(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الآجرومية - حسن حفظي القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح الآجرومية
المؤلف: د حسن بن محمد الحفظي
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 302
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: শারহুল আজরুমিয়্যাহ
লেখক: ড. হাসান বিন মুহাম্মদ আল-হিফজি
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০২
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১)
الدرس الأول
المقدمة في اللغة
حمدًا لك اللهم كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك، وصلاةً وسلامًا دائمين متتابعين على من أرسله الله رحمة للعالمين نبينا محمدٍ وعلى آله وصحابته أجمعين.
أيها الإخوة الموجودون هنا، أيها المشاهدون الكرام: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
هذه هي الحلقة الأولى من حلقات البرنامج الذي سنقوم بإذن الله تعالى بتقديمه في قناة المجد الفضائية، التي نسأل الله عز وجل أن يوفقها لتسير على هذا السير وعلى هذا النهج القويم.
ونحن هنا بإذن الله تعالى سنقوم بشرح مقدمة الآجرومية، وهي مقدمةٌ مختصرةٌ موجزةٌ لقيت عنايةً كبيرةً من العلماء منذ ألفها مؤلفها رحمه الله تعالى، ولم تلقى العناية في الشروح فقط، ولكنا أضافت إلى ذلك أنها نُظمت شعرًا، وشُرح هذا النظم، فلقيت لها من العناية الشيء الكثير، مما يدل على العناية التي لقيتها هذه المقدمة - وهي المقدمة الآجرومية - أكررها مرةً ثانيةً حتى يثبت اسمها، حتى نعرف ما الذي سنقوم بشرحه.
ذكر حاجي خليفة في كتابه كشف الظنون عددًا من المؤلفات التي شُرحت بها هذه المقدمة، وأرى لزامًا علينا في بداية الأمر أن نبدأ بمقدمات لابد منها حتى ندخل في هذا العلم ونحن نعرف ما يتعلق به من المقدمات.
وأول ما نبدأ به إن شاء الله تعالى التحدث عن أهمية تعلم اللغة العربية، والأصل الأصيل من أصول اللغة العربية وهو علم النحو، وسننظر إن شاء الله تعالى مدى هذه الأهمية، وسنتحدث بعد هذا إن شاء الله تعالى عن علاقة علم النحو بعلوم الدين الإسلامي والشريعة الإسلامية، وبعد هذا إن شاء الله تعالى سنتحدث عن بداية التأليف في هذا العلم، وعن خصائص اللغة العربية، ونتحدث ربما قليلا عن أطوار التأليف في هذا العلم.
وأرجو أن يكون الموجودون هنا متابعين لأنه سيوجه إليهم أسئلة إن لم يُوجهوا أسئلة في نهاية الحلقة إن شاء الله تعالى.
প্রথম পাঠভাষাতত্ত্বে ভূমিকাহে আল্লাহ, আপনার সত্তার গাম্ভীর্য ও আপনার রাজত্বের মহত্ত্বের উপযোগী সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই জন্য। আর সদা-সর্বদা ও নিরবচ্ছিন্ন রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক সেই মহান সত্তার প্রতি, যাকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন—আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
এখানে উপস্থিত ভ্রাতৃমণ্ডলী এবং সম্মানিত দর্শকবৃন্দ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
এটি সেই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব যা আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় আল-মাজদ স্যাটেলাইট চ্যানেলে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই চ্যানেলটিকে এই সঠিক পথ ও আদর্শের ওপর চলার তাওফিক দান করেন।
আমরা এখানে ইনশাআল্লাহ তাআলা আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমিয়্যাহ ব্যাখ্যা করব। এটি একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভূমিকা যা রচনার পর থেকেই ওলামায়ে কেরামের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে। এটি কেবল ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থসমূহের মাধ্যমেই সমাদৃত হয়নি, বরং একে কাব্যাকারেও বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং সেই কাব্যরূপের ওপরও ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। ফলে এটি বিপুল সমাদর লাভ করেছে, যা এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকা—অর্থাৎ মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমিয়্যাহ—এর প্রতি ওলামাদের বিশেষ যত্নেরই বহিঃপ্রকাশ। আমি নামটির পুনরাবৃত্তি করছি যাতে এটি স্মরণে গেঁথে যায় এবং আমরা বুঝতে পারি যে আমরা ঠিক কী ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি।
হাজি খলিফা তাঁর কাশফুয যুনুন গ্রন্থে এই ভূমিকাটি ব্যাখ্যা করে রচিত অনেকগুলো গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন। আমি মনে করি শুরুতেই আমাদের এমন কিছু প্রাথমিক ভূমিকা দিয়ে শুরু করা জরুরি যা এই শাস্ত্রে প্রবেশের জন্য অপরিহার্য, যাতে আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়ে এতে প্রবেশ করতে পারি।
আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আরবি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব এবং আরবি ভাষার মৌলিক ভিত্তি তথা নাহু শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ আমরা এর গুরুত্বের পরিধি কতটুকু তা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর আমরা ইনশাআল্লাহ ইসলামি দ্বীনি উলুম ও ইসলামি শরীয়তের সাথে নাহু শাস্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব। অতঃপর ইনশাআল্লাহ আমরা এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার সূচনা, আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভবত এই শাস্ত্রে রচনার বিবর্তনকাল নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।
আমি আশা করি এখানে উপস্থিত সকলে মনোযোগী থাকবেন; কারণ পর্বের শেষে যদি তাঁরা প্রশ্ন না করেন, তবে ইনশাআল্লাহ তাঁদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২)
وحتى يكون التواصل بيننا وحتى نُبعد الملل عن أنفسنا لابد أن يتخلل لقاءنا هذا وفي اللقاءات القادمة إن شاء الله بعض الحديث عما يتعلق بهذا العلم.
نبدأ بالحديث عن أهمية هذا العلم وهو النحو، النحو فرعٌ من فروع اللغة العربية، وهو فرعٌ له أهميته لما يترتب عليه من استقامة الألسنة، واستقامة حديث المُتحدث واستقامة اللسانين.
هم يجعلون القلم أحد اللسانين، واللسان الآخر هو اللسان المعروف المُتحدَّث به، فاستقامة اللسانين تستلزم منا أن نعرف أصول هذا العلم، ونعرف تركيب الكلام بعضه إلى بعض، ونعرف ما يتعلق به.
أقول أهمية هذا العلم -وهو علم النحو- تتبين لنا في حث عمر بن الخطاب رضي الله عنه حينما قال: "تعلّموا العربية فإنها من دينكم، وتعلموا الفرائض فإنها من دينكم"، وكتب رضي الله عنه إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنه فقال: "أما بعد، فتفقهوا في السنة، وتفقهوا في العربية، وأعربوا القرآن فإنه عربي"، هذا من كلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه حينما أرسل أبي موسى الأشعري ذلك. قال ابن الأثير رحمه الله: وفي حديث عمر رضي الله عنه "تعلموا السنن والفرائض واللحن كما تتعلمون القرآن"، والمقصود
باللحن الكلام وأصول العربية، وفي رواية أخرى "تعلموا اللحن في القرآن كما تتعلمونه"، والضمير هنا يعود إلى القرآن، كما تتعلمون القرآن تعلموا ما يتعلق به من العربية، قال ابن الأثير: يريد تعلموا لغة العرب بإعرابها، وقال الأزهري: معناه تعلموا لغة العرب في القرآن واعرفوا معانيه.
আমাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে এবং নিজেদের থেকে একঘেয়েমি দূর করতে, ইনশাআল্লাহ আমাদের আজকের এবং আগামী বৈঠকগুলোতে এই ইলম (জ্ঞান) সংক্রান্ত কিছু আলোচনা থাকা আবশ্যক।
আমরা এই ইলম অর্থাৎ 'নাহু' (ব্যাকরণ)-এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি। নাহু হলো আরবি ভাষার অন্যতম একটি শাখা। এটি এমন একটি শাখা যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে জিহ্বার জড়তা দূর হয়ে শুদ্ধতা আসে, বক্তার বক্তব্য সঠিক হয় এবং 'উভয় জিহ্বা'র সাবলীলতা নিশ্চিত হয়।
মনীষীগণ কলমকে 'উভয় জিহ্বা'র একটি হিসেবে গণ্য করেন এবং অপরটি হলো প্রচলিত কথা বলার জিহ্বা। সুতরাং, উভয় জিহ্বার শুদ্ধতা ও সঠিকতার জন্য আমাদের এই ইলমের মূলনীতিগুলো জানা, বাক্যের পারস্পরিক গঠনশৈলী বোঝা এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি অবগত হওয়া প্রয়োজন।
আমি বলব যে, এই ইলম—যা মূলত নাহু শাস্ত্র—তার গুরুত্ব আমাদের কাছে উমর ইবনুল خাত্তাব (রা.)-এর সেই উৎসাহব্যঞ্জক বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা করো, কেননা তা তোমাদের দ্বীনের অংশ; এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা করো, কেননা তাও তোমাদের দ্বীনের অংশ।" তিনি (রা.) আবু মুসা আল-াশআরি (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন: "অতঃপর, তোমরা সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করো, আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করো এবং কুরআনের ইরব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) করো, কারণ তা আরবি।" এটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তি যা তিনি আবু মুসা আল-াশআরিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন। ইবনুল আসির (রহ.) বলেন: উমর (রা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, "তোমরা সুনান, ফারায়েজ এবং 'লাহন' (ভাষারীতি) শেখো যেমনটি তোমরা কুরআন শেখো।" এখানে উদ্দেশ্য হলো
'লাহন' দ্বারা কথাবার্তা এবং আরবির মূলনীতি। অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে, "তোমরা কুরআনের 'লাহন' শেখো যেমনটি তোমরা তা শেখো।" এখানে সর্বনামটি কুরআনের দিকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ তোমরা যেভাবে কুরআন শেখো, তেমনিভাবে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট আরবি ভাষার বিষয়গুলোও শেখো। ইবনুল আসির বলেন: তিনি বুঝাতে চেয়েছেন তোমরা আরবের ভাষা তার ব্যাকরণিক রূপসহ শিক্ষা করো। আল-আযহারি বলেন: এর অর্থ হলো কুরআনে ব্যবহৃত আরবদের ভাষা শেখো এবং এর অর্থসমূহ অনুধাবন করো।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৩)
وبدون شك أن هذه النصوص نكتفي بها لأنها تضعنا على الطريق الصحيح لبيان مكانة هذا العلم ومنزلته، تعلمون يا أيها الأحباب أن علوم الدين الإسلامي متعددة ومتنوعة، وكل علمٍ يؤدي إلى مصلحة للإسلام والمسلمين فهو من علوم الدين الإسلامي، سواءٌ أكانت علاقته مباشرة بعلوم الدين الإسلامي أم كانت علاقة ليست مباشرةً تمامًا، وإنما هي بعيدة نوعًا ما، لكن في النهاية تصب في مصلحة المسلمين، فإذًا ما دامت حاجة المسلمين قائمةً إذا تعلموا علمًا من العلوم فإنه يُصبح تعلمه على الأقل فرض كفاية،
إذا قام به من يكفي سقط الإثم عن الباقين، وإلا أثم الجميع، وهذا العلم –أقصد علم النحو- ليس من فروض الكفاية وإنما هو وسيلةٌ لمعرفة كتاب الله عز وجل ومعرفة سنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
نبدأ أولا بالعلاقة بين هذا العلم والقرآن الكريم، اللغة العربية التي نزل بها القرآن الكريم لا تدرك أهميتها إلا بقدر ما تتعلق بمعرفة كتاب الله عز وجل ومعرفة أسراره، وبدون شكٍ يا أيها الأحباب أن معرفة أسرار التعبير في القرآن الكريم إذا لم تكن مدركًا بأصول هذا العلم وما يتعلق به أيضًا من التقديم والتأخير ومن الإيجاز ومن الإطناب وما شاكل ذلك من علوم البلاغة العربية، فإنك لن تصل إلى معرفة أسرار القرآن الكريم ومعرفة حقيقة ما أمر الله به عز وجل.
يقول ابن القيم رحمه الله تعالى: "وإنما يُعرف فضل من عرف كلام العرب وعلم العربية وعرف علم البيان ونظر في أشعار العرب وخطبها ومقالاتها في مواطن افتخارها ورسائلها وأراجيزها وأسجاعها فعلم منها تلوين الخطاب ومعدوله وفنون البلاغة ودروب الفصاحة وأجناس التجنيس وبدائع البديع ومحاسن الحكم والأمثال، فإذا علم ذلك في هذا الكتاب العزيز ورأى ما أودعه الله سبحانه فيه من البلاغة والفصاحة وفنون البيان فقد أوتي فيه العجب العجاب"، هذه علاقة تعلم اللغة العربية بمعرفة أسرار كتاب الله عز وجل.
নিঃসন্দেহে এই পাঠ্যগুলোই আমাদের জন্য যথেষ্ট, কারণ এগুলো আমাদের এই শাস্ত্রের গুরুত্ব ও মর্যাদা স্পষ্ট করার জন্য সঠিক পথে পরিচালিত করে। হে প্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা জানেন যে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাগুলো বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময়। যে কোনো জ্ঞান যা ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণে ভূমিকা রাখে, তা ইসলামি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত; চাই তার সম্পর্ক সরাসরি ইসলামি ইলমের সাথে হোক কিংবা সরাসরি না হয়ে কিছুটা দূরবর্তী হোক—কিন্তু পরিশেষে তা মুসলিমদের কল্যাণেই নিহিত থাকে। সুতরাং যতক্ষণ মুসলিমদের প্রয়োজন বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ কোনো একটি শাস্ত্র শিক্ষা করা অন্ততপক্ষে ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হিসেবে গণ্য হয়।
যদি একদল লোক তা সম্পাদন করে তবে অবশিষ্টরা গুনাহ থেকে অব্যাহতি পায়, অন্যথায় সকলেই গুনাহগার হয়। আর এই ইলম—আমি ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের কথা বলছি—এটি কেবল ফরজে কিফায়ার (فرض كفاية) অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুধাবনের একটি অন্যতম মাধ্যম।
আমরা প্রথমে এই ইলম এবং পবিত্র কুরআনের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করব। আরবি ভাষা, যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তার গুরুত্ব কেবল তখনই উপলব্ধি করা সম্ভব যখন তার সম্পর্ক মহান আল্লাহর কিতাব এবং এর নিগূঢ় রহস্যসমূহ অনুধাবনের সাথে যুক্ত হয়। নিঃসন্দেহে হে প্রিয় বন্ধুগণ, পবিত্র কুরআনের প্রকাশভঙ্গির রহস্যসমূহ অনুধাবন করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না আপনি এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি যেমন: অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস (تقديم وتأخير), সংক্ষেপণ (إيجاز), বর্ণনা বাহুল্য (إطناب) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অনুরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত না হন। অন্যথায় আপনি পবিত্র কুরআনের রহস্যসমূহ এবং মহান আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রকৃত রূপ অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন না।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যিনি আরবদের কালাম ও তাদের ভাষা জানেন, বর্ণনাশৈলী (علم البيان) সম্পর্কে অবগত এবং আরবদের কবিতা, ভাষণ ও প্রবন্ধসমূহ—যেখানে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরত—এবং তাদের পত্রাবলি, ছন্দোবদ্ধ গদ্য ও অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্যাবলি পর্যবেক্ষণ করেছেন, কেবল তিনিই এর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি সম্বোধনের বৈচিত্র্য ও মোড় পরিবর্তন, অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, প্রাঞ্জলতার ধরন, শব্দালঙ্কার (تجنيس) ও এর নানাবিধ রূপ, অভিনব শিল্পশৈলী এবং প্রজ্ঞা ও প্রবাদের সৌন্দর্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর যখন তিনি এই সুমহান কিতাবে (কুরআন) সেই জ্ঞান প্রয়োগ করেন এবং সেখানে মহান আল্লাহ যে অলঙ্কার, প্রাঞ্জলতা ও বর্ণনাশৈলীর বৈচিত্র্য (فنون البيان) গচ্ছিত রেখেছেন তা প্রত্যক্ষ করেন, তখন তিনি এক বিস্ময়কর ও অলৌকিক জগতের সন্ধান পান।" আরবি ভাষা শিক্ষার সাথে মহান আল্লাহর কিতাবের রহস্য উদ্ঘাটনের সম্পর্কটি এমনই।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৪)
أما علم التفسير فقد اشترطوا فيمن يتصدى لهذا العلم أن يكون عالمًا باللغة العربية وبكل فنونها، وأولها فن النحو، فإنه إذا لم يكن متقنًا لهذا العلم فإنه يبعد عليه أن يكون مُفسرًا تفسيرًا قويمًا، لأن بعض الكلام فيه تقديم وفيه تأخير، انظروا مثلا إلى قول الله عز وجل ? إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ ? [فاطر: 28] ، لو لم تعرف أن العلماء هنا يجب تأخيرها مع أنها فاعل لأنها هي المحصورة، لو لم تعرف هذا لنقص عليك شيءٌ وأنت تتصدى لتفسير كتاب الله عز وجل.
نص أبو حيّان في كتابه البحر المحيط فيما يحتاج إليه علم التفسير من علوم فقال: "النظر في كتاب الله تعالى يكون من وجوه، الوجه الأول: علم اللغة اسمًا وفعلا وحرفًا، ويؤخذ ذلك من كتب اللغة. الوجه الثاني: معرفة الأحكام التي للغة العربية من جهة إفرادها ومن جهة تركيبها، ويؤخذ ذلك من كتب النحو. الوجه الثالث: كون اللفظ أو التركيب أحسن وأفصح، ويؤخذ ذلك من علم البيان والبديع"، ثم ذكر أربعة أوجه أخرى تؤخذ من معرفة أسباب النزول وأصول الفقه وعلم العقيدة وعلم القراءات، هذه أصول من يريد التفسير، فإذًا لابد له أن يكون متقنًا لهذا العلم حتى يتصدى لهذا العمل.
আর তাফসির শাস্ত্রের কথা যদি বলা হয়, তবে আলেমগণ এই শাস্ত্রের দায়িত্ব গ্রহণকারীর জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, তাকে আরবি ভাষা এবং এর সকল শাখায় পণ্ডিত হতে হবে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র। কেননা কেউ যদি এই শাস্ত্রে সুনিপুণ না হয়, তবে তার পক্ষে যথাযথভাবে মুফাসসির হওয়া সুদূরপরাহত। কারণ কিছু বাক্যের বিন্যাসে শব্দের আগে-পিছে হওয়ার বিষয় থাকে। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র এই বাণীটি লক্ষ্য করুন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে" [ফাতির: ২৮]। আপনি যদি এটি না জানেন যে, এখানে 'আলেমগণ' শব্দটি শেষে আসা আবশ্যক যদিও তা ব্যাকরণগতভাবে কর্তা, কারণ এখানে অর্থকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; তবে আল্লাহর কিতাবের তাফসির করার সময় আপনার মাঝে অপূর্ণতা থেকে যাবে।
আবু হাইয়ান তার 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে তাফসির শাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: "মহান আল্লাহর কিতাব নিয়ে গবেষণা কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে। প্রথম দিক: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় হিসেবে ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান; যা অভিধানের গ্রন্থসমূহ থেকে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিক: একক ও যৌগিক অবস্থায় আরবি ভাষার ব্যাকরণিক বিধানসমূহ জানা; যা নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে নেওয়া হয়। তৃতীয় দিক: শব্দ বা বাক্যের গঠন কতটুকু উৎকৃষ্ট ও প্রাঞ্জল হলো তা জানা; যা ইলমুল বায়ান ও বাদি' থেকে নেওয়া হয়।" অতঃপর তিনি আরও চারটি দিক উল্লেখ করেছেন যা আসবাবুন নুযুল, উসুলুল ফিকহ, ইলমুল আকিদাহ এবং ইলমুল কিরাত থেকে গ্রহণ করা হয়। যারা তাফসির করতে চান তাদের জন্য এগুলোই হলো মূল ভিত্তি। সুতরাং, এই কাজে হাত দেওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই এই শাস্ত্রে পারদর্শী হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৫)
ما علاقة هذا العلم بحديث الرسول صلى الله عليه وسلم؟ تعلمون يا أيها الأحباب أن الحديث هو المصدر الثاني للتشريع، ومعرفة أسراره ومعانيه والمراد منه والأحكام المستخلصة منه يتوقف على معرفة اللغة العربية نحوًا وصرفًا ولغةً وبلاغةً، وبخاصة أمثلة الأسماء وأبنية الأفعال وجهات الإعراب، وإذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (نضَّر الله امرأً سمع مقالتي فحفظها ووعاها وأدَّاها كما سمعها، فرب حامل فقهٍ غير فقيه، وربَّ حامل فقهٍ إلى من هو أفقه منه) أو كما قال صلى الله عليه وسلم، فإذا كان هذا كلام الرسول صلى الله عليه وسلم فإنه يُلزمنا أن نعرف مراد رسول الله صلى الله عليه وسلم من كلامه حتى نبلغه كما أراد صلى الله عليه وسلم، هذه علاقتنا بعلم الحديث.
أما علاقتنا بعلم الفقه وأصوله، لاشك أن المطلع على أصول الفقه يعرف معرفةً تامةً مدى هذه العلاقة، وأن كثيرًا من أبواب أصول الفقه كأنك تدرسه في أبواب علم النحو، لا فرق بينهما في كثيرٍ من الأمور.
أما علم العقيدة فارتباطها بعلوم اللغة العربية ارتباطٌ وثيقٌ قويٌّ، ذلك أن العقيدة الصحيحة إنما تؤخذ من الكتاب والسنة، وفهمها بتأويلٍ وبدون تأويل مُعتمدٌ على معرفة اللغة العربية وعلومها المختلفة، وللأسف الشديد فقد زاغ كثيرٌ ممن زاغ عن العقيدة الصحيحة بسبب عدم الفهم الصحيح للغة العربية، أو بسبب التأويل المنحرف عن القصد الحقيقي الصحيح، فزاغوا وأزاغوا مع الأسف الشديد.
هذه أبرز علوم الدين الإسلامي ومدى علاقتها باللغة العربية، وننتقل بعد ذلك إلى معرفة بداية التأليف في هذا العلم.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের সাথে এই ইলমের সম্পর্ক কী? হে প্রিয় সাথীরা, আপনারা জানেন যে, হাদিস হলো শরয়ি বিধানের দ্বিতীয় উৎস। হাদিসের নিগূঢ় রহস্য, এর অর্থ ও উদ্দেশ্য এবং এর থেকে আহরিত বিধানসমূহ অনুধাবন করা আরবি ভাষার নাহু, সরফ, শব্দতত্ত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে; বিশেষ করে বিশেষ্যসমূহের দৃষ্টান্ত, ক্রিয়ার গঠন এবং ই'রাব (إعراب)-এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি বলে থাকেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে, হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে। কেননা ইলম বহনকারী অনেক ব্যক্তি রয়েছে যে নিজে ফকিহ (فقيه) নয়, আবার অনেক ইলম বহনকারী রয়েছে যে এমন একজনের নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক ফকিহ (فقيه)।" অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে বলেছেন। সুতরাং এটি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হয়ে থাকে, তবে তা আমাদের জন্য তাঁর বাণীর উদ্দেশ্য জানাকে আবশ্যক করে দেয়, যাতে আমরা তা সেভাবেই পৌঁছে দিতে পারি যেভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়েছেন। হাদিস শাস্ত্রের সাথে এটিই আমাদের সম্পর্ক।
আর ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে অবগত, তিনি এই সম্পর্কের গভীরতা পূর্ণরূপে জানেন। উসুলুল ফিকহের অনেক অধ্যায় এমন যে, মনে হবে আপনি নাহু শাস্ত্রের অধ্যায়গুলোই অধ্যয়ন করছেন; অনেক বিষয়েই এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আকিদা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আরবি ভাষা বিজ্ঞানের সাথে এর সম্পৃক্ততা অত্যন্ত নিবিড় ও শক্তিশালী। কারণ, সঠিক আকিদা কুরআন ও সুন্নাহ থেকেই গৃহীত হয়। আর ব্যাখ্যা (تأويل) সহকারে বা ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে তা অনুধাবন করা আরবি ভাষা ও এর বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, যারা সঠিক আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের অনেকেই বিচ্যুত হয়েছে আরবি ভাষার সঠিক অনুধাবনের অভাবে অথবা প্রকৃত ও সঠিক উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা (تأويل)-এর কারণে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে।
এগুলোই হলো ইসলামি জ্ঞানসমূহের প্রধান শাখা এবং আরবি ভাষার সাথে সেগুলোর সম্পর্কের স্বরূপ। এর পর আমরা এই শাস্ত্রের রচনার প্রারম্ভিক ইতিহাস জানার দিকে অগ্রসর হবো।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৬)
اعلموا يا أيها الأحباب أن هذا العلم –وهو علم النحو- اختلف في من كان له قصب السبق، وأكثر الأقوال وأقواها تقول إنه أبو الأسود الدؤلي بناءً على أمرٍ من الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه، ونحن هنا نقول إن سبب تأليف هذا العلم إنما هو- يا أيها الأحباب- توسع الفتوحات الإسلامية ودخول العجم بين العرب واختلاطهم بهم وفساد الألسنة بناءً على هذا الاختلاط.
ويُروى في الكتب التي تؤلف لتاريخ النحو روايات كثيرة، تبين هذه الروايات انتشار اللحن قبيل الأمر بالتأليف في هذا العلم، ويُروى في حديثٍ ضعيف أن رجلا لحن بحضرة رسول الله صلى الله عليه وسلم –وهو إن لم يكن موضوعًا فهو ضعيف-، لكنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لما لحن هذا الرجل بحضرته قال (أرشدوا أخاكم فقد ضل) ، وأنا كنت في بدايات أول ما كنت أتحدث عن تاريخ النحو أذكر هذا الحديث حتى تبين لي أنه ضعيف.
على كل حال يُروى روايات أخرى عن صور من انتشار اللحن في الكلام، منها أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه مرّ على قومٍ يُسيئون الرمي فقرّعهم وأنّبهم على ذلك، فقالوا له: إنَّا قومٌ مُتعلمين، فقال رضي الله عنه: والله لخطؤكم في لسانكم أشد عليّ من خطئكم في رميكم.
হে প্রিয়জনরা, আপনারা জেনে রাখুন যে এই শাস্ত্র—অর্থাৎ ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র—কার মাধ্যমে সূচিত হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ এবং শক্তিশালী মত হলো যে, ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর নির্দেশে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালিই এই কৃতিত্বের অধিকারী। আমরা এখানে বলতে পারি যে, এই শাস্ত্র সংকলনের মূল কারণ হলো—হে প্রিয়জনরা—ইসলামি বিজয়ের বিস্তৃতি এবং আরবদের মধ্যে অনারবদের প্রবেশ ও তাদের সাথে মেলামেশা, যার ফলে ভাষার বিকৃতি ঘটেছিল।
নাহু শাস্ত্রের ইতিহাস নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহে অনেক বর্ণনা (روايات) পাওয়া যায়; এই বর্ণনাগুলো (روايات) এই শাস্ত্র সংকলনের নির্দেশের পূর্ববর্তী সময়ে ব্যাকরণগত ভুল বা ‘লাহন’-এর ব্যাপকতা প্রকাশ করে। একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপস্থিতিতে ভুল উচ্চারণ করেছিল—এটি যদি জাল (موضوعًا) না-ও হয়, তবে অন্তত দুর্বল (ضعيف)—কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন দেখলেন লোকটি ভুল করছে তখন তিনি বললেন, "তোমাদের ভাইকে পথপ্রদর্শন করো, কারণ সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।" আমি যখন প্রথম দিকে নাহু-এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতাম, তখন এই হাদিসটি উল্লেখ করতাম, যতক্ষণ না আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি দুর্বল (ضعيف)।
যাই হোক, কথাবার্তায় ভুলের বিস্তৃতির ধরন সম্পর্কে আরও অন্যান্য বর্ণনা (روايات) বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এমন এক দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীরের লক্ষ্যভেদে ভুল করছিল, ফলে তিনি তাদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করলেন। তখন তারা বলল: "আমরা শিক্ষার্থী জাতি" (এখানে তারা ব্যাকরণগত ভুল করেছিল)। তখন তিনি (রা.) বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমাদের ভাষার ভুল আমার কাছে তোমাদের লক্ষ্যভেদের ভুলের চেয়েও বেশি পীড়াদায়ক।"
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৭)
كما طلب عمر من أحد ولاته أن يُقنِّع كاتبه سوطًا، وهذا كتبه عمر بن الخطاب إلى أبي موسى الأشعري أن قنِّع كاتبك سوطًا، لم؟ لأن أبا موسى الأشعري أمر كاتبه أن يكتب كتابًا لعمر بن الخطاب، فكتب في الكتاب "من أبو موسى الأشعري إلى عمر بن الخطاب"، فرد عليه عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "عزمتُ عليك لمَّا ضربت كاتبك سوطًا"، للحنه في قوله "من أبو موسى الأشعري"، والصور التي يذكرونها للحن كثيرة، وقبل قليل ذكرتُ لكم أن القول الصحيح والأقوى في من بدأ التأليف في هذا النحو أنه هو أبو الأسود الدؤلي بإشارة من الإمام علي رضي الله عنه، ويُقال إن أبا الأسود الدؤلي قدّم ورقة مكتوبة إلى علي بن أبي طالب كتب فيها تقسيم الكلام إلى اسمٍ وفعلٍِ وحرف، ثم قال "الاسم ما دلّ على المُسمَّى، والفعل كذا، والحرف كذا"، فأُعجب علي بن أبي طالب بهذا وقال: "ما أحسن هذا النحو الذي نحوْتَ"، لذلك يقول بعضهم إن السبب في تسمية هذا العلم بعلم النحو كلمة الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه حينما قال "ما أحسن هذا النحو الذي نحوت"، والمقصود بكلمة نحو كما تعلمون أو كما ربما يتبادر إلى الذهن
هو الاتجاه أو القصد.
যেমন উমর তাঁর জনৈক আমিলের নিকট দাবি জানিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর লেখককে কশাঘাত করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে, তোমার লেখককে কশাঘাত করো। কেন? কারণ আবু মুসা আল-আশআরী তাঁর লেখককে উমর ইবনুল খাত্তাবের জন্য একটি পত্র লিখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন তিনি পত্রে লিখেছিলেন "আবু মুসা আল-আশআরীর পক্ষ হতে উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রতি"। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে উত্তর দিলেন: "আমি তোমার ওপর এই মর্মে চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছি যে তুমি তোমার লেখককে অবশ্যই একটি চাবুক মারো", তার এই উক্তি—"আবু মুসা আল-আশআরীর পক্ষ হতে"—উক্তিতে ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) কারণে। ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) যেসব চিত্র তারা বর্ণনা করেন তা অসংখ্য। কিছুক্ষণ পূর্বে আমি আপনাদের নিকট উল্লেখ করেছি যে, এই ব্যাকরণ শাস্ত্র বা নাহু রচনায় কে প্রথম সূত্রপাত করেছেন সে বিষয়ে সঠিক (صحيح) ও সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মতটি হলো, তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, যা ইমাম আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইশারায় সম্পন্ন হয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী আলী বিন আবি তালিবের নিকট একটি লিখিত কাগজ পেশ করেন যাতে তিনি কালাম বা বাক্যকে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন, "বিশেষ্য হলো যা নামীয় সত্তাকে নির্দেশ করে, ক্রিয়া এরূপ এবং অব্যয় এরূপ"। আলী বিন আবি তালিব এতে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং বললেন, "তুমি যে পথের অনুসরণ করেছ তা কতই না চমৎকার!" একারণেই কেউ কেউ বলেন যে, এই শাস্ত্রের নাম 'ইলমুন নাহু' হওয়ার কারণ হলো ইমাম আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই উক্তি যখন তিনি বলেছিলেন, "তুমি যে পথের অনুসরণ করেছ তা কতই না চমৎকার"। আর 'নাহু' শব্দের উদ্দেশ্য যেমনটি আপনারা জানেন বা সম্ভবত যা প্রথমে মনে আসে,
তাহলো দিক বা সংকল্প।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما الحديث عن خصائص اللغة العربية، فاللغة العربية في الحقيقة اختصت بخصائص عديدة، ولها ميزات كثيرةٌ، ذكر بعضها المؤلفون، وأذكر لكم بعض الإيجاز عن هذه الخصائص التي اختصت بها لغة القرآن، يقول المؤلفون إن من أعظم خصائص اللغة العربية سعة مادتها، وغنى حصيلتها، ويدل على ذلك ما نُقل عن الخليل بن أحمد صاحب كتاب العين الذي ذكر أن ما يمكن تكوينه بتركيب أحرف الهجاء وتقليب الكلام، لأن كتاب العين للخليل بن أحمد مبنيٌّ على تقاليب الكلام، كيف ذلك؟ يقول مثلا كلمة "علم" مكونة من ثلاثة أحرف، العين واللام والميم، فيبدأ بمادة علم مثلا لأنها بالعين، وكتابه مُسمَّى بكتاب العين لأنه بدأه بحرف العين، فيقول يُعطيك معنى علم، ثم يُعطيك معنى "لمع"، ثم يُعطيك معنى "ملع" إذا كان لها معنى، ثم هكذا يُقلب تقاليب الكلمة، يُنسب إليه أنه يقول إن عدد التراكيب التي يمكن أن تكون من تقاليب الكلام بعضه إلى بعض في اللغة العربية يربو على اثني عشر ألف ألف، هذا كلامهم، والمقصود الآن اثني عشر مليون كلمة، طبعًا أكثر هذه التقاليب لا تُستعمل، وإنما يُستعمل آلافٌ محدودة قد أحصاها بعضهم فقال إن المواد التي يمكن أن تُركب لا تزيد على ثمانين ألف مادة.
الخاصية الثانية من خصائص هذه اللغة لغة القرآن الكريم، يذكر المؤلفون أن اللغة العربية من خصائصها أنها لغة الفكر والثقافة والعقيدة، لما يزيد على ألف مليون من المسلمين، وإنك لترى كل مسلمٍ مُلزمًا أن يتحدث على الأقل في صلواته ودعواته وأذكاره باللغة العربية، تجد المسلمين في شتَّى أنحاء العالم على الأقل لو لم يتحدَّثوا إلا في صلواتهم باللغة العربية وفي قراءة فاتحة الكتاب، فهي هذه اللغة لغتهم إلزامًا على الأقل في صلواتهم، وتجد كثيرًا من المسلمين يقرأ أو يتعلم هذه اللغة لأنها لغة القرآن الكريم، ولتقوى علاقته بهذا الكتاب وبسنة الرسول صلى الله عليه وسلم.
আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে বলতে গেলে, বাস্তবে আরবি ভাষা অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য এবং এর বহুবিধ মাহাত্ম্য রয়েছে, যার কিছু অংশ লেখকরা উল্লেখ করেছেন। কুরআনের ভাষার এই বৈশিষ্ট্যগুলোর ব্যাপারে আমি আপনাদের সামনে কিছু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিচ্ছি। লেখকরা বলেন যে, আরবি ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উপাদানের বিশালতা এবং এর ভাণ্ডারের প্রাচুর্য। এর প্রমাণ হিসেবে খলিল ইবনে আহমদ-এর বক্তব্য উল্লেখ করা যায়, যিনি কিতাবুল আইন-এর রচয়িতা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণমালার অক্ষরসমূহের বিন্যাস ও শব্দের রূপান্তর (تقاليب الكلام) পরিবর্তনের মাধ্যমে কী পরিমাণ শব্দ গঠন করা সম্ভব। কারণ খলিল ইবনে আহমদ-এর কিতাবুল আইন মূলত শব্দের রূপান্তর (تقاليب الكلام) প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এটি কেমন? যেমন তিনি বলেন, "علم" (ইলম) শব্দটি তিনটি বর্ণ নিয়ে গঠিত— আইন, লাম এবং মীম। তিনি "علم" মূলশব্দ দিয়ে শুরু করেন কারণ এটি আইন বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে, আর তাঁর কিতাবটির নাম কিতাবুল আইন রাখা হয়েছে যেহেতু তিনি এটি আইন বর্ণ দিয়ে শুরু করেছিলেন। অতঃপর তিনি আপনাকে "علم"-এর অর্থ প্রদান করেন, এরপর "لمع"-এর অর্থ দেন, তারপর "ملع"-এর অর্থ দেন—যদি এর কোনো অর্থ থেকে থাকে। এভাবে তিনি শব্দের বর্ণগুলোর স্থান পরিবর্তন বা রূপান্তর (تقاليب الكلام) করতে থাকেন। তাঁর প্রতি এটি সম্বন্ধিত করা হয় যে, তিনি বলেছিলেন—আরবি ভাষায় শব্দের রূপান্তর বা বিন্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে এমন শব্দের সংখ্যা বারো মিলিয়নেরও বেশি। এটি তাদের বক্তব্য, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক কোটি বিশ লক্ষ শব্দ। অবশ্য এই বিন্যাসগুলোর অধিকাংশ ব্যবহৃত হয় না, বরং মাত্র কয়েক হাজার শব্দ ব্যবহৃত হয় যা কেউ কেউ গণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, যেসব উপাদান দিয়ে শব্দ গঠন করা সম্ভব তা আশি হাজার উপাদানের বেশি নয়।
পবিত্র কুরআনের এই ভাষার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লেখকরা উল্লেখ করেন যে, আরবি ভাষা হলো একশ কোটিরও বেশি মুসলমানের চিন্তা, সংস্কৃতি ও আকিদার (عقيدة) ভাষা। আপনি দেখতে পাবেন যে প্রত্যেক মুসলিম অন্তত তার সালাত, দোয়া ও জিকিরের ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় কথা বলতে বাধ্য। আপনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মুসলমানদের দেখবেন যে, তারা অন্য সময় না হলেও অন্তত তাদের সালাতে এবং সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বাধ্যতামূলকভাবে এই ভাষা ব্যবহার করে থাকে। আপনি অনেক মুসলিমকে দেখবেন যারা এই ভাষা পড়ে বা শেখে, কারণ এটি পবিত্র কুরআনের ভাষা এবং যাতে করে এই কিতাব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর (سنة) সাথে তাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثالث هذه الخصائص للغة العربية أنهم يصفونها بأنها لغة اشتقاق، موادها كثيرة، ويمكن الاشتقاق من كل مادة صيغًا كثيرة تفي بحاجة العلوم،وبحاجة المخترعات، وتؤدي المطلوب منها، وهذا الاشتقاق كما يذكر المؤرخون للغات عمومًا لا يوجد له نظير في كثرته وقبول كل مادة منه في اللغات الأخرى.
رابع هذه الخصائص تنوع أساليبها وعباراتها، فأنت تجد بعض الألفاظ فيها ألفاظٌ حقيقية، بعض الألفاظ فيها ألفاظٌ مجازية، بعض الألفاظ فيها ألفاظ مُكَنَّى بها، بعض الألفاظ فيها ألفاظٌ مُصرَّحٌ بها، فأساليبها متعددة، ولا توجد هذه الخاصية في كثيرٍ من اللغات الأخرى، لا أقول لا توجد في كل اللغات، كثير من اللغات لا توجد فيها مثل هذه الخاصية.
خامس هذه الخصائص لهذه اللغة أنها أقرب لغات الدنيا إلى قواعد المنطق، يعني تجد أن مخارج الحروف وتجد أن تركيب الحروف بعضها إلى بعض أقرب إلى المنطق كما يقول الدارسون للغات، أنا لا أقول هذا الكلام من عندي، ولكن الدارسين للغات نصوا على أن اللغة العربية أقرب إلى قواعد المنطق من أي لغة أخرى، وعباراتها سليمة طيِّعة تطاوع من أراد أن يصوغ منها صيغًا مناسبةً لمعانٍ متعددة.
سادس هذه الخصائص كما ذكر الأستاذ أنور الجندي في كتابه "الفُصحى لغة القرآن" أنه توصل علم اللغات المقارن -فيما نُقل عن الأستاذ محمد أديب السلاوي- قال إنها بلغت رقمًا قياسيًّا في الكمال، وإنها معبرةٌ بطبيعتها عن العلوم المختلفة، هذا الكلام يقوله من يُقارن بين اللغات ويوازن بينها.
আরবি ভাষার এই বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে তৃতীয়টি হলো, তারা এটিকে শব্দমূল হতে শব্দ গঠনের (اشتقاق) ভাষা হিসেবে বর্ণনা করেন; এর শব্দমূল বা উপাদানসমূহ প্রচুর এবং প্রতিটি মূল হতে এমন অনেক রূপ বা কাঠামো গঠন করা সম্ভব যা বিভিন্ন বিজ্ঞান ও নতুন নতুন আবিষ্কারের চাহিদা পূরণ করে এবং উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে সক্ষম হয়। ভাষাতাত্ত্বিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, শব্দ গঠনের (اشتقاق) এই প্রাচুর্য এবং অন্যান্য ভাষায় এর প্রতিটি মূল বা উপাদানের ব্যবহারের এমন ব্যাপকতা অন্য কোথাও নেই।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রকাশভঙ্গি ও বাক্যের বৈচিত্র্য। আপনি এতে কিছু শব্দ পাবেন যা প্রকৃত (حقيقية) অর্থে ব্যবহৃত, কিছু শব্দ রূপক (مجازية) অর্থে ব্যবহৃত, কিছু শব্দ পরোক্ষ বা ইঙ্গিতবাহী (مُكَنَّى بها) এবং কিছু শব্দ স্পষ্ট বা ব্যক্ত (مُصرَّحٌ بها)। এর শৈলী ও পদ্ধতি বহুমুখী। এই বৈশিষ্ট্যটি অন্য অনেক ভাষায় পাওয়া যায় না; আমি বলছি না যে সকল ভাষাতেই নেই, তবে অধিকাংশ ভাষায় এমন বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব নেই।
এই ভাষার পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বিশ্বের সকল ভাষার মধ্যে যুক্তিবিদ্যার নিয়মাবলীর সবচেয়ে নিকটবর্তী। অর্থাৎ, আপনি দেখতে পাবেন যে বর্ণের উচ্চারণস্থল (مخارج الحروف) এবং বর্ণের পারস্পরিক বিন্যাস যুক্তিবিদ্যার অধিকতর অনুকূল, যেমনটি ভাষাবিদগণ বলে থাকেন। আমি আমার পক্ষ থেকে এই কথা বলছি না, বরং ভাষাতাত্ত্বিকগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে আরবি ভাষা যুক্তিবিদ্যার নিয়মের ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো ভাষার তুলনায় অধিকতর নিকটবর্তী। এর শব্দশৈলী নিখুঁত ও সাবলীল, যা বহুবিধ অর্থের জন্য উপযুক্ত শব্দ গঠন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্যটি হলো, যেমনটি উস্তাদ আনোয়ার আল-জুনদি তার "আল-ফুসাহ লুগাতুল কুরআন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান—উস্তাদ মুহাম্মদ আদিব আস-সালাউয়ি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—অনুযায়ী এই ভাষাটি পূর্ণতার দিক থেকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এটি প্রকৃতিগতভাবেই বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রকাশ করতে সক্ষম। যারা বিভিন্ন ভাষার মধ্যে তুলনা ও ভারসাম্য নিরূপণ করেন, তারাই এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১০)
سابع هذه الخصائص أن جميع مفرداتها قابلةٌ للتصريف إلا ما ندر، مما ندر كلمة "عسى" ما تتصرف، كلمة "ليس" لا تتصرف، كلمة "نعم" لا تتصرف، أيضًا شئ عام الحروف كلها لا تتصرف، أما الأفعال فهي قابلةٌ للتصريف، بل إن الأصل في التصريف للأفعال، الأسماء كذلك يمكن أن يكون الاسم مفردًا، يمكن أن يكون مثنى، يمكن أن يكون مجموعًا، يمكن أن يكون مصغرًا، يمكن أن يكون منسوبًا، وهكذا. إذًا كل مفرداتها تقبل التصريف إلا ما ندر، وهذا في الحقيقة يعنيننا على أن نصوغ لكل شيءٍ ما يخصه، متى ما أردنا إلى اسم الفاعل أتينا به، متى ما أردنا إلى اسم المفعول الذي وقع عليه الفعل أتينا به، وهكذا، فهذه اللغة والمفردات قابلةٌ للتصريف.
ثامنُ هذه الخصائص أنه نظرًا لسعتها وثرائها فإنه يوجد فيها ما يُسمَّى بالمترادفات، وهو تعبيرٌ عن الشيء الواحد بألفاظٍ متعددة، مثلا يذكرون أن للسيف عدد كبير من الأسماء، يذكرون للجمل كثير من الأسماء، هذا دليلٌ على ثراء هذه اللغة، إذا كان المعنى الواحد يمكن أن يُعبَّر عنه بألفاظٍ متعددة، فإن هذا دليلٌ على ثراء هذه اللغة.
يُقابل هذا ما يُسمَّى بالاشتراك وهو أن يكون اللفظ الواحد يُطلق على معانٍ متعددة، على سبيل المثال كلمة العين، تطلق على العين الجارية، تطلق على العين المبصرة، تُطلق على الجاسوس، وهكذا.
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সপ্তমটি হলো, বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত এর সকল শব্দই রূপান্তর (تصريف) যোগ্য। সেই বিরল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আসা' শব্দটি যা রূপান্তরিত হয় না, 'লাইসা' শব্দটি রূপান্তরিত হয় না, 'না'আম' শব্দটি রূপান্তরিত হয় না। এছাড়া সাধারণ নিয়ম হলো, অব্যয় বা বর্ণসমূহ (حروف) মোটেই রূপান্তরিত হয় না। পক্ষান্তরে ক্রিয়াপদগুলো (أفعال) রূপান্তরযোগ্য; বরং রূপান্তরের মূল ভিত্তিই হলো ক্রিয়া। একইভাবে বিশেষ্যগুলোর (أسماء) ক্ষেত্রেও তা একবচন (مفرد), দ্বিবচন (مثنى), বহুবচন (جمع), ক্ষুদ্রার্থবোধক (تصغير) কিংবা সম্বন্ধযুক্ত (نسبة) হতে পারে, ইত্যাদি। সুতরাং বিরল কিছু দৃষ্টান্ত ছাড়া এর প্রতিটি শব্দই রূপান্তর (تصريف) গ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে এটি আমাদের প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট রূপ গঠন করতে সহায়তা করে; যখনই আমরা কোনো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) চাই, আমরা তা গঠন করি; যখনই আমরা কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) চাই যার ওপর কাজ সম্পাদিত হয়েছে, আমরা তা নিয়ে আসি—এভাবেই প্রক্রিয়াটি চলে। সুতরাং এই ভাষা ও এর শব্দাবলি (مفردات) রূপান্তরযোগ্য।
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অষ্টমটি হলো, ভাষার প্রশস্ততা ও প্রাচুর্যের কারণে এতে সমার্থক শব্দ (مترادفات) নামক বিষয়টি বিদ্যমান। এটি হলো একাধিক শব্দের মাধ্যমে একটি মাত্র বিষয়কে প্রকাশ করা। উদাহরণস্বরূপ তারা উল্লেখ করেন যে, তলোয়ারের জন্য অনেকগুলো নাম রয়েছে, উটের জন্য অনেক নাম রয়েছে; এটি এই ভাষার ঐশ্বর্যের প্রমাণ। যদি একটি মাত্র অর্থকে বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, তবে তা এই ভাষার সমৃদ্ধিরই দলিল।
এর বিপরীতে রয়েছে যাকে বলা হয় অনেকার্থকতা (اشتراك); যা হলো একটি মাত্র শব্দ একাধিক অর্থের জন্য ব্যবহৃত হওয়া। উদাহরণস্বরূপ 'আইন' শব্দটি; এটি প্রবাহমান ঝরণা, দর্শনকারী চক্ষু, গোয়েন্দা এবং এ জাতীয় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولكن شيءٌ آخر ننبه عليه وهو أن بعضهم يقول لا يوجد ترادف لا في اللغة ولا في القرآن ولا في الشعر ولا في غيره، لم؟ قالوا كل لفظٍ له معنًى خاص به، فمثلا إذا قلت إن السيف يُطلق عليه اسم الفيصل، قال لأنه يفصل في القضايا لقوة من يستعمله، يُسمى حسامًا، يقول لا، هذا لا يُسمى حسامًا إلا إذا كان له كذا وكذا، مُهند، لا يُسمى مهندًا إلا إذا كان منسوبًا إلى الهند، وهكذا، فإذًا بعضهم ينفي وجود الترادف في اللغة، ويقول لا يوجد ترادفٌ في اللغة وإنما كل لفظٍ خاصٌ بالمعنى الذي أُطلق عليه، فهذا هو ثامن خصائص هذه اللغة.
من خصائصها التي يذكرها المؤرخون أيضًا أنها لا توجد في غيرها ما يُسمَّى بالإيجاز، المعنى الكبير تؤديه بألفاظٍ قليلة، ويقول بعضهم حينما عرّف البلاغة: البلاغة هي الإيجاز، وكتب بعضهم رسالةً مطوَّلةً جدًا ثم اعتذر في آخرها فقال: يؤسفني يا أخي أنه ليس عندي وقت للإيجاز، معنى هذا أن الإيجاز أصعب من الإطناب، وهذه خاصية اختصت بها هذه اللغة.
من خصائصها وهي الخاصية العاشرة أن مفرداتها غنية جدًا ويمكن زيادتها عن طريق الاشتقاق والتوليد إلى ما لا نهاية، مثلا نأخذ الجذر "سَلِمَ"، سَلِمَ معناها نجى، و"سَلَّمَ" –اختلفت الصيغة بمجرد زيادة حرف- معناها ألقى التحية، و"سالم" دخل في السلم، و"أسلم" انقاد، و"الإسلام" الخضوع لله، و"تَسَلَّمَ" أخذ شيئًا، و"استلم" لمس الحجر الأسود بالشفة أو باليد، وهناك "مُسلم" و"مُتسلِّم" و"مُسالم" وإلى آخره، صيغٌ كثيرةٌ وكل صيغة لها معنى جديد.
তবে আরও একটি বিষয় আমাদের সচেতন করা প্রয়োজন, আর তা হলো কেউ কেউ বলেন যে ভাষা, কুরআন, কবিতা বা অন্য কোথাও সমার্থকতা (ترادف) বলতে কিছু নেই। কেন? তারা বলেন, প্রতিটি শব্দেরই নিজস্ব স্বতন্ত্র অর্থ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বলেন তলোয়ারকে ‘ফয়সাল’ (الفيصل) বলা হয়, তারা বলেন—একে ফয়সাল বলা হয় কারণ ব্যবহারকারীর শক্তির কারণে এটি বিভিন্ন বিষয় বা বিবাদ নিষ্পত্তি করে দেয়। আবার একে ‘হুসাম’ (حسامًا) বলা হয়, তারা বলেন—না, একে ততক্ষণ হুসাম বলা হবে না যতক্ষণ না এতে বিশেষ কিছু গুণাগুণ থাকবে। ‘মুহান্নাদ’ (مهند)—একে ততক্ষণ মুহান্নাদ বলা হবে না যতক্ষণ না এটি হিন্দুস্তানের (ভারত) সাথে সম্পর্কিত হবে। এভাবে আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। সুতরাং, কেউ কেউ ভাষায় সমার্থকতার (ترادف) অস্তিত্ব অস্বীকার করেন এবং বলেন যে ভাষায় কোনো সমার্থকতা নেই, বরং প্রতিটি শব্দই সেই বিশেষ অর্থের জন্য নির্দিষ্ট যার জন্য সেটি ব্যবহৃত হয়েছে। এটি হলো এই ভাষার অষ্টম বৈশিষ্ট্য।
ঐতিহাসিকগণ এর যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো সংক্ষেপণ (الإيجاز), যা অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া যায় না। এটি অল্প শব্দের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। কেউ কেউ অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: অলঙ্কারশাস্ত্রই হলো সংক্ষেপণ (الإيجاز)। কেউ একজন অত্যন্ত দীর্ঘ একটি পত্র লিখেছিলেন এবং শেষে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন: ‘হে আমার ভাই, আমি দুঃখিত যে আমার কাছে সংক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না।’ এর অর্থ হলো দীর্ঘ আলোচনার (الإطناب) চেয়ে সংক্ষেপ করা অধিক কঠিন। আর এটি এই ভাষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
দশম বৈশিষ্ট্যটি হলো এর শব্দভাণ্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বুৎপত্তি (الاشتقاق) ও নবশব্দ গঠনের (التوليد) মাধ্যমে একে অসীম পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি মূল ধাতু (الجذر) ‘সা-লি-মা’ (سَلِمَ) গ্রহণ করি; ‘সালিমা’ (سَلِمَ) অর্থ সে মুক্তি পেয়েছে বা নিরাপদ রয়েছে। আর ‘সাল্লামা’ (سَلَّمَ)—কেবল একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে শব্দরূপ পরিবর্তিত হয়ে গেছে—এর অর্থ হলো সে অভিবাদন বা সালাম জানিয়েছে। ‘সা-লামা’ (سالم) অর্থ শান্তিতে প্রবেশ করা, ‘আসলামা’ (أسلم) অর্থ আনুগত্য করা, ‘ইসলাম’ (الإسلام) অর্থ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, ‘তাসাল্লামা’ (تَسَلَّمَ) অর্থ কোনো কিছু গ্রহণ করা এবং ‘ইস্তালামা’ (استلم) অর্থ ঠোঁট বা হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা। এছাড়া ‘মুসলিম’ (مُسلم), ‘মুতাসাল্লিম’ (مُتسلِّم), ‘মুসালিম’ (مُسالم) ইত্যাদি আরও অনেক শব্দরূপ রয়েছে এবং প্রতিটি রূপেরই নতুন নতুন অর্থ আছে।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১২)
من الخصائص أيضًا أن بعض صيغها لا يمكن التعبير عنه باللغات الأخرى كما يقول المؤرخون للغات، يقولون صيغة "تفاعل" و"انفعل" و"افتعل" و"استفعل" هذه الصيغ ليست موجودةً في اللغات الأخرى، وإنما لابد أن يؤتى بكلمتين أو بثلاث كلمات حتى يؤدى معنى التفاعل أو التفعل أو الانفعال أوالاستفعال أو ما شاكل ذلك كما يقول أيضًا مؤرخو اللغة، ونحن نبرأ إلى الله إذا كان هذا الكلام غير صحيح.
من الخصائص أيضًا أنه لم يدخل في اللغة العربية من اللغات الأخرى إلا ألفاظ قليلة محدودة، هذا طبعًا عند بداية التأليف في علوم اللغة، لمَّا نقلوا العلوم الأخرى لم يحتاجوا إلى أن ينقلوها بالغات التي نُقلت منها مثل علم الطب وعلم الفلسفة وعلم الفلك وما شاكل ذلك، لم ينقلوها بألفاظ الذين ألّفوا بها، ولكنهم استغنوا بمادة هذه اللغة فألَّفوا بها الكتب، ولم يدخل إلا ألفاظٌ قليلةٌ محدودة.
অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এর কিছু রূপকাঠামো (صيغة) অন্য ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়, যেমনটি ভাষাবিদগণ বলে থাকেন। তারা বলেন যে, ‘তাফাউল’ (تفاعل), ‘ইনফায়াল’ (انفعل), ‘ইফতায়াল’ (افتعل) এবং ‘ইসতাফআল’ (استفعل)-এর মতো রূপকাঠামোগুলো অন্য ভাষায় বিদ্যমান নেই। বরং ‘তাফাউল’ (تفاعل), ‘তাফাউল’ (تفعل), ‘ইনফিয়াল’ (انفعال), ‘ইসতিফআল’ (استفعাল) অথবা এই জাতীয় অর্থ প্রকাশের জন্য দুই বা তিনটি শব্দের প্রয়োজন হয়, যেমনটি ভাষাবিদগণও বলে থাকেন। আর যদি এই কথা সঠিক না হয়, তবে আমরা আল্লাহর নিকট এর দায়ভার থেকে মুক্তি চাই।
অন্যতম বৈশিষ্ট্য এও যে, অন্য ভাষা থেকে খুবই সামান্য ও সীমিত কিছু শব্দ ছাড়া আরবি ভাষায় আর কিছু প্রবেশ করেনি। এটি মূলত ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক রচনার প্রারম্ভিক সময়ের কথা। যখন তারা চিকিৎসাবিদ্যা, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা এবং এই জাতীয় অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানগুলো অনুবাদ বা স্থানান্তর করেছিলেন, তখন তারা সেগুলোকে সেই মূল ভাষাগুলোর শব্দের মাধ্যমে স্থানান্তর করার প্রয়োজনবোধ করেননি যেখান থেকে এগুলো সংগৃহীত হয়েছিল। বরং তারা এই ভাষার শব্দভাণ্ডারের মাধ্যমেই তুষ্ট ছিলেন এবং তা দিয়েই গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। ফলে এতে অতি সামান্য ও সীমিত কিছু শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ প্রবেশ করেনি।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أبرز خصائص هذه اللغة أن أبناءها المتحدثين بها بعد ألفٍ وخمسمائة سنة أو أكثر لا يزالون يفهمون ما كُتب بها منذ مئات السنين، في حين أن اللغات الأخرى يكاد يستحيل أن يقرأ غير المتخصصين ما كُتب بها بعد بضع مئاتٍ من السنين، وهذه الحقيقة لا ينكرها أحدٌ من أصحاب اللغات الأخرى، والسبب في هذا يا أيها الأحباب هو أن هذه اللغة حُفظت بحفظ كتاب الله عز وجل، يقول الله سبحانه وتعالى ? أنَّا نَحْنُ
نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ? [الحجر: 9] ، هذه اللغة لغة دين، ولغة كتاب، والمحافظة عليها تؤجر عليها إذا قصدت بها خدمة كتاب الله عز وجل، والله سبحانه وتعالى تكفّل بحفظ كتابه فحُفظت هذه اللغة، ولذلك تجد كثيرًا ممن يريد الهجوم على كتاب الله عز وجل أو الهجوم على الدين الإسلامي ما يستطيع أن يهاجم مباشرةً على كتاب الله خاصةً ممن في قلوبهم زيغ، ولكنه يأتي إلى اللغة فيهجم عليها بغرض أن يتوصل من هجومه هذا إلى الهجوم على كتاب الله عز وجل، فيدعو إلى الكتابة مثلا بالأحرف اللاتينية، يدعو إلى العامية، وما شاكل ذلك، فلا يستطيع أن يهجم مباشرةً على كتاب الله عز وجل، أو يتخفى من وراء هجومه على كتاب الله عز وجل بهجومه على اللغة العربية لغة القرآن الكريم، وهذا الجانب في الحقيقة تصدى له كثيرٌ ممن أراد الله عز وجل أن يجعل على أيديهم الخير فدافعوا، والحمد لله رب العالمين أن كل الدعوات ما تلبث أن تضمحل وتنصرف عن ذلك.
من خصائص اللغة أيضًا خاصية أخرى وهي خاصية التوليد والاشتقاق، فيبقى معك بعض الأحرف ثم تولد مادةً أخرى، وتصوغ منها مواد أخرى حتى تصل إلى مرادك للمجيء بألفاظٍ جديدة لمسمياتٍ جديدة أنت مُحتاجٌ إليها.
هذه أبرز الخصائص التي تتعلق باللغة العربية.
এই ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর ভাষাভাষীগণ দেড় হাজার বছর বা তারও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আজও শত শত বছর আগে এই ভাষায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা বুঝতে পারেন; যেখানে অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যতিরেকে সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকশ বছর আগে লিখিত বিষয়গুলো পড়া প্রায় অসম্ভব। আর এই বাস্তব সত্যটি অন্য কোনো ভাষাভাষী অস্বীকার করেন না। হে প্রিয় বন্ধুগণ, এর কারণ হলো—এই ভাষা মহান আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের মাধ্যমেই সংরক্ষিত হয়েছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আমিই এই নসিহত অবতীর্ণ করেছি
এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]। এই ভাষা দীনের ভাষা, কিতাবের ভাষা; আর আপনি যদি আল্লাহর কিতাবের খিদমতের নিয়তে একে সংরক্ষণ করেন তবে আপনি প্রতিদান লাভ করবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাব সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন বলেই এই ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে। এ কারণেই দেখা যায় যে, যারা আল্লাহর কিতাব কিংবা ইসলাম ধর্মের ওপর আক্রমণ করতে চায়—বিশেষ করে যাদের অন্তরে বক্রতা (زيغ) রয়েছে—তারা সরাসরি আল্লাহর কিতাবের ওপর আক্রমণ করতে সক্ষম হয় না। বরং তারা ভাষার ওপর আক্রমণ চালায় যাতে করে এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে তারা আল্লাহর কিতাবের ওপর আক্রমণ করার পথ পায়। উদাহরণস্বরূপ, তারা লাতিন অক্ষরে লেখা কিংবা আঞ্চলিক কথ্য ভাষার (عامية) ব্যবহারের প্রতি আহ্বান জানায় এবং এই জাতীয় নানা প্রস্তাব দেয়। মূলত সে সরাসরি আল্লাহর কিতাবের ওপর আক্রমণ করতে পারে না অথবা পবিত্র কুরআনের ভাষা—আরবি ভাষার ওপর আক্রমণের আড়ালে আল্লাহর কিতাবের ওপর তার আক্রমণকে লুকিয়ে রাখে। প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়টিকে প্রতিহত করার জন্য আল্লাহ তাআলা এমন বহু মানুষকে তাওফিক দিয়েছেন যাদের মাধ্যমে তিনি কল্যাণের ধারা জারি রেখেছেন এবং তারা এর প্রতিরক্ষা করেছেন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য যে, এ জাতীয় সকল অপপ্রয়াস অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তা থেকে মানুষ বিমুখ হয়ে পড়ে।
ভাষার আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো শব্দ সৃজন ও শব্দ ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) গঠনের ক্ষমতা। ফলে আপনার কাছে কিছু বর্ণ অবশিষ্ট থাকে যা থেকে আপনি নতুন শব্দমূল তৈরি করেন এবং তা থেকে আরও নানা রূপ বা কাঠামো গঠন করেন, যতক্ষণ না আপনি আপনার প্রয়োজনীয় নতুন নতুন নামকরণের জন্য নতুন শব্দ চয়নের উদ্দেশ্য হাসিল করেন।
এগুলোই আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ونقف عند هذا الحد في هذا اليوم، ونستمع إن كان لديكم أسئلة متعلقة بهذه المقدمة، وفي حلقتنا القادمة إن شاء الله تعالى سنبدأ في شرح الآجرومية، وأسأل الله لي ولكم التوفيق والسداد.
أتلقى منكم الأسئلة إذا كان لديكم سؤال أو أنا أسألكم إذا كنتم مستعدين لذلك.
سأل أحد الطلبة:
أحسن الله إليكم يا شيخ، حضرتك قلت في أول الكلام أن هذه اللغة ليست فرض كفاية، فهي فرض عينٌ لأهميتها في فهم هذا الدين.
أجاب الشيخ:
بارك الله فيك يا أخي وجزاك خيرًا، هذا سبق لسان، لعله إذا قام بأصولها وما تحتاج إليه من يكفي فلعله يسقط الإثم عن الباقين، ولا أستطيع أن أحكم بأنها فرض عين على كل مسلم وإلا ألزمنا كل المسلمين بما لا يستطيعون، فربما كان هذا سبق لسانٍ مني، جزاك الله خيرًا على هذا التنبيه. ولكن هذه اللغة فعلا أقل ما يُقال إن تعلمها من فروض الكفاية، إذا لم يقم به من يكفي فإنه سيأثم الجميع، والحمد لله أنه على مر الزمن يوجد من يقوم بأمر هذه اللغة ومن يعتني بها، والحمد لله أولا وآخرًا.
سأل الشيخ:
من ترون أنه هو أول من بدأ في التأليف في علم النحو؟
أجاب أحد الطلبة:
ذُكر في أول من ألف في النحو عدة أقوال، وأقواها كما ذكرتم أبو الأسود الدؤلي بأمر من أمير المؤمنين علي بن أبي طالب.
سأل الشيخ:
هل تعرفون أشخاص آخرين غير علي بن أبي طالب وأبو الأسود الدؤلي يمكن أن ينسب إليه هذا العلم؟
أجاب أحد الطلبة:
نُسب هذا إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه، لكنه لا يوجد له سند.
سأل الشيخ الطالب الذي أجاب:
يعني هل نُسب إليه أنه بدأ في التأليف هو؟
أجاب الطالب:
لا، هو أول من أمر.
علق الشيخ:
আমরা আজকের মতো এখানেই ইতি টানছি। এই ভূমিকা প্রসঙ্গে আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে আমরা তা শুনব। ইনশাআল্লাহ, আমাদের আগামী পর্বে আমরা আল-আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা শুরু করব। আমি আমার এবং আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে আমি তা গ্রহণ করব, অথবা আপনারা প্রস্তুত থাকলে আমি আপনাদের প্রশ্ন করব।
একজন ছাত্র প্রশ্ন করলেন:
আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন হে শায়খ। আলোচনার শুরুতে আপনি বলেছিলেন যে, এই ভাষাটি সামষ্টিক বাধ্যতামূলক (فرض كفاية) নয়, বরং এই দ্বীন বোঝার ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের কারণে এটি ব্যক্তিগত বাধ্যতামূলক (فرض عين)।
শায়খ উত্তর দিলেন:
হে আমার ভাই, আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন এবং উত্তম প্রতিদান দিন। ওটি জিহ্বার অসাবধানতাবশত চ্যুতি ছিল। সম্ভবত এর মূলনীতিসমূহ এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক পালন করবে, তখন বাকিদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে। আমি প্রতিটি মুসলিমের ওপর একে ব্যক্তিগত বাধ্যতামূলক (فرض عين) বলে হুকুম দিতে পারি না, নতুবা আমরা সকল মুসলিমের ওপর এমন কিছু আবশ্যক করে দেব যা করার সাধ্য তাদের নেই। তাই এটি সম্ভবত আমার জিহ্বার চ্যুতি ছিল। এই সতর্কবার্তার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তবে এই ভাষার ব্যাপারে নূন্যতম যা বলা যায় তা হলো, এটি শেখা সামষ্টিক বাধ্যতামূলক (فرض كفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ এটি পালন না করে, তবে সবাই গুনাহগার হবে। আল্লাহর শুকরিয়া যে, সর্বযুগে এমন লোক বিদ্যমান ছিলেন যারা এই ভাষার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর যত্ন নিয়েছেন। শুরুতে এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
শায়খ জিজ্ঞেস করলেন:
নাহু শাস্ত্র রচনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম কে শুরু করেছিলেন বলে আপনারা মনে করেন?
একজন ছাত্র উত্তর দিলেন:
নাহু শাস্ত্রে প্রথম লেখক সম্পর্কে বেশ কিছু অভিমত বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মতটি হলো—যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন—আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিবের নির্দেশে আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি এটি শুরু করেন।
শায়খ জিজ্ঞেস করলেন:
আলী বিন আবি তালিব এবং আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি ছাড়া অন্য কাউকে কি আপনারা চেনেন যাঁকে এই শাস্ত্রের কৃতিত্ব দেওয়া যেতে পারে?
একজন ছাত্র উত্তর দিলেন:
এটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকেও সম্বন্ধ করা হয়, তবে এর কোনো বর্ণনাপরম্পরা (سند) নেই।
শায়খ উত্তরদানকারী ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন:
অর্থাৎ, তাঁর দিকে কি এটি সম্বন্ধ করা হয় যে, তিনি নিজে রচনা শুরু করেছিলেন?
ছাত্রটি উত্তর দিল:
না, বরং তিনি প্রথম নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শায়খ মন্তব্য করলেন:
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أما هذا فعلا، يُنسب إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه أمر بالتأليف في علم اللغة، بل إنه تذكر رواية أن أعرابيًّا دخل المدينة في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه فسمع القارئ يقرأ قول الله عز وجل ? وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ ? [التوبة: 3] ، كان هذا القارئ يقرؤها "أَنَّ اللهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولِهِ" فقال الأعرابيُّ: وأنا أبرأ مما بريء الله منه، فأُخذ الأعرابي إلى عمر ابن الخطاب رضي الله عنه، فلما سأله قال: إني سمعت كذا وكذا، فأمر عمر رضي الله عنه ألا يُعلم القرآن إلا من عنده معرفةٌ باللغة العربية وبما يُحيل المعنى أو يقلب المعنى، وأنتم ترون في مثل هذا أنه قلب الله، يعني أن الله تبارك وتعالى يتبرأ من المشركين ويتبرأ من رسوله، وهذا لم يحصل، وإنما
الموجود في القرآن الكريم ? أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ ? أي ورسوله أيضًا بريءٌ من المشركين.
يُقال أيضًا إن عمر بن الخطاب أول من أمر بالتأليف في النحو، ويُقال أيضًا إنه علي ابن أبي طالب، ويُقال إن أبا الأسود الدؤلي من نفسه، ويُقال إن أبا الأسود الدؤلي كان مع ابنته فسمعها تقول: يا أبت ما أحسنُ السماءِ، فقال لها: نجومها، قالت: يا أبت أنا لا أسأل وإنما أتعجب، قال: إذًا فافتحي فاكِ وقولي: ما أحسنَ السماءَ، ولعل هذا من الأشياء التي دعت أبا الأسود الدؤلي، وفيه قصص كثيرة تُذكر في سبب تأليف هذا العلم.
أسأل الله لي ولكم التوفيق والسداد، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله
وصحابته أجمعين، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
প্রকৃতপক্ষে এটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর প্রতি নিসবত করা হয় যে, তিনি ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি একটি বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায় যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে একজন বেদুইন মদিনায় এসে জনৈক ক্বারীকে আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করতে শুনলেন— "আর মহান হজের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এক ঘোষণা যে, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও (দায়মুক্ত)" [আত-তাওবাহ: ৩]। সেই ক্বারী আয়াতটি পাঠ করার সময় শেষ শব্দটিকে 'জের' দিয়ে পড়ছিলেন, যার ফলে অর্থ দাঁড়ায়— "নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূল থেকেও"। তখন সেই বেদুইন বললেন: "আল্লাহ যার থেকে দায়মুক্ত হয়েছেন, আমিও তার থেকে দায়মুক্ত হলাম।" তখন বেদুইনকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। যখন তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, সে বলল: "আমি এরূপ এরূপ শুনেছি।" তখন উমর (রা.) নির্দেশ দিলেন যে, আরবি ভাষা এবং যা অর্থের পরিবর্তন বা বিপর্যয় ঘটায় সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেন কুরআন শিক্ষা না দেয়। আপনারা এখানে লক্ষ্য করছেন যে, এটি অর্থের বিপর্যয় ঘটিয়েছে। অর্থাৎ (উচ্চারণ বিকৃতির ফলে অর্থ দাঁড়িয়েছে) আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূল থেকেও দায়মুক্ত। অথচ বিষয়টি এমন নয়। বরং
পবিত্র কুরআনে যা বিদ্যমান তা হলো: "নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও"—অর্থাৎ তাঁর রাসূলও মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত।
আরও বলা হয়ে থাকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহু শাস্ত্র সংকলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবার বলা হয় যে, তিনি ছিলেন আলী ইবনে আবী তালিব। আবার বলা হয় যে, আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এটি করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি তাঁর কন্যার সাথে ছিলেন, তখন তিনি তাকে বলতে শুনলেন: "হে পিতা, আকাশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে সুন্দর?" (উচ্চারণগত ভুলের কারণে যা বিস্ময়সূচক না হয়ে জিজ্ঞাসাবোধক হয়ে গিয়েছিল)। তিনি তাকে উত্তর দিলেন: "এর নক্ষত্ররাজি।" সে বলল: "হে পিতা, আমি তো প্রশ্ন করছি না, বরং আমি বিস্ময় প্রকাশ করছি।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমার মুখ খুলে বলো: 'আকাশ কতই না সুন্দর!'" সম্ভবত এটিই ছিল সেই বিষয়গুলোর একটি যা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এই শাস্ত্র সংকলনের প্রেক্ষাপটে এমন আরও অনেক ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
আমি আমার এবং আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর
সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الدرس الثانيالحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين. السلام عليكم ورحمة الله وبركاته. نبدأ في هذه الحلقة مستعينين بالله عز وجل، كنت وعدتُ في الحلقة الماضية أن نتحدث في أطوار التأليف في هذا النحو، ولكني نسيتُ، فنتحدث بإيجاز في بداية هذه الحلقة عنه أطوار التأليف في هذا العلم، ثم ننتقل بعده بإذن الله تعالى إلى شرح ما تيسر من المقدمة الآجرومية.
أطوار التأليف في هذا العلم تبدأ من بداية عصر أبي الأسود الدؤلي، ويُقسمونها أربعة أقسام:
الطور الأول: هو طور الوضع والتكوين.
الطور الثاني: هو طور النشأة والنمو.
الطور الثالث: هو طور النضج والكمال.
الطور الرابع: هو طور البسط والتوسع في التأليف، البسط في هذا العلم وشرحه، وذكر التفاصيل الموجودة فيه، هذا هو آخر الأطوار المعتد بها في التأليف.
وإلا لا يزال إلى الآن يؤلف في هذا العلم، صحيح أنه الآن لا يوجد قواعد جديدة يؤلفها الناس،
لكنهم يوازنون بين ما مضى من قواعد وما مضى من تأليفات، ويرجحون بعض الأقوال بوجود
أدلة جديدة أو نحو ذلك.
نتحدث عن هذه الأطوار تحدثًا يسيرًا وسريعًا إن شاء الله تعالى.
দ্বিতীয় পাঠসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমরা এই পর্বটি শুরু করছি। গত পর্বে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে এই নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের রচনার পর্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করব, কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তাই এই পর্বের শুরুতে এই শাস্ত্রের রচনার পর্যায়গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব, এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুরুমিয়্যাহ-এর যতটুকু সহজসাধ্য হয় তার ব্যাখ্যায় চলে যাব।
এই শাস্ত্রের রচনার পর্যায়গুলো আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালির যুগের প্রারম্ভ থেকে শুরু হয় এবং গবেষকগণ একে চারটি ভাগে বিভক্ত করেন:
প্রথম পর্যায়: এটি হলো উদ্ভাবন ও রূপায়ণের পর্যায়।
দ্বিতীয় পর্যায়: এটি হলো উৎপত্তি ও বিকাশের পর্যায়।
তৃতীয় পর্যায়: এটি হলো পরিপক্বতা ও পূর্ণতার পর্যায়।
চতুর্থ পর্যায়: এটি হলো রচনার ক্ষেত্রে বিশদ বিবরণ ও প্রসারণের পর্যায়। এই শাস্ত্রের বিস্তৃতি, ব্যাখ্যা এবং এতে বিদ্যমান খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ উল্লেখ করাই হলো এই পর্যায়। রচনার ক্ষেত্রে এটিই সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য (معتد بها) পর্যায়।
অন্যথায়, এই শাস্ত্রে বর্তমান সময় পর্যন্ত রচনা অব্যাহত রয়েছে। এটি সঠিক (صحيح) যে বর্তমানে মানুষ কর্তৃক প্রণীত নতুন কোনো নীতিমালা (قواعد) নেই,
কিন্তু তারা অতীতের নীতিমালা (قواعد) এবং পূর্ববর্তী রচনাবলির মধ্যে তুলনা করেন এবং নতুন কোনো প্রমাণের (أدلة) উপস্থিতিতে কোনো কোনো মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়ে থাকেন।
আমরা এই পর্যায়গুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أما الطور الأول فهو طور الوضع والتكوين وهو بصريٌ خالصٌ، ويبدأ من أول عصر أبي الأسود الدؤلي وينتهي بأول عصر الخليل بن أحمد الفراهيدي، أي ما يقارب قرنًا من الزمان، لم يكن للنحويين الكوفيين في هذا الوقت شروعٌ في التأليف في هذا العلم، وإنما كان المؤلفون كلهم من البصرة، وأما الكوفيون فقد نفعونا نفعًا كبيرًا في هذا الوقت، وهو أنهم كانوا يجمعون كلام العرب، صحيح أنهم جمعوا أحيانًا الغث مع السمين، لكنهم تفرغوا في هذا الوقت كله إلى جمع كلام العرب من أماكن متعددة من القبائل العربية، وأخطئوا خطأً يسيرًا في أنهم اعتمدوا على بعض القبائل التي اختلطت بالأعاجم أو التي كانت في أطراف الجزيرة العربية، لكن الغالب في ما جمعوه في الفترة الأولى حينما كانوا مشغولين بجمع الأخبار والأشعار الغالب فيه أنه يمكن أن يُعتد به ويُبنى عليه القواعد الصحيحة السليمة. هذا هو الطور الأول، قلنا طورٌ بصريٌّ يبدأ من عصر أبي الأسود، وينتهي بأول عصر الخليل.
ويقسمون هذا الطور الأول طبقتين:
الطبقة الأولى: من أبرزهم أُناسٌ ممن قيل إنهم هم الذين بدؤوا في التأليف في النحو، وأبرزهم أربعة، ويُقال يُنسب إلى كل واحدٍ منهم أنه هو الذي بدأ في التأليف في علم النحو. واحد اسمه عنبسة بن معدان الفيل، الثاني اسمه نصر بن عاصم، والحقيقة أنه الذي قام بضبط المصحف بالحركات، ولكنه ليس هو المؤلف أو البادئ الحقيقي لهذا العلم، الثالث عبد الرحمن بن هُرمز، الرابع يحيى بن يعمر. هذه هي الطبقة الأولى، وكثير من الناس يقولون إن هؤلاء الأربعة هم الذي بدؤوا التأليف في هذا العلم.
প্রথম পর্যায়টি হলো উদ্ভাবন ও গঠনের পর্যায় এবং এটি সম্পূর্ণরূপেই বসরা-কেন্দ্রিক। এই পর্যায়টি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীর যুগের শুরু থেকে খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহীদীর যুগের শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত, যা প্রায় এক শতাব্দীকাল সময়কালকে নির্দেশ করে। এই সময়ে কুফী ব্যাকরণবিদদের পক্ষ থেকে এই শাস্ত্র রচনায় কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি, বরং সকল লেখকই ছিলেন বসরার। তবে কুফীগণ এই সময়ে আমাদের বড় ধরনের একটি উপকার করেছিলেন, তা হলো তারা আরবদের ভাষ্যসমূহ সংগ্রহ করতেন। এটা সত্য যে তারা মাঝে মাঝে অসার বিষয়ের সাথে সারগর্ভ বিষয়ও একত্রিত করে ফেলতেন, তবে তারা এই পুরো সময়টা বিভিন্ন আরব গোত্র ও নানাবিধ স্থান থেকে আরবদের কথা সংগ্রহের জন্য নিবেদিত ছিলেন। তারা সামান্য একটি ভুল করেছিলেন এই যে, তারা এমন কিছু গোত্রের ওপর নির্ভর করেছিলেন যারা অনারবদের সাথে মেলামেশা করত অথবা যারা আরব উপদ্বীপের প্রান্তসীমায় বসবাস করত। তবে তারা প্রথম যুগে যখন সংবাদসমূহ (الأخبار) ও কবিতা সংগ্রহে মগ্ন ছিলেন, তখন তারা যা সংগ্রহ করেছিলেন তার অধিকাংশই নির্ভরযোগ্য (يعتد به) এবং তার ওপর ভিত্তি করে সঠিক ও বিশুদ্ধ নিয়মাবলি প্রণয়ন করা সম্ভব। এটিই হলো প্রথম পর্যায়; আমরা বলেছি এটি একটি বসরা-কেন্দ্রিক পর্যায় যা আবুল আসওয়াদের যুগ থেকে শুরু হয়ে খলিলের যুগের প্রারম্ভে সমাপ্ত হয়。
তারা এই প্রথম পর্যায়কে দুইটি স্তরে (الطبقة) বিভক্ত করেন:
প্রথম স্তর (الطبقة الأولى): তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের সম্পর্কে বলা হয় যে তাঁরাই ব্যাকরণ শাস্ত্রে প্রথম রচনা শুরু করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন প্রধান, এবং তাঁদের প্রত্যেকের সম্পর্কেই এই মত রয়েছে যে তিনিই এই ব্যাকরণ শাস্ত্র রচনার প্রথম উদ্যোক্তা। একজন হলেন আনবাসা ইবনে মাদদান আল-ফীল, দ্বিতীয়জন নাসর ইবনে আসিম; আর বাস্তবতা হলো যে তিনিই হরকত বা স্বরচিহ্নের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন, তবে তিনি এই শাস্ত্রের প্রকৃত গ্রন্থকার বা প্রবর্তক নন। তৃতীয়জন আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ এবং চতুর্থজন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর। এটি হলো প্রথম স্তর (الطبقة الأولى), এবং অনেক গবেষকই বলে থাকেন যে এই চারজনই এই শাস্ত্রের রচনার সূচনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الطبقة الثانية من الطور الأول: أبرز علمائها عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي، وعيسى ابن عمر، وأبو عمرو بن العلاء، وكلهم لم يصل إلينا شيءٌ من مؤلفاتهم، وإن كان يُنسب إلى أبي عمرو بن العلاء كتاب في القراءات، وهو واحدٌ من القراء السبعة كما تعلمون، ويُنسب إلى عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي كتاب أسماءه "الهمز"، يعني تصريفات الهمزة، ويُنسب إلى عيسى بن عمر كتابان، واحد اسمه الجامع، وواحد اسمه الإكمال، وقد عنهما الخليل بيتين من الشعر:
ذهب النحو جميعًا كله غير ما ألف عيسى بن عمر
ذاك إكمالٌ وهذا جامع فهما للناس شمسٌ وقمر
على كل حال هذا هو الطور الأول، وللأسف لم يصلنا ـ فيما أعلم ـ من كتب هذا الطور شيءٌ.
الطور الثاني: وهو طور النشأة والنمو، هذا بدأ الكوفيين فيه يشاركون البصريين في التأليف، وكانوا في بداية هذا العصر لا توجد بينهم مناقشات ولا محاورات ولا شيءٌ، يعني كانوا إخوانًا يتعلم بعضهم من بعضٍ، ويتعلم الكوفيون من البصريين الأوائل.
وهذا الطور يبدأ بالنسبة للبصرة بعصر الخليل بن أحمد، وبالنسبة للكوفة يبدأ بأبي جعفر الرؤاسي، وينتهي بالنسبة للبصرة إلى عصر المازني، ويبدأ بالنسبة للكوفة من أبي جعفر الرؤاسي إلى ابن السكيت، في هذا الطور اشتركت المدرستان في التأليف، واشتركوا في بدايات الحوار والنقاش فيما بينهما، لكنه لم يقوَ، لأنهم لا يزالون إلى الآن ـ أعني الكوفييّن ـ يعترفون بأساتذتهم ويقدرونهم لأنهم أخذوا علمهم في النحو في بداية الأمر عن البصريين. هذا هو الطور الثاني.
প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় স্তর: এর অন্যতম বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি, ঈসা ইবনে ওমর এবং আবু আমর ইবনুল আলা। তাঁদের কারোরই কোনো রচনা আমাদের কাছে পৌঁছেনি। যদিও আবু আমর ইবনুল আলার নামে কেরাত বিষয়ক একটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায় এবং আপনারা যেমন জানেন, তিনি সাতজন ক্বারীর (القراء السبعة) মধ্য থেকে একজন। এছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামির দিকে ‘আল-হামজ’ নামক একটি বইয়ের সম্বন্ধ করা হয়, যার অর্থ হলো হামজার রূপান্তর প্রক্রিয়া। ঈসা ইবনে ওমরের দিকেও দুটি বইয়ের সম্বন্ধ করা হয়—একটির নাম ‘আল-জামি’ এবং অন্যটির নাম ‘আল-ইকমাল’। খলিল ইবনে আহমদ এই দুটি গ্রন্থ সম্পর্কে দুই ছত্র কবিতা বলেছেন:
ব্যাকরণ শাস্ত্রের সবটুকুই বিলীন হয়ে গেছে কেবল ঈসা ইবনে ওমরের সংকলনগুলো ব্যতীত।
একটি হলো ইকমাল এবং অন্যটি জামি; মানুষের কাছে এ দুটি যেন সূর্য ও চন্দ্র স্বরূপ।
যাই হোক, এটিই হলো প্রথম পর্যায় এবং দুর্ভাগ্যবশত আমার জানামতে এই পর্যায়ের কোনো গ্রন্থই আমাদের কাছে পৌঁছেনি।
দ্বিতীয় পর্যায়: এটি হলো উৎপত্তি ও বিকাশের পর্যায়। এই স্তরে কুফাবাসীরা গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে বসরবাসীদের সাথে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। এই যুগের শুরুতে তাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক বা বাদানুবাদ ছিল না; অর্থাৎ তারা একে অপরের ভাই হিসেবে একে অপরের কাছ থেকে শিখতেন এবং কুফাবাসীরা প্রাথমিক যুগের বসরবাসীদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন।
এই পর্যায়টি বসরার ক্ষেত্রে খলিল ইবনে আহমদের যুগ থেকে শুরু হয় এবং কুফার ক্ষেত্রে শুরু হয় আবু জাফর আর-রুয়াসি থেকে। এটি বসরার ক্ষেত্রে আল-মাজেনির যুগ পর্যন্ত শেষ হয় এবং কুফার ক্ষেত্রে আবু জাফর আর-রুয়াসি থেকে ইবনুস সিক্কিত পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে উভয় ঘরানা গ্রন্থ রচনার কাজে অংশ নেয় এবং তাদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের সংলাপ ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়, তবে তা খুব একটা প্রবল ছিল না। কারণ কুফাবাসীরা তখনও পর্যন্ত তাদের শিক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন এবং তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করতেন; কেননা তারা প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাকরণ শাস্ত্রের জ্ঞান বসরবাসীদের কাছ থেকেই অর্জন করেছিলেন। এটিই হলো দ্বিতীয় পর্যায়।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أما الطور الثالث فهو طور النضج والكمال، وهو أيضًا بصريٌ كوفيٌّ، ويبدأ بالنسبة للبصرة من المازني وينتهي بالمبرد، المُتوفَّى سنة 286هـ، أما بالنسبة للكوفة فإنه يبدأ بعصر ابن السكيت وينتهي بعصر ثعلب أبي العباس. وبالمناسبة يا إخوان، يوجد عندنا شخصية مشهورة في الكوفة اسمها أبو العباس، وشخصية مشهورة أيضًا في البصرة اسمها أبو العباس، فإذا أُطلق اسم أبو العباس في البصرة فهو المبرد، وإذا أُطلق اسم أبو العباس في الكوفة فهو ثعلب. يوجد عندنا أيضًا شخصيتان متشابهتان، إحداهما بصرية
والثانية كوفية، البصري هو أبو عمرو بن العلاء، الكوفي هو أبو عمرو الشيباني، هذه
على الهامش.
المهم أنه في هذا العصر بدأت المدرستان يقوى عودهما، وبدأ التأليف على أشده، وبدأ أيضًا انفصال الصرف عن النحو، وانفصال ما يتعلق بالأخبار والأشعار في كتب أُخرى، يعني بدأ النحو يستقل بالتأليف فيه، وبدأ الصرف يستقل بالتأليف فيه، وبدأ شيءٌ مهمٌ جدًا وهو النقاش والحوار بين المدرستين، والتنافس الشديد، كلٌ يرغب أن يكون هو المقدم، ففي هذا العصر وهو طورٌ استوى فيه النحو وقام على سوقه وانفصل النحو عن الصرف وانفصل أيضًا ما يتعلق بالأخبار والأشعار فأُلفت لها كتبٌ مستقلة، ولم تعد
تدخل في مؤلفات النحويين هنا أو هناك.
তবে তৃতীয় পর্যায়টি হলো পরিপক্কতা ও পূর্ণতার পর্যায়, এটিও বসরা ও কুফা কেন্দ্রিক। বসরার ক্ষেত্রে এটি আল-মাজিনি থেকে শুরু হয়ে আল-মুবররাদ (মৃত্যু: ২৮৬ হিজরি) পর্যন্ত বিস্তৃত। আর কুফার ক্ষেত্রে এটি ইবন আল-সিক্কিতের যুগ থেকে শুরু হয়ে আবু আব্বাস ছা'লাবের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রসঙ্গত হে ভ্রাতৃবৃন্দ, কুফায় আমাদের একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যার নাম আবু আব্বাস, আবার বসরায়ও একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যার নাম আবু আব্বাস। সুতরাং যদি বসরায় 'আবু আব্বাস' নামটি উচ্চারণ করা হয় তবে তিনি হলেন আল-মুবররাদ, আর যদি কুফায় 'আবু আব্বাস' নামটি উচ্চারণ করা হয় তবে তিনি হলেন ছা'লাব। আমাদের কাছে অনুরূপ আরও দুজন ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাদের একজন বসরা কেন্দ্রিক
এবং অন্যজন কুফা কেন্দ্রিক। বসরা কেন্দ্রিকজন হলেন আবু আমর ইবনুল আলা এবং কুফা কেন্দ্রিকজন হলেন আবু আমর আল-শায়বানি। এটি
একটি পার্শ্বটীকা মাত্র।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই যুগে উভয় ঘরানা শক্তিশালী হতে শুরু করে এবং গ্রন্থ রচনা পূর্ণ গতি লাভ করে। এই সময়েই নাহু (ব্যাকরণ) থেকে সরফ (শব্দতত্ত্ব) পৃথক হতে শুরু করে এবং সংবাদ ও কবিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্য বইয়ে পৃথক হতে থাকে। অর্থাৎ নাহু স্বতন্ত্রভাবে রচিত হতে শুরু করে এবং সরফও স্বতন্ত্রভাবে রচিত হতে শুরু করে। সেই সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুরু হয়, তা হলো উভয় ঘরানার মধ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা; প্রত্যেকেই চায় অগ্রগণ্য হতে। সুতরাং এই যুগে—যা একটি পরিপক্ক পর্যায় যেখানে নাহু পূর্ণতা পায় এবং স্বীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়—নাহু থেকে সরফ পৃথক হয়ে যায় এবং সংবাদ ও কবিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও পৃথক হয়ে যায়, ফলে সেগুলোর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়। সেগুলো আর
এখানে বা সেখানে ব্যাকরণবিদদের রচনার অন্তর্ভুক্ত থাকেনি।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الطور الرابع: هو ما يُسمى بطور الترجيح والبسط في التأليف، أيها الأحباب إن عاصمة الخلافة انتقلت إلى بغداد، واتجه العلماء وغير العلماء إلى بغداد، فأصبح من يُشار إليهم بالبنان في هذه العاصمة عاصمة الخلافة الإسلامية في بغداد، وليس كل هذا العصر وهو عصر البسط في التأليف والترجيح بغداديٌّ، بل هو يمتد إلى ثلاثة قرون أو أكثر، وصار يشمل مناطق متعددة، فصار موجودًا في بغداد، وفي الشام، وفي مصر، وفي الأندلس، طبعًا نحن نتحدث عن التأليف في هذا العلم، وصار المؤلفون هنا لا يأتون بقواعد جديدة كثيرة اعتمادًا منهم على القواعد السابقة، لأن القواعد السابقة مبنيّةٌ على ما سُمع من كلام الله عز وجل أولا، ما عُرف ما حُفظ من كتاب الله على ما ورد في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وإن كان بعضهم يتردد في الاستشهاد بالحديث نظرًا لإجازة روايته المعنى، مع أننا نرى أن الاستشهاد بما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يُقدم عليه شيءٌ إلا القرآن الكريم.
لكن يجب أن يكون ثابتًا أن هذا كلام الرسول صلى الله عليه وسلم، حتى لو قالوا إن من الأشياء التي يمكن أن يرد بها الاستشهاد بالحديث أن دخول الأعاجم في سند الحديث ربما كان سببًا فيمكن أن يُجاب على كل النقاط الذي ذكرت، هم ذكروا أربع نقاط رئيسية في سبب عدم الاستشهاد بالحديث:
أولها: إجازة روايتها بالمعنى، وهذا أقوى دليلٌ عندهم.
الثاني: دخول الأعاجم في سنده، يعني في سند الحديث.
الثالث: دخول ما يُسمى بالإدراج، يعني ألا يكون من كلام النبي صلى الله عليه وسلم وإنما يكون من كلام الراوي الذي روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
الدليل الرابع: وجود أحاديث موضوعة وضعيفة، فيقولون هذه الأحاديث الموضوعة لا يمكن أن نستشهد بها لأنها ليست من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.
চতুর্থ পর্যায়: এটি হলো সেই পর্যায় যা গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) এবং বিস্তারিত আলোচনার (بسط) পর্যায় হিসেবে পরিচিত। প্রিয় সুধী, খেলাফতের রাজধানী বাগদাদে স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং আলেম ও সাধারণ মানুষ বাগদাদ অভিমুখী হয়েছিল। ফলে ইসলামী খেলাফতের এই রাজধানী বাগদাদে যারা অবস্থান করতেন তারাই বিশিষ্ট ব্যক্তিতে পরিণত হন। গ্রন্থ রচনায় বিস্তারিত আলোচনা (بسط) ও অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) এই পুরো যুগটি কেবল বাগদাদ-কেন্দ্রিক ছিল না, বরং তা তিন শতাব্দী বা তার বেশি সময় ধরে বিস্তৃত ছিল এবং বিভিন্ন অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এটি বাগদাদ, শাম, মিসর এবং আন্দালুসেও বিদ্যমান ছিল। অবশ্যই আমরা এই শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা সম্পর্কে কথা বলছি। এখানকার লেখকরা পূর্ববর্তী মূলনীতিগুলোর (قواعد) ওপর নির্ভর করার কারণে খুব বেশি নতুন মূলনীতি আনয়ন করেননি। কারণ পূর্ববর্তী মূলনীতিগুলো (قواعد) প্রথমত মহান আল্লাহর কালাম থেকে যা শোনা গেছে তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল; অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব থেকে যা জানা ও সংরক্ষিত হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে। যদিও তাদের কেউ কেউ হাদিসকে ভাষাগত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে দ্বিধাবোধ করতেন, যেহেতু হাদিস 'মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা' (رواية بالمعنى) করার অনুমতি রয়েছে। যদিও আমরা মনে করি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তা দিয়ে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না।
তবে এটি সুপ্রমাণিত হতে হবে যে, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। এমনকি তারা যদি বলেন যে, হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বাধা হতে পারে তার মধ্যে একটি হলো হাদিসের সনদে (سند) অনারবদের (أعاجم) অনুপ্রবেশ, তবে উল্লিখিত প্রতিটি পয়েন্টের জবাব দেওয়া সম্ভব। তারা হাদিস দ্বারা দলিল পেশ না করার পিছনে চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত: মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করার অনুমতি থাকা; এটিই তাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল।
দ্বিতীয়ত: এর সনদে (سند), অর্থাৎ হাদিসের সনদে (سند) অনারবদের (أعاجم) অনুপ্রবেশ।
তৃতীয়ত: তথাকথিত অনুপ্রবেশের (إدراج) উপস্থিতি; অর্থাৎ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী না হয়ে বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এমন বর্ণনাকারীর (راوي) কথা হওয়া।
চতুর্থ দলিল: বানোয়াট (موضوع) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অস্তিত্ব। তারা বলেন, এই বানোয়াট (موضوع) হাদিসগুলো দিয়ে আমরা দলিল পেশ করতে পারি না, কারণ এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী নয়।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২১)
والجواب عن الأول وهو الاستشهاد بالحديث إذا كان مرويًّا بالمعنى، نقول لهم إنهم اشترطوا في صحة رواية الحديث بالمعنى أن يكون هذا الراوي عالمًا بأصول اللغة، فاهمًا لما يحيل المعنى ولما يُمكن أن يُغيِّر في المعنى المراد، فإذا كان ذلك كذلك فإنهم أجازا رواية الحديث المعنى، وإلا فلا.
الثاني وهو دخول الأعاجم في سند الحديث، هذا يمكن أن يجاب عنه يا أيها الأحباب بأن هؤلاء الأعاجم سيكونون أحرص من أهل العربية نفسها على تأدية لفظ رسول الله صلى الله عليه وسلم بنصهخوفًا من الوقوع في حديث الرسول صلى الله عليه وسلم، الحديث رُوي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم (من كذب عليَّ مُتعمِّدًا فليتبوَّأ مقعده من النار) ، هذا لا يمكن إلى أن يحرف في الكلام خوفًا من أن لا يكون هو المعنى المراد الذي أراده صلى الله عليه وسلم فسيؤدي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بنصه وفصه.
أما دخول الإدراج، فنقول من المدرج؟ المدرج إما صحابي وإما تابعي، وهؤلاء ممن تقولون إنه يُحتج بكلامهم، لنفرض أن هذا المدرج لم يتبين لنا هل هو من نص الحديث أم من المدرج، فنقول: المدرج هذا إنما هو صحابيٌّ، وأنتم تعتدون بقوله، لأنه في الوقت الذي لا زلتم تعتدون به، وإما أن يكون تابعيًّا، وكذلك أنتم تعتدون به، لأنهم حدّدوا إلى حدود مائة وخمسين من الهجرة في الحاضرة، وإلى حدود مائتان وخمسين من الهجرة في البادية، هؤلاء يُستشهد بكلامهم.
أما الدليل الرابع فهذا سهل الرد عليه جدًا وهو الأحاديث الضعيفة والموضوعة، نقول لهم إذا كان حديثًا موضوعًا فنحن معكم لا نقبله لأنه ليس حديثًا، مادام موضوعًا فليس من كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم فنحن لا نحتج به، وكذلك الضعيف بقدر الإمكان نتوقى أن نستشهد به؛ لأنه قد يكون ليس حديثًا لرسول الله صلى الله عليه وسلم.
প্রথম আপত্তির উত্তর হলো—ভাবার্থের ভিত্তিতে বর্ণিত (مروي بالمعنى) হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করা। আমরা তাদের বলি যে, তারা হাদিসের ভাবার্থের ভিত্তিতে বর্ণনার (رواية بالمعنى) সঠিকতার (صحة) জন্য শর্ত দিয়েছেন যে, বর্ণনাকারীকে ভাষার মূলনীতি সম্পর্কে বিজ্ঞ হতে হবে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায় বা কাঙ্ক্ষিত অর্থের বিচ্যুতি ঘটায় এমন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবেই তারা ভাবার্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন, অন্যথায় নয়।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো—হাদিসের সূত্রের (سند) মধ্যে অনারবদের সংমিশ্রণ। হে প্রিয়জনেরা! এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, এই অনারবরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ক্ষেত্রে ভুল করার ভয়ে খোদ আরবদের চেয়েও তাঁর শব্দগুলো হুবহু বর্ণনায় অধিক যত্নশীল হতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তিনি (অনারব বর্ণনাকারী) কাঙ্ক্ষিত অর্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ভয়ে শব্দে কোনো পরিবর্তন আনতেন না, বরং তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস অবিকল ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করতেন।
আর প্রক্ষেপণের (إدراج) অনুপ্রবেশের বিষয়ে আমরা বলব যে, প্রক্ষেপণকারী (مدرج) কে? প্রক্ষেপণকারী (مدرج) হয় একজন সাহাবি (صحابي) অথবা একজন তাবেয়ি (تابعي)। আর এঁরা এমন স্তরের লোক যাদের কথাকে আপনারা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। ধরে নিই, এই প্রক্ষিপ্ত বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয় যে এটি হাদিসের মূল পাঠ নাকি প্রক্ষেপণ (إدراج)। তবে আমরা বলব: এই প্রক্ষেপণকারী (مدرج) হয় একজন সাহাবি (صحابي)—যাঁর কথাকে আপনারা মান্য করেন, কারণ এখনো আপনারা তাদের কথাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন; অথবা তিনি একজন তাবেয়ি (تابعي)—যাঁকেও আপনারা মান্য করেন। কারণ তারা লোকালয়ের ক্ষেত্রে হিজরি ১৫০ সন এবং মরু অঞ্চলের ক্ষেত্রে হিজরি ২৫০ সন পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করেছেন, যাদের কথাকে সাক্ষ্য বা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
চতুর্থ দলিলের জবাব দেওয়া খুবই সহজ, আর তা হলো—দুর্বল (ضعيفة) এবং জাল (موضوعة) হাদিসসমূহ। আমরা তাদের বলি যে, যদি সেটি জাল (موضوع) হাদিস হয় তবে আমরাও আপনাদের সাথে একমত যে আমরা তা গ্রহণ করব না। কারণ সেটি হাদিসই নয়। যেহেতু সেটি জাল (موضوع), তাই সেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয় এবং আমরা তা দ্বারা দলিল পেশ করি না। একইভাবে দুর্বল (ضعيفة) হাদিসের ক্ষেত্রেও আমরা যথাসম্ভব সেটি দিয়ে প্রমাণ পেশ করা থেকে বিরত থাকি; কারণ হতে পারে সেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস নয়।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২২)
نعود لموضوعنا، أقول اعتمد النحويون في التأليف على القرآن الكريم، حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، الشعر، وقد حددت لكم المدة التي يستشهدون فيها، وهي حدود مائة وخمسين من الهجرة في الحاضرة، ومائتين وخمسين من الهجرة في البادية، وأيضًا اعتمدوا على أصلٍ عظيمٍ جدًا يُسمى بالقياس، يقيسون ما لم يُسمع على ما سُمع، فإذا ورد شيء قد قاله من يُحتج بكلامه فإننا نقيس عليه ما يُشبهه من الأساليب الأخرى، فهذه الأصول التي اعتمدوا عليها في التأليف.
أقول مرة أخيرة الطور الرابع هو طور الترجيح والبسط في التأليف، وهو بغدادي شامي
مصري أندلسي، وقد كانت مهمة الناس في حينه هو النظر في المسائل والترجيح فيما بينها وتقوية الأدلة، أو سرد الأدلة إن كانت موجودة من قبل أو ترجيح بعضها على بعض أو زيادة أدلة مما جد فيما بعد مما لم يطلع عليه السابقون، وهذا يعني كنا نريد أن تكون مختصرة موجزة ولكنها طال الكلام بنا فيها فنبدأ بعون الله تعالى الآن في النظر في كتاب الأجرومية.
الآجرومية أولاً هذا العنوان، سمة لكتاب اسمه المقدمة الآجرومية، أو مقدمة في النحو لابن آجروم ومؤلفه هو محمد بن محمد بن داود الصنهاجي أبو عبد الله المشهور بابن آجروم، ومعناه يقولون بلغة البربر الفقير الصوفي، هذا معناه معنى كلمة آجروم بلغة البربر والمؤلف رحمه الله تعالى ألف لنا هذه المقدمة وتتابع الناس على شرحها، ونحن بإذن الله تعالى سنبدأ في شرحها مستعينين بعونه تعالى، وهذا الكتاب في الحقيقة كما ذكرت لكم قبل قليل أو كما ذكرت في الحلقة الماضية أنه قد تتابع الناس على شرحه وأذكر لكم بعض الشروح الآن التي ذكرها حاجي خليفة في كتابة كشف الظنون في أسماء الكتب والفنون.
আমরা আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে আসি। আমি বলছি যে, ব্যাকরণবিদগণ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং কবিতার ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁরা যে সময়কাল পর্যন্ত প্রমাণ গ্রহণ (يستشهدون) করবেন, তা আমি আপনাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি; আর তা হলো লোকালয়ের ক্ষেত্রে হিজরি ১৫০ সন পর্যন্ত এবং মরুঅঞ্চলের ক্ষেত্রে হিজরি ২৫০ সন পর্যন্ত। এছাড়াও তাঁরা একটি অত্যন্ত মহান মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছেন যাকে অনুমান বা তুলনা (القياس) বলা হয়। তাঁরা যা শ্রুত নয় সেটিকে শ্রুত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করেন। সুতরাং যার কথা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج بكلامه) এমন কারো কাছ থেকে যদি কিছু বর্ণিত হয়, তবে আমরা তার অনুরূপ অন্যান্য বাচনভঙ্গিকে সেটির ওপর ভিত্তি করে অনুমান করে নেই। এগুলোই ছিল গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত মূলনীতি (الأصول)।
আমি শেষবারের মতো বলছি যে, চতুর্থ পর্যায়টি হলো গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح) এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার (البسط) পর্যায়। এটি ছিল বাগদাদি, শামি, মিসরি এবং আন্দালুসি পর্যায়। সেই সময়ে আলিমদের কাজ ছিল মাসআলাগুলো পর্যালোচনা করা এবং সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح) করা ও দলিলসমূহকে শক্তিশালী করা। অথবা দলিলগুলো আগে থেকে বিদ্যমান থাকলে সেগুলোর ধারাবাহিক বর্ণনা (سرد الأدلة) প্রদান করা, কিংবা একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া, অথবা পূর্ববর্তীদের নিকট অজানা ছিল এমন পরবর্তী নতুন দলিলসমূহ সংযোজন করা। এর অর্থ হলো, আমরা চেয়েছিলাম আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষিপ্তসার (مختصرة موجزة) করতে, কিন্তু আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেছে। তাই এখন আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে আল-আজরুমিয়া কিতাবটি পর্যালোচনায় মনোনিবেশ করব।
আজরুমিয়া—প্রথমত এই শিরোনামটি ‘আল-মুকাদ্দিমাতুল আজরুমিয়া’ বা ইবন আজরুমের নাহু বিষয়ক ভূমিকা বা মুকাদ্দিমা (مقدمة) নামক কিতাবের একটি বিশেষ পরিচয়। এর রচয়িতা হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন দাউদ আস-সিনহাজি আবু আব্দুল্লাহ, যিনি ইবন আজরুম নামে পরিচিত। বলা হয় যে, বার্বার ভাষায় এর অর্থ হলো ‘দরিদ্র সুফি’ (الفقير الصوفي)। বার্বার ভাষায় আজরুম শব্দের অর্থ এটাই। লেখক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের জন্য এই ভূমিকা (مقدمة) রচনা করেছেন এবং পরবর্তী আলিমগণ ধারাবাহিকভাবে এর ব্যাখ্যা (شرحها) প্রদান করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য কামনার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা শুরু করব। প্রকৃতপক্ষে এই কিতাবটি সম্পর্কে যেমনটি আমি কিছুক্ষণ আগে বলেছি অথবা গত পর্বে উল্লেখ করেছি যে, আলিমগণ ধারাবাহিকভাবে এর ব্যাখ্যা (شرحه) রচনা করেছেন। আমি এখন আপনাদের কাছে এমন কিছু ব্যাখ্যা গ্রন্থের (الشروح) কথা উল্লেখ করব যা হাজি খলিফা তাঁর কাশফুন জুনুন ফী আসমাইল কুতুবি ওয়াল ফুনুন কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال من الشروح التي ذكرها شرح ابن أبي إسحاق، شرح أبي إسحاق إبراهيم بن محمد المعروف ببرهان الدين المتوفى سنة تسعمائة وستة عشر، وشرح حسن بن حسين الطولوني المتوفى سنة ثمانمائة وستة وثلاثين وشرح محمد بن محمد المالكي المعروف بالراعي الأندلسي المتوفى سنة ثمانمائة وثلاثة وخمسين وسماه المستقل بالمفهومية في شرح ألفاظ الآجرومية وشرحها أيضا الشيخ خالد بن عبد الله الأزهري المتوفى سنة تسعمائة
وخمسة وله كتاب في إعرابها وعلى شرح الشيخ خالد الأزهري حاشية للعلامة أبي بكر بن إسماعيل الشنواني المتوفى سنة ألف وتسعة عشر، وللشنواني شرح مطول للآجرومية قال عنه حاجي خليفة:
جمع فيه نفائس الأقوال، ولا يزال الناس إلى الآن يتتالون ويتتابعون في دروس خاصة وفى دروس عامة وفى تأليف لشرح هذه المقدمة وذلك لأنها امتازت بوجزتها ووفائها بمعظم أبواب النحو، يعني يأتي بكلام موجز غير مخل، وفى الوقت نفسه يستوفي الحديث عن جميع الأبواب أو عن معظم الأبواب إذ لم نقل عن جميعها وسيتبن ذلك إن شاء الله تعالى، ومن آخر ما أعلمه أُلف من شروحها كتاب حاشية
الآجرومية للشيخ عبد الرحمن بن محمد ابن قاسم المتوفى سنة ثلاثمائة واثنين وتسعين من الهجرة ومن أوسع الشروح التي اطلعت عليها مقدمة شرح الشيخ أحمد بن على الرملي المتوفي سنة تسعمائة وواحد وسبعين، وقد حققه الدكتور على بن موسى الشوملى وعدد صفحاته مائتان وسبعون صفحة غير الفهارس وللأستاذ محمد محي الدين عبد الحميد، شرح عنوانه التحفة السنية بشرح المقدمة الآجرومية عدد صفحاتها مائة وثمانية وعشرون، وهذا الشرح شرح قيم وشرح طيب وشرح يمتاز بالتمثيل وبالسهولة واليسر، هذه حقيقة الشرح شرح الرملي أكبر وأوسع ومستوفى وشرح الشيخ أو الأستاذ محمد محي الدين عبد الحميد شرح وافي إلى حد ما، وعدد صفحاته كما قلت لكم مائة وثمانية وعشرون صفحة وهذا يعني آخر ما يمكن أن يقال بالنسبة للشروح
তিনি যে ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (شروح) কথা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে ইবনে আবি ইসহাকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح); বুরহান উদ্দিন নামে পরিচিত ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ৯১৬ হিজরি) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح); ৮৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাসান বিন হুসাইন আত-তুলুনির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح); এবং ৮৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-রাই আল-আন্দালুসি হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মালিকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), যার নাম তিনি দিয়েছেন 'আল-মুস্তাকিল্ল বিল-মাফহুমিয়্যাহ ফি শারহি আলফাজিল আজরুমিয়্যাহ'। এছাড়াও আজরুমিয়্যাহর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন শেখ খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আযহারি, যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন নয়শ
পাঁচ হিজরিতে এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) বিষয়ে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে। শেখ খালিদ আল-আযহারির ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) ওপর আল্লামা আবু বকর বিন ইসমাইল আল-শানওয়ানি (মৃত্যু ১০১৯ হিজরি) এর একটি টীকাগ্রন্থ (حاشية) রয়েছে। আল-শানওয়ানির আজরুমিয়্যাহর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রয়েছে যার সম্পর্কে হাজ্জি খলিফা বলেছেন:
"তিনি এতে অত্যন্ত মূল্যবান বক্তব্যসমূহ একত্রিত করেছেন।" মানুষ আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে বিশেষ পাঠদান, সাধারণ পাঠদান এবং এই ভূমিকাগ্রন্থের (مقدمة) ব্যাখ্যা (شرح) রচনায় মগ্ন রয়েছে। কারণ এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নাহুর অধিকাংশ অধ্যায় নিখুঁতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি এমন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য নিয়ে এসেছেন যা বিষয়বস্তুকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং একই সাথে সমস্ত অধ্যায় বা অধিকাংশ অধ্যায় সম্পর্কে আলোচনা সমাপ্ত করে, যদি আমরা সমস্ত অধ্যায়ের কথা নাও বলি। আর ইনশাআল্লাহ তা অচিরেই স্পষ্ট হবে। আমার জানামতে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (شروح) মধ্যে সর্বশেষ যা রচিত হয়েছে তা হলো শেখ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ ইবনে কাসিম (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি) এর 'হাশিয়াতুল
আজরুমিয়্যাহ' নামক টীকাগ্রন্থটি (حاشية)। আমি যে সমস্ত বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) দেখেছি তার মধ্যে অন্যতম হলো শেখ আহমদ বিন আলি আর-রামলি (মৃত্যু ৯৭১ হিজরি) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) ভূমিকা (مقدمة)। এটি ডক্টর আলি বিন মুসা আল-শুমালি সম্পাদনা (حقق) করেছেন এবং নির্ঘণ্ট ব্যতীত এর পৃষ্ঠা সংখ্যা হলো ২৭০। এছাড়া উস্তাদ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রয়েছে যার শিরোনাম হলো 'আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ বি শারহিল মুকাদ্দিমাতিল আজরুমিয়্যাহ', যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৮। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (شرح) অত্যন্ত মূল্যবান ও চমৎকার এবং এটি উদাহরণ প্রদান ও সহজবোধ্যতার জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। প্রকৃতপক্ষে আর-রামলির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (شرح) অধিক বড় ও বিস্তৃত এবং এটি পূর্ণাঙ্গ। আর শেখ বা উস্তাদ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (شرح) একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পর্যাপ্ত। আমি যেমনটি আপনাদের বলেছি এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৮। ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (شروح) বিষয়ে সর্বশেষ এটুকুই বলা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
نبدأ مستعينين بالله عز وجل كما بدأ المصنف أيضاً الآجرومية بقوله: (بسم الله الرحمن الرحيم) ، ورد حديث من الرسول صلى الله عليه وسلم (كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أقطع) وفى هذا الحديث مقال ذكر الألباني رحمه أنه ضعيف جداً، وقال ابن حجر في سنده ضعف، وقيل ما قيل عن هذا الحديث، على كل حال فقد بدأ المصنف مصنفه هذا ببسم الله الرحمن الرحيم، والبسملة هذه فيها كلام كثير للنحويين واللغويين في أصل اشتقاق كلمة اسم، وفى أصل اشتقاق كلمة لفظ الجلالة، وفى كلمة الرحمن وفى كلمة الرحيم، ولكننا لا نطيل الحديث فيه وإنما نأخذ كلاماً موجزاً جداً فأما كلمة اسم فإن بعضهم يرى أنها من الوسم لكونه علامة على من يسمى به، وبعضهم يرى أنه من السمو لأنه يعدو على المسمى ويدل على ما تحته هذا عن كلمة اسم، أما لفظ الجلالة ففيها كلام طويل وأذكر أن لسان العرب ذكر فيها عدداً من الصفحات، في أصل هذه الكلمة وفى شواهدها وفيما يتحدث فيها، ومن أبرز ما قال هل هي مأخوذة من الإله وحذفت الهمزة للتخفف فصارت الله، أو من لاه أو وله أو ما شاكل ذلك كلام أيضاً طويل في أصل اشتقاق هذه الكلمة وأما المراد منها فهو بدون شك المألوه أو المعبود، هذا هو المراد بلفظ الجلالة، بسم الله، الرحمن الرحيم صفتان تثبتان لله عز وجل الرحمة يقال إن الرحمن فيها مبالغة أكثر من الرحيم ويقال العكس، يقال إن صيغة فعيل أكثر من صيغة فعلان للدلالة على المبالغة ويقال العكس، وعلى كل حال فهاتان الصفتان لله سبحانه وتعالى قد وصف بهما نفسه وفيهما من المبالغة ما فيهما سواء أكانت هذه أو تلك فالمهم أن تلك الصيغتين في كل منهما مبالغة وسواء كانت الرحمن أكثر مبالغة أم الرحيم أكثر مبالغة ففيهما الصفة نفسها وإنما يؤتي بصيغة التفضيل للدلالة اشتراك أمرين في صفة وزيادة إحداهما على الأخرى في تلك الصفة انتهينا من هذا، يقال أيضاً بالنسبة للنحويين يتحدثون عن
আমরা মহান আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করে শুরু করছি, ঠিক যেভাবে গ্রন্থকারও তাঁর আজরুমিয়্যাহ গ্রন্থটি এই বাণী দিয়ে শুরু করেছেন: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: (প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ)। এই হাদিসটি নিয়ে পর্যালোচনা রয়েছে; আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً), এবং ইবনে হাজার এর সনদ (سند)-এ দুর্বলতা (ضعف) থাকার কথা বলেছেন। এই হাদিসটি সম্পর্কে যা কিছু বলার ছিল তা বলা হয়েছে। যাই হোক, গ্রন্থকার তাঁর এই কিতাবটি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু করেছেন। এই বিসমিল্লাহর ‘ইসম’ (নাম) শব্দটির মূল ব্যুৎপত্তি নিয়ে ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদদের অনেক আলোচনা রয়েছে, এমনকি ‘আল্লাহ’ (লফজুল জালালাহ) শব্দের মূল ব্যুৎপত্তি এবং ‘আর-রাহমান’ ও ‘আর-রাহিম’ শব্দগুলো নিয়েও। তবে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করব না, বরং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিছু বক্তব্য গ্রহণ করব। ‘ইসম’ শব্দের ক্ষেত্রে কেউ কেউ মনে করেন যে এটি ‘আল-ওয়াসম’ (চিহ্ন) থেকে এসেছে; যেহেতু এটি যাকে নাম দেওয়া হচ্ছে তার জন্য একটি চিহ্নস্বরূপ। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি ‘আস-সুমু’ (উচ্চতা) থেকে এসেছে; কারণ এটি নামধারী সত্তার ঊর্ধ্বে থাকে এবং তার পরিচয় জ্ঞাপন করে। ‘ইসম’ শব্দ সম্পর্কে আলোচনা এই পর্যন্তই। আর ‘আল্লাহ’ (লফজুল জালালাহ) শব্দটির ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে; আমার মনে পড়ে যে ‘লিসানুল আরব’ কিতাবে এ নিয়ে বেশ কয়েক পৃষ্ঠা ব্যাপী আলোচনা করা হয়েছে—এই শব্দের মূল উৎস, এর প্রয়োগ এবং এ সংক্রান্ত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বক্তব্যগুলোর একটি হলো: এটি কি ‘আল-ইলাহ’ থেকে গৃহীত এবং উচ্চারণের লাঘবের জন্য ‘হামজা’ বিলুপ্ত হয়ে ‘আল্লাহ’ হয়েছে, নাকি এটি ‘লা-হা’ অথবা ‘ওয়া-লা-হা’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো শব্দ থেকে এসেছে? এই শব্দের ব্যুৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘ তাত্ত্বিক কথা রয়েছে। তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে ‘আল-মালুহ’ বা ‘আল-মাবুদ’ (উপাস্য)। ‘আল্লাহ’ (লফজুল জালালাহ) দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। বিসমিল্লাহ; আর-রাহমান ও আর-রাহিম হলো মহান আল্লাহর দুটি গুণ যা তাঁর রহমত বা করুণাকে সাব্যস্ত করে। বলা হয় যে, ‘আর-রাহমান’ শব্দটিতে ‘আর-রাহিম’-এর তুলনায় আধিক্য বেশি রয়েছে, আবার এর বিপরীতটিও বলা হয়। বলা হয় যে আধিক্য বুঝাতে ‘ফাঈল’ ওজনটি ‘ফালান’ ওজনের চেয়ে বেশি কার্যকর, আবার কেউ এর উল্টোটি বলেন। যাই হোক, মহান আল্লাহ এই দুটি গুণ দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং এ দুটির মধ্যেই যথাযোগ্য আধিক্য বিদ্যমান, তা সেটি যেভাবেই হোক না কেন। মূল কথা হলো, এই দুটি রূপের প্রত্যেকটিতেই আধিক্য রয়েছে। ‘আর-রাহমান’-এ আধিক্য বেশি হোক বা ‘আর-রাহিম’-এ, উভয়ের মধ্যে মূল গুণটি একই। মূলত আধিক্যবাচক রূপ (সিগাতুত তাফদীল) আনা হয় দুটি বিষয়ের মধ্যে একই গুণের অংশীদারিত্ব এবং সেই গুণের ক্ষেত্রে একটির ওপর অন্যটির আধিক্য বুঝানোর জন্য। আমরা এই আলোচনা শেষ করলাম। ব্যাকরণবিদদের সম্পর্কে আরও বলা হয় যে, তারা আলোচনা করেন...
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إعراب بسم الله الرحمن الرحيم ويقولون أيضاً إن أنواع الجر في الكلام يعني يمثل به بلفظ البسملة فالجر إما أن يكون بحرف الجر وإما أن يكون بالإضافة وإما أن يكون بالتبعية وقد اجتمعت كلها في البسملة فأما حرف الجر فهو قوله باسم فلفظة اسم مجرور بالباء، وأما الإضافة فإن لفظ الجلالة هنا مجرور بالإضافة بإضافة اسم إليه وأما التبعية فلأن الرحمن تابع للفظ الجلالة مجرور والرحيم أيضاً تابع ثان فهذا أنواع الجر اجتمعت في البسملة وننصرف إلى غيرها.
قال المصنف (الكلام هو اللفظ المركب المفيد بالوضع) وهذه أمور تحتاج لها إلى وقت طويل ولكنا نوجز الحديث فيها إن شاء الله تعالى، أما ذكره لتام هنا فشبيه به تعريف
ابن مالك في قوله كلامنا لفظ مفيد لكنه زاد هنا بكلمة المركب وكلمة الوضع، طبعاً ابن مالك تعرفون كلامه شعر نظم كلامه نظم فقد يكون محاصراً ما يستطيع أن يزيد في الكلام أما هذا فكلامه منثور وكلامه صحيح وكلام ابن مالك صحيح نقول في شرح كلام ابن آجروم اللفظ ما اللفظ؟ اللفظ هو الصوت المشتمل على بعض الحروف، هذا هو اللفظ سواء أفادت معني أم لم تفد معنى، فأنت إذا قلت: "و"، وإذا قلت: حسن هذا لفظ، وإذا قلت: بيت هذا لفظ، وإذا قلت: إنسان هذا لفظ، وإذا قلت ديز مقلوب زيد هذا لفظ، كل شيء لفظ، فهو أعم ما يقال فيما سنتحدث عنه لأننا ربما تحدثنا عن اللفظ والقول والكلم
والكلمة والكلام ربما نتحدث عن هذا.
'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب)। তারা আরও বলেন যে, ভাষার মধ্যে কাসরা বা জারের (الجر) প্রকারভেদসমূহ মূলত বাসমালার শব্দের মাধ্যমে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়। শব্দ মাজরুর (مجرور) হওয়া মূলত তিনটি কারণে হয়: হরফে জারের (حرف الجر) মাধ্যমে, ইদাফাত (إضافة) বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অথবা অনুগামী (تبعية) হওয়ার মাধ্যমে। বাসমালার মধ্যে এই সবকটি প্রকারের সমাবেশ ঘটেছে। হরফে জারের বিষয়টি হলো তাঁর বাণী 'বিসম' (باسم) শব্দে, যেখানে 'ইসম' (اسم) শব্দটি 'বা' (باء) হরফ দ্বারা মাজরুর (مجرور) হয়েছে। আর ইদাফাতের বিষয়টি হলো এখানে মহান আল্লাহর পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) 'ইসম' শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হওয়ার কারণে মাজরুর (مجرور) হয়েছে। অনুগামী (تبعية) হওয়ার বিষয়টি হলো, 'আর-রাহমান' শব্দটি আল্লাহর পবিত্র নামের অনুগামী (تابع) হওয়ার কারণে মাজরুর এবং 'আর-রাহিম' শব্দটিও দ্বিতীয় অনুগামী (تابع) হিসেবে মাজরুর হয়েছে। সুতরাং এগুলোই হলো জারের (الجر) প্রকারভেদ যা বাসমালার মধ্যে একত্রিত হয়েছে। এখন আমরা অন্য বিষয়ে ফিরে যাই।
গ্রন্থকার বলেছেন: (বাক্য (الكلام) হলো শব্দ (اللفظ) যা যৌগিক (المركب), অর্থবোধক (المفيد) এবং যা ভাষার রীতি অনুযায়ী (بالوضع) গঠিত)। এ বিষয়গুলো আলোচনার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব। এখানে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ইবনে মালিকের সংজ্ঞার মতোই সংক্ষিপ্ল সংজ্ঞা।
ইবনে মালিক তাঁর বক্তব্যে বলেছেন: 'আমাদের নিকট কালাম হলো অর্থবোধক শব্দ (اللفظ)'। কিন্তু তিনি (ইবনে আজুররুম) এখানে যৌগিক (المركب) এবং ভাষার রীতি অনুযায়ী (بالوضع) শব্দ দুটি বৃদ্ধি করেছেন। অবশ্যই আপনারা জানেন যে ইবনে মালিকের বক্তব্য কবিতা বা পদ্য; তাঁর কথাগুলো ছন্দবদ্ধ। তাই তিনি হয়তো ছন্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সংজ্ঞায় অতিরিক্ত শব্দ যোগ করতে পারেননি। পক্ষান্তরে, এই লেখকের বক্তব্য হলো গদ্য। তাঁর বক্তব্য সঠিক এবং ইবনে মালিকের বক্তব্যও সঠিক। ইবনে আজুররুমের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় আমরা বলি, শব্দ (اللفظ) কী? শব্দ (اللفظ) হলো এমন আওয়াজ যা কিছু বর্ণের সমষ্টি। এটিই হলো শব্দ (اللفظ), চাই তা কোনো অর্থ প্রকাশ করুক বা না করুক। আপনি যখন বলেন: 'ওয়াও', কিংবা যখন বলেন: 'হাসান', এটি একটি শব্দ (اللفظ)। যখন বলেন: 'বাইত' (ঘর), এটি একটি শব্দ (اللفظ)। যখন বলেন: 'ইনসান' (মানুষ), এটি একটি শব্দ (اللفظ)। এমনকি যখন 'যাইদ'-এর বিপরীত 'দাইয' বলেন, সেটিও একটি শব্দ (اللفظ)। প্রতিটি জিনিসই শব্দ (اللفظ)। আমরা যা নিয়ে আলোচনা করব তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ব্যাপক পরিভাষা, কারণ হয়তো আমরা শব্দ (اللفظ), উক্তি (القول) এবং কালিমা সমষ্টি (الكلم) নিয়ে আলোচনা করব।
কালিমা (الكلمة) এবং বাক্য (الكلام) নিয়েও হয়তো আমরা আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال (الكلام هو اللفظ المركب) لا يكون الكلام غير مركب، بل إن النحو كله على التركيب، تعرف أن الكلمة مبنية وتعرف أنها معربة أو تعرف أنها فاعل أو تعرف أنها مبتدأ أو تعرف أنها خبر إذا كانت مركبة، أما إذا كانت غير مركبة كقولك مثلاً بيت، وجدار وأرض وسقف وإلى أخره هذه ليست كلاماً، ولا تعتبر نحواً لا نعرف لا نقول فاعل ولا نقول ولذلك يقولون لما تعدت حروف الهجاء مثلاً أ، ب، ت، ث تسكنها كلها ولا تقول أٌ، بٌ، تٌ، ثٌ لأنها ما لها محال من الإعراب ما لم تكن مركبة، فإذا كان الكلام مركباً بعضه إلى بعض فهو علم النحو فالمقصود بالمركب هنا أن يكون أكثر من كلمة لابد، لابد أن يكون أكثر من كلمة، قولك محمد حاضر هذا كلام، قولك قم هذا كلام أنت قبل قليل تقول لابد أن يكون مكون من كلمتين، فلماذا قلت قم كلام أقول لك نعم، قم كلام لأنها كلمة ظاهرة وكلمة مخفية أما الكلمة الظاهرة فهي قم اللفظ اللام والميم، أما الكلمة المخفية فهي الضمير المستتر وهذا مستتر وجوباً، وهذا لابد أن تقدره لأنه عمدة ولأنه فاعل، فصار عندنا كلمتان، فسواء كان هذان اللفظان مذكورين، أم كان واحد منهما مقدراً، فإذا لابد أن يكون الكلام مركباً، اللفظ المركب.
তিনি বলেছেন, (বাক্য হলো শব্দসমষ্টির সমন্বিত রূপ)। বাক্য কখনোই সমন্বিত (مركب) হওয়া ব্যতীত হতে পারে না, বরং সমগ্র ব্যাকরণশাস্ত্র (النحو) এই সমন্বয়ের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। আপনি তখনই জানতে পারেন যে একটি শব্দ অপরিবর্তনীয় (مبني), নাকি তা রূপান্তরশীল (معرب), অথবা সেটি কি কর্তা (فاعل), উদ্দেশ্য (مبتدأ) নাকি বিধেয় (خبر)—যদি তা সমন্বিত (مركب) অবস্থায় থাকে। কিন্তু যদি শব্দটি সমন্বিত (مركب) না হয়, যেমন আপনার বলা: ঘর, দেয়াল, ভূমি এবং ছাদ ইত্যাদি—তবে এগুলোকে বাক্য (كلام) বলা যাবে না এবং এগুলো ব্যাকরণশাস্ত্রের (النحو) অন্তর্ভুক্ত হবে না। আমরা এগুলোকে কর্তা (فاعل) বলব না। এই কারণেই যখন বর্ণমালার অক্ষরগুলো যেমন: আলিফ, বা, তা, সা পৃথকভাবে গণনা করা হয়, তখন আপনি সেগুলোকে সাকিন বা স্থির করে পড়েন; আপনি সেগুলোকে পেশ দিয়ে পড়েন না। কারণ বাক্য হিসেবে সমন্বিত (مركب) না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর ব্যাকরণিক রূপান্তরের (إعراب) কোনো অবকাশ থাকে না। সুতরাং, যখন শব্দসমূহ একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়, তখনই তা ব্যাকরণশাস্ত্র (علم النحو) হিসেবে গণ্য হয়। এখানে সমন্বিত (مركب) বলতে উদ্দেশ্য হলো, একে অবশ্যই একাধিক শব্দের সমষ্টি হতে হবে। যেমন আপনার কথা: 'মুহাম্মাদ উপস্থিত'—এটি একটি বাক্য (كلام)। আবার আপনার কথা: 'দাঁড়াও'—এটিও একটি বাক্য (كلام)। আপনি বলতে পারেন যে, কিছুক্ষণ আগেই তো বলা হলো বাক্যকে অবশ্যই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে, তাহলে 'দাঁড়াও' কীভাবে বাক্য হলো? আমি আপনাকে বলব: হ্যাঁ, 'দাঁড়াও' একটি বাক্য (كلام); কারণ এতে একটি প্রকাশ্য শব্দ এবং একটি গোপন শব্দ বিদ্যমান। প্রকাশ্য শব্দটি হলো 'কুম', যা ক্বাফ এবং মীম বর্ণের সমষ্টি। আর গোপন শব্দটি হলো উহ্য সর্বনাম (الضمير المستتر), যা এখানে উহ্য থাকা বাধ্যতামূলক (وجوباً)। আপনাকে এটি অবশ্যই উহ্য (مقدر) ধরে নিতে হবে, কারণ এটি বাক্যের প্রধান অংশ (عمدة) এবং এটিই কর্তা (فاعل)। ফলে আমাদের নিকট দুটি শব্দ সাব্যস্ত হলো। সুতরাং এই শব্দ দুটি উল্লিখিত থাকুক কিংবা তার কোনো একটি উহ্য (مقدر) থাকুক—উভয় ক্ষেত্রেই বাক্যকে অবশ্যই সমন্বিত (مركب) হতে হবে, যাকে বলা হয় সমন্বিত শব্দ (اللفظ المركب)।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعد هذا لابد أن يكون مفيداً، فإن لم يكن مفيداً حتى لو كان مركباً فليس كذلك، هل عندنا شيء يكون مركب وغير مفيد؟ قال: نعم، عندنا شيء يسمونه الكلم وهو ما تكون من ثلاث كلمات فأكثر سواء أفاد أم لم يفد، فإذا قلت مثلاً إذا جاء عبد الله فهذا كلمٌ لكونه مكون من أربع كلمات وليس كلاماً؛ لأنه لم يفد فائدة يحسن السكوت عليها، وليس كلمة لأنه مركب، هل هو لفظ يا أيها الأحباب؟ الجواب: نعم، لأن اللفظ هو الصوت، فمجرد ما تقول أي صوت، سواء كان كلمة كلمتين ثلاث، مفيد غير مفيد، هذا لفظ، إذاً الكلام هو اللفظ المركب المفيد، لابد أن يفيد فائدة يحسن السكوت عليها فإذا قلت مثلاً: محمدٌ مجتهدٌ، فهذا كلام، فإذاً هل نعده كلماً؟ لا نعده كلماً، لماذا؟ قال لأنه أقل من ثلاث كلمات والكلم لابد أن يتكون من ثلاث كلمات فأكثر، فإذا قلنا إذا جاء محمد فهذا كلم وليس كلاماً وليس كلمة، فإذا قلنا إذا جاء محمد أكرمته، فإن هذا كلاماًَ وكلم وقول ولفظ يعني كل هذه تنطبق عليه.
بقينا في كلمة واحدة في التعريف وهي كلمة بالوضع، فما المراد بها؟ اختلف شراح ابن آجروم أو مقدمة ابن آجروم في المراد بقوله بالوضع فبعضهم يقولون المراد بكلمة الوضع، القصد أن يكون المتكلم قاصداً إفادة السامع، وبعضهم يقول لا ليس المقصود به القصد وإنما المقصود به أن يكون مما تعارف العرب على وضعه، يعني ما تأتي بكلمة ليست مشهورة عند العرب بأنها تفيد فائدة ديز تجتهد مثلاً هذه لم يتواضع العرب على معرفة مثل هذا الكلام فهو كلام حتى لو أنه لو قلت أنه إن هاتين كلمتان متقابلتان ويمكن أن
يقول واحد الأولى منهم مبتدأ والثاني خبراً، تكون مبتدأً والثانية خبراً لكنها ليست من الكلام الذي وضعه العرب، إذا لابد أن يقول ولعل هذا هو الأقوى في تفسير قوله الكلام هو اللفظ المركب المفيد بالوضع.
এরপরে একে অবশ্যই অর্থবহ (مفيد) হতে হবে। যদি তা অর্থবহ (مفيد) না হয়, এমনকি যদি তা যৌগিক (مركب) হয় তবুও তা কালাম হিসেবে গণ্য হবে না। আমাদের কাছে কি এমন কিছু আছে যা যৌগিক (مركب) কিন্তু অর্থবহ (مفيد) নয়? উত্তর হলো: হ্যাঁ, আমাদের কাছে এমন একটি বিষয় আছে যাকে তারা কালিম (الكلم) বলে অভিহিত করেন; আর তা হলো যা তিন বা ততোধিক শব্দ (كلمات) দ্বারা গঠিত হয়, তা অর্থ প্রকাশ করুক বা না করুক। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বলেন: "যদি আবদুল্লাহ আসে", তবে এটি কালিম (كلم); কারণ এটি চারটি শব্দ (كلمات) দ্বারা গঠিত। কিন্তু এটি কালাম (كلام) নয়; কারণ এটি এমন কোনো অর্থ প্রকাশ করেনি যার ওপর নীরব থাকা যায় (فائدة يحسن السكوت عليها)। আবার এটি কালিমাহ (كلمة) বা একক শব্দও নয়; কারণ এটি যৌগিক (مركب)। হে প্রিয়জনরা, এটি কি লফজ (لفظ)? উত্তর হলো: হ্যাঁ, কারণ লফজ (اللفظ) হলো কণ্ঠস্বর (الصوت)। সুতরাং আপনি যেকোনো শব্দ উচ্চারণ করলেই—তা একটি শব্দ হোক, দুটি হোক বা তিনটি হোক, অর্থবহ হোক বা না হোক—তা লফজ (لفظ)। সুতরাং, কালাম (الكلام) হলো সেই লফজ (اللفظ) যা যৌগিক (المركب) এবং অর্থবহ (المفيد)। একে অবশ্যই এমন অর্থ প্রদান করতে হবে যার ওপর নীরব থাকা সঙ্গত হয়। যেমন আপনি যদি বলেন: "মুহাম্মাদ পরিশ্রমী", তবে এটি কালাম (كلام)। তাহলে আমরা কি একে কালিম (كلم) হিসেবে গণ্য করব? না, আমরা একে কালিম (كلم) হিসেবে গণ্য করব না। কেন? কারণ এটি তিনটি শব্দের কম; অথচ কালিম (الكلم) হওয়ার জন্য অবশ্যই তিন বা ততোধিক শব্দ (كلمات) দ্বারা গঠিত হতে হবে। আর যদি আমরা বলি: "যদি মুহাম্মাদ আসে", তবে এটি কালিম (كلم), কিন্তু এটি কালাম (كلام) নয় এবং কালিমাহ (كلمة)-ও নয়। কিন্তু আমরা যদি বলি: "যদি মুহাম্মাদ আসে তবে আমি তাকে সম্মান করব", তবে এটি কালাম (كلام), কালিম (كلم), কাওল (قول) এবং লফজ (لفظ)—অর্থাৎ এই সবগুলো সংজ্ঞাই এর ওপর প্রযোজ্য।
সংজ্ঞার মধ্যে কেবল একটি শব্দ অবশিষ্ট রইল, আর তা হলো 'বিল-ওয়াদ' (بالوضع)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী? ইবনে আজরুমের বা মুকাদ্দিমা ইবনে আজরুমের ব্যাখ্যাদাতারা 'বিল-ওয়াদ' (بالوضع) কথাটির উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, ওয়াদ (الوضع) শব্দের উদ্দেশ্য হলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়া (القصد); অর্থাৎ বক্তার উদ্দেশ্য হবে শ্রোতাকে কোনো তথ্য প্রদান করা। আবার কেউ কেউ বলেন, না, এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইচ্ছা (القصد) নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি আরবদের ভাষাগত রীতি ও ব্যবহারের (وضعه) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ, আপনি এমন কোনো শব্দ নিয়ে আসবেন না যা আরবদের নিকট অর্থ প্রকাশের জন্য প্রসিদ্ধ নয়। উদাহরণস্বরূপ "দীয তাজতাহিদু"; আরবরা এ জাতীয় কথা বুঝতে অভ্যস্ত নয়। সুতরাং এটি কালাম (كلام) হিসেবে গণ্য হবে না, যদিও আপনি বলেন যে এখানে দুটি শব্দ পরস্পর বিপরীতমুখী এবং কেউ হয়তো বলতে পারে যে প্রথমটি মুক্তাদা (مبتدأ) এবং দ্বিতীয়টি খবর (خبر); অর্থাৎ এটি মুক্তাদা ও খবর হতে পারে ঠিকই, কিন্তু এটি আরবদের প্রতিষ্ঠিত ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং একে অবশ্যই আরবদের ভাষাগত রীতি অনুযায়ী হতে হবে। সম্ভবত ইবনে আজরুমের উক্তি— "কালাম হলো সেই লফজ (اللفظ) যা যৌগিক (المركب), অর্থবহ (المفيد) এবং আরবদের ভাষাগত রীতি অনুযায়ী (بالوضع)"—এর ব্যাখ্যায় এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী অভিমত।
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بعد هذا ننتقل إلى بيان بعض الأمور المتعلقة بهذا فنقول: الكلام انتهينا من شرحه الكلمة تعريفها هي القول المفرد، فما القول إذاً؟ القول هو اللفظ لكن لابد فيه زيادة، القول هو اللفظ الدال على معنى ولا يلزم أن يكون مفيداً فائدة يحسن السكوت عليها، لا، لكن يدل على معنى هذا القول، المفرد هو عكس المركب، حتى تكون كلمة واحدة فقط، أما المركب فلابد أن يكون من كلمتين فأكثر، إذاً عندنا الكلمة هي القول المفرد اللفظ هو الصوت المشتمل على بعض الحروف القول هو اللفظ الدال على معنى، الكلم هو يعرّفه ابن هشام بقوله هو اسم جنس جمعي واحدته كلمة، ولابد أن يكون مكوناً من ثلاث كلمات فأكثر لكن لا يشترط فيه الإفادة، فقد يجتمع الكلام والكلم، وقد ينفرد كل واحد منهما بصفة، لكن الكلمة والكلام ما يجتمعان، والقول يمكن أن يكون كلاماً، ويمكن أن يكون كلماً، واللفظ عام في الجميع، لأنه لا يلزم إلا لفظة واحدة فقط يعني خروج صوت من اللسان سواء أكان هذا الصوت دالاً على معني أم لم يكن دالاً على معني، فأقول قد يجتمع الكلام والكلم وقد ينفرد كل واحد منهما، فأما اجتماعهما فنحو قولك إذا جاء عليٌ أكرمته، وأما انفراد الكلم فقولك إذا جاء عليٌ وأما انفراد الكلام فقولك جاء
محمدٌ.
واضح هذا الكلام؟ حتى ننتقل إلى غيره، هذه مقدمات لابد منها، ولا تستصعبوا الأمر فهو سيسهل إن شاء الله تعالى لكننا نحن في البداية والتأسيس هذا شرطه لابد أن يتأسس على معناً قوي نكتفي بهذا الإيضاح قول المصنف الكلام هو اللفظ المركب المفيد بالوضع، وننتقل بعده إن شاء الله في اللقاء القادم إلى شرح غيره، والآن الأمر إليكم إذا كنتم تريدون توجيه بعض الأسئلة المتعلقة بهذا اللقاء، تفضل.
سأل أحد الطلبة:
لا يمكن أن يكون معنى الوضع أنه موضوع بأحرف عربية؟
أجاب الشيخ:
এরপর আমরা এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় বর্ণনার দিকে অগ্রসর হব। আমরা বলছি: বাক্য (الكلام) এর ব্যাখ্যা আমরা সম্পন্ন করেছি। শব্দ (الكلمة) এর সংজ্ঞা হলো একক উক্তি (القول المفرد); তাহলে উক্তি (القول) কী? উক্তি (القول) হলো উচ্চারণ (اللفظ), তবে এতে কিছু অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। উক্তি (القول) হলো এমন উচ্চারণ (اللفظ) যা কোনো অর্থের (معنى) ওপর নির্দেশ করে, এবং এতে এমন অর্থবোধকতা (الإفادة) থাকা জরুরি নয় যার ওপর নিশ্চুপ থাকা সমীচীন হয়; না, বরং এটি স্রেফ কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করলেই তাকে উক্তি (القول) বলা হয়। একক (المفرد) হলো যৌগিক (المركب) এর বিপরীত, যাতে সেটি মাত্র একটি শব্দ হয়। পক্ষান্তরে যৌগিক (المركب) হওয়ার জন্য অবশ্যই দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে। অতএব, আমাদের নিকট শব্দ (الكلمة) হলো একক উক্তি (القول المفرد)। উচ্চারণ (اللفظ) হলো এমন ধ্বনি যা কিছু বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। উক্তি (القول) হলো এমন উচ্চারণ (اللفظ) যা কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে। কালিম (الكلم) সম্পর্কে ইবনে হিশাম বলেন, এটি হলো সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس جمعي), যার একক হলো শব্দ (الكلمة)। আর এটি অবশ্যই তিন বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে, তবে এতে অর্থবোধকতা (الإفادة) শর্ত নয়। কখনো বাক্য (الكلام) এবং কালিম (الكلم) একত্রিত হতে পারে, আবার কখনো তাদের প্রত্যেকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পৃথক হতে পারে। কিন্তু শব্দ (الكلمة) এবং বাক্য (الكلام) একত্রিত হয় না। উক্তি (القول) কখনো বাক্য (الكلام) হতে পারে, আবার কখনো কালিম (الكلم) হতে পারে। আর উচ্চারণ (اللفظ) সবকিছুর ক্ষেত্রেই ব্যাপক; কারণ উচ্চারণ (اللفظ) হওয়ার জন্য কেবল একটি ধ্বনি নির্গত হওয়াই যথেষ্ট, অর্থাৎ জিহ্বা থেকে ধ্বনি নির্গত হওয়া, চাই সেই ধ্বনি কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করুক বা না করুক। তাই আমি বলছি, কখনো বাক্য (الكلام) ও কালিম (الكلم) একত্রিত হয়, আবার কখনো তারা পৃথকভাবে অবস্থান করে। তাদের একত্রিত হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "যদি আলী আসে তবে আমি তাকে সম্মান করব।" আর শুধু কালিম (الكلم) এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "যদি আলী আসে"। আর শুধু বাক্য (الكلام) এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: এসেছে
মুহাম্মদ।
এই আলোচনা কি স্পষ্ট? যাতে আমরা অন্য বিষয়ে যেতে পারি। এগুলো হলো আবশ্যকীয় ভূমিকা, আপনারা বিষয়টিকে কঠিন মনে করবেন না, ইনশাআল্লাহ এটি সহজ হয়ে যাবে। তবে আমরা এখন প্রারম্ভিক ও ভিত্তি স্থাপনের পর্যায়ে আছি, আর এর শর্ত হলো একে শক্তিশালী মর্মের (معنى) ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। লেখকের উক্তি—"বাক্য (الكلام) হলো আরবী ব্যাকরণসম্মত রীতি অনুযায়ী (بالوضع) অর্থবোধক (المفيد) যৌগিক (المركب) উচ্চারণ (اللفظ)"—এর এই ব্যাখ্যাটুকুই যথেষ্ট। ইনশাআল্লাহ আগামী অধিবেশনে আমরা পরবর্তী অংশের ব্যাখ্যায় যাব। এখন আপনারা যদি এই অধিবেশন সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্ন করতে চান, তবে করতে পারেন। বলুন।
জনৈক ছাত্র প্রশ্ন করলেন:
রীতি (الوضع) এর অর্থ কি এমন হতে পারে না যে, এটি আরবি বর্ণমালার মাধ্যমে গঠিত?
শায়খ উত্তর দিলেন:
(খণ্ড: ১)
শরহুল আজরুমিয়্যাহ - হাসান হিফজি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هو هذا الكلام الذي رجحناه، لكن على ما اصطلح عليه العرب، هو إذا كانت الألفاظ فقط عربية فقد تكون مركبة في داخل الكلمة الواحدة تركيباً لم يتواضع العرب عليه أو لم يتواطئ العرب على أنه دال على معنى فإذاً لا نقبله، حتى لو كان مثلاً كلمة ديز حروفها كلها عربية لكنها ليست مما اتفقوا على أنه يعني يمكن أن يكون دالاً على معناً معين إذاً لابد أن يكون دالاً على معناً موضوع متعارف عليه عند العرب.
سأل أحد الطلبة:
جزاكم الله خير فضيلة الشيخ، ذكرتم أن أهل الكوفة تلاميذ أهل البصرة وكانوا على ود ثم انقلب عليهم أهل الكوفة، فما هي أسباب الانقلاب عليهم وأيهما المعتمد الآن مذهب البصرة أم مذهب أهل الكوفة؟
أجاب الشيخ:
أما هذه المعركة التي جرت واستمرت فترات طويلة بين الكوفيين والبصريين، فلعل منشأها هو التنافس العلمي في بداية الأمر يعني في أول ما بدأ الكوفيون كانوا يعني مجرد تلاميذ للبصريين وكانوا يقرون بكل ما عندهم ويعترفون به لكن لما بدأ يقوى عودهم تعرف أنت التنافس العلمي بين المتعاصرين في أغلب الأحيان حتى علماء الشريعة في بعض الأحيان يقوم بينهم ومشهور بين ابن حجر والعيني يعني هما من علماء الشريعة يعني فيهم فضل كبير، لكن التنافس العلمي لا ينكر فقل ربما كان هذا هو الدافع للتنافس، أما المعتمد الآن فأغلب ما نعتمد عليه نحن وهذا تلقيناه عن مشايخنا هو كلام البصريين لقوة منهجهم في الاستدلال وأنهم لم يكونوا يعتمدون على الشاهد والشاهدين والثلاثة وفى الوقت نفسه كانوا يتوخون الأخذ عن يعني المعتد بكلامه أكثر وعن من لم يختلطوا بالأعاجم فنحن نعتمد في كثير من الأحيان على
البصريين، ولكن إذا تبين لنا أن الرأي الكوفي دليل قوي وشواهده كثيرة فنحن نرمي بالرأي الآخر عرض الحائط ونأخذ برأي صاحب الدليل القوي ويعني تعدد شواهده نأخذه ولا نتردد.
سأل أحد الطلبة:
এটিই সেই বক্তব্য যা আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি, তবে আরবরা যে পরিভাষা (اصطلاح) ব্যবহার করত সেই অনুযায়ী। বিষয়টি এমন যে, শব্দগুলো যদি কেবল আরবিও হয়, তবুও একটি শব্দের অভ্যন্তরীণ গঠন এমন হতে পারে যা আরবরা নির্ধারণ করেনি অথবা আরবরা সেটি কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের প্রকাশক হওয়ার বিষয়ে একমত হয়নি; সেক্ষেত্রে আমরা তা গ্রহণ করব না। এমনকি উদাহরণস্বরূপ ‘দিয’ শব্দটি, এর প্রতিটি বর্ণই আরবি কিন্তু আরবরা এটি কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের নির্দেশক হওয়ার বিষয়ে একমত হয়নি। সুতরাং এটি অবশ্যই আরবদের নিকট পরিচিত কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের নির্দেশক হতে হবে।
একজন ছাত্র প্রশ্ন করলেন:
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান শ্রদ্ধেয় শায়খ। আপনি উল্লেখ করেছেন যে, কুফাবাসীরা বসরার অধিবাসীদের ছাত্র ছিল এবং তাদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, পরবর্তীতে কুফাবাসীরা তাদের বিরুদ্ধে চলে যায়। এই বিরোধের কারণগুলো কী এবং বর্তমানে কোনটি নির্ভরযোগ্য (معتمد) হিসেবে গণ্য—বসরার মাযহাব নাকি কুফার মাযহাব?
শায়খ উত্তর দিলেন:
কুফাবাসী ও বসরাবাসীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে যে লড়াই চলেছিল, সম্ভবত তার মূল কারণ ছিল শুরুর দিকের ইলমি প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ কুফাবাসীরা যখন শুরু করেছিল, তখন তারা নিছক বসরার অধিবাসীদের ছাত্র ছিল এবং তাদের কাছে যা ছিল তার সবকিছু তারা মেনে নিত ও স্বীকার করত। কিন্তু যখন তাদের ভিত্তি মজবুত হতে শুরু করল, তখন সমসাময়িকদের মধ্যে ইলমি প্রতিযোগিতা শুরু হয় যা সাধারণত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এমনকি শরয়ি আলেমদের মধ্যেও মাঝে মাঝে এটি ঘটে থাকে; যেমন ইবনে হাজার ও আইনি-র মধ্যবর্তী বিষয়টি প্রসিদ্ধ (مشهور)। তারা দুজনেই শরয়ি আলেম এবং অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন, তবে ইলমি প্রতিযোগিতাকে অস্বীকার করা যায় না। তাই বলা যায় সম্ভবত এটিই ছিল প্রতিযোগিতার মূল প্রেরণা। আর বর্তমানে নির্ভরযোগ্যতার (معتمد) বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা অনুসরণ করি এবং আমাদের মাশায়েখদের কাছ থেকে যা লাভ করেছি, তা হলো বসরাবাসীদের বক্তব্য। কারণ তাদের দলিল (دليل) প্রদানের পদ্ধতি বা ইস্তিদলাল (استدلال) অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা কেবল একটি, দুটি বা তিনটি শাহিদ (شاهد)-এর ওপর নির্ভর করতেন না। একই সাথে তারা তাদের কাছ থেকে গ্রহণের বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন যাদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য এবং যারা অনারবদের সাথে মিশে যাননি। তাই আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বসরাবাসীদের ওপরই নির্ভর করি।
তবে যদি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কুফাবাসীদের মতের পক্ষে শক্তিশালী দলিল (دليل) রয়েছে এবং এর অনেক শাহিদ (شاهد) বিদ্যমান, তবে আমরা অপর মতটি ছুড়ে ফেলি এবং শক্তিশালী দলিলের (دليل) অধিকারীর মতটিই গ্রহণ করি; অর্থাৎ যার শাহিদ (شاهد) অধিক, আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা গ্রহণ করি।
একজন ছাত্র প্রশ্ন করলেন: