(খণ্ড: ১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: -)
شرح التسهيل = تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد - ق 1 القسم: النحو والصرف
الكتاب: تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد [لابن مالك، القِسم الأول من الكتاب]
الشارح: محمد بدر الدين بن أبي بكر بن عمر الدماميني (763 - 827 هـ = 1362 - 1424 م)
المحقق: د. محمد بن عبد الرحمن بن محمد المفدى [ت 1445 هـ]
أصل هذا الكتاب: رسالة دكتوراه من كلية اللغة العربية بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية عام 1396 هـ= 1976 م في 4 مجلدات
الناشر: محقق الكتاب
عدد الأجزاء: 8 تِباعًا [واشتملت هذه النسخة الإلكترونية على الأربعة الأولى فقط]
الطبعة: الأولى (1403 - 1423 هـ) = (1983 - 2002 م)، [ثم أعاد المحقق نشره في طبعةٍ ثانية وثالثة بنفس توزيع الصفحات]
[تنبيهات]:
1 - للمحقق رحمه الله كتاب مفرد بعنوان «الدماميني حياته وآثاره ومنهجه في كتابه تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد» قال في مطلعه: هذه عجالة أضعها بين يدي كتابه "تعليق الفرائد" الذي قمت بتحقيق الجزء الأول منه، وقد علمْتُ أن أحد الإخوة الدارسين قام بتحقيق الجزء الثاني. اهـ باختصار
2 - مخطوط شرح الدماميني قُسِم إلى جُزأين، القسم الأول حَقّقه (د. محمد بن عبد الرحمن المفدى)، ونشره في 8 مجلدات مطبوعة، وينتهي بنهاية (باب إعمال المصدر)، ويَعدِل شرح نصف كتاب "التسهيل" لابن مالك. وأما القسم الثاني فيبدأ من (باب حروف الجر سوى المستثنى بها)، وحَقّقه (د. محمد السعيد عبد الله أحمد عامر) في رسالة دكتواره أيضًا بكلية اللغة العربية في جامعة الأزهر عام 1400 هـ= 1980 م في 4 مجلدات، ولم تُنشَر حتى 1447=2026 يَسَّر الله ذلك قريبًا
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 شعبان 1438
শারহুত তাসহিল = তালীকুল ফারায়েদ আলা তাসহিলিল ফাওয়ায়িদ - খণ্ড ১ বিভাগ: নাহু ও সরফ (আরবি ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
কিতাব: তালীকুল ফারায়েদ আলা তাসহিলিল ফাওয়ায়িদ [ইবন মালিক রচিত কিতাবের প্রথম অংশ]
ব্যাখ্যাকার: মুহাম্মদ বদরুদ্দিন বিন আবু বকর বিন উমর আদ-দামামিনি (৭৬৩ - ৮২৭ হিজরি = ১৩৬২ - ১৪২৪ খ্রিস্টাব্দ)
সম্পাদক (মুহাক্কিক): ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মুফাদ্দা [মৃত্যু ১৪৪৫ হিজরি]
এই কিতাবটির মূল উৎস: এটি ১৩৯৬ হিজরি = ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদ থেকে প্রাপ্ত ৪ খণ্ডের একটি পিএইচডি থিসিস
প্রকাশক: কিতাবের সম্পাদক (মুহাক্কিক)
খণ্ড সংখ্যা: পর্যায়ক্রমে ৮টি [এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে শুধুমাত্র প্রথম চারটি খণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]
সংস্করণ: প্রথম (১৪০৩ - ১৪২৩ হিজরি) = (১৯৮৩ - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ), [পরবর্তীতে সম্পাদক এটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণে একই পৃষ্ঠা বিন্যাসে পুনরায় প্রকাশ করেছেন]
[সতর্কতাসমূহ]:
১ - সম্পাদকের (রহিমাহুল্লাহ) একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে যার শিরোনাম হলো «আদ-দামামিনি: তাঁর জীবন, কর্ম এবং তালীকুল ফারায়েদ আলা তাসহিলিল ফাওয়ায়িদ গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি»। তিনি এর শুরুতে বলেছেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা যা আমি তাঁর "তালীকুল ফারায়েদ" কিতাবের শুরুতে পেশ করছি, যার প্রথম অংশ আমি সম্পাদনা করেছি। আর আমি জানতে পেরেছি যে জনৈক গবেষক ভাই এর দ্বিতীয় অংশটি সম্পাদনা করেছেন। — সংক্ষেপিত সমাপ্তি
২ - দামামিনির ব্যাখ্যার পাণ্ডুলিপিটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশটি সম্পাদনা করেছেন (ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুফাদ্দা) এবং এটি ৮টি মুদ্রিত খণ্ডে প্রকাশ করেছেন, যা (বাব ই’মালুল মাসদার) অধ্যায়ের সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছে এবং এটি ইবন মালিকের "আত-তাসহিল" কিতাবের অর্ধেক ব্যাখ্যার সমতুল্য। আর দ্বিতীয় অংশটি (ব্যতিক্রম করা হয়েছে এমনগুলো বাদে হরফে জরের অধ্যায়) থেকে শুরু হয়েছে, এবং এটিও ড. মুহাম্মদ আল-সাঈদ আব্দুল্লাহ আহমাদ আমির কর্তৃক ১৪০০ হিজরি = ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদে ৪ খণ্ডের একটি পিএইচডি থিসিস হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে। এটি ১৪৪৭ হিজরি = ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি, আল্লাহ শীঘ্রই তা সহজ করে দিন।
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدمة الشارحبسم الله الرحمن الرحيم
[وبه نستعين] وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم. يقول العبد الفقير إلى المولى الغني محمد بن أبي بكر بن عمر المخزومي الدماميني {المالكي} - عامله الله بلطفه الخفي وبره الخفي -: اللهم وإياك نحمد على نعم توجهت الآمال إلى نحوها فأسعفتها بتسهيل الفوائد، وشكت ما تلقاه من نقص الحظ فأسعدتها بتكميل المقاصد، ونشكرك على تصريفك لنا في خدمة كلمة الإسلام، وتوفيقك وإيانا إلى توحيدك الذي تكل عن وصف فضله المفرد جملة الكلام، ونسألك أن تشرح صدورنا بأنوار هدايتك فهي أعظم مطلوب، وتبعدنا عن مساوئ الأفعال الناقصة، وتسعدنا بمحاسن أفعال القلوب. ونشهد ألا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك، تعاليت أن تكون لك صفة مشبهة، ولم يحظ بذاتك ظرف الزمان ولا ظرف المكان، وأنى وهي عن سمات الحدوث منزهة؟ ، أنت الفاعل لما تختار، وكل شيء مفعول بقدرتك وإرادتك، ولا كائنة عند ذوي التمييز إلا وجمع أحوالها متعلقة بمشيئتك. ونشهد
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[এবং আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি] এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অভাবমুক্ত প্রভুর নিকট অভাবী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে উমর আল-মাখজুমি আদ-দামামিনি {আল-মালিকি}—আল্লাহ তাঁর সাথে তাঁর নিগূঢ় করুণা ও গোপন দয়া দ্বারা আচরণ করুন—বলছেন: হে আল্লাহ, আমরা কেবল আপনারই প্রশংসা করছি সেই সব নিয়ামতের ওপর যার প্রতি আশা-আকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ হয়েছিল, আর আপনি উপকারসমূহ প্রাপ্তি সহজতর করার মাধ্যমে সেগুলোকে সিক্ত করেছেন; এবং যখন সেগুলো ভাগ্যের অপ্রতুলতার অভিযোগ করেছিল, তখন আপনি উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণ করার মাধ্যমে সেগুলোকে সুখী করেছেন। আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করছি ইসলামের বাণী খেদমতে আমাদের নিয়োজিত করার জন্য এবং আপনার সেই তাওহীদের প্রতি আমাদের তাওফীক প্রদানের জন্য, যার অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় সমগ্র বাক্যসমষ্টিই অক্ষম হয়ে পড়ে। আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার হেদায়াতের নূর দ্বারা প্রশস্ত করে দেন, কেননা তা-ই সর্বশ্রেষ্ঠ কাম্য; এবং আমাদের অপূর্ণাঙ্গ কার্যাবলির মন্দগুলো থেকে আমাদের দূরে রাখেন এবং অন্তরের সৎ কাজগুলোর মাধ্যমে আমাদের সৌভাগ্যমণ্ডিত করেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই; সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো গুণাবলি থাকা থেকে আপনি অনেক ঊর্ধ্বে, আর আপনার সত্তাকে কালের আধার কিংবা স্থানের আধার পরিবেষ্টন করতে পারে না; আর তা হবেই বা কীভাবে, অথচ আপনার সত্তা নতুন সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পবিত্র? আপনি যা ইচ্ছা করেন তার কর্তা আপনিই এবং আপনার কুদরত ও ইচ্ছায় সবকিছুই সংঘটিত হয়; আর বিচক্ষণ ব্যক্তিদের দৃষ্টিতে এমন কোনো বিদ্যমান বস্তু নেই যার যাবতীয় অবস্থা আপনার ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أن محمدًا عبدك ورسولك العلم الذي هديت بمعارفه إلى الحق اليقين، وأنزلت عليه القرآن بلسان عربي مبين، ذو النسب الشريف الذي لشأنه التكبير ولشانئه التصغير، والدين الحنيف الذي نجا محالفوه وهلك مخالفوه، فانقسموا إلى جمع السلامة وجمع التكسير. ونصلي عليه وعلى آله وصحبه الذين جروا بميدان العربية فحولا لا يلحق لهم غبار، ورووا جمل أخبار الدين المفيدة فكان الرفع ثابتا لمحل تلك الأخبار، صلاة لا تزال الألسنة تجزم بفضلها وتعترف، ويدوم لقائها أحسن العيش ولا ينصرف، اللهم فأدم صلاتك عليه وعليهم، ووال تحياتك الطيبات واصلة إليه وإليهم.
وبعد فلا يخفى أن الكتاب المسمى: بـ "تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد" تأليف الإمام العالم مالك/ أزمة الفضائل وابن مالكها، السالك من طرق العربية في أفسح مسالكها، ملك النجاة جمال الدين أبي عبد الله محمد بن مالك - رضوان الله عليه - كتاب جمع الفوائد جمع كثرة، وأفصحت كلماته التي غلبت قيمتها فكان كل كلمة منه درة، لا ينازع في فضله من دخل من باب الاشتغال إليه، وإذا عد غيره من الفضلات فلا شك في أن العمدة عليه، طالما جاد بالنفع المتعدي فكان شكره لازما، وعد حازما من كان بإسكانه في منازل التقدم جازما، جمع بين براعة العبارة والتنقيح، واعتنى بالإيجاز فاغتنى بالتلويح عن التوضيح، وحشا أصداف المسامع دررا لا عهد لها بمثلها، فظن بعض الطاغين أنه سار في صعب الطرق وفي الواقع لم يسر
নিশ্চয়ই মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল, সেই আলোকবর্তিকা যাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত সত্যের দিকে পথ দেখিয়েছেন; এবং আপনি তাঁর ওপর সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। তিনি সেই মহান বংশমর্যাদার অধিকারী যাঁর শান বা মর্যাদাকে বড় করে দেখা হয় এবং তাঁর বিদ্বেষ পোষণকারীকে তুচ্ছ করা হয়। আর তিনি সেই সহজ-সরল দ্বীন নিয়ে এসেছেন যাতে তাঁর অনুসারীরা মুক্তি পেয়েছে এবং বিরোধীরা ধ্বংস হয়েছে; ফলে তারা সুরক্ষিত দল এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আমরা দরূদ পাঠ করি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁরা আরবি ভাষার ময়দানে এমন শ্রেষ্ঠ বীর হিসেবে বিচরণ করেছেন যে কেউ তাঁদের ধুলিকণা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তাঁরা দ্বীনের এমন সব উপকারী সংবাদ বর্ণনা করেছেন যার ফলে সেই সংবাদগুলোর উচ্চমর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন দরূদ যার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে রসনা সর্বদা দৃঢ়তা প্রকাশ করে এবং তা স্বীকার করে; আর যার সান্নিধ্য সর্বোত্তম জীবন হিসেবে স্থায়ী হয় এবং কখনো বিলীন হয় না। হে আল্লাহ, আপনি তাঁর ও তাঁদের ওপর আপনার রহমত সর্বদা বজায় রাখুন এবং আপনার পবিত্র অভিবাদনসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁর ও তাঁদের কাছে পৌঁছে দিন।
অতঃপর, এটি অবিদিত নয় যে, 'তাসহীলুল ফাওয়ায়িদ ওয়া তাকমীলুল মাকাসিদ' নামক গ্রন্থটি—যিনি শ্রেষ্ঠত্বের লাগাম ধারণকারী ও তার মালিকের তনয়, আরবি ভাষার প্রশস্ততম পথসমূহের পথিক, মুক্তির অধিপতি জামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর রচনা—এমন এক গ্রন্থ যা প্রচুর উপকারিতাকে বিপুল পরিমাণে একত্রিত করেছে। এর শব্দগুলো অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং এর প্রতিটি শব্দই এক একটি অমূল্য মুক্তা। যে ব্যক্তি এর জ্ঞানচর্চার দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে, সে এর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো বিতর্ক করবে না। যখন অন্য বইগুলোকে অতিরিক্ত বা পরিপূরক হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন নিঃসন্দেহে এই বইটিই মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি দীর্ঘকাল যাবৎ ব্যাপক কল্যাণ দান করে আসছে, তাই এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা অপরিহার্য। যে ব্যক্তি একে অগ্রগণ্য স্থানে রাখার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করেছে তাকেই বিচক্ষণ গণ্য করা হয়। এটি সাবলীল প্রকাশভঙ্গি ও পরিমার্জনের সমন্বয় ঘটিয়েছে এবং সংক্ষেপণের প্রতি এমন যত্নশীল হয়েছে যে ঈঙ্গিত প্রদানের মাধ্যমেই তা বিস্তারিত ব্যাখ্যার অমুখাপেক্ষী হয়ে উঠেছে। এটি শ্রোতাদের কর্ণকুহরকে এমন সব অনন্য মুক্তা দিয়ে পূর্ণ করেছে যার উদাহরণ আগে ছিল না; ফলে কিছু বিভ্রান্ত ব্যক্তি মনে করেছিল যে তিনি দুর্গম পথে চলছেন, অথচ বাস্তবে তিনি তা করেননি।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلا في سهلها وإنما أتى الطاعن من قبل غموض العبارة عن نظرة القاصر، ومني بضعف الإدراك وفقد الإسناد فأصبح لا قوة له ولا ناصر.
هذا: وإني لما قدمت في أواخر شعبان المكرم من سنة عشرين وثمانمائة إلى كنباية من حاضرة الهند- عمرها الله (تعالى) بالإسلام وشاد أرجاءها بالأئمة الأعلام- وجدت فيها هذا الكتاب مجهولا لا يعرف، ونكرة لا تتعرف، قل من يشعر باسمه أو مسماه، أو يلمحه بالنظر فيكشف معماه ولا يجد المرء هناك منه ولا له أصلا ولا شرحا، ولا يبرح المتلفت إلى ورود مناهله يكابد ظمأ برحا، واتفق أني استصحبت منه السفر نسخة واحدة تخذتها رأس مال للنظر، وكانت بالفوائد على عائدة، ورآها بعض الطلبة قلمحها بعين الإحسان، وناجاه لسانها بألفاظ عذبة، فذاق منها حلاوة اللسان، إلا أنه رأى في كثير من الأماكن أبكار معان تحجبت بأبواب معلقة، فسألني أن أشرح هذا الكتاب شرحا يفتح أبوابه، ويذلل صعابه، ويجلو
তবে তার সহজ বিষয়গুলো ছাড়া। মূলত সমালোচক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও শব্দশৈলীর অস্পষ্টতার কারণেই এই পথে এসেছে, এবং সে বোধশক্তির দুর্বলতা ও সনদের অভাবজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে; ফলে সে শক্তিহীন ও সাহায্যহীন হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি হলো: যখন আমি আটশত বিশ হিজরী সনের সম্মানিত শাবান মাসের শেষ দিকে হিন্দুস্তানের প্রধান শহরসমূহের অন্যতম কাম্বে (খাম্বাত) নগরে উপনীত হলাম—আল্লাহ তাআলা একে ইসলামের মাধ্যমে আবাদ রাখুন এবং প্রখ্যাত ইমামগণের মাধ্যমে এর দিগন্তকে সমুজ্জ্বল করুন—তখন আমি সেখানে এই কিতাবটিকে অপরিচিত ও অজ্ঞাত অবস্থায় পেলাম। এটি এমন এক নিভৃত বস্তু ছিল যা কেউ চিনত না। খুব কম লোকই এর নাম বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা রাখত, অথবা এর দিকে দৃষ্টিপাত করত যাতে এর রহস্য উন্মোচন করা যায়। সেখানে কোনো ব্যক্তি এর মূল পাঠ বা এর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ খুঁজে পেত না। যে ব্যক্তি এর জ্ঞান-উৎস থেকে তৃষ্ণা মেটাতে চাইত, সে সর্বদা তীব্র তৃষ্ণায় ছটফট করত। ঘটনাক্রমে, সফরের সময় আমার কাছে এর একটি পাণ্ডুলিপি ছিল যা আমি গবেষণার মূলধন হিসেবে সাথে রেখেছিলাম এবং তা ছিল অত্যন্ত ফায়দাজনক। কিছু ছাত্র সেটি দেখার সুযোগ পেলেন এবং তারা একে অত্যন্ত সমাদরের দৃষ্টিতে দেখলেন। এর প্রাঞ্জল ভাষা তাদের মুগ্ধ করল এবং তারা এর বাচনভঙ্গির মিষ্টতা আস্বাদন করলেন। তবে তারা এর অনেক স্থানে এমন নিগূঢ় অর্থসমূহ দেখতে পেলেন যা রুদ্ধ দ্বারের আড়ালে পর্দানশীন হয়ে ছিল। তখন তারা আমার কাছে অনুরোধ জানালেন যেন আমি এই কিতাবটির এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি যা এর রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেবে, এর কঠিন বিষয়গুলোকে সহজসাধ্য করবে এবং এর গূঢ় রহস্যসমূহকে স্পষ্ট করে তুলবে।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২০)
عرائسه للأفهام، ويعقد الخنصر على ما يكشفه من الإبهام فاعتذرت أولا بأني لست من رجال هذه الصناعة، وأن فكري في تحصيل فوائدها مزجى البضاعة، وثانيا بأن هموم الحوادث والغربة قد أجلبت على بخيلها ورجلها، وحملتني جبال أنكاد تفتت حصاة القلب من أجلها.
وثالثا بفقدان الشروح في هذه البلاد، وعزة ما أحتاج إليه من الكتب التي أفدي بياض أياديها بالسواد، حتى لقد وقعت على نسخة من شرح ابن قاسم أتى بها إلي من أواصل، فقلت: لعلي أذود بها عن مقاصد الكتاب وأصاول، وأستعين بها فيها- وإن كان يسيرا- على ما أنا له من الشرح أحاول. وراجعت النظر فإذا المرام الذي تخيلت مما تقصر عنه يد المتطاول لما في هذه النسخة من اختلال لا يرى معه الناظر لمقدمات القصد
উপলব্ধির নিকট এর নিগূঢ় সৌন্দর্যসমূহ প্রতিভাত হয় এবং এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ দৃঢ়ভাবে অনুধাবিত হয়। আমি প্রথমে এই বলে ওজর পেশ করলাম যে, আমি এই শাস্ত্রের পারদর্শী ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত নই এবং এর সারবত্তা আহরণে আমার মেধা অত্যন্ত নগণ্য। দ্বিতীয়ত, জাগতিক ঘটনাবলির উদ্বেগ ও প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে আমার ওপর চড়াও হয়েছে এবং আমার ওপর দুঃখ-কষ্টের এমন পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে, যার ভারে হৃদপিণ্ডের কঠিন শিলাও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।
তৃতীয়ত, এই ভূখণ্ডে ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের অভাব এবং আমার প্রয়োজনীয় কিতাবসমূহের দুষ্প্রাপ্যতা—যাদের পৃষ্ঠার শুভ্রতার কল্যাণে আমি আমার কালির কৃষ্ণতাকে উৎসর্গ করি। অবশেষে আমি ইবনে কাসিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি লাভ করলাম যা আমার এক সুহৃদ আমার নিকট নিয়ে এসেছিলেন। তখন আমি বললাম: সম্ভবত এর মাধ্যমে আমি কিতাবটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ রক্ষা ও সমর্থন করতে পারব এবং এর সাহায্যে—তা সামান্য হলেও—আমার কাঙ্ক্ষিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় সহায়তা লাভ করব। অতঃপর আমি পুনরায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম এবং দেখলাম যে, আমার অভীষ্ট লক্ষ্যটি এমন স্তরের যা কোনো উচ্চাভিলাষী ব্যক্তির সাধ্যাতীত; কেননা এই পাণ্ডুলিপিটি এমন বিচ্যুতি ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ যে, কোনো পর্যবেক্ষকের পক্ষে এর মূল উদ্দেশ্যের সূত্রপাতটুকু অনুধাবন করাও সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২১)
إنتاجا، وسقم لا يجد له طبيب الفهم دواء ولا يستطيع له علاجا، فكيف لي مع هذه المهالك بالوصول إلى ذلك المطلب؟ وأني أظفر بتذليل الصعاب وقد عز ما أتطلب؟ وبينما أنا أقدم في الإجابة رجلا وأؤخر أخرى، وأسوف الطالبين بالنجاز، والتسويف بالفقير أحرى، وأخشى معرة الفضيحة، وأؤثر الستر على القريحة القريحة، وأعلم أن أعراض المصنفين أغراض لسهام ألسنة الحساد، وأن حقائب تصانيفهم معرضة لأيدي النظار تنتهب فوائدها ثم ترميها بالكساد. والفكر يشير إلى أن الإجابة ربما تبرد كبدا حرى، وأن التأليف ربما انتفع به فأجرى لصاحبه أجرا، فابتهجت بتلك الإشارة وانتهجت طريقها التي أهدت لطائف البشارة، وأقبلت على إسعاف الطالب بمطلوبة، وأعرضت على الجارين على نهج الحسد/وأسلوبه، وقلت: هب كلا بذل في متابعة الهوى مقدوره، والتهب حسدا ليطفئ نور البدر ويأبى الله إلا أن يتم نوره فهل هي إلا منحة أهداها الحاسد من حيت لا يشعر، وفعلة ظن أنها تطوي جميل الذكر فإذا هي تنشر؟ :
...উৎপাদন এবং এমন এক ব্যাধি যার জন্য প্রজ্ঞাবান চিকিৎসক কোনো ঔষধ খুঁজে পান না এবং যার কোনো চিকিৎসা করতে সক্ষম হন না। এমতাবস্থায় এই ধ্বংসাত্মক বিপত্তিগুলোর মাঝে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো আমার জন্য কীভাবে সম্ভব? আর আমি কীভাবে এই কঠিন বাধাগুলো জয় করার গৌরব অর্জন করব, অথচ যা আমি অন্বেষণ করছি তা অত্যন্ত দুর্লভ? আমি যখন উত্তর প্রদানের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম—এক পা এগোচ্ছিলাম তো অন্য পা পেছাচ্ছিলাম—এবং অন্বেষণকারীদের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালক্ষেপণ করছিলাম (আর নিঃস্ব ব্যক্তির পক্ষে কালক্ষেপণ করাই অধিকতর সমীচীন), তখন আমি লাঞ্ছনার কলঙ্ককে ভয় পাচ্ছিলাম এবং নিজের মেধা প্রকাশের চেয়ে গোপন রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছিলাম। আমি জানতাম যে, গ্রন্থকারদের সম্মান হলো হিংসুকদের জিহ্বারূপী তীরের লক্ষ্যবস্তু এবং তাদের রচনাবলির ভাণ্ডার পাঠকদের দৃষ্টির সামনে উন্মুক্ত, যারা এর উপকারিতাগুলো লুটে নেয় এবং পরবর্তীতে তা অচল বলে ছুড়ে ফেলে দেয়। তবে চিন্তা এই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, উত্তর প্রদান হয়তো কোনো দগ্ধ কলিজাকে শীতল করবে এবং গ্রন্থ রচনা হয়তো কারো উপকারে আসবে, ফলে তা তার রচয়িতার জন্য সওয়াব জারি রাখবে। তাই আমি সেই ইঙ্গিতে আনন্দিত হলাম এবং সেই পথ অনুসরণ করলাম যা সুসংবাদের সূক্ষ্ম বার্তা প্রদান করেছে। আমি অন্বেষণকারীর চাহিদা পূরণে মনোনিবেশ করলাম এবং যারা হিংসার পথে পরিচালিত হয় তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। আমি বললাম: মনে করো, প্রত্যেকেই নিজ নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করল এবং পূর্ণিমার চাঁদের আলো নেভানোর জন্য হিংসার আগুনে জ্বলে উঠল; কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না। সুতরাং এটি কি হিংসুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে না বুঝেই দেওয়া এক উপহার নয়? এটি কি এমন এক কাজ নয় যা সম্পর্কে সে ভেবেছিল যে তা সুন্দর সুখ্যাতিকে মিটিয়ে দেবে, অথচ তা প্রকৃতপক্ষে একে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে?
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإذا أراد الله نشر فضيلة
… طويت أتاح لها لسان حسود
ولما تحرك العزم لإسكان هذا الشرح في منازل الوجود، وسمح الفكر به يبذل ما هو عنده من الفوائد موجودة، وشاء الله أن يكون أفق الهند منشأ لظهوره، وسماء لطلوع بدره وسفوره، رأيت أن أتوسل به إلى الوفادة إلى الأرض التي نشأ فيها وربا في حجور نواحيها على ما أناخت بأبوابه ركائب الوفود، وصدرت عنه مملوءة الحقائب بعجائب الكرم والجود، إمام العصر الذي تقدم فقامت الرعايا صفوفا على أقدام الطاعة لإمامته، وخلف السلف الماضين في العدل والإحسان فأدام الله أيام خلافته، سلطان العالم الذي أصاب بسهام آرائه الشريفة أشرف الأغراض، وسما عرضه النقي إلى أن أصبح كالجوهر بين الأعراض، وقضى عدله لقطر الإسلام بالعمارة وعلى ديار الكفر بالخراب، وأورد العفاة مناهل كرمه الصافية وصير شراب العداة كالسراب، وإن
আর যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটাতে চান
… তখন তিনি তার জন্য একজন হিংসুকের জিহ্বাকে উপলক্ষ করে দেন।
আর যখন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে অস্তিত্বের আলয়ে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প জাগ্রত হলো এবং মেধা একে এর কাছে বিদ্যমান ফায়দাসমূহ বিলিয়ে দেওয়ার অনুমতি প্রদান করল, আর আল্লাহ চাইলেন যে ভারতের দিগন্তই হোক এর বিকাশের কেন্দ্রস্থল এবং এর পূর্ণিমার উদয় ও প্রকাশের আকাশ; তখন আমি একে উসিলা করে সেই ভূখণ্ডে গমনের সংকল্প করলাম যেখানে তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন এবং যার জনপদের কোলে তিনি বড় হয়েছেন। যেখানে আগত প্রতিনিধিদলের বাহনসমূহ তাঁর দ্বারে এসে মস্তক অবনত করে এবং তাঁর নিকট হতে দান ও বদান্যতার বিস্ময়কর প্রাচুর্যে থলে পূর্ণ করে প্রস্থান করে। তিনি বর্তমান যুগের সেই ইমাম যিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন, ফলে প্রজাসাধারণ তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের পায়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার ক্ষেত্রে অতীত পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁর খিলাফতের দিনগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করুন। তিনি বিশ্বের সেই সুলতান যিনি তাঁর সুতীক্ষ্ণ চিন্তারূপ তীরের মাধ্যমে মহান লক্ষ্যসমূহ ভেদ করেছেন। তাঁর পবিত্র মর্যাদা এত উঁচুতে আরোহণ করেছে যে, তা অপরাপর গুণাবলির মাঝে মণির ন্যায় দেদীপ্যমান হয়েছে। তাঁর ন্যায়বিচার ইসলামের ভূখণ্ডসমূহকে আবাদ করার এবং কুফরের আবাসসমূহকে ধ্বংস করার ফয়সালা দিয়েছে। তিনি প্রার্থীদের তাঁর স্বচ্ছ দানশীলতার ঝরনাধারায় সিক্ত করেছেন এবং শত্রুদের পানীয়কে মরীচিকায় পরিণত করেছেন। আর...
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صعبت مقاصد المقترين فبيده أزمة التسهيل والمنح، وإن أغلقت دونهم أبواب المكارم فهو على الحقيقة أبو الفتح، مولانا السلطان الأعظم، ملاذ سلاطين العرب والعجم، حامي بيضة الإسلام، ماحي ظلم الظلم بنور العدل في الأحكام، عالم السلاطين سلطان العلماء، عظيم السادات سيد العظماء، المؤيد بالنصر والفتح المبين، ناصر الملة والحق والدين، أبي الفتح أحمد شاه السلطان بن السلطان محمد شاه بن السلطان مظفر شاه رضي الله عنه وأرضاه):
إمام أحاديث العلا عنه أسندت
… فبادر لكي تروي لأحمد مسندا
حياة لمظلوم هلاك لظالم
… فبالبأس والإحسان أشقى وأسعدا
فكم من عفاة نحوه قد ترددت
… على أنه في برهم ما تردد
ولم تحو أخبار السلاطين غاية
… من الرفع إلا كان في المحال مبتدا
لقد وزن الأفعال بالعدل دائما
… وعرف أسبابا تنجي من الردى
فلم ينصرف عن رتبة الفضل إذ أتى
… بوزن وتعريف أبانا عن الهدى
وتلك رأيناها لأحمد سنة
… فعد لحماه تشهد العود أحمدا
جعل الله المماليك منظومة في سلك ملكه، وأقطار الأرض جارية في حوزه
অভাবীদের লক্ষ্যসমূহ কঠিন হয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় তাঁর হাতেই রয়েছে সহজীকরণ ও দানের চাবিকাঠি। আর যদি তাদের সামনে মহানুভবতার দ্বারসমূহ রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে তিনিই প্রকৃতপক্ষে বিজয়ের চাবিকাঠি (আবুল ফাতহ)। আমাদের মহান সুলতান, আরব ও অনারব সুলতানদের আশ্রয়স্থল, ইসলামের ভূখণ্ডের রক্ষক, বিচারকার্যে ইনসাফের নূর দ্বারা জুলুমের অন্ধকার বিদূরণকারী, সুলতানদের মাঝে মহাজ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মাঝে সুলতান, শ্রেষ্ঠদের মাঝে মহান এবং মহানদের শ্রেষ্ঠ নেতা, যিনি ঐশ্বরিক সাহায্য ও সুস্পষ্ট বিজয় দ্বারা সমর্থিত, মিল্লাত, সত্য ও দ্বীনের সাহায্যকারী, আবুল ফাতহ আহমদ শাহ সুলতান ইবনে সুলতান মুহাম্মদ শাহ ইবনে সুলতান মুজাফফর শাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন):
উচ্চ মর্যাদার হাদীসসমূহ তাঁর থেকেই সনদপ্রাপ্ত হয়েছে
… সুতরাং আহমদের জন্য একটি মুসনাদ বর্ণনা করতে দ্রুত অগ্রসর হও।
তিনি মজলুমের জন্য জীবন এবং জালিমের জন্য মরণ
… প্রতাপ ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তিনি দুর্ভাগা ও সৌভাগ্যবান করেন।
কত প্রার্থীই না তাঁর দিকে বারবার ফিরে এসেছে
… অথচ তাদের প্রতি সদাচরণ করতে তিনি কখনও দ্বিধা করেননি।
সুলতানদের ইতিবৃত্ত উচ্চ মর্যাদার এমন কোনো চূড়ান্ত শিখর স্পর্শ করতে পারেনি
… যা তাঁর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক স্তর ছিল না।
তিনি সর্বদা কর্মসমূহকে ন্যায়ের মানদণ্ডে ওজন করেছেন
… এবং এমন সব পথ চিনেছেন যা বিনাশ থেকে মুক্তি দেয়।
শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা থেকে তিনি বিচ্যুত হননি যখন তিনি
… এমন ভারসাম্য ও পরিচয় তুলে ধরেছেন যা আমাদের নিকট সত্যপথকে স্পষ্ট করেছে।
আর আমরা আহমদের জন্য একে একটি রীতি হিসেবে দেখেছি
… সুতরাং তাঁর আশ্রয়ে ফিরে এসো, তবেই প্রত্যাবর্তনকে উত্তমরূপে দেখতে পাবে।
আল্লাহ তাআলা সকল রাজ্যকে তাঁর রাজত্বের সূত্রে গেঁথে দিন এবং পৃথিবীর সকল প্রান্তকে তাঁর শাসনাধীনে পরিচালিত করুন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفلكه، فحينئذ تركت الأقلام تسعى في كتابة هذا الشرح على الرؤوس، وطرزته برسم هذا السلطان الذي يثبت بوجوده كل سرور وينتفي كل بوس، وحسن عندي أن أتوسل بذلك إلى أبوابه الشريفة، وأتوصل إلى الدخول تحت ظلاله الوريفة، على أني على العجز والتقصير مجبول. وقد أبديت وجوه معذرتي والعذر عند كرام الناس مقبول.
وسميت هذا الشرح بـ "تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد" وبالله أستعين، في القول والعمل، وإياه أسأل أن يبلغنا من خير الدارين غاية الأمل بمنه ويمنه.
এবং তাঁর কক্ষপথ; তখন আমি কলমসমূহকে অত্যন্ত সসম্মানে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনায় ব্যাপৃত হওয়ার অবকাশ দিলাম। আমি একে সেই সুলতানের অভিধায় অলঙ্কৃত করেছি যার অস্তিত্বের বরকতে সকল আনন্দ সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকল দুঃখ-কষ্ট তিরোহিত হয়। আমার নিকট এটিই শ্রেয় প্রতীয়মান হয়েছে যে, এর মাধ্যমে আমি তাঁর সুমহান দরবারে নিবেদন পেশ করব এবং তাঁর প্রশস্ত ছায়াতলে প্রবেশের উপায় অন্বেষণ করব; যদিও আমি স্বভাবগতভাবেই অক্ষমতা ও ত্রুটির আবর্তে সীমাবদ্ধ। আমি আমার অপারগতার দিকসমূহ ব্যক্ত করেছি, আর মহানুভব ব্যক্তিদের নিকট ক্ষমা সর্বদাই গ্রহণীয়।
আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নামকরণ করেছি ‘তালীকুল ফারায়েদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ’। আমি কথা ও কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট এই নিবেদন করছি যে, তিনি যেন তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও আশীর্বাদে আমাদের উভয় জগতের কল্যাণের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা পূর্ণ করেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولنقدم أمام الشرح كلاما يتعلق بترجمة المصنف فنقول:
هو الإمام العلامة المقرئ النحوي اللغوي الحافظ المشهود بجلالة القدر ورفعة الدرجة جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله (ابن محمد بن عبد الله) أيضا ابن مالك الطائي الأندلسي الجياني (بجيم مفتوحة وياء مثناة من تحت مشددة فألف فنون فياء) (نسب) (نسبة إلى جيان) بلد من بلاد الأندلس. ولد في / سنة ستمائة، ونشأ واعتنى بعلوم
ব্যাখ্যার প্রারম্ভে গ্রন্থকারের জীবনী সম্পর্কে কিছু আলোচনা পেশ করছি, অতঃপর আমরা বলছি:
তিনি হলেন ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, ক্বারী, নাহুবিদ, ভাষাবিদ, হাফেজ, যার সুউচ্চ মর্যাদা ও উচ্চ মাকাম সর্বজনবিদিত; জামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (ইবনে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ), তিনি ইবনে মালিক আত-তায়ী আল-আন্দালুসী আল-জিয়ানী (জীম বর্ণটি জবরযুক্ত, এবং পরবর্তী ইয়া বর্ণটি তাশদীদযুক্ত ও নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট, এরপর আলিফ, নূন ও ইয়া সহকারে) নামে পরিচিত। (এই নিসবত বা উপাধিটি জিয়ানের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত), যা আন্দালুসের শহরগুলোর মধ্যে একটি। তিনি হিজরী ছয়শত সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন ও জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৬)
العربية فأتقنها ونبغ فيها، وحاز قصب السبق، وغرب ثناؤه وشرق، وتناقلت الركبان حديث فضله حجازا وعراقا:
فسار به من لا يسير مشمرا
… وغنى به من لا يغنو مغردا
ارتحل على حماة من البلاد الشامية، وأقام بها مدة ونشر بها علما جما، ثم استوطن دمشق، وعكف بها على الإفادة وانتفع به خلائق، ولم يزل على ذلك إلى أن توفى بها في شعبان سنة اثنين وسبعين (بالياء الموحدة) وستمائة - رحمة
তিনি আরবি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন এবং এতে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর প্রশংসা পশ্চিমে ও পূর্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হিজাজ থেকে ইরাক পর্যন্ত ভ্রমণকারীরা তাঁর পাণ্ডিত্যের কথা আলোচনা করত:
যিনি দ্রুতগামী নন তিনিও একে বহন করে পথ চলেছেন
… আর যিনি গায়ক নন তিনিও সুর মিলিয়ে গেয়েছেন।
তিনি সিরিয়ার হামাত শহরে সফর করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে প্রভূত জ্ঞান প্রচার করেন। এরপর তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে জ্ঞান বিতরণে নিবিষ্ট থাকেন। অসংখ্য মানুষ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছিল। তিনি মৃত্যু অবধি এভাবেই অতিবাহিত করেন এবং পরিশেষে ৬৭২ হিজরি সনের শাবান মাসে সেখানেই ইন্তেকাল করেন - আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الله (تعالى) عليه - ودفن بفسح جبل قاسيون. وقال صاحبه الشيخ الإمام بهاء الدين (بن) النحاس الحلبي رحمه الله يرثيه:
قل لابن مالك ان جرت بك ادمعي
… حمرا يحاكيها النجيع القاني
فلقد جرحت (القلب) حين نعيت لي
… فتدفقت بدمائه أجفاني
لكن يسهل ما أحس من الأسى
… علمي بنقلته إلى رضوان
فسقى ضريحا ضمه صوب الحيا
… تهمي له بالروح والريحان
قرأ النحو والقراءات على ثابت بن محمد بن يوسف بن خيار أبي
আল্লাহ (তাআলা) তাকে রহমত করুন - এবং তাকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়। আর তার সাথী শায়খ ইমাম বাহাউদ্দিন (ইবনুন) নাহহাস আল-হালাবি (রহিমাহুল্লাহ) তার শোকগাথা বর্ণনা করে বলেন:
ইবনে মালিককে বলো, যদি তোমার জন্য আমার অশ্রু প্রবাহিত হয়
… তবে তা হবে লাল বর্ণের, যা গাঢ় রক্তকেও হার মানায়
নিশ্চয়ই তুমি (হৃদয়কে) ক্ষতবিক্ষত করেছ যখন আমাকে তোমার মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়েছিল
… ফলে আমার চোখের পাতাগুলো রক্তে প্লাবিত হয়েছে
তবে আমি যে শোক অনুভব করছি তা সহজ করে দেয়
… তার (আল্লাহর) সন্তুষ্টির দিকে স্থানান্তরের ব্যাপারে আমার জ্ঞান
অতঃপর জীবনদায়ী বৃষ্টি যেন সেই কবরকে সিক্ত করে যা তাকে ধারণ করেছে
… যা তার জন্য প্রশান্তি ও সুগন্ধি নিয়ে বর্ষিত হয়
তিনি নাহু (ব্যাকরণ) এবং কিরাতসমূহ সাবিত বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন খিয়ার আবুর নিকট পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طاهر الكلاعي اللبلي، وقرأ كتاب سيبويه علي بن أبي المرشاني.
তাহের আল-কালাঈ আল-লাবালী, এবং আলী বিন আবি আল-মারশানী সিবওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن مشايخه ابن يعيش شارح " المفصل"، لازمه مدة ثم حضر عند تلميذه ابن عمرون فأعجب به وترك مجلس ابن يعيش.
ويقال: أنه جلس عند أبي علي الشلوبين بضعة عشر يوما.
قلت: وقد ذكر الشيخ تاج الدين التبريزي في أواخر شرحه "للحاجبية النحوية" أن ابن مالك جلس في حلقة تدريس ابن الحاجب رحمه الله -
তাঁর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ‘আল-মুফাসসাল’-এর ব্যাখ্যাকার ইবনু ইয়ায়িশ; তিনি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর ছাত্র ইবনু আমরুনের মজলিসে উপস্থিত হন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হন, ফলে তিনি ইবনু ইয়ায়িশের মজলিস ত্যাগ করেন।
আরও বলা হয় যে, তিনি আবু আলী আশ-শালুবিনের নিকট দশ দিনের কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন।
আমি বলছি: শেখ তাজউদ্দীন আত-তাবরিজি তাঁর ‘আল-হাজিবিয়্যাহ আন-নাহউইয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যার শেষাংশে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু মালিক ইবনুল হাজিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর পাঠদান মজলিসে বসেছিলেন—
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأخذ عنه (واستفاد منه)، ولم أقف على ذلك لغيره، ولا أدري من أين أخذه والله أعلم بحقيقة الحال.
ومن تصانيفة " الإعلام بمثلث الكلام" كتاب بديع في بابه و "التوضيح في إعراب أشياء من مشكلات البخاري" أبان فيه عن اطلاع واسع ومادة غزيرة، و"قصدته الطائية" في الفرق بين الظاء والضاد، وشرحها، و "قصيدته اللامية" في أبنية الأفعال و "عمدته" في النحو وشرحها، وأرجوزته الكبرى المسماة "الكافية الشافية" وشرحها، وأرجوزته المختصرة من الكبرى (وتعرف) بـ "الألفية"، وجل اشتغال الطلبة المصريين في هذا
তিনি তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন (এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন), আমি অন্য কারো ক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য করিনি এবং আমি জানি না তিনি এটি কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন; আর আল্লাহই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে "আল-ইলাম বি মুথাল্লাতিল কালাম", যা নিজ বিষয়ে এক অনুপম গ্রন্থ; এবং "আত-তাওদিহ ফি ই'রাবি আশইয়া মিন মুশকিলাতিল বুখারি", যাতে তিনি ব্যাপক পাণ্ডিত্য ও প্রচুর তথ্য-উপাদানের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন; এবং 'জা' ও 'দদ' বর্ণের পার্থক্যের বিষয়ে তাঁর "কাসিদা আত-তাঈয়্যাহ" ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এবং ক্রিয়া গঠনের ওপর তাঁর "কাসিদা আল-লামিয়্যাহ"; এবং নাহু শাস্ত্রে তাঁর "উমদাহ" ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এবং তাঁর বৃহৎ উরজুযাহ যার নাম "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এবং বড় গ্রন্থটি থেকে সংক্ষিপ্তকৃত তাঁর উরজুযাহ (যা পরিচিত) "আল-আলফিয়্যাহ" নামে; আর মিশরীয় ছাত্রদের অধিকাংশ ব্যস্ততা এই গ্রন্থটি নিয়েই।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الزمان بها. قال ابن رشيد:
ونظم رجزا في النحو عظيم الفائدة تستعمله المشارقة، ثم نثره في كتابه المسمى: بـ "الفوائد النحوية والمقاصد المحوية"، ثم صنف كتابه: "تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد"، تسهيلا لذلك الكتاب وتكميلا، وإنه لاسم طابق مسماه وعلم وافق معناه، غير أنه في بعض الأبواب يقصر عن معتاده ويترك ما ارتهن في إيراده، فسبحان المتفرد بالكمال.
قلت: وقد قرظ سعد الدين بن العربي الصوفي رحمه الله الكتاب المذكور المسمى "بالفوائد النحوية" فقال:
إن الإمام جمال الدين فضله
… إلهه ولنشر العلم أهله
কাল পরিক্রমায়। ইবনে রুশাইদ বলেন:
তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী একটি রাজজ (কবিতা) রচনা করেছেন যা প্রাচ্যের অধিবাসীরা ব্যবহার করেন। এরপর তিনি সেটিকে গদ্যে রূপান্তর করেন তাঁর 'আল-ফাওয়াইদুন নাহবিয়্যাহ ওয়াল মাকাসিদুল মাহবিয়্যাহ' নামক গ্রন্থে। অতঃপর তিনি 'তাসহীলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমীলুল মাকাসিদ' গ্রন্থটি রচনা করেন সেই পূর্বোক্ত গ্রন্থটিকে সহজ ও পূর্ণাঙ্গ করার উদ্দেশ্যে। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন এক নাম যা তার নামধারী বিষয়ের সাথে হুবহু মিলে যায় এবং এমন এক জ্ঞান যা তার অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে তিনি কিছু কিছু অধ্যায়ে তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং যা উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল তা বর্জন করেছেন। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র যিনি এককভাবে পূর্ণতার অধিকারী।
আমি বলছি: সূফী সা'দ উদ্দিন ইবনুল আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লিখিত 'আল-ফাওয়াইদুন নাহবিয়্যাহ' নামক গ্রন্থটির প্রশংসা করে বলেছেন:
নিশ্চয়ই ইমাম জামাল উদ্দিনকে তাঁর ইলাহ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন
… এবং জ্ঞান বিস্তারের জন্য তাঁকে উপযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أملي كتاب له يسمى الفوائد لم
… يزل مفيدا لذي لب تأمله
وكل مسألة في النحو يجمعها
… إن الفوائد جمع لا نظير له
فظن الصلاح الصفدي أن هذا تفريط لـ (تسهيل الفوائد) فقال في كتابه المسمى بـ "فض الختام عن التورية والاستخدام": هذا في غاية الحسن لو كان الكتاب المذكور يسمى بـ "الفوائد" وإنما اسمه: "تسهيل الفوائد" فذكر المضاف إليه وترك المضاف الذي هو العمدة، فجعل التورية بسبب ذلك مقدوحا فيها، وقد علمت اندفاع ذلك، وإنما نشأ له هذا الوهم من عدم اطلاعه على الكتاب المسمى بـ "الفوائد" وهو معزور لعزة وجوده.
তাঁর একটি কিতাব অনুলিপি করা হয়েছে যার নাম ‘আল-ফাওয়াইদ’; এটি সর্বদা সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উপকারী যে এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।
এবং নাহু শাস্ত্রের প্রতিটি মাসআলাই এটি একত্রিত করেছে
… প্রকৃতপক্ষে ‘আল-ফাওয়াইদ’ এমন এক সংকলন যার কোনো নজির নেই।
সালাহ আল-সাফাদি ধারণা করেছিলেন যে, এটি (তাসহিলুল ফাওয়াইদ)-এর ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি। তাই তিনি তাঁর ‘ফাদ্বুল খিতাম আনিত তাওরিয়াহ ওয়াল ইসতিখদাম’ নামক কিতাবে বলেছেন: “এটি অত্যন্ত চমৎকার হতো যদি উল্লিখিত কিতাবটির নাম ‘আল-ফাওয়াইদ’ হতো। কিন্তু এর নাম তো ‘তাসহিলুল ফাওয়াইদ’। ফলে তিনি মুদাফ ইলাইহি (পরপদ)-কে উল্লেখ করেছেন এবং মুদাফ (পূর্বপদ)-কে বর্জন করেছেন যা ছিল মূল শব্দ। এই কারণে তিনি উক্ত ‘তাওরিয়াহ’ (শ্লেষ)-কে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।” অথচ আপনি ইতোমধ্যেই এই আপত্তির খণ্ডন সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। মূলত ‘আল-ফাওয়াইদ’ নামক কিতাবটি সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণেই তাঁর এই ভ্রম সৃষ্টি হয়েছে, আর কিতাবটি দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে তিনি এক্ষেত্রে অপারগ বা ক্ষমার যোগ্য।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
رواية الدماميني للتسهيل
قلت: وأنا/ أروي كتاب التسهيل هذا عن شيخنا برهان الدين ابراهيم ابن أحمد بن عبد الواحد الضرير الشامي المقيم بجامع الأقمر من القاهرة المصرية، كان رحمه الله (تعالى) - أخبرنا به إجازة، قال: أخبرنا الشيخ أثير الدين أبو حيان سماعا عليه، قال: أخبرنا (الشيخ)
আত-তাসহীলের দামামিনী বর্ণিত পাঠ
আমি বলছি: আমি/ আত-তাসহীল নামক এই বইটি আমাদের শায়খ বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আদ-দারীর আশ-শামী থেকে বর্ণনা করছি, যিনি মিসরের কায়রোস্থ আল-আকমর জামে মসজিদে অবস্থানরত ছিলেন। আল্লাহ (তাআলা) তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—তিনি আমাদের এটি ইজাযত হিসেবে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: শায়খ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান তাঁর নিকট পাঠ শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: (শায়খ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ابن أبي الفتح البعليكي إجازة، قال: أخبرنا الإمام جمال الدين محمد بن مالك إجازة قال:
ইবনে আবু আল-ফাতহ আল-বালাবাক্কী ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মালিক ইজাজতসূত্রে আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مقدمة التسهيل وشرحهاالجار والمجرور (المضاف) في محل نصب على الحال، وهو ظرف مستقر متعلق بمقدر عام (محذوف) (أي) ملتبسا باسم الله، والمعنى بحسب القرينة: متبركا باسم الله، لكن ذلك لا يوجب كونه ظرفا لغوا، كما في الجار والمجرور من قولك: زيد على الفرس، فإنه متعلق بكون عام، أي: كائن على الفرس، وهو بحسب القرينة بمعنى راكب، فيجعل ظرفا مستقرا لا لغوا، وصاحب تلك الحال هو الضمير المستكن في عاملها المقدر، إذ المعنى: متبركا باسم الله أبتدئ الكتاب.
"حامدا لله" حال بعد حال، ترك المصنف عطفها على الأولى إشعارا بالقصد إلى التسوية بين التسمية والحمد في جعل كل منهما مبتدأ به، ليتوصل بذلك إلى الجمع بين الحديثين الواردين في ذلك: "كل أمر ذي بال لم يبدأ فيه
আত-তাসহিল-এর ভূমিকা ও এর ব্যাখ্যাজার ও মাজরুর (মুদাফ) হাল হিসেবে নাসবের স্থানে রয়েছে, এবং এটি একটি যারফে মুস্তাক্বার যা একটি উহ্য (মাহযুফ) সাধারণ কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ আল্লাহর নামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে। আর প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত অনুযায়ী এর অর্থ হলো: আল্লাহর নামের বরকত গ্রহণকারী অবস্থায়। তবে এটি একে যারফে লাগভ হওয়া আবশ্যক করে না, যেমনটি আপনার উক্তি 'যায়েদ ঘোড়ার উপরে'—এ জার ও মাজরুরের ক্ষেত্রে হয়। কেননা এটি একটি সাধারণ অস্তিত্বের (কাউন-ই-আম) সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ: ঘোড়ার উপরে বিদ্যমান। আর প্রসঙ্গের বিচারে এর অর্থ হলো 'আরোহী', ফলে একে যারফে মুস্তাক্বার গণ্য করা হয়, যারফে লাগভ নয়। আর উক্ত হালের সাহেব (যার অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে) হলো সেই উহ্য আমেলের মধ্যে সুপ্ত থাকা জমির (সর্বনাম)। কেননা এর অর্থ হলো: আল্লাহর নামের বরকত গ্রহণকারী অবস্থায় আমি কিতাবটি শুরু করছি।
"আল্লাহর প্রশংসা করা অবস্থায়" এটি হালের পর হাল (দ্বিতীয় হাল)। লেখক একে প্রথমটির ওপর আতফ (সংযোজন) করা পরিহার করেছেন এটি বোঝাতে যে, তিনি বিসমিল্লাহ এবং হামদ—উভয়কেই প্রারম্ভিক বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করতে চেয়েছেন, যাতে এর মাধ্যমে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা শুরু করা হয়নি..."
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
مقدمة التسهيل وشرحها
ببسم الله فهو أبتر" و"كل أمر ذي بال لم يبدأ فيه بالحمد لله فهو أجذم"، فوقع الابتداء بالتسمية حقيقة إيثارا لمتابعة الكتاب العزيز وما عليه الإجماع، ووقع بالحمد له أيضا، لكن بالإضافة إلى ما بعده، والابتداء أمر عرفي يعتبر ممتدا من حين الأخذ في التصنيف إلى الشروع في البحث، فكل من الحالين المذكورين، وما بعدهما مقارن (له)، ويقع في بعض النسخ بعد التسمية لفظ (قال) مسندا إلى المصنف رحمه الله، وبعد ذلك قوله: حامدا لله. ولا يخفى أن ما في هذه النسخة مانع من حمل الكلام على ما قررناه آنفا، وكأنه -الله أعلم- من تصرف النساخ.
আত-তাসহীল-এর ভূমিকা এবং এর ব্যাখ্যা
"...বিসমিল্লাহর মাধ্যমে (শুরু করা না হলে) তা লেজকাটা" এবং "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ", তাই পবিত্র কিতাবের (কুরআন) অনুসরণ এবং ইজমার প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৃতপক্ষেই তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) দিয়ে সূচনা করা হয়েছে। এবং আল্লাহর প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমেও সূচনা করা হয়েছে, তবে তা পরবর্তী অংশের সাপেক্ষে। আর প্রারম্ভ বা সূচনা একটি প্রথাগত বিষয় যা গ্রন্থ রচনার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং উল্লিখিত উভয় অবস্থাই এবং তার পরবর্তী বিষয়গুলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে তাসমিয়ার পরে লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি সম্বন্ধ করে 'তিনি বলেছেন' শব্দটি পাওয়া যায় এবং এরপর তাঁর উক্তি: "আল্লাহর প্রশংসা করে" (হামিদান লিল্লাহ) বর্ণিত হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, এই পাণ্ডুলিপিতে যা রয়েছে তা আমাদের পূর্বে নির্ধারিত ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে বাধা দেয়; এবং সম্ভবত—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি অনুলিপিকারীদের হস্তক্ষেপের ফসল।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فإن قلت: بتقدير ثبوته كذلك عن المصنف يكون "حامدا لله" - بحسب الظاهر- حالا من فاعل (قال)، لكن المقول -وهو قوله فيما يأتي: هذا كتاب في النحو
… إلى آخره - مانع من مقارنة الحال لعاملها. وإن قلت (حامدا) بمعنى: مريدا للحمد؛ لتتأتى (المقارنة) فات المقصود الأهم من ابتدائه بالحمد قبل الشروع في الأمر ذي البال الذي هو بصدده، فماذا تصنع فيه؟
قلت: أجعله: حينئذ حالا مؤكدة لعاملها المقدر، أي: أحمد حامدا لله، على ما هو الأصح عند المصنف في (مثل) عائذا بالله، وأقائما وقد قعد الناس؟
যদি আপনি বলেন: মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) থেকে অনুরূপভাবে এটি প্রমাণিত হওয়ার ভিত্তিতে বাহ্যত "আল্লাহর প্রশংসাকারী অবস্থায়" শব্দটি "তিনি বলেছেন" (ক্রিয়ার) কর্তার 'হাল' (অবস্থা) হবে। কিন্তু উদ্ধৃতিটি—যা সামনে আসছে: এটি নাহুশাস্ত্রের একটি কিতাব
... শেষ পর্যন্ত—হাল এবং তার আমেল (ক্রিয়া)-এর সহাবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। আর যদি আপনি বলেন যে, "প্রশংসাকারী অবস্থায়" শব্দটি "প্রশংসার ইচ্ছা পোষণকারী" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যাতে "সহাবস্থান" সম্ভব হয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার পূর্বে আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করার যে মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা ব্যাহত হয়। এমতাবস্থায় আপনি কী করবেন?
আমি বলব: তখন আমি একে একটি উহ্য আমেল-এর "হাল মুআক্কিদাহ" (দৃঢ়তাজ্ঞাপক অবস্থা) হিসেবে গণ্য করব। অর্থাৎ: "আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি আল্লাহর প্রশংসা করা অবস্থায়", যেমনটি মুসান্নিফ-এর নিকট "আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" এবং "সবাই বসে থাকা অবস্থায় তুমি কি দণ্ডায়মান?" এর মতো উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক অভিমত।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أو مفعولا مطلقا جاء على وزن فاعل كما هو مذهب المبرد حينئذ فالقول هو مجموع المقدر والمذكور من قوله: أحمد حامدا لله إلى آخر الكلام.
"رب العالمين" أي: مالكهم، والعالمون جمع عالم، وهو اسم مشتق من العلم، لكنه اسم لذوي العلم أو لكل جنس يعلم به الخالق، سواء كان من ذوي العلم أو لا، كالطابع لما يطبع به والخاتم لما يختم به، يقال: عالم الملك وعالم الإنس وعالم الجن، وكذا عالم الأفلاك وعالم النبات وعالم الحيوان، وليس اسما لمجموع ما سوى الله تعالى، بحيث لا يكون له أفراد بل أجزاء فيمتنع
অথবা এটি এমন এক মাফউলে মুতলাক যা 'ফায়িল' এর ওজনে এসেছে, যেমনটি আল-মুবররিদের অভিমত। এমতাবস্থায়, বক্তব্যটি হলো উহ্য এবং উল্লিখিত অংশের সমষ্টি, যা তাঁর এই উক্তি থেকে শুরু হয়: "আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি আল্লাহর একজন প্রশংসাকারী হিসেবে" থেকে বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
"রব্বুল আলামীন" অর্থাৎ: তাদের মালিক। আর 'আলামীন' হলো 'আলাম' শব্দের বহুবচন, যা 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন একটি বিশেষ্য। তবে এটি হয় জ্ঞানসম্পন্ন সত্তাদের জন্য নির্ধারিত নাম, অথবা এমন প্রতিটি শ্রেণির নাম যার দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকে জানা যায়—চাই তারা জ্ঞানসম্পন্ন হোক বা না হোক; যেমন মুদ্রণযন্ত্র যার দ্বারা মুদ্রণ করা হয় এবং সীলমোহর যার দ্বারা সীলগালা করা হয়। বলা হয়ে থাকে: ফেরেশতাদের জগৎ, মানুষের জগৎ এবং জিনের জগৎ। অনুরূপভাবে আকাশমণ্ডলীর জগৎ, উদ্ভিদের জগৎ এবং প্রাণীজগৎ। এটি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য সবকিছুর সমষ্টির কোনো নাম নয় যে, এর কোনো পৃথক সদস্য থাকবে না বরং কেবল অংশসমূহ থাকবে, ফলে তা অসম্ভব হয়ে পড়ে...
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪১)
جمعه، والمصنف يخالف في ذلك، وسيأتي الكلام عليه عند إفضاء النوبة إليه إن شاء الله تعالى.
"ومصليا" حال أخرى عطفها على ما قبلها إشعارا بتبعيتها للتبرك بالتسمية والحمد في المقارنة لابتداء الكتاب. "على محمد سيد المرسلين" فيه استعمال السيد في غير الله ويشهد له من الكتاب (العزيز) قوله تعالى: {وسيدا وحصورا} وقوله (تعالى) {وألفيا سيدها لدى الباب}.
ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: "أنا سيد ولد آدم ولا
তাঁর সংকলন, আর গ্রন্থকার এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন, এবং ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ তাআলা চাইলে যখন এর পালা আসবে তখন এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
"এবং দরুদ পাঠরত অবস্থায়" হলো অন্য একটি অবস্থা (হাল), যা পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এটি কিতাব শুরুর প্রাক্কালে বিসমিল্লাহ এবং হামদ পাঠের বরকত লাভের অনুগামী হিসেবে আনা হয়েছে। "রাসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ-এর ওপর"—এ বাক্যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে 'সাইয়্যিদ' (নেতা বা সরদার) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। মহান আল্লাহর সম্মানিত কিতাব থেকে তাঁর বাণী এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "এবং একজন নেতা ও আত্মসংযমী" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা দরজার নিকট তার স্বামীকে পেল।"
আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আমি আদম সন্তানের সরদার এবং কোনো...
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فخر" / وقوله في الحسن بن علي عليهما السلام: "إن ابني هذا سيد"، وقوله: "قوموا إلى سيدكم".
وفي "المقتفى" لجدي من قبل الأم قاضي القضاة ناصر الدين بن المنير صاحب "الانتصاف من الكشاف" رحمه الله حكاية ثلاثة أقوال في المسألة:
جوار إطلاقه على الله عز وجل وعلى غيره، (وامتناع إطلاقه على
...গৌরব" / এবং হাসান ইবন আলী (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমার এই পুত্র একজন সাইয়্যিদ", এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের সাইয়্যিদের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাও।"
এবং আমার মাতামহ কাযিউল কুযাত নাসিরুদ্দীন ইবনুল মুনাইয়ির (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), যিনি 'আল-ইনতিসাফ মিনাল কাশশাফ' গ্রন্থের রচয়িতা, তাঁর 'আল-মুকতাফা' গ্রন্থে এই মাসআলায় তিনটি অভিমত বর্ণনা করেছেন:
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ বৈধ হওয়া, (এবং এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়া...
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الله حكاية عن الإمام مالك)، وامتناع إطلاقه إلا على الله تمسكا بما روي أنه عليه السلام قالوا له: ياسيدنا، فقال: "السيد هو الله". وقد عرفت أن في هذا الكتاب والسنة ما يدل على خلاف ذلك.
ونقل النووي في الأذكار عن النحاس أنه جوز إطلاقه على غير
(আল্লাহ সম্পর্কে ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত), এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা মূলত এই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হয়েছিল: "হে আমাদের সাইয়্যেদ (নেতা)", তখন তিনি বলেছিলেন: "সাইয়্যেদ বা প্রকৃত প্রভু হলেন আল্লাহ।" আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে এমন বিষয় রয়েছে যা এর বিপরীত বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয়।
ইমাম নববী 'আল-আযকার' গ্রন্থে আন-নাহহাস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা বৈধ বলেছেন।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الله إلا أن يعرف بأل، ثم قال: والأظهر جوازه بالألف واللام لغير الله تعالى.
"وعلى آله" هم بنو هاشم وبنو المطلب على المختار عندنا وعند الشافعية وقيل: عترته وأهل بيته، وقيل: جميع أمته، وهو قال ينقل عن الإمام مالك -رضي الله (تعالى) عنه- والصحيح جاز إضافة أل إلى مضمر كما استعمله المصنف، وسيأتي فيه كلام، وبعضهم يدعي أن أصله: أهل، فقلبت الهاء همزة ثم الهمزة ألفا، ويستدل بتصغيره على أهيل، وهو غير متجه، فقلبت الهاء همزة ثم الهمزة ألفا، ويستدل بتصغيره على أهيل، وهو غير متجه، فإنهم قالوا: أهل وآل وأهيل وأويل. "وصحابته أجمعين" الصحابة بفتح الصاد وقد تكسر، تطلق على الصحبة وهي المعاشرة، وتطلق على الأصحاب جمع صاحب، والصحابي: من اجتمع مؤمنا بالنبي صلى الله عليه وسلم وإن لم يرو (عنه) ولم تطل مجالسته له، هذا هو الصحيح من الخلاف فيه، وبين الآل والصحابة عموم وخصوص من وجه، فعلي رضي الله عنه من
আল্লাহ (শব্দটি), তবে একে 'আলিফ-লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট করা ব্যতীত; এরপর তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে আলিফ ও লাম যোগে এর ব্যবহার বৈধ হওয়াই অধিকতর স্পষ্ট মত।
"এবং তাঁর পরিবারের প্রতি" তারা হলেন আমাদের নিকট এবং শাফেয়িগণের নিকট পছন্দনীয় মত অনুযায়ী বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব। আর বলা হয়েছে: তারা তাঁর বংশধর এবং তাঁর পরিবারবর্গ; আরও বলা হয়েছে: তারা তাঁর সমগ্র উম্মত। আর এটি ইমাম মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে সঠিক হলো—সর্বনামের সাথে 'আল' শব্দটির সম্বন্ধ করা বৈধ, যেমনটি গ্রন্থকার ব্যবহার করেছেন এবং এ সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে। কেউ কেউ দাবি করেন যে এর মূল হলো: 'আহল', অতঃপর 'হা' বর্ণটি হামযায় এবং পরবর্তীতে হামযাটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে এর ক্ষুদ্রার্থবাচক শব্দ হিসেবে 'উহাইল' উল্লেখ করা হয়, যা সঠিক নয়। অতঃপর 'হা' বর্ণটি হামযায় এবং পরবর্তীতে হামযাটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে এর ক্ষুদ্রার্থবাচক শব্দ হিসেবে 'উহাইল' উল্লেখ করা হয়, যা সঠিক নয়। কেননা তারা বলেন: 'আহল', 'আল', 'উহাইল' এবং 'উওয়াইল'। "এবং তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি" সাহাবাহ শব্দটি 'সদ' বর্ণে জবর যোগে পঠিত হয়, কখনও কখনও যের যোগেও পড়া হয়। এটি 'সুহবাত' তথা সাহচর্য বা মেলামেশা অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এটি 'সাহিব'-এর বহুবচন 'আসহাব' অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আর সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ঈমানদার অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন, যদিও তিনি তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা না করেন কিংবা তাঁর সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করেন। এ সংক্রান্ত মতভেদের মধ্যে এটিই সঠিক মত। আর 'আল' এবং 'সাহাবাহ' শব্দ দুটির মধ্যে একদিক দিয়ে সাধারণ ও অন্যদিক দিয়ে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হলেন...
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الآل والصحابة وسلمان الفارسي رضي الله عنه من الصحابة لا من الآل والتابعي الذي هو من بني هاشم أو بني المطلب من الآل لا من الصحابة. "هذا" أشار به إلى ما قدره في نفسه مما اشتمل عليه هذا التأليف، وإن لم يكن حينئذ موجود بالفعل لقوة الأسباب المقتضية لحصوله وحضوره في الخارج، وإنما قلنا ذلك لما يشعر به قوله فيما يأتي: وها أنا ساع فيما انتدبت إليه. من أنه قال ذلك قبل الشروع في التصنيف.
وفصل الجملة الإسمية المركبة من (هذا) وخبره عما قبلها لعدم الجامع بينهما، وهو مقتض لكمال الانقطاع كما علم في موضعه. "كتاب في النحو"، أي: كائن فيه، المراد -بحسب القرينة- مؤلف فيه، على تشبيه ملابسة ما بين اللفظ والمعنى بملابسة الظرفية، وتارة بجعل المعنى ظرفا للفظ، (كما) عمل المصنف من جهة كونه حاصرا له آخذا بجوانبه بحيث لا يخرج طرف من اللفظ عن طرف من المعنى، وهو أمر شائع، يقال: هذه الآية في حكم كذا، وهذا الكتاب في علم كذا، وهذه القصيدة في مدح فلان. وتارة بجعل اللفظ ظرفا للمعنى، كما يقال: هذه المسألة في كتاب كذا، وهو ظاهر، حتى شاع أن الألفاظ أوعية للمعاني وقوالب لها وبمنزلة الكسوة واللباس.
والنحو: علم باصول يعرف بها أحوال الألفاظ العربية بحسب تركيب بعضها مع بعض وتأديتها لأصل المعنى.
পরিবার ও সাহাবীগণ। সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত, পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নন। আর সেই তাবেয়ি যিনি বনু হাশেম বা বনু মুত্তালিব বংশের, তিনি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নন। "এটি" দ্বারা তিনি নিজের মনে যা নির্ধারণ করেছেন তা নির্দেশ করেছেন যা এই রচনার অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা তখন বাস্তবে বিদ্যমান ছিল না, তবুও এটি অর্জিত হওয়ার ও বাস্তবে উপস্থিত হওয়ার কারণসমূহ শক্তিশালী হওয়ার কারণে তা বিদ্যমান বলে ধরা হয়েছে। আমরা এটি এ কারণেই বলেছি যে, সামনে তাঁর এই উক্তিটি তা নির্দেশ করে: "আর এখন আমি সেই কাজে সচেষ্ট হয়েছি যার জন্য আমাকে নিযুক্ত করা হয়েছে।" যা থেকে বোঝা যায় যে, তিনি গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করার পূর্বেই এই কথাটি বলেছেন।
এবং 'এটি' ও তার বিধেয় দ্বারা গঠিত নামবাচক বাক্যটিকে তার পূর্ববর্তী অংশ থেকে পৃথক করা হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো সংযোগকারী বিষয় না থাকার কারণে। আর এটি পূর্ণ বিচ্ছেদের দাবি রাখে, যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে জানা গিয়েছে। "নাহু শাস্ত্রের একটি কিতাব", অর্থাৎ: যা এতে বিদ্যমান। প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী এর উদ্দেশ্য হলো—এ বিষয়ে রচিত একটি গ্রন্থ। শব্দ ও অর্থের মধ্যকার সম্পর্ককে আধারের সম্পর্কের সাথে সাদৃশ্য প্রদানের ভিত্তিতে এটি করা হয়েছে। কখনও অর্থকে শব্দের আধার বানানো হয়, যেমনটি গ্রন্থকার করেছেন; কারণ তিনি একে এমনভাবে পরিবেষ্টন করেছেন এবং এর সকল দিককে এমনভাবে আয়ত্ত করেছেন যাতে শব্দের কোনো অংশই অর্থের সীমানা ছাড়িয়ে না যায়। এটি একটি প্রচলিত বিষয়। বলা হয়ে থাকে: এই আয়াতটি অমুক বিধানের ক্ষেত্রে, এই কিতাবটি অমুক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এবং এই কবিতাটি অমুক ব্যক্তির প্রশংসায়। আবার কখনও শব্দকে অর্থের আধার বানানো হয়, যেমনটি বলা হয়: এই মাসয়ালাটি অমুক কিতাবে আছে। এটি স্পষ্ট, এমনকি এটিও প্রসিদ্ধ হয়েছে যে, শব্দসমূহ হলো অর্থের পাত্র ও ছাঁচ এবং তা পোশাক ও আবরণের সমতুল্য।
আর নাহু হলো: এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার দ্বারা আরবি শব্দসমূহের অবস্থা জানা যায়—একে অপরের সাথে বিন্যস্ত হওয়ার দিক থেকে এবং মূল অর্থ প্রদানের দিক থেকে।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فإن قلت: بعضهم عرف النحو بما يشمل فني الإعراب والتصريف فيقال: هو علم بأصول يعرف بها أحوال الألفاظ العربية إفرادا بحسب هيئاتها وما يعد من أحوال أبنيتها أو تركيبا بحسب ما يعرض لها من الأمور التي يؤدي بها أصل المعنى. وهذا الذي ينبغي أن يحمل كلام المصنف عليه؛ لأن كتابه مشتمل على القسمين، / وذلك ظاهر في أنه لم يرد بالنحو ما يقابل التصريف.
قلت: حمل كلامه على هذا لا يجدي نفعا:
أما أولا: فلأنه جعل التصريف علما مستقلا برأسه وعرفه فيما هو مذكور في محله من كتابه، فتعين أنه لم يرد بعلم النحو ما يشمل الفنين.
وأما ثانيا: فلأنه أدخل في كتابه هذا علم الخط (أيضا)، فإذا لا يندفع بذلك السؤال بأن كتابه هذا حاو لعلم النحو وغيره، فلم خصص النحو بالذكر؟ وإنما الذي ينبغي أن يحمل عليه أنه أراد بالنحو ما هو معروف في الاصطلاح المشهور كما تقدم. ويوجه تخصيصه له بالذكر دون التصرف والهجاء مع اشتمال تصنيفه على الجميع: بأنه ذكر معظم ما هو فيه وهو النحو بناء على أنه المقصود له بالذات وما عداه يسير بالنسبة إليه ومذكور بحسب التبعية له لغرض يتعلق بذلك عنده.
"جعلته"، أي أنشأته، بمعنى أردت إنشاءه لما سبق، "بعون الله"
যদি আপনি বলেন: কেউ কেউ নাহুর (ব্যাকরণ) এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যা ইরাব ও তাসরিফ উভয় শিল্পকেই অন্তর্ভুক্ত করে। বলা হয়: এটি এমন মূলনীতিসমূহের জ্ঞান যার মাধ্যমে আরবি শব্দাবলির অবস্থা জানা যায়; একক অবস্থায় সেগুলোর বাহ্যিক রূপ ও গাঠনিক অবস্থার প্রেক্ষিতে, অথবা বাক্যগঠন অবস্থায় সেই বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে যা মূল অর্থ প্রকাশের জন্য শব্দের ওপর আপতিত হয়। আর গ্রন্থকারের বক্তব্যকে এর ওপরই প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়; কারণ তাঁর কিতাবটি উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি স্পষ্ট যে, তিনি নাহু বলতে তাসরিফের বিপরীত অর্থটি উদ্দেশ্য করেননি।
আমি বলব: তাঁর বক্তব্যকে এই অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ফলপ্রসূ নয়:
প্রথমত: কারণ তিনি তাসরিফকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাঁর কিতাবে যথাস্থানে এর সংজ্ঞাও দিয়েছেন। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, তিনি নাহু শাস্ত্র দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য করেননি যা উভয় শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়ত: কারণ তিনি তাঁর এই কিতাবে লিখন পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞানকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমতাবস্থায় এই প্রশ্নটি দূরীভূত হয় না যে, তাঁর এই কিতাব যেহেতু নাহু এবং অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে তিনি কেন কেবল নাহুকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন? বরং বাঞ্ছনীয় হলো বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যে, তিনি নাহু দ্বারা প্রসিদ্ধ পরিভাষায় যা বুঝায় তাই উদ্দেশ্য করেছেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁর কিতাব এই সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা সত্ত্বেও তাসরিফ ও বানানরীতি উল্লেখ না করে কেবল নাহুকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো: তিনি এখানে থাকা অধিকাংশ বিষয়ের নাম উল্লেখ করেছেন আর তা হলো নাহু। কারণ এটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং অন্য বিষয়গুলো এর তুলনায় নগণ্য এবং তাঁর বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যের কারণে সেগুলো নাহুর অনুগামী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে।
"আমি এটি রচনা করেছি", অর্থাৎ আমি এটি প্রবর্তন করেছি। এর অর্থ হলো ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আমি এটি রচনার ইচ্ছা পোষণ করেছি, "আল্লাহর সাহায্যে"।
(খণ্ড: ১১)
শারহুত তাসহীল - তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহীলিল ফাওয়াইদ - খণ্ড ১
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ظرف مستقل في محل نصب على الحال من فاعل (جعلته)، أي حال كوني متلبسا بعون الله، وهذا لا ينافي كونه مستقرا كما مر (في بحث البسملة).
"مستوفيا لأصوله"، أي آخذا لها بكمالها، من قولك: استوفى فلان؟ (حقه)، إذا أخذه وافيا كاملا.
والأصول: جمع أصل، وهو ما يتفرع عليه غيره، وكأنه أراد به القاعدة، وهي: حكم كلي ينطبق على جميع جزئياته لتعرف أحكامها منه كقولنا: كل فاعل يجب رفعه.
و(مستوفيا)، حال من مفعول جعلته، فقد توالت حالان من شيئين الأولى للأول والثانية للثاني كما في قوله تعالى: {الذين تتوافهم الملائكة طيبين يقولون سلام عليكم}، (لكن) أولى الحالين هنا من المفعول والثانية من الفاعل عكس ما في كلام المصنف، فالتوافق بينهما في مطلق الأولية والثانوية، والتخالف في خصوص الأول والثاني. "مستويا على أبوابه وفصوله"، أي ظاهرا عليها بالغا منها الغاية، من قولهم: استولى على الأمر، أي: بلغ الغاية منه.
وأبواب العلم مداخله التي يتوصل إليه منها، استعيرت من أبواب الدار، وهي منافذها التي يدخل منها إليها.
والفصول: جمع فصل وهي ترجمة لطائفة من مسائل الباب مشتركة في حكم يختص بها، كالفصل الذي يذكر في باب الفاعل متضمنا للمواضع التي
এটি 'আমি তা করেছি' ক্রিয়াটির কর্তার অবস্থা বা হাল হিসেবে নাসাবের স্থানে থাকা একটি স্বতন্ত্র যরফ। অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্যের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায়; আর এটি তার (বিসমিল্লাহর সাথে) স্থিতিশীল হওয়াকে নাকচ করে না, যেমনটি আগে (বিসমিল্লাহর আলোচনায়) অতিক্রান্ত হয়েছে।
“এর মূলনীতিসমূহ পূর্ণকারী হিসেবে”, অর্থাৎ সেগুলোকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণকারী হিসেবে; যেমন আপনার কথা: অমুক তার পাওনা পূর্ণরূপে গ্রহণ করেছে, যখন সে তা অখণ্ড ও পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করে।
আর উসুল হলো আসল-এর বহুবচন; তা হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু শাখা হিসেবে গড়ে ওঠে। আর যেন তিনি এর দ্বারা কায়িদাহ বা মূলনীতি বুঝিয়েছেন। আর কায়িদাহ হলো: এমন এক সামগ্রিক বিধান যা তার সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ হয় যাতে তার মাধ্যমে সেগুলোর বিধান জানা যায়; যেমন আমাদের কথা: প্রত্যেক কর্তার রাফ্ হওয়া আবশ্যক।
আর 'পূর্ণকারী' শব্দটি 'আমি তা করেছি' ক্রিয়াটির কর্ম থেকে হাল হয়েছে। এখানে দুটি বিষয় থেকে দুটি হাল পর্যায়ক্রমে এসেছে; প্রথমটি প্রথমটির জন্য এবং দ্বিতীয়টি দ্বিতীয়টির জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “যাদের মৃত্যু ঘটায় ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায়, তারা বলে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।” তবে এখানে হাল দুটির মধ্যে প্রথমটি কর্ম থেকে এবং দ্বিতীয়টি কর্তা থেকে এসেছে, যা গ্রন্থকারের বক্তব্যের বিপরীত। সুতরাং তাদের উভয়ের মধ্যে মিল হলো সাধারণ ক্রমের ক্ষেত্রে, আর অমিল হলো সুনির্দিষ্টভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়ার ক্ষেত্রে। “এর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহের ওপর উঠে”, অর্থাৎ সেগুলোর ওপর প্রকাশমান হয়ে এবং সেগুলোর চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে; যেমন তাদের কথা: সে বিষয়ের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছে, অর্থাৎ সে তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।
আর জ্ঞানের অধ্যায়গুলো হলো তাতে প্রবেশের পথ যার মাধ্যমে জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। এটি বাড়ির দরজা থেকে রূপক হিসেবে নেওয়া হয়েছে, আর দরজা হলো সেই প্রবেশপথ যা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করা হয়।
আর পরিচ্ছেদসমূহ হলো ফাসল-এর বহুবচন। এটি কোনো অধ্যায়ের এমন একদল মাসআলার শিরোনাম যা একটি বিশেষ বিধানে অংশীদার; যেমন কর্তা অধ্যায়ে উল্লিখিত পরিচ্ছেদ, যা সেই স্থানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে...