(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الأجرومية للأسمري القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح الأجرومية
المؤلف: أبو مُحمَّدٍ، صالحُ بنُ مُحمَّدٍ بنِ حسنٍ آلُ عُمَيِّرٍ، الأسمريُّ، القحْطانيُّ
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 111
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আসমারি রচিত শারহু আল-আজুরুমিয়্যাহ বিভাগ: নাহু ও সারফ
গ্রন্থ: শারহু আল-আজুরুমিয়্যাহ
লেখক: আবু মুহাম্মাদ, সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল উমাইর, আল-আসমারি, আল-কাহতানি
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحمد لله الذي رفع السماء بغير عماد، وخفض الأرض وقدر فيها أقواتها لنفع العباد، وثبَّتها بنصْب الرواسي والأوتاد، وجَزَمَ بوحدانيته أهل البغي والإلحاد، والصلاة والسلام على أفصح من نطق بالضاد، وعلى آله وصحبه السالكين سبيل الرشاد، وعلى من ورد مشرعهم، وترسّم خطاهم إِلى يوم المعاد. أما بعد
… (فإن العلم فخرٌ يبقى على مرور الأحقاب، وذكرٌ يتوارثه الأعقاب بعد الأعقاب، وأول المجد وآخره، وباطن الشرف وظاهره، به يُترقى على كل المراتب، وبه يتوصل إِلى المآرب والمطالب، وهو الأربح مرعاه، وهو الأرفع مسعاه، يملأ العيون نوراً، القلوب سروراً، ويزيد الصدور انشراحاً، ويفيد الأمور انفساحاً،، وهو الغُنْم الأكبر، والحظ الأوفر، والبغية العظمى، والمنية الكبرى) (1) .
ألا وإن من أجلّ العلوم وأعظمها، وأشرفها وأهمها: علم العربية إِذْ هي (خير اللغات والألسنة، والإقبال على تفهمها من الديانة؛ إِذْ هي أداة العلم، ومفتاح التفقه في الدين) (2) .
كما أن (معرفتها ضرورية على أهل الشريعة؛ إِذْ مأخذ الأحكام الشرعية كلها من الكتاب والسنة، وهي بلغة العرب، ونَقَلَتُها من الصحابة والتابعين عرب، وشرحُ مشكلاتها من لغاتهم، فلابد من معرفة العلوم المتعلِّقة بهذا اللسان لمن أراد علم الشريعة) (3) .
قال عمر رضي الله عنه: ''تعلَّموا العربية فإنها تزيد في المروءة'' (4) .
--------------------------------------------
الحمد لله الذي رفع السماء بغير عماد، وخفض الأرض وقدر فيها أقواتها لنفع العباد، وثبَّتها بنصْب الرواسي والأوتاد، وجَزَمَ بوحدانيته أهل البغي والإلحاد، والصلاة والسلام على أفصح من نطق بالضاد، وعلى آله وصحبه السالكين سبيل الرشاد، وعلى من ورد مشرعهم، وترسّم خطاهم إِلى يوم المعاد. أما بعد
... (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো খুঁটি ছাড়াই আসমানকে সমুন্নত করেছেন, জমিনকে নিচু করেছেন এবং বান্দাদের উপকারের জন্য তাতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি সুউচ্চ পাহাড় ও কীলক স্থাপনের মাধ্যমে জমিনকে স্থির করেছেন এবং সীমালঙ্ঘনকারী ও নাস্তিকরা পর্যন্ত তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যিনি আরবি ভাষায় সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর, যারা সঠিক পথের অনুসারী ছিলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। অতঃপর... নিশ্চয়ই জ্ঞান এমন এক গৌরব যা যুগ যুগ ধরে টিকে থাকে এবং এমন এক স্মরণ যা বংশ পরম্পরায় অর্জিত হয়। এটিই মর্যাদার শুরু ও শেষ, এটিই সম্মানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রূপ। এর মাধ্যমেই সকল স্তরে আরোহণ করা যায় এবং এর মাধ্যমেই যাবতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিল হয়। এর চারণভূমিই সবচেয়ে লাভজনক এবং এর প্রচেষ্টাই সবচেয়ে উচ্চতর। এটি চক্ষুকে নূর দিয়ে এবং অন্তরকে আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করে, বক্ষকে প্রশস্ত করে এবং বিষয়াদিতে প্রসারতা দান করে। এটিই শ্রেষ্ঠ অর্জন, বড় পাওনা, সুমহান লক্ষ্য এবং সর্বোত্তম আকাঙ্ক্ষা।) (১) ।
জেনে রাখুন, সুমহান, শ্রেষ্ঠ, মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো আরবি ভাষার জ্ঞান; কেননা এটি (ভাষা ও বাচনভঙ্গির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তা অনুধাবন করার প্রতি মনোনিবেশ করা দ্বীনেরই অংশ; কারণ এটি ইলমের মাধ্যম এবং দ্বীনি সমঝ-বুঝ অর্জনের চাবিকাঠি) (২) ।
তদ্রূপ, (শরীয়তপন্থীদের জন্য এটি জানা অপরিহার্য; কেননা শরীয়তের সকল আহকামের উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ, যা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। আর এর বর্ণনাকারী সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িগণ (تابعين) ছিলেন আরব। এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা তাঁদের ভাষা থেকেই নিতে হয়। সুতরাং যারা শরীয়তের ইলম অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য এই ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক) (৩) ।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ''তোমরা আরবি ভাষা শেখো, কারণ এটি আভিজাত্য বৃদ্ধি করে'' (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولقد كان الصدر الأول من الأمة المحمدية أهل سليقة عربية، وأصحاب مَلَكة لسانية (فكان اللسان العربي عندهم صحيحاً مَحْروساً لا يتَداخَلُه الخلل، ولا يتطرَّق إِلَيْهِ الزلل، إِلى أن فُتِحَت الأمصار، وخالط العربُ غير جنسهم من الروم والفرس والحبش والنَّبط، وغيرهم من أنواع الأمم الذين فتح الله على المسلمين بلادهم، وأفاء عليهم أموالهم ورقابهم، فاختلطت الفرق، وامتزجت الألسن، وتداخلت اللغات، ونشأ بينهم الأولاد، فتعلّموا من اللسان العربي ما لابدّ لهم في الخطاب منه، وحفظوا من اللغة ما لا غنىً لهم في المجاورة عنه، وتركوا ما عداه لعدم الحاجة إِلَيْهِ وأهملوه لقلة الرغبة في الباحث عليه، فصار بعد كونه من أهم المعارف مطّرحاً مهجوراً، وبعد فرضيته اللازمة كأن لم يكن شيئاً مذكوراً، وعادت الأيام والحالة هذه على ما فيها من التماسك والثبات، واستمرت على سنَنٍ من الاستقامة والصلاح، إِلى أن انقرض عصر الصحابة والشأن قريب، والقائم بواجب هذا الأمر لقلته غريب، وجاء التابعون له بإحسان فسلكوا سبيلهم لكنهم قلّوا في الإتقان عدداً واقتفوا هديهم وإن كان مدّوا في البيان يداً، فما انقضى زمانُهم على إحسانهم إلاّ واللسان العربي قد استحال أعجميّاً أَوْ كاد، فلا ترى المستقِلّ به والمحافظ عليه إلا الآحاد.
মুহাম্মদীয় উম্মতের প্রথম প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গ ছিলেন সহজাত আরবি প্রকৃতির অধিকারী এবং ভাষাগত বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন। (তাদের নিকট আরবি ভাষা ছিল শুদ্ধ (صحيح) ও সুরক্ষিত, যাতে কোনো ত্রুটি প্রবেশ করত না এবং কোনো বিচ্যুতিও এতে ঠাঁই পেত না। এই অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত অটুট ছিল, যতক্ষণ না বিভিন্ন জনপদ বিজিত হলো এবং আরবরা অন্যান্য জাতির সাথে মেলামেশা শুরু করল—যথা রোমান, পারসিক, হাবশি, নবতি এবং অন্যান্য জাতি, যাদের ভূখণ্ড আল্লাহ মুসলিমদের জন্য বিজয় করে দিয়েছিলেন এবং তাদের ধন-সম্পদ ও জনপদকে তাদের লব্ধ সম্পদে পরিণত করেছিলেন। ফলে বিভিন্ন দল পরস্পরের সাথে মিশে গেল, ভাষার সংমিশ্রণ ঘটল এবং বিভিন্ন বুলি একীভূত হয়ে গেল। তাদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের উদ্ভব ঘটল, যারা পারস্পরিক কথোপকথনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু আরবি ভাষা শিখল এবং প্রতিবেশী হিসেবে জীবনধারণের জন্য যতটুকু অপরিহার্য কেবল ততটুকু আয়ত্ত করল। এর অতিরিক্ত অংশ তারা বর্জন করল প্রয়োজনের অভাবে এবং অবহেলা করল তা অনুসন্ধানের প্রতি আগ্রহের স্বল্পতার কারণে। ফলে একসময় যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হতো, তা পরিত্যক্ত ও বর্জিত হয়ে গেল; এবং এর আবশ্যিক প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও তা যেন এক বিস্মৃত বিষয়ে পরিণত হলো। এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও কালচক্র তার আপন গতিতে কিছুকাল দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার সাথে আবর্তিত হতে থাকল এবং সততা ও কল্যাণের পথে পরিচালিত হলো; অবশেষে সাহাবীদের যুগ শেষ হয়ে এল। তখনো বিষয়টি নাগালের মধ্যেই ছিল, তবে এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্য ব্যক্তিরা সংখ্যায় স্বল্প হওয়ার কারণে তাদের অবস্থা ছিল বিরল বা অপরিচিত (غريب) সদৃশ। এরপর নিষ্ঠার সাথে তাবেয়ীদের আগমন ঘটল এবং তারা তাদের পথ অনুসরণ করলেন। তবে বর্ণনার নির্ভুলতা বা পারঙ্গমতার (إتقان) ক্ষেত্রে তাদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল; তারা সাহাবীদের প্রদর্শিত পথই অনুসরণ করেছিলেন যদিও তারা ভাষাগত বয়ানে নিজেদের পূর্ণ সামর্থ্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কল্যাণময় সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই আরবি ভাষা প্রায় অনারব ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে গেল। ফলে এই ভাষার ওপর পূর্ণ অধিকার রাখা এবং তা সংরক্ষণকারী হিসেবে গুটিকতক বা একক (آحاد) ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৯)
هذا والعصرُ ذلك العصرُ القديم، والعهدُ ذلك العهدُ الكريم، فجَهِل الناس من هذا المهمّ ما كان يلزمهم معرفتَهُ، وأخّروا منه ما كان يجب عليهم تَقْدِمَتُهُ، واتخذوه وراءهم ظِهْريّاً فصار نَسْياً منْسِياً، والمشتغل به عندهم بعيداً قصِيّاً، فلما أعضل الداء وعزَّ الدواء، ألهم الله عز وجل جماعة من أولى المعارف والنُّهى، وذوي البصائر والحِجى، أن صرفوا إِلى هذا الشأن طرَفاً من عنايتهم، وجانباً من رعايتهم، فشرَّعوا فيه للناس موارداً، ومهّدوا فيه لهم معاهداً، حراسةً لهذا العلم الشريف من الضياع، وحفظاً لهذا المهم العزيز من الاختلال) (1) .
ولقد كان النحو والإعراب أهم علوم اللغة، إِذْ في جهله الإخلال بالتفاهم جملة.
يقول العلامة ابن خلدون رحمه الله ‘‘أن الأهم المقدّم منها هو النحو، إِذْ به تبيّنت أصول المقاصد بالدلالة، فيُعَرَّف الفاعل من المفعول، والمبتدأ من الخبر، ولولاه لَجُهِل أصل الإفادة’’ (2) .
تعالى به قد طلابه
وقوف خضوع على بابه.
يا حبَّذا النحو من مطلب
كأن العلوم له عسكر.
ولما للنحو من أهميّة، ومكانة عظيمة عليّة، صنعت فيه التصانيف، وأُلِّفت فيه التآليف، فمن مُكثرٍ جعل كتابه أسفاراً، ومن متوسط غيْثُ فوائده أصبح مدراراً، ومن موجزٍ كان كتابه أوراقاً.
وكان من بين تلك المتون المختصرة، والكتب المحرّرة المشتهرة، كتاب: (الْمُقَدِّمَة الآجرُّومِيَّة) .
--------------------------------------------
এটি সেই প্রাচীন কাল এবং সেই মহিমান্বিত যুগ; যখন মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েছিল যা জানা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল, এবং তারা সেই বিষয়টিকে অবহেলা করেছিল যা তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। তারা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করেছিল যার ফলে এটি একটি বিস্মৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল এবং তাদের নিকট এই বিদ্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ছিল এক দূরবর্তী আগন্তুক। অতঃপর যখন ব্যাধিটি গুরুতর হয়ে উঠল এবং এর প্রতিকার দুষ্প্রাপ্য হলো, তখন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু একদল প্রাজ্ঞ ও বিবেকবান এবং অন্তর্দৃষ্টি ও ধীসম্পন্ন ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করলেন যাতে তারা এই বিষয়ের প্রতি মনোযোগ ও যত্নের হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে তাঁরা মানুষের জন্য এর উৎসসমূহ উন্মুক্ত করলেন এবং তাদের জন্য এর শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে সুগম করলেন, যাতে এই মহৎ ইলমকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা যায় এবং এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিশৃঙ্খলা থেকে হিফাজত করা যায়) (১) ।
আর নিশ্চয়ই নাহু (ব্যাকরণ) এবং ইরাব (বাক্যরীতি) ছিল ভাষাবিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেহেতু এর প্রতি অজ্ঞতা পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিঘ্ন ঘটায়।
আল্লামা ইবনে খালদুন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারযোগ্য হলো নাহু (ব্যাকরণ), কারণ এর মাধ্যমেই নির্দেশনার দ্বারা অর্থের মূল উৎসসমূহ স্পষ্টভাবে পরিস্ফুট হয়। এর দ্বারাই ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম), এবং মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়)-এর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এটি না থাকলে মূল অর্থ অনুধাবন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ত’’ (২) ।
এর শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়েছে
বিনম্রভাবে তারা এর দুয়ারে দণ্ডায়মান।
অন্বেষণের বিষয় হিসেবে নাহু কতই না চমৎকার!
সকল জ্ঞান যেন তার এক অনুগত বাহিনী।
আর নাহুর গুরুত্ব এবং এর সুউচ্চ ও মহান মর্যাদার কারণে এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে। কেউ অত্যন্ত বিশদভাবে লিখেছেন যা বিশাল বিশাল খণ্ডে রূপ নিয়েছে, কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন যার উপকারের ধারা অত্যন্ত প্রবল, আবার কেউ অতি সংক্ষেপে লিখেছেন যার কিতাব মাত্র কয়েক পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ।
সেই সকল সংক্ষিপ্ত মতন (متن) এবং সুপ্রসিদ্ধ পরিমার্জিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো: (আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমিয়্যাহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومِن ثَمَّ طفِق العلماء إِلى شرحها وتدريسها، وكان من أنفس شروحاتها شرح شيخنا المفضل: صالح بن محمد بن حسن الأسمري - حفظه الله -، فلقد كان شرحاً كافياً وافياً في بابه، ومورداً صافياً لطلاّبه، غير مختصر اختصاراً يؤدي إِلى الإخلال، ولا مطنباً إطناباً يفضي إِلى الإملال، مشتملاً على الدرر الفرائد، والغرر من الفوائد الشوارد، يَحِلّ مبانيها، ويُوَضّح معانيها، ويُقَرّر قواعدها، ويُحرّر مقاصدها، ويؤيّد ذلك بالأدلة، ويسهِّله بالشواهد والأمثلة، ينتفع به المبتدئ، ولا يستغني عنه المنتهي، وهو مرحلة وسطى، تعقبه مرحلة علمية أخرى.
وثَمَّ أمورٌ يجب التنبيه عليها، ولا مندوحة للراغب عنها (1)
أولها: في اسم هذا العلم، إِذْ إِنَّه يُسَمَّى باسمين اثنين.
أما الأول: فهو النحو.
وسبب التسمية هو ما اشتهر عند الإخباريين من أن الإمام علياً رضي الله عنه قال لأبي الأسود الدؤلي: ‘‘ نعم النحو الذي نحوت ’’ وذلك عندما كتب شيئاً في النحو بأمرٍ منه.
وأما الثاني: فالإعراب.
ومن معانيه التغير، يُقَال: أعربت الإبل إذا تغيرت بطونها بمرض، وكذلك الحال مع أواخر الكلمات العربية المعربة فإنها تتغير بحسب مواقعها.
ثانيها: أن الدارس لعلم النحو يدرس شيئين اثنين.
أما الأول: فالإعراب:
وهو تغير أواخر الكلم باختلاف العوامل الداخلة عليها لفظاً أو تقديراً. وهذا هو الأصل؛ ولأجله صنع النحو ضبطاً له حتى لا يلحن فيه.
وأما الثاني: فهو البناء:
وهو لزوم أواخر الكلمة حركة لا تتغير باختلاف العوامل الداخلية عليها.
ثالثها:
هو أن علم النحو يبحث في حركة الأخير من الكلم سواء أظهرت أم قُدِّرت، وأكثر اللحن حصل في ذلك عند العرب ولذا كانت العناية به آكد.
رابعها:
لكي يتفهَّم دارس النحو مسائله ويعرف مفرداته لابد أن يراعي أموراً:
أولها:
--------------------------------------------
অতঃপর আলেমগণ এটি ব্যাখ্যা ও পাঠদানে মনোনিবেশ করেছেন। এর চমৎকার ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ সালেহ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আসমারি—আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন—এর ব্যাখ্যা। এটি এই বিষয়ে একটি যথেষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এবং ছাত্রদের জন্য একটি নির্মল উৎস। এটি এমন সংক্ষিপ্ত নয় যা ত্রুটি সৃষ্টি করে, আবার এমন দীর্ঘও নয় যা বিরক্তির উদ্রেক করে। এটি দুর্লভ মুক্তোর ন্যায় মূল্যবান আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ চমৎকার তথ্যাবলি সমৃদ্ধ। এটি এর শব্দকাঠামো বিশ্লেষণ করে, অর্থসমূহ স্পষ্ট করে, মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত করে এবং উদ্দেশ্যসমূহ সুবিন্যস্ত করে। এটি দলিলের মাধ্যমে বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং দৃষ্টান্ত ও উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টিকে সহজতর করে। এতে নবীন (مبتدئ) শিক্ষার্থী উপকৃত হয় এবং উচ্চতর পর্যায়ের (منتهي) শিক্ষার্থীরও এটি থেকে বিমুখ হওয়ার উপায় নেই। এটি একটি মধ্যবর্তী ধাপ, যার পরে অন্য একটি ইলমি ধাপের সূচনা হয়।
এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সতর্ক করা আবশ্যক এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীর পক্ষে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় (১)
প্রথমত: এই ইলমের নামকরণের বিষয়ে; কেননা এটি দুটি নামে পরিচিত।
প্রথমটি হলো: নাহু (النحو)।
এই নামকরণের কারণ হলো ইতিহাসবেত্তাদের নিকট প্রসিদ্ধ এই বর্ণনা যে, ইমাম আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে বলেছিলেন: ‘‘তুমি যে পথ (النحو) অবলম্বন করেছ তা কতই না উত্তম!’’ এটি ছিল তখন যখন তিনি আলীর নির্দেশে নাহু (النحو) বিষয়ে কিছু লিখেছিলেন।
দ্বিতীয়টি হলো: ইরাব (الإعراب)।
এর অন্যতম অর্থ হলো পরিবর্তন। বলা হয়ে থাকে: ‘উট ইরাব লাভ করেছে’ যখন রোগের কারণে তার পেট পরিবর্তিত হয়। অনুরূপ অবস্থা হলো আরবী মুরাব (معربة) শব্দগুলোর শেষাংশের ক্ষেত্রে, যা বাক্যে অবস্থানের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হয়।
দ্বিতীয়ত: নাহু (النحو) শাস্ত্রের শিক্ষার্থীকে দুটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয়।
প্রথমটি হলো: ইরাব (الإعراب):
যা হলো শব্দের শুরুতে আসা আমেল (العوامل) বা প্রভাবকগুলোর ভিন্নতার কারণে শব্দের শেষাংশের প্রকাশ্য (لفظاً) বা উহ্য (تقديراً) পরিবর্তন। আর এটিই হলো মূল ভিত্তি; এর জন্যই নাহু (النحو) শাস্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে এর উচ্চারণে ভুল (لحن) না হয়।
দ্বিতীয়টি হলো: বিনা (البناء):
যা হলো শব্দের শুরুতে আসা আমেল (العوامل) বা প্রভাবকগুলোর ভিন্নতা সত্ত্বেও শব্দের শেষাংশ এক অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকা।
তৃতীয়ত:
তা হলো নাহু (النحو) শাস্ত্র শব্দের শেষাংশের হরকত বা স্বরচিহ্ন নিয়ে আলোচনা করে, তা প্রকাশ্য হোক বা উহ্য (قُدِّرت)। আরবদের মধ্যে শব্দের শেষাংশেই অধিক ভুল (لحن) সংঘটিত হতো, তাই এর প্রতি যত্নবান হওয়া অধিক গুরুত্ব বহন করে।
চতুর্থত:
নাহু (النحو) শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য এর মাসয়ালাসমূহ অনুধাবন এবং পরিভাষাসমূহ চেনার জন্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:
প্রথমত:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১১)
حفظ التعاريف واستحضارها عند محاولة الإعراب لكلمة أو جملة لما لها من أثر.
ثانيها:
الاشتغال بمعاني الكلام وجمله، والنظر في مدى انطباقه على القواعد المعروفة.
مثال ذلك:
هو أن المفعول به يُعَرَّف بأنه: اسم منصوب وقع عليه فعل الفاعل، فلو قال قائل: (ضرب الأب ابنه تأديباً له) لَحُكم على كلمة (ابن) بأنها مفعول به؛ لأنه هو الذي وقع عليه فعل الفاعل.
ثالثها:
هو استحضار التقاسيم والشروط المتعلقة بكل مسألةٍ وباب.
مثاله: ما قيل في الأسماء الخمسة، فإنها لا تأخذ إعرابها المشهور من الرفع بالواو، والنصْب بالألف، والخفض بالياء إلا بشروط؛ ككونها مكبرة، وعدم إضافتها لياء الْمُتَكَلِّم وما إلى ذلك. فإذا قال قائل: (إن أبي ذو نسب شريف) لَعُلِم أن كلمة (أبي) لا تُعرَب إعراب الأسماء الستة أو الخمسة؛ لأنها مضافة إلى ياء الْمُتَكَلِّم.
خامسها:
هو أن الدارس للنحو لن يستطيع أن يعرب الجمل كلها إلا إذا انتهى من دراسة كتب النحو كلها في مرحلة التأصيل، والمعتاد أن آخرها دراسة ألفية ابن مالك، فمن درس الآجرومية لا يتحصَّل على جميع أبواب النحو فضلاً عن جميع مسائله، فلابد من استكمال ذلك، وإنما ابتدئ بالآجرومية فغيرها إلى دراسة ألفية ابن مالك، مراعاةً للتدرج في التعلّم والبدء بالأولويات، والبعد عن وقوع قولة السلف: (من أراد العلم جملة ضيَّعه جملة) فيدرس طالب النحو أول ما يدرس: كبرى أبوابه ومسائله، وذلك من خلال [الآجرومية] ثُمَّ يدرس مجمل أبواب النحو ومسائله دون تعرض للخلاف في الجملة، وذلك من خلال كتاب [شرح قطر الندى] لابن هشام، ثُمَّ يدرس جميع مسائل النحو وتفصيلاته مع الاطلاع على المخالف وبعض الأعاريب وما إلى ذلك، وذلك من خلال [شرح الألفية] ، (شرح ابن عقيل) عليها ولَيْسَ بوافٍ، أو شرح ابن هشام الْمُسَمَّى بـ[أوضح المسالك] .
سادسها:
শব্দ বা বাক্যের ইরাব বা বিশ্লেষণ (إعراب) করার চেষ্টার সময় সংজ্ঞাসমূহ মুখস্থ রাখা এবং সেগুলো উপস্থিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর গভীর প্রভাব রয়েছে।
দ্বিতীয়ত:
বক্তব্যের অর্থ ও তার বাক্যসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং সুপরিচিত নিয়ম-কানুনগুলোর (قواعد) সাথে তা কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা পর্যবেক্ষণ করা।
এর উদাহরণ হলো:
‘মাফউল বিহি’ (مفعول به)-এর সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয় যে: এটি এমন একটি মানসুব (منصوب) বিশেষ্য যার উপর কর্তার ক্রিয়া বা ফায়িল (فاعل)-এর কাজ পতিত হয়। সুতরাং কেউ যদি বলে: (পিতা তার ছেলেকে আদব শেখানোর জন্য প্রহার করেছেন), তবে এখানে ‘ছেলে’ (ابن) শব্দটির উপর ‘মাফউল বিহি’ (مفعول به) হওয়ার বিধানারোপ করা হবে; কারণ এর উপরই ফায়িল (فاعل)-এর ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছে।
তৃতীয়ত:
প্রতিটি মাসআলা (مسألة) ও অধ্যায় বা বাব (باب) সংশ্লিষ্ট প্রকারভেদ ও শর্তাবলি স্মরণে রাখা।
এর উদাহরণ: ‘আসমাউল খামসাহ’ (الأسماء الخمسة) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। এই বিশেষ্যগুলো ওয়াও-এর মাধ্যমে রাফা (الرفع), আলিফ-এর মাধ্যমে নাসাব (النصب) এবং ইয়া-এর মাধ্যমে জার বা খাফদ (الخفض) হওয়ার প্রসিদ্ধ ইরাব (إعراب) গ্রহণ করে না যতক্ষণ না কিছু শর্ত পূরণ হয়; যেমন সেগুলো মুকাব্বারা (مكبرة) বা মূল রূপে থাকা এবং ‘ইয়াউল মুতাকাল্লিম’ (ياء المتكلم)-এর দিকে ইদাফত (إضافة) বা সম্বন্ধিত না হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং কেউ যদি বলে: (নিশ্চয়ই আমার পিতা এক সম্মানিত বংশের অধিকারী), তবে জানা যাবে যে, এখানে ‘পিতা’ (أبي) শব্দটি আসমাউস সিত্তাহ (الأسماء الستة) বা খামসাহ-এর ন্যায় বিশ্লেষিত হবে না; কারণ এটি ‘ইয়াউল মুতাকাল্লিম’ (ياء المتكلم)-এর দিকে ইদাফত (إضافة) করা হয়েছে।
পঞ্চমত:
নাহু শাস্ত্রের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সকল বাক্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে না যতক্ষণ না সে তা’সীল বা ভিত্তি গঠনের (التأصيل) স্তরে নাহুর সকল কিতাব অধ্যয়ন শেষ করে। সাধারণত এর সমাপ্তি ঘটে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অধ্যয়নের মাধ্যমে। সুতরাং যে কেবল আজরুমিয়্যাহ পাঠ করেছে, সে নাহুর সকল অধ্যায় বা বাব (باب) আয়ত্ত করতে পারবে না, সকল মাসআলা (مسألة) তো দূরের কথা। অতএব এই জ্ঞান অর্জন পূর্ণ করা আবশ্যক। শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করা এবং সালাফদের সেই উক্তি: "যে ব্যক্তি একসাথে পুরো জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে তা একসাথেই হারিয়ে ফেলে" -এর মন্দ প্রভাব থেকে বাঁচতেই আজরুমিয়্যাহ থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ পর্যন্ত পাঠদানের নিয়ম করা হয়েছে। একজন নাহু শিক্ষার্থী সর্বাগ্রে বড় বড় অধ্যায় বা বাব (باب) এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (مسألة) গুলো পড়বে, যা [আজরুমিয়্যাহ]-এর মাধ্যমে সম্ভব। অতঃপর সে সংক্ষেপে নাহুর সকল অধ্যায় (أبواب) ও মাসআলা (مسائل) গুলো পড়বে যেখানে সাধারণত মতপার্থক্য আলোচনা করা হয় না, আর এটি ইবনে হিশামের [শারহু কাতরিুন নাদা] কিতাবের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এরপর সে নাহুর সকল মাসআলা (مسألة) ও তার বিস্তারিত বিবরণ পড়বে এবং ভিন্নমত ও বিভিন্ন ইরাব (أعاريب) সম্পর্কে জানবে, যা [শারহুল আলফিয়্যাহ]-এর মাধ্যমে অর্জিত হবে। এক্ষেত্রে ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহু ইবনে আকীল) যথেষ্ট নয়, বরং ইবনে হিশাম রচিত [আওদাহুল মাসালিক] নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করা যেতে পারে।
ষষ্ঠত:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১২)
أن إدراك علم النحو يكون من خلال فقه علومٍ لابد من اجتماعها.
أولها:
مسائل النحو ومفرداته وهي الموجودة في [الآجرومية] و [شرح قطر الندى وبل الصدى] و [ألفية ابن مالك] .
ثانيها:
دراسة علم أصول النحو وهو كعلم أصول الفقه مع الفقه لابد منه، وفيه القواعد التي روعيت في الإعراب، وأدلة النحويين وأوجه الدلالة وما إلى ذلك، وفي ذلك كتاب يتيم ألَّفه الإمام السيوطي اسمه (أصول النحو) وعليه شروحات منها [شرح الأزهري] .
ثالثها:
دراسة علم تاريخ النحو ويشمل معرفة مذاهبه ونشأتها وأئمته وكتبه وما إلى ذلك، وفيه كتب أحسنها: ما صنَّفه محمد طنطاوي من علماء الأزهر واسمه [نشأة النحو] فقد حقق بأخَره.
ولقد كان أصل هذا الشرح المبارك دروساً ألقاها فضيلة شيخنا - حفظه الله - بجامع ابن عواض بالطائف عام 1419هـ، ثُمَّ كُتِبَت وعُرِضَ مواضع منها على الشيخ نفسه فاستحسنها، وأذن بطباعتها وإخراجها.
كما لا يفوتني أن أتقدَّم بالشكر أولاً وآخراً للمولى جلَّ وعلا على أن وفقنا لهذا العمل، وأعاننا على إخراجه، ثُمَّ أتوجّه بالشكر إِلى فضيلة شيخنا على ما أسداه إِلَيْنَا من علمه ونصحه، فجزاه الله عنّا خير الجزاء وأطال في عمره على طاعته ونفعنا بعلمه.
كما أتوجّه بالشكر إِلى كل من أعان على إخراج هذا الشرح فجزاهم الله خير الجزاء.
والله أسأل أن ينفع به، وأن يجزل الأجر والمثوبة لشيخنا، والله من وراء القصد وهو الهادي إِلى سواء السبيل.
وكتبه: متعب بن مسعود الجعيد
ببسم
أما بعد حمد الله ذي الآلاء، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء، وآله وصحبه الأصفياء
…فإن علم العربية يقع من نافع العلوم: موقع الرأس من الإنسان، واليتيمة من قلائد العِقْيان، فليس أحد من أرباب الحجى والعلم يخلو من أن يكون متعلقاً منه بسبب، وضارباً فيه بسهم.
ব্যাকরণশাস্ত্র (ইলমুন নাহু) আয়ত্ত করা সম্ভব এমন কতগুলো শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর অনুধাবনের মাধ্যমে, যেগুলোর একত্র সমন্বয় ঘটা আবশ্যক।
প্রথমত:
ব্যাকরণের মাসআলা ও এর মৌলিক বিষয়সমূহ, যা [আল-আজরুমিয়্যাহ], [শারহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিল সাদা] এবং [আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক]-এ বিদ্যমান।
দ্বিতীয়ত:
ব্যাকরণতত্ত্বের মূলনীতি (উসুলুন নাহু) অধ্যয়ন করা; এটি ব্যাকরণশাস্ত্রের সাথে তেমনই আবশ্যক যেমন ফিকহ শাস্ত্রের সাথে উসুলুল ফিকহ। এর মধ্যে সেসব নিয়মাবলি রয়েছে যা ইরাব বা বাক্যবিন্যাসে লক্ষ্য রাখা হয়, সেইসাথে বৈয়াকরণদের দলীলসমূহ, নির্দেশনার ধরনসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়াদি এতে অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে ইমাম সুয়ূতী একটি অনন্য গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম (উসুলুন নাহু) এবং এর ওপর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে [শারহুল আজহারী] অন্যতম।
তৃতীয়ত:
ব্যাকরণশাস্ত্রের ইতিহাসের পঠন-পাঠন; যা এর বিভিন্ন মতবাদ (মাযহাব), সেগুলোর উদ্ভব, ইমামগণ, গ্রন্থাবলি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করে। এ বিষয়ে বিভিন্ন কিতাব রয়েছে যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল-আযহারের আলেম মুহাম্মাদ তানতাভী রচিত [নাশআতুন নাহু]; যা সম্প্রতি সম্পাদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থটির মূল ছিল আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- কর্তৃক ১৪১৯ হিজরিতে তায়েফের ইবনে আওয়াদ মসজিদে প্রদত্ত দরসসমূহ। এরপর তা লিপিবদ্ধ করা হয় এবং এর কিছু অংশ শায়খের সামনে পেশ করা হলে তিনি তা পছন্দ করেন এবং ছাপানো ও প্রকাশের অনুমতি প্রদান করেন।
পরিশেষে, সর্বাগ্রে ও সবশেষে মহান রব্বুল আলামীনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তিনি আমাদের এই কাজের তাওফিক দিয়েছেন এবং এটি প্রকাশে সহায়তা করেছেন। অতঃপর আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তার জ্ঞান ও নসিহতের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করার জন্য; আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর নেক হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।
সেইসাথে যারা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন আমি তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন এবং আমাদের শায়খকে এর জন্য প্রচুর সওয়াব ও প্রতিদান দান করেন। আল্লাহই একমাত্র উদ্দেশ্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।
লেখক: মুতিব বিন মাসউদ আল-জুয়াইদ
আল্লাহর নামে শুরু করছি
সমস্ত নিআমতের মালিক আল্লাহর প্রশংসা এবং আম্বিয়াদের সরদার ও তাঁর পবিত্র বংশধর ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালামের পর
…নিশ্চয়ই আরবি ভাষা ও ব্যাকরণশাস্ত্র অন্যান্য উপকারী শাস্ত্রের মধ্যে ঠিক তেমন গুরুত্ব রাখে যেমনটি মানুষের দেহে মস্তক কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের মালায় প্রধান মুক্তো। তাই বুদ্ধিমান ও জ্ঞানপিপাসুদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে এর সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয় অথবা এর থেকে অংশ গ্রহণ করেনি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكان واسطة عقد العربية: علم النحو والإعراب، الذي ينبغي أن يتحلى به طالب العلم ومريده، بل قال العلامة: خالد الأزهري رحمه الله: ‘‘إن معرفة الإعراب من الواجبات التي لابد لكل طالب علم منها، ومن المهمات التي لا يستغني الفقيه عنها ’’.
ومن متونه المقدَّمة وأركانه المختصرة؛ متن موسوم بـ (مقدمة ابن آجرُّوم) ، عكف على ضبطه وفهمه الدارسون؛ لظهور نفعه، يقول العلامة ابن الحاج رحمه الله (صار غالب الناس أول ما يقرأ بعد القرآن العظيم؛ هذه المقدِّمة، فيحصل به النفع في أقرب مُدَّة) .
ومِنْ ثَمَّ انعقد العزم على مدارسة تلك المقدِّمة الآجرومية؛ بحلّ مبانيها، وإيضاح معانيها، وتقرير قواعدها، وتحرير مسائلها، على وجه توسط وجِدَّة. مقدِّماً بين يدي ذلك مقدَّمة ذات باب، وهذا أوان الشروع، ومن الله التوفيق والتسديد، وهو المستعان.
مُقَدِّمَةٌ
وفيها فصلان:
الأول:
في تعريف موجز بابن آجروم رحمه الله، وذلك في مقاصد عدة:
الأول: في اسمه ونسبه:
هو أبو عبد الله محمد بن محمد بن داود الصِّنهاجي، المعروف بـ (ابن آجروم) ، وهنا فائدتان:
الأولى:
أنه يُقَال لابن آجروم: (الصِّنْهاجي) نسبة إلى قبيلة صِنْهاجة بالمغرب. قاله الحامدي رحمه الله في حاشية له على: [شرح الكفراوي للآجرومية] .
الثانية:
أن كلمة: (آجروم) لها معنى، وضبط.
فأما المعنى:
فهو: الفقير الصوفي، وذلك بلغة البَرْبَر. قال ابن عنقاء ‘‘هي كلمة أعجمية، بلغة البربر، معناها: الفقير الصوفي، على ما قيل. لكني لم أجد البرابرة يعرفون ذلك’’ انتهى. غير أن السيوطي وابن الحاج جزما بالمعنى السابق.
وأما الضبط:
فعلى أوجه:
الأول: بفتح الهمزة مع مدّ، وجيم مضمومة مُخَفَّفة، وراء مهملة مضمومة مع تشديد وتثقيل، هكذا: (آجُرُّوم) قاله ابن عنقاء، وبه قطع السيوطي في: [بغية الوعاة] .
তিনি ছিলেন আরবি ভাষার মূল অলঙ্কারস্বরূপ: নাহু (ব্যাকরণ) এবং ইরাব (বাক্যরীতি) শাস্ত্র, যা প্রতিটি ইলম অন্বেষণকারী ও শিক্ষার্থীর অর্জন করা উচিত। বরং আল্লামা খালিদ আল-আযহারী (রহ.) বলেছেন: ‘‘নিশ্চয়ই ইরাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সেই ওয়াজিবাত বা অপরিহার্য বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা প্রতিটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক এবং এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা থেকে কোনো ফকিহ অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না’’।
নাহু শাস্ত্রের প্রাথমিক এবং সংক্ষিপ্ত মূলগ্রন্থসমূহের (متون) মধ্যে ‘মুকাদ্দিমাতু ইবনে আজুররুম’ নামাঙ্কিত একটি মূলপাঠ (متن) রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এর সঠিক পাঠ ও বিশুদ্ধতা (ضبط) নিশ্চিত করতে এবং এটি অনুধাবনে নিবিষ্ট হয়েছে; কারণ এর উপকারিতা সুস্পষ্ট। আল্লামা ইবনে আল-হাজ্জ (রহ.) বলেন: (পবিত্র কুরআনের পর অধিকাংশ মানুষ সর্বপ্রথম যা পাঠ করে, তা হলো এই মুকাদ্দিমা। ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এর মাধ্যমে সুফল অর্জিত হয়)।
অতঃপর সেই ‘মুকাদ্দিমা আল-আজুররুমিয়্যাহ’ অধ্যয়নের দৃঢ় সংকল্প করা হলো; এর কাঠামোগত ব্যাখ্যা প্রদান, অর্থের সুস্পষ্টতা, এর মূলনীতিসমূহের প্রতিষ্ঠা এবং মাসয়ালাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে, যা হবে মধ্যমপন্থা ও নতুনত্বের সমন্বয়। এর প্রারম্ভে একটি ভূমিকা পেশ করছি এবং এটাই শুরু করার উপযুক্ত সময়। আল্লাহর নিকট থেকেই তৌফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি, তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।
ভূমিকা
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ:
ইবনে আজুররুম (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় সম্পর্কে, যা কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আস-সিনহাজি, যিনি ‘ইবনে আজুররুম’ নামে পরিচিত। এখানে দুটি শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে:
প্রথমটি:
ইবনে আজুররুমকে ‘আস-সিনহাজি’ বলা হয় মরক্কোর সিনহাজাহ গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করে। আল-হামিদি (রহ.) ‘শারহুল কাফরাওয়ি লিল আজুররুমিয়্যাহ’-এর ওপর লিখিত তাঁর একটি হাশিয়া বা টিকায় এটি উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি:
‘আজুররুম’ শব্দটির একটি অর্থ এবং সঠিক উচ্চারণরীতি (ضبط) রয়েছে।
অর্থের ক্ষেত্রে:
বারবার জাতির ভাষায় এর অর্থ হলো: ফকির সুফি। ইবনে আনকা বলেন: ‘‘এটি বারবারী ভাষার একটি অনারবি শব্দ, যার অর্থ হলো ফকির সুফি; যেমনটি বলা হয়ে থাকে। তবে আমি বারবারীদের মাঝে এই অর্থটি প্রচলিত আছে বলে জানতে পারিনি।’’ সমাপ্ত। তবে ইমাম সুয়ুতি এবং ইবনে আল-হাজ্জ পূর্বোক্ত অর্থের ওপরই দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
আর সঠিক উচ্চারণরীতির (ضبط) ক্ষেত্রে:
এর কয়েকটি রূপ রয়েছে:
প্রথমত: হামজায় ফাতহা ও মাদ্দ, জিমে যম্মাহ ও তাখফিফ (হালকা উচ্চারণ), এবং র-এ যম্মাহ ও তাশদিদ (দ্বিত্ব উচ্চারণ) সহ। এভাবে: ‘আ-জুরুম’। ইবনে আনকা এটি বলেছেন এবং সুয়ুতি ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে (ضبط) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الثاني: كالأول، غير أن الجيم تكون مفتوحة، هكذا: (آجَرُّوم) وهذا هو المنقول عن الجمال المطيب.
الثالث: بفتح الهمزة دون مَدٍّ، وجيم ساكنة، وراء مهملة مضمومة دون تشديد، هكذا (أَجْرُوم) وهو منقول عن ابن أجروم نفسه، قاله ابن الحاج في: [العقد الجوهري] .
الرابع: ما حكاه السيوطي في [البغية] بقوله: ‘‘رأيت بخط ابن مكتوم في [تذكرته] ، قال: (محمد بن الصنهاجي أبو عبد الله، من أهل فاس، يعرف بـ أكروم
…’’.
الخامس: ما حكاه ابن عنقاء بقوله: ‘‘وقد كثر حذف همزته - يعني آجروم - فلا أدري أهي لغة أم هي من تلعب الناس’’.
لطيفة:
قال ابن عنقاء: ‘‘في قبيلة البربر قبيلة تُسَمَّى بني آجروم ’’.
الثاني: في مولده ووفاته.
فأما مولده:
فيقول ابن الحاج: ‘‘ولد سنة اثنتين وسبعين وستمائة بمدينة فاس في السنة التي توفي فيها ابن مالك’’. وبذلك جزم ابن العماد في [شذرات الذهب] .
وأما وفاته:
فيقول ابن الحاج: ‘‘توفي يوم الاثنين بعد الزوال لعشرة بقيت من صفر، سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة’’. وبه قال الحلاوي وابن العماد وغيرها.
لطيفة:
قال ابن الحاج: ‘‘توفي ابن آجروم وله إحدى وخمسون سنة، ودفن بباب الجيزيين، ويعرف الآن بباب الحمراء بفاس ’’.
الثالث: في مكانته العلمية.
قال السيوطي رحمه الله: ‘‘وصفه شرَّاح مقدمته كالمكودي والراعي وغيرهما، بالإمامة في النحو والبركة والصلاح، ويشهد بصلاحه عموم نفع المبتدئين بمقدمته’’.
وقال ابن مكتوم عنه: ‘‘نحوي مقرئ، وله معلومات من فرائض وحساب وأدب بارع ’’.
الرابع: في مصنفاته:
كان له رحمه الله مصنفات أشار إليها ابن مكتوم في: [تذكرته] بقوله: ‘‘وله مصنفات وأُجيز في القراءات وغيرها ’’، والمعروف من كتبه كتابان: الأول: هو مقدمته النحوية. الثاني: هو فرائد المعاني في شرح حرز الأماني.
الثاني:
في تعريف موجز بـ (المقدمة) ، وذلك حسب المقاصد التالية:
দ্বিতীয়: প্রথমটির মতো, তবে 'জিম' বর্ণটি জবরযুক্ত হবে, এভাবে: (আজরুম)। এটি জামাল আল-মুতায়্যিব থেকে বর্ণিত।
তৃতীয়: হামযাহ জবরযুক্ত মদ্দ (টান) ব্যতীত, জিম বর্ণটি সাকিনযুক্ত এবং রা বর্ণটি তাশদীদহীন পেশযুক্ত, এভাবে: (আজরুম)। এটি স্বয়ং ইবনে আজরুম থেকে বর্ণিত, ইবনুল হাজ তার 'আল-ইকদ আল-জাওহারী' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থ: সুয়ূতী 'আল-বুগইয়াহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন: ‘‘আমি ইবনে মাকতুমের 'তাযকিরাহ' গ্রন্থে তার স্বহস্তে লিখিত বর্ণনায় দেখেছি, তিনি বলেছেন: (মুহাম্মাদ ইবনে সানহাজী আবু আব্দুল্লাহ, ফাস নগরীর অধিবাসী, তিনি 'আকরুম' নামে পরিচিত
…’’।
পঞ্চম: ইবনে আনকা যা বর্ণনা করেছেন: ‘‘এর হামযাহ বিলোপ করা—অর্থাৎ আজরুম থেকে—খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি জানি না এটি কোনো ভাষাভঙ্গি (لغة) নাকি মানুষের বিকৃত উচ্চারণ।’’
একটি সূক্ষ্ম বিষয় (لطيفة):
قال ابن عنقاء: ‘‘বারবার গোত্রগুলোর মধ্যে 'বনু আজরুম' নামে একটি গোত্র রয়েছে।’’
দ্বিতীয়: তার জন্ম ও মৃত্যু প্রসঙ্গে।
তার জন্ম সম্পর্কে:
ইবনুল হাজ বলেন: ‘‘তিনি ৬৭২ হিজরি সালে ফাস নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। এই বছরেই ইবনে মালিক মৃত্যুবরণ করেন।’’ ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আর তার মৃত্যু সম্পর্কে:
ইবনুল হাজ বলেন: ‘‘তিনি ৭২৩ হিজরি সালের সফর মাসের দশ দিন বাকি থাকতে সোমবার জোহরের ওয়াক্তের পর ইন্তেকাল করেন।’’ হাল্লাভী, ইবনুল ইমাদ এবং অন্যান্যরা এই মত ব্যক্ত করেছেন।
একটি সূক্ষ্ম বিষয় (لطيفة):
ইবনুল হাজ বলেন: ‘‘ইবনে আজরুম একান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে 'বাবুল জাইযিইয়ীন'-এ দাফন করা হয়, যা বর্তমানে ফাস নগরীতে 'বাবুল হামরা' নামে পরিচিত।’’
তৃতীয়: তার ইলমী মর্যাদা প্রসঙ্গে।
সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘‘তার মুকাদ্দিমাহ-র ব্যাখ্যাকারগণ যেমন মাক্কুদী, রা'ঈ এবং অন্যান্যরা তাকে নাহু শাস্ত্রের ইমামত (إمامة) এবং বরকত ও নেককারিতার গুণে বিশেষায়িত করেছেন। তার নেককারিতার প্রমাণ পাওয়া যায় তার মুকাদ্দিমাহ দ্বারা নতুন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপকারের মাধ্যমে।’’
ইবনে মাকতুম তার সম্পর্কে বলেন: ‘‘তিনি একজন নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ) ও ক্বারী ছিলেন। ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন), গণিত ও চমৎকার সাহিত্য বিষয়ে তার অগাধ জ্ঞান ছিল।’’
চতুর্থ: তার রচনাবলী প্রসঙ্গে:
তার (রাহিমাহুল্লাহ) বেশ কিছু কিতাব ছিল যেগুলোর দিকে ইবনে মাকতুম তার 'তাযকিরাহ' গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন এই বলে: ‘‘তার বহু রচনা রয়েছে এবং তিনি কিরাআতসহ অন্যান্য বিষয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত (أُجيز) ছিলেন’’, তার বইগুলোর মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ: প্রথমটি হলো তার নাহু বিষয়ক মুকাদ্দিমাহ। দ্বিতীয়টি হলো 'ফরাইদুল মাআনি ফী শারহি হিযরিল আমানি'।
দ্বিতীয়:
(মুকাদ্দিমাহ)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যা নিম্নোক্ত লক্ষ্যসমূহ অনুযায়ী বিন্যস্ত:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأول: في اسمها
لم يسمِّ الْمُصَنِّف رحمه الله كتابه هذا باسمٍ، إنما سُمِّيَ به فقيل: (الآجرومية) ، أو: (الجرّومية) وهذا من باب النسبة؛ لأن المركب الإضافي كالمبدوء بـ (ابن) ، وهو هنا كذلك، عند النسبة يُحذف صدره (ابن) وينسب إِلى عجزه (آجروم) وفيه يقول ابن مالك:
رُكِّبَ مَزْجاً ولثانٍ تَمَّمَا
أوْ ما لَهُ التَّعْريفُ بِالثَّاني وَجَبْ.
وانسُبْ لصدْرِ جُمْلةٍ وصدْرِ ما
إضافةً مبْدوءةً بِابْنٍ أَوْ أبْ.
وربما قيل في التسمية: (مقدمة ابن آجروم) أو: (المقدمة الآجرومية) . ودال (المقدمة) فيهما تفتح وتكسر، والكسر أولى لما فيه من إشعار بتقدمها استحقاقاً أَوْ حقيقة؛ ولأن الفتح لغة قليلة.
قال بعض الشراح: ‘‘إنما سُمِّيَت الآجرومية بـ (المقدمة) ؛ لأنها توصل المشتغل بها إِلى المطولات من كتب النحو والإعراب، كمقدمة الجيش التي تتقدم أَمَامَه، لتهيئ له في المحل الذي ينْزله ما يحتاج إليه’’. وهو معنى لطيف متَّجه.
الثاني: في وقت تصنيفها
لم يذكر ابن آجروم ولا غيره من المترجمين والشراح زمن تصنيف الآجرومية، غير أن ابن مكتوم في: [تذكرته]- وهو عصري ابن آجروم - قال: ‘‘وهو إِلى الآن حي، وذلك في سنة تسع عشرة وسبعمائة’’، وذلك بعد أن أشار إِلى مصنفاته وكونه نحوياً مقرئاً.
الثالث: في مكان كتابتها
ذكر الراعي وابن الحاج في [شرح الآجرومية] أن ابن آجروم ألَّف هذا المتن تجاه الكعبة الشريفة، وقال الحامدي في [حاشيته على شرح الكفراوي للآجرومية] : ‘‘حكي أنه ألَّفَ هذا المتن تجاه البيت الشريف’’.
الرابع: في منهج صاحبها فيها
كان له في ذلك طريقة حَيْثُ:
اقتصر فيها على كبرى أبواب النحو وأصوله، وقد أشار إِلى ذلك غير واحد ومنهم الأزهري في أول شرحه على الآجرومية.
প্রথম: এর নাম সম্পর্কে
গ্রন্থকার (المصنف) (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর এই কিতাবটির কোনো নামকরণ করেননি। বরং এটি যে নামে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বলা হয়: 'আল-আজরুমিয়্যাহ' অথবা 'আল-জুররুমিয়্যাহ'। এটি মূলত সম্বন্ধযুক্ত করার (نسبة) নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে; কারণ ইযাফাতযুক্ত শব্দ যদি 'ইবন' (ابن) দ্বারা শুরু হয়—যা এখানেও বিদ্যমান—তবে সম্বন্ধ করার সময় প্রথম অংশ (ইবন) বিলুপ্ত হয় এবং দ্বিতীয় অংশের (আজরুম) সাথে সম্বন্ধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে ইবনে মালিক বলেন:
যৌগিক শব্দটি যদি সংমিশ্রিত হয় এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা পূর্ণতা পায়,
অথবা দ্বিতীয়টির মাধ্যমে যার পরিচয় পাওয়া আবশ্যক হয়;
তবে জুমলার শুরুর দিকে এবং ইবন বা আব দ্বারা শুরু হওয়া
ইযাফাতের প্রথম অংশের দিকে সম্বন্ধ করো।
নামকরণের ক্ষেত্রে সম্ভবত 'মুকাদ্দিমাতু ইবনে আজরুম' অথবা 'আল-মুকাদ্দিমাহ আল-আজরুমিয়্যাহ' বলা হয়ে থাকে। উভয় ক্ষেত্রে 'মুকাদ্দিমাহ' (المقدمة) শব্দের 'দাল' বর্ণে ফাতহাহ (যবর) ও কাসরাহ (যের) উভয়টিই হতে পারে, তবে কাসরাহ হওয়াই অধিকতর উত্তম; কারণ এটি মর্যাদাগত বা প্রকৃতগতভাবে অগ্রবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত প্রদান করে। আর ফাতহাহ দিয়ে পড়ার ব্যবহার ভাষাগতভাবে অত্যন্ত কম।
কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার বলেছেন: ‘‘আজরুমিয়্যাহ-কে উপক্রমণিকা (المقدمة) নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি এর শিক্ষার্থীকে নাহু ও ইরাব শাস্ত্রের বিস্তারিত গ্রন্থাবলি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়; যেমন সেনাদলের অগ্রবর্তী অংশ যা বাহিনীর সামনে অগ্রসর হয়, যাতে তারা যে স্থানে অবতরণ করবে সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে।’’ এটি একটি চমৎকার ও যথাযথ তাৎপর্য।
দ্বিতীয়: এর রচনার সময়কাল সম্পর্কে
ইবনে আজরুম কিংবা তাঁর অন্যান্য জীবনীকার (المترجمون) ও ব্যাখ্যাকারগণের কেউই আজরুমিয়্যাহ রচনার সময়কাল উল্লেখ করেননি। তবে ইবনে আজরুমের সমসাময়িক ইবনে মাকতূম তাঁর 'তাযকিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ‘‘তিনি এখন পর্যন্ত জীবিত আছেন এবং এটি ৭১৯ হিজরি সালের কথা।’’ তিনি তাঁর গ্রন্থাবলি এবং একজন ক্বারী ও নাহুবিদ হিসেবে তাঁর যোগ্যতার কথা উল্লেখ করার পর এ কথাটি বলেন।
তৃতীয়: এর রচনার স্থান সম্পর্কে
রাঈ এবং ইবনুল হাজ্জ 'শারহুল আজরুমিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আজরুম এই মূলপাঠ (المتن) পবিত্র কাবার সামনে বসে রচনা করেছেন। আল-হামিদী 'হাশিয়াতু আলা শারহিল কাফরাওয়ি'-তে বলেছেন: ‘‘বর্ণিত আছে যে, তিনি এই মূলপাঠ (المتن) পবিত্র বাইতুল্লাহর সামনে বসে রচনা করেছেন।’’
চতুর্থ: এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে
এ ক্ষেত্রে তাঁর একটি বিশেষ কর্মপন্থা ছিল, যেখানে:
তিনি এতে নাহু শাস্ত্রের প্রধান অধ্যায় এবং এর মূলনীতিগুলোর (الأصول) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। একাধিক আলিম এ কথা ইঙ্গিত করেছেন, যাদের মধ্যে আল-আযহারী তাঁর শারহুল আজরুমিয়্যাহ-এর শুরুতে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واتبع الكوفيين في عباراتهم، يقول السيوطي في [بغية الوعاة] : ‘‘وهنا شيء آخر، وهو أنَّا استفدنا من مقدمته أنه كان على مذهب الكوفيين في النحو؛ لأنه عَبَّرَ بالخفض، وهو عبارتهم، وقال: الأمر مجزوم، وهو ظاهر في أنه معرب وهو رأيهم. وذكر في الجوازم: كيفما، والجزم بها رأيهم، وأنكره البصريون، فتفطّن’’.
وأورد فيها الأبواب بإيجاز وترتيب بديع؛ حَيْثُ قدَّم الكلام وحقيقته على أقسامه، والأقسام على علامات كل قسم، وهَلُمَّ جراً، مما يأتي في الشرح التنويه إِلَيْهِ - إن شاء الله -.
الخامس: في عناية الناس بها
لقد اشتهرت الآجرومية بين الطلاب قديماً وحديثاً، وانتفع بها الدارسون. يقول السيوطي: ‘‘يشهد بصلاحه - أَيْ: ابن آجروم - عموم نفع المبتدئين بمقدمته’’، ويقول ابن الحاج: ‘‘ويدُلُّكَ على صلاحه أن الله جعل الإقبال على كتابه؛ فصار غالب الناس أول ما يقرأ بعد القرآن العظيم هذه المقدمة؛ فيحصل له النفع في اقرب مُدَّة’’.
وقد تنوعت العناية بالآجرومية، فمنهم من نظمها كعبد السلام النبراوي، وإبراهيم الرياحي وعلاء الدين الآلوسي والعمريطي وغيرهم. ومنهم من تَمَّمها كالحطاب، ومنهم من شرحها - وهم كثير، عَدَّ صاحب [كشف الظنون] منهم أكثر من عشرة - كالمكودي والراعي والأزهري والرَّمْلي.
لطيفة:
قال الحامدي في حاشية له: ‘‘حُكي أَيْضاً أنه لما ألفه - يعني: ابن آجروم ومقدمته - ألقاه في البحر، وقال: إن كان خالصاً لله تعالى فلا يبل، فكان الأمر كذلك’’.
قال الْمُصَنِّف رحمه الله: (ببسم)
بدأ الْمُصَنِّف رحمه الله هذا المتن النحوي بـ (البسملة) ؛ وذلك منه اقتداء بكتاب الله؛ إِذْ هي أول آية على الصحيح، حَيْثُ افتتح الصحابة المصحف العثماني بها وتلوها وتَبِعَهم جميعُ من كتب المصحف بعدهم في جميع الأمصار، قاله الحافظ ابن حجر رحمه الله في [فتح الباري] .
তিনি তাঁর পরিভাষায় কুফী পণ্ডিতদের অনুসরণ করেছেন। সুয়ূতী [বুগইয়াতুল ওয়াত] গ্রন্থে বলেন: ‘‘এখানে আরও একটি বিষয় রয়েছে, আর তা হলো আমরা তাঁর মুকাদ্দিমা থেকে এই উপকার লাভ করেছি যে, তিনি নাহুশাস্ত্রে কুফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। কারণ তিনি 'খাফদ' পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, যা তাঁদেরই বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেছেন: আমর মাজযুম, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি মু’রাব; আর এটিই তাঁদের অভিমত। তিনি জাওয়াযিম (যজম প্রদানকারী অব্যয়)-এর আলোচনায় ‘কায়ফামা’র কথা উল্লেখ করেছেন; আর এর মাধ্যমে জজম প্রদান করা তাঁদেরই অভিমত, যা বসরী পণ্ডিতগণ অস্বীকার করেছেন। সুতরাং বিষয়টি লক্ষ্য করো।’’
তিনি এতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে এবং চমৎকার বিন্যাসে অধ্যায়গুলো উপস্থাপন করেছেন; যেখানে তিনি কালাম (বাক্য) ও এর প্রকৃত স্বরূপকে এর প্রকারভেদের ওপর, এবং প্রকারভেদগুলোকে প্রতিটি প্রকারের নিদর্শনের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে বিষয়গুলো এসেছে যা অচিরেই শারহ (ব্যাখ্যা)-তে আলোচিত হবে—ইনশাআল্লাহ।
পঞ্চম: এই গ্রন্থের প্রতি মানুষের গুরুত্বারোপ
আল-আজরুমিয়াহ প্রাচীন ও বর্তমান উভয় যুগেই শিক্ষার্থীদের মাঝে অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে। সুয়ূতী বলেন: ‘‘তাঁর—অর্থাৎ ইবনে আজরুমের—নেককার হওয়ার প্রমাণ হলো তাঁর এই মুকাদ্দিমার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপকার লাভ করা।’’ ইবনুল হাজ্জ বলেন: ‘‘তাঁর সততার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে তাঁর কিতাবটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে অধিকাংশ মানুষ মহান কুরআনের পর সর্বপ্রথম যা পাঠ করে, তা হলো এই মুকাদ্দিমা; যার ফলে সে অতি অল্প সময়েই উপকৃত হয়।’’
আল-আজরুমিয়ার প্রতি গুরুত্বারোপের ধরনও নানাবিধ। কেউ কেউ একে কাব্যে রূপান্তর করেছেন, যেমন—আবদুস সালাম আন-নাবরাবি, ইবরাহিম আর-রিয়াহি, আলাউদ্দীন আল-আলুসি, আল-ইমরিতি ও অন্যান্যরা। কেউ কেউ এর অপূর্ণতা পূরণ করেছেন যেমন আল-হাততাব। আবার কেউ কেউ এর শারহ (ব্যাখ্যা) লিখেছেন—যাঁদের সংখ্যা অনেক। [কাশফুয যুনুন] গ্রন্থের লেখক তাঁদের মধ্য থেকে দশজনেরও বেশির কথা উল্লেখ করেছেন—যেমন আল-মাকুদি, আর-রায়ি, আল-আযহারি এবং আর-রামলি।
একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য:
আল-হামেদি তাঁর একটি হাশিয়া (টিকা)-তে বলেন: ‘‘বর্ণিত আছে যে, তিনি—অর্থাৎ ইবনে আজরুম—যখন তাঁর মুকাদ্দিমাটি রচনা করেন, তখন সেটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন এবং বলেন: যদি এটি নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়ে থাকে তবে তা ভিজবে না। আর বিষয়টি তেমনই হয়েছিল।’’
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (বিসমিল্লাহর মাধ্যমে)
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) নাহুশাস্ত্রে এই মাতনটি ‘বাসমালাহ’ দিয়ে শুরু করেছেন। এটি তিনি আল্লাহর কিতাবের অনুসরণে করেছেন; কারণ বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এটিই প্রথম আয়াত। সাহাবীগণ উসমানি মুসহাফ এর মাধ্যমে এটি শুরু করেছিলেন এবং তাঁরা এটি তিলাওয়াত করেছেন। তাঁদের পরবর্তী সকল মুসহাফ লেখক সকল জনপদে তাঁদেরই অনুসরণ করেছেন। এ কথা হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكذلك اتباعاً لهدي النبي- صلى الله عليه وسلم في مكاتباته ومراسلاته، ككتابته إِلى هرقل عظيم الروم كما جاء ذلك في حديث أبي سفيان في أول صحيح البخاري.
ولما استقرَّ عليه عمل الأئمة الْمُصَنِّفين، فقد قال الحافظ في [الفتح] : ‘‘وقد استقر عمل الأئمة الْمُصَنِّفين على افتتاح كتب العلم بالبسملة، وكذا معظم كتب الرسائل’’.
ولعل الْمُصَنِّف - يرحمه الله - حَمِدَ وتَشهَّد نطقاً عند وضع الكتاب، ولم يكتب ذلك اقتصاراً على البسملة؛ لأن القدر الذي يَجْمع الأمور الثلاثة: ذِكْر الله، وقد حَصَل بها.
قوله: (بسم)
جار ومجرور، وهما متعلقان بمحذوف تقديره (أؤلف) أَوْ نحوه من المعاني الصحيحة السائغة. والاسم من السُّمُو لغة على الصحيح، وهو ما كان لْمُسَمَّى، وسيأتي - بإذن الله - الكلام عنه في موضعه.
قوله: (الله)
مخفوض على الإضافة، وهو مشتق من (أَلَهَ) ومنه قول رؤبة:
لِلَّهِ دَرُّ الغانِيَات الْمُدَّهِ سبَّحْنَ واسْتَرْجَعْنَ مِنْ تَأَلُّهِي
والتَّأَلُّه هو: التعبُّد.
قوله: (الرحمن الرحيم)
نعت بعد نعت، هذا هو المشهور؛ لكن قال في [المغني] : ‘‘الرحمن: بدل لا نعت، والرحيم بعده: نعت له’’. وهما اسمان لله يتضمنان صفة الرحمة، واخْتُلِفَ في التفريق بينهما، وأحسن ما قيل: إن الرحمن دالٌّ على الصفة القائمة بالذات، والرحيم دال على تعلُّقها بالمرحوم.
لطيفة:
كثيراً ما يعزو الشراح بدء الْمُصَنِّف بالبسملة إِلى حديث: (كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بـ (بسم الله الرحمن الرحيم) فهو أقطع) ، والحديث أخرجه عبد القادر الرُّهَاوِي في كتابه [الأربعين] ؛ لكنه ضعيف لا يصح، وبذلك قطع أئمة، ومنهم: الحافظ ابن حجر، والسخاوي وآخرون، رحمة الله على الجميع.
قال الْمُصَنِّف رحمه الله
(الكلام هو: اللفظ المركب المفيد بالوضع)فيه مباحث على ما يلي:
الأول:
তদ্রূপ তাঁর চিঠিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর নির্দেশনার অনুসরণে, যেমনটি রোম অধিপতি হিরাক্লিয়াসের কাছে তাঁর প্রেরিত পত্রে দেখা যায় এবং যা সহীহ বুখারীর শুরুতে আবু সুফিয়ানের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
তদুপরি এটি সংকলক ইমামগণের প্রতিষ্ঠিত কর্মপদ্ধতি; যেমনটি হাফেজ [আল-ফাতহ] গ্রন্থে বলেছেন: “ইলমী কিতাবসমূহের শুরুতে বিসমিল্লাহ ব্যবহার করা সংকলক ইমামগণের প্রতিষ্ঠিত নীতিতে পরিণত হয়েছে, আর অধিকাংশ চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও তা-ই।”
সম্ভবত লেখক—রহিমাহুল্লাহ—কিতাবটি রচনার সময় মৌখিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা এবং তাশাহহুদ পাঠ করেছিলেন, কিন্তু কেবল বিসমিল্লাহ লিখেই ক্ষান্ত হয়েছেন; কারণ যে বিষয়টি এই তিনটি বিষয়কে (আল্লাহর জিকির) একত্রিত করে, তা এর মাধ্যমে অর্জিত হয়ে গেছে।
তাঁর বক্তব্য: (বিসম)
এটি ‘যার’ এবং ‘মাজরুর’, যা একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার আনুমানিক রূপ হলো (আমি রচনা করছি) অথবা অনুরূপ কোনো সঠিক ও গ্রহণযোগ্য অর্থ। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে ভাষাগতভাবে ‘ইসম’ শব্দটি ‘সুমু’ থেকে উদ্ভূত। এর নামকরণের কারণ সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচনা আসবে।
তাঁর বক্তব্য: (আল্লাহ)
এটি ইজাফত বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে। শব্দটি ‘আলাহা’ থেকে ব্যুৎপন্ন। রূ’বাহ-এর পঙ্ক্তি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য:
“আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা সেই নারীদের জন্য যারা তাসবীহ পাঠ করে এবং আমার ইবাদত দেখে ইস্তিরজা পাঠ করে।”
আর ‘তাইল্লুহ’ হলো: ইবাদত করা।
তাঁর বক্তব্য: (আর-রহমান আর-রহীম)
এটি গুণের পর গুণ (নআত), এটিই প্রসিদ্ধ মত; তবে [আল-মুগনী] গ্রন্থে বলা হয়েছে: “আর-রহমান হলো বদল, নআত নয়; আর এর পরবর্তী আর-রহীম হলো তার জন্য নআত।” এ দুটি আল্লাহর নাম যা রহমত বা দয়ার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এদের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে সবচেয়ে উত্তম ব্যাখ্যা হলো: ‘আর-রহমান’ আল্লাহর সত্তাগত গুণের প্রমাণ দেয় এবং ‘আর-রহীম’ দয়াপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে সেই গুণের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেয়।
একটি সূক্ষ্ম বিষয়:
ব্যাখ্যাকারগণ প্রায়শই লেখকের বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করাকে এই হাদিসের দিকে সম্বন্ধ করেন যে: “প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ।” হাদিসটি আব্দুল কাদির আর-রুহাবী তাঁর [আল-আরবাঈন] কিতাবে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু এটি দুর্বল (ضعيف) এবং বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। ইমামগণ এ বিষয়ে অকাট্য মত দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে হাজার, সাখাভী এবং আরও অনেকে; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন
(বাক্য হলো: এমন শব্দসমষ্টি যা অর্থপূর্ণ ও সুসংবদ্ধ)এ বিষয়ে নিম্নোক্ত আলোচনাগুলো রয়েছে:
প্রথমত:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بدأ الْمُصَنِّف - يرحمه الله -بتعريف الكلام؛ لأنه موضوع النحو ومادته والتي يعمل فيها، وبه يقع التفاهم والتخاطب.
ومِنْ ثَمَّ يَبِينْ عناية الْمُصَنِّف - يرحمه الله - بتقديم ما حقه التقديم على غيره، وهذا هو حقيقة التدرّج المحمود في التعليم.
الثاني:
قوله: (الكلام) أَيْ في اصطلاح النحويين؛ لأن (ال) في (الكلام) إما أن تكون عوضاً عن مضاف إِلَيْهِ، أَوْ للعهد الذهني.
فعلى الأول إما أن يكون المضاف إِلَيْهِ المحذوف ضميراً أَوْ لا، فإن كان ضميراً يكون التقدير: كلامنا؛ أَيْ معشر النحاة. وإن كان اسماً مظهراً فيكون التقدير: كلام النحويين، والْمُصَنِّف - يرحمه الله - منهم.
وعلى الثاني يكون المقصود: الكلام المعهود في الأذهان، وهو كلام النحويين؛ لأن المتن المبدوء به ذلك في النحو، ومصنفه من النحويين، بل من أئمتهم المشهورين.
الثالث:
قوله (اللفظ) يتعلق به أشياء ثلاثة:
الأول: معناه في اللُّغَة
حَيْثُ إِنه: يدل على طرح الشيء، تقول: لفظتُ الشيء من فمي، إِذا طرحتَه.
الثاني: معناه في الاصطلاح
حَيْثُ إِنه: الصوت المنقطع من الفم، المشتمل على بعض الحروف الهجائية تحقيقاً كـ (زيد) أَوْ تقديراً كالضمير المستتر.
الثالث: الاحتراز به
حَيْثُ احترز بقَيْد (اللفظ) - في تعريف الكلام اصطلاحاً -: عن كل ما حصل به التفاهم وليس بلفظ، كالكتابة والإشارة ونحوهما. وهي تُسَمَّى عند اللُّغَويين بـ (الدَّوالّ) لأنها تدل على معنى يَفْهَمه المخاطَب بها.
الرابع:
قوله (المركّب) يتعلق به أشياء ثلاثة:
الأول: معناه في اللُّغَة
حَيْثُ إِنه: علوُّ شيءٍ شيئاً، تقول: ركبتُ الدَّابة إِذَا عَلَوْتها. وكلمة (المركب) اسم مفعول من: ركب.
الثاني: معناه في الاصطلاح
গ্রন্থকার (المصنف) - আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - 'কালাম' বা বাক্য সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন; কেননা এটিই হলো নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের মূল বিষয়বস্তু ও উপাদান যার ওপর এই শাস্ত্র কাজ করে, এবং এর মাধ্যমেই পারস্পরিক বুঝাপড়া ও আলাপচারিতা সম্পন্ন হয়।
এর মাধ্যমে গ্রন্থকার (المصنف) - আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - এর সেই বিশেষ মনোযোগ স্পষ্ট হয় যার মাধ্যমে তিনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এটিই হলো শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ধারাবাহিকতার প্রকৃত রূপ।
দ্বিতীয়:
তাঁর উক্তি: (আল-কালাম) অর্থাৎ নাহুবিদদের পরিভাষায় (اصطلاح); কারণ 'আল-কালাম' শব্দের 'আলিফ-লাম' (ال) বর্ণটি হয় কোনো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর বিকল্প হিসেবে এসেছে, অথবা এটি মানসিক পরিচিতি বা আহদ যিহনি (العهد الذهني)-এর জন্য।
প্রথম সুরত অনুযায়ী, সেই উহ্য মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) টি হয় কোনো সর্বনাম (ضمير) হবে অথবা হবে না। যদি তা সর্বনাম (ضمير) হয়, তবে এর সম্ভাব্য রূপ হবে: 'কালামুনা'; অর্থাৎ আমাদের তথা নাহুবিদদের কথা। আর যদি তা প্রকাশ্য বিশেষ্য হয়, তবে এর রূপ হবে: 'কালামুন নাহবিয়্যিন' বা নাহুবিদদের কথা, আর গ্রন্থকার (المصنف) - আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - নিজেও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আর দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী এর উদ্দেশ্য হবে: সেই কথা যা মনে সংরক্ষিত বা পরিচিত, আর তা হলো নাহুবিদদের কথা; কারণ যে মূল পাঠ্য (متن) দিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে তা নাহু শাস্ত্রের ওপর রচিত, এবং এর গ্রন্থকার একজন নাহুবিদ, বরং তাদের বিখ্যাত ইমামদের মধ্যে অন্যতম।
তৃতীয়:
তাঁর উক্তি 'শব্দ' (اللفظ) এর সাথে তিনটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম: আভিধানিক অর্থ (اللغة)
যেখানে এটি: কোনো কিছু নিক্ষেপ করার অর্থ প্রদান করে। আপনি বলেন: 'আমি মুখ থেকে বস্তুটি নিক্ষেপ (لفظت) করেছি', যখন আপনি তা ছুঁড়ে ফেলে দেন।
দ্বিতীয়: পরিভাষাগত অর্থ (اصطلاح)
যেখানে তা হলো: মুখ থেকে নির্গত ধ্বনি, যা বর্ণমালার কিছু অক্ষরকে বাস্তবে (تحقيقاً) অন্তর্ভুক্ত করে যেমন ‘যায়েদ’ অথবা উহ্যভাবে (تقديراً) অন্তর্ভুক্ত করে যেমন উহ্য সর্বনাম (ضمير مستتر)।
তৃতীয়: এর দ্বারা ব্যাবর্তন বা সতর্কতা
যেখানে পরিভাষায় কালামের সংজ্ঞায় 'শব্দ' (اللفظ) এর শর্তের মাধ্যমে ওই সমস্ত বিষয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে যার দ্বারা পারস্পরিক বুঝাপড়া সম্পন্ন হয় কিন্তু তা শব্দ (اللفظ) নয়, যেমন লেখা, ইশারা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। ভাষাবিদদের নিকট এগুলোকে 'নির্দেশক' (الدوال) বলা হয়, কারণ এগুলো এমন অর্থের দিকে নির্দেশ করে যা শ্রোতা বুঝতে সক্ষম হয়।
চতুর্থ:
তাঁর উক্তি 'যৌগিক' (المركب) এর সাথে তিনটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম: আভিধানিক অর্থ (اللغة)
যেখানে তা হলো: এক জিনিসের ওপর অন্য জিনিসের অবস্থান। আপনি বলেন: 'আমি পশুর ওপর আরোহণ (ركبت) করেছি' যখন আপনি তার ওপর চড়েন। আর 'যৌগিক' (المركب) শব্দটি 'রকিবা' (ركب) ধাতু হতে নির্গত কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول)।
দ্বিতীয়: পরিভাষাগত অর্থ (اصطلاح)
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حَيْثُ إِنه: ضمُّ كلمةٍ إِلى أخرى فأكثر. سواء أكان الضم ظاهراً كـ (قام زيد) ، أم كان مُقَدَّراً كـ (قم) ، إِذْ التقدير: قُمْ أنت.
وليُعْلم أن التركيب يأتي على أنواع:
ومنه: المركب الإسنادي؛ وهو المكوّن من مسنَدٍ ومسند إِلَيْهِ، كـ (زَيْدٌ قَائِمٌ، وقام زَيْدٌ) حَيْثُ إِن زيداً مسند إِلَيْهِ، والقيام مسند.
ومنه: التركيب المزجي كـ (بَعْلَبَك) .
والتركيب الإضافي، كـ (غلام زيد) .
والتركيب العددي، كـ (أربعة عشر) .
الثالث: الاحتراز به
قَيْد (التركيب) احترز به: عن المفرد، كـ (زيد) فقط، أَوْ (عمرو) فقط - أعني: لم يُضَمّ إليها شيء آخر -.
الخامس:
قوله (المفيد) يتعلق به أشياء ثلاثة:
الأول: معناه في اللُّغَة
حَيْثُ إِنه: ما ترتب عليه فائدة، ولها معانٍ منها: ما استفيد من علم أَوْ مال. وكلمة (المفيد) اسم فاعل من: فَيَدَ.
الثاني:
معناه في الاصطلاح؛ حَيْثُ إِنه: كل ما أفهم معنى يَحْسُنُ السكوت عليه كـ (قام زَيْدٌ) خلافاً لـ (إن قام زَيْدٌ) فلا يًحْسُنُ السكوت عليها.
ثم هل المراد سكوت الْمُتَكَلِّم عن التكَلُّم، أَوْ السامع عن طلب الازدياد، أَوْ هما؟ أقوال؛ أرجحها: الأول؛ لأن السكوت خلاف التكَلُّم، والثاني صفة الْمُتَكَلِّم اتفاقاً، فكذلك السكوت.
صفته:
وهل يشترط إفادة المخاطب شيئاً يجهله؟ قولان:
أحدهما: اشتراط ذلك، وبه جزم ابن مالك وآخرون.
والثاني: عدم اشتراطه، وصححه أبو حيان والصبان وآخرون.
وليُعْلم أن محل الخلاف السابق: إِذَا ابتدئ به؛ لا إِذَا كان في درج الكلام وثناياه.
ومثال البدء:
قولك لعاقل: النار حارة تحرق. خلافاً ما إِذَا كانت الجملة نفسها في درج حديث مفيد أوله.
الثالث: الاحتراز به
قَيْد (المفيد) احترز به: عن كل لفظ مركب لا يفيد الفائدة الموصوفة آنفاً.
السادس:
قوله: (بالوضع) يتعلق به أشياء ثلاثة:
এটি হলো: একটি শব্দের সাথে অন্য এক বা একাধিক শব্দের মিলন। চাই সেই মিলন প্রকাশ্য হোক যেমন— (যায়েদ দাঁড়িয়েছে), অথবা উহ্য হোক যেমন— (দাঁড়াও), কারণ এর উহ্য রূপ হলো: তুমি দাঁড়াও।
জেনে রাখা উচিত যে, গঠন (التركيب) কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে:
তার মধ্যে একটি হলো: ইসনাদী গঠন (المركب الإسنادي); যা মুসনাদ (مسند) এবং মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) এর সমন্বয়ে গঠিত হয়, যেমন— (যায়েদ দণ্ডায়মান, এবং যায়েদ দাঁড়িয়েছে)। এখানে যায়েদ হলো মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) এবং দাঁড়ানো হলো মুসনাদ (مسند)।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: মিশ্রিত গঠন (التركيب المزجي) যেমন— (বালবাক)।
এবং সম্বন্ধযুক্ত গঠন (التركيب الإضافي), যেমন— (যায়েদের গোলাম)।
এবং সংখ্যাবাচক গঠন (التركيب العددي), যেমন— (চৌদ্দ)।
তৃতীয়: এর মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন (الاحتراز) করা।
গঠন (التركيب) এর শর্ত দ্বারা একক শব্দ (المفرد) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যেমন শুধু (যায়েদ) অথবা শুধু (আমর) - অর্থাৎ যার সাথে অন্য কিছু যুক্ত করা হয়নি।
পঞ্চম:
তার বক্তব্য ‘অর্থবহ’ (المفيد) এর সাথে তিনটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম: এর আভিধানিক অর্থ।
এটি হলো: যার ওপর কোনো ফায়দা বা অর্থ লাভ নির্ভর করে। এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে, যেমন: জ্ঞান বা সম্পদ থেকে যা অর্জিত হয়। আর ‘অর্থবহ’ (المفيد) শব্দটি ‘ফায়াদা’ থেকে উদ্গত একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل)।
দ্বিতীয়:
এর পারিভাষিক অর্থ; এটি হলো: এমন যা দ্বারা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ পায় যার ওপর নিশ্চুপ থাকা বা থামা সঠিক হয়, যেমন— (যায়েদ দাঁড়িয়েছে)। পক্ষান্তরে (যদি যায়েদ দাঁড়ায়) এর ব্যতিক্রম, কারণ এর ওপর থামা সঠিক নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, নিশ্চুপ হওয়া বলতে কি বক্তার কথা বলা থেকে বিরতি উদ্দেশ্য, নাকি শ্রোতার আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থেকে নিবৃত্তি উদ্দেশ্য, নাকি উভয়টিই? এ ব্যাপারে কয়েকটি অভিমত রয়েছে; তার মধ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য হলো: প্রথমটি; কারণ নিশ্চুপ হওয়া হলো কথা বলার বিপরীত অবস্থা, আর কথা বলা সর্বসম্মতভাবে বক্তার বৈশিষ্ট্য, তাই নিশ্চুপ হওয়াও তারই বৈশিষ্ট্য হবে।
এর বৈশিষ্ট্য:
সম্বোধিত ব্যক্তিকে কি এমন নতুন কিছু জানানো শর্ত যা সে জানে না? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে:
একটি হলো: এটি শর্ত হিসেবে গণ্য করা, ইমাম ইবনে মালিক এবং আরও অনেকে এ ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয়টি: এটি শর্ত না হওয়া, যা আবু হাইয়ান, সাব্বান এবং আরও অনেকে সঠিক বলে অভিহিত করেছেন।
জেনে রাখা উচিত যে, পূর্বোক্ত মতভেদের ক্ষেত্র হলো যখন সেটি দিয়ে কথা শুরু করা হয়; কিন্তু যখন তা আলোচনার ধারাবাহিকতা ও মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে তখন নয়।
প্রারম্ভের উদাহরণ হলো:
কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে আপনার বলা: আগুন গরম ও দহনকারী। এর বিপরীত হলো যখন বাক্যটি নিজেই একটি অর্থবহ আলোচনার ধারাবাহিকতার মধ্যে অবস্থান করে।
তৃতীয়: এর মাধ্যমে বর্জন।
‘অর্থবহ’ (المفيد) শর্তটি দ্বারা এমন প্রত্যেকটি গঠিত শব্দসমষ্টিকে বর্জন করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে বর্ণিত ফায়দা বা অর্থ প্রদান করে না।
ষষ্ঠ:
তার উক্তি ‘প্রথাগত প্রয়োগ’ (بالوضع) এর সাথে তিনটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأول: معناه في اللُّغَة
حَيْثُ إِنه: يدل على خفض الشيء وحطه، تقول: وضعت الكتاب على الأرض؛ إِذَا حططته. وكلمة: (بالوضع) جار ومجرور متعلق بـ (المفيد) ، والباء في كلمة: (بالوضع) تحتمل معان، ومنها: المصاحبة، أي: الكلام هو اللفظ المركب المفيد إفادة مصحوبة بالوضع.
الثاني: معناه في الاصطلاح
هو: جعل اللفظ دليلاً على معنى، وفق الاستعمال العربي. وهذا الوضع العربي يشمل اللفظ على جهة الانفراد والنظم. فأما الانفراد فتكون الكلمة المراد بها معنى ما قد استعملها العرب للمعنى نفسه. كـ (زيد) ؛ فإنه لفظ عربي جعلته العرب دالاً على معنى، وهو ذات وضع عليها لفظ: (زيد) .
وكذلك يُقَال في نظم الكلام وضم بعضه إِلى بعض؛ إِذْ لابد من صحة تركيبه وعَوْد ضمائره وما إِلى ذلك.
ثم هل الوضع يُرَاد به - أَيْضاً - القصد؛ أَيْ: أن يكون الكلام مقصوداً؟ قولان.
أحدهما: إثبات ذلك، وبه قطع ابن مالك وخلائق، وعليه جمهور شرَّاح المتن.
الثاني: نَفْيُ ذلك، ورجَّحه أبو حَيَّان.
ومِنْ ثَمَّ يكون لكلمة: (بالوضع) معنى يتضمّن شيئين:
الأول: الوضع العربي.
والثاني: القصد، على الصحيح.
الثالث: الاحتراز به
قَيْد (الوضع) - بمعنييه السابقين - احترز بالأول منهما: عن الكلام الموضوع وضعاً غير عربي، كالكلام الأعجمي. واحترز بالثاني: عن كلام غير القاصد - ولو كان موضوعاً وضعاً عربياً -، كالمجنون.
السابع:
في كون حَدّ الكلام اصطلاحاً يشتمل على قيود أربعة وهي: اللفظ، والتركيب، والإفادة، والوضع.
وهذا الْحَدّ بقيوده الأربعة ذكره جماعة قَبْل ابن آجروم - يرحمه الله -، ومنهم: الإمام الْجُزُولي - نسبة إِلى جُزُولة، بطن من بطون البربر بالمغرب -، قاله الأزهري.
الثامن:
اعترض على حدّ الْمُصَنِّف للكلام باعتراضين:
أحدهما:
প্রথমত: শাব্দিক অর্থ
যেখানে এটি কোনো কিছু নামিয়ে রাখা বা অবনমিত করার নির্দেশ দেয়। আপনি বলবেন: আমি বইটি মাটিতে রেখেছি (وضعت)؛ অর্থাৎ যখন আপনি তা নিচে নামিয়ে রাখেন। এবং (بالوضع) শব্দটি হলো 'জার' ও 'মজরুর' যা 'আল-মুফিদ' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। (بالوضع) শব্দের 'বা' অক্ষরটি কয়েকটি অর্থ প্রকাশ করতে পারে, তার মধ্যে একটি হলো: সাহচর্য; অর্থাৎ: কালাম বা বাক্য হলো সেই সুবিন্যস্ত শব্দ যা ভাষা গঠনের (الوضع) সাথে অর্থ প্রদান করে।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থ
তা হলো: আরবি প্রয়োগরীতি অনুযায়ী শব্দকে কোনো অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা। আর এই আরবি গঠন বা স্থাপন (الوضع) একক শব্দ এবং বাক্যের বিন্যাস—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। পৃথক শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, যে শব্দটি দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বোঝানো উদ্দেশ্য, আরবরা সেই শব্দটি সেই নির্দিষ্ট অর্থের জন্যই ব্যবহার করেছে। যেমন: ‘জায়েদ’; এটি একটি আরবি শব্দ যা আরবরা একটি নির্দিষ্ট সত্তার পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং সেই সত্তার ওপরই ‘জায়েদ’ শব্দটি আরোপ বা গঠন (الوضع) করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে বাক্যের বিন্যাস এবং এক শব্দকে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কেননা এক্ষেত্রে এর গঠনশৈলী সঠিক হওয়া এবং এতে সর্বনামের সঠিক ব্যবহার ও এজাতীয় বিষয়গুলো থাকা অপরিহার্য।
অতঃপর এই গঠন বা স্থাপন (الوضع) দ্বারা কি ‘উদ্দেশ্য’ হওয়াও শর্ত? অর্থাৎ কথাটি কি বক্তার পক্ষ থেকে সচেতনভাবে বলা হতে হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
প্রথমটি: এটিকে সাব্যস্ত করা। ইবনে মালিক এবং একদল আলিম এই বিষয়ে অকাট্য মত দিয়েছেন এবং মূল পাঠের অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার এর ওপরই নির্ভর করেছেন।
দ্বিতীয়টি: এটিকে অস্বীকার করা। আবু হাইয়ান একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
সেই সূত্র ধরে (بالوضع) শব্দটির অর্থ দুটি বিষয়কে শামিল করে:
প্রথম: আরবি গঠনরীতি (الوضع)।
দ্বিতীয়: উদ্দেশ্য, যা বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী স্বীকৃত।
তৃতীয়ত: এর মাধ্যমে যা বর্জন করা হয়েছে
গঠন বা স্থাপনের (الوضع) এই শর্তটি—পূর্বোক্ত দুটি অর্থ অনুযায়ী—প্রথমটির মাধ্যমে অনারবি ভাষার মতো গায়রে-আরবি গঠনরীতিতে তৈরিকৃত বাক্যকে বর্জন করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়টির মাধ্যমে উদ্দেশ্যহীন কথাকে বর্জন করা হয়েছে—যদিও তা আরবি রীতিতে গঠিত হয়—যেমন উন্মাদের প্রলাপ।
সপ্তমত:
পারিভাষিক দৃষ্টিতে বাক্যের সংজ্ঞায় চারটি শর্ত বা সীমাবদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেগুলো হলো: শব্দ, বিন্যাস, অর্থবহ হওয়া এবং গঠনরীতি (الوضع)।
চারটি শর্তসহ এই সংজ্ঞাটি ইবনে আজুররুম—রহিমাহুল্লাহ—এর পূর্বে একদল আলিম উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইমাম আল-জুজুলি—যিনি মরক্কোর বারবার সম্প্রদায়ের একটি শাখা জুজুলার বংশোদ্ভূত—যেমনটি আল-আজহারি বলেছেন।
অষ্টমত:
লেখকের দেওয়া বাক্যের সংজ্ঞার ওপর দুটি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:
প্রথমটি:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أن قَيْد: (التركيب) و (الوضع) : يغني عنهما قَيْد: الإفادة؛ لأن المفيد الفائدة التي يحسن السكوت عليها؛ يستلزم أن يكون مركباً وموضوعاً.
ولكن أجيب عن ذلك بجوابين:
الأول: أن دلالة اللزوم مهجورة في التعاريف عند أولى النظر؛ ولذا أَثْبت الْمُصَنِّف - يرحمه الله - قَيْد: التركيب والإفادة. ثم إن المقصود من التعريف شرح الْمُعَرَّفِ بيان أجزائه وقيوده، فلا يكفي دلالة اللزوم.
الثاني: أن تعريف الشيء بذكر قيوده وأجزائه بعيداً عن دلالة اللزوم؛ هو المناسب للمبتدئين؛ إِذْ إِنَّهم غالباً لا يَعْقلون دلائل اللزوم، والمقدمة الآجرومية إنما كان للمبتدئين؛ فحصل التناسب.
الثاني:
أن هناك قَيْداً لابد منه في التعريف، وهو: اتحاد الناطق، فلو اصطلح رجلان على أن يَذْكر أحدهما فعلاً، والآخر فاعلاً؛ لم يُسَمَّ ذلك كلاماً. ومِنْ ثَمَّ تعيَّن إضافة قَيْد: (اتحاد الناطق) في التعريف.
ورُدَّ هذا الاعتراض بأن قَيْد: اتحاد الناطق مُخْتلَف فيه، بل صحَّحَ الأئمة كابن مالك وأبي حيان عدم كونه قَيْداً، إلحاقاً بحقيقة: (الْخَطّ) ؛ إِذْ يُسَمَّى الخط خطاً ولو اختلف الكاتب، فكذلك الكلام.
تمرين على ما شرح
أ) لو تمثَّل عاقل فقال:
يَكُنْ عنِ الزَّيفِ والتصْحِيفِ في حَرَمِ
فَعِلْمُهُ عنْدَ أهْلَ العِلْمِ كالعَدَمِ.
مَنْ يأخُذِ العلْمَ عن شيخٍ مُشافهةً
ومَنْ يكُنْ آخذاً لِلْعِلْمِ مِنْ صُحُفٍ.
لَعُدَّ كلامه عند النحاة كلاماً؛ لانطباق تعريف الكلام عندهم عليه، فقوله: (من يأخذ
…) لفظ. لأنه صوت مشتمل على حروف هجائية، أولها: الميم ثم النون وهلم جراً. وهو كلام مُركَّب من كلمات بل من جمل. وهو كذلك مفيد؛ حَيْثُ حسن سكوت الْمُتَكَلِّم عليه؛ ولم يكن السامع يدري من مبانيه ومعانيه - أعني: الأبيات المتمثل بها -. وهو موضوع وضعاً عربياً ومقصود، لكونه من عاقل.
'গঠন' (التركيب) এবং 'প্রয়োগ' (الوضع) -এর শর্ত দুটি 'অর্থবহতা' (الإفادة) শর্তের মাধ্যমেই পূর্ণ হয়ে যায়; কারণ, যা থেকে এমন একটি অর্থ বা উপকার পাওয়া যায় যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন, তা গঠনগতভাবে সুসংবদ্ধ এবং অর্থপূর্ণভাবে প্রযুক্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে।
তবে এর প্রেক্ষিতে দুটি উত্তর প্রদান করা হয়েছে:
প্রথমত: গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে 'অপরিহার্যতার ইঙ্গিত' (دلالة اللزوم) বর্জনীয়। আর একারণেই গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—'গঠন' (التركيب) এবং 'অর্থবহতা' (الإفادة)-এর শর্তসমূহ উল্লেখ করেছেন। অধিকন্তু, সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়ের বিশ্লেষণ এবং এর অংশ ও শর্তাবলি স্পষ্ট করা; সেক্ষেত্রে কেবল অপরিহার্যতার ইঙ্গিত যথেষ্ট নয়।
দ্বিতীয়ত: কোনো বিষয়ের সংজ্ঞায়নে 'অপরিহার্যতার ইঙ্গিত' ব্যতিরেকে তার অংশ ও শর্তাবলি সরাসরি উল্লেখ করা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর উপযোগী। কারণ, তারা সাধারণত অপরিহার্যতার গূঢ় ইঙ্গিতসমূহ অনুধাবন করতে পারে না। আর 'আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমিয়্যাহ' মূলত প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যই রচিত; ফলে এখানে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় আপত্তি:
সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য শর্ত হলো 'বক্তার অভিন্নতা' (اتحاد الناطق)। যদি দুজন ব্যক্তি এমন সমঝোতা করে যে একজন 'ক্রিয়া' (فعل) বলবে এবং অন্যজন 'কর্তা' (فاعل) বলবে, তবে তাকে 'কালাম' (বাক্য) বলা হবে না। এ কারণেই সংজ্ঞায় 'বক্তার অভিন্নতা' (اتحاد الناطق) শর্তটি যোগ করা আবশ্যক।
এই আপত্তির খণ্ডনে বলা হয়েছে যে, 'বক্তার অভিন্নতা' (اتحاد الناطق)-এর শর্তটি মতভেদপূর্ণ। বরং ইবনে মালিক এবং আবু হাইয়ানের মতো ইমামগণ একে শর্ত হিসেবে গণ্য না করাকেই সঠিক বলেছেন। একে 'লিখন' (الخط)-এর বাস্তবতার সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ লেখক ভিন্ন ভিন্ন হলেও যেমন তাকে লিখন বলা হয়, কালাম বা বাক্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।
পঠিত বিষয়ের ওপর অনুশীলন
ক) যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি উদাহরণ হিসেবে বলেন:
যেকোনো ভ্রান্তি ও বিকৃতি থেকে মুক্ত থাকা বাঞ্ছনীয়,
কেননা ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তা অস্তিত্বহীনের সমান।
যে ব্যক্তি সরাসরি শিক্ষকের নিকট থেকে ইলম হাসিল করে,
আর যে ব্যক্তি কেবল কিতাব থেকে ইলম অর্জন করে।
নাহুবিদদের নিকট তাঁর এই উক্তি 'কালাম' (বাক্য) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তাদের দেওয়া সংজ্ঞার শর্তসমূহ এখানে বিদ্যমান। তাঁর কথা: (যে ব্যক্তি গ্রহণ করে
…) একটি 'উচ্চারণ' (لفظ)। কারণ এটি হিজায়ী হরফ সম্বলিত কণ্ঠস্বর, যার শুরুতে 'মীম', এরপর 'নুন' এবং এভাবেই পরবর্তী বর্ণগুলো এসেছে। এটি শব্দ বরং বাক্য দ্বারা 'গঠিত' (مركب)। এটি একইভাবে 'অর্থবহ' (مفيد); যেহেতু বক্তার উক্তিটির ওপর নীরব থাকা শুদ্ধ এবং শ্রোতা এর কাঠামো ও অর্থ—অর্থাৎ এই পংক্তিগুলো—সম্পর্কে পূর্বে অবগত ছিল না। এটি আরবি ভাষায় 'প্রযুক্ত' (موضوع) এবং যেহেতু একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছে, তাই এটি সুচিন্তিত ও উদ্দেশ্যমূলক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ب) لو قال قائل من العقلاء:
(قرأت كتاب: [الكتاب] لأبي بشر؛ فوجدته موسوعة عربية كبرى) . لما عَدَّه النحاة كلاماً؛ لأن كلمة: (موسوعة) غير عربية، فتأخر في هذا المثال قَيْد: الوضع.
لطيفة:
لفظ (موسوعة) اصطلاح قريب العهد في أول القرن الثالث عشر. وهو تصحيف. قصته: أن إحدى مكتبات القسطنطينية كانت تدون فهرساً لمحتوياتها، فأملى أحد موظفيها اسم كتاب ‘‘لطاش كبرى زاده’’، عنوانه: موضوعات العلوم، أملاه بلسان الأعاجم، فسمعه الكاتب: موسوعات العلوم.
فوقف الأستاذ إبراهيم اليازجي على: موسوعات العلوم، فظَنَّ أن كلمة (موسوعات) تؤدي معنى (دائرة معارف) فأعلن ذلك في مجلته الْمُسَمَّاة بـ (الضياء) فسار به القراء.
ويستعاض عن كلمة (موسوعة) بالجمهرة أَوْ الْمَعْلَمَة، والأول عليه كثير من أئمة اللُّغَة.
قال الْمُصَنِّف رحمه الله (وأقسامه ثلاثة: اسم، وفعل، وحرف جاء لمعنى)
فيه مباحث على ما يلي:
الأول:
قوله (وأقسامه) يتعلق بها أشياء:
الأول:
في كون (الواو) في (وأقسامه) استئنافية، وقولنا: (استئنافية) مأخوذ من: الاستئناف وهو: الابتداء، تقول: استأنفت الأمر؛ إِذَا ابتدأته.
الثاني:
في كون ضمير (الهاء) المتصل؛ عائداً على الكلام. وهو في مَحَلّ خَفْضٍ على الإضافة.
الثالث:
في معنى (الأقسام) لغة؛ حَيْثُ إِنها جَمْع قسْم، والقَسْم - بفتح القاف - مصدر قَسَمْت الشيء قَسْماً؛ إِذَا جزَّأته. والقِسْم - بكسر القاف - النصيب.
الرابع:
في معنى (الأقسام) في عبارة الْمُصَنِّف - يرحمه الله -، حَيْثُ عَنى أجزاء الكلام من جهة تركيبه لا حقيقته؛ لأنه سبق أن الكلام عند النحاة حقيقته مُركَّبةٌ من اللفظ المركب، والمفيد بالوضع. فهذه القيود الأربعة هي أجزاء الكلام من جهة حقيقته. وأما من جهة التركيب فثلاثة: اسم، وفعل، وحرف جاء لمعنى.
الثاني:
قوله: (ثلاثة) يتعلق به شيئان:
(খ) যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি বলেন:
(আমি আবু বিশরের [গ্রন্থ] নামক বইটি পড়েছি এবং একে একটি বিশাল আরবি বিশ্বকোষ হিসেবে পেয়েছি); তবে বৈয়াকরণগণ একে 'কালাম' (বাক্য) হিসেবে গণ্য করবেন না; কারণ 'মওসূয়াহ' (বিশ্বকোষ) শব্দটি আরবি নয়। ফলে এই উদাহরণে 'পরিভাষা বা প্রথা (الوضع)' এর শর্তটি অনুপস্থিত রয়ে গেছে।
কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য:
'মওসূয়াহ' (বিশ্বকোষ) শব্দটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকের একটি আধুনিক পরিভাষা। এটি মূলত একটি লিখন-প্রমাদ (تصحيف)। এর প্রেক্ষাপট হলো: কনস্টান্টিনোপলের একটি গ্রন্থাগার তাদের বিষয়বস্তুর একটি তালিকা তৈরি করছিল। তখন তাদের একজন কর্মচারী 'তাশ কুবরা জাদাহ' রচিত 'মাওদুআত আল-উলুম' (বিজ্ঞানের বিষয়াবলি) নামক গ্রন্থের শিরোনামটি শ্রুতিলিপি দিচ্ছিলেন। তিনি এটি অনারব উচ্চারণে বলায় লেখক তা 'মাওসুআত আল-উলুম' হিসেবে শুনে লিপিবদ্ধ করেন।
অতঃপর উস্তাদ ইব্রাহিম আল-ইয়াজিজি 'মাওসুআত আল-উলুম' শব্দটির সংস্পর্শে আসেন এবং ধারণা করেন যে 'মাওসুআত' শব্দটি 'বিশ্বকোষ (دائرة معارف)' এর অর্থ প্রদান করে। তিনি তার 'আল-দিয়া' নামক সাময়িকীতে এটি প্রচার করেন এবং পাঠকদের মধ্যে এটি প্রচলিত হয়ে যায়।
'মওসূয়াহ' শব্দের পরিবর্তে 'জামহারাহ' অথবা 'মালামাহ' শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে; আর ভাষাবিদ ইমামগণের অধিকাংশের নিকট প্রথমটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আর এর প্রকারভেদ তিনটি: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং এমন অব্যয় যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য আসে)
এ বিষয়ে নিম্নোক্ত আলোচনাগুলো রয়েছে:
প্রথম:
তার উক্তি (আর এর প্রকারভেদসমূহ) এর সাথে কয়েকটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথমত:
'ওয়াও' অক্ষরটি এখানে প্রারম্ভিক (استئنافية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 'ইস্তিনাফিয়্যাহ' শব্দটি 'আল-ইস্তিনাফ' থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো: আরম্ভ করা। আপনি বলেন: 'আমি বিষয়টি পুনরায় শুরু করেছি'; যখন আপনি তা আরম্ভ করেন।
দ্বিতীয়ত:
সংযুক্ত সর্বনাম 'হা' শব্দটি 'কালাম' (বাক্য)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। আর এটি সম্বন্ধবাচক হওয়ার কারণে 'নিম্নমুখী স্বর (خفض)' বা পদের অবস্থানের ভিত্তিতে জিরের স্থানে রয়েছে।
তৃতীয়ত:
অভিধানের আলোকে 'আকসাম' (প্রকারভেদ) এর অর্থ; এটি 'কিসম' শব্দের বহুবচন। 'কাসম' -ক্বফ বর্ণে ফাতহা দিয়ে- এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যার অর্থ আমি কোনো বস্তুকে খণ্ডিত বা বিভক্ত করেছি। আর 'কিসম' -ক্বফ বর্ণে কাসরা দিয়ে- এর অর্থ হলো অংশ বা ভাগ্য।
চতুর্থত:
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনায় 'আকসাম' এর অর্থ; এখানে তিনি বাক্যের গঠনগত অংশসমূহ বুঝিয়েছেন, এর প্রকৃত সত্তা বা হাকীকত নয়। কারণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, বৈয়াকরণদের নিকট বাক্যের হাকীকত চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত: শব্দ, যৌগিকতা, অর্থবহতা এবং পরিভাষা বা প্রথা (الوضع)। এই চারটি শর্ত হলো বাক্যের হাকীকত বা প্রকৃত সত্তার অংশ। আর গঠনের দিক থেকে বাক্য তিন প্রকার: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অর্থবোধক অব্যয়।
দ্বিতীয়:
তার উক্তি (তিনটি) এর সাথে দুটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أحدهما:
أن تقسيم الكلام من جهة تركيبه إِلى أقسام ثلاثة، أمر مُجْمع عليه عن اللُّغَويين والنحاة؛ قاله الأزهري.
والثاني:
في دليل القِسْمة. حَيْثُ إِن دليل ذلك أمران:
أحدهما: الاستقراء التام؛ حَيْثُ استقرأ أئمة اللُّغَة كأبي عمرو المازني والخليل وسيبويه - الكلام، فوجدوه لا يخرج عن كونه: اسماً، وفعلاً، وحرفاً جاء لمعنى. والاستقراء التام حجَّة باتفاق.
والثاني: الدليل العقلي؛ إِذْ العقل لا يقبل غير تلك القِسْمة.
وبيانه:
أن الكلمة لا تخلو: إما أن تدل على معنى في نفسها أَوْ لا، فالثاني: الحرف. والأول: إما أن يقترن بأحد الأزمنة الثلاثة أَوْ لا، فالثاني: الاسم. والأول: الفعل.
الثالث:
قوله: (اسم) ، يتعلَّق به أشياء أربعة:
الأول:
في تقديم الْمُصَنِّف - يرحمه الله - الاسمَ على الفعل والحرف؛ إِذْ هناك ما يُوجِب تقديمه، ومن ذلك: كون الاسم يأتي مسنداً ومسنداً إِلَيْهِ، خلافاً للفعل فلا يكون إلا مسنداً، وأما الحرف فلا يكون مسنداً ولا مسنداً إِلَيْهِ.
ومثال ذلك:
(زَيْدٌ قَائِمٌ) ؛ وفيه أُسْنِدَ القيام لزيد، فكان (زيد) مسنداً إِلَيْهِ القيام، وكانت كلمة: (قائم) مسنداً؛ حَيْثُ أُسْنِدت لـ (زيد) ، وكلمة: (قائمٌ) اسم، بدلالة التنوين فيها، والتنوين - كما سيأتي إن شاء الله - من خواص الاسم وعلاماته.
فبان بالمثال السابق أن الاسم يأتي مُسْنَداً ومُسْنَداً إِلَيْهِ.
الثاني: في معناه لغة
إِذْ هو: ما دَلَّ على مُسَمّى، واخْتُلِفَ في اشتقاقه هو مِن (السُّمُوّ) وهو: العلو، أم من (الوَسْم) وهو: العلامة؟؟ قولان: والصحيح: الأول، وعليه الأكثر. ولا شك أن الاسم يعلو الْمُسَمَّى، ويعلو الفعل والحرف على ما سبق (أَيْ: من كونه مسنداً ومسنداً إِلَيْهِ) .
الثالث: في معناه اصطلاحاً
حَيْثُ يُعَرَّف بأنه: ما دَلَّ على معنى في نفسه ولم يقترن بزمان.
দুটির একটি:
গঠনশৈলীর দিক থেকে বক্তব্যকে তিন ভাগে বিভক্ত করা ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদদের নিকট একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়; আল-আজহারি এটি উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়ত:
বিভাজনের প্রমাণাদি প্রসঙ্গে। এর সপক্ষে প্রমাণ দুটি:
প্রথমটি: পূর্ণাঙ্গ আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء التام); যেখানে ভাষাবিজ্ঞানের ইমামগণ যেমন—আবু আমর আল-মাজেনি, খলিল এবং সিবওয়াইহ ভাষাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং একে বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অর্থবোধক অব্যয়ের (حرف جاء لمعنى) বাইরে পাননি। আর পূর্ণাঙ্গ আরোহ পদ্ধতি সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রমাণ (حجة)।
দ্বিতীয়টি: যৌক্তিক প্রমাণ (الدليل العقلي); কারণ বিবেক এই বিভাজন ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করে না।
এর ব্যাখ্যা:
শব্দ (কালিমা) মূলত দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় তা স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করবে, নতুবা করবে না। দ্বিতীয়টি হলো অব্যয় (حرف)। আর প্রথমটি হয় তিনটি কালের কোনো একটির সাথে যুক্ত হবে, নতুবা হবে না। দ্বিতীয়টি হলো বিশেষ্য (اسم)। আর প্রথমটি হলো ক্রিয়া (فعل)।
তৃতীয়ত:
তাঁর উক্তি: (বিশেষ্য (اسم)), এর সাথে চারটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথমটি:
লেখক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ক্রিয়া (فعل) ও অব্যয়ের (حرف) পূর্বে বিশেষ্যকে (اسم) স্থান দেওয়া প্রসঙ্গে; কারণ একে অগ্রগণ্য করার কতিপয় আবশ্যিক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: বিশেষ্য (اسم) একইসাথে মুসনাদ (مسند) ও মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ক্রিয়ার (فعل) বিপরীত। কেননা ক্রিয়া (فعل) কেবল মুসনাদ (مسند) হতে পারে। আর অব্যয় (حرف) মুসনাদ (مسند) বা মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) কোনোটিই হতে পারে না।
উদাহরণস্বরূপ:
(জায়েদ দণ্ডায়মান); এখানে দাঁড়ানোর কাজটিকে জায়েদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। ফলে (জায়েদ) হলো মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) এবং (দণ্ডায়মান) শব্দটি হলো মুসনাদ (مسند); যেহেতু একে জায়েদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর 'দণ্ডায়মান' শব্দটি একটি বিশেষ্য (اسم), যার প্রমাণ হলো এতে তানউইন (التنوين) থাকা। আর তানউইন—ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে—বিশেষ্যের (اسم) অনন্য বৈশিষ্ট্য ও আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং পূর্বোক্ত উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, বিশেষ্য (اسم) মুসনাদ (مسند) ও মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) হিসেবে আসতে পারে।
দ্বিতীয়টি: শাব্দিক অর্থের বর্ণনায়
যেহেতু তা হলো: যা কোনো নামধারী সত্তাকে (মুসাম্মা) নির্দেশ করে। এর ব্যুৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি 'উচ্চতা' (السمو) থেকে উদ্ভূত নাকি 'চিহ্ন' (الوسم) থেকে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। তবে সঠিক (الصحيح) হলো প্রথমটি এবং অধিকাংশের মত এটিই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নাম (اسم) নামধারী সত্তার ঊর্ধ্বে থাকে এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে (অর্থাৎ মুসনাদ ও মুসনাদ ইলাইহি হওয়ার দিক থেকে) তা ক্রিয়া (فعل) ও অব্যয়ের (حرف) ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।
তৃতীয়টি: পারিভাষিক অর্থের বর্ণনায়
যেখানে একে সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে: যা নিজে থেকে কোনো অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের সাথে যুক্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
و (في) في التعريف للسَّبَبِيَّة، أَيْ: دَلَّتْ عَلَى معنى بسبب نفسه لا بغيره.
والمراد بالزمان في: (ولم يقترن بزمان) المعَبَّر عنه بـ (الماضي، والحال، والاستقبال) .
الرابع: في أقسام الاسم
حَيْثُ يقسم إِلى أقسام ثلاثة:
الأول: الاسم المظهر، كـ (زيد) ، و (عمرو) ونحوهما. ويضبط بأنه ما دَلَّ على مُسَمَّاهُ بلا قَيْد (أَيْ: من القيود الآتي ذكرها) .
الثاني: الاسم المضمر، كـ (أنا، وأنت، وهو) ويضبط بأنه: ما دَلَّ على مُسَمَّاهُ بقَيْد (التكَلُّم، أَوْ الخطاب، أَوْ الغيبة) .
وقَيْد التكَلُّم مثاله: أنا، فهو يدل على الْمُتَكَلِّم.
وقَيْد الخطاب مثاله: أنت، فهو يدل على مُخاطَب.
وقَيْد الغَيْبة مثاله: هو، فهو يدل على غائب.
وجميع هذه الأسماء بقيودها ضمائر؛ ولذا سُمِّيَت بـ (الأسماء الْمُضْمَرة) .
الثالث: الاسم الْمُبْهَم؛ كـ (هذا والذي) ، ويُضبط بأنه ما دَلَّ على مُسَمَّاهُ بقَيْد: (الإشارة أَوْ الصِّلة) .
وقَيْد الإشارة مثاله: هذا، فهو اسم إشارة.
وقَيْد الصلة مثاله: الذي، فهو اسم موصول.
واسم الإشارة والصِّلة كلاهما يدل علي مُبْهَم. ولذا سُمِّيَا بـ (الأسماء الْمُبْهَمة) .
وذهب جماعة من النحاة إِلى أن الاسم الْمُبْهَم من المضمر، ومِنْ ثَمَّ جعلوا الاسم قسمين: مُظْهر، ومُضْمر.
الرابع:
قوله: (وفعل) يتعلق به أشياء أربعة:
الأول:
ثنى الْمُصَنِّف - يرحمه الله - بالفعل، لكونه يتوسط الاسم والحرف مرتبة، وسبق تقرير ذلك. و (الواو) في: (والفعل) عاطفة.
الثاني: في معناه لغة
حَيْثُ إِنه يدل على إحداث شيء من عملٍ وغيره، تقول: فعلتُ كذا؛ إِذَا أحدثتَهُ.
الثالث: في معناه اصطلاحاً
حَيْثُ إِنه: ما دَلَّ على معنى في نفسه واقترن بزمان. و (في) في قولنا (معنى في نفسه) ؛ للسَّبَبِيَّة، أَيْ دَلَّتْ عَلَى معنى بسبب نفسه، لا بانضمام غيره إِلَيْهِ.
এবং সংজ্ঞার মধ্যে ব্যবহৃত ‘ফি’ (في) বর্ণটি কারণবাচকতা (السببية)-র অর্থ প্রদান করে, অর্থাৎ: এটি অন্য কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই নিজস্ব সত্তার মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে।
‘এবং যা কালের সাথে যুক্ত নয়’ (ولم يقترن بزمان) বাক্যটিতে কাল (الزمان) বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা হলো—অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
চতুর্থ: বিশেষ্যের (الاسم) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে
একে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করা হয়:
প্রথম: সুস্পষ্ট বিশেষ্য (المظهر), যেমন: ‘জায়েদ’, ‘আমর’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে, যা কোনো শর্ত (অর্থাৎ সামনে উল্লিখিত শর্তসমূহ) ছাড়াই তার নামধারী সত্তাকে নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়: সর্বনাম (المضمر), যেমন: ‘আমি’, ‘তুমি’, ‘সে’। একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে, যা কথা বলা (التكلم), সম্বোধন করা (الخطاب) অথবা অনুপস্থিত থাকা (الغيبة)-র শর্তে তার নামধারী সত্তাকে নির্দেশ করে।
কথা বলার (التكلم) শর্তের উদাহরণ: ‘আমি’, এটি বক্তাকে নির্দেশ করে।
সম্বোধন করার (الخطاب) শর্তের উদাহরণ: ‘তুমি’, এটি যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে তাকে নির্দেশ করে।
অনুপস্থিত থাকার (الغيبة) শর্তের উদাহরণ: ‘সে’, এটি অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।
এই সকল বিশেষ্য তাদের শর্তাবলীসহ সর্বনাম হিসেবে গণ্য; আর একারণেই এদেরকে সর্বনাম বিশেষ্য (الأسماء المضمرة) বলা হয়।
তৃতীয়: অস্পষ্ট বিশেষ্য (المبهم); যেমন: ‘ইহা’ এবং ‘যিনি/যা’। একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে, যা ইশারা (الإشارة) অথবা সংযোগের (الصلة) শর্তে তার নামধারী সত্তাকে নির্দেশ করে।
ইশারার (الإشارة) শর্তের উদাহরণ: ‘ইহা’, এটি একটি নির্দেশসূচক বিশেষ্য।
সংযোগের (الصلة) শর্তের উদাহরণ: ‘যিনি/যা’, এটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য।
ইশারা এবং সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য উভয়ই অস্পষ্ট বা অনির্দিষ্ট (مبهم) কোনো কিছুকে নির্দেশ করে। একারণেই এদেরকে অস্পষ্ট বিশেষ্য (الأسماء المبهمة) বলা হয়।
একদল ব্যাকরণবিদ মনে করেন যে, অস্পষ্ট বিশেষ্যসমূহ (المبهم) সর্বনামের অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা বিশেষ্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: সুস্পষ্ট (مظهر) এবং সর্বনাম (مضمر)।
চতুর্থ:
লেখকের বক্তব্য: ‘এবং ক্রিয়া’ (وفعل); এর সাথে চারটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম:
লেখক—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ক্রিয়াকে (الفعل) দ্বিতীয় স্থানে উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি মর্যাদা বা বিন্যাসের দিক থেকে বিশেষ্য ও অব্যয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, যার ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ‘ক্রিয়া’ (والفعل) শব্দের শুরুতে ‘ওয়াও’ বর্ণটি সংযোজক অব্যয় হিসেবে এসেছে।
দ্বিতীয়: শাব্দিক অর্থের বর্ণনায়
শাব্দিক অর্থে এটি কোনো কাজ বা অন্য কিছুর সম্পাদনকে বোঝায়; আপনি যখন বলেন ‘আমি এটি করেছি’, তার অর্থ হলো আপনি সেটি সম্পাদন করেছেন।
তৃতীয়: পারিভাষিক অর্থের বর্ণনায়
পরিভাষায় ক্রিয়া হলো: যা স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের (الزمان) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। আমাদের বক্তব্য ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ’ (معنى في نفسه) এর মধ্যে ‘ফি’ (في) বর্ণটি কারণবাচকতা (السببية)-র অর্থ প্রকাশ করে; অর্থাৎ এটি অন্য কিছুর সংযুক্তি ছাড়াই নিজস্ব সত্তার কারণে অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرابع: في أقسامه
حَيْثُ يقسَّم إِلى: فعل ماض، وفعل مضارع، وفعل أمر. وسيأتي الكلام عنها - إن شاء الله -؛ حَيْثُ عقد الْمُصَنِّف - يرحمه الله -لها فصلاً.
الخامس:
قوله: (وحرف جاء لمعنى) يتعلق به أشياء:
الأول:
أَخَّرَ الْمُصَنِّف - يرحمه الله -ذِكْر الحرف، لكون مرتبته متأخرة عن الاسم والفعل، وسبق تقرير ذلك. و (الواو) في (وحرف) عاطفة.
الثاني:في معناه لغة
حَيْثُ يدل على طرف الشيء وجانبه، تقول: سرت على حرف الوادي، أَيْ: على طرف الوادي وجانبه. وللحرف معانٍ أُخَر.
الثالث: في معناه اصطلاحاً
حَيْثُ إِنه: ما دَلَّ على معنى مع غيره ولم يقترن بزمان. وقولنا: (مع غيره) يدل على أن الحرف لا يدل على معنى في نفسه كالاسم والفعل، بل يأخذ معنى عند انضمامه إِلى اسم أَوْ فعل.
الرابع:
في معنى قوله: (جاء لمعنى) ؛ حَيْثُ إِنه قَيْد للحرف الذي هو ثالث أقسام الكلام من جهة التركيب، إِذْ إِنَّ الحروف نوعان.
أحدهما: حروف مباني؛ وهي التي تَنْبَنِي منها الكلمة كحرف: الزاي والياء والدال، التي تَنْبَنِي منها كلمة: زيد، ويُسَمِّيها بعضهم بحروف التَّهَجِّي.
الثاني: حروف معاني؛ وهي التي لها معنى مع غيرها كـ (حروف الجر، والجزم، وهل، وبل) وهي التي عناها الْمُصَنِّف - يرحمه الله - بقوله: (وحرف جاء لمعنى) ، و (جاء) فعل ماض، و (لمعنى) اللام حرف جر، و (معنى) اسم مجرور.
الخامس: في أقسامه مع الاسم والفعل
حَيْثُ يُقَسَّم إِلى أقسام ثلاثة:
الأول: ما يَدْخل على الأسماء والأفعال، كـ (هل) .
الثاني: ما لا يَدْخل إلا على الأسماء، كـ (حروف الجر) .
الثالث: ما لا يَدْخل إلا على الأفعال، كـ (حروف الجزم) .
تمرين على ما شرح
قال الإمام ابن قتيبة رحمه الله في مُقدِّمة [أدب الكاتب] :
চতুর্থ: এর প্রকারভেদ সম্পর্কে
যেখানে একে বিভক্ত করা হয়েছে: অতীতকাল বাচক ক্রিয়া (فعل ماض), বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল বাচক ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر)। অচিরেই এদের সম্পর্কে আলোচনা আসবে — ইনশাআল্লাহ (إن شاء الله) —; যেহেতু গ্রন্থকার — আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (يرحمه الله) — এগুলোর জন্য একটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন।
পঞ্চম:
তাঁর উক্তি: (এবং এমন অব্যয় যা অর্থের জন্য আসে) এর সাথে কয়েকটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম:
গ্রন্থকার — আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (يرحمه الله) — অব্যয় (الحرف)-এর আলোচনাকে বিলম্বিত করেছেন, যেহেতু এর অবস্থান বিশেষ্য (الاسم) এবং ক্রিয়া (الفعل)-এর পরে। এর কারণ পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। আর ‘وحرف’ (এবং অব্যয়)-এর মধ্যে ‘ওয়াও’ (الواو) বর্ণটি হলো সংযোজক অব্যয় (عاطفة)।
দ্বিতীয়: আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে
যেখানে এটি কোনো বস্তুর প্রান্ত বা পাশ নির্দেশ করে। আপনি বলেন: ‘আমি উপত্যকার পাড় দিয়ে চললাম’, অর্থাৎ: উপত্যকার প্রান্ত বা পাশ দিয়ে। অব্যয় (الحرف) শব্দের আরও অন্যান্য অর্থ রয়েছে।
তৃতীয়: পারিভাষিক অর্থের ক্ষেত্রে
যেখানে এটি হলো: যা অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে কোনো অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের সাথে সম্পৃক্ত হয় না। আমাদের উক্তি: (অন্যের সাথে) — এটি নির্দেশ করে যে, অব্যয় (الحرف) বিশেষ্য বা ক্রিয়ার মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজস্ব কোনো অর্থ প্রদান করতে পারে না; বরং এটি কোনো বিশেষ্য (الاسم) বা ক্রিয়ার (الفعل) সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্থ লাভ করে।
চতুর্থ:
তাঁর উক্তি: (যা অর্থের জন্য আসে) এর অর্থের ক্ষেত্রে; এটি সেই অব্যয়ের (الحرف) জন্য একটি শর্ত যা গঠনগত দিক থেকে বাক্যের তৃতীয় প্রকার। কারণ বর্ণ বা অব্যয় দুই প্রকার।
প্রথমটি: গঠনমূলক বর্ণ (حروف مباني); আর এগুলো হলো সেই বর্ণ যা দিয়ে শব্দ গঠিত হয়, যেমন: ‘যা’ (الزاي), ‘ইয়া’ (الياء) এবং ‘দাল’ (الدال) বর্ণসমূহ, যা দ্বারা ‘যায়দ’ (زيد) শব্দটি গঠিত হয়। কেউ কেউ এগুলোকে বানানকারী বর্ণ (حروف التَّهَجِّي) হিসেবে অভিহিত করেন।
দ্বিতীয়টি: অর্থবোধক অব্যয় (حروف معاني); এগুলোর অন্যের সাথে মিলিত অবস্থায় নিজস্ব অর্থ থাকে, যেমন: (পদান্বয়ী অব্যয়সমূহ (حروف الجر), জযমকারী অব্যয়সমূহ (حروف الجزم), ‘হাল’ (هل) এবং ‘বাল’ (بل))। গ্রন্থকার — আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (يرحمه الله) — তাঁর উক্তি: (এবং এমন অব্যয় যা অর্থের জন্য আসে) দ্বারা এগুলোকেই বুঝিয়েছেন। এখানে ‘জায়া’ (جاء) একটি অতীতকাল বাচক ক্রিয়া (فعل ماض), এবং ‘লি-মা’নান’ (لمعنى)-এর মধ্যে ‘লাম’ হলো অব্যয় (حرف جر) এবং ‘মা’নান’ হলো বিশেষ্য (اسم مجرور)।
পঞ্চম: বিশেষ্য ও ক্রিয়ার সাথে এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে
যেখানে একে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:
প্রথম: যা বিশেষ্য এবং ক্রিয়া উভয়ের ওপর প্রবেশ করে, যেমন (هل)।
দ্বিতীয়: যা কেবল বিশেষ্যের ওপর প্রবেশ করে, যেমন (পদান্বয়ী অব্যয়সমূহ (حروف الجر))।
তৃতীয়: যা কেবল ক্রিয়ার ওপর প্রবেশ করে, যেমন (জযমকারী অব্যয়সমূহ (حروف الجزم))।
আলোচিত বিষয়ের ওপর অনুশীলন
ইমাম ইবনে কুতাইবাহ (رحمه الله) আদাবুল কাতিব গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
‘‘ ونحنُ نستحِبُّ لمن قَبِلَ عنا، وائْتَمَّ بِكُتُبِنا: أنْ يُؤَدِّبَ نفْسَهُ قَبْلَ أنْ يؤَدِّبَ لسَانَه، ويُهذِّبَ أخْلاقَهُ قبْلَ أنْ يُهَذِّبَ ألْفاظَهُ، ويَصُون مروءته عن دَنَاءة الغيبة، وصناعته عن شَيْن الكذب، ويُجَانب - قبل مجانبته اللَّحْن، وخَطَل القول - شنيع الكلام، ورَفَثَ المزح ’’.
ففي هذه الْجُمَل أسماء وأفعال وحروف.
فمن الأسماء (نحن، كتب، نفس، لسان) .
....................................... .......................................
....................................... .......................................
..............................................................................
..............................................................................
يقول الْمُصَنِّف رحمه الله: (والاسم يُعرف ...... الخ)
هذا شروع من الْمُصَنِّف رحمه الله في بيان علامات أقسام الكلام؛ للتمييز بين كل قسم وأخيه.
وقد ذهب بعض الشراح إلى أن الأَوْلى للمصنف رحمه الله أن يذكر حقيقة كل قسم وتعريفه قبل أن يذكر علاماته.
وأجيب: بأن ذكر العلامات أسهل على المبتدئ في التمييز بين أنواع الكلام وأقسامه، خلافاً لتعريف كل قسم وذكر حقيقته فقد ينبهم على المبتدئ.
وقد ابتدأ الْمُصَنِّف رحمه الله بذكر علامات الاسم لمعنى سبق - وهو تقدم الاسم على الفعل والحرف لكونه مسنداً ومسنداً إليه -.
قوله: (فالاسم)
يعني الذي هو أحد أقسام الكلام؛ إِذْ إِنَّ القاعدة اللُّغَوية البلاغية تقول: إن الكلمة إذا كانت معرفة أو نكرةً ثُمَّ أُعيدت معرفة فهي ذات الأولى.
يقول السيوطي في [عقود الْجُمَان] :
إِذَا أتَتْ نكرةٌ مُكرَّرةْ
توافَقا كذا الْمُعَرَّفانِ.
ثُمَّ مِنَ القواعد المشْتهرةْ
تَغايَرتْ وإنْ يُعَرَّف ثانِ.
وقد ذكر الْمُصَنِّف رحمه الله بعضاً من علامات الاسم.
أولها: (قوله بالخفض)
هو لغة:
السُّفْل، تقول: (نزلت في مكان منخفض) أي في سُفْل ونزول.
أما في الاصطلاح:
فهو تأثر الاسم بكونه مجروراً إما بحرف جر أو بالإضافة أو التبعية.
‘‘আমরা তাদের জন্য পছন্দ করি যারা আমাদের পক্ষ থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছে এবং আমাদের গ্রন্থসমূহকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে: তারা যেন তাদের রসনাকে সংশোধন করার আগে নিজ সত্তাকে আদব দান করে, তাদের শব্দরাশিকে মার্জিত করার আগে তাদের চরিত্রকে সুশোভিত করে, পরনিন্দার হীনতা থেকে নিজ পৌরুষ (مروءة) রক্ষা করে, মিথ্যার (كذب) কলঙ্ক থেকে নিজ পেশাকে হিফাজত করে এবং ব্যাকরণগত ভুল ও প্রলাপ পরিহার করার আগে কদর্য কথা ও অশ্লীল কৌতুক বর্জন করে।’’
এই বাক্যগুলোতে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয় রয়েছে।
বিশেষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে (আমরা, গ্রন্থসমূহ, সত্তা, রসনা)।
....................................... .......................................
....................................... .......................................
..............................................................................
..............................................................................
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আর বিশেষ্য বা ইসম চেনা যায়... ইত্যাদি)
এটি গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে বাক্যের প্রকারসমূহের আলামত বর্ণনার সূচনা; যাতে প্রতিটি প্রকারের মাঝে পার্থক্য করা যায়।
কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী মনে করেন যে, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য প্রতিটি প্রকারের আলামত উল্লেখ করার আগে তার হাকিকত ও সংজ্ঞা প্রদান করা অধিকতর সমীচীন ছিল।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: বাক্যের প্রকারসমূহের মাঝে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে আলামতসমূহ উল্লেখ করা একজন প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর জন্য অধিকতর সহজ, পক্ষান্তরে প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা ও হাকিকত বর্ণনা করা তার জন্য অস্পষ্ট হতে পারে।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) ইতিপূর্বে উল্লিখিত একটি অর্থের কারণে বিশেষ্যের আলামতসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন—আর তা হলো বিশেষ্য হচ্ছে মুসনাদ (مسند) এবং মুসনাদ ইলাইহি, যার কারণে এটি ক্রিয়া ও অব্যয়ের আগে আসার অগ্রাধিকার রাখে।
তার কথা: (বিশেষ্য বা ইসম)
অর্থাৎ যা বাক্যের অন্যতম একটি প্রকার; কেননা ভাষাতাত্ত্বিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী: কোনো শব্দ যদি অনির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট হিসেবে আসার পর পুনরায় নির্দিষ্ট হিসেবে আসে, তবে তা প্রথমটিকেই বোঝায়।
সুয়ূতী ‘উকূদুল জুমান’-এ বলেন:
যখন কোনো অনির্দিষ্ট শব্দ পুনরায় আসে
তখন তারা ভিন্ন হয়, অনুরূপভাবে উভয়টি নির্দিষ্ট হলেও (একই হয়)।
অতঃপর প্রসিদ্ধ নিয়মসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—
তারা ভিন্ন হবে, কিন্তু দ্বিতীয়টি যদি নির্দিষ্ট হয় (তবে তা প্রথমটিই)।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বিশেষ্যের কিছু আলামত উল্লেখ করেছেন।
প্রথমটি হলো: (তার কথা—নিম্নস্বর বা খফদ দ্বারা)
এটি শাব্দিক অর্থে:
নিচু হওয়া, আপনি যেমন বলেন: (আমি একটি নিচু স্থানে অবতরণ করেছি) অর্থাৎ নিচু বা ঢালু স্থানে।
আর পরিভাষায়:
এটি হলো বিশেষ্যের এমন একটি অবস্থা যেখানে সেটি ‘মাজরুর’ হয়, চাই তা অব্যয়ের কারণে হোক, অথবা সম্বন্ধ (ইদাফাত) কিংবা অনুগামী হওয়ার কারণে হোক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كل ذلك مجتمع في البسملة (ببسم) حَيْثُ إِن (بسم الله) كلمة (اسم) : مخفوضة بدخول حرف الجر عليها وهو الباء، وكلمة لفظ الجلالة (الله) : مخفوضة على الإضافة؛ إِذْ إِنَّ (اسم) مضاف ولفظ الجلالة (الله) مضاف إليه. وكلمتي (الرحمن الرحيم) : مخفوضتان على التبعية، لأنهما يتبعان حكم ما قبلهما على خلاف بين اللُّغَويين.
فمنهم من يقول هما يدلان على لفظ الجلالة (الله) وهو الأصح، وهو اختيار السُّهيلي رحمه الله.
ومنهم من يقول: هما وصفان للفظ الجلالة (الله) ، وذهب إليه الأكثر، وهو اختيار الزمخشري.
وليُعْلم أن المراد من هذه العلامة - وهي الخفض - لَيْسَ مجرد تقدُّم حرف الجر على الكلمة؛ إِذْ إِنَّ حرف الجر قد يدخل على بعض الكلمات غير الاسمية. كقولك ‘‘ مِن أن ’’ في جملة ‘‘ مِن أن أعرف صاحباً وفياً ’’؛ إِذْ إِنَّ ‘‘ مِن ’’ هنا دخلت على غير اسم، وإنما المقصود هو تأثر الكلمة بالخفض والجر.
فائدة
وليُعْلم أن لغة أهل الكوفة أنهم يعبِّرون عن ذلك بالخفض، خلافاً لأهل البصرة فهم يعبِّرون عن ذلك بالجر.
وقد ذكر الْمُصَنِّف رحمه الله أحرف الخفض والجر، وذكر منها حروف القَسَم أَيْضاً، وهي داخلة في هذه العلامة التي هي الخفض؛ لأن حروف الجر أحد العوامل الثلاثة التي يتم بها الخفض على ما سبق.
وثانيها: هو ما عَبَّرَ عنه الْمُصَنِّف رحمه الله بـ (التنوين)
وهو لغة: التصويت، تقول: نَوَّنَ الطائر. إذا أحدث صوتاً.
وأما في الاصطلاح:
نون ساكنة زائدة تلحق آخر الأسماء لفظاً لا خطاً، يُستعاض عنها في الكتابة بضمتين أو فتحتين أو كسرتين. ككلمة (مُحَمَّد) في جملة: (جاء مُحَمَّدٌ، رأيت مُحَمَّداً، مررت بمُحَمَّدٍ) فقد لحقها التنوين في محالها الثلاث.
وليُعْلم أن التنوين أنواع:
الأول: هو ما يُسَمَّى بتنوين التنكير:
এই সবকিছুই ‘বাসমালাহ’-এর মধ্যে (বি-বিস্ম (ببسم)) একত্রিত হয়েছে, যেখানে (বিসমিল্লাহ) বাক্যাংশে (ইস্ম (اسم)) শব্দটি নিম্নমুখী (مخفوضة) হয়েছে তার পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় (حرف الجر) তথা ‘বা’ (ب) প্রবেশ করার কারণে। আর মহান রবের পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) তথা ‘আল্লাহ’ শব্দটি সম্বন্ধের (الإضافة) কারণে নিম্নমুখী (مخفوضة) হয়েছে; যেহেতু (ইস্ম (اسم)) শব্দটি হলো সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) এবং মহান রবের পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) তথা ‘আল্লাহ’ হলো যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে (مضاف إليه)। আর (আর-রাহমান ও আর-রাহিম) শব্দ দুটি অনুগামী হওয়ার (التبعية) কারণে নিম্নমুখী (مخفوضتان) হয়েছে; কেননা ভাষাবিদদের মধ্যকার মতপার্থক্য সত্ত্বেও তারা তাদের পূর্ববর্তী শব্দের বিধান অনুসরণ করে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, শব্দ দুটি মহান রবের পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) তথা ‘আল্লাহ’-কে নির্দেশ করে এবং এটিই সর্বাধিক সঠিক মত; এটিই ইমাম সুহাইলি (রহিমাহুল্লাহ)-এর মনোনীত পছন্দ।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: শব্দ দুটি মহান রবের পবিত্র নামের (لفظ الجلالة) দুটি বিশেষণ (وصفان), অধিকাংশ আলেম এই মতের দিকে গিয়েছেন এবং এটিই ইমাম জামাখশারির পছন্দ।
জেনে রাখা উচিত যে, এই চিহ্ন—অর্থাৎ নিম্নমুখী হওয়া (الخفض)—বলতে কেবল শব্দের পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় (حرف الجر) আসা বোঝায় না; কেননা সম্বন্ধসূচক অব্যয় (حرف الجر) কখনো কখনো বিশেষ্য নয় এমন কিছু শব্দের পূর্বেও আসতে পারে। যেমন আপনার উক্তি ‘‘মিন আন’’ এই বাক্যে— ‘‘যাতে আমি একজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে চিনতে পারি’’; কেননা এখানে ‘‘মিন’’ শব্দটি বিশেষ্য ছাড়া অন্য শব্দের পূর্বে এসেছে। বরং এখানে প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নিম্নমুখী হওয়া (الخفض) এবং জের হওয়া (الجر) দ্বারা শব্দটি প্রভাবিত হওয়া।
ফায়দা (উপকারিতা)
জেনে রাখা ভালো যে, কুফাবাসীদের পরিভাষা অনুযায়ী তাঁরা এটিকে নিম্নমুখী হওয়া (الخفض) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেন, পক্ষান্তরে বসরাবাসীদের রীতি এর বিপরীত, তাঁরা এটিকে জের হওয়া (الجر) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করে থাকেন।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) নিম্নমুখী করার ও জের প্রদানকারী অব্যয়সমূহ (أحرف الخفض والجر) উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে শপথের অব্যয়গুলোও (حروف القَسَم) উল্লেখ করেছেন। এগুলো এই নিম্নমুখী হওয়া (الخفض) চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত; কারণ সম্বন্ধসূচক অব্যয়সমূহ (حروف الجر) হলো সেই তিনটি প্রভাবক বা আমিল (العوامل)-এর একটি, যার মাধ্যমে পূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী নিম্নমুখী হওয়া (الخفض) সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয়টি হলো: যা গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) তানউইন (التنوين) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন।
এর আভিধানিক অর্থ হলো: শব্দ করা; যেমন আপনি বলবেন: ‘পাখিটি তানউইন করেছে’ যখন সে কোনো আওয়াজ বা শব্দ করে।
আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় (الاصطلاح):
এটি একটি অতিরিক্ত সাকিনযুক্ত নুন (نون ساكنة زائدة) যা বিশেষ্য পদের শেষে উচ্চারণে যুক্ত হয় কিন্তু লিখনে নয়। লেখার সময় এর পরিবর্তে দুটি পেশ, দুটি জবর বা দুটি জের ব্যবহার করা হয়। যেমন (মুহাম্মদ) শব্দটি এই বাক্যগুলোতে: (জাআ মুহাম্মাদুন, রাইতু মুহাম্মাদান, মারারতু বি-মুহাম্মাদিন); এখানে তিনটি অবস্থাতেই শব্দটির শেষে তানউইন (التنوين) যুক্ত হয়েছে।
জেনে রাখা ভালো যে, তানউইন (التنوين) কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে:
প্রথমটি হলো: যাকে অনির্দিষ্টকরণের তানউইন (تنوين التنكير) বলা হয়:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو الذي يلحق آخر بعض الأسماء المبنية كـ (سيبويه) ، فإنه إذا لحقها وجب تنكيرها وعدم خصوصيتها لشخص مُعَيَّنٍ.
فكلمة (سيبويه) تطلق على رجل نحوي معروف عند اللُّغَويين وغيرهم، أما إذا قلت (سيبويهٍ) بالتنوين في آخره، فإنه لا يُقْصَدُ به ذاك الرجل بل كل من كان عارفاً بالنحو، ولذا سُمِّيَ بـ (تنوين التنكير) .
والثاني: تنوين العوض:
وهو إما أن يكون عوضاً عن جملةٍ، أو كلمةٍ، أو حرفٍ.
كـ (قاضٍ) هو عوض عن حرف الياء، إذ أصلها (قاضي) فحذفت الياء، واستُعِيض عنها بالتنوين لذا سُمِّيَت بـ (تنوين عوض) .
والثالث: تنوين المقابلة:
وهو الذي يلحق آخر الجمع المزيد بألف وتاء، الْمُسَمَّى عند بعض النحويين بـ (جمع المؤنث السالم) ، إِذْ إِنَّه في مقابل النون المثبتة في جمع المذكر السالم.
ومثاله:
(مؤمناتٍ) فالتنوين الذي لحقها في مقابلة النون المثبتة في كلمة (مؤمنين) .
وثالثها: هو ما عَبَّرَ عنه الْمُصَنِّف رحمه الله بقوله: (ودخول الألف واللام)
وهو يعني (ال) المعرِّفة، كقولك (الكتاب) فكلمة (كتاب) اسم لدخول (ال) عليها.
وليُعْلم أن قول الْمُصَنِّف (دخول الألف واللام) منتقدة؛ لأن القاعدة في ذلك: هي أن الكلمة إذا كانت مُكَوَّنَة من حرف واحد نُطق باسمها لا مُسَمَّاها، كحرف العين والصاد وغيرهما؛ فأصله حرف واحد، ولكن نُطق باسمه فقيل (عين وصاد) ، خلافاً للكلمة المُكَوَّنَة من أكثر من حرف، فإنه يُنطق بمُسَمَّاها لا باسمها، كنحو: (ال) فهي مُكَوَّنَة من حرفين، فلا يُقَال (الألف واللام) .
وقد أثبت هذه القاعدة غير واحد من أئمة اللُّغَة، ومنهم ابن هشام رحمه الله في كتابه [مغني اللبيب] ، ولكن قد يُعتذر للمصنف رحمه الله بأن الْمُعرِّف لكلمة (ال) مختلف فيه.
فجمهور اللُّغَويين على أن الْمُعرِّف هي اللام، والهمزة زائدة.
وذهب المبرِّد إلى أن الهمزة هي الْمُعَرِّف فحسب.
এটি এমন যা কিছু অপরিবর্তনীয় (مبني) বিশেষ্যের শেষে যুক্ত হয়, যেমন (সিবওয়াইহি); যখন এটি বিশেষ্যের শেষে যুক্ত হয়, তখন তা অনির্দিষ্টকরণ এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট না থাকাকে আবশ্যক করে।
‘সিবওয়াইহি’ শব্দটি ভাষাবিদ ও অন্যদের নিকট পরিচিত একজন প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। তবে আপনি যদি শেষে তানউইন যোগ করে ‘সিবওয়াইহিন’ বলেন, তখন এর দ্বারা সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হয় না; বরং যে কেউ ব্যাকরণ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ তাকেই বোঝানো হয়। আর একারণেই একে অনির্দিষ্টকরণের তানউইন (تنوين التنكير) বলা হয়।
দ্বিতীয়ত: স্থলাভিষিক্ত তানউইন (تنوين العوض):
এটি হয় কোনো বাক্য, শব্দ অথবা বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকে।
যেমন ‘ক্বদিন’ (قاضٍ), এখানে তানউইনটি ‘ইয়া’ বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। কারণ এর মূল রূপ ছিল ‘ক্বদি’ (قاضي), এরপর ‘ইয়া’ বর্ণটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে তানউইন আনা হয়েছে। একারণেই একে স্থলাভিষিক্ত তানউইন (تنوين عوض) বলা হয়।
তৃতীয়ত: সমতাসূচক তানউইন (تنوين المقابلة):
এটি এমন যা আলিফ ও তা যুক্ত অতিরিক্ত বহুবচনের শেষে যুক্ত হয়, যা কোনো কোনো ব্যাকরণবিদের নিকট নিখুঁত স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন (جمع المؤنث السالم) নামে পরিচিত। কেননা, এটি নিখুঁত পুংলিঙ্গ বহুবচনের (جمع المذكر السالم) শেষে থাকা স্থির ‘নুন’ বর্ণের বিপরীতে বা সমান্তরাল হিসেবে কাজ করে।
এর উদাহরণ:
‘মু’মিনাতিন’ (مؤمناتٍ); এখানে যে তানউইনটি যুক্ত হয়েছে তা ‘মু’মিনীন’ (مؤمنين) শব্দের শেষে থাকা স্থির ‘নুন’ বর্ণের সমান্তরাল হিসেবে এসেছে।
তৃতীয় আলামতটি হলো সেটি, যা গ্রন্থকার (رحمه الله) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন: (আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া)।
এর দ্বারা তিনি নির্দিষ্টকারী আল (ال معرِّفة) বুঝিয়েছেন। যেমন আপনার উক্তি ‘আল-কিতাব’ (الكتاب); এখানে ‘কিতাব’ শব্দটি একটি বিশেষ্য, কারণ এতে ‘আল’ (ال) যুক্ত হয়েছে।
জেনে রাখা উচিত যে, গ্রন্থকারের উক্তি ‘আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া’ সমালোচিত; কারণ এই বিষয়ের নিয়ম হলো: কোনো শব্দ যদি একটি মাত্র বর্ণ দ্বারা গঠিত হয়, তবে তার উচ্চারণ হবে তার নাম অনুযায়ী, তার রূপ (মুসাম্মা) অনুযায়ী নয়। যেমন: ‘আইন’ ও ‘সদ’ ইত্যাদি বর্ণ; এগুলো মূলে একটি বর্ণ হলেও উচ্চারণের সময় এদের নাম ধরে ‘আইন ও সদ’ বলা হয়। এর বিপরীতে যদি কোনো শব্দ একাধিক বর্ণ দ্বারা গঠিত হয়, তবে তার উচ্চারণ হবে তার রূপ (মুসাম্মা) অনুযায়ী, নাম অনুযায়ী নয়। যেমন: ‘আল’ (ال); এটি দুটি বর্ণ দ্বারা গঠিত, তাই একে ‘আলিফ এবং লাম’ বলা যাবে না।
ভাষাবিজ্ঞানের একাধিক ইমাম এই নিয়মটি সাব্যস্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ইবনে হিশাম (رحمه الله) তাঁর মুগনী আল-লাবীব কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে গ্রন্থকারের (رحمه الله) পক্ষ থেকে ওজর পেশ করা যেতে পারে যে, ‘আল’ (ال) শব্দের নির্দিষ্টকারী অংশ কোনটি, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
অধিকাংশ ভাষাবিদের মতে, ‘লাম’ বর্ণটিই হলো নির্দিষ্টকারী এবং হামযাহ বর্ণটি অতিরিক্ত।
আর মুবাররাদ-এর অভিমত হলো, হামযাহ বর্ণটিই হলো একমাত্র নির্দিষ্টকারী।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وذهب الخليل وسيبويه إلى أن الْمُعَرِّف الهمزة واللام، غير أن الأول جعل الهمزة همزة قطع خُفِّفَتْ. والثاني جعلها همزة وصل؛ ومِنْ ثَمَّ تحاشى الْمُصَنِّف رحمه الله أن يقول (ال) للخلاف المذكور.
واستحسن بعض اللُّغَويين أن يُعبِّر عن ذلك بـ (أداة التعريف) ليشمل الخلاف، وبعض اللهجات العربية كلهجة حمير؛ إِذْ إِنَّ أداة التعريف عندهم (أم) حَيْثُ يجعلون الميم عندهم مَحَلّ اللام.
تنبيه
ما كل (ال) مُعَرِّفة؛ إِذْ إِنَّ (ال) الموصولية التي بمعنى (الذي) لَيْسَتْ علامة على الاسم، كنحو قول الفرزدق: (ما أنتَ بالْحَكَمِ التُرضَى حُكُومَتُهُ)
أي: التي ترضى، وتُرضى فعل.
ومن العلامات التي أغفلها الْمُصَنِّف وهي أهمها (الإسناد إليه)
أي تُسند للاسم فعلاً أو اسماً، كقولك: (جاء مُحَمَّدٌ، مُحَمَّدٌ قائمٌ) . ففي المثال الأول: أسند المجيء إلى مُحَمَّدٍ، وفي المثال الثاني: أسند القيام إلى مُحَمَّدٍ. فدل على اسميته (محمد) ؛ ولذلك قطع اللُّغَويون باسمية تاء الفاعل، في نحو قولك (قلت) لأنه أُسند إليها معنى وهو القول هنا.
قال الْمُصَنِّف رحمه الله: (والفعل يُعرف ...... الخ)
ذكر رحمه الله علاماتٍ للفعل يعرف بها:
أولها: قوله: (قد)
وهو يعني الحرفية، وهي تدخل على الفعل الماضي، وعلى الفعل المضارع.
فمع الماضي تفيد أحد معنيين:
الأول: التحقيق، كقوله تعالى {قد أفلح المؤمنون} أي تحقق فلاحهم.
والثاني: التقريب، كقول المؤذن: (قد قامت الصلاة) أي اقترب قيامها.
وإذا دخلت على المضارع تفيد أحد المعنيين:
الأول: التكثير، نحو قولك (قد ينجح المجتهد) أي يكثر نجاحه.
والثاني: التقليل: نحو قولك (قد ينجح الكسول) أي يقل نجاحه.
وقد انتُقد على الْمُصَنِّف رحمه الله جعله (قد) من علامات الفعل؛ لأن (قد) عند اللُّغَويين نوعان:
الأول: (قد) الحرفية وسبقت.
খলীল এবং সিবওয়াইহ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, নির্দিষ্টকারী (المُعَرِّف) হলো হামযাহ এবং লাম; তবে প্রথমজন মনে করেন যে, হামযাহটি হলো ‘হামজায়ে ক্বাত’ যা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়জন এটিকে ‘হামজায়ে ওয়াসল’ হিসেবে গণ্য করেছেন। এ কারণেই গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লিখিত মতপার্থক্যের দরুন (আল) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা এড়িয়ে গেছেন।
কিছু ভাষাবিদ এই মতপার্থক্য এবং হিমইয়ারি উপভাষাসহ অন্যান্য আরব্য উপভাষাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘পরিচয়জ্ঞাপক উপসর্গ’ (أداة التعريف) দ্বারা একে প্রকাশ করাকে উত্তম মনে করেছেন; কেননা তাদের (হিমইয়ারি) নিকট পরিচয়জ্ঞাপক উপসর্গ হলো ‘আম’ (أم), যেখানে তারা ‘লাম’-এর স্থলে ‘মীম’ ব্যবহার করে থাকে।
সতর্কবার্তা
সকল ‘আল’ (ال) নির্দিষ্টকারী নয়; কেননা আল-মাওসুলিয়্যাহ (الموصولية) যা ‘আল্লাযী’ (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা বিশেষ্যের চিহ্ন নয়। যেমন ফারাজদাকের উক্তি: (তুমি এমন বিচারক নও যার বিচারিক সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হয়)
অর্থাৎ: যা সন্তোষজনক হয়, আর ‘তোরদা’ (তৃপ্ত হওয়া) একটি ক্রিয়া।
চিহ্নসমূহের মধ্যে যা গ্রন্থকার উল্লেখ করতে ছেড়ে দিয়েছেন—অথচ সেটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ—তাহলো ‘ইসনাসু ইলাইহি’ (الإسناد إليه) বা পদের সম্বন্ধ।
অর্থাৎ কোনো বিশেষ্যের দিকে কোনো ক্রিয়া বা অন্য কোনো বিশেষ্যকে সম্বন্ধযুক্ত করা। যেমন আপনার উক্তি: (মুহাম্মাদ এসেছে, মুহাম্মাদ দণ্ডায়মান)। এখানে প্রথম উদাহরণে ‘আসা’-কে মুহাম্মাদের দিকে এবং দ্বিতীয় উদাহরণে ‘দণ্ডায়মান হওয়া’-কে মুহাম্মাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এটি ‘মুহাম্মাদ’ শব্দটির বিশেষ্য (ইসম) হওয়ার প্রমাণ বহন করে। এই কারণেই ভাষাবিদগণ ‘কর্তৃবাচক তা’ (تاء الفاعل)-এর বিশেষ্য হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন, যেমন আপনার উক্তি: (আমি বলেছি); কারণ এখানে তার দিকে একটি অর্থ সম্বন্ধ করা হয়েছে, যা হলো ‘বলা’।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আর ক্রিয়া চেনা যায়... ইত্যাদি)
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ক্রিয়া শনাক্ত করার কিছু চিহ্নের কথা উল্লেখ করেছেন:
প্রথমটি হলো: তাঁর উক্তি: (ক্বাদ)
আর এটি দ্বারা তিনি অব্যয়বাচক রূপটি বুঝিয়েছেন, যা অতীতকালীন ক্রিয়া (মাযী) এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (মুযারি) উভয়ের পূর্বে যুক্ত হয়।
অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথে এটি দুটি অর্থের একটি প্রদান করে:
প্রথম: সুনিশ্চিতকরণ (التحقيق), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} অর্থাৎ তাদের সফলতা সুনিশ্চিত হয়েছে।
দ্বিতীয়: নিকটবর্তী হওয়া (التقريب), যেমন মুয়াজ্জিনের উক্তি: (সালাত দণ্ডায়মান হয়েছে) অর্থাৎ সালাত শুরু হওয়ার সময় অতি নিকটবর্তী।
আর যখন এটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (মুযারি) শুরুতে আসে, তখন এটি দুটি অর্থের একটি প্রদান করে:
প্রথম: আধিক্য (التكثير), যেমন আপনার উক্তি: (পরিশ্রমী ব্যক্তি সফল হয়ই) অর্থাৎ তার সফল হওয়ার হার অনেক বেশি।
দ্বিতীয়: স্বল্পতা (التقليل): যেমন আপনার উক্তি: (অলস ব্যক্তি কদাচিৎ সফল হয়) অর্থাৎ তার সফল হওয়ার হার খুবই কম।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) ‘ক্বাদ’-কে ক্রিয়ার চিহ্ন হিসেবে সাব্যস্ত করায় সমালোচিত হয়েছেন; কারণ ভাষাবিদদের নিকট ‘ক্বাদ’ দুই প্রকার:
প্রথমত: অব্যয়বাচক (قد الحرفية) যা ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الثاني: (قد) الاسمية وهي بمعنى (حَسْب) ويمثل لها بـ (قد زيد درهم) أي: حسب زيد درهم. فهي تدخل على الأسماء ولَيْسَتْ علامة على الأفعال.
وثانيها: قوله (السين وسوف)
وهي تدخل على الفعل المضارع فحسب، ويسميان بـ (حرفي تنفيس) أي توسيع، ولذلك أنهما إذا دخلا على المضارع وسعا نفسه من الحاضر إلى المستقبل.
فقولك (يأكل الغلام رغيفاً) أي في الوقت الحاضر الذي هو زمن التكَلُّم، فإذا أُدخِل على هذه الجملة (السين أو سوف) مَحَّضا زمن المضارع للاستقبال. فقولك (سوف يأكل الغلام رغيفاً) ، أو (سيأكل الغلام رغيفاً) أي: في المستقبل.
فائدة:
ذهب جمهور اللُّغَويين من أهل البصرة وغيرهم إلى أن (سوف) أوسع تنفيساً من السين، وحجتهم في ذلك أن زيادة المبنى تورث زيادة المعنى، فمبنى كلمة (سوف) أكثر حروفاً من مبنى كلمة (حرف السين) - يعني حرف (س) -.
وخُولِفُوا في ذلك إِذْ إِنَّ هذه القاعدة غير مطَّردة؛ قاله ابن هشام رحمه الله في [المغني] .
وثالثها: قوله: (تاء التأنيث الساكنة)
وهي التي تأتي في نحو قوله تعالى: {قالتِ اخرج عليهن} ، وهي قد تتحرك لالتقاء الساكنين: إما إلى الكسر، كالآية السابقة {قالتِ اخرج عليهن} أو إلى فتح، كقوله عز وجل {قالتا أتينا طائعين} . أو إلى ضم، كقراءة {قالتُ اخرج عليهن} .
দ্বিতীয়: বিশেষ্যমূলক (الاسمية) 'কাদ' (قد), যা 'যথেষ্ট' (حسب) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো- 'যায়িদের জন্য এক দিরহামই যথেষ্ট' (قد زيد درهم), অর্থাৎ: (حسب زيد درهم)। এটি বিশেষ্যসমূহের (الأسماء) শুরুতে আসে এবং এটি ক্রিয়াসমূহের (الأفعال) কোনো আলামত নয়।
এবং দ্বিতীয়টি হলো: তাঁর উক্তি- 'সীন' (السين) এবং 'সাওফা' (سوف)।
এই দুটি কেবল বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) শুরুতে আসে এবং এদেরকে প্রসারের দুই অব্যয় (حرفي تنفيس) অর্থাৎ প্রশস্তকরণ (توسيع) বলা হয়। এই কারণে যখন এই দুটি বর্তমানকালীন ক্রিয়ার (المضارع) শুরুতে আসে, তখন তা ক্রিয়ার সময়কে বর্তমান থেকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করে দেয়।
যেমন আপনার কথা- 'বালকটি একটি রুটি খাচ্ছে' (يأكل الغلام رغيفاً), অর্থাৎ বর্তমান সময়ে যা কথা বলার মুহূর্তকে বুঝায়। কিন্তু যখন এই বাক্যে 'সীন' (السين) অথবা 'সাওফা' (سوف) যুক্ত করা হয়, তখন তা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার সময়কে কেবল ভবিষ্যতের (استقبال) জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন আপনার উক্তি- 'বালকটি শীঘ্রই একটি রুটি খাবে' (سوف يأكل الغلام رغيفاً), অথবা 'বালকটি একটি রুটি খাবে' (سيأكل الغلام رغيفاً) অর্থাৎ: ভবিষ্যতে।
ফায়দা (উপকারিতা):
বসরাবাসী ও অন্যান্য ভাষাবিদগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) অংশ এই মত পোষণ করেন যে, 'সাওফা' (سوف) শব্দটির প্রসারের পরিধি 'সীন' (السين) এর চেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে তাদের দলিল হলো— শব্দের গঠন বৃদ্ধি (زيادة المبنى) অর্থের আধিক্য (زيادة المعنى) ঘটায়। যেহেতু 'সাওফা' (سوف) শব্দের বর্ণসমষ্টি 'সীন' (السين) বর্ণের—অর্থাৎ ‘স’ (س) বর্ণের—চেয়ে বেশি, তাই এর অর্থও অধিক ব্যাপক।
তবে এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে, কেননা এই নিয়মটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (غير مطردة) নয়; ইবনে হিশাম (রহিমাহুল্লাহ) আল-মুগনি গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
এবং তৃতীয়টি হলো: তাঁর উক্তি- 'স্থির স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক তা' (تاء التأنيث الساكنة)।
এটি সেই ‘তা’ যা মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায় স্থানে আসে: {সে বলল, তোমরা তাদের সামনে বের হও (قالتِ اخرج عليهن)}। কখনো কখনো দুই স্থির বর্ণের মিলন (التقاء الساكنين) হওয়ার কারণে এটি স্বরচিহ্ন বা হরকত যুক্ত হয়: হয় জের বা কাসরার (الكسر) দিকে, যেমন পূর্বোক্ত আয়াতে- {قالتِ اخرج عليهن}; অথবা জবর বা ফাতহার (فتح) দিকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী- {তারা উভয়ে বলল, আমরা অনুগত হয়ে আসলাম (قالتا أتينا طائعين)}; অথবা পেশ বা দম্মার (ضم) দিকে, যেমন একটি পাঠরীতিতে (قراءة) রয়েছে- {قالتُ اخرج عليهن}।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وهذه العلامة خاصة بالفعل الماضي، ومِنْ ثَمَّ يتبين أن الْمُصَنِّف رحمه الله ذكر علامة تختص بالفعل المضارع وهي - (السين وسوف) - وأخرى تختص بالفعل الماضي - وهي (تاء التأنيث الساكنة) -، وثالثة تدخل على النوعين المضارع والماضي - وهي (قد الحرفية) - وأهمل رحمه الله الفعل الأمر فلم يذكر له علامة، لأنه ذو مذهب كوفي، والأفعال عندهم مضارع وماضي فحسب، ويجعلون الأمر فرعاً من المضارع، ولذلك يُبنى على ما يُجزم به مضارعه. ويأتي طرفٌ للكلام عن هذه المسألة - إن شاء الله -.
ومن علامات فعل الأمر قبوله (ياء المخاطبة) نحو قولك: (قومي) .
قال الْمُصَنِّف رحمه الله: (والحرف
…الخ) .
أي: أن علامة الحرف علامة عدمية، فإذا انعدمت علامات الاسم وعلامات الفعل فهو حرف، وقد درج اللُّغَويون على ذلك - أي وضع علامة عدمية للحرف -.
قوله: (لا دليل الاسم ولا دليل الفعل)
الدليل: هو العلامة. أي لا علامة الاسم ولا علامة الفعل.
باب الإعراب
يقول الْمُصَنِّف رحمه الله: (باب الإعراب)
الإعراب هو تغيير أواخر الكلم لاختلاف العوامل الداخلة عليها لفظاً أو تقديراً. قوله (باب الإعراب) أي هذا باب الإعراب، وإنما قدرت كلمة (هذا) في صدر الجملة لمعنيين ذكرهما غير واحد من أئمة اللُّغَة:
الأول:
أن الأئمة في اللُّغَة وغيرها كانوا إذا صرحوا بالْمُقَدَّر في نحو هذه الجملة ذكروا كلمة (هذا) .
الثاني:
أن تقدير كلمة (هذا) أصلح من غيرها ففيها معنى الْمُشار والْمُشار إليه.
واعتُرض بأنه يجب ألا يُشار إلا بِمُشارٍ موجود عند الإشارة.
وأُجيب بأجوبة منها:
الأول:
أن الْمُشار إليه موجود في الذهن عند الإشارة.
الثاني:
এই চিহ্নটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) এর জন্য সুনির্দিষ্ট। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) এর জন্য একটি চিহ্ন উল্লেখ করেছেন, যা হলো— (সিন (سين) এবং সাওফা (سوف))— এবং অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) এর জন্য অপর একটি নির্দিষ্ট চিহ্ন উল্লেখ করেছেন— যা হলো (স্থির তায়ুত তানিস - تاء التأنيث الساكنة)। আর তৃতীয় একটি চিহ্ন যা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) ও অতীতকালীন (ماضي) উভয় প্রকার ক্রিয়ার শুরুতে আসে— যা হলো (হরফ ক্বদ - قد الحرفية)। তবে গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر) এর বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং এর কোনো চিহ্ন উল্লেখ করেননি; কারণ তিনি কুফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তাঁদের নিকট ক্রিয়া কেবল বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) এবং অতীতকালীন (ماضي)। তাঁরা আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر) কে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) এর একটি শাখা মনে করেন। এই কারণেই এটি সেই অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মাবনি (مبني) হয় যার মাধ্যমে এর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপটি জজম (جزم) যুক্ত হয়। ইনশাআল্লাহ, এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনার একটি দিক সামনে আসবে।
এবং আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر) এর অন্যতম চিহ্ন হলো এতে সম্বোধনসূচক ইয়া (ياء المخاطبة) গ্রহণ করা, যেমন আপনার উক্তি: (তুমি দাড়াও - قومي)।
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: (এবং হরফ (حرف)
… ইত্যাদি)।
অর্থাৎ: হরফ (حرف) এর চিহ্ন হলো একটি অস্তিত্বহীন চিহ্ন (علامة عدمية)। সুতরাং যখন ইসিম (اسم) এবং ফেল (فعل) এর চিহ্নসমূহ অনুপস্থিত থাকবে, তখন সেটি হরফ (حرف)। ভাষাবিদগণ এই পদ্ধতির ওপরই অগ্রসর হয়েছেন— অর্থাৎ হরফ (حرف) এর জন্য একটি অস্তিত্বহীন চিহ্ন নির্ধারণ করা।
তাঁর উক্তি: (ইসিমের কোনো প্রমাণ নেই এবং ফেলের কোনো প্রমাণ নেই)
দলীল (دليل) হলো চিহ্ন। অর্থাৎ যাতে ইসিমের (اسم) কোনো চিহ্ন নেই এবং ফেলের (فعل) কোনো চিহ্ন নেই।
ই’রাব (إعراب) পরিচ্ছেদ
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: (ই’রাব (إعراب) পরিচ্ছেদ)
ই’রাব (إعراب) হলো শব্দের শেষাবস্থার পরিবর্তন, শব্দটির শুরুতে প্রবেশকারী আমিল বা প্রভাবকসমূহ (عوامل) ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে, যা শাব্দিকভাবে (لفظا) বা উহ্যভাবে (تقديرا) হয়ে থাকে। তাঁর উক্তি (ই’রাব পরিচ্ছেদ) এর অর্থ হলো এটি ই’রাব সংক্রান্ত একটি অধ্যায়। বাক্যের শুরুতে ‘এটি’ (هذا) শব্দটি উহ্য ধরা হয়েছে দুটি কারণে, যা একাধিক ভাষাবিদ ইমাম উল্লেখ করেছেন:
প্রথম:
ভাষাবিদ এবং অন্যান্য ইমামগণ যখন এই জাতীয় বাক্যের উহ্য অংশটি প্রকাশ করতেন, তখন তাঁরা ‘এটি’ (هذا) শব্দটি উল্লেখ করতেন।
দ্বিতীয়:
‘এটি’ (هذا) শব্দটি উহ্য ধরা অন্য সব শব্দের চেয়ে অধিক উপযোগী, কারণ এর মধ্যে নির্দেশক এবং নির্দেশিত বস্তু (مشار إليه) এর অর্থ বিদ্যমান রয়েছে।
এক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, নির্দেশ করার সময় নির্দেশিত বস্তু (مشار إليه) উপস্থিত না থাকলে তার দিকে ইশারা করা সমীচীন নয়।
এর কয়েকটি উত্তর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম:
নির্দেশ করার সময় নির্দেশিত বস্তু (مشار إليه) অন্তরে বা চিন্তায় উপস্থিত থাকে।
দ্বিতীয়:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أنه يسوغ الإشارة إلى غير الْمُشار إذا كان قريب الوقوع كنحو قوله تعالى {أتى أمر الله فلا تستعجلوه} وهو لم يأت حقيقة وإنما قرب مجيئه بدلالة قوله {فلا تستعجلوه} قاله غير واحد من أهل التفسير والتأويل.
قوله: (باب)
هو في اللُّغَة:
المدخل إلى الشيء. وأصل استعماله في الحسيات كباب الدار ونحوها إلا أنه هنا مقيس على المحسوس؛ بجامع كونه مدخلاً إلى شيء.
وفي الاصطلاح:
هو اسم لجملة من العلوم فيُقَال (باب الإعراب، وباب المبتدأ والخبر، وباب المفعول به) وهلمَّ جراً من العلوم المذكورة لقبها.
قوله: (الإعراب) : فيه مقاصد:
أولها: أنه في اللُّغَة:
له معان عدة أوصلها السيوطي رحمه الله في (همع الهوامع) إلى عشرة معان غير أن المناسب منها هنا: التغيير. كنحو قولك (أعرب الله معدة البعير) إذا غيَّرها قاله سيبويه وغيره.
ثانيها: أنه في الاصطلاح هو:
تغيير أواخر الكلم لاختلاف العوامل الداخلة عليها لفظاً أو تقديراً كما قاله الْمُصَنِّف رحمه الله.
وهذا هو الذي عليه جماعات من اللُّغَويين وهو ما يُسَمَّى الإعراب المعنوي وهو يتعلق بأواخر الكلم لا بأوائلها ولا أواسطها؛ لأن من أقسام الإعراب: الجزم وحقيقته السكون، والعرب لا تبدأ بساكن البتة، وكذلك لو قيل بان محله الوسط - أي وسط الكلمة - لكان السكون مضاعفاً وكذلك الحركة؛ لأن الوسط لا يخلو منهما فيكون الوسط حينئذ مشتغل بسكون وسكون أو بحركة وحركة وهذا منتفي عند أرباب اللُّغَة وأئمتها.
ثالثها: قوله (لاختلاف العوامل الداخلة عليه)
اللام في قوله (لاختلاف) تعليلية وقيل سببية أي أن سبب وعِلَّة تغيير أواخر الكلم هو اختلاف العوامل الداخلة عليها.
নিকটবর্তী কোনো বিষয়—যা বর্তমানে এখনও ঘটেনি—তাকে এমনভাবে নির্দেশ করা বৈধ যা বর্তমানে বিদ্যমান। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, অতএব তোমরা তা ত্বরান্বিত করো না}। অথচ বাস্তবে তা তখনও আসেনি, বরং তা ঘনিয়ে এসেছিল বলেই তাঁর বাণী {অতএব তোমরা তা ত্বরান্বিত করো না} দ্বারা তা নির্দেশ করা হয়েছে। এ কথা তাফসির ও ব্যাখ্যা (تأويل) শাস্ত্রের একাধিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন।
তাঁর উক্তি: (অধ্যায়/باب)
এটি আভিধানিক অর্থে:
কোনো কিছুতে প্রবেশের পথ। এর মূল ব্যবহার হলো দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর ক্ষেত্রে, যেমন বাড়ির দরজা ইত্যাদি। তবে এখানে একে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর অনুমান (قياس) করা হয়েছে; কারণ উভয়ই কোনো কিছুতে প্রবেশের মাধ্যম হওয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যযুক্ত।
এবং পারিভাষিক অর্থে:
এটি একগুচ্ছ জ্ঞানের সমষ্টির নাম। যেমন বলা হয় (শব্দরূপান্তর (إعراب)-এর অধ্যায়, উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر)-এর অধ্যায়, কর্ম (مفعুল به)-এর অধ্যায়) এবং এভাবে উল্লিখিত বিষয়সমূহের শিরোনামগুলো ক্রমান্বয়ে আসতে থাকে।
তাঁর উক্তি: (শব্দরূপান্তর/إعراب) : এর মধ্যে কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে:
প্রথমটি: এটি আভিধানিক অর্থে:
এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে যা ইমাম সুয়ুতি (রাহিমাহুল্লাহ) হামউল হাওয়াঅ্যাম গ্রন্থে দশটি অর্থ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তবে এখানে তার মধ্যে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ হলো: পরিবর্তন। যেমন আপনার উক্তি (আল্লাহ উটের পাকস্থলী পরিবর্তন করে দিয়েছেন) যখন তিনি তা পরিবর্তন করেন। সিবওয়াইহ এবং অন্যান্যরা একথাই বলেছেন।
দ্বিতীয়টি: এটি পারিভাষিক অর্থে হলো:
শব্দসমূহের শেষে প্রবেশকৃত আমেল (عامل) বা প্রভাবকসমূহের ভিন্নতার কারণে শাব্দিকভাবে অথবা অনুমেয় (تقديراً) ভাবে শব্দের শেষভাগের পরিবর্তন হওয়া, যেমনটি গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।
ভাষাবিদদের এক বিরাট দল এই মত পোষণ করেন এবং একেই অর্থগত রূপান্তর (الإعراب المعنوي) বলা হয়। এটি শব্দের শেষভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট, শব্দের শুরু বা মধ্যভাগের সাথে নয়। কারণ শব্দরূপান্তরের অন্যতম একটি প্রকার হলো: জজম (جزم), যার প্রকৃত রূপ হলো স্থিরতা (سكون)। আর আরবরা কখনোই স্থির (ساكن) বর্ণ দিয়ে শব্দ শুরু করে না। অনুরূপভাবে, যদি বলা হতো যে এর স্থান হলো মধ্যভাগ—অর্থাৎ শব্দের মাঝখানে—তবে সুকুন দ্বিগুণ হয়ে যেত, তেমনিভাবে হরকত (حركة)-ও দ্বিগুণ হতো। কারণ শব্দের মধ্যভাগ এই দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত থাকে না। সেক্ষেত্রে মধ্যভাগ একই সাথে দুটি সুকুন অথবা দুটি হরকতের স্থানে পরিণত হতো, যা ভাষাবিদ ও ইমামগণের নিকট অসম্ভব।
তৃতীয়টি: তাঁর উক্তি (তার ওপর প্রবেশকৃত আমেল বা প্রভাবকসমূহের ভিন্নতার কারণে)
তাঁর উক্তি 'লা-ইখতিলাফি' (لاختلاف)-এর মধ্যে 'লাম' অক্ষরটি কারণবাচক (تعليلية) এবং কেউ কেউ বলেছেন এটি হেতুবাচক (سببية)। অর্থাৎ শব্দের শেষভাগ পরিবর্তনের কারণ ও হেতু হলো তার ওপর আপতিত আমেল (عامل) বা প্রভাবকসমূহের ভিন্নতা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والعوامل جمع عامل، وهو فاعل الحركة ومسببها أي فاعل التسكين ومسببه كـ (إن مُحَمَّداً مجتهدٌ) ، فإن المبتدأ وهو مُحَمَّدٌ قد نُصِب هنا بحرف (إن الناصبة) . وكقولك: (ضرب زَيْدٌ عَمْراً) فإن الفاعل عمل في المفعول به النصْب وهكذا في أواخر الكلم تختلف باختلاف العوامل الداخلة عليها. فكلمة (محمد) قد تكون مرفوعة أو منصوبة أو مخفوضة لاختلاف العوامل في نحو قولك: (جاء محمدٌ، رأيت مُحَمَّداً، مررت بمُحَمَّدٍٍ) .
رابعها: قوله: (لفظاً أو تقديراً)
لفظاً:
أي أنه ملفوظ باللسان أي تلك الحركة بحيث تُسمع نحو قولك (جاء مُحَمَّدٌٌ) ونحوه فإن إعرابه ملفوظ غير مُقَدَّر.
وأما الْمُقَدَّر:
وأما الْمُقَدَّر فهو عدم ظهور الحركة في اللسان بحيث تكون مسموعة، كنحو قولك: (جاء موسى) فكلمة (موسى) مرفوعة بالضمة الْمُقَدَّرَة على آخره.
وليُعْلم أن جميع المعربات ظاهرة الحركة سوى ما يلي:
أولها:
ما لحقته الألف المقصورة من الأسماء أو الأفعال فإن الحركة لا تظهر لمانع التعذر أي يتعذر النطق بالحركة.
فمثال الأسماء: موسى، عيسى، وغيرهما.
ومثال الأفعال: يخشى، يلقى، وغيرهما.
وهذا النوع تُقَدَّر معه جميع الحركات وهي: {الضمة، الكسرة، الفتحة مع الاسم} ، {والضمة والفتحة مع الفعل} .
ثانيها:
الاسم المنقوص مثل: القاضي، الداعي وغيرهما من الأسماء، أو ما كان آخره ياءً أو واواً من الأفعال مثل: يدعو، يقضي وغيرهما من الأفعال. فتُقَدَّر عليها جميع الحركات سوى الفتحة في حالة النصْب فإنها تظهر. ومانع ظهور الضمة والكسرة هو الثقل أي تقيل على اللسان النطق بها.
ثالثها:
'আওয়ামিল' (عوامل) হলো 'আমিল' (عامل)-এর বহুবচন। এটি হরকতের (স্বরচিহ্নের) কারক (فاعل) ও পরিচালক, অর্থাৎ এটি সাকিন বা স্থিরতারও কারক ও পরিচালক। যেমন: (إن مُحَمَّداً مجتهدٌ); এখানে মুবতাদা 'মুহাম্মদ' শব্দটি নসব প্রদানকারী অব্যয় (إن الناصبة)-এর কারণে নসব (نصْب) বা জবরযুক্ত হয়েছে। তদ্রূপ আপনার উক্তি: (ضرب زَيْدٌ عَمْراً); এখানে ফায়েল (فاعل) বা কর্তা মাফ'উল বিহি (مفعول به)-এর মধ্যে নসব (نصْب)-এর আমল করেছে। এভাবেই শব্দের শেষাংশ তাতে প্রবেশকারী বিভিন্ন 'আওয়ামিল' (عوامل) বা কারকের ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়। যেমন 'মুহাম্মদ' শব্দটি কারকসমূহের ভিন্নতার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع), জবরযুক্ত (منصوب) অথবা যেরযুক্ত (مخفوض) হতে পারে। যেমন আপনার উক্তি: (جاء محمدٌ، رأيت مُحَمَّداً، مررت بمُحَمَّدٍٍ)।
চতুর্থ বিষয়টি হলো তাঁর কথা: (মৌখিকভাবে (لفظاً) বা অনুমিতভাবে (تقديراً))।
মৌখিকভাবে (لفظاً):
অর্থাৎ যা জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত হয়, অর্থাৎ সেই হরকত বা স্বরচিহ্নটি এমনভাবে উচ্চারিত হয় যা শোনা যায়। যেমন আপনার উক্তি: (جاء مُحَمَّدٌٌ) এবং এর অনুরূপ বাক্যসমূহ। এখানে এর রূপান্তর বা ই'রাব (إعراب) উচ্চারিত, অনুমিত (مُقَدَّر) নয়।
আর অনুমিত (الْمُقَدَّر):
অনুমিত (الْمُقَدَّر) হলো জিহ্বায় হরকতের বহিঃপ্রকাশ না ঘটা যাতে তা শ্রবণযোগ্য হয়। যেমন আপনার উক্তি: (جاء موسى); এখানে 'মুসা' (موسى) শব্দটি তার শেষাক্ষরে অনুমিত (الْمُقَدَّرة) পেশ বা দম্মার (ضمة) মাধ্যমে পেশযুক্ত (مرفوع) হয়েছে।
জেনে রাখা উচিত যে, নিচের বিষয়গুলো ব্যতীত সকল মো'রাব (معرب) বা রূপান্তরশীল শব্দের হরকত প্রকাশ্য থাকে:
প্রথমত:
সেই সকল ইসম (বিশেষ্য) বা ফেল (ক্রিয়া) যার শেষে আলিফ মাকসুরা (الألف المقصورة) যুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে অপারগতা (التعذر) জনিত বাধার কারণে হরকত প্রকাশ পায় না, অর্থাৎ হরকত উচ্চারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ইসমের উদাহরণ: মুসা (موسى), ঈসা (عيسى) এবং অন্যান্য।
ফেলের উদাহরণ: ইয়াখশা (يخشى), ইয়ালকা (يلقى) এবং অন্যান্য।
এই প্রকারের ক্ষেত্রে সকল হরকতই অনুমিত (تُقَدَّر) ধরা হয়। সেগুলো হলো: {ইসমের ক্ষেত্রে পেশ (ضمة), যের (كسرة) ও জবর (فتحة)} এবং {ফেলের ক্ষেত্রে পেশ (ضمة) ও জবর (فتحة)}।
দ্বিতীয়ত:
ইসম মানকুস (الاسم المنقوص) যেমন: আল-কাদি (القاضي), আদ-দায়ি (الداعي) ইত্যাদি ইসম। অথবা সেই সকল ফেল (ক্রিয়া) যার শেষে ইয়া (ياء) বা ওয়াও (واو) রয়েছে, যেমন: ইয়াদ'উ (يدعو), ইয়াকদি (يقضي) ইত্যাদি। এগুলোর ক্ষেত্রে নসব (نصْب) বা জবর অবস্থা ব্যতীত সকল হরকতই অনুমিত (تُقَدَّر) ধরা হয়, কারণ নসব (نصْب) অবস্থায় হরকত প্রকাশ পায়। আর পেশ (ضمة) ও যের (كسرة) প্রকাশ না পাওয়ার কারণ হলো গুরুভার (الثقل), অর্থাৎ জিহ্বায় এগুলো উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য।
তৃতীয়ত:
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ما لحقته ياء الْمُتَكَلِّم. كقولك: (جاء غلامي) . فكلمة (غلامي) مُكَوَّنَة من شيئين: الأول: اسم (غلام) . والثاني (حرف الياء) وهذه الياء تُسَمَّى بياء الْمُتَكَلِّم، لأنها ترجع على الْمُتَكَلِّم فهذه تُقَدَّر معها جميع الحركات لمانع اشتغال المحل بالحركة المناسبة.
فقولك: (جاء غلامي، رأيت غلامي، مررت بغلامي) .
الأولي: مرفوعة بالضمة الْمُقَدَّرَة على آخرها منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة المناسبة وهو مضاف والياء مضاف إليه.
والثانية: منصوبة بالفتحة الْمُقَدَّرَة على آخرها منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة المناسبة وهو مضاف والياء مضاف إليه.
والثالثة: مخفوضة بالكسرة الْمُقَدَّرَة على آخرها منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة المناسبة وهو مضاف والياء مضاف إليه.
خامسها: - أعني من المقاصد - الإعراب لا يدخل صنفين من الكلام:
الأول:
جميع الأفعال سوى الفعل المضارع الذي لم تلحقه نون التوكيد - يُبنى على الفتح - أو نون النسوة (نون الإناث) - يُبنى على السكون.
الثاني:
الحروف فكلها مبنية.
قال الْمُصَنِّف رحمه الله: (وأقسامه أربعة
… وجزم)
فيه مقاصد
أولها: قوله: (وأقسامه)
يعني الإعراب وإنما قيل أربعة نتيجة الحَصْر الاستقرائي التام فهي لا تخرج عنها البتة.
ثانيها:: قوله: (رَفْع)
هو ضد الخفض لغةً أو هو العلو.
ثالثها: قوله: (نَصْب)
النصْب في اللُّغَة له معان منها: شخوص الشيء ووضوحه. تقول هذا منصوب أي شاخص.
رابعها: قوله: (وخفض)
والخفض هو ضد العلو والارتفاع أو هو السُّفْل.
خامسها: قوله: (وجزم)
الجزم هو القطع، تقول جزمت الشجرة إذا قطعتها.
قوله: (فللأسماء ...... ولا خفض فيها)
حاصله أن الاسم لا يُجرم لأن الجزم ثقيل والاسم خفيف فناسب كون الاسم غير مجزوم.
যার সাথে উত্তম পুরুষের 'ইয়া' (ياء المتكلم) যুক্ত হয়েছে। যেমন আপনার কথা: (জাওআ গুলামি)। 'গুলামি' শব্দটি দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত: প্রথমটি: বিশেষ্য (اسم) 'গুলাম', এবং দ্বিতীয়টি: ('ইয়া' বর্ণ)। এই 'ইয়া'-কে উত্তম পুরুষের 'ইয়া' (ياء المتكلم) বলা হয়, কারণ এটি বক্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এর ক্ষেত্রে সকল হরকত বা স্বরচিহ্নকে ঊহ্য (مقدر) ধরা হয়, কারণ স্থানটি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকত দ্বারা ব্যতিব্যস্ত (اشتغال المحل) থাকে।
যেমন আপনার কথা: (জাওআ গুলামি, রআইতু গুলামি, মারারতু বি-গুলামি)।
প্রথমটি: এর শেষাক্ষরে ঊহ্য পেশ (ضمة مقدرة) দ্বারা মারফু (مرفوع), যা প্রকাশ পেতে বাধা দিয়েছে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতের কারণে স্থানটি ব্যতিব্যস্ত (اشتغال المحل) থাকা। এটি মুদাফ (مضاف) এবং 'ইয়া' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।
দ্বিতীয়টি: এর শেষাক্ষরে ঊহ্য ফাতহাহ (فتحة مقدرة) দ্বারা মানসুব (منصوب), যা প্রকাশ পেতে বাধা দিয়েছে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতের কারণে স্থানটি ব্যতিব্যস্ত (اشتغال المحل) থাকা। এটি মুদাফ (مضاف) এবং 'ইয়া' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।
তুতীয়টি: এর শেষাক্ষরে ঊহ্য কাসরাহ (كسرة مقدرة) দ্বারা মাখফুদ (مخفوض), যা প্রকাশ পেতে বাধা দিয়েছে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতের কারণে স্থানটি ব্যতিব্যস্ত (اشتغال المحل) থাকা। এটি মুদাফ (مضاف) এবং 'ইয়া' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।
পঞ্চমটি: - অর্থাৎ উদ্দেশ্যসমূহের মধ্য থেকে - ইরাব (إعراب) দুই প্রকার শব্দের মধ্যে প্রবেশ করে না:
প্রথমটি:
বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع) ব্যতীত সকল ক্রিয়া, যার সাথে গুরুত্ববাচক 'নুন' (نون التوكيد) যুক্ত হয়নি - যা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি (يبنى على الفتح) করে - অথবা স্ত্রীবাচক 'নুন' (نون النسوة) যুক্ত হয়নি - যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি (يبنى على السكون) করে।
দ্বিতীয়টি:
অব্যয়সমূহ (الحروف), যার সবগুলোই অপরিবর্তনীয় (مبني)।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এর প্রকারভেদ চারটি
… এবং জাজম)
এতে কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে
প্রথমটি: তাঁর কথা: (এর প্রকারভেদ)
অর্থাৎ ইরাব (إعراب)। একে চারটি বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানমূলক সীমাবদ্ধকরণের (الحصر الاستقرائي) ফলাফল হিসেবে, যা থেকে এটি কখনোই বের হবে না।
দ্বিতীয়টি: তাঁর কথা: (রাফ')
শাব্দিক অর্থে এটি অবনমনের বিপরীত অথবা এটি হলো উচ্চতা।
তৃতীয়টি: তাঁর কথা: (নাসাব)
অভিধানে নাসাব (نصب)-এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: কোনো বস্তুর খাড়া হওয়া ও স্পষ্ট হওয়া। আপনি বলেন 'হাজা মানসুব' অর্থাৎ এটি দণ্ডায়মান বা স্পষ্ট।
চতুর্থটি: তাঁর কথা: (ওয়া খাফদ)
খাফদ (خفض) হলো উচ্চতা ও উন্নতির বিপরীত বা এটি হলো নিম্নমুখিতা।
পঞ্চমটি: তাঁর কথা: (ওয়া জাজম)
জাজম (جزم) হলো কর্তন করা। আপনি বলেন 'জাজামতুশ শাজারাহ' যখন আপনি গাছটি কেটে ফেলেন।
তাঁর কথা: (সুতরাং বিশেষ্যসমূহের জন্য ...... এবং এতে কোনো খাফদ নেই)
এর সারমর্ম হলো, বিশেষ্য (اسم) জাজম (جزم) যুক্ত হয় না; কারণ জাজম হলো ভারী আর বিশেষ্য হলো হালকা, তাই বিশেষ্য জাজমবিহীন হওয়াটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আজরুমিয়্যাহ লিল আসমারী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وكذلك الفعل لا خفض فيه لأن الفعل ثقيل حَيْثُ إِنه يدل على الحدث والزمن خلافاً للاسم فيه خفة للألسنة على معنى متجرداً عن الزمن فلم يناسب كون الفعل مخفوضاً.
قاعدة:
إذا لحق الضمير الاسم فيكون مضافاً إليه، وإذا لحق الفعل فيكون فاعلاً أو مفعولاً به.
فليُعلم أن ضد الإعراب البناء ومعناه: هو لزوم آخر الكلمة حركة لا تتغير باختلاف العوامل الداخلة عليها وهو يكون في الأسماء والأفعال والحروف.
فالأصل في الأفعال: البناء، والأصل في الأسماء: الإعراب، وأمَّا الحروف فمبنيةٌ كلها. فلا يُعرب من الأفعال سوى المضارع إذا لم تلحق آخره نون التوكيد أو نون النسوة ومثاله: يأكلُ، ويخرجُ ونحوهما. فإنها تُرفع بالضمة وتُنصب بالفتحة وتُجزم بالسكون.
ولا يُبنى من الأسماء سوى ما أشبه الحرف وفي شبهه من الحرف أوجه تأتي إن شاء الله في المطولات. ومنها: الشبه اللفظي أو الوضعي وهو أن يشبه الاسم الحرف في لفظه أو وضعه كأن يكون مكوناً من حرف أو حرفين؛ إذ هذا هو أصل تكوين الحروف. ومثاله: (كم) الاستفهامية. فهي من أسماء الاستفهام وهي مبنيةٌ اتفاقاً وسبب بنائها: هو الشبه الوضعي بحرف لم، وهل ونحوهما؛ إذ الجميع مكونٌ من حرفين.
وأما الحروف فجميعها مبنية اتفاقاً كحروف الجر والجزم وغيرهما.
وأما علامات البناء فقد تكون الفتح أو الكسر أو الضم أو السكون. فمثال الفتح: الكاف في قولك (أولئكَ) . ومثال الكسر: الهمزة الأخيرة في قولك (أولاءِ) . ومثال الضم: حيثُ. ومثال السكون ـ التسكين ـ: لم وكم وغيرهما. غير أن الصحيح من أقوال أهل اللُّغَة أن الأصل في البناء: التسكين.
فائدة:
لم يذكر الْمُصَنِّف رحمه الله البناء في مقدمته هذه لأنه قصد ذكر الإعراب وأبوابه ومسائله والبناء ضده.
باب معرفة علامات الإعراب
هاهنا أمران:
أولهما:
同样 ভাবে ক্রিয়ার (الفعل) ক্ষেত্রে কোনো খফদ বা জের (خفض) নেই; কারণ ক্রিয়া (الفعل) শব্দগতভাবে ভারী, যেহেতু এটি কাজ ও কালকে নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে বিশেষ্যের (الاسم) ক্ষেত্রে রসনার জন্য লাঘব বা সহজতা রয়েছে, কারণ এটি কালমুক্ত অর্থ প্রদান করে। ফলে ক্রিয়া জেরযুক্ত (مخفوضاً) হওয়া সঙ্গত নয়।
উসুল বা নিয়ম:
যখন সর্বনাম (الضمير) বিশেষ্যের (الاسم) সাথে যুক্ত হয়, তখন তা মুদাফ ইলাইহি (مضافاً إليه) হয়; আর যখন তা ক্রিয়ার (الفعل) সাথে যুক্ত হয়, তখন তা কর্তা (فاعلاً) বা কর্ম (مفعولاً به) হিসেবে বিবেচিত হয়।
জেনে রাখা আবশ্যক যে, এরাব বা রূপান্তরের (الإعراب) বিপরীত হলো বিনা বা অপরিবর্তনীয়তা (البناء)। এর অর্থ হলো: শব্দের শেষে এমন এক অবস্থায় অবিচল থাকা যা আমিল বা প্রভাবকের (العوامل) পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয় না। এটি বিশেষ্য (الأسماء), ক্রিয়া (الأفعال) এবং অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
ক্রিয়ার (الأفعال) ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো অপরিবর্তনীয়তা (البناء), আর বিশেষ্যের (الأسماء) ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো রূপান্তরশীলতা (الإعراب); পক্ষান্তরে অব্যয়সমূহ (الحروف) সবই অপরিবর্তনীয় (مبنية)। ক্রিয়াগুলোর মধ্যে কেবল মুদারি (المضارع) বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াই রূপান্তরশীল (يُعرب) হয়, যদি তার শেষে তাকিদযুক্ত নূন (نون التوكيد) বা স্ত্রীবাচক নূন (نون النسوة) যুক্ত না হয়। এর উদাহরণ হলো: يأكلُ এবং ويخرجُ ইত্যাদি। এগুলো পেশের (الضمة) মাধ্যমে রফা (تُرفع), জবরের (الفتحة) মাধ্যমে নসব (تُنصب) এবং সাকিনের (السكون) মাধ্যমে জজম (تُجزم) লাভ করে।
বিশেষ্যের (الأسماء) মধ্যে কেবল সেগুলোই অপরিবর্তনীয় (يُبنى) হয়, যা অব্যয়ের (الحرف) সাদৃশ্য রাখে। অব্যয়ের সাথে এই সাদৃশ্যের বিভিন্ন দিক রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ দীর্ঘ কলেবরের কিতাবগুলোতে আলোচিত হবে। তার মধ্যে একটি হলো শাব্দিক বা গঠনগত সাদৃশ্য (الشبه اللفظي أو الوضعي); অর্থাৎ বিশেষ্যটি শব্দগত বা গঠনগত দিক থেকে অব্যয়ের সদৃশ হবে, যেমন একটি বা দুটি অক্ষর দ্বারা গঠিত হওয়া; কারণ অব্যয়সমূহ মূলত এভাবেই গঠিত হয়। এর উদাহরণ হলো: প্রশ্নবোধক ‘কাম’ (كم)। এটি একটি প্রশ্নবোধক বিশেষ্য এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে অপরিবর্তনীয় (مبنية); আর এর অপরিবর্তনীয় হওয়ার কারণ হলো ‘লাম’ (لم) বা ‘হাল’ (هل) জাতীয় অব্যয়ের সাথে গঠনগত সাদৃশ্য (الشبه الوضعي); যেহেতু এগুলোর প্রতিটিই দুটি অক্ষর দ্বারা গঠিত।
অব্যয়সমূহ (الحروف) সর্বসম্মতিক্রমে অপরিবর্তনীয় (مبنية), যেমন হরফে জর (حروف الجر), জজম প্রদানকারী অব্যয় (الجزم) এবং অন্যান্য।
অপরিবর্তনীয়তার চিহ্নগুলো (علامات البناء) কখনো জবর (الفتح), কখনো জের (الكسر), কখনো পেশ (الضم) আবার কখনো সাকিন (السكون) হতে পারে। জবরের উদাহরণ: أولئكَ শব্দের কাফ বর্ণটি। জেরে উদাহরণ: أولاءِ শব্দের শেষ হামজাটি। পেশের উদাহরণ: حيثُ। আর সাকিন—তাসকিন—এর উদাহরণ: لم, كم এবং অন্যান্য। তবে ভাষাবিদগণের (أهل اللُّغَة) সঠিক মতানুসারে অপরিবর্তনীয়তার (البناء) মূল ভিত্তি হলো সাকিন (التسكين)।
ফায়দা:
লেখক (الْمُصَنِّف) (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই ভূমিকায় অপরিবর্তনীয়তা (البناء) সম্পর্কে উল্লেখ করেননি, কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এরাব বা রূপান্তর (الإعراب), এর প্রকারভেদ ও মাসআলাসমূহ আলোচনা করা, আর ‘বিনা’ হলো এর বিপরীত।
পরিচ্ছেদ: এরাব বা রূপান্তরের (الإعراب) চিহ্নসমূহ চেনার বিবরণ
এখানে দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথমটি: