(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأنوار النعمانية في الدعوة الربانية القسم: كتب عامة
الكتاب: الأنوار النعمانية في الدعوة الربانية
المؤلف: محمد علي محمد إمام
الناشر: مطبعة السلام - ميت غمر
الطبعة: الأولي، 2011 م
عدد الصفحات: 299
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433
আদ-দাওয়াতুর রাব্বানিয়্যাহ-তে আল-আনওয়ারুন নু'মানিয়্যাহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: আদ-দাওয়াতুর রাব্বানিয়্যাহ-তে আল-আনওয়ারুন নু'মানিয়্যাহ
লেখক: মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম
প্রকাশক: আস-সালাম প্রেস - মিত গমর
সংস্করণ: প্রথম, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الأنوار النعمانية
في
الدعوة الربانية
للشيخ الدكتور/ نعمان أبو الليل
أستاذ التفسير وعلوم القرآن
ومن علماء التبليغ بالأردن
إعداد
محمد على محمد إمام
الجزء الأول
আল-আনোয়ার আল-নুমানিয়াহ
প্রসঙ্গে
আদ-দাওয়াতুর রাব্বানিয়াহ (আল্লাহর পথে আহ্বান)
শায়খ ডক্টর নুমান আবু আল-লায়ল-এর
তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞানের অধ্যাপক
এবং জর্ডানের তাবলিগ উলামাগণের অন্যতম
গ্রন্থনায়
মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
دار الكتب والوثائق القومية
بطاقة فهرسة
فهرسة أثناء النشر إعداد الهيئة العامة لدار الكتب المصرية
إدارة الشئون الفنية
إمام / محمد على محمد
الأنوار النعمانية في الدعوة الربانية
إعداد / محمد على محمد إمام
… ميت غمر
الطبعة الأولي 2011
عدد الصفحات (300 صفحة)
المقاس (18 × 21 سم)
رقم الإيداع: (13336)
تاريخ الإيداع: 12/ 7 / 2011
الترقيم الدولي: I.S.B.N. 978 - 977 - 716 - 166 - 4
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস
ক্যাটালগ কার্ড
প্রকাশনা কালীন ক্যাটালগিং, মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস এর সাধারণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত
কারিগরি বিষয়ক বিভাগ
ইমাম / মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ
আল-আনোয়ার আল-নুমানিয়া ফি আদ-দাওয়াহ আর-রাব্বানিয়া
প্রস্তুতি / মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম
… মিত গামর
প্রথম সংস্করণ ২০১১
পৃষ্ঠা সংখ্যা (৩০০ পৃষ্ঠা)
আকার (১৮ × ২১ সেমি)
জমাদান নম্বর: (১৩৩৩৬)
জমাদানের তারিখ: ১২/ ৭ / ২০১১
আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা: I.S.B.N. 978 - 977 - 716 - 166 - 4
সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةالحمد لله الذي لا ينبغي الحمدُ إلا له، وأسأله سبحانه وتعالي أن يُصلي ويسلم علي سيدنا محمد وآله وبعد:
إخواني وأحبابي في الله! يُسعدني اليوم أن أقدم لكل الدعاة عامة، ولأهل التبليغ والدعوة خاصة الجزء الأول من الأنوار النعمانية في الدعوة الربانية للشيخ الدكتور نعمان أبو الليل والتي تشبه كلام الحكماء، فما وجدنا مثل هذه الكلمات في كتب التفسير ولا غيرها، ولا نحسبه إلا وقد صدق فيه قول الرسول في الحديث الذي رواه الإمام البيهقي في شعب الإيمان، عن أبي ذر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ما زهد عبد في الدنيا إلا أنبت الله الحكمة في قلبه، وأنطق بها لسانه، وبصره عيب الدنيا، وداءها ودواءها، وأخرجه منها سالما إلي دار السلام ".
ولا أراني وأنا أسطر هذه الكلمات إلا وأنني أمام حبر من أحبار الأمة لا أستطيع أن أوفيه حقه، أسأل الله أن يوفيه حقه يوم القيامة.
وقد حصل علي الدكتوراه في تفسير القرآن، وقام بالتدريس في العديد من الجامعات الإسلامية، في المملكة العربية السعودية، وباكستان، وكلية الشريعة بقطر.
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ব্যতীত অন্য কেউ প্রশংসার যোগ্য নন। আমি মহান পবিত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষণ করেন। অতঃপর:
আল্লাহর পথে আমার প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে সকল দাঈদের জন্য সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতকারীদের জন্য শায়খ ডক্টর নুমান আবু আল-লাইল রচিত ‘আল-আনওয়ারুন নুমানিয়্যাহ ফি আদ-দাওয়াহ আর-রব্বانিয়্যাহ’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডটি পেশ করছি। এর কথাগুলো প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের বাণীর সদৃশ। আমরা তাফসিরের গ্রন্থসমূহে কিংবা অন্য কোথাও এই ধরণের বাক্য খুঁজে পাইনি। আমরা তাঁর ব্যাপারে এই ধারণা পোষণ করি যে, ইমাম বাইহাকি তাঁর ‘শুআবুল ইমান’ গ্রন্থে আবু যার (রা.) থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সেই হাদিসটির সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে। আবু যার (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “কোনো বান্দা যখন দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা তার হৃদয়ে হিকমত (প্রজ্ঞা) উৎপন্ন করে দেন, তার জিহ্বা দিয়ে তা প্রকাশ করান, তাকে দুনিয়ার দোষ-ত্রুটি এবং এর রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করেন এবং তাকে দুনিয়া থেকে সহি-সালামতে শান্তির আলয়ে (জান্নাতে) পৌঁছে দেন।”
আমি যখন এই কথাগুলো লিপিবদ্ধ করছি, তখন নিজেকে উম্মতের এমন একজন বিজ্ঞ আলিমের সামনে দেখতে পাচ্ছি, যার প্রাপ্য হক আদায় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন কিয়ামতের ময়দানে তাঁকে এর পূর্ণ প্রতিদান দান করেন।
তিনি কুরআন তাফসিরের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের শরিয়াহ ফ্যাকাল্টিসহ অসংখ্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وكنت أسكن بمدينة إربد الأردنية عدة سنوات، منذُ عام 1984: إلي نهاية عام 1987 م، وكنت أذهب يوم الخميس إلي المسجد الغربي بمدينة إربد لحضور الاجتماع الأسبوعي، فكثيرا ما كان الدكتور/ نعمان، يبين ويوضح عمل الدعوة إلي الله سبحانه وتعالى، فكنت عندما أسمعه أتذكر قول أمير المؤمنين عمر بن الخطاب عندما يسأل سيدنا علي رضي الله عنه في مسألة فيقول له: غص يا غواص 00 وكنتُ أكتب وراءه كل كلمة يقولها، وكذلك حضرت له بعض اللقاءات بمسجد مدينة الحجاج بعمان 00 وجمعت بعض كلامه الذي ألقاه في اجتماعات التبليغ بباكستان، وبنجلاديش، وقمت بمزج كلامه القديم بالحديث، وحذفت الكلام المتكرر، مع مراعاة عدم اختلال النص.
ومما دفعني لتسجيل كلام هذا العالم الجليل، خشية أن يضيع كلام علماء المدرسة التبليغية، كما ضاع كلام كثير من علماء الأمة، فقد ذكر الإمام الذهبي في كتابه الممتع سير أعلام النبلاء، في ترجمة الإمام الليث بن سعد، عن أحمد بن عبد الرحمن بن وهب: سمعت الشافعي يقول: الليث أفقه من مالك إلا أن أصحابه لم يقوموا به.
وقال الإمام المنذري رحمه الله: وناسخ العلم النافع: له أجره وأجر من قرأه أو كتبه أو عمل به ما بقي خطه، وناسخ ما فيه إثم: عليه وزره ووزر ما عمل به ما بقي خطه.
فعسي الله عز وجل أن ينفعنا بكل كلمة نكتبها في هذا الكتاب ، وأن ينفع بها كل من يقرأها إلي يوم القيامة 00 وأن يرزقنا جهد حبيبه، علي منهاج حبيبه، حسب مرضاته، آمين.
أخوكم في الله
محمد علي محمد إمام
আমি জর্ডানের ইরবিদ শহরে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৭ সালের শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর বসবাস করেছি। প্রতি বৃহস্পতিবার আমি ইরবিদ শহরের পশ্চিম মসজিদে সাপ্তাহিক মজলিসে যোগ দিতে যেতাম। সেখানে ড. নুমান প্রায়শই আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করতেন। তাকে শুনতে শুনতে আমার আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব-এর সেই উক্তির কথা মনে পড়ে যেত, যা তিনি কোনো বিষয়ে সাইয়্যিদিনা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করার সময় বলতেন: "হে ডুবুরি! তুমি ডুব দাও।" আমি তার প্রতিটি কথা লিখে রাখতাম। একইভাবে আমি আম্মানের মাদিনাতুল হুজ্জাজ মসজিদে তার কিছু মজলিসে উপস্থিত হয়েছি। আমি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে তাবলিগি ইজতেমায় দেওয়া তার কিছু বক্তব্য সংগ্রহ করেছি এবং তার পুরনো বক্তব্যের সঙ্গে নতুন বক্তব্যের সমন্বয় করেছি। আমি মূল পাঠের ভারসাম্য বজায় রেখে পুনরাবৃত্তিমূলক কথাগুলো বাদ দিয়েছি।
এই মহান আলেমের কথাগুলো লিপিবদ্ধ করতে যা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো তাবলিগি ঘরানার আলেমদের কথা হারিয়ে যাওয়ার ভয়, যেমন উম্মাহর অনেক আলেমদের কথা হারিয়ে গিয়েছে। ইমাম যাহাবি তার চমৎকার গ্রন্থ সিয়ারু আ’লামিন নুবালা-তে ইমাম লাইস ইবনে সাদ-এর জীবনচরিত (ترجمة) অধ্যায়ে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি ইমাম শাফেয়িকে বলতে শুনেছি: "লাইস ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকিহ (فقيه) ছিলেন, কিন্তু তার শাগরেদরা তাকে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।"
ইমাম মুনযিরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "উপকারী ইলম নকলকারী: তার জন্য রয়েছে নিজস্ব সওয়াব এবং যারা তা পাঠ করবে, লিখবে বা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াব, যতদিন তার হাতের লেখা অবশিষ্ট থাকবে। আর পাপপূর্ণ বিষয় অনুলিপিকারক: তার ওপর রয়েছে নিজস্ব গুনাহ এবং সে অনুযায়ী আমলকারীর গুনাহ, যতদিন তার হাতের লেখা অবশিষ্ট থাকবে।"
আশা করি আল্লাহ তায়ালা এই বইয়ে লিখিত প্রতিটি শব্দের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করবেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারাই এটি পড়বে তাদের উপকৃত করবেন। তিনি যেন আমাদের তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী তাঁর প্রিয়তমের পদ্ধতিতে তাঁর প্রিয়তমের মেহনত করার তাওফিক দান করেন। আমিন।
আল্লাহর পথে আপনাদের ভাই
মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقارنةبين الدعوة والقتالفرض الله الجهاد بالنفس والمال:
قال الله تعالي: {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (1).َ
وقال الله تعالي: {وجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ} (2).
وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم " رواه أبو داود والنسائي والدارمى (3).
يقول الإمام العز بن عبد السلام رحمه الله: يشرُفُ البذلُ بشَرَفِ المبذول، وأفضل ما بذله الإنسانُ نفسه وماله. ولما كانت الأنفس والأموال مبذولةً في الجهاد، جعلَ اللهُ مَن بذَلَ نفسه في أعلى رتب الطائعين وأشرفها؛ لشَرَفِ ما بذله
--------------------------------------------
দাওয়াহও কিতালের (যুদ্ধ) মধ্যে তুলনাআল্লাহ তাআলা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করা ফরজ করেছেন:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়ো হালকা কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো; এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।} (১)।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাত (আদর্শ)। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম' এবং এই কিতাবেও (কুরআন); যাতে রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানবজাতির জন্য। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী তিনি।} (২)।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, জান ও জিহ্বা দ্বারা জিহাদ করো।" এটি আবু দাউদ, নাসাঈ এবং দারেমি বর্ণনা করেছেন (৩)।
ইমাম ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম (রহ.) বলেন: উৎসর্গের মর্যাদা নির্ভর করে উৎসর্গকৃত বস্তুর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর; আর মানুষের উৎসর্গ করা বস্তুগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তার প্রাণ ও সম্পদ। যেহেতু জিহাদে জান ও মাল উৎসর্গ করা হয়, তাই আল্লাহ তাআলা নিজের জান উৎসর্গকারীকে আনুগত্যশীলদের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তরে আসীন করেছেন; কারণ তিনি যা উৎসর্গ করেছেন তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مع محو الكفر ومحق أهله، وإعزاز الدين وصَون الدماء المسلمين (1).
مراحل تشريع القتال:
كان النبي صلى الله عليه وسلم مأموراً طيلة الحياة المكية، بالعفو والصفح، وكف اليد عن المشركين، كما قال تعالى: {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (2)، وقال تعالي: {ُقل لِّلَّذِينَ آمَنُوا يَغْفِرُوا لِلَّذِينَ لا يَرْجُون أَيَّامَ اللَّهِ لِيَجْزِيَ قَوْمًا بِما كَانُوا يَكْسِبُونَ} (3)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما: أن عبد الرحمن بن عوف وأصحاباً له أتوا النبي صلى الله عليه وسلم بمكة فقالوا: يا رسول الله إنا كنا في عز ونحن مشركون، فلما آمنا صرنا أذلة فقال: إني أمرت بالعفو فلا تقاتلوا
… ) (4).
ثم أذن الله للمسلمين في الجهاد دون أن يفرضه عليهم، قال تعالي: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقاتَلُون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير} (5) وهي أول آية نزلت في القتال كما قال ابن عباس رضي الله عنهما (6).
ثم فرض الله عليهم قتال من قاتلهم دون من لم يقاتلهم، وذلك في المرحلة التي قال الله فيها: {إِلَاّ الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىَ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَاقٌ أَوْ جَآؤُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَاتِلُونَكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ وَلَوْ شَاء اللهُ
--------------------------------------------
কুফর নির্মূল ও কুফুরির অনুসারীদের বিনাশের সাথে সাথে দ্বীনের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং মুসলমানদের রক্ত সংরক্ষণের মাধ্যমে (১)।
যুদ্ধ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর্যায়সমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো মক্কী জীবনে ক্ষমা, উপেক্ষা এবং মুশরিকদের থেকে হাত গুটিয়ে রাখার (যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার) জন্য আদিষ্ট ছিলেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান} (২)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে যারা আল্লাহর দিনগুলোর (পুরস্কার বা শাস্তির) আশা রাখে না, যাতে তিনি এক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন} (৩)।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং তাঁর কতিপয় সঙ্গী মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা যখন মুশরিক ছিলাম তখন আমরা শক্তিশালী ও মর্যাদাবান ছিলাম, কিন্তু যখন আমরা ঈমান আনলাম তখন আমরা হীন ও লাঞ্ছিত হয়ে গেলাম। তখন তিনি বললেন: আমাকে ক্ষমার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তোমরা যুদ্ধ করো না... (৪)।
অতঃপর আল্লাহ মুসলমানদের জিহাদের অনুমতি প্রদান করেন, তবে তা তাদের ওপর ফরয বা অপরিহার্য করেননি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা অত্যাচারিত হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম} (৫)। আর এটিই যুদ্ধের বিষয়ে অবতীর্ণ হওয়া প্রথম আয়াত, যেমনটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন (৬)।
এরপর আল্লাহ তাদের ওপর কেবল তাদের সাথেই যুদ্ধ করা ফরয করেন যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আর যারা যুদ্ধ করে না তাদের জন্য নয়। এটি সেই পর্যায়ের বিষয় যে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে তাদের ব্যতীত যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে, অথবা যারা তোমাদের নিকট এমন অবস্থায় আসে যে তাদের অন্তর তোমাদের বিরুদ্ধে বা তাদের নিজেদের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সংকুচিত হয়। আর আল্লাহ যদি চাইতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْاْ إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلاً * سَتَجِدُونَ آخَرِينَ يُرِيدُونَ أَن يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوَاْ إِلَى الْفِتْنِةِ أُرْكِسُوا فِيِهَا فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّوَاْ أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثِقِفْتُمُوهُمْ وَأُوْلَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا} (1).
وكانت خاتمة المراحل مرحلة قتال المشركين كافة: من قاتَلَنا منهم، ومن كف عنا، وغزوهم في بلادهم حتى لا تكون فتنة ويكون الدين كله لله، وهذه المرحلة هي التي استقر عندها حكم الجهاد، ومات عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي هذه المرحلة نزلت آية السيف وهي قوله تعالى: {فَإِذَا انسَلَخَ الأشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصّلَاةَ وَآتَوُاْ الزّكَاةَ فَخَلّوا سَبِيلَهُمْ إِنّ اللهَ غَفُورٌ رّحِيمٌ} (2).وقال تعالي: {َقاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} (3)
وعن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أمر أميراً على جيش أو سرية أوصاه في خاصته بتقوى الله ومن معه من المسلمين خيراً ثم
--------------------------------------------
...তবে তিনি অবশ্যই তাদেরকে তোমাদের ওপর শক্তি দান করতেন, ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। সুতরাং তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক থাকে, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব পেশ করে, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে (অভিযানের) কোনো পথ রাখেননি। তোমরা শীঘ্রই অন্য একদল লোক পাবে যারা তোমাদের কাছেও নিরাপদ থাকতে চায় এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছেও নিরাপদ থাকতে চায়। যখনই তাদেরকে ফিতনার দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়, তারা তাতে নিপতিত হয়। অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক না হয়, তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব না দেয় এবং তাদের হস্ত সংবরণ না করে, তবে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও পাকড়াও কর এবং হত্যা কর। আর এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করেছি} (১)।
পর্যায়ক্রমিক ধাপসমূহের শেষ ধাপটি ছিল সকল মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর্যায়: যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং যারা আমাদের থেকে বিরত ছিল—উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত; এবং তাদের ভূখণ্ডে আক্রমণ পরিচালনা করা, যাতে কোনো ফিতনা অবশিষ্ট না থাকে এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। এটিই সেই পর্যায় যেখানে জিহাদের বিধান স্থির হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অবস্থার উপরেই ইন্তেকাল করেছেন। এই পর্যায়েই তলোয়ারের আয়াত নাযিল হয়, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা কর, তাদের বন্দী কর, তাদের অবরুদ্ধ কর এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওত পেতে থাক। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা যুদ্ধ কর আহলে কিতাবদের ঐসব লোকদের সাথে যারা আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; যতক্ষণ না তারা বশীভূত হয়ে স্বহস্তে জিযিয়া প্রদান করে} (৩)
সুলাইমান ইবন বুরাইদাহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বড় বাহিনী বা ছোট অভিযানের জন্য কোনো সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে আল্লাহভীতির এবং তার সাথে থাকা মুসলিমদের সাথে কল্যাণকর আচরণের উপদেশ দিতেন। তারপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال: (اغزوا باسم الله في سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله، اغزوا ولا تغلُّوا، ولا تغدروا، ولا تمثلوا، ولا تقتلوا وليداً .. (1) رواه مسلم (2).
وقد لخص الإمام ابن القيم رحمه الله تلك المراحل في قوله: وكان محرماً، ثم مأذوناً به، ثم مأموراً به لمن بدأهم بالقتال، ثم مأموراً به لجميع المشركين .... (3).
ويقول الشيخ محمد عمر البالمبورى رحمه الله:
معني الجهاد إعلاء كلمة الله عز وجل .. أما القتال فهو آخر مرحلة فى الجهاد مثل العملية الجراحية، أو مثل الحشائش الضارة في الأرض والفلاح يقوم بتقطيعها حتى لا تؤثر في الزرع، ولو كان الجهاد هو القتال فما تفسير الآية المكية التي في سورة الفرقان حيث يقول الله عز وجل {فَلا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَاداً كَبِيراً} (4) فهل كان فى مكة رفع سيف؟!
… ولكن الدين رحمة للناس نجتهد عليهم بجهد الدعوة إلى الله عز وجل ليسلموا ثم يدخلوا الجنة (5).
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: (আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো, যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। যুদ্ধ করো কিন্তু আত্মসাৎ করো না, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না, মৃতদেহ বিকৃত করো না এবং কোনো নবজাতককে হত্যা করো না... (১)। এটি মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন (২)।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) সেই পর্যায়গুলোকে তাঁর এই বক্তব্যে সংক্ষেপ করেছেন: এটি প্রথমে নিষিদ্ধ ছিল, এরপর এর অনুমতি দেওয়া হয়, এরপর যারা প্রথমে আক্রমণ শুরু করেছিল তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়, অতঃপর সকল মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ প্রদান করা হয়... (৩)।
শায়খ মুহাম্মাদ উমর পালনপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
জিহাদের অর্থ হলো মহান আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা... আর কিতাল (লড়াই) হলো জিহাদের সর্বশেষ পর্যায় যা অনেকটা অস্ত্রোপচারের মতো, অথবা জমিনের ক্ষতিকর আগাছার মতো যা কৃষক কেটে ফেলে যাতে তা ফসলের ওপর প্রভাব না ফেলে। যদি জিহাদ মানেই লড়াই হতো, তবে সূরা আল-ফুরকানের সেই মক্কী আয়াতের ব্যাখ্যা কী হবে যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন— {সুতরাং আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং আপনি এর (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে এক বড় জিহাদ চালিয়ে যান} (৪)? মক্কায় কি তলোয়ার ধরা হয়েছিল?!
… বরং দ্বীন হলো মানুষের জন্য রহমত; আমরা দাওয়াতের মেহনতের মাধ্যমে তাদের ওপর প্রচেষ্টা চালাই যেন তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقارنة بين الدعوة والقتال:
أولا: القتال بدون دعوة مثل الصلاة بدون وضوء:
فعن ابن عباس (رضي الله عنه): ما قاتل رسول الله صلى الله عليه وسلم قوما حتى دعاهم (1).
ثانيا: شروط القتال في الإسلام ضد الكفار:
1) النية: أن تكون كلمة الله سبحانه وتعالى هي العليا:
فعَنْ أبي موسى عبد اللَّه بن قيس الأشعري رضي الله عنه، قال: ُسئل رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حمية، ويقاتل رياء، أي ذلك في سبيل؟ فقال رَسُول الله: الله صلى الله عليه وسلم: " من قاتل لتكون كلمة اللَّه هي العليا فهو في سبيل اللَّه (2) " مُتَّفّقٌ عَلَيْهِ (3).
--------------------------------------------
দাওয়াহ ও যুদ্ধের মধ্যে তুলনা:
প্রথমত: দাওয়াহ ব্যতীত যুদ্ধ ওজু ব্যতীত সালাতের ন্যায়:
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো জাতির সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করেননি যতক্ষণ না তাদের দাওয়াহ দিয়েছেন (১)।
দ্বিতীয়ত: কাফিরদের বিরুদ্ধে ইসলামে যুদ্ধের শর্তাবলি:
১) নিয়ত: যেন মহান আল্লাহর বাণীই হয় সুউচ্চ:
আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ গোত্রীয় মর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে, আবার কেউ লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে (২)।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
2) تحقيق الإسلام في حياة المسلمين:
ولذا كان الصحابة صدق الله العظيم يخرجون للناس، ويقولون لهم كونوا مثلنا.
3) عدم وجوه شبه إسلام في الكفار:
قال تعالى: {هُمُ الّذِينَ كَفَرُوا وَصَدّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ
مَعْكُوفاً أَن يَبْلُغَ مَحِلّهُ وَلَوْلَا رِجَالٌ مّؤْمِنُونَ وَنِسَآءٌ مّؤْمِنَاتٌ لّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَئُوهُمْ فَتُصِيبَكمْ مّنْهُمْ مّعَرّةٌ بِغَيْرِ عِلْمٍ لّيُدْخِلَ اللهُ فِي رَحْمَتِهِ مَن يَشَآءُ لَوْ تَزَيّلُوا لَعَذّبْنَا الّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَاباً أَلِيم} (1).
فمنع الله سبحانه وتعالى الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة رضي الله عنهم من دخول مكة بالقوة، لوجود مؤمنين ومؤمنات وسط الكفار، أسلموا سرا.
4) استنفاذ كل طرق الدعوة:
كما في قصة نوح قال تعالى: {قَالَ رَبّ إِنّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلاً وَنَهَاراً * فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِيَ إِلاّ فِرَاراً *وَإِنّي كُلّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوَاْ أَصَابِعَهُمْ فِيَ آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْاْ ثِيَابَهُمْ وَأَصَرّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَاراً*ثُمّ إِنّي دَعَوْتُهُمْ
--------------------------------------------
২) মুসলিমদের জীবনে ইসলামের বাস্তবায়ন:
আর এজন্যই সাহাবীগণ (মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন) মানুষের নিকট বের হতেন এবং তাদের বলতেন: তোমরা আমাদের মতো হও।
৩) কাফিরদের মধ্যে ইসলামের সাদৃশ্যের অনুপস্থিতি:
মহান আল্লাহ বলেন: {তারাই তারা যারা কুফরি করেছে এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছে এবং কুরবানির পশুকে
উৎসর্গস্থলে পৌঁছাতে বাধা প্রদান করেছে। যদি এমন কিছু মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী না থাকত যাদের তোমরা চিনতে না, ফলে তাদের তোমরা পিষ্ট করে ফেলতে এবং তোমাদের অজ্ঞাতসারে তাদের পক্ষ হতে তোমরা গুনাহের ভাগী হতে (তবে আল্লাহ যুদ্ধের অনুমতি দিতেন); যাতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ রহমতে প্রবেশ করান। যদি তারা পৃথক হয়ে থাকত তবে আমি তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতাম} (১)।
ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মক্কায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ কাফিরদের মাঝে এমন কিছু মুমিন নর-নারী অবস্থান করছিলেন যারা গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
৪) দাওয়াতের সকল উপায় অবলম্বন করা:
যেমনটি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন: {সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবা-রাত্রি দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে। আর আমি যখনই তাদের দাওয়াত দিয়েছি যাতে আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তখনই তারা তাদের কানে আঙ্গুল দিয়েছে, নিজেদের পোশাকে আবৃত হয়েছে এবং জেদ ধরেছে ও চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে। অতঃপর আমি তাদের দাওয়াত দিয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
جِهَاراً * ثُمّ إِنّيَ أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارا ً} (1) يعنى العمل بكل الآيات التي نسختها آية السيف.
5) الوقوف ضد عمل الدعوة:
أي الوقوف أمام المسلمين، الذين يتحركون لنشر الإسلام، ويمنعون الدعاة من دعوتهم.
6) رفض الكفار دفع الجزية:
فعن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أمر أميراً على جيش أو سرية، أوصاه فى خاصته بتقوى الله، ومن معه من المسلمين خيراً، ثم قال: " اغزوا باسم الله، فى سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله، اغزوا، ولا تغلوا، ولا تغدروا، ولا تمثلوا، ولا تقتلوا وليداً، وإذا لقيت عدوك من المشركين، فادعوهم إلى ثلاث خصال، فأيتهن ما أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، ادعهم إلى الإسلام، فإن أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، ثم ادعوهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين، واخبرهم أنهم إن فعلوا ذلك فلهم ما للمهاجرين، وعليهم ما على المهاجرين، فإن أبوا أن يتحولوا (يعنى عن ديارهم ويجاهدوا) فأخبرهم أنهم يكونوا كأعراب المسلمين، يجرى عليهم حكم الله الذي يجرى على المؤمنين، ولا يكون لهم فى الغنيمة والفيء شئ، إلا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن أبوا
--------------------------------------------
প্রকাশ্যভাবে; * অতঃপর আমি তাদের নিকট উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করেছি এবং অত্যন্ত গোপনেও কথা বলেছি।} (১) অর্থাৎ ওই সকল আয়াতের ওপর আমল করা যা তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে।
৫) দাওয়াতের কাজের বিরোধিতা করা:
অর্থাৎ ওই সকল মুসলমানদের সামনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানো, যারা ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে তৎপর এবং দাঈদেরকে (আহ্বানকারীদের) তাদের দাওয়াত প্রদানে বাধা প্রদান করা।
৬) কাফিরদের পক্ষ থেকে জিযিয়া (جزية) প্রদানে অস্বীকৃতি:
সুলাইমান বিন বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো সৈন্যবাহিনীর (جيش) বা ক্ষুদ্র সেনাদলের (سرية) জন্য কোনো আমির (أمير) নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করার এবং তার সাথে থাকা মুসলমানদের কল্যাণের উপদেশ দিতেন। অতঃপর তিনি বলতেন: "তোমরা আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমরা যুদ্ধ করো, তবে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের খিয়ানত (غلول) করো না, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না, লাশের বিকৃতি (مثلة) করো না এবং কোনো শিশুকে হত্যা করো না। যখন তুমি মুশরিকদের মধ্য থেকে তোমার শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাও। তারা এর মধ্যে যেটিই গ্রহণ করবে, তুমি তা কবুল করে নাও এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকো। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো; যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তা কবুল করো এবং তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। অতঃপর তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে হিজরতকারীদের আবাসে (دار المهاجرين) স্থানান্তরিত হওয়ার আহ্বান জানাও এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, যদি তারা তা করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যা প্রাপ্য তাদের জন্যও তা-ই প্রাপ্য হবে এবং মুহাজিরদের ওপর যা অর্পিত হয় তাদের ওপরও তা-ই অর্পিত হবে। যদি তারা স্থানান্তরিত হতে অস্বীকার করে (অর্থাৎ তাদের নিজ এলাকায় অবস্থান করে এবং জিহাদ করে), তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তারা সাধারণ মুসলিম মরুবাসীদের (أعراب) মতো গণ্য হবে। তাদের ওপর আল্লাহর ওই বিধানই (حكم) কার্যকর হবে যা মুমিনদের ওপর কার্যকর হয়। আর তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (غنيمة) ও ফায় (فيء) থেকে কোনো অংশ পাবে না, যদি না তারা মুসলমানদের সাথে জিহাদ করে। আর যদি তারা অস্বীকার করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فسلهم الجزية، فإن هم أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، فإن أبوا فاستعن بالله وقاتلهم .. الخ. رواه مسلم. (1) فيدفعون الجزية ويكونوا في حماية المسلمين.
وتتطلب هذه الحماية وجود المسلمين بين ظهراني المشركين، فيرى صفات المسلمين وأخلاقهم (العفة، الأمانة، الصدق، الحلم، الرحمة، .. الخ) فيتأثروا بأخلاق المسلمين .. فيدخلوا فى دينهم .. لما يروا فى دينهم من الصفات .. والأعمال التي يرونها لصلاح حياتهم.
ولذلك كثير من الناس دخلوا فى الإسلام بعدما فرض عليهم الجزية، بعد أن رأوا أخلاق وصفات المسلمين .. وكأن الجزية صورة عملية للدعوة، فإذا رفضوا كلا الأمرين (الدعوة، الجزية) حينئذٍ يقول الله عز وجل {قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ * وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (2) (3).
7) وجود إمام للمسلمين يعلن الحرب على الكفار:
أن يكون الجهاد تحت قيادة إمام مسلم وبقيادته، حتى يتدبروا أمرهم بينهم وأن يكون هناك قائد ينظم حركة الجهاد ومطلع على فنونه، فلا يجوز للمجاهدين أن يجاهدوا بدون إمام لهم حتى وإن قل عددهم أو كثر، مثلما لا يجوز للمسلمين الصلاة في جماعة بدون إمام، ومثلما لا يجوز للمسلمين العيش بدون حاكم أو إمام حتى وإن قل عددهم أو كثر عددهم.
ثالثا: لو سقط شرط واحد من شروط القتال يُعتبر القتال غير شرعي.
--------------------------------------------
অতঃপর তাদের নিকট জিজিয়া প্রার্থনা করো; যদি তারা তোমার ডাকে সাড়া দেয়, তবে তা কবুল করো এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকো। আর যদি তারা অস্বীকার করে, তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো... ইত্যাদি। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১) অতঃপর তারা জিজিয়া প্রদান করবে এবং মুসলিমদের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে অবস্থান করবে।
আর এই নিরাপত্তার জন্য মুশরিকদের মাঝে মুসলিমদের অবস্থান আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, ফলে তারা মুসলিমদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি (যেমন: চারিত্রিক পবিত্রতা, আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা, সহনশীলতা, দয়া... ইত্যাদি) প্রত্যক্ষ করে এবং মুসলিমদের উন্নত চরিত্রে প্রভাবিত হয়। এরপর তারা ইসলামে দীক্ষিত হয়... কারণ তারা এই দ্বীনের মাঝে এমন সব বৈশিষ্ট্য ও কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করে যা তাদের জীবন সংশোধনের জন্য কল্যাণকর।
এ কারণেই অনেক মানুষ তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য হওয়ার পর ইসলামে দাখিল হয়েছে—মুসলিমদের চরিত্র ও গুণাবলি দেখার পর। জিজিয়া যেন দাওয়াতের এক প্রকার ব্যবহারিক চিত্র। অতঃপর তারা যদি উভয় বিষয় (দাওয়াত ও জিজিয়া) প্রত্যাখ্যান করে, তখন মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুমিনদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন। আর তিনি তাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করবেন এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাওবা করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} (২) (৩)।
৭) মুসলিমদের এমন একজন ইমামের উপস্থিতি যিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন:
জিহাদ একজন মুসলিম ইমামের অধীনে ও তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়াদি সুশৃঙ্খল করতে পারে এবং সেখানে এমন একজন নেতা থাকবেন যিনি জিহাদের গতিবিধি বিন্যস্ত করবেন এবং সমরকলা সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবেন। সুতরাং মুজাহিদদের জন্য কোনো ইমাম ব্যতিরেকে জিহাদ করা বৈধ নয়, চাই তাদের সংখ্যা অল্প হোক কিংবা অধিক। ঠিক যেমন ইমাম ছাড়া মুসলিমদের জন্য জামাতে সালাত আদায় করা বৈধ নয় এবং যেমন ইমাম বা শাসক ছাড়া মুসলিমদের বসবাস করা বৈধ নয়, চাই তাদের সংখ্যা নগণ্য হোক কিংবা প্রচুর।
তৃতীয়ত: যুদ্ধের শর্তাবলির মধ্য থেকে কোনো একটি শর্ত যদি বিলুপ্ত হয়, তবে সেই যুদ্ধ অবৈধ বলে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رابعا: قال المفسرون: أن آية السيف نسخت 124 آية من القرآن المكي، ولكن في الحقيقة نسخت 90 سورة مكية (1) وتُسمى هذه السورة بقرآن الدعوة.
--------------------------------------------
চতুর্থত: তাফসীরকারকগণ (المفسرون) বলেছেন যে, ‘তলোয়ারের আয়াত’ (আয়াতুস সাইফ) মক্কী জীবনের ১২৪টি আয়াত রহিত (نسخت) করেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এটি ৯০টি মক্কী সূরাকে রহিত (نسخت) করেছে (১) এবং এই সূরাগুলোকে 'দাওয়াহর কুরআন' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خامسا: بعض المقارنات بين القتال والدعوة:
1) قال تعالى: {فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَاداً كَبيراً} (1)
نزلت في الدعوة .. وهي جهاد الفترة المكية .. والقتال في الفترة المدنية بعد الهجرة .. ولفظ الجهاد لم يذكر في القرآن المكي إلا ثلاث مرات وهم: (الآية 110 من سورة النحل .. والآية 52 من سورة الفرقان .. والآية 69 من سورة العنكبوت) والسور المكية عددها من 86: 90 سورة، ولفظ القتال ذكر في السور المكية في آية واحدة في سورة المزمل، قال تعالى: {إِنّ رَبّكَ يَعْلَمُ أَنّكَ تَقُومُ أَدْنَىَ مِن ثُلُثَيِ الْلّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مّنَ الّذِينَ مَعَكَ وَاللهُ يُقَدّرُ الْلّيْلَ وَالنّهَارَ عَلِمَ أَلّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُمْ مّرْضَىَ وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الأرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصّلَاةَ وَآتُوا الزّكَاةَ وَأَقْرِضُواُ اللهَ قَرْضاً حَسَناً وَمَا تُقَدّمُوا لأنفُسِكُمْ مّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللهِ هُوَ خَيْراً وَأَعْظَمَ أَجْراً وَاسْتَغْفِرُوا اللهَ إِنّ اللهَ غَفُورٌ رّحِيمٌ} (2) (3).
--------------------------------------------
পঞ্চম: যুদ্ধ এবং দাওয়াতের মধ্যে কিছু তুলনা:
১) মহান আল্লাহ বলেন: {কাজেই আপনি কাফিরদের আনুগত্য করবেন না এবং আপনি এর (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে বড় জিহাদ পরিচালনা করুন।} (১)
এটি দাওয়াতের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে... আর এটি মক্কী যুগের জিহাদ... এবং হিজরতের পরবর্তী মাদানী যুগে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে... আর জিহাদ শব্দটি মক্কী কুরআনে কেবল তিনবার উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো হলো: (সূরা আন-নাহলের ১১০ নং আয়াত... সূরা আল-ফুরকানের ৫২ নং আয়াত... এবং সূরা আল-আনকাবুতের ৬৯ নং আয়াত)। আর মক্কী সূরাসমূহের সংখ্যা ৮৬ থেকে ৯০টি। আর যুদ্ধ শব্দটি মক্কী সূরাসমূহের মধ্যে কেবল একটি আয়াতে তথা সূরা আল-মুযযাম্মিলে উল্লিখিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আপনার রব জানেন যে, আপনি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও এক-তৃতীয়াংশ ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং আপনার সাথে থাকা একটি দলও। আর আল্লাহ রাত ও দিনের পরিমাপ নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন যে, তোমরা এর পুরোপুরি হিসাব রাখতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন। অতএব কুরআনের যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো। তিনি জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হতে পারে, কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে যমীনে বিচরণ করবে এবং কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। সুতরাং তা থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পাঠ করো, সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রিম যা কিছু কল্যাণ পাঠাবে তা আল্লাহর কাছে উত্তম ও মহাপুরস্কার হিসেবে পাবে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (২) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أما السور المدنية مثل: البقرة وآل عمران والنساء والأنفال وبراءة والحشر وغيرها تتحدث عن القتال.
فالمرحلة المكية التي ذكر فيها القرآن، القتال ثلاث مرات، يوجد فيها جهد مكتسب، مثل: قيام الليل .. قراءة القرآن .. الذكر .. العفو والصفح .. كظم الغيظ .. الصبر .. الأخلاق الحسنة .. المحافظة علي الصلوات .. وعلاوة علي ذلك الدعوة إلي الله عز وجل .. وبذلك يهب الله عز وجل لنا الجهد.
فالجهد ليس المقصود، ولكن المقصود إحياء الدين ونشر الأعمال، في مرحلة التربية والإصلاح، وعندما تمت التربية واليقين علي الله عز وجل وصفاته عند الصحابة الكرام، أُذن لهم بالقتال.
ومعروف أن من أساسيات العلم: أنه لا يستغني بجهد، عن جهد آخر
، مثل: لا يجوز الاستغناء عن جهد الطهارة، بجهد الصلاة، أو بجهد الصيام عن الصلاة.
পক্ষান্তরে মাদানি সুরাসমূহ যেমন: আল-বাকারা, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-আনফাল, বারাআত, আল-হাশর এবং অন্যান্য সুরাগুলো লড়াই বা যুদ্ধ (قتال) সম্পর্কে আলোচনা করে।
মাক্কি যুগে—যেখানে কুরআনে লড়াই বা যুদ্ধ (قتال) বিষয়টি তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে—সেখানে অর্জিত সাধনা বা মেহনত (جهد) বিদ্যমান ছিল, যেমন: রাত্রিকালীন কিয়াম (قيام الليل), কুরআন তিলাওয়াত (قراءة القرآن), জিকির (الذكر), ক্ষমা ও মার্জনা (العفو والصفح), ক্রোধ সংবরণ (كظم الغيظ), ধৈর্য (الصبر), উত্তম চরিত্র (الأخلاق الحسنة), নামাজের হেফাজত করা (المحافظة علي الصلوات), এবং এর পাশাপাশি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত (الدعوة إلي الله) প্রদান করা। আর এভাবেই মহান আল্লাহ আমাদের মেহনত বা সাধনার (جهد) তৌফিক দান করেন।
সুতরাং কেবল সাধনা (جهد) মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণ বা তরবিয়ত (التربية) ও সংশোধনের (الإصلاح) পর্যায়ে দ্বীনকে পুনর্জীবিত করা এবং আমলসমূহের প্রচার করা। যখন সম্মানিত সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে মহান আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলির ওপর প্রশিক্ষণ (التربية) এবং দৃঢ় বিশ্বাস বা ইয়াকিন (اليقين) পূর্ণতা লাভ করল, তখন তাঁদের লড়াই বা যুদ্ধের (القتال) অনুমতি দেওয়া হলো।
আর এটি ইলমের একটি স্বীকৃত মূলনীতি যে: এক প্রকার সাধনা (جهد) দ্বারা অন্য প্রকার সাধনা (جهد) থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না
, যেমন: পবিত্রতার (الطهارة) সাধনা বাদ দিয়ে কেবল নামাজের (الصلاة) সাধনা, কিংবা নামাজের (الصلاة) পরিবর্তে কেবল রোজার (الصيام) সাধনার মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী হওয়া বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2) دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم وقتاله رحمة:
لأن بعثته صلى الله عليه وسلم رحمة، قال تعالى: {وَمَآ أَرْسَلْنَاكَ إِلاّ رَحْمَةً لّلْعَالَمِينَ} (1) لأنه صلى الله عليه وسلم بديل بنزول العذاب الجماعي.
فسورة التوبة بدون البسملة وفيها:
قال تعالى: {فَإِذَا انسَلَخَ الأشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصّلَاةَ وَآتَوُاْ الزّكَاةَ فَخَلّوا سَبِيلَهُمْ إِنّ اللهَ غَفُورٌ رّحِيمٌ} (2).
وقال تعالى: {وَإِن نّكَثُوَاْ أَيْمَانَهُم مّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوَاْ أَئِمّةَ الْكُفْرِ إِنّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلّهُمْ يَنتَهُونَ} (3).
وقال تعالى: {قَاتِلُوهُمْ يُعَذّبْهُمُ اللهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مّؤْمِنِينَ* وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللهُ عَلَىَ مَن يَشَآءُ
وَاللهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (4).
--------------------------------------------
২) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াত ও তাঁর সংগ্রাম রহমতস্বরূপ:
কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ হচ্ছে রহমতস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি} (১)। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামষ্টিক আযাব নাযিল হওয়ার বিকল্প স্বরূপ।
সূরা আত-তাওবাহ বিসমিল্লাহ ব্যতীত (শুরু হয়েছে) এবং তাতে রয়েছে:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের বন্দি করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওত পেতে বসে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (২)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তারা তাদের প্রতিশ্রুতির পর তাদের শপথ ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে কটূক্তি করে, তবে কুফরের ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; নিশ্চয়ই তাদের কোনো শপথ নেই, যেন তারা নিবৃত্ত হয়} (৩)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করবেন। আর তিনি তাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করবেন এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাওবা করার তাওফীক দান করবেন।
আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال تعالى: {ِإنّ عِدّةَ الشّهُورِ عِندَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْراً فِي كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السّمَاوَات وَالأرْضَ مِنْهَآ أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدّينُ الْقَيّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنّ أَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَآفّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَآفّةً وَاعْلَمُوَاْ أَنّ اللهَ مَعَ الْمُتّقِينَ} (1).
وفى آخر السورة قال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رّحِيمٌ} (2) فدعوته صلى الله عليه وسلم رحمه، وأيضا قتاله رحمه.
3) والقتال لحل مشكلة دعوية: فالكافر الذي نقاتله هو رفض رحمة الله سبحانه وتعالى .. رفض الحق بنفسه .. ولكن عندما يمنع وصول رحمة الله سبحانه وتعالى لغيره، نقاتله حتى يمكن توصيل الرحمة لمن خلفه 0
كونوا مثلنا (أي اسلموا مثلنا) .. أو دفع الجزية عن يدٍ وأنتم صاغرون .. أو نقاتلكم .. يعنى يبدأ القتال بالدعوة وينتهي بالدعوة أيضا .. أي الدعوة الأصل.
4) القتال حاجه والدعوة مقصد: وإليك بعض الأمثلة لتوضيح ذلك:
أ_ مثل الطبيب: يقطع رجل المريض لمصلحة باقي الجسم، قال تعالى: {لِيَقْطَعَ طَرَفاً مّنَ الّذِينَ كَفَرُوَاْ أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنقَلِبُوا خَآئِبِينَ} (3) فقتل جزء صغير من الكفار لمصلحة باقي الكفار.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসসমূহের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেই দিন থেকে যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস হলো সম্মানিত (حرم)। এটিই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো যেভাবে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।} (১)।
এবং সূরার শেষে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর নিকট দুঃসহ। তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।} (২) সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াত যেমন রহমত, তেমনি তাঁর যুদ্ধও রহমত।
৩) দাওয়াতি সমস্যার সমাধানের জন্য যুদ্ধ: আমরা যে কাফেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, সে মূলত মহান আল্লাহর রহমতকে অস্বীকার করেছে... সে ব্যক্তিগতভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে... কিন্তু যখন সে আল্লাহর রহমত অন্যের নিকট পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি যাতে তার পশ্চাতে থাকা মানুষের নিকট রহমত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
তোমরা আমাদের মতো হয়ে যাও (অর্থাৎ আমাদের মতো ইসলাম গ্রহণ করো)... অথবা অবনত মস্তকে জিজিয়া প্রদান করো... অথবা আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব... অর্থাৎ যুদ্ধের সূচনা হয় দাওয়াতের মাধ্যমে এবং তার সমাপ্তিও ঘটে দাওয়াতের মাধ্যমে... অর্থাৎ দাওয়াতই হলো মূল ভিত্তি।
৪) যুদ্ধ হলো প্রয়োজন এবং দাওয়াত হলো লক্ষ্য: এটি স্পষ্ট করার জন্য নিম্নে কিছু উদাহরণ প্রদান করা হলো:
ক_ চিকিৎসকের ন্যায়: শরীরের বাকি অংশের মঙ্গলের স্বার্থে তিনি রোগীর পা কেটে ফেলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তিনি কাফেরদের একটি অংশকে বিনাশ করতে পারেন অথবা তাদের লাঞ্ছিত করতে পারেন, ফলে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।} (৩) সুতরাং কাফেরদের একটি ক্ষুদ্র অংশকে নিধন করা বাকি কাফেরদের মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ب _ مثل المدرس: يستعمل العصا ليضرب بها الطلبة حتى يهتموا
… بتحصيل العلم .. ولكن من رآه فقط في حالة الضرب، وسُئلَ عن المدرس؟ فيقول: هو الذي يضرب الطلبة بالعصا .. ؟ ومعروف قصة خالد بن الوليد رضي الله عنه مع جرجة قائد الروم ودعوته وسط المعركة .. واستشهاده بعد إسلامه.
ج _ مثل الشرطي .. يضرب بالعصا أو المسدس ضد الخارجين على القانون لمصلحة باقي الناس، قال تعالى: {وَمَآ أَرْسَلْنَاكَ إِلاّ رَحْمَةً لّلْعَالَمِينَ} (1) سواء كان ذلك دعوة أو عمل صالح أو قتال .. فالمقصود بالدعوة: الرحمة فيسلم المدعو فيدخل الجنة.
5) ومقصود القتال: إيصال الرحمة إلي من وراء المانع للدعوة، قال تعالى:
{لِيَقْطَعَ طَرَفاً مّنَ الّذِينَ كَفَرُوَاْ} (2) مثل خالد وعكرمة وغيرهم.
6) الدعوة: استخدام القوة الخُلقية:
قال تعالى: {فَاصْفَحِ الصّفْحَ الْجَمِيلَ} (3).
وقال تعالى: {فَاصْبِرْ صَبْراً جَمِيلا} (4) ً.
وقال تعالى: {وَاصْبِرْ عَلَىَ مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْراً جَمِيلاً} (5).
--------------------------------------------
খ — শিক্ষকের দৃষ্টান্ত: তিনি ছাত্রদের প্রহার করার জন্য লাঠি ব্যবহার করেন যাতে তারা ইলম অর্জনে মনোযোগী হয়
… কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে কেবল প্রহাররত অবস্থায় দেখেছে এবং তাকে যদি শিক্ষক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে বলবে: সে তো সেই ব্যক্তি যে লাঠি দিয়ে ছাত্রদের প্রহার করে...? আর রোমান সেনাপতি জুরজার সাথে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-এর কাহিনী এবং যুদ্ধের ময়দানে তাঁর দাওয়াত প্রদান ও ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর শাহাদাত বরণের ঘটনাটি সুবিদিত।
গ — পুলিশের দৃষ্টান্ত... সে সাধারণ মানুষের কল্যাণে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে লাঠি বা পিস্তল ব্যবহার করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি} (১), চাই তা দাওয়াত হোক, নেক আমল হোক কিংবা যুদ্ধ হোক... দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো: রহমত বা দয়া, ফলে দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে জান্নাতে প্রবেশ করে।
৫) যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো: দাওয়াতের প্রতিবন্ধকতার আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের নিকট রহমত পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{যাতে তিনি কাফেরদের একটি অংশকে কর্তন করেন} (২), যেমনটি খালিদ, ইকরিমা ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে হয়েছিল।
৬) দাওয়াত: নৈতিক শক্তির প্রয়োগ:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনি উত্তমভাবে ক্ষমা করুন} (৩)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনি সুন্দর ধৈর্য ধারণ করুন} (৪)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা যা বলে তাতে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সৌজন্যের সাথে তাদের পরিহার করুন} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال تعالى: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوا الْعَزْمِ مِنَ الرّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لّهُمْ كَأَنّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوَاْ إِلاّ سَاعَةً مّن نّهَارٍ بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلاّ الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ} (1).
أما القتال: استخدام القوة الغضبية:
ولا يستطيع أحد أن يوقف القوة الخُلقية بمعنى حين تُكرم أحد فلا يقول لك لا تُكرمني .. أو لا تعفو عنى أو لا تعاملني بأخلاق كريمة.
ولكن لا يستطيعون إيقاف القتال أو يتغلبوا عليه فالمقاتل قد يمنع أو يهزم .. أما الداعي فلا يستطيع أحد أن يمنعه.
7) الدعوة جهد عام لكل الأمة:
قال تعالى: {قُلْ هََذِهِ سَبِيلِيَ أَدْعُو إِلَىَ اللهِ عَلَىَ بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (2) فالكل يقوم بها بدون أعذار (يقوم بها الضعيف والقوى .. المريض والصحيح .. الغني والفقير .. المبصر والأعمى .. الأعرج والسليم .. الأُمي والمتعلم .. الصغير والكبير .. المرأة والرجل .. الشاب والشيخ.
أما القتال فجهد خاص: لأن فيه أعذار، مثل المريض، والأعمى، والأعرج، قال
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রসূলগণ ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তাদের জন্য তড়িঘড়ি করবেন না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত বিষয়টি প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন মনে হবে তারা যেন দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। এটি একটি ঘোষণা। সুতরাং পাপাচারী কওম ছাড়া আর কাউকে ধ্বংস করা হবে কি?} (১)।
আর লড়াই: এটি ক্রোধের শক্তির ব্যবহার:
আর নৈতিক শক্তিকে রুখে দেওয়ার সাধ্য কারও নেই; অর্থাৎ, যখন আপনি কাউকে সম্মান করেন, তখন সে আপনাকে বলে না যে, ‘আমাকে সম্মান করবেন না’ .. অথবা ‘আমাকে ক্ষমা করবেন না’ অথবা ‘আমার সাথে সুন্দর আচরণ করবেন না’।
কিন্তু তারা লড়াই থামিয়ে দিতে পারে অথবা এর ওপর জয়লাভ করতে পারে। কেননা যোদ্ধাকে বাধা দেওয়া বা পরাজিত করা সম্ভব হতে পারে; কিন্তু দাঈর পথ কেউ রুদ্ধ করতে পারে না।
৭) দাওয়াত সমগ্র উম্মাহর জন্য একটি সাধারণ প্রচেষ্টা:
মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত দৃষ্টির সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’} (২)। সুতরাং ওজর বা অজুহাত ব্যতিরেকেই প্রত্যেকেই এই কাজ আঞ্জাম দেবে (এটি সম্পাদন করবে দুর্বল (ضعيف) ও শক্তিশালী .. অসুস্থ ও সুস্থ .. ধনী ও দরিদ্র .. দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ও দৃষ্টিহীন .. খোঁড়া ও সুস্থ দেহী .. নিরক্ষর ও শিক্ষিত .. ছোট ও বড় .. নারী ও পুরুষ .. যুবক ও বৃদ্ধ।
আর লড়াই হলো একটি বিশেষ প্রচেষ্টা: কারণ এতে ওজর বা অজুহাত রয়েছে, যেমন অসুস্থ, দৃষ্টিহীন ও খোঁড়া। তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
تعالى: {لّيْسَ عَلَى الضّعَفَآءِ وَلَا عَلَىَ الْمَرْضَىَ وَلَا عَلَى الّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا للهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَاللهُ غَفُورٌ رّحِيمٌ *وَلَا عَلَى الّذِينَ إِذَا مَآ أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَآ أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلّوْا وّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدّمْعِ حَزَناً أَلاّ يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} (1) (2).
وقال تعالى: {لّيْسَ عَلَى الأعْمَىَ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الأعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {দুর্বলদের ওপর কোনো দোষ নেই, নেই অসুস্থদের ওপর এবং তাদের ওপরও নয় যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষী (نصحوا) থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। * আর তাদের ওপরও কোনো দোষ নেই, যারা আপনার কাছে এসেছিল যাতে আপনি তাদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেন, আপনি বলেছিলেন: ‘আমি তোমাদের জন্য কোনো বাহন পাচ্ছি না;’ তখন তারা ফিরে গিয়েছিল এবং তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল এই দুঃখে যে, তারা ব্যয় করার মতো কিছু পাচ্ছে না।} (১) (২)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অন্ধের ওপর কোনো দোষ নেই, পঙ্গুর ওপর কোনো দোষ নেই এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأنْهَارُ وَمَن يَتَوَلّ يُعَذّبْهُ عَذَاباً أَلِيماً} (1)
فعند عدم امتلاك مستلزمات القتال: قال تعالى: {وَلَا عَلَى الّذِينَ إِذَا مَآ أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَآ أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ توَلّوْا وّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدّمْعِ حَزَناً
أَلاّ يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} (2) فيحتاج أشداء أقوياء.
إذن أعذار القتال لا تصلح أن تكون أعذار للدعوة، لأن الله سبحانه وتعالى عندما أسقط عنهم جهد القتال، ما أسقط عنهم جهد الدعوة، فقال: {إِذَا نَصَحُوا للهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَاللهُ غَفُورٌ رّحِيمٌ} (3).
8) سلاح الدعوة (الحكمة) أما سلاح القتال (القوة):
القتال أسباب خارجية:
قال تعالى: {وَأَعِدّوا لَهُمْ مّا اسْتَطَعْتُمْ مّن قُوّةٍ وَمِن رّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدْوّ اللهِ وَعَدُوّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللهِ يُوَفّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُون} (4) فالقوة ليست سببا
--------------------------------------------
{...অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কোনো ওজর নেই। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; আর যে বিমুখ হবে, তাকে তিনি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।} (১)
সুতরাং যুদ্ধের সরঞ্জাম না থাকার ক্ষেত্রে: মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের ওপরও কোনো দায় নেই যারা আপনার কাছে এসেছিল যাতে আপনি তাদের বাহনের ব্যবস্থা করেন, আপনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের আরোহণ করানোর মতো কোনো বাহন পাচ্ছি না’; তারা ফিরে গিয়েছিল এমতাবস্থায় যে তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল এই দুঃখে যে,
তারা ব্যয় করার মতো কিছু পায়নি।} (২) ফলে (যুদ্ধের জন্য) সুদৃঢ় ও শক্তিমানদের প্রয়োজন হয়।
অতএব, যুদ্ধের ওজরসমূহ দাওয়াতের জন্য ওজর হিসেবে গণ্য হওয়া সমীচীন নয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাদের ওপর থেকে যুদ্ধের কষ্ট রহিত করেছেন, তখন তিনি তাদের ওপর থেকে দাওয়াতের প্রচেষ্টা রহিত করেননি। তাই তিনি বলেছেন: {যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য পোষণ করে, তবে সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো পথ নেই। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (৩)।
৮) দাওয়াতের অস্ত্র হলো প্রজ্ঞা, পক্ষান্তরে যুদ্ধের অস্ত্র হলো শক্তি:
যুদ্ধ বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরশীল:
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের এবং এ ছাড়া অন্যদের আতঙ্কিত করবে যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের ওপর জুলুম করা হবে না।} (৪) সুতরাং শক্তি কোনো একমাত্র কারণ নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
للنصر، ولكن لإرهاب العدو ومن وراءه، ومن علي شاكلته، لأن النصر من عند الله عز وجل، قال تعالى: {ِوَمَا النّصْرُ إِلاّ مِنْ عِندِ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} (1).
والدعوة أسبابها داخلية: قال تعالى: {ادْعُ إِلِىَ سَبِيلِ رَبّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنّ رَبّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (2).وقد يفقد الداعي الأسباب الخارجية، ولكن لا يفقد الصفات الطيبة والأخلاق الحسنة، مثل الرسول صلى الله عليه وسلم في الطائف، فقد روى الطبراني: برجال ثقات عن عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما انصرف عنهم (أي أهل الطائف) أتى ظل شجرة فصلى ركعتين ثم قال: (اللهم إني أشكو إليك ضعف قوتي وقلة حيلتي وهواني على الناس يا أرحم الراحمين أنت رب المستضعفين وأنت ربي إلى من تكلني إلى بعيد يتجهمني أو إلى عدو ملكته أمري إن لم يكن بك علي غضب فلا أبالي ولكن عافيتك هي أوسع لي، أعوذ بنور وجهك الذي أشرقت له الظلمات وصلح عليه أمر الدنيا والآخرة من أن تنزل بي غضبك أو تحل علي سخطك لك العتبى حتى ترضى ولا حول ولا قوة إلا بك) (3).
9) في الدعوة: الانشغال بالمحاسن، ودفع المساوئ (عفو .. صفح .. إكرام .. إيثار).
أما في القتال: (هجوم .. انتقام .. قتل .. أسر .. غنيمة).
--------------------------------------------
বিজয়ের জন্য নয়, বরং শত্রু এবং তাদের নেপথ্যে যারা রয়েছে এবং যারা তাদের সমমনা, তাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য; কেননা বিজয় কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।" (১)।
আর দাওয়াতের উপকরণসমূহ অভ্যন্তরীণ: মহান আল্লাহ বলেন: "তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার রব, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং যারা সঠিক পথে রয়েছে তাদের সম্পর্কেও তিনি সম্যক অবগত।" (২)। একজন দাঈ বাহ্যিক উপায়-উপকরণ হারাতে পারেন, কিন্তু তিনি চারিত্রিক গুণাবলি এবং উত্তম আখলাক হারান না; যেমনটি তায়েফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে হয়েছিল। তাবারানি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের (তায়েফবাসীদের) নিকট থেকে ফিরে আসলেন, তখন একটি গাছের ছায়ায় এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দুর্বলতা, আমার সহায়-সম্বলহীনতা এবং মানুষের কাছে আমার তুচ্ছতা সম্পর্কে অভিযোগ করছি। হে দয়াময়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াময়! আপনি অসহায়দের রব এবং আপনিই আমার রব। আপনি আমাকে কার কাছে সোপর্দ করছেন? এমন কোনো অচেনা মানুষের কাছে যে আমার সাথে রূঢ় আচরণ করবে, নাকি এমন কোনো শত্রুর কাছে যাকে আপনি আমার বিষয়াবলির মালিক করে দিয়েছেন? যদি আপনি আমার ওপর রাগান্বিত না হন, তবে আমি কোনো পরোয়া করি না। তবে আপনার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা আমার জন্য অনেক প্রশস্ত। আমি আপনার চেহারার সেই নূরের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কাজ সংশোধিত হয়েছে, যেন আপনি আমার ওপর আপনার গজব নাজিল না করেন অথবা আপনার অসন্তুষ্টি যেন আমার ওপর না নেমে আসে। আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আপনার প্রতি আমার অনুযোগ অব্যাহত থাকবে। আর আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।) (৩)।
৯) দাওয়াতের ক্ষেত্রে: সুকুমার বৃত্তিতে মগ্ন থাকা এবং মন্দকে প্রতিহত করা (ক্ষমা .. মার্জনা .. সম্মান .. আত্মত্যাগ)।
পক্ষান্তরে যুদ্ধের ক্ষেত্রে: (আক্রমণ .. প্রতিশোধ .. হত্যা .. বন্দীকরণ .. গণিমত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
10) الكيفيات في الدعوة: لا تختلف من أول سيدنا نوح عليه السلام، حتى النبي محمد صلى الله عليه وسلم، وصحابته رضي الله عنهم.
أما الكيفيات في القتال: تتغير حسب الظروف، وممكن يستفاد فيه من خبرة الغير، كما حدث وأشار سلمان الفارسي رضي الله عنه علي النبي صلى الله عليه وسلم بحفر الخندق، في غزوة الخندق (الأحزاب) .. وفي غزوة بدر أشار الحباب بن المنذر رضي الله عنه، علي النبي صلى الله عليه وسلم أن ينتقل بالجيش إلي بئر بدر.
11) لا يمكن التخلق بالأخلاق الدعوية في القتال، مثل: اللين والرفق .. الشفقة والرحمة .. العفو والصفح، كما حدث في صلح الحديبية، حينما ذهب عروة بن مسعود الثقفي، للنبي صلى الله عليه وسلم ليثنيه عن دخول مكة، نيابة عن قريش، فرد عليه أبو بكر رداً عنيفا، وإليك القصة كما جاءت في كتب السيرة: فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد! تركت كعب ابن لؤي وعامر بن لؤي على أعداد مياه الحديبية، معهم العوذ المطافيل قد استنفروا لك الأحابيش ومن أطاعهم، قد لبسوا جلود النمور، وهم يقسمون بالله لا يخلون بينك وبين البيت حتى تجتاحهم، وإنما أنت ومن قاتلهم بين احد أمرين إن تجتاح قومك ولم يسمع برجل اجتاح قومه وأهله قبلك، أو بين أن يخذلك من ترى معك، وإني والله لا أرى معك وجوها وإني لا أرى إلا أوباشا، وفي رواية: فاني لأرى أشوابا (1) من الناس، لا أعرف وجوههم ولا أنسابهم، وخليقا أن يفروا ويدعوك.
وفي رواية: وكأني بهم لو قد لقيت قريشا أسلموك فتؤخذ أسيرا، فأي شئ أشد عليك من هذا؟ فغضب أبو بكر رضي الله عنه، وكان قاعدا خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: أمصص بظر اللات، أنحن نخذله أو نفر عنه؟! فقال عروة رضي الله عنه: من ذا؟ قالوا:
--------------------------------------------
১০) দাওয়াতের পদ্ধতিসমূহ: সায়্যিদুনা নূহ আলাইহিস সালামের শুরু থেকে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম পর্যন্ত এতে কোনো পার্থক্য নেই।
পক্ষান্তরে যুদ্ধের পদ্ধতিসমূহ: এগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় এবং এক্ষেত্রে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব, যেমনটি ঘটেছিল যখন সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খন্দক (পরিখা) খননের পরামর্শ দিয়েছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে (আহযাব).. এবং বদরের যুদ্ধে হুবাব ইবনুল মুনযির রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে সেনাবাহিনীকে বদর কূপের দিকে সরিয়ে নিতে।
১১) যুদ্ধের ময়দানে দাওয়াতের শিষ্টাচার ধারণ করা সম্ভব নয়, যেমন: নম্রতা ও কোমলতা.. স্নেহ ও দয়া.. ক্ষমা ও মার্জনা, যেমনটি হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় ঘটেছিল, যখন উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফী কুরাইশদের পক্ষ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন, তখন আবু বকর তাকে অত্যন্ত কঠোর জবাব দিয়েছিলেন। সীরাত গ্রন্থসমূহে যেভাবে ঘটনাটি এসেছে তা নিম্নরূপ: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কাব ইবনে লুআই এবং আমির ইবনে লুআইকে হুদাইবিয়ার পানির নিকট রেখে এসেছেন, তাদের সাথে দুগ্ধবতী উট রয়েছে যারা বাচ্চা প্রসব করেছে, তারা আপনার বিরুদ্ধে হাবশীদের এবং তাদের অনুসারীদের জড়ো করেছে, তারা চিতার চামড়া পরিধান করেছে এবং আল্লাহর নামে কসম করছে যে আপনি তাদের সমূলে ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত তারা আপনার ও কাবার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মূলত আপনি এবং যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করছে তারা দুটি পরিস্থিতির সম্মুখীন: হয় আপনি আপনার জাতিকে সমূলে ধ্বংস করবেন—অথচ আপনার আগে আর কেউ তার নিজ জাতি ও স্বজনদের সমূলে ধ্বংস করেছে বলে শোনা যায়নি—অথবা এই লোকগুলো আপনাকে ত্যাগ করে পালিয়ে যাবে। আল্লাহর কসম, আমি আপনার সাথে কোনো (মর্যাদাবান) চেহারা দেখছি না, বরং আমি দেখছি একদল বিশৃঙ্খল জনতা। অন্য বর্ণনায় (رواية): আমি মানুষের সংমিশ্রণ দেখছি যাদের চেহারা বা বংশপরিচয় আমি জানি না, আর এটি খুবই স্বাভাবিক যে তারা পালিয়ে যাবে এবং আপনাকে একাকী ফেলে যাবে।
অন্য বর্ণনায় (رواية): আমার মনে হচ্ছে যদি কুরাইশদের সাথে আপনার মোকাবিলা হয় তবে তারা আপনাকে সপে দেবে এবং আপনি বন্দি হবেন। আপনার জন্য এর চেয়ে কঠিন আর কী হতে পারে? এতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত হলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলেন, তিনি বললেন: লাত (মূর্তির) ভগাঙ্কুর চুষে খাও! আমরা কি তাঁকে একাকী ছেড়ে দেব অথবা তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব?! উরওয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: এ কে? তারা বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أبا بكر. فقال عروة: أما والله لولا يد لك عندي لم أجزك بها لأجيبنك، وكان عروة قد استعان في حمل دية، فأعانه الرجل بالفريضتين والثلاث، وأعانه أبو بكر بعشر، فكانت هذه يد أبي بكر رضي الله عنه عند عروة (1).
ولا يمكن استخدام أساليب القتال في الدعوة، مثل: الغضب، والتجسس، والمكر والخديعة، والقتل والأسر، والغنيمة، والمداهنة، والانتقام.
12) في الدعوة: حفظ (الأعراض، والأموال، والدماء):
أ) النبي صلى الله عليه وسلم عند هجرته أناب عليا رضي الله عنه لرد الأمانات التي عنده، لأصحابها الكفار.
ب) سيدنا يوسف عليه السلام: {قَالَ مَعَاذَ اللهِ إِنّهُ رَبّيَ أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنّهُ لَا يُفْلِحُ الظّالِمُونَ} (2).
ولكن في القتال: القتل والأسر .. وأخذ الغنائم والأموال وسبى النساء والذرية.
13) مصطلحات دعوية:
قال تعالى: {أُبَلّغُكُمْ رِسَالاتِ رَبّي وَأَنَاْ لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ} (3)
--------------------------------------------
আবু বকর। তখন উরওয়াহ বললেন: আল্লাহর কসম, যদি আমার প্রতি আপনার এমন কোনো অনুগ্রহ না থাকত যার প্রতিদান আমি দিতে পারিনি, তবে আমি অবশ্যই আপনাকে উত্তর দিতাম। উরওয়াহ একদা রক্তপণ (دية) বহনের জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে দুই বা তিনটি উট দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, আর আবু বকর তাকে দশটি উট দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। উরওয়াহর নিকট এটাই ছিল আবু বকর (রা.)-এর সেই অনুগ্রহ (১)।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে যুদ্ধের কৌশলসমূহ ব্যবহার করা সম্ভব নয়, যেমন: ক্রোধ, গোয়েন্দাগিরি, চক্রান্ত ও প্রতারণা, হত্যা ও বন্দীকরণ, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, তোষামোদ এবং প্রতিশোধ গ্রহণ।
১২) দাওয়াতের ক্ষেত্রে: (সম্মান, সম্পদ এবং রক্ত) সংরক্ষণ করা:
ক) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সময় তাঁর নিকট গচ্ছিত আমানতসমূহ সেগুলোর কাফির মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আলী (রা.)-কে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।
খ) সায়্যিদিনা ইউসুফ (আ.): {তিনি বললেন, আল্লাহর পানাহ! নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয়ই জালিমরা সফল হয় না} (২)।
কিন্তু যুদ্ধের ক্ষেত্রে: হত্যা ও বন্দীকরণ... এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও ধন-সম্পদ গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের দাসী হিসেবে গ্রহণ।
১৩) দাওয়াতী পরিভাষা:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত (أمين) উপদেশদাতা} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال تعالى: ً {وَمَآ أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىَ مَآ أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلاّ الإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِيَ إِلاّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} (1)
وقال تعالى: {لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُولٌ مّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رّحِيمٌ} (2)
وقال تعالى: {وَإِلَىَ عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مّنْ إِلََهٍ غَيْرُه} (3)
وقال تعالى: {وَإِلَىَ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحاً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مّنْ إِلََهٍ غَيْرُهُ} (4)
وقال تعالى: {وَإِلَىَ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْباً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مّنْ إِلََهٍ غَيْرُهُ} (5)
كلها مصطلحات تنبو عن حبهم، وشفقتهم وعطفهم علي أقوامهم.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করি, তোমাদের ছেড়ে আমি তার বিপরীতে কিছু করতে চাই না। আমি তো কেবল আমার সাধ্যমতো সংস্কারই কামনা করি। আর আমার তৌফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই।" (১)
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে এক রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের অতিশয় মঙ্গলকামী; মুমিনদের প্রতি তিনি পরম মমতাময় ও দয়ালু।" (২)
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর আমি আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।" (৩)
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর আমি সামূদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।" (৪)
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর আমি মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।" (৫)
এই সকল পরিভাষা (مصطلحات) তাদের ভালোবাসা, মমতা এবং তাদের কওমের প্রতি তাঁদের অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أما مصطلحات القتال: قال تعالى: {فَقَاتِلُوَاْ أَئِمّةَ الْكُفْرِ إِنّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلّهُمْ يَنتَهُونَ} (1).
وقال تعالى: {قَاتِلُوهُمْ يُعَذّبْهُمُ اللهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِم وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ
وَيَشْفِ صُدُورَ قوْمٍ مّؤْمِنِينَ} (2)
وقال تعالى: {وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَآفّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَآفّةً وَاعْلَمُوَاْ أَنّ
اللهَ مَعَ الْمُتّقِينَ} (3)
وقال تعالى: {يَأَيّهَا الّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الّذِينَ يَلُونَكُمْ مّنَ الْكُفّارِ وَلِيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوَاْ أَنّ اللهَ مَعَ الْمُتّقِينَ} (4)
وقال تعالى: {ِ فَقَاتِلُوَاْ أَوْلِيَاءَ الشّيْطَانِ إِنّ كَيْدَ الشّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفاً} (5)
وقال تعالى {:مَا كَانَ لِنَبِيّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَىَ حَتّىَ يُثْخِنَ فِي الأرْضٌ} (6).
14) الولاء والبراء:
--------------------------------------------
যুদ্ধের পরিভাষাসমূহ: মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কুফরের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, কারণ তাদের কোনো শপথ নেই, যাতে তারা বিরত হয়।} (১)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; আল্লাহ তোমাদের হাতেই তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের বিজয়ী করবেন এবং মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহ প্রশান্ত করবেন।} (২)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।} (৩)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মাঝে কঠোরতা খুঁজে পায়। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।} (৪)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত অত্যন্ত দুর্বল।} (৫)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {জমিনে শত্রুদের পূর্ণরূপে পরাজিত না করা পর্যন্ত কোনো নবীর জন্য যুদ্ধবন্দী রাখা সমীচীন নয়।} (৬)।
১৪) আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أولا: في الدعوة إلي الله (عز وجل):
قال تعالى: {يا بُنَيّ ارْكَبَ مّعَنَا وَلَا تَكُن مّعَ الْكَافِرِينَ} (1)
وقال تعالى: {فَاصْفَحِ الصّفْحَ الْجَمِيلَ} (2)
وقال تعالى: {قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبّيَ إِنّهُ كَانَ بِي حَفِيّا ً} (3)
وقال تعالى: {فَقُولَا لَهُ قَوْلاً لّيّناً لّعَلّهُ يَتَذَكّرُ أَوْ يَخْشَىَ} (4)
وقال تعالى: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} (5)
وقال تعالى: {إِنّيَ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} (6)
ثانيا: في القتال:
قال تعالى: {لاّ تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الَاخِرِ يُوَآدّونَ مَنْ حَآدّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوَاْ آبَآءَهُمْ أَوْ أَبْنَآءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُوْلََئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإِيمَانَ وَأَيّدَهُمْ بِرُوحٍ مّنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا
--------------------------------------------
প্রথমত: আল্লাহর (মহামহিম) পথে আহ্বানের ক্ষেত্রে:
মহান আল্লাহ বলেন: {হে আমার প্রিয় বৎস, আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সাথী হয়ো না} (১)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন} (২)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি বললেন, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান} (৩)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} (৪)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন} (৫)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি} (৬)
দ্বিতীয়ত: যুদ্ধের ক্ষেত্রে:
মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে—তা তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা স্বগোত্রীয় হোক না কেন। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُوْلََئِكَ حِزْبُ اللهِ أَلَا إِنّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (1).
فلو قابل أحد المسلمين ابنه، أو أباء، أو أخاه، أو صديقه، في صفوف المشركين لقتله.
14) العدو:
أولا: في كل السور المكية (90 سورة) هو الشيطان فقط:
قال أخوة يوسف عليه السلام: {اقْتُلُوا يُوسُفَ أَوِ اطْرَحُوهُ أَرْضاً يَخْلُ لَكُمْ وَجْهُ أَبِيكُمْ وَتَكُونُوا مِن بَعْدِهِ قَوْماً صَالِحِينَ} (2).
وقال يوسف في النهاية: {وَقَالَ يَأَبَتِ هََذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِن قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبّي حَقّاً وَقَدْ أَحْسَنَ بَيَ إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السّجْنِ وَجَآءَ بِكُمْ مّنَ الْبَدْوِ مِن بَعْدِ أَن نّزغَ الشّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ إِخْوَتِيَ إِنّ رَبّي لَطِيفٌ لّمَا يَشَآءُ إِنّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} (3).
ما شعر يوسف عليه السلام بالعداء ضد إخوته، وألق بالمسؤولية على الشيطان، قال تعالى: {وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السّيّئَةُ ادْفَعْ بِالّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الّذِي
--------------------------------------------
{...ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই সফলকাম।} (১)।
যদি কোনো মুসলিম মুশরিকদের কাতারে নিজের পুত্র, পিতা, ভ্রাতা কিংবা বন্ধুর মুখোমুখি হতো, তবে সে তাকে হত্যা করত।
১৪) শত্রু:
প্রথমত: সকল মক্কি সূরায় (৯০টি সূরা) শত্রু বলতে কেবল শয়তানকেই বোঝানো হয়েছে:
ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা বলেছিল: {তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো অথবা তাকে কোনো (অজানা) স্থানে ফেলে দাও, যাতে তোমাদের পিতার মনোযোগ কেবল তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট থাকে এবং এরপর তোমরা এক নেককার (صالح) জাতি হয়ে যাবে।} (২)।
ইউসুফ পরিশেষে বলেছিলেন: {হে আমার পিতা! এটিই আমার সেই পূর্বের স্বপ্নের ব্যাখ্যা, যা আমার প্রতিপালক সত্যে পরিণত করেছেন। তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি আমাকে কারাগার থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পর। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক যা চান তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে সম্পাদন করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।} (৩)।
ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতা অনুভব করেননি এবং এর দায়ভার শয়তানের ওপর চাপিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {ভালো এবং মন্দ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দকে তা দ্বারা প্রতিহত করুন যা উৎকৃষ্ট; ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে হয়ে যাবে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ারুন নুমানিয়াহ ফী আদ-দাওয়াতুর রব্বানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنّهُ وَلِيّ حَمِيمٌ} (1).
ثانيا: العدو في القتال:
كل المشركين والكفار كل من يقف أمام الدعوة أو من يغتصب شبرا من أرض الإسلام.
15) في القتال: (رهبان بالليل، فرسان بالنهار)
وفي الدعوة:
أولا: ليل الداعي: قال تعالى: {ُ يَأَيّهَا الْمُزّمّل * قُمِ الْلّيْلَ إِلاّ قَلِيلاً * نّصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلاً * أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلاً * إِنّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقِيلاً * إِنّ نَاشِئَةَ اللّيْلِ هِيَ أَشَدّ وَطْأً وَأَقْوَمُ قِيلاً} (2).
قال تعالي: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ} (3)
وقال تعالي: {كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} (4) في الليل: يا رب! عبادك .. توجيه رحمة الله إلي العباد .. اللهم أعز الإسلام بأحد العمرين.
--------------------------------------------
...তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে, সে যেন তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যায়।} (১)।
দ্বিতীয়ত: যুদ্ধের ময়দানে শত্রু:
সকল মুশরিক ও কাফির, যারা দাওয়াতের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় অথবা যারা ইসলামের ভূমির এক ইঞ্চি পরিমাণও জবরদখল করে।
১৫) যুদ্ধের ময়দানে: (রাতের বেলা ইবাদতগুজার, দিনের বেলা অশ্বারোহী যোদ্ধা)
এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে:
প্রথমত: দা’য়ীর রাত: আল্লাহ তা’আলা বলেন: {হে চাদর আবৃত! * রাতের কিছু অংশ বাদ দিয়ে সালাতে দাঁড়ান; * অর্ধেক রাত অথবা তার চেয়ে কিছু কম করুন; * অথবা তার চেয়ে বাড়িয়ে দিন এবং ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করুন; * নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করব; * নিশ্চয়ই ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দমনে অধিক সহায়ক এবং কথা বলার জন্য অধিক সঠিক সময়।} (২)।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে; তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।} (৩)
আল্লাহ তা’আলা বলেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রা যেত।} (৪) রাতের বেলা: হে আমার প্রতিপালক! আপনার বান্দারা.. আল্লাহর রহমতকে বান্দাদের প্রতি নিবিষ্ট করা.. হে আল্লাহ! দুই ওমরের যেকোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।
--------------------------------------------