্রন্থের শিরোনামটিও হারিয়ে গেছে। এর পরিবর্তে এক টুকরো কাগজ আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে যাতে কেউ সামঞ্জস্য বিধানের জন্য একটি লাইন লিখে দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
مع السطر الثاني الموجود في الصفحة، وهذا السطر الدخيل هو: هذه تراجم العلماء الشافعية ومشايخهم ورواتهم ومن أخذوا عنه. والسطر الأصيل الذي بعد ذلك هو: بالزمن: تأليف الفقيه عمر بن علي بن سمرة بن الحسين بن سمرة بن أبي هاشم [الصواب: ابن أبي الهيثم] ابن أبي العشيرة الجعدي.
أما عند المؤرخين الذين نقلوا عنه أو ترجموا لمؤلفه، فقد ذكروا الكتاب باسم «طبقات فقهاء اليمن» أو طبقات ابن سمرة فعند الجندي لوحة 145: «طبقات أهل اليمن» وعند السبكي في طبقات الشافعية (237:4): «طبقات فقهاء اليمن» وعنده أيضاً (93:3): «طبقات اليمنيين
(1)».
والكثير من الأخبار التي أوردها السبكي نقلاً عن طبقات ابن سمرة أخذها مشافهه من الحافظ عفيف الدين عبد الله بن محمد المطرى، كما يذكر ذلك في بعض المواضع، وفي البعض الآخر يصرح أنه أخذها من المطرى الذي نقلها عن الحافظ قطب الدين عبد الكريم بن عبد النور الحلبى عن الشيخ قطب الدين محمد بن أحمد القسطلاني فيما علقه من تأريخ اليمن
(2).
ومن المرجح أن الأخير نقلها من كتاب ابن سمرة، أو من كتاب السلوك للجندى الذي ينقل أقوال ابن سمرة بنصها معزوة إليه.
أما عند حاجي خليفة صاحب كشف الظنون (1105:2) فإنه يسمي الكتاب «طبقات فقهاء اليمن ورؤساء الزمن» لعمر بن علي المعروف بابن سمرة الجعدي اليمني، فرغ منها سنة 586 هـ. ويذكره أيضاً (311:1) عرضا باسم: طبقات فقهاء اليمن لابن سمرة.
--------------------------------------------
পৃষ্ঠায় বিদ্যমান দ্বিতীয় লাইনের সাথে, এবং এই প্রক্ষিপ্ত লাইনটি হলো: এটি শাফেয়ী ওলামা, তাঁদের মাশায়েখ, বর্ণনাকারী এবং যাঁদের কাছ থেকে তাঁরা জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের জীবনী। আর এর পরবর্তী মূল লাইনটি হলো: 'বিয-যামান': এটি ফকিহ উমর বিন আলী বিন সামুরা বিন আল-হুসাইন বিন সামুরা বিন আবি হাশেম [সঠিক: ইবনে আবিল হাইসাম] ইবনে আবিল আশিরা আল-জাদি-এর রচনা।
আর ইতিহাসবিদগণ যাঁরা তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন অথবা লেখকের জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা গ্রন্থটিকে «তাবাকাতু ফুকাহাইল ইয়ামান» (ইয়েমেনের ফকিহদের স্তরবিন্যাস) অথবা 'তাবাকাতু ইবনে সামুরা' নামে উল্লেখ করেছেন। যেমন আল-জান্দির নিকট ১৪৫ নং পৃষ্ঠায়: «তাবাকাতু আহলিল ইয়ামান», এবং সুবকির নিকট 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ' (৪:২৩৭)-তে: «তাবাকাতু ফুকাহাইল ইয়ামান» এবং তাঁর নিকট আরও এক জায়গায় (৩:৯৩): «তাবাকাতুল ইয়ামানিইয়্যিন
(১)» নামে উল্লেখ আছে।
সুবকি 'তাবাকাতু ইবনে সামুরা' থেকে যে সকল সংবাদ বা তথ্যাদি বর্ণনা করেছেন, তার অনেকগুলোই তিনি হাফেজ আফিফ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মাতারি থেকে সরাসরি মৌখিকভাবে গ্রহণ করেছেন, যা তিনি কিছু স্থানে উল্লেখ করেছেন। আবার অন্য কিছু স্থানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি এটি মাতারির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যিনি এটি হাফেজ কুতুব উদ্দিন আব্দুল করিম বিন আব্দুল নূর আল-হালাবি থেকে এবং তিনি শেখ কুতুব উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাসতালানির ইয়েমেনের ইতিহাসের ওপর করা টীকা থেকে বর্ণনা করেছেন
(২)।
সম্ভবত শেষের জন এটি ইবনে সামুরার বই থেকে অথবা আল-জান্দির 'কিতাবুস সুলুক' থেকে গ্রহণ করেছেন, যিনি ইবনে সামুরার বক্তব্যগুলো তাঁর নাম উল্লেখপূর্বক হুবহু উদ্ধৃত করেছেন।
আর 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক হাজি খলিফার নিকট (২:১১০৫) গ্রন্থটির নাম «তাবাকাতু ফুকাহাইল ইয়ামান ওয়া রুয়াসাউয যামান»। এর লেখক ইবনে সামুরা আল-জাদি আল-ইয়ামানি নামেই পরিচিত উমর বিন আলী, যা তিনি ৫৮৬ হিজরিতে লিখে সমাপ্ত করেন। তিনি (১:৩১১) প্রাসঙ্গিকভাবে বইটির নাম 'তাবাকাতু ফুকাহাইল ইয়ামান লি-ইবনে সামুরা' হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١١)
المؤلفهو عُمَر بْن عَليْ بن سَمرة بن الحسين بن سمرة بن أبي الهيثم بن العشيرة الجَعْدي
(1)، ولد سنة 547 هـ في قرية أُنامر من بلاد العوادر، وتفقه بجماعة من الشيوخ منهم: علي بن أحمد اليهاقري، وزيد بن عبد الله بن أحمد الزبراني، ومحمد بن موسى العمراني، وطاهر بن يحيى بن أبي الخير العمراني، وجماعة غيرهم كثيرون.
وقد ترجم المؤلف لنفسه في مقدمة الكتاب وذكر شيوخه، وما تلقاه عليهم من الكتب، فأغنانا بذلك عن البحث عن ترجمته، فإن جميع ما ورد في الكتب التي ترجمت له نقلت عنه ما ذكره هو عن نفسه، ولم تزد شيئاً عن ذلك، ويمكننا أن نضيف إلى ما أورده بعض البيانات المفيدة عن حياته استخلاصاً من ثنايا كتابه.
فقد ذكر في ص 233: أن والده أنتقل بأولاده إلى أكمة زَبَرَان سنة 563 هـ وفي ص 190: أن والده توفي سنة 574 هـ وفي ص 223: أن المؤلف تولى القضاء في أَبْين سنة 580 هـ من جهة قاضي القضاة أثير الدين.
وفي ص 127: أنه دخل عدن سنة 581 هـ. وفي ص 127: أنه حج إلى مكة مبحراً من عدن، وزار جزيرة كمران في ذهابه وإيابه.
وقد وردت عند الهمداني في صفة جزيرة العرب بعض عبارات توضح أن أسرة أبي سمرة من الأسر العريقة القديمة ذات الجاه والمكانة فقد ذكر في ص 159 بعض الحصون ومن بينها «حصن السمريين، وهم بنو أبي سمرة من جعدة». وفي ص 160 ذكر أيضاً أن في «جعدة حصن يقال له مُرغِم أي يرغم العدو بامتناعه دونه، وهو لبني أبي سمرة».
--------------------------------------------
লেখকতিনি হলেন ওমর ইবনে আলী ইবনে সামরা ইবনুল হুসাইন ইবনে সামরা ইবনে আবিল হাইসাম ইবনুল আশীরা আল-জাদি
(১)। তিনি ৫৪৭ হিজরিতে আউয়াদির অঞ্চলের আনামির গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একদল শাইখের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আলী ইবনে আহমাদ আল-ইয়াহাকারি, যায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আজ-জাবরানি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-উমরানি, তাহির ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবিল খায়ের আল-উমরানি এবং আরও অনেক উলামায়ে কেরাম।
লেখক নিজেই বইটির ভূমিকায় তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর শাইখদের নাম ও তাঁদের কাছে যেসব কিতাব পাঠ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের তাঁর জীবনী অনুসন্ধানের পরিশ্রম থেকে নিরর্থক করেছেন। কারণ, যেসব বইয়ে তাঁর জীবনী এসেছে, সেগুলো সবই তিনি নিজের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা থেকেই উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং তাতে নতুন কিছু যোগ করা হয়নি। তাঁর জীবন সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তাঁর কিতাবের বিভিন্ন অংশ থেকে সংগৃহীত কিছু দরকারি তথ্য আমরা তার সাথে যোগ করতে পারি।
তিনি ২৩৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা ৫৬৩ হিজরিতে তাঁর সন্তানদের নিয়ে আকামাতু জাবারানে স্থানান্তরিত হন। ১৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা ৫৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ২২৩ পৃষ্ঠায় আছে যে, লেখক ৫৮০ হিজরিতে প্রধান বিচারপতি (ক্বাযিল কুযাত) আসিরুদ্দীনের পক্ষ থেকে আবইয়ান অঞ্চলের বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, তিনি ৫৮১ হিজরিতে আদেন-এ প্রবেশ করেন। ১২৭ পৃষ্ঠায় আরও আছে যে, তিনি আদেন থেকে সমুদ্রপথে মক্কায় হজ পালন করতে যান এবং যাওয়ার সময় ও ফেরার পথে কামরান দ্বীপ পরিদর্শন করেন।
আল-হামদানীর ‘সিফাতু জাযিরাতিল আরব’ গ্রন্থে কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যা স্পষ্ট করে যে, আবু সামরা পরিবার একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও অভিজাত বংশ ছিল, যাদের বিশেষ প্রতিপত্তি ও মর্যাদা ছিল। তিনি ১৫৯ পৃষ্ঠায় কিছু দুর্গের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘সামরিদের দুর্গ; আর তারা হলো জা'দাহ বংশের বনু আবু সামরা’। ১৬০ পৃষ্ঠায় তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘জা'দাহ গোত্রে একটি দুর্গ আছে যাকে মুরগিম বলা হয়, অর্থাৎ যা শত্রুকে পরাস্ত ও লাঞ্ছিত করে; এটি বনু আবু সামরার মালিকানাধীন’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولم تُعرف السنة التي توفي فيها المؤلف على وجه التحقيق. فقد ذكر الجندي (لوحة 218) أنه يظن أن ابن سمرة توفي في أبين بعد سنة 586 هـ. ولم يزد بامخرمة في ترجمته للمؤلف في تأريخ ثغر عدن (ص 179) عما أورده الجندي فقد نقل عنه بالنص.
ويقول صاحب كشف الظنون: أنه فرغ من كتابة طبقات فقهاء اليمن سنة 586 هـ.
ومن هذا يتضح أن معرفة حياة المؤلف عند من ترجمه، كان راجعاً إلى ما وقف عنده من تأريخ وفيات الفقهاء الذين أرخ لهم. وهو في كل هؤلاء لم يذكر بعد سنة 586 هـ. أي سنة أخرى، وهذا يصور لنا أنه مات في سن الأربعين، أو بعدها بقليل، ولكن ربما كان من المحتمل أنه عاش فترة أخرى قد تكون أطول مما نظن بعد تأليف كتابه، ولم يعلم بذلك أحد ممن ترجمه، خصوصاً وأن أول من كتب عنه، وترجم له هو بهاء الدين الجَنَدي المتوفي سنة 732 هـ، وبينهما قرن ونصف من الزمان، وعلى كل حال فليس في المصادر التي بين أيدينا ما يدلنا على حياته بعد سنة 586 هـ اللهم إلا ما جاء في بعض التراجم في كتابه
(1) من ذكر تأريخ وفاة بعض الفقهاء بعد هذه السنة (وهي سنة 586 هـ) فقد علقنا على ذلك في الحواشي بأنه من المحتمل أن تكون هذه التواريخ زيادة ممن تملكوا هذه النسخ، لعدم وجود هذه التواريخ في النسخ الأخرى، أو عند الجَنَدي الذي أعتمد على كتابه اعتماداً كلياً.
وصف النسخ التي أعتمدت عليها في التحقيق:
1 ـــ نسخة مكتبة بلدية الإسكندرية: وهي مكتوبة في أواخر القرن التاسع الهجري، أو أوائل العاشر، يدل على ذلك أن بها نصاً مقحماً في ترجمة عمرو بن
--------------------------------------------
লেখকের মৃত্যুর সঠিক বছরটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আল-জানাদি (ফলক ২১৮) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ধারণা করেন ইবনে সামরা ৫৮৬ হিজরির পর আবইয়ানে মৃত্যুবরণ করেন। বা-মাখরামা তার 'তারিখে সাগরি আদন' (পৃ. ১৭৯) গ্রন্থে লেখকের জীবনীতে আল-জানাদির বিবরণের অতিরিক্ত কিছু প্রদান করেননি, কারণ তিনি তার থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছেন।
কাশফুয যুনুন-এর লেখক বলেছেন: তিনি ৫৮৬ হিজরি সনে 'তাবাকাতু ফুকাহাইল ইয়ামান' রচনার কাজ সমাপ্ত করেছিলেন।
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, যারা লেখকের জীবনী লিখেছেন, তাদের কাছে তার জীবন সম্পর্কে জ্ঞান সেই ফকিহদের মৃত্যুর তারিখ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল যাদের ইতিহাস তিনি বর্ণনা করেছেন। তাদের সকলের বর্ণনায় তিনি ৫৮৬ হিজরির পর অন্য কোনো বছরের উল্লেখ করেননি। এটি আমাদের সামনে এমন চিত্র তুলে ধরে যে তিনি সম্ভবত চল্লিশ বছর বয়সে অথবা তার কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তবে সম্ভবত এটিও সম্ভব যে তিনি তার গ্রন্থ রচনার পর আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পারেন, যা তার জীবনীকারদের কারো জানা ছিল না। বিশেষ করে, তার সম্পর্কে প্রথম যিনি লিখেছেন এবং তার জীবনী বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন বাহাউদ্দিন আল-জানাদি (মৃত্যু ৭৩২ হিজরি), এবং তাদের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান দেড় শতাব্দী। যা হোক, আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলোতে ৫৮৬ হিজরির পর তার জীবনের অস্তিত্ব নির্দেশ করে এমন কিছু নেই; কেবল তার গ্রন্থের কিছু জীবনীতে
(১) এই সালের (অর্থাৎ ৫৮৬ হিজরি) পরবর্তী কিছু ফকিহদের মৃত্যুর তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়। আমরা টীকায় এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছি যে, সম্ভবত এই তারিখগুলো সেই ব্যক্তিদের সংযোজন যারা এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মালিক ছিলেন। কারণ এই তারিখগুলো অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে অথবা আল-জানাদির বর্ণনায় পাওয়া যায় না, অথচ তিনি পুরোপুরি এই গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছিলেন।
সম্পাদনায় (তাহকিক) আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বিবরণ:
১ — আলেকজান্দ্রিয়া পৌরসভা লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি: এটি নবম হিজরি শতকের শেষভাগ অথবা দশম শতকের শুরুতে লিখিত। এর প্রমাণ হলো এতে আমর বিন... এর জীবনীতে একটি প্রক্ষিপ্ত পাঠ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
حمير التباعي (ص 237) منقول من كتاب «طبقات الخواص للشرجي المتوفي سنة 893 هـ».
وهذه النسخة مكتوبة بقلم نسخ معتاد، والكثير من كلماتها مضبوط بالشكل وهي ناقصة من آخرها مقدار ورقة تقريباً ضاعت فيها خاتمة النسخة، وربما كان فيها تأريخ النسخ واسم الناسخ، كما ضاع من أثنائها أيضاً ورقة بين صفحتي 56 - 57، وقد أكملنا هذا النقص من النسخ الأخرى، وتقع في 197 صفحة.
وهذه النسخة هي التي أعتبرناها أصلاً للتحقيق، ورمزنا إليها بكلمة «الأصل» وهي محفوظة بمكتبة بلدية الإسكندرية تحت رقم 3650 ج.
2 ـــ نسخة حضرموت: وهي مكتوبة بخط حديث سنة 1372 هـ نقلاً عن نسخة أخرى حديثة كتبت سنة 1366 هـ نقلت من أصل قديم كتب سنة 731 هـ محفوظ في وقف آل ابن سهل في مدينة تريم بحضرموت.
ويظهر أن في الأوراق الأخيرة من هذه النسخة بعض تقطيع أودى ببعض الجمل والكلمات فتركها ناسخ نسختنا بياضاً وهذه النسخة هي التي قدمها لنا القاضي العلامة محمد العمري، ورمزنا إليها بحرف «ح». (وراجع أيضاً ص 250 من الكتاب).
3 ـــ نسخة مكتبة علي أميري بإستانبول: وهي مكتوبة بخط سقيم كثير التصحيف والتحريف. ولسقم هذه النسخة كدت أن أصرف النظر عنها، ولكن مع المراجعة، اتضح أنها لا تخلوا من فوائد وزيادات ساعدت في تحقيق بعض المبهمات في النسخ الأخرى، فلم أجد بداً من الإستعانة بها. وهي مكتوبة في الحديدة سنة 1324 هـ وتقع في 79 ورقة وقد رمزنا لها بحرف «ع».
4 ـــ نسخة ألمانيا - وهي مكتوبة بخط دقيق معتاد في القرن التاسع الهجري وتقع في 35 ورقة. والواقع أن هذه النسخة عبارة عن مختصر للكتاب روعي فيها حذف الإستطرادات التي يذكرها المؤلف في تراجمه مما يعتبر أخباراً خارجة
হিমায়ার আত-তুবায়ী (পৃ. ২৩৭) ৮৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শরজি রচিত «তাবাকাতুল খাওয়াস» কিতাব থেকে সংগৃহীত।
এই পাণ্ডুলিপিটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এর অধিকাংশ শব্দই হরকতযুক্ত। এর শেষাংশ থেকে প্রায় এক পাতার সমপরিমাণ অংশ অনুপস্থিত যেখানে পাণ্ডুলিপিটির সমাপ্তি অংশটি হারিয়ে গেছে; সম্ভবত সেখানে পাণ্ডুলিপি তৈরির তারিখ এবং লিপিকারের নাম ছিল। একইভাবে এর মধ্যভাগ থেকেও ৫৬-৫৭ পৃষ্ঠার মাঝখানের একটি পাতা হারিয়ে গেছে। আমরা অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে এই অসম্পূর্ণতা পূর্ণ করেছি এবং এটি ১৯৭ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
এই পাণ্ডুলিপিটিকেই আমরা তাহকিকের (সম্পাদনার) মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছি এবং একে «মূল» শব্দ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি আলেকজান্দ্রিয়া মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরিতে ৩৬৫০ জিম নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
২ — হাদরামাউত পাণ্ডুলিপি: এটি ১৩৭২ হিজরিতে আধুনিক লিপিতে লিখিত যা ১৩৬৬ হিজরিতে লিখিত অন্য একটি আধুনিক পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। আর সেটি ৭৩১ হিজরিতে লিখিত একটি প্রাচীন মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত যা হাদরামাউতের তারিম শহরের আল ইবনে সাহল ওয়াকফে সংরক্ষিত আছে।
প্রতীয়মান হয় যে, এই পাণ্ডুলিপির শেষ পাতাগুলোতে কিছু অংশ ছেঁড়া ছিল যার ফলে কিছু বাক্য ও শব্দ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই আমাদের পাণ্ডুলিপির লিপিকার সেই স্থানগুলো ফাঁকা রেখে গেছেন। এই পাণ্ডুলিপিটিই আল্লামা কাজী মুহাম্মদ আল-আমরি আমাদের নিকট প্রদান করেছেন এবং আমরা একে «হা» বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। (কিতাবের ২৫০ পৃষ্ঠাটিও দেখুন)।
৩ — ইস্তাম্বুলের আলি আমিরি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি: এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এতে প্রচুর শব্দপ্রমাদ ও বিকৃতি রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটির ত্রুটির আধিক্যের কারণে আমি প্রায় এটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু পর্যালোচনার পর স্পষ্ট হলো যে, এটি বেশ কিছু তথ্য ও বর্ধিত অংশ সমৃদ্ধ যা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির কিছু অস্পষ্টতা নিরসনে সহায়তা করেছে। তাই এটি থেকে সাহায্য নেওয়া ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না। এটি ১৩২৪ হিজরিতে হুদায়দাহ শহরে লিখিত হয়েছে এবং এটি ৭৯টি পাতা বিশিষ্ট। আমরা একে «আইন» বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
৪ — জার্মানি পাণ্ডুলিপি: এটি নবম হিজরি শতকের প্রচলিত সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এটি ৩৫টি পাতা বিশিষ্ট। প্রকৃতপক্ষে, এই পাণ্ডুলিপিটি মূল কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্তসার, যেখানে জীবনী বর্ণনায় লেখকের অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনাগুলো বর্জন করা হয়েছে যা মূল প্রসঙ্গের বাইরের বিষয় হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
عن الموضوع أو تراجم لغير اليمنيين، مع تغيير في بعض العبارات لربط سياق الكلام بعد الحذف، حتى تستقيم العبارة، وقد يبلغ الحذف في بعض الأحيان أكثر من صفحة، وفي الأماكن التي ترك فيها المؤلف (بياض) في مكان تأريخ وفاة المترجم في النسخ السابقة كان مختصر هذه النسخة يذكر في الهامش هذه العبارة "ينص لمولده ووفاته" كما أنه كان يحذف بعض الكلمات والعبارات الصعبة، أو التي يتعسر فهمهما أو قراءتهما.
وكاتب هذا المختصر هو العلامة تقي الدين أبي بكر بن أحمد بن محمد بن عمر ابن محمد المعروف بابن قاضي شهبة الأسدي
(1) المتوفي سنة 851 هـ.
فقد لفت نظري عبارة مكتوبة في رأس صفحة العنوان نصها: «تراجم بخط ابن شهبة» وبمقارنة خط هذه النسخة بخط ابن شهبة في كتابه (المنتقى من تأريخ الإسلام)
(2) اتضح أنه يماثله تماماً.
ويبدوا أن ما أراده ابن شهبة من هذا المختصر أن يجمع فيه تراجم فقهاء الشافعية اليمنيين فقط، ولذلك ترك كثيراً من أول الكتاب وبدأ من عند ذكر المؤلف: «لأول من أظهر مذهب الشافعية في اليمن من الشيوخ على الترتيب
(3). وربما كان يريد بذلك أن يضمن هذه التراجم كتابه عن «طبقات الشافعية
(4)».
والظاهر أن برأس صفحة العنوان لهذه النسخة قطع ضاع معه السطر الأول من عنوان الكتاب ولصق بدله ورقة أخرى كتب عليها بخط مخالف لخط النسخة سطر آخر مكان السطر الضائع نصه: هذه تراجم العلماء الشافعية ومشايخهم ورواتهم ومن أخذوا عنه. ثم سطر آخر به اسم المؤلف ثم عبارة أخرى نصها:
--------------------------------------------
বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট নয় এমন অংশ কিংবা অ-ইয়েমেনীদের জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে, আর কিছু শব্দে পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে বিলোপের পর বক্তব্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায় এবং বাক্য গঠন সঠিক থাকে। কখনও কখনও এই বিলোপ এক পৃষ্ঠারও বেশি স্থান জুড়ে হয়েছে। পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিগুলোতে লেখক যেখানে জীবনীকারের মৃত্যুর তারিখের স্থানে শূন্যস্থান (সাদা জায়গা) রেখেছিলেন, এই সংস্করণের সংক্ষেপক টীকায় এই বাক্যটি উল্লেখ করতেন: "তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে।" এছাড়া তিনি কিছু কঠিন শব্দ ও বাক্যাংশ অথবা যা বোঝা বা পাঠ করা দুঃসাধ্য ছিল, তাও বর্জন করেছেন।
এই সংক্ষিপ্তসারটির লেখক হলেন আল্লামা তাকিউদ্দীন আবু বকর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ইবনে কাযী শুহবা আল-আসাদী নামে পরিচিত
(১) (মৃত্যু ৮৫১ হিজরী)।
শিরোনাম পৃষ্ঠার উপরের অংশে লিখিত একটি বাক্য আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার ভাষ্য ছিল: «ইবনে শুহবার হস্তাক্ষরে জীবনীসমূহ»। এই কপির হস্তাক্ষরের সাথে ইবনে শুহবার নিজ কিতাব (আল-মুনতাকা মিন তারিখিল ইসলাম)
(২)-এর হস্তাক্ষরের তুলনা করে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তা হুবহু একই রকম।
প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে শুহবা এই সংক্ষিপ্তসারের মাধ্যমে কেবল ইয়েমেনী শাফেয়ী ফকীহদের জীবনী সংকলন করতে চেয়েছিলেন। এই কারণেই তিনি মূল কিতাবের শুরুর দিকের অনেক অংশ বর্জন করেছেন এবং লেখকের সেই আলোচনা থেকে শুরু করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: «পর্যায়ক্রমিক ধারায় ইয়েমেনে শাফেয়ী মাযহাব প্রকাশকারী সর্বপ্রথম শায়খগণের আলোচনা
(৩)। সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে এই জীবনীগুলোকে তাঁর «তাবাকাতুশ শাফেঈয়্যাহ
(৪)» গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন।
দৃশ্যত এই কপির শিরোনাম পৃষ্ঠার উপরের অংশে একটি কর্তিত অংশ রয়েছে, যার ফলে কিতাবের শিরোনামের প্রথম লাইনটি হারিয়ে গেছে। সেই হারানো লাইনের স্থলে অন্য একটি কাগজ লাগানো হয়েছে এবং সেখানে মূল পান্ডুলিপির হস্তাক্ষর থেকে ভিন্ন হাতে একটি লাইন লেখা হয়েছে যার ভাষ্য: এগুলো হলো শাফেয়ী আলেমগণ, তাঁদের মাশায়েখ, তাঁদের বর্ণনাকারী এবং যাঁদের নিকট থেকে তাঁরা জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের জীবনী। এরপর অপর একটি লাইনে লেখকের নাম এবং তারপর নিম্নোক্ত আরেকটি বাক্য রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
«وقفت عليه في ثلاث كراريس ونصف، فانتفعت منه بتراجم الشافعية خاصة، نفع الله به».
ثم بعض نقول أخرى مكتوبة بطول الصفحة وعرضها، ملخصة من القسم الذي حذفه ابن قاضي شهبة أول الكتاب. وجاء بآخر هذه النسخة العنوان الصحيح للكتاب وهو: آخر طبقات فقهاء اليمن وعيون من أخبار رؤساء سادات الزمن - جمع عمر بن علي بن الحسين بن سمرة الجعدي بن أبي هاشم [الصواب: الهيثم] بن أبي العشيرة الجعدي. نقلته من نسخة كثيرة الغلط والتصحيف، فيحترز الناقل ويتأمل ما ينقل، والحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين.
وقد كان اعتمادنا على هذه النسخة من ص 80 في المطبوع حيث تبدأ. وهي محفوظة في ألمانيا تحت رقم 10034 راجع فهرس (هلوار وصفحة ج 10:444) ورمزت إليها بحرف "ب"
منهج التحقيق:اعتبرت نسخة الأسكندرية أصلاً للكتاب لأنها أكمل هذه النسخ وأقدمها وحافظت على نصها، إلا ما تأكدت أنه خطأ أو مخالف للواقع، فاخترت ما رأيته الصواب من النسخ الأخرى، ليكون النص أقرب إلى الصواب على قدر المستطاع، وقد أثبت في الحواشي خلافات النسخ الأخرى.
ولما كان كتاب السلوك للجندي قد تضمن أكثر ما في كتاب ابن سمرة، فقد أعتبرته أصلاً آخر غير مباشر للتحقيق. وأثبت أيضاً في الحواشي الخلافات الواردة عنده.
والمشتغلون بالتراث اليمني عموماً وبالتأريخ خصوصاً، يدركون ندرة المراجع التي يمكن الإستعانة بها في التحقيق، سواءً ما كان منها مطبوعاً أو مخطوطاً
«আমি এটি সাড়ে তিন খাতা (কুরাসাহ) পরিব্যাপ্ত অবস্থায় পেয়েছি এবং এর মাধ্যমে বিশেষভাবে শাফেয়ী আলেমদের জীবনী দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করুন।»
এরপর পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে লিখিত আরও কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে, যা ইবনে কাজী শুহবাহ বইয়ের শুরুতে যে অংশটি বাদ দিয়েছিলেন তা থেকে সংক্ষেপিত। এই পাণ্ডুলিপির শেষে বইটির সঠিক শিরোনামটি উল্লেখ করা হয়েছে, যা হলো: ‘আখিরু তাবাকাতিল ফুকাহাইল ইয়ামান ওয়া উইয়ুনু মিন আখবারিল রুয়াসা-ই সাদাতিয যামান’—সংকলনে: উমর বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন সামুরা আল-জাদি বিন আবি হাশিম [সঠিক: আল-হাইসাম] বিন আবিল আশীরা আল-জাদি। আমি এটি এমন একটি অনুলিপি থেকে নকল করেছি যাতে প্রচুর ভুল এবং শব্দের বিকৃতি ছিল; অতএব অনুলিপি প্রস্তুতকারী যেন সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং যা তিনি নকল করছেন তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও শেষ নবী মুহাম্মাদের ওপর।
মুদ্রিত সংস্করণের ৮০ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে আমাদের নির্ভরতা ছিল এই পাণ্ডুলিপির ওপর, যেখান থেকে এটি শুরু হয়েছে। এটি জার্মানিতে ১০০৩৪ নম্বর ক্রমিকে সংরক্ষিত আছে। দেখুন: (আহলওয়ার্ড-এর ক্যাটালগ, ১০ম খণ্ড, ৪৪৪ পৃষ্ঠা)। আমি একে ‘বা’ বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
সম্পাদনা পদ্ধতি:আমি আলেকজান্দ্রিয়া পাণ্ডুলিপিকে বইটির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এটি এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাচীন এবং আমি এর মূল পাঠ্য অক্ষুণ্ণ রেখেছি। তবে যে অংশগুলো ভুল বা বাস্তব-বিপরীত বলে নিশ্চিত হয়েছি, সেখানে আমি অন্য পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে যা সঠিক মনে করেছি তা নির্বাচন করেছি, যাতে মূল পাঠটি যথাসম্ভব নির্ভুলতার কাছাকাছি হয়। অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠভেদ আমি টীকায় উল্লেখ করেছি।
যেহেতু জান্দির ‘আস-সুলুক’ কিতাবটিতে ইবনে সামুরার কিতাবের অধিকাংশ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই আমি একে সম্পাদনার ক্ষেত্রে একটি পরোক্ষ মূল উৎস হিসেবে বিবেচনা করেছি। সেখানে বিদ্যমান পাঠভেদগুলোও আমি টীকায় লিপিবদ্ধ করেছি।
যারা সাধারণভাবে ইয়ামেনি ঐতিহ্য এবং বিশেষভাবে ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, তারা সম্পাদনার কাজে সহায়ক তথ্যসূত্রের দুষ্প্রাপ্যতা উপলব্ধি করেন, তা মুদ্রিত হোক বা পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ولذلك فإن الباحث يجد مشقة وعناء في تحقيق ما يعرض له من نصوص، الأمر الذي حملني عبئاً باهضاً في تحقيق هذا الكتاب ومقابلة ما نقله المؤلف من نصوص على أصولها الخطية.
ويكفي أن يطلع القارئ، على ثبت المراجع المستعملة في التحقيق (بآخر الكتاب) ليدرك عدد المخطوطات التي رجعت إليها وعارضت بها ما جاء في هذا الكتاب.
وقد راعيت عند كل ترجمة أن أشير إلى بعض المراجع التي ترجمت له، للإستئناس بها أو لمن يريد التوسع في أخبار صاحب الترجمة، وحرصت أن تكون أكثر هذه المراجع ممن نقل عن ابن سمرة أو اطلع على كتابه، وقد اضطرني الأمر إلى التوسع في بعض الحواشي بالشرح أو التعليق على بعض المناسبات، وهي وإن كانت بالنسبة لأهل اليمن معروفة عندهم، إلا أنها قد تكون بالنسبة إلى غيرهم - خارج بلادهم - مجهولة وغير معروفة.
وأخيراً وبعد أن قدمت الكتاب إلى العلماء والباحثين وعلى الأخص المشتغلين بالدراسات اليمنية على هذه الصورة التي أرجوا أن تظفر بتقديرهم أرى فرضاً عليّ أن أتوجه بخالص الشكر والثناء إلى العلامة الجليل القاضي محمد العمري الذي دفعني بتشجيعه وتقديره إلى تحقيق هذا الكتاب ونشره معاهداً له على أن أحقق رغبته في نشر كتاب "طبقات علماء الزيدية" للإمام يحيى بن الحسين في القريب إن شاء الله.
كما أخص بالشكر صديقي العزيز القاضي إسماعيل بن حسن الأكوع الذي قدم لي من جهده وعلمه وحماسه، ما يجعلني أضاعف له الثناء والحمد.
والله سبحاته وتعالى أسأل أن يوفق اليمنيين جميعاً وعلى رأسهم جلالة الإمام الناصر لدين الله أحمد بن يحيى حميد الدين ملك اليمن، في إحياء تراث بلادهم المجيدة والعناية به، والسير قدماً في ركب الحضارة ونهضة الشعوب إنه سميع مجيب.
القاهرة
9 جماد الأولى 1377 هـ
أول ديسمبر 1957 م
فؤاد سيد
এজন্যই একজন গবেষক তার সামনে আসা পাঠ্যসমূহ যাচাই-বাছাই বা তাহকিক করার ক্ষেত্রে অনেক কষ্ট ও শ্রমের সম্মুখীন হন। এই বিষয়টিই এই বইটি সম্পাদনা করতে এবং লেখক যা উদ্ধৃত করেছেন তা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আমার ওপর এক ভারী বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল।
পাঠকের জন্য সম্পাদনায় ব্যবহৃত তথ্যসূত্রের তালিকার (বইয়ের শেষে) দিকে দৃষ্টিপাত করাই যথেষ্ট হবে এটা বোঝার জন্য যে, আমি কতগুলো পাণ্ডুলিপির শরণাপন্ন হয়েছি এবং এই বইয়ে যা এসেছে তার সাথে সেগুলোর তুলনা করেছি।
আমি প্রতিটি জীবনীর ক্ষেত্রে এমন কিছু রেফারেন্সের দিকে ইঙ্গিত করার চেষ্টা করেছি যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, যেন পাঠক সেগুলো থেকে উপকৃত হতে পারেন অথবা জীবনীদাতার অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন। আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন এই তথ্যসূত্রগুলোর অধিকাংশই এমন ব্যক্তিদের হয় যারা ইবনে সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা তার কিতাবটি দেখেছেন। বিষয়টি আমাকে কিছু টীকা-টিপ্পনীতে ব্যাখ্যা প্রদান বা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার ওপর মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করতে বাধ্য করেছে। যদিও ইয়েমেনের অধিবাসীদের কাছে এই বিষয়গুলো সুপরিচিত, তবে ইয়েমেনের বাইরের অন্যদের কাছে এগুলো অজানা ও অপরিচিত হতে পারে।
পরিশেষে, আলেম ও গবেষকদের সামনে, বিশেষ করে যারা ইয়েমেনি শিক্ষা ও গবেষণার সাথে যুক্ত, তাদের সামনে বইটি এই রূপে উপস্থাপন করার পর—যা তাদের প্রশংসা কুড়াবে বলে আমি আশা করি—আমি নিজের ওপর কর্তব্য মনে করছি প্রখ্যাত আলেম কাজী মুহাম্মদ আল-আমরি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানাতে। তার উৎসাহ ও মূল্যায়নেই আমি এই বইটি সম্পাদনা ও প্রকাশে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আমি তার কাছে অঙ্গীকার করছি যে, অচিরেই ইমাম ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইনের "তাবাকাতু উলামায়িয যায়দিয়্যাহ" বইটি প্রকাশের মাধ্যমে তার ইচ্ছা পূরণ করব, ইনশাআল্লাহ।
আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার প্রিয় বন্ধু কাজী ইসমাইল বিন হাসান আল-আকওয়াকে, যিনি আমাকে তার শ্রম, জ্ঞান ও উদ্দীপনা দিয়ে এমনভাবে সহযোগিতা করেছেন যা তার প্রতি আমার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি সকল ইয়েমেনিকে, বিশেষ করে ইয়েমেনের বাদশা মহামান্য ইমাম আন-নাসির লি-দিনিল্লাহ আহমদ বিন ইয়াহইয়া হামিদুদ্দিনকে তাদের গৌরবময় দেশের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে, এর যত্ন নিতে এবং সভ্যতার কাফেলায় ও জাতির পুনর্জাগরণে অগ্রগামী হতে তৌফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।
কায়রো
৯ জুমাদাল উলা ১৩৭৭ হিজরি
১ ডিসেম্বর ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ
ফুয়াদ সাইয়্যিদ
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
إصطلاحات[ .. ] الأرقام التي بين هذين القوسين هي أرقام صفحات النسخة التي أعتبرنا أصلاً.
أما الكلمات أو العبارات التي بين هذين القوسين أيضاً فهي زيادات من الناشر لا يستقيم المعنى إلا بها.
( .. ) ما بين هذين القوسين ساقط من نسخة الأصل ومكمل من النسخ الأخرى.
الرموز الواردة في الحواشي هي:
الأصل= نسخة مكتبة بلدية الإسكندرية.
ب = نسخة مكتبة برلين (ألمانيا).
ح = نسخة حضرموت.
ع = نسخة علي أميري بإستنبول.
পরিভাষাসমূহ[ .. ] এই দুই বন্ধনীর মধ্যবর্তী সংখ্যাগুলো হলো সেই পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাসংখ্যা যা আমরা মূল হিসেবে গণ্য করেছি।
আর এই দুই বন্ধনীর মধ্যবর্তী শব্দ বা বাক্যগুলোও হলো প্রকাশকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সংযোজন, যা ছাড়া অর্থ সঠিক হয় না।
( .. ) এই দুই বন্ধনীর মধ্যবর্তী অংশ মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে এবং অন্য পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে তা পূর্ণ করা হয়েছে।
পাদটিকায় ব্যবহৃত প্রতীকসমূহ হলো:
মূল = আলেকজান্দ্রিয়া মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।
বা = বার্লিন লাইব্রেরি (জার্মানি)-এর পাণ্ডুলিপি।
হা = হাজরামাউতের পাণ্ডুলিপি।
আইন = ইস্তাম্বুলের আলী আমিরি পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات فقهاء اليمن القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: طبقات فقهاء اليمن
تأليف: عُمَر بْن عَليْ بن سَمرة الجَعْدي
تحقيق: فؤاد سَيد، أمين المخطوطات بدار الكتب المصرية
الناشر: دار القلم ـ بيروت ـ لبنان
عدد الصفحات: 326
أعده للشاملة: مطيع السميعي - اليمن - تعز - الظهرة بادية الجند.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الأولى 1443
ইয়ামেনের ফকীহগণের জীবনী বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
কিতাব: ইয়ামেনের ফকীহগণের জীবনী
লেখক: উমর বিন আলী বিন সামুরাহ আল-জাদি
তাহকীক: ফুয়াদ সাইয়্যিদ, মিসরীয় দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি কিউরেটর
প্রকাশক: দার আল-কালাম — বৈরুত — লেবানন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৬
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুতীউ আল-সামীয়ী - ইয়ামেন - তায়িজ - আদ-দাহরাহ বাদিয়াতুল জান্দ.
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
(وبه الثقة والمعونة)
(1)[1] الحمد لله الذي ألهمنا لحمده، وأفهمنا لسؤاله وقصده، ووسعنا جميعاً بسعةِ رفده، وصلى الله على سيدنا محمد نبيه وعبده، والمصطفين من صحابته وأهل وده، وعلى أزواجه وذريته من بعده.
أما بعد: فإني أسأل الله العون على تلخيص ما أردته وتقريبه، وتخصيص ما نويته
(2) وتهذيبه من ذكر فقهاء
(3) اليمن ومبلغ أعمارهم، ومعرفة ساداتهم
(4) وأنسابهم ووقت وفاتهم
(5) على قدر ما يحضرني من أخبار السلف الماضين، والخلف الباقين (* وأبدأ بذكر الذين دَرَسْتُ عليهم واعتمدت في مسموعاتي ومقروءاتي إليهم، على ترتيب أمري، ومن أحدّث
(6) عنه في سفري وحضري، (وأقدم أصل نجاري)
(7)، وتأريخ عمري، ليتبين الكلام، بعون ذي الجلال والإكرام؛ فأقول وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وهو حسبي ونعم الوكيل.
أخبرني والدي رحمه الله، علي بن سَمُرَة بن الحسين بن سَمُرة بن الهيثم
(8)--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(তাঁরই ওপর ভরসা ও সাহায্য প্রার্থনা করছি)
(১)[১] সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের তাঁর প্রশংসার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁর নিকট যাচনা ও তাঁর উদ্দেশ্যের সম্যক জ্ঞান দান করেছেন, এবং তাঁর ব্যাপক দানে আমাদের সকলকে ধন্য করেছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর নবী ও বান্দা; আরও বর্ষিত হোক তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে মনোনীত ব্যক্তিবর্গ ও তাঁর একান্ত প্রিয়জনদের ওপর এবং তাঁর পরবর্তী তাঁর স্ত্রী ও বংশধরদের ওপর।
অতঃপর: আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি যা আমি ইচ্ছা করেছি তার সারসংক্ষেপ ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে, এবং যা সংকল্প করেছি
(২) তার পরিমার্জনের ক্ষেত্রে। আর তা হলো ইয়ামানের ফকীহগণের
(৩) আলোচনা, তাঁদের আয়ুষ্কাল, তাঁদের নেতা
(৪) ও বংশপরিচয় এবং তাঁদের মৃত্যুর সময়
(৫) সম্পর্কে বর্ণনা করা; যতটুকু গত হওয়া পূর্বসূরি ও বিদ্যমান উত্তরসূরিদের সংবাদ আমার নিকট উপস্থিত রয়েছে তার ভিত্তিতে। (* আমি শুরু করছি তাঁদের বর্ণনার মাধ্যমে যাঁদের কাছে আমি পাঠ গ্রহণ করেছি এবং আমার শ্রুত ও পঠিত বিষয়াবলিতে তাঁদের ওপর নির্ভর করেছি, যা আমার জীবনের ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। আর তাঁদের কথা বলব যাঁদের থেকে আমি বর্ণনা করি
(৬) আমার সফরে ও নিবাসে। (আমি আমার বংশগত মূল উৎসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি)
(৭) এবং আমার জীবনের ইতিহাসকে, যাতে মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহর সাহায্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আমি বলছি—এবং আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আলী ইবনে সামুরা ইবনে হুসাইন ইবনে সামুরা ইবনে আল-হাইসাম
(৮) আমাকে জানিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٢)
ابن أبي العشيرة بن سعيد بن مسعود بن سعيد الجعدي [2] فكل من ينسب إليهم فإلى
(1) الأسلاف والأودية، ويعرفون بالأزايد، وجعدة: هو ابن كعب ابن ربيعة بن عامر بن (صعصعة بن)
(2) معاوية بن بكر بن هوازن (بن صعصعة ابن معاوية بن بكر بن هوازن
(3) بن منصور بن عكرمة بن خصفة
(4) بن (قيس بن عيلان بن)
(5) مضر بن نزار بن معد بن عدنان. (لأن عمران ابن ربيعة بن عبس بن زهرة بن غالب بن عبد الله بن عك بن عدنان
(6) فيجتمع عِمران وهو جد بني (بني عمران)
(7) وجعدة وهو جد الأجعود في عدنان، وكان لجعدة ثلاثة إخوة بَشير وعَقيل وجَديس من أولاد كعب بن ربيعة، ولكل واحد ذرية وعقب ينتسبون إليه.
فأخبرني والدي رحمه الله: أن مسكن أبائه وأجداده قرية الحَدِىّ
(8)[فَوَرَزَانُ والأودية بطن من بطون الأجعود، وهم الأكثرون بحار والأسلاف وفي جبل حِزْيَز]
(9)، ومنهم وادي الضَّباب والحالمِيَنْ وَرَدَفان وهم خلق كثير؛
--------------------------------------------
ইবনে আবি আল-আশিরা ইবনে সাঈদ ইবনে মাসউদ ইবনে সাঈদ আল-জাদি [২] সুতরাং যারা তাদের দিকে নিজেদের সম্পর্কিত করে তারা আল-আসলাফ
(১) এবং আল-আউদিয়াহ-এর অন্তর্ভুক্ত, এবং তারা আল-আজায়িদ নামে পরিচিত। আর জাদাহ: সে হলো কাব ইবনে রাবিয়াহ ইবনে আমির ইবনে (সা’সা’ ইবনে)
(২) মুয়াবিয়া ইবনে বাকর ইবনে হাওয়াযিন (ইবনে সা’সা’ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বাকর ইবনে হাওয়াযিন
(৩) ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমাহ ইবনে খাসাফাহ
(৪) ইবনে (কাইস ইবনে আয়লান ইবনে)
(৫) মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা’দ ইবনে আদনান। (কেননা ইমরান ইবনে রাবিয়াহ ইবনে আবস ইবনে যুহরাহ ইবনে গালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আক্ক ইবনে আদনান
(৬); ফলে ইমরান—যিনি বনু ইমরানের (বনু ইমরান)
(৭) পূর্বপুরুষ—এবং জাদাহ—যিনি আল-আজউদের পূর্বপুরুষ—আদনানের বংশধারায় মিলিত হন। জাদাহর তিনজন ভাই ছিল: বশীর, আকীল এবং জাদীস, যারা কাব ইবনে রাবিয়াহর সন্তান। তাদের প্রত্যেকেরই সন্তান-সন্ততি ও বংশধর রয়েছে যারা তাদের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করে।
আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতৃপুরুষ এবং পিতামহদের আবাসস্থল ছিল আল-হাদি গ্রাম।
(৮)[ফাওরাযান এবং আল-আউদিয়াহ হলো আল-আজউদের শাখাগুলোর একটি শাখা, এবং তারা বাহারা ও আসলাফ এবং হিযয়ায পাহাড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ]
(৯), এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াদি আদ-দাবাব, আল-হালিমিয়ান এবং রাদফান, তারা সংখ্যায় অনেক;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٣)
ومن أبناء
(1) هذه البطون، من سكن
(2) الجعدية وغيرها، وينسب في أصله لكل بطن ممن ذكرت أفخاذ كثيرة، وأبيات
(3) جمة غزيرة؛ ولولا أن الحديث ذو شجون ما ذكرتهم، لأن مقصودي ذكر الذين نفعني الله بهم، وحصّلت الخير ببركتهم.
فمولدي أنا (قرية)
(4) من قرى العوادِر من سنة [3] سبعة
(5) وأربعين وخمسمائة ونشأت بها وتعلمت القرآن فيها على جماعة، منهم: الفقيه مسعود بن حسان ابن حَرْب الجعدي، ويعرف بابن المهتدين. (ومنهم أصواب بن التهامي) (4) ومنهم الأديب الأجل سعيد بن عمرو بن موسى الجرادي، (وبه ختمت القرآن) (4) وعنده حفظته عن ظهر قلب، وعليه أعدت القرآن مع أتراب لي من أبناء العوادر وغيرهم.
مات رحمه الله في أُنامِر في شهر جماد سنة ست وسبعين وخمسمائة
(6).
وفيها مات أخي يحيى بن علي
(7) بن سمرة رحمة الله عليه، ثم درسْت الفقه على جماعة شيوخ أجلاء، أولهم: علي بن أحمد
(8) مسكنه اليَهاقرِ بادية الجَنَد، تفقه بشيوخ البلد، كالإمام زيد بن عبد الله اليفاعي وغيره، وأخذ عن زيد ابن حسن الفايشي، وهو أول من سمعه منه الفقه، مات رحمه الله في الأنصال،
--------------------------------------------
এই বংশধারাগুলোর
(১) সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আল-জাদিয়া
(২) ও অন্যান্য স্থানে বসবাস করেছেন। আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের প্রত্যেকের মূল বংশের সাথে অনেক শাখা-প্রশাখা এবং অসংখ্য পরিবার
(৩) সম্পৃক্ত; যদি কথা প্রসঙ্গে কথা না আসত, তবে আমি তাদের উল্লেখ করতাম না; কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তিদের আলোচনা করা যাদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে উপকৃত করেছেন এবং যাদের বরকতে আমি কল্যাণ লাভ করেছি।
আমার জন্ম আল-আওয়াদির গ্রামগুলোর
(৪) মধ্য থেকে একটি গ্রামে, পাঁচশত সাতচল্লিশ
(৫) হিজরি সনে। আমি সেখানেই বেড়ে উঠেছি এবং সেখানে একদল শিক্ষকের কাছে কুরআন শিক্ষা লাভ করেছি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ফকিহ মাসউদ বিন হাসান ইবনে হারব আল-জাদি, যিনি ইবনুল মুহতাদিন নামে পরিচিত। (এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসওয়াব বিন আল-তিহামি)
(৪) এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুমহান সাহিত্যিক সাঈদ বিন আমর বিন মুসা আল-জারাদি, (তাঁর কাছেই আমি কুরআন খতম করেছি)
(৪) এবং তাঁর নিকট আমি এটি মুখস্থ করেছি। তাঁর নিকট আমি আল-আওয়াদির ও অন্যান্য অঞ্চলের আমার সমবয়সীদের সাথে কুরআন পুনরাবৃত্তি করেছি।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৫৭৬ হিজরি সনের
(৬) জুমাদা মাসে উনামির নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।
সেই বছরই আমার ভাই ইয়াহইয়া বিন আলী
(৭) বিন সামুরা (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ইন্তেকাল করেন। এরপর আমি একদল সুমহান শায়খের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করি। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন হলেন: আলী বিন আহমাদ
(৮), যাঁর আবাসস্থল ছিল জানাদ মরুভূমির আল-ইয়াহাকির নামক স্থানে। তিনি দেশের বিজ্ঞ আলিমদের নিকট ফিকহ শিখেছেন, যেমন ইমাম যাইদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াফাই ও অন্যান্যরা। তিনি যাইদ বিন হাসান আল-ফাইশি থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছেন, আর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর কাছ থেকে তিনি ফিকহ শ্রবণ করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল-আনসাল নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٤)
قرية من قرى العوادر سنة ثمان وخمسين وخمسمائة
(1)، وقبره بمقبرة الكَريف هنالك، وكان يومئذٍ هارباً في بلاد العوادر [لأجل خوف أهل الأجناد من ابن مهدي، لأن ابن مهدي أخذ الجَنَد]
(2)، وقتل أهلها وحرق مسجدها، وفعل أفعالاً قبيحة [وعاد إلى زبيد ومات بها وقبره بمشهدهم المعروف بآبائهم.
ومنهم شيخي زيد بن عبد الله بن أحمد بن محمد بن أبي عبد الله الهمداني، من زَبَرَان بادية الجَنَد، تفقه بالإمام يحيى بن أبي الخير. ومنهم شيخي سالم بن مهدي ابن قحطان بن حمير بن حوشب الأخضري، تفقه على شيوخ الحُصَيْب، أظنه حكى لي أنه قرأ المهذب على الفقيه راجح بن كهلان عن الشيخ الإمام ابن عبدويه [عن المصنف]
(3).
ومنهم شيخي القاضي أحمد بن محمد بن زيد بن حسان، أخذت عنه العربية وشيئاً في الفقه، وأحسن تأديبي وتعليمي وبالغ في تهذيبي وتفقيهي، جزاه الله عني خيراً)]
(4).
وسأذكر إن شاء الله بعد ذلك تحقيق ذلك ومدتهم [4] وذكر شيوخي على الترتيب، وانتفاعي بهم ونفعهم، عند ذكر الشيوخ الفضلاء الأجلاء نفع [الله] بهم *).
فأقدم على ذلك
مبعث سيد المرسلين ومن وفد عليه من المهاجرين، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وبه أستعين.
روى البخاري في صحيحه، مبعث النبي صلى الله عليه وسلم (فقال هو
(5)):
--------------------------------------------
আল-আওয়াদির গ্রামগুলোর একটি গ্রামে পাঁচশত আটান্ন হিজরি সনে
(১), এবং তার কবর সেখানকার আল-কারীফ গোরস্তানে অবস্থিত। সে সময় তিনি ইবনে মাহদীর ভয়ে আল-আওয়াদির অঞ্চলে পলাতক ছিলেন, [কারণ ইবনে মাহদীর ভয়ে আল-জানাদবাসী আতঙ্কিত ছিল, যেহেতু ইবনে মাহদী আল-জানাদ দখল করে নিয়েছিলেন]
(২)। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের হত্যা করেন, তাদের মসজিদ জ্বালিয়ে দেন এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ করেন। [তিনি যাবীদে ফিরে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তার কবর তাদের পূর্বপুরুষদের জন্য পরিচিত মাশহাদে (সমাধিস্থল) অবস্থিত।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আমার শায়খ যায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু আব্দুল্লাহ আল-হামদানি। তিনি আল-জানাদ মরুভূমির যাবরান এলাকার অধিবাসী। তিনি ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আবুল খায়েরের কাছে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমার শায়খ সালিম ইবনে মাহদী ইবনে কাহতান ইবনে হিমইয়ার ইবনে হাওশাব আল-আখদারি। তিনি আল-হুসাইব অঞ্চলের শায়খদের কাছে ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন। আমার মনে পড়ে তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি ফকিহ রাজেহ ইবনে কাহলানের কাছে 'আল-মুহাজ্জাব' পাঠ করেছেন, যিনি শায়খ ইমাম ইবনে আদুওয়াইহ থেকে [মূল গ্রন্থকারের সূত্রে]
(৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আমার শায়খ কাজি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান। আমি তার কাছ থেকে আরবি ভাষা এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিছু অংশ গ্রহণ করেছি। তিনি আমাকে সর্বোত্তম আদব ও শিক্ষা দান করেছেন এবং আমার সংস্কার ও ফিকহ শিক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন]
(৪)।
ইনশাআল্লাহ, এরপর আমি এর বিস্তারিত বর্ণনা ও তাদের সময়কাল [৪] এবং আমার শায়খদের ধারাবাহিক আলোচনা উল্লেখ করব; তাদের থেকে আমার উপকৃত হওয়া এবং তাদের দ্বারা অন্যেরা উপকৃত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনা করব, যখন ফযিলতপূর্ণ ও মহান শায়খদের আলোচনা আসবে, [আল্লাহ] তাদের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন।
এর আগে আমি উপস্থাপন করছি
রাসূলগণের সরদারের নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং মুহাজিরদের মধ্য থেকে যারা তার নিকট এসেছিলেন তাদের বর্ণনা। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তারই ওপর ভরসা করি এবং তারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন (তিনি বলেছেন
(৫)):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٥)
محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرّة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر - (وهو قريش، فمن كان من الأولاد النضر فهو قريشي
(1)) - ابن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.
قال: (قال حدثنا أحمد بن أبي الرجاء
(2)) حدثنا النضر عن هشام عن عِكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما. قال: أُنزل
(3) القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم وهو أبن اربعين سنة، فمكث بمكة ثلاث عشرة سنة، ثم أُمر بالهجرة، فهاجر إلى المدينة فمكث بها عشر سنين (فكانت جملة عُمره ثلاث وستين على الأصح)
(4).
وعن عائشة رضي الله عنها عن ابن عباس
(5): أُنزل القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم، وهو ابن أربعين سنة، وفي بعضها بُعث وهو ابن أربعين سنة.
وروى البخاري في صحيحه عن [5] أبي هريرة (عن النبي صلى الله عليه وسلم
(6)) أنه قال: أتاكم أهل اليمن، هم أرق أفئدة، وألين قلوباً، الإيمان يمانٍ والحكمة يمانية، [والفخر والخيلاء في أصحاب الإبل]
(7)، والسكينة والوقار في أهل الغنم،
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর - (এবং তিনি হলেন কুরাইশ, সুতরাং নাদরের বংশধরদের মধ্য থেকে যে কেউ হবে সে কুরাইশী
(১)) - বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাআদ বিন আদনান।
তিনি বলেন: (তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমাদ বিন আবুর রাজা
(২) বর্ণনা করেছেন) আমাদের কাছে নাদর বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন নাযিল করা হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর, এরপর তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন, তারপর তাঁকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন (ফলে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাঁর মোট বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর)
(৪)।
আর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস
(৫) থেকে বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন নাযিল করা হয়েছে যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর, এবং কিছু বর্ণনায় আছে যে তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
আর বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে [৫] আবু হুরায়রা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
(৬)) বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে, তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের এবং অধিক নরম অন্তরের অধিকারী, ঈমান ইয়েমেনী এবং হিকমত (প্রজ্ঞা) ইয়েমেনী, [আর অহঙ্কার ও দম্ভ উট পালনকারীদের মধ্যে]
(৭) এবং প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বকরী পালনকারীদের মধ্যে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٦)
وفي رواية عنه: الفقه يمانٍ، والحكمة يمانية
(1).
وعن عمران بن حصين (قال: جاءت بنو تميم)
(2) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إقبلوا البشرى يا بني تميم. فقالوا أما إذا بشرتنا فاعطنا مرتين، فتغير وجه النبي صلى الله عله وسلم، فجاء أناس من أهل اليمن، فقال إقبلوا البشرى إذْ لم يقبلها بنوا تميم. فقالوا قبلنا يار رسول الله فأخذ النبي صلى الله عليه وسلم يحدث عن بدء الخلق والعرش
(3).
وعن أبي مسعود البدري
(4)، عن النبي صلى الله عليه وسلم: الإيمان هاهنا، وأشار بيده إلى اليمن. وفي بعض الروايات، قال وفد اليمن لرسول الله صلى الله عليه وسلم: جئنا لنسألك (يارسول الله
(5)) عن بدء هذا الأمر، فقال النبي صلى الله عليه وسلم كان الله ولم يكن شيئٌ غيره
(6) وكان عرشه على الماء، وكتب في الذكر كل شيىْ، وخلق السموات والأرض، وفي بعضها حتى دخل أهل الجنة منازلهم (وأهل النار منازلهم
(7)).
--------------------------------------------
তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ফিকহ ইয়ামানি এবং হিকমত ইয়ামানি
(১)।
ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত (তিনি বলেন: বনু তামীম গোত্র)
(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলো। তিনি বললেন: হে বনু তামীম, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তারা বলল: আপনি যখন আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, তখন আমাদের কিছু দান করুন—এ কথাটি তারা দুইবার বলল। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। অতঃপর ইয়ামানের একদল লোক আসলো। তিনি বললেন: হে ইয়ামানিরা, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু বনু তামীম তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির সূচনা এবং আরশ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুরু করলেন
(৩)।
আবু মাসউদ আল-বাদরি থেকে বর্ণিত
(৪), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: ঈমান এখানে, আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইয়ামানের দিকে ইশারা করলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, ইয়ামানি প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: (হে আল্লাহর রাসূল
(৫)) আমরা আপনার নিকট এসেছি এই বিষয়ের (সৃষ্টির) সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না
(৬), আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। তিনি যিকরে (লওহে মাহফুজে) সবকিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি করলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: এমনকি জান্নাতিরা তাদের বাসস্থানে এবং (জাহান্নামিরা তাদের বাসস্থানে
(৭)) প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি বর্ণনা করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٧)
وعن أبي هريرة: لما قضى الله [6] الخلق، كتب في كتابه، فهو عنده فوق العرش: إن رحمتي سبقت
(1) غضبي.
وروي أن رجلاً من جيشان
(2) - وجيشان
(2) من اليمن - وفَد على النبي صلى الله عليه وسلم، فسأله عن شراب يصنع في بلادهم (من الذرة
(3)) يُقال له المِزْرُ وفي بعضها من العسل، يقال له البتع. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: كل مسكر حرام
(4).
وروي أن امرأة
(5) جاءت من اليمن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومعها ابنها، وفي يدها مَسْكتان غليظتان من ذهب، فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: تُعطين زكاة هذا؟ فقالت: لا. فقال: أيسرك أن يسوّرك الله بسوارين من نار، فخلعتها وألقتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقالت: هما لله ولرسوله
(6).
--------------------------------------------
আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত: যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সম্পন্ন করলেন, তিনি তাঁর কিতাবে লিখে রাখলেন—যা তাঁর নিকট আরশের উপরে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর অগ্রগামী হয়েছে।"
(১)এবং বর্ণিত হয়েছে যে, জাইশান
(২) থেকে এক ব্যক্তি—আর জাইশান
(২) ইয়ামেনের অন্তর্ভুক্ত—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে তাঁদের দেশে তৈরি এক পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন (যা ভুট্টা
(৩) থেকে তৈরি করা হতো), যাকে 'মিযর' বলা হয় এবং কোনো কোনোটি মধু থেকে তৈরি হতো, যাকে 'বিত' বলা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম"
(৪)।
আরও বর্ণিত আছে যে, এক মহিলা
(৫) ইয়ামেন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তাঁর সাথে তাঁর পুত্র ছিল এবং তাঁর হাতে স্বর্ণের দুটি মোটা চুড়ি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি কি এগুলোর যাকাত প্রদান করো?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, আল্লাহ তোমাকে আগুনের দুটি চুড়ি পরিয়ে দেবেন?" তখন মহিলা সেগুলো খুলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٨)
تسمية المهاجرين من اليمنإلى رسول الله صلى الله عليه وسلمفمن أهل وادي رِمَع وزبيد: أبي موسى
(1) عبد الله بن قيس بن سليمان الأشعري، [وأخوه أبو بردة
(2) وأبو
(3) رهم]
(4)، واثنان وخمسون
(5) رجلاً من قومهم.
قال أبو موسى: بَلَغَنا مخْرَجُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونحن في اليمن، فخرجنا مهاجرين إليه، وأنا أصغر إخواني، فركبنا سفينة، فبلّغَتْنا
(6) [7] إلى النجاشي بالحبشة، فوافقنا جعفر بن أبي طالب
(7)، فأقمنا معه حتى قدمنا جميعاً، فوافقنا النبي صلى الله عليه وسلم حين افتتح خيبر، فقسم لنا ولم يقسم لأحد لم
(8) يشهد الفتح غيرنا.
وهاجرت مع أبي موسى أمه طفية
(9) الكعبية، وماتت بالمدينة. وفي
--------------------------------------------
ইয়েমেন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হিজরতকারীদের নামসমূহওয়াদি রিমা ও জাবিদবাসীদের মধ্যে ছিলেন: আবু মুসা
(১) আবদুল্লাহ ইবন কায়স ইবন সুলায়মান আল-আশআরী, [এবং তাঁর ভাই আবু বুরদাহ
(২) ও আবু
(৩) রুহম]
(৪), এবং তাঁদের কওমের বাহান্ন
(৫) জন ব্যক্তি।
আবু মুসা বলেন: আমরা যখন ইয়েমেনে ছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (আবির্ভাবের) সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছায়। আমরা তাঁর দিকে হিজরতকারী হিসেবে বের হলাম, আর আমি ছিলাম আমার ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। আমরা একটি জাহাজে আরোহণ করলাম, যা আমাদের
(৬) আবিসিনিয়ার (হাবাশা) নাজ্জাশির কাছে নিয়ে গেল। সেখানে আমাদের সাথে জাফর ইবন আবি তালিবের
(৭) সাক্ষাৎ হলো। আমরা তাঁর সাথেই অবস্থান করলাম যতক্ষণ না আমরা সকলে (মদিনায়) ফিরে এলাম। আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলাম, তখন তিনি খায়বার বিজয় করেছেন। তিনি আমাদের জন্য (গনিমতের) অংশ বরাদ্দ করলেন, অথচ আমাদের ছাড়া অন্য কাউকে
(৮) তিনি অংশ দেননি যারা এই বিজয়ে উপস্থিত ছিল না।
আবু মুসার সাথে তাঁর মা তুফিয়্যা
(৯) আল-কাবিয়্যাহ হিজরত করেছিলেন এবং তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ٩)
بعض الروايات أن أبى موسى وأصحابه شهدوا فتح خيبر. قال أبو موسى: وكان ناس يقولون لنا - يعني أهل السفينة - سبقناكم بالهجرة فدخلت أسماء بنت عُمَيس
(1)، وهي ممن قدم معنا، إلى
(2) حفصة بنت عمر
(3) زوج النبي صلى الله عليه وسلم زائرة، وقد كانت هاجرت إلى النجاشي فيمن هاجر.
فدخل عمر رضي عنه على حفصة، وأسماء عندها، فقال عمر: (لابنته
(4)) حين رأى أسماء: مَن هذه؟ قالت له: أسماء بنت عميس. قال عمر: الحبشية هذه البحرية قالت أسماء: نعم. قال: سبقناكم بالهجرة فنحن أحق برسول الله صلى الله عليه وسلم منكم. فغضبت وقالت كلا والله، كنتم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يعظّم طائعكم ويعظ جاهلكم
(5). الحديث.
فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: [8] ليسوا بأحق بي منكم، وله ولأصحابه هجرة واحدة، ولكم أنتم أهل السفينة هجرتان.
فلقد كان أهل السفينة يأتون أسماء أرسالاً، يسألونها عن هذا الحديث، ما من
(6) الدنيا شيء، هم به أفرح ولا أعظم في نفسهم، مما قال لهم رسول الله
--------------------------------------------
কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, আবু মুসা এবং তাঁর সাথীরা খায়বার বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। আবু মুসা বলেন: কিছু লোক আমাদেরকে—অর্থাৎ নৌকার আরোহীদের—বলতেন যে, আমরা হিজরতের ক্ষেত্রে তোমাদের অগ্রগামী হয়েছি। তখন আসমা বিনতে উমাইস
(১), যিনি আমাদের সাথে এসেছিলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী হাফসা বিনতে উমর
(৩)-এর কাছে সাক্ষাত করতে প্রবেশ করেন
(২)। তিনি (আসমা) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা নাজাশির দেশে হিজরত করেছিলেন।
অতঃপর উমর (রা.) হাফসার নিকট প্রবেশ করেন, তখন আসমা তাঁর কাছে ছিলেন। আসমাকে দেখে উমর
(৪) (তাঁর কন্যাকে) বললেন: এ কে? তিনি তাকে বললেন: আসমা বিনতে উমাইস। উমর বললেন: এই হাবশি ও সামুদ্রিক মহিলাটি? আসমা বললেন: হ্যাঁ। তিনি (উমর) বললেন: আমরা হিজরতে তোমাদের অগ্রগামী হয়েছি, তাই তোমাদের তুলনায় আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অধিক নিকটবর্তী। তখন আসমা রাগান্বিত হয়ে বললেন: কক্ষনো না, আল্লাহর কসম! আপনারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন, তিনি আপনাদের অনুগতদের সম্মানিত করতেন এবং আপনাদের মূর্খদের উপদেশ দিতেন
(৫)। - হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর তিনি (আসমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: [৮] তারা তোমাদের তুলনায় আমার অধিক নিকটবর্তী নয়; তার এবং তার সাথীদের জন্য একটি হিজরত রয়েছে, কিন্তু তোমাদের জন্য—অর্থাৎ নৌকার আরোহীদের জন্য—রয়েছে দুটি হিজরত।
নৌকার আরোহীরা দলে দলে আসমার কাছে আসতেন এবং তাঁকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। দুনিয়ার কোনো কিছুই
(৬) তাঁদের নিকট এর চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক ও বড় ছিল না, যা আল্লাহর রাসূল তাঁদের সম্পর্কে বলেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
صلى الله عليه وسلم
(1).
قال أبو موسى: قال النبي صلى الله عليه وسلم إني لأعرف أصوات رفقة الأشعريين بالقرآن، حين يدخلون بالليل، وأعرف منازلهم من أصواتهم بالقرآن في الليل، وإن كنت لم أر منازلهم حين نزلوا بالنهار، ومنهم حكيم إذا لقي الخيل، أو [قال العدو
(2).
وروي أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال في أبي موسى حين سمع صوته]
(*) وهو يقرأ. قال: لقد أعطي هذا مزماراً من مزامير آل داود، فقال: يا رسول الله لو علمت أنك تسمع
(3) لحبَّرته تحبيرا.
ومن أهل نجران: السّيد
(4) والعاقب
(5) صاحبا
(6) نجران، قدما على رسول صلى الله عليه وسلم وقالا: إنا نعطيك ما سألتنا، وابعث معنا رجلاً أميناً.
فقال: لأبعثنّ معكم (رجلاً
(7) أميناً حق أمين، حق أمين، فاستشرف لها أصحاب
(8) رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال قم يا أبا عبيدة ابن الجرَّاح.
فلما قام، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذا أمين هذه الأمة». أورده البخاري
(9).
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(1)।
আবু মুসা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি রাতে যখন আশআরী কাফেলার লোকেরা প্রবেশ করে, তখন কুরআনের তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর চিনতে পারি। আর রাতে তাদের কুরআনের আওয়াজের মাধ্যমেই আমি তাদের অবস্থানস্থল শনাক্ত করতে পারি, যদিও দিনের বেলা তারা যখন অবতরণ করেছিল তখন আমি তাদের অবস্থানস্থল দেখিনি। তাদের মধ্যে এমন একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি রয়েছেন যিনি অশ্বারোহী বাহিনীর বা [শত্রুবাহিনীর
(2) মুখোমুখি হলে তাদের বলেন যে, আমার সঙ্গীরা তোমাদের তাদের জন্য অপেক্ষা করতে আদেশ দিচ্ছে]।
আর বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মুসার কণ্ঠস্বর শুনে যখন তিনি তিলাওয়াত করছিলেন]
(*) বলেছিলেন: “একে দাউদ পরিবারের বাঁশিগুলোর মধ্য থেকে একটি বাঁশি (সুমধুর কণ্ঠস্বর) প্রদান করা হয়েছে।” তখন তিনি (আবু মুসা) বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি জানতাম যে আপনি শুনছেন
(3), তবে আমি একে অবশ্যই আরও অনেক সুন্দর ও সুশোভিত করে তিলাওয়াত করতাম।”
আর নাজরানবাসীদের মধ্য থেকে: সাইয়্যিদ
(4) এবং আকিব
(5)—যারা নাজরানের দুইজন নেতা
(6)—তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং বললেন: “আপনি আমাদের কাছে যা চেয়েছেন আমরা তা আপনাকে প্রদান করব, তবে আমাদের সাথে একজন আমানতদার (বিশ্বস্ত) লোক পাঠান।”
তখন তিনি বললেন: “আমি অবশ্যই তোমাদের সাথে এমন একজন (ব্যক্তিকে
(7) পাঠাবো যে প্রকৃতই আমানতদার, পূর্ণ আমানতদার।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ
(8) এর জন্য উৎসুক হয়ে উঠলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “হে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ! দাঁড়াও।”
তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইনি হচ্ছেন এই উম্মতের আমানতদার (বিশ্বস্ত ব্যক্তি)»। এটি বুখারী উল্লেখ করেছেন
(9)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومن كندة: الأشعث [9] بن قيس
(1)، في ثمانين راكباً من أصحابه
(2).
ومن زُبيد: عمرو بن معد يكرب الزبيدي
(3)، فأقام هو والأشعث مُسْلمَيْن في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ثم ارتدّا بعد موته، ثم أسلما في خلافة
(4) أبي بكر الصديق رضي الله عنه، وشهدا المشاهد المشهورة لهما.
وتزوج الأشعث بن قيس، أخت أبي بكر الصديق رضي الله عنه، واسمها أم فروة
(5)، وأولم على عرسها
(6) وليمته المشهورة.
وقدم في الجاهلية ياسر بن عامر العنسي
(7) مكة فاستولد عمَّاراً فيها من سميَّة
(8)، فأسلموا جميعا وهاجروا مع السابقين الأولين.
--------------------------------------------
এবং কিনদাহ গোত্র থেকে: আশ'আস [৯] ইবনে কায়স
(১), তিনি তাঁর সাথীদের মধ্যে আশিজন আরোহীসহ এসেছিলেন
(২)।
আর জুবাইদ গোত্র থেকে: আমর ইবনে মা'দী কারিব আল-জুবাইদী
(৩); তিনি এবং আশ'আস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মুসলিম হিসেবে অবস্থান করেন, অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর তারা মুরতাদ হয়ে যান, এরপর আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে
(৪) তারা পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাদের উভয়ের জন্য প্রসিদ্ধ যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন।
আর আশ'আস ইবনে কায়স আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর বোনকে বিবাহ করেন, যাঁর নাম ছিল উম্মু ফারওয়াহ
(৫), এবং তিনি তাঁর বিবাহের অনুষ্ঠানে
(৬) তাঁর প্রসিদ্ধ ওলীমা (ভোজ) আয়োজন করেছিলেন।
আর জাহেলিয়াত যুগে ইয়াসির ইবনে আমির আল-আনসি
(৭) মক্কায় আগমন করেন এবং সেখানে সুমাইয়াহ
(৮)-এর গর্ভে আম্মারকে লাভ করেন। অতঃপর তারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং প্রথম অগ্রগামীদের সাথে হিজরত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وهاجر
(1) الأبيض بن حمَّال
(2)، جدّ بني الكرندي
(3) من سلاطين المعافر
(4) فأقطعه رسول الله صلى الله عليه وسلم ملح مأرب. فقال الأقرع بن حابس التميمي
(5): يا رسول الله إني وردته في الجاهلية
(6) وإنه مثل الماء العذب
(7)، من ورده أخذه، فاستقال
(8) النبي صلى الله عليه وسلم من الأبيض بن حَمَّال، فقال: قد أقلتك يا رسول الله، على أن تجعله مني
(9) صدقة فقال: هو منك صدقة، وهو مثل الماء العذب (7)، ثم سأل [الأبيض النبي صلى الله عليه وسلم عن حمى الأراك]
(10) فقال النبي صلى الله عليه وسلم [10] لا حمى في الأراك
(11). وهو مذهب القاضي
--------------------------------------------
আবয়াদ ইবনে হাম্মাল
(১) হিজরত করলেন, যিনি মাআফিরের সুলতানদের মধ্য থেকে বনু আল-কারান্দির
(৩) পূর্বপুরুষ ছিলেন।
(৪) অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাআরিবে একটি লবণের খনি ইকতা হিসেবে প্রদান করলেন। তখন আকরা ইবনে হাবিস আত-তামিমি
(৫) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়াতের যুগে সেখানে গিয়েছিলাম
(৬), তা হলো প্রবহমান পানির মতো
(৭); যে-ই সেখানে আসে, সে-ই তা সংগ্রহ করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবয়াদ ইবনে হাম্মালের নিকট তা ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেন
(৮)। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা ফিরিয়ে দিচ্ছি এই শর্তে যে, আপনি একে আমার পক্ষ থেকে
(৯) সদকা হিসেবে গণ্য করবেন। তিনি বললেন: এটি তোমার পক্ষ থেকে সদকা, আর এটি প্রবহমান পানির মতো (৭)। অতঃপর [আবয়াদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পীলু গাছের সংরক্ষিত এলাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন]
(১০), তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন [১০]: পীলু গাছের ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত এলাকা নেই
(১১)। এটিই বিচারকের (আল-কাদি) অভিমত।
--------------------------------------------