(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: -)
شرح معاني الآثار - ط مصر   (الطحاوي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: شرح معاني الآثار

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري الطحاوي الحنفي (ت 321 هـ)

حققه: محمد سيد جاد الحق (جـ 1)، محمد زهري النجار (جـ 2 - 4) من علماء الأزهر الشريف

زاد في تصحيحه ورَقّمَه وفهرسه: د يوسف عبد الرحمن المرعشلي - الباحث بمركز خدمة السنة بالمدينة النبوية

الناشر: عالم الكتب، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1994 م

عدد الأجزاء: 5 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহু মা'আনিল আসার - মিসরীয় সংস্করণ   (আত-তাহাবী)

বিভাগ: হাদিসের কিতাবসমূহ

কিতাব: শারহু মা'আনিল আসার

লেখক: আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ আল-আজদী আল-হাজারী আল-মিসরী আত-তাহাবী আল-হানাফী (মৃত্যু ৩২১ হিজরি)

সম্পাদনা করেছেন: মুহাম্মদ সাইয়্যিদ জাদুল হক (১ম খণ্ড), মুহাম্মদ যুহরী আন-নাজ্জার (২য় - ৪র্থ খণ্ড) আল-আযহার আল-শরীফ-এর উলামায়ে কেরাম

সংশোধন, সংখ্যায়ন ও নির্ঘণ্ট বৃদ্ধিতে: ড. ইউসুফ আব্দুর রহমান আল-মার'আশলী - মদীনা নববীয়ার খিদমতে সুন্নাহ সেন্টারের গবেষক

প্রকাশক: আলমুল কুতুব، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (সর্বশেষটি নির্ঘণ্ট)

[কিতাবের নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح معاني الآثار]ـ

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري المعروف بالطحاوي (المتوفى: 321هـ)

حققه وقدم له: (محمد زهري النجار - محمد سيد جاد الحق) من علماء الأزهر الشريف

راجعه ورقم كتبه وأبوابه وأحاديثه: د يوسف عبد الرحمن المرعشلي - الباحث بمركز خدمة السنة بالمدينة النبوية

الناشر: عالم الكتب

الطبعة: الأولى - 1414 هـ، 1994 م

عدد الأجزاء: 5 (4 وجزء للفهارس)

[ترقيم صفحات وأحاديث الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة تخريج الأحاديث]
শারহু মাআনিল আসার

লেখক: আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন সালামাহ আল-আজদী আল-হাজারী আল-মিসরী, যিনি ইমাম ত্বহাবী নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩২১ হিজরি)

তাহকিক ও ভূমিকা প্রদান করেছেন: (মুহাম্মাদ যুহরি আন-নাজ্জার - মুহাম্মাদ সাইয়্যিদ জাদ আল-হক), আল-আজহার আল-শরীফের আলিমগণের মধ্য হতে

পুনঃনিরীক্ষণ এবং এর কিতাব, অধ্যায় ও হাদিসসমূহ নম্বরবিন্যাস করেছেন: ড. ইউসুফ আব্দুর রহমান আল-মার'আশলী - মদীনা নববীয়ার সুন্নাহ সেবা কেন্দ্রের গবেষক

প্রকাশক: আলমুল কুতুব

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৪ হিজরি, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ৫ (৪টি এবং ১টি নির্ঘণ্টের খণ্ড)

[বইটির পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি হাদিস তাখরিজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مُقَدِّمَة

قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ الْأَزْدِيُّ الطَّحَاوِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ:

سَأَلَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ أَضَعَ لَهُ كِتَابًا أَذْكُرُ فِيهِ الْآثَارَ الْمَأْثُورَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْأَحْكَامِ الَّتِي يَتَوَهَّمُ أَهْلُ الْإِلْحَادِ ، وَالضَّعَفَةُ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ أَنَّ بَعْضَهَا يَنْقُضُ بَعْضًا؛ لِقِلَّةِ عِلْمِهِمْ بِنَاسِخِهَا مِنْ مَنْسُوخِهَا ، وَمَا يَجِبُ بِهِ الْعَمَلُ مِنْهَا لِمَا يَشْهَدُ لَهُ مِنَ الْكِتَابِ النَّاطِقِ وَالسُّنَّةِ الْمُجْتَمَعِ عَلَيْهَا ، وَأَجْعَلُ لِذَلِكَ أَبْوَابًا ، أَذْكُرُ فِي كُلِّ كِتَابٍ مِنْهَا مَا فِيهِ مِنَ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ ، وَتَأْوِيلَ الْعُلَمَاءِ وَاحْتِجَاجَ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ ، وَإِقَامَةَ الْحُجَّةِ لِمَنْ صَحَّ عِنْدِي قَوْلُهُ مِنْهُمْ بِمَا يَصِحُّ بِهِ مِثْلُهُ مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ أَوْ إِجْمَاعٍ أَوْ تَوَاتُرٍ مِنْ أَقَاوِيلِ الصَّحَابَةِ أَوْ تَابِعِيهِمْ ، وَإِنِّي نَظَرْتُ فِي ذَلِكَ وَبَحَثْتُ عَنْهُ بَحْثًا شَدِيدًا، فَاسْتَخْرَجْتُ مِنْهُ أَبْوَابًا عَلَى النَّحْوِ الَّذِي سَأَلَ، وَجَعَلْتُ ذَلِكَ كُتُبًا، ذَكَرْتُ فِي كُلِّ كِتَابٍ مِنْهَا جِنْسًا مِنْ تِلْكَ الْأَجْنَاسِ، فَأَوَّلُ مَا ابْتَدَأْتُ بِذِكْرِهِ مِنْ ذَلِكَ:
ভূমিকা

আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-আজদি আত-তাহাবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:

ইলম অন্বেষী আমাদের কোনো এক সাথী আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য এমন একটি কিতাব সংকলন করি, যাতে বিধান সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করব; যেসব হাদিস সম্পর্কে ধর্মত্যাগী এবং মুসলিমদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তিরা ধারণা করে যে, সেগুলোর একটি অন্যটিকে বাতিল করে দেয়। তাদের এমন ধারণার কারণ হলো রহিতকারী (নাসিখ) ও রহিত (মানসুখ) হাদিস সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা এবং যেগুলোর ওপর আমল করা অপরিহার্য সে সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, যেগুলোর সপক্ষে সুস্পষ্ট কিতাব এবং সর্বসম্মত সুন্নাহর সাক্ষ্য বিদ্যমান। আর আমি এ বিষয়গুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করব এবং এর প্রতিটি অধ্যায়ে নাসিখ ও মানসুখ হাদিসসমূহ, আলিমগণের ব্যাখ্যা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তাঁদের উপস্থাপিত যুক্তিগুলো উল্লেখ করব। আর তাঁদের মধ্য থেকে যাঁর বক্তব্য আমার নিকট সঠিক বলে প্রতীয়মান হবে, কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা কিংবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের মুতাওয়াতির উক্তির মধ্য থেকে কোনো যথাযথ দলিলের মাধ্যমে তাঁর সপক্ষে যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করব। আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েছি এবং তাঁর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পরিচ্ছেদ বের করেছি। সেগুলোকে আমি কতগুলো কিতাবে বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি কিতাবে এ সংক্রান্ত একটি করে বিষয় উল্লেখ করেছি। এগুলোর মধ্য থেকে আমি সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করছি:
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الطَّهَارَةِ، فَمِنْ ذَلِكَ:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পবিত্রতা বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌بَابُ الْمَاءِ يَقَعُ فِيهِ النَّجَاسَةُ
নাপাকি পতিত হওয়া পানি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ بْنِ رَاشِدٍ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهُ يُلْقَى فِيهِ الْجِيَفُ وَالْمَحَائِضُ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجُسُ»
১ - মুহাম্মাদ ইবনে খুজাইমা ইবনে রাশিদ আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বুদাআহ কূপ থেকে ওযু করতেন। তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এতে তো মৃতদেহ এবং ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া ফেলা হয়। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌2 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، وَسُلَيْمَانُ أَبُو دَاوُدَ الْأَسَدِيُّ، قَالَا: ثنا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَلِيطِ بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ ، إِنَّهُ يُسْتَقَى لَكَ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُطْرَحُ فِيهَا عَذِرَةُ النَّاسِ ، وَمَحَائِضُ النِّسَاءِ ، وَلَحْمُ الْكِلَابِ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»
২ - আমাদের নিকট ইব্রাহীম ইবনে আবী দাউদ এবং সুলায়মান আবু দাউদ আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আহমাদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক সালীত্ব ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রাফে‘ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আরজ করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য বুদাআহ কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়, অথচ এটি এমন এক কূপ যাতে মানুষের মলমূত্র, নারীদের ঋতুস্রাবের কাপড় এবং কুকুরের গোশত নিক্ষেপ করা হয়। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌3 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ: ثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبِرْكِيُّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ الْقَسْمَلِيُّ قَالَ: ثنا مُطَرِّفٌ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي نَوْفٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: " انْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ، أَتَتَوَضَّأُ مِنْهَا وَهِيَ يُلْقَى فِيهَا مَا يُلْقَى مِنَ النَّتْنِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-বির্কি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুসলিম আল-কাসমালি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতাররিফ, খালিদ ইবনে আবি নাওফ থেকে, তিনি ইবনে আবি সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালাম এমতাবস্থায় যে তিনি বুদাআহ কূপ থেকে ওজু করছিলেন। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তা থেকে ওজু করছেন অথচ তাতে দুর্গন্ধযুক্ত যা কিছু নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ করা হয়? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না»"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌4 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالَ: ثنا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى الْأَسْلَمِيِّ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ: " دَخَلْنَا عَلَى سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ فِي أَرْبَعِ نِسْوَةٍ، فَقَالَ: لَوْ سَقَيْتُكُمْ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ لَكَرِهْتُمْ ذَلِكَ، وَقَدْ سَقَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا بِيَدِي "
৪ - আমাদের নিকট ইব্রাহীম বিন আবী দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসবাগ বিন আল-ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাতিম বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াহইয়া আল-আসলামী থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা চারজন নারী সাহল বিন সা'দ-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন: আমি যদি তোমাদের বুযা'আহ কূপ থেকে পানি পান করাতাম, তবে তোমরা তা অপছন্দ করতে; অথচ আমি আমার নিজের হাতে তা থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পান করিয়েছি।"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌5 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ يَحْيَى، قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: أنا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ النَّخَعِيُّ، عَنْ طَرِيفٍ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَوْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرِنَا، فَانْتَهَيْنَا إِلَى غَدِيرٍ وَجِيفَةٍ، فَكَفَفْنَا وَكَفَّ النَّاسُ، حَتَّى أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا لَكُمْ لَا تَسْتَقُونَ؟ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ ، هَذِهِ الْجِيفَةُ. فَقَالَ: «اسْتَقُوا ، فَإِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ. فَاسْتَقَيْنَا وَارْتَوَيْنَا» . فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذِهِ الْآثَارِ ، فَقَالُوا: لَا يُنَجِّسُ الْمَاءَ شَيْءٌ وَقَعَ فِيهِ ، إِلَّا أَنْ يُغَيِّرَ لَوْنَهُ ، أَوْ طَعْمَهُ ، أَوْ رِيحَهُ ، فَأَيُّ ذَلِكَ إِذَا كَانَ ، فَقَدْ نَجِسَ الْمَاءُ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ، فَقَالُوا: أَمَّا مَا ذَكَرْتُمُوهُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ فَلَا حُجَّةَ لَكُمْ فِيهِ؛ لِأَنَّ بِئْرَ بُضَاعَةَ قَدِ اخْتُلِفَ فِيهَا مَا كَانَتْ، فَقَالَ قَوْمٌ: كَانَتْ طَرِيقًا لِلْمَاءِ إِلَى الْبَسَاتِينِ، فَكَانَ الْمَاءُ لَا يَسْتَقِرُّ فِيهَا، فَكَانَ حُكْمُ مَائِهَا كَحُكْمِ مَاءِ الْأَنْهَارِ، وَهَكَذَا نَقُولُ فِي كُلِّ مَوْضِعٍ كَانَ عَلَى هَذِهِ الصِّفَةِ وَقَعَتْ فِي مَائِهِ نَجَاسَةٌ، فَلَا يَنْجُسُ مَاؤُهُ إِلَّا أَنْ يَغْلِبَ عَلَى طَعْمِهِ أَوْ لَوْنِهِ أَوْ رِيحِهِ أَوْ يُعْلَمَ أَنَّهَا فِي الْمَاءِ الَّذِي يُؤْخَذُ مِنْهَا ، فَإِنْ عَلِمَ ذَلِكَ كَانَ نَجِسًا ، وَإِنْ لَمْ يُعْلَمْ ذَلِكَ كَانَ طَاهِرًا.

 

‌‌6 - وَقَدْ حُكِيَ هَذَا الْقَوْلُ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ عَنِ الْوَاقِدِيِّ ، حَدَّثَنِيهِ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ شُجَاعٍ الثَّلْجِيِّ، عَنِ الْوَاقِدِيِّ أَنَّهَا كَانَتْ كَذَلِكَ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ فِي ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّهُمْ قَدْ أَجْمَعُوا أَنَّ النَّجَاسَةَ إِذَا وَقَعَتْ فِي الْبِئْرِ فَغَلَبَتْ عَلَى طَعْمِ مَائِهَا أَوْ رِيحِهِ أَوْ لَوْنِهِ ، أَنَّ مَاءَهَا قَدْ فَسَدَ. وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ بِئْرِ بُضَاعَةَ مِنْ هَذَا شَيْءٌ، إِنَّمَا فِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُ يُلْقَى فِيهَا الْكِلَابُ وَالْمَحَائِضُ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» . وَنَحْنُ نَعْلَمُ أَنَّ بِئْرًا لَوْ سَقَطَ فِيهَا مَا هُوَ أَقَلُّ مِنْ ذَلِكَ لَكَانَ مُحَالًا أَنْ لَا يَتَغَيَّرَ رِيحُ مَائِهَا وَطَعْمُهُ ، هَذَا مِمَّا يُعْقَلُ وَيُعْلَمُ. فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ كَذَلِكَ، وَقَدْ أَبَاحَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَاءَهَا، وَأَجْمَعُوا أَنَّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ وَقَدْ دَاخَلَ الْمَاءَ التَّغْيِيرُ مِنْ جِهَةٍ مِنَ الْجِهَاتِ اللَّاتِي ذَكَرْنَا ; اسْتَحَالَ عِنْدَنَا، وَاللهُ أَعْلَمُ، أَنْ يَكُونَ سُؤَالُهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ مَائِهَا وَجَوَابُهُ إِيَّاهُمْ فِي ذَلِكَ بِمَا أَجَابَهُمْ ، كَانَ وَالنَّجَاسَةُ فِي الْبِئْرِ. ‌‌⦗ص: 13⦘ وَلَكِنَّهُ، وَاللهُ أَعْلَمُ، كَانَ بَعْدَ أَنْ أُخْرِجَتِ النَّجَاسَةُ مِنَ الْبِئْرِ، فَسَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ: هَلْ تَطْهُرُ بِإِخْرَاجِ النَّجَاسَةِ مِنْهَا فَلَا يَنْجُسُ مَاؤُهَا الَّذِي يَطْرَأُ عَلَيْهَا بَعْدَ ذَلِكَ؟ وَذَلِكَ مَوْضِعٌ مُشْكِلٌ لِأَنَّ حِيطَانَ الْبِئْرِ لَمْ تُغْسَلْ وَطِينُهَا لَمْ يُخْرَجْ، فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجُسُ» . يُرِيدُ بِذَلِكَ الْمَاءَ الَّذِي طَرَأَ عَلَيْهَا بَعْدَ إِخْرَاجِ النَّجَاسَةِ مِنْهَا لَا أَنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجُسُ إِذَا خَالَطَتْهُ النَّجَاسَةُ وَقَدْ رَأَيْنَاهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُؤْمِنُ لَا يَنْجُسُ»
৫ - আমাদের নিকট ফহদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আসবাহানী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারীক ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাখায়ী, তরীফ আল-বাসরী থেকে, তিনি আবু নাদরায়াহ থেকে, তিনি জাবির অথবা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা একটি পচা মৃতদেহযুক্ত জলাশয়ে পৌঁছালাম। আমরা বিরত থাকলাম এবং লোকেরাও বিরত থাকল, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। তিনি বললেন: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পানি পান করছ না? আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো পচা মৃতদেহ। তিনি বললেন: «তোমরা পানি সংগ্রহ করো, কেননা পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না। তখন আমরা পানি সংগ্রহ করলাম এবং তৃপ্ত হলাম»। অতঃপর একদল আলেম এই বর্ণনাগুলোর দিকে গিয়েছেন এবং বলেছেন: পানিতে কোনো কিছু পড়লে তা পানিকে অপবিত্র করে না, যতক্ষণ না তা পানির রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয়; যদি এর কোনো একটি ঘটে, তবে পানি অপবিত্র হয়ে যায়। অন্যেরা এই বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা বুযাআহ কূপ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছ, তাতে তোমাদের জন্য কোনো দলিল নেই; কারণ বুযাআহ কূপটি আসলে কেমন ছিল সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছেন: এটি বাগানে পানি যাওয়ার একটি পথ (নালা) ছিল, সেখানে পানি স্থির থাকত না; ফলে এর পানির বিধান ছিল প্রবাহমান নদীর পানির বিধানের মতো। আর আমরা এমন প্রতিটি স্থানের ক্ষেত্রে একই কথা বলি যা এই গুণের অধিকারী যে, তার পানিতে অপবিত্রতা পড়লে তা অপবিত্র হবে না যতক্ষণ না তার স্বাদ, রঙ অথবা ঘ্রাণের ওপর তা প্রবল হয়ে যায়, অথবা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে অপবিত্রতাটি সেখান থেকে সংগৃহীত পানির মধ্যেই বিদ্যমান। যদি তা জানা যায় তবে তা অপবিত্র হবে, আর যদি তা জানা না যায় তবে তা পবিত্র থাকবে।

 

৬ - বুযাআহ কূপ সম্পর্কে আমরা যে মতটি উল্লেখ করেছি তা আল-ওয়াকিদী থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আবু জাফর আহমদ ইবনে আবি ইমরান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজী থেকে, তিনি আল-ওয়াকিদী থেকে যে, সেটি তেমনই ছিল। এ বিষয়ে দলিলের অন্তর্ভুক্ত এটিও যে, তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যখন কোনো কূপে অপবিত্রতা পড়ে এবং তা পানির স্বাদ, ঘ্রাণ অথবা রঙের ওপর প্রবল হয়ে যায়, তখন সেই পানি নষ্ট (অপবিত্র) হয়ে যায়। অথচ বুযাআহ কূপের হাদিসে এর কিছুই নেই; বরং তাতে আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুযাআহ কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তাঁকে বলা হয়েছিল যে: তাতে কুকুর এবং ঋতুবতী মহিলাদের ব্যবহৃত ন্যাকড়া ফেলা হয়। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না»। আর আমরা জানি যে, কোনো কূপে যদি এর চেয়েও কম কিছু পড়ে তবে তার পানির ঘ্রাণ ও স্বাদ পরিবর্তিত না হওয়া অসম্ভব; এটি যুক্তিসঙ্গত ও সুবিদিত বিষয়। বিষয়টি যখন এমন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য তার পানি বৈধ করেছেন, এবং তাঁরা (উলামায়ে কেরাম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আমরা যেসব দিকের কথা উল্লেখ করেছি তার কোনো একটি দিক দিয়ে পানির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; তখন আমাদের নিকট এটি অসম্ভব মনে হয় — আর আল্লাহই ভালো জানেন — যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের পানির বিষয়ে প্রশ্ন করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাদের দেওয়া উত্তরটি কূপে অপবিত্রতা থাকা অবস্থায় ছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ কিন্তু — আল্লাহই ভালো জানেন — তা ছিল কূপ থেকে অপবিত্রতা বের করে দেওয়ার পর। তখন তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: সেখান থেকে অপবিত্রতা বের করে দেওয়ার মাধ্যমে কি তা পবিত্র হয়ে যাবে, ফলে পরবর্তীতে যে পানি সেখানে আসবে তা কি অপবিত্র হবে না? আর এটি একটি জটিল বিষয় ছিল, কারণ কূপের দেয়ালগুলো ধোয়া হয়নি এবং তার তলার মাটিও বের করা হয়নি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বললেন: «নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না»। এর মাধ্যমে তিনি সেই পানিকে বুঝিয়েছেন যা অপবিত্রতা বের করার পর সেখানে নতুন করে এসেছে; এটি বুঝাননি যে অপবিত্রতা মিশ্রিত থাকা অবস্থায়ও পানি অপবিত্র হয় না। আর আমরা তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে দেখেছি: «মু’মিন অপবিত্র হয় না»।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌7 - حَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حُمَيْدٍ، ح

 

‌‌8 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ: ثنا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَقِيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا جُنُبٌ، فَمَدَّ يَدَهُ إِلَيَّ فَقَبَضْتُ يَدِي عَنْهُ وَقُلْتُ: إِنِّي جُنُبٌ. فَقَالَ: «سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَنْجُسُ» . وَقَالَ عليه السلام فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ: «إِنَّ الْأَرْضَ لَا تَنْجُسُ»
‌‌৭ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি দাউদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-মুকাদ্দামি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি, তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেন—

 

‌‌৮ - এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে খুজাইমা, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি বকর থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম যখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তখন তিনি আমার দিকে তাঁর হাত প্রসারিত করলেন, কিন্তু আমি তাঁর নিকট থেকে আমার হাত গুটিয়ে নিলাম এবং বললাম: আমি অপবিত্র। তখন তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র হয় না»। এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) এই হাদীস ব্যতিরেকে অন্য হাদীসে বলেছেন: «নিশ্চয়ই জমিন অপবিত্র হয় না»।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌9 - حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو بَكْرَةَ بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ الْبَكْرَاوِيُّ ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَبُو عَقِيلٍ الدَّوْرَقِيُّ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ " أَنَّ وَفْدَ ثَقِيفٍ لَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ لَهُمْ قُبَّةً فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ ، قَوْمٌ أَنْجَاسٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهُ لَيْسَ عَلَى الْأَرْضِ مِنْ أَنْجَاسِ النَّاسِ شَيْءٌ ; إِنَّمَا أَنْجَاسُ النَّاسِ عَلَى أَنْفُسِهِمْ» . فَلَمْ يَكُنْ مَعْنَى قَوْلِهِ: «الْمُسْلِمُ لَا يَنْجُسُ» يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنَّ بَدَنَهُ لَا يَنْجُسُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ النَّجَاسَةُ ، إِنَّمَا أَرَادَ أَنَّهُ لَا يَنْجُسُ لِمَعْنًى غَيْرِ ذَلِكَ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ «الْأَرْضُ لَا تَنْجُسُ» لَيْسَ يَعْنِي بِذَلِكَ أَنَّهَا لَا تَنْجُسُ ، وَإِنْ أَصَابَتْهَا النَّجَاسَةُ. وَكَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ ، وَقَدْ أَمَرَ بِالْمَكَانِ الَّذِي بَالَ فِيهِ الْأَعْرَابِيُّ مِنَ الْمَسْجِدِ أَنْ يُصَبَّ عَلَيْهِ ذَنُوبٌ مِنْ مَاءٍ؟
9 - এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বাকরাহ বাক্কার ইবনে কুতাইবাহ আল-বাকরাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আকিল আদ-দাওরাকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন যে, সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাদের জন্য মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করলেন। তখন তারা (সাহাবীগণ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা তো অপবিত্র সম্প্রদায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই মানুষের অপবিত্রতা থেকে জমিনের ওপর কিছুই বর্তায় না; মানুষের অপবিত্রতা কেবল তাদের নিজেদের ওপরই (বর্তায়)»। সুতরাং তাঁর বাণী: «মুসলিম অপবিত্র হয় না»-এর অর্থ এটি নয় যে, তার দেহে নাপাকি লাগলেও তার শরীর অপবিত্র হবে না; বরং তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, সেটি ছাড়া অন্য কোনো অর্থে (অর্থাৎ সত্তাগতভাবে) সে অপবিত্র হয় না। তদ্রূপ তাঁর বাণী: «জমিন অপবিত্র হয় না»-এর অর্থ এটি নয় যে, তাতে নাপাকি লাগলেও তা অপবিত্র হবে না। আর তা কীভাবে হতে পারে, অথচ তিনি মসজিদের যে স্থানে জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি প্রস্রাব করেছিল, সেখানে এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন?
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌10 - حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو بَكْرَةَ قَالَ: ثنا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْيَمَامِيُّ قَالَ: ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: " بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم جُلُوسًا، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَامَ يَبُولُ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَهْ مَهْ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «دَعُوهُ» . فَتَرَكُوهُ حَتَّى بَالَ ، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ وَالْعَذِرَةِ ، إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ» . قَالَ عِكْرِمَةُ: أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَمَرَ رَجُلًا فَجَاءَهُ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَشَنَّهُ عَلَيْهِ.

 

‌‌11 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَذْكُرُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ قَوْلَهُ: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ» إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ. ‌‌⦗ص: 14⦘ وَرَوَى طَاوُسٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِمَكَانِهِ أَنْ يُحْفَرَ.

 

‌‌12 - حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو بَكْرَةَ بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ الْبَكْرَاوِيُّ ، قَالَ: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، بِذَلِكَ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ أَيْضًا
‌‌১০ - আমাদের নিকট আবু বাকরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর ইবনে ইউনুস আল-ইয়ামামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইকরিমাহ ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এলো এবং মসজিদে প্রস্রাব করতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বললেন: থামো! থামো! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও»। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না সে প্রস্রাব শেষ করল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই এই মসজিদগুলো এই প্রস্রাব এবং নাপাকির কোনো কিছুর জন্যই উপযুক্ত নয়, এগুলো তো কেবল আল্লাহর যিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য»।" ইকরিমাহ বলেন: অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। এরপর তিনি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সে এক বালতি পানি নিয়ে এলো এবং তার ওপর তা ঢেলে দিল।

 

‌‌১১ - আমাদের নিকট আলী ইবনে শাইবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে যে, তিনি আনাস ইবনে মালিককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন, তবে তিনি «নিশ্চয়ই এই মসজিদগুলো» থেকে হাদীসের শেষ পর্যন্ত অংশটি উল্লেখ করেননি। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আর তাউস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই স্থানটি খনন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

‌‌১২ - আমাদের নিকট আবু বাকরা বাক্কার ইবনে কুতাইবাহ আল-বাকরাবি তা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি তাউস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌13 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ سَمْعَانَ بْنِ مَالِكٍ الْأَسَدِيِّ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: «بَالَ أَعْرَابِيٌّ فِي الْمَسْجِدِ، فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصُبَّ عَلَيْهِ دَلْوٌ مِنْ مَاءٍ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَحُفِرَ مَكَانُهُ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَكَانَ مَعْنَى قَوْلِهِ «إِنَّ الْأَرْضَ لَا تَنْجُسُ» أَيْ أَنَّهَا لَا تَبْقَى نَجِسَةً إِذَا زَالَتِ النَّجَاسَةُ مِنْهَا، لَا أَنَّهُ يُرِيدُ أَنَّهَا غَيْرُ نَجِسَةٍ فِي حَالِ كَوْنِ النَّجَاسَةِ فِيهَا. فَكَذَلِكَ قَوْلُهُ فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» لَيْسَ هُوَ عَلَى حَالِ كَوْنِ النَّجَاسَةِ فِيهَا ; إِنَّمَا هُوَ عَلَى حَالِ عَدَمِ النَّجَاسَةِ فِيهَا. فَهَذَا وَجْهُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ «الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» ، وَاللهُ أَعْلَمُ، وَقَدْ رَأَيْنَاهُ بَيَّنَ ذَلِكَ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ
১৩ - আমাদের নিকট ফাহদ ইবনে সুলাইমান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হিম্মানী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ হাদীস বর্ণনা করেছেন সামআন ইবনে মালিক আল-আসাদী থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «একজন গ্রাম্য লোক মসজিদে প্রস্রাব করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সেই স্থানটি খনন করা হলো।» আবু জাফর (র.) বলেন: তাঁর বাণী «নিশ্চয়ই মাটি নাপাক হয় না»-এর অর্থ হলো— মাটি থেকে যখন নাপাকি দূরীভূত হয়, তখন তা আর নাপাক থাকে না। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে নাপাকি বিদ্যমান থাকা অবস্থায়ও মাটি নাপাক নয়। তদ্রূপ বি’রে বুদাআহ (বুদাআহ কূপ) সম্পর্কে তাঁর বাণী «পানিকে কোনো কিছু নাপাক করতে পারে না»-এর বিষয়টিও তদ্রূপ। এটি নাপাকি থাকা অবস্থার জন্য নয়; বরং এটি নাপাকি না থাকার অবস্থার জন্য। সুতরাং বি’রে বুদাআহ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী «পানিকে কোনো কিছু নাপাক করতে পারে না»-এর তাৎপর্য এটাই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর আমরা দেখেছি যে, তিনি এই হাদীস ছাড়াও অন্য হাদীসে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌14 - حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْأَنْصَارِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ بْنِ الصَّلْتِ الْبَغْدَادِيُّ قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَوْنٍ يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: «نُهِيَ ، أَوْ نَهَى أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ أَوِ الرَّاكِدِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأَ مِنْهُ، أَوْ يَغْتَسِلَ مِنْهُ»
১৪ - আমাদের নিকট সালিহ বিন আবদুর রহমান বিন আমর বিন আল-হারিস আল-আনসারী এবং আলী বিন শায়বা বিন আস-সালত আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আওনকে মুহাম্মদ বিন সীরীন থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «নিষেধ করা হয়েছে, অথবা তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন যেন কোনো ব্যক্তি বদ্ধ বা স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে ওজু করে অথবা তা থেকে গোসল করে।»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌15 - وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدِ بْنِ نُوحٍ الْبَغْدَادِيُّ ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ قَالَ: ثنا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ»
১৫ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে মাবাদ ইবনে নূহ আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে হাসসান, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সে তাতে গোসল করে।’»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌16 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى أَبُو مُوسَى الصَّدَفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ اللَّيْثِيُّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ، وَهُوَ رَجُلٌ مِنَ الْأَزْدِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ أَوْ يَشْرَبُ»
১৬ - ইউনুস ইবন আবদিল আ’লা আবু মুসা আস-সাদাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবন ইয়াদ আল-লায়সি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হারিস ইবন আবি জুবাব থেকে—যিনি আজদ গোত্রের একজন লোক—তিনি আতা ইবন মিনা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে অজু করে অথবা তা পান করে।"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌17 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْأَشَجِّ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا السَّائِبِ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» . فَقَالَ: كَيْفَ يَفْعَلُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ فَقَالَ: يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا "
১৭ - ইউনুস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে আমর ইবনুল হারিস জানিয়েছেন যে, বুকাইর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল আশাজ্জ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হিশাম ইবনে যুহরার মুক্তদাস আবু সাইব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরাইরাকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।" অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু হুরাইরা, সে তবে কী করবে? তিনি বললেন: "সে তা তুলে তুলে ব্যবহার করবে।"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌18 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، قَالَ: ثنا أَبِي، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ»

 

‌‌19 -. وَكَمَا حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرِ بْنِ المقراك الْبَغْدَادِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ رحمه الله ، وَحَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ. فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
‌‌১৮ - ইবনে আবি দাউদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আল-হাকাম বিন আবি মারয়াম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আবিয যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মূসা বিন আবি উসমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সে তা থেকে গোসল করে।»

 

‌‌১৯ -. এবং যেমনটি হুসাইন বিন নাসর বিন আল-মিকরাক আল-বাগদাদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরয়াবী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, এবং ফাহদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট আবুয যিনাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সনদে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌20 - حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ قَالَ: ثنا أَسَدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ لَهِيعَةَ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ»
20 - আমাদের নিকট আর-রাবী‘ ইবন সুলাইমান আল-মুআযযিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসাদ ইবন মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন লাহী‘আহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান আল-আ‘রাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবূ হুরায়রাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সে তা থেকে গোসল করে।»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌21 - حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْجِيزِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو زُرْعَةَ وَهْبُ اللهِ بْنُ رَاشِدٍ قَالَ: أنا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَجْلَانَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ وَلَا يَغْتَسِلْ فِيهِ»

 

‌‌22 -. حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُنْقِذٍ الْعُصْفُرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِدْرِيسُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهُ ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: «وَلَا يَغْتَسِلُ فِيهِ جُنُبٌ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রবী ইবনে সুলায়মান আল-জিজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যুরআ ওয়াহবুল্লাহ ইবনে রাশিদ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ, তিনি বলেন: আমি ইবনে আজলানকে আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে যেন গোসল না করে»।

 

২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুনকিয আল-উসফুরি, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইদ্রিস ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়াশ, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: «এবং কোনো অপবিত্র ব্যক্তি যেন তাতে গোসল না করে»।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌23 - وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَضْرَمِيُّ ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ قَالَ: ثنا أَبُو يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ ثُمَّ يُتَوَضَّأُ فِيهِ» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَلَمَّا خَصَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءَ الرَّاكِدَ الَّذِي لَا يَجْرِي دُونَ الْمَاءِ الْجَارِي ، عَلِمْنَا بِذَلِكَ أَنَّهُ إِنَّمَا فَصَّلَ ذَلِكَ، لِأَنَّ النَّجَاسَةَ تُدَاخِلُ الْمَاءَ الَّذِي لَا يَجْرِي ، وَلَا تُدَاخِلُ الْمَاءِ الْجَارِيَ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا فِي غُسْلِ الْإِنَاءِ مِنْ وُلُوغِ الْكَلْبِ مَا سَنَذْكُرُهُ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ كِتَابِنَا هَذَا إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى، فَذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى نَجَاسَةِ الْإِنَاءِ وَنَجَاسَةِ مَائِهِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ بِغَالِبٍ عَلَى رِيحِهِ، وَلَا عَلَى لَوْنِهِ ، وَلَا عَلَى طَعْمِهِ. فَتَصْحِيحُ مَعَانِي هَذِهِ الْآثَارِ يُوجِبُ فِيمَا ذَكَرْنَا مِنْ هَذَا الْبَابِ مِنْ مَعَانِي حَدِيثِ بِئْرِ بُضَاعَةَ مَا وَصَفْنَا لِتَتَّفِقَ مَعَانِي ذَلِكَ ، وَمَعَانِي هَذِهِ الْآثَارِ ، وَلَا تَتَضَادَّ. فَهَذَا حُكْمُ الْمَاءِ الَّذِي لَا يَجْرِي إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ النَّجَاسَةُ مِنْ طَرِيقِ تَصْحِيحِ مَعَانِي الْآثَارِ. غَيْرَ أَنَّ قَوْمًا وَقَّتُوا فِي ذَلِكَ شَيْئًا، فَقَالُوا: إِذَا كَانَ الْمَاءُ مِقْدَارَ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ خَبَثًا ، وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِمَا
23 - এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে সুলায়মান আল-হাদরামি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «তিনি বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে এবং পরবর্তীতে তাতে অজু করতে নিষেধ করেছেন»। আবু জাফর বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবাহিত পানির পরিবর্তে কেবল এমন বদ্ধ পানিকে নির্দিষ্ট করেছেন যা প্রবাহিত হয় না, তখন এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে তিনি একে কেবল এই কারণে পৃথক করেছেন যে, অপবিত্রতা এমন পানিতে মিশে যায় যা প্রবাহিত হয় না, কিন্তু প্রবাহিত পানির ক্ষেত্রে তা ঘটে না। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র ধৌত করার ব্যাপারেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা আমাদের এই কিতাবের অন্য স্থানে উল্লেখ করব; সুতরাং এটি পাত্রের অপবিত্রতা এবং তার পানির অপবিত্রতার প্রমাণ, যদিও তা পানির ঘ্রাণ, বর্ণ বা স্বাদের ওপর প্রবল হয় না (অর্থাৎ এগুলো পরিবর্তন করে না)। সুতরাং এই আসারগুলোর মর্মার্থের সঠিক বিশ্লেষণ আমাদের জন্য এই অধ্যায়ে বর্ণিত বি’রে বুদাআহ সংক্রান্ত হাদীসের মর্মার্থের ক্ষেত্রে আমরা যা বর্ণনা করেছি তাকেই আবশ্যক করে, যাতে সেই হাদীস এবং এই আসারগুলোর অর্থের মাঝে সংগতি বজায় থাকে এবং কোনো বৈপরীত্য না ঘটে। সুতরাং আসারগুলোর মর্মার্থের সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটিই হলো সেই পানির বিধান যা প্রবাহিত হয় না যখন তাতে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয়। তবে একদল লোক এই ক্ষেত্রে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন এবং তারা বলেছেন: যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না (নাপাক হয় না); এবং তারা এই বিষয়ে দলিল পেশ করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌24 - حَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ نَصْرِ بْنِ سَابِقٍ الْخَوْلَانِيُّ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ: ثنا أَبُو أُسَامَةَ حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الْمَاءِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ السِّبَاعِ ، فَقَالَ: «إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ؛ فَلَيْسَ يَحْمِلُ الْخَبَثَ»
২৪ - আমাদের নিকট বাহর ইবনে নাসর ইবনে সাবিক আল-খাওলানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামা বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে কাসির আল-মাখজুমি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পানি এবং তাতে হিংস্র পশুর সমাগম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: «যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না»।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌25 - وَكَمَا حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْحِيَاضِ الَّتِي بِالْبَادِيَةِ تُصِيبُ مِنْهَا السِّبَاعُ، فَقَالَ: «إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ خَبَثًا» .

 

‌‌26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَجَّاجِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، ثنا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ. ‌‌⦗ص: 16⦘

 

‌‌27 - وَكَمَا حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانِ بْنِ يَزِيدَ الْبَصْرِيُّ قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: أنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
২৫ - এবং যেমন আমাদের নিকট হুসাইন ইবন নাসর বর্ণনা করেছেন, আমি ইয়াজিদ ইবন হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন যুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে মরুভূমির ওই সকল জলাশয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যেখান থেকে হিংস্র পশুরা পানি পান করে। তখন তিনি বললেন: «যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না»।

 

২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন হাজ্জাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন মাবাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন জাফর থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘

 

২৭ - এবং যেমন আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবন সিনান ইবন ইয়াজিদ আল-বাসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন জাফর থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌28 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنَّ عَاصِمَ بْنَ الْمُنْذِرِ أَخْبَرَهُمْ قَالَ: كُنَّا فِي بُسْتَانٍ لَنَا أَوْ بُسْتَانٍ لِعُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ صَلَاةُ الظُّهْرِ ، فَقَامَ إِلَى بِئْرِ الْبُسْتَانِ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ، وَفِيهِ جِلْدُ بَعِيرٍ مَيِّتٍ، فَقُلْتُ: أَتَتَوَضَّأُ مِنْهُ وَهَذَا فِيهِ؟ فَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ: أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَنْجُسْ»

 

‌‌29 -. وَكَمَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ ، غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَرْفَعْهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَوْقَفَهُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ. فَقَالَ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ: إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ هَذَا الْمِقْدَارَ ، لَمْ يَضُرَّهُ مَا وَقَعَتْ فِيهِ مِنَ النَّجَاسَةِ ، إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ لَوْنِهِ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ هَذَا ، فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِأَهْلِ الْمَقَالَةِ الَّتِي صَحَّحْنَاهَا أَنَّ هَاتَيْنِ الْقُلَّتَيْنِ لَمْ يُبَيَّنْ لَنَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ مَا مِقْدَارُهُمَا. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مِقْدَارُهُمَا قُلَّتَيْنِ مِنْ قِلَالِ هَجَرَ كَمَا ذَكَرْتُمْ ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَا قُلَّتَيْنِ أُرِيدَ بِهَا قُلَّتَا الرَّجُلِ ، وَهِيَ قَامَتُهُ ، فَأُرِيدَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَيْ قَامَتَيْنِ، لَمْ يَحْمِلْ نَجَسًا لِكَثْرَتِهِ، وَلِأَنَّهُ يَكُونُ بِذَلِكَ فِي مَعْنَى الْأَنْهَارِ. فَإِنْ قُلْتُمْ: إِنَّ الْخَبَرَ عِنْدَنَا عَلَى ظَاهِرِهِ ، وَالْقِلَالُ هِيَ قِلَالُ الْحِجَازِ الْمَعْرُوفَةُ. قِيلَ لَكُمْ: فَإِنْ كَانَ الْخَبَرُ عَلَى ظَاهِرِهِ كَمَا ذَكَرْتُمْ ، فَإِنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْمَاءُ إِذَا بَلَغَ ذَلِكَ الْمِقْدَارَ لَا يَضُرُّهُ النَّجَاسَةُ ، وَإِنْ غَيَّرَتْ لَوْنَهُ أَوْ طَعْمَهُ أَوْ رِيحَهُ ، لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ ، فَالْحَدِيثُ عَلَى ظَاهِرِهِ.

 

‌‌30 - فَإِنْ قُلْتُمْ: فَإِنَّهُ وَإِنْ لَمْ يَذْكُرْ فِي هَذَا الْحَدِيثِ ، فَقَدْ ذَكَرَهُ فِي غَيْرِهِ ، فَذَكَرْتُمْ مَا
২৮ - ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আসিম ইবনুল মুনজির তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা আমাদের একটি বাগানে অথবা উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের একটি বাগানে ছিলাম। তখন জোহরের নামাজের সময় হলো, অতঃপর তিনি বাগানের একটি কূপের দিকে গেলেন এবং তা থেকে অজু করলেন। অথচ সেখানে একটি মৃত উটের চামড়া ছিল। আমি বললাম: আপনি কি তা থেকে অজু করছেন অথচ এতে এটি (মৃত পশুর চামড়া) রয়েছে? তখন উবায়দুল্লাহ বললেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন পানি দুই কুল্লা (মটকা) পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্র হয় না।"

 

২৯ - এবং যেমনটি আমাদের নিকট রাবী' আল-মুআজ্জিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তার বর্ণনাপরম্পরায় অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি, বরং ইবনে উমরের ওপর মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই একদল লোক বলেছেন: যখন পানি এই পরিমাণে পৌঁছে, তখন তাতে কোনো অপবিত্রতা পতিত হলে তা পানির কোনো ক্ষতি করে না, তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ অথবা রঙের ওপর প্রবল হয়ে যায় তা ব্যতীত। তারা এক্ষেত্রে ইবনে উমরের এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তাদের বিপক্ষে সেই মতের অনুসারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো—যা আমরা সঠিক হিসেবে গ্রহণ করেছি—যে, এই দুই কুল্লা দ্বারা কত পরিমাণ বুঝানো হয়েছে তা এই বর্ণনাগুলোতে আমাদের নিকট স্পষ্ট করা হয়নি। এটি সম্ভব হতে পারে যে, এর পরিমাণ হাজর অঞ্চলের মটকা সমূহের দুই মটকা, যেমনটি আপনারা উল্লেখ করেছেন। আবার এটিও সম্ভব হতে পারে যে, এর দ্বারা দুই 'কুল্লা' বলতে মানুষের উচ্চতা উদ্দেশ্য করা হয়েছে; অর্থাৎ যখন পানি দুই মানুষের উচ্চতা পরিমাণ হবে, তখন তার আধিক্যের কারণে তা অপবিত্রতা গ্রহণ করবে না এবং এর ফলে তা নদীর সমপর্যায়ভুক্ত হবে। এখন যদি আপনারা বলেন: আমাদের নিকট এই বর্ণনাটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল, আর কুল্লা বা মটকাগুলো হলো হিজাজের সুপরিচিত মটকা। তবে আপনাদের বলা হবে: যদি বর্ণনাটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই হয় যেমনটি আপনারা উল্লেখ করেছেন, তবে তো পানি যখন সেই পরিমাণে পৌঁছাবে তখন অপবিত্রতা তার কোনো ক্ষতি করার কথা নয়, যদিও তা তার রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই হাদিসে তা উল্লেখ করেননি, সুতরাং হাদিসটি তার বাহ্যিক অর্থেই বহাল থাকার কথা।

 

৩০ - এখন যদি আপনারা বলেন: যদিও তিনি এই হাদিসে তা উল্লেখ করেননি, তবে তিনি তা অন্য হাদিসে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর আপনারা যা উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَجَّاجِ قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ قَالَ: ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ ، إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى لَوْنِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ رِيحِهِ» . قِيلَ لَكُمْ: هَذَا مُنْقَطِعٌ ، وَأَنْتُمْ لَا تُثْبِتُونَ الْمُنْقَطِعَ وَلَا تَحْتَجُّونَ بِهِ، فَإِنْ كُنْتُمْ قَدْ جَعَلْتُمْ قَوْلَهُ فِي الْقُلَّتَيْنِ عَلَى خَاصٍّ مِنَ الْقِلَالِ، جَازَ لِغَيْرِكُمْ أَنْ يَجْعَلَ الْمَاءَ عَلَى خَاصٍّ مِنَ الْمِيَاهِ ، فَيَكُونُ ذَلِكَ عِنْدَهُ عَلَى مَا يُوَافِقُ مَعَانِيَ الْآثَارِ الْأُوَلِ وَلَا يُخَالِفُهَا. فَإِذَا كَانَتِ الْآثَارُ الْأُوَلُ الَّتِي قَدْ جَاءَتْ فِي الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ وَفِي نَجَاسَةِ الْمَاءِ الَّذِي فِي الْإِنَاءِ مِنْ وُلُوغِ الْهِرِّ فِيهِ عَامًّا ، لَمْ يَذْكُرْ مِقْدَارَهُ ، وَجَعَلَ عَلَى كُلِّ مَاءٍ لَا يَجْرِي؛ ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ مَا فِي حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ هُوَ عَلَى الْمَاءِ الَّذِي يَجْرِي وَلَا يُنْظَرُ فِي ذَلِكَ إِلَى مِقْدَارِ الْمَاءِ كَمَا لَمْ يُنْظَرْ فِي شَيْءٍ مِمَّا ذَكَرْنَا إِلَى مِقْدَارِهِ ، حَتَّى لَا يَتَضَادَّ شَيْءٌ مِنَ الْآثَارِ الْمَرْوِيَّةِ فِي هَذَا الْبَابِ. وَهَذَا الْمَعْنَى الَّذِي صَحَّحْنَا عَلَيْهِ مَعَانِيَ هَذِهِ الْآثَارِ ، هُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ ، وَأَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ رحمهم الله، وَقَدْ رُوِيَ فِي ذَلِكَ عَمَّنْ تَقَدَّمَهُمْ مَا يُوَافِقُ مَذْهَبَهُمْ.
মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহওয়াস ইবনে হাকীম থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না, তবে যা এর রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণকে অভিভূত করে ফেলে (পরিবর্তন করে দেয়) তা ব্যতীত।» তোমাদের বলা হতে পারে যে, এটি বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট বর্ণনা, আর তোমরা তো বিচ্ছিন্ন সূত্রের বর্ণনাকে সাব্যস্ত করো না এবং এর দ্বারা দলিলও পেশ করো না। সুতরাং তোমরা যদি দুই কুল্লা (পাত্র) সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্যকে বিশেষ কোনো পাত্রের ওপর প্রয়োগ করে থাকো, তবে অন্যদের জন্যও বৈধ হবে পানিকে বিশেষ কোনো পানির ওপর প্রয়োগ করা। ফলে তাদের নিকট এটি পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সেগুলোর পরিপন্থী হবে না। সুতরাং পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলো—যা আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা এবং বিড়াল মুখ দেওয়ার কারণে পাত্রের পানি অপবিত্র হওয়া সম্পর্কে এসেছে—যদি তা সাধারণ ও ব্যাপক হয়, যাতে পানির পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং তা এমন সকল পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে যা প্রবাহিত হয় না; তবে এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দুই কুল্লা সম্পর্কিত হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা সেই পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা প্রবাহিত হয় এবং সেখানে পানির পরিমাণের দিকে লক্ষ্য করা হবে না, ঠিক যেমন আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তাতেও পরিমাণের দিকে লক্ষ্য করা হয়নি। যাতে করে এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য না ঘটে। আর এই যে অর্থটি যার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই বর্ণনাগুলোর মর্ম সঠিক প্রতিপন্ন করেছি, তা হলো ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অভিমত। আর তাঁদের পূর্বসূরীদের মধ্য থেকেও এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা তাঁদের মাযহাবের (অভিমতের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌31 - فَمِمَّا رُوِيَ فِي ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ قَالَ: ثنا مَنْصُورٌ، عَنْ عَطَاءٍ أَنَّ حَبَشِيًّا وَقَعَ فِي زَمْزَمَ فَمَاتَ، فَأَمَرَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فَنُزِحَ مَاؤُهَا فَجَعَلَ الْمَاءَ لَا يَنْقَطِعُ ، فَنَظَرَ فَإِذَا عَيْنٌ تَجْرِي مِنْ قِبَلِ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ، فَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ: حَسْبُكُمْ "
31 - এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যা আমাদের নিকট সালেহ ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক হাবশি ব্যক্তি জমজম কূপে পড়ে মারা যান। ফলে ইবনুল জুবায়ের নির্দেশ দিলে এর পানি সেচে ফেলা হয়, কিন্তু দেখা গেল পানি আসা বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে, হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে একটি ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে। তখন ইবনুল জুবায়ের বললেন: "তোমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌32 - وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا الْفِرْيَابِيُّ، ثنا سُفْيَانُ ، أَخْبَرَنِي جَابِرٌ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ: «وَقَعَ غُلَامٌ فِي زَمْزَمَ فَنُزِفَتْ» أَيْ نُزِحَ مَاؤُهَا
৩২ - এবং হুসাইন ইবনে নাসর আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন: আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু তুফাইল থেকে, তিনি বলেন: "একটি বালক যমযম কূপে পড়ে গিয়েছিল, ফলে তা সেচে খালি করা হয়েছিল", অর্থাৎ এর পানি বের করে ফেলা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌33 - وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ مَيْسَرَةَ أَنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه قَالَ فِي بِئْرٍ وَقَعَتْ فِيهَا فَأْرَةٌ فَمَاتَتْ، قَالَ: «يُنْزَحُ مَاؤُهَا»
৩৩ - মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমা আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি মাইসারা থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমন একটি কূপ সম্পর্কে বলেছেন যাতে একটি ইঁদুর পড়ে মারা গিয়েছিল; তিনি বলেছেন: «এর পানি সেঁচে বের করে ফেলতে হবে»
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - ত মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌34 - وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ هِشَامٍ الرُّعَيْنِيُّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَطَاءٍ عَنْ مَيْسَرَةَ وَزَاذَانَ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: «إِذَا سَقَطَتِ الْفَأْرَةُ أَوِ الدَّابَّةُ فِي الْبِئْرِ، فَانْزَحْهَا حَتَّى يَغْلِبَكَ الْمَاءُ»
৩৪ - এবং যা আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ ইবনে হিশাম আর-রুআইনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে আ’ইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা থেকে, তিনি মাইসারা ও যাদান থেকে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি কোনো ইঁদুর বা কোনো জন্তু কূয়ায় পড়ে যায়, তবে তা (পানি) সেঁচে ফেলো যতক্ষণ না পানি তোমার ওপর প্রবল হয়।"